27.6 C
Dhaka
Home Blog

পাকিস্তান–আফগানিস্তান উত্তেজনা: কার সামরিক সক্ষমতা কতটুকু

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তানও পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাত চলছে দুই দেশের সীমান্তেও। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে সামরিক শক্তিতে কে কতটা এগিয়ে রয়েছে।

আজ শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বর্তমান সামরিক শক্তির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ ও সামরিক সক্ষমতায় আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। তবে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় গেরিলা যুদ্ধে অত্যন্ত দক্ষ তালেবান। ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার আগে তারা কয়েক দশক ধরে সশস্ত্র লড়াই চালিয়েছে।

সেনা সংখ্যায় এগিয়ে পাকিস্তান

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার সদস্য রয়েছে।

অন্যদিকে তালেবান সরকারের অধীনে আফগানিস্তানে যোদ্ধা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার।

স্থলশক্তির ক্ষেত্রে শুধু সেনা সদস্য নয়, সামরিক অস্ত্রের সংখ্যায়ও অনেক এগিয়ে পাকিস্তান।  
দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার সাঁজোয়া যান এবং ৪ হাজার ৬০০টির বেশি আর্টিলারি বা ভারী কামান রয়েছে।

অন্যদিকে, তালেবানের কিছু সাঁজোয়া যান থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশ পুরোনো। সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত নয়।

আকাশ শক্তিতে ব্যবধান আরও বড়

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কাছে অন্তত ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান ও ২৬০টি হেলিকপ্টার রয়েছে। এদিকে আফগানিস্তানের কার্যকর কোনো বিমান বাহিনী নেই। তাদের কাছে কিছু পুরোনো বিমান ও হেলিকপ্টার থাকলেও সেগুলো কতটা সক্রিয়, তা স্পষ্ট নয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেলে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম তালেবান বাহিনী হাতে পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর সক্ষমতা কমে গেছে। বর্তমানে ওইসব সরঞ্জামের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট নয়।

পারমাণবিক শক্তির দিক থেকে চিত্র একেবারেই একপেশে

আইআইএসএসের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাছে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই।

প্রকৃতি ও মানুষের মঙ্গল কামনায় বট-পাকুড়ের বিয়ে

উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বাস ও লোকাচারের এক অনন্য মেলবন্ধনে ঠাকুরগাঁওয়ে ধুমধামের সঙ্গে বট ও পাকুড় গাছের প্রতীকী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের কিসমত পাহাড়ভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

সনাতন ধর্মীয় রীতিতে যেভাবে মানুষের বিয়ের আয়োজন করা হয়, ঠিক সেভাবেই বট-পাকুড়ের বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন অনেকেই।

আয়োজকরা বলেন, ‘প্রকৃতি ও মানুষের মঙ্গল কামনায় এ বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।’

এই বিয়েতে বটগাছ কনে আর পাকুড় গাছ বর। কালিমন্দিরের পাশের পুকুর পাড়ে থাকা বট গাছকে লাল-হলুদ শাড়ি আর পাকুড় গাছকে ধুতির সঙ্গে পরানো হয় ফুলের মালা।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আসা পুরোহিত শুভন চক্রবর্তী বলেন, ‘বরের বয়স ৪ বছর আর কনের ৩। তারা একসঙ্গে বড় হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বট ও পাকুড় হিন্দুশাস্ত্রে দেবতা বৃক্ষ। পূজাতেও এই দুটি গাছ লাগে।’

এ কারণে বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মূলত ব্যক্তির মোক্ষলাভ বা পরিত্রাণ ও প্রকৃতি বিনাশের হাত থেকে রক্ষা করা এবং মানুষকে বৃক্ষপ্রেমী করে তোলার উদ্দেশ্যেই এই বিয়ের আয়োজন।

বট-পাকুড়ির এই বিয়েতে কনেপক্ষের বাবার দায়িত্ব পালন করেন পরিমল চন্দ্র বর্মন (৫৫)। আর বরপক্ষের সব দায়িত্ব নেন বলরাম সরকার (৪০)।

দ্য ডেইলি স্টারকে পরিমল চন্দ্র বর্মন জানান, চার বছর আগে বট আর তিন বছর আগে পাকুড় গাছটি লাগানো হয়েছিল। প্রবীণদের পরামর্শে প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় তিনি এই বিয়ের আয়োজন করেছেন।

বলরাম সরকার বলেন, ‘পরিবারের বড়দের নিয়ে আনুষ্ঠানিভাবে এই বিয়ে দিচ্ছি। বিয়ের এই উৎসবে কোনো কমতি রাখা হয়নি।’

আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীসহ প্রায় ৪০০ পরিবারকে নিমন্ত্রণ করা হয় এ আয়োজনে। 

পাশের ঝাড়গাঁও গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বট-পাকুড়ের বিয়ের কথা শুনেছি, কিন্তু দেখা হয়নি। খবর পেয়ে আমরা দুজন কৌতূহলী হয়েই বিয়েবাড়িতে এসেছি। এত সব আয়োজন দেখে আমরা অবাক।’

ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, ‘এটি মূলত একটি লোকাচার।’ 

বট-পাকুড়ের বিয়ে আসলে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা। বট-পাকুড় এমন গাছ, যে প্রকৃতিতে বেশ অবদান রাখে। প্রকৃতিবাদীরা প্রকৃতিপ্রেম থেকে বট-পাকুড়ের বিয়ের এ আয়োজন করেন।

 

সংসদে উত্থাপিত বক্তব্যে নিরপেক্ষ তদন্ত চায় নাবিল গ্রুপ

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-সংক্রান্ত আলোচনায় নাবিল গ্রুপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সংসদে উপস্থাপিত কিছু তথ্য তাদের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যাংকিং নথি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার রেকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেন। আবেদনপত্রের অনুলিপি অর্থমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নাবিল গ্রুপ সম্পর্কে উত্থাপিত তথ্য জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকার এলসি সুবিধা গ্রহণ এবং তা পরিশোধ না করার বিষয়ে সংসদে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা ব্যাংকিং নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নাবিল গ্রুপের তথ্যমতে, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং অন্যান্য ট্রেডিং পণ্য আমদানির জন্য মোট ৭ হাজার ১৮১ কোটি টাকা সমমূল্যের এলসি খুলেছে। এসব এলসির বিপরীতে ৫ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকার সাইট ও অ্যাকসেপ্টেড বিল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিশোধ করা হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়।

নাবিল গ্রুপের মোট ব্যাংক দায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বলে যে তথ্য সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে আবেদনপত্রে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তাদের মোট ব্যাংক দায়ের পরিমাণ ৫ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের আগস্টে এ পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ২ হাজার কোটির বেশি কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তারা কখনও কোনো ব্যাংক ঋণের খেলাপি হয়নি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংসদে নাবিল গ্রুপের অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে ব্যবহৃত হয়েছে, এ ধরনের ইঙ্গিতেরও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়া নাবিল গ্রুপ বা এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার কিংবা প্রতারণা-সংক্রান্ত কোনো প্রমাণিত অভিযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পরিবারের সদস্যরা দেশে অবস্থান করছেন এবং দেশের বাইরে তাদের কোনো অবৈধ বা গোপন সম্পদ নেই বলে আবেদনপত্রে দাবি করা হয়।

নাবিল গ্রুপ জানায়, তারা গত দুই দশক ধরে কৃষি, শিল্প, খাদ্যপণ্য, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি এবং ভোগ্যপণ্য খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই বছর দেশের শীর্ষ পাঁচ ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাদের মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, বর্তমানে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি এবং দুই লাখের বেশি মানুষ পরোক্ষভাবে নাবিল গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের মোট বিনিয়োগের ৮০ শতাংশ উত্তরাঞ্চলে রয়েছে। আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও নাবিল গ্রুপের কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা দেশে অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তার স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মা রাজশাহীতে বসবাস করেন এবং সন্তানরা সেখানেই পড়াশোনা করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, নাবিল গ্রুপ কখনও কোনো ব্যাংকে ঋণখেলাপি হয়নি। ব্যাংকিং কার্যক্রম পারস্পরিক চুক্তি ও প্রচলিত বিধি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে দেড় হাজারের বেশি বিধবা ও দুস্থ নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ক্রীড়া খাতে অবদানের প্রসঙ্গ তুলে নাবিল গ্রুপ জানায়, এ বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে তাদের মালিকানাধীন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং বাংলাদেশ উইমেন্স প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে রাজশাহী স্টারস এফসি শিরোপা জিতেছে। এছাড়া রাজশাহী স্টারস এফসি এশিয়ান উইমেন্স ফুটবল ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে।

আবেদনপত্রে নাবিল গ্রুপ বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রে তথ্য, নথি ও প্রমাণকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। যথাযথ যাচাই ছাড়া সংসদীয় বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা অন্য কোনো স্বাধীন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টির তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগী হিসেবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার তাদের রয়েছে।

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের পরও আজমুনকে দলে ফেরাতে চায় ইরান সরকার

সর্দার আজমুনকে ঘিরে ইরানের ফুটবলে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন নতুন মোড় নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ওঠার পর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া এই স্ট্রাইকারকে আবারও দলে ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের এক ভাইস প্রেসিডেন্ট।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুলকরিম হোসেইনজাদেহ বলেন, ‘মাতৃভূমির প্রয়োজন হলো তার সন্তানদের মধ্যকার সম্পর্কের সুতো অটুট রাখা। সারদার আজমুন সেই সম্পর্কের প্রকাশ ঘটিয়েছেন, বিষয়টি যেন আমরা উপেক্ষা না করি। সম্ভব হলে তাকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা উচিত।’

বর্তমানে তুরস্কে প্রস্তুতি ক্যাম্প করছে ইরান জাতীয় দল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কোচের প্রাথমিক দলে জায়গা হয়নি ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তার বাদ পড়া নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আজমুন নিজেকে ‘ইরানের সন্তান’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একসময় অন্য একটি দেশের কাছ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

আজমুন লিখেছিলেন, ‘আমি যেখানেই ফুটবল খেলি না কেন, আমার পরিচয়, হৃদয় এবং গর্ব সবই ইরান।’ একই সঙ্গে জাতীয় দলের জন্য শুভকামনাও জানান তিনি।

ইরানের ক্রীড়া সাংবাদিকদের অনেকেই ধারণা করছেন, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময়সীমার আগে এখনও তাকে স্কোয়াডে যোগ করা হতে পারে।

ইরানের হয়ে ৫৭ গোল করা আজমুন ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলেও পরিচিত মুখ। বেয়ার লিভারকুসেন ও এএস রোমার হয়ে খেলেছেন তিনি। তবে অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার।

গত মার্চে দুবাইয়ের আমিরের সঙ্গে তার একটি ছবি প্রকাশ হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বর্তমানে দুবাইয়েই খেলছেন ও বসবাস করছেন আজমুন।

জাতীয় দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই অবশ্য বলেছেন, স্কোয়াড নির্বাচন ছিল তার ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে কঠিন টেকনিক্যাল সিদ্ধান্ত’ এবং খেলোয়াড় বাছাইয়ে শুধুই ফুটবলীয় বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।

‘টিম মেল্লি’ নামে পরিচিত ইরান বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ ‘জি’তে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলবে ইরান।

এদিকে ফিফার অনুমোদনের পর বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ২১ মে’র মধ্যে দিতে হবে: শ্রমমন্ত্রী

দেশের সব কারখানায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস আগামী ২১ মের মধ্যে এবং মাসিক বেতন নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আবশ্যিকভাবে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সিরড্যাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৫তম এবং আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের ২৪তম সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সভায় শ্রমিক নেতারা আশ্বাস দেন, ঠিক সময়ে বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হলে কোনো ধরনের আন্দোলন বা শিল্প অসন্তোষ সৃষ্টি হবে না।

তবে যেসব কারখানা এখনো বকেয়া বেতন পরিশোধ করেনি, তাদের বিষয়ে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ ছাড়া, শ্রমিকদের ঈদযাত্রা সহজ করতে বিশেষ বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সড়কে যানজট এড়াতে মালিক ও শ্রমিক-পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বা ধাপে ধাপে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, বেতন-বোনাস পরিশোধ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানান, শ্রমিকদের ঈদযাত্রা সহজ করতে সব রুটে জাহাজ ও লঞ্চের ভাড়া ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনসহ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মালিক ও শ্রমিক-পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

হামের চিকিৎসায় শিশু হাসপাতালের বরাদ্দ যথেষ্ট না: বিরোধীদলীয় নেতা

হামের চিকিৎসায় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সরকারি বরাদ্দ যথেষ্ট না বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালটা সরকারি না, এটা সংবিধিবদ্ধ একটা হাসপাতাল। সরকার আগে প্রতি বছর দিতো ৩০ কোটি, এবার দিচ্ছে ২৮ কোটি। সেই ২৮ কোটির মধ্যে এ পর্যন্ত তারা ফার্স্ট কোয়ার্টারে ৭ কোটি টাকা পেয়েছেন, বাকিটা হয়তো তারা পাবেন। কিন্তু এ দিয়ে হাসপাতাল চলে না। এখানে ৭০০টি শয্যা আছে, এর মধ্যে ২৫০ শয্যা হলো ফ্রি। বাকিগুলোতে রোগীদের সব খরচ দিয়ে থাকতে হয়। সেভাবে তারা চালাচ্ছেন, এবং যেটুকু সম্ভব তাদের পক্ষে, সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।’

পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পেরেছি যে, এখানে আরও অনেক গুরুত্ব দেওয়া দরকার সরকারের।’

আজ শনিবার দুপুরে শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বর্তমানে হাম নিয়ে যে বিব্রতকর অবস্থায় দেশবাসী আছে, এটা বোঝার জন্য আমরা মূলত গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমরা দেখলাম, এটা বাংলাদেশের একমাত্র স্পেশালাইজড ডেডিকেটেড শিশু হাসপাতাল সরকারিভাবে। এ জন্য সারা দেশ থেকে এখানে রোগী চলে আসে। তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) এর চাপ নিতে পারছেন না। অনেক রোগী এখান থেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন। তারা কোথায় যাচ্ছেন তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) তো বলতে পারবেন না।’

হাম রোগীর চিকিৎসায় একটি আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) করে দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই হাসপাতালের বেড বাড়ানো দরকার এবং সেই সুযোগ আছে।

তিনি শিশু হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়ে ২ হাজার করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘তাহলে মানুষ কিছু স্বস্তি পাবে।’

এ সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে শিশু হাসপাতালের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান।

উত্তর আমেরিকায় ওপেনিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সিনেমাগুলোর মধ্যে আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়েছে তানিম নূরের সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশক প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো জানিয়েছে, প্রথম তিন দিনে উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির মোট আয় (গ্রস) হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ডলার। এর আগে প্রথম তিন দিনে ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার আয় করে তালিকার শীর্ষে ছিল ‘হাওয়া’।

এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পরিচালক তানিম নূর। তিনি বলেন, ‘উত্তর আমেরিকার দর্শকদের এই সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। সিনেমার সব শিল্পী ও কুশলীকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষভাবে স্মরণ করছি হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে, তিনিই আসল জাদুকর।’

সিনামাটির পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব বলেন, গত তিন দিনে কানাডা ও আমেরিকার বক্স অফিসে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ যা করেছে তা অবিশ্বাস্য।

সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, শ্যামল মওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর ও আরেফিন জিলানীসহ একঝাঁক তারকা।

২৭৪ তালেবান সেনা নিহতের দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৭৪ তালেবান সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। অভিযানে আহত হয়েছে আরও ৪ শতাধিক তালেবান।

আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এ দাবি করেন বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর মহাপরিচালক জানিয়েছেন, ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ নামে চালানো অভিযানে এ পর্যন্ত আফগানিস্তানের ২৭৪ জন তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে চারশ জনের বেশি।’

সংঘাতে এ পর্যন্ত ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানান তিনি। 

তিনি বলেন, ‘কাবুল, কান্দাহার, পাকতিয়া, নানগারহার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে মোট ২২টি স্থান হামলার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত ৭৩টি চৌকি, অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও কামান ধ্বংস করা হয়েছে। ১৭টি চৌকি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পাকিস্তান।’

তার ভাষ্য, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল তালেবান বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর, ব্রিগেড ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর, সেক্টর কমান্ড, গোলাবারুদ ডিপো এবং জঙ্গি ও তাদের সহযোগীদের আশ্রয়স্থল।

বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ অস্বীকার করে ডিজি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো সম্পূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু। বেসামরিক কোনো ক্ষয়ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।’

ভুয়া ব্যবসার আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা: মঞ্জুরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

রাজধানী ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ব্যবসা, জাল ওয়ার্ক অর্ডার, চেক ডিজঅনার এবং সংঘবদ্ধ আর্থিক প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার কথিত সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, “রাইন্ড্রপ এন্টারপ্রাইজ (Raindrop Enterprise)” নামের প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখে সাধারণ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং পরিচিত মহলের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরুল ইসলাম নিজেকে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের ভুয়া বা সন্দেহজনক ওয়ার্ক অর্ডার প্রদর্শন করতেন। কখনো গাড়ি কোম্পানি, কখনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কখনো বড় কর্পোরেট সাপ্লাইয়ের গল্প দেখিয়ে কোটি টাকার বিনিয়োগ সংগ্রহ করা হতো। শুরুতে অল্প অঙ্কের লাভ ও টাকা ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হতো, পরে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর শুরু হতো সময়ক্ষেপণ, মিথ্যা আশ্বাস ও গা-ঢাকা দেওয়ার কৌশল।

অভিযোগ উঠেছে, মঞ্জুর একা নন; তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র পরিচালনা করছেন, যেখানে তার বিভিন্ন বন্ধু, পরিচিত ব্যবসায়ী এবং পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চক্রের মূল কাজই হচ্ছে বিশ্বাস অর্জন করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ সংগ্রহ করা এবং পরে তা আত্মসাৎ করা।

সূত্র বলছে, মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। চেক ডিজঅনার, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ছয়টিরও বেশি মামলা চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটিরও বেশি টাকার প্রতারণার অভিযোগ বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা ফেরতের চাপ বাড়লে মঞ্জুর ও তার ঘনিষ্ঠরা বিভিন্ন সময় জমি, নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট, ভবিষ্যৎ সম্পত্তি বিক্রি অথবা নতুন বিনিয়োগ আসার গল্প বলে সময় নিতেন। বিশেষ করে তার শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে বহু ভুক্তভোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরের শাশুড়ি রিজিয়া হোসেন এর নামও একাধিক আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রির কথা বলে ভুক্তভোগীদের আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো কার্যকর সম্পত্তি হস্তান্তর বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

বিভিন্ন ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, “এটি কোনো একক প্রতারণা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংগঠিত আর্থিক প্রতারণা চক্র, যারা সম্পর্ক, পরিচয়, সামাজিক অবস্থান এবং ভুয়া ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে ভুয়া ব্যবসায়িক উপস্থাপন, চেক ডিজঅনার, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং সংঘবদ্ধ আর্থিক জালিয়াতির মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা হবে

বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: রুমিন

বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিক কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় তার সমর্থকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, বারোটা এক মিনিটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমারই প্রথম ফুল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির কিছু লোক সেখানে রীতিমতো হামলা চালায়। আমাকে এক পাশে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। বিএনপি যদি তার নেতাকর্মীদের লোকাল লেভেলে এখনই কন্ট্রোল না করে, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপির উপজেলা শাখার প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি সেখানে ছিলেন না। এলাকায় গুন্ডা হিসেবে পরিচিত একজনের নেতৃত্বে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে হামলা চালায়।

হামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতেছি। তাদের মধ্যে পরাজয় মেনে নেওয়ার কষ্ট আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, পুলিশ চেষ্টা করেছে। কিন্তু সরকারি দলের নেতাকর্মীরা যখন ভয়াবহভাবে তাণ্ডব চালায়, পাঁচ থেকে ১০ জন পুলিশ সেটা কন্ট্রোল করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আমি মামলা করেছি। যদি এটা প্রাণনাশের কোনো চেষ্টা হয়ে থাকে, সঠিকভাবে তদন্ত করে বিচার হতে হবে। আর সরকার যদি এখানে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, সরকারকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।