আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি টানা তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার প্রস্তাবে উদ্বেগ জানিয়েছে পোশাকশিল্প মালিক ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা।
তারা বলছেন, অতিরিক্ত দুই দিনের ছুটি উৎপাদন ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে জাতীয় রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে গতকাল শনিবার পোশাকশিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়, সরকার ইতোমধ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য অতিরিক্ত এক দিন ছুটি যুক্ত করে মোট তিন দিনের ছুটির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে শবে-বরাত, শহীদ দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কর্মদিবস এমনিতেই সীমিত। এর মধ্যে আরও তিন দিন সাধারণ ছুটি দেওয়া হলে কর্মদিবস কমে ১৯ দিনে নেমে আসবে। যা রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈশ্বিক বাজারে পোশাকের অর্ডার ও মূল্য নিম্নমুখী থাকায় অনেক কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিকদের বোনাস ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের চাপ সামলানো শিল্পমালিকদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বিনিয়োগকারী সমিতি (বিইপিজিআইএ)।
সংগঠনটি আজ রোববার বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছে, ইপিজেডভুক্ত কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ উৎপাদন ও শিপমেন্ট সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। যা আগেই চূড়ান্ত করা থাকে। হঠাৎ করে দুই দিনের অতিরিক্ত ছুটি উৎপাদন সূচিতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এতে সময়মতো রপ্তানি চালান পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে ক্রেতাদের জরিমানা, অর্ডার বাতিল ও বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ওপর।
এতে আরও বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে পোশাকশিল্প মালিক ও ইপিজেড বিনিয়োগকারীরা শিল্পাঞ্চলের জন্য তিন দিনের পরিবর্তে শুধু ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারির ছুটি যদি অনিবার্য হয়, তাহলে তা সাপ্তাহিক বা বার্ষিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বেপজার নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশিদ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিইপিজিআইএর একটি চিঠি আজ পেয়েছি। আমরা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা, মন্ত্রণালয়, স্টেকহোল্ডার অ্যাসোসিয়েশন এবং ইপিজেডের ভেতর-বাইরে থাকা কারখানাগুলো সঙ্গে আলোচনা করব।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাহী বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা চেষ্টা করব নির্বাচনের সময় সব শিল্পাঞ্চলে ছুটি একযোগে পালন নিশ্চিত করতে।
