27.3 C
Dhaka
Home Blog

চার বছরের চুক্তিতে রিয়ালে ডামফ্রিস

নতুন মৌসুমের দল গোছানোর কাজ অব্যাহত রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নেদারল্যান্ডসের রাইট উইং-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। চার বছরের চুক্তিতে ইন্টার মিলান ছেড়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পাড়ি জমিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

রোববার এক বিবৃতিতে ডামফ্রিসকে দলে ভেড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রিয়াল। যদিও দুই ক্লাবের কেউই আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ডামফ্রিসের ২ কোটি ইউরো (প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ মার্কিন ডলার) রিলিজ ক্লজ সক্রিয় করেই তাকে দলে নিয়েছে লস ব্লাঙ্কোস।

২০২১ সালে পিএসভি আইন্দহোভেন থেকে ইন্টারে যোগ দিয়েছিলেন ডামফ্রিস। পাঁচ মৌসুমে ইতালিয়ান ক্লাবটির হয়ে নিজেকে নির্ভরযোগ্য রাইট উইং-ব্যাক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
ইন্টারের জার্সিতে ২০৭টি ম্যাচ খেলে করেছেন ২৭টি গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ২৮টি গোল।

মিলানের ক্লাবটির হয়ে মোট আটটি শিরোপা জিতেছেন ডাচ এই ডিফেন্ডার। এর মধ্যে রয়েছে দুটি সিরি আ এবং তিনটি কোপা ইতালিয়া। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ইন্টার যখন সিরি আ ও কোপা ইতালিয়া, দুই শিরোপাই জিতে ঘরোয়া ডাবল সম্পন্ন করে, তখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ডামফ্রিসের।

চলতি দলবদলে রিয়াল মাদ্রিদের চতুর্থ সাইনিং তিনি। এর আগে মার্ক কুকুরেয়া, বের্নার্দো সিলভা এবং ইব্রাহিমা কোনাতেকেও দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

গত মৌসুমে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দলকে নতুন করে গড়ে তুলতেই বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রিয়াল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে লা লিগার শিরোপা জিততে পারেনি তারা। এছাড়া উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকেও কোয়ার্টার-ফাইনালেই বিদায় নিতে হয়েছিল।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ক্লাবের রক্ষণভাগ শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিলেন ডামফ্রিস, যাকে শেষ পর্যন্ত দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে রিয়াল।

ডামফ্রিস সর্বশেষ নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপেও খেলেছেন। তবে শেষ বত্রিশে মরক্কোর কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ডাচরা।

 

ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য সরকারের

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করেছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।

এই ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহযোগ্য অর্থের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগের অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সে হিসেবে আগামী অর্থবছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারের মতে, ব্যাংক খাতের ওপর ঋণ নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎসের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও মুক্তি পাচ্ছে ‘মাইকেল’, দেখা যাবে স্টার সিনেপ্লেক্সে

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্ত-অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ নেই। সেই কৌতূহলকে বড় পর্দায় রূপ দিতে নির্মিত হয়েছে তার জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’।

আগামীকাল ২৪ এপ্রিল আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তির দিনেই বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। অ্যান্টনি ফুকো পরিচালিত এই সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাইয়ের সন্তান জাফার জ্যাকসন।

এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাইলস টেলার, কোলম্যান ডোমিঙ্গো, ক্যাট গ্রাহাম, নিয়ালং, লরা হ্যারিয়ার, কেনড্রিক স্যাম্পসন ও জুলিয়ানো ক্রু ভ্যালদি।

বায়োপিকে সংগীতের জাদুকরী অধ্যায়ের বাইরেও মাইকেলের ব্যক্তিজীবনের অজানা গল্পগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডের সেই তরুণ প্রতিভা থেকে কীভাবে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিনোদন-শিল্পী হয়ে উঠলেন, সেই যাত্রাই দেখা যাবে পর্দায়।

মঞ্চের চাকচিক্য ছাপিয়ে তার একাকীত্ব, সংগ্রাম এবং একক সংগীতজীবনের সোনালী মুহূর্তগুলো দর্শকদের সামনে আসবে একেবারে নতুনভাবে।

বায়োপিকটিতে মাইকেলের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চরিত্রগুলোও প্রাধান্য পেয়েছে। তার বাবা জো জ্যাকসনের চরিত্রে কোলম্যান ডমিঙ্গো এবং মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিয়া লং। বোন লাটোয়া জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসিকা সুলা।

এ ছাড়া সংগীত জগতের গুরুত্বপূর্ণ মোটাউন রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা বেরি গর্ডি, সংগীত নির্বাহী সুজান দে পাসে এবং ডায়ানা রসের চরিত্রও রয়েছে। এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে মাইকেলের ক্যারিয়ারের পেছনের মানুষদের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

২০০৯ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেও মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। এখনো স্পটিফাইয়ে তার মাসিক শ্রোতা প্রায় ৬৫ মিলিয়ন।

মুক্তির আগেই আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে বায়োপিক ‘মাইকেল’। গত বছরের নভেম্বরে সিনেমাটির টিজার মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১১৬.২ মিলিয়ন ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছিল। কোনো মিউজিক্যাল বায়োপিকের ক্ষেত্রে এত অণ্প সময়ে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ট্রেলার মুক্তির পর সেই উন্মাদনা আরও বেড়েছে।

স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মাইকেল জ্যাকসনের প্রচুর ভক্ত রয়েছেন। সেই আশি-নব্বই দশক থেকে শুরু করে এই সময়েও পপ সংগীত শ্রোতাদের কাছে সম্রাট হয়ে আছেন মাইকেল। তার বায়োপিক দেখার আগ্রহ আছে সবার। এটি সবার মন জয় করবে বলে আমরা আশাবাদী।’

একই হামলায় আহত খামেনির স্ত্রীও মারা গেছেন: রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একই হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হওয়ার সময় আহত হন তার স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

একই হামলার ঘটনায় খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, খামেনির দীর্ঘ শাসনামল জুড়ে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যেত তার স্ত্রী মানসুরেহকে।

দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

বর্তমান বিধিবিধান ও নিয়ম মেনে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। যত দ্রুত সম্ভব এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে ফখরুল বলেন, যারা জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত এবং দলের কাজে সক্রিয়, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে, এটা আমরা চাইনি। আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ বলা হয়েছে এবং সেভাবেই বিষয়টি দেখা হবে।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে মির্জা ফখরুল নয়াপল্টন কার্যালয়ে পৌঁছালে মূল ফটকে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে তিনি তৃতীয়তলায় তার কক্ষে যান এবং সেখানে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এটিই ছিল মির্জা ফখরুলের প্রথম সফর। এসময় তিনি সহকারী দপ্তর সম্পাদকদের নিয়মিত উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন এবং দাপ্তরিক কাজে শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মির্জা ফখরুল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের খোঁজখবর নেন এবং কোনো কাজ যেন বাকি না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, আপনাদের নিয়মিত অফিসে আসতে হবে। কোনো কাজ অসম্পূর্ণ রাখা যাবে না। দূর-দূরান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা এলে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা করা চলবে না।

প্রায় ৪৫ মিনিট কার্যালয়ে অবস্থানের পর মির্জা ফখরুল সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

দেশে যাত্রা শুরু করল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতির প্রতিষ্ঠান ‘হেইগা’

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বয়ংক্রিয় আলোকসজ্জা প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘হেইগা’। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, অংশীদার এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (২৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হেইগার স্বয়ংক্রিয় সংবেদনশীল বাতিতে ‘মোশন সেন্সর’ এবং আলো শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষের উপস্থিতি ও আশপাশের আলোর মাত্রা অনুযায়ী বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ও নিভে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রচলিত বাতির তুলনায় সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

হেইগা জানায়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় গৃহ ও কার্যালয় ব্যবস্থাপনা পণ্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্মার্ট সুইচ, দরজার ঘণ্টা, প্লাগসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও প্রযুক্তিপণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হেইগার দেশীয় ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে ঘর ও প্রতিষ্ঠানে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে আমরা কাজ করব।”

হেইগার পণ্য ও সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট www.hegabd.com-এ পাওয়া যাবে।

অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা ক্লাব গঠনের ঘোষণা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির

বর্তমান সময়ে সাইবার নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যু। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা প্রায়ই তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগে থাকেন।

কিছুদিন পর পরই পত্রিকার শিরোনামে সাইবার অপরাধের খবর আসে। উন্নত দেশগুলোতেও সাইবার অপরাধের বলি হয়ে লাখো ইউজারের তথ্য বেহাত, আর্থিক ক্ষতিসহ নানা দুর্ভোগের কথা জানা যায়। 

এরকম পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানো ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে  সময়োপযোগী জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে সারাদেশের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা ক্লাব গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। 

আজ রোববার লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। 

এ সময় তিনি কলেজটির সাইবার নিরাপত্তা ক্লাব উদ্বোধন করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্টেইং সেফ অনলাইন: প্রোটেক্ট ইওরসেলফ ফ্রম সাইবারক্রাইমস’ সেমিনারে ভিসি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধও বহুমাত্রিক রূপ ধারণ করেছে।

অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি, পরিচয় জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, সাইবার সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও তত বেশি বাড়ছে।’

‘একটি দেশের ডিজিটাল অগ্রগতি তখনই অর্থবহ হয়, যখন নাগরিকরা নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সাইবার নৈতিকতা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল আচরণবিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি। সচেতনতার অভাবেই অধিকাংশ মানুষ সাইবার অপরাধের শিকার হন’, যোগ করেন তিনি। 

ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আরও বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাইবার সচেতনতামূলক সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকতে হবে, অচেনা লিংক বা বার্তায় সাড়া দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) নিশ্চিত করতে হবে। একটি সচেতন প্রজন্মই সাইবার অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’

লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুলতানা মাহমুদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন।

সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা এবং বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মাহবুবুল আলম (পিপিএম)।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম। 

সেমিনারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের সভাপতি মো. মহিবুল হাসান এবং সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন সামী।

‘বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড আমাদেরই,’ দাবি স্প্যানিশ কোচের

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে ধরা হয় স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী দলের মিডফিল্ডকে। জাভি, ইনিয়েস্তা, বুসকেতস, আলোনসোদের সেই মধ্যমাঠই স্প্যানিশ ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। তবে বর্তমান স্পেন দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের বিশ্বাস, তার হাতে থাকা বর্তমান প্রজন্মের মিডফিল্ডও সেই উচ্চতায় পৌঁছে গেছে, এমনকি বিশ্বের সেরার দাবিদারও তারাই।

বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ২০১০ সালের স্পেনের কিংবদন্তি মিডফিল্ডের সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা করতে বলা হলে দে লা ফুয়েন্তে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই নিজের মত তুলে ধরেন।

বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা দুটোই অসাধারণ মিডফিল্ড। আমার মতে, এবং আমি সবার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখেই বলছি, আমাদেরই বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড আছে।’

বর্তমান স্প্যানিশ দলে মিডফিল্ডের গভীরতা ও মান নিয়ে গর্বিত দে লা ফুয়েন্তে একে একে উল্লেখ করেন রদ্রি, মার্টিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইস, পেদ্রি, দানি ওলমো, মিকেল মেরিনো, আলেক্স বায়েনা, গাভি ও ফারমিন লোপেজের মতো ফুটবলারদের নাম। যদিও লোপেজ চোটের কারণে নেই এই বিশ্বকাপে।

তবে প্রতিটি পজিশনে হাতে অন্তত দুটি করে বিশ্বমানের বিকল্প রয়েছে দাবি করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘প্রতিটি পজিশনের জন্য আমাদের কাছে দুজন করে সেরা খেলোয়াড় আছে। আমি নাম বলতে পারি। রদ্রি, জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান, পেদ্রি, ওলমো, মেরিনো, বায়েনা, গাভি, ফারমিন… আরও অনেকেই আছে। হয়তো কাউকে বাদ দিয়ে ফেলেছি, সে রাগ করতে পারে।’

তবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের মিডফিল্ডের কৃতিত্বও অস্বীকার করেননি তিনি। সেই দলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ওটাও ছিল অসাধারণ একটি মিডফিল্ড, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ফুটবল বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু আমি আমাদের প্রায় একই স্তরে রাখব।’

বর্তমান স্পেন দলের সবচেয়ে আলোচিত মিডফিল্ডার পেদ্রির প্রশংসাও করেছেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘সে একজন জাদুকর। প্রতিভা আর টেকনিকের প্রকৃত সংজ্ঞা হলো, সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোকে এমনভাবে করা, যেন সেগুলো খুব সহজ। পেদ্রি ঠিক সেটাই করে। সে এমন সব পাস দেখতে পায়, যা আমরা বাকিরা দেখতে পাই না। এটা প্রতিভাবানদের বিশেষ ক্ষমতা।’

জামায়াতের ৮ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ, জাতীয় পরিচয়পত্রকে (এনআইডি) কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিন) হিসেবে ব্যবহার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে এ বাজেটে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২০২৭ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দলটির পক্ষে ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা সাইফুল আলম খান মিলন।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

সাইফুল আলম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের মূল দর্শন হলো—সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। বিগত বছরগুলোতে অর্থনীতিতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার অন্যতম উপায় হতে পারে।

করব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে আলাদা টিন নম্বরের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয়পত্রকে কর শনাক্তকরণ নম্বর হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে করজাল সম্প্রসারণে ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর’ চালুর কথাও বলা হয়েছে।

ছায়া বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া কোনো করদাতার নিজের অথবা তার পরিবারের সদস্য কিংবা পোষ্যের শিক্ষা ব্যয়ের ওপর কর রেয়াতের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতা বর্তমানে ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকার পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার টাকা এবং পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের সব মসজিদের ইমামদের মাসিক ৭ হাজার ৫০০ টাকা, মুয়াজ্জিনদের ৫ হাজার টাকা এবং খাদেমদের ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে দলটি।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১০০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৮০ শতাংশ বেতন পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হবে।

খাত ভিত্তিক বরাদ্দে জনপ্রশাসন খাত সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে।

এ খাতে ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বা মোট বাজেটের ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ।

এ ছাড়া ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, শুধু বাজেট প্রণয়ন নয়, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এসব অনুপস্থিত থাকলে কোনো বাজেটই কার্যকর হবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাড়ছে এবং এতে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

কর আদায়ের বর্তমান পদ্ধতিকেও ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বড় অংশ বাস্তবায়নের তাড়াহুড়া দেখা যায়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণে অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ফিসকাল ইয়ার জুলাই থেকে জুন। জুন মাসে বর্ষা, খরা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। কিন্তু তখনই এডিপির বড় অংশ দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এর সুফল জনগণ পায় না, বরং অসাধু সুবিধাভোগীরা লাভবান হয়।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, সম্পূরক বাজেটও বছর শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে সংসদে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে ব্যয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা যায়। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে সম্পূরক বাজেট অর্থবছরের একেবারে শেষ দিকে উপস্থাপিত হয়, যখন ব্যয়ের বড় অংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায়। এতে সংসদীয় তদারকি ও জবাবদিহি কার্যকর থাকে না।

 

ডেইলি স্টারের ৩৫ বছরে তারকাদের প্রত্যাশা

দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ৩৫ বছরে পা দিয়েছে। পত্রিকাটি এখন দেশের শীর্ষ ইংরেজি পত্রিকা। পাঠকদের ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা নিয়ে দিন দিন এগিয়ে চলেছে। 

পত্রিকার কাছে পাঠকদের যেমন প্রত্যাশা রয়েছে, তারকাদেরও প্রত্যাশা কম নয়। 

৩৫ বছর পূর্তিকে ঘিরে কয়েকজন তারকা শিল্পী দ্য ডেইলি স্টারের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা বলেছেন।

একসময় এদেশে অবজারভার পত্রিকার নাম খুব শোনা যেত। অন্যদিকে, বেশ কয়েক বছর ধরে ডেইলি স্টার পত্রিকার নাম খুব শোনা যায়। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো—নাম দুটি সুনামের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। আমি মনে করি, ডেইলি স্টার পাঠকের কাছ থেকে বিশ্বাস অর্জন করেছে। এটাই বড় পাওয়া। এই পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম সুন্দরভাবে নেতৃত্ব দিয়ে পত্রিকাটিকে অনেক দূর নিয়ে গেছেন। এদেশের ইংরেজি পত্রিকা হিসেবে পাঠকের ভালোবাসা পাচ্ছেন। মাহফুজ আনামের প্রতি শুভকামনা এবং পত্রিকার সঙ্গে যারা জড়িত, সবার প্রতি শুভেচ্ছা। গত বছরের শেষ দিকে পত্রিকাটির কার্যালয়ে হামলা হয়েছিল। তা দুঃখজনক। এইরকম দাগ যেন আর না পড়ে। পত্রিকাটির ৩৫ বছরে শুভেচ্ছা।

ডেইলি স্টার আমাদের দেশের পাঠকপ্রিয় একটি ইংরেজি পত্রিকা। অসংখ্য পাঠক পত্রিকাটি পড়েন। আমিও এই পত্রিকার একজন পাঠক। আমি মনে করি, এই সুনাম অব্যাহত রয়েছে মাহফুজ আনামের মতো একজন দক্ষ ও জানাশোনা সম্পাদকের সুন্দর নেতৃত্বের জন্য। তার প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা ও আশীর্বাদ। ৩৫ বছর নয়, শত বছর পার করুক। আমরা যারা কালচারাল সেক্টরে কাজ করি, ডেইলি স্টার তাদের কথা বলে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির কথা বলে। এভাবেই যেন সারাজীবন দেশের কথা বলে যায়। পত্রিকার অফিসে হামলা হয়েছিল। কোনো হামলাকে সমর্থন করি না। পাঠকই বড় আদালত। তারা পত্রিকার পাশে আছেন। শত ফুলের ভালোবাসা জানাই।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা ডেইলি স্টারের জন্য। ৩৫ বছর সুনামের সঙ্গে টিকে থাকা কম কথা নয়। অনেক বড় ব্যাপার এটি। পাঠকের কাছাকাছি থেকে, পাঠকের বিশ্বাস নিয়ে পত্রিকাটি এগিয়ে যাচ্ছে। এই বিশ্বাস অর্জন করাটাই অনেক বড় কথা। দিন দিন আরো উন্নতি কামনা করছি। আমি জানি, ডেইলি স্টার আমাদের কথা বলে। শিল্পীদের পাশে সবসময়ই ছিল পত্রিকাটি। সেজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তার হাত ধরে এতদূর এসেছে ডেইলি স্টার। আরো অনেক দূর যাক—সেই প্রত্যাশা করছি।

ডেইলি স্টার যেভাবে আমাদের পাশে ছিল, সেভাবে আগামীতেও পাশে থাকবে—এই বিশ্বাস আছে। শিল্পীর জন্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতির জন্য পত্রিকাটি কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যারা শিল্পী, তাদের জন্য অনেক ভূমিকা রেখেছে পত্রিকাটি। সবসময় তাই যেন হয়। পাঠকের তুমুল ভালোবাসা অর্জন করা পত্রিকাটি ৩৫ বছর নয়, যুগ যুগ ধরে টিকে থাকুক। ডেইলি স্টারে আক্রমণ হয়েছিল, এইরকম যেন আর না হয়। আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, শুভকামনা এবং ভালোবাসা। শতবছর পার করুক ডেইলি স্টার।

৩৫ বছরে ডেইলি স্টার—সেজন্য শুরুতেই শুভেচ্ছা জানাই। আমি লক্ষ করেছি, দেশের ইংরেজি পত্রিকার মধ্যে এটি ভীষণভাবে পাঠকপ্রিয়। তা একদিনে সম্ভব হয়নি। বহু বছর লেগেছে। পত্রিকার সম্পাদক তার যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাকেও ধন্যবাদ জানাই। শুভকামনা জানাই। আমি সিনেমার মানুষ। সিনেমা শিল্পের পাশে, আমাদের পাশে পত্রিকাটি সবসময়ই ছিল এবং ভবিষ্যতেও যেন থাকে। ভালোবাসা রইল। আরো বহুদূর এগিয়ে যাক।