26.1 C
Dhaka
Home Blog

তেহরানকে নির্বিচার হামলা বন্ধের আহ্বান জানাল বার্লিন

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানকে অবিলম্বে ‘নির্বিচার হামলা’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি পূর্বাভাষ দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ধর্মীয় নেতাদের শাসনের অবসান ঘটেছে।

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলছিল পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা। গত বুধবার তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে সব কিছু ‘ইতিবাচক’ বলেই ধরে নিয়েছিল উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় থাকা বিশ্ববাসী। 

তবে দুই দিনের মাথায় শান্তি উদ্যোগকে ছুঁড়ে ফেলে ইরানে যুগপৎ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। 

এই হামলায় এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ মোট ৪৮ জন নেতা এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন। 

খামেনি হত্যা ও দেশের ওপর হামলার জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি আছে, সেগুলোর ওপর হামলা শুরু করে ইরান। 

 

একে একে আক্রান্ত হয় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব এবং ইসরায়েল। 

এসব হামলাকেই ‘নির্বিচার হামলা’ আখ্যা দেন জার্মান চ্যান্সেলর।  

বার্লিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মের্ৎস বলেন, ‘ইরানের জনগণের পাশাপাশি জার্মানরাও দেশটিতে ধর্মীয় শাসনের অবসান ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করছে।’

তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হওয়ায় ইরান এখন ‘অনিশ্চিত ভবিষ্যতের’ দিকে আগাচ্ছে। 

 

মের্ৎস নিশ্চিত করেন, তিনি বুধবার ওয়াশিংটন সফর করবেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। 
‘আমরা এখনো জানি না, তাদের (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) পরিকল্পনা সফল হবে কী না’, যোগ করেন তিনি। 

উল্লেখ্য, এই অভিযানে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি অংশ নেয়নি। 

তিনি জানান, জার্মানির মাটিতে কোনো ধরনের ‘ইহুদিবিদ্বেষী বা মার্কিনবিদ্বেষী’ হামলা সহ্য করা হবে না।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না: আইজিপি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

এসময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

বাহারুল আলম বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদক সংক্রান্ত অপরাধ করলে দলমত নির্বিশেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

আজ রোববার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পুলিশের সব ইউনিট প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় এ নির্দেশনা প্রদান করেন আইজিপি।

তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

আইজিপি মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে হাইওয়ের ডাকাতি বন্ধ করতে হবে।’

তিনি হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এসময় পুলিশ সদরদপ্তর প্রান্তে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিরা উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে ধ্বংস হলো সোনাদিয়া দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বন

ভয়ংকর দৃশ্য! হাজার হাজার একরের ম্যানগ্রোভ বন কেটে ফেলা হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছের কাণ্ড, পুড়িয়ে ফেলা ডালপালা ও গাছের পাতারা সাক্ষী দিচ্ছে ওই দৃশ্যের।

এটিই আমাদের সোনাদিয়া দ্বীপ, যার অবস্থান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে।

কিছুদিন আগেও যে বিস্তৃত এলাকা ঢাকা ছিল ঘন ম্যানগ্রোভ বনে, এখন তার বিভিন্ন দিকে নির্মাণ করা হয়েছে চার-পাঁচ ফুট উচ্চতার মাটির বাঁধ।

ধ্বংসযজ্ঞের যে দৃশ্য দেখছি, তা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় রোনাল্ড জোফের ১৯৮৪ সালে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য কিলিং ফিল্ডস’-এর কথা। এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে খেমার রুজের শাসনকালে কম্বোডিয়ার বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যায়—গাছের ভাঙা ডালপালা ও অবশিষ্টাংশের সঙ্গে অসংখ্য লাশের স্তূপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এখানে-সেখানে।

সোনাদিয়া দ্বীপে নির্বিচারে গাছ কাটা চলচ্চিত্রে দেখানো তেমনই একটি ভৌতিক দৃশ্যের মতোই—যা বাস্তবতাকে ছাপিয়ে গেছে বহুলাংশে।

সোনাদিয়ায় মাটির বাঁধগুলো নির্মাণ করা হয়েছে নদীর তীর ঘেঁষে। কয়েকশ গজ পরপর বসানো হয়েছে স্লুইস গেট, যাতে লবণাক্ত পানি ভেতরে ঢুকতে পারে। বাঁধগুলোর নকশা এমনভাবে করা যাতে বাগদা চিংড়ির ঘেরগুলোয় লবণাক্ত পানি ধরে রাখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান ও কানাডার উচ্চ চাহিদার সামুদ্রিক খাদ্যের বাজারে রপ্তানি হয় এখানকার চিংড়ি।

দ্বীপটির উত্তর-দক্ষিণ বরাবর তৈরি মাটির বাঁধের পশ্চিম দিকের ম্যানগ্রোভ বন বেশ কিছুদিন আগেই কাটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আর পূর্ব দিকের গাছগুলো কাটা হয়েছে সম্প্রতি। সেগুলো এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। বোঝা যাচ্ছে কেটে রাখা এসব গাছ শিগগিরই পুড়িয়ে ফেলা হবে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত সোনাদিয়া ম্যানগ্রোভ বনের ধ্বংসযজ্ঞের একটি সামগ্রিক অবস্থা দেখা গেলেও, আমাদের ড্রোন ফুটেজে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও সূক্ষ্ম ও বিস্তৃতভাবে উঠে এসেছে।

দেখে মনে হচ্ছে সোনাদিয়া দ্বীপটি ধীরে ধীরে সাগরের বুকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আর উন্মোচিত হচ্ছে লালচে এক ভূখণ্ডের। যা এই দ্বীপে প্রতিনিয়ত ম্যানগ্রোভ বন নিধন ও পোড়ানোর সাক্ষ্য বহন করে। একসময় উপকূলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে ঘন সবুজ ম্যানগ্রোভ বনের বেষ্টনী ছিল। যা এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য। উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত একটি সরু খাল দ্বীপটিকে মহেশখালী থেকে পৃথক করেছে।

খালের পাড় ধরে কিছু সবুজ গাছপালা অবশিষ্ট আছে। ওই খালের পাশে মাটির বাঁধ ঘেঁষে কিছু মানুষকে জমিতে কাজ করতে দেখি। ভয় আর কৌতূহল নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যাই। আমরা শুনেছি, সোনাদিয়া দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বন এলাকা দখল করার জন্য রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সশস্ত্র দল ও ভাড়াটে গুন্ডাদের ব্যবহার করে। তাই কোনো ধরনের হামলার শিকার হলে যাতে দ্রুত নৌকায় করে নিরাপদে ফিরে যেতে পারি, সেজন্য আমাদের অভিজ্ঞ ট্রলারচালককে ইঞ্জিন চালু রাখতে বলি।

কিন্তু ঘটল ঠিক উল্টোটা। আমরা কাছে যেতেই লোকজন মাটির বাঁধ ধরে সরে যেতে থাকে এবং এক সময় তারা অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপর আমরা আরও কাছে গিয়ে দেখি, দূর থেকে যাকে ‘কিলিং ফিল্ড’ মনে হচ্ছিলো তা নোনাপানি আটকে রেখে গড়া চিংড়ি খামার। কাছেই একটি ছোট ঘর। ঘরটির বাইরে ঝুলিয়ে রাখা ছিল কক্সবাজারের মহেশখালীর মোরকোজুল এলাকায় ইজারাকৃত জমি-সংক্রান্ত এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের অনুলিপি।

রিট আবেদনটি স্থানীয় ইজারাদার হাজী মোস্তাক আহমেদ ও অন্যান্যদের পক্ষ থেকে করা। আবেদনে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি), বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ প্রশাসন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষসহ (বেজা) বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে বিবাদী করা হয়েছে।

সহজ কথায়, আবেদনকারীরা আদালতকে আর্জিতে বলেছেন, তারা চিংড়ি চাষের জন্য আইনসম্মতভাবে জমি ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকারি কর্তৃপক্ষ বা অন্য পক্ষ জমির ওপর তাদের দখল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তাই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন—যেন ইজারা বাতিল বা নবায়ন না করার মতো কোনো উদ্যোগ নেওয়া না যায়।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট লিজের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লিজকৃত জমির ওপর আবেদনকারীদের শান্তিপূর্ণ দখল ও ভোগদখলের ওপর কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না চালাতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা জারি করেন। একইসঙ্গে আবেদনকারীদের উত্থাপিত লিজ নবায়নের বিষয়টিও আদালত বিবেচনা করেন।

সর্বশেষ গত ২ মার্চ দেওয়া আদেশ অনুযায়ী, আদালত তার পূর্ববর্তী সুরক্ষা আদেশের মেয়াদ ওই তারিখ থেকে আরও ছয় মাসের জন্য বৃদ্ধি করেন। এর ফলে, আদালতের আদেশ পরিবর্তন না হলে আবেদনকারীরা এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে লিজকৃত জমি দখলে রেখে ব্যবহার করতে পারবেন।

আইনি নথিতে লিজকৃত জমির পরিমাণ উল্লেখ নেই। তবে উত্তর দিকে যতদূর চোখ যায়, ততদূর পর্যন্ত ম্যানগ্রোভ বন উজাড় করা হয়েছে। দেখে মনে হয়, এলাকাটির ওপর রাষ্ট্র বা তার সংস্থাগুলোর কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই। বরং অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে, ভয় আর পেশিশক্তি যাদের মূল অস্ত্র।

আমরা ট্রলারে ফিরে আসি এবং বদরখালী খাল ধরে উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে যাই। চিংড়িচাষের জন্য খালের দুই ধারে কাদামাটির বাঁধ। লবণাক্ত পানি প্রবেশের সুযোগ করে দিতে বাঁধ কেটে মাঝে মাঝে স্লুইস গেট বসানো হয়েছে।

তখন জোয়ারের সময়। চারপাশের দৃশ্য দেখে আমরা হতবাক। খালের দুই পাশে বাঁধের ভেতরের গাছপালা কেটে সাফ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় মাটির কালো দাগ, কেটে ফেলা গাছগুলো পোড়ানোর নিদারুণ সাক্ষী দিচ্ছে।

আরও কিছুদূর সামনে যেতেই ডান দিকে সদ্য উজাড় করা ও আগুনে পোড়ানো বিস্তীর্ণ এক এলাকা চোখে পড়ে। আমরা ট্রলার থেকে নেমে পড়ি। এটা কি সত্যিই সম্ভব? অল্প কিছুদিন আগেও এখানে ছিল ঘন সবুজ ম্যানগ্রোভ বন, যা কেটে ফেলার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নদী তীরের বাঁধটি থেকে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে আরও নতুন নতুন বাঁধ তোলা হয়েছে, যা পুরো ভূখণ্ডটিকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করেছে।

আমরা এমনই এক বাঁধ ধরে উত্তর দিকে হাঁটতে থাকি। ডান পাশে আর কোনো সবুজ অবশিষ্ট নেই। প্রতিটি গাছ কেটে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে আছে শুধু অজস্র শ্বাসমূল—হারিয়ে যাওয়া ম্যানগ্রোভ বনের বোবা সাক্ষী।

বাঁধের পশ্চিম পাশে তখনো গাছ কাটা হচ্ছিল। দূর থেকে কয়েকজন মানুষকে এ কাজ করতে দেখি। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়েই দ্রুত তারা চোখের আড়াল হয়ে যায়। আরও উত্তরে এগিয়ে এমন একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় পৌঁছাই, যেখানে বড় একটি জায়গা থেকে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। কাটা গাছগুলো পড়ে থাকতে থাকতে শুকিয়ে গেছে। এক জায়গায় আগুন দেওয়ার চিহ্নও দেখতে পাই।

এরপর আমরা এমন একটি জায়গায় পৌঁছাই, যা আমাদের সম্পূর্ণভাবে হতবাক করে দেয়। ডান ও বাম উভয় দিকে কাদামাটির বাঁধ। গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে শুকানোর জন্য। সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বনে সুন্দরবনের মতো লম্বা ও বিশাল আকারের গাছ হয় না। এই বনের অনন্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গাছগুলো হলো কম উচ্চতার বাইন, কেওড়া ও গেওয়া।

প্রখর রোদ, চারদিকে সুনসান নীরবতা। আমাদের আর সামনে এগোনোর সাহস হলো না। আমার সঙ্গী স্থানীয় সাংবাদিক কায়সার হামিদ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন। চারপাশে ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা ট্রলারে ফিরে আসি।

আমরা এবার বদরখালী খাল ধরে আরও পশ্চিমে এগিয়ে বাম দিকের নতুন একটি খালে প্রবেশ করি। বেশ কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর দেখতে পাই, এখানে এখনো কিছু সবুজ অবশিষ্ট রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রেও এমনটা দেখা গিয়েছিল। একটা বড় জায়গায় অবশ্য চিংড়ি ঘের করার জন্য সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাদামাটির বাঁধ দিয়ে জমিটি ঘিরে রাখা হয়েছে। বন উজাড়ের এই ঘটনাটিও ঘটেছে খুব সম্প্রতি। চারদিকে অসংখ্য শুকনো ডালপালা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আমি কখনো কল্পনাও করিনি এমন একটি দৃশ্য দেখব।

আরও সামনের দিকে যেতে গিয়ে একটা সময় আমাদের থামতে হয়। কেননা ভাটা শুরু হয়ে যাওয়ায় পানি নেমে যাচ্ছে। এটা যেহেতু জোয়ার-ভাটার উপকূলীয় অঞ্চল, তাই পর্যাপ্ত জোয়ারের পানি থাকা অবস্থাতেই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। নইলে ভাটার সময় খালগুলো শুকিয়ে যাবে আর আমরা আটকে যাব। তা সত্ত্বেও আমরা অল্প সময়ের জন্য নিচে নামি। দেখি, কাদামাটির বাঁধ দিয়ে ঘেরা একটি এলাকার ভেতরে বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে লবণ চাষ হচ্ছে। এই অংশের পশ্চিমেই সোনাদিয়ার সৈকত ও জেলেপল্লি।

সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। আমরা দ্রুত ঘটিভাঙ্গার উদ্দেশে রওনা হই। এখান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সোনাদিয়ায় যেতে হলে ঘটিভাঙ্গা থেকে ট্রলারে চড়তে হয়।

আমরা পৌঁছানোর আগেই জোয়ারের পানি পুরোপুরি নেমে যায়। তাই তীরে উঠতে ঘন কাদার ভেতর দিয়ে হাঁটতে হবে আমাদের। ঠিক এমন সময় ঘটিভাঙ্গার জেলে আসরউদ্দিন তার ছোট নৌকা নিয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। নিজের নৌকায় করে নোয়াছড়া খালের পশ্চিম তীরে আমাদেরকে নামিয়ে দিলেন এই জেলে। পশ্চিম তীর থেকে খালের ওইপাড়ে যেতে আমাদের জরাজীর্ণ ঘটিভাঙ্গা সেতু পায়ে হেঁটে পার হতে হয়।

মাঝবয়সী আসরউদ্দিন কিশোর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে বের হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সোনাদিয়া প্যারাবনের (ম্যানগ্রোভ বন) ৮০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে।’

এই ধ্বংসযজ্ঞের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ওপর, বিশেষ করে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের জীবনে। যারা জীবিকার জন্য সোনাদিয়া ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালগুলো থেকে মাছ ধরেন।

আসারউদ্দিন নিজে এই ধ্বংসযজ্ঞের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে ম্যানগ্রোভ বন ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়, এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা অব্যাহত থাকে এবং এখনো চলছে।’

‘আমার মতো ছোট জেলেদের জীবনে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। যখন এলাকাটি ম্যানগ্রোভ বনে আচ্ছাদিত ছিল, তখন মাছ ধরে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা আয় করতাম। এখন সেই আয় কমে এক হাজার টাকায় নেমে এসেছে। অনেক জেলে তো বেঁচে থাকার জন্য ভিক্ষা করছেন,’ বলেন তিনি।

আসারউদ্দিন জানান, এই বন ধ্বংসের সঙ্গে ঘটিভাঙ্গার যারা জড়িত, তাদের অনেককেই তিনি চেনেন। কিন্তু ভয়ের কারণে তাদের নাম প্রকাশ করতে চান না। ‘নাম যদি বলি, তারা আমাকে মেরে ফেলবে,’ বলেন তিনি।

এই এলাকার মহিষপালক মো. শাহাবুদ্দিন। যে জমিতে তিনি ৫২টি মহিষ চরাচ্ছেন, সেটি প্রথমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আবার জেলা প্রশাসনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। 
অতীতের অন্য এক সোনাদিয়ার স্মৃতিচারণ করেন শাহাবুদ্দিন। একটা সময় বাবার সঙ্গে মিলে এই দ্বীপে ১০০টিরও বেশি মহিষ চরাতেন তিনি। বাবার পথ অনুসরণ করে শাহাবুদ্দিনও যখন মহিষ পালনকে জীবিকা হিসেবে নেন, তখনো দ্বীপটি ঘন ম্যানগ্রোভ বনে আচ্ছাদিত ছিল।

‘তখন মহিষ চরানো খুব সহজ ছিল। চারদিকে ম্যানগ্রোভ বন আর বিস্তীর্ণ চারণভূমি। এখন পরিস্থিতি অনেক কঠিন। কারণ প্রায় সব বনই উজাড় হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আমি বেশিরভাগ বাছুর, এমনকি কিছু প্রাপ্তবয়স্ক মহিষও বিক্রি করে দিয়েছি,’ বলেন তিনি।

উপকূলীয় বন বিভাগ সূত্র জানায়, কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ২০১৬ সালে সোনাদিয়া দ্বীপের ৯ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯৩ একর জমি বেজার কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ২০১৮ সালে আরও ১২ হাজার ২৭০ দশমিক ০০৮ একর জমি হস্তান্তর করা হয়।

সূত্রমতে, মন্ত্রিসভার এক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক এসব জমি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেন। হস্তান্তর করা জমির মধ্যে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাও (ইসিএ) অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শেখ হাসিনা সরকারের সময় পর্যটন ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বেজার কাছে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সোনাদিয়া দ্বীপে দেশের বৃহত্তম পরিবেশবান্ধব পর্যটন পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘বেজার কাছে জমি হস্তান্তরের ফলে দুর্বৃত্তচক্র এলাকাটি দখল করার সুযোগ পায়। তারা গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন উজাড় করে সেখানে চিংড়ি চাষ শুরু করে। জমি হস্তান্তরের পর বন বিভাগ সোনাদিয়া কার্যালয় বন্ধ ও টহল কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়।’

আমীর চৌধুরী আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বন আইন, ১৯২৭-এর ধারা ৪ ও ৬ অনুসারে বেজার কাছ থেকে ৯ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯৩ একর জমি ফেরত নেয়। তবে এই ধারা দুটি ওই জমির ওপর বন বিভাগকে সীমিত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেয়। বেজা অবশিষ্ট জমি ফেরত দিতে এখনো অনিচ্ছুক।

তিনি আরও বলেন, ‘একবার জমি দখল হয়ে গেলে ও সন্ত্রাসী চক্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে আমাদের করার মতো তেমন কিছুই থাকে না।’

বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ের আরেক কর্মকর্তাও বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে মদদপুষ্ট স্থানীয় ও বহিরাগত প্রভাবশালী মহল চিংড়ি ঘের তৈরির জন্য ম্যানগ্রোভ বন কেটে ফেলেছে।’

অসহায়ের মতো এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে দ্বীপটির স্থানীয়দের এবং তা আজও অব্যাহত আছে।

সোনাদিয়া দ্বীপে প্রাকৃতিকভাবে ম্যানগ্রোভ বন জন্মালেও ১৯৭৩ সাল থেকে বন বিভাগ এখানে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ শুরু করে। বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ২০১৬ সাল নাগাদ সংস্থাটি সেখানে প্রায় ৫ হাজার একর ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করে। ১৯৮৫-৮৬ সালে সোনাদিয়ার বনভূমি বন আইন, ১৯২৭-এর ধারা ৪-এর আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

বন বিভাগের ২০১৪ সালের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৮ হাজার ১ দশমিক ৭০ একর বনভূমিকে ‘সংরক্ষিত বন’ হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

সোনাদিয়া দ্বীপে যা ঘটেছে, তা কেবল প্রাকৃতিক পরিবেশের ধ্বংসই নয়, বরং প্রকৃতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বিশেষ করে জেলেরা, যাদের জীবিকা এখানকার নাজুক বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল।

একইসঙ্গে এটি রাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়; এমন সংগঠিত ও রাজনৈতিক মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হাত থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রযন্ত্র কতটা আন্তরিক? সেটিই এখন প্রমাণের সময় এসেছে।

ভোক্তা দেশগুলোকেও এ দায় থেকে মুক্ত করা যায় না। বিশ্ববাজারে চিংড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদাই সোনাদিয়া, চকরিয়া, সুন্দরবনসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চচাহিদাই চিংড়িকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচনায় নিতে সরকারকে উৎসাহিত করেছে।

বিশ্ববাজারে চিংড়ির চাহিদা যত বাড়বে ও রাষ্ট্র যতদিন নীরব থাকবে, ততদিন সোনাদিয়ার অবশিষ্ট ম্যানগ্রোভ বন টিকে থাকার আশা ক্ষীণই থেকে যাবে। তবে একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না—সোনাদিয়া দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বন কেবল একটি উপকূলীয় বনভূমি নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান প্রতিবেশ ব্যবস্থার ভিত্তি। এই ম্যানগ্রোভ বন মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়াসহ নানা সামুদ্রিক প্রাণীর প্রজনন ও বেড়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল, যা স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তাকেও নিরাপদ রাখে।

দ্বীপটির কাদাময় চরভূমি ও বালুর সৈকতের সঙ্গে মিলে এই ম্যানগ্রোভ বন ভিন্ন ‍ভিন্ন বৈচিত্র্যের অনেক বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার উপকূলীয় পরিযায়ী পাখি, যারা পূর্ব এশিয়া-অস্ট্রেলেশিয়া পরিযান পথ (ইস্ট এশিয়া-অস্ট্রেলেশিয়ান ফ্লাইওয়ে) ধরে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এখানে আসে। বিশেষ করে পৃথিবীর অন্যতম বিরল ও মহাবিপন্ন পাখি, স্পুন-বিলড স্যান্ডপাইপারের জন্য সোনাদিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এছাড়া আরও বেশ কিছু বিপন্ন প্রজাতির প্রাণিও এ এলাকার ওপর নির্ভরশীল।

ম্যানগ্রোভ বন উপকূলকে স্থিতিশীল রাখে, ভাঙন কমায় এবং ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে নিচু জায়গাগুলোকে সুরক্ষা দেয়। একইসঙ্গে পাখিপ্রেমী, গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে, যা সোনাদিয়ায় পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়ায়। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় জীবিকা টিকিয়ে রাখা ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ অপরিহার্য।

কিন্তু সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধারের আশা ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ২০২৬ সালের ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসেও সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই বন ধ্বংস এবং চিংড়ি চাষের জন্য বনভূমি দখলের ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অসাধু চক্রগুলোকে এখনো থামানো যায়নি।

বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের পাখি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ড. সায়েম ইউ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এর জন্য জানতে হবে কেন মূল ম্যানগ্রোভ বন হারিয়ে গেছে এবং প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ পুনঃস্থাপন করে, নতুন করে বনের ক্ষতিসাধন বন্ধ করে উপযুক্ত দেশীয় প্রজাতিগুলোকে স্বাভাবিকভাবে জন্মানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধান বন সংরক্ষক আমীর বলেন, ‘আশি ও নব্বইয়ের দশকে আমরা চকরিয়ার বন ধ্বংস হওয়া প্রত্যক্ষ করেছি যেভাবে, আজ সোনাদিয়ায় ঠিক একই ঘটনা ঘটছে। সরকার যদি ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসকারী চিংড়িচাষিদের উচ্ছেদ করতে পারে, তাহলে আমরা সম্ভবত সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন ফিরিয়ে আনতে পারব।’

ফিলিপ গাইন: সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (এসইএইচডি) পরিচালক ও একজন গবেষক।
ইমেইল: [email protected]

রাফিনিয়ার চোট কি গুরুতর— যে বার্তা দিল ব্রাজিল

হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দাপুটে জয়ের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে রাফিনিয়ার চোটে। ফিলাডেলফিয়ায় প্রথমার্ধের শেষদিকে ডান পায়ের উরুর পেশিতে চোট নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। স্বভাবতই ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছে— রাফিনিয়ার চোট কি গুরুতর? তিনি কি তবে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেলেন?

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) অবশ্য আশার বাণীই শুনিয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, স্ক্যানে ২৯ বছর বয়সী এই তারকার ডান উরুর পেছনের পেশিতে (হ্যামস্ট্রিং) চোট ধরা পড়েছে। তবে তার পরিস্থিতি এতটা গুরুতর নয় যে তাকে ডিফেন্ডার ওয়েসলির মতো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যেতে হবে।

সেখানে আরও বলা হয়েছে, রাফিনিয়া দলের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন এবং যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফেরার লক্ষ্যে নিবিড় চিকিৎসা প্রটোকলের মধ্য দিয়ে যাবেন। এছাড়া, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালীন তার মাঠে ফেরার ব্যাপারে সেলেসাওরা বেশ আশাবাদী।

গত এক বছরের মধ্যে এটি রাফিনিয়ার চতুর্থ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট। বারবার চোটে পড়ার কারণে গত মৌসুমে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৩টি ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। সবশেষ গত মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে চোট পেয়ে এক মাসের বেশি সময় মাঠের বাইরে ছিলেন।

সতীর্থের এমন চোটে মন খারাপ রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতারও। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সে কিছুটা হতাশ। আমরা আশা করছি, চোট খুব বেশি গুরুতর নয়, অন্তত সবচেয়ে খারাপ কিছু যেন না হয়। কারণ সে আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় এবং আমরা তার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।’

চোট পাওয়া রাফিনিয়া হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের ৪০তম মিনিটে মাঠ ছেড়ে যান। তার বদলি হিসেবে নামেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার রায়ান।

২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা কাটিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে একের পর এক চোটে জর্জরিত কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল। রাফিনিয়ার চোট সেই তালিকায় সবশেষ সংযোজন মাত্র। এর আগে গত মার্চে গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড রদ্রিগো। পরের মাসে প্রিমিয়ার লিগে চেলসির হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে যায় উদীয়মান তারকা এস্তেভাওয়ের। এছাড়া, একই চোটের কারণে রিয়ালের ডিফেন্ডার এদার মিলিতাও খেলতে পারছেন না বিশ্বমঞ্চে।

এত দুঃসংবাদের মাঝেও ব্রাজিলের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের ফেরা। পায়ের নিচের অংশের পেছনের দিকের মাংসপেশির চোট থেকে সেরে উঠেছেন তিনি। ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা নেইমার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও হাইতিকে উড়িয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল। ফলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে তারা। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে আছে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছে স্কটল্যান্ড। আর টানা দুই হারে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে হাইতির।

মে মাসে রপ্তানি কমেছে ৭ শতাংশ

প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের চালান কমে যাওয়ার কারণে মে মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আজ বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবি জানায়, মে মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে পর্যন্ত পোশাকের চালান কমে যাওয়ার কারণে সার্বিক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার।

এ সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন হয়েছে।

এর আগে, টানা ৮ মাস পতনের পর গত এপ্রিলে রপ্তানি ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু মে মাসে রপ্তানি কমে যাওয়ায় ইতিবাচক ধারা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর যাচ্ছেন আজ, সাড়ে ১১টায় বরুড়ায় পথসভা

চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে তিনি দুটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, পথসভা ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেবেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। দুপুর পৌনে ২টায় তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তা উদ্বোধন করবেন। দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে বিকেল সাড়ে ৩টায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান। বিকেল ৫টায় তিনি চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সফর শেষ করবেন।

ছুটির দিনে বলিউডের যে ৭ হরর সিনেমা দেখতে পারেন

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হরর সিনেমা দেখতে চান? কিন্তু কী দেখবেন বুঝতে পারছেন না। এখানে আপনার জন্য সাতটি সিনেমার কথা জানানো হলো। যেগুলো চাইলে নেটফ্লিক্সে দেখতে পারেন।

বুলবুল সিনেমাতে একসঙ্গে পাবেন হরর, রহস্য, ড্রামা। সিনেমাতে দেখা যায়, একজন পুরুষ বাড়ি ফিরে এসে তার ভাবিকে খুঁজে পান। সে নীরবে গ্রামের নারীদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন তৃপ্তি দিমরি, অবিনাশ তিওয়ারি, পাওলি দম, রাহুল বোস, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এটি পরিচালনা করেছেন অনভিতা দত্ত, প্রযোজনা করেছেন আনুশকা শর্মা এবং কর্ণেশ শর্মা।

রুহি অতিপ্রাকৃত হরর-কমেডি সিনেমা, যেখানে দুই বন্ধু এক কনেকে অপহরণ করার দায়িত্ব পায়। কিন্তু পরিস্থিতি ভয়ংকর মোড় নেয়, যখন তাদের একজন বন্দী মেয়েটির প্রেমে পড়ে যায়। অন্যদিকে অন্যজন সেই মেয়েকে ভর করা আত্মার প্রেমে পড়ে। 

সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রাজকুমার রাও, জাহ্নভি কাপুর, বরুণ শর্মা, অ্যালেক্স ও’নিল, মানব ভিজ, সরিতা যোশী। পরিচালনা করেছেন হার্দিক মেহতা।

রহস্যময় শহর বারামুল্লার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে সিনেমার গল্প। তিনি নিখোঁজ শিশুদের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে অতিপ্রাকৃত ঘটনার মুখোমুখি হন, যা তার পরিবারকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

বারমুল্লায় অভিনয় করেছেন মানব কৌল, ভাষা সুম্বলি, আরিস্তা মেহতা, রোহান সিং, নীলুফার হামিদ, মাসুম মুমতাজ খান, আশ্বিনী কৌল, বিকাশ শুক্লা, মীর সারওয়ার, প্রিয়াঙ্ক তাতারিয়া। এটি পরিচালনা করেছেন আদিত্য সুহাস জাম্বালে।

শয়তান একটি পরিবারের গল্প। তাদের মেয়ে অচেনা ব্যক্তির কালো জাদুর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সিনেমাটি ২০২৩ সালের গুজরাটি ফিল্ম ভাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।

শয়তানে অভিনয় করেছেন অজয় দেবগন, আর. মাধবন, জ্যোতিকা, জানকি বডিওয়ালা, অন্নগদ রাজ এবং পরিচালনা করেছেন বিকাশ বহল।

ঘোস্ট স্টোরিজ একটি অ্যান্থলজি হরর ফিল্ম। যেখানে চারটি ছোট ছোট হরর গল্প একত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই সিনেমাটি দর্শককে থ্রিলিং অভিজ্ঞতা দেবে।

ঘোস্ট স্টোরিজে অভিনয় করেছেন ম্রুণাল ঠাকুর, অবিনাশ তিওয়ারি, জাহ্নভি কাপুর, রঘুবীর যাদব, সোভিতা ধুলিপালা, বিজয় ভার্মা, পবাইল গুলাটি। এটি পরিচালনা করেছেন করণ জোহর, দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়া আখতার ও অনুরাগ কাশ্যপ।

একটি পৌরাণিক হরর চলচ্চিত্র মা। এখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে একজন মা তার মেয়েকে রক্ষা করতে একটি দানবের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ওই দানব তাদের ধ্বংস করতে চায়।

সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন কাজল, রনিত রায়, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, খেরিন শর্মা। এটি পরিচালনা করেছেন বিশাল ফুরিয়া।

এই তালিকার আরেকটি অবশ্যই দেখার মতো হরর সিনেমা ‘কালি খুহি’। সিনেমাটির গল্প একটি ১০ বছরের মেয়েকে ঘিরে, যে তার পরিবার এবং গ্রামকে ভূত-প্রেতের অভিশাপ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। 

সিনেমাটি অভিনয় করেছেন শাবানা আজমি, সানজিদা শেখ, রিভা আরোরা, সত্যদীপ মিশ্র।

ক্ষমতার কেন্দ্রে এপিএস ইউনুছ আলী: সাক্ষাৎ নিয়ন্ত্রণ থেকে পদায়ন, তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) কৃষিবিদ মোঃ ইউনুছ আলীকে ঘিরে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা চলছে। মন্ত্রীর সাক্ষাৎ নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, বদলি-পদায়ন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে তদবির, সরকারি বরাদ্দ ও ফাইল প্রক্রিয়ায় আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একজন এপিএসের অস্বাভাবিক প্রভাব প্রশাসনিক কার্যক্রমে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবুল অভিযোগ করেন, কৃষিবিদ মোঃ ইউনুছ আলীর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেকের কাছে মনে হচ্ছে তিনি তাঁর দায়িত্বের সীমার বাইরে গিয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন।

ড. বাবুল দাবি করেন, পরপর দুই দিন মন্ত্রণালয়ে গিয়েও তিনি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। অথচ একই সময়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির জন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, দলের কঠিন সময়ে পাশে থাকা অনেক নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীও প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন না। এমনকি মহাসচিবের পক্ষ থেকে সাক্ষাতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা থাকার পরও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মী নন, একাধিক জনপ্রতিনিধিও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, এপিএস ইউনুছ আলীর অনুমতি ছাড়া মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক সমন্বয় ও জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রয়োজনে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেক কর্মকর্তাকে। এর ফলে প্রকল্প অনুমোদন, পদায়ন, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ মিল্ক প্রডিউসার্স কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা), বিভিন্ন ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ (এলজিইডি) অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন ইউনুছ আলী। মিল্কভিটার নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও তার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাসরুল্লাহর পদায়ন ঘিরেও অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের স্বাধীন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের উন্নয়ন বরাদ্দ ছাড়ের ক্ষেত্রেও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল আটকে রেখে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

সরকারি ক্রয় ও টেন্ডার অনুমোদন প্রক্রিয়াতেও তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (CCGP) পাঠানোর আগে বিভিন্ন ফাইল প্রক্রিয়াকরণে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাহিদা অনুযায়ী সুবিধা না পেলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনে বিলম্ব করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কয়েকটি পদায়ন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ২৮ জুন ২০২৬ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জামালপুর ও ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় পর্যায়ের প্রভাব ছিল।

একই বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, এসব পদায়ন নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ১৯ মে ২০২৬ জুলকারনাইন সায়ের আরেক পোস্টে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ করা হয়, “পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (২য় পর্যায়)” প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তার নাম প্রস্তাবের জন্য এলজিইডির ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ২২ জুন ২০২৬ দৈনিক খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক করার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। ওই প্রক্রিয়াতেও মন্ত্রণালয় পর্যায়ের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সামনে আসে।

প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন এপিএসকে ঘিরে এমন ধারাবাহিক অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কৃষিবিদ মোঃ ইউনুছ আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরানে হামলার মাঝে রাফা সীমান্ত বন্ধ, ভোগান্তিতে গাজাবাসী

ইরানে সম্মিলিত ভাবে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৮ নেতা নিহত হয়েছেন। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেশ ঘোলাতে হয়ে উঠেছে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিশর-গাজার সীমান্তবর্তী এলাকার রাফা ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। 

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। 

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘জরুরি ভিত্তিতে বেশ কয়েক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে গাজা উপত্যকায় প্রবেশে ব্যবহৃত রাফা ক্রসিং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। 

এই সীমান্তপথটি গাজায় ত্রাণ প্রবেশের একমাত্র স্থলপথ। পাশাপাশি, এই পথে গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিরা বিশেষ ব্যবস্থায় গাজা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পান। 

রাফা সীমান্ত বন্ধে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিরা। 

দীর্ঘ সময় বন্ধের পর গত মাসে গাজার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত রাফা ক্রসিং খুলে দেয় ইসরায়েল। বেশ কয়েক মাস পর সীমিত আকারে ফিলিস্তিনিরা গাজা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তাদের বেশিরভাগই গুরুতর অসুস্থ রোগী। 

ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে গাজার ২৩ লাখ মানুষের বেশিরভাগই তাদের নিজ বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। যার ফলে, গাজাবাসীরা অনেকাংশেই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। 

 

আর সেই ত্রাণ আসার একমাত্র কার্যকর পথ হলো এই রাফা ক্রসিং। 

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘ অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি চালু থাকলেও গাজাবাসীদের জীবন বাঁচানোর জন্য পাঠানো ত্রাণ প্রবেশে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ইসরায়েলের আরোপ করা বিধিনিষেধের কারণে গাজায় ওষুধ, পুনর্নির্মাণের উপকরণ, খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। 

তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতির শুরুতেই গাজাবাসীর প্রয়োজনের তুলনায় অন্তত চার গুণেরও বেশি খাবার সেখানে প্রবেশ করেছে। তবে এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তেল আবিব।  

‘যুদ্ধবিরতির শুরুতে গাজাবাসীদের প্রয়োজনের তুলনায় চার গুণেরও বেশি খাবার সেখানে পাঠানো হয়েছে। যার ফলে, হাতে থাকা মজুদ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গাজাবাসী প্রয়োজন মেটাতে পারবে বলে আমরা আশা করছি’, বিবৃতিতে জানায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। 

কোগ্যাট নামের সংস্থা দাবি করে, ‘রাফা ক্রসিং বন্ধ হলেও এতে গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতির কোনো অবনতি হবে না।’

সংস্থাটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং নতুন কোনো পরিস্থিতির উদ্রেক হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। 

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বেসামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে কোগ্যাট। এই সংস্থাটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অংশ। 

সমালোচকরা বলেন, এই সংস্থা মূলত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যস্ত থাকে। এই সংস্থাটিই মূলত চলাচলে বিধিনিষেধ ও বিভিন্ন পথ খোলা ও বন্ধ রাখার কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

দ্রুত শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন এবং পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। বহুল আলোচিত এই তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকী, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরিন জাহান প্রমুখ।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তৃতীয় টার্মিনাল ঠিক কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা টার্মিনালটির কার্যক্রম দ্রুত শুরুর লক্ষ্যে কাজ করছি এবং পর্যালোচনা করছি। প্রধানমন্ত্রী এটি দ্রুত চালুর বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন।’

এদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বৈঠকটিকে ‘রুদ্ধদ্বার বৈঠক’ উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাকি অর্থ জাপানি সংস্থা জাইকার ঋণ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হয়। তখন বেবিচক জানিয়েছিল ২০২৪ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের চেষ্টা সত্ত্বেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও পরিচালনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তহীনতা এবং টার্মিনাল ভবনের ভেতরের কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এটি চালু করা যায়নি। বেবিচক কর্মকর্তাদের মতে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃতীয় টার্মিনাল চালু নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎজ এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন। জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত রাজস্ব ভাগাভাগির হার সরকারের কাছে বেশি মনে হওয়ায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা বশিরউদ্দিন জানুয়ারিতে বলেছিলেন, এ টার্মিনাল চালু নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জাপানের উপমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু সফল হয়নি।

বেবিচক ও মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘চুক্তির শর্তের বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।’

বেবিচকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত বছরের শেষদিকে বেশ কয়েকটি বৈঠক হলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো ফল আসেনি।’

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা ছিল, কনসোর্টিয়ামের তত্ত্বাবধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দুই বছরের জন্য তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন পরিচালনা করবে এবং বেবিচক ডেটা নিরাপত্তা দেবে।

কর্মকর্তারা জানান, চুক্তি সইয়ের পর টার্মিনাল চালুর জন্য জনবল নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের জন্য অন্তত ৬ মাস সময় লাগবে।

এছাড়া, টার্মিনালের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি এখনো প্রণয়ন করা হয়নি।

৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের তৃতীয় টার্মিনালে চার শিফটে কাজ করার জন্য প্রায় ৬ হাজার কর্মীর প্রয়োজন হবে, যাদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার থাকবে নিরাপত্তা কর্মী।