26 C
Dhaka
Home Blog

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য টেনে সরকারের ‘নৈতিকতা’ নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদলীয় নেতার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ এবং পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের পাঁচ মাসে দুর্নীতি কমার বদলে বেড়েছে বলে বিএনপির মহাসচিব নিজেই স্বীকার করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন জামায়াত আমির।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ ও নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পরও রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি দেখছি যে কিছুই বদলায়নি।’ তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে পরিবর্তনের চেষ্টা দেখছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাদের দলের একজন সিনিয়র নেতা কালকে বলেছেন, পাঁচ মাসের এই সরকারের সময় দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি, বরং দুর্নীতি বেড়েছে। তিনি আরও বলেছেন, তার বাসায় সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত, একজন ছাড়া—তিনি তারেক রহমান। আমি বুঝলাম না, প্রধানমন্ত্রী চাইছেন না অথচ সবাই দুর্নীতি করছে, এটা কীভাবে হয়?’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা দেখি তার (প্রধানমন্ত্রী) ইশারায় সব কিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন? ব্যর্থতার দায় যখন নিজেরাই স্বীকার করছেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে কি না, সেটাই প্রশ্ন।’

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার কার্যত চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু নেওয়া হলে সেটিকে চাঁদা বলা যাবে না।’ এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় চাঁদাবাজিকে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

জামায়াত আমির বলেন, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি; বরং শ্রমিকেরা এখনো নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হচ্ছে, গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘চাঁদাবাজদের হাতে পরিবহনশ্রমিকেরা নাজেহাল হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। কারা করছে, সেটি পরিষ্কার—সরকারি দলের লোকেরাই করছে।’

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি নির্মূল করুন, দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন করুন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী চললে দেশের ১৮ কোটি মানুষ সরকারকে সহযোগিতা করবে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে চললে জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন। শহীদদের কোনো দলীয় সম্পত্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়; তারা পুরো জাতির সম্পদ।

সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘পরিশুদ্ধ হন, সৎ পথে চলুন, দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন করুন, চাঁদাবাজি নির্মূল করুন। অন্যথায় জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে চলার দায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না।’

আগামী কয়েক মাসেও তৈরি পোশাক রপ্তানির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম

বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রধান বাজারগুলোতে মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে মন্দা কাটছে না। রপ্তানিকারক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মতে, আগামী কয়েক মাসেও এই খাত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কাটলেও পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে খুচরা বিক্রি কমে যাওয়া এবং বিক্রেতাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অবিক্রীত পোশাকের মজুত থাকায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন করে বড় অর্ডার দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানিকারক প্রধান দেশগুলো, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পোশাক কেনার ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, দেশে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন খরচও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

সায়েম গ্রুপের পরিচালক আবরার এইচ সায়েম বলেন, আমরা এখন এক ধরনের ঝড়ের মধ্যে আছি। তাদের প্রতিষ্ঠান ইউএস পোলো অ্যাসন, ব্রিটিশ ব্র্যান্ড বেন শারম্যান এবং ইউরোপীয় ফাস্ট-ফ্যাশন ব্র্যান্ড নিউইয়র্কারের জন্য পোশাক সরবরাহ করে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি আয় কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

রপ্তানিকারকদের মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি কমার অন্যতম কারণ ছিল কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা। যদিও শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন নতুন ঘোষিত ১০ শতাংশ শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে সেই অনিশ্চয়তার একটি অংশ দূর করেছে, তবুও বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো দুর্বল।

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এখনো কাটেনি। তাই নতুন অর্ডার দেওয়ার গতি খুবই ধীর।

তিনি বলেন, যুদ্ধ, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের হাতে আগের অবিক্রীত মজুত—সব মিলিয়ে নতুন অর্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

স্কয়ার অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, পশ্চিমা ক্রেতারাও কঠিন সময় পার করছেন। সেটি তাদের কেনাকাটার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ এখনো আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

রপ্তানিকারকদের মতে, পাঁচটি মৌলিক ধরনের পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। কারণ এসব পণ্যের বাজারে সরবরাহ বেশি ও মূল্য প্রতিযোগিতা তীব্র।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মতে, উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাক উৎপাদনে না গেলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হবে না।

বর্তমানে বাংলাদেশ মূলত ট্রাউজার, টি-শার্ট, বোনা কাপড়ের ফরমাল শার্ট, অন্তর্বাস ও সোয়েটার রপ্তানি করে। এই পাঁচ ধরনের পণ্য থেকেই মোট পোশাক রপ্তানির ৭৮ শতাংশ আসে। আর দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ কারখানা এই পাঁচ ধরনের পণ্যই উৎপাদন করে।

প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, মৌলিক ধরনের পোশাক বিক্রির পুরোনো ব্যবসায়িক মডেল এখন আর কার্যকর নেই। কারণ ভারত রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা দেওয়ায় এই খাতে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হলে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

ফজলুল হকের মতে, উৎপাদন ব্যয় কমাতে গ্যাস সরবরাহের উন্নতি এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানো এখন সবচেয়ে জরুরি।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভিয়েতনাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কারণ দেশটির উৎপাদন ব্যয় স্থিতিশীল, মূল্য সংযোজন বেশি এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছাতে সময়ও কম লাগে।

নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক একটি ইউরোপীয় পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পণ্যে বৈচিত্র্য না আনলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানিও ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে। ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তো আরও দূরের বিষয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান পাঁচটি পোশাকপণ্যের বৈশ্বিক বাজার ইতোমধ্যেই পরিপূর্ণ। এই পাঁচটি পণ্যে আর সম্প্রসারণের সুযোগ নেই। সাশ্রয়ী দামে উন্নত মানের পোশাক উৎপাদনে যেতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) হারালে দেশের পোশাক আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এতে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ওই ক্রেতা বলেন, এলডিসি সুবিধা প্রত্যাহারের সময় কিছুটা পিছিয়ে গেলেও বড় বড় ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতারা ইতোমধ্যে বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, ভারত যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) মাধ্যমে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা পায়, তাহলে ইউরোপমুখী বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে ক্রেতারা আরও কম দামে পণ্য কিনতে চাপ দেবে।

বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, নতুন রপ্তানি আদেশ বাড়াতে আগামী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ আফ্রিকায় রোডশো আয়োজন করবে সংগঠনটি।

তিনি জানান, বাজার বিশ্লেষণ, পণ্যের ধরন ও সর্বশেষ ফ্যাশন প্রবণতা নিয়ে রপ্তানিকারকদের সহায়তা দিতে বিজিএমইএ একটি ডিজাইন স্টুডিওও গড়ে তুলছে, যেন তারা বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারেন।

দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ইংল্যান্ডের কোয়ানসা

নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড। ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। ফলে শনিবারের কোয়ার্টার ফাইনালের পাশাপাশি ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচেও খেলতে পারবেন না এই তরুণ ডিফেন্ডার।

শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে ভিএআরের পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন কোয়ানসা। সেই কার্ডের জেরেই তাকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এই নিষেধাজ্ঞা ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের জন্য নতুন করে রক্ষণভাগের সমস্যা তৈরি করেছে। দলের একমাত্র স্বাভাবিক রাইট-ব্যাক রিস জেমস হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে টানা তিন ম্যাচ খেলতে পারেননি। বুধবারও তিনি অনুশীলনে অংশ নেননি। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে তার খেলার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত।

জেমসের অনুপস্থিতিতে ডিজেড স্পেন্স ও কোয়ানসাকে রাইট-ব্যাকে খেলানো হলেও কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ানসা লাল কার্ড দেখার পর শেষ আধাঘণ্টা সেন্টার-ব্যাক এজরি কনসাকে রাইট-ব্যাকে খেলাতে হয়েছিল। এবারও কনসাকে সেই ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে জন স্টোনস ফিরতে পারেন মূল সেন্টার-ব্যাকের জায়গায়।

এদিকে কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আপিলের পথও খুঁজছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতি বিতর্কিতভাবে স্থগিত করেছিল ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে শাস্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানোর পর বালোগানকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর ফিফার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন টুখেল, ‘এখন এটা কোথা থেকে শুরু হলো, কোথায় গিয়ে শেষ হবে? কোনো সিদ্ধান্ত কি উল্টানো যাবে, নাকি যাবে না? আসলে কী হচ্ছে? সীমারেখাটা কোথায় টানা হবে, এটাই আমার প্রশ্ন।’

ঈদ আয়োজনে শাকিব, জয়া, শুভ, মেহজাবীন অভিনীত ৭ সিনেমা

ঈদুল আজহায় চ্যানেল আইয়ের বিশেষ আয়োজনে টানা সাত দিন দেখানো হবে সাতটি বাংলা সিনেমা। প্রতিদিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে হবে নতুন সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার।

ঈদের দিন প্রচারিত হবে ‘নীল চক্র’। মিঠু খান পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও মন্দিরা চক্রবর্তী।

ঈদের দ্বিতীয় দিন দেখানো হবে ‘প্রিন্স’। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, তাসনিয়া ফারিণ।

ঈদের তৃতীয় দিন প্রচারিত হবে মাকসুদ হোসেন পরিচালিত ‘সাবা’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী, রোকেয়া প্রাচী, মন্‌ওয়ার, সুমন পাটোয়ারী ও অশোক বেপারী।

ঈদের চতুর্থ দিনে থাকছে আলোক হাসান পরিচালিত ‘টগর’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ, পূজা চেরী ও রোজী সিদ্দিকী।

পঞ্চম দিনে প্রচারিত হবে ‘জয়া আর শারমিন’। পিপলু আর খান পরিচালিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও মহসিনা আক্তার।

ঈদের ষষ্ঠ দিন প্রচারিত হবে ‘বাড়ির নাম শাহানা’। লিসা গাজীর রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ইরেশ যাকের, আনান সিদ্দিক, লুৎফর রহমান জর্জ ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।

ঈদের সপ্তম দিনে দেখানো হবে ‘শরতের জবা’। কুসুম শিকদার পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও কুসুম শিকদার।

ইরান যুদ্ধ: কেন তেহরানের পাশে নেই মস্কো?

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুগপৎ হামলার আজ ষষ্ঠ দিন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরেই রাশিয়া এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া এই হামলাকে ‘জাতিসংঘের একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে সশস্ত্র আগ্রাসন’ আখ্যা দেয়।

তেহরানের খুব বেশি ভালো বন্ধু নেই। তবে তাদের মধ্যে যে রাশিয়া অন্যতম, সে ব্যাপারে তেমন কোনো সন্দেহ নেই। ইরানের শাসকগোষ্ঠীর পতন হলে রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত আসতে পারে।

তাহলে কেন ‘বন্ধু’ ইরানের পাশে নেই ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া? কেন তেহরানকে উদ্ধার করতে রাশিয়ার রাজনৈতিক পেশীশক্তি, সুখোই যুদ্ধবিমান ও অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে না?

এসব প্রশ্নের জবাব খোঁজা হয়েছে জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে।

 

আজারবাইজানভিত্তিক রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ নিকিতা স্মাজিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘মস্কো-তেহরান বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক প্রকল্পে এক অপরকে সহায়তা দিচ্ছে। এসব প্রকল্প রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘উত্তর ও দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা (নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর) এমন একটি প্রকল্প। ২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়ার সব ঐতিহাসিক যোগাযোগ পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এই প্রকল্পের সাফল্য তাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।’

 

২০০০ সালে সাত হাজার ২০০ কিলোমিটার (চার হাজার ৪৭৩ মাইল) দীর্ঘ এই বহুমুখী সড়ক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়া, ভারত ও ইরান চুক্তিবদ্ধ হয়। এই পথ আজারবাইজানের মধ্য দিয়েও যাওয়ার কথা রয়েছে।

সৌদি আরবভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ রিসার্চ সেন্টারের মতে, প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

এ ছাড়া, রাশিয়াকে সহজলভ্য ‘শাহেদ ড্রোন’ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিত্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে ইরান।

২০২৩ সাল থেকে এই ড্রোন মোতায়েনের পর ইউক্রেন যুদ্ধের ‘চেহারা বদলে গেছে’ বলে মন্তব্য করেন সেন্টার ফর নেভাল অ্যানালাইসেস (সিএনএ) নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষক জুলিয়ান ওয়ালার।

 

ডয়চে ভেলেকে ওয়ালার বলেন, ‘রাশিয়ার যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে ইরান। উৎপাদনের বেশিরভাগ অংশ রাশিয়াতে হলেও ড্রোনের ডিজাইনকে আরও উন্নত করেছে ইরান।’

জানা গেছে, ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে রাশিয়া। এমন কী, তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানোর খবরও শোনা যায়।

স্মাজিন বলেন, ‘তবে রাশিয়া-ইরানের অংশীদারিত্ব টিকে থাকলেও তাদের মধ্যে আদর্শগত মিল নেই। রুশ রাজনীতিকরা ইরানকে খুব একটা পছন্দ করেন না। কিন্তু তারা তেহরানকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে, কারণ উভয় দেশই আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছে। তুরস্ক বা মিশরের ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। পশ্চিম চাপ দিলে ওই দেশ দুইটি নিমিষেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে।’

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের ইউরোপ-রাশিয়া পরিচালক গ্রেগোয়ের রুসের মত, কোনো কোনো দিক দিয়ে মস্কোর ‘গুরুর’ ভূমিকা পালন করে এসেছে তেহরান।

‘দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে ইরানের। তারা রাশিয়াকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে,’ বলেন তিনি।

এত কিছুর পরও, বিশেষজ্ঞরা একমত, চলমান সংঘাতে রাশিয়া প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

ওয়ালার বলেন, ‘দুই দেশ কোনো ভাবেই একে অপরের সুরক্ষা-মিত্র নয়।’

কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের অলিখিত ‘একে অপরকে হামলা না করার’ বোঝাপড়া চালু আছে। এর ফলে, ইচ্ছে থাকলেও ‘ইসরায়েলের শত্রু’ ইরানকে সহায়তা দিতে পারছে না ক্রেমলিন।

 

আন্তর্জাতিকসম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোজতাবা হাশেমি ডয়চে ভেলেকে বলেন, তেহরান মস্কোর কাছ থেকে ‘দৃশ্যমান রাজনৈতিক ও সামরিক সহায়তা’ পাওয়ার আশা করেছিল।

ওই বিশেষজ্ঞ মত দেন, ‘ইরান ভেবেছিল রাশিয়া তাদের প্রতি সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে এবং গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করে নেবে। শুধু মৌখিক সমর্থন নয়, সামরিক বা অন্য কোনো উপায়ে ইরানের শত্রুদের স্পষ্ট বার্তা দেবে, যাতে আর হামলা না আসে।’

তবে এ ক্ষেত্রে ইরানের হিসাবে ভুল ছিল বলে জানান হাশেমি।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও চীনের হাতে আরও বড় বড় সমস্যা করছে। ইরানকে তারা অস্ত্র দিয়ে সহায়তার দায় সেরেছে।’

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মোহাম্মদ ঘেইদি বিশ্বাস করেন, ইরানের নেতারা রাশিয়ার কাছ থেকে সমর্থন না পেয়ে বিস্মিত হননি।

তার মতে, তেহরানে দীর্ঘদিন ধরেই মস্কোর বন্ধুত্বকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়।

সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের এক উক্তির উল্লেখ দেন ঘেইদি।

 

আহমাদিনেজাদ একবার বলেছিলেন, ‘রাশিয়া সব সময় ইরানকে গাছে তুলে মই কেড়ে নিয়েছে।’

বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত বছরের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে বলেছিলেন, ‘যেসব দেশকে আমরা বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করতাম, তারা আমাদেরকে যুদ্ধের সময় কোনো ধরনের সহায়তা করেনি।’

চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক রুস মনে করেন, ইরানে যুদ্ধ দীর্ঘায়ত হলে মস্কোর জন্য বিষয়টি সুবিধাজনক হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে “অক্সিজেন” দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু ইরানে যুদ্ধ দীর্ঘসময় ধরে চললে সবার মনোযোগ তেহরানের দিকে স্থির থাকবে। এটা এমন একটি সংঘাত যা খুব সহজেই অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

‘পাশাপাশি, ওয়াশিংটনের পক্ষে আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্রে কূটনীতিক ও সামরিক সমর্থন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না—মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী তাদের প্রাধান্য মধ্যপ্রাচ্যের দিকেই থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।

 

রাশিয়ার জন্য অর্থনৈতিক সুবিধাও বয়ে আনতে পারে এই যুদ্ধ।

ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস ওই প্রণালি দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হয়। এর ফলে, বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে ওই দুই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানির দাম।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএনএ’র জুলিয়ান ওয়ালার বলেন, ‘যদি এক মাস, বা এমন কী এক বছর ধরে তেল-গ্যাসের দাম বাড়তে থাকে, তাহলে তা তেল-গ্যাস রপ্তানিকারক রাশিয়ার জন্য সুখবর নিয়ে আসতে পারে।’

এমন পরিস্থিতিতে তেল রপ্তানি থেকে বাড়তি আয় করতে পারবে রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নের জন্য রুশ নাগরিকদের ওপর যেসব কর আরোপ করেছেন পুতিন, সেগুলো ধীরে ধীরে উঠিয়ে নিতে পারবেন।

তারপরও, ইরানে সরকারের পতন হলে তা রাশিয়ার অবস্থানের প্রতি বড় হুমকি তৈরি করবে।

 

বিশ্লেষক রুস বলেন, মস্কো নিজেকে পরাশক্তি হিসেবে দেখাতে পছন্দ করে।

‘রাশিয়া, ইরান, চীন ও সিরিয়ার মতো কয়েকটি দেশ বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে পশ্চিমা দেশগুলোকে হটাতে আগ্রহী,’ বলেন তিনি।

রুস মত দেন, ‘কিন্তু এর আগে এই গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা এত দ্রুত কমার নজির নেই। এতে সার্বিকভাবে রাশিয়ার প্রভাব কমবে।’

 

হাশেমি বিশ্বাস করেন, এই সংঘাতে রাশিয়ার কাছ থেকে সমর্থন না পেলেও দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরবে না।
‘রাশিয়া ও চীন পশ্চিমের সঙ্গে দরকষাকষির টেবিলে সুবিধা আদায় করে নিতে ইরানকে ভূ-রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষয়টি এমন হয়েছে। এর ফলে, ইরানের বর্তমান শাসক যদি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সেই ভঙ্গুর ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার তুলনায় পরবর্তী শাসকের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে বেশি নজর দেবে ক্রেমলিন।’

‘চীনও একই পথে হাঁটবে, কারণ সে ক্ষেত্রে তেহরানে তাদের প্রভাব কিছুটা হলেও অটুট থাকবে। তবে তারা উভয়ই জানে, ইরানের বর্তমান ধর্মভিত্তিক শাসকদের পতন হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আসবে,’ ব্যাখ্যা দেন তিনি।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ঘেইদি মত দেন, ইরানের বর্তমান শাসক তবুও রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইবে। কারণ, দুইটি দেশের সঙ্গেই পশ্চিমের সম্পর্ক তিক্ত।

এ যেন যেকোনো মূল্যে ‘শত্রুর শত্রুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব’ টিকিয়ে রাখার আরেক নজির।

‘তেহরান এই অংশীদারিত্ব হারানোর ঝুঁকি নেবে না। বিশেষত, মস্কোর হাতে যতদিন পর্যন্ত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা থাকছে, ততদিন পর্যন্ত,’ বলেন তিনি।

 

কালিয়াকৈরে ম্যানহোলে পড়ে কিশোরের মৃত্যু

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের ড্রেনের একটি অরক্ষিত ম্যানহোলে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সানোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে মৃত কিশোরের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। তার পরনে ছিল খয়েরি রঙের প্যান্ট ও কালো রঙের জ্যাকেট।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ইফতেখার হাসান রায়হান চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এসআই সানোয়ার হোসেন বলেন, মৃত কিশোরের পরিচয় শনাক্তে চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
 

অলিগলিতে লাইভ বেকারি: জনপ্রিয়তার পাশাপাশি চাই খাদ্য-নিরাপত্তার মান

রাজধানীতে এখন খুব কম এলাকা আছে, যেখানে ‘লাইভ বেকারি’ দেখা যায় না। সেখানে ওভেন থেকে বের হওয়া গরম পাউরুটি, কেক, প্যাটিস, পিৎজা, বিস্কুট, টোস্টসহ নানা ধরনের বেকারি পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। টাটকা খাবারের ঘ্রাণ, চোখের সামনে প্রস্তুত হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং তুলনামূলক কম দাম—সবমিলিয়ে অল্প সময়েই লাইভ বেকারি একটি জনপ্রিয় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দ্রুত বাড়ছে।

এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, কর্মসংস্থান বাড়ছে এবং ভোক্তারা তাজা খাবার পাচ্ছেন। তবে এর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এসেছে—এসব বেকারিতে খাদ্য-নিরাপত্তা ও মান কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে?

বর্তমানে অনেক লাইভ বেকারি এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও উৎপাদন মান বজায় রাখার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছোট পরিসরের দোকান বা সীমিত জায়গায় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে কাঁচামাল সংরক্ষণ, উৎপাদন এলাকা পরিষ্কার রাখা, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা এবং প্রস্তুতকৃত খাবার নিরাপদে সংরক্ষণের মতো মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা সম্ভব হয় না।

খাদ্য উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ময়দা, ডিম, মাখন, দুধ, ক্রিমসহ বিভিন্ন কাঁচামাল ব্যবহারের আগে ও পরে পাত্র, ট্রে, মোল্ড, মিক্সারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা প্রয়োজন। একইভাবে উৎপাদনস্থলের মেঝে ও পরিবেশও পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক ছোট বেকারিতে এসবের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা বা পৃথক ওয়াশিং স্টেশন থাকে না। ফলে খাদ্যের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

খাদ্য কেবল একটি পণ্য নয়; এটি মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই প্রতিটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা মান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে লাইভ বেকারিগুলোর একটি বড় অংশই সেই মানদণ্ডের বাইরে পরিচালিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। স্বাস্থ্যবিধি ও মানদণ্ড অনুসরণ না করার কারণে বিভিন্ন সময়ে অনেক লাইভ বেকারিকে জরিমানাও করা হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, গত ৯ ফেব্রুয়ারি দেশ রূপান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোর শহরের রেল রোড এলাকার লাইভ বেকারি অ্যান্ড ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অনেকেই মনে করেন, লাইভ বেকারিতে চোখের সামনেই তৈরি হচ্ছে বলে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কিন্তু দৃশ্যমান এই স্বচ্ছতা সবসময় খাদ্য-নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান খুব ছোট জায়গায় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে, যেখানে কাঁচামাল সংরক্ষণ, উৎপাদন এলাকা, প্রস্তুত পণ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

খাদ্য প্রস্তুতকারীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক খাদ্য-নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী, খাদ্য উৎপাদনের সময় গ্লাভস, হেয়ার নেট, অ্যাপ্রন এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে বেকারিতে অনেক কর্মী খালি হাতে খাদ্য স্পর্শ করেন। আবার বেশির ভাগ লাইভ বেকারিতে খাদ্য উৎপাদনের সময় গ্লাভস, হেয়ার নেট, অ্যাপ্রন ও মাস্ক ব্যবহার করা হয় না।

আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, লাইভ বেকারিতে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ পণ্যে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং ব্যবহৃত উপাদান উল্লেখ থাকে না। ফলে ভোক্তা জানতে পারেন না পণ্যটি কখন তৈরি হয়েছে, কতদিন নিরাপদ থাকবে কিংবা এতে এমন কোনো উপাদান রয়েছে কি না, যা তার জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অথচ, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি মোড়কজাত বা প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের গায়ে বেশকিছু তথ্য স্পষ্টভাবে বাংলায় অথবা বাংলার পাশাপাশি অন্য ভাষায় লেখা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্য উপাদান বা উপকরণের ধরন ও নাম; উৎপাদনের তারিখ; মোড়কীকরণের তারিখ; মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ; পুষ্টিগত তথ্যাবলি; খাদ্য-সংযোজন দ্রব্য ইত্যাদি।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে লাইভ বেকারি পরিচালনার ক্ষেত্রে খাদ্য-নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, উৎপাদন পরিবেশ ও মান নিয়ন্ত্রণ কঠোরভাবে তদারকি করা হয়। ফলে ভোক্তারা আস্থার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন।

বাংলাদেশেও খাদ্য উৎপাদনের জন্য আইন ও বিধিমালা রয়েছে। একটি বেকারি পরিচালনার জন্য শুধু ট্রেড লাইসেন্সই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ এবং নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় থাকা। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও থাকে না।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক প্রতিষ্ঠান মানসনদ, প্রশিক্ষিত জনবল ও স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদন পরিবেশ ছাড়াই এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। গত ১৫ জুন জাগো নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহী মহানগরীতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করাসহ আরও কিছু অভিযোগে একটি লাইভ বেকারিকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অনলাইন পোর্টালের গত ২৪ আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএসটিআইয়ের মান সনদ না নিয়ে মিষ্টি, দই, বিস্কুট, পাউরুটি ও কেকসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে চাঁদপুরের ইলিশ চত্বর এলাকার কাশ্মীরি সুইটস অ্যান্ড লাইভ বেকারিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এসব অভিযানে যা পাওয়া যাচ্ছে সেটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, লাইভ বেকারিগুলোকে আইনের মধ্যে রেখে নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।

বেকারি খাতে দক্ষ জনবলেরও ঘাটতি রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই কর্মীদের দিয়ে খাদ্য উৎপাদনের কাজ করানো হচ্ছে, যা খাদ্যের মান ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অনেকের কাছে হয়তো মনে হতে পারে, এই আলোচনাটা লাইভ বেকারি খাতকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা। কিন্তু বাস্তবতা মোটেও তেমন নয়। বরং এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে আরও নিরাপদ, টেকসই ও ভোক্তাবান্ধব করে তোলাই এই আলোচনার লক্ষ্য। লাইভ বেকারি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করছে, কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে এবং ভোক্তাদের চাহিদাও পূরণ করছে। তাই এই খাতের বিকাশের পাশাপাশি খাদ্য-নিরাপত্তার মানও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।

এ জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে লাইভ বেকারির জন্য একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। সেখানে উৎপাদনস্থলের ন্যূনতম আয়তন, নিরাপদ পানি ব্যবহার, কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বাধ্যতামূলক সুরক্ষা পোশাক, যন্ত্রপাতি পরিষ্কার রাখার মানদণ্ড, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পণ্যের লেবেলিং এবং নিয়মিত পরিদর্শনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হলে তারা সহজেই এসব মানদণ্ড অনুসরণ করতে পারবেন।

একইসঙ্গে ভোক্তাদের সচেতনতাও বাড়াতে হবে। শুধু গরম বা টাটকা দেখেই খাদ্য কেনার পরিবর্তে দোকানের পরিচ্ছন্নতা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি এবং পণ্যের প্রয়োজনীয় তথ্য দেখে কেনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সচেতন ভোক্তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার অন্যতম বড় শক্তি।

বাংলাদেশে লাইভ বেকারি শিল্পের সম্ভাবনা অনেক। প্রয়োজন শুধু এমন একটি নীতিমালা, যেখানে উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং ভোক্তার স্বাস্থ্য, উভয়ই সমান গুরুত্ব পাবে। কার্যকর তদারকি, বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা এবং উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প আরও আস্থার জায়গা তৈরি করবে।

 

হুমায়ুন আহমেদ বিলাস: করপোরেট কমিউনিকেশনস ও পাবলিক রিলেশন্স নিয়ে কাজ করছেন।
[email protected]

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে, ৩ উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার

হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার মুখোমুখি হওয়ার পর পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটে পৌঁছেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা।

আজ বৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) একটি আলোচনা সভা ছাড়াও গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট ও ওসমানীনগরে তাদের পৃথক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ শীর্ষ নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরী, শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস এবং সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ দুপুর পৌনে ১টায় এনসিপি নেতারা সিলেট নগরীতে পৌঁছালে স্থানীয় জেলা ও মহানগর নেতারা তাদের স্বাগত জানান। পরে নাহিদ ইসলাম ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী শাবিপ্রবিতে গিয়ে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন।

একই সময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত সাত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে এনসিপির আরেকটি প্রতিনিধিদল গোলাপগঞ্জ পৌরসভা হলরুমে পৌঁছায়।

এদিকে সকাল ১১টা থেকেই গোলাপগঞ্জ পৌরসভা এলাকা, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। একই সময়ে সেখানে এনসিপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও জমায়েত হতে থাকেন।

বেলা ১টার দিকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার জেলাজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এনসিপির সিলেট জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ জানান, গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা কানাইঘাট ও ওসমানীনগরে জনসভায় অংশ নেবেন। পরদিন শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে তাদের পদযাত্রা ও জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেন এনসিপি নেতারা। 

এর প্রতিবাদে গতকাল বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলে মৌলভীবাজার থেকে সেখানে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল, রশিদপুর ও বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর।

পরে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। রাতে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে অবস্থান শেষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তারা সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন।

 

সংকটে থাকা চা খাতের সংস্কারে টাস্কফোর্সের সুপারিশ, গুরুত্ব পেল কী কী বিষয়

বহু বছরের লোকসান, উচ্চ সুদে ঋণ, রপ্তানি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কম উৎপাদনশীলতার কারণে বাংলাদেশের চা শিল্প ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপে রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারি একটি টাস্কফোর্স ব্যাপক সংস্কারের সুপারিশ করেছে।

টাস্কফোর্স আটটি অগ্রাধিকার খাতে সমস্যা চিহ্নিত করে ৫৯টি সুপারিশ দিয়েছে।

সুপারিশগুলোতে স্বল্পসুদে ঋণ, কর হ্রাস, ঋণ পুনর্গঠন, চারা পুনরোপণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম চা উৎপাদনকারী দেশ। দেশে ১৭২টি চা বাগানে ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এ খাতে সরাসরি ১ লাখ ২ হাজার স্থায়ী ও ৪০ হাজার অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করেন। এ ছাড়া প্রায় ৫ লাখ মানুষ চা বাগানের ভেতরে বসবাস করেন।

তবে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছরই উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম দামে চা বিক্রি হচ্ছে।

খাতটির ক্রমবর্ধমান সংকট

২০২৪ সালে প্রতি কেজি চা উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ২৬০ টাকা, বিপরীতে নিলামে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২০৮ দশমিক ৮৮ টাকা। ফলে প্রতি কেজিতে ৫১ দশমিক ১২ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

২০০২ সালের পর থেকে চা রপ্তানি ৭৯ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে গত এক দশকে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। কিন্তু নিলামমূল্য সেই হারে বাড়েনি।

চলতি বছরের জুনের প্রথমার্ধে ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্সটি গত ১২ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিটিতে সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান এবং চা খাতের অংশীজনদের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

টাস্কফোর্সের মতে, চা শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা হলো, চা বাগানকে কৃষি নয়, শিল্প হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে বাগান মালিকদের কৃষকদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে।

এ অবস্থাকে ‘শ্রেণিবিন্যাসের অসামঞ্জস্য’ উল্লেখ করে টাস্কফোর্স চা বাগানকে কৃষিখাত হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করার সুপারিশ করেছে। এতে বর্তমান ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের পরিবর্তে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে এ শিল্পকে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ১ শতাংশ টি সেস (চা খাতে আরোপিত বিশেষ কর), ১ শতাংশ ব্রোকারেজ ফি, প্রতি ব্যাগে ৫০ টাকা ১৫ পয়সা গুদামজাতকরণ খরচ এবং সরাসরি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিতে হয়।

টাস্কফোর্স ভ্যাট ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং উৎপাদন ও নিলাম পর্যায়ে সামগ্রিক করের বোঝা কমানোর সুপারিশ করেছে।

উৎপাদিত চায়ের রপ্তানি এখনো দুর্বল। চা রপ্তানি করে বছরে আয় হয় মাত্র ২৫ লাখ থেকে ৪৫ লাখ ডলার, আর পাকিস্তানই একমাত্র উল্লেখযোগ্য রপ্তানি বাজার। এ ছাড়া বাংলাদেশের কোনো জাতীয় চা ব্র্যান্ড, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি কিংবা প্রিমিয়াম রপ্তানি বাজারে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নেই।

প্রতি হেক্টরে বাংলাদেশে চা উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কেজি। তুলনায় ভারতে ২ হাজার ৫০০ কেজি এবং শ্রীলঙ্কায় ৩ হাজার ৩০০ কেজি।

চা বাগানের মোট জমির প্রায় ৪৫ শতাংশে চা উৎপাদন হয় না। তবে এর মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ জমি নতুন চা চাষের জন্য ব্যবহারযোগ্য। বাকি জমি পরিচালনাগত, আবাসিক ও পরিবেশগত কাজে ব্যবহৃত হয়।

পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা

চা শিল্পের আর্থিক সংকট কাটাতে টাস্কফোর্স ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার ‘টি সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় ৪ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পুনর্গঠন, চা পুনরোপণের জন্য গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ এবং কারখানা আধুনিকায়নের জন্য সাত বছর মেয়াদি অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ চা বোর্ড (বিটিবি) এবং বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) জন্য পৃথক বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে তিন স্তরের ন্যূনতম মূল্য কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয় মানের চায়ের জন্য প্রতি কেজি ২৭৫ টাকা, রপ্তানিযোগ্য চায়ের জন্য প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধা। প্রিমিয়াম ও বিশেষায়িত চায়ের ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া একটি জাতীয় চা ‘পুনরোপণ মহাপরিকল্পনার’ প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি বাগানকে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রতি বছর ২ থেকে ৩ শতাংশ চা গাছ প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

রপ্তানি পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তান, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ার সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি প্রণোদনা ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চা শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা, একটি ‘টি ইনভেস্টমেন্ট ডেস্ক’ গঠন এবং কৃষি প্রযুক্তি, সৌর অবকাঠামো ও প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সৌর অ্যাগ্রিভোল্টাইক, ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ, সেচ এবং কারখানা আধুনিকায়নের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ টি গ্রিন ফাইন্যান্স ফ্যাসিলিটি’ গঠনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র চা চাষিদের সহায়তায় উত্তরবঙ্গের ৮ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র চাষিকে কারিগরি সহায়তা ও মানোন্নয়ন সেবা দিতে পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের একটি স্থায়ী আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে শ্রমিক কল্যাণের ন্যূনতম মানদণ্ডও প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য সরকার পরিচালিত স্কুল, কার্যকর ডিসপেনসারি, অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা এবং বাগানের সড়ক উন্নয়ন।

সংস্কার বাস্তবায়ন শুরু করতে টাস্কফোর্স ৯০ দিনের একটি পরিকল্পনাও দিয়েছে।

প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য যাচাই এবং আর্থিক সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণে একটি আন্তমন্ত্রণালয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

৬০ দিনের মধ্যে চা বাগানকে কৃষিখাত হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করা, ভ্যাট ও টি সেস সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর কথা বলা হয়েছে।

৯০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা, বিডায় টি ইনভেস্টমেন্ট ডেস্ক চালু করা, পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু করা এবং পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

চা শিল্প টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক মামুন রশীদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, চা কোম্পানিগুলোর আয় না বাড়লে শ্রমিকদের কল্যাণ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের পরিবারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।’

রশীদ আরও বলেন, ‘নতুন চারা রোপণ এবং সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়টি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি জি-টু-জি ব্যবস্থায় রপ্তানি এবং গ্রিন ফাইন্যান্সের সুযোগও দ্রুত সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।’

জন্মভূমির বিপক্ষে হালান্ড, ইংল্যান্ড ম্যাচকে বললেন ‘বিশেষ’

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এবার এক ভিন্ন আবেগের ম্যাচ অপেক্ষা করছে আর্লিং হালান্ডের জন্য। জন্ম ইংল্যান্ডে, পেশাদার ফুটবলেও খেলছেন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে। সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই এবার বিশ্বকাপের শেষ আটে লড়বে তার দেশ নরওয়ে। তাই ম্যাচটিকে ‘বিশেষ’ বলেই আখ্যা দিয়েছেন এই তারকা স্ট্রাইকার।

মিয়ামিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হালান্ড বলেন, ‘এটি অবশ্যই খুব বিশেষ একটি ম্যাচ। আমি ইংল্যান্ডে খেলি, ইংল্যান্ডেই আমার জন্ম। সেখানে আমার অনেক সতীর্থও আছে। তাই ম্যাচটি ভিন্ন রকমের অনুভূতি দেবে। এটি উপভোগ্য হবে।’

হালান্ডের জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডে, যখন তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলছিলেন। গত চার মৌসুম ধরে ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে খেলতে খেলতে তিনি প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ে এবার ইতিহাস গড়ছে। প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেই হালান্ড চার ম্যাচে সাত গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জয় এনে দেন তিনি।

তবে এমন সাফল্য যে নিজেও কল্পনা করেননি, সেটি স্বীকার করেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, ‘সত্যি বলতে আমি এমনটা আশা করিনি। নরওয়েকে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আমার কাছেও বিস্ময়কর। ব্রাজিলকে হারিয়ে এখন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামা আমাদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘নরওয়েতে মানুষ যেভাবে উদযাপন করছে, তা দেখলে বুঝবেন, এটি আমাদের জন্য একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তাই সবকিছুই খুব বিশেষ মনে হচ্ছে।’

অন্যদিকে ইংল্যান্ড টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ৬০ বছর ধরে কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি। সেই চাপ ইংল্যান্ডের কাঁধেই তুলে দিতে চান হালান্ড, ‘ইংল্যান্ড অবশ্যই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তাই আমি বলব, যতটা সম্ভব চাপ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপরই দিন।’

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন হালান্ড। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়ের পর ডালাসে কাউবয়ের পোশাক পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা তার ভিডিও ভাইরাল হয়।

এ নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘আমেরিকানদের আমি খুব পছন্দ করি। তারা দারুণ মজার মানুষ। এখানে বিশ্বকাপের সবকিছুই অসাধারণ -ম্যাচ, স্টেডিয়াম, অনুশীলনের মাঠ, সবকিছুই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি সত্যিই খুব আনন্দিত।’