ক্ষমতায় গেলে প্রয়োজন, মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের জন্য ঘরে ও বাইরে সম্মানজনক জায়গা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
উত্তরবঙ্গের দুদিনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘যুদ্ধের মতো কঠিন সময়েও আল্লাহর রসূল (সা.) নারীদের সম্পৃক্ত করে সম্মান দিয়েছেন। তাহলে হু আই অ্যাম, আমি কে তাদেরকে কর্মক্ষেত্র থেকে বিরত রাখার?’
নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মায়েদের ইজ্জতের মূল্য আমাদের জীবনের চেয়েও বেশি। কোনো লম্পটের জায়গা এ দেশের মাটিতে হবে না। এ বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স।’
তিনি বলেন, নারীরা ঘরে থাকবেন সম্মানে ও নিরাপত্তায়, রাস্তায় বের হবেন সম্মানের সঙ্গে। নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। একইভাবে কর্মস্থলেও নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে ও স্বস্তির সঙ্গে পুরুষদের পাশাপাশি দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখতে পারেন।
বেকার ভাতা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি বেকার ভাতা দিয়ে বাংলাদেশকে বেকারের ফ্যাক্টরি বানাতে চাই না।’
বরং প্রত্যেক তরুণ-তরুণীর হাতকে দেশগড়ার কারিগরের হাতে রূপান্তর করার কথা বলেন তিনি।
বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, চান্দু স্টেডিয়াম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে মর্যাদার সঙ্গে এই স্টেডিয়ামকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে এবং সেখানে আবার আন্তর্জাতিক খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় তিনি জানান, তাদের জোট ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গের রাজধানী খ্যাত বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে এবং জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এরপর শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ সরকারি ইসলামিয়া কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায়বিচারভিত্তিক, দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে ১০ দলীয় জোট একসঙ্গে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আর কোনো বৈষম্য বা বিভাজন চাই না। যারা বিভাজন সৃষ্টি করে, তারা দেশের বন্ধু হতে পারে না।’
ঐক্যের মাধ্যমে জাতি গড়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
জামায়াত ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি থেকে সাধারণ মানুষ—সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সামাজিক বৈষম্য ও বিভাজন আপনাআপনি দূর হয়ে যাবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না, শুধু বিচার নয়—লুট করা অর্থও উদ্ধার করা হবে।
সিরাজগঞ্জের দীর্ঘদিনের নদী ভাঙনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রকল্প নেওয়া হলেও সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
সিরাজগঞ্জের তাঁত ও দুগ্ধশিল্প নিয়েও উদ্বেগ জানান জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, তাঁতশিল্প সহায়তার অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গুঁড়ো দুধ আমদানির কারণে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় শিল্প ধ্বংস হলে বেকারত্ব বাড়ে। তাই স্থানীয় উৎপাদন খাত শক্তিশালী করে এখানেই দুধ প্রক্রিয়াজাত ও গুঁড়ো দুধ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমাবেশে সিরাজগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য জামায়াতের ছয়জন প্রার্থী পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলম।
সমাবেশ শেষে শফিকুর রহমান উল্লাপাড়ায় আরেকটি জনসভায় যোগ দেন এবং পরে পাবনার উদ্দেশে রওনা হন।
(এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে দ্য ডেইলি স্টারের বগুড়া ও পাবনার সংবাদদাতা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন)
