3 C
New York

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি

অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে দ্রুতগতিতে দীর্ঘমেয়াদি নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর ফলে কার্যত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাত বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্গো কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাব্য চুক্তি।

এর আগে গত নভেম্বরে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৩৩ বছরের চুক্তি করা হয়।

একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ ২২ বছরের চুক্তিতে পানগাঁও নদীবন্দর পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মেডলগের নিয়োগটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হলেও লালদিয়া ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের ক্ষেত্রে সে ধরনের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।

নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত এই অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ এখন এমন অভিযোগের মুখে পড়েছে যে, তারা নিজেদের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও অস্বচ্ছ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—যার প্রভাব হবে দীর্ঘস্থায়ী।

বন্দরসংক্রান্ত চুক্তির পাশাপাশি সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বড় একটি ক্রয় প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে এবং ১১৮ জন ঊর্ধ্বতন আমলাকে পদোন্নতি দিচ্ছে।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রনিযুক্ত একটি কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, কেবলমাত্র এই বর্ধিত বেতন কার্যকর হলেই ইতোমধ্যে দুর্বল অবস্থায় থাকা সরকারি অর্থব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

সবমিলিয়ে এসব দায় ভবিষ্যতের নির্বাচিত নেতৃত্বের কাঁধে এমন আর্থিক ও রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, যে বোঝা তৈরিতে তাদের কোনো ভূমিকাই ছিল না।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব চুক্তি করার তৎপরতা কেবল আর্থিক সংযম বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ত্রুটি নয়; বরং ‘মৌলিক নীতিগত লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

‘নীতিগতভাবে এটি নৈতিক নয়’ উল্লেখ করে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের শেষ সময়ে দেশের ভবিষ্যৎকে বহু বিলিয়ন ডলারের দায়ে আবদ্ধ করা উচিত না।

তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে হোক বা অবহেলাবশত—বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তারা আগামী সরকারের জন্য অর্থনীতি পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন করে তুলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় আসতে চান, তাদের জীবন কঠিন করে তুলবে এমন বিষয়েও যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ায় আমি বিস্মিত।’

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মনে করেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এসব চুক্তিতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং যেসব পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে, সেগুলো পতিত শাসনামলের মতোই মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে এমন তড়িঘড়ি এবং রাজনৈতিক দল ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করা আগের স্বৈরাচারী শাসনের কথা মনে করিয়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংস্কার ও স্থিতিশীল করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। অথচ আমরা দেখছি, সরকার নিজেই সেই সংস্কার মানছে না।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘উল্টো তারা এমন অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখছে, যা মানুষকে গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ঠেলে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের মেয়াদ শেষে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের কোনো জবাবদিহি থাকবে না। তারা চলে যাবেন। তাহলে দায়ী করব কাকে?’

প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল

প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার একটি সংবেদনশীল খাতে প্রবেশ করেছে। প্রতিরক্ষা উৎপাদন নীতি জাতীয় নিরাপত্তা, বৈদেশিক সম্পর্ক ও দীর্ঘমেয়াদি শিল্প পরিকল্পনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) এক সভায় চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চলের জন্য প্রায় ৮৫০ একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, জমিটি বর্তমানে খালি রয়েছে। এটি ভারতের অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল। গত বছর সেই বরাদ্দ বাতিল করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চলের লক্ষ্য হলো দেশীয় সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করা।

তবে সমালোচকদের মতে, নির্বাচনী বৈধতা ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে প্রবণতা এই সরকারের রয়েছে, এই প্রকল্পও তারই একটি ধারাবাহিকতা।

বেজা স্পষ্ট করেছে, এই অঞ্চলটি রাষ্ট্রীয় কারখানার মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজের মতো হবে না। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে যৌথ উদ্যোগ ও বিদেশি অংশীদারের সঙ্গে সরবরাহ চুক্তির মাধ্যমে এটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন নবম জাতীয় বেতন কমিশন উচ্চহারে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার পর সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে বেতন বাবদ সরকারের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়। এক দশক ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্বিন্যাস করা হয়নি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

১৪ লাখ কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন ও পেনশন দিতে রাষ্ট্র প্রতি বছর ব্যয় করে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতি বছরে এর সঙ্গে আরও এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

ঋণভার ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ কোষাগারের জন্য এমন প্রস্তাবকে ‘রাজস্ব বোমা’ বলে অভিহিত করছেন অর্থনীতিবিদরা।

উড়োজাহাজ কূটনীতি

ড. ইউনূস সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে এক উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কূটনৈতিক স্বস্তি আদায় করেছে।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলে সরকার আলোচনা করে তা ২০ শতাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এই খাত থেকে আসায় এই নতুন শুল্কহার বড় বিপর্যয় এড়িয়েছে বলেই মনে করা হয়।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই স্বস্তির জন্য মূল্যও দিতে হয়েছে।

২০২৫ সালের শেষদিকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিসহ বহু বিলিয়ন ডলারের এক চুক্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তাছাড়া বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ ছাড়াই এই চুক্তি করা হচ্ছে।

নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে বিমানের বোর্ডেও হঠাৎ রদবদল করা হয়, যা শাসনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইনসটির বোর্ডে নতুন করে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা হলেন—জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তাইয়্যেব এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২৫২টি নতুন এজেন্সিকে লাইসেন্স দিয়েছে। ফলে দেশে এজেন্সির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬৪৬টিতে—যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রতিযোগিতা বাড়লে সিন্ডিকেট ভাঙবে। কিন্তু দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে বিশ্লেষকরা জানান, এই খাতে তদারকি ইতোমধ্যে দুর্বল এবং এই নতুন এজেন্সি দেওয়ায় দুর্নীতি আরও বাড়বে।

অতীতে অনিয়মের কারণে মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বাজার ছোট হওয়ায় বা স্থগিত হওয়ায় অবৈধ অভিবাসন বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইউরোপে অবৈধ সমুদ্রপথে যাত্রায় বাংলাদেশ প্রথম স্থানে ছিল। এ দেশের ২২ হাজারের বেশি মানুষ বিপজ্জনক ভূমধ্যসাগরীয় পথে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন।

নির্বাচনের প্রাক্কালে ব্যয়ের উল্লম্ফন

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো, গত ২৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অবকাঠামো ও সামাজিক ব্যয়ের একটি বড় প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে। সেখানে মোট ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি নতুন ও সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশাসনিক জট ছাড়াতে ও অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখতে এসব সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল।

তবে, ক্ষমতা হস্তান্তরের এত কাছাকাছি সময়ে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের এত বড় আর্থিক অঙ্গীকার করা উচিত কি না—তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই শেষপর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম চালক হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রথম বড় সংশোধন—যেখানে একনেক ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে মোট ব্যয় দাঁড় করিয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।

প্রকল্পের সময়সীমাও আড়াই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুনে নেওয়া হয়েছে।

একনেক উত্তরাঞ্চলের জন্য এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রকল্পও অনুমোদন দিয়েছে, যার ব্যয় দুই হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা এবং অধিকাংশ অর্থায়ন চীন থেকে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার জ্বালানি খাতে বড় আকারের ক্রয় প্রক্রিয়াতেও দ্রুত এগোচ্ছে—যা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বড় আর্থিক ঝুঁকির কারণ হবে।

দেশের বর্ধিত জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য গত ২৭ জানুয়ারি সরকারের ক্রয় কমিটি ২০২৬ সালে পাঁচটি এলএনজি কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।

পেট্রোবাংলা সরাসরি আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজি কিনবে।

এটা জ্বালানি খাতে ধারাবাহিক ক্রয়ের সর্বশেষ উদাহরণ মাত্র।

নির্বাচনের আগে র‍্যাবের জন্য যানবাহন ক্রয়

জাতীয় নির্বাচনের আগে বাহিনীর কার্যক্ষমতা জোরদারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) জন্য ১৬৩টি যানবাহন কেনার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে—তিনটি জিপ, ১০০টি পিকআপ ট্রাক ও ৬০টি মাইক্রোবাস।

সরকারের ক্রয় কমিটির অনুমোদনের পরই এর জন্য চূড়ান্ত ব্যয় জানা যাবে।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুতর সমালোচনা রয়েছে। তারই মধ্যে র‌্যাবের জন্য এত বড় ক্রয়ের সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব গুম তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে এই বিশেষায়িত বাহিনী বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও এই বাহিনী বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মেয়াদের শেষের দিকে এসে অন্তর্বর্তী সরকার কেন এমন ক্রয় অনুমোদন দিচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি উন্মুক্ত দরপত্র এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে যানবাহন কিনতে চায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি অর্থ সরকারেই রাখছি।’

২০২৬–২৭ অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা

অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১ জুলাই শুরু হতে যাওয়া অর্থবছরের জন্য ১৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তটিও বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারা বলেছেন, এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়বে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর। অথচ, তাদের অগ্রাধিকার ভিন্ন কিছু হতে পারে।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফা কে মুজেরী বলেন, এই পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যৌক্তিক নয়।

তিনি বলেন, যদি স্থায়ী মূল্যস্ফীতির মধ্যে সরকার স্বল্প আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দিতে চাইত, তাহলে চলতি অর্থবছরেই ভাতা ও উপকারভোগীর আওতা বাড়ানো যেত।

পদোন্নতির তাড়া

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে এই সরকার ১১৮ জন যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে।

ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতির সময় এই পদোন্নতিগুলো নজর কেড়েছে। শেষ মুহূর্তে এমন বড় আমলাতান্ত্রিক রদবদল চূড়ান্ত করা উচিত কি না—সেই প্রশ্ন উঠছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এখন সময় গণনা শুরু হয়ে গেছে। তাদের সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের উচিত ছিল, যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, সেগুলো সম্পন্ন করার দিকে মনোযোগ দেওয়া।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো কি ‘পুরো সরকারের’ প্রতিনিধিত্ব করছে, নাকি ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে ব্যক্তিগত স্বার্থ নিশ্চিত করতে চাওয়া নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী এগুলো করাচ্ছে?

তিনি বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এমনকি অংশীজন বা পেশাগত আলোচনারও ঘাটতি আছে। প্রশ্ন হলো—তারা কি পরিকল্পিতভাবে নাকি অনিচ্ছাকৃতভাবে পরবর্তী সরকারের জন্য এই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছে?’
 

Related Articles

Latest Articles