22 C
Dhaka
Home Blog Page 8

ঝিনাইদহে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত অন্তত ৮

ঝিনাইদহে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। 

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন দ্য ডেইলি স্টারকে সংঘর্ষের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহতদের মধ্যে স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াত নেতা তবিবর রহমান (৪৪), ছাত্রদল নেতা শিপন হোসেন (২৫), শিমুল (২৪), বিএনপি কর্মী মো. হোসেন আলী (৫৫), তরু মিয়া (৪৮), শহিদুল ইসলাম (২৭), আব্দুর রহমান (৫০) ও যুবদল নেতা আবু কালাম ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

ইউনিয়ন জামায়াত আমির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মাধবপুরে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি দোয়া মাহফিল চলছিল। সেখানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালায়।’

হামলায় জামায়াত নেতা তবিবর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন এবং নারী কর্মীসহ বেশ কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

দিকে সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জামায়াতের নারী কর্মীদের ওই সভায় বিএনপি সরকার ও নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা সেখানে গিয়ে এর প্রতিবাদ করলে জামায়াত নেতারা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।’

এ ঘটনায় বিএনপির অন্তত ৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে, এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে গান্না বাজারে মিছিল করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। পরে মিছিলে থাকা ৫ জামায়াত কর্মীর দোকান ভাঙচুর করে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ওসি মো. শামসুল আরেফিন বলেন, ‘মাধবপুর গ্রামে জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

‘দম’ সিনেমায় ৪৪ বছর আগের গান গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এবং তুমুল জনপ্রিয় গান ‘এই মন তোমাকে দিলাম’। 

দেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন গানটি গেয়েছিলেন ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মানসী’ সিনেমায়। 

দীর্ঘ ৪৪ বছর পর সেই গানটি আবারও সিনেমার জন্য গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিন। 

নতুন সংগীত আয়োজনে গানটি তিনি গেয়েছেন ‘দম’ সিনেমায়। রেদওয়ান রনি নির্মিত ‘দম’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও পূজা চেরি।

‘এই মন তোমাকে দিলাম’ গানটির কথা লিখেছেন দেশের কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার, পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং সুর করেছেন আনোয়ার পারভেজ। 

 

‘দম’ সিনেমার জন্য নতুন করে নির্মিত গানটির শিরোনামও ‘এই মন তোমাকে দিলাম’। তবে এতে যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু কথা, যা লিখেছেন তন্ময় পারভেজ। 

নতুন এ গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন আরাফাত মহসীন নিধি। নতুন সংস্করণে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মোমিন বিশ্বাস।

সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘নতুন এই গানটা আমার ভালো লেগেছে বলেই কাজটা করছি। তাছাড়া নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে। অনেক আনন্দ–বেদনা জড়িয়ে আছে। “দম” সিনেমাটাও এমন যে গল্পটা দর্শকদের নানা রকম অনুভূতিকে স্পর্শ করে যাবে। শ্রোতারাও গানটা পছন্দ করবেন আশা করি।’

সংগীত পরিচালক আরাফাত মহসীন নিধি বলেন, ‘যাদের গান শুনে বড় হয়েছি, তাদের একজনের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য আনন্দের। সাবিনা ইয়াসমিন যখন বললেন যে গানটি তার ভালো লেগেছে, সেটাই আমার জন্য বড় প্রাপ্তি।’
 

ট্রাম্পের হুমকি, ১০ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানে হামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানের কাছে ১০ দিনের মতো সময় আছে। যদি তা না হয়, তবে তাদের সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

আল জাজিরার খবরে এমনটি জানানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘বোর্ড অব পিসে’র উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পুনরায় দাবি করেন, গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলাই গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’র পথ তৈরি করেছিল।

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালালে ইরানের ‘হুমকি’ আঞ্চলিক দেশগুলোকে ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি’ প্রতিষ্ঠায় সম্মত হতে বাধা দিত।

তিনি বলেন, এখন আমাদের হয়তো আরও এক ধাপ এগোতে হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। হয়তো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। তা আগামী ১০ দিনের মধ্যেই সম্ভবত জানা যাবে।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কদিন না পেরোতেই ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন। 

গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, জেনেভায় আলোচনায় দুই পক্ষ ‘ভালো অগ্রগতি’ করেছে এবং চুক্তির জন্য নির্ধারিত মূল নীতিগুলোর বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। এরইমধ্যে তাদের দুটি এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ওই অঞ্চলে অবস্থান নিয়েছে।  

ইরান বলছে যে তারা পারমাণবিক বোমা বানাতে চায় না। দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে এবং তা কঠোর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতেও রাজি হতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে যে তারা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে সমর্থন করবে না। 

ওয়াশিংটন তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রভান্ডারের ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপের চেষ্টা করেছে, কিন্তু ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন যে এই বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, কারণ তাদের মতে এটি অমীমাংসিত এক প্রতিরক্ষা নীতি।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন তার কূটনৈতিক সহকারী স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে খুব ভালো বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে। অন্যথায়, পরিস্থিতি খারাপ হবে।

সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, বইমেলা ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ

অবশেষে বইমেলার তারিখ পিছিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে প্রকাশকদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত অন্যপ্রকাশের কর্ণধার মাজহারুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইমেলা ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। মেলায় কোনো প্যাভিলিয়ন থাকবে না। এবারের বইমেলায় স্টল ভাড়া দিতে হবে না প্রকাশকদের।

সাধারণত ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হলেও এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাসের বাস্তবতায় এই পরিবর্তন আনা হয়। 

বাংলা একাডেমি জানিয়েছিল, নির্বাচনের কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে মেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু হবে। রমজানে পাঠক সমাগম কমার আশঙ্কায় মেলার সময় ২৫ দিনে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

পরে, ঈদের পর মেলার আয়োজন করার দাবি জানায় তিন শতাধিক প্রকাশকদের প্ল্যাটফর্ম ‘প্রকাশক ঐক্য’।

বারবার কর্নওয়ালিসদের কাছেই ফিরবো?

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত বছর ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪। এই তিন বছরের রাজনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক ঘটনাবলী নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, বই-পুস্তক লেখা হয়েছে বিস্তর। একই জনপদ তিনবার ওই তিন সময়ে প্রতিপক্ষের চাহিদামতো প্রাণ উৎসর্গ করে রাষ্ট্রনৈতিক প্রত্যাশাকে অর্জন করতে চেয়ে। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে।

কৌতূহল উদ্দীপক হলো, ব্যর্থতার সেসব বছরগুলো নিয়ে ইতিহাসে বেশি আলাপ নেই। অদ্ভুত এক নাগরিক সমাজ আমরা। কেবল গৌরব নিয়ে আত্মশ্লাঘায় ভুগি। গৌরবের অপমৃত্যুর গল্পগুলো এড়িয়ে যাই। ব্যর্থতার ময়নাতদন্তে বিব্রতবোধ করি। অথচ এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কথা হওয়া দরকার ১৯৭২, ১৯৯১ ও ২০২৫-২৬ নিয়ে।

গ্রামসি রাষ্ট্রের ভেতর দুটি সমাজের কথা বলতেন—সিভিল সমাজ ও রাজনৈতিক সমাজ। বাংলাদেশের সিভিল সমাজ এ মুহূর্তে তার রাজনৈতিক সমাজকে নিয়ে হতবিহ্বল অবস্থায় পড়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের যাবতীয় আয়োজন ও উচ্ছ্বাস সজোরে হোঁচট খেল রাজনৈতিক সমাজে যেয়ে। নবীন সংসদ সিভিল সোসাইটিকে জানিয়ে দিল, তার রাজনৈতিক প্রত্যাশা এখনই পূরণ হচ্ছে না। কবে কীভাবে সেটা মিটবে তারও কোনো রোডম্যাপ নেই।

বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। অথচ এই দল জুলাই সনদকেন্দ্রীক গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল। স্পষ্টত প্রতারিত ও রিক্ততার একটা অনুভূতি সিভিল সোসাইটিকে থমকে দিয়েছে। ১৮ মাস আগের ট্রমাকে শান্ত ও সন্তুষ্ট করার মতো কিছু নেই এখন আর তার হাতে।

১৯৭২-৭৩-৭৪ এও এমন ঘটেছিল যুবক মুক্তিযোদ্ধাদের মনোজগতে। অস্ত্র জমা নিয়ে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে হারাতে পারলেও তারা ক্রমে হেরে যাচ্ছিলো পুরোনো আমলাতন্ত্রের কাছে। নতুন নেতৃত্ব কর্নওয়ালিসের গড়ে যাওয়া আমলাতন্ত্রের ভেতরই ঠেসে দিচ্ছিলো আমূল বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে। একই দারোগা ব্যবস্থা, একই ডিসি অফিস, একই ভূমি অফিস, একই প্রভু-ভৃত্য সম্পর্কের প্রত্যাবর্তন ১৭৯২ সালকেই ফিরিয়ে আনলো ‘স্বাধীন’ বাংলাদেশে।

১৯৯১-৯২ এও কোনো পরিবর্তন এলো না। সামরিক জান্তাকে পরাস্ত করা গেল। ছাত্ররা ‘দশ দফা’ কর্মসূচি তুলে দিল দুই নেত্রীর হাতে। প্রধান দুই দল পালা করে ‘ক্ষমতা’র চর্চা করে গেল, কিন্তু কর্নওয়ালিসতন্ত্র অক্ষত রেখেই। সঙ্গে বোনাস হিসেবে প্রচুর রাজনৈতিক অনাচার, সংগঠিত পেটোয়া বাহিনী, গুম, খুন, নির্বাচনী ব্যবস্থার অবক্ষয় যুক্ত হলো।

আবারও সিভিল সোসাইটি শূন্য থেকে শুরু করলো। এবার ‘রাষ্ট্র মেরামতে’ সবার আগে এগিয়ে এলো স্কুল-কলেজের বালক-বালিকারা। সড়কের অনাচার দেখেই তারা বুঝলো অফিস-আদালতে কী হচ্ছে। এই শিক্ষার্থীরাই পরে কোটাভিত্তিক অসমতা রুখতে রাস্তায় নামে আবার।

কয়েক বছর পর ওরাই কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নামলো। সেই আন্দোলনই রাষ্ট্র সংস্কারের গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হলো ‘৩৬ জুলাই’। অন্তর্ভুক্তিমূলক এক সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষায় আবারও নতুন এক ১৬ ডিসেম্বরের জন্ম হলো বাংলাদেশে। তার ধারাবাহিকতায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট হলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষানবিসের মতো নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে মূল জুলাইয়ের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক দাবি-দাওয়ার সামান্য অংশ গণভোটে পাঠালো। সেটা অনুমোদিতও হলো।

গণভোট প্রক্রিয়ায় উপস্থাপনাগত ত্রুটি ছিল এবং সংস্কার চাপিয়ে দেওয়ার জবরদস্তিমূলক ভঙ্গীও অস্পষ্ট ছিল না। কিন্তু জনগণের সাধারণ যৌথ ইচ্ছার প্রকাশ ও প্রয়োজন হিসেবে ভোটাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘হ্যাঁ’র পক্ষ নিলেন। সে-ই জনতার অংশ ছিল বিএনপিপন্থীরাও।

কিন্তু এখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হতে চাইছে না বিএনপি। ইঙ্গিত নেতিবাচক। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে সাতটির অক্সিজেন সংযোগ খুলে নিয়েছে, ১৫টির সংশোধনী এনে দাঁত ও নখ তুলে নেওয়া হয়েছে, ১৬টির দাঁত ও নখ উপড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৯৭টি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অনুমোদন দিয়েছে।

সরকার ও সংসদের গত দুই মাসের মনোভঙ্গীর বার্তা স্পষ্ট। তারা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে স্রেফ একটা ‘রেজিম চেঞ্জের ভোট উৎসব’ হিসেবে দেখছে। যেন তারা আওয়ামী লীগ সরকার থেকে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা পেয়েছে; যেন ১২ ফেব্রুয়ারি ছিল শুধুই সরকার পরিবর্তনের একটা নির্বাচন; যেন মাঝখানে ‘লাল জুলাই’ বলে কিছু হয়নি; যেন প্রায় ১৫-২০ দিনের ভেতর এক হাজার মানুষ শহীদ হয়নি; যেন হাজার হাজার কিশোর-তরুণ গ্রাফিতি এঁকে কিছু বলতে চায়নি; যেন একটা সরকার সংসদশুদ্ধ ও গোষ্ঠীশুদ্ধ পালায়নি; যেন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক একটা সরকার গঠন করতে হয়নি।

অথচ এই পুরো সময় বিএনপি ছিল বড় দল হিসেবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অভিভাবক। তার পরামর্শ ছাড়া, মতামত ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন অস্বাভাবিক সরকার এক কদমও এগোয়নি। অন্তত বারবার মিডিয়াকে দেওয়া ড. ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের হাস্যোজ্জ্বল ছবিগুলো তার প্রমাণ। জুলাই সনদে বিএনপির সইও তার সাক্ষ্য।

কিন্তু ইতোমধ্যে গণঅভ্যুত্থানের সরকারের অধিকাংশ মৌলিক ধাঁচের আইনগত সংস্কার তামাদি হয়ে গেছে। গুম প্রতিরোধে, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে, বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন বাড়াতে যেসব অধ্যাদেশ হয়েছিল সেগুলো রাজনৈতিক সরকারের অনাগ্রহের গহ্বরে হারিয়ে গেল।

স্ববিরোধিতাগুলো বেশ করুণ। বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারের একদম শুরুতে বলেছিল, তারা ‘৩১ দফা’ সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করবে।

‘৩১ দফা’র ১৩তম দফায় বলেছিল, গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটাবে। অন্যদিকে, নির্বাচনী ইশতেহারে বলা ছিল, গুম প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মানবাধিকার কমিশন বিষয়ে একই প্রতিশ্রুতিনামায় বলা ছিল, ক্রসফায়ারসহ অমানবিক অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যুক্তদের সুবিচার নিশ্চিত করবে তারা।

নির্বাচনী ইশতেহারে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়কে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলেছিল। জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করবে এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে—এমনও কথা ছিল। ‘৩১ দফা’র নবম দফায় ছিল ‘মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।’

এসব বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশগুলোতেও একই ধরনের সংস্কার কথাই ছিল। সদ্য কার্যকারিতা হারানো সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশে ছিল, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশে বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত পৃথক সচিবালয়ের নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়েছে। তাতে করে অধস্তন আদালতে রাজনৈতিক সরকারের হস্তক্ষেপ কমতো। প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের প্রকৃত ও প্রত্যাশিত অভিভাবক হতেন। যা বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রয়োজন ছিল এবং বিএনপির ‘৩১ দফা’ ও ‘ইশতেহারে’র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণই ছিল।
অথচ অধ্যাদেশগুলো অকার্যকর করে দেওয়া হলো।

গত দেড় দশক যত গুম-খুন হয়েছে, শক্তিশালী ও স্বাধীন একটা মানবাধিকার কমিশন থাকলে নিশ্চয়ই তাতে কিছু বাধা দেওয়া যেতো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটা অধ্যাদেশে বিভিন্ন বাহিনীর কারো বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ উঠলে তার স্বাধীন তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেটাও আটকে গেল, অকার্যকর হলো।

গত ৫৫ বছর ধরে গুম-খুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বড় এক অন্ধকার অধ্যায় হয়ে আছে। বিগত সময়ে গুম ও খুনের শিকারদের মধ্যে দল হিসেবে বিএনপির কর্মীদের সংখ্যা বিপুল। জানি না, সংসদে যখন মানবাধিকার ও গুম-খুনের অধ্যাদেশগুলো অকার্যকর হচ্ছিলো, স্বজন হারানো বিএনপি-সমর্থক পরিবারগুলো তখন কী ভাবছিলেন। নিশ্চয়ই ‘সকল ধরনে’র আমলাতন্ত্রের জন্য মুহূর্তটা ছিল স্বস্তির।

রাষ্ট্রীয় পরিসরের উপনিবেশিক সংস্কৃতি ও কাঠামোর সংস্কারের জন্য নিশ্চিতভাবে প্রধান যেটা দরকার তা হলো, নিজেদের উপনিবেশিক মন বদলানো। ‘পরিবর্তনে’র মানবিক তাগিদ বোধ করা। সেই সূত্রেই আসে রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সংসদের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ইংগিত দিচ্ছে, আমরা কর্নওয়ালিসদের কাছেই থাকতে চলেছি। পরিবর্তনের জন্য আমাদের আত্ম-তাড়না এখনও তৈরি হয়নি। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত নয়।

এও আবার দেখতে হচ্ছে, সংসদে যখন কোনো এক দলের অত্যধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তখন বিরোধী দল কথার প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের বাইরে আর কিছুই করতে পারে না। কিন্তু ৫৫ বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর বাংলাদেশ সংসদকে আবারও পাঁচ বছরের ‘টকিং ক্লাব’ বা জ্বালাময়ী ভাষণের মঞ্চ হিসেবে দেখতে চায় না। অথচ এবারও আমরা এমন কিছু পেলাম না যে, সরকারি দল ও বিরোধী দল তর্ক-বিতর্ক শেষে যৌথ অংশীদারিত্বে সংস্কারধর্মী কোনো একটা আইন তৈরি করেছে। বরং আমরা ‘জুলাই’ হারিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট আলামত দেখলাম। মনে হলো জোর করেই যেন বিএনপি জুলাইয়ের এজেন্সি এমন সব শক্তির হাতে তুলে দিতে চাইছে, যারা আসলে ঐতিহাসিকভাবে ‘কলোনিয়াল স্থিতিশীলতা’র পক্ষের শক্তি। বিএনপি, বাংলাদেশ ও ‘জুলাই’ সবাই মিলে হারতে বসেছে এভাবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন বটে, তারা নিজেদের মতো করে জুলাই সনদের সবকিছু বাস্তবায়ন করবেন। এও সত্য, মাত্র দুই মাস বয়সী একটা সরকার ও সংসদকে অবশ্যই আরও সময় দিতে হবে। আরও অপেক্ষা করতে হবে নাগরিক সমাজকে।

কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ বড় দুর্ভাগা। তারা বারবার প্রতারিত হয়ে ভীত, শঙ্কিত। তারা ১৯৭২ থেকে অপেক্ষা করছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ বাস্তবায়ন দেখতে, ১৯৯১ থেকে অপেক্ষায় আছে ‘ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের দশ দফা’র কার্যকারিতা দেখতে, গত প্রায় ২১ মাস বসে আছে লাল জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার পরিণতি বুঝে নিতে। লাগাতার এরকম অনিশ্চিত অপেক্ষা ‘সমাজ’কে একদিকে ক্রমে দক্ষিণপন্থার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছে, অন্যদিকে দেশজুড়ে কর্নওয়ালিসতন্ত্র প্রতিনিয়ত নিজেকে গঠন ও পুনর্গঠন করে নিচ্ছে।

তিন দফায় বিপুল প্রাণ উৎসর্গ করেও ‘নাগরিক’রা কতিপয় ব্যক্তির ‘ভৃত্য’ মাত্র। আবার, ৫৫ বছর পরও ২৮ ভাগ মানুষ দরিদ্র, উৎপাদন সম্পর্কের সংস্কার নেই। প্রশ্ন ওঠে, আমাদের স্বাধীনতা, গণঅভ্যুত্থান ইত্যাদি কতটা আর গৌরব করার মতো? আমরা কি আসলেই ‘জিরো পয়েন্ট’ থেকে এগোতে পারছি?

আমাদের অলিগার্কিদের জন্য আদৌ কিন্তু উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু ঘটাতে পারেনি ২০২৪, ১৯৯০, ১৯৭১! আমাদের নাগরিক সমাজের উচিত স্বচ্ছ আয়নায় স্বদেশের মুখ দেখে নতুন করণীয় ঠিক করা।

 

আলতাফ পারভেজ: গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

মহাকাশে যা খাবেন চন্দ্রাভিযানের ৪ নভোচারী

আর্টেমিস-২ মিশনে চন্দ্রাভিযানে গেছেন চার নভোচারী। তারা চাঁদের কক্ষপথে ১০ দিন ভ্রমণ করবেন। তারপর পৃথিবীতে ফিরবে তাদের মহাকাশযান। কিন্তু এই ১০ দিনে তারা কী খাবেন? কেমন হবে তাদের খাবার?

আর্টেমিস-২ মিশন শুরুর আগে নাসা এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, খাবারের তালিকা তৈরি করা হয় মহাকাশবিষয়ক খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও ক্রুদের সঙ্গে সমন্বয় করে। যেন ক্রুদের ক্যালোরি, পানির চাহিদা ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

মহাকাশে খাবার এমন হতে হবে, যেন ভেঙে ছোট ছোট টুকরো না হয়। কারণ মাইক্রোগ্রাভিটি পরিস্থিতিতে খাবারের টুকরো ভেসে বেড়ালে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া খাবার যেন খুব সহজে তৈরি করা যায়। কারণ সেখানে স্বাভাবিক রান্না করা যায় না।

নাসা জানিয়েছে, অরিয়ন মহাকাশযানে একটি পানির মেশিন আছে। শুকনো খাবারে সেই পানিতে মিশিয়ে আবার খাওয়ার উপযোগী করা হবে, অনেকটা স্যুপ বা নুডলসের মতো। পাশাপাশি খাবার গরম করার জন্য ছোট একটি ফুড ওয়ার্মার আছে। দরকার হলে সেই ফুড ওয়ার্মার দিয়ে খাবার একটু গরম করে নিতে পারবেন নভোচারীরা।

সহজ করে বললে, মহাকাশে রান্না নয়, বরং পানি মিশিয়ে ও একটু গরম করে খাবার তৈরি করা হয়। তবে টুকরো হয়ে যায় এমন খাবার সেখানে নেওয়া হয় না।

চাঁদের পথে ব্যস্ত সূচির মধ্যেও তাদের জন্য আলাদা করে নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের সময় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছিল নাসা।

খাবারের পাশাপাশি তারা প্রতিদিন কিছু পানীয়ও পান করতে পারবেন। তবে এজন্য সীমা আছে, এক দিনে সর্বোচ্চ দুইটা পানীয় নেওয়া যাবে। এই পানীয়গুলো সাধারণ পানির মতো নয়, স্বাদযুক্ত (ফ্লেভারড)। এর মধ্যে কফিও থাকতে পারে।

১৯৭২ সালে শেষবারের মতো অ্যাপোলো প্রোগ্রাম মিশনের নভোচারীরা চাঁদে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে মহাকাশ খাদ্য প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে স্পেস শাটল যুগে খাবারের মেনু বেড়েছে এবং খাবার প্রস্তুতের সুবিধাও বেড়েছে। স্পেস শাটল বহুগামী মহাকাশযান, যা মানুষ এবং সরঞ্জাম উভয়ই মহাকাশে পাঠাতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো সুবিধা অরিয়নে পাওয়া যাবে না। কারণ মহাকাশ স্টেশনে ফ্রিজ আছে এবং নিয়মিত নতুন খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

কিন্তু আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা এমন সুবিধা পাবেন না। সেখানে পুনরায় খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা নেই।

এজন্য পুরো মিশনের জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট মেনু ঠিক করে নিয়েছে নাসা। নভোচারীরা আগে থেকে এই মেনু দেখে তাদের পছন্দের খাবার বেছে নিতে পেরেছেন। তারা প্রতিটি খাবারের স্বাদ এবং মান পরীক্ষা করেছেন। এরপর নাসা নভোচারীদের পছন্দের খাবারগুলোর পুষ্টিগুণ যাচাই করে নিয়েছেন।

প্রতিটি খাবারের কনটেইনারে দুই থেকে তিন দিনের খাবার থাকবে। যেন একটি বক্স খুলেই তারা কয়েকটি অপশন থেকে নিজের পছন্দের খাবার বেছে নিতে পারেন।

অবশ্য মহাকাশযানের কাজের ধাপ অনুযায়ী খাবারের ধরনও বদলাবে। যেমন—কিছু খাবার (ফ্রিজ-ড্রাইড) প্রস্তুত করতে পানি লাগে, কিন্তু উৎক্ষেপণ বা অবতরণের সময় পানি ব্যবহার করা যায় না। তাই ওই সময়ের জন্য প্রস্তুত খাবার রাখা হয়। অন্যদিকে, যখন সব সিস্টেম চালু থাকে, তখন বিকল্প খাবার বেশি পাওয়া যায়।

নাসা একটি ইনফোগ্রাফিক দিয়ে আার্টেমিস-২ এর খাবারের কিছু তথ্য দিয়েছে। যেমন—মিশনে মোট ১৮৯ ধরনের খাবার ও পানীয় থাকবে। এর মধ্যে ১০টির বেশি ধরনের পানীয় থাকবে। এছাড়া পাঁচ ধরনের হট সস, ৫৮টি টরটিলা। এছাড়া নানা ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার থাকবে, যেমন পুডিং, কাবলার, কেক, চকলেট ও কুকি।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, অরিয়ন মহাকাশযানে খাওয়ার ব্যবস্থা অনেকটা ক্যাম্পিংয়ের মতো। এখানে খাবার সহজে সংরক্ষণযোগ্য ও তৈরি করা যায়, খেতে কোনো ঝামেলা মনে হয় না, এবং প্রস্তুত করতে খুব সাধারণ উপকরণ লাগে।

বার্নার্দোকে আজীবন সিটিতে চান ‘তিতিবিরক্ত’ গার্দিওলা

ম্যানচেস্টার সিটির অধিনায়ক বার্নার্দো সিলভার ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে থাকা দলটির কোচ পেপ গার্দিওলা স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই পর্তুগিজ তারকার ওপর বিরক্ত হয়ে আছেন।

বার্নার্দো চলমান ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে বিদায় নিচ্ছেন বলে কিছুদিন আগে নিশ্চিত করেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির সহকারী কোচ পেপ লাইন্ডার্স। লিভারপুলের বিপক্ষে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যান সিটির ৪-০ গোলের জয়ের পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সুন্দর গল্পেরই সমাপ্তি থাকে। আমি আশা করি, সে এখানে তার শেষ মাসগুলো উপভোগ করবে।’

তবে আগামী রোববার চেলসির বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা জানান, বার্নার্দোর ক্লাব ছাড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি এখনও কিছুই জানেন না।

সিটির এই তারকা স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘আমি বার্নার্দোর ওপর তিতিবিরক্ত হয়ে আছি। কারণ মাসখানেক আগেই আমি তাকে বলেছিলাম, “তুমি যদি কোনো সিদ্ধান্ত নাও, তবে আমি যেন সবার আগে সেটি জানতে পারি।” কিন্তু সে এখন পর্যন্ত আমাকে কিছুই বলেনি। তাই আমার মনে হয়, এই ব্যাপারে কথা বলার সঠিক ব্যক্তি বার্নার্দো নিজেই। সে আমাকে কিছু না বলায় আমি জানি না আসলে কী ঘটছে।’

২০১৭ সালে ফরাসি ক্লাব মোনাকো থেকে সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন বার্নার্দো। ৩১ বছর বয়সী পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তার নয় বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। বর্তমান মৌসুম শেষ হওয়ার পর চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ক্লাব ছাড়বেন তিনি।

বার্নার্দোর ভবিষ্যৎ নিয়ে গার্দিওলার চাওয়া পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে চাইব, সে এখানে থেকে যাক এবং এখানেই ক্যারিয়ার শেষ করুক।’

বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক এই কোচ যোগ করেন, ‘আমি জানি না কী হবে। সিদ্ধান্তটা তাকেই নিতে হবে। সে নিশ্চয়ই ক্লাবকে এবং আপনাদের অর্থাৎ সংবাদমাধ্যম, ভক্ত ও সবাইকে তা জানাবে। সিদ্ধান্তটা একান্তই তার। তবে আমাদের জন্য সে ছিল এক অবিশ্বাস্য সাইনিং। তার পরিসংখ্যান, মাঠে কাটানো সময় এবং জেতা শিরোপার সংখ্যাই সেটার প্রমাণ। বিশেষ করে কঠিন মুহূর্তগুলোতে সে অসাধারণ। যখন সবকিছু কঠিন হয়ে পড়ে, তখন একজন খেলোয়াড় কীভাবে নিজেকে উজাড় করে দেয় এবং বলে “আমি এখানে সাহায্য করার জন্য আছি”, আমি সেসব দিয়েই তাদেরকে বিচার করি।’

গত মাসে ইএফএল কাপ জেতার পর এবারের মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে ঘরোয়া ‘ট্রেবল’ জয়ের দৌড়ে টিকে আছে ম্যান সিটি। তবে এফএ কাপের সেমিফাইনালে উঠলেও প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থানধারী আর্সেনালের চেয়ে তারা ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে। যদিও তাদের হাতে একটি ম্যাচ জমা রয়েছে। আগামী ১৯ এপ্রিল ম্যানচেস্টারে মুখোমুখি হবে এই দুই দল, যা শিরোপার লড়াইয়ে নির্ধারক ম্যাচ হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে গার্দিওলা বলেন, ‘আমাদের অনেক পয়েন্ট জিততে হবে। পুরো মৌসুমে আমরা যথেষ্ট ধারাবাহিক ছিলাম না। যেসব পয়েন্ট আমাদের পাওয়া উচিত ছিল, সেগুলো আমরা হারিয়েছি। আর এই কারণেই এখন আমরা এমন এক অবস্থানে আছি, যেখানে অন্য কোনোভাবে ভাবার সুযোগ নেই।’

ছাই থেকে টুথপেস্ট: দাঁতের যত্নে অভ্যাস বদল

শৈশবে আনোয়ারা আখতারের দিন শুরু হতো নিমগাছের ডাল কেটে। ডালের এক প্রান্ত চিবিয়ে ব্রাশের মতো তৈরি করে দাঁত মাজতেন তিনি। সত্তরের দশকে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ঘরের সাধারণ দৃশ্য। অনেক পরিবার কাঠের কয়লা ব্যবহার করত, কেউবা ছাই। শহরের উচ্চবিত্তদের বাইরে তখন টুথপেস্ট ছিল প্রায় অপরিচিত এক বস্তু।

আনোয়ারা আখতার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আশির দশকে কলেজে পড়ার জন্য নেত্রকোনা শহরে আসার আগপর্যন্ত তিনি কখনো টুথপেস্ট ব্যবহার করেননি।

তখন পর্যন্ত বাংলাদেশে দাঁত মাজতে কয়লা, ছাই আর টুথ পাউডারই ছিল ভরসা। কিন্তু এখন সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ইউনিলিভার বাংলাদেশের তথ্য বলছে, সাশ্রয়ী দেশীয় ব্র্যান্ড, মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং ওরাল হেলথ নিয়ে সচেতনতা বাড়ার ফলে বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ পরিবার সকালে টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট ব্যবহার করে। গত এক দশকে দেশে টুথপেস্টের ব্যবহার ৮৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিশ্বে ১৮৮০-এর দশকে বাণিজ্যিক টুথপেস্ট প্রথম দেখা গেলেও আমাদের অঞ্চলে এটি পৌঁছায় ১৯৪০ থেকে ৫০-এর দশকে। তখন এর ব্যবহার ছিল শুধু শহরকেন্দ্রিক। গ্রামের বাসিন্দারা মূলত নিমের ডাল বা মেসওয়াক ব্যবহার করতেন।

স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে গ্রামে টুথপেস্ট পৌঁছাতে শুরু করলেও নব্বইয়ের দশকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার ও শিক্ষার প্রসারে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে দেশে দাঁতের যত্নসংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারের আকার প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে শুধু টুথপেস্টের বাজারই দেড় হাজার কোটি টাকার। আর মোট বিক্রির প্রায় ৬৫ শতাংশই আসে গ্রামগঞ্জ থেকে।

বর্তমানে এই বাজারে ১৪টির বেশি দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানি প্রতিযোগিতা করছে। ইউনিলিভার বাংলাদেশের (ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট) করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর শামীমা আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সচেতনতা বাড়ায় টুথপেস্টের চাহিদা বেড়েছে। এর বাজার এখন একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগে শুধু শহরকেন্দ্রিক চাহিদা থাকলেও এখন গ্রামেও সমান চাহিদা।’

তিনি আরও বলেন, শহরের বাসিন্দারা অনেক আগেই টুথপেস্টের ব্যবহার শুরু করেছেন। গ্রামের দিকে শুরুতে এর প্রসার ধীর থাকলেও পরে তা অতি দ্রুতগতিতে বেড়েছে।

স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের (হোয়াইট প্লাস ও ম্যাজিক) মার্কেটিং বিভাগের প্রধান জেসমিন জামান বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ বছরে এই বাজার স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মানুষ এখন টুথপেস্টে ভেষজ উপাদান খুঁজছেন।

কোহিনূর কেমিক্যালসের এক কর্মকর্তা জানান, ভেষজ বা হারবাল টুথপেস্টের বাজার বর্তমানে মোট বাজারের প্রায় ৫ শতাংশ। ভারতে ভেষজ বা হারবাল টুথপেস্ট অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাজার বড় হওয়ার কারণেই এই প্রবৃদ্ধি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

শামীমা আক্তার বলেন, স্থানীয় ভোক্তাদের একটি বড় অংশ দামের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। দাম কম হওয়ায় গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই টুথ পাউডার ব্যবহার করে। গ্রামে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজার বিষয়টি এখনো প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

টুথপেস্ট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল—যেমন ফ্লোরাইড কম্পাউন্ড, সরবিটল ও ফ্লেভার অয়েল মূলত আমদানিনির্ভর। ২০২২-২৩ সালের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় অনেক পরিবার টুথপেস্টের ব্যবহার কিছুটা কমিয়েছিল। এ ছাড়া দাম কম হওয়ায় কম আয়ের মানুষ এখনো টুথ পাউডার বেছে নেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডেন্টাল) এ এন এম নাজমুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কয়লা বা ছাই খসখসে হওয়ায় তা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। এতে দাঁত শিরশির করা থেকে শুরু করে মাড়ির রোগ ও দাঁত পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সঠিক ওরাল হাইজিন বা মুখের যত্নের অভাবে ওরাল ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রুমন বণিক বলেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ রোগী দাঁতে ব্যথা হওয়ার আগে চিকিৎসকের কাছে যান না। দাঁতের যত্নে নিয়মিত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রতি তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দাঁতের চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেন তিনি।

যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি: গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট

গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কয়েকটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। এসব ঘটনাকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি অপমান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জোটটি।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, ‘সংসদের শোক প্রস্তাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আল-বদর ও রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

‘গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছে-সংসদের শোক প্রস্তাব থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের নাম অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে,’ বলা হয় বিবৃতিতে।

জোটটি বিএনপির চিফ হুইপের ভূমিকাও সমালোচনা করে বলেছে, ‘মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে ভোট চেয়েছে—এমন একটি দলের চিফ হুইপের সংসদে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নাম প্রস্তাব করা গভীরভাবে লজ্জাজনক।’

জোটটির মতে, বাংলাদেশের সংসদ হলো মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখো মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সর্বোচ্চ আইনসভা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে সংসদ গড়ে উঠেছে। তাদের হত্যার জন্য দায়ীদের প্রতি শোক প্রকাশ করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।’

জোটটি আরও অভিযোগ করেছে, সংসদের ভেতরে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির কিছু প্রতিনিধি দাঁড়াতে ইতস্তত করেছিলেন, যা তারা ‘জাতির প্রতি অসম্মান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাতীয় সঙ্গীতের সময় দাঁড়াতে দ্বিধা করা, দেশের এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতি স্পষ্ট অসম্মানের লক্ষণ।’

বিবৃতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ডিত এটিএম আজহারুল ইসলামকে সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করারও সমালোচনা করা হয়েছে।

জোটটির ভাষ্য, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত একজন ব্যক্তিকে সংসদের এমন সম্মানজনক পদে নিয়োগ দেওয়া শুধু সংসদেরই অপমান নয়, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতিও অপমান।’

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান বৈষম্য ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ছিল, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের জন্য নয়। সেই অভ্যুত্থানে যে তরুণ প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, তারা রাজাকারের পুনর্বাসন দেখতে রাস্তায় নামেনি।’

বর্তমান সরকারকে ‘মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার’ও সতর্কবার্তা দিয়েছে জোটটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ ভুলে যায়নি। কোনো রাজনৈতিক সমঝোতাই ৩০ লাখ শহীদের ঋণ মুছে দিতে পারবে না।’

গণতান্ত্রিক বাম জোট সংসদের শোক প্রস্তাব থেকে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নাম অবিলম্বে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানানো সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়া, এটিএম আজহারুল ইসলামকে সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল থেকে অবিলম্বে অপসারণের দাবিও জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদ-এর সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদাক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণ ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।

বিটিএসের টিকিট বিক্রি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম শনাক্ত, তদন্ত করছে সিউল

দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের আসন্ন কনসার্টের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িতদের তালিকা শনাক্ত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এক হাজার ৮৬৮টি কালোবাজারির তালিকা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনা তদন্তের জন্য দেশটির ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন বেশিরভাগ তালিকা পাওয়া গেছে সেকেন্ডহ্যান্ড অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে।

তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সংখ্যায় কিছু ডুপ্লিকেট পোস্টও থাকতে পারে, কারণ তালিকা বিশ্লেষণের সময় আলাদা বিক্রেতা নয়, বরং আলাদা পোস্টের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অননুমোদিত মাধ্যমে টিকিট কিনলে ভক্তরা কনসার্টে হয়তো নাও ঢুকতে পারেন। কারণ আয়োজকরা কঠোর পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করেছে।

২১ মার্চ গওয়াংহওয়ামুন কনসার্টের জন্য টিকিটিং ব্যবস্থা করা হয়েছে মোবাইল কিউআর কোডের মাধ্যমে। একবার স্ক্যান হলে এই কোড আর ব্যবহার করা যাবে না বা স্ক্রিনশট নিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না।

এ ছাড়া কনসার্টে প্রবেশের সময় দর্শকদের সরকারি পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং একটি বিশেষ নিরাপত্তা রিস্টব্যান্ড পরতে হবে, যা খুলে ফেললে আবার লাগানো যাবে না।

ভিতরে ঢোকার পরও আয়োজকেরা হঠাৎ পরিচয় যাচাই করতে পারে। কেউ নিয়ম ভাঙলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হবে।

কনসার্টের আয়োজকেরা নিজেরাও অনলাইনে টিকিট বিক্রির পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। বুকিং নীতিমালা লঙ্ঘনের সন্দেহ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট টিকিট বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করেছে যে, কালোবাজারি টিকিট কিনলে ভক্তদের অতিরিক্ত দাম দিতে হতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

নতুন আইন অনুযায়ী, আগস্ট ২৮ থেকে কেউ নিয়ম ভাঙলে তাকে টিকিটের মূল্যের সর্বোচ্চ ৫০ গুণ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। পাশাপাশি টিকিট বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক অ্যান্টি-স্ক্যাল্পিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।

এই আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে মন্ত্রণালয় ৫ মার্চ একটি সরকারি–বেসরকারি টাস্কফোর্সও গঠন করেছে, যেখানে টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম, রিসেল মার্কেটপ্লেস এবং শিল্পখাতের সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করবে।

কর্তৃপক্ষ এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে কাজ করে সন্দেহজনক পোস্ট মুছে ফেলছে এবং সংশ্লিষ্ট কিওয়ার্ডগুলো ফিল্টার করার ব্যবস্থা করছে।

এদিকে ১২ মার্চ রাত ৮টায় নতুন করে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আবারও কালোবাজারি বা প্রতারণা বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোকে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।