29 C
Dhaka
Home Blog

ঋণ পুনঃতফসিল করা ব্যবসায়ী গভর্নর হিসেবে কতটা নির্মোহ হবেন, প্রশ্ন টিআইবির

নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করা ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে কতটা নির্মোহ হবেন—এমন প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ প্রশ্ন তোলেন।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে কতটা স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করা একজন ব্যবসায়ী কর্পোরেট স্বার্থের প্রভাবমুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও ব্যাংকখাতের সুশাসন নিশ্চিতে গভর্নর হিসেবে কতটা নির্মোহভাবে দায়িত্বপালন করতে পারবেন—এই প্রশ্নও উত্থাপন করছে সংস্থাটি।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নবনিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রস্ত থেকে ঋণখেলাপি ও পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলকরণ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত। এছাড়া, তৈরি পোশাক শিল্প, আবাসন, অ্যাটাব, ঢাকা চেম্বার্সের মতো প্রভাবশালী ব্যবসা লবির অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে নতুন গভর্নরের।’

‘কর্তৃত্ববাদী চৌর্যতন্ত্রের আমলে খাদে পড়া ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন গভর্নর ব্যবসায়ী লবি, ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি মহলের প্রভাবমুক্ত থেকে কতটা স্বাধীনভাবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? বিশেষ করে, যেখানে সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদের ৬২ শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা। তাছাড়া, সংসদ সদস্যদের প্রায় ৫০ শতাংশ ঋণগ্রস্ত, যাদের মোট আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে, সেখানে একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ী, যার বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যিনি তৈরি পোশাক শিল্প ও রিহ্যাবের মতো খাতে নীতি দখলের সুবিধাভোগী, এমন একজনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের প্রভাব ব্যাংক খাতের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সার্বিকভাবে এ নিয়োগের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কী বার্তা দিচ্ছে? তা সরকারকে ভেবে দেখার অনুরোধ করছি,’ বলা হয় বিবৃতিতে। 

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যবসায়ী হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে অভূতপূর্ব এ নিয়োগের মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাস্তবে আবারও কর্তৃত্ববাদী চৌর্যতন্ত্রের আমলের মতো জাতীয় স্বার্থের তুলনায় খেলাপি ঋণ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতানির্ভর ব্যবসায়ী লবির করায়ত্ত ও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘সদ্য ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বভার দেওয়া কতটা বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। একইসঙ্গে বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংক খাতের সুশাসন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের যে অঙ্গীকার করেছে, তার সঙ্গে এ জাতীয় স্বার্থের দ্বন্দ্বপুষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ প্রদান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের দলীয় বিবেচনা ও স্বার্থান্বেষী মহল সহায়ক কার্যক্রমের কারণে পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলে ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর দশা, অর্থপাচার ও খেলাপি ঋণসহ সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি তথা আর্থিক খাত কতটা নাজুক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, তা বর্তমান সরকারের অজানা নয়,’ যোগ করেন তিনি।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগসহ যেখানে সার্বিকভাবে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা দেশের জন্য খুবই জরুরি, সেসময় এই নিয়োগের ঘটনা কতটা ফলপ্রসূ হবে। তাছাড়া, ব্যাংকিং খাতের সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিতে ইতোমধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ ও কার্যক্রমগুলো কতটা বাস্তবায়িত হবে, সে ব্যাপারেও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিস্বার্থ সংরক্ষণকারী দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তিনি আদৌ কি স্বাধীন ও নির্মোহভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন?’

তিনি আরও প্রশ্ন করেন যে, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের যে জনআকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যে একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা অন্যতম। এক্ষেত্রে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নরের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকার দলীয় ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী স্বার্থের বাইরে গিয়ে কতটা স্বাধীনভাবে সার্বিক ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ ও সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারবে?’

অ্যাপলের ফোল্ডেবল ‘আইফোন আল্ট্রা’, দাম যেমন হতে পারে

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন ‘আইফোন আল্ট্রা’ বাজারে আসার আগেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনটির গড় বিক্রয়মূল্য হতে পারে ২ হাজার ৫৫০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

আজ শুক্রবার প্রযুক্তি সাময়িকী ম্যাশেবলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের নতুন আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠান। এর আগেই ফোল্ডেবল আইফোনের সম্ভাব্য দাম নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসছে।

বিভিন্ন ফাঁস হওয়া তথ্য ও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ফোনটির প্রাথমিক দাম ২ হাজার ডলার বা তার বেশি হতে পারে।

তবে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (আইডিসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোল্ডেবল আইফোনের গড় বিক্রয়মূল্য হতে পারে ২ হাজার ৫৫০ ডলার। অবশ্য এর মানে এটা নয় যে, ফোনটির শুরুর দামই এত হবে।বরং বেশি স্টোরেজের সংস্করণসহ অন্যান্য কনফিগারেশনের কারণে গড় বিক্রয়মূল্য আরও বাড়তে পারে।

কিছু অ্যাপল বিশ্লেষকের ধারণা, আইফোন আল্ট্রার প্রাথমিক দাম হতে পারে ২ হাজার ৩৯৯ ডলার। বেশি স্টোরেজের সংস্করণ কিনলে দাম ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

দাম বেশি হলেও আইডিসি মনে করছে, ফোনটি বাজারে বড় ধরনের সাফল্য পেতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি আইফোন আল্ট্রা বিক্রি হতে পারে। এ থেকে অ্যাপলের আয় হতে পারে ৪৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

আইডিসির গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল ম্যাশেবলকে বলেন, ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ কেবল এই খাতের প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনবে না, বরং পুরো বাজারের গতিপথই বদলে দিতে পারে।

আইডিসির হিসাবে, অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোনের বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখল করতে পারে। একইসঙ্গে এই ফোন বিক্রি থেকে তৈরি হওয়া মোট বাজারমূল্যের অর্ধেকেরও বেশি অ্যাপলের দখলে যেতে পারে।

অ্যাপলের নতুন ফোনটি বাজারে এলে দীর্ঘদিন ধরে ফোল্ড ফোনের বাজারে নেতৃত্ব দেওয়া স্যামসাং ও হুয়াওয়ের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এই প্রতিবেদনের সব তথ্যই এখনো পূর্বাভাস ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে আইফোন আল্ট্রার দাম বা বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন ঘোষণা না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত দাম নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে পদক্ষেপ: জামায়াত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

আজ মঙ্গলবার দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে। ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৯ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৯ ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন।

আজ রোববার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের গত ৩১ মে পর্যন্ত হিসাব সিআইবি ডেটাবেজে জমা দেওয়া হয়।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এই ব্যাংকগুলর খেলাপি ঋণের পরিমাণ জানান।

মন্ত্রী আমির খসরু জোর দিয়ে বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উচ্চ হারের এই খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারা জনগণের অর্থ লুটপাট করেছে এবং বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আপস ছাড়াই আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’

‘ইতোমধ্যে অনেকগুলো মামলা দায়ের করা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘যারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। বিএনপি বা সরকার—কেউই তাদের সঙ্গে কোনো আপস করবে না।’

সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে এনবিআরের অধীনে বিভিন্ন কাস্টমস হাউসে আমদানি পণ্যের ওপর বকেয়া শুল্ক ও কর বাবদ ২৫ হাজার ৫০৪ কোটি ৩০ লাখ কোটি টাকা বকেয়া আছে।

আর্জেন্টিনা বনাম মিশর: যা যা জানা দরকার

দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার সবচেয়ে সফল দুই ফুটবল শক্তির লড়াই। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আজ (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) আটলান্টায় মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ১৬ বারের কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা এবং সাতবারের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস চ্যাম্পিয়ন মিশর।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবকটিই জিতে গ্রুপ ‘কে’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে শেষ বত্রিশে বিশ্বকাপে অভিষিক্ত কেপ ভার্দের বিপক্ষে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে লিওনেল স্কালোনির দল। অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে উঠতে আরও কঠিন লড়াই করতে হয়েছে মিশরকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে ইতিহাস গড়ে ফারাওরা।

আজকের ম্যাচের বিজয়ী আগামী ১১ জুলাই কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।

ম্যাচের আগে যা জানা দরকার

•    বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিশর।

•    সবশেষ ২০০৮ সালে কায়রোতে একটি প্রীতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল দুই দলের। সেই ম্যাচে সার্জিও আগুয়েরো ও নিকোলাস বুর্দিসোর গোলে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। চোটের কারণে ওই ম্যাচে খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি।

•    বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে টানা আট ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। চলতি আসরে তারা আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে। এক আসরে তিনটি আফ্রিকান দলকে হারানোর কীর্তি এখনো কোনো দেশের নেই।

•    বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সর্বশেষ পাঁচটি বিশ্বকাপেই শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে একমাত্র শিরোপাধারী দল হিসেবে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল ইতালি, ১৯৮৬ সালে যারা ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল।

•    বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ ছয় ম্যাচে মিশর করেছে ৮ গোল, হজম করেছে ৯টি।

•    আজ মিশরের বিপক্ষে গোল করতে পারলে বিশ্বকাপে দেশের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়া মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার হবেন লিওনেল মেসি। এর আগে এই তালিকায় আছেন জঁ ফতেঁ (১৯৫৮), জাইরজিনহো (১৯৭০), গার্ড মুলার (১৯৭০), রিভালদো (২০০২) এবং হামেস রদ্রিগেজ (২০১৪)।

•    বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ ১০ ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত দুই গোল করেছে আর্জেন্টিনা। আজও দুই বা তার বেশি গোল করতে পারলে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে উরুগুয়ের গড়া টানা ১১ ম্যাচে অন্তত দুই গোল করার অনন্য কীর্তিতে ভাগ বসাবে তারা।

•    চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মিশরের অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ। আজ আরও দুটি সুযোগ তৈরি করতে পারলে ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানার কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেংয়ের গড়া এক আসরে কোনো আফ্রিকান ফুটবলারের সর্বোচ্চ ১৮টি সুযোগ তৈরির রেকর্ড স্পর্শ করবেন তিনি।

 

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে গাইবেন কে-পপ তারকা লিসা

আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে পারফর্ম করবেন কে-পপ তারকা লিসা। প্রথম নারী কে-পপ শিল্পী হিসেবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করবেন তিনি।

মার্কিন ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, লিসা ইতোমধ্যে ফিফার সঙ্গে চুক্তি সই করেছেন। আগামী ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলসের সোফি স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচের আগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি পারফর্ম করবেন। একই মঞ্চে থাকবেন কেটি পেরি, ফিউচার ও ডিজে সঞ্জয়।

এর আগে, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাংকুক গান গেয়েছিলেন। এবার লিসার অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো কে-পপ শিল্পী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তাই তিন দেশেই আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে।

লিসা ২০১৬ সালে ব্ল্যাকপিঙ্কের সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে একক শিল্পী হিসেবেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ২০২১ সালে প্রকাশিত তার একক গান ‘লালিসা’ প্রথম সপ্তাহেই ৭ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

২০২৫ সালের অ্যালবাম ‘অল্টার এগো’ প্রকাশের পরও তিনি নিয়মিত নতুন গান ‍করেন। সম্প্রতি ইতালিয়ান-আমেরিকান প্রযোজকের সঙ্গে তার নতুন গান ‘ব্যাড অ্যাঞ্জেল’ প্রকাশ পেয়েছে।

জর্ডানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর

ইরান সমর্থিত ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী সারায়া আওলিয়া আল-দাম দাবি করেছে, তারা জর্ডানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

আজ বুধবার এ হামলা চালানো হয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের ভেতরে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে 

গোষ্ঠীটি নির্দিষ্ট করে জানায়নি তাদের লক্ষ্যবস্তু ঠিক কী ছিল।

তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা ফুটেজে আকাশপথে একটি অস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা যায়।

মনোনয়ন পেলেও কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার স্থগিত

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য কবিতা বিভাগে এ বছরের মনোনীত হলেও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কবি মোহন রায়হানের পুরস্কার স্থগিত করেছে বাংলা একাডেমি।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একাডেমি থেকে পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই তালিকায় কবিতা বিভাগে মোহন রায়হানের নাম ছিল। 

আজ বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রদানের সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মঞ্চ থেকে তার নাম ঘোষণা করা হয়নি। পরে পুরস্কার না নিয়েই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন মোহন রায়হান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায়ও আমি পুরস্কার গ্রহণের মহড়ায় অংশ নিয়েছি। তখনও আমাকে কিছুই বলা হয়নি।’

‘কিন্তু আজ অনুষ্ঠানে আসার পর জানতে পারলাম আমাকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না। আমি এখনো জানি না এটা কি দাপ্তরিকভাবে বাতিল করা হয়েছে কি না। যদি বাতিল করা হতো, তবে সরকারি প্রজ্ঞাপন থাকা উচিত ছিল।’

মোহন রায়হান অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আমার পুরস্কার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত “সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়” থেকে এসেছে।’

তার দাবি, কর্নেল তাহেরকে নিয়ে চার দশক আগে তার লেখা ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘আমি শুনেছি ৪০ বছর আগে লেখা ওই কবিতার কারণেই আমাকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি,’ বলেন তিনি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কবি মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ওঠায় পুরস্কারটি “সাময়িকভাবে স্থগিত” রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তবে অন্যান্য বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ বা গবেষণায় সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মোস্তফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্যে মঈদুল হাসান এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

আস্থা গড়ছেন প্রধানমন্ত্রী, ক্ষয় করছে বিএনপি

এটা ঠিক যে, সরকার বা ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক মূল্যায়ন করার মতো যথেষ্ট সময় এখনো পেরোয়নি। কিন্তু, দলটি কোন দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য এই সময়টা কমও নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সঠিক বার্তাই দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দলের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ উদ্বেগজনক। তার মধ্যে রয়েছে বিরোধীদলের সঙ্গে আচরণ এবং বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। কিছু ক্ষেত্রে এর সুযোগ নিচ্ছেন নেতা ও মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যরা।

প্রথমেই যে প্রশ্নটি করা দরকার সেটা হলো, সরকার কি জনগণের কথা শুনছে? এর উত্তর পেতে হলে আমাদের জানতে হবে, সরকারের ও ক্ষমতাসীন দলের এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা আছে কি না, যার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামত তাদের কাছে, বিশেষ করে ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাবে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, সরকারি কিংবা দলীয় কোনোপক্ষই কখনো এই কাজটি করেনি। কারণ, তারা অপ্রীতিকর কোনো খবরই উপরমহলে পৌঁছে দিত না। তারা এমন কিছুই বলত না, যার কারণে ‘বস’ অসন্তুষ্ট হতে পারেন। সেই সংস্কৃতির কি পরিবর্তন হয়েছে? আমরা আশা করি হয়েছে। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতি যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা যেন ভিন্ন বার্তাই দিচ্ছে।

গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া গণমাধ্যমগুলো রাজনৈতিক বিভাজনে বিভক্ত। এটা গণমাধ্যমের জন্য যেমন স্বাস্থ্যকর না, তেমনি ক্ষমতাসীনদের জন্যও সহায়ক না। এখন পর্যন্ত বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে চলেছে, এ জন্য আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই।

সম্প্রতি বিএনপি ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। এ উপলক্ষে দলটির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারা ‘জবাবদিহিমূলক শাসনের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান’ দিতে চান। তিনি যদি এই একটি কাজ পরিপূর্ণভাবে করতে পারেন, তাহলে জনগণ সবসময় তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।

কিন্তু একটি ‘জবাবদিহিমূলক’ সরকারের প্রাথমিক লক্ষণ কী? মানুষ প্রথম যে ধাক্কাটি খেয়েছে তা হলো, সরকার ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় লোক বসানোর প্রবণতা। অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল করে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি দলীয় অনুগতদের দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, অভিজ্ঞতা ও সততা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে—বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। জনগণ ও সরকারকে সেবা দেওয়ার জন্য তারাই কেবল সবচেয়ে ভালো হতে পারে, বিষয়টি এমনও নয়। বরং তারা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত এবং শেখ হাসিনার আমলেও বিএনপির প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন বলে পুরস্কৃত করতেই তাদের কোনো না কোনো পদে বসানো হয়েছে।

নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে প্রশাসক হিসেবেও বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্তদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে বিরোধীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে জামায়াত নেতারা দাবি তুলেছেন, স্থানীয় সরকারের সব স্তর থেকে যেন দ্রুত দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহার করা হয় এবং নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের যেন আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

বিরোধীদের এই দাবি সহজেই উড়িয়ে দেওয়া যেত, যদি এর ভিত্তি দুর্বল হতো। অধিকাংশ পর্যায়ে, বিশেষ করে নিচের স্তরগুলোতে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা শাসনব্যবস্থাকে জবাবদিহিমূলক হওয়ার থেকে বিরত রাখছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর উপেক্ষা করা উচিত নয়।

জবাবদিহিমূলক শাসনের প্রশ্নে আরেকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা প্রয়োজন। সেটি হলো, মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব বণ্টন কীভাবে করা হয়েছে? মন্ত্রণালয় বণ্টনের সময় মন্ত্রীদের দক্ষতা কি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে? আমরা আগেও বলেছি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সবসময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা আশা করা না গেলেও অন্তত সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তাদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করা উচিত। এক্ষেত্রে তাদের জন্য ‘প্রশিক্ষণ’ শব্দটি হয়তো যথোপযুক্ত হবে না, কিন্তু তারা যে চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বের ভার পেয়েছেন সেটা যেন পরিপূর্ণভাবে বুঝতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। বিষয়টি মোটেই হালকাভাবে নেওয়ার মতো বিষয় না। কারণ, আজকের দিনে রাষ্ট্র পরিচালনাও একটি বিজ্ঞান এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন এই কাজটি অনেক বেশি জটিল।

একাধিক মন্ত্রণালয়ে দেখা যাচ্ছে একজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী এবং এক বা একাধিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত একজন উপদেষ্টা রয়েছেন, যারা সরাসরি উপরমহলে রিপোর্ট করেন। এক্ষেত্রে সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ছিল তাদের একটি টিম হিসেবে কাজ করানো। কিন্তু বাস্তবে প্রায়শই তেমনটি দেখা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীর মতো কাজ করেন। এর ফলে, কার কাছে রিপোর্ট করতে হবে বা কার কাছ থেকে নির্দেশনা নিতে হবে, সেটা নিয়ে জটিলতায় পড়েন আমলারা। এই বাস্তবতায় প্রভাব খাটানো, স্বজনতোষণ ও দুর্নীতির জন্য একটি বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ধীরে ধীরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি এমন এক স্ব-নির্মিত বয়ান ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলছে, যা তাকে কঠিন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে বলে মনে হচ্ছে। ব্যাপকভাবে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, জুলাই সনদকে যে গুরুত্ব ও গভীরতার সঙ্গে দেখা উচিত, বিএনপি তা দেখছে না এবং নির্বাহী বিভাগের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমে যাবে, এমন ক্ষেত্রগুলোতে সনদটি বাস্তবায়নের পথে এগোবে না।

মনে রাখতে হবে, আমাদের সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত সীমাহীন ক্ষমতা দিয়েছে। সেই ক্ষমতার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত দুর্বল। সংসদ ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর যে তদারকি ক্ষমতা আছে, তাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের আধিপত্যের কারণে। আরও পরিহাসের বিষয় হলো, বিরোধীদলীয় এমপিদের ওয়াকআউট, বয়কট ও শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের যে সংস্কৃতি অতীতে ছিল, সেটা সংসদ নেতার প্রশ্নহীন ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিতো। কারণ, বিরোধীদল না থাকলে ক্ষমতাসীন দল যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।

জুলাই সনদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতা কমানো এবং তাকে সংসদের কাছে আরও জবাবদিহিমূলক করা। কিছু ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই চেতনা থেকেই এসেছে। জুলাই সনদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক ব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে আমাদের ক্ষমতা কাঠামোর গণতান্ত্রিকীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এর মধ্যে ১১৩টি ত্রয়োদশ সংসদ অনুমোদন করেছে, যার বেশিরভাগই রুটিন বিষয় নিয়ে ছিল। বাকি ২০টি হয় বাতিল করা হয়েছে, নয়তো মেয়াদোত্তীর্ণ হতে দেওয়া হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ অধ্যাদেশগুলোতে স্বাধীন বিচার বিভাগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশনসহ প্রকৃত সংস্কারের বিষয়গুলো ছিল। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি এগুলোর লক্ষ্য ছিল নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কমানো। এগুলো নতুন করে প্রণয়নের ক্ষেত্রে কারণ দেখানো হয়েছে যে, ক্ষমতাসীন দল এসব বিধানকে আরও কার্যকর করতে চায়।

গুম ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত দুটি বিলের ক্ষেত্রে এখন আমরা চূড়ান্ত রূপটি দেখতে পাচ্ছি। এই দুটি বিল হয়তো খুব শিগগির আইনে পরিণত হবে। জুলাই সনদ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে প্রস্তাবিত এই আইনগুলো ‘জবাবদিহিমূলক শাসন’ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি কতদূর যেতে ইচ্ছুক, সে বিষয়ে তাদের মানসিকতার একটি আভাস দেয়। যে আভাসের উপসংহার জনগণের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম সন্তোষজনক। আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘নখদন্তহীন বাঘ’ বলা হতো। বিলটির আলোকে নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এখন আর সেটাও বলা যাবে না। সর্বোচ্চ বলা যেতে পারে, ‘নখদন্তহীন বিড়াল বা ইঁদুর’। গুম-সংক্রান্ত বিলের ক্ষেত্রেও মূল্যায়নটা একই।

এই দুটি বিল আমাদের ভাবতে বাধ্য করছে যে, হয় বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি, না হয় নিজেকে এমন বিধিনিষেধ ও জবাবদিহির আওতায় আনতে চাইছে না, যা জুলাই সনদের মূল দাবি।

শেখ হাসিনা কেন ব্যর্থ হয়েছেন? অন্য অনেক কারণের পাশাপাশি এর একটি সরল উত্তর হলো, তিনি এমন কোনো ‘স্বাধীন’ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে দেননি, যেখান থেকে তাকে ও তার সরকারকে প্রশ্ন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী যদি ‘জবাবদিহিমূলক শাসন’ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চান, তাহলে তাকে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে, যেগুলো সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার মতো যথেষ্ট স্বাধীন। ড্যারন অ্যাসেমোগ্লু ও জেমস এ রবিনসনের ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘হোয়াই ন্যাশনস ফেইল’ বইটি বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনৈতিক নেতা ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করেছে। বইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হলো, যেসব দেশ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়, তারা উন্নয়ন ধরে রাখতে বেশি সক্ষম হয়। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ছাড়া একটি দেশ স্বল্পমেয়াদে অগ্রগতি দেখতে পেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, ব্যক্তির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি কি আদৌ সেই শিক্ষা গ্রহণ করবে?

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে যেসব ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন

বিমানবন্দর, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল, হোটেল কিংবা কোনো লাউঞ্জে বসে অপেক্ষার সময় ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ পেয়ে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যান। তাতে মোবাইল ডেটা যেমন বাঁচে, ইন্টারনেটও পাওয়া যায় বিনা খরচে।

কিন্তু ফ্রি বা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের আগে একটি প্রশ্ন করা জরুরি—নিজের ব্যক্তিগত তথ্যগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলছেন না তো?

পাবলিক ওয়াই-ফাই মানেই বিপজ্জনক—এ ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।

বর্তমানে অধিকাংশ পরিচিত ওয়েবসাইট এইচটিটিপিএস এনক্রিপশন ব্যবহার করে, ফলে আগের তুলনায় ঝুঁকি অনেক কমেছে। তবে নকল ওয়াই-ফাই, ভুয়া ওয়েবসাইট বা দুর্বল সিকিউরিটির কারণে এখনো আপনার ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) জানিয়েছে, আধুনিক এনক্রিপশনের কারণে পাবলিক ওয়াই-ফাই সাধারণত আগের চেয়ে নিরাপদ হলেও ব্যবহারকারীর সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়তে পারে যেসব তথ্য—

•    ইমেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের লগ-ইন সংক্রান্ত তথ্য 
•    পাসওয়ার্ড
•    ব্যাংকিং বা ব্যাংক কার্ডের তথ্য
•    ব্যক্তিগত মেসেজ ও ডকুমেন্ট
•    অন্যান্য বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের সংবেদনশীল তথ্য

বিশেষ করে এনক্রিপটেড নয় এমন ওয়েবসাইট বা সন্দেহজনক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে অন্য কেউ ওই নেটওয়ার্ক ট্রাফিক পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় ব্যাংকিং, শপিং, পাসওয়ার্ড কিংবা কার্ডের তথ্য ব্যবহারের সময় বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়।

ধরুন, একটি কফিশপের আসল ওয়াই-ফাই-এর নাম ‘কফিহাউজ_গেস্ট’। এখন কোনো প্রতারক কাছাকাছি বসে আরেকটি হটস্পট চালু করল ‘কফিহাউজ_ফ্রি_ওয়াইফাই’-নামে।

এ ধরনের নকল হটস্পট-কে অনেক সময় ‘ইভিল টুইন’ বলা হয়। উদ্দেশ্য হলো—ব্যবহারকারীকে আসল নেটওয়ার্ক মনে করিয়ে প্রতারকের তৈরি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা।

এবার নাম দেখে আপনি দ্বিতীয়টিতে সংযুক্ত হলেন। আর এতেই ওই প্রতারক আপনার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।

তাই এয়ারপোর্ট, হোটেল বা রেস্টুরেন্টের ফ্রি বা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার আগে প্রতিষ্ঠানের স্টাফের কাছ থেকে নেটওয়ার্কের সঠিক নাম জেনে নেওয়া ভালো।

অবশ্যই নয়।

রেস্টুরেন্টের দেয়ালে লেখা একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে শত শত মানুষ একই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন। ফলে শুধু পাসওয়ার্ড থাকাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না।

তবে কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই সরাসরি সংযুক্ত হতে পারা উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই-এর ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।

আর নিজের বাসার ওয়াই-ফাই হলে ডব্লিউপিএ২ বা ডব্লিউপিএ৩ এনক্রিপশন ব্যবহার করা নিরাপদ। এফটিসি বর্তমানে ডব্লিউপিএ৩-কে নতুন ও শক্তিশালী এনক্রিপশনের মানদণ্ড হিসেবে হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ওয়েবসাইট-এর ঠিকানায় এইচটিটিপিএস দেখুন

পাবলিক ওয়াই-ফাই দিয়ে কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহার করার আগে অ্যাড্রেস বারে ‘https://’ এবং ব্রাউজারের লক ইনডিকেটর আছে কি না খেয়াল করুন।

এইচটিটিপিএস থাকলে আপনার ডিভাইস এবং ওয়েবসাইটের মধ্যে পাঠানো তথ্য এনক্রিপটেড থাকে। ফলে একই ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা অন্য কারোর পক্ষে আপনার তথ্য সরাসরি পড়ে ফেলা অনেক কঠিন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

এইচটিটিপিএস মানেই ওয়েবসাইটটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

প্রতারকের ভুয়া ওয়েবসাইটও এইচটিটিপিএস ব্যবহার করতে পারে। এ বিষয়ে এফটিসি সতর্ক করেছে, স্ক্যামাররাও এনক্রিপটেড ওয়েবসাইট বানাতে পারে। এতে আপনার সংযোগ এনক্রিপটেড হলেও তথ্য সরাসরি প্রতারকের কাছেই যাচ্ছে।

তাই লক চিহ্ন দেখার পাশাপাশি ডোমেইনটিও ঠিক আছে কি না যাচাই করুন।

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ফেসবুক স্ক্রল করা বা সংবাদ পড়া আর ব্যাংকিংয়ের কাজ করা এক বিষয় নয়।

ব্যাংকিং অ্যাপ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কিংবা কার্ড দিয়ে পেমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার ক্ষেত্রে সম্ভব হলে ওয়াই-ফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিজের মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন।

বিশেষ করে অপরিচিত উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই-তে বসে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা গুরুত্বপূর্ণ অর্থ লেনদেন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

ফোনে ওয়াই-ফাই অটো-কানেক্ট অপশন চালু থাকলে আগে ব্যবহার করা নেটওয়ার্কের নাম পেলেই ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হতে পারে।

এটি সুবিধাজনক হলেও জনসমাগমের স্থানে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তাই অপ্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক-এর ক্ষেত্রে অটো-কানেক্ট বা অটো-জয়েন অপশন বন্ধ রাখুন এবং কাজ শেষ হলে নেটওয়ার্কটি ডিভাইস থেকে মুছে (ফরগেট) ফেলুন।

পাবলিক ওয়াই-ফাই-এর ক্ষেত্রে সিআইএসএও অটোমেটিক কানেকশন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়।

বিশ্বস্ত ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করলে ডিভাইস ও ভিপিএন সার্ভারের মধ্যকার ট্রাফিক এনক্রিপটেড থাকে। ফলে পাবলিক ওয়াই-ফাই এর লোকাল নেটওয়ার্ক থেকে ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ করা আরও কঠিন হয়।

সংবেনশীল কাজের জন্য সিআইএসএ পাবলিক ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক বা ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় ভিপিএন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

তবে ভিপিএন কোনো জাদুকরী ঢাল নয়।

আপনি যদি ভিপিএন চালু রেখেও ভুয়া ব্যাংকিং ওয়েবসাইট-এ আপনার পাসওয়ার্ড লিখে দেন, ভিপিএন আপনাকে সেই প্রতারণা থেকে বাঁচাবে না।

তাই ভিপিএনের পাশাপাশি ওয়েবসাইট ও সার্ভিসের সত্যতা যাচাই করাও জরুরি।

সংযোগ দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় দেখুন—

নেটওয়ার্ক-এর নাম নিশ্চিত করুন: একই ধরনের একাধিক নাম থাকলে স্টাফ-এর কাছে প্রকৃত নাম জেনে নিন।

অচেনা লগইন পেজ-এ তথ্য দেবেন না: ওয়াই-ফাই চালু করতে যদি ইমেইল পাসওয়ার্ড, ফেসবুক পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য চায়, সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে বের হয়ে আসুন।

এইচটিটিপিএস ব্যবহার করুন: গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট-এর ডোমেইন ও এনক্রিপশন দুটোই পরীক্ষা করুন।

সংবেদনশীল কাজ এড়িয়ে চলুন: ব্যাংকিং বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনার জন্য মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন।

অটো-কানেক্ট বন্ধ রাখুন: অপ্রয়োজনীয় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে নিজে থেকে ফোনকে যুক্ত হতে দেবেন না।

ফোন আপডেট রাখুন: সিকিউরিটি আপডেট পুরোনো থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ফোনের সিকিউরিটি নিয়মিত আপডেট রাখুন।

পাবলিক ওয়াই-ফাই নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ারও প্রয়োজন নেই।

আধুনিক ওয়েবসাইট ও অ্যাপের অধিকাংশ যোগাযোগ এনক্রিপটেড হওয়ায় সাধারণ ব্রাউজিং আগের তুলনায় অনেক নিরাপদ হয়েছে।

কিন্তু ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস হলো—কোনো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ককে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার আগে সেগুলো যাচাই করা।

ফ্রি ওয়াই-ফাই এর কয়েক মিনিটের ইন্টারনেট হয়তো আপনার কিছু মোবাইল ডেটা বাঁচাবে।

কিন্তু ভুল নেটওয়ার্কে একবার পাসওয়ার্ড দিয়ে দিলে ক্ষতির মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।