22.9 C
Dhaka
Home Blog Page 2

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে রুবেলের অবসর

পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাইরে থাকা পেসার রুবেল হোসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে রুবেল বাংলাদেশের হয়ে ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে ও ২৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার শিকার ১৯৩ উইকেট। এর মধ্যে টেস্ট ও ওয়ানডেতে একবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। ৩৬ বছর বয়সী এই বোলার ২০২১ সালের ১ এপ্রিল অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শেষবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে রুবেল লিখেছেন, ‘জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালাম।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রুবেল। তিনি ২০২০ সালে সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন। এছাড়া, ২০২৪ সালে শেষবার লিস্ট ‘এ’ এবং ২০২৫ সালে শেষবার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নেন। অর্থাৎ গত প্রায় ১৬ মাস তাকে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে দেখা যায়নি।

রুবেল আরও লিখেছেন, ‘ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস। অনেক ভালোবাসা সবার প্রতি।’

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গতিময় পেসার হিসেবে পরিচিত রুবেল দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। বিশেষ করে, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ উইকেটটি নিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেন তিনি। এছাড়া, ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৪-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়েও শেষ উইকেটটি নেন।

২০১৩ সালে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্বও রয়েছে রুবেলের ঝুলিতে। ওই ম্যাচে তিনি শিকার করেছিলেন ২৬ রানে ৬ উইকেট, যা মাশরাফি বিন মর্তুজার সাথে যৌথভাবে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার। সাদা বলের ক্রিকেটে তার পরিসংখ্যান মাঝারি হলেও লাল বলের ক্রিকেটে তা ছিল অনুজ্জ্বল। ২৭ টেস্টের ৪৪ ইনিংসে ৭৬.৭৭ গড়ে তার উইকেট সংখ্যা মাত্র ৩৬টি।

রুবেলের ক্যারিয়ারে মাঠের বাইরের বিতর্কও কম ছিল না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এক মামলায় ২০১৫ সালে তাকে তিন দিনের জন্য জেল খাটতে হয়। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেন। এরপর চোটের পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার নিয়ম-কানুন না মানায় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সাময়িকভাবে বাদ পড়েন তিনি। আর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ ও অসংলগ্ন ভাষা ব্যবহারের দায়ে আইসিসির আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণেও বেশ কয়েকবার শাস্তি পান।

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে গেল বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর শীর্ষ অবস্থান থেকে ছিটকে গেছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) গতকাল এই তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে উঠে এসেছে ভিয়েতনাম। দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা চীন এখন তৃতীয়।

অটেক্সার পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। অবশ্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের এই রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। বছরের প্রথম দুই মাসে তাদের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করতে পেরেছে।

সার্বিকভাবে বিশ্ববাজার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। আলোচ্য দুই মাসে দেশটি মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।

নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য ধরে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে এবং কোনোভাবে যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ প্রথমবারের মতো তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান।

প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করতে হবে, সবকিছু যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসব, তবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাফেরা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।’

তিনি নেতাকর্মীদের দ্রুত সড়ক ফাঁকা করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দলীয় কার্যালয়ে এলে সাংগঠনিক কাজ করা যাবে এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হবে। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারব, না থাকলে পারব না।’

নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, আইনশৃঙ্খলার ভেতরে থাকতে হবে এবং আমাদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে নানা সমস্যা রয়েছে—এসব বিষয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে এবং তাদের ধৈর্য ধারণে সহযোগিতা করতে হবে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে দলের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই কোনো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেন মানুষের কষ্ট বা অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সড়ক স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের এখন প্রথম কাজ হচ্ছে রাস্তাটা ক্লিয়ার করা।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা না হলে তার পক্ষে সেখানে আসা কঠিন হবে।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি ব্যালকনিতে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া তারেক রহমান কার্যালয়ে সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

‘রাক্ষস’ একটি রোমান্টিক সিনেমা: সিয়াম আহমেদ

সিয়াম আহমেদ ঢাকাই সিনেমার একজন দর্শকপ্রিয় নায়ক। এবারের ঈদে তার অভিনীত নতুন সিনেমা রাক্ষস মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান হৃদয়।

ইতোমধ্যে সিনেমার ট্রেলার রিলিজ করা হয়েছে। ট্রেলার মুক্তির পর প্রশংসায় ভাসছেন সিয়াম। দর্শকরা বেশ ইতিবাচকভাবেই বিষয়টিকে দেখছেন। শোবিজ তারকারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আলোচিত ট্রেলার ও সিনেমা নিয়ে প্রশংসাবাক্য লিখছেন।

নতুন সিনেমা নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেন এই দর্শকনন্দিত অভিনেতা। 

এত সব প্রশংসা কীভাবে দেখছেন? এই প্রশ্নের জবাবে সিয়াম বলেন, ‘খুব ভালোভাবেই দেখছি। সবার ভালোবাসা পাচ্ছি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। দর্শকরা এখনো রাক্ষস সিনেমার পঁচিশ ভাগও দেখেননি। এতে অনেক চমক অপেক্ষা করছে। প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার পরই তা দেখতে পাবেন দর্শকরা।’

সিয়াম বলেন, ‘রাক্ষস একটি রোমান্টিক সিনেমা। রাক্ষসের আরেকটি চমক এখানেই। দর্শকরা নানারকম মন্তব্য করছেন। অ্যাকশন সিনেমা থেকে শুরু করে নানারকম মন্তব্য করছেন। ইতিবাচক মন্তব্যই করছেন। আমি বলব এটি রোমান্টিক সিনেমা।’

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক বড় বড় যুদ্ধ কিন্তু রোমান্সের জন্য হয়েছে। রাক্ষস দেখার পর তা টের পাওয়া যাবে।’

‘রাক্ষস ঈদের জন্য সুন্দর উপহার। ঈদের সময় দর্শকরা ভালো একটি সিনেমা দেখতে পারবেন। পুরোপুরি বিনোদনমূলক সিনেমা এটি’, যোগ করেন তিনি। 

সিয়াম বলেন, ‘দর্শকদের উদ্দেশে বলব, ‘পোড়ামন টু যখন নির্মিত হয়, তখন আমি পরিচিত ছিলাম না। দর্শকরাই আমাকে সামনে নিয়ে এসেছেন, ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন। আমার প্রতিটি সফলতায় তারা পাশে থেকেছেন, আপন করে নিয়েছেন। প্রত্যেকবার সিনেমা মুক্তির সময় তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি। এবার রাক্ষস সিনেমা দিয়েও তা পাব আশা করি।’
তিনি বলেন, ‘আমি দর্শকদের এমন কিছু দিতে চাই যা মনে থাকবে অনেকদিন। রাক্ষস সিনেমায় তা পাবেন। অনেক কিছু আছে এই সিনেমায়।’

রাক্ষস সিনেমার জন্য টানা দশ দিন ফাইটের দৃশ্যের শুটিং করেছেন সিয়াম আহমেদ। ফাইট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন বম্বের নামি ডিরেক্টর এজাজ মাস্টার।

সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘টানা দশ দিন শুটিং করেছি ফাইট দৃশ্যগুলোর। দেশের বাইরে একটি দিন শুটিং মিস দেওয়া মানে প্রযোজক ও পরিচালকের অনেক অর্থ লোকসান হওয়া। সেজন্য টানা কাজ করেছি। এভাবে টানা ফাইটের শুটিং করতে গিয়ে শরীরের মধ্যে কাঁটা-ছেঁড়া হয়েছে, ব্যথা হয়েছে। কিন্তু শুটিং বাদ দিইনি। বরং পরের দৃশ্য করার জন্য রেডি হয়েছি। শুটিং শেষ করার পর এজাজ মাস্টার ও তার টিম যেভাবে প্রশংসা করেছেন তা সত্যিই ভুলবার নয়।’

রাক্ষস নিয়ে কতটা এক্সাইটেড? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাক্ষস সিনেমা নিয়ে আমি অনেক এক্সাইটেড। অনেক দিন ধরে কাজ করেছি। অনেক পরিশ্রম করেছি।’ 

 

 

ট্রেলার মুক্তির আগে কোনো টেনশন কাজ করেছে কী? জবাবে সিয়াম বলেন, ‘টেনশন না, বারবার ভেবেছি দর্শকরা কীভাবে নেবেন? তারা এতটাই ভালোভাবে নিয়েছেন সত্যিই ভালো লাগছে।’

এই সিনেমা নিয়ে প্রত্যাশা কতটুকু? তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশা অনেক। আমি আশাবাদী।’
‘বরবাদ’ সিনেমাটি পরিচালনা করে আলোচনায় আসেন মেহেদী হাসান হৃদয়। রাক্ষস সিনেমার পরিচালকও তিনি। 

সিয়াম বলেন, ‘কাজের বিষয়ে পরিচালক হৃদয় অনেক উদ্যমি। যত মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি,  তাদের মধ্যে সবচেয়ে উদ্যমি একজন পরিচালক তিনি। তার স্বপ্ন অনেক। তিনি পরিশ্রমী মানুষ। তার সঙ্গে ভালো একটা রসায়ন তৈরি হয়েছে রাক্ষস করতে গিয়ে।’

 

তিনি বলেন, ‘পরিচালক হৃদয় ভাই দর্শকদের কথা ভাবেন। বিনোদন বোঝেন। দুজনে সামনে আরো বড় কিছু করব।’

ঈদে মুক্তি পেতে যাওয়া অন্যান্য সিনেমার বিষয়ে সিয়াম বলেন, ‘এটা জেনে খুব ভালো লাগছে যে এবারের ঈদে একইসঙ্গে অনেকগুলো সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। সবই আমাদের সিনেমা। আমাদের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। শাকিব ভাইয়ের প্রিন্স আসছে। বনলতা এক্সপ্রেস আসছে। ওই সিনেমায় আমার চঞ্চল কাকা, সাবিলা, আমার বন্ধু রাজ, মোশাররফ করিম ভাই, বাঁধন আপু, মম আপু, শ্যামল সহ অনেকেই আছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম সিনেমার নায়িকা পূজা চেরি অভিনিত ‘দম’ সিনেমাটিও এবারের ঈদে মুক্তি পাবে। নির্মাণ করেছেন আমার প্রথম নাটকের পরিচালক রেদোয়ান রনি। কাজেই সবই তো আমরাই। যেজন্য ভালো লাগছে অনেক বেশি। তাছাড়া, আমার আপন মানুষ, আমার প্রথম সিনেমার পরিচালক রায়হান রাফীর প্রেসার কুকার আসছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে ভিন্ন কিছু হবে।’

সিয়াম বলেন, ‘দেখুন, সব তো আমাদেরই। আমরা সবাই আপন। রাক্ষস সহ প্রতিটি সিনেমার প্রতি ভালোবাসা রইলো।’

সকল আমদানি পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপানো ঢালাও শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তিনি আমদানি পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণা করার পরপরই শুক্রবার ওভাল অফিসে তিনি এই শুল্ক আদেশে সই করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, এই আদেশ ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে। গত এক বছর ধরে তিনি বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে আসছিলেন।

হোয়াইট হাউসের তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, নতুন এই শুল্ক আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং ১৫০ দিন বহাল থাকবে। তবে ওষুধশিল্পসহ বিশেষ কয়েকটি খাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে, সেগুলো এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, যেসব বাণিজ্যিক অংশীদার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইতোমধ্যে শুল্ক সমঝোতায় পৌঁছেছে, তাদেরও এখন ১০ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে ‘আরও যথাযথভাবে শুল্ক বাস্তবায়নের’ উপায় খুঁজবে।

এর আগে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দেন যে ১৯৭৭ সালের যে আইনের ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর হঠাৎ শুল্ক আরোপ করছিলেন, তা প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এই রায়ের ফলে নিজের দেশে শক্ত আইনি বাধার মুখে পড়লেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প নিজে যে দুজন বিচারপতিকে নিয়োগ দিয়েছিলেন, তারাও এই রায়ের পক্ষে অবস্থান নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাম্প বলেন, আদালত বিদেশি স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। তবে নিজের এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি আদালতের কিছু সদস্যের জন্য লজ্জিত, একেবারেই লজ্জিত। আমাদের দেশের জন্য যা সঠিক, তা করার সাহস তাদের নেই।’

ডালাসের ইকোনমিক ক্লাবে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, বিকল্প পদ্ধতিতে ২০২৬ সালে শুল্ক রাজস্ব অপরিবর্তিত থাকবে।

আদালতকে ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, শুল্ক অবৈধ প্রমাণিত হলে আমদানিকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আদায় করা শুল্ক ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু রায়ে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ট্রাম্প বলেছেন, অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর আইনি লড়াই চলতে পারে। ট্রাম্পের পক্ষে থাকা একমাত্র বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানিও উল্লেখ করেছেন, অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ‘বিশৃঙ্খল’ হতে পারে।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পেন ওয়ারটন বাজেট মডেলের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আদালতের এই রায়ের ফলে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, যিনি ২০২৮ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বলেন, এই ‘অবৈধ অর্থ লুট’ থেকে আমেরিকানদের টাকা ফেরত পাওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে নেওয়া প্রতিটি ডলার সুদসহ অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।’

ইয়েল ইউনিভার্সিটির বাজেট ল্যাব বলছে, শুক্রবারের সিদ্ধান্তের পর ভোক্তাদের ওপর গড় শুল্কহার ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়াবে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে। কানাডা আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে।

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে: সালাহউদ্দিন

নবগঠিত বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সরকারের প্রথম দিন একটা কেবিনেট মিটিং করতে হয়। আমরা সবাই বসেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন, কিছু অনুশাসন দিয়েছেন।

‘সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হয়। আমরা এবার ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি,’ যোগ করেন তিনি।

সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে যেন সমস্যা না হয়, গ্যাস-বিদ্যুতের প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রাথমিক অগ্রাধিকার বলে জানান সালাহউদ্দিন।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রথা অনুযায়ী সচিবদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের বলেছেন যে, জনগণ আমাদের ম্যানিফেস্টোর ওপর ম্যান্ডেট দিয়েছে। সুতরাং যেটা জনগণের ইচ্ছা সেটাই প্রাধান্য পাবে। সে হিসেবে সরকারের ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্তরিক হবেন।’

‘সবাইকে আমরা বলেছি যে, কার কী অ্যাফিলিয়েশন আছে সেটা আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব,’ যোগ করেন তিনি।

জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রয়োজন সরকার-ব্যবসায়ীর সমন্বিত কৌশল

বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন অর্থনীতি, উৎপাদন ও জনজীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এই বাস্তবতায় একটি বিষয় স্পষ্ট—সরকার বা ব্যবসায়ী কেউই এককভাবে এই সংকট সামাল দিতে পারবে না। বরং টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত, বাস্তবমুখী ও আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক, যেখানে সরকার ও ব্যবসায়ীরা একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।

প্রথমত, জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ে শিল্প উৎপাদনে। বিদ্যুৎ ঘাটতি, গ্যাসের সংকট কিংবা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনেক কারখানা আংশিকভাবে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ত, বাজারে মূল্যস্ফীতির যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে সরকার একদিকে যেমন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণও সমানভাবে জরুরি। যদি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, মজুদদারি বাড়ে বা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়, তাহলে সংকট আরও তীব্র হবে। তাই এই সময়ে ব্যবসায়ীদের উচিত দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরির দিকে নজর দেওয়া, স্বল্পমেয়াদি মুনাফার দিকে নয়।

তৃতীয়ত, জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য। অনেক শিল্প খাতে এখনো পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে জ্বালানির অপচয় বেশি। সরকার যদি প্রণোদনা দিয়ে আধুনিক, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেয় এবং ব্যবসায়ীরা সেটি গ্রহণ করেন, তাহলে সামগ্রিকভাবে জ্বালানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। এখানে যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চতুর্থত, বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে হবে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি কিংবা এলএনজি—এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তবে এই খাতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের এককভাবে এগিয়ে আসা কঠিন। তাই সরকারকে নীতিগত স্থিতিশীলতা, কর সুবিধা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বড় ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোকে এগিয়ে এসে উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

পঞ্চমত, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক সময় পরিকল্পনার ঘাটতি, সমন্বয়ের অভাব এবং তথ্যের অস্বচ্ছতা সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে। যদি সরকার ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ হয়, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়, তাহলে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা সহজ হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মানসিকতা পরিবর্তন। সংকট মানেই আতঙ্ক নয়, বরং এটি নতুন করে ভাবার সুযোগ। যারা এই সময়ে নিজেদের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করতে পারবে, খরচ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে এবং দক্ষতা বাড়াতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে। এখানে সরকার দিকনির্দেশনা দিতে পারে, আর ব্যবসায়ীরা বাস্তবায়ন করতে পারে।

জ্বালানি সংকট কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এটি একটি সমন্বয় ও নেতৃত্বের পরীক্ষা। সরকার যদি নীতিগত স্থিরতা, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে এবং ব্যবসায়ীরা যদি দায়িত্বশীল, দূরদর্শী ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করে, তাহলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

আজকের চ্যালেঞ্জই আগামী দিনের সম্ভাবনা তৈরি করে। তাই বিভক্ত না হয়ে, প্রতিযোগিতার সংকীর্ণতা ছেড়ে, সরকার ও ব্যবসায়ীদের এখনই একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, জ্বালানির এই দুঃসময়ে টিকে থাকার একটাই পথ—ঐক্য, সমন্বয় ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত।

মো. তরিকুল ইসলাম; লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

ডোপিং নিষেধাজ্ঞা: কাঠামোগত দুর্বলতা কি তবে প্রকাশ্য?

সাউথ এশিয়ান গেমসে দু’বার স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়ার ডোপ টেস্টে নিষিদ্ধ ওষুধের উপস্থিতি মিলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া—সব ধরনের প্রতিযোগিতায় দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি।

গত ১৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলে আসছেন ২৮ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট। এর আগে অসংখ্যবার ডোপ টেস্ট দিয়েও কোনো ঝামেলায় পড়েননি। ফলে এবারের নিষেধাজ্ঞা নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—এটি কি স্রেফ অসাবধানতা, নাকি ডোপিং নিয়ম সম্পর্কে অজ্ঞতা?

যেভাবে এলো নিষেধাজ্ঞা

সাউথ এশিয়ান আঞ্চলিক ডোপ-বিরোধী সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্ব ডোপ-বিরোধী সংস্থা (ওয়াদা) বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) বিষয়টি জানায়। গত বৃহস্পতিবার বিওএ আনুষ্ঠানিকভাবে মাবিয়াকে নিষিদ্ধ করার চিঠি দেয়। নমুনা সংগ্রহের তারিখ অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ধরা হয়েছে।

নভেম্বরে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিওএ ২৬ জন অ্যাথলেটের নমুনা নিয়েছিল। সেখানেই মাবিয়ার নমুনায় ‘ফুরোসেমাইড’ ও ‘ক্যানরেনোন’ নামের নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

ভুলটি কোথায় ছিল?

মাবিয়ার দাবি, হাঁটুর ইনজুরির কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি কিছু ওষুধ খাচ্ছিলেন, যার মধ্যে যে নিষিদ্ধ উপাদান আছে তা তিনি জানতেন না। তবে বিওএ-র ডোপ-বিরোধী কমিটির সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো ওষুধ খাওয়ার আগেই কমিটির মাধ্যমে ওয়াদার অনুমতি নিতে হয়, যা মাবিয়া করেননি।

মাবিয়া বলেন, ‘নমুনা দেওয়ার সময় আমি সাত-আট মাস ধরে হাঁটুর চিকিৎসা নিচ্ছিলাম। আমি আমার প্রেসক্রিপশন জমা দিলেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। ১৫ জানুয়ারি বিওএ-র কাছ থেকে প্রথম জানতে পারি যে ফুরোসেমাইড একটি নিষিদ্ধ ওষুধ।’

অন্যদিকে ডা. শফিকুলের মতে, ‘খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সবার আগে, তবে ওষুধের ক্ষেত্রে নিয়ম মানতে হবে। কয়েক বছর আগে শুটার আরমিন আশা যেভাবে অনুমতি নিয়েছিলেন, মাবিয়া তেমন কোনো অনুমতি নেননি।’

সচেতনতার অভাব

এই ঘটনা আমাদের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মাবিয়ার অভিযোগ, ‘সেমিনারে আমাদের শুধু প্রেসক্রিপশন রাখার কথা বলা হয়েছিল। ওষুধ খাওয়ার আগে কমিটির অনুমতি নিতে হবে—এমনটা আগে কখনো জানানো হয়নি। এমনকি প্যারাসিটামলও নিরাপদ বলা হয়েছিল। ১৫ বছরের ক্যারিয়ার কেন আমি জেনেশুনে ধ্বংস করব?’

মাবিয়া এরই মধ্যে চার মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেলেছেন। তবে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি ফেডারেশন ও বিওএ-র সহযোগিতা চেয়েছেন।

যুদ্ধের প্রভাবে দেশের বাজারে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বেড়েছে

গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধান পাইকারি বাজারগুলোতে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসলার দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বিঘ্ন—এসব কারণে পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে।

তাদের মতে, এগুলোর কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার। সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যাপ্ত মজুত থাকার কারণে রমজানে বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। তবে ঈদের পর সরবরাহ কমায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বড় আকারের ঘাটতি না থাকলেও দামের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

তার ভাষ্য, ‘কিছু পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে, কারণ আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে এবং আমদানি ব্যয় বেড়েছে।’

ভোজ্যতেলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সয়াবিন তেলের।

আব্দুর রাজ্জাক জানান, খাতুনগঞ্জে এক মণ সয়াবিন তেলের দাম এখন ৭ হাজার ৪০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ হাজার ৬০০ টাকা। পাম অয়েল বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৪৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৬ হাজার টাকা।

ঢাকার কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক জানান, কারওয়ানবাজারে বোতলজাত তেলের দাম তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, বলা যায় অপরিবর্তিতই আছে। তবে ঈদের পর খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি মণে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা বেড়ে ৬ হাজার ৬০০ থেকে ৬ হাজার ৭০০ টাকায় পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকেই ভোজ্যতেল আমদানি করে।

এনবিআর ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সয়াবিন তেল ও কাঁচা তেলবীজ আসে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পাম অয়েল মূলত আসে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে।

এ বিষয়ে বড় একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এসব পণ্যের কোনো চালানই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে না। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব এখানেও দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘পিংক শিট’ অনুযায়ী, মার্চে পাম অয়েলের গড় দাম ছিল প্রতি টনে ১ হাজার ১০৩ ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১ হাজার ০৩৯ ডলার এবং জানুয়ারিতে ১ হাজার ০০৫ ডলার।

সয়াবিন তেলের দাম আরও বেশি বেড়েছে। সয়াবিন তেলের দাম ফেব্রুয়ারির ১ হাজার ২৮২ ডলার থেকে বেড়ে মার্চে ১ হাজার ৪৮২ ডলারে পৌঁছেছে, অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।

সয়াবিন মিলের দামও বেড়ে মার্চে হয়েছে ৪৭৩ ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৪২৫ ডলার।

ডেল্টা অ্যাগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, বৈশ্বিকাভাবে আমদানি খচর বাড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, দেড় মাসের মধ্যে তেলবীজের দাম ৪৩৫ থেকে ৪৫০ ডলার বেড়ে প্রায় ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে, এবং এটি আরও বেড়ে ৫৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা দেখে তিনি আশঙ্কা করেন, সয়াবিন তেলের দাম টনপ্রতি ১ হাজার ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সিটি গ্রুপের বিজনেস ডেভলেপমেন্ট পরিচালক লুৎফুল কবির শাহীন বলেন, যুদ্ধের পর পরিবহন খরচ ২ থেকে আড়াই গুণ বেড়ে গেছে, এটাই মূল কারণ।

তবে এ বিষয়ে মেঘনা গ্রুপের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, এটি হঠাৎ কোনো সংকট নয়, বরং বাজারে চলমান চাপের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ‘পণ্য আছে, কিন্তু দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে—তাই সরবরাহ কম বলে মনে হচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আতঙ্কে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিনছে। এতে বাজারে চাপ বেড়েছে।

তিনি অভিযোগ করনে, ‘বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কম, আর খাতুনগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের পাইকাররা নিজেদের মতো দাম নির্ধারণ করছেন।’

খাতুনগঞ্জে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মসলা ও শুকনা ফলের। যেগুলোর বেশিরভাগ মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া থেকে আসে, সে কারণে দাম দ্রুত বাড়ছে।

পেস্তাবাদামের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে কেজিতে ৪ হাজার ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। শুকনা আলুবোখারার দাম ১৬০ শতাংশের বেশি বেড়ে ১ হাজার ৩২০ টাকা হয়েছে। এই দুই পণ্য মূলত ইরান ও আফগানিস্তান থেকে আসে।

কিশমিশ, জিরা, জায়ফল ও জয়ত্রী—এসবের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেহেতু এসব পণ্যের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, তাই সেখানে সরবরাহে সমস্যা হলে বাংলাদেশের বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে।

কিশমিশ আসে ইরান, আফগানিস্তান, তুরস্ক ও উজবেকিস্তান থেকে। জিরা আসে ভারত, সিরিয়া ও তুরস্ক থেকে। জায়ফল ও জয়ত্রী আসে প্রধানত ইন্দোনেশিয়া থেকে।

চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে প্রতি মণ ৩ হাজার ৫৫০ টাকা হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩ হাজার ৪২০ টাকা। বাংলাদেশ প্রধানত ব্রাজিল, ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে চিনি আমদানি করে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে বিশ্ববাজারে চিনির দাম কেজিতে ০.৩৩ ডলার হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ০.৩১ ডলার।
২০২৩ সালে ০.৫২ ডলারে ওঠার পর থেকে চিনির দাম নিম্নমুখী ছিল। ২০২৪ সালে ছিল ০.৪৫ ডলার, ২০২৫ সালে ০.৩৭ ডলার।

বাংলাদেশের প্রধান আমদানি পণ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে না এলেও, বৈশ্বিক শিপিং ব্যবস্থার বিঘ্নের কারণে পরিবহন খরচ অনেক বেড়েছে।

শীর্ষ একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আগে প্রতি টনে পরিবহন খরচ ছিল ৩৫ ডলার, যা এখন বেড়ে ৫৫ ডলার হয়েছে—অর্থাৎ ৫৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি মার্চের শুরু থেকেই অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করেছে।

মার্স্ক ৩ মার্চ গালফ অঞ্চলের (সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, ওমান) জন্য জরুরি পরিবহন চার্জ ঘোষণা করে—২০ ফুট কনটেইনারে ১ হাজার ৮০০ ডলার, ৪০ ফুটে ৩ হাজার ডলার, এবং রেফ্রিজারেটেড ইউনিটে ৩ হাজার ৮০০ ডলার।

সিএমএ সিজিএম ২ মার্চ একই ধরনের জরুরি চার্জ ঘোষণা করে যথাক্রমে ২ হাজার, ৩ হাজার ও ৪ হাজার ডলার।

এছাড়া ১৬ মার্চ থেকে তারা ৭৫ থেকে ১৮০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ আরোপ করে।

এমএসসি ৫ মার্চ ভারতীয় উপমহাদেশ (বাংলাদেশসহ) থেকে পূর্ব আফ্রিকা ও ভারত মহাসাগরগামী পণ্যের ওপর ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার যুদ্ধকালীন অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করে।

৭ মার্চ তারা ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ ও লোহিত সাগরমুখী পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ২০০ ডলার অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ আরোপ করে।

আর কত লোক মারা গেলে সড়কমন্ত্রী অস্বস্তি বোধ করবেন, প্রশ্ন জামায়াত এমপির

‘এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল’ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম।

তিনি বলেন, ‘আর কত লোক মারা গেলে তিনি (সড়ক পরিবহনমন্ত্রী) অস্বস্তিবোধ করবেন?’

আজ সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রশ্ন করেন।

সাইফুল আলম বলেন, ‘গতকাল রোববার সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ঈদযাত্রা সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘ঈদযাত্রায় স্বস্তি ছিল।’’ কিন্তু ঈদযাত্রার স্বস্তিটা আপনাদের সামনে বলতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বিআরটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদযাত্রায় ১৭০ জন মারা গেছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৭০ জন। এরপর আমরা দেখলাম, দৌলতদিয়ায় একটা আস্ত বাস পানির নিচে চলে গেল। আমাদের সড়কমন্ত্রী বললেন, ‘‘স্বস্তির যাত্রা ছিল।’’ আমার প্রশ্ন হলো—আর কত লোক মারা গেলে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন?’

সাইফুল আলম বলেন, ‘দৌলতদিয়ায় এত মানুষ মারা গেল কিন্তু সড়ক পরিবহনমন্ত্রী গেলেন না। ওখানে যারা মারা গেছেন, তাদের মাত্র ২৫ হাজার টাকা…জীবনের মূল্য মাত্র ২৫ হাজার টাকা! আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো ওয়েস্ট মিনিস্টার সংসদীয় ফলো করি। ব্রিটেন হলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এতক্ষণ পদত্যাগ করতেন।’

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘সড়ক পরিবহনমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কি না? তিনি পদত্যাগের চিন্তা করবেন কি না?’

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘প্রশ্নোত্তরকালে সবার অধিকার রক্ষা হচ্ছে। কিন্তু একটা বিষয়, আজ মাত্র পাঁচটি প্রশ্ন (তারকা চিহিৃত) উত্থাপিত হয়েছে। আমরা মনে করেছিলাম এক ঘণ্টায় ২০-২৫ প্রশ্নোত্তরকাল চলতে পারে। সংসদে এমপিদের প্রশ্ন উত্থাপন ও মন্ত্রীদের উত্তর দেওয়ার বিষয়টি আপনি নিয়ন্ত্রণ করেন, তাহলে সবার স্বার্থটা রক্ষা হয়।’

মন্ত্রীরা অনেক বিজ্ঞ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন এক রকম, কিন্তু তার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বৈপরীত্য দেখা গেছে। যেটা আইনমন্ত্রী জবাব দেবেন, সেটা আইনমন্ত্রী দিলেই ভালো হয়। আমরা আইনমন্ত্রীর বক্তব্যটা গ্রহণ করতে পারি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য রাখেন, সেটাতে ভিন্নতা রাখা হয়।’ মন্ত্রীদের প্রাসঙ্গিক অনুযায়ী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন জামায়াতের এই এমপি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে নিয়ে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের জবাব দিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘তিনি আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। বিএনপি এমন নেতার আদর্শে গঠিত, সেখানে কোনো বিভাজন নেই। যাদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তি, তাদের মধ্যে বিভাজন নেই।’