28 C
Dhaka
Home Blog

মৌসুমী বলছেন ‘নাটক’, নির্মাতা নিলেন সিনেমার সেন্সর

বাংলাদেশের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি প্রজেক্টে কাজ করেন। শুরুতে নাটক হিসেবে নির্মাণের কথা থাকলেও পরে টেলিফিল্ম হিসেবে নির্মাণ হয়। তবে এখন শোনা যাচ্ছে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে!

সিনেমাটির নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর জানান, সেন্সরবোর্ডের অনুমতিতে আগামী ১৫ মে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

তবে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌসুমী। এক ভিডিও তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রে এসে একটি মেয়ের স্ট্রাগল টাইমের ছোট গল্প নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের কথা ছিল। হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হয়েছি। শুরুতে এটা ঘণ্টার একটি নাটক ছিল। দুই দিনে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দিন লেগে যায়। কিছুদিন পর নির্মাতা এসে বলে, এটার শুটিংতো বেশি হয়েছে আমরা টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচার করতে চাই। তাতেও আমি রাজি হয়ে কাজটি শেষ করেছি।’

‘‘কিন্তু খবরে দেখছি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নাকি সিনেমা হিসেবে আসছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি। বোর্ডে এটাকে কীভাবে সেন্সর সার্টিফিকেশন দিল। তার চেয়ে বড় কথা হলো, আমি যেখানে সিনেমাই করি না, সেখানে এ রকম একটা গল্প দিয়ে আমাকে হুট করে পর্দায় নিয়ে আসা যুক্তিসংগত বলে মনে করি না। আমিতো জানিই না ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের আগে-পরে কী আছে। নির্মাতা ও প্রযোজকের কাছে এটা আমি মোটেই আশা করিনি,’ বলেন তিনি।

মৌসুমী বলেন, ‘এমন অবস্থায় সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া উচিত কিনা তা দূর দেশ থেকে বুঝতে পারছি না। আমার মতে এটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি না পাক। তার পরও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি ও প্রযোজক সমিতিসহ যারা আছেন তারা যেন বিষয়টি বিবেচনা করেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এই প্রজেক্টে মৌসুমী ম্যাডামকে সিনেমার সম্মানি দিয়েই যুক্ত করেছিলাম। এটা কখনো টেলিফিল্ম নাটক বলে শুটিং করিনি।’

এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের আকাশ নিয়ন্ত্রণে নেব: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরান অভিযানে আরও সামরিক বাহিনী পাঠানো হচ্ছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। 

আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। 

হেগসেথ বলেন, ‘আজই আরও যুদ্ধ ও বোমারু বিমান যোগ দিচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই দুই দেশের বাহিনী ইরানের আকাশসীমার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।’

তার মতে, আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সারাদিন ইরানের ওপর হামলা চালানো সম্ভব হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এবারের অভিযান প্রায় সাত গুণ বেশি তীব্র হবে।’

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের শুরুতে পরিচালিত মার্কিন অভিযানের তুলনায় এটি দ্বিগুণ তীব্র হবে বলেও জানান হেগসেথ। 

‘আমাদের সফলতা নিশ্চিত করতে যত সময় প্রয়োজন, আমরা তত সময় নেব,’ যোগ করেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ এবং উন্নত ও শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। 

ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যত ধরনের কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা সম্ভব আমরা তা পাঠিয়েছি।’

একনেক গঠন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গঠন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখার অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এই কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি’র (একনেক) সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিকল্প সভাপতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, শিল্প বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সহায়তাদানকারী কর্মকর্তারা হলেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যগণ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ কমিটিতে ‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন।

কমিটির কার্যপরিধি

এই কমিটি সব বিনিয়োগ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এবং টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট প্রপোজাল (টিএপিপি) ও টেকনিক্যাল প্রজেক্ট প্রপোজাল (টিপিপি) বিবেচনা করবে এবং অনুমোদন দেবে।

সরকারি খাতে ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকার ঊর্ধ্বে মোট বিনিয়োগ ব্যয় সংবলিত প্রকল্পগুলতে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার সুপারিশ বিবেচনা ও অনুমোদনের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এই কমিটি।

বেসরকারি উদ্যোগ, যৌথ উদ্যোগ অথবা অংশগ্রহণমূলক বিনিয়োগ কোম্পানিসমূহের প্রস্তাব বিবেচনা করবে কমিটি।

এই কমিটি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবীক্ষণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারণী বিষয়গুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনা ও অনুমোদন এবং এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটির বৈঠক প্রয়োজনানুসারে অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন: অস্ট্রেলিয়ার মডেল থেকে কী শেখা যায়?

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। অথচ বাংলাদেশে এখনো শিক্ষা এমন একটি খাত, যেখানে বারবার মুখরোচক নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সবচেয়ে কম রূপান্তর ঘটেছে। প্রতি বছর বাজেট এলেই আশা, সংস্কার ও বিনিয়োগের সেই চেনা বুলি শোনা যায়। কিন্তু, বাস্তবে এর ফল যা আসে, তা একটি তরুণ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও জনবহুল দেশের চাহিদার তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল।

বাংলাদেশ যদি কেবল টিকে থাকার মানসিকতা থেকে বের হয়ে টেকসই সমৃদ্ধির দিকে এগোতে চায়, তাহলে শিক্ষাকে আর দশটা সাধারণ খরচের খাত হিসেবে না দেখে জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে হবে। যদিও বর্তমান বিএনপি সরকার শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে, তবুও এতে আরও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।

আসলে মূল সমস্যাটি কেবল বাজেটের স্বল্পতা নয়, বরং ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশ স্কুলে ভর্তি বৃদ্ধি, লিঙ্গ সমতা ও শিক্ষার সুযোগ প্রসারে দারুণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু, শিক্ষার গুণগত মান, সমতা ও প্রাসঙ্গিকতা এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। বহু শিক্ষার্থী বছরের পর বছর পড়াশোনা শেষ করার পরও পর্যাপ্ত পঠন, লিখন, গাণিতিক, ডিজিটাল বা সমস্যা সমাধানের কিংবা প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না। এর অর্থ হলো, এই ব্যবস্থা যোগ্যতার চেয়ে সনদ তৈরিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

২০২৬–২৭ অর্থবছরে শিক্ষার প্রস্তাবিত বরাদ্দ একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকায়, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। অথচ, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে তা ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, ভালো কথা। এই সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নীতি-নির্ধারকরা প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিচারে একটি দেশে প্রতিযোগিতামূলক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে, গবেষণার মান উন্নত করতে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের জন্য লাখো তরুণকে প্রস্তুত করতে শিক্ষায় জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ অতি সামান্য।

আরও গভীর সমস্যা হলো, অর্থ বরাদ্দ হলেও তা প্রায়শই বাস্তবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে না। বরাদ্দের একটি বড় অংশ চলে যায় বেতন, প্রশাসনিক ব্যয়, বিচ্ছিন্ন নানা প্রকল্প এবং গতানুগতিক পদ্ধতির রক্ষণাবেক্ষণে। ফলে, শিক্ষকদের উন্নয়ন, গবেষণা, ডিজিটাল শিক্ষা, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য খুব কমই অবশিষ্ট থাকে। অন্য কথায়, সমস্যাটি কেবল কতটা খরচ করা হচ্ছে তা নয়, বরং কতটুকু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খরচ করা হচ্ছে সেটাই আসল বিষয়। সুশাসন ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় সংস্কার না আনলে অতিরিক্ত অর্থ কেবল একই অদক্ষ কাঠামোর পেটেই যাবে।

আদতে বাংলাদেশ একটি বৃহত্তর উন্নয়নগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। যদিও সীমিত অভ্যন্তরীণ রাজস্ব, সরকারি অর্থায়নের চাপ এবং অবকাঠামো, ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতের সঙ্গে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন। তবুও এটিই একমাত্র খাত, যা দেশের উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটাতে পারে। আর সেজন্যই বাজেটের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন না আনলে কেবল বরাদ্দ বাড়িয়ে কোনো দেশ বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জন করতে পারে না।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিউএস র‍্যাংকিংয়ে স্থান পেলেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৬’-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৪ নম্বরে থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে শীর্ষে ছিল। বুয়েট ছিল ৭৬১–৭৭০ এর মধ্যে এবং দেশের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকার আরও নিচের দিকে ছিল। এটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একক ব্যর্থতা নয়, বরং উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থারই প্রতিফলন। আমরা এখনো কেবল যেখানে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবা শিক্ষার মান নিয়ে তেমন মাথাব্যথাই যেন কারো নেই।

কিউএস তাদের র‍্যাংকিং মূলত একাডেমিক সুনাম, নিয়োগের স্বচ্ছতা মূল্যায়ন, গবেষণার পরিধি ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার মতো বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে। আর এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়। গবেষণার তহবিল সীমিত, গবেষণাগারে পর্যাপ্ত রিসোর্স নেই, শিক্ষকদের উন্নয়ন অসম, প্রকাশনায় প্রণোদনা দুর্বল এবং অনেক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণামুখী না হয়ে এখনো মূলত শিক্ষাদানকেন্দ্রিক রয়ে গেছে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি তৃতীয় বিশ্বের সুযোগ-সুবিধা এবং অনিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিয়ে বিশ্বমানের ফল দিতে বলা হয়, তাহলে তারা বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে ভালো করতে পারে না—এটাই স্বাভাবিক।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো সুশাসন। ছাত্র ও শিক্ষকদের নোংরা রাজনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, নিয়োগে বিলম্ব, ধীরগতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক অদক্ষতায় জর্জরিত। অন্যদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিছু ক্ষেত্রে বেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও পরিধি, গবেষণার সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক মানের দিক দিয়ে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। যদিও নর্থ-সাউথ, ব্র্যাক, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মতো কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে, তবুও সামগ্রিকভাবে উভয়ক্ষেত্রেই সুস্থ ব্যবস্থার অনেক সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়া শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে একটি উপযোগী বৈপরীত্য তুলে ধরে। কারণ, তারা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে যা আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বস্ত, সুনিয়ন্ত্রিত ও রপ্তানিমুখী। অস্ট্রেলিয়ার সরকার তাদের ব্যবস্থাকে এমন একটি মান নিয়ন্ত্রণ ও অ্যাক্রেডিটেশন হিসেবে পরিচালনা করে, যা শিক্ষার্থীদের চমৎকার অভিজ্ঞতা ও সাফল্য সুনিশ্চিত করার জন্য উপযোগী। অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিখন, সমস্যা সমাধান ও উচ্চতর চিন্তন দক্ষতার জন্যও ব্যাপকভাবে স্বীকৃত এবং সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের সেরাগুলোর তালিকায় রয়েছে।

আসলে পার্থক্যটি কেবল অর্থের নয়, যদিও অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়া অর্থায়নের পাশাপাশি সুশাসন, দায়বদ্ধতা, স্বায়ত্তশাসন ও মানের নিশ্চয়তাকে সমন্বিত করে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতা করা, গবেষণার মেধা আকর্ষণ করা, মান বজায় রাখা এবং শিল্প, তথা বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করে নেওয়া হয়।

ব্যবস্থাটি শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, যাতে গ্র্যাজুয়েটরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে বের হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক চাহিদার মধ্যকার এই সমন্বয়ই অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বজুড়ে একটি বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদানকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অন্যতম কারণ।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল ডিগ্রি দেওয়ার কারখানা না ভেবে জ্ঞানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার যে সংস্কৃতি, অস্ট্রেলিয়া তার সুফলও পায়। এখানে গবেষণা আরও পদ্ধতিগতভাবে অর্থায়ন পায়, একাডেমিক পেশা অনেক বেশি আকর্ষণীয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রতিযোগিতা ও গুণগত মানকে আরও সমৃদ্ধ করে। তাই বাংলাদেশের জন্য শিক্ষাটি স্পষ্ট—সম্মান কেবল স্লোগান থেকে আসে না, এটি আসে নিরবচ্ছিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা থেকে।

অর্থায়নের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে ব্যয় ধীরে ধীরে বাড়লেও ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষাখাতকে শক্তিশালী মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে সুসংহতভাবে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়।

দুটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও অবস্থানের ক্ষেত্রেও পার্থক্য স্পষ্ট। শিক্ষাদানের সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও পার্থক্য বিদ্যমান। যেখানে বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রিক ও ডিগ্রিমুখী; সেখানে অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, অর্জিত একাডেমিক জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের পদ্ধতি এবং স্বাধীনভাবে শেখার সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর অধিক জোর দেয় অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

গবেষণা পরিবেশের দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো সীমিত অর্থায়ন ও দুর্বল গবেষণা সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় উন্নত গবেষণা অবকাঠামো, পর্যাপ্ত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অধিক দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী গবেষণা কার্যক্রম বিদ্যমান।

সবশেষে, সুশাসনের প্রশ্নে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপের প্রতি নির্ভরশীল এবং অনেক বেশি সংবেদনশীল। পক্ষান্তরে, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা অধিকতর কাঠামোবদ্ধ নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর মাননিশ্চিতকরণ ও সুসংগঠিত নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

তবে এই তুলনার উদ্দেশ্য বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো হীনমন্যতা সৃষ্টি করা নয়, বরং জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে আনা। আয়তন, জনসংখ্যা ও জনসেবার ওপর চাপ—সবদিক থেকেই অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় অনেক বড় ও জটিল দেশ বাংলাদেশ। আর ঠিক এই কারণেই শিক্ষা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনেক জরুরি। কয়েক কোটি তরুণ-তরুণীর দেশে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা বহন করার সামর্থ্য রাখে না, যা পর্যাপ্ত উদ্ভাবন সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ গ্র্যাজুয়েট গড়ে তুলতে পারে না। তাই শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকাঠামো তথা পরিকল্পনা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

প্রথমত, বাংলাদেশকে শিক্ষার ব্যয় ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে এবং এটিকে অসংখ্য কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যটি কেবল একটি প্রতীকী সংখ্যা হওয়া উচিত নয়; এটি হওয়া উচিত স্বাক্ষরতা, গাণিতিক দক্ষতা, গ্র্যাজুয়েশনের মান, শিক্ষকদের উন্নয়ন ও গবেষণার ফলাফলের মতো পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত বহু বছরের একটি অঙ্গীকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজেটে কেবল ভবন ও কাগজপত্রের চেয়ে শ্রেণীকক্ষ, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষকের গুণগত মানকে সংস্কারের কেন্দ্রে রাখতে হবে। স্বচ্ছ নিয়োগ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল দক্ষতা ও পারফরম্যান্সভিত্তিক পেশাগত অগ্রগতির মাধ্যমে শিক্ষকদের পেছনে বিনিয়োগ না করলে কোনো শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি হয় না। একজন দক্ষ শিক্ষক একটি দুর্বল স্কুলকে টেনে তুলতে পারেন; আর একজন দুর্বল শিক্ষক একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। বাংলাদেশের উচিত শিক্ষকতাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে গড়ে তোলা, চাকরি না পেয়ে কোনো শেষ ভরসা নয়।

তৃতীয়ত, উচ্চশিক্ষায় জবাবদিহিতার সঙ্গে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্ভাবন, কোর্স ডিজাইন ও গবেষণা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার স্বাধীনতা থাকা উচিত। তবে স্বচ্ছ সূচকের ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়নও করতে হবে। এর অর্থ হলো আরও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান, শক্তিশালী প্রকাশনা প্রণোদনা, শিল্পখাতের সঙ্গে উন্নত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিনিময় কর্মসূচি। দেশে ডজন ডজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন নেই, যারা একই কাজ খারাপভাবে করবে। বরং অল্প কিছু বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন, যারা প্রয়োজনীয় কাজগুলো অসাধারণভাবে করবে।

চতুর্থত, পাঠ্যক্রমকে মুখস্থবিদ্যা থেকে সরিয়ে দক্ষতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশকে ২১ শতকের অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে শিক্ষাকে মেলাতে হবে। ডিজিটাল স্বাক্ষরতা, ইংরেজি যোগাযোগ, ডেটা স্কিল, কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা হওয়া ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। নতুন অর্থনীতি কেবল মুখস্থবিদ্যাকে পুরস্কৃত করবে না, এটি পুরস্কৃত করবে সৃজনশীলতা, অভিযোজনযোগ্যতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে।

বাংলাদেশের শিক্ষার চ্যালেঞ্জ উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাব নয়, এটি কাঠামোগত বাস্তবায়নের অভাব। বাজেট বাড়ছে, কিন্তু ধীরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং আছে, কিন্তু তা মাঝারি থেকে নিচের সারিতে। এই ব্যবস্থা বিপুল সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে, কিন্তু পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক চিন্তাবিদ, গবেষক ও পেশাজীবী তৈরি করতে পারছে না। এ কারণেই শিক্ষা সংস্কারকে একটি বার্ষিক বাজেটের খাত হিসেবে না দেখে দেশ গড়ার প্রকল্প হিসেবে দেখতে হবে।

গুণগত মান সুনিশ্চিতকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিখন এবং গবেষণা সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিলে কী পাওয়া সম্ভব, অস্ট্রেলিয়া তার বড় প্রমাণ। অস্ট্রেলিয়াকে অন্ধভাবে অনুকরণ করা নয়, বরং বাংলাদেশের উচিত তাদের সাফল্যের পেছনের নীতিগুলো থেকে শেখা। বাংলাদেশ যদি উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়, ভালো চাকরি ও শক্তিশালী বৈশ্বিক সুনাম চায়, তাহলে গোড়া থেকেই শিক্ষাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।

সুতরাং সামনের পথটি পরিষ্কার—বেশি খরচ করুন, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খরচ করুন, শিক্ষকের মান রক্ষা করুন, গবেষণাকে শক্তিশালী করুন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমান এবং এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলুন, যেখানে দক্ষতার মূল্যায়ন হবে। বাংলাদেশ যদি তা করতে পারে, তাহলে শিক্ষাখাত আর নিত্যদিনের অভিযোগের বিষয় থাকবে না, বরং জাতীয় শক্তিতে পরিণত হবে এবং সে শুরুটা শুরুর সময় এখনই।

সুমন রেজা: কবি ও কলামিস্ট; অস্ট্রেলিয়ার উলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছে শফিকুর রহমান সরাসরি বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জামায়াত জানিয়েছে, বাঁশখালীর পর শফিকুর রহমান সাতকানিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকাও পরিদর্শন করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন।

পরিদর্শনকালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলামসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্নায়ুর চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, ম্যাচ নিজেদের পক্ষে না থাকলেও শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার দৃঢ়তা ও মানসিকতা তার দলের আছে। কোচের কথাকে সত্যি প্রমাণ করে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও চরম নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

এর আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে কখনোই দুই গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচ জিতে ফিরতে পারেনি আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে আজ তাই নিজেদের ইতিহাসটা নতুন করেই লিখতে হতো মেসির দলকে। সেটি বোধহয় এর চেয়ে নাটকীয়ভাবে করা সম্ভব ছিল না স্কালোনির দলের পক্ষে। পুরো দ্বিতীয়ার্ধই ছিল একের পর এক উত্তেজনাকর মুহূর্তে ঠাসা। 

প্রথমার্ধের গোল শোধে যখন মরিয়া আর্জেন্টিনা, তখনই আচমকা এক প্রতিআক্রমণে ৫৭ মিনিটে  গোল করে বসেন মোস্তাফা জিকো। নিজেদের অর্ধ থেকে প্রায় গোটা আর্জেন্টিনা দলকে কাটিয়ে অসাধারণ সলো রান নিয়ে আর্জেন্টিনার অর্ধে আসেন হাইসেম হাসান। সেখান থেকেই বল পেয়ে গোল করেন জিকো। পুরো মিশর যখন উল্লাসে ব্যস্ত, তখনই ভিএআর জানালো, গোলের বিল্ড-আপে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ের উপর আঘাত করেন মারওয়ান আতিয়া। ফলাফল, বাতিল হয়ে যায় মিশরের সেই গোল। 

তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। ঠিক ১০ মিনিট পর আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদের অলস ডিফেন্সের সুযোগ নিয়ে আবারও দারুণ প্রতিআক্রমণে ওঠে মিশর। এবারও গোলের কেন্দ্রে ছিলেন সেই হাইসেম হাসান, গোলদাতাও সেই মোস্তাফা জিকো। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে মেসিদের মুখে তখন রাজ্যের অবিশ্বাস। 

ব্রাজিলের পর আরেক লাতিন পরাশক্তি আর্জেন্টিনারও বিদায়ঘণ্টা বাজার শঙ্কা যখন গোটা স্টেডিয়ামজুড়ে, তখনই হঠাৎ যেন নিজেদের ফিরে পায় চ্যাম্পিয়নরা। গোলের দেখা পেতে মরিয়া স্কালোনি ততক্ষণে নামিয়ে দিয়েছেন লাউতারো মার্টিনেজ ও নিকো গঞ্জালেজকেও। অবশেষে ৭৯ মিনিটে গোলের খাতা খোলে আলবিসেলেস্তেরা। মেসির ক্রসে শক্তিশালী হেডে এক গোল শোধ দেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। 

ম্যাচের বাকি ১০ মিনিট, তখনো এক গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা। তবে দলকে সমতায় ফেরাতে এরপর মেসি সময় নিয়েছেন মাত্র পাঁচ মিনিট। ৮৪ মিনিটে বক্সের ভেতরে জটলা থেকে বাঁ পায়ের রকেট শটে টুর্নামেন্টে নিজের ৮ম গোলের দেখা পান প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করা মেসি। এই নিয়ে টানা ৯টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন মেসি, বিশ্বকাপ ইতিহাসে যে রেকর্ড নেই আর কারোর। 

চোখের পলকে দুই গোলের লিড হারিয়ে যেতে দেখে যখন হতভম্ব মিশর, তখনই আফ্রিকান দেশটির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে আর্জেন্টিনা। স্টপেজ টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের মাপা শটে বুদ্ধিদীপ্ত হেডে গোল করে ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করেন এনজো ফার্নান্দেজ। পুরো ম্যাচে দারুণ খেলা গোলরক্ষক শোবিরের তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। 

এর আগে আটলান্টায় ভরা আর্জেন্টাইন গ্যালারিকে স্তব্ধ করে ম্যাচের মাত্র ১৪ মিনিটেই এগিয়ে যায় মিশর। মারাওয়ান আতিয়ার দুর্দান্ত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে মিশরকে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম। 

তবে এরপর ম্যাচে ফেরার অন্তত তিনটি সুবর্ণ সুযোগ পেলেও একটিকেও গোলে পরিণত করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। সবচেয়ে বড় সুযোগটি পেয়েছিলেন অধিনায়ক মেসিই। ১৮ মিনিটের মাথায় নিকোলাস টালিয়াফিকোকে বক্সে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু মেসির কি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন শোবির। 

দ্বিতীয় সুযোগটি আসে ২৭ মিনিটে। মাঠের ডান পাশ থেকে বক্সে দুর্দান্ত এক ক্রস ফেলেছিলেন রদ্রিগো ডি পল। গোলের খুব কাছে ফাঁকায় দাঁড়ানো অবস্থায়ও সেটিকে গোলে পরিণত করতে পারেননি অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এটিও দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়েছেন শোবির। 

তৃতীয় সুযোগ মিসের দায়ভার হুলিয়ান আলভারেজের। লাউতারো মার্টিনেজের জায়গায় প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া আলভারেজ হতাশ করেছেন ৩৮ মিনিটে। টালিয়াফিকোর বাড়ানো বলে গোল করতে কেবল শোবিরকে পরাস্ত করলেই হতো। আলভারেজ পা ছুঁইয়েছিলেন, কিন্তু অসাধারণ রিফ্লেক্সে সেটি আবারও ঠেকিয়ে দেন শোবির।  

ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনায় বেশ কয়েকটি হলুদ কার্ড দেখেছেন মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা। কোয়ার্টারে মেসিদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচের জয়ী দল।  

 

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ বহাল

টানা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে নীতিসুদ (পলিসি রেট বা রেপো রেট) অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের নতুন মুদ্রানীতিতে নীতিসুদ ১০ শতাংশেই বহাল রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সাধারণত যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয় তাকেই রেপো রেট বলা হয়। এই হার ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ১০ শতাংশে রয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের মে থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১১ দফা বাড়ানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তারা এখনো সংকোচনমূলক (কন্ট্রাকশনারি) মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। অর্থাৎ, ঋণের খরচ বেশি রেখে বাজারে অর্থের প্রবাহ কমানো এবং অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করাই তাদের লক্ষ্য।

তবে এত কড়াকড়ির পরও মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামেনি।

গত মে মাসে মাসিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ফলে জুনের শেষে মূল্যস্ফীতিকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্য ছিল, তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

এ নিয়ে টানা ছয় বছর মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে আছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুনে, এই হার ছিল ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে—রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরকারের উচ্চ ঋণগ্রহণ, সরবরাহ ব্যবস্থার নানা বিঘ্ন ইত্যাদি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারণা, আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমতে পারে।

পর্দার ‘সরকার’, সিনেমার গল্পই বাস্তব হলো বিজয়ের জীবনে

সালটা ছিল ২০১৮। তখন মুক্তি পেয়েছিল থালাপতি বিজয়ের সিনেমা ‘সরকার’। সেই সিনেমাতে বিজয়কে রাজনৈতিক চরিত্রে দেখা যায়। তিনি তামিলনাড়ুর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে জিতে যান। 

আর এখন ২০২৬ সাল। আট বছরের ব্যবধানে সিনেমার সেই ঘটনাই চিত্রনাট্য ছাড়া বাস্তব হয়ে ফিরে এলো।

সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ২০১৮ সালের নভেম্বর। সেখানে তিনি ‘সুন্দর রামাস্বামী’ চরিত্রে অভিনয় করেন। চরিত্রে তাকে একজন সফল প্রবাসী ব্যবসায়ী হিসেবে দেখা যায়। পর্দায় বিজয় কেবল তার ভোট দিতেই ভারতে ফিরেছিলেন।

কিন্তু ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন, তার ভোট আরেকজন দিয়ে দিয়েছে। এরপর শুরু হয় প্রায় দুই ঘণ্টার গল্প। যেখানে নির্বাচনী জালিয়াতি, রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তিনি ভোটারদের কেবল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ব্যবস্থা ভেঙে দেন।

সিনেমার শেষে সুন্দর রামাস্বামী কেবল নিজের ভোটের জন্য লড়েননি। বরং নিজে নির্বাচনে দাঁড়ান, পেশাদার রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জিতেও যান।

তবে সিনেমার সেই গল্প ছিল চিত্রনাট্য, দর্শকপ্রিয়, নায়ককেন্দ্রিক একটি ‘ম্যাস ফ্যান্টাসি’।

আট বছর পর, বিজয় বাস্তব রাজনীতিতে ঢুকে পড়েন। একজন অভিনেতা হিসেবে তার জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেন।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা দেন, সিনেমা ছেড়ে তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (টিভিকে) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন।

তার পেছনে কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছিল না, কোনো রাজনৈতিক পারিবারিক পরিচয় ছিল না, এমনকি বহু বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা ডিএমকে বা এআইএডিএমকের সঙ্গেও কোনো জোট ছিল না।

দল গঠনের পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত দুই বছরে টিভিকে যা কিছু করেছে, তার সব চমকপ্রদ না হলেও বাস্তবভিত্তিক ছিল। ২৩৪টি আসন জুড়ে বুথভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিক্রাভান্ডিতে বিশাল জনসমাগমে দলীয় সম্মেলন করা, এবং এমন একটি ইশতেহার তৈরি করা। তার ইশতেহার ছিল অবহেলিত মানুষের জন্য। বিজয়ের লক্ষ্য ছিল নারী, শিক্ষার্থী, নতুন ভোটার ও দিনমজুররা।

গতকাল যখন ভোট গণনা শুরু হয়, টিভিকে শতাধিক আসনে এগিয়ে ছিল। পিছিয়ে ছিল ২০২১ সালে প্রবল দাপটে ক্ষমতায় আসা ডিএমকে। আর এআইএডিএমকে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছিল। এখানে উল্লেখ্য, এআইএডিএমকে আট বছর আগে সরকার সিনেমা আটকানোর চেষ্টা করেছিল।

সিনেমাটি মুক্তির পর ২০১৯ সালে ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। তারা এই সিনেমার মূল ধারণাটি ব্যবহার করে সচেতনতা তৈরি করে। কমিশন প্রচারণায় বলেছিল, যদি কারও নামে জাল ভোট দেওয়া হয়, তবে তিনি আইনগতভাবে ব্যবস্থান নিতে পারবেন।

সিনেমায় বিজয়ের চরিত্র সুন্দর রামাস্বামী ২০১৮ সালে তামিলনাড়ুর মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে একটি আহ্বান জানিয়েছিলেন, আপনারা ভোট দিতে যান। আপনার অধিকার আদায় করে নিন। আপনার অনুপস্থিতির কারণে কেউ যেন এটার অপব্যবহার না করে।

তামিলনাড়ুর মানুষ তখন সিনেমাটি দেখেছিল, হাততালি দিয়েছিল।

সিনেমাটি মুক্তির আট বছর পর তামিলনাড়ু নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ, যা একটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ। রাজ্যটির ৩৮ জেলার মধ্যে ৩২টিতে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। কিছু আসনে এই হার ৯০ শতাংশেরও বেশি ছিল।

অবাক করা ব্যাপার হলো, ভোটকেন্দ্র খোলার আগেই মানুষ লাইনে দাঁড়ায়। তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি সবার নজর কাড়ে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো, যেখানে সাধারণত ভোটার উপস্থিতি নিয়ে বেশি আলোচনা হয় না, সেখানেও ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

যে মানুষটি একসময় পর্দায় ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করেছিলেন, এবার তিনিই ছিলেন ব্যালটে।

বিজয়ের দুই বছরের প্রচারণা ভোটার উপস্থিতির কারণ কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে এটিকে অস্বীকার করা কঠিন, তামিলনাড়ুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি হয়েছে সেই নির্বাচনে, যেখানে তিনি প্রার্থী ছিলেন।

সিনেমায় যেভাবে শেষ করেছিলেন আট বছর পর বাস্তবে সেখান থেকে আবার শুরু করলেন থালাপতি বিজয়। তবে এবার কোনো সিনেমার মতো ক্রেডিট নেই, কোনো ইন্টারভাল নেই, আর নিশ্চিত কোনো দ্বিতীয় অর্ধও নেই।

তবে সিনেমার গল্প আর বাস্তবতা এক নয়। এখন দেখার বিষয় যে রাজ্যের মানুষ বিজয়কে এই ক্ষমতা দিয়েছে, তিনি সেই ক্ষমতার ব্যবহার করবনে।

ইরানে পরমাণু কর্মসূচিতে হামলার ফল উল্টো হতে পারে

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালালে তার ফল উল্টো হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, এই হামলা তেহরানকে গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরি বা অন্য গোষ্ঠীকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আজ বুধবার সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন বিশ্লেষণ।

এতে বলা হয়, ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।

তবে ২০০২ সালে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের দুটি গোপন স্থাপনার তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে এ কর্মসূচি নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।

২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ইরানের কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক তদারকি আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিলে চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং ইরান আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ।

এই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা তুলনামূলকভাবে সহজ। আর এটা নিয়েই উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস থেকে ধাতব রূপে রূপান্তরের মাধ্যমে এই ইউরেনিয়ামকে আরও সমৃদ্ধ করে ১০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব।

গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার অন্যতম কারণ ছিল এই ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করা। ওই সময় ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’–এর আওতায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বাঙ্কার ধ্বংসকারী বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে।

তবে পরে দেখা যায় পাহাড়ের নিচে গভীর ভূগর্ভে নির্মিত ইসফাহান ও নাতাঞ্জের মতো কিছু স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।

হামলার পর ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের এসব স্থানে প্রবেশে বাধা দেয়।

ফলে ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোথায় রয়েছে বা সেখানে কী কাজ চলছে—সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছে না।

আইএইএ’র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করেছে কি না বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে কত ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, এখন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো কাঠামোগত কর্মসূচির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান সংঘাত সেই অবস্থান বদলে দিতে পারে।

বিশেষ করে ইরানের ৪৭ বছরের শাসনব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবেরি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এটা এক ধরনের বড় ঝুঁকির খেলা। যদি হামলার পর ইরানে সরকার টিকে থাকে, তাহলে আবার এই কর্মসূচি গড়ে তোলার জন্য হাজারো মানুষ আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রযুক্তি নতুন কিছু নয়। দশকের পর দশক ধরে চলছে। হামলার পর টিকে গেলে ইরান সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার মতো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে, যে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তি আছে, সেখানে পারমাণবিক অস্ত্রই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।’

আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের অস্ত্র বিস্তার প্রতিরোধ বিষয়ক পরিচালক কেলসি ড্যাভেনপোর্ট বলেন, ‘এই হামলার পর ইরানের ভেতরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে চাপ বাড়তে পারে।’

তার মতে, যদি ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন হয় বা গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে সেখানে থাকা উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এ ছাড়া, ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইউরেনিয়াম চুরি বা পাচারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ড্যাভেনপোর্ট।

তিনি বলেন, ‘তখন স্থলবাহিনী পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরি হবে।’

এ অবস্থায় পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি তৈরি নিয়ে সতর্ক করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ নিয়ে এখনো মার্কিন প্রশাসনে যথেষ্ট আলোচনা দেখা যাচ্ছে না।’

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে প্রথমে রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় পিলখানা ট্র্যাজেডিতে সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মার শান্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এম নজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। বার্ষিক দরবার চলাকালে শুরু হওয়া এ বিদ্রোহ দ্রুত রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী তাণ্ডবে। মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী-শিশুসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।