নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে।
জাতীয় বেতন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে দ্য ডেইলি স্টার এ তথ্য জেনেছে।
আজ বুধবার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের এ কমিশনের প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদন প্রণয়নের সময় অনলাইনে সংগৃহীত প্রায় আড়াই লাখ মতামতের পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়েছে পে কমিশন।
সুপারিশে সরকারি কর্মচারীদের মোট গ্রেডের সংখ্যা আগের মতোই ২০টি থাকবে।
সর্বনিম্ন স্তর অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে মৌলিক বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর সর্বোচ্চ স্তর ১ম গ্রেডে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার।
সূত্রগুলো জানায়, সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাংলা নববর্ষ (বৈশাখী) ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। আগে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পরিবহন ভাতা পেতেন। নতুন পে কমিশন ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য এই পরিবহন ভাতা সম্প্রসারণের সুপারিশ করেছে।
বর্তমান সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীরাও উল্লেখযোগ্য হারে পেনশন বৃদ্ধি পাবেন।
মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন প্রাপ্তদের জন্য ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে।
চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বয়সকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বয়স্ক পেনশনভোগীদের জন্য ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে ১ম থেকে ১০ম গ্রেডের জন্য তুলনামূলকভাবে কম হারে নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে।
এদিকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অনুন্নয়ন বা পরিচালন ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর কাছ থেকে জেনেছে, চলতি অর্থবছরে সরকার উন্নয়ন ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো এবং অনুন্নয়ন বা পরিচালন ব্যয় ২৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
