ভারত ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা গেলেও আইসিসি থেকে এই বিষয়ে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাননি। তার মতে, এটি মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির মধ্যকার ইস্যু।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ দলের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচের সবকটিই ভারতে আয়োজনের সূচি রয়েছে— তিনটি কলকাতায় ও একটি চেন্নাইতে। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিশ্বকাপে খেলতে ভারত সফর না করার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে বিসিবি।
সোমবার ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, লজিস্টিক জটিলতায় শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় বাংলাদেশের জন্য ভারতেরই বিকল্প কিছু ভেন্যুর কথা ভাবছে আইসিসি। তারা চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরমকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে এই দাবি উড়িয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে সাইকিয়া বলেছেন, বিসিসিআইকে এখন পর্যন্ত এমন কিছু জানানো হয়নি, ‘বাংলাদেশের ম্যাচ চেন্নাই বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিসিসিআই কোনো বার্তা পায়নি এবং এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যেহেতু আইসিসি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, তাই এটি বিসিবি ও আইসিসির মধ্যকার আলোচনার বিষয়। আইসিসি যদি ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের জানায়, তবে আয়োজক হিসেবে বিসিসিআই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বর্তমানে আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই।’
গত ৪ জানুয়ারি আইসিসির কাছে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ বোর্ড ভেন্যু পরিবর্তনের এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল। জবাবে আইসিসি বাংলাদেশ দলের পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বিসিবির শঙ্কা সমাধানে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। গত বৃহস্পতিবার আইসিসিকে দ্বিতীয় চিঠি পাঠায় বিসিবি। সেখানে ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ বোর্ডের সব আশঙ্কা ও অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। আইসিসি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চিঠির জবাব দেয়নি।
ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে আইপিএল থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আকস্মিকভাবে বাদ দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন ও বিতর্ক। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনীতিবিদ ও উগ্রবাদী নেতাদের দাবির মুখে বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এদিকে, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, মোস্তাফিজের দলে থাকাসহ তিনটি কারণে ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে, ‘প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মোস্তাফিজ অন্তর্ভুক্ত হন। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা যদি জাতীয় দলের জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। আর তৃতীয়ত, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। আইসিসির নিরাপত্তা দলের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে, ভারতে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার মতো পরিবেশ নেই।’
