33 C
Dhaka
Home Blog

বার্নার্দোকে আজীবন সিটিতে চান ‘তিতিবিরক্ত’ গার্দিওলা

ম্যানচেস্টার সিটির অধিনায়ক বার্নার্দো সিলভার ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে থাকা দলটির কোচ পেপ গার্দিওলা স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই পর্তুগিজ তারকার ওপর বিরক্ত হয়ে আছেন।

বার্নার্দো চলমান ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে বিদায় নিচ্ছেন বলে কিছুদিন আগে নিশ্চিত করেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির সহকারী কোচ পেপ লাইন্ডার্স। লিভারপুলের বিপক্ষে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যান সিটির ৪-০ গোলের জয়ের পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সুন্দর গল্পেরই সমাপ্তি থাকে। আমি আশা করি, সে এখানে তার শেষ মাসগুলো উপভোগ করবে।’

তবে আগামী রোববার চেলসির বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা জানান, বার্নার্দোর ক্লাব ছাড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি এখনও কিছুই জানেন না।

সিটির এই তারকা স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘আমি বার্নার্দোর ওপর তিতিবিরক্ত হয়ে আছি। কারণ মাসখানেক আগেই আমি তাকে বলেছিলাম, “তুমি যদি কোনো সিদ্ধান্ত নাও, তবে আমি যেন সবার আগে সেটি জানতে পারি।” কিন্তু সে এখন পর্যন্ত আমাকে কিছুই বলেনি। তাই আমার মনে হয়, এই ব্যাপারে কথা বলার সঠিক ব্যক্তি বার্নার্দো নিজেই। সে আমাকে কিছু না বলায় আমি জানি না আসলে কী ঘটছে।’

২০১৭ সালে ফরাসি ক্লাব মোনাকো থেকে সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন বার্নার্দো। ৩১ বছর বয়সী পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তার নয় বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। বর্তমান মৌসুম শেষ হওয়ার পর চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ক্লাব ছাড়বেন তিনি।

বার্নার্দোর ভবিষ্যৎ নিয়ে গার্দিওলার চাওয়া পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে চাইব, সে এখানে থেকে যাক এবং এখানেই ক্যারিয়ার শেষ করুক।’

বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক এই কোচ যোগ করেন, ‘আমি জানি না কী হবে। সিদ্ধান্তটা তাকেই নিতে হবে। সে নিশ্চয়ই ক্লাবকে এবং আপনাদের অর্থাৎ সংবাদমাধ্যম, ভক্ত ও সবাইকে তা জানাবে। সিদ্ধান্তটা একান্তই তার। তবে আমাদের জন্য সে ছিল এক অবিশ্বাস্য সাইনিং। তার পরিসংখ্যান, মাঠে কাটানো সময় এবং জেতা শিরোপার সংখ্যাই সেটার প্রমাণ। বিশেষ করে কঠিন মুহূর্তগুলোতে সে অসাধারণ। যখন সবকিছু কঠিন হয়ে পড়ে, তখন একজন খেলোয়াড় কীভাবে নিজেকে উজাড় করে দেয় এবং বলে “আমি এখানে সাহায্য করার জন্য আছি”, আমি সেসব দিয়েই তাদেরকে বিচার করি।’

গত মাসে ইএফএল কাপ জেতার পর এবারের মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে ঘরোয়া ‘ট্রেবল’ জয়ের দৌড়ে টিকে আছে ম্যান সিটি। তবে এফএ কাপের সেমিফাইনালে উঠলেও প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থানধারী আর্সেনালের চেয়ে তারা ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে। যদিও তাদের হাতে একটি ম্যাচ জমা রয়েছে। আগামী ১৯ এপ্রিল ম্যানচেস্টারে মুখোমুখি হবে এই দুই দল, যা শিরোপার লড়াইয়ে নির্ধারক ম্যাচ হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে গার্দিওলা বলেন, ‘আমাদের অনেক পয়েন্ট জিততে হবে। পুরো মৌসুমে আমরা যথেষ্ট ধারাবাহিক ছিলাম না। যেসব পয়েন্ট আমাদের পাওয়া উচিত ছিল, সেগুলো আমরা হারিয়েছি। আর এই কারণেই এখন আমরা এমন এক অবস্থানে আছি, যেখানে অন্য কোনোভাবে ভাবার সুযোগ নেই।’

ছাই থেকে টুথপেস্ট: দাঁতের যত্নে অভ্যাস বদল

শৈশবে আনোয়ারা আখতারের দিন শুরু হতো নিমগাছের ডাল কেটে। ডালের এক প্রান্ত চিবিয়ে ব্রাশের মতো তৈরি করে দাঁত মাজতেন তিনি। সত্তরের দশকে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ঘরের সাধারণ দৃশ্য। অনেক পরিবার কাঠের কয়লা ব্যবহার করত, কেউবা ছাই। শহরের উচ্চবিত্তদের বাইরে তখন টুথপেস্ট ছিল প্রায় অপরিচিত এক বস্তু।

আনোয়ারা আখতার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আশির দশকে কলেজে পড়ার জন্য নেত্রকোনা শহরে আসার আগপর্যন্ত তিনি কখনো টুথপেস্ট ব্যবহার করেননি।

তখন পর্যন্ত বাংলাদেশে দাঁত মাজতে কয়লা, ছাই আর টুথ পাউডারই ছিল ভরসা। কিন্তু এখন সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ইউনিলিভার বাংলাদেশের তথ্য বলছে, সাশ্রয়ী দেশীয় ব্র্যান্ড, মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং ওরাল হেলথ নিয়ে সচেতনতা বাড়ার ফলে বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ পরিবার সকালে টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট ব্যবহার করে। গত এক দশকে দেশে টুথপেস্টের ব্যবহার ৮৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিশ্বে ১৮৮০-এর দশকে বাণিজ্যিক টুথপেস্ট প্রথম দেখা গেলেও আমাদের অঞ্চলে এটি পৌঁছায় ১৯৪০ থেকে ৫০-এর দশকে। তখন এর ব্যবহার ছিল শুধু শহরকেন্দ্রিক। গ্রামের বাসিন্দারা মূলত নিমের ডাল বা মেসওয়াক ব্যবহার করতেন।

স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে গ্রামে টুথপেস্ট পৌঁছাতে শুরু করলেও নব্বইয়ের দশকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার ও শিক্ষার প্রসারে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে দেশে দাঁতের যত্নসংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারের আকার প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে শুধু টুথপেস্টের বাজারই দেড় হাজার কোটি টাকার। আর মোট বিক্রির প্রায় ৬৫ শতাংশই আসে গ্রামগঞ্জ থেকে।

বর্তমানে এই বাজারে ১৪টির বেশি দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানি প্রতিযোগিতা করছে। ইউনিলিভার বাংলাদেশের (ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট) করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর শামীমা আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সচেতনতা বাড়ায় টুথপেস্টের চাহিদা বেড়েছে। এর বাজার এখন একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগে শুধু শহরকেন্দ্রিক চাহিদা থাকলেও এখন গ্রামেও সমান চাহিদা।’

তিনি আরও বলেন, শহরের বাসিন্দারা অনেক আগেই টুথপেস্টের ব্যবহার শুরু করেছেন। গ্রামের দিকে শুরুতে এর প্রসার ধীর থাকলেও পরে তা অতি দ্রুতগতিতে বেড়েছে।

স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের (হোয়াইট প্লাস ও ম্যাজিক) মার্কেটিং বিভাগের প্রধান জেসমিন জামান বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ বছরে এই বাজার স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মানুষ এখন টুথপেস্টে ভেষজ উপাদান খুঁজছেন।

কোহিনূর কেমিক্যালসের এক কর্মকর্তা জানান, ভেষজ বা হারবাল টুথপেস্টের বাজার বর্তমানে মোট বাজারের প্রায় ৫ শতাংশ। ভারতে ভেষজ বা হারবাল টুথপেস্ট অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাজার বড় হওয়ার কারণেই এই প্রবৃদ্ধি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

শামীমা আক্তার বলেন, স্থানীয় ভোক্তাদের একটি বড় অংশ দামের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। দাম কম হওয়ায় গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই টুথ পাউডার ব্যবহার করে। গ্রামে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজার বিষয়টি এখনো প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

টুথপেস্ট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল—যেমন ফ্লোরাইড কম্পাউন্ড, সরবিটল ও ফ্লেভার অয়েল মূলত আমদানিনির্ভর। ২০২২-২৩ সালের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় অনেক পরিবার টুথপেস্টের ব্যবহার কিছুটা কমিয়েছিল। এ ছাড়া দাম কম হওয়ায় কম আয়ের মানুষ এখনো টুথ পাউডার বেছে নেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডেন্টাল) এ এন এম নাজমুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কয়লা বা ছাই খসখসে হওয়ায় তা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। এতে দাঁত শিরশির করা থেকে শুরু করে মাড়ির রোগ ও দাঁত পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সঠিক ওরাল হাইজিন বা মুখের যত্নের অভাবে ওরাল ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রুমন বণিক বলেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ রোগী দাঁতে ব্যথা হওয়ার আগে চিকিৎসকের কাছে যান না। দাঁতের যত্নে নিয়মিত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রতি তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দাঁতের চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেন তিনি।

যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি: গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট

গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কয়েকটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। এসব ঘটনাকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি অপমান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জোটটি।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, ‘সংসদের শোক প্রস্তাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আল-বদর ও রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

‘গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছে-সংসদের শোক প্রস্তাব থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের নাম অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে,’ বলা হয় বিবৃতিতে।

জোটটি বিএনপির চিফ হুইপের ভূমিকাও সমালোচনা করে বলেছে, ‘মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে ভোট চেয়েছে—এমন একটি দলের চিফ হুইপের সংসদে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নাম প্রস্তাব করা গভীরভাবে লজ্জাজনক।’

জোটটির মতে, বাংলাদেশের সংসদ হলো মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখো মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সর্বোচ্চ আইনসভা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে সংসদ গড়ে উঠেছে। তাদের হত্যার জন্য দায়ীদের প্রতি শোক প্রকাশ করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।’

জোটটি আরও অভিযোগ করেছে, সংসদের ভেতরে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির কিছু প্রতিনিধি দাঁড়াতে ইতস্তত করেছিলেন, যা তারা ‘জাতির প্রতি অসম্মান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাতীয় সঙ্গীতের সময় দাঁড়াতে দ্বিধা করা, দেশের এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতি স্পষ্ট অসম্মানের লক্ষণ।’

বিবৃতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ডিত এটিএম আজহারুল ইসলামকে সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করারও সমালোচনা করা হয়েছে।

জোটটির ভাষ্য, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত একজন ব্যক্তিকে সংসদের এমন সম্মানজনক পদে নিয়োগ দেওয়া শুধু সংসদেরই অপমান নয়, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতিও অপমান।’

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান বৈষম্য ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ছিল, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের জন্য নয়। সেই অভ্যুত্থানে যে তরুণ প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, তারা রাজাকারের পুনর্বাসন দেখতে রাস্তায় নামেনি।’

বর্তমান সরকারকে ‘মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার’ও সতর্কবার্তা দিয়েছে জোটটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ ভুলে যায়নি। কোনো রাজনৈতিক সমঝোতাই ৩০ লাখ শহীদের ঋণ মুছে দিতে পারবে না।’

গণতান্ত্রিক বাম জোট সংসদের শোক প্রস্তাব থেকে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নাম অবিলম্বে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানানো সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়া, এটিএম আজহারুল ইসলামকে সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল থেকে অবিলম্বে অপসারণের দাবিও জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদ-এর সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদাক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণ ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।

বিটিএসের টিকিট বিক্রি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম শনাক্ত, তদন্ত করছে সিউল

দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের আসন্ন কনসার্টের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িতদের তালিকা শনাক্ত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এক হাজার ৮৬৮টি কালোবাজারির তালিকা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনা তদন্তের জন্য দেশটির ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন বেশিরভাগ তালিকা পাওয়া গেছে সেকেন্ডহ্যান্ড অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে।

তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সংখ্যায় কিছু ডুপ্লিকেট পোস্টও থাকতে পারে, কারণ তালিকা বিশ্লেষণের সময় আলাদা বিক্রেতা নয়, বরং আলাদা পোস্টের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অননুমোদিত মাধ্যমে টিকিট কিনলে ভক্তরা কনসার্টে হয়তো নাও ঢুকতে পারেন। কারণ আয়োজকরা কঠোর পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করেছে।

২১ মার্চ গওয়াংহওয়ামুন কনসার্টের জন্য টিকিটিং ব্যবস্থা করা হয়েছে মোবাইল কিউআর কোডের মাধ্যমে। একবার স্ক্যান হলে এই কোড আর ব্যবহার করা যাবে না বা স্ক্রিনশট নিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না।

এ ছাড়া কনসার্টে প্রবেশের সময় দর্শকদের সরকারি পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং একটি বিশেষ নিরাপত্তা রিস্টব্যান্ড পরতে হবে, যা খুলে ফেললে আবার লাগানো যাবে না।

ভিতরে ঢোকার পরও আয়োজকেরা হঠাৎ পরিচয় যাচাই করতে পারে। কেউ নিয়ম ভাঙলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হবে।

কনসার্টের আয়োজকেরা নিজেরাও অনলাইনে টিকিট বিক্রির পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। বুকিং নীতিমালা লঙ্ঘনের সন্দেহ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট টিকিট বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করেছে যে, কালোবাজারি টিকিট কিনলে ভক্তদের অতিরিক্ত দাম দিতে হতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

নতুন আইন অনুযায়ী, আগস্ট ২৮ থেকে কেউ নিয়ম ভাঙলে তাকে টিকিটের মূল্যের সর্বোচ্চ ৫০ গুণ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। পাশাপাশি টিকিট বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক অ্যান্টি-স্ক্যাল্পিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।

এই আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে মন্ত্রণালয় ৫ মার্চ একটি সরকারি–বেসরকারি টাস্কফোর্সও গঠন করেছে, যেখানে টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম, রিসেল মার্কেটপ্লেস এবং শিল্পখাতের সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করবে।

কর্তৃপক্ষ এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে কাজ করে সন্দেহজনক পোস্ট মুছে ফেলছে এবং সংশ্লিষ্ট কিওয়ার্ডগুলো ফিল্টার করার ব্যবস্থা করছে।

এদিকে ১২ মার্চ রাত ৮টায় নতুন করে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আবারও কালোবাজারি বা প্রতারণা বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোকে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

ট্রাম্পের ‘স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীতে’ সেনা মোতায়েন করবে যে ৫ দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে ‘শান্তি পর্ষদ’ (বোর্ড অব পিস) এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ওই বিশ্বনেতা জানান, গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন তহবিলে ৭০০ কোটি ডলার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে ৯টি সদস্যরাষ্ট্র।

পাশাপাশি, গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে রাজি হয়েছে পাঁচটি দেশ

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। 

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী।

ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া ওই বাহিনীতে সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

গাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়টা করবে নতুন এই বাহিনী। বাহিনীর সংক্ষিপ্ত নাম আইএসএফ (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স)। 

আইএসএফের ‘ভবিষ্যৎ’ কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স। 

জেনারেল জেফার্স গতকাল বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইন্দোনেশিয়া থেকে যে বাহিনী আইএসএফে যোগ দেবে, তাদের মধ্য থেকে একজন ‘ডেপুটি কমান্ডারের’ পদ গ্রহণ করতে রাজি হয়েছেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত শান্তি পর্ষদের বৈঠকে জেফার্স বলেন, ‘এসব প্রাথমিক ধাপ গাজার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।’

অন্য অনেক দেশের নেতাদের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ’ সফল করতে তার দেশ ওই বাহিনীতে সর্বোচ্চ আট হাজার সেনা পাঠাবে। 

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলায় অন্তত ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। 

কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-ইয়োমার্ত তোকায়েভ জানান, তার দেশ চিকিৎসা ইউনিট সহ গাজায় অন্যান্য সেনা পাঠাবে। তবে সেনার সংখ্যা উল্লেখ করেননি তিনি। 

মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বৌরিতা জানান, তার দেশ গাজায় পুলিশ কর্মকর্তা পাঠাতে প্রস্তুত।

আলবেনিয়াও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 
অপর দিকে, মিশর ও জর্ডান বলেছে, তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্রমে অংশ নেবে। 

গাজার রাফা শহর থেকে তারা কাজ শুরু করবে এবং একটি নতুন পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ১২ হাজার পুলিশ সদস্য ও ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত করা।

প্রথম যে কয়েকটি দেশ আইএসএফ-এ সেনা পাঠাতে রাজি হয়েছে, তার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া অন্যতম।

সমালোচকদের উদ্দেশে জাকার্তার বক্তব্য, ইসরায়েলি গণহত্যামূলক হামলার মুখে গাজায় আন্তর্জাতিক আইন বজায় রাখা নিশ্চিত করতেই তারা এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে। 

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস ও জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুরের সঙ্গে বুধবার নিউইয়র্কে দেখা করেন। 

এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘মানবিক কারণে ইন্দোনেশিয়া শান্তি পর্ষদের স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীতে সেনা পাঠাচ্ছে। তাদের নজর থাকবে বেসামরিক মানুষদের সুরক্ষা দেওয়া, মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া, গাজার পুনর্নির্মাণ ও ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও তাদের সক্ষমতা বাড়ানো।’

মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, সেনারা সরাসরি সংঘাতে অংশ নেবে না। 

‘সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে হয় এমন কোনো সামরিক অভিযানে ইন্দোনেশীয় সেনারা অংশ নেবে না’, যোগ করে মন্ত্রণালয় ।

এই বাহিনীতে জাকার্তার অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইন্দোনেশিয়া শাখার প্রধান উসমান হামিদ। তিনি জানান, শান্তি পর্ষদ ও আইএসএফে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে দেশটি। 

Usman Sebut 100 Hari Pemerintahan Prabowo-Gibran Diwarnai Pelanggaran HAM

হামিদ হুশিয়ারি দেন, গাজায় সেনা পাঠানোর অর্থ হল ইন্দোনেশিয়া এমন একটি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হল, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন হতে পারে। 

গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকারের উদ্দেশ্যে লেখা খোলা চিঠিতে হামিদ বলেন, ‘শান্তি পর্ষদে বিপদগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের কোনো প্রতিনিধি নেই। বরং সেখানে ইসরায়েলি সদস্যরা আছেন, যারা প্রায় আট দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষী আচরণ ও গণহত্যামূলক নির্যাতন চালাচ্ছে এবং অবৈধভাবে তাদের ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।’

ফিলিস্তিনিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে গাজায় ইসরায়েলি আধিপত্যকে আরও সুসংহত করবে। 

দেশটি সেখানে একের পর এক ‘বাফার জোন’ তৈরি করছে এবং গাজাবাসীর কাছে খাবার ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। 

হামাসের সঙ্গে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির বেশ কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো থামেনি ইসরায়েলি হামলা। যুদ্ধবিরতি চালুর পর থেকে প্রায় ৬০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।

 

সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করতে পারবেন না ওসিরা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) কোনো অবস্থাতেই সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করতে পারবেন না। যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি আরও সতর্ক করেন, কোনো ধরনের তদবির বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।

আজ বুধবার সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। 

বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখতে হবে এবং পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না।

কোনো ওসির ফোন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে আসা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান নেবেন বলে জানান।

বৈঠকে উপস্থিত আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রথম বৈঠকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন কীভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালিত হবে।

তিনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্বে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে জড়িত না হতে পরামর্শ দেন।

গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অতীতে যা ঘটেছে সেখানে ফিরে যেতে চান না। বরং সামনের দিনগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।

ওই কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাস করেন। কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

বাহিনীর ভেতরে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্ত শেষে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই তিনি বলেছেন বলে ওই কর্মকর্তা উদ্ধৃত করেন। এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানান।

কর্মকর্তা আরও বলেন, সড়কে জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেছেন, এমন কোনো কর্মসূচি নেওয়া যাবে না, যা মানুষের কষ্টের কারণ হয়।

রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাকে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলছি, পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে। আগে যে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করতে হবে।’

একটি ‘সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত’ মন্ত্রণালয় গড়ে তুলতে চান জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সবার জন্য জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। কোনো ধরনের অবৈধ কাজ চলবে না।’

সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো বাহিনীর সদস্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হলে বিলম্ব না করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মোবাইল সাংবাদিকতা নাকি ডিজিটাল হয়রানি?

সাংবাদিকতার কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা; অন্যায়, বৈষম্য, জবাবদিহিহীনতা সামনে আনা। মোবাইল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেই কাজকেই আরও দ্রুত, বিস্তৃত ও জনমুখী করার কথা ছিল। হাতে স্মার্টফোন থাকলে ঘটনাস্থল থেকে সঙ্গে সঙ্গে ছবি, ভিডিও, তথ্য পাঠানো যায়; বড় ক্যামেরা যেখানে পৌঁছাতে পারে না, সেখান থেকেও খবর তোলা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, মোবাইল সাংবাদিকতা হওয়ার কথা ছিল সাংবাদিকতার পরিসর বাড়ানোর শক্তিশালী হাতিয়ার।

কিন্তু বাংলাদেশে এর এক অস্বস্তিকর, কদর্য ব্যবহার প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে মোবাইল সাংবাদিকতা আর খবর সংগ্রহের মাধ্যম থাকছে না; সেটি ক্রমে মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের প্রকাশ্যে ছোট করা, হেনস্তা করা, আর কনটেন্ট বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

চিত্রটি খুব অপরিচিত নয়। কোনো নারী একটি অনুষ্ঠান, সমাবেশ বা জনপরিসরে গেছেন। তিনি হয়তো এক মুহূর্তের জন্য শাড়ি ঠিক করছেন, ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন, কিংবা রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। হঠাৎ দেখা যায়, কাছেই কোনো ফোনের ক্যামেরা তাকেই ‘খবর’ বানিয়ে ফেলেছে। অনুষ্ঠান নয়, ঘটনাও নয়, মূল ফোকাস ওই নারী। তারপর শুরু হয় ভিডিও, রিল, স্থিরচিত্র, ক্যাপশন, ইঙ্গিত, ঠাট্টা, লজ্জা, আর ভেসে ওঠা চটকদার ‘সংবাদ’। দেখলেই বোঝা যায় এটি সাংবাদিকতা নয়, কেবলমাত্র অপমানজনক কনটেন্ট।

এখানে সমস্যা ক্যামেরা নয়। সাংবাদিকরা জনসমাগম ধারণ করবেন, সাধারণ মানুষও জনপরিসরের মুহূর্ত রেকর্ড করবেন—সেটাই স্বাভাবিক। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন ক্যামেরা তথ্য দেওয়ার বদলে কারও অপ্রস্তুত মুহূর্ত উন্মুক্ত করার জন্য তাক করা হয়; যখন ঘটনা ব্যাখ্যার জন্য ফ্রেম বাছাই না করে বরং কাউকে বিব্রত করা হয়; যখন প্রেক্ষাপটের বদলে দর্শকের চোখকে নারীর শরীর, পোশাক বা ভঙ্গির দিকে ঠেলে দিতে ক্যাপশনের ব্যবহার করা হয়। সেই মুহূর্তেই একজন মানুষ কনটেন্টে পরিণত হন।

এই প্রবণতার বড় চালক এখন কিছু ফেসবুক পেজ, টিকটক অ্যাকাউন্ট, ইউটিউব চ্যানেল ও ভুঁইফোড় ‘নিউজ পোর্টাল। তারা অপমানকে বিক্রির জিনিস বানিয়েছে। আরও অস্বস্তিকর সত্য হলো, মাঝে মাঝে কিছু প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমও একই ফাঁদে পা দিচ্ছে। তারা এমন ক্লিপ বা ছবি প্রকাশ করেছে, যার সঙ্গে জনস্বার্থের সম্পর্ক খুবই সামান্য। সেগুলো বরং কৌতূহল, দৃষ্টি ও শরীরী আগ্রহের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে। ভুয়া পোর্টালগুলো কোনো নীতিমালা মানে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমও যখন সাংবাদিকতার মানদণ্ড ভেঙে একই খেলায় নামে, তখন ক্ষতিটা অনেক গভীর হয়।

একটি পেজ তার নামের শেষে ‘টিভি’, ‘নিউজ’ বা ‘মিডিয়া’ জুড়ে দিলেই তা সাংবাদিকতা হয়ে যায় না। কাউকে অপমান করার ভিডিও বা ছবি আপলোড করা সাংবাদিকতা নয়। মানুষের দুর্বল মুহূর্তকে ভাইরাল করা জনস্বার্থ নয়। কারও লজ্জা, ভয় বা অস্বস্তিকে ‘কনটেন্ট’ বানানো সংবাদ নয়।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক নারী আন্দোলনকর্মীকে আপত্তিকরভাবে ভিডিও করার অভিযোগে এক মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিককে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নবিদ্ধ করেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী তাকে জিজ্ঞেস করছেন, কেন এমন ফুটেজ তিনি নিয়েছেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্যাডে দেওয়া একটি মুচলেকার কথাও সামনে আসে। সেখানে বলা হয়, তিনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে জুম করে ওই নারীকে ধারণ করেছিলেন। তিনি ভুল স্বীকার করেন এবং মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। ঘটনাটি শুধু একজনের দোষের প্রশ্ন নয়; এটি দেখিয়েছে, সমস্যাটি পেশার ভেতরেই ঢুকে পড়েছে।

এই প্রবণতা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ নয়। পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির সময় অনেক ক্ষেত্রেই সেটাকে প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। ক্যামেরা, ফোন, লাইভ, বুম, মাইক্রোফোন—সব মিলে একধরনের জনসমক্ষে উন্মোচন। একই প্রবণতা দেখা যায় পুলিশের অভিযানে, বিশেষ করে হোটেল অভিযানে। মানুষকে তাদের সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় ভিডিও করা হয়। কে অপরাধী, কে নয়, আদালত বলার আগেই ক্লিপ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। মুখ দেখানো হয়, পরিচয় ফাঁস হয়, কৌতুক হয়, রায় দিয়ে ফেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। শুরু হয় মিডিয়া ট্রায়াল।

এই ক্ষতি কেবল নারীর শরীরকে পণ্য বানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শাহবাগে সমকামী সম্প্রদায়ের সদস্য বলে অভিযোগ তুলে কয়েকজনকে মারধরের ঘটনায়ও একই প্রবণতার অভিযোগ এসেছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, নিজেদের মোবাইল সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া কিছু লোক তাদের চলাচলে বাধা দেয়, অনুমতি ছাড়া ভিডিও করে, এমনকি হামলার মাঝেই অপমানজনক, অশালীন ও ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন করতে থাকে। অর্থাৎ, মানুষের বিপদও এখন কনটেন্ট। ভয়, অপমান, আতঙ্ক, সামাজিক দুর্বলতা—সবই বাজারজাত করা যায়।

এটি কেবল নীতির প্রশ্ন নয়; এটি আইন, নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রশ্ন। দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা স্পষ্ট করে বলছে, কোনো নারীর শ্লীলতাহানি বা গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে শব্দ, অঙ্গভঙ্গি বা আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে নারীর অপমানকে কনটেন্টে পরিণত করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সেই গুরুত্ব খুব কমই দেখা যায়। সাইবার আইন, ডিজিটাল নজরদারি, কনটেন্ট অপসারণ—এসব তখনই বেশি সক্রিয় দেখা যায় যখন রাজনীতি জড়িত থাকে বা ক্ষমতাবানদের স্বার্থে আঘাত লাগে। কিন্তু যখন নারী বা অন্য কোনো নাজুক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, তখন রাষ্ট্রের সেই তৎপরতা চোখে পড়ে না।

নিবন্ধিত গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায় আরও বেশি। সরকার যদি নিবন্ধন দেয়, তাহলে সেই বৈধতার অপব্যবহার হলে দায়ও তাকে নিতে হবে। সতর্কবার্তা, ব্যাখ্যা চাওয়া, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা—সবই সম্ভব। নিবন্ধন কখনোই শিকারি আচরণের ঢাল হতে পারে না।

আর অপরাধী যদি হয় এমন কোনো অনিবন্ধিত পেজ বা পোর্টাল, যারা নামের সঙ্গে ‘নিউজ’ লিখে মানুষের মর্যাদা হরণ করে, তাহলে রাষ্ট্রের দায় কমে না। বরং আরও স্পষ্ট হয়। সরকার ভুক্তভোগীর অভিযোগের অপেক্ষায় বসে থাকতে পারে না। অনেকেই হয়তো জানেনই না যে তাদের ছবি বা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, কনটেন্ট অপসারণ, প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয়, পুনরাবৃত্ত অপরাধী শনাক্তকরণ—এসবের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা দরকার।

একজন সাংবাদিক হিসেবেই এসব কথা আমি বলছি। কারণ, আমি দেখছি, এই সংস্কৃতি শুধু নারীদের নয়, সাংবাদিকতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিবার যখন অপমানকে ‘মিডিয়া’ নামের মোড়কে পরিবেশন করা হয়, সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা কমে। প্রতিবার যখন কোনো নারীকে নিউজ লোগোর নিচে টোপে পরিণত করা হয়, মানুষ সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থা আরেকটু হারায়।

এ কারণে একে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্ন বলে পাশ কাটানো যাবে না। একজন নারীকে, কিংবা অন্য কোনো নাজুক মানুষকে শিকারি ক্যামেরার সামনে ঠেলে দেওয়া স্বাধীনতা নয়; এটি নিপীড়ন। আর শিকারি লেন্স থেকে কাউকে রক্ষা করার অর্থ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, বরং নাগরিকের মর্যাদার অধিকার রক্ষা করা।

যদি মিডিয়ার নামে এসবকে প্রশ্রয় দিতে থাকি, তাহলে সাংবাদিকতা নিজেই সেই সমস্যার অংশ হয়ে উঠবে, যা তার উন্মোচন করার কথা ছিল।

লেখক: দ্য ডেইলি স্টারের একজন সাংবাদিক, যিনি শিক্ষা, সুশাসন, মানবাধিকার ও জনজবাবদিহিতা নিয়ে লেখালিখি করেন।
[email protected]
 

মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা অপারেটরদের

দেশের মোবাইল অপারেটররা সতর্ক করেছে, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে সারা দেশে টেলিকম সেবা বিঘ্নিত হতে পারে। এতে ডেটা সেন্টারসহ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সমস্যায় পড়তে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) পাঠানো জরুরি এক চিঠিতে এসব বলেছে অপারেটররা। তারা বলছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকারের দ্রুত সাহায্য ছাড়া টেলিকম সেবা চালিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন (এএমটিওবি) তাদের চিঠিতে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। এমন সময়ে তারা এই চিঠি পাঠানো যখন ঝড়ের সময় প্রায় প্রতিদিনই ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না এবং তাদের বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম চালাতে হচ্ছে।

এএমটিওবির চিঠি অনুযায়ী, শুধু বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) চালাতেই প্রতিদিন অপারেটরদের মোট ৫২ হাজার লিটারের বেশি ডিজেল এবং প্রায় ২০ হাজার লিটার অকটেন ব্যবহার খরচ হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘টেলিকম সেবা বিঘ্নিত হলে জরুরি সেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা, টাকা লেনদেন, অনলাইনে সরকারি কাজ ও অর্থনীতি—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’

ওই চিঠিতে বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, দেশের সবচেয়ে বড় টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোন প্রতিদিন ২৮ হাজার ৭৯ লিটার ডিজেল এবং ৯ হাজার ২৫৪ লিটার অকটেন ব্যবহার করছে। রবি আজিয়াটা ব্যবহার করছে ১৩ হাজার ১৪০ লিটার ডিজেল ও ৫ হাজার ৬১০ লিটার অকটেন। আর বাংলালিংক তাদের টাওয়ার সচল রাখতে প্রতিদিন ১১ হাজার ২০৬ লিটার ডিজেল এবং ৪ হাজার ৯৯৫ লিটার অকটেন ব্যবহার করছে।

তবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে আছে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর মূল ভিত্তি ডেটা সেন্টার ও সুইচিং ফ্যাসিলিটিজগুলো। 

এএমটিওবি জানিয়েছে, ‘ডেটা সেন্টার, সুইচিং ফ্যাসিলিটিজ ও ট্রান্সমিশন হাবসহ টেলিকমের মূল অবকাঠামোগুলো প্রায়ই বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চলছে, যা নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।’

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ডেটা সেন্টারের জন্য প্রতি ঘণ্টায় আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ লিটার ডিজেল দরকার হয়। এতে দিনে প্রতিটি সেন্টারে প্রায় ৪ হাজার লিটার ডিজেল লাগে।

ডেটা সেন্টার ও সুইচিং হাব মিলিয়ে প্রতিদিন মোট জ্বালানি ব্যবহার এখন বেড়ে ২৭ হাজার ১৯৬ লিটারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোন ব্যবহার করছে ১১ হাজার ১৮৪ লিটার, রবি ৯ হাজার ৭৩২ লিটার এবং বাংলালিংক ৮ হাজার ২০০ লিটার।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত বেশি ব্যাকআপ বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব না।

বিটিএস টাওয়ারের মতো না, ডেটা সেন্টারগুলোতে কল রাউটিং ও ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়। এখানে সমস্যা হলে পুরো নেটওয়ার্কে একের পর এক বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

একটি টেলিকম অপারেটরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যদি ঠিকঠাক জ্বালানি সরবরাহ করা না যায় এবং ডেটা সেন্টার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ব্যাপক কল ড্রপ, ইন্টারনেট বিভ্রাট ও টেলিকম সেবায় অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।’
গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, অপারেটররা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পেতে সমস্যায় পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যেন সারা দেশে টেলিকম সেবা স্বাভাবিক থাকে।

তিনি আরও বলেন, লাখো মানুষের জরুরি সেবা বিঘ্ন এড়াতে সরকারের কাছ থেকে সহায়তা দরকার। যেমন—গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানি সহজে পাওয়া এবং জরুরি কাজে জ্বালানি পরিবহন সহজ করা।

এর প্রভাব কেবল যোগাযোগ বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সীমিত থাকবে না। এএমটিওবি সতর্ক করে বলেছে, সেবা বন্ধ হলে জরুরি সেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা, টাকা লেনদেন, ডিজিটাল সরকারি কাজ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

বাংলাদেশের দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতি মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তাই এ খাতটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা, রাইড শেয়ারিং অ্যাপ এবং ক্লাউডভিত্তিক ব্যবসাগুলো সবই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের ওপর চলে। নেটওয়ার্ক দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে টাকা লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বেতন দিতে দেরি হতে পারে এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাতেও অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি সংকটের কারণে সমস্যা আরও বেড়েছে। স্থানীয় পাম্পগুলো এত জ্বালানি দিতে পারছে না। আবার এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জ্বালানি আনা-নেওয়াতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বাধার কারণেও সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে।

‘এ কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম স্থাপনায় এখন খুব কম জ্বালানি মজুত আছে, যা খুবই বিপজ্জনক,’ চিঠিতে বলা হয়।
তাই গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম স্থাপনাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে, মোবাইল টাওয়ারকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ডিপো থেকে সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ করতে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে অপারেটরদের সংগঠন।

তারা জ্বালানি পরিবহন সহজ করার অনুরোধ জানিয়েছে। চিঠিতে জরুরি টেলিকম সেবার জন্য জ্বালানি পরিবহন যেন বাধাহীনভাবে হয় এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত লিখিত নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

তারা আরও বলেছে, টেলিকম নেটওয়ার্ক হলো দেশের যোগাযোগ, জননিরাপত্তা, প্রশাসন এবং জরুরি সেবার মূল ভিত্তি। তাই দীর্ঘ সময় এটি বিঘ্নিত হলে দেশের জন্য অনেক ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

তারা দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ, জ্বালানি কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং মোবাইল অপারেটররা আলোচনায় বসবে।

বাংলাদেশে মোট ৪৬ হাজার ৫৬৭টি টেলিকম টাওয়ার আছে। এগুলো টাওয়ার কোম্পানি ও মোবাইল অপারেটররা পরিচালনা করে। এগুলো প্রায় ১৮ কোটি ৫৮ লাখ গ্রাহককে নেটওয়ার্ক সেবা দেয়। এছাড়া দেশে অপারেটরদের প্রায় ২৭টি ডেটা সেন্টারও আছে।

এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করতে ঘাম ঝরল বাংলাদেশের

থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পুরুষ এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে আজ হংকংয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের ৪-৪ ড্রয়ের পর স্নায়ুচাপের পেনাল্টি শুটআউটে ৩-২ ব্যবধানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। বিদায় নেওয়ার শঙ্কা কাটিয়ে এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৬ এশিয়ান গেমসে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে তারা।

পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থান নির্ধারণী এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড রাকিবুল হাসান ও আবেদ উদ্দিনের শট লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হওয়ার পর গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুর দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট রুখে দেন। এরপর অধিনায়ক ফজলে রাব্বি পঞ্চম শটটি জালে জড়িয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

হংকংয়ের ওপর এই জয় বাংলাদেশকে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে পৌঁছে দিয়েছে এবং সেই সঙ্গে নিশ্চিত করেছে আগামী এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ। 

উল্লেখ্য, ৯ দলের এই বাছাইপর্ব থেকে শীর্ষ ছয়টি দল জাপানে অনুষ্ঠিতব্য সেপ্টেম্বরের এই মাল্টি-স্পোর্ট ইভেন্টে খেলার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ কখনো এশিয়ান গেমস থেকে বাদ পড়েনি। লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা পুরুষ এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের গত তিন আসরে হয় চ্যাম্পিয়ন নতুবা রানার্স-আপ হিসেবে শেষ করেছে।

তবে ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়নরা, যারা ২০১৮ ও ২০২২ সালে ওমানের কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল, তারা এবার সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। নিজেদের তৃতীয় ও শেষ পুল ম্যাচে উজবেকিস্তানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার ফলে তাদের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

 

৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে হুমকির মুখে ফেলায় অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে তিন লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

ডিজেল বাংলাদেশে সর্বাধিক ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং দেশটি তার পেট্রোলিয়ামের চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ৬৮ লাখ টন পেট্রোলিয়াম ব্যবহার করে, যার মধ্যে ডিজেল ছিল ৪৩ দশমিক ৫ লাখ টন।

নতুন করে কেনা এই ডিজেল দিয়ে দেশের প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাব সভায় অনুমোদন পেয়েছে।

সভায় উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে ‘এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ থেকে এক লাখ টন ডিজেল সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া একই পদ্ধতিতে ‘সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড’ থেকে আরও দুই লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।