22.9 C
Dhaka
Home Blog Page 12

ব্যাজ্জিওর অবহেলিত মাস্টারপ্ল্যান: ইতালির ফুটবল-ট্র্যাজেডির নেপথ্যে

ফুটবল বিশ্বে আজ্জুরিদের নীল জার্সি একসময় ছিল পরাশক্তির সমার্থক। কিন্তু সেই ইতালিই যখন টানা তিনবার ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়, তখন স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে তাদের ফুটবল কাঠামোর কঙ্কালসার দশা নিয়ে। সম্প্রতি প্লে-অফে বসনিয়ার কাছে হেরে আরও একবার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভাঙার পর ইতালির এই ফুটবল দুর্দশার কারণ খুঁজতে গিয়ে নতুন করে সামনে আসছে কিংবদন্তি রবার্তো ব্যাজ্জিওর নাম। বছর কয়েক আগে ইতালির ফুটবলের পুনর্জাগরণের জন্য এক যুগান্তকারী রূপরেখা তৈরি করেছিলেন তিনি। আজ সেই অবহেলিত পরিকল্পনাই যেন ইতালির আফসোসের সবচেয়ে বড় কারণ।

টানা তিন বিশ্বকাপে ইতালির এই নজিরবিহীন অনুপস্থিতির অনেক আগেই দেশের ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিস্তৃত ভিশন বা রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন ব্যাজ্জিও। ‘রিনিউ দ্য ফিউচার’ বা ‘ভবিষ্যৎকে নতুন করে সাজাও’ নামের ৯০০ পৃষ্ঠার সেই দলিলে ইতালির ফুটবলকে একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে ঢেলে সাজানোর কথা বলা হয়েছিল। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫০ জন বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি সেই প্রস্তাবে কাঠামোগত, কৌশলগত এবং শিক্ষামূলক পরিবর্তনের বিস্তারিত বিবরণ ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, সেটি কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি।

জাতীয় দলের জার্সিতে ব্যাজ্জিওর স্মৃতি আবর্তিত হয় মূলত ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা ঘিরে। ৫ জুলাই ফক্সবোরোতে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে জিয়ানফ্রাঙ্কো জোলার লাল কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল ইতালি। বিদায়ের মাত্র কয়েক মিনিট আগে ‘ডিভাইন পনিটেইল’ খ্যাত ব্যাজ্জিও গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এবং অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন। তবে এত বীরত্বের পরও ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করার সেই মুহূর্তটিই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়ে আছে, যা শিরোপা তুলে দিয়েছিল লাতিন আমেরিকানদের হাতে এবং ব্যাজ্জিওর বুকে রেখে গিয়েছিল স্থায়ী ক্ষত।

বহু বছর পর, ব্যাজ্জিও যেন সেই আক্ষেপ মেটাতে চেয়েছিলেন মাঠের বাইরের এক লড়াই দিয়ে। তার এই সংস্কার-রূপরেখা কেবল কাগজে-কলমের কোনো স্বপ্ন ছিল না; এটি ছিল ফুটবল ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার এক সুশৃঙ্খল ছক। এর মূল প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে ছিল দেশজুড়ে ১০০টি ফেডারেল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, আধুনিক সুযোগ সুবিধার জন্য বড় বিনিয়োগ এবং তরুণ প্রতিভাদের খুঁজে বের করা ও পরিচর্যার জন্য একটি দেশব্যাপী পদ্ধতি গড়ে তোলা।

ব্যাজ্জিওর এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘শিক্ষা’। তিনি জোর দিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষিত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন প্রশিক্ষক তৈরির ওপর, যারা শুধু কৌশলগত দিক থেকেই দক্ষ হবেন না, বরং তাদের শক্তিশালী একাডেমিক ও শিক্ষাদানের সামর্থ্যও থাকবে। মাসিমো মাউরোসহ অনেক ফুটবল বোদ্ধার উদ্বেগের সাথে সুর মিলিয়ে বাজ্জো সতর্ক করেছিলেন যে, টেকনিক্যাল স্কিল বা পায়ের কাজের চেয়ে কেবল ট্যাকটিক্স বা কৌশলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর। তার মতে, খেলোয়াড়দের সবসময় বলের সাথে যুক্ত রাখতে হবে এবং শুধু শারীরিক শক্তির ওপর জোর না দিয়ে ফিজিক্যাল ও টেকনিক্যাল পারফরম্যান্সের সমন্বিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই পরিকল্পনায় ফুটবলের ডিজিটাল বিবর্তনের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছিল। স্কাউটিং এবং অনুশীলনের ডেটা বা তথ্যগুলোকে কম্পিউটারের মাধ্যমে সংরক্ষণের কথা বলেছিলেন তিনি, যা আজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল কাঠামোগুলোতে একটি সাধারণ মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই যুগান্তকারী প্রস্তাবটি সামনে এসেছিল ২০১০ বিশ্বকাপের পর, যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইতালি চরম হতাশাজনকভাবে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। ২০১৪ সালেও তারা একইভাবে দ্রুত বিদায় নেয়। আর এরপর থেকে টানা বিশ্বকাপগুলোতে ইতালির অনুপস্থিতি তাদের দীর্ঘমেয়াদী পতনের চিত্রকেই স্পষ্ট করেছে। অবাক করার বিষয় হলো, ২০০৬ সালের সেই বার্লিন ফাইনালের পর বিশ্বকাপে আজ পর্যন্ত কোনো নকআউট পর্বে জেতে পারেনি আজ্জুরিরা!

ব্যাজ্জিওর সংস্কার পরিকল্পনায় ইতালিকে ১০০টি অঞ্চলে ভাগ করে ফেডারেল কোচদের অধীনে একটি সুবিশাল স্কাউটিং নেটওয়ার্ক গড়ার স্বপ্ন ছিল। এই কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে প্রতি বছর হাজার হাজার ম্যাচ পর্যবেক্ষণ করে খেলোয়াড়দের উন্নতি, অনুশীলনের ধরন এবং পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান নিয়ে একটি বিশাল মাল্টিমিডিয়া ডেটাবেস তৈরি করতেন। উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় পর্যায়ে মেধাভিত্তিক একটি অভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা দেশজুড়ে প্রতিভাদের পরিচর্যা করতে সক্ষম।

কিন্তু এত উচ্চাভিলাষী এবং বিস্তারিত হওয়া সত্ত্বেও, প্রাতিষ্ঠানিক অনীহার কারণে প্রকল্পটি কখনোই গ্রহণ করা হয়নি। হতাশ হয়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন ব্যাজ্জিও।

সে সময় লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে ব্যাজ্জিও বলেছিলেন, ‘আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, আমি তা পালনের চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমাকে সেটা করতে দেওয়া হয়নি। আমি একেবারে ভিত্তি থেকে পুনর্গঠন করতে চেয়েছিলাম, যেন ভালো খেলোয়াড় এবং ভালো মানুষ তৈরি করা যায়। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে আমি আমার প্রজেক্ট জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু সেটি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।’

আজ বিশ্বমঞ্চে ইতালির একের পর এক ব্যর্থতা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, রবার্তো ব্যাজ্জিওর সেই অবহেলিত রূপরেখা বাস্তবায়ন হলে হয়তো আজ্জুরিদের এই করুণ পরিণতি দেখতে হতো না। এই না-হওয়া আক্ষেপের গল্পই এখন ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

 

নতুন বাজেটে চালু হতে পারে উত্তরাধিকার কর, কমবে কর অব্যাহতি

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় বাড়াতে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এর মধ্যে রয়েছে সম্পদ কর পুনর্বহাল, উত্তরাধিকার কর চালু, অতি-ধনীদের জন্য উচ্চতর কর হার নির্ধারণ ও বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধার যৌক্তিকীকরণ।

আজ মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে এনবিআর সদর দপ্তরে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এসব প্রস্তাবের কথা জানান।

ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়তে থাকায় সরকারি অর্থায়নের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পদ কর পুনর্বহালের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।’

১৯৬৩ সাল থেকে দেশে এই কর ব্যবস্থা চালু ছিল। পরে ১৯৯৯ সালে এটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন এবং তথ্যপ্রাপ্তি নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি জানান, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আবদুর রহমান খান বলেন, ‘এনবিআর অন্তত সীমিত পরিসরে হলেও উত্তরাধিকার কর প্রবর্তনের চিন্তা করছে। এতে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

কর অব্যাহতি সুবিধার বিষয়ে তিনি বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কর অব্যাহতি প্রয়োজন ঠিক। তবে এটি আজীবন চলতে পারে না। আমরা পর্যায়ক্রমে এগুলো তুলে দিয়ে সুবিধাভোগীদের নিয়মিত কর ব্যবস্থার আওতায় আনব।’

এনবিআর অতি-ধনীদের জন্য সর্বোচ্চ আয়কর হার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, এই প্রস্তাবনা অর্থমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে।

তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই যাদের বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকার বেশি, তাদের করহার প্রায় ৫ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা করছে এনবিআর।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে সর্বোচ্চ কর হার ৪৫-৫৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়, যেখানে আমাদের দেশে এটি তুলনামূলক কম। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের কর হার এক সময় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল, যা ধীরে ধীরে কমানো হয়েছে।’

বাজেট দক্ষতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত এক দশকে বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

‘করদাতারা যদি দেখেন যে তাদের টাকার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, তবেই জনগণের আস্থা বাড়বে,’ যোগ করেন তিনি।

তামাক, এসএমই এবং ডিজিটাল সংস্কার আগামী বাজেটে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। অবৈধ তামাক প্রস্তুতকারকদের ফাঁকি রোধে জাল ট্যাক্স স্ট্যাম্প শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে এনবিআরের।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য কর অব্যাহতি সুবিধাগুলো কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি জানান, ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ওপর এই ছাড় কার্যকর করা হবে।

সংসদ সদস্যরা যেন রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেন: আসিফ মাহমুদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতির অভিশংসন দাবি করেন এবং সংসদ সদস্যদের প্রতি একই দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এনসিপি মুখপাত্র বলেন, ‘এখান থেকেই বাংলাদেশ আজকে দুটি ভাগে বিভক্ত হবে। একটি হচ্ছে ফ্যাসিবাদের পক্ষে, আরেকটি হচ্ছে ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে। আমরা দেখতে চাই, যারা ফ্যাসিবাদের বিপক্ষের শক্তি এই সংসদে আছেন, তারা যেন এই রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেন। রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেন।’

আসিফ বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই যে, তার বক্তব্যের সময় কারা কারা সেখানে থাকেন এবং রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনেন।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আমরা একদফা দাবিতে বলেছিলাম যে, শেখ হাসিনার পতন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ, কিন্তু নানা সময়, নানা বাস্তবতার কারণে আমরা তা সম্পূর্ণ রূপে করে উঠতে পারি নাই। ৫ আগস্টের পর থেকেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার, শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন নাগরিকদের প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে এসেছে। সে সময় আপনারা সংবিধানের দোহায় দিয়ে নানা ধরনের সংকট এবং অস্থিতিশীলতার কথা বলে তাকে অপসারণ করতে দেন নাই।’

‘আমরা চেষ্টা করেছি রাজপথে, আমাদের সহযোদ্ধারা চেষ্টা করেছেন, সেটা আপনারা হতে দেন নাই। এখন তো কোনো সাংবিধানিক সংকটের পরিস্থিতি নাই। এখন সংসদ বসেছে, সংসদ আইনগতভাবে এই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, আপনারা এই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করেন, যে গণঅভ্যুত্থানের ফলে, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জীবন দানের ফলে আপনারা আজকে সংসদে বসতে পেরেছেন।’

আসিফ দাবি জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোটে জনরায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। অতি দ্রুত সময়ে শহীদ ও আহত করার পেছনে যারা দায়ী, তাদের বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিভিন্ন স্থানে চিহ্নিত ফ্যাসিবাদীদের জামিন দেওয়া হচ্ছে মন্তব্য করেন তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমের প্রতি জনগণের এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করা হয়েছে। শহীদ পরিবার এবং শহীদদের প্রতি ইনসাফ কায়েম করার জন্য এই বিষয়গুলোতে সরকার যেন সদিচ্ছা প্রকাশ করে এবং যারা সংসদে আমাদের প্রতিনিধিরা আছেন, তারা যেন সোচ্চার থাকেন সেই দাবি এখান থেকে জানাচ্ছি।

সংসদ অধিবেশনের শেষ পর্যন্ত এনসিপি নেতারা সংসদের সামনে অবস্থান করবেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই আজকে সংসদে কারা এই দেশের পক্ষে অবস্থান নেন, কারা ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে অবস্থান নেন, কারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নেন, কারা শেখ হাসিনার বিপক্ষে অবস্থান নেন। এটা আজকে স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

যে কারণে গ্রেপ্তার হলেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স

বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে মার্কিন পপতারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্সকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, ব্রিটনির বিএমডাব্লিউ গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চালানো হচ্ছিল এমন অভিযোগ পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়। গাড়ি থামানোর পর কর্মকর্তারা দেখেন যে, তার মধ্যে মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবের লক্ষণ আছে এবং তাকে কয়েকটি ফিল্ড সোবরাইটি টেস্ট দিতে হয়।

পরে বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তাকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আগামী ৪ মে তাকে ভেনচুরা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে হাজিরা দিতে হবে।

তার প্রতিনিধি বলেন, ব্রিটনি আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং পরীক্ষার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তার গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। জেল নথিতে তার পেশা হিসেবে লেখা হয়েছে ‘সেলেব্রিটি’।

আইন অনুযায়ী, রক্ত পরীক্ষার জন্য তাকে অল্প সময়ের জন্য একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল, তবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি।

গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর ব্রিটনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলেছেন বলে জানা গেছে।

পপ সংগীতের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল শিল্পীদের একজন ব্রিটনি স্পিয়ার্স। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর সংগীত শিল্পে ফিরবেন না। তার সর্বশেষ গান ছিল ২০২২ সালে এলটন জনের সঙ্গে একটি ডুয়েট।

উল্লেখ্য, ২০০৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর তিনি একটি কনজারভেটরশিপ আইনি ব্যবস্থার অধীনে ছিলেন, যেখানে তার অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার বাবার হাতে।

চৌরঙ্গীখ্যাত ‘শংকর’ আর নেই

মারা গেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। পাঠকদের কাছে  ‘শংকর’ নামে পরিচিত এই লেখক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন । 

চৌরঙ্গী, সীমাবদ্ধ, জন অরণ্য, ঘরের মধ্যে ঘর, নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরিসহ বহু জনপ্রিয় উপন্যাস লিখেছেন তিনি। সাহিত্য অ্যাকাডেমি ও বঙ্কিম পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন শংকর।

আজ শুক্রবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে তার মৃত্যুসংবাদ ব্রেকিং নিউজ আকারে প্রকাশ করেছে। 

১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর অবিভক্ত ভারতের চব্বিশ পরগনায় জন্ম নেন এই মহান লেখক। 

তার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল চৌরঙ্গী, সীমাবদ্ধ এবং জন অরণ্য।

এই তিনটি বই নিয়ে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট সম্মানে ভূষিত হন। 

২০১৯ সালে তাকে ১ বছরের জন্য কলকাতার শেরিফ পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২০২০: একা একা একাশি বইটির জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।

যুবক বয়সে কলকাতার হাই কোর্টের ব্রিটিশ ব্যারিস্টার নোয়েল ফ্রেডেরিক বারওয়েলের মুহুরি হিসেবে কাজ করতেন তিনি। 

নোয়েলই ছিলেন কলকাতার আদালতে নিয়োগ পাওয়া সর্বশেষ ইংরেজ আইনজীবী।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট

বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু আজ ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। এবার এর ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে। আজ বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন।

এরইমধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। প্রথম দফায় বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। পরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। 

চন্দ্রাভিযানে গেলেও চাঁদে নামবেন না নভোচারীরা, কেন

অ্যাপোলো মিশনের দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের পথে পা বাড়িয়েছে মানুষ। চার নভোচারীকে নিয়ে নাসার মহাকাশযান আর্টেমিস-২ উড়াল দিয়েছে গতকাল রাতে। এই নভোচারীরা চাঁদের কক্ষপথে ১০ দিন ভ্রমণ করবেন, তারপর পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। কিন্তু তারা চাঁদের পৃষ্ঠে নামবেন না।

স্পেস.কমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্টেমিস মিশনের প্রথম চাঁদে অবতরণ হবে আর্টেমিস-৪, যা ২০২৮ সালের আগে সম্ভব নয়। কারণ, আর্টেমিস-২ এর মহাকাশযান অরিয়ন চাঁদে অবতরণ করার মতো করে তৈরি হয়নি। মূলত এই মিশনের মাধ্যমে নাসা ধাপে ধাপে পরীক্ষা চালাচ্ছে, যেন ভবিষ্যতে মানুষ নিরাপদে চাঁদে অবতরণ করতে পারে।

এর আগে ২০২২ সালে আর্টেমিস-১ এর অরিয়ন মহাকাশযান মানুষ ছাড়া চাঁদের কক্ষপথে গিয়েছিল এবং ফিরে এসেছিল। এবার আর্টেমিস-২-তে মানুষসহ অরিয়ন ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এখানে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম থাকবে এবং মহাকাশচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে ক্যাপসুল ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই করবেন। নাসার ভাষায়, এই মিশন ‘মহাকাশের গভীরে মানুষসহ সব সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করবে’ এবং ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের পথ তৈরি করবে।

প্রথমে পরিকল্পনা ছিল আর্টেমিস-৩ মানুষ নিয়ে ২০২৭ সালে চাঁদে অবতরণ করবে। তবে এখন পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, আর্টেমিস-৩-তে পৃথিবীর কক্ষপথে অরিয়ন ও বেসরকারি ল্যান্ডারের মধ্যে ডকিং এবং সংযোগ যাচাই করা হবে। যেমন স্পেসএক্স স্টারশিপ বা ব্লু মুন ল্যান্ডার। তখন সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর্টেমিস-৪ এর মাধ্যমে ২০২৮ সালে মানুষ চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।

আর্টেমিস মিশনের শুরুতে লক্ষ্য ছিল ২০২৪ সালে মানুষকে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছে দেওয়া। ২০১৯ সালে তখনকার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এই কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলেন। তবে তার আরও আগে থেকে মিশনের অনেক দরকারি জিনিস তৈরি করা হচ্ছিল। যেমন—অরিয়ন মহাকাশযান, এসএলএস রকেট। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় মানুষকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনাকে তাদের সরকারি নীতি হিসেবে ঘোষণা দেন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নাসার একজন সিনিয়র ম্যানেজার এই মিশনের জন্য ‘ডি-মাইনাস পিন’ তৈরি করেছিলেন। যেখানে দেখানো হতো, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসতে কত দিন বাকি। তার উদ্দেশ্য ছিল সবাই প্রতিদিন গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করুক, তবে তাড়াহুড়ো না হোক।

কিন্তু ২০২১ সালে এসে নাসা জানাল, ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানো সম্ভব নয়। তার প্রধান কারণ হলো নতুন চন্দ্র স্পেসস্যুট (এক্সইএমইউ) সময়মতো তৈরি হয়নি। পরে নাসা বাণিজ্যিক সমাধান হিসেবে এক্সিওম স্পেসের দিকে মনোযোগ দেয়, যা নিয়ে এখনো কাজ চলছে।

শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের লক্ষ্য ধীরে ধীরে বাদ পড়ে। কারণ নীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করতেন, তাদের লক্ষ্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী হলেও বাস্তবসম্মত নয়। এখন আর্টেমিস মিশন চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের অবতরণের জন্য ২০২৮ সালের আর্টিমিস-৪-কে বেছে নিয়েছে।

২০২১ সালে নাসা থেকে আর্টেমিস-৩ মিশনের জন্য স্টারশিপ ব্যবহার করতে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি পায় স্পেসএক্স। এই কাজে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ছিল ব্লু অরিজিন এবং ডাইনেটিক্স, তারা চুক্তির বিরুদ্ধে আপিল ও মামলা করে। পরে ব্লু অরিজিনকে আর্টেমিস-৫ এর জন্য দ্বিতীয় এইচএলএস ভেন্ডর হিসেবে ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে।

এরপর ২০২৩ সালে স্টারশিপের প্রথম পূর্ণ ফ্লাইট পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সফলতার মুখ দেখেনি। কারণ এর দুটি স্তর আলাদা হতে পারেনি। এটি নিয়ে নাসা চিন্তিত ছিল এবং মহাপরিদর্শক জানিয়েছিলেন, এই সমস্যার কারণে চাঁদে অবতরণ দুই বছর পিছিয়ে যেতে পারে।

তবুও ২০২৫ সালে স্পেসএক্স পাঁচটি পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রথম তিনটি পুরোপুরি সফল হয়নি, কিন্তু আগস্ট ও অক্টোবরের ফ্লাইট সম্পূর্ণ সফল হয়েছে বলে তারা জানায়। সেই ফ্লাইটে স্টারশিপের ওপরের অংশ মহাকাশ থেকে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে পড়ে, আর সুপার হেভি বুস্টার ঠিকভাবে মেক্সিকো উপসাগরে অবতরণ করে।

আর্টেমিস-১ মিশন ঠিকভাবে শেষ হলেও অরিয়ন মহাকাশযানের হিট শিল্ডে বেশি ক্ষয় দেখা দেয়। নাসা এই সমস্যার কারণ খুঁজতে থাকে। ২০২৪ সালের মে মাসের এক রিপোর্টে বলা হয়, হিট শিল্ড আলাদা করার বোল্ট এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা আছে, যা ক্রুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আর্টেমিস-২ এবং আর্টিমিস-৩ এর উড্ডয়ন ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সরিয়ে নেয় নাসা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, মহাকাশযান পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেওয়া। তারা অরিয়নের হিট শিল্ড পরিবর্তনের পরিবর্তে পুনঃপ্রবেশের পথ পরিবর্তন করে এবং নাসা আশ্বাস দেয়, পরিকল্পিত মিশনের সময় সবাই নিরাপদ থাকবে।

আর্টেমিস-২ মিশনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আর্টেমিস-৩ ও আর্টেমিস-৪ এর পরিকল্পনা করবে নাসা। বর্তমানে পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস-৩ লঞ্চ হবে ২০২৭ সালে এবং আর্টেমিস-৪ লঞ্চ হবে ২০২৮ সালে। এই দুই মিশনে অন্তত একটি ব্যক্তিগত ল্যান্ডার প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। স্পেসএক্সের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, তারা আশা করছে প্রথমে ২০২৬ সালে স্টারশিপের মধ্যে কক্ষপথে জ্বালানি স্থানান্তর, এরপর ২০২৭ সালে মানববিহীন চাঁদে অবতরণ এবং ২০২৮ সালে মানুষসহ চাঁদে অবতরণ।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন মহাকাশ বিষয়ক একটি নির্বাহী আদেশও এই সময়সূচীর কথা জানিয়েছে। তারা আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে। নতুন নাসা প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব চাঁদের পৃষ্ঠে মানববাহী মহাকাশযান অবতরণ করুক। তবে তিনি বলছেন, এই ল্যান্ডিংয়ের আগে কক্ষপথে জ্বালানি স্থানান্তর কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা জরুরি।

সবাই ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত, ভুক্তভোগী শুধু খেলোয়াড়রা: সাকিব

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রাণ ধরা হয় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে (ডিপিএল)। তবে বোর্ড ও ক্লাবগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধে বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে এই লিগ। ক্রিকেটের এই অচলাবস্থা নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেট প্রশাসনে এখন কেবল ‘ক্ষমতা দখলের লড়াই’ চলছে, যেখানে খেলোয়াড়দের ব্যবহার করা হচ্ছে দাবার ঘুঁটি হিসেবে।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই অলরাউন্ডার দেশের ক্রিকেটের বর্তমান হ-য-ব-র-ল অবস্থা নিয়ে নিজের ক্ষোভ, হতাশা প্রকাশ করেছেন। সাকিব মনে করেন, ক্লাবগুলোকে লিগে ফেরাতে না পারাটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বড় ব্যর্থতা।

সাকিব বলেন, ‘একটা জিনিস আমি বুঝি, এখানে একমাত্র ভুক্তভোগী হলো খেলোয়াড়রা, অন্য কেউ সাফার করছে না। খেলোয়াড়দের কষ্টটা কারো বোঝার ইচ্ছা আছে বলে আমার মনে হয় না। সবাই আসলে যার যার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত এবং খেলোয়াড়দের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।’

লিগ বন্ধ থাকায় খেলোয়াড়দের অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ক্লাব যদি খেলতে না চায়, বিসিবি কী করবে? বিসিবি তাদের ম্যানেজ করতে পারছে না, এটা বিসিবির ব্যর্থতা। খেলোয়াড়দের আসলে তো কিছু করার নাই। ধরেন আমি ক্লাবের মালিক, আমি বললাম খেলব না—এখন আপনি কী করবেন? আপনি বিসিবি হলে বড়জোর অনুরোধ করবেন। যারাই যেটা করছে, তারা ক্ষমতা ধরার জন্য করছে। এর বাইরে তো কিছু না।’

২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ডিপিএল না হওয়ার প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে—এমন প্রশ্নে সাকিবের উত্তর ছিল বেশ বাস্তববাদী। তিনি মনে করেন, প্রস্তুতির চেয়েও বড় সংকট খেলোয়াড়দের ব্যক্তিজীবনে। সাকিব বলেন, ‘১৫টি ম্যাচ খেলা একজন খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতার জন্য অনেক বড় বিষয়। ঢাকা লিগ আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে কি ফেলবে না তার চেয়ে বড় হলো প্রতিটা খেলোয়াড়ের জীবনে প্রভাব পড়ছে। এটা সব থেকে বড়। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও আর্থিক জীবনের ওপর এর প্রভাব।’

বিসিবি ও ক্লাবগুলোর বর্তমান সম্পর্কের তিক্ততা নিরসনে খুব একটা আশার আলো দেখছেন না এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। তার ভাষায়, ‘আসলে এক হাতে তো তালি বাজে না, সব দিক থেকেই হচ্ছে। খেলা শুরুর আন্তরিকতা না থাকলে আমি লিগ হওয়ার সুযোগ দেখি না। এখন সম্পর্কের জায়গা এমন অবস্থায় এসেছে যে মনে হয় না সহজ পথে কিছু হবে। আইনি পথে যদি হয়।’

দেশের ক্রিকেটের বর্তমান সংকট, রাজনীতিতে অবস্থান এবং তার দেশের ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাকিব। 

সাকিব আল হাসানের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হবে সোমবারের দ্য ডেইলি স্টার প্রিন্ট ও অনলাইনে সংস্করণে।

 

মাংস-পোলাও চালের বাড়তি দাম, মসলার বাজারও চড়া

মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামীকাল শনিবার। ঈদের আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার বাজারে মুরগি, গরুর মাংস, পোলাওয়ের চাল, মসলা এবং শসা ও লেবুর দাম বেড়েছে।

এর ফলে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি খরচের চাপ আরও বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন যে, ঈদুল ফিতরের আগে কিছু পণ্যের চাহিদা দ্বিগুণ বা এমনকি তিনগুণ বেড়েছে, কিন্তু বাজারে সরবরাহ সেই তুলনায় বাড়েনি, যার ফলে দাম বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুসারে, ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ১০ মাসের রেকর্ড ভেঙে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ঠিক এই চরম মূল্যস্ফীতির সময়েই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম আরেক দফা বাড়ল।  

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুরগির দাম, বিশেষ করে সোনালি মুরগির দাম গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

সোনালি মুরগি এখন প্রতি কেজি ৩৬০–৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩০০–৩৩০ টাকা। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে প্রতি কেজি ২১০–২৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ১৮০–২০০ টাকা।

চাহিদার চাপে গরুর মাংসের দাম এখনো অস্থিতিশীল। বর্তমানে প্রতি কেজি মাংস ৬৮০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্র কয়েক দিন আগেও দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছিল। এই পরিস্থিতি বাজারের তীব্র অস্থিরতারই প্রতিফলন।

ফার্মগেটের মুরগি বিক্রেতা হানিফ মিয়া জানান, তার প্রতিদিনের বিক্রি ১০০-১৫০ থেকে বেড়ে এখন ৬০০-৭০০ মুরগিতে ঠেকেছে। তিনি মনে করেন, গরুর মাংসের দাম বেশি হওয়ার কারণেই ক্রেতারা এখন বিকল্প হিসেবে মুরগি বেশি কিনছেন, যার ফলে বাজারে এমন চাহিদা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, কেনাকাটার অভ্যাসের এই পরিবর্তন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর তৈরি হওয়া চাপের বিষয়টিকেই স্পষ্ট করে তোলে; কারণ বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তে থাকলেও তারা টিকে থাকার তাগিদে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আমিষের উৎস খুঁজছেন।

শেওড়াপাড়া এলাকার মাংস বিক্রেতা মোহাম্মদ স্বপন বলেন, চাহিদা অনেক বেশি। স্বাভাবিক সময়ে বিক্রি নগণ্য থাকলেও এখন তিনি প্রতিদিন সাতটি পর্যন্ত গরু জবাই করছেন।

তিনি আরও জানান, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতিটি গরুর দাম ৫হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে

এই সময়ে ক্রেতাদের চাহিদা কম থাকায় মাছের দাম কিছুটা কমেছে। তবে লেবুর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এক হালি (চারটি) লেবু এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩০ টাকা। শসার দামও বেড়ে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ৪০–৬০ টাকা।

গত দুই সপ্তাহে সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। মাঝারি মানের চাল এখন প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর নিম্নমানের চাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ১২০-১৩০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের মতো বাজারগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ বাড়লেও চিনি, ডাল ও তেলের দাম এখনও চড়া। তবে মশলার দাম, যা আগে বেড়েছিল, তা এখন স্থিতিশীল হয়েছে।

ঢাকার অন্যতম বড় কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা মোহাম্মদ বাবলু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া প্রতি লিটারে কমিশন আগে ৫ টাকা থাকলেও এখন তা কমে মাত্র ১ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তিনি জানান, চিনি ও সেমাইয়ের দাম বাড়েনি। তবে ধরনভেদে মশলার দাম প্রতি কেজিতে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, ইব্রাহিমপুর, শেওড়াপাড়া ও মিরপুর-১১ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যে, নারিকেল ও দুধের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে, তবে সেই অনুপাতে দাম বাড়েনি।

রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকার নিরাপত্তা প্রহরী ওয়ালিউল্লাহ জানান, তিনি তার পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ১২ হাজার টাকা বেতন এবং সাড়ে ৮ হাজার টাকা ঈদ বোনাস পাওয়ার পর পরিবারের সবার জন্য ঈদের পোশাক কিনে আজ সকালে ৩ হাজার টাকা হাতে নিয়ে বাজারে এসেছেন তিনি।

তবে গরুর মাংস, মুরগি, সেমাই, সয়াবিন তেল, চিনি এবং নারিকেল কেনার পর তিনি দেখলেন যে তার টাকা প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমি জানতাম দাম বাড়বে, কিন্তু আমার ধারণার চেয়েও বেশি বেড়ে গেছে। ঈদ এমন একটা সময়, যখন মানুষ একটু ভালো মাংস খেতে চায়, কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে আরও অনেক শখ অপূর্ণ থেকে যায়।

ওই এলাকারই অটোরিকশাচালক রিফাত হোসেন জানান, আর্থিক অনটনের কারণে তিনি ঈদে বাড়ি যেতে পারছেন না। দিনে ৪০০-৫০০ টাকা আয় করা এই চালক তার জমানো টাকার বেশির ভাগই পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে খরচ করে ফেলেছেন, ফলে বাড়তি খরচের আর কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই।

মির্জা আব্বাস হাসপাতালে

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ইফতারের সময় মির্জা আব্বাস হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং গভীর রাতে সেখানে ভর্তি করা হয় বলে বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ও মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস দেশবাসীর কাছে তার স্বামীর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।