32.8 C
Dhaka
Home Blog Page 13

বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বিএনপির নেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আগামী কোনো নির্বাচনেই বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বিএনপির নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আজ শনিবার সকালে জিয়া সরণি খাল পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমাদের নাই। আগামীতে যত নির্বাচন আসবে—সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, সব নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ হবে এবং এই সমস্ত নির্বাচনে আমাদের যারা প্রতিনিধিত্ব করবেন বা দাঁড়াবেন আমরা মানুষের ভোট নিয়ে নির্বাচিত হতে চাই। এই কারণে মানুষের উন্নয়নমূলক কাজ করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা আছে এবং আমাদেরও যথেষ্ট আগ্রহ আছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, আল্লাহর রহমতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে জিয়া সরণি খাল উদ্ধার, পুনঃখনন ও সৌন্দর্য বর্ধন করে পানির প্রবাহ সচল রাখা হবে।’

‘আমরা আপাতত পানি প্রবাহ সচল রাখার কাজ করছি,’ বলেন তিনি।

বর্ষা মৌসুমের পরে এই খালের দুইধার বাঁধাই করা হবে জানিয়ে পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি খালটি বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। আগামী জুলাই থেকে এই প্রকল্প শুরু হবে।

এছাড়া ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর খাল সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে, জানান তিনি।

শাহে আলম বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, এই খালটির শুধুমাত্র নাম জিয়া সরণি হওয়ার কারণে বিগত সরকার ১৯ বছরে এই খালের (উন্নয়নে) কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেনি। খাল মানুষের উপকারের জন্য। পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার জন্য। শুধুমাত্র মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি খাল হওয়ার কারণে একটি অবৈধ সরকার সেই খালের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করবে না, সেই খাল পরিষ্কার রাখবে না, এলাকার মানুষকে কষ্টে রাখবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আগামীতে কার নামে কী—এসব দেখতে চাই না।’

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে জনপ্রতিনিধিরা সমস্ত রাস্তাঘাট, খাল পুনরুদ্ধার করবেন এবং আগামী ছয় মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী।

‘দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো সিএস পর্চা ও ম্যাপ অনুযায়ী প্রথমে দখলমুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে অবৈধ দখলদারের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি।

খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সব সময় খাল পরিষ্কারই করতে থাকি, সরকারের প্রচুর টাকা অপচয় হবে। এই যে এখন পরিষ্কার হচ্ছে। আপনারা ময়লা-আবর্জনা আমাদের সিটি করপোরেশনের ড্রামগুলোতে ফেলার চেষ্টা করবেন।’

বিষয়টি তদারকির জন্য তিনি সচেতন নাগরিক কমিটির গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এনএসইউতে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ট্রাস্টি শাহজাহানের বিরুদ্ধে তদন্তে ইউজিসি

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যৌন নিপীড়নমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ট্রাস্টি সদস্য মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ইউজিসি। গত ১৪ মে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই ট্রাস্টি সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে নারী কর্মীদের হয়রানি এবং নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি দিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগপত্রে এক নারী ল্যাব ইনস্ট্রাক্টরের শ্লীলতাহানির ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বিচার হওয়ার পরিবর্তে উল্টো ওই নারীর বেতন এক লাফে ৬০ হাজার টাকা বাড়ানো হয়। এছাড়া সিপিসি বিভাগে জনবল নিয়োগ ও এমবিএ কোর্সে ওয়েভার দেওয়ার ক্ষেত্রেও শাহজাহানের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব কাজ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইউজিসির পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূইয়া স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কমিশনে প্রাপ্ত এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের দুর্নীতিবাজ সদস্য মো. শাহজাহানের কালো থাবা হতে বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার মাধ্যমে দুর্নীতি ও যৌন নিপীড়নমুক্ত উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক ওই আবেদনের অভিযোগসমূহ তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক ইউজিসি বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রীদের ভয়ভীতি ও প্রলোভনের মাধ্যমে যৌন হয়রানি, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, পদোন্নতি এবং আর্থিক অনিয়মের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ল্যাব ইনস্ট্রাক্টর ট্রাস্টি শাহজাহানের গাড়িতে শ্লীলতাহানির শিকার হন। পরবর্তীতে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ওই নারীর বেতন এক লাফে ৬০ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আদিবা ইবনাত বুশরা নামের একজনকে সিপিসি বিভাগে নিয়োগ এবং এমবিএ কোর্সে শতভাগ ওয়েভার দেওয়ার পেছনেও শাহজাহানের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে প্রিয়াঙ্কা ও সুস্মিতা হালদার নামের দুই কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি ও পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মো. শাহজাহান গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্ট কমিটির (সিডিসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল তছরুপ করেছেন। বিশেষ করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি তরিকুলের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১ থেকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে ভর্তি করানো এবং প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করে স্কলারশিপ বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তিনি পরিচালনা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী অভিভাবক তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ট্রাস্টি শাহজাহানের ক্ষমতার প্রভাবে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি ইতিপূর্বে সাবেক এক নারী শিক্ষকের দেওয়া যৌন হয়রানির অভিযোগও অদৃশ্য ইশারায় ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর কোনো যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি না থাকাকে এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইউজিসির এই চিঠির অনুলিপি শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে। কমিশনের এই নির্দেশনার ফলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নেপালে আইটি ও ক্লাউড সেবা সম্প্রসারণ করল বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান স্মার্ট ল্যাব

নেপালের বাজারে আইটি ও ক্লাউড সলিউশন সেবা চালু করেছে বাংলাদেশের শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্মার্ট ল্যাব। এরই অংশ হিসাবে নেপালের অন্যতম শীর্ষ বিপণন ও যোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘আউটরিচ’-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার নেপালের হিমালয় হোটেলে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় আউটরিচের প্রতিষ্ঠাতা এবং স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিরেক্টর উজয়া শাক্য ও স্মার্ট ল্যাবের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তির ফলে স্মার্ট ল্যাব নেপালের বাজারে তাদের উন্নত আইটি সলিউশন, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং ক্লাউড পরিষেবা প্রদান করবে।

নতুন এই কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্মার্ট ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াদ হাসনাইন বলেন, আমরা বিদেশের বাজারে আইটি সেবা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স আনছি এবং দেশের রিজার্ভ সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখছি। ইতোমধ্যে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, চীনসহ ১৫টি দেশের সঙ্গে কাজ করছি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নেপালে আমাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হলো।

স্মার্ট ল্যাব মূলত সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, প্রফেশনাল সার্ভিস, আইটি অপারেশন ম্যানেজমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং মেসেজিং সলিউশন নিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি স্মার্ট ভয়েস লিমিটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকিং খাতে সেবা প্রদান করছে।

অন্যদিকে, আউটরিচ নেপাল ২০০৩ সাল থেকে দেশটির বিজ্ঞাপন ও বিপণন খাতে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি নেপালের অন্যতম শীর্ষ যোগাযোগ সংস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বীকৃতি লাভ করেছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর উজয়া শাক্যর একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানেও অংশ নেন স্মার্ট ল্যাবের প্রতিনিধিরা। এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশের প্রযুক্তিগত সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সংযোগ আরও দৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

তদন্তাধীন মৃত্যু নিয়ে অপপ্রচার: ডিজিটাল নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

গাজীপুরের টঙ্গীর ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাহেলা খাতুন (৪৮) নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা বলে দাবি করেছে। সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকা থেকে রাহেলা খাতুনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ছায়েদুর রহমানের অধীনে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর শরীরে ডায়াবেটিস (RBS: 18 mmol/L), এন্টারিক ফিভার, ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স, জন্ডিস, রক্তে প্রোটিনের অভাব এবং হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত হয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, রোগীর শরীরে প্রোটিনের অভাবজনিত কারণে পা ফুলে গিয়েছিল, যা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়াচ্ছিল। এই ঝুঁকি নির্ণয়ে ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোগীর স্বজনরা তা সম্পন্ন করেননি। গত ২৯ ডিসেম্বর রাত ১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর রোগীর ছেলে রায়হান হোসেন ও অন্য স্বজনরা হাসপাতালের আইসিইউ এবং পাঁচ তলার ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালান। এ সময় কর্তব্যরত নার্স ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ওই রাতে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শেখ মাহমুদুল হাসান স্বজনদের সাথে কথা বলতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হায়দার তানভীরুজ্জামান এই বিষয়ে জানান, রোগীর মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে। চিকিৎসা আইন অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা বা নীতিগত ব্যর্থতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ব্যক্তিগত দায় আরোপ করা যায় না। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই মৃত্যুকে ভুল চিকিৎসা হিসেবে প্রচার করছে। বিশেষ করে, বিশেষ করে, ১২ বছর আগে হাসপাতালের মূল প্রতিষ্ঠান আইএমএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুবিন খানের স্ত্রীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে (যেখানে অপরাধী ড্রাইভার গ্রেফতার হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটর সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়) এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র‍্যাব অপরাধীকে ধরে ফেলে এবং ২০০ ভরি গহনার মধ্যে ৬৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং গাড়ি উদ্ধার হয়। রাহেলা খাতুনের মৃত্যুর সাথে এই ঘটনা সম্পৃক্ত করার বিষয়টি পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাহেলা খাতুনের মৃত্যুর ৩ মাস পর তার মৃত্যু নিয়ে এই ধরনের সংবাদ এবং আইএমএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য ভুয়া, মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনে হীন স্বার্থ চরিতার্থের গভীর ষড়যন্ত্র বলে প্রতীয়মান হয়।

হাসপাতালের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই ঘটনার তদন্ত করছে। পিবিআই-এর পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী তদন্তভার পরিচালনা করছেন। তদন্ত শেষেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।

মেডিকেল কলেজে আর্থিক কেলেঙ্কারি, সাবেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (আইএমসিএইচ) বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের সাবেক দুই শিক্ষক ও এক ছাত্রের বিরুদ্ধে ৪৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ এবং বেনামী ইমেইলে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত ও অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে, কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সাবেক প্রধান (চলতি দায়িত্ব) ইউ. কে. ফাতেমা খান মজলিস দায়িত্ব পালনকালে বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিলেন। গত ২০ অক্টোবর ২০২৫-এ তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর অডিট পরিচালনার মাধ্যমে ল্যাবরেটরির ‘Maglumi 2000 Plus’ মেশিনের হিসেবে গরমিল পাওয়া যায়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, তার মেয়াদে ল্যাবরেটরিতে হিসাব বহির্ভূত ৫৪৬৫টি টেস্ট করানো হয়েছে, যার মোট মূল্য ৪৫,৩৮,৬১৫ টাকা। এই বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেনের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি বেনামী ইমেইল (kingkhanbank1@gmail.com) থেকে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ঠিকানায় ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য পাঠিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগের তীর সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ কাজল আক্তার এবং শিক্ষার্থী দামিক শাওকাত মালিক-এর দিকে। ডক্টর কাজলের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি ছাত্রের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া গেছে । তিনি তার বাসায় ছাত্রছাত্রীদের কে নিয়ে অনৈতিক কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দামিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এক বছর বহিষ্কৃত ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি এবং ডাঃ কাজল আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক পোস্ট ও বিকৃত ছবি ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এসব কর্মকাণ্ডের দায়ে গত ৯ আগস্ট ২০২৫-এ ডাঃ কাজল আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন ও এইচআর) মোঃ ইমরুল কায়েস টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি বলেন, কলেজ ও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। আমরা অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন বা অর্থ আত্মসাৎকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
বর্তমানে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গাজীপুরে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে উম্মেল খায়ের ফাতেমা মজলিশ (৪৬) নামে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের এক সাবেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪ এ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সিনিয়র ম্যানেজার হিসাব বিভাগ এ এফ এম ফরিদ মামলাটি দাখিল করেন।

সুপার এইট ডাইজেস্ট: পাওয়ারপ্লের রাজাদের পতন এবং স্পিন জাদুকরদের পুনরুত্থান

প্রথমেই একটু প্রোভোকেটিভ কথা বলে শুরু করি—২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব যদি ছিল ‘বিনোদন’, তবে সুপার এইট হলো ‘নির্মম বাস্তবতা’। গতকালকের ম্যাচে আমরা দেখেছি কীভাবে কাগিসো রাবাদার গতির সামনে কুইন্টন ডি ককের মতো ব্যাটাররা হিমশিম খাচ্ছেন, আবার অন্যদিকে অভিষেক শর্মার ব্যাট কীভাবে ডেটাকে ভুল প্রমাণ করে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তান্ডব চালাচ্ছে।

১. ব্যাটার বনাম বোলার: সেই মহাকাব্যিক লড়াই

গতকালকের সবচেয়ে আলোচিত লড়াই ছিল ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা। আমাদের তালিকার ৩ নম্বর ব্যাটার এইডেন মার্করাম মুখোমুখি হয়েছিলেন ৩ নম্বর বোলার বরুণ চক্রবর্তীর।

মার্করাম যখন তার ট্রেডমার্ক কভার ড্রাইভ দিয়ে শুরু করেছিলেন, মনে হয়েছিল তিনি আজ বড় স্কোর করবেন। কিন্তু বরুণ চক্রবর্তীর একটি গুগলি, যা তিনি হাত থেকে পড়ার আগে পড়ার উপায় রাখেননি, সেটি মার্করামের ডিফেন্স ভেঙে স্টাম্প উড়িয়ে দেয়।

“এটিই হলো আধুনিক টি-টোয়েন্টি,” মন্তব্য করেছেন রবি শাস্ত্রী। “আপনি যতই স্ট্রাইক রেট নিয়ে ভাবেন না কেন, বরুণের মতো মিস্ট্রি স্পিনারদের সামনে আপনার ডেটা কাজ করবে না যদি না আপনার পায়ের কাজ নিখুঁত হয়।”

২. পরিসংখ্যানের আয়নায় সুপার এইট-এর প্রথম দিন (হেড-টু-হেড)

ব্যাটার (র‍্যাঙ্ক) বোলার (র‍্যাঙ্ক) ফলাফল ইমপ্যাক্ট নোট
আভিষেক শর্মা (৬) মার্কো জানসেন (২) অভিষেক ৬৪ (৩০) জানসেনের গতিকে কাজে লাগিয়ে অভিষেক ৩টি ছক্কা মারেন।
সূর্যকুমার যাদব (৫) কাগিসো রাবাদা (৯) সূর্য ৪২ (২২) রাবাদার ইয়র্কার সূর্য স্কুপ করে গ্যালারিতে পাঠান।
কুইন্টন ডি কক (৯) জাসপ্রিত বুমরাহ (৬) ডি কক ১৫ (১৮) বুমরাহর নিখুঁত ডট বলে ডি কক চাপে পড়ে উইকেট হারান।
নিকোলাস পুরান (১০) আদিল রশিদ (১০) পুরান ২০ (১৫) রশিদের গুগলি বুঝতে না পেরে পুরান ক্যাচ তুলে দেন।

৩. পাল্লেকেলের সেই ‘এপিক’ নাটক: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলেতে ইংল্যান্ডের ল্যাবরেটরি ক্রিকেট মুখ থুবড়ে পড়েছিল পাকিস্তানের চিরাচরিত ‘অ্যানার্কি’ বা বিশৃঙ্খলার কাছে। আমাদের তালিকার ১ নম্বর ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহান মুখোমুখি হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদের

ফারহান যেভাবে রশিদকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে ছক্কা মারছিলেন, তাতে মনে হয়েছে ইংল্যান্ডের সব ডেটা অ্যানালিস্টদের চাকরি আজ ঝুঁকির মুখে। ইংল্যান্ড যখন মনে করেছিল তারা গাণিতিকভাবে ম্যাচটি জিতে গেছে, তখনই শাহীন আফ্রিদির একটি ইনসুইং ইয়র্কার ফিল সল্টের স্টাম্প উপড়ে ফেলে সব হিসাব পাল্টে দেয়।

৪. ফ্যান এনগেজমেন্ট এবং ‘বিয়ন্ড দ্য ফিল্ড’ উত্তেজনা

সুপার এইট পর্বে এসে আমরা দেখছি যে সাধারণ ভক্তরা এখন বিশেষজ্ঞের চেয়েও নিখুঁতভাবে ম্যাচ রিড করতে পারছেন। এর বড় কারণ হলো ডিজিটাল প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্মগুলোর সহজলভ্যতা। ভক্তরা এখন শুধু স্কোর দেখে না, তারা ‘উইনিং প্রোবাবিলিটি’ আর ‘ব্যাটার ম্যাচ-আপ’ মাথায় রেখে নিজেদের মতামত শেয়ার করছে।

এই ধরণের হাই-স্টেক্স ম্যাচে যারা নিজেদের ক্রিকেটীয় জ্ঞানের প্রমাণ দিতে চান, তাদের জন্য এপিক জগতটি এখন এক অনিবার্য অংশ। আপনি যখন দেখছেন বরুণ চক্রবর্তী বোলিংয়ে আসছেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ‘ইকোনমি রেট’ আর ‘উইকেট টেকিং অ্যাবিলিটি’-র হিসাব কষতে শুরু করে। এই উত্তেজনাকর মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে আপনার প্রয়োজন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিটি ডেটা রিয়েল-টাইমে বিশ্লেষণ করা হয়। যারা মনে করেন অভিষেক শর্মা পাওয়ারপ্লে-তে জানসেনকে আক্রমণ করবেন, তাদের জন্য এই ডিজিটাল পোর্টালটি কেবল একটি প্রেডিকশন টুল নয়, বরং এটি তাদের ট্যাকটিক্যাল মাইন্ডসেটের একটি অংশ।

২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠের লড়াই যতটুকুন রোমাঞ্চকর, তার চেয়েও বেশি রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে ভক্তদের এই ডিজিটাল অংশগ্রহণ। কারণ প্রতিটি ছক্কা আর প্রতিটি উইকেট এখন কেবল একটি পয়েন্ট নয়, বরং এটি কারও সঠিক প্রেডিকশনের বিজয়।

৫. চূড়ান্ত প্রেডিকশন: অরেঞ্জ ক্যাপ ও পার্পল ক্যাপ কার মাথায়?

প্রথম দিনের পারফরম্যান্সের পর আমার প্রোভোকেটিভ বা বিতর্কিত প্রেডিকশন অপরিবর্তিত থাকছে:

  • সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক: সূর্যকুমার যাদব। কেন? কারণ সুপার এইট-এর বাকি ম্যাচগুলো হবে মুম্বাই এবং আহমেদাবাদে, যা সূর্যের পছন্দের ব্যাটিং প্যারাডাইস।
  • সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী: জাসপ্রিত বুমরাহ। কারণ চাপের মুখে বুমরাহ্-র উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এবং ইকোনমি তাকে তালিকার শীর্ষে নিয়ে যাবেই।

উইলোর তান্ডব: ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা ১০ ব্যাটার এবং এক গাণিতিক ধ্বংসযজ্ঞ

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকে সুপার এইট—এখন পর্যন্ত একটি বিষয় পরিষ্কার: আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ‘অ্যাঙ্কর’ বা ধীরগতির ব্যাটারদের কোনো জায়গা নেই। আমরা এখন এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে প্রতিটি বল একটি ইভেন্ট, এবং প্রতিটি শট একটি ট্যাকটিক্যাল স্টেটমেন্ট। এবারের বিশ্বকাপে রান রেট যেভাবে আকাশ ছুঁয়েছে, তাতে বোলারদের জন্য মাঠ এখন এক বধ্যভূমি।

চেন্নাইয়ের ঘূর্ণি উইকেট থেকে মুম্বাইয়ের পাটা পিচ—সবখানেই ব্যাটাররা তাদের আধিপত্য বিস্তার করেছেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক এই টুর্নামেন্টের সেরা ১০ উইলো যোদ্ধা যারা বোলারদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছেন।

১. সাহিবজাদা ফারহান (পাকিস্তান)

এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক। যেখানে সবার নজর ছিল বাবর আজমের দিকে, সেখানে ফারহান ৪ ইনিংসে ২২০ রান করে তালিকার শীর্ষে। নামিবিয়ার বিপক্ষে তার সেই সেঞ্চুরিটি ছিল নিখুঁত টাইমিং এবং শক্তির এক প্রদর্শনী। ফারহান প্রমাণ করেছেন যে পাকিস্তানের ওপেনিংয়ে এখন আর ‘সেফ’ খেলার দিন শেষ। তার স্ট্রাইক রেট ১৬৪.১৭, যা তাকে বোলারদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক করে তুলেছে।

২. পাথুম নিসাঙ্কা (শ্রীলঙ্কা)

স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসটি ছিল চাপের মুখে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয় তার আদর্শ উদাহরণ। বর্তমানে ২০৮ রান নিয়ে তিনি দ্বিতীয় স্থানে। নিসাঙ্কার বিশেষত্ব হলো তার ‘ইনসাইড-আউট’ ড্রাইভ, যা যেকোনো স্পিনারকে লাইন-লেন্থ থেকে বিচ্যুত করতে বাধ্য করে।

৩. এইডেন মার্করাম (দক্ষিণ আফ্রিকা)

প্রোটিয়া অধিনায়ক এবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ১৮২ রান করেছেন ১৮৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে। মার্করামের ব্যাটিংয়ে এক ধরণের রাজকীয় ভাব আছে, বিশেষ করে মিডল ওভারে স্পিনারদের বিপক্ষে তার ফুটওয়ার্ক দেখে মনে হয় তিনি দাবার বোর্ডে চাল দিচ্ছেন।

৪. কুশল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা)

১৮৬ রান নিয়ে তিনি নিসাঙ্কাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন। মেন্ডিস পাওয়ারপ্লে-তে বোলারদের ওপর যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তাতে শ্রীলঙ্কা প্রতিটি ম্যাচেই উড়ন্ত সূচনা পাচ্ছে। তার আগ্রাসনই লঙ্কানদের আত্মবিশ্বাসের মূল চাবিকাঠি।

৫. সূর্যকুমার যাদব (ভারত)

‘৩৬০-ডিগ্রি’ রাজা। সূর্যকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ৪ ম্যাচে ১৮০ রান করেছেন ১৭১.৮০ স্ট্রাইক রেটে। তিনি যখন খেলেন, তখন মনে হয় ডাটা বা পরিসংখ্যান কেবল কাগজের টুকরো। কারণ তিনি এমন সব শট খেলেন যা কোনো গাণিতিক ছকে মেলানো সম্ভব নয়।

৬. ঈশান কিষাণ (ভারত)

গিলের অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে নেমে ঈশান নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ১৭৬ রান করেছেন ২০২.২৯ স্ট্রাইক রেটে। ভারতের পাওয়ারপ্লে-তে রানের পাহাড় গড়ার পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি।

৭. টিম সাইফার্ট (নিউজিল্যান্ড)

কিউইদের মধ্যে সবচেয়ে ধারাবাহিক। ১৭৩ রান করে তিনি মিডল অর্ডারকে ভরসা দিচ্ছেন। সাইফার্টের ব্যাটিংয়ে শক্তির চেয়ে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বেশি দেখা যায়।

৮. দীপেন্দ্র সিং আইরি (নেপাল)

ডিজিটাল দুনিয়ার প্রিয়পাত্র। নেপালকে সুপার এইটের স্বপ্ন দেখানো এই ব্যাটার ১৬৯ রান করেছেন। তার ব্যাটিং স্টাইল দক্ষিণ এশিয়ার অন্য অনেক নামী তারকার চেয়েও আধুনিক এবং কার্যকরী।

৯. কুইন্টন ডি কক (দক্ষিণ আফ্রিকা)

বাঁহাতি এই ওপেনার ১৬৫ রান করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার ১১৫ রানের ইনিংসটি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স।

১০. নিকোলাস পুরান (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

পুরান মানেই ছক্কার বৃষ্টি। ১৫৮ রান করলেও তিনি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ছক্কা (২৪টি) মেরেছেন। তিনি এমন একজন ব্যাটার যাকে কোনো নির্দিষ্ট ছকে আটকে রাখা অসম্ভব।

পরিসংখ্যানের টেবিলে সেরা ১০ ব্যাটার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)

র‍্যাঙ্ক খেলোয়াড় রান স্ট্রাইক রেট বাউন্ডারি %
সাহিবজাদা ফারহান ২২০ ১৬৪.১৭ ১৮.৫%
পাথুম নিসাঙ্কা ২০৮ ১৩৮.৫০ ১৪.২%
কুশল মেন্ডিস ১৮৬ ১৪৫.২০ ১৬.৮%
এইডেন মার্করাম ১৮২ ১৮৭.৩৬ ২১.০%
সূর্যকুমার যাদব ১৮০ ১৭১.৮০ ১৮.৫%
ঈশান কিষাণ ১৭৬ ২০২.২৯ ২৪.২%
টিম সাইফার্ট ১৭৩ ১৫২.৩১ ১৫.৬%
দীপেন্দ্র সিং আইরি ১৬৯ ১৬৮.৪০ ১৭.২%
কুইন্টন ডি কক ১৬৫ ১৪২.৭১ ১৬.৫%
১০ নিকোলাস পুরান ১৫৮ ১৯৬.৫০ ২২.০%

ফ্যান এনগেজমেন্ট এবং ‘বিয়ন্ড দ্য ফিল্ড’ উত্তেজনা

২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিপ্লব হলো ভক্তদের সম্পৃক্ততা। আধুনিক ভক্তরা এখন আর কেবল দর্শক নন, তারা একেকজন ট্যাকটিক্যাল এনালিস্ট। প্রতিটি বাউন্ডারি এবং প্রতিটি স্ট্রাইক রেট এখন রিয়েল-টাইমে বিশ্লেষণ করা হয়। এই ডিজিটাল জোয়ারে যারা নিজেদের ক্রিকেটীয় জ্ঞানের প্রমাণ দিতে চান, তাদের জন্য এই জগতটি এখন এক বিশাল ক্ষেত্র।

যখন ঈশান কিষাণ বা অভিষেক শর্মা ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ‘স্কোরিং প্রেডিকশন’ সেকেন্ডের মধ্যে বদলে যায়। এই ট্যাকটিক্যাল শিফটগুলো যারা নিখুঁতভাবে রিড করতে পারেন, তাদের জন্য প্রেডিকশন পোর্টালগুলো হলো শ্রেষ্ঠ গন্তব্য। কারণ এটি কেবল একটি বাজি নয়, এটি হলো আপনার ক্রিকেটীয় অন্তর্দৃষ্টির চূড়ান্ত পরীক্ষা। এই ডিজিটাল অভিজ্ঞতাই ক্রিকেটের ‘চার্ম’ বা আকর্ষণকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

চূড়ান্ত প্রেডিকশন: সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কে হবেন?

আমার সাহসী এবং প্রোভোকেটিভ প্রেডিকশন হলো—টুর্নামেন্ট শেষে সূর্যকুমার যাদব অরেঞ্জ ক্যাপ জিতবেন। যদিও ফারহান এখন এগিয়ে আছেন, কিন্তু ভারতের ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি এবং সূর্যকুমার যেভাবে বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠেন, তাতে তিনি ৪৫০+ রান করে শীর্ষে শেষ করবেন।

 

কম খরচে ঢাকা-জেদ্দা সরাসরি ফ্লাইট চালু করল ফ্লাইএডিল

কম খরচে ঢাকা-জেদ্দা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করল সৌদি আরবের এয়ারলাইন্স ফ্লাইএডিল। বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ারলাইন্সটির প্রথম ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল এয়ারলাইন্স সংস্থাটি।

এদিন বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সটির উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। এ সময় এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ফ্লাইএডিল সৌদি আরবের লো-কস্ট এয়ারলাইন্স, যা সাউদিয়ার একটি সহকারী প্রতিষ্ঠান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুতবর্ধনশীল এয়ারলাইন্সগুলোর একটি। ফ্লাইএডিল স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন হলেও যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ এবং লাগেজ বহনের সুবিধা থাকবে। নতুন এই ফ্লাইট যুক্ত হওয়ায় ভ্রমণের খরচ কিছুটা কমবে এবং বাংলাদেশ–সৌদি অ্যাভিয়েশন বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে।

প্রাথমিকভাবে সংস্থাটি ঢাকা থেকে সপ্তাহে দু’টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এরমধ্যে জেদ্দা থেকে এয়ারলাইন্সটির ফ্লাইট এফ৩-৯১১২ স্থানীয় সময় রাত দেড়টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। এছাড়া ফিরতি ফ্লাইট এফ৩-৯১১৩ ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে দুপুর ১টায়।