একসময় নির্বাচনী প্রচারণা মানেই ছিল বিশাল সব লাউড স্পিকারের (অ্যামপ্লিফায়ার) কানফাটানো শব্দ ও বড় বড় জনসভা। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে প্রচারণার কৌশল। এখন নির্বাচনী প্রচারণায় শোভা পাচ্ছে পোর্টেবল ‘হ্যান্ড মাইক্রোফোন’।
আধুনিক, সহজে বহনযোগ্য ও কার্যকর হ্যান্ড মাইক শহর থেকে গ্রামের অলিগলিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন তাহেরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ছোট রাস্তা কিংবা আবাসিক এলাকার সরু গলিতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে এটি খুবই কার্যকর।’
তিনি আরও বলেন, ‘এতে শব্দদূষণ হয় না, যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে না। মানুষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা যায়।’
মৌলভীবাজার-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী প্রীতম দাশ বলেন, ‘পুরো প্রচারণার কাজটি হ্যান্ড মাইক দিয়েই করছি। এতে শব্দ দূষণ হচ্ছে না, মানুষেরও উপকার হচ্ছে। আমিও সহজে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছি।’
প্রার্থীদের মতে, হঠাৎ করে অল্প কিছু মানুষ জড়ো হলে তাৎক্ষণিক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার জন্য হ্যান্ড মাইক সবচেয়ে কার্যকর।
সিলেট ও আশপাশের এলাকার প্রায় প্রত্যেক প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা এই ডিভাইস ব্যবহার করছেন।
লাউড স্পিকার বা বড় মাইকের পরিবর্তে হ্যান্ড মাইক ব্যবহারে এলাকার ভোটাররাও সন্তুষ্ট।
শ্রীমঙ্গলের ভোটার সাদ্দাম হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হ্যান্ডমাইকের কারণে শব্দ কম হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য খুব ভালো হয়েছে।’
হ্যান্ড মাইকের বাজার চাঙা
প্রচারণায় নতুন এই ট্রেন্ডের প্রভাবে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের ইলেকট্রনিক্স মার্কেটগুলোতে হ্যান্ড মাইকের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মান ও ফিচারের ওপর ভিত্তি করে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এসব মাইক।
সিলেটের বন্দরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী শাকিল আনোয়ার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বেশিরভাগ হ্যান্ডমাইক চীন থেকে আমদানি করা। নির্বাচনের কারণে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থী, সবাই এসব মাইক কিনছেন।’
তিনি আরও জানান, অনেকে বাজারের ভিড় এড়াতে অনলাইনে অর্ডার দিয়েও কুরিয়ারের মাধ্যমে হ্যান্ডমাইক কিনছেন।
কেন হ্যান্ডমাইকের কদর
এবার নির্বাচনী আচরণবিধিতে বড় সাউন্ডসিস্টেম বা লাউড স্পিকার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
আচরণবিধি অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রচারণায় মাইক ব্যবহার করতে পারবেন এবং শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবলের বেশি হতে পারবে না।
এ অবস্থায় হ্যান্ডমাইক অনেক বেশি নিরাপদ ও নিয়ম মেনে প্রচারণা চালানোর জন্য উপযোগী বলে মনে করছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।
এছাড়া দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখার সক্ষমতা ও সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
সিলেটের আম্বরখানা এলাকার মাহি ইলেকট্রনিক্সের বিক্রয় প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘হ্যান্ড মাইক্রোফোনের স্থায়িত্ব মূলত ব্যাটারির সক্ষমতা ও স্পিকারের মানের ওপর নির্ভর করে। প্রার্থীরা সাধারণত এমন মাইক খোঁজেন, যা দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখে ও সহজে বহনযোগ্য।’
আরেক ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদ জানান, নির্বাচন ছাড়া বছরের অন্য সময়ও হ্যান্ড মাইকের চাহিদা থাকে। হকার, পর্যটন গাইড, নির্মাণ সাইট কিংবা স্কুলের ক্রীড়া অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
তবে নির্বাচনী মৌসুমে হ্যান্ডমাইকের চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
