29.5 C
Dhaka
Home Blog

নতুন আইপ্যাড প্রো ও ম্যাকবুক প্রো আনছে অ্যাপল!

অ্যাপলপ্রেমীদের জন্য আবারও নতুন খবর। আগামী বছরের শুরুতেই নতুন আইপ্যাড প্রো ও ম্যাকবুক প্রো বাজারে আনতে পারে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এমনটাই জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদন বলছে, নতুন আইপ্যাড প্রোর চারটি মডেল তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এগুলোতে থাকবে আরও শক্তিশালী প্রসেসর। ফলে গতি হবে আগের চেয়ে বেশি।

শুধু আইপ্যাড নয়, নতুন একটি এন্ট্রি-লেভেল ম্যাকবুক প্রো নিয়েও কাজ চলছে। অর্থাৎ, তুলনামূলক কম দামে ম্যাকবুক প্রো কেনার সুযোগ মিলতে পারে। নতুন মডেলটির অভ্যন্তরীণ কোডনাম কে১০৪।

একই সময়ে অ্যাপলের নতুন এম৭ চিপও আসতে পারে। এই চিপ ভবিষ্যতের অনেক ডিভাইসে ব্যবহার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অ্যাপল সবশেষ আইপ্যাড প্রো এনেছিল গত বছরের অক্টোবরে। আর চলতি বছরের মার্চে বাজারে আসে নতুন ম্যাকবুক প্রো ও সাশ্রয়ী ম্যাকবুক নিও। তবে নিওতে ছিল আইফোনের এ১৮ চিপ। নতুন ম্যাকবুকটি হবে পূর্ণাঙ্গ ম্যাকবুক প্রো।

অবশ্য অ্যাপলকে ঘিরে গুঞ্জনের শেষ নেই। নতুন পণ্যের তালিকায় থাকতে পারে ভাঁজ করা আইফোনও।

এরই মধ্যে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তাই কয়েকটি পণ্যের দামও বাড়িয়েছে অ্যাপল। উদাহরণ হিসেবে, ১ টেরাবাইট স্টোরেজের ম্যাকবুক প্রোর দাম ১ হাজার ৬৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার হয়েছে।

তাই অনেকের আশা, নতুন এই ম্যাকবুক প্রো ও আইপ্যাড প্রোর কিছু সংস্করণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে আসতে পারে।
তবে এসব তথ্য নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি অ্যাপল।

হালান্ডের জোড়া গোলে জয়ে শুরু নরওয়ের

বিশ্বকাপের মঞ্চে নরওয়ের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন আর্লিং হালান্ড। দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে নেমে ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার করলেন নিজের প্রথম দুটি বিশ্বকাপ গোল। আর তাতেই ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে নরওয়ে।

বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে নরওয়ে। তবে গোলের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৯ মিনিট পর্যন্ত। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আন্তোনিও নুসার বুদ্ধিদীপ্ত পাসে বাম দিক দিয়ে উঠে আসেন ডেভিড মোলার উলফে। তার নিচু ক্রস থেকে পা বাড়িয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন হালান্ড।

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১০ মিনিট পরই সমতায় ফেরে ইরাক। আমির আল-আম্মারির দারুণ ক্রস থেকে উঁচুতে লাফিয়ে শক্তিশালী হেডে গোল করেন আইমেন হুসেইন। ১৯৮৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরাক তখন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল।

কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে দেন হালান্ড। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই প্রতিপক্ষের একটি বড় ভুলকে কাজে লাগিয়ে আবারও গোল করেন নরওয়ের গোলমেশিন। গোলরক্ষক জালাল হাসান একটি দুর্বল ব্যাকপাস সামলাতে গিয়ে দেরি করেন। তার ক্লিয়ারেন্সের চেষ্টা গিয়ে লাগে হালান্ডের পায়ে, সেখান থেকে বল জড়িয়ে যায় জালে। মাত্র ৫১ আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটি ছিল হালান্ডের ৫৭তম গোল, যা তার অসাধারণ গোলস্কোরিং ধারার আরেকটি প্রমাণ।

তবে হালান্ডের দ্বিতীয় গোলের পরও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি ইরাক। বরং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তারা বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। ইব্রাহিম বায়েশের শট শেষ মুহূর্তে ব্লক করেন নরওয়ের ডিফেন্ডাররা। আলি আল-হামাদির প্রচেষ্টা অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। আর আকাম হাশিমের দুর্দান্ত ভলিও ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।

ইরাকের লড়াই শেষ করে দেন বদলি খেলোয়াড় লিও ওস্তিগার্ড। ৭৬তম মিনিটে মার্টিন ওদেগার্ডের কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন তিনি। মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরই গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন নরওয়ের এই ডিফেন্ডার।

এরপর হালান্ডের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগও এসেছিল। আরেকটি ভুল পাস ধরে একা গোলরক্ষকের সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে এবার জালাল হাসান দুর্দান্ত সেভ করে তাকে থামিয়ে দেন।

তবু ম্যাচে শেষ হাসি হালান্ডই হাসেন। যোগ করা সময়ে তার হেড থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই বল পাঠিয়ে দেন আইমেন হুসেইন। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় নরওয়ের।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘আই’-এ গোল ব্যবধানে শীর্ষে উঠে এসেছে নরওয়ে। একই দিনে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারানো ফ্রান্সেরও সমান তিন পয়েন্ট, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। আগামী ২২ জুন নিউ জার্সিতে গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ফ্রান্স।
 

বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩৪ শতাংশ

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বড় আকারে কমে এসেছে।

এ সময়ে সরকারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশের রাজস্ব ও বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর চাপ বাড়ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইআরডি জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিলে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকল্প সহায়তা, বিশেষ করে ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ায় এ পতন দেখে দিয়েছে।

ইআরডির বৈদেশিক সহায়তা মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ১০ মাসে প্রকল্প সহায়তার জন্য প্রতিশ্রুতি কমে ২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

একইভাবে অনুদানের প্রতিশ্রুতি আগের বছর যেখানে ছিল ৩৫৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার, সেখানে এ বছরে অনুদানের প্রতিশ্রুতি অর্ধেকের বেশি কমে ১৫৬ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তবে, প্রতিশ্রুতি কমলেও বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের গতি এ ১০ মাসে তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিলে মোট ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একইসময়ে ছিল ৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

ছাড় হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় পুরোটাই (৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার) ছিল প্রকল্প সহায়তা। মোট ছাড়ের মধ্যে অনুদান ছিল খুবই কম।

একইসময়ে বাংলাদেশের বার্ষিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। ঋণের আসল পরিশোধ হয়েছে ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার ও সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

আগের অর্থবছরের একইসময়ে ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধ করতে হয় ৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।

আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না: জামায়াত আমির

বাজার পরিস্থিতি আগের চেয়ে বেশি অস্থির বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই বাজার অস্থির, ইদানীং মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি অস্থির।’

আজ মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১ নম্বরে সেকশনে শাহ আলী কাঁচা বাজার পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই যে একটা বিশাল আড়ত-মার্কেট আছে, এখানে যে দোকানগুলো আছে, স্বস্তিদায়কভাবে যারা ব্যবসা করে তারা পায় না। এখানেও দখলদারিত্ব আছে। এখানেও নীরব চাঁদাবাজি আছে। কিন্তু মুখ ফুটে কেউ কথা বলতে চায় না। সবার মুখ চেপে রাখা হয়েছে। কারা করে এই চাঁদাবাজি? আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ করে না। এখানেই আমাদের সাথে চলাফেরা করে, ওঠা-বসা করে বসবাস করে, এই লোকেরা এগুলো করে। তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সংসদের শেষ দিবসে আপনারা শুনেছেন, আমি পরিষ্কার বলেছি যে, সংসদের ৩০০ জন সদস্য যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস পাবে না। কিন্তু এরাই যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা অসম্ভব। আমরা চাই চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।’

‘মানুষের নাভিশ্বাস, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ যারা, তাদের অবস্থা এখন—বেঁচে থাকাই তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে,’ যোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

পরিস্থিতি বুঝতে বিরোধীদল খুচরা বাজার ও মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে যাবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, জায়গায় জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজির কারণে এখানে যারা ব্যবসায়ী আছে তারাও কিন্তু ভালো ব্যবসা করতে পারে না। আমরা ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে পণ্যগুলো পাই না। কৃষক তার উৎপাদিত মূল্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। মাঝখানে অন্যদের পেটে ঢুকে যায়। আমরা ওটা ভাঙতে চাই।’

‘কোন দিন ভাঙতে পারবো আল্লাহ ভালো জানেন, কিন্তু আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে, এই লড়াই চলবে। আমরা থামবো না। আমাদের আওয়াজ, আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের দাবি সংসদের ভেতরে ও বাইরে—সব জায়গায় অব্যাহত থাকবে। এই দেশটা আমরা সবাই মিলেই ভালো করতে পারবো। একা কেউ পারবে না। একা কোনো দলও পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার,’ যোগ করেন তিনি।

এ সময় জামায়াত আমিরের আহ্বানে একজন ব্যবসায়ী তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। বলেন, সরকার ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে দোকান বরাদ্দ দিয়েছে। যারা বরাদ্দ পেয়েছেন, তারা ১ থেকে দেড় লাখ টাকা মাসিক চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষকে ভাড়া দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়া প্রতি বর্গফুটে ১৩ টাকা। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘আমরা চাই চাঁদাবাজি বন্ধ হোক।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিরোধীদলের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে জামায়াত আমির গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আমরা সংগ্রাম করব। এগুলো নিয়ে মাঠে নামবো, আওয়াজ তুলবো, জনগণকে সংগঠিত করব এবং একটা সময়ের ব্যবধানে এই যন্ত্রণা থেকে আমরা জনগণকে মুক্ত করব।’

বাজার পরিদর্শনকালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

‘৭০-৮০ বছরের বয়স্ক মানুষ সিনেমা হলে আসছেন, এটা বড় পাওয়া’

তানিম নূর – এই নামটি বর্তমান সময়ে সিনেমাপাড়ায় উচ্চারিত হচ্ছে অনেক বেশি। তার পরিচালনায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শক চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত সাত কোটি ছাড়িয়ে গেছে টিকিট বিক্রি। এখনো অনেকেই টিকিট পাচ্ছেন না। দেশের বাইরেও দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। 

এর আগে উৎসব সিনেমা নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন তিনি।

সফল চলচ্চিত্র পরিচালক তানিম নূর আজ কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস সবদিক থেকে সফল একটি সিনেমা। এত বড় সাফল্যের মূল রহস্যটা কী?

তানিম নূর: আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে সিনেমা একার না, সবার সম্মিলিত চেষ্টার ফসল। সিনেমা নির্মাণে আমার সঙ্গে যারা ছিলেন, সবাইকে কৃতিত্ব দেব। শিল্পী, স্ক্রিপ্ট রাইটার, চিত্রগ্রাহক থেকে শুরু করে টিমের সবাই শতভাগ শ্রম ও ভালোবাসা দিয়েছেন। ভালোবেসে কাজটি করেছেন। এখানে আমার একার ক্রেডিট না, সবার। সবাই কাজটি যত্ন নিয়ে করেছেন বলেই দর্শকরা এত আগ্রহ নিয়ে দেখছেন।

দ্য ডেইলি স্টার: হুমায়ুন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটি বেছে নেওয়ার কারণ কী?

তানিম নূর: ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটি পড়ার পর ভালো লেগেছে। এই উপন্যাসটি বেছে নেওয়ার পেছনে কিছু কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, এটি ট্রেন জার্নির গল্প। সারা পৃথিবীতে ট্রেন জার্নি নিয়ে প্রচুর সিনেমা হয়েছে। অসংখ্য সিনেমার অংশ বিশেষ ট্রেনে শুটিং হয়েছে। ট্রেনের গল্পের মধ্য দিয়ে পুরো বাংলাদেশের চিত্র উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত ট্রেনের যাত্রী। দ্বিতীয়ত, স্বাধীন আমাকে একদিন উৎসব সিনেমার পর বললেন ‘কিছুক্ষণ’ নিয়ে কাজ করতে। এরপর বইটি পড়ি। সম্ভবত এই বইটি আমার আগে পড়া ছিল না। পড়ার পর দেখলাম এই উপন্যাসে অনেক কিছু আছে। কাজটি করা যায়। এভাবেই ‘কিছুক্ষণ’ নিয়ে কাজ করি।

দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার বেশিরভাগ শিল্পীরা বলেছেন উৎসবকেও ছাড়িয়ে যাবে, আপনার মন্তব্য কী?

তানিম নূর: এটি হয়েছে দর্শকদের জন্য। উৎসবকে ছাড়িয়ে যাবে বনলতা এক্সপ্রেস — সম্ভব হয়েছে দর্শকদের জন্য। দর্শকরা ভালো সিনেমা বানালে উৎসাহ দেন, হলে আসেন। এদেশের দর্শকরা মুখিয়ে থাকেন ভালো গল্পের জন্য, ভালো সিনেমার জন্য। উৎসব দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখেছেন। বনলতা এক্সপ্রেস আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। এজন্যই এই সিনেমাটি উৎসবকেও ছাড়িয়ে গেছে। আমরা কৃতজ্ঞ দর্শকদের কাছে।

দ্য ডেইলি স্টার: সিনেমাপাড়া থেকে সবখানে বলা হচ্ছে আপনি একজন সৌভাগ্যবান পরিচালক?

তানিম নূর: আমিও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। কেননা, আপনি একটি সিনেমা বানাবেন, তারপর দর্শকরা কীভাবে নেবেন তা আগে থেকে বলা সম্ভব না। সিনেমা দর্শকরা গ্রহণ করতেও পারেন আবার না-ও করতে পারেন। পুরোটাই দর্শকদের ওপর নির্ভর করছে। দর্শকরা আমার পরিচালিত উৎসব সিনেমা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন, বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমাও দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। কাজেই, নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

দ্য ডেইলি স্টার: অসংখ্য দর্শক বনলতা এক্সপ্রেস দেখছেন, কোন স্মৃতি আপনার মনে দাগ কেটে আছে?

তানিম নূর: অনেক ভালো ভালো স্মৃতি আছে। স্মৃতিগুলো মনে দাগ কেটে আছে। স্মৃতিগুলো মনে থাকবে। দর্শকরা দল বেঁধে হলে যাচ্ছেন — এই দৃশ্য অনেক আনন্দের। ৭০-৮০ বছরের বয়স্ক মানুষ হলে এসেছেন, এটা বড় পাওয়া। ৯ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা হলে এসেছেন, মুগ্ধ হয়েছি।

দ্য ডেইলি স্টার: পরবর্তী সিনেমা নিয়ে ভেবেছেন?

তানিম নূর: এখনো ভাবিনি। আরও সময় যাক, তারপর বলা যাবে। তবে প্রযোজনা করব যা অন্য কোনো পরিচালক নির্মাণ করবেন।

দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস দেশের বাইরে মুক্তি পেয়েছে, কেমন সাড়া পাচ্ছে?

তানিম নূর: খুব ভালো সাড়া পাচ্ছে দেশের বাইরে। নর্থ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ অনেকগুলো দেশে মুক্তি পেয়েছে। দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন দেশের বাইরেও। নর্থ আমেরিকায় তিন লাখ ২২ হাজার ডলার টিকিট বিক্রি হয়েছে এখন পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়ায় এক লাখ ডলারের টিকিট বিক্রি হয়েছে। আরও বাড়বে।

 

দ্য ডেইলি স্টার: বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার গ্রস কালেকশন কত?

তানিম নূর: গতকাল পর্যন্ত সাত কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এটা গ্রস কালেকশন। এখনো দর্শকরা টিকিট পাচ্ছেন না, এটা আনন্দের খবর। আশা করছি চলতেই থাকবে। একটি তথ্য যোগ করতে চাই। তা হচ্ছে — বাংলাদেশে দশ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হলে ট্যাক্স দিতে হবে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা। 

দ্য ডেইলি স্টার: সন্ধ্যার পর শো বন্ধ, কীভাবে দেখছেন?

তানিম নূর: রাতের শো বন্ধ, ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দর্শকরাও দেখতে পাচ্ছেন না। থিয়েটারের শো হচ্ছে, অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে রাতে। কিন্তু সিনেমার শো রাতে বন্ধ। এতে করে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।
 

ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৫

দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে আল জাজিরা জানায়, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

এতে নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার জবাব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

রূপপুর প্রকল্পে ‘নিয়োগে অনিয়ম’ তদন্তের আদেশ হাইকোর্টের

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ছয় কর্মকর্তার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

কমিটিকে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আজ রোববার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত না করায়, তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে একটি রুলও জারি করেছেন আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিনা বেগমের দায়ের করা জনস্বার্থে রিট আবেদনের পর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ ও রুল জারি করেন।

আবেদনকারীর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ সাঈদ শিবলী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে জারি করা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বিভিন্ন পদে মিরাজ আল মামুন, রবিউল আলম, আল মামুন, এ কে এম নজমুল হাসান, মুশফিকা আহমেদ এবং আবু কায়সারকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের পর্যাপ্ত কাজের অভিজ্ঞতা ছিল না।

শিবলী আরো বলেন, ‘তাদের নিয়োগ একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়েছে, যা তদন্ত করা প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়ম থাকতে পারে।’

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ ও রপ্তানি সংকট: কোন পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি?

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক নানা চাপের সম্মুখীন হচ্ছে বিএনপি সরকার। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ—সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। সেই সঙ্গে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু তখনো বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ থাকবে।

বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান এমনি অনুন্নত আর তার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির যদি এই হার বজায় থাকে, তবে জীবনযাত্রার মান আরও নিচে নেমে যাবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের শ্রেণির ওপর চাপ বাড়বে। গত ৩ বছর ধরে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

সম্প্রতি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সেবার ফি বাড়ানো হয়েছে। এতে নতুন করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা, অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে বাড়ছে বৈদেশিক ঋণের বোঝা এবং তা পরিশোধের চাপ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৮২২ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় বাড়বে।

এসবের মধ্যে নানা উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীরগতিতে হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ও কমেছে, একইসঙ্গে কমেছে নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি। এই অবস্থা বিদ্যমান থাকলে ভবিষ্যতে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

বাণিজ্য খাতেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অন্যদিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতেও খরা বিরাজ করছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংশ্লিষ্টরা এর কারণ হিসেবে বৈশ্বিক সংঘাত, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাকে দায়ী করেছেন। অথচ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস এই তৈরি পোশাক খাত। ফলে এ খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে বিপুল ঋণ পরিশোধের চাপের মধ্যে ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এর পাশাপাশি সরকার তেল, গ্যাস ও সার কেনার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের আইটিএফসি থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেবে।

আবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে তিন বছর মেয়াদি ঋণের আবেদন করেছে বাংলাদেশ সরকার। কোনো দেশ অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়লে আইএমএফের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করে। এখন দেখার বিষয় আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ দিতে রাজি হয় কি না। কেননা বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের পতনের পর ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণের চুক্তি করেছিল। ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই ঋণের আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। অনুমোদিত ওই ঋণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। কিন্তু ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি শর্ত পূরণ না হওয়ায়।

এই পরিস্থিতিতে সাময়িক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলো প্রয়োজনীয় এবং অর্থনীতির জন্য সহায়ক। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আমাদের পরিকল্পনা কী হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে অর্থনীতি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের গতি ফেরানো। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং সেগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনৈতিক চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

ফারজানা সাজনিন অর্চি: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অ্যানথ্রপিকের এআই মডেলের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তাদের জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইঞ্জিন ক্লডের সবচেয়ে নতুন ও উন্নত সংস্করণ ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ বাজারে উন্মুক্ত করে। 

৯ জুন মডেলগুলো বাজারে আসার তিন দিনের মাথায় মার্কিন সরকার  দাবি করে, এই এআই ইঞ্জিনকে সাইবারহামলার কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। 

সে অনুযায়ী বাণিজ্য দপ্তর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

তবে গতকাল মঙ্গলবার এই স্বল্পমেয়াদি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। 

ফলে অ্যানথ্রপিকের সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলগুলো এ সপ্তাহেই আবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।

গত ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর অ্যানথ্রপিককে তাদের ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ মডেলে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকার তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। 

ব্যবহারকারীদের জাতীয়তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে না পারায় অ্যানথ্রপিক দুটি মডেলই পুরোপুরি অফলাইনে নিয়ে যায়। 

সে সময় অ্যামাজনের গবেষকরা ফেবল ৫ এর একটি নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করেন। হ্যাকারদের জন্য ওই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ ছিল। এমন কী, এসব দুর্বলতার ফায়দা নিতে ভুয়া কোড তৈরি করার উপায়ও খুঁজে পান গবেষকরা। 

এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলো নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয় মার্কিন সরকার। 

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এ বিষয়টি জানার পর তারা এআই মডেলে নতুন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। 

এই ব্যবস্থার অধীনে বাইরে থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা এলে সেগুলো নতুন মডেলের বদলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল মডেল ওপাস ৪.৮ এর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই মডেলটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল হওয়ায় ক্ষতিকারক বা বড় আকারের সাইবারহামলার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।  

আজ বুধবার থেকে ফেবল ৫ আবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। 

অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্তের জন্য তৈরি মিথোস ৫ গত সপ্তাহে সীমিতসংখ্যক বিশ্বস্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছিল। এখন গ্লাসউইং কর্মসূচির আওতায় এটি আরও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, এই সমাধানটি পুরোপুরি নিখুঁত নয়। এর ফলে সাধারণ ইউজারদের কাজেও বাধার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দাবি করেছে, কোনো এআই মডেলকে জেলব্রেক (হ্যাকিং) থেকে শতভাগ সুরক্ষা দেওয়া অসম্ভব বললেও কম বলা হবে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো সার্বজনীন সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

তবে বাহ্যিক নিরাপত্তা পরীক্ষকরা এখনও মডেলটিতে আর কোনো দুর্বলতা আছে কী না, তা খতিয়ে দেখছেন। 

এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক বলেছেন, অ্যানথ্রপিক যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যেকোনো সময় আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের তথ্য সরকারকে জানানো এবং ভবিষ্যতে নতুন মডেল প্রকাশের নীতিমালা তৈরিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

রয়টার্স চিঠিটির একটি কপি সংগ্রহ করেছে। 

চিঠিতে লাটনিক দাবি করেন, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগে অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলো পর্যালোচনার যে বৃহত্তর উদ্যোগ নিয়েছে হোয়াইট হাউস, এটা সেই উদ্যোগেরই অংশ। 

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী নতুন এআই মডেল ইউজারদের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ৩০ দিন আগে সরকারি মূল্যায়নের জন্য জমা দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। 

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই গত সপ্তাহে নিশ্চিত করেছে, ওয়াশিংটনের অনুরোধে তারা তাদের জিপিটি ৫.৬ মডেল বাজারে আনার উদ্যোগ স্থগিত করেছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যানথ্রপিক এখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সরকারি সংস্থাগুলোকে দুটি মডেলেই আগাম প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। 

পাশাপাশি জেলব্রেক শনাক্ত ও প্রতিরোধে অভিন্ন মানদণ্ড তৈরির জন্য অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, গুগল এবং গ্লাসউইং কর্মসূচির অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে।

চলতি বছরের শুরুতে অ্যানথ্রপিক তাদের এআইকে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ নজরদারি বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে পেন্টাগন প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতি’ হুমকি আখ্যা দেয়। এদিকে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই—উভয় প্রতিষ্ঠানই গোপনে শেয়ারবাজারে প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) আবেদন জমা দিয়েছে।
 

আত্মঘাতী গোলে বেলজিয়ামের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগ মিশরের

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে অংশ নেওয়ার গৌরব থাকলেও এই আসরে এখনও জয়ের মুখ দেখা হয়নি মিশরের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে পারে বলেই মনে হচ্ছিল। ইমাম আশুরের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ফারাওরা। তবে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী এক গোলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে।

সোমবার রাতে সিয়াটেল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশর ১-১ গোলে ড্র করেছে।

একসময়কার সোনালি প্রজন্মের বেশিরভাগ খেলোয়াড় না থাকলেও কাগজে-কলমে ম্যাচের ফেভারিট ছিল বেলজিয়াম। তবে মাঠের লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়নি। শুরু থেকেই মিশর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে এবং বেলজিয়ানদের সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ইমাম আশুরের পায়ে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশে মিশরকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তর আফ্রিকার দলটি। কিন্তু বেলজিয়ামও হাল ছাড়েনি। ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকা ইউরোপিয়ানরা শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবানও হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধে।

পরিসংখ্যানও বলে দেয় ম্যাচটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। বল দখলে সামান্য এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। তারা ১৫টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে মিশরও ১৪টি শট নেয় এবং ৩টিই ছিল লক্ষ্যে। দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ম্যাচটিকে জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত কেউই জয় তুলে নিতে পারেনি।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল বেলজিয়াম। অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইনার একটি শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই ম্যাচে নিজেদের ছাপ রাখতে শুরু করে মিশর।

রক্ষণে তারা দারুণ শৃঙ্খলা দেখায়। বেলজিয়ামের দুই বিপজ্জনক উইঙ্গার জেরেমি ডোকু ও লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে ফারাওরা। আর সেই দৃঢ় রক্ষণ থেকেই আসে ম্যাচের প্রথম বড় আঘাত।

২০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক আক্রমণ সাজান মোহাম্মদ সালাহ। তার পাস পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান ইমাম আশুর। শটটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে থিবো কোর্তোয়া ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি।

গোল হজমের পরও ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না বেলজিয়াম। কোচ রুডি গার্সিয়া চমক দেখিয়ে রোমেলু লুকাকুকে বেঞ্চে রেখে চার্লস দে কেতেলায়েরেকে স্ট্রাইকার হিসেবে নামিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা খুব একটা কাজে আসেনি। মাঝমাঠে ইউরি টিলেমান্সও নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না। ফলে বেলজিয়ামের আক্রমণে ধার ছিল না বললেই চলে।

অন্যদিকে মিশরের ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি ডোকুকে প্রায় পুরোপুরি আটকে রাখেন। শুধু রক্ষণেই নয়, বল পায়ে আক্রমণ গড়তেও আত্মবিশ্বাসী ছিল মিশর। ৩৩তম মিনিটে জিদানের একটি ক্রস-শট থেকে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু দারুণ সেভ করে দলকে বাঁচান কোর্তোয়া।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডোকু ও ট্রোসার্ড নিজেদের অবস্থান বদল করলে কিছুটা প্রাণ ফিরে পায় বেলজিয়ামের আক্রমণ। যোগ করা সময়ে দে কেতেলায়েরের ব্যাকহিল পাস থেকে পাওয়া দুর্দান্ত সুযোগ নষ্ট করেন ডোকু।

প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে না পারা বেলজিয়াম বিরতির পর নিজেদের আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনে। ডোকুকে মাঝখানে এনে এবং দে কেতেলায়েরেকে উইংয়ে সরিয়ে দিয়ে নতুন কৌশল সাজান গার্সিয়া। এর ফলও দ্রুত পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ হয়ে ওঠে অনেক বেশি খোলামেলা। দুই দলই একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে।

ডি ব্রুইনার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্য প্রান্তে সালাহর ডাইভিং হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। ফিরতি বলে আশুরের সামনে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ এলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

এরপরও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। বদলি হিসেবে নামা টিলেমান্সের একটি ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ডি ব্রুইনার আরেকটি প্রচেষ্টা সহজেই ধরে ফেলেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।

মিশরও বসে থাকেনি। সালাহর দারুণ পাস থেকে ওমর মারমুশ গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার শট ব্লক হয়ে যায়। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬৬তম মিনিটে। তখন মাঠে নামেন রোমেলু লুকাকু। আর নামার মাত্র ২২ সেকেন্ড পরই তার উপস্থিতি বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র।

থমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে লুকাকু বল স্পর্শ করতে না পারলেও তার উপস্থিতির চাপে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।

শেষ দিকে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ব্র্যান্ডন মেখেলের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন শোবেইর। অন্যদিকে সালাহর বদলি হিসেবে মাঠে নামা বার্সেলোনার তরুণ হামজা আবদেলকারিম মিশরের আক্রমণে নতুন গতি আনেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জয়সূচক গোল খুঁজে পায়নি।