27.7 C
Dhaka
Home Blog

ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষক

অসময়ের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে হাওরের বহু বোরো চাষি আজ নিঃস্ব। একদিকে ফসলের ক্ষতি, অন্যদিকে ধানের দামে ধস—এই দুইয়ে মিলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ঋণের ভারে অনেকেই ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। সেই চাপ সামলে পরিবারের সারা বছরের অন্নসংস্থান নিশ্চিত করা কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়েই এখন তাদের চরম উৎকণ্ঠা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের সাতটি হাওর জেলায় দুই লাখ ৩৬ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই জেলাগুলো হলো—সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ।

সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে সেচের ওপর নির্ভর করে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই চারা রোপণ করা হয় এবং এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ধান কাটা হয়।

বাংলাদেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশই আসে এই বোরো ফসল থেকে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রতি বছর মৌসুমের মধ্যেই ফসল কাটার কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এবার বাঁধ ভেঙে যাওয়া আর এপ্রিলে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, হাওরাঞ্চলের মোট ফসলি জমির প্রায় ১১ শতাংশ বা ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও সাড়ে ১৭ শতাংশ জমির ফসল ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, এই সাতটি হাওর জেলায় মোট চার লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছিল, যার মধ্যে এ পর্যন্ত ৮০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতির পরিমাণ টাকার অংকে প্রায় এক হাজার ৪৭ কোটি টাকা।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে এবং তা পরবর্তী তিন মাস পর্যন্ত চলবে।

জাতীয় পর্যায়ে বোরো আবাদের পরিধি গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ দশমিক ৫০ লাখ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ দশমিক ২৪ কোটি টন। এর আগে, ২০২২ অর্থবছরের ২ দশমিক ০১ কোটি টন থেকে উৎপাদন বেড়ে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ মৌসুমে ২ দশমিক ১৩ কোটি টনে দাঁড়িয়েছিল।

ঋণের বোঝা আর হতাশা

এই প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টার হাওরাঞ্চলের সাতটি জেলার ৪০ জনেরও বেশি কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের মধ্যে ২৫ জনেরও বেশি কৃষক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের ঋণের এক অন্তহীন জালে বন্দি করে ফেলেছে।

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার মুলাদাইর হাওরের কৃষক বিধান সরকার জানান, তার পাঁচ একর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের হাওর এলাকায় বছরে মোটে একটা ফসল হয়। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা আর চিকিৎসা খরচসহ সারা বছরের সব পারিবারিক খরচ মেটাতে আমরা এই ধান বিক্রির টাকার ওপরই ভরসা করে থাকি।’

কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে কোনোমতে নিজের ভাগের কিছু ধান কাটেন তিনি। বাকি ধান কাটার জন্য দিনমজুর লাগালেও তাদের মজুরি মেটাতে গিয়ে ভেজা ধান মাত্র ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন। অথচ এই দাম উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম।

ধান চাষের জন্য তিনি ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বিধান বলেন, ‘এখন ঘরে যে ধান আছে, তা দিয়ে পরিবারের খাবারই জুটবে না। ওদিকে পাওনাদার (মহাজন) টাকা শোধের জন্য জমি বিক্রি করার চাপ দিচ্ছে। জমি বিক্রি করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ খোলা নেই।’

মদন উপজেলার ফুলু মিয়া দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, যা সুদে-আসলে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা শোধ করার কথা ছিল। তিনি বলেন, ‘এখন ধান বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করার কোনো উপায় নেই। আসল টাকাটা কোনোভাবে দিলেও সুদের বাকি ৬০ হাজার টাকা ঋণের বোঝাই থেকে যাবে।’

বারহাট্টা উপজেলার শামীম মিয়া সুদে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে দুই একর জমি লিজ নিয়েছিলেন। কথা ছিল, ধান কাটার পর সুদে-আসলে ৭০ হাজার টাকা শোধ করবেন। কিন্তু তার চাষ করা জমির ৪০ শতাংশই এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

‘আমি অবশিষ্ট ফসল কাটতে হিমশিম খাচ্ছি। ধান খুব ভালো হয়েছিল, ভেবেছিলাম আমার অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ মণ ধান পাব। ঋণদাতার টাকা শোধ করার পরও আমি এই ধান দিয়ে চার থেকে পাঁচ মাস আমার পরিবারের খরচ চালাতে পারতাম,’ তিনি বলেন।

‘এখন অবশিষ্ট ধান বিক্রি করলেও আমি ঋণ শোধ করতে পারব না। আমাকে আবার ঋণ নিতে হবে,’ তিনি যোগ করেন।

নেত্রকোনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, জেলায় ভারী বর্ষণে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের সৈয়দ আহমেদ অর্ধেক জমি ইজারা নিয়ে মোট ১ দশমিক ২ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছিলেন। তিনি ১০০ মণের বেশি ধান আশা করেছিলেন। কিন্তু ৫০ মণ রক্ষা করতে পেরেছেন।

ইজারা নেওয়া জমির ফসলের অর্ধেক অবশ্যই জমির মালিককে দিতে হবে।

‘আমার পরিবারের জন্য অন্তত ৭০ মণ ধান দরকার। তাছাড়া, ৩০ হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে আমাকে ৩৬ হাজার টাকা শোধ করতে হবে।’

‘এই বছর এক মেয়ের বিয়ে বাকি থাকায় সংকট অসহনীয় হয়ে পড়েছে। প্রতি মণ ৭০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করে আমি ঋণ ও সুদও শোধ করতে পারছি না। আগামী মৌসুমে আমাকে আরেকটি ঋণ নিতে হবে,’ তিনি বলেন।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার আক্কাস মিয়া ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছয় হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছেন। সুদে-আসলে তাকে নয় লাখ টাকা শোধ করতে হবে।

‘এ পর্যন্ত আমি এক কেজি ধানও ঘরে তুলতে পারিনি। ঋণের দুশ্চিন্তায় এখন আমার রাতে ঘুম নেই,’ তিনি বলেন।

কিশোরগঞ্জে ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, এতে ৫২ হাজার ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাদিকুর রহমান জানান, জেলায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরের সুমন নমশূদ্র ৬০০ মণ ধান পাওয়ার আশায় দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।

ক্ষতির পর আশঙ্কা, তিনি মাত্র ৫০ মণ ধান উদ্ধার করতে পারবেন।

‘গত ১৫ বছরে আমি এমন বিপর্যয় দেখিনি,’ তিনি বলেন। ‘মহাজনদের চাপে এখন আমার পক্ষে বাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

৩ মাসের সহায়তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত হাওর কৃষকদের সহায়তায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সচিবালয়ে এক বৈঠকে তিনি কর্মকর্তাদের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের শনাক্ত করে একটি সঠিক ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, একটি বিশেষ কার্ড সিস্টেমের মাধ্যমে তিন মাসের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অর্থনীতিবিদ আবদুল বায়েস সতর্ক করে বলেছেন, কেবল খাদ্য সহায়তা এই সংকট সমাধান করবে না।

তিনি বলেন, ‘মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, ফসল কাটার পর বা ফসলহানির শিকার হয়ে কৃষকরা কীভাবে চাষাবাদ সংক্রান্ত ঋণ শোধ করবেন।’

তিনি এই বোঝা লাঘব করতে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ, কিস্তি-ভিত্তিক পরিশোধ বা সুদ মওকুফের মতো পদক্ষেপের পরামর্শ দেন।

[মিন্টু দেশোয়ারা এবং তাফসিলুল আজিজ এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন]

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনোনয়ন পাওয়া শামসুজ্জামান হেলালী নির্বাচনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর।

জামায়াতে ইসলামীর নগর শাখার প্রচার সম্পাদক মাহমুদ উল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দলের স্থানীয় দায়িত্বশীল সদস্যদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নগর শাখার শুরা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, নগর শাখার সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক মাহমুদ উল্লাহসহ নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে শামসুজ্জামান পরিচিত মুখ। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০১০ সালে ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের কাছে পরাজিত হন তিনি।

মেয়র পদপ্রার্থী হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় শামসুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার ওপর নতুন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।’

‘দেনা পাওনা’ শেষ, কিন্তু দর্শকদের ক্ষোভ কমছে না: সুষমা সরকার

মঞ্চ, টিভি নাটক, চলচ্চিত্র, ওটিটি—সব মাধ্যমেই পরিচিত মুখ সুষমা সরকার। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মঞ্চনাটকে অভিনয় করছেন এই গুণী শিল্পী। 

নিজের সাম্প্রতিক কাজগুলো নিয়ে ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সুষমা সরকার। 

সম্প্রতি সুষমা অভিনীত ‘দেনা পাওনা’ নাটকের প্রচার শেষ হয়েছে। ওই নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছ থেকে প্রচণ্ড ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। কিন্তু একইসঙ্গে নাটকের প্রচার শেষ হয়ে যাওয়ায় দর্শকরা ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। 

 

দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত পারিবারিক গল্পনির্ভর এই নাটকটি দর্শকদের মাঝে তুমুল সাড়া ফেলে। 

নাটকটিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন সুষমা সরকার। 

তিনি বলেন, ‘দেনা পাওনা নাটকে নেগেটিভ চরিত্র করার কারণে অনেক দর্শক আমাকে গালমন্দ করেছেন। অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। কোথাও গেলে এখনো দর্শকরা বলেন, “ওই যে দেনা পাওনা আসছে”। এজন্য মনে হয়েছে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি।’

 

তিনি বলেন, ‘তবে এত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও কেন দেনা পাওনা নাটক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে দর্শকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। দর্শকরা দেনা পাওনা নাটকের সিজন টু চাচ্ছেন।’

‘দেনা পাওনা নাটকটি দর্শকদের ভালো লেগেছে। এ কারণেই তারা সিজন টু দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমিও চাই সিজন টু হোক, দর্শকরা দেখুক’, বলেন তিনি। 

পারিবারিক গল্পের দিকে নির্মাতারা ঝুঁকছেন—এ বিষয়ে সুষমা সরকার বলেন, ‘সত্যিই দর্শকরা এখন পারিবারিক গল্পের নাটক বেশি বেশি দেখতে চাইছেন। এটা আমাদেরই গল্প। নতুন করে পারিবারিক গল্পের নাটক তৈরির ধারা শুরু হয়েছে। দেনা পাওনা নাটকটি সেখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। মাঝে কিন্তু পারিবারিক গল্পের ধারাবাহিক সেভাবে ছিল না।’

‘দেনা পাওনা জনপ্রিয়তা অর্জনের পর পারিবারিক গল্প নির্ভর নাটকের চর্চা বাড়ছে। এটা খুব ভালো দিক’, বলেন সুষমা। 

মূল পর্বের প্রচার শেষ হওয়ার পর ঈদে প্রচারিত হয় সাত পর্বের বিশেষ আয়োজন দেনা পাওনা ঈদ স্পেশাল। সুষমা বলেন, ‘দর্শকদের আগ্রহ থেকেই ঈদের সময়ে দেনা পাওনা নাটকের সাতটি বিশেষ পর্ব নির্মিত হয়। ওই সাত পর্ব দর্শকরা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন।’
 

 

বর্তমানে তার অভিনীত ‘পরম্পরা’ নাটকটি দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে। ওই নাটকটির জন্যও তিনি বেশ সাড়া পাচ্ছেন। 

পরম্পরা নাটকের পরিচালক আশীষ রায়। এটি একটি পারিবারিক গল্পের নাটক। এখানে তিন প্রজন্মের গল্প উঠে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন সুষমা। 

তার শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডলি জহুর। ইতোমধ্যে নাটকটি সবার মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

দ্য ডেইলি স্টারকে সুষমা বলেন, ‘পরম্পরা নাটকের জন্য খুব প্রশংসা পাচ্ছি। দর্শকরা খুব আগ্রহ নিয়ে নাটকটি দেখছেন। কোনো কাজ করার পর যখন দর্শকরা দেখেন, তখনই তৃপ্তি কাজ করে, ভালো লাগা কাজ করে। পরম্পরা তেমনই একটি নাটক।’

 

‘দেখুন, পরম্পরা নাটকে আমি ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করছি। কাছের মানুষ বলি, সহশিল্পী বলি আর দর্শক বলি—সবাই বেশ প্রশংসা করছেন’, যোগ করেন তিনি। 

ডলি জহুর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই নাটকে ডলি জহুর আন্টি আমার শাশুড়ি। উনার মতো বিখ্যাত ও গুণী শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে পারাটাও অনেক বড় সম্মানের ব্যাপার। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।’

 

এছাড়া মাছরাঙা টিভিতে তার অভিনীত আরেকটি নাটক প্রচার হচ্ছে।

এদিকে ‘বিশ্বাস বনাম সরদার’নামের একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন সুষমা সরকার। নাটকটি প্রচার হচ্ছে মাছরাঙা টিভিতে। 

শিগগির ‘এরই নাম সংসার’ নামে নতুন একটি ধারাবাহিকের শুটিং শুরু করবেন সুষমা। পরিচালনায় থাকছেন হাসান রেজাউল।

ঈদের সিনেমা প্রসঙ্গে সুষমা বলেন, ‘প্রেসার কুকার এবং বনলতা এক্সপ্রেস—দুটো সিনেমাই দেখেছি। ভালো লেগেছে। সত্যি কথা বলতে, ভালো গল্প হলে দর্শকরা হলে যেয়ে সিনেমা দেখেন।’

২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত: পাকিস্তান

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে ২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও ৩১৪ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে ইসলামাবাদ। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। 

মুখপাত্র আরও জানান, সব মিলিয়ে তালেবানের ৭৪টি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস ও ১৮টি দখলে নিয়েছে পাকিস্তানি সেনা। 

সংঘষে ২৭ পাকিস্তানি আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। 

 

তালেবান সরকার দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে তাদের আট যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। 

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দিয়েছে তালেবান যোদ্ধারা। এসব হামলায় ডুরান্ড লাইনের আশেপাশে ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। 

পাশাপাশি,  কয়েকজন পাকিস্তানি সেনার মরদেহ ছিনিয়ে নেওয়া ও শতাধিক হালকা ও ভারী অস্ত্র দখলেরও দাবি করেছে তালেবান প্রশাসন। 

কয়েকজন সেনাকে জীবিত অবস্থায় আটকের কথাও দাবি করা হয় বিবৃতিতে। 

 

এসব তথ্য জানিয়েছে আফগান গণমাধ্যম টোলো নিউজ। 

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ‘সন্ত্রাসীরা অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নওশেরা অঞ্চলে ছোট ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করে।’

‘আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ড্রোনকেই ভূপাতিত করেছে’, যোগ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এই হামলায় কেউ হতাহত হননি। 

তিনি দাবি করেন, ‘এই ঘটনায় আরও একবার প্রকাশ পেয়েছে, আফগান তালেবান ও পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ আছে।’ 

ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সংঘাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন, রাশিয়া ও ইরান। দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে কাবুল ও ইসলামাবাদকে তাদের মধ্যে বিভেদ দূর করার আহ্বান জানিয়েছে।

আদিবাসী ভাষা শিক্ষা শুধু কাগজে-কলমেই

সিলেট বিভাগে আদিবাসী শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক চালু হলেও শিক্ষক সংকট, সমন্বয়ের অভাব ও স্পষ্ট নির্দেশনার ঘাটতিতে উদ্যোগটি কার্যত থমকে আছে। বিভিন্ন স্কুলে বই বিতরণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ভাষায় পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এই উদ্যোগ বাস্তবে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে মাতৃভাষাভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালুর করা হয়। এটি প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয় ২০২০ সালে। চলতি বছরে সিলেট বিভাগের ৩৫টি বিদ্যালয়ে ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি ভাষার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাতৃভাষার বই বিতরণ করা হয়েছে।

বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৫৭৭টি পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ইসাচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন শর্মা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে আমি এই বিদ্যালয়ে কর্মরত। প্রতিবছর কিছু বই এলেও সংশ্লিষ্ট ভাষায় দক্ষ শিক্ষক না থাকায় তা পাঠদানে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থী অক্ষর চিনতে না পেরে বইগুলো সরিয়ে রাখেন।

বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফেনসিলা রেমা জানায়, সে গারো ভাষার বই পেলেও শ্রেণিকক্ষে তা ব্যবহার হয়নি। কারণ শিক্ষক সেই ভাষায় পড়াতে পারেন না। একই সমস্যা তার সহপাঠীদেরও।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডালুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়ন দেববর্মা বলে, ককবরক ভাষার বই পাওয়া আনন্দের হলেও শিক্ষক না থাকায় বই বন্ধই থাকে।

তার ভাষায়, বই তখনই কাজে লাগে, যখন কেউ তা বুঝিয়ে দেয়।

সায়নের বাবা মিঠুন দেববর্মা বলেন, শ্রেণিকক্ষে যখন পুরো পাঠদান বাংলায় হয়, তখন শিশুরা শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে। ঘর ও স্কুলের মধ্যে সেতু তৈরি করার কথা থাকলেও বাস্তবে দেয়াল তৈরি হচ্ছে।

মৌলভীবাজারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জনক ত্রিপুরা বলেন, সরকারি বই এলেও ত্রিপুরা ভাষায় পাঠদানের জন্য শিক্ষক নেই। ফলে বই শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ছোটোবেলা থেকেই কেবল বাংলায় শিক্ষা দেওয়ায় অনেক শিশু নিজেদের ভাষায় কথা বলতে পারলেও পড়তে বা লিখতে পারে না।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার নিরোলাপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নেরিয়ুস বুয়াম ডেইলি স্টারকে বলেন, ভাষাগত সমস্যার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এএফএম জাকারিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, সংখ্যালঘু ভাষাগত গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত না হলে তাদের শেখার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্যোগ ভালো হলেও কীভাবে পড়ানো হবে, কে পড়াবে এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

তিনি বিশেষ আদমশুমারি, পৃথক একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেন।

দ্য কাপেইং ফাউন্ডেশনের সভাপতি গৌরাঙ্গো পাত্র ডেইলি স্টারকে বলেন, বর্তমান পরিকল্পনায় সুস্পষ্ট রোডম্যাপের অভাব রয়েছে। সীমিত সংখ্যক ভাষায় বই প্রকাশ করা হলেও প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। যথাযথ পরিকল্পনা, পর্যবেক্ষণ ও সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা ছাড়া এই উদ্যোগ টেকসই হবে না।

তিনি আরও বলেন, যথাযথ শিক্ষক ও পরিকল্পনা ছাড়া মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। এতে একদিকে শিশুদের শিক্ষাজীবন বিঘ্নিত হবে, অন্যদিকে আদিবাসী ভাষাগুলোর টিকে থাকা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।

সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার
ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে চারটি জাতিগত ভাষায় বই প্রকাশ ও বিতরণ করা হচ্ছে। বই কীভাবে পড়ানো হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি রাখে।
 

বিভ্রাটের ঘণ্টাখানেক পর ফেসবুক-মেসেঞ্জার চালু

হঠাৎ করেই অচল হয়ে পড়ার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর সক্রিয় হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জার। এসময়ে বিপাকে পড়েন বিশ্বব্যাপী সামাজিকমাধ্যমগুলোর ব্যবহারকারীরা।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে এ বিভ্রাট সংক্রান্ত প্রথম অভিযোগ আসতে শুরু করে। রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে পুনরায় সক্রিয় হয় সেবাগুলো।

ডেস্কটপ ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে প্রবেশের চেষ্টা করলে ত্রুটিবার্তা (এরর মেসেজ) দেখতে পান। মোবাইল অ্যাপেও আগে থেকে লোড হওয়া পেজেই আটকে থাকছিল ফেসবুক।

মেসেঞ্জারে লগইন করতে গেলে অনেক ব্যবহারকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগআউট হয়ে যান। পুনরায় প্রবেশের চেষ্টা করলে ‘লগ ইন সম্ভব না’ বার্তা দেখতে পান।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল। তবে পরে বিভিন্ন আপডেটে দেখা গেছে, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মেটার একাধিক সেবায় একযোগে সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও হোয়াটসঅ্যাপের মোবাইল অ্যাপ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সচল ছিল। তবে এর ওয়েব সংস্করণও অনেক ব্যবহারকারীর জন্য অচল হয়ে পড়েছে।

১২ ছক্কার টর্নেডো ইনিংস খেলে সূর্যবংশীর ৩ রানের আক্ষেপ

প্রফুল হিঙ্গের বলটা থার্ডম্যান দিয়ে উড়িয়েছিলেন, একদম বাউন্ডারি লাইনে সেটা ক্যাচে পরিণত হয়। এক সুতোর জন্য ক্রিস গেইলের রেকর্ডটা থেকে গেল আপাতত স্পর্শের বাইরে। তবে তার আগে বৈভব সূর্যবংশী যা করেছেন তাতে বিস্ময়ে আরেকবার হতভম্ব হওয়ার পালা।

২৮ বলে ১২ ছক্কা, ৫ চারে ৯৭ করেছিলেন। ২৯তম বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করতে পারতেন, যেটা হলে আইপিএলের ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড হয়ে যেত তার। ২৯ বলে আপাতত ৯৭ রানে থামতে হলো। ৯৭ রানের ৯২ রানই বাউন্ডারি থেকে নিয়েছেন। তবে সূর্যবংশী জানিয়ে দিলেন এই রেকর্ড একদিন তার হবেই।

​ম্যাচের শুরু থেকেই সূর্যবংশী ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। প্রফুল হিঙ্গের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই নিজের অনবদ্য ক্লাস দেখান তিনি। অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের লেংথ বলকে নিখুঁত টাইমিংয়ে কভার ড্রাইভ করে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে খাতা খোলেন। সেই ওভারেরই চতুর্থ বলে একটু শর্ট ডেলিভারি পেয়েই পুল করলেন স্কোয়ার লেগের ওপর দিয়ে, বল গিয়ে আছড়ে পড়ল গ্যালারিতে।

​স্পিন আক্রমণ আসতেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন সূর্যবংশী। ক্রিজ থেকে সামান্য বেরিয়ে এসে সোজা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে মারেন বিশাল ছক্কা। মাত্র ১০ বলেই তিনি পৌঁছে যান ব্যক্তিগত ৩০ রানে। পরের ওভারে লেগ স্ট্যাম্পের ওপর থাকা বলকে আলতো ফ্লিকে ফাইন লেগ দিয়ে সীমানার ওপারে পাঠিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক বাউন্ডারি আদায় করে নেন।

​ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ১৬ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন বৈভব।

​হাফ-সেঞ্চুরির পর তার ব্যাটের ধার যেন আরও বেড়ে যায়। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারটি ছিল বোলারদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। সেই ওভারের প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ বলে লং-অন এবং কাউ কর্নার দিয়ে ৪টি চোখধাঁধানো ছক্কা মারেন তিনি। স্কোরবোর্ডে রানের গতি তখন রকেটের চেয়েও দ্রুত।

​সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে নিজের ১২তম ছক্কাটি মেরে মাত্র ২৮ বলে ৯৭ রানে পৌঁছে যান বৈভব সূর্যবংশী। ক্রিস গেইলের ৩০ বলে সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে তার প্রয়োজন ছিল মাত্র ১টি বল এবং ৩টি রান। পুরো স্টেডিয়াম তখন অধীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে এক মহাকাব্যিক মুহূর্তের।

​কিন্তু ঠিক পরের বলেই ঘটল সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রফুল হিঙ্গের অফ-স্ট্যাম্পের সামান্য বাইরের বলটিকে থার্ডম্যান অঞ্চল দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন সূর্যবংশী। কিন্তু ব্যাটের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা আলগা হওয়ায় বলটি সীমানা পার হতে পারেনি। একদম বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডারের হাতে জমা পড়ে বল। স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। মাত্র ৩ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয় তাকে। ২৯ বলে আপাতত ৯৭ রানে থামতে হলেও সূর্যবংশী জানিয়ে দিলেন এই রেকর্ড একদিন তার হবেই।

 

 

বড় হচ্ছে বাজেট, টাকা আসবে কোথা থেকে?

১৯ বছর আগে, ২০০৬-০৭ অর্থবছরের জন্য তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। এরপর তিনটি সরকার এসেছে-গেছে। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি।

এবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ৫৪তম বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বাজেটের আকার নাটকীয়ভাবে বাড়লেও জিডিপির তুলনায় এর অনুপাত খুব বেশি বদলায়নি। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বাজেট ছিল জিডিপির প্রায় ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা হতে যাচ্ছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

অর্থাৎ দেশের অর্থনীতির আকার বড় হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সেই অনুপাতে শক্তিশালী হয়নি।

ফলে বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে শুধু বড় বাজেট করাই মূল বিষয় নয়। বরং প্রশ্ন হলো—বর্ধমান ঋণ, দুর্বল রাজস্ব আদায় ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে অর্থনীতি এই ব্যয়ভার কতটা টেকসইভাবে বহন করতে পারবে।

গত দুই দশকে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিদ্যুতের আওতা বেড়েছে, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ উন্নত হয়েছে, মোবাইল ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে।

পদ্মা সেতু ও ঢাকা মেট্রোরেলের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়েছে।

তবে এসব উন্নয়ন মানুষের প্রত্যাশাও বাড়িয়েছে। মানুষ এখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পরিবহন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা ও ভালো নগরসেবা চায়।

ঢাকাবাসী আরও মেট্রোরেল লাইন চান। দেশের অন্য অঞ্চলের মানুষ চান উন্নত মহাসড়ক, পদ্মা ও যমুনার ওপর দ্বিতীয় সেতু এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগ। ফলে সরকারি ব্যয়ের চাপ কাঠামোগতভাবেই বেড়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা (ফিসকাল স্পেস) সংকুচিত হয়েছে।

এখন বাজেটের বড় অংশই চলে যাচ্ছে পরিচালন ব্যয়ে। উচ্চ ঋণ ও সুদের হারের কারণে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের খরচ বেড়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খাদ্যে ভর্তুকির চাপও রয়েছে।

এর সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-কমিশন বাস্তবায়ন হলে স্থায়ী ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে। ফলে সামগ্রিক বাজেটের আকার বাড়লেও উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

দুর্বল রাজস্ব আদায় এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত অন্যতম কম। এতে ঋণের ওপর নির্ভর না করে উন্নয়ন ব্যয় চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

আর্থিক খাতও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। দুর্বল সুশাসন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ঋণ অনিয়ম ও দুর্বল আদায় ব্যবস্থার কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এতে ব্যাংক খাতের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়ায় বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হচ্ছে। ব্যবসার ঋণ ব্যয়ও বাড়ছে।

অন্যদিকে দেশের পুঁজিবাজার এখনও অগভীর ও অস্থির। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে এর ভূমিকা সীমিত। ফলে অর্থনীতি এখনও মূলত ব্যাংক খাতনির্ভর।

সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত এক শ্বেতপত্রে বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। করোনা মহামারি বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনে বড় ধাক্কা দেয়। পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেয়। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়ে সরাসরি।

২০২৩ সালের মার্চ থেকে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এতে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমছে।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে কঠিন নীতিগত ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

একদিকে প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে। সরকার যদি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সম্প্রসারণমূলক ব্যয়নীতি নেয়, তাহলে ঋণ ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান কর্মসূচি।

আইএমএফের সংস্কার শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কর আদায় বাড়ানো, ব্যাংক খাত সংস্কার, ভর্তুকি কমানো, আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার ও বিনিময় হার আরও নমনীয় করা।

এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক খরচ থাকবে।

নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য চ্যালেঞ্জ শুধু বড় বাজেট দেওয়া নয়। সীমিত সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাও বড় কাজ।

তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থ কি বড় অবকাঠামো প্রকল্পে যাবে, নাকি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মতো মৌলিক খাতে—সেই ভারসাম্য ঠিক করতে হবে।

সবশেষে, এই বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়। উচ্চ প্রত্যাশা, আর্থিক চাপ, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর এই সময়ে সরকার কীভাবে অর্থনীতি সামাল দিতে চায়, তারই প্রতিফলন হবে এবারের বাজেট।

 

 

জ্বালানির দাম বাড়ানো ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’: শফিকুর রহমান

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন মানুষ আগেই জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে হাঁসফাঁস করছে।

শনিবার রাতে সরকারের ঘোষণার পরপরই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমে আসছে, তখন বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নামে আগামীকাল থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এটি খুবই দুঃখজনক।’

জামায়াত আমির বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এমনিতেই বেড়ে গেছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে।

‘জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এটি হবে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা,’ বলেন তিনি।

এর আগে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে, যা শনিবার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হয়।

নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত দামের তুলনায় এবার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে। লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা ও কেরোসিন ১৮ টাকা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এর আগে এক থেকে দুই টাকার মধ্যে সীমিত পরিসরে সমন্বয় করা হলেও এবার তুলনামূলক বড় ধরনের বৃদ্ধি করা হয়েছে।

১৮ দিনে ৫ কোটির ঘরে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এই ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচ সিনেমার মধ্যে সর্বোচ্চ আয় করে শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে।

প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, মুক্তির ১৮ দিনে সিনেমাটির আয় পাঁচ কোটি টাকা পার করেছে।

পরিচালক তানিম নূর বলেন, ‘দর্শকদের এই সাড়ায় আমি অভিভূত। সিনেমার সব শিল্পী ও কলাকুশলীকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষভাবে স্মরণ করছি হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে। তিনিই আসল জাদুকর।’

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, শ্যামল মওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর ও আরেফিন জিলানীসহ একঝাঁক তারকা।