একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আমরা মাথা গরম হালত দেখতে পাচ্ছি। শীতের দিনে মাথা গরম করলে চৈত্র মাসে কী করবেন আপনারা? একটু মাথাটা ঠান্ডা রাখেন।’
‘একটু জুলাই যোদ্ধাদেরকে সম্মান করুন। এতগুলো শহীদের প্রতি একটু শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছিল যারা, তাদেরকে একটু সম্মান করুন। সেই সম্মানটা করলে মাথা গরমের কোনো সুযোগ নেই।’
আজ শুক্রবার সকালে ফেনীর জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় মা-বোনদের ওপরে কেউ কেউ হাত দিয়েছেন। আমরা তাদেরকে অতি বিনয়ের সাথে আহ্বান জানাবো, মা-বোন আপনাদেরও আছে। নিজেদের মা-বোনদেরকে একটু সম্মান করুন, তাহলে বাংলার সবগুলো মাকে, বোনকে আপনিও সম্মান করতে পারবেন। খবরদার, মায়েদের সম্মান নিয়ে টান দেবেন না, আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে। মায়েদের একটা দীর্ঘশ্বাস আপনাকে জ্বালিয়ে পড়িয়ে ছাই করে দেবে,’ যোগ করেন তিনি।
চব্বিশের আগস্টে ফেনীতে বন্যা ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মৃতিচারণ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকে আমার বড়ই মনে পড়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। এই ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলেছিল, এ জন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ফেনীবাসী আবরার ফাহাদের রুহকে আপনাদের কাছে রেখে গেলাম। যতদিন ফেনী দুনিয়ায় বেঁচে থাকবে, আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা আবরার ফাহাদকে আপনাদের কলিজায়, আপনাদের হৃদয়ে একটু জায়গা দিয়ে রাখবেন। সে আপনাদের কথা বলেছিল। সে দেশের ন্যায্য প্রাপ্যর কথা বলেছিল। এ জন্য যারা আধিপত্যবাদের দোসর এবং যারা আধিপত্যবাদের দালাল, তারা তাকে সহ্য করতে পারেনি।’
‘এখানে যে বাঁধটির কারণে আপনাদের দুঃখ, সেই বাঁধ এখনো নির্মাণ হয়নি। আল্লাহ যদি আমাদেরকে সেই সুযোগ দেন…আমরা জানি, পার্শ্ববর্তী আমাদের প্রতিবেশী দেশের সাথে একটু এই ব্যাপারে ব্যাপার-স্যাপার আছে। আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধা করি, আশা করি তারাও আমাদেরকে শ্রদ্ধা করবে, এবং তাদের সাথে ফ্রুটফুল ডায়লগের মাধ্যমে আমরা এর শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করব ইনশাল্লাহ। কারণ আমার দেশ রক্ষার অধিকার আমার। এই দায়িত্ব আমাকে নিতেই হবে। এই দায়িত্ব অগ্রাহ্য করে আমরা চলতে পারবো না,’ যোগ করেন তিনি।
দেশের অর্থনীতিতে ফেনীর অবদান অনেক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ঘোষণা দিয়েছি ১৮ কোটি মানুষের ৬৪টি জেলার কোনো জেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত হবে না ইনশাআল্লাহ। এটি হবে সরকারি মেডিকেল কলেজ। ইতোমধ্যে ৩৩টি জেলায় আছে, বাকি ৩১টা জেলা বাকি আছে। আল্লাহ তা’লা এই দেশবাসীর যদি সেবা করার সুযোগ আমাদেরকে দেন, ফেনী ইনশাআল্লাহ তার পাওনা পেয়ে গর্বিত হবে। ফেনী বঞ্চিত হবে না। এর পাশাপাশিও আমরা ঘোষণা করেছি প্রত্যেকটি জেলা হেডকোয়ার্টারে বিশেষায়িত হাসপাতাল ক্রমান্বয়ে চালু করা হবে ইনশাল্লাহ। সেই হাসপাতালের উপাদান তৈরি করার জন্যই মেডিকেল কলেজ প্রয়োজন।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যে তিনজন ভাইকে আপনাদের হাতে এখানে উপহার দিয়েছি। তাদেরকে কোনো দলের নয়, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে উপহার দিয়েছি। এখানে ১১টি দল আমরা একাকার। আমরা এখানে আলাদা কিছু দেখবো না। যাকে যে মার্কা দেওয়া হয়েছে, এটাই ১১ দলের মার্কা। ১১ দলের কর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু মান-অভিমান থাকতে পারে। আজকে সবগুলা মান-অভিমান আমি আমার দুই হাত তুলে নিয়ে যেতে চাই। এখন থেকে আর কোনো মান-অভিমান চলবে না। একদম মিলেমিশে একাকার হয়ে লড়াই করে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে, মা-বোনদের গায়ে হাত তোলার বিরুদ্ধে, আজকে এই ভোটগুলো তুলে আনতে হবে ইনশাআল্লাহ। নতুন বাংলাদেশের পক্ষে আনতে হবে। যুব সমাজের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে হবে।’
গণভোটের উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘দ্বিতীয় ভোটটি হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হেফাজতের পক্ষে। ন্যায় এবং ইনসাফের শাসন কায়েমের পক্ষে। এই বাংলাদেশের রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে—সেই সংস্কৃতির ধারা আমরা পাল্টে দিতে চাই। রাজার ঘরে জন্ম নিলেই রাজা হওয়া যাবে না। মন্ত্রীর ঘরে জন্ম নিলেও মন্ত্রী হওয়া যাবে না। তার আপন যোগ্যতা যদি থাকে, সে কেবল এই কাজের জন্য নির্বাচিত হবে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, একজন সাধারণ রিকশাচালক ভাই তার সন্তানের মেধা বিকাশের মাধ্যমে একদিন যেন সেও এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। ওই বাংলাদেশটা আমরা গড়তে চাই। অতীতের বস্তা পচা রাজনীতি, যেটা ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে ডুবিয়ে দিয়েছে, ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই।’
