27.3 C
Dhaka

এনএসইউতে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ট্রাস্টি শাহজাহানের বিরুদ্ধে তদন্তে ইউজিসি

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যৌন নিপীড়নমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ট্রাস্টি সদস্য মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ইউজিসি। গত ১৪ মে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই ট্রাস্টি সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে নারী কর্মীদের হয়রানি এবং নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি দিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগপত্রে এক নারী ল্যাব ইনস্ট্রাক্টরের শ্লীলতাহানির ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বিচার হওয়ার পরিবর্তে উল্টো ওই নারীর বেতন এক লাফে ৬০ হাজার টাকা বাড়ানো হয়। এছাড়া সিপিসি বিভাগে জনবল নিয়োগ ও এমবিএ কোর্সে ওয়েভার দেওয়ার ক্ষেত্রেও শাহজাহানের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব কাজ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইউজিসির পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূইয়া স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কমিশনে প্রাপ্ত এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের দুর্নীতিবাজ সদস্য মো. শাহজাহানের কালো থাবা হতে বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার মাধ্যমে দুর্নীতি ও যৌন নিপীড়নমুক্ত উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক ওই আবেদনের অভিযোগসমূহ তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক ইউজিসি বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রীদের ভয়ভীতি ও প্রলোভনের মাধ্যমে যৌন হয়রানি, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, পদোন্নতি এবং আর্থিক অনিয়মের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ল্যাব ইনস্ট্রাক্টর ট্রাস্টি শাহজাহানের গাড়িতে শ্লীলতাহানির শিকার হন। পরবর্তীতে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ওই নারীর বেতন এক লাফে ৬০ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আদিবা ইবনাত বুশরা নামের একজনকে সিপিসি বিভাগে নিয়োগ এবং এমবিএ কোর্সে শতভাগ ওয়েভার দেওয়ার পেছনেও শাহজাহানের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে প্রিয়াঙ্কা ও সুস্মিতা হালদার নামের দুই কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি ও পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মো. শাহজাহান গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্ট কমিটির (সিডিসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল তছরুপ করেছেন। বিশেষ করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি তরিকুলের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১ থেকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে ভর্তি করানো এবং প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করে স্কলারশিপ বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তিনি পরিচালনা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী অভিভাবক তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ট্রাস্টি শাহজাহানের ক্ষমতার প্রভাবে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি ইতিপূর্বে সাবেক এক নারী শিক্ষকের দেওয়া যৌন হয়রানির অভিযোগও অদৃশ্য ইশারায় ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর কোনো যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি না থাকাকে এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইউজিসির এই চিঠির অনুলিপি শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে। কমিশনের এই নির্দেশনার ফলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Related Articles

Latest Articles