22.9 C
Dhaka
Home Blog Page 3

ঢাকাই সিনেমার ট্র্যাজেডি নায়কের কথা

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়ক বাপ্পারাজ। নব্বই দশকে প্রেমের সিনেমাগুলোতে তাকে প্রেমিক হিসেবে স্যাক্রিফাইজ চরিত্রে বেশি অভিনয় করতে দেখা যেত। তাই পর্দায় ব্যর্থ প্রেমিকের চরিত্রে দর্শকরা তাকে বেশি পছন্দ করতেন। আর এই চরিত্র দিয়েই তিনি দর্শকের হৃদয়ে এখনো টিকে আছেন। এমন কি তার অভিনীত সিনেমার গানে বিরহ, বিচ্ছেদ দর্শকদের প্রিয় হয়ে আছে।

সবমিলিয়ে দর্শকদের কাছে ট্র্যাজেডি নায়ক হিসেবে বেশি পরিচিত বাপ্পারাজ। আজ ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকাই সিনেমার এই নায়কের জন্মদিন।

বাপ্পারাজ অভিনীত সিনেমার মধ্যে আছে ‘প্রেমের সমাধি’, ‘প্রেমগীত’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ভুলোনা আমায়’।

১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেমের সমাধি’ একটি আইকনিক প্রেমের সিনেমা। সিনেমাটির পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। এতে বাপ্পারাজের বিপরীতে ছিলেন নায়িকা শাবনাজ। এই সিনেমায় এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে ‘প্রেমের সমাধি ভেঙে’ ও ‘তুমি বন্ধু আমার চির সুখে থেকো’ গান দুটির চিত্রায়নে বাপ্পারাজকে ব্যর্থ প্রেমিক হিসেবে দেখা গেছে। কিছুদিন আগে সিনেমাটির ‘চাচা, হেনা কোথায়?’ সংলাপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।

বাপ্পার আরেকটি ত্রিভুজ প্রেমের সিনেমা ‘প্রেমগীত’। দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত সিনেমায় আরও অভিনয় করেছিলেন লিমা ও ওমর সানী। এই সিনেমাতেও তাকে ব্যর্থ প্রেমিকের চরিত্রে দেখা গেছে।

নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘প্রেমের নাম বেদনা’ সিনেমায় ‘তোমরা সবাই থাকো সুখে’ গানে বিরহী প্রেমিক রূপে দেখা যায় বাপ্পারাজকে।

১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হারানো প্রেম’ সিনেমাতে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ত্রিভুজ প্রেমের সিনেমাতে বাপ্পারাজের সঙ্গে ওমর সানী, মৌসুমি, দিলদারসহ অনেকে অভিনয় করেছেন।

ওয়াকিল আহমেদ পরিচালিত ‘ভুলোনা আমায়’ সিনেমাটি ১৯৯৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এই সিনেমায় বাপ্পারাজ, শাবনূর, অমিত হাসানসহ অনেকেই অভিনয় করেন। ‘ভুলোনা আমায়’ সিনেমায় বাপ্পারাজের চিত্রায়নে এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে ‘আমিতো একদিন চলে যাবো’ গানটি আজও বেশ পছন্দ করেন শ্রোতারা।

ছটকু আহমেদ পরিচালিত সিনেমা ‘বুক ভরা ভালোবাসা’। সিনেমাটি ১৯৯৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এই সিনেমায় অভিনয় করেন বাপ্পারাজ, রিয়াজ, শাবনূরসহ অনেকে।

পিতা নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত  সিনেমা ‘চাঁপাডাঙার বউ’ সিনেমার মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে  সিনেমায় অভিষেক হয় বাপ্পারাজের।

বাপ্পারাজ  অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে আছে ‘বাবা কেন চাকর’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘সৎ ভাই’, ‘প্রেমের সমাধি’, ‘প্রেমগীত’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ভুলোনা আমায়’, ‘বুক ভরা ভালোবাসা’, পোড়ামন ২’।

ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চুক্তিতে রাজি করাতে দেশটির ওপর সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা হামলার সম্ভাবনার কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন,  যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে নাকি কোনো চুক্তি হবে—আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিশ্ব জানতে পারবে।  

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করেছেন। তারা আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

বিবিসি জানায়, শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান ‘সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া’ প্রস্তুত করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা চলাকালে ইরানের আশপাশে মার্কিন বাহিনী তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করে। বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকেও ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বৃদ্ধি।

বিবিসি জানিয়েছে, ইরানও তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে হুমকি দিয়ে বার্তা পোস্ট করেছেন।

তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি মন্তব্য করেছেন—পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চাইলে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়া’ সম্ভব।

প্রবাসী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার নুরের

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, বিদেশগামী কর্মীদের উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং তাদের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ করাই হবে তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতারণা বন্ধ করা, অতিরিক্ত খরচ কমানো এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য যথাযথ সুবিধা নিশ্চিত করা।’

নুর আরও বলেন, ‘সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যক্তিদের কারণে অনেক শ্রমিককে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। এটা বন্ধ করতেই হবে।’

আজ বুধবার সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এখন প্রবল দায়িত্ববোধ অনুভব করছেন উল্লেখ করে নুর জানান, এর আগে তিনি রাজপথে নেমে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

‘মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেই আমরা জনপ্রিয় হয়েছি। এখন আমরা ক্ষমতায়, বাস্তবে সেই অধিকার কতটা নিশ্চিত করতে পারি, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ,’ বলেন তিনি।

নিজের দুই মন্ত্রণালয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করে নুর বলেন, ‘উভয়ই জটিল খাত এবং সামনে অনেক কাজ আছে।’

ঈদের সময় বেতন বিলম্ব, দূতাবাসগুলোতে শ্রম কল্যাণ কর্মকর্তার সংকট, বিদেশে কর্মীদের নানা ভোগান্তি এবং উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরেন তিনি।

‘আমাদের অর্থনীতি প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা শুধু দায়িত্ব নয়, বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য,’ বলেন নুর।

তিনি জানান, এর আগে শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার, মৃত কর্মীদের মরদেহ দেশে আনার সরকারি সহায়তা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি তুলেছিলেন।

‘আগে সেমিনারে কথা বলতাম, প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়াতাম। এখন নীতিনির্ধারণের টেবিলে আছি, তাই এগুলোই আমার অগ্রাধিকার,’ বলেন তিনি।

নতুন দায়িত্বে খাপ খাওয়াতে কিছুটা সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নুর বলেন, ‘আমরা মাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছি। সবকিছু বুঝে নিতে কিছু সময় দিন। আমাদের সঙ্গে থাকুন, সহযোগিতা করুন, দোয়া করবেন।’

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি আত্মবিশ্বাসের কথাও জানান।

‘চ্যালেঞ্জ সবসময় থাকবে। ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমরা এখানে এসেছি। প্রকৃত সাফল্য আসে বাধা অতিক্রম করেই,’ যোগ করেন তিনি।

৭ মার্চের ভাষণ বাজানো এত বড় অপরাধ?

একটি ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোর অভিযোগে একজন ছাত্রনেত্রী দেড় মাস ধরে কারাগারে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে দেশের অন্যতম কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। তিন দফায় তার জামিন নামঞ্জুর হয়েছে।

প্রশ্ন তাই সহজ, কিন্তু এড়ানো কঠিন—৭ মার্চের ভাষণ বাজানো কি সত্যিই এত বড় অপরাধ?

শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি এবং ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ভিপি পদপ্রার্থী ছিলেন। তাকে গত ৭ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই সদস্যকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর চেষ্টা করেছিলেন।

ঘটনার শুরু মো. আসিফ আহমেদ সৈকতকে ঘিরে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক। ৭ মার্চ বিকেলে লাউডস্পিকারে ভাষণটি বাজানোর অভিযোগে শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

সেদিন রাতেই সৈকতের আটকের প্রতিবাদে জাতীয় জাদুঘরের সামনে একই ভাষণ বাজানোর চেষ্টা করেন ইমি ও আরও কয়েকজন। তখন ডাকসুর দুই প্রতিনিধি তাদের বাধা দেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এ মামলা হয়।

সেখান থেকে প্রশ্নটি আরও বড় হয়ে ওঠে। একটি ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানো যদি সন্ত্রাস হয়, তাহলে রাষ্ট্রকে বলতে হবে, ইতিহাসের কোন কোন অংশ এখন অপরাধ হিসেবে গণ্য?

প্রশ্নটির উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। বরং, ৮ এপ্রিল ইমি ও অন্যদের তৃতীয় দফায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর প্রশ্নটি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

পুলিশের বর্ণনা সত্য ধরে নিলেও শুরুতে কিন্তু সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হামলা বা নিষিদ্ধ সংগঠন পুনরুজ্জীবনের অভিযোগ সামনে আনা হয়নি। প্রথমে বলা হয়েছিল, ভাষণটি বাজানো হয়েছে। সৈকতকে আটকের পর শাহবাগ থানার ওসি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভাষণটি বাজানো নিষিদ্ধ।

প্রশ্ন হলো, কবে থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বা সেটি বাজানো নিষিদ্ধ হলো? এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলে পুলিশ কেন এমন আচরণ করল যেন এটি আইনত অপরাধ? এই ব্যাখ্যা রাষ্ট্রকে দিতে হবে।

অবশ্য পরে মামলার এজাহারে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। সেখানে বলা হয়, ইমি ও অন্যরা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করেছেন, পুলিশকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়েছেন এবং সৈকতকে পুলিশি হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শুরুতে জনসমক্ষে পুলিশের যে বক্তব্য এসেছিল, তাতে এসব অভিযোগের কিছুই ছিল না।

আর একটি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ, অর্থাৎ ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবনের সমান বলা যায় কি?

এখানে সাংবিধানিক প্রশ্নও আছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনের যুক্তিসংগত সীমাবদ্ধতার অধীনে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও স্বীকৃত।

তাই এখন পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তার ভিত্তিতে কোন আইনের কোন ধারা কীভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে, তা রাষ্ট্রকে ব্যাখ্যা করতে হবে। আইন ছাড়া কোনো পুলিশ কর্মকর্তা ইতিহাসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন না; রাষ্ট্রও পারে না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৭ মার্চের ভাষণ কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আওয়ামী লীগ কীভাবে কী ব্যবহার করেছে সেটা সেই দলের দায়; ইতিহাসের নয়। ইউনেসকো ভাষণটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্বীকৃতি দিয়েছে, কারণ এটি বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাসের অংশ। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে বলে রাষ্ট্র এই ভাষণ বাজানোকে সন্দেহজনক কাজ হিসেবে দেখতে পারে না।

যদি অভিযোগ হয় পুলিশকে বাধা দেওয়া, বেআইনি জমায়েত বা নিষিদ্ধ সংগঠন পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা—তাহলে রাষ্ট্রকে তথ্যপ্রমাণ দিয়ে তা প্রমাণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত আইনে বিচার হতে পারে। কিন্তু ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর একটি ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোর ঘটনাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কাঠামোয় বসানো কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।

এ কারণেই এই মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ শুধু প্রশ্নবিদ্ধ নয়, বরং এর অপপ্রয়োগের দিকটিই সামনে আসে। আইনটি করা হয়েছিল সন্ত্রাসবাদ, সংগঠিত সহিংসতা ও জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরিকারী অপরাধ মোকাবিলা করার জন্য। এই আইনে মামলা হলে ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত আসে, জামিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই আইনে অভিযুক্ত কিছু আলোচিত ব্যক্তি জামিন পেয়েছেন। কিন্তু এখন অবধি ইমির ক্ষেত্রে সেই বিচারিক বিবেচনা দেখা যাচ্ছে না। এতে আইনটির অপব্যবহার ও অসম প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে।

জামিনের প্রসঙ্গে আরেকটি সাম্প্রতিক মামলার কথা না বললেই নয়। ঘটনা ও আইনি কাঠামো এক নয়, তবু মামলাটি দেখায় যে গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রেও জামিন ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি মৌলিক অংশ।

ময়মনসিংহের ভালুকায় গত ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস হত্যার মামলার আসামি মাসুম খালাসির কথাই ধরা যাক। অভিযোগ ছিল, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে দীপুকে ধাওয়া করা হয়, চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে হত্যা করে তার লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, মাসুম ছিলেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ১২ আসামির একজন। তিনি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন।

অথচ গ্রেপ্তারের চার মাসের কম সময়ের মধ্যে ১৩ এপ্রিল তিনি দুই হাজার টাকার বন্ডে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। এতে জনমনে যেমন ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তেমনি জামিনের নীতির প্রয়োগ কতটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে, সেটিও সামনে এসেছে।

এখানে দীপু দাসের মামলা ও ইমির মামলাকে এক করে দেখা হচ্ছে না, দুটি মামলা তুলনীয়ও নয়। বিষয়টি হলো, গুরুতর অপরাধের অভিযোগেও জামিন যেখানে একটি বাস্তব আইনি সুযোগ হিসেবে থাকে, সেখানে ইমির ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রশ্নবিদ্ধ প্রয়োগ এবং বারবার জামিন নামঞ্জুর হওয়া আরও বেশি অস্বস্তিকর।

এই বাস্তবতায় কর্তৃপক্ষের এখন স্পষ্ট করে বলা জরুরি, ৭ মার্চের ভাষণ জনসমক্ষে বাজানো কোন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ? একই সঙ্গে ব্যাখ্যা করতে হবে, অভিযুক্তদের কথিত কাজ কীভাবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পড়ে? তাদের জামিন চাওয়ার অধিকারও কার্যকরভাবে বিবেচনা করতে হবে।

একজন হত্যা মামলার আসামি যদি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার এই মৌলিক সুযোগ পেতে পারেন, তাহলে জনমতের চোখে তিনজন শিক্ষার্থী, বিশেষ করে যিনি কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য নন; তাদের বারবার জামিন না পাওয়া শুধু আইনি প্রশ্ন নয়, বরং ন্যায়বিচারের মৌলিক প্রশ্ন।

রাষ্ট্রের যদি ইমির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা থাকে, তবে আদালতে তা প্রমাণ করুক। তাকে কারাগারে রাখার মতো জোরালো কারণ থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে বলা হোক। কিন্তু ঐতিহাসিক এই ভাষণ বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে, দেশের অন্যতম কঠোর আইনের অধীনে বারবার জামিন নামঞ্জুর করা আমাদের এমন এক সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন কঠোর আইন ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে অহরহ ব্যবহৃত হতো।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ যদি পুরোনো দমননীতির পথেই হাঁটে, তাহলে মানুষ জানতে চাইবে; পরিবর্তন আসলে কোথায়?

লেখক দ্য ডেইলি স্টারের একজন সাংবাদিক, যিনি শিক্ষা, সুশাসন, মানবাধিকার ও জনজবাবদিহিতা নিয়ে লেখালিখি করেন।
[email protected]

মেত্রোপলিতানোর ঘাস নিয়ে বার্সেলোনার আপত্তি খারিজ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছিল বার্সেলোনা। মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামের ঘাসের দৈর্ঘ্য নিয়ে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক প্রকাশ্যেই উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। তবে তাদের সেই আপত্তিতে কান দেয়নি উয়েফা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উয়েফা জানিয়েছে, মাঠের ঘাস নির্ধারিত নিয়মাবলির মধ্যেই রয়েছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সার উদ্বেগের পর উয়েফা মেত্রোপলিতানোর পিচ মেপে দেখেছে। দেখা গেছে, ঘাসের দৈর্ঘ্য ২.৬ সেন্টিমিটার, যা উয়েফার সর্বোচ্চ ৩ সেন্টিমিটার সীমার মধ্যেই রয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার রাতের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মাঠের ঘাস আর নতুন করে কাটার প্রয়োজন পড়ছে না অ্যাতলেতিকোর।

সোমবার চূড়ান্ত অনুশীলনের সময় ঘাসের এই দৈর্ঘ্য দেখেই বিরক্ত হয়েছিলেন হান্সি ফ্লিক। তিনি মাঠেই থাকা উয়েফার এক প্রতিনিধিকে এই বিষয়ে অভিযোগ জানান। যদিও বার্সেলোনা আনুষ্ঠানিকভাবে উয়েফার কাছে কোনো লিখিত প্রতিবাদ জানায়নি, তবে দুই ক্লাবের প্রতিনিধিদের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক বৈঠকে ঘাস কাটার বিষয়টি তারা উত্থাপন করেছিল। উয়েফা তখন আশ্বাস দিয়েছিল, প্রয়োজন হলে ঘাস কাটা হবে; কিন্তু পরিমাপের পর সেই সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়।

বার্সেলোনার জন্য মাঠের এই পরিস্থিতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ব্লগ্রানারা সাধারণত ছোট ঘাসের মাঠে নিজেদের টেকনিক্যাল এবং পাসিং ফুটবল খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ক্যাম্প ন্যুর ঘাস সাধারণত ২.৩ সেন্টিমিটার রাখা হয়, যা লামিনে ইয়ামালদের বল দ্রুত আদান-প্রদানে সাহায্য করে। মজার ব্যাপার হলো, এই বছরের শুরুতে অ্যাতলেতিকোর কোকে এবং আঁতোয়ান গ্রিজম্যানও এই একই মাঠ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে হওয়া সেই সমস্যাগুলো এখন পুরোপুরি সমাধান করা হয়েছে।

মাঠের বাইরের এই বিতর্কের চেয়েও বার্সার বড় চ্যালেঞ্জ এখন মাঠের ভেতরের সমীকরণ। গত সপ্তাহে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে রয়েছে তারা। ওই ম্যাচে প্রথমার্ধের ঠিক আগে পাউ কুবারসি লাল কার্ড দেখলে দশ জনের দলে পরিণত হয় বার্সা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অ্যাতলেতিকোর হয়ে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ ও আলেকজান্ডার সরলথ।

তবে নিজেদের মাঠে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছে কাতালানরা। সোমবার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেছেন, ‘ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো যথেষ্ট খেলোয়াড় আমাদের আছে। তাই দলের ওপর আমার অগাধ আস্থা রয়েছে।’

কোচ হান্সি ফ্লিকও শিষ্যদের ওপর আস্থা রাখছেন, ‘আমাদের কোনো অলৌকিক কিছুর প্রয়োজন নেই, শুধু একটি ভালো পারফরম্যান্স দরকার। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো স্কোয়াড আমাদের আছে। অবশ্যই আমাদের লড়াই করতে হবে, তবে আমাদের মূল শক্তির জায়গাটিতেই বেশি ফোকাস করতে হবে।’

অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে এমন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বার্সেলোনার জন্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে কোপা দেল রের সেমিফাইনালেও প্রায় একই সমীকরণের মুখে পড়েছিল তারা। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রথম লেগে মাদ্রিদে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল লা লিগার শীর্ষ দল বার্সা। মার্চে ফিরতি লেগে ফ্লিকের দল দারুণ লড়াই করে ৩-০ গোলে জয় পেলেও, ফাইনালে ওঠার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মিশন ফ্লিক-ইয়ামালদের সামনে।

জরুরি ভিত্তিতে আরও ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জাতীয় মজুত সুরক্ষায় আরও ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

আবির ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস থেকে সরাসরি ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদার কথা উল্লেখ করে সরকার প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।

এই সংঘাত বৈশ্বিক তেল পরিবহন রুটে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে, যার মধ্য দিয়ে এশিয়াগামী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়।

সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কমাতে সরকার আমদানির বহুমুখী উৎসের দিকে ঝুঁকছে। কারণ প্রচলিত পরিবহন রুটে বিঘ্ন ঘটছে ও মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে দেশজুড়ে জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা বাড়ছে।

আজ বৈঠকে সরাসরি এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে এক লাখ টন ডিজেল (ইএন-৫৯০, ১০ পিপিএম) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন) থেকে আরও ৬০ হাজার টন গ্যাস অয়েল (ডিজেল) আমদানি করা হবে।

এর আগে গত ২৬ মার্চ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেয়।

গত ২২ মার্চ সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়ে রাশিয়া থেকে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির অনুমতি বা অন্তত দুই মাসের জন্য ছাড় চেয়েছিল বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদ্যমান ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারত থেকে প্রায় ১৭ হাজার টন ডিজেল পেয়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৬ হাজার টন করে আরও দুটি চালান আসার কথা রয়েছে।

কৃষি খাতের জন্য কমিটি রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ)’ থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

এই ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। এর মোট মূল্য ১৫৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ও প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৫৩ হাজার ডলার।

কমিটির সামনে ১০টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ডাল ক্রয় এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের টেলিকম সরঞ্জাম ক্রয়সহ কয়েকটি প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে।
 

আইনমন্ত্রী আমাকে মিসকোট করেছেন: শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনার সময় আইনমন্ত্রী তাকে মিসকোট করেছেন।

আজ মঙ্গলবার রাতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে তোলা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা পর এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘(আজ) বক্তব্যের একপর্যায়ে সরকারি দল থেকে একটা কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে। …আমরা বলেছি যে আমরা তো এখানে সংকট নিরসন করতে এসেছি। সংকট তৈরি করতে আসিনি। অতএব আমরা সমস্যার সমাধান চাই। এখন কিন্তু বিষয়টা একটা সমস্যার মধ্যে ঢুকে গেছে। তাহলে যে প্রস্তাবটা দেওয়া হয়েছে আমরা বলেছি এখানে সংস্কার পরিষদ এবং পরিষদের সভা আহ্বান সংক্রান্ত এই নোটিশ। যদি এই বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো সংস্কার বিষয়ক কমিটি গঠন করা হয় তাহলে আমাদের এটাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার সুযোগ আছে।’

‘তবে শর্ত হচ্ছে সেখানে উভয়পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকবে। যদি সমান সংখ্যক সদস্য না থাকে সংসদের সংসদ সদস্যদের অনুপাত হারে যদি সেখানে সদস্য নির্ধারণ করা হয় তাহলে সেখান থেকে ভালো কোন আউটকাম আসার সম্ভাবনা নেই।’

ব্রিফিংয়ের এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা এই প্রস্তাব নমনীয়ভাবে বিবেচনা করার পর আইনমন্ত্রী বক্তৃতা দেন এবং আমাকে মিসকোট করেন। যে প্রস্তাব তারা সংবিধান সংশোধনের জন্য দিয়েছেন, আমরা তা গ্রহণ করছি। আসলে আমরা সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবে মতামত দেইনি। আমরা বলেছি বিষয়টি সংবিধান সংস্কারের। তাই আশা করি এখানে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হবে না। আমার বক্তব্য স্পষ্ট ছিল, কোনো অস্পষ্টতা ছিল না।’

‘পরে আমরা বিষয়টি ক্ল্যারিফাই করতে চাইলেও আলোচনার কর্মঘণ্টা শেষ হয়ে গিয়েছিল। স্পিকার তখন বলেন, আজকের আলোচনা এখানে সমাপ্ত হলো। আমি বললাম যে আমাদের কৈফিয়ত আছে, সুযোগ দেওয়া হোক। তিনি বলেন, কালকে সুযোগ দেওয়া হবে। এভাবেই বিষয়টি আপাতত স্থগিত রয়েছে। আগামীকাল যদি আবার কথা বলার সুযোগ পাই, আমরা আপনাদের জানাব।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে বিশেষ প্রেক্ষাপটে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০০৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছয়টি সংস্কার কমিশন এবং পরে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই চার্টারে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদ গঠনের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে। কিন্তু এই নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় অধিবেশন এখনও হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি সংস্কার বিষয়ক কমিটি গঠিত হয়, সেখানে উভয়পক্ষের সমান সংখ্যক সদস্য থাকা আবশ্যক। অনুপাত অনুযায়ী সদস্য থাকলে ভালো ফলাফল আশা করা যায় না।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সংসদের আলোচনায় আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট ছিল। আমরা অপেক্ষা করছি আগামীকালের জন্য, যাতে বিষয়টি বাস্তবতা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার আলোকে সমাধান হয়।’

বাংলাদেশ–পাকিস্তান ম্যাচে গ্যালারিতে ছিলেন নিশো–পূজা

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে টাইগারদের উৎসাহ জুগিয়েছে  ‘দম’ চলচ্চিত্রের টিম।

গ্যালারিতে ‘দম’ টিমের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো, চিত্রনায়িকা পূজা চেরী, প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিলসহ অনেকে।

বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হয় দুপুরে, বিকেলের দিকে গ্যালারিতে দেখা যায় ‘দম’ টিমের সদস্যদের। সাধারণ দর্শকদের সাথে বসে তারা ম্যাচটি উপভোগ করেন, ছবি তোলেন এবং বাংলাদেশ দলের প্রতিটি বাউন্ডারিতে উল্লাস প্রকাশ করেন। 

গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে আফরান নিশো ও পূজা চেরীকে নিয়ে ছিল  আগ্রহ।

 

আফরান নিশো বলেন, ‘মিরপুরের গ্যালারির গর্জন সবসময়ই অন্যরকম অনুভূতি দেয়।

আজ বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে সেই উত্তেজনা সরাসরি অনুভব করতে পেরে দারুণ লাগছে।’ 

নতুন সিনেমা ‘দম’ প্রসঙ্গে নিশো বলেন, ‘এটা সাধারণ মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। জয়ের গল্পও বলতে পারেন।’ 

পূজা চেরী জানান, ‘দম’ টিমের সঙ্গে টাইগারদের সমর্থন করতে পেরে তিনি  খুবই আনন্দিত।
এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড এবং চরকি প্রযোজিত ’দম’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রেদওয়ান রনি। 

এই সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, পূজা চেরী, চঞ্চল চৌধুরী ও ডলি জহুর। 

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে ১১ রানে। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের ২৯০ রানের পুঁজির পিছু ছুটতে গিয়ে ১৭ রানে ৩ উইকেট হারালেও সালমানের সেঞ্চুরিতে ২৭৯ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস। 

প্রশান্ত মহাসাগরে ‘সন্দেহভাজন’ নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৩

প্রশান্ত মহাসাগরে লাতিন আমেরিকার উপকূলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী একটি নৌকাতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে, আঘাত হানা নৌযানটি মাদক পাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। নিহত তিন ব্যক্তি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন—মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের এই ঘটনার ফলে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জাহাজে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় ৪৩টি হামলা চালিয়েছে।

সর্বশেষ হামলার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে সাউথকম। সেখানে দেখা যায়, আউটবোর্ড ইঞ্জিনযুক্ত একটি স্থির নৌকা মার্কিন গোলাবর্ষণের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে সাউথকম জানিয়েছিল, প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে তারা তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন।

লাতিন আমেরিকার নেতারা, আইন বিশেষজ্ঞরা এবং মানবাধিকারকর্মীরা এই সামরিক অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন বাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক বেন সল বলেছেন, ‘মার্কিন নেতাদের যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।’

সমালোচকেরা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ভয়াবহ মাদক ফেন্টানিল প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো থেকে স্থলপথে পাচার হয়ে থাকে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন কেন সমুদ্রপথে কথিত মাদক পাচারকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা

দেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে রোজা শুরু হবে।

আজ বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গতকাল সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানায়, সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিতে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সৌদি আরবে বুধবার থেকে রোজা শুরু হয়েছে।

ইসলামী পঞ্জিকার নবম মাস রমজানকে বছরের সবচেয়ে পবিত্র মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ মাসেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল হয়।

রমজান মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে, যা মাসের শেষদিকে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় রমজান মাস।