27.7 C
Dhaka
Home Blog

মেরিলিন মনরোর শততম জন্মদিনে হলিউডের নানা আয়োজন

আজ থেকে ঠিক ১০০ বছর আগে জন্ম নিয়েছিলেন হলিউডের ক্ষণজন্মা তারকা মেরিলিন মনরো।

শততম জন্মবার্ষিকীতে মেরিলিনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে  উৎসবে মাতবে হলিউড। 

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

ঐতিহাসিক চৈনিক থিয়েটারে ভক্তরা সমস্বরে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গেয়ে উঠবেন। একই কায়দায় বহু বছর আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মেরিলিন। সে ঘটনাকে স্মরণ করতেই এই আয়োজন। 

সেখানে মেরিলিন ও ‘জেন্টেলমেন প্রেফার ব্লন্ডস (১৯৫৩)’ সিনেমার সহ-অভিনেতা জেইন রাসেলের হাতের ছাপ রাখা আছে। 

হলিউডের সোনালী যুগের প্রতীক হিসেবে একশোটি গোলাপ ও একটি কেক সেখানে রাখা হবে। 

সংশ্লিষ্টদের মত, মেরিলিনের জন্মশতবার্ষিকীকে ঘিরে অসংখ্য পর্যটক হলিউডে যেতে উৎসাহিত হবেন। 

রোববার থেকেই মেরিলিনের প্রতি সম্মান জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

অ্যাকাডেমি মিউজিয়ামে ‘মেরিলিন মনরো: হলিউড আইকন’ নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে রুপালী পর্দায় তার ক্যারিয়ার ও সংক্ষিপ্ত জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। 

পঞ্চাশের দশকে ‘সুপারস্টার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার অল্প কিছুদের মধ্যে অতিরিক্ত মাদক সেবনের জেরে মারা যান এই অভিনেত্রী ও মডেল। 

১৯৬২ সালের আগস্টে ব্রেন্টউডে নিজের বাড়িতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যা। সে সময় মেরিলিন মনরোর বয়স মাত্র ৩৬।  

অ্যাকাডেমি মিউজিয়ামে পুরো মাসজুড়ে তার বিখ্যাত কয়েকটি সিনেমা দেখানো হবে। এগুলোর মধ্যে আছে ‘দ্য অ্যাসফল্ট জাঙ্গল (১৯৫০)’, ‘নায়াগ্রা (১৯৫৩)’, ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ (১৯৫৫)’, সাম লাইক ইট হট (১৯৫৯)’ এবং ‘দ্য মিসফিটস (১৯৬১)’। 

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চালু থাকবে। 

এতে মেরিলিন মনরোর ব্যবহার করা অনেক জিনিসপত্র প্রদর্শন করা হবে। যেমন ‘জেন্টেলমেন প্রেফার ব্লন্ডস’ সিনেমায় ‘ডায়মন্ডস আর আ গার্লস বেস্ট ফ্রেন্ড’ গানের চিত্রায়নের সময় তার পরনে থাকা বিখ্যাত গোলাপি পোশাক। 

৪ জুন মেরিলিনের ব্যবহার করা ২০০টি জিনিস নিলাম তোলা হবে। 

একই নিলামকে ‘মেরিলিনের ১০০ বছর’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। 

নিলামে উঠতে যাওয়া উপকরণের মধ্যে আছে অপ্রকাশিত ছবি, একটি অসম্পূর্ণ শর্ট ফিল্ম ‘সামথিং’স গট টি গিভ’, হাতে লেখা রেসিপি ও তার ব্যবহার করা এলিজাবেথ আরডেন লিপস্টিক।  

ইরানে এখনই স্থল অভিযানের কথা ভাবছেন না ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমন্বিত আগ্রাসনের আজ সপ্তম দিন। এই পুরোটা সময় মূলত যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ওই দুই দেশ। 

স্থল অভিযান চালানোর কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখায়নি দেশ দুইটি। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে,  ইরানে মার্কিন সেনা পাঠিয়ে স্থল অভিযান চালানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবাও সময় নষ্ট। 

আজ শুক্রবার এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। 

এনবিসিকে ফোনে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা সব হারিয়েছে। তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে। যা যা হারানো সম্ভব, তার সবই তারা হারিয়ে ফেলেছে।’

এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুশিয়ারি দেন, ‘আগ্রাসীরা’ স্থল হামলা চালালে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। 

আরাঘচির মতকে ট্রাম্প ‘অযাচিত মন্তব্য’ আখ্যা দেন। 
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোর ধ্বংস দেখতে আগ্রহী। 

‘আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে সব কিছু সাফ করে ফেলতে চাই’, যোগ করেন ট্রাম্প। 

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কাউকে চাইনা যে ১০ বছরের মধ্যে আবারো সবকিছুকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে।’

ইরানের নতুন নেতা কে হতে পারেন, সে বিষয়ে ট্রাম্পের কিছু চিন্তা আছে তবে কারো নাম জানাতে অস্বীকার করেন তিনি। 

এর আগে ট্রাম্প দাবি জানান, ‘ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত থাকতে হবে।’

আজ শুক্রবার তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। 

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ক্ষমতাসীনদের বিভিন্ন অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং এটা চলমান যুদ্ধের ‘নতুন পর্যায়’। 

উচ্ছেদ অভিযানে ইউএনওর সঙ্গে বিএনপি নেতার বাকবিতণ্ডা

ঢাকার সাভারে মহাসড়কের পাশে অবৈধ দখলদার ও হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় এক বিএনপি নেতার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাকবিতণ্ডা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে নির্মাণ সামগ্রী রাখাকে কেন্দ্র করে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় সাভারের ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ধামশোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদের এই বাকবিতণ্ডা হয়।

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইউএনও উপস্থিত পুলিশ সদস্যকে বলেন, ‘ওনাকে হাতকড়া দেন। সরকারি রাস্তা আটকানোর কারণে ওনাকে গ্রেপ্তার করা হলো। হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে গাড়িতে ওঠান উনাকে।’

এ সময় ডা. আসাদউল্লাহ ইউএনওকে বলেন, ‘শুনেন আমি রাখছি এটা (নির্মাণ সামগ্রী), সরায়ে দিমু। কিন্তু আপনি যেটা বলতেছেন, এটা কিন্তু একটু অনধিকার হয়ে যাচ্ছে।’

তখন ইউএনও বলেন, ‘কীসের অনধিকার? রাস্তা আটকানো সবার জন্যই অপরাধ।’

এই বাকবিতণ্ডার শুরু কীভাবে হয়েছে তা জানতে চাইলে ঘটনার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়কের পাশে হকার ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছিলেন ইউএনও। ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদের মালিকানাধীন গনী জেনারেল হাসপাতালের সামনে মহাসড়কের পাশে খোয়া ও বালু রেখে চারতলা হাসপাতাল ভবনের উপরের দুইতলার নির্মাণকাজ চলছিল।

তারা জানান, অভিযানের সময় ডা. আসাদউল্লাহকে ডেকে এনে ইউএনও জানতে চান, কেন মহাসড়কের ওপর খোয়া ও বালু রাখা হয়েছে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘সবাই রাখছে তাই আমিও রাখছি।’ একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

এ বিষয়ে ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার হাসপাতালের চারতলা ভবনের উপরের দুতলার নির্মাণ কাজ চলছে। সেটারই নির্মাণ সামগ্রী হাসপাতালের সামনে রাখা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ইউএনও সাহেব নির্মাণ সামগ্রী সরাতে বলেন। আমি বলেছি সরিয়ে দিব। তারপরও তিনি আমাকে গ্রেপ্তার করতে চেয়েছেন এবং আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। আমি ওনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি।’

ইউএনও সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা মহাসড়কের পাশে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছি। তিনি (ডা. আসাদউল্লাহ) মহাসড়কের অনেকাংশ দখল করে ইটের খোয়া ও বালু ফেলে রেখেছিলেন। আমি সেগুলো সরিয়ে নিতে বলেছি। একটু রাগারাগি করেছি।’

আইডিয়া চুরি করছে এআই, গবেষকদের শঙ্কা

গবেষণার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করছেন অনেক বিজ্ঞানী। কেউ নতুন ধারণা নিয়ে এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। কেউ গবেষণার তথ্য খোঁজেন। আবার কেউ নিজের লেখা ঠিক করতে এআইয়ের সাহায্য নেন।

কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে, এআইকে নিজের গবেষণার কথা জানালে সেই ধারণা নিজেদের কাজ ব্যবহার করে কিনা?

সায়েন্টিফিক আমেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গবেষকদের দেওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মডেলের সফলতা হিসেবে দেখাচ্ছে।

যেমন ওপেনএআই দাবি করেছে, তাদের একটি এআই মডেল গণিতের মিলিয়ন ডলারের একটি সমস্যার সমাধান করেছে। এরপর নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গণিতবিদ সন্দেহ প্রকাশ করেন। তার ধারণা, চ্যাটবটের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া তার গবেষণার সঙ্গে এই সাফল্যের সম্পর্ক আছে। কারণ তিনি এটা চ্যাটবটে আলোচনা করেছিলেন।

কয়েকসপ্তাহ পর নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় আরেকটি ঘটনা প্রকাশিত হয়। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জীববিজ্ঞানীর গবেষণা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি একদল এনজাইম নিয়ে কাজ করছিলেন। এনজাইম হলো জীবদেহে বিভিন্ন রাসায়নিক কাজ ঘটাতে সাহায্যকারী পদার্থ।

তবে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গবেষকদের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে তারা নিজেদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেয়নি।

এমন বিতর্কের পরও বিজ্ঞানীরা এআই ব্যবহার করছেন। কেউ গবেষণাপত্র খুঁজছেন। কেউ নিজের ধারণা যাচাই করছেন। আবার কেউ জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান বের করছেন।

কিন্তু এআইকে গবেষণার তথ্য দেওয়ার পর সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট তথ্য প্রকাশ করে না বলে অভিযোগ গবেষকদের।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইনস্টিটিউটের গবেষক জেনিফার কিং বলেন, ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার সম্পর্কে নানা ধারণা তৈরি করতে পারে এআই। কিন্তু এসব ধারণা কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তা সব সময় জানানো হয় না।

কিংয়ের পরামর্শ, এআই ব্যবহারের আগে অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত সেটিংস দেখে নেওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি বিশেষ অ্যাকাউন্টে তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিজের তথ্য দিয়ে এআই প্রশিক্ষণ বন্ধ করতে অনেক সময় ব্যবহারকারীকে নিজেই সেটিংস বদলাতে হয়।

আরেকটি বিষয় নিয়েও উদ্বেগ আছে। কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছে করে ব্যবহারকারীর তথ্য দিয়ে এআইকে প্রশিক্ষণ না দিলেও, অন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

গবেষণার কাজ দ্রুত করতে এআই সাহায্য করছে। তাই বিজ্ঞানীরা এখন উভয় সংকটে। এআই ব্যবহার করলে গবেষণার গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় থাকে। আবার ব্যবহার না করলে অন্য কেউ এআইয়ের সাহায্যে আগেই একই গবেষণার করতে পারেন।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক কম্পিউটারবিজ্ঞানী ক্লেমঁ কানোন বলেন, এআই ব্যবহার না করলে গবেষণার জগতে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা আছে। ফলে বিজ্ঞানীরা এক ধরনের দ্বিধায় পড়েছেন।

সায়েন্টিফিক আমেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু এর সঙ্গে বেড়েছে তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ। গবেষকদের ধারণা ও তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেই।

গ্রামীণ নারীরাই গ্রামের প্রাণসঞ্জিবনী ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’

মাছ, পাখি, ধান, শামুক, মৌমাছি কিংবা মানুষ—আমাদের শরীর লাখো কোটি কোষের এক একটি জীবন্ত বই। কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস, ডিএনএ থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়ারাই শক্তি জুগিয়ে প্রতিটি প্রাণকে জীবন্ত রাখে। তাই একে কোষের শক্তিঘর বলে। প্রকৃতি ও মানুষের সমাজ নিয়ে একটি গ্রামকে যদি জীবন্ত বই ধরা হয়, তাহলে সেই গ্রামের নারীরা হলো তার মাইটোকন্ড্রিয়া—গ্রামের শক্তিঘর।

কৃষিকাজ, ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশন, ভেষজ চিকিৎসা, বীজ সংরক্ষণ, মাছ ও বুনো খাদ্য সংগ্রহ, প্রাণিসম্পদ পালন, সেলাই ও রন্ধন, কুটিরশিল্প, লোকসংস্কৃতি চর্চা, দুর্যোগ সামাল কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভেতর দিয়ে এই নারীরা বাঁচিয়ে রাখছেন গ্রামের পর গ্রাম। বাংলাদেশের প্রায় ৯০ হাজার গ্রামের প্রাণশক্তি গ্রামীণ নারীরাই। এই মাইটোকন্ড্রিয়াদের নিরবচ্ছিন্ন অবদানের কারণেই পরিবার, সমাজ ও গ্রামগুলো জীবন্ত থাকে। কিন্তু গ্রামীণ নারীর এই অবদান, জ্ঞান প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা অধিপতি কাঠামোতে বরাবরই অস্বীকৃত ও প্রান্তিক।

একটি কোষের ভেতর নিউক্লিয়ার ডিএনএ মূলত বংশগতির ভাণ্ডার। তবে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএও আমাদের বংশগতি বহন করে। কেবল মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএই লাখো বছর ধরে মাতৃসূত্রীয় ধারায় কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য বংশ থেকে বংশে জীবন্ত রাখে। আর এই স্মৃতিস্বাক্ষ্য কেবলমাত্র নারীর মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএই বহন করে। প্রকৃতিজগতের মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো আমাদের সাংস্কৃতিক পরিসরেও গ্রামীণ নারীরা সমাজের লোকায়ত জ্ঞানধারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে চলেছেন। বিশেষ করে ফসলের জাত বাছাই ও বীজ নির্বাচন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ধাত্রীবিদ্যা, বয়ন ও রন্ধনশিল্প কিংবা ভেষজ চিকিৎসার মতো জটিল জ্ঞানচর্চা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এখনো সাবঅল্টার্ন গ্রামীণ নারীর ডিসকোর্স।

কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া রুগ্ন হলে বা ক্ষয়ে গেলে কোষ বিপদগ্রস্থ হয়, শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে গ্রামীণ নারীর বিপদ, সংকট, বঞ্চনা, বৈষম্য, নিপীড়ন, প্রান্তিকতা ও অপরায়নের ওপর নির্ভর করে কোনো গ্রামের নিরাপদ ও সুস্থ বিকাশ। শরীরকে বুঝতে হলে কোষ-বই পাঠ করতে হয়, সমাজ বুঝতে হলে গ্রামীণ নারীর অবদান ও আওয়াজকে পাঠ করা জরুরি।

২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সালে প্রথম দিবসটি পালনের বৈশ্বিক চল শুরু হওয়ার পর থেকে ১৫ অক্টোবর কেবলমাত্র গ্রামীণ নারীর অবদানের স্মরণের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং কৃষি, খাদ্য ব্যবস্থা, জলবায়ু ও সামগ্রিক উন্নয়নে গ্রামীণ নারীর অবদান ও নেতৃত্বের প্রশ্নটি সামনে আনার এক বৈশ্বিক মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরে গ্রামীণ নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামীণ নারীর উত্থান: বেইজিং +৩০ এর মাধ্যমে সহনশীল ভবিষ্যত নির্মাণ’। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রামে গ্রামে এই দিবসটি আয়োজন করে না। অথচ এশিয়ার সবচেয়ে বড় গ্রাম বানিয়াচং বাংলাদেশেই। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ১৩টি স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে। নারী ও শিশু কল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পল্লী অবকাঠামো স্ট্যান্ডিং কমিটি তো দিবসটি আয়োজন করতে পারে! গ্রামের সব শ্রেণি-পেশা-বর্গের নারীদের জমায়েত করতে পারে। গ্রামীণ উন্নয়নে তাদের অবদান ও বঞ্চনার গল্পগুলো শুনতে পারে। এখান থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ বাৎসরিক পরিকল্পনা ও বাজেট করতে পারে। আর গ্রাম থেকে উঠে আসা নারীদের শক্তিময় বয়ানেই তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ও ইনক্লুসিভ জাতীয় উন্নয়ন রূপরেখা।

২০২৬ সালকে জাতিসংঘ ‘আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে চলতি বছরে পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক চারণভূমি ও পশুচারণজীবী বর্ষ’। আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান নয়। বরং প্রতিদিন কর্মক্ষেত্র সংকোচন, মজুরিবৈষম্য, ঋণের চাপ ও জলবায়ু সংকটের কারণে গ্রামীণ নারীরা শহরে এসে ‘পরিচয়’ হারিয়ে ফেলছেন। গ্রামীণ ব্যবস্থার প্রতি চরমভাবে অমনোযোগী উন্নয়ননীতি এবং পুরুষতান্ত্রিক বলপ্রয়োগ সামগ্রিক উন্নয়নকে বাইনারি, উপনিবেশিক, বর্ণবাদী ও বৈষম্যের চশমা দিয়ে দেখে। সমাজ, রাষ্ট্র ও করপোরেট বৈষম্যের এই চশমা ভাঙতে হবে। অবদানের স্বীকৃতিসহ সামগ্রিক পরিসরে গ্রামীণ নারীর ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পদে প্রবেশাধিকার ও মালিকানার অমীমাংসিত তর্ক

গ্রামীণ নারীর শ্রমকে অস্বীকার ও আড়াল করলে আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা কী টিকে থাকবে? বিশ্বে কর্মরত নারীদের প্রায় ৩৬ শতাংশ গ্রামীণ কৃষি-ব্যবস্থায় জড়িত। দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার অনেক বেশি, প্রায় ৭১ শতাংশ (এফএও ২০২৩)। গ্রামীণ নারীরা শুধু বসতভিটা, কৃষিজমি, ঘের, চা-বাগান কিংবা খামারে কাজ করেন না; তাদের কর্মক্ষেত্র বহুমুখী ও বহুস্তরীয়। কিন্তু নিদারুণভাবে গ্রামীণ নারীর এই বহুমুখী শ্রম ও মেধার অবদান সর্বপরিসরে স্বীকৃত নয়।

গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, কৃষিতে বিশ্বব্যাপী নারীর শ্রমশক্তি ৪০ শতাংশ হলেও মাত্র ১৫ ভাগ নারীর হাতে কৃষিজমির মালিকানা আছে। উৎপাদন থেকে পরিবেশন সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থায় মালিকানা ও সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রশ্নে গ্রামীণ নারীর অধিকার রুদ্ধ ও সীমিত।

নানা গবেষণায় প্রমাণিত যে, পুরুষের তুলনায় গ্রামীণ নারীকে মজুরি কম দেওয়া হয়। দেখা গেছে, এই মজুরিবৈষম্যের কারণে আকারে এক হলেও পুরুষের তুলনায় নারী পরিচালিত খামারে উৎপাদন কমে যায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২৬ সালের এক গবেষণা জানায়, এই উৎপাদনশীলতার ব্যবধান প্রায় ২৪ শতাংশ। অথচ নারীরা যদি পুরুষের সমান সম্পদের অধিকার পেতেন তবে উৎপাদন আরও ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে যেত এবং এই বাড়তি উৎপাদন দিয়ে বিশ্বের আরও ১৫ কোটি মানুষের আহার জোগান দেওয়া যেত। কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় নারী-পুরুষের সমমজুরি, সমান অংশগ্রহণ, মালিকানার অধিকার নিশ্চিত হলে বৈশ্বিক জিডিপি প্রায় ১ শতাংশ বাড়বে এবং প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

নানামুখী চাপ ও বোঝা বাড়ছে

২০২২ সালের জনশুমারি মতে, বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় বাস করেন প্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ নারী, যা গ্রামীণ জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। কৃষি ও গ্রামীণ খাদ্য ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও অবদান থাকলেও কৃষক হিসেবে গ্রামীণ নারীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। জাতিসংঘের বাংলাদেশ কার্যালয়ের ২০২৬ সালের তথ্য মতে, দেশের কৃষি শ্রমশক্তির প্রায় ৫৮ শতাংশ নারী।

বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীর এই বিপুল কৃষি-অর্থনৈতিক অবদান জিডিপির বিশাল ধারাপাতে হিসাব করা হয় না। পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের এক হিসাব দেখায়, গৃহস্থালি শ্রমে নারীর আর্থিক অবদান প্রায় ৬ দশমিক ৭ লাখ কোটি টাকা। কৃষিজমি, কৃষিঋণ, কৃষি উপকরণ, সেচ, প্রযুক্তি, বাজার, কৃষিসেবাসহ ডিজিটাল প্রযুক্তিতেও নারীর প্রবেশাধিকার ও কার্যকর অংশগ্রহণ এখনো পুরুষের তুলনায় কম। একইসঙ্গে কাঠামোগত বৈষম্যের কারণে পুরুষের চেয়ে নারীর ওপর পারিবারিক ও গৃহস্থালি কাজের বোঝা বেশি।

গ্রামীণ নারীর সংকট ও চ্যালেঞ্জ কেবলমাত্র সম্পদ ও মালিকানার নয়; বরং স্বীকৃতি ও মর্যাদার অভাবই গ্রামীণ নারীকে আরও বেশি প্রান্তিকতর করে তুলে। নানান সামাজিক, বর্গীয়, পেশাগত ও ভৌগোলিক বঞ্চনার কারণে বহু নারীর কৃষি উৎপাদন কর্মক্ষেত্রও বাধার সম্মুখীন হয়। কৃষক হিসেবে অস্পষ্ট ও দুর্বল পরিচয় রাষ্ট্রীয় কৃষিসেবা, কৃষক কার্ড, ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ কিংবা সৃজনশীল উদ্যোক্তা তৈরিতে গ্রামীণ নারীকে বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। গ্রামীণ নারীর ওপর নানামুখী চাপ ও কাজের বোঝা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জলবায়ু সংকটের কারণে উপকূল, পাহাড়, বরেন্দ্র বা নগরবস্তির নারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক কলস পানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়, হাঁটতে হয় মাইলের পর মাইল। এমনকি দুর্যোগের সময় হাঁস-মুরগি, গৃহস্থালি সম্পদ সামলে পরিবার-পরিজনকে নিরাপদে সরিয়ে সব নারী আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেন না। গ্রামীণ নারীর কৃষি, কুটিরশিল্প, চিকিৎসা, রেসিপি ও সৃজনশীল চর্চার নকশা ও লোকায়ত জ্ঞান নারীদের অনুমতি ছাড়াই হরহামেশা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয়, যা নারীর লোকায়ত জ্ঞানের মেধাসম্পদ অধিকারের লঙ্ঘন।

গ্রামীণ নারী দিবসের ডাক

প্রতিদিন কৃষিজমি হারানো ‘কৃষিপ্রধান’ দেশের হরদম চাপ সামলানো একজন গ্রামীণ নারীর কাছে এই দিবসের বার্তা খুব জরুরি না হলেও, গ্রামীণ নারীর আয়নায় কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা দেখার দাবি এই দিবসের অঙ্গীকার হতে পারে। ‘অদৃশ্য শ্রমিক’ নয়; গ্রামীণ নারীকে কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত দানকারী কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। একইসঙ্গে নারীর কৃষি জ্ঞান, বীজ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজন চর্চা বিকাশে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা জোরদার করতে হবে।

জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদে (সিডও) গ্রামীণ নারীর কৃষি, ভূমি, ঋণ, পানি, স্যানিটেশন, প্রযুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা ও সিদ্ধান্তগ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) নারীর কৃষিজমির মালিকানা ও নিরাপদ অধিকারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে যুক্ত। বাংলাদেশের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিতে (২০১১) কৃষিতে নারীর শ্রম ও অবদানের স্বীকৃতি, সমমজুরি, কৃষি উপকরণ ও ঋণে নারীর সমান সুযোগের কথা বলা হয়েছে। জাতীয় কৃষি নীতির (২০১৮) একটি বিশেষ অধ্যায় হলো ‘কৃষিতে নারী’।

জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতি ও সনদে বহু অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। গ্রামীণ নারীকে উন্নয়নের ‘সুবিধাভোগী’ হিসেবে নয়; নির্মাতা হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে। গ্রামীণ নারী কেবলমাত্র ভালো আহারই জোগায় না; বরং বীজ ও প্রাণসম্পদের বৈচিত্র্য, লোকায়ত জ্ঞান ও স্থানীয় পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। কাঠামোগত বঞ্চনা ও জলবায়ু সংকট সামাল দিয়ে মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো শক্তিঘর হয়ে জাগিয়ে রাখে পৃথিবী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী-আমানসহ নতুন ৪ সদস্য

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন চার সদস্য যুক্ত হয়েছেন।

তারা হলেন—বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএনপির সহকারী দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও গতিশীলতা আনতের দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এই চার নেতাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমান উল্লাহ আমান এর আগে ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং ড. ফারহাদ হালিম একই ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসমাইল জবিউল্লাহ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

৩৭০০ কুমির নিয়ে কেমন চলছে ভালুকার ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’

ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত দেশের প্রথম বাণিজ্যিক কুমিরখামার ‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’ বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, ঘন ঘন মালিকানা পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় চরম ব্যবসায়িক মন্দার কবলে পড়েছে।

১৫ একর জমির ওপর দুই দশকেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত কুমির প্রজনন খামারটি দীর্ঘ সময়েও প্রত্যাশিত সাফল্যের মুখ দেখেনি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত চারবার খামারটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিবর্তন হলেও এর ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন ঘটেনি।

করোনা মহামারির সময় খামারটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এর পাশাপাশি অসংখ্য কুমির মারা যায়। ফলে এক সময়ের সম্ভাবনাময় এই খামার থেকে কুমিরের চামড়া রপ্তানির কার্যক্রম বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

খামারের ব্যবস্থাপক ড. আবু সাইম মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ব্যবসার জন্য মহামারি ছিল দুঃস্বপ্ন, আমরাও এর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিলাম না।’

তিনি জানান, বর্তমানে খামারে প্রায় তিন হাজার ৭০০ কুমির রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১০০টি প্রজনন পর্যায়ে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০টি কুমিরের চামড়া সংগ্রহযোগ্য। চামড়া সংগ্রহের উপযোগী হতে একটি কুমিরের প্রায় তিন বছর সময় লাগে। তবে প্রজননক্ষম হতে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ বছর। বর্তমানে খামারে থাকা কুমিরের সংখ্যা এর ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক কম।

ড. আরিফ বলেন, ‘খামারের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার কুমির। শুরুতে আমরা ২০ হাজার কুমিরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম, কিন্তু তা এখনো পূরণ হয়নি।’

খামারটি ২০২২ সালে ৪০০টি কুমিরের চামড়া রপ্তানির বকেয়া অর্ডার পূরণ করতে পারেনি। এ ছাড়া ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ৫০০টি চামড়া রপ্তানির পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে, অর্থাৎ মহামারির আগে, খামারটি কুমিরের চামড়া রপ্তানি করে।

প্রথম ২০১৪ সালে এই খামার থেকে জাপানে ৪৩০টি কুমিরের চামড়া রপ্তানি হয়, যার মূল্য ছিল প্রায় দুই লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট এক হাজার ৫০৭টি চামড়া রপ্তানি করা হয়েছে, যা বছরে এক হাজারটি চামড়া রপ্তানির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে বার্ষিক চামড়া রপ্তানি শূন্যে নেমে এসেছে বলে জানান ডা. আরিফ।

আন্তর্জাতিক বাজারে একটি কুমিরের চামড়ার গড় মূল্য ৬০০ থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার। এসব চামড়া দিয়ে বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ, ওয়ালেট, বেল্ট, বুটসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা হয়ে থাকে।

অস্থির যাত্রাপথ

প্রয়াত লেখক মুশতাক আহমেদ এবং উদ্যোক্তা মেসবাহুল হক ২০০২ সালে কুমির খামার স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ২০০৪ সালের মে মাসে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে তারা যৌথভাবে পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগে খামারটি চালু করেন, যার ৪৯ শতাংশ অর্থায়ন ছিল সরকারের ইকুইটি অ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনার ফান্ড (ইইএফ) থেকে সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে।

এরপর ২০১২ সালে খামারটি পিকে হালদারের কাছে বিক্রি করা হয়। ২০২০ সালে পিকে হালদারের দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তার মালিকানা বাতিল করা হয়। আইনি জটিলতার কারণে প্রায় দুই বছর খামারটি পরিত্যক্ত ছিল। পরে ২০২২ সালে হাইকোর্ট একটি কমিটি গঠন করেন খামার পরিচালনার জন্য।

খামারের কাছে ১০০ কোটিরও বেশি টাকা পাওনা থাকায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) ২০২৩ সালে নিলামের মাধ্যমে খামারটি বিক্রি করে দেয়।

বেসরকারি সংস্থা ‘উদ্দীপন’ বর্তমানে খামারটির মালিক। নতুন মালিক এখনো খামারের ব্যবসা পুনরায় চালু করতে পারেনি এবং উচ্চ পরিচালন ব্যয়ের কারণে খামারটি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

উদ্দীপনের প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপদেষ্টা মীর খায়রুল আলম জানান, ব্যবসা পুনরায় চালু করতে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

মালিকানা পরিবর্তনের কারণে কুমিরের চামড়া রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে নতুন করে সার্টিফিকেশন নিতে হবে। এ জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, খামারটিকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধনের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘খামারটি স্থবির অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় আমরা ব্যবসা করতে পারছি না অথচ কুমিরগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।’

অপার সম্ভাবনা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো রফিকুল আলম বলেন, এই খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে হলে সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু চামড়ার ওপর নির্ভর না করে উপজাত পণ্য এবং কুমিরের মাংসের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

খুলি, হাড়, নখ এবং চামড়ার বর্জ্য দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে প্রতিটি কুমির থেকে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ ডলার আয় করা সম্ভব। কুমিরের হাড় দিয়ে তৈরি চারকোল বিশ্বজুড়ে পারফিউম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

তিনি আরও বলেন, কুমিরের মাংস অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে খাওয়া হয় যেখানে প্রতি কেজির দাম ৩০ থেকে ৩৫ ডলার।

এই অধ্যাপক বলেন, বাংলাদেশে কুমিরের মাংস রপ্তানির অনুমতি না থাকায় চামড়া সংগ্রহের পর তা ফেলে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভিজাত হোটেলগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের জন্য এই মাংস সরবরাহ করা যেতে পারে যা থেকে বছরে ৫ থেকে ৬ মেট্রিক টন মাংস বিক্রি করে ভালো আয় করা সম্ভব।

একটি কুমিরকে তিন বছর লালন-পালনের খরচ প্রায় ৩০০ ডলার এবং চামড়া বিক্রি করে ৬০০ থেকে ৭০০ ডলার আয় করা সম্ভব বলে জানান ডা. আলম।

‘তোমরা আমাদের গর্বিত করেছ’: বিশ্বকাপ দলকে বীরোচিত সংবর্ধনা মিশরের

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ ১১ মিনিটে তিন গোল হজম করে হৃদয়ভাঙা বিদায় নিতে হয়েছিল মিশরকে। তবে সেই পরাজয় দেশের মানুষের চোখে তাদের কৃতিত্বকে একটুও ম্লান করতে পারেনি। বরং ইতিহাস গড়া এই দলকে বীরের মর্যাদায় বরণ করে নিয়েছে গোটা দেশ।

শুক্রবার উত্তর আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে হাজারো সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে জড়ো হন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানাতে। সমর্থকদের কণ্ঠে ছিল দেশাত্মবোধক গান, হাতে ছিল ‘মিশরের ছেলেরা আমাদের গর্বিত করেছে’ লেখা ব্যানার। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ছবিসংবলিত ‘ধন্যবাদ’ লেখা পোস্টারও দেখা যায় অনেকের হাতে।

বিমানবন্দর থেকে খেলোয়াড়দের একটি খোলা ছাদের বাসে করে নিউ আলামেইন শহর ঘুরিয়ে আনা হয়। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ হাত নেড়ে এবং করতালিতে বিশ্বকাপফেরত দলকে অভিনন্দন জানান। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির দলটির খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সমর্থকদের ভিড়ে কোচ হোসাম হাসানের বড় বড় ছবিও ছিল। কয়েকটি ছবিতে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়িয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে একাধিকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা গিয়েছিল মিশরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে। সংবাদ সম্মেলনেও তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

যদিও শেষ ষোলোতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে, তবু এটি ছিল মিশরের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় তারা। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ বত্রিশে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে বিদায় করে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় দলটি।

দলের দেশে ফেরার আগেই হোসাম হাসান ও তার যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসানের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে মিশর ফুটবল ফেডারেশন। চুক্তির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ২০৩০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন তারা।

২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫৯ বছর বয়সী হোসাম হাসানের অধীনে মিশর ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে খেলেছে, আট বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে। এখন পর্যন্ত ৩৫ ম্যাচে ২০ জয়, ৯ ড্র ও মাত্র ৬ হারের রেকর্ড গড়েছে।

 

ঈদের ৯ নাটকে ৯ রকম চরিত্রে কেয়া পায়েল

নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে বেশ এগিয়ে আছেন কেয়া পায়েল। কালেভদ্রে মডেলিংও করেন তিনি। তবে নাটকে অভিনয়ের ক্ষেত্রেই তাকে বেশি ব্যস্ত দেখা যায়। 

বছরজুড়ে তার নাটক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদের নয়টি নাটকে অভিনয় করেছেন। নয়টি নাটকে নয় রকম চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

ঈদের নাটক নিয়ে কেয়া পায়েল কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

কেয়া পায়েল ঈদের নাটক সম্পর্কে বলেন, ‘ঈদে বেশ কিছু কাজ করেছি। কোনোটা ঈদের আগে শুটিং করেছি, আবার কোনোটা হয়তো আরও আগে করেছি। সব মিলিয়ে নয়টি নাটক প্রচার হচ্ছে। দর্শকরা প্রতিটি নাটকে আমাকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখবেন। কোনো নাটকের সঙ্গে অন্য নাটকের মিল নেই, ভিন্নতা আছে।’

ভিন্ন ভিন্ন নাটকের চরিত্রগুলো করার সময় কতটা উপভোগ করেছেন? এর জবাবে কেয়া পায়েল বলেন, ‘অবশ্যই কাজগুলো উপভোগ করেছি। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা আছে বলেই কাজ করতে পারছি। অভিনয় ভালোবাসি। প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে। শুটিংয়ের সময় অনেক উপভোগ করেছি।’

এবারের ঈদে কেয়া পায়েল অভিনীত নয়টি নাটক হচ্ছে—’বুকের ভিতর আগুন’, ‘বেখেয়ালি’, ‘সুখের গল্প’, ‘ডুব’, ‘নোটবুক’, ‘যত্নে থাকো’, ‘অপরাজিতা’, ‘ছুঁয়ে দে আমায়’ এবং ‘পাল্লু বিল্লুর বিয়ে’। 

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কাজই যত্ন করে করা হয়েছে। এবার অনেক ভালো ভালো কাজ হয়েছে।’

নিজের অভিনীত নাটক দেখার বিষয়ে কেয়া পায়েল বলেন, ‘আমার অভিনীত নাটকগুলো দেখছি। আরও যেগুলো প্রচার হবে, সেগুলোও দেখব। পাশাপাশি অন্যদের নাটকও দেখছি।’

কাছের মানুষদের কাছ থেকে ঈদের নাটক নিয়ে কী ধরনের ভালোবাসা পাচ্ছেন? এর জবাবে কেয়া পায়েল বলেন, ‘ভালো ফিডব্যাক পাচ্ছি। সবাই ভালো বলছেন। সবগুলো নাটক প্রচার শেষ হলে আরও বিস্তারিত মতামত জানতে পারব।’

এদিকে, এবারের ঈদের ছুটিতে ঢাকায় আছেন কেয়া পায়েল। পরিবারের সবার সঙ্গে সুন্দর সময় পার করছেন।

তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় পার করছি। কাজিনদের সঙ্গে সিনেমা দেখেছি। সবাই মিলে গল্প করছি। সুন্দরভাবে সময় কাটছে।’

কথায় কথায় কেয়া পায়েল ঈদের সালামি নিয়ে বলেন, ‘মা-বাবার কাছ থেকে সালামি পেয়েছি। তবে ছোটদের অনেক সালামি দিতে হয়েছে। বিষয়টা ভালোই লাগে।’

সবশেষে অভিনয় নিয়ে কেয়া পায়েল বলেন, ‘সবসময় ভালো ভালো কাজ করতে চাই। সেভাবেই পথ চলছি। দর্শকরা মনে রাখবেন এবং চ্যালেঞ্জ নেওয়া যায়—এমন কাজই আমাকে বেশি টানে।’

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর নতুন কমান্ডার কে এই আহমাদ ওয়াহিদি?

এক চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে আহমাদ ওয়াহিদি ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডারের দায়িত্ব নিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তার দেশের যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধে এরইমধ্যে ইরানে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহর হামলায় বিধ্বস্ত। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাও হামলায় নিহত হয়েছেন।

আইআরজিসির দায়িত্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, আইআরজিসির এলিট ফোর্স কুদসের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চালানো একটি ড্রোন হামলায় নিহত হন।

আইআরজিসির সর্ব সাম্প্রতিক প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার শুরুর দিকেই নিহত হন। ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় পূর্বসূরি হোসেন সালামিকে হত্যা করার পরই পাকপুরকে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

আইআরজিসির শীর্ষ পদে ঘন ঘন পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয়, ইরানের সামরিক কাঠামোর এই শক্তিশালী পদ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। এখন ওয়াহিদিকে এমন দায়িত্ব পালন করতে হবে, যা সোলাইমানির মতো প্রভাবশালী নেতাকেও করতে হয়নি। আর তা হলো এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তিকে নেতৃত্ব দেওয়া।

আহমাদ ওয়াহিদি কে?

গত ডিসেম্বরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে আহমাদ ওয়াহিদিকে মনোনীত করেছিলেন। এর আগে তিনি ইরানের সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সত্তরের দশকের শেষ দিকে আইআরজিসি গঠনের শুরুর সময় থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওয়াহিদি। আশির দশকে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে গোয়েন্দা ও সামরিক বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি এলিট কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দেন।

এরপর তিনি কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব সোলাইমানির কাছে হস্তান্তর করেন। সোলাইমানি ১৯৯৮ সালে দায়িত্ব নেন এবং ২০২০ সালে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের প্রভাব বিস্তারের মূল কারিগর হিসেবে পরিচিতি পান।

গত ডিসেম্বরে তিনি আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার সময় ওয়াহিদি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা করা হলো বিশ্বের মহত্তম গুণগুলোর মধ্যে একটি।

২০২৫ সালে ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামি বিপ্লবের ৪৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে তিনি সেই বিপ্লবকে ইতিহাস পরিবর্তনের আলো হিসেবে বর্ণনা করেন।

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াহিদি ইরানি প্রতিনিধি এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে গোপন আলাপ-আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এসব যোগাযোগ আলোচিত ‘ইরান-কন্ট্রা’ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যার মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তারা গোপনে ইরানে অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটে’র ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি আলফোনেহ আল জাজিরাকে বলেন যে, ওয়াহিদি সেই আলোচনায় জড়িত থাকার মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানেন।

মন্ত্রিসভায় ক্যারিয়ার

দুই পূর্বসূরির মতো ওয়াহিদি কেবল একজন সামরিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ভূমিকাতেও ছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের অধীনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং ২০২৪ সালে সেই পদ থেকে সরে যান।

আলফোনেহ আল জাজিরাকে বলেন, ওয়াহিদি একজন ‘দক্ষ আমলা’ এবং তার এই অভিজ্ঞতা তাকে ‘যুদ্ধকালীন অপরিহার্য নেতা এবং বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর একজন উপযুক্ত প্রধান কমান্ডার করে তুলেছে।’

তবে আইআরজিসি এবং রাজনৈতিক দপ্তরে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগও ওঠে।

২০০৯ সালের শেষদিকে আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে একটি রেড নোটিশ জারি করে। ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় তার নাম আসে, যেখানে ৮৫ জন নিহত হন।

ইরান এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইন্টারপোলের নোটিশটিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশব্যাপী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চুল পুরোপুরি না ঢাকার জন্য ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়েছিল।

মিডল ইস্ট নিউজ আউটলেট আমওয়াজের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শাবানি এক্সে এক পোস্টে ইঙ্গিত দেন, ওয়াহিদি তার পূর্বসূরীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী।

‘লোকটি অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠুর। ইসরায়েলি হামলার ফলে যেসব পদ খালি হয়েছে, সেখানে কট্টরপন্থীদের বসাতে তারা এক মুহূর্ত সময়ও অপচয় করছে না।’

ওয়াহিদির দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ

গত ডিসেম্বরে যখন প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ওয়াহিদিকে আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন, তখন তার অন্যতম প্রধান কাজ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত করা।

বিশ্লেষকরা বলেন, সরকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘ সময় কাজ করার সুবাদে ইরানের কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে ওয়াহিদির, যা এখন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মন্তব্য থেকে দায়িত্বের চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট হয়। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু সামরিক ইউনিট ‘স্বাধীন এবং কিছুটা বিচ্ছিন্ন’, যারা বেসামরিক সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সাধারণ নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে।

আইআরজিসির সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ-আলি জাফরি পরিকল্পনা করেই বাহিনীটিকে বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল যেন ‘শীর্ষ কমান্ড ধ্বংস হওয়া কিংবা খোদ রাজধানী তেহরানের পতনের মুখেও সংস্থাটি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াহিদি এই ধরনের ছড়িয়ে থাকা বা বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর কাজগুলো সমন্বয় করার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি। এক্ষেত্রে তিনি অন্যান্য কমান্ডার ও প্রবীণ সদস্যদের সাহায্য পাবেন, যারা একত্রে সংগঠনের ভেতরে একটি শক্তিশালী কিন্তু অনানুষ্ঠানিক সম্মিলিত নেতৃত্ব হিসেবে কাজ করেন।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির আলওয়ালিদ সেন্টার ফর মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের পরিচালক এবং ‘সেক্টেরিয়ানাইজেশন: ম্যাপিং দ্য নিউ পলিটিক্স অব দ্য মিডল ইস্ট’-এর লেখক নাদের হাশেমি আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের নেতারা আইআরজিসি প্রধান হিসেবে ‘সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত কাউকে’ খুঁজছেন। 

তিনি বলেন, ঠিক এমন একজনকে প্রয়োজন, যিনি শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর পরও বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা ধরে রাখবেন এবং ‘অসম সামরিক শক্তি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাধারণ সদস্যদের মনোবল চাঙা রেখে যুদ্ধ চালিয়ে নিতে উৎসাহিত করবেন।’

হাশেমি আরও বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা আইআরজিসির ওপর নির্ভরশীল। ঠিক এই ধরনের মুহূর্তের জন্যই তাদের তৈরি করা হয়েছিল। এই হামলা মোকাবিলা করে পাল্টা লড়াই করা এবং টিকে থাকার সক্ষমতার ওপরই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।’