28.3 C
Dhaka
Home Blog

জার্মানি, ব্রাজিলের রেকর্ডে নাম লেখালো ফ্রান্স

নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে ফ্রান্স। গত এক যুগ ধরে বিশ্ব ফুটবলের সফলতম দল তারা। দারুণ ধারাবাহিকতায় টানা তিন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। এই নিয়ে ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে আটটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখালো তারা।

গত রাতে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে অনায়াসে ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে আর উসমান দেম্বেলের গোলে দাপট দেখিয়েই জেতে ফরাসিরা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার সেমিফাইনালে উঠেছে জার্মানি, এরপর ৮ বার সেরা চারে জায়গা করার নজির ব্রাজিলের। ফ্রান্সও ব্রাজিলের সমান ৮ বার সেমিতে উঠল।

জার্মানি ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টানা চারটি সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। ২০১৪ সালে চতুর্থবার ট্রফি জিতেছিল। ব্রাজিল ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে টানা তিনটি সেমিফাইনালে পৌঁছায়। এরমধ্যে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে হয় চ্যাম্পিয়ন। পাঁচবারের বিশ্বসেরা ব্রাজিলের মতো ফ্রান্সও ২০১৮ থেকে ২০২৬—টানা তিনটি সেমিফাইনালে উঠে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনায় আছে। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জেতে তারা। ২০২২ সালে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হেরে যায় আর্জেন্টিনার কাছে। এবার সুযোগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের।

৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলা তৃতীয় দল হলো ফ্রান্স!

জার্মানি :: ১২ বার 

ব্রাজিল :: ৮ বার 

ফ্রান্স :: ৮ বার 

ইতালি :: ৭ বার

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সবচেয়ে নিখুঁত এবং গোছানো ফুটবল খেলা একটি দলের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত মানানসই একটি ফলাফল। ফ্রান্স এই বিশ্বকাপের একমাত্র দল যারা অতিরিক্ত সময়ে না গিয়েই তাদের পাঁচটি ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছে—এতে বেরিয়ে এসেছে দলটির দাপট।

 

বাংলাদেশের ‘রকস্টার’ বিদেশে মুক্তি পাচ্ছে কবে

ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘রকস্টার’ সবার আগে দেশের বাইরে যাত্রা করছে। শাকিব খান অভিনীত ও আজমান রুশো পরিচালিত সিনেমাটি আগামী ৫ জুন থেকে দেশের বাইরে প্রদর্শিত হবে।

সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক ‘স্বপ্ন-স্কেয়ারক্রো’ দ্য ডেইলি স্টারকে জানায়, প্রথম সপ্তাহে কানাডার সাতটি, যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি ও যুক্তরাজ্যের চারটি থিয়েটারে চলবে।

স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপের আগে হলিউড ডোমেস্টিক মার্কেটে বছরের সবচেয়ে কঠিন সপ্তাহে ৩৭টি থিয়েটারে “রকস্টার” সিনেমার মুক্তিকে ভালো সূচনা বলা যায়। শুরুতে ভালো করলে পরের সপ্তাহে থিয়েটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘আমাদের প্রযোজনা সংস্থা সান মোশন পিকচার্সের সর্বশেষ প্রযোজিত চলচ্চিত্র “হাওয়া”র মতো “রকস্টার”ও বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলবে বলে বিশ্বাস করি।’

‘রকস্টার’ সিনেমার প্রযোজক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান, সাবিলা নূর, তারিক আনাম খান, রোজী সিদ্দিকী, দিলারা জামান, কাজী সাবির, তানজিয়া জামান মিথিলাসহ অনেকে।

আজমান রুশোর গল্পে চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত ইসলাম, আইমন আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভুঁইয়া। সংগীত পরিচালনা করেছেন জাহিদ নিরব।

অষ্টম দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থানে হামলা চালাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। 

আজ শনিবার ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

বার্তাসংস্থা এএফপি ও সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব হামলার তথ্য। 

ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। 

অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানযুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আগাম সতর্কতা ও অগ্নি নিয়ন্ত্রণ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমিরাতে বিমানবন্দর ও দুই মার্কিন ঘাঁটি 

আল জাজিরা জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

 

এছাড়া আল-মিনহাদ ও আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। 

জেরুজালেম

এএফপি জানায়, শনিবার জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সতর্কতা সাইরেনও বেজে ওঠে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ছয়বার হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সৌদি আরব 

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন এমন একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে ইরান। একটি বড় তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায়। 

তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সব হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি সরকার। 

বাহরাইন

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় আজও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তেলবাহী জাহাজে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রিমা’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। 

 

তারা জানায়, নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা সতর্কতা উপেক্ষা করে চলাচল করায় হামলা চালানো হয়। 

কুর্দিস্তানে হামলা

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ইরাকের স্বশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। 

ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে এসব বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি। 

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কিন দূতাবাসসহ ঢাকার গুলশান ও বারিধারায় পুরো কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি জানান, নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অবৈধ অভিবাসন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা, কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘স্পেশাল প্রোগ্রাম ফর অ্যাম্বাসি অগমেন্টেশন অ্যান্ড রেসপন্স’ (স্পিয়ার) এবং ইলেকট্রনিক ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন (ইএনভি) বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। তিনি মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করতে ‘স্পিয়ার’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, এই কর্মসূচির জন্য দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় বরাদ্দকৃত মার্কিন তহবিল ফেরত যেতে পারে বা অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে পারে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন নিয়ে দ্রুত এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান এবং মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা এরিক গিলান, শেন স্যান্ডার্স, তানিক মুনির ও রাইলি পামারট্রি উপস্থিত ছিলেন।

৬ দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ: জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ছয় দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে।

এ কর্মসূচি সফল করতে পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ট্রাফিক বিভাগ, সরকারি দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জনগণের বৈধ ও ন্যায্য দাবি আদায়ের নিয়মতান্ত্রিক পথের একটি কর্মসূচি হচ্ছে লংমার্চ। এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে এবং কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থাকবে না।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি, পুলিশ প্রশাসন, সরকারের সব ইন্টেলিজেন্স এবং ট্রাফিকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সবাই আমাদের চারটি রোডমার্চ কর্মসূচিতে জনগণের পাশে থেকে তা শান্তিপূর্ণ ও সফল করতে সহযোগিতা করবেন।

১১ দলের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব, গণদাবি ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও আমরা সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

গোলাম পরওয়ার জানান, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। এতে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, লংমার্চে অন্তত এক হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। পথে আরও গাড়িবহরে যোগ দেবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নয়টি জেলা ও মহানগরীর জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পথে ছয়-সাতটি স্থানে শীর্ষ নেতাদের পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লংমার্চের ছয়টি প্রধান দাবি হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

লংমার্চের প্রস্তুতি ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলের নেতারা সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে লং মার্চের রুট ও কর্মসূচি জানানো হয়েছে। পুলিশও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের জন্য আগাম দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি লেন ফাঁকা রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে হাজার হাজার গাড়ির বহরের কারণে কোথাও কোথাও কিছুটা যানজট বা ভোগান্তি হতে পারে।

‘লংমার্চ সফল করতে যদি ব্যবসা বা চলাচলে কিছুটা কষ্ট বা ভোগান্তি হয়, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের সবার কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি’, বলেন তিনি।

লংমার্চ নিয়ে কোনো নাশকতা বা হামলার আশঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নেতিবাচক তথ্য বা আশঙ্কার খবর নেই।

 

সাহাবুদ্দিন ও এস আলমের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ: ইসলামী ব্যাংকের সেই কর্মকর্তা বরখাস্ত

ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম এবং আরও ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগকারী সেই ব্যাংক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

গত সোমবার দুদকে এই অভিযোগ করা হয়েছিল। একদিন পর মঙ্গলবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করে।

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই দুদকে ওই অভিযোগ করেন। একটি কমিটিকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ ইয়াসিন আলীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার দিক থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরাসরি দুদকে অভিযোগ করার কোনো নিয়ম নেই। আমরা যদি কোনো মামলা করি, তবে তা আদালতের মাধ্যমেই করি।’

স্পেন বনাম বেলজিয়াম: মহারণের আগে কী বলছে ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ফুটবলের কুলীন মঞ্চে স্পেন আর বেলজিয়ামের নামডাক বহুদিনের। ১৯২১ সালের সেই প্রথম লড়াইয়ের পর থেকে সবুজ গালিচায় বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে তারা। চলতি একবিংশ শতাব্দীতে দুই দলই পেয়েছে ফুটবলারদের দুর্দান্ত সব ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’। তবে সাফল্যের খেরোখাতায় বেলজিয়ামের চেয়ে স্পেন অনেক এগিয়ে থাকায় মাঠের লড়াইগুলো সবসময়ই পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এবার আরও একটি চোখ ধাঁধানো ফুটবল দ্বৈরথ কড়া নাড়ছে দুয়ারে।

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ‘লা রোহা’ ও ‘রেড ডেভিলস’রা। এই ম্যাচের জয়ী দলের টিকিট মিলবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে শেষ চারের লড়াইয়ের।

চলতি বিশ্বকাপে স্প্যানিশদের পথচলা এখন পর্যন্ত এককথায় নিখুঁত। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ড্র করে একটু হোঁচট খেলেও, পরের চার ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে ক্লিনশিটসহ জয় তুলে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে বেলজিয়ামের যাত্রাটা মোটেও মসৃণ ছিল না; নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জয় এসেছে মাত্র দুটি ম্যাচে। তবে মোক্ষম সময়েই নিজেদের চেনা ছন্দটা ফিরে পেতে শুরু করেছে বেলজিয়াম।

শুক্রবার রাতের সেই মহালড়াইয়ের আগে চোখ রাখা যাক দল দুটির অতীত ইতিহাসের পাতায়।

যখন শেষবার দেখা হয়েছিল

গত এক দশক ধরে স্পেন ও বেলজিয়ামের ফুটবলাররা একে অপরের ছায়াও মাড়ায়নি। আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের কথা ধরলে তো পিছিয়ে যেতে হবে আরও পেছনে। ২০১৬ সালের সর্বশেষ দেখাটি ছিল ব্রাসেলসের কিং বাউডোইন স্টেডিয়ামে, নিছকই এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ।

সেদিন বেলজিয়ামের একাদশে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনে, এডেন হ্যাজার্ড ও থিবো কোর্তোয়ার মতো বিশ্বকাঁপানো একঝাঁক সুপারস্টার। বিপরীতে স্পেনের ডেরায় ছিলেন সার্জিও রামোস, সার্জিও বুসকেটস আর ডেভিড সিলভা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির তৎকালীন স্প্যানিশ জাদুকর ডেভিড সিলভাই।

মাঠে সেদিন সিলভা যেন জাদুর কাঠি নিয়ে নেমেছিলেন। তার চোখধাঁধানো নৈপুণ্যেই ২-০ গোলের দুর্দান্ত জয় পায় স্পেন। ম্যাচের দুই অর্ধে দুটি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে (যার একটি ছিল পেনাল্টি থেকে) জয় নিশ্চিত করেন তিনি। পুরো ম্যাচে বলের দখল থেকে শুরু করে গোলমুখে আক্রমণ—সবখানেই ছিল স্পেনের একচেটিয়া আধিপত্য। বেলজিয়ামের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা ছিল, ২০০৯ সালের ম্যাচে স্পেনের কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার চেয়ে এবারের হারের ব্যবধানটা অন্তত কিছুটা কম ছিল।

বিশ্বকাপ মঞ্চে স্পেন-বেলজিয়াম দ্বৈরথ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে শুক্রবারের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে এই দুই দলের মাত্র তৃতীয় সাক্ষাৎ। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবার দল দুটি মুখোমুখি হয়েছিল, সেটিও ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। শক্তির বিচারে সেবার দুই দলের মধ্যে ফারাক ছিল সামান্যই।

জান কেউলেম্যান্সের গোলে প্রথমে বেলজিয়াম এগিয়ে গেলেও, ৮৫ মিনিটে হুয়ান সেনিয়রের গোলে সমতায় ফেরে স্পেন। অতিরিক্ত সময়েও ডেডলক না ভাঙায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্প্যানিশ তারকা এলোয়ের পেনাল্টি কিক রুখে দিয়ে বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক বনে যান গোলরক্ষক জঁ-মারি ফাফ।

তবে ঠিক চার বছর পরেই ইতালির বিশ্বকাপে এর মধুর প্রতিশোধ নেয় স্পেন। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে প্রথমার্ধের ঝোড়ো ফুটবলে শেষ হাসি হাসে লা রোহাই। মিশেলের পেনাল্টি গোলে স্পেন এগিয়ে যাওয়ার তিন মিনিটের মাথায় বেলজিয়ামের প্যাট্রিক ভারভুর্ট সমতা ফেরান। তবে মিনিট সাতেক পরেই আলবার্তো গোরিজের লক্ষ্যভেদে আবারও লিড নেয় স্পেন। ২-১ গোলের সেই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে গিয়েছিল স্পেন। যদিও শেষ ষোলোর বৈতরণী পার হতে পারেনি কোনো দলই।

১০৫ বছরের দ্বৈরথে লা রোহার রাজত্ব

অলিম্পিকের ম্যাচ বাদ দিলে দুই দলের ২২ বারের দেখায় সিংহভাগ সময়ই শেষ হাসি হেসেছে স্পেন।

বেলজিয়ামের ঝুলিতে যে দু-একটি ঐতিহাসিক জয় নেই তা নয়, যার বড় উদাহরণ ১৯৮৬ সালের সেই টাইব্রেকার জয়। তবে সব মিলিয়ে তাদের জয়ের সংখ্যা মাত্র পাঁচ, আর মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর স্পেনের বিপক্ষে জয়ের মুখ দেখেনি তারা।

অন্যদিকে স্পেনের নামের পাশে রয়েছে ১২টি জয়, যার মধ্যে শেষ আটটি ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছে তারা। একবিংশ শতাব্দীতে হওয়া পাঁচটি ম্যাচের সবকটিই গেছে লা রোহার পকেটে। এই পাঁচ ম্যাচে গোল ব্যবধান ১৩-১; যা মাঠের লড়াইয়ে স্পেনের একচেটিয়া আধিপত্যেরই প্রমাণ।

আগামী শুক্রবারে বেলজিয়াম নিশ্চয়ই চাইবে ইতিহাসের চাকাটা নিজেদের দিকে ঘোরাতে, তবে অতীত পরিসংখ্যান বলছে কাজটা মোটেও সহজ হবে না।

মুখোমুখি লড়াইয়ের খতিয়ান

মোট ম্যাচ: ২২

স্পেনের জয়: ১২

বেলজিয়ামের জয়: ৫

ড্র: ৫

দুই দলের লড়াইয়ে শীর্ষ গোলদাতা

 

জীবদ্দশায় পুরস্কার পাচ্ছি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তি: শবনম

ষাটের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা শবনম। বহু আগেই বাঙালির হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। রূপালি পর্দায় তার মিষ্টি হাসি আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। তার অভিনীত অনেক সিনেমার গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

উর্দু চলচ্চিত্র চান্দা এবং বাংলা চলচ্চিত্র হারানো দিন দিয়ে বাজিমাত করেছিলেন তিনি। এরপর অভিনয় করেছেন অসংখ্য চলচ্চিত্রে।

পাকিস্তানেও করেছেন বহু সিনেমা। সেখানে তিনি ১৩ বার পেয়েছেন নিগার পুরস্কার।
একসময়কার এই সাড়া জাগানো ও সফল অভিনেত্রী এবার পাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা।

গত ২ জুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সেখানে আজীবন সম্মাননা বিভাগের পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে শবনমের নাম।

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে শবনম বলেন, ‘বলে বোঝানোর মতো নয়। জীবনে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, কিছু কিছু সময় আসে, যখন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমারও তেমনই হচ্ছে। খবরটি শোনার পর আমি আসলে ঠিকমতো বলে বোঝাতে পারছি না।’

‘তবে আমি আনন্দিত। সত্যিই আনন্দিত। খুব ভালো লাগছে। অনেক ভালো লাগা কাজ করছে আমার ভেতরে’ যোগ করেন তিনি। 

শবনম আরও বলেন, ‘আমি খুশি, ভীষণ খুশি। জীবদ্দশায় পুরস্কার পাচ্ছি বলেই বেশি খুশি। অনেকেই তো মারা যাওয়ার পর এমন সম্মান পান। সেখানে আমি জীবিত অবস্থায় পাচ্ছি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।’

‘এই ভালো লাগা অন্যরকম। সারাজীবন সিনেমায় অভিনয় করেছি। জীবনের অনেকটা সময় সিনেমাকে দিয়েছি। মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, সম্মান করেন, শ্রদ্ধা করেন—শিল্পী হিসেবেই। শিল্পী পরিচয়টাই সবচেয়ে বড়। সেই সিনেমার জন্যই যখন সবচেয়ে বড় সম্মাননা পাচ্ছি, তখন ভালো তো লাগবেই’, বলেন শবনম। 

নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শবনম বলেন, ‘আমি খুব একটা ভালো নেই। রক্তচাপ ওঠানামা করছে। তারপরও যতটুকু ভালো আছি, সেজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত আম্মাজান চলচ্চিত্রে সর্বশেষ অভিনয় করেন শবনম। ওই সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি অভাবনীয় সাড়া পান। 

এ প্রসঙ্গে শবনম বলেন, ‘কোথাও গেলে এখনো কেউ কেউ আমাকে আম্মাজান বলে ডাকেন। ভীষণ সম্মান করেন। এটাই তো একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পাওয়া। এভাবেই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’

ট্রাম্প নিজের ফাঁদে নিজেই ধরা?

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতায় নিমজ্জিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমবর্ধমান নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এতে প্রশ্ন উঠছে, সামরিক সাফল্যকে তিনি আদৌ স্পষ্ট কোনো ভূরাজনৈতিক জয়ে রূপ দিতে পারবেন কিনা।

রয়টার্স বলছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়া এবং স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে ইরানি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার পরও সংকটটি দ্রুতই একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার পরিণতি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

হোয়াইট হাউসে দুই মেয়াদে থাকা ট্রাম্প এর আগে সাধারণত এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে গেছেন। তিনি বরং দ্রুত ও সীমিত সামরিক অভিযানকে প্রাধান্য দিয়েছেন, যেমন ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক অভিযান বা জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় একবারের হামলা।

ওয়াশিংটনের জনস হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের লরা ব্লুমেনফেল্ড বলেন, ‘ইরান আক্রমণ একটি জটিল এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান। ট্রাম্প এখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ফলাফলের ঝুঁকি নিচ্ছেন।’

ক্ষমতায় এসে ‘অর্থহীন’ সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প এখন এমন এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাকে অনেক বিশেষজ্ঞ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের কোনো আসন্ন হুমকি না থাকলেও এই অভিযান শুরু করা হয়েছে, যদিও প্রেসিডেন্ট ও তার সহযোগীরা ভিন্ন দাবি করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’র (২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান) উদ্দেশ্য ও শেষপর্যায়ের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও ‘জয়’ বলতে কী বোঝাবে, সে বিষয়েও তার বক্তব্য বারবার বদলাচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এ মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ট্রাম্প স্পষ্টভাবে তার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এগুলো হলো- ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা, তাদের নৌবাহিনী অকার্যকর করা, প্রক্সি বাহিনীকে অস্ত্র দেওয়ার সক্ষমতা বন্ধ করা এবং ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া।’

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে, যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের সংখ্যা বাড়লে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়লে, ট্রাম্পের এই বড় পররাষ্ট্রনীতির জুয়া রাজনৈতিকভাবে রিপাবলিকান পার্টির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

আপাতত এমএজিএ সমর্থন টিকে আছে

সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী কিছু ট্রাম্প সমর্থকের সমালোচনা সত্ত্বেও তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের অধিকাংশ সদস্য এখন পর্যন্ত ইরান ইস্যুতে তাকে সমর্থন দিচ্ছেন।

তবে এই সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়লে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ভোটারদের, বিশেষ করে স্বাধীন ভোটারদের একটি বড় অংশ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ ব্রায়ান ডার্লিং বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ ইরাক ও আফগানিস্তানের ভুল আবার করতে আগ্রহী নয়। এমএজিএ সমর্থকরা বিভক্ত। কেউ নতুন যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করেছিলেন, আবার কেউ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত।’

বিশ্লেষকদের বড় উদ্বেগের একটি হলো—ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের বার্তায় অসামঞ্জস্যতা, বিশেষ করে তেহরানে ‘শাসন পরিবর্তন’ চাইছেন কিনা সে প্রশ্নে।

সংঘাতের শুরুতে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের শাসকদের উৎখাত করা একটি লক্ষ্য হতে পারে, অন্তত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দিয়ে। দুই দিন পর তিনি সেই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেননি।

কিন্তু বৃহস্পতিবার ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেন, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে তিনি ভূমিকা রাখবেন এবং ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীদের হামলা চালাতে উৎসাহ দেন। এরপর শুক্রবার সামাজিকমাধ্যমে তিনি ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেন।

অন্যদিকে, ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আঘাত হানছে, যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জন্য যুদ্ধের খরচ বাড়ে।

ইরান এখনো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করতে সক্ষম, এমন ইঙ্গিত মিলেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ নতুন করে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, ফলে যুদ্ধ আরেকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম, ছয়জন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে ট্রাম্প ভবিষ্যতে আরও হতাহতের আশঙ্কাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ইরান-প্রণোদিত হামলার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘হয়তো… যেমনটি বলেছি, কিছু মানুষ মারা যাবে।’

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা জনাথন পানিকফ বলেন, ‘যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনাকে সবচেয়ে বেশি ত্বরান্বিত করতে পারে আমেরিকানদের আরও বেশি হতাহত হওয়া। ইরানও সেটাই চাইছে।’

ভেনেজুয়েলার মতো হিসাব ভুল?

অনেক বিশ্লেষকের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদে সামরিক পদক্ষেপের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখানো ট্রাম্প হয়তো ধরেই নিয়েছিলেন যে, ইরান অভিযানও এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের মতোই সহজ হবে।

সেই অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। এতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান ছাড়াই ট্রাম্প দেশটির বিশাল তেল সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।

কিন্তু ইরান অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুসজ্জিত প্রতিপক্ষ, যেখানে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় ও নিরাপত্তা কাঠামো রয়েছে।

এমনকি খামেনি ও আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ ‘ডিক্যাপিটেশন’ হামলাও ইরানকে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বরং আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাদের জায়গায় আরও কট্টরপন্থী নেতারা ক্ষমতায় আসতে পারেন।

এ ছাড়া, আরেকটি বড় প্রশ্ন—বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ইরান কি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে ভেঙে যেতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।

তেলের গুরুত্বপূর্ণ পথ

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি—একটি সরু সমুদ্রপথ, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। সেখানে ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা দীর্ঘস্থায়ী হলে গুরুতর অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়লেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে উদ্বেগ কম দেখিয়েছেন। তবে তার প্রশাসন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য প্রভাব কমাতে নানা উপায় খুঁজছে।

অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের জশ লিপস্কি বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চাপের জায়গা, যা সম্ভবত আগে পুরোপুরি অনুমান করা হয়নি।’

একজন সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এত দ্রুত বাড়বে, ট্রাম্পের দল তা পুরোপুরি আন্দাজ করতে পারেনি। কারণ ইরানে হামলার আগে তেলবাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে যথেষ্ট পরামর্শ করা হয়নি।’

হোয়াইট হাউসের আনা কেলি বলেন, ‘ইরানের শাসনব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে।’ তবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ওঠা উদ্বেগের বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি।

দুই হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা ও প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এক রিপাবলিকান সূত্র জানায়, কিছু শীর্ষ উপদেষ্টা সতর্ক করলেও ট্রাম্প হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ঐতিহ্যবাহী মিত্রও এতে বিস্মিত হয়েছে। এক পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, ‘এটি মূলত একজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া।’

যুদ্ধ কতদিন চলবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় অজানা বিষয়, যা এর প্রভাব কতটা গভীর হবে তা নির্ধারণ করবে। প্রতিদিন যুদ্ধের ব্যয় বাড়ছে। ট্রাম্প বলেছেন, অভিযান চার বা পাঁচ সপ্তাহ বা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন চলতে পারে, তবে এরপর কী হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস বলেন, ‘ইরানে মার্কিন সামরিক কৌশল প্রশংসনীয়। তবে রাজনৈতিক, কৌশলগত ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয় বিষয়টি পুরোপুরি ভেবে দেখা হয়নি।’

এ ছাড়া, উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলোকে ইরান সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করাও ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

যদিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় অনেক দেশ এই অভিযানে সমর্থন জানিয়েছে, তবুও সবাই ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির সঙ্গে একমত নয়।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে লেখা এক খোলা চিঠিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধনকুবের খালাফ আল হাবতুর প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?’

বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বাংলাদেশি নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বাহরাইনে কর্মরত এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। 

নিহত তারেক চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের সাইদুল হকের ছেলে।

বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, আজ সোমবার বাহরাইনের মুহাররাক দ্বীপের সালমান শিল্পাঞ্চল এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হলে সেটির টুকরো তারেকের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দূতাবাস নিহতের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রইস হাসান সরোয়ার বলেন, বাহরাইনে অবস্থানরত অধিকাংশ বাংলাদেশি এখন পর্যন্ত নিরাপদ থাকলেও হামলার ধরন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোনো নির্দিষ্ট সময় মেনে আসছে না, হঠাৎ আঘাত হানছে। ফলে আগে থেকে বিপদের আভাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রবাসীরা বর্তমানে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ঘরে অবস্থান করছেন। ফলে দূতাবাসে এখনো জরুরি সহায়তার জন্য বড় কোনো ভিড় দেখা যায়নি।

আঞ্চলিক এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত তিনজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। নিহত বাকি দুজন পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর আরমান উল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, মিশন বিষয়টি নিয়ে আমিরাত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

এদিকে, গত রোববার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় আরও চার বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে উত্তেজনা ক্রমে বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসী কর্মীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হতাহতের ঝুঁকি এড়াতে প্রবাসীদের যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।