31 C
Dhaka
Home Blog

এডিপি বাস্তবায়ন ৫০ বছরে সর্বনিম্ন

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বরাদ্দের বিপরীতে বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ, যা গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা (সংশোধিত) বরাদ্দের বিপরীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি টাকা ব্যয় করতে পেরেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এটি গত ৫০ বছরে উন্নয়ন কর্মসূচির দুর্বলতম বাস্তবায়ন। যদিও ২০২০-২১ অর্থবছরের পর এবারই মোট বরাদ্দের পরিমাণ সবচেয়ে কম ছিল।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের উন্নয়ন ব্যয় ছিল সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দের ৬৮ শতাংশ।

ফ্রান্সের বিপক্ষে নামার আগে বড় ধাক্কা খেল মরক্কো

গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই মরক্কোর হয়ে গোল করেছিলেন ইসমাইল সাইবারি। শেষ ষোলোর ম্যাচে এসে চোটে পড়া এই ফরোয়ার্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালে পাচ্ছে না মরক্কো। দলটির কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বোস্টনের কাছে জিলেট স্টেডিয়ামে আজ দিবাগত রাত ২টায়  সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি মরক্কো। এই ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের ওয়াহবি দেন খারাপ সংবাদ, ‘সাইবারি ছাড়া বাকি সবাই শতভাগ ফিট। এই ম্যাচটি তার জন্য একটু দ্রুতই চলে এলো, তবে আমি আশা করি প্রতিযোগিতার বাকি অংশ থেকে সে ছিটকে যায়নি।’

ডাচ চ্যাম্পিয়ন পিএসভি আইন্দহোভেন থেকে সম্প্রতি প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো (৫৭ মিলিয়ন ডলার) মূল্যে পাঁচ বছরের চুক্তিতে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন সাইবারি। চলতি বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে নজর কেড়েছেন তিনি। 

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই তিনি গোল করেছেন এবং শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে হারানোর ম্যাচে মরক্কোর হয়ে টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টিটি নিয়েছিলেন এই তারকা।

তবে গত শনিবার শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের দিনে হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দ্রুত মাঠ ছাড়েন এবং এখনো সেই চোট থেকে সেরে ওঠেননি।

ঐ ম্যাচে সাইবারির বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন স্ট্রাইকার সুফিয়ান রাহিমি। মরক্কোর পক্ষে তৃতীয় গোলটি আসে তার পা থেকেই।

২০২২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছিলো মরক্কো। ‘অ্যাটলাস লায়ন্সরা’ আরেকটি নকআউট ম্যাচে ফরাসীদের বিপক্ষে প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে আছে।

২০২২ সালে এই দুই দলের লড়াইটি টেলিভিশনে একজন সাধারণ ভক্ত হিসেবে দেখেছিলেন উল্লেখ করে কোচ ওয়াহবি জানান তার আত্মবিশ্বাসের কথা, ‘আগামীকাল আমরা সেমিফাইনালে ওঠার চেষ্টা করব। আমরা ইতিমধ্যে ভালো করেছি এবং এর পরের সবকিছুই বোনাস—এমন মানসিকতা আমি পছন্দ করি না।’

 

ঈদে অপূর্ব-নিহার ভালোবাসা-আবেগের ২ নাটক

ঈদ এলেই দর্শকদের আলাদা আগ্রহ থাকে জিয়াউল ফারুক অপূর্বর নাটক নিয়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এই ঈদে ছোটপর্দায় দেখা যাবে অপূর্ব অভিনীত দুটি নতুন নাটক। দুই নাটকেই তার বিপরীতে রয়েছেন অভিনেত্রী নাজনীন নিহা।

একটি নাটকের নাম ‘অচেনা আমি’। অন্যটি ‘মায়াপাখি’। দুটি নাটকের গল্পই আবেগ, প্রেম ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘিরে।

অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প ভাবনাতেও আগেই প্রশংসা পেয়েছেন অপূর্ব। তার ভাবনা থেকে নির্মিত হয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটক।

এবার ঈদে তার নিজের লেখা গল্পে নির্মিত হয়েছে ‘অচেনা আমি’। নাটকটি পরিচালনা করেছেন তানিম রহমান অংশু। চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি।

নাটকটিতে অপূর্বের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন নাজনীন নিহা।

রোমান্টিক ঘরানার এই গল্পে আছে ভালোবাসা। আছে বিচ্ছেদ। আছে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে আবার খুঁজে পাওয়ার অনুভূতি।

নির্মাতারা বলছেন, শুধু প্রেম নয়, মানুষের জীবনের নানা উপলব্ধিও উঠে আসবে নাটকটিতে।

‘অচেনা আমি’ মুক্তি পাবে কোরবানির ঈদের দ্বিতীয় দিন। দেখা যাবে ক্যাপিটাল ড্রামার ইউটিউব চ্যানেলে।

ঈদে অপূর্ব-নিহা জুটির আরেক আয়োজন ‘মায়াপাখি’। এটি লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। এর আগে তার ‘মনদুয়ারী’ ও ‘মেঘবালিকা’ নাটকেও একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল অপূর্ব ও নিহাকে।

মায়াপাখির গল্পের কেন্দ্রে আছে খুব সাধারণ এক মেয়ে— মায়া। বেণী করা চুল। কপালে ছোট্ট টিপ। চোখে কাজল। অনেকটা হুমায়ূন আহমেদের গল্পের সহজ-সরল নায়িকাদের মতো।
এই মেয়েটির প্রেমে পড়ে সাদাত।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্প বদলাতে থাকে। সম্পর্কের ভেতর তৈরি হয় জটিলতা। আর সেখান থেকেই শুরু হয় আবেগের নতুন মোড়।

নাটকটি নিয়ে বেশ আশাবাদী অপূর্ব। তার ভাষায়, মায়াপাখি এমন এক গল্প, যা দেখে সবার মায়া লাগবে।

মায়াপাখি মুক্তি পাবে ঈদের দিন। নাটকটি প্রকাশ করবে সিএমভি।

খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনে কেন দেরি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের পর ইতোমধ্যে এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো তার উত্তরসূরি ঘোষণা হয়নি। 

কেন এই বিলম্ব—বিশ্লেষকদের মতামতের ভিত্তিতে তার ব্যাখ্যা দিয়েছে সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও আল জাজিরা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের দুই কর্মকর্তার বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই খামেনির উত্তরসূরি ঘোষণার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে ইরান।

তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন নেতাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে—এমন মন্তব্যের পর এই বিলম্ব হচ্ছে। 

ওই দুই কর্মকর্তারা আরও বলেন, ‘সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম সামনে এসেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার নাম ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।’ 

 

প্রতিবেদনে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। 

ট্রাম্প বলেছেন, মোজতবা খামেনিকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা সময় নষ্ট করছে। খামেনির ছেলে দুর্বল এবং গ্রহণযোগ্য নয়।’

খামেনির নীতি অনুসরণ করেন— এমন নেতা ক্ষমতা এলে পাঁচ বছরের মধ্যে আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে যাকেই নির্বাচিত করা হোক না কেন, তাকে নিশ্চিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হুমকির কারণে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণায় বিলম্ব করছে ইরান।

এ বিষয়ে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক সিনা আজোদি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘ইরানি কর্মকর্তারা নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা যতটা সম্ভব বিলম্বিত করার চেষ্টা করবেন, যাতে তার ওপর হামলা এড়ানো যায়।’

তবে উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং মোজতবা খামেনি এই পদে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

এদিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোহরেহ খারাজমি মনে করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হয়তো ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে এখনো তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী নেতার জীবন রক্ষা করা খুবই যৌক্তিক বিষয়। এটি একটি যুক্তিসঙ্গত নিরাপত্তা প্রটোকল।’

ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস উত্তরসূরি নির্বাচন প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন, এমন খবর গুজব বলে জানান খারাজমি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতবা খামেনি যদি শেষ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন, তাহলে দেশটিতে কঠোর রক্ষণশীল শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। 

মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার আড়ালে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বাধ্যতামূলক অবসরে কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

আজ রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৪৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।

এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ (পঁচিশ) বৎসর পূর্ণ হইবার পর যে কোনো সময় সরকার, জনস্বার্থে, প্রয়োজনীয় মনে করিলে কোনোরূপ কারণ না দর্শাইয়া তাহাকে চাকরি হইতে অবসর প্রদান করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, সেইক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।’

২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানকে কৃষি সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছিল।

তিনি বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সুবিধাদি পাবেন।

এর আগে আজ সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংযুক্ত করা হয়েছে।

‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ কী, কেন গঠন করলেন ট্রাম্প?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহার তদারকিতে নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর নাম দিয়েছেন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ (এসআইএফ)। জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনকে এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন এ প্রযুক্তির উন্নয়নে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করাই নতুন এই বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য। একইসঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে এআই-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্বও থাকবে এসআইএফের।

ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়, ভোক্তা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের যোগাযোগ সমন্বয় করবে এই টাস্কফোর্স।

এতে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পারসোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপারও থাকবেন। টাস্কফোর্সটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে।

‘এআই’ থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’

ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগের সঙ্গে এআইয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও যুক্ত রয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি।

সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে ‘এআই’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘এসআই’ বা ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে ‘নকল’ বা ‘কৃত্রিম’ বলে মনে করায়। তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এ নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বলতে আরও উন্নত ধরনের প্রযুক্তি বোঝাতে পারে, ফলে এ নাম ব্যবহার বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক অবশ্য ট্রাম্পের নতুন পরিভাষাকে সমর্থন করেছেন। রোববার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার প্রতিষ্ঠানের এআই প্ল্যাটফর্ম ‘স্পেসএক্সএআই’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেসএক্সএসআই’ করা হবে। তিনি বলেন, ‘স্পেসএক্স একটি সুপার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি।’

কে এই জে ক্লেটন?

জে ক্লেটন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়কারী জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। গত আগস্টে তিনি এ পদে যোগ দেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

এর আগে তিনি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যানও ছিলেন।

সিনেটের শুনানিতে এআই নিয়ে কথা বলার সময় ক্লেটন এটিকে একইসঙ্গে ‘বড় সুযোগ’ ও ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘যখন কোনো কিছু একইসঙ্গে সুযোগ ও হুমকি—তখন সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস-চেয়ার মার্ক ওয়ার্নার। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই ব্যবস্থার জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার বিরোধিতা করেছে।

ওয়ার্নার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন চীন ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চেয়ে এগিয়ে থাকে, উন্নত এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো যায় এবং কঠোর পরীক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়—এসব বিষয়ে তিনি ক্লেটনের সঙ্গে কাজ করতে চান।

এআই নিয়ে চাপ বাড়ছে

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা প্রযুক্তিটির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।

গত ৪ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা এত বেশি যে কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া যেতে পারে। তার মতে, প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।

তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এআইয়ের ওপর কঠোর সরকারি নজরদারির আহ্বান অনেকটাই প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প এআইয়ের উন্নয়ন তদারকি ও সম্ভাব্য ক্ষতিকর ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জন্য একজন ‘এআই জার’ এবং একটি আলাদা ‘এআই ফোর্স’ গঠনের কথা জানিয়েছিলেন। পরে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।

এ ছাড়া, ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পসহ শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ছয় নির্বাহী একটি এআই চুক্তিতে সই করেন। এতে প্রযুক্তিটি নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে কি না এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দিলে তা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নজরদারি ব্যবস্থা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

ট্রাম্পের প্রশাসন অবশ্য এআই উন্নয়নকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রথম দফার মেয়াদে এআই ও ক্রিপ্টোকারেন্সিবিষয়ক ‘জার’ পদটি তৈরি করা হয়েছিল। ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ও প্রযুক্তি ব্যবসায়ী ডেভিড স্যাকস ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন। বিশেষ সরকারি কর্মী হিসেবে তার নিয়োগের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি পদটি ছাড়েন।

এরপর থেকেই এআই তদারকিতে নতুন দায়িত্বের জন্য ক্লেটনের নাম আলোচনায় ছিল। সেপ্টেম্বরে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ক্লেটনকে ‘ভালো মানুষ’ উল্লেখ করে তাকে এআই জার করার সম্ভাবনাকে ‘ভালো ধারণা’ বলেছিলেন।

সচিবালয়ের সামনে ১১ দলের প্রতিবাদ, লং মার্চ-রেলযাত্রার কর্মসূচি, নভেম্বরে মহাসমাবেশ

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদ এবং ১০ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পল্টন জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে ১০ দফা দাবি নিয়ে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

এই কর্মসূচির কারণে আশেপাশের তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। যানজটে মানুষ দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে লং মার্চ; ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চ ও পথসভা; ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা ও খুলনা থেকে যশোর-কুষ্টিয়া হয়ে আবার ঢাকায় লং মার্চ; ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে রেলপথ যাত্রা এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘এ দেশে যারা খুন করেছে, অপরাধ করেছে, লুণ্ঠনকারীরা মানুষের সম্পদ লুন্ঠন করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে আমাদের এই আন্দোলন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এ দেশের নিরীহ মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে বিভিন্নভাবে গুম-খুনের আশ্রয় নিয়ে জনগণের ওপর জুলুম করেছে। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, আমরা জীবিত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে এরা আর আস্ফালন করার সুযোগ পাবে না।’

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।

সরকারের উদ্দেশে শফিকুর বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, এই লং মার্চ জনগণের দাবি আদায়ের জন্য। অতীতের কায়দায়, ফ্যাসিবাদী কায়দায় আমাদের লং মার্চে যেন কোনো বাধা দেওয়া না হয়। যদি বাধা দেওয়া হয়, লং মার্চ দ্বিগুণ শক্তিতে তার গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।’

লং মার্চের পাশাপাশি একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের মনের কথা শুনব, আমাদের কথাগুলো জনগণকে বলব। এইভাবে বাংলাদেশের জনগণকে পরবর্তী বড় আন্দোলনের জন্য আমরা তৈরি করতে চাই।’

সিলেটের রাস্তা মানুষের চলাচলের উপযোগী নেই উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘শত শত গাড়ি যখন সিলেটের পথে রওনা করবে, জনগণের চরম ভোগান্তি হবে। এই বিবেচনায় নিয়েই আমরা রেলপথ বেছে নিয়েছি।’

‘আগামী ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রাম-পাড়া-মহল্লা থেকে আমাদের ভাই-বোনেরা ঢাকার দিকে রওনা করবে। ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি খুবই অল্প। আমার চুলায় গ্যাস চাই। আমার মাকে আর কাঁদাবেন না। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চাই। সংসদের ভেতরে আর মিথ্যা বিবৃতি দেবেন না। খাবার জন্য পানি চাই। আমাদের যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস চাই।’

সরকার নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি সংকট তৈরি করার পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে দাম বাড়ানো। আমরা তা হতে দেবো না।’

মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ শেষে দুপুর ১টার দিকে এলপিজি গ্যাসের মূল্যহ্রাস, পাইপলাইন গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত ও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সভাপতি নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা পদযাত্রা নিয়ে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হন।

সচিবালয়ের ১ নম্বর গেটের কাছে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানে শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম বক্তব্য রাখেন। শফিকুর রহমান ১০ মিনিটের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধিকে পাঠানোর আহ্বান জানান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা তাকে অসম্মান করব না।’

এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন, ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দেন, নইলে গদি ছাইড়া দে’। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হওয়ার পর সচিবালয়ের প্রতিটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় কোনো দর্শনার্থীর গাড়ি ঢুকতে বা বের হতে পারেনি।

নির্ধারিত ১০ মিনিট পার হওয়ার পর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে শফিকুর রহমান আবারও মাইক্রোফোন হাতে নেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এর প্রতি ধিক্কার জানিয়ে আমরা আরও পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করব। এরপর আজকের মতো বিদায় নেব।

দুপুর ২টার দিকে জামায়াত নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের সামনে থেকে ফিরে যান।

১১ দলীয় ঐক্যের ১০ দফা দাবি হলো গত তিন মাসে আদায় করা ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন, দায়ীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা; এছাড়া প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল; অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া এবং বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।

জোটের পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয়, গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ।

তারা মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ, পুনরায় চালুর সময়সূচি ঘোষণা ও বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

১০ দফা দাবিতে আরও বলা হয়, গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকেই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; পাশাপাশি শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষার পাশাপাশি এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়; জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানায় জোট।

চাকরিতে প্রতি পদে প্রতিযোগী ৬৬ শতাংশ বেড়ে ২৮৭ জন: বিআইডিএস গবেষণা

করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমবাজারে প্রতি শূন্য পদে প্রতিযোগিতা প্রায় ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।

উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় নিয়োগ সংকুচিত হওয়ায় বর্তমানে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭ জন আবেদনকারী প্রতিযোগিতা করছেন, যা মহামারি শুরুর আগে ছিল ১৭৩ জন।

২০১৫ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৪৭ সপ্তাহের তথ্য নিয়ে দেশের অন্যতম বড় একটি অনলাইন জব পোর্টালের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। 
আজ বৃহস্পতিবার এক সেমিনারে বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক অতনু রাব্বানী এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

গবেষণায় চাকরির বিজ্ঞপ্তি, শূন্য পদ, আবেদনের হার এবং শ্রমবাজারের ওপর মহামারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো রেট পরিবর্তনের মতো প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণার সময়ে ওই জব পোর্টালে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১ হাজার ১৫৪টি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, ৩ হাজার ৬৪৬টি শূন্য পদ এবং প্রায় ৬ লাখ ৯৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, মহামারি দেশের শ্রমবাজারে ভয়াবহ আঘাত এনেছিল। ২০২০ সালের মার্চ থেকে জুনের মধ্যে সরকার যখন সারাদেশে লকডাউন জারি করে, তখন চাকরির বিজ্ঞপ্তি ৭০ দশমিক ২ শতাংশ এবং শূন্য পদ ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে আসে।

একই সময়ে আবেদনকারীর সংখ্যা কমলেও তা তুলনামূলক কম ছিল। আবেদনকারী কমেছিল ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, চাকরির আবেদনের চেয়ে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা খুব বেশি কমেনি। আর এই পার্থক্যের কারণেই প্রতি পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে ২৮৭ দশমিক ৩ জনে পৌঁছায়।

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বাংলাদেশে শূন্য পদ কমার হার ছিল অনেক বেশি। মহামারি চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য পদ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছিল। আর যুক্তরাজ্যে কমেছিল ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।

মহামারির পর ধীরে ধীরে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও শ্রমবাজারের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক রকম প্রতিযোগিতাপূর্ণই থেকে যায়।

অতনু রাব্বানী বলেন, ‘শ্রমবাজারের এই তথ্যে দেখা যায় প্রতিটি পদের বিপরীতে কতজন প্রতিযোগিতা করছেন। এই সংখ্যা যত বেশি হবে, চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বাজারটি তত কঠিন বলে ধরে নিতে হবে।’

সর্বোচ্চ কার্ড ইংল্যান্ডের, সর্বনিম্ন নরওয়ের; সেমিতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যেসব তারকা

চলতি ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলগুলোর মাঠের শৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিনারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে একটি বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফাউলের সংখ্যার সঙ্গে কার্ড দেখার হারে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে কম কার্ড দেখেছে নরওয়ে, তাদের ঠিক পরেই আছে আর্জেন্টিনা। 

কার্ডে নাজুক ইংল্যান্ড

কোয়ার্টার ফাইনালের দলগুলোর মধ্যে রেফারিদের বুকিংয়ের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ইংল্যান্ড। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ৫৪টি ফাউল করেছে। এই ফাউলগুলোর বিপরীতে থ্রি লায়ন্সদের নামের পাশে যোগ হয়েছে সর্বোচ্চ ৮টি কার্ড, যার মধ্যে ৭টি হলুদ কার্ড এবং ১টি লাল কার্ড রয়েছে। গাণিতিক হিসাবে, প্রতি ৬.৭৫টি ফাউল করার পরই ইংল্যান্ডকে একটি করে কার্ড দেখতে হয়েছে।

সবচেয়ে কম কার্ড নরওয়ের পকেটে, দ্বিতীয় আর্জেন্টিনা 

তালিকার অন্য প্রান্তে সবচেয়ে কম কার্ড দেখার রেকর্ড নরওয়ের। দলটি পুরো টুর্নামেন্টে ৪৮টি ফাউল করেছে, যা কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের মধ্যে ফাউলের সংখ্যার দিক থেকেও সর্বনিম্ন। এই ৪৮টি ফাউলের বিপরীতে নরওয়ের খেলোয়াড়রা কার্ড দেখেছেন মাত্র ২টি, যার দুটিই হলুদ কার্ড। গড়ে প্রতি ২৪টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড পেয়েছে। অন্য দিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্টে ফাউল করেছে ৫৯টি, যার বিপরীতে তাদের নামের পাশে যোগ হয়েছে মাত্র ৩টি হলুদ কার্ড। অর্থাৎ, প্রতি ১৯.৬৬টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড দেখেছে।

ইংল্যান্ড, নরওয়ে ও আর্জেন্টিনা বাদে বাকি ৬ কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট দলের অবস্থা:

মরক্কো: ৬১টি ফাউল করে মরক্কোর খেলোয়াড়রা হলুদ কার্ড দেখেছেন ৬টি। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ১০.১৬টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড পেয়েছেন।

বেলজিয়াম: ৬০টি ফাউল করার বিপরীতে বেলজিয়াম মোট ৫টি কার্ড দেখেছে (৪টি হলুদ ও ১টি লাল)। তাদের কার্ড পাওয়ার গড় হার প্রতি ১২টি ফাউলে ১টি।

ফ্রান্স: ফরাসিরা পুরো টুর্নামেন্টে ৪৯টি ফাউল করেছে এবং কার্ড দেখেছে ৪টি (সবগুলোই হলুদ কার্ড)। প্রতি ১২.২৫টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড পেয়েছে।

স্পেন: ৫৫টি ফাউল করেও স্পেনের খেলোয়াড়রা হলুদ কার্ড পেয়েছেন মাত্র ৩টি। গড়ে প্রতি ১৮.৩৩টি ফাউলে রেফারি তাদের কার্ড দেখিয়েছেন।

প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার যারা

ফাউল করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হওয়ার দিক থেকে সবার ওপরে রয়েছে মরক্কো। আফ্রিকান এই দলটির বিরুদ্ধে অন্য দলগুলো সর্বোচ্চ ৮০টি ফাউল করেছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ইংল্যান্ড, যাদের গতি থামাতে প্রতিপক্ষ দলগুলো ফাউল করেছে ৭৭টি। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাউল হয়েছে ৭৫টি। এরপর যথাক্রমে ফ্রান্স (৪৪টি), স্পেন (৩৮টি), নরওয়ে (৩৫টি) এবং আর্জেন্টিনা ও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সমান ৫৪টি করে ফাউল করেছে প্রতিপক্ষ দলগুলো।

সেমিতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে ১৭ ফুটবলার

কোয়ার্টার ফাইনালের এই পরিসংখ্যানের বড় একটি প্রভাব পড়ছে সেমিফাইনালের ভাগ্যে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি নিয়ম অনুযায়ী, আগের ম্যাচগুলোর হলুদ কার্ডের কারণে টুর্নামেন্টের মোট ১৭ জন খেলোয়াড় এখন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে তারা যদি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে তাদের দল সেমিফাইনালে উঠলেও তারা ম্যাচটিতে অংশ নিতে পারবেন না।

ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ দুই দল: কার্ডের মারপ্যাঁচে সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা হয়ে আছে মরক্কো এবং ইংল্যান্ড। দুই দলেরই সর্বোচ্চ ৪ জন করে খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে আছেন। মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, ইশা দিওপ, রেদোয়ান হালহাল ও বিলাল এল খানুস রয়েছেন এই তালিকায়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, ডেক্লান রাইস, মার্ক, গুয়েহি এবং নিকো ও’রাইলি কোয়ার্টার ফাইনালে কার্ড পেলেই দল উঠলেও সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন। (উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসা মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ায় নরওয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ থেকে এমনিতেই ছিটকে গেছেন)।

অন্যান্য দলের অবস্থা: ফ্রান্সের মানু কোনে ও মাইকেল অলিসে রয়েছেন কার্ডের ঝুঁকিতে। সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, দেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহেইম এবং স্পেনের ফেরান তোরেস, নরওয়ের আন্তোনিও নুসা, বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেখেলে ও আর্জেন্টিনার গনসালো মন্তিয়েলও এক কার্ডের দূরত্বে আছেন সেমিফাইনালের নিষেধাজ্ঞা থেকে।

কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শেষে মুছে যাবে আগের কার্ডের হিসাব 

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শেষ হওয়ার পর সমস্ত একক হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, কোয়ার্টার ফাইনালে কার্ড না খেয়ে কোনো খেলোয়াড় যদি সেমিফাইনালে ওঠেন, তবে তার আগের কার্ডটি বাতিল হয়ে যাবে এবং তিনি একদম ফ্রেশ রেকর্ড নিয়ে সেমিফাইনাল খেলতে পারবেন। ফলে কোনো খেলোয়াড়ই কেবল হলুদ কার্ড জমার কারণে ফাইনাল মিস করবেন না।

 

বড় হয়ে অভিনেত্রী হবেন, কখনো ভাবেননি পূজা

পূজা হেগড়ে ছোটবেলায় কখনো ভাবেননি, বড় হয়ে অভিনেত্রী হবেন। এমনকি সিনেমায় অভিনয়কে কোনো পেশা হিসেবে ভাবতেন না এই বলিউড অভিনেত্রী। তিনি নিজেই এ কথা বলেছেন।

বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত নতুন সিনেমা ‘হে জাওয়ানি তো ইশক হোনা হে’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।

অনুষ্ঠানে সিনেমাটির লেখক রুমি জাফরি জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই পূজাকে চিনতেন। পূজা যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন, তখনই তিনি বলেছিলেন—একদিন সে নায়িকা হবে।

পরে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছেন, যেখানে লেখাপড়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। তাদের পরিবারের কেউ চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি অভিনেত্রী হব। সিনেমা কেবল দর্শক হিসেবে দেখতাম। এটা যে আমার পেশা হতে পারে, সেটাও কল্পনা করিনি। রুমি স্যার আমাকে সিনেমায় কাজ করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তখন আমি খুব একটা নিশ্চিত ছিলাম না।’

বর্তমানে পূজা হেগড়ে বলিউড ও দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার পরিচিত মুখ। নতুন এই সিনেমায় তাকে দেখা যাবে কমেডি ঘরানার চরিত্রে। এতে আরও অভিনয় করেছেন বরুণ ধাওয়ান, ম্রুনাল ঠাকুর, মানিশ পাল, চাঙ্কি পান্ডে, জিমি শেরগিল ও মৌনি রয়। সিনেমাটি আগামী ৫ জুন মুক্তির কথা আছে।