22.9 C
Dhaka
Home Blog Page 13

ঈদের জন্য সালমার ১৪ গান, মুক্তি পাবে কয়টা

ঈদ উৎসবকে ঘিরে গান নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সংগীতশিল্পী সালমা। এবারের ঈদের জন্য মোট ১৪ গানে কণ্ঠ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এরমধ্যে একক ও দ্বৈত কণ্ঠের গান রয়েছে। তবে, শেষ পর্যন্ত কতগুলো গান মুক্তি পাবে, সেটা এখনো ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন এই কণ্ঠশিল্পী।

সালমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঈদের জন্য অনেকগুলো গান করেছি। তারমধ্যে কয়টা এখন মুক্তি পাবে সেটা বলতে পারছি না।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমার একটু ঠান্ডা লাগায় বেশ কয়েকটি গানে কণ্ঠ দিতে পারিনি। তবে ঈদে অন্তত পাঁচটা নতুন গান মুক্তি পাবে বলে আশা করছি।’

বিয়ে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সালমা বলেন, ‘বিয়ে নিয়ে আমার মধ্যে এখন কোনো ভাবনা নেই। আমার এখনকার ব্যস্ততা শুধু গান নিয়ে। সুরের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা থাকতে চাই। এভাবেই চলুক…।’

সর্বশেষ সালমার প্রকাশিত গানের মধ্যে রয়েছে ‘এমন ভালোবাসা চাই না’, ‘দিল দিওয়ানা’, ‘মায়ার জাদু করলা’ ইত্যাদি।

বিশ্ব-বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে চীনের মাস্টারপ্ল্যান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক-নীতিকে উল্টো নিজের কৌশলগত সুবিধায় কাজে লাগাতে চাইছে চীন। বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামো নতুনভাবে সাজিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থেকে নিজেদের ১৯ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত করার লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং।

গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা-সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

২০১৭ সাল থেকে সরকারি মদতপুষ্ট চীনা গবেষকদের লেখা ১০০টি নিবন্ধ পর্যালোচনা করে রয়টার্স জানায়, ট্রাম্পের শুল্ক-নীতির কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং তার বিশাল উৎপাদন ব্যবস্থাকে বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক ব্লকগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), উপসাগরীয় দেশ ও ট্রান্স-প্যাসিফিক বাণিজ্য জোট।

প্রায় ২০টি বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত করার জন্য চীন এখন মরিয়া, যা দীর্ঘ বছর ধরে ঝুলে ছিল।

রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল

চীনের একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘প্রতিপক্ষ যখন ভুল করছে, তখন তাকে বাধা দিও না।’

ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতিকে সেভাবেই দেখছে চীন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের নীতি নির্ধারকরা পরিকল্পিতভাবে মার্কিন বাণিজ্য-নীতিকে ‘রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা উল্টো বিশ্লেষণ করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তার পরিকল্পনাও তৈরি করছেন।

তাদের মূল লক্ষ্য—চীনকে ঠেকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশলকে অকার্যকর করে দেওয়া।

এরই অংশ হিসেবে ট্রাম্পের বাণিজ্য-নীতির কারণে দূরে সরে যাওয়া দেশগুলোকেই কাছে টানার কৌশল নিয়েছে চীন।

রয়টার্স জানায়, ইতোমধ্যে চীনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন স্পষ্ট। চলতি বছর জানুয়ারিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বেইজিং সফরে গেলে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্ক কমানো নিয়ে একটি চুক্তি হয়।

এ বিষয়ে ব্রাসেলস-ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ব্রুগেলের সিনিয়র ফেলো অ্যালিসিয়া গার্সিয়া হেরেরো বলেন, ‘চীনের সামনে এখন এক সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।’

জোট গঠন ও নতুন বিশ্ব-ব্যবস্থা

এক বছর আগেও চীনের সুর ছিল আক্রমণাত্মক। মাও সেতুংয়ের আদর্শ ও পশ্চিমা শক্তিকে রুখে দেওয়ার বার্তা দিত বেইজিং। কিন্তু এখন সুর পাল্টে গেছে।  

এপ্রিলে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফরের আগে চীনা কূটনীতিকরা বিশ্ব-ভ্রমণে নেমে অংশীদার দেশগুলোকে বহুপাক্ষিকতা ও উন্মুক্ত বাণিজ্য রক্ষায় একসঙ্গে কাজের আহ্বান জানাচ্ছেন।

চীন সম্প্রতি ৫৩টি আফ্রিকান দেশ থেকে আমদানির ওপর ‘শূন্য শুল্ক’ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সঙ্গেও কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে।

এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে এআইসহ উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো স্থাপনের প্রস্তাব দিচ্ছে দেশটি।

রয়টার্সের মতে, পশ্চিমা বিশ্ব, আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোকে বাণিজ্যের এমন এক জালে আটকাতে চাচ্ছে চীন, যাতে মার্কিন চাপে পড়েও তারা সম্পর্ক ছিন্ন করতে না পারে।

চীনা একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের গবেষক নিই ফেং লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রতিযোগিতার জবাবে ‘অ্যান্টি ডিকাপলিং’ বা ‘বিভাজন বিরোধী’ নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত চীনের।

স্থগিত বাণিজ্য আলোচনায় গতি

২০১৭ সাল থেকে হন্ডুরাস, পানামা, পেরু, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা চালাচ্ছে চীন। এখন সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ছয় আরব দেশের জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সঙ্গেও দীর্ঘদিনের আলোচনায় গতি আনার তাগিদ দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একইসঙ্গে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (সিপিটিপিপি) চুক্তিতে যোগ দেওয়াকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে বেইজিং। এ জোটটি মূলত চীনকে মোকাবিলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তৈরি করা হয়েছিল। যদিও ২০১৭ সালে ওয়াশিংটন এ জোট থেকে সরে যায়।

বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ও মানদণ্ডে প্রভাব বিস্তার

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং তা বিশ্লেষণ করে কীভাবে পাল্টা কৌশল নিচ্ছে চীন।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ, ডিজিটাল বাণিজ্য ও মান নির্ধারণে প্রভাব বাড়াতে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ ও ১৫ এশিয়া প্যাসিফিক দেশের রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনোমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) জোটকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দিয়েও সুবিধা নিতে চায় চীন।

ভিয়েতনাম সীমান্তে চীনের তৈরি এআই কাস্টমস ব্যবস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ পোর্ট’ তারই দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

ট্রিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত: সুযোগ না ঝুঁকি

রয়টার্সের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায় চীনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, চীনের ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অংশীদার দেশগুলোর উৎপাদন খাতের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কম দামের অতিরিক্ত পণ্যে বাজার সয়লাব হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

এ বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সাবেক মহাপরিচালক পাস্কাল লামি বলেন, ‘ইউরোপ যতটা গ্রহণ করতে পারে, চীন তার চেয়েও বেশি পণ্য পাঠাচ্ছে।’

অন্যদিকে সবাই চীনের দিকে ঝুঁকতে আগ্রহী নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

ম্যাকডোনাল্ড-লরিয়ের ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো স্টিফেন নাগি বলেন, ‘কানাডার শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগামীতে আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশল।’

এ অবস্থায় অংশীদার দেশগুলোর আস্থা পেতে চীনকে নিজেদের ভোক্তা চাহিদা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

চীনের দুই হাজারের বেশি বাণিজ্য-কৌশলপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কষ্ট স্বীকার করতেও প্রস্তুত চীনের নীতিনির্ধারকরা।

পশ্চিমা দুই কূটনীতিকের বরাতে রয়টার্স জানায়, চীনের বর্তমান কৌশলগুলো সফল হলে চীন-কেন্দ্রিক নতুন বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন ২৫ জন, প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন ২৫ জন।

তারা হলেন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান।

তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন ২৪ জন।

তারা হলেন— এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, রাজীব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসির খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহাম্মেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। 

উচ্চশিক্ষায় নেতৃত্ব নির্বাচন, নাকি আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক প্রভাব, একাডেমিক সংকট ও শাসন কাঠামোর দুর্বলতার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে। এ বাস্তবতায় উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ করার লক্ষ্যে সরকার যে ছয় সদস্যবিশিষ্ট সার্চ কমিটি পুনর্গঠন করেছে, তা আপাত দৃষ্টিতে ইতিবাচক উদ্যোগ বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই কমিটি আসলে একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ক্রমশ আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

অথচ বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়। এটি শিক্ষার স্বায়ত্তশাসন, মান ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

পরিপত্রে উল্লেখিত সার্চ কমিটিতে সরকার কর্তৃক পদোন্নতিপ্রাপ্ত একজন সচিবকে সভাপতি করে সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ইউজিসি সদস্য, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কাঠামোতে প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্বই প্রধান হয়ে উঠেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ ও সরাসরি সাংঘর্ষিক হিসেবে দেখা যেতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সাধারণ সরকারি দপ্তর নয়। এটি জ্ঞানচর্চার স্বাধীন ক্ষেত্র, যেখানে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণায় অবদান ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের বিষয়গুলোই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত। সেখানে একজন আমলাকে প্রধান করে সার্চ কমিটি গঠন কার্যত প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে একাডেমিক মূল্যবোধের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি দীর্ঘদিনের নীতিগত প্রবণতার ধারাবাহিকতা, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও পেশাগত স্বাতন্ত্র্য ক্রমাগতভাবে সংকুচিত হয়েছে।

এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হলো জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫। এই বেতন কাঠামো প্রণয়নের সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অবস্থান কার্যত নিম্নমুখী করা হয়। একসময় অধ্যাপকরা সচিবদের সমমানের মর্যাদা ভোগ করলেও, নতুন স্কেলে সেই সমতা ভেঙে যায়। এর ফলে প্রশাসনিক ক্যাডার ও একাডেমিক পেশার মধ্যে স্পষ্ট স্তরবিন্যাস তৈরি হয়, যা শুধু আর্থিক বৈষম্যই নয়, বরং প্রতীকী মর্যাদারও অবমূল্যায়ন নির্দেশ করে।

একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর সময়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে তাদের একটি একক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। এটি ছিল নীতিগতভাবে ‘একীভূতকরণ’-এর প্রচেষ্টা। কিন্তু বাস্তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র সেবার শর্তকে অস্বীকার করার শামিল।

শিক্ষকরা যুক্তি দেন, তাদের পেশাগত বৈশিষ্ট্য, গবেষণার অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে একটি পৃথক কাঠামো প্রয়োজন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেখানে প্রাধান্য পায় তাদের প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনীহা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা বহু বছর ধরে আলাদা পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছেন, যা তাদের গবেষণা ও মেধা ধরে রাখার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এই দাবি বারবার প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর আপত্তির কারণে এটি বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে একাডেমিক পেশাকে স্বতন্ত্র ক্ষেত্র হিসেবে না দেখে, বরং সাধারণ সরকারি চাকরির সম্প্রসারণ হিসেবে দেখার প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনকে একটি বৃহত্তর ‘কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ’ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ মতামত—যেমন: সিনেট, একাডেমিক কাউন্সিল বা শিক্ষক-সমাজের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ—এখানে অনুপস্থিত। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এক ধরনের টপ-ডাউন মডেলে রূপ নিচ্ছে। এখানে সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকে আরোপিত হয়, কিন্তু তার দায়ভার বহন করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়কেই।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে এই ধরনের আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের আরও কিছু দৃষ্টান্ত রয়েছে। বাজেট অনুমোদন, নতুন বিভাগ খোলা, শিক্ষক নিয়োগের মতো ক্ষেত্রেও প্রায়ই কেন্দ্রীয় অনুমোদনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে এবং তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বড় কথা, এতে এক ধরনের ‘নির্ভরশীলতা সংস্কৃতি’ তৈরি হয়, যা স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী।

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে: বিশ্ববিদ্যালয় কি রাষ্ট্রের একটি প্রশাসনিক ইউনিট, নাকি স্বায়ত্তশাসিত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠান?

যদি প্রথমটি সত্য হয়, তাহলে এই ধরনের সার্চ কমিটি যৌক্তিক। কিন্তু যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়—যা আধুনিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি—তাহলে এই কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হতে পারে যে, একটি প্রাতিষ্ঠানিক সার্চ কমিটি রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে এবং নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যদি সেই কমিটির গঠনই প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং এর কার্যক্রম স্বচ্ছ না হয়, তবে এটি নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ—এই তিনটি উপাদান ছাড়া কোনো সার্চ কমিটিই গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে না। উপাচার্য নির্বাচনে গবেষণা, প্রকাশনা, একাডেমিক নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এ ক্ষেত্রে ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান বা অবসরপ্রাপ্ত কোনো সফল উপাচার্য বা একাডেমিক ব্যক্তিত্বই এই সূচকগুলো বিচার করতে বেশি সক্ষম, যা একটি মানসম্পন্ন উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক।

অতএব, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কিছু মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

প্রথমত, সার্চ কমিটি গঠনে একাডেমিক প্রতিনিধিত্বকে প্রাধান্য দিয়ে সভাপতি পদে একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে অথবা ইউজিসি চেয়ারম্যানকে পদাধিকার বলে নিয়োগ করা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে থাকা উপাচার্যরা কোনো আমলা বা সচিবের অধীনে কাজ করে যেমন সম্মানিত বোধ করবেন না, তেমনি এই কমিটিতে থেকে সমমর্যাদার উপাচার্য নিয়োগে কাউকে সুপারিশ করলে ওই সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের জন্যও বিষয়টি সম্মানজনক হতে পারে না। তাই উপাচার্যদের পরিবর্তে দুজন জ্যেষ্ঠ, দক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। অন্যথায় শিক্ষামন্ত্রীকে প্রধান করে ৭৩ অধ্যাদেশে যে চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সেই চারজন উপাচার্যকে এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে রেখে সার্চ কমিটি পুনর্গঠন করা সমীচীন হতে পারে।

তৃতীয়ত, উপাচার্য নির্বাচন ও মূল্যায়নের মানদণ্ড জনসম্মুখে প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যেতে পারে, যাতে এই প্রক্রিয়াটি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক হয়।

চতুর্থত, ইউজিসির তত্ত্বাবধানে একটি গুগল ফর্ম তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে উপাচার্য পদে আগ্রহী শিক্ষকরা সার্চ কমিটির নির্ধারিত মানদণ্ড বজায় রেখে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে আবেদন করতে পারেন।

সবশেষে বলা যায়, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন নিজেই কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর কাঠামোর অংশ। সেই কাঠামো যদি আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে শক্তিশালী করে এবং একাডেমিক স্বাধীনতাকে দুর্বল করে, তাহলে এর ফলাফল দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকরই হবে।

এখন সময় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়কে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার। অন্যথায় জ্ঞানচর্চার এই প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল প্রশাসনিক যন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

 

অধ্যাপক ড. মাহতাব উ. আহাম্মদ, গণিত বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

মেডিকেল কলেজে আর্থিক কেলেঙ্কারি, সাবেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (আইএমসিএইচ) বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের সাবেক দুই শিক্ষক ও এক ছাত্রের বিরুদ্ধে ৪৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ এবং বেনামী ইমেইলে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত ও অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে, কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সাবেক প্রধান (চলতি দায়িত্ব) ইউ. কে. ফাতেমা খান মজলিস দায়িত্ব পালনকালে বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিলেন। গত ২০ অক্টোবর ২০২৫-এ তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর অডিট পরিচালনার মাধ্যমে ল্যাবরেটরির ‘Maglumi 2000 Plus’ মেশিনের হিসেবে গরমিল পাওয়া যায়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, তার মেয়াদে ল্যাবরেটরিতে হিসাব বহির্ভূত ৫৪৬৫টি টেস্ট করানো হয়েছে, যার মোট মূল্য ৪৫,৩৮,৬১৫ টাকা। এই বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেনের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি বেনামী ইমেইল (kingkhanbank1@gmail.com) থেকে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ঠিকানায় ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য পাঠিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগের তীর সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ কাজল আক্তার এবং শিক্ষার্থী দামিক শাওকাত মালিক-এর দিকে। ডক্টর কাজলের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি ছাত্রের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া গেছে । তিনি তার বাসায় ছাত্রছাত্রীদের কে নিয়ে অনৈতিক কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দামিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এক বছর বহিষ্কৃত ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি এবং ডাঃ কাজল আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক পোস্ট ও বিকৃত ছবি ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এসব কর্মকাণ্ডের দায়ে গত ৯ আগস্ট ২০২৫-এ ডাঃ কাজল আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন ও এইচআর) মোঃ ইমরুল কায়েস টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি বলেন, কলেজ ও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। আমরা অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন বা অর্থ আত্মসাৎকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
বর্তমানে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গাজীপুরে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে উম্মেল খায়ের ফাতেমা মজলিশ (৪৬) নামে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের এক সাবেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪ এ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সিনিয়র ম্যানেজার হিসাব বিভাগ এ এফ এম ফরিদ মামলাটি দাখিল করেন।

সুপার এইট ডাইজেস্ট: পাওয়ারপ্লের রাজাদের পতন এবং স্পিন জাদুকরদের পুনরুত্থান

প্রথমেই একটু প্রোভোকেটিভ কথা বলে শুরু করি—২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব যদি ছিল ‘বিনোদন’, তবে সুপার এইট হলো ‘নির্মম বাস্তবতা’। গতকালকের ম্যাচে আমরা দেখেছি কীভাবে কাগিসো রাবাদার গতির সামনে কুইন্টন ডি ককের মতো ব্যাটাররা হিমশিম খাচ্ছেন, আবার অন্যদিকে অভিষেক শর্মার ব্যাট কীভাবে ডেটাকে ভুল প্রমাণ করে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তান্ডব চালাচ্ছে।

১. ব্যাটার বনাম বোলার: সেই মহাকাব্যিক লড়াই

গতকালকের সবচেয়ে আলোচিত লড়াই ছিল ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা। আমাদের তালিকার ৩ নম্বর ব্যাটার এইডেন মার্করাম মুখোমুখি হয়েছিলেন ৩ নম্বর বোলার বরুণ চক্রবর্তীর।

মার্করাম যখন তার ট্রেডমার্ক কভার ড্রাইভ দিয়ে শুরু করেছিলেন, মনে হয়েছিল তিনি আজ বড় স্কোর করবেন। কিন্তু বরুণ চক্রবর্তীর একটি গুগলি, যা তিনি হাত থেকে পড়ার আগে পড়ার উপায় রাখেননি, সেটি মার্করামের ডিফেন্স ভেঙে স্টাম্প উড়িয়ে দেয়।

“এটিই হলো আধুনিক টি-টোয়েন্টি,” মন্তব্য করেছেন রবি শাস্ত্রী। “আপনি যতই স্ট্রাইক রেট নিয়ে ভাবেন না কেন, বরুণের মতো মিস্ট্রি স্পিনারদের সামনে আপনার ডেটা কাজ করবে না যদি না আপনার পায়ের কাজ নিখুঁত হয়।”

২. পরিসংখ্যানের আয়নায় সুপার এইট-এর প্রথম দিন (হেড-টু-হেড)

ব্যাটার (র‍্যাঙ্ক) বোলার (র‍্যাঙ্ক) ফলাফল ইমপ্যাক্ট নোট
আভিষেক শর্মা (৬) মার্কো জানসেন (২) অভিষেক ৬৪ (৩০) জানসেনের গতিকে কাজে লাগিয়ে অভিষেক ৩টি ছক্কা মারেন।
সূর্যকুমার যাদব (৫) কাগিসো রাবাদা (৯) সূর্য ৪২ (২২) রাবাদার ইয়র্কার সূর্য স্কুপ করে গ্যালারিতে পাঠান।
কুইন্টন ডি কক (৯) জাসপ্রিত বুমরাহ (৬) ডি কক ১৫ (১৮) বুমরাহর নিখুঁত ডট বলে ডি কক চাপে পড়ে উইকেট হারান।
নিকোলাস পুরান (১০) আদিল রশিদ (১০) পুরান ২০ (১৫) রশিদের গুগলি বুঝতে না পেরে পুরান ক্যাচ তুলে দেন।

৩. পাল্লেকেলের সেই ‘এপিক’ নাটক: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলেতে ইংল্যান্ডের ল্যাবরেটরি ক্রিকেট মুখ থুবড়ে পড়েছিল পাকিস্তানের চিরাচরিত ‘অ্যানার্কি’ বা বিশৃঙ্খলার কাছে। আমাদের তালিকার ১ নম্বর ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহান মুখোমুখি হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদের

ফারহান যেভাবে রশিদকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে ছক্কা মারছিলেন, তাতে মনে হয়েছে ইংল্যান্ডের সব ডেটা অ্যানালিস্টদের চাকরি আজ ঝুঁকির মুখে। ইংল্যান্ড যখন মনে করেছিল তারা গাণিতিকভাবে ম্যাচটি জিতে গেছে, তখনই শাহীন আফ্রিদির একটি ইনসুইং ইয়র্কার ফিল সল্টের স্টাম্প উপড়ে ফেলে সব হিসাব পাল্টে দেয়।

৪. ফ্যান এনগেজমেন্ট এবং ‘বিয়ন্ড দ্য ফিল্ড’ উত্তেজনা

সুপার এইট পর্বে এসে আমরা দেখছি যে সাধারণ ভক্তরা এখন বিশেষজ্ঞের চেয়েও নিখুঁতভাবে ম্যাচ রিড করতে পারছেন। এর বড় কারণ হলো ডিজিটাল প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্মগুলোর সহজলভ্যতা। ভক্তরা এখন শুধু স্কোর দেখে না, তারা ‘উইনিং প্রোবাবিলিটি’ আর ‘ব্যাটার ম্যাচ-আপ’ মাথায় রেখে নিজেদের মতামত শেয়ার করছে।

এই ধরণের হাই-স্টেক্স ম্যাচে যারা নিজেদের ক্রিকেটীয় জ্ঞানের প্রমাণ দিতে চান, তাদের জন্য এপিক জগতটি এখন এক অনিবার্য অংশ। আপনি যখন দেখছেন বরুণ চক্রবর্তী বোলিংয়ে আসছেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ‘ইকোনমি রেট’ আর ‘উইকেট টেকিং অ্যাবিলিটি’-র হিসাব কষতে শুরু করে। এই উত্তেজনাকর মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে আপনার প্রয়োজন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিটি ডেটা রিয়েল-টাইমে বিশ্লেষণ করা হয়। যারা মনে করেন অভিষেক শর্মা পাওয়ারপ্লে-তে জানসেনকে আক্রমণ করবেন, তাদের জন্য এই ডিজিটাল পোর্টালটি কেবল একটি প্রেডিকশন টুল নয়, বরং এটি তাদের ট্যাকটিক্যাল মাইন্ডসেটের একটি অংশ।

২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠের লড়াই যতটুকুন রোমাঞ্চকর, তার চেয়েও বেশি রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে ভক্তদের এই ডিজিটাল অংশগ্রহণ। কারণ প্রতিটি ছক্কা আর প্রতিটি উইকেট এখন কেবল একটি পয়েন্ট নয়, বরং এটি কারও সঠিক প্রেডিকশনের বিজয়।

৫. চূড়ান্ত প্রেডিকশন: অরেঞ্জ ক্যাপ ও পার্পল ক্যাপ কার মাথায়?

প্রথম দিনের পারফরম্যান্সের পর আমার প্রোভোকেটিভ বা বিতর্কিত প্রেডিকশন অপরিবর্তিত থাকছে:

  • সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক: সূর্যকুমার যাদব। কেন? কারণ সুপার এইট-এর বাকি ম্যাচগুলো হবে মুম্বাই এবং আহমেদাবাদে, যা সূর্যের পছন্দের ব্যাটিং প্যারাডাইস।
  • সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী: জাসপ্রিত বুমরাহ। কারণ চাপের মুখে বুমরাহ্-র উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এবং ইকোনমি তাকে তালিকার শীর্ষে নিয়ে যাবেই।

উইলোর তান্ডব: ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা ১০ ব্যাটার এবং এক গাণিতিক ধ্বংসযজ্ঞ

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকে সুপার এইট—এখন পর্যন্ত একটি বিষয় পরিষ্কার: আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ‘অ্যাঙ্কর’ বা ধীরগতির ব্যাটারদের কোনো জায়গা নেই। আমরা এখন এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে প্রতিটি বল একটি ইভেন্ট, এবং প্রতিটি শট একটি ট্যাকটিক্যাল স্টেটমেন্ট। এবারের বিশ্বকাপে রান রেট যেভাবে আকাশ ছুঁয়েছে, তাতে বোলারদের জন্য মাঠ এখন এক বধ্যভূমি।

চেন্নাইয়ের ঘূর্ণি উইকেট থেকে মুম্বাইয়ের পাটা পিচ—সবখানেই ব্যাটাররা তাদের আধিপত্য বিস্তার করেছেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক এই টুর্নামেন্টের সেরা ১০ উইলো যোদ্ধা যারা বোলারদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছেন।

১. সাহিবজাদা ফারহান (পাকিস্তান)

এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক। যেখানে সবার নজর ছিল বাবর আজমের দিকে, সেখানে ফারহান ৪ ইনিংসে ২২০ রান করে তালিকার শীর্ষে। নামিবিয়ার বিপক্ষে তার সেই সেঞ্চুরিটি ছিল নিখুঁত টাইমিং এবং শক্তির এক প্রদর্শনী। ফারহান প্রমাণ করেছেন যে পাকিস্তানের ওপেনিংয়ে এখন আর ‘সেফ’ খেলার দিন শেষ। তার স্ট্রাইক রেট ১৬৪.১৭, যা তাকে বোলারদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক করে তুলেছে।

২. পাথুম নিসাঙ্কা (শ্রীলঙ্কা)

স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসটি ছিল চাপের মুখে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয় তার আদর্শ উদাহরণ। বর্তমানে ২০৮ রান নিয়ে তিনি দ্বিতীয় স্থানে। নিসাঙ্কার বিশেষত্ব হলো তার ‘ইনসাইড-আউট’ ড্রাইভ, যা যেকোনো স্পিনারকে লাইন-লেন্থ থেকে বিচ্যুত করতে বাধ্য করে।

৩. এইডেন মার্করাম (দক্ষিণ আফ্রিকা)

প্রোটিয়া অধিনায়ক এবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ১৮২ রান করেছেন ১৮৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে। মার্করামের ব্যাটিংয়ে এক ধরণের রাজকীয় ভাব আছে, বিশেষ করে মিডল ওভারে স্পিনারদের বিপক্ষে তার ফুটওয়ার্ক দেখে মনে হয় তিনি দাবার বোর্ডে চাল দিচ্ছেন।

৪. কুশল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা)

১৮৬ রান নিয়ে তিনি নিসাঙ্কাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন। মেন্ডিস পাওয়ারপ্লে-তে বোলারদের ওপর যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তাতে শ্রীলঙ্কা প্রতিটি ম্যাচেই উড়ন্ত সূচনা পাচ্ছে। তার আগ্রাসনই লঙ্কানদের আত্মবিশ্বাসের মূল চাবিকাঠি।

৫. সূর্যকুমার যাদব (ভারত)

‘৩৬০-ডিগ্রি’ রাজা। সূর্যকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ৪ ম্যাচে ১৮০ রান করেছেন ১৭১.৮০ স্ট্রাইক রেটে। তিনি যখন খেলেন, তখন মনে হয় ডাটা বা পরিসংখ্যান কেবল কাগজের টুকরো। কারণ তিনি এমন সব শট খেলেন যা কোনো গাণিতিক ছকে মেলানো সম্ভব নয়।

৬. ঈশান কিষাণ (ভারত)

গিলের অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে নেমে ঈশান নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ১৭৬ রান করেছেন ২০২.২৯ স্ট্রাইক রেটে। ভারতের পাওয়ারপ্লে-তে রানের পাহাড় গড়ার পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি।

৭. টিম সাইফার্ট (নিউজিল্যান্ড)

কিউইদের মধ্যে সবচেয়ে ধারাবাহিক। ১৭৩ রান করে তিনি মিডল অর্ডারকে ভরসা দিচ্ছেন। সাইফার্টের ব্যাটিংয়ে শক্তির চেয়ে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বেশি দেখা যায়।

৮. দীপেন্দ্র সিং আইরি (নেপাল)

ডিজিটাল দুনিয়ার প্রিয়পাত্র। নেপালকে সুপার এইটের স্বপ্ন দেখানো এই ব্যাটার ১৬৯ রান করেছেন। তার ব্যাটিং স্টাইল দক্ষিণ এশিয়ার অন্য অনেক নামী তারকার চেয়েও আধুনিক এবং কার্যকরী।

৯. কুইন্টন ডি কক (দক্ষিণ আফ্রিকা)

বাঁহাতি এই ওপেনার ১৬৫ রান করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার ১১৫ রানের ইনিংসটি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স।

১০. নিকোলাস পুরান (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

পুরান মানেই ছক্কার বৃষ্টি। ১৫৮ রান করলেও তিনি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ছক্কা (২৪টি) মেরেছেন। তিনি এমন একজন ব্যাটার যাকে কোনো নির্দিষ্ট ছকে আটকে রাখা অসম্ভব।

পরিসংখ্যানের টেবিলে সেরা ১০ ব্যাটার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)

র‍্যাঙ্ক খেলোয়াড় রান স্ট্রাইক রেট বাউন্ডারি %
সাহিবজাদা ফারহান ২২০ ১৬৪.১৭ ১৮.৫%
পাথুম নিসাঙ্কা ২০৮ ১৩৮.৫০ ১৪.২%
কুশল মেন্ডিস ১৮৬ ১৪৫.২০ ১৬.৮%
এইডেন মার্করাম ১৮২ ১৮৭.৩৬ ২১.০%
সূর্যকুমার যাদব ১৮০ ১৭১.৮০ ১৮.৫%
ঈশান কিষাণ ১৭৬ ২০২.২৯ ২৪.২%
টিম সাইফার্ট ১৭৩ ১৫২.৩১ ১৫.৬%
দীপেন্দ্র সিং আইরি ১৬৯ ১৬৮.৪০ ১৭.২%
কুইন্টন ডি কক ১৬৫ ১৪২.৭১ ১৬.৫%
১০ নিকোলাস পুরান ১৫৮ ১৯৬.৫০ ২২.০%

ফ্যান এনগেজমেন্ট এবং ‘বিয়ন্ড দ্য ফিল্ড’ উত্তেজনা

২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিপ্লব হলো ভক্তদের সম্পৃক্ততা। আধুনিক ভক্তরা এখন আর কেবল দর্শক নন, তারা একেকজন ট্যাকটিক্যাল এনালিস্ট। প্রতিটি বাউন্ডারি এবং প্রতিটি স্ট্রাইক রেট এখন রিয়েল-টাইমে বিশ্লেষণ করা হয়। এই ডিজিটাল জোয়ারে যারা নিজেদের ক্রিকেটীয় জ্ঞানের প্রমাণ দিতে চান, তাদের জন্য এই জগতটি এখন এক বিশাল ক্ষেত্র।

যখন ঈশান কিষাণ বা অভিষেক শর্মা ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ‘স্কোরিং প্রেডিকশন’ সেকেন্ডের মধ্যে বদলে যায়। এই ট্যাকটিক্যাল শিফটগুলো যারা নিখুঁতভাবে রিড করতে পারেন, তাদের জন্য প্রেডিকশন পোর্টালগুলো হলো শ্রেষ্ঠ গন্তব্য। কারণ এটি কেবল একটি বাজি নয়, এটি হলো আপনার ক্রিকেটীয় অন্তর্দৃষ্টির চূড়ান্ত পরীক্ষা। এই ডিজিটাল অভিজ্ঞতাই ক্রিকেটের ‘চার্ম’ বা আকর্ষণকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

চূড়ান্ত প্রেডিকশন: সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কে হবেন?

আমার সাহসী এবং প্রোভোকেটিভ প্রেডিকশন হলো—টুর্নামেন্ট শেষে সূর্যকুমার যাদব অরেঞ্জ ক্যাপ জিতবেন। যদিও ফারহান এখন এগিয়ে আছেন, কিন্তু ভারতের ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি এবং সূর্যকুমার যেভাবে বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠেন, তাতে তিনি ৪৫০+ রান করে শীর্ষে শেষ করবেন।

 

কম খরচে ঢাকা-জেদ্দা সরাসরি ফ্লাইট চালু করল ফ্লাইএডিল

কম খরচে ঢাকা-জেদ্দা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করল সৌদি আরবের এয়ারলাইন্স ফ্লাইএডিল। বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ারলাইন্সটির প্রথম ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল এয়ারলাইন্স সংস্থাটি।

এদিন বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সটির উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। এ সময় এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ফ্লাইএডিল সৌদি আরবের লো-কস্ট এয়ারলাইন্স, যা সাউদিয়ার একটি সহকারী প্রতিষ্ঠান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুতবর্ধনশীল এয়ারলাইন্সগুলোর একটি। ফ্লাইএডিল স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন হলেও যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ এবং লাগেজ বহনের সুবিধা থাকবে। নতুন এই ফ্লাইট যুক্ত হওয়ায় ভ্রমণের খরচ কিছুটা কমবে এবং বাংলাদেশ–সৌদি অ্যাভিয়েশন বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে।

প্রাথমিকভাবে সংস্থাটি ঢাকা থেকে সপ্তাহে দু’টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এরমধ্যে জেদ্দা থেকে এয়ারলাইন্সটির ফ্লাইট এফ৩-৯১১২ স্থানীয় সময় রাত দেড়টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। এছাড়া ফিরতি ফ্লাইট এফ৩-৯১১৩ ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে দুপুর ১টায়।