-3 C
New York

ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের জিএসপি সুবিধা স্থগিত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত ১ জানুয়ারি থেকে ভারতের বেশকিছু রপ্তানি পণ্যে জেনারালাইজড স্কিম অব প্রেফারেন্সেস বা জিএসপি শুল্কসুবিধা স্থগিত করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে ভারতীয় এসব পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে দেশটির পণ্য দামের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় দুর্বল হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিসিয়াল জার্নাল জানায়, এই স্থগিতাদেশ ২০২৬–২০২৮ সময়কালের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং এর আওতায় থাকবে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়া।

ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর যে বিধিমালা গ্রহণ করেছে, তার উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী ২৭ জানুয়ারি একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শেষ করতে যাচ্ছে। তার আগেই দেশটির জিএসপি স্থগিতের ঘোষণা এলো।

বাণিজ্যবিষয়ক থিংক ট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানিয়েছে, জিএসপি প্রত্যাহারের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের প্রায় ৮৭ শতাংশ পণ্য রপ্তানিতে এখন সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের (এমএফএন) মতো উচ্চ শুল্কহার প্রযোজ্য হবে। শুধুমাত্র ১৩ শতাংশের মতো রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে—প্রধানত কৃষিপণ্য ও চামড়াজাত পণ্য—বিশেষ সুবিধা পাবে।

জিএসপির আওতায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা এমএফএন হারের চেয়ে কম শুল্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পণ্য পাঠাতে পারতেন।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কহার ১২ শতাংশ হলেও এই স্কিমের আওতায় ভারতীয় পণ্যে শুল্ক হতো ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু, ১ জানুয়ারি থেকে দেশটির রপ্তানিকারকরা পূর্ণ শুল্কের আওতায় এসেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় সব প্রধান শিল্পখাত থেকেই জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস, প্লাস্টিক ও রাবার, কেমিক্যাল, লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক পণ্য এবং পরিবহন সরঞ্জাম—যার প্রায় সবই ইউরোপে ভারতীয় রপ্তানির মূল ভিত্তি।

এর আগেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যায়ক্রমে কিছু সুবিধা কমালেও এবার তিন বছরের জন্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে।

Related Articles

Latest Articles