25.4 C
Dhaka
Home Blog

১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি

আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ এর পরিচালক (উপসচিব) মো. এমাদুল হকের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৬ সালের ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি। 

কেন মানুষ গুজব ছড়ায়?

গত ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একজন অধ্যাপকের সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে পড়ে, যেখানে তিনি দুই বছর আগে হওয়া জুলাই আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত ছবি, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষার্থীর রক্তমাখা মুখ দেখা যায়, সেটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড দেখে ক্যাপশনে লেখেন শিক্ষার্থীটি বড় ভাইয়ের কথা শুনে মুখে টমেটো সস মেখে এসেছিলেন। ক্যাপশনের শেষে তিনি জুড়ে দেন, ‘এও কি সত্যি?’ প্রশ্ন।

এখানে সরাসরি গুজব না ছড়ালেও তিনি খানিকটা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, যাতে গুজব ছড়ানোর সম্পূর্ণ দায়টা নিজের ঘাড়ের ওপর না পড়ে। প্রোপাগান্ডা বা গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার ক্লাসিক উপায় হিসেবে বহুদিন ধরেই ব্যবহার হয়ে এসেছে এটি।

পোস্টটির নিচে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, কীভাবে একজন শিক্ষিত মানুষ, বিশেষ করে যে বিভাগের কাজই হলো তথ্য যাচাই করা, ফ্যাক্ট-চেক করার মতো প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের তৈরি করা, সে বিভাগেরই একজন শিক্ষক কীভাবে এ ধরনের কাজ করতে পারেন, যখন তিনি খুব সহজেই তথ্যটির সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে পারতেন। অনেকেই মনে করেন, তথ্য যাচাই করার দক্ষতাই মানুষকে গুজব থেকে বাঁচাতে পারে। কিন্তু আসলেই কি তা-ই? তথ্য যাচাই করার দক্ষতা থাকলে কি মানুষ গুজব ছড়ায় না? মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা।

এই প্রবণতাকে সবচেয়ে সহজে যে শব্দবন্ধ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় তা হলো: মোটিভেটেড রিজনিং। ১৯৯০ সালে জিভা কুন্দা তার বিখ্যাত ‘দ্য কেস ফর মোটিভেটেড রিজনিং’ নিবন্ধে তুলে ধরেন মানুষ মূলত দুইভাবে তথ্য গ্রহণ করতে পারে। প্রথমটি হলো অ্যাকুরেসি-মোটিভেটেড রিজনিং, যেখানে উদ্দেশ্য হলো সঠিক তথ্য কী সেটা খুঁজে বের করা। দ্বিতীয়টি হলো ডিরেকশনাল বা গোল-মোটিভেটেড রিজনিং, যেখানে ব্যক্তি তথ্যের সত্যতা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না। এখানে উদ্দেশ্য থাকে: তথ্যটি তার ইতোমধ্যেই গড়ে ওঠা মত-বিশ্বাস-ভাবাদর্শের সঙ্গে মেলানো এবং সে অনুযায়ী উপসংহারে পৌঁছানো।

ধরা যাক, কোনো তথ্য তার বিশ্বাসের সঙ্গে খুব সহজেই মিলে যাচ্ছে, তখন তিনি খুব সহজেই সেটিকে বিশ্বাস করেন, সেটাকে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই। আবার, যখন কোনো তথ্য তার বিশ্বাস বা ভাবাদর্শের সঙ্গে না মেলে, তখন তিনি নানাভাবে এই তথ্যের খুঁত বের করার চেষ্টা করেন: কে এটি লিখেছে, তার উদ্দেশ্য কী, তিনি কোন রাজনৈতিক দল বা মতবাদে বিশ্বাসী, এই লেখার মূল সোর্স কী, ডেটাতে কোনো ভুল আছে কি না, কারা এই লেখা প্রকাশ করেছে—এমন নানা বিষয়।

যেমন: ওই পোস্টের কমেন্টেই অনেক মন্তব্যকারি প্রশ্ন করেছেন—কেন শিক্ষার্থীটির চশমা ভাঙলো না, কেন মুখে ক্ষত তৈরি হলো না, অথবা রক্ত গড়িয়ে কেন কাপড়ে লাগলো না। এরপর যখন শিক্ষার্থীটি তার সেলাই করা ক্ষতস্থানের ছবি শেয়ার করলো, তার নিচেই আবার অনেকে মন্তব্য করেছেন—কয়েকটি ছবিতে মুখের ডানপাশে আঘাত আবার কয়েকটি ছবিতে মুখের বামপাশে আঘাতের চিহ্ন কেন? অর্থাৎ, যতই আপনার সামনে প্রমাণ নিয়ে আসা হোক না কেন, আপনি ঠিক সেই তথ্যটিই গ্রহণ করবেন, যেটি আপনার ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত মতামতের পক্ষে যায়, এর বিপক্ষের বিষয়টি নয়।

এর ১৬ বছর পর ইয়েল ল’ স্কুলের গবেষক ড্যান কাহান তার কালচারাল কগনিশন প্রজেক্টে এই মোটিভেটেড রিজনিংয়ের গবেষণাকে আরও এক ধাপ সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি আইডেন্টিটি-প্রোটেক্টিভ কগনিশন বলে আরেকটু নতুন ধারণা সামনে নিয়ে আসেন। তিনি দেখতে পান, মানুষ সাধারণত এমন তথ্যই শেয়ার করে যা তার রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বিভিন্ন ইস্যুতে নিজস্ব অবস্থানকে শক্ত করে। অর্থাৎ, এখানে তথ্যের সত্যতা মূল বিষয় নয়; তথ্য শেয়ার করে মূলত তিনি তার মতাদর্শকেই জানান দেন এবং নিজের আইডেন্টিটি বা পরিচয়কে সুরক্ষা দেন। যে তথ্য তার রাজনৈতিক বা আদর্শিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তিনি কখনোই সেটি গ্রহণ করবেন না, সেটি যতই সত্যি হোক না কেন। কারণ এই তথ্য তার বিশ্বাস এবং সর্বোপরি তার পরিচয়ের ওপরই আঘাত হানে।

কাহান এটিও দেখতে পান যে, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি, অর্থাৎ যারা ‘স্মার্ট’, তাদের মধ্যে মোটিভেটেড রিজনিং করার সামর্থ্যও বেশি। তখন তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত হাজির করে খুব দ্রুত এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হন, যেটা সরাসরি তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে মিলে যায়। আবার তারা একইভাবে তাদের মতাদর্শের বিরুদ্ধে যায়, এমন তথ্যও খুব দ্রুত ছুঁড়ে ফেলে দেন। এর কারণ হলো: ভুল তথ্য বিশ্বাস করা বা ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে ব্যক্তিগতভাবে তার খুব একটা ক্ষতি হয় না, কিন্তু তার পরিচয় বা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যায় এমন তথ্য মেনে নেওয়া তার পুরো অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে দেয়। ফলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তথ্যের সত্যতা খোঁজার চেয়ে নিজের পরিচয় আর বিশ্বাসকেই সুরক্ষা দেওয়ার দিকে ঝোঁকে এবং গুজব বা ভুল তথ্য ছড়ায়।

ফলে মিডিয়া লিটারেসি বাড়ালেই যে মানুষের মধ্যে তথ্য যাচাই-বাছাই করার প্রবণতা বাড়বে, এমন প্রচলিত ধারণা আসলে বাস্তবে কাজ করে না। মানুষ সেটাই গ্রহণ করে, যেটা তার মতের পক্ষে যায়। মিডিয়া লিটারেসি সম্পর্কিত প্রশিক্ষণগুলোতেও দেখা গেছে যে, প্রশিক্ষণের সময় মানুষ হয়তো ঠিকই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারে এবং এর মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার দক্ষতাও বাড়ে, কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায়, দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তি কখনোই এটি প্র্যাকটিস করে না। সে ফিরে যায় তার মতাদর্শ-বিশ্বাসনির্ভর তথ্য গ্রহণের দিকেই।

ভুল তথ্য মোকাবিলার আরেকটা খুব প্রচলিত উপায় হলো ফ্যাক্ট-চেকিং। গবেষণা বলছে, ফ্যাক্ট-চেকিং রিপোর্ট দেখার পর মানুষ সাময়িকভাবে ওই নির্দিষ্ট ভুল তথ্যটি বিশ্বাস করা বন্ধ করে ঠিকই। কিন্তু এর প্রভাব খুব একটা স্থায়ী হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর মানুষ আবার সেই পুরোনো ভুল বিশ্বাসেই ফিরে যায়। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রায় কাজই করে না। কারণ মানুষ তখন তথ্যের চেয়ে তার দলীয় পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়।

২০১০ সালে ওয়েপন্স অব ম্যাস ডেস্ট্রাকশনের ওপর ভিত্তি করে করা গবেষণায় ব্রেন্ডান নাইহান এবং জেসন রাইফলার এই প্রবণতার নাম দিয়েছেন ‘ব্যাকফায়ার ইফেক্ট’। এখানে মানুষ ফ্যাক্ট-চেকিং রিপোর্ট দেখার পর সেই ভুল বিশ্বাসকে আরও বেশি বিশ্বাস করে। কারণ এটা তার পরিচয়কে হুমকির মুখে ফেলে দেয় এবং নিজের পরিচয়কে আঁকড়ে ধরার জন্য এই কাজ করে। তবে পরবর্তীতে অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্যাকফায়ার ইফেক্ট বাস্তবে খুব কমই দেখা যায়। অর্থাৎ, ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের প্রভাব থাকলেও তা সীমিত পর্যায়ের।

তবে এর সমাধান কী হতে পারে? বর্তমানে যে বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা হচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো প্রিবাঙ্কিং। কোনো ভুল তথ্য ছড়ানোর আগেই মানুষকে সে ধরনের মিথ্যা যুক্তির কৌশল সম্পর্কে সচেতন করে দেওয়া। মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম ম্যাকগুয়ারের ‘ইনওকুলেশন তত্ত্ব’ অনুযায়ী, মানুষকে যদি আগেভাগেই জানানো যায় যে অমুক ধরনের তথ্যের মাধ্যমে তাকে ম্যানিপুলেট করা হতে পারে, তবে তারা পরে সেই আসল ভুল তথ্যের মুখোমুখি হলে তা সহজে বিশ্বাস করে না। এর প্রভাব ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের চেয়ে বেশি স্থায়ী হয়। এটি হয়তো সব সমস্যার সমাধান নয়, কিন্তু বর্তমানে যে পদ্ধতিগুলো আছে তার মধ্যে এটি অন্যতম কার্যকর।

আরেকটি উপায় হলো: বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষকে সরাসরি এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফলে ক্রমেই বাড়তে থাকা মেরুকরণের প্রভাব কিছুটা কমে আসে। বিপক্ষ মতাদর্শের ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ফলে গ্রুপ-আইডেন্টিটি রক্ষা করার বদলে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করা এবং আপস করাই তখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

উসামা রাফিদ: প্রভাষক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব)

১২০ মিনিটের নাটকীয় লড়াইয়ে কেপ ভার্দের বাধা পেরোলো আর্জেন্টিনা

নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে দুই দফা পিছিয়ে পড়লেও একটুও হাল ছাড়ল না কেপ ভার্দে। ঘুরে দাঁড়িয়ে এবারের বিশ্বকাপের নবাগত দলটি আরও একবার চমক দেখিয়ে ঘাম ছাড়িয়ে ছাড়ল আর্জেন্টিনার। তবে শেষ পর্যন্ত চরম বাধা অতিক্রম করে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা— আত্মঘাতী গোলের কল্যাণে।

শনিবার সকালে মায়ামিতে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো শেষ বত্রিশের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এর আগে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ১-১ সমতায়।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মহাতারকা লিওনেল মেসির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে দেরয় দুয়ার্তের লক্ষ্যভেদে সমতা টানে কেপ ভার্দে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শুরুতেই লিসান্দ্রো মার্তিনেজের কল্যাণে আর্জেন্টিনা ফের লিড নেওয়ার পর শেষদিকে স্কোরলাইন ২-২ করেন সিডনি লোপেস কাবরাল। খেলা যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ম্যাচের ১১১তম মিনিটে ডিনি বোর্জেসের আত্মঘাতী গোল গড়ে দেয় ব্যবধান।

এই জয়ে আসরের শেষ ষোলোতে নাম লিখিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা, যেখানে তাদের অপেক্ষায় আছে মিশর। অন্যদিকে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও প্রতিপক্ষের সমীহ ও ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে মর্যাদা— দুটিই আদায় করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। এর আগে গ্রুপ পর্বে তারা ছিল অপরাজিত। তিনটি ম্যাচই ড্র করেছিল যথাক্রমে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের সঙ্গে।

গোটা ম্যাচে ৬৪ শতাংশ সময় বল দখলে রাখা আর্জেন্টিনা গোলমুখে ২২টি শট নিয়ে লক্ষ্য রাখে ১০টি। বিপরীতে, গোলপোস্টে কেপ ভার্দের ১৬টি শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে।

বেশ ঢিমেতালে শুরু হওয়া ম্যাচের ১৫তম মিনিটে প্রথমবারের মতো কোনো দল গোলমুখে শট নেয়। ডি-বক্সের বামদিক থেকে নেওয়া ৩৯ বছর বয়সী মেসির নেওয়া কোণাকুণি শট চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। তিন মিনিট পর ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। তবে মেসির দূরপাল্লার শট আটকাতে কোনো বেগ পেতে হয়নি গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে।

মেসির আরেকটি গোলে অবশেষে অচলাবস্থা ভাঙে ২৯তম মিনিটে। সেন্টার ব্যাক লিসান্দ্রো মাঝমাঠের সামনে থেকে উঁচু করে অসাধারণ একটি নিখুঁত পাস বাড়ান কেপ ভার্দের ডি-বক্সে। বল মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আলতো ও চোখ ধাঁধানো স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। এরপর চিরাচরিত বাম পায়ের শটে ভোজিনিয়াকে পরাস্ত করে বল পাঠিয়ে দেন জালে।

বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩০তম ম্যাচ খেলতে নামা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসির এবারের আসরে এটি সপ্তম গোল, যিনি আছেন গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে। সব মিলিয়ে ফুটবলের মহাযজ্ঞে তার গোল হলো ২০টি। বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা বিশের ঘর ছোঁয়া প্রথম খেলোয়াড় তিনি।

বিরতির আগে আবার ভোজিনিয়াকে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। এই দফায় ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে মিডফিল্ডার এঞ্জো ফার্নান্দেজের শট ঝাঁপিয়ে রক্ষা করে ব্যবধান বাড়তে দেননি তিনি।

প্রথমার্ধে কেপ ভার্দে কয়েকবার আভাস দিলেও বলার মতো কোনো আক্রমণ শানাতে পারেনি। তাই গোলপোস্টের নিচে অলস সময় কাটাতে হয় আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে।

বিরতির পর কেপ ভার্দেকে দেখা যায় অন্য রূপে। আক্রমণে মনোযোগী হওয়ার সুফল হিসেবে গোলও পেয়ে যায় তারা। ৫২তম মিনিটে দেরয়ের শট ঠেকালেও সাত মিনিট পর আর পারেননি এমিলিয়ানো। রায়ান মেন্দেসের কাটব্যাকে নিচু কোণাকুণি শটে নিশানা ভেদ করেন মিডফিল্ডার দেরয়।

গোল হজমের পর গা ঝাড়া দেয় আলবিসেলেস্তেরা। ৬২তম মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের ফ্লিকে বল পেয়ে ডি-বক্সে ভোজিনিয়াকে একা পেলেও সোজাসুজি তার গায়ে মেরে সুযোগ হারান মেসি। ১০ মিনিট পর আবার বাধা হয়ে দাঁড়ান কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। এবার মেসির দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন তিনি। ওই কর্নার থেকে বদলি নামা মিডফিল্ডার নিকো গঞ্জালেজের হেড থাকেনি লক্ষ্যে।

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আরেক বদলি মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেসের দূরপাল্লার শট সহজেই লুফে নেন ভোজিনিয়া। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগেও তিনি দেখান বীরত্ব। মেসির ফ্রি-কিক সিডনির পায়ে লেগে দিক পাল্টালেও ভোজিনিয়া ফিরিয়ে দেন বল।

ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। দ্বিতীয় মিনিটেই গোল পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসির কর্নারে আলেক্সিস মাক আলিস্তার হেড করার পর দূরের পোস্টে বল পান লিসান্দ্রো। প্রথম ছোঁয়ায় জায়গা বানিয়ে বাম পায়ের বুলেট গতির শটে জাল কাঁপান তিনি।

তবে ম্যাচের নাটকীয়তার বাকি তখনও অনেক। মোড় আবার ঘুরে যায় লেফট ব্যাক সিডনির চোখ ধাঁধানো গোলে। ১০৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে বাম দিক থেকে মাক আলিস্তারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে সামনে এগিয়ে তিনি নেন বাঁকানো শট। বল ঠেকানোর কোনো উপায়ই ছিল না এমিলিয়ানোর— ফের সমতা।

যোগ করা সময়ে মেসিকে আবারও হতাশ করেন ভোজিনিয়া। তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে আর পারেননি তিনি। মেসির কর্নারে সেন্টার ব্যাক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেড করার পর বল বোর্জেসের হাতে লেগে জালে জড়ায়।

তৃতীয় দফা এগিয়ে যাওয়ার পরও আর্জেন্টিনা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ১১৬তম মিনিটে সিডনির দারুণ ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে রুখে দেন এমিলিয়ানো। তিন মিনিট পর আবার মঞ্চে আবির্ভূত হতে হয় তাকে। স্টিভেন মোরেইরার ক্রসে কেপ ভার্দের একজন হেড করে বিপজ্জনক জায়গায় ফেলেন। তবে বদলি নামা স্ট্রাইকার গিলসন বেনচিমল পা ছোঁয়ানোর আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে কর্নারের বিনিময়ে বল রুখে দেন এমিলিয়ানো।

কিছুক্ষণ পরই বেজে ওঠে রেফারির শেষ বাঁশি। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬৭তম অবস্থানে থাকা কেপ ভার্দেকে হারিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে শীর্ষস্থানধারী আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় তারা মুখোমুখি হবে মিশরের।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার যেসব কারণের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ মঙ্গলবারের সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী কারণগুলো উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী জানান, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা।

সেই হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ শতাংশ রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

কম রাজস্ব আদায়ের প্রধান কারণ হিসেবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন, উচ্চ উৎপাদন খরচ, সামষ্টিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে দায়ী করেছেন মন্ত্রী।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং ওই অর্থবছরে আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৪ কোটি টাকা।

এই দুই অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার পেছনে ১১টি কারণ তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক সরকার না থাকা, কম বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা, কম উৎপাদন ও সরবরাহ এবং ভ্যাট ও সম্পূরক আবগারি শুল্ক দেওয়া বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ কম, আমদানি কম, উৎপাদন ও সরবরাহ কম এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক দেওয়া বিপুল সংখ্যক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এ অর্থবছরে ২৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ শুল্ক হারের পণ্য আমদানি আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ১৮ শতাংশ ও ৩৭ শতাংশ কমায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

জ্বালানি পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকার পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এলএনজি আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়, যার ফলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি বলে মন্ত্রী জানান।

বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় গাড়ি আমদানি কম হওয়ায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান এবং সরকার পরিবর্তনের ফলে দেশজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক স্থবিরতা তৈরি হয়, যা সাপ্লাই চেইনকে ব্যাহত করে এবং খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা-বাণিজ্যকে স্থবির করে দেয়।

এতে ব্যবসা থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে পায়। এটা করপোরেট কর আদায়ে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বলে টানা প্রায় ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত সঞ্চয় বা করযোগ্য উদ্বৃত্ত আয় কমে যায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে অনেক তৈরি পোশাক ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্প তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারেনি।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, উচ্চ সুদের হার এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যায়। ফলে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফা কমে গেছে, যা আয়করের একটি প্রধান উৎস। 

নারায়ণগঞ্জে আইভীর বাড়ির সামনে পুলিশের নজরদারি, সিসি ক্যামেরা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মুক্তির পর তার বাড়ির সামনে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।

বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। সাদা পোশাকে পুলিশের টহলও রয়েছে সেখানে।

জেলা পুলিশ বলছে, তিনবারের সাবেক সিটি মেয়রের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেন কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখতেই এ অতিরিক্ত নজরদারি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা ১২টি মামলায় জামিন পেয়ে প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে মুক্তি পান আইভী।

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে পৈতৃক বাড়ি ‘চুনকা কুটিরে’ ফেরেন।

তার মুক্তি ও বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিপুল সংখ্যক পুলিশ রাতভর বাড়ির সামনেও অবস্থান নেয়।

রাতেই পুলিশের তত্ত্বাবধানে আইভীর বাড়ির সামনে ও আশেপাশের সড়কে সিসি ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

জানতে চাইলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘যেহেতু তিনি একজন সাবেক মেয়র, তাই তার নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। তাছাড়া, তিনি নিজে নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে যেন জড়িয়ে না পড়েন কিংবা তার পক্ষে কেউ যেন উসকানি না দেয় সেটি আমাদের নজরদারিতে আছে।’

এজন্য, সাদা পোশাকে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘আইভী জামিনে থাকাবস্থায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন। কিন্তু নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। সার্বিক বিষয়েই আমাদের নজরদারি থাকবে।’

গতরাতে আইভীর বাড়ির সামনের সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার কথাও নিশ্চিত করেন তিনি।

‘তার বাড়িকে কেন্দ্র করেই এসব করছি ব্যাপারটা এমন নয়। নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত করতে অলিগলিতে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করার পরিকল্পনা আমাদের আছে। পুরো নারায়ণগঞ্জে ২ হাজার ক্যামেরা স্থাপন করা হবে,’ বলেন পুলিশ কর্মকর্তা তারেক আল মেহেদী।

এদিকে, আইভীর মুক্তির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তার আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজনরা দেখা করতে যান। তবে আইভীর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রশাসনিক চাপ ও নিরাপত্তার কারণে লোকজনের সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আইভীর খোঁজখবর নিতে আসছেন।

উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেবার তিনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেন। পরে ২০১১ সালে পৌরসভা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০১৬ ও ২০২২ সালেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পান আইভী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৮ আগস্ট সারাদেশের সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে আইভীকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। 

এবার সিঙ্গেল স্ক্রিনে ‘দম’

দম সিনেমাটি ঈদুল ফিতরে দেশের সবগুলো মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পেয়েছিল। 

মুক্তির এক মাস পর আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে দেশের ৫০টিরও বেশি সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। 

‘দম’ সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ, আলফা আই ও চরকি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

সিঙ্গেল স্ক্রিনের তালিকায় আছে ঢাকার মধুমিতা, শ্যামলী সিনেমা হল, সাভারের সেনা অডিটোরিয়াম, রংপুরের শাপলা, ময়মনসিংহের ছায়াবাণী, পাবনার রুপকথা, বরিশালের অভিরুচি, জয়দেবপুরের বর্ষা ও সিলেটের নন্দীতা।

রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, পূজা চেরী, চঞ্চল চৌধুরী, আবুল হায়াৎ, ডলি জহুর, জাহিদ হাসান।

পরিচালক রেদওয়ান রনি বলেন, ’দম আমার কাছে শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশির বিজয়ের গল্প। দেশের মানুষের কাছে এমন একটি অদম্য সাহসিকতার গল্প নিয়ে যেতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। শুরু থেকেই চলচ্চিত্রটি নিয়ে দর্শকদের ভালোবাসা নির্মাতা হিসেবে আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।’

আফরান নিশো বলেন, ’আমার মনে আছে, একদম প্রথম যখন রনি (রেদওয়ান রনি) আমাকে গল্পের ভাবনাটা বলে, তখনই সোল্ড আউট হয়ে গেছি। একটা জিনিস পেলাম আর করে ফেললাম—এরকম না আমি। আই এম ব্লেসড যে আমি স্থির হয়ে চিন্তা করতে পারি, আমি যে ধরনের ভিশন ভিজুয়ালাইজ করি বা পারফর্মার হিসেবে নিজের গ্রোথটা চাই, সেজন্য আমার গল্পটা খুব দরকার। তো এই জায়গা থেকে দম খুব পারফেক্টলি ফিট করে। আর এ জন্য হয়তো দর্শকরাও কাজগুলো পছন্দ করে।’

রেদওয়ান রনির সঙ্গে ‘দম’ সিনেমার চিত্রনাট্য করেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ, রবিউল আলম রবি।
 

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে নিহত ৮

ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর

ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।

আল জাজিরা জানায়, জেরুজালেম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) পশ্চিমে মধ্য ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

*MDA Spokesperson:* Update to the recent missile barrage fired at Israel: 

*Initial report only!!!* from the Beit Shemesh region, MDA EMTs and paramedics are treating a number of casualties, including a girl in serious condition. Updates to follow pic.twitter.com/s4vJBGhIqD

— Magen David Adom (@Mdais) March 1, 2026

ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসক দল নিয়ে একটি হেলিকপ্টার আহতদের সরিয়ে নিতে ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

পথচারীদের জন্য স্বপ্ন’র বিনামূল্যে ইফতার

রমজানে অনেকে সঠিক সময়ে অফিস থেকে বের হলেও বাসায় পৌঁছানোর আগেই ইফতারের সময় হয়ে যায়। এমন সব মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্বপ্ন’।

ইফতারের আগে ও ইফতারের সময় পথচারী, সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য স্বপ্ন’র পক্ষ থেকে খেজুর ও শরবত দেওয়া হচ্ছে। এই আয়োজন চলবে পুরো রমজান মাস জুড়ে।

স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরে ট্রাফিক জ্যামসহ নানা কারণে সঠিক সময়ে বাসায় ফিরতে না পারা মানুষের জন্য তাদের এ প্রয়াস। সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা চিন্তা করেই সুপারশপ ‘স্বপ্ন’ এই উদ্যোগ নিয়েছে।

ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোট ৪৪টি স্বপ্ন আউটলেট থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষকে বিনামূল্যে এই ইফতার দেওয়া হচ্ছে।
 

বন্যা নয়, ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি: চট্টগ্রামকে আর কত বছর ডুবতে হবে?

বর্ষা এলেই চট্টগ্রামের মানুষের মনে আতঙ্ক ফিরে আসে। আকাশে কালো মেঘ জমলেই তারা আবহাওয়ার পূর্বাভাসে খোঁজেন, এবার পানি কতটুকু উঠবে। ঘরের আসবাব কোথায় সরাবেন, গবাদিপশু কোথায় রাখবেন, সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন—সেই হিসাব শুরু হয়ে যায়। এ দৃশ্য নতুন নয়। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, বর্ষা এলেই চট্টগ্রামের কোনো না কোনো এলাকা ডুবে যায়। সরকার বদলায়, জনপ্রতিনিধি বদলায়, উন্নয়নের ভাষা বদলায়, কিন্তু চট্টগ্রামের বন্যার চিত্র বদলায় না।

এ বছর টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও লাখো মানুষ পানিবন্দি, কোথাও শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, কোথাও কৃষকের ফসল তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেছে, সংবাদপত্রের শিরোনামও বদলেছে, কিন্তু মানুষের ক্ষতি থেকে যাবে বছরের পর বছর।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি প্রতি বর্ষায় একই সংবাদ পড়তে অভ্যস্ত হয়ে গেছি?

সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, এই দুর্যোগকে এখন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অবশ্যই আছে। অতিবৃষ্টি হবে, পাহাড়ি ঢল নামবে, সেটি বাস্তবতা। কিন্তু সেই বৃষ্টিকে ভয়াবহ দুর্যোগে পরিণত করছে মানুষের তৈরি অব্যবস্থাপনা। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল, জলাধার ভরাট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নদী ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা চট্টগ্রামকে স্থায়ী ঝুঁকির শহরে পরিণত করেছে।

প্রতি বছর আমরা প্রতিশ্রুতি শুনি—জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প হবে, নতুন খাল খনন হবে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, নদী সংস্কার হবে। বাস্তবে, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ে, ব্যয় বাড়ে, কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ কমে না। কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়, অথচ প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই শহর ও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। তাই প্রশ্ন ওঠে, এই উন্নয়ন আসলে কার জন্য?

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার মূল কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দ্রুত নগর সম্প্রসারণ, খাল, নালা ও জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, জোয়ার-ভাটার প্রভাব ও পানিপ্রবাহের বাস্তব পরিস্থিতি পরিকল্পনায় যথাযথভাবে বিবেচনায় না আনা এবং খালগুলোর পর্যাপ্ত খনন, সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি। কিন্তু তার জন্য কার্যত কোনো উদ্যোগ আমরা দেখি না। যা নেওয়া হয় তা বাস্তবায়নে গড়িমসিই বেশি দেখা যায়। বাস্তবায়ন হলেও অধিকাংশ সময় তড়িঘড়ি করে করা হয় এবং তার ফলও তেমনই হয়। ফলাফল সেই চিরচেনা জলাবদ্ধতা আর মানুষের ভোগান্তি।

২০১৭ সালে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ একটি প্রকল্প তিন বছরের জন্য অনুমোদন দেওয়া হলেও নানা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নগত সমস্যার কারণে মেয়াদ বারবার বাড়াতে হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ, তিন বছরের প্রকল্প শেষ হতে ১১ বছর সময় লাগছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা, যা সংশোধিত হয়ে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। সর্বশেষ সংশোধনীতে ব্যয় কিছুটা কমিয়ে ৮ হাজার ৫৯১ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। (প্রথম আলো, ৬ জুলাই ২০২৬)

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল পরিকল্পনা পর্যায়ে। যথাযথ মাঠসমীক্ষা, বিস্তারিত জরিপ, পানিপ্রবাহ বিশ্লেষণ, জোয়ার-ভাটার প্রভাব এবং খাল-নালা-জলাধারের সমন্বিত মূল্যায়ন ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ফলে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে গিয়ে একের পর এক নতুন জটিলতা সামনে আসে এবং প্রকল্পের প্রথম দেড় থেকে দুই বছর কার্যত কোনো ভৌত কাজই শুরু করা যায়নি। বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পরিকল্পনার অসামঞ্জস্যের কারণে একাধিকবার প্রকল্প সংশোধন করতে হয়েছে।

এ ছাড়া, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেষ পর্যায়ে সিল্ট ট্র্যাপ, নালা সম্প্রসারণ, ফুটপাতসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৯৮ শতাংশ, তবুও হিজড়া খাল ও জামাল খান খালের কাজ এখনো শেষ হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতেই সঠিক পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করা হলে সময়, অর্থ ও জনদুর্ভোগ তিনটিই অনেকাংশে কমানো যেতো। (প্রথম আলো, ৬ জুলাই ২০২৬)

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এখানেই। শিল্প, বাণিজ্য ও আমদানি রপ্তানির বড় অংশ এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। অথচ সেই চট্টগ্রামই প্রতি বছর কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে। একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রকে বছরের পর বছর একই সংকটে ফেলে রাখা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আমরা এখনো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রতিক্রিয়াশীল। পানি ওঠার পর ত্রাণ যায়, আশ্রয়কেন্দ্র খোলে, প্রশাসন মাঠে নামে। কিন্তু পানি ওঠার আগেই ঝুঁকি কমানোর জন্য কী করা হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুব কমই পাওয়া যায়। দুর্যোগ মোকাবিলার চেয়ে দুর্যোগ প্রতিরোধে বিনিয়োগ অনেক বেশি কার্যকর। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনায় সেই দর্শন এখনো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এখানে রাজনৈতিক দায়ও এড়ানোর সুযোগ নেই। ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, চট্টগ্রামের মানুষ প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হন। তাই এটি কোনো এক সরকারের ব্যর্থতা নয়, বরং ধারাবাহিক নীতিগত ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে আমরা বারবার স্বল্পমেয়াদি সমাধানে সন্তুষ্ট থেকেছি। ফলাফলও একই রয়ে গেছে।

আমাদের স্বীকার করতে হবে, চট্টগ্রামের সমস্যা কেবল বৃষ্টির নয়। এটি পরিকল্পনার, সুশাসনের ও জবাবদিহির সমস্যা। খাল দখলমুক্ত করা, নিয়মিত খনন, পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, আধুনিক ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, জলাধার সংরক্ষণ ও সমন্বিত নগর পরিকল্পনা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একইসঙ্গে প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি ও ব্যয়ের ওপর কার্যকর জনজবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রামের মানুষ সহানুভূতি চান না। তারা প্রতি বছর ত্রাণের ছবিও দেখতে চান না। তারা চান এমন একটি শহর, যেখানে বর্ষা মানেই আতঙ্ক হবে না; কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে চলে যাবে না; কোনো পরিবারকে বারবার নতুন করে জীবন শুরু করতে হবে না।

আমরা প্রায়ই বলি, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই উন্নয়নের বাস্তব পরীক্ষা হয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। যদি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র প্রতি বর্ষায় একইভাবে ডুবে যায়, তাহলে উন্নয়নের দাবিকে মানুষ প্রশ্ন করবেই।

চট্টগ্রামকে প্রতি বছর ডুবতে দেখা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। একে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়াও উচিত নয়। একটি শহর, অঞ্চল ও লাখো মানুষের জীবনকে বছরের পর বছর একই সংকটের মধ্যে ফেলে রাখা কোনো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।

প্রতি বছরের মতো বর্ষা আগামী বছরও আসবে। আগামী বছরও কি আমরা চট্টগ্রাম নিয়ে একই সংবাদ পড়ব, একই কান্না শুনব এবং একই প্রতিশ্রুতি শুনে আবার ভুলে যাব? নাকি এবার সত্যিই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর বলতে না হয়, ‘ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, বর্ষা এলেই চট্টগ্রাম ডুবে যায়।’

 

মো. আব্বাস: করপোরেট কমিউনিকেশনস নিয়ে কাজ করছেন।
[email protected]

রোনালদো-রামোসের গোলে ক্রোয়েশিয়ার হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল

প্রথমার্ধে ম্যাড়মেড়ে লড়াইয়ের পর দ্বিতীয়ার্ধে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে গিয়েছিলো ক্রোয়েশিয়া। বিদায়ের শঙ্কার মাঝে পর্তুগালের সেরা তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো পেনাল্টি থেকে আনেন সমতা। এই স্কোরলাইন রেখে অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোতে থাকা ম্যাচে যোগ করা সময়ে তৈরি হলো চরম নাটকীয়তা। সেখানে গনসালো রামোসের বাজিমাতের পর ক্রোয়েশিয়ার আত্মঘাতী গোল পাওয়া ও ভিএআরে তা বাতিল হওয়া নিয়ে ছড়ালো উত্তাপ। শেষ পর্যন্ত লুকা মদ্রিচদের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোতে পা রাখল রোনালদোর পর্তুগাল।

টরন্টো স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। ৫৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল করেন পেরিসিচ। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা টানেন রোনালদো। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে জয়সূচক গোল আসে রামোসের কাছ থেকে। যোগ করা সময়ে খেলা হয়েছে ১৯ মিনিট, ম্যাচের সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছিল ওই সময়টাতেই।

প্রথমার্ধে পর্তুগাল ৬৭ শতাংশ বল দখলে রেখে একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও ক্রোয়েশিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ৪ মিনিটের মাথায় ব্রুনো ফার্নান্দেসের জোড়া প্রচেষ্টা রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ান প্রাচীর দমিনিক লিভাকোভিচ। ১৭ মিনিটে রেনাতো ভেইগার হেড বারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে গেলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্রপট। ম্যাচের ধারার বিপরীতে ৫৩ মিনিটে স্তানিসিকের ক্রসে বাঁ দিক থেকে দারুণ এক চিপে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিওগো কোস্তাকে পরাস্ত করেন ইভান পেরিসিক। উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারির ক্রোয়েশিয়ান সমর্থকেরা। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে রবার্তো মার্তিনেসের দল। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে কপাল পোড়ে পর্তুগালের। এর ৩ মিনিট পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

তবে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সমতা পায় পর্তুগাল। বক্সে রেনাতো ভেইগাকে ক্রোয়েশিয়ার ভ্লাসিচ ফাউল করলে ভিএআর চেকের মাধ্যমে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে পর্তুগালকে ১-১ সমতায় ফেরান অধিনায়ক রোনালদো। ৮১ মিনিটে রোনালদোকে তুলে রুবেন নেভেসকে মাঠে নামান কোচ। তবে কোচের এই সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি পর্তুগিজ মহাতারকার, মাঠ ছাড়ার সময় তার চোখে-মুখে স্পষ্ট অসন্তোষ দেখা যায়। যদিও পরে সতীর্থদের সঙ্গে মিশে দলের জয়ের তীব্রতার দিকে মন দেন তিনি। 

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে রেফারি ১০ মিনিট ইনজুরি টাইম ঘোষণা করেন। আর সেখানেই অপেক্ষা করছিল আসল রোমাঞ্চ।

৯০+৪ মিনিট: রাফায়েল লিয়াওয়ের চমৎকার ক্রস থেকে বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক হেডে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বিকল্প হিসেবে নামা গনসালো রামোস।

৯০+১৩ মিনিট: নাটকের তখনও অনেক বাকি ছিল। ক্রোয়েশিয়ার একটি ক্রস থেকে পর্তুগালের বক্সে চরম জটলা তৈরি হয়। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার রুবেন নেভেসের গায়ে লেগে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায় (২-২)। আত্মঘাতী গোলের উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া শিবির।

৯০+১৫ মিনিট: ক্রোয়েশিয়ার গোলের পর শুরু হয় দীর্ঘ ভিএআর  রিভিউ। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের সময় অফসাইড পজিশনে ছিলেন জোসকো গভার্দিওল। ফলে রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দিলে স্তব্ধ হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। স্কোরলাইন আবার ফিরে আসে পর্তুগাল ২-১ ক্রোয়েশিয়া।

৯০+১৮ মিনিট: নিশ্চিত গোল বাতিলের ধাক্কা মেনে নিতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্রোয়েশিয়ান সমর্থকেরা। গ্যালারি থেকে মাঠে বোতল ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারা হলে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। মাঠজুড়ে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা।

অবশেষে সব উত্তেজনা ছাপিয়ে ম্যাচের ১৯তম মিনিটে রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে জয়ের উল্লাসে মাতে পর্তুগাল।

এই জয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করল পর্তুগাল, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী স্পেনের।