28 C
Dhaka
Home Blog

২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, অর্ধেকই স্কুলের: আঁচল ফাউন্ডেশন

দেশে গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ৩৩ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, এর মধ্যে ৪৭ শতাংশই স্কুলের শিক্ষার্থী।

বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন আজ শনিবার সকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক এই সমীক্ষা প্রকাশ করে।

সমীক্ষা অনুসারে, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে পুরুষের তুলনায় নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে মোট ৪০৩ জন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটির হিসাবে, এর আগের বছর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঝরে গেছে ৩১০ শিক্ষার্থীর প্রাণ।

সংস্থাটি ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে এই সমীক্ষা প্রস্তুত করেছে। পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বাধিক স্কুল পর্যায়ের ১৯০ জন, যা মোট ঘটনার ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া, কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন বা ২২ দশমিক ৮ শতাংশ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন বা ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৪৪ জন বা ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৯ জনই নারী, যা শতকরা হিসাবে ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। পুরুষ ১৫৪ জন, অর্থাৎ ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ।

স্কুল পর্যায়ে গত বছর ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ; কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি—৪১ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

মাদ্রাসায় ২৪ জন নারী ও ২০ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে এই সময়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পাবলিক ও ১৭ জন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মেডিকেল কলেজের ৬ জন এবং ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর চেয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি, যা মোট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ।

আঁচল ফাউন্ডেশন মনে করে, সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, পারিবারিক টানাপড়েন, হতাশা ও যৌন নির্যাতন ভূমিকা রেখেছে। তবে স্কুলশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাডেমিক চাপ প্রধান কারণ।

সমীক্ষায় আরও জানানো হয়, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট সংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান শুধুমাত্র প্রতিবেদন নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সর্বাধিক ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে; ১১৮ জন বা ২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩ জন, অর্থাৎ ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন বা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ৫০ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরেছে, দেখা গেছে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কনসালট্যান্ট ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. আনিস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও কিশোর মনোরোগ হাসপাতাল অ্যাপল উড সেন্টারসের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের সহকারী পরিচালক ডা. মারুফ আহমেদ খান, আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোহেল মামুন ও সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ।

সার্বভৌম এআই: বাংলাদেশের যা করণীয়

১০ বছর আগের কথা। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল ‘ট্রান্সফরমার’ সিনেমাটা নিয়ে। সে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় পড়ায়। তার কথা ছিল, পুরো সিনেমায় শুধু টিনের সঙ্গে টিনের সংঘর্ষের শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। মানে যন্ত্রে যন্ত্রে যুদ্ধ। মূল কথাটা ছিল অন্য জায়গায়—যন্ত্র একদিন ফ্রন্টিয়ারে চলে যাবে, মানুষ বসে থাকবে সাইডলাইনে। হাসি-ঠাট্টার মধ্যে কথাটা বললেও এখন টের পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে।

পাঁচ বছর হলো ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের একটা বড় মাথাব্যথার নাম ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস’, সংক্ষেপে ডিডস। বাইরের অনেকগুলো নেটওয়ার্ক থেকে একসঙ্গে অতিরিক্ত প্যাকেট ছুড়ে একটা সচল নেটওয়ার্ককে বসিয়ে দেওয়া যায়। সরকারে থাকতেও এই সমস্যা দেখেছি, কিন্তু এবার সরাসরি রেভিনিউতে টান পড়ায় রিসার্চে নেমে পড়লাম।

যারা এসব আক্রমণ চালায়, তারা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে, তখন মানুষের একার পক্ষে সেটা ঠেকানো কঠিন। আমরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিলাম। এমন সিস্টেম শতকরা ৮০ ভাগ কাজ নিজে সামলে দেয়, বাকিটুকু মানুষ টিউন করে নেয়। তখনই বুঝলাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন তেল বা নিউক্লিয়ার অস্ত্রের মতো একটা কৌশলগত জিনিস, যেটা কেউ হাতছাড়া করতে চাইবে না। যার ফলাফল হিসেবে দেখছি, এই জিনিসের এক্সপোর্ট কন্ট্রোল নিয়ে দেশে দেশে টানাপড়েন শুরু হয়ে গেছে।

কয়েক মাস আগের একটা ঘটনা এই কথাটা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কমার্স ডিপার্টমেন্ট গত জুনে এক্সপোর্ট কন্ট্রোলের আওতায় অ্যানথ্রপিকের ফ্যাবল আর মিথস ৫ মডেলের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পর নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হলেও এই কয়েক সপ্তাহেই বিশ্ব বুঝে গেল একটা জিনিস—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো জরুরি টুলের কিল-সুইচ যদি অন্য দেশের কোম্পানির হাতে থাকে, তাহলে যেকোনো সময় সেটা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এরপর থেকেই প্রায় প্রতিটা দেশ সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

প্রশ্নটা এখন সহজ—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ভাড়া করে চালানো যাবে, নাকি নিজেদের তৈরি করতে হবে?

ইউরোপ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নিজেদের তৈরি প্যারিসের মিস্ট্রাল দিয়ে। ওপেন-ওয়েট এই মডেলকে তারা ধীরে ধীরে সাপোর্ট দিচ্ছে, লোকাল ডেটা সেন্টার থেকে চালানোর ব্যবস্থা করছে, যাতে মার্কিন সার্ভারের ওপর নির্ভরতা কমে। ভারত নিজস্ব মডেল আর ভাষিণীর মতো মাল্টিলিঙ্গুয়াল ডেটা প্ল্যাটফর্ম বানাচ্ছে, কারণ আমেরিকান মডেল আঞ্চলিক ডায়ালেক্ট বোঝে না। বাংলাদেশের মতো তাদের ‘কনটেক্সট’ বুঝতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে বাইরের মডেলগুলো। সিঙ্গাপুরও সি-লায়ন মডেল বানিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিজস্ব সংস্কৃতি আর ভাষার সূক্ষ্মতা রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

এআই মডেল নিয়ে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝেছি, সিলিকন ভ্যালি বা চীনের বড় মডেলগুলো এসব দেশীয় কনটেক্সট ধরতে পারে না। কারণ, তারা তৈরি হয়েছে অন্য একটা দুনিয়ার ডেটা দিয়ে।

বাংলাদেশের অবস্থানটা এখানেই চিন্তার অবকাশ রাখে। সিলিকন ভ্যালির মতো কোটি কোটি ডলার খরচ করে শূন্য থেকে ফ্রন্টিয়ার মডেল বানানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। আবার সিলিকন ভ্যালির মডেল বাংলা ভাষার সূক্ষ্মতা, স্থানীয় ইতিহাস, দেশীয় আইন—কিছুই বোঝে না। এর ওপর আছে নিরাপত্তার প্রশ্ন। রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য, নাগরিকের ডেটা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত বিদেশি সার্ভারে তুলে দেওয়া মানে বড় ধরনের ঝুঁকি নেওয়া। সরকার সম্প্রতি এই বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছে যে, বাইরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমে যেন গোপনীয় তথ্য না যায়। তার মানে সরকারও এখন এই কৌশলগত অস্ত্রটাকে দেশের কাজে লাগানোর কথা ভাবছে।

আমার মনে হয়, পথটা মাঝামাঝি জায়গায়। চাকা নতুন করে বানানোর দরকার নেই, লামা বা এই ধরনের শক্তিশালী ওপেন-ওয়েট মডেল বিনামূল্যেই নামিয়ে নেওয়া যায়। বরং জোর দেওয়া উচিত মানসম্পন্ন বাংলা ডেটাসেট তৈরিতে—আইনি নথি, ইতিহাস, সরকারি তথ্য, আঞ্চলিক ভাষার নমুনা।

সরকার এটা নিয়ে কয়েকটা বড় কাজ করেছে ইতোমধ্যে। ফলে এই ডেটা দিয়ে মডেলকে লোকালি ফাইন-টিউন করে বেসরকারি খাতে নিজস্ব ডেটা সেন্টারে চালাতে হবে, যাতে কোনো বিদেশি শক্তি চাইলেই বন্ধ করে দিতে না পারে। আমি ইচ্ছে করে বেসরকারি খাতের কথা বলেছি, কারণ সরকারের কাছে এ ধরনের কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত ‘ব্যান্ডউইথ’ নেই। সরকার ইতোমধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও এফডিআই নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, বরং বেসরকারি খাতকে যথার্থ প্রণোদনা দিলে এটা তারাই সমাধান করতে পারবে। সরকার প্রয়োজনমতো সেবা কিনবে। এটাই প্রথম ধাপ।

ডেটা যদি নতুন তেল হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন অন্য কারো গাড়িতে বসিয়ে যাত্রী হয়ে বসে থাকার সময় বাংলাদেশের নেই। প্রকৃত ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব মানে আমাদের ডেটা আমাদের সীমানার ভেতরেই থাকবে, আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মডেল সেটা প্রসেস করবে, আর সেটা চলবে আমাদের নিজের হার্ডওয়্যারে।

 

রকিবুল হাসান: টেলিকম, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র’ বইয়ের লেখক

রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগ থেকে রাজনৈতিক দলগুলো পরিপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

গত কয়দিনের পত্রিকার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘পারি নাই বলেই আমাদের রাজনীতিকে আজও কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করছে।’

আজ সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত জীবন্ত একটা পার্লামেন্টকে রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য গণতান্ত্রিক শক্তির যে রাজনৈতিক ঐক্য থাকা দরকার, তা যে আমরা এখনো সুসংহত করতে পারিনি তার প্রমাণ পার্লামেন্টকে রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত করার ব্যাপারে আমরা বিজয় অর্জনকারী দলগুলো এখনো ঐকমত্য চর্চা করতে পারছি না।’

‘শুধু তাই নয়, সামাজিক মাধ্যম যেহেতু পার্লামেন্ট ও রাজপথের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, সেখানেও যদি আমরা খুব সচেতনভাবে তদারক করি, নজর দিয়ে রাখি, তাহলে দেখতে পাব, সাধারণ মূল্যবোধ সংস্কৃতির যে মাত্রা, তা অতিক্রম করে একটা অশ্লীলতা চর্চার কাজ চলছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, এই তৎপরতাগুলো যখন কোনো আদর্শের ভিত্তিতে করা হয়, তখন তা আরও অনেক অশনি সংকেত আমাদের সামনে হাজির করে,’ যোগ করেন তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদদের স্মরণ করতে কেবলমাত্র আবেগ চর্চা করলে চলবে না, শহীদদেরকে স্মরণ করার জন্য কেবলমাত্র একটা আনুষ্ঠানিকতা চর্চা করলে চলবে না, শহীদদেরকে স্মরণ করার নামে আমরা যদি কেবলমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত অথবা কোনো গোষ্ঠীগত উপস্থিতিকে হাজির করার অজুহাত তৈরি করি, আমাদের বিবেকের কাছে কিন্তু আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হবো।

জুলাই শহীদসহ এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সব শহীদের রক্ত এবং বিসর্জনকে এক জায়গায় রেখে আমাদেরকে পরিমাপে বসতে হবে—এত রক্তের বিনিময়ে আমরা কতটুকু অর্জন করেছি? তা যদি পরিমাপ করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, সংসদকে আমরা কতটা কার্যকরী করতে পেরেছি। রাজনৈতিক বিতর্ককে আমরা কতটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে বিধিবদ্ধ করতে পেরেছি এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আমরা কতটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে মহিমান্বিত করতে পেরেছি। এটাই আমাদের একমাত্র মানদণ্ড, যোগ করেন তিনি।

এতে জুলাই অভ্যুত্থানে যুক্ত সব রাজনৈতিক দলকে সম্মিলিত হওয়ার আহ্বান জানান স্বপন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির সামনে দেশ পরিচালনা, সংসদকে সক্রিয় করা, বিচার বিভাগকে স্বকীয় মর্যাদায় রূপান্তরিত করা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে বাস্তবসম্মতভাবে সুসংহত করা ও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দাঁড় করানো, বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবার সহযোগিতা লাগবে।

‘আমরা চাই, পার্লামেন্টে ও রাজনীতিতে যাদের সহযোগিতা করার কথা, তারা সহযোগিতা করবেন,’ যোগ করেন তিনি।

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়, আবারও বলেন তিনি।

‘এই সব কিছুই করতে হবে জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে। এর বাইরে এই লক্ষ্য অর্জন করার আর কোনো সাংবিধানিক, নিয়মতান্ত্রিক মঞ্চ আমাদের কাছে নাই। আমরা ধীরে ধীরে সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এই কাজটি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে করতে চাচ্ছি। এভাবেই আমরা দেশে একটা সুশাসনকে নিশ্চিত করতে চাই।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা তা করতে পারি, তাহলেই কেবলমাত্র শহীদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। শহীদের মর্যাদাকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো এবং এই কাজ করার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে আমরা ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করব।

‘কিন্তু যদি জনগণের কাছে প্রমাণ হয়, কারও বিভ্রান্তি মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে; জনগণের কাছে যদি প্রমাণ হয়, কারও অশ্লীলতা মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে; যদি জনগণের কাছে প্রমাণ হয়, কেউ কেউ বিভিন্ন আদর্শের নামে এখানে বুঝে অথবা না বুঝে অন্য কারও চক্রান্তকে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব নিচ্ছেন—সে ক্ষেত্রেও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমাদেরকে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

২৫ বছরে দুগ্ধশিল্পের বাজার ১২ হাজার কোটি টাকা

প্রায় ২৫ বছর আগে দেশের বাজারে প্যাকেটজাত তরল দুধ নিয়ে আসে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘প্রাণ’। তখন দেশে বিপুল পরিমাণ গুঁড়া দুধ আমদানি হতো। প্রাণের উদ্দেশ্য ছিল সহজ—তরল দুধের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনা। কারণ, কৃষির পর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দ্বিতীয় বড় আয়ের উৎসই গবাদিপশু পালন।

দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ সফল হওয়ার পর প্রাণ ঘি ও চিজের মতো দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন শুরু করে। তবে সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। পাস্তুরিত দুধ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বড় ধরনের বিনিয়োগ লাগলেও এসব প্রথাগত পণ্যে মুনাফার হার বেশ কম।

এই সংকটের পথ খুঁজতেই কৌশল বদলায় প্রতিষ্ঠানটি। কেবল তরল দুধে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈচিত্র্যময় দুগ্ধজাত পণ্যের প্রসার শুরু করে তারা। একপর্যায়ে মিষ্টি, দই, লাবান, মাঠা ও লাচ্ছি, লাবানসহ দুই ডজনেরও বেশি পণ্য বাজারে নিয়ে আসে প্রাণ।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাংলাদেশিরা মিষ্টি ভালোবাসেন। সেটা ভালো মিষ্টি হতে হবে। আর এটাই আমাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় এক দশক আগে ঢাকার অভিজাত এলাকার মানুষই কেবল চড়া দামে প্রিমিয়াম মিষ্টি কিনতেন। আমরা ভাবলাম, এসব পণ্য নিজেরাই তৈরি করে সাশ্রয়ী দামে সবার কাছে কেন পৌঁছে দিচ্ছি না?’

সেই চিন্তা থেকেই ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে মিষ্টি ও বেকারি ব্র্যান্ড ‘মিঠাই’। 

প্রাণের এই যাত্রার সঙ্গে আড়ং, মিল্ক ভিটা, প্যারাগন, আকিজ ও আরডি মিল্কসহ দেশের অন্যান্য বড় দুগ্ধ কোম্পানির গল্পেরও অনেকটা মিল রয়েছে। তারাও দুধ বিক্রির গণ্ডি পেরিয়ে দুগ্ধজাত পণ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। এসব কোম্পানি মিলে এখন প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বাজার গড়ে তুলেছে এবং বছরে ৬ থেকে ৮ শতাংশ হারে বাড়ছে এই বাজার। একসময় নির্মাণ ও আবাসন খাতও এমনই গতিতে বাজার বড় করেছে।

বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক এই দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

উৎপাদকদের মতে, নগরায়ণ, জীবনযাত্রার ধরনে পরিবর্তন, ব্যয়যোগ্য আয় বৃদ্ধি, ফাস্টফুডের প্রসার এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুই দশকে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।

তবে একটি মৌলিক সমস্যাও সামনে এসেছে। প্রক্রিয়াজাতকারীদের নিয়মিত দুধের সরবরাহ প্রয়োজন, অথচ দুধ উৎপাদনে আগ্রহী খামারির সংখ্যা কমছে।

এ ছাড়া, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ পণ্য নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন এক কৃষি অর্থনীতিবিদ।

দুগ্ধজাত পণ্য বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে বদলেছে এসব পণ্যের উৎপাদনের পরিসর ও বাজারের বিস্তৃতি।

আড়ং ব্র্যান্ডের দুগ্ধজাত পণ্য বাজারজাত করে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ডিরেক্টর মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, উদ্বৃত্ত দুধ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই মিষ্টি দই, ছানা ও ঘির মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্য তৈরি হয়ে আসছে। পরে ধীরে ধীরে এগুলো বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোক্তাদের চাহিদা এখন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির গণ্ডি ছাড়িয়ে টক দই, দুগ্ধভিত্তিক পানীয় ও বিভিন্ন ধরনের চিজেও বিস্তৃত হয়েছে।

আনিসুরের মতে, মিষ্টি ও দই এখনো সারা দেশে জনপ্রিয়। অন্যদিকে টক দই, দইয়ের পানীয় ও চিজ মূলত শহর ও মফস্বলে বেশি খাওয়া হয়।

তিনি বলেন, দেশে দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য আলাদাভাবে কোল্ড-চেইন অবকাঠামো না থাকায় এসব পণ্যের বাজার বাড়াতে প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব হিমাগার ও বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হয়েছে।

আনিসুরের মতে, কয়েকটি পণ্য এখন বিশেষ সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। কোমল পানীয়ের স্বাস্থ্যকর বিকল্প খুঁজছেন ভোক্তারা। ফলে লাবান, মাঠা ও লাচ্ছির মতো দুগ্ধভিত্তিক পানীয়ের বাজার দ্রুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ফাস্টফুড শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে মোজারেলা, কটেজ চিজ ও ক্রিম চিজের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিজের বাজারও বিস্তৃত হচ্ছে।

তবে ঘি ও দুধের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু ভোক্তা প্যাকেটজাত দুধের ব্যবহার কমাচ্ছেন। আবার অনেকে খাঁটি ঘির বদলে কম দামের বিকল্প পণ্য বেছে নিচ্ছেন।

আনিসুর বলেন, ‘চকলেট ও আমসহ বিভিন্ন ফ্লেভারড মিল্কেরও বাজার বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘মিল্ক ভিটা’ নামে পরিচিত বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রীতম কুমার দাস বলেন, পাস্তুরিত দুধ, মাখন, ঘি ও গুঁড়া দুধ দিয়ে শুরু করে সমবায় প্রতিষ্ঠানটি এখন পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে ২৪ ধরনের দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করছে। তাদের পণ্যের তালিকায় এখন মিষ্টি, টক ও মিষ্টি দই, দুগ্ধজাত পানীয় এবং মোজারেলা চিজ রয়েছে।

প্রীতম বলেন, ‘মিল্ক ভিটার সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে টক ও মিষ্টি দই। আর গ্রীষ্মকালে লাবানের চাহিদা বেড়ে যায়।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানান, তাদের পণ্যের মধ্যে দই, ঘি ও ফ্লেভারড মিল্কের বাজার সবচেয়ে বড়। ভবিষ্যতে হেলথ ড্রিংক, দই ও দুগ্ধজাত পানীয়র চাহিদা বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।

এই বাজারে নবাগত হিসেবে পা রেখেছে প্যারাগন। গ্রুপটির চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জানান, তাদের প্রধান দুগ্ধজাত পণ্য হলো পাস্তুরিত দুধ, ফ্লেভারড মিল্ক, মাখন ও ঘি। এর মধ্যে পাস্তুরিত ও ফ্লেভারড মিল্কের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, সরাসরি দুধ পান করার বদলে ভোক্তারা ফারমেন্টেড দুগ্ধপণ্য এবং তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন।

ঘিয়ের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বৈচিত্র্যময় পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে প্যারাগন। আইসক্রিমকে বড় প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে মশিউর বলেন, ‘বর্তমানে এর চাহিদা সরবরাহের চেয়ে বেশি।’

দুগ্ধশিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়তো ভোক্তার চাহিদায় নয়, বরং সরবরাহ শৃঙ্খলের অন্য প্রান্তে। ব্র্যাকের আনিসুর দুগ্ধ খামারিদের আগ্রহ কমতে থাকাকে এই খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি বলেন, গরুর মাংস উৎপাদন তুলনামূলক সহজ ও বেশি লাভজনক হওয়ায় খামারিরা সেদিকেই ঝুঁকছেন। অন্যদিকে দুগ্ধ খামারিদের প্রতিদিন গবাদিপশুর যত্ন নেওয়া, গাভির দুধ দোহন ও নির্ভরযোগ্য বাজার খোঁজার ঝক্কি সামলাতে হয়। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তারা সঠিক দাম পান না এবং অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়ও তুলতে পারেন না।

তিনি বলেন, সবুজ ঘাসের সংকট, কৃষিজমির পরিমাণ কমতে থাকা এবং পশুখাদ্যের ব্যয় বৃদ্ধির কারণেও দুগ্ধ খামারির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আরেকটি সমস্যা হলো, এই বাজার মূলত শহরকেন্দ্রিক। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কামরুজ্জামান বলেন, বিতরণ ও নির্ভরযোগ্য কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা প্রয়োজন হওয়ায় দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার মূলত শহর ও মফস্বলেই সীমাবদ্ধ।

প্যারাগন গ্রুপের মশিউর বলেন, সরকারি বিধিবিধান, প্রক্রিয়াজাতকরণসংক্রান্ত সমস্যা ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে ওষুধ ও টিকাসংক্রান্ত বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় আরও বেশি কোম্পানি বিনিয়োগ করায় দেশে দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর বলেন, মানুষের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে এবং এই বাজারও বড় হচ্ছে। তবে, এর পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে স্থানীয় উৎপাদকেরা ব্যয় কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন তার ওপর।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্যের দাম সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে উৎপাদন, বিপণন ও অন্যান্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্য প্রতিযোগিতামূলক দামে পাওয়া গেলে আমদানি করা পণ্যের ওপর ভোক্তাদের নির্ভরতা কমবে। এতে দেশীয় দুগ্ধশিল্প শক্তিশালী হবে।’

বাংলাদেশের বাজার আরও উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ পণ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর বলেন, এর ফলে দেশীয় দুগ্ধশিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, দর-কষাকষির সুযোগ ছাড়াই সরবরাহকারীর নির্ধারিত দামে আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিকূল অবস্থায় পড়তে পারেন। ‘চুক্তিটি পর্যালোচনা করে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত।’

খেলোয়াড়েরা সবাই সুস্থ আছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে প্রস্তুত: নরওয়ে কোচ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে হুট করে ছড়িয়ে পড়ে, অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নরওয়ের বেশ কিছু ফুটবলার। তবে এমন কোনো অসুস্থতার খবর নাকচ করে দিয়ে নরওয়ের কোচ নিশ্চিত করেছেন, তার খেলোয়াড়েরা সবাই সুস্থ আছেন এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। 

বিশেষ করে দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের শারীরিক সুস্থতা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে তা দূর করতে বাধ্য হন দলটির কোচ স্টেল সোলবাকেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক যে ওডেগার্ড অসুস্থ ছিল। তবে সেটা অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড নয়, বরং তার আত্মীয় থমাস ওডেগার্ড, যে পেশায় একজন ফিজিও’।

ওডেগার্ডের পাশাপাশি স্কোয়াডের কোনো ফুটবলারকে নিয়েই অসুস্থতার কোনো শঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন সোলবাকেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড় সুস্থ আছে। স্কোয়াডে কারোর কোনো অসুস্থতা নেই। কোচিং স্টাফের এক-দুইজন কিছুটা অসুস্থ’। 

দলের সাথে থাকা চিকিৎসক ওলা স্যান্ডও নিশ্চিত করেছেন, সবাই ইংল্যান্ড ম্যাচের জন্য প্রস্তুত আছেন। এত লম্বা একটি টুর্নামেন্টে ৫০ জনেরও বেশি সদস্যের একটি দলে কারোর কারোর সামান্য অসুস্থ হওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা বলেছেন তিনি। 

দুইদিন আগে সোলবাকেনের এক মন্তব্যের পর নরওয়ের খেলোয়াড়দের অসুস্থতার ব্যাপারটি আরও ছড়িয়ে পড়ে। নরওয়ে কোচ বলেছিলেন, তার স্কোয়াডের কিছু ফুটবলার একটু অসুস্থ বোধ করছেন। তবে সেটা কোনো ভাইরাসজনিত কারণে নয়, বরং মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্টের ভ্রমণ ধকল, গরম, বারবার হোটেল পরিবর্তন, অনুশীলন ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের ধকল থেকে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

তবে ফুটবলাররা সুস্থ থাকলেও নরওয়ের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে মায়ামির গরম। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, ম্যাচের দিন মায়ামিতে তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। ম্যাচ শুরুর আগে বিচ্ছিন্ন বজ্রপাতও হতে পারে। 

 

ক্ষুব্ধ-ব্যথিত রামেন্দু মজুমদার ও তারিক আনাম

শিশু রামিসার নির্মম হত্যাকাণ্ড নাড়া দিয়েছে সারা দেশকে। তার সঙ্গে ঘটা অপরাধ মেনে নিতে পারছেন না কেউই। এই নিষ্ঠুরতা ও বিকৃত মানসিকতার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের দুই প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও তারিক আনাম খান।

‘সমাজে বিকৃত মানসিকতা জেগে উঠেছে’

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে নাট্যজন ও নির্দেশক রামেন্দু মজুমদার বলেন, সমাজে এখন বিকৃত মানসিকতার কিছু মানুষ জেগে উঠেছে। এই মানুষেরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এরা কেন এমন হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত সমাধান করা জরুরি।

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। রামিসা একটা ফুলের মতো শিশু ছিল। ফোটার আগেই তাকে ঝরে যেতে হলো। অপরাধীর এমন শাস্তি হোক, যাতে আর কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।’

একসময় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের শীর্ষ পদে থাকা রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আমাদের আরও গভীরে যাওয়া উচিত। মানুষ এখন বই পড়া কমিয়ে দিয়েছে, দূরে সরে যাচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সুন্দর কাজগুলো থেকে। শিশুরা যদি খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে ওঠে, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর হবে।’

প্রযুক্তির আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মোবাইল আমাদের অনেক কিছু থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা একা হয়ে যাচ্ছি, আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছি। একধরনের অস্থিরতা কাজ করছে মানুষের মধ্যে, অনেকেই অমানবিক হয়ে উঠছে। সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সমাজের গভীরে গিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে।’

‘রামিসার বাবার মুখটা দেখে সহ্য করি কী করে’

অভিনেতা ও নির্দেশক তারিক আনাম খান শিশু রামিসার মৃত্যুতে স্তব্ধ। ঘটনাটিকে ‘ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আক্ষেপ করে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘শিশু হত্যা এক ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা। শিশুরা কোমল, সরল। তাদের জীবন যদি এভাবে শেষ হয়ে যায়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। আছিয়া থেকে রামিসা—আমরা আসলে কোন সমাজে চলে গেলাম?’

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বারবার রামিসার ছবিটা দেখছি আর ভেতরটা কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে। কী সুন্দর একটা মুখ! এই বয়সে এমন ছবি দেখে কতটা কষ্ট হচ্ছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। রামিসার বাবার মুখটা দেখে সহ্য করি কী করে? একজন বাবা কতটা অসহায় হলে অমন করে কথা বলেন? বাবা হিসেবে তিনি যা হারিয়েছেন, তা কি আর ফিরে পাবেন?’

নাট্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আমাদের সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই সমাজকে ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের সবার। সম্মিলিত চেষ্টা ছাড়া এই অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়। হত্যা, ধর্ষণ, বলাৎকার—এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে প্রতিটি অপরাধের সঠিক ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

সরকার পতনের পর নেপালে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

সরকার পতনের ছয় মাস পর আজ বৃহস্পতিবার নেপালে সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণ শক্তি ও দীর্ঘদিনের পুরোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।

নেপালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে আজ স্থানীয় সময় সকাল ৭টায়। ভোটকেন্দ্রগুলো ১০ ঘণ্টা খোলা থাকবে, অর্থাৎ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। রাজধানী কাঠমান্ডুর সড়কে আজ সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভার (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে ৮ লাখ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। তারা সরাসরি ভোট (ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট) এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির সমন্বয়ে ২৭৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন।

নির্বাচনে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে হাজারের বেশির বয়স ৪০ বছরের কম। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চললেও দেশের কিছু অংশে ভোটকেন্দ্রগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় খোলা থাকতে পারে।

দীর্ঘদিনের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলকে এবার টক্কর দিচ্ছে নতুন একটি দল। এই দলের নেতৃত্বে আছেন সাবেক র‍্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ। ক্ষমতাচ্যুত কে পি শর্মা অলিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই নির্বাচনে। দুজনই লড়ছেন দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শান্ত শহর ঝাপা থেকে।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর নেপালের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল থেকে ব্যালট বাক্স পরিবহন করা একটি বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভান্ডারি জানিয়েছেন, সরাসরি নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আসতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। আর জোট সরকার গঠনের আলোচনা যদি জটিল হয়, তবে সময় আরও বেশি লাগতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচনে কোনো একক দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

গত সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন–জি আন্দোলনে কে পি শর্মা অলির সরকারের পতন হয়। এরপর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি। 

বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত

ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। 

আজ শনিবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, দুবাই, কুয়েতসহ ওই অঞ্চলের সব গন্তব্যে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানবন্দরে আসতে বলা হয়েছে। যোগাযোগ নম্বর- ১৩৬৩৬। 

প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে পর্যটকের নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন আর শুধু তথ্য খোঁজা কিংবা ভাষা অনুবাদের কাজে সীমাবদ্ধ নেই। পর্যটকদের ভিড় সামলানো, যোগাযোগ সহজ করা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়াতেও এর ব্যবহার হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরে পর্যটন এলাকাগুলোতে মানুষের চলাচল বিশ্লেষণ করে অতিরিক্ত ভিড় থেকে তৈরি হতে পারে এমন ঝুঁকি শনাক্ত করা হচ্ছে। ভাষার বাধা দূর করতেও অনুবাদ প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে। জাপানসহ কয়েকটি দেশে বিদেশি পর্যটকদের জন্য এআইভিত্তিক অনুবাদসেবা চালু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভিন্ন ভাষায় পর্যটকদের তথ্য দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে চ্যাটবট।

জরুরি প্রয়োজনে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট পর্যটকদের পথ দেখানো ও নিরাপত্তার বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে। আবার কিছু দেশে নিরাপত্তাবিষয়ক অ্যাপের মাধ্যমে পর্যটকরা অপরাধের ঘটনা জানাতে, জরুরি সহায়তা চাইতে এবং কাছাকাছি পুলিশের অবস্থান জানতে পারেন।

থাইল্যান্ডে পর্যটক ও ট্যুরিস্ট পুলিশের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে এবং নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য দিতে ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো পর্যটক বিপদে পড়লে এআই-সক্ষম পরিধানযোগ্য যন্ত্রের মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা সম্ভব।

প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। বড় ধরনের ভিড় সামলাতেও এটি কাজে লাগানো হচ্ছে। মানুষের চলাচলের তাৎক্ষণিক তথ্য বিশ্লেষণ করে কোথায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে, কোন পথে ভিড় তৈরি হচ্ছে এবং কোথায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা শনাক্ত করা যায়।

ইতালির ভেনিসে পর্যটকের সংখ্যা ও চলাচল পর্যবেক্ষণে ভিড় বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য শুধু ভিড় কমানো নয়, পর্যটকদের চলাচল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা এবং অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে শহরের ওপর তৈরি হওয়া চাপ মোকাবিলা করাও এর লক্ষ্য।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ড্রোনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পর্যটনকেন্দ্র, সমুদ্রসৈকত, বড় সমাবেশ এবং দুর্গম এলাকায় আকাশপথে নজরদারির কাজে ড্রোন ব্যবহার করা যায়। দুবাইয়ের পর্যটন এলাকা ও পার্ক এবং গ্রিস ও চীনের ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারির কাজে ড্রোন ব্যবহারের উদাহরণ রয়েছে।

এসব প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো, পর্যটকের অবস্থান ও পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত তথ্য ও সহায়তা দেওয়া যায়। কোনো পর্যটক কোথায় আছেন এবং কী ধরনের সমস্যায় পড়েছেন, তা জানা গেলে কর্তৃপক্ষও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে পর্যটনে প্রযুক্তির ব্যবহার মানে শুধু নতুন অ্যাপ বা যন্ত্র চালু করা নয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও প্রয়োজন।

স্মার্ট নজরদারি, অপরাধ শনাক্তকরণ, ভাষাগত সহায়তা, মোবাইল নিরাপত্তা অ্যাপ, ভিড় ব্যবস্থাপনা, প্রতারণা শনাক্তকরণ, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং ড্রোন নজরদারি—এসব প্রযুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন এগুলো পর্যটন ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক কাঠামোর সঙ্গে যথাযথভাবে যুক্ত করা যাবে।

স্মার্ট পর্যটনের উত্থান

২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক পর্যটনখাতের পরিবর্তনকে মোটামুটি চারটি পর্যায়ে দেখা যায়। ২০১৯ সালে কোভিডের আগের সময়টিতে পর্যটনখাত ছিল শক্তিশালী অবস্থানে। এরপর ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে এই খাতে বড় ধস নামে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যটন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। আর ২০২৪ সাল থেকে অনেক দেশে পর্যটন আবার মহামারির আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে, কোথাও কোথাও আগের অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এই পুনরুদ্ধারের সঙ্গে পর্যটনখাতে প্রযুক্তির ব্যবহারও দ্রুত বেড়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে ডিজিটাল সেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দক্ষ জনবল, টেকসই অবকাঠামো এবং তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দেশের পর্যটনখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, তথ্যপ্রাপ্তি, ভিড় ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সেবার মান উন্নত করতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে পর্যটকের অভিজ্ঞতা যেমন ভালো হবে, তেমনি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।

একটি স্মার্ট ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন গন্তব্য গড়ে তুলতে সাশ্রয়ী মূল্য, মানসম্মত সেবা, সেবার উৎকর্ষ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার জরুরি।

 

সন্তোষ কুমার দেব: অধ্যাপক, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আওয়ামী লীগের নাশকতার মুরোদ আছে বলে মনে হয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগামী ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

দিবসটিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের নাশকতা করতে পারে এমন আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এত মুরোদ আছে বলে তো আমার মনে হয় না! একে তো নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, মাফিয়া শক্তি, তারা মাঝে মাঝে বিদেশ থেকে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে, এর বেশি তৎপরতা তো দেখি না।’

এর আগে তিনি জানান, ৫ আগস্ট উপলক্ষে বিএনপি আগামীকাল একটি সভা ডেকেছে। সেখানে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন।

আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন করেন, ‘আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে নিয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদন আছে কি না’। জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা তা নয়! আমাদের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এটা সব সময় চালু থাকে, যাতে আনঅ্যাটেনডেড কোনো ভেহিকেল না রাখে। টিমের পুরো সদস্য যেন একসাথে চা খেতে না যায়, টিমের পুরো সদস্য যেন গাড়ি রেখে সবাই একসাথে বিশ্রাম না করে—কেউ না কেউ গাড়িটা অ্যাটেন্ড করবে। সব জায়গায় যাতে সতর্ক অবস্থান করে। এটা নরমাল প্র্যাকটিস, এটাকে অন্যভাবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।’

সম্প্রতি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা—দুটিকে নিরাপদ করার জন্য আমরা সমন্বিত প্রয়াস নিয়েছিলাম। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিত প্রচেষ্টা নিয়েছিল। কোনো অসুবিধা হয় নাই এবং শান্তিপূর্ণভাবে সেটা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, উল্টো রথযাত্রার দিনে কমলাপুর-মতিঝিলের ওদিকে মেট্রোরেলের পিলারের নিচে একটা বোমা সদৃশ বিশেষ জিনিস পাওয়া যায় একটা ছাতার মধ্যে। আমাদের দুজন আনসার সদস্য এটা দেখার পরে পুলিশকে জানায়, পুলিশ ঘিরে রাখে এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এটা সরায়। পরে এটা বিস্ফোরিত করে। এতে করে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। কোনো পক্ষ হয়তো চেষ্টা করেছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে কোনো কিছু করা যায় কি না।’

‘একটা তদন্ত পরিচালনা করছি আমরা, এর পেছনে কারা আছে খুঁজে বের করতে। এর পরে আশুলিয়াতে আরেকটা এ রকম বোমা সদৃশ জিনিস পাওয়া গেছে। একটা ব্যাগ রেখে গেছে একজন দুষ্কৃতিকারী। পরে সেটা আমরা একই কায়দায় উদ্ধার করেছি। এই ঘটনাগুলোর যোগসূত্র আছে কি না সেটা তদন্ত করতে বলেছি। তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। তবে আগের সময়ের তুলনায় যদি আমরা তুলনামূলক বিবরণী দেই, সে সময়ে এ বিষয়গুলো কী রকম হয়েছে, তার তুলনায় এটা অনেকটা কম। তবে আমরা সব সময় সতর্ক আছি,’ যোগ করেন তিনি।