32 C
Dhaka
Home Blog Page 14

ফ্লোরা টেলিকমের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে সুনাম, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির জন্য টেমেনোস টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার সরবরাহ ও বাস্তবায়নের কাজে ফ্লোরা টেলিকম চুক্তিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি আরও ১০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়। অগ্রণী ব্যাংকের ৯৭৯টি শাখায় টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সিস্টেম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পেয়ে আসছেন।

বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আধুনিক সফটওয়্যারকে নিয়মিত হালনাগাদ ও উন্নত সংস্করণে নেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে অগ্রণী ব্যাংকে ব্যবহৃত টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আপগ্রেডেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। প্রচলিত প্রকিউরমেন্ট বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২১ সালের মার্চ মাসে অগ্রণী ব্যাংক বিদ্যমান টি-২৪ সফটওয়্যারকে সর্বশেষ সংস্করণে আপগ্রেড করার জন্য ফ্লোরা টেলিকমের অনুকূলে কার্যাদেশ প্রদান করে। কার্যাদেশে বর্ণিত শর্তাবলি অনুসরণ করে একই বছরের এপ্রিল মাসে অগ্রণী ব্যাংক ও ফ্লোরা টেলিকমের মধ্যে যথাযথ নিয়মে চুক্তি সম্পাদিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একটি টেলিভিশন এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩১২ কোটি খরচও কাজ করে না সফটওয়্যার, ফ্লোরা টেলিকমকে ৯১ কোটি টাকার সুবিধা দেয় অগ্রণী ব্যাংক” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ফ্লোরা টেলিকম উক্ত প্রতিবেদনকে অত্যন্ত দুঃখজনক, বিভ্রান্তিকর, একপেশে, অতিরঞ্জিত এবং প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে।

প্রতিবেদনটিতে পর্যাপ্ত ও যাচাইযোগ্য তথ্য উপাত্ত কিংবা প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন না করেই দাবি করা হয়েছে যে, অগ্রণী ব্যাংক ফ্লোরা টেলিকমকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ায় ৯১ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, ফ্লোরা টেলিকমের ৪৪ শতাংশ কর অগ্রণী ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ফ্লোরা টেলিকম স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ওই সময় ডলারের মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে পরবর্তীতে প্রায় ১২৩ টাকায় উন্নীত হয়। অন্যদিকে ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় গ্রহণ করলেও টেমেনোসের প্রাপ্য অর্থ মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে টেমেনোসের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ পরিশোধে ফ্লোরা টেলিকমকে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বহন করতে হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক চ্যালেঞ্জের প্রভাব প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপরও পড়ে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও ফ্লোরা টেলিকম প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং চুক্তিবদ্ধ দায়িত্ব ও কার্যপরিধি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও কার্যাদেশের আওতায় নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিদ্যমান রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির আওতায় অগ্রণী ব্যাংককে টি-২৪ সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এ রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির মেয়াদ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে।

ফ্লোরা টেলিকম মনে করে, একটি চলমান প্রযুক্তি প্রকল্পের ব্যয়, কার্যক্রম, চুক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং সফটওয়্যারের কার্যকারিতা সম্পর্কে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে একতরফা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য প্রচার করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো বৃহৎ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি প্রকল্প সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রকল্পের চুক্তিগত ও কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লোরা টেলিকমের আরও বক্তব্য, প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও বক্তব্য পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও স্পষ্টীকরণ প্রকাশের আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফ্লোরা টেলিকম সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ ও তথ্য যাচাই করার জন্যও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড তার দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবসায়িক সুনাম, পেশাদারিত্ব ও সততার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক, ব্যবসায়িক অংশীদার, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আমাদের বিনীত আহ্বান, যাচাইবিহীন, একপেশে ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ বা প্রচারণার কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করুন এবং ফ্লোরা টেলিকমের প্রতি আপনাদের দীর্ঘদিনের আস্থা ও সমর্থন অব্যাহত রাখুন।

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার বিকল্প খুঁজতে এআইইউবি শিক্ষার্থীদের গবেষণা

দেশের প্রচলিত তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আধুনিক যানবাহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থীরা। বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যান (পিএইচইভি) নিয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ কমানো, নিরাপদ চলাচল এবং টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এআইইউবির আয়োজনে ‘From Research to Reality: How We Built the EV/PHEV Feasibility Project’ শীর্ষক গবেষণা ও উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানে এ গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন এআইইউবির বাণিজ্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও চিফ ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ড. মুস্তাফা হাসান। প্রধান বক্তা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এআইইউবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও উপদেষ্টা এবং নর্দান ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থ্রিলীফ টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক—আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক উন্নয়ন রন্টি চৌধুরী এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আল-আমরান। এ ছাড়া এআইইউবির হেড অব এমআইএস ডিপার্টমেন্ট মো. মেজবাউল হক নাহিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণায় গুরুত্ব সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কোনো প্রযুক্তি বা বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা জরুরি। এতে প্রকল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিচালিত গবেষণাকে বাস্তব সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে গবেষণার সুফল সরাসরি দেশ ও মানুষের কাজে লাগানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকরা বাংলাদেশের নগর বাস্তবতায় ইভি ও পিএইচইভি ব্যবস্থার সম্ভাবনার পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

‘গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন, কোনো ধারণা বাস্তবে প্রয়োগের আগে এর প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক দিক যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে একটি প্রকল্পের বাস্তব সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। গবেষণা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার মাধ্যমে যে কোন সমস্যা মোকাবেলা ও সমাধান করা যায় ।

তিনি তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন, “গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়ন থেকে বাস্তব প্রভাব তৈরি করতে হবে।”

তিনি জানান, থ্রিলীফ টেকনোলজিস লিমিটেড গবেষণা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও টেকসই প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এআইইউবির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবমুখী গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাতের অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রন্টি চৌধুরী বলেন, গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগে নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার সঙ্গে শিল্পখাতের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বাজার অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে বাস্তবমুখী প্রকল্প তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নগর পরিবহন ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

টেকসই পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা

সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানজট, বায়ুদূষণ, জ্বালানি ব্যয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড যানবাহন ভবিষ্যতের নগর পরিবহনে বিকল্প সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে এ ধরনের যানবাহনের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

গবেষণায় শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি

অনুষ্ঠানে এআইইউবি এফবিএ স্টুডেন্ট রিসার্চ গ্রুপের গবেষণা কার্যক্রম এবং বাংলাদেশে ইভি/পিএইচইভি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অবদান রাখা সংশ্লিষ্ট প্রধান অতিথিকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের যৌথ উদ্যোগে গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সমাধান তৈরি হবে।

ঢাকার পর্নতারকা সুমাইয়া সাঈদ গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে পর্নতারকা ও ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সুমাইয়া সাঈদকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তাকে এক দিনের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

এর আগে গত ১১ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সুমাইয়া সাঈদকে (২৫) গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে তার কথিত প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেগুলো বিক্রির বিজ্ঞাপন নজরে আসে। নথিতে তার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং কনটেন্ট বিক্রির প্যাকেজের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এসব কনটেন্ট গ্রাহকদের সরবরাহ করা হতো। মামলার নথিতে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্টের জন্য বিভিন্ন মূল্যের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে পরে টেলিগ্রাম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কনটেন্ট সরবরাহ করা হতো।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রযুক্তির সহায়তায় সুমাইয়ার অবস্থান শনাক্ত করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করা হয়। মামলার জব্দ তালিকাতেও মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের তথ্য রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া বেশ কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে অনলাইনভিত্তিক এই কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য দিয়েছেন। তদন্তকারীরা এখন ওই সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন।

এ ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, তিনি মেয়ের কথিত অনৈতিক উপার্জনের বিষয়টি জানতেন এবং সেই অর্থ গ্রহণ করতেন। তবে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তা মামলার নথিতে স্পষ্ট নয়।

মামলার নথিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের প্রচার ও বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্ট, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং যোগাযোগের মাধ্যমের তথ্যও সংযুক্ত করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ক্রিনশট ও বিভিন্ন কনটেন্টের ছবিও নথিতে সংযুক্ত রয়েছে।

এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা বলছে, চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কীভাবে কনটেন্ট সংগ্রহ ও বিতরণ করা হতো এবং এর আর্থিক লেনদেনের পরিধি কতটা—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দুজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আরবি ও বাংলা শেখার সুযোগ দিচ্ছে ‘ফিফো লার্নিং’

বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে আরবি ও বাংলা ভাষা এবং ইসলামিক শিক্ষা শেখার সুযোগ দিচ্ছে এডটেক প্ল্যাটফর্ম ‘ফিফো লার্নিং’ (FIFO Learning)।

অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে নমনীয় সময়সূচিতে ৩০ মিনিটের ইন্টারঅ্যাকটিভ লাইভ ক্লাস পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। কোর্সগুলো ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রবাসী পরিবার ও বিদেশি শিক্ষার্থীরাও সহজে এসব কোর্সে অংশ নিতে পারবেন।

ফিফো লার্নিংয়ের প্রধান কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিগিনার ইসলামিক স্টাডিজ, নিউ মুসলিম কোর্স, নূরানী কায়দা, তাজবীদ, কুরআন তিলাওয়াত, বাংলা ফাউন্ডেশন ও বাংলা অ্যাডভান্সড।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বিগিনার ইসলামিক স্টাডিজ, নিউ মুসলিম ও নূরানী কায়দা কোর্সে সপ্তাহে তিন দিনের ক্লাসের মাসিক ফি ৪৮ ডলার এবং পাঁচ দিনের ক্লাসের ফি ৮০ ডলার। তাজবীদ ও কুরআন তিলাওয়াত কোর্সে সপ্তাহে তিন দিনের ফি ৬০ ডলার এবং পাঁচ দিনের ফি ১০০ ডলার। বাংলা ফাউন্ডেশন কোর্সের ফি ৪৮ ও ৮০ ডলার এবং বাংলা অ্যাডভান্সড কোর্সের ফি ৬০ ও ১০০ ডলার।

শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ান-অন-ওয়ান মনোযোগ, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সহযোগিতামূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোর্সগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক সনদের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ফিফো লার্নিং এলএলসি-এর ফাউন্ডার তৌহিদ হোসেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অনলাইন আরবি ও বাংলা কোর্সগুলোতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কার্যক্রম শুরু হলেও এখন অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও কোর্স উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পরিচিতদের জন্য প্রথম মাসে ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। আগ্রহীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন।

আগ্রহীরা ফিফো লার্নিংয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। ওয়েবসাইট: fifolearning.com, ফেসবুক: FIFOLearning, হোয়াটসঅ্যাপ: +1 571 946 6604

এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ঢাকায় প্রতি আসনে ১৫২ আবেদনকারী

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) প্রতিটি জেলার নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য দেশব্যাপী প্রায় ৮৩ হাজার আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এসব আবেদনকারী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। সে হিসাবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ৩২ জনের বেশি বৈধ আবেদনকারী প্রতিযোগিতা করছেন। ঢাকা জেলায় ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৭৮০ জন। ফলে সেখানে প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ১৫২ জন আবেদনকারী।

লিখিত পরীক্ষা চলাকালে ঢাকার কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পরিচালনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় একই সময়ে সুষ্ঠুভাবে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার আলোকে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে।

তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে ৩০ জুলাই। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে আগামী ২ আগস্ট থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে মোট ১১ হাজার ২০০ জন যুব ও যুব নারীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জন বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জন অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ দুই মাস। এ সময়ে ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বেসিক এআই প্রশিক্ষণে চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফট কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, গ্রামারলি, কুইলবট, জ্যাসপার, ক্যানভা, পিক্সলার, ইনভিডিও এবং ইলেভেনল্যাবস ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণে রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, মিডজার্নি, ট্যাবলো, জ্যাপিয়ার, ডিসক্রিপ্ট, ক্লিকআপ, নোশন এআই, ডরিক এআই, আহরেফস, সেলসফোর্স, হাবস্পট, কপি ডট এআই, অ্যাডোবি সেনসেই, ড্যাল-ই এবং ভিও প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রশিক্ষণে কেবল বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের কৌশল নয়, এআইভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও নির্মাণ, ডেটা বিশ্লেষণ, অটোমেশন, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দেশে যাত্রা শুরু করল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতির প্রতিষ্ঠান ‘হেইগা’

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বয়ংক্রিয় আলোকসজ্জা প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘হেইগা’। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, অংশীদার এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (২৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হেইগার স্বয়ংক্রিয় সংবেদনশীল বাতিতে ‘মোশন সেন্সর’ এবং আলো শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষের উপস্থিতি ও আশপাশের আলোর মাত্রা অনুযায়ী বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ও নিভে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রচলিত বাতির তুলনায় সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

হেইগা জানায়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় গৃহ ও কার্যালয় ব্যবস্থাপনা পণ্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্মার্ট সুইচ, দরজার ঘণ্টা, প্লাগসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও প্রযুক্তিপণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হেইগার দেশীয় ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে ঘর ও প্রতিষ্ঠানে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে আমরা কাজ করব।”

হেইগার পণ্য ও সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট www.hegabd.com-এ পাওয়া যাবে।

ট্রান্সকমের বিরুদ্ধে ১২০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ

শিল্পগোষ্ঠী ট্রান্সকম গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ১২০ কোটি ৩০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া এবং নীতি বিভাগ ও তদন্ত অধিদপ্তরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চিঠি চালাচালির কারণে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে বড় অঙ্কের রাজস্ব দাবির বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়ে যেতে পারে।

তদন্তে যা উঠে এসেছে
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্রান্সকম লিমিটেড দক্ষিণ কমলাপুরের ঠিকানায় ভ্যাট নিবন্ধন নেয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দা ও নিরীক্ষা দল প্রতিষ্ঠানটির ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কার্যক্রমের ওপর অনুসন্ধান শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি উঠে আসে।

তদন্তে অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত চলাকালেই নিজেদের ভ্যাট নিবন্ধন সংশোধন করে সেবাকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর (আইটি) সেবা হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে। এর ফলে যেখানে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধের কথা ছিল, সেখানে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান শুরু করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের কারণে সরকারের সুদসহ প্রায় ৬২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। আর যদি এই শ্রেণি পরিবর্তন না করা হতো, তাহলে ট্রান্সকমের ভ্যাট দায় দাঁড়াত প্রায় ১২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।


অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি হিসাবপত্রে “ম্যানেজমেন্ট এক্সপেন্স” নামে একটি খাত ব্যবহার করেছে। তদন্তকারী দলের দাবি, এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যয়ের খাত নয়; বরং আয়ের অর্থ সেখানে দেখানো হয়েছে, যা ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্তে ধীরগতি ও নীতি বিভাগের মতামতের অপেক্ষা
ট্রান্সকমের ব্যাখ্যার পর ভ্যাট নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি নিয়ে আইনি ও নীতিগত ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভ্যাট নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহম্মদ জাকির হোসেন এনবিআরের মূসক নীতি বিভাগের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চান, “ম্যানেজমেন্ট এক্সপেন্স” খাতের ওপর ১৫ শতাংশ নাকি ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় সচিবের মাধ্যমে আবারও জরুরি ভিত্তিতে নীতি বিভাগের মতামত চাওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকেও বিষয়টির অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়।

এর আগে ৬ মে দেওয়া এক চিঠিতে মহাপরিচালক জাকির হোসেন জানান, বোর্ডের আনুষ্ঠানিক মতামত না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কমিশনারেট ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। পরে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্তব্য নিতে ব্যর্থ এনবিআর
ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে মন্তব্য চাওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল মামুনও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, মূসক নীতি বিভাগের কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, ট্রান্সকমের ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

অন্যান্য অভিযোগও আলোচনায়
ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের পাশাপাশি ট্রান্সকম গ্রুপকে ঘিরে অতীতের বিভিন্ন বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের এক প্রতিবেদনে ট্রান্সকমের সম্পদ ও শেয়ারসংক্রান্ত অনিয়ম, আরজেএসসিতে জমা দেওয়া নথিপত্রের সত্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ট্রান্সকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হলেও তিনি এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শেয়ার জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় সিমিন রহমানসহ সংশ্লিষ্ট আসামিরা আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। ফলে ওই অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যদিও সেগুলো নিয়ে জনপরিসরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই প্রায় ১২০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ নতুন করে ট্রান্সকম গ্রুপকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ট্রান্সকমের ব্যাখ্যা
তবে ট্রান্সকম গ্রুপ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, “ম্যানেজমেন্ট এক্সপেন্স” নামে উল্লেখিত অর্থ আসলে আইটি সাপোর্ট সার্ভিস থেকে অর্জিত আয়, যা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার আওতায় পড়ে। তাদের মতে, বিদ্যমান ভ্যাট আইন অনুযায়ী এ ধরনের সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য প্রায় পৌনে সাত কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে এবং যে ভ্যাট কমিশনারেটের মাধ্যমে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেও কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। তাই এনবিআরের আগের দাবিনামা সংশোধন করে নতুন দাবিনামা জারির অনুরোধও জানায় ট্রান্সকম।

প্রতারণা ও যৌতুক দাবি: বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ডে আজিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ফিনল্যান্ডে বসবাসরত এক প্রবাসী নারীর কাছে যৌতুক দাবি এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বাসিন্দা মো. আজিমুর রহমান ওরফে আজিম গাজীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফিনল্যান্ডেও একাধিক ফৌজদারি মামলায় আদালতের পরোয়ানা রয়েছে বলে মামলার আর্জি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জুলাই দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারার একটি মামলা আমলে নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

মামলার আর্জি অনুযায়ী, বাদী বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ডের দ্বৈত নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে ফিনল্যান্ডে বসবাস করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে পরিচয়ের পর মো. আজিমুর রহমান নিজেকে অবিবাহিত এবং সাবেক সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে আত্মহত্যার ভয়ভীতি, মানসিক চাপ এবং আবেগের সুযোগ নিয়ে তাকে বিয়েতে সম্মত করানো হয়। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি ঢাকার মিরপুরের একটি কাজী অফিসে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

আর্জিতে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে বাদীর কাছ থেকে ধার, সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলে ধারাবাহিকভাবে অর্থ নেওয়া শুরু করেন আসামি। বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় এবং পরবর্তীতে ফিনল্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় ভিসা, বিমানভাড়া, হোটেল খরচ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স, পারিবারিক ব্যয়, জমি-সংক্রান্ত বিষয়, ব্যবসা, মায়ের চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে তিনি বারবার অর্থ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, বাদীর পরিবারের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে অর্থ নেওয়া হয়। এমনকি বাদীর মায়ের বন্ধক রাখা জমি ছাড়ানোর জন্যও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাদীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, নগদ অর্থ এবং পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মোট প্রায় ৯০ লাখ টাকা আসামিকে দেওয়া হয়েছে। এসব লেনদেনের উল্লেখযোগ্য অংশের ব্যাংক ও আর্থিক নথি তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও আর্জিতে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া, বিয়ের পর ফিনল্যান্ডে যাওয়ার আগে বাদীর পরিবারের কাছ থেকে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার গ্রহণ করেন আসামি। পরে ওই স্বর্ণ ফেরত চাইলে তা আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে যাওয়ার পর আসামি বাংলাদেশের পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রাজকীয় বাড়ি নির্মাণ, ফিনল্যান্ডে একটি বার স্থাপনের জন্য ৮ কোটি টাকা দাবি করেন। সর্বশেষ ২০ জুন বাংলাদেশে একটি খামার স্থাপনের জন্য ৪২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে বাদী যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

বাদীর অভিযোগ, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরে তিনি জরুরি সেবায় ফোন করলে ফিনল্যান্ডের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিকে আটক করে। ওই ঘটনার পর পুলিশি তদন্ত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং অন্যান্য নথির ভিত্তিতে ফিনল্যান্ডে একাধিক মামলা দায়ের হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ফিনল্যান্ডে মো. আজিমুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন, প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে ইউরোপে যাওয়ার অভিযোগ, জোরপূর্বক অর্থ আদায় ও ভরণপোষণের ব্যয় বহনে বাধ্য করা, ম্যারিটিয়াল রেপ এবং শিশুর সামনে অনৈতিক আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগসহ মোট চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগের সমর্থনে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সনদও রয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফিনিশ পুলিশ তাকে খুঁজছে এবং তিনি ইউরোপের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছেন। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব আইনি জটিলতার কারণে তার বিরুদ্ধে ইউরোপে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তিনি শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছেন বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে।

এদিকে, বাংলাদেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির খবর পাওয়ার পর মো. আজিমুর রহমান কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আর্জিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসামি বর্তমানে বাদীকে তালাক না দিয়ে নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করছেন। একই সঙ্গে, বিয়ের আগে নিজের পূর্বের একাধিক বিবাহের তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর দাবি, এসব ঘটনার ফলে তিনি এবং তার সন্তান গুরুতর মানসিক ট্রমা, বিষণ্নতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বর্তমানে তারা ফিনল্যান্ডে চিকিৎসা ও থেরাপি নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসামির মা মোছা. কহিনুর বেগম, ভাই বরিশাল যমুনা ব্যাংকে কর্মরত মো. আরিফুর রহমান, ভাইয়ের বউ মনিপুর কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা লিটা, বোন রুমা এবং বোনের স্বামী জাকিরকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি; বরং আসামিকে সমর্থন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদী আদালতের কাছে অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রেফতার, যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা, তার কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত এবং অন্যান্য আইনি প্রতিকার চেয়েছেন।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আজিমুর রহমান ওরফে আজিম গাজীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলো ব্রিটিশ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘ভল্ট’

ব্রিটিশ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘ভল্ট’ বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেটে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমেদ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভল্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের শতভাগ মালিকানাধীন ‘ভল্ট’ যুক্তরাজ্যের হসপিটালিটি খাতে পেমেন্ট সলিউশন ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সেবা দিয়ে আসছে। গত এক দশক ধরে এর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিচালনা কাঠামো সিলেটভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ইওটেক’ পরিচালনা করছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের হসপিটালিটি খাতে ডিজিটাল পেমেন্ট ও ফিনটেক সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে ভল্টের বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশভিত্তিক প্রযুক্তি সক্ষমতাও ব্যবহৃত হবে।

দেশে নতুন ফিনটেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরুর প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমেদ বলেন, ভল্টের এই উদ্যোগ সিলেটের প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতার প্রতিফলন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। স্থানীয় মার্চেন্টদের ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত করতে যুক্তরাজ্যের ট্রানজেকশন প্রসেসিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর এ উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে ভল্ট হোল্ডিংসের কো-ফাউন্ডার ও সিপিও এবং ভল্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আসাদ জামান বলেন, সিলেটের প্রকৌশলীরা এক দশক ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এই ইকো-সিস্টেমের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নগদ লেনদেন থেকে সরে এসে ডেটা-চালিত ডিজিটাল অপারেশন ও ম্যানেজমেন্ট টুল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনায় প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।

বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে ফাইবারে ভুয়া অর্ডার দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর র‍্যাংক নামানোর অভিযোগ

দেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ও সততা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে ‘বিটোপিয়া’ নামক একটি গ্রুপ অব কোম্পানিজ। আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস ফাইবারে প্রতিদ্বন্দ্বীদের গিগ র‍্যাংক ডাউন করানো, ভুয়া অর্ডার দিয়ে ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নিজস্ব কর্মীদের পাসপোর্ট জব্দসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত দেশের ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটি।

ঘটনার সূত্রপাত ও এম এন নাহিদের অভিযোগ
বিতর্কের শুরু হয় ফ্রিল্যান্সার এম এন নাহিদের একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিটোপিয়া’ গ্রুপ সুপরিকল্পিতভাবে তার ফাইভার গিগে ভুয়া অর্ডার প্রদান করে এবং পরবর্তীতে তা বাতিল করে দেয়। ফাইভারের অ্যালগরিদম অনুযায়ী, বারবার অর্ডার বাতিল হওয়ায় তার গিগের র‍্যাংক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নাহিদ প্রমাণ হিসেবে দেখান যে, তাকে দেওয়া অর্ডারের ব্রিফে যে ফিগ্মা ফাইল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটির মালিক ও এডিটর বিটোপিয়ারই একজন কর্মী।

আইনি চাপ ও রহস্যজনক সমঝোতা
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিটোপিয়া গ্রুপ বিষয়টি অস্বীকার করে এবং নাহিদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করে। পুলিশের মাধ্যমে থানায় তলব করা হলে নাহিদ সেখানে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ থেকে একটি ‘সমঝোতা’ ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে একে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করা হয়। তবে এই সমঝোতা নিয়ে কমিউনিটিতে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সচেতন ফ্রিল্যান্সারদের দাবি, থানায় ডেকে নিয়ে নাহিদকে এক প্রকার চাপে ফেলে এই ভিডিও করতে বাধ্য করা হয়েছে। বিটোপিয়া তাদের ব্যাখ্যামূলক ভিডিওতে কিছু প্রমাণ দিলেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা বলছেন, সেগুলো ‘ইন্সপেক্ট এলিমেন্ট’ দিয়ে মডিফাই করা হতে পারে।

প্রাক্তন কর্মীর চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি
ঘটনা নতুন মোড় নেয় যখন বিটোপিয়ার এক প্রাক্তন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। শাকের আদনান নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টে ওই কর্মীর জবানবন্দি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বিটোপিয়া গ্রুপ সত্যিই প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘায়েল করতে এবং নিজেদের গিগ র‍্যাংক করাতে ভুয়া অর্ডারের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এটি প্রতিষ্ঠানটির একটি নিয়মিত চর্চা।

পাসপোর্ট জব্দ ও কর্মী নির্যাতনের অভিযোগ
বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে শুধু মার্কেটপ্লেসে জালিয়াতি নয়, বরং কর্মীদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ উঠেছে। বিটোপিয়া লিমিটেড, সফটভেন্স, স্পার্কটেক এজেন্সি, বিডিকলিং, জেনেক্সক্লাউডসহ প্রায় ২২টি প্রতিষ্ঠানের এই গ্রুপের বিরুদ্ধে কর্মীদের পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, কর্মীদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ফাইভারে অ্যাকাউন্ট খোলা হয় এবং সেগুলো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এছাড়া কর্মীদের শারীরিক নির্যাতন, বেতন বৈষম্য এবং চাকরি ছাড়তে চাইলে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর মতো ভয়ংকর অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগীরা।

কমিউনিটির প্রতিক্রিয়া
প্রখ্যাত ফ্রিল্যান্সার শামসুদ্দিন চৌধুরী দেলোয়ার এই বিষয়ে লিখেছেন, বিটোপিয়ার ব্যাখ্যার মধ্যে অনেক ফাঁক রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কর্মীদের পাসপোর্ট রাখা বা গার্মেন্টসের মতো আচরণ করা কোনোভাবেই একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাস্থ্যকর প্র্যাকটিস হতে পারে না। অন্যদিকে মহব্বত জান ও মো. ইমরুল ইসলামের মতো ফ্রিল্যান্সাররা প্রশ্ন তুলেছেন—বাংলাদেশে কেন একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে? তারা এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বিটোপিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি সমাধান করেছি।”
অন্যদিকে বিটোপিয়া গ্রুপের চেয়ারপারসন সাবিনা আক্তার বলেন, “আমাদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। আগামীতে এমন ভুল আমরা আর করবো না।”

শঙ্কার মুখে ফ্রিল্যান্সিং খাতের ভবিষ্যৎ
দেশের ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর যখন বিশ্ব দরবারে নিজেদের সুনাম গড়ছে, তখন বিটোপিয়ার মতো বড় গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সাধারণ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অশনিসংকেত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ‘ওপেন সিক্রেট’ অনিয়মগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।

বর্তমানে গ্রুপটির অধীনে পরিচালিত উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বিটোপিয়া লিমিটেড, সফটভেন্স, স্পার্কটেক এজেন্সি, এসএম টেকনোলজি, জেভিএআই, জেনেক্সক্লাউড, ব্যাকবেঞ্চার স্টুডিও, স্কেলআপ, বিডিকলিং, পালসগ্রিড, বিডিকলিং এন্টারপ্রাইজ, ফায়ার এআই, পিক্সেলোরা স্টুডিও এবং জেনকোর। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই চলছে কর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও অনৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা।