29 C
Dhaka
Home Blog

ঋণ নয়, এখন সরকারি সিকিউরিটিতেই ব্যাংকের বেশি আয়

২০২১ সালেও দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আয়ের প্রধান উৎস ছিল ঋণ বিতরণ। কিন্তু মাত্র চার বছরের ব্যবধানে সেই চিরচেনা চিত্র পুরোপুরি উল্টে গেছে। এখন আর ঋণ নয়, বরং সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগেই মুনাফা বেশি হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সুদভিত্তিক আয় (নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম) ক্রমেই চাপে পড়েছে। একই সময়ে আমদানি কমে যাওয়ায় এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলাসহ বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা থেকে কমিশন আয়ও কমেছে।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে এবং মুনাফার ধারা বজায় রাখতে ব্যাংকগুলো এখন আর ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। এর বদলে তারা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড, যেখানে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই মিলছে চড়া সুদ।

কাগজে-কলমে ব্যাংকগুলোকে এখন বেশ লাভজনক দেখাচ্ছে। কারণ কোনো ঋণ-ঝুঁকি ছাড়াই তারা সরকারি সিকিউরিটি থেকে বিপুল মুনাফা তুলে নিচ্ছে। 

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা সতর্ক করে বলছেন, এই সাময়িক লাভের পেছনে দুটি বড় বিপদ লুকিয়ে আছে।

প্রথমত, ব্যাংকগুলো যদি মূল ব্যবসা ঋণ দেওয়া ছেড়ে কেবল সরকারকে টাকা ধার দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেয়, তবে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি ধীর হয়ে পড়বে।

দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে যদি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার কমে যায়, তখন ব্যাংকগুলোর পক্ষে এই আয়ের ধারা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

দ্রুত বদলে গেছে ব্যাংকের আয়ের ধরন

২০২১ সালে দেশের ৫২টি প্রধান ব্যাংকের মোট আয় ছিল ৪০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।

এর মধ্যে মোট আয়ের ৪৭ শতাংশ এসেছিল ঋণের সুদ থেকে। সরকারি সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকে এসেছিল ৩৪ শতাংশ। বাকি ১৯ শতাংশ ছিল কমিশনভিত্তিক আয়। এসব তথ্য পাওয়া গেছে ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন থেকে।

২০২২ সালে বিনিয়োগ থেকে আয় বাড়লেও তা তখনও সুদ আয়ের চেয়ে কম ছিল। ২০২৩ সালেও আয়ের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।

তবে ২০২৪ সালে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। ওই বছর প্রথমবারের মতো সুদ আয়ের চেয়ে বিনিয়োগ থেকে আয় বেশি হয় এবং সেটিই ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসে পরিণত হয়।

আর ২০২৫ সালে এসে তো মূল ব্যাংকিং ব্যবসা বা নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম মোট আয়ের মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। বিপরীতে, বিনিয়োগ থেকে আয় এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট আয়ের ৭৩ শতাংশে। বাকি প্রায় ২০ শতাংশ এসেছে কমিশন থেকে। 

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এই প্রবণতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমতে শুরু করলেই ব্যাংকগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

আয়ের এই পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমানতের বিপরীতে সুদের খরচ এবং ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় বাড়ায় ঋণের মুনাফার মার্জিন কমে গেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো খেলাপি ঋণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে ব্যাংক কোনো সুদ পাচ্ছে না, অথচ আমানতকারীদের ঠিকই সুদ গুনে যেতে হচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, একটি ব্যাংকের প্রধান আয় হওয়া উচিত ঋণ বিতরণ থেকে। কিন্তু খেলাপি ঋণের বোঝা ব্যাংকগুলোকে পঙ্গু করে দিয়েছে। একই সাথে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য কমে যাওয়ায় কমিশন এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের মুনাফাও উধাও হয়ে গেছে। 

তার মতে, দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে মূল ব্যবসায় ফিরতেই হবে, তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে এর কোনো লক্ষণ দেখছি না।

বিনিয়োগ ও অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

ত তিন বছর ধরে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ঋণ ব্যবসার আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। এমনকি ২০২৫ সালে কমিশন আয়ও আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে। বিপরীতে গত পাঁচ বছর ধরে কেবল সরকারি বন্ডের আয়ই ঊর্ধ্বমুখী। 

শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, ট্রেজারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোর স্পষ্ট প্রণোদনা ছিল। কারণ সেখানে ভালো মুনাফা পাওয়া যাচ্ছিল, অথচ ঋণ দেওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এ কারণেই বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে।

তার ভাষায়, ব্যাংক স্বাভাবিকভাবেই এমন খাতে অর্থ বিনিয়োগ করবে, যেখানে কম ঝুঁকিতে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাংকগুলো যদি ঋণ দেওয়ার বদলে সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে পুরো অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ সীমিত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীর হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ট্রেজারি সিকিউরিটির সুদের হার যত দিন বেশি থাকবে, তত দিন ব্যাংকগুলো ভালো মুনাফা করতে পারবে। পরে সুদের হার কমতে শুরু করলে শুরুতে ট্রেজারি বন্ড থেকে মূলধনী মুনাফা (ক্যাপিটাল গেইন) মিলতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলোর মোট আয়ও কমে আসবে।

তার মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরালো না হলে বর্তমানে সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থ উৎপাদনশীল বেসরকারি খাতে ঋণ হিসেবে স্থানান্তর করা ব্যাংকগুলোর জন্য কঠিন হবে।

কমিশন আয় কমে যাওয়ার বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, আমদানি ও রপ্তানি—দুটিই দুর্বল থাকায় বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট ফি ও কমিশন কমেছে। এছাড়া শেয়ারবাজারে লেনদেন তলানিতে নামায় যেসব ব্যাংকের নিজস্ব ব্রোকারেজ হাউস আছে, তাদের কমিশনও কমেছে। তবে চলতি বছরে এই কমিশন আয় কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৯৬০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে আরও কমে হয় ৫৭৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ৫৬৬ কোটি টাকায়। আর ২০২৫ সালে দৈনিক গড় লেনদেন আরও কমে মাত্র ৫১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

 

‘বাকি জীবন বিএনপিতেই থাকতে চাই’ বিএনপিতে যোগ দিয়ে আ. লীগ নেতা

বাকি জীবন বিএনপির রাজনীতি করে যেতে চান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নরসিংদী জেলা শাখার উপদেষ্টা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমেদ দুলু।

তিনি বলেছেন, নরসিংদী-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের সম্মতিতে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার রায়পুরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এমন ঘোষণা দেন।

দুলু বলেন, ‘গত ২ ফেব্রুয়ারি খোকন ভাইয়ের (এমপি) কথামতো খোকন ভাইয়ের মাধ্যমে বিএনপিতে যোগদান করেছি। আগের সবগুলি ছাইড়া দিয়া, যে যেইডাই বলুক না ক্যান, কিন্তু যোগ দেওয়ার পরে আমি প্রেসক্লাবে বলি নাই। কাজেই আজকে আমাদের সেই খাইরুল কবির খোকন ভাই, নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে আমাকে অনুমতি দিয়েছেন যে, আপনি আপনার এলাকাতে প্রেসক্লাবে, সাংবাদিকদের নিয়া একটা মিটিং করেন, আলোচনা সভা করেন। সেই লক্ষ্যে আমার এই আজকের সাংবাদিক সম্মেলন।’

বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দুইবার আমাকে রাজু সাহেব (আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী) জোর কইরা ফেল করাইছে (ইউপি নির্বাচনে) এবং আমাকে হয়রানি করেছে। আমাকে নির্বাচন অফিসে আটকে রেখেছে, অনেক হয়রানি হইছি। আমি কিন্তু কোনো দল করি নাই। আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একসময় ছাত্রদল করতাম। ১৯৮১ সাল থেকে ছাত্রদল করতে গিয়ে আমি যখন চেয়ারম্যান হইলাম, তখন যে দল ক্ষমতায় যখন আসছে, সেই দলের পাশে ব্যালেন্স করে চলে আসছি। কিন্তু অরিজিনালি আমি বিএনপি ছোটবেলা থেকে করছি। আমার এলাকাতে এই যে আমার ভাইয়েরা আছেন, এরা সবাই বিএনপির লোক।’

আলী আহম্মেদ দুলু বলেন, ‘অরিজিনালি আমি বিএনপিতে ছিলাম, আমি ছাত্রদল করেছিলাম। এখন আমি আমার ঘরে ফিরে আসছি। এই বিএনপিতে আজকে আবার নতুন করে প্রেসক্লাবের মাধ্যমে, সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে বিএনপিতে পুরোভাবে যোগদান করলাম। আজ থেকে আমি সকল এমপি-মন্ত্রী যারা আছেন সবার সাথেই আমি ফুল নিয়ে দেখা করব। বিএনপি করেছিলাম, বিএনপিতে এসেছি এবং বাকি জীবন বিএনপি করেই আমি থাকতে চাই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলী আহমেদ দুলু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহবায়ক এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদও লাভ করেন।

যোগাযোগ করা হলে আলী আহমেদ দুলু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর বিপরীত ব্লকে রাজনীতি করেছি। জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ আছে আমার। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি পরিস্থিতির শিকার হয়ে। এখন অতীত মুছে আজীবন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে থাকতে চাই। দলীয় হাইকমান্ডকে অবগত করেই বিএনপির সঙ্গে আছি।’

আমি তৃণমূলপন্থী নই, মমতা হাতেপায়ে ধরে ভোটে দাঁড় করিয়েছিলেন: কবীর সুমন

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা গায়ক কবীর সুমনের। পশ্চিমবঙ্গের জাদবপুর থেকে তৃণমুলের মনোনয়নে লোকসভা নির্বাচন করে সাংসদও হয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূল বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর তিনি বলেছেন, ‘আমি তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই।’

আজতক বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তার আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না।’

নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় সুমন বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ নই, আমি সংগীতের লোক। যেভাবে ভোটটা হল, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল… ট্যাঙ্ক ঢুকবে, সাঁজোয়া গাড়ি—এটা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ভোট নিয়ে মন্তব্য কীভাবে করব? এটা কী ভোট হল? এখন একটা কথা চালু হয়েছে, জনাদেশ। তাহলে এটা জনাদেশ হল। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না।’

তৃণমূলের শাসন নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি।’

তার ভাষ্য, ‘আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে।’

একইসঙ্গে রাজনৈতিক ভাষার অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে সমালোচনা করা যায়, কিন্তু তাঁকে চটিপিসি বলা, তাঁর সমর্থকদের চটিচাটা বলা—এগুলো কী! আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপসংস্কৃতির চর্চা করেছি।’

ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজন নিয়েও মন্তব্য করেন এই গায়ক। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ আছেন… কিন্তু এখনও অনেকেই মুসলমানদের আলাদা করে দেখেন।’

এদিকে, সুমনের এই অবস্থান বদল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

ইরানে সরকার পরিবর্তন নিয়ে সংশয়ে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পরও দেশটিতে অদূর ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান যুক্তরাষ্ট্রের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

হামলার আগে ও পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার পাশাপাশি দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

রোববার ট্রুথ সোশ্যালে এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইরানের সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা স্বাধীনতার এই মুহূর্তটি লুফে নিন… এবং আপনাদের দেশ পুনরুদ্ধার করুন।’

তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল তিনজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা ইরানের ধর্মীয় কট্টরপন্থি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা এখনই ভেঙে পড়বে—এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণ নেই। দেশটির সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা এই মুহূর্তে এতটাই দুর্বল যে তাদের পক্ষে সরকার পতন ঘটানো কঠিন।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কোনো কর্মকর্তাই অবশ্য সরকার পতনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। কারণ, চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন। গত জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে বিক্ষোভে নজিরবিহীন দমন-পীড়নের কারণে সরকার এখন জনবিচ্ছিন্ন। তবে তারা বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া সিআইএর এক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, খামেনি নিহত হলে তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কোনো কট্টরপন্থি নেতা অথবা সমমনা কোনো ধর্মীয় নেতা।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য রাখেন এমন এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়বেন—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

সিআইএর মূল্যায়নের পাশাপাশি আরেকটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বড় বিক্ষোভের সময়ও আইআরজিসি থেকে কেউ দলত্যাগ করেনি। বরং তারা বিক্ষোভ দমনে নির্মম শক্তি প্রয়োগ করেছে। তিনটি সূত্র জানিয়েছে, সফল বিপ্লব হতে হলে আইআরজিসির ভেতর থেকে দলত্যাগ বা বিদ্রোহ জরুরি, যা এখনো দেখা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব কর্মকর্তা জানান, খামেনি নিহত হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ধরনে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ ছাড়া খামেনির মৃত্যুতে ইরানকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করবে কিনা, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক কাউন্সিলের ফেলো ও সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন পানিকফ বলেন, ‘দিন শেষে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা থামার পর যদি ইরানের জনগণ রাস্তায় নামে, তবে তাদের সফলতা নির্ভর করবে সাধারণ সেনাসদস্যরা তাদের পাশে দাঁড়াবে কি না, তার ওপর। অন্যথায়, সরকারের অবশিষ্টাংশ—যাদের হাতে অস্ত্র আছে—তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে সেই অস্ত্র ব্যবহার করবে।’

১৮ মাস পর ফের চালু হলো ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিস

দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হলো ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস সেবা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ‘রয়াল মৈত্রী’ পরিবহনের একটি বাস পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার কমলাপুর বাস ডিপো থেকে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় প্রবেশ করে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভিসা জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এই সেবাটি এতদিন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে আবার এই রুটটি চালু করলো।

ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিসের জেনারেল ম্যানেজার ওয়ারিশ আলম ডিএস জানান, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে দুদিন এই বাস চলবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল থাকা সাপেক্ষে পরে সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত সার্ভিসটি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আগরতলা থেকে গুয়াহাটি হয়ে ট্রেনে কলকাতা পৌঁছাতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। অন্যদিকে, ঢাকার ওপর দিয়ে বাস ভ্রমণে এই দূরত্ব কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫০০ কিলোমিটারে, যা যাত্রীদের সময় ও খরচ দুটোই বাঁচিয়ে দেয়।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এই বাস সেবা আবার চালু হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এই বাস সেবাকে কেবল একটি পরিবহন সংযোগ হিসেবে নয়, বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তার মতে, এই সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় যোগাযোগ, পর্যটন ও বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে সুশান্ত চৌধুরী আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অতীতে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক পুনরায় ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।

‘কোচ বলেছিলেন বিশ্বাস হারিও না’—সেই মন্ত্রেই আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন

মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে ফিরে আসা, ফুটবলে এমন গল্প খুব বেশি দেখা যায় না। মিশর ম্যাচে ঠিক সেই গল্পই লিখেছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া, লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস, সব মিলিয়ে যখন বিদায়ের শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের, তখনই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। সেই জয়ে নিশ্চিত হয় দলটির কোয়ার্টার-ফাইনাল।

শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টাইন শিবিরে ছিল আবেগের বিস্ফোরণ। খেলোয়াড়দের চোখে জল, মুখে স্বস্তির হাসি আর গর্ব মিলিয়ে ছিল এক স্মরণীয় রাত।

সবার আগে কথা বলেন দলের জয়সূচক নায়ক এনজো ফার্নান্দেজ। যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত হেডে গোল করে জয় নিশ্চিত করা এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘অবিশ্বাস্য অনুভূতি। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই একটি গোলের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের দলে এমন একদল ফুটবলার আছে, যারা কখনো হাল ছাড়ে না। আমরা আরেকটি বিশ্বকাপ উপভোগ করতে এসেছি, কিন্তু লক্ষ্য একটাই, শিরোপা ধরে রাখা। অতীত ভুলে আমরা আবারও চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’

জয়সূচক গোলের আগে পাল্টা আক্রমণে এনজোকে নিখুঁত ক্রস বাড়িয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। ম্যাচ শেষে আবেগ লুকাতে পারেননি তিনিও, ‘খুব কঠিন একটা ম্যাচ ছিল। আজ রাতে আমরা যা করেছি, অনেক দিন এমন কিছু দেখিনি, এমন অনুভূতিও হয়নি। হাতে তখন আর কয়েক মিনিট বাকি, প্রতিপক্ষ ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করছিল। কিন্তু আমরা আবারও দেখিয়েছি আমাদের চরিত্র, বিনয় আর আত্মত্যাগ। প্রতিদিন লিওকে (মেসি) যেভাবে নিজেকে উজাড় করে দিতে দেখি, সেটাই আমাদের অনুপ্রেরণা। আমি তাকে বলেছি, কাঁদতে দাও, সে এটা প্রাপ্য।’

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, দ্বিতীয়ার্ধে কুলিং ব্রেকের সময় স্কালোনির দেওয়া বার্তাও প্রকাশ করেন লাউতারো, ‘পানি খাওয়ার বিরতিতে কোচ আমাদের বলেছিলেন, যা আছে সব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে। তিনি বিশ্বাস করতেন, সুযোগ আসবেই। সেই কথাই আমাদের নতুন শক্তি দিয়েছিল।’

একই কথা জানান জুলিয়ান আলভারেজও, ‘কুলিং ব্রেকের সময় কোচের একটাই বার্তা ছিল, কখনো বিশ্বাস হারাবে না। আমরা ভালো খেলছিলাম, কিন্তু ওরা সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। এটা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমরা জানতাম, গোল আসবেই।’

বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি, ‘এটা দারুণ আনন্দের, একই সঙ্গে খুব আবেগেরও। আমি সাধারণত সহজে আবেগপ্রবণ হই না। কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় নিজেকে সামলাতে পারিনি। ম্যাচের পরিস্থিতি আর যেভাবে আমরা ফিরেছি, এটা জাতীয় দলের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি।’

মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসও ছিলেন প্রত্যাবর্তনের অন্যতম কারিগর। ২-২ সমতায় ফেরার পর তার গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল থেকেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার জয়সূচক আক্রমণ। তার ভাষায়, ‘ঘটনাটা তখন বুঝতেই পারিনি। ওরা খুব দ্রুত এগিয়ে আসছিল। পরে সতীর্থরা বলেছে, ট্যাকলটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটা জেনে অবশ্যই ভালো লাগছে।’

শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিশ্বাসের কথাই তুলে ধরেন পারেদেস, ‘আমরা কখনো মনে করিনি ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস রেখেছি। কঠিন ম্যাচ ছিল, কিন্তু এই দল কখনো লড়াই থামায় না, কখনো বিশ্বাস হারায় না।’

তিন মাস পরপর ভ্যাট: ব্যবসায়ীদের স্বস্তি, রাজস্ব আদায় নিয়ে শঙ্কা

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় পরিবর্তন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন থেকে চাইলে প্রতি মাসে নয়, প্রতি তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া ও ভ্যাট পরিশোধ করা যাবে।

নতুন এই ব্যবস্থাকে ঘিরে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা একে স্বাগত জানিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মতে, এতে ভ্যাট আইন মেনে চলা সহজ হবে এবং রিটার্ন ও পরিশোধের মধ্যে অসামঞ্জস্য কমবে।

তবে কর বিশেষজ্ঞ ও এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, এমন সময়ে এই পরিবর্তন আনা হলো, যখন সরকার রাজস্ব আদায় নিয়ে আগে থেকেই চাপে রয়েছে। ফলে সরকারের নগদ অর্থপ্রবাহে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে।

অতীতে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হতো।

কিন্তু অর্থ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এখন থেকে তিনটি কর মেয়াদ শেষে, অর্থাৎ প্রতি তিন মাস পরপর একবার রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তৃতীয় কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত দিন সরকারি ছুটি হলে পরবর্তী কর্মদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

তবে মাসিক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে আগের মতো প্রতি মাসেও ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে ও ভ্যাট পরিশোধ করতে পারবে।

অর্থাৎ, সরকার মাসিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেনি; বরং এটি বিকল্প হিসেবে চালু করেছে।

ব্যবসায়ীদের স্বস্তি

ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ বলে মন্তব্য করেছেন। 

নেসলে বাংলাদেশের সাবেক কর ও করপোরেট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক দেবব্রত রায় চৌধুরী বলেন, ত্রৈমাসিক রিটার্ন চালু হলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ঝামেলা কমবে। কার্যকর মূলধন ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে ব্যবসাগুলো আর্থিকভাবে আরও নমনীয়ভাবে চলতে পারবে।

তিনি স্বীকার করেন, এতে সরকারের স্বল্পমেয়াদি নগদ প্রবাহে কিছু চাপ তৈরি হতে পারে। তবে তার মতে, ব্যবসার সুবিধাই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, তিন মাস সময় পাওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের টাকা অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারে। তবে দেবব্রত রায় চৌধুরীর মতে, খেলাপির ঝুঁকি শুধু এই ব্যবস্থায় নয়, যেকোনো ব্যবস্থাতেই থাকে।

তার ভাষায়, মূল গুরুত্ব হওয়া উচিত আইন মেনে চলা নিশ্চিত করার ওপর।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাকও মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে সরকারের তারল্য সংকট হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, সরকার কোথাও বলেনি যে সবাইকে তিন মাস অপেক্ষা করেই ভ্যাট দিতে হবে। শুধু ব্যবসায়ীদের আরও বেশি নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে। যারা নিয়মিত মাসে মাসে ভ্যাট দেয়, তারা চাইলে আগের মতোই তা চালিয়ে যেতে পারবে।

রাজস্ব নিয়ে উদ্বেগ

তবে রাজস্ব বিশেষজ্ঞরা এতটা আশাবাদী নন।

এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, গত প্রায় ৩৫ বছর ধরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে ভ্যাট পরিশোধ করে আসছে।

তার ভাষায়, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তিন মাস পর্যন্ত ভ্যাটের টাকা নিজেদের কাছে রাখতে পারে, তাহলে কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের আগে সেই অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারে।

এতে আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানের খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব প্রবাহও ধীর হয়ে যেতে পারে।

এনবিআরের এক সাবেক সদস্যও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সরকার যখন রাজস্ব বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে ও ব্যয় বাড়ছে, তখন রাজস্ব আদায় আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন ছিল। বিলম্বিত করার নয়।

তার মতে, কঠোর নজরদারি না থাকলে এই পরিবর্তন রাজস্ব সংগ্রহকে দুর্বল করতে পারে।

ভ্যাট সরকারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রাজস্ব উৎসগুলোর একটি। এই অর্থ দিয়েই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, পেনশন, ঋণের সুদ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় মেটানো হয়।

এ কারণে সারা বছর নিয়মিত ভ্যাট আদায় সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে এনবিআর রাজস্ব আদায়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় বারবার কম হচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআর প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এটি তাদের নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা কম। আর সরকারের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বড় অংশের ভ্যাট তিন মাস পর আসে, তাহলে সাময়িকভাবে সরকারের কোষাগারে অর্থের সংকট দেখা দিতে পারে। যদিও বছরের শেষে মোট রাজস্ব একই থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতির প্রভাব নির্ভর করবে সরকারের নগদ মজুত, ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো ভ্যাট পরিশোধ করছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।

এনবিআরের সাবেক ওই সদস্যের মতে, ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের ওঠানামা হলে সরকারকে স্বল্পমেয়াদি ব্যাংকঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

এদিকে এম এ রাজ্জাকের প্রশ্ন, এই পরিবর্তন আদৌ কতটা প্রয়োজন ছিল। তার মতে, সাধারণভাবে এক মাসের মধ্যেই একটি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাটের হিসাব নির্ধারণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, পরিশোধের সময়সীমা বাড়লে কেউ কেউ ভ্যাটের অর্থ আটকে রাখতে, প্রকৃত দায় কম দেখাতে বা পরে পুরো অর্থ পরিশোধ না করার চেষ্টা করতে পারে। এতে রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি বাড়বে।

তবে তার মতে, শেষ পর্যন্ত সরকার যদি একই পরিমাণ রাজস্ব পায় ও সামগ্রিক রাজস্ব প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে শুরুতে কিছুটা সমন্বয়হীনতা দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে।

তার ভাষায়, রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এখনই এর প্রকৃত প্রভাব কতটা হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের আমন্ত্রণে প্রতিনিধিদলটি ৩ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত সফরে থাকবে এবং খামেনির বিদায়, জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রথম দিনে (২৮ ফেব্রুয়ারি) খামেনি নিহত হন।

জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরী আমির মো. কেরামত আলী, মো. নুরুল আমীন, পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, ডা. এস এম খালিদুজ্জামান ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

খামেনির জন্য ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইরান। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে লাখো মানুষের সমাগম ঘটছে। তেহরান এই জনসমাগমকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরছে।

দুটি দেশের পাঁচটি শহরে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এসব কর্মসূচিতে সব মিলিয়ে এক থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জনগণকে ব্যাপকভাবে জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই উপস্থিতিই হবে দেশের প্রতিশোধের বার্তা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আজ বলেছেন, খামেনির দাফনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতায় প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

ইসমাইল বাঘাই বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসছে। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্তত ৮ জন সরকারপ্রধান এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। এছাড়া আরও অনেক দেশ তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী অথবা বিশেষ দূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঠাবে।

বাঘাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

বাঘাই আরও বলেন, পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পার্লামেন্টের সদস্যরা শেষবিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানানো ইউরোপের দেশগুলোকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

‘যখন অভিনয় করি তখন ভাবনায় আর কিছু থাকে না’

চলতি সময়ের সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে দর্শকপ্রিয় একটি ধারাবাহিক নাটক— এটা আমাদেরই গল্প।

পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এই নাটকে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসায় ভাসছেন মনিরা মিঠু। কাঁদিয়েছেন লাখো দর্শক। তার অভিনয় জীবনের অন্যতম সাড়া জাগানো নাটক এটি।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন মনিরা মিঠু।

লাখো দর্শক আপনার অভিনয় দেখে কেঁদেছেন এবং প্রশংসা করছেন, বিষয়টি নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?

এই প্রশ্নের জবাবে মনিরা মিঠু বলেন, ‘আমি অভিনয়শিল্পী। আমাকে কাজ করে যেতে হবে। এই কাজটিই পারি। তাই অভিনয় করি। অত ভাবি না। তারপরও, সুনাম কিংবা প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে? আমারও ভালো লাগে। কাজেই দর্শকদের প্রশংসা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে কেমন ভালোবাসা পেয়েছেন নাটকটি নিয়ে— জানতে চাইলে মনিরা মিঠু বলেন, ‘পেয়েছি। অভিনেতা অপূর্ব ফোন করে বলেছেন, তোমার অভিনয় এত ছুঁয়ে গেছে! এত জীবন্ত অভিনয় করেছ! অসাধারণ একটা কাজ করেছ। অপূর্বর মন্তব্য ভালো লেগেছে।’

তিনি বলেন, ‘অপূর্বর সঙ্গে “নিহত নক্ষত্র” নাটকে কাজ করেছিলাম। শহীদ আজাদের মায়ের চরিত্র ছিল আমার। যে মা ১৪ বছর ভাত খাননি। ওই কাজটির জন্য বেশ প্রশংসা পেয়েছিলাম।’

মনিরা মিঠু বলেন, যারা কাজ ছেড়ে দিয়েছেন তাদের কাছ থেকে বেশি প্রশংসা পেয়েছি। কেউ কেউ কান্না করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন— আমাদের একজন মনিরা মিঠু আছেন! আমাকে আপ্লুত করেছে কথাগুলো। যারা নাটকটি দেখেছেন তাদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।

‘শিল্পী হিসেবে কিছু কাজ তৃপ্তি দেয় আমাকে। অন্যরকম ভালো লাগা দেয়। “এটা আমাদেরই গল্প” নাটকটি সেরকম’, যোগ করেন তিনি।

বয়সের বিষয়টি তুলে ধরে মনিরা মিঠু বলেন, ‘বয়স হচ্ছে। খুব ভালো কাজের সুযোগ হবে না হয়তো। তারপরও যতটা পারছি করে যাচ্ছি অভিনয়।’

পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ প্রসঙ্গে মনিরা মিঠু বলেন, ‘নাটকটি এতটা সাড়া ফেলতে পারার পেছনে কৃতিত্ব পরিচালক রাজের। রাজ মন দিয়ে নাটকটি নির্মাণ করেছেন। পরিচালক শিল্পীদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। সেজন্য সুন্দরভাবে সবাই অভিনয় করতে পেরেছি। তা না হলে ইমোশনাল দৃশ্যগুলো এত চমৎকার করে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হতো না।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরিচালক রাজের ক্যারিয়ারে এটি বেস্ট কাজ। অনেক পরিশ্রম করেছেন। অনেক যত্ন নিয়ে কাজটি করেছেন। আমি মনে করি কাজের মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিশ্রম করলে সৃষ্টিকর্তা ফসল দেন। যা রাজ দেখিয়েছেন।’

২২ বছর ধরে অভিনয় করছেন মনিরা মিঠু। অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন। অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। তার অভিনীত বহু নাটক প্রশংসা কুড়িয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘দর্শকরা এটা আমাদেরই গল্প আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। গল্পটা তাদের স্পর্শ করেছে।’

এটা আমাদেরই গল্প নাটকটি এতটা জনপ্রিয়তা পাবে, সাড়া জাগাবে— কখনো ভেবেছিলেন? জবাবে মনিরা মিঠু বলেন, ‘ভাবনায় ছিল না। যখন অভিনয় করি তখন তা নিয়েই ভাবি। ভাবনায় আর কিছু থাকে না। শুধু ভাবি কাজ করে যেতে হবে।’

মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ, বিশেষ করে মিসর ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দ্রুত নিচের দেশগুলো ছাড়ুন।’

সতর্কবার্তায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাক থেকে অনেক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাহরাইন ও জর্ডানে কর্মরত কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও চলে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আছে লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরানও পুরো অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায়। চতুর্থ দিনে গড়ানো এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছু পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান থেকে ছোড়া বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে জেরুজালেমও আছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুমকি মোকাবিলায় কাজ করছে। পরে তারা জানায়, তেহরান ও বৈরুতে একযোগে হামলা চালানো হচ্ছে।

রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, দুটি ড্রোন রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আঘাত হানে এবং আগুন ধরে যায়। দূতাবাস হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

এছাড়া কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, খুব শিগগিরই রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন হামলার জবাব দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযান হবে ‘দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক’।

তিনি যোগ করেন, হয়তো কিছু সময় লাগবে, তবে বছরের পর বছর ধরে চলবে না।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ‘কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রগুদাম’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত লেবাননি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েলের ওপর তাদের রকেট ও ড্রোন হামলা ছিল ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’।

ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে তা ‘অকার্যকর’ করেছে।

তবে আইআরআইবি টেলিগ্রামে জানায়, তেহরানে তাদের সদর দপ্তরের কাছে বিস্ফোরণ হলেও সম্প্রচারে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানায়, যুদ্ধের তৃতীয় দিনে ইরানে ১০১ জন হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১১ জন সামরিক সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, যুদ্ধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ইরানে ১ হাজার ২৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল কমান্ড সেন্টার, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন, এবং অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র সাইট।