33.2 C
Dhaka
Home Blog

ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে দখলবাজির চেষ্টা: ষড়যন্ত্র নস্যাৎ, ফিরছে শৃঙ্খলা

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন’ দখলের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে গেছে। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা একদল সুবিধাবাদী ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কর্মীর অপতৎপরতা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত ‘মব কালচার’ তৈরি করে এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে টেলিভিশনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল এই চক্রটি।

ভোল বদলে দখলের চেষ্টা
তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নিউজরুমের পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তোলে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির একজন এসোসিয়েট এডিটর এবং শিক্ষাবিটের একজন সিনিয়র রিপোর্টার। অভিযোগ উঠেছে, ওই এসোসিয়েট এডিটর নিজেকে বিএনপির এক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাতে শুরু করেন। অথচ বিগত সরকারের সময়েও তিনি একই প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ভূমিকা পালন করেছেন শিক্ষাবিটের সেই সিনিয়র রিপোর্টার। যিনি বিগত সরকারের আমলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে ছয়বার বিদেশ সফর করেছেন। এ ছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই সংবাদকর্মী হঠাৎ করেই ‘ছাত্রদল’ কর্মী সেজে জুলাই বিপ্লবের চেতনার ধারক হওয়ার নাটক শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিউজরুমে বসে তিনি বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন, অথচ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে সবচেয়ে বড় বিএনপিপন্থী হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন।

ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ‘জিয়া পরিবার’ ও ভুয়া পরিচয়
দখল প্রক্রিয়ায় এই চক্রের সাথে যুক্ত হন আরও এক সিনিয়র নিউজ এডিটর। তিনি নিজেকে ‘জিয়া পরিবারের সদস্য’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের আগে যার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কেউ জানত না, তিনি রাতারাতি অতি-বিএনপিপন্থী সেজে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেন।

মিথ্যা অভিযোগ ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার অপব্যবহার
সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে এই চক্রটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দাখিল করে। উদ্দেশ্য ছিল তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করানো এবং মানসিক চাপে ফেলে পদত্যাগে বাধ্য করা। যাতে করে শূন্য পদগুলোতে এই দখলদার চক্র নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারে।

কৃতঘ্নতার নজির
প্রতিষ্ঠানের ত্যাগী কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বর্তমান এসোসিয়েট এডিটর এবং চিফ নিউজ এডিটরকে (সিএনই) চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে চাপ সৃষ্টি করেছিল, তখন ইনডিপেনডেন্ট কর্তৃপক্ষ সাহসিকতার সঙ্গে সেই চাপ উপেক্ষা করে তাদের আগলে রেখেছিল। আজ সেই কর্মকর্তারাই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে ক্ষমতার নেশায় মত্ত হয়েছেন, যা চরম কৃতঘ্নতার বহিঃপ্রকাশ।

রক্ষা পেল ৫০০ কর্মীর রুটি-রুজি
টেলিভিশনটির অভ্যন্তরীণ এই বিশৃঙ্খলা ও দখলের ষড়যন্ত্রের মুখেও পিছু হঠেনি কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মসংস্থান ও প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও সাধারণ কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে ষড়যন্ত্রকারীরা বর্তমানে কোণঠাঁসা হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন আরও একটি বড় সংকট কাটিয়ে উঠল। তবে গণমাধ্যমের ভেতর এমন অপেশাদার রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি ও সুবিধাবাদীদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে টেলিভিশনটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল করতে কাজ করে যাচ্ছে।

চিকিৎসকদের সেবা সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

চিকিৎসকরা ঠিক মতো সেবা দিচ্ছেন কি না, সেটার সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যে বার্তা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী কাজ করব।

তিনি বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কি না, তা দেখতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যাব, দেখব। সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের কার্যক্রম দ্বারা যেন জনসাধারণ উপকৃত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কোনো সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেবো না।

স্বাস্থ্যসচিব মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে প্রচুর শূন্য পদ আছে, ফলে মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এছাড়া আমাদের মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য সচিব।

সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এআই, কেন উন্নয়ন থামাতে বলছে অ্যানথ্রোপিক?

মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই সিস্টেমের উন্নয়ন সাময়িকভাবে ধীর করা বা বিরতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সর্বাধুনিক এআই মডেলগুলো এমন কিছু লক্ষণ দেখাতে শুরু করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে এগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

এএফপি জানিয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এআই কোম্পানি অ্যানথ্রোপিক ইতোমধ্যে ক্লড নামের এআই মডেল তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী ধীরগতির করা হলে তা মানবসমাজের জন্য উপকারী হতে পারে।

তবে কেবল একটি কোম্পানি উন্নয়ন থামালে প্রতিদ্বন্দ্বীরা এগিয়ে যাবে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমরা মনে করি, সমাজের কাঠামো ও এআইকে মানবস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার গবেষণা যেন প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেজন্য অত্যাধুনিক এআই উন্নয়ন ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সুযোগ থাকা বিশ্বের জন্য ভালো হবে।’

অ্যানথ্রোপিকের মতে, কার্যকর বিরতি বাস্তবায়ন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ একাধিক দেশের বড় এআই কোম্পানিগুলোকে একই সময়ে উন্নয়ন বন্ধে সম্মত হতে হবে। পাশাপাশি এমন নিয়ম থাকতে হবে, যার বাস্তবায়ন যাচাই করা সম্ভব।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বৈশ্বিক সমন্বয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে কোম্পানি ও সরকারগুলোকে প্রতিযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তবে এ ধারণা প্রযুক্তি খাতের অনেকের কাছে জনপ্রিয় নাও হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, যাদের প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রতিযোগিতার অগ্রভাগে রয়েছে। তার মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বহুল প্রতীক্ষিত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি তাকে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অ্যানথ্রোপিকের এ অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে শিল্পখাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তাদের মতে, সবচেয়ে খারাপ সম্ভাব্য পরিস্থিতির ওপর অতিরিক্ত জোর দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেখাচ্ছে এবং নিরাপত্তার আড়ালে প্রতিদ্বন্দ্বীদের গতি কমাতে চাইছে।

তবুও হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে যে অ্যানথ্রোপিকের ‘মাইথোস’ মডেল অত্যন্ত শক্তিশালী। সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতার কারণে এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি; বর্তমানে কেবল নির্বাচিত কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

অ্যানথ্রোপিকের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। ওয়াশিংটন ও সিলিকন ভ্যালির অনেক নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি নির্বাহী মনে করেন, এআই উন্নয়ন ধীর করলে চীন এ প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় কৌশলগত সুবিধা পেয়ে যেতে পারে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বেইজিং সফরের সময় চীনের সঙ্গে এআই নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানান।

এ সপ্তাহে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশেও সই করেছেন, যার মাধ্যমে সবচেয়ে শক্তিশালী মার্কিন এআই মডেলগুলো প্রকাশের আগে সরকারকে ৩০ দিনের প্রাথমিক পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

‘মানুষের ভূমিকা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে’

অ্যানথ্রোপিক এ পরিস্থিতির তুলনা করেছে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির সঙ্গে। তবে তাদের মতে, এআই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন, কারণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির তুলনায় এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গোপন রাখা অনেক সহজ।

প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, ‘আপনার এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেখানে প্রয়োজন হলে গতি কমানো বা থামানোর সুযোগ থাকবে। বর্তমানে এআই শিল্পের কাছে যেন শুধু অ্যাক্সিলারেটর আছে, কিন্তু ব্রেক নেই।’

অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, সরকার, বিজ্ঞানী, নাগরিক সংগঠন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী এআই কোম্পানিগুলোকে নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা শুরু করবে তারা, যাতে এমন কোনো বৈশ্বিক ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর করা যায় তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, তাদের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী এআই এখন এআই উন্নয়নকেই উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুততর করছে। এর ফলে এমন একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তৈরি হতে পারে, যা গবেষকদের ভাষায় ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’-এর দিকে নিয়ে যাবে।

এর অর্থ হলো, এমন একটি এআই ব্যবস্থা, যা মানুষের খুব কম সহায়তায় নিজেই নিজেকে আরও বুদ্ধিমান করে তুলতে সক্ষম হবে।

অ্যানথ্রোপিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমরা এখনও সেখানে পৌঁছাইনি এবং রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট অবশ্যম্ভাবীও নয়।’ 
তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুত হওয়ার আগেই এ ধরনের সক্ষমতা বাস্তবে দেখা দিতে পারে।

প্রতিবেদনের ভাষায়, ‘এআই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে মানুষের ভূমিকা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।’

আশা ছাড়ছে না পাকিস্তান

হাতে আছে তিন উইকেট, পঞ্চম দিনে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে ১২১ রান। এমন অবস্থায়ও আশা ছাড়ছে না পাকিস্তান। দলটির ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিক জানিয়েছেন, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান থাকায় স্বপ্ন দেখছে তারা। 

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। দিনের খেলা শেষে সংবাদ মাধ্যমকে শফিক বলেন, ‘আমাদের ব্যাটিংয়ের আজকের পারফরম্যান্স আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। জয়ের জন্য ১২১ রান বাকি, রিজওয়ান দারুণ ফর্মে আছে, আর সাজিদ প্রথম ইনিংসেও ভালো খেলেছে। আমরা বিশ্বাস করি জয় সম্ভব।’

দিনভর পাকিস্তান বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে এগোলেও, নতুন বল নেওয়ার পরপরই খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম সাজিয়ে তোলা ১৩৪ রানের জুটি ভেঙে সালমান আলী আগাকে (৭১) বোল্ড করেন। পরের ওভারেই হাসান আলীকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তাইজুল।

দিনের শেষে রিজওয়ান ৭৫ এবং সাজিদ ৮ রানে অপরাজিত আছেন। কাল শেষ দিনে তাদের ওপরই তাকিয়ে আছে পাকিস্তান।

এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসে বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদের ৯২ রানের জুটি পাকিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। শফিক মনে করেন, এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিং তাদের দলের জন্য খুব প্রয়োজন ছিল।

সিলেটের উইকেট নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শফিক বলেন, ‘এটি টেস্ট খেলার জন্য দারুণ একটি উইকেট। এখানে স্পিনার ও পেসার—সবার জন্যই সুযোগ আছে, আবার ব্যাটসম্যানরাও শট খেলে রান পাচ্ছেন। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য এমন উইকেটই আদর্শ।’

টেস্টের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সফল রান তাড়ায় সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের (৪১৮ রান)। পাকিস্তান সেই ইতিহাস মাথায় রেখেই মাঠে নামবে।

 

ধানের দাম আরও কমেছে, বিপাকে হাওরের কৃষকেরা

টানা বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের কারণে ফসল শুকাতে পারছেন না হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা। এতে করে বোরো ধানের দাম আরও কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, কাটা ধান ভেজা থাকায় তা থেকে অঙ্কুর গজাচ্ছে (চারা বেরিয়ে যাচ্ছে)। এতে সেই ধান বাজারে বিক্রির অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই নামমাত্র মূল্যে ধান বিক্রি করছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

বাংলাদেশের বার্ষিক চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো থেকে। বোরো ধানের মৌসুম চলে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত।

সংকট নিরসনে সরকার হাওর অঞ্চলের ছয়টি জেলায় ১২ দিন আগে আজ থেকেই বোরো ধান সংগ্রহ শুরু করেছে। জেলাগুলো হলো—সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ। এ ছাড়া পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ থেকে সারা দেশেও ধান সংগ্রহ শুরু হবে।

তবে বৃষ্টির কারণে মজুত করতে না পেরে অনেক কৃষক এরইমধ্যে চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে অনেক কম দামে ধান বিক্রি করে দিয়েছেন।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ ধানের দাম ৭৫০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা থাকলেও এখন তা কমে ৬০০ টাকায় নেমে এসেছে, যা উৎপাদন খরচের প্রায় অর্ধেক।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বিধান সরকার জানান, তিনি শুরুতে প্রতি মণ ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু গতকাল সেই দাম কমে ৬০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত রোদের অভাবে ধান ঠিকমতো শুকানো যাচ্ছে না, যার ফলে দাম আরও পড়ে যাচ্ছে।

জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাজারগুলোতেও ধানের একই দাম দেখা গেছে।

স্থানীয় ফকিরের বাজারে কৃষক রনি মিয়া জানান, চাতাল মালিক ও ব্যবসায়ীরা প্রতি মণ ধানের দাম ৬০০ টাকা বলছেন। অথচ মাত্র কয়েক দিন আগেও তিনি ৮০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার এই ভেজা ধান কেউ কিনতে চাইছে না।’

চাল ব্যবসায়ী খোকন মিয়া বলেন, ‘ভেজা ধান মজুত করলে তাতে চারা গজিয়ে যায়। আমরা ৬০০-৬৫০ টাকা দরে কিছু ধান কিনেছিলাম, কিন্তু তাতে আমাদের লোকসান হয়েছে। রোদ উঠলে আমরা আবার ধান কেনা শুরু করব।’

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রাকিবুল হাসান জানান, জেলায় আট হাজার ১৯০ হেক্টর হাওর এলাকা এবং হাওরের বাইরে পাঁচ হাজার ২৭৬ হেক্টর এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তার মতে, কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী এই পরিস্থিতিতে সরাসরি ৮০ হাজারেরও বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের কৃষক আলিম উদ্দিন প্রায় তিন হেক্টর জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আমি প্রতি মণ ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি করেছি। মাত্র পাঁচ দিন আগে আমাকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধানের রং নষ্ট হয়ে গেছে, তাই তারা দাম আরও কমিয়ে দিয়েছেন।

ইটনা উপজেলার আশরাফুল ইসলাম জানান, তিন দিন আগে ১০০ মণ ধান বিক্রি করতে তাকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। ‘ব্যবসায়ীরা ৬০০ টাকা দাম বলেছিলেন। ১০টি বাজার ঘোরার পর আমি ৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। অথচ আমার উৎপাদন খরচ প্রতি মণে এক হাজার ২০০ টাকারও বেশি।’

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাদিকুর রহমান জানান, গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে নদী ও বন্যার পানির উচ্চতা বেড়েছে, এর ফলে প্রায় সাত হাজার হেক্টর হাওরের ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। তার দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২১ হাজারেরও বেশি কৃষক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, মেঘলা আবহাওয়ার কারণে তার কাটা ধান পচে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে আমি প্রতি মণ এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন আমি ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দীপক কুমার বিশ্বাস জানান, ২ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জেলায় ১১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে এবং এতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে। একইসঙ্গে সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের বিষয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে বোরো উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ০১ কোটি টন, যা গত অর্থবছরে বেড়ে ২ দশমিক ১৩ কোটি টনে দাঁড়িয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সরকার চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ দশমিক ২৪ কোটি টনে উন্নীত করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বোরো চাষের জমির পরিমাণও ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ৫০ দশমিক ৫০ লাখ হেক্টরে পৌঁছেছে।

চাষাবাদের খরচ বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও গত ২২ এপ্রিল সরকার ঘোষণা করেছে, ধান সংগ্রহের সরকারি দাম অপরিবর্তিত থাকবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ৫ লাখ টন ধান সংগ্রহ করবে, যা মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।

গতকাল সিলেটে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের সঙ্গে হাওর অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহের বিষয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে ঘোষণা বা প্রচার চালানো হবে। তিনি বলেন, যদি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা সম্ভব হয়, তবে তারা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি আয় করতে পারবেন।

তিনি আরও যোগ করেন, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরের কৃষকদের জন্য তিন মাসের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দিতে নতুন প্রকল্প নিতে হবে।

(এই প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা তাফসিলুল আজিজ)

একমাত্র বিএনপি সরকারই কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, এই দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, এই দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষকদের মধ্যে ‘ফার্মারস কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১১টি উপজেলায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে আমাদের কৃষক কার্ড প্রদানের অনুষ্ঠানটি হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২২ হাজার কৃষকের কাছে কৃষক কার্ডের সুবিধা আমরা পৌঁছে দিতে চাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার। নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে যে সকল প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, তার মধ্যে এই কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতি ছিল। এর বাইরেও আমরা বলেছিলাম যে, কৃষকদের, বিশেষ করে যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিল, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই কৃষি ঋণ সুদসহ ১০ হাজার টাকা আমরা মওকুফ করব। আল্লাহর রহমতে আমরা নির্বাচনের পরে প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। যার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধাটি পেয়েছে।’

‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করলেন ১৯৯১ সালে, উনি কিন্তু ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির খাজনাও সেই সময় মওকুফ করে দেওয়া হয়েছিল,’ উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষকদের সেচ সমস্যা দূর করতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তার জ্যেষ্ঠপুত্র বলেন, ‘যে বাংলাদেশে আমরা দেখেছিলাম ১৯৭৪ সালে দেশের মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল; দুর্ভিক্ষে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। সেই বাংলাদেশেই আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুধুমাত্র খাল খনন করায়, কৃষক সেচ সুবিধা পাওয়ার ফলে কৃষির উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং এই বাংলাদেশ অল্প পরিমাণে হলেও বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা। কৃষককে সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সে জন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকের কাছে ১০টি সুবিধা পৌঁছে দেবো। যে ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে।’

‘একটি কথা আজকে পরিষ্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই, আমরা যদি পর্যালোচালনা করি দেখব, এই বাংলাদেশে একমাত্র বিএনপি সরকার যতবার এই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, বিএনপি সরকারই চেষ্টা করেছে কৃষক ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আপনারা বিএনপির ওপরে বিগত নির্বাচনে আস্থা রেখেছেন। এই সরকার আপনাদের সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেবে,’ আশ্বাস দেন তিনি।

দম সিনেমাটি আসলেই অন্যরকম হয়েছে: ডলি জহুর

বাংলাদেশের গুণী অভিনয়শিল্পী ডলি জহুর। জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননা, একুশে পদকসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। সাড়া জাগানো বহু নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। অসংখ্য সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। 

এখনো অভিনয় থেকে দূরে সরে যাননি এই নন্দিত তারকা। 

এবারের ঈদের সাড়া জাগানো সিনেমা ‘দম’ এ তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ঈদে তার অভিনীত নাটক প্রশংসা পেয়েছে।

 

দম সিনেমা সম্পর্কে ডলি জহুর বলেন, ‘দম সিনেমা প্রিমিয়ারে গিয়ে দেখেছি। খুব ভালো লেগেছে। যত্ন নিয়ে কাজটি করা হয়েছে। শিল্পীরা ভালো অভিনয় করেছেন। দর্শকরাও পছন্দ করেছেন।’

‘দম সিনেমাটি আসলেই অন্যরকম হয়েছে।গতানুগতিক ধারার গল্প থেকে বের হয়ে সুন্দর একটি গল্প বেছে নেওয়া হয়েছে। যারা গল্প ভালোবাসেন তারা পছন্দ করেছেন। আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে’, যোগ করেন তিনি। 

ডলি জহুর আরো বলেন, ‘দম সিনেমার শুটিং করেছিলাম আউটডোরে। শীতের মধ্যে একটি গ্রামে শুটিং হয়েছে। সেখানে অনেক মানুষ শুটিং দেখতে আসতেন। প্রায়ই সেটে এসে মেয়েরা আমাকে জড়িয়ে ধরতেন। মানুষের ভালোবাসা কাছ থেকে দেখেছি।’

 

এবারের ঈদে ‘ম্যাডাম এর ড্রাইভার’ নামে একটি নাটক প্রচার হয়েছে। মীর সাব্বির পরিচালিত ওই নাটকে ডলি জহুর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

ডলি জহুর বলেন, ‘নাটকের গল্পটা ভালো। দীপা খন্দকারের সঙ্গে আমার অনেকগুলো দৃশ্য ছিল। গল্পের শেষটা ভীষণ সুন্দর। শাশুড়ি ও ছেলের বউয়ের মিল দর্শকরা ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মীর সাব্বির একদিন ফোন করে নাটকটির কথা বলেন এবং কাজটি করার পর বুঝতে পারছি দর্শকরা সুন্দরভাবেই নিয়েছেন।’

নাটক-সিনেমায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মায়ের চরিত্র করতে করতে এখন অনেক শিল্পী আমাকে মা ডাকা শুরু করেছেন। তারা আমাকে তাদের মায়ের মতোই সম্মান করেন। আমিও তাদের খুব ভালোবাসি, স্নেহ করি। এই ভালোবাসাটা সত্যিই আবেগের। আমাকে যখন কেউ মা বলে ডাকে, আমার তখন খুব ভালো লাগে।’

 

জুনিয়র শিল্পীদের বিষয়ে ডলি জহুর বলেন, ‘জুনিয়র শিল্পীরা আমাকে অনেক সম্মান করেন, আমিও তাদের পছন্দ করি। আসলে আমরা সবাই মিলে একটা পরিবার।’

এদিকে ডলি জহুর অভিনীত ‘পরম্পরা’ নামে একটি ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে দীপ্ত টিভিতে। এই নাটকটিও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

পরম্পরা নাটক সম্পর্কে ডলি জহুর বলেন, ‘এই নাটকের কথা অনেকেই বলেন। দর্শকদের ভালো লাগার একটি নাটক। আমিও অভিনয় করে আমারও একরকম ভালো লাগা কাজ করে।’

বাংলাদেশ থেকে ডিম কিনবে না সৌদি আরব

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সৌদি আরব।

দেশটির খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে আমদানিতে আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে জানিয়েছে গালফ নিউজ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও মহামারিবিষয়ক হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

সর্বশেষ সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও কিছু দেশকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আনা হয়েছে। বিশেষত উচ্চমাত্রায় বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবের ওপর নজর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিশর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, আইভরি কোস্ট ও মন্টেনেগ্রো।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও ডিআর কঙ্গোর নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা শহর থেকে আমদানিতে আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।

কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হলে প্রক্রিয়াজাত করা মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। তবে এ ধরনের পণ্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকারি সনদ থাকতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে—প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হয়েছে।

পাশাপাশি রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত স্থাপনা থেকেই এসব পণ্য উৎপাদিত হতে হবে, জানিয়েছে সৌদির খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজারে দুর্ঘটনার কবলে ওজিল–বিলাল এরদোয়ানের গাড়িবহর, সবাই অক্ষত

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে সাবেক জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়িপ এরদোয়ানের ছেলে নেকমেদ্দিন বিলাল এরদোয়ানের গাড়িবহর। তবে এতে কেউ আহত হননি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  

উখিয়ার শাহপরীর দ্বীপ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হঠাৎ প্রটোকল ভেঙে ভিআইপি গাড়িবহরে ঢুকে পড়ে। এ সময় বহরের একটি গাড়ির সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে ওজিল বা তুরস্কের প্রতিনিধিদলের কেউ আহত হননি। তবে সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

ওসি সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, দুর্ঘটনায় আহত অটোরিকশাচালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে মেসুত ওজিলসহ তুরস্কের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। বিকেলে ৪ নম্বর ক্যাম্পে রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গে ওজিল ফুটবল খেলেন। পরে সন্ধ্যায় সেখানে ইফতারিতে অংশ নেন।

 

 

লটারি, বয়কট আর ফাঁকা মাঠে গোল: যেভাবে মিলেছে বিশ্বকাপের টিকিট

বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়াটা যেকোনো জাতীয় দলের জন্যই এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর ও স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই। বছরের পর বছর ধরে চলা বাছাইপর্ব, পয়েন্ট তালিকার হিসাবনিকাশ আর বুক ধড়ফড় করা সমীকরণ পেরিয়ে তবেই মেলে বিশ্বমঞ্চের টিকিট।

কিন্তু ফুটবলের ইতিহাস ঘাঁটলে এমন কিছু রোমাঞ্চকর ও অদ্ভুত ঘটনার দেখা মেলে, যেখানে দলগুলো মূল পর্বে গেছে এক বিন্দু ঘাম না ঝরিয়ে কিংবা স্রেফ ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় কিংবা প্রতিপক্ষহীন ফাঁকা মাঠে গোল করে কিংবা নিয়মের মারপ্যাঁচে! ১৯৩৪ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এবারের ২০২৬ সালের আসর— বাছাইপর্বের এমন বিস্ময়কর কিছু অধ্যায় নিয়েই পাঠকদের জন্য এই আয়োজন।

বিনা যুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে

শুরুর দিকের বিশ্বকাপগুলোতে বাছাইপর্ব থেকে নাম প্রত্যাহারের হিড়িক ছিল। কখনো রাজনৈতিক কারণ, কখনো আয়োজক দেশ নিয়ে ক্ষোভ, আবার কখনো যাতায়াতের বিশাল খরচের ভয়ে দলগুলো সরে দাঁড়াত।

১৯৩৪ সালের ইতালি বিশ্বকাপের কথাই ধরা যাক। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ থেকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই মূল আসরে জায়গা করে নেয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। কারণ, ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ পেরু ও আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চিলি বাছাইপর্ব থেকে সরে দাঁড়ায়।

পরের আসরের স্বাগতিক ছিল ফ্রান্স। ইউরোপ মহাদেশে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রতিবাদে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রায় সব দেশ বাছাইপর্ব বয়কট করে। সেই তালিকায় ছিল আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার মতো নাম। ফলে কোনো ম্যাচ না খেলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যায় কিউবা। একই আসরে এশিয়া মহাদেশ থেকে জাপান নাম প্রত্যাহার করায় বিনা লড়াইয়ে মূল পর্বে চলে যায় ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া)।

এই নাম প্রত্যাহারের ঘটনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। ইকুয়েডর, পেরু ও আর্জেন্টিনা সরে দাঁড়ানোয় কোনো ম্যাচ না খেলেই মূল পর্বে যায় উরুগুয়ে, বলিভিয়া ও চিলি। মজার ব্যাপার হলো, বাছাইপর্বে এক মিনিটের জন্যও মাঠে না নামা উরুগুয়েই সেবার মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল!

ওই আসরে বার্মা (বর্তমান মায়ানমার), ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এশিয়া মহাদেশ থেকে ভারত সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। তবে দীর্ঘ যাত্রার ব্যয়ভার বহনে অনিচ্ছা এবং ১৯৫২ সালের অলিম্পিকে মনোযোগ দেওয়ার কারণে তারাও পরে সরে দাঁড়ায়। যদিও গুঞ্জন রয়েছে, খালি পায়ে খেলার ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞাই ছিল ভারতের অংশ না নেওয়ার মূল কারণ।

১৯৫৪ সালেও একই ধারা অব্যাহত থাকে। পোল্যান্ডের নাম প্রত্যাহারের কারণে বাছাইপর্বে নামা ছাড়াই সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে হাঙ্গেরি জায়গা করে নিয়েছিল।

১৪ বছরের বালকের হাতে তুরস্কের ভাগ্য

একই আসরের বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব জন্ম দিয়েছিল আরেক চমকপ্রদ ঘটনার। সেসময় ফিফার খামখেয়ালিপূর্ণ আয়োজনের কারণে ইউরোপ অঞ্চলের কিছু গ্রুপে কেবল দুটি করে দল রাখা হয়েছিল। তেমনই এক গ্রুপে পড়েছিল স্পেন ও তুরস্ক।

দুই দলই একটি করে ম্যাচে জয় পায়। প্রথম লেগে নিজেদের আঙিনায় স্পেন ৪-১ গোলে ও দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে তুরস্ক ১-০ গোলে জিতেছিল। বেশি গোল করার সুবাদে স্পেনেরই মূল পর্বে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখনও গোল ব্যবধানের নিয়ম চালু না হওয়ায় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্লে-অফ ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালেও দুই দলকে আলাদা করা যায়নি। ২-২ সমতায় শেষ হয় খেলা। এরপর সিদ্ধান্ত হয়, লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে কে পাবে বিশ্বকাপের টিকিট। এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয় লুইজি ফ্রাঙ্কো জেমা নামের ১৪ বছর বয়সী এক ইতালিয়ান কিশোরকে, যার বাবা ওই স্টেডিয়ামেই কাজ করতেন।

চোখ বাঁধা অবস্থায় লুইজিকে একটি হ্যাট থেকে দুটি বলের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হয়। স্টেডিয়ামভর্তি দর্শকের সামনে তার হাতে ওঠে তুরস্কের নাম লেখা বলটি। ফলে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে ছিটকে দিয়ে ভাগ্যের জোরে বিশ্বকাপে চলে যায় তুরস্ক!

রাজনৈতিক বয়কট, ফিফার নিয়মবদল ও ওয়েলসের রূপকথা

সুইডেনে হওয়া ১৯৫৮ সালের আসরে এসে ফিফা উপলব্ধি করে যে, বাছাইপর্বে কোনো ম্যাচ ছাড়াই বিশ্বকাপ খেলার এই প্রথা চলতে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে আফ্রিকা-এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে মিশর, সুদান ও ইন্দোনেশিয়া যখন রাজনৈতিক কারণে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন ফিফা কড়া নিয়ম করে— স্বাগতিক দেশ ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ছাড়া কোনো দল অন্তত একটি ম্যাচ না খেলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে না।

ইসরায়েলের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বে রানার্সআপ হওয়া দলগুলোকে নিয়ে একটি লটারির আয়োজন করে ফিফা। সেখানে শুরুতে বেলজিয়ামের নাম উঠলেও তারা সরে দাঁড়ায়। তাই পরবর্তীতে ওয়েলসকে বেছে নেওয়া হয়।

দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে লুফে নিতে ভুল করেনি ওয়েলস। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের দুই লেগেই ইসরায়েলকে তারা হারায় ২-০ গোলে। ফলে অবিশ্বাস্য কায়দায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি।

সান্তিয়াগোর ভূতুড়ে ম্যাচ ও ফাঁকা পোস্টে গোল

পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ১৯৭৪ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে মুখোমুখি হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চিলি। মস্কোতে প্রথম লেগের খেলা শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। তাই সমস্ত নজর ছিল সান্তিয়াগো হতে যাওয়া দ্বিতীয় লেগের দিকে।

তবে ১৯৭৩ সালের ২১ নভেম্বরের ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে আছে এর পেছনের চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে, যা ফুটবল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ভেন্যু ছিল ন্যাসিওনাল স্টেডিয়াম। কিন্তু এর মাত্র দুই মাস আগেই চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে এবং অগাস্তো পিনোশের নতুন সরকার স্টেডিয়ামটিকে রাজনৈতিক বন্দিশিবির ও বিরোধীদের হত্যার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।

এমন রক্তস্নাত একটি স্টেডিয়ামে খেলার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। তারা চিলির ভেতরেই অন্য কোনো ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজনের জন্য ফিফাকে অনুরোধ করে। কিন্তু কোনো সমঝোতা না হওয়ায় সোভিয়েত দল শেষমেশ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে তাদেরকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী চিলিকে ওয়াকওভারের মাধ্যমে জয়ী ঘোষণা করে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপারটি ঘটে ম্যাচের জন্য নির্ধারিত দিনে। কোনো প্রতিপক্ষ না থাকা সত্ত্বেও ফিফার নিয়ম মেনে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচটি আয়োজন করা হয়। চিলির খেলোয়াড়রা মাঠে নামেন এবং কিক-অফের পর বাধাহীনভাবে ফাঁকা পোস্টে বল জড়িয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এরপর রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলা শেষ করে দেন। ম্যাচটির স্থায়িত্ব ছিল ৩০ সেকেন্ডের মতো।

মূল বাছাইয়ে জয়হীন, তবু বিশ্বকাপে সুইডেন!

আগেকার দিনে যেখানে রাজনৈতিক বয়কট বা ফিফার সেকেলে নিয়ম অদ্ভুত সব পরিস্থিতির জন্ম দিত, আধুনিক ফুটবলে সেই জায়গা নিয়েছে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বের জটিল হিসাবনিকাশ। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও তাই নিয়মের মারপ্যাঁচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মূল বাছাইপর্বে জয়হীন থেকেও সুইডেনের ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে পদার্পণ সেটারই প্রমাণ।

বাছাইপর্বের ‘বি’ গ্রুপে থাকা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি তাদের ছয়টি ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি। পয়েন্ট তালিকার একদম তলানিতে ছিল তাদের অবস্থান। কিন্তু স্বাভাবিক সমীকরণে বিদায় নেওয়ার কথা থাকলেও উয়েফা নেশন্স লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ের সুবাদে দ্বিতীয় জীবন পায় তারা।

আর তা কাজে লাগিয়েই দীর্ঘ আট বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরছে সুইডেন। কোচ গ্রাহাম পটারের অধীনে প্লে-অফের সেমিফাইনালে ইউক্রেনকে সহজেই হারিয়ে দেয় তারা। তারপর ফাইনালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে মেলে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে স্ট্রাইকার ভিক্টর ইয়োকেরেসের লক্ষ্যভেদ তৈরি করে দেয় ব্যবধান।