26.2 C
Dhaka
Home Blog

এক বিশ্বকাপেই যত রেকর্ড এমবাপের

যেন স্বপ্নের মতো এক বিশ্বকাপ কাটাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে। অপরাজিত থেকে দল ফ্রান্স উঠে গেছে টানা তৃতীয় সেমিফাইনালে। ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে একগাদা রেকর্ডও ভেঙেছেন এই ফরাসি মহাতারকা। এক নজরে দেখে নেয়া যাক সেই রেকর্ডগুলো। 

ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: 

সেনেগালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে গোল করেই এই কীর্তি গড়েছেন এমবাপে। অলিভিয়ের জিঁরুকে টপকে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। ৫৬ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা এমবাপের ফ্রান্সের জার্সিতে গোল এখন ৬৪টি। ৫১ গোল নিয়ে তালিকার তিনে থিয়েরি অঁরি, ৪৪ গোল নিয়ে আতোয়াঁ গ্রিজমান আছেন চারে।   

বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা: 

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চেও ফ্রান্সের হয়ে এমবাপের চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি আর কেউ। সেনেগালের বিপক্ষে ওই গোল দিয়েই জাঁ ফন্তেইনের ১৩ গোল টপকে গিয়েছিলেন। মরক্কোর বিপক্ষে গোলের পর তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা এখন ২০। এই মুহূর্তে মেসির চেয়ে পিছিয়ে আছেন মাত্র এক গোলে। 

পেনাল্টি ছাড়া বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল: 

মরক্কোর বিপক্ষে গোল দিয়ে লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে এই রেকর্ডটিও এমবাপের। এমবাপের ২০ গোলের মধ্যে মাত্র তিনটি এসেছে পেনাল্টি থেকে, বাকি ১৭টি পেনাল্টি ছাড়া গোল। 

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোল: 

সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোলের প্রথমটি করে এই রেকর্ডের মালিক হয়েছেন এমবাপে। এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের নকআউটে মোট ১২টি গোল আছে এমবাপের, তাও মাত্র তিন বিশ্বকাপ খেলে। এর আগে ৮ গোল নিয়ে এই রেকর্ড ছিল দুই ব্রাজিলিয়ান লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিওর। 

সবচেয়ে বেশি গোলে অবদান: 

মরক্কো ম্যাচে উসমান দেম্বেলেকে করা অ্যাসিস্টের মাধ্যমে আরেকটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুইটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা ততোধিক গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে ৮ গোলের সাথে আছে ৩ অ্যাসিস্ট। ২০২২ এর কাতার বিশ্বকাপেও ৮ গোলের পাশাপাশি করেছিলেন ২ অ্যাসিস্ট।

ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ:

ফ্রান্সের হয়ে এমবাপের চেয়ে বিশ্বকাপে বেশি ম্যাচ খেলেননি আর কেউ। সাবেক অধিনায়ক হুগো লরিসের সাথে যুগ্মভাবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২০ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন এমবাপে। অবশ্য সেমিফাইনাল খেলতে নামলেই লরিসকে টপকে রেকর্ডটি একার করে নেবেন এমবাপে। 

নতুন জেমস বন্ডের খোঁজ শুরু, ০০৭ চরিত্রটি কেমন হবে

‘নামটা বন্ড, জেমস বন্ড’—দীর্ঘ ৬ দশক ধরে বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় এই ডায়ালগটি এবার কার কণ্ঠে শোনা যাবে?

১৯৬২ সালে ‘ড. নো’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথম জেমস বন্ড চরিত্রটির যাত্রা শুরু। এই চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেছিলেন শন কনারি। এরপর গত ৬ দশকে মোট ২৭টি সিনেমায় ৬ জন বিখ্যাত অভিনেতা এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

সবশেষ ২০২১ সালে ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমার মাধ্যমে ড্যানিয়েল ক্রেইগ বিদায় নিলে শূন্য হয়ে যায় জেমস বন্ডের সিংহাসন।

On this day in 2019, Daniel Craig filmed on the set of NO TIME TO DIE for the last time. This scene saw James Bond complete his mission with Paloma (Ana de Armas).

Watch the full documentary Being James Bond now on the 007 YouTube channel.#DanielCraig #JamesBond #NoTimeToDie pic.twitter.com/EWUmMOBLQG

— James Bond (@007) October 25, 2024

অবশেষে বন্ডপ্রেমীদের প্রায় ৫ বছর অপেক্ষার অবসান শেষ হচ্ছে।

শুরু হয়েছে পরবর্তী জেমস বন্ড চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী বাছাই বা অডিশন প্রক্রিয়া।

গত সপ্তাহে সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা ‘অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস’ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঘোষণা দিয়েছে ‘পরবর্তী জেমস বন্ডের খোঁজ শুরু হয়েছে।’

স্টুডিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ০০৭ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হলেও অডিশন চলার সময় কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে। সঠিক সময়েই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ০০৭ এর নাম প্রকাশ করা হবে।

গত বছর অ্যামাজন জেমস বন্ডের স্বত্ব কিনে নেওয়ার পর থেকেই বন্ড ব্র্যান্ডকে নতুনভাবে বাঁচিয়ে তুলতে একটি ক্রিয়েটিভ টিম গঠন করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন বিখ্যাত পরিচালক ডেনিস ভিলনেভ ও চিত্রনাট্যকার স্টিভেন নাইট।

অভিজ্ঞ কাস্টিং ডিরেক্টর নিনা গোল্ডের ওপর দায়িত্ব পড়েছে কয়েক ডজন সুদর্শন তরুণের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে একজনের হাতে ‘লাইসেন্স টু কিল’ তুলে দেওয়ার।

কিন্তু নতুন বন্ডের মধ্যে কী খুঁজছেন তারা, আর কার মধ্যেই বা আছে সেই গুণ?

বন্ড বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্দায় এই কালজয়ী গুপ্তচর হয়ে উঠতে নতুন অভিনেতার মধ্যে অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী থাকতে হবে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে নতুন ০০৭ এর মধ্যে যে ৫টি প্রধান গুণ থাকতে হবে তার তথ্য।

জেমস বন্ড ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতীক। তাই অ্যামাজন এই পরিচয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চায় না।

যদিও সম্ভাব্য অভিনেতাদের বেশিরভাগই যুক্তরাজ্যের। তবে অতীতে বাইরের দেশ থেকেও অভিনেতা নেওয়ার নজির রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার জর্জ ল্যাজেনবি একটি মুভিতে বন্ড হয়েছিলেন। আর আইরিশ অভিনেতা পিয়ার্স ব্রসনান চারটি মুভিতে এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দুজনই পর্দায় নিজেদের আসল উচ্চারণ কিছুটা বদলে ব্রিটিশদের মতো করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিনেতা যদি ব্রিটেনে পড়াশোনা করেন এবং উচ্চারণ ও আচরণে নিজেকে ব্রিটিশ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তার জন্ম কোথায়—সেটি বড় বিষয় নয়।

তবে উচ্চারণ যতই নিখুঁত হোক না কেন আমেরিকান অভিনেতাকে বন্ড হিসেবে সহজে মেনে নেবে না দর্শকরা।

চিত্রনাট্যকার ব্রুস ফেয়ারস্টেইন বিবিসিকে বলেন, ‘বন্ড আন্তর্জাতিকভাবে এত জনপ্রিয় হওয়ার বড় কারণ হলো, সে আমেরিকান নয়।’

জেমস বন্ড চরিত্রটি সাধারণত অভিজ্ঞ ও পরিণত বয়সের একজন মানুষ। যিনি সিক্রেট সার্ভিসে যোগ দেওয়ার আগে রয়্যাল নেভির কমান্ডার ছিলেন এবং ‘ডাবল জিরো’ স্ট্যাটাস পাওয়ার আগে পুরো পৃথিবী চষে বেড়িয়েছেন। ফলে বন্ড চরিত্রে অভিনেতাদের বয়স সাধারণত ২৯ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে থাকত।

তবে এবার নতুন প্রজন্মের দর্শকদের টানতে ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী বন্ডকে খোঁজা হচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

‘সাম কাইন্ড অব হিরো: দ্য রিমার্কেবল স্টোরি অব দ্য জেমস বন্ড ফিল্মস’ এর সহ-লেখক ম্যাথিউ ফিল্ড বলেন, ‘আমার ধারণা, নতুন জেমস বন্ডের বয়স হবে ৩০ বছরের নিচে।’

The master of the tie adjustment. We’re raising a martini to Pierce Brosnan on his birthday today. pic.twitter.com/UxSrF3pSsu

— James Bond (@007) May 16, 2026

তিনি আরও বলেন, ‘জেমস বন্ড চরিত্রটি কেবলমাত্র চার-পাঁচটি সিনেমার জন্য নয়। এটি আজীবনের দায়িত্ব। ব্রসনান ২৫ বছর আগে বন্ড জ্যাকেট তুলে রেখেছেন, কিন্তু আজও প্রতিটি সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে কথা বলতে হয় তাকে।’

ইতিহাস বলে, জেমস বন্ড চরিত্রটি কখনোই খুব বেশি বিখ্যাত তারকাদের কপালে জোটেনি।

বন্ডের মূল প্রযোজক অ্যালবার্ট আর ব্রকোলির বিশ্বাস ছিল, ‘বন্ড চরিত্রটাই আসল তারকা।’

জর্জ ল্যাজেনবি ছিলেন প্রায় অজানা মুখ। শন কনারি, টিমোথি ডালটন বা ড্যানিয়েল ক্রেগ অভিনয় জগতে পরিচিত হলেও তারা বন্ড হওয়ার আগে বড় মাপের তারকা ছিলেন না।

বন্ড বিষয়ক লেখক মার্ক এডলিটজ বলেন, অ্যামাজন সম্ভবত খুব পরিচিত কাউকে নেবে না। বরং এমন কাউকে নেবে যিনি প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ, কিন্তু এখনো পুরোপুরি তারকা হয়ে ওঠেননি।

তার মতে, নতুন বন্ড তারকাকে নিয়ে দর্শকদের মনে আগে থেকে কোনো বদ্ধমূল ধারণা না থাকলেই ভালো। কারণ বন্ডের মধ্যে কিছুটা রহস্য থাকা দরকার

পরিচালক এডগার রাইটের মতে, প্রতিটি নতুন বন্ডের সঙ্গে চরিত্রের মেজাজেও পরিবর্তন আসে।

ড্যানিয়েল ক্রেগের সময়ের বন্ড ছিল বাস্তবধর্মী ও আবেগপ্রবণ। তাই এবার হয়তো আরও হালকা, রসিক ও আকর্ষণীয় বন্ড দেখতে চান নির্মাতারা।

Those three magic words.

The end scene of CASINO ROYALE was filmed on this day at Lake Como in Italy. pic.twitter.com/8Wyp09r1n1

— James Bond (@007) May 30, 2026

চিত্রনাট্যকার ব্রুস ফেয়ারস্টেইন বলেন, ‘প্রতিটি অভিনেতাকেই ভাবতে হয়—কীভাবে আমি এই চরিত্রটিকে নিজের করে তুলব?’

তার মতে, ক্রেগের সময়কার বৈশ্বিক বাস্তবতায় গম্ভীর বন্ড দরকার ছিল। কিন্তু এবার হয়তো পুরোনো দিনের আকর্ষণীয় ও মজাদার বন্ডকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

বন্ডের বাইরের আকর্ষণীয় চেহারার আড়ালে এক ধরনের নির্মমতাও থাকতে হবে। মূলত এই দ্বৈত চরিত্রই তাকে আলাদা করে তোলে।

ইয়ন ফ্লেমিংয়ের উপন্যাসে বন্ড ছিলেন জুডো বিশেষজ্ঞ। পরবর্তী সিনেমাগুলোতে তার শারীরিক সক্ষমতা ও অ্যাকশন দক্ষতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

‘ক্যাসিনো রয়্যাল’ মুভিতে ড্যানিয়েল ক্রেগের পেশিবহুল সুঠাম শরীর নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছিল।

১৩টি বন্ড ছবির কাস্টিং পরিচালক ডেবি ম্যাকউইলিয়ামস বলেন, বন্ডের কাজের বিবরণীতেই ‘লাইসেন্স টু কিল’ লেখা আছে। দর্শক যদি বিশ্বাসই না করতে পারে যে সে খুন করতে পারে, তবে এখানেই খেলা শেষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নৃশংসতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নির্বিকার থাকাই বন্ডের আসল বৈশিষ্ট্য।

James Bond casting director Nina Gold says the next Bond actor must “ooze sex appeal.”

She will specifically look for someone “young enough to play him in 3, 4 or more pictures.” pic.twitter.com/vUXdTSP6ii

— Emir Han (@RealEmirHan) May 16, 2026

অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিসবেনে জন্ম নিলেও অস্কার মনোনীত তারকা জ্যাকব এলর্ডি এই অডিশনে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।

এ বছর ‘উদারিং হাইটস’ চলচ্চিত্রে হিথক্লিফ চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের পর তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

২০২৩ সালের ‘সল্টবার্ন’ চলচ্চিত্রে এলর্ডি দেখিয়েছেন যে, একজন উচ্চশিক্ষিত ব্রিটিশ নাগরিকের মতো বাচনভঙ্গি ও আচরণে পারদর্শী তিনি।

ইয়ান ফ্লেমিংয়ের মূল উপন্যাসের বন্ডের বাবা ছিলেন স্কটিশ আর মা সুইস এবং তার শৈশব কেটেছিল বিদেশে। তাই অভিনেতার ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলে তা খুব একটা বড় সমস্যা নয়।

‘বুলেট ট্রেন’ ছবিতে হাস্যরসাত্মক অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন অ্যারন টেলর জনসন। একইসঙ্গে ‘টেনেট’ ও ‘টুয়েন্টি এইট ইয়ারস লেটার’ মুভিতে কঠোর চরিত্রে বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় করেছেন তিনি। তাই নতুন বন্ড হিসেবে অ্যারন টেলর জনসনের নামও জোরালোভাবে উঠে আসছে।

কম বয়সী জেমস বন্ড হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ২২ বছর বয়সী লুই পার্টট্রিজ। নেটফ্লিক্সের ‘হাউস অব গিনেস’ সিরিজে চিত্রনাট্যকার স্টিভেন নাইটের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

২৯ বছর বয়সী হ্যারিস ডিকিনসনও একজন শক্তিশালী দাবিদার, তবে স্যাম মেন্ডেসের বিটলসের চারটি বায়োপিক নিয়ে তিনি আগামীতে বেশ ব্যস্ত থাকবেন।

বয়স কিছুটা বেশি হলেও সঠিক সীমার মধ্যে আছেন ‘ওয়েস্টম্যান’ খ্যাত ডেভিড জনসন ও টম ব্লিথ। তাদের বয়স ৩০ এর শুরুর দিকে এবং বন্ড হিসেবে তারা বেশ আকর্ষণীয় পছন্দ হতে পারেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলনামূলক কম বিখ্যাত হওয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছে ২৪ বছর বয়সী মঞ্চ অভিনেতা টম ফ্রান্সিসের নাম।

তবে বাস্তবে দক্ষতার কথা বিবেচনা করলে অ্যারন পিয়েরের নামও উঠে আসে। ৩১ বছর বয়সী এই অভিনেতা ব্রাজিলিয়ান জিউ-জিৎসু অনুশীলন করেছেন এবং ‘রেবেল রিজ’ ছবিতে তার শারীরিক গঠন ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।

নতুন অভিনেতা নির্বাচনই সব নয়। নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে ০০৭ কে আবারও প্রাসঙ্গিক করে তোলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

চিত্রনাট্যকার ব্রুস ফেয়ারস্টেইনের ভাষায়, ‘প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—এখন কেন বন্ড?’

তিনি বলেন, আজকের ডিজিটাল দুনিয়ায় যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রায় নেই, সেখানে একজন গোপন এজেন্টের ভূমিকা কী? আধুনিক বিশ্বে ব্রিটেনের অবস্থান কোথায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েই নতুন বন্ডকে তৈরি করতে হবে।

হাস্যরস, মিম সংস্কৃতি ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন জেমস বন্ড কেমন হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহল।

কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলকে ২০ হাজারের বেশি বোমা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলের কাছে ২০ হাজারের বেশি বোমা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এসব অস্ত্রের মোট মূল্য প্রায় ৬৬০ মিলিয়ন বা ৬৬ কোটি ডলার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।  

গতকাল শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মনে করেছেন যে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার কারণে ইসরায়েলের কাছে দ্রুত অস্ত্র বিক্রি প্রয়োজন। 

এর আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে ১ হাজার পাউন্ড ওজনের ১২ হাজার বোমা বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া পাঁচশ পাউন্ডের ১০ হাজার বোমা ও পাঁচ হাজার ছোট আকারের বোমাও বিক্রির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি প্রথমবারের মতো অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের জরুরি ধারা ব্যবহার করে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির ঘটনা। 

এর আগে আরও তিনবার কংগ্রেসের পর্যালোচনা প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে অস্ত্র বিক্রি বা সহায়তা পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে কোনবারই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।

এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ছয়শ কোটি ডলারের অস্ত্র ইসরায়েলকে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ৩৮০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেয়, যার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত মার্কিন অস্ত্র কিনে থাকে। 

কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন।

প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানে যুদ্ধের যুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলেছে তারা এই যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কিন্তু এখন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে অস্ত্র বিক্রি করা ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’ 

তিনি একে ট্রাম্প প্রশাসনের তৈরি করা জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই দ্রুত বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।

 

সিরাজগঞ্জে খাস পুকুর দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি পুকুর দখলকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।

রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গ্রামের তিনটি খাস পুকুর থেকে মাছ ধরা নিয়ে দুটিপক্ষের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। দীর্ঘদিনের সেই উত্তেজনার জেরেই আজ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে ১০ থেকে ১৫ জন আহত হলে তাদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ জানায়, বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন—কানাদিঘী গ্রামের মো. ইসমাইল হোসেন (৭০) ও নকতি গ্রামের মো. আব্দুস সালাম (৫৫)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল জানান, বর্তমানে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সহিংসতা রোধে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 

বিদেশ ভ্রমণে ১৮ হাজার ডলার খরচের অনুমতির পরও ব্যয়ের সুযোগ সীমিত

বিদেশ ভ্রমণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা বছরে ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু, সাধারণ ও প্রয়োজনীয় খরচে সেই অর্থ যদি ব্যবহার করা না-ই যায়, বার্ষিক সীমা বাড়িয়ে খুব বেশি একটা লাভ নেই।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পরিবার নিয়ে ভ্রমণের সময় আমাকে এ অসঙ্গতির মধ্যে পড়তে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য নিজের, স্ত্রীর ও সন্তানের উড়োজাহাজের টিকিট কিনতে হয়েছিল আমাকে। খরচ সাশ্রয়ে অন্য অনেক ভ্রমণকারীর মতো আমিও কম দামের টিকিট খুঁজছিলাম। কিন্তু তিনজনের টিকিটের মোট দাম ৩০০ ডলারের বেশি হওয়ায় অনলাইনে লেনদেনটি সম্পন্ন করতে পারিনি। কারণ, এটি আন্তর্জাতিক কার্ডে অনলাইন লেনদেনের নির্ধারিত সীমার বাইরে।

খরচের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও পরিবার নিয়ে ভ্রমণে প্রয়োজনীয় একটি সাধারণ কাজে আমি এই টাকা ব্যয় করতে পারিনি।

মেয়েকে নিয়ে রাত ১২টার দিকে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সমস্যাটি আরও প্রকট হয়। আমার সামনে দুটি বিকল্প ছিল—বিমানবন্দরের ব্যয়বহুল ট্যাক্সি নেওয়া অথবা উবারের মতো অ্যাপভিত্তিক তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহন সেবা ব্যবহার করা।

কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে ইস্যু করা কার্ড দিয়ে আমি উবারের ভাড়া পরিশোধ করতে পারিনি।

দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আমার সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়ার ট্যাক্সিই নিতে হয়। এতে উবারে যাতায়াতের সম্ভাব্য খরচের দ্বিগুণের বেশি ব্যয় হয়।

পরদিন সকালে নিউইয়র্কে বসবাসরত এক বন্ধুকে বলি তার ক্রেডিট কার্ড যেন আমার উবার অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে দেন। বৈধভাবে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি ও পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ যাতায়াতের খরচ মেটাতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া একজনকে অন্যের বিদেশি কার্ডের ওপর নির্ভর করতে হবে কেন?

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজের টিকিট কেনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে ভ্রমণকারীরা সব সময় সরাসরি এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কেনেন না। কম দামে টিকিট পেতে অনেকেই ট্রিপ ডটকমের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন কিংবা স্কাইস্ক্যানারের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার ভাড়া তুলনা করেন।

হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইটের চেয়ে বুকিং ডটকম বা আগোডার মতো প্ল্যাটফর্মে সাশ্রয় বেশি হয়।

সরাসরি কোনো সেবাদাতাকে অর্থ পরিশোধের অনুমতি দেওয়াটা ইতিবাচক হলেও, বিভিন্ন সেবায় মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্মে পেমেন্ট করতে না পারায় দিনশেষে ভ্রমণের খরচ বেড়েই যায়।

এছাড়া বৈধ কার্ড ব্যবহার কিংবা অনলাইন লেনদেন করতে বারবার ব্যর্থ হলে, বাধ্য হয়ে ভ্রমণকারীরা বেশি পরিমাণে নগদ অর্থ সঙ্গে রাখতে কিংবা অনানুষ্ঠানিক বিকল্প মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারেন। এতে আর্থিক লেনদেনের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত হওয়ার পরিবর্তে আরও দুর্বল হয়।

অবশ্যই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখা এবং এর অপব্যবহার ঠেকানো জরুরি। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত। ব্যাংকগুলো প্রতিটি লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করে। আর্থিক ও করসংক্রান্ত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ও ক্রমে বাড়ছে। ফলে নিয়মিত ভ্রমণ ব্যয় আটকে না দিয়েও সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও সেগুলোর তদন্ত করা সম্ভব।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত একক লেনদেনের সীমা যৌক্তিক পর্যায়ে বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা। পাশাপাশি প্রয়োজন প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত সেবার জন্য স্পষ্ট ছাড়ের ব্যবস্থা করা।

বিদেশে অবস্থানকালে কেনা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট টিকিট, স্বীকৃত হোটেল বুকিং প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপভিত্তিক পরিবহন, ট্রেনের টিকিট ও গাড়ি ভাড়ার খরচ—এ সুবিধার আওতায় রাখা যেতে পারে।

ব্যাংকগুলোকেও এ বিষয়ে অভিন্ন নির্দেশনা দিতে হবে। কোনো সেবাদাতাকে উড়োজাহাজ সংস্থা বা হোটেল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ না করে মধ্যস্থতাকারী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করার কারণে যেন বৈধ লেনদেন আটকে না যায়।

মূল বিষয়টি সহজ। রাষ্ট্র যদি একজন ভ্রমণকারীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাহলে তাকে সেই অর্থ বৈধ ও শনাক্তযোগ্য ভ্রমণ ব্যয়ে খরচ করার সুযোগও দিতে হবে।

বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১৮ হাজার ডলারে উন্নীত করা অগ্রগতির লক্ষণ।

তবে বিমানবন্দরে, টিকিট বুকিংয়ের ওয়েবসাইটে কিংবা গভীর রাতে সন্তানকে নিয়ে যাতায়াতের সময় এই সুবিধা বাস্তবে কাজে না লাগলে, সেই অগ্রগতি বা সংস্কার অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

লেখক: হেড অব অপারেশনস এবং সিএফও, দ্য ডেইলি স্টার

তারেকের দিকে ঝুঁকছে ভারত, হাসিনার ব্যাপারে শীতলতা?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি ফিরে যান। পরদিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন। এ থেকে অন্তত বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়তে ভারতের ইচ্ছার আভাস পাওয়া যায়।

কাকতালীয়ভাবে যেদিন দীনেশ ত্রিবেদী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন, সেদিনই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈনও ঢাকায় ছিলেন।

আর এই ঘটনা ঘটে দিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুল আলোচিত একটি সংবাদ সম্মেলনের এক সপ্তাহ না যেতেই।

গত ৫ আগস্ট দিল্লির সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এর আগে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভারতকে সতর্ক করেছিল। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ যে ভাষায় তার আপত্তি জানিয়েছিল তাতে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের খুব একটা বালাই ছিল না।

অবশ্য ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত। দিল্লি পরিষ্কার করে জানায়, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের ‘বৈধভাবে গঠিত’ সরকার নিয়ে হাসিনা যে মন্তব্য করেছেন, ভারত সরকার তা সমর্থন করে না।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের অবস্থানের পরিবর্তন বেশ চোখে পড়ার মতো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের আচরণ দেখে মনে হয়েছিল, ২০২৪-এর আগস্টে তারা যেন একটি উপনিবেশ হারিয়ে তাদের ভাইসরয়কে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

কিন্তু এখন দিল্লির বার্তা অনেকটাই পরিষ্কার। বিএনপি নির্বাচনে জেতার আগেই ভারতের পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। দিল্লি বুঝিয়ে দিয়েছিল, তারা তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

এখন তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে সরকারপ্রধান হওয়ায় ভারতের লক্ষ্য বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী না করতে পারলেও অন্তত টানাপোড়েন কমানো।

তবে এর মধ্য দিয়ে আরেকটি বার্তাও বেশ পরিষ্কার। মোদি সরকার ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো থেকে আটকাতে খুব একটা আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না।

যতক্ষণ এসব অনুষ্ঠান ‘ব্যক্তিগতভাবে’ আয়োজন করা হচ্ছে, ততক্ষণ ভারত সরকার নিজে থেকে তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেবে না—এমনটাই এখনো দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে তা করবে—এমন কোনো প্রতিশ্রুতিও ভারত দেয়নি।

বিষয়টি নিয়ে এত আলোচনা হওয়ার কারণ হলো, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের একটি অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারেক কি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেবে না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই নিয়ে আলোচনা ছিল। অংশ নেবার ব্যাপারে কিছুটা সংশয়ও ছিল। এ প্রসঙ্গে কথা উঠলে ভারত জোর দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জয়সওয়াল বলেন, ভারত তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি দুই দেশেই আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। ফলে আরেকটা প্রশ্নেরও খানিকটা জবাব মিলছে। ভারতের মাটিতে হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে তারেকের ভারত সফর অনিশ্চিত থাকবে—এমন যে আলোচনা চলছিল, তা হয়তো আর থাকছে না।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর তার সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন নিয়ে হাসিনা এখনো কোনো অনুশোচনা দেখাননি। শত শত আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার ঘটনাতেও তিনি নিজের অবস্থান বদলাননি।

তার সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক বক্তব্যগুলো জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির জোটের গাত্রদাহের কারণ হয়েছে। তাই বিরোধী পক্ষ জোর দিয়ে বলছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে হবে এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

এখানে আপাতভাবে একটি স্ববিরোধী বিষয় চোখে পড়ে।

জামায়াত ও এনসিপি হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু হাসিনা নিজেই যখন দেশে ফেরার ঘোষণা দেন, তখন তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়। সম্ভবত সমস্যাটা হাসিনার ফিরে আসা নিয়ে নয়। তিনি কীভাবে ফিরবেন তা নিয়ে।

হাসিনা যদি নিজের ইচ্ছায় ফিরলে অনেকটা রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন হবে। কিন্তু বিরোধী দলগুলো এবং সরকারি দলও এই ব্যাপারে পরিষ্কার। তারা চায় হাসিনা যেন একজন দণ্ডিত আসামি হিসেবে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে দেশে ফেরেন।

এ ছাড়া বিরোধী দলগুলো ভারতের বিরুদ্ধেও বেশ সরব। তারা সাধারণ মানুষের প্রবল ভারতবিরোধী মনোভাবকে উস্কিয়ে রেখে তাদের বিরোধিতা আরও শক্তিশালি করতে চেষ্টা করছে এবং করবে। 

এটাও সহজে ভোলার মতো বিষয় না যে, শেখ হাসিনার সরকারের জন্য প্রতিবেশী ভারত দীর্ঘদিন ধরে শক্তির বড় উৎস ছিল এবং এখনও আছে। 

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারও ভারতকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। বড় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয়।

তার ওপর আগে ভারতের না গিয়ে, তারেক রহমানের চীন সফর এবং এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার বিষয়টি দিল্লিকে কিছুটা চিন্তায় ফেলবে বৈকি। 

ভারতের নিজের উঠানেই বদলে যাওয়া ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হয়তো মোদি সরকারের কিছুটা তড়িঘড়ি। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে মোদির বৈঠক পরে না হয়ে আগেই হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

তবে দেশের ভেতরের রাজনীতিতে আগে একটা ভারসাম্য তৈরি করতে হবে তারেক রহমানকে। তারপরই বিদেশের সম্পর্কের দিকে মনযোগ দিতে পারবেন। হাসিনার প্রতি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে তাকে বোঝাতে হবে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার অর্থ হাসিনার বিচারের দাবি থেকে সরে আসা নয়। বরং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করেই সেই বিচারের দাবিকে আরও জোরালো করা সম্ভব।

একই সঙ্গে দিল্লি এবার একটি বিষয় বুঝবে বলে আশা করা যায় যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারে না।

৪ দফা সময় বাড়িয়েও আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ৩৮ শতাংশ

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ৪ দফা বাড়িয়ে মার্চ পর্যন্ত করার পরও আশানুরূপ হয়নি ফলাফল।

কোভিড মহামারির পরে যখন দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, সেই ২০২১-২২ অর্থবছর বাদ দিলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিটার্ন জমা পড়েছে গত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ব্যক্তি ও কোম্পানি মিলিয়ে মাত্র ৩৮ শতাংশ নিবন্ধিত করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদ নেওয়ার সংখ্যা বাড়লেও কর পরিপালনে (ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স) স্থায়ী ব্যবধানের চিত্র সামনে এসেছে।

কর বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়িক নেতারা মনে করছেন, দুটি কারণে অনেক যোগ্য করদাতা করজালের বাইরে রয়ে গেছেন। কারণগুলো হলো—অসংখ্য নিষ্ক্রিয় নিবন্ধন থাকা পুরোনো ও স্ফীত টিআইএন তথ্যভাণ্ডার এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগ।

কর পরিপালন বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন আয়কর আইনের আওতায় সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু, আইন প্রয়োগ জোরদার ও আগেভাগে রিটার্ন জমাদানকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কর রেয়াত ঘোষণা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপ কর-অনুগত্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনবে কি না, তা সময়ই বলে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত টিআইএন নেওয়া ব্যক্তি ও কোম্পানির সংখ্যা ১১ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছেছে, এক বছর আগে ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ। কিন্তু রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার।

তবে আয়কর আদায় আগের বছরের ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা আয়কর আদায় হয়েছে। আগের অর্থবছরে ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা।

এই প্রবণতাকে বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করছেন, রাজস্ব আহরণ এখনো মূলত উৎসে কর কর্তন বা আদায় ও আগাম করের ওপর নির্ভরশীল; স্বতঃস্ফূর্ত কর-অনুগত্যের ওপর নয়।

করপোরেট ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ১ লাখ ৬০ হাজার করপোরেট টিআইএন সনদের বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাত্র ৪২ হাজার প্রতিষ্ঠান রিটার্ন জমা দিয়েছে। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৬৫৯।

সূত্র অনুসারে, মোট কর রাজস্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে করপোরেট আয়কর থেকে। তবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য বলছে, এই খাত থেকে আদায় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৮ শতাংশ, যা সমমানের অর্থনীতির প্রায় অর্ধেক এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি ছোট দেশের তুলনায় কম।

এই ঘাটতির কারণে সরকারকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), শুল্ক ও ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়। আর শেষ পর্যন্ত এই চাপ এসে পড়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।

এই অসামঞ্জস্যের বড় কারণ হিসেবে পুরোনো তথ্যভাণ্ডারকে দায়ী করেছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান ও এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

কামরান বলেন, করযোগ্য আয় থাকার কারণে নয়, বরং জমি কেনা, সম্পত্তি নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব খোলা, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া বা ঋণ পাওয়ার জন্য অনেককে টিআইএন নিতে হয়েছে। আবার অনেক টিআইএন এমন ব্যক্তিদের নামে রয়েছে, যারা মারা গেছেন, দেশ ছেড়েছেন বা নিষ্ক্রিয়। কিন্তু তথ্যভাণ্ডারে এখনো তাদের নাম রয়ে গেছে।

‘তথ্যভাণ্ডার নিয়মিত হালনাগাদ করে নিষ্ক্রিয় টিআইএন বাদ দেওয়া উচিত। তাহলে দেশের সক্রিয় করদাতার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে,’ শনিবার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন তিনি।

তবে কোনটি অগ্রাধিকার পাবে তা নিয়ে কামরান ও স্নেহাশীষের মতপার্থক্য রয়েছে।

কামরান বলেন, রিটার্ন জমা দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও প্রকৃত কর পরিপালনের চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরে না। কারণ অনেক রিটার্নে কর পরিশোধের দায় থাকে না।

তার মতে, সক্রিয় করদাতার সংখ্যা বাড়ানোই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তাছাড়া ‘কর-অনুগত বিদ্যমান করদাতাদের ওপরই চাপ বাড়তে থাকবে।’

স্নেহাশীষ মনে করেন, শুধু তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ করে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করজালের আওতায় আনা যাবে না। প্রকৃত সমাধান হলো বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা। বিশেষ করে আয়কর আইনের ২৬৪ ধারায় বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর) সংক্রান্ত বিধান বাস্তবায়ন করা।

যেখানে আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক, সেখানে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সময় সিটি করপোরেশন, বড় অঙ্কের মেয়াদি আমানত গ্রহণ বা ঋণপত্র (এলসি) খোলার সময় ব্যাংক এবং সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে চেম্বারগুলোকে পিএসআর জমা নিশ্চিত করতে হবে।

‘এনবিআরকে প্রথমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। এরপর বিদ্যমান বিধান কার্যকরে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে,’ বলেন তিনি।

সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ এবং আগেভাগে রিটার্ন জমা দিলে প্রণোদনা কর-অনুগত্যে বড় পরিবর্তন আনবে কি না—সে ব্যাপারে কামরান ও স্নেহাশীষ দুজনই সন্দিহান।

স্নেহাশীষের ভাষ্য, ‘যারা আগে থেকেই রিটার্ন দেন, তারা ভবিষ্যতেও দেবেন।’

‘প্রণোদনা কিছু ক্ষুদ্র করদাতাকে উৎসাহিত করতে পারে, তবে নিয়মিত রিটার্ন না দেওয়া ব্যক্তি বা বড় করদাতাদের উৎসাহিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।’

কামরানও এতে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, পুরোপুরি ডিজিটাল কর প্রশাসন এবং আরও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া করজাল সম্প্রসারিত হলেও ধীরগতি থাকবে।

এনবিআরের কর জরিপ ও পরিদর্শন বিভাগের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রিটার্ন জমার নিম্নমুখী হারকে ব্যাপক কর ফাঁকির প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। টিআইএন তথ্যভাণ্ডারের দুর্বলতা নিয়ে স্নেহাশীষ ও কামরানের উদ্বেগের সঙ্গেও তিনি একমত পোষণ করেন।

তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিআইএন এমন ব্যক্তিদের নামে রয়েছে, যারা মারা গেছেন। কিন্তু তাদের তথ্য এখনো বাদ দেওয়া হয়নি। আবার অনেকে শুধু ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক ঋণের জন্য টিআইএন নিয়েছেন, যাদের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতাই ছিল না।

রফিকুল বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু করদাতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, রিটার্ন জমার হার কমে যাওয়ার এটি আরেকটি কারণ।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক অভিযানের মাধ্যমে হাজারো শিক্ষক ও অন্যান্য পেশাজীবীকে করজালের আওতায় আনা হয়েছিল। তবে তাদের অনেকেই এখন আর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না।

নতুন আয়কর আইনের আওতায় এখন কর অফিসগুলো একইসঙ্গে রিটার্ন জমার নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি রিটার্ন জমা না দিলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করতে পারবে।

রফিকুল আশা প্রকাশ করেন, এনবিআরের নতুন উদ্যোগে আগামী বছরগুলোতে নিবন্ধিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দিতে উৎসাহিত হবে।

উৎসবের অপেক্ষায় নরওয়ে, কিন্তু বৃষ্টির পূর্বাভাসে দুশ্চিন্তা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ঘিরে নরওয়েজুড়ে এখন উৎসবের আবহ। রাজধানী অসলোসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তাঘাট ও খোলা চত্বরে হাজারো সমর্থক একসঙ্গে ম্যাচ দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে এই ফুটবল উন্মাদনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বৈরী আবহাওয়া।

শুক্রবার সকালে নরওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জন্য ‘ইয়েলো’ সতর্কতা জারি করেছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেল ও সন্ধ্যায় বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও এক ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিও হতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ভারী বর্ষণে শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, নিচতলার ভবনে পানি ঢুকে পড়া, স্থানীয়ভাবে বন্যা, এমনকি পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে।

চলমান বিশ্বকাপে নরওয়ের পাঁচটি ম্যাচেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোলা আকাশের নিচে বড় পর্দায় খেলা দেখেছেন হাজারো সমর্থক। প্রায় তিন দশক পর পুরুষদের বিশ্বকাপে খেলতে নামা দলটির সাফল্যে রাস্তাঘাট, স্কয়ার ও জনসমাগমস্থলগুলো পরিণত হয়েছে উৎসবের মঞ্চে।

বিশেষ করে দলের ভাইরাল ‘রোয়িং’ (নৌকা বাইবার ভঙ্গি) উদযাপন বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই উদযাপন আবারও দেখতে মুখিয়ে আছেন সমর্থকেরা। কিন্তু ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় অনেক আয়োজককেই বিকল্প পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।

তবে স্বস্তির খবরও আছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাত আটটার দিকে বৃষ্টি থেমে যেতে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে ইংল্যান্ড-নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হবে নরওয়ের স্থানীয় সময় রাত ১১টায়। ফলে প্রকৃতির বাধা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সমর্থকেরা একসঙ্গে হালান্ডদের উৎসাহ দিতে পারবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।

 

মেরিলিন মনরোর শততম জন্মদিনে হলিউডের নানা আয়োজন

আজ থেকে ঠিক ১০০ বছর আগে জন্ম নিয়েছিলেন হলিউডের ক্ষণজন্মা তারকা মেরিলিন মনরো।

শততম জন্মবার্ষিকীতে মেরিলিনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে  উৎসবে মাতবে হলিউড। 

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

ঐতিহাসিক চৈনিক থিয়েটারে ভক্তরা সমস্বরে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গেয়ে উঠবেন। একই কায়দায় বহু বছর আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মেরিলিন। সে ঘটনাকে স্মরণ করতেই এই আয়োজন। 

সেখানে মেরিলিন ও ‘জেন্টেলমেন প্রেফার ব্লন্ডস (১৯৫৩)’ সিনেমার সহ-অভিনেতা জেইন রাসেলের হাতের ছাপ রাখা আছে। 

হলিউডের সোনালী যুগের প্রতীক হিসেবে একশোটি গোলাপ ও একটি কেক সেখানে রাখা হবে। 

সংশ্লিষ্টদের মত, মেরিলিনের জন্মশতবার্ষিকীকে ঘিরে অসংখ্য পর্যটক হলিউডে যেতে উৎসাহিত হবেন। 

রোববার থেকেই মেরিলিনের প্রতি সম্মান জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

অ্যাকাডেমি মিউজিয়ামে ‘মেরিলিন মনরো: হলিউড আইকন’ নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে রুপালী পর্দায় তার ক্যারিয়ার ও সংক্ষিপ্ত জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। 

পঞ্চাশের দশকে ‘সুপারস্টার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার অল্প কিছুদের মধ্যে অতিরিক্ত মাদক সেবনের জেরে মারা যান এই অভিনেত্রী ও মডেল। 

১৯৬২ সালের আগস্টে ব্রেন্টউডে নিজের বাড়িতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যা। সে সময় মেরিলিন মনরোর বয়স মাত্র ৩৬।  

অ্যাকাডেমি মিউজিয়ামে পুরো মাসজুড়ে তার বিখ্যাত কয়েকটি সিনেমা দেখানো হবে। এগুলোর মধ্যে আছে ‘দ্য অ্যাসফল্ট জাঙ্গল (১৯৫০)’, ‘নায়াগ্রা (১৯৫৩)’, ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ (১৯৫৫)’, সাম লাইক ইট হট (১৯৫৯)’ এবং ‘দ্য মিসফিটস (১৯৬১)’। 

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চালু থাকবে। 

এতে মেরিলিন মনরোর ব্যবহার করা অনেক জিনিসপত্র প্রদর্শন করা হবে। যেমন ‘জেন্টেলমেন প্রেফার ব্লন্ডস’ সিনেমায় ‘ডায়মন্ডস আর আ গার্লস বেস্ট ফ্রেন্ড’ গানের চিত্রায়নের সময় তার পরনে থাকা বিখ্যাত গোলাপি পোশাক। 

৪ জুন মেরিলিনের ব্যবহার করা ২০০টি জিনিস নিলাম তোলা হবে। 

একই নিলামকে ‘মেরিলিনের ১০০ বছর’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। 

নিলামে উঠতে যাওয়া উপকরণের মধ্যে আছে অপ্রকাশিত ছবি, একটি অসম্পূর্ণ শর্ট ফিল্ম ‘সামথিং’স গট টি গিভ’, হাতে লেখা রেসিপি ও তার ব্যবহার করা এলিজাবেথ আরডেন লিপস্টিক।  

ইরানে এখনই স্থল অভিযানের কথা ভাবছেন না ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমন্বিত আগ্রাসনের আজ সপ্তম দিন। এই পুরোটা সময় মূলত যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ওই দুই দেশ। 

স্থল অভিযান চালানোর কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখায়নি দেশ দুইটি। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে,  ইরানে মার্কিন সেনা পাঠিয়ে স্থল অভিযান চালানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবাও সময় নষ্ট। 

আজ শুক্রবার এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। 

এনবিসিকে ফোনে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা সব হারিয়েছে। তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে। যা যা হারানো সম্ভব, তার সবই তারা হারিয়ে ফেলেছে।’

এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুশিয়ারি দেন, ‘আগ্রাসীরা’ স্থল হামলা চালালে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। 

আরাঘচির মতকে ট্রাম্প ‘অযাচিত মন্তব্য’ আখ্যা দেন। 
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোর ধ্বংস দেখতে আগ্রহী। 

‘আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে সব কিছু সাফ করে ফেলতে চাই’, যোগ করেন ট্রাম্প। 

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কাউকে চাইনা যে ১০ বছরের মধ্যে আবারো সবকিছুকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে।’

ইরানের নতুন নেতা কে হতে পারেন, সে বিষয়ে ট্রাম্পের কিছু চিন্তা আছে তবে কারো নাম জানাতে অস্বীকার করেন তিনি। 

এর আগে ট্রাম্প দাবি জানান, ‘ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত থাকতে হবে।’

আজ শুক্রবার তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। 

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ক্ষমতাসীনদের বিভিন্ন অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং এটা চলমান যুদ্ধের ‘নতুন পর্যায়’।