32.8 C
Dhaka
Home Blog

প্রভাসের স্পিরিট সিনেমার শুটিং সেটে আগুন!

দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার প্রভাসের আগামী সিনেমা স্পিরিটের শুটিং সেটে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজন ক্রু সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আজ শুক্রবার বলিউড লাইফের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেটে হালকা আগুন লাগে, এতে কিছু তাঁবু ও অন্যান্য জিনিসপত্র আংশিক পুড়ে যায়। তবে বড় কোনো ঘটনা ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ সময় প্রভাস সেটে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

এখনও পর্যন্ত সিনেমার নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

স্পিরিট পরিচালনা করছেন সন্দ্বীপ রেড্ডি ভাঙা। এটি একটি পুলিশি অ্যাকশন ড্রামা। যেখানে প্রভাসকে একজন আইপিএস অফিসারের ভূমিকায় দেখা যাবে। তার বিপরীতে অভিনয় করবেন তৃপ্তি দিমরি।

সিনেমাটি তেলেগু, হিন্দি, তামিল, মালয়ালম, কন্নড়সহ বেশ কিছু ভাষাতে মুক্তি পাবে। স্পিরিট মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ আগামী বছরের ৫ মার্চ।

দুর্নীতির মামলায় দায়মুক্তি পেলেন মোদির প্রতিদ্বন্দ্বী কেজরিওয়াল

ভারতের একটি আদালত দেশটির রাজধানী দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দুর্নীতি মামলা থেকে দায়মুক্তি দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলছিল। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

বিরোধী দল আম আদমি পার্টির নেতা (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং একে ক্ষমতাসীন দলের ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ আখ্যা দেন। 

২০২৫ সালে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে স্থানীয় নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির বিজেপির কাছে হেরে যায় কেজরিওয়ালের দল। 

২০২৪ সালের মার্চে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেশ কয়েক মাস কারাবন্দি ছিলেন কেজরিওয়াল (৫৭)। তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মদ বিক্রির লাইসেন্সের বিনিময়ে ঘুষ নিয়েছেন তিনি ও তার প্রশাসনের অন্যান্যরা। 

রায় ঘোষণার পর অশ্রুসিক্ত নয়নে আদালত ছাড়েন ‘জনমানুষের’ নেতা কেজরিওয়াল। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে।’

AAP national convener Arvind Kejriwal and party leader Manish Sisodia celebrate with family members after a Delhi court discharged them in an excise policy-related corruption case, refusing to take cognisance of the CBI chargesheet, in New Delhi. Photo released by Aam Aadmi Party.AAP national convener Arvind Kejriwal and party leader Manish Sisodia celebrate with family members after a Delhi court discharged them in an excise policy-related corruption case, refusing to take cognisance of the CBI chargesheet, in New Delhi. Photo released by Aam Aadmi Party.

 

তিনি অভিযোগ করেন, আম আদমি পার্টিকে ‘শেষ’ করে দেওয়ার রাজনৈতিক চক্রান্তে মেতেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।

কিন্তু সেই চক্রান্ত সফল হয়নি। 

আজ শুক্রবার কেজরিওয়ালের পাশাপাশি সাবেক উপ-মূখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া এবং অপর ২১ নেতাকর্মীকে সব ধরনের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দিয়েছে। 

মোদির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের অন্যতম কেজরিওয়াল। তিনি বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেম। 

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজেপির নেতা রেখা গুপ্তা নয়াদিল্লির মূখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। 

কর কর্মকর্তা হিসবে চাকুরি জীবন শুরু করেন কেজরিওয়াল। কিন্তু পরবর্তীতে দুর্নিতি বিরোধী ভূমিকায় নেমে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি ও সুনাম কুড়ান এই নেতা। 

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোদির একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই মূখ্যমন্ত্রীও আছেন। 
২০২৫ সালের আগস্টে সরকার একটি নতুন বিল উত্থাপন করে। ওই বিল মতে, কোনো রাজনীতিবিদ গ্রেপ্তার হয়ে টানা ৩০ দিন আটক থাকলে তাকে মূখ্যমন্ত্রীত্ব বা ধরনের পদ ছেড়ে দিতে হবে। 

বিরোধী পক্ষদের মত, এই বিলটি সংবিধান পরিপন্থি। 

দ্য হিন্দু জানিয়েছে, দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ সিবিআই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

সিবিআই এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমরা দিল্লির হাইকোর্টে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আপিল করব, কারণ তদন্তের বেশ কয়েকটি বিষয় উপেক্ষা করা হয়েছে অথবা পুরোপুরি আমলে নেওয়া হয়নি।’

বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার করা সমালোচনা করে বলেন, তাদের তদন্তে ঘাটতি আছে। কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে সংস্থাটি কোনো নিরেট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। অপরদিকে, সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে ‘মামলা করার মতো কোনো কারণই ছিল না’। 

 

তিনি উল্লেখ করেন, মামলার অভিযোগপত্রে বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়, যার বিপরীতে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। 

‘কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থান করা হয়নি। যার ফলে তাকে আটক রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে কোন বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ ছাড়াই অভিযুক্ত করা হয়েছিল’, মন্তব্য করেন বিচারক। 

একে আইনের শাসন পরিপন্থি কার্যক্রম আখ্যা দেন তিনি। 

ঈদের আগেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের সম্মানী ও ভাতা দেবে সরকার।

তবে এই সম্মানী কত টাকা হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। ঈদের আগেই কয়েকটি এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এসময় স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে পাশে রেখে মাহদী জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের সম্মানী ও ভাতা প্রদান করা৷ সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করবে৷ পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তা চালু হবে৷

কত টাকা সম্মানী-ভাতা প্রদান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আন্ত:মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা চূড়ান্ত করা হবে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘আজ শনিবার ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় কর্মদিবস। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশকিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন তারেক রহমান। অফিসে প্রবেশের আগে ব্রিফ করেছেন। অনেক পুরাতন কর্মজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পলিসি কার্যক্রম নিয়েও আজ আলোচনা করেছেন।’

অ্যানথ্রপিকের নতুন এআই মডেলে কেন বিপদ দেখছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার

সবার জন্য উন্মুক্ত করার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উদ্বেগের মুখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দুটি মডেলের ব্যবহার স্থগিত করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক।

নিজেদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের ‘ক্লদ ফেবল ৫’ ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রোগ্রামটিকে কোম্পানিটি নিজেই ‘অত্যধিক শক্তিশালী’ বলে দাবি করেছিল।

বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘এই নির্দেশের কারণে নিয়ম মেনে বাধ্য হয়ে আমাদের সব গ্রাহকের জন্য ফেবল ৫ ও মিথোস ৫-এর কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।’

‘ক্লদ ফেবল ৫’ হলো অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লদ মিথোস’-এর একটি সংস্করণ। অ্যানথ্রপিক বলছে, এই মডেলের ব্যবহার বন্ধের পেছনে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্বেগের কথা জানায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ‘আমাদের ধারণা, সরকার মনে করছে তারা ফেবল ৫-এর নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়ানো বা “জেলব্রেক” করার কোনো পদ্ধতির কথা জেনেছে।’

কোনো সাইবার নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত রাখতে যেসব সফটওয়্যারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভাঙার প্রক্রিয়া হলো জেলব্রেকিং। এর মাধ্যমে হ্যাকাররা সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিতে পারেন বা বিভিন্ন উপায়ে মানুষের ক্ষতি করতে পারেন।

অ্যানথ্রপিক বলছে, ‘সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করতে এআই মডেলটি যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে তার একটি নমুনা (ডেমো) আমরা পর্যালোচনা করেছি।’

ক্লদ ফেবল ৫ উন্মুক্ত করার আগে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল, সাইবার হ্যাকিং রোধে এতে বিভিন্ন ধরনের ‘সুরক্ষাব্যবস্থা’ যুক্ত করা হয়েছে।

সিস্টেমের ভেতরের দুর্বলতা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত এপ্রিলে এটি সীমিত পরিসরে উন্মুক্ত করা হয়েছিল। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতিনির্ধারকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অ্যানথ্রপিক জানায়, ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার আগে হাতে গোনা কয়েকটি সংস্থাকে এটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কারণ এআই টুলটি এতটাই ‘বুদ্ধিমান’ যে কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করার ক্ষমতার কারণে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে তাদের নিজেদের আশঙ্কা ছিল।

যদিও অনেক সমালোচক একে অতিরঞ্জিত প্রচার ও বিপণন কৌশল বলে তখন প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ‘আমাদের আগের যেকোনো এআই মডেলের চেয়ে ফেবলের সক্ষমতা অনেক বেশি।’

কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর গত জুনের শুরুতে ‘মিথোস’ ব্যবহারের সুযোগ পায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ প্রসঙ্গে ইইউ বলেছে, এটি প্রমাণ করে যে ইউরোপের নিজস্ব ‘প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব’ থাকাটা কতটা জরুরি।

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র থমাস রেগনিয়ার বলেন, ‘আমরা অ্যানথ্রপিকের বিবৃতি আমলে নিয়েছি এবং বিষয়টি মূল্যায়ন করছি।’ এআইসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির জন্য আমেরিকা ও এশিয়ার ওপর ২৭ দেশের এই জোটের নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে চলতি মাসেই নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।

লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির রেসপনসিবল এআই বিষয়ের অধ্যাপক জিনা নেফ বিবিসিকে বলেন, মডেলটির ব্যবহার সীমিত করার এই সিদ্ধান্ত এ ধরনের এআই সিস্টেমের বিকাশ ও পরীক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পথও সংকুচিত হতে পারে।

অধ্যাপক জিনা নেফ বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ এক অজানা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি।’

‘এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিরা আমাদের এই বলে সতর্ক করে আসছেন যে এই টুলগুলো খুব দ্রুত উন্নত হচ্ছে। সাইবার আক্রমণ থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা আমাদের অর্জন করতে হবে।’

জিনা নেফ জানান, যুক্তরাজ্য সরকারের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট তাদের এক পরীক্ষায় দেখেছে, এই মডেলটি ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সিস্টেম হ্যাক করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি বড় একটি পরিবর্তন।’

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের তোপের মুখে পড়ে অ্যানথ্রপিক।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানটির সমালোচনা করেছেন। এরপর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ বা সরবরাহব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি বলে আখ্যা দেন।

এর আগে চীনের হুয়াওয়ে সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এমন কথা বলেছিল। এবার তারা নিজেদের দেশের একটি প্রতিষ্ঠানকেই তাদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করছে।

এই আখ্যা পাওয়ার পর পেন্টাগনের বিরুদ্ধে মামলা করে অ্যানথ্রপিক। তবে বিচারক রায় দিয়েছেন, পেন্টাগনের ওই নির্দেশ এখনই কার্যকর করা যাবে না। এর অর্থ হলো, আইনি লড়াই চলাকালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে এখনো অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে।

ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে মহাতারকা রোনালদোর যত কীর্তি

২০০২ সালে পেশাদার ফুটবলে পা রাখার পর থেকে লিসবন, ম্যানচেস্টার, মাদ্রিদ হয়ে বর্তমানে সৌদি আরবে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ক্লাব ও দেশের হয়ে ইউরোপ জয় করেছেন, আর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অভাবনীয় ১ হাজার গোলের মাইলফলকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। একজন ফুটবলারের পক্ষে যত সাফল্য পাওয়া সম্ভব, তার প্রায় সবই অর্জন করেছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। আক্ষেপ কেবল একটাই— দেশকে একটি বিশ্বকাপ জেতানো। ২০২৬ সালটি কি সেই অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের বছর হতে পারে?

রোনালদোর এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো ক্রমাগত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালীন একজন ড্রিবলার থেকে তিনি পরিণত হন এক ভয়ংকর গোলমেশিনে। দূরপাল্লার শট, ফ্রি-কিক আর অসাধারণ সব হেডে তিনি হয়ে ওঠেন অদ্বিতীয়। ইউনাইটেডের হয়ে নয়টি ট্রফি জেতার পর ২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমান তিনি। স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে মাত্র ৪৩৮ ম্যাচে ৪৫০ গোল করে ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিদায় নেন, তার আগে জেতেন ১৫টি শিরোপা।

এরপর ইউভেন্তাসের হয়ে পাঁচটি শিরোপা জিতে ফের ম্যানচেস্টারে নাম লিখিয়ে সংক্ষিপ্ত এক অধ্যায় পার করেন সিআর সেভেন খ্যাত এই ফরোয়ার্ড। আর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি খেলছেন সৌদি ক্লাব আল নাসরে, যাদের হয়ে সম্প্রতিই জিতেছেন প্রো লিগের শিরোপা।

পরিসংখ্যানে রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা:

* এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ পাঁচটি আসরে খেলার বিরল রেকর্ডের অংশীদার রোনালদো। ২০০৬ সালে বিশ্বমঞ্চে অভিষেকের পর একে একে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি পাশে বসেছেন জার্মানির লোথার ম্যাথাউস, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং মেক্সিকোর আন্তোনিও কারবাহাল, রাফায়েল মার্কেজ ও আন্দ্রেস গুয়ার্দাদোর পাশে— যারাও পাঁচটি বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছেন।

* কেবল অংশ নেওয়াই নয়, ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের পাঁচটি আসরেই গোল করার এক অভাবনীয় কীর্তি গড়েছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। সবশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দোহার ৯৭৪ স্টেডিয়ামে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে এই অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। উল্লেখ্য, চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের মাত্র চারজন খেলোয়াড়ের— ব্রাজিলের পেলে, আর্জেন্টিনার মেসি এবং জার্মানির উয়ে সিলার ও মিরোস্লাভ ক্লোসার।

* বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ডটিও নিজের করে রেখেছেন সিআর সেভেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে ২০১৮ সালের ১৫ জুন সোচিতে স্পেনের বিপক্ষে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে এই কীর্তি গড়েন তিনি। সেদিন ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে মাঠে নেমে স্প্যানিশদের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটিতে পর্তুগালের তিনটি গোলই এসেছিল তার জাদুকরী পা থেকে।

* বয়স যে তার কাছে শুধুই একটি সংখ্যা, সেই প্রমাণ মেলে কাতার বিশ্বকাপেও। ঘানার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ওই ম্যাচটিতে ডেডলক ভাঙা পেনাল্টি গোলটির দিনে রোনালদোর বয়স ছিল ৩৭ বছর ২৯২ দিন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের তৃতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লেখান।

* ফুটবলের এই মহোৎসবের মূল পর্বে ওঠার লড়াই অর্থাৎ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ইতিহাসেও সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই পর্তুগিজ অধিনায়ক। ৫২টি ম্যাচ খেলে রেকর্ড ৪১টি গোল করে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন গুয়াতেমালার কার্লোস রুইজের ৩৯ গোলের আগের কীর্তিকে। বাছাইপর্বে তার এই গোল-উৎসবের শুরু ২০০৬ আসরে, যেখানে ১২ ম্যাচে তিনি করেছিলেন ৭ গোল। ২০১০ বাছাইপর্বের ৭ ম্যাচে জালের দেখা না পেলেও ২০১৪ বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে করেন ৮ গোল। ২০১৮ সালের বাছাইপর্বে ৯ ম্যাচে ১৫ গোল করে রীতিমতো বিধ্বংসী রূপ দেখান তিনি। এরপর ২০২২ বাছাইপর্বে ৯ ম্যাচে ৬ গোল এবং সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ৫ ম্যাচে ৫ গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন রোনালদো।

* বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে পর্তুগালের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটিও রোনালদোর দখলে। বিশ্বমঞ্চে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যা টুর্নামেন্টের সার্বিক ইতিহাসেও পঞ্চম সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। এই ২২ ম্যাচে তিনি মোট ৮টি গোল করেছেন। তবে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি এখনও ভাঙতে পারেননি তিনি। কিংবদন্তি ইউসেবিও ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ৬টি ম্যাচ খেলেই ৯টি গোল করে দেশের পক্ষে শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে নিজের সিংহাসন অক্ষুণ্ন রেখেছেন।

ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষক

অসময়ের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে হাওরের বহু বোরো চাষি আজ নিঃস্ব। একদিকে ফসলের ক্ষতি, অন্যদিকে ধানের দামে ধস—এই দুইয়ে মিলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ঋণের ভারে অনেকেই ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। সেই চাপ সামলে পরিবারের সারা বছরের অন্নসংস্থান নিশ্চিত করা কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়েই এখন তাদের চরম উৎকণ্ঠা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের সাতটি হাওর জেলায় দুই লাখ ৩৬ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই জেলাগুলো হলো—সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ।

সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে সেচের ওপর নির্ভর করে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই চারা রোপণ করা হয় এবং এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ধান কাটা হয়।

বাংলাদেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশই আসে এই বোরো ফসল থেকে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রতি বছর মৌসুমের মধ্যেই ফসল কাটার কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এবার বাঁধ ভেঙে যাওয়া আর এপ্রিলে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, হাওরাঞ্চলের মোট ফসলি জমির প্রায় ১১ শতাংশ বা ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও সাড়ে ১৭ শতাংশ জমির ফসল ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, এই সাতটি হাওর জেলায় মোট চার লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছিল, যার মধ্যে এ পর্যন্ত ৮০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতির পরিমাণ টাকার অংকে প্রায় এক হাজার ৪৭ কোটি টাকা।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে এবং তা পরবর্তী তিন মাস পর্যন্ত চলবে।

জাতীয় পর্যায়ে বোরো আবাদের পরিধি গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ দশমিক ৫০ লাখ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ দশমিক ২৪ কোটি টন। এর আগে, ২০২২ অর্থবছরের ২ দশমিক ০১ কোটি টন থেকে উৎপাদন বেড়ে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ মৌসুমে ২ দশমিক ১৩ কোটি টনে দাঁড়িয়েছিল।

ঋণের বোঝা আর হতাশা

এই প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টার হাওরাঞ্চলের সাতটি জেলার ৪০ জনেরও বেশি কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের মধ্যে ২৫ জনেরও বেশি কৃষক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের ঋণের এক অন্তহীন জালে বন্দি করে ফেলেছে।

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার মুলাদাইর হাওরের কৃষক বিধান সরকার জানান, তার পাঁচ একর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের হাওর এলাকায় বছরে মোটে একটা ফসল হয়। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা আর চিকিৎসা খরচসহ সারা বছরের সব পারিবারিক খরচ মেটাতে আমরা এই ধান বিক্রির টাকার ওপরই ভরসা করে থাকি।’

কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে কোনোমতে নিজের ভাগের কিছু ধান কাটেন তিনি। বাকি ধান কাটার জন্য দিনমজুর লাগালেও তাদের মজুরি মেটাতে গিয়ে ভেজা ধান মাত্র ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন। অথচ এই দাম উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম।

ধান চাষের জন্য তিনি ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বিধান বলেন, ‘এখন ঘরে যে ধান আছে, তা দিয়ে পরিবারের খাবারই জুটবে না। ওদিকে পাওনাদার (মহাজন) টাকা শোধের জন্য জমি বিক্রি করার চাপ দিচ্ছে। জমি বিক্রি করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ খোলা নেই।’

মদন উপজেলার ফুলু মিয়া দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, যা সুদে-আসলে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা শোধ করার কথা ছিল। তিনি বলেন, ‘এখন ধান বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করার কোনো উপায় নেই। আসল টাকাটা কোনোভাবে দিলেও সুদের বাকি ৬০ হাজার টাকা ঋণের বোঝাই থেকে যাবে।’

বারহাট্টা উপজেলার শামীম মিয়া সুদে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে দুই একর জমি লিজ নিয়েছিলেন। কথা ছিল, ধান কাটার পর সুদে-আসলে ৭০ হাজার টাকা শোধ করবেন। কিন্তু তার চাষ করা জমির ৪০ শতাংশই এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

‘আমি অবশিষ্ট ফসল কাটতে হিমশিম খাচ্ছি। ধান খুব ভালো হয়েছিল, ভেবেছিলাম আমার অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ মণ ধান পাব। ঋণদাতার টাকা শোধ করার পরও আমি এই ধান দিয়ে চার থেকে পাঁচ মাস আমার পরিবারের খরচ চালাতে পারতাম,’ তিনি বলেন।

‘এখন অবশিষ্ট ধান বিক্রি করলেও আমি ঋণ শোধ করতে পারব না। আমাকে আবার ঋণ নিতে হবে,’ তিনি যোগ করেন।

নেত্রকোনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, জেলায় ভারী বর্ষণে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের সৈয়দ আহমেদ অর্ধেক জমি ইজারা নিয়ে মোট ১ দশমিক ২ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছিলেন। তিনি ১০০ মণের বেশি ধান আশা করেছিলেন। কিন্তু ৫০ মণ রক্ষা করতে পেরেছেন।

ইজারা নেওয়া জমির ফসলের অর্ধেক অবশ্যই জমির মালিককে দিতে হবে।

‘আমার পরিবারের জন্য অন্তত ৭০ মণ ধান দরকার। তাছাড়া, ৩০ হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে আমাকে ৩৬ হাজার টাকা শোধ করতে হবে।’

‘এই বছর এক মেয়ের বিয়ে বাকি থাকায় সংকট অসহনীয় হয়ে পড়েছে। প্রতি মণ ৭০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করে আমি ঋণ ও সুদও শোধ করতে পারছি না। আগামী মৌসুমে আমাকে আরেকটি ঋণ নিতে হবে,’ তিনি বলেন।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার আক্কাস মিয়া ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছয় হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছেন। সুদে-আসলে তাকে নয় লাখ টাকা শোধ করতে হবে।

‘এ পর্যন্ত আমি এক কেজি ধানও ঘরে তুলতে পারিনি। ঋণের দুশ্চিন্তায় এখন আমার রাতে ঘুম নেই,’ তিনি বলেন।

কিশোরগঞ্জে ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, এতে ৫২ হাজার ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাদিকুর রহমান জানান, জেলায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরের সুমন নমশূদ্র ৬০০ মণ ধান পাওয়ার আশায় দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।

ক্ষতির পর আশঙ্কা, তিনি মাত্র ৫০ মণ ধান উদ্ধার করতে পারবেন।

‘গত ১৫ বছরে আমি এমন বিপর্যয় দেখিনি,’ তিনি বলেন। ‘মহাজনদের চাপে এখন আমার পক্ষে বাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

৩ মাসের সহায়তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত হাওর কৃষকদের সহায়তায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সচিবালয়ে এক বৈঠকে তিনি কর্মকর্তাদের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের শনাক্ত করে একটি সঠিক ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, একটি বিশেষ কার্ড সিস্টেমের মাধ্যমে তিন মাসের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অর্থনীতিবিদ আবদুল বায়েস সতর্ক করে বলেছেন, কেবল খাদ্য সহায়তা এই সংকট সমাধান করবে না।

তিনি বলেন, ‘মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, ফসল কাটার পর বা ফসলহানির শিকার হয়ে কৃষকরা কীভাবে চাষাবাদ সংক্রান্ত ঋণ শোধ করবেন।’

তিনি এই বোঝা লাঘব করতে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ, কিস্তি-ভিত্তিক পরিশোধ বা সুদ মওকুফের মতো পদক্ষেপের পরামর্শ দেন।

[মিন্টু দেশোয়ারা এবং তাফসিলুল আজিজ এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন]

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনোনয়ন পাওয়া শামসুজ্জামান হেলালী নির্বাচনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর।

জামায়াতে ইসলামীর নগর শাখার প্রচার সম্পাদক মাহমুদ উল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দলের স্থানীয় দায়িত্বশীল সদস্যদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নগর শাখার শুরা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, নগর শাখার সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক মাহমুদ উল্লাহসহ নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে শামসুজ্জামান পরিচিত মুখ। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০১০ সালে ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের কাছে পরাজিত হন তিনি।

মেয়র পদপ্রার্থী হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় শামসুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার ওপর নতুন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।’

‘দেনা পাওনা’ শেষ, কিন্তু দর্শকদের ক্ষোভ কমছে না: সুষমা সরকার

মঞ্চ, টিভি নাটক, চলচ্চিত্র, ওটিটি—সব মাধ্যমেই পরিচিত মুখ সুষমা সরকার। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মঞ্চনাটকে অভিনয় করছেন এই গুণী শিল্পী। 

নিজের সাম্প্রতিক কাজগুলো নিয়ে ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সুষমা সরকার। 

সম্প্রতি সুষমা অভিনীত ‘দেনা পাওনা’ নাটকের প্রচার শেষ হয়েছে। ওই নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছ থেকে প্রচণ্ড ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। কিন্তু একইসঙ্গে নাটকের প্রচার শেষ হয়ে যাওয়ায় দর্শকরা ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। 

 

দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত পারিবারিক গল্পনির্ভর এই নাটকটি দর্শকদের মাঝে তুমুল সাড়া ফেলে। 

নাটকটিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন সুষমা সরকার। 

তিনি বলেন, ‘দেনা পাওনা নাটকে নেগেটিভ চরিত্র করার কারণে অনেক দর্শক আমাকে গালমন্দ করেছেন। অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। কোথাও গেলে এখনো দর্শকরা বলেন, “ওই যে দেনা পাওনা আসছে”। এজন্য মনে হয়েছে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি।’

 

তিনি বলেন, ‘তবে এত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও কেন দেনা পাওনা নাটক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে দর্শকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। দর্শকরা দেনা পাওনা নাটকের সিজন টু চাচ্ছেন।’

‘দেনা পাওনা নাটকটি দর্শকদের ভালো লেগেছে। এ কারণেই তারা সিজন টু দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমিও চাই সিজন টু হোক, দর্শকরা দেখুক’, বলেন তিনি। 

পারিবারিক গল্পের দিকে নির্মাতারা ঝুঁকছেন—এ বিষয়ে সুষমা সরকার বলেন, ‘সত্যিই দর্শকরা এখন পারিবারিক গল্পের নাটক বেশি বেশি দেখতে চাইছেন। এটা আমাদেরই গল্প। নতুন করে পারিবারিক গল্পের নাটক তৈরির ধারা শুরু হয়েছে। দেনা পাওনা নাটকটি সেখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। মাঝে কিন্তু পারিবারিক গল্পের ধারাবাহিক সেভাবে ছিল না।’

‘দেনা পাওনা জনপ্রিয়তা অর্জনের পর পারিবারিক গল্প নির্ভর নাটকের চর্চা বাড়ছে। এটা খুব ভালো দিক’, বলেন সুষমা। 

মূল পর্বের প্রচার শেষ হওয়ার পর ঈদে প্রচারিত হয় সাত পর্বের বিশেষ আয়োজন দেনা পাওনা ঈদ স্পেশাল। সুষমা বলেন, ‘দর্শকদের আগ্রহ থেকেই ঈদের সময়ে দেনা পাওনা নাটকের সাতটি বিশেষ পর্ব নির্মিত হয়। ওই সাত পর্ব দর্শকরা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন।’
 

 

বর্তমানে তার অভিনীত ‘পরম্পরা’ নাটকটি দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে। ওই নাটকটির জন্যও তিনি বেশ সাড়া পাচ্ছেন। 

পরম্পরা নাটকের পরিচালক আশীষ রায়। এটি একটি পারিবারিক গল্পের নাটক। এখানে তিন প্রজন্মের গল্প উঠে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন সুষমা। 

তার শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডলি জহুর। ইতোমধ্যে নাটকটি সবার মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

দ্য ডেইলি স্টারকে সুষমা বলেন, ‘পরম্পরা নাটকের জন্য খুব প্রশংসা পাচ্ছি। দর্শকরা খুব আগ্রহ নিয়ে নাটকটি দেখছেন। কোনো কাজ করার পর যখন দর্শকরা দেখেন, তখনই তৃপ্তি কাজ করে, ভালো লাগা কাজ করে। পরম্পরা তেমনই একটি নাটক।’

 

‘দেখুন, পরম্পরা নাটকে আমি ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করছি। কাছের মানুষ বলি, সহশিল্পী বলি আর দর্শক বলি—সবাই বেশ প্রশংসা করছেন’, যোগ করেন তিনি। 

ডলি জহুর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই নাটকে ডলি জহুর আন্টি আমার শাশুড়ি। উনার মতো বিখ্যাত ও গুণী শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে পারাটাও অনেক বড় সম্মানের ব্যাপার। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।’

 

এছাড়া মাছরাঙা টিভিতে তার অভিনীত আরেকটি নাটক প্রচার হচ্ছে।

এদিকে ‘বিশ্বাস বনাম সরদার’নামের একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন সুষমা সরকার। নাটকটি প্রচার হচ্ছে মাছরাঙা টিভিতে। 

শিগগির ‘এরই নাম সংসার’ নামে নতুন একটি ধারাবাহিকের শুটিং শুরু করবেন সুষমা। পরিচালনায় থাকছেন হাসান রেজাউল।

ঈদের সিনেমা প্রসঙ্গে সুষমা বলেন, ‘প্রেসার কুকার এবং বনলতা এক্সপ্রেস—দুটো সিনেমাই দেখেছি। ভালো লেগেছে। সত্যি কথা বলতে, ভালো গল্প হলে দর্শকরা হলে যেয়ে সিনেমা দেখেন।’

২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত: পাকিস্তান

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে ২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও ৩১৪ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে ইসলামাবাদ। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। 

মুখপাত্র আরও জানান, সব মিলিয়ে তালেবানের ৭৪টি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস ও ১৮টি দখলে নিয়েছে পাকিস্তানি সেনা। 

সংঘষে ২৭ পাকিস্তানি আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। 

 

তালেবান সরকার দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে তাদের আট যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। 

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দিয়েছে তালেবান যোদ্ধারা। এসব হামলায় ডুরান্ড লাইনের আশেপাশে ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। 

পাশাপাশি,  কয়েকজন পাকিস্তানি সেনার মরদেহ ছিনিয়ে নেওয়া ও শতাধিক হালকা ও ভারী অস্ত্র দখলেরও দাবি করেছে তালেবান প্রশাসন। 

কয়েকজন সেনাকে জীবিত অবস্থায় আটকের কথাও দাবি করা হয় বিবৃতিতে। 

 

এসব তথ্য জানিয়েছে আফগান গণমাধ্যম টোলো নিউজ। 

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ‘সন্ত্রাসীরা অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নওশেরা অঞ্চলে ছোট ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করে।’

‘আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ড্রোনকেই ভূপাতিত করেছে’, যোগ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এই হামলায় কেউ হতাহত হননি। 

তিনি দাবি করেন, ‘এই ঘটনায় আরও একবার প্রকাশ পেয়েছে, আফগান তালেবান ও পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ আছে।’ 

ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সংঘাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন, রাশিয়া ও ইরান। দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে কাবুল ও ইসলামাবাদকে তাদের মধ্যে বিভেদ দূর করার আহ্বান জানিয়েছে।

আদিবাসী ভাষা শিক্ষা শুধু কাগজে-কলমেই

সিলেট বিভাগে আদিবাসী শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক চালু হলেও শিক্ষক সংকট, সমন্বয়ের অভাব ও স্পষ্ট নির্দেশনার ঘাটতিতে উদ্যোগটি কার্যত থমকে আছে। বিভিন্ন স্কুলে বই বিতরণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ভাষায় পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এই উদ্যোগ বাস্তবে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে মাতৃভাষাভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালুর করা হয়। এটি প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয় ২০২০ সালে। চলতি বছরে সিলেট বিভাগের ৩৫টি বিদ্যালয়ে ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি ভাষার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাতৃভাষার বই বিতরণ করা হয়েছে।

বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৫৭৭টি পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ইসাচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন শর্মা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে আমি এই বিদ্যালয়ে কর্মরত। প্রতিবছর কিছু বই এলেও সংশ্লিষ্ট ভাষায় দক্ষ শিক্ষক না থাকায় তা পাঠদানে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থী অক্ষর চিনতে না পেরে বইগুলো সরিয়ে রাখেন।

বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফেনসিলা রেমা জানায়, সে গারো ভাষার বই পেলেও শ্রেণিকক্ষে তা ব্যবহার হয়নি। কারণ শিক্ষক সেই ভাষায় পড়াতে পারেন না। একই সমস্যা তার সহপাঠীদেরও।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডালুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়ন দেববর্মা বলে, ককবরক ভাষার বই পাওয়া আনন্দের হলেও শিক্ষক না থাকায় বই বন্ধই থাকে।

তার ভাষায়, বই তখনই কাজে লাগে, যখন কেউ তা বুঝিয়ে দেয়।

সায়নের বাবা মিঠুন দেববর্মা বলেন, শ্রেণিকক্ষে যখন পুরো পাঠদান বাংলায় হয়, তখন শিশুরা শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে। ঘর ও স্কুলের মধ্যে সেতু তৈরি করার কথা থাকলেও বাস্তবে দেয়াল তৈরি হচ্ছে।

মৌলভীবাজারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জনক ত্রিপুরা বলেন, সরকারি বই এলেও ত্রিপুরা ভাষায় পাঠদানের জন্য শিক্ষক নেই। ফলে বই শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ছোটোবেলা থেকেই কেবল বাংলায় শিক্ষা দেওয়ায় অনেক শিশু নিজেদের ভাষায় কথা বলতে পারলেও পড়তে বা লিখতে পারে না।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার নিরোলাপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নেরিয়ুস বুয়াম ডেইলি স্টারকে বলেন, ভাষাগত সমস্যার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এএফএম জাকারিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, সংখ্যালঘু ভাষাগত গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত না হলে তাদের শেখার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্যোগ ভালো হলেও কীভাবে পড়ানো হবে, কে পড়াবে এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

তিনি বিশেষ আদমশুমারি, পৃথক একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেন।

দ্য কাপেইং ফাউন্ডেশনের সভাপতি গৌরাঙ্গো পাত্র ডেইলি স্টারকে বলেন, বর্তমান পরিকল্পনায় সুস্পষ্ট রোডম্যাপের অভাব রয়েছে। সীমিত সংখ্যক ভাষায় বই প্রকাশ করা হলেও প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। যথাযথ পরিকল্পনা, পর্যবেক্ষণ ও সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা ছাড়া এই উদ্যোগ টেকসই হবে না।

তিনি আরও বলেন, যথাযথ শিক্ষক ও পরিকল্পনা ছাড়া মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। এতে একদিকে শিশুদের শিক্ষাজীবন বিঘ্নিত হবে, অন্যদিকে আদিবাসী ভাষাগুলোর টিকে থাকা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।

সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার
ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে চারটি জাতিগত ভাষায় বই প্রকাশ ও বিতরণ করা হচ্ছে। বই কীভাবে পড়ানো হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি রাখে।