26.6 C
Dhaka
Home Blog

প্রবীণ সামরার সঙ্গেই কি হারিয়ে যাবে মৌলভীবাজারের সৌরা ভাষা?

নিজের মাতৃভাষা কি মানুষ ভুলে যেতে পারে? হারিয়ে ফেলতে পারে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়? কালের পরিক্রমায় এমনটাই ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে। বিলুপ্তির শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে আছে এখানকার স্থানীয় ‘সৌরা’ ভাষা। সৌরা ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারা একমাত্র ব্যক্তিটি গত ছয় মাস ধরে অসুস্থ। তিনি চলে গেলে হয়তো চিরতরে হারিয়ে যাবে একটি ভাষা, একটি জাতির পরিচয়।

চার বছর আগে দ্য ডেইলি স্টার সৌরা ভাষা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই সময় সামরা সৌরার বয়স ছিল ৮৫ বছর, এখন তিনি ৯০-এর কোঠায়। 

গত সোমবার মৌলভীবাজারের সেই সৌরা পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, সামরা সৌরা এখন খুব অসুস্থ। একা হাঁটতে পারেন না, শ্বাস নিচ্ছেন খুব জোরে জোরে। দু-তিনটি কথা বললেই হাঁপিয়ে পড়ছেন।

প্রতিবেদক কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। ক্ষীণ কণ্ঠে শুধু বললেন, ‘আমি মারা গেলে ভাষাটাও মারা যাবে। দয়া করে আমার মরার আগে আমার মায়ের ভাষাটা বাঁচানোর উদ্যোগ নেন। এই ভাষায় আমার পরিচয়।’

সৌরা সমাজের সচেতন ব্যক্তি আলকুমার সৌরা (৫৬) বলেন, ‘সামরা সৌরা একমাত্র ব্যক্তি যে আমাদের ভাষাতেই শুধু কথা বলতে পারতো। চা বাগানের অন্য দু-একটি ভাষা বুঝতে পারলেও সে সবার সাথে সৌরা ভাষাতেই কথা বলতো। সৌরা ভাষাভাষির তরুণ ছেলেমেয়েরা উচ্চারণ শুনে হাসাহাসি করলেও কেউ কেউ তার কারণে বলার চেষ্টাও করতো।’

সামরা সৌরাকে এই ভাষার ‘ওয়ান-ম্যান আর্মি’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তার সমবয়সী আমাদের সমাজে আর কেউ নেই। এমনকি তার মতো পুরোদমে কেউ বলতেও পারে না। ৭০ বছর বয়সের ওপরে সৌরা জাতিসত্ত্বার যারা বেঁচে আছেন, তারা কিছু শব্দ পারেন। কিন্তু সামরা সৌরার মতো কেউ বলতে পারেন না।’

তবে তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, ‘গত ১৫-২০ বছরে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষজন এসে শুধু সাক্ষাৎকার নিয়ে গেছেন, কিন্তু ভাষাটি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। আস্তে আস্তে আমাদের মায়ের মুখের ভাষাটা হারিয়ে যাচ্ছে।’

৭০ বছর বয়সী শ্রীধর সৌরা বলেন, ‘আমরা আমাদের মাতৃভাষা রক্ষার জন্য সরকারের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কিছুই করা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারের মধ্যে এই ভাষায় কেউ কথা বলতে পারে না। ফলে আমিও সৌরা ভাষার অনেক শব্দ ভুলে গেছি।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আইএসএলআই) যে ১৪টি ভাষাকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সৌরা তার মধ্যে একটি। বর্তমানে বাংলাদেশে মাত্র ১২০টি পরিবার এই ভাষায় কথা বলে, তার মধ্যে আবার বেশিরভাগই বয়স্ক সদস্য। 

অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা সৌরা ভারতের উড়িষ্যা, অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং বিহারেও পাওয়া যায়। এ ভাষার লিখিত রূপ আছে। অন্ধ্রপ্রদেশে সৌরা প্রাথমিক নামে একটি পাঠ্যপুস্তকও রয়েছে।

৭২ বছর বয়সী উমিলা সৌরা বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই বাংলা, ওড়িয়া ও সাদরি ভাষাতেই কথা বলেন। চা-বাগানে সৌরার থেকে ওড়িয়া ও সাদরি সম্প্রদায়ই বড়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাড়িতে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলি। আজকাল অনেকে এ ভাষাকে উড়িয়া বা জংলি ভাষার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন। তাই আমাদের বাংলা ভাষায় কথা বলতে হয়। সৌরা বললে মানুষজন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।’

তরুণ প্রজন্মের সাহান সৌরা জানায়, স্কুলে বা বন্ধুদের মাঝে সৌরা ভাষায় কথা বললে অন্যরা হাসাহাসি করে এবং একে ‘অপভাষা’ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। ফলে তারা লজ্জায় এই ভাষা বলতে চায় না।

সান্তনা সৌরা বলেন, ‘আমরা দাদুর কাছ থেকে কিছু শব্দ শুনেছি, কিন্তু ঠিকমতো বলতে পারি না। স্কুলে সবাই বাংলায় কথা বলে, তাই আমরাও বাংলাই বলি।’

তবে নিপা সৌরা এই ভাষায় আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘দাদু যখন এই ভাষা বলেন, তখন আমরা সবকিছু বুঝতে পারি না। কেউ যদি আমাদের ব্যাখ্যা করেন, তাহলে আমরা আরও আগ্রহী হব।’

গবেষক পরিমল বাড়াইক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন (২০১০) বাস্তবায়নের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানান। তিনি সমস্ত জাতিগত ভাষার সংরক্ষণ এবং লিখিত রূপের বিকাশের উপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যদিও এনজিওগুলো ক্ষুদ্র জাতিগত গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করে, ভাষা সংরক্ষণ প্রায়ই অবহেলিত হয়।’

আদিবাসী ভাষা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ভাষা সম্পদ কেন্দ্রের (এলআরএইচ) প্রধান এবং ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা দশকের (আইডিআইএল) গ্লোবাল টাস্কফোর্স সদস্য সমর এম. সরেন বলেন, ‘বাংলাদেশে সৌরা ভাষা, যা সাভারা নামেও পরিচিত এবং সিলেট ও ​​মৌলভীবাজারের চা বাগানে প্রধানত সাভারা সম্প্রদায়ের লোকেরা এই ভাষা ব্যবহার করে, তা বিলুপ্তির পথে।’

তরুণ প্রজন্ম সৌরা ভাষা শিখছে না বা ব্যবহার করছে না। মূলত বাংলার মতো প্রভাবশালী ভাষার প্রভাব এবং সম্প্রদায়ের আকার ছোট হওয়ার কারণে ভাষাটি চর্চা করা হচ্ছে না।

ডিজিটাল স্পেস, গণমাধ্যম বা শিক্ষায় এই ভাষার তেমন কোনো উপস্থিতি নেই। খুব সীমিত সাক্ষরতার উপকরণ এবং লিপি রয়েছে এবং কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই। যদিও এই ভাষার নিজস্ব সোরাং সোম্পেং লিপি রয়েছে, বাংলাদেশে লেখার জন্য বাংলা বেশি ব্যবহৃত হয়। 

সৌরা ভাষার পাশাপাশি এই ভাষার লোককাহিনী, আচার-অনুষ্ঠান, গান, গল্প এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুশীলনের মতো মূল্যবান ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানও চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ডকুমেন্টেশন, পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি, সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় না পেলে আগামী বছরগুলোতে সৌরা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক এ এফ এম জাকারিয়া বলেন, ‘পরিবার-ভিত্তিক অনুশীলনের মাধ্যমে একটি ভাষা টিকে থাকে। যখন এক প্রজন্ম অন্য প্রজন্মকে তা শেখায় না বা শেখাতে পারে না, তখন বিলুপ্তি অনিবার্য হয়ে ওঠে। কখনও কখনও ভাষাগুলো জোর করে নয়, বরং সামাজিক চাপ এবং হীনমন্যতার মাধ্যমে হারিয়ে যায়। এটি সাংস্কৃতিক সহিংসতার একটি নীরব রূপ।’

এই অধ্যাপক সামরা সৌরার মতো এই ভাষার শেষ বক্তাদের কাছ থেকে অডিও এবং ভিডিও ডকুমেন্টেশন সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

৬০ বছর বয়সী যামিনী সৌরা বলেন, ‘মাত্র দুজন প্রবীণ এই ভাষায় অনর্গল কথা বলতেন। একজন বহু বছর আগে মারা গেছেন। অন্যজন এখন কথা বলতেও কষ্ট পাচ্ছেন। মনে হচ্ছে যখন তিনি মারা যাবেন, তখন আমাদের ভাষাও তার সাথে মারা যাবে।’

 

 

 

ক্যানসার চিকিৎসা: সহানুভূতি নয়, দরকার কাঠামোগত পরিবর্তন

বাংলাদেশে ক্যানসার আজ শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যগত সংকট নয়, বরং গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। একটি পরিবারে কারো ক্যানসার ধরা পড়লে সেই পরিবার শুধু রোগীকে বাঁচানোর লড়াইয়ে নামে না, তারা লড়াই করে আর্থিক ধ্বংস, মানসিক বিপর্যয় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিরুদ্ধেও।

সম্প্রতি সরকার ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের জন্য বছরে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি মানবিক উদ্যোগ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই সহায়তা বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ?

ক্যানসার চিকিৎসার বাস্তব চিত্র অত্যন্ত কঠিন। একটি কেমোথেরাপির খরচ অনেক ক্ষেত্রেই লাখ টাকার বেশি হয়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ, যার প্রতিটিই ব্যয়বহুল। এ দেশের অধিকাংশ পরিবারের জন্যই সেই খরচ প্রায় অসহনীয়। ফলে এক লাখ টাকার সহায়তা নিঃসন্দেহে সহায়ক হলেও এটি সামগ্রিক সমস্যার অতি ক্ষুদ্র অংশই সমাধান করতে পারে।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, আমরা কি কেবল আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারব, নাকি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভেতরে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন?

বাংলাদেশের ক্যানসার চিকিৎসার কেন্দ্র হিসেবে মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নাম সবার আগে আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই হাসপাতালের সেবার মান, ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা দেশের বিপুল রোগীর চাহিদার তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

প্রতিদিন হাজারো রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন, যার বড় অংশই গ্রামাঞ্চলের। তাদের অনেককেই রাত ২টা বা তারও আগে এসে লাইনে দাঁড়াতে হয় শুধুমাত্র একটি টিকিট পাওয়ার জন্য।

এই দীর্ঘ লাইনের পেছনে রয়েছে সীমিত জনবল, অবকাঠামোগত ঘাটতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দালালচক্র, যারা রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফলে যে সরকারি হাসপাতাল হওয়ার কথা ছিল সাধারণ মানুষের শেষ ভরসা, সেটি অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠছে ভোগান্তির আরেক নাম।

যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তারা বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এতে একদিকে যেমন দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের ওপর মানুষ আস্থা হারাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে এখন সময় এসেছে বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে যাওয়ার।

প্রথমত, মহাখালীর ক্যানসার হাসপাতালকে আধুনিক, সুসংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তর করতে হবে। এখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে এবং কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে, যাতে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন না হয়।

দ্বিতীয়ত, ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসার খরচ কমানোর জন্য সরকারকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হবে। ডায়াগনস্টিক টেস্টগুলোর ওপর ভর্তুকি দেওয়া, বিদেশি ওষুধের ওপর শুল্ক কমানো এবং কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মতো চিকিৎসাকে সাশ্রয়ী করতে হবে।

তৃতীয়ত, ঢাকার বাইরে অন্তত বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরি। এতে রোগীদের রাজধানীতে আসার চাপ কমবে এবং চিকিৎসা খানিকটা সহজলভ্য হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যানসার চিকিৎসাকে সমন্বিত স্বাস্থ্যনীতি হিসেবে দেখতে হবে। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার সঙ্গেও জড়িত।

ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য সরকারের এক লাখ টাকার সহায়তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু এই সংকটের গভীরতা বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, আমাদের প্রয়োজন আরও বড় চিন্তা, আরও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ।

ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজন রোগী একা নয়, তার সঙ্গে লড়াই করে একটি পরিবার। সেই লড়াইয়ে রাষ্ট্র যদি শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তাহলেই এই লড়াই কিছুটা হলেও সহজ হবে।

মো. তরিকুল ইসলাম: কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

একই ক্লাবের ১০ জনকে নিয়ে চেক প্রজাতন্ত্রের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য একই ক্লাবের ১০ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে চেক প্রজাতন্ত্রের চূড়ান্ত স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। ইউরোপের দেশটির বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন স্লাভিয়া প্রাগ থেকেই সর্বোচ্চ সংখ্যক ফুটবলার সুযোগ পেয়েছেন।

রোববার চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ মিরোস্লাভ কৌবেক চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। সেখানে আছেন দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে খেলা ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার টমাস সৌচেক এবং বায়ার লেভারকুসেনের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিকের মতো তারকারা।

৭৪ বছর বয়সী এই কোচ দলে রেখেছেন স্পার্টা প্রাগের ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার হুগো সোকুরেককেও, যিনি মৌসুমের শেষভাগে নিজ ক্লাবের হয়ে দারুণ পারফর্ম করে নজর কেড়েছেন।

ফারো আইল্যান্ডসের বিপক্ষে বাছাইপর্বে অপ্রত্যাশিত হারের পর গত ডিসেম্বরে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন কৌবেক। এরপর তার অধীনে প্লে-অফ পেরিয়ে ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় চেক প্রজাতন্ত্র।

প্লে-অফে আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্কের বিপক্ষে জয়ে ভূমিকা রাখা খেলোয়াড়রাই স্কোয়াডের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের ডিফেন্ডার লাদিস্লাভ ক্রেইচি এবং অলিম্পিক লিওঁর মিডফিল্ডার পাভেল সুলৎস।

আগামী ১২ জুন গুয়াদালাহারায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে চেক প্রজাতন্ত্র। এরপর সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে তারা।

চেক প্রজাতন্ত্রের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: লুকাস হর্নিচেক, মাতেই কোভার, জিন্দ্রিক স্টানেক

ডিফেন্ডার: ভ্লাদিমির কৌফাল, ডেভিড দৌদেরা, টমাস হোলেস, রবিন হ্রানাচ, স্টেপান কালৌপেক, ডেভিড ইয়ুরাসেক, লাদিস্লাভ ক্রেইচি, ইয়ারোস্লাভ জেলেনি, ডেভিড জিমা

মিডফিল্ডার: লুকাস চেরভ, ভ্লাদিমির দারিদা, লুকাস প্রোভোদ, মিকাল সাদিলেক, হুগো সোকুরেক, আলেকসান্দর সোইকা, টমাস সৌচেক, পাভেল সুলৎস, ডেনিস ভিসিনস্কি।

ফরোয়ার্ড: অ্যাডাম হ্লোজেক, টমাস কোরি, ময়মির কিতিল, ইয়ান কুকতা, প্যাট্রিক শিক।

ব্যাংকের অর্থায়নে প্রশিক্ষণ-সেমিনারে অংশ নিতে পারবেন না বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা

আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং স্বার্থের সংঘাত এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক, আর্থিকপ্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সংস্থার অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দেশে বা বিদেশে ব্যাংক কিংবা আর্থিকপ্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত কোনো প্রশিক্ষণ বা কর্মশালায় প্রশিক্ষণার্থী বা প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিতে পারবেন না।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সেবা নেয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পণ্য ও সেবা সরবরাহ করে—এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশে আয়োজিত চুক্তিবহির্ভূত প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা কর্মশালায় অংশগ্রহণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে মানবসম্পদ বিভাগ-২ এর পূর্বানুমতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ব্যাংক, আর্থিকপ্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য সংস্থার আয়োজিত দেশীয় সেমিনার কিংবা আলোচনা সভায় বক্তা বা প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। তবে এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো সম্মানী নেওয়া যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এমন কোনো প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা কর্মশালায় সম্মানীর বিনিময়ে অংশ নেওয়া থেকে কর্মকর্তাদের বিরত থাকতে হবে, বিশেষ করে যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব বা কার্যক্রমের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

‘গুপ্ত’ শব্দচয়ন প্রধানমন্ত্রী পদের সঙ্গে যায় না: সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েম বলেছেন, দেওয়ালে যে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, সেই শব্দটি প্রধানমন্ত্রী চয়ন করেছেন, যা তার পদের সঙ্গে যায় না।

তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আর কোনো ট্যাগিং বা গণরুম সংস্কৃতির রাজনীতি ফিরে আসুক, আমরা তা চাই না।

আজ বুধবার চট্টগ্রাম নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিবিরকর্মীদের দেখতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডাকসু ভিপি এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের আমলে আমরা যেমন দেখেছি, ছাত্রলীগ ও পুলিশ এক হয়ে বিরোধীদের ওপর হামলা করতো। গতকালও দেখা গেছে, ছাত্রদলের বহিরাগত ক্যাডারেরা ধারালো অস্ত্র হাতে পুলিশের সামনে শিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করছে। অথচ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

দেওয়ালে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই শব্দ আমরা ধারণ বা বর্জন কোনোটাই করি না। কে কাকে ‘গুপ্ত’ বলল, এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

তিনি জানান, শিবিরের পাহাড়তলী ওয়ার্ড ইউনিটের সভাপতি আশরাফুল আলমের একটি পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা অপারেশন সম্পন্ন করলেও আগামী তিন দিনের মধ্যে তা জোড়া না লাগলে পা কেটে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে শিবিরের সাদিক কায়েম বলেন, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা যদি দায়মুক্তি পায়, তবে সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে এভাবেই হামলা চালানোর সাহস পাবে।

এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনারা কি সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন কি না, তা খোলাখুলি জানান। তাহলে আমরাও আপনাদের সেভাবে ডিল করব।

শততম মঞ্চায়নের মাইলফলকে বটতলার ‘খনা’

উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে নাট্যদল বটতলার দর্শকপ্রিয় ‘খনা’ নাটকের শততম মঞ্চায়ন। গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক উৎসব আজ শনিবার নাটকটির বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেষ হবে।

শুক্রবার সকালে শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট অরূপ রাহীর নির্দেশনায় ‘উদয়ভানু সঙ্গ’ অধিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। উদ্বোধনী দিনে সরোদ ও বেহালার ধ্রুপদী সুরের পাশাপাশি দর্শক-শ্রোতারা আমন্ত্রিত শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা উপভোগ করেন। 

সামিনা লুৎফার রচনা ও মোহাম্মদ আলী হায়দারের নির্দেশনায় ‘খনা’র প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ২০১০ সালের ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শতবর্ষে। গত ১৬ বছরে নাটকটি দেশে ও দেশের বাইরে সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় উৎসবের সমাপনী দিনে নাটকটির ১০০তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

উৎসবের অংশ হিসেবে গতকাল থেকে ‘দেশীয় পণ্যের মেলা’ শুরু হয়েছে। এই মেলায় বিষমুক্ত শাকসবজি, কৃষিপণ্য, দেশীয় খাবার, হস্তশিল্প, পোশাক ও বই প্রদর্শিত হচ্ছে।

‘প্রাকৃত সমাজ’-এর আয়োজনে গতকাল এই মেলার উদ্বোধন করেন নাট্য নির্দেশক মোহাম্মদ বারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বটতলার সভাপ্রধান খুশী কবির।

গতকাল দিনের অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল শিশুদের জন্য ব্রতচারী নৃত্য, লোকজ পরিবেশনা, গান ও আবৃত্তি। মৃৎশিল্পী খোকন কারিগরের পরিচালনায় মাটির কাজ (পটারি) এবং শিল্পী মনজুর রশীদের সঞ্চালনায় ‘আঁকিবুকিতে বসন্ত’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ছিল কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের পরিবেশনা।

উৎসবের প্রথম দিনে বাড়তি মাত্রা যোগ করে টাঙ্গাইলের একটি দলের ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা এবং ওয়াসিম বয়াতি ও আজিজুল বয়াতির লোকগান। 

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় সমগীত, চারকোল, মাভৈ, কুয়াশা মূর্খ, গীতলবঙ্গ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ। এছাড়া দর্শকদের তোলা ছবি নিয়ে ‘দর্শকের ক্যামেরায় খনা’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীও আয়োজিত হয়। 

একই দিনে গবেষক, শিক্ষক ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ‘খনা’ আলাপ। এরপর সৌম্য সরকার ও ব্রাত্য আমিনের নির্মিত একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

আয়োজকরা জানান, ‘খনা’ এমন এক আখ্যান, যা নারী, শ্রেণি ও ক্ষমতার সমীকরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। দেড় হাজার বছর আগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও নাটকটির বিষয়বস্তু বর্তমান সময়েও সমান প্রাসঙ্গিক। সমতা ও ক্ষমতার কাঠামোর যে বহুমাত্রিক পাঠ এই নাটকে দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক সমাজব্যবস্থারই প্রতিফলন।

 

 

১৩৩ তালেবান সেনা নিহত, দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তানে হামলায় অন্তত ১৩৩ সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে এমন দাবি করেন। আল জাজিরার খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

মোশারফ জাইদি জানান, পাকিস্তানের হামলায় আফগান তালেবান বাহিনীর অন্তত ১৩৩ সেনা নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা দুই শতাধিক। আফগান তালেবানের ৮০টি ঘাঁটি  ধ্বংস করা হয়েছে। নয়টি দখলে নেওয়া হয়েছে। ৮০টিরও বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি আল-জাজিরা।

এরইমধ্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন। এদিকে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় কারো ক্ষতি হয়নি।

ইসলামাবাদের নতুন এই অভিযানকে  বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীদের ওপর আফগান সেনাদের হামলার জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৭০ জন নিহত হন। এর ফলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে এবং সেই থেকে সীমান্ত পারাপারও বন্ধ রয়েছে।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তান তাদের মাটিতে সক্রিয় সেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে যারা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে উভয় পক্ষ।

দেশ গড়ার ক্ষেত্রে মব কালচার বাধা হতে পারে: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি

বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে মব কালচার বাধা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, ‘মব মানে একটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করা। যারা মব করছেন তাদের এখান থেকে সরে আসা উচিত।’

আজ শনিবার লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এ্যানি বলেন, ‘মব কালচার থেকে ফিরে সবাইকে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। সরকার ও দেশকে সহযোগিতার জন্য কাজ করতে হবে। কেউ যদি এর বাইরে কিছু করতে চান, সেটার দায়-দায়িত্ব তাদের উপরই বর্তাবে। এর জন্য তারাই দায়ী হবেন।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। সংসদ সদস্যদের শপথ হয়েছে। আমরা শপথ নিয়েছি। হ্যাঁ-না ভোট হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। খুব স্বাভাবিক কারণেই পার্লামেন্টে বিল রেইজ হবে। হ্যাঁ-এর শপথের কোনো প্রয়োজন নাই। হ্যাঁ অটোমেটিক কার্যকর হবে। এটাই জুলাই সনদ।’

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে না ভোট হয়েছে, সেখানে না ভোট অনুযায়ী পার্লামেন্টে বিল রেইজ হবে, আলোচনা হবে। সেখানে নির্ধারিত হবে যেটা না, সেটা কীভাবে হবে, যেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেটাও সেখানে নির্ধারিত হবে। এ ব্যাপারে যারা আইনবিদ রয়েছেন, তারা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এগুলো জানা দরকার, সুন্দরভাবে বলা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারকে কীভাবে সহযোগিতা করতে পারেন, দেশটাকে কীভাবে আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেবেন, সেই বিষয়ে কথা বলা দরকার। মত-পথ ভিন্ন থাকতে পারে, সব ইস্যুতে বিরোধিতা করতে হবে, এমন অবস্থান থেকে পিছিয়ে এসে দেশটা গড়ার জন্য সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজে মনযোগী হওয়া দরকার।’

এসময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. এমরান, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাজেটের কর কাঠামো কতটা ন্যায্য হলো

বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুতর একটি সংকট হলো—অর্থনীতির আকারের তুলনায় কর আহরণের হার বিশ্বের সবচেয়ে কমগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন ও সুদানের সামান্য ওপরে।

ওইসিডির তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের কর-জিডিপির অনুপাত মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোতে যা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং উন্নত দেশে ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ থাকে।

এই কম কর আহরণের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য নাগরিক সেবায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অর্থ সংকুলান কঠিন হয়ে যায়।

ফলে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে হলে বাংলাদেশকে কর আহরণ বাড়াতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রশ্ন হলো—এই কর আহরণ কীভাবে বাড়ানো হবে?

দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভ্যাট ও শুল্কের মতো পরোক্ষ করের মাধ্যমে, নাকি ধনী ও সামর্থ্যবানদের আয় ও মুনাফার মতো প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে?

অথবা ধনী ও সামর্থ্যবানদের কর ফাঁকি দূর করে, নাকি বিদ্যমান করদাতাদের কাছ থেকেই আরও বেশি কর আহরণ করে?

এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ভর করবে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়বে না কমবে।

কর আদায় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ আয় করের বদলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর আদায়ের ওপর বেশি নির্ভর বা কর ফাঁকি দেওয়া ধনী ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বদলে নিম্ন আয়ের করদাতাদের ওপর বেশি নির্ভর করা হলে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরও বাড়বে।

বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, বাংলাদেশের রাজস্ব সংকট মূলত কোনো কারিগরি সমস্যা নয়, বরং এটি বৈষম্যমূলক রাজনৈতিক অর্থনীতির ফল।

বিএনপি এই কাঠামো ভেঙে আয়কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে ন্যায্য, সর্বজনীন ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে রাজস্ব ভিত্তি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

দলটি উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের করজালের আওতায় আনা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা, তথ্য বিনিময় ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। (বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, পৃষ্ঠা ৩৭)

চলুন দেখা যাক, এবারের বাজেটের কর কাঠামোতে সেই প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করা হলো।

বাজেটে চাল, গম, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, আদাসহ প্রায় ৬০টি কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের ওপর উৎসে করের হার বিদ্যমান ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর ফলে পণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণ পর্যায়ে করের চাপ কমবে। এর প্রভাব যদি শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে পড়ে, তাহলে তা মূল্যস্ফীতি হ্রাসের ভূমিকা রাখতে পারে।

সাধারণ মানুষের ওপর থেকে পরোক্ষ করের চাপ কমানোর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে দিনশেষে সাধারণ মানুষের ঘাড় থেকে করের সর্বমোট বোঝা কমছে না বাড়ছে, তা বোঝার জন্য কর কাঠামোর দিকে তাকানোর দরকার।

কর কাঠামো বলতে বুঝতে হবে প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ করের অনুপাত।

বাজেটের অর্থ কার কাছ থেকে আদায় করে, কার কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটা বোঝার জন্য করের এই অনুপাতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রত্যক্ষ কর হলো—সামর্থ্যবানদের আয় ও মুনাফা থেকে প্রাপ্ত কর। আর পরোক্ষ কর হলো—ভ্যাট ও শুল্ক বাবদ প্রাপ্ত কর, যা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার কাছ থেকে আদায় করা হয়।

বেশিরভাগ কর যদি দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হয়, তাহলে সেটা বৈষম্য বাড়ায়।

বৈষম্য কমাতে হলে প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে হয়। অর্থাৎ ধনীদের কাছ থেকে কর আদায় বাড়াতে হবে।

দেখতে হবে, বিভিন্ন ধরনের কর ছাড়ের ফলাফল কর কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনছে কি না।

যদি বরাবরের মতোই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর বেশি আদায় করা হয়, তাহলে এসব কর ছাড় কোন কোন ক্ষেত্রে স্বস্তি দিলেও দিনশেষে করের মূল বোঝাটা সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে।

বিএনপি সরকার ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট অনুসারে, এনবিআরের মাধ্যমে কর আহরণ করা হবে মোট ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ধনী ও সামর্থ্যবানদের আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর প্রত্যক্ষ কর আদায় করা হবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আমদানি শুল্ক ইত্যাদি খাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর আদায় করা হবে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। (বাজেট ২০২৬-২৭, রাজস্ব প্রাপ্তির বিবরণ)

অর্থাৎ এনবিআরের মাধ্যমে যত কর আদায় করা হবে, তার ৩৬ দশমিক ৪০ হলো—ধনী ও সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে আদায় করা প্রত্যক্ষ কর। আর ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ হলো—সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা পরোক্ষ কর।

বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের হার ছিল যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ২০ ও ৬৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।

আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের হার ছিল যথাক্রমে ৩৪ দশমিক ৪৪ ও ৬৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

এর মানে বরাবরের মতো এবারের বাজেটেও ধনীদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করের বদলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভ্যাট ও শুল্ক বাবদ আদায় করা পরোক্ষ করের ওপর অধিক নির্ভরশীলতা দেখা যাচ্ছে।

অর্থাৎ এবারের বাজেটে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিশেষত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ থাকলেও অর্থ আয়ের ক্ষেত্রে অর্থাৎ কর কাঠামোর বৈষম্য নিরসনের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এমনকি প্রত্যক্ষ কর আহরণ বৃদ্ধির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানেও ধনী ও সামর্থ্যবানদের কর ফাঁকি রোধ ও কর জাল বিস্তারের বদলে বিদ্যমান করদাতাদের ওপরই বেশি চাপ তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উদ্যোগগুলো এমন যে, তাতে ধনীদের তুলনায় নিম্ন আয় ও মধ্যবিত্তের ওপর বেশি চাপ তৈরি হবে।

যেমন: বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও ৫ শতাংশের প্রাথমিক কর ধাপ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ১০ শতাংশ করের প্রাথমিক ধাপ ঠিক করা হয়েছে।

বাজেটের এ প্রস্তাবে বর্তমানে যারা কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর করের চাপ আরও বাড়বে। শুধু তাই না, যাদের আয় তুলনামূলক কম তাদের কর বৃদ্ধির হার যাদের আয় বেশি তাদের তুলনায় বেশি।

যেমন: সমকালে প্রকাশিত এক হিসাব অনুযায়ী, যার মাসিক আয় ৭৪ হাজার টাকা, তার কর দায় বাড়বে ৪৯ শতাংশ।

অন্যদিকে যার মাসিক আয় আড়াই লাখ টাকা বা তার বেশি, তাদের কর দায় বাড়বে সাড়ে ১০ শতাংশ।

বিনিয়োগ করলে ব্যক্তি করদাতারা যে রেয়াত পান, তাও কমানো হয়েছে। এটিও বিদ্যমান করদাতাদের করের চাপ বাড়াবে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বিমার প্রিমিয়ামসহ ৯টি খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে
করদাতারা কর রেয়াত পান। এ ক্ষেত্রে মোট আয়ের ৩ শতাংশ, অনুমোদিত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি কম, সেটি কর রেয়াত হিসেবে বিবেচিত হয়।

নতুন প্রস্তাবে অনুমোদিত বিনিয়োগের সীমা ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফলে প্রতি ১ লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে করদাতারা আগের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার টাকা কম কর ছাড় পাবেন।

মধ্যবিত্ত পরিবার ও পেনশনভোগীরা সংসার খরচের জন্য যে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করেন, তার মুনাফার ওপরও করের হার বাড়িয়েছে সরকার।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়।

১০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ হার ১০ শতাংশ।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় এই উৎসে করই চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য হয় এবং পরবর্তীতে এ আয়ের ওপর আর কোনো কর দিতে হয় না।

নতুন বাজেটে এই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে যেকোনো ধরনের
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হবে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে না, বরং করদাতার মোট আয়ের সঙ্গে এই আয় যোগ হয়ে নির্ধারিত কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হবে।

উৎসে কাটা করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা হবে, যা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সমন্বয় করা যাবে। এর ফলে ৫-৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রধারী মধ্যবিত্ত পরিবার ও পেনশনভোগীদের মুনাফার টাকার পরিমাণ কমে যাবে।

কাজেই দেখা যাচ্ছে, বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের নতুন করে করজালের আওতায় আনার বদলে বিদ্যমান করদাতাদের ওপরই করের চাপ বাড়িয়েছে।

আবার করজাল বিস্তারের জন্য যেভাবে খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর হাজারে ২ টাকা হারে অগ্রিম কর ধার্য করেছে, সেটাও দিন শেষে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াবে। এভাবে কর আদায় বিদ্যমান তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসের জন্য অনুকূল পদক্ষেপ নয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের সাধারণ মানুষ ব্যাপক অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে সেই সরকারের পতনের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে দেশের মানুষ বৈষম্য হ্রাসের পদক্ষেপ আশা করে।

কাজেই বিএনপি সরকারের দিক থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না, যা এই বৈষম্য আরও বৃদ্ধি করে।

ফলে সরকারকে ভ্যাট এবং শুল্কের মতো পরোক্ষ কর ও বিদ্যমান নির্দিষ্ট আয়ের করদাতাদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ কর আদায় বৃদ্ধির ‘সহজ রাস্তা’ থেকে সরে আসতে হবে। এর পরিবর্তে, কর ফাঁকি দেওয়া ও কর জালের আওতার বাইরে থাকা ধনী এবং সামর্থ্যবানদের আয় ও সম্পদ থেকে প্রত্যক্ষ কর আদায় বাড়াতে হবে।

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের

এশিয়া কাপের মঞ্চে দারুণ এক জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ পুরুষ হকি দল। শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৪-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে তরুণরা।

জাপানের কাকামিগাহারার কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই ইতিবাচক ফুটওয়ার্ক ও আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তার ফলও আসে দ্রুত।

ম্যাচের নবম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মুন্না ইসলাম। চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইল ইসলাম। পেনাল্টি কর্নার থেকে সফলভাবে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেন তিনি।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় মালয়েশিয়া। ৩০তম মিনিটে ওপেন প্লে থেকে গোল করেন যোগেশ্বরান নাগুলান। তাতে বিরতির আগে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে ফেলে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। ৪০তম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মুন্না ইসলাম। তার গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

ম্যাচের ৫০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান আবারও এক গোলে নামিয়ে আনেন মালয়েশিয়ার আরিক আইদিল হাকিমি। ফলে শেষ দিকে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।

তবে শেষ হাসি হেসেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরাই। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে ওপেন প্লে থেকে গোল করেন জয় ইসলাম। তার সেই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়।