35 C
Dhaka
Home Blog

কিছুই বদলায়নি, একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দি-ফিকির চলছে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমার এই চার-পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি! যারা ঘুষ খেত তারা একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দি-ফিকির করছে, একইভাবে যারা আটকে দিতো ভালো একটা কাজকে—আটকে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কথাগুলো বলছি অনেক কষ্টে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চব্বিশের আন্দোলনে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘অনেক প্রাণ গেছে। আমাদের সন্তানেরা, আমাদের ছেলেরা…মুগ্ধের আপন ভাই, তার প্রতি মুহূর্তে মনে পড়বে যে আমার ভাইটা চলে গেছে। আমরা ছবিটা দেখলাম যে, মা এখনো ভুলতে পারছে না। ভাবছে যে, বোধ হয় ছেলে এখনই চলে আসলো…ছেলে তো গেছে চলে! সেদিন পার্লামেন্টে একজন নারী এমপি তার সন্তানকে তিনি হারিয়েছেন, তিনিও বলছিলেন যে আই হ্যাভ লস্ট মাই সান। অনেক মূল্য দিতে হয়েছে, বহু মূল্য।’

‘আমরা যদি এই মূল্য দেওয়াটাকে ধারণ করতে না পারি, সেটাকে সামনে রেখে যদি পরিবর্তনের চেষ্টা না করতে পারি তাহলে তো মায়ের এই অশ্রুধারা, এই রক্তস্রোত এমনি এমনিই হারিয়ে যাবে। কথাগুলো বলছি অনেক কষ্টে। আমার এই চার-পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি! যারা ঘুষ খেত তারা একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দি-ফিকির করছে, একইভাবে যারা আটকে দিতো ভালো একটা কাজকে—আটকে দিচ্ছে। ভোল পাল্টাচ্ছে, পাল্টে দিয়ে চলে আসছে। ওরাই এখন অনেক বেশি জুলাই যোদ্ধা হয়ে গেছে। এ কথাগুলো আক্ষেপে বলছি। আক্ষেপ বলছি এ জন্য যে, আমার বয়স অনেক। আমি তো সত্যিকার অর্থেই এবার পরিবর্তনটা দেখতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত সেটা আমি দেখছি না আমাদের মধ্যে,’ যোগ করেন তিনি।

ফখরুল আরও বলেন, ‘কিন্তু আশাবাদী হই এই কারণে যে, আমি পরিবর্তন দেখছি একজন মানুষের মধ্যে। সেটা তারেক রহমান সাহেব। তিনি চেষ্টা করছেন, তিনি নতুন নতুন নজির স্থাপন করছেন এবং সেই নজিরকে যদি আমরা সামনে নিয়ে যাই সবাই মিলে, তাহলে আমার মনে হয় যে, হয়তোবা পরিবর্তনটা হবে। অবশ্যই সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মিলে তাকে সমর্থন দেওয়া দরকার।’

‘আমরা খুব আশাবাদী যে, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব। চেষ্টা করে আমরা দেশটাকে সত্যিকার অর্থেই একটা পরিবর্তিত দেশ, একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, মেধাবীদের বাংলাদেশ, তরুণদের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো,’ যোগ করেন তিনি।

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সরকারের

চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর সেবা খাত থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

গতকাল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রকৃত রপ্তানি আয়ের তুলনায় এবার নির্ধারিত লক্ষ্য ১৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম।

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু গত অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে।

শিল্প খাতের নেতাদের মতে, জ্বালানির উচ্চ ব্যয়, প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত মজুতের কারণে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশের ওপর চাপ রয়েছে। তাই রপ্তানি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম।

এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে রেকর্ড ৫২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। তবে এরপর টানা দুই অর্থবছর পণ্য রপ্তানি কমেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব নয়, তবে পরিস্থিতি এখনও অনেকটাই অনিশ্চিত।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সাম্প্রতিক ১০ শতাংশ শুল্ক রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গত অর্থবছরে রপ্তানি দুর্বল ছিল বলে এবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত ১০ দিন ধরে চলা গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ অবস্থায় ১০ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও অর্জন করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে না।

তার ভাষায়, বছরের শেষে ২ থেকে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারলেও রপ্তানিকারকেরা সন্তুষ্ট থাকবেন।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী এম মাসরুর রিয়াজও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং বৈশ্বিক চাপ—দুই কারণেই নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খাতভিত্তিক রপ্তানি লক্ষ্যের বিস্তারিত তুলে ধরেননি। তবে তিনি বলেন, রপ্তানি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

সরকারের আশা, ব্যবসায় সহায়ক প্রণোদনা, বাজেটের সহায়তা এবং নির্বাচিত সরকার আসার পর নীতিগত স্থিতিশীলতা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হবে।

মন্ত্রী বলেন, নতুন বাণিজ্য চুক্তিগুলোও রপ্তানি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সই হতে পারে।

এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে জাপানের সঙ্গে সই হওয়া একই ধরনের চুক্তি সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে অনুমোদনের পর কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বছর শেষ হওয়ার আগেই অন্তত ছয়টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি) এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বাংলাদেশের আবেদনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ফলে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে যেতে পারে। এতে বাংলাদেশ ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে পারবে।

মন্ত্রী বলেন, এতে ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি হবে। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিল্পে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে এটি রাতারাতি সম্ভব নয়।

গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার আরও দুটি ভাসমান এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) সংগ্রহ করছে।

মন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি কমার পেছনে দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতিও দায়ী ছিল।

তার মতে, এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে থাকায় নীতিগত স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে, যা পণ্য ও সেবা—উভয় খাতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

‘সবই টাকার খেলা,’ বললেন মিশর কোচ

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েও শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের শিকার হয়েছে মিশর। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ফারাওদের। এমন হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পর রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বললেন, সবই টাকার খেলা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ হাসান বলেন, ‘সবকিছুই টাকার খেলা। তারা চায় মেসি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। ফুটবলে মাঠের বাইরেও স্বার্থের কারণে অনেক কিছু ঘটে। যা ঘটেছে, তা অন্যায্য। মিশরেরই পরের পর্বে ওঠা উচিত ছিল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমরাই ছিলাম ভালো দল।’

এমনকি রাগে আর বিশ্বকাপ খেলাই দেখবেন না এই কোচ, ‘আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি এবং বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ দেখব না। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা মোটেও ন্যায়সঙ্গত নয়। আমরা একটি পেনাল্টি পাওয়ার কথা ছিল, একটি গোলও বাতিল করা হয়েছে। কেন বাতিল করা হলো, আমি জানি না।’

ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকো গোল করলেও ভিএআরের পর বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগে সেটি বাতিল করা হয়। এছাড়া ম্যাচের শেষদিকে হামদি ফাথির ওপর ফাউলের অভিযোগে পেনাল্টির দাবিও জানায় মিসর। কিন্তু রেফারি সেটি নাকচ করে দেন। এরপরই পাল্টা আক্রমণে ৯২তম মিনিটে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনা।

হাসানের মতে, ম্যাচের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত, ‘আমাদের গোলগুলো ভুল থেকে হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন যারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। আমরা যেটা প্রাপ্য ছিল, সেটা পাইনি।’

পরাজয়ের হতাশা লুকাননি মিশর কোচ, ‘আমি এমন একজন মানুষ, যে হার একেবারেই পছন্দ করে না। আর আজকের মতো অন্যায্য পরাজয় হলে সমর্থকদের শুধু বলতে পারি, দয়া করে হতাশ হবেন না। আমরা তাদের আরও আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম।’

তবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘যা আমাকে আনন্দ দিয়েছে, তা হলো খেলোয়াড়রা ম্যাচ পরিকল্পনা দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। তারা অসাধারণ পরিশ্রম করেছে।’

সাধারণত রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা মিশর এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল। সেই কৌশলেই তারা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। বিরতির আগে গোলরক্ষক মোস্তফা শুবাইরের একের পর এক দুর্দান্ত সেভও দলকে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে।

দেশীয় লিগের খেলোয়াড়দের নিয়েও বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারায় গর্বিত হাসান, ‘আমাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই মিশরের ঘরোয়া লিগে খেলে। অন্য অনেক দলের ফুটবলার ইউরোপে পেশাদার পরিবেশে খেলেন। তারপরও মোহামেদ সালাহ ও ওমর মারমুশ ছাড়া প্রায় পুরোপুরি দেশীয় লিগের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা সবার সঙ্গে সমানভাবে লড়েছি। এতে আমি খুবই সন্তুষ্ট।’

 

নানির বাগানবাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কারিনা

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে নিজের নানির বাগানবাড়িতে আজ সোমবার সকালে তার দাফন হয়।

গতকাল রোববার  ঢাকায় সব আনুষ্ঠানিকতা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাতেই কারিনার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গজারিয়ায়।

কারিনা কায়সার ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ ও লোপা কায়সার দম্পতির মেয়ে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও কারিনা সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এর পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে চরকির ওয়েব ফিল্ম ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চেন্নাইয়ের ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তার লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু হঠাৎ তার রক্তচাপ কমে গেলে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৫ মে নিভে যায় তার প্রাণ প্রদীপ। 

মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের, অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ফাইটার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে তাসনিম জানিয়েছে, দুই আসনবিশিষ্ট ওই যুদ্ধবিমানকে ‘টার্গেট করে ভূপাতিত করা হয়েছে’। তবে ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে তা উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ দাবিকে অস্বীকার করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক এক্স পোস্টে জানিয়েছে, ‘বুধবার ভোরে ইরানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ভিত্তিহীন এবং অসত্য।’

১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ বগুড়া সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ শুক্রবার সকালে নিজ জেলা দিনাজপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসন্ন এ কর্মসূচির উদ্বোধন সম্পর্কে বিস্তারিত জানান তিনি।
 

সরকারের গুদামে সার, কৃষক কেন পাচ্ছে না?

দেশে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সার সংকট চলছে। সরকার বলছে, দেশে পর্যাপ্ত সারের মজুদ আছে। অথচ দেশের কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী ও সময়মতো সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনতে পারছেন না। 

সার এমন একটি কৃষি উপকরণ, যা সঠিক সময়ে নির্ধারিত পরিমাণে প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। তাই চলমান সার সংকট দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

আমন ধান রোপণের পর যে সময়ে জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যা নিয়ে কৃষকের ব্যস্ত থাকার কথা, সে সময়ে তাকে ছুটতে হচ্ছে সারের খোঁজে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে। কৃষক ডিলারের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনমতো সার কিনতে পারছেন না।

সার পাওয়া গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম দেওয়া হচ্ছে। কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আবার কোথাও দিনের বেলা ডিলারের দোকানে গেলে সংকটের কথা বলে কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও পরে বাড়তি টাকা দিলে রাতে সার দেওয়া হচ্ছে।

এ নিয়ে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ঘেরাও এবং সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। কয়েকটি এলাকায় সার সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে, কৃষকরা ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

দেশে বিগত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন সময় সার সংকট হলেও এবারের সংকট অনেক বেশি বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী। এটি ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলের সার সংকটের কথা মনে করিয়ে দেয়। 

১৯৯৫ সালের মার্চে বোরো মৌসুমে সারের তীব্র সংকট তৈরি হয়। সে সময় বিভিন্ন স্থানে ন্যায্য মূল্যে সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গুলি চালানো হয়। সারের জন্য আন্দোলনে সে বছর এক মাসে সারা দেশে অন্তত ১২ জন কৃষক প্রাণ হারান।

এবার সারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেনি, তবে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি থাকায় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সার সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি জেলার জন্য একজন করে মনিটরিং কর্মকর্তা নিয়োগ, সার বিতরণ তদারকিতে কমিটি গঠন, জেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম চালু করা। কিন্তু এসব পদক্ষেপে সার সংকটের মূল কারণগুলো দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সার সংকটের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সার বরাদ্দ, বরাদ্দ করা সার সময়মতো উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি, মাঠপর্যায়ে তদারকির সমস্যা, ডিলার সংকট এবং নতুন ডিলার নিয়োগে অনিশ্চয়তা।

কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনে নিয়মিত নানান পরিবর্তন ঘটেছে। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন হচ্ছে, শাকসবজির আবাদ বেড়েছে এবং পুকুরে মাছ চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে সারের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু সার বরাদ্দের ক্ষেত্রে এসব বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ধান চাষের জমি বেড়েছে ১ হাজার ৬২৫ হেক্টর। কিন্তু সে অনুযায়ী সারের বরাদ্দ বাড়েনি। রৌমারীতে ইউরিয়ার প্রয়োজন ২ হাজার ৯৫ টন এবং টিএসপি ও ডিএপি সারের প্রয়োজন ১ হাজার ৬৭৬ টন করে। কিন্তু বাস্তবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪০ টন ইউরিয়া, ৫১০ টন টিএসপি এবং ৯০০ টন ডিএপি। অর্থাৎ, সেখানে টিএসপি ও ডিএপির বরাদ্দ প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

একইভাবে রাজশাহী জেলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তিন ধরনের প্রধান সারের বরাদ্দই চাহিদার তুলনায় কম। ৭৭ হাজার ৪৭০ টন ইউরিয়ার চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭১ হাজার ১০৯ টন। ২৫ হাজার ৮৮০ টন টিএসপির চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ১৭ হাজার ২৭৪ টন এবং ৫৪ হাজার ৫৩০ টন ডিএপির চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৭৮ টন।

রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৭৭৪ হেক্টর পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে প্রতি তিন মাসে ১ হাজার ৯৯১ টন ডিএপি প্রয়োজন হলেও এর জন্য কোনো সার বরাদ্দ নেই। ফলে পুকুরের মাছ চাষের চাহিদা মেটাতে ফসলের জমির জন্য বরাদ্দ করা সার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সারের সংকট আরও বাড়ছে।

বর্তমান বরাদ্দ নীতিতে কৃষকের সংখ্যা বা কৃষিজমির পরিমাণ বিবেচনায় না নিয়ে ইউনিয়নগুলোতে সমান পরিমাণ সার দেওয়া হয়। অথচ ইউনিয়নভেদে কৃষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা। যেমন রৌমারীর বন্দবেড় ইউনিয়নে কৃষকের সংখ্যা ৮ হাজার ৫২৮ জন, আর শৌলমারীতে ৬ হাজার ৮৫৮ জন। কিন্তু দুই ইউনিয়নেই সমান পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে বেশি কৃষক থাকা ইউনিয়নটি অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ পায় না। উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর বন্দবেড়েই বিক্ষুব্ধ কৃষকরা এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

দেশের অনেক এলাকায় ডিলাররা বরাদ্দ করা সার সময়মতো উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। আগস্টে গাজীপুরের জন্য ১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল মাত্র ৮০০ টন। কুড়িগ্রামেও, যেখানে কৃষকরা একাধিকবার ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে গেছেন, ডিলাররা সময়মতো বরাদ্দ করা সার উত্তোলন করেননি। আগস্টে সেখানে ৫ হাজার ৮৭৫ টন সার বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত ডিলাররা এর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ উত্তোলন করেছিলেন।

ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির ক্ষেত্রেও বরাদ্দের তুলনায় কম সার উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে।

মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ডিলারদের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারক করতে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় ডিলাররা এভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পেয়েছেন।

প্রতি মাসে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জেলাভিত্তিক সার বরাদ্দ করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সার বরাদ্দ ও বিতরণ তদারকি কমিটি সংশ্লিষ্ট জেলার ডিলারদের জন্য সার বরাদ্দ করে। ডিলাররা সেই বরাদ্দ অনুযায়ী নির্ধারিত সরকারি গুদাম থেকে সার উত্তোলন করেন। 

প্রতি মাসে বরাদ্দ করা সার ডিলাররা সময়মতো উত্তোলন করছেন কি না এবং কৃষকদের মধ্যে যথাযথভাবে বিতরণ করছেন কি না, তা তদারকের দায়িত্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন না। কেউ কেউ ডিলারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বেশি দামে অবৈধভাবে খোলা বাজারে সার বিক্রির সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমান সংকটে অন্তত ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তারা ডিলাররা সরকারি গুদাম থেকে বরাদ্দের তুলনায় অনেক কম সার উত্তোলন করছেন, এই তথ্য সময়মতো কৃষি মন্ত্রণালয়কে জানাননি বলে জানা গেছে। ফলে ডিলাররা টানা দুই মাস ধরে কম সার উত্তোলন করতে পেরেছেন এবং স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

অনেক ইউনিয়নে সার ডিলার না থাকায় সার বিতরণও ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৩ হাজার ৭৫৯ জন ডিলার পলাতক থাকায় অনেক ডিলার পয়েন্ট খালি রয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পরেও এতগুলো ডিলারের পোস্ট খালি থাকা সরকারের দিক থেকে মারাত্মক অবহেলার নিদর্শন। সরকারের উচিত ছিল আরও আগেই এসব ডিলারের শূন্যস্থান পূরণ করা।

সরকার এখন ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়াও সার সরবরাহ ও বিতরণে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেক বর্তমান ডিলার আশঙ্কা করছেন, তারা তাদের পদ হারাতে পারেন।

নতুন ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তৎপরতাও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। নতুন নিয়োগ নীতির কারণে অনেক ডিলার তাদের বিদ্যমান প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। ফলে কেউ কেউ সার বিতরণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা সংকট আরও বাড়াচ্ছে।

বর্তমান সংকট সমাধানে যেসব এলাকায় সার বরাদ্দে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে দ্রুত বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কোন ডিলারের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত রয়েছে, সেই তথ্য কৃষকদের সহজে জানার ব্যবস্থা করতে হবে। ডিলাররা যেন সময়মতো বরাদ্দ করা সার উত্তোলন করেন এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকরা যাতে প্রয়োজনের সময় সার কিনতে পারেন, সে জন্য সার বিক্রয়কেন্দ্র প্রতিদিন খোলা রাখা নিশ্চিত করতে হবে। সার সরবরাহ, পরিবহন, গুদামজাতকরণ বা ডিলার পর্যায়ে কোনো অনিয়মের সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট ঠেকাতে নিয়মিত জরিপের মাধ্যমে কৃষকদের প্রকৃত সারের চাহিদা নির্ধারণ করতে হবে। সেই অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দ পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। সার বিতরণ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল মনিটরিং ও রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনতে হবে। ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকদের জানার সুযোগ দিতে হবে, কোন ডিলার কতটুকু সার বরাদ্দ পেয়েছেন, সরকারি গুদাম থেকে কতটুকু উত্তোলন করেছেন এবং কতটুকু বিক্রি করেছেন।

একটি ইউনিয়নে একাধিক ডিলার রাখতে হবে, যাতে কোনো একক ডিলার একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি করতে না পারেন। ডিলারদের সার বরাদ্দ, উত্তোলন ও বিক্রির ওপর নিয়মিত অডিট করতে হবে। কৃষকরা যাতে সার-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু করতে হবে। হটলাইনে পাওয়া অভিযোগ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, তা তদারকের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন। 

 

[email protected]

 

 

 

সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহরে থাকা একটি গাড়ির কাঁচ ভাঙলেও প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার হলরুমে জুলাই অভ্যুত্থানের ৭ শহীদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা সভায় অংশ নিতে আসেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ নেতৃবৃন্দ।

সভা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে কানাইঘাট উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় এনসিপির গাড়িবহর লক্ষ্য করে ঢিল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়।

এদিকে সকাল ১১টা থেকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা এলাকা, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। একই সময়ে সেখানে এনসিপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও জড়ো হন।

দুপুর ১টার দিকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর গোলাপগঞ্জ পৌঁছালে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া লোকজন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। সভা শেষে ফিরে যাওয়ার সময়ও তারা স্লোগান দেন। এসময় গাড়িবহর লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়।

সিলেট জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার (গোলাপগঞ্জ সার্কেল) বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরও একটি ঢিল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙেছে, কিন্তু কেউ আহত হননি। আমরা কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এনসিপির গাড়িবহর নিয়ে কানাইঘাট উপজেলার পথে আছি।’

এ ঘটনায় সারজিস আলম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’

পরে বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পাঁচমাইল বাজারে আবারও বাধার মুখে পড়ে সারজিস আলমের গাড়িবহর। এ সময়ও গাড়িবহরে হামলার চেষ্টা করা হয়।

সারজিস আলম ৩টা ১৩ মিনিটে লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’

এএসপি শাহ আলম বলেন, ‘পাঁচমাইল বাজারে যে বাসায় তাদের দুপুরে খাওয়ার কথা ছিল, সেখানে যাওয়ার মুখে তারা বাধার সম্মুখীন হন। পরে গাড়িবহর ফিরে কানাইঘাটের পথে রওনা দেয়।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রাস্তায় গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপ বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনা। এনসিপি নেতৃবৃন্দের গাড়িবহরের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও স্ট্যান্ডবাই আছে। শাবিপ্রবিতে এবং গোলাপগঞ্জে দুটি প্রোগ্রামই শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে। কানাইঘাট এবং ওসমানীনগরের জনসভা আয়োজনে কোন নিরাপত্তার আশঙ্কা নেই।’

গ্যাস সংকটে বাড়ছে সারের আমদানি নির্ভরতা, রাষ্ট্রায়ত্ত ৭ কারখানার পাঁচটিই বন্ধ

বারবার গ্যাস সংকট, পুরোনো কারখানা ও বৈশ্বিক কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্নের কারণে দেশে রাসায়নিক সারের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের বার্ষিক চাহিদা মেটাতে আমদানি নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ৭টি সার কারখানার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৭ লাখ টনের বেশি। তবে উৎপাদন করতে পারে দুই-তৃতীয়াংশের কম।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারের চাহিদা ছিল ৬৬ লাখ টন। এর বিপরীতে এসব কারখানায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৬ হাজার টন। ফলে সারের মোট চাহিদার ৮৩ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়েছে।

এর আগের অর্থবছরে ৬৭ লাখ ৪৭ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে দেশে উৎপাদন হয়েছিল ১২ লাখ ৪৪ হাজার টন সার।

উৎপাদন ও চাহিদার এই ক্রমবর্ধমান ব্যবধান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতকে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ও মূল্য অস্থিরতার ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোর বাইরে বহুজাতিক যৌথ উদ্যোগ কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড (কাফকো) প্রতিবছর বিসিআইসিকে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টন ইউরিয়া সরবরাহ করে। তবে এ বছর পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় তাদের উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে।

ইউরিয়া, ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও মিউরেট অব পটাশের (এমওপি) বাকি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার টন সার আমদানি করা হয়েছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানি বেড়ে প্রায় ৪৭ লাখ ৮০ হাজার টনে পৌঁছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়—৪৮ লাখ টনেরও বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার টন ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার টন সার আমদানি হয়েছে।

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ৭টি সার কারখানার মধ্যে মাত্র দুটি চালু রয়েছে। গ্যাস ও অন্যান্য কাঁচামালের সংকটে বাকি ৫টি কারখানা গত ৪ মার্চ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এখনো সেগুলো চালু হয়নি।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক নির্বাহী সচিব রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি নির্ভরতা আরও বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘দেশীয় ইউরিয়া উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ইউরিয়া কারখানাগুলো বন্ধই থাকবে এবং আরও বড় ঘাটতি তৈরি হবে। ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার—উভয় ধরনের সার বিবেচনায় বাংলাদেশ একটি কঠিন সময়ের দিকে এগোতে পারে।’

বিসিআইসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় দেশে সারের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে সরকারকে বেশি পরিমাণে সার আমদানি করতে হচ্ছে।

এমওপির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুরোপুরি আমদানি নির্ভর, আর ডিএপি ও টিএসপির দেশীয় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে সরকারকে সার কারখানার পরিবর্তে অন্য খাতে গ্যাস সরিয়ে নিতে হয়েছে। একইসঙ্গে আমদানিকৃত কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দামও বেড়েছে।

বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্য, উৎপাদন ও গবেষণা) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সংস্থার গ্যাসভিত্তিক সার কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে দৈনিক প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োজন।

তার ভাষ্য, সাধারণত প্রয়োজনীয় গ্যাসের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকটের মধ্যেও গত অর্থবছরে আমরা ১১ লাখ ৬ হাজার টন সার উৎপাদন করেছি। সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পেলে আরও ২২ থেকে ২৫ লাখ টন অতিরিক্ত সার উৎপাদন করা সম্ভব হতো।’

তিনি বলেন, অধিকাংশ কারখানার যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের প্রয়োজন হয়। সে কারণেও উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত ৫টি কারখানা ১৯৬৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত। এই বাইরে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড ২০১৬ সালে চালু হয় এবং ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি ২০২৩ সালে উৎপাদন শুরু করে।

বিসিআইসি সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ করে। ইউরিয়া এখনো দেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সার। বিশেষ করে বোরো ও আমন মৌসুমে এর বার্ষিক চাহিদা থাকে ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন।

জমি প্রস্তুতের সময় মূলত ডিএপি ও টিএসপি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ধান, আলু, শাকসবজি ও ফলের উৎপাদন এবং গুণগত মান বাড়াতে ব্যাপকভাবে এমওপি ব্যবহার করা হয়।

গ্যাস সংকটে গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)।

কারখানাটির প্রধান রসায়নবিদ উত্তম চৌধুরী বলেন, ‘পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় গত অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র ৪ থেকে ৫ মাস চালু ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৬৫ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন করেছি। আগের বছর এই উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৫ হাজার টন। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পেলে উৎপাদন প্রায় দেড় লাখ টনে পৌঁছাতে পারতো।’

১৯৮৭ সালে যখন এই কারখানা স্থাপন করা হয়, তখন বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৫ লাখ ৬১ হাজার টন। যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে গ্যাস সংকট দেশীয় সার উৎপাদনের একমাত্র বাধা নয়।

একাধিক আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার পরও ফসফরিক অ্যাসিড সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি উৎপাদনকারী কারখানাটি গত ২৮ জুন থেকে বন্ধ রয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে ফসফরিক অ্যাসিড সংগ্রহ করতে কারখানাটি হিমশিম খাচ্ছে,’ বলেন ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) রবিউল আলম খান।

তিনি বলেন, ‘জানুয়ারিতে ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরবরাহকারী সেই চালান দিতে পারেনি।’

‘এরপর ৮ জুন ও ২৩ জুন বিসিআইসি নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে একটি প্রতিষ্ঠানও দরপত্রে অংশ নেয়নি,’ যোগ করেন তিনি।

এরপর বিসিআইসি নতুন করে আরও দুটি দরপত্র আহ্বান করেছে। সেগুলো যথাক্রমে ৮ আগস্ট ও ৯ সেপ্টেম্বর খোলা হবে।

রবিউল জানান, সিইউএফএল ও কাফকো উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার পর অ্যামোনিয়ার সংকটে কারখানাটি এর আগে ২ মাসের বেশি বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, ‘এখন আবার আমদানিকৃত ফসফরিক অ্যাসিডের সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।’

২০০৬ সালে ৬ লাখ ৬০ হাজার টন বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে চালু হওয়া ডিএপিএফসিএল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাত্র ৮৫ হাজার টন ডিএপি উৎপাদন করেছে।

মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দেশীয় উৎপাদনের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পেট্রো বাংলা গত বুধবার জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক এলএনজি সরবরাহ থাকে ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই সমস্যার কারণে সেটি কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। ফলে সারা দেশে আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রামে, যেখানে দুটি বড় সার কারখানা অবস্থিত, সেখানে শিল্পকারখানাগুলো গ্যাস পাচ্ছে কম।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বিপণন, দক্ষিণ বিভাগ) অনুপম দত্ত জানান, এ অঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

‘তাই সরকারের নির্ধারিত খাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করতে হচ্ছে। তবে শহরের দুটি সার কারখানার অন্তত একটি সচল রাখার চেষ্টা করছি,’ বলেন তিনি।

চলমান আমন মৌসুমের চাহিদা মেটাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত সরকারের মজুত ছিল মোট ১৬ লাখ ১৯ হাজার টন সার। এর মধ্যে ইউরিয়া ৬ লাখ ২০ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৫২ হাজার, ডিএপি ৪ লাখ ৫১ হাজার ও এমওপি ২ লাখ ২৫ হাজার টন।

ইউরিয়া ও টিএসপির মজুত প্রত্যাশিত পর্যায়ে থাকলেও ডিএপি ও এমওপির মজুত কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে কিছুটা কম।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আমন মৌসুমে জুলাই ও আগস্ট মাসে সারের চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৭৩ হাজার টন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ শাখার অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সাল ইমাম বলেন, ‘জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে, অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, আমদানি উৎস বহুমুখীকরণের কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নিয়মিত মরক্কো, কানাডা ও রাশিয়া থেকে সারের চালান পাচ্ছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে ১২ লাখ টন সার আমদানির চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টন সার পেয়েছে।

ফয়সাল বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাকি চালান আসতে দেরি হচ্ছে। সেগুলো লোহিত সাগর হয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

গ্যাস সংকটে প্রায় ১ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকার পর রক্ষণাবেক্ষণে ১৭ দিন সময় নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে কাফকো আবার উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেফারিং নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ মিশরের

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিতর্কিত রেফারিংয়ের অভিযোগ এনে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। একই সঙ্গে ম্যাচের প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার কর্মকর্তাদের টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দেশটির ফুটবল সংস্থা।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিশর। ম্যাচের পর থেকেই রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল দলটি।

মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে পাঠানো অভিযোগে ম্যাচের কয়েকটি সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছেন। তার মতে, রেফারির একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ তুলেছিলেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। তিনি দাবি করেন, ম্যাচের ফল “আগেই নির্ধারিত ছিল” এবং ফরাসি রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে এমন অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

মিসরের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি ঘটনা। প্রথমটি, ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল। ভিএআর পর্যালোচনার পর বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগে গোলটি বাতিল করা হয়।

দ্বিতীয়টি, আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগে হামদি ফাথির ওপর ফাউলের দাবি। মিশরের অভিযোগ, ওই ঘটনাটি ভিএআরে যথাযথভাবে পর্যালোচনাই করা হয়নি।

এদিকে ফিফা এখনও মিশরের অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

অন্যদিকে বিতর্ককে পেছনে ফেলে ইতোমধ্যেই কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। শনিবার কানসাস সিটিতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড, যারা শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে।