27.9 C
Dhaka
Home Blog

গ্যাস লিকেজ দুর্ঘটনা রোধে একসঙ্গে কাজ করবে ৩ মন্ত্রণালয়: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী

গ্যাস লিকেজ থেকে দুর্ঘটনা রোধে সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এটা নিয়ে কাজ করতে চাই।’

আজ মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে হাসপাতালে গিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী চট্টগ্রামের হালিশহরে দগ্ধ ব্যক্তিদের চিকিৎসার খোঁজ নেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘সারা বছরই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটে। গতকালকে যেমন চট্টগ্রামের হালিশহরে ঘটেছে এবং আজকে আমরা খবর পেয়েছি যে, কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ যে গ্যাস সিলিন্ডারগুলো ব্যবহার করা হয়, এগুলোকে কীভাবে একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যায়, সেগুলো নিয়ে আমরা অল্প সময়ের ভেতরে তিন মন্ত্রণালয় বসে কাজ করব। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে যাতে কম ক্ষতি হয়, সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।’

‘আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যতটুকু সহায়তা দেওয়া দরকার, আমরা দেবো,’ যোগ করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ হতে দেয়নি সরকার: গোলাম পরওয়ার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও এর মূল আকাঙ্ক্ষাগুলো এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার মতে, গণভোট ও জুলাই সনদের মাধ্যমে জনগণ যে সংস্কার এজেন্ডা অনুমোদন করেছিল, সরকার তা পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।

রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার মৌলিক সংস্কারের পথে না হেঁটে কেবল সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছে, যা দেশকে আবারও কর্তৃত্ববাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মামুনুর রশীদ।

দ্য ডেইলি স্টার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ফিরে তাকালে এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অর্জন কী বলে মনে করেন? আর জনগণের যেসব প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি, তার প্রধান কারণ কী?

গোলাম পরওয়ার: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পৃথিবীর যেকোনো গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক ঘটনা। এই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ছিল বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

অভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, সেখানে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি পথ অনুসন্ধান করা হয়েছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। প্রায় নয় মাস কাজ করে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর আমরা যে ‘জুলাই সনদ’ বা চার্টারে স্বাক্ষর করি, সেটিই ছিল, জুলাই অভ্যুত্থানের ও দেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

সবচেয়ে বড় অর্জন হলো কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে একটি অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরে হারিয়ে যাওয়া জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা মানুষ এক হয়ে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিল।

তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। অর্থাৎ জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর একটি প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার কথা ছিল। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তবে জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গণভোটের রায়কে কার্যত উপেক্ষা করেছে। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী—সবাই সেই গণভোটে অংশ নিয়েছিলেন। এখন সেটিকে অস্বীকার করার অর্থ জনগণের রায়কেই অস্বীকার করা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী।

দ্য ডেইলি স্টার: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা কী ছিল? ছাত্রনেতা বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় বা কৌশলগত বোঝাপড়া হয়েছিল কি?

গোলাম পরওয়ার: আন্দোলনটি প্রথমত ছাত্রদের ছিল। আপনারাও এটিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হিসেবেই জানেন। তবে আন্দোলন যখন এক দফার দিকে এগোতে থাকে এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ে, তখন ১৮ জুলাই আমি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনের ঘোষণা দিই এবং জনগণকে মাঠে নামার আহ্বান জানাই। 

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথা হয়েছিল, কীভাবে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া যায়। তবে কিছু কিছু জায়গায় সমন্বয়ের অভাবও ছিল। আমরা খবর পেয়েছি, কোনো কোনো নেতা বলেছেন যে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ কর্মসূচি হবে, কিন্তু পরে আর যোগাযোগ হয়নি। এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল।

শেষ পর্যন্ত আমরা দেশপ্রেমিক শক্তি হিসেবে ছাত্র-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে ছিলাম। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত, শহীদ ও কারাবরণ করেছেন। আমি নিজেও ১৯ জুলাই ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ৬ আগস্ট কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পাই।

দ্য ডেইলি স্টার: শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর নতুন সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান কী ছিল? আপনারা কি জাতীয় সরকারের পক্ষে ছিলেন?

গোলাম পরওয়ার: শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর কয়েক দিন কার্যত দেশে কোনো সরকার ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন, উপদেষ্টা কারা হবেন, তা নিয়ে ছাত্রনেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের বৈঠক ও মতবিনিময় হয়েছে। আমাদের সব পরামর্শ গৃহীত না হলেও সেসময় নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

দ্য ডেইলি স্টার: রাজনৈতিক সংস্কার, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বর্তমান অগ্রগতি আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা কী?

গোলাম পরওয়ার: বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ যদি জুলাই সনদের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলে একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে দেশ এগোতে পারত। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রচলিত সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করছে।

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলো—একটি মেনে নিয়ে তারা সরকার গঠন করলেন, অথচ অন্যটি মানছেন না! এটা যেন একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া দুই সন্তানের একজনকে স্বীকার করা ও অন্যজনকে অস্বীকার করার মতো।

সরকার যে বিশেষ সংসদীয় কমিটি করেছে, তা সংবিধান সংশোধনের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ, ‘সংশোধন’ মানে ছোটখাটো পরিবর্তন, আর ‘সংস্কার’ মানে সংবিধানের কাঠামো, দর্শন ও ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন আনা। 

বিচার বিভাগ অতীতে সংসদের নেওয়া একাধিক সংশোধনী বাতিল করেছে। জনগণের গণভোটের ভিত্তিতে গঠিত একটি সংস্থা যদি সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে সেটির আইনি ভিত্তি অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। মূলত আগের ফ্যাসিবাদী কাঠামো বহাল রাখা এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিপুল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্যই বিএনপি এই পথে হাঁটছে।

জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে। কিন্তু আমরা বলছি, গণভোটে যেহেতু কোনো ভিন্নমতের সুযোগ ছিল না, তাই পুরো রায়ই মেনে নিতে হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: সংবিধান সংশোধনে সরকার সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। আপনাদেরও পাঁচজন সদস্যের নাম দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াত সেখানে অংশ নেয়নি। এতে কি দাবি আদায়ের লড়াইয়ে আপনারা ওয়াকওভার দিয়ে দিচ্ছেন না?

গোলাম পরওয়ার: না, প্রশ্নই আসে না। আমরা শুরু থেকেই বলেছি, ধারণাগতভাবেই আমরা এই ধরনের সংশোধনের বিরোধী। আমরা সরকারকে বলেছি, সংশোধনের জায়গা থেকে বের হয়ে সংস্কারের জায়গায় আসতে হবে।

আইন অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডাকার কথা ছিল, তা হয়নি। এখন যদি সরকার প্রকৃত সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিতে চায়, তাহলে বিরোধী দলগুলো বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু সরকার তো সংশোধনের পথেই এগোচ্ছে। এর অর্থ, যেসব বিষয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়েই তারা একটি সংশোধনী আনতে চায়।

এভাবে সংবিধানের ফ্যাসিবাদী চরিত্র দূর হবে না। আমরা চাই না, এই রাষ্ট্র কাঠামো থেকে ভবিষ্যতে আরেকজন শেখ হাসিনা তৈরি হোক।

এখনো সময় আছে। সরকার যদি সংসদে প্রকৃত সংস্কারের প্রস্তাব আনে এবং সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিরোধী দলগুলো আলোচনা করতে পারে। অন্যথায় গণভোটে যারা সমর্থন দিয়েছেন, সেই ৭০ শতাংশ মানুষের ম্যান্ডেটের সঙ্গে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না। সংসদে সমাধান না হলে আমাদের জনগণের কাছেই ফিরে যেতে হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন? বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের অভিযোগ, সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে এগোচ্ছে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এমন অভিযোগ কতটা যৌক্তিক?

গোলাম পরওয়ার: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন থেকে সরে যাওয়াটাই ফ্যাসিবাদের দিকে যাওয়ার প্রথম লক্ষণ। বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফাতেই বলা হয়েছিল, তারা ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কার করবে। কিন্তু এখন তারা বলছে, শুধু সংশোধন করবে। অর্থাৎ তারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকেও সরে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে অংশ নিয়েছেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থ হলো তিনি ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি জানিয়েছেন। এখন যদি তিনি সেটি অস্বীকার করেন, তাহলে সেটি জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে সরে আসার শামিল।

আমরা বলছি, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করতে হবে। একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান ও দলপ্রধান থাকতে পারবেন না। কিন্তু যেসব মৌলিক বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে, সেগুলো বাদ দিলে সংবিধানের চরিত্রের কোনো পরিবর্তনই হবে না। সুতরাং, জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার থেকে সরে যাওয়াই কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ।

দ্য ডেইলি স্টার: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেছেন, বিরোধী নেতারা আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছেন। তার এই মন্তব্যকে কীভাবে দেখছেন?

গোলাম পরওয়ার: গ্রামে একটা কথা আছে—’যা দিয়ে মানুষ খায়, তারই ঢেঁকুর ওঠে।’ আমরা তো আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছি না। সরকার জুলাই সনদ উপেক্ষা করছে, প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ করছে, জেলা পরিষদ বা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক বসাচ্ছে—আমরা এসব অন্যায়ের সমালোচনা করছি। এগুলো আওয়ামী লীগের নয়, দায়িত্বশীল বিরোধী রাজনীতির ভাষা। 

দ্য ডেইলি স্টার: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জামায়াতের অবস্থান কী?

গোলাম পরওয়ার: এটি শেষ পর্যন্ত সরকার ও জনগণই নির্ধারণ করবে। আইনি প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে শেষ কথা বলবে জনগণ। জুলাই অভ্যুত্থানে যেভাবে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে, তারপর তারা রাজনীতি করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

দ্য ডেইলি স্টার: অনেক তরুণ মনে করছেন, গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বেশি সুফল রাজনৈতিক দলগুলো পেয়েছে, সাধারণ মানুষ নয়। এই হতাশাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

গোলাম পরওয়ার: দলগুলো নয়, সুফল পাচ্ছে শুধু ক্ষমতাসীনরা। তারাই সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে, নিজের লোক বসাচ্ছে এবং নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তুলছে। সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার তারা রক্ষা করতে পারছে না।

দ্য ডেইলি স্টার: বিরোধী দলে যাওয়ার পর জামায়াতের কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্যকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়াতে দেখা গেছে। দল হিসেবে বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

গোলাম পরওয়ার: মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে। আল্লাহর নবী ছাড়া পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই, যিনি ভুলের ঊর্ধ্বে। জামায়াতও মানুষের সংগঠন। ফলে ব্যক্তিগতভাবে কেউ ভুল করতে পারেন, প্রবৃত্তির বশবর্তী হতে পারেন। তবে আমাদের সংগঠনের ভেতরে চরিত্র, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির একটি ধারাবাহিক চর্চা রয়েছে।

ব্যতিক্রমী কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশে এমন নজির খুব কমই আছে যে, একজন তিনবারের সংসদ সদস্যকে কোনো অপরাধের অভিযোগে দুই দিনের মধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটাই প্রমাণ করে যে, আমাদের কাছে ব্যক্তি নয়, সংগঠন বড়। ব্যক্তি ভুল করতে পারেন, কিন্তু সংগঠন সেই ভুলকে প্রশ্রয় দেয় না।

দ্য ডেইলি স্টার: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এটিকে কি ক্যাম্পাস রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন?

গোলাম পরওয়ার: অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। আমাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল তাদের ছাত্রসংগঠনকে ব্যবহার করছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা দেখেছি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রনেতাদের মারধর করা হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

দ্য ডেইলি স্টার: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যুদ্ধাপরাধীদের একটি ব্যানার ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?

গোলাম পরওয়ার: ওই বিষয়ে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের বক্তব্য হলো, সেখানে উসকানি দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

দ্য ডেইলি স্টার: কখনো কি মনে হয়েছিল, হাসিনা সরকারের পতন ঘটতে পারে? আর ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ কি আপনার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ছিল?

গোলাম পরওয়ার: আমরা বিশ্বাস করতাম, সীমাহীন কর্তৃত্ববাদ ও দমন-পীড়নের শাসন চিরস্থায়ী হতে পারে না। একদিন না একদিন এর পতন হবেই। তবে এত দ্রুত এবং এত নাটকীয়ভাবে ঘটনাগুলো ঘটবে, তা কখনো ভাবিনি।

৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ ছিল সত্যিই বিস্ময়কর। এটি ছিল একটি সার্বজনীন আন্দোলন। সেনাবাহিনী, প্রশাসন কিংবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সমর্থন থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। আমরা এটিকে মহান আল্লাহর অসীম করুণা মনে করি। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ, রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে হয়তো আল্লাহ এই জাতির প্রতি দয়া করেছেন।

 

স্পেনের অপরিবর্তিত একাদশ, পর্তুগালের চমক ফেলিক্স

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগাল। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল-মহারণ ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনার পারদ এখন তুঙ্গে। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের শুরুর একাদশে স্পেন পরিবর্তন না আনলেও পর্তুগাল চমক হিসেবে ফিরিয়েছে জোয়াও ফেলিক্সকে।

শেষ ষোলোর এই মহারণের জন্য স্পেন সেই দলটিকেই ধরে রেখেছে, যারা সবশেষ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলেছে। গোলবারের নিচে থাকছেন উনাই সিমোন। রক্ষণভাগে থাকবেন পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে ও মার্ক কুকুরেয়া। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে রদ্রি, পেদ্রি ও দানি ওলমোর কাঁধে। আক্রমণভাগে দেখা যাবে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারজাবাল ও আলেক্স বায়েনাকে।

অন্যদিকে পর্তুগালের একাদশে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে জোয়াও ফেলিক্সের উপস্থিতি। গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন দিয়োগো কস্তা। রক্ষণভাগে আছেন জোয়াও ক্যান্সেলো, রেনাতো ভেইগা, রুবেন দিয়াস ও নুনো মেন্দেস। মিডফিল্ডে খেলবেন জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ। আর আক্রমণভাগে জোয়াও ফেলিক্সকে সঙ্গ দেবেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও পেদ্রো নেতো।

স্পেন একাদশ: উনাই সিমোন, পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, দানি ওলমো, লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারজাবাল, আলেক্স বায়েনা।

পর্তুগাল একাদশ: দিয়োগো কস্তা, জোয়াও ক্যান্সেলো, রেনাতো ভেইগা, রুবেন দিয়াস, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও ফেলিক্স, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, পেদ্রো নেতো।

শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলেছে, তবু চীনে রপ্তানি বাড়ছে না বাংলাদেশের

চীন ২০২০ সালে ৯৭ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা চালু করে। পরে ২০২৪ সালে প্রায় সব পণ্যের ক্ষেত্রেই সেই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়। এতে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির বাজারে প্রবেশের একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও এক বিলিয়ন ডলারের নিচে।

এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু শুল্কমুক্ত সুবিধা নয়, চীনের বাজারে কার্যকর প্রবেশের জন্য প্রয়োজন চীনা বিনিয়োগ, বাজার-জ্ঞান, বিতরণ নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় অংশীদারিত্ব।

বাংলাদেশ প্রতি বছর চীন থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। এর মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতি, শিল্প সরঞ্জাম ও কাঁচামাল, যা দেশের উৎপাদন খাতের প্রধান চালিকাশক্তি। বিপরীতে বাংলাদেশ চীনে রপ্তানি করে এর সামান্য অংশ।

চীন স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যসুবিধা দেয়, বাংলাদেশ তার আওতায় রয়েছে। তবে শুধু শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাশিত ফল আনতে পারেনি।

মূল সমস্যা কাঠামোগত।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অথচ চীন নিজেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে দেশটি, যা বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ।

চীন বছরে ২ দশমিক ৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পণ্য আমদানি করে। একই সঙ্গে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের পোশাকও আমদানি করে দেশটি।

তবে বাংলাদেশ যদি চীনের পুরো পোশাক আমদানি বাজারও দখল করতে পারে, তবুও তা চীন থেকে বাংলাদেশের মোট আমদানির প্রায় অর্ধেকের সমান হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বাংলাদেশ চীনে ৭৪২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৭১৫ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক উৎপাদন সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়ার ফলে চীন থেকে আমদানিও ক্রমাগত বাড়ছে।

বিশেষ করে পোশাকশিল্প আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এসব কাঁচামালের বড় অংশ আসে চীন ও ভারত থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ চীন থেকে ১৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা দেশের মোট আমদানির প্রায় ২৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার।

২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে চীন থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে তা ছিল ৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ও চীন বর্তমানে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও আলোচনা করছে। এ বিষয়ে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

তবে সরকার এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে। কারণ চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে।

এছাড়া, চীন-নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানের সম্ভাবনা বিবেচনায়ও দেশটি বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশে চীনা এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় দুই হাজার চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই পোশাক খাতে।

‘চীনকে ছাড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব’

সিকম গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, শিল্প উপকরণের প্রধান উৎস হিসেবে চীনের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কার্যত অসম্ভব।

তার ভাষায়, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা, উন্নত লজিস্টিকস এবং কম সরবরাহ-সময়ের (লিড-টাইম) কারণে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে রয়েছে।

বাংলাদেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ শিল্পযন্ত্রও এসব কারণেই চীন থেকে আমদানি করা হয়।

তিনি বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম। চীনা প্রযুক্তিবিদদের দিয়ে যন্ত্রপাতি মেরামত করাতে দিনে ৬০ থেকে ১০০ ডলার খরচ হয়। অথচ ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদদের ক্ষেত্রে আবাসন ব্যয় ছাড়া দৈনিক খরচই ৬০০ থেকে ৮০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মো. খোরশেদ আলম বলেন, দামের কারণে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো সহজ হবে না।

তার মতে, বিকল্প উৎসের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ কম দামে চীনা পণ্য পাওয়া যায়।

চীনা অংশীদারিত্ব ছাড়া সাফল্য কঠিন

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চীনে বাংলাদেশের দুর্বল রপ্তানি পারফরম্যান্স দেখিয়ে দেয় যে শুধু শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে বাজার তৈরি করা যায় না।

তার ভাষায়, চীনা ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলো যে ধরনের পণ্য চায়, আমরা এখনও সেগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করতে পারছি না।

তিনি বলেন, পোশাকশিল্পে চীনের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের মাধ্যমে বড় অগ্রগতি অর্জনের সুযোগ সীমিত।

তার মতে, বড় চ্যালেঞ্জটি বাণিজ্যিক।

চীনের খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক, বিতরণব্যবস্থা ও সোর্সিং চেইনের সঙ্গে সংযুক্ত না হলে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য সে দেশের বাজারে উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নেওয়া কঠিন হবে।

রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একটি মডেল, যেখানে চীনা প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা যৌথ উদ্যোগে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) চীনা বাজারের জন্য পণ্য উৎপাদন করবে।

এ ধরনের অংশীদারত্ব বাজার-জ্ঞান, পণ্যের নকশা, প্রযুক্তি, ব্র্যান্ডিং ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এনে দিতে পারে।

তার ভাষায়, শুল্কের দরজা খোলা আছে। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হলে আমাদের প্রয়োজন উপযুক্ত পণ্য এবং কার্যকর বাণিজ্যিক সংযোগ।

রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর চীনের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তার মতে, চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যৎ কোনো এফটিএর মূল সুবিধা হবে দীর্ঘমেয়াদে এই অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা নিশ্চিত করা, চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ও শুল্কবহির্ভূত বাধা কমানো।

তবে এ ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

রাজ্জাক বলেন, চীন বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর একটি, যার সরবরাহ সক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। তাই যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া কোনো এফটিএ দেশীয় শিল্পের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে এবং সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি চীনের বাজারকে লক্ষ্য করে আলাদা রপ্তানি কৌশল প্রণয়নের পরামর্শ দেন। এ জন্য সম্ভাবনাময় ২০ থেকে ৩০টি পণ্য চিহ্নিত করে সেগুলোর সার্টিফিকেশন, প্যাকেজিং ও বাজার উপযোগী উন্নয়নে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি চীনের প্রধান শহরগুলোতে শক্তিশালী বাণিজ্যিক উপস্থিতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

একই সঙ্গে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের চীনা আমদানিকারক, খুচরা বিক্রেতা, সুপারমার্কেট ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজ্জাকের মতে, চীনা বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব ছাড়া চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন কঠিন। কারণ, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু পুঁজি নয়, বাজার-সম্পর্কিত জ্ঞান এবং শক্তিশালী বিতরণ নেটওয়ার্কও নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু চীনা প্রকল্পের পরিবর্তে বাংলাদেশের উচিত বিনিয়োগনির্ভর শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া।

এ ক্ষেত্রে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যদি বিনিয়োগের সঙ্গে প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ যুক্ত হয়।

সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে রপ্তানিমুখী ইলেকট্রনিকস ও যন্ত্রাংশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং হালকা প্রকৌশল শিল্প।

রাজ্জাক বলেন, আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে বাংলাদেশকে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, প্রস্তুত শিল্পভূমি, দ্রুত কাস্টমস সেবা, স্থিতিশীল করনীতি, সহজ মুনাফা প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা, কার্যকর ওয়ান-স্টপ সেবা এবং ডিজিটাল অনুমোদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

 

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত ভালোর দিকে, সংসদে জানালেন স্পিকার

বিদেশে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত ভালোর দিকে বলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক সংসদ সদস্যের (এমপি) প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মির্জা আব্বাসের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে চান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, ‘মির্জা আব্বাস আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। তার অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে। তিনি সুস্থ হলেই এখানে (সংসদে) আসবেন।’

এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরও জানতে চেয়েছিলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারককে কেন্দ্র করে (মির্জা আব্বাসকে নিয়ে) যে গুজব আছে, সেটি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।’

এ প্রসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গুজব, কে কী  বলেছে তা নিয়ে আদালতে নষ্ট করা যাবে না। আদালতে বিচারাধীন বিষয় ও গুজব সংসদের আলোচনার বিষয় হতে পারে না।’

‘আর কোনো সংসদ সদস্যের যদি সদস্যপদ চলে যায়, তা যথাসময়ে সংসদ থেকে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে,’ যোগ করেন তিনি।

গত ৬ মে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়ায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আফরোজা আব্বাস সেদিন বলেছিলেন, ‘মির্জা আব্বাস অনেকটাই ভালো আছেন।  তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। প্রতিদিন তাকে থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।’

গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় মির্জা আব্বাস হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

গত ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। পরে ১৪ এপ্রিল মির্জা আব্বাসকে ফিজিওথেরাপির দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা শেষ গানের কথা

দেশের খ্যাতিমান গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার তার মৃত্যুর বছরে (২০২২) ২৪ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে নিয়ে তাদের ৫০তম বিবাহবার্ষিকীতে একসঙ্গে গাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ‘মেঘলা আকাশ’ গানটি। 

তবে গীতিকারের সেই আশা আর পূর্ণ হয়নি। 

গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের জীবদ্দশায় লেখা শেষ গানটির কথা হলো ‘মেঘলা আকাশ’। 

গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সংগীতশিল্পী ও সুরকার অপু আমান। সেই গানটিতে এখন কণ্ঠ দিয়েছেন গীতিকারের কন্যা দিঠি আনোয়ার ও অপু আমান।

দিঠি জানান, ‘গানটির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত আবেগ গভীরভাবে জড়িত। বাবা জীবিত অবস্থায় গানটির রেকর্ডিং দেখেছিলেন, যা এই গানকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। “মেঘলা আকাশ” সেই গানগুলোর অন্যতম।’

আগামী ঈদের আগেই দিঠির নতুন ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
 

ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ১৮০

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। আল জাজিরার খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান হোসেন কেরমানপুর বলেন, গত রোববার মিনাবের বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ‘প্রায় ১৮০ জন শিশু’ নিহত হয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও ‘একই ধরনের’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

গত শনিবার ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। সেইসঙ্গে তেল আবিবেও হামলা চালাচ্ছে তেহরান।

ইরানের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে লেবাননে পাল্টা আক্রমণ করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

তেহরানে নতুন করে আরও এক দফা শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আজ সোমবার ভোরে এই হামলার কথা জানায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ

সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আজ মঙ্গলবার সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠিয়ে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪-এর ৮৬ সংখ্যক নির্দেশ মোতাবেক সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

মাঠপর্যায়ের সব অফিসের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিনে স্ব স্ব কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কর্মস্থল ছাড়তে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এআই দিয়ে ভাইরাস বানালেন বিজ্ঞানীরা, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, তবে প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে কতটা নিরাপদ থাকবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখানে যে ভাইরাস তৈরি করা হয়েছে, তা ব্যাকটেরিওফাজ বা সংক্ষেপে ফাজ নামে পরিচিত। এ ধরনের ভাইরাস কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে, মানুষ বা অন্য প্রাণীকে নয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ না করা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ফাজ থেরাপি ব্যবহার করা হচ্ছে।

গবেষণাগারে দেখা গেছে, এআই-নকশা করা কয়েকটি ফাজের সমন্বয়ে তৈরি একটি ককটেল এমন ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াকেও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে, যেগুলো প্রাকৃতিক ফাজের প্রতিরোধী হয়ে উঠেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশলী ড. ব্রায়ান হাই ও তার সহকর্মীরা এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন। তারা জিনোম ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল নামে পরিচিত এক ধরনের এআই ব্যবহার করেন, যা মূলত মানুষের ব্যবহৃত বড় ভাষা মডেলের সংস্করণ। এই প্রযুক্তির সাহায্যে তারা নতুন ফাজের জিনোম বা জিনগত নকশা তৈরি করেন।

এরপর সেই নকশা ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে সত্যিকারের ফাজ তৈরি করা হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার ওপর পরীক্ষা চালানো হয়।

গবেষকদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সাহায্যে খুব দ্রুত নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন ফাজ তৈরি করা যাবে। ফলে এমন অনেক সংক্রমণের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে, যেগুলো এখন সহজে সারানো যায় না। এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ।

তবে বিজ্ঞানীরা শুরু থেকেই সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। তাদের মতে, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করার সময় নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তাই এ ধরনের গবেষণায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

একই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক, টম ইংলেসবি ও মরিটজ হ্যাঙ্কে। তাদের মতে, এখন এআই দিয়ে ভাইরাসের জিনোম তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তিকে নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মতো নিয়মকানুন এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

গবেষণায় ইভিও১ এবং ইভিও২ নামে দুটি এআই মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোকে প্রায় ২০ লাখ ব্যাকটেরিওফাজের জিনগত তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে মানুষ, প্রাণী বা গাছে রোগ ছড়াতে পারে এমন কোনো ভাইরাসের তথ্য ইচ্ছা করেই এতে দেওয়া হয়নি। এতে বিপজ্জনক ভাইরাস তৈরির ঝুঁকি কমে।

এআই কয়েক হাজার সম্ভাব্য জিনোম তৈরি করেছিল। সেখান থেকে বিজ্ঞানীরা প্রায় ৩০০টি বেছে নিয়ে পরীক্ষাগারে তৈরি করেন। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সত্যিই কাজ করেছে। যদিও সংখ্যায় কম, এই ১৬টি ফাজ একসঙ্গে ব্যবহার করে ই. কোলাইয়ের দুটি কঠিন ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে সফলভাবে ধ্বংস করা গেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এখানে থেকে দেখা গেছে এআই সত্যিই কাজ করতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে, এখনই এআই দিয়ে যেকোনো ভাইরাস সহজে তৈরি করা সম্ভব। কারণ, ব্যাকটেরিওফাজের জিনোম খুব ছোট ও তুলনামূলক সহজ। মানুষ বা প্রাণীতে রোগ ছড়ানো ভাইরাসের জিনোম অনেক বেশি জটিল।

যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক টম এলিস বলেন, এআইকে যদি বিপজ্জনক রোগজীবাণুর তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে জিনগত তথ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিপজ্জনক জিনোম তৈরির ওপর নজরদারি রাখলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. ফিলিপা লেনজোস মনে করেন, শুধু এআইকে নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না। যখন পরীক্ষাগারে ডিএনএ তৈরি করা হয়, তখনও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরীক্ষাগারের নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকতে হবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এআই ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। তবে সেই দরজা যেন মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে, বিপদ নয়—সেটি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

জুলাইয়ের প্রাণ ছিল গান, তার ওপরেই আঘাত কেন?

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দেখলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়, এর সাংস্কৃতিক শক্তি। কোনো গণআন্দোলন শুধু স্লোগান, মিছিল কিংবা রাজনৈতিক দাবির ওপর ভর করেই চলে না। মানুষের আবেগ, স্বপ্ন এবং আত্মপরিচয়বোধও একে শক্তি জোগায়। জুলাই আন্দোলনও এর ব্যতিক্রম ছিল না। রাজপথে যেমন ছিল জ্বালাময়ী স্লোগান, তেমনি ছিল প্রতিবাদী গান। নতুন প্রজন্মের র‍্যাপ, পুরোনো গণসংগীত এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী গান, সব মিলিয়ে সংগীত হয়ে উঠেছিল আন্দোলনের প্রাণ।

জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে গান কোনো বিনোদনের মাধ্যম ছিল না। এটি ছিল সাহস, ক্ষোভ এবং শোক প্রকাশের ভাষা। যে কথাগুলো সরাসরি বলা কঠিন ছিল, সেগুলোই মানুষ গানের মাধ্যমে আরও শক্তভাবে বলেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে গানগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু গান ছিল স্লোগানের চেয়েও শক্তিশালী, কেননা সেগুলো মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতিকে সম্মিলিত আবেগের সুতোয় বেঁধে ফেলেছিল।

শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের গণসমাবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে বাজছিল ‘সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি’। এটি শুধু একটি সমাবেশের ভিডিও ছিল না, এটি হয়ে ওঠে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও সাংস্কৃতিক জাগরণের এক অনন্য প্রতীক।

একইভাবে সেজানের র‍্যাপ গান ‘কথা ক’ জুলাই আন্দোলনের অনানুষ্ঠানিক থিমসং হয়ে ওঠে। প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষার বাইরে গিয়ে এটি তরুণদের ক্ষোভ, হতাশা ও প্রশ্নকে সুরে সুরে তুলে ধরে। হান্নানের ‘আওয়াজ উডা’ও ডিজিটাল প্রজন্মের প্রতিবাদের অন্যতম সাউন্ডট্র্যাকে পরিণত হয়। এসব গান দেখিয়ে দেয়, নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষা শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ নয়, গান, ভিডিও এবং অনলাইন সংস্কৃতিও তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জুলাইয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পুরোনো গানগুলোর নতুন করে ফিরে আসা। ‘কারার ওই লৌহকবাট’, ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’ এবং ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে আবারও জীবন্ত হয়ে ওঠে। একসময় এসব গান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং নানা ঐতিহাসিক সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। জুলাইয়ে এসে তারা নতুন অর্থ পায়। অতীতের ইতিহাস আর বর্তমানের আকাঙ্ক্ষা যেন এক সুতোয় গাঁথা হয়ে যায়।

বিশেষ করে ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গানটির ফিরে আসা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু একটি দেশাত্মবোধক গান নয়, স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষার সাংস্কৃতিক স্মারকও। জুলাই আন্দোলনে এর পুনরাবির্ভাব দেখিয়েছে, একটি জাতির ঐতিহাসিক গান কখনো হারিয়ে যায় না। প্রয়োজনের সময় সেগুলো নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে বারবার ফিরে আসে।

কিন্তু এখানেই তৈরি হয় সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য। যে গান একটি আন্দোলনকে শক্তি দিয়েছিল, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই গান, সেই শিল্পী এবং সেই সাংস্কৃতিক ধারাগুলোই নানা ধরনের চাপের মুখে পড়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, জুলাইয়ের সাংস্কৃতিক জাগরণ কি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে?

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে বেশ কিছু ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। মাজার ও খানকায় হামলা, বাউল শিল্পীদের ঘিরে বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, এসব ঘটনা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে রাজধানীর শাহবাগে ‘গানের আর্তনাদ’ নামে একটি কর্মসূচিতে বাউল শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন। সেই কর্মসূচিতে বাধা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে।

এই সংকটকে শুধু একটি সংগীতধারার সংকট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নও। কেননা এই ভূখণ্ডে সংস্কৃতি কখনোই শুধু বিনোদনের বিষয় ছিল না। ভাষা আন্দোলনের গান, মুক্তিযুদ্ধের সংগীত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের ভূমিকা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ, সবই প্রমাণ করে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস একে অপরের সঙ্গে কতটা গভীর।

এই কারণেই মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে যেকোনো টানাপোড়েন গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতার ইতিহাস নয়, এটি সাংস্কৃতিক মুক্তিরও ইতিহাস। যুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান, কবিতা ও নাটক মানুষের মনোবল জুগিয়েছিল। সেই ঐতিহ্য আজও বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, এর প্রতীক, স্মৃতিচিহ্ন এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে যে বিতর্ক ও সংঘাত তৈরি হয়েছে, তা অনেকের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, ভাস্কর্য, প্রতীক ও সাংস্কৃতিক উপাদানের ওপর আঘাতের ঘটনাকে অনেকে এই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের ওপর চাপ হিসেবে দেখছেন। একটি জাতির ইতিহাস নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে। কিন্তু ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ কোনো সমাজের জন্যই ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।

সংগীতাঙ্গনের ঘটনাগুলোও একই পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন। নগরবাউল জেমসের মতো জনপ্রিয় শিল্পীর কয়েকটি কনসার্ট নিরাপত্তা, অনুমতি বা বিশৃঙ্খলার কারণে বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ জেমস শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি বাংলাদেশের রকসংগীতের কয়েক প্রজন্মের কাণ্ডারি। তার গান বহু মানুষের কৈশোর, তারুণ্য ও আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিপরীতে দেশে কাওয়ালি ও সুফি সংগীতের রমরমা আয়োজন নতুন করে দৃশ্যমান হয়েছে। কাওয়ালি উপমহাদেশের সমৃদ্ধ সংগীত ঐতিহ্যেরই অংশ। তাই এর বিকাশ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্বাভাবিক প্রকাশ বটে। কিন্তু উদ্বেগ তৈরি হয় তখনই, যখন একটি সাংস্কৃতিক ধারার উত্থান অন্য একটি ধারার সংকোচনের সঙ্গে মিলে যায়। একটি সুস্থ সমাজে নতুন সংস্কৃতির বিকাশ কখনো অন্য সংস্কৃতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠা উচিত নয়।

বাউল সংস্কৃতির ওপর চাপের অভিযোগ এই সংকটকে আরও স্পষ্ট করে। বাউল দর্শনের মূল শক্তি প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, মানুষের প্রতি আস্থা এবং সংকীর্ণ পরিচয়ের গণ্ডি অতিক্রম করার চেষ্টা। বাউল শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেপ্তার ও মামলা এই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে আসে। ২০২৫ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এই ঘটনা দেখিয়েছে, লোকজ সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুভূতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমারেখা নিয়ে বাংলাদেশের সমাজে এখনো গভীর টানাপোড়েন রয়েছে।

মাজার ও খানকার ওপর হামলার ঘটনাগুলোও একই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। এসব স্থান শুধু ধর্মীয় চর্চার কেন্দ্র নয়, এগুলো আবহমান বাংলার লোকঐতিহ্য, সংগীত এবং সামাজিক মিলনেরও অংশ। বিভিন্ন গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আগস্টের পর বহু স্থানে একাধিক মাজারে হামলার তথ্য উঠে এসেছে। এসব ঘটনা বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক চরিত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এগুলো কি কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার সমষ্টি, নাকি সংস্কৃতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি বৃহত্তর প্রবণতার ইঙ্গিত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আবেগের পাশাপাশি তথ্যের দিকেও তাকাতে হবে। সব ঘটনার পেছনে একই শক্তি কাজ করেছে, এমন প্রমাণ নেই। তবে যদি ধারাবাহিকভাবে শিল্পী, সংগীত, লোকঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো ভয়ের মুখে পড়ে, তাহলে সেটি অবশ্যই সমাজের জন্য অশনি সংকেত।

সবকিছুর কেন্দ্রে একটি প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খায়, বাংলাদেশ কি তার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে ধারণ করতে পারবে? নাকি সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তৈরি হবে গ্রহণযোগ্য ও অগ্রহণযোগ্যতার নতুন দেয়াল?

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান যেমন জরুরি, তেমনি শিল্পীর স্বাধীনতা, ইতিহাসের বহুমাত্রিক চর্চা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গানকে থামিয়ে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মানুষের স্মৃতিকে থামানো যায় না। জুলাইয়ের রাজপথে যে গান মানুষকে সাহস দিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের সময় যে গান মানুষকে লড়াইয়ের শক্তি জুগিয়েছিল, সেই গানগুলো এই জাতির আত্মপরিচয়েরই অংশ।

ইতিহাস বলে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রথম লড়াই অনেক সময় শুরু হয় স্মৃতি ও সংস্কৃতিকে ঘিরে। একটি সমাজ কী গান শুনবে, কোন ইতিহাস মনে রাখবে এবং কোন শিল্পকে সম্মান করবে, এসব প্রশ্নই শেষ পর্যন্ত তার ভবিষ্যৎ পরিচয় নির্ধারণ করে।

আজকের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিকও। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে পারব, যেখানে ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’, ‘আওয়াজ উডা’, ‘কথা ক’ এবং বাউলের মানবদরদী গান, সবকিছুই নিজ নিজ জায়গা থেকে সমান মর্যাদায় বেঁচে থাকতে পারবে?

কারণ একটি জাতির স্বাধীনতা শুধু তার ভূখণ্ডে নয়, তার গানেও বেঁচে থাকে।

আরাফাত সেতু: সাংবাদিক, দ্য ডেইলি স্টার