28.8 C
Dhaka
Home Blog

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ ও রপ্তানি সংকট: কোন পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি?

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক নানা চাপের সম্মুখীন হচ্ছে বিএনপি সরকার। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ—সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। সেই সঙ্গে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু তখনো বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ থাকবে।

বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান এমনি অনুন্নত আর তার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির যদি এই হার বজায় থাকে, তবে জীবনযাত্রার মান আরও নিচে নেমে যাবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের শ্রেণির ওপর চাপ বাড়বে। গত ৩ বছর ধরে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

সম্প্রতি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সেবার ফি বাড়ানো হয়েছে। এতে নতুন করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা, অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে বাড়ছে বৈদেশিক ঋণের বোঝা এবং তা পরিশোধের চাপ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৮২২ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় বাড়বে।

এসবের মধ্যে নানা উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীরগতিতে হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ও কমেছে, একইসঙ্গে কমেছে নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি। এই অবস্থা বিদ্যমান থাকলে ভবিষ্যতে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

বাণিজ্য খাতেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অন্যদিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতেও খরা বিরাজ করছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংশ্লিষ্টরা এর কারণ হিসেবে বৈশ্বিক সংঘাত, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাকে দায়ী করেছেন। অথচ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস এই তৈরি পোশাক খাত। ফলে এ খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে বিপুল ঋণ পরিশোধের চাপের মধ্যে ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এর পাশাপাশি সরকার তেল, গ্যাস ও সার কেনার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের আইটিএফসি থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেবে।

আবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে তিন বছর মেয়াদি ঋণের আবেদন করেছে বাংলাদেশ সরকার। কোনো দেশ অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়লে আইএমএফের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করে। এখন দেখার বিষয় আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ দিতে রাজি হয় কি না। কেননা বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের পতনের পর ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণের চুক্তি করেছিল। ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই ঋণের আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। অনুমোদিত ওই ঋণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। কিন্তু ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি শর্ত পূরণ না হওয়ায়।

এই পরিস্থিতিতে সাময়িক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলো প্রয়োজনীয় এবং অর্থনীতির জন্য সহায়ক। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আমাদের পরিকল্পনা কী হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে অর্থনীতি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের গতি ফেরানো। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং সেগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনৈতিক চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

ফারজানা সাজনিন অর্চি: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অ্যানথ্রপিকের এআই মডেলের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তাদের জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইঞ্জিন ক্লডের সবচেয়ে নতুন ও উন্নত সংস্করণ ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ বাজারে উন্মুক্ত করে। 

৯ জুন মডেলগুলো বাজারে আসার তিন দিনের মাথায় মার্কিন সরকার  দাবি করে, এই এআই ইঞ্জিনকে সাইবারহামলার কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। 

সে অনুযায়ী বাণিজ্য দপ্তর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

তবে গতকাল মঙ্গলবার এই স্বল্পমেয়াদি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। 

ফলে অ্যানথ্রপিকের সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলগুলো এ সপ্তাহেই আবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।

গত ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর অ্যানথ্রপিককে তাদের ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ মডেলে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকার তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। 

ব্যবহারকারীদের জাতীয়তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে না পারায় অ্যানথ্রপিক দুটি মডেলই পুরোপুরি অফলাইনে নিয়ে যায়। 

সে সময় অ্যামাজনের গবেষকরা ফেবল ৫ এর একটি নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করেন। হ্যাকারদের জন্য ওই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ ছিল। এমন কী, এসব দুর্বলতার ফায়দা নিতে ভুয়া কোড তৈরি করার উপায়ও খুঁজে পান গবেষকরা। 

এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলো নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয় মার্কিন সরকার। 

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এ বিষয়টি জানার পর তারা এআই মডেলে নতুন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। 

এই ব্যবস্থার অধীনে বাইরে থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা এলে সেগুলো নতুন মডেলের বদলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল মডেল ওপাস ৪.৮ এর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই মডেলটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল হওয়ায় ক্ষতিকারক বা বড় আকারের সাইবারহামলার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।  

আজ বুধবার থেকে ফেবল ৫ আবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। 

অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্তের জন্য তৈরি মিথোস ৫ গত সপ্তাহে সীমিতসংখ্যক বিশ্বস্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছিল। এখন গ্লাসউইং কর্মসূচির আওতায় এটি আরও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, এই সমাধানটি পুরোপুরি নিখুঁত নয়। এর ফলে সাধারণ ইউজারদের কাজেও বাধার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দাবি করেছে, কোনো এআই মডেলকে জেলব্রেক (হ্যাকিং) থেকে শতভাগ সুরক্ষা দেওয়া অসম্ভব বললেও কম বলা হবে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো সার্বজনীন সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

তবে বাহ্যিক নিরাপত্তা পরীক্ষকরা এখনও মডেলটিতে আর কোনো দুর্বলতা আছে কী না, তা খতিয়ে দেখছেন। 

এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক বলেছেন, অ্যানথ্রপিক যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যেকোনো সময় আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের তথ্য সরকারকে জানানো এবং ভবিষ্যতে নতুন মডেল প্রকাশের নীতিমালা তৈরিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

রয়টার্স চিঠিটির একটি কপি সংগ্রহ করেছে। 

চিঠিতে লাটনিক দাবি করেন, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগে অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলো পর্যালোচনার যে বৃহত্তর উদ্যোগ নিয়েছে হোয়াইট হাউস, এটা সেই উদ্যোগেরই অংশ। 

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী নতুন এআই মডেল ইউজারদের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ৩০ দিন আগে সরকারি মূল্যায়নের জন্য জমা দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। 

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই গত সপ্তাহে নিশ্চিত করেছে, ওয়াশিংটনের অনুরোধে তারা তাদের জিপিটি ৫.৬ মডেল বাজারে আনার উদ্যোগ স্থগিত করেছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যানথ্রপিক এখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সরকারি সংস্থাগুলোকে দুটি মডেলেই আগাম প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। 

পাশাপাশি জেলব্রেক শনাক্ত ও প্রতিরোধে অভিন্ন মানদণ্ড তৈরির জন্য অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, গুগল এবং গ্লাসউইং কর্মসূচির অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে।

চলতি বছরের শুরুতে অ্যানথ্রপিক তাদের এআইকে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ নজরদারি বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে পেন্টাগন প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতি’ হুমকি আখ্যা দেয়। এদিকে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই—উভয় প্রতিষ্ঠানই গোপনে শেয়ারবাজারে প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) আবেদন জমা দিয়েছে।
 

আত্মঘাতী গোলে বেলজিয়ামের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগ মিশরের

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে অংশ নেওয়ার গৌরব থাকলেও এই আসরে এখনও জয়ের মুখ দেখা হয়নি মিশরের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে পারে বলেই মনে হচ্ছিল। ইমাম আশুরের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ফারাওরা। তবে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী এক গোলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে।

সোমবার রাতে সিয়াটেল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশর ১-১ গোলে ড্র করেছে।

একসময়কার সোনালি প্রজন্মের বেশিরভাগ খেলোয়াড় না থাকলেও কাগজে-কলমে ম্যাচের ফেভারিট ছিল বেলজিয়াম। তবে মাঠের লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়নি। শুরু থেকেই মিশর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে এবং বেলজিয়ানদের সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ইমাম আশুরের পায়ে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশে মিশরকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তর আফ্রিকার দলটি। কিন্তু বেলজিয়ামও হাল ছাড়েনি। ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকা ইউরোপিয়ানরা শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবানও হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধে।

পরিসংখ্যানও বলে দেয় ম্যাচটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। বল দখলে সামান্য এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। তারা ১৫টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে মিশরও ১৪টি শট নেয় এবং ৩টিই ছিল লক্ষ্যে। দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ম্যাচটিকে জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত কেউই জয় তুলে নিতে পারেনি।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল বেলজিয়াম। অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইনার একটি শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই ম্যাচে নিজেদের ছাপ রাখতে শুরু করে মিশর।

রক্ষণে তারা দারুণ শৃঙ্খলা দেখায়। বেলজিয়ামের দুই বিপজ্জনক উইঙ্গার জেরেমি ডোকু ও লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে ফারাওরা। আর সেই দৃঢ় রক্ষণ থেকেই আসে ম্যাচের প্রথম বড় আঘাত।

২০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক আক্রমণ সাজান মোহাম্মদ সালাহ। তার পাস পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান ইমাম আশুর। শটটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে থিবো কোর্তোয়া ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি।

গোল হজমের পরও ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না বেলজিয়াম। কোচ রুডি গার্সিয়া চমক দেখিয়ে রোমেলু লুকাকুকে বেঞ্চে রেখে চার্লস দে কেতেলায়েরেকে স্ট্রাইকার হিসেবে নামিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা খুব একটা কাজে আসেনি। মাঝমাঠে ইউরি টিলেমান্সও নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না। ফলে বেলজিয়ামের আক্রমণে ধার ছিল না বললেই চলে।

অন্যদিকে মিশরের ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি ডোকুকে প্রায় পুরোপুরি আটকে রাখেন। শুধু রক্ষণেই নয়, বল পায়ে আক্রমণ গড়তেও আত্মবিশ্বাসী ছিল মিশর। ৩৩তম মিনিটে জিদানের একটি ক্রস-শট থেকে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু দারুণ সেভ করে দলকে বাঁচান কোর্তোয়া।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডোকু ও ট্রোসার্ড নিজেদের অবস্থান বদল করলে কিছুটা প্রাণ ফিরে পায় বেলজিয়ামের আক্রমণ। যোগ করা সময়ে দে কেতেলায়েরের ব্যাকহিল পাস থেকে পাওয়া দুর্দান্ত সুযোগ নষ্ট করেন ডোকু।

প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে না পারা বেলজিয়াম বিরতির পর নিজেদের আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনে। ডোকুকে মাঝখানে এনে এবং দে কেতেলায়েরেকে উইংয়ে সরিয়ে দিয়ে নতুন কৌশল সাজান গার্সিয়া। এর ফলও দ্রুত পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ হয়ে ওঠে অনেক বেশি খোলামেলা। দুই দলই একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে।

ডি ব্রুইনার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্য প্রান্তে সালাহর ডাইভিং হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। ফিরতি বলে আশুরের সামনে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ এলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

এরপরও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। বদলি হিসেবে নামা টিলেমান্সের একটি ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ডি ব্রুইনার আরেকটি প্রচেষ্টা সহজেই ধরে ফেলেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।

মিশরও বসে থাকেনি। সালাহর দারুণ পাস থেকে ওমর মারমুশ গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার শট ব্লক হয়ে যায়। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬৬তম মিনিটে। তখন মাঠে নামেন রোমেলু লুকাকু। আর নামার মাত্র ২২ সেকেন্ড পরই তার উপস্থিতি বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র।

থমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে লুকাকু বল স্পর্শ করতে না পারলেও তার উপস্থিতির চাপে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।

শেষ দিকে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ব্র্যান্ডন মেখেলের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন শোবেইর। অন্যদিকে সালাহর বদলি হিসেবে মাঠে নামা বার্সেলোনার তরুণ হামজা আবদেলকারিম মিশরের আক্রমণে নতুন গতি আনেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জয়সূচক গোল খুঁজে পায়নি।

 

 

প্রতি ঈদে কেন চামড়ার দাম কমে যায়

ঈদের ছুটি শেষে মানুষ যখন রাজধানীতে ফিরছেন, তখন ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে তাদের চোখে পড়ছে এক অস্বস্তিকর দৃশ্য। অনেক জায়গায় পড়ে আছে কোরবানির পশুর চামড়া। বাতাসে ভাসছে পচা চামড়ার দুর্গন্ধ।

এ বছরও ঈদের পর অনেক মানুষ চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে সেগুলো সড়কের পাশে ফেলে দিয়েছেন। কোথাও মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে, কোথাও নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, প্রতি বছর একই ঘটনা কেন ঘটে? ঈদ এলেই কেন কাঁচা চামড়ার দাম পড়ে যায়?

এই সমস্যার শুরু আজকের নয়। ২০১৭ সালে বিষয়টি প্রথম বড় আকারে আলোচনায় আসে। তখন হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করা হচ্ছিল। সেই সময়ও দেশের বিভিন্ন স্থানে চামড়া নষ্ট হয়ে পড়ে থাকার ছবি সংবাদমাধ্যমে আসে। তারপর প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

সবচেয়ে বড় কারণ হলো, ঈদের কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে বিপুল পরিমাণ চামড়া চলে আসে। কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা থাকে কম। ফলে দাম স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পও দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছে। সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর পরিবেশগত মান উন্নত হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) এখনো পুরো সক্ষমতায় কাজ করছে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়ার গ্রহণযোগ্যতা আগের মতো বাড়েনি।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর থেকেই চামড়া শিল্প দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সাভারে ১১৫টির বেশি ট্যানারি চালু থাকলেও মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানের এলডব্লিউজি (লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ) সনদ রয়েছে।

এই সনদ ছাড়া ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং উন্নত এশিয়ার অনেক বাজারে প্রবেশ করা কঠিন। ফলে বেশিরভাগ ট্যানারি উচ্চমূল্যের বাজারে চামড়া বিক্রি করতে পারে না।

ঢাকার পোস্তা এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ট্যানারিগুলোর চাহিদা কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও বেশি দাম দিতে পারেন না। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, বাস্তবে বাজার সব সময় সেই দামে চলে না।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতানের মতে, এ বছর প্রত্যাশার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। তার মতে, বাজারের বড় সমস্যা হলো অর্থসংকট। ঈদের সময় বিপুল পরিমাণ চামড়া কিনতে প্রয়োজনীয় মূলধন অনেক ব্যবসায়ীর হাতে থাকে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, বাংলাদেশের চামড়া শিল্প অনেক দিন ধরেই কম দাম, দুর্বল চাহিদা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার এক চক্রে আটকে আছে। পরিবেশগত মান ও সুশাসনের সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়ায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।

তিনি বলেন, যেসব ট্যানারি আন্তর্জাতিক মানের এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে, তারা ভালো রপ্তানি আদেশ পাচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ ট্যানারি সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ফলে তাদের কম দামের বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ২০১২ সালের পর আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পরিবেশগত মান নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া শুরু করলে বাংলাদেশের চামড়া খাতের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

তার মতে, কাঁচা চামড়ার দাম কমার মূল কারণ কোনো কারসাজি নয়, বরং ট্যানারিগুলোর দুর্বল চাহিদা। চাহিদা বেশি হলে দামও স্বাভাবিকভাবেই বাড়ত।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও রপ্তানি উইংয়ের প্রধান মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, অনেক সময় অনভিজ্ঞ কসাইদের কারণে চামড়া কেটে বা ছিঁড়ে যায়। এতে চামড়ার মান কমে যায় এবং দামও কম পাওয়া যায়। আবার লবণ ছাড়া বা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা চামড়ার দামও কমে যায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে মূলত শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলো দায়ী।

তার মতে, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, কিন্তু পুরো প্রক্রিয়া ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফলে অনেক ট্যানারি এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না।

মন্ত্রী জানান, সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের সক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও বর্তমানে তা মাত্র ১৪ থেকে ১৭ হাজার ঘনমিটার পর্যন্ত কাজ করছে। অর্থাৎ এটি প্রায় ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো দাম পেতে এখন এলডব্লিউজি সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সনদ না থাকলে বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে চামড়া বিক্রি করা কঠিন।

এ ছাড়া হাজারীবাগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমে গেছে। ফলে ঈদের সময় বিপুল পরিমাণ চামড়া বাজারে এলেও শিল্প খাত সেই চাহিদা সামাল দিতে পারে না। এতে সরবরাহ বেড়ে যায়, কিন্তু চাহিদা বাড়ে না। আর তখনই দাম পড়ে যায়।

মন্ত্রী আরও জানান, সাভারের বর্জ্য শোধনাগারের সমস্যা সমাধানে একটি ইতালীয় প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। জুন বা জুলাইয়ের শুরুতে তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বড় ট্যানারিগুলোকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনেও উৎসাহ দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ঈদে কাঁচা চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে শুধু একটি নয়, বরং একসঙ্গে কাজ করছে কয়েকটি সমস্যা—বিপুল সরবরাহ, দুর্বল চাহিদা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা, অর্থসংকট, সংরক্ষণের দুর্বল ব্যবস্থা এবং শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা।

এসব সমস্যার সমাধান না হলে প্রতি ঈদের পর চামড়া নিয়ে একই সংকট বারবার ফিরে আসবে।

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের খরচ সাড়ে ৪ কোটি টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল হিসেবে ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা খরচ করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের কাছে দলের নির্বাচনী ব্যয়ের এই হিসাব জমা দিয়েছেন।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে তাদের দলের মোট ব্যয় ছিল ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা। এর মধ্যে ২২৫ জন প্রার্থীর মাঝে অনুদান হিসেবে ৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। এতে প্রার্থীপ্রতি গড়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

এই হিসাব বিবরণীতে সই করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি ও ছাপানো, সংবাদ সম্মেলন, আপ্যায়ন, প্রচারসামগ্রী পরিবহন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর ও বিজ্ঞাপনসহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে দলটি।

হিসাব অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলন আয়োজনে ২২ হাজার ৮৪৮ টাকা এবং ওই সংবাদ সম্মেলনে আপ্যায়ন বাবদ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৯১ টাকা খরচ করেছে জামায়াত।

এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে ২০ লাখ ৯০ হাজার ৮২৭ টাকা, পরিবহন খাতে ৮ হাজার ৭০০ টাকা, জনসভা ও সফরে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৯৯ টাকা, কর্মীদের জন্য ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯০২ টাকা এবং আবাসন ও প্রশাসনিক কাজের জন্য ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৪ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি বিবিধ ব্যয় হিসেবে আরও দুই লাখ টাকার হিসাব দেওয়া হয়েছে।

স্টারডম ও মেডিকেলের পড়ালেখা সামলে শ্রীলীলা এখন ‘দক্ষিণী কুইন’

ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী শ্রীলীলা। আবার মেডিকেলের শিক্ষার্থী তিনি। ক্যারিয়ার ও মেডিকেলের পড়ার চাপ একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে মোটেই সহজ কাজ নয়। তবে দুটোই সমানতালে সামলাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। ইতোমধ্যে তার নামের সঙ্গে দক্ষিণী কুইন খেতাব যোগ হয়েছে।

সম্প্রতি স্টারডম ও মেডিকেল পড়াশোনার ভারসাম্য নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেন শ্রীলীলা।
সাক্ষাৎকারে এই দুই ভিন্ন দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তার অভিজ্ঞতায় চ্যালেঞ্জ ও সুবিধা দুটোই উঠে এসেছে।

বলিউড লাইফের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলীলা দীর্ঘ শুটিংয়ের সময়ের সঙ্গে পড়াশোনার সময়কে সামঞ্জস্য করেন। তিনি অভিনয় ও একাডেমিক পড়াশোনাকে সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এই রুটিন ঠিক রাখতে তাকে মনো ধরে রাখতে হয়।

ব্যস্ত জীবন কীভাবে সামলান, এমন প্রশ্নে শ্রীলীলা বলেন, ‘এজন্য প্রথমে দরকার ইচ্ছাশক্তি ও ধৈর্য। আপনাকে এক কাজ থেকে অন্য কাজে মনোযোগ দিতে জানতে হবে। এমন দিনও গেছে যখন মনে হয়েছে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি, কিন্তু তারপরও দুটোকেই উপভোগ করেছি। আমি ডাক্তার হতে চাই। এই পেশা আমার খুব পছন্দ এবং বেশিরভাগ সময় পড়ালেখা করি।’

তিনি স্বীকার করেন কোনো কোনো দিন অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা করতে হয়। তবে সামগ্রিকভাবে নিজের কাজ ও পড়ালেখা উপভোগ করছেন। চিকিৎসাবিদ্যার প্রতি ভালোবাসা থেকে সব সামলে নিচ্ছেন।

শ্রীলীলা বলেন, ‘এটা হঠাৎ করে বড় হয়ে ওঠার মতো মনে হয়নি। বরং ছোট ছোট কাজ ও পরিশ্রম থেকে হয়েছে। একদিন সবকিছু হয়নি। ধীরে ধীরে হয়েছে। এই যাত্রা অন্যরকম—কখনো শিখছি, তারপর ভুলে যাচ্ছি, আবার নতুন করে শিখছি।’

তার ভাষ্য, ‘আর আমি যা করার চেষ্টা করি, তা হলো নিজেকে স্থির রাখা। কারণ মূল বিষয় হলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করা। আর মনে রাখতে হবে, আমি কী করতে চাই, কেন করতে চাই।’

শ্রীলীলাকে সর্বশেষ দেখা গেছে উস্তাদ ভগত সিং সিনেমাতে। যেখানে তার সহ-অভিনেতা ছিলেন পবন কল্যাণ। সিনেমাটি সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে মাঝারি ধরনের প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। আবার দুর্বল গল্প উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন।

ইতিহাস সাক্ষী, আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করিনি: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাব ‘দৃঢ়ভাবে’ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব বলা হয়েছে।

সকালে ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অপরাধমূলক সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হয় বিবৃতিতে। 

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ইতিহাস সাক্ষী, ইরানিরা কখনো বিদেশি আগ্রাসন ও আধিপত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। এবারও ইরানি জাতির প্রতিক্রিয়া হবে সিদ্ধান্তমূলক ও নির্ধারক, যা আগ্রাসীদের তাদের অপরাধমূলক কাজের জন্য অনুতপ্ত করে তুলবে।’ 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নিস্ট শাসনের এই নতুন সামরিক আগ্রাসন এমন সময় ঘটছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল।’ গতকাল পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলমান ছিল।

 

بیانیه وزارت امور خارجه جمهوری اسلامی ایران در خصوص تجاوز نظامی رژیم صهیونیستی و آمریکا علیه ایران

بسم الله الرحمن الرحيم

مردم قهرمان و شریف ایران،

هم‌میهنان ایرانی،

میهن مقدس و عزیزمان، #ایران_سربلند و تمدن ساز، بار دیگر مورد تجاوز نظامی جنایتکارانه آمریکا و رژیم صهیونیستی… pic.twitter.com/ThF81xdhCk

— وزارت امور خارجه (@IRIMFA) February 28, 2026

‘এখন ইরানি জনগণ গর্বিত যে তারা যুদ্ধ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছে। এখন সময় মাতৃভূমি রক্ষা করার এবং শত্রুর সামরিক আগ্রাসনের মোকাবিলা করার। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে জবাব দেবে,’ বলা হয়েছে বিবৃতিতে। 

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইরান আহ্বান জানিয়েছে, ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-নিরাপত্তাকে নজিরবিহীন হুমকির মুখে ফেলা এ আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা করতে। সেই সঙ্গে এটি মোকাবিলায় জরুরি ও সমষ্টিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।’

এক বছরে বাংলাদেশিদের ১৪ লাখ ভিসা দিয়েছে সৌদি আরব: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য ২০২৫ সালে ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসাসহ ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি সরকার।

আজ রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং সৌদি আরব-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৫ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসা এবং সব মিলিয়ে ১৪ লাখ ভিসা দিয়েছে। সৌদি আরবে অনেক উন্নয়ন কাজ চলছে বলে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবকে বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও দীর্ঘকালীন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া ১৯৭৭ সালে সৌদি আরবে এক ঐতিহাসিক সফরও করেছিলেন।

মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তার ঐতিহাসিক অবদানের কথা উভয়পক্ষই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেন।

ড. খলিলুর রহমান মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীকে সৌদি আরবে কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানিসহ অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুরোধে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে সৌদি আরবের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তার প্রশংসাও করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সৌদি আরবের সমর্থন কামনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও ব্যাপক ও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এর আগে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে তাকে অভিনন্দন জানান সৌদি রাষ্ট্রদূত।

প্রতিমন্ত্রী সৌদি ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

উভয়পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গাদের জন্য আসা ত্রাণের অর্থ অপব্যবহারের খেসারত

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটগুলোর একটি। মিয়ানমার থেকে নিপীড়িত হয়ে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে তাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে সংস্থাটি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বের অন্যতম অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য এই সহায়তা কার্যক্রমে ইউএনএইচসিআরের অবদান নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঠিক এই কারণেই সম্প্রতি নিউ এজ-এ প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টের পর্যবেক্ষণগুলো গভীর মনোযোগ দাবি করে। জাতিসংঘের সদর দপ্তরের অফিস অব ইন্টারনাল ওভারসাইট সার্ভিসেস (ওআইওএস) ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের ওপর পরিচালিত এই অডিটে বাংলাদেশের ইউএনএইচসিআর পরিচালিত রোহিঙ্গা সহায়তা প্রকল্পগুলোতে গুরুতর অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও ত্রাণ সহায়তার অপব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে।

অডিট প্রতিবেদনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এখানে তুলে ধরা হলো:

১. ত্রাণসামগ্রী অপচয়: এমন অনেক ত্রাণ সামগ্রী কেনা হয়েছে যেগুলো রোহিঙ্গাদের কোনো প্রয়োজন ছিল না। যেমন: খাওয়ার জন্য চামচ, কাঁটাচামচ ও ছুরি। রোহিঙ্গারা হাত দিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন। তাই তাদের খাওয়ার জন্য এসব সামগ্রী কেনার কোনো অর্থ হয় না। তাও তাদের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ডলার মূল্যের চামচ, কাঁটাচামচ ও ছুরি কেনা হয়েছে। এসব নিয়ে বারবার অভিযোগ করার পরও ত্রাণসামগ্রীর ধরন পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে ৬২ হাজারের বেশি কুকিং সেট গুদামে পড়ে ছিল, যার মূল্য ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

২. হাতি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের নামে অপচয়: ২২ লাখ ডলার বা ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৯টি হাতি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। পরে মূল্যায়নে দেখা যায়, টাওয়ারগুলো কার্যকর নয়। ৮৩টি টাওয়ারের ছাদ ঘূর্ণিঝড়-উপযোগী না হওয়ায় তা খুলে ফেলতে হয়। এতে ৫৬ হাজার ডলার মূল্যের উপকরণ নষ্ট হয়। টাওয়ারগুলো টেকসই করতে আরও ৩ লাখ ৬৭ ডলার ব্যয় করা হলেও তা কোনো কাজে লাগেনি। ২০২৫ সালের মূল্যায়নে টাওয়ারের সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করা হলেও অডিট পর্যন্ত মাত্র ১২টি অপসারণ করা হয়।

৩. অপ্রয়োজনীয় যানবাহন: সরকারি প্রকল্পের মতোই অপ্রয়োজনীয় গাড়ি কেনা হয়েছে। ১৬টি ক্যাম্পের জন্য কেনা ৫২টি গাড়ির কোনো যৌক্তিকতা দেখাতে পারেনি ইউএনইএচসিআর। প্রশাসনিক কাজে ৪৮টি গাড়ি কেনা হয়েছে, যদিও এসব গাড়ির চালক মাত্র ২৯ জন। ১০৪টি গাড়ির মধ্যে ১০টি দীর্ঘদিন অচল ছিল। তারপরেও এসব অচল গাড়ির জন্য ভাড়া বাবদ ৮০ হাজার ডলারের বেশি পরিশোধ করা হয়েছে।

৪. এলপিজি ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয়: ২ কোটি ৪২ লাখ ডলার বা ২৯৫ কোটি টাকা মূল্যের এলপিজি রিফিল কেনা হলেও প্রকৃত প্রয়োজন ছিল ১ কোটি ৮৭ লাখ ডলার বা ২২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় ৫৫ লাখ ডলার বা ৬৭ কোটি টাকা বেশি ব্যয় করা হয়েছে।

৫. নির্মাণ ও কেনাকাটায় অপচয়: কক্সবাজারে ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন অফিস নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জমির মালিকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। প্রকল্প চলাকালে নকশা পরিবর্তন করে তৃতীয়তলা যোগ করায় ব্যয় বেড়ে যায়। ভবন নির্মাণ শেষে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেন জমির মালিক, যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক ভাড়াচুক্তি ছিল না। নতুন অফিস পাঁচ মাস খালি পড়ে থাকলেও পুরোনো অফিসের জন্য প্রতি মাসে ১১ হাজার ডলার বা ১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে।

এছাড়া, এমন কতগুলো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে যেগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে উখিয়ায় ১৫ লাখ ডলার (প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা) ব্যয়ে নির্মিত একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, ভাসানচরে স্থাপিত ২০ শয্যার হাসপাতাল ও সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি যার মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা) এবং ৭৪ হাজার ৩০১ ডলার (প্রায় ৯১ লাখ টাকা) মূল্যের একটি এক্স-রে মেশিন।

৬. ঠিকাদার নির্বাচন ও কেনাকাটায় অনিয়ম: ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৩০৫ কোটি টাকা মূল্যের নির্মাণকাজ ও কেনাকাটার কাজ একজন ঠিকাদারকেই দেওয়া হয়। এই ঠিকাদার বাজার দরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি দর নিয়েছে, যার ফলে ক্ষতি হয়েছে ৬৫ লাখ ডলার বা ৭৯ কোটি টাকা। আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণেও একজন ঠিকাদারের ওপর নির্ভর করা হয়। যদিও ২০২৪ সালে নির্বাচিত অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের দর ছিল ৩৩–৪৩ শতাংশ কম।

এলপিজি রিফিল, চুলা, ইগনাইটার, প্রেসার কুকার ও প্রশিক্ষণের জন্য ৩ কোটি ডলার বা ৩৬৬ কোটি টাকা মূল্যের কাজও একজন সরবরাহকারীকে দেওয়া হয়, যদিও তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন না। ওই সরবরাহকারী আবার অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করায় ব্যয় আরও বেড়ে যায়। চুক্তি অনুযায়ী এলপিজি ডিপোর খরচ ঠিকাদারের বহন করার কথা থাকলেও ইউএনএইচসিআর নিজেই ১৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা ২০ কোটি টাকা নিজে পরিশোধ করে। প্রেসার কুকারের ওয়ারেন্টির আওতায় স্পার্ক লাইটার পাওয়ার কথা থাকলেও আরও ৬৫ হাজার ডলার বা ৮০ লাখ টাকা মূল্যের লাইটার কেনা হয়।

৭. জ্বালানি ও পরিবেশ প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়: ৩৯ লাখ ডলার বা ৪৭ কোটি টাকা মূল্যের জ্বালানি ও পরিবেশ কর্মসূচিতে বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে কাজ করানো হয়েছে। ২০২১ সালের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ঠিকাদারের দর বাজারদর ও অন্যান্য সংস্থার তুলনায় সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ বেশি ছিল। ২০২৩ সালে কোনো যৌক্তিকতা ছাড়াই আরও ১৯–২৫ শতাংশ দর বাড়ানো হয়। এতে ২ লাখ ৯৪ হাজার ডলার বা ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বাড়তি ব্যয় হয়। বৈদ্যুতিক কাজের জন্য বাজারদরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১৫ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা প্রণয়ন ও বৈদ্যুতিক স্থাপনার কাজ করানো হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে স্বার্থের সংঘাতের সৃষ্টি করেছে।

এই অডিটের পর্যবেক্ষণগুলোর গুরুত্ব শুধু হিসাব-নিকাশ বা আর্থিক অনিয়মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

রোহিঙ্গাদের জন্য পরিচালিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এখন তীব্র অর্থসংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে একের পর এক মানবিক সংকট দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিলের জন্য প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং গত কয়েক বছরে রোহিঙ্গা সংকটে দাতা দেশগুলোর অর্থ সহায়তা কমেছে। এর ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে আনতে হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং শরণার্থী শিবিরে ন্যূনতম সেবাগুলো চালিয়ে রাখতেও সাহায্য সংস্থাগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি ডলারই অত্যন্ত মূল্যবান। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় মানে এমন অর্থের অপচয়, যা দিয়ে শরণার্থী পরিবারগুলোর খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় বা সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেত। তাই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অপচয় কেবল অদক্ষতার বিষয় নয়; এর প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ে দুনিয়ার সবচেয়ে অসহায় মানুষের জীবনের উপর।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানবিক সহায়তা মূলত দাতা দেশগুলোর জনগণের আস্থার ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের করদাতাদের অর্থ আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ করে এই বিশ্বাসে যে, সেই অর্থ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ব্যয় হবে। কিন্তু দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কিংবা অকার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো অভিযোগ সেই আস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। যদি দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা সংকটে অর্থায়নের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তাহলে তার খেসারত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নয়, প্রথমে দিতে হবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের। একইসঙ্গে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সেবায় অর্থায়নের ঘাটতি পূরণের অতিরিক্ত চাপ পড়বে বাংলাদেশের ওপরও। অথচ বাংলাদেশ এমনিতেই নিজস্ব অর্থনৈতিক ও রাজস্বসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর অডিটে উত্থাপিত অনেক পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করেছে এবং সংশোধনমূলক উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তবে সেই প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে। ক্রয় ব্যবস্থা কীভাবে শক্তিশালী করা হচ্ছে, প্রকল্প পরিকল্পনায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং অডিটের সুপারিশগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, এসব বিষয় জনসমক্ষে স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

দিনে দিনে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সহায়তার পরিমাণ কমছে। অথচ রোহিঙ্গাদের সংকটের কোনো সমাধান হচ্ছে না, তাদের প্রয়োজনও কমছে না। এরকম একটা অবস্থায় যতটুকু অর্থই পাওয়া যাচ্ছে, তার সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে অপচয়, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার খেসারত কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে না; দিতে হবে সেইসব রোহিঙ্গা পরিবারকে, যাদের বেঁচে থাকা এখনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন।
[email protected]

প্রথম এশিয়া-প্যাসিফিক এআই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ৩টি স্বর্ণপদক জয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রথম এশিয়া-প্যাসিফিক অলিম্পিয়াডে (এপিওএআই) তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে আর কোনো দেশ এককভাবে এতগুলো স্বর্ণপদক জেতেনি। 

চীন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান ও ইরানসহ ১৮টি দেশের ১২৯ শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। মোট ১০টি স্বর্ণপদকের মধ্যে তিনটিই অর্জন করেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশের হয়ে এই গৌরব এনে দিয়েছে হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির মো. সাইদুজ্জামান এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ত্রিদিব রায়। আন্তর্জাতিক এই আসরের চূড়ান্ত র‍্যাঙ্কিংয়ে তারা যথাক্রমে ৪র্থ, ৫ম ও ৯ম স্থান অর্জন করেছে। 

বাংলাদেশ দলের আরও ৪ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে সম্মানজনক স্বীকৃতি। তারা হলো দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাওফিল রহমান, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈরা নাওয়ার আহমেদ, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনন্য যারিফ আকন্দ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম। দলের আরেক সদস্য ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুর্তজা আব্দুল্লাহ।

গত ১৩ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (আইআইটি) থেকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের মতো সরাসরি অনলাইনে ভিডিও প্রক্টরিং ও স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয় বাংলাদেশ দলের আট শিক্ষার্থী। 

ছয় ঘণ্টার এই প্রতিযোগিতায় ‘বোরিয়াম’ নামের প্ল্যাটফর্মে চারটি পৃথক মেশিন লার্নিং সমস্যার সমাধান করে প্রতিযোগীরা।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) জানায়, এপ্রিল মাসে স্থানীয় বাছাইপর্বের মাধ্যমে জাতীয় কার্যক্রম শুরু হয়। 

বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) জানায়, গত এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হয়। 

আঞ্চলিক পর্ব শেষে ১৬ মে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। 

২০ থেকে ২৩ মে আয়োজিত জাতীয় নির্বাচন ক্যাম্পের মাধ্যমে চূড়ান্ত দল গঠন করা হয়।