বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বগুড়ার মানুষের জন্য চাকরি বা ব্যবসায় বিশেষ কোনো সুবিধা থাকবে না, সবকিছুই হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘চাকরি-বাকরি অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলা আছে, সবকিছু যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে। আমরা নিশ্চয়ই চাইবো না যে অন্য কেউ আমাদের কোনো বিতর্কিত অবস্থানে ফেলুক, যে বগুড়া বলেই সব পাচ্ছে ,আমরা বগুড়া না বলে পাচ্ছি না। আমরা কি চাই এরকম বলুক মানুষ? আমরা আমাদের বগুড়ার নাম খারাপ করতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবে। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা খেয়াল রাখব, আমাদের ন্যায্য অধিকার পেতে গিয়ে অন্যের ন্যায্য অধিকার যেন আমরা নষ্ট না করি, বিষয়টি আমাদের অত্যন্ত সতর্কভাবে খেয়াল রাখতে হবে।’
বিএনপি প্রধান সমাবেশে আবেগঘন বক্তব্য দেন এবং ১৯ বছর পর তার জন্মভূমিতে ফিরে আসার অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
‘আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে চাই, কারণ আজকে প্রায় ১৯ বছর পরে আল্লাহ আমাকে আবার তৌফিক দিয়েছেন এই নিজের ভূমিতে ফিরে আসার জন্য।’
তারেক রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময় বগুড়ায় হওয়া উন্নয়নমূলক কাজের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘বগুড়া সদরসহ সমগ্র জেলায় মানুষের প্রয়োজনে যে কাজগুলো করা দরকার ছিল, আমরা চেষ্টা করেছি সব কাজ কম বেশি করার জন্য। হয়তো আমরা ১০০ ভাগ সাকসেসফুল হইনি, কিন্তু যতটুকু পেরেছি সরকারের আইন-কানুন-রীতিনীতির মধ্যে থেকে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমরা চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, বগুড়া আমার কাছে একটি আদর্শ জেলা ছিল। আমি সবসময় ভাবতাম যে যদি আল্লাহ আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে দেশের বাকি ৬৩টি জেলাকে বগুড়ার মতো সাজানোর চেষ্টা করব।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচন নিশ্চিত করবে আগামী দিনে জবাবদিহিমূলক সরকার তৈরি হবে কি হবে না সেইজন্যই আজকে বগুড়াবাসীর কাছে আমার আহ্বান থাকবে অনুরোধ থাকবে যে এই নির্বাচনটির ব্যাপারে আমাদেরকে অত্যন্ত সিরিয়াস থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে নিয়ে যেতে চাই, অবশ্যই তাহলে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে এবং তার জন্য ১২ তারিখের নির্বাচনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উনি এমপি হিসেবে ছিলেন। আজকে উনি আমাদের মাঝে নেই। আজকে ওনার জায়গায় আপনাদের সামনে এসে আমি দাঁড়িয়েছি। এখন আপনাদের সন্তান হিসেবে আমি কথা বলব, নাকি প্রার্থী হিসেবে বলব সেটাও একটা মুশকিলের ব্যাপার।’
নেতাকর্মীরা এসময় স্লোগান দিয়ে এলাকার সন্তান হিসেবে তাকে বক্তব্য দিতে বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৫ বছর বগুড়া তো বঞ্চিত ছিলই বলা যায় সমগ্র বাংলাদেশে সত্যিকারভাবে বঞ্চিত ছিল।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে শুধু একটি কাজ হয়েছে। মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। তথাকথিত মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেভাবেই হোক এই দুর্নীতিকে আমাদের টুঁটি চেপে ধরতে হবে। এই দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমেই আমাদেরকে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
