30 C
Dhaka
Home Blog

অকালেই চলে গেলেন আফগানিস্তানের পেসার শাপুর জাদরান

দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন শাপুর জাদরান। আফগানিস্তানের হয়ে ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে পেসার শাপুর আর পেরে উঠলেন না, মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই পৃথিবী থেকে চলে গেলেন তিনি। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এর এক পোস্টে শাপুরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

আফগান ক্রিকেটে শুরুর দিকের নায়কদের একজন শাপুর ‘হিমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিসাইটোসিস’ নামক একটি ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে দিল্লির এনসিআর অঞ্চলে তার চিকিৎসা চলছিল। লম্বা লড়াইয়ের পর অবশেষে তিনি হার মানলেন।

এসিবি লিখেছে, ‘শাপুর জাদরান ছিলেন আফগানিস্তান ক্রিকেটের ভিত্তি স্থাপনকারী ব্যক্তিত্বদের একজন, যার নিষ্ঠা, আবেগ এবং অবিচল প্রতিশ্রুতি আমাদের দেশে ক্রিকেটের উত্থান ও উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি ছিলেন সেইসব গর্বিত ক্রিকেটারদের একজন যারা আফগানিস্তানের প্রাথমিক ক্রিকেটযাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এবং আফগান ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে আসার পথ তৈরি করতে সাহায্য করেছিলেন।’

২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডে দিয়ে অভিষেক শাপুরের। বাঁহাতি এই পেসার ২০২০ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ আফগানিস্তানের জার্সিতে খেলেছেন টি-টোয়েন্টি। ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৮০ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ৪৪টি ওয়ানডেতে ৪৩টি উইকেট এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৭টি উইকেট শিকার করেন শাপুর। 

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক জয়ে উইনিং রান নেওয়ার জন্যও জাদরান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

 

জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু মঞ্চের জন্য দিয়ে গেছেন আতাউর রহমান

দেশসেরা নাট্যদল নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সদ্য প্রয়াত অভিনেতা-নির্দেশক ও নাট্যকার আতাউর রহমান। 

প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা-নাট্যকার ও পরিচালক আবুল হায়াত। এই দুই গুণী নাট্যব্যক্তিত্ব একসঙ্গে বহু বছর পথ চলেছেন।

আতাউর রহমানকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন আবুল হায়াত। 

আবুল হায়াত বলেন, ‘কী বলব? ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এত কাছের ও প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন আতা ভাই, তাকে হারিয়ে ফেললাম! মনটা বিষন্ন হয়ে আছে। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।’

আতাউর রহমানের সঙ্গে পরিচয়ের বিষয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘সেই কত বছর আগে থেকে তাকে চিনি। তখন চট্টগ্রামে থাকতাম। একই স্কুলে পড়েছি। আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড় ছিলেন। চেনা মানুষটিকে আজ শেষবারের মতো দেখে এলাম। দেখার পর স্কুলজীবনে দেখা মুখটা মনে পড়েছিল। সেই চেনা মুখ এখন নীরব।’

নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের শুরুর স্মৃতি মনে করতে গিয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘অনেক বছর আগের কথা। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় গঠন করা হবে। গোলাম রাব্বানী আমাকে নিয়ে গেলেন। সেখানে যাওয়ার পর আতা ভাইকে পেলাম। দল গঠন করা হলো। প্রতিষ্ঠাতাদের একজন আমিও। আতা ভাই প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হলেন। জিয়া হায়দার হলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। নতুন পথচলা শুরু হলো আমাদের।’

আবুল হায়াত বলেন, ‘একসঙ্গে দীর্ঘ একটা পথ আমরা পাড়ি দিয়েছি। মঞ্চ নাটকের দলের বেশি সময় কাটে রিহার্সেলে। প্রদর্শনী তো মাত্র একদিন হয়। যেদিন হয় সেদিনই শেষ। কিন্তু রিহার্সেল করতে হয় মাসের পর মাস। কখনো কখনো ছয় মাস ধরে চলে রিহার্সেল।

তখন আমাদের প্রতিদিন দেখা হয়, নাটকের বাইরেও গল্প হয়। অসংখ্য স্মৃতি জমা হয়। এভাবেই আতা ভাইয়ের সঙ্গেও বহু বছরের সম্পর্ক। অনেক স্মৃতি জমে আছে। কিন্তু আজ তিনিই নেই।’

আতাউর রহমানকে মঞ্চ সারথী নামে ডাকা হয়। এ প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, ‘জানি না এত সুন্দর উপাধি কে দিয়েছেন। তবে তার জন্য এটাই ভালো উপাধি। মঞ্চের প্রাণপুরুষ ছিলেন আতাউর রহমান। মঞ্চ নাটকের জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু মঞ্চের জন্য দিয়ে গেছেন।’

আবুল হায়াত বলেন, ‘একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। পাণ্ডিত্য ছিল খুব। রবীন্দ্র ভক্ত ছিলেন। প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। মঞ্চে তার নির্দেশনাগুলো অসাধারণ। কাজ দিয়েই বেঁচে থাকবেন।’

পেছনের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘একসময় চাকরি করতেন। সেই চাকরি ছেড়ে নাটকের দলের জন্য সময় দেন। একটা জীবন তিনি মঞ্চের জন্য দিয়ে গেছেন, নাটকের জন্য দিয়ে গেছেন। এখন তিনি চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। ড. ইনামুল হক চলে গেছেন।

জামালউদ্দিন হোসেন চলে গেছেন। আমারও বয়স হয়েছে। প্রিয় মানুষরা এক এক করে চলে যাচ্ছেন।’

আবুল হায়াত বলেন, ‘আমার বড় মেয়ে বিপাশা আর আতা ভাইয়ের মেয়ে ভালো বন্ধু। ওদেরও অনেক স্মৃতি আছে বেড়ে ওঠার সময়ের, মঞ্চ নাটককে কেন্দ্র করে।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘এক এক করে স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।’
 

‘ইরানের হাতে এখনো যথেষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র আছে’

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বহু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তারপরও ইরানের এখনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ‘উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা’ আছে।

আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন এ কথা বলেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জাননো হয়।

তিনি জানান, ইসরায়েলের জন্য জন্য বড় ধরনের হুমকি ছিল এমন ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র ধ্বংস করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্রগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখব এবং নিক্ষেপের পরিমাণ কমিয়ে আনব। তবে তাদের শাসনব্যবস্থার এখনো উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে।

‘আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে, আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্ভেদ্য নয়।’

১২ লাখ কৃষকের দেড় হাজার কোটি টাকার ঋণ মাফ করছে সরকার

মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক প্রথম বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ও সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সাংবাদিকদের জানান, কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

এ সময় আরও জানানো হয়, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত সুদসহ কৃষকদের কাছে পাওনা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা এ মওকুফের আওতাভুক্ত হবে।

এ ঋণ মওকুফ করা হলে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হবে। ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন, যা তাদের কর্মস্পৃহা বাড়াবে এবং দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ঋণের কিস্তি বাবদ যে অর্থ কৃষকের ব্যয় হতো, সেই অর্থ তারা উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

এছাড়া কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমান ভালো হবে। ফলে তারা ব্যাংক থেকে পুনরায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি তারা স্থানীয় মহাজনী ঋণের উচ্চ সুদের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

কৃষকরা নতুন উদ্যোমে শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে করে জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ও আমদানি নির্ভরতা কমবে। প্রায় তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন কমবে এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ১৯৯১-৯৬ মেয়াদকালে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছিল।

সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একইসঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক হয়েও কেন আম আমদানি করে বাংলাদেশ

বিশ্বে আম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। দেশে বছরে ২৪ থেকে ২৬ লাখ টন আম উৎপাদিত হয় এবং এর অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার।

তারপরও দেশে নিয়মিত আম আমদানি করা হয়। আর এসব আম আসে উচ্চ আয়ের ভোক্তাদের সারা বছর আমের চাহিদা মেটাতে।

গুলশান, বনানী, বায়তুল মোকাররম, ধানমন্ডি ও উত্তরার কাঁচাবাজার ও সুপারশপগুলোর ফলের দোকানে সারা বছরই এসব আমদানি করা আম দেখা যায়। বেশি দাম দিয়ে হলেও বছরজুড়ে আম কিনতে ইচ্ছুক উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতেই এসব আম বিক্রি করা হয়।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বাদের দিক থেকে বাংলাদেশের আম অতুলনীয়। তাই, দেশে যখন আমের মৌসুম চলে তখন আমদানি করা জাতগুলোর চাহিদা তেমন একটা থাকে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে আম আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৮ দশমিক ৩ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ব্যাপকভাবে বেড়ে ১ হাজার ৩৪৩ টনে পৌঁছায়। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি কমে ১৪১ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ২৯ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৪ দশমিক ৮৭ টনে নেমে আসে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে আমদানি আবার বেড়ে ৩৭ দশমিক ০৫ টনে পৌঁছায়।

থাইল্যান্ড, মিশর, ভারত, কেনিয়া, নেদারল্যান্ডস, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আম আমদানি করে বাংলাদেশ। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু থাইল্যান্ড ও ভারতের পাশাপাশি হাতে গোণা কয়েকটি দেশ থেকে আম আমদানি করা হয়েছে।

আম আমদানিকারক মো. আব্দুল মানিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আগে খরচ কম থাকায় আমদানি বেশি হয়েছিল। তখন প্রতি কেজিতে শুল্ক ছিল ৪৫ টাকার মতো, আর উড়োজাহাজে পরিবহন খরচ ছিল প্রতি কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আর এখন প্রতি কেজিতে শুল্কই দিতে হয় প্রায় ৫০০ টাকা। সেইসঙ্গে প্রতি কেজিতে উড়োজাহাজে পরিবহন খরচ বেড়ে প্রায় ৩০০ টাকা হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে এসব আমের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই আমদানিও কমেছে।’

থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে খাদ্য আমদানিতে মাত্র প্রায় পাঁচ শতাংশ কর আরোপ করা হয় উল্লেখ করে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাংলাদেশে কর কমানো হলে আঙুর, আপেল ও মাল্টার মতো ফল আরও কম দামে পাওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমদানি করতে যে খরচ পড়ে যায়, তাতে উচ্চ আয়ের অল্পসংখ্যক মানুষই আমদানি করা আম কিনতে পারেন। আসলে মিষ্টি বেশি হওয়ার কারণে এসব আমের চাহিদা রয়েছে। থাই সুইট ম্যাঙ্গো এখনো সবচেয়ে বেশি চলে।’

ইউনিমার্টের গুলশান-২ শাখার বিক্রয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ লিমন জানান, দেশে আমের মৌসুম শুরু হলে বিদেশি আমের চাহিদা কমে যায় এবং সে অনুযায়ী আমদানিও কমানো হয়। মৌসুম শেষ হলে আবার আমদানি বাড়ে।

তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার আর২ই২, ভারতের কাটিমন ও থাইল্যান্ডের ব্যানানা ম্যাঙ্গোসহ আরও কয়েকটি জাতের চাহিদা বেশি। এগুলোর পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস থেকেও আম আমদানি করা হয়। আর২ই২ প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। কাটিমন বিক্রি হয় প্রতি কেজি ২৫০ টাকায়।’

লিমনের ভাষ্য, বছরজুড়ে এসব আমের চাহিদা থাকলেও রমজানে চাহিদা বাড়ে। রমজানে সব জাতের আমের চাহিদা বেশি থাকে।

গুলশান-২ কাঁচাবাজারের ফল বিক্রেতা কবির হোসেন বলেন, ‘থাইল্যান্ডের জাম্বু, চেরি ম্যাঙ্গো ও সুইট ম্যাঙ্গোর চাহিদা বেশি। জাম্বু প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা, চেরি ম্যাঙ্গো ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সুইট ম্যাঙ্গো ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।’

তার ভাষ্য, আমদানি করা এসব আমের মূল ক্রেতা বড় ব্যবসায়ী ও ভালো বেতনের পেশাজীবীরা। প্রতি সপ্তাহে তিনি প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কেজি আম বিক্রি করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সরফ উদ্দিন বলেন, ‘দেশে আমের মৌসুম না থাকলে আমদানি করা আম ভোক্তার চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু, স্বাদ ও মানের হিসাব করলে আমদানি করা আমগুলো বাংলাদেশের আমের সমকক্ষ নয়। আসলে সারা বছর যারা আম খেতে চান, তারা বাজারে প্রাপ্যতার ভিত্তিতেই আমদানি করা আম কেনেন।’

যখন একটি গোল দরকার, তখন রোনালদোকে তুলে নিতে পারেন না: মার্তিনেজ

তেমন কোনো প্রভাব রাখতে না পারলেও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে রাখলেন রবার্তো মার্তিনেজ। আগের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে যোগ করা সময়ে গোল করে দলকে জেতানো গনসালো রামোসকে খেলালেনই না তিনি। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট খেলানো এবং রামোসকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার এমন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন পর্তুগালের কোচ।

সোমবার রাতে ডালাসে শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেন বদলি নামা মিকেল মেরিনো। গোটা ম্যাচে মাঠে থেকে মাত্র ১৯ বার বল স্পর্শ করতে পারেন রোনালদো।

৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার পড়তি ফর্ম এবং তাকে ম্যাচের পর ম্যাচ খেলানো নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। চলতি বিশ্বকাপেও এই প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে বহুবার। আগের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করার পর রোনালদোকে ৮০তম মিনিটে তুলে নিয়েছিলেন মার্তিনেজ। তবে স্পেনের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরও নিজের পুরোনো যুক্তিতেই অটল থেকেছেন এই স্প্যানিশ কোচ।

রোনালদোকে শেষ বাঁশি পর্যন্ত মাঠে রাখার কারণ জানিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘যখন দলের কথা ভাবতে হচ্ছে এবং দলের জন্য একটি গোল দরকার, তখন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে তুলে নিতে পারেন না। সে কোনো সমস্যা ছাড়াই ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’

পর্তুগালের বিদায়ী কোচের মতে, গোল করার জন্য রোনালদোর বিকল্প ভাবা অসম্ভব, ‘সে প্রভাববিস্তারকারী ফুটবলার। মাঠে তার উপস্থিতিতেই অনেক কিছু হয়। তার কারণে জায়গা তৈরি হয়, ডেডবল পরিস্থিতিতে বা বক্সের ভেতরে যেকোনো পরিস্থিতিতে তাকে বদলি করার কোনো মানেই হয় না।’

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে গোলটি হজম করে পর্তুগাল। এর আগেই নিয়মানুযায়ী পাঁচটি বদলি করে ফেলায় রোনালদোকে উঠিয়ে মার্তিনেজের সামনে নতুন কাউকে নামানোর কোনো সুযোগও ছিল না।

রামোসকে না খেলানোর বিষয়ে এই কোচের ব্যাখ্যা, খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ষষ্ঠ বদলি হিসেবে হয়তো তাকে মাঠে নামাতেন, ‘অতিরিক্ত সময়ে হয়তো গনসালো রামোসকে ব্যবহার করাটা যুক্তিযুক্ত হতো। কিন্তু আমাদের খেলার কাঠামোটা ধরে রাখতে হতো। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ৯০ মিনিটের মধ্যে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না।’

এই ম্যাচটি দিয়ে শেষ হয়েছে পর্তুগালের কোচ হিসেবে মার্তিনেজের মেয়াদ। বিশ্বকাপের আগেই তিনি বলেছিলেন, মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইচ্ছে তার নেই। শুধু তা-ই নয়, স্পেনের বিপক্ষে হারটি হয়ে থাকছে বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনালদোরও শেষ ম্যাচ। ফলে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বাদ অচেনাই থেকে গেল ফুটবলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার।

‘থিয়েটারের পরিপূর্ণ মানুষ ছিলেন আতাউর রহমান’

সদ্য প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে বাংলাদেশের থিয়েটার অঙ্গনের একজন পরিপূর্ণ ও আধুনিক মনের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নাট্যকার মাসুম রেজা।

তিনি বলেন, বাংলা নাটককে সমৃদ্ধ করতে আতাউর রহমানের অবদান ছিল ব্যাপক।

জনপ্রিয় নাট্যকার মাসুম রেজা দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চ নাটকের সঙ্গে যুক্ত। নাট্যদল ‘দেশ নাটক’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি অসংখ্য নাটক লিখেছেন এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারও পেয়েছেন।

সদ্য প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই নাট্যকার।

মাসুম রেজা বলেন, ‘আতাউর রহমান থিয়েটারের মানুষ। সত্যি কথা বলতে, থিয়েটারের পরিপূর্ণ মানুষ আতাউর রহমান। সংস্কৃতিমনা মানুষ। আধুনিক মনের মানুষ। এত সিনিয়র হওয়ার পরও অনেক আধুনিক একজন মানুষ ছিলেন আমার প্রিয় আতা ভাই।’

থিয়েটারে আতাউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বাংলা নাটকে তার ব্যাপক অবদান। বাংলা নাটককে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। সৃষ্টিশীল মানুষ ছিলেন। সবসময় সৃষ্টির নেশায় থাকতেন।’

ঢাকার মঞ্চে বহুল প্রশংসিত নাটক ‘গ্যালিলিও’-এর প্রসঙ্গ টেনে মাসুম রেজা বলেন, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন আতাউর রহমান। সে সময় জার্মান কালচারাল সেন্টারে নাটকটির প্রদর্শনী হতো এবং দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায়।

তার ভাষায়, ‘আতা ভাইয়ের অন্যতম সফল কাজ এটি।’

‘রক্তকরবী’ নাটকের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মাসুম রেজা। তিনি বলেন, ‘রক্তকরবী তিনি মঞ্চে নির্দেশনা দিয়েছেন। বড় একটি কাজ। আসলে বিশ্ববিখ্যাত ক্লাসিক নাটকগুলোকে আতা ভাই মঞ্চে নিয়ে এসেছেন পরম যত্ন করে। বাংলাদেশের মঞ্চে তার নাটকগুলো সবার ভালোবাসা পেয়েছে।’

আতাউর রহমানের সাহিত্যচর্চা ও বিশ্বনাট্যের প্রতি আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মাসুম রেজা বলেন, ‘যেকোনো কাজে রবীন্দ্রনাথের লেখা থেকে আতা ভাই উদ্ধৃতি দিতেন। রবীন্দ্রনাথের ভক্ত ছিলেন এবং প্রচুর পড়াশোনা করা একজন মানুষ ছিলেন। শেকসপিয়ার নিয়ে কাজ করেছেন। বিশ্বখ্যাত নাট্যকারদের প্রতি তার প্রবল শ্রদ্ধাবোধ ছিল। সেইসব কাজ মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। কাজ করে তৃপ্তি পেয়েছেন।’

আতাউর রহমানের আড্ডাপ্রিয় স্বভাবের কথাও স্মরণ করেন এই নাট্যকার। তিনি বলেন, ‘ভীষণ আড্ডাপ্রিয় মানুষ ছিলেন তিনি। আড্ডা দিতে ভালোবাসতেন। আড্ডাটাকে জমিয়ে রাখতেন। আমি ও প্রয়াত খালেদ খান হয়তো আড্ডা দিচ্ছি, তিনি আসতেন এবং অনায়াসে আড্ডা জমিয়ে তুলতেন।’

শেষে মাসুম রেজা বলেন, ‘তার কথায় আনন্দ পেতাম। অনেক কিছু জানতাম। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।’

খামেনির দাফন নিয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান স্থগিত

ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। 

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাতে আজ বুধবার বার্তাসংস্থা এএফপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। 

নিউইয়র্ক টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা থেকে খামেনির তিন দিনব্যাপী বিদায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে আয়োজনের প্রস্তুতিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছে। 

অনুষ্ঠানের নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে। 

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে তাকে সমাহিত করার কথা। 

ওই শহরেই জন্মগ্রহণ করেন খামেনি। সেখানে ইমাম রেজার মাজার এলাকায় তার বাবাকেও দাফন করা হয়েছিল।

দাফনের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হলো নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস

আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের দুই সপ্তাহ আগেই নাটোরের লালপুরে অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলসের ২০২৫-২৬ মৌসুমের মাড়াই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত বছরের ১০ নভেম্বর মাড়াই মৌসুম শুরু হয়। সূত্র জানিয়েছে, ১২২ দিন চালু রেখে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

‘প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করার পর পর্যাপ্ত আখ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২৩ ফেব্রুয়ারি মিলের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হই,’ বলেন মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. আশাব উদ্দিন।

নথি অনুযায়ী, এ মৌসুমে ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আখ থেকে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় চলতি মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, আখ চাষ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকটই উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।

আশাব উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, চাষাবাদে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হলেও বেশ কিছু কারণ প্রভাব ফেলেছে—বিপুল পরিমাণ আখ গুড় উৎপাদক ও অন্যান্য মিলে সরবরাহ করা হচ্ছে; অনেক কৃষক আখের পরিবর্তে অধিক লাভজনক অন্যান্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন।

চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার একর জমি থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও প্রকৃত উৎপাদন তার চেয়ে কম হয়েছে।

স্থানীয় চাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম মণ প্রতি ২৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ থেকে ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ হাজার কৃষক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের পাওনা ১৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও আখ সংকটে চিনির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি।

গত বছর (২০২৪-২৫ মৌসুমে) নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করেছিল। সে তুলনায় প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন কম আখ মাড়াই হয়েছে।