বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টির দ্বাদশ আসরের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই শুক্রবার। নতুন চ্যাম্পিয়নের মুকুটের জন্য মুখোমুখি হচ্ছে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। কাগজে-কলমে সামান্য হলেও এগিয়ে চট্টগ্রাম, তবে ফাইনালের মঞ্চে সব হিসাবই নতুন করে লেখা হয় সেই অপেক্ষাতেই ক্রিকেটপ্রেমীরা।
মৌসুমের শুরুতে চট্টগ্রামের অংশগ্রহণই ছিল অনিশ্চিত। দলটির মালিকানা বিসিবির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগে সৃষ্টি হয়েছিল ধোঁয়াশা। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পরই পাল্টে যায় চিত্র। নতুন কোচিং স্টাফ ও ব্যবস্থাপনায় দলটি নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ায় এবং প্রথম কোয়ালিফায়ার জিতে নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট।
স্থানীয় প্রতিভার ওপর ভর করে গড়া চট্টগ্রামের বিপক্ষে রাজশাহীর শক্তি স্থানীয় ও বিদেশি তারকাদের সমন্বয়ে। চট্টগ্রাম মেন্টর হাবিবুল বাশার আগেই জানিয়েছিলেন, বিসিবির অধীনে যাওয়ার পর নতুন জনবল ও পরিকল্পনাই দলকে ঐক্যবদ্ধ করে তুলেছে।
এই অভিযাত্রায় বড় ভূমিকা রেখেছেন তরুণ অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ব্যাটে-বলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নেতৃত্বেও ছিলেন দৃঢ়। অন্যদিকে শরিফুল ইসলাম ১১ উইকেট নিয়ে আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।
ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী বলেন, ‘সবাই নিজের ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করেছে। ব্যবস্থাপনা ও সিনিয়র খেলোয়াড়রা বিশেষ করে মানসিক প্রস্তুতি ও অনুপ্রেরণার জায়গায় দারুণ কাজ করেছে। এজন্যই দল হিসেবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পেরেছি।’
শিরোপা জয়ের স্বপ্নও গোপন করেননি চট্টগ্রাম অধিনায়ক, ‘ফাইনালে উঠেছি মানেই তো ট্রফির স্বপ্ন দেখব। প্রতিটি খেলোয়াড়ই শিরোপা তুলতে চায়। যে দল ম্যাচের দিনে সব বিভাগে ভালো খেলবে, তারাই জিতবে।’
রাজশাহীর প্রশংসাও করেছেন মেহেদী, যদিও তিন দেখায় দুই ম্যাচ জয়ের সুবাদে প্রতিপক্ষকে ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস তার কণ্ঠে, ‘এবারের আসরে রাজশাহীকে আমার সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল মনে হয়েছে। তারা খুব শক্তিশালী, তবে তিন ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা তাদের ভালোভাবে বিশ্লেষণ করেছি। পরিকল্পনা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে তা আমাদের পক্ষেই যাবে।’
অন্যদিকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সও ফাইনালে এসেছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দৃঢ়তা ও কার্যকর পারফরম্যান্স পেয়েছে দলটি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নিজে টুর্নামেন্টের অন্যতম সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক, অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও আছেন তার সঙ্গে। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে দলে যোগ দেওয়া জিমি নিশাম ও কেন উইলিয়ামসন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ইতোমধ্যেই প্রভাব দেখিয়েছেন।
ফাইনাল নিয়ে শান্ত বললেন, ‘আমরা খুশি, তবে এখনও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। ফল নিয়ে ভাবছি না, আমরা আমাদের প্রক্রিয়ায় থাকব এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগ দেব। ফাইনাল বড় মঞ্চ, কিন্তু শান্ত ও স্বচ্ছ মানসিকতা ধরে রাখাই সবচেয়ে জরুরি।’
