3 C
New York

বিপিএলে সেই পুরনো ‘বকেয়া’ ব্যাধি

বিপিএলের ১২তম আসর শেষ হতে না হতেই সেই পুরনো অস্বস্তি ডালপালা মেলছে। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার সপ্তাহ পার হতে চললেও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে। বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দিতে ইতিমধ্য়েই সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে চিঠি দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।

গত ২৭ জানুয়ারি পাঠানো ওই চিঠিতে সব দলকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পেমেন্ট সম্পন্ন করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করেছেন বিপিএলের এক কর্মকর্তা।

এবারের আসর চলাকালীন পারিশ্রমিক নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি। কারণ এরচেয়েও গুরুতর বিষয় তখন ছিলো আলোচনার কেন্দ্রে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কিংবা পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে খেলোয়াড়দের একদিনের ম্যাচ বয়কট ছিলো সবার নজরে। যদিও আসরটি অব্যবস্থাপনা নিয়েই শুরু  হয়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন মালিকপক্ষ দল ছেড়ে দেওয়ায় চট্টগ্রাম রয়্যালসের দায়িত্ব বোর্ডকে নিতে হয়েছিল।

তবে ২৩ জানুয়ারি টুর্নামেন্ট শেষ হতেই অনেক খেলোয়াড় পারিশ্রমিক না পাওয়ার ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’-এর একজন খেলোয়াড় নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের মোট পাওনার মাত্র ২৫ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি আমাদের সবার চেক বাউন্স করেছে। আপনি চাইলে অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গেও কথা বলে দেখতে পারেন।’

অন্যান্য খেলোয়াড়রাও একই অভিযোগ করেছেন। নোয়াখালীর ওই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কাছে ১০ লাখ টাকার বেশি পাওনা থাকা এক ক্রিকেটার বলেন, ‘বিসিবি আমাদের পেমেন্টের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হবে।’

এদিকে ‘ঢাকা ক্যাপিটালস’ কর্তৃপক্ষ টুর্নামেন্ট চলাকালীন খেলোয়াড়দের ২৫ শতাংশ পাওনা মিটিয়েছিল। পরবর্তীতে আরও সামান্য কিছু অর্থ দেওয়া হলেও বড় অংশই এখনও বকেয়া। তবে এই সপ্তাহেই সব পাওনা চুকিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা।

স্বস্তির খবর মিলেছে চ্যাম্পিয়ন ‘রাজশাহী ওয়ারিয়র্স’ ও ‘রংপুর রাইডার্স’ শিবির থেকে। বিসিবি এবং খেলোয়াড়দের ভাষ্যমতে, রাজশাহী তাদের সব পাওনা মিটিয়ে দিয়েছে। সিলেটের এক ক্রিকেটার তার অর্ধেক পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা জানালেও চট্টগ্রামের খেলোয়াড়দের দায়ভার বিসিবি নিজেই নিয়েছে।

পেমেন্ট নিয়ে জটিলতার কথা স্বীকার করেছেন বিপিএল সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। তবে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যর্থ হলে বোর্ড কঠোর অবস্থানে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

দ্য ডেইলি স্টারকে মিঠু বলেন, ‘সব মিলিয়ে নোয়াখালীর বকেয়া প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আমাদের কাছে তাদের ২ কোটি টাকা জমা আছে। ঢাকার ব্যাংক গ্যারান্টি আছে ৫ কোটি টাকার। চেক বাউন্স করলেও তাদের পেমেন্ট দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ আমাদের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ২৭ তারিখে চিঠি দিয়েছি। ১৫ দিনের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পেমেন্ট শেষ করে আমাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দিতে হবে। বিদেশি ও স্থানীয় খেলোয়াড়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ফোন করে আমরা তথ্য যাচাই করব।’

Related Articles

Latest Articles