28 C
Dhaka
Home Blog

সরকারের গুদামে সার, কৃষক কেন পাচ্ছে না?

দেশে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সার সংকট চলছে। সরকার বলছে, দেশে পর্যাপ্ত সারের মজুদ আছে। অথচ দেশের কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী ও সময়মতো সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনতে পারছেন না। 

সার এমন একটি কৃষি উপকরণ, যা সঠিক সময়ে নির্ধারিত পরিমাণে প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। তাই চলমান সার সংকট দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

আমন ধান রোপণের পর যে সময়ে জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যা নিয়ে কৃষকের ব্যস্ত থাকার কথা, সে সময়ে তাকে ছুটতে হচ্ছে সারের খোঁজে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে। কৃষক ডিলারের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনমতো সার কিনতে পারছেন না।

সার পাওয়া গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম দেওয়া হচ্ছে। কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আবার কোথাও দিনের বেলা ডিলারের দোকানে গেলে সংকটের কথা বলে কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও পরে বাড়তি টাকা দিলে রাতে সার দেওয়া হচ্ছে।

এ নিয়ে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ঘেরাও এবং সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। কয়েকটি এলাকায় সার সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে, কৃষকরা ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

দেশে বিগত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন সময় সার সংকট হলেও এবারের সংকট অনেক বেশি বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী। এটি ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলের সার সংকটের কথা মনে করিয়ে দেয়। 

১৯৯৫ সালের মার্চে বোরো মৌসুমে সারের তীব্র সংকট তৈরি হয়। সে সময় বিভিন্ন স্থানে ন্যায্য মূল্যে সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গুলি চালানো হয়। সারের জন্য আন্দোলনে সে বছর এক মাসে সারা দেশে অন্তত ১২ জন কৃষক প্রাণ হারান।

এবার সারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেনি, তবে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি থাকায় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সার সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি জেলার জন্য একজন করে মনিটরিং কর্মকর্তা নিয়োগ, সার বিতরণ তদারকিতে কমিটি গঠন, জেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম চালু করা। কিন্তু এসব পদক্ষেপে সার সংকটের মূল কারণগুলো দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সার সংকটের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সার বরাদ্দ, বরাদ্দ করা সার সময়মতো উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি, মাঠপর্যায়ে তদারকির সমস্যা, ডিলার সংকট এবং নতুন ডিলার নিয়োগে অনিশ্চয়তা।

কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনে নিয়মিত নানান পরিবর্তন ঘটেছে। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন হচ্ছে, শাকসবজির আবাদ বেড়েছে এবং পুকুরে মাছ চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে সারের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু সার বরাদ্দের ক্ষেত্রে এসব বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ধান চাষের জমি বেড়েছে ১ হাজার ৬২৫ হেক্টর। কিন্তু সে অনুযায়ী সারের বরাদ্দ বাড়েনি। রৌমারীতে ইউরিয়ার প্রয়োজন ২ হাজার ৯৫ টন এবং টিএসপি ও ডিএপি সারের প্রয়োজন ১ হাজার ৬৭৬ টন করে। কিন্তু বাস্তবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪০ টন ইউরিয়া, ৫১০ টন টিএসপি এবং ৯০০ টন ডিএপি। অর্থাৎ, সেখানে টিএসপি ও ডিএপির বরাদ্দ প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

একইভাবে রাজশাহী জেলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তিন ধরনের প্রধান সারের বরাদ্দই চাহিদার তুলনায় কম। ৭৭ হাজার ৪৭০ টন ইউরিয়ার চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭১ হাজার ১০৯ টন। ২৫ হাজার ৮৮০ টন টিএসপির চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ১৭ হাজার ২৭৪ টন এবং ৫৪ হাজার ৫৩০ টন ডিএপির চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৭৮ টন।

রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৭৭৪ হেক্টর পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে প্রতি তিন মাসে ১ হাজার ৯৯১ টন ডিএপি প্রয়োজন হলেও এর জন্য কোনো সার বরাদ্দ নেই। ফলে পুকুরের মাছ চাষের চাহিদা মেটাতে ফসলের জমির জন্য বরাদ্দ করা সার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সারের সংকট আরও বাড়ছে।

বর্তমান বরাদ্দ নীতিতে কৃষকের সংখ্যা বা কৃষিজমির পরিমাণ বিবেচনায় না নিয়ে ইউনিয়নগুলোতে সমান পরিমাণ সার দেওয়া হয়। অথচ ইউনিয়নভেদে কৃষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা। যেমন রৌমারীর বন্দবেড় ইউনিয়নে কৃষকের সংখ্যা ৮ হাজার ৫২৮ জন, আর শৌলমারীতে ৬ হাজার ৮৫৮ জন। কিন্তু দুই ইউনিয়নেই সমান পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে বেশি কৃষক থাকা ইউনিয়নটি অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ পায় না। উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর বন্দবেড়েই বিক্ষুব্ধ কৃষকরা এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

দেশের অনেক এলাকায় ডিলাররা বরাদ্দ করা সার সময়মতো উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। আগস্টে গাজীপুরের জন্য ১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল মাত্র ৮০০ টন। কুড়িগ্রামেও, যেখানে কৃষকরা একাধিকবার ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে গেছেন, ডিলাররা সময়মতো বরাদ্দ করা সার উত্তোলন করেননি। আগস্টে সেখানে ৫ হাজার ৮৭৫ টন সার বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত ডিলাররা এর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ উত্তোলন করেছিলেন।

ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির ক্ষেত্রেও বরাদ্দের তুলনায় কম সার উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে।

মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ডিলারদের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারক করতে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় ডিলাররা এভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পেয়েছেন।

প্রতি মাসে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জেলাভিত্তিক সার বরাদ্দ করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সার বরাদ্দ ও বিতরণ তদারকি কমিটি সংশ্লিষ্ট জেলার ডিলারদের জন্য সার বরাদ্দ করে। ডিলাররা সেই বরাদ্দ অনুযায়ী নির্ধারিত সরকারি গুদাম থেকে সার উত্তোলন করেন। 

প্রতি মাসে বরাদ্দ করা সার ডিলাররা সময়মতো উত্তোলন করছেন কি না এবং কৃষকদের মধ্যে যথাযথভাবে বিতরণ করছেন কি না, তা তদারকের দায়িত্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন না। কেউ কেউ ডিলারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বেশি দামে অবৈধভাবে খোলা বাজারে সার বিক্রির সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমান সংকটে অন্তত ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তারা ডিলাররা সরকারি গুদাম থেকে বরাদ্দের তুলনায় অনেক কম সার উত্তোলন করছেন, এই তথ্য সময়মতো কৃষি মন্ত্রণালয়কে জানাননি বলে জানা গেছে। ফলে ডিলাররা টানা দুই মাস ধরে কম সার উত্তোলন করতে পেরেছেন এবং স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

অনেক ইউনিয়নে সার ডিলার না থাকায় সার বিতরণও ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৩ হাজার ৭৫৯ জন ডিলার পলাতক থাকায় অনেক ডিলার পয়েন্ট খালি রয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পরেও এতগুলো ডিলারের পোস্ট খালি থাকা সরকারের দিক থেকে মারাত্মক অবহেলার নিদর্শন। সরকারের উচিত ছিল আরও আগেই এসব ডিলারের শূন্যস্থান পূরণ করা।

সরকার এখন ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়াও সার সরবরাহ ও বিতরণে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেক বর্তমান ডিলার আশঙ্কা করছেন, তারা তাদের পদ হারাতে পারেন।

নতুন ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তৎপরতাও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। নতুন নিয়োগ নীতির কারণে অনেক ডিলার তাদের বিদ্যমান প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। ফলে কেউ কেউ সার বিতরণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা সংকট আরও বাড়াচ্ছে।

বর্তমান সংকট সমাধানে যেসব এলাকায় সার বরাদ্দে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে দ্রুত বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কোন ডিলারের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত রয়েছে, সেই তথ্য কৃষকদের সহজে জানার ব্যবস্থা করতে হবে। ডিলাররা যেন সময়মতো বরাদ্দ করা সার উত্তোলন করেন এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকরা যাতে প্রয়োজনের সময় সার কিনতে পারেন, সে জন্য সার বিক্রয়কেন্দ্র প্রতিদিন খোলা রাখা নিশ্চিত করতে হবে। সার সরবরাহ, পরিবহন, গুদামজাতকরণ বা ডিলার পর্যায়ে কোনো অনিয়মের সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট ঠেকাতে নিয়মিত জরিপের মাধ্যমে কৃষকদের প্রকৃত সারের চাহিদা নির্ধারণ করতে হবে। সেই অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দ পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। সার বিতরণ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল মনিটরিং ও রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনতে হবে। ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকদের জানার সুযোগ দিতে হবে, কোন ডিলার কতটুকু সার বরাদ্দ পেয়েছেন, সরকারি গুদাম থেকে কতটুকু উত্তোলন করেছেন এবং কতটুকু বিক্রি করেছেন।

একটি ইউনিয়নে একাধিক ডিলার রাখতে হবে, যাতে কোনো একক ডিলার একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি করতে না পারেন। ডিলারদের সার বরাদ্দ, উত্তোলন ও বিক্রির ওপর নিয়মিত অডিট করতে হবে। কৃষকরা যাতে সার-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু করতে হবে। হটলাইনে পাওয়া অভিযোগ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, তা তদারকের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন। 

 

[email protected]

 

 

 

সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহরে থাকা একটি গাড়ির কাঁচ ভাঙলেও প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার হলরুমে জুলাই অভ্যুত্থানের ৭ শহীদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা সভায় অংশ নিতে আসেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ নেতৃবৃন্দ।

সভা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে কানাইঘাট উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় এনসিপির গাড়িবহর লক্ষ্য করে ঢিল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়।

এদিকে সকাল ১১টা থেকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা এলাকা, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। একই সময়ে সেখানে এনসিপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও জড়ো হন।

দুপুর ১টার দিকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর গোলাপগঞ্জ পৌঁছালে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া লোকজন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। সভা শেষে ফিরে যাওয়ার সময়ও তারা স্লোগান দেন। এসময় গাড়িবহর লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়।

সিলেট জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার (গোলাপগঞ্জ সার্কেল) বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরও একটি ঢিল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙেছে, কিন্তু কেউ আহত হননি। আমরা কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এনসিপির গাড়িবহর নিয়ে কানাইঘাট উপজেলার পথে আছি।’

এ ঘটনায় সারজিস আলম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’

পরে বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পাঁচমাইল বাজারে আবারও বাধার মুখে পড়ে সারজিস আলমের গাড়িবহর। এ সময়ও গাড়িবহরে হামলার চেষ্টা করা হয়।

সারজিস আলম ৩টা ১৩ মিনিটে লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’

এএসপি শাহ আলম বলেন, ‘পাঁচমাইল বাজারে যে বাসায় তাদের দুপুরে খাওয়ার কথা ছিল, সেখানে যাওয়ার মুখে তারা বাধার সম্মুখীন হন। পরে গাড়িবহর ফিরে কানাইঘাটের পথে রওনা দেয়।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রাস্তায় গাড়িবহরে ঢিল নিক্ষেপ বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনা। এনসিপি নেতৃবৃন্দের গাড়িবহরের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও স্ট্যান্ডবাই আছে। শাবিপ্রবিতে এবং গোলাপগঞ্জে দুটি প্রোগ্রামই শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে। কানাইঘাট এবং ওসমানীনগরের জনসভা আয়োজনে কোন নিরাপত্তার আশঙ্কা নেই।’

গ্যাস সংকটে বাড়ছে সারের আমদানি নির্ভরতা, রাষ্ট্রায়ত্ত ৭ কারখানার পাঁচটিই বন্ধ

বারবার গ্যাস সংকট, পুরোনো কারখানা ও বৈশ্বিক কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্নের কারণে দেশে রাসায়নিক সারের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের বার্ষিক চাহিদা মেটাতে আমদানি নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ৭টি সার কারখানার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৭ লাখ টনের বেশি। তবে উৎপাদন করতে পারে দুই-তৃতীয়াংশের কম।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারের চাহিদা ছিল ৬৬ লাখ টন। এর বিপরীতে এসব কারখানায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৬ হাজার টন। ফলে সারের মোট চাহিদার ৮৩ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়েছে।

এর আগের অর্থবছরে ৬৭ লাখ ৪৭ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে দেশে উৎপাদন হয়েছিল ১২ লাখ ৪৪ হাজার টন সার।

উৎপাদন ও চাহিদার এই ক্রমবর্ধমান ব্যবধান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতকে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ও মূল্য অস্থিরতার ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোর বাইরে বহুজাতিক যৌথ উদ্যোগ কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড (কাফকো) প্রতিবছর বিসিআইসিকে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টন ইউরিয়া সরবরাহ করে। তবে এ বছর পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় তাদের উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে।

ইউরিয়া, ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও মিউরেট অব পটাশের (এমওপি) বাকি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার টন সার আমদানি করা হয়েছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানি বেড়ে প্রায় ৪৭ লাখ ৮০ হাজার টনে পৌঁছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়—৪৮ লাখ টনেরও বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার টন ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার টন সার আমদানি হয়েছে।

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ৭টি সার কারখানার মধ্যে মাত্র দুটি চালু রয়েছে। গ্যাস ও অন্যান্য কাঁচামালের সংকটে বাকি ৫টি কারখানা গত ৪ মার্চ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এখনো সেগুলো চালু হয়নি।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক নির্বাহী সচিব রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি নির্ভরতা আরও বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘দেশীয় ইউরিয়া উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ইউরিয়া কারখানাগুলো বন্ধই থাকবে এবং আরও বড় ঘাটতি তৈরি হবে। ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার—উভয় ধরনের সার বিবেচনায় বাংলাদেশ একটি কঠিন সময়ের দিকে এগোতে পারে।’

বিসিআইসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় দেশে সারের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে সরকারকে বেশি পরিমাণে সার আমদানি করতে হচ্ছে।

এমওপির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুরোপুরি আমদানি নির্ভর, আর ডিএপি ও টিএসপির দেশীয় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে সরকারকে সার কারখানার পরিবর্তে অন্য খাতে গ্যাস সরিয়ে নিতে হয়েছে। একইসঙ্গে আমদানিকৃত কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দামও বেড়েছে।

বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্য, উৎপাদন ও গবেষণা) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সংস্থার গ্যাসভিত্তিক সার কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে দৈনিক প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োজন।

তার ভাষ্য, সাধারণত প্রয়োজনীয় গ্যাসের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকটের মধ্যেও গত অর্থবছরে আমরা ১১ লাখ ৬ হাজার টন সার উৎপাদন করেছি। সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পেলে আরও ২২ থেকে ২৫ লাখ টন অতিরিক্ত সার উৎপাদন করা সম্ভব হতো।’

তিনি বলেন, অধিকাংশ কারখানার যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের প্রয়োজন হয়। সে কারণেও উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত ৫টি কারখানা ১৯৬৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত। এই বাইরে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড ২০১৬ সালে চালু হয় এবং ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি ২০২৩ সালে উৎপাদন শুরু করে।

বিসিআইসি সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ করে। ইউরিয়া এখনো দেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সার। বিশেষ করে বোরো ও আমন মৌসুমে এর বার্ষিক চাহিদা থাকে ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন।

জমি প্রস্তুতের সময় মূলত ডিএপি ও টিএসপি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ধান, আলু, শাকসবজি ও ফলের উৎপাদন এবং গুণগত মান বাড়াতে ব্যাপকভাবে এমওপি ব্যবহার করা হয়।

গ্যাস সংকটে গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)।

কারখানাটির প্রধান রসায়নবিদ উত্তম চৌধুরী বলেন, ‘পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় গত অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র ৪ থেকে ৫ মাস চালু ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৬৫ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন করেছি। আগের বছর এই উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৫ হাজার টন। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পেলে উৎপাদন প্রায় দেড় লাখ টনে পৌঁছাতে পারতো।’

১৯৮৭ সালে যখন এই কারখানা স্থাপন করা হয়, তখন বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৫ লাখ ৬১ হাজার টন। যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে গ্যাস সংকট দেশীয় সার উৎপাদনের একমাত্র বাধা নয়।

একাধিক আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার পরও ফসফরিক অ্যাসিড সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি উৎপাদনকারী কারখানাটি গত ২৮ জুন থেকে বন্ধ রয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে ফসফরিক অ্যাসিড সংগ্রহ করতে কারখানাটি হিমশিম খাচ্ছে,’ বলেন ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) রবিউল আলম খান।

তিনি বলেন, ‘জানুয়ারিতে ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরবরাহকারী সেই চালান দিতে পারেনি।’

‘এরপর ৮ জুন ও ২৩ জুন বিসিআইসি নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে একটি প্রতিষ্ঠানও দরপত্রে অংশ নেয়নি,’ যোগ করেন তিনি।

এরপর বিসিআইসি নতুন করে আরও দুটি দরপত্র আহ্বান করেছে। সেগুলো যথাক্রমে ৮ আগস্ট ও ৯ সেপ্টেম্বর খোলা হবে।

রবিউল জানান, সিইউএফএল ও কাফকো উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার পর অ্যামোনিয়ার সংকটে কারখানাটি এর আগে ২ মাসের বেশি বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, ‘এখন আবার আমদানিকৃত ফসফরিক অ্যাসিডের সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।’

২০০৬ সালে ৬ লাখ ৬০ হাজার টন বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে চালু হওয়া ডিএপিএফসিএল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাত্র ৮৫ হাজার টন ডিএপি উৎপাদন করেছে।

মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দেশীয় উৎপাদনের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পেট্রো বাংলা গত বুধবার জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক এলএনজি সরবরাহ থাকে ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই সমস্যার কারণে সেটি কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। ফলে সারা দেশে আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রামে, যেখানে দুটি বড় সার কারখানা অবস্থিত, সেখানে শিল্পকারখানাগুলো গ্যাস পাচ্ছে কম।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বিপণন, দক্ষিণ বিভাগ) অনুপম দত্ত জানান, এ অঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

‘তাই সরকারের নির্ধারিত খাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করতে হচ্ছে। তবে শহরের দুটি সার কারখানার অন্তত একটি সচল রাখার চেষ্টা করছি,’ বলেন তিনি।

চলমান আমন মৌসুমের চাহিদা মেটাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত সরকারের মজুত ছিল মোট ১৬ লাখ ১৯ হাজার টন সার। এর মধ্যে ইউরিয়া ৬ লাখ ২০ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৫২ হাজার, ডিএপি ৪ লাখ ৫১ হাজার ও এমওপি ২ লাখ ২৫ হাজার টন।

ইউরিয়া ও টিএসপির মজুত প্রত্যাশিত পর্যায়ে থাকলেও ডিএপি ও এমওপির মজুত কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে কিছুটা কম।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আমন মৌসুমে জুলাই ও আগস্ট মাসে সারের চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৭৩ হাজার টন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ শাখার অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সাল ইমাম বলেন, ‘জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে, অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, আমদানি উৎস বহুমুখীকরণের কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নিয়মিত মরক্কো, কানাডা ও রাশিয়া থেকে সারের চালান পাচ্ছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে ১২ লাখ টন সার আমদানির চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টন সার পেয়েছে।

ফয়সাল বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাকি চালান আসতে দেরি হচ্ছে। সেগুলো লোহিত সাগর হয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

গ্যাস সংকটে প্রায় ১ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকার পর রক্ষণাবেক্ষণে ১৭ দিন সময় নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে কাফকো আবার উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেফারিং নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ মিশরের

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিতর্কিত রেফারিংয়ের অভিযোগ এনে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। একই সঙ্গে ম্যাচের প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার কর্মকর্তাদের টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দেশটির ফুটবল সংস্থা।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিশর। ম্যাচের পর থেকেই রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল দলটি।

মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে পাঠানো অভিযোগে ম্যাচের কয়েকটি সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছেন। তার মতে, রেফারির একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ তুলেছিলেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। তিনি দাবি করেন, ম্যাচের ফল “আগেই নির্ধারিত ছিল” এবং ফরাসি রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে এমন অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

মিসরের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি ঘটনা। প্রথমটি, ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল। ভিএআর পর্যালোচনার পর বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগে গোলটি বাতিল করা হয়।

দ্বিতীয়টি, আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগে হামদি ফাথির ওপর ফাউলের দাবি। মিশরের অভিযোগ, ওই ঘটনাটি ভিএআরে যথাযথভাবে পর্যালোচনাই করা হয়নি।

এদিকে ফিফা এখনও মিশরের অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

অন্যদিকে বিতর্ককে পেছনে ফেলে ইতোমধ্যেই কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। শনিবার কানসাস সিটিতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড, যারা শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে।

কবে আসছে অপূর্ব-নীহার ‘মায়াপাখি’

ঈদের নাটকে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। আর তার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী নাজনীন নীহার জুটি এরই মধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছে। মনদুয়ারী ও মেঘবালিকার পর আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে এই দুজনকে। এবার তারা আসছেন মায়াপাখি নিয়ে।

মায়াপাখি নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। এই নির্মাতার আগের মনদুয়ারী ও মেঘবালিকা দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল।

জাকারিয়া সৌখিন জানিয়েছেন, এবারের গল্প দর্শকের ধারণারও বাইরে।

গল্পে দেখা যাবে, মায়া খুব সাধারণ একটি মেয়ে। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের নায়িকাদের মতো বেণী করা চুল, কপালে টিপ, চোখে কাজল—সহজ-সরল সেই মেয়েটির প্রেমে পড়ে সাদাত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের মোড় জটিল হতে শুরু করে।

সৌখিন বলেন, যারা আমার নাটক নিয়মিত দেখেন, তাদের জন্য এবার ভিন্ন স্বাদের কিছু আসছে।

নাটকটি নিয়ে আশাবাদী জিয়াউল ফারুক অপূর্বও। তিনি বলেন, মায়াপাখি এমন এক গল্প, যা দেখে সবার মায়া লাগবে। গল্পের শেষে এসে প্রতিটি দর্শকের হৃদয় মোচড় দিয়ে উঠবে। যে ঘোর তৈরি হবে, তা থেকে অনেকদিন বের হতে পারবেন না।

অভিনেত্রী নাজনীন নীহা বলেন, মায়াপাখি আমার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি প্রজেক্ট ছিল। এখানে দর্শক আমাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করবেন। নাটকটি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত।

নাটকটি ঈদুল আজহায় সিএমভি থেকে মুক্তি পাবে।

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে আবারও ইরানের হামলা

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

ইরানের সামরিক বাহিনীর বরাতে আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপি ও সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, কুয়েতের উত্তর-পশ্চিমে ক্যাম্প বুহরিং ও দক্ষিণে ক্যাম্প আরিফজানে এ হামলা চালানো হয়।

ক্যাম্প বুহরিং আগে ক্যাম্প উদাইরি নামে পরিচিত ছিল। কুয়েতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এটি।

কুয়েত সিটির দক্ষিণে অবস্থিত ক্যাম্প আরিফজানও যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, এটি মূলত লজিস্টিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

দুই হামলার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

এর আগে কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে হবে। এটা আমরা আগেও বলেছি। এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজগুলো করা হবে।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে হাজীপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৭ তারিখ আমরা শপথ নিয়েছি। এখন তো অনেক ভালো।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হয়েছি। ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ঋণী। বরাবরই তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সেই সমর্থনের কারণেই আমি আজ কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে পৌঁছান। সে সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থকেরা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

 

 

পুরোনো কোনো গন্ধে হঠাৎ শৈশব মনে পড়ে কেন?

অফিস শেষে বিকেলে বাড়ি ফিরছিলেন রকিব। হঠাৎ দেখলেন, দূরের আকাশ কালো হয়ে বৃষ্টি নামছে। আর তখনই ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ ভেসে এলো বাতাসে। থমকে গেল এলোমেলো ভাবনা। মনে পড়ে গেল শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা, গ্রামের বাড়ির দক্ষিণের জানালায় বসে কত বিকেল এমন বৃষ্টি আর মাটির গন্ধে কেটেছে! সুদূর অতীতের সেই চেনা ঘ্রাণ কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল শৈশবে।

এমন অনুভূতি কেবল রকিবেরই হয়েছে, এমন না। অনেক বছর পর গ্রামে গিয়ে পুরোনো কাঠের আলমারিটা খুলতেই এক অচেনা-চেনা গন্ধে থমকে গিয়েছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী নিপাও। ধুলো, কাঠ, ন্যাপথলিন আর জমানো কাপড়ের একটা মিশ্র ঘ্রাণ। খুব একটা যে ভালো লাগে, তা নয়। কিন্তু নিপার তখন মনে হয়েছিল, এই ঘরটায় তিনি আগেও ছিলেন। খুব ছোটবেলায়। মনে পড়ে যায়, আলমারি খুললে পাওয়া যেত মায়ের শাড়ি, বাবার পুরোনো পাঞ্জাবি, ঈদের নতুন জামার গন্ধ।

পুরোনো কোনো গন্ধে হঠাৎ এমন করে অতীত স্মৃতি মনে পড়ে যায় কেন?

মনোবিজ্ঞানে এই অতীত-যাত্রাকে বলা হয় ‘প্রুস্ত ফেনোমেনন’ বা প্রুস্ত প্রভাব। নামটা এসেছে ফরাসি লেখক মার্সেল প্রুস্তের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ‘ইন সার্চ অব লস্ট টাইম’ থেকে। 

উপন্যাসে দেখানো হয়েছিল, কীভাবে চায়ে চুবিয়ে নেওয়া এক টুকরো মাদেলিন কেকের স্বাদ-গন্ধ এক নিমেষে কেন্দ্রীয় চরিত্রটিকে শৈশবের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সেই বর্ণনা পরে মনোবিজ্ঞান ও স্মৃতিবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ একটা উদাহরণ হয়ে ওঠে। 

২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সাইমন চু ও জন জে. ডাউনস ঘ্রাণ ও স্মৃতির এই নিবিড় সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন। এর শিরোনাম ছিল, ‘ওডার-ইভোকড্ অটোবায়োগ্রাফিক্যাল মেমোরিজ: সাইকোলজিক্যাল ইনভেস্টিগেশনস অব প্রুস্তিয়ান ফেনোমেনা’।

তাদের গবেষণায় দেখা যায়, অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের তুলনায় গন্ধ অতীত স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলতে সবচেয়ে কার্যকর। গন্ধ দিয়ে মনে করা স্মৃতিগুলোতে আবেগের তীব্রতাও বেশি।

আর সেই স্মৃতিগুলো বেশির ভাগ সময়ই শৈশবের প্রথম ১০ বছরের। অর্থাৎ ৩০ বছর বয়সে হঠাৎ কোনো গন্ধে শৈশবের হারিয়ে যাওয়া বিকেল মনে পড়ে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

আমরা যখন কোনো গন্ধ নিই, নাকের ঘ্রাণগ্রাহক কোষগুলো সেই রাসায়নিক সংকেত সোজা পাঠিয়ে দেয় মস্তিষ্কে। এই সংকেত সরাসরি মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ ‘অ্যামিগডালা’ এবং স্মৃতির অংশ ‘হিপোক্যাম্পাস’কে নাড়া দেয়। তাই একটা গন্ধ একই সঙ্গে দুটি কাজ করতে পারে, কী ঘটেছিল আর কেমন লেগেছিল। 

২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী র‍্যাচেল হার্জ ও তার সহযোগীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রেইন-ইমেজিং গবেষণা পরিচালনা করেন। তাতে দেখা যায়, চোখে দেখা বা অন্য কোনো অনুভূতির চেয়ে ঘ্রাণের মাধ্যমে মানুষের অতীত স্মৃতি বেশি মনে পড়ে। 

সহজ কথায়, চোখ দিয়ে আমরা পুরোনো একটা ছবি দেখলে হয়তো ভাবি, আরে, এটা তো সেই জায়গা! কিন্তু কোনো পুরোনো গন্ধ হঠাৎ নাকে এলে মস্তিষ্ক অনেক সময় কল্পনায় সরাসরি আবার সেই দিনগুলোতেই ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

গন্ধ নিজে কোনো জাদুর কাঠি না। আসল জাদুটা লুকিয়ে থাকে গন্ধটার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়।

সরকারি চাকরিজীবী রিয়াদ বলেন, ‘ছোটবেলায় প্রায় প্রতিদিন বিকালে নাশতায় চায়ের সঙ্গে নাবিস্কো বিস্কুট খেতাম। একদিন ঢাকার তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো ফ্যাক্টরির দিকে যাওয়ার সময় সেই বিস্কুটের গন্ধ নাকে এসে লাগে। একদম ছোটবেলায় ফরে যাই। মনে হচ্ছিল সেই দিনগুলো কোথায় হারিয়ে গেছে?’

কারও কাছে হয়তো কাদার গন্ধে কিছুই মনে হয় না। আবার বেসরকারি চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে রাজধানীর কাওরানবাজারের কাদার গন্ধ তার শৈশবে নানাবাড়ি যাওয়ার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।   

গন্ধ স্মৃতি তৈরি করে না, বড়জোর পুরোনো স্মৃতির দরজা খুলে দিতে পারে। এই কারণেই গন্ধের স্মৃতি ব্যক্তিভেদে এত আলাদা।

মাহমুদা খাতুন তার ছেলের স্কুলের নতুন বইয়ের গন্ধে নিজের স্কুল-জীবনে ফিরে যান। কখনো অনিক কারও গা থেকে ভেসে আসা আতরের গন্ধে শৈশবের ঈদের সকাল খুঁজে পান। 

ধান কাটা, শুকনো পাতার বা ভেজা মাটির গন্ধ, রান্নাঘরের কাঠের ধোঁয়া, এগুলো অনেকের কাছে শুধু প্রকৃতির গন্ধ নয়। এগুলো জীবনের কোনো একটা সময়ের সঙ্গে জুড়ে থাকা সংকেত। এ কারণে একই গন্ধ একজনকে আনন্দিত আবার অন্যজনকে বিষণ্নও করে তুলতে পারে।

জীবনের প্রথম দিকের অভিজ্ঞতাগুলো সব মানুষের কাছে একেবারে নতুন ও তীব্র থাকে। পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ তখন আমরা প্রথম অনুভব করি। এই যেমন প্রথম স্কুলে যাওয়া, ঈদের দিনের নানা আয়োজন, স্কুলের লম্বা ছুটিতে নানাবাড়ি যাওয়া, পুকুরে সাঁতার, শীতের সকালে পিঠা বা গ্রামের মেঠোপথ। 

গবেষণায় দেখা গেছে, গন্ধের মাধ্যমে মনে পড়া ব্যক্তিগত স্মৃতিগুলো বেশিরভাগ সময়ই জীবনের তুলনামূলক পুরোনো সময়কার। অবশ্য তার মানে এই না যে সব মানুষের কাছে সব গন্ধই শৈশব স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে। বরং যে গন্ধের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত আবেগ বা অভিজ্ঞতা জড়িয়ে আছে, সেটাই ফিরে ফিরে আসে।

আসাফ প্রায় ২০ বছর পর তার শৈশবের স্কুলের এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেদিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘স্কুলের সেই একই বিল্ডিংটা যেন বদলে গেছে। মাঠটাকে বেশ ছোট লাগছিল। অথচ ছোটবেলায় কত বড়ই না লাগতো! কিন্তু হঠাৎ একটা ক্লাসরুমে ঢুকে পুরোনো কাঠের গন্ধ পাই, বেঞ্চের গা থেকে।’

সেই গন্ধ তার মনে কেমন অনুভূতি তৈরি করেছিল, সে কথাও জানান আসাফ। তার ভাষায়, ‘এক মুহূর্তের জন্য যেন আমি আমার বয়স ভুলে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমি আবার সেই ছোট বালকটি হয়ে বেঞ্চে বসে আছি।’

এটা শুধু ‘মনে পড়া’ না। গবেষণায় দেখা গেছে, গন্ধের মাধ্যমে জেগে ওঠা স্মৃতি অনেক মানুষকে অতীতে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি দেয়। যাকে গবেষকরা বলেন, বিং ব্রট ব্যাক ইন টাইম।

২০০৮ সালে কোহসুকে ইয়ামামোতো ডায়েরি-ভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে দেখা যায়, গন্ধের মাধ্যমে হঠাৎ জেগে ওঠা স্মৃতিগুলো অন্য স্মৃতির তুলনায় বেশি পুরোনো, নির্দিষ্ট ও আবেগঘন হয়। এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন, গন্ধের কারণে তারা যেন অতীতে ফিরে গিয়েছিলেন।

গন্ধ আমাদের অতীতে ফেরায় ঠিকই, তবে স্মৃতি কোনো নির্ভুল ভিডিও রেকর্ডার নয়। প্রতিবার অতীতে ফেরার সময় মস্তিষ্ক স্মৃতিটাকে একটু নতুন করে আঁকে। তাই হয়তো স্মৃতির উঠোনটা বাস্তবে চেয়ে একটু বেশি উজ্জ্বল দেখায়, মায়ের মুখটা দেখায় আরও কোমল।

এইসব গন্ধ হয়তো অনেক আগে হারিয়ে যাওয়া নিজের সংস্করণকে মনে করিয়ে দেয়। কোথায় যেন রয়ে গেছে সেই পুরোনো মানুষটি, বর্তমানে আটকে পড়া ‘আমি’র মধ্যে। বড় হওয়ার ব্যস্ততায় ফেলে আসা ‘আমি’র কাছে পৌঁছানোর পথটা বন্ধ হয়ে গেছে। একটা গন্ধ সেই পথের দরজা খুলে দেয়।

‘একটি দেশ সব দলকে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে, একটি দলকে পারেনি’

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে তুলে ধরে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের একমাত্র দোষ ছিল আমরা আধিপত্যবাদ মেনে নেইনি।’

তিনি দাবি করেন, ভারতে সম্প্রতি শেষ হওয়া ছাত্র আন্দোলনের পেছনেও জামায়াতকে দায়ী করা হচ্ছে, কারণ ‘সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ন্ত্রণে আনলেও জামায়াতকে বশে আনা যায়নি’।

‘ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে সোজা পথে চলুন। জাতি কঠিন সংকটে আছে,’ সরকারের উদ্দেশে বলেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনের কাউন্সিল হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর জামায়াতের উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের একমাত্র দোষ ছিল আমরা আধিপত্যবাদ মেনে নেইনি। এবারও দেখবেন ভারতের তরুণরা রাস্তায় নেমেছে, ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে। সরকার বলে দিয়েছে, এই আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী উসকানি দিয়েছে। আমাদের নিয়ে তাদের এত ভয় কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে একটি দেশ পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে, শুধু একটি দলকে পারেনি। সেই দলের নাম জামায়াতে ইসলামী। সমস্যাটা এখানেই।’

জুলাই আন্দোলনের সময় জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে দলটির আমির বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই তারা ছাত্রদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও দলটি কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেনি। ‘আমরা বলিনি, আমাদের দলের এতজন শহীদ হয়েছেন কিংবা আন্দোলনের নেতৃত্ব আমাদের হাতে ছিল। বরং আমরা শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ও আহতদের সেবা করতে কাজ করেছি,’ যোগ করেন তিনি।

জুলাই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ, অনেকেই ছাত্রও ছিলেন না। তাদের কোনো কোটার দাবি ছিল না, সরকারি চাকরির প্রত্যাশাও ছিল না। তারা রাস্তায় নেমেছিলেন একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে যদি আমরা তাদের সঙ্গে বেইমানি করি, তাহলে আল্লাহ কি আমাদের ছেড়ে দেবেন? শহীদ পরিবারের কাছে, আহত জুলাইযোদ্ধাদের কাছে আমাদের জবাব দিতে হবে।’

বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, ব্যাংক-বিমা, করপোরেশনসহ সরকারি-বেসরকারি সবখানে ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে। ‘যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষদের সরিয়ে অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ণদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যেন একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম করা যায়,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সহযোদ্ধারা কি শুধু এ জন্য জীবন দিলেন, যুদ্ধ করলেন, পঙ্গু হলেন যে একদলকে সরিয়ে আরেক দল ক্ষমতায় বসবে? তারা তো সিস্টেমের পরিবর্তন চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আমরা আবার সেই একই অন্ধকার গলিতে ঢুকে যাচ্ছি।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভুলভ্রান্তি মানুষের হয়, দলের হয়, সরকারেরও হয়। কিন্তু আমরা মনে করি, আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা লঙ্ঘন করেছেন, বিশ্বাস রক্ষা করেননি। আপনারা ফিরে আসুন, এই দাবি মেনে নিন। ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে সোজা পথে চলুন। জাতি কঠিন সংকটে আছে। দেশের মানুষ আপনাদের পাশে থেকে দেশ গড়তে চায়।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই শহীদদের হত্যার বিচার এবং আহতদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবি থেকে জামায়াত কখনো সরে আসবে না। বিচার আজ হোক বা ৫০ বছর পরে হোক, এই বাংলার মাটিতে তা একদিন হবেই।’

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলে যাব। জাতির অধিকারের প্রশ্নে আমাদের মুখ কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’

শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ৪৬ লাখ

শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এক বছরে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গত মার্চে ৪৫ লাখ ৮৩ হাজারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট খুচরা ঋণ গ্রহীতাদের।

এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আছে, এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা চলতি বছরের মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২১ লাখ ৬৩ হাজার।

গত ২৩ জুলাই ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়, খুচরা পর্যায়ে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক ঋণের চাপ, এসএমই কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাসের কারণে এটা হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদিও উচ্চ অঙ্কের খেলাপি ঋণ বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা তৈরি করে, তবে ছোট হিসাবগুলোও বড় আর্থিক সংকটের সতর্কবার্তা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মোট বকেয়া ঋণের বিপরীতে সার্বিক মন্দ বা খেলাপি ঋণের অনুপাত গত বছর যেখানে ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ, এবার তা বেড়ে চলতি বছরের মার্চে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, যা সুশাসনের অভাবকে নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারণে খেলাপির হার খুবই কম।

বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে, ২০১৬ বা তার পরে চালু হওয়া নতুন ব্যাংক এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো ছাড়া বাকি সব রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও ইসলামী ব্যাংকগুলোতে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে খুচরা ঋণ বেড়েছে।

শিল্পভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, কুটির শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মো. মাহীয়ুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে সঠিক ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়নের অভাব। এর একটি অংশ কনজিউমার ও ক্রেডিট কার্ড ঋণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে ব্যবসা, কৃষি ও শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি সব ধরনের শিল্পেই খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়েছে।