একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক আবুল হায়াতের বিবাহিত জীবনের ৫৬ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ ৪ ফেব্রুয়ারি।
এই দীর্ঘ পথচলার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।
আবুল হায়াতের স্ত্রী শিরিন হায়াত। তাদের দুই কন্যা বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াত।
দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘ এই সময়কে স্মরণ করে আবুল হায়াত বলেন, ‘অসাধারণ অনুভূতি কাজ করছে। অনেক সুখের অনুভূতি কাজ করছে। অনেক ভালো আছি আমরা। সবার দোয়া ও ভালোবাসা চাই, যেন বাকি জীবনটা এভাবেই কাটিয়ে যেতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘মনে হয়—এই তো সেদিন জীবন শুরু হলো। এত তাড়াতাড়ি সংসার জীবনের ৫৬ বছর কেটে গেল। সময় কত দ্রুত চলে যায়!’
জীবনের ওঠানামা প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, ‘জীবনে দুঃখ-কষ্ট, সুখ-দুঃখ, সংকট সবই থাকবে। সবার জীবনেই এগুলো থাকে। তারপরও জীবন এগিয়ে যায়, চলমান থাকে। আমাদের জীবনেও এসব ছিল। এরপরও আমরা সুন্দরভাবে জীবন কাটিয়ে দিয়েছি।’
স্ত্রীর অবদান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অনেক অবদান স্ত্রীর। বিয়ের পর চাকরি করেছি, অভিনয় করেছি। সংসার ধরে রেখেছেন আমার স্ত্রী। তার অবদান বলে শেষ করা যাবে না। আমার জীবনের নব্বই ভাগ অবদান স্ত্রীর।’
অভিনয়ের দীর্ঘ সময়জুড়ে স্ত্রীর সহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, স্ত্রীর কাছ থেকে অনেক সাপোর্ট পেয়েছি। এজন্যই অভিনয় করে গেছি। অভিনয়ের জন্য প্রচুর সময় দিতে হয়েছে। একসময় মঞ্চে অভিনয় করেছি। সংসারের সব দায়িত্ব স্ত্রীর হাতে ছিল। তিনি সবকিছু সামাল দিয়েছেন—এটাই তো অনেক।’
দুই সন্তানের লালন-পালন নিয়েও তিনি বলেন, ‘আমার দুই সন্তানকে মানুষ করা, সময় দেওয়া, তাদের পড়ালেখা—সবই স্ত্রীকে করতে হয়েছে। এটা বিশাল ব্যাপার। তার সহযোগিতা ও ভালোবাসার কারণেই আমি অভিনয়ের সঙ্গে একটা জীবন পার করতে পেরেছি।’

দীর্ঘ ৫৬ বছর একসঙ্গে পথচলার মূল বিষয় সম্পর্কে আবুল হায়াত বলেন, ‘বিশ্বাস, ভালোবাসা, ত্যাগ আর সম্মান—এই বিষয়গুলোই একসঙ্গে পথচলতে সাহায্য করে। আমাদের মধ্যে এগুলো ছিল বলেই এতটা পথ একসঙ্গে চলতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুজনের মতের মিল ছাড়া কোনো কাজ করিনি। আলোচনা করে, একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে করে জীবন আরও সুন্দর হয়েছে।’
ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী এই গুণী শিল্পী বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতেও দুজনে এভাবেই থাকতে চাই। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাই আশীর্বাদ করবেন।’
অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আবুল হায়াত। সম্প্রতি তিনি একটি নাটক পরিচালনা করেছেন। তার সর্বশেষ পরিচালিত নাটকের নাম ‘সখিনা’।
