ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে এবং ব্যাপকভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
আজ সোমবার আগারগাঁওয়ে ঢাকার নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলটির নেতারা।
তাদের দাবি, বিভিন্ন আসনে বিরোধী দলগুলো প্রশাসনের তেমন কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিয়ম লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে তারা বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় “নেতিবাচক বার্তা” দিচ্ছে এবং দমন-পীড়ন ও ভোটকেন্দ্র দখলের একটি “প্র্যাকটিস ম্যাচ”-এর সূচনা নির্দেশ করছে।’
ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দলের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘২৪ তারিখের পর যেভাবে বিএনপির সদস্যরা আমাদের প্রচারণায় হামলা চালিয়েছে, এ ধরনের হামলা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াজুড়ে নেতিবাচক বার্তা দেয়। এই বার্তাটি হলো দমন-পীড়ন ও কেন্দ্র দখলের। মনে হচ্ছে আজ থেকেই সেই প্র্যাকটিস ম্যাচ শুরু হয়ে গেছে।’
নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এভাবে প্রতিপক্ষের প্রচারণায় হামলা চালানোর প্রবণতা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে—ভোটের দিন পর্যন্ত নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক থাকবে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে।’
এনসিপির নির্বাচন ও প্রশাসন সমন্বয় উপকমিটির সম্পাদক আইমান রাহা বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় কতটা নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তা আমরা জানি না। এরই মধ্যে বাংলাদেশে এই নির্বাচন উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রার্থীদের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে। কিন্তু কিছু এলাকায় আমাদের প্রতিপক্ষরা নিয়ম মানছে না, আর তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপও আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’
এনসিপি আরও অভিযোগ করেছে, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা ও সভা-সমাবেশে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করছেন।
