22.9 C
Dhaka
Home Blog Page 11

এলিয়েন ও ইউএফও সংক্রান্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

কয়েক দশক ধরে মার্কিনিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অজানা উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) ও ভিনগ্রহের প্রাণী (এলিয়েন) সম্পর্কিত সরকারি নথি ‘সনাক্ত ও প্রকাশের’ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এএফপি বলছে, ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘মানুষের বিপুল আগ্রহ থাকায় আমি যুদ্ধবিষয়ক সচিব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে ভিনগ্রহের প্রাণী ও বহির্জাগতিক জীবন, অজ্ঞাত আকাশীয় ঘটনা (ইউএপি) এবং অজানা উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) সম্পর্কিত সরকারি নথি সনাক্ত ও প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেবো।’

তবে শ্রেণিবদ্ধ (ক্লাসিফায়েড) নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি আরও বলেন, এসব নথিতে ‘অত্যন্ত জটিল হলেও ভীষণ আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

এর আগে, একই দিনে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তার ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরি বারাক ওবামা সম্প্রতি এক পডকাস্টে ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে ‘শ্রেণিবদ্ধ’ তথ্য প্রকাশ করেছেন।

নেভাদায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অতি গোপন সামরিক স্থাপনাকে ঘিরে ইউএফও সংক্রান্ত বহু ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচলিত আছে।

ওই পডকাস্ট সঞ্চালক ব্রায়ান টাইলার কোহেনকে ওবামা বলেন, ‘ওগুলো বাস্তব, তবে আমি নিজে দেখিনি এবং সেগুলো এরিয়া ৫১-এ লুকিয়ে রাখা হয়নি।’

ওবামা আরও বলেন, ‘সেখানে কোনো ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নেই। অবশ্য যদি বিশাল কোনো ষড়যন্ত্র থেকে থাকে এবং তারা তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেও গোপন রাখে, সেটা ভিন্ন কথা।’

গতকাল এ মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ওবামা ‘শ্রেণিবদ্ধ তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা তার করা উচিত হয়নি।’

তবে ওবামার বক্তব্যের কোন অংশটি শ্রেণিবদ্ধ, তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি, শুধু দাবি করেন, ‘তিনি বড় ভুল করেছেন।’

ভিনগ্রহের প্রাণী বিষয়ে নিজের বিশ্বাস প্রসঙ্গে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা সত্যি কি না, আমি জানি না।’

পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্বের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএফও ও ইউএপি নিয়ে মানুষের আগ্রহ আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বহু রহস্যময় উড়োজাহাজ-সদৃশ ঘটনার তদন্ত করেছে, যেখানে আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরীক্ষা চালাতে পারে।

২০২৪ সালের মার্চে পেন্টাগন এক প্রতিবেদনে জানায়, ইউএপি যে ভিনগ্রহের প্রযুক্তি, এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। অনেক সন্দেহজনক ঘটনার পেছনে আবহাওয়াবিষয়ক বেলুন, গোয়েন্দা বিমান, স্যাটেলাইট ও অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রম জড়িত ছিল।

শপথ নিলেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা

প্রথম দফায় শপথ নিয়েছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তাদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পর্যায়ক্রমে শপথবাক্য পাঠ করানোর কথা রয়েছে।

সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার শপথ পড়ানোর দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সিইসি এই দায়িত্ব পালন করলেন। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে শুরুতে সংসদ সদস্যদের সামনে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত জানান। ১১টা ৩০ মিনিটে সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

বিএনপি জোটের নতুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে সামনের সারিতে ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত অনুষ্ঠিত হয়।  শপথ নেওয়ার পর সংসদ সদস্যরা শপথপত্রে সই করেন।

এর আগে সকাল ৯টার পরপরই সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সদস্যরা আসতে শুরু করেন। বাইরে ছিল সাধারণ মানুষের ভিড়, আর সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জিতেছে। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন।

বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফল ঘোষণা করা হয়নি।

সাংবাদিকের বয়ানে মুজিবনগর সরকারের শপথ

একটি অনুষ্ঠান ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, কঠোর গোপনীয়তা। রোমাঞ্চকর উত্তেজনা ভারতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয়। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক জনসংযোগের ঘটনা ছিল এটি। পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর আক্রমণ ঠেকাতে বসেছে অ্যন্টি-এয়ারক্রাফট গানের কয়েকটি ইউনিট। এদিকে যুদ্ধের খবর সংগ্রহের জন্য কলকাতায় অবস্থান করা বিদেশি সাংবাদিকদের হোটেলে হোটেলে ঘুরে ভোর চারটায় কলকাতা প্রেসক্লাবে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। স্কুপ বা ব্রেকিং নিউজের জন্য তাদের নেওয়া হয়েছিল এক অজ্ঞাত স্থানে।

সেদিন ২০০ বিদেশি সাংবাদিকের জন্য ভাড়া করা হয়েছিল ৬০টি গাড়ি। অন্যদিকে যুদ্ধের ডামাডোলে ওইদিন ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে তা জানতে উদগ্রীব ছিলেন কলকাতার মার্কিন কনসাল জেনারেল জর্জ জি বি গ্রিফিন ও ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার। পুরো শপথ অনুষ্ঠানটি আয়োজনে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সমীর বসু ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল আই রক্ষী এক অসাধ্য সাধন করেছিলেন, যাকে ‘হারকিউলিয়ান টাস্ক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৭ এপ্রিলের ওই আয়োজনটি ছিল মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠান।

১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী সরকারের সংবেদনশীল এই আয়োজন খুব কাছ থেকে দেখেছেন দ্য স্টেটসম্যানের তৎকালীন সাংবাদিক মানস ঘোষ। ‘বাংলাদেশ ওয়ার: রিপোর্ট ফ্রম গ্রাইন্ড জিরো’ গ্রন্থটিতে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি। এই গ্রন্থে ‘দ্য ইন্দিরা-তাজ মিটিং’ শিরোনামের একটি অধ্যায় আছে, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের শ্বাসরুদ্ধকর চিত্র।

১৯৭১ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইন্দিরা গান্ধী ও তার উচ্চপর্যায়ের সহযোগীদের সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদের দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত করা। ইন্দিরা গান্ধী সরকারের নীতি-নির্ধারকরা একমত হয়েছিলেন—বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে বিশ্ববাসীর সমর্থন আদায় ও আইনগত ভিত্তি তৈরিতে প্রবাসী সরকারের শপথ প্রকাশ্যে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে হওয়া খুব প্রয়োজন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, প্রথম দফায় ব্যর্থ হওয়ার পর শপথের জন্য নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয় মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানকে, যা পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার খুব কাছে। আর এই জায়গার সঙ্গে কলকাতার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল যুতসই। এই শপথ অনুষ্ঠানের স্থান নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল প্রবাসী সরকারের সদস্য ও বিদেশি সাংবাদিকদের যাতায়াত।

শপথের এই স্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা ছিল বিএসএফের তৎকালীন প্রধান কেএফ রুস্তমজি ও আঞ্চলিক প্রধান গোলক মজুমদারের। মেহেরপুরের এই আমবাগানের তিন দিকে ভারতের সীমান্ত। যে কারণে আকাশপথে এখানে পাকিস্তানের আক্রমণের ঝুঁকি কম ছিল। এরপরও ভারতীয় আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানি বিমান হামলা ঠেকাতে শপথ অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে বসানো হয়েছিল অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান।

সাংবাদিক মানস ঘোষের মতে, ১৯৭১ সালের এপ্রিলে যুদ্ধের খবর সংগ্রহে ভারতে সবচেয়ে বেশি বিদেশি সাংবাদিক অবস্থান করছিলেন। এর আগে ১৯৬২ সালে ভারত-চীন অথবা ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের খবর সংগ্রহের সময় এত বেশি বিদেশি সাংবাদিক একসঙ্গে ভারতে অবস্থান করেননি। এই সাংবাদিকদের ঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা ছিল একটি কঠিন কাজ। আবার শপথের আগে নিরাপত্তার স্বার্থে মূল ঘটনা কাউকে জানাতে চায়নি ভারত সরকার। তাই ছিল উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ভোরে বিদেশি সাংবাদিকরা যখন কলকাতা প্রেসক্লাবে আসেন, তখন কেউই জানতেন না তাদের গন্তব্য কোথায়। এমনকি কলকাতার সংবাদপত্র দ্য স্টেটসম্যানের সাংবাদিক মানস ঘোষও জানতেন না তাদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে। এমনকি গাড়ির চালকও জানতেন না গন্তব্য। চালকদের জন্য নির্দেশনা ছিল ভিভিআইপি কনভয় অনুসরণ করার। এর বাইরে কেউই তেমন কিছু জানতেন না। মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের ভিভিআইপি কনভয়ে ছিল ভারতীয় কমান্ডোদের কড়া নিরাপত্তা। পেছনে চলছিল সাংবাদিকদের গাড়ির বহর।

মানস ঘোষ উল্লেখ করেছেন, কলকাতা থেকে রওনা হওয়ার পর কল্যাণী এলাকায় পৌঁছে তারা বুঝতে পারেন ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী তাদেরকে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তার আগে তিনিসহ বিদেশি সাংবাদিকরা ঘুণাক্ষরেও জানতেন না আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে, তাদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে! কলকাতা থেকে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা পথে গাড়িবহরটি একবার যাত্রাবিরতি নিয়েছিল। তখন মানস ঘোষ দেখতে পান, তাজউদ্দীন আহমদের বিশেষ সহযোগী ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম একটি নথি খুব মনোযোগ দিয়ে বারবার পড়ছেন। পরে তিনি জানতে পারেন, এটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্র।

সাংবাদিক মানস ঘোষের তথ্য অনুযায়ী, মুবিজনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয় দেখভাল করছিলেন খসরু ফরমোরজ রুস্তমজী ও গোলক মজুমদার। এই দুইজনের মাধ্যমে শপথের দিন আরও দুইজন বাংলাদেশি কূটনীতিক বৈদ্যনাথতলায় উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন পাকিস্তানের দিল্লি হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব কেএম সাহাবুদ্দিন ও সহকারী প্রেস কর্মকর্তা আমজাদুল হক। ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলে তাদের দুইজনকে পাকিস্তানের দিল্লি দূতাবাস থেকে অপমানজনকভাবে থেকে বের করে দিয়েছিল পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। এমনকি তাদের মালপত্রও রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ভারতীয় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সহযোগিতায় এই দুই কর্মকর্তা মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।

শপথের জন্য ভিভিআইপি ও সাংবাদিকদের নিয়ে গাড়িবহরটি বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে পৌঁছায় সকাল ১১টার দিকে। ঘন আমবাগানের আচ্ছাদনে ছিল বিএসএফের কড়া নিরাপত্তা। পশ্চিমবঙ্গের ভূখণ্ডে বনগাঁও ও কল্যাণীর আকাশে ছিল ভারতীয় যুদ্ধবিমান। আশঙ্কা ছিল—যেকোনো সময় পাকিস্তানি বিমান আক্রমণ করতে পারে।

কলকাতা থেকে প্রায় ৭ ঘণ্টার যাত্রা শেষে মেহেরপুরের আমবাগানে পৌঁছেও বিদেশি সাংবাদিকরা তাদের সেখানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে পারেনি। কোথায় স্কুপ, কোথায় ব্রেকিং নিউজ! স্বভাবতই তারা খুব বিরক্ত ছিলেন। কয়েকজন মার্কিন সাংবাদিক প্রবল বিরক্তির সঙ্গে প্রশ্ন করেছিলেন—আপনারা কি আমাদের আমের ফলন দেখাতে এই বাগানে নিয়ে এসেছেন? সেই সময় বাংলাদেশের পক্ষে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, নাটকীয় কিছু দেখার জন্য দয়া করে আরেকটু অপেক্ষা করুন। তখন পাশের একটি গ্রাম থেকে হারমোনিয়াম আনা হয়। কয়েকজন ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি অনুশীলন করেন। ইতোমধ্যেই সীমান্তের দুই পাশ থেকেই কিছু উৎসুক মানুষ আমবাগানে জড়ো হয়েছিলেন। অনেকেই গাছে উঠে পড়েন ঠিক কী ঘটছে তা ভালোভাবে দেখার জন্য। যদিও এই আমবাগানে কী ঘটতে যাচ্ছে তা বেশিরভাগ মানুষই জানতেন না।

সাংবাদিক মানস ঘোষ উল্লেখ করেন, এক পর্যায়ে তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব একটা সামান্য উঁচু স্টেজে ওঠেন। তখনই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। এটা মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ অনুষ্ঠান। এরপর দিনাজপুরের জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) অধ্যাপক ইউসূফ আলী বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এতে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর অধ্যাপক ইউসূফ আলী অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে শপথ পড়ান। গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। এরপর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও পাঁচজন মন্ত্রী সামান্য উঁচু ওই মঞ্চে গিয়ে দাঁড়ান। সাংবাদিকরা মুজিবনগর সরকারের ঐতিহাসিক ছবিটি তোলেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।

এতকিছুর মাধ্যমেই সফলভাবে শপথ নেয় মুজিবনগর সরকার। এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নাইজেরিয়ার বায়াফ্রা অঞ্চলের মতো কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নয়, এটি ন্যায়সঙ্গত স্বাধীনতা সংগ্রাম। এর শক্ত আইনি ভিত্তি আছে। আর এই যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে আইনসিদ্ধ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি বৈধ সরকারের মাধ্যমে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

তথ্যসূত্র:
• The Indira-Taj meeting (Page: 104-112), Bangladesh War: Report from ground zero, New Delhi
• Ghosh, Manash (2021) Bangladesh War: Report from ground zero, New Delhi: Niyogi Books
• হাসান, মঈদুল (২০১০) মূলধারা ৭১, ঢাকা: ইউপিএল 
• ইসলাম, আমীর-উল (১৯৯১) মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ঢাকা: কাগজ প্রকাশনা
• সাক্ষাৎকার ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম (২০১৫)

উজবেকিস্তানের সঙ্গে ড্র, এশিয়ান গেমসে জায়গা পেতে প্লে-অফের সামনে বাংলাদেশ

নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের সঙ্গে ড্র করে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই ফলাফলের ফলে এ বছরের এশিয়ান গেমসে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করার জন্য তাদের এখন প্লে-অফ ম্যাচে অংশ নিতে হবে।

ব্যাংককে সোমবার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। এতে করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা চার দলের গ্রুপে তিন ম্যাচ থেকে চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে। উজবেকিস্তানের পয়েন্টও চার হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তারা গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে সেমিফাইনালে পা রেখেছে। গত ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩-২ গোলে হারানো শ্রীলঙ্কা গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে।

এর আগে বাংলাদেশ তাদের অভিযান শুরু করেছিল চাইনিজ তাইপেইর বিপক্ষে ৪-৩ ব্যবধানের একটি কষ্টসাধ্য জয় দিয়ে।

এর ফলে, বৃহস্পতিবার  প্লে-অফ ম্যাচে গ্রুপ ‘এ’-র চতুর্থ স্থানে থাকা দলের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ, তবে প্রতিপক্ষ কে হবে তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। এই ম্যাচে জয় পেলে এশিয়ান গেমসে জায়গা নিশ্চিত হবে, কিন্তু হারলে এই মহাদেশীয় বৃহৎ ক্রীড়া আসর থেকে ছিটকে যেতে হবে তাদের। ১১ দলের এই টুর্নামেন্টটি মহাদেশের দ্বিতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত, যেখান থেকে শীর্ষ ছয়টি দল এ বছরের শেষের দিকে জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে খেলার টিকিট পাবে।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ষষ্ঠ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। গোলটি করেন মিরনশখ ওরটিকবায়েভ। তবে দমে না গিয়ে লড়াই চালিয়ে যায় এবং ৩০ মিনিট পর আমিরুল ইসলাম পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে সমতা ফেরান।

উভয় দলই পরবর্তীতে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ পেনাল্টি কর্নার নিয়ে বেশ ধুঁকেছে; ছয়টি সুযোগ পেলেও তারা একটি থেকেও গোল আদায় করতে পারেনি।

 

মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্য রপ্তানিতে যুদ্ধের ধাক্কা, কমছে ক্রয় আদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি ধাক্কার মুখে পড়েছে। চলমান যুদ্ধের প্রভাবে পণ্য পরিবহন খরচ চার গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন ক্রয় আদেশও কমেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের আগে এক কনটেইনার প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পাঠাতে খরচ হতো প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর পণ্য রপ্তানিতে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ডলারে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বাজার থেকে ক্রয় আদেশের পরিমাণও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।’

উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। এই তালিকায় আছে—মসলা, বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর, নুডলস, সরিষার তেল, পানীয় এবং নাশতাসামগ্রী। এসব পণ্যের প্রধান ক্রেতা হলো ওই অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই বাজারের আকার ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে আছে—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন।

আহসান খান চৌধুরী জানান, আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পণ্য পাঠানো হতো পাঁচ থেকে ছয়টি বন্দর দিয়ে।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং অন্যান্য বন্দরে পাল্টা হামলার কারণে এখন রপ্তানিকারকদের হাতে কার্যত কেবল জেদ্দা বন্দরই খোলা আছে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত এই সৌদি বন্দরের ওপর বাড়তি চাপ।’

তিনি আরও জানান, এই সমস্যাগুলোর পাশাপাশি এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে পণ্য পাঠাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এখনো কারখানার উৎপাদনে প্রভাব পড়েনি, তবে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে খুব শিগগিরই উৎপাদন কমানো অনিবার্য হয়ে উঠবে।’

বোম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের আন্তর্জাতিক বিপণন ব্যবস্থাপক রেজাউল হক খন্দকার জানান, যুদ্ধের জন্য তারা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রীক রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন।

পারটেক্স স্টার গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ড্যানিশ ফুডস লিমিটেডের বিজনেস প্রধান সাইদুল আজহার সারওয়ার বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে এক ধরনের ‘যুদ্ধ খরচ’ যুক্ত হয়েছে, যা মোট খরচের পরিমাণ বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকেরা পণ্য নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব পণ্য ইতোমধ্যে পথে আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

তার মতে, মোট ব্যয় অন্তত ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে অনেক ক্রেতাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় অর্ডার পিছিয়ে দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে চাকরির অনিশ্চয়তা বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে তাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের চাহিদা কমতে পারে।

সিটি গ্রুপের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর লুৎফুল কবির শাহীন জানান, শিপমেন্টের সময়সূচি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রেও পণ্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে এবং ট্রানজিট সময় প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

তবে তিনি বলেন, উৎপাদন মোটামুটি ঠিক আছে। কোম্পানিগুলো নতুন নতুন পথ ব্যবহার করছে, যেমন দুবাই হয়ে পণ্য পাঠানো। খাদ্যপণ্যের চাহিদা ঠিকই আছে, কিন্তু রপ্তানি প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে বেশি জটিল হয়ে গেছে, তাই কাজ করতে বাড়তি পরিকল্পনা ও নমনীয়তা দরকার হচ্ছে।

সিটি গ্রুপের মতোই, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের রপ্তানি প্রধান সামিরা রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য তাদের উৎপাদন এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কারখানার কাজ ঠিকমতো চলছে। সব কিছু পরিকল্পনা করে এবং ঠিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা চালিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে পণ্য পাঠানোর (লজিস্টিকস) সমস্যা এখনো আছে।’

তিনি আরও বলেন, অনেক শিপিং কোম্পানি নতুন অর্ডার নিচ্ছে না, এমনকি আগের অর্ডারও বাতিল করছে। এতে পণ্য পাঠানোর সময়সূচি ঠিক রাখা যাচ্ছে না, আর ঝুঁকির কারণে খরচও বাড়ছে।

তার ভাষ্য, ‘যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে অতিরিক্ত চার্জ যোগ হওয়ায় কিছু রুটে—যেমন ওমানে পণ্য পাঠাতে খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি থেকে বছরে প্রায় ৪০–৪৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয়। আর ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কৃষিখাত থেকে মোট আয় হয়েছে ৬৫ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার।

রাজশাহীতে আ. লীগের ব্যানারে ইফতারে আন্দোলনের শপথ, তদন্তে পুলিশ

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর শাখার ব্যানারে ইফতার মাহফিল আয়োজনের খবর পাওয়া গেছে। 

ওই আয়োজনে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে।

ইফতার আয়োজনের ঘটনাটি কবে ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তারা তদন্ত শুরু করেছে।

ওই ইফতার আয়োজনের একটি ভিডিও সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে ফিরিয়ে আনার শপথ নিচ্ছেন।

তবে আয়োজনে অংশ নেওয়া কারও চেহারা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি ভিডিও দেখে।

ভিডিও ফুটেজে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা রাজশাহী-৩ আসনের কারাবন্দি সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও শপথ নিচ্ছেন।

বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইফতার মাহফিলে শপথ নেওয়ার এই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। 

এতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০-৬০ জন উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার গাজীউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ঘটনাটি আদৌ রাজশাহীতে ঘটেছে কি না, কারা এর আয়োজন করেছে এবং কখন এটি হয়েছে—তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈদে টেলিভিশনে দেখা যাবে যে ১৪ সিনেমা

ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর থাকে বাড়তি আয়োজন। এবারও উৎসবের সাত দিন ধরে দর্শকদের জন্য সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠান সূচি।

প্রতি দিন সকাল ৯টা এবং দুপুর ১টায় দীপ্ত টিভির পর্দায় দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন জনপ্রিয় সিনেমাগুলো। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ঈদে যে ১৪টি সিনেমা প্রচার হবে।

ঈদের দিন দুপুর ১টায় প্রচারিত হবে ‘তাণ্ডব’ (ওয়ার্ল্ড টিভি প্রিমিয়ার)। তাণ্ডব ২০২৫ সালের আলোচিত একটি সিনেমা। এটি পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফি। তাণ্ডবে অভিনয় করেছেন—শাকিব খান, সাবিলা নূর ও জয়া আহসানসহ অনেকে।

ঈদের দিন সকাল ৯টায় প্রচারিত হবে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘ওমর’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন—শরিফুল রাজ, দর্শনা বণিক।

ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল ৯টায় প্রচারিত হবে রায়হান রাফির পরিচালনায় বাংলা সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’। এতে অভিনয় করেছেন—আরফান নিশো, তমা মির্জা এবং দুপুর ১টায় প্রচারিত হবে জয়দীপ মুখার্জী পরিচালিত বাংলা সিনেমা ‘শিকারি’। এতে অভিনয় করেছেন—শাকিব খান, শ্রাবন্তী।

ঈদের তৃতীয় দিন সকাল ৯টায় প্রচারিত হবে দীপংকর দীপনের পরিচালনায় বাংলা সিনেমা ‘অন্তর্জাল’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন—সিয়াম আহমেদ, বিদ্যা সিনহা মিম, সুনেরাহ বিনতে কামাল, এবিএম সুমন। দুপুর ১টায় প্রচারিত হবে রায়হান রাফির পরিচালনায় বাংলা সিনেমা ‘তুফান’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান, মিমি চক্রবর্তী, নাবিলা, চঞ্চল চৌধুরী।

ঈদের চতুর্থ দিন সকাল ৯টায় প্রচারিত হবে চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত ‘প্রহেলিকা’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন—মাহফুজ আহমেদ, শবনম বুবলি। দুপুর ১টায় প্রচারিত হবে জয়দ্বীপ মুখার্জী পরিচালিত ‘নবাব’। এই সিনেমাতে অভিনয় করেছেন—শাকিব খান, শুভশ্রী, রজতাভ দত্ত।

ঈদের পঞ্চম দিন সকাল ৯টায় প্রচারিত হবে ‘ধ্যাততেরিকি’। এতে অভিনয় করেছেন—আরেফিন শুভ, নুসরাত ফারিয়া। দুপুর ১টায় প্রচারিত হবে কাজী হায়াৎ-এর ‘বীর’। বীরে অভিনয় করেছেন—শাকিব খান, শবনম বুবলী।

ঈদের ষষ্ঠ দিন প্রচারিত হবে ‘মা বাবার স্বপ্ন’। এতে অভিনয় করেছেন—মান্না, অপু বিশ্বাস। দুপুর ১টায় প্রচারিত হবে ‘নোলক’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন—শাকিব খান, ববি।

ঈদের সপ্তম দিন প্রচারিত হবে খেয়া ঘাটের মাঝি। এতে অভিনয় করেছেন—ফেরদৌস, শাবনূর। দুপুর ১টায়প্রচারিত হবে ‘মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি’। এতে অভিনয় করেছেন—শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস।

ফ্লোরিডার পাম বিচ বিমানবন্দরের নাম বদলে ‘ট্রাম্প বিমানবন্দর’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে নামকরণ হতে যাচ্ছে ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরের। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসে ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে।

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

এক কালের আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্প রাজনীতিতে আসার আগেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উঁচু উঁচু ভবনে নিজের নাম যুক্ত করেছেন। 

এবার নিজ অঙ্গরাজ্যের বিমানবন্দরের নাম বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প।

ফ্লোরিডার পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই রিপাবলিকান দলের আধিপত্য। স্থানীয় কংগ্রেসে তাই সহজেই এই বিল পাস হয়। 

প্রস্তাব মতে, পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখা হবে। 

এক কালে ট্রাম্পের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত গভর্নর রন ডিস্যান্টিস শিগগির এই বিলে সই দেবেন বলে জানা গেছে। বিল সই হলেই তাই আইন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বিমানবন্দরের নাম বদলে আর কোনো বাধা থাকবে না। 

ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বিলাসবহুল বাড়ি মার-আ-লাগো থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে অবস্থান পাম বিচ বিমানবন্দরের। বালুকাময় সমুদ্রতট ও বিলাসবহুল আবাসনের জন্য ফ্লোরিডার সুনাম আছে।  

বিমানবন্দরের নাম বদলাতে কেন্দ্রীয় উড্ডয়ন সংস্থার অনুমোদনও প্রয়োজন হবে। তবে সেখানেও ট্রাম্পের প্রভাব কাজে লাগবে। 

এটাই ট্রাম্পের নামে ভবনের নামকরণ করার প্রথম নজির নয়। 

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির নামে নির্মিত ওয়াশিংটনের ‘কেনেডি সেন্টার’-এর নাম বদলে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরে ট্রাম্পের নিজের বেছে নেওয়া বোর্ড ওই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। 

পাশাপাশি নিউইয়র্কের পেন স্টেশন ও ওয়াশিংটনের ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামের সঙ্গেও নিজের নাম জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। তবে উভয় ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ ভেস্তে যায় বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। 

অপরদিকে, মার্কিন ট্রেজারি দপ্তর নিশ্চিত করেছে, ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত এক ডলারের স্মারক কয়েন বাজারে ছাড়া হবে। 

তবে মজার বিষয় হলো, মার্কিন আইনে জীবিত বা ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের ছবি নোটে বা কয়েনে যুক্ত করার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
 

নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত ৪৭ গাড়ি ও চালক

নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের জন্য সচিবালয়ে চালকসহ ৪৭টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার সকালে সরকারি পরিবহন পুল থেকে গাড়িগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চালকসহ ৪৭টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই গাড়িগুলো নতুন মন্ত্রীদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

অন্য একজন কর্মকর্তা জানান, যেহেতু এবার সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে, তাই সম্ভাব্য মন্ত্রীদের বাড়িতে গাড়ি পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যতিক্রম না ঘটলে, সব গাড়ি বিকেল ৪টার আগেই সংসদ ভবনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

জেলিফিশও মানুষের মতোই ঘুমায়, দুপুর কাটায় ঝিমিয়ে

জেলিফিশ নাকি মানুষের মতো প্রায় আট ঘণ্টা ঘুমায়। কেবল ঘুমায় না, মাঝে মাঝে দুপুরের দিকে একটু একটু ঝিমুনিও আসে। আরও মজার ব্যাপার হলো, একদিন ঘুম কম হলে পরদিন বেশি ঘুমিয়ে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নেয়। এই কথাগুলো শুনতে হয়তো অবাক লাগছে, তাই না? কিন্তু নতুন এক গবেষণায় এই তথ্যগুলোই উঠে এসেছে।

ওই গবেষণা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান সাময়িকী নিউ সায়েন্সটিস্ট।

এই গবেষণার সঙ্গে ছিলেন ইসরায়েলের বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লাওর অ্যাপেলবাম।

লাওর অ্যাপেলবাম বলেন, মানুষের মতোই জেলিফিশ তাদের জীবনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘুমিয়ে কাটায়। অথচ অবাক করার বিষয়, জেলিফিশের মানুষের মতো জটিল মস্তিষ্কই নেই! এ ধরনের প্রাণীকে স্নিডেরিয়ান বলা হয়। তাদের শরীরে খুব সাধারণ ধরনের স্নায়ু জালিকা থাকে। মানে তাদের শরীরে মস্তিষ্ক না থাকলেও জালের মতো ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট স্নায়ু দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ক্যাসিওপিয়া অ্যান্ড্রোমিডা নামের এক ধরনের উল্টো হয়ে থাকা জেলিফিশকে ২৪ ঘণ্টা ধরে ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, দিনে তারা প্রতি মিনিটে ৩৭ বারের বেশি শরীর নড়াচড়া করেছে এবং আলো বা খাবারের প্রতি দ্রুত সাড়া দিচ্ছিল। গবেষকরা বলছেন, এগুলো জেগে থাকার লক্ষণ।

কিন্তু রাতে তাদের নড়াচড়া কমে যায় এবং সাড়া দেওয়ার পরিমাণ অনেক কমে যায়। গবেষকরা বলছেন, এগুলো ঘুমিয়ে থাকার লক্ষণ।

এই গবেষণায় দিন ও রাতের আবহ তৈরি করতে তাদের অর্ধেক সময় আলোর সংস্পর্শে রাখা হয়েছিল বলে নিউ সায়েন্সটিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়।

অ্যাপেলবাম বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে—জেলিফিশ সাধারণত রাতে প্রায় আট ঘণ্টা ঘুমায় এবং দিনের বেলা, বিশেষ করে দুপুরে এক থেকে দুই ঘণ্টার বিশ্রাম নেয়। এমনকি তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো হলে, পরদিন তারা আরও বেশি সময় ঘুমিয়েছিল। অনেকটা মানুষের মতো, যেমন আমরা ঘুম কম হলে পরদিন ক্লান্ত হয়ে বেশি ঘুমাই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষণায় দেখা গেছে—জেগে থাকার সময় জেলিফিশের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ঘুম সেই ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

অন্যান্য জেলিফিশ প্রজাতি বা এমনকি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে কিনা তা দেখার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অ্যাপেলবাম।

তবে গবেষকরা আরেক সামুদ্রিক প্রাণী স্টারলেট সি অ্যানিমোনের (নেমাটোস্টেলা ভেকটেনসিস) ওপর একই গবেষণা চালান। সেখানেও গবেষকরা একই রকম ফল পান বলে জানিয়েছেন অ্যাপেলবাম।

এই গবেষক আরও জানান, এই গবেষণা থেকে বোঝা যায়, পৃথিবীতে ঘুমের ধারণা হয়তো অনেক পুরোনো। যদিও সেটা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা দরকার।