29 C
Dhaka
Home Blog Page 4

পুরোনো মালিকদের হাতে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এআইবিএল) নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকটির আগের মালিক ও শেয়ারধারীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ১৪ জন পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। 

নতুন পর্ষদে বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি ফিরে এসেছেন প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুর রহমান ও তার সহযোগীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এটি প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগের তুলনায় ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাই এটি প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক আরও কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি অথবা তারা ব্যাংকের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন না।

তিনি বলেন, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তারা রয়েছেন, তাই ব্যাংকটি তাদের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নতুন পর্ষদ, পুরোনো মুখ

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আগের পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক বহাল রয়েছেন।

এর পাশাপাশি সাবেক ১৪ জন সদস্যকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী ও এনায়েত উল্লা।

এছাড়া কেডিএস গার্মেন্টসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কেওয়াই স্টিল মিলসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে শরীফ উদ্দিন তসলিমকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফিরে আসা পরিচালকদের মধ্যে খলিলুর রহমান বর্তমানে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আইন অনুযায়ী একই ব্যক্তি একসঙ্গে কোনো ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারেন না। তাই আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে যোগ দিতে তাকে ওই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে বেসরকারি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০২৩ সালে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তিনি দেশ ছাড়েন এবং ব্যাংকটির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ হারান।

এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। তখন লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে এরপরও ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে এবং গত দুই বছরে কোনো নগদ লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংকটির শেয়ার ‘জেড’ শ্রেণিতে নেমে যায়।

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলেও অন্য নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলো থেকে গ্রুপটি বিপুল অর্থ পাচার করেছে বলে অভিযোগ আছে। তবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি নয়।

গত বছর ব্যাংকটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

একই সময়ে ব্যাংকটির আমানত ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ৪৮ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

তবে খেলাপি ঋণ ১৯ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৮৫২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ১৭ শতাংশ।

বছর শেষে ব্যাংকটির সম্পদের বিপরীতে মুনাফার হার (রিটার্ন অন অ্যাসেটস) ছিল শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ এবং নিট মুনাফার মার্জিন ছিল ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে পরিষ্কার বিবেক নিয়ে বিদায় নিচ্ছি: রোনালদো

পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর নিজের শেষ বিশ্বকাপেও পেলেন না প্রত্যাশিত সাফল্য। স্পেনের কাছে শেষ মুহুর্তের গোলে হেরে শেষ হয়ে গেল তার বিশ্বকাপ অভিযান। বিদায় নিয়ে রোনালদো জানান, তিনি তার সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করেছেন, তাই কোন খেদ নেই মনে। এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ হলেও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা।

সোমবার ডালাসে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিকেল মেরিনোর একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার জন্য আর যথেষ্ট সময় পায়নি পর্তুগাল। 

মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের রোনালদো বলেন, ম্যাচটি যেকোনো দিকেই মোড় নিতে পারত, তবে স্পেনের ‘খানিকটা ভাগ্য’ সহায় ছিল। যার কারণে বদলি খেলোয়াড় মেরিনো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল করতে পেরেছেন।

রোনালদো বলেন, ‘এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে বলে আমি দুঃখিত। আমি আমার সবটুকু দিয়েছি। নিজের সেরাটা চেষ্টা করেছি এবং পরিষ্কার বিবেক নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে এখন আমি চিন্তা করার এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাব। আমি কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেব না (আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়া প্রসঙ্গে)।’

৪১ বছর বয়সী এই তারকা পর্তুগালের হয়ে তার শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি। তিনি জানান, ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে তিনি দলের এই অভিযানকে আড়াল করতে চান না,  ‘আমি আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না।’

রোনালদো পর্তুগালকে ২০১৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের পাশাপাশি ২০১৯ এবং ২০২৫ সালে নেশনস লিগ জিততে সাহায্য করেছিলেন, জাতীয় দলের প্রতি নিজের অবদান নিয়ে বিদায় বেলায় গর্ব প্রকাশ করেন, ‘আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি; ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর আগে পর্তুগাল একটি শিরোপাও জেতেনি।’

‘জাতীয় দলের জেতা সবচেয়ে বড় শিরোপাটি ছিল ২০১৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, যা সত্যি বলতে, আমার কাছে একটি বিশ্বকাপের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

পর্তুগালের এই বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে রবার্তো মার্তিনেসের অধ্যায়ও শেষ হয়েছে। এই স্প্যানিশ কোচের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়ে রোনালদো বলেন, ‘তার সঙ্গে কাজ করতে আমার খুব ভালো লেগেছে। একজন দারুণ ম্যানেজার, একজন চমৎকার মানুষ এবং পর্তুগালের জন্য তিনি যা করেছেন তা প্রশংসার দাবিদার। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং তার সুখ কামনা করি…’

আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ড আরও যোগ করেন, ‘একটি বড় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া সবসময়ই দুঃখজনক। এটি একটি বিশ্বকাপ। দল আসলেই নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছিল। আমার দৃষ্টিতে, আমরা ভালো খেলেছি। ম্যাচটি যেকোনো দিকেই যেতে পারত, তবে এটাই ফুটবল। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে।’

‘এভাবে বিদায় নেওয়াটা হতাশাজনক, তবে আমরা মাথা উঁচু করে বিদায় নিতে পারি।’

 

বনানী কবরস্থানে শায়িত হলেন আতাউর রহমান

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক আতাউর রহমানকে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আজ মঙ্গলবার বিকেলে।

এরপর তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আজ বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আতাউর রহমানের মরদেহ আনা হলে দেশের সংস্কৃতি ও শিল্পাঙ্গনের বিশিষ্টজনরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

শুধু ব্যক্তিপর্যায়েই নয়, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রয়াত এই নাট্যজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করে কণ্ঠশীলন, ছায়ানট, আব্দুল্লাহ আল-মামুন থিয়েটার স্কুল, উদীচী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগ, ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘ ও ঢাকা থিয়েটার।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্যে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীরা তাদের প্রিয় এই নাট্যব্যক্তিত্বকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

দেশের নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আতাউর রহমানের অবদান স্মরণ করে অনেকেই তার কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।

খামেনির উত্তরসূরিকেও হত্যা করা হবে: ইসরায়েল

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে যাকেই বেছে নেওয়া হবে তাকেই হত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

এএফপি বলছে, আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ওই পোস্টে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, ‘ইসরায়েলকে ধ্বংস এবং যুক্তরাষ্ট্র, মুক্ত বিশ্ব ও আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে এবং ইরানি জনগণকে দমন-পীড়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে ইরানি শাসকগোষ্ঠী যে নেতাই নির্বাচিত করুক, তাকে হত্যার নিশানা বানানো হবে। তার নাম যা–ই হোক বা তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, এটা ঘটবে।’

গত শনিবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন খামেনি। তার উত্তরসূরি বেছে নিতে ইরানে প্রস্তুতি চলছে।

গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রেজা পাহলভীর চেয়ে ইরানের ভেতরে থাকা কেউ একজন বেশি ভালো হবে।

হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাকে (পাহলভী) বেশ চমৎকার একজন মানুষ বলে মনে হয়। তবে আমার মনে হয়, দেশটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য (ইরানের) ভেতর থেকে কেউ আসাটাই হয়তো বেশি ভালো হবে।’

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতো কেউ আবার ইরানের ক্ষমতায় আসে।

এদিকে, খামেনিকে শেষবিদায় জানাতে ইরান তিন দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতার ঘোষণা দিয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় আজ বুধবার রাত ১০টায় এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও বলেছে, খামেনির জানাজার তথ্য চূড়ান্ত হলে তা পরে জানানো হবে।

ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনিকে তার জন্মস্থান ও পবিত্র শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে। তবে দাফনের সুনির্দিষ্ট তারিখও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে একুশে পদক নিলেন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী, ওয়ারফেজের টিপু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অমর একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ড দল ওয়ারফেজকে ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যথাযোগ্য মর্যাদায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের হাতে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ তুলে দেন।

মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্ত আইয়ুব বাচ্চুর পক্ষে তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন। আর ওয়ারফেজের পক্ষে দলনেতা শেখ মনিরুল আলম টিপু পুরস্কার নেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম, তাদের অবদান পাঠ করে শোনান এবং পদক প্রদান পর্ব সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আইফোন ডুয়ো: অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোনটিতে কী আছে

প্রযুক্তিপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উন্মোচিত হয়েছে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন আইফোন ডুয়ো।

বুধবার রাতে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে প্রথমবারের মতো পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন জন টার্নাস।

ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে অ্যাপল সদর দপ্তরের স্টিভ জবস থিয়েটার থেকে সরাসরি সম্প্রচারকৃত অনুষ্ঠানে টার্নাস বলেন, ‘অন্যরা এমন ফোল্ডেবল ফোন তৈরি করেছে, যেগুলো পাশাপাশি জোড়া লাগানো দুটি ফোনের মতোই অস্বস্তিকর মনে হয়।’

‘বড় ডিসপ্লের এমন একটি ডিভাইস তৈরি করাই অ্যাপলের লক্ষ্য, যা ব্যবহারকারীদের আইপ্যাডের মতোই স্বাভাবিক ও সহজাত অনুভূতি দেবে,’ যোগ করেন তিনি।

আইফোন ডুয়ো দেখতে অনেকটা পাসপোর্টের মতো, প্রান্তগুলো গোলাকার। ভাঁজ খুললে ফোনটি ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির (১৯ সেন্টিমিটার) বড় ও চওড়া স্ক্রিনে রূপ নেবে। অ্যাপলের দাবি, পুরোপুরি খোলা অবস্থায় এটিই তাদের সবচেয়ে পাতলা আইফোন।

বিদ্যমান ফোল্ডেবল ফোনগুলোর সমালোচনা করে টার্নাস বলেন, এগুলো অনেকটা অস্বস্তিকর এবং স্ক্রল করা বা ভিডিও দেখার মতো সাধারণ কাজের জন্যও খুব একটা উপযোগী নয়। 

তার দাবি, পকেটে রাখা যায়—এমন একটি ডিভাইসে আইপ্যাডের মতো অভিজ্ঞতা দিতেই আইফোন ডুয়ো তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য এতে বিশেষভাবে তৈরি হিঞ্জ, একই অনুপাতের দুটি পর্দা এবং নতুন টাইটানিয়ামের বডি ব্যবহার করা হয়েছে।

টার্নাস বলেন, ‘এটি একেবারেই নতুন, আবার একই সঙ্গে বেশ পরিচিত। আকারে এটি আপনার পাসপোর্টের কাছাকাছি। হাতে ধরতে পরিচিত লাগে এবং এক হাতেও আরামে ব্যবহার করা যায়।’

অ্যাপল জানিয়েছে, আইফোন ডুয়ো-তে রয়েছে ‘এ২০ প্রো চিপ’। ২ ন্যানোমিটারের এই প্রসেসরে রয়েছে ৬ কোরের সিপিইউ, ৭ কোরের জিপিইউ এবং দুটি ১৬ কোরের নিউরাল ইঞ্জিন। অ্যাপলের দাবি, বিশেষভাবে তৈরি ভ্যাপার-চেম্বার কুলিং ব্যবস্থার কারণে আইফোন ডুয়ো দীর্ঘ সময় ধরে আইফোন ১৭ প্রোর তুলনায় সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ বেশি গতিতে কাজ করতে পারবে।

এতে অ্যাপলের তৈরি নতুন সি২ সেলুলার মডেম চিপও ব্যবহার করা হয়েছে। ওয়্যারলেস ডেটা সংযোগের জন্য কোয়ালকমের চিপের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই মডেম তৈরি করেছে অ্যাপল।

ফোল্ডেবল নকশার কারণে আইওএস ২৭-এ আইফোন ডুয়োতে নতুন কিছু মাল্টিটাস্কিং সুবিধাও থাকছে। ‘স্প্লিট ভিউ’ ব্যবহার করে পাশাপাশি দুটি অ্যাপ চালানো যাবে। একই অ্যাপের দুটি উইন্ডোও একসঙ্গে খোলা যাবে। নিয়মিত ব্যবহৃত দুটি অ্যাপকে জোড়া হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি অন্য একটি অ্যাপ চালু রেখেই এআই সিরির সঙ্গে কথা বলা যাবে। 

অ্যাপল জানিয়েছে, নেটফ্লিক্স, জুম ও স্ল্যাকের মতো অ্যাপগুলো ইতিমধ্যে বড় ফোল্ডেবল স্ক্রিনের জন্য নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

ফোনটিতে থাকছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন ক্যামেরা। এতে ২x অপটিক্যাল-মানের টেলিফটো সুবিধা এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরাও রয়েছে। পেছনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার সময় বাইরের স্ক্রিনে ছবির প্রিভিউ দেখা যাবে। 

‘ডুয়ো প্রিভিউ’ সুবিধার মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে থাকা ব্যক্তিরাও ছবিতে নিজেদের অবস্থান সরাসরি দেখতে পারবেন। ফোনটিতে ডলবি ভিশনে সর্বোচ্চ ১২০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে ‘৪কে’ ভিডিও ধারণ করা যাবে।

আইফোন ডুয়োতে দুই পাশে দুটি ব্যাটারি রাখা হয়েছে। অ্যাপলের দাবি, ভেতরের স্ক্রিন ব্যবহার করে একটানা ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও দেখা যাবে। শুধু বাইরের স্ক্রিন ব্যবহার করলে এই সময় ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত হবে। দুই স্ক্রিন সমানভাবে ব্যবহার করলে স্বাভাবিক ব্যবহারে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। তারযুক্ত চার্জিংয়ে প্রায় ২০ মিনিটে ব্যাটারি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে।

বিশ্বজুড়ে ফোনটিতে শুধু ই-সিম ব্যবহারের সুবিধা থাকবে, অর্থাৎ এতে প্রচলিত ফিজিক্যাল সিম কার্ড ব্যবহার করা যাবে না। সংযোগের জন্য থাকছে অ্যাপলের এন১ নেটওয়ার্কিং চিপ, যা ওয়াই-ফাই ৭, ব্লুটুথ ৬ ও থ্রেড সমর্থন করবে। 

আইফোন ডুয়ো পাওয়া যাবে ‘স্টার হোয়াইট’ ও ‘নাইট স্কাই’—এই দুই রঙে। স্টোরেজের ক্ষেত্রে ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টেরাবাইট ও ২ টেরাবাইটের সংস্করণ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে ফোনটির দাম শুরু হবে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে।

১৬ অক্টোবর থেকে আইফোন ডুয়োর প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু হবে। ২৩ অক্টোবর থেকে ৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ফোনটি বাজারে পাওয়া যাবে। অ্যাপল জানিয়েছে, ডিভাইসটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকবে আইওএস ২৭.১।

টার্নাস আইফোনকে ব্যক্তিগত এআই ব্যবহারের একটি কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

অ্যাপলের সিইও বলেন, ‘আপনার তথ্য যখন আর আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না, তখন আস্থারও একটা সীমা থাকে।’ এ কারণেই যতটা সম্ভব অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সরাসরি ডিভাইসেই কাজ করে বলে জানান তিনি।

অ্যাপলের এআই পণ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা লিলিয়ান রিনকন নতুন সিরির বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাজারে আসার সময়ই নতুন সিরি ৩ লাখ অ্যাপের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। 

চলতি বছরের শুরুতে গুগল থেকে অ্যাপলে যোগ দেন রিনকন।

এর আগে অনুষ্ঠানে শুরুতে আইফোন ১৮ সিরিজের প্রো ও প্রো ম্যাক্স মডেল উন্মোচন করেন টার্নাস।

২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর থেকে প্রতিবছরই নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছে অ্যাপল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে এল বহুল প্রতীক্ষিত আইফোন ১৮ সিরিজ।

তিনটি ফোনেই অ্যাপলের সবচেয়ে আধুনিক ‘এ২০ প্রো’ চিপ ব্যবহৃত হয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, নতুন এই চিপের কারণে উন্নত এআই মডেল সরাসরি আইফোনে চালানো আরও সহজ হবে।

আইফোন ১৮ সিরিজের প্রো ও প্রো ম্যাক্স মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (সিরি) ও ব্যাটারিতেও করা হয়েছে ব্যাপক উন্নতি।

আইফোন ১৮ প্রোর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে, আর ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে। আগের প্রজন্মের ১৭ প্রো ও ১৭ প্রো ম্যাক্সের তুলনায় দুটি মডেলেরই প্রারম্ভিক দাম ১০০ ডলার বেশি।

এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ছবি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে এ ধরনের ছবি শনাক্তে নতুন প্রযুক্তিও এনেছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাপল রেফারেন্স ইমেজ’ নামে একটি নতুন মানদণ্ড চালু করেছে। 

এর মাধ্যমে আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরায় তোলা ছবির সত্যতা যাচাই করা যাবে। তবে সুবিধাটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনে পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ছবি শনাক্তে ‘সিন্থআইডি’ নামের নতুন মানদণ্ডও চলবে অ্যাপলে। 

অ্যাপল নতুন সংস্করণের এয়ারপডস ৫ উন্মোচন করেছে। এর দাম শুরু হবে ১২৯ ডলার থেকে। তুলনামূলক কম দামের এই মডেলেই প্রথমবারের মতো নয়েজ ক্যানসেলেশন সুবিধা থাকছে। 

১৪৯ ডলারের আরেকটি সংস্করণে থাকবে ওয়্যারলেস চার্জিং ও স্টেমে থাকা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভলিউম বাড়ানো-কমানোর সুবিধা। স্টেমে আঙুল ওপর-নিচ করেই ভলিউম পরিবর্তন করা যাবে।

অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ ও অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৪ উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন দুই ঘড়িতেই স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের উন্নতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

নতুন সেন্সর ব্যবস্থা আগের চেয়ে ঘন ঘন হৃদস্পন্দন পরিমাপ করবে। এর মাধ্যমে শরীরের পুনরুদ্ধার ও ফিটনেসের অবস্থা বোঝার নতুন সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। 

অ্যাপলের দাবি, নতুন অ্যাপল সিলিকন ও উন্নত সেন্সরের সাহায্যে এসব ঘড়িতে পরিধানযোগ্য ডিভাইসের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভুল হৃদস্পন্দন পরিমাপের সুবিধা পাওয়া যাবে।

গত অর্থবছরে আইফোন থেকে অ্যাপলের আয় হয়েছে ২০৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যা কোম্পানিটির মোট বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি।

বাজার বিশ্লেষক পাওলো পেসকাতোর রয়টার্সকে বলেন, ‘অ্যাপল নতুন একটি প্রিমিয়াম পণ্যের বাজার তৈরি করেছে, আয়ের নতুন পথ খুলেছে এবং আইফোন ব্যবসায় নতুন গতি এনেছে।’

তবে পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান চলাকালে ১ শতাংশ ও অনুষ্ঠান শেষে অ্যাপলের শেয়ারের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়।

এর আগে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (আইডিসি) পূর্বাভাস করেছিল, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি আইফোনের ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বিক্রি হতে পারে। এ থেকে অ্যাপলের আয় হতে পারে ৪৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

আইডিসির গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল ম্যাশেবলকে বলেন, ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ কেবল এই খাতের প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনবে না, বরং পুরো বাজারের গতিপথই বদলে দিতে পারে।

আইডিসির হিসাবে, অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোনের বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখল করতে পারে। একইসঙ্গে এই ফোন বিক্রি থেকে তৈরি হওয়া মোট বাজারমূল্যের অর্ধেকেরও বেশি অ্যাপলের দখলে যেতে পারে।

অ্যাপলের নতুন ফোনটি বাজারে আসার পর দীর্ঘদিন ধরে ফোল্ড ফোনের বাজারে নেতৃত্ব দেওয়া স্যামসাং ও হুয়াওয়ের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে।
 

আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী লিডসের ব্যাংকআল্টিমাস নিয়ে টানাপোড়েন

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মিজানুর রহমানকে লিডস করপোরেশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ফোন করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাবেক প্রধান হিসেবে মিজানুর রহমান লিডসের কার্যক্রম ও পণ্য সম্পর্কে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পরও তিনি মার্চের শুরুতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

বাংলাদেশে গত দুই দশকে ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সীমিত। লিডস করপোরেশন এ খাতে কাজ করে আসছে। ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা গ্রাহকের হিসাব ও আর্থিক তথ্য সংরক্ষণ, বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এ ধরনের ব্যবস্থা তৈরি ও পরিচালনার জন্য কারিগরি দক্ষতা, ব্যবস্থা বিন্যাসের জ্ঞান এবং অর্থের প্রয়োজন হয়।

১৯৯২ সালে বাংলাদেশে এনসিআর করপোরেশনের কার্যক্রম থেকে যন্ত্রপাতি কেনার পর লিডস করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা তৈরির কার্যক্রমে প্রবেশ করে। লিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আবদুল ওয়াহিদের বক্তব্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকে বিভিন্ন ব্যাংকে এনসিআরের এটিএম কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে লিডসের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। পরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেয়।

লিডসের আর্থিক সংকট প্রকাশ্যে আসার আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩০০ কর্মী কাজ করতেন, যাদের অর্ধেক ছিলেন কারিগরি বিভাগের। কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শেষ দিক থেকে নিয়মিত বেতন প্রদানে সমস্যা শুরু হয়। সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এস এম সাইফুর রহমান জানান, ওই সময় কর্মীদের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়লেও পরিচালনা পর্ষদ ও মালিকপক্ষ এটিকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিল।

এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের আদেশে লিডসের কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাংকআল্টিমাস নিলামে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পেছনে ছিল খান আখতার আলমের পাওনা পরিশোধসংক্রান্ত মামলা। ওই সময় পাওনার পরিমাণ প্রায় ৮৩ কোটি টাকা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংকআল্টিমাস লিডসের প্রধান পণ্য হওয়ায় নিলামের উদ্যোগে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, দুই দশকের বেশি সময় লিডসে কাজ করার পর প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যাওয়ার সময় তার পাওনা এক কোটি টাকার বেশি ছিল।

খান আখতার আলমের সঙ্গে লিডসের বিরোধের সূত্র ১৯৮১ সালের একটি মামলা। আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, খান আখতার আলম তখন এনসিআর করপোরেশনের কর্মী ছিলেন এবং বিক্রয় কমিশন পাওয়ার দাবি নিয়ে ওই মামলা করেন। তিনি ১৯৭২ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাওনা কমিশন বাবদ ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে মামলাটি খারিজ হলে তিনি ১৯৮৭ সালে আপিল করেন। এ সময় এনসিআর ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয় এবং তাদের যন্ত্রপাতি থেকে লিডস করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয়।

লিডসের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, প্রতিষ্ঠানটি এনসিআর করপোরেশনকে অধিগ্রহণ বা একীভূত করেনি। বরং এনসিআরের কাছ থেকে যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তির দায় লিডস গ্রহণ করেনি। তবে ১৯৯৯ সালে খান আখতার আলম মামলার নথিতে লিডস করপোরেশন ও এনসিআরের তৎকালীন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপককে পক্ষভুক্ত করেন। বিষয়টি ২০১০ সালে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে বিবেচিত হয়।

২০১০ সালে আদালত খান আখতার আলমের পাওনা নির্ধারণের জন্য নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেন। এনএল রায় অ্যান্ড কোম্পানিকে এ কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়। একই বছর সম্পন্ন নিরীক্ষায় সুদসহ খান আখতার আলমের পাওনা ৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়। ২০১৮ সালে সেই পাওনা প্রায় ৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায় এবং ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত লিডসকে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়।

লিডসের কর্মীদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে আদালতের ওই নির্দেশের বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। একই সময় থেকেই বেতন প্রদানে অনিয়ম শুরু হয়। সাবেক কর্মী আরিফুর আমরান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে অনেক সময় তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া থাকত। ২০২৩ সালের শুরুতে তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার সময় তার পাওনা ১৭ লাখ টাকার বেশি ছিল বলে জানান।

সাইফুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, লিডসের কর্মীদের মাসিক বেতন ছিল প্রায় ২ কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করত। কর্মীদের পাওনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগ থেকে মালিকদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যবহারের কথা জানানো হতো বলে তিনি দাবি করেন।

প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার দায়িত্ব নেওয়ার পর মিজানুর রহমানও অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাব জব্দের আগে লিডস মাসে প্রায় ৪ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পেত। বিপরীতে কর্মীদের বেতন বাবদ ব্যয় ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। তার দাবি, নথিতে অর্থের উপস্থিতি থাকলেও সেই অর্থ পাওয়া যাচ্ছিল না এবং অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

এই অভিযোগের বিষয়ে লিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আবদুল ওয়াহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কর্মীদের পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলে জানান। পরে তিনি মিজানুর রহমানকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা কর্মীদের ই-মেইলে জানান এবং কর্মীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

মিজানুর রহমান অবশ্য দাবি করেন, লিডসের আর্থিক ও আইনি সমস্যার পেছনে মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত ছিল এবং পরিস্থিতি সমাধানের বাইরে চলে গিয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্য নথিতে অর্থ সরিয়ে নেওয়া বা অর্থের অপব্যবহারের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ব্যাংকআল্টিমাস ব্যবহারকারী ব্যাংকগুলোর জন্যও পরিস্থিতিটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কারিগরি কর্মী কমে গেলে রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন সেবা যুক্ত করা এবং সফটওয়্যার হালনাগাদে সমস্যা তৈরি হতে পারে। লিডসের অধিকাংশ কারিগরি কর্মী প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে ব্যবহারকারী ব্যাংকগুলো নিয়ে উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংকআল্টিমাস ব্যবহারকারী উত্তরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সফটওয়্যার সেবায় হঠাৎ কোনো সমস্যা হলে এর প্রভাব ব্যাংকের কার্যক্রমে পড়তে পারে। তার মতে, একটি কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিবর্তন করা দ্রুত সম্পন্ন করার মতো বিষয় নয় এবং এর প্রভাব একটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে গিয়ে বৃহত্তর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাহ উল হক জানান, সফটওয়্যার-সংক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি নির্দেশনা রয়েছে। কোনো সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর সংখ্যা কমে গেলেই ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না বলে তিনি জানান। তবে নতুন পণ্য চালু বা সফটওয়্যার হালনাগাদে বিলম্ব হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

লিডস করপোরেশনের ঘটনাপ্রবাহে তাই একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট কীভাবে তার কর্মী, মালিকানা, আদালতের মামলা এবং ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তার একটি চিত্র পাওয়া যায়। ২০১৮ সাল থেকে বেতন অনিয়ম, কর্মীদের পাওনা, পুরোনো দেওয়ানি মামলা, অর্থ পরিশোধের আদেশ এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাংকআল্টিমাস নিলামে ওঠার ঘটনা একই ধারাবাহিকতায় সামনে এসেছে।

তবে এসব ঘটনার পাশাপাশি আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং লিডসের বর্তমান মালিকানা ও পরিচালন কাঠামোর বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাংকআল্টিমাস ব্যবহারকারী ব্যাংকগুলোর জন্য সফটওয়্যারটির মালিকানা, রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি কর্মী এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য থাকা প্রয়োজন।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ল, চাপ কমবে তো?

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন বাড়িয়ে নতুন জাতীয় বেতন-কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে মূল বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। নতুন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্কের খুব বেশি অবকাশ নেই। দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে; খাদ্য, বাসাভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ মানুষের আয়কে ক্রমেই চাপে ফেলেছে। ফলে বহু বছর পর বেতন-কাঠামো পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে হতে পারে।

কিন্তু বেতন বাড়ানোর হিসাবটি শুধু কত শতাংশ বেতন বাড়ল, সেখানে শেষ হয় না। আসল হিসাব হলো, সেই বাড়তি আয়ে আগের তুলনায় কতটা বেশি পণ্য ও সেবা কেনা যাবে। অর্থনীতির ভাষায় যাকে প্রকৃত আয় বা ক্রয়ক্ষমতা বলা হয়। শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনযাত্রার জন্য সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে এই জায়গাটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, জুলাই ২০২৬-এ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। জুনে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির হার কমেছে, এটি অবশ্যই স্বস্তির খবর। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, পণ্যের দাম আগের জায়গায় ফিরে এসেছে। দাম বৃদ্ধির গতি কেবল কিছুটা কমেছে, দাম কমেনি।

এই পার্থক্যটি সাধারণ মানুষের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পণ্যের দাম এক বছরে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির পরের বছর সেই পণ্যের দাম আরও ৮ শতাংশ বাড়লে মূল্যস্ফীতি কমেছে বলা যাবে, কিন্তু ক্রেতার খরচ কমবে না। তার পরিবর্তে আগের বাড়তি দামের ওপর আরও নতুন ব্যয় যুক্ত হবে। ফলে কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব মানুষের সংসার চালানোর সক্ষমতার ওপর জমতে থাকে।

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-কাঠামোর একটি উদ্দেশ্য তাদের আয়কে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। কিন্তু একই যুক্তি বেসরকারি খাতের কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। দেশের কর্মজীবী মানুষের বড় একটি অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তাদের অনেকেরই জাতীয় বেতন-কাঠামোর মতো কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো নেই। বেতন বৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বেসরকারি চাকরিজীবীদের অবস্থা কঠিন। তাদের আয়ের ওপর নির্ভর করে বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, যাতায়াত, খাবার ও ভবিষ্যতের সঞ্চয়। একইসঙ্গে তাদের অনেককে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, চাকরির অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে হয়।

এখানে বেতন বৃদ্ধির একটি সহজ হিসাব করা যায়। কারো বেতন বছরে ৫ শতাংশ বাড়ল, কিন্তু একই সময়ে তার পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের গড় বৃদ্ধি যদি তারচেয়ে বেশি হয়, তাহলে কাগজে বেতন বাড়লেও বাস্তবে তার আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে না। এর বিপরীতে আগের জীবনযাত্রা ধরে রাখতেই তাকে সঞ্চয় কমাতে, ঋণ নিতে বা অতিরিক্ত কাজ করতে হতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন-কাঠামো অন্তত একটি কাঠামোবদ্ধ সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করছে। বেসরকারি খাতে এমন ব্যবস্থা না থাকায় মূল্যস্ফীতি বাড়লে কর্মীদের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। ফলে শুধু বার্ষিক ৫ বা ৭ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে।

এর সঙ্গে নতুন বেতন-কাঠামোর আরেকটি অর্থনৈতিক প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। সেটি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। মানুষের হাতে বেশি অর্থ গেলে বাজারে চাহিদা বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসতে পারে। কিন্তু উৎপাদন ও সরবরাহ যদি সেই বাড়তি চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে না বাড়ে, তাহলে কিছু পণ্য ও সেবার দাম আরও বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।

এ কারণেই বেতন বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আলাদা বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি কর্মীদের আয় বাড়ানো যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই আয় বৃদ্ধির ফলে বাজারে অতিরিক্ত মূল্যচাপ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও নজরে রাখতে হবে। অর্থনীতিবিদদের একাংশও নতুন বেতন-কাঠামোর ফলে সরকারি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপের কথা বলেছেন।

আরও বড় বিষয় হলো, বাড়তি বাজার-চাহিদার সুফল তখনই সবার কাছে পৌঁছাবে, যখন উৎপাদন বাড়বে এবং সরবরাহব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। খাদ্য, জ্বালানি, পরিবহন, বাসস্থানসহ প্রয়োজনীয় খাতে সরবরাহে সমস্যা থাকলে বাড়তি আয় সহজেই বাড়তি দামে পরিণত হতে পারে। তখন সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন বৃদ্ধির কিছুটা সুবিধা পেলেও নির্দিষ্ট আয়ের অন্য মানুষ আরও চাপে পড়তে পারেন।

এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি কার্যকর নীতিগত কাঠামো নিয়ে ভাবার প্রয়োজন আছে। সরকার সরাসরি প্রতিটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন নির্ধারণ করে দিতে পারে না। প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা ও ব্যবসার ধরন ভিন্ন। কিন্তু মূল্যস্ফীতি একটি নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে গেলে বেতন পুনর্বিবেচনা, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন সমন্বয় এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মীদের সুরক্ষার মতো বিষয় নিয়ে একটি নীতিগত কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।

শুধু মাসিক বেতন বাড়লেই জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা আসে না। এমন উদ্যোগের সঙ্গে শ্রমিকের অন্যান্য অধিকারও যুক্ত হওয়া দরকার। নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, ছুটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও চাকরির নিরাপত্তা একজন মানুষের প্রকৃত আর্থিক নিরাপত্তার অংশ।

সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বেতন বৃদ্ধি ঘুষের বৈধ কারণ হতে পারে না। একজন সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব আইন মেনে সেবা দেওয়া। একইসঙ্গে ঘুষের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ে। সরকারি সেবায় অতিরিক্ত অর্থ দিতে হলে সেটিও এক ধরনের মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করে। তাই বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, ডিজিটাল সেবা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

শেষ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সাফল্য শুধু নতুন বেতন-কাঠামোর সংখ্যায় মাপা উচিত নয়। মাপতে হবে একজন কর্মী মাস শেষে তার আয় দিয়ে আগের তুলনায় কতটা স্বস্তিতে সংসার চালাতে পারছেন, সেটি দিয়ে।

সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, হয়েছে। এখন বড় কাজ হলো মূল্যস্ফীতিকে এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনা, যাতে সেই বাড়তি আয় বাজারের বাড়তি দামে হারিয়ে না যায়। একইসঙ্গে বেসরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা রক্ষার পথও তৈরি করতে হবে। কারণ, শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে বেতন কত শতাংশ বাড়ল, তারচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মাসের শেষে সেই বেতনে কতটা জীবন চালানো গেল।

 

মো. আব্বাস: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও যোগাযোগ পেশাজীবী।
[email protected]

আগামী সংসদ অধিবেশনে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আইনমন্ত্রী

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পর্যাপ্ত সময় আছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে। সুতরাং বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যেহেতু ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা, আশা করি সেই অধিবেশনেই এটা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।’

আজ শনিবার রাজধানী ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য আগামী মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে তোলা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এটি সংসদে যাবে।

এর আগে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা গেছে—যে আমরা এই দুইটা আইন পাস করব না বলে পার্লামেন্টে উঠাইনি।’

‘মানবাধিকার কমিশন আইন সংক্রান্ত যে বিলটা আমরা নিয়ে এসেছি ১৩৩টি অর্ডিন্যান্সের মধ্যে, সেখানে আমরা বলেছি অধিকতর যাচাই-বাছাই করে নিয়ে আসব। আমরা গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইন নেইনি। এটার ক্ষেত্রেও আমরা পাবলিক স্টেটমেন্ট করেছি, অধিকতর যাচাই-বাছাই করে নিয়ে আসব,’ বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী জানান, খসড়া চূড়ান্ত করতে সিভিল সোসাইটি, ল’ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি ও উন্নয়ন সহযোগীদের আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে আসা মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘সুপারিশগুলো যতটা সম্ভব আমরা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি এবং আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতেও এটা যাচাই-বাছাই করার অনেক সুযোগ রয়েছে,’ বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলতে পারি গত কয়েক মাসের সরকারে বিচার বহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। গুমের একটা অভিযোগ যখন এসেছে, আমরা এটাকে খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি এবং আমি ইন্টারনালি বলেছি এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্য। খুব স্বচ্ছভাবে তদন্ত হওয়া দরকার এবং সেই সঙ্গে পরিবারগুলোর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য যেটা করার, আমরা করেছি।’

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন—সরকার অনুধাবন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে, যে বিচারকটি মোমবাতি জ্বেলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাতের বেলায় সাজা দিয়ে গেছেন, তাদের বিচার আমরা করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের সচিবালয়—ফ্যাসিস্টদের আরেকটা আস্তানা, সেই আস্তানার দিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হয়েছে এবং হচ্ছে। আমার দেশের প্রধান বিচারপতির বাসভবন যখন আক্রান্ত হয়, একজন আইনজীবী, একজন নাগরিক, একজন মানুষ হিসেবে একদিকে যেমন হৃদয় রক্তক্ষরণ হয়, ঠিক একইভাবে আমাকে চিন্তা করতে হয়, কেন প্রধান বিচার বাসভবনে আক্রান্ত হলো? সে চিন্তা আমাদের মাথায় রাখতে হয়।’

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অধস্তন আদালতের প্রায় ১ হাজার ৪০০ বিচারককে বদলি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থান পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে বিচার বিভাগের সরে আসতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘এই ১ হাজার ৪০০ বিচারকের মধ্যে যারা মোমবাতি জ্বেলে গণতন্ত্রকামী মানুষকে সাজা দিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ প্রাইজ পোস্টিং পেয়েছিলেন। আমরা যখন সেগুলো ঠিক করতে গেছি, ৭০ শতাংশ অনুমোদন দেওয়া হয়নি সুপ্রিম কোর্ট থেকে। এ রকম একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ যাচ্ছে।’

‘যদি মনে করেন সরকার নিয়ন্ত্রণ করে, আমি বিনয়ের সঙ্গে বলবো এটা সরকারের বিষয় না। সরকার যখন পার্টি ক্যাডারকে বসিয়ে দেয় এবং এই জজ সাহেব যখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারেন, তখনই বিচার বিভাগ মুখ থুবড়ে পড়ে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যদি নিয়োগ হয়, ভালো জজ যদি নিয়োগ হয়, ব্যক্তি যদি ভালো হয়, তাহলেই কেবল একটি স্বাধীন-স্বচ্ছ প্রত্যাশিত বিচার বিভাগ পাবেন। অন্যথায় এ ধরনের বিচার বিভাগের স্বপ্ন শুধু কাগজে কলমে রাখলে পাওয়া সম্ভব না,’ যোগ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার দেশের সুপ্রিম কোর্ট কাগজে কলমে থেকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা বলয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান, চাকরির সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠান, বদলি হওয়ার কোন চান্স নাই, রিমুভ করার কোনো সুযোগ নাই। সেই সুপ্রিম কোর্ট বিগত ১৬-১৭ বছর সঠিকভাবে আমাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।’

সরকার ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দায়ের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার করা হবে না এবং মাদক মামলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলেও জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারকে প্রায়ই গুলিয়ে ফেলছি। আমাদের সংগ্রাম যেমন একদিকে মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য, ঠিক একইসঙ্গে এক্সটেনডেড সংগ্রাম, যখন মানবাধিকারের কথা বলতে যাই, তখন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের পাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় আধিপত্যবাদী শক্তি।’

‘খোলামেলা কেউ কেউ বলছেন ভারতীয় আধিপত্যবাদ, আমরা আধিপত্যবাদী শক্তি বলছি। আমাদের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে, মাঠ থেকে আমাদের নৈরাজ্যবাদ বা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে, আমাদের মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে। আমরা এমন একটি সরকার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে কথা বলতে যেয়ে আধিপত্যবাদ, নৈরাজ্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদ আমাদেরকে মোকাবিলা করতে হয়,’ যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে হতে পারে ৩.৫ শতাংশ: আইএমএফ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর শেষ করার পর আজ বৃহস্পতিবার আইএমএফের এক বিবৃতিতে এই পূর্বাভাসের কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ঋণ কর্মসূচির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইএমএফের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে।

আইএমএফের বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফরে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করার এবং সরকারের সংস্কারের অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে আলোচনা করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ এখনো বড় ধরনের রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এই চাপ আরও বেড়েছে। এর ফলে আমদানি ও ভর্তুকি ব্যয় বেড়েছে এবং ব্যাংকিং খাতের নানামুখী চাপের মধ্যেই নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশের সম্ভাবনার কথা জানায়।

আইএমএফ বলছে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাগুলো দূর করতে পারলে মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে।

আইএমএফের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ করেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য রূপরেখা, ঋণের আকার ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে সামনের মাসগুলোতে আলোচনা চলবে।