33 C
Dhaka
Home Blog Page 11

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী: অর্জন, আক্ষেপ ও অশনিসংকেত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর পুনরায় শুরু হলো গণতন্ত্রের পথচলা। নির্বাচিত সাতজন নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে তিনজনই ঠাঁই পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়। তাদের একজন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। অর্থাৎ, নির্বাচিত নারীদের ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। এ অর্জনে শুভ কামনা। সেইসঙ্গে একরাশ শঙ্কা রয়েছে নারীর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে।

বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও সামাজিক রূপান্তরের ফল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান ছিল বহুমাত্রিক—যোদ্ধা, সংগঠক, আশ্রয়দাতা, তথ্যসংগ্রাহক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের ক্ষেত্রেও তারা সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় নারীর সমানাধিকারের স্বীকৃতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু আইনি স্বীকৃতি ও বাস্তব রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মধ্যে যে ব্যবধান, সেখানেই নারীর পিছিয়ে পড়া। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর উপস্থিতি ক্ষেত্র বিশেষে দৃশ্যমান হলেও চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে ৩৫০টি আসন। এর মধ্যে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন, যা মোট আসনের প্রায় ১৪ শতাংশ। এটি সরাসরি নির্বাচিত ও সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলেও দ্বিমুখী বাস্তবতা তৈরি করেছে। একদিকে সংসদে নারীর উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়েছে; অন্যদিকে সরাসরি নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ ও জয়ের হার কম থাকায় প্রকৃত গণভিত্তিক ক্ষমতায়ন প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে গেছে। সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। ফলে তাদের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও স্বাধীনতা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে নারীদের সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ বৃদ্ধি এবং দলীয় কাঠামোয় সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তথাকথিত অগ্রগতির পালে গত ১৮ মাসে নারীর প্রতি সামাজিক মনোভাবের যে প্রত্যক্ষ পরিবর্তন হয়েছে, তাতে নারীর টিকে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সংসদের প্রতিটি অধিবেশন অনুযায়ী সদস্য সংখ্যার তথ্য, আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন (আইপিইউ) প্রকাশিত বিশ্বব্যাপী সংসদে নারীর অংশগ্রহণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতকৃত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে জানা যায়, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদে (১৯৭৩) নারী সদস্য ছিলেন ১৫ জন, যা মোট সদস্যের ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যান বলছে, পরবর্তী কয়েক দশকে ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদে ৩২ জন বা ৯ শতাংশ, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদে ৩৩ জন বা ১০ শতাংশ, ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদে ৪ জন বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ, ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে ৩৫ জন বা ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ সংসদে ৩৩ জন বা ১০ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদে ৩৮ জন বা ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০০১ সালে অষ্টম সংসদে ৫২ জন বা ১৫ দশমিক ১ শতাংশ, ২০০৮ সালে নবম সংসদে ৭১ জন বা ২০ শতাংশ, ২০১৪ সালে দশম সংসদে ৬৯ জন বা ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১৮ সালে একাদশ সংসদে ৭২ জন বা ২০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদে ৬৯ জন বা ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ নারী সংসদ সদস্য ছিলেন।

এই পরিসংখ্যানকে অনেকে অগ্রগতির সূচক হিসেবে দেখলেও মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী এমপির সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র সাত জনে বা প্রায় ২ দশমিক ৩৩ শতাংশে। গত পঁচিশ বছরে এটি সর্বনিম্ন। সংখ্যাগত উপস্থিতি ও গণভিত্তিক নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব—এই দুইয়ের ফারাক আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নারীরা শীর্ষ নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে অনন্য উদাহরণ। বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনই দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বে নারীর উপস্থিতি কি সামগ্রিকভাবে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে? নাকি এটি সীমিত সংখ্যক পরিবারের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে? এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পথে প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা। গ্রামীণ ও শহুরে উভয় সমাজেই রাজনীতি এখনো পুরুষ-প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। নির্বাচনী রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। অধিকাংশ নারী প্রার্থী অর্থনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়েন। রাজনৈতিক সহিংসতা ও চরিত্রহননের সংস্কৃতিও নারীদের নিরুৎসাহিত করে। অনেক ক্ষেত্রে নারী প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম।

দলীয় কাঠামোতেও নারীর অংশগ্রহণ সীমিত। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরামে নারীর প্রতিনিধিত্ব খুবই কম। ফলে নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে নারীর কণ্ঠস্বর দুর্বল থাকে। সংরক্ষিত আসন থাকা সত্ত্বেও সরাসরি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকেন। এতে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক নির্ভরশীলতা তৈরি হয়, যেখানে নারী রাজনীতিবিদরা দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অধিকতর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

তৃণমূল পর্যায়ে অবশ্য চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে সংরক্ষিত আসনে বিপুল সংখ্যক নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সরকারে নারীর এই উপস্থিতি রাজনৈতিক চর্চার একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে গবেষণা বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই নারী জনপ্রতিনিধিরা কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পান না। পরিবার বা স্থানীয় প্রভাবশালী পুরুষ নেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে সেখানে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। ফলে প্রতিনিধিত্বের আড়ালে কার্যত পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো অটুট থাকে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানও পর্যালোচনা জরুরি। ইউএন উইমেনের ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগারস অন উইমেন্স লিডারশীপ অ্যান্ড পলিটিকাল পার্টিসিপেশনের তথ্য মতে, বৈশ্বিক গড়ে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব প্রায় ২৬–২৭ শতাংশের কাছাকাছি। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সেটা পেরিয়ে গেছে। যেমন: নেপাল ৩০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বাংলাদেশে সংরক্ষিত আসনসহ মোট প্রতিনিধিত্ব ২০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করলেও সরাসরি নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত কম। এই বৈপরীত্যই আমাদের মূল সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, বিশেষ করে লক্ষ্য-৫—লিঙ্গসমতা অর্জন—বাস্তবায়নে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনির্ধারণের টেবিলে নারীর উপস্থিতি না থাকলে নারী ও শিশুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোতে দীর্ঘমেয়াদি ন্যায্য অগ্রগতি সম্ভব নয়।

গবেষণা বলছে, যেখানে নারীর প্রতিনিধিত্ব বেশি, সেখানে সামাজিকখাতে বিনিয়োগ ও জবাবদিহিতা তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।

তাহলে সমাধান কী?

প্রথমত, সরাসরি নির্বাচনে বাধ্যতামূলক নারী প্রার্থীর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে, যাতে প্রতিটি দল নির্দিষ্ট শতাংশ নারী প্রার্থীর মনোনয়ন দিতে বাধ্য হয়।

দ্বিতীয়ত, সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার করে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে করা যেতে পারে।

তৃতীয়ত, নারী প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ে আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন।

চতুর্থত, রাজনৈতিক সহিংসতা ও অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সমাজের মানসিকতা পরিবর্তন। নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে ‘ব্যতিক্রম’ নয়, বরং ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে নেতৃত্বে নারীর ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা জরুরি। এসব উদ্যোগের যথাযথ বাস্তবায়ন মাধ্যমে আগামী ১০–১৫ বছরে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব ৩০-৪০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচিত নারী সদস্যের সংখ্যা যে হারে কমেছে, তা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয় বরং আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রার অশনিসংকেত। সংখ্যার পেছনের বাস্তবতা বিশ্লেষণ না করলে আমরা হয়তো বাহ্যিক অগ্রগতির মোহে থেকে যাব, কিন্তু অন্তর্গত পিছিয়ে পড়া থেকে মুক্তি পাবো না।

এবারের পুরুষ শাসিত সংসদে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের নারী উন্নয়নের উদ্যোগ দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো কেবল সমতার প্রশ্ন নয়, এটি গণতন্ত্রের গুণগত মান উন্নয়নের পূর্বশর্ত। আমরা কি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের পথে এগোবো, নাকি সংখ্যার হিসাবেই সন্তুষ্ট থাকব অথবা রাজনীতির মাঠে গালির উপকরণেই থেকে যাবো—এই প্রশ্ন এখন আমাদের সবার সামনে।

তানজিনা পৃথা, গণমাধ্যম কর্মী

মুক্তি পাচ্ছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মিস্ট্রি ইন ব্লুম’

প্রচলিত রোমান্টিক ধারা থেকে ভিন্ন আঙ্গিকে নির্মিত বাংলা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মিস্ট্রি ইন ব্লুম’ মুক্তি পাচ্ছে।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শাওয়ানা পরিচালিত এ চলচ্চিত্রটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ ও তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে।

নির্মাতা শাওয়ানা বলেন, ‘মিস্ট্রি ইন ব্লুম’ সাধারণ প্রেমের গল্পের মতো নয়। চলচ্চিত্রটি দর্শকদের ভাবাবে, তবে দেখার পর মনে এক ধরনের ভালো লাগা থেকে যাবে।

শাওয়ানা সুইডেন ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রভাবের মধ্যে বেড়ে ওঠা একজন উদীয়মান চলচ্চিত্রকার।

এর আগে তিনি কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন।

তার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য রোড টু মাই ফাদার’ ১০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছে।

নির্মাতার দাবি, এটি বিশেষভাবে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য নির্মিত এবং দর্শকরা দেখলেই এর অনুভূতি উপলব্ধি করতে পারবেন।

চলচ্চিত্রটি লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন শাওয়ানা। অভিনয়ে রয়েছেন প্রান্তর দস্তিদার ও শাওয়ানা। প্রযোজনা করেছেন রাসেল মাহমুদ।

নির্মাতার বিশ্বাস, ভ্যালেন্টাইন মাসে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্র দর্শকদের ভালোবাসাকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ দেবে এবং ভাবাবে।

চালু হচ্ছে যুক্তরাজ্য-কানাডার নাগরিকদের বিনা ভিসায় চীন ভ্রমণের সুবিধা

যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে বেইজিং। বেড়াতে বা ব্যবসার কাজে চীনে যেতে ওই দুই দেশের নাগরিকদের ভিসার প্রয়োজন হবে না। চলতি সপ্তাহেই এই সুবিধা শুরু হচ্ছে। 

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি উভয়ই আলাদা করে চীন সফর করেন। 

দুই নেতার সফরের পরই এলো ভিসা মুক্ত ভ্রমণ সুবিধার এই ঘোষণা। মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি চালু হতে যাচ্ছে।  

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ধারাবাহিক ‘বৈরি’ আচরণের শিকার ওই দুই দেশ এশিয়া, তথা সমগ্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও গভীরে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। 

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কার্নি ও স্টারমার উভয়ই নিজ নিজ দেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। 
দুই নেতার সফরের সুফল হিসেবে চীনে ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা পেতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকরা।  

আজ রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা মুক্ত ভ্রমণ সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কানাডীয় ও ব্রিটিশ নাগরিকদের চীন ভ্রমণ করতে কোনো ভিসার প্রয়োজন হবে না। এই সুবিধাটি আপাতত আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে। 
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাজ্য ও কানাডার সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ব্যবসা, পর্যটন, আত্মীয় পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ, বিনিময় বা ট্রানজিটের উদ্দেশে চীনে অনধিক ৩০ দিনের জন্য বিনা ভিসায় অবস্থান করতে পারবেন।’ 

‘চীন ও অন্যান্য দেশের মানুষের মধ্যে আসা-যাওয়া ও যোগাযোগ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’, বিবৃতিতে আরও বলা হয়।

রোববার জামায়াত আমির ও এনসিপি আহ্বায়কের বাসায় যাবেন তারেক রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

আগামীকাল রোববার সন্ধ্যায় তিনি এই দুই নেতার বাসায় যাবেন।

আজ শনিবার বিএনপি মিডিয়া সেল সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান প্রথমে জামায়াত আমিরের বাসায় যাবেন এবং পরে নাহিদের বাড়িতে যাবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

এর আগেই সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বাসায় গিয়ে দেখা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

পল্টনে ঢাবি শিক্ষার্থীর কান ছিঁড়ে দুল ছিনতাই

রাজধানীর পল্টন মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন। তার বাম কান ছিঁড়ে গেছে।

আজ শনিবার রাত ৮টার দিকে পল্টন মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। এরপর তিনি চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

আহত মোহনা জামান (২৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। তিনি বেগম রোকেয়া হলে থাকেন।

মোহনা জানান, তার বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলায়। রাত ৮টার দিকে ট্রেন থেকে কমলাপুর স্টেশনে নেমে রিকশায় তিনি হলে ফিরছিলেন। পল্টন মোড়ে পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা রিকশার পেছন থেকে তার বাম কানের দুল ধরে টান দেয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শ) মো. ফারুক জানান, ওই শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়ে হলে ফিরে গেছেন।

‘স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলার বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা’

বাংলাদেশে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে সরকার, এমনটাই জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের পর মিরপুরের বাসভবনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক কয়েক সপ্তাহের জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, যদিও ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা–১৬ আসনে তিনি অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন।

ভোলায় জন্ম নেওয়া এবং মিরপুরে বেড়ে ওঠা আমিনুল দেশের শীর্ষ লিগে ক্যারিয়ার শুরু করেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক সাঈদ হাসান কাননের পর তিনি ছিলেন তৃতীয় পছন্দের কিপার। ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তার এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন, প্রায় পুরো সময়ই ছিলেন মূল একাদশে।

স্কুল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক খেলাধুলা

প্রতিমন্ত্রী জানান, সারা দেশে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ পাঁচটি ক্রীড়া বিষয় বাধ্যতামূলক করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪৯৫টি উপজেলায় প্রতিটি পাঁচটি ডিসিপ্লিনের জন্য তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক এবং একজন ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে সরকারি বেতনভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার

তিনি বলেন, অতীতে আয়োজক, খেলোয়াড় ও সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সরকার সেই ব্যবধান কমিয়ে সব অংশীজনের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করতে চায়, যাতে সুস্থ ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে ওঠে।

ভারতের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্ক

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংসদ এলাকায় ভারতের উপহাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান আমিনুল। কূটনৈতিকভাবে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সম্পর্ক জোরদার করতে চান তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী সমাধানের কথা বলেন।

বিসিবি, সাকিব ও মাশরাফি প্রসঙ্গ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললেও দেশের দুই তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে কিংবদন্তি আখ্যা দেন তিনি। তাদের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধান খোঁজার কথা জানান।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’

ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে আমিনুল বলেন, খেলাধুলায় কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

অবসরের পর খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ

অবসর নেওয়ার পর খেলোয়াড়দের চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এতে খেলোয়াড়রা ক্যারিয়ারের সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।

রাজনীতি ও খেলাধুলা

তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি জড়িয়ে আছে। একদিনে তা দূর করা সম্ভব নয়, তবে খেলাধুলাকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে।

 

প্রান্তিক ও কণ্ঠহীন মানুষের রাজনৈতিক এজেন্ডা কোথায়

বাংলাদেশে মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ—যারা সামাজিকভাবে কম দৃশ্যমান বা অদৃশ্য, যাদের কণ্ঠস্বর খুব কমই আলোচনায় আসে এবং যারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত—আদিবাসী, চা শ্রমিক, হরিজন (পরিচ্ছন্নতাকর্মী), ঋষি (মুচি), কায়পুত্র (শূকর চড়ানো গোষ্ঠী), বেদে (যাযাবর জনগোষ্ঠী), জলদাস (চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় বসবাসকারী সমুদ্রমুখি জেলে সম্প্রদায়), যৌনকর্মী, হিজড়া বা ট্রান্সজেন্ডার ও বিহারি সম্প্রদায়। এসব সম্প্রদায়ে জনসংখ্যা ৫০ লাখের মতো।

ধর্ম, পেশা, জাতিগত পরিচয়, সংস্কৃতি, স্থানচ্যুতি ও ভৌগলিক কারণে এসব মানুষ নানাভাবে বৈষম্য, মজুরি বঞ্চনা, দমন-পীড়ন, হামলা, মর্যাদাহানিকর পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার। এসব জনগোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশের সেই ৪ কোটি মানুষের অন্তর্ভুক্ত, যারা বহুমাত্রিক দারিদ্র্য বা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব সম্প্রদায়ের অনেকেই ‘অস্পৃশ্য’ বা ‘দলিত’ হিসেবে বিবেচিত।

এর বাইরে প্রতিবন্ধী এবং কামার, কুমার, বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের কারিগর, জুতা তৈরির কারিগর, পিতলের তৈজসপত্র তৈরির কারিগরসহ আরও কিছু সম্প্রদায় সামাজিক বঞ্চনা ও অর্থনৈতিকভাবে নানা দুর্ভোগের শিকার।

ছোট ছোট কিছু সম্প্রদায়—যেমন: বেহারা (পালকিবাহক), নাপিত, ধোপা, হাজাম (গ্রামে খৎনা করায়), নিকারি, পাটনি, তেলি, পাতিকার, তাঁতি (পাকিস্তান থেকে আসা উর্দুভাষী বুননশিল্পী), দর্জি, মাঝি বা খোত্রা, কসাই ইত্যাদি—রয়েছে, যারা আধুনিক সমাজের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার সঙ্গে তাল মিলাতে না পেরে পিছিয়ে পড়েছে। এসব সম্প্রদায়ের আয়ও খুব সামান্য এবং তাদের বেশিরভাগই বাঙালি ও মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও মূলধারার সমাজে অবহেলা ও অবজ্ঞার শিকার।

সংখ্যায় বেশি বা কম যাই হোক না কেন, এসব মানুষ দেশের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হওয়ার পরও এখনো সামাজিকভাবে দৃশ্যমান নয় এবং তাদের কণ্ঠস্বরও শোনা যায় না বললেই চলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে দেশে নতুন এক বন্দোবস্তের সূচনা হয়। তখন এদের অনেকেই মনে করেছিলেন, নতুন একটি সমাজব্যবস্থায় তাদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই কমে আসবে।

বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার যখন সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং সেইসঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়, তখন পিছিয়ে পড়া এসব জনগোষ্ঠীর আশা ছিল তাদের সুরক্ষায় এক বা একাধিক সংস্কার কমিশন গঠিত হবে।

কিন্তু তারা হতাশার সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেন, এসব জনগোষ্ঠীর অভিন্ন ও গোষ্ঠীভিত্তিক সমস্যা সমাধানকল্পে না হলো কোনও সংস্কার কমিশন না নেওয়া হলো কোনও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ।

জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এসব অদৃশ্য ও কণ্ঠহীন জনগোষ্ঠীর বিষয়ে স্পষ্ট বা সুনির্দিষ্ট কোনো অঙ্গীকার ছিল না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড ডেমোক্রেসি ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক আইনুল ইসলাম মনে করেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে যারা সমাজে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার, তাদের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা এবং এই লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ বা যথাযথ কৌশল প্রণয়ন। এখানে উল্লেখ্য যে বৈষম্য দূর করার ইস্যুই ছিল স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার অন্যতম চালিকাশক্তি। অথচ বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে আয়-বৈষম্য বেড়েই চলেছে; জাতীয় আয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ ভোগ করছে দেশের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ। ২০২২ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল যেখানে ১৮.৭ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭.৯ শতাংশে, যার অর্থ প্রায় প্রতি চারজনের একজন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

আশাহত আদিবাসী, নানান পেশাজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা তাদের প্রতিদিনের জীবনে অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি হন, তারা প্রত্যাশা করছেন নির্বাচিত সরকার তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

এসব জনগোষ্ঠীর মাঝে নানান ভিন্নতা আছে। তাদের কিছু সমস্যা অভিন্ন হলেও গোষ্ঠীভিত্তিক অনেক সমস্যা ও বিষয় আছে, যেগুলোর ব্যাপারে পৃথক মনোযোগ ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে এসব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করে আসছি, তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও উদ্বেগ তুলে ধরতে পারি।

প্রথমত, সরকার যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের সব জনগণ ও নাগরিকের পক্ষে অবস্থান নিতে চায়, তাহলে আমাদের জাতীয় পরিচয়, সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে মিথে পরিণত করা উচিত হবে না। উচিত হবে দেশের এতো বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীকে যথাযথ স্বীকৃতি প্রদানের জন্য কাজ করা। বিশেষ করে, সাংবিধানিকভাবে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির পক্ষে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে। পাশাপাশি পেশা, ধর্ম কিংবা অন্যান্য সামাজিক কারণে যেসব জনগোষ্ঠী দারিদ্র্য ও বঞ্চনার মধ্যে নিমজ্জিত, তাদের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণ এবং তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এমন কিছু জনগোষ্ঠী রয়েছে, যারা শুধু সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অবহেলিতই নয়, বরং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী উচ্চবিত্তের অর্থনৈতিক স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত শোষণের শিকার হয়ে আসছে। এর ভালো একটি উদাহরণ হলো চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী। একজন চা শ্রমিকের বর্তমান সর্বোচ্চ দৈনিক মজুরি কেবল ১৮৭ টাকা ৪৩ পয়সা। একইভাবে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার হরিজন জনগোষ্ঠীর বর্তমানে মাসিক বেতন ১ হাজার টাকা, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্তও ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। অন্যান্য অনেক জনগোষ্ঠীর আয়ও সামান্য। তারা দিন আনে দিন খায়। দারিদ্র্য এবং পেশা ও পরিচয়ের কারণে সামাজিক অবজ্ঞার শিকার এসব জনগোষ্ঠী প্রজন্মের পর প্রজন্ম দরিদ্র ও বঞ্চিতই রয়ে যাচ্ছে।

চা শ্রমিকরা শ্রম আইনে তাদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যের অবসান চায়। তাদের বেলায় শ্রম আইন ও বিধিমালার একাধিক ধারা নিয়মিতভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ ধরনের লঙ্ঘন বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা। চা শ্রমিকদের দাবি, শ্রম আইন ও বিধিমালার পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হবে।

চা শ্রমিক, হরিজন ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়াদের মধ্যে অন্যতম। কেবল সমান অধিকারের ঘোষণা তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়। তাদের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে ইতিবাচক বৈষম্য নীতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

বর্তমানে সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে প্রধান সমালোচনা হলো—এর মোট বাজেটের অর্ধেক বা তারও বেশি অংশ দরিদ্র নয় এমন জনগোষ্ঠীর কাছে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপি প্রাথমিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার পরিবার অন্তর্ভুক্ত করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে সব নাগরিকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

সম্পূর্ণ ভূমিহীন জনগোষ্ঠী ও প্রান্তিক মানুষের অন্যতম উদ্বেগ হলো খাস জমিতে ন্যায়সঙ্গত ভাগ। দেশে চিহ্নিত খাস জমির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ লাখ একর। এর মধ্যে কৃষিজমি, অকৃষি জমি ও জলাশয়ও রয়েছে।

ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাস জমির ন্যায়সঙ্গত বিতরণ দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় একটি বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। দুঃখজনকভাবে, খুব অল্পসংখ্যক ভূমিহীন পরিবারই বাস্তবে খাস জমি পায়। বরং স্থানীয় অভিজাত শ্রেণি, রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালীরাই খাস জমির সর্বাধিক সুবিধাভোগী হয়ে থাকেন। খাস জমির ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিহীন মানুষ ও জনগোষ্ঠী এখনো দৃঢ়ভাবে সংগঠিত হতে পারেনি।

ভূমি, বন ও পরিবেশসংক্রান্ত আরেকটি গুরুতর সমস্যা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য বনাঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভূমি, বন ও পরিবেশসংক্রান্ত জটিল সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে তেমন কোনো মনোযোগ দেওয়া হয়নি। বিস্ময়ের বিষয় হলো, জুলাই সনদেও ‘পরিবেশ’, ‘বন’ কিংবা ‘জলবায়ু পরিবর্তন’—এই শব্দগুলোর কোনো উল্লেখই নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বনাঞ্চলের জনগণের প্রথাগত অধিকার হরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের প্রণীত অ্যাক্ট সেভেন জারির মাধ্যমে। এরপর থেকে বনাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ক্রমাগতভাবে বনসম্পদের ওপর তাদের যৌথ ও প্রথাগত অধিকার হারিয়ে চলেছে।

তারা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করে, নবনির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে নজর দেবে। এসব সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক নেতাদের সাহসী, বাস্তববাদী ও জনমুখী ভূমিকা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।

সমাজে বর্তমানে বিদ্যমান বৈষম্যের কারণে বহু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে বৈষম্যের অবসান ঘটানো অপরিহার্য।

পতিত সরকারের আমলে বৈষম্য বিলোপের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ‘বৈষম্যবিরোধী আইন, ২০২২’ নামে একটি বিল সংসদে উত্থাপিত হলেও তা পাস হয়নি। বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীগুলো বৈষম্যের অবসান, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পথ সুগম করে দেয়। সবাই প্রত্যাশা করছে, নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার বৈষম্য দূর করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, চা শ্রমিক ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও জাতীয় আইন বিদ্যমান। কিন্তু এসব আইন ও সনদ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের মধ্যে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং জবাবদিহিতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়।

শ্রম আইন, ২০০৬ এবং রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আইনগুলো প্রায়ই অপপ্রয়োগ হয় বা সরাসরি লঙ্ঘিত হয়। যার ফলে আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। বিশেষত, যেসব জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃত নয়, তারা আইনি সুরক্ষা থেকে আরও বেশি মাত্রায় বঞ্চিত।

এর পরিণতিতে ভূমির অবৈধ হস্তান্তর হচ্ছে এবং বিদ্যমান আইনি সুরক্ষা কাঠামো প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই বাস্তব ও জরুরি সমস্যাগুলো জনপরিসরের আলোচনায় প্রায় অনুপস্থিত এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারের কর্মপরিকল্পনায় এগুলো সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য।

আমাদের প্রত্যাশা সরকার অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মর্যাদা, সমতা ও জনজীবনে পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি ও প্রতিষ্ঠা করতে বাস্তবভিত্তিক ও অর্থবহ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

ফিলিপ গাইন, গবেষক এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক।
[email protected]

নতুন সরকারের কাছে শোবিজ অঙ্গনের পাঁচ তারকার প্রত্যাশা

একদিন পরই গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকার। রাজনৈতিক পালাবদলের এই মুহূর্তে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনও তাকিয়ে আছে নতুন নেতৃত্বের দিকে। 

শোবিজের শিল্পীরা চান, সৃজনশীল কাজের পরিবেশ নিশ্চিত হোক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় থাকুক এবং শিল্পচর্চা বাধাহীনভাবে এগিয়ে যাক।

দ্য ডেইলি স্টারের কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন পাঁচ তারকা—আবুল হায়াত, তারিক আনাম খান, সালাহউদ্দিন লাভলু, গিয়াসউদ্দিন সেলিম ও মাসুম রেজা।

আবুল হায়াত বলেন, তিনি আগের মতোই কাজ করতে চান, তবে কোনো ধরনের বাধা বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়া। তার প্রত্যাশা, দেশের জন্য ভালো ও রুচিশীল কাজ বেশি হবে। শিল্পীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে, পাশাপাশি শিল্পীদেরও দায়বদ্ধ থাকতে হবে। তার মতে, শিল্পের কাজ দেশের মানুষের কথা বলবে এবং নতুন সরকারের উচিত শিল্পচর্চার পরিবেশ সুন্দর ও উন্মুক্ত রাখা।

তারিক আনাম খান বলেন, সংস্কৃতি একটি দেশের পরিচয় বহন করে। গান, নাটক ও সিনেমা দেশের সুনাম আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে দিচ্ছে। তবে গত দেড় বছরে সাংস্কৃতিক অঙ্গন, বিশেষ করে থিয়েটার খাত চাপে ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সরকার নিয়ন্ত্রণ যত কম করবে, ততই ভালো। ঢাকা শহর বিস্তৃত হলেও থিয়েটার হল বাড়েনি। উত্তরা, গুলশান বা ধানমন্ডির মতো এলাকায়ও পর্যাপ্ত মঞ্চ নেই। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, সবার আগে দেশ ভালো থাকতে হবে। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী না হলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনও এগোতে পারবে না। অভিনয় ও নাটক পরিচালনার সঙ্গে সারাজীবন যুক্ত থাকা এই শিল্পীর প্রত্যাশা, সাংস্কৃতিক খাতে বেশি কাজ ও বেশি বিনিয়োগ হোক। পাশাপাশি শিল্পী ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

গিয়াসউদ্দিন সেলিমের মতে, একটি শক্তিশালী জাতি গঠনে শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জন্মের পর থেকেই সাংস্কৃতিক খাত অবহেলিত বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, সংস্কৃতি চর্চা যত বাড়বে, জাতিও তত উন্নত হবে।

তিনি বলেন, কম বাজেট ও উপেক্ষা দিয়ে এই খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সংস্কৃতির দিক থেকেও সমৃদ্ধ হতে হবে।

মাসুম রেজা বলেন, গত কয়েক মাসে অনেক নাটকের প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক উৎসব বন্ধ হয়েছে। ঢাকার বাইরে আয়োজন করা বহু অনুষ্ঠানও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে। তার নিজের জেলা কুষ্টিয়ায় একটি বড় উৎসব হওয়ার কথা থাকলেও তা বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, কেন এসব বন্ধ হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অনেক বাউল ও মরমি শিল্পীও নিয়মিত গান পরিবেশনের সুযোগ পাননি। নতুন সরকারের কাছে তার প্রত্যাশা, শিল্পচর্চা যেন বাধাহীনভাবে চলতে পারে এবং শিল্পীরা স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ পান।

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও মার্কিন রণতরী, কী ঘটছে ইরানের সঙ্গে?

পারস্য উপসাগর এলাকায় ইতোমধ্যে রণতরি ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ অবস্থান করছে। এখন সেখানে যোগ দিচ্ছে ‘জেরাল্ড আর. ফোর্ড’। ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে রণতরি জোরাল্ডকে পশ্চিম এশিয়ায় আনা হচ্ছে ইরানকে ‘ভয়’ দেখানো জন্য। তবে তা ভিন্ন কোনো বার্তা বহন করছে কি?

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প নর্থ ক্যারোলিনায় ফোর্ট ব্র্যাগ সেনাঘাঁটিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বলেন—পরমাণু বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো ‘কঠিন’ হয়ে পড়ছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তেহরানকে ‘ভয়’ দেখানো দরকার।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় রণতরি পাঠানোর কথাও সেনাদের জানিয়ে রাখেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, ‘একমাত্র ভয়ই পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারে।’

মহাক্ষমতাধর মার্কিন রাষ্ট্রপতির এমন বার্তায় মনে হতে পারে যে—মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ‘যুদ্ধ’ শব্দটি যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ এই অঞ্চলে ‘যুদ্ধের আগুন’ যেন নেভানোই যাচ্ছে না কোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টায়। তাই আবারও রণতরির ‘রণডঙ্কা’ শোনা যাচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায়।

যুক্তরাষ্ট্র গত বছর জুনে ইরানের ওপর যে হামলা চালিয়েছিল সে ঘটনার কথাও ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তুলে ধরেন।

অর্থাৎ, আবারও যেন বোমা-বারুদের গন্ধ। আবারও যেন হামলায় বিধ্বস্ত অবকাঠামো আর হতাহতদের ছবি সংবাদমাধ্যমে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়—সেনাদের সামনে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির প্রথাগত শিষ্টাচার ভেঙেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেনাঘাঁটিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেস বা আইনসভা নির্বাচনে ডেমোক্র্যেটরা জিতলে সেনাদের স্বার্থ ছোট করে দেখা হবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-মিত্রদের সংঘাত মেটাতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি উপসাগরীয় দেশ ওমানের মধ্যস্থতায় মাসকাটে আয়োজন করা হয়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা। সেই আলোচনার পর বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়—ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে আয়োজিত বৈঠক ‘একটি শুভ সূচনা’।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
একই দিনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—ডোনাল্ড ট্রাম্পও মনে করছেন যে মাসকাটে ইরানের সঙ্গে হয়ে যাওয়া প্রথম দফা আলোচনা ভালো হয়েছে। তিনি আশা করছেন আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।

এরপর আলোচকরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যান তাদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য।

একই দিনে রয়টার্সের অপর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে জেনেভায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে এতে আরও বলা হয়—সেদিন মার্কিন দূত স্টিভ ইউটকফ ও জারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। ওমানের প্রতিনিধিরা সেই আলোচনাতেও মধ্যস্থতা করবে।

রয়টার্সের বরাত দিয়ে ইরানের মেহের সংবাদ সংস্থা একই তথ্য প্রচার করেছে। অপর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানি সংবাদ সংস্থাটি আরও জানায়, ওমানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বার্তা পেয়েছেন।

আর সেদিন বিকেলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মার্কিন দূতরা প্রায় ৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করার আশায় কথা বলবেন বলেও সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এদিকে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছিল—আলি লারিজানি বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। ওমানে প্রথম দফা আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা শুধু ‘বার্তা আদান-প্রদান’ করেছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা ইসরায়েল বানচাল করতে চায় বলেও অভিযোগ করেছেন ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব। ইসরায়েল উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন যুদ্ধ টেনে আনতে চায় বলেও অভিযোগ ইরানি কর্মকর্তার।

তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিবিসি জানিয়েছে যে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছেন যে তিনি ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চালিয়ে যেতে চান।

কিন্তু, গত ৮ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরায় প্রকাশিত এক মতামত নতুন করে ভাবনার খোরাক যোগায়। এর শিরোনাম ছিল: ‘মাসকাটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা কালক্ষেপণ মাত্র, চুক্তির জন্য নয়’।

এতে বলা হয়, মধ্যস্থতার মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা আবারও শুরু হলো। তবে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস ও সামরিক চাপ দেখে প্রশ্ন জাগছে—আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য দুই পক্ষের হাতে আসলেই কত সময় আছে।

এতে আরও বলা হয়, মাসকাটে প্রথম দফা আলোচনা থেকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে—আসলে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কালক্ষেপণের কৌশল ছিল কিনা।

ইরানের ভেতরে যখন সরকারবিরোধী আন্দোলন চরমে এবং সেই আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করছে সরকার, তখন তেহরানকে আলোচনা করতে হচ্ছে ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত ওয়াশিংটন ডিসির সঙ্গে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য: ইরানকে এখন ‘ঘর-বাইরে’ সব ‘শক্রকেই’ সামলাতে হচ্ছে।

এমন বাস্তবতায় লন্ডনভিত্তিক ইরান সরকারবিরোধী সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরান নিজ দেশে ‘বাঘ’, আর দেশের বাইরে ‘বেড়াল’।

প্রতিবেদন অনুসারে—ইরান সরকার নিজ দেশের জনগণকে বলছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপের কাছে ‘মাথা নত’ করবে না। আবার অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তেহরানকে ‘নতজানু’ ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আরও বলছে: ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে প্রস্তুত। বিনিময়ে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আর সব দাবি ইরান প্রত্যাখ্যাত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র চায়—ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ হোক। হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিসহ আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে তেহরানের সমর্থন দেওয়া বন্ধ হোক। ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ আছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিবিসি জানায়—‘স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে ইরান পরমাণু স্থাপনার কাছে ভূগর্ভস্থ ভবনের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে’। আরও বলা হয়—ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের কোলাং গাজ লা পর্বতে সুড়ঙ্গগুলোকে সুসংহত করার দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির (আইএসআইএস) স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তি না হলে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হবে। এ জন্য সব প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রক্ষার জন্য ইরান সেই ভূ-গর্ভস্থ অবকাঠামো তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে, সত্যিই কী উদ্দেশ্যে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অনেকের ভাষ্য: ইরানের ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা তলানিতে। তারা বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘যেকোনো মূল্যে’ সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। তা না হলে তাদের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়বে।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন—ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা আঁচ করা মুশকিল। তারা ইরানের শাসকদের সরাতে যেকোনো কৌশল নিতে পারে। তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে এটাই স্বাভাবিক।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—ইরানজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার সমর্থকদের গুলিতে নিহত প্রিয়জনদের ছবি-ভিডিও প্রচার করছেন প্রবাসী ইরানিরা। নিহতদের স্মরণে আয়োজিত চেহলামের ছবিও প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি বাহিনীর নির্যাতন, দমনপীড়ন ও তাদের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে প্রবাসী ইরানিরা বিশ্বব্যাপী সভা-সমাবেশের আয়োজন করছে। হাজারো মানুষের হত্যাকারী ইরান সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানাচ্ছেন প্রবাসী ইরানিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়—১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর ক্ষমতাসীনদের নির্যাতনে দেশত্যাগী ইরানিরা দেশে দেশে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন।

আয়োজকরা মিউনিখ, লস অ্যাঞ্জেলেস ও টরন্টোকে প্রতিবাদ-সমাবেশের প্রধান জায়গা হিসেবে ঘোষণা দিলেও সিডনি ও মেলবোর্নে হাজারো মানুষ ইরান সরকারবিরোধী মিছিল হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহের ছেলে রেজা পাহলভি তেহরানের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে ‘বৈশ্বিক ব্যবস্থা’ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। যদিও, ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরকে দোষারোপ করছে।

এদিকে, একই দিনে ইসরায়েলি দৈনিক টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে বলছে—ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বলা হয়—চীনে ইরানি তেলে বিক্রির সব পথ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এমনকি, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক কোনো সুফল বয়ে আসবে না বলেও মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ কেউ।

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়—‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন যে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প সমঝোতার মাধ্যমে ইরান-সমস্যার সমাধান করতে পছন্দ করছেন।’

এমনকি, আগামীকালও যদি অনুরোধ পাঠানো হয় তাহলে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

রুবিওর বক্তব্য—‘আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি যে, যদি আয়াতুল্লাহ আগামীকাল বলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে চান তাহলে রাষ্ট্রপতি তা করবেন। আয়াতুল্লাহর মতবাদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প যে একমত তা নয়, বরং ট্রাম্প চান এভাবে পৃথিবীর সমস্যাগুলোর সমাধান করতে।’

আসলে এসব কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চাচ্ছে কি না এখন তাই দেখার বিষয়।

আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া জানিয়েছেন, তারা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আজ রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’

 

এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ২০৯টি আসন নিয়ে সরকার গঠনের পথে আছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৭৭ আসন পেয়েছে।