30 C
Dhaka
Home Blog

ইরান যুদ্ধে কত খরচ হবে যুক্তরাষ্ট্রের?

কয়েকদিন ধরে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অনেক কথাতেও সেই  ইঙ্গিত ছিল। অবশেষে শনিবার সেই আশঙ্কায় সত্যি হয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন কি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আরেকটি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, এবং শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ কত হতে পারে?

এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ কত হবে তা পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ অর্থ নয়, বরং অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত।

২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প তার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা আট মিনিটের এক ভিডিওতে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে বড় সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে।

পরে পেন্টাগন জানায়, অভিযানের নাম অপারেশন এপিক ফিউরি।

ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ‘ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা’।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেব। এটি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার অভিযান শুরুর পর ইরানে ১ হাজার ২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পৃথক এক বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম), তারা ১১টি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে বিমান হামলা, সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় সমন্বিত হামলা এবং ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এবারের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি তেহরানে তার নিজের কম্পাউন্ডে নিহত হন।

সোমবার ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে যুদ্ধ যতদিন দরকার ততদিন চলবে, যা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

সোমবার পর্যন্ত ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইরানে ১৩০টির বেশি স্থানে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

এর বাইরে ইয়েমেন, ইরান ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৬৫ থেকে ১২ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ, সংঘাত-সংশ্লিষ্ট মোট মার্কিন ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ দশমিক ৩৫ থেকে ৩৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং এই ব্যয় এখনো বাড়ছে।

সেন্টকমের মতে, অপারেশন এপিক ফিউরিতে আকাশ, সমুদ্র, স্থল ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনী মিলিয়ে ২০টিরও বেশি অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।

সেন্টকমের সাবেক অপারেশন পরিচালক কেভিন ডোনেগান আল জাজিরাকে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা দুর্বল বা ক্ষয়িষ্ণু করে দেওয়া, যেন তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে না পারে।

Operation Epic Fury: The first 48 hours pic.twitter.com/uCQqHq5Ajx

— U.S. Central Command (@CENTCOM) March 2, 2026

বি-১ বোমারু বিমান, বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান (পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলা), এফ-৩৫ লাইটিং টু ও এফ-২২ র‌্যাপ্টর (উন্নত স্টেলথ যুদ্ধবিমান), এফ-১৫ যুদ্ধবিমান (১ মার্চ কুয়েতের আকাশে এক ঘটনায় তিনটি হারিয়েছে, এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন, এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট, এ-১০ আক্রমণকারী জেট, ইএ-১৮জি গ্রোলার (ইলেকট্রনিক হামলা ও শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা দমন), এডাব্লিউএসিএস (আকাশভিত্তিক আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান)।

লুকাস ড্রোন (স্বল্পমূল্যের একমুখী কমব্যাট ড্রোন, ইরানি নকশা থেকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার করা), এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, এম-১৪২ হিমারস রকেট সিস্টেম, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।

প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, থাড, কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা।

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও ইএসএস আব্রাহম লিংকন নেতৃত্বাধীন দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার, সি-১৩০ হারকিউলেস এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার।

চলমান যুদ্ধের মোট খরচ অনুমান করা কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

মার্কিন থিংক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবল বলেন, পেন্টাগন এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি, তাই আমরা কেবল অনুমান করতে পারি। অস্ত্রের আলাদা খরচ, নৌ অভিযান—এসব নিয়ে ধারণা করা যায়, কিন্তু পুরো চিত্র বেশ জটিল।

আনাদোলু সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরির প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র হয়তো প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

এছাড়া হামলার আগে সামরিক প্রস্তুতিতে খরচ করেছে অতিরিক্ত প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার। যেমন বিমান পুনর্বিন্যাস, এক ডজনের বেশি নৌযান মোতায়েন ও আঞ্চলিক সম্পদ সক্রিয় করা।

সেন্টার অপর অ্যা নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার লাগে।

এর বাইরে রয়েছে সরঞ্জাম ক্ষতির খরচ। কুয়েতে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটনায় অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।

প্রেবল বলেন, খরচের দিক বিবেচনা করলে যুদ্ধ চালানো সম্ভব। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট এক ট্রিলিয়ন ডলার এবং তা ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়নে উন্নীত করার প্রস্তাবও আছে।

‘এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে যে কোনো ‍যুদ্ধ অনেক দূর পর্যন্ত নেওয়া যায়। প্রশ্ন হলো, অস্ত্রভাণ্ডারের প্রকৃত মজুত, বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর, যেমন প্যাট্রিয়ান বা এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান হারে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অভিযান অনির্দিষ্টকাল চালানো সম্ভব নয়, সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের বেশি এটা চালানো যাবে না।

এর আগে গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতে একই ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তখন ধারণা করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মজুত কমে আসছে।

এই ইন্টারসেপ্টরগুলোর কিছু ইউক্রেন ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল। সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে অন্য অঞ্চলে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া এগুলো দ্রুত উৎপাদন করাও সম্ভব নয়।

প্রেবল বলেন, ‘একটি প্যাট্রিয়ান বা এসএম-৬ অনেকগুলো জটিল প্রযুক্তির সরঞ্জাম। এগুলো দিনে শত শত বা হাজার হাজার তৈরি করা যায় না। এছাড়া উৎপাদনের গতি খুব বেশি নয়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রকৃত খরচ নির্ভর করবে এর সময়কাল, সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং অস্ত্র মজুতের ওপর। অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চালাতে পারলেও, দীর্ঘমেয়াদে অস্ত্রভাণ্ডারের চাপই হতে পারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ নির্যাতনে হত্যা

বগুড়া শহরের সাবগ্রাম এলাকায় ‘মায়ের আশ্রয়’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কেন্দ্রে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অসুস্থ অবস্থায় সামিউলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সামিউল বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জনতা ব্যাংক শাখার সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের শফিউল্লাহর ছেলে।

ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাময় কেন্দ্রের দুই কর্মচারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুভর ভগ্নিপতি এটিএম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামিউল মানসিক রোগী ছিলেন। আমরা সুস্থ অবস্থায় ভর্তি  করেছিলাম। তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।’

তবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

বগুড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিল্লুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সামিউল দীর্ঘদিন গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলে আসক্ত ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে ডিটক্সিফিকেশনের জন্য গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ওই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। 

সিসিটিভি ফুটেজ ও কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল দুপুরের পর থেকে সামিউল খাবার খাচ্ছিলেন না। ইফতারের সময়ও তিনি কিছু খাননি। পরে নিস্তেজ হয়ে পড়লে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজি করার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জিল্লুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যৌথ তদন্ত চলছে। যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অধিদপ্তরের বিধান অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ওসি মনিরুল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রাতেই দুই কর্মচারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিবের কাছে যেসব প্রত্যাশা

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন। আমাদের বিশ্বাস, পূর্বতন ব্যক্তি এই পদের যে মর্যাদাহানি করেছিলেন, তার অনেকটাই তিনি ফিরিয়ে আনবেন।

নির্ভরযোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা, শালীনতা এবং দলের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের ‘মূর্ত প্রতীক’ হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন মির্জা ফখরুল। আমরা স্মরণ করতে পারি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে কী ভয়াবহ নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভীসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার মতো তাকেও জামিন না পেয়ে মাসের পর মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্ধারণ না করে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলীয় প্রধানের ওপর ছেড়ে দেয়। আর এভাবেই দলের নেতারাই দলীয় প্রধানকে অতিমাত্রায় ক্ষমতাবান করে তোলেন। এখানে তারেক রহমানও সবার মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি নীতিনিষ্ঠ ও প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতেন। সেক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিবেচনায় সহজেই অনুমেয়, সবাই দলীয় প্রধানের পছন্দটি আঁচ করে সেই অনুযায়ীই নিজেদের মতামত দিতেন। তাতে ফলাফল হয়তো একই থাকত, কিন্তু সেটা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত বলে প্রতিষ্ঠিত হতো। অথচ, এমন একটি প্রত্যাশিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ হাতছাড়া হলো।

মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির শূন্য পদটিতে কে বসবেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছিল। বিভিন্নজনের ব্যক্তিগত যোগ্যতা, দলীয় আনুগত্য, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যসহ আরও নানা ধরনের মাপকাঠিতে কে এগিয়ে তা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু, আওয়ামী লীগের কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতা, কোনো সাবেক বা কর্মরত আমলা কিংবা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতদের কেউ মো. সাহাবুদ্দিনের নাম বলেননি বা এই নাম নিয়ে কোথাও আলোচনা হয়নি। অথচ, তিনিই রাষ্ট্রপতি হলেন। কোনো সরকারি বা দলীয় যাচাই-বাছাই কিংবা উন্মুক্ত বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাকে বেছে নেওয়া হয়নি। তিনি ছিলেন একজনের ব্যক্তিগত পছন্দ। দেশের তৎকালীন স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থায় শেখ হাসিনা কতটা খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন, তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ এটি।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে তা হলো, দলটির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন? গতকাল বৃহস্পতিবার দলটি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করেছে। নতুন মহাসচিব কে হতে পারেন, সেটা জানতে হয়তো আমাদের দলটির পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি প্রধান ও দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সামনে এমন একজন মহাসচিব বেছে নেওয়ার সুযোগ এসেছে, যিনি বর্তমানের বিশাল ও নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত। মির্জা ফখরুলের মেয়াদের বেশিরভাগ সময় কেটেছে শেখ হাসিনার আক্রমণ মোকাবিলা করে এবং দলটি ভাঙার জন্য যত চাপ ও প্রলোভন দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি এই কঠিন দায়িত্ব সফলভাবেই পালন করেছেন।

তার উত্তরসূরিকে দল গড়তে হবে ভিন্ন ধারায়, যাতে জাতি গঠনের চেতনায় নারী, তরুণ, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত হয়। আমরা যে উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছি, সেখানে এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। নতুন মহাসচিবকে জেন-জি প্রজন্মের আস্থা অর্জন করতে হবে, যারা একটি সরকার উৎখাতের সক্ষমতা দেখিয়েছে। পাশাপাশি নতুন মহাসচিবকে অত্যন্ত সুসংগঠিত বিরোধীদলের মোকাবিলা করতে হবে, যাদের পরিচিত ও অপরিচিত নেটওয়ার্ক ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আমাদের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভুলে গেলে চলবে না, যেখানে বিরোধীদল কেবল ‘বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা’ করে ক্ষমতাসীন দলের ইতিবাচক উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত করেছে।

একইসঙ্গে, কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে স্বার্থান্বেষী মহলগুলোর সেই দলে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। কারণ, চারদিকে তখন ‘সুবিধা’ পাওয়ার সুযোগ থাকে। এমনকি পুরোনো ও অভিজ্ঞ তৃণমূল নেতারাও সেইসব লোকজন নিয়েই নিজেদের পাল্লা ভারী রাখেন, যাদের অর্থায়ন এসব স্বার্থান্বেষী মহল থেকেই আসে—সেটা ব্যক্তিগত অর্থায়ন হোক বা দলীয়।

নতুন মহাসচিব বেছে নেওয়ার আগে দলটির সাবেক মহাসচিবদের ভূমিকার ইতিহাস খতিয়ে দেখা প্রাসঙ্গিক হবে বিএনপি প্রধানের জন্য। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এরপর এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, কে এম ওবায়দুর রহমান, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এই দায়িত্ব পালন করেন। মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গঠনের সময় তার ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বেছে নিয়েছিলেন। এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ এবং এখান থেকে শেখার মতো অনেক কিছু আছে। মহাসচিব হিসেবে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এমন অনেক কাজ স্বাধীনভাবে করার সুযোগ পেয়েছিলেন, যা পরবর্তী মহাসচিবরা পাননি। শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে ছিল প্রকৃত অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা। দলীয় প্রধানের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সঙ্গে তার ডেপুটির রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও যোগাযোগ দক্ষতার সমন্বয় ছিল। বিএনপিতে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর শেষ দিনগুলো সুখকর না হলেও প্রতিষ্ঠাকালীন দিনগুলো ছিল ভিন্ন।

এখান থেকে তারেক রহমানের যে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন তা হলো, কেবল সহমত পোষণ করা কাউকে নয়, তার একজন আন্তরিক অংশীদার দরকার। এমন একজন দরকার, যিনি জাতি গঠনের চেতনায় দলকে নতুন করে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবেন। এমন একজন যার নিজস্ব ধারণা আছে এবং তা বাস্তবায়নের সক্ষমতাও আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পরবর্তী মহাসচিবের ভিন্নমত প্রকাশের সেই অপরিহার্য ও নৈতিক সাহস থাকতে হবে। সেটা বিরোধিতার মাধ্যমে নয়, বরং বিকল্প পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে। সেই পরামর্শ দেওয়ার স্বাধীনতা তাকে অবশ্যই দেওয়া উচিত।

তারেক রহমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ধারাটি শুরু করতে পারেন তা হলো, দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্বকে আলাদা করা। ঐতিহাসিকভাবেই ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হওয়া আমাদের দেশে যেন অনিবার্য। এত মন্ত্রণালয় থাকতে এই মন্ত্রণালয়টিই কেন? কারণ হতে পারে, দেশজুড়ে এই মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং এর বাজেটও অনেক বড়। এই অর্থের একটি বড় অংশ তৃণমূল পর্যায়ে নানা ধরনের অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। গ্রাম উন্নয়নের কাজও সাধারণত এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা হয় এবং এভাবেই সর্বত্র দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই চর্চা স্পষ্টতই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ‘স্বজনপ্রীতি’র আখড়ায় পরিণত করে, যা আসলে ছদ্মবেশী দুর্নীতি ছাড়া আর কিছুই না। দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জনগণের অর্থের এই মিশ্রণের কারণেই প্রতিটি ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তায় ধস নামার সূচনা হয়। ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিবের দায়িত্বটাকেই তার জন্য পূর্ণকালীন পদে পরিণত করা উচিত। প্রোটোকলের জন্য প্রয়োজনে তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মন্ত্রণালয় নয়।

এই জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিপর্যয়কর ব্যর্থতা থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। শেখ হাসিনা বহু প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন এবং আওয়ামী লীগ ছিল তার মধ্যে অন্যতম। দলটির পুরো কাঠামো ধসিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল দলীয় প্রধানের হাতে। বছরের পর বছর আমরা দেখেছি, দলটির সর্বোচ্চ ফোরাম বৈঠকে বসেছে এবং তাদের সিদ্ধান্ত হলো, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা নেবেন। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী নেতৃত্বের কাঠামো ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান নতুন মহাসচিব হিসেবে কাকে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বেছে নেবেন, তা অনেক কিছুই প্রকাশ করবে এবং দলের ভবিষ্যৎ গতিপথও নির্ধারণ করবে। বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। সেখানে দলের প্রধানকে দলীয় নেতৃত্বের যেকোনো স্তরে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। সময়ের সঙ্গে তারেক রহমান ধীরে ধীরে দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন কি না, সেটা নতুন বাংলাদেশ গড়তে তার স্বপ্নের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করবে। দলীয় নেতাদের কাজ করার জন্য আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে এবং একইসঙ্গে, তারা যেন জবাবদিহিতার আওতায় থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল যুগে এটি সহজেই করা সম্ভব।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে আত্মস্থ করার মতো অনেক কিছু আছে। ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণের প্রতি জনগণের মধ্যে স্বাভাবিক অনীহা রয়েছে। মানুষের স্মৃতি যত ক্ষণস্থায়ীই হোক, কিছু মৌলিক মূল্যবোধ তারা ধরে রাখে। নতুন করে বাংলাদেশ গড়ার জন্য তারেক রহমানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজের দলকে ভিন্নভাবে গড়ে তোলার দৃষ্টান্তও থাকতে হবে। আর সেটার শুরুটা হওয়া উচিত নতুন মহাসচিব নিয়োগের মাধ্যমে।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

উন্নত এআই ছাড়াও গুগল পিক্সেল ১১ সিরিজে আরও যেসব নতুন ফিচার

বাজারে পিক্সেল ১১ সিরিজের নতুন চারটি স্মার্টফোন আনছে গুগল। নতুন মডেলগুলো হলো—পিক্সেল ১১, পিক্সেল ১১ প্রো, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল ও পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড।

এবারের সিরিজে হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি আরও উন্নতমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জেমিনাই, নতুন নিজস্ব প্রসেসর এবং অত্যাধুনিক ক্যামেরাকে গুরুত্ব দিয়েছে গুগল।

চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে গুগলের বার্ষিক হার্ডওয়্যার ইভেন্ট ‘মেড বাই গুগল’ অনুষ্ঠানে পিক্সেল ১১ সিরিজের এই নতুন স্মার্টফোন উন্মোচন করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২৮ জিবি স্টোরেজের সংস্করণ বাদ দিয়েছে গুগল। পিক্সেল ১১ মডেলে ন্যূনতম স্টোরেজ থাকছে ২৫৬ জিবি। বেড়েছে দামও। আগের সিরিজের তুলনায় প্রায় ১০০ ডলার করে বেড়েছে পিক্সেল ১১ সিরিজের ফোনের দাম।

কারণ হিসেবে বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে গুগল।

২০ আগস্ট থেকে ফোনগুলো বাজারে পাওয়া যাবে। ১২ আগস্ট থেকে গুগল স্টোর, অ্যামাজন ও বেস্ট বাইয়ে প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে।

নতুন সিরিজের দাম

পিক্সেল ১১—৮৯৯ ডলার
পিক্সেল ১১ প্রো—১ হাজার ৯৯ ডলার
পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল—১ হাজার ২৯৯ ডলার
পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড—১ হাজার ৮৯৯ ডলার

প্রতিবেদনে বলা হয়, পিক্সেল ১১ সিরিজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘জেমিনাই ইন্টেলিজেন্স’। আগের তুলনায় এটি এখন আরও স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কাজ করতে পারবে।

গুগলের দাবি, ৪০টির বেশি অ্যাপে একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে জেমিনাই। যেমন: মুদি পণ্য অর্ডার করা, রাইড বুক করা, রিজার্ভেশন পরিচালনা করা কিংবা কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহারকারীর হয়ে ফোন করা।

ব্যবহারকারী চাইলে যেকোনো সময় এআইয়ের কাজ থামিয়ে নিজে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।

এআই সুবিধাগুলো চালানোর জন্য গুগল ব্যবহার করেছে নতুন ‘টেনসর জি৬’ চিপ। এটি গুগলের নিজস্ব তৈরি এবং অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ব্যবহৃত প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গুগলের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের চিপের তুলনায় এতে ৫০ শতাংশ বেশি মেশিন-লার্নিং ক্ষমতা রয়েছে।

এআই ছাড়া নতুন সিরিজে রয়েছে ন্যূনতম ১২ জিবি র‌্যাম। আর ব্যাটারি ব্যাকআপ ৩০ ঘণ্টার বেশি বলে দাবি করেছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ১৫ মিনিট চার্জ দিয়ে ব্যবহার করা যাবে প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত।

কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এই সিরিজের ক্যামেরা অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ‘ক্রিয়েটর স্যুট’। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ফ্রেমিং গ্রিড, স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রল করা এবং ভিডিওকে প্রজেক্টভিত্তিক ফোল্ডারে সাজানোর সুবিধা থাকবে।

এছাড়া পিক্সেল ১১ প্রো ও প্রো এক্সএল মডেলে রয়েছে ইনস্ট্যান্ট নাইট সাইট। গুগলের দাবি, এটি আগের সংস্করণের তুলনায় কম আলোয় ছবি ৪ দশমিক ৫ গুণ দ্রুত তুলতে পারবে, একইসঙ্গে ছবির মানও ধরে রাখবে।

মূল ক্যামেরাটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের, যা আগের সিরিজের চেয়ে ৫৬ শতাংশ বেশি আলো গ্রহণ করতে পারে।

পিক্সেল ১১ সিরিজের পাশাপাশি গুগল পিক্সেল ওয়াচ ৫ এবং তাদের প্রথম নিজস্ব আইটেম ট্র্যাকার পিক্সেল ট্যাগও উন্মোচন করেছে।

পিক্সেল ট্যাগে আলট্রা-ওয়াইডব্যান্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কাছাকাছি অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। চলতি বছরের শেষদিকে বাজারে আসার কথা এই ডিভাইসটির।

পিক্সেল ১১ সিরিজের প্রতিটি ফোনে সাত বছর পর্যন্ত অপারেটিং সিস্টেম, নিরাপত্তা ও পিক্সেল ড্রপ আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গুগল। পিক্সেল ৮ সিরিজ থেকে প্রতিষ্ঠানটি এই দীর্ঘমেয়াদি আপডেট নীতি অনুসরণ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পিক্সেল ১১ সিরিজকে এখন পর্যন্ত গুগলের সবচেয়ে বেশি এআই-কেন্দ্রিক স্মার্টফোন সিরিজ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘আমার গলা ভেঙে গেছে’, মহাকাব্যিক জয়ের পর কেইন

শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলারের শেষ বাঁশি যখন বাজল, ইংল্যান্ডের গোটা দল যেন বাঁধনহারা। আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে চিৎকার করে, গান গেয়ে গলাও ভেঙে ফেলেছেন দলটির অধিনায়ক হ্যারি কেইন। জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত জোড়া গোলের পাশাপাশি পেনাল্টিতে গুরুত্বপূর্ণ গোল যে তিনিও করেছেন। পাগলাটে ম্যাচে এগোনোর পথ বের করতে পেরে কেইনদের উচ্ছ্বাস যেন অন্য মাত্রার।

ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর পর ভাঙা গলায় কেইন বলেন, ‘আমি কেবল গানই গাইছিলাম, এখন ঠিকমতো কথা বলতে পারছি না।’

‘এটি পাগলাটে ম্যাচ ছিল। আমাদের লড়াই করতে হয়েছে এবং নতুন কিছু খুঁজে বের করতে হয়েছে। পরিবেশ, প্রতিপক্ষ দল, সবকিছু আমাদের বিপক্ষে ছিল, তবুও আমরা একটা পথ বের করে নিয়েছি।’

প্রথমার্ধের মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর দুই গোল করে বেলিংহাম চালকের আসনে বসান ইংল্যান্ডকে। হাল না ছেড়ে মেক্সিকো এক গোল শোধ দেয়। এরপর জ্যারেল কোয়ান্সাহ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে, কেইন ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের দুই গোলের ব্যবধান ধরে রাখেন।

তবে রাউল হিমেনেসের পেনাল্টি ম্যাচটিকে এক উন্মাদনাপূর্ণ সমাপ্তির দিকে নিয়ে যায়। স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-২। যেকোনো মুহূর্তে সমতায় ফিরে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিতে মরিয়া ছিল মেক্সিকো। ৮০ হাজারেরও বেশি স্থানীয় সমর্থকের সামনে মেক্সিকোর স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিতে থ্রি লায়ন্সরা ১১ মিনিটের ইনজুরি টাইমে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে জয় ধরে রাখে।

ম্যাচের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেইন। মেক্সিকোর দ্বিতীয় পেনাল্টি গোলের উৎস যে চ্যালেঞ্জটি ছিল, সেটির জন্য তাকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল বলটি আমিই আগে পেয়েছিলাম, দিনটি এমনই ছিল। রেফারি আমাদের বিপক্ষে অনেক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর কোনো প্রভাব ফেলেনি। তাই আমি খুশি।’

ম্যাচের শেষ দিকটা যদি ইংল্যান্ডের স্নায়ুর পরীক্ষা নিয়ে থাকে, তবে ম্যাচ শেষের উদযাপনই বলে দিচ্ছিল তারা কত বড় একটি গৌরব অর্জন করেছে। আসতেকার সেই প্রতিকূল সন্ধ্যায় পুরো ম্যাচ জুড়ে গ্যালারি কাঁপানো ইংল্যান্ড সমর্থকদের জন্য বিশেষ প্রশংসা তুলে রাখেন কেইন।

তিনি বলেন, ‘অসাধারণ, অবিশ্বাস্য সমর্থন। [আমি] ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।’

উচ্চতা ও বাতাসের চাপ, প্রতিপক্ষের একতরফা সমর্থক এবং আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ১০ জন নিয়ে খেলার মতো বড় ধাক্কা সামলে ওঠার পর ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল তার দলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

টুখেল বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত।’

‘আমাদের সবটুকু ঢেলে দিতে হয়েছিল। এটি অত্যন্ত কঠিন ছিল। যে মুহূর্তে আমরা ভেবেছিলাম ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে চলে এসেছে, ঠিক তখনই আমরা ধাক্কা খেয়েছি। পরে ফিরে এসেছি।  এটাই আসল মানসিকতা।’

এই জার্মান কোচ বিশ্বাস করেন, চাপের মুখে ভেঙে না পড়ার এই জেদই এখন ইংল্যান্ড দলের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে, ‘এই দলটি সত্যিই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরিস্থিতি যখন কঠিন হয়ে ওঠে, তারা কখনো হাল ছাড়ে না, বিশ্বাস হারায় না। এটি ছিল আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।’

‘আমাদের এটি মনে গেঁথে নিতে হবে। এটি আসতেকা, এটি মেক্সিকো, একটি পাগলাটে ম্যাচ। আমরা আমাদের সবকিছু মাঠে ঢেলে দিয়েছি, আমাদের প্রতিটি সদস্য। এই অনুভূতি আমাদের ধরে রাখতে হবে, এখন আমাদের পুরো শক্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।’

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ব্রাজিলকে বিদায় করে আসা নরওয়ের মুখোমুখি হবে।

 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এসেছে রেকর্ড ৩৫.৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ছুটির কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য না আসায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রেমিট্যান্সের তথ্য সাময়িক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি কিছুটা কমে যাওয়ার পরও রেকর্ড প্রবাসী আয়ের কারণে এ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক লেনদেন গতিশীল ছিল।

তবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলায় ২৭ শতাংশ বেশি ছিল।

গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—২ থেকে ৯ জুলাই রাজধানীতে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় এবং অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া; ১৬ জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে ঢাকার দুই মহানগরীর উদ্যোগে পৃথক আলোচনা সভা; ১৮ থেকে ৩১ জুলাই সারা দেশে শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় এবং স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া; ১ আগস্ট মহানগর, জেলা ও উপজেলায় গণমিছিল; ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১১ দলের উদ্যোগে রাজধানীসহ সারা দেশের সমাবেশ ও মিছিলে সমর্থন ও অংশগ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জামায়াতের মহিলা বিভাগ ও ছাত্রসংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করবে। পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ফোরামের কর্মসূচিতেও দলটি অংশ নেবে।

পরওয়ার বলেন, দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জামায়াতের তিনটি দাবি থাকবে। এগুলো হলো—গণঅভ্যুত্থানের খুনি ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম, আবদুল হালিম ও হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

নিজেকে অসম্ভব সৌভাগ্যবান মনে করি: অপূর্ব

জিয়াউল ফারুক অপূর্ব—দেশের টেলিভিশন নাটকের শীর্ষস্থানীয় তারকাদের একজন। তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পুরোটাই যেন সাফল্যের জোয়ারে ভাসছে। ‘বড় ছেলে’সহ অসংখ্য সুপারহিট নাটক উপহার দিয়েছেন তিনি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছেন। এমনকি ওপার বাংলায় কলকাতার সিনেমায় অভিনয় করেও কুড়িয়েছেন প্রশংসা।

এবারের ঈদে অপূর্বর অভিনীত দুটি নাটক প্রচার হবে। এর মধ্যে একটি তানিম রহমান অংশু পরিচালিত ‘অচেনা আমি’ এবং অন্যটি জাকারিয়া সৌখিন পরিচালিত ‘মায়া পাখি’।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পথচলা, প্রাপ্তি, সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক এবং শিল্পের প্রতি তার ভালোবাসার কথা উঠে এসেছে এই আলাপচারিতায়।

অভিনয়জীবনে এতটা পথ পাড়ি দেওয়ার পর নিজেকে কতটা সৌভাগ্যবান মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অপূর্ব বলেন, ‘আমি নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান অভিনেতা মনে করি। অসম্ভব সৌভাগ্যবান একজন শিল্পী। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছেন, কিন্তু খুব অল্পসংখ্যক মানুষই অন্যের কাছ থেকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পান। গুটি কয়েক মানুষ এই ভালোবাসা ও সম্মান পান। তাদের মধ্যে অভিনয়শিল্পী আছেন, গানের শিল্পী আছেন, খেলাধুলার মানুষেরা আছেন। এ দেশের মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন, তা সত্যিই বিরল।’

ক্যারিয়ারের শুরুতে সিনিয়র শিল্পীদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন অপূর্ব। তিনি বলেন, ‘নতুন অবস্থায় আমি বড় বড় তারকার সঙ্গে কাজ করেছি। তারা সবাই আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন। প্রথমেই বলতে হয় গাজী রাকায়েত ভাইয়ের কথা। তার পরিচালনায় কাজ করে শুরুর দিকে অনেক কিছু শিখেছি। সহশিল্পী হিসেবেও তার কাছ থেকে শেখার সুযোগ হয়েছে।’

একটা সময় তারিন ও অপি করিমের বিপরীতে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন অপূর্ব। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, তারিন আপুর বিপরীতে একটা সময়ে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছি, যা দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছিলেন। অপি করিমের সঙ্গেও অনেক নাটক করেছি। মাহফুজ আহমেদ ভাইয়ের সঙ্গেও অনেক কাজ হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই আমি অনেক সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি।’

পরিচালকদের কথা বলতে গিয়ে চয়নিকা চৌধুরীর নাম আলাদা করে বলেন অপূর্ব। এ ছাড়া ফেরদৌস হাসান রানা ও শিহাব শাহীনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সমসাময়িক সহশিল্পীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হিল্লোল, মম বা মিলন ভাইয়ের কথা বলতেই হয়। শুটিংয়ের সময় সংলাপ দিতে কোনো সমস্যা হলে তারা আমাকে তা শুধরে দিতেন। একটা শুটিং সেটে এটা অনেক বড় বিষয়।’

প্রায় দেড় দশকের ক্যারিয়ারে অপূর্বর বিপরীতে অনেক নতুন বা জুনিয়র শিল্পী অভিনয় করেছেন। তাদের মুখেও প্রায়ই অপূর্বর প্রশংসা শোনা যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুনিয়রদের প্রতি আমার অগাধ সম্মান ও ভালোবাসা আছে। তারাও আমাকে অনেক সম্মান করেন। আমার জার্নিটা খুব পজিটিভ। তাই আমি যেমন সিনিয়রদের সম্মান করি, তেমনি জুনিয়রদেরও ভালোবাসি। এই ভালোবাসার জায়গাটা আসলে পারস্পরিক সম্মানের।’

পুরোনো দিনের সহশিল্পীদের কথা মনে পড়লে তিনি আজও তাদের ফোন করেন। অপূর্ব বলেন, ‘হঠাৎ করেই অনেক সময় সিনিয়র শিল্পীদের ফোন করি। তাদের যখনই মিস করি, ফোন করে খোঁজ নিই। একসময় তারা প্রচুর কাজ করতেন, এখন হয়তো করছেন না, কিন্তু তাদের মনে পড়ে।’

অনেক বছর আগে ‘ব্যাকডেটেড’ নামের একটি টেলিফিল্ম পরিচালনা করেছিলেন অপূর্ব। এরপর আর কখনো পরিচালনায় আসেননি। এর কারণ জানতে চাইলে তার উত্তর, ‘আমি একজন অভিনেতা এবং অভিনয়কেই ভালোবাসি। মূলত কাজের ব্যস্ততার কারণেই পরে আর পরিচালনা করা হয়ে ওঠেনি।’

দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের প্রসঙ্গে অপূর্ব বলেন, ‘আমাদের একজন গোলাম মুস্তাফা ছিলেন, একজন সৈয়দ আহসান আলী সিডনী ছিলেন। আলী যাকের ছিলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন, আতিকুল হক চৌধুরী ছিলেন। এখনো ফেরদৌসী মজুমদার, দিলারা জামান, ডলি জহুর, মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত, আফজাল হোসেনের মতো মানুষেরা আছেন। তারা প্রত্যেকেই একেকটি প্রতিষ্ঠান। দেশের শিল্পে তাদের এই অবদান ভোলা সম্ভব নয়।’

মাইলফলক ‘বড় ছেলে’

অপূর্বর ক্যারিয়ারে ‘বড় ছেলে’ নাটকটি একটি মাইলফলক, যা দেশের নাটকের ইতিহাসে রেকর্ড গড়েছিল। ওই নাটকের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেন, ‘বড় ছেলে নাটকের কথা মানুষ এখনো বলে। এটা আমার অভিনয়জীবনের অনেক বড় একটি অর্জন। সে সময় অনেক ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য দর্শক দেখা করে তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। একজন তরুণ আমাকে বলেছিলেন, “আপনার নাটক দেখে শিখেছি, বাবা-মাকে আর কখনো জ্বালাব না।” তখনই বুঝেছিলাম, নাটকটি মানুষের মনে চিরকাল গেঁথে থাকবে।’

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ‘পারিবারিক’ ঘরানার নাটক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘আমাদের গল্প’ নাটকের প্রসঙ্গ টানেন। অপূর্ব বলেন, ‘এই নাটকটি দেখার পর আমি পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ ও অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদকে ফোন করেছিলাম। এটি আমাদের কাঁদিয়েছে। এটি আমাদের নিজেদের গল্প, ভীষণ ইমোশনাল একটি গল্প।’

এত সব পেশা থাকতে অভিনয়েই কেন এলেন? অপূর্বর উত্তর, ‘পৃথিবীতে খুব কম সৌভাগ্যবান মানুষ আছেন, যারা লাখ লাখ মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সম্মান পান। আমি দেখেছি, অভিনয়শিল্পীরা সেই ভালোবাসা পান। অভিনয়ের প্রতি আমার শুরু থেকেই একটা টান ও ভালোবাসা ছিল, যা এখনো আছে। আর সে কারণেই আমি অভিনয়ে এসেছি।’

হরমুজ প্রণালি বন্ধ: ইরান

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সেই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছে দেশটি।

আজ মঙ্গলবার ইরানের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোয় বলা হয়—ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, সব ধরনের নৌযানের জন্য ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ পথে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে।

ইরানে গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল সোমবার বিপ্লবী বাহিনীর কমান্ডারের উপদেষ্টা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেন। কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ‘জ্বালিয়ে’ দেওয়া হবে।

 

ইরানি বিপ্লবী বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, ‘প্রণালি এখন বন্ধ। যদি কোনো জাহাজ এখান দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করে তাহলে বিপ্লবী রক্ষী ও নৌ সেনারা সেগুলো পুড়িয়ে দেবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আহমেদ ওয়াহিদির পূর্বসূরি মোহাম্মদ পাকপৌর নিহত হন।

সেই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তাও মারা যান।

 

সেদিন থেকেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের জল্পনা চলছিল।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে—নৌপথে বহন করা বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ এবং সিএনজির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। 

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা—এই নৌপথ বন্ধ হলে তা তেল খাতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ইরানের দক্ষিণ সীমান্তের এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও ইরান জ্বালানি তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে।

মূলত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে এশিয়ার অন্যান্য দেশে তেল-গ্যাস রপ্তানি করা হয়।

ইতিহাস বলছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাণিজ্য বড় ধরনের ধাক্কা খায়।

বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ন্যুবার্জার বেরমান-এর জ্যেষ্ঠ পোর্টফোলিও ম্যানেজার হাকান কায়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের প্রভাবকে খাটো করে দেখার উপায় নেই।’

তার মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে তেল প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান হবে। তবে এক-দুই সপ্তাহ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলে যে লোকসান হবে, বহন করতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে যদি এক মাস বা এর বেশি সময় এটি বন্ধ থাকে, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাবে।

গত সোমবার ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৭০ ডলার।

বেরমানের আশঙ্কা, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই এই দাম ১০০ ডলার ছুঁয়ে যেতে পারে।’

এর ফলে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বাড়বে বলে মত দেন এই বিশেষজ্ঞ।

পারস্য উপসাগরের সঙ্গে ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালি হিসেবে পরিচিত। সবচেয়ে অপ্রশস্ত অংশে এর প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার (২১ মাইল)।

 

তবে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে তৃতীয় দেশ থেকে তেল রপ্তানি করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, ‘হরমুজ দিয়ে রপ্তানি হওয়া বেশিরভাগ জ্বালানির জন্য এ অঞ্চলে কোনো বিকল্প নেই।’

হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেখা দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার নজির আছে। বিশেষত, গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় এমনটা দেখা গেছে।

তথ্য-বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার এক এক্স-পোস্টে জানিয়েছে, ‘প্রণালিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি। তবে সেখানে তেলের ট্যাংকার চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।’

প্রণালির উভয় পাশে একাধিক জাহাজের ওপর হামলার তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের নৌ-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র।
একটি নৌ-ড্রোন ওমান উপসাগরে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। এতে অন্তত এক নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওমান।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পূর্ব দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ওই জাহাজটি।

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে তদন্ত করবে ইসি, আশা বদিউল আলম মজুমদারের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু ব্যত্যয় ঘটেছে এবং দলগুলো ফলাফল মেনে নিয়েছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। ‘সুজনের দৃষ্টিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এই নির্বাচনকে এক কথায় কীভাবে মূল্যায়ন করবেন—জানতে চাইলে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা যতটুকু দেখেছি, এই নির্বাচনে যারা ভোট দিতে চেয়েছে, তারা দিতে পেরেছে। মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু অসঙ্গতি ছিল, কিছু অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং সর্বোপরি সবগুলো দল ফলাফল মেনে নিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দুইভাবে হতে পারে—একটা নির্বাচনের দিন পর্যবেক্ষণ। আরেকটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষণ— সঠিক আইনি কাঠামো আছে কিনা, ভোটার তালিকা ঠিক আছে কিনা, যারা প্রার্থী হতে চান তারা প্রার্থী হতে পারছেন কিনা, কাউকে বাধা দেওয়া হয়েছে কিনা, প্রার্থীদের তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছেছে কিনা ইত্যাদি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কারসাজিমুক্ত কিনা। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়াটা যদি সঠিক না হয়, শুধু নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণ হলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য অনেক সময় হয় না।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা এবার পুরো প্রক্রিয়াটা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমাদের ভলান্টিয়াররাও ছিল। অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা আমরা তুলে ধরেছি। আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। ইসি অঙ্গীকার করেছে যে, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে তদন্ত করতে পারে। আশা করি তারা তদন্ত করবে। কেউ হলফনামায় ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে সেগুলোও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে এটাও আশা করি।’

এর আগে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। নির্বাচন একদিনের বিষয় নয়। এটা শুরু হয় আইনি কাঠামোর যথার্থতা নিয়ে। আইনি কাঠামো সঠিক হলে সঠিক নির্বাচনের পথ সুগম হয়। যেমন আগের সরকারের আমলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনটি দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছিল, যা কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি করেনি।’

তিনি বলেন, ‘তেমনিভাবে আরও অনেকগুলো বিষয়ে সঠিক আইনি কাঠামো থাকতে হবে এবং ওই আইনি কাঠামোগুলো পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে। তাহলেই কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব করেছিলাম। এগুলো যদি গৃহীত হতো, তাহলে যেসব প্রশ্ন উঠেছে সেগুলো এভয়েড করা যেত।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ঋণখেলাপিদের নিয়ে আমরা বলেছিলাম, নির্বাচনের ছয় মাস আগে ঋণখেলাপিদের রেগুলারাইজ করতে হবে এবং যারা অভ্যাসগত ঋণখেলাপি তাদের কোনোভাবেই যেন নির্বাচনে অংশ নিতে সুযোগ দেওয়া না হয়। এটা করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে অনেকের অভিযোগ আছে যে, কারসাজির মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়। আমরা বলেছিলাম, ১ শতাংশের পরিবর্তে ৫০০ ভোটারের স্বাক্ষর নিতে হবে এবং এগুলো একক বা একাধিক হলফনামার মাধ্যমে দেওয়া যাবে। তাহলে আর এই প্রশ্নগুলো উঠতো না।’

সুজন সম্পাদক বলেন, ‘আর এই যে ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, এসব ব্যাপারেও আমরা আগে বলেছি, নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের সুপারিশগুলো আইনে অন্তর্ভুক্ত করত, তাহলে এগুলো এড়ানো যেত। এগুলো নিয়ে এখনো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।’

অবশ্য নির্বাচন কমিশন যখন গেজেট করে ফেলে তখন তাদের আর করার কিছু থাকে না। তখন তা আদালতের এখতিয়ারে তা চলে যায় বলে জানান তিনি।

বদিউল আলম বলেন, ‘আমি আশা করি, যেসব প্রশ্ন এর মধ্যে উত্থাপিত হয়েছে, যেমন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব—এই বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এ বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার পরও অভিযোগ ওঠে যে, হলফনামায় তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন, তথ্য গোপন করেছেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে ওই নির্বাচন বাতিল করতে পারে।’

এসব নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার সুযোগ আছে বলেও জানান তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটা আপনাদের জন্য একটা সুযোগ। কেউ যদি এসব নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে থাকেন, …আমাদের উদ্দেশ্য তো আমরা কারও পক্ষেও নই, কারও বিপক্ষেও নই।’

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব আমলে নেওয়া হয়নি, জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের পর বিএনপি শপথ নেয়নি—ব্যক্তিগতভাবে আপনি হতাশ কিনা, দেড় বছর সময় নষ্ট হলো কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এতে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি, তাদের (বিএনপি) যে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে… যেহেতু সেই আদেশ জনগণ অনুমোদন করেছে, ৪৮টি বিষয় জনগণ গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করেছে। আমি মনে করি, শপথ না নেওয়ার কারণে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল বলেছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পূর্ণভাবে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং গণভোটে যা পাস হয়েছে, তারাও এটা বাস্তবায়ন করবে বলে সুস্পষ্টভাবে বলেছে। এখন অপেক্ষা করতে হবে।’

বিএনপি যদি গণভোট ও জুলাই সনদকে সংসদে অনুমোদন না দেয়, সেক্ষেত্রে কী সংকট তৈরি হবে—সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা পরবর্তীতে মতামত তুলে ধরব। আজকে আমরা নির্বাচন নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন বৈধ নয়—অপর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এই ব্যাখ্যাও আপনাদের দিতে হবে। নির্বাচন নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন আছে কিনা।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন।

তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার বিভিন্ন ধাপে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। যদিও কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে নিবাচনটি গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে, তবে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য আরও বিশদ পর্যালোচনা প্রয়োজন।’

একরাম হোসেন আরও বলেন, ‘নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের সক্ষম হলেও কিছু কিছু বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, আমরাও কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছি।’