27.5 C
Dhaka
Home Blog

চ্যাটজিপিটির লকডাউন মোড কী, কাদের উপকারে আসবে

চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক চ্যাটবটের কাছে ইউজাররা খুব বেশি চিন্তা না করেই প্রচুর ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে থাকেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে গল্প করারও নজির আছে। 

মূলত, প্রশ্নের আরও ভালো এবং প্রাসঙ্গিক জবাব পেতেই এ কাজটা করে থাকেন বেশিরভাগ ইউজার। 

যার ফলে, ইন্টারনেটে অন্য যেকোনো অ্যাকাউন্টের মতো চ্যাটবট হ্যাক হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার একটি বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে।   

সম্প্রতি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই ‘লকডাউন মোড’ নামে একটি নতুন নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে। এর লক্ষ্য হলো হ্যাকারদের ব্যবহৃত ‘প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাক’-এর মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি কমানো। 

হ্যাকাররা কোনো একটি ওয়েবসাইটে বা ওয়েবও কন্টেন্টে (রিলস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ইউটিউব ভিডিও বা এরকম কনটেন্ট) কিছু ‘গোপন’ ও ‘ক্ষতিকর’ নির্দেশনা ‘ইনজেক্ট’ করে বা অনুপ্রবেশ করিয়ে রাখে।  

যখন ইউজারের প্রশ্নের জবাব দিতে চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য চ্যাটবট ওইসব ওয়েবসাইট বা কন্টেন্ট থেকে তথ্য নিতে যায়, তখন হ্যাকারদের নির্দেশনা কার্যকর হয়। মূলত, ইউজারদের ‘প্রম্পট’ বা চ্যাটবটের কাছে দেওয়া নির্দেশনার মাধ্যমেই হ্যাকাররা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। 

যার ফলে, ইউজারের কাছে প্রশ্নের সঠিক জবাব যাওয়ার পরিবর্তে ওই ইউজারের সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারের কাছে চলে যায়। 

ওপেনএআই জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করে, তারাই মূলত এ ধরনের সাইবার হামলার লক্ষ্য। তাদের কথা মাথায় রেখেই ‘লকডাউন মোড’ ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে। 

তবে লকডাউন মোড চালু করলে চ্যাটজিপিটির কয়েকটি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। 

এর মধ্যে আছে সরাসরি ওয়েব ব্রাউজিং, ইন্টারনেট থেকে আনা ছবি ব্যবহারের সুবিধা, ডিপ রিসার্চ টুল এবং এজেন্টধর্মী ফিচার।

লকডাউন মোডে থাকা অবস্থায় ইউজাররা চ্যাটজিপিটির ভেতর ছবি তৈরি করতে পারবেন, তবে মডেলটি তখন নতুন করে ওয়েব ব্রাউজিং না করে ক্যাশে সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্টের ওপর নির্ভর করে ছবি তৈরি করবে। 

ওপেনএআই স্বীকার করেছে, এই ফিচার হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে পারে না।

সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাকের ফলে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঠেকাতে লকডাউন মোড কাজ করে। এই মোড চালু করলে বাইরের নেটওয়ার্ক থেকে আসা নির্দেশনাগুলো সীমিত আকারে অনুসরণ করা হয়। যেসব নির্দেশনার মাধ্যমে তথ্য পাচার হতে পারে, সেগুলো প্রতিহত করা হয়।

তবে তথ্যের উৎসে এ ধরনের সাইবার হামলার নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকা না থাকার বিষয়ে লকডাউন মোডের তেমন কার্যকারিতা নেই। 

ক্যাশে রাখা ওয়েবও কনটেন্ট বা আপলোড করা ফাইলে প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাকের নির্দেশনা থাকতে পারে এবং তা ইউজারের ক্ষতির কারণ ঘটাতে পারে। 

আপাতত এই ফিচারটি বিজনেস অ্যাকাউন্টে চালু করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে ব্যক্তি পর্যায়ের ইউজারদেরকেও এই সুবিধা দেওয়া হবে। 

সেটিংস-এ ‘অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি’ সেকশনের আওতায় থাকা ‘সিকিউরিটি’ সেকশনে যেয়ে এই ফিচারটি চালু করা যাবে। 

তবে মজার বিষয় হলো, এই ফিচার কোনো অবস্থাতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে না। ঝুঁকি যত বড় হোক, ইউজারকে সেটা নিজে বুঝে নিয়ে লকডাউন মোড চালু করতে হবে। 

তবে লকডাউন মোড চালুর পর চ্যাটজিপিটির মূল সেবা বড় আকারে সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়বে। 

পাশাপাশি, ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, লকডাউন মোড ও ডেভেলপার মোড একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। একটি চালু করলে অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই ফিচার ইউজারদের কতটুকু কাজে আসবে, তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। 

আপাতত করোনাভাইরাস মহামারির ‘লকডাউন’-এর কথা মনে করিয়ে দেওয়া ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ের ইউজারদের জন্য এই মোডের তেমন কোনো কার্যকারিতা নেই—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।

খাদ্য মানেই হোক নিরাপদ খাদ্য

মানুষের সব মানবিক অধিকারের বাস্তব পূর্বশর্ত হলো তার দৈহিক অস্তিত্ব। আর দৈহিক অস্তিত্বের মৌলিক শর্ত হলো খাদ্য। তাই খাদ্যের অধিকার শুধু একটি সামাজিক অধিকার নয়। এটি মানুষের জীবন, সুস্থতা, মর্যাদা ও উৎপাদনশীলতার ভিত্তি এবং পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। 

‘খাদ্য’ বলতেই তা সুষম, স্বাস্থ্যকর ও গ্রহণের জন্য নিরাপদ হবে; মানুষ যা খাবে, সেটি তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে না—এটাই হবার কথা। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় ‘খাদ্য’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য’ দুটি আলাদা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আজ ৭ জুন ২০২৬ আন্তর্জাতিক নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য হলো, ‘সমস্যা থেকে সমাধানে—সর্বত্র নিরাপদ খাদ্য’। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। 

এর মধ্যে খাদ্যে ভেজাল রোধে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা ও আইনি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে। দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, নকল ও ভেজাল খাদ্য এবং ভোগ্যপণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও মনিটরিং বৃদ্ধি করা এবং নিরাপদ ফসল উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্য নিরাপদতা—দুটিই জরুরি। খাদ্য নিরাপত্তা বলতে বোঝায়, সব মানুষের জন্য সবসময় পর্যাপ্ত, পুষ্টিকর ও গ্রহণযোগ্য খাদ্যের শারীরিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা। 

খাদ্য নিরাপদতা বলতে বোঝায়, খাদ্য যেন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয় এবং প্রত্যাশিত ব্যবহার অনুযায়ী তা বিশুদ্ধ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত থাকে। পর্যাপ্ত খাদ্য থাকলেও যদি তা ভেজাল, দূষিত বা পুষ্টিমানে ঘাটতিপূর্ণ হয়, তবে তা খাদ্য অধিকার পূরণ করে না। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে স্বাস্থ্যকর খাবারের জায়গা আশঙ্কাজনকভাবে দখল করে নিচ্ছে পুষ্টিগুণহীন, অনিরাপদ, অস্বাস্থ্যকর খাবার। নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্যে সব মানুষের সমান প্রবেশগম্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। 

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে খাদ্য উৎপাদনের চাপ বেড়েছে। এই চাপ সামাল দিতে কৃষি ব্যবস্থায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে পুষ্টিগুণ ও গুণমান হারাচ্ছে খাদ্য। একই সঙ্গে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। এতে কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ভোক্তারাও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৪ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞানের অভাব, প্রচলিত খাদ্যাভ্যাস, অবৈজ্ঞানিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রান্না এবং খাদ্যে ভেজালের কারণে পুষ্টিগত মানের অবনতি ঘটছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ, চর্বি ও পানির সুষম উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু সার্বিক মূল্যস্ফীতি, মজুরি স্থবিরতা, টাকার অবমূল্যায়ন, কর্মসংস্থান সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিসহ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানাবিধ আর্থসামাজিক চাপের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। অনেকে সুষম খাবার গ্রহণ করতে পারছেন না। কিন্তু যার পক্ষে যেটুকু খাবার গ্রহণ করা সম্ভবপর হচ্ছে, তা কতখানি নিরাপদ, সেই ঝুঁকি এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। 

সম্প্রতি মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ গড়ে ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের আদর্শ মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ থাকার কথা কমপক্ষে ৫ শতাংশ। এতে খাদ্যের গুণগত মান ও খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। 

একইসঙ্গে, নগরায়ন, দ্রুত শিল্পায়ন, ভৌত অবকাঠামো বৃদ্ধি এবং পরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ফলে প্রতি বছর ১ শতাংশ হারে আবাদযোগ্য জমি কমছে। কৃষিকাজে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদিত ফসল অনেক সময় অনিরাপদ হয়ে পড়ছে।

বর্তমানে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ অপুষ্টিসহ নানা সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগে ভুগছে। এর অন্যতম কারণ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে নানা অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। 

জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, ক্রমবর্ধমান অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে দৈনিক ৮০ জন এবং বছরে ৩০ হাজার মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর অন্যতম কারণ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ। 

সাম্প্রতিক গবেষণায় মুরগির মাংসে ভারী ধাতুর উপস্থিতির তথ্য এসেছে, খাবারে ধরা পড়ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এর আগেও সয়াবিন তেল, ডিমসহ নানা খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার খবর মিলেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে খাদ্যকে জনগণের মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে বাস্তবে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির পথে কয়েকটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে । এর মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যার চাপ ও সীমিত ভূমি, পরিবেশগত অবক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, বাজারে ভেজাল ও মান নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যে কম প্রবেশগম্যতা, খাদ্য শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে মনিটরিং ঘাটতি, ভোক্তার সচেতনতার সীমাবদ্ধতা ও কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থার অভাব। 

ভোক্তা পর্যন্ত দূষণ ও ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ প্রণীত হয়। এই আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৭১৩টি খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ নমুনায় ভেজাল, দূষণ বা পুষ্টিমানের ঘাটতি পাওয়া গেছে। 

সংস্থাটির তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে খাদ্যে ভেজাল ও দূষণের হার বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ খাদ্যে ভেজাল বা দূষণ পাওয়া গিয়েছিল। এই তথ্য দেখায়, আইন ও নীতি থাকলেও প্রয়োগে বড় ঘাটতি রয়েছে। ফলে খাদ্য ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ভেজাল ও অনিরাপদ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তা বাড়ছে।

আইন অনুযায়ী জনগণের নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু এককভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সম্ভব নয়। উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মোড়কায়ন, পরিবহন, সংরক্ষণ, রান্না বা পরিবেশনের যেকোনো ধাপে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা অসাবধানতাবশত সামান্য ভুলও খাদ্যকে অনিরাপদ করতে পারে। তাই খাদ্যের নিরাপদতা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব।

জলবায়ু পরিবর্তনও খাদ্য নিরাপদতার একটি উদীয়মান ঝুঁকি। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং পানির সংকট খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। উচ্চ তাপমাত্রা খাদ্যে ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর বৃদ্ধি বাড়াতে পারে। বন্যা ও জলাবদ্ধতা খাদ্য, পানি ও মাটিতে দূষণ ছড়াতে পারে। লবণাক্ততা কৃষি উৎপাদন ও পানির নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে। এসব ঝুঁকি দরিদ্র মানুষ, নারী, শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষকে বেশি প্রভাবিত করে।

দেশের সব মানুষের সুস্থতার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি, উৎপাদক, ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক ও ভোক্তা সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে খানি আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিরাপদ কৃষি চর্চা, ভেজালবিরোধী নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং খাবার নির্বাচন, প্রস্তুত ও পরিবেশনে সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রস্তাবনা: জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা এবং নিরাপদতা নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যা সরকারি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনকারীর সম্মতি বা নীতিপালন এবং জনসচেতনতামূলক শিক্ষাকে একীভূত করবে। বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

১। নিরাপদ খাদ্যকে শুধু দিবসভিত্তিক আলোচনা নয়, বরং নিয়মিত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে হবে। এজন্য নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক নীতি, কর্মসূচি ও বাজেটকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ করতে হবে।

২। খাদ্যবাহিত রোগ, ভেজাল, দূষণ ও অন্যান্য ঝুঁকির তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন ঝুঁকি বেশি গুরুতর তা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। খাদ্যবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। 

৩। খাদ্যবাহিত রোগের নজরদারি, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা এবং বাজার মনিটরিং আরও শক্তিশালী করতে হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ ও অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।

৪। খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা নিরাপদ খাদ্য চর্চা, নতুন ঝুঁকি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানে। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের প্রতিটি ধাপে সঠিক চর্চা অনুসরণ করতে হবে।

৫। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গুড হাইজিন প্র্যাকটিস (জিএইচপি) এবং হ্যাজার্ড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কন্ট্রোল পয়েন্ট (এইচএসিসিপি) অনুসরণ করতে হবে। যাতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত কোথায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা আগে থেকে শনাক্ত করা যায় এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

৬। ঘরে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের সময় নিরাপদ খাদ্য চর্চা মেনে চলার জন্য সরকারি উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ খাদ্যের পাঁচটি মূল নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

৭। স্কুল, হাসপাতাল, হোটেল, রেস্তোরাঁ, মেলা ও রাস্তার খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপদ খাদ্য প্রটোকল সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রণয়ন করে সবাইকে সেটা মেনে চলার নির্দেশনা দিতে হবে। 

৮। ভোক্তার অভিযোগ ব্যবস্থাকে সহজ, ডিজিটাল ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর করতে হবে। অভিযোগ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

৯। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় খাদ্য নিরাপদতা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করতে হবে।

 

উম্মে সালমা, সদস্য, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক–খানি

[email protected]

 

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৬০-এর ভেতরে নিতে চান ডুলি

জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান কোচ টমাস ডুলি ঢাকায় পা রেখেই ব্যস্ত সময় পার করলেন। সকালে পৌঁছানোর পর বিকালে তিনি হাজির হলেন বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে। সেখানে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন এই কাণ্ডারি জানালেন তার প্রাথমিক লক্ষ্য। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের ১৬০ থেকে ১৫০-এর মধ্যে টেনে তুলতে চান তিনি।

হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর অনেক নাটকীয়তা শেষে ৬৫ বছর বয়সী ডুলিকে শুক্রবার নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। পরবর্তীতে রাজধানীতে আয়োজিত ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৮১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডুলি ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে দলটিকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। কোচ হিসেবে বিভিন্ন দলকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। বিশেষ করে, তার অধীনেই ফিলিপাইন তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল ২০১৮ সালে।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১ নম্বরে। ডুলি জানান, এই নাজুক অবস্থা থেকে উন্নতি করাই হবে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, যদিও এতে সময় লাগবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘জীবনে কোনো কিছু অর্জন করতে হলে আপনাকে কিছু না কিছু ত্যাগ করতেই হবে। আর যারা সেটা করতে রাজি, তাদের নিয়ে আমরা সফল হতে পারব। তাই আমার লক্ষ্য হলো র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করা। ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে আসা, এটা রাতারাতি হবে না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এটা নিয়ে আমি একটা বইও লিখেছি— দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস।’

তিনি যোগ করেছেন, ‘বইয়ে চারটি মূল স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে এবং তার একটি হলো মানসিকতা। আর মানসিকতা হুট করে বদলায় না, এটা হলো আপনার চিন্তা করার ধরন। আমাদের ফুটবল নিয়ে ভাবতে হবে এবং আমাদের কী করণীয়, তা বুঝতে হবে। তাহলেই আমরা যে কোনো কিছু অর্জন করতে পারব। লক্ষ্যটা বাস্তবসম্মত হতে হবে। ১৬০-এর নিচে নামাটা বাস্তবসম্মত, তবে তা আগামীকালই সম্ভব নয়, হয়তো এক বছরের মধ্যে সম্ভব।’

সাবেক স্প্যানিশ কোচ কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ দল প্রায়ই সমালোচিত হতো। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল— হামজা চৌধুরী বা শমিত শোমের মতো প্রবাসী প্রতিভাদের সঙ্গে স্থানীয় খেলোয়াড়দের সমন্বয়টা সঠিকভাবে করতে না পারা এবং অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করা। তার অধীনে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা কখনোই র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৮০-এর নিচে নামতে পারেনি।

আগামী রোববার থেকে কাজ শুরু করবেন ডুলি। এরপর ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের ডাগআউটে অভিষেক হবে তার। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ দলকে আক্রমণাত্মক ও পজেশনভিত্তিক (বল দখলে রেখে) ফুটবল খেলাতে চান, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ফুটবলের পেছনে ছুটতে নয়। আমি খেলোয়াড়দেরকেও সেটাই বলছি। পেছনে ছোটার মানে হলো শুধু শুধু দৌড়ানো।’

সারাদেশে টিসিবির ট্রাকসেল শুরু কাল, ৭২০ ট্রাকে মিলবে ৩ পণ্য

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে টিসিবির ট্রাকসেল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল সোমবার ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সারাদেশে ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ১১ থেকে ২১ মে পর্যন্ত শুক্রবার ব্যতীত বাকি ১০ দিন ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হবে।

ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। যেকোনো ভোক্তা এসব ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন।

টিসিবির উপপরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক নথি থেকে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকায় ৫০টি, চট্টগ্রামে ২০টি, ছয় বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।

১৩০ টাকা লিটার দরে সয়াবিন তেল, ৮০ টাকা কেজি দরে চিনি ও ৭০ টাকা কেজি দরে মসুর ডাল বিক্রি করা হবে এসব ট্রাকে। প্রতি ভোক্তা সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল, ১ কেজি চিনি ও ২ কেজি মসুর ডাল নিতে পারবেন।

টেলিভিশন টকশো-সোশ্যাল মিডিয়া বিভ্রান্ত করবে, এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে অনেক কচকচানি কথাই থাকবে। পার্লামেন্টের কথা শুনলে আপনাদের অনেক ভালো লাগবে, অনেকের ভালো লাগবে না। রাস্তায় বিভিন্ন বক্তৃতা শুনলে, কথা শুনলে আপনাদের মনে হবে যে, এটা আবার কী হলো! এটা আমরা আশা করিনি।’

‘টেলিভিশনের টকশো আপনাদেরকে বিভ্রান্ত করবে। আরও বেশি বিভ্রান্ত করবে সোশ্যাল মিডিয়া, যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনারা এখন সবাই আক্রান্ত। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাদের ভাবতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় একটি সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘এখনো আমাদের মাথাপিছু আয় অনেক কম। আমাদের জিডিপি অনেক কম। এখনো আমাদের প্রায় ৪২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এখনো আমাদের অনেক মানুষ দুবেলা খেতে পান না। এই শহরের ফুটপাথে মানুষ শুয়ে থাকে, পড়ে থাকে পরিবার নিয়ে—তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই। এখনো আমাদের অসংখ্য ছেলে-মেয়েরা, শিশুরা লেখাপড়া করতে পারে না, তাদেরকে শ্রম বিক্রি করে বেঁচে থাকতে হয়। এই যে একটা দেশ, এই যে সমাজ, এটাকে পরিবর্তন করার জন্যে আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে দায়ী করতে চাই না, কিন্তু এটা আমাদের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা।’

শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ৫৬ বছরে আমাদের অনেকগুলো ইতিবাচক অর্জন আছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন দেশ স্বাধীন হয়, তখনকার পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায় যে, আমাদের মানুষের সংখ্যা সাড়ে সাত কোটি এবং খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২৮ লাখ টন। আজকে ১৮ কোটি মানুষের দেশে খাদ্য ঘাটতি প্রায় নাই বললেই চলে। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের অর্জন।’

ফখরুল বলেন, ‘এ কথা বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, আরও অনেক কিছু করার ছিল। অন্তত যে শতকরা ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, তাদের দারিদ্র্য দূর করে উপরে টেনে তোলার কাজটা আমরা করতে পারিনি।’

স্বপ্ন ছাড়া বড় কিছু করা সম্ভব হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে আমি জোর গলায় বলতে পারি, এই স্বপ্নটি দেখেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চেয়েছেন। একদলীয় ব্যবস্থা থেকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে কৃষকদের মধ্যে উৎপাদনের একটি ক্রিয়া জাগিয়ে তুলেছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে তরুণদের মধ্যে উৎপাদনের একটা যজ্ঞ কাজ করতে শুরু করেছিলেন।’

জুলাই অভ্যুত্থান আশা জাগিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটা দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রায় ১৫ বছরের একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পরে যখন আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। যখন আমরা কথা বলতে পারতাম না। যখন আমাদের প্রিয়জন হারিয়ে গেলে, নিখোঁজ হয়ে গেলে তাকে আমরা খুঁজে পেতাম না। গুম হয়ে যেত। যখন আমরা চোখের সামনে দেখলাম ২৪ জুলাইয়ে আমাদের ছোট ছোট ছেলেরা-মেয়েরা প্রাণ দিচ্ছে অকাতরে দেশের পরিবর্তনের জন্য, আমাদের মনে আবার স্বপ্ন জেগে উঠেছে।’

‘দম’ সিনেমার সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নূর ইসলাম

ঈদে মুক্তি পেয়েছে পরিচালক রেদওয়ান রনির নতুন সিনেমা ‘দম’। আফগানিস্তানে তালেবানদের হাতে অপহৃত এক বাংলাদেশির শ্বাসরুদ্ধকর বেঁচে ফেরার সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। সেই গল্পের নেপথ্য নায়ক মো. নূর ইসলাম নিজেই শোনালেন তার জীবনের সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা।

২০০৮ সালে আফগানিস্তানে অপহৃত হয়েছিলেন নূর ইসলাম। ৮৪ দিন বন্দিজীবনের পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বড় পর্দায় তার সেই জীবনযুদ্ধের গল্প উঠে এসেছে। নূর ইসলাম বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক ও ধর্ম সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগে আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে আমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সেই ৮৪ দিনের সব ঘটনা দুই ঘণ্টার সিনেমায় পুরোপুরি তুলে আনা সম্ভব নয়। তবে আমি চাই দেশের মানুষ জানুক। আর বড় শিক্ষা হলো, আপনার ভেতরে যতক্ষণ দম আছে, ততক্ষণ হার মানা যাবে না।’

সিনেমাটিতে নূর ইসলামের স্ত্রী আনোয়ার পারভীন ওরফে রানির চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরী। বাস্তবে সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা মনে করে আনোয়ারা পারভীন বলেন, ‘আমার সব সময় মনে হতো সে বেঁচে আছে। আমার বিশ্বাস ছিল, তার কিছু হলে আমি ঠিকই টের পাব। অনেকে আমাকে পাগল বলত, কিন্তু আমার মনের অবস্থা কেউ বুঝত না।’

‘দম’ সিনেমায় নূর ইসলামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, যার পর্দার নাম ‘শাহজাহান ইসলাম নূর’। নিশো বলেন, ‘নূর ভাই ও তার স্ত্রীকে এখন আপনারা হাসিখুশি দেখছেন, কিন্তু তাদের ভেতরে সেই দিনের স্মৃতিগুলো এখনো জীবন্ত। তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আমরা সেই হাহাকার ও ক্ষোভটা টের পেয়েছি। আমি আমার চরিত্রের অনুপ্রেরণা তাদের কাছ থেকেই নিয়েছি।’

পরিচালক রেদওয়ান রনি জানান, নূর ইসলামের ডায়েরি পড়েই তিনি এই সিনেমার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। রনি বলেন, ‘গল্পটি যখন প্রথম পড়ি তখন কেঁদেছি, নূর ভাইয়ের সঙ্গে যখন প্রথম বসলাম, তখন আমরা দুজনই কেঁদেছি। নূর ভাই ডায়েরিটা আমাকে দিয়েছিলেন। সেটি পড়লে বোঝা যায় কেন এটি এক বাংলাদেশির জিতে যাওয়ার গল্প। সিনেমাটি দেখার পর নূর ভাই যখন জড়িয়ে ধরলেন, তখন মনে হলো আমার চেষ্টা সার্থক হয়েছে।’

এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড ও চরকির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘দম’ সিনেমাটি আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে দেশের সিনেমা হলগুলোতে (সিঙ্গেল স্ক্রিন) মুক্তি পাবে। রেদওয়ান রনির সঙ্গে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল আলম রবি।

ইসরায়েলের পাশে থাকবে ভারত, বললেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের সফরে এখন ইসরায়েলে রয়েছেন। তিনি দেশটির পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ভাষণ দিয়েছেন। এই ভাষণে তিনি দৃঢ় সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ইসরায়েল সফরে গিয়ে মোদি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এই সফর নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরেই সমালোচনা হচ্ছে।

পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে মোদি বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় যারা জীবন হারিয়েছেন এবং যেসব পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে, তাদের জন্য ভারতের জনগণের গভীর শোকবার্তা আমি সঙ্গে করে এনেছি।

তিনি বলেন, আমরা আপনাদের যন্ত্রণা বুঝি, আপনাদের দুঃখে সমব্যথী। এই কঠিন সময়ে ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে নিহত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির কথা মোদি তার ভাষণে সরাসরি উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বলেন, ভারত টেকসই শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখে এমন সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

মোদি ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের আরও বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ইসরায়েলের উদ্ভাবনী নেতৃত্ব আমাদের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করিয়েছে।

তিনি বিশেষভাবে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, চিপ শিল্প ও এআই খাতে দুই দেশের মধ্যে জোরালো সমন্বয়ের সুযোগের কথাও তুলে ধরেন।

নেতানিয়াহু মোদিকে বলেন, ভারত ইসরায়েলকে সমর্থন করে। কারণ ইসরায়েল বর্বরতার বিরুদ্ধে একটি প্রাচীর হিসেবে ভূমিকা রাখে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার সফর দুই দেশের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো ইসরায়েল সফর করছেন নরেন্দ্র মোদি।

বন্ধুত্বের বার্তা

বুধবার ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং উড়োজাহাজ থেকে নামার পর নেতানিয়াহু তাকে আলিঙ্গন করে স্বাগত জানান।

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মুখপাত্র বেড্রোসিয়ান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, দুই নেতার মধ্যে বিশেষ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।  ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে বন্ধন দৃঢ়—আমরা উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং সমন্বিত কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে একসঙ্গে কাজ করি।

নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, স্বাগত অনুষ্ঠানের পর দুই রক্ষণশীল নেতার ব্যক্তিগত বৈঠক হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সম্পর্ককে ‘সত্যিকারের বন্ধুত্ব’ বলে উল্লেখ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মোদি জানান, তাদের মধ্যে চমৎকার বৈঠক হয়েছে।  তিনি লেখেন, আমরা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।

সফরে মোদির ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে।
নয়াদিল্লি মধ্যপ্রাচ্যে তার কূটনৈতিক স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রতিরক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা ক্রমাগত বাড়িয়েছে।

ভারত সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারত-ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্য ৩ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ২০১৪ সালে হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

দেশে সমালোচনা

মোদি প্রথমবার ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন এবং এর পরের বছর নেতানিয়াহু ভারত সফর করেন।

২০২৩ সালে নয়াদিল্লিতে রেলওয়ে, বন্দর, বিদ্যুৎ, ডেটা নেটওয়ার্ক এবং পাইপলাইন সংযোগের জন্য ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর’ গঠনের বিশাল পরিকল্পনা উন্মোচন করা হয়েছিল।

তবে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা এবং পরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হলে সেই পরিকল্পনা থমকে যায়।

২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরের কয়েক মাস পর মোদি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধান আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র রামাল্লা সফর করেছিলেন।

তবে তার এবারের ইসরায়েল সফর ভারতে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, তিনি আশা করেছিলেন মোদি তার ভাষণে গাজায় হাজার হাজার নিরীহ পুরুষ, নারী ও শিশু হত্যার কথা উল্লেখ করবেন।

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারত হিন্দুপ্রধান হলেও সেখানে আনুমানিক ২২ কোটি মুসলিম বসবাস করেন। ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ ইসরায়েলের হাইফা বন্দর পরিচালনা করছে।

২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি সামরিক ড্রোন প্রযুক্তি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন রেখেছিল।

সংসদের অধিবেশন বসবে ১২ মার্চ বা দুই-একদিন আগে: সালাহউদ্দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ বা এর দুই-একদিন আগে বসবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।

পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী মাসের ১২ মার্চ অথবা এর দুই-একদিন আগে। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে। এই অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের অধ্যাদেশসমূহ উপস্থাপন করা হবে এবং শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। 
 

সাইবার জগতে বট ট্রাফিক: ভবিষ্যদ্বাণীর দেড় বছর আগেই যেভাবে ছাড়িয়ে গেল মানুষকে

ধরুন, এই গরমে আপনি অনলাইনে এসি কেনার জন্য কয়েকটি ওয়েবসাইট ঘুরে দেখছেন। আপনি মানুষ, তাই খুব বেশি হলে ৫ থেকে ১০টি সাইট ঘেঁটে দাম যাচাই করবেন। কিন্তু আপনি যেসময়ে ওই সাইটগুলো দেখলেন, সেসময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বট ঘুরে ফেলেছে কয়েক হাজার সাইট।

এসব বট সেকেন্ডে কতটি ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবে জানেন? উত্তর হলো—কমপক্ষে এক হাজার থেকে ১০ হাজার।

অনলাইনে এআই বা মেশিনের এই অতিমানবীয় গতির কারণেই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ঘটে গেছে এক অবিশ্বাস্য পরিবর্তন। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটে মোট ট্রাফিক বা ভিজিটরের সংখ্যায় মানুষকে ছাড়িয়ে গেছে স্বয়ংক্রিয় ‘বট’ বা মেশিন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, আপনি এখন যে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, সেখানে মানুষের চেয়ে রোবট বা বটের চলাচলই বেশি।

ইন্টারনেট নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বৈশ্বিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স সম্প্রতি এই তথ্য সামনে এনেছেন। এ নিয়ে শুক্রবার মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ক্লাউডফ্লেয়ারের রাডার ড্যাশবোর্ডের লাইভ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইন্টারনেটের (এইচটিএমএল কনটেন্টে) মোট ট্রাফিকের ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশই তৈরি করছে বট বা মেশিন। আর মানুষ বা হিউম্যান ট্রাফিক মাত্র ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রযুক্তিবিদ ম্যাথিউ প্রিন্স লিখেছেন, ‘ইন্টারনেটের ইতিহাসে এই প্রথম স্বয়ংক্রিয় বট থেকে আসা ট্রাফিক মানুষের তৈরি ট্রাফিককে ছাড়িয়ে গেছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘স্বয়ংক্রিয় বট ট্রাফিক এমন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা এই খাতের কেউ এত দ্রুত আশা করেনি।’

এর আগে ম্যাথিউ প্রিন্স ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বট মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে।

কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেছে প্রায় দেড় বছর আগেই।

 

Welp, that happened faster than I predicted. Thought it would be end of 2027, then early 2027, but agentic traffic growing so fast that bots have now passed human traffic online for the first time in the Internet’s history. https://t.co/2zX5bHdhsa

— Matthew Prince 🌥 (@eastdakota) June 3, 2026

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন সার্চ ইঞ্জিনের পুরোনো আমলের ক্রলার বা ডেটা চোর (ওয়েব স্ক্র্যাপার) বটের কারণে হয়নি। এর পেছনে কাজ করছে নতুন প্রজন্মের ‘এজেন্টিক এআই’।

এসব এআই এজেন্ট মানুষের হয়ে বিচরণ করে সাইবার জগতে। সময় বাঁচিয়ে আপনাকে তথ্য খুজে দেয়। আপনার হয়ে অতি অল্প সময়ে আপনার পছন্দের ও দামের রেঞ্জের এসি কোথায় পাওয়া যেতে পারে, তার তালিকা হাজির করে।

এটি এমন এক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা কেবল তথ্য খোঁজে না বরং মানুষের সহকারী বা ‘এজেন্ট’ হয়ে নিজে নিজে অনলাইনে কাজ করে দেয়। শুধু আপনার জন্য তথ্য খুঁজে দেওয়াই নয়, টিকিট বুকিং করা, শপিং সাইট থেকে সেরা ডিল খুঁজে বের করাসহ নানা ধরনের কাজ করে দেয়।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘হিউম্যান সিকিউরিটি’-এর ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মানুষের তুলনায় এআইচালিত ট্রাফিক আট গুণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিকের মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল এআই এজেন্টভিত্তিক। বছরের শেষে এই ট্রাফিক প্রায় ৮ হাজার শতাংশ বেড়ে গেছে।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজকের যে ইন্টারনেট ব্যবস্থা তা ডিজাইন করা হয়েছিল মানুষের মনোযোগ ও ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে। পুরো ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, অনলাইন কেনাকাটা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওয়েবসাইটের আয়সহ পুরো ই-কমার্স মডেলটি দাঁড়িয়ে আছে মানুষের ওপর ভিত্তি করে। এখানে সবকিছুর ক্ষেত্রেই ধরে নেওয়া হয় যে ব্যবহারকারী একজন মানুষ।

কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যবহারকারী বট হতে পারে—এমন সম্ভাবনাই বাড়ছে।

ফরাসি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইম্পারভা’ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির এ বছরের ‘ব্যাড বট’ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব কোম্পানি এখনো ভাবছে তাদের ব্যবহারকারীরা সবাই মানুষ, তারা নিজেদের সিস্টেম বুঝতে ভুল করছে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নামে পরিচিত কিছু বিনিয়োগকারী দ্রুত বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন স্টার্টআপ ও প্রাথমিক পর্যায়ের কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে এবং বিনিময়ে মালিকানার শেয়ার নেয়।

এসব বড় বিনিয়োগকারীদের পুরো অনলাইন বাজার ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছে ইম্পারভা।

এর কারণ হলো বর্তমানে সব অনলাইন মিডিয়া, ই-কমার্স ও ব্র্যান্ডগুলোতে মানুষের চেয়ে বটের চলাচলই বেশি। তাই বিনিয়োগ আসলে কার জন্য করা হচ্ছে—মানুষ নাকি বট, তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদমাধ্যম, বিজ্ঞাপন ও অনলাইন বিপণন খাত সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট বা এআই বট যখন আপনার হয়ে এক সেকেন্ডে পাঁচ হাজার ওয়েবসাইট ঘুরে আসবে, তখন সেখানে একটিও ‘হিউম্যান ভিউ’ বা মানুষের ইম্প্রেশন তৈরি হবে না।

ফলে বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় পেজভিউ বা ক্লিকের ওপর ভিত্তি করে আয়ের যে মডেল তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এআই এজেন্ট বা বটের কারণে ওয়েবসাইটে ভিজিটরের সংখ্যা বাড়লেও বাস্তবে দেখা যাবে—পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। কারণ মেশিন ভিজিট করলেও বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য কেনে না।

এর ফলে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজারে ব্যবহৃত বিভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি পুনরায় বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ইম্পারভার গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এআইচালিত বট হামলা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৫ গুণ বেড়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ৪০ শতাংশই ক্ষতিকর বা ম্যালিশিয়াস বটের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বৈধ এআই এজেন্ট এবং ক্ষতিকর বটের আচরণ অনেক ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম। ফলে কোনটি উপকারী আর কোনটি ক্ষতিকর—তা শনাক্ত করা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘হিউম্যান সিকিউরিটি’-এর তথ্য মতে, মানুষ ও ক্ষতিকর স্বয়ংক্রিয় বটের মধ্যে পার্থক্য মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

ফলে এটি মানুষ নাকি বট—শনাক্ত করার যে পুরোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তা ইতোমধ্যে অকেজো হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ইন্টারনেটে মানুষ ও যন্ত্র—দুই ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা পরিচয় ও যাচাই ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে।

এআই এজেন্ট বা বটকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না। এর বদলে তাদের পরিচয় যাচাই, অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

যারা মেশিনের পরিচয় যাচাই ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে নতুন নিরাপত্তা দেয়াল তৈরি করতে পারবে, প্রযুক্তি দুনিয়ার ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই থাকবে।

মানেকে নিয়ে বিশ্বকাপে সেনেগাল

বিশ্বকাপ সামনে রেখে শক্তিশালী ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে সেনেগাল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বড় মঞ্চে ফিরছেন তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানে। আল নাসরের এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই মূলত আক্রমণভাগ সাজিয়েছে আফ্রিকান এই দলটি, যেখানে অভিজ্ঞতা ও তরুণদের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড।

মানে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্কোয়াডে থাকলেও হাঁটুর চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত খেলা হয়নি। এবার পুরোপুরি ফিট হয়ে তিনি আবারও জাতীয় দলের মূল ভরসা হয়ে ফিরেছেন। ক্যারিয়ারে লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবে খেলা এই তারকা শুধু গোল করার ক্ষমতাই নয়, নেতৃত্বগুণ দিয়েও দলকে অনুপ্রাণিত করেন।

এর আগে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একটি বিতর্কিত ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে স্টপেজ টাইম পেনাল্টির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে চলে যায়। তবে সেই মুহূর্তে মাঠে থাকা মানে সতীর্থদের আবারও খেলায় ফেরার আহ্বান জানান। অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেয়ের গোলের পর সেনেগাল জয় পেলেও পরে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেয় আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)।

কোচ পাপে থিয়া যখন চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করবেন, তখন এই ২৮ জনের স্কোয়াড থেকে দু’জনকে বাদ পড়তে হবে।

সেনেগাল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২২ জুন নরওয়ে এবং ২৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে খেলবে তারা।

সেনেগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক: এদুয়ার্দ মান্দি, ইভান দিয়ুফ, মোরি দিয়াও।

ডিফেন্ডার: ক্রেপিন দিয়াতা, অঁতোয়ান মান্দি, আবদুলায়ে সেক, কালিদু কুলিবালি, ইলায়ে কামারা, মুসা নিয়াখাতে, মামাদু সার, এল-হাজি মালিক দিয়ুফ, মুস্তাফা মবু, ইসমাইল জাকোবস।

মিডফিল্ডার: ইদ্রিসা গেয়ে, হাবিব দিয়ারা, পাপে মাতার সার, পাপে গেয়, লামিন কামারা, পাতেহ সিস, বারা ন্দিয়ে।

ফরোয়ার্ড: সাদিও মানে, বাম্বা দিয়েং, ইলিমান ন্দিয়ে, নিকোলাস জ্যাকসন, অসানে দিয়াও, ইব্রাহিম মবায়ে, শেরিফ ন্দিয়ে, ইসমাইলা সার।