27.3 C
Dhaka
Home Blog

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি আজকে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসেই জনগণের কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষায় তারেক রহমান নিরলস পরিশ্রম করছেন, দিন-রাত কাজ করছেন।

দলের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ না থাকলে সেটি মোকাবিলা করে ভালো কিছু করার মধ্যে তো কোনো কৃতিত্ব নেই! নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে, ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত আছে, কিন্তু সেগুলোকে মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার অঙ্গীকারগুলো—ফার্মারস কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভাতা, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকটে বিএনপি বা সরকার দায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ…হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুএকটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোম পড়েছে। তারপরেও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের উপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’

মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে। তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা, অথচ সরকার চালাতে গিয়ে দল হিসেবে বিএনপি পৃথক থাকতে পারছে না—গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভেগ টার্ম।’

রিজভী বলেন, ‘জনগণ পার্টিকে ভোট দিয়েছে, পার্টি সরকার গঠন করেছে। সরকারের মন্ত্রীরা সব বিএনপির নেতা। অধিকাংশই বিএনপির নেতা। তাহলে পার্টিকে যখন ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে, পার্টির লোকরাই তো সরকার পরিচালনা করবে! এটার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’

‘আমরা বারবার বলেছি, তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মী সরকারের অংশ। সরকারের সব কর্মসূচি, যেটা জনকল্যাণে-জনস্বার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলো আমাদের নেতাকর্মীরা ভালো করে জনগণকে অবহিত করবে। এর মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই, কোনো বৈশব্দ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্টি পার্টির জায়গায় আছে, সরকার সরকারের জায়গায় আছে। কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে বিএনপি এবং বিএনপির লোক। সুতরাং দলের লোকরাই তো মন্ত্রী হবে, চিফ হুইপ হবে। চিফ হুইপ ভাইস চেয়ারম্যান কাকে করবে? অন্য দেশ থেকে ধার করে আনবে, না অন্য পার্টি থেকে ধার করে আনবে? দলের লোকরাই হবে।’

‘এটা (দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা) একটা কথা ছুড়ে দিয়েছে, এটা একটা ভেগ টার্ম। এটার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নাই। পার্টিতে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তারা পার্টির দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারেও যারা মন্ত্রী আছেন, তারা মন্ত্রিত্বের ফাঁকে পার্টির যে দায়িত্ব তাদের ওপর আছে, তার পদ অনুযায়ী সেই দায়িত্ব পালন করবেন,’ বলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

খরচ মেলাতে মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে টান, কেনাকাটায় কাটছাঁট

মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাপন ছকে বাঁধা থাকে। কর্মস্থলের খুব কাছাকাছি না হলেও যাতায়াত করা যায়, এমন দূরত্বে একটি ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া। ঘরে একটি এসি, হয়তো একটি মোটরসাইকেল বা ছোট একটি গাড়ি থাকে। ছুটির দিনে হয়তো পরিবার নিয়ে বাইরে কোথাও খেতে যাওয়া। মাস শেষে যদি সম্ভব হয়, সামান্য কিছু টাকা সঞ্চয় করা।

এটি কোনো বিলাসী জীবনের ছবি নয়। এটা অনেকটা—কারও কাছে হাত না পেতে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার চেষ্টা। কিন্তু দিন দিন বেড়ে চলা জীবনযাত্রার খরচের কারণে মধ্যবিত্তের সেই চেনা ছক এখন হুমকির মুখে।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রেজওয়ানা রহমানের কথাই ধরা যাক। গত আগস্ট মাসে তিনি যখন বিদ্যুতের বিল হাতে পান, ভেবেছিলেন বিল আগের চেয়ে কম আসবে।

কারণ, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমের পর জুলাইয়ে আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা ছিল। তাই পরিবারের একমাত্র এসিটি সেভাবে চালানোই হয়নি। লাইনের গ্যাসের সরবরাহও ঠিক ছিল। ফলে ইনডাকশন চুলাও ব্যবহার করতে হয়নি।

রেজওয়ানার ধারণা ছিল, তার দুই বেডরুমের ছোট ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ বিল ২ হাজার টাকার নিচেই থাকবে। কিন্তু বিল হাতে পেয়ে দেখেন ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

রেজওয়ানা বলেন, ‘এত বেশি বিল আসার পেছনে বিদ্যুতের বাড়তি দাম ছাড়া আর কোনো কারণ থাকতে পারে না।’

অর্থনীতিবিদদের মতে রেজওয়ানার মতো মধ্যবিত্তের এই দুর্ভোগের পেছনে আছে ‘স্টিকি অ্যান্ড স্টাবর্ন ইনফ্লেশন’ বা ‘জেদি মূল্যস্ফীতি’।

সরকারের নানা উদ্যোগের পরও মূল্যস্ফীতির হার কয়েক বছর ধরেই মানুষের স্বস্তিদায়ক সীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে।

এই চাপ সমাজের নানা স্তরে দৃশ্যমান। ভর্তুকি মূল্যের নিত্যপণ্যের লাইনে মানুষের ভিড় বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও দেখা যাচ্ছে, লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। আর যে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো একসময় মাস শেষে কিছুটা সঞ্চয় করতে পারত, তাদের সেই জমানো টাকা এখন নিত্যদিনের খরচ মেটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এই মূল্যস্ফীতি ধনীদের জন্য কোনো বড় সমস্যা নয়। অন্যদিকে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের কিছু সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি থাকে। কিন্তু মধ্যবিত্তরা পড়েছে দোলাচলে। তাদের আয় এতটাই যে তারা সরকারি সাহায্য পাওয়ার যোগ্য নয়, আবার মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলানোর মতো আর্থিক সামর্থ্যও তাদের নেই।

ধনীদের ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো: ‘আমি কি এটা কিনতে পারব?’ আর মধ্যবিত্তের প্রশ্ন হলো: ‘সঞ্চয়ে হাত না দিয়ে বা অন্য কোনো খরচ না কমিয়ে আমি কীভাবে এটা কিনব?’

বছরের পর বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় পরিবারের জমানো সেই সঞ্চয়টুকুও নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। রেজওয়ানা এবং তার মতো লাখো মধ্যবিত্তের মাসের হিসাব এখন আর কিছুতেই মিলছে না।

চারদিক থেকে চাপ

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সরকার দেশে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ এবং সিলিন্ডারের গ্যাসের দাম বাড়ায়।

এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর এসে পড়ে। সব দিক থেকেই তাদের ওপর চাপ বাড়তে থাকে—বাড়তি বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বাড়ায় খাবারের দাম বৃদ্ধি এবং রান্না করার খরচ বেড়ে যাওয়া।

অর্থনীতিবিদরা এই চাপ নিয়ে সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল। দুবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গত জুনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছিল, বিদ্যুতের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

সিপিডির সেই আশঙ্কাই এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই মূলত সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে ৯ দশমিক ২১ শতাংশে নিয়ে গেছে।

এই চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাইনের গ্যাসের তীব্র সংকট। শহরের অনেক বাসাবাড়িতেই রান্নার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা বা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে, যা বেশ ব্যয়বহুল। এর ওপর ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

রাজধানীর পল্লবীর বাসিন্দা মাহমুদা কামাল বলেন, ‘ছুটির দিনে বা সরকারি ছুটির দিনে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন রাইস কুকার ও এয়ার ফ্রায়ারের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।’

ইনডাকশন কুকার কেনার কথা ভেবেছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাহমুদাও। কিন্তু পরে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার ভয়ে সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন।

ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা লালন্তিকা পিয়াসি জানান, তার এলপিজি সিলিন্ডারের খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এই খরচ মেটাতে অন্য খরচগুলো কাটছাঁট করতে হচ্ছে তাকে।

বেড়েছে খাবারের খরচ

শুধু জ্বালানি বিলই নয়, মধ্যবিত্তের এই চাপ বাজারের থলে থেকে ডাইনিং টেবিলের থালাতেও এসে পৌঁছেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বাজারে গেলেই এখন হিসাব করতে হয় যে কোন জিনিসটি না কিনলেও আপাতত চলবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে এই হার ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ থাকলেও, মার্চে তা বেড়ে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং জুনে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়। মূলত মাংস, মাছ, ফল, সবজি এবং মসলার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রেজওয়ানা বলেন, ‘যখনই বাজারে যাই, দেখি কোনো না কোনো জিনিসের দাম আবার বেড়ে গেছে।’

এর মধ্যে সরকার খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে। মোটরসাইকেলে করে যাতায়াত করা ঢাকার বসিলা এলাকার বাসিন্দা রকিবুল হাসান এর প্রভাব টের পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘অকটেনের দাম বেশ কিছুটা বেড়েছে, যা আমার মাসিক বাজেটে বড় একটা ধাক্কা দিয়েছে।’

রকিবুল জানান, সম্প্রতি তার বেতন কিছুটা বাড়ায় তিনি বাড়তি এই খরচ কোনো রকমে সামলাতে পারছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সাধারণ মানুষের আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।

গত জুনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছিলেন, মানুষের আয় বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে পিছিয়ে আছে, যার ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে মানুষের আয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের এই ব্যবধান আরও বেড়েছে। জুনে আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা ওই সময়ের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।

ফুরিয়ে যাচ্ছে সঞ্চয়

ক্রমাগত এই মূল্যস্ফীতি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন আর শুধু সাময়িক কোনো ধাক্কা নয়। দীর্ঘমেয়াদি এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা এবং সঞ্চয়ের সক্ষমতা ধীরে ধীরে শেষ করে দিচ্ছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন, ইউটিলিটি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার খরচ বারবার বাড়ায় মানুষের প্রকৃত আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘যাদের আয় কাগজে-কলমে বেড়েছে, তারাও বাস্তবে আরও দরিদ্র হয়েছেন। কারণ, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় বাড়েনি।’

রেজওয়ানার জীবনের আর্থিক টানাপোড়েন এই বৃহত্তর চিত্রের সঙ্গে মিলে যায়। চারজনের পরিবারে একমাত্র স্বামী আয় করেন। খুব হিসাব করে তাদের সংসার চালাতে হয়।

বেশি দিন আগের কথা নয়, রেজওয়ানা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা সঞ্চয় করতে পারতেন। কিন্তু গত প্রায় ছয় মাস ধরে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকায় সঞ্চয়ের জায়গাটি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন তো শুধু বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে গেছে। সঞ্চয় করব কীভাবে?’

সেলিম রায়হান বলেন, ‘এই পরিবারগুলোর কি এখনো কোনো সঞ্চয় আছে? দিন দিন এর উত্তর “না” হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, অনেকেই তাদের জমানো টাকা তুলে ফেলছেন, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাচ্ছেন, সস্তা পণ্য কিনছেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পেছনে খরচ কমাচ্ছেন।

তার মতে, মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি বিপদে আছে। কারণ, তারা একদিকে যেমন সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে থাকে, অন্যদিকে তাদের আবাসন, শিক্ষা এবং পারিবারিক খরচের বিশাল একটি বোঝাও টানতে হয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘অর্থনৈতিক চাপে মানুষের সামাজিক অবস্থান স্থায়ীভাবে নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।’

অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব

দেশের এই মূল্যস্ফীতি এখন আর শুধু বৈশ্বিক বাজারের ধাক্কার ফলাফল নয়। এটি দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে সামনে এনেছে।

সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই সংকটের স্থায়িত্বই একে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারগুলোর বাজেটের বড় অংশই চলে যায় খাবারের পেছনে। প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় তাদের খরচ কমানোর আর কোনো সুযোগই অবশিষ্ট নেই।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, বিশেষ করে খাবারের দামের মাধ্যমে আঘাত হেনেছে।

তিনি জানান, এর প্রভাব শুধু পরিবারের বাজেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে, কারখানাগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান মনে করেন, প্রচলিত মুদ্রানীতি বা অর্থের জোগান কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এই সংকট উত্তরণে খুব একটা কার্যকর নয়। কারণ, এই সংকট মূলত পণ্য সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা, বাজারের অব্যবস্থাপনা এবং বিতরণ কাঠামোর ত্রুটির কারণে তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারকে বুঝতে হবে যে বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারণেই মূলত এই মূল্যস্ফীতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থনীতির এই ধীরগতির সময়ে মানুষের কেনাকাটা বা চাহিদা কমানোর চেষ্টা করলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, এতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার মূল কারণগুলোর কোনো সমাধান হবে না, উল্টো অর্থনীতির আরও বেশি ক্ষতি হতে পারে।

দুই ম্যাচে ছয় কার্ড: আর্জেন্টিনার ম্যাচে দায়িত্বপ্রাপ্ত কে এই পর্তুগিজ রেফারি?

আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালের মূল রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো। প্রথমবারের মতো রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে আসা পিনহেইরো এর আগে কখনো আর্জেন্টিনার ম্যাচের দায়িত্ব পালন করেননি। 

তবে চলতি বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ৪-১ গোলে জেতা ম্যাচে তিনটি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন পিনহেইরো। 

এছাড়া রাউন্ড অব ৩২ এ কানাডা-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচও পরিচালনা করেছেন পিনহেইরো। সেই ম্যাচেও দুটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে স্বাগতিক কানাডার জোরালো দাবি সত্ত্বেও একটি পেনাল্টি দেননি তিনি। এই বিশ্বকাপে দুই ম্যাচেই মোট ৬ বার কার্ড দেখিয়েছেন তিনি। 

৩৮ বছর বয়সী এই রেফারি ২০১৬ সালে পেশাদার রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বিশ্বকাপে প্রথমবার দায়িত্ব পালন করলেও বড় মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা তার আছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে রেফারি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে বেশ কিছু বড় ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। 

এই বছরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ শোরগোল পড়েছিল। বায়ার্ন মিউনিখ ও পিএসজির মধ্যকার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে পিএসজি যখন ১-০ গোলে এগিয়ে, তখন বায়ার্নের একটি পেনাল্টির আবেদনে তিনি সাড়া দেননি। বায়ার্নের অভিযোগ ছিল, পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসের হাতে বল লাগার পরেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। এ ঘটনার প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল পুরো বায়ার্ন মিউনিখের বেঞ্চ। 

এছাড়া গত বছর পিএসজি ও টটেনহাম হটস্পারের মধ্যকার সুপার কাপের ফাইনালেও রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই রেফারি। সেই ম্যাচেও চারটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন তিনি। 

‘মালিক’ সিনেমার লুক, ‘জ্যাজ সিটি’র প্রাপ্তি নিয়ে যা বললেন আরিফিন শুভ

আরিফিন শুভ অভিনীত ‘মালিক’ এবারের ঈদুল আজহায় দেশের ৩২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির পর দ্বিতীয় সপ্তাহেও দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি ভালো সাড়া পাচ্ছে। 

এতে শুভর বিপরীতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। দর্শকদের অনেকেই শুভর অভিনয়, অ্যাকশন দৃশ্য, গেটআপ ও লুকের প্রশংসা করেছেন।

সাইফ চন্দন পরিচালিত এই সিনেমার প্রচারণা উপলক্ষে বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সে দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেছেন আরিফিন শুভ।

সম্প্রতি ‘মালিক’ সিনেমার বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার, অভিনয়জীবন ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে তিনি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য সেই আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো।

দ্য ডেইলি স্টার: ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মালিক’ সিনেমা নিয়ে দর্শক কী বলছেন?  

আরিফিন শুভ: ঈদের সময়ে দর্শক যে ধরনের সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন, ‘মালিক’ সে ধরনেরই সিনেমা। এ সিনেমায় অ্যাকশন, প্রেম ও ফান— সবকিছু আছে। ঈদের জন্য একটা দারুণ সিনেমা। তাছাড়া, আমাকে এমন লুকে আগে কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি। আশা করছি, সব ধরনের দর্শক উপভোগ করছেন সিনেমাটি।

দ্য ডেইলি স্টার: আপনার চরিত্র, লুক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ‘মালিক’ সিনেমা মুক্তির পর নতুন কোনো সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন?

 

আরিফিন শুভ: শুধু এই সিনেমাই নয়, আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট ‘জ্যাজ সিটি’ মুক্তির পর থেকেই অনেক নির্মাতা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আমাকে নিয়ে। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে নতুন কাজের বিষয়ে। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যেই নতুন কাজের সংবাদ দিতে পারব।

‘জ্যাজ সিটি’ নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। দেশ-বিদেশের অনেকেই আমার এই কাজের প্রাণখোলা প্রশংসা করেছেন। ‘জ্যাজ সিটি’-তে জিমি রয় চরিত্রটি তাদের মন জয় করেছে। এই কাজের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছিলাম। এমন আরও কাজ করতে আমি আগ্রহী।

দ্য ডেইলি স্টার: নিজের অভিনীত সিনেমা ছাড়া ঈদের অন্য কোনো সিনেমা কি দেখেছেন?  

আরিফিন শুভ: নিজের সিনেমার প্রমোশন নিয়ে ব্যস্ত আছি। এইসব প্রচার-প্রচারণা শেষ হলে অন্য সিনেমাগুলো দেখার ইচ্ছে আছে। কারণ, আমি বিশ্বাস করি, একে অন্যের হাত ধরে আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাবে। আশা করছি, দ্রুত অন্য সিনেমাগুলো দেখে ফেলব।

দ্য ডেইলি স্টার: সিনেমার প্রচারণায় গিয়ে কী বুঝতে পারলেন?

আরিফিন শুভ: বুঝতে পারলাম প্রোপার সিনেমা বানালে মানুষ সিনেমা দেখে। এই যে আমার সিনেমাটা হাউজফুল গেছে। মানুষ সিনেমা দেখে তাদের ভালোলাগা-মন্দলাগা জানাচ্ছে। ভালো বাজেট পেলে আমাদের দেশের সিনেমা আরও এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

দর্শক আসলে কী, কেমন সিনেমা পছন্দ করেন, কিছুটা হলেও জানা হয়েছে। কিছুদিন আগে মুক্তিপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট ‘জ্যাজ সিটি’ নামের ১০ পর্বের ওয়েব সিরিজ আর ‘মালিক’ সিনেমা একেবারে আলাদা জনরার প্রজেক্ট। কিন্তু আমার দুটি প্রজেক্ট নিয়ে মানুষ কথা বলছে। এটা সত্যিই আমার জন্য আনন্দের। ‘জ্যাজ সিটি’ নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়া অনেক প্রশংসা করেছে।  

 

দ্য ডেইলি স্টার: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনার একটি সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ নিয়ে কথা হচ্ছে। তা নিয়ে কী বলবেন?

আরিফিন শুভ: আমার কথা একই। এটা নিয়ে আগে যা বলেছি, এখনো সেটিই বলছি। অনেক জায়গায় কাজ করে নিজেকে প্রমাণ করেছি, আর প্রমাণ দেওয়ার মতো কিছু নেই। ২০০৪ সালে প্রথম ফ্যাশন শো দিয়ে শুরু আমার। এরপর মডেলিং, রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা, ওটিটি— সবখানে কাজ করেছি। ফলটাও ভালো পেয়েছি।

নিজেকে প্রমাণ করার মতো কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। তার কারণ, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ সিনেমার মতো প্রেমের ছবিতে অভিনয় করেছি, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার মতো অ্যাকশন সিনেমা, আবার ‘মিশন এক্সট্রিম’ সিনেমায় সিক্সপ্যাক দেখিয়েছি। ‘আহারে’ সিনেমা মতো সিনেমায় কাজ করেছি। অন্যদিকে ‘জ্যাজ সিটি’ সিরিজে অভিনয় করে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। আমি কী পারি, সেটা ইন্ডাস্ট্রি জানে। সেখান থেকেই কথাটি বলা।

দ্য ডেইলি স্টার: নিজের প্রেম-বিয়ে নিয়ে কী বলবেন?  

আরিফিন শুভ: আমার এখন সারা দিনরাত প্রেম শুধুমাত্র কাজের সঙ্গে। এখানে কোনো ফাঁকি নেই। কাজের মাধ্যমেই প্রেমের প্রকাশ পাচ্ছে। আর যদি আমার ব্যক্তি জীবনের প্রেমের কথা বলেন তাহলে বলি, আমার প্রেমের পুরোনো ক্ষত এখনো রয়ে গেছে। তাই এইসব নিয়ে ভাবছি না। প্রেম-বিয়ে নিয়ে এখন ভাবনা নেই। 

অন‌ভিজ্ঞ এম‌ডির অ‌নিয়ম স্বেচ্ছাচা‌রিতায় ঝু‌ঁকির মু‌খে মে‌ট্রো‌রেল, তদন্ত চে‌য়ে প্রধানমন্ত্রীর কা‌ছে চি‌ঠি

ঢাকা মেট্রোরেলের প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, প্রশাসনিক জটিলতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষ এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শওগাতুল আলমের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন আজিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া ওই আবেদনে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প পরিচালনায় দক্ষতা এবং তাঁর নিয়োগের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর যানজট নিরসন এবং আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেট্রোরেল একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো প্রকল্প। তবে বর্তমান ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রত্যাশিত অগ্রগতি বজায় থাকছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কিছু সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী।

আবেদনে মো. শওগাতুল আলমের পূর্ববর্তী কর্মপরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, তিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাবনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র ও দৃশ্যভিত্তিক উপস্থাপনা তৈরির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আবেদনকারী তাঁর অতীত কর্মপরিচয়, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষের বিষয়টিও আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আচরণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্ট হয়ে তিনজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এসব পদত্যাগের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওগাতুল আলমের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনায় নজরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর অতীত পেশাগত ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে তাঁর ভূমিকার বিষয়টিও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

এ ছাড়া মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎব্যবস্থা এবং নির্মাণকাজের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা, বাস্তব অগ্রগতি, ব্যয় এবং কারিগরি মান যাচাইয়ে স্বাধীন কারিগরি নিরীক্ষা ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন আবেদনকারী।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও আবেদনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠান মারুবেনিসহ সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সমন্বয় ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রকল্পের কাজ, চুক্তি বাস্তবায়ন কিংবা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া আবেদনে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পের অগ্রগতি ও নির্মাণকাজের মান যাচাই, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত অভিযোগ পর্যালোচনা, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং তাঁর নিয়োগের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া যাচাই।

আবেদনকারী বলেছেন, তদন্তে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অনিয়ম কিংবা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মেট্রোরেলের চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেট্রোরেল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি জনগণের অর্থে গড়ে ওঠা জাতীয় সম্পদ। তাই এ প্রকল্পের নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহি, দক্ষতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে আবেদনকারীর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কিংবা স্বাধীন তদন্তের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবেদনকারী আজিজুর রহমান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওগাতুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয় এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নেপালে বিপুল বিজয়ের পথে ‘র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ’ বালেন্দ্র শাহ

নেপালের রাজনীতিতে বড় চমক নিয়ে আসছেন র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন্দ্র শাহ। দেশটির নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, তার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পথে রয়েছে।

শনিবারের ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, গত বছর ছাত্র আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে আরএসপি।

কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই এএফপিকে বলেন, ‘প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি অনেক জায়গায় এগিয়ে আছে এবং বেশ কয়েকটি আসনে জয়লাভ করেছে।’

যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে প্রবীণ মার্ক্সবাদী নেতা কেপি শর্মা ওলিকে হারিয়ে কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র থেকে নেপালের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহের উত্থান দেশটির সাম্প্রতিক রাজনীতির অন্যতম নাটকীয় ঘটনা হতে পারে।

শনিবার সকাল পর্যন্ত নির্বাচনের ১৬৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ২৪টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আরএসপি ১৮টি এবং নেপালি কংগ্রেস ৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল মাত্র ১টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে বাকি ৯৯টি আসনে আরএসপি এগিয়ে রয়েছে।

এ ছাড়া আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) ১১০টি আসনের ভোট গণনায়ও বালেন্দ্র শাহের দল অর্ধেকের বেশি ভোট নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র জানান, নির্বাচনের ফল সোমবারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে আনুপাতিক ভোটের হিসাব শেষ করে পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে চলছে বলে তিনি জানান।

নেপালে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে বড় বিক্ষোভে রূপ নেয়। ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন এবং কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনের ছয় মাস পরই নির্বাচিত সরকার পেতে যাচ্ছে দেশটি।

শুক্রবার থেকেই কাঠমান্ডুর রাস্তায় বালেন্দ্র শাহের সমর্থকেরা বিজয় উৎসব শুরু করেছেন।

বালেন্দ্র শাহ নিজেও সরাসরি নির্বাচনে ৭৪ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এটি পুরোনো নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তারুণ্যের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে গত জোট সরকারের বৃহত্তম দল নেপালি কংগ্রেসের নতুন নেতা গগন থাপাও নিজ আসনে পিছিয়ে রয়েছেন।

দোল পূর্ণিমা আজ

দেশজুড়ে প্রার্থনা, ধর্মীয় আচার ও রঙ খেলার মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা উদযাপিত হচ্ছে।

শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার স্মরণে ভক্তরা আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভীড় জমান বিভিন্ন মন্দিরে। ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী রঙে রঙে রাঙিয়ে দেন একে অপরকে।

ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার চরণে আবির দিয়ে পূজা নিবেদন করছেন। শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি কামনায় অনেকেই বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নিয়েছেন।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দোল পূর্ণিমা উৎসব পালন করতে সমবেত হয়েছেন শত শত পুণ্যার্থী। 

আবিরের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ। সেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা একে অপরকে রঙ মেখে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠেছেন।

দোল পূর্ণিমা হোলি বা দোলযাত্রা নামেও পরিচিত। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই উৎসব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে এই দিনে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধা তাদের সঙ্গীদের নিয়ে আবির খেলায় মেতে উঠেছিলেন। সেই স্মৃতিকে স্মরণ করেই এই উৎসব উদডাপিত হয়।

ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি দোল পূর্ণিমা এখন একটি সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

 

অতীতে আটকে গেলে উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া যাবে না: দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাজনৈতিকভাবে আপনারা কীভাবে দেখবেন? কারণ আমরা জানি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে একটা টানাপড়েন আছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারতে যাওয়ার কথা, সেটা কবে যাবে—গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন করলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। আর অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। আর আমাদের বলা উচিৎও না।

‘কারণ দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত সরকার ভালো বুঝবে যে লোকেদের (জনগণ) জন্য কী ভালো। ওইটাই সত্যি কথা,’ বলেন তিনি।

ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য জানতে চাইলে ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা চাই পিপল টু পিপল রিলেশন। আমি না থাকলে, অন্য যে আমার জায়গায় থাকবে, একই জিনিস…।’

দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধির চাওয়া একই যে পিপল টু পিপল কীভাবে আমরা…কেননা আমরা যা সিদ্ধান্ত নেই, তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। সাধারণ মানুষের যা কিছুতে ভালো হবে, ওটা (করা) আমাদের দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তো সব সময় বলি যে আমরা একটা ড্রিম শেয়ার করি, বর্ডার তো শেয়ার করিই! প্রতিবেশী হিসেবে আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর আমি সব সময় বলি, আমরা সমান। কেউ বড় নই, কেউ ছোট নই।’

ত্রিবেদী বলেন, ‘চ্যালেঞ্জে থাকবে। আমাদের অ্যাপ্রিশিয়েট করতে হবে যে বাংলাদেশের কী ডেমোক্র্যাটিক চ্যালেঞ্জে আছে, বাংলাদেশকেও অ্যাপ্রিশিয়েট করতে হবে যে ইন্ডিয়ার কী চ্যালেঞ্জেস। ওই চ্যালেঞ্জেস মাথায় রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

‘অতীতে যদি আমরা আটকে যাই…অতীত আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ার তো কোনো জায়গা নাই! কেননা আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না,’ যোগ করেন তিনি।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কীভাবে দুই দেশে মুক্তবাণিজ্য এগোতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শাহে আলম বলেন, এটা একদম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর আমাদের মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নিয়ে উনি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। ভারতের সাবেক এমপি-মন্ত্রী হিসেবে উনি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমি আমাদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নিয়ে আমরা বলেছি যে চলতি অর্থবছরে আমাদের নির্বাচনগুলো হবে এবং এই নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনগুলো আমাদের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে।

গ্যাস সংকটের অবনতির সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস, বন্ধ অনেক শিল্পকারখানা

চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো গ্যাস সংকট গতকাল বৃহস্পতিবার আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এদিন বিকেল ৫টার দিকে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির এই অবনতি ঘটে।

জাতীয় গ্রিডে এখন প্রয়োজনীয় এলএনজি সরবরাহের মাত্র চার ভাগের এক ভাগ পাওয়া যাচ্ছে।

সাগরে আবহাওয়া খারাপ থাকায় সোমবার থেকে অপেক্ষায় থাকা একটি এলএনজি ট্যাংকার ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ভিড়তে পারেনি। এ কারণে ওই টার্মিনাল থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, নতুন করে এই সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো।

এর ফলে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মোট গ্যাস সরবরাহ কমে ১ হাজার ৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।

গত বুধবার ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল।

এই সংকটের কারণে বড় বড় শিল্প এলাকাগুলোতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা বন্ধ রেখেছে। সিএনজিচালিত গাড়ি চলাচল ও রান্নার কাজে চরম ভোগান্তি হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক কমে গেছে।

নারায়ণগঞ্জের ৩৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৩০টিই যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহের দাবিতে গতকাল জামালপুরে মহাসড়ক অবরোধ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা।

গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় বেশ কয়েকটি জেলার বাসিন্দারা রান্নাবান্না করতে হিমশিম খাচ্ছেন। গ্যাসের এই চরম সংকট এখন বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, এমনকি ঢাকাতেও এর প্রভাব পড়ছে।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) কর্মকর্তাদের মতে, গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় গতকাল মধ্যরাত থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় দিনে আট থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) যেখানে ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন, সেখানে তারা পাচ্ছেন মাত্র ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট।

দেশে বর্তমানে ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথমার্ধে প্রতি ঘণ্টায় গড় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ উচ্চ পর্যায়ে ছিল।

তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের হাতে বর্তমানে তাৎক্ষণিক কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই।

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গতকাল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির মালিকানাধীন ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৌশলীদের মাধ্যমে এটি সচল করার অপেক্ষা করা ছাড়া আর তেমন কিছু করার নেই।

ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতে নিয়োজিত প্রকৌশলীদের কথা উল্লেখ করে টুকু বলেন, ‘দিন গোনা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না।’

সরকার বর্তমান গ্যাস সরবরাহ কাজে লাগিয়ে লোডশেডিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা এবং শিল্পকারখানাগুলোতে যথাসম্ভব গ্যাস দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে সরকার চাইলেই অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে পারছে না, আবার ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি দিয়ে এলএনজিও আমদানি করতে পারছে না।

গতকাল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘নেভিগেটিং বাংলাদেশ এনার্জি ক্রাইসিস: ইমিডিয়েট প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড দ্য পাথ টু এ সাসটেইনেবল এনার্জি ফিউচার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার আর কী-ই বা করার আছে?’

সামিট পরিচালিত এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার আগেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল নরসিংদীকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শিল্প প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী ও মাধবদীর প্রায় ৮০ শতাংশ টেক্সটাইল, ডাইং এবং প্রিন্টিং কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এই শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) মুখপাত্র এবং আবেদ টেক্সটাইল প্রসেসিং মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারখানা মালিকদের পক্ষে শ্রমিকদের মজুরি, ইউটিলিটি বিল এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করেন।

নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রাশেদুল হাসান রিন্টু বলেন, ‘আমাদের পোশাক, টেক্সটাইল এবং ডাইং শিল্পগুলো স্থবির হয়ে পড়ছে। মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং এখন এই সংকটে আগুনে ঘি ঢালার কাজ করছে।’

তিতাস গ্যাসের নরসিংদী আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মামুনুর রহমান জানান, জেলায় চাহিদার মাত্র অর্ধেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, কারখানা এবং বাসাবাড়ির গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে সেখানে দেওয়া হচ্ছে।’

নারায়ণগঞ্জ এলাকায় গত তিন দিন যাবত অনেক কারখানায় কার্যত কোনো গ্যাস সরবরাহ ছিল না।

দেশের অন্যতম বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম তাদের ১০টি প্রধান কারখানার সবকটিই বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত।

মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গত ১০ আগস্ট রাত থেকে তাদের গ্রুপের ৫৭টি কারখানার সবগুলোই বন্ধ রাখা হয়েছে।

কিছু কারখানা ডিজেলচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে বাড়তি জ্বালানি খরচ মিটিয়ে এখনো চালু রাখা হয়েছে।

এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের ডিজেল ব্যবহারের পরিমাণ ৩৯০ শতাংশ বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘টেক্সটাইল মিলের মতো এপেক্সের কারখানাগুলোতে এত বেশি জ্বালানির প্রয়োজন হয় না, তাই এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিশেষ উদ্বেগের বিষয়।’

লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মঞ্জুর বলেন, ‘আমাদের মতো ছোট কারখানায় যদি ৩৯০ শতাংশ খরচ বাড়ে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা সহজেই বোঝা যায়।’

জ্বালানির এই বাড়তি ব্যবহার কেবল উৎপাদন খরচই বাড়াচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে নির্ভরযোগ্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও সংকটে ফেলছে।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ বা গ্যাস কখন থাকবে না তা যদি আগে থেকে জানা যেত, তবে ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদনের সময়সূচি সে অনুযায়ী পরিবর্তন করে নিতে পারতেন।

‘যদি আমরা জানি যে মাঝরাত থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত জ্বালানি সংকট থাকবে, তবে আমরা উৎপাদনের সময় বদলে নিতে পারি। কিন্তু সরকারকে আমাদের সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশি প্রস্তুতকারকেরা আগামী মৌসুমগুলোতে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা কমতে শুরু করেছে।

পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্নোটেক্স গ্রুপের পরিচালক শরিফুন রেবা জানান, লোডশেডিং এবং ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে সম্প্রতি তাদের জ্বালানি খরচ ১৫০ শতাংশ বেড়েছে।

জ্বালানি সংকট দেশের অন্যতম প্রধান চাল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলোতেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

কুষ্টিয়ার খাজানগরে দেশের বৃহত্তম সরু চালের পাইকারি বাজারে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন মিলগুলো দিনে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মিল মালিকেরা।

স্বর্ণা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ বলেন, তার মিলে সাধারণত দিনে প্রায় ৯০ টন চাল উৎপাদন হতো। এখন ডিজেল পুড়িয়েও উৎপাদন ৩০ টনের বেশি হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চালের মানও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

সারা দেশের বাসাবাড়িতে দিনের অনেকটা সময় রান্না করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

[নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, জামালপুর ও কুষ্টিয়া জেলার সংবাদদাতারা এই প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন]

শরিফুল-তানজিদ-সৌম্যর উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সান্ত্বনার জয়

পেসার শরিফুল ইসলামের ৪ উইকেট নেওয়ার পর দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার করলেন জোড়া হাফসেঞ্চুরি। তাদের কাঁধে ভর করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচে সান্ত্বনার জয় পেল বাংলাদেশ।

শনিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে জিতেছে টাইগাররা। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে অবশ্য আগেই স্বাগতিকদের কাছে সিরিজ হাতছাড়া করেছে তারা। তবে শেষ ম্যাচে একটি নিখুঁত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ইতিবাচকভাবে সিরিজ শেষ করেছে লাল-সবুজের দল।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সফরকারীরা জিম্বাবুয়েকে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানে গুটিয়ে দেয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ৪৪ রানে ৪ উইকেট নেন। এছাড়া, তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে শিকার ধরেন। ফলে বোলিং ইনিংসের অধিকাংশ সময় আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ।

জবাবে তানজিদ ও সৌম্য উদ্বোধনী জুটিতে ১৫১ রানের দুর্দান্ত ভিত গড়ে সহজ জয়ের পথ তৈরি করেন, যা বিদেশের মাটিতে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি। এই জুটি ম্যাচকে স্বাগতিকদের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বাজে ফিল্ডিংয়ে জিম্বাবুয়ের দুর্দশা আরও বাড়ে। তারা বাংলাদেশের ইনিংসে মোট পাঁচটি ক্যাচ মিস করে।

৮২ বলে ছয়টি চার ও দুটি ছক্কায় ৬৯ রান করে তানাকা চিভাঙ্গার বলে সৌম্য আউট হলে ভাঙে জুটি। তানজিদ তার দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ১০১ বলে ৯৪ রান করে আর্নেস্ট মাসুকুর বলে লং-অনে ব্র্যাড ইভান্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তিনি তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কা। তিন বল পর তাওহীদ হৃদয়কে শূন্য রানে মাসুকুই আউট করলে বাংলাদেশের জয় কিছুটা বিলম্বিত হয়।

তবে নাজমুল হোসেন শান্ত ২৮ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থেকে ১৪ ওভার বাকি থাকতেই বাংলাদেশকে অনায়াসে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

এর আগে ১০৮ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে চরম চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম ঘণ্টায় শরিফুলের জোড়া আঘাতে বেন কারান (২) ও ক্রেইগ আরভিন (৫) দ্রুত বিদায় নেন। মাঝে ব্রায়ান বেনেটকে (৬) তাসকিন আউট করলে শুরুতেই হোঁচট খায় স্বাগতিকরা।

এরপর ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরে চতুর্থ উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বাংলাদেশ দ্রুত আরও তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এক প্রান্ত আগলে রেখে মাধেভেরে ৭৪ বলে ৭৫ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, ব্র্যাড ইভান্স দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে ৪৩ বলে ৫০ রান করেন, যা চলতি সিরিজে তার টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি। এই দুজনের কল্যাণে জিম্বাবুয়ে ১৯৯ রানের একটি লড়াই করার মতো স্কোর গড়তে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশ এর আগে সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডেতে যথাক্রমে ২৫ ও ১৩ রানে হেরেছিল। এই সিরিজ শেষে দুই দল এখন বুলাওয়েতে হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দিকে মনোযোগ দেবে। প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী বুধবার।