29.1 C
Dhaka
Home Blog

হিরো নয়, অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন ছিল: নাদের চৌধুরী

নাদের চৌধুরীর অভিনয়জীবন শুরু হয় মঞ্চনাটক দিয়ে। টেলিভিশনের সাড়া জাগানো ‘রূপনগর’ ও ‘বারো রকম মানুষ’ ধারাবাহিক দুটিতে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। চলচ্চিত্রে অভিনয় ও পরিচালনা দুটোই করেছেন। সদ্য প্রচার শেষ হওয়া আলোচিত ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এ বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

এবারের ঈদে নাদের চৌধুরীর অভিনীত বেশ কয়েকটি নাটক প্রচারিত হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনয়শিল্পী।

দ্য ডেইলি স্টার: অভিনয়জীবনে কোন নাটক দিয়ে দর্শকদের কাছাকাছি পৌঁছান?

নাদের চৌধুরী: বহু বছর আগে ইমদাদুল হক মিলনের লেখা ও আলাউদ্দিন আহমেদ প্রযোজিত ‘বারো রকম মানুষ’ ধারাবাহিকে জায়গির মাস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। ওই নাটক ব্যাপকভাবে দর্শকনন্দিত হয়েছিল। মানুষ আগ্রহ নিয়ে দেখেছিলেন। একটি বাড়িতে জায়গির থাকি এবং সুবর্ণা মুস্তাফার ছোট বোনকে পড়াই, এমন একটি চরিত্র ছিল আমার। চরিত্রটির জন্য তখন অনেক প্রশংসা পেয়েছি। তবে অভিনয় করার আগে বেশ প্রস্তুতি নিয়েই কাজটি করেছিলাম। এরপর ‘রূপনগর’ ধারাবাহিকে অভিনয় করি। এই নাটকের নাট্যকারও ইমদাদুল হক মিলন। অনেক বছর আগে এই দুটি নাটক আমাকে দর্শকদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে দেয়।

দ্য ডেইলি স্টার: সম্প্রতি ‘সবুজের গ্রাম’ নামের একটি নাটকে আপনার অভিনয় বেশ সাড়া ফেলেছে…

নাদের চৌধুরী: ‘সবুজের গ্রাম’ নাটকে গ্রাম থেকে শহরে আসা একজন মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছি। মেয়ের চাকরির জন্য শহরে আসি, এরপর নানাভাবে অপমানিত হই। এটা আসলে আবেগের (ইমোশনাল) গল্প। নাটকটি প্রচারিত হওয়ার পর খুব প্রশংসা পাচ্ছি। চেনাজানা ও পরিচিত মানুষেরা তাদের ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। আসলে যখন যে কাজটি করি, চরিত্র নিয়ে ভাবি না; ভালো অভিনয় করতে হবে, সেটাই ভাবি।

দ্য ডেইলি স্টার: বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’—যেখানে আপনার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

নাদের চৌধুরী: ‘এটা আমাদেরই গল্প’ বর্তমান সময়ের অন্যতম দর্শকপ্রিয় নাটক। নাটকের জগতে এটি বড় অর্জন। নতুন প্রজন্মের দর্শকেরা ভীষণভাবে দেখেছেন। আমার চরিত্র ও পুরো নাটকটি নিয়ে যে রকম সাড়া পাচ্ছি, তা কখনোই ভোলার নয়। সারা জীবন মনে থাকবে।

আগে আমার বাসার গল্পটা বলি—বাসার গেটে বের হলেই অভিভাবকেরা বাচ্চাদের নিয়ে আসেন। বাচ্চারা আমার সঙ্গে ছবি তোলে। বাচ্চাদের ধারণা, আমি মারা গেছি। সে জন্যই ওরা ছবি তোলে, তাকিয়ে থাকে। অভিভাবকেরা বলেন, ওদের মন খারাপ, নাটকে আপনি মারা গেছেন, সে জন্য ওরা আপনাকে দেখতে এসেছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের বলি, ‘ওটা তো অভিনয়! এই যে দেখো, আমি বেঁচে আছি।’ নাটকে আমার মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে আমি এখনো বেঁচে আছি।

দেশ-বিদেশের বহু দর্শক জানিয়েছেন, ৬ থেকে ১০-১২ বছরের বাচ্চারা এই নাটক দেখেছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বাংলা নাটকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। নাটকের জন্য এটা বড় পাওয়া।

দ্য ডেইলি স্টার: এই সময়ে এসেও এত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন, কেমন লাগে?

নাদের চৌধুরী: আমি মনে করি, জীবনের এই পর্যায়ে এসে এসব ভালোবাসা সেরা পাওয়া। মানুষ বলছেন, ‘আপনি তো দুর্দান্ত অভিনয় করছেন!’ এসব কথা আমার জন্য বড় পুরস্কার। একটি চরিত্র কীভাবে জনপ্রিয়তা পায়, মানুষের আবেগকে কোথায় নিয়ে যায়, তা এই অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দেখতে পাচ্ছি।

দ্য ডেইলি স্টার: ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন।

নাদের চৌধুরী: রাজ মেধাবী পরিচালক। ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকে অভিনয়ের সময় পরিচালক যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই করেছি। অতিরিক্ত কিছুই করিনি। গল্পের ভেতরে চরিত্রটি যেমন ছিল, তেমনই ফুটিয়ে তুলেছি। গল্প ও চরিত্রটা মাথায় নিয়েছিলাম। আমার ভেতরে একধরনের অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। পরিচালক বলেছিলেন বাবার মৃত্যু হবে, পরে তা-ই হয়েছে। কিন্তু দর্শকেরা এটা মেনে নিতে পারেননি। রাজের এই নাটক দিয়ে আমি নতুন করে কামব্যাক করেছি।

দ্য ডেইলি স্টার: অভিনয় নিয়ে কী স্বপ্ন দেখতেন?

নাদের চৌধুরী: হিরো হওয়ার স্বপ্ন ছিল না, অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। অভিনয়টাই করে যাচ্ছি। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে কাজ করছি, মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। এখনো আমার কাছে যে রকম চরিত্র আসে, সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে অভিনয় করি। অভিনয়জীবনের শেষ অধ্যায় পার করছি—এই সময়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেওয়া অনেক বড় পাওয়া।

ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমান কোথায় অবস্থান করছে, সেই তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে রাশিয়া। এর ভিত্তিতেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া এই যুদ্ধে পরোক্ষভাবে হলেও জড়িয়ে পড়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালানোর এক সপ্তাহ পর এই তথ্য পাওয়া গেল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তিন কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক স্থাপনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমানের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, মনে হচ্ছে বেশ ব্যাপকভাবেই ইরানকে তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। মস্কো ইতিমধ্যে এই সংঘাতকে ‘বিনা উসকানিতে আগ্রাসন’ উল্লেখ করে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।স্ট্রাইক

কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করার নিজস্ব সক্ষমতা হারায় ইরান। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তা ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত রোববার কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। মার্কিন সামরিক অবস্থান, দূতাবাস ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ দারা মাসিসট বলেন, ‘ইরান খুবই নিখুঁতভাবে আর্লি-ওয়ার্নিং রাডারে আঘাত হানছে। তারা সুনির্দিষ্টভাবে কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের নিজস্ব সামরিক স্যাটেলাইট নেই বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার উন্নত মহাকাশ সক্ষমতা তাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের বেলফার সেন্টারের গবেষক নিকোল গ্রাজেউস্কি বলেন, ইরানকে উচ্চমাত্রায় পাল্টা হামলা করতে দেখা যাচ্ছে, যা কেবল ‘আধুনিক’ সক্ষমতা থাকলেই সম্ভব। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হচ্ছে। গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় ইরানের হামলার মান এবার উন্নত হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই সহায়তা প্রক্সি যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান, চীন ও উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সামরিক বা উপকরণগত সহায়তা দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে শতকোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও রুশ সেনাদের অবস্থানের গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি ড্রোন হামলা ঠেকাতে সহায়তা চেয়েছে এবং কিয়েভ এ জন্য বিশেষজ্ঞ পাঠাবে।

ওয়াশিংটন পোস্ট এর আগে জানিয়েছিল, ক্রেমলিন মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ তাদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। এতে তেলের দাম বাড়বে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আমেরিকা ও ইউরোপের মনোযোগ সরে যাবে।

ফাগুয়ায় পূর্ণ বোনাস ও বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মজুরির দাবি চা শ্রমিকদের

চা শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ফাগুয়া (লাল পূজা) উপলক্ষে পূর্ণ উৎসব বোনাস ও বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মজুরি প্রদানের দাবি জানিয়েছে চা-শ্রমিক সংঘ। ফাল্গুন মাসের দোল পূর্ণিমায় এ উৎসবটি পালিত হয়।

আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে চা-শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামল অলমিক এবং সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরা অভিযোগ করেন, অনেক চা বাগান কর্তৃপক্ষ পূর্ণ বোনাস দেওয়ার পরিবর্তে আংশিক বোনাস দেয়।

গত ৩ মার্চ থেকে দোল উৎসব শুরু হলেও অধিকাংশ বাগানে নির্ধারিত উৎসব বোনাসের বদলে হাজিরা-ভিত্তিক বা ইনসেন্টিভ বোনাস দিয়েছে। এতে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। 

সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর, দেওছড়া, ডবলছড়া ও চাতলাপুরসহ বেশ কিছু বাগানে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

শ্রমিক নেতারা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর ধারা উল্লেখ করে বলেন, একই শিল্পে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত সকল শ্রমিককে সমান হারে উৎসব বোনাস দিতে হবে। 

এছাড়া, ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট প্রকাশিত চা শিল্প খাতের ন্যূনতম মজুরি গেজেটেও সব শ্রমিকের জন্য সমান উৎসব বোনাসের বিধান রয়েছে বলে তারা জানান।

বোনাস নিয়ে এই অনিয়মের প্রতিবাদে শমসেরনগর চা বাগানের শ্রমিক রামনারায়ণ গৌড় সিলেট শ্রম আদালতে একটি মামলা করেছেন। এছাড়া ক্যাজুয়াল বা অনিয়মিত শ্রমিকদেরও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।

চা শ্রমিক সংঘের প্রকাশনা সম্পাদক কাজল হাজরা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বাংলাদেশ চা সংসদের সাথে গত ৭ আগস্ট কোনো প্রকার মজুরি বৃদ্ধি ছাড়াই ২০২৩-২৪ মেয়াদের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যা অথ্যন্ত খারাপ হয়েছে। ২০২৫-২৬ মেয়াদের ১৪ মাস পার হয়ে গেলেও নতুন মজুরি চুক্তিরও কোনো অগ্রগতি নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রায় ২০০ বছর ধরে চা শ্রমিকরা এই শিল্পের উন্নয়নে শ্রম দিলেও তারা চরম অবহেলিত। চা উৎপাদনের বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নবম হলেও শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি এখনও ২০০ টাকার নিচে।

৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের পর বর্তমানে দৈনিক মজুরি ‘এ’ ক্লাস বাগানে ১৮৭.৪৩ টাকা, ‘বি’ ক্লাস বাগানে ১৮৬.৩২ টাকা এবং ‘সি’ ক্লাস বাগানে ১৮৫.২২ টাকা।

নেতারা দাবি করেন, বাংলাদেশের ৪৩টি শিল্প খাতের মধ্যে চা শ্রমিকদের মজুরি সর্বনিম্ন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তুলনা করে তারা দেখান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৫০ রুপি ও সিকিমে ৫০০ রুপি, শ্রীলঙ্কায় ১ হাজার ৭০০ রুপি, নেপালে মাসিক ন্যূনতম ১৫ হাজার রুপি দেওয়া হয়।

বর্তমান বাজারদরে একজন শ্রমিকের কেবল তিনবেলার খাবারের জন্যই দৈনিক অন্তত ২৫০ টাকা প্রয়োজন। আর ছয় সদস্যের একটি পরিবারের নূন্যতম জীবনধারণের জন্য দৈনিক এক হাজার টাকা প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেন।

মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারদর বিবেচনা করে চা শ্রমিক সংঘ জীবনধারণের উপযোগী মজুরি, বার্ষিক ১৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টসহ তাদের ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে।

মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ দেখা হবে: শামা ওবায়েদ

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উদ্যোগে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশ যে কোনো মাল্টিল্যাটারাল বডিতে (বহুপক্ষীয় সংস্থায় বা জোটে) অংশগ্রহণ করার আগে বর্তমানে যে ফরেন পলিসি, “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতিতে আগে যাচাই-বাছাই করবে। এই প্যাক্টে (চুক্তি) যুক্ত হলে বাংলাদেশের কী সুবিধা, বাংলাদেশের মানুষের কী সুবিধা—সেটা চিন্তা করেই বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নেবে।’

এই চুক্তিতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু আমরা পাইনি। তবে সেটা দেখা যাবে। সেটা তো উন্মুক্ত আছে। সময় লাগবে, পর্যালোচনা হবে, তারপরে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নেবে।’

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা মক্কা চুক্তি সই করে। এই চুক্তিতে একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর থেকেই বাংলাদেশকে এতে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও সংসদে বলেছিলেন, বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে সে সময়ও তিনি জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব পায়নি। 

এরপর গত ৩০ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, মক্কা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশের কোনো ঝুঁকি দেখছেন না সরকার। 

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চাপে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

প্রতিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পাবনায় আব্দুস সালামের ওয়ার্কশপে কাজ জমতে থাকে। ধামরাইয়ে রেজবিন হাফিজের ছোট্ট জুতা তৈরির কারখানার শ্রমিকদেরও কাজ বন্ধ করে বারবার বিদ্যুৎ ফেরার অপেক্ষায় থাকতে হয়। কেরানীগঞ্জে আবুল কাশেমের ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তিনি পণ্য সরবরাহ করতে পারেন না।

এগুলো সবই ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বড় উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকদের মতো জেনারেটর চালিয়ে মেশিন সচল রাখার সামর্থ্য তাদের নেই। ফলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাদের উৎপাদনশীলতা ও আয় কমছে।

কোনো কোনো এলাকায় এখন দিনের প্রায় অর্ধেক সময় লোডশেডিং থাকছে।

ধামরাই বিসিক শিল্প নগরীর পিপলস ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদারগুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজবিন হাফিজ বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা ঠিক মতো জুতা তৈরি করতে পারছি না। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।’

কাঁচামালের দাম বাড়ায় গত তিন বছরে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে জানিয়ে তিনি গতকাল ফোনে ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের ক্রেতারা তাদের অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন।’

এই পরিস্থিতিতে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন বিলম্বিত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যয় আরও বাড়ছে, বলেন রেজবিন।

তার কারখানার মতো বাংলাদেশে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ১ কোটি ২০ লাখ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৩০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে।

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে ওয়েল্ডিংয়ের দোকান, চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারী ও পাড়ার লন্ড্রি—এসব ব্যবসা অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

একই পরিমাণ পণ্য উৎপাদনে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, আবার কেউ কেউ পণ্য সরবরাহে সময়সীমা পূরণ করতে অনেক বেশি সময় নিচ্ছেন। শ্রমিকদের মজুরি দিতে কিছু উদ্যোক্তাকে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে।

পাবনার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আবদুস সালাম বলেন, স্বাভাবিক কর্মদিবসে তিনি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করতে পারতেন, কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে সেই আয় অনেক কমে গেছে।

‘আমার চারটি ভারী মেশিন আছে, এর মধ্যে দুটি লেদ মেশিন। কিন্তু বেশির ভাগ দিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা মেশিন বন্ধ থাকছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গত কয়েক মাসে এটাই সাধারণ চিত্র হয়ে গেছে,’ যোগ করেন তিনি।

সালাম বলেন, ‘এখন সঞ্চয় থেকে শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে।’

গত ৩০ বছর ধরে এই ব্যবসায় আছেন সালাম। তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাট এ রকমই থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটে উৎপাদন প্রায় অর্ধেক উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নতুন কিছু নয়। কয়েক দশক ধরেই শীতকাল ছাড়া বছরের বেশির ভাগ সময় লোডশেডিং সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

কক্সবাজারে একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এর জেরে কমেছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদন।

সারা দেশে ১১ আগস্ট লোডশেডিং ৩ হাজার ৭ মেগাওয়াটে পৌঁছায়, যা সাম্প্রতিক দিনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি ওয়ার্কশপ—মাফিয়া ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক আবুল কাশেম টিটু বলেন, ‘দিনের অর্ধেক সময় আমরা বিদ্যুৎ পাই না।’

তিনি আরও বলেন, দিনের পরিবর্তে তারা রাতে কাজ করছেন। তবু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে সময় মতো পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

কাশেম বলেন, ‘আমরা একটি প্যাকেজিং মেশিন ৪০ দিনের মধ্যে সরবরাহ করতে পারতাম। কিন্তু লোডশেডিং তীব্র হওয়ায় একই কাজ দুই মাসেও শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছি।’

‘আমরা সত্যিই খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে আছি।’

এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আরও বলেন, ‘শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন বাবদ আমাদের ৪ লাখ টাকা দিতে হয়। শ্রমিকেরা কাজ করতে না পারছে না, তারপরও আমরা তাদের বেতন দিচ্ছি।’

স্থায়ী মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি হ্রাস, বেসরকারি খাতে দুর্বল বিনিয়োগ এবং কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মতো অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।

এ সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম শহর খুলনায় একটি ছোট লেদ ওয়ার্কশপের মালিক বুলবুল মিয়া হাতভর্তি নাট-বল্টু পরিষ্কার করছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন সহকর্মী তোফাজ্জল। বিদ্যুৎ চলে গেলেই তারা দুজন এ ধরনের ছোটখাটো রক্ষণাবেক্ষণের কাজে হাত দেন।

লেদ মেশিনে বুলবুল মূলত পাওয়ার টিলার, ইজিবাইক ও স্থানীয়ভাবে নছিমন নামে পরিচিত শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যানবাহনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করেন। সাধারণত তিনি প্রতিদিন ছোট-বড় মিলিয়ে ৮ থেকে ১০টি অর্ডার পান। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন ১ থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করতে পারতেন।

বুলবুল বলেন, ‘এখন খরচই মেটাতে পারছি না,’ বলেন বুলবুল।

বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচসহ তার মাসিক ব্যয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। অথচ গত ১০ দিনে তিনি আয় করেছেন মাত্র প্রায় ৫ হাজার টাকা।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলো এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘লোডশেডিং তাদের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত করছে, ফলে তারা আরও বড় সংকটে পড়ছেন।’

‘তারা যদি ঠিক মতো উৎপাদন করতে না পারেন, তাহলে পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন না এবং ঋণের কিস্তিসহ অন্যান্য পরিশোধের দায় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত আয়ও করতে পারবে না। ফলে এর ধারাবাহিক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে,’ যোগ করেন আনোয়ার।

পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত মেসির ওপরেই ছেড়ে দিলেন স্কালোনি

চলমান বিশ্বকাপে ৮ গোল করে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে সংখ্যাটা সহজেই হতে পারত ১০, যদি না অস্ট্রিয়া ও মিশরের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করতেন মেসি। তবে কোচ স্কালোনি বলছেন, পরবর্তী ম্যাচে যদি আর্জেন্টিনা কোনো পেনাল্টি পায়, সেটি মেসি নেবেন না কি অন্য কেউ, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার তিনি মেসির উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন।  

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডের অধিকারী মেসি। পেনাল্টি শুটআউট বাদ দিলে বিশ্বকাপে মেসির চেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করেননি আর কোনো ফুটবলার। বিশ্বকাপে মোট ৮ বার পেনাল্টি নিয়ে সমান ৪ বার করে গোল ও মিস করেছেন মেসি। 

তবুও আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি বলছেন, পেনাল্টির ব্যাপারে মেসির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, ‘এটা একবারের জন্যও আমার মনে আসেনি যে আমি মেসিকে গিয়ে পেনাল্টি না নেয়ার জন্য বলব। সে যা চায় তাই সে করতে পারে। মেসি ছাড়াও পেনাল্টি নেয়ার মতো ফুটবলার আমাদের আছে, তবে মেসি যদি চায় তাহলে সে নিজেই পেনাল্টি নেবে। আর যদি নিতে না চায়, সেটিও তার সিদ্ধান্ত। মাঠে যেকোনো কিছু করার স্বাধীনতা তার আছে’। 

ফুটবলের নানাবিধ পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট অপ্টা। সেই অপ্টার বিশ্লেষণ বলছে, পেনাল্টি নেয়ার সফলতার হার বিবেচনায় আর্জেন্টিনা দলে মেসির চেয়ে কার্যকরী ফুটবলার আছেন আরও পাঁচ জন। যদিও তাদের কেউই মেসির মতো এত সংখ্যক পেনাল্টি নেননি তাদের ক্যারিয়ারে। 

অপ্টা জানাচ্ছে, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে মেসি ১৪৮টি পেনাল্টি নিয়ে ১১৪টিকে গোলে রূপান্তর করতে পেরেছেন। অর্থাৎ পেনাল্টি থেকে গোলের ব্যাপারে মেসির সাফল্যের হার ৭৭ শতাংশ। কিন্তু বিশ্বকাপে এই হার নেমে এসেছে ৫০ শতাংশে! 

ক্যারিয়ারে অন্তত ১০ বার পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন এমন ফুটবলারদের মধ্যে মেসির পাঁচ সতীর্থের সাফল্যের হার তার চেয়ে বেশি। শীর্ষে আছেন গত ম্যাচে দারুণ ইন্টারসেপশন করে আর্জেন্টিনাকে বাঁচানো মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ১৪ বার পেনাল্টি নিয়ে ১৩ বারই গোলে পরিণত করেছেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগে খেলা দুই মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের পেনাল্টি রেকর্ডও বেশ ভালো। দুজনেই ১২ বার করে পেনাল্টি নিয়ে মিস করেছেন মাত্র ১ বার। 

জুলিয়ান আলভারেজ ও নিকো গঞ্জালেজের পেনাল্টি রেকর্ডও ভালো। আলভারেজ ১৯ বার পেনাল্টি নিয়ে মিস করেছেন মাত্র দুবার, আর গঞ্জালেজ ১৭ বারের মধ্যে মিস করেছেন তিনবার। 

 

বক্সঅফিসে রাম চরণের ‘পেড্ডি’ ঝড়, প্রথম দিনে আয় ৬৯.৫ কোটি রুপি

দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ ভারতের সিনেমাপ্রেমীরা অপেক্ষায় ছিলেন। টিজার, ট্রেলার, গান—সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছিল বড় কিছুর। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুক্তি পেয়েছে রাম চরণ অভিনীত স্পোর্টস-অ্যাকশন ড্রামা ‘পেড্ডি’। আর মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি বক্সঅফিসে ঝড় তুলেছে।

প্রথম দিনের আয় ৬৯ কোটি ৫০ লাখ রুপি! সংখ্যাটা কেবল বড় নয়, ২০২৬ সালের ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় উদ্বোধনী সংগ্রহও বটে। এর মাধ্যমে ‘পেড্ডি’ শুধু দর্শকদের মন জয় করেনি, বরং বছরের সবচেয়ে আলোচিত বক্সঅফিস লড়াইয়েও নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলো।

রাম চরণের জন্য ‘পেড্ডি’ কেবল আরেকটি সিনেমা নয়। তার আগের সিনেমা ‘গেম চেঞ্জার’ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফলে এটিকে ঘিরে ছিল বাড়তি চাপ এবং প্রশ্ন। অনেকেই জানতে চাইছিলেন, তিনি কি আবারও দর্শকদের মাতাতে পারবেন? মুক্তির প্রথম দিনের ফলাফল সেই প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিয়েছে। বরং বলা যায়, রাম চরণ আগের চেয়েও শক্তিশালীভাবে ফিরেছেন।

সিনেমা হলগুলোর বাইরে ভোর থেকেই ছিল দর্শকদের দীর্ঘ লাইন। বিভিন্ন শহরে ফ্যান ক্লাবগুলো আয়োজন করেছে বিশেষ শো, মিছিল ও উদযাপন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিনভর ট্রেন্ড করেছে ‘পেড্ডি’।

প্রথম দিনের নিয়মিত শো থেকে সিনেমাটির আয় হয়েছে প্রায় ৫১ কোটি রুপি। এর সঙ্গে বুধবারের পেইড প্রিভিউ থেকে পাওয়া ১৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি যোগ করলে মোট উদ্বোধনী সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৯ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে।

ভাষাভিত্তিক আয়ের হিসাবও বেশ চমকপ্রদ। তেলুগু সংস্করণ ৪৭ কোটি ২০ লাখ রুপি, হিন্দি সংস্করণ ৩ কোটি রুপি, তামিল সংস্করণ ৪৫ লাখ রুপি, কন্নড় সংস্করণ ২৫ লাখ রুপি, মালয়ালাম সংস্করণ ১০ লাখ রুপি।

পরিসংখ্যান বলছে, সিনেমাটির মূল শক্তি তেলুগু বাজার হলেও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে।

২০২৬ সালের বক্স অফিসে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি বড় সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু প্রথম দিনের সংগ্রহের দৌড়ে ‘পেড্ডি’ তাদের অনেককেই পেছনে ফেলে দিয়েছে।

ছবিটি ছাড়িয়ে গেছে—দ্য রাজা সাব ৬২ কোটি ৯ লাখ, মানা শঙ্কারা ভারা প্রসাদ গারু ৪১ কোটি ৬ লাখ, উস্তাদ ভগত সিং ৩৪ কোটি ৭৫ লাখ, বর্ডার ২ ৩২ কোটি ১ লাখ, ভূত বাংলো ১৮ কোটি ৩১ লাখ, রাজা শিবাজি ১২ কোটি ৪ লাখ,  পরাশক্তি ১২ কোটি ৩৫ লাখ, প্যাট্রিয়ট ৯ কোটি ৮ লাখ।

বর্তমানে ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের তালিকায় ‘পেড্ডি’ আছে দ্বিতীয় স্থানে। এর ওপরে আছে শুধু রণবীর সিংয়ের ধুরন্ধর ২, যার উদ্বোধনী আয় ছিল ১৪৫ কোটি রুপি।

বক্সঅফিসের সাফল্যের পেছনে শুধু তারকাখ্যাতি নয়, সিনেমার বিষয়বস্তুও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

‘পেড্ডি’ মূলত একটি স্পোর্টস ড্রামা। তবে এতে রয়েছে গ্রামীণ আবহ, আবেগ, সংগ্রাম, পরিবার, সম্মান এবং আত্মপরিচয়ের লড়াই। পরিচালক বুচি বাবু সানা গল্পটিকে এমনভাবে নির্মাণ করেছেন, যেখানে খেলার উত্তেজনা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের আবেগ একসঙ্গে দেখানো হয়েছে।

রাম চরণের পাশাপাশি সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন জাহ্নবী কাপুর। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন শিব রাজকুমার, জগপতি বাবু ও দিব্যেন্দু।

ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রথম দিনের আয় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সপ্তাহান্তের ধারাবাহিকতা। যদি ‘পেড্ডি’ আগামী কয়েকদিন একই গতি ধরে রাখতে পারে, তাহলে এটি সহজেই ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টারগুলোর একটিতে পরিণত হতে পারে।

ট্রেড বিশ্লেষকদের মতে, মুখে-মুখে ইতিবাচক প্রচার অব্যাহত থাকলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও বড় সংগ্রহ আসতে পারে। সেক্ষেত্রে খুব দ্রুতই ১০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করবে পেড্ডি।

প্রতিবেশী দেশ থেকে হামলা না হলে পাল্টা হামলা নয়: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু না করার আশ্বাস দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে সেই সঙ্গে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, যদি কোনো প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আজ শনিবার প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ গতকাল একমত হয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর কোনো হামলা চালানো হবে না এবং কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে না। তবে শর্ত হলো, ওই সব দেশ থেকে ইরানের ওপর কোনো আক্রমণ যেন না আসে।’

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে এই ‘নেতৃত্ব পরিষদ’ দেশটির শাসনভার পরিচালনা করছে।

কেউ চাঁদা দাবি করলে তাকে জেলে থাকতে হবে: শিমুল বিশ্বাস

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেছেন, কেউ যদি কোনো কাজে চাঁদা দাবি করে তাকে জেলে থাকতে হবে।‌

শিমুল বিশ্বাস গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার পাবনায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করেন।

তিনি আজ পাবনা শহরের চাঁদমাড়ি থেকে নয়নামতি পর্যন্ত রাস্তার কাজ ও ছাতিয়ানী থেকে বুদের হাট পর্যন্ত রাস্তার কাজ উদ্বোধন করেন।

এর আগে গতকাল শহরের আতাইকোলা রোড, বগা মিয়া রোড‌‌, খেয়াঘাট ব্রিজ থেকে পিএন রোড পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত ও সড়কবাতি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

সোমবার শহরের পুরাতন বিআরটিসি স্ট্যান্ডের সামনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম শুরু হয়।

উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করে শিমুল বিশ্বাস সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘কেউ যদি এসব কাজসহ কোনো ধরনের কাজে কারো কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে, তাকে জেলে থাকতে হবে।’

‘উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো রকম অন্যায়, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
 

ডিজিটাল লেনদেনে অর্থদাতার নাম বাধ্যতামূলক হোক, ছোট পরিবর্তনে আসতে পারে বড় সুফল

ইলেকট্রনিক লেনদেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চেক সংগ্রহ, বহন ও ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হওয়ার পরও একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর অজানা থেকে যেতে পারে—এই টাকা কে পাঠিয়েছেন?

প্রতিটি ইলেকট্রনিক লেনদেনে অর্থদাতার নাম বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রাপকের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা জমার বিবরণীতে সেই নাম দেখানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

সরকারি ও বেসরকারি, উভয় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনেই এ সমস্যা দেখা যায়। কিছু ব্যাংকের স্টেটমেন্টে অর্থদাতার পরিচয় উল্লেখ থাকে, ফলে হিসাব মেলানো সহজ হয়।

অন্য ব্যাংকের স্টেটমেন্টে শুধু সাধারণ বিবরণ বা ব্যাংকের নাম দেখা যায়। একসঙ্গে অনেক লেনদেন গ্রহণ করে, এমন কোনো প্রতিষ্ঠানকে তখন প্রতিটি জমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও চালানের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হয়। অর্থদাতার পরিচয় না থাকলে টাকা জমা হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের হিসাব অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে।

সম্প্রতি আমার পর্যালোচনা করা একটি ব্যাংক স্টেটমেন্টের উদাহরণ দেই। জুন মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে সেখানে বিভিন্ন অঙ্কের একাধিক সরকারি ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার (ইএফটি) জমা হয়েছিল। প্রতিটি লেনদেনের বিবরণ প্রায় একই ছিল—‘ইএফটি ইনফ্লো//মতিঝিল/ট্রেজারি এস/গভর্নমেন্ট’।

টাকার পরিমাণ ও লেনদেন নম্বর দেখা গেলেও কোন সরকারি দপ্তর টাকা পাঠিয়েছে, তার উল্লেখ ছিল না। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের ক্ষেত্রেও জমার বিবরণীতে অর্থদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম না থাকলে একই সমস্যায় পড়তে হয় প্রাপককে।

এর বাস্তবিক পরিণতি সহজেই বোঝা যায়। হিসাব বিভাগ টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান টাকা পাঠিয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করতে পারে না।

এর বাস্তবিক পরিণতি সহজেই বোঝা যায়। হিসাব বিভাগ টাকা জমা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করতে পারলেও কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে টাকা জমা হয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করতে পারে না।

এ অবস্থায় কর্মীদের অর্থ পাঠানোর বিবরণ চাইতে হয়, বকেয়া বিলের সঙ্গে জমার পরিমাণ মিলিয়ে দেখতে হয় এবং ব্যাংক বা অর্থ পাঠানো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। কখনো সহজেই হিসাব মিলে যায়, আবার কখনো একাধিক বিলের অঙ্ক কাছাকাছি হওয়ায় হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

টাকা পরিশোধ করার পরও হিসাব না মেলা পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া তালিকায় থেকে যেতে পারে। এমনকি একই বিলের বিপরীতে আবারও টাকা পরিশোধের অনুরোধ জানানো হতে পারে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটার আশঙ্কা থাকে।

অর্থবছরের শেষে এ সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিপুলসংখ্যক জমার পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে সেগুলোর হিসাব মেলানো কঠিন হয়। এর ফলে আর্থিক প্রতিবেদনে আয় কম দেখানো, পাওনার হিসাবে অসংগতি এবং বছরশেষের নিরীক্ষায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অর্থদাতার নামের মতো একটি তথ্যের অভাব শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণীর নির্ভরযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

নিজের কাজেও ইএফটির সুবিধা দেখতে পাই। যেমন দূরের কোনো জেলার সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে একটি সংবাদপত্র ছোট কোনো বিজ্ঞাপনের বিল পেতে পারে। আগে ১০ হাজার টাকার একটি চেক সংগ্রহ করতে কাউকে ওই দপ্তরে পাঠাতে হতো। এরপর কুরিয়ারে চেকটি ঢাকায় আনতে হতো এবং অন্য কোনো সহকর্মীকে সেটি ব্যাংকে জমা দিতে বলতে হতো।

ইলেকট্রনিক লেনদেন এসব ঝামেলার অনেকটাই দূর করেছে। কিন্তু পরে সেই টাকা কে পাঠিয়েছে, তা শনাক্ত করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে হলে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সুবিধার একটি বড় অংশই ম্লান হয়ে যায়।

এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত প্রতিটি ইলেকট্রনিক লেনদেনে অর্থদাতার নাম উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি দপ্তরের পরিচয় দিতে হবে। লেনদেন শুরুর সময়ই নামটি নথিভুক্ত করতে হবে এবং পুরো লেনদেন প্রক্রিয়ায় তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। প্রাপকের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা জমার বিবরণীতেও নামটি দেখাতে হবে।

নামের ঘর ফাঁকা রাখা গেলে, সেখানে শুধু ‘সরকার’ লেখা হলে কিংবা অর্থদাতার নামের পরিবর্তে শুধু ব্যাংকের নাম দেখানো হলে এ উদ্যোগের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।

বিল বা চালানের নম্বর উল্লেখ করা হলে প্রাপকের পক্ষে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের হিসাব মেলানো আরও সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর উচিত লেনদেন নম্বর দিয়ে সহজে লেনদেনের তথ্য খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা করা। তবে এসব অতিরিক্ত তথ্য অর্থদাতার নামের বিকল্প হতে পারে না।

প্রত্যেক প্রাপকের জানার সুযোগ থাকা উচিত, কে টাকা দিয়েছেন। টাকা সরকারি দপ্তর থেকে আসুক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে, সব ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া দরকার।

লেনদেনের পরবর্তী হিসাব-নিকাশসহ পুরো প্রক্রিয়া সহজ হলেই ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব। অর্থদাতার নাম স্পষ্টভাবে দেখা গেলে প্রেরক ও প্রাপক, উভয় পক্ষের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। অর্থদাতার পরিচয় বাধ্যতামূলক করা সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

লেখক: হেড অব অপারেশনস এবং সিএফও, দ্য ডেইলি স্টার