29.4 C
Dhaka
Home Blog

সাফের ফাইনালে হতাশ করল বাংলাদেশ, চ্যাম্পিয়ন ভারত

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলল বাংলাদেশের মেয়েরা। বিবর্ণ ফুটবল প্রদর্শনীতে স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে লড়াই জমাতে পারেননি ঋতুপর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্ডারা। ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হারিয়ে সাফে রেকর্ড ৬ষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। 

গোয়ার মারগাঁওয়ে সাফ উইমেন চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ভারত। প্রথমার্ধে ১-১ সমতায় থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের জালে আরও দুই গোল দেয় স্বাগতিকরা।

ম্যাচের ৪৩ মিনিটে পিয়ারি জাজার গোলে এগিয়ে যায় ভারত। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের খেলায় ফেরান ঋতুপর্ণা। তবে বিরতির পর সানফিদা ননগ্রুম ভারতকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৮১ মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন লিন্ডা কম।

ঢিমেতালে শুরু হওয়া ম্যাচে ১২ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার ক্রস শামসুন্নাহার ধরতে না পারায় লাভ হয়নি। দুই মিনিট পর তুলনামূলক সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন তহুরা খাতুন।

১৬ মিনিটে ভারতের আস্তাম ওরাওঁ মারেন বারের ওপর দিয়ে। ৩০ মিনিটে তিনি আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন হেড লক্ষ্যে রাখতে না পেরে। ৩৮ মিনিটে মিলি আক্তার দারুণ দক্ষতায় বাঁচান বাংলাদেশকে।

৪২ মিনিটে গোল পেয়ে যায় ভারত। বাঁ দিক থেকে আক্রমণে গিয়ে বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান পিয়ারি জাজা। বাংলাদেশের একজন ডিফেন্ডারের ট্যাকলের মাঝে বল উড়িয়ে দেন তিনি। মিলি সামান্য এগিয়ে থাকায় সেই বল আটকাতে পারেননি, অসহায়ভাবে দেখেন গোল।

অবশ্য ম্যাচে ফিরতে দেরি করেনি গত দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। প্রতি-আক্রমণ থেকে তহুরা বল নিয়ে ছোটেন, তিনি বাঁ দিকে ফাঁকায় থাকা ঋতুপর্ণাকে দিলে বাংলাদেশের সেরা তারকা কোনো ভুল করেননি। দারুণ প্লেসিং শটে দলকে সমতায় ফিরিয়ে বিরতিতে যান।

বিরতির পর পরই এগিয়ে যায় ভারত। ডান প্রান্ত থেকে পাওয়া ক্রস থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান সানফিদা। পরের কয়েক মিনিটে বাংলাদেশের বক্সে একের পর এক হানা দিতে থাকে ভারত। কয়েকটি সহজ সুযোগও হাতছাড়া হয়ে যায়।

৮২ মিনিটে লিন্ডা কমকে আর আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ। তার গোলে অবশ্য বাজে ডিফেন্ডিংয়ের দায় আছে। আফঈদা খন্দকারের ভুলে বল পেয়ে মিলি আক্তারকে পরাস্ত করেন লিন্ডা। এরপর আর ম্যাচে ফেরার তেমন সুযোগ ছিল না বাংলাদেশের।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সর্বনিম্নে, কী বার্তা যাচ্ছে অর্থনীতিতে?

চলতি বছরের মার্চে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এ খাতের জন্য রেকর্ড সর্বনিম্ন। এ বছরের জাতীয় নির্বাচনের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন সরকার গঠিত হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই নির্বাচনের পর বেসরকারি বিনিয়োগের খরা কেটে যাবে।

অথচ তখনই বেসরকারি খাতে ঋণের এই নিম্নমুখী প্রবণতার তথ্য সামনে এলো। আর এই তথ্য যেন সেই প্রত্যাশাকে ম্লান করে দিয়েছে। বরং, এখন ভাবার সময় হয়েছে, সমস্যাটা আসলে কোথায়?

এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর হলো—ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ। এই যুদ্ধের কারণে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ (হরমুজ প্রণালী) বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে এই যুদ্ধের প্রভাবে তেল, গ্যাস, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বিপাকে পড়েন।

অনেক বিনিয়োগকারী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি ও আমদানি-নির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা চিন্তা করে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। বিশেষত যারা নির্বাচনের পর নতুন করে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘এমন অস্থিতিশীল পরিবেশে কেউই বিনিয়োগ করতে চাই না।’

‘করোনা মহামারির পর থেকে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপের কারণে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে আছেন, আর বেসরকারি খাতে ঋণের এই রেকর্ড নিম্ন প্রবৃদ্ধি মূলত তারই প্রতিফলন। গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগকারীরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, তার মধ্যে আছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চরম জ্বালানি সংকট, ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক ঋণের ক্রমবর্ধমান সুদের হার অন্যতম,’ বলেন তিনি।

তাসকিন আহমেদ আরও বলেন, চলমান যুদ্ধ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবই হচ্ছে ঋণের এই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি।

ব্যাংক এশিয়া পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন বলেন, অনেক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, স্থানীয় মুদ্রার (টাকা) আরও অবমূল্যায়ন হতে পারে। কারণ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের নিজস্ব মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গত সাত-আট বছরে কিছু বড় ঋণগ্রহীতাকে অতিরিক্ত ঋণ দেওয়া দিয়েছিল। ফলে বাজার এখন নিজেই নিজেকে সংশোধন (কারেকশন) করছে এবং ঋণের চাহিদাও কমে গেছে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়া বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের জন্য মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।

তিনি জানান, এর একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো সুদের হারের ঊর্ধ্বগতি, যা কেবল নতুন ঋণের জন্যই নয়, বরং বিদ্যমান ঋণের ক্ষেত্রেও ঋণের ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলোও এখন বাণিজ্যিক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছে। বিপরীতে অনেক ব্যাংক নিরাপদ মুনাফার আশায় সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করছে।

মীর নাসির হোসেনের মতে, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির এই সর্বশেষ তথ্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়।

‘এটি সত্যিই অত্যন্ত উদ্বেগজনক,’ বলেন তিনি।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তার মতে, বেসরকারি খাতের এই দুর্বল ঋণ প্রবৃদ্ধি মূলত বেসরকারি বিনিয়োগ সংকটের একটি বড় সতর্কবার্তা।

তিনি বলেন, ‘এটি বেশ কিছু পরিস্থিতিকে সামনে আনছে। যেমন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী নয়, ব্যাংকগুলো ঋণ ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে অথবা অনিচ্ছা দেখাচ্ছে, ঋণ নেওয়ার খরচ এখনো চড়া, সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা আর্থিক খাতকে সংকুচিত করছে। এছাড়া জ্বালানি, মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও মুদ্রা বিনিময় হার নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলোর ওপর ক্রমাগত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

তার মতে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি, প্রভিশন রাখার চাপ, মূলধন ঘাটতি, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা ও তারল্য সংকট ইত্যাদি কারণে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে, ঋণগ্রহীতাদের মান বা যোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

‘প্রকৃতপক্ষে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে উঠছে। তারা নতুন বিনিয়োগে সহায়তা করার চেয়ে নিজেদের ব্যালেন্স শিট (আর্থিক হিসাবের ভারসাম্য) সুরক্ষাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে,’ বলেন তিনি।

আব্দুর রাজ্জাকও বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশ অস্বাভাবিক। কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে ঋণের চাহিদার ঘাটতি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ জোগানের ক্ষেত্রে অনীহা, উভয় সংকটেরই মুখোমুখি হচ্ছে।

‘এই দ্বিমুখী সংকটের কারণে অর্থনীতি ‘নিম্ন-ভারসাম্যের ফাঁদে’ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আস্থা কম থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করছে না, ঝুঁকি বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে না, আবার বিনিয়োগ ও আমদানি সংকুচিত হওয়ায় উৎপাদনও স্থবির হয়ে আছে। আর এই ধীরগতির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন ঋণের যৌক্তিকতাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। এই চক্রটি ভাঙতে হলে ঋণ লক্ষ্যমাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তনের চেয়েও বড় ধরনের পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে,’ মন্তব্য করেন তিনি।

অবশ্য, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এপ্রিল-মে থেকে ঋণের চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করবে।

‘মনে হচ্ছে এই মন্দা দশা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, এখন থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে,’ তিনি বলেন।

তবে আব্দুর রাজ্জাক মনে করেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ক্ষতিকর প্রভাবগুলো যদি সরকার স্বীকার না করে, তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির পুনরুদ্ধার কঠিনই থেকে যাবে।

‘সরকারি ঋণ যখন ব্যাংকগুলোকে আরও নিরাপদ এবং সহজ আয়ের সুযোগ করে দেয়, তখন বেসরকারি খাত বা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি প্রান্তিক বা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তাই ঋণের প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে শুধু কম মূল্যস্ফীতি  ও স্থিতিশীল মুদ্রা বিনিময় হার যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন ব্যাংকিং খাতের নির্ভরযোগ্য সংস্কার, সুশৃঙ্খল সরকারি ঋণ ব্যবস্থা, আস্থার উন্নয়ন। এছাড়া একটি স্পষ্ট নীতিগত বার্তা দরকার যে, উৎপাদনশীল বেসরকারি বিনিয়োগকেই আবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে,’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো।

চলমান আইনি সংস্কারগুলো বিনিয়োগ পরিবেশের আরও উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ উদ্বেগ জানান।

জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ইইউ মিশনের প্রধান ইভার্স ইয়াবসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা, ডেপুটি চিফ অবজারভার ইন্টা লেইস, লিগ্যাল অ্যানালিস্ট ইরিনি মারিয়া গোওনারি ও রায়ান ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে ইভার্স ইয়াবস বিরোধীদলীয় নেতার সার্বিক ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। 

এ সময় বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি প্রতিবেদন শফিকুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বৈঠকে সফররত ইইউ প্রতিনিধি দল ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও জানতে চায়।

জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় নির্বাচন, গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবে একমত হলেও পরে সেগুলোর বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে।

এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সহিংসতা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা এবং একাধিক স্থানে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

অন্যদিকে, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সদস্যরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন তারা।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং তার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দলের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইভার্স ইয়াবস বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সবচেয়ে ভালো উপায় অনুসরণ করে আমরা আমাদের কাজটা করেছি এবং ভোটের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে—এমন কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং আমরা দেখিনি। সুতরাং এ রকম কিছু সেখানে ছিল না।’

আশা ভোসলের স্মৃতিচারণায় সাবিনা ইয়াসমিন, ফাহমিদা নবী ও কনকচাঁপা

ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন।

আজ রোববার দুপুরে ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ছেলে আনন্দ ভোসলে।

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোসলে। প্রায় ৮ দশক ধরে সংগীত জগতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। এ সময়ে তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন।

১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড হয় তার। শুরুতে মূলত নাচের গান বা হালকা ধরনের গানের জন্য পরিচিতি পেলেও, পরে গজল এবং ধ্রুপদী সংগীতেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।

ক্যারিয়ারে বহু সম্মাননা পেয়েছেন আশা ভোসলে। এর মধ্যে আছে—১৯৮১ সালে প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয়বার জাতীয় পুরস্কার, ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ও ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ। 

২০২২ সালে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রের শেষ গানটি রেকর্ড করেন। ৯১ বছর বয়সে ‘সাইয়াঁ বিনা’ নামে একটি একক গান প্রকাশ করে প্রয়াত স্বামী আর ডি বর্মনকে উৎসর্গ করেন।

তার কণ্ঠে উল্লেখযোগ্য হিন্দি গানের মধ্যে রয়েছে— ‘ভোমরা বাড়ে নাদান’, ‘ঝুমকা গিরা রে’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দাম মারো দাম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘রঙ্গিলা রে’, ‘রাধা ক্যায়সে না জালে’, ‘কাহিঁ আগ লাগে’, ‘রোজ রোজ আঁখো তলে’ প্রভৃতি। 

আশা ভোসলের কণ্ঠে বাংলা গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ‘আকাশে সূর্য আছে যতদিন’, ‘আকাশে আজ রঙের খেলা’, ‘চোখে চোখে কথা বলো’, ‘খুব চেনা চেনা মুখখানি তোমার’, ‘কিনে দে রেশমি চুড়ি’, ‘মহুয়ায় জমেছে আজ’, ‘যেতে দাও আমায় ডেকো না’, ‘আমি খাতার পাতায় চেয়েছিলাম’, ‘কোথা কোথা খুঁজেছি তোমায়’, ‘একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও’ ইত্যাদি।

গুণী এ শিল্পীর প্রয়াণে শোকার্ত হয়েছেন বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের তারকারাও। তারা কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে। 

 

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলের গান নিয়ে কথা বলার মতো কোনো শব্দ আমার কাছে নেই। তার কণ্ঠের গান মুগ্ধ হয়ে শুধু শুনেছি, আজীবন শুনে যাব। 

আমার সঙ্গে আশাজির প্রথম দেখা হয়েছিল ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমার গানের রেকর্ডিংয়ে যখন মুম্বাই গিয়েছিলাম, সেই সময়। আর ডি বর্মনের সুরে তার স্টুডিওতেই দেখা হয়েছিল এই কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে। খুব অমায়িক একজন মানুষ। খুব বেশি কথা হয়নি। তবে এতবড় শিল্পী হলেও কোনো অহংকার দেখিনি তার মধ্যে। বড় শিল্পীরা বুঝি এমনই হয়। আর ডি বর্মনের কাছে ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমার গানগুলোর অনেক প্রশংসা করেছিলেন আশাজি। 

তারপর বাংলাদেশে যখন এসেছিলেন তখন ইন্টারকন্টিনেন্টালে ছিলেন। আমার কণ্ঠে অনেক গান শুনেছিলেন। এটা আমার জন্য পরম প্রাপ্তি। এমন সিগনেচার ভয়েজ খুব বেশি আসে না। খুব মন খারাপ হলো তার মৃত্যুর খবর শুনে। তার গান নিয়ে মন্তব্য করার সাহস আমার সত্যি নেই। 

আশা ভোসলে নেই শুনে মনটা অনেক খারাপ লাগছে। কী বলব জানি না, কিন্তু আর একজন আশা আর জন্মাবেন না, সেটা জানি। একজন আশা ভোসলে আর তার সংগীতের সৌন্দর্য, জ্ঞান ও জাদুকরী কণ্ঠ, ছোট থেকেই আমার জীবনে প্রভাব ফেলেছিল। তাকে অনুসরণ করতাম। 

যে কারণে তার ঢং, স্পষ্টতা, মায়া, রোমান্স—পুরোটাই ছিল যা চাই, ঠিক তার মতোই। এই শিল্পীর কখনোই মৃত্যু হবে না। তিনি গানে গানে বেঁচে থাকবেন শ্রোতার মনে, আজীবন। যা রেখে গেছেন, তা কখনোই শেষ হওয়ার নয়।

আশা ভোসলের মৃত্যুর খবর শুনে মর্মাহত, শব্দটা এখানে সঠিক হচ্ছে না। আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি। যদিও তিনি এই মর্ত্যের, এই পৃথিবীর মানুষ। একবার জন্মালে মারা যেতেই হবে, জানি। কিন্তু তাদের সুরের মৃত্যু কোনোদিন হবে না। আগামী একশ বছরে তাদের মতো মানে একজন লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোসলের মতো কণ্ঠশিল্পী আর আসবে না, আশাও করতে পারি না।

তিনি যে দৈহিকভাবে বেঁচে ছিলেন তখন আমার মনে হতো এই একই পৃথিবীর কোনো এক জায়গায় আমিও বেঁচে আছি। আরেক প্রান্তে তিনি আছেন। আমি অনুভব করতাম কোনো না কোনোভাবে আশা ভোসলের নিশ্বাস আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। 

আশা ভোসলের কণ্ঠ ছিল অনবদ্য। তার কণ্ঠের সঙ্গে অন্য কারো কণ্ঠের কোনো ধরনের মিল নেই। মধু যেমন পানির গ্লাসে ঢাললে আলাদা করা যায়। মুক্তার দানা যেমন সুন্দর, সবসময় সমুজ্জ্বল থাকে। তেমনি তার কণ্ঠও একদম আলাদা। 

আজীবন তার কণ্ঠের গান শুনে যাব। এই ধরনের খবর আসলে নেওয়া যায় না। আমি খুব মর্মাহত হয়েছি তার মত্যুর খবরে। 

ইরানে হামলায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে কী প্রভাব পড়বে

ইসরায়েলের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই চিত্র। 

ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান নিজেই প্রতিদিন প্রায় ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন (৩৩ লাখ) ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৩ শতাংশ এবং ওপেক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে চতুর্থ শীর্ষ উৎপাদনকারী। এর সঙ্গে দেশটির কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে এর প্রভাব আরও অনেক বেশি।

হরমুজ প্রণালির এক পাশে অবস্থান ইরানের। সৌদি আরব ও ইরাকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ দিয়েই নৌপথে পরিবাহিত হয়।

সাপ্তাহিক ছুটির কারণে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকার মধ্যেই আজ শনিবার ইরানের ওপর হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানও। তবে এসব হামলায় কোনো জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে কি না, প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরবরাহ ১ শতাংশ কমলে তেলের দাম সাধারণত প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

এই সংঘাত লম্বা সময় ধরে চলমান থাকলে কিছু বিষয়ের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইরানে উৎপাদিত প্রতিদিনের প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি হয় চীনে। দেশটির সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্রগুলো হলো আহভাজ, মারুন এবং পশ্চিম কারুন ক্লাস্টার। সবগুলোর অবস্থান খুজেস্তান প্রদেশে।

ইরানের প্রধান শোধনাগার আবাদানে নির্মিত হয় ১৯১২ সালে। এই শোধনাগারটি প্রতিদিন ৫ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বন্দর আব্বাস ও পারস্য উপসাগর স্টার রিফাইনারি। এখানে অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট (অত্যন্ত হালকা তেল) প্রক্রিয়াজাত করা হয়। রাজধানী তেহরানেও একটি শোধনাগার রয়েছে।

বিদেশে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে পারস্য উপসাগরের উত্তরে খার্গ দ্বীপ টার্মিনাল ইরানের প্রধান কৌশলগত কেন্দ্র। ইরানের আধা-সরকারি মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার সেখানে একটি বিস্ফোরণ হয়েছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি এবং তেল টার্মিনালের বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করেনি।

খার্গ দ্বীপে বহু লোডিং বার্থ, জেটি, দূরবর্তী মুরিং পয়েন্ট এবং কোটি কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখান থেকে প্রতিদিন ২ মিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রই ইরানের তেল কেনা থেকে নিজেদের বিরত রেখেছে। তবে মূল্যে বড় অঙ্কের ছাড় পেলে চীনের বেসরকারি শোধনাগারগুলো এখনো ইরানের তেল কেনে। আন্তর্জাতিক পরিবহনের জন্য পুরোনো ট্যাংকার বহরের ওপর নির্ভর করে ইরান। অধিকাংশ সময় এ বহরগুলো ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে খার্গ দ্বীপে তাড়াহুড়ো করে ট্যাংকারে তেল ভরতে দেখা গেছে। সম্ভবত সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যত বেশি সম্ভব তেল রপ্তানির উদ্দেশ্যে ইরান এ উদ্যোগ নেয় বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছরের জুনেও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

খার্গ দ্বীপে কোনো হামলা হলে তা ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হবে।

ইরানের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলো পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত। আসালুইয়েহ ও বন্দর আব্বাসে গ্যাস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত, পরিবহন ও সরবরাহ করা হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন, তাপ সরবরাহ, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের জন্য।

এ অঞ্চলটি ইরানের কনডেনসেট রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। গত জুনের যুদ্ধে একটি গ্যাস প্ল্যান্টে হামলায় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হলেও তেলের দামে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েনি। কারণ ওই সময় কোনো রপ্তানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পহেলা ফেব্রুয়ারি সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে। তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

এটি এমন পর্যায়ে চরম পদক্ষেপ, যা দেশটি কখনো নেয়নি। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরের অধিকাংশ তেল এবং ডিজেল ও জেট জ্বালানির মতো পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানির প্রধান পথ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারও এই পথের ওপর নির্ভরশীল।

কেবল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। তবুও প্রণালি বন্ধ হলে রপ্তানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে। ফলস্বরূপ বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাবে।

কিছু বড় তেল কোম্পানি ও শীর্ষস্থানীয় ট্রেডিং হাউজ এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন স্থগিত করেছে।

আজ অন্তত চারটি বাণিজ্যিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

একটি শীর্ষ ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বলেন, ‘আমাদের জাহাজগুলো কয়েকদিনের জন্য চলাচল করবে না।’ স্থির থাকবে।

ইইউর সামুদ্রিক মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডস’ জাহাজ চলাচল খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছে, ‘ইরানে হামলার পর জাহাজে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

অ্যাসপাইডস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে ইসরায়েলি ও মার্কিন জাহাজের ওপর নতুন হামলার হুমকি দিয়েছে এবং সমুদ্রে প্রাণ রক্ষায় সহায়তা করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।’

এর আগে চলতি মাসে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ব্লুমবার্গের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের তেল রপ্তানি চলতি প্রথম ২৪ দিনে গড়ে প্রতিদিন ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন (৭৩ লাখ) ব্যারেলে পৌঁছায়, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলিয়ে রপ্তানি প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল বেড়েছে।

অতীতে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে। ২০১৯ সালে সৌদি আরব তাদের আবকাইক তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৭ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পক্ষে দীর্ঘ সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা সম্ভব নয়, তাই জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার মতো সীমিত পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

গত বছরের যুদ্ধে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার জাহাজ ইরান উপকূলের কাছে জিপিএস জ্যামিংয়ের শিকার হয়েছিল। যার ফলে একটি ট্যাংকার দুর্ঘটনার শিকার হয়। এছাড়া সমুদ্র মাইন ব্যবহারের হুমকিও আগে দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তেহরানকে চীনের প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় নিতে হবে। চীন উপসাগরীয় তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। পাশাপাশি জাতিসংঘে ভেটো দিয়ে ইরানকে সমর্থনও দিয়েছে।

গত জুনের যুদ্ধে তেলের দাম তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল। লন্ডনে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের ওপরে ওঠে। তবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় এই দাম দ্রুত কমে যায়।

এরপর অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা বাজারে প্রাধান্য পায় এবং ২০২৫ সালে তেলের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যায়।

তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর দাম ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

সরাইলে রুমিন ফারহানাকে শ্রদ্ধা জানাতে বাধা, রাতে সমর্থকদের মহাসড়ক অবরোধ

ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অলি আহাদের মেয়ে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গেলে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা তার আনা পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেললে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এর প্রতিবাদে রুমিন ফারহানার সমর্থকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে কয়েকশ সমর্থক নিয়ে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য অপেক্ষা করার সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে কিছু নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে শহীদ মিনারের বেদীর ওপর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ সময় রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলা হয়। 

বিশৃঙ্খলার মধ্যে অনেককেই জুতা পায়ে বেদীতে উঠতে দেখা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই পুলিশের নিরাপত্তায় এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানার সমর্থকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে রাত দেড়টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে আমারই আগে ফুল দেওয়ার কথা।

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে যদি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তাই যারা বিএনপির পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতা করে তাদের বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে বিএনপির জন্য যেমন ক্ষতিকর হবে, তেমনি সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’ 

সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ব্যাপারে তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, ‘শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদকের পদ হারান। ‘হাঁস’ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। 

হোয়াটসঅ্যাপ প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন ভারতের কুনাল শাহ

হোয়াটসঅ্যাপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভারতের ফিনটেক উদ্যোক্তা কুনাল শাহ। 

হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা সোমবার রাতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। 

বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের ভরসার অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ। এই সুবিশাল গ্রাহকগোষ্ঠীকে উন্নত সেবা দিয়ে ‘মনেটাইজ’ করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতীয় স্টার্টআপ বিশেষজ্ঞ কুনালকে নিয়োগ দিয়েছে মেটা—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। 

বিবৃতিতে মেটা উল্লেখ করে, কুনাল শাহকে নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি তার নিজের হাতে গড়ে তোলা ভোক্তা পর্যায়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেড-এ ৯০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তারা। 

মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ‘কুনাল ক্রেডকে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন।’

‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসেজিং অ্যাপের প্রধান হিসেবে যে ধরনের উদ্যমী মানসিকতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, সেটা তার (কুনালের) মধ্যে আছে’, যোগ করেন জাকারবার্গ। 

ভারতের ফিনটেক খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে কুনাল শাহ সুপরিচিত। তিনি ২০১৮ সালে ক্রেড-এর গোড়াপত্তন করেন। 

এর আগে তিনি নিজের হাতে গড়ে তোলা একটি পেমেন্ট স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ই-কমার্স খাতের বড় প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপডিলের কাছে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন। 

তিনি একইসঙ্গে প্রযুক্তি খাতের একজন বড় বিনিয়োগকারী হিসেবেও পরিচিত। 

তবে গত কয়েক বছরে ক্রেডের দিকেই বেশি নজর দিয়েছেন তিনি। 

সময়মতো ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করার জন্য গ্রাহকদের পুরষ্কার দেওয়ার অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। 

এরপর দ্রুত কাজের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে ক্রেড সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিমা ও ঋণ সেবা দিতে শুরু করে। গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৭০ লাখ হয়। 

তার এই অভিজ্ঞতা হোয়াটসঅ্যাপকে লাভজনক করে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন। 

বর্তমানে বিজ্ঞাপন ছাড়া মেটার রাজস্ব আয়ের উৎস নেই বললেই চলে। এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করবেন কুনাল শাহ। 

হোয়াটসঅ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার ভারতেই। 
২০২১ সালে প্রকাশিত সরকারী হিসাব মতে, দেশটিতে হোয়াটসঅ্যাপের গ্রাহকের সংখ্যা ৫০ কোটি। 

কিন্তু বিশ্লেষকদের মত, এত গ্রাহক থাকা সত্ত্বেও জনপ্রিয় পেমেন্ট সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে মেটার এই প্ল্যাটফর্ম। 

মে মাসে ভারতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে গ্রাহক সেবা দেওয়ার নতুন ফিচার নিয়ে আসে হোয়াটসঅ্যাপ। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয় ভাবে বুকিং দেওয়াসহ অন্যান্য সেবা দেওয়া সম্ভব। 

কুনাল শাহ মত দেন, হোয়াটসঅ্যাপের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। 

গত বেশ কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মকর্তারা উচ্চপদে নিয়োগ পাচ্ছেন। এক অর্থে ‘সিলিকন ভ্যালির’ দখল এখন ভারতীয়দের হাতেই। 

সুন্দর পিচাই, সত্য নাদেলা, অরবিন্দ কৃষ্ণ, নিকেশ অরোরা, সাজিথ পাই—এসব বড় বড় নামের তালিকায় এবার যোগ দিলেন কুনাল শাহ।
 

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে তার মূল দায়িত্ব প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো। তবে সুযোগ পেলেই গোল করার ক্ষমতাও যে তার আছে, সেটি বহুবার প্রমাণ করেছেন তপু বর্মণ। বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ডিফেন্ডার এবারও দেখালেন নিজের সেই দক্ষতা। তার জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার স্তাদিও অলিম্পিকো দে সেরাভেলেতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের দুই গোলই এসেছে তপু বর্মণের কাছ থেকে।

এই জয় বাংলাদেশের জন্য আরও বিশেষ, কারণ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। ইউরোপের মাটিতে অভিষেক ম্যাচে পাওয়া এই সাফল্য নতুন অধ্যায়ের দারুণ সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ডুলির অধীনে প্রথম ম্যাচেই মাঠের নিয়ন্ত্রণে বেশ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে ৫৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা। তবে আক্রমণের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল স্বাগতিক সান মারিনো। তারা মোট ১৩টি শট নেয়, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বাংলাদেশ ৮টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।

অবশ্য বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে নিচের সারির দলগুলোর একটি সান ম্যারিনো। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২১১ নম্বরে থাকা দলটির বিপক্ষে কাগজে-কলমে বাংলাদেশই ছিল ফেভারিট। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার কোনো ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে ম্যাচ, নতুন কোচের অধীনে প্রথম পরীক্ষা এবং সাম্প্রতিক ব্যর্থতার চাপ মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে ছিল কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জেই দারুণভাবে উতরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে। স্বাগতিকরা প্রথম দিকে আক্রমণে উঠলেও বাংলাদেশের রক্ষণকে খুব বেশি ব্যস্ত রাখতে পারেনি। ধীরে ধীরে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে জামাল ভূঁইয়ারা।

বাংলাদেশ প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করলেও গোল আসে ১৬তম মিনিটে। হামজা চৌধুরির ফ্রি-কিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে শেখ মোরসালিনের দারুণ ক্রসে তপু বর্মণ হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বেরার্দির পাস থেকে নিকোলাস গিয়াকোপেত্তি গোল করে সমতা ফেরান। এরপরই আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও গোলরক্ষকের সঙ্গে একা হয়ে সাদ উদ্দিন সুযোগ নষ্ট করেন।

বিরতির পর কোচ থমাস ডুলি শমিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানাকে নামালে বাংলাদেশের আক্রমণে নতুন গতি আসে। সোহেল রানার সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়, আর ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে মিতুল মারমা দূরপাল্লার একটি শক্তিশালী শট এক হাতে ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন।

ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনা ও ফাউল বাড়তে থাকলেও আবারও নায়ক হন তপু বর্মণ। হামজা চৌধুরির আরেকটি নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। তাতেই আবার লিড পায় বাংলাদেশ।

শেষ দিকে মিতুলের একটি ভুলে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও বল গোললাইন অতিক্রম করেনি। যোগ করা সময়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষ বাঁশির সঙ্গে ইউরোপের মাটিতে স্মরণীয় জয় উদযাপন করে বাংলাদেশ।

ঋণের বোঝা বাড়ছে: চলতি অর্থবছরে দেশে-বিদেশে শোধ করতে হবে ৩০.৫৯ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ

একসময় সরকারের রাজস্ব উদ্বৃত্ত থেকে উন্নয়ন ব্যয়ের একটি অংশ মেটানো সম্ভব হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন শুধু উন্নয়ন ব্যয় নয়, সরকারের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতেও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এই অবনতির চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে। ওই বছর সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রকৃত রাজস্ব আয় ৪৬৩ কোটি টাকা কম পড়ে। পরে সেই ঘাটতি ঋণ নিয়ে পূরণ করা হয়।

পরের বছর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকায়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রধান মাধ্যম বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পুরো ব্যয়ই ঋণ নিয়ে চালাতে হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকটের পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ। একদিকে সরকার বড় বড় মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে, অন্যদিকে বাজেটের আকারও দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে রাজস্ব আদায় বাড়েনি। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান ক্রমেই বড় হয়েছে, আর সেই ঘাটতি পূরণে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিতে হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ ‘আর্টিকেল ফোর কনসালটেশন রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮৮ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪১ শতাংশের সমান। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের অন্যতম বড় ঋণদাতা সংস্থা আইএমএফ তাদের ঋণ স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে বাংলাদেশকে ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ থেকে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় স্থান দিয়েছে। ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, জিডিপির তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ, রপ্তানি আয় ও রাজস্ব আদায়ের দুর্বল অবস্থার ভিত্তিতেই এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এই ঋণ পরিশোধের চাপ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সরকার এখন তাদের প্রথম বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ঋণ পরিশোধ ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধি। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল ২৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, অতীতে নেওয়া উচ্চ সুদের এবং স্বল্প গ্রেস পিরিয়ডের বিদেশি ঋণ এখন বড় চাপ তৈরি করছে। এছাড়া মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাজেট টিকিয়ে রাখতে নেওয়া বিপুল ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়ও এখন চলে এসেছে।

এই বাড়তি ঋণ পরিশোধের চাপ সরকারের আর্থিক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেট ব্যবস্থাপনাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি কমাতে এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল অর্থায়নের জন্য সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভ্যন্তরীণ ঋণের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। কিন্তু এতে সুদের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারের মোট ঋণ পরিশোধ ব্যয়ের ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশই গেছে অভ্যন্তরীণ ঋণের পেছনে। সমপর্যায়ের অন্যান্য অর্থনীতির তুলনায় এই হার অনেক বেশি।

আইএমএফ আরও সতর্ক করেছে, ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। এতে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা ব্যাংক খাত আরও সংকটে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে ঋণের এই চাপ সামাল দেওয়া আরও কঠিন হবে।

আইএমএফ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাজস্ব আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধ ও সুদ ব্যয়ের উচ্চ হার আগামী বছরগুলোতে রোলওভার বা পুনঃঅর্থায়নের ঝুঁকি বাড়াবে।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো ৭ শতাংশের নিচে, যা এ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম কম। ফলে সরকারের পক্ষে বাড়তে থাকা ঋণের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ তার উত্তরসূরির জন্য রেখে যাওয়া এক নোটে বলেছেন, দেশের রপ্তানি আয় ও সরকারি রাজস্বের তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ অনেক দ্রুত বাড়ছে। তিনি নতুন সরকারকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চড়া সুদের কঠিন শর্তের বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

আইএমএফ ও দেশীয় অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব প্রশাসন, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতের বাজেট পরিচালনা করা সরকারের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে।

 

 

নতুন মামলায় আইভীকে ‘গ্রেপ্তার দেখানো’র বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কোনো মামলায় জামিন পাওয়ার পর, নতুন কোনো মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাকে কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন গ্রহণ না করতে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে আজ রোববার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে আইভী এ রিট করেছিলেন। রিটে তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ২ মার্চের নিম্ন আদালতের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে আজকের আদেশের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মো. মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সেলিনা হায়াৎ আইভী গত বছরের ৯ মে থেকে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ৯ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ইতোমধ্যে ১০টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, প্রতিবার তিনি জামিন পাওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা দেওয়া হচ্ছে, যদিও এজাহারে (এফআইআর) তার নাম ছিল না।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কাউকে কোনো মামলায় “গ্রেপ্তার দেখানো”র আগে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। নতুন আইনি বিধান অনুযায়ী, অভিযোগটি অবশ্যই “সুপ্রতিষ্ঠিত” হতে হবে, অর্থাৎ এর পেছনে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ থাকতে হবে। কিন্তু আইভীর ক্ষেত্রে তেমন কোনো ভিত্তি দেখানো হয়নি। এটা স্পষ্ট যে, তার কারামুক্তি ঠেকাতেই একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে।’