মাজারে আঘাত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। কারও পছন্দ না হলে তিনি সেখানে নাও আসতে পারেন, কিন্তু আঘাত বা ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে তিনি মাজারে দোয়ায় অংশ নেন।
বুচাই পাগলার মাজার প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘এই মাজারটি ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভাঙচুর করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই এটি নিন্দনীয় কাজ। এই মাজারটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে জনপ্রিয় বাউল গানের মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের নামকরা বাউলশিল্পীরা অংশ নেন। মাজারসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত মেলা বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অলি-আউলিয়ার দেশ, পীর-আউলিয়ার দেশ। ইসলাম এই ভূখণ্ডে এসেছে তাদের হাত ধরেই।’
সারাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমতের জোয়ার দেখা যাচ্ছে বলেও এসময় মন্তব্য করেন প্রেস সচিব।
এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা মনে করি সারা বাংলাদেশেই হ্যাঁ ভোটের জন্য একটা জোয়ার তৈরি হয়েছে। মানুষ বুঝে গেছে-হ্যাঁ ভোট দিলে ব্যাংকে রাখা টাকা নিরাপদ থাকবে, পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, আর রাষ্ট্র এমন একটি পথে চলবে যেখানে মানুষের অধিকার অক্ষুণ্ণ ও সমুন্নত থাকবে। মানুষ জানে-হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশে আর স্বৈরাচার, অনাচার ও অত্যাচার ফিরে আসবে না। নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।’
শফিকুল আলম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বারবার জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ভোট গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।’
জনগণকে শান্ত ও ধৈর্য ধরে ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলার নিন্দা জানানো উচিত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও সব নাগরিকের দায়িত্ব।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকরা এবারের নির্বাচন সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে কাভার করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ‘তৌহিদী জনতার ব্যানারে’ বুচাই পাগলার মাজারে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনায় ঢাকা জেলার সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ জুনায়েদ ধামরাই থানা পুলিশকে মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। তবে এখন পর্যন্ত মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মাজারটি সংস্কার করা হয়েছে।
মাজার পরিদর্শনের সময় প্রেস সচিবের সঙ্গে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান মোহাম্মদ সালমান হাবীব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিদওয়ান আহমেদ রাফি এবং ধামরাই থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
