29 C
Dhaka
Home Blog

আমরা সংশোধন চাই, সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি: ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি।’

জুলাই সদন নিয়ে বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও এ সময় অভিযোগ তোলেন তিনি।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।

ফখরুল বলেন, ‘জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। ম্যানিফেস্টোর মধ্যে যেটা ছিল, সেই ম্যানিফেস্টোতে টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। সুতরাং ওই জায়গায় কোনো রকমের কোনো বিভ্রান্তি অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আজকে অনেকগুলো প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথের ফায়সালা হবে। আমার কাছে মনে হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জুলাই সনদ আমরা স্বাক্ষর করেছি একসঙ্গে। যে সমস্ত দল আমরা আন্দোলন করেছি একসঙ্গে, তারা সবাই স্বাক্ষর করেছি। আমরা বারবার করে বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়িত করব…এটাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

গণভোটের একটি অংশ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। সে সময় আমি নিজে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সংস্কার কমিশন আমাদের কনসেন্ট ছাড়াই কথাগুলো সেদিন নিয়ে এসেছে।

‘জুলাই সনদের বইটা যদি আপনারা পড়েন…সেখানে প্রতিটি জায়গায় বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা বারবারই এই কথা বলে এসেছি এবং আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ৩১ দফাতে যেমন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ঠিক তেমনভাবে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি, সেভাবে আমরা বলছি। এখানে বিরোধীদল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না,’ যোগ করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘সংস্কার এদেশে কারা এনেছে? বিএনপি এনেছে। একদলের শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি নিয়ে এসেছে।’

বিরোধীদলের অনেকে মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জনগণের চেয়ে ভালো তো আর কেউ বোঝে না। আমরা যতই মনে করি…জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে কী বলেছি?’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি যে, বিরোধীদল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে (জুলাই সনদ) ব্যবহার করতে চায়। আমরা কিন্তু চাই না জুলাই ক্ষমতার যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।’

জুলাই আন্দোলনের বিএনপি ত্যাগ সবচেয়ে বেশি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় এক হাজার ৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। বিএনপি কয়েক হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। এই কথাগুলো বারবার করে আমাদেরকে বলতে হয় এ জন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।’

বিক্রি কম, সংকটে প্লাস্টিক খাত

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ধাক্কা এসে লেগেছে বাংলাদেশের প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম হু হু করে বাড়ছে, অন্যদিকে দেশে চাহিদা গেছে কমে। এই দ্বিমুখী চাপে আর্থিক সংকটে পড়েছে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

ঢাকার পল্টনে গতকাল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে সংকটের চিত্র তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি শামীম আহমেদ।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংকট শুরুর আগে প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানি হতো টনপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে। এখন সেই দাম বেড়ে দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

শামীম আহমেদ বলেন, কাঁচামালের চড়া দাম পুরো শিল্পকে চাপে রেখেছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরকে প্লাস্টিক পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে।

বিপিজিএমইএর তথ্যমতে, দেশে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের বার্ষিক বাজার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার। মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর আগে প্রতিমাসে এই খাতে বিক্রি হতো প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে।

শামীম আহমেদ জানান, গ্রাহকরা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। কিছু কিছু প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্যাকেজিং খাত। শামীম বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ এখন গৃহস্থালির টুকটাক জিনিস বা দ্রুত বিক্রি হওয়া ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) কম কিনছে। এর ধাক্কা লাগছে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, প্লাস্টিক বা প্যাকেজিং চূড়ান্ত পণ্য নয়। এটা অন্য শিল্পে সরবরাহ করা হয়। ভোক্তারা যখন ডিটারজেন্ট, খাবার বা গৃহস্থালির পণ্য কেনা কমিয়ে দেন, তখন প্যাকেজিং ও প্লাস্টিকের চাহিদাও কমে যায়।

তিনি জানান, অনেকেই মনে করেন প্লাস্টিক মানে শুধু বালতি, মগ আর রান্নাঘরের সরঞ্জাম। এই ধারণা সঠিক নয়। পোশাক, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং পানীয় শিল্পসহ সব জায়গাতেই প্লাস্টিক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার প্লাস্টিক কারখানার আছে। এর মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার কারখানাই অন্যান্য খাতে তাদের পণ্য সরবরাহ করে।

তাই প্লাস্টিক খাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত বা নেতিবাচক প্রভাব পড়লে, খুব দ্রুত পুরো অর্থনীতিতে এর ধাক্কা লাগবে বলে মনে করেন শামীম আহমেদ।

মতবিনিময় সভায় বিপিজিএমইএ নেতারা অভিযোগ করেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য অনেক সময়ই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ (শুল্ক বিভাগ) চালানের ইনভয়েসের চেয়ে বেশি দাম ধরে শুল্কায়ন করছে। প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে আনা হয়, তাই এখানে ‘আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিং’ করার সুযোগ নেই বললেই চলে। তবু ব্যবসায়ীদের অযথাই হয়রানি হতে হচ্ছে।

বিপিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, উৎপাদন খরচ অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়লেও এর সবটা ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে না। উতপাদকরা কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও টিকে থাকার লড়াই করছেন। তিনি বলেন, ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা চললেও এখনো দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে মুনাফা ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে।

(সংক্ষেপিত অনুবাদ, বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে)

প্যারাগুয়ের সিনেটরকে ‘ঘৃণ্য নারী’ বললেন এমবাপে

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে জয়সূচক গোল করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু মাঠের লড়াই শেষ হওয়ার পরও তাকে ঘিরে বিতর্ক থামেনি। এবার এক বর্ণবাদী মন্তব্যের জবাবে প্যারাগুয়ের এক সিনেটরকে ‘ঘৃণ্য নারী’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন।

শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে এমবাপের পেনাল্টির গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া এমবাপেকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তিনি এমবাপেকে ‘ক্যামেরুনীয় উপনিবেশের সন্তান, যে মরিয়া হয়ে নিজেকে ফরাসি প্রমাণ করতে চায়’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তাকে ‘বর্বর’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, তিনি নাকি লেখালেখিও শেখেননি।

এতেই থেমে থাকেননি আমারিয়া। ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের এমবাপেকে চড় মারা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিনেটরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এমবাপে, ‘ম্যাডাম সেলেস্তে আমারিয়া, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনার পদে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না, যে দেশটি এই বিশ্বকাপে আবেগ, সম্মান ও লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার বেপরোয়া আচরণ ও প্রকাশ্য বর্ণবাদের কারণে বিশ্ব এখন প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা ভুলে গিয়ে এমন এক অযোগ্য নারীর কথাই বলছে, যিনি নিজের দেশের সবচেয়ে খারাপ চিত্র তুলে ধরেছেন। আপনার মতো মানুষকে আমি কখনোই ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার স্বাধীনতা দিতে রাজি নই।’

ঘটনাটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সিনেটরের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘এই মন্তব্যগুলো অপরাধমূলক, জঘন্য এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এগুলোর বিচার হওয়া উচিত। সে লক্ষ্যেই আমরা রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির কাছে অভিযোগ দায়ের করছি।’

ফেডারেশন আরও বলেছে, ‘এ ধরনের মন্তব্য শুধু মন্তব্যকারীকেই নয়, যারা তা ছড়িয়ে দেয় তাদেরও লজ্জিত করে। ফ্রান্স জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই এই মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের দেশকেও অপমান করা হয়েছে।’

সিনেটরের মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে প্যারাগুয়ে সরকার। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সেলেস্তে আমারিয়ার মন্তব্যের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করছি। এগুলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানবিক মর্যাদার যে মূল্যবোধ আমাদের দেশ ধারণ করে, তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’

সরকার আরও স্পষ্ট করে জানায়, সিনেটরের বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মতামত, এটি প্যারাগুয়ে সরকার বা দেশের জনগণের অবস্থান নয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখে এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন এবং ফ্রান্সের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

এরপর ম্যাক্রোঁ নিজেও এক্সে লিখেছেন, ‘কিলিয়ান এমবাপের আরেকটি গোল এবার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে। আমার পূর্ণ সমর্থন তার প্রতি। যখন বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, তখন আমাদের মূল্যবোধ, মর্যাদা, সম্মান ও ভ্রাতৃত্ব তার জবাব দেয়।’

প্যারাগুয়ের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি বাসিলিও নুনিয়েসও বলেছেন, ‘বর্ণবাদ, বিদেশিবিদ্বেষ কিংবা সহিংসতায় উসকানি, এসব বার্তাকে আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এগুলো প্যারাগুয়ের মানুষের প্রকৃত মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ে দল সম্মান ও সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছে। রাজনীতি ও খেলাধুলাকে আলাদা রাখাই উচিত।’

এদিকে ফ্রান্সের সহকারী কোচ গি স্তেফান সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এমবাপের সঙ্গে এখনো কথা হয়নি। তবে তিনটি শব্দ বলব, এটি লজ্জাজনক, জঘন্য এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

গল্প পড়ে বলেছিলাম, এটা আপনি কী লিখলেন: নাজিফা তুষি

সিনেমা ও ওটিটির জন্য অভিনয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাজিফা তুষি। তার অভিনীত ও সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’। আগামী ঈদে আসছে ‘রইদ’ এবং বর্তমানে ‘সুরাইয়া’ সিনেমার শুটিং করছেন।

এরইমধ্যে জানা গেল ‘অ্যানি’ সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। এটি পরিচালনা করেছেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ।

প্রায় পাঁচ বছর বিরতির পর নতুন কাজ নিয়ে ফিরেছেন সাদ। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সিরিজকেন্দ্রিক উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’র ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ‘অ্যানি’। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তুষি। জার্মানির কোলনে আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠেয় উৎসবে মিনি সিরিজটির প্রদর্শনী হবে।

এই সিরিজে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তুষি বলেন, ‘আমি অ্যানির শুটিং করি ২০২৩ সালে। তখন হাওয়া ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। এই সময়টা আমার জন্য স্পেশাল। অ্যানি আমার বিশেষ পছন্দের কাজ। এটি নিয়ে খুব বেশি বলা যাবে না। কারণ, এখনো ট্রেলার প্রকাশ হয়নি। আমি এখানে নার্সের ভূমিকায় অভিনয় করেছি, যার পাঁচ ভাইবোন, বাবা-মা নেই। তখন একটা পেন্ডামিক ফেস করি। অন্যরকম একটি কনসেপ্টের গল্প।’

তুষি আরও বলেন, ‘অ্যানির চরিত্রটা করতে গিয়ে আমি অনেক স্ট্রং হয়েছি। আমার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে। পরিচালক সাদ আমাকে কাস্ট করেছেন। যখন তিনি আমাকে প্রথম পর্ব পড়তে দেন, পড়েই আমি থ হয়ে যাই। আমি বলেছিলাম, এটা আপনি কী লিখলেন! এতটা ভালো লাগছে। কাজটি আমার জীবনে অনেক প্রভাব ফেলেছে।’

ইরানে নিহত বেড়ে হাজার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৪৫ জনে পৌঁছেছে।

দেশটির বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুরের বরাতে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি বলছে, হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

হোসেইন কেরমানপুর বলেন, ‘হামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৯৪৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুই হাজার ১৮৪ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

গত শনিবার ইরানে যৌথ সামরিক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।

পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান।

 

টেন্ডার নিয়ে জামায়াতের ২ নেতাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার জমা দেওয়া নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল জমা দেওয়া শেষ দিন। একইসঙ্গে বিকেল ৩টায় জমা দেওয়া টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব তার নিজ এলাকার একটি হাটের টেন্ডার শিডিউল জমা দিতে উপজেলায় যান। সে সময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গিয়ে তার ওপর হামলা করেন। এর কিছুক্ষণ পর ইউএনও অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান। তখন ‌‘জামায়াতের সেক্রেটারি এখানে কেন’ বলেই তার ওপর হামলা করেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি ইউএনও সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম আমার এলাকার একটি সমস্যা-সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি যে টেন্ডার জমা দিয়েছেন, এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি জানতামও না। ইউএনও অফিসের কাজ শেষে রুম থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সবাই আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়ারুল হক সেন্টু ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘টেন্ডার জমা দেওয়ার সময় ইউএনওর কার্যালয়ে জামায়াত নেতার উপস্থিতি দেখে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সে সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আমরা দ্রুত সবাইকে শান্ত করি।’ ‌

এদিকে, এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পাবনা-৩ আসনে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আজগর। আজ বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান বলেন, জামায়াতের কর্মপরিষদ সভায় আলোচনা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করা হবে।

স্ক্রুর খাঁজ গুণে ক্যারিয়ার শুরু করে এখন অ্যাপলের সিইও, কে এই জন টার্নাস?

১৫ বছর ধরে অ্যাপলের নেতৃত্ব দিয়েছেন টিম কুক। এবার তার জায়গায় বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছেন এমন একজন, যাকে অ্যাপলের পণ্যপ্রেমীদের বাইরের কেউই খুব একটা চেনেন না। তিনি জন টার্নাস।

অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা টার্নাস মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নিয়েছেন।

প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে কুকের উত্তরসূরি হিসেবে তার নাম ঘোষণার পরই তাকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

কিন্তু টিম কুক অ্যাপল ছাড়ছেন না। তিনি প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নেতৃত্বের এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে হলো, যখন অ্যাপলকে নতুন আইফোনের উন্মোচন সামলাতে হচ্ছে, আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়েও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই নতুন আইফোন উন্মোচনের আয়োজন রয়েছে। শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত বিল্ট-ইন ভার্চুয়াল ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-র নতুন ও উন্নত ভার্সন চালুর পরিকল্পনাও করছে অ্যাপল। এটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির পেছনে থাকছে গুগলের জেমিনি।

টিম কুক তার শেষ কর্মদিবসে কর্মীদের উদ্দেশে লিখেছেন, জন টার্নাসের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে তিনি অত্যন্ত স্বস্তি বোধ করছেন। পৃথিবী বদলে দিতে পারে এমন পণ্য তৈরির জন্য কী প্রয়োজন, তা টার্নাসের মতো খুব কম মানুষই বোঝেন।

জন টার্নাসের বয়স এখন ৫১। তার জীবনের প্রায় অর্ধেক সময়ই অ্যাপলের সঙ্গে কেটেছে।

২০০১ সালে অ্যাপলের পণ্য নকশা দলে যোগ দেন তিনি। কলেজ শেষ করার পর সেটিই ছিল তার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরিটি ছিল ভার্চুয়াল রিয়েলিটি যন্ত্র তৈরি করা প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমসে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে টার্নাস অ্যাপলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। ২০২১ সালে তাকে হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়।

তিনি টিম কুকের চেয়ে বয়সে ১৫ বছরের ছোট। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যেসব শীর্ষ কর্মকর্তার নাম আগে আলোচনায় এসেছিল, তাদের মধ্যে টার্নাসই ছিলেন তুলনামূলকভাবে কম বয়সী।

অ্যাপলের নেতৃত্বের ইতিহাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি শতকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ছিলেন মাত্র দুজন, স্টিভ জবস ও টিম কুক। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, এমন কাউকেই অ্যাপল বেছে নিতে চেয়েছে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ ছিল।

টার্নাস এত দিন সরাসরি কুকের অধীনে কাজ করেছেন এবং তাকে নিজের পরামর্শদাতা হিসেবেও দেখেন। অ্যাপলের পুরো হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। আইফোন ও ম্যাকবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর কথা বিবেচনায় নিলে তার আগের দায়িত্বের গুরুত্ব বোঝা যায় সহজেই।

অ্যাপলে টার্নাসের শুরুর দিকের একটি কাজ ছিল অ্যাপল সিনেমা ডিসপ্লের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা।

২০২৪ সালে নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার প্রকৌশল বিভাগের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সেই সময়ের একটি ঘটনা বলেছিলেন তিনি।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অ্যাপলে যোগ দেওয়ার প্রথম বছরেই এক সরবরাহকারীর কারখানায় গিয়ে রাত পেরিয়ে স্ক্রুর মাথায় থাকা খাঁজ গুনছিলেন টার্নাস। সেখানে তিনি দেখতে পান, একটি যন্ত্রাংশে ৩৫টি খাঁজ রয়েছে, অথচ থাকার কথা ২৫টি।

সেই মুহূর্তে নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি আসলে কী করছেন এবং এটি স্বাভাবিক কি না। ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে অবশ্য এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর প্রতি তার মনোযোগই অ্যাপলের কাজের দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়।

টার্নাস তার সমাবর্তন বক্তব্যে বলেছিলেন, ঘরে থাকা অন্য সবার মতো নিজেকেও বুদ্ধিমান ভাবতে হবে, তবে কখনোই মনে করা যাবে না যে অন্যদের চেয়ে বেশি জানা আছে। তার মতে, এই মানসিকতা আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি প্রশ্ন করার মতো বিনয়ও তৈরি করে।

অ্যাপলের ভেতরে পদোন্নতির সঙ্গে সঙ্গে টার্নাসের দায়িত্বও বেড়েছে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের হার্ডওয়্যার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি এয়ারপডস, অ্যাপল ওয়াচ এবং ভিশন প্রোর মতো পণ্যের বাজারে আসার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অ্যাপলের ইন্টেল চিপ থেকে নিজেদের তৈরি অ্যাপল সিলিকন চিপে যাওয়ার বড় পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপলের তুলনামূলক কম দামের ল্যাপটপ ম্যাকবুক নিও তৈরির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। খরচ কমাতে এই ল্যাপটপে কিছু হার্ডওয়্যারগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে আইফোনে ব্যবহৃত চিপও ব্যবহার করা হয়েছে।

ম্যাকবুক নিও নিয়ে টমস গাইডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টার্নাস বলেন, অ্যাপল কখনো নিম্নমানের পণ্য বাজারে আনতে চায় না। নিও তৈরির জন্য তাই নতুন করে সবকিছু গড়ে তুলতে হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপল সিলিকন এবং ম্যাক, আইফোন ও আইপ্যাড তৈরির বহু বছরের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো হয়েছে।

স্টিভ জবসের সঙ্গে কাজের সময়কার একটি স্মৃতিও টার্নাসের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, জবসের কারুশিল্প এবং খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগের কথা মনে করেছিলেন টার্নাস। একবার একটি আসবাবের পেছনের দিকও সামনে অংশের মতোই সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছে কি না, তা জবস খেয়াল করেছিলেন। অথচ সেটি সাধারণত কারও দেখার কথা নয়।

টার্নাসের কাছে ঘটনাটি অ্যাপলের কাজের ধরনকে বোঝানোর একটি দারুণ উদাহরণ। ব্যবহারকারী কোনো অংশ দেখবেন কি না, সেটি বড় বিষয় নয়, পণ্য তৈরির প্রতিটি জায়গায় মান বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

এখন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সেই দর্শন ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটিও হবে টার্নাসের বড় পরীক্ষা।

নতুন দায়িত্বে টার্নাসকে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে অ্যাপলের পিছিয়ে পড়া অবস্থান কাটিয়ে ওঠা।

একইসঙ্গে ভিশন প্রোর পেছনে থাকা প্রযুক্তি নিয়ে অ্যাপল কী করবে, সেটিও তাকে ঠিক করতে হবে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের নতুন সিরি ব্যবস্থায় গুগলের জেমিনি ব্যবহার করার ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ কৌশল টার্নাসের নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

অ্যাপলের বাইরে টার্নাসের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতার দলের সদস্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের প্রকল্প হিসেবে তিনি এমন একটি খাবার খাওয়ানোর যন্ত্র তৈরি করেন, যা চার হাত-পা অচল ব্যক্তিরাও মাথা নেড়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকাশ্য রাজনৈতিক অনুদানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে টার্নাস ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর চাক শুমারকে ২ হাজার ৯০০ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।

এর বাইরে এত দিন তিনি অনেকটাই আড়ালে ছিলেন। এমনকি টেক ক্রাঞ্চের ভাষ্য, সম্প্রতি তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তবে সুযোগ এখন আর নেই।

এখন দেখার বিষয়, হার্ডওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে সাফল্যের পর বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি কতটা বড় পরিবর্তন আনতে পারেন।

ফ্লোরা টেলিকমের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে সুনাম, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির জন্য টেমেনোস টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার সরবরাহ ও বাস্তবায়নের কাজে ফ্লোরা টেলিকম চুক্তিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি আরও ১০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়। অগ্রণী ব্যাংকের ৯৭৯টি শাখায় টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সিস্টেম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পেয়ে আসছেন।

বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আধুনিক সফটওয়্যারকে নিয়মিত হালনাগাদ ও উন্নত সংস্করণে নেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে অগ্রণী ব্যাংকে ব্যবহৃত টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আপগ্রেডেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। প্রচলিত প্রকিউরমেন্ট বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২১ সালের মার্চ মাসে অগ্রণী ব্যাংক বিদ্যমান টি-২৪ সফটওয়্যারকে সর্বশেষ সংস্করণে আপগ্রেড করার জন্য ফ্লোরা টেলিকমের অনুকূলে কার্যাদেশ প্রদান করে। কার্যাদেশে বর্ণিত শর্তাবলি অনুসরণ করে একই বছরের এপ্রিল মাসে অগ্রণী ব্যাংক ও ফ্লোরা টেলিকমের মধ্যে যথাযথ নিয়মে চুক্তি সম্পাদিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একটি টেলিভিশন এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩১২ কোটি খরচও কাজ করে না সফটওয়্যার, ফ্লোরা টেলিকমকে ৯১ কোটি টাকার সুবিধা দেয় অগ্রণী ব্যাংক” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ফ্লোরা টেলিকম উক্ত প্রতিবেদনকে অত্যন্ত দুঃখজনক, বিভ্রান্তিকর, একপেশে, অতিরঞ্জিত এবং প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে।

প্রতিবেদনটিতে পর্যাপ্ত ও যাচাইযোগ্য তথ্য উপাত্ত কিংবা প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন না করেই দাবি করা হয়েছে যে, অগ্রণী ব্যাংক ফ্লোরা টেলিকমকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ায় ৯১ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, ফ্লোরা টেলিকমের ৪৪ শতাংশ কর অগ্রণী ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ফ্লোরা টেলিকম স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ওই সময় ডলারের মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে পরবর্তীতে প্রায় ১২৩ টাকায় উন্নীত হয়। অন্যদিকে ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় গ্রহণ করলেও টেমেনোসের প্রাপ্য অর্থ মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে টেমেনোসের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ পরিশোধে ফ্লোরা টেলিকমকে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বহন করতে হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক চ্যালেঞ্জের প্রভাব প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপরও পড়ে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও ফ্লোরা টেলিকম প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং চুক্তিবদ্ধ দায়িত্ব ও কার্যপরিধি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও কার্যাদেশের আওতায় নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিদ্যমান রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির আওতায় অগ্রণী ব্যাংককে টি-২৪ সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এ রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির মেয়াদ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে।

ফ্লোরা টেলিকম মনে করে, একটি চলমান প্রযুক্তি প্রকল্পের ব্যয়, কার্যক্রম, চুক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং সফটওয়্যারের কার্যকারিতা সম্পর্কে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে একতরফা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য প্রচার করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো বৃহৎ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি প্রকল্প সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রকল্পের চুক্তিগত ও কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লোরা টেলিকমের আরও বক্তব্য, প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও বক্তব্য পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও স্পষ্টীকরণ প্রকাশের আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফ্লোরা টেলিকম সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ ও তথ্য যাচাই করার জন্যও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড তার দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবসায়িক সুনাম, পেশাদারিত্ব ও সততার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক, ব্যবসায়িক অংশীদার, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আমাদের বিনীত আহ্বান, যাচাইবিহীন, একপেশে ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ বা প্রচারণার কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করুন এবং ফ্লোরা টেলিকমের প্রতি আপনাদের দীর্ঘদিনের আস্থা ও সমর্থন অব্যাহত রাখুন।

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

‘তৌহিদী জনতা’ আসলে কারা?

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একটি শব্দ বেশ দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠেছে—‘তৌহিদী জনতা’। ধর্মীয় বিশ্বাসের ভাষায় শব্দটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে খুবই সরল। কিন্তু গত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই নামের ব্যানারে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো একটু খেয়াল করলে একটি প্রশ্ন সামনে আসে। এই ‘তৌহিদী জনতা’ আসলে কারা?

প্রথম সমস্যাটিই হলো তাদের পরিচয়। ‘তৌহিদী জনতা’ কোনো একক সংগঠনের নাম নয়। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে কখনো স্থানীয় মুসল্লি, কখনো মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, কখনো ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী এবং কখনো কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন মানুষকেও এই পরিচয়ে দেখা গেছে।

দিনাজপুরের হাকিমপুরে নারী ফুটবল ম্যাচ বন্ধের দাবির ঘটনাটিই ধরা যাক। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের লোকজনের পাশাপাশি স্থানীয় মুসল্লিরাও ছিলেন। একই ঘটনায় খেলাফত মজলিসের স্থানীয় এক দায়িত্বশীলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথাও সংবাদে এসেছে।

তাই ‘তৌহিদী জনতা’কে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাঠামো হিসেবে দেখা কঠিন। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি এমন একটি পরিচয়, যার মাধ্যমে কোনো ধর্মীয়, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে দ্রুত মানুষকে সংগঠিত করা হচ্ছে।

এই পরিচয়ের বিস্তার বোঝার জন্য গত দুই বছরের ঘটনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনতার হস্তক্ষেপ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি, মাজার ঘিরে সংঘাত, নারী ফুটবল ম্যাচ বন্ধের দাবি, বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসের আয়োজন নিয়ে আপত্তি, লালন স্মরণোৎসব বন্ধের চেষ্টা, মাজারে হামলা, বইমেলায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে চাপ, নাট্য আয়োজন বন্ধের দাবি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

এসব ঘটনার মধ্যে একটি মিল দেখা যায়।

প্রথমে কোনো আয়োজন বা কর্মকাণ্ডকে ধর্মীয় অনুভূতির পরিপন্থী, অনৈতিক বা ইসলামবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর স্থানীয়ভাবে মানুষ সংগঠিত হয়। এরপর শুরু হয় বিক্ষোভ, অবস্থান এবং সহিংসতা।

দিনাজপুরে নারী ফুটবল ম্যাচ ঘিরে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভালোবাসা দিবসে ফুল বিক্রির দোকানে হামলা এবং পরে আয়োজন বাতিলের ঘটনাও সংবাদে এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নাটক মঞ্চায়ন নিয়েও ‘তৌহিদী জনতা’র আপত্তির খবর প্রকাশিত হয়।

তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়গুলোর একটি হলো মাজার ও সুফি সংস্কৃতিকে ঘিরে সংঘটিত হামলা।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের নুরাল হক ওরফে নুরাল পাগলাকে ঘিরে ঘটনাটি ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। মৃত্যুর পর কবর থেকে তার মরদেহ তুলে নেওয়া হয়। পরে সেই মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কবর থেকে মরদেহ তোলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

মাজারে হামলার সংখ্যাও কম নয়।

পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্টের পর ৪০টি মাজারে ৪৪ বার হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ২৩ জনকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অন্যদিকে বিশ্ব সুফি সংস্থা আরও বড় সংখ্যা দিয়ে ৮০টি মাজারে হামলার কথা জানিয়েছিল।

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে ১৭ মাসে ৯৭টি মাজারে হামলার তথ্য উঠে আসে। সেখানে ৫৯টি হামলার কারণ হিসেবে ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ এবং ১৬টির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা বলা হয়েছে।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। এসব ঘটনা একই রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উৎস থেকে সৃষ্টি হয়নি। কিছু ঘটনা ধর্মীয় মতবিরোধের কারণে ঘটেছে, কিছু স্থানীয় বিরোধের কারণে এবং কিছু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে ‘তৌহিদী জনতা’ নামটি কখনো ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ, কখনো স্থানীয় ক্ষোভ সংগঠিত করার একটি পরিচয় এবং কখনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মানুষ জড়ো করার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ নামে একটি পক্ষ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা মসজিদে সভা করে ২৮ আগস্টের আয়োজন বাতিলের দাবি তোলে। শেষ পর্যন্ত ‘আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন না করার’ শর্তে এবারের আয়োজন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, একটি স্থানীয় সামাজিক আয়োজন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কার? মানুষ কোনো আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানাতে পারে, প্রতিবাদ করতে পারে, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে পারে। কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কোনো স্বঘোষিত জনতার নয়।

আরও বড় সমস্যা তৈরি হয়, যখন অভিযোগ আর প্রমাণকে এক করে দেখা হয়।

ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড তার ভয়াবহ উদাহরণ। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যা করা হয়, মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

এখানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি মৌলিক বিষয় মনে রাখা দরকার। বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। একইসঙ্গে নাগরিকের সমান অধিকার ও আইনের শাসনের ভিত্তিও নিশ্চিত করে। কোনো ব্যক্তির বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে তার বিচার রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে হতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে, প্রমাণ দেখতে হবে, তারপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু জনতা বিচার করবে না।

এই সীমারেখা ভেঙে গেলে ক্ষতি শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা মাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় স্বাধীনতাও নিরাপদ থাকবে না। কারণ, আজ যে জনতা অন্যের আয়োজন বন্ধ করছে, কাল তার নিজের কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আয়োজনও অন্য কোনো সংগঠিত জনতার আপত্তির মুখে পড়তে পারে। একবার যদি মবের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াকে স্বাভাবিক করে ফেলা হয়, তাহলে শক্তিশালী পক্ষ দুর্বল পক্ষের ওপর নিজের নৈতিকতা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়।

এই কারণেই ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ‘তৌহিদী জনতা’র নামে হামলা ও নিপীড়নকারীদের সতর্ক করেছিলেন। পরে ওই শব্দ ব্যবহারের জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশও করেন। একই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকেও মবের মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়।

২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তর অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর নেতারা ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের ‘তৌহিদী জনতা’ না বলে দুর্বৃত্ত হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অর্থাৎ ‘তৌহিদী জনতা’ মানেই উগ্রবাদী নয়। আবার ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে হওয়া প্রতিটি কাজও দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করে না। এই পার্থক্য না করলে দুটি বিপদ তৈরি হবে। একদিকে শান্তিপূর্ণ ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্যায়ভাবে সন্দেহের চোখে পড়বেন। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে যারা ভয় দেখানো, হামলা, ভাঙচুর বা সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারা নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশের সমাজ বহু বৈচিত্র্যের। এখানে বাউল গান থাকবে, লালনচর্চা থাকবে, মাজার ও সুফি সংস্কৃতিও থাকবে। এখানে হিন্দু থাকবে, মুসলমান থাকবে, অন্য ধর্মের মানুষও থাকবে। পাহাড় থেকে সমতল, সব জায়গার মানুষই নিজের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বাঁচবে। এই সহাবস্থানই বাংলাদেশের শক্তি।

আর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ হিসেবে এই সহাবস্থান রক্ষার সবচেয়ে বড় দায়িত্বও মুসলমানদেরই নিতে হবে। ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অন্যের অধিকারকেও সম্মান করতে হবে।

ধর্ম থাকবে তার মর্যাদায়, সংস্কৃতি থাকবে তার স্বাধীনতায়, মতপ্রকাশ থাকবে আইনের সীমার মধ্যে। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে। কিন্তু বিচার করবে রাষ্ট্র। জনতা নয়।
 

সাজ্জাদ সাব্বির: কেন্দ্রীয় সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

লক্ষণ খুব ভালো নয়: জামায়াত আমির

চট্টগ্রামে নগরীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

কঠিন শাস্তি হবে কি না তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির লিখেছেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীতে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাণ্ডব চালানো দুর্বৃত্তদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে তা প্রকাশ করুন। তাদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনুন। জানি না, কঠিন শাস্তির বিধান হবে কি না। লক্ষণ খুব ভালো নয়।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকেই এখন নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ সরকার কোনো কার্যকর নিরাপত্তা দিতে পারছে না। একের পর এক অভিনব ঘটনা ঘটেই চলছে।’

‘এদের খুঁটির জোর কোথায়?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।