30 C
Dhaka
Home Blog

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ ও নতুন বাজেটে প্রত্যাশা

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্পষ্ট প্রতিফলন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট ও রাজস্ব ঘাটতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব বিবেচনায় এবারের বাজেট ঘিরে প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনি দায়িত্বও অনেক বড়।

গত কয়েক বছরে অর্থনীতির অন্যতম বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিনিয়োগে ধীরগতি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে নানা কারণে। নীতিগত অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, ডলার সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা তার মধ্যে অন্যতম।

ফলে অনেক শিল্পকারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বন্ধও হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানের ওপর, যা বেকারত্বকে আরও তীব্র করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি কার্যকর ও টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন নীতির ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা।

কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং করনীতি, ব্যাংকিংখাত ও শিল্পনীতিতে সমন্বিত সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে কর কাঠামো সহজ করা, ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

রাজস্ব আয় বাড়ানো নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণত বাজেটে আয় বাড়ানোর জন্য কর বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু, এটি ব্যবসায়ীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে।

তাই করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বৃদ্ধি এবং কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা বেশি কার্যকর হতে পারে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে কর সংগ্রহ জোরদার করা হলে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে দুর্নীতিও কমবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।

এই অবস্থায় বাজেটে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিখাতে প্রণোদনা ও বাজার তদারকি জোরদারের মতো উদ্যোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা জরুরি।

জ্বালানিখাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পূর্বশর্ত। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি শিল্প উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। তাই বাজেটে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া উচিত। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং শিল্পখাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

ব্যাংকিংখাতের দুর্বলতা অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় ঝুঁকি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ও সুশাসনের অভাব বিনিয়োগের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এ অবস্থায় ব্যাংকিংখাতে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি। বিনিয়োগকারীরা তখনই আস্থা পাবে, যখন একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক ব্যবস্থা পাবে।

বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন থাকে। বড় আকারের বাজেট ঘোষণা করা যতটা সহজ, তার কার্যকর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন।

তাই অপ্রয়োজনীয় বড় প্রকল্পের পরিবর্তে বাস্তবসম্মত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত। এতে অপচয় কমবে ও অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারিখাতকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত সহায়ক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে। তারা ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করবে এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া গেলে কর্মসংস্থানও বাড়বে।

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার একটি রূপরেখা। যদি এই বাজেটে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত, কার্যকর সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে। অন্যথায়, এটি কেবল আরেকটি আনুষ্ঠানিক দলিল হিসেবেই থেকে যাবে।

এখন সময় সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যে সিদ্ধান্ত দেশের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

 

মো. তরিকুল ইসলাম, লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

ভারতের মাটিতে টিটিতে স্বর্ণ জিতল বাংলাদেশ

ভারতের হিমাচল প্রদেশে আয়োজিত দক্ষিণ এশিয়ান যুব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দলগত ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের অলিখিত ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩-১ সেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ঐতিহাসিক এই জয়ের ফলে আগামী জুনে ওমানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইটিটিএফ-এটিটিইউ এশিয়ান যুব চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল বাংলাদেশ দল।

রাউন্ড-রবিন লিগের শেষ ও ভাগ্যনির্ধারণী এই ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য আশানুরূপ ছিল না। প্রথম ম্যাচে আবুল হাসেম ৩-২ সেটে হেরে পিছিয়ে পড়লে দলের ওপর চাপ তৈরি হয়। তবে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে হাল ধরেন নাফিজ ইকবাল। তিনি দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-০ সেটে এবং চতুর্থ ম্যাচে ৩-১ সেটে জয় তুলে নিয়ে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন। এর মাঝে জয় ইসলাম ৩-০ সেটে নিজের ম্যাচটি জিতে বাংলাদেশকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন।

টুর্নামেন্টের সমীকরণ ছিল বেশ নাটকীয়। তিনটি করে ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং মালদ্বীপ প্রত্যেক দলের সংগ্রহ ছিল সমান ৫ পয়েন্ট। এর আগে নেপালের কাছে ৩-১ সেটে হেরে যাওয়া এবং মালদ্বীপকে ৪-৩ সেটে হারানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সেটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে জায়গা করে নেয়। পয়েন্ট সমান হলেও সেটের হিসেবে এগিয়ে থাকায় স্বর্ণপদকটি বাংলাদেশের ঝুলিতেই জমা পড়ে।

দক্ষিণ এশিয়ান যুব টিটির এই ইভেন্টে বাংলাদেশের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বেশ ঈর্ষণীয়। এর আগে ২০২২ সালেও এই ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যথাক্রমে ভারতের অরুণাচল ও শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে রৌপ্য পদক এবং ২০২৫ সালে নেপালের আসরে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল তারা। এক বছরের ব্যবধানে ফের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের শক্তির জানান দিল বাংলাদেশের কিশোররা।
 

ভিয়েতনামে আলু রপ্তানির অনুমতি পেল বাংলাদেশ

অবশেষে বাংলাদেশের আলু চাষি ও রপ্তানিকারকদের জন্য ভিয়েতনামের বাজারের দ্বার উন্মুক্ত হলো। এখন থেকে দেশটিতে সরকারিভাবে আলু রপ্তানি করতে পারবে বাংলাদেশ। 

ভিয়েতনামের কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে হ্যানয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

ভিয়েতনামের বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো দেশ আলু রপ্তানি করতে চাইলে দেশটির কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্রসহ নিবন্ধন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই তথ্য যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর আমদানির অনুমতি দেয়।

ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দেশের বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে গত মে মাসে নিবন্ধনের আবেদন করা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ভিয়েতনাম সরকার বাংলাদেশকে আলু রপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদন দিল।

বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত লুৎফর রহমান এই অর্জনকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি আলু রপ্তানিকারকদের জন্য যেমন নতুন দিগন্ত খুলেছে, তেমনি দেশের প্রান্তিক কৃষকরাও সরাসরি উপকৃত হবেন। ভিয়েতনামে আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হলে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রদূত আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আলুর পাশাপাশি তিলসহ অন্যান্য কৃষি পণ্য রপ্তানির পথও এতে প্রশস্ত হবে। ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আরও বৈচিত্র্যময় কৃষিজাত পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রতিবাদে ওয়াকআউট: ৩ কারণ জানালেন জামায়াত আমির

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সংসদের অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। 

তিনি বলেন, তিনটি নির্দিষ্ট কারণে তারা রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুনতে চাননি এবং এর প্রতিবাদেই সংসদ থেকে বের হয়ে আসেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘এই সংসদ শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তবে আমাদের অনুরোধ ছিল—যারা অতীতের “ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর” ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন, তাদের যেন সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।’

তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি তিনটি কারণে ‘অপরাধী’, তাই তার বক্তব্য শুনতে চাননি বিরোধী দলের সদস্যরা।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করেননি এবং কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে নাগরিকদের প্রতি গুরুতর দায়িত্বহীনতা দেখানো হয়েছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘তখন রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরে দুটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তা অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দেন। এতে তিনি জাতির সামনে “মিথ্যাবাদী” হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর জারি করা একটি অধ্যাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই দিনে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। আমরা দুটি শপথ নিলেও সরকারি দল তা নেয়নি এবং গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দায়িত্বও রাষ্ট্রপতি পালন করেননি।’

‘এ বিষয়ে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে রাষ্ট্রপতি জনগণের রায়কে অপমান করেছেন,’ বলেন জামায়াত আমির।
বিরোধীদলীয় নেতা জানান, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের আগে তারা সরকারি দল ও স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়। কিন্তু সেই অনুরোধ গ্রহণ করা হয়নি।

‘এর প্রতিবাদেই আমরা সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি,’ যোগ করেন তিনি।

তবে শফিকুর রহমান বলেন, এটি নির্দিষ্ট একটি ইস্যুতে প্রতিবাদ ছিল এবং ভবিষ্যতেও তারা সংসদে অংশ নেবেন।

বইমেলার জন্য তিনটি নাটক ছেড়েছেন ডা. এজাজ

অভিনেতা হিসেবেই তার মূল পরিচিতি। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। এখনো নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন। তবে পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক। এবারের একুশে বইমেলায় তাকে নতুন পরিচয়ে পাচ্ছেন পাঠকেরা; লেখক হিসেবে।

প্রতিদিন নিয়ম করে বইমেলায় যাচ্ছেন ডা. এজাজ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সময় প্রকাশনের স্টলে বসেন এবং ভক্তদের অটোগ্রাফ দেন। সময় প্রকাশন থেকে তার লেখা দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে—‘হুমায়ুন স্যারের চোখে জল’ ও ‘হুমায়ুন স্যারের শুটিং ও আমি’।

বই দুটির কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এ প্রশ্নের জবাবে ডা. এজাজ বলেন, ‘পাঠকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। তারা আগ্রহ নিয়ে বই দুটি কিনছেন। অটোগ্রাফ দেওয়া এবং ছবি তোলাও হচ্ছে। বিষয়টা খুব উপভোগ করছি।’

অভিনয়শিল্পীর বাইরে লেখক পরিচয়ে মেলায় আসার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই অনুভূতি সত্যিই অন্য রকম, যা বলে বোঝানো যাবে না। মানুষের জীবনে কিছু কিছু অনুভূতি থাকে, যা আনন্দ ও ভালো লাগা দেয়; লেখক পরিচয়টিও আমাকে সেই আনন্দ দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে গাজীপুর চলে যাই। ওখানে আমার চেম্বার। রোগী দেখে তারপর বইমেলায় আসি। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও নিয়ম করে আসছি। মেলার টানেই চলে আসতে হচ্ছে, কারণ আমার বই প্রকাশিত হয়েছে।’

বই নিয়ে ডা. এজাজ বলেন, ‘আমার বই দুটি মূলত হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে কাটানো জীবনের অনেক স্মৃতি থেকে লেখা বাস্তব জীবনের গল্প। পাঠকেরা বইগুলো পড়ে আমার প্রিয় স্যারকে জানতে পারবেন।’

পাঠকপ্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন? তিনি বলেন, ‘খুব ভালো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। কিছুদিন আগে মেলায় এসে এক নারী পাঠক বলেছেন, আমার বই পড়ে তিনি কেঁদেছেন। আমি বিস্মিত হয়েছি এবং খুশিও হয়েছি। এটাই তৃপ্তির জায়গা। আরও অনেক পাঠক বই দুটি পড়ে ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন।’

ভবিষ্যতের লেখালেখি নিয়ে ডা. এজাজ জানান, তিনি নতুন একটি উপন্যাস লিখছেন, যা আগামী মেলায় প্রকাশের ইচ্ছা আছে। এরপর এক বছর বিরতি দিয়ে আবারও হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে বই লিখবেন।

বইমেলায় নিয়মিত আসছেন, তাহলে শুটিং করছেন কখন? ডা. এজাজ বলেন, ‘অভিনয় সারা বছর করতে পারব, কিন্তু বইমেলা তো বছরে একবারই আসে। সত্যি কথা হচ্ছে, বইমেলার জন্য তিনটি নাটক ছেড়ে দিয়েছি। কোনোটা সাত দিনের ধারাবাহিক, কোনোটি এক ঘণ্টার নাটক। প্রস্তাব আসছেই, কিন্তু মেলায় আসতে হবে বলে আপাতত নতুন কাজ নিচ্ছি না। মেলায় আসার আগেও তো আমাকে ঢাকা থেকে গাজীপুরে গিয়ে চেম্বারে বসতে হয়, রোগী দেখতে হয়।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সময় প্রকাশনের স্টলে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে ডা. এজাজ পাঠকদের অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন, ছবি তুলছিলেন হাসিমুখে। কথা বলতে বলতে রাত হয়ে যায়।

সবশেষে ডা. এজাজ বললেন, ‘বইমেলায় আসছি, খুব ভালো লাগছে। ভীষণ ভালো লাগছে।’

মিশরে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ১৮

মিশরের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পোর্ট সাইদ প্রদেশে ট্রাক ও যাত্রীবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই পেশায় জেলে।

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। 

এই দুর্ঘটনায় অপর তিন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে (বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টা) দিকে পোর্ট সাইদের দক্ষিণে অবস্থিত ’৩০ জুন অ্যাক্সিস হাইওয়ে’ নামের মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

মিশরের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম আল-আহরাম এই তথ্য জানিয়েছে। 

আল-আহরাম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছেন কৌসুলিরা। 

দুর্ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলোতে দুইটি বড় মালবাহী ট্রাকের মাঝখানে বিধ্বস্ত অবস্থায় পিকআপ ট্রাকটিকে দেখা যায়। 

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, পোর্ট সাইদের মাছের খামারে কাজ করার জন্য কয়েকজন জেলে ওই পিকআপে উঠেছিলেন। 

মিশরে প্রায়ই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। প্রতি বছর হাজারো মানুষ দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এসব দুর্ঘটনার বেশিরভাগের নেপথ্যে ভারী ট্রাক ও মাইক্রোবাস।

বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, সড়কের দুর্বল কাঠামো ও ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা এত বেশি।  

রাজধানীর যেসব সড়কে আজ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংসদ ভবন এলাকায় বিপুল লোকসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে অনুষ্ঠান চলাকালে খেজুরবাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেক রোডে যান চলাচল সীমিত রাখা হবে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট এড়াতে সব ধরনের যানবাহনকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেক রোড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে সাময়িক অসুবিধা কমাতে ‘ডাইভারশনের’ মাধ্যমে বিকল্প পথে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছে ট্রাফিক বিভাগ।

মিরপুর রোড টু ফার্মগেট ভায়া মানিক মিয়া এভিনিউ

মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আসা ফার্মগেট/সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহন চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেটের দিকে যাবে।

ধানমন্ডি থেকে ফার্মগেট

ধানমন্ডি ২৭ থেকে আসা যানবাহন আসাদ গেট হয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি হয়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে চলাচল করবে

আসাদগেট থেকে ফার্মগেট ক্রসিং  

আসাদগেট থেকে ফার্মগেটগামী যানবাহন জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ক্রসিং-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র হয়ে বিজয় সরণি দিয়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে যাবে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে/ ইন্দিরা রোড থেকে ধানমন্ডি  

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা ইন্দিরা রোড থেকে ধানমন্ডিগামী যানবাহন খেজুর বাগান ক্রসিং-উড়োজাহাজ ক্রসিং-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-আসাদ গেট হয়ে ধানমন্ডিতে প্রবেশ করবে।

মিরপুর রোড থেকে ধানমন্ডি

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ব্লকেড সরিয়ে নেওয়া হলে মিরপুর রোড থেকে দক্ষিণমুখী যানবাহন শ্যামলী, শিশুমেলা, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও আসাদগেট হয়ে ধানমন্ডি ২৭-এর দিকে চলাচল করতে পারবে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষেত্রে যানজট এড়াতে ফার্মগেট এক্সিট র‍্যাম্পের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র‍্যাম্প ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ এই বিষয়ে ঢাকাবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে।

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উড়িয়ে তামিমের কমিটিকে অবৈধ বললেন বুলবুল

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একই সঙ্গে গত ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে বুলবুল একে ‘ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি এবং আইনগতভাবে ভিত্তিহীন’ একটি দলিল বলে উল্লেখ করেন। বিসিবির গঠনতন্ত্র বা আইনে এর কোনো ভিত্তি নেই জানিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘হাইকোর্টের রায় না হওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি।’

নির্বাচনে দুর্নীতি, কারচুপি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সব দাবি অস্বীকার করে তিনি জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর গঠিত তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে গঠিত ওই কমিশনে আরও ছিলেন সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক।

বুলবুল জানান, ১৫টি ক্লাব এবং তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ সংক্রান্ত আপত্তিগুলো ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর আধা-বিচারিক (কোয়াসি-জুডিশিয়াল) শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। এরপর নির্ধারিত সময় ৬ অক্টোবরই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সম্পন্ন হওয়া নির্বাচন নিয়ে তদন্ত করার কোনো এখতিয়ার এনএসসির নেই বলে দাবি করেন বুলবুল। এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ক্রিকেট বোর্ডের স্বাধীনতার নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বুলবুল বলেন, এটি বিসিবির গঠনতন্ত্রের ‘ক্ষমতাবহির্ভূত’এবং সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে আইসিসির নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। এই অ্যাডহক কমিটিকে একটি ‘ভুয়া সত্তা’ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বোর্ড এর কোনো কর্তৃত্ব স্বীকার করে না।

বুলবুল সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। এর ফলে বোর্ডের পরিচালনা, বিনিয়োগ এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির পাশাপাশি যুব পর্যায়ে খেলোয়াড় উন্নয়নের চলমান প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে আইসিসিকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন বুলবুল।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ভেঙে দেয় এনএসসি। একই সঙ্গে বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা এবং নতুন নির্বাচনের লক্ষ্যে তামিম ইকবালকে প্রধান করে তিন মাসের ম্যান্ডেটসহ ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। এরপরই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজের শক্ত অবস্থানের কথা জানান বুলবুল।

 

স্বপ্ন’র ডেটাবেজ হ্যাক, ঝুঁকির মুখে ৪০ লাখ গ্রাহকের তথ্য

দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন ‘স্বপ্ন’র গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হ্যাকাররা ‘স্বপ্ন’র কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ কোটি টাকা) দাবি করেছে।

প্রায় তিন মাস আগে এ ঘটনা ঘটলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্বপ্ন’র গ্রাহকদের নাম, ফোন নম্বর ও কেনাকাটার তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর এই তথ্যটি প্রকাশ্যে আসে।

আজ শনিবার যোগাযোগ করা হলে স্বপ্ন’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হ্যাকাররা গত ডিসেম্বরে আমাদের কোম্পানির ডেটাবেজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। পুনরায় ডেটাবেজ অ্যাক্সেস পেতে হ্যাকাররা আমাদের কাছে ১৫ লাখ ডলার দাবি করে।’

বর্তমানে দেশের ৬৩টি জেলায় ৮১২টি আউটলেট রয়েছে স্বপ্ন’র। প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি। হ্যাক হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে গ্রাহকদের নাম, মোবাইল নম্বর ও তাদের কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য।

তবে ঠিক কতজন গ্রাহকের তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি সাব্বির হাসান নাসির।

তিনি জানান, স্বপ্ন এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসিআই লিমিটেডের সহযোগী এই প্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।

স্বপ্ন এমডির দাবি, ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সিস্টেম সুরক্ষিত করতে ব্যবস্থা নিয়েছে।

তবে গ্রাহকদের ডেটা ফাঁস হতে পারে—এমন কোনো সতর্কবার্তা বা পাবলিক স্টেটমেন্ট এখন পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে ইস্যু করা হয়নি।

ঢাকার গুলশানের বাসিন্দা ‘স্বপ্ন’র এক গ্রাহক ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ফাঁস হওয়া ডেটাবেজ চেক করার সময় আমি আমার স্ত্রীর ফোন নম্বর দিলে তার সব তথ্য পেয়ে যাই। তার নাম, কেনাকাটার তথ্য ও লেনদেনের বিস্তারিত দেখা যাচ্ছিল। যদি এসব রেকর্ড এত সহজে পাওয়া যায়, তাহলে আরও লাখো গ্রাহকের তথ্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।’

তিন মাস আগে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটলেও কেন আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এমন প্রশ্নে এমডি জানান, বিষয়টি তারা অতি সম্প্রতি শনাক্ত করতে পেরেছেন।

নাসির বলেন, ‘আমরা এই অনৈতিক হ্যাকিংয়ের সঙ্গে কোনো আপস করতে চাই না। যখন আমরা হ্যাকারদের জানালাম যে অনৈতিক লেনদে করব না, তখন তারা আমাদের হুমকি দিতে শুরু করে।’

মির্জা আব্বাসকে সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে নেওয়া হতে পারে

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হতে পারে। তিনি অসুস্থ হয়ে এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আজ শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সন্ধ্যায় মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হতে পারে। তিনি এখন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

তিনি বলেন, গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিকিৎসকের কাছ থেকে মির্জা আব্বাসের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি তার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

শায়রুল আরও বলেন, মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন ইফতারের পর পানি পান করার সময়ই হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। পরে রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস তার স্বামীর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।