30.4 C
Dhaka
Home Blog Page 13

মহাখালীতে আওয়ামী লীগের মিছিল-ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছে। এসময় তিন থেকে চারটি ককটেল বিস্ফোরণেরও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে আইসিডিডিআর,বি ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পাশের বাস টার্মিনাল এলাকার দিকে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মিছিল চলাকালে দলীয় কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। আওয়ামী লীগের নাম সংবলিত ব্যানার নিয়ে নেতাকর্মীদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতেও দেখা গেছে।

জানা গেছে, টার্মিনালের কাছাকাছি পৌঁছালে মহিলা লীগের বেশ কয়েকজন কর্মীও এই মিছিলে যোগ দেন। এলাকা ছাড়ার আগে তারা তিনটি থেকে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ঢাকায় প্রতি আসনে ১৫২ আবেদনকারী

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) প্রতিটি জেলার নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য দেশব্যাপী প্রায় ৮৩ হাজার আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এসব আবেদনকারী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। সে হিসাবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ৩২ জনের বেশি বৈধ আবেদনকারী প্রতিযোগিতা করছেন। ঢাকা জেলায় ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৭৮০ জন। ফলে সেখানে প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ১৫২ জন আবেদনকারী।

লিখিত পরীক্ষা চলাকালে ঢাকার কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পরিচালনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় একই সময়ে সুষ্ঠুভাবে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার আলোকে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে।

তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে ৩০ জুলাই। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে আগামী ২ আগস্ট থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে মোট ১১ হাজার ২০০ জন যুব ও যুব নারীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জন বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জন অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ দুই মাস। এ সময়ে ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বেসিক এআই প্রশিক্ষণে চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফট কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, গ্রামারলি, কুইলবট, জ্যাসপার, ক্যানভা, পিক্সলার, ইনভিডিও এবং ইলেভেনল্যাবস ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণে রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, মিডজার্নি, ট্যাবলো, জ্যাপিয়ার, ডিসক্রিপ্ট, ক্লিকআপ, নোশন এআই, ডরিক এআই, আহরেফস, সেলসফোর্স, হাবস্পট, কপি ডট এআই, অ্যাডোবি সেনসেই, ড্যাল-ই এবং ভিও প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রশিক্ষণে কেবল বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের কৌশল নয়, এআইভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও নির্মাণ, ডেটা বিশ্লেষণ, অটোমেশন, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দেশে যাত্রা শুরু করল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতির প্রতিষ্ঠান ‘হেইগা’

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বয়ংক্রিয় আলোকসজ্জা প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘হেইগা’। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, অংশীদার এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (২৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হেইগার স্বয়ংক্রিয় সংবেদনশীল বাতিতে ‘মোশন সেন্সর’ এবং আলো শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষের উপস্থিতি ও আশপাশের আলোর মাত্রা অনুযায়ী বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ও নিভে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রচলিত বাতির তুলনায় সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

হেইগা জানায়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় গৃহ ও কার্যালয় ব্যবস্থাপনা পণ্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্মার্ট সুইচ, দরজার ঘণ্টা, প্লাগসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও প্রযুক্তিপণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হেইগার দেশীয় ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে ঘর ও প্রতিষ্ঠানে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে আমরা কাজ করব।”

হেইগার পণ্য ও সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট www.hegabd.com-এ পাওয়া যাবে।

ট্রান্সকমের বিরুদ্ধে ১২০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ

শিল্পগোষ্ঠী ট্রান্সকম গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ১২০ কোটি ৩০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া এবং নীতি বিভাগ ও তদন্ত অধিদপ্তরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চিঠি চালাচালির কারণে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে বড় অঙ্কের রাজস্ব দাবির বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়ে যেতে পারে।

তদন্তে যা উঠে এসেছে
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্রান্সকম লিমিটেড দক্ষিণ কমলাপুরের ঠিকানায় ভ্যাট নিবন্ধন নেয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দা ও নিরীক্ষা দল প্রতিষ্ঠানটির ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কার্যক্রমের ওপর অনুসন্ধান শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি উঠে আসে।

তদন্তে অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত চলাকালেই নিজেদের ভ্যাট নিবন্ধন সংশোধন করে সেবাকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর (আইটি) সেবা হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে। এর ফলে যেখানে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধের কথা ছিল, সেখানে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান শুরু করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের কারণে সরকারের সুদসহ প্রায় ৬২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। আর যদি এই শ্রেণি পরিবর্তন না করা হতো, তাহলে ট্রান্সকমের ভ্যাট দায় দাঁড়াত প্রায় ১২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।


অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি হিসাবপত্রে “ম্যানেজমেন্ট এক্সপেন্স” নামে একটি খাত ব্যবহার করেছে। তদন্তকারী দলের দাবি, এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যয়ের খাত নয়; বরং আয়ের অর্থ সেখানে দেখানো হয়েছে, যা ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্তে ধীরগতি ও নীতি বিভাগের মতামতের অপেক্ষা
ট্রান্সকমের ব্যাখ্যার পর ভ্যাট নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি নিয়ে আইনি ও নীতিগত ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভ্যাট নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহম্মদ জাকির হোসেন এনবিআরের মূসক নীতি বিভাগের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চান, “ম্যানেজমেন্ট এক্সপেন্স” খাতের ওপর ১৫ শতাংশ নাকি ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় সচিবের মাধ্যমে আবারও জরুরি ভিত্তিতে নীতি বিভাগের মতামত চাওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকেও বিষয়টির অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়।

এর আগে ৬ মে দেওয়া এক চিঠিতে মহাপরিচালক জাকির হোসেন জানান, বোর্ডের আনুষ্ঠানিক মতামত না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কমিশনারেট ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। পরে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্তব্য নিতে ব্যর্থ এনবিআর
ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে মন্তব্য চাওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল মামুনও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, মূসক নীতি বিভাগের কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, ট্রান্সকমের ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

অন্যান্য অভিযোগও আলোচনায়
ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের পাশাপাশি ট্রান্সকম গ্রুপকে ঘিরে অতীতের বিভিন্ন বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের এক প্রতিবেদনে ট্রান্সকমের সম্পদ ও শেয়ারসংক্রান্ত অনিয়ম, আরজেএসসিতে জমা দেওয়া নথিপত্রের সত্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ট্রান্সকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হলেও তিনি এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শেয়ার জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় সিমিন রহমানসহ সংশ্লিষ্ট আসামিরা আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। ফলে ওই অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যদিও সেগুলো নিয়ে জনপরিসরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই প্রায় ১২০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ নতুন করে ট্রান্সকম গ্রুপকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ট্রান্সকমের ব্যাখ্যা
তবে ট্রান্সকম গ্রুপ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, “ম্যানেজমেন্ট এক্সপেন্স” নামে উল্লেখিত অর্থ আসলে আইটি সাপোর্ট সার্ভিস থেকে অর্জিত আয়, যা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার আওতায় পড়ে। তাদের মতে, বিদ্যমান ভ্যাট আইন অনুযায়ী এ ধরনের সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য প্রায় পৌনে সাত কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে এবং যে ভ্যাট কমিশনারেটের মাধ্যমে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেও কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। তাই এনবিআরের আগের দাবিনামা সংশোধন করে নতুন দাবিনামা জারির অনুরোধও জানায় ট্রান্সকম।

প্রতারণা ও যৌতুক দাবি: বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ডে আজিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ফিনল্যান্ডে বসবাসরত এক প্রবাসী নারীর কাছে যৌতুক দাবি এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বাসিন্দা মো. আজিমুর রহমান ওরফে আজিম গাজীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফিনল্যান্ডেও একাধিক ফৌজদারি মামলায় আদালতের পরোয়ানা রয়েছে বলে মামলার আর্জি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জুলাই দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারার একটি মামলা আমলে নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

মামলার আর্জি অনুযায়ী, বাদী বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ডের দ্বৈত নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে ফিনল্যান্ডে বসবাস করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে পরিচয়ের পর মো. আজিমুর রহমান নিজেকে অবিবাহিত এবং সাবেক সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে আত্মহত্যার ভয়ভীতি, মানসিক চাপ এবং আবেগের সুযোগ নিয়ে তাকে বিয়েতে সম্মত করানো হয়। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি ঢাকার মিরপুরের একটি কাজী অফিসে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

আর্জিতে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে বাদীর কাছ থেকে ধার, সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলে ধারাবাহিকভাবে অর্থ নেওয়া শুরু করেন আসামি। বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় এবং পরবর্তীতে ফিনল্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় ভিসা, বিমানভাড়া, হোটেল খরচ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স, পারিবারিক ব্যয়, জমি-সংক্রান্ত বিষয়, ব্যবসা, মায়ের চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে তিনি বারবার অর্থ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, বাদীর পরিবারের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে অর্থ নেওয়া হয়। এমনকি বাদীর মায়ের বন্ধক রাখা জমি ছাড়ানোর জন্যও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাদীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, নগদ অর্থ এবং পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মোট প্রায় ৯০ লাখ টাকা আসামিকে দেওয়া হয়েছে। এসব লেনদেনের উল্লেখযোগ্য অংশের ব্যাংক ও আর্থিক নথি তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও আর্জিতে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া, বিয়ের পর ফিনল্যান্ডে যাওয়ার আগে বাদীর পরিবারের কাছ থেকে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার গ্রহণ করেন আসামি। পরে ওই স্বর্ণ ফেরত চাইলে তা আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে যাওয়ার পর আসামি বাংলাদেশের পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রাজকীয় বাড়ি নির্মাণ, ফিনল্যান্ডে একটি বার স্থাপনের জন্য ৮ কোটি টাকা দাবি করেন। সর্বশেষ ২০ জুন বাংলাদেশে একটি খামার স্থাপনের জন্য ৪২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে বাদী যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

বাদীর অভিযোগ, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরে তিনি জরুরি সেবায় ফোন করলে ফিনল্যান্ডের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিকে আটক করে। ওই ঘটনার পর পুলিশি তদন্ত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং অন্যান্য নথির ভিত্তিতে ফিনল্যান্ডে একাধিক মামলা দায়ের হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ফিনল্যান্ডে মো. আজিমুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন, প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে ইউরোপে যাওয়ার অভিযোগ, জোরপূর্বক অর্থ আদায় ও ভরণপোষণের ব্যয় বহনে বাধ্য করা, ম্যারিটিয়াল রেপ এবং শিশুর সামনে অনৈতিক আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগসহ মোট চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগের সমর্থনে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সনদও রয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফিনিশ পুলিশ তাকে খুঁজছে এবং তিনি ইউরোপের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছেন। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব আইনি জটিলতার কারণে তার বিরুদ্ধে ইউরোপে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তিনি শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছেন বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে।

এদিকে, বাংলাদেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির খবর পাওয়ার পর মো. আজিমুর রহমান কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আর্জিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসামি বর্তমানে বাদীকে তালাক না দিয়ে নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করছেন। একই সঙ্গে, বিয়ের আগে নিজের পূর্বের একাধিক বিবাহের তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর দাবি, এসব ঘটনার ফলে তিনি এবং তার সন্তান গুরুতর মানসিক ট্রমা, বিষণ্নতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বর্তমানে তারা ফিনল্যান্ডে চিকিৎসা ও থেরাপি নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসামির মা মোছা. কহিনুর বেগম, ভাই বরিশাল যমুনা ব্যাংকে কর্মরত মো. আরিফুর রহমান, ভাইয়ের বউ মনিপুর কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা লিটা, বোন রুমা এবং বোনের স্বামী জাকিরকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি; বরং আসামিকে সমর্থন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদী আদালতের কাছে অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রেফতার, যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা, তার কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত এবং অন্যান্য আইনি প্রতিকার চেয়েছেন।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আজিমুর রহমান ওরফে আজিম গাজীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলো ব্রিটিশ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘ভল্ট’

ব্রিটিশ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘ভল্ট’ বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেটে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমেদ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভল্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের শতভাগ মালিকানাধীন ‘ভল্ট’ যুক্তরাজ্যের হসপিটালিটি খাতে পেমেন্ট সলিউশন ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সেবা দিয়ে আসছে। গত এক দশক ধরে এর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিচালনা কাঠামো সিলেটভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ইওটেক’ পরিচালনা করছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের হসপিটালিটি খাতে ডিজিটাল পেমেন্ট ও ফিনটেক সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে ভল্টের বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশভিত্তিক প্রযুক্তি সক্ষমতাও ব্যবহৃত হবে।

দেশে নতুন ফিনটেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরুর প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমেদ বলেন, ভল্টের এই উদ্যোগ সিলেটের প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতার প্রতিফলন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। স্থানীয় মার্চেন্টদের ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত করতে যুক্তরাজ্যের ট্রানজেকশন প্রসেসিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর এ উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে ভল্ট হোল্ডিংসের কো-ফাউন্ডার ও সিপিও এবং ভল্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আসাদ জামান বলেন, সিলেটের প্রকৌশলীরা এক দশক ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এই ইকো-সিস্টেমের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নগদ লেনদেন থেকে সরে এসে ডেটা-চালিত ডিজিটাল অপারেশন ও ম্যানেজমেন্ট টুল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনায় প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।

বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে ফাইবারে ভুয়া অর্ডার দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর র‍্যাংক নামানোর অভিযোগ

দেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ও সততা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে ‘বিটোপিয়া’ নামক একটি গ্রুপ অব কোম্পানিজ। আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস ফাইবারে প্রতিদ্বন্দ্বীদের গিগ র‍্যাংক ডাউন করানো, ভুয়া অর্ডার দিয়ে ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নিজস্ব কর্মীদের পাসপোর্ট জব্দসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত দেশের ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটি।

ঘটনার সূত্রপাত ও এম এন নাহিদের অভিযোগ
বিতর্কের শুরু হয় ফ্রিল্যান্সার এম এন নাহিদের একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিটোপিয়া’ গ্রুপ সুপরিকল্পিতভাবে তার ফাইভার গিগে ভুয়া অর্ডার প্রদান করে এবং পরবর্তীতে তা বাতিল করে দেয়। ফাইভারের অ্যালগরিদম অনুযায়ী, বারবার অর্ডার বাতিল হওয়ায় তার গিগের র‍্যাংক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নাহিদ প্রমাণ হিসেবে দেখান যে, তাকে দেওয়া অর্ডারের ব্রিফে যে ফিগ্মা ফাইল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটির মালিক ও এডিটর বিটোপিয়ারই একজন কর্মী।

আইনি চাপ ও রহস্যজনক সমঝোতা
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিটোপিয়া গ্রুপ বিষয়টি অস্বীকার করে এবং নাহিদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করে। পুলিশের মাধ্যমে থানায় তলব করা হলে নাহিদ সেখানে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ থেকে একটি ‘সমঝোতা’ ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে একে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করা হয়। তবে এই সমঝোতা নিয়ে কমিউনিটিতে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সচেতন ফ্রিল্যান্সারদের দাবি, থানায় ডেকে নিয়ে নাহিদকে এক প্রকার চাপে ফেলে এই ভিডিও করতে বাধ্য করা হয়েছে। বিটোপিয়া তাদের ব্যাখ্যামূলক ভিডিওতে কিছু প্রমাণ দিলেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা বলছেন, সেগুলো ‘ইন্সপেক্ট এলিমেন্ট’ দিয়ে মডিফাই করা হতে পারে।

প্রাক্তন কর্মীর চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি
ঘটনা নতুন মোড় নেয় যখন বিটোপিয়ার এক প্রাক্তন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। শাকের আদনান নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টে ওই কর্মীর জবানবন্দি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বিটোপিয়া গ্রুপ সত্যিই প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘায়েল করতে এবং নিজেদের গিগ র‍্যাংক করাতে ভুয়া অর্ডারের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এটি প্রতিষ্ঠানটির একটি নিয়মিত চর্চা।

পাসপোর্ট জব্দ ও কর্মী নির্যাতনের অভিযোগ
বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে শুধু মার্কেটপ্লেসে জালিয়াতি নয়, বরং কর্মীদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ উঠেছে। বিটোপিয়া লিমিটেড, সফটভেন্স, স্পার্কটেক এজেন্সি, বিডিকলিং, জেনেক্সক্লাউডসহ প্রায় ২২টি প্রতিষ্ঠানের এই গ্রুপের বিরুদ্ধে কর্মীদের পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, কর্মীদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ফাইভারে অ্যাকাউন্ট খোলা হয় এবং সেগুলো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এছাড়া কর্মীদের শারীরিক নির্যাতন, বেতন বৈষম্য এবং চাকরি ছাড়তে চাইলে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর মতো ভয়ংকর অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগীরা।

কমিউনিটির প্রতিক্রিয়া
প্রখ্যাত ফ্রিল্যান্সার শামসুদ্দিন চৌধুরী দেলোয়ার এই বিষয়ে লিখেছেন, বিটোপিয়ার ব্যাখ্যার মধ্যে অনেক ফাঁক রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কর্মীদের পাসপোর্ট রাখা বা গার্মেন্টসের মতো আচরণ করা কোনোভাবেই একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাস্থ্যকর প্র্যাকটিস হতে পারে না। অন্যদিকে মহব্বত জান ও মো. ইমরুল ইসলামের মতো ফ্রিল্যান্সাররা প্রশ্ন তুলেছেন—বাংলাদেশে কেন একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে? তারা এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বিটোপিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি সমাধান করেছি।”
অন্যদিকে বিটোপিয়া গ্রুপের চেয়ারপারসন সাবিনা আক্তার বলেন, “আমাদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। আগামীতে এমন ভুল আমরা আর করবো না।”

শঙ্কার মুখে ফ্রিল্যান্সিং খাতের ভবিষ্যৎ
দেশের ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর যখন বিশ্ব দরবারে নিজেদের সুনাম গড়ছে, তখন বিটোপিয়ার মতো বড় গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সাধারণ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অশনিসংকেত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ‘ওপেন সিক্রেট’ অনিয়মগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।

বর্তমানে গ্রুপটির অধীনে পরিচালিত উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বিটোপিয়া লিমিটেড, সফটভেন্স, স্পার্কটেক এজেন্সি, এসএম টেকনোলজি, জেভিএআই, জেনেক্সক্লাউড, ব্যাকবেঞ্চার স্টুডিও, স্কেলআপ, বিডিকলিং, পালসগ্রিড, বিডিকলিং এন্টারপ্রাইজ, ফায়ার এআই, পিক্সেলোরা স্টুডিও এবং জেনকোর। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই চলছে কর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও অনৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা।

ক্ষমতার কেন্দ্রে এপিএস ইউনুছ আলী: সাক্ষাৎ নিয়ন্ত্রণ থেকে পদায়ন, তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) কৃষিবিদ মোঃ ইউনুছ আলীকে ঘিরে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা চলছে। মন্ত্রীর সাক্ষাৎ নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, বদলি-পদায়ন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে তদবির, সরকারি বরাদ্দ ও ফাইল প্রক্রিয়ায় আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একজন এপিএসের অস্বাভাবিক প্রভাব প্রশাসনিক কার্যক্রমে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবুল অভিযোগ করেন, কৃষিবিদ মোঃ ইউনুছ আলীর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেকের কাছে মনে হচ্ছে তিনি তাঁর দায়িত্বের সীমার বাইরে গিয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন।

ড. বাবুল দাবি করেন, পরপর দুই দিন মন্ত্রণালয়ে গিয়েও তিনি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। অথচ একই সময়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির জন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, দলের কঠিন সময়ে পাশে থাকা অনেক নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীও প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন না। এমনকি মহাসচিবের পক্ষ থেকে সাক্ষাতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা থাকার পরও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মী নন, একাধিক জনপ্রতিনিধিও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, এপিএস ইউনুছ আলীর অনুমতি ছাড়া মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক সমন্বয় ও জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রয়োজনে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেক কর্মকর্তাকে। এর ফলে প্রকল্প অনুমোদন, পদায়ন, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ মিল্ক প্রডিউসার্স কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা), বিভিন্ন ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ (এলজিইডি) অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন ইউনুছ আলী। মিল্কভিটার নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও তার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাসরুল্লাহর পদায়ন ঘিরেও অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের স্বাধীন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের উন্নয়ন বরাদ্দ ছাড়ের ক্ষেত্রেও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল আটকে রেখে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

সরকারি ক্রয় ও টেন্ডার অনুমোদন প্রক্রিয়াতেও তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (CCGP) পাঠানোর আগে বিভিন্ন ফাইল প্রক্রিয়াকরণে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাহিদা অনুযায়ী সুবিধা না পেলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনে বিলম্ব করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কয়েকটি পদায়ন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ২৮ জুন ২০২৬ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জামালপুর ও ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় পর্যায়ের প্রভাব ছিল।

একই বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, এসব পদায়ন নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ১৯ মে ২০২৬ জুলকারনাইন সায়ের আরেক পোস্টে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ করা হয়, “পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (২য় পর্যায়)” প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তার নাম প্রস্তাবের জন্য এলজিইডির ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ২২ জুন ২০২৬ দৈনিক খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক করার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। ওই প্রক্রিয়াতেও মন্ত্রণালয় পর্যায়ের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সামনে আসে।

প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন এপিএসকে ঘিরে এমন ধারাবাহিক অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কৃষিবিদ মোঃ ইউনুছ আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেডিকেল কলেজের নামে অপপ্রচার ও হুমকি: সাবেক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

গাজীপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো এবং প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক সাবেক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) ঢাকার বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫০০ (মানহানি) ও ৫০৬ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার সিআর নম্বর ৫১৭/২৬। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ও কলেজ সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান মাসুদ। মামলার একমাত্র আসামি ডা. কাজল আক্তার, যিনি পূর্বে প্রতিষ্ঠানটির প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল গত ২৬ বছর ধরে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে। কর্মরত অবস্থায় ডা. কাজল আক্তারের বিরুদ্ধে গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ, নৈতিক স্খলন এবং শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি থেকে অব্যাহতির পর ডা. কাজল আক্তার ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্রের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু করেন। তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন ছদ্মনাম, ভুয়া ফেসবুক আইডি, বেনামী হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং ইমেইল ব্যবহার করে কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর একটি বেনামী হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মানহানিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি “Medical Admission Helpline 2025-2026” নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ‘জুলফিকার খান’ নামে একটি ভুয়া আইডি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়।

এ ছাড়া, ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি বেনামী ইমেইল থেকে কলেজের অফিসিয়াল ইমেইল ঠিকানায় বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠানো হয়। এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি ডা. কাজল আক্তার পরিচালিত বলে অভিযোগ করা “Probash World” নামের একটি ফেসবুক পেজে কলেজের প্রশাসনিক নীতি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত বিষয় জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, এসব অপপ্রচারের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে গত ৭ মার্চ কলেজ কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বেনামী ফেসবুক আইডি, ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরগুলো ডা. কাজল আক্তার পরিচালনা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়।

ডিজিটাল আলামত সংগ্রহের পর গত ৫ এপ্রিল ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২৬০) করা হয়। পরবর্তীতে ১০ মে আসামির কাছে একটি আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) পাঠানো হলেও তিনি এর কোনো জবাব দেননি বলে বাদীপক্ষের দাবি।

বাদীর অভিযোগ, আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরও ডা. কাজল আক্তার ও তাঁর সহযোগীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তারা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. মুবিন খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, পরিকল্পিত এই অপপ্রচারের কারণে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘদিনের অর্জিত প্রতিষ্ঠানের সুনাম, জনআস্থা এবং আর্থিক স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাদীপক্ষ আদালতের কাছে আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে।

দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় তিন মাসব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের ৭ম ব্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধিরা এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, “ডিজিটাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই প্রকল্পের আওতায় ৭ম ব্যাচে ৪৮০০ হাজার তরুণ-তরুণী কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইনের মতো চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এ উদ্যোগ তাদের আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সহায়তা করবে। সরকারের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেকারত্ব হ্রাস এবং পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, “দেশের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষণার্থীরা যদি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, তবে তারা নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে সফলভাবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন। এই উদ্যোগ তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও সুগম করবে।”

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, “বাংলাদেশের অসংখ্য ফ্রিল্যান্সার আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছেন। তবে তাদের অনেকেই নিজেদের সাফল্যের গল্প প্রকাশ করেন না। আমি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা নিজেদের অর্জন ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করুন। আপনাদের সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আরও বেশি তরুণ-তরুণী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত হবে।”

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার শিক্ষিত যুব-যুবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।

২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী ৭ম ব্যাচের প্রশিক্ষণে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস তরুণ-তরুণীরা এ সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ছয়টি ব্যাচে ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ১১ হাজার ৩৫৩ জন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন।

এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মোট আয় ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯০ মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৭ টাকা। সব মিলিয়ে তাদের মোট উপার্জনের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ২১৫ টাকা। প্রশিক্ষণার্থীদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এবারের ব্যাচে ভর্তির জন্য লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে প্রায় ৭০ হাজার আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংরেজি, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিং।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত কার্যক্রম তদারকি করছেন।