25.3 C
Dhaka
Home Blog

তথ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হলেন জহির উদ্দিন স্বপন

মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ শনিবার এক প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

তার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রহণ করেছেন বলে পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে নবনিযুক্ত ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী শপথগ্রহণ করেন।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এরপর জহির উদ্দিন স্বপন তথ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এআই কি শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে, যা বলছেন কানাডীয় অর্থনীতিবিদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কিছু কাজ থেকে মানুষকে সরিয়ে দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে উৎপাদনপ্রক্রিয়ার অন্য ধাপগুলোতে শ্রমিকের চাহিদাও বাড়াতে পারে। কানাডার অর্থনীতিবিদ জ্যঁ-লুই আরকাঁর গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

তার মতে, বাংলাদেশে যেখানে এখনো অনেক মানুষ কম উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত, সেখানে এআই সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের মতো শ্রমনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল সোমবার ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মূলত প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারের জায়গা ঠিক করে এবং এআই ব্যবহারের ফলে শ্রমিকদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জ্যঁ-লুই আরকাঁ বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় যে কাজগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে, প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভবত সেসব কাজেই আগে এআই ব্যবহার করবে। এতে উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বড় বাধাগুলো দূর হবে। ফলে অন্য কাজগুলোতে উৎপাদনশীলতা বাড়তে পারে এবং সেখানে শ্রমিকের চাহিদাও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, এআই শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে।

আরকাঁর গবেষণাটি অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমারের ‘ও-রিং’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই মডেল অনুযায়ী, উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় অনেকগুলো কাজ একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে সমস্যা হলে পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়াই ব্যাহত হতে পারে।

এই বিষয়টি বোঝাতে তিনি ১৯৮৬ সালের চ্যালেঞ্জার মহাকাশযান দুর্ঘটনার উদাহরণ দেন। ওই দুর্ঘটনায় তুলনামূলক কম দামের একটি ও-রিংয়ে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেই ত্রুটির সঙ্গে মহাকাশযানটি ধ্বংস হওয়ার ঘটনা জড়িত ছিল।

আরকাঁ তার মডেলে দেখিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোনো কাজে ব্যর্থতার ঝুঁকি কমাতে প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করতে পারে। এতে কর্মসংস্থানের ওপর দুই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

একটি নির্দিষ্ট কাজে এআই মানুষের চেয়ে দক্ষভাবে কাজ করতে পারলে সেখানে শ্রমিকের প্রয়োজন কমে যেতে পারে। ফলে ওই কাজে কমসংখ্যক শ্রমিক বা তুলনামূলক কম দক্ষ শ্রমিক দিয়েই কাজ চালানো সম্ভব হতে পারে।

অন্যদিকে, উৎপাদনপ্রক্রিয়ার অন্য কাজগুলোতে এআই শ্রমিকদের কাজের সহায়ক হতে পারে। কোনো একটি বড় বাধা এআই দিয়ে দূর করা গেলে উৎপাদনপ্রক্রিয়ার অন্য জায়গায় থাকা শ্রমিকরা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন। এতে তাদের শ্রমের চাহিদা বাড়তে পারে।

আরকাঁ বলেন, কোনো একটি কাজে এআই ব্যবহার করলে সেখানে শ্রমিকের প্রয়োজন কমতে পারে। কিন্তু অন্য কাজে শ্রমিকের চাহিদা বাড়তে পারে, কারণ সেখানে এআই শ্রমিকদের কাজের সহায়ক হবে।

কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব কী হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির ধরন, কোন কাজে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এআই ব্যবহারের খরচ কত, এসব বিষয়ের ওপর।

তিনি বলেন, একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, এআই শ্রমবাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তাহলে সঠিক উত্তর হলো—এটা নির্ভর করে।

তার মডেল অনুযায়ী, যেসব কাজে ভুল বা ব্যর্থতার ঝুঁকি বেশি, প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভবত সেসব কাজেই আগে এআই ব্যবহার করবে।

অর্থাৎ এআইয়ের ব্যবহার শুধু উন্নত বা উচ্চ দক্ষতার কাজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন নয়। বরং যে কাজগুলো উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় বড় বাধা তৈরি করছে এবং যেগুলো ঠিক করা গেলে উৎপাদনশীলতা অনেকটা বাড়বে, প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে আগে এআই ব্যবহার করতে পারে।

এটা সেবা খাতের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন কোড লেখা বা অনলাইনে গ্রাহকসেবা দেওয়ার মতো কাজে এআই ভুল কমাতে এবং কাজের মান বাড়াতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এআই মজুরির পার্থক্য কিছুটা কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

ও-রিং মডেল অনুযায়ী, শ্রমিকদের দক্ষতার সামান্য পার্থক্যও উৎপাদনশীলতা ও মজুরিতে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। কারণ উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কাজগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত।

আরকাঁ বলেন, এআই উৎপাদনপ্রক্রিয়ার দুর্বল জায়গাগুলো শক্তিশালী করে এই পার্থক্য কিছুটা কমাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য ব্যবহার করে করা একটি হিসাব বলছে, গবেষণায় দেখানো এই প্রক্রিয়ার কারণে স্বল্পমেয়াদে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

তবে আরকাঁ বলেন, এই লাভ খুব বেশি না। এ ছাড়া এআই চালু করার খরচও কম নয়।

তার বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় কম আয়ের দেশগুলো এআই থেকে বেশি উপকৃত হতে পারে। তবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশকে এই সুবিধা পেতে হলে কৌশল করে এআই ব্যবহার করতে হবে।

বিশেষ করে উৎপাদনপ্রক্রিয়ার যেসব জায়গায় সত্যিকারের সমস্যা বা বড় বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে এআই ব্যবহার করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

আরকাঁ বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এআই ব্যবহারের প্রভাব বুঝতে আরও গবেষণা দরকার। বাংলাদেশে এআই কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের আগ্রহের কথাও তিনি জানান।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।

ফ্রান্স নয়, স্পেনের ভাবনায় শুধুই বেলজিয়াম

কোয়ার্টার-ফাইনাল পেরোলেই মুখোমুখি হতে হবে ফ্রান্সের। তবে সেই বিষয় নিয়ে এখনই ভাবতে নারাজ স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার সব মনোযোগই এখন বেলজিয়াম ম্যাচ ঘিরে। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, সেমিফাইনালের হিসাব কষার সময় এখনও আসেনি।

ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমরা বেলজিয়াম ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না। আগে বেলজিয়ামকে হারাতে হবে। পেশাদার হিসেবে আমাদের কাছে এই মুহূর্তে ফ্রান্স বলে কিছু নেই।’

স্পেন কোচের মতে, এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাই হতে যাচ্ছে বেলজিয়ামের বিপক্ষে, ‘বেলজিয়াম খুবই শক্তিশালী দল। তাদের এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা শিরোপা জেতা ও বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় অভ্যস্ত। আমরা বিশ্বের সেরা আট দলের একটি, কিন্তু তারাও অসাধারণ প্রতিপক্ষ।’

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত একাদশে সুযোগ না পাওয়া খেলোয়াড়রাই মূল একাদশের ফুটবলারদের আরও ভালো খেলতে বাধ্য করেন। একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন দে লা ফুয়েন্তে। তবে তিনি পরিষ্কার করে দেন, পরিবর্তন মানেই কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়।

‘কোনো খেলোয়াড় একদিন ভালো খেলেছে বা খারাপ খেলেছে বলে একাদশ ঠিক করা হয় না। প্রতিপক্ষের ধরন বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদি পরিবর্তন হয়, সেটা কখনোই কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়; বরং আমরা মনে করি অন্য কেউ ওই ম্যাচের জন্য বেশি উপযুক্ত,’ বলেন দে লা ফুয়েন্তে।

স্পেন শিবিরে আপাতত কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। তবে নিকো উইলিয়ামস ও ভিক্তর মুনিওসকে শুরু থেকেই খেলানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি কোচ, ‘সবাই সুস্থ আছে। তবে নিকো সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সমস্যার মধ্যে ছিল, আর ভিক্তর অনেক দিন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেনি। তারা শুরু করবে নাকি পরে নামবে, সেটা আমরা ঠিক করব।’

নিজেদের ফেভারিট মানতেও দ্বিধা নেই দে লা ফুয়েন্তের। তবে সেই তকমা যে জয়ের নিশ্চয়তা নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘আমি বলতে ভয় পাই না যে আমরা ফেভারিট। কিন্তু ফেভারিট হলেই জয় নিশ্চিত হয় না। অনেক সময় প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো খেলেও হেরে যেতে হয়। তাই আমরা শুধু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো নিয়েই ভাবছি।’

পর্তুগালকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলে স্বীকার করলেও তিনি মনে করেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের লড়াই অপেক্ষা করছে। সম্ভাব্য টাইব্রেকারের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা মাঠে ও ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। পেনাল্টিও তার মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের বিশেষজ্ঞরাও কাজ করছেন।’

শেষে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে স্পেনের টাইব্রেকার হারের স্মৃতিও টেনে আনেন তিনি, ‘সেটি ছিল খুবই কষ্টের একটি দিন। এলয় ওলায়া সাহস করে পেনাল্টি নিয়েছিলেন। আমি সব সময়ই জাতীয় দলের বড় সমর্থক ছিলাম, তাই সেই ম্যাচ আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল।’
 

‘তোমার ওপর খুব রাগ হয়, কেন অভিনয় করো না?’

টেলিভিশন নাটকের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী তনিমা হামিদ এখন পুরোপুরি মনোযোগী শিক্ষকতায়। প্রায় দেড় দশক ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা এই শিল্পী বলছেন, ছেলে ও পেশাগত দায়িত্বের কারণেই তিনি অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন। সেইসঙ্গে শিক্ষকতা জীবনে তিনি আনন্দ খুঁজে পেয়েছেন।

নব্বইয়ের দশক ও পরবর্তী সময়ে টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ ছিলেন তনিমা হামিদ। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রী দীর্ঘ সময় ধরে নাটকে নিয়মিত অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে বিটিভির বিভিন্ন নাটকে তাকে নিয়মিত দেখা যেত। সাহিত্যনির্ভর নাটকেও ছিল তার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি।

বর্তমানে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন। প্রায় ১৫ বছর ধরে নাটকে নিয়মিত নন। ২০১০ সালে ছেলের জন্মের পর থেকেই অভিনয় কমিয়ে দেন। ২০১৯ সালের পর আর কোনো নাটকেই কাজ করেননি।

অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তনিমা হামিদ বলেন, ‘মূল কারণ আমার ছেলেকে সময় দেওয়া। এ জন্যই অভিনয় কমিয়ে দিই।’

শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘খুব উপভোগ করছি। উপভোগ না করলে এত বছর থাকা হতো না। যে কাজটি ভালো লাগে, সেটিই করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা খুব এনজয় করছি।’

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি বলেন, ‘এত চমৎকার শিক্ষার্থী পেয়েছি, বলে শেষ করা যাবে না। ওদের সঙ্গে আমার সম্পর্কটাও ভালো। ১০ বছর আগের শিক্ষার্থীও আছে, অনেকে বিদেশে আছে, কিন্তু মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। কী যে ভালো লাগে।’

শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এমনও হয়েছে আমার কোনো শিক্ষার্থী চাকরি পেয়েছে, প্রথম বেতন পেয়ে মাকে একটা শাড়ি কিনে দিয়েছে এবং আমার জন্য দুল কিনে নিয়ে এসেছে। আমি না করার পরও করেছে। এই অনুভূতিগুলো সুন্দর, অনুভূতিগুলো সুখের।’

একসময়ের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীকে অনেক শিক্ষার্থী শুরুতে অভিনেত্রী হিসেবে চিনতে পারে না বলে জানান তনিমা হামিদ।

বলেন, ‘আমি অনেক বছর ধরে নিয়মিত অভিনয় করি না। অনেক শিক্ষার্থী প্রথমে তো আমাকে অভিনেত্রী হিসেবে চিনতে পারে না। পরে জানতে পেরে ইউটিউবে আমার নাটক খুঁজে বের করে দেখে। ওদের বাবা-মার কাছে আমার কথা বলে। তখন দেখা যায় যে তাদের বাবা-মা আমার নাটক দেখেছেন।’

তিনি বলেন, ‘একদিন একজন ছাত্র এসে বললো, “ম্যাম, আপনার নাম পরিচিত লাগে। তারপর বাসায় বলার পর দেখি মা-বাবা আপনাকে চেনেন। আপনার অনেক নাটক তারা দেখেছেন। আমিও ইউটিউবে আপনার নাটক দেখেছি।”’

তনিমা হামিদের অভিনয় জীবন শুরু মঞ্চে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত মঞ্চে অভিনয় করেছেন। টেলিভিশন নাটকে দেখা না গেলেও মঞ্চে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

তার নাট্যদলের নাম ‘নাট্যচক্র’। জন্মের মাত্র আড়াই বছর বয়সে প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন তিনি। নাটকটির নির্দেশক ছিলেন তার বাবা ম হামিদ। পরে বড় হয়ে আলোচিত ‘ভদ্দরলোক’ নাটকে অভিনয় করেন। নাটকটির নির্দেশনা দেন গোলাম সরোয়ার।

মঞ্চে বাবার সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তনিমা হামিদ বলেন, ‘“ভদ্দরলোক” নাটকে বাবার সঙ্গে অভিনয় করেছি মঞ্চে। উনার মেয়ের চরিত্রেই অভিনয় করি। সেসময় বেশ নার্ভাস ছিলাম। বহু বছর পরও বাবার সঙ্গে মঞ্চে অভিনয় করে নার্ভাসই হই। বাবা অসাধারণ একজন অভিনেতা। বাবা ভয়ংকর ভালো অভিনয় করেন। বাবা সারাজীবন বিটিভিতে, নিমকোতে, এফডিসিতে চাকরি করেছেন। আর মঞ্চে সময় দিয়েছেন।’

মঞ্চে তনিমা হামিদের আলোচিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ভদ্দরলোক’, ‘লেট দেয়ার বি লাইট’, ‘বিলকিস বানুর কন্যারা’ ও ‘হায়েনা’। এছাড়া ‘একা এক নারী’ নাটকে একক অভিনয়ও করেছেন তিনি।

অভিনয়ের ব্যস্ত দিনগুলো, লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের পরিবেশ মিস করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তনিমা হামিদ বলেন, ‘মানুষ অভ্যাসের দাস। অভিনয় নিয়মিত করতে না পেরে মিস করি, তা না। শুরুর দিকে মিস করতাম। এখন করি না। তবে কখনো কখনো চমৎকার কিছু কাজ দেখে মিস করি। যা মিস করি তা হচ্ছে, চমৎকার কাজের অভিনয় মিস করি।’

সমসাময়িক সহশিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খুব বেশি নেই। সবাই যার যার পেশায় ব্যস্ত। সহশিল্পীদের সঙ্গে সেভাবে দেখা হয় না, যোগাযোগও নেই। দীপা খন্দকারের সঙ্গে মাঝেমধ্যে ফোনে কথা হয়। দীপার সন্তান ও আমার সন্তান একই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে। সেজন্য যোগাযোগটা বেশি হয়, তাও ফোনে।’

দর্শকদের কাছ থেকে এখনও ব্যাপক সাড়া পান বলেও জানান তনিমা হামিদ। বলেন, ‘প্রচুর সাড়া পাই মানুষের কাছ থেকে। একবার এয়ারপোর্টে সিনিয়র এক দম্পতি বললেন, “তোমার অভিনয় খুব মিস করি। কেন নিয়মিত অভিনয় করো না?”’

আরেকটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘একদিন বাবার সঙ্গে মার্কেটে গিয়েছি। মাস্ক পরা আমি। এক ভদ্রমহিলা কাছে এসে হাত ধরে বললেন, “তুমি কি তনিমা? তোমার চোখ এত পরিচিত! চিনে ফেলেছি। তোমার ওপর খুব রাগ হয়, কেন অভিনয় করো না? কত নাটক দেখেছি তোমার! কত মিস করি তোমার অভিনয়?” এমন বহু উদাহরণ আছে।’

ক্যারিয়ারে মা-বাবার অবদান সম্পর্কে জানতে চাইলে তনিমা হামিদ সংক্ষেপে বলেন, ‘শতভাগ অবদান মা-বাবার।’

ট্রাম্পের ওপর ‘অসন্তোষ’ বাড়ছে উপসাগরীয় মিত্রদের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

কয়েকটি দেশ অভিযোগ করেছে, ইরানের ওপর হামলার আগে তাদের যথেষ্ট সময় দিয়ে সতর্ক করা হয়নি এবং তাদের দেওয়া সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপসাগরীয় দেশের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের বরাতে বার্তাসংস্থা এপি এসব তথ্য জানিয়েছে।

দুটি উপসাগরীয় দেশের কর্মকর্তারা এপিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে হতাশ তারা।

বলেন, ‘হামলার বিষয়ে তাদের আগাম কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। যুদ্ধ শুরু হলে পুরো অঞ্চলে যে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা আগেই দিয়েছিল উপসাগরীয় দেশগুলো, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা গুরুত্ব দেয়নি।’

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক উপসাগরীয় দেশ মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইসরায়েল ও তাদের নিজস্ব সেনাদের সুরক্ষায় মনোযোগ দিয়েছে। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের রক্ষার জন্য ছেড়ে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব দেশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।’

প্রকাশ্যে সমালোচনা

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকারি প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সংযত হলেও তাদের ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করছেন।
তারা ইঙ্গিত করছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ট্রাম্পকে একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে টেনে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে সৌদি আরবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান প্রিন্স তুরকি আল-ফয়সাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা নেতানিয়াহুর যুদ্ধ। তিনি কোনোভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিজের অবস্থানের পক্ষে সমর্থন দিতে রাজি করিয়েছেন।’

প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ

গত মঙ্গলবার খোদ মার্কিন কংগ্রেসেই ইরানে যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

গোপন বৈঠকে তারা স্বীকার করেছেন, ইরানের একমুখী শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করার পর্যাপ্ত সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

কংগ্রেস সদস্যরা প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন আগে থেকে এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। তাদের এমন প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি হেগসেথ ও কেইন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরাক ও সিরিয়ার বাইরে উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক জায়গায় একমুখী হামলাকারী ড্রোন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই।

ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক বদর মুসা আল-সাইফ এপিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত উপসাগরীয় মিত্রদের ঝুঁকি কম করে দেখেছিল এবং ধারণা করেছিল যে ইরান মূলত ইসরায়েল ও মার্কিন সেনাদেরই লক্ষ্য করবে।’

তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সুরক্ষার জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব যুক্তরাষ্ট্রের অদূরদর্শিতাই প্রমাণ করে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরান ও ভেনেজুয়েলার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এলিয়ট আব্রামস বলেন, ‘মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও তাদের উপসাগরীয় মিত্ররা ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে জানতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশীরা ভীত হলেও প্রকাশ করেনি। কারণ তারা নিশ্চিত ছিল না যে ইরান আসলেই হামলা করবে।’

সৌদি আরবের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‌্যাটনি বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে দুর্বল দেখতে চাইলেও, যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন তারা।’

র‌্যাটনির মতে, এরপর যাই ঘটুক না কেন, তার সবচেয়ে বড় প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোকেই বহন করতে হবে।

এপি জানায়, এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলেও বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার জবাব দেয়নি।

দেশে এসেছে ভারতে পলাতক সাবেক এমপি জোয়াহেরুলের মরদেহ

সম্প্রতি ভারতে পলাতক থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) জোয়াহেরুল ইসলাম। গত রাতে তার মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে আনা হয়েছে।

কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মারা যান জোয়াহেরুল।

বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ট্রাভেল পারমিটের আওতায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সাবেক এই এমপির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অবৈধ পথে ভারতে পালিয়ে যান জোয়াহেরুল। গত সপ্তাহে তিনি অসুস্থ হয়ে কলকাতার ডুমডুম এলাকার ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে তার স্ত্রী ও মেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রী চিকিৎসা ভিসায় কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং অসুস্থতার খবর পেয়ে মেয়ে জাকিয়া ইসলাম কলকাতায় যান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য হন জোয়াহেরুল ইসলাম। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি দুইবার করটিয়ার সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন।

প্রতারণা মামলা: নিউ মেক্সিকো প্রশাসনকে ২৫০০ কোটি ডলার দিতে মেটাকে নির্দেশ

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে শীর্ষ সামাজিকমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটাকে গত মাসে দোষী সাব্যস্ত করে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরিবোর্ড।

গতকাল বুধবার মামলার রায়ে নিউ মেক্সিকো প্রশাসনকে দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার দেওয়ার জন্য মেটাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগসহ ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের করা দাবি নিষ্পত্তি করতে মেটা প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হওয়ার কয়েক মাস পর এ জরিমানার রায় এল।

মামলাটিকে ‘মতপ্রকাশের ওপর কর’ বলে সমালোচনা করেছে মেটা।

এক বিবৃতিতে মেটা জানায়, ‘এ রায়ের ফলে…নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আপিলে আমরা জয়ী হব বলে আত্মবিশ্বাসী।’

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা একটি রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় বিশেষভাবে লক্ষ্যভিত্তিক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য অনিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি লাখো ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

ওই সময় প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ‘দিসইজইওরডিজিটাললাইফ’ নামের ব্যক্তিত্ব যাচাই অ্যাপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা তথ্য পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ব্যবহারকারী অ্যাপটি ইনস্টল করেছিলেন। একইসঙ্গে অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের বন্ধুদের তথ্যও সংগ্রহ করেছিল।

সব মিলিয়ে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য পেয়েছিল অ্যাপটি।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ফেসবুক জানতে পারে, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে ২০১৮ সালের আগে এ তথ্য প্রকাশ করেনি মেটা। ওই সময় তথ্য সংগ্রহকারীদের একজন বিষয়টির খোলাসা করেন। এরপরই বড় ধরনের রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়।

নিউ মেক্সিকোর মামলায় জুরি বোর্ডের সদস্যরা মনে করেন, এ অনিয়ম অঙ্গরাজ্যটির ২১ লাখের বেশি বাসিন্দার সবাইকে প্রভাবিত করেছে।

সেপ্টেম্বরে এক বিবৃতিতে মেটার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এই রায়ের সঙ্গে একমত নই এবং আমাদের কর্মকাণ্ডের রেকর্ড বিকৃত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন অব্যাহত রাখব।’

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তোরেজ বলেন, মামলাটি ছিল ‘ভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে কী করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের করপোরেশনগুলো বিভ্রান্ত করতে পারে কি না এবং এর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর কোনো পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে কি না–এ বিষয়ে। নিউ মেক্সিকো নিজের অবস্থানে অটল থেকেছে।’

সম্প্রতি একের পর এক মামলার মুখোমুখি হয়েছে মেটা।

চলতি বছরের শুরুর দিকে শিশুদের ক্ষতির বিষয়ে করা পৃথক একটি মামলায় মেটার বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের সম্মিলিত জরিমানার রায় পক্ষে আসে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের।

গত মার্চে ওই মামলায় মেটাকে সাড়ে ৩৭ কোটি ডলার দিতে নির্দেশ দেন জুরি বোর্ড। বোর্ড পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, শিকারিদের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করাসহ প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের বিভিন্নভাবে বিপদের মুখে ফেলার জন্য মেটা দায়ী।

আগস্টে মেটাকে পণ্যে পরিবর্তন আনতে এবং ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চিকিৎসা ও প্রতিরোধে অর্থায়নের জন্য অঙ্গরাজ্যটিকে অতিরিক্ত ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দিতে নির্দেশ দেন আরেক বিচারক।

একই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৫২টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসির করা অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৭০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয় মেটা।

অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল, প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করেছে, যাতে তরুণ ব্যবহারকারীরা এতে আসক্ত হয়ে পড়েন; ঝুঁকি সম্পর্কে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

ওই মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে কিশোর-কিশোরীদের ব্যবহৃত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে মেটা। নিষ্পত্তির কিছু শর্ত নির্ভর করছে অন্য বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের পরিবর্তনে সম্মত হয় কি না, তার ওপর।

সেপ্টেম্বরে অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যকে অন্তত ১০ কোটি ডলার দিতে এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য বিধিনিষেধ চালু করতে সম্মত হয় আরেক সামাজিকমাধ্যম টিকটক। এর ফলে প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিচার এড়াতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে, আরও কয়েকটি মামলা নিষ্পত্তি করে টিকটক। এগুলোর মধ্যে ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসে এক তরুণীর এবং কেনটাকির একটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের করা মামলা।

মার্চে শেষ হওয়া আরেকটি যুগান্তকারী মামলায় লস অ্যাঞ্জেলেসের জুরি বোর্ড মেটা ও ইউটিউবকে দায়ী সাব্যস্ত করে। বোর্ডের মতে, এক কিশোরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানই দায়ী ছিল।

ওই কিশোরটিকে ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন জুরি বোর্ড।

ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা খুন: বিচার চেয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়।

পরে বেলা ১১টার দিকে নেতাকর্মীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল শুরু হয় বলে জানান কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা টায়ার ও বাঁশ-কাঠ পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ খুন হন। ৩৫ বছর বয়সী বুলবুল পাশের শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।

বন্দরের এ অংশ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন।

বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেন ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সহসভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ।

তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরে মামলা করেন বুলবুল। মামলায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়। এই মামলার জেরেই সালেহনগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন মাছুম বিল্লাহ।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন হোয়াটস অ্যাপে এক বার্তায় জানান, হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

থানায় এখনো হত্যা মামলা দায়ের হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ২১ শতাংশের বেশি, প্রভাব পড়তে পারে ফ্লাইটের টিকিটে

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ২১ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ভ্রমণ ব্যয় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশীয় রুটে বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের জন্য শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক শূন্য ৩৫৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ রোববার এক আদেশে জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। নতুন দর আজ রাত থেকে কার্যকর হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দেশি ও আন্তর্জাতিক রুটের ভাড়ায় এর প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি আজ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর অধীনে গণশুনানি করেছে।

৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত জেট এ-১ এর প্ল্যাটস দর এবং বিপিসির ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি আগস্ট মাসের জন্য দাম সমন্বয় করেছে।

এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়বে। এর প্রভাব যাত্রী ভাড়ায় পড়া উচিত।

তিনি বলেন, জ্বালানির দাম প্রতি লিটার ২৩০ টাকা হয়েছে। এতে যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়ানো যৌক্তিক।

মোফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব এয়ারলাইনসের ওপরই পড়বে। কারণ তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাবে।

বেসরকারি এয়ারলাইনস কোম্পানি নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান
ডেইলি স্টারকে বলেন, বাড়তি ব্যয় টিকিটের দাম বাড়িয়ে যাত্রীদের ওপর না চাপালে এয়ারলাইনসগুলো সেই ব্যয় পুষিয়ে নিতে পারবে না। এতে লোকসানে পড়তে পারে।

ঢাকাভিত্তিক আরেক বেসরকারি এয়ারলাইনস এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ ডেইলি স্টারকে বলেন, দুই সপ্তাহ পরও জ্বালানির দাম না কমলে আমরা এর প্রভাব মূল্যায়ন করব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করব।
 

আনচেলত্তির ছাঁটাই চান রোমারিও, এন্দ্রিককে কড়া ভাষায় তুলোধোনা

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের অপ্রত্যাশিত বিদায়ের ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটির ফুটবল অঙ্গন। ক্ষোভে ফুঁসছেন অনেক সাবেক খেলোয়াড়, সমর্থক থেকে শুরু করে কিংবদন্তিরাও। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সরব ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী রোমারিও। নরওয়ের কাছে হারের পর জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সহজ সুযোগ নষ্ট করা তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককেও একহাত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।

রোমারিওর মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে বয়স কোনো অজুহাত হতে পারে না। নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাড়ানো বল থেকে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন ১৯ বছর বয়সী এন্দ্রিক। সেই ব্যর্থতাকেই ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন তিনি।

নিজের ইউটিউব অনুষ্ঠান রোমারিও টিভিতে সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘অনেকে বলছে, সে তো এখনো তরুণ। এসবের কোনো মূল্য নেই। তরুণ হোক, অভিজ্ঞ হোক, সুযোগ পেলে গোল করতেই হবে। জাতীয় দলে খেলতে নামলে দায়িত্বও নিতে হবে। এন্দ্রিকের মিস করা সুযোগটা পুরোপুরি তার নিজের ভুল। এমন মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় গোল করতে হয়। আমি তাকে পছন্দ করি, বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে সে ব্রাজিলকে অনেক আনন্দ দেবে। কিন্তু ওই ম্যাচে সে খুবই বাজে খেলেছে।’

শুধু এন্দ্রিক নন, কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতিও ছিল রোমারিওর তীব্র ক্ষোভ। ইতালিয়ান এই কোচের অধীন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি মনে করেন, আনচেলত্তির আর দায়িত্বে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

রোমারিও বলেন, ‘এই ব্যর্থতা ও লজ্জার পর আনচেলত্তির ব্রাজিলের কোচ হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি হলে তার চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলতাম। এরপর চাইলে তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলাই করতেন।’

সমালোচনা থেকে রেহাই পাননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিসের প্রসঙ্গ টেনে রোমারিওর দাবি, দলের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব ভিনিসিয়ুসেরই নেওয়া উচিত ছিল।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ব্রুনো নাকি পেনাল্টি ভালো নেয়, তাই কোচের নির্দেশ ছিল সে নেবে। ঠিক আছে, কিন্তু ভিনিসিয়ুস তো দলের সবচেয়ে বড় তারকা। এমন মুহূর্তে নেতৃত্ব দেখাতে হয়। বলটা নিজের হাতে নিয়ে পেনাল্টি নেওয়া উচিত ছিল।’

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) ভেতরেও আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাকে রেখে দেওয়ার পক্ষে থাকলেও রোমারিওর মতো কিংবদন্তিদের প্রকাশ্য সমালোচনা ইতালিয়ান কোচের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।