32.5 C
Dhaka
Home Blog

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ডেইলি স্টারের সুকান্ত হালদার

দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাত নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ পেয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার সুকান্ত হালদার।

গত ২৭ ডিসেম্বর দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ‘Potato Paradox: Just another curry on the rice plate? This will not solve the price problem’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য তিনি এ পুরস্কার অর্জন করেন।

আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

সুকান্ত হালদার ছাড়াও আরও ছয় সাংবাদিক এ বছর এই পুরস্কার পেয়েছেন।

প্রিন্ট বিভাগে আরও পুরস্কার পেয়েছেন দ্য ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম ও এম মুনির হোসেন। টেলিভিশন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন চ্যানেল ২৪-এর দেলাওয়ার হোসেন দোলন এবং একাত্তর টিভির রাকিব হোসেন। অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন জাগো নিউজ ২৪-এর নাজমুল হোসেন ও একুশে পত্রিকা ডটকমের শরিফুল রুকন।

পুরস্কারের বিচারক প্যানেলে ছিলেন রোবায়েত ফেরদৌস, খুরশিদ আহমেদ ফরহাদ এবং মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা ও বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল।

দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাত নিয়ে মানসম্পন্ন সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ চালু করেছে প্রাণ গ্রুপ।

১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে: আবদুস সালাম

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে দেশকে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম।

আজ শুক্রবার এলিফ্যান্ট রোডের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সালাম বলেন, ‘ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে আমরা এই শহর পরিষ্কার করব।’

তিনি জানান, কোরবানির পর নগর পরিষ্কার করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার ও ২১০ গ্যালন বা ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন দেওয়া হবে। এছাড়া, কোরবানির পশুর বর্জ্য ফেলার জন্য পুরো ঢাকা শহরে ১ লাখ ৪০ হাজার পিস ব্যাগ দেওয়া হবে।

আগামী ২-৩ বছর পরে স্লটার হাউসে কোরবানির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সালাম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে সিটি করপোরেশন ডুবিয়ে দিয়েছে। আমি বলি যে, ১৮ মাসে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। এই যে দেখেন, হামে বাচ্চারা মারা যাচ্ছে, এই দায়িত্বটা কার? এই দায়িত্বটা ওদের। সেই সময় টিকা আনে নাই।’

‘আজকে ঢাকা শহরে দেখেন রিকশার জ্যাম হয়। এই রিকশা কখন আসছে? ৫ আগস্টের পরে আসছে। আজকে পুরো রাস্তাঘাট সয়লাব। আজকে হকারে সব রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে তো চলতে পারে না! একটা সিস্টেম হতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

সালাম আরও বলেন, ‘ওই ১৮ মাস তারা কিছুই করে নাই। বরং দেশটা আরও পিছিয়ে দিয়েছে।’

এ সময় বিরোধীদলের সমালোচনা করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাত্র তিন মাসে অনেক কাজ করার চেষ্টা করেছেন। আজকে বিরোধীরা বলে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সরকার ফেলে দেবে। ‘ফেলে দেওয়ার কী হলো! জনগণ ভোট দিয়ে (বিএনপিকে ক্ষমতায়) এনেছে।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ কোত্থেকে এলো? আমাদের ১৭ বছরের আন্দোলনেই তো জুলাই সনদ। আমরা তো সেটার বাইরে না! আর সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের জন্য কাজ করছে কি না সরকার—এটা দেখতে হবে।’

জনগণ বিএনপিকে ৫ বছর সময় দিয়েছে, সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন বিএনপির এই নেতা।

বিরোধীরা আন্দোলন করলে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কথা বলে দেশটাকে আর পিছিয়ে দিয়েন না। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আজকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সারা পৃথিবীতে একটা অর্থনৈতিক মন্দা, বাংলাদেশও সেটার বাইরে না। কিন্তু আপনারা যদি এখন আবার একটা বিশৃঙ্খলা করেন, দেশটা তো আরও রসাতলে যাবে। কাজেই ধৈর্য ধরেন, একটু সময় দেন। দুই-তিন বছর সময় দেন।’

তিনি বলেন, ‘দেখেন না—তারেক সাহেব কতটুকু পারে, কী পারে না। তারপর না পারলে তো পাবলিকই বলবে। আপনারা তো পাবলিক না! আপনারা তো জামায়াতের লোক। আপনারা তো অমুক দলের ছাত্রদের লোক। আপনারা তো পাবলিক না, পাবলিক কী বলে সেটা শোনেন।’

‘দেশ চালানো অত সহজ না। আস্তে আস্তে চালাতে দেন, তারেক রহমানকে চালাতে দেন, গণতন্ত্রটা রাখেন। আবার নির্বাচন করবেন, নির্বাচনে যদি জনগণ তারেক রহমানকে পছন্দ না করে, আপনাদেরকে পছন্দ হলে আপনাদের ভোট দেবে। এত সহজ না তো। আপনাদের চরিত্র একাত্তরে তো মানুষ দেখেছে। ভুলে গেছে? ভোলার কথা না তো,’ যোগ করেন তিনি।

মেয়র নির্বাচিত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এলিফ্যান্ট রোড এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে নতুন প্রকল্প আসছে।

তিনি আরও জানান, এই এলাকার পানি ড্রেনেজ সিস্টেমের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গায় ফেললে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে।

এলিফ্যান্ট রোডের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়ে সালাম বলেন, ‘ময়লাটা যেখানে ফেলার, সেখানে ফেলতে হবে। যত্রতত্র না ফেলে একটা ডাস্টবিন বা গার্বেজ বক্স বা টিন, যেটাই আমরা ব্যবহার করতে পারি, অন্তত বাড়ির ময়লাগুলো…সব দোকান থেকে যদি ঝাড়ু দিয়ে এনে রাস্তার মধ্যে ফেলে দেয়, তাহলে তো রাস্তায় আবর্জনা হবেই এবং সারাদিন দেখা যায় যে, এই আবর্জনার মধ্যে গাড়ি-ঘোড়া চলে, আবর্জনাগুলো ছড়িয়ে যায়। এইগুলোতে আপনাদের শৃঙ্খলা আনতে। এগুলো (শৃঙ্খলা) আনার জন্য কিন্তু সিটি করপোরেশন পাহারা দিতে পারবে না।’

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সালাম আরও জানান, নগর পরিচ্ছন্নতায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিচালক মাতিয়া বানু শুকুর পরিবার

গুণী পরিচালক ও নাট্যকার মাতিয়া বানু শুকু। তার নির্মিত বহু নাটক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। নাট্যকার হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেছেন। 

‘লাল মোরগের ঝুটি’ সিনেমার প্রযোজক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

তার স্বামী আরেক গুণী নির্মাতা নুরুল আলম আতিক।

বর্তমানে ভালো নেই পরিচালক মাতিয়া বানু শুকু। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন আরও আগে। কিন্তু ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেজন্য সরকারের সহযোগিতা চাইছে পরিবার। 

এই বিষয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সাথে কথা বলেন নুরুল আলম আতিক।

নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘আসলে আমরা যারা নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করি তাদের তো কোনো পেনশন নেই। কাজটাই আসল আমাদের কাছে। হঠাৎ করে কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে পরিবারের বাকি সদস্যদের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। আমাদের ওপর দিয়েও যাচ্ছে।’

‘বন্ধুদের সহযোগিতা পেয়েছি। কাছের মানুষদের সহযোগিতা পেয়েছি। আমার স্ত্রী মাতিয়া বানু শুকুর অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। সকলে আশীর্বাদ করবেন। সে যেন সুস্থ হয়ে যায়’, বলেন তিনি। 

সরকারের সহযোগিতার বিষয়ে নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘আমরা শিল্পী মানুষ। দুজনই নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। মাঝে শুকুকে চেন্নাই নিয়ে গেছি। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এই চিকিৎসা অনেক দিন করতে হবে। সেজন্য সরকারের সহযোগিতা চাইছি। সরকার পাশে দাঁড়ালে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আশা করছি সরকার পাশে দাঁড়াবে।’

আবারও চেন্নাই নিতে হবে কিনা— এ প্রশ্নের জবাবে নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘নিতে হবে। ২৩ এপ্রিল অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া আছে। কিছু কাগজ ঠিক করতে হচ্ছে। তাছাড়া অর্থের বিষয়টি তো আছেই।’

৮ মাস আগে মাতিয়া বানু শুকুর ক্যানসা ধরা পড়ে। এরপর তাকে চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন ছিলেন। কেমো দেওয়া হয়েছে এবং থেরাপিও দেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে একটি করে কেমো দিতে হয়েছে। এছাড়া ২১ দিন পর পর থেরাপি দেওয়া হয়েছে।
নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘গত সপ্তাহে কেমো দেওয়া হয়েছে। কিছু পরীক্ষা করাতে হবে।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে শুকুর জন্য দোয়া চাই। ভালোবাসা চাই। সবার ভালোবাসায় যেন সবকিছু ঠিক হয়ে যায়।’

উল্লেখ্য, মাতিয়া বানু শুকু পরিচালিত আলোচিত ধারাবাহিকগুলো হচ্ছে— গোল্লাছুট, টু লেট, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি।

তিনি ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের মেয়ে।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত: আইএলএনএ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন।

আজ রোববার ইরানের আধা-সরকারি ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সির (আইএলএনএ) বরাতে এ তথ্য জানায় ডেইলি সাবাহ। আইএলএনএ মূলত ইরানের শ্রমিক সংগঠন, কর্মসংস্থান, সামাজিক বিষয় ও শ্রম অধিকার–সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার তেহরানে নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় নিহত মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। এ হামলায় তার দেহরক্ষীও নিহত হন।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আট বছরের শাসনামলে শুরুতে আহমেদিনেজাদ শাসক শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি ও রক্ষণশীলদের পূর্ণ সমর্থন পান। কিন্তু মেয়াদের শেষ দিকে তার নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশয় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের ওপর একের পর এক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসে। এর প্রভাব পড়ে ইরানের অর্থনীতিতে।

আহমাদিনেজাদ ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন। তার প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক হুমকির জেরে ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ে।

তবে মেয়াদের শেষদিকে তার সমর্থকেরা ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকেন। কট্টরপন্থিরাও তাকে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে দেখতে শুরু করেন।
 

এবার ৯ সচিবের চুক্তি বাতিল করল সরকার

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া নয়জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। 

আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

চুক্তি বাতিল করা সচিবেরা হলেন—স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. কাইয়ুম আরা বেগম।

সিনিয়র সচিবরা হলেন—জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মমতাজ আহমেদ, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. মোখলেস উর রহমান ও এম এ আকমল হোসেন আজাদ।

এর আগে আজ পৃথক তিনটি আদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় সরকার।

ফুটবল ক্যাপিটালিজম: ৯০ মিনিটের খেলা যখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

এক সময় ফুটবলকে বলা হতো ‘গরিব মানুষের খেলা’। একটি বল, একটি খোলা মাঠ আর কয়েকজন খেলোয়াড় থাকলেই খেলা শুরু হয়ে যেত। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে সেই ফুটবলই বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনোদন শিল্পগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। আজ ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, যেখানে আবেগ, বিনোদন, ব্যবসা এবং পুঁজির স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা বড় ক্লাব টুর্নামেন্টগুলোকে যদি আমরা শুধু খেলাধুলার দৃষ্টিতে দেখি, তাহলে ছবির একটি অংশই দেখা হবে। এর পেছনে রয়েছে টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব, ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, বহুজাতিক স্পন্সর, ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, পর্যটন শিল্প, টিকিট বিক্রি, মার্চেন্ডাইজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমিং, বেটিং মার্কেট এবং অসংখ্য বাণিজ্যিক চুক্তি। সব মিলিয়ে ফুটবল এখন এমন একটি শিল্প, যেখানে প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়।

এই বিশাল অর্থনীতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কী? স্টেডিয়াম নয়, ট্রফিও নয়। সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো মানুষের মনোযোগ।

আজকের পৃথিবীতে মনোযোগই নতুন মুদ্রা। কোটি কোটি মানুষ যদি একটি ম্যাচ একসঙ্গে দেখে, তাহলে সেই ম্যাচের বিজ্ঞাপনের মূল্য বেড়ে যায়। সম্প্রচার স্বত্বের দাম বাড়ে। স্পন্সররা আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনগেজমেন্ট বাড়ে। ফলে ফুটবলে সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে ওঠে সেই ব্যক্তি, যিনি কোটি মানুষের মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।

সেই কারণেই কিছু ফুটবলার কেবল খেলোয়াড় নন; তারা একেকটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। তাদের নাম শুনেই টিকিট বিক্রি হয়, জার্সি বিক্রি হয়, স্টেডিয়াম পূর্ণ হয়, টেলিভিশনের দর্শকসংখ্যা বাড়ে এবং স্পন্সরদের বিনিয়োগের যৌক্তিকতা আরও শক্তিশালী হয়। একজন সুপারস্টারের উপস্থিতি কখনো কখনো একটি পুরো টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক মূল্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা এই বাস্তবতাকে অনেক সময় ‘স্টার ইকোনমি’ বলে ব্যাখ্যা করেন। অর্থাৎ এমন একটি বাজার, যেখানে একজন ব্যক্তির জনপ্রিয়তা পুরো শিল্পের আয় বাড়িয়ে দেয়। ফুটবলে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট, কারণ এখানে আবেগ এবং ব্যবসা একসঙ্গে কাজ করে।

এখান থেকেই ‘ফুটবল ক্যাপিটালিজম’ ধারণার জন্ম। এই ধারণা বলে, আধুনিক ফুটবলের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল খেলাধুলার যুক্তি নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতাও কাজ করে। কোন শহরে টুর্নামেন্ট হবে, কোন সময়ে ম্যাচ হবে, কোন ব্র্যান্ড স্পন্সর হবে, কোন সম্প্রচার সংস্থা স্বত্ব পাবে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোন বিষয়টি বেশি প্রচার পাবে—এসবের পেছনেও অর্থনৈতিক হিসাব থাকে।

অবশ্য এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। বড় তারকাদের উপস্থিতি বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান হওয়া আর কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচে তাদের সুবিধা দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া—এই দুটি বিষয় এক নয়। প্রথমটি একটি স্বীকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতা; দ্বিতীয়টি প্রমাণের বিষয়। তাই কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচের রেফারিং বা সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ তুলতে হলে তার পক্ষে শক্ত প্রমাণ থাকা জরুরি।

তবুও কেন বিতর্কের পর মানুষ ‘ফুটবল ক্যাপিটালিজম’ নিয়ে কথা বলে? কারণ মানুষ বুঝতে শিখেছে যে আধুনিক খেলাধুলা আর সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনো জগৎ নয়। করপোরেট বিনিয়োগ, ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং বৈশ্বিক বাজার এখন ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে যখনই বড় কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হয়, অনেক সমর্থকের মনে প্রশ্ন জাগে—এটি কি শুধুই মানবিক ভুল, নাকি এর সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থও কোনোভাবে জড়িত?

এই প্রশ্নের উত্তর সব সময় সহজ নয়। তবে ইতিহাস বলে, ক্রীড়া জগতেও অর্থনৈতিক স্বার্থ বহু সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। সম্প্রচারের সুবিধার জন্য ম্যাচের সময় পরিবর্তন, নতুন টুর্নামেন্টের সূচনা, ক্লাব বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ, প্রাক-মৌসুম সফরের গন্তব্য নির্বাচন কিংবা খেলোয়াড়দের বিপণন কৌশল—এসব ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই ফুটবলকে বুঝতে হলে শুধু মাঠের খেলা নয়, মাঠের বাইরের ব্যবসায়িক কাঠামোটিও বুঝতে হয়।

আধুনিক ফুটবলে একটি গোল যেমন স্কোরবোর্ড বদলে দেয়, তেমনি একটি সুপারস্টারের উপস্থিতি বদলে দিতে পারে সম্প্রচারের রেটিং, বিজ্ঞাপনের আয় এবং স্পন্সরদের বিনিয়োগের হিসাব। এখানেই ফুটবল ক্যাপিটালিজমের মূল দর্শন—খেলাটি আবেগ দিয়ে বেঁচে থাকে, কিন্তু সেই আবেগকে ঘিরেই গড়ে ওঠে বিশাল অর্থনীতি।

তাই আজ ফুটবল বিশ্লেষণ করতে গেলে শুধু ট্যাকটিকস, অফসাইড বা পেনাল্টির নিয়ম জানাই যথেষ্ট নয়। বুঝতে হয় ব্র্যান্ড ভ্যালু, মিডিয়া ইকোনমি, করপোরেট বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক পুঁজির গতিপ্রকৃতিও। কারণ আধুনিক ফুটবলে খেলা হয় দুটি মাঠে—একটি ঘাসের ওপর, আরেকটি অর্থনীতির বিশাল অঙ্গনে। প্রথম মাঠে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে খেলোয়াড়রা; দ্বিতীয় মাঠে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা চলে দর্শকের মনোযোগ, বাজারের অংশীদারত্ব এবং বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক মূল্য ধরে রাখার।

মো. আব্বাস বর্তমানে কাজ করছেন করপোরেট কমিউনিকেশন্সে।
ইমেইল: [email protected]

লিটনকে নিয়ে ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণা

জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেলেও ওয়ানডে সিরিজে লিটন দাসকে সহ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। সদ্য শেষ হওয়া অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জয়ী স্কোয়াডের সবাই থাকছেন জিম্বাবুয়ে সিরিজেও। 

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কনকাশন বদলি হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নামা শেখ মেহেদী হাসানের জায়গা হয়নি ওয়ানডে দলে। 

জুলাইয়ের ৬, ৯ ও ১১ তারিখ হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি ওয়ানডে। 

বাংলাদেশ স্কোয়াড: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক), তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, লিটন দাস, নূরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, নাহিদ রানা। 

মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা

দুর্বল ঋণ আদায় ও সুশাসনের অভাবের মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাস পর ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষে মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। গত ডিসেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

সবমিলিয়ে ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতিগত সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ব্যাপক পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিলের ফলে গত বছরের শেষে খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৩১ শতাংশে নেমে এসেছিল।

দুই বছরেই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হবে: আফরোজা খানম

আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।  

আজ বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ে পরিদর্শন শেষে বিমানবন্দর এলাকায় এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। 

বিমানবন্দর চালু প্রসঙ্গে আফরোজা খানম বলেন, ‘আপনাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। একটু সময় লাগবে। এমনভাবে করতে চাই না যে দুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়। আমরা স্থায়ী বন্দোবন্ত করতে চাই।’

‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে ওয়াদা করে গেলাম সেটা যাতে রক্ষা করতে পারি। এই বিশ্বাসটুকু রাখেন, যত কম সময়ের মধ্যে চালু করা সম্ভব, সেজন্য আমরা রাতদিন পরিশ্রম করব,’ বলেন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর আগামী দুই বছরের মধ্যে চালু হবে। আমরা ঠাকুরগাঁও থেকে বিমানে চড়ে ঢাকা যাব।’

জামায়াতের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটা দল আছে, যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। জামায়াতকে কখনোই এ দেশের জনগণ ক্ষমতায় আনবে না। কারণ তারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, মা-বোনদের সম্ভ্রম বিনষ্ট করেছে।’

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঠাকুরগাও-২ ও ঠাকুরগাও-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম ও মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

 

আগামী সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে ‘মাইকেল’

আগামী ২৪ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। একই দিনে বাংলাদেশেও সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

স্টার সিনেপ্লেক্স তাদের ফেসবুক পেজে ‘কামিং সুন’ লিখে একটি প্রচারণামূলক পোস্ট দিয়েছে। 

 

প্রয়াত মার্কিন পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। 

পপ সঙ্গীতের অবিসংবাদিত রাজা বা ‘কিং অব পপ’ মাইকেলের জীবনকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জ্যাকসন পরিবারেরই এক সদস্য। তার নাম জাফর জ্যাকসন।

মাইকেল জ্যাকসনের আলোচিত গান ‘বিট ইট’-এর মিউজিক ভিডিও থেকে মাইকেলের লুক বেছে নেওয়া হয়েছে। সিনেমাবোদ্ধাদের অনেকেই বলছেন, মেকআপ-গেটআপে হুবহু মাইকেলের মতোই দেখিয়েছে জাফরকে।

ইতোমধ্যে সিনেমাটির টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। উভয়ই বিশ্বজুড়ে আলোচিত। অধীর আগ্রহে মাইকেলের ভক্ত-শ্রোতারা এই সিনেমা দেখার অপেক্ষায় আছেন। 

মাইকেলের অকাল প্রয়াণের পর ১৬ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। তবুও পপসম্রাটের জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল কম নয়। 

উপস্থাপনায় ভিন্নতা, গানের সঙ্গে মনোমুগ্ধকর পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত আদর্শ এবং আলোচিত-সমালোচিত নানা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।

বিংশ শতাব্দীর সংগীত জগতের অন্যতম এই কিংবদন্তির জীবনপ্রদীপ নিভে যায় মাত্র ৫০ বছর বয়সে। 

মাইকেলের বায়োপিক পরিচালনা করছেন অ্যান্টনি ফুকো। এই বায়োপিকে তুলে ধরা হবে মাইকেল জ্যাকসনের অজানা অনেক গল্প।