23.8 C
Dhaka
Home Blog

নিম্নমানের খেজুর, নষ্ট কমলা-পেঁয়াজসহ বন্দরে পড়ে থাকা ৩ হাজার টন পণ্য ধ্বংস

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলাম-অযোগ্য, নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ ১২৬ কনটেইনারে রক্ষিত মোট ৩ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনের নির্ধারিত স্থানে এসব পণ্য ধ্বংস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ধ্বংসযোগ্য পণ্যের মধ্যে আছে ৩৪ কনটেইনার নিম্নমানের খেজুর, ৪০ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশ, ১৮ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইম স্টোন এবং অন্যান্য পচনশীল ও নষ্ট পণ্য যেমন—কমলা, পেঁয়াজ, কাজুবাদাম (কেশনাট) ইত্যাদি।

ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, আনসার সদস্য ও স্থানীয় বন্দর থানা পুলিশের একটি দল সরেজমিনে উপস্থিত থেকে পুরো ধ্বংসকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

পচনশীল ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের এ কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট নিরসনে অত্যন্ত কার্যকর অবদান রাখবে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

‘যারা ভেবেছিলো বয়স হলে মেসির ধার কমে যাবে, তারা ওকে চেনেই না’

গত মাসেই ৩৯ পূর্ণ করে ৪০ বছরে পা দিলেন লিওনেল মেসি। বেশিরভাগ ফুটবলার যখন এই বয়সে অবসর নিয়ে কোচিং কিংবা ধারাভাষ্য প্যানেলে যোগ দেন, মেসি তখনো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ মাতিয়ে চলেছেন। কিলিয়ান এমবাপে কিংবা আর্লিং হালান্ডের মতো সময়ের সবচেয়ে বড় তারকাদের সাথে পাল্লা দিয়ে গোল করে চলেছেন এখনো। লিওনেল স্কালোনি অবশ্য এতে বিন্দুমাত্র অবাক নন। বরং মেসির জন্য এটিই স্বাভাবিক মনে করছেন তিনি। 

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কানসাসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন স্কালোনি। সেখানেই মেসিকে আবারও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, সাথে মেসিকে নিয়ে যাদের মনে সন্দেহ ছিল, তাদের সমালোচনাও করেছেন। 

স্কালোনি বলেছেন, ‘মেসির এমন ফর্ম আমাকে একটুও অবাক করেনি। কিছু মানুষ হয়তো ভেবেছিল ৩৯ বছর বয়সে সে হয়তো এই মানের ফুটবল খেলতে পারবে না, তারা মেসিকে চেনেই না। জানি না এখন পর্যন্ত কতবার আমি এটা বলেছি, মেসি যতদিন খেলা চালিয়ে যাবে, সে-ই বিশ্বের সেরা ফুটবলার থাকবে। আমি তাঁর কোচ বলে এমনটা বলছি না। আমি এটা বিশ্বাস করি’। 

বিশ্বকাপের আগে পেশিতে টান পড়ায় মেসির ফিটনেস নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে বিশ্বকাপে ফিট হয়েই দলের ভার বহন করছেন অধিনায়ক মেসি। স্কালোনি জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ফিটনেস কোচের সাথে আলাদাভাবে কাজ করেছেন মেসি, ‘সে প্রতি ম্যাচে মোটামুটি একই রকম দৌড়ায়। শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় থাকতে টুর্নামেন্টের আগে সে তাঁর ফিটনেস কোচের সাথে আলাদাভাবে কাজ করেছে, এবং সেটা কাজে দিয়েছে’। 

বছরের পর বছর একই রকম পারফরম্যান্স দিয়ে যাওয়া মেসিকে যন্ত্রের সাথেও তুলনা করেছেন স্কালোনি, ‘পরিসংখ্যানগত দিক থেকে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে এটুকু পরিষ্কার যে মেসি নিজের সর্বোচ্চটাই দিচ্ছে। যখন মাঠে সে নিজের পুরোটা উজাড় করে দেয় এবং টের পায় সে প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক তৈরি করার মতো অবস্থায় আছে, তখন তাঁকে আমার যন্ত্র বলে মনে হয়’। 

  

‘খুব ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার খেলা পছন্দ করি’

দীপা খন্দকার সময়ের আলোচিত অভিনয়শিল্পী। ২৫ বছর ধরে তিনি অভিনয় করছেন। সদ্য প্রচার শেষ হওয়া ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকে ফাতেমা ফুপুর চরিত্র দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। ঈদের নাটকগুলোর জন্যও দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছে। বিশেষ করে ‘আবার হবে দেখা’ নাটকে আফজাল হোসেনের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন দীপা খন্দকার।

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

দীপা খন্দকার ফুটবল খেলা পছন্দ করেন, খেলা দেখেনও। তার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা। তিনি বলেন, ‘খুব ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার খেলা পছন্দ করি। আর্জেন্টিনা আমার প্রিয় দল। ছোটবেলায় দেখেছি, বাসার সবাই এই দল সমর্থন করেন, সেভাবেই আমিও করি। বড় হওয়ার পরও পছন্দের দল হিসেবে এটিই থেকে গেছে।’

আর্জেন্টিনার কার কার খেলা ভালো লাগে? জবাবে দীপা খন্দকার বলেন, ‘অবশ্যই মেসির। মেসির খেলার মধ্যে একধরনের জাদু আছে। বলটা যেভাবে টেনে নিয়ে যায়! প্রিয় দলের আরও অনেকের খেলাই ভালো লাগে। তবে বেশি ভালো লাগে মেসির খেলা। আমার তো মনে হয়, যারা অন্য দল সমর্থন করেন, তারাও মেসির খেলার প্রশংসা করেন।’

তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা সমর্থন করলেও আরও বেশ কয়েকটি দেশের খেলা ভালো লাগে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দলের খেলা পছন্দ করি। সত্যি কথা বলতে, খেলাটা হচ্ছে উপভোগ করার বিষয়। বিশ্বকাপ ফুটবল আসে আর আমরা সবাই তা উপভোগ করি।’

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই উন্মাদনা, এটিকে কীভাবে দেখেন? তিনি বলেন, ‘ইতিবাচকভাবেই দেখি। তবে অতিরিক্ত কিছু যেন না হয়। ভ্রাতৃত্ব ধরে রেখে যেন খেলাটা উপভোগ করি।’

গত বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলার স্মৃতি মনে করে দীপা খন্দকার বলেন, ‘সেদিন আমার শুটিং ছিল। ইউনিটের সবাই মিলে শুটিং করেছি, আবার খেলাও দেখেছি। শুটিং করতে দেরি হয়ে যায়। ফাইনাল খেলা বলে কথা! ওই স্মৃতি ভোলার নয়। সবাই খুব আনন্দ নিয়ে সেদিন ফাইনাল খেলা দেখেছিলাম।’

এবার প্রিয় দল নিয়ে প্রত্যাশা কতটুকু? তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশা তো অনেক। দেখা যাক কী হয়, অপেক্ষা করছি। অন্য সবার মতো আমারও প্রত্যাশা বেশি। বড় অঘটনও ঘটতে পারে। সেই আশায় আছি।’

ম্যারাডোনার খেলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বহু বছর আগে তার খেলা দেখেছি। কী দুর্দান্ত খেলতেন! তার খেলা মানেই আলাদা কিছু, সুন্দর কিছু। এ জন্যই তো তিনি ম্যারাডোনা।’

‘বেপরোয়া’ হামলা চালাচ্ছে ইরান: আরব লিগ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুগপৎ হামলার আজ অষ্টম দিন। শান্তি আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় এই অযাচিত আগ্রাসনের জবাবে তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা শুরু করে। 

আক্রান্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আরব দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা ‘আরব লিগের’ সদস্য। 

আজ এই হামলার জেরে ইরানকে এক হাত নিয়েছেন আরব লিগের মহাসচিব। তিনি বলেন, আরব লিগের সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরান ‘বেপরোয়া’ হামলা চালাচ্ছে এবং এই উদ্যোগ একটি ‘বড় ধরনের কৌশলগত ভুল।’

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

আরব লিগের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত। তিনি মিশর থেকে এই সম্মেলনে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যোগ দেন। 

 

সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইরানের এসব হামলা ‘কোনো দিক দিয়েই যৌক্তিক নয়।’ 

তিনি দাবি করেন, আক্রান্ত আরব দেশগুলো ‘চলমান যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না’। 

‘তাদের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালাতে পারবে না বা তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করেও ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হবে না। এ বিষয়গুলো ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে’,  দাবি করেন মহাসচিব ঘেইত। 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান পরমাণু আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল ওমান। তবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।  

আবুল ঘেইত বলেন, ‘ওমান, কাতার ও মিশরসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইরানসহ সমগ্র অঞ্চলকে যুদ্ধের নিদারুণ আঘাত থেকে মুক্ত রাখার জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এর আগে একই কায়দায় বার্লিন তেহরানকে নির্বিচার হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। 

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১১২ জন।

পাশাপাশি, বাহরাইনের একটি পানি শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। 

অপরদিকে, কুয়েতের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান বোমাবর্ষণের মধ্যেই ইরান এসব পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক।

আজ মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাতে তারা কুশল বিনিময় করেন। এসময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্ব এবং তাদের নিরলস পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের সেবা করা, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দুর্যোগের সময় সবসময় মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীকে কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্ট গার্ডকে সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ওটিপি প্রতারণা থেকে বাঁচতে যে ভুলগুলো কখনো করবেন না

একটি ফোনকল। ওপাশ থেকে পরিচিত ভঙ্গিতে কেউ বলছে, ‘আমি কাস্টমার কেয়ার থেকে বলছি। আপনার অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে। এখনই একটি কোড যাবে, সেটি বলুন।’

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফোনে একটি ছয় সংখ্যার কোড এলো। বার্তায় লেখা, এটি কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। তারপরও অনেকেই বলে ফেলেন।

প্রতারকের সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই। তারা সব সময় প্রযুক্তি ভেঙে ঢোকে না; বরং মানুষকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে, যেখানে ভয়ের মধ্যে বা তাড়াহুড়োয় সে নিজেই নিজের নিরাপত্তার দরজা খুলে দেয়।

ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি মূলত অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য তৈরি। ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, ই-মেইল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে প্রবেশ, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বা কোনো লেনদেন নিশ্চিত করার সময় এই কোড ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু কোডটি ভুল হাতে গেলে সেটিই আবার নিরাপত্তার দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে।

তাই ওটিপি-সংক্রান্ত প্রতারণা ঠেকাতে কয়েকটি ভুল কখনোই করা উচিত নয়।

ফোনে কাউকে ওটিপি বলবেন না

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। কেউ ব্যাংক, বিকাশ, নগদ, মোবাইল অপারেটর, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিলেও ওটিপি বলা যাবে না।

প্রতারকেরা প্রায়ই এমন ভাষা ব্যবহার করে, যেন পরিস্থিতি জরুরি মনে হয়—অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, টাকা আটকে গেছে, পরিচয় যাচাই করতে হবে, অথবা কোনো সুবিধা পেতে হলে দ্রুত কোড বলতে হবে।

এই তাড়াহুড়োটাই তাদের কৌশল।

কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান আপনার গোপন ওটিপি জেনে আপনার হয়ে সেটি ব্যবহার করার কথা নয়। কোডটি এসেছে আপনার পরিচয় বা আপনার কাজ নিশ্চিত করতে, অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নয়।

শুধু কোড নয়, পুরো বার্তাটি পড়ুন

অনেকে ওটিপি এলেই শুধু সংখ্যাটির দিকে তাকান। কিন্তু সেই বার্তার বাকি অংশে প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লেখা থাকে।

কোডটি কি নতুন কোনো যন্ত্রে প্রবেশ, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, অর্থ লেনদেন, নাকি নতুন অ্যাকাউন্ট চালুর জন্য?

আপনি যদি এর কোনোটিই নিজে শুরু না করে থাকেন, তাহলে ধরে নিতে হবে কেউ আপনার তথ্য ব্যবহার করে কিছু একটা করার চেষ্টা করছে।

এ অবস্থায় কোডটি কাউকে না জানিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা উচিত।

অপরিচিত কাউকে ফোনের নিয়ন্ত্রণ দেবেন না

প্রতারকেরা অনেক সময় বলে, আপনার ফোন বা অ্যাকাউন্টের সমস্যা ঠিক করতে একটি অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। এরপর তারা এমনভাবে নির্দেশনা দেয়, যেন দূর থেকেই আপনার ফোনের স্ক্রিন দেখতে বা ফোনটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এ অবস্থায় আপনার ফোনে আসা ওটিপি, ব্যক্তিগত বার্তা বা ব্যাংকিং তথ্য তাদের চোখে পড়ে যেতে পারে।

তাই অপরিচিত কারও কথায় অ্যানিডেস্ক, টিমভিউয়ার বা এ ধরনের দূর থেকে ফোন নিয়ন্ত্রণের অ্যাপ ইনস্টল করবেন না। আগে থেকেই এমন অ্যাপ থাকলেও অচেনা কাউকে সংযোগের অনুমতি দেবেন না।

বার্তায় পাওয়া লিংকে গিয়ে ওটিপি দেবেন না

প্রতারকেরা এখন এমন ওয়েবসাইট বানায়, যা দেখতে আসল ব্যাংক বা পরিচিত সেবার ওয়েবসাইটের মতোই।

এসএমএস, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ই-মেইলে লিংক পাঠিয়ে বলা হতে পারে—‘অ্যাকাউন্ট যাচাই করুন’, ‘পুরস্কার নিন’, ‘টাকা ফেরত পেতে তথ্য দিন’।

সেখানে প্রথমে ব্যবহারকারীর নাম বা পাসওয়ার্ড, এরপর ওটিপি চাওয়া হয়।

ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না, তিনি আসলে প্রতারকের তৈরি পাতায় নিজের সব তথ্য দিয়ে দিয়েছেন।

সন্দেহ হলে কোনো পাঠানো লিংক ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট নিজে খুলে কাজ করা নিরাপদ।

‘টাকা পেতে ওটিপি লাগবে’—এ কথা বিশ্বাস করবেন না

বাংলাদেশে অনলাইন কেনাবেচা ও মোবাইল আর্থিক সেবা ঘিরে এ ধরনের প্রতারণা বেশ পরিচিত।

কেউ বলতে পারে, ‘আপনাকে টাকা পাঠানো হয়েছে, গ্রহণ করতে ওটিপি বলুন।’

আবার কখনো বলা হয়, ‘রিফান্ড পেতে কোড লাগবে’, ‘ক্যাশব্যাক ছাড়তে হবে’, ‘সরকারি সহায়তার টাকা নিতে হবে’।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা দরকার—টাকা পাওয়ার জন্য কাউকে নিজের ওটিপি বলে দিতে হয় না।

ওটিপি সাধারণত কোনো কাজ অনুমোদন বা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই কেউ টাকা দেওয়ার আগে আপনার কোড জানতে চাইলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত।

পরিচিত নাম বা নম্বর দেখেই কলটি বিশ্বাস করবেন না

ফোনে পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠান বা নম্বরের নাম দেখালেই ধরে নেওয়া যাবে না যে কলটি সেখান থেকেই এসেছে।

প্রতারকেরা কখনো এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, যেন ফোনের পর্দায় অন্য কোনো নম্বর বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম দেখায়। ফলে কলটি ব্যাংক, বিকাশ, নগদ কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের বলে মনে হতে পারে।

তাই পরিচিত নাম দেখালেও কেউ ওটিপি চাইলে তা কখনোই জানাবেন না। সন্দেহ হলে কলটি কেটে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে নিজে যোগাযোগ করুন।

কারণ ফোনের পর্দায় কী নাম দেখাচ্ছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কলটির সত্যতা আপনি নিজে যাচাই করেছেন কি না।

ভুল করে ওটিপি দিয়ে ফেললে সময় নষ্ট করবেন না

ভুল হয়ে গেছে বুঝতে পারার পর অনেকেই লজ্জা বা ভয় থেকে চুপ করে থাকেন। এতে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

ওটিপি দিয়ে ফেললে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার বিষয় হলে অফিসিয়াল গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করুন। অচেনা যন্ত্রে অ্যাকাউন্ট খোলা আছে কি না দেখুন এবং সন্দেহজনক প্রবেশ বন্ধ করুন।

একইসঙ্গে সাম্প্রতিক লেনদেনও পরীক্ষা করা জরুরি।

প্রতারণার ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আপনি কিছুই করেননি, তবু ওটিপি এলো?

এটিকেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আপনি কোনো অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করেননি, কিছু কেনেননি, পাসওয়ার্ডও বদলাননি—তারপরও হঠাৎ ওটিপি এলে এর অর্থ হতে পারে কেউ আপনার ফোন নম্বর, ই-মেইল বা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

একবার এমন হলে কোডটি উপেক্ষা করা যেতে পারে। কিন্তু একই ঘটনা বারবার হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলানো এবং নিরাপত্তা সেটিং পরীক্ষা করা ভালো।

বিএনপির ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি কেবল কাগজেই

নেতৃত্বে নতুনদের সুযোগ তৈরি ও জবাবদিহি বাড়াতে গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতা, এক পদ’ বিধান যুক্ত করেছিল বিএনপি। তবে এক দশক পার হলেও নীতিটির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। বরং দলের কেন্দ্র ও তৃণমূলে এখনও অনেক নেতা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ধরে রেখেছেন। এতে পদোন্নতির সুযোগ না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন দলের অপেক্ষাকৃত তরুণ ও তৃণমূলের নেতারা।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ দলীয় একাধিক পদে থাকা কয়েকজন নেতা এখন একই সঙ্গে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করছেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি যুক্ত করা হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।

এখনও কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে অন্তত দুই ডজন নেতা একাধিক সাংগঠনিক পদে আছেন। অথচ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর দলকে নতুন করে সাজানোর কাজ চলছে।

উদাহরণ হিসেবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কথা বলা যায়। তিনি একই সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

আসাদুল হাবিব দুলু বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও আছেন। খায়রুল কবির খোকনও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং একই সঙ্গে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন না। 

এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটির পদধারী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সাংগঠনিক পদে থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দলের গঠনতন্ত্রে থাকা এই নীতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ তখন দলের অনেক নেতা কারাগারে ছিলেন, কেউ আত্মগোপনে ছিলেন। আবার অনেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। ফলে এই নীতি বাস্তবায়নের সুযোগ হয়তো এখন দলের আছে। 

এদিকে পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূলে। দলের বিভিন্ন পর্যায় ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় তিন ডজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পেয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।

কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন নেতা যদি দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ধরে রাখেন, তাহলে অন্যদের সামনে ওপরে ওঠার সুযোগ কমে যায়।

কুষ্টিয়া বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, নীতিটি বাস্তবায়ন করা হলে ভালো হতো। তাহলে অনেক যোগ্য নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার সুযোগ পেতেন।

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল ফকির বলেন, আমি এই নীতিকে পুরোপুরি সমর্থন করি। এতে দলের জন্য নিবেদিত নেতাকর্মীরা দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পান। তা না হলে তাদের অনেকেরই কোনো পদে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।

ছাত্রদলের ঢাকা উত্তর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল বলেন, এই নীতি বাস্তবায়ন হলে বিভিন্ন ইউনিটে বিভিন্ন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বও উঠে আসবে।

মুন্সীগঞ্জের একটি ইউনিটের বিএনপি নেতা বলেন, এখন দলের অভিজ্ঞ নেতার সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। তাই একই ব্যক্তিদের একাধিক পদ ধরে রাখার কোনো কারণ নেই। তার মতে, নীতিটি বাস্তবায়ন করা হলে দলের ভেতরের হতাশা কমবে এবং যোগ্য আরও অনেক নেতাকে নেতৃত্বে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে দলের কিছু নেতা ইতোমধ্যে এই নীতি মেনে চলছেন। বিএনপির মহাসচিব হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই দুটি পদ ছেড়ে দেন। একইভাবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হওয়ার পর যুবদলের সভাপতির পদ ছেড়ে দেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একাধিক পদে থাকা প্রায় ৬০ জন নেতার মধ্যে ৪৪ জন একটি পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর সেই প্রক্রিয়া আর বেশি দূর এগোয়নি। দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এখনও একাধিক পদ ধরে রেখেছেন।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তারেক রহমানও ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি আবার কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন নেতা যখন একাধিক সাংগঠনিক পদ দখল করে রাখেন, তখন অন্য অভিজ্ঞ বা নতুন নেতাদের জন্য পদ কমে যায়। এতে শেষ পর্যন্ত দলই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক হয়েও কেন মাছ আমদানি করে বাংলাদেশ?

বিশ্বের অন্যতম প্রধান মাছ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) জুন ২০২৬-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নদী, হ্রদ ও জলাভূমি থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় এবং মাছ চাষে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের (ডিওএফ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন বছরে ৫০ লাখ টনের বেশি মাছ উৎপাদিত হয়। যেখানে দেশে বার্ষিক মাছের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৯৩ হাজার টন।

কিন্তু, সরকারি নথি বলছে, দেশে প্রতি বছর নিয়মিত হাজারো টন মাছ আমদানি হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের মতে, এর কারণ মূলত মাছের বৈচিত্র্য। বাংলাদেশে চাহিদা রয়েছে এমন কিছু প্রজাতির মাছ দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না এবং কিছু মাছ একেবারেই উৎপাদিত হয় না। প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং বিশেষায়িত বাজারের সেই চাহিদা পূরণ করতেই মাছ আমদানি করতে হয়।

কোন মাছ, কীভাবে ও কোথা থেকে আসে

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২৮৮টি প্রতিষ্ঠান দেশে মাছ ও মাছজাত পণ্য আমদানির জন্য নিবন্ধিত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৫২১ কোটি টাকা মূল্যের ৫৬ হাজার টন মাছ আমদানি করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৭৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫৫ হাজার টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৬০ কোটি টাকা মূল্যের ৭১ হাজার টন এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪০৬ কোটি টাকা মূল্যের ৫৭ হাজার টন মাছ আমদানি করা হয়েছে।

যেসব মাছ বেশি আমদানি করা হয় তার মধ্যে রয়েছে রুই, পাঙাশ, রূপচাঁদা, টুনা, শ্যাড, মুলেট, দোরাব ও ম্যাকারেল। এ ছাড়া, লইট্টা ও পুঁটি মাছের শুঁটকিও আমদানি করা হয়।

এর বেশিরভাগই হিমায়িত অবস্থায় আসে। গত অর্থবছরে আমদানি করা প্রায় ৮৬ শতাংশ মাছ হিমায়িত অবস্থায় এসেছে। মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রায় হিমায়িত করে আনা হয় বলে এসব মাছে পচন ধরে না এবং কয়েক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। বাকি মাছগুলো আসে বরফে রাখা অবস্থায়। সেগুলো শূন্য থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, অর্থাৎ হিমাঙ্কের সামান্য ওপরে রাখা হয়। এতে স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারের জন্য মাছের গুণগত গঠন ভালো থাকে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মূলত মাছ আমদানি করে চীন, ভারত, মিয়ানমার, জাপান, ওমান, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে।

কেন আমদানি

ইয়েমেন, ওমান, দুবাই, চীন, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি ইলিশ, রুই, কাতলা, ইন্ডিয়ান ম্যাকারেল, হর্স ম্যাকারেল, টুনা, ক্যাটফিশ ও চন্দনা ইলিশ আমদানি করেন মো. সাঈদ আলী। এমনকি উরুগুয়ে থেকেও স্থানীয়ভাবে রূপসী বা লাফা নামে পরিচিত ইলিশ আমদানি করেন।

তার ক্রেতা রয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তিনি জানান, লইট্টার মতো আমদানি করা কিছু মাছ তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় ভালো বিক্রি হয়। মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই মাছ বেশি কেনেন।

তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে যেসব মাছের চাহিদা আছে, সেটার ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখছে আমদানি করা মাছ।

আরেক আমদানিকারক মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম রোকন ভারত ও মিয়ানমার থেকে রুই, কাতলা, ভেটকি ও ইলিশ আমদানি করেন। তিনি ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এসব মাছ বিক্রি করেন।

প্রায় সারা বছরই এসব মাছের চাহিদা থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব মাছের চাহিদা বেশি থাকে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখার জন্যই আমদানি করা হয়।’

দেশের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো আমদানি করা মাছের বড় ক্রেতা। ঢাকার কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও পশ্চিমা ধাঁচের সি-ফুড রেস্তোরাঁর মেনু দেখলেই সেটা বোঝা যায়।

ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের ঝরনা গ্রিলের মেনুতেও বিষয়টি স্পষ্ট। রেস্তোরাঁটির নিজস্ব মেনুতে তাদের ‘প্যাসিফিক-অনুপ্রাণিত খাবার’-এর উপকরণ হিসেবে ‘ভিয়েতনামিজ প্রন, কানাডিয়ান স্যামন, সিঙ্গাপুরের কাঁকড়া, অস্ট্রেলিয়ান বিফ’-এর কথা বলা হয়েছে। তাদের সি-ফুড তালিকায় নরওয়েজিয়ান স্যামন স্টেক রয়েছে, আর মাংসের জন্য আলাদা ‘ইমপোর্টেড স্টেকস’ বিভাগ রয়েছে।

দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার সিজনাল টেস্টস রেস্তোরাঁ চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে ‘অথেনটিক চিলড নরওয়েজিয়ান স্যামন’কে কেন্দ্র করে একটি সি-ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে। সেখানে সি-ফুড পায়েলা ও টেরিনও ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিলাসবহুল হোটেলটির এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আমদানি করা সি-ফুডের চাহিদা অনেক বেশি। চিলড স্যামন, স্মোকড স্যামন, টুনা ফিলেট, চিলিয়ান সি বাস ও পাঙাশ ফিলেটের চাহিদা রয়েছে। হোটেলটি প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কেজি আমদানি করা মাছ ব্যবহার করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেরাটন ঢাকার এক কর্মকর্তাও একই কথা জানান।

মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরিচালক মো. বরকতুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, দেশীয় নিয়মিত চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে মাছ আমদানির প্রয়োজন নেই, কারণ দেশে পর্যাপ্ত মাছ উৎপাদিত হয়। কিন্তু, বাজারের কিছু বিশেষ চাহিদা পূরণ করার জন্যই আমদানি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট প্রজাতি ও পণ্যের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারের বিভিন্ন খাত ও মাছভিত্তিক শিল্পকে সহায়তা করে আমদানি।’

আরও উন্নত নিয়ন্ত্রক তদারকি প্রয়োজন

তবে মৎস্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আমদানি করা মাছের মান নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকির ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘আমদানি করা মাছ ও মৎস্যজাত পণ্যের উৎস ও ধরন যত বৈচিত্র্যময় হচ্ছে, আমাদের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। যাতে শুধু নিরাপদ, মানসম্মত ও মানুষের খাওয়ার উপযোগী পণ্যই দেশের বাজারে আসতে পারে।’

বাংলাদেশে মাছ আমদানি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ইতোমধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি আরও সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক করার সুযোগ রয়েছে। এর লক্ষ্য হওয়া উচিত ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ন্যায্য বাণিজ্য বজায় রাখা এবং দেশীয় মাছ উৎপাদক ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা।’

তিনি জানান, বর্তমানে নিয়ন্ত্রক তদারকি মূলত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া অথবা সীমিতসংখ্যক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

বরকতুল আলম বলেন, রপ্তানিকারক দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন, আমদানির আগে যাচাই ও স্বাস্থ্য সনদ যাচাই থেকে শুরু করে ঝুঁকিভিত্তিক সীমান্ত পরিদর্শন, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা, পণ্যের গতিপথ অনুসরণ এবং ছাড়পত্র দেওয়ার পর নজরদারি—পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই এর আওতায় আনতে হবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বৈশ্বিক বাণিজ্য মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বিধিবিধান সামঞ্জস্যপূর্ণ করারও পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার খাদ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত চুক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, আমদানি নীতি আদেশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাও প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ ও শক্তিশালী করা উচিত।’

ধারাবাহিক সাফল্যের কারণেই বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এত বিতর্ক?

২০২১ সালের ১১ জুলাই। ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২৮ বছরের শিরোপা-খরা ঘোচায় আর্জেন্টিনা।

সেই রাতই লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় আক্ষেপের অবসান ঘটায়। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করলেও জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারায় বছরের পর বছর সমালোচিত হয়েছেন তিনি। 

২০১৪ থেকে ২০১৬- তিন বছরে টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরে ‘সিরিয়াল ফাইনালিস্ট’ তকমা পাওয়া আর্জেন্টিনার জন্য সেই জয় ছিল নতুন এক যুগের সূচনা। এরপর একে একে ২০২২ সালে ফিনালিসিমা, একই বছর কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে লিওনেল স্কালোনির দল। চলমান বিশ্বকাপেও তারা জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সফল জাতীয় দলগুলোর একটি হয়ে ওঠার পরও আর্জেন্টিনা যতটা না প্রশংসিত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে। তাদের প্রতিটি সাফল্য সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছে, আবার অনেকের দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধও হয়েছে। ফলে স্কালোনির দল বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দল হওয়ার পাশাপাশি অনেকের মধ্যে মতের বিভক্তিও সৃষ্টি করেছে। 

স্কালোনির অধীনে অবিশ্বাস্য সাফল্য 

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে খুব কম দলই আর্জেন্টিনার মতো ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সৌদি আরবের কাছে হারার আগে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত ছিল আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা তো জিতেছিলই, পাশাপাশি কোনো ম্যাচ না হেরে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বও শেষ করেছিল আলবিসেলেস্তেরা। 

সৌদির কাছে সেই পরাজয় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্নকে লাইনচ্যুত করে দিতে পারত। উল্টো সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ ফাইনাল জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপ জয়ের পরও থেমে থাকেনি তাদের সাফল্যের ধারা। ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পয়েন্ট তালিকাতেও শীর্ষে অবস্থান ধরে রাখে দলটি। ২০১৮ সালে স্কালোনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনা খেলেছে ১০১টি ম্যাচ। এর মধ্যে ৭৮টিতেই জয় পেয়েছে দলটি, আর হার মাত্র ৯টিতে—যা বর্তমান আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের আধিপত্যেরই প্রতিফলন। 

আধুনিক যুগের সেরা আন্তর্জাতিক দলগুলোর মধ্যে একটি আর্জেন্টিনা?

গত তিন দশকে আন্তর্জাতিক ফুটবল বেশ কয়েকটি আধিপত্য বিস্তারকারী দলের দেখা পেয়েছে। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০০০ সালে ইউরো জিতে নিজেদের স্বর্ণযুগ গড়ে তুলেছিল ফ্রান্স। এরপর ২০০২ বিশ্বকাপের পাশাপাশি ২০০৪ ও ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করে ব্রাজিল।

২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০১২ ইউরো—টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্ট জিতে স্পেন তর্কযোগ্যভাবে এই শতাব্দীর সবচেয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী দলটির জন্ম দিয়েছে। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ফ্রান্স। 

এই কিংবদন্তি দলগুলোর সাথে এক কাতারেই উচ্চারিত হচ্ছে আর্জেন্টিনার নাম। স্কালোনির অধীনে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে আলবিসেলেস্তেরা নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা জাতীয় দলগুলোর তালিকায়। আর যদি তারা ২০২৬ বিশ্বকাপও জিতে নিতে পারে, তাহলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা জাতীয় দলগুলোর আলোচনায় নিজেদের জায়গাটা আরও শক্ত করবে আর্জেন্টিনা।

মেসির লিগ্যাসি 

ক্যারিয়ারের বড় একটি সময়জুড়ে লিওনেল মেসিকে শুনতে হয়েছে একটিই সমালোচনা-বার্সেলোনার জার্সিতে যে সাফল্য তিনি পেয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে তার প্রতিফলন নেই। মেসি ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের ছোট্ট তালিকায় জায়গা পাবেন কি না এটি নিয়ে যারা সংশয় প্রকাশ করতো, তাদের কাছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল এই যুক্তিই।  

কিন্তু ধীরে ধীরে এই সংশয় মুখ থুবড়ে পড়েছে। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ- আন্তর্জাতিক ফুটবলে সম্ভাব্য প্রায় সব বড় শিরোপাই এখন মেসির দখলে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি আর্জেন্টিনা দলের প্রাণভোমরা। বিশ্বকাপে গোল ও অ্যাসিস্টের একাধিক রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন, আর বড় ম্যাচগুলোতেও নিয়মিত পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে। 

তবে এসবের বাইরে মেসি তাঁর আর্জেন্টিনা সতীর্থদের থেকে যে সম্মান ও ভালোবাসা পান, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার নজির খুব কমই দেখা গেছে। মাঠে অনেক সময় তার সতীর্থদের দেখে মনে হয়, অধিনায়কের জন্য তারা যেন সর্বস্ব উজাড় করে দিতেও প্রস্তুত। অন্য কোনো তারকাকে ঘিরে এমন নিঃস্বার্থ নিবেদন আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব কমই দেখা গেছে।

যদিও মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, পেলে কিংবা রোনালদোকে ঘিরে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্ক হয়তো কখনোই শেষ হবে না, তবু অনেকের বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার জার্সিতে গত কয়েক বছরে মেসি যা কিছু অর্জন করেছেন, তাতে তাঁর সর্বকালের সেরা ফুটবলার তকমা পাওয়ার দাবি আরও শক্তিশালীই হয়েছে। 

সাফল্যের সঙ্গে কেন বাড়ছে সমালোচনাও?

সত্যিটা হলো, আর্জেন্টিনার সাফল্যই তাদেরকে সমালোচনার অন্যতম বড় লক্ষ্য বানিয়ে তুলেছে। 

একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করা ব্রাজিল এখন নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। অন্যদিকে রোনালদোর পর্তুগালও টানা কয়েকটি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ফলে বর্তমান সময়ে আর্জেন্টিনাই হয়ে উঠেছে সেই দল, যাদের সবাই হারাতে চায়। 

সাফল্যের সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনাও ধেয়ে আসে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক সাফল্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্বও। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে রেফারিদের সিদ্ধান্তগুলোকে কেন্দ্র করে।

চলমান বিশ্বকাপেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একটি কঠিন ট্যাকলের পরও মেসি কোনো কার্ড না পাওয়ায় প্রথম প্রশ্ন ওঠে। এরপর মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের ম্যাচেও রেফারির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। ম্যাচ শেষে মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ প্রকাশ্যেই রেফারিংয়ের সমালোচনা করেন। এমনকি কেউ কেউ টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ফিফার রেফারিং বিভাগ। তাদের দাবি, ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা ফুটবলের প্রচলিত আইন যথাযথভাবেই প্রয়োগ করেছেন।

তবু এসব বিতর্কের জেরে ফুটবল সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যে এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা সুবিধা পায়। যদিও এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বা প্রমাণিত তথ্য সামনে আসেনি।

অতীতের বিতর্কে বেড়েছে সন্দেহ

আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বর্তমানের নানা বিতর্কের পেছনে ইতিহাসেরও বড় ভূমিকা আছে। 

দেশটির প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা আসে ১৯৭৮ সালে। তবে সেই সাফল্য আজও পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত নয়। সে সময় জেনারেল হোর্হে রাফায়েল ভিদেলার সামরিক শাসনের অধীনে আয়োজিত বিশ্বকাপকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছিল। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কখনোই অকাট্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

১৯৮৬ বিশ্বকাপ মানেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। গোলটি আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি। অবশ্য একই ম্যাচে কয়েকজন ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে করা তার অবিশ্বাস্য একক গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবেও স্বীকৃত।

সাম্প্রতিক সময়েও বিতর্ক পুরোপুরি পিছু ছাড়েনি আর্জেন্টিনার। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তারা পেয়েছিল পাঁচটি পেনাল্টি—যা এক আসরে কোনো দলের পাওয়া সর্বোচ্চ পেনাল্টির রেকর্ড। এরপর থেকেই সমালোচকদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, তবে কি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে আর্জেন্টিনা রেফারিদের থেকে অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছিল? আর্জেন্টিনা ভক্তরা অবশ্য শক্তভাবে দাবি করেন যে প্রতিটি পেনাল্টির সিদ্ধান্তই ভিএআর দিয়ে পরীক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ীই দেয়া হয়েছিল, ফলে এখানে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

সাফল্য যত বড়, বিরূপ প্রতিক্রিয়াও তত বেশি

ন্যায়সঙ্গত হোক বা না-ই হোক, আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আজ যে বিতর্ক তা তাদের সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বেড়েছে। দলটির প্রতিটি অর্জন যেমন প্রশংসিত হয়, তেমনি তা খুঁটিয়ে বিশ্লেষণও করা হয়। 

আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মতে, এই সমালোচনার বড় কারণ হলো দীর্ঘ সময় ধরে সাফল্যের শীর্ষে থাকা। আর সমালোচকদের মতে, রেফারিং-সংক্রান্ত বিতর্ক এবং কিছু প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত বারবার সামনে আসায় এসব আলোচনা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। 

সম্ভবত বাস্তবতা এই দুই অবস্থানের মাঝামাঝি কোথাওই হবে। 

কারণ গত পাঁচ বছরে আর্জেন্টিনার সাফল্যকে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত দিয়ে মাপা যায় না। লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটির ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা, শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং চাপের মুহূর্তে সেরা ফুটবল উপহার দেওয়ার সক্ষমতা তাদের এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক দলে পরিণত করেছে।

কেউ পছন্দ করুক বা না করুক, মেসি এবং আর্জেন্টিনা এখন এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে, যেখানে তাদেরকে উপেক্ষা করা অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত তাদের লিগ্যাসি নির্ধারণ করবে ইতিহাস। আর ইতিহাস সাধারণত বিতর্কের চেয়ে চ্যাম্পিয়নদেরই বেশি মনে রাখে।

নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আফরান নিশো

‘সুড়ঙ্গ’-সিনেমার সাফল্যের পর এবার আসছে এর সিক্যুয়েল ‘সুড়ঙ্গ-২’। নতুন চমক নিয়ে ফিরছেন পরিচালক রায়হান রাফী এবং অভিনেতা আফরান নিশো।

বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি ‘সুড়ঙ্গ’ সমালোচকদেরও প্রশংসা অর্জন করে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আটটি বিভাগে সম্মাননা পায় এটি।

এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লি. প্রযোজিত এই সিক্যুয়েল মুক্তি পাবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে।

এ প্রসঙ্গে সিনেমাটির পরিচালক রায়হান রাফী বলেন, ‘সুড়ঙ্গ’ আমার চলচ্চিত্রযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলোর একটি। এই চলচ্চিত্রকে দর্শক যেভাবে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন, তা শুধু ভালোবাসা নয়, আমাদের প্রতি এক গভীর দায়িত্বও তৈরি করেছে। সুড়ঙ্গ-২–এ আমরা এমন একটি গল্পের দরজা খুলতে যাচ্ছি, যা শুধু আগের কাহিনির ধারাবাহিকতা নয়; বরং আমার চলচ্চিত্রের নিজস্ব ইউনিভার্সকে আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ করবে। মানুষের ভেতরের অন্ধকার, আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার লড়াই সবকিছুকে এবার আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে দেখার চেষ্টা করেছি।

অভিনেতা আফরান নিশো বলেন, আমার প্রথম সিনেমা ছিলো ‘সুড়ঙ্গ’, তাই এটি সবসময় আমার জন্যে বিশেষ কিছু। ‘মাসুদ’ চরিত্রটি আমার চলচ্চিত্রের জার্নিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র। দর্শকরা যেভাবে এই চরিত্রকে ভালোবেসেছেন, তা আমার জন্য বিশেষ পাওয়া। সুড়ঙ্গ-২ নিয়ে এতটুকু বলতে চাই, নতুন গল্প, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নতুন কিছু চমক দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে।’