26.3 C
Dhaka
Home Blog

ক্ষমতার কেন্দ্রে এপিএস ইউনুছ আলী: সাক্ষাৎ নিয়ন্ত্রণ থেকে পদায়ন, তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) কৃষিবিদ মোঃ ইউনুছ আলীকে ঘিরে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা চলছে। মন্ত্রীর সাক্ষাৎ নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, বদলি-পদায়ন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে তদবির, সরকারি বরাদ্দ ও ফাইল প্রক্রিয়ায় আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একজন এপিএসের অস্বাভাবিক প্রভাব প্রশাসনিক কার্যক্রমে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবুল অভিযোগ করেন, কৃষিবিদ মোঃ ইউনুছ আলীর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেকের কাছে মনে হচ্ছে তিনি তাঁর দায়িত্বের সীমার বাইরে গিয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন।

ড. বাবুল দাবি করেন, পরপর দুই দিন মন্ত্রণালয়ে গিয়েও তিনি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। অথচ একই সময়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির জন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, দলের কঠিন সময়ে পাশে থাকা অনেক নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীও প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন না। এমনকি মহাসচিবের পক্ষ থেকে সাক্ষাতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা থাকার পরও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মী নন, একাধিক জনপ্রতিনিধিও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, এপিএস ইউনুছ আলীর অনুমতি ছাড়া মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক সমন্বয় ও জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রয়োজনে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেক কর্মকর্তাকে। এর ফলে প্রকল্প অনুমোদন, পদায়ন, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ মিল্ক প্রডিউসার্স কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা), বিভিন্ন ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ (এলজিইডি) অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন ইউনুছ আলী। মিল্কভিটার নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও তার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাসরুল্লাহর পদায়ন ঘিরেও অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের স্বাধীন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের উন্নয়ন বরাদ্দ ছাড়ের ক্ষেত্রেও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল আটকে রেখে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

সরকারি ক্রয় ও টেন্ডার অনুমোদন প্রক্রিয়াতেও তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (CCGP) পাঠানোর আগে বিভিন্ন ফাইল প্রক্রিয়াকরণে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাহিদা অনুযায়ী সুবিধা না পেলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনে বিলম্ব করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কয়েকটি পদায়ন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ২৮ জুন ২০২৬ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জামালপুর ও ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় পর্যায়ের প্রভাব ছিল।

একই বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, এসব পদায়ন নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ১৯ মে ২০২৬ জুলকারনাইন সায়ের আরেক পোস্টে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ করা হয়, “পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (২য় পর্যায়)” প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তার নাম প্রস্তাবের জন্য এলজিইডির ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ২২ জুন ২০২৬ দৈনিক খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক করার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। ওই প্রক্রিয়াতেও মন্ত্রণালয় পর্যায়ের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সামনে আসে।

প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন এপিএসকে ঘিরে এমন ধারাবাহিক অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কৃষিবিদ মোঃ ইউনুছ আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরানে হামলার মাঝে রাফা সীমান্ত বন্ধ, ভোগান্তিতে গাজাবাসী

ইরানে সম্মিলিত ভাবে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৮ নেতা নিহত হয়েছেন। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেশ ঘোলাতে হয়ে উঠেছে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিশর-গাজার সীমান্তবর্তী এলাকার রাফা ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। 

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। 

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘জরুরি ভিত্তিতে বেশ কয়েক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে গাজা উপত্যকায় প্রবেশে ব্যবহৃত রাফা ক্রসিং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। 

এই সীমান্তপথটি গাজায় ত্রাণ প্রবেশের একমাত্র স্থলপথ। পাশাপাশি, এই পথে গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিরা বিশেষ ব্যবস্থায় গাজা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পান। 

রাফা সীমান্ত বন্ধে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিরা। 

দীর্ঘ সময় বন্ধের পর গত মাসে গাজার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত রাফা ক্রসিং খুলে দেয় ইসরায়েল। বেশ কয়েক মাস পর সীমিত আকারে ফিলিস্তিনিরা গাজা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তাদের বেশিরভাগই গুরুতর অসুস্থ রোগী। 

ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে গাজার ২৩ লাখ মানুষের বেশিরভাগই তাদের নিজ বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। যার ফলে, গাজাবাসীরা অনেকাংশেই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। 

 

আর সেই ত্রাণ আসার একমাত্র কার্যকর পথ হলো এই রাফা ক্রসিং। 

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘ অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি চালু থাকলেও গাজাবাসীদের জীবন বাঁচানোর জন্য পাঠানো ত্রাণ প্রবেশে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ইসরায়েলের আরোপ করা বিধিনিষেধের কারণে গাজায় ওষুধ, পুনর্নির্মাণের উপকরণ, খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। 

তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতির শুরুতেই গাজাবাসীর প্রয়োজনের তুলনায় অন্তত চার গুণেরও বেশি খাবার সেখানে প্রবেশ করেছে। তবে এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তেল আবিব।  

‘যুদ্ধবিরতির শুরুতে গাজাবাসীদের প্রয়োজনের তুলনায় চার গুণেরও বেশি খাবার সেখানে পাঠানো হয়েছে। যার ফলে, হাতে থাকা মজুদ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গাজাবাসী প্রয়োজন মেটাতে পারবে বলে আমরা আশা করছি’, বিবৃতিতে জানায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। 

কোগ্যাট নামের সংস্থা দাবি করে, ‘রাফা ক্রসিং বন্ধ হলেও এতে গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতির কোনো অবনতি হবে না।’

সংস্থাটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং নতুন কোনো পরিস্থিতির উদ্রেক হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। 

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বেসামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে কোগ্যাট। এই সংস্থাটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অংশ। 

সমালোচকরা বলেন, এই সংস্থা মূলত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যস্ত থাকে। এই সংস্থাটিই মূলত চলাচলে বিধিনিষেধ ও বিভিন্ন পথ খোলা ও বন্ধ রাখার কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

দ্রুত শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন এবং পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। বহুল আলোচিত এই তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকী, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরিন জাহান প্রমুখ।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তৃতীয় টার্মিনাল ঠিক কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা টার্মিনালটির কার্যক্রম দ্রুত শুরুর লক্ষ্যে কাজ করছি এবং পর্যালোচনা করছি। প্রধানমন্ত্রী এটি দ্রুত চালুর বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন।’

এদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বৈঠকটিকে ‘রুদ্ধদ্বার বৈঠক’ উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাকি অর্থ জাপানি সংস্থা জাইকার ঋণ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হয়। তখন বেবিচক জানিয়েছিল ২০২৪ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের চেষ্টা সত্ত্বেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও পরিচালনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তহীনতা এবং টার্মিনাল ভবনের ভেতরের কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এটি চালু করা যায়নি। বেবিচক কর্মকর্তাদের মতে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃতীয় টার্মিনাল চালু নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎজ এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন। জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত রাজস্ব ভাগাভাগির হার সরকারের কাছে বেশি মনে হওয়ায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা বশিরউদ্দিন জানুয়ারিতে বলেছিলেন, এ টার্মিনাল চালু নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জাপানের উপমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু সফল হয়নি।

বেবিচক ও মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘চুক্তির শর্তের বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।’

বেবিচকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত বছরের শেষদিকে বেশ কয়েকটি বৈঠক হলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো ফল আসেনি।’

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা ছিল, কনসোর্টিয়ামের তত্ত্বাবধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দুই বছরের জন্য তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন পরিচালনা করবে এবং বেবিচক ডেটা নিরাপত্তা দেবে।

কর্মকর্তারা জানান, চুক্তি সইয়ের পর টার্মিনাল চালুর জন্য জনবল নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের জন্য অন্তত ৬ মাস সময় লাগবে।

এছাড়া, টার্মিনালের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি এখনো প্রণয়ন করা হয়নি।

৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের তৃতীয় টার্মিনালে চার শিফটে কাজ করার জন্য প্রায় ৬ হাজার কর্মীর প্রয়োজন হবে, যাদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার থাকবে নিরাপত্তা কর্মী।

উদ্বোধনী ম্যাচেই স্ট্রিমিং বিপর্যয়ে দর্শকদের ক্ষোভ, প্ল্যাটফর্মগুলোর দুঃখ প্রকাশ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সম্প্রচারের সময় বাংলাদেশে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, বিপুল সংখ্যক দর্শকের চাপ সামাল দিতে ওটিটি বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো যথেষ্ট প্রস্তুত ছিল কি না?

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হয় ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপর রাত ১টায় উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হয়। এ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল স্বাগতিক মেক্সিকো।

উদ্বোধনী ম্যাচ চলার সময় অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পেতে দেরি, পেমেন্ট জটিলতা, বাফারিং এবং লাইভ সম্প্রচারে বারবার বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বড় অংশই ছিল বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচারের স্বত্বধারী, বাংলালিংক পরিচালিত প্ল্যাটফর্ম টফিকে ঘিরে।

অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, সাবস্ক্রিপশন চালু করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবার কেউ কেউ ম্যাচ চলার সময় বারবার সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

আনামুল হক নামে একজন ব্যবহাকারী টফির একটি ফেসবুক পোস্টের নিচে লিখেছেন, ‘মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ২০ মিনিটও দেখতে পারিনি। আমার ৯৯ টাকা ফেরত দিলে খুশি হব।’

আরও কয়েকজন ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, এ বছর বিশ্বকাপের জন্য কেনা সাবস্ক্রিপশন হয়তো পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় কাজে আসতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলালিংকের করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের প্রধান গাজী তৌহিদ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘লাইভ সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটার পর অস্বাভাবিক হারে ওটিপি অনুরোধ বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছিল।’

ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি কারণ ব্যাখ্যা করেন। বলেন, ‘সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটার পর অনেক গ্রাহক বারবার লগইন ও সেশন পুনরায় চালু করার চেষ্টা করেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ওটিপি অনুরোধ তৈরি হয়েছিল, যে কারণে বিলম্ব হয়েছে।’

বাফারিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তৌহিদ বলেন, ‘বিশ্বকাপের ফিড স্বত্বধারী ও প্রযুক্তিগত অংশীদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, যাতে সমস্যাগুলো সমাধান করা যায় এবং প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা যায়।’

বর্তমানে সেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শুধু বাংলালিংকের টফি নয়, গ্রামীণফোন পরিচালিত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বায়োস্কোপ প্লাসের ব্যবহারকারীরাও প্রায় একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তারা অ্যাপে লগইন করতে পারেননি এবং শুধু লোডিং চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন।

অফি নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘আমি টিভিতে বায়োস্কোপ প্লাস অ্যাপের ওপেনিং অ্যানিমেশন উপভোগ করেছি। যেহেতু টাকা দিয়েছি, এটাকে অন্তত সুন্দর একটি প্রি-লোডার বলা যায়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কিছু গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। আমাদের টিম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক সেবা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করেছে।’

এ সময় তিনি সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রতি চার বছর পর পর হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট দেখতে গিয়ে বার বার ভোগান্তিতে পড়া গ্রাহকদের অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে বিপুল সংখ্যক দর্শক সামাল দেওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেছে কি না।

জাপানি বিনিয়োগ টানতে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি: জাইকা প্রেসিডেন্ট

বাংলাদেশে বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা দেখছে জাপান। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাক সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। 

গত ২ জুলাই দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট তানাকা আকিহিকো। তার ভাষায়, ‘জাপানি কোম্পানিগুলো অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না।’

তানাকা গত ১ জুলাই ঢাকা সফরে আসেন। আজ রোববার তার বাংলাদেশ ছাড়ার কথা। এই সফরকালে তিনি ২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তানাকা বলেন, বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশই জাপানের সহায়তায় চলমান বড় প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মেট্রোরেলের বিভিন্ন এমআরটি লাইন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বন্দর-সংযুক্ত যোগাযোগ অবকাঠামো ও অন্যান্য কৌশলগত বিনিয়োগ প্রকল্প।

সাক্ষাৎকারে জাপানের অর্থায়নে নির্মিত অবকাঠামো প্রকল্পের মান নিয়েও কথা বলেন তানাকা। তার মতে, এসব প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য অনেক বেশি।

তিনি জাপানের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, সেখানে বাংলাদেশের ভূমিকা, জাইকার ঋণের সুদের হার বাড়ার কারণ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রভাব ও বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়েও আলোচনা করেন।

তানাকা বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা এখনো শক্তিশালী। তার মতে, সুশাসন ও স্বচ্ছতা বাড়লে আরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ আসবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ প্রায় ৪০ কোটি ডলারের বেশি। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি ব্যবসা করছে।

জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের আগে কয়েকটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা।

তানাকার ভাষায়, বিশ্বের অনেক দেশের বিনিয়োগকারীর তুলনায় জাপানি কোম্পানিগুলো বেশি সতর্ক।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) ব্যবসার পরিবেশকে আরও অনুকূল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাঠামো যত শক্তিশালী হবে, ব্যবসা পরিচালনা তত সহজ হবে।

তবে তিনি বলেন, আরও বেশি জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আনতে হলে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সুশাসনেরও উন্নতি প্রয়োজন।

বড় প্রকল্পে কেন দেরি

জাইকা প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ ধীর হয়েছে। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ উল্লেখযোগ্য।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এসব বিষয়ে জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে কোনো মৌলিক মতবিরোধ নেই। তার ভাষায়, সার্বিকভাবে সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো মতপার্থক্য নেই। উভয় পক্ষই চায় টেন্ডার ও ক্রয়প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হোক, যাতে নির্মাণকাজ এগিয়ে যায়।

তার মতে, এমন বিলম্ব শুধু বাংলাদেশেই নয়। অন্যান্য দেশেও সরকারি প্রকল্পে বিভিন্ন ধাপের যাচাই-বাছাইয়ে সময় লাগে। তবে জাইকার প্রত্যাশা ছিল, ক্রয় ও দরপত্র প্রক্রিয়া আরও দ্রুত শেষ হবে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার আশা, সরকার ও জাইকা একসঙ্গে বাকি সমস্যাগুলোর সমাধান করবে।

ব্যয় নয়, মান বিবেচনা করতে হবে

জাপানের অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় বেশি—এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেন তানাকা। তিনি বলেন, আমরা মনে করি না জাপানের অর্থায়নে প্রকল্প ব্যয়বহুল।

তার মতে, শুধু ব্যয় নয়, প্রকল্পের মান ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলও বিবেচনায় নিতে হবে। একই মানের প্রকল্প হলে তখন ব্যয়ের তুলনা করা যেতে পারে। কিন্তু জাপানের প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে বেশি সুবিধা দেয়।

তিনি উদাহরণ হিসেবে ঢাকার মেট্রোরেলের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, মানুষ মেট্রোরেলকে আরামদায়ক ও সুবিধাজনক মনে করছে। এটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।

তার মতে, এমআরটি লাইন-৬-এর সাফল্যই উচ্চমানের অবকাঠামোয় বিনিয়োগের গুরুত্ব প্রমাণ করে।

ইন্দো-প্যাসিফিকে বাংলাদেশের গুরুত্ব

তানাকা বলেন, জাপানের ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ কৌশলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।

তার মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ধীরে ধীরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চলে আসছে। জাপানও এই পরিবর্তনের অংশ হতে চায়।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তানাকার মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে পণ্য পরিবহনে জট তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে শক্তিশালী একটি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রয়োজন। আর সে কারণেই মাতারবাড়ী প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, আগে জাপান বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে যুক্ত করে বড় আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল। এতে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।

এ ছাড়া নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশকে নিয়েও উত্তর-দক্ষিণ করিডরের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা কার্যত থেমে গেছে। তিনি এটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন।

জাইকার ঋণের সুদ কেন বাড়ছে

জাইকা প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ঋণের সুদের হার সমন্বয় করা ছাড়া উপায় ছিল না। তবে শুধু সুদের হার দেখলেই হবে না। ঋণের পরিশোধের সময় ও গ্রেস পিরিয়ডও বিবেচনা করতে হবে।

তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধের সুবিধা থাকলে কিছুটা বেশি সুদ হলেও সেই ঋণ এখনো সহজ শর্তের ঋণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 

তিনি ব্যক্তিগতভাবে আরও সহজ শর্তে ঋণ দিতে চান। তবে একই সঙ্গে জাইকার আর্থিক সক্ষমতাও ধরে রাখতে হবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ

তানাকা বলেন, কোভিড-১৯ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে।

তার মতে, এখন সামষ্টিক অর্থনীতির আরও উন্নতি, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, কর আদায় বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা দরকার। সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।

তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী করতে হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব খুবই শক্তিশালী। আগামী বছরগুলোতেও আমরা এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চাই।

কুনিয়া, ভিনিসিউসের ঝলকে তিন গোলে এগিয়ে ব্রাজিল

মরক্কোর বিপক্ষে আগের ম্যাচে বিবর্ণ থাকা ব্রাজিল হাইতির বিপক্ষে নেমেই খেলছে আগ্রাসী ফুটবল। মাথেউস কুনিয়া আর ভিনিসিউস জুনিয়রের ঝলকে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ফিলাডেলফিয়ায় ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রথমার্ধে দুই গোল করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা কুনিয়া, মরক্কোর বিপক্ষে গোল করা ভিনিসিউস পান বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় গোল।

শুরু থেকে আক্রমণ করে খেলতে থাকা ব্রাজিল ১৩ মিনিটে বল জালে জড়িয়েছিল। ডান প্রান্ত থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে দারুণ ফিনিশিং করেছিলেন রাফিনিহা। কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। মিনিট দশেক পর রাফিনিয়ার সামনেই আবার এসেছিল সুযোগ, তা হেলায় হারান তিনি।

খানিক পরই আসে প্রথম গোল। মাঝমাঠ থেকে বলের জোগান পেয়ে ভিনিসিউস বক্সে ঢুকে শট মারেন। ফিরতি বলে জটলার মধ্যে মাথেউস কুনিয়া বল পায়ে লাগিয়ে জালে জড়ান।

৩৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইউনাইটেড তারকা কুনিয়া। নিজেদের অর্দ্ধেক থেকে বল কেড়ে আক্রমণ শুরু করেন ডগলাস সান্তোস। তীব্র গতিতে ছুটে গিয়ে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে বল জালে জড়ান কুনিয়া।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গতিময় ভিনি ছুটে যান প্রতিপক্ষের বক্সে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা নিখুঁত প্লেসিং শটে খুঁজে নেন জাল।

 

ইসলামী ব্যাংকের সামনে তৃতীয় দিনেও বিক্ষোভ

নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের অপসারণ দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন একদল গ্রাহক।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশ করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ব্যাংকটিকে আবারও ‘লুটেরাদের’ হাতে তুলে দিতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে। তারা দাবি করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

গত সোমবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্ধারিত বৈঠককে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর সেটিই ছিল পর্ষদের প্রথম সভা।

সোমবার বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভের কারণে নির্ধারিত সভা বাধাগ্রস্ত হলে পরে সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।

ঈদের ছুটির ঠিক আগে খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার ভূমিকা বিতর্কিত ছিল। বিশেষ করে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলম বিভিন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ঋণ অনিয়মের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বিক্ষোভকারীরা ব্যাংকের নেতৃত্বে সংস্কার, অতীতের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের অপসারণ এবং এস আলম গ্রুপ যেন আবার ব্যাংকে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জনগণের দাবি হয়ে থাকলে কুমিল্লা বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের দাবি হয়ে থাকলে কুমিল্লা বিভাগ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় আয়োজিত পথসভায় তিনি এই আশ্বাস দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জনগণের কাছে যে ওয়াদা দেয়, বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সেই ওয়াদা পূরণ করে।’

গত ১৬-১৭ বছর জনগণ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতো, গুম হয়ে যেত, মামলা হতো, এসে ধরে নিয়ে যেত। যারা এসব করতো, দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এখন আমাদের মূল কাজ হচ্ছে, আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে, বহু মানুষ শহীদ হয়েছে, বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’

তারেক বলেন, ‘এখন আমাদের সময় হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করার। আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিলাম। ঠিক একই সময় আমাদের এই এশিয়া মহাদেশে অনেকগুলো দেশ সেই সময় স্বাধীন হয়েছিল। তার একটু আগে-পরে। কিন্তু সেই দেশগুলো আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিল এই দেশ, এই দেশের মানুষ। সেই স্বৈরাচার থেকে কবল থেকে এই দেশকে দেশের মানুষ মুক্ত করেছে। যেভাবে ঠিক ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিল।’

‘দেশ শুধু স্বাধীন করলে হবে না। দেশ যদি স্বাধীন করি, দেশকে যদি স্বৈরাচারমুক্ত করি, পরবর্তী কাজ হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা। দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ পুনর্গঠন আমরা একা, সরকার একা পারবে না।’

বাংলাদেশের নাগরিক বাংলাদেশের মালিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মালিক যখন নিজে দায়িত্ব নিয়ে তার দেশের দেখভাল করে, তখনই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। মালিক আজ দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি নামক একটি রাজনৈতিক দলকে গত ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে। কারণ আমরা আমাদের যেসব পরিকল্পনা বাংলাদেশের মানুষের সামনে নির্বাচনের আগে উপস্থাপন করেছিলাম, দেশের মানুষ ১২ তারিখ নির্বাচনে সেই পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়েছে এবং বিএনপিকে রাষ্ট্র সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর সাধারণ জনগণ স্লোগান দেয় ‘কুমিল্লা বিভাগ চাই’। সেই ঘটনার উল্লেখ করে তারেক বলেন, ‘এই দাবিটি যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, তাহলে সেটির বাস্তবায়ন হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র–কানাডার ৫৮ হলে ‘দম’

আমেরিকায় ‘দম’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে সাড়া পড়েছে। চাহিদার কারণে ১৭ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৫৮টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি। 

রেদওয়ান রনি পরিচালিত আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরী অভিনীত সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায় ১০ এপ্রিল। 

সপ্তাহ ঘুরতেই দর্শকদের আগ্রহে দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল থেকে ৫০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে ‘দম’।

এখানেই শেষ নয়, ১৭ এপ্রিল থেকে সিনেমাটি চলবে কানাডার ৮টি প্রেক্ষাগৃহে। 

‘দম’ উত্তর আমেরিকায় মুক্তি উপলক্ষে নির্মাতা রেদওয়ান রনি এখন অবস্থান করছেন আমেরিকায়। নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত একটি সিনেমা “দম”। কেন এবার সত্য ঘটনাকে আশ্রয় করলাম? কারণ আমার মনে হয়েছে এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের বিজয়ের গল্প বলা সম্ভব। আমিও অনেকদিন পর নির্মাণে ফিরলাম। এই ফেরাটা বাংলাদেশের বা বাংলাদেশিদের বিজয়ের গল্প বলার মাধ্যমে হওয়াটাই তৃপ্তির বলে মনে হয়েছে আমার।’

‘দেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার পর অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। বিদেশের মাটিতে প্রবাসী ভাই-বোনদের কাছে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমি অভিভূত। যেখানেই গিয়েছি, সেখানেই আমাকে যেভাবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের ভালোবাসা পেয়ে আমারও মনে হচ্ছে “দম” জিতে গিয়েছে’, যোগ করেন রেদওয়ান রনি। 

‘দম’ সিনেমা প্রযোজনা করেছে এসভিএফ আলফা-আই ও চরকি। 

সিনেমার চিত্রনাট্য করেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল আলম রবি।

ইরানে সামরিক অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে যা জানালেন ট্রাম্প

গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন-তেল আবিবের চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে বেশ কয়েকটি হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছেন।

মূলত একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমকে ফোনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান তিনি। 

আজ সোমবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ আপডেটে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানান, ‘এক ধাক্কায় ৪৮ (ইরানি) নেতা নিহত হয়েছেন’। তিনি আরও জানান, ইরানে সামরিক অভিযান ‘দ্রুতগতিতে আগাচ্ছে।’

সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ‘খুব ভালো ভাবে আগাচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচির আগেই (সব লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে)।’

‘আমরা শুধু আমাদের নিজেদের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের পক্ষে দায়িত্ব পালন করছি’, যোগ করেন তিনি। 

এমএস নাউকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসী ইরানীরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের সংবাদে উল্লাসে মেতে উঠেছে। 

এসব দৃশ্য তিনি নিজেই দেখেছেন বলে দাবি করেন ওই বিশ্বনেতা। 

 

লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী ইরানীদের একটি বড় সম্প্রদায় বসবাস করে। সেখানকার উৎসবমুখর পরিবেশের দিকে ইঙ্গিত করে ক্যাবল নিউজ চ্যানেলকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটা অসাধারণ একটি ঘটনা।’

দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খামেনি-পরবর্তী ইরানের নেতারা নতুন করে দরকষাকষি ও আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা গত সপ্তাহে ‘বানচাল’ হয়েছিল। 
তিনি বলেন, ‘তারা কথা বলতে চায়, আর আমি কথা বলতে রাজি হয়েছি। তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

‘তাদের এটা আরও আগে করা উচিৎ ছিল। খুবই বাস্তবসম্মত আর সহজ কাজটা তাদের আরো আগেই করা উচিৎ ছিল। তারা অনেক বেশি দেরি করে ফলেছে’, যোগ করেন বিশ্বনেতা ট্রাম্প।