27.2 C
Dhaka
Home Blog Page 9

২৮ বছর পর আবার নার্গাজুন-টাবু জুটি

বলিউড অভিনেত্রী টাবুকে ২৮ বছর পর দক্ষিণী সুপারস্টার নার্গাজুনের সঙ্গে দেখা যাবে। তিনি ইতোমধ্যে ‘কিং ১০০’ সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন।

আজ মঙ্গলবার বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

এই সিনেমাটি নাগার্জুনের ক্যারিয়ারের ১০০তম চলচ্চিত্র হওয়ায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে তার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অন্নপূর্না স্টুডিওস।

এটি হবে টাবু ও নাগার্জুনের চতুর্থ যৌথ কাজ। দীর্ঘদিন পর এই জুটিকে আবার একসঙ্গে পর্দায় দেখতে পেয়ে ভক্তরাও খুশি।

টাবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ক্ল্যাপবোর্ডের ছবি শেয়ার করে জানান, তিনি শুটিংয়ে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্মাতাদের ট্যাগ করে প্রকল্পটি নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

এর আগে টাবু ও নাগার্জুন একাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন। তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজগুলোর একটি হলো ১৯৯৬ সালের তেলেগু ব্লকবাস্টার নিননে পেল্লাডাটা। সিনেমাটি বাণিজ্যিক ও সমালোচনা—দুই দিক থেকেই সফল ছিল এবং এটি সেরা তেলেগু চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও জিতেছিল।

এর আগে ১৯৯৫ সালের সিসিনদ্রি সিনেমায় টাবু সংক্ষিপ্ত একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেন, যা প্রযোজনা করেছিলেন নাগার্জুন এবং এতে তাঁর ছেলে আখিল আক্কেনি শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন। পরে ১৯৯৮ সালের রোমান্টিক কমেডি আভিদা মা আভিদেতেও এই জুটি একসঙ্গে কাজ করেন।

প্রায় তিন দশক পর ‘কিং ১০০’ এর মাধ্যমে তারা আবার নতুনভাবে একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন। যদিও চরিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, তাদের ভিন্নধর্মী চরিত্রে দেখা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়, জবাব দেব ‘অকল্পনীয় শক্তিতে’: লারিজানি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় ইরান বসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আজ এ কথা বলেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। আলি লারিজানি সেই খবর নাকচ করে দেন।

এক্সে দেওয়া পোস্টে লারিজানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ট্রাম্প তার “অবাস্তব কল্পনায়” থাকেন। তিনি এর অধ্যে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। এখন তিনি আরও মার্কিন সেনা হতাহতের ভয়ে ভীত।’

এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইরানের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয়, বরং মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।

রোববার আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর এমন শক্তিতে আঘাত হানার হুমকি দেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এক্সে তিনি লেখেন, ‘গতকাল ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং তারা আঘাত পেয়েছে। আজ আমরা তাদের এমন শক্তিতে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’

নতুন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির

পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে মো. আলী হোসেন ফকিরকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

তিনি বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তার নিজ জেলা বাগেরহাট।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের সই করা প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে আলী ফকির হোসেন বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

‘শিখা’ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বাঙালি মুসলমানের জনপরিসরে যুক্তির খোঁজে

বাংলার ঢাকায় আজি হতে শতবর্ষ আগে ‘অজ্ঞান-তিমিরান্ধস্য’ মুসলিম বাঙালি জাতির চক্ষুন্মীলনের জন্য যে ‘জ্ঞানাঞ্জন’ প্রজ্বলিত হয়েছিল, আজ সেই আলোর কাছেই আমাদের আত্মসমালোচনার সময়। ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’র শতবর্ষ তাই নিছক স্মরণোৎসব নয়; এটি বাঙালি মুসলমান সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক অভিযাত্রার এক কঠিন হিসাব-নিকাশ।

১৯২৬ সালে মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠা এবং পরের বছর তার মুখপত্র ‘শিখা’র প্রকাশের মধ্য দিয়ে যে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল, শত বছর পরও তা আমাদের পিছু ছাড়েনি—আমরা কি সত্যিই স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শিখেছি? নাকি কেবল আনুগত্যের পুরোনো ভাষা, গোঁড়ামির পুরোনো কাঠামো এবং সংস্কারের পুরোনো শৃঙ্খলকে প্রযুক্তির নতুন পর্দায় স্থানান্তর করেছি? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-শাসিত এই ডিজিটাল সমাজে তথ্যের বিস্তার ঘটেছে বিস্ফোরণের মতো, কিন্তু চিন্তার পরিসর কি একইভাবে প্রসারিত হয়েছে? আমরা কি যুক্তিবোধকে জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, নাকি অ্যালগরিদম, গুজব, আবেগ ও দলীয় আনুগত্যের কাছে নিজেদের বিচারবুদ্ধিকে আরও সহজে সমর্পণ করেছি?

‘অজ্ঞান-তিমির’ ভেদ করে যে আজি হতে শতবর্ষ আগে ‘চক্ষুন্মীলন’-এর যজ্ঞ শুরু হয়েছিল, আজ আমরা সেই আলোর সামনেই দাঁড়িয়ে। তাই প্রশ্নটা শুধু অতীতের নয়। প্রশ্নটা আমাদের বর্তমানের। আমাদের ভবিষ্যতেরও। বুদ্ধির মুক্তির যে আন্দোলন একদিন শুরু হয়েছিল, আমরা কি সত্যিই তার উত্তরাধিকার বহন করছি? নাকি আমাদের সময়ই বলে দিচ্ছে—সেই আন্দোলনের প্রয়োজন আজ আরও গভীর, আরও জরুরি?

‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ কোনো নিছক সাহিত্যিক আড্ডা ছিল না। কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন, কাজী মোতাহের হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল ও তাদের সহযাত্রীরা সাহিত্যকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন সমাজের চিন্তার পদ্ধতি বদলানোর মাধ্যম হিসেবে। তাদের কাছে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ মানে ধর্মবিরোধিতা ছিল না; বরং ধর্ম, শাস্ত্র, ঐতিহ্য ও সামাজিক বিধানকে অন্ধ আনুগত্যের পরিবর্তে বিচারবুদ্ধি, ইতিহাস ও পরিবর্তিত মানবিক প্রয়োজনের আলোকে বোঝা। মুসলিম সাহিত্য সমাজের ঘোষিত লক্ষ্যই ছিল মানুষের বুদ্ধিকে অন্ধ বিশ্বাস ও শাস্ত্রানুগতার অধীনতা থেকে মুক্ত করা।

এই আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য বুঝতে হলে রাজনীতিকে শুধু দল, নির্বাচন ও রাষ্ট্রক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখলে চলবে না। রাজনৈতিক যোগাযোগের দৃষ্টিতে ক্ষমতার একটি বড় অংশ কাজ করে মানুষের ভাষা, বিশ্বাস, পরিচয় ও ‘স্বাভাবিক বোধ’ নির্মাণের মাধ্যমে। কোন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে, কে কথা বলার অধিকার পাবে, কোন প্রশ্নকে ধর্মদ্রোহিতা বলা হবে এবং কোন নীরবতাকে সামাজিক শালীনতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে—এসবই রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রশ্ন। এই অর্থে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ছিল সাংস্কৃতিক পরিসরে পরিচালিত এক ধরনের রাজনৈতিক সংগ্রাম। এর নেতারা সমকালীন দলীয় রাজনীতির অভিন্ন কর্মসূচিতে আবদ্ধ ছিলেন না। তাদের বড় উপলব্ধি ছিল, শুধু শাসক বদলালেই সমাজ মুক্ত হয় না; মানুষের চিন্তার কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুরোনো কর্তৃত্বকেই পুনরুৎপাদন করে।

কিন্তু এখানেই আন্দোলনের একটি সীমাবদ্ধতাও ছিল। তারা সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে রাজনৈতিক মুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে যথার্থভাবেই চিহ্নিত করেছিলেন, অথচ সাংস্কৃতিক আধিপত্যের পেছনে সক্রিয় শ্রেণিশক্তি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠিত রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে পর্যাপ্ত সাংগঠনিক মোকাবিলা গড়ে তুলতে পারেননি।

যোগাযোগবিদ্যার ভাষায় মুসলিম সাহিত্য সমাজকে একটি প্রাথমিক ‘বিকল্প জনপরিসর’ বা কাউন্টারপাবলিক হিসেবে দেখা যায়। হাবারমাসের জনপরিসরের ধারণা অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক সমাজে এমন একটি ক্ষেত্র প্রয়োজন, যেখানে নাগরিকেরা ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বাইরে দাঁড়িয়ে সাধারণ স্বার্থের বিষয় নিয়ে যুক্তিনির্ভর আলোচনা করবেন। কিন্তু ন্যান্সি ফ্রেজার দেখিয়েছেন, বাস্তবে একটি একক ও সমতাভিত্তিক জনপরিসর সচরাচর থাকে না; প্রান্তিক ও অধস্তন জনগোষ্ঠী নিজেদের ভাষা, প্রয়োজন ও বিরোধী ব্যাখ্যা প্রকাশের জন্য পৃথক বিকল্প পরিসর তৈরি করে। ঔপনিবেশিক বাংলায় কলকাতাকেন্দ্রিক অভিজাত বুদ্ধিবৃত্তি এবং ঢাকার রক্ষণশীল মুসলিম সামাজিক নেতৃত্বের মাঝখানে ‘শিখা’ তেমনই একটি বিকল্প পরিসর নির্মাণের চেষ্টা করেছিল।

‘শিখা’র পাতায় সাহিত্য, ধর্ম, সমাজ, শিক্ষা, নারী, ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা মূলত প্রশ্ন করার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’—এই বাক্য তাই কোনো অলংকারমাত্র নয়। এটি ছিল জ্ঞান ও ব্যাখ্যার ওপর একচেটিয়া কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক ঘোষণা। কে ধর্ম ব্যাখ্যা করবেন, কে সমাজের নৈতিক সীমা নির্ধারণ করবেন এবং কোন জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছাবে—আন্দোলনটি এসব ক্ষমতার কেন্দ্রেই আঘাত করেছিল।

ফলে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধও শুধু ধর্মতাত্ত্বিক ছিল না; সেটি ছিল ক্ষমতা রক্ষার যোগাযোগ-কৌশল। কাজী আবদুল ওদুদের ‘সম্মোহিত মুসলমান’, আবুল হুসেনের ‘নিষেধের বিড়ম্বনা’, ‘আদেশের নিগ্রহ’ ও তার অন্যান্য ‘বিতর্কিত রচনা’ নিয়ে যুক্তির মাধ্যমে আলোচনা করার পরিবর্তে লেখকদের ‘নাস্তিক’, ‘ধর্মদ্রোহী’ কিংবা ‘ইসলামবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বিরোধীদের এই কৌশলকে রাজনৈতিক যোগাযোগের ‘ফ্রেমিং’ তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।

রবার্ট এন্টম্যানের ভাষায়, ফ্রেমিং হলো বাস্তবতার কিছু দিক নির্বাচন করে সেগুলোকে এমনভাবে গুরুত্ব দেওয়া, যাতে সমস্যার সংজ্ঞা, কারণ, নৈতিক মূল্যায়ন ও সম্ভাব্য সমাধান একটি নির্দিষ্ট দিকে পরিচালিত হয়। এখানে মূল প্রশ্ন, ধর্মীয় ব্যাখ্যা কি ইতিহাস ও যুক্তির আলোকে পুনর্বিবেচ্য, সেটা আড়াল করে আলোচনাটিকে ‘ইসলামের পক্ষে না বিপক্ষে’ এই পরিচয়ভিত্তিক দ্বন্দ্বে নামিয়ে আনা হয়েছিল?

এটি ছিল কার্যকর একটি এজেন্ডা নির্ধারণের কৌশলও। গণমাধ্যম ও প্রভাবশালী যোগাযোগকারীরা সবসময় মানুষকে সরাসরি কী ভাবতে হবে তা নির্ধারণ না করলেও, কোন বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে এবং কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে হবে—তা অনেকাংশে নির্ধারণ করতে পারে। বুদ্ধির মুক্তির বিরোধীরা তাই ওদুদ বা আবুল হুসেনের যুক্তির সত্যতা নিয়ে জনআলোচনা হতে দেননি; বরং তাদের ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস, সামাজিক আনুগত্য ও পরিচয়ের বৈধতাকেই আলোচনার প্রধান বিষয় বানিয়েছিলেন।

ফলে সংস্কার, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার প্রশ্ন হারিয়ে গিয়ে ‘কে প্রকৃত মুসলমান’—এই প্রতীকী প্রতিযোগিতা সামনে চলে আসে। কাজী নজরুল ইসলামের উপস্থিতি এই বিরোধকে আরও তীব্র করেছিল। কারণ, নজরুলের সাহিত্য ও রাজনৈতিক ভাষা একইসঙ্গে ঔপনিবেশিক ক্ষমতা, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় ভণ্ডামিকে চ্যালেঞ্জ করছিল। তার বিরুদ্ধে ‘কাফের’ বা ‘নাস্তিক’ অভিধার ব্যবহারও ছিল যুক্তির জবাবে সামাজিক পরিচয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের উদাহরণ।

রাজনৈতিক যোগাযোগে একে চরিত্রহননমূলক বৈধতা-হরণ বলা যায়—বক্তব্যের মোকাবিলা না করে বক্তার কথা বলার নৈতিক অধিকারটিই অস্বীকার করা। তবে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনকে নিছক বীরত্বগাথায় পরিণত করাও সমালোচনামূলক ইতিহাসচর্চা নয়। আন্দোলনটি প্রধানত ঢাকাকেন্দ্রিক, শিক্ষিত ও পুরুষ মধ্যবিত্তের বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগ ছিল। নারীর মুক্তি নিয়ে প্রগতিশীল অবস্থান থাকলেও বেগম রোকেয়ার মতো সমকালীন শক্তিশালী নারীবাদী চিন্তকের সঙ্গে মুসলিম সাহিত্য সমাজের দৃশ্যমান সম্পর্ক তৈরি না হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক শূন্যতা। কৃষক, শ্রমিক, গ্রামীণ নারী ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষের ভাষায় মুক্তবুদ্ধির ধারণা অনুবাদ করার দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিও গড়ে ওঠেনি। সংগঠনটির সভায় নারীদের অংশগ্রহণ ও সংগীত পরিবেশনের অগ্রসর নজির থাকলেও এর বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বে নারী প্রায় অনুপস্থিত ছিল।

আরও বড় দুর্বলতা ছিল প্রতিষ্ঠান নির্মাণে। একটি বার্ষিক পত্রিকা, কিছু সভা ও কয়েকজন উজ্জ্বল লেখকের ওপর নির্ভরশীল আন্দোলন সামাজিক ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। ‘শিখা’র মাত্র পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয় এবং মুসলিম সাহিত্য সমাজের কার্যক্রমও ১৯৩৮ সালের পর টেকেনি। বিরোধীপক্ষের হাতে ছিল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সালিশ, পারিবারিক কর্তৃত্ব ও স্থানীয় প্রভাবের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক; বিপরীতে মুক্তবুদ্ধির পক্ষের যোগাযোগ ছিল নগরকেন্দ্রিক ও সীমিত। এমনকি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান আন্দোলন ও দ্বিজাতিতত্ত্বের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ধারায় প্রভাবিত হয়ে আগের মুক্তবুদ্ধির অবস্থান থেকে দূরে সরে যান। অতএব, আন্দোলনের ইতিহাস শুধু প্রতিরোধের ইতিহাস নয়; এটি সংগঠনহীন প্রগতিবাদের ভঙ্গুরতার ইতিহাসও।

এক শতাব্দী পর প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু যোগাযোগের মৌলিক ক্ষমতা-সম্পর্ক খুব বেশি বদলায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু সব কণ্ঠকে সমান দৃশ্যমানতা দেয়নি। ডিজিটাল জনপরিসরে যুক্তির চেয়ে পরিচয়, তথ্যের চেয়ে আবেগ এবং সংলাপের চেয়ে দলগত আনুগত্য দ্রুত সংগঠিত হয়। এখানে কোনো বক্তব্যের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের আগেই বক্তার ধর্মীয়, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক পরিচয় যাচাই করা হয়। প্রশ্নটির উত্তর না দিয়ে প্রশ্নকারীকে ‘কোন পক্ষের লোক’ হিসেবে শনাক্ত করাই হয়ে ওঠে প্রধান যোগাযোগ-কৌশল।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘স্পাইরাল অব সাইলেন্স’ বা নীরবতার সর্পিল প্রক্রিয়া। এলিজাবেথ নোয়েল-নিউম্যানের তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ যখন মনে করে তার মতামত সামাজিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিরোধী এবং তা প্রকাশ করলে বিচ্ছিন্নতা বা শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে, তখন সে নীরব থাকে। এই নীরবতা আবার সংখ্যাগরিষ্ঠ মতকে বাস্তবের চেয়ে আরও শক্তিশালী বলে প্রতীয়মান করে। বাঙালি মুসলমানের বর্তমান জনপরিসরে ধর্মীয় পুনর্ব্যাখ্যা, ইতিহাসের সমালোচনামূলক পাঠ কিংবা সংখ্যালঘু মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সামাজিক বর্জন, চাকরিগত ক্ষতি, অনলাইন আক্রমণ বা চরিত্রহননের আশঙ্কা একই ধরনের আত্মনিয়ন্ত্রণ তৈরি করে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বক্তব্যের ব্যাপক উপস্থিতিকে সরলভাবে ধর্মীয় জাগরণ বা সামাজিক পশ্চাৎপদতার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এখানে বিশ্বাস, বাজার, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, জনপ্রিয়তার অর্থনীতি এবং অ্যালগরিদমিক দৃশ্যমানতা পরস্পরের সঙ্গে জড়িত। ধর্মীয় আবেগ যেমন আন্তরিক বিশ্বাসের প্রকাশ হতে পারে, তেমনি তা অনুসারী সংগ্রহ, রাজনৈতিক বৈধতা নির্মাণ এবং বিরোধী কণ্ঠকে চাপে রাখার যোগাযোগ-পুঁজিও হতে পারে। সমালোচনার লক্ষ্য বিশ্বাসী মানুষ নয়; লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই ক্ষমতাকাঠামো, যা বিশ্বাসকে প্রশ্নহীন আনুগত্যে এবং ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক নীরবতা তৈরির অস্ত্রে পরিণত করে।

এখানে বুদ্ধির মুক্তির প্রবক্তাদের কাছ থেকেও একটি শিক্ষা নিতে হবে। মুক্তবুদ্ধি মানে ধর্মকে অপমান করা নয়, আবার ধর্মীয় অনুভূতির নামে সব প্রশ্ন বন্ধ করে দেওয়াও নয়। যুক্তিবাদ যদি সাধারণ মানুষের জীবন, ভাষা ও বিশ্বাসকে অবজ্ঞা করে কেবল শিক্ষিত অভিজাতের শ্রেষ্ঠত্ববোধে পরিণত হয়, তবে সেটিও মুক্তির পথ নয়। কার্যকর মুক্তবুদ্ধির জন্য প্রয়োজন এমন যোগাযোগ, যা মানুষের বিশ্বাসকে বুঝবে, কিন্তু ভয় পেয়ে সত্য গোপন করবে না; ঐতিহ্যের সঙ্গে সংলাপ করবে, কিন্তু ঐতিহ্যকে ইতিহাসের ঊর্ধ্বে স্থান দেবে না।

বুদ্ধির মুক্তির প্রকল্প তাই শুধু কয়েকজন প্রাবন্ধিক বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের দায়িত্ব হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থায় মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে প্রশ্ন, প্রমাণ ও বিতর্কের চর্চা; সংবাদমাধ্যমে উত্তেজনানির্ভর ধর্মীয় ফ্রেমের পরিবর্তে প্রেক্ষাপটভিত্তিক সাংবাদিকতা; বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ও ধর্মীয় চাপমুক্ত গবেষণা; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই ও মিডিয়া সাক্ষরতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে বহুমাত্রিক ব্যাখ্যার সুযোগ—এসব ছাড়া মুক্তবুদ্ধি কেবল বার্ষিক বক্তৃতার বিষয় হয়েই থাকবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে শুধু নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে না দেখে বিরুদ্ধমত শোনার নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করা। কারণ, মুক্ত জনপরিসর তৈরি হয় তখনই, যখন কোনো বক্তব্যের মূল্য বক্তার পরিচয় দিয়ে নয়, তার যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে বিচার করা হয়।

শতবর্ষ পরে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রকল্পকে তাই সফল বা ব্যর্থ—এই দুই সরল শ্রেণিতে ফেলা যায় না। এটি ভাষা আন্দোলন, বাঙালি সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং পরবর্তী অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চেতনায় গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি তৈরি করেছিল। একইসঙ্গে এটি গণভিত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়িত্ব এবং রাজনৈতিক সংগঠনের অভাবে সমাজের গভীরে স্থায়ী যুক্তিবাদী সংস্কৃতি নির্মাণ করতে পারেনি।

আজকের প্রশ্ন তাই এই নয় যে আমরা কাজী আবদুল ওদুদ বা আবুল হুসেনকে যথেষ্ট স্মরণ করছি কি না। প্রশ্ন হলো, তারা যে অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলো তুলেছিলেন, আমরা সেগুলো করার সামাজিক অধিকার রক্ষা করছি কি না। কোনো সমাজে বই, ডিগ্রি, প্রযুক্তি ও তথ্যের পরিমাণ বাড়তে পারে; কিন্তু প্রশ্ন করার অধিকার সংকুচিত হলে তাকে জ্ঞানী সমাজ বলা যায় না।

বুদ্ধির মুক্তির প্রকৃত পরীক্ষা কোনো স্মারকসভায় নয়—তার পরীক্ষা হয় তখন, যখন অজনপ্রিয় একটি মতকে যুক্তি দিয়ে বলার সুযোগ দেওয়া হয়; যখন ধর্মের নামে ক্ষমতা চর্চাকে ধর্মবিদ্বেষ ছাড়াই সমালোচনা করা যায়; যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার আবেগ সত্যের একমাত্র মানদণ্ড হয়ে ওঠে না। সেই পরীক্ষায় বাঙালি মুসলমান সমাজ কতটা উত্তীর্ণ হয়েছে? সম্ভবত এই কারণেই শতবর্ষ পূর্তিতে আন্দোলনটির বিজয় ঘোষণা করার চেয়ে তার অসমাপ্তির স্বীকারোক্তিই বেশি সৎ। কারণ, জ্ঞান এখন আর আগের মতো দুষ্প্রাপ্য নয়, কিন্তু বুদ্ধি এখনো নানাভাবে আড়ষ্ট। আর বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, সেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকলেও মানসিক মুক্তি অসম্ভব।

তবে এই আত্মসমালোচনাকে কোনোভাবেই বাঙালি মুসলমান সমাজের একক ব্যর্থতার বয়ান হিসেবে দেখা উচিত নয়। বাংলার নবজাগরণে রাজা রামমোহন রায়, অক্ষয়কুমার দত্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যুক্তিবাদ, মানবমর্যাদা, নারীশিক্ষা, ধর্মীয় সংস্কার ও স্বাধীন চিন্তার পক্ষে যে বিপুল শ্রম, সামাজিক ঝুঁকি ও ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, তার উত্তরাধিকার বাঙালি হিন্দু সমাজও সমানভাবে ধারণ করতে পারেনি। শতবর্ষের দীর্ঘ পথ পেরিয়েও সেখানে জাতপাত, ধর্মীয় গোঁড়ামি, পৌরাণিক অতীতের রাজনৈতিক ব্যবহার, ইতিহাসের সাম্প্রদায়িক পুনর্লিখন এবং ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতার নতুন উত্থান স্পষ্ট। অর্থাৎ যুক্তির সংকট কোনো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়; এটি ক্ষমতা, পরিচয় ও সামাজিক অনিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহত্তর বাঙালি সংকট।

অবশ্য দুই সমাজের ইতিহাস, ক্ষমতার অবস্থান ও আধুনিকতার অভিজ্ঞতা এক নয়। তাই তাদের ব্যর্থতাকেও যান্ত্রিকভাবে সমান করে দেখা অনুচিত। ঔপনিবেশিক শিক্ষা, শ্রেণিগঠন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা-সংখ্যালঘুতা, রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব—সবক্ষেত্রেই বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানের পথ ছিল ভিন্ন। তবু একটি জায়গায় তাদের বর্তমান সংকট আশ্চর্যজনকভাবে মিলিত হয়েছে—উভয় সমাজেই মনীষীদের নাম উচ্চারিত হয়, কিন্তু তাদের মতো প্রশ্ন করার সাহস অনুসরণ করা হয় না; তাদের প্রতিকৃতি টাঙানো হয়, অথচ তাদের চিন্তার বিপজ্জনক ধারটি ভোঁতা করে দেওয়া হয়। রামমোহন, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ কিংবা আবদুল ওদুদ—সবাইকে নিরাপদ স্মৃতিস্তম্ভে পরিণত করার মধ্য দিয়েই আমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সমাজকে পুনর্গঠন করছি। বাঙালি হিন্দু সমাজের এই বুদ্ধিবৃত্তিক পশ্চাদপসরণ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা অবশ্যই আরেকটি স্বতন্ত্র পরিসর দাবি করে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই মুসলমান না হিন্দু, কে বেশি যুক্তিবাদী, তা নয়; প্রশ্ন হলো, আমরা আদৌ যুক্তির সমাজ হতে চেয়েছি কি না। যে সমাজ মনীষীদের জন্মদিন পালন করে, কিন্তু তাদের প্রশ্ন সহ্য করে না; বইমেলা করে, কিন্তু বইয়ের ভাবনা ভয় পায়; বিশ্ববিদ্যালয় বাড়ায়, কিন্তু স্বাধীন বিচারবুদ্ধি সংকুচিত করে; ধর্মের মর্যাদা রক্ষার নামে সত্যকে এবং সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার নামে মানুষকে নীরব করে—সে সমাজ আসলে জ্ঞানের নয়, স্মারক ও স্লোগানের সমাজ। আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা কি এই নয় যে, আমরা মুক্তবুদ্ধির শহীদদের সম্মান করতে শিখেছি, কিন্তু মুক্তবুদ্ধিকে এখনো সামাজিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার দিইনি?

 

রাজীব নন্দী: সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; ডক্টোরাল স্কলার, স্কুল অব জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত।
[email protected]

‘সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস দিতেই পানেনকা মেরেছি’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিশরের ঐতিহাসিক জয়ে টাইব্রেকারে ‘পানেনকা শট’ থেকে বল জালে জড়িয়েছেন মিশরের তারকা মোহামেদ সালাহ। আগে থেকেই কি এমন কিছু ভেবে রেখেছিলেন তিনি? সালাহ বলেছেন, একদম শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে সতীর্থদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস যোগাতেই পানেনকা শট নিয়েছেন তিনি। 

টাইব্রেকারে ২-২ থাকা অবস্থায় মিশরের হয়ে তৃতীয় পেনাল্টি নিতে আসেন সালাহ। বেশিরভাগ ফুটবলারের মতো কোনাকুনি শট না মেরে পোস্টের মাঝ বরারবর পানেনকা মেরে অজি গোলরক্ষক ম্যাট রায়ানকে পরাস্ত করেন তিনি। 

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকেরা সালাহর কাছে এই সাহসী সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে সালাহ বলেন, ‘দলের কেউ যদি এটা করে থাকতে চায় তো সেটা আমি। কারণ বাকি সবার চেয়ে আমি বেশি অভিজ্ঞ। বাকি সবাইকে আত্মবিশ্বাস যোগাতে চেয়েছিলাম আমি। একদম শেষ সময়ে এসে পানেনকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেই আমি। জানিনা এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না, তবে এটা আমাকে করতেই হতো’। 

এর আগে কখনোই বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ কি জিনিস সে অভিজ্ঞতা হয়নি মিশরীয় ফুটবলারদের। এমন বড় ম্যাচের আগে সতীর্থরা যেন চাপ অনুভব না করেন, তাই সবাইকে সাহস যোগাতে চেয়েছেন সালাহ, ‘আমাদের জন্য এটা ইতিহাস। ম্যাচের আগেই আমি সতীর্থদের বলেছিলাম, এর চেয়ে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ আর হয় না। ম্যাচটা তাই উপভোগ করো, নিজের উপর চাপ জেঁকে বসতে দিও না। ম্যাচটা জিততে পেরে আমি খুশি। অস্ট্রেলিয়ার দুর্ভাগ্য, পেনাল্টিতে হারতে হয়েছে। তবে ইতিহাস রচনা করতে পেরে আমি আনন্দিত’। 

শেষ ষোলোতে আরেক মহাতারকা মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবেন সালাহরা। নিজেদের ম্যাচ শেষে সালাহ তখনো জানতেন না পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে। মেসির বিপক্ষে সম্ভাব্য ম্যাচ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সালাহ পেশাদার উত্তরই দিয়েছেন, ‘আর্জেন্টিনার খেলা এখনও হয়নি। আমাদের তাই সব দলকেই সম্মান করতে হবে। দেখা যাক সামনে কী হয়’। 

গোল কিংবা অ্যাসিস্ট না পেলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছেন সালাহ। ম্যাচসেরার পুরষ্কারটাও তিনিই পেয়েছেন। 

গতানুগতিক পদ্ধতিতে পেনাল্টি শট না মেরে পোস্টের মাঝ বরাবর আলতো চিপ করে বল জালে পাঠানোকে ডাকা হয় পানেনকা পেনাল্টি নামে। সাবেক চেকোস্লোভাকিয়ার মিডফিল্ডার অ্যান্টোনিন পানেনকা ১৯৭৬ সালে ইউরো প্রতিযোগিতায় প্রথম এভাবে পেনাল্টি শট নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এরপর তার নামেই এই শটের নাম হয় পানেনকা শট। 

আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ঢাকায় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য

‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে’ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন রাজধানীতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয়নগরে অনুষ্ঠেয় এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে জামায়াত আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের।

একই দাবিতে আগামী ৪ জুলাই দেশের সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে এই মোর্চা।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ২৩ জুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ‘বেদনাবিধুর দিন’।

১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে একটি জাতিকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হয়।

তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের অবসান হলেও দেশে ‘ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা’ ও নতুন করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সীমান্তে হত্যা, অপহরণ ও কৃষকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি সীমান্ত এলাকায় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধির অভিযোগও করেন।

বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি, বিরোধী মতের মানুষের গুম-খুন, আলেম-উলামা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার এখনও জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

তার ভাষ্য, এসব ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, রোববার রাতে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক এবং সোমবারের জরুরি সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গণহত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের একটি কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, আগামী ২৫ জুন ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে কর্মসূচিটি চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিনী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মাওলানা মুসা বিন ইযহার, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেনসহ শরিক দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্সের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত, ফলাফলে হস্তক্ষেপের অভিযোগ

সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্ট লাইসেন্সের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশের একদিন পরই তা স্থগিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে অনৈতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শুরু থেকেই পরীক্ষা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার এনবিআরের কাস্টমস মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি শাখা থেকে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে স্থগিতাদেশের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

আমদানি-রপ্তানি, পণ্য খালাস ও জাহাজিকরণ কার্যক্রমে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কাস্টমসের অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা গ্রহণ ও লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্ব কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির (সিইভিটিএ) ওপর ন্যস্ত।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, বিধিমালায় এনবিআরের পক্ষ থেকে পরীক্ষা স্থগিত করার কোনো বিধান নেই।

পরীক্ষা আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত ২ হাজার ৯৮৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে ২ হাজার ৫২১ জন অংশ নেন। ৮০ নম্বরের পরীক্ষায় ৪০ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন ২১০ জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষার রাতেই উত্তীর্ণ ২১০ জনের তালিকাসহ প্রতিবেদন তৈরি করে কমিটির ছয় সদস্য সই করেন। বিধি অনুযায়ী পরদিনই ফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক চাপের কথা বলে এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা ১১০ জনের একটি আলাদা তালিকা দিয়ে তাদের উত্তীর্ণ করার অনুরোধ করেন। ওই তালিকা মানা না হলে প্রায় ১৫ দিন লিখিত পরীক্ষার ফল আটকে রাখা হয়।’

তার দাবি, ‘বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১ জুন কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ২১০ জন উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর ফলাফল প্রকাশ করে।’

তিনি বলেন, ‘বিধিমালা অনুযায়ী ২৪ জুনের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ না করার জন্যও বিভিন্ন পর্যায় থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই চাপ উপেক্ষা করে সিইভিটিএ গত ১৭ জুন মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করে। কিন্তু পরদিনই এনবিআর থেকে পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ আসে।’

পরীক্ষা কমিটির আরেক সদস্য অভিযোগ করেন, ‘২১০ জনের তালিকার বাইরে আরও শতাধিক পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ দেখানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কমিটির সদস্যরা এতে রাজি না হওয়ায় প্রথমে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব করা হয় এবং পরে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। আইন অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ ও লাইসেন্স প্রদানের দায়িত্ব সিইভিটিএর। ফলাফলে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ এনবিআরের নেই।’

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো গত এপ্রিলে এ পরীক্ষার আয়োজন করে এনবিআর-অধীনস্থ সংস্থা সিইভিটিএ। আবেদন যাচাই-বাছাই, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা ও ফল প্রকাশের জন্য ছয় সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়।

পরীক্ষা কমিটির সদস্যদের দাবি, এনবিআরের পক্ষ থেকে পাঠানো তালিকায় এমন পরীক্ষার্থীর নামও ছিল, যারা লিখিত পরীক্ষায় ১০ নম্বরেরও কম পেয়েছেন। তাদের অন্তর্ভুক্ত না করায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তারা। একইসঙ্গে পরীক্ষা স্থগিতের প্রকৃত কারণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

যোগাযোগ করা হলে সিইভিটিএ মহাপরিচালক ম সফিউজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিধিমালা অনুযায়ী দুই মাসের মধ্যে পরীক্ষা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা। আমরা সে অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু কী কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে, সেটি আমাদের জানানো হয়নি।’

অনৈতিক তদবিরে সাড়া না দেওয়ার কারণেই এনবিআর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এনবিআরের কাস্টমস মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব মো. শাহাদাত জামিল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কোনো সুনির্দিষ্ট কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

আবুল হায়াতের পরিচালনায় ‘ভালোবেসেছিলাম’

আবারও নতুন নাটক পরিচালনা করতে যাচ্ছেন অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক আবুল হায়াত। খুব শিগগিরই নাটকটির শুটিং হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের গল্প থেকে এই নাটকটি নির্মিতি হবে। এর নাট্যরূপ দিয়েছেন আবুল হায়াত নিজেই এবং নাম ‘ভালোবেসেছিলাম’।

এই নাটক দিয়ে বিরতি ভেঙে আবার পরিচালনায় ফিরছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভালোবেসেছিলাম নাটকটি আমাদের প্রিয় মানুষ, প্রিয় সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের লেখা গল্প থেকে নেওয়া। চমৎকার একটি গল্প।’

আবুল হায়াত আরও বলেন, ‘ভালোবেসেছিলাম নাটকটিতে অনেক কিছু উঠে আসবে। গল্পটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। দর্শকদেরও পছন্দ হবে।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘অভিনয় যেমন ভালোবাসি, পরিচালনাও ভালোবাসি।’

এই নাটকটি পরিচালনার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন আবুল হায়াত।

এতে আরও অভিনয় করবেন ডলি জহুর, জাকিয়া বারী মম, রওনক হাসান প্রমুখ।

ইরানে হামলা চালিয়ে নিজ দেশে জনপ্রিয়তা হারালেন ট্রাম্প

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন দিচ্ছেন না বেশিরভাগ মার্কিনি। প্রতি চার জনের তিন জন এই হামলার বিরোধিতা করছেন। 

এমন পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার জেরে প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনা নিহতের সংবাদ দেন।

গতকাল রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। 

রয়টার্স/ইপসসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৩ শতাংশ মার্কিনি ইরানে মার্কিন হামলার বিরোধিতা করছেন।

জরিপ অনুসারে, ইরান হামলায় সমর্থন দিচ্ছেন ২৭ শতাংশ মার্কিনি এবং এ বিষয়ে নীরব আছেন ২৯ শতাংশ।

এ ছাড়াও, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ মার্কিনির ৯ জন বলেছেন যে তারা ইরান হামলা সম্পর্কে তেমন কিছু শুনেননি।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ দ্বিতীয় দফা হামলার দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্প ইরানের ৪৮ নেতা নিহতের সংবাদ জানান। গত বছর জুনে এই দুই দেশ যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছিল।

ট্রাম্প আরও জানান যে, মার্কিন সেনারা ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো এক এক করে ডুবিয়ে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে অন্তত ৯টি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করা হবে।

গত শনিবার সংঘাতের প্রথম দিন ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় কোনো মার্কিনি নিহত হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হলেও দ্বিতীয় দিন তথা রোববার বলা হয়—৩ মার্কিন সেনা নিহত ও আরও ৫ সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, বোমার টুকরোর আঘাতে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

তবে কোথায় এ ঘটনা ঘটেছে বা কতজন আহত হয়েছেন তা বিস্তারিত বলা হয়নি।

রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, কুয়েতে এক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প বলেছেন যে মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ চরমভাবে নেওয়া হবে।

জাতিসংঘে মার্কিন দূত মাইকেল ওয়াল্টজ বলেন, ‘স্বাধীনতা এমনি এমনি আসে না।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা যে যাই বলুন না কেন ইরানে মার্কিন হামলা যে ট্রাম্পের দেশের জনগণের সমর্থন পাচ্ছে না তা রয়টার্সের জরিপে প্রতিফলিত হচ্ছে।

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোট ৯ এপ্রিল

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এই দুটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। শেরপুর-৩ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ার কারণে সেখানে ভোট বাতিল করা হয়। আর পরবর্তী সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন।

ইসি সচিব জানান, দুই আসনের ভোটগ্রহণ আগামী ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

দুই আসনে গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বগুড়া-৬ আসনে আগে গণভোট হয়েছে। আর শেরপুর-৩ আসনে গণভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না। কারণ গণভোটের যে পার্থক্য রয়েছে, তাতে আরেকটিতে গণভোট না হলেও অসুবিধা নেই।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এই দুই আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২ মার্চ। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৫ মার্চ পর্যন্ত। আপিল করা যাবে ৬ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১১ মার্চ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৪ মার্চ। প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৫ মার্চ।