-1.5 C
New York

নটরডেম কলেজে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়ে সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্পর্কে ছাত্র ও শিক্ষকদের সচেতনতা বাড়াতে ৩ ফেব্রুয়ারি নটরডেম কলেজ ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ নটরডেম এলামনাই অব নর্থ আমেরিকার উদ্যোগে এবং নটরডেম কলেজ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহায়তায় এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

ছাত্র ও শিক্ষকদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া এবং আমেরিকার জন্স হপকিনস স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষক-চিকিৎসক ও নটরডেম কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ডা. মোহাম্মাদ নাকিবউদ্দীন।

স্বাগত বক্তব্যে ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়ে আরও ব্যাপক সচেতনতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের মানবিক সেবার ধারণা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের কেন প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্পর্কে জানা জরুরি, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের সীমিত পরিসর ও চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া তাঁর বক্তৃতায় প্যালিয়েটিভ কেয়ারে কমিউনিটির ভূমিকা কী হতে পারে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এই ক্ষেত্রে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন।

ডা. মোহাম্মাদ নাকিবউদ্দীন ব্যক্তিগত জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতার আলোকে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্যালিয়েটিভ কেয়ার কীভাবে কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে, তা ব্যাখ্যা করেন।

বক্তব্য পরবর্তী প্রশ্নোত্তর পর্বে ছাত্র-শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা প্রশমন সেবা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপে ডা. নাকিব পরিবারে সহমর্মিতা এবং সমাজে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এ সময় নটরডেম কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রমে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে সম্মত হলে অনুষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে একটি ইতিবাচক পূর্ণতা পায়।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশের সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিবর্তনের ধারায় দেশটি এখন স্টেজ ৩-এ রয়েছে। আমাদের জনসংখ্যা পিরামিডে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এই তারুণ্য বাংলাদেশের বড় সম্পদ। নিরাময় অযোগ্য ও জীবনসীমিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সেবায় শুধু চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না, সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের যত বেশি সম্পৃক্ত করা যাবে, তারা তত দীর্ঘ সময় সমাজকে সেবা দিতে পারবে। সেই লক্ষ্য থেকেই এই অনুষ্ঠানে তরুণদের যুক্ত করা হয়েছে।’

Related Articles

Latest Articles