31 C
Dhaka
Home Blog Page 2

অর্থনৈতিক চাপে প্রাইভেটকার বিক্রি কমে ১৩ বছরে সর্বনিম্ন

বাংলাদেশে প্রাইভেটকার বিক্রি কমে গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

গত বছর নিবন্ধন হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭টি নতুন প্রাইভেটকার। ২০২৪ সালেও ১০ হাজার ৪৯৯ ও ২০২৩ সালে ১০ হাজার ৭৮৪ নতুন নিবন্ধন দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১১ সালের পর কোনো বছর গাড়ির নিবন্ধ এত কম সংখ্যক হয়নি।

ব্যবসায়ী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থনৈতিক অব্যাহত চাপ, আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে গাড়ির বাজারে।

করোনা মহামারির আগে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ওঠা এই বাজার দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমুখী। এর কারণ ডলারের মূল্য বাড়ায় গাড়ির দাম বেড়ে যাওয়া, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, ব্যবসার দুর্বল পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বলেন তারা।

এইচএনএস গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা—দুটি কারণ একসঙ্গে বাজারে প্রভাব ফেলেছে। ফলে গাড়ি বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

‘দেশের সামগ্রিক ব্যবসা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল ছিল। সরবরাহ শৃঙ্খলও মসৃণ ছিল না। আমাদের নিজস্ব সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,’ বলেন তিনি।

শহীদুল আরও বলেন, তারল্য সংকটে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ‘ভয় ও অনিশ্চয়তা ছিল, আর তারল্য সংকটের কারণে মানুষ খরচের ব্যাপারে সতর্ক।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, গত বছর ভোক্তা ঋণের সুদের হার বেড়ে ১২ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে, ২০২২ সালে যা ছিল ৮ থেকে ৯ শতাংশ।

ঋণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা আরও কমে গেছে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) এই সাবেক মহাসচিব ইসলাম বলেন, ‘ঋণের সুদের হার বেড়েছে এবং অর্থের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গ্রাহকরা ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন।’

একই সময়ে মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে গাড়ির দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘ডলারের মূল্য এক সময় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। যে গাড়ি আগে ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি হতো, সেটার দাম বেড়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকায় পৌঁছায়,’ তুলনামূলক সাশ্রয়ী গাড়ির উদাহরণ দিয়ে বলেন তিনি।

শহীদুলের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সড়কে আন্দোলন ও ব্যবসায়িক বিঘ্নতার কারণে ভোক্তাদের আস্থা কমেছে। 
তিনি বলেন, ‘যখন অনিশ্চয়তা থাকে এবং ব্যবসা ঝামেলার মধ্যে পড়ে, তখন মানুষ বেশি টাকা খরচ করে কেনাকাটার সিদ্ধান্তে যেতে চান না। সব মিলিয়েই বিক্রি কমে গেছে।’

রিয়াজ মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজ রহমান বলেন, গত বছর গাড়ি বিক্রি ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল এবং বাজারে ‘অত্যন্ত ধীরগতি’।

এই মন্দার জন্য ব্যয় বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যাংকিং পরিস্থিতি দায়ী। আরও দুই থেকে তিন বছর আগে গাড়ির দাম বাড়লেও, গত দুই বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, বলেন তিনি।

রিয়াজ বলেন, ‘ডলারের হার ৩০ শতাংশের বেশি বাড়ায় আমদানি ব্যয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়েছে। শুল্কও সে অনুযায়ী বেড়েছে। ফলে অনেক গাড়ি মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।’

বারভিডা বর্তমান মহাসচিব রিয়াজ আরও বলেন, গত দুই বছরে রাজনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা ভোক্তাদের আস্থা দুর্বল করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে পরিস্থিতিও ব্যবসায়িক মনোভাবকে আরও শ্লথ করেছে।

রিকন্ডিশন্ড গাড়ির প্রধান উৎস জাপানে সরবরাহ সংকটের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, বাংলাদেশে ৫ বছর পর্যন্ত পুরোনো গাড়ি আমদানির অনুমতি থাকলেও, ২০২১ ও ২০২২ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উপযুক্ত মডেলগুলো এখন স্বল্প ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

‘ওই গাড়িগুলোর জন্য আমরা বিড করলে দাম অনেক বেশি থাকে।’

গাড়ির দাম কমিয়ে সরবরাহ বাড়াতে এবং রাজস্ব বাড়াতে ৭ বা ৮ বছরের পুরোনো গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মোটরস বে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বিপু মনে করেন, আর্থিক সংকট ও দুর্বল ব্যবসায়িক মনোভাবই গাড়ি বিক্রি কমার প্রধান কারণ। বলেন, ‘আমার মতে, মানুষ বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ব্যয় করতে অনীহা বোধ করছে। ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকার গাড়ি কিনলে বড় অঙ্কের অর্থ আটকে যায়, আর ঋণ নিলে কিস্তি পরিশোধের চাপ তৈরি হয়। ব্যবসায় ধীর গতি থাকলে কিস্তি কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন গ্রাহকরা। এই আর্থিক চাপই বড় কারণ।’

সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দা সব খাতের মতো গাড়ি খাতেও প্রভাব ফেলেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগ ও তারল্য প্রবাহ সাধারণত দুর্বল থাকে, যা বড় অঙ্কের কেনাকাটা নিরুৎসাহিত করে, যোগ করেন তিনি।

বিপু আরও বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে সিবিইউ (সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানি করা) গাড়ির দাম বেড়েছে, ফলে নতুন গাড়ি মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

চীনা ও বৈদ্যুতিক ব্র্যান্ডের উত্থানে বাজার অংশীদারত্বে পরিবর্তন এলেও, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সামগ্রিকভাবে গাড়ি কেনার সংখ্যা কমেছে, জানান বিপু।

শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল নিউজিল্যান্ড

৮৪ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে ধুঁকতে থাকা নিউজিল্যান্ড অসাধারণ কায়দায় ঘুরে দাঁড়াল অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চির বিস্ফোরক জুটিতে। এরপর চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়ায় বিবর্ণ ব্যাটিংয়ে কোনো উত্তেজনাই তৈরি করতে পারল না শ্রীলঙ্কা। রাচিন রবীন্দ্রর ঘূর্ণিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকদের বিদায় করে সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল কিউইরা।

বুধবার সুপার এইটের দুই নম্বর গ্রুপের ম্যাচে কলম্বোতে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে  গিয়ে তারা ৭ উইকেটে ১৬৮ রান জমা করার পর স্বাগতিকরা থামে ৮ উইকেটে ১০৭ রানে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়া নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ২ ম্যাচে ৩। সমান ম্যাচ খেলে শ্রীলঙ্কা এখনও কোনো পয়েন্ট পায়নি। গত ম্যাচেও তারা বড় ব্যবধানে পরাস্ত হয়েছিল ইংল্যান্ডের কাছে।

এই গ্রুপ থেকে ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড পেয়ে গেছে সেমিফাইনালের টিকিট। ২ ম্যাচ খেলে তাদের অর্জন পূর্ণ ৪ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ১ পয়েন্ট পাওয়া পাকিস্তানও নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি সেমিফাইনালে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে আছে। তবে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় কিউইদের (+৩.০৫) সম্ভাবনা পাকিস্তানিদের (-০.৪৬) তুলনায় বেশি।

ব্যাটিংয়ে স্যান্টনার দলের পক্ষে অপরাজিত সর্বোচ্চ ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন। তিনি ২৬ বল মোকাবিলায় দুটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন। ম্যাককঞ্চি ২৩ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৩১ রান। তারা সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৮৪ রানের জুটি গড়েন ৪৭ বলে।

বোলিংয়ে ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্সে অলরাউন্ডার রবীন্দ্র বাঁহাতি স্পিনে ৪ ওভারে ৪ উইকেট নেন ২৭ রানে। ২ ওভারে একটি মেডেনসহ পেসার হেনরি ২ উইকেট শিকার করেন ৩ রানের বিনিময়ে।

‘গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পেলে আবারও ধারাবাহিকে ফিরব’

অভিনেত্রী তাহমিনা সুলতানা মৌ ধারাবাহিক নাটক থেকে আপাতত দূরে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পেলে আবারও ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। আসন্ন ঈদে তার অভিনীত একাধিক নাটক প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৯৯ সাল থেকে অভিনয় করছেন মৌ। ক্যারিয়ারে তিনি বহু এক ঘণ্টার নাটক, টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। একসময় মঞ্চ নাটকেও কাজ করেছেন। বিজ্ঞাপনে কাজ করেও তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে এই অভিনেত্রী ঈদের নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ইতোমধ্যে তিনি দুটি ঈদের নাটকের শুটিং শেষ করেছেন। আরও একটি নাটকের শুটিং শিগগির শুরু হবে।

এর মধ্যে ‘হ্যাপি ডিভোর্স’ নাটকটি পরিচালনা করেছেন তপু খান। তারকাবহুল এই নাটকে মৌ গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

তিনি বলেন, ‘হ্যাপি ডিভোর্স নাটকের গল্পটা দারুণ। দর্শকদের ভালো লাগবে। পরিচালক খুব গুছিয়ে কাজ করেছেন। অনেক শিল্পী আছেন নাটকটিতে। এই নাটকে কেয়া পায়েল ও আমি দুই বোন।’

‘হ্যাপি ডিভোর্স’ একটি পারিবারিক গল্পের নাটক বলে জানান তিনি।

মহিদুল মহিম পরিচালিত ‘মন প্রিয়া’ নাটকের শুটিংও শেষ করেছেন মৌ। এই নাটকে জোভান ও গায়িকা পড়শি অভিনয় করেছেন। মৌ এতে অন্যতম প্রধান চরিত্রে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় নাটকটি দেখতে দর্শকদের ভালো লাগবে।’

এ ছাড়া মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় আরও একটি ঈদের নাটকের শুটিং শিগগির শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বহু ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করলেও বেশ কিছুদিন ধরে নতুন কোনো ধারাবাহিকে কাজ করছেন না মৌ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘টানা সিরিয়াল তো অনেক করেছি। এখন করছি না। তবে, কখনোই করব না তা নয়।’

ধারাবাহিক নাটকের কাজের ধরন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেখুন, ধারাবাহিকের জন্য অল্প দিনের শিডিউল নেওয়া হয়, কিন্তু দৃশ্য করা হয় অনেক। দুই দিনের কাজ একদিনে হয়। অভিনয়শিল্পীর ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে যায়। দ্রুত কাজ শেষ করতে হয়। আমি মনে করি, এতে করে নাটক থেকে চরিত্রটি হারিয়ে যায়। লম্বা হতে থাকে গল্প। আবার গল্পের সমাপ্তি ভালো মতো হয় না।’

‘এইসব কারণেই ধারাবাহিক থেকে দূরে আছি। সামনে অবশ্যই করব যদি চরিত্রের গুরুত্ব থাকে,’ যোগ করেন তিনি।

ইদানীং টেলিভিশনে পারিবারিক গল্পের নাটক বেশি হচ্ছে—এ বিষয়ে মৌ বলেন, ‘এটা টেলিভিশন নাটকের জন্য ইতিবাচক দিক। একটি নাটকে অনেক শিল্পী থাকতে পারেন। পারিবারিক গল্প বেশি বেশি হলে দর্শকরা যেমন ভালো নাটক দেখতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘যদি পরিচালক ও নাট্যকার পারিবারিক গল্পের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন, তাহলে কম-বেশি সব শিল্পী অভিনয় করার সুযোগ পান। এতে ইন্ডাস্ট্রি আরও বড় হবে।’

‘গুলশান এভিনিউ’ ও ‘সোনার পাখি রূপার পাখি’ ধারাবাহিক নাটক মৌয়ের অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।

তিনি বলেন, ‘সোনার পাখি রূপার পাখি নাটকে সেতারা বেগম চরিত্রে অভিনয় করে প্রচুর সাড়া পাই। মানুষ এখনো ওই চরিত্রের কথা মনে রেখেছেন। গুলশান এভিনিউ নাটকের কথাও দর্শক মনে রেখেছেন।’

অভিনয় নিয়ে এই সময়ের চাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সব ধরণের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। পুলিশ চরিত্র হোক, আইনজীবী চরিত্র হোক—সবরকম। কিন্তু, চরিত্রের গুরুত্ব থাকতে হবে।’

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা

সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। দেশটিতে আগামীকাল বুধবার থেকে রোজা শুরু হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইসলামী পঞ্জিকার নবম মাস রমজানকে বছরের সবচেয়ে পবিত্র মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ মাসেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল হয়।

রমজান মাস ২৯ বা ৩০ দিন স্থায়ী হয়, যা মাসের শেষদিকে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় রমজান মাস।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বিএনপির সংসদ সদস্যরা। 

আজ মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, দলীয় প্রধান তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি সব নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ফরমে স্বাক্ষর না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ তারা (নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা) সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি বর্তমানে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নেই। তাই গণভোটের মাধ্যমে প্রথমে এই পরিষদকে সংবিধানের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া, এই পরিষদের সদস্যদের শপথ বাক্য কে পাঠ করাবেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।

জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথ বাক্য পাঠ করান। সকাল ১০টা ২৮ মিনিটের দিকে স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শপথকক্ষে প্রবেশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

নতুন সরকারের শপথ: মোদি, শাহবাজসহ অন্তত ১২ দেশের নেতা আমন্ত্রিত

বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ এই অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) হুমায়ুন কবির গতকাল ভারতীয় গণমাধ্যম উব্লিউআইওএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানাবে অন্তর্বর্তী সরকার।’

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চীনসহ এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার ১২টিরও বেশি দেশের সরকারপ্রধানকে ইতোমধ্যে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মান বজায় রেখে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করবে বিএনপি সরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি এবং নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফোন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক ইঙ্গিত।’

এরমধ্যেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদি আমন্ত্রণটি নাও গ্রহণ করতে পারেন। কারণ তিনি সেসময় মুম্বাইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে থাকবেন এবং পরে দিল্লিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন। সেক্ষেত্রে তিনি কোনো মন্ত্রী বা অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, যেমন উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণ বা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠাতে পারেন।

 

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ভণ্ডুল করে দিতে পারে যে নিয়োগ

ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে, প্রথমে ট্র্যাজেডি হিসেবে, পরে প্রহসন হিসেবে—বলেছিলেন জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরদপ্তরে যা ঘটল, তা যেন মাত্র ১৮ মাসের ব্যবধানে ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি এবং ট্র্যাজেডি হিসেবেই।

বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিতে হাঁটু গেড়ে বসা অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার নেপথ্য কারিগর আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নরের পদ থেকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‘আমি পদত্যাগ করিনি, আমাকে অপসারণও করা হয়নি। মিডিয়ায় দেখলাম, তাই বাসায় চলে যাচ্ছি,’ দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সদরদপ্তর ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সেসময় তাকে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষের ভিড় এড়িয়ে বের হতে দেখা যায়।

প্রায় এক ঘণ্টা পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তার ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট শুরু হওয়া চার বছরের মেয়াদের অবশিষ্ট অংশ বাতিল করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে।

তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের একটি মাঝারি মানের সোয়েটার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাকুর রহমান। প্রতিষ্ঠানটি মাত্র কয়েক মাস আগে ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করে।

শিক্ষাগতভাবে তিনি একজন হিসাববিদ। তিনি অর্থনীতিবিদ নন, ব্যাংকারও নন—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার মৌলিক পূর্বশর্তগুলোর একটি। ব্যাংকিং বা আর্থিক খাতে তার পূর্ব অভিজ্ঞতাও নেই।

বিষয়টি আরও বিস্ময়কর এই কারণে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হতে হলে সুদৃঢ় শিক্ষাগত যোগ্যতা, দীর্ঘ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং অন্তত তিন বছর অতিরিক্ত বা উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

নতুন গভর্নর ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ বলয়ে আছেন, বিএনপির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তিই যার প্রমাণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী, একটি ব্যাংকের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতাই তিনি রাখেন না, পুরো ব্যাংকিং খাতের নেতৃত্ব তো দূরের কথা।

এ নিয়োগ অদ্ভুতভাবে আওয়ামী লীগ আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ হতো রাজনৈতিক বিবেচনায়, শীর্ষ নেতৃত্বের ইচ্ছার প্রতি অনুগত রাখার উদ্দেশ্যে।

তবে তখনো কিছুটা নিয়মকানুন মানা হতো। সর্বশেষ দুই গভর্নর ছিলেন অর্থসচিব, তার আগে ছিলেন একজন উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হলেন।

আসলে বিশ্বজুড়েই এমন নজির খুবই বিরল। কারণ এ পদে জনস্বার্থে তীক্ষ্ণ মনোযোগ প্রয়োজন, যেমন মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা। কিন্তু মুনাফা সর্বাধিককরণের মানসিকতা নয়, যা ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক।

ফলে স্বভাবতই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ব্যাংকিং খাত আবারও পদ্ধতিগত লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যেমনটি শেখ হাসিনার আমলে দেখা গিয়েছিল।

আহসান এইচ মনসুরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কৌশলগত জাল বিস্তার করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ১৫ বছরে দেশের আর্থিক খাত থেকে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বহু ব্যাংক ও তাদের পরিচালনা পর্ষদ তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দখলে চলে গিয়েছিল।

এরপর কিছু কাল্পনিক কোম্পানিসহ অন্যান্য কোম্পানিকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়, যা কখনোই পরিশোধ হয়নি। উপরন্তু নিয়ন্ত্রকের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া হয়। বিপুল অর্থ পরে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়।

এমন ভগ্নদশার মধ্যেই ২৭ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে কাজ করা অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর গভর্নরের দায়িত্ব নেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হন।

তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

ডলার মজুত ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার আমদানি সীমিত করে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন খাতে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বকেয়া জমতে দেয় এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বছরের পর বছর মুনাফা দেশে নিতে বাধা দেয়।

গত ১৮ মাসে সব বিদেশি দায় শুধু পরিশোধই হয়নি, মুনাফা প্রত্যাবাসনও পুনরায় চালু হয়েছে, আমদানি বিধিনিষেধও তুলে নেওয়া হয়েছে। তবু রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারে।

মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা হলেও টাকা আশঙ্কাজনকভাবে ধসে পড়েনি আহসান এইচ মনসুরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণেই। এখন ডলারের বিপরীতে টাকার দর প্রায় ১২২ টাকায় স্থিতিশীল।

অর্থপাচারের অন্যতম কৌশল ‘মিস-ইনভয়েসিং’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো অব্যাহত রেখেছেন আহসান এইচ মনসুরের প্রতি আস্থার কারণে।

গত তিন বছর ধরে দ্বিগুণ অঙ্ক ছোঁয়া মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮ শতাংশে, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তার দক্ষ কৌশলের ফলেই।

মোট বকেয়া সম্পদের এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছে যাওয়া খেলাপি ঋণের বোঝা নিয়ে জর্জরিত ব্যাংক খাতও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ইসলামি ব্যাংকগুলোর আর্থিক হিসাবও পুনর্গঠিত হচ্ছে।

এর চেয়েও উল্লেখযোগ্য, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে তিনি অগ্রগতি অর্জন করেন।

তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতার কারণেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত পুরোপুরি পূরণ না করেও ঋণ কর্মসূচির কিস্তি ছাড় করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

মাত্র ১৮ মাসে আহসান এইচ মনসুর যা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে অসাধারণ।

কিন্তু অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এখনো নাজুক। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ-ঝুঁকি বাড়লে এলএনজির দাম বাড়তে পারে, ফলে দ্রুত রিজার্ভ কমে যেতে পারে। তখন মূল্যস্ফীতি বাড়বে, টাকার মান চাপে পড়বে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে।

এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আহসান এইচ মনসুরের মতো অভিজ্ঞ নেতৃত্ব যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন দায়িত্ব দেওয়া হলো এক অনভিজ্ঞ ব্যক্তির হাতে।

এতে আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, অভিজ্ঞতাহীন কারও হাতে মুদ্রানীতি থাকলে বহুপাক্ষিক ঋণদাতা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে? যদি আইএমএফ কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে বাংলাদেশের ঋণমান কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? আন্তর্জাতিক ঋণপ্রাপ্তি ও তার ব্যয় কতটা বাড়বে?

সংক্ষেপে, এতে দেশের অর্থনীতি কয়েক দশক পিছিয়ে পড়তে পারে। আর যদি তা-ই ঘটে, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটি হবে নিঃসন্দেহে এক ট্র্যাজেডি।

আহা পুলিশ, কোন দিকে যাবে!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ একটা অস্বাভাবিক সময় পার করছে। কিছু হলেই রাস্তা অবরোধ, ব্লকেড, মব ভায়োলেন্স! আমরা কোন দিকে ধাবিত হচ্ছি? ছোট-বড় যেকোনো দাবিতেই রাস্তায় নেমে আসা, সড়ক অবরোধ, সচিবালয়ের দিকে যাত্রা, অফিস ঘেরাও, কর্ম বিরতি।

আর দিন শেষে ভিলেন বানানো হয় পুলিশকে। ক্ষেত্র বিশেষে পুলিশকে ভিকটিমও বানানো হচ্ছে। সব দোষ পুলিশের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আন্দোলন যার বিপক্ষেই হোক বা যে কারণেই হোক, দিন শেষে ভিলেন পুলিশ। কিন্তু কখনোই কেউ চিন্তা করে না যে পুলিশের হাত আইন দিয়ে বাধা। ঘটনা যাই ঘটুক, যেই ঘটাক, যেখানেই ঘটুক—সবকিছুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হচ্ছে পুলিশকে। কারণ, পুলিশকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাটের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাসহ সবকিছুর জন্য কাজ করে যেতে হয়।

যদি কিছু জনগণ পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়ায়, তাদের আইন সংগত কাজে বাধার সৃষ্টি করে, তাহলে বাকি জনগণ পুলিশের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়, সবাই ভোগান্তির শিকার হয়।

নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তার প্রথম দিনের ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘দাবি-দাওয়া থাকবে, তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করতে হবে। যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে, স্মারকলিপি দেওয়া যাবে। দাবি আদায়ের জন্য সড়ক-মহাসড়ক বন্ধ করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে মব কালচার শেষ। মব কালচারকে আর কোনোভাবেই উৎসাহিত করা যাবে না।

রাস্তা অবরোধ বা মব সন্ত্রাস—যেটাই করা হোক না কেন দিনশেষে ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ মানুষ। ঢাকা শহরের কোনো একটি রাস্তা বন্ধ থাকা মানেই পুরো শহরে যানজটের এক বিরূপ প্রভাব তৈরি হওয়া।

ক্ষেত্র বিশেষে পুলিশ তার আইন সংগত কাজ করতে গিয়েও একটা শ্রেণীর বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে, সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছে, সমালোচনার শিকার হচ্ছে, দুর্নাম কুড়াচ্ছে। অনেক সময় পুলিশকে টার্গেট করে আক্রমণ করা হচ্ছে। সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে পুলিশকে টার্গেট করে কথা বলে একটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে‌।

কারণ, এটা সবাই জানে যে পুলিশকে যদি তার কাজ ঠিকমতো করতে দেওয়া না হয়, পুলিশ যদি আইন ঠিকমতো প্রয়োগ না করতে পারে, তাহলে একটা শ্রেণীর বা একটা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

কল্পনা করুন, কোনো আন্দোলনেই পুলিশ কোনো রকম বাঁধা প্রয়োগ করলো না। তাহলে কী হবে? নিশ্চিতভাবেই রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান, দপ্তর বা বাসভবন ভাঙচুরের সম্মুখীন হবে।

কাজেই পুলিশকে ভিলেন বানানোর যে চক্রান্ত, তার সামনের সস্তা আবেগী চিন্তা বাদ দিয়ে পেছনের বাস্তবধর্মী কারণ জানতে হবে।

আন্দোলনকারীদের দাবির যৌক্তিকতার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। সেইসঙ্গে তাদের কাছে অনুরোধ করেছে, যেন রাস্তা বন্ধ করে লাখো মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়। কিন্তু, বারবার পুলিশের এই প্রচেষ্টাকে দুর্বলতা মনে করা হয়েছে।

পুলিশকে তার আইনগত কাজ করতে দিতে হবে। সেটা হতে হবে আপনার-আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই। আন্দোলন করতে গিয়ে যেখানে পুলিশের সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ আছে, সেখানে কেন পুলিশকে ন্যূনতম আইনগত বল প্রয়োগ করার সুযোগ দেবো?

পুলিশের অবস্থা ফুটে ওঠে রমনার ডিসি মাসুদ আলমের উদাহরণ দেখলেই। এই মাসুদ আলমই সেই কর্মকর্তা, যিনি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তার তৎকালীন কর্মস্থল পাবনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেদিন বলেছিলেন, ‘যদি তোমাদের অ্যাটাক করার জন্য কেউ আসে, তাহলে আমি আছি। আমার উপর দিয়ে যাইতে হবে। আগে আমাকে মারতে হবে, তারপর যাইতে হবে।’

সেই মাসুদ আলমকেই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বলতে হয়েছে, ‘যমুনার দিকে যেতে বাধা দিয়েছি, এতেই আমার বিরুদ্ধে পদত্যাগ চাওয়ার দাবি উঠেছে। যদি আরও আইনগত ব্যবস্থা নেই, তাহলে মনে হচ্ছে দেশে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী কয়েকদিনের ঘটনা পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট হবে যে, পুলিশ না থাকলে বা ঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে দেশের পরিস্থিতি ঠিক কেমন হতে পারে। আমরা সেই সময় দেখেছি, কীভাবে একটি গোষ্ঠী দেশের স্বার্থ না দেখে তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে সারা দেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

পুলিশের কাজ অনেকটা রোগাক্রান্ত মানুষের শরীরে সার্জারি করার মতো। কাঁটা-ছেড়া হবে, খানিকটা রক্তও বের হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোগ সাড়িয়ে সুস্থ করে তুলবে।

পুলিশ সদস্যরা ৩৬৫ দিন দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করে যায়। এমনকি সবাই যখন ঈদের আনন্দে বিভোর, তখনও নিজের সন্তান, আত্মীয়-পরিজনের কাছে যাওয়ার চেয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েই তারা কাজ করে যান।

তারপরও পুলিশের অবস্থা ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’-এর মতো। আইন প্রয়োগ করলে অপপ্রচারের শিকার; আর না করলে দেশের ক্ষতি, জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত, আইনশৃঙ্খলার অবনতি। তারপর আবার সেটা নিয়েও অপপ্রচারের শিকার হতে হয়।

অনেক সময় পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং পরিস্থিতির চাপে অনেক পুলিশ সদস্য ক্ষেত্র বিশেষে তাদের পেশাগত মান বজায় রাখতে পারেন না এবং অনেক সময় অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন, যা সামগ্রিকভাবে পুলিশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করে। তবে এক্ষেত্রে বাহিনীর স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রতিবছর একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

তবে, এটাও সত্য পুলিশ যদি আইনগত দায়িত্ব পালন করতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্রে নিরাপত্তা বলতে কিছু থাকবে না। কাজেই পুলিশকে প্রতিপক্ষ না ভেবে তাদের কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। তা না হলে ভোগান্তির শিকার হতে হবে সবাইকেই।

দেশের উন্নয়নের জন্য, সবার জীবন সহজ করার জন্য, সর্বোপরি জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে তার কাজ করতে দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ যথার্থই বলেছেন, ‘পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানাতে হবে।’ দেশের নতুন সরকার সর্বতোভাবে চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করতে। দেশের উন্নয়নে আমাদের সবাইকে ন্যায্যতার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। পদে পদে অন্যায্য, অনৈতিক ও বেআইনি বাধা সৃষ্টি করা হলে ভুক্তভোগী হতে হবে সবাইকেই। আর দিন শেষে দেশকেই তার মূল্য চুকাতে হবে।

রায়হান রাফীর সিনেমা মানেই ভিন্নতা: আজিজুল হাকিম

নব্বই দশকে টেলিভিশন নাটকের অন্যতম সাড়া জাগানো অভিনয়শিল্পী আজিজুল হাকিম। ওই দশকে ছোটপর্দায় তার উপস্থিতি ছিল ঈর্ষণীয়। 

একজীবনে প্রচুর নাটকের এ অভিনেতা সফলতা যেমন পেয়েছেন, পেয়েছেন কোটি দর্শকদের ভালোবাসাও। সাফল্য ধরে রেখে টানা কয়েক দশক ধরে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন নাটক, সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজে। 

দেশের নামি নাটকের দল আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে মঞ্চে অভিনয় করেছেন বছরের পর বছর ধরে। 

জয়যাত্রা, শঙ্খনীল কারাগার, পদ্মা নদীর মাঝি, গলুইসহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন প্রশংসা। 

সম্প্রতি নতুন একটি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। রায়হান রাফী পরিচালিত এই সিনেমার নাম ‘প্রেসার কুকার’। 

এ সিনেমায় অভিনয় করা প্রসঙ্গে আজিজুল হাকিম বলেন, ‘রায়হান রাফী গল্পটা ভালো বোঝেন। প্রচণ্ড সিনসিয়ার তিনি। কাজের প্রতি মনোযোগ শতভাগ। এই পরিচালকের সাথে প্রথম কাজ করেছি। যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। সুন্দর ডিজাইন করে কাজ করেন।’

‘প্রেসার কুকার’ সিনেমা সম্পর্কে বলেন, ‘ভিন্ন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। দর্শকরা আমাকে দেখবেন ব্যবসায়ীর চরিত্রে। ক্যারিয়ারে অনেক রকম চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিন্ত এই ধরনের কাজ করিনি। মন দিয়ে অভিনয় করেছি।’ 

প্রেসার কুকার সিনেমার টিম সম্পর্কে আজিজুল হাকিম বলেন, ‘গোছানো ও খুবই ভালো টিম।’ 

রায়হান রাফীর কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাফীর অন্য সিনেমাগুলো দেখেছি। দুর্দান্ত সিনেমা বানায়। যার জন্য দর্শকরা তার সিনেমা দেখেন। আমিও দেখেছি। রাফী মানেই ভিন্নতা। নতুন কিছু।’ 

প্রেসার কুকার সিনেমার সহশিল্পীদের নিয়ে আজিজুল হাকিম বলেন, ‘বেশকজন সহশিল্পী কাজ করেছেন। শহীদুজ্জামান সেলিম, গাজী রাকায়েত, তুষিসহ আরও অনেকে। সবাই দারুণ অভিনয় করেছেন।’ 

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে কয়েক হাজার নাটকে অভিনয় করলেও সিনেমায় কম কেন? এমন প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, ‘যে সময়ে সিনেমা করার কথা কিংবা যে সময়ে সিনেমায় প্রস্তাব এসেছে, সেই সময়ে টেলিভিশন নাটকে প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলাম। আমার ক্যারিয়ার সেইসময় তুঙ্গে। অসম্ভব ব্যস্ত সময় কাটছিল তখন। এ কারণে দুই মাধ্যমে কাজ করতে চাইনি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সেই সময় নাটক করতে করতে ভেবেছি সিনেমায় কাজ করব, দর্শকরা কি আমার কাজ টিকিট কেটে দেখবেন? কেননা, দর্শকরা তো ঘরে বসেই প্রতি মাসে আমার কাজ দেখছেন। এই ভাবনাগুলোও ছিল। তাছাড়া, টেলিভিশনের ক্যারিয়ারকে মাইনাস করে সিনেমায় যেতে চাইনি।’ 

বর্তমানে ওটিটিতে অনেক কাজ হচ্ছে। এই মাধ্যমে আজিজুল হাকিমও অভিনয় করছেন। তার অভিনীত ‘সাইলেন্স’ ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। ‘আঁকা’, ‘কানামাছি’ও প্রশংসিত হয়েছে।

 অন্যদিকে, ইউটিউব চ্যানেলের জন্য যেসব নাটক নির্মিত হচ্ছে, সেখানেও অভিনয় করছেন। 

তিনি বলেন, ‘অভিনয় ভালোবাসি। অভিনয়ই করেছি বছরের পর বছর। এখনো করছি। করে যেতে চাই।’ 

নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী তটিনী, নেহাসহ আরও অনেকের সাথে অভিনয় করছেন তিনি। কখনো বড় ভাই, কখনো বাবার চরিত্রে কাজ করছেন। 

আজিজুল হাকিম বলেন, ‘টেলিভিশনের কয়েক প্রজন্মের শিল্পীদের সাথে কাজ করেছি। অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে।’ 

দর্শকদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দর্শকদের বোকা ভাবতে যেন না চাই। কেননা, দর্শকরা সব বোঝেন। দিন শেষে ভালো কাজই দর্শকরা দেখেন।’ 

আজিজুল হাকিমের স্ত্রী জিনাত হাকিম একজন জনপ্রিয় নাট্যকার। ক্যারিয়ারে স্ত্রীর অবদান কতটুকু? 

এর জবাবে আজিজুল হাকিম বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে স্ত্রীর ভূমিকা একশো ভাগ। তার অবদান অনেক।’ 

ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী দেশ ছাড়ার সময় আটক

ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো দেশ ছাড়তে গিয়ে আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

গত বছর বহুল আলোচিত এক দুর্নীতিতে নাম প্রকাশ্যে আসার পর তাকে মন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ট্রেন থেকে আটক হন বলে জানা গেছে। তবে তার গন্তব্য কোথায় ছিল তা জানা যায়নি।

ইউক্রেনে গত নভেম্বরে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড) আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় একাধিক সরকারি কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসে। তাদের মধ্যেই একজন তিনি।  

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের আগেই বিপুল সমর্থনে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনকে ওই আর্থিক কেলেঙ্কারি গভীর সংকটে ফেলে দেয়।

আর্থিক কেলেঙ্কারির জেরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের চাপ বেড়েছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

রোববার এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) জানায়, ‘মিডাস’ মামলার অংশ হিসেবে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অতিক্রমের সময় আটক করা হয়েছে।

বিবৃতিতে গালুশচেঙ্কোর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইউক্রেনের একাধিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম তাকে এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

গালুশচেঙ্কো স্বল্প সময়ের জন্য বিচারমন্ত্রীও ছিলেন। এর আগে তিনি তিন বছর জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেন। তার উত্তরসূরি স্বিতলানা হ্রিনচুকও কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর পদ ছাড়েন।

আটকের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো। সংস্থাটি বলছে, সময়মতো হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হবে।

রেডিও ফ্রি ইউরোপ জানিয়েছে, সীমান্তরক্ষীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যদি সাবেক মন্ত্রী গালুশচেঙ্কো দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন, তারা যেন তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানায়। আটকের পর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রাজধানী কিয়েভে নিয়ে যাওয়া হয়। 

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্য দেশ ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির সমস্যায় জর্জরিত। জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো ও বিশেষায়িত প্রসিকিউটর অফিস গত এক দশক ধরে কাজ করলেও সেই সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ইউক্রেনের যোগদানের জন্য দুর্নীতি দমনকে অন্যতম মূল শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।