31 C
Dhaka
Home Blog

এক রকম বৈরাগ্য আছে, ঘর ছাড়ার ব্যাপার আছে ‘রহে না’ গানে: শিবু

চার বছর আগে ‘হাওয়া’ সিনেমা দিয়ে সাড়া ফেলেছিলেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। এবার তিনি ফিরছেন নতুন চলচ্চিত্র ‘রইদ’ নিয়ে। ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে সিনেমাটির ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ ও ‘মন ছাড়া কি’ গান দুটি। এবার মুক্তি পেলো নতুন গান ‘রহে না’।

গানটির গায়ক শিবু কুমার শীল বলেন, ‘মেঘদলের “এ হাওয়া” গানটি “হাওয়া” সিনেমায় ব্যবহার হয়। তারই ধারাবাহিকতায় “রহে না” গানটি এই সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গানটিতে এক রকম বৈরাগ্য আছে, ঘর ছাড়ার ব্যাপার আছে। সঙ্গে আবার ঘরে ফেরার ব্যাপারও আছে। একইসঙ্গে একটা মানুষ আরেকটা মানুষের প্রতি আকুল হয়ে থাকার ব্যাপারও আছে। মানুষের ঘরে বাইরের যে অস্থিরতা, টানাপোড়ান, সেই অনুভূতিটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

রটারডাম চলচ্চিত্র উৎসবের ৫৫তম আসরের ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ অফিসিয়ালি নির্বাচিত হয় ‘রইদ’। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে ‘রইদ’ এবার মুক্তি পাচ্ছে নিজ দেশে।

সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রাম ঘিরে ‘রইদ’ সিনেমার কাহিনি। এই দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।

সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ প্রমুখ।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতে কোন দেশে কতজন নিহত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিভিন্ন দেশে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইরানে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার মিনাবে একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন ছাত্রী ও স্কুলের কর্মী নিহত হন।

ইসরায়েলে মোট ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১ মার্চ বেইত শেমেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত হন।

সংঘাতে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

লেবাননে সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়েছেন।

বাহরাইনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় একজন নিহত হন।

কুয়েতে ইরানের হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন কুয়েতি সেনাসদস্যও রয়েছেন।

ওমানের উপকূলের কাছে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিহত হন।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংঘাতসংক্রান্ত ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

অনুমতি ছাড়া শিক্ষকেরা অন্য পেশায় থাকলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

অনুমতি ছাড়া শিক্ষকেরা অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ শুক্রবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুরের কচুয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতার বাইরে অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হতে চাইলে অনুমতি নিতে হয়। এটা সরকারি নিয়ম। যারা অনুমতি নেবে না, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে।

‎এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

রাজনৈতিক যোগাযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

রাজনৈতিক যোগাযোগের ইতিহাসে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রযুক্তি। পোস্টার ও মাইকিং থেকে শুরু করে রেডিও ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল নেতার কণ্ঠকে। রাজনীতিকে দৃশ্যমান করেছিল টেলিভিশন এবং রাজনীতিকে দ্বিমুখী করেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

রাজনৈতিক যোগাযোগের তত্ত্বে মার্শাল ম্যাকলুহানের বিখ্যাত ধারণা ছিল, মাধ্যম নিজেই বার্তার অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসার পর রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম বদলেছিল, ফলে রাজনীতির ভাষা, গতি ও দর্শকও বদলেছিল। পোস্টার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত রাজনৈতিক যোগাযোগের এই বিবর্তন নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়িয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসে সেই ধারায় আরেকটি মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। এখন রাজনৈতিক বার্তা তৈরি, ব্যক্তিভেদে বদলে দেওয়া, ভোটারের মনোভাব বিশ্লেষণ, প্রচারণার উপকরণ বানানো এবং প্রতিপক্ষকে ঘিরে কৃত্রিম তথ্য ছড়ানো পর্যন্ত অনেক কাজ অটোমেশনের আওতায় আসছে।

রাজনৈতিক যোগাযোগের গবেষক ক্লাস দে ভ্রেসে এবং ফাবিও ভোটা দেখিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একইসঙ্গে প্রচারণা, রাজনৈতিক সাংবাদিকতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুপারিশ ব্যবস্থা ও নাগরিকের তথ্য গ্রহণের ধরন বদলে দিচ্ছে।

ক্লাসিক রাজনৈতিক যোগাযোগে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বক্তব্য ছিল প্রভাব বিস্তারের প্রধান উপাদান। কিন্তু এখন একটি বড় ভাষা মডেল কয়েক সেকেন্ডে একই নীতির পক্ষে শত শত যুক্তি তৈরি করতে পারে। একজন প্রার্থীর প্রচারক যেখানে দিনে কয়েকশ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, একটি এআই ব্যবস্থা একই সময়ে অসংখ্য মানুষের জন্য আলাদা কথোপকথন তৈরি করতে পারে।

২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেস প্রার্থী শামেইন ড্যানিয়েলসের প্রচারণায় ব্যবহৃত ‘অ্যাশলি’ ছিল এর একটি প্রাথমিক উদাহরণ। এটি ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত রাজনৈতিক ফোনকর্মী, যা একই সময়ে অসংখ্য ভোটারের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথন চালাতে পারত। ভোটারের পরিচিতি ও আগ্রহ বিশ্লেষণ করে কথোপকথনের বিষয়ও বদলাতে পারত। ২০টিরও বেশি ভাষায় কথা বলার সক্ষমতার বিষয়েও নির্মাতারা জানিয়েছিলেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচলিত স্বয়ংক্রিয় ফোনবার্তার মতো আগে থেকে রেকর্ড করা বক্তব্য না শুনিয়ে ‘অ্যাশলি’ তাৎক্ষণিক কথোপকথন চালাতে পারত।

বাস্তবে রাজনৈতিক যোগাযোগে একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটছে। একজন প্রার্থী আগে একটি বক্তব্য তৈরি করে লাখো মানুষকে শোনাতেন। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে একই প্রার্থী লাখো মানুষের জন্য লাখো সংস্করণের বক্তব্য তৈরি করতে পারবেন।

ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এ বিষয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। র. যোগি প্রাওয়িরা, আসিয়ারি এবং আখমাদ রোকি আলাওয়ির ২০২৬ সালের গবেষণায় তিন প্রার্থীর জোটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এএমআইএন জোট সচেতনভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি প্রত্যাখ্যান করে মানব শিল্পীদের ওপর নির্ভর করেছিল। গানজার মাহফুদ জোট লেখাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চ্যাটবট ব্যবহার করলেও কৃত্রিম ছবি ব্যবহারে দূরত্ব রেখেছিল। প্রাবোয়ো গিবরান প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি দৃশ্যপট ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে তরুণ ভোটারদের কাছে একটি নতুন, বন্ধুসুলভ ‘জেমোয়’ পরিচিতি নির্মাণ করে। গবেষণাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তি সেখানে শুধু প্রচারের উপকরণ ছিল না, প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণেরও অংশ হয়ে উঠেছিল।

রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের তত্ত্ব হচ্ছে, একজন প্রার্থী ভোটারের কাছে নিজের একটি নির্দিষ্ট পরিচিতি তৈরি করতে চান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই পরিচিতি নির্মাণের কাজকে দ্রুত ও ব্যাপক করতে পারে। একই মুখকে তরুণ, জনপ্রিয়, দরিদ্রবান্ধব, ধর্মপ্রাণ, আধুনিক বা রাষ্ট্রনায়কসুলভ—নানা দৃশ্যে উপস্থাপন করা সম্ভব। ফলে রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে প্রার্থীর ডিজিটাল পরিচয়ের দূরত্ব বাড়তে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় এর বিপজ্জনক দিকও দেখা গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর মুখ ও কণ্ঠ ব্যবহার করে তৈরি একটি কৃত্রিম ভিডিও নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি কয়েক মিলিয়ন বার দেখা হয়েছিল। মৃত একজন রাষ্ট্রনায়ককে নতুন করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে ইতিহাসকেও রাজনৈতিক প্রচারণার উপাদানে পরিণত করতে পারে।

তবে বিপদের জায়গাটি শুধু ভুয়া ভিডিও ঘিরে নয়। কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষণা আলোচনায় বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে স্বয়ংক্রিয় প্রভাব বিস্তারকারী যোগাযোগব্যবস্থার বিস্তার। ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তিনটি দেশের পরীক্ষায় ভোটারের মনোভাব ও ভোট দেওয়ার অভিপ্রায়ে অর্থবহ পরিবর্তন ঘটাতে পেরেছে।

গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, এসব ব্যবস্থা সবসময় মনস্তাত্ত্বিক কৌশল প্রয়োগ করেই মানুষকে প্রভাবিত করে না। প্রাসঙ্গিক তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপন করেও তারা রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একইসঙ্গে এটি একটি গণতান্ত্রিক সুযোগও হতে পারে।

একটি ছোট দল হয়তো আগে পেশাদার গবেষক, লেখক, ভিডিও নির্মাতা কিংবা তথ্য বিশ্লেষকের বড় দল রাখতে পারত না। এখন সীমিত সম্পদে নীতিপত্রের খসড়া, বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ, নির্বাচনী এলাকার সমস্যার তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা নাগরিক প্রশ্নের উত্তর তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তি রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা ইতোমধ্যে বাস্তব। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে শত শত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক ভিডিও পাওয়া যায়। অনেক ভিডিওতে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার তথ্য সংযুক্ত ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর মধ্যে প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য, কৃত্রিম সংবাদ প্রতিবেদন, কণ্ঠ নকল এবং প্রতিদ্বন্দ্বীকে আক্রমণকারী উপাদান ছিল। (দ্য ডেইলি স্টার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

এমনকি নির্বাচন কমিশনের নতুন স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আচরণবিধিতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সরাসরি বিধান এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভ্রান্তি, চরিত্র হনন, ভুয়া তথ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (প্রথম আলো, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল ভুয়া ভিডিও বানানোর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অথচ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা বিশ্লেষণ, ভোটারের প্রশ্নের উত্তর, নীতিপত্র তৈরি, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে একই নীতির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া, তথ্য বিশ্লেষণ ও নাগরিক মতামত সংগ্রহেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে।

হার্ভার্ডের অ্যাশ সেন্টারের আলোচনায়ও আইন প্রণয়ন ও জনসম্পৃক্ততার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা উঠে এসেছে।

তাই প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সহকারী হিসেবে ব্যবহার করবে, নাকি মানুষের মনকে অদৃশ্যভাবে পরিচালনার যন্ত্রে পরিণত করবে।

গণতন্ত্রের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে যখন ভোটারের মনে এই নিয়ে বিভ্রান্তি থাকবে যে, সে আসলে মানুষ, দল, প্রচারকর্মী নাকি একটি অ্যালগরিদমের সঙ্গে কথা বলছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়ে বিধান তৈরি করেছে। কিন্তু আইন এখানে যথেষ্ট হবে না। রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আচরণবিধি, কৃত্রিম উপাদানে স্পষ্ট পরিচিতি, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের অর্থদাতা প্রকাশ এবং নাগরিকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্ত করার সক্ষমতা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও এখন কৃত্রিম রাজনৈতিক উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং নির্বাচনী ভুয়া ভিডিও নিয়ন্ত্রণের আইন তৈরি হচ্ছে।

রাজনীতির ইতিহাসে নতুন প্রযুক্তি কখনো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে, কখনো ক্ষমতার নতুন অস্ত্র তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও তার ব্যতিক্রম হবে না। আগামী দিনের নির্বাচনে হয়তো সবচেয়ে দক্ষ প্রচারক তিনিই হবেন না, যিনি সবচেয়ে ভালো বক্তা। তিনি হতে পারেন সেই রাজনৈতিক সংগঠক, যে সবচেয়ে ভালোভাবে তথ্য, প্রযুক্তি ও মানুষের মনস্তত্ত্বকে একত্রে বুঝতে পারে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের প্রশ্নটি হবে আস্থার। ভোটারের সঙ্গে কথা বলার জন্য যদি মেশিন ব্যবহার করি, তাহলে অন্তত ভোটারকে জানাতে হবে যে, ওপাশে মানুষ নেই।

 

সাজ্জাদ সাব্বির: এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ

এআইয়ের ‘উদ্বেগজনক’ আচরণের ৬ নতুন ঘটনা প্রকাশ করল ওপেনএআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়ছে। এবার নিজেদের এআই মডেলের ছয়টি ‘অপ্রত্যাশিত বা উদ্বেগজনক’ আচরণের কথা প্রকাশ করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বুধবার এসব ঘটনা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে এআই মডেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বা মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে তাদের আচরণের অমিল দেখা দিলে তা আরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে জানানোর জন্য একটি নতুন কাঠামো চালুর কথাও জানিয়েছে তারা।

ওপেনএআই বলেছে, গত প্রায় ছয় মাসে এআই মডেলগুলোর উন্নয়ন ও পরীক্ষার সময় এসব ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ছিল ভুল তথ্য লুকানো, তথ্য বানিয়ে নেওয়া, অনুমতি ছাড়া ইন্টারনেট থেকে তথ্য বা প্রোগ্রামিং কী ব্যবহার করা এবং অনুমতি ছাড়া ফাইল ইন্টারনেটে তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা।

ভুল লুকানোর চেষ্টা

একটি ঘটনায়, জিপিটি-৫.৬ সল মডেল নিজেদের জন্য লেখা গোপন নোটে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ভুল লুকানোর উপায় লিখেছিল। কোথাও তথ্য না পাওয়া গেলে তা বানিয়ে নেওয়া এবং তথ্যের বিভিন্ন উৎসের মধ্যে অসামঞ্জস্য আড়াল করার কথাও ওই নোটে ছিল।

নিজেদের সীমাবদ্ধতা উপেক্ষার নির্দেশ

অন্য একটি পরীক্ষাধীন এআই মডেল নিজেদের লেখা নোটে এমন নির্দেশনা যোগ করেছিল, যাতে নিজেদের ওপর থাকা কিছু সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার কথা বলা হয়।

ওপেনএআই জানায়, এমন ২৭টি নোট শনাক্ত করা হয়েছে। এর একটি নোটে মডেলটি নিজেকে এমন একটি সত্তা হিসেবে বর্ণনা করেছিল, যা অন্য চ্যাটবটের মতো নির্দিষ্ট ভূমিকা বা পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ নয়।

তথ্য না পেয়ে বানিয়ে নেওয়া

আরেক ঘটনায়, একটি এআই সিস্টেমকে সাধারণ একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হলে সেটি অনলাইনে একটি প্রোগ্রামিং কী খুঁজে পায় এবং অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করে। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় মডেলটি কিছু তথ্য নিজের মতো করে তৈরি করে নেয়।

নিজের তৈরি ফাইলকে ওয়েব উৎস হিসেবে ব্যবহার

অন্য একটি পরীক্ষাধীন মডেল কোড ব্যবহার করে একটি সমস্যার সঠিক সমাধান করেছিল। কিন্তু উত্তরটির জন্য ওয়েব উৎসের উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন হলে সেটি নিজের তৈরি একটি ফাইল অনুমতি ছাড়াই ইন্টারনেটে আপলোড করে। পরে সেই ফাইলকেই উৎস হিসেবে ব্যবহার করে।

ফাইল খুঁজতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ

আরও দুটি ঘটনায় এআই সিস্টেমগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের বিকল্প পথ তৈরি করে।

একটি ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় ফাইল খুঁজতে গিয়ে তারা ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ কোড রিপোজিটরিকে অস্থায়ী বার্তা আদান-প্রদানের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে।

অন্য ঘটনায়, একই কাজের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি এআই সিস্টেম নিজেদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পেরে পাবলিক ফাইল-শেয়ারিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নথি আদান-প্রদান করে।

ওপেনএআই বলেছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন উদাহরণ এবং এগুলো থেকে এ ধরনের আচরণ এআইয়ের মধ্যে কত ঘন ঘন ঘটে, তা বলা যাবে না। প্রকাশিত ছয়টি ঘটনায় কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। কয়েকটি ঘটনা এমন মডেলের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেগুলো কখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।

তবে এআইয়ের এমন আচরণ নিয়ে প্রযুক্তি শিল্পে নিরাপত্তা ও উন্নয়নের গতি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে ঝুঁকিগুলো বোঝার জন্য আরও সময় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ওপেনএআইও বলেছে, এআই শিল্প এখনো এআইয়ের লক্ষ্য ও আচরণকে মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা এবং সেগুলোর ওপর যথেষ্ট নজরদারি নিশ্চিত করার সমস্যার পুরোপুরি সমাধান করতে পারেনি।

নতুন কাঠামোর আওতায় এআইয়ের অনুমতিবিহীন কাজ, নজরদারির বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা এবং একাধিক এআই সিস্টেমের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের মতো ঘটনাও প্রকাশ করা হবে। গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটলে তা মার্কিন সরকারকে অবহিত করা হবে বলেও জানিয়েছে ওপেনএআই।

বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদে থাকতে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

তার সংসদ অধিবেশনে যোগদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের করা আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বিভাগীয় বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সম্প্রতি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ায় আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের পর সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

এদিকে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি (সার্টিফাইড কপি) পাওয়ার পর তারা তা চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করবেন।

তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে সরোয়ার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন এর আগে আপিল বিভাগে এ আবেদনটি জমা দেন। এতে হাইকোর্টের ওই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ এবং সরোয়ারের অধিবেশনে যোগদানে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছিল।

এর আগে গত ৯ জুলাই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

রায় প্রকাশের পরদিনই নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম-২ আসনে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। একই দিন রাত ৭টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সংসদে নিজ কার্যালয়ে তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম ১৩ জুলাই দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তার মক্কেল ইতোমধ্যে দুদিন ধরে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

আদালতে সরোয়ারের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম। 

অন্যদিকে নুরুল আমীনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

সারা দেশে ১০ লাখের বেশি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ তৈরি শুরু

সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার। এ লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করতে দেশের ১০ লাখ ১৩ হাজার খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, দেশে খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কোনো জাতীয় তালিকা না থাকায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য, উদ্যোগের লক্ষ্য হলো—দেশের সব সক্রিয় খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ)  একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) সঙ্গে তাদের একটি চুক্তি সই করেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, সারাদেশের খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য আইআইএফসি তথ্যসংগ্রাহক নিয়োগ করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের  মধ্যেই এই কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পরে সংশ্লিষ্ট জেলার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তারা তথ্য যাচাই করবেন। যাচাই শেষে বিএফএসএর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের আওতায় সেগুলো কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে।

আনোয়ারুল বলেন, এই তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবসা আরও কার্যকরভাবে তদারকি করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। প্রায় এক মাস আগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকেরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের নাম, ট্রেড লাইসেন্সের অবস্থা, ব্যবসার ধরনসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন। পরে এসব তথ্য আমদানি, রপ্তানি, উৎপাদনসহ ৩২টি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করে সংরক্ষণ করা হবে। এতে দুধ, মাংসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং সুপারশপ, মুদি দোকানসহ নানা ধরনের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের তথ্যও থাকবে।

১০ লাখের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তদারকির জন্য নিরাপদ খাদ্যের বর্তমান জনবল যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল বলেন, এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও তথ্যভাণ্ডার ও সফটওয়্যার তৈরি সেই সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রথম ধাপ।

তিনি বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তদারকি করা কঠিন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জনবলও বাড়বে বলে আশা করছি।’

রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আলাদা আলাদা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগে মূল সমস্যার সমাধান হবে না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছেই যখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে, তখন আলাদা করে আরেকটি তথ্যভাণ্ডারের প্রয়োজন হবে কেন।

তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ,  জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও শ্রম অধিদপ্তর এতদিন কাজ করেছে। কিন্তু আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সেবা।’

ইমরান হাসান বিদ্যমান তথ্যভাণ্ডারের অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে বলেন, সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় জানানো হয়েছিল, যেখানে ৬ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হতে ৩৫ বছর লেগেছে, সেখানে মাত্র চার মাসে আরও এক লাখ ৬৬ হাজার নতুন নিবন্ধন হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব কাঠামোগত সমস্যা সমাধান না করে নতুন প্রকল্প নিলে তা শুধু দাতা সংস্থার অর্থ ব্যয়ের পথ তৈরি করবে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের সমস্যার সমাধান করবে না।

দেশের ৪ লাখ ৮২ হাজার রেস্তোরাঁর তথ্যভাণ্ডার উন্নত করে সেটিকে ভ্যাট, টিআইএন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বানও জানান তিনি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান বলেন, ‘বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের বারবার উদ্যোগ সত্ত্বেও এই খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো এখনো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, উদ্যোগটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি হবে এবং তদারকি ও জবাবদিহি বাড়ার মাধ্যমে ভোক্তারা উপকৃত হবেন।
 

‘ভিএআরের ভুল, নাকি নিয়মই মানা হয়েছে?’—বিতর্কে ভিন্নমত বিশেষজ্ঞদের

মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় ৩-২ জয়ের পরও সবচেয়ে বড় আলোচনা গোল বা প্রত্যাবর্তন নয়, বরং ভিএআরের দুটি সিদ্ধান্ত। মূলত ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল বাতিলের ঘটনায় ফুটবলবিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। কেউ বলছেন, ভিএআর তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। আবার কেউ মনে করছেন, নিয়ম অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে।

ম্যাচের ৫৮ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে জিকো বল জালে জড়িয়ে মিসরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। কিন্তু ভিএআরের পরামর্শে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে গোলটি বাতিল করেন। কারণ, আক্রমণের শুরুতে মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে চাপ দিয়েছিলেন।

ফক্স স্পোর্টসের বিশ্লেষক ও ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক রব গ্রিন এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই এটি ভিএআরের পর্যালোচনার বিষয় নয়। ঘটনাটি তো পুরো মাঠের এক প্রান্তে হয়েছিল।‘

তার মতে, প্রায় ১০০ গজ দূরে ঘটে যাওয়া সামান্য সংস্পর্শের কারণে এত সুন্দর একটি গোল বাতিল করা ভিএআরের উদ্দেশ্য ছিল না।

‘আর্জেন্টিনা বড় রকমের বেঁচে গেছে। কারও পায়ের আঙুলে চাপ পড়েছিল, আর সেটি ১০০ গজ দূরে। ভিএআর এ জন্য আনা হয়নি। আমরা এমন জায়গায় পৌঁছে গেছি, যেখানে প্রযুক্তি তার প্রয়োজনীয় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রেফারি ঘটনাটি দেখেছিলেন এবং খেলা চালিয়ে যেতে দিয়েছিলেন। অথচ মিসরকে দুই গোলের লিড থেকে বঞ্চিত করা হলো,‘ বলেন গ্রিন।

সাবেক ফিফা রেফারি ও ফক্স স্পোর্টসের নিয়ম বিশ্লেষক মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গও সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেন, ‘আমার মতে, প্রথমত এটি ফাউলই ছিল না। দ্বিতীয়ত, এমন ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ভিএআর অপ্রয়োজনীয়ভাবে খুব গভীরে গিয়ে এমন কিছু খুঁজেছে, যাতে গোলটি বাতিল করা যায়। এত দীর্ঘ সময় ও এতগুলো পাসের পরের গোলকে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হয়নি।‘

তবে ক্ল্যাটেনবার্গের মতে, রেফারিং দলের জন্য আরও বিব্রতকর বিষয় ছিল আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টির দাবি। আর্জেন্টিনার বক্সে সালাহ পড়ে গেলে তার অভিযোগ ছিল, হুলিয়ান আলভারেজ তাকে ফাউল করেছেন। অনেকের প্রশ্ন, যদি আতিয়ার ঘটনাটি ভিএআর দেখতে পারে, তাহলে এটিও কেন পর্যালোচনা করা হলো না?

এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ক্ল্যাটেনবার্গ। তার মতে, দুটি ঘটনার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সালাহর ঘটনাটি ঘটেছে পেনাল্টি এলাকার ভেতরে। ফলে সেখানে ভিএআরকে সম্ভাব্য পেনাল্টি দেওয়ার মতো স্পষ্ট ও জোরালো প্রমাণ খুঁজতে হয়, যার মানদণ্ড সাধারণ ফাউলের চেয়ে অনেক কঠোর।

তার বিশ্লেষণ, ‘সালাহ যদি বক্সের বাইরে একইভাবে ফাউলের শিকার হতেন, তাহলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। কিন্তু পেনাল্টি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল বহাল থাকে।’

অন্যদিকে, ফক্স স্পোর্টসের রেফারিং বিশেষজ্ঞ ড. জো মাখনিক জিকোর গোলে দেওয়া ফাউলের বিষয়ে মনে করেন, সিদ্ধান্তটি নিয়মের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। ‘আক্রমণের ধারাবাহিকতায় কোনো ফাউল থেকে যদি বলের দখল আসে এবং সেই দখল থেকেই গোল হয়, তাহলে গোল বাতিল করে ফ্রি-কিক দেওয়া যায়,’ বলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ নাউ’ অনুষ্ঠানে তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘ভিএআর প্রটোকলে কোথাও বলা নেই যে ফাউলটি পাঁচ সেকেন্ড আগে বা ৭৫ গজের মধ্যে হতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতিপক্ষ নতুন করে বলের দখল না পায় এবং একই ধারাবাহিক আক্রমণ থেকে গোল আসে, ততক্ষণ প্রটোকল অনুযায়ী গোল বাতিল করা সম্ভব।‘

রেফারি মাঠে ঘটনাটি দেখেও কেন ফাউল দেননি, এ প্রশ্নের জবাবে মাখনিক বলেন, ‘রেফারির অবস্থান ও দেখার কোণ সবসময় সেরা নাও হতে পারে। ভিএআরের কাজই হলো ভিন্ন কোণ থেকে ঘটনাটি দেখানো। সেখানে স্পষ্ট দেখা গেছে, খেলোয়াড়টি প্রতিপক্ষের পায়ে চাপ দিয়েছেন।‘

 

‘জীবন নিয়ে আমি তৃপ্ত’

নব্বই দশকের টেলিভিশন নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা অভিনেতা আজিজুল হাকিম। সেই সময়ে বিটিভির অসংখ্য সাপ্তাহিক ও ধারাবাহিক নাটকে নাটকে অভিনয় করেছেন। কয়েকটি দর্শকপ্রিয় সিনেমাতেও তিনি অভিনয় করেছেন। 

অভিনয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন আরণ্যক নাট্যদল দিয়ে। দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এখনো সক্রিয় তিনি। 

আজ ১৫ মে সাড়া জাগানো এই অভিনয়শিল্পীর জন্মদিন। জন্মদিনে দ্য ডেইলি স্টারকে নিজের জীবনের অর্জন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান তিনি।  

বিশেষ দিনেও নিজেকে ছুটি দেননি আজিজুল হাকিম। আজ ঈদের প্রচারিতব্য একটি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘কাজ করতে ভালো লাগে। কর্মই একজন মানুষের সবকিছু। আমিও কাজের মধ্যে দিয়ে দিনটি পার করছি। তবে, এরই মধ্যে মানুষের কাছ থেকে শুভেচ্ছা পাচ্ছি, ভালোবাসা পাচ্ছি, এটাও কম কী?’

জন্মদিনের প্রথম প্রহরে আজিজুল হাকিমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার মেয়ে। এরপর পুত্র ও স্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে নাযাহ আমাকে এবারের জন্মদিনে প্রথম উইশ করেছে। আমি মুগ্ধ হয়েছি। তারপর পুত্র ও স্ত্রীর কাছ থেকে শুভেচ্ছা পেয়েছি।’

টেলিভিশন নাটকের প্রবল জনপ্রিয় অভিনেতা আপনি, অসংখ্য মানুষ ভালোবাসে—তাদের ভালোবাসাকে কিভাবে দেখেন? এর জবাবে আজিজুল হাকিম বলেন, ‘এটা তো সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ। দেখুন, মে মাসে আমার জন্ম, আবার মে মাসে আমার বাবা মারা গেছেন। সেজন্য ঘটা করে কিছু করি না। কিন্তু মানুষের ভালোবাসাকে সম্মান জানাই। অভিনেতা হিসেবে প্রচুর মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, আশীর্বাদ করেন—তার জন্য সবার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘নব্বই দশকে বা আরও কিছু পরে আমার অভিনীত নাটকগুলো নতুন প্রজন্মের দর্শকরা খুঁজে খুঁজে দেখেন। যেখানেই যাই, নতুন প্রজন্মের দর্শকরা সেইসব নাটকের কথা বলেন, প্রশংসা করেন। তখন খুব ভালো লাগে। তৃপ্তি কাজ করে। তাদের মতামত আমাকে আনন্দিত করে।’

একসময় সফল নায়ক ছিলেন, আবার এখন নতুনদের সঙ্গে বাবা কিংবা অন্য কোনো চরিত্রে অভিনয় করছেন। নতুনদের সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগছে? তিনি বলেন, ‘নতুনদের সঙ্গে অভিনয় করে খুব ভালো লাগে। নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেও ভালো লাগে। নতুন চিন্তা, নতুন ভাবনা এবং নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন অনেকেই।’

আজিজুল হাকিম বলেন, ‘মেহজাবীনের সঙ্গে কাজ করেছি। ইয়াশ রোহানের সঙ্গে কাজ করেছি। তৌসিফ, তটিনীসহ অনেক নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছি। সবাই ভীষণ ভালো। সবাই আমাকে খুব সম্মান করেন, ভালোবাসেন। আমিও তাদের খুব পছন্দ করি।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি দরদিয়া নামে একটি নাটকে অভিনয় করেছি, যেখানে তৌসিফ ছিলেন। এই কাজটি খুব ভালো হবে বলে আমার মনে হচ্ছে। ঈদে প্রচার হওয়ার কথা। ঈদে আরও বেশ কয়েকটি কাজ প্রচার হবে। কোনো কোনো নাটকে নতুনরাও আছেন।’

দীর্ঘ অভিনয় জীবন নিয়ে কতটা তৃপ্ত আপনি? এই প্রশ্নের জবাবে আজিজুল হাকিম বলেন, ‘শিল্পী জীবন নিয়ে আমি হ্যাপি। শিল্পী জীবন এবং পারিবারিক জীবন নিয়ে খুব হ্যাপি। সুন্দর একটা পরিবার পেয়েছি। সবাইকে নিয়ে ভালো আছি। কাজেই, শিল্পী জীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবন নিয়ে ভালো আছি।’

তিনি বলেন, ‘দেখুন, অনেক বছর মঞ্চে কাজ করেছি। আমার নাট্যগুরু মামুনুর রশীদ। দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে গিয়েছি। আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। সে জন্য আমি তৃপ্ত। সততার সঙ্গে কাজ করেছি।’

জন্মদিনে চাওয়া কী? আজিজুল হাকিম বলেন, ‘সবার আশীর্বাদ চাই। যেন সুস্থ থাকতে পারি। দর্শকদের প্রতি আমার ভালোবাসা। তাদের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।’
 

স্টারমারকে ‘লুজার’ বললেন ট্রাম্প: টেলিগ্রাফ

এক ব্যক্তিগত নৈশভোজে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ‘লুজার’ বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন দাবি করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ।

বুধবার প্রকাশিত টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্তব্যটি গত দুই সপ্তাহের মধ্যে করা হয়েছে এবং এটি ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করে একটি সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, এ মন্তব্যে ট্রাম্পের এই ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে যে স্টারমারের ‘আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই’।

এই মন্তব্যটি ট্রাম্পের আগের বক্তব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘উইনার’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

একইসঙ্গে সাম্প্রতিক মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক উত্তেজনারও ইঙ্গিত বহন করছে।

টেলিগ্রাফ জানায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্টারমারের সমালোচনা করেন।