33.2 C
Dhaka
Home Blog Page 11

দোহায় মার্কিন দূতাবাস সংলগ্ন এলাকা খালি করছে কাতার

কাতারের দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি সাময়িক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দোহার মার্কিন দূতাবাসের আশেপাশে বসবাসরত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাদের জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত শনিবার ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর কাতার ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানো শুরু করে।

এরমধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেটে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এই হামলার ঘটনার পর কাতার মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করার জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং জর্দানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে তোড়জোড় চালাচ্ছে মার্কিন সরকার। একই সঙ্গে অন্য কোথাও আটকে পড়া নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট বুকিংয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত তাদের প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন।

সরকারের এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ১ লাখের বেশি প্রার্থী

দেশের তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশের ৬৪ জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে একযোগে এ লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের জন্য মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি আবেদন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়। বৈধ আবেদনকারীদের মধ্য থেকেই লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করা হচ্ছে।

প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের কথা রয়েছে। সে হিসাবে বৈধ আবেদনকারীর সংখ্যা বিবেচনায় প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ৬৪ জনের বেশি প্রার্থী রয়েছেন।

এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি। ঢাকা জেলার ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৫৫২ জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০২ জন প্রার্থী রয়েছেন।

পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তাঁরা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, আসনব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।

পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ দুই মাস মেয়াদি এবং ৫০টি ক্লাসে মোট ৩০০ ঘণ্টার পাঠদান থাকবে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, মিডজার্নি, রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, ট্যাবলো, ক্লিকআপ ও অ্যাডোবি সেনসেইসহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুল ও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিলেন ৫২ হাজার প্রার্থী

শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৮ম ব্যাচের লিখিত বাছাই পরীক্ষা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নেন ৫২ হাজার ২০০ জন প্রার্থী।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় এ ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে আইটি প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৮ম ব্যাচে সারাদেশে মোট ৪ হাজার ৮০০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেন ৮১ হাজার ৪০০ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ৫২ হাজার ২০০টি আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব বৈধ আবেদনকারীর মধ্যেই শনিবার লিখিত বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরে পরীক্ষার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। দেশের অন্যান্য জেলাতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করেন।

রাজধানীর কল্যাণপুরে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৫ হাজার ৫০০ জন প্রার্থী। সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের প্রতি আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরে।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার)। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে শুরু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৮ম ব্যাচ।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১২ হাজার ৩৫৪ জন প্রশিক্ষণার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের মোট আয় প্রায় ৩৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকার সমপরিমাণ।

বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, আবেদন করবেন যেভাবে

দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুব নারীদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার। ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচের তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। সারাদেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ই লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।

অষ্টম ব্যাচের প্রশিক্ষণ আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। তিন মাসের এ প্রশিক্ষণে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৬০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণে অংশ নিতে কোনো প্রশিক্ষণ ফি দিতে হবে না।

প্রশিক্ষণে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। দেশের সব জেলার কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুব নারীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আইসিটি বা কম্পিউটার বিষয়ে মৌলিক ধারণা এবং ইংরেজিতে দক্ষতা রয়েছে এমন প্রার্থীদের প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জেলার উপপরিচালকের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিসহ পাঁচ সদস্যের ভর্তি কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটির মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে মনোনীত প্রতিনিধিরা সরেজমিন তদারকির মাধ্যমে বাছাই কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাশতার ব্যবস্থা থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণদের সনদ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে আয় বৃদ্ধির কার্যক্রমে যুক্ত হতে প্রশিক্ষণার্থীদের মেন্টরিং সাপোর্ট দেওয়া হবে।

আবেদন করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন সফলভাবে জমা দেওয়ার পর আবেদনের কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে। বৈধ আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার তারিখ ও সময় জানানো হবে। এসএমএসে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে পরীক্ষার সময় সঙ্গে আনতে হবে।

অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। বৈধ আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা ১৯ সেপ্টেম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষা ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা ও পরীক্ষার ফলাফল ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার স্থান, সময় ও ফলাফলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর আবেদন লিংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রশিক্ষণ ও ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও জানা যাবে https://e-laeltd.com/64-student-reg-jubo ওয়েবসাইটে।

আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী লিডসের ব্যাংকআল্টিমাস নিয়ে টানাপোড়েন

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মিজানুর রহমানকে লিডস করপোরেশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ফোন করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাবেক প্রধান হিসেবে মিজানুর রহমান লিডসের কার্যক্রম ও পণ্য সম্পর্কে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পরও তিনি মার্চের শুরুতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

বাংলাদেশে গত দুই দশকে ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সীমিত। লিডস করপোরেশন এ খাতে কাজ করে আসছে। ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা গ্রাহকের হিসাব ও আর্থিক তথ্য সংরক্ষণ, বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এ ধরনের ব্যবস্থা তৈরি ও পরিচালনার জন্য কারিগরি দক্ষতা, ব্যবস্থা বিন্যাসের জ্ঞান এবং অর্থের প্রয়োজন হয়।

১৯৯২ সালে বাংলাদেশে এনসিআর করপোরেশনের কার্যক্রম থেকে যন্ত্রপাতি কেনার পর লিডস করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা তৈরির কার্যক্রমে প্রবেশ করে। লিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আবদুল ওয়াহিদের বক্তব্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকে বিভিন্ন ব্যাংকে এনসিআরের এটিএম কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে লিডসের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। পরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেয়।

লিডসের আর্থিক সংকট প্রকাশ্যে আসার আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩০০ কর্মী কাজ করতেন, যাদের অর্ধেক ছিলেন কারিগরি বিভাগের। কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শেষ দিক থেকে নিয়মিত বেতন প্রদানে সমস্যা শুরু হয়। সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এস এম সাইফুর রহমান জানান, ওই সময় কর্মীদের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়লেও পরিচালনা পর্ষদ ও মালিকপক্ষ এটিকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিল।

এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের আদেশে লিডসের কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাংকআল্টিমাস নিলামে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পেছনে ছিল খান আখতার আলমের পাওনা পরিশোধসংক্রান্ত মামলা। ওই সময় পাওনার পরিমাণ প্রায় ৮৩ কোটি টাকা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংকআল্টিমাস লিডসের প্রধান পণ্য হওয়ায় নিলামের উদ্যোগে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, দুই দশকের বেশি সময় লিডসে কাজ করার পর প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যাওয়ার সময় তার পাওনা এক কোটি টাকার বেশি ছিল।

খান আখতার আলমের সঙ্গে লিডসের বিরোধের সূত্র ১৯৮১ সালের একটি মামলা। আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, খান আখতার আলম তখন এনসিআর করপোরেশনের কর্মী ছিলেন এবং বিক্রয় কমিশন পাওয়ার দাবি নিয়ে ওই মামলা করেন। তিনি ১৯৭২ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাওনা কমিশন বাবদ ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে মামলাটি খারিজ হলে তিনি ১৯৮৭ সালে আপিল করেন। এ সময় এনসিআর ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয় এবং তাদের যন্ত্রপাতি থেকে লিডস করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয়।

লিডসের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, প্রতিষ্ঠানটি এনসিআর করপোরেশনকে অধিগ্রহণ বা একীভূত করেনি। বরং এনসিআরের কাছ থেকে যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তির দায় লিডস গ্রহণ করেনি। তবে ১৯৯৯ সালে খান আখতার আলম মামলার নথিতে লিডস করপোরেশন ও এনসিআরের তৎকালীন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপককে পক্ষভুক্ত করেন। বিষয়টি ২০১০ সালে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে বিবেচিত হয়।

২০১০ সালে আদালত খান আখতার আলমের পাওনা নির্ধারণের জন্য নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেন। এনএল রায় অ্যান্ড কোম্পানিকে এ কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়। একই বছর সম্পন্ন নিরীক্ষায় সুদসহ খান আখতার আলমের পাওনা ৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়। ২০১৮ সালে সেই পাওনা প্রায় ৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায় এবং ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত লিডসকে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়।

লিডসের কর্মীদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে আদালতের ওই নির্দেশের বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। একই সময় থেকেই বেতন প্রদানে অনিয়ম শুরু হয়। সাবেক কর্মী আরিফুর আমরান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে অনেক সময় তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া থাকত। ২০২৩ সালের শুরুতে তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার সময় তার পাওনা ১৭ লাখ টাকার বেশি ছিল বলে জানান।

সাইফুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, লিডসের কর্মীদের মাসিক বেতন ছিল প্রায় ২ কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করত। কর্মীদের পাওনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগ থেকে মালিকদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যবহারের কথা জানানো হতো বলে তিনি দাবি করেন।

প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার দায়িত্ব নেওয়ার পর মিজানুর রহমানও অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাব জব্দের আগে লিডস মাসে প্রায় ৪ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পেত। বিপরীতে কর্মীদের বেতন বাবদ ব্যয় ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। তার দাবি, নথিতে অর্থের উপস্থিতি থাকলেও সেই অর্থ পাওয়া যাচ্ছিল না এবং অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

এই অভিযোগের বিষয়ে লিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আবদুল ওয়াহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কর্মীদের পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলে জানান। পরে তিনি মিজানুর রহমানকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা কর্মীদের ই-মেইলে জানান এবং কর্মীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

মিজানুর রহমান অবশ্য দাবি করেন, লিডসের আর্থিক ও আইনি সমস্যার পেছনে মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত ছিল এবং পরিস্থিতি সমাধানের বাইরে চলে গিয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্য নথিতে অর্থ সরিয়ে নেওয়া বা অর্থের অপব্যবহারের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ব্যাংকআল্টিমাস ব্যবহারকারী ব্যাংকগুলোর জন্যও পরিস্থিতিটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কারিগরি কর্মী কমে গেলে রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন সেবা যুক্ত করা এবং সফটওয়্যার হালনাগাদে সমস্যা তৈরি হতে পারে। লিডসের অধিকাংশ কারিগরি কর্মী প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে ব্যবহারকারী ব্যাংকগুলো নিয়ে উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংকআল্টিমাস ব্যবহারকারী উত্তরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সফটওয়্যার সেবায় হঠাৎ কোনো সমস্যা হলে এর প্রভাব ব্যাংকের কার্যক্রমে পড়তে পারে। তার মতে, একটি কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিবর্তন করা দ্রুত সম্পন্ন করার মতো বিষয় নয় এবং এর প্রভাব একটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে গিয়ে বৃহত্তর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাহ উল হক জানান, সফটওয়্যার-সংক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি নির্দেশনা রয়েছে। কোনো সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর সংখ্যা কমে গেলেই ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না বলে তিনি জানান। তবে নতুন পণ্য চালু বা সফটওয়্যার হালনাগাদে বিলম্ব হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

লিডস করপোরেশনের ঘটনাপ্রবাহে তাই একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট কীভাবে তার কর্মী, মালিকানা, আদালতের মামলা এবং ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তার একটি চিত্র পাওয়া যায়। ২০১৮ সাল থেকে বেতন অনিয়ম, কর্মীদের পাওনা, পুরোনো দেওয়ানি মামলা, অর্থ পরিশোধের আদেশ এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাংকআল্টিমাস নিলামে ওঠার ঘটনা একই ধারাবাহিকতায় সামনে এসেছে।

তবে এসব ঘটনার পাশাপাশি আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং লিডসের বর্তমান মালিকানা ও পরিচালন কাঠামোর বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাংকআল্টিমাস ব্যবহারকারী ব্যাংকগুলোর জন্য সফটওয়্যারটির মালিকানা, রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি কর্মী এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য থাকা প্রয়োজন।

ফ্লোরা টেলিকমের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে সুনাম, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির জন্য টেমেনোস টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার সরবরাহ ও বাস্তবায়নের কাজে ফ্লোরা টেলিকম চুক্তিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি আরও ১০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়। অগ্রণী ব্যাংকের ৯৭৯টি শাখায় টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সিস্টেম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পেয়ে আসছেন।

বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আধুনিক সফটওয়্যারকে নিয়মিত হালনাগাদ ও উন্নত সংস্করণে নেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে অগ্রণী ব্যাংকে ব্যবহৃত টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আপগ্রেডেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। প্রচলিত প্রকিউরমেন্ট বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২১ সালের মার্চ মাসে অগ্রণী ব্যাংক বিদ্যমান টি-২৪ সফটওয়্যারকে সর্বশেষ সংস্করণে আপগ্রেড করার জন্য ফ্লোরা টেলিকমের অনুকূলে কার্যাদেশ প্রদান করে। কার্যাদেশে বর্ণিত শর্তাবলি অনুসরণ করে একই বছরের এপ্রিল মাসে অগ্রণী ব্যাংক ও ফ্লোরা টেলিকমের মধ্যে যথাযথ নিয়মে চুক্তি সম্পাদিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একটি টেলিভিশন এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩১২ কোটি খরচও কাজ করে না সফটওয়্যার, ফ্লোরা টেলিকমকে ৯১ কোটি টাকার সুবিধা দেয় অগ্রণী ব্যাংক” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ফ্লোরা টেলিকম উক্ত প্রতিবেদনকে অত্যন্ত দুঃখজনক, বিভ্রান্তিকর, একপেশে, অতিরঞ্জিত এবং প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে।

প্রতিবেদনটিতে পর্যাপ্ত ও যাচাইযোগ্য তথ্য উপাত্ত কিংবা প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন না করেই দাবি করা হয়েছে যে, অগ্রণী ব্যাংক ফ্লোরা টেলিকমকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ায় ৯১ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, ফ্লোরা টেলিকমের ৪৪ শতাংশ কর অগ্রণী ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ফ্লোরা টেলিকম স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ওই সময় ডলারের মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে পরবর্তীতে প্রায় ১২৩ টাকায় উন্নীত হয়। অন্যদিকে ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় গ্রহণ করলেও টেমেনোসের প্রাপ্য অর্থ মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে টেমেনোসের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ পরিশোধে ফ্লোরা টেলিকমকে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বহন করতে হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক চ্যালেঞ্জের প্রভাব প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপরও পড়ে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও ফ্লোরা টেলিকম প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং চুক্তিবদ্ধ দায়িত্ব ও কার্যপরিধি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও কার্যাদেশের আওতায় নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিদ্যমান রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির আওতায় অগ্রণী ব্যাংককে টি-২৪ সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এ রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির মেয়াদ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে।

ফ্লোরা টেলিকম মনে করে, একটি চলমান প্রযুক্তি প্রকল্পের ব্যয়, কার্যক্রম, চুক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং সফটওয়্যারের কার্যকারিতা সম্পর্কে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে একতরফা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য প্রচার করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো বৃহৎ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি প্রকল্প সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রকল্পের চুক্তিগত ও কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লোরা টেলিকমের আরও বক্তব্য, প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও বক্তব্য পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও স্পষ্টীকরণ প্রকাশের আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফ্লোরা টেলিকম সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ ও তথ্য যাচাই করার জন্যও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড তার দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবসায়িক সুনাম, পেশাদারিত্ব ও সততার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক, ব্যবসায়িক অংশীদার, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আমাদের বিনীত আহ্বান, যাচাইবিহীন, একপেশে ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ বা প্রচারণার কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করুন এবং ফ্লোরা টেলিকমের প্রতি আপনাদের দীর্ঘদিনের আস্থা ও সমর্থন অব্যাহত রাখুন।

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার বিকল্প খুঁজতে এআইইউবি শিক্ষার্থীদের গবেষণা

দেশের প্রচলিত তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আধুনিক যানবাহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থীরা। বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যান (পিএইচইভি) নিয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ কমানো, নিরাপদ চলাচল এবং টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এআইইউবির আয়োজনে ‘From Research to Reality: How We Built the EV/PHEV Feasibility Project’ শীর্ষক গবেষণা ও উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানে এ গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন এআইইউবির বাণিজ্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও চিফ ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ড. মুস্তাফা হাসান। প্রধান বক্তা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এআইইউবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও উপদেষ্টা এবং নর্দান ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থ্রিলীফ টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক—আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক উন্নয়ন রন্টি চৌধুরী এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আল-আমরান। এ ছাড়া এআইইউবির হেড অব এমআইএস ডিপার্টমেন্ট মো. মেজবাউল হক নাহিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণায় গুরুত্ব সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কোনো প্রযুক্তি বা বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা জরুরি। এতে প্রকল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিচালিত গবেষণাকে বাস্তব সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে গবেষণার সুফল সরাসরি দেশ ও মানুষের কাজে লাগানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকরা বাংলাদেশের নগর বাস্তবতায় ইভি ও পিএইচইভি ব্যবস্থার সম্ভাবনার পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

‘গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন, কোনো ধারণা বাস্তবে প্রয়োগের আগে এর প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক দিক যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে একটি প্রকল্পের বাস্তব সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। গবেষণা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার মাধ্যমে যে কোন সমস্যা মোকাবেলা ও সমাধান করা যায় ।

তিনি তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন, “গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়ন থেকে বাস্তব প্রভাব তৈরি করতে হবে।”

তিনি জানান, থ্রিলীফ টেকনোলজিস লিমিটেড গবেষণা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও টেকসই প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এআইইউবির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবমুখী গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাতের অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রন্টি চৌধুরী বলেন, গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগে নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার সঙ্গে শিল্পখাতের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বাজার অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে বাস্তবমুখী প্রকল্প তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নগর পরিবহন ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

টেকসই পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা

সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানজট, বায়ুদূষণ, জ্বালানি ব্যয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড যানবাহন ভবিষ্যতের নগর পরিবহনে বিকল্প সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে এ ধরনের যানবাহনের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

গবেষণায় শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি

অনুষ্ঠানে এআইইউবি এফবিএ স্টুডেন্ট রিসার্চ গ্রুপের গবেষণা কার্যক্রম এবং বাংলাদেশে ইভি/পিএইচইভি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অবদান রাখা সংশ্লিষ্ট প্রধান অতিথিকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের যৌথ উদ্যোগে গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সমাধান তৈরি হবে।

ঢাকার পর্নতারকা সুমাইয়া সাঈদ গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে পর্নতারকা ও ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সুমাইয়া সাঈদকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তাকে এক দিনের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

এর আগে গত ১১ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সুমাইয়া সাঈদকে (২৫) গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে তার কথিত প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেগুলো বিক্রির বিজ্ঞাপন নজরে আসে। নথিতে তার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং কনটেন্ট বিক্রির প্যাকেজের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এসব কনটেন্ট গ্রাহকদের সরবরাহ করা হতো। মামলার নথিতে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্টের জন্য বিভিন্ন মূল্যের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে পরে টেলিগ্রাম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কনটেন্ট সরবরাহ করা হতো।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রযুক্তির সহায়তায় সুমাইয়ার অবস্থান শনাক্ত করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করা হয়। মামলার জব্দ তালিকাতেও মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের তথ্য রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া বেশ কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে অনলাইনভিত্তিক এই কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য দিয়েছেন। তদন্তকারীরা এখন ওই সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন।

এ ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, তিনি মেয়ের কথিত অনৈতিক উপার্জনের বিষয়টি জানতেন এবং সেই অর্থ গ্রহণ করতেন। তবে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তা মামলার নথিতে স্পষ্ট নয়।

মামলার নথিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের প্রচার ও বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্ট, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং যোগাযোগের মাধ্যমের তথ্যও সংযুক্ত করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ক্রিনশট ও বিভিন্ন কনটেন্টের ছবিও নথিতে সংযুক্ত রয়েছে।

এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা বলছে, চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কীভাবে কনটেন্ট সংগ্রহ ও বিতরণ করা হতো এবং এর আর্থিক লেনদেনের পরিধি কতটা—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দুজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আরবি ও বাংলা শেখার সুযোগ দিচ্ছে ‘ফিফো লার্নিং’

বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে আরবি ও বাংলা ভাষা এবং ইসলামিক শিক্ষা শেখার সুযোগ দিচ্ছে এডটেক প্ল্যাটফর্ম ‘ফিফো লার্নিং’ (FIFO Learning)।

অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে নমনীয় সময়সূচিতে ৩০ মিনিটের ইন্টারঅ্যাকটিভ লাইভ ক্লাস পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। কোর্সগুলো ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রবাসী পরিবার ও বিদেশি শিক্ষার্থীরাও সহজে এসব কোর্সে অংশ নিতে পারবেন।

ফিফো লার্নিংয়ের প্রধান কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিগিনার ইসলামিক স্টাডিজ, নিউ মুসলিম কোর্স, নূরানী কায়দা, তাজবীদ, কুরআন তিলাওয়াত, বাংলা ফাউন্ডেশন ও বাংলা অ্যাডভান্সড।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বিগিনার ইসলামিক স্টাডিজ, নিউ মুসলিম ও নূরানী কায়দা কোর্সে সপ্তাহে তিন দিনের ক্লাসের মাসিক ফি ৪৮ ডলার এবং পাঁচ দিনের ক্লাসের ফি ৮০ ডলার। তাজবীদ ও কুরআন তিলাওয়াত কোর্সে সপ্তাহে তিন দিনের ফি ৬০ ডলার এবং পাঁচ দিনের ফি ১০০ ডলার। বাংলা ফাউন্ডেশন কোর্সের ফি ৪৮ ও ৮০ ডলার এবং বাংলা অ্যাডভান্সড কোর্সের ফি ৬০ ও ১০০ ডলার।

শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ান-অন-ওয়ান মনোযোগ, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সহযোগিতামূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোর্সগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক সনদের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ফিফো লার্নিং এলএলসি-এর ফাউন্ডার তৌহিদ হোসেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অনলাইন আরবি ও বাংলা কোর্সগুলোতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কার্যক্রম শুরু হলেও এখন অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও কোর্স উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পরিচিতদের জন্য প্রথম মাসে ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। আগ্রহীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন।

আগ্রহীরা ফিফো লার্নিংয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। ওয়েবসাইট: fifolearning.com, ফেসবুক: FIFOLearning, হোয়াটসঅ্যাপ: +1 571 946 6604

এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ঢাকায় প্রতি আসনে ১৫২ আবেদনকারী

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) প্রতিটি জেলার নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য দেশব্যাপী প্রায় ৮৩ হাজার আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এসব আবেদনকারী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। সে হিসাবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ৩২ জনের বেশি বৈধ আবেদনকারী প্রতিযোগিতা করছেন। ঢাকা জেলায় ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৭৮০ জন। ফলে সেখানে প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ১৫২ জন আবেদনকারী।

লিখিত পরীক্ষা চলাকালে ঢাকার কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পরিচালনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় একই সময়ে সুষ্ঠুভাবে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার আলোকে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে।

তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে ৩০ জুলাই। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে আগামী ২ আগস্ট থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে মোট ১১ হাজার ২০০ জন যুব ও যুব নারীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জন বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জন অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ দুই মাস। এ সময়ে ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বেসিক এআই প্রশিক্ষণে চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফট কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, গ্রামারলি, কুইলবট, জ্যাসপার, ক্যানভা, পিক্সলার, ইনভিডিও এবং ইলেভেনল্যাবস ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণে রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, মিডজার্নি, ট্যাবলো, জ্যাপিয়ার, ডিসক্রিপ্ট, ক্লিকআপ, নোশন এআই, ডরিক এআই, আহরেফস, সেলসফোর্স, হাবস্পট, কপি ডট এআই, অ্যাডোবি সেনসেই, ড্যাল-ই এবং ভিও প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রশিক্ষণে কেবল বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের কৌশল নয়, এআইভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও নির্মাণ, ডেটা বিশ্লেষণ, অটোমেশন, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।