22 C
Dhaka
Home Blog Page 9

সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করতে পারবেন না ওসিরা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) কোনো অবস্থাতেই সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করতে পারবেন না। যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি আরও সতর্ক করেন, কোনো ধরনের তদবির বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।

আজ বুধবার সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। 

বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখতে হবে এবং পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না।

কোনো ওসির ফোন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে আসা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান নেবেন বলে জানান।

বৈঠকে উপস্থিত আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রথম বৈঠকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন কীভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালিত হবে।

তিনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্বে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে জড়িত না হতে পরামর্শ দেন।

গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অতীতে যা ঘটেছে সেখানে ফিরে যেতে চান না। বরং সামনের দিনগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।

ওই কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাস করেন। কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

বাহিনীর ভেতরে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্ত শেষে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই তিনি বলেছেন বলে ওই কর্মকর্তা উদ্ধৃত করেন। এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানান।

কর্মকর্তা আরও বলেন, সড়কে জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেছেন, এমন কোনো কর্মসূচি নেওয়া যাবে না, যা মানুষের কষ্টের কারণ হয়।

রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাকে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলছি, পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে। আগে যে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করতে হবে।’

একটি ‘সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত’ মন্ত্রণালয় গড়ে তুলতে চান জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সবার জন্য জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। কোনো ধরনের অবৈধ কাজ চলবে না।’

সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো বাহিনীর সদস্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হলে বিলম্ব না করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মোবাইল সাংবাদিকতা নাকি ডিজিটাল হয়রানি?

সাংবাদিকতার কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা; অন্যায়, বৈষম্য, জবাবদিহিহীনতা সামনে আনা। মোবাইল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেই কাজকেই আরও দ্রুত, বিস্তৃত ও জনমুখী করার কথা ছিল। হাতে স্মার্টফোন থাকলে ঘটনাস্থল থেকে সঙ্গে সঙ্গে ছবি, ভিডিও, তথ্য পাঠানো যায়; বড় ক্যামেরা যেখানে পৌঁছাতে পারে না, সেখান থেকেও খবর তোলা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, মোবাইল সাংবাদিকতা হওয়ার কথা ছিল সাংবাদিকতার পরিসর বাড়ানোর শক্তিশালী হাতিয়ার।

কিন্তু বাংলাদেশে এর এক অস্বস্তিকর, কদর্য ব্যবহার প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে মোবাইল সাংবাদিকতা আর খবর সংগ্রহের মাধ্যম থাকছে না; সেটি ক্রমে মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের প্রকাশ্যে ছোট করা, হেনস্তা করা, আর কনটেন্ট বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

চিত্রটি খুব অপরিচিত নয়। কোনো নারী একটি অনুষ্ঠান, সমাবেশ বা জনপরিসরে গেছেন। তিনি হয়তো এক মুহূর্তের জন্য শাড়ি ঠিক করছেন, ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন, কিংবা রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। হঠাৎ দেখা যায়, কাছেই কোনো ফোনের ক্যামেরা তাকেই ‘খবর’ বানিয়ে ফেলেছে। অনুষ্ঠান নয়, ঘটনাও নয়, মূল ফোকাস ওই নারী। তারপর শুরু হয় ভিডিও, রিল, স্থিরচিত্র, ক্যাপশন, ইঙ্গিত, ঠাট্টা, লজ্জা, আর ভেসে ওঠা চটকদার ‘সংবাদ’। দেখলেই বোঝা যায় এটি সাংবাদিকতা নয়, কেবলমাত্র অপমানজনক কনটেন্ট।

এখানে সমস্যা ক্যামেরা নয়। সাংবাদিকরা জনসমাগম ধারণ করবেন, সাধারণ মানুষও জনপরিসরের মুহূর্ত রেকর্ড করবেন—সেটাই স্বাভাবিক। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন ক্যামেরা তথ্য দেওয়ার বদলে কারও অপ্রস্তুত মুহূর্ত উন্মুক্ত করার জন্য তাক করা হয়; যখন ঘটনা ব্যাখ্যার জন্য ফ্রেম বাছাই না করে বরং কাউকে বিব্রত করা হয়; যখন প্রেক্ষাপটের বদলে দর্শকের চোখকে নারীর শরীর, পোশাক বা ভঙ্গির দিকে ঠেলে দিতে ক্যাপশনের ব্যবহার করা হয়। সেই মুহূর্তেই একজন মানুষ কনটেন্টে পরিণত হন।

এই প্রবণতার বড় চালক এখন কিছু ফেসবুক পেজ, টিকটক অ্যাকাউন্ট, ইউটিউব চ্যানেল ও ভুঁইফোড় ‘নিউজ পোর্টাল। তারা অপমানকে বিক্রির জিনিস বানিয়েছে। আরও অস্বস্তিকর সত্য হলো, মাঝে মাঝে কিছু প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমও একই ফাঁদে পা দিচ্ছে। তারা এমন ক্লিপ বা ছবি প্রকাশ করেছে, যার সঙ্গে জনস্বার্থের সম্পর্ক খুবই সামান্য। সেগুলো বরং কৌতূহল, দৃষ্টি ও শরীরী আগ্রহের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে। ভুয়া পোর্টালগুলো কোনো নীতিমালা মানে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমও যখন সাংবাদিকতার মানদণ্ড ভেঙে একই খেলায় নামে, তখন ক্ষতিটা অনেক গভীর হয়।

একটি পেজ তার নামের শেষে ‘টিভি’, ‘নিউজ’ বা ‘মিডিয়া’ জুড়ে দিলেই তা সাংবাদিকতা হয়ে যায় না। কাউকে অপমান করার ভিডিও বা ছবি আপলোড করা সাংবাদিকতা নয়। মানুষের দুর্বল মুহূর্তকে ভাইরাল করা জনস্বার্থ নয়। কারও লজ্জা, ভয় বা অস্বস্তিকে ‘কনটেন্ট’ বানানো সংবাদ নয়।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক নারী আন্দোলনকর্মীকে আপত্তিকরভাবে ভিডিও করার অভিযোগে এক মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিককে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নবিদ্ধ করেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী তাকে জিজ্ঞেস করছেন, কেন এমন ফুটেজ তিনি নিয়েছেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্যাডে দেওয়া একটি মুচলেকার কথাও সামনে আসে। সেখানে বলা হয়, তিনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে জুম করে ওই নারীকে ধারণ করেছিলেন। তিনি ভুল স্বীকার করেন এবং মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। ঘটনাটি শুধু একজনের দোষের প্রশ্ন নয়; এটি দেখিয়েছে, সমস্যাটি পেশার ভেতরেই ঢুকে পড়েছে।

এই প্রবণতা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ নয়। পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির সময় অনেক ক্ষেত্রেই সেটাকে প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। ক্যামেরা, ফোন, লাইভ, বুম, মাইক্রোফোন—সব মিলে একধরনের জনসমক্ষে উন্মোচন। একই প্রবণতা দেখা যায় পুলিশের অভিযানে, বিশেষ করে হোটেল অভিযানে। মানুষকে তাদের সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় ভিডিও করা হয়। কে অপরাধী, কে নয়, আদালত বলার আগেই ক্লিপ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। মুখ দেখানো হয়, পরিচয় ফাঁস হয়, কৌতুক হয়, রায় দিয়ে ফেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। শুরু হয় মিডিয়া ট্রায়াল।

এই ক্ষতি কেবল নারীর শরীরকে পণ্য বানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শাহবাগে সমকামী সম্প্রদায়ের সদস্য বলে অভিযোগ তুলে কয়েকজনকে মারধরের ঘটনায়ও একই প্রবণতার অভিযোগ এসেছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, নিজেদের মোবাইল সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া কিছু লোক তাদের চলাচলে বাধা দেয়, অনুমতি ছাড়া ভিডিও করে, এমনকি হামলার মাঝেই অপমানজনক, অশালীন ও ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন করতে থাকে। অর্থাৎ, মানুষের বিপদও এখন কনটেন্ট। ভয়, অপমান, আতঙ্ক, সামাজিক দুর্বলতা—সবই বাজারজাত করা যায়।

এটি কেবল নীতির প্রশ্ন নয়; এটি আইন, নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রশ্ন। দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা স্পষ্ট করে বলছে, কোনো নারীর শ্লীলতাহানি বা গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে শব্দ, অঙ্গভঙ্গি বা আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে নারীর অপমানকে কনটেন্টে পরিণত করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সেই গুরুত্ব খুব কমই দেখা যায়। সাইবার আইন, ডিজিটাল নজরদারি, কনটেন্ট অপসারণ—এসব তখনই বেশি সক্রিয় দেখা যায় যখন রাজনীতি জড়িত থাকে বা ক্ষমতাবানদের স্বার্থে আঘাত লাগে। কিন্তু যখন নারী বা অন্য কোনো নাজুক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, তখন রাষ্ট্রের সেই তৎপরতা চোখে পড়ে না।

নিবন্ধিত গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায় আরও বেশি। সরকার যদি নিবন্ধন দেয়, তাহলে সেই বৈধতার অপব্যবহার হলে দায়ও তাকে নিতে হবে। সতর্কবার্তা, ব্যাখ্যা চাওয়া, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা—সবই সম্ভব। নিবন্ধন কখনোই শিকারি আচরণের ঢাল হতে পারে না।

আর অপরাধী যদি হয় এমন কোনো অনিবন্ধিত পেজ বা পোর্টাল, যারা নামের সঙ্গে ‘নিউজ’ লিখে মানুষের মর্যাদা হরণ করে, তাহলে রাষ্ট্রের দায় কমে না। বরং আরও স্পষ্ট হয়। সরকার ভুক্তভোগীর অভিযোগের অপেক্ষায় বসে থাকতে পারে না। অনেকেই হয়তো জানেনই না যে তাদের ছবি বা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, কনটেন্ট অপসারণ, প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয়, পুনরাবৃত্ত অপরাধী শনাক্তকরণ—এসবের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা দরকার।

একজন সাংবাদিক হিসেবেই এসব কথা আমি বলছি। কারণ, আমি দেখছি, এই সংস্কৃতি শুধু নারীদের নয়, সাংবাদিকতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিবার যখন অপমানকে ‘মিডিয়া’ নামের মোড়কে পরিবেশন করা হয়, সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা কমে। প্রতিবার যখন কোনো নারীকে নিউজ লোগোর নিচে টোপে পরিণত করা হয়, মানুষ সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা আরেকটু হারায়।

এ কারণে একে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্ন বলে পাশ কাটানো যাবে না। একজন নারীকে, কিংবা অন্য কোনো নাজুক মানুষকে শিকারি ক্যামেরার সামনে ঠেলে দেওয়া স্বাধীনতা নয়; এটি নিপীড়ন। আর শিকারি লেন্স থেকে কাউকে রক্ষা করার অর্থ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, বরং নাগরিকের মর্যাদার অধিকার রক্ষা করা।

যদি মিডিয়ার নামে এসবকে প্রশ্রয় দিতে থাকি, তাহলে সাংবাদিকতা নিজেই সেই সমস্যার অংশ হয়ে উঠবে, যা তার উন্মোচন করার কথা ছিল।

লেখক: দ্য ডেইলি স্টারের একজন সাংবাদিক, যিনি শিক্ষা, সুশাসন, মানবাধিকার ও জনজবাবদিহিতা নিয়ে লেখালিখি করেন।
[email protected]
 

মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা অপারেটরদের

দেশের মোবাইল অপারেটররা সতর্ক করেছে, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে সারা দেশে টেলিকম সেবা বিঘ্নিত হতে পারে। এতে ডেটা সেন্টারসহ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সমস্যায় পড়তে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) পাঠানো জরুরি এক চিঠিতে এসব বলেছে অপারেটররা। তারা বলছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকারের দ্রুত সাহায্য ছাড়া টেলিকম সেবা চালিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন (এএমটিওবি) তাদের চিঠিতে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। এমন সময়ে তারা এই চিঠি পাঠানো যখন ঝড়ের সময় প্রায় প্রতিদিনই ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না এবং তাদের বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম চালাতে হচ্ছে।

এএমটিওবির চিঠি অনুযায়ী, শুধু বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) চালাতেই প্রতিদিন অপারেটরদের মোট ৫২ হাজার লিটারের বেশি ডিজেল এবং প্রায় ২০ হাজার লিটার অকটেন ব্যবহার খরচ হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘টেলিকম সেবা বিঘ্নিত হলে জরুরি সেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা, টাকা লেনদেন, অনলাইনে সরকারি কাজ ও অর্থনীতি—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’

ওই চিঠিতে বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, দেশের সবচেয়ে বড় টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোন প্রতিদিন ২৮ হাজার ৭৯ লিটার ডিজেল এবং ৯ হাজার ২৫৪ লিটার অকটেন ব্যবহার করছে। রবি আজিয়াটা ব্যবহার করছে ১৩ হাজার ১৪০ লিটার ডিজেল ও ৫ হাজার ৬১০ লিটার অকটেন। আর বাংলালিংক তাদের টাওয়ার সচল রাখতে প্রতিদিন ১১ হাজার ২০৬ লিটার ডিজেল এবং ৪ হাজার ৯৯৫ লিটার অকটেন ব্যবহার করছে।

তবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে আছে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর মূল ভিত্তি ডেটা সেন্টার ও সুইচিং ফ্যাসিলিটিজগুলো। 

এএমটিওবি জানিয়েছে, ‘ডেটা সেন্টার, সুইচিং ফ্যাসিলিটিজ ও ট্রান্সমিশন হাবসহ টেলিকমের মূল অবকাঠামোগুলো প্রায়ই বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চলছে, যা নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।’

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ডেটা সেন্টারের জন্য প্রতি ঘণ্টায় আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ লিটার ডিজেল দরকার হয়। এতে দিনে প্রতিটি সেন্টারে প্রায় ৪ হাজার লিটার ডিজেল লাগে।

ডেটা সেন্টার ও সুইচিং হাব মিলিয়ে প্রতিদিন মোট জ্বালানি ব্যবহার এখন বেড়ে ২৭ হাজার ১৯৬ লিটারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোন ব্যবহার করছে ১১ হাজার ১৮৪ লিটার, রবি ৯ হাজার ৭৩২ লিটার এবং বাংলালিংক ৮ হাজার ২০০ লিটার।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত বেশি ব্যাকআপ বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব না।

বিটিএস টাওয়ারের মতো না, ডেটা সেন্টারগুলোতে কল রাউটিং ও ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়। এখানে সমস্যা হলে পুরো নেটওয়ার্কে একের পর এক বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

একটি টেলিকম অপারেটরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যদি ঠিকঠাক জ্বালানি সরবরাহ করা না যায় এবং ডেটা সেন্টার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ব্যাপক কল ড্রপ, ইন্টারনেট বিভ্রাট ও টেলিকম সেবায় অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।’
গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, অপারেটররা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পেতে সমস্যায় পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যেন সারা দেশে টেলিকম সেবা স্বাভাবিক থাকে।

তিনি আরও বলেন, লাখো মানুষের জরুরি সেবা বিঘ্ন এড়াতে সরকারের কাছ থেকে সহায়তা দরকার। যেমন—গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানি সহজে পাওয়া এবং জরুরি কাজে জ্বালানি পরিবহন সহজ করা।

এর প্রভাব কেবল যোগাযোগ বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সীমিত থাকবে না। এএমটিওবি সতর্ক করে বলেছে, সেবা বন্ধ হলে জরুরি সেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা, টাকা লেনদেন, ডিজিটাল সরকারি কাজ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

বাংলাদেশের দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতি মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তাই এ খাতটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা, রাইড শেয়ারিং অ্যাপ এবং ক্লাউডভিত্তিক ব্যবসাগুলো সবই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের ওপর চলে। নেটওয়ার্ক দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে টাকা লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বেতন দিতে দেরি হতে পারে এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাতেও অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি সংকটের কারণে সমস্যা আরও বেড়েছে। স্থানীয় পাম্পগুলো এত জ্বালানি দিতে পারছে না। আবার এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জ্বালানি আনা-নেওয়াতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বাধার কারণেও সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে।

‘এ কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম স্থাপনায় এখন খুব কম জ্বালানি মজুত আছে, যা খুবই বিপজ্জনক,’ চিঠিতে বলা হয়।
তাই গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম স্থাপনাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে, মোবাইল টাওয়ারকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ডিপো থেকে সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ করতে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে অপারেটরদের সংগঠন।

তারা জ্বালানি পরিবহন সহজ করার অনুরোধ জানিয়েছে। চিঠিতে জরুরি টেলিকম সেবার জন্য জ্বালানি পরিবহন যেন বাধাহীনভাবে হয় এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত লিখিত নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

তারা আরও বলেছে, টেলিকম নেটওয়ার্ক হলো দেশের যোগাযোগ, জননিরাপত্তা, প্রশাসন এবং জরুরি সেবার মূল ভিত্তি। তাই দীর্ঘ সময় এটি বিঘ্নিত হলে দেশের জন্য অনেক ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

তারা দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ, জ্বালানি কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং মোবাইল অপারেটররা আলোচনায় বসবে।

বাংলাদেশে মোট ৪৬ হাজার ৫৬৭টি টেলিকম টাওয়ার আছে। এগুলো টাওয়ার কোম্পানি ও মোবাইল অপারেটররা পরিচালনা করে। এগুলো প্রায় ১৮ কোটি ৫৮ লাখ গ্রাহককে নেটওয়ার্ক সেবা দেয়। এছাড়া দেশে অপারেটরদের প্রায় ২৭টি ডেটা সেন্টারও আছে।

এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করতে ঘাম ঝরল বাংলাদেশের

থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পুরুষ এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে আজ হংকংয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের ৪-৪ ড্রয়ের পর স্নায়ুচাপের পেনাল্টি শুটআউটে ৩-২ ব্যবধানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। বিদায় নেওয়ার শঙ্কা কাটিয়ে এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৬ এশিয়ান গেমসে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে তারা।

পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থান নির্ধারণী এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড রাকিবুল হাসান ও আবেদ উদ্দিনের শট লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হওয়ার পর গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুর দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট রুখে দেন। এরপর অধিনায়ক ফজলে রাব্বি পঞ্চম শটটি জালে জড়িয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

হংকংয়ের ওপর এই জয় বাংলাদেশকে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে পৌঁছে দিয়েছে এবং সেই সঙ্গে নিশ্চিত করেছে আগামী এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ। 

উল্লেখ্য, ৯ দলের এই বাছাইপর্ব থেকে শীর্ষ ছয়টি দল জাপানে অনুষ্ঠিতব্য সেপ্টেম্বরের এই মাল্টি-স্পোর্ট ইভেন্টে খেলার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ কখনো এশিয়ান গেমস থেকে বাদ পড়েনি। লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা পুরুষ এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের গত তিন আসরে হয় চ্যাম্পিয়ন নতুবা রানার্স-আপ হিসেবে শেষ করেছে।

তবে ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়নরা, যারা ২০১৮ ও ২০২২ সালে ওমানের কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল, তারা এবার সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। নিজেদের তৃতীয় ও শেষ পুল ম্যাচে উজবেকিস্তানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার ফলে তাদের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

 

৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে হুমকির মুখে ফেলায় অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে তিন লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

ডিজেল বাংলাদেশে সর্বাধিক ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং দেশটি তার পেট্রোলিয়ামের চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ৬৮ লাখ টন পেট্রোলিয়াম ব্যবহার করে, যার মধ্যে ডিজেল ছিল ৪৩ দশমিক ৫ লাখ টন।

নতুন করে কেনা এই ডিজেল দিয়ে দেশের প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাব সভায় অনুমোদন পেয়েছে।

সভায় উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে ‘এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ থেকে এক লাখ টন ডিজেল সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া একই পদ্ধতিতে ‘সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড’ থেকে আরও দুই লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করলে রাজপথে নামবে ১১ দলীয় ঐক্য

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আগামীকাল রোববারের মধ্যে আহ্বানের উদ্যোগ না নিলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

আজ শনিবার ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ হুঁশিয়ারি দেন।

এর আগে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে আযাদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়েও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে জনগণের সমর্থন রয়েছে। সে অনুযায়ী সরকারের দায়িত্ব দ্রুত পরিষদের কার্যক্রম শুরু করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অধিবেশন না ডাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আজকের বৈঠকে অংশ নেওয়া ১১-দলের প্রতিনিধিরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের মতে, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম বিলম্ব করা উচিত নয়, বলেন তিনি।

আযাদ আরও বলেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট উদ্যোগ না নিলে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জনগণের ভোটাধিকার ও প্রত্যাশা রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি রয়েছে।

বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের বিকল্প হিসেবে প্রশাসনিক নিয়োগ দীর্ঘায়িত হলে তা নতুন করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানান তিনি।

দেড় বছর পর বাঁধনের ফিরে আসা

প্রায় দেড় বছর পর আবারও রুপালি পর্দায় সরব হয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন। একটার পর একটা নতুন কাজ করছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

সেই ধারাবাহিকতায় একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন। 

ভিকি জাহেদ পরিচালিত সিরিজটির নাম চক্র সিজন টু।

খুব শিগগিরই এটি প্রচার হবে। এই সিরিজে বাঁধন গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

চক্র সিজন টু সম্পর্কে বাঁধন বলেন, ‘প্রথমেই বলতে চাই ভিকি জাহেদ অনেক ভালো এবং মেধাবী একজন পরিচালক। তার কাজ দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে ছিল। সেই ইচ্ছে পূরণ হয়েছে চক্র সিজন টু-তে।’

বাঁধন আরো বলেন, ‘চক্র সিরিজে প্রথমবারের মতো তৌসিফের সঙ্গে অভিনয় করেছি। ভিকি জাহেদের সঙ্গেও এটা আমার প্রথম কাজ। গল্পটা অসাধারণ। সব মিলিয়ে চক্র একটি ভালো ওয়েব সিরিজ। দর্শকদের ভালো লাগবে।’

 

তিনি বলেন, ‘চক্র সিরিজে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা খুব ভালো। সহশিল্পী হিসেবে যাদের পেয়েছি, সবাই খুব ভালো করেছেন। দারুণ কিছু ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে।’

চক্র সিজন টু সিরিজে বাঁধন ভিন্ন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। 

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের চরিত্রে আগে কখনো অভিনয় করিনি। গল্প যেমন অন্যরকম, চরিত্রটিও ব্যতিক্রমী। অভিনয় করেও ভালো লেগেছে। কাজটি খুবই উপভোগ করেছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চলতি বছর আমার জন্য খুব ভালো যাচ্ছে। একটার পর একটা কাজ আসছে। ভালো কিছু খবর আসছে।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি নেদারল্যান্ড থেকে এসেছি। আমার অভিনীত মাস্টার চলচ্চিত্রটি নেদারল্যান্ডস-এ পুরস্কার জিতেছে। অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে।’

এছাড়া, এবারের ঈদে তার অভিনীত বনলতা এক্সপ্রেস মুক্তি পাচ্ছে। পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। 

বাঁধন বলেন, ‘মুক্তির আগেই বনলতা এক্সপ্রেস নিয়ে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। দর্শকরা সিনেমাটি দেখবেন। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস কাজ করছে।’

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেড় বছর কোনো কাজ করিনি। দুঃখজনক এটা। এত প্রশংসিত কিছু কাজ করার পরও দেড় বছর কাজ করিনি। জীবনে ভালো সময় আসে। আবার ভালো সময় সবসময় নাও থাকতে পারে। জুলাই আন্দোলনের পর দেড় বছর কাজ করিনি। সেই সময় নিজের জমানো অর্থ দিয়ে চলতে হয়েছে।’

বাঁধন বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়েই জীবন। সবসময় সাকসেস আসবে, তা নয়। এখন কাজ আসছে, আবার কখনো না-ও আসতে পারে। সেই বিষয়টি ভাবনায় রেখেই কাজ করে যেতে হবে।’

‘বনলতা এক্সপ্রেস যেমন ভালো একটি কাজ, চক্র সিজন টু-ও একটি ভালো কাজ। দর্শকদের ভালো লাগবে’, যোগ করেন তিনি।

যে কারণে বুর্জ খলিফায় ভেসে উঠল মোদির মুখ

বিশ্বের উচ্চতম অট্টালিকা বুর্জ খলিফার বিষয়ে জানেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব বললেই চলে

দুবাই শহরের শোভা এই অট্টালিকার গায়ে হঠাৎ করেই কেন ভেসে উঠল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখাবয়ব ও ভারতের তেরঙ্গা পতাকা?

বিষয়টি নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হতে না হতেই মিলল চমকপ্রদ ব্যাখ্যা। 

কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সেদিন সন্ধ্যায় বুর্জ খলিফার ওপর ভিডিও প্রক্ষেপণ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতের নেতা ও তার দেশের পতাকার ছবি ফুটে ওঠে। 

পরবর্তীতে দুবাইতে নিযুক্ত ভারতের কনসুলেট এই ঘটনার একটি ভিডিও এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করলে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

আজ শুক্রবার দুবাইভিত্তিক গণমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। 

কনসুলেটের পোস্টে বলা হয়, ‘এইমাত্র ভারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’ পোস্টে বুর্জ খলিফার এই প্রদর্শনীকে উদ্ভাবনী ও নতুন প্রযুক্তি খাতে ভারতের নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। 

‘এআই নিয়ে ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্বমঞ্চে প্রস্ফুটিত হচ্ছে—উচ্চাভিলাষ, অভিনবত্ব ও বৈশ্বিক মাত্রা, সব কিছু এক ফ্রেমে ধরা পড়েছে’, পোস্টে আরও বলা হয়। 

এসব ঘটনার নেপথ্যে আছে ভারতের এআই সম্মেলন। নয়াদিল্লীতে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ নামের সম্মেলন শুরু হয়েছে ১৬ ফেব্রুয়ারি। চলবে আজ শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। 

সম্মেলনের সভাপতি ভারত ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি নিজেই। ওই অনুষ্ঠানকে দক্ষিণ গোলার্ধের সবচেয়ে বড় এআই সম্মেলন আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। 

বুর্জ খলিফায় ফুটে ওঠা বাক্যগুলো যেন সেই দাবির স্বপক্ষে অকাট্য প্রমাণ—‘বিশ্ববাসীর কল্যাণে ভারতের হাত ধরে তৈরি হচ্ছে এআইর ভবিষ্যৎ।’ 

সম্মেলনের মুল-সূর ‘সবার জন্য কল্যাণ…সবার জন্য সুখ’। এই বাক্যটিও বুর্জ খলিফার বুকে ফুটে উঠে

পাশাপাশি, সম্মেলনের দিন-তারিখ ও অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখার অনুরোধও জানানো হয়। 

পাঁচ দিনের সম্মেলনে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি জগতের বড় বড় দিকপাল অংশ নিয়েছেন। 

অন্যান্যদের মধ্যে সম্মেলনের অতিথিদের মধ্যে ছিলেন আবুধাবির রাজপুত্র শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নয়াদিল্লি গিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। 

রাজপুত্রের এটি দ্বিতীয় ভারত সফর। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত সফর করেন তিনি। 

সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেন শেখ খালেদ। ওই বৈঠকে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যসেবা ও বিমা খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। 

এআই সম্মেলনে ৫৮টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল এআই সুশাসন প্রক্রিয়া চালুর রোডম্যাপ ও আন্তদেশীয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

India just took AI to new heights 🇮🇳

The India AI Summit video showcased on the Burj Khalifa reflects 🇮🇳’s growing leadership in innovation and emerging technologies.

India’s vision for AI resonating on a global stage — ambition, innovation, and global scale all in one frame.… pic.twitter.com/dnQ9f6KAOw

— India in Dubai (@cgidubai) February 19, 2026

জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই বিএনপি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

আজ বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’

‘আমি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চাই, মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান তথা দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারীএই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য,’ বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিদুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাংজুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সবরকমের কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিচ্ছে।’

‘দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা,’ যোগ করেন তিনি।

আগামীকাল থেকে রোজা শুরু হচ্ছে জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়।’ 

আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যাবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না। দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন।’ 

‘হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্র এবং সরকারের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সবক্ষেত্রেই অনাচার অনিয়মের সব সিন্ডিকেটে ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর,’ বলেন তিনি।

‘ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা ছোট-বড়সব ব্যবসায়ীদের প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চায়। সুতরাংসরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ নিলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবেএ ব্যাপারে আপনাদের যেকোনো পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। ক্রেতা, বিক্রেতা, গ্রহীতা—এই সরকার সবারই সরকার। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।’ 

রমজানে ইফতার, তারারি, সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রতাসাধন প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। অফিস-আদালতে বিনা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি খরচের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করাও ইবাদাতের অংশ বলেই আমি মনে করি।’

‘দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রতাসাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদের দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিবিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না,’ বলেন তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের সামনে বলেছিলামরাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর “ন্যায়পরায়ণতার” আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করিবিএনপির সংসদীয় দলের এসব সিদ্ধান্ত “ন্যায়পরায়নতার” আদর্শেরই প্রতিফলন।’ 

যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাটে, মাঠে, ঘাটে, অফিস-আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জন-জীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসা বাড়িতে থেকেও যেন সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেনসেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ 

‘এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল নৌ, সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে। আমরা মনে করিসারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ সুলভ এবং নিরাপদ করা করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই। তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের “জনসম্পদ”। আমরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্ববাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত।’

তিনি বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং স্বচ্ছলতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আমাদের কোনো না কোনো একটি বিষয়ে বা কাজে পারদর্শী হতে হবে।’ 

শিক্ষার্থী ও যুবশক্তির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মেধায় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দেওয়া যায়সব রকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।’

‘দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছরে ২৫ ডিসেম্বর আমি বলেছিলামদেশ এবং জনগণের জন্য “আই হ্যাভ এ প্ল্যান”। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে আমার “প্ল্যান-পরিকল্পনা”র অনেক কিছুই আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সকল অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি। অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারপ্রধান হিসেবে আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাইনবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননিএই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করেদলমত, ধর্ম-দর্শন যার যাররাষ্ট্র সবার। এই দেশেএই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার, আমার, আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।’

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ ও নতুন বাজেটে প্রত্যাশা

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্পষ্ট প্রতিফলন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট ও রাজস্ব ঘাটতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব বিবেচনায় এবারের বাজেট ঘিরে প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনি দায়িত্বও অনেক বড়।

গত কয়েক বছরে অর্থনীতির অন্যতম বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিনিয়োগে ধীরগতি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে নানা কারণে। নীতিগত অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, ডলার সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা তার মধ্যে অন্যতম।

ফলে অনেক শিল্পকারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বন্ধও হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানের ওপর, যা বেকারত্বকে আরও তীব্র করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি কার্যকর ও টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন নীতির ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা।

কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং করনীতি, ব্যাংকিংখাত ও শিল্পনীতিতে সমন্বিত সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে কর কাঠামো সহজ করা, ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

রাজস্ব আয় বাড়ানো নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণত বাজেটে আয় বাড়ানোর জন্য কর বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু, এটি ব্যবসায়ীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে।

তাই করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বৃদ্ধি এবং কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা বেশি কার্যকর হতে পারে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে কর সংগ্রহ জোরদার করা হলে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে দুর্নীতিও কমবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।

এই অবস্থায় বাজেটে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিখাতে প্রণোদনা ও বাজার তদারকি জোরদারের মতো উদ্যোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা জরুরি।

জ্বালানিখাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পূর্বশর্ত। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি শিল্প উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। তাই বাজেটে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া উচিত। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং শিল্পখাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

ব্যাংকিংখাতের দুর্বলতা অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় ঝুঁকি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ও সুশাসনের অভাব বিনিয়োগের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এ অবস্থায় ব্যাংকিংখাতে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি। বিনিয়োগকারীরা তখনই আস্থা পাবে, যখন একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক ব্যবস্থা পাবে।

বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন থাকে। বড় আকারের বাজেট ঘোষণা করা যতটা সহজ, তার কার্যকর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন।

তাই অপ্রয়োজনীয় বড় প্রকল্পের পরিবর্তে বাস্তবসম্মত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত। এতে অপচয় কমবে ও অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারিখাতকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত সহায়ক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে। তারা ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করবে এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া গেলে কর্মসংস্থানও বাড়বে।

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার একটি রূপরেখা। যদি এই বাজেটে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত, কার্যকর সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে। অন্যথায়, এটি কেবল আরেকটি আনুষ্ঠানিক দলিল হিসেবেই থেকে যাবে।

এখন সময় সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যে সিদ্ধান্ত দেশের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

 

মো. তরিকুল ইসলাম, লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]