31 C
Dhaka
Home Blog

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

আজ বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ ও আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০২৮ সালের আগস্টে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

রাষ্ট্র পরিচালনায় জনসংযোগ ঘাটতি: নীতির সঙ্গে বয়ানও কেন গুরুত্বপূর্ণ

সম্প্রতি অন্তত দুটি আলোচিত ঘটনায় সরকারের জনসংযোগ ও সংকটকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্বের ঘাটতি অতি স্পষ্ট হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ পরে সংশ্লিষ্ট পোস্ট বা বক্তব্য সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ততক্ষণে জনমনে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

এর একটি হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি পোস্ট, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ পোস্টটিকে সতর্কতামূলক বার্তা হিসেবে না দেখে বরং হুমকি হিসেবে নিয়েছেন। ফলে প্রশাসনিক সতর্কবার্তাটি খুব দ্রুতই জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

অপরটি জুলাই সংক্রান্ত একটি প্রামাণ্যচিত্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। সেটিও সরকারি জনসংযোগ ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতাকে সামনে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য দেখা যায়। একই বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ভিন্ন বা পরস্পরবিরোধী বার্তা আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এতে শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়েই বিভ্রান্তি তৈরি হয়নি, বরং সরকারের সামগ্রিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এখানেই ক্রাইসিস কমিউনিকেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। কোনো সংকটের মুহূর্তে মানুষের কাছে প্রথম যে বার্তাটি পৌঁছায়, সেটিই অনেক সময় পুরো পরিস্থিতি বোঝার ভিত্তি তৈরি করে। পরে দেওয়া ব্যাখ্যা বা সংশোধন ক্ষতি কিছুটা কমাতে পারলেও শুরুতেই তৈরি হওয়া আস্থার সংকট সবসময় পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায় না।

একই ধরনের সমস্যা বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ইস্যুতেও দেখা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, কোথাও আবার একই বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। যোগাযোগের ভাষায় এটিই মেসেজ ডিসিপ্লিনের ঘাটতি।

একটি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি একই ঘটনা বা নীতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে থাকে, তাহলে জনগণের কাছে সরকারের অবস্থান অস্পষ্ট হয়ে যায়। আর সেই অস্পষ্টতা ধীরে ধীরে বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলে। সেজন্যই রাষ্ট্র পরিচালনায় জনসংযোগ বা যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব। একটি নীতি কতটা কার্যকর, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ; তেমনি সেই নীতির উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা ও প্রভাব জনগণের কাছে কীভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন এখন সরকার, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানুষের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়াই যথেষ্ট নয়। সেই সিদ্ধান্তের ভাষা, সময়, প্রেক্ষাপট ও উপস্থাপনার ধরনও মানুষের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

অনেক সময় একটি ভালো নীতিও দুর্বল যোগাযোগ কৌশলের কারণে মানুষের কাছে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। আবার একটি জটিল সিদ্ধান্তও সঠিক ভাষা ও যথাযথ তথ্যের মাধ্যমে মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব। অর্থাৎ নীতি প্রণয়ন ও নীতির যোগাযোগ একে অপরের থেকে আলাদা কোনো বিষয় নয়। বরং কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় দুটিকে পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হয়।

এই বাস্তবতার কারণেই বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব বাড়ছে। করপোরেট হাউজ, বহুজাতিক কোম্পানি, এসএমই, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, রাজনৈতিক সংগঠন ও কূটনৈতিক মিশনগুলো এখন জনসংযোগ ও কৌশলগত যোগাযোগে বিশেষজ্ঞদের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ পেশায় কর্মসংস্থান প্রায় ৬ শতাংশ বাড়তে পারে, যা অনেক পেশার গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত। একইভাবে লিংকডইনের বৈশ্বিক চাকরির প্রবণতাতেও স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ও করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের মতো দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে।

তবে এই কাজ কেবল প্রেস বিজ্ঞপ্তি লেখা বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন দক্ষ যোগাযোগ বিশেষজ্ঞকে জনমত বিশ্লেষণ করতে হয়, বিভিন্ন অংশীজনের মনোভাব বুঝতে হয়, সম্ভাব্য সংকট আগে থেকে শনাক্ত করতে হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর বয়ান তৈরি করতে হয়। কোথাও প্রচলিত ভুল ধারণা ভেঙে দিতে হয়, কোথাও পাল্টা যুক্তি তৈরি করতে হয়। একইসঙ্গে মিডিয়া রিলেশন, ডিজিটাল কমিউনিকেশন, বিজনেস টু বিজনেস বা বিটুবি, বিজনেস টু গভর্নমেন্ট বা বিটুজি, ক্রাইসিস কমিউনিকেশন ও পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের মতো ক্ষেত্রেও সমান দক্ষতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতেও এই পরিবর্তন এখন স্পষ্ট। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স এবং পাবলিক রিলেশনস বিভাগকে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন, পাবলিক রিলেশনস, করপোরেট কমিউনিকেশন এবং ডিজিটাল মিডিয়ার ওপর বিভিন্ন একাডেমিক ও পেশাগত কোর্স চালু হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় এখনো এই পেশাদার কাঠামো প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। ফলে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রায়ই কমিউনিকেশন ঘাটতি চোখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে নীতিগত উদ্দেশ্য ইতিবাচক হলেও জনগণের কাছে সেটা সঠিকভাবে তুলে ধরতে না পারলে মূল উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল রাষ্ট্রগুলো অবশ্য অনেক আগেই বিষয়টির গুরুত্ব বুঝেছে। যুক্তরাজ্যের গভর্নমেন্ট কমিউনিকেশন সার্ভিস (জিসিএস) বিশ্বের অন্যতম সুসংগঠিত সরকারি যোগাযোগ কাঠামো হিসেবে পরিচিত। সেখানে পেশাদার কমিউনিকেশন কর্মকর্তারা নীতি প্রণয়নের বিভিন্ন পর্যায় থেকেই যুক্ত থাকেন। ক্রাইসিস কমিউনিকেশন, আচরণগত বিশ্লেষণ, ডিজিটাল প্রচার ও জনমত মূল্যায়নের জন্যও বিশেষজ্ঞ দল কাজ করে।

সিঙ্গাপুরের সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও একইভাবে সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ফলে, সেখানে শুধু নীতি প্রণয়ন নয়, নীতির উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তাও জনগণের কাছে কার্যকরভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশেও এখন সরকারি যোগাযোগকে কেবল তথ্য প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটিকে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি কৌশলগত সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে প্রশিক্ষিত স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন টিম, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিত মেসেজিং ব্যবস্থা, জনমত বিশ্লেষণ, ডিজিটাল মনিটরিং এবং সংকটকালীন যোগাযোগের সুস্পষ্ট প্রটোকল থাকা জরুরি। একইসঙ্গে বড় জাতীয় ইস্যুতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত বার্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কেননা, ভালো নীতি একটি সরকারের সক্ষমতার পরিচয় দেয়, কিন্তু সেই নীতিকে মানুষের কাছে বোধগম্য ও গ্রহণযোগ্য করে তোলাও বড় দায়িত্ব। জনগণ যদি কোনো সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য বুঝতেই না পারে, তাহলে একটি ভালো উদ্যোগও ভুল ব্যাখ্যা, বিভ্রান্তি বা বিতর্কের কারণে কাঙ্ক্ষিত গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে।

সাজ্জাদ সাব্বির: কেন্দ্রীয় সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি); করপোরেট কমিউনিকেশনসে কর্মরত।

রেকর্ড সৃষ্টি করে ৪৯২ কোটি টাকায় বিক্রি হলো ফেরারির ইলেকট্রিক গাড়ি ‘লুচে’

বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারির প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ির নাম ‘লুচে’। গত মে মাসে এটি বাজারে আনার ঘোষণা দেয় ইতালীয় প্রতিষ্ঠানটি। 

চলতি বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে গাড়িগুলো ভোক্তাদের কাছে ডেলিভারি দিতে শুরু করবে ফেরারি।

ইতোমধ্যে লুচের একটি বিশেষায়িত মডেল নিলামে ৪ কোটি ডলারে বিক্রি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটাই ওই মডেলের প্রথম ‘চ্যাসিস’।

চ্যাসিস জিরো লুচে গাড়িটির দাম বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হারের বিবেচনায় প্রায় ৪৯২ কোটি টাকার সমতুল্য।

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

নিলামে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির মধ্যে এটিই এখন সবচেয়ে দামি গাড়ি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

বিশেষভাবে তৈরি ফেরারি লুচের চ্যাসিস জিরোর জন্য রেকর্ড দর হাঁকেন এক নাম প্রকাশ না করা ক্রেতা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ফেরারির এই ইলেকট্রিক গাড়ির ডিজাইনকে ‘বুদবুদের’ সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এটি ফেরারি গাড়ির প্রথাগত কৌণিক ডিজাইন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদলে তৈরি।

লুচের এই ভিন্নধর্মী ডিজাইনের তথ্য প্রকাশের পর ফেরারির অনেক ভক্ত হতাশা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।

মন্টেরি কার উইক যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরিতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত একটি বিখ্যাত গাড়ি উৎসব, যেখানে দুর্লভ ও সংগ্রহযোগ্য গাড়ির প্রদর্শনী, নিলাম ও বিভিন্ন গাড়ি-সংক্রান্ত আয়োজন হয়।

চলতি বছরের উৎসবে লুচের চ্যাসিস জিরো গাড়িটি দাতব্য নিলামে ওঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে এর দাম ১১ লাখ ডলার অনুমান করা হয়েছিল।

গাড়ি নিলাম প্রতিষ্ঠান আরএম সোথবি জানিয়েছে, ওই মূল্যের তুলনায় অন্তত ৩৬ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে গাড়িটি।

রোববার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে ফেরারি ইউএসএ লিখেছে, ‘নিলামে একের পর এক সম্ভাব্য ক্রেতা দর হাঁকাতে থাকেন। এরপর ইতিহাস তৈরি হয়।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এই বিক্রি ‘নিলামে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড’ তৈরি করেছে।

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ শিক্ষামূলক বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তার জন্য দ্য ফেরারি ফাউন্ডেশনে দেওয়া হবে।

ইতালীয় ভাষায় লুচে শব্দের অর্থ ‘আলো’। এই গাড়ির চার চাকায় চারটি বৈদ্যুতিক মোটর যুক্ত করেছে ফেরারি। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, ‘এটি ভিন্নধর্মী ক্রেতাদের জন্য ফেরারির একটি ভিন্নধর্মী মডেল।’

আরএম সোথবি জানিয়েছে, ‘চ্যাসিস ০’-এ মুক্তার মতো বিশেষ আধা-চকচকে ফিনিশিং ব্যবহার করা হয়েছে।

যার ফলে গাড়ির বাইরের অংশে আলোর মাত্রা অনুযায়ী এর রঙ বদলে যায়। আলো পড়লে রঙের প্রতিফলন সবুজ থেকে বেগুনিতে পরিবর্তিত হয়।

গাড়িটির ভেতরের অংশেও বিশেষভাবে তৈরি উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে রয়েছে ‘পার্লা লে মানস’ ধাতব চামড়ার আসনসজ্জা এবং সাদা পটভূমির মধ্যে স্বতন্ত্র কালো উপাদান।

নিলাম শেষে গাড়িটি উত্তর ইতালির মারানেলো শহরে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেখানেই গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রেতার কাছে গাড়িটি হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৬ সালের শেষ তিন মাসে সাধারণ ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করবে লুচে। তাদের জন্য দাম ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বা ৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
 

‘মনে হচ্ছে আমরা যেন ফাইনাল জিতেছি’

তর্কসাপেক্ষে এবারের বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচটা ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো। গ্যালারিতে মেক্সিকো সমর্থকদের গর্জন, দুই দলের গতিময় ফুটবল, দুইটি পেনাল্টি, লাল কার্ড, নিশ্চিত গোল বাঁচানো- কী ছিল না এই ম্যাচে! বিশ্বকাপ ইতিহাসের ক্লাসিক ম্যাচের তালিকায় নিশ্চিতভাবে জায়গা করে নেবে এই ম্যাচ। শুধু সমর্থকরা নন, মহাকাব্যিক এই ম্যাচে শেষ হাসি হেসে আবেগাপ্লুত হয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলও। ম্যাচ শেষে অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেছেন, এই ম্যাচ ফাইনাল জেতার সমান আনন্দ দিয়েছে তাকে। 

অ্যাজটেকার উচ্চতাজনিত চ্যালেঞ্জ তো ছিলই, এই মাঠে গত ১৩ বছরে কোনো ম্যাচ হারেনি মেক্সিকো। টুর্নামেন্টেও চার ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতেছিল সহ-আয়োজকেরা। সাথে যে মানের ফুটবল উপহার দিয়েছে দুই দল, সব মিলিয়ে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় টুখেল বলেছেন, ‘আমার কাছে এটাকে কোনোভাবেই রাউন্ড অব সিক্সটিন এর ম্যাচ মনে হচ্ছিল না। এমনকি এখনো মনে হচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে আমরা ফাইনাল ম্যাচ বা ওই পর্যায়ের কোনো ম্যাচ জিতেছি’। 

জারেল কোয়ানসা সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় স্টপেজ টাইম সহ প্রায় ৪৫ মিনিট দশজন নিয়ে খেলতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। একে তো একজন খেলোয়াড় কম, তার উপর মেক্সিকোর মুহুর্মুহু আক্রমণ ম্যাচটাকে চূড়ান্ত কঠিন করে তুলেছিল ইংল্যান্ডের জন্য। কিন্তু হ্যারি কেইনদের দৃঢ়তায় ঠিকই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে থ্রি লায়ন্সরা। 

এমন ম্যাচের পর স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন কোচ টুখেল। জার্মান এই কোচ বলছেন, তার খেলোয়াড়দের ‘নায়কোচিত’ পারফরম্যান্সই অ্যাজটেকায় ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে এনেছে, ‘এটি একটি বীরের মতো পারফরম্যান্স। ফলাফলটাও বীরোচিত। আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি ভীষণ খুশি। গত দুই দিনে যা অভিজ্ঞতা হয়েছে তা অবর্ণনীয়। এই ম্যাচ আমার জন্য বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাদের, সেটিই এই জয়কে আরও বিশেষ বানিয়েছে’।

টুখেল বলছেন, প্রবল ইচ্ছাশক্তি না থাকলে এই ম্যাচ জিতে আসা সম্ভব হতো না, ‘কোনো দলের মধ্যে যদি সাহস ও নিজেদের প্রতি বিশ্বাস থেকে থাকে, তাহলে সেটা আমার এই দল। নিজেদের ইচ্ছাশক্তির জোরে তারা এই ম্যাচ জিতেছে। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ঐতিহাসিক এক স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছি আমরা। আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে আজকের ম্যাচে। ৪০-৫০ মিনিট দশজন নিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলা, তাও আবার এই শক্তিশালী মেক্সিকো দলের বিপক্ষে, আমি খুব খুশি’। 

দলের এই হার না মানা মানসিকতায় ভীষণ গর্বিত বলেও জানিয়েছেন টুখেল, ‘আমরা টুর্নামেন্টের এমন এক পর্যায়ে আছি, যখন আপনাকে কোনো না কোনোভাবে জয়ের উপায় খুঁজে নিতে হবে। আমরা সেটা পূর্ণ সাহস ও চারিত্রিক দৃঢ়তার সাথে করতে পেরেছি। আমি দলের এই মানসিকতায় ভীষণ গর্বিত। আমাদের জন্য বিশেষ এক রাত এটা’। 

এই অ্যাজটেকার সাথেই জড়িয়ে আছে ইংল্যান্ডের জন্য বিভীষিকাময় এক ইতিহাস। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এই মাঠেই অমর সেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল করেছিলেন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। টুখেল বলছেন, আজকের এই জয় তাদেরকে শান্তি দেবে, ‘এই মাঠের সাথে আমাদের খুব করুণ ইতিহাস জড়ানো আছে। আজকের এই ফলাফল আমাদের মানসিকভাবে শান্তি দেবে’। 

 

 

ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে না টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা

সীমিত আয়ের মানুষের চাপ কমাতে আগামী দুই অর্থবছর (২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮) করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থেকেও সরে আসতে পারে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থবিল ২০২৬ সংসদে পাস হওয়ার আগেই এসব পরিবর্তন এতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে অর্থবিলটি উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে একজন ব্যক্তি বছরে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করলে আয়কর দিতে হয় না।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন মহল থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। তাদের মতে, এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

তিনি জানান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে (বিটুবি) লেনদেনে শূন্য দশমিক দুই শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের যে প্রস্তাব বাজেটে দেওয়া হয়েছিল, সেটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এ ছাড়া সরকার সোনার ওপর মূলধনী লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) বর্তমান ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে।

প্রস্তাবিত অর্থবিলে করদাতার রিটার্নে ঘোষিত সোনা, রুপা, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম, প্রাচীন নিদর্শন ও ক্লাব সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত লাভকে মূলধনী লাভ হিসেবে গণ্য করে ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ট্রেজারি বিল, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ডিবেঞ্চার, সুকুক ও অন্যান্য শরিয়াহভিত্তিক সিকিউরিটিজ এবং বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও স্টক বিক্রি থেকে অর্জিত মূলধনী লাভের ওপরও ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সোনা ও গহনা বিক্রির লাভের ওপর কর আরোপের এই প্রস্তাব এসেছে।

আরেকটি সম্ভাব্য পরিবর্তন হলো, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করপোরেট করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা।

বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও শুধু আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ করপোরেট কর প্রযোজ্য।

তবে আবাসন খাতের ডেভেলপারদের কর ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

‘কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন—আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ চালাই’

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকারি দলের এমপিদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘একটা টেনডেনসি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি, প্রায় সকল বক্তা কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন। আসেন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ানডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে চলি।’

আজ সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সহযোগিতার মানসিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

সংসদ সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এই পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। এই পার্লামেন্ট মজলুমের পার্লামেন্ট। সংগত কারণেই আশা করি যে এই পার্লামেন্ট এমন কোনো আচরণ করবে না, যেটা মজলুম দেশবাসীকে আহত করে। এই পার্লামেন্ট দায়িত্বশীল আচরণ করবে, জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, জাতিকে জাগিয়ে তুলবে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।’

সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংসদে আজকে আমরা যারা আছি, একসময় আমরা একদিকেই বসতাম। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ (সাল), অল্প দু-একজন বা দু-একটি দল ছাড়া। এখন আমরা দুই অংশে সংযুক্ত—আমি বিভক্ত বলছি না। কারণ, কোনো যানবাহনই এক চাকায় চলে না। যানবাহন চালাতে হলে অন্তত দুইটা টায়ার লাগে। এই সংসদেরও দুইটা টায়ার। একটা সরকারি দল, আরেকটা বিরোধী দল। যেকোনো একটা টায়ার যদি অকেজো হয়ে যায়, পুরো যানবাহন অকেজো। সুতরাং আমরা সতর্ক থাকব, দুটি টায়ার যাতে সচল থাকে। এই টায়ারে আপনি পিন লাগাবেন, পেরেক মারবেন, তাহলে কিন্তু ওই টায়ারটা ফুটো হয়ে যাবে। ফুটো হয়ে গেলে ওই অবশিষ্ট টায়ারও চলবে না।’

সংসদের অতীত রীতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগই নবীন, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। কিন্তু আমরা মন্দটা শিখতে চাই না। আমরা শিখতে চাই ভালোটা। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা হওয়া উচিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা তোষামদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জায়গা। অনেক সময় ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আমরা বেশি করে আঘাত করে ফেলি।’

জামায়াত আমির সংসদে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, আ স ম আবদুর রবসহ সব শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কষ্টে ভোগা দল। এক-দুই করে ১১ জনকে আমাদের বুক থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ এ সময় পাশে বসা দলটির আরেক নেতা এ টি এম আজহারকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘১২ নম্বর জন এখানে জীবিত আছেন।’

৪০ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি, দর্শক চাহিদা পূরণে সকাল ৭টা থেকে শো

রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া দেশমুখের নতুন সিনেমা রাজা শিবাজি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ১ মে। তবে মুক্তির আগে সিনেমাটি বেশ সাড়া ফেলেছে। ইতোমধ্যে ৪০ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে।

ভারতের বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যমে বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বলিউড হাঙ্গামার তথ্য অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত ‘রাজা শিবাজি’ সিনেমার ৪০ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে।

সিনেমাটির মারাঠি সংস্করণ সবচেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। এর কারণ হলো গল্পের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির সম্পৃক্ততা এবং বড় তারকাদের উপস্থিতি।

আগে অনেকবার ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হলেও, ‘রাজা শিবাজি’কে সবচেয়ে বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ প্রজেক্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ কারণেও দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে।

টিকিট বুকিং ওয়েবসাইটগুলো দেখলে বোঝা যায়, মহারাষ্ট্রজুড়ে অনেক শো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

মুম্বাই ভালো সাড়া ফেললেও চমক দেখাচ্ছে পুনে। সেখানে চাহিদা এতটাই বেশি যে, অনেক সিনেমা হলে সকাল সাতটা থেকেই শো শুরু করা হচ্ছে। মুম্বাইয়ের কিছু হলও একই পথে হাঁটছে, তবে পুনের মতো না।

বলিউড হাঙ্গামা জানায়, বর্তমানে ভারতে সবচেয়ে বেশি টিকিট বিক্রির কেন্দ্র হয়ে উঠেছে পুনে, যা মুম্বাইয়ের মতো বড় বাজারকেও টক্কর দিচ্ছে।

এই টিকিট বিক্রির ভিত্তিতে বলা যায়, সিনেমাটি প্রথম দিনেই ভালো আয় করবে।

তবে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ অগ্রিম বুকিং হয়েছে মারাঠি সংস্করণের জন্য। হিন্দি সংস্করণের বুকিং পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই সেটিও একই সাড়া পাবে কি না, তা দেখার বিষয়।

‘রাজা শিবাজি’ সিনেমাতে রিতেশ দেশমুখ অভিনয় করছেন শিবাজি মহারাজের ভূমিকায়। তার সঙ্গে আরও আছেন, জেনেলিয়া দেশমুখ, সঞ্জয় দত্ত, অভিষেক বচ্চন, বিদ্যা বালান, ফারদিন খান, ভাগ্যশ্রী, শচীন খেদকর, অমল গুপ্ত, জিতেন্দ্র যোশী প্রমুখ।

আজারবাইজান থেকে ইসরায়েলে জ্বালানি তেল নেওয়া বন্ধের হুমকি ইরানের

ইসরায়েলের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ মেটায় ইরানের প্রতিবেশী ককেশীয় অঞ্চলের দেশ আজারবাইজান। সেই তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে যায় আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসি হয়ে তুরস্কের ভূ-মধ্যসাগরীয় শহর জায়হানে। তারপর সেখান থেকে সেই তেল রপ্তানি হয় তেল আবিবে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা চলমান থাকার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল তেহরানে হামলা করে বসে। পরে, সেই হামলায় যোগ দেয় ওয়াশিংটন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ ৩ মার্চ বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরান।

আজ মঙ্গলবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়—ইউরোপের জেট ফুয়েল সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ হরমুজ দিয়ে সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, নৌপথে সরবরাহ করা বিশ্বের মোট তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাঁচ ভাগের একভাগ এই পথ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভর করে না।

এদিকে, একই দিনে লন্ডনভিত্তিক মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়—নৌপথে সরবরাহ করা বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়।

একই সংবাদমাধ্যমের অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—ইরানের বিপ্লবী গার্ডের প্রধানের এক উপদেষ্টা বার্তায় জানিয়েছেন, ইরান শত্রুদের পাইপলাইনকে হামলার লক্ষ্য করতে পারে। তারা সেই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির অনুমতি দেবে না।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে এমন সময় এমন হুমকি এলো যখন দেশটির ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অপ্রত্যাশিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানান যে, কমান্ডারের উপদেষ্টার এমন বার্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) মালিকানাধীন বাকু-তিবিলিসি-জায়হান (বিটিসি) পাইপলাইন দিয়ে আজারবাইজান থেকে ইসরায়েলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

তাদের মতে, ইরান যখন ‘শত্রুর তেলের লাইনে’ হামলার হুমকি দেয় তখন তা সাধারণত বিটিসি পাইপলাইনকে বোঝায়। কেননা, মূলত সেই পাইপলাইন দিয়ে ইসরায়েলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসে।

বিটিসি পাইপলাইন ইরানের হাতের নাগালে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের সূত্রগুলো সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে—ইসরায়েল আজারবাইজানের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী ইরান ও সেই অঞ্চলের অন্যান্য তেহরানপন্থি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি, সেসব হামলার সংখ্যা ও মাত্রা বেড়েছে।

তাই ইরান ইসরায়েলের তেল সরবরাহ বিঘ্নিত করতে চায় বলে মনে করছেন তারা।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান সম্পাদক পরিষদের

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

আজ বুধবার এক বিবৃতিতে সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ পরিষদের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানান।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে এখনো অনেক সাংবাদিক কারাবন্দি রয়েছেন এবং অনেকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

তবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, বলা হয় বিবৃতিতে।

মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার ও সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একাধিকবার বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে এতে বলা হয়, তারা আমাদের আশ্বস্তও করেছিলেন যে, মামলাগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।

নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্পাদক পরিষদের জোরাল আহ্বান, তারা যেন বিষয়টির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

সম্পাদক পরিষদ বিবৃতিতে আরও বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার—এই প্রত্যাশাই আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেভাবে বদলে দিতে পারে জনপদের অর্থনীতিও

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ভীমরুলি, আটঘর ও কুড়িয়ানা এলাকার ভাসমান পেয়ারা বাজার নিয়ে অসংখ্য সংবাদ পড়েছি। বর্ষা এলেই এই সংক্রান্ত সংবাদ কোনো না কোনো মিডিয়ায় দেখা যায়। অধিকাংশ খবরে থাকে ফলন কেমন হলো, দাম কেমন, কিংবা কৃষকের লোকসান, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, অথবা বিক্রি না হওয়া পেয়ারা খালে ফেলে দেওয়ার কথা।

কিন্তু, সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা ইউএনবিতে নজরে পরে এই ভাসমান বাজারের একটা ভিন্ন গল্প। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক  যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এই ভাসমান পেয়ারা বাজার একটা পর্যটন এলাকায় পরিণত হয়েছে! আর এর ফলে পেয়ারার চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে এবং ওই জনপদের অর্থনীতিকে বেশ শক্তিশালী করেছে।

প্রতিবেদনটা শেষ করেই মনে হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ ব্যবহারকারীদের সত্যনিষ্ঠ, প্রকৃত, যথার্থ ভিডিও কতটা শক্তিশালী হতে পারে! একই মাধ্যম ব্যবহার করে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, তর্ক-বিতর্কের জোয়ার উঠছে। তাহলে প্রকৃত সমস্যাটা কোথায়, মাধ্যমের বৈশিষ্ট্যে, নাকি ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ধরনে? এগুলো আমাদের আলোচনার বাইরেই থেকে যায়।

পিরোজপুরের ভাসমান পেয়ারা বাজার একটা পর্যটনকেন্দ্র হয়ে ওঠার পেছনে কোনো প্রথাগত বিজ্ঞাপনের হাত নেই। কেবল রয়েছে কিছু মানুষের প্রযুক্তির সচেতন ব্যবহার, কিছু ভ্রমণপিপাসু মানুষের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা কনটেন্ট। একজন সাধারণ মানুষ সেখানে ভ্রমণে গিয়ে যা দেখেছেন, সেটাই ভিডিওতে ধারণ করেছেন, কিংবা ছবি তুলেছেন, শেয়ার করেছেন বন্ধুদের সঙ্গে। অথবা একজন ইউটিউবার হয়তো নৌকায় বসে ভিডিও করেছেন ভাসমান বাজারের। ফেসবুকে কেউ হয়তো শুধু কয়েকটা ছবি বা ছোট্ট একটা রিল পোস্ট করেছেন। এসব কনটেন্টের মূল বৈশিষ্ট্য একটাই, সেটা হলো বাস্তবতাকে তারা অতিরঞ্জিত করেননি। গ্রামীণ একটা জনপদের নির্দিষ্ট ফসলকে কেন্দ্র করে যে অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, মোবাইলের ক্যামেরায় শুধু সেটুকুই ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর সেই সরল উপস্থাপনাটাই মূলত মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছে, নিজ চোখে দেখার আগ্রহ তৈরি রয়েছে অন্যদের মাঝে।

অর্থাৎ একটা ভিডিও বা একটা ছবি শুধুমাত্র প্ল্যাটফর্মেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং একটা মানুষের ভ্রমণ গন্তব্য নির্ধারণের কারণ হয়েছে। তার তাতেই বদলে গেছে প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো এক ভাসমান বাজারকেন্দ্রিক পিরোজপুরের ভীমরুলি, আটঘর ও কুড়িয়ানা এলাকার অর্থনীতি।

সাধারণ মানুষের তৈরি করা কনটেন্টের কারণে সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশের এ ধরনের আরও অসংখ্য স্থান আছে। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামে শাপলা বিল কিংবা সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রামে জাদুকাটা নদীর তীরের শিমুল বাগান—এই জায়গাগুলো একটা সময় শুধুই স্থানীয়দের কাছেই পরিচিত ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণপিপাসুদের ছবি, ভিডিও ও অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ার পরই সারা দেশে পরিচিতি পায়।

কোথাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, তো কোথাও কৃষকের বিস্তৃত খেতে ফুটে থাকা রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, গ্ল্যাডিওলাস, এমনকি সরিষা বা সূর্যমুখী ফুল মানুষকে আকর্ষণ করছে। একেক মৌসুমে কৃষিজমিও পরিণত হচ্ছে পর্যটনের অংশে।

এখন মানুষ মৌসুম ভেদে এসব জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। যে মৌসুমে যে জায়গাটা আরও বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে, সেই মৌসুমে সেখানেই মানুষের যাত্রা। গৎবাঁধা ভ্রমণ গন্তব্যের বদলে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সৌন্দর্যসুধা পান করতে সবাই বেড়িয়ে পরেন।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ডেনিস ম্যাককুয়েল তার ‘ম্যাস কমিউনিকেশন থিওরি: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন’ গ্রন্থে মিডিয়াকে একটা জানালার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা ঘটনা এবং অভিজ্ঞতার এমন একটা জানালা যা আমাদের দৃষ্টিসীমাকে বিস্তৃত করে এবং অন্যের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আমাদের চারপাশে কী ঘটছে, তা নিজের চোখে দেখার সুযোগ দেয়।

অনেকটা সময় ধরে এই জানালার নিয়ন্ত্রণ ছিল শুধুমাত্র মূলধারার গণমাধ্যমের হাতে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আবির্ভাবে এই ক্ষমতা এখন প্রতিটা মানুষের হাতেই চলে এসেছে। মিডিয়া গবেষক হেনরি জেনকিন্স তার ‘কনভার্জেন্স কালচার: হোয়্যার ওল্ড অ্যান্ড নিউ মিডিয়া কোলাইড’ গ্রন্থে এটাকেই বলেছেন ‘অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি’।

পিরোজপুরের ভাসমান পেয়ারা বাজারের ক্ষেত্রে হয়েছে তাই। এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্যও লক্ষ্য করা যায়। প্রথমত: যেকোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এখন অনেক সহজ। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই শুধু ইন্টারনেট সংযোগ আর স্মার্টফোন থাকলেই যে কেউ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন। দ্বিতীয়ত: প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেওয়ার অপেক্ষা ছাড়াই নিজ উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। আর সেই ভিডিওই অন্যদের জন্য অনানুষ্ঠানিক পথনির্দেশনায় পরিণত হচ্ছে। কোথায় যেতে হবে, কীভাবে যেতে হবে, কোন মৌসুমে গেলে সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে প্রভৃতি তথ্যগুলো পোস্ট করা কনটেন্ট থেকেই পেয়ে যাচ্ছেন। আর তৃতীয়ত: একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর ছোট্ট একটি কনটেন্টে বদলে যেতে পারো একটি এলাকার অর্থনীতি—সেটাও হয়তো তার অজান্তেই।

আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ডেই নিজের চেহারা বদলে ফেলা যায়, গাছের রং, আকাশের রং, মাঠের রং বদলে ফেলা যায়! এমন দৃশ্যও তৈরি করা যায়, যা বাস্তবে কখনো ছিলই না। কৃত্রিমভাবে তৈরি করা এমন দৃশ্য হয়তো কিছুক্ষণের জন্য বিস্ময় তৈরি করে, ব্যক্তিগতভাবে আমাদেরকে ক্ষণিকের আনন্দও দেয়; কিন্তু একটি বাস্তবতা-নির্ভর চিত্র বা ভিডিও মানুষকে নতুন বার্তা দেয়, ভাবায়, ভ্রমণে আগ্রহী করে তোলে। আর তাইতো সেগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি।

সবমিলিয়ে একটা বার্তা স্পষ্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যথেষ্ট শক্তিশালী। এটাকে ব্যবহার করে দেশ ও মানুষের উপকার করব, নাকি বিদ্বেষ ছড়াবো, সেটা নির্ভর করছে আমাদের ওপরই।

 

জান্নাতুল রুহী: সাংবাদিক ও লেখক।