37.8 C
Dhaka
Home Blog

দম সিনেমাটি আসলেই অন্যরকম হয়েছে: ডলি জহুর

বাংলাদেশের গুণী অভিনয়শিল্পী ডলি জহুর। জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননা, একুশে পদকসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। সাড়া জাগানো বহু নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। অসংখ্য সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। 

এখনো অভিনয় থেকে দূরে সরে যাননি এই নন্দিত তারকা। 

এবারের ঈদের সাড়া জাগানো সিনেমা ‘দম’ এ তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ঈদে তার অভিনীত নাটক প্রশংসা পেয়েছে।

 

দম সিনেমা সম্পর্কে ডলি জহুর বলেন, ‘দম সিনেমা প্রিমিয়ারে গিয়ে দেখেছি। খুব ভালো লেগেছে। যত্ন নিয়ে কাজটি করা হয়েছে। শিল্পীরা ভালো অভিনয় করেছেন। দর্শকরাও পছন্দ করেছেন।’

‘দম সিনেমাটি আসলেই অন্যরকম হয়েছে।গতানুগতিক ধারার গল্প থেকে বের হয়ে সুন্দর একটি গল্প বেছে নেওয়া হয়েছে। যারা গল্প ভালোবাসেন তারা পছন্দ করেছেন। আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে’, যোগ করেন তিনি। 

ডলি জহুর আরো বলেন, ‘দম সিনেমার শুটিং করেছিলাম আউটডোরে। শীতের মধ্যে একটি গ্রামে শুটিং হয়েছে। সেখানে অনেক মানুষ শুটিং দেখতে আসতেন। প্রায়ই সেটে এসে মেয়েরা আমাকে জড়িয়ে ধরতেন। মানুষের ভালোবাসা কাছ থেকে দেখেছি।’

 

এবারের ঈদে ‘ম্যাডাম এর ড্রাইভার’ নামে একটি নাটক প্রচার হয়েছে। মীর সাব্বির পরিচালিত ওই নাটকে ডলি জহুর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

ডলি জহুর বলেন, ‘নাটকের গল্পটা ভালো। দীপা খন্দকারের সঙ্গে আমার অনেকগুলো দৃশ্য ছিল। গল্পের শেষটা ভীষণ সুন্দর। শাশুড়ি ও ছেলের বউয়ের মিল দর্শকরা ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মীর সাব্বির একদিন ফোন করে নাটকটির কথা বলেন এবং কাজটি করার পর বুঝতে পারছি দর্শকরা সুন্দরভাবেই নিয়েছেন।’

নাটক-সিনেমায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মায়ের চরিত্র করতে করতে এখন অনেক শিল্পী আমাকে মা ডাকা শুরু করেছেন। তারা আমাকে তাদের মায়ের মতোই সম্মান করেন। আমিও তাদের খুব ভালোবাসি, স্নেহ করি। এই ভালোবাসাটা সত্যিই আবেগের। আমাকে যখন কেউ মা বলে ডাকে, আমার তখন খুব ভালো লাগে।’

 

জুনিয়র শিল্পীদের বিষয়ে ডলি জহুর বলেন, ‘জুনিয়র শিল্পীরা আমাকে অনেক সম্মান করেন, আমিও তাদের পছন্দ করি। আসলে আমরা সবাই মিলে একটা পরিবার।’

এদিকে ডলি জহুর অভিনীত ‘পরম্পরা’ নামে একটি ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে দীপ্ত টিভিতে। এই নাটকটিও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

পরম্পরা নাটক সম্পর্কে ডলি জহুর বলেন, ‘এই নাটকের কথা অনেকেই বলেন। দর্শকদের ভালো লাগার একটি নাটক। আমিও অভিনয় করে আমারও একরকম ভালো লাগা কাজ করে।’

বাংলাদেশ থেকে ডিম কিনবে না সৌদি আরব

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সৌদি আরব।

দেশটির খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে আমদানিতে আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে জানিয়েছে গালফ নিউজ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও মহামারিবিষয়ক হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

সর্বশেষ সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও কিছু দেশকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আনা হয়েছে। বিশেষত উচ্চমাত্রায় বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবের ওপর নজর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিশর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, আইভরি কোস্ট ও মন্টেনেগ্রো।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও ডিআর কঙ্গোর নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা শহর থেকে আমদানিতে আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।

কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হলে প্রক্রিয়াজাত করা মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। তবে এ ধরনের পণ্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকারি সনদ থাকতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে—প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হয়েছে।

পাশাপাশি রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত স্থাপনা থেকেই এসব পণ্য উৎপাদিত হতে হবে, জানিয়েছে সৌদির খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজারে দুর্ঘটনার কবলে ওজিল–বিলাল এরদোয়ানের গাড়িবহর, সবাই অক্ষত

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে সাবেক জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়িপ এরদোয়ানের ছেলে নেকমেদ্দিন বিলাল এরদোয়ানের গাড়িবহর। তবে এতে কেউ আহত হননি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  

উখিয়ার শাহপরীর দ্বীপ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হঠাৎ প্রটোকল ভেঙে ভিআইপি গাড়িবহরে ঢুকে পড়ে। এ সময় বহরের একটি গাড়ির সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে ওজিল বা তুরস্কের প্রতিনিধিদলের কেউ আহত হননি। তবে সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

ওসি সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, দুর্ঘটনায় আহত অটোরিকশাচালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে মেসুত ওজিলসহ তুরস্কের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। বিকেলে ৪ নম্বর ক্যাম্পে রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গে ওজিল ফুটবল খেলেন। পরে সন্ধ্যায় সেখানে ইফতারিতে অংশ নেন।

 

 

লটারি, বয়কট আর ফাঁকা মাঠে গোল: যেভাবে মিলেছে বিশ্বকাপের টিকিট

বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়াটা যেকোনো জাতীয় দলের জন্যই এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর ও স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই। বছরের পর বছর ধরে চলা বাছাইপর্ব, পয়েন্ট তালিকার হিসাবনিকাশ আর বুক ধড়ফড় করা সমীকরণ পেরিয়ে তবেই মেলে বিশ্বমঞ্চের টিকিট।

কিন্তু ফুটবলের ইতিহাস ঘাঁটলে এমন কিছু রোমাঞ্চকর ও অদ্ভুত ঘটনার দেখা মেলে, যেখানে দলগুলো মূল পর্বে গেছে এক বিন্দু ঘাম না ঝরিয়ে কিংবা স্রেফ ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় কিংবা প্রতিপক্ষহীন ফাঁকা মাঠে গোল করে কিংবা নিয়মের মারপ্যাঁচে! ১৯৩৪ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এবারের ২০২৬ সালের আসর— বাছাইপর্বের এমন বিস্ময়কর কিছু অধ্যায় নিয়েই পাঠকদের জন্য এই আয়োজন।

বিনা যুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে

শুরুর দিকের বিশ্বকাপগুলোতে বাছাইপর্ব থেকে নাম প্রত্যাহারের হিড়িক ছিল। কখনো রাজনৈতিক কারণ, কখনো আয়োজক দেশ নিয়ে ক্ষোভ, আবার কখনো যাতায়াতের বিশাল খরচের ভয়ে দলগুলো সরে দাঁড়াত।

১৯৩৪ সালের ইতালি বিশ্বকাপের কথাই ধরা যাক। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ থেকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই মূল আসরে জায়গা করে নেয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। কারণ, ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ পেরু ও আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চিলি বাছাইপর্ব থেকে সরে দাঁড়ায়।

পরের আসরের স্বাগতিক ছিল ফ্রান্স। ইউরোপ মহাদেশে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রতিবাদে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রায় সব দেশ বাছাইপর্ব বয়কট করে। সেই তালিকায় ছিল আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার মতো নাম। ফলে কোনো ম্যাচ না খেলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যায় কিউবা। একই আসরে এশিয়া মহাদেশ থেকে জাপান নাম প্রত্যাহার করায় বিনা লড়াইয়ে মূল পর্বে চলে যায় ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া)।

এই নাম প্রত্যাহারের ঘটনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। ইকুয়েডর, পেরু ও আর্জেন্টিনা সরে দাঁড়ানোয় কোনো ম্যাচ না খেলেই মূল পর্বে যায় উরুগুয়ে, বলিভিয়া ও চিলি। মজার ব্যাপার হলো, বাছাইপর্বে এক মিনিটের জন্যও মাঠে না নামা উরুগুয়েই সেবার মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল!

ওই আসরে বার্মা (বর্তমান মায়ানমার), ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এশিয়া মহাদেশ থেকে ভারত সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। তবে দীর্ঘ যাত্রার ব্যয়ভার বহনে অনিচ্ছা এবং ১৯৫২ সালের অলিম্পিকে মনোযোগ দেওয়ার কারণে তারাও পরে সরে দাঁড়ায়। যদিও গুঞ্জন রয়েছে, খালি পায়ে খেলার ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞাই ছিল ভারতের অংশ না নেওয়ার মূল কারণ।

১৯৫৪ সালেও একই ধারা অব্যাহত থাকে। পোল্যান্ডের নাম প্রত্যাহারের কারণে বাছাইপর্বে নামা ছাড়াই সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে হাঙ্গেরি জায়গা করে নিয়েছিল।

১৪ বছরের বালকের হাতে তুরস্কের ভাগ্য

একই আসরের বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব জন্ম দিয়েছিল আরেক চমকপ্রদ ঘটনার। সেসময় ফিফার খামখেয়ালিপূর্ণ আয়োজনের কারণে ইউরোপ অঞ্চলের কিছু গ্রুপে কেবল দুটি করে দল রাখা হয়েছিল। তেমনই এক গ্রুপে পড়েছিল স্পেন ও তুরস্ক।

দুই দলই একটি করে ম্যাচে জয় পায়। প্রথম লেগে নিজেদের আঙিনায় স্পেন ৪-১ গোলে ও দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে তুরস্ক ১-০ গোলে জিতেছিল। বেশি গোল করার সুবাদে স্পেনেরই মূল পর্বে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখনও গোল ব্যবধানের নিয়ম চালু না হওয়ায় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্লে-অফ ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালেও দুই দলকে আলাদা করা যায়নি। ২-২ সমতায় শেষ হয় খেলা। এরপর সিদ্ধান্ত হয়, লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে কে পাবে বিশ্বকাপের টিকিট। এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয় লুইজি ফ্রাঙ্কো জেমা নামের ১৪ বছর বয়সী এক ইতালিয়ান কিশোরকে, যার বাবা ওই স্টেডিয়ামেই কাজ করতেন।

চোখ বাঁধা অবস্থায় লুইজিকে একটি হ্যাট থেকে দুটি বলের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হয়। স্টেডিয়ামভর্তি দর্শকের সামনে তার হাতে ওঠে তুরস্কের নাম লেখা বলটি। ফলে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে ছিটকে দিয়ে ভাগ্যের জোরে বিশ্বকাপে চলে যায় তুরস্ক!

রাজনৈতিক বয়কট, ফিফার নিয়মবদল ও ওয়েলসের রূপকথা

সুইডেনে হওয়া ১৯৫৮ সালের আসরে এসে ফিফা উপলব্ধি করে যে, বাছাইপর্বে কোনো ম্যাচ ছাড়াই বিশ্বকাপ খেলার এই প্রথা চলতে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে আফ্রিকা-এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে মিশর, সুদান ও ইন্দোনেশিয়া যখন রাজনৈতিক কারণে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন ফিফা কড়া নিয়ম করে— স্বাগতিক দেশ ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ছাড়া কোনো দল অন্তত একটি ম্যাচ না খেলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে না।

ইসরায়েলের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বে রানার্সআপ হওয়া দলগুলোকে নিয়ে একটি লটারির আয়োজন করে ফিফা। সেখানে শুরুতে বেলজিয়ামের নাম উঠলেও তারা সরে দাঁড়ায়। তাই পরবর্তীতে ওয়েলসকে বেছে নেওয়া হয়।

দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে লুফে নিতে ভুল করেনি ওয়েলস। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের দুই লেগেই ইসরায়েলকে তারা হারায় ২-০ গোলে। ফলে অবিশ্বাস্য কায়দায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি।

সান্তিয়াগোর ভূতুড়ে ম্যাচ ও ফাঁকা পোস্টে গোল

পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ১৯৭৪ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে মুখোমুখি হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চিলি। মস্কোতে প্রথম লেগের খেলা শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। তাই সমস্ত নজর ছিল সান্তিয়াগো হতে যাওয়া দ্বিতীয় লেগের দিকে।

তবে ১৯৭৩ সালের ২১ নভেম্বরের ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে আছে এর পেছনের চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে, যা ফুটবল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ভেন্যু ছিল ন্যাসিওনাল স্টেডিয়াম। কিন্তু এর মাত্র দুই মাস আগেই চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে এবং অগাস্তো পিনোশের নতুন সরকার স্টেডিয়ামটিকে রাজনৈতিক বন্দিশিবির ও বিরোধীদের হত্যার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।

এমন রক্তস্নাত একটি স্টেডিয়ামে খেলার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। তারা চিলির ভেতরেই অন্য কোনো ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজনের জন্য ফিফাকে অনুরোধ করে। কিন্তু কোনো সমঝোতা না হওয়ায় সোভিয়েত দল শেষমেশ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে তাদেরকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী চিলিকে ওয়াকওভারের মাধ্যমে জয়ী ঘোষণা করে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপারটি ঘটে ম্যাচের জন্য নির্ধারিত দিনে। কোনো প্রতিপক্ষ না থাকা সত্ত্বেও ফিফার নিয়ম মেনে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচটি আয়োজন করা হয়। চিলির খেলোয়াড়রা মাঠে নামেন এবং কিক-অফের পর বাধাহীনভাবে ফাঁকা পোস্টে বল জড়িয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এরপর রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলা শেষ করে দেন। ম্যাচটির স্থায়িত্ব ছিল ৩০ সেকেন্ডের মতো।

মূল বাছাইয়ে জয়হীন, তবু বিশ্বকাপে সুইডেন!

আগেকার দিনে যেখানে রাজনৈতিক বয়কট বা ফিফার সেকেলে নিয়ম অদ্ভুত সব পরিস্থিতির জন্ম দিত, আধুনিক ফুটবলে সেই জায়গা নিয়েছে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বের জটিল হিসাবনিকাশ। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও তাই নিয়মের মারপ্যাঁচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মূল বাছাইপর্বে জয়হীন থেকেও সুইডেনের ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে পদার্পণ সেটারই প্রমাণ।

বাছাইপর্বের ‘বি’ গ্রুপে থাকা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি তাদের ছয়টি ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি। পয়েন্ট তালিকার একদম তলানিতে ছিল তাদের অবস্থান। কিন্তু স্বাভাবিক সমীকরণে বিদায় নেওয়ার কথা থাকলেও উয়েফা নেশন্স লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ের সুবাদে দ্বিতীয় জীবন পায় তারা।

আর তা কাজে লাগিয়েই দীর্ঘ আট বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরছে সুইডেন। কোচ গ্রাহাম পটারের অধীনে প্লে-অফের সেমিফাইনালে ইউক্রেনকে সহজেই হারিয়ে দেয় তারা। তারপর ফাইনালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে মেলে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে স্ট্রাইকার ভিক্টর ইয়োকেরেসের লক্ষ্যভেদ তৈরি করে দেয় ব্যবধান।
 

জ্বালানির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

এ বিষয়ে সরকার নজরদারি রাখবে বলেও জানান তিনি।

আজ শুক্রবার সকালে সিলেট জেলা পরিষদের ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়ার কথা না। কেউ যদি বাড়তি মূল্য রাখে, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে দাম বাড়বে বলে অনুমান করেও দাম বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক না।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের তদারকির সুযোগ রয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হবে। কেউ বাজার প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। সেটি কমাতে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য একটি ডেনিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কাজ দ্রুত হলে ইউনিটপ্রতি খরচ কমে আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধারা যদি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।

সরকারি কলকারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা না। সরকার যেখানেই ব্যবসা করতে যায়, সেখানেই অদক্ষতার কারণে লোকসান হয়। এতে জনগণের টাকা অপচয় হয়।

তিনি আরও বলেন, সবগুলো লোকসানি প্রতিষ্ঠান সরকার ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। এসব কলকারখানা চালু করে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা হয়, সরকার সেই চেষ্টা করছে।

বাইশটিলায় ন্যাচারাল পার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাইশটিলা এলাকায় সিলেট জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গা রয়েছে। এটিকে পর্যটক আকর্ষণীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ন্যাচারাল পার্কে ক্যাবল কার থাকবে, রোপ ব্রিজ থাকবে—এরকম অনেক কিছু থাকবে। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনেক উপকরণ থাকবে। এটি নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছে জেলা পরিষদ। এটি সিলেটের অন্য পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান হবে। সরকার এতে অর্থায়ন করবে।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজপথ আমাদের মূল ঠিকানা, সংসদ নয়: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যতদিন সংসদের ভেতরে লড়াই করতে পারব, ততদিন (সংসদে) থাকব। এর বাইরে এক মিনিটও থাকবো না। রাজপথ আমাদের মূল ঠিকানা। সংসদ আমার মূল ঠিকানা নয়।’

আজ রোববার জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদে এই দেশের দুঃখী জনগণ একটা পরিবর্তনের আশায় আমাদের পাঠিয়েছে। সেই পরিবর্তনের সূচনা যদি আমরা না করতে পারি, সেই সংসদ দিয়ে আমাদের কী হবে?’

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘পার্লামেন্টে আমি দুই-তিনবার বলেছি—পার্লামেন্টে এমন সদস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে যিনি ফ্যাসিবাদের হাতে জুলুমের শিকারে পরিণত হননি। সুতরাং এটি মজলুমদের একটা মিলন মেলা। মজলুম তো মজলুমের দুঃখ বোঝার কথা। কিন্তু আফসোস ক্ষমতার চেয়ার সম্ভবত এরকমই নির্মম যে, মানুষকে তার অতীত ভুলিয়ে দেয়। তখন সামনে ক্ষমতার ওই সোনালী ঘোড়ার দৌড় ছাড়া আর কিছুই দেখে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই যুদ্ধের পরে অনেকে কার কত দলীয় সদস্য শহীদ হয়েছে তার ভাগ-বাটোয়ারা করেছেন। আমরা সেদিন প্রতিবাদ করে বলেছিলাম—শহীদরা কোনো দলের প্রপার্টি নয়। এই শহীদরা জাতির গর্বিত সম্পদ। আমরা দলীয় ভিত্তিতে এর ভাগ-বাটোয়ারা করতে চাই না।’

সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিএনপি ওয়াদা দিয়েছিল। ৩১ দফা সংস্কারের কথা বারবার বলে। এর প্রথম দফাই ছিল সংবিধান সংস্কার করবে তারা। এখন তারা এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।’

সভায় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও আমরা সবাই এক জায়গায় আছি। আমরা সেই ঐক্যের জায়গায় আছি যে, বাংলাদেশকে সংস্কারের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু এই পরিবর্তনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।’

‘সংসদকে ব্যর্থ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে’ মন্তব্য করে নাহিদ জুলাই যোদ্ধাদের আবারও গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘গণআন্দোলন ছাড়া সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না। তবে এবার আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেক রাজপথে নামতে হবে। এবার আর ব্যর্থ কিংবা অর্ধেক সফল হতে চাই না।’

১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনে আহতদের অন্তত ১০ জন বক্তব্য দেন।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন।

এখনো কোনো ভালোবাসার মানুষ নেই: জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু

ঈদুল ফিতরে ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক হয়েছে কলকাতার নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর। ‘প্রিন্স’ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।

২০২৪ সালে ‘বঁধুয়া’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনে প্রথম অভিনয় করেন জ্যোতির্ময়ী। তারপর ২০২৫ সালে দেবের বিপরীতে ‘প্রজাপতি ২’ সিনেমায় বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।

আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স’ সিনেমা ঈদে মুক্তির পর বাংলাদেশে এসেছেন জ্যোতির্ময়ী। দ্য ডেইলি স্টারে ফটোশুট ও সাক্ষাতকারে মাত্র তিন বছরের অভিনয় জীবন ও প্রেমসহ অনেক কিছু ভাগাভাগি করেছেন পাঠকের জন্য।

‘প্রিন্স’ মুক্তির পর বাংলাদেশে হলগুলোতে ঘুরলেন। কোন বিষয়গুলো বেশি শুনলেন দর্শকদের কাছ থেকে?

প্রিন্স সিনেমার ‘পরী’ গানটি আলোচিত হওয়ায় যেখানেই যাচ্ছি দর্শক ‘পরী’ বলে ডাকছে। এই ডাকটিই সবচেয়ে বেশি শোনা হলো।

আগে থেকেই গানটি নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। দর্শকের ভালোবাসায় সেটা ছাড়িয়ে গেছে। সেই ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে এসেছি। দর্শকের এই ভালোবাসা থাকলে বাংলাদেশে আরও সিনেমায় অভিনয় করতে চাই।

শাকিব খানের জন্য দুই বাংলার দর্শকের মধ্যে উন্মাদনা দেখেছি। এটা সত্যি আমার জন্য বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।

আপনার পরিবারের মানুষ কী বললো?

আমার মাও ‘পরী’ গানটি খুব পছন্দ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গানটি নিয়ে অনেক ভালো কমেন্ট পেয়েছি।

গানে শাকিব খানের সঙ্গে রসায়ন দর্শকদের কাছে নতুনত্বের স্বাদ দিয়েছে। সিনেমাটি মুক্তির পর দুই বাংলায় যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে আমি উচ্ছ্বসিত।

শাকিব খানের বিপরীতে কাজ করা কতোটা চ্যালেঞ্জ ছিল? ঢাকাই সিনেমার অন্যতম বড় তারকা তিনি। কী কী শিখলেন এই সিনেমায় অভিনয় করে?  

শাকিব খানের মতো নায়কের বিপরীতে কাজ করাটা একজন নবাগত অভিনেত্রী হিসেবে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে তার কাছ থেকে।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সহযোগিতা পেয়েছি। প্রতিটা ক্ষেত্রে তার সহযোগিতার কারণে কাজটা সহজ হয়েছে। এতো বড় তারকা, কিন্তু সেটা বুঝতেও দেননি।

শুধু শাকিব খান না, সিনেমার নির্মাতাও দারুণ সহযোগিতা করেছেন। এমন একটা টিমের কারণে খুব বেশি সহজ হয়ে গেছে আমার কাজ।

দুই বাংলার কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আপনার অভিমত কী?

অভিনয় কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের নয়। তবে, শাকিব খানের পেশাদারিত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি কেবল বড় তারকা নন, দারুণ একজন সহশিল্পীও।

এখনকার মানুষ অতিথি ভালোবাসেন, খাওয়াতে পছন্দ করেন। ২০২৫ সালে আমি ‘প্রজাপতি ২’ সিনেমার মাধ্যমে সেখানকার সুপারস্টার  দেবের বিপরীতে বড় পর্দায় প্রথম অভিনয় করেছি। তার কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। দুই বাংলাতেই আমার কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ আনন্দময়।

‘প্রিন্স’ সিনেমায় আপনার ঢাকাইয়া ভাষা বলা নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন।

নির্মাতা যেভাবে বলেছেন, সেভাবে সংলাপ বলেছি। এখন যদি  সমালোচনা হয়, কী বলবো বলেন। আমি আমার অভিনীত চরিত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি।

ভালোবাসার মানুষ নিয়ে কী বলবেন?

আমার আসলে এখনো কোনো ভালোবাসার মানুষ নেই। বর্তমানে কাজের সঙ্গে শুধু ভালোবাসাবাসি চলছে। আগামীতে হয়তো কাউকে  ভালোবাসবো। তবে এখন কেউ নেই।

আমার কাছে ভালোবাসা কোনো সাধারণ শব্দ নয়। এর গভীরতা ও দায়বদ্ধতা অনেক বড়। ভালোবাসার মূল ভিত্তি যত্ন নেওয়ার মানসিকতা। কেউ আমার জীবনে আসলে অবশ্যই জানাবো।

অভিনয়ে আগামীর প্রত্যাশা কী?

প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে চাই। দুই বাংলার ভালো ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। সময়ের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে না দিয়ে ধাপে ধাপে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে এগিয়ে যেতে চাই।
সমালোচকদের আমি সম্মান করি, কারণ তারা আমাদের ভুল ধরিয়ে দেন। আগামীতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

নতুন কয়েকটি বড় প্রজেক্টে অভিনয়ের বিষয়ে কথা হচ্ছে। আশা করি ভালো কিছু হবে।

স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ক্লিনটনের রেকর্ড ভাঙলেন ট্রাম্প

আধুনিক যুগে দীর্ঘতম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দেওয়ার রেকর্ড এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দখলে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের রেকর্ড ভাঙলেন। 

ফক্স নিউজের খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ভাষণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বার্ষিক ভাষণ। এতে তিনি কংগ্রেস ও জনগণকে জানান—দেশের অবস্থা কী, গত বছরে কী কাজ হয়েছে এবং সামনে কী পরিকল্পনা আছে।

২০০০ সালের ২৭ জানুয়ারি বিল ক্লিনটনের দেওয়া ভাষণটি ছিল ১ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড দীর্ঘ। কিন্তু গতকাল স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রাম্প এই রেকর্ড ভাঙেন। তিনি প্রায় ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট ধরে ভাষণ দেন।

আগেই ট্রাম্প আভাস দিয়ে বলেছিলেন, এটি একটি দীর্ঘ ভাষণ হতে যাচ্ছে, কারণ আমাদের অনেক কিছু বলার আছে।

মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনের হাউস চেম্বার থেকে তার এই ভাষণ দেন। এতে তিনি নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। নিজের মেয়াদের এক উত্তাল সময়ে সাফল্যের ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টায় দাবি করেন, তিনি এক ‘সুবর্ণ যুগের’ সূচনা করেছেন।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত হলেও ট্রাম্প তেহরান নিয়ে তার পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেননি। তিনি শুধু বলেন, ‘আমার পছন্দ হলো কূটনীতির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা।’

ভাষণের এক পর্যায়ে ট্রাম্প মিনেসোটার সোমালি আমেরিকানদের ‘জলদস্যু’ বলে আখ্যায়িত করেন। এ ছাড়া তিনি অপরাধ বৃদ্ধি এবং আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ব্যয়ের জন্য অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনকে দায়ী করেন।
 

তারেক রহমানকে অভিনন্দন স্টারমারের, একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধ এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী এ অভিনন্দন জানান।

চিঠিতে কিয়ার স্টারমার লিখেছেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আপনার নেতৃত্বে আমাদের সহযোগিতা আরও বাড়বে, যা আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।

তিনি আরও লেখেন, আমি আমাদের অংশীদারত্ব শক্তিশালী করতে এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি। বাংলাদেশে অন্যতম বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে আমরা আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের আশা করছি।

প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে স্টারমার বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যও আপনার পাশে থেকে সমর্থন জারি রাখবে।

এদিকে, সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।  

এক চিঠিতে গাই পারমেলিন বলেন, আপনার এই নিয়োগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সূচনা করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আপনার নেতৃত্ব দেশের অব্যাহত অগ্রগতি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তিনি সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোরও আশাপ্রকাশ করেছেন।

 

 

সাগরে স্টেডিয়াম-উদ্যান-জাদুঘর নিয়ে ভাসবে ‘অভিনব শহর’

দৈর্ঘ্যে প্রায় এক মাইল; প্রস্থে ৮০০ ফুট। উচ্চতায় ৩০ তলা। থাকবে স্টেডিয়াম, উদ্যান, জাদুঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণাকেন্দ্র, হাসপাতাল, বাজার, রেস্তোরাঁ, আবাসন—আরও কত কী!

এসব নিয়ে সাগরে ভাসবে এক ‘অভিনব শহর’। এর বাসিন্দার সংখ্যা হবে প্রায় ৮০ হাজার।

গত ১ জুন ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেল।

বিশ্বের প্রথম ‘ভাসমান শহর’ হিসেবে পরিচিতি পেতে যাওয়া ‘ফ্রিডম শিপ’-এর ওপর সেই প্রতিবেদনে জানানো হয়—এই ‘শহরের বাসিন্দা’ বিশ্বের যেকোনো দেশের মানুষ হতে পারবে।

প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে এই মহাযজ্ঞ সম্পাদনে। জাহাজটির ওজন হবে ২৩ লাখ টন।

পরমাণু-জ্বালানি ব্যবহার করে জাহাজটি চালানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

এই মহাতরীর ৮০ হাজার অধিবাসীর মধ্যে ৫০ হাজার হবে স্থায়ী। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা থাকবে।

এই ৬০ হাজার মানুষের পরিসেবা নিশ্চিত করতে থাকবে প্রায় ২০ হাজার কর্মী।

এমন বিলাসবহুল জাহাজে থাকবে বহুতল হোটেল, ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম, কনভেনশন সেন্টার, ওয়াটার পার্ক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সিম্ফনি হল।

সংবাদ প্রতিবেদনটিতে আরও জানানো হয়—সাগরে ভাসমান জাহাজটির ভেতরে বিশাল জলাধারে সাঁতার কাটার সুযোগ থাকবে। বিনোদন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকবে ক্লাব। জাহাজবাসীদের যারা নিয়মিত পরিবেশন করা খাবারের পাশাপাশি স্বাদে ভিন্নতা আনতে চান তাদের জন্য থাকবে দুই-তলা ফুড হল।

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার কথাও ভেবে রাখা হয়েছে। তাই ভাসমান শহরটির বাসিন্দাদের সন্তানদের জন্য থাকবে স্কুল-কলেজ। জাহাজের চারটি তলা রাখা হচ্ছে বাণিজ্যিক কাজ পরিচালনার জন্য। সেখানে থাকবে ব্যাংক-বাজার।

জাহাজটির ছাদে আটটি হেলিপ্যাড থাকবে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ফ্রিডম শিপ’ নামের এই মহাতরীর আয়তনে এত বড় হবে যে তা কোনো দেশের বন্দরে ভেড়ানো সম্ভব হবে না।

আর তাই জাহাজটিকে চলাচল করতে হবে আন্তর্জাতিক জলসীমায়। ছোট ছোট ফেরি বা প্রমোদতরী দিয়ে যাত্রীদের আনা-নেওয়া করা হবে।

প্রতি দুই বছরে একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে জাহাজটি।

জাহাজটির ভেতরে থাকবে তিন একরের উদ্যান। হাঁটতে পছন্দ করা ব্যক্তিদের জন্য থাকবে ১৫ মাইল দীর্ঘ হাঁটাপথ।

যে বিস্ময়কর জাহাজ ‘ফ্রিডম শিপের’ গল্প বলা হচ্ছে তা এখনো সাগরে ভাসেনি। এমনকি, তা বানানোর কাজও শুরু হয়নি। এমন একটি মহাতরী বানানোর মহাপরিকল্পনা চলছে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯৯০ এর দশকে মার্কিন প্রকৌশলী নরম্যান নিক্সন প্রথম এমন মহাতরী বানানোর প্রস্তাব দেন। তিনি মারা গেছেন ২০১২ সালে। তবে তার স্বপ্ন এখনো মরেনি।

নিক্সনের মৃত্যুর পরের বছর সেই জাহাজের নকশা নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা শুরু হয়। আবারও এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানান মুখরোচক গল্প।

তবে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর কেন আবার আলোচনায় ‘ফ্রিডম শিপ’? কারণ—ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনাল এর প্রধান নির্বাহী রজার গুচ জাহাজটির জন্য প্রকল্প ব্যবস্থাপক, নকশাকার ও একজন নৌপ্রকৌশলীসহ ১২ জনের দল ঘোষণা করেছেন।

‘বাজারে ব্যাপক চাহিদা আছে’—এমনটিই জানানো হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। রজার গুচের দাবি, ‘এমন তিনটি জাহাজ তৈরির যৌক্তিকতা আছে।’

ফ্লোরিডা কার্যালয় থেকে তিনি জুম কলে দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী।’

‘তবে টাকা জোগাড় করাটাই মূল কাজ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল ২ জুন একে ‘পুরোপুরি স্বনিয়ন্ত্রিত শহর’ আখ্যা দিয়ে অপর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস জানায়, বর্তমানে সাগরে যেসব জাহাজ ভাসছে ‘ফ্রিডম শিপ’-এর কাছে সেগুলো শিশুতুল্য হয়ে যাবে। গভীর সাগরে এই জাহাজ একটি চলমান শহর হিসেবে বিবেচিত হবে।

দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ  ‘স্টার অব দ্য সিজ’-এর তুলনায় আট গুণ বেশি মানুষ ‘ফ্রিডম শিপে’ ভাসতে পারবে। 

উল্লেখ্য, এই জাহাজটি পরিচালনা করে রয়েল ক্যারিবিয়ানস নামের একটি  প্রতিষ্ঠান। 

সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুসারে—মহাতরীটি বানানোর টাকা নিশ্চিত হলে ইন্দোনেশিয়ায় এর কাজ শুরু হবে। প্রথমে একটি খোলস তৈরি করা হবে।

জাহাজটির অবকাঠামো ভাগে ভাগে তৈরির পর সেগুলো জোড়া দেওয়া হবে।

মহাতরীটি তৈরি করতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরো কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাসিন্দাদের অনেকে জাহাজে থাকতে শুরু করতে পারবেন।

কোনো দেশের কোনো নির্দিষ্ট বন্দরে নয়, বরং সাগরে ভাসমান অবস্থায় জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা যাবে।

গত ২৮ এপ্রিল ইউএস টুডে একে ‘উচ্চাভিলাষী ও ঐতিহাসিক প্রকল্প’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলে—‘ফ্রিডম শিপ’ সাগরে উদ্ভাবন, টেকসই ও অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার বলিষ্ঠ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এতে আরও বলা হয়, এটি অন্যসব সাধারণ প্রমোদতরীর মতো নয়। এটি প্রকৌশল বিজ্ঞানে এক অত্যাধুনিক কাজ হিসেবে গৃহীত হবে। বৈশ্বিক বিনোদন জগতে এটি একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেবে।

এ ছাড়াও, পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি নজির হয়ে থাকবে এটি।

সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস আরও জানায়—জমিতে যেভাবে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়, তেমনি সাগরে এই ভাসমান আবাসন প্রকল্পটি গড়ে তোলা হবে। বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য জায়গা ভাড়া দেওয়া হবে।

বাজার, রেস্তোরাঁ ও নানান পরিসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জায়গা ভাড়া দেওয়া হবে। সেখানে একটি বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসা বিষয়ে গবেষণাকেন্দ্র থাকবে।

জাহাজটি চালনায় পরমাণুশক্তি ব্যবহারের ফলে দূষণ কমানো যাবে।

ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনাল-এর দাবি, মহাতরীটি যখন চলাচল করবে তখন এটি মহাসাগর পরিষ্কারের কাজেও সহায়তা করবে।

প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ কেভিন শুপফার এই জাহাজটি তৈরিতে স্থাপত্যবিদ্যা ও পরিবেশবান্ধব নকশার ওপর জোর দিচ্ছেন, বলেও এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সাগরের উচ্চতা ক্রমশই বেড়ে যাচ্ছে। তাই পরিবেশবান্ধব জাহাজটিতে সবুজের সমারোহ থাকবে।

জাহাজটিতে বিনোদনের এমন ব্যবস্থা থাকবে যাতে জগৎ-খ্যাত শিল্পীরাও সেখানে পারফরম্যান্স করতে পারেন।

১৯৯৭ সালে বিশ্ববাসীকে ঐতিহাসিক ব্রিটিশ জাহাজ টাইটানিকের কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন কানাডার পরিচালক জেমস ক্যামেরন।

তেমনি এই মহাতরী ‘ফ্রিডম শিপ’ নিয়েও হয়ত একদিন তৈরি হবে কোনো মহাকাব্য।

আশা থাকুক, নতুন কাহিনিতে কোনো বিপর্যয় নয়, থাকবে সাগরবিজ্ঞান ও জাহাজ প্রকৌশলের জয়যাত্রার গৌরবের কথা।