27.8 C
Dhaka
Home Blog Page 7

জন্মনিরোধক সংকটে দেশে বাড়ছে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ

দেশে জন্মনিরোধক সামগ্রীর চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এলাকায় সরকারিভাবে সরবরাহ করা সব ধরনের জন্মনিরোধক ইতোমধ্যে ফুরিয়ে গেছে। এতে অনিচ্ছাকৃত বা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের (ডিজিএফপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে চলে আসা এই সরবরাহ ঘাটতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জন্মনিরোধক পদ্ধতি কনডম। বর্তমানে ৩৯৭টি উপজেলায় এই সামগ্রীটি সম্পূর্ণ স্টক-আউট বা মজুতহীন অবস্থায় রয়েছে।

ডিজিএফপি সারা দেশে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে পাঁচ ধরনের জন্মনিরোধক—কনডম, খাওয়ার বড়ি (ওরাল পিল), আইইউডি (ইন্ট্রা ইউটারিন ডিভাইসেস), ইনজেকশন এবং ইমপ্ল্যান্ট বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকে।

২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২২০টি উপজেলায় খাওয়ার বড়ির মজুত শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি দেশের সবকটি উপজেলাতেই ইমপ্ল্যান্ট নেই। এছাড়া ৩৫৩টি উপজেলায় আইইউডি এবং ১৬৯টি উপজেলায় ইনজেকশনের মজুতও ফুরিয়ে গেছে।

গত এক বছরে জন্মনিরোধক সামগ্রীর সরবরাহ ক্রমাগত কমেছে। উদাহরণ হিসেবে, গত বছরের জানুয়ারিতে যেখানে ৫৩ দশমিক ৩১ লাখ কনডম সরবরাহ করা হয়েছিল, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা কমে মাত্র ৭ দশমিক ৪৯ লাখে নেমে এসেছে, অর্থাৎ ৮৫ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চলমান এই সংকট জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন গত পাঁচ দশকের মধ্যে দেশে প্রথমবারের মতো মোট প্রজনন হার (টিএফআর) বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, জন্মনিরোধক ব্যবহারের হার কমে যাওয়া এবং প্রজনন হার বৃদ্ধি পাওয়া—দুটোই ইঙ্গিত দেয় যে তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি ঠিকমতো কাজ করছে না।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জন্মনিরোধক সরবরাহে এই বিঘ্ন সরাসরি নিম্নবিত্ত মানুষকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে, কারণ বাজার থেকে কিনে ব্যবহারের সামর্থ্য তাদের অনেকেরই নেই। ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ বেড়ে যেতে পারে।

অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম আরও জানান, দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকট প্রজনন হার বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করবে।

ডিজিএফপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব ধরনের জন্মনিরোধক কেনার জন্য গত বছরের নভেম্বরে অনুমোদিত বড় প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পুরো কেনাকাটার প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে চার মাস সময় লাগবে।

সংকট সামাল দিতে ডিজিএফপি জরুরি ভিত্তিতে সীমিত আকারে কনডম ও খাওয়ার বড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এতে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

গত নভেম্বরে প্রকাশিত ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫ (মিকস)’-এর ফল প্রকাশের তিন মাস পর এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামনে এলো। ওই জরিপে দেখা গেছে, প্রজনন হার (টিএফআর) ২০১৯ সালের ২ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, জন্মনিরোধক ব্যবহারের হার এবং আধুনিক পদ্ধতির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ—দুটোই কমেছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, জন্মনিরোধক সামগ্রীর সংকটের সঙ্গে প্রজনন হার বাড়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যেহেতু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ সরকারি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, তাই সরবরাহ কমে যাওয়া জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউনিসেফের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের জন্মনিরোধক ব্যবহারের হার ২০১৯ সারে সর্বোচ্চ দেখা গিয়েছিল, ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ। সেখান থেকে কমে এখন ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। আধুনিক জন্মনিরোধক পদ্ধতির চাহিদা পূরণের হারও ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কনডম সরবরাহ ছিল ৯৯ দশমিক ২৪ লাখ, খাওয়ার বড়ি ৭২ দশমিক ৩৫ লাখ, ইনজেকশন ৯ দশমিক ৫ লাখ, আইইউডি শূন্য দশমিক ১৪ লাখ এবং ইমপ্ল্যান্ট শূন্য দশমিক ৩৫ লাখ।

ধীরে ধীরে এই মজুত কমতে কমতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। তখন কনডম সরবরাহ দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৫৪ লাখে। খাওয়ার বড়ির মজুত ছিল ২১ দশমিক ৯৬ লাখ, ইনজেকশন ৪ দশমিক ৮২ লাখ, আইইউডি ৩ হাজার ২৮৬টি এবং ইমপ্ল্যান্ট ২ হাজার ৩২৫টি।

ডিজিএফপির তথ্যমতে, ৩৯৭টি উপজেলায় কনডম পুরোপুরি শেষ। ৫০টি উপজেলায় মজুত শেষের পথে, সর্বোচ্চ আর ১৮ দিন চলবে। আরও ৯টি উপজেলায় মজুত প্রয়োজনের তুলনায় কম, সর্বোচ্চ ৪৮ দিন চলতে পারে। 

মাত্র ৭টি উপজেলায় সন্তোষজনক মজুত রয়েছে (৫১ থেকে ৯০ দিন চলবে), আর ২৪টি উপজেলায় তিন মাসের বেশি চলার মতো মজুত আছে।

খাওয়ার বড়ির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি সংকটজনক। ২২১টি উপজেলায় কোনো মজুত নেই। ১২৫টি উপজেলায় মজুত প্রায় শেষ, ৬৩টি উপজেলায় কম। মাত্র ৪১টি উপজেলায় সন্তোষজনক এবং ৩৭টি উপজেলায় অতিরিক্ত মজুত রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের এক জেলা উপপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে সরবরাহ সংকট চলছে। সামান্য পরিমাণে কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

তিনি জানান, ইনজেকশনের মজুত এক মাসেরও কম তাদের কাছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সেবাগ্রহীতাদের চাপে থাকছেন। এই সংকটের বিরূপ প্রভাব দুই-তিন বছর পর দৃশ্যমান হবে।

লজিস্টিকস অ্যান্ড সাপ্লাই ইউনিটের পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, সরকার গত নভেম্বরে ১ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকার একটি ক্রয় প্রকল্প অনুমোদন দিলেও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাত্র গত সপ্তাহে।

তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি জানান, পরিচালক এখন ক্রয়প্রক্রিয়া শুরু করবেন, তবে তা শেষ করতে অন্তত চার মাস লাগবে।

বর্তমানে হাতে থাকা তহবিল দিয়ে ডিজিএফপি ১ কোটি ২০ লাখ কনডম এবং ৩০ লাখ খাওয়ার বড়ি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

রাজ্জাক বলেন, ঈদুল ফিতরের পর কনডম হাতে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, তবে খাওয়ার বড়ি পেতে আরও সময় লাগবে। এই পরিমাণ সামগ্রী সংকট মোকাবিলায় খুবই সামান্য।

ডিজিএফপি কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় জন্মনিরোধকের ববহার কমে যায়। কিন্তু তৎকালীন সরকার এই কমার হার বাড়ানোর ব্যাপারে তৎপর হয়নি।

২০২৪ সালের জুনে ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি’ (এইচপিএনএসপি) শেষ হওয়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়, কারণ এর আওতায় আগের বেশিরভাগ কেনাকাটা হতো।

যোগাযোগ করা হলে ডিজিএফপি মহাপরিচালক আশরাফী আহমদ বলেন, গত বছর সামান্য কিছু কেনাকাটা ছাড়া ২০২৩ সাল থেকে আমরা কোনো জন্মনিরোধক কিনতে পারিনি।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন, এই সংকটের ক্রমপুঞ্জিত প্রভাব রয়েছে। আমরা এটা অস্বীকার করতে পারি না… সত্য বলতে, তৎকালীন সময়ে পরিবার পরিকল্পনা খাত যথাযথ অগ্রাধিকার পায়নি।

প্রজনন হার বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, এই সংকট রাতারাতি কাটবে না, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিয়েছে এবং সংকট নিরসনের বিষয়টি তাদের নজরে আনা হবে।

স্পটিফাই স্ট্রিমিংয়ে বিভ্রাট

মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইয়ে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বিভ্রাট শনাক্তকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর।

ওয়েবসাইটে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ১২ মিনিট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী স্পটিফাই ব্যবহারে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশেও একই সমস্যা পড়েন ব্যবহারকারীরা।

ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, স্পটিফাইয়ের মিউজিক স্ট্রিমিং সেবায় প্রবেশ করতে সমস্যায় পড়ছেন ব্যবহারকারীরা। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্পটিফাই বিভ্রাটের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকেও ২০টি সমস্যার প্রতিবেদন জমা পড়েছে।

বিভ্রাটের বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে স্পটিফাই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘আমরা এই মুহূর্তে কিছু সমস্যার বিষয়ে অবগত আছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

শেখ হাসিনার পালানোর অভ্যাস বহু পুরোনো: মির্জা ফখরুল

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, জামায়াতের উত্থান এবং বর্তমান সরকারের পাঁচ মাস নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুই বছর পার হয়েছে। রাজপথের দাবি অনুযায়ী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন কতটা দৃশ্যমান হয়েছে এবং মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের হাত ধরে দীর্ঘ সংস্কারপ্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পরে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফেরে।

দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের বেশি সময় পর, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার এখন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার, প্রশাসনে সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

এর পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং ভারত থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়গুলো নিয়েও রাজনীতিতে আলোচনা চলছে।

এই প্রেক্ষাপটে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন, সরকারের কার্যক্রম, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, বিরোধী দলের রাজনীতি এবং ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দ্য ডেইলি স্টার: ১৭ বছর রাস্তায় আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের পর আবার জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরেছে। এখন আপনি মন্ত্রী। এই পালাবদলকে কীভাবে দেখছেন?

মির্জা ফখরুল: গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি।

বিএনপির জন্য সরকারে আসা নতুন কিছু নয়। দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। ফ্যাসিস্ট (ফ্যাসিবাদী) হাসিনা সরকার রাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ায় এই অভ্যুত্থানের আগে থেকেই আমরা দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করতে শুরু করেছিলাম।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে আমরা সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করেছি। এখন আমাদের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের আশু চাহিদার বিষয়গুলো একই সঙ্গে দেখতে হচ্ছে।

আমাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরাও সেই প্রত্যাশা পূরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এর জন্য সার্বক্ষণিক মনোযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, যার কারণে আমার নিজের ব্যস্ততাও অনেক বেড়ে গেছে।

দ্য ডেইলি স্টার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন?

মির্জা ফখরুল: এই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হতে পারে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ছিল।

১৫ মাস ধরে সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলেছে। বিএনপি, ছাত্রনেতা, জামায়াত ও অন্যান্য দল একসঙ্গে বসে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছে।

তবে কিছু লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি এবং বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাবে আমরা কখনো একমত ছিলাম না এবং এ বিষয়ে আমরা ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছিলাম। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেই আমরা গণভোটে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু গণভোটের চারটি প্রশ্নে বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা জুলাই সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

জুলাই সনদে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করবে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে সেখানে অংশ নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এই আলোচনা থেকে দূরে রয়েছে। এর বদলে তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় তাদের এই ভূমিকা নেতিবাচক।

বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য জামায়াতের উচিত সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে যোগ দেওয়া।

দ্য ডেইলি স্টার: বেশ কয়েকটি দলের দাবি, জুলাই অভ্যুত্থান যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

মির্জা ফখরুল: কিছু মানুষের হতাশা যুক্তিসংগত। কারণ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং দুর্বল অর্থনৈতিক পরিকল্পনাসহ গভীর কিছু সংকট রেখে গেছে। ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষানীতির কারণে অনেক তরুণ সাধারণ বিষয়ে ডিগ্রি নিলেও তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা নেই। ফলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

দেশের অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কোনো পরিকল্পনার বদলে মূলত প্রকল্পভিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট, বিশেষ করে শহরের মধ্যবিত্তের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।

কোনো দেশ রাতারাতি বদলায় না। পরিবর্তনের জন্য সময় এবং ধৈর্যের প্রয়োজন। প্রশাসন ও শিক্ষাব্যবস্থায় মেধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করা চলবে না। তবেই দেশ ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের দিকে এগোতে পারবে। বিএনপি সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

দ্য ডেইলি স্টার: অন্তর্বর্তী সরকারের সার্বিক কার্যক্রমকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মির্জা ফখরুল: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অর্জন হলো প্রয়োজনীয় সংস্কার কমিশনগুলো গঠন করা এবং ভবিষ্যতের পরিবর্তনের জন্য একটি দিকনির্দেশনা দেওয়া। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারা বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে পেরেছিল।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার সব সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তাদের প্রধান সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। সরকার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়া শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধির স্থায়ী সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়।

দ্য ডেইলি স্টার: সম্প্রতি শেখ হাসিনা বলেছেন যে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন।

মির্জা ফখরুল: এটা আমার কাছে হাসিনার স্টান্ট পলিটিক্স মনে হয়, যেহেতু তিনি সব সময় এমন রাজনীতিই করেন। উনার দেশে ফিরে আসার পরিণতিটা যদি উনি চিন্তা করেন, তাহলে তো উনাকে আবার ভাবতে হবে। কারণ, আসার সঙ্গে সঙ্গে উনি গ্রেপ্তার হবেন। ইতিমধ্যে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আছে। উনি আসবেন, তাকে এত সাহসী বলে আমার মনে হয় না।

কারণ, আমি বরাবরই দেখেছি, বহু আগের কথাই বলি। উনি দেশে ফিরেছেন এমন একটা সময়ে, যখন জিয়াউর রহমান সাহেব তাকে আসার সুযোগ করে দিলেন। তারপরেই, যেদিন জিয়াউর রহমান সাহেব শহীদ হলেন, ওই দিন কিন্তু উনি পালিয়ে যাচ্ছিলেন। উনি ত্রিপুরার কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। কেন? উনার তো ঢাকায় ফিরে এসে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার কথা ছিল। আরে উনি তো তখন বড় নেত্রী, উনি তো দেখবেন যে কী হচ্ছে। পালিয়ে যাচ্ছিলেন কেন? এই পালানোর ব্যাপারটা তার বহু আগে থেকেই আছে।

দ্য ডেইলি স্টার: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এখনো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আপনার কি মনে হয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে?

মির্জা ফখরুল: এটা আমি বলতে পারব না। তবে ভারতের তাকে ফেরত দেওয়া উচিত। এ জন্য যে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটাকে ভালো করার ক্ষেত্রে এটা একটা বড় বাধা হয়ে আছে। ফেরত দিলে তারা ভালো কাজ করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কটা আরও ভালো হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: যত দিন হাসিনাকে ফেরত না দেবে, তত দিন কি সম্পর্কে একটা নেতিবাচক প্রভাব থেকেই যাবে?

মির্জা ফখরুল: একটা চাপ তো থেকেই যাচ্ছে। এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি যে ক্ষতি করেছে, সেই লোকটাকে রেখে দিয়েছেন, তো ওখানে স্বভাবতই আমাদের তো একটা সমস্যা তৈরি হয়। আর ওখান থেকে বসে তিনি সমানে রাজনীতি করছেন। এতে একটা সমস্যা তৈরি হয়।

দ্য ডেইলি স্টার: একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনার কি মনে হয়, ১০ বছর পর আওয়ামী লীগের অবস্থান কোথায় থাকতে পারে?

মির্জা ফখরুল: আওয়ামী লীগের মূল জায়গাগুলোতেই আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে আগে মানুষের ধারণা ছিল যে এটি একটা লড়াকু পার্টি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা একটা দল। কিন্তু গত ১৫ বছরে তারা সেটা প্রমাণ করতে পারেনি। বরং আমাদের আগের কথাগুলোই প্রমাণ করেছে যে আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটি গণতন্ত্রবিরোধী দল। তারা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। তারা একদলীয় শাসন করতে চায়। এটা মানুষ এখন বিশ্বাস করে। কারণ মানুষ অতীতটাকে এ ক্ষেত্রে মিলিয়ে দেখেছে।

আরেকটা হয়েছে যে তৃণমূল পর্যন্ত তাদের নেতা-কর্মীরা এমন অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, যা মানুষ এখনো ভুলতে বা সহ্য করতে পারে না…আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে…এটা মানুষ সহ্য করতে পারে না। আমার এলাকায় তো আওয়ামী লীগ প্রধান এলাকা। কিন্তু এখন ওখানেই সাধারণ মানুষ এটা চায় না যে আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসুক বা ক্ষমতায় যাক। তারা বিএনপির সমালোচনা করবে, জামায়াতের সমালোচনা করবে ঠিকই আছে, কিন্তু আওয়ামী লীগকে তারা ঘৃণা করে। এই ঘৃণাটা আওয়ামী লীগ নিজেই তৈরি করেছে।

নির্বাচনগুলো ঠিকমতো না করা, রাজনীতি ভুল করা…গায়ের জোরে কি মানুষের মন জয় করা যায়? চিন্তা করতে পারেন? লক্ষ লক্ষ মানুষ শিশু-বৃদ্ধ সবাই নেমে এসেছে রাস্তায়। এটা অভূতপূর্ব। একটা মাত্র কারণ যে, তারা চেয়েছিল যে না, এখানে আমরা হাসিনাকে দেখতে চাই না। আমরা আওয়ামী লীগকে দেখতে চাই না।

সুতরাং যারা প্রচার করে যে হাসিনা ফিরে আসবে, আওয়ামী লীগ আবার আসবে…আওয়ামী লীগ কোনো দিন আর উঠতে পারবে না। যতক্ষণ না তারা তাদের পুরো বিষয়টি পরিবর্তন করে। এখনো আওয়ামী লীগ ধমকিয়ে কথা বলে, মেরে ফেলব বলে।

দ্য ডেইলি স্টার: এবারের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের ফল দলটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা। জামায়াতের এই উত্থানকে আপনি কীভাবে দেখছেন? আগামী নির্বাচনগুলোতে দলটির প্রভাব আরও বাড়বে বলে মনে করেন কি?

মির্জা ফখরুল: এটা আমারও একটা উদ্বেগের কারণ। আওয়ামী লীগের ভুল রাজনীতির কারণে…রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি করতে না দেওয়া, অত্যাচার-নির্যাতন করার ফলেই কিন্তু এই ডানপন্থীদের উত্থানটা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ যদি আওয়ামী লীগ রাখত তাহলে, আমরা ঠিকমতো কাজ করতে পারতাম, জামায়াতও যদি ঠিকমতো কাজ করতে পারত, তাহলে কিন্তু আজকে এই উত্থানটা হতো না।

এটা কিন্তু গণতন্ত্রের বিচ্যুতির কারণেই হয়েছে। গত বছরগুলোতে যে ঘাটতি ছিল, তারই পরিণতি এটা।

এখানে আরেকটা ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের একটা বড় অংশ জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। আমাদের স্টাডিও তাই বলে। এটাও একটা কারণ। আরেকটা কারণ হচ্ছে যে এবারের নির্বাচনে নতুন একটা ঘটনা ঘটেছে। এবার সনাতন ধর্মের মানুষেরা কিন্তু বিএনপিকে অনেক বেশি ভোট দিয়েছে। কারণটা হচ্ছে, বিএনপি একটা মধ্যপন্থী উদার রাজনীতিকে রিপ্রেজেন্ট করে। যখন তুলনার সময় এসেছে, তখন তারা অবশ্যই বিএনপিকে সমর্থন করেছে।

দ্য ডেইলি স্টার: বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মির্জা ফখরুল: এখন পর্যন্ত জামায়াত কিন্তু নেতিবাচক কিছু করেনি। তবে সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে তাদের ভূমিকাটা আমি মনে করি ইতিবাচক হচ্ছে না। তাদের উচিত সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটিতে আসা এবং এখানে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলোকে নির্ধারণ করা, যেগুলোতে সমস্যা আছে। এই একটি বিষয় ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে তারা ইতিবাচক ভূমিকাই রেখেছে।

দ্য ডেইলি স্টার: ৫ মাসের বেশি পার হওয়া বিএনপি সরকারের মূল্যায়ন কীভাবে করবেন?

মির্জা ফখরুল: আমি তো মনে করি এটা অনেক বড় সাফল্য। পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় জিনিস হয়েছে, সেটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ইশতেহারে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ করার চেষ্টা করছি।

ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী, খাল খনন কর্মসূচি, কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। দুস্থ খেলোয়াড়দের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মধ্য দিয়ে মেধা অন্বেষণের (ট্যালেন্ট হান্টিং) একটা কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নকলটা প্রায় বন্ধ হয়েছে। এটা একটা বড় অর্জন। ভালোভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজানোর আবার নতুন করে চেষ্টা করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও সেই পরিবর্তন এসেছে।

মিডিয়া এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। কোথাও থেকেও কোনো ফোন আসে না। কোনো চাপ নেই। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। অন্যদিকে একটা বাজেট হয়েছে, অর্থনীতিকে আবার সচল করা, অর্থনীতিকে ঠিক জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা, মানুষের চাপ কমানো—এসব কাজ শুরু হয়েছে। আমি মনে করি যে এই পাঁচ মাসে সরকারের অনেক সাফল্য রয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার: গত ৫ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্টি আছে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নিয়ে মানুষের প্রশ্ন আছে।

মির্জা ফখরুল: একটি দেশে রাতারাতি সব ঠিক হয়ে যাবে, এটা হয় না। আমেরিকার হিসাব নিয়ে দেখেন, সেখানেও প্রতি মুহূর্তে অপরাধ হচ্ছে। ইউরোপেও তাই হয়। এটা একেবারে নির্মূল হয়ে যাবে না।

এই ব্যাপারে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে রাজনৈতিকভাবে কোনো প্রাধান্য বা আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কি না। অনেকগুলো ক্ষেত্রে দলীয় লোকজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুতরাং রাতারাতি ঠিক হয়ে যাবে এমন মনে করার কোনো কারণ তো নেই।

তারপর পুলিশ বিভাগ সম্পূর্ণ দলীয়করণ হয়ে গিয়েছিল। সেটাকে আবার ঠিক করে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে যতটা সম্ভব। যারা সরাসরি হত্যাযজ্ঞে যুক্ত ছিল, তাদেরকে বাদ দিয়ে আবার ভালো পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। নতুন করে অফিসার নেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সুতরাং কাজ চলছে, কিন্তু রাতারাতি এটা সম্ভব না।

দ্য ডেইলি স্টার: কিছুদিন আগে বলেছিলেন, ‘আমার চার মাস মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি কিছুই বদলায়নি। যারা ঘুষ খেত, তারা একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে। যারা ভালো কাজ আটকে দিত, একইভাবে আটকে দিচ্ছে।’ আপনার কেন এমন মনে হলো?

মির্জা ফখরুল: দুর্ভাগ্যক্রমে প্রশাসনের মধ্যে যারা আছেন, তারা অনেকেই এখনো বদলাননি। আগের মতোই তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন…আগের সরকারের সঙ্গে যারা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন, এখন এসে এই সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন অনেক ক্ষেত্রে। তারাই সমস্যাগুলো তৈরি করছেন।

এই ক্ষেত্রে যারা ভালো কাজ করেন, তারা সব সময় সেই সুবিধাটা পান না। কারণ আমরা পুরোনো পদ্ধতিটাকে পরিবর্তন করতে পারিনি। তবে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনও আসবে।

দ্য ডেইলি স্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। তিনি দীর্ঘ সময় অফিস করছেন, ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন এবং তার নিরাপত্তাবহরও ছোট করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অন্যদেরও এসব অনুসরণ করতে উৎসাহিত করছেন। মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা কি প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করছেন?

মির্জা ফখরুল: মন্ত্রিসভার যারা সদস্য এরাই কি দেশটাকে চালান? তারা নীতি (পলিসি) দেন। তারা কাজ করার চেষ্টা করেন, তারা তো মাঠে কাজ করেন না। বেসামরিক আমলাদের অনেক বেশি ধরতে হবে। তাদেরকেই মাঠে কাজটা করতে হবে সবচেয়ে বেশি।

মন্ত্রিসভার সবাই খুবই সক্রিয়। প্রত্যেকবার দেখবেন আমাদের মন্ত্রীরা ছুটির দিন রাতেই এলাকায় চলে যান। তারপর সকালে এসে মিটিং করেন। সারা দিন কাজ করেন। সচিবালয়ে যেহেতু অনেকক্ষণ কাজ করেন প্রধানমন্ত্রী, সে কারণেও মন্ত্রীদের আসা-যাওয়া থাকে। ফলে কাজ সবাই করছেন।

দ্য ডেইলি স্টার: সম্প্রতি বেশ কয়েকটি নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা দেখেছি। ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পদে থাকা নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে, নাকি দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক বিবেচনাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে?

মির্জা ফখরুল: যোগ্যতা আছে বলেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একটি লোক বিএনপি করে বলে তার জন্য পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না? এটা তো হতে পারে না, একে গণতন্ত্রও বলে না।

আমেরিকার গণতন্ত্রে বা প্রেসিডেন্টশাসিত সরকারে যখন প্রেসিডেন্ট আসেন, তখন তিনি তার দলের লোকজনদের নিয়েই প্রশাসনকে সাজান। এটাই তাদের প্রথা ও ঐতিহ্য। এখানে দলের লোক হলেই সে গভর্নর হতে পারবে না, দলের লোক হলে সে কোনো চেয়ারম্যান হতে পারবে না—এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। যদি যোগ্যতা থাকে অবশ্যই যাবে। যোগ্যতা আছে বলেই তো দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক ব্যক্তি হতেই পারে। কিন্তু তার যদি যোগ্যতা থাকে, তার যদি মেধা থাকে, তার স্বচ্ছতা থাকে, তার সততা থাকে, তাহলে কেন নিয়োগ পাবে না?

গভর্নর সম্পর্কে এখন সবাই বলবে…ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞেস করে দেখেন তিনি কতটা কার্যকর। তিনি অত্যন্ত স্বচ্ছ, সৎ এবং সৃজনশীল একজন মানুষ। এখন পর্যন্ত যে ব্যবস্থাগুলো তিনি আসার পর নিয়েছেন, সেগুলো কিন্তু অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই কাজ করছে।

এখানে কিছু রাজনৈতিক ও মেধাবী লোক লাগবে। চিন্তাশীল লোক লাগবে। আপনি শুধু ওই আমলা দিয়ে কাজ করতে চাইলে কোনো কিছু অর্জন করতে পারবেন না। সেখানে রাজনীতি অবশ্যই থাকতে হবে।

আইয়ুব খানও বহু কাজ করেছিলেন। এরশাদও বহু কাজ করেছিলেন। হাসিনাও বেশ কয়েকটা কাজ করে গেছেন। কিন্তু রাজনীতিটা তারা করতে পারেননি। সেখানে এই যে প্রতিষ্ঠানগুলো, এখানে যদি রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা কাজ করে, স্বচ্ছতা থাকে, সততা থাকে, যোগ্যতা থাকে, তাহলে কেন নিয়োগ হবে না?

দ্য ডেইলি স্টার: দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় কি মনে হয়, একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করাই বিএনপি সরকারের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে?

মির্জা ফখরুল: নির্বাচন অবশ্যই খুব শান্তিপূর্ণ হবে। মাঠে যা দেখি, তাতে নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণ হবে। গতবার তো অনেকে ধারণা করেছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হয়তো রক্তপাত হবে। হয়েছে? হয়নি তো। এবারও দেখবেন অত্যন্ত সুন্দর নির্বাচন হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: আওয়ামী লীগ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?

মির্জা ফখরুল: এটা বলতে পারব না। কারণ, ওই রকম তো নিয়মই নেই। দল হিসেবে অংশগ্রহণ করার নিয়মই নেই। আইনে এখনো এমন বিধান নেই।

দ্য ডেইলি স্টার: বিএনপি কি চীনের দিকে বেশি ঝুঁকে গেছে?

মির্জা ফখরুল: এগুলো আপনাদের ভুল ধারণা। বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষে শুধু কোনো এক পক্ষের দিকে যাওয়াটা সম্ভবই না। সব দিক হিসাব করেই চলতে হবে। কাউকেই শত্রু বানানো যাবে না, কাউকেও অবজ্ঞা করা যাবে না। সবাইকে বন্ধু করেই চলতে হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে বাধা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। দলটি এসব ঘটনার জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা আছে বলে মনে হয়?

মির্জা ফখরুল: দুই-একটা ঘটনা ঘটেছে এটা আমি অস্বীকার করব না। অবশ্যই দু-একটা ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এটা দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নয় যে তাদেরকে বাধা দিতে হবে। বরং আমাদের কথা হচ্ছে যে, যার যার কাজ তাকে করতে দাও। কোথাও যদি ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে ওইটা স্থানীয়ভাবে ওইখানকার সমস্যা। এটি জাতীয় কোনো সমস্যা নয়।

সরবরাহ কমায় রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে পেয়ারা

পেয়ারার জন্য বিখ্যাত পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাগানগুলোতে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ভরা মৌসুমে যেখানে বাজারে পেয়ারার সরবরাহ বেড়ে দাম কমে যায়, সেখানে চলতি বছরে উৎপাদন কমেছে। ফলে সরবরাহ কমে ভালো মানের পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে রেকর্ড দামে। আকার ও মানভেদে প্রতি মণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকারও বেশি দরে।

চাষিরা জানান, পেয়ারা সংগ্রহের ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে। এই মৌসুম আরও দেড় মাস চলবে। বিগত বছরগুলোতে মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পেয়ারা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে ভরা মৌসুমে দাম নেমে আসে ৪০০ টাকা বা তারও নিচে। কিন্তু এ বছর ফলন কমায় পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক বেশি দামে।

চাষিদের মতে, গাছে ফুল আসার সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন কমেছে।

তাদের ভাষ্য, কেবল এবার না গত কয়েক বছর ধরেই পেয়ারার ফলন কমছে। তবে যতটুকু তারা স্মরণ করতে পারেন, এ বছর উৎপাদন হয়েছে সবচেয়ে কম। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গাছে পেয়ারা হয়েছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার শতদাশকাঠী গ্রামের কৃষক অরুণ মজুমদার জানান, ভরা মৌসুমে সাধারণত গাছে এত বেশি পেয়ারা থাকে, বেশিরভাগ সময় সব ফল সংগ্রহ করাও সম্ভব হয় না। ফলে অনেক পাকা পেয়ারা গাছেই নষ্ট হয় কিংবা মাটিতে ঝরে পড়ে। কিন্তু এ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

অরুণ মজুমদার বলেন, ‘এবার বাগানে খুবই অল্প পরিমাণ ফল আছে। ফলের স্বল্পতার কারণেই বর্তমানে স্বাভাবিকের তুলনায় পেয়ারার দাম বেশি।’

চাষিরা জানান, এ বছর অন্তত অর্ধেক পেয়ারায় ছিদ্র বা কালো দাগ দেখা দিয়েছে। ফলে এসব পেয়ারা বাজারে বিক্রির অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

একই গ্রামের বাদল মিস্ত্রি জানান, ফলের ক্ষতির কারণে সংগ্রহ করা পেয়ারার মাত্র অর্ধেক বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা পেয়ারা বাগানে কীটনাশক ব্যবহার করাও কঠিন ও ব্যয়বহুল।

অনুপ হালদার নামের আরেক চাষি জানান, ভরা মৌসুমে প্রতিদিন বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু এ বছর ফলন মারাত্মক কমায় প্রতি বাগান থেকে ফল সংগ্রহের জন্য অন্তত দুই দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অবশ্য ফলন কম হলেও পুরো মৌসুমজুড়ে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা খুশি বলে জানান তিনি।

পেয়ারার উৎপাদন কমার প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ীদের ওপরও। স্থানীয় কমিশন এজেন্ট গৌতম হালদার জানান, প্রতিবছর পাইকারি ক্রেতাদের পেয়ারা কিনতে সহযোগিতা করে তিনি ভালো আয় করেন। তবে এ বছর ফলন এতটাই কম যে, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পেয়ারা সরবরাহ করতে পারছেন না।

পটুয়াখালী থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, এ বছর বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বিগত বছরে চাষিরা পেয়ারা কেনার জন্য তাদের অনুরোধ করতেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি এমন যে, পেয়ারা বিক্রির জন্য চাষিদের কাছে তাদেরই অনুরোধ করতে হচ্ছে। ফলে এক ট্রাক ভর্তি করার মতো পর্যাপ্ত পেয়ারা সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পেয়ারা সংগ্রহের মৌসুমে প্রতিবছর নেছারাবাদ ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি হাটে বড় বড় পণ্যবাহী ট্রলার ও রাস্তাজুড়ে সারি সারি ট্রাক দেখা যায়। কিন্তু এ বছর বিভিন্ন হাট ঘুরে হাতে গোনা কয়েকটি ট্রাক ও পিকআপভ্যান দেখা গেছে।

জানতে চাইলে নেছারাবাদ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুন নবী, উৎপাদন কম হলেও চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ফলন কমায় এবার পেয়ারার মৌসুম নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, ছত্রাকজনিত অ্যানথ্রাকনোজ, বিটল পোকা ও ফলের মাছির আক্রমণে পেয়ারায় গুটি বা কালো দাগ হয়। কৃষকেরা এসব দমনের জন্য কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করায় এসব রোগ ও পোকার আক্রমণে পেয়ারা নষ্ট হচ্ছে।

এদিকে নেছারাবাদ ও ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নেছারাবাদে ৬০০ হেক্টর ও ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ২৯৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়েছে।

এই দুই উপজেলার প্রধানত আটঘর-কুড়িয়ানা, জলাবাড়ি, কীর্ত্তিপাশা ও নবগ্রাম ইউনিয়নে পেয়ারা উৎপাদিত হয়। দক্ষিণাঞ্চলের এই দুই উপজেলার উৎপাদিত পেয়ারা ট্রাক, পিকআপভ্যান এবং মাঝেমধ্যে বড় ট্রলারে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়।

বিশ্বকাপ ট্রফিই চূড়ান্ত লক্ষ্য, বলছেন মরক্কো কোচ

গত বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দময় ফুটবল খেলে সেমিফাইনালে উঠে অনেককেই চমকে দিয়েছিল মরক্কো। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা। গত কয়েক বছরে মরক্কোর ফুটবলের মান প্রশংসা কুড়িয়েছে ফুটবল বোদ্ধাদের। তবে মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলছেন, এবার আগেভাগে কোনো প্রশংসা বাক্য তিনি শুনতে চাইছেন না। কারণ তার চূড়ান্ত লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়। 

কোয়ার্টার ফাইনালে এবারের আসরের অন্যতম সেরা দল ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো। গত বিশ্বকাপে এই ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরেই স্বপ্নযাত্রা শেষ হয়েছিল তাদের। দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে ওয়াহবি তার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। 

ওয়াহবি বলেছেন, ‘যারা যারা বলবে তোমরা এখন পর্যন্ত যা করেছো দুর্দান্ত করেছো, আমি তাদের কথা শুনব না। আমি যা বলার টুর্নামেন্ট শেষে বলব, কারণ আমরা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারি। টুর্নামেন্ট শেষে আমরা সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করব’। 

গতবার ফ্রান্সের কাছে আটকে গেলেও এবার বিশ্বকাপ ট্রফিকেই পাখির চোখ করছেন ওয়াহবি, ‘ফ্রান্স ফেভারিট, কিন্তু ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে যেতে যা যা করা দরকার আমরা সব করব। এই পর্যন্ত এসেছি মানে আমরা অনেক ভালো করেছি, বাকি যা পব সব বোনাস- এই জাতীয় ধারণা আমি একদম পছন্দ করি না। আসল বোনাস হলো বিশ্বকাপ ট্রফি। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই পর্যন্ত এসেছি, এবং আরও সামনে যাব’। 

দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারাতে নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও চেষ্টা করতে চান ওয়াহবি, ‘ফ্রান্সের মতো আমরাও দল হিসেবে ক্রমাগত উন্নতি করেছি। মূল বিষয় হলো কোনো ধরণের আক্ষেপ ছাড়া ম্যাচটা খেলা। এই ম্যাচে আমাদের আরও উন্নতির জায়গা রয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত খারাপ খেলিনি, কেবল এটুকু ভেবেই সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। আমাদের নিজেদের সামর্থ্যের ২০০০ শতাংশ উজাড় করে দিয়ে খেলতে হবে’। 

ফ্রান্সকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যেতে পারলে মরক্কোই হবে প্রথম আফ্রিকান দেশ, যারা পরপর দুটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলবে।  

নুসরাত ফারিয়ার ‘লোকে বলে’

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন নুসরাত ফারিয়া। পরে নাম লেখান সিনেমায়। সিনেমার পাশাপাশি গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন।

এই চিত্রনায়িকা প্রথম কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ২০১৮ সালে ‘পটাকা’ গানের মাধ্যমে। এই গান নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনাও হয়।

এরপর তার কণ্ঠে আরও চারটি গান প্রকাশ হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নতুন গান প্রকাশ করছেন ফারিয়া। ফোক ও পপ সুর-সংগীতের মিশ্রণে গানটি শিরোনাম ‘লোকে বলে’।

গানের সুরকার ও সংগীতায়োজক ফুয়াদ আল মুক্তাদির এবং কথা লিখেছেন তাহজিব এম বন্ধন। গানের কোরিওগ্রাফির পাশাপাশি মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন ভারতীয় নির্মাতা বাবা যাদব।

মিউজিক ভিডিওতে শিল্পী নুসরাত ফারিয়া ও সংগীতায়োজক ফুয়াদ আল মুক্তাদির অংশ নিয়েছেন।

ঈদের দিন একযোগে এসভিএফ ও বিলিং মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করা হবে।

নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘গানের ভুবনে আরও নতুন কিছু তুলে ধরার আকাঙ্ক্ষা থেকে ফুয়াদের সঙ্গে গানটি করা। এই গানে শ্রোতারা নতুনভাবে আমাকে আবিষ্কার করবেন।’

ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী: জাতিসংঘ

পাঁচ মাস নিম্নমুখী থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম। আজ শুক্রবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে এ তথ্য।

এফএও জানায়, গম, ভোজ্য তেল ও মাংসের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট শুরুর আগের তথ্যের ভিত্তিতেই এই হিসাব করা হয়েছে। তবে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলসহ জ্বালানি তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি করছে, যা আগামীতে খাদ্যপণ্যের দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রধান খাদ্যপণ্যের মাসিক মূল্য পরিবর্তনের হিসাব রাখে এফএওর ফুড প্রাইস ইনডেক্স।

এই ইনডেক্স অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দামের সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।

ভোজ্যতেল

ভোজ্যতেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে এফএও জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়। ভোজ্যতেলের দাম ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুনের পর এটি সর্বোচ্চ।

আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই দাম বেড়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। 
সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। এফএও বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে জৈব জ্বালানি নীতির প্রভাবে এই দাম বেড়েছে। তবে আর্জেন্টিনা থেকে রপ্তানি বাড়ায় সূর্যমুখী তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

চাল-গমের দাম

এফএওর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে গমের দাম। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে তীব্র শীত এবং রাশিয়া ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতার কারণে বিশ্ববাজারে গমের দাম বেড়েছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় জানুয়ারির তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে বাসমতি চালের দাম। 

মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী

এফএও জানায়, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মাংসের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ভেড়ার মাংসের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা বাড়ায় গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। শূকর ও পোলট্রি মাংসের দামও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে এফএও। 

দুগ্ধজাত পণ্য ও চিনি

দুগ্ধজাত পণ্যের দাম জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে চিনির দামও জানুয়ারির তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।

৪১ দেশে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন

এফএওর পৃথক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে বর্তমানে ৪১টি দেশে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। এর বেশিরভাগই আফ্রিকার দেশ। সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খাদ্য সংকটে ভুগছে এসব দেশ। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৪৪টি নিম্ন-আয়ের দেশে ২০২৫–২৬ মৌসুমে শস্য উৎপাদন প্রায় ১ শতাংশ কমতে পারে।

নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা।

আজ শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলার বরপা এলাকায় বি আর আই ব্রাদার্স কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

শিল্পাঞ্চল পুলিশের পরিদর্শক সেলিম বাদশা দ্য ডেইলি স্টারকে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কারখানাটির ৭০-৮০ জন শ্রমিকের গত মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও মালিকপক্ষ দেয়নি। যে কারণে কারখানার দুই শতাধিক শ্রমিক কর্মবিরতি দিয়ে সড়কে নেমে আসেন।’

‘মালিকপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাংক বন্ধ থাকায় আজ বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারা আগামী সোমবার বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন। এ নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে,’ জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বেড়েছে অপচয় ও ক্ষুধা

খাদ্যশস্য উৎপাদনে বৈপ্লবিক অগ্রগতি; মাঠ থেকে পাতে পৌঁছানোর আগেই প্রতি বছর লাখো টন খাদ্য নষ্ট হওয়া; বাসাবাড়ি, অনুষ্ঠান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের অপচয়; একই সময়ে ১ কোটি ৫৩ লাখেরও বেশি মানুষের তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, যার মধ্যে ৪ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ জরুরি পরিস্থিতিতে। এর সবই বাংলাদেশের একই বাস্তবতার ভিন্ন ভিন্ন চিত্র।

খাদ্য সংকট বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী, তীব্র খাদ্য সংকটে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। কিন্তু চলতি পথে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া খাবার কিংবা পত্রিকার পাতায় ‘নষ্ট হচ্ছে ফসল’ শিরোনাম এই বাস্তবতারই প্রতিদিনের দৃশ্য।

স্বাধীনতার পর থেকে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষেই এক বৈপ্লবিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে দেশে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল মাত্র ১ কোটি ১০ লাখ টন। ৫১ বছরের ব্যবধানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১১ লাখ টনে। অর্থাৎ প্রায় ৩৬৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা কৃষিখাতে এক অভাবনীয় সাফল্যের সাক্ষ্য বহন করে।

অথচ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল, জাতিসংঘ শিশু তহবিল, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ প্রতিবেদন ‘বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির অবস্থা, ২০২৬’ অনুযায়ী, এই একই দেশে ২০২৩-২৫ সময়কালে ৪ কোটি ৫৪ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ২৬ দশমিক ২ শতাংশ) মাঝারি থেকে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন এবং প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ মানুষ অপর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণজনিত অপুষ্টিতে ভুগছেন।

একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রান্তিকতা ও বহুমুখী আর্থসামাজিক সংকট, যা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি, জনগোষ্ঠী থেকে জনগোষ্ঠী ভেদে আরও গভীর হয়ে ওঠে।

উৎপাদনের সাফল্যের পাশে তাই খাদ্যক্ষয় ও অপচয়ের চিত্রটি আরও বেশি চোখে লাগে।

বিশ্বজুড়েও চিত্রটি একই রকম। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) ‘খাদ্য অপচয় সূচক প্রতিবেদন ২০২৪’ অনুযায়ী, ভোক্তার কাছে পৌঁছানো খাদ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই অপচয় হয়, যার বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রতিবেদনটি এই অপচয়কে সরাসরি ‘বৈশ্বিক ট্র্যাজেডি’ বলেছে। শুধু বাসাবাড়িতেই প্রতিদিন ১০০ কোটির বেশি বেলার খাবার অপচয় হয়, যা দিয়ে বিশ্বের ক্ষুধার্ত প্রায় ৭৮ কোটি মানুষের প্রত্যেককে প্রতিদিন একবেলার বেশি খাওয়ানো সম্ভব।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাবে, ‘খাদ্যক্ষয় ও অপচয়’ যদি একটি দেশ হতো, তাহলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পর এটিই হতো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন নিঃসরণকারী।

খাদ্যক্ষয় ও খাদ্য অপচয় শব্দ দুটি প্রায়ই একসঙ্গে ব্যবহৃত হলেও এদের অর্থ আলাদা। কোনো খাদ্যপণ্য উৎপাদন, ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ কিংবা পরিবহনের ধাপে, অর্থাৎ খুচরা বাজারে পৌঁছানোরও আগে নষ্ট হয়ে গেলে তাকে বলা হয় খাদ্যক্ষয়। এর পেছনে মূলত দায়ী থাকে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। যেমন: সংরক্ষণাগারের অভাব, দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

আর খুচরা বাজার, খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠান কিংবা ভোক্তা পর্যায়ে খাওয়ার উপযোগী খাবার পরিবেশনের আগে বা পরে অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে দেওয়া হলে তাকে বলা হয় খাদ্য অপচয়। এখানে দায় মূলত আচরণগত। যেমন: প্রয়োজনের অতিরিক্ত রান্না, পরিকল্পনাহীন কেনাকাটা কিংবা মেয়াদের প্রতি অসচেতনতা।

সহজ কথায়, সরবরাহ শৃঙ্খলের গোড়ায় যা হারিয়ে যায় তা ক্ষয়; আর শেষ প্রান্তে গিয়ে যা ইচ্ছাকৃত বা অসচেতনভাবে ফেলে দেওয়া হয় তা অপচয়।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত মোট ফল ও শাকসবজির প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশে এ হার পণ্য ও গবেষণা ভেদে ২০ থেকে ৪৪ শতাংশ।

কৃষি মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থা আয়োজিত ২০২৪ সালের বিশ্ব খাদ্য দিবসের সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশে ফল ও সবজির বার্ষিক ক্ষয় ও অপচয় ৪০ দশমিক ২ শতাংশ বলা হয়েছে, যা বৈশ্বিক হারের কাছাকাছি। বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে দেশে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশই ক্ষয় বা অপচয় হয়।

বাংলাদেশে খাদ্যক্ষয়ের বড় অংশ ঘটে মাঠ থেকে ফসল বাজারে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী পর্যায়ে। ফল ও সবজির মতো পচনশীল খাদ্য সংরক্ষণে দেশে পর্যাপ্ত হিমাগার নেই, আর উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে খাদ্যের পচনশীলতাও তুলনামূলক বেশি। সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পুরনো, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফসলে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ। দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা ও অনুপযোগী অবকাঠামোর কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েন। ফসলের দাম পড়ে গেলে অনেক সময় হতাশ কৃষক প্রতিবাদ হিসেবে নিজের ফসল নিজেই নষ্ট করেন।

ভোক্তা পর্যায়ের চিত্রও উদ্বেগজনক। ইউএনইপি-র একই সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশে বাসাবাড়িতে মাথাপিছু বার্ষিক খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ ৮২ কেজি। আর এই অপচয় মানে কেবল খাদ্যেরই অপচয় নয়, এর সঙ্গে অপচয় হয় উৎপাদনের অর্থ, শ্রম, পানি ও জ্বালানির মতো সম্পদ। বাসাবাড়ির খাবার টেবিল, শহরের রেস্তোরাঁ কিংবা বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানের বিলাসী আয়োজনে খাদ্য নষ্ট হচ্ছে।

মানুষের অতিরিক্ত খাদ্য কেনার প্রবণতা, সঠিক সংরক্ষণ-ব্যবস্থাপনার অভাব এবং সমাজে নিজের বিত্ত জাহির করার মানসিকতা থেকে অপচয়ের এক দুরভ্যাস গড়ে উঠেছে। গ্রামাঞ্চলে অপচয় হওয়া খাবারের কিছু অংশ অন্তত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খাদ্যে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু শহরের উচ্ছিষ্ট খাবার সরাসরি গিয়ে পড়ে ডাস্টবিন বা ময়লার ভাগাড়ে।

নগরের ডাস্টবিন ও বর্জ্য ফেলার স্থানগুলোতে প্রতিদিন জমে থাকা বিপুল পরিমাণ খাবার সামাজিক অসমতা ও কাঠামোগত অপচয়ের এক নির্মম বাস্তবতাকে নির্দেশ করে। এই খাবারের একটি বড় অংশ ফেলে দেওয়ার আগে চরম দারিদ্র্যে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। অতিরিক্ত মজুত ও ব্যবহারিক অসচেতনতার কারণে বাসাবাড়িতেও পচনশীল খাদ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়। সমাজের কোনো কোনো অংশ প্রয়োজনাতিরিক্ত ভোগ করে। অথচ অন্যরা তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খায়।

এই ভারসাম্যহীনতা অপচয় বাড়ায় এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তাকে দুর্বল করে তোলে। যে দেশে কোটি কোটি মানুষের প্লেটে পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছায় না, সেখানে এই বিপুল অপচয় স্পষ্টতই এক চরম নিষ্ঠুরতা ও বিলাসিতা।

বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ খাদ্যক্ষয় ও অপচয় ডায়াগনস্টিক-২০২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ক্ষয় ও অপচয় হওয়া খাদ্য উৎপাদনেই দেশের প্রায় ৩৪ হাজার বর্গকিলোমিটার জমি ব্যবহৃত হয়, যা মোট কৃষিভূমির প্রায় ২৭ শতাংশ। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ১৩ শতাংশের জন্য দায়ী এই খাদ্যক্ষয় ও অপচয়। এই সাংঘর্ষিক বাস্তবতা থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বাংলাদেশের খাদ্য সংকট উৎপাদন-স্বল্পতার সংকট নয়; এটি বণ্টন, ব্যবস্থাপনা, ন্যায্যতা ও অধিকারের সংকট।

আজ ২৯ সেপ্টেম্বর ‘খাদ্যক্ষয় ও অপচয় বিষয়ক আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস’। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘খাদ্যক্ষয় ও অপচয় হ্রাসের রূপান্তরমূলক সম্ভাবনা’।

খাদ্যক্ষয় ও অপচয় কমানো গেলে ত্রিমুখী সুফল পাওয়া সম্ভব। প্রথমত, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির উন্নয়ন; দ্বিতীয়ত, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস এবং তৃতীয়ত, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন।

এই কারণেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১২-এর অধীনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য (১২.৩) নির্ধারণ করা হয়েছে—২০৩০ সালের মধ্যে খুচরা ও ভোক্তা পর্যায়ে মাথাপিছু খাদ্য অপচয় অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে খাদ্যক্ষয় কমানো।

কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে স্পষ্ট বোঝা যায়, আমরা এই লক্ষ্য অর্জনের পথ থেকে কতটা দূরে দাঁড়িয়ে আছি।

সবার জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী খাদ্য নিশ্চিত করা এবং দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি ২০২০-এ খাদ্যক্ষয় ও অপচয় রোধে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপযুক্ত সময়ে ফসল কাটা ও সঠিক সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি ফসল কাটার পর প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, মোড়কীকরণ, বাজারজাতকরণ ও খাদ্যের উচ্ছিষ্ট পুনর্ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান বিস্তার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে জাতিসংঘ খাদ্যব্যবস্থা সম্মেলনের পর্যালোচনা সভায় জমা দেওয়া ‘জাতীয় পথনকশা, জুলাই ২০২৫’-এ খাদ্যক্ষয় ও অপচয় কমাতে একটি পৃথক জাতীয় কৌশল প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে এবং বিষয়টিকে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নীতিগত প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি এখন প্রয়োজন নীতির বাস্তবায়ন, সমন্বয় ও সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি। এই বাস্তবতায় ‘বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি’ খাদ্যক্ষয় ও অপচয় কমিয়ে সবার খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে নিম্নোক্ত সুপারিশ তুলে ধরছে—

১. কৃষকের জন্য সহজলভ্য হিমাগার ও সংগ্রহোত্তর সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। ফসল কাটা, মাড়াই ও সংরক্ষণে উন্নত পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং মাঠ থেকে বাজার পর্যন্ত পরিবহন ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।

২. কৃষকদের সময়মতো বাজারদর ও চাহিদার তথ্য দিতে হবে, যাতে দাম পড়ে যাওয়ার কারণে ফসল মাঠেই নষ্ট না হয়।

৩. মানুষকে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনা ও রান্না করতে উৎসাহিত করতে হবে এবং বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত খাবার আয়োজনের বদলে অপচয় কমানোর চর্চা গড়ে তুলতে হবে।

৪. উদ্বৃত্ত কিন্তু খাওয়ার উপযোগী খাবার খাদ্য নিরাপত্তাহীন মানুষের কাছে মর্যাদার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য খাদ্যদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনি সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নির্দেশিকা প্রণয়ন করতে হবে।

৫. যে খাদ্য শেষ পর্যন্ত খাওয়ার উপযোগী থাকে না, তা থেকে জৈব সার বা বায়োগ্যাস তৈরির সুযোগ বাড়াতে হবে।

৬. দেশের কৃষি ও জলবায়ুর উপযোগী কম খরচের সংরক্ষণ, শুকানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।

৭. খাদ্যক্ষয় ও অপচয় কতটা কমছে তা বোঝার জন্য বিভিন্ন সংস্থার তথ্য এক জায়গায় এনে নিয়মিত পরিমাপ ও প্রকাশ করতে হবে। সরকারি খাদ্য মজুতে ক্ষতির তথ্যও এর অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

৮. বাংলাদেশে এখনো কোনো খাদ্য অধিকার আইন নেই। খাদ্যকে নাগরিকের আইনি অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং সেখানে খাদ্যক্ষয় ও অপচয় কমানোকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় পথনকশায় ঘোষিত পৃথক জাতীয় কৌশলটি দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে।

খাদ্যক্ষয় ও অপচয় রোধ কেবল পরিবেশ বা অর্থনীতির প্রশ্ন নয়, এটি খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন। যে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে সাড়ে ৩০০ শতাংশের বেশি অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, সেই একই দেশে কোটি কোটি মানুষ যখন খাদ্যের সংকটে থাকেন, তখন উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষয় বা অপচয় হওয়া নিছক অদক্ষতা নয়, তা এক গভীর নৈতিক ও কাঠামোগত ব্যর্থতা।

উৎপাদন থেকে ভোক্তা প্রতিটি স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীল আচরণ এবং শক্তিশালী নীতি-কাঠামো ছাড়া এই ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। খানি বিশ্বাস করে, যে খাদ্য ইতোমধ্যে উৎপাদিত হয়েছে তা ক্ষয় বা অপচয় হতে না দেওয়াই ক্ষুধামুক্ত, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও ন্যায্য বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে সহজলভ্য প্রথম পদক্ষেপ। আজকের এই সচেতনতা দিবস নীতিনির্ধারক থেকে কৃষক, ব্যবসায়ী থেকে ভোক্তা—আমাদের প্রত্যেককে এই দায়িত্ব নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিক।

 

উম্মে সালমা: সদস্য, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি
[email protected]

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোলা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, প্রকল্প পরিচালক এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়া জুমের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৬ হাজার ৪০০ প্রশিক্ষণার্থী এবং জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা প্রশাসকসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভোলা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডা. শামীম রহমান।

‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় অষ্টম ব্যাচে ৪ হাজার ৮০০ জন এবং ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় ব্যাচে ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হচ্ছে তরুণদের কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা। প্রশিক্ষণের মান এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের বিষয়েও নজর রাখা হবে বলে জানান তিনি।

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও মেন্টরিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ১৮ জন সফল ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। এ ছাড়া এআই প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচের ছয়জন প্রশিক্ষণার্থীকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে বরিশাল জেলার সর্বোচ্চ আয়কারী শরীফ মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ, বরগুনার ওসমান গনি, ঝালকাঠির মো. শাওন হাওলাদার, পিরোজপুরের মো. মঈনুল ইসলাম মঈন এবং পটুয়াখালীর মারুফা আমিনকে ল্যাপটপ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে এআই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও সম্মাননা দেওয়া হয়।