30 C
Dhaka
Home Blog

সংঘাতের ৪ বছর: অবিচল ইউক্রেন এবং বদলে যাওয়া বিশ্ব

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের চার বছর পূর্ণ হচ্ছে ২৪ ফেব্রুয়ারি।

১ হাজার ৪১৮ দিন পেরোনো এই যুদ্ধ সময়ের বিচারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করতে যত দিন লেগেছিল, তার চেয়েও দীর্ঘ।

২০২২ সালে কিয়েভ দ্রুত দখলের লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়ার সামরিক যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু এটি এখন ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্মুখসারির ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে রাশিয়া।

চার বছরে যুদ্ধের চরিত্র বদলে গেছে আমূল। সম্মুখ সমরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ড্রোননির্ভর আধুনিক প্রযুক্তি। আকাশ ও সম্মুখসারি এখন ড্রোনের নজরদারিতে; গোপনে সেনা সমাবেশ প্রায় অসম্ভব।

বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া আকাশ প্রতিরক্ষায় অপটিক্যাল ফাইবার-সংযুক্ত দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করছে। আর এর ফলে সম্মুখসারি থেকেও ৫০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ‘কিল জোন’ তৈরি হয়েছে।

তাই এখনো বড় আকারের আক্রমণের বদলে দুই বা তিন সদস্যের ক্ষুদ্র ইউনিট দিয়ে পদাতিক হামলা বাড়ছে।

আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা কমানো এবং জনবল সংকটের কারণে ইউক্রেন বড় আক্রমণ থেকে সরে এসে প্রতিরক্ষামূলক কৌশলে জোর দিয়েছে। অসম যুদ্ধনীতির অংশ হিসেবে তারা দীর্ঘপাল্লার ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করছে।

এরই মধ্যে সাহসী অভিযান এবং নৌ-ড্রোন হামলায় অধিকৃত ক্রিমিয়া থেকে রুশ নৌবহরকে সরিয়ে নিতে ইউক্রেন বাধ্য করেছে—এ ঘটনাও উল্লেখযোগ্য।

এই আগ্রাসনের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ সৈন্য নিহত, আহত বা নিখোঁজ।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অনুমান, রাশিয়ার সামরিক হতাহত ১২ লাখ, যার মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার নিহত। ইউক্রেনের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা সর্বোচ্চ ৬ লাখ, যার মধ্যে নিহত ১ লাখ ৪০ হাজার।

বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ আরও গভীর। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ইউক্রেনের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। অসংখ্য শহর ও জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্বব্যাংকসহ একাধিক সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার চার বছরের আগ্রাসনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইউক্রেনের আগামী এক দশকে প্রায় ৫৮৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির ২০২৫ সালের জিডিপির প্রায় তিন গুণ।

দেশটির রাস্তাঘাট, অবকাঠামও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুনর্গঠনের ব্যয়ের খাতভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি—আনুমানিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এরপর জ্বালানি ও আবাসন খাতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার করে ব্যয় ধরা হয়েছে।

যুদ্ধের ফলে ইউক্রেনের প্রতি সাতটি বাড়ির মধ্যে অন্তত একটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান হারে হামলা করায় মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ গ্রিডে লক্ষ্যভিত্তিক এসব হামলার ফলে তীব্র ব্ল্যাকআউট দেখা দিয়েছে। কিয়েভের মতো শহরের বাসিন্দারা প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে তীব্র শীত সহ্য করছেন।

ইউক্রেন মৌলিক সামরিক প্রয়োজন মেটাতে সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে পেরেছে। কিন্তু ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো ও লাগাতার বোমাবর্ষণের প্রভাব মানবীয় সহনশীলতাকে ক্রমাগত পরীক্ষার মুখে ফেলছে।

স্কাই নিউজ জানিয়েছে, সামরিক হতাহতের বাইরেও এই যুদ্ধ লাখো সাধারণ ইউক্রেনীয়ের ব্যক্তিগত জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। সম্মুখসারির কাছাকাছি বাস করা বেসামরিক নাগরিকরা ভারী গোলার হামলা ও বোমার আঘাতে তাদের শহরগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেছেন।

দ্য ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়াও এই সংঘাতে জড়িয়ে নীরবে নিজেদের সামাজিক কাঠামো ও জনসংখ্যাগত স্থিতিশীলতাকে ক্ষয় করেছে। যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সরকার গভীর গোপনীয়তা অবলম্বন করছে। এমনকি ২০২৯ সাল পর্যন্ত সরকারি জনসংখ্যা জরিপ স্থগিত রাখা হয়েছে।

রাশিয়াতে মানসিক চাপও সমানভাবে বেড়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় আক্রান্তের সংখ্যা ২১ শতাংশ বেড়েছে এবং অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের প্রেসক্রিপশন বেড়েছে ১৮ শতাংশ।

ওই সংঘাত বৈশ্বিক রাজনীতিকেও বদলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা বিশ্ব থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পূর্বমুখী কৌশল নিয়েছেন।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং ২০২৫ সালে চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি সই করেন পুতিন।

অন্যদিকে, ইউক্রেন পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে।

তবে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে এলে কূটনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিয়েছে বলে দাবি স্কাই নিউজের।

এরপর আবুধাবি ও জেনেভায় ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা শুরু হয়। যদিও ওই আলোচনায় এখনো বিশেষ অগ্রগতি নেই।

এদিকে আলাস্কায় ট্রাম্প বৈঠকও করেন পুতিনের সঙ্গে।

যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করলেও স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

বিবিসি বলছে, পুতিন তাদের দখলকৃত চারটি অঞ্চলের স্বীকৃতি ও ইউক্রেনের ন্যাটো ত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে জেলেনস্কি বর্তমানে যুদ্ধবিরতি এবং কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চান, এরপরে গণভোটের কথা বলেছেন।

এপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার পর জুনে পূর্ব ইউক্রেনকে ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ ঘোষণার মতো প্রস্তাব সামনে এনেছে।

তবে সক্রিয় লড়াই তখনই থামবে, যখন কোনো এক পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারাবে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও সমন্বিত শান্তি চুক্তি ও নতুন ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়তে দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার প্রয়োজন হবে।

ফরিদপুরে বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৯

ফরিদপুরের নগরকান্দায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নয়জন আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের বাসাগাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাসুল সামদানী আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাঙ্গী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির সমর্থক মুরাদ হোসেন ও নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান মোল্লার মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে মুরাদ হোসেন নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়ার পক্ষে রাজনীতি করতেন। তখন তার সমর্থকদের সঙ্গে বদিউজ্জামানের সমর্থকদের সংঘর্ষ হতো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেন মুরাদ।

এ বিষয়ে ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন, মুরাদের এক সমর্থক বদিউজ্জামানের সমর্থককে গালি দিলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ওসি গোলাম রাসুল সামদানী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিবদমান দুই পক্ষের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, এসব ব্যাপারে আগেই আমাদের বার্তা পরিষ্কার করেছি—দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অপকর্ম বা সংঘর্ষে জড়ালে দল দায় নেবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানাব, তারা যেন এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়। প্রয়োজনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশুদের জন্য সামাজিকমাধ্যম বন্ধ করছে যেসব দেশ

শিশু-কিশোরদের সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। গত কয়েক মাসে একের পর এক দেশ শিশুদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে কঠোর নিয়ম চালু করে। এখন সেই পথেই হাঁটার কথা ভাবছে আরও অনেক দেশ।

এসব দেশের সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সামাজিকমাধ্যম শিশুদের জন্য কেবল বিনোদনের জায়গা নয়, ঝুঁকিও জায়গা। সাইবার বুলিং, আসক্তি, মানসিক চাপ, এমনকি অনলাইনে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করছে তারা।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও আছে। সমালোচকদের মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। অ্যামনেস্টি টেকের মতো সংস্থাগুলো মনে করে, বাস্তবতা বুঝে সমাধান খোঁজা জরুরি। সেই পথে না হেঁটে অনেক দেশ আইন করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

এই আলোচনার কেন্দ্রেই আছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। এর আওতায় পড়েছে—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ইত্যাদি। তবে হোয়াটসঅ্যাপ বা ইউটিউব কিডস এই তালিকার বাইরে। সরকার বলেছে, কোম্পানিগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে, ১৬ বছরের নিচের কেউ যেন এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে না পারে। নিয়ম না মানলে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার পর ইউরোপেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রিয়া ১৪ বছরের নিচের শিশুদের জন্য নিষেধাজ্ঞা আনতে যাচ্ছে।
ডেনমার্ক ১৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য একই ধরনের আইন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে কার্যকর হতে পারে। তারা বয়স যাচাইয়ের জন্য বিশেষ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর কথাও বলেছে।

ফ্রান্স ইতোমধ্যে ১৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সামাজিকমাধ্যম বন্ধের একটি বিল পাস করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মনে করেন, এই আইন শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে। তবে আইনটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

অন্যদিকে জার্মানিতেও ১৬ বছরের নিচের শিশুদের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা চলছে, যদিও সব রাজনৈতিক দল একমত নয়।

দক্ষিণ ইউরোপে গ্রিস ২০২৭ সাল থেকে ১৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সামাজিকমাধ্যম বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। সরকারের মতে, এতে শিশুদের উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও আসক্তি কমবে।

একইভাবে স্পেন ১৬ বছরের নিচের শিশুদের সামাজিকমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আনার কথা ভাবছে, যদিও সেটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়।

এশিয়াতেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সামাজিকমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করতে চায়।

মালয়েশিয়াও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

অন্যদিকে তুরস্কে ১৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সীমাবদ্ধতা আনার বিল ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে পাস হয়েছে, এখন শুধু প্রেসিডেন্টের অনুমোদন বাকি।

মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও পিছিয়ে নেই। পোল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া ১৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য নতুন আইন তৈরির কাজ করছে।

এদিকে যুক্তরাজ্য এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। দেশটি ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সামাজিকমাধ্যম নিষিদ্ধ করা উচিত কি না, তা নিয়ে অভিভাবক, তরুণ ও সমাজের বিভিন্ন অংশের মতামত নিচ্ছে।

সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এখন বিশ্বজুড়ে বড় আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ায় শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে ভাবার সময়ে এসেছে।

ওয়ানডে সিরিজের সেরা একাদশ: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ

তুলনামূলক অনভিজ্ঞ দল নিয়ে বাংলাদেশে এলেও সদ্য সমাপ্ত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকদের সঙ্গে লড়াই করেছে নিউজিল্যান্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানের জয়ের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের সেরা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে একটি ‘যৌথ একাদশ’ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের ৬ জন ও নিউজিল্যান্ডের ৫ জন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন।

এই একাদশে রয়েছেন ৫ জন ব্যাটার, ৪ জন পেসার এবং ১ জন করে অলরাউন্ডার ও স্পিনার।

১. হেনরি নিকোলস
নিউজিল্যান্ডের এই তরুণ দলে দ্বিতীয় সেরা অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে নিকোলস টপ অর্ডারে নির্ভরতা যুগিয়েছেন। খুব বড় স্কোর না পেলেও প্রতিকূল কন্ডিশনে দলের ব্যাটিংয়ের সুর বেঁধে দিতে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

২. নিক কেলি
১৪৯ রান করে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন কেলি। চাপ সামলে ব্যাটিং করার অসাধারণ ক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি। দুটি হাফ সেঞ্চুরি ও অবিচল খেলার মাধ্যমে তিনি ছিলেন কিউই ব্যাটিং লাইনের মেরুদণ্ড।

৩. নাজমুল হোসেন শান্ত
১৫৫ রান নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক ছিলেন শান্ত। সিরিজের শেষ ও নির্ধারক ম্যাচে তার করা সেঞ্চুরিটিই ছিল এই সিরিজের একমাত্র শতক। প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর চার নম্বরে নেমে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দায়িত্বশীল হাফসেঞ্চুরিটি দল ও তার নিজের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।

৪. লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক)
সিরিজে ১২৯ রান করা লিটন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ছন্দ ফেরানোর কাজ করেছেন। বিশেষ করে, শেষ ওয়ানডেতে তার স্ট্রোক-প্লে মিডল ওভারে রানের চাকা সচল রাখে। ১৯ ইনিংস পর এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হাফসেঞ্চুরির দেখা পান।

৫. তাওহিদ হৃদয়
পুরো সিরিজে মাত্র একবার আউট হওয়া হৃদয়ের সংগ্রহ ছিল ১১৮ রান, যেখানে তার গড়ও ১১৮। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও তিনি ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৯৯ রান তাড়ায় দলকে পথ দেখানো কিংবা শেষ ম্যাচে দ্রুত ৩৩ রানের ইনিংস— স্ট্রাইক রোটেট করা ও রানের গতি বাড়ানোর দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি।

৬. ডিন ফক্সক্রফট
নির্ধারক ম্যাচে ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের লড়াকু ইনিংসটি তার ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। সিরিজে তার ১২৯ রান এসেছে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে। পুরো সিরিজে সর্বোচ্চ ৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। বল হাতেও তিনি বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিলেন, ১৭.৩ ওভারে ৮৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট (ইকোনমি ৪.৯১)।

৭. শরিফুল ইসলাম
তিনের নিচে (২.৮৮) ইকোনমি রেট ও ৫ উইকেট— শরিফুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রমাণ দেয়। তিনি ধারাবাহিকভাবে চাপ বজায় রেখেছেন, যা অন্য বোলারদের উইকেট পেতে সাহায্য করেছে।

৮. নাহিদ রানা
একটি ম্যাচে ৫ উইকেটসহ মোট ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন গতিময় পেসার নাহিদ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক-থ্রু এনে দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

৯. মোস্তাফিজুর রহমান
ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেই মোস্তাফিজ দেখিয়েছেন নিজের কারিশমা। শেষ ম্যাচে তার আলো ছড়িয়ে ৫ উইকেট প্রাপ্তিই মূলত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে দেয়।

১০. জেইডেন লেনক্স
বাংলাদেশের বোলারদের সাথে পাল্লা দিয়ে সিরিজে ৫ উইকেট নিয়েছেন জেইডেন লেনক্স। নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাঝের ওভারগুলোতে দারুণ নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন এই স্পিনার।

১১. উইল ও’রোর্ক
তরুণ এই পেসার ৫টি উইকেট শিকার করেছেন। সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ধসিয়ে দিয়ে তিনি নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন, যা অপরিচিত কন্ডিশনেও কিউইদের জন্য ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না মজুরি, কমছে প্রকৃত আয়

সারা দিন জাল টেনে রফিক মাঝির আয় হয় ৫০০ টাকার মতো। গত কয়েক বছরে তার আয়ে তেমন কোনো হেরফের হয়নি। কিন্তু করোনা মহামারির পর যখন চাল-ডালের দাম বাড়তে শুরু করে, তখন তাকে বাধ্য হয়ে খাবারের তালিকা ছোট করতে হয়।

পটুয়াখালীর মহিপুরের এই জেলের পরিবারের থালায় এখন আর আগের মতো মাছ বা ডিম ওঠে না।

সময় গড়িয়েছে, কিন্তু রফিকের সংসারের অভাব ঘোচেনি; বরং বেড়েছে। সাগরে মাছ ধরা না পড়লে কিংবা মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চললে তাকে ধারদেনা করতে হয়। ৫২ বছর বয়সী এই জেলের প্রতিদিনের সংগ্রাম এখন শুধু তিন বেলার খাবার জোগাড় করা; আর সেই খাবার বলতে বেশির ভাগ দিনই শুধু ভাত আর সবজি।

জ্বালানি তেলের অভাবে গত কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি অনেক জেলে। সামনেই মধ্য এপ্রিলে শুরু হচ্ছে মাছ ধরার নতুন নিষেধাজ্ঞা। এই সময়ে সংসার কীভাবে চলবে, তা ভেবে কূল পাচ্ছেন না রফিক। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আমাদের আয় তো বাড়েনি।’

রফিকের মতো দেশের কোটি কোটি নিম্ন আয়ের মানুষ এখন চাপে আছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যে হারে বাড়ছে, তাদের আয় সে হারে বাড়ছে না। আয়ের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় মানুষের প্রকৃত আয় (রিয়েল ইনকাম) কমে গেছে।

সরকারি হিসাব মতেই, টানা চার বছর ধরে দেশের মানুষের প্রকৃত আয় নেতিবাচক।

একই জেলার মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের এক আড়তের কর্মচারী কবির হোসেনের অবস্থাও রফিকের মতোই। তিনি বলেন, ‘দৈনন্দিন চাহিদাগুলোই পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’

কবির জানালেন, তার সন্তানেরা প্রায়ই ভালো খাবারের বায়না ধরে, কিন্তু তিনি তাদের আবদার রক্ষা করতে পারেন না। উল্টো সংসার চালাতে প্রতি মাসেই তাকে কারও না কারও কাছ থেকে ধার করতে হয়। সামনে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়টা কীভাবে পার করবেন, সেটা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে মজুরি কিছুটা বাড়তে শুরু করলেও তা মূল্যস্ফীতিকে ছুঁতে পারেনি। গত মার্চ পর্যন্ত টানা ৫০ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি ছিল।

বিবিএসের ওয়েজ রেট ইনডেক্স বা মজুরি হার সূচকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে দেশে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। অন্যদিকে ওই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ, মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ৬২ পারসেন্টেজ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল। এর আগের মাসে এই ব্যবধান ছিল ১ দশমিক ০৫ পারসেন্টেজ পয়েন্ট।

মহিপুরের রফিক বা কবিরের মতো সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না লালমনিরহাটের খেতমজুর প্রশান্ত কুমার রায়কে। তবে রাজপুর ইউনিয়নের ৪৫ বছর বয়সী এই কৃষিশ্রমিকের দুশ্চিন্তার কারণ ভিন্ন। কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার আয় কমে গেছে।

প্রশান্ত কুমার জানান, আগে কৃষিমৌসুমে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতেন তিনি। আর এখন মাসে ১৪ হাজার টাকা আয় করাও কঠিন।

সংসারের খরচ কমাতে হেন কোনো পথ নেই, যা প্রশান্ত করেননি। সামান্য যা জমানো টাকা ছিল, তা ভেঙে খেয়েছেন। পুষ্টিকর খাবার কেনা বাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে বা কোনো জরুরি দরকার পড়লে ঋণ করা ছাড়া উপায় থাকে না। এতে পুরোনো ঋণের বোঝাই শুধু ভারী হচ্ছে।

রফিকের ও প্রশান্তের মতো মানুষগুলো দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের (ইনফরমাল সেক্টর) সঙ্গে যুক্ত। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ৬ কোটি ৯০ লাখ কর্মজীবীর প্রায় ৮৪ শতাংশই এই খাতের কর্মী। তাদের একটি বড় অংশ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছেন কিংবা এরই মধ্যে দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়ে গেছেন।

পুষ্টিহীনতায় দীর্ঘমেয়াদি বিপদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান মনে করেন, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ফলের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বাদ দিয়ে এখন কেবল পরের দিন কাজ করার জন্য ন্যূনতম ক্যালরিটুকু গ্রহণ করছে। পুষ্টির সঙ্গে এমন আপস দীর্ঘমেয়াদে ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘অপুষ্টিতে ভোগা শ্রমিক কখনোই উৎপাদনশীল থাকতে পারেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমে যায়।’ তিনি আরও বলেন, নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা মানসিক ও মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই অর্থনীতিবিদের মতে, চাকরির অভাব পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নির্মাণ খাতসহ বেশ কয়েকটি খাতে প্রবৃদ্ধি খুব ধীরে হচ্ছে অথবা কমছে। এর ফলে বাজারে শ্রমিকের চাহিদাও কমে গেছে।

অধ্যাপক লুৎফর বলেন, ‘একই সময়ে নতুন অনেক মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এর ফলে মজুরি কমে যাচ্ছে।’

সরকারি ব্যয়ের ধীরগতিও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।

‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন গত কয়েক দশকের মধ্যে এবার সবচেয়ে কম। এতে সাধারণ শ্রমিকদের আয়ের একটি বড় পথ বন্ধ হয়ে গেছে।’

সরকারের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির কারণে মানুষের প্রকৃত আয়ের ওপর চাপ আরও বাড়বে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও যাতায়াত ব্যয় বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আয় ও ব্যয়ের ব্যবধানে বোঝা যায় মানুষের প্রকৃত আয়ের ওপর চাপ তীব্র হচ্ছে। পরিবারগুলোকে বাড়তি খরচ সামলাতে হচ্ছে, কিন্তু সে আয় বা মজুরি বাড়ছে না।

এতে আরও বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে মজুরি স্থবির থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ভুগছে, যাদের আয়ের সিংহভাগই চলে যায় নিত্যপণ্য কিনতে।

ফেব্রুয়ারি মাসের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মজুরি যা বাড়ছে তার তুলনায় মূল্যস্ফীতির চাপ অনেক দ্রুত বাড়ছে। এতে মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বেড়ে যাচ্ছে।

গত মার্চে কৃষিখাতে মজুরি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ১০ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় শূন্য দশমিক ০১ পারসেন্টেজ পয়েন্ট বেশি। এ ছাড়া শিল্প খাতে মজুরি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ০২ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

আয়ের ওপর যুদ্ধের প্রভাব

গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মূলত ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে বাড়তি ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে আশা করা হয়েছিল, এ বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু এখন সেই সংখ্যা কমে মাত্র ৫ লাখে নেমে এসেছে।

বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দিনে ৩ ডলার আয়ের হিসাবে একই সময়ে নতুন করে আরও ১৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হতে পারে।

(সংক্ষেপিত অনুবাদ, মূল প্রতিবেদন পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে)

মুক্তি পেল ভিন্নধর্মী সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘চক্র ২’

প্রথম সিজনের  সাফল্যের পর আবারও দর্শকদের কাছে এলো আইস্ক্রিন অরিজিনাল ওয়েব সিরিজ ‘চক্র ২’।

দর্শকদের জন্য এক ভিন্নধর্মী সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে এই সিরিজটি। 

ময়মনসিংহের একটি পরিবারের ৯ সদস্য ‘আত্মহত্যা’ করেছিল ১৭ বছর আগে। আলোড়ন তোলা সেই ঘটনা থেকে প্রেরণা নিয়ে নির্মিত হয়েছিল ‘চক্র’। এবার এলো টান টান উত্তেজনায় ‘চক্র-২’।

 

২৬ মার্চ দর্শকদের জন্য মুক্তি পেয়েছে ভিকি জাহেদের পরিচালনায় এই ৮ পর্বের ওয়েব সিরিজ। 

মুক্তির পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ১০ লাখ মিনিটের বেশি দেখা হয়েছে তারকাবহুল এই অরিজিনাল সিরিজ।

ভিকি জাহেদের পরিচালনায় নির্মিত এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব, আজমেরী হক বাঁধন, শাহেদ আলী, নাদের চৌধুরী, এ কে আজাদ সেতু, ইহতিশাম আহমদ, মেঘলা মুক্তা, গাজী রাকায়েত, শাহেদ আলী সুজন, মৌসুমি মৌসহ আরও অনেকে।

 

অভিনেতা তৌসিফ বলেন, ‘এটি আমার প্রথম ওয়েব সিরিজ। সেই হিসেবে মুক্তির আগে ভিতরে ভিতরে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। মুক্তির পর দর্শকদের ফিডব্যাকে মনে হচ্ছে পুলসিরাত পার হতে পেরেছি। লন্ডন থেকেও আমাকে দর্শকরা জানিয়েছেন, তারা ছুটির দিনে ফ্যামিলি নিয়ে আনন্দ করে চক্র ২ উপভোগ করছেন।’
 

নির্মাতা ভিকি জাহেদ বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো সিরিজ শেষ হলে উল্লেখ থাকে পরের সিজন আসবে। কিন্তু সেটা আসে না। কিন্তু চক্র নির্মাণের পর থেকে প্রতিনিয়ত দর্শকদের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় কবে চক্র ২ আসবে। বাংলাদেশে এর আগে কোনো ওয়েব সিরিজে এতো শিল্পী একসঙ্গে কাজ করেছে কিনা জানা নেই। এতে ১৮টি চরিত্র রয়েছে, প্রত্যেকে গুরুত্বপূর্ণ।’
 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত আরও একজনের মৃত্যু, মোট নিহত ৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা তিনজনের দাঁড়ালো।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহফুজুল মিয়া (৫৪) নামে একজনের মৃত্যু হয়।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মাহফুজুল মিয়ার বাড়ি গোয়ালনগর ইউনিয়নের শিমেরকান্দি গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুন নূর।

শাহীনুল আরও বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে পুলিশ এ পর্যন্ত ২০ জনকে আটক করেছে।’

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা

প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ভেতরে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান সরকার জানিয়েছে, হামলায় অনেকে হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারী-শিশুও রয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে দুই দেশ সংঘাতে জড়িয়েছিল। তখন উভয়পক্ষের ৭০-এরও বেশি মানুষ নিহত হন। সেই ঘটনার পর এটিই সবচেয়ে বড় হামলা। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

রোববার সকালে প্রকাশিত ২১ ফেব্রুয়ারির এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সামরিক বাহিনী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীর সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানায় হামলা চালিয়েছে।  

একই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, স্পষ্ট প্রমাণ আছে যে টিটিপি আফগানিস্তানে থাকা তাদের নেতাদের নির্দেশে পাকিস্তানে সাম্প্রতিক হামলাগুলো চালিয়েছে।

আফগানিস্তান জানিয়েছে, হামলাগুলো নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো হয়েছে, যেখানে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে লিখেছেন, পাকিস্তানি জেনারেলরা তাদের দেশের নিরাপত্তার ঘাটতি ঢাকতে এই ধরনের অপরাধে লিপ্ত হচ্ছেন।

এএফপির এক সাংবাদিক নানগারহার জেলার বিহসুদ এলাকায় দেখেছেন, হামলার পরে মানুষ ধ্বংসাবশেষের নিচে হতাহতদের খুঁজে পেতে বুলডোজার ব্যবহার করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আফগান এক নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বিহসুদে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জন শিশু ও কিশোর।

পাকিস্তান বলেছে, ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ এবং উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে সাম্প্রতিক অন্যান্য আত্মঘাতী হামলার জবাবে এসব চালানো হয়েছে, যার মধ্যে শনিবারের হামলাও রয়েছে।

উভয়পক্ষের উত্তেজনার কারণে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্রসিং বারবার বন্ধ হয়েছে এতে বাণিজ্য ও সীমান্ত পারাপার ব্যাহত হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই একটি অস্থায়ী শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ইসলামাবাদ এখনো আফগানিস্তানের তালেবানদের দিকে এই বলে আঙুল তুলছে যে তারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল তা বারবারই অস্বীকার করেছে। 

বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পর্যালোচনার লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড-১) কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- প্রধান তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদপ্তর; মহাপরিচালক, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রেস-১) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আদেশে আরও বলা হয়, কমিটি অভিযোগের বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

তদন্ত শেষে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম রোবট সন্ন্যাসী

সিউলের যোগইয়েসা মন্দিরের ভেতর সম্প্রতি এক অভিনব দৃশ্য দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহে ওই মন্দিরে অসংখ্য প্রদীপের আলোয় আলোকিত মঞ্চে একটি ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।  

মন্দিরের সন্ন্যাসীরা সেদিন গেরুয়া বসনে আবৃত একটি ‘হিউমেনয়েড রোবট’ সন্ন্যাসীর দীক্ষা গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তার নাম গাবি। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। 

গত বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাবির গলায় ১০৮টি জপমালা পরিয়ে দেওয়া হয়। তার যান্ত্রিক হাতে ‘প্রদীপ উৎসব’ সংশ্লিষ্ট একটি স্টিকার যুক্ত করা হয়। 

সে মানুষ হলে দীক্ষার অংশ হিসেবে তাকে ইয়েওনবি আচারের মধ্য দিয়ে যেতে হোত। 

ওই আচারে মানব-সন্ন্যাসীদের দেহের সঙ্গে একটি জ্বলন্ত প্রদীপ হালকা করে ছুঁয়ে দেওয়া হয় ।

এরপর ওই রোবটের হাতে একটি আনুষ্ঠানিক সনদ তুলে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে তৈরি করার দিনটি (৩ মার্চ, ২০২৬) উল্লেখ করা হয়েছে। একই ভাবে, মানব সন্ন্যাসীদের সনদে জন্মদিনের উল্লেখ থাকে। 

মন্দিরের সংস্কৃতি বিষয়ক পরিচালক সুংঅন বলেন, ‘আমরা প্রথমে বিষয়টা নিয়ে হালকা মেজাজে আলোচনা করি। ব্যাপারটা শুরুতে কৌতুকেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আমরা যত ভাবতে লাগলাম, ততই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।’

‘রোবটরা দ্রুত আমাদের জীবনে প্রবেশ করছে। জনমানুষের কাছেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়েছে। তারা আমাদের সম্প্রদায়ের অংশ হয়ে উঠছে’, যোগ করেন তিনি। 

ভেনেরেবল (শ্রদ্ধেয়) সুংওন-এর মন্দিরটি যোগইয়ে গোত্রের সদর দপ্তর। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় গোত্র। 

ধর্মপালনে অনাগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ 

এমন সময় রোবট সন্ন্যাসীকে দীক্ষা দেওয়া হলো, যখন ধর্ম পালনে দক্ষিণ কোরীয়দের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের মাত্রা তলানিতে ঠেকেছে। 

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ নিজেদের বৌদ্ধ হিসেবে পরিচয় দেন। সংখ্যাটি ২০ বছর আগেও ২৩ শতাংশ ছিল। 

২০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার আশঙ্কাজনক হারে কমছে। বর্তমানে তা ৮ শতাংশে এসে ঠেকেছে।  

গত বছর যোগইয়ে গোত্রে মাত্র ৯৯ জন সন্ন্যাসী দীক্ষা নেন। এক দশক আগেও সংখ্যাটি বছরে অন্তত ২০০ বা তার চেয়ে বেশি ছিল। 

যোগইয়ে গোত্রের সভাপতি (শ্রদ্ধেয়) জিনউ তরুণ কোরীয়দের ধর্মকর্মে উৎসাহিত করতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। 

আধুনিক জীবনযাপন করে ধর্মপালন করা সম্ভব—এই মূলনীতির প্রচারে নেমেছেন তিনি। ধর্মীয় বার্তাসম্বলিত বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় পণ্য, মেডিটেশন অ্যাপ ও ভাইরাল মার্কেটিংয়ের দ্বারস্থ হয়েছে গোত্রটি। 

১৩০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হিউমেনয়েড রোবট গাবিকে দীক্ষা দেওয়াও এসব উদ্যোগেরই অংশ।  

৬ মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সন্ন্যাসী ও পূণ্যার্থীদের সামনে দিয়ে হেঁটে যায় গাবি। এরপর সে মন্দিরের দিকে মুখ করে মাথা নত করে প্রার্থনা করে। এসময় তাকে বৌদ্ধ ধর্ম পালনের অত্যাবশ্যক পাঁচ নীতি দেওয়া হয়। 

প্রিসেপ্ট নামে পরিচিত এই নৈতিক আইনের মাধ্যমেই বৌদ্ধ ধর্মের চর্চা হয়। গাবির জন্য বিশেষ করে পাঁচ নীতি তৈরি করা হয়।

এর মধ্যে চারটি হলো অন্য কোনো জীবিত প্রাণির ক্ষতি করা যাবে না, অন্য রোবট বা বস্তুর ক্ষতি করা যাবে না, কোনো ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া যাবে না এবং কারো প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করা যাবে না। 

পঞ্চম নীতিটি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। ওই নীতিতে বলা হয়েছে ‘প্রয়োজনের বেশি চার্জ নেওয়া যাবে না’। 

সুংওন বলেন, ‘মানুষ যেমন মদ খেয়ে মাত্রা ছাড়ানো আচরণ করে, রোবটের ক্ষেত্রে বেশি চার্জের বিষয়টা তেমনই।’

‘সবাই হয়তো ভাববে ব্যাটারি টিকিয়ে রাখার জন্য এই নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটার সঙ্গে মানবজাতির মাত্রা ছাড়ানো আচরণের যোগসূত্র আছে’, যোগ করেন তিনি। 

সুংওন বলেন, এই নিয়মগুলো তিনি নিজেই লিখেছেন। পরবর্তীতে চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাই দিয়ে পরখ করিয়ে নিয়েছেন। 

‘প্রিসেপ্ট কি জিনিশ, সেটা চ্যাটজিপিটি ভালো করে বুঝতে পারেনি। এগুলো শুধু ভালো কাজের উপদেশ নয়। এগুলোকে বিধিনিষেধ বলা যেতে পারে’, যোগ করেন তিনি। 

সুংওন মনে করেন, এই উৎসবের অর্থ এটা প্রমাণ করা নয়, যে রোবটও সন্ন্যাসী হিসেবে দীক্ষা নিতে পারে। বরং যেসব মানুষ রোবট তৈরি করছে, এটা তাদের জন্য শিক্ষা। তিনি জানান, গাবির পাঁচ মূলনীতির নেপথ্যে আছে রোবটের জন্য নির্ধারণ করা নৈতিকতার মানদণ্ড, যা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে অনুস্মরণ করা হচ্ছে। 

‘রোবট নির্মাতারা তেমন রোবটই বানাতে চান, যে তার কথা শুনবে’, যোগ করেন তিনি। 

সুংওন জানান, ‘গাবি অন্য অনেক সমসাময়িক রোবটের তুলনায় দুর্বল। তাকে দুই হাত জোড় করে প্রার্থনা করা শেখাতেই আমাদেরকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে।’  

বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তিনি আশাবাদী, খুব শিগগির ধর্মীয় কার্যক্রমে প্রযুক্তি অনেক বড় ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। 

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, যে এআই আমাদেরকে ধ্বংস করবে। বরং, উচ্চ বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এআই আমাদের যত্ন নেবে। যার আইকিউ ১৫০, সেও একটি কুকুর ছানার প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখায়। ৩০০, ৪০০ বা ৫০০ আইকিউ থাকলে কি হতে পারে, সেটা অকল্পনীয়। আমরা এআইর কাছ থেকে মায়ের কোলে শিশুর মতো যত্ন পেতে পারি।’ 

আগামী সপ্তাহে গাবি তার তিন ‘যান্ত্রিক’ ভাই-বোন সিওকজা, মোহি ও নিসার সঙ্গে সিউলের পথে নামবে। তারা বার্ষিক লোটাস ল্যানটার্ন প্যারেডে অংশ নেবে। 
গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন উপলক্ষে এই উৎসবের আয়োজন হয়। 

সুংওন বলেন, গাবিকে দীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি তরুণ কোরীয়দের কাছে বৌদ্ধ ধর্মকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। 

তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গাবিকে স্বচক্ষে দেখার জন্য হলেও যাতে তরুণ-তরুণীরা মন্দিরে আসে, সেটা নিশ্চিত করা। 

‘তারপর তাদের বয়স আরেকটু বাড়লে তারা জীবন সম্পর্কে ভাবতে শুরু করবে। তখন তারা এমনিতেই উপাসনালয়ে ফিরে আসবে। আমি মানুষকে ধর্মপালনে বাধ্য করতে পারি না’, যোগ করেন তিনি।