28.2 C
Dhaka
Home Blog

এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল ঋণ চালুর আহ্বান

দেশের আরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাকে ঋণের আওতায় আনতে ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়া চালু ও সহজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এসএমই ফাউন্ডেশন ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এসএমই ঋণ সহজীকরণ’ সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি সিএমএসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে সরাসরি ব্যাংকঋণ পান মাত্র ৯ শতাংশ।

এছাড়া প্রায় ১৪ শতাংশ উদ্যোক্তা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ পান। বাকি প্রায় ৭৭ শতাংশ উদ্যোক্তা এখনো ঋণের আওতার বাইরে। ফলে সম্ভাবনাময় অনেক উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হতে পারে না।

আরও বলা হয়, এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ফিনটেকভিত্তিক উদ্ভাবনী আর্থিক সেবার ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন ও এশিয়া ফাউন্ডেশন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য উদ্যোক্তা ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগের ব্যবধান কমানো, অর্থায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের সচেতন করা, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে উভয়পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তোলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতির সম্ভাবনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা।  

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ, এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের সদস্য খালিদ মাহমুদ খান প্রমুখ।

 

 

 

অবশেষে স্পেনের জালে বল, ৬৪৯ মিনিট পর সিমনের গোল হজম

কোয়ার্টার ফাইনালে এসে এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বল প্রবেশ করল স্পেনের জালে। টানা দীর্ঘ ৬৪৯ মিনিট পর অবশেষে গোল হজম করলেন দলটির গোলরক্ষক উনাই সিমন।

শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলসে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে স্পেন ও বেলজিয়াম। প্রথমার্ধ শেষে ম্যাচে চলছে ১-১ গোলে সমতা। অথচ বল দখল ও আক্রমণে বরাবরের মতো একক আধিপত্য দেখিয়েছে স্প্যানিশরা। ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ তাদেরকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৪১তম মিনিটে সিমনকে পরাস্ত করে সমতা টানেন চার্লস ডি কেটেলারে।

গোছানো আক্রমণে অভিজ্ঞ তারকা কেভিন ডি ব্রুইনা ডানপ্রান্তে খুঁজে নেন রাইটব্যাক টিমোথি কাস্টানিয়েকে। ডি-বক্সে তার ফেলা নিখুঁত ক্রসে জোরালো হেডে জাল কাঁপান ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তার ফরোয়ার্ড ডি কেটেলারে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবার সিমন গোল হজম করেছিলেন গত কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জাপানের বিপক্ষে। ওই ম্যাচের ৫১তম মিনিটে আও তানাকা লক্ষ্যভেদ করেছিলেন স্পেনের জালে। সেদিন ২-১ গোলে হেরে গিয়েছিল লা রোহারা। এরপর থেকে একদম অভেদ্য দুর্গ গড়েছিলেন সিমন, যেখানে শেষমেশ ফাটল ধরিয়েছেন ডি কেটেলারে।

বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি সময় গোল না খাওয়ার রেকর্ড আগেই গড়েছেন সিমন। তার আগে ৩৬ বছর ধরে কীর্তিটি ছিল ইতালির গোলরক্ষক ওয়াল্তার জেঙ্গার দখলে। তিনি ১৯৯০ সালের আসরে টানা ৫১৭ মিনিট কোনো গোল হজম করেননি।

এবারের আসরে আগের পাঁচ ম্যাচে জাল অক্ষত রেখেছিলেন ২৯ বছর বয়সী সিমন। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্পেন ড্র করেছিল চমক জাগানো কেপ ভার্দের সঙ্গে। এরপর সৌদি আরবকে ৪-০ ও উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় তারা।

গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে ওঠা লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের শেষ বত্রিশে প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রিয়া। ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয়ের পর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ গোলে পরাস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছে তারা।

বিয়ের গুঞ্জনে কঙ্গনা বললেন, গোপনে বিয়ে করব না, কথা দিচ্ছি

বলিউড অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ কঙ্গনা রনৌত সম্প্রতি নিজের বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এই আলোচনা শুরু হয়।

বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওতে কঙ্গনাকে গোলাপি রঙের সালোয়ার-কামিজে দেখা যায়। তার গলায় ছিল মঙ্গলসূত্র, কপালে টিপ ও হাতে সবুজ চুড়ি। সাধারণত হিন্দু বিবাহিত নারীরা এমন সাজ পরেন। তাই অনেকেই ধারণা করেন, কঙ্গনা হয়তো গোপনে বিয়ে করেছেন।

অবশেষে ২২ মে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন কঙ্গনা। তিনি জানান, এটি আসলে তার নতুন একটি সিনেমার চরিত্রের সাজ ছিল। অর্থাৎ তিনি কোনো গোপন বিয়ে করেননি।

মজার ছলে কঙ্গনা লিখেছেন, ‘আমি প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করছি। কেউ একজন চরিত্রের মেকআপে থাকা অবস্থায় আমার একটি ছবি তুলে ফেলেছে। তারপর থেকেই অনেক ফোন কল পাচ্ছি। কিন্তু বিবাহিত নারীর সাজ নিয়ে এত হইচই কেন? অভিনেতারা তো নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন। আমি গোপনে বিয়ে করব না, কথা দিচ্ছি!’

তবে তিনি কোন সিনেমার জন্য এই লুক নিয়েছিলেন, সেটি খোলাসা করেননি।

কঙ্গনাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ইমারজেন্সি সিনেমায়। এটি তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ, কারণ সিনেমাটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেছেন।

এদিকে কঙ্গনার নতুন সিনেমা আগামী ১২ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা আছে। মনোজ তপাদিয়া পরিচালিত এই সিনেমার গল্প ২০০৮ সালের মুম্বাইয়ে হামলার ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে।

ইরানের আরেক যুদ্ধজাহাজের ২০০ নাবিককে শ্রীলঙ্কার আশ্রয়

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় এলাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে একটি যুদ্ধ জাহাজ ডুবে যায়। নিহত হন অন্তত ৮৪ নাবিক। 

এই পরিস্থিতিতে একই অঞ্চলে অবস্থানরত অপর এক ইরানি জাহাজ কলম্বোর সহায়তা চায়। ওই জাহাজের ২০০ নাবিককে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে অনুঢ়া কুমার দিশানায়েকের দেশ। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

শুধু আশ্রয় দিয়েই থামেনি শ্রীলঙ্কা, ওয়াশিংটন-তেল আবিবের আগ্রাসনের প্রতি নিন্দাও জানিয়েছে দেশটি। 

বৃহস্পতির আইআরআইএস বুশেহর নামের জাহাজটির ২০০ ক্রুকে শ্রীলঙ্কার তীরে নিয়ে আসা হয়েছে

রাজধানী কলম্বোর কাছাকাছি একটি সামরিক ঘাঁটিতে তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। 

জাহাজটি বর্তমানে শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণে আছে। 

বুধবার মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে আইআরআইএস ডেনা নামের ইরানি জাহাজটি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ডুবে যায়। এরপর বুশেহর-এর ক্রুরা ‘ইঞ্জিনের কারিগরি সমস্যার’ কথা উল্লেখ করে শ্রীলঙ্কার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। 

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘আমাদের মতে, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।’

 

‘জনমানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে এবং মানবতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে আমরা এসব পদক্ষেপ নিয়েছি’, যোগ করেন দিশানায়েকে। 

তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।  

কয়েক ঘণ্টা আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শ্রীলঙ্কার নেতা বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে একটি দেশের জন্য বিপদগ্রস্ত নাবিকদের আশ্রয় দেওয়া ‘সবচেয়ে দুঃসাহসিক ও মানবিক কাজ।’

‘আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে নিরপেক্ষ থাকার নীতি বজায় রাখি। আমরা নিশ্চিত করি, মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের জীবন বাঁচানো আমাদের সবচেয়ে প্রাধান্যের বিষয় হিসেবে যেন টিকে থাকে’, যোগ করেন তিনি। 

চলমান সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। 

 

সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। অপরদিকে, চা রপ্তানির বাজার হিসেবে ইরান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। 

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার প্রধান রপ্তানি পণ্য চা। 

উদ্ধারকৃত ৩২ ক্রুকে বন্দরনগরী গলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, আইআরআইএস বুশেহর জাহাজের ২০৮ ক্রূর মধ্যে ২০৪ জনকে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজে করে উপকূলে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয় পেয়েছেন। 

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘জাহাজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন আমাদের সেনাবাহিনীর হাতে। এটাকে ত্রিনকোমালিতে নিয়ে যাওয়া হবে।’

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার পূর্ব প্রান্তের একটি বন্দর ত্রিনকোনমালি। রাজধানী কলম্বো থেকে এটি বেশ খানিকটাই দূরে। 

 

কর্মকর্তা জানান, শ্রীলঙ্কার সেনাদের সহায়তা করতে চার ইরানি জাহাজে থেকে গেছেন। 

এর আগে ওয়াশিংটন ঘোষণা দিয়ে আইআরআইএস ডেনার ওপর হামলার দায় নেয়। এই হামলার জেরে ৮৪ জন ক্রু নিহত ও ৬৪ জন নিখোঁজ হন। 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ হামলা শুরুর পর এটাই ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সীমানার বাইরে কোনো সামরিক হামলার ঘটনা। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই কোনো মার্কিন সাবমেরিনের প্রথম টর্পেডো হামলার ঘটনা।

ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে ভারত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করতে চলেছে ভারত। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে ভিসা কার্যক্রম, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর এটি ছিল হাইকমিশনারের একটি রুটিন সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত ও নিরাপত্তার মতো বিষয়ে ব্যাপক সম্পৃক্ততা রয়েছে।

ভিসা কার্যক্রম নিয়ে ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে ভারতের কনস্যুলেট ও ভিসা অফিসগুলোতে বিভিন্ন সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার কারণে তারা পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতায় কাজ করতে পারেনি। তবে তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে যে ভিসা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করা হবে।

পর্যটক ভিসা আলাদাভাবে চালু করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো কথা হয়নি।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পারস্পরিক স্বার্থ, মর্যাদা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা চায়। তিনি বলেন, আমরা সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য সব ক্ষেত্রে আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার আশা করি।

দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

বৈঠকে সীমান্ত হত্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সীমান্ত হত্যার বিষয়টি তুলেছি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার কথা আর শুনতে না হয়। আমরা চাই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক হোক, যাতে এ ধরনের ঘটনা যতটা সম্ভব এড়ানো যায়।’

কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগে দিনকে দিন নিয়ন্ত্রণহীন এলপিজির বাজার

পদ্ধতিটি বহুল ব্যবহৃত। প্রথমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয় যেন ভোক্তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে শুরু করেন। এরপর সরকারকে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্যটির দাম বাড়ানো হয়।

সয়াবিন থেকে শুরু করে চিনি, এলপিজিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে এভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। এরপর দাম বাড়ানো হয়। এমন বহু ঘটনা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি। 

মানুষ ভেবেছিলো জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত সরকারের সময়ে এমনটা ঘটবে না। সরকার নিত্যপণ্যের বাজারকে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের একচেটিয়া আধিপত্য থেকে মুক্ত করবে। কিন্তু বাস্তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও একই মডেলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির মতো অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটল।

দেশে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা চলছিল। সরকারি দরের চেয়ে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছিল। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়েও ভোক্তারা এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারছিলেন না।

এমন পরিস্থিতিতে ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দামও প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে।

বিইআরসি এই দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ ভাড়া বাড়ার কথা বলেছে। কিন্তু কোনো ধরনের গণশুনানি ছাড়া একতরফাভাবে এই মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধিকে কতটা সঠিকভাবে প্রতিফলিত করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এলপিজির এই দাম বাড়ানো হলো এমন এক সময়ে, যখন দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছেন। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, ২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে নিত্যপণ্যের দামও আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন। এর ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে। বাকি অংশ ব্যবহার হয় শিল্প ও পরিবহন খাতে।

এলপিজির এই বড় মূল্যবৃদ্ধির ফলে একদিকে রান্নার খরচ বাড়বে, যা সরাসরি চাপ ফেলবে সাধারণ মানুষের সংসারে। অন্যদিকে এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবহন ও শিল্প খাতের খরচও বাড়বে।

বাংলাদেশে যখন এলপিজির দাম নিয়ে অস্থিরতা চলছে, প্রতিবেশী ভারতে তখন এলপিজির বাজার বেশ স্থিতিশীল। গ্রাহকেরা সরকার নির্ধারিত দরে ঘরে বসেই সময়মতো এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত এখন পর্যন্ত গৃহস্থালি এলপিজির দাম দুই দফা বাড়িয়েছে। প্রথম দফায় মার্চে ৬০ রুপি বা ৭৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় জুনে ২৯ রুপি বা ৩৭ টাকা দাম বাড়ানো হয়। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর পর ভারতে দুই দফায় মোট দাম বেড়েছে ৮৯ রুপি বা ১১৪ টাকা।

এর ফলে ভারতে ১৪ দশমিক ২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৪২ রুপি বা ১ হাজার ২০৫ টাকা। জুনের পর এখন পর্যন্ত গৃহস্থালি এলপিজির দাম আর বাড়ানো হয়নি।

বাংলাদেশে এলপিজি সিলিন্ডারগুলো বেশিরভাগই ১২ কেজির। ভারতে ১২ কেজির সিলিন্ডার হলে এর দাম পড়ত ৭৯৬ রুপি বা ১ হাজার ১৫ টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগেই বাংলাদেশে এলপিজির সরকারি দাম এর চেয়ে বেশি ছিল। ১২ কেজির এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। যদিও বাস্তবে মানুষকে এর চেয়েও বেশি দামে কিনতে হতো।

যুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলেই বাংলাদেশে এলপিজির দাম দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর বেশ কয়েকবার দাম কমানো-বাড়ানোর মধ্য দিয়ে সর্বশেষ দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

এটা সরকার নির্ধারিত দাম। যদিও বাস্তবে মানুষকে বাজার থেকে এর চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে।

দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেড়েছে মোট ৪৯৬ টাকা। অর্থাৎ ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

যুদ্ধ একটাই। কিন্তু দুই দেশের সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব দুই রকম। একই যুদ্ধের কারণে ভারতে এলপিজির দাম বেড়েছে ১১৪ টাকা, আর বাংলাদেশে বেড়েছে ৪৯৬ টাকা। এই পার্থক্যের কারণ দুই দেশের এলপিজি বাজারের কাঠামো ও ব্যবস্থাপনার পার্থক্য।

বাংলাদেশে এলপিজি খাত পুরোপুরি বেসরকারি খাতের কয়েকটি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। এসব কোম্পানির ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে তারাই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলেই সরকার এলপিজির দাম বাড়িয়ে দেয়।

এবারের এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ উঠেছে। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি বলছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে এলপিজি আমদানিকারক কোম্পানিগুলো বাজারে সরবরাহ কমাতে শুরু করে। শুরুতে সরবরাহ কমানো হয় ৩০ শতাংশ। এরপর ধীরে ধীরে তা ৫০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে দেওয়া হয়।

এর ফলেই বাজারে এলপিজির সংকট তৈরি হয়। অথচ দেশে এলপিজি আমদানি কমেনি। আগস্টে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন।

প্রশ্ন হলো, এলপিজির আমদানি না কমলে সরবরাহ কমল কীভাবে? এলপিজি মজুত করে না রাখলে তো বাজারে সরবরাহ কমার কথা নয়।

অন্যদিকে ভারতের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোটাই রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। এসব কোম্পানির মাধ্যমে ভারত সরকার এলপিজি আমদানি করে এবং নির্ধারিত দরে বিক্রি করে। কোম্পানি তিনটি হলো ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম। এসব কোম্পানি নির্দিষ্ট ডিলারের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করে।

গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ, ফোন বা এসএমএসের মাধ্যমে এলপিজি বুকিং করেন। ডিলাররা নির্ধারিত দরের মধ্যেই সেই এলপিজি সিলিন্ডার গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছে দেন। এজন্য গ্রাহককে বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। এলপিজির দামের মধ্যেই সেই খরচ ধরা থাকে।

একজন গ্রাহক প্রতি মাসে ১৪ দশমিক ২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত ৯৪২ রুপি দরে কিনতে পারেন। এর চেয়ে বেশি এলপিজির প্রয়োজন হলে তুলনামূলক বেশি দামে বাজার নির্ধারিত মূল্যে কিনতে হয়।

এক্ষেত্রে কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি বন্ধ করতে সরকার ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড বা ডিএসি ব্যবস্থা কাজে লাগায়। কোনো গ্রাহক এলপিজি সিলিন্ডার বুক করলে তার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ওটিপি বা ডিএসি কোড চলে যায়।

সিলিন্ডার হাতে পাওয়ার পর গ্রাহক সেই কোড ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে শেয়ার করলেই কেবল ডেলিভারি সম্পন্ন দেখানো যায়। ফলে ডিলারদের পক্ষে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করা বা সিলিন্ডার অন্যত্র বিক্রি করা কঠিন।

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রান্নার জ্বালানি সংকটে ভুগছেন। এই সংকটের একটি সমাধান হতে পারত মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ও নিরাপদভাবে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু বেসরকারি খাতের ওপর এলপিজি বাজারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে যে তা সম্ভব নয়, তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত।

এক্ষেত্রে ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মাধ্যমে যেভাবে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা হয়, বাংলাদেশও তা কাজে লাগাতে পারে।

পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর এলপিজি আমদানি, মজুত ও সরবরাহের ওপর নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি বাড়াতে হবে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

এলপিজির বাজারে যথাযথ তদারকি ও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য খর্ব করতে না পারলে এলপিজির দাম নিয়ে এই অরাজকতা চলতেই থাকবে।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন।

[email protected]

দেশ ঘোরার নেশা থেকে ‘আনসিন বাংলাদেশ’, আরও যা আছে এই ওয়েবসাইটে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন ট্রেন্ড, দেশের কতগুলো জেলায় আপনি ভ্রমণ করেছেন সেই ম্যাপ প্রকাশ করা। অনেকে ইতোমধ্যে ৬৪টি জেলাই ঘুরেছেন, কেউ কেউ পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছেন বাকি এলাকাগুলোর কোথায় কোথায় ভ্রমণ করবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন রবিনের তৈরি ‘আনসিন বাংলাদেশ’ ওয়েবসাইট থেকে সহজেই এই ম্যাপ তৈরি করা যাচ্ছে।

দেড় সপ্তাহে এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করেছেন ২৩ লাখের বেশি মানুষ।

‘ভ্রমণ মানচিত্র’ তৈরির সুযোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার দর্শনীয় স্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা, আনুমানিক ব্যয়, থাকার জায়গা ও বিখ্যাত খাবারের তথ্য রয়েছে ওয়েবসাইটে। রয়েছে এআইভিত্তিক ট্রিপ প্ল্যানার।

রবিন বর্তমানে আইটি খাতে কাজ করছেন। পাশাপাশি তার নিজস্ব একটি ডিজাইন এজেন্সি রয়েছে।

রবিন জানান, ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ দীর্ঘদিনের। সুযোগ পেলেই নতুন জায়গায় ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন তিনি।

‘নতুন নতুন জেলা ঘুরতে ঘুরতে একদিন ভাবলাম, বাংলাদেশের কতগুলো জেলা ঘোরা হলো সেটা যদি একটা ম্যাপে তুলে ধরা যায়, তাহলে মন্দ হয় না! সেখান থেকেই এই ওয়েবসাইট তৈরির ভাবনার শুরু,’ বলেন তিনি।

আগে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে এমন ম্যাপ তৈরি করতাম। প্রতিবার নতুন জেলা ঘুরে আসার পর প্রম্পট দিয়ে ম্যাপ বানাতে হতো। কোথাও ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে নানা জায়গায় খুঁজতে হতো কী কী দর্শনীয় স্থান আছে, যাতায়াত ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য খরচ কেমন।

‘তখনই মনে পড়ে এক জায়গায় সব তথ্য পাওয়া গেলে সুবিধা হতো। যেহেতু আমি আইটি সেক্টরে কাজ করি, হঠাৎ মাথায় এলো এআইয়ের সাহায্যে আমি নিজেই এমন একটা প্ল্যাটফর্ম বানাতে পারি,’ বলেন রবিন।

‘আনসিন বাংলাদেশ’ এর অন্যতম আকর্ষণ ‘আমার ম্যাপ’ অপশন। এখানে ব্যবহারকারী নিজের ঘোরা জেলাগুলো নির্বাচন করে একটি ব্যক্তিগত ভ্রমণ মানচিত্র তৈরি করতে পারেন। চাইলে এতে নিজের নাম, ছবি যোগ করা ও পছন্দ অনুযায়ী রঙের থিমও বেছে নেওয়া যায়।

রবিন জানান, ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হয় না।

ওয়েবসাইটটির ‘কোথায় ঘুরবেন’ অংশে যেকোনো জেলা নির্বাচন করলে ওই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর তথ্য পাওয়া যায়। দেখা যায় ছবি।

এছাড়া সেখানে কীভাবে যাবেন, বাস-ট্রেন, আকাশ বা নদী পথে যেতে আনুমানিক খরচ হয়, থাকার জায়গা কেমন ও কোন কোন খাবার বিখ্যাত—সেসব তথ্য পাবেন এক ক্লিকে। কোনো স্থানের ‘বিস্তারিত দেখুন’ অপশনে গেলে পাওয়া যায় সেই স্থানের ইতিহাস ও ভ্রমণ নির্দেশিকা।

সাইটটির আরেকটি সুবিধা ‘ট্রিপ প্ল্যানার’। এখানে ব্যবহারকারী কোথায় থেকে যাত্রা শুরু করবেন, কোন কোন জেলায় যেতে চান, কত দিনের ট্রিপ, কতজন যাবেন এবং বাজেট কত, সেসব তথ্য দিলে সাইটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্ভাব্য রুট সাজিয়ে দেয়। সঙ্গে থাকে দিনভিত্তিক ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং মোট আনুমানিক খরচের হিসাব।

‘শুরুতে কোনো বড় পরিকল্পনার অংশ ছিল না। সাইটটি আসলে নিতান্তই শখের বশে তৈরি করা। প্রথম সংস্করণটি ক্লাউড কোড নামে একটি এআই টুল দিয়ে মাত্র দেড় ঘণ্টায় বানিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল নিজের কাছেই রাখা। পরে মনে হয় ভ্রমণপ্রেমী সবার কাজে লাগতে পারে,’ বলেন রবিন।

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২৭ সেপ্টেম্বর ওয়েবসাইটটি শেয়ার করেছিলেন রবিন। এরপর সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

‘ওয়েবসাইটটি নিয়ে এতটা সাড়া পাব কল্পনাও করিনি। মাত্র ১০ দিনে ২৩ লাখের বেশি মানুষ সাইটটি ব্যবহার করেছেন।’

রবিন আরও বলেন, ‘অনেকে নিজেদের ভ্রমণ ম্যাপ তৈরি করে ফেসবুকে শেয়ার করছেন, পরিচিতদের ট্যাগ করছেন। কে কতটি জেলা ঘুরেছেন, তা নিয়েও চলছে মজার প্রতিযোগিতা। ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আসছে নতুন ফিচার যুক্ত করার পরামর্শ। কীভাবে যে এত ছড়িয়ে গেল, নিজেও বুঝে উঠতে পারিনি। সবার ভালোবাসা আমাকে সত্যিই অনুপ্রাণিত করেছে।’

এই ওয়েবসাইট আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন রবিন।

তিনি বলেন, ‘সামনে একটি বিশ্ব ভ্রমণ ম্যাপ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

‘দেশের আরও দর্শনীয় স্থান যুক্ত করা, প্রতিটি স্থানের তথ্য আরও বিস্তারিত করা এবং ব্যবহারকারীদের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে,’ বলেন তিনি।

রবিনের স্বপ্ন, ভ্রমণপ্রেমী মানুষের জন্য ‘আনসিন বাংলাদেশ’ এক সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর ভ্রমণ প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি হয়ে উঠবে।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ, তিনিই হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান।

দলের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েক দশক ধরে বিএনপির জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবদানের পুরস্কার হিসেবেই তাকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে।

একাধিক দলীয় সূত্র জানায়, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার এই মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে অবশ্যই দলের সংশ্লিষ্ট নথিতে সই করে বা লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে মনোনয়নে সম্মতি দিতে হয়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত শনিবার মির্জা ফখরুল এমন একটি লিখিত বিবৃতিতে সই করেছেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। এর আগেই আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার দল আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করতে পারে।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল সকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দলের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা ও দলে রদবদল

মির্জা ফখরুল যদি রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হন, তবে তাকে মন্ত্রিসভা এবং বিএনপির মহাসচিব পদ ছাড়তে হবে। এর ফলে সরকার ও দলের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে যে আলোচনা চলছে, তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে সূত্রগুলো এটাও বলেছে যে প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো অনুমোদিত হয়নি এবং মির্জা ফখরুল শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হবেন কি না, তার ওপরই এই রদবদল নির্ভর করছে। চূড়ান্ত ঘোষণার আগে এই পরিকল্পনায় পরিবর্তনও আসতে পারে।

দলের নেতৃত্বের বিষয়ে সূত্রগুলো জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দলের পরবর্তী কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কাউকে নির্বাচিত না করা পর্যন্ত রিজভী এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তা বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন আনবে। তিনি দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে যখন খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন এবং তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত ছিলেন, তখন তিনি দলের হাল ধরে রেখেছিলেন।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালের ২০ মার্চ দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। এর আগে ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছিল।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষকতা পেশা থেকে তিনি রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে নব্বইয়ের দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তিনি প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ডলার। গত আট বছরে জুলাই মাসে আসা রেমিট্যান্সের মধ্যে এই পরিমাণ সর্বোচ্চ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রবাসীরা ২৮৫ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। গত বছর জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৯ কোটি ডলার।

দেশের রপ্তানি আয় যখন মন্থর, তখন রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির পাওয়ায় আমদানি বিলসহ বৈদেশিক পরিশোধের দায় মেটাতে তা গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমে ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে জুলাই-মে সময়ে আমদানি ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বিপরীতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।

শেষদিকে বদলি নেমে ফের নায়ক মেরিনো, সেমিতে ফ্রান্সের মুখোমুখি স্পেন

চারদিন আগে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের শেষদিকে বদলি নেমে লক্ষ্যভেদ করে স্পেনকে জিতিয়েছিলেন মিকেল মেরিনো। আবারও একইভাবে মাঠে ঢুকে ব্যবধান গড়ে দিলেন আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার। তার অন্তিম সময়ের জয়সূচক গোলে বেলজিয়ামকে বিদায় করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কাটল লা রোহারা।

শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত নাটকীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ তাদেরকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৪১তম মিনিটে সমতা টানেন চার্লস ডি কেটেলারে। এরপর দুই দল বেশ কিছু সুযোগকে পূর্ণতা দিতে না পারায় খেলা এগোচ্ছিল টাইব্রেকারের দিকে। তবে ৮৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুই মিনিটের মধ্যে মেরিনো জাল খুঁজে নিলে শেষ চারে নাম লেখায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের ১৬ বছর পর সেমিতে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর গত দুটি আসরে তাদের যাত্রা থেমেছিল শেষ ষোলোতে। সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এবার তাদের লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার করা।

তবে ফাইনালে উঠতে হলে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে স্পেনকে। আগামী মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠেয় হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ডালাসে তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের, যারা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে।

৬৮ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখা স্পেন গোলমুখে ১৭টি শট নিয়ে আটটি রাখে লক্ষ্যে। অন্যদিকে, গোলপোস্টে বেলজিয়ামের নেওয়া পাঁচটি শটের কেবল দুটি লক্ষ্যে ছিল।

কেভিন ডি ব্রুইনা ও জেরেমি ডকু শুরুর একাদশে ফিরলেও ম্যাচের আগেই বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। ওয়ার্মআপের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন অধিনায়ক ইউরি টিলেমানস। এর আগে আমাদু ওনানাকেও হারানোয় বল দখলে পটু স্পেনের বিপক্ষে তাদেরকে প্রায় দ্বিতীয় সারির মিডফিল্ড নিয়ে নামতে হয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় দে লা ফুয়েন্তের দল। পেদ্রির জায়গায় সুযোগ পাওয়া রুইজ ও রদ্রি মাঝমাঠের দখল নেন। সঙ্গে তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল দূরপাল্লার শটে ভীতি ছড়াতে থাকেন। তবে বেলজিয়ামের ডকুও বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ শাণিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গত ম্যাচে জোড়া গোল করা ডি কেটেলারের জন্য সুযোগ তৈরিতে মনোযোগী ছিলেন।

ম্যাচে প্রথম লিড নেয় স্পেনই। ৩০তম মিনিটে পেদ্রো পোরো ও ইয়ামালের দারুণ বোঝাপড়ার পর পোরোর কাটব্যাক থেকে দানি ওলমো শট নেন। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া তা ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে লক্ষ্যভেদ করেন রুইজ। এরপর স্পেন যেন বেলজিয়ামের অর্ধে অনুশীলন সেশনের মতো পাসিং ফুটবল খেলতে থাকে।

তবে শেষ বত্রিশের ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি থাকা বেলজিয়াম এবারও হাল ছাড়েনি। ৪১তম মিনিটে ডি ব্রুইনার পাস থেকে বল পেয়ে টিমোথি কাস্টানিয়া দারুণ এক ক্রস বাড়ান। ডি-বক্সে তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে ছিটকে ফেলে দারুণ হেডে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান ডি কেটেলারে। চলতি বিশ্বকাপে এটিই স্পেনের জালে ঢোকা প্রথম গোল। আর সব মিলিয়ে রেকর্ড টানা ৬৪৯ মিনিট পর বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল হজম করলেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণে প্রাধান্য দেওয়ায় খেলা আরও উন্মুক্ত হয়ে ওঠে। বদলি হিসেবে অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামালেও ৭১তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় তারা। উরুতে চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোর্তোয়া। তার জায়গায় এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক সেনে লামেন্সের।

এই অভিষেকই শেষ পর্যন্ত লামেন্সের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। ৮৮তম মিনিটে কুবারসির দূরপাল্লার শট ঠিকমতো গ্লাভসবন্দি করতে ব্যর্থ হন তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফিরতি বলে জোরালো শটে গোল করেন সুযোগসন্ধানী মেরিনো। আগের ম্যাচেও পর্তুগালের বিপক্ষে ৮৫তম মিনিটে মাঠে নেমে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে জাল কাঁপিয়ে স্পেনকে জেতান তিনি।

শেষদিকে অ্যালেক্সিস সালেমেকারস ফাঁকা গোলপোস্টের সামনে লুকাকুকে বল দিতে ব্যর্থ হন। ফলে বেলজিয়ামের সমতায় ফেরার শেষ আশাটিও নষ্ট হয়। শেষ বাঁশির পর কোর্তোয়া এসে হতাশ লামেন্সকে সান্ত্বনা দেন। তখন বেলজিয়ামের বুড়িয়ে যাওয়া সোনালি প্রজন্মের খেলোয়াড়দর স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেতে দেখা যায়। অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াইয়ে নজর ঘোরানোর আগে জয় উদযাপনে মশগুল ছিলেন স্পেনের ফুটবলাররা।