32 C
Dhaka
Home Blog

আদালতের স্থগিতাদেশে আটকে থাকা ব‍্যাংক লোন ৩ বছরে বেড়ে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪১৯ কোটি

আদালতের স্থগিতাদেশে ঋণগ্রহীতার কাছে আটকে আছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ৩ বছরে আটকে থাকা এই টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৮ গুণেরও বেশি।

২০২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা। পরের বছরের শেষ নাগাদ ৮০ শতাংশ বেড়ে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ৮২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। এই সময়ে আদালতের আশ্রয় নেওয়া ঋণগ্রহীতার সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে।

এর আগে ২০২২ সালের শেষে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে আটকে রাখা ঋণের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। সেখান থেকেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ২০২৩-২৪ সময় থেকে এই অবস্থা হঠাৎ তীব্র হয়ে ওঠে। মাত্র ১২ মাসে স্থগিতাদেশে আটকে থাকা লোনের পরিমাণ বেড়ে যায় দ্বিগুণেরও বেশি।

এদিকে আরও বেশি ঋণগ্রহীতা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় স্থগিতাদেশ-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ। ২০২২ সালে এমন মামলা ছিল ২২৬টি, যা ২০২৫ সালে বেড়ে হয় ৮৪৫টি।

দেশের ব্যাংকিং খাত যখন রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণের চাপে হিমশিম খাচ্ছে, সে সময় আদালতের স্থগিতাদেশ সংশ্লিষ্ট লোনের পরিমাণ ঋণ দ্রুত বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফিন্যানসিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ এ উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্থগিতাদেশে থাকা ঋণের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ব্যাংকিং খাতের তারল্য ও আয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপের ইঙ্গিত।’

আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদারে ব্যাংকিং-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বছরের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অশ্রেণিকৃত পুনঃতফসিল করা ঋণ ছিল ২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা এবং অবলোপন করা ঋণ ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই বছরে তিন ধরনের ঋণের পরিমাণই বেড়েছে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতি উল হাসান বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলো সমন্বিতভাবে চেষ্টা করছে। কিছু ঋণগ্রহীতা এসব প্রচেষ্টা ঠেকাতে আদালতের স্থগিতাদেশ চাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘স্থগিতাদেশ জারি হলে ঋণ আদায়ে আমাদের সব কার্যক্রম থেমে যায়। কোনো সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার পর আদালত স্থগিতাদেশ দিলে সেটি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আর এগোতে পারি না।’

‘ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সামগ্রিক প্রভাবে আমাদের নগদ অর্থপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অর্থ আটকে থাকে, ফলে নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যায়,’ যোগ করেন তিনি।

জানতে চাইলে ব্যারিস্টার শামীম খালেদ আহমেদ বলেন, অনেক খেলাপি ঋণগ্রহীতা হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ নেন—ব্যাংক যেন তাদের খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করতে না পারে। তবে সব স্থগিতাদেশই খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালকরাও স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।’

‘ব্যাংকিং-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে মাত্র দুটি আদালত থাকায় ঋণ-সংক্রান্ত স্থগিতাদেশের সংখ্যা বাড়ছে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। যত বেশি দেরি হবে, ব্যাংকিং খাতের ক্ষতিও তত গুরুতর হবে,’ মনে করেন এই আইনজীবী।

স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই বৃদ্ধি ব্যাংকিং খাতের আরও একটি দুর্বলতা তুলে ধরছে। খাতটি ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত।

‘দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশকে একইসঙ্গে বেশ কয়েকটি সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত খেলাপি ঋণ, প্রভিশনে বড় ঘাটতি, অবলোপন করা হলেও এখনো আদায় না হওয়া ঋণ ও আদালতের স্থগিতাদেশে থাকা ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি,’ যোগ করেন তিনি।’

ফাহমিদা বলেন, সুশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে স্থগিতাদেশের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, ‘সৎ ঋণগ্রহীতাদের অধিকার রক্ষায় আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং স্থগিতাদেশ চাওয়া প্রত্যেক ঋণগ্রহীতাকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে দেখা উচিত নয়।’

তবে এত বিপুল পরিমাণ ব্যাংকঋণ স্থগিতাদেশে আটকে থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, বলেন তিনি।

‘দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ঋণ আদায় প্রচেষ্টা ধীরগতি, পাওনাদারদের অধিকার দুর্বল ও কৌশলী ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধ বিলম্বিত করার উপায় হিসেবে মামলাকে উৎসাহিত করতে পারে।’

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, মূলধন নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ব্যাংকগুলো যদি অবনতি হওয়া সম্পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারে, তাহলে তাদের দেখানো মূলধনে ঋণ পোর্টফোলিওর প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির প্রতিফলন নাও ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, এসব ক্ষতি স্বীকার করে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ রাখলে কিছু ব্যাংকের মূলধন দুর্বলতা প্রকাশ পেতে পারে। তাই বিষয়টি শুধু ঋণ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মূলত আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ঋণ খেলাপির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ঋণগ্রহীতার সংখ্যাও বেড়েছে।

‘আমি বুঝি, আদালতের দ্বারস্থ হওয়া একটি মৌলিক অধিকার। তবে স্থগিতাদেশ পাওয়ার আগে ঋণগ্রহীতাকে ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে পরিশোধ করতে হবে—এমন বিধান থাকা উচিত। এতে অনেক ঋণগ্রহীতা আদালতে যেতে নিরুৎসাহিত হবেন,’ মনে করেন তিনি।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাশরুর আরেফিন বলেন, রিট আবেদনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এখন সংক্ষুব্ধ পক্ষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার মাধ্যম থেকে ধারাবাহিকভাবে খেলাপিদের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া সাধারণত তিনটি ধাপে চলে।

প্রথমে ঋণগ্রহীতারা তাদের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) রেকর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ নেন। ফলে তারা নিজেদের ঋণযোগ্য ভাবমূর্তি বজায় রাখতে, ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে, এমনকি নতুন ঋণও নিতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, পাওনা আদায়ে ব্যাংক বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিলে ঋণগ্রহীতারা আরেকটি স্থগিতাদেশ চান। এতে ব্যাংকের জন্য জামানত নগদ অর্থে রূপান্তর করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

সর্বশেষ নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে পড়ে ব্যাংকগুলো। এতে ঋণ আদায়ের উদ্যোগ ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত বিলম্বিত হয় এবং মামলার জট বাড়তে থাকে, যোগ করেন তিনি।

মাশরুর সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো আর্থিক ব্যবস্থা। এভাবে সময়ক্ষেপণের কারণে আদায়যোগ্য অর্থের মূল্য কমে, আইনি ব্যয় বাড়ে, তারল্য আটকে যায় ও ঋণশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

মেসির সাথে ফোনালাপে আপ্লুত ক্লোসা, পাবেন ‘বিশেষ উপহার’

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার যে রেকর্ড মিরোস্লাভ ক্লোসা করেছিলেন, সেটি টিকে ছিল ১২ বছর। চলতি বিশ্বকাপে সেটিকে অতীত বানিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। ক্লোসা নিজেই বলেছিলেন, কারোর কাছে যদি রেকর্ডটি হারাতেই হয় তবে সেটি মেসির কাছেই হারাতে চান তিনি। নিজের রেকর্ড যার কাছে খুইয়েছেন, সেই মেসির সাথেই এবার দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলে আপ্লুত বোধ করছেন ক্লোসা। 

বর্তমানে নুরেমবার্গের কোচের দায়িত্ব পালন করা ক্লোসা ক্লাবের মিডিয়ার সাথে কথা বলতে গিয়ে নিজেই জানিয়েছেন এ কথা। জার্মান ঘরোয়া ফুটবল লিগ বুন্দেসলিগার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসির সাথে কথা বলানোর নেপথ্যে ছিলেন তার একসময়ের সতীর্থ ও বর্তমানে মেসির কোচ লিওনেল স্কালোনি। 

ক্লোসা বলেছেন, ‘লিওনেল স্কালোনি লাৎসিওতে আমার সতীর্থ ছিলেন। আমাদের এখনো নিয়মিত যোগাযোগ হয়। আমার রেকর্ড ভাঙার পর স্কালোনিই মেসির সাথে আমার কথা বলিয়ে দিয়েছিলো। আমি বেশ আপ্লুত হয়েছিলাম’।

৪৮ বছর বয়সী ক্লোসাকে একটি বিশেষ উপহার পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মেসি, ‘আমি ও মেসি কয়েকবার একে অপরকে মাঠে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছি। আমাদের মধ্যে সবসময়ই পারস্পরিক সম্মানবোধ ছিল। তবে এবারই প্রথম মাঠের বাইরে আমরা এতক্ষণ কথা বলেছি। সে বলেছে আমাকে একটি অটোগ্রাফ সহ জার্সি পাঠাবে’। 

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন মেসি, আর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাকে ছাড়িয়ে যান। এরপর মেসিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্লোসা লিখেছিলেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা। শুভেচ্ছা, চ্যাম্পিয়ন!’ 

বইয়ের আদলেই মাসুদ রানা সিনেমার প্রথম পোস্টার

বাঙালির হৃদয়ে রোমাঞ্চের ঝড় তোলা চিরচেনা ‘মাসুদ রানা’ ফিরছে পর্দায়। সেবা প্রকাশনীর প্রচ্ছদের আদলে তৈরি হয়েছে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার। সৈকত নাসির পরিচালিত এই সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাসেল রানা। তার সঙ্গে আছেন পূজা চেরি ও সৈয়দা তিথি অমনি।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া জানিয়েছে, আগামী ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘মাসুদ রানা’।

কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট এই চরিত্রকে নিয়ে ছয় বছর আগে দুটি সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল জাজ মাল্টিমিডিয়া। অবশেষে আলোর মুখ দেখছে প্রকল্পটি।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট মাসুদ রানা চরিত্রটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৬ সালে ‘ধ্বংস পাহাড়’ বইয়ের মাধ্যমে। সেবা প্রকাশনী থেকে এই সিরিজের চার শতাধিক গুপ্তচরবৃত্তীয় কাহিনীর বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বইটি ছিল কাজী আনোয়ার হোসেনের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল।

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ আটকে গেল সিনেটে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে সিনেটে আনা একটি প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে। বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

ইরানে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে গতকাল বুধবার আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ৪৭ জন এবং বিপক্ষে ৫৩ জন সিনেটর ভোট দেন।

ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ট্রাম্প কংগ্রেসকে উপেক্ষা করেছেন এবং যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণ উপস্থাপন করেছেন। বেশির ভাগ রিপাবলিকান প্রস্তাবটি আটকে দিয়েছেন। তবে কয়েকজন বলছেন, সামনে কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। 

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন যে, এই যুদ্ধ আট সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ চার সপ্তাহ চলতে পারে।

বুধবারের ভোটাভুটিতে দুইজন সিনেটর দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জন ফেটারম্যান এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন, অন্যদিকে কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল এর পক্ষে ভোট দেন। এ দুজন ছাড়া অন্য সবাই নিজ নিজ দলীয় অবস্থান অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন।

মেইন অঙ্গরাজ্যের মধ্যপন্থী রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। পরে তিনি বলেন যে, এই আইন পাস হলে তা ইরান ও মার্কিন সেনাদের কাছে ভুল বার্তা পাঠাত।

প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার আগে সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার বলেন, আপনারা কি সেই  আমেরিকান জনগণের পাশে আছেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যের চিরস্থায়ী যুদ্ধে ক্লান্ত, নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পিট হেগসেথের পাশে থাকবেন, যারা আমাদের হোঁচট খাইয়ে আরেকটি যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন?

প্রস্তাবটি আজ বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ভোটের জন্য যাবে, যেখানে এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে, তবে সংঘাত শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবশ্যই জানাতে হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন সেই শর্ত পালন করেছে।

হামলা শুরুর আগেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের জানানো হয়েছিল এবং সোমবার এক চিঠির মাধ্যমে ট্রাম্প কংগ্রেসকে অবহিত করেন, যদিও তিনি দাবি করেছিলেন যে এর প্রয়োজন ছিল না।

ট্রাম্প এর আগেও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন সময় সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেমন গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা এবং জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযান।

সাবেক সিনেটর রুবিও বলেন, প্রথমত, রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটিক—কোনো প্রেসিডেন্টের প্রশাসনই কখনো যুদ্ধ ক্ষমতা আইনকে সাংবিধানিক হিসেবে মেনে নেয়নি।

ভিয়েতনামে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের যুদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত করতে ১৯৭৩ সালে কংগ্রেস ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন পাস করেছিল।

এর অধীনে প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আইনপ্রণেতাদের বিষয়টি জানাতে হবে এবং সংঘাত শুরু হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন (এইউএমএফ) পাস করতে হবে।

মার্কিন প্রশাসনগুলো মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বৈধতা হিসেবে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর পাস হওয়া এইউএমএফের ওপর নির্ভর করে আসছে।

নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ শ্রমিক আহত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ১০ শ্রমিক আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার দুপুর সোয়া ১টায় উপজেলার বরপা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকালে গত মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বি ব্রাদার্স গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। পরে তারা গার্মেন্টসের সামনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ওই পোশাক কারখানার মালিক আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঁইয়া বলে জানা গেছে।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক সেলিম বাদশা বলেন, কারখানাটিতে অন্তত এক হাজার ২০০ শ্রমিক রয়েছেন। তবে গত মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে ৭০ থেকে ৮০ জনের। বৃহস্পতিবার তাদের বকেয়া পরিশোধের কথা থাকলেও তা না পেয়ে আজ তারা মহাসড়কে নামেন।  

কয়েকজন শ্রমিক জানান, কয়েকদিন আগে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানালে তাদের মারধর করা হয়। একইসঙ্গে চাকরিচ্যুত করারও হুমকি দেয় কর্তৃপক্ষ।

তারা আরও জানান, আজ মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছিলেন। দুপুরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। সে সময় পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসে অন্তত ১০ শ্রমিক আহত হয়েছেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, মালিকপক্ষ আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মানেননি। বিক্ষোভের একপর্যায়ে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর চড়াও হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে বি ব্রাদার্স গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

 

 

‘নিয়ন্ত্রণহীন এআই’ নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলেন বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে না থাকলে একশ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।

সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান বিল গেটস।

আজ রোববার এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই নিয়ন্ত্রণে আইনপ্রণেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এই মার্কিন ধনকুবের।

গেটস বলেন, ‘এআই নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি কেমন হবে, সে আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও রাজনীতিবিদদের যুক্ত হতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক করতে হবে। শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বনিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়।’

সাক্ষাৎকারে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন গেটস।

তিনি বলেন, ‘ভুল মানুষের হাতে পড়লে এমন ঘটনাও ঘটাতে পারে, যার ফলে বিশ্বে একশ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।’

তার মতে, এআই প্রযুক্তির মতো এমন শক্তিশালী কোনো অস্ত্র এর আগে কখনো ছিল না।

খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে এমন কোনো মানুষের হাতে এটি পড়লে ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গেটস।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক অঙ্গনের আরও অনেক শীর্ষ ব্যক্তি এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তি খাতের গেটসের সহকর্মী হিসেবে পরিচিত স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

কিছু বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, জৈব অস্ত্র ও পারমাণবিক যুদ্ধসহ বিভিন্ন উপায়ে এআই ব্যাপক প্রাণহানি বা মানবজাতির ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
 

জুলাই সনদ নিয়ে একটি মহল বিএনপিকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: ফখরুল

জুলাই সনদ নিয়ে একটি মহল বিএনপিকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘একটা মহল থেকে বলা হচ্ছে যে, বিএনপি জুলাই সনদ পালন করছে না। এটা পুরোপুরিভাবে একটা ভ্রান্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’

প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিরোধী নেতারা শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন।

আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এই সভার আয়োজন করে।

ফখরুল বলেন, বিএনপিই হচ্ছে সেই দল, যারা সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছেন জিয়াউর রহমান। সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সন্নিবেশিত করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক দিক থেকে এসব সংস্কার হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যাওয়া, প্রাইভেট সেক্টরকে সামনে নিয়ে আসা এই কাজগুলোও বিএনপি করেছে।

বিএনপির টাস্কটা হচ্ছে এমন যে, ধ্বংস হয়ে যাবে, ওখান থেকে বিএনপিকে আবার গড়ে তুলতে হবে। সেটাই করেছে বিএনপি। যতবার ধ্বংস হয়েছে, রাষ্ট্র ধ্বংস হয়েছে, রাজনীতি ধ্বংস হয়েছে, অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে, বিএনপি সেখান থেকে আবার শুরু করেছে। আজকেও কিন্তু একইভাবে…প্রেক্ষাপটটা আপনারা চিন্তা করেন, ১৭-১৮ বছরের একটা ফ্যাসিস্ট শাসন, তার পরে প্রায় দুই বছরের মতো একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসন, সেখান থেকে বিএনপি জনগণের ম্যানডেট নিয়ে একটা সরকার গঠন করেছে। এমন না যে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে। পুরোপুরি একটা নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে এসেছে, যোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘যে জুলাই সনদের কথা বলা হচ্ছে, আমরা সবাই জানি, একটু দয়া করে সবাই খুলে দেখবেন, প্রতিটি পাতায় বলা হচ্ছে যে বিষয়গুলোতে একমত হবে না যে দলগুলো, যদি সেই দল কেউ সরাসরি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে তাদের ইশতেহারে যেটা ছিল সে অনুযায়ী তারা কাজ করবে। তো সেই জায়গাগুলো ভুল বোঝানো হচ্ছে কেন, যে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না? সমস্যা হচ্ছে গণভোট, যেটার কথা বারবার বলা হচ্ছে। সেই গণভোটে যে চারটা প্রশ্ন ছিল, সে চারটা প্রশ্নের মধ্যে তিনটা প্রশ্নে তো আমরা একমতই ছিলাম। একটা প্রশ্ন—সংবিধান সংস্কার কমিশন, তারা কারও সঙ্গে পরামর্শ না করেই আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।’

‘আমি তখনই বিবৃতি দিয়েছিলাম যে, এটা একটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এই জিনিসটা কিন্তু আমরা অনেকেই ভুলে যাচ্ছি। আমরা কখনোই সেটা মেনে নেইনি। আমরা বারবার বলেছি যে, আমরা এইখানে একমত নই। ওইভাবেই তো ইলেকশনটা হয়েছে। সেভাবেই তো ম্যানিফেস্টো দিয়েছি আমরা। সেভাবেই তো জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে এবং আমরা সরকারে এসেছি। সরকারে এসে আমরা চেষ্টা করছি, জুলাইয়ের ঘোষণার প্রতিটি অংশ, আমরা যেটাতে একমত হয়েছি, আমরা সেটা পালন করতে চাই এবং আমরা কাজ শুরু করেছি,’ বলেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আসুন আলোচনা করি, সংসদে আলোচনা করি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেই, কথা বলি কোন জায়গায় আলোচনা আছে। তখন যদি একমত না হন, বেরিয়ে যাবেন। এখন যে ভাষায় আমাদের সম্মানিত বিরোধীনেতারা কথা বলছেন বাইরে, পাঁচ বছর (রাষ্ট্র পরিচালনা) করতে দেবো না, এ ধরনের কথা বলতেন হাসিনা।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যেভাবে ‘এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেবো না’ বা ‘পাঁচ বছর সরকার চালাতে দেবো না’ বলতেন, আজ বিরোধী দলের নেতারাও সেই একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন।

বিরোধীদলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করা, জনমত তৈরি করার চেষ্টাতেও আপত্তি নেই। এটাও গণতান্ত্রিক রীতি। কিন্তু সেটা এমন এক পর্যায়ে যেন না যায়, যে পর্যায়ে গিয়ে একটা সংঘাতের রূপ নেয়। এটা অত্যন্ত জরুরি বিষয়।

গণমাধ্যমে বিভিন্ন পদে নিয়োগে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে বলতে হবে আমাকে যে, সাংবাদিকরাই এর মধ্যে জড়িত। বিএনপির কোনো গ্রুপ নাই। সাংবাদিকদের মধ্যে গ্রুপ তৈরি করে আপনারাই একজন আরেকজনকে সরিয়ে দিচ্ছেন। এই বিষয়গুলো তো সত্য কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে মিডিয়া কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত? মিডিয়া তো বিজনেস হাউস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বেশিরভাগ মিডিয়াগুলো তাদের বিজনেস হাউস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে তো আমাদের ভেতরে ঢোকার খুব একটা সুযোগ নাই।’

এক দশকে ফুডপান্ডা বাংলাদেশের লোকসান ১১১ মিলিয়ন ইউরো

গত বছর ফুডপান্ডা বাংলাদেশের লোকসান ৪০ শতাংশ বেড়ে ১১ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে টানা ১০ বছর লোকসানের বৃত্তেই আটকে রইল প্রতিষ্ঠানটি। তাদের মূল প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরোর বার্ষিক বিবরণীতে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জার্মান এই কোম্পানিটি বাংলাদেশে চারটি ইউনিটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে— তাদের মূল ফুড ডেলিভারি সেবা, কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম প্যান্ডামার্ট, ক্লাউড কিচেন ইউনিট ডিএইচ কিচেনস এবং হোল্ডিং কোম্পানি জেড ১৩৪৩ জিএমবিএইচ অ্যান্ড কোং।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে এই চারটি ইউনিট সম্মিলিতভাবে ১১০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ইউরো লোকসান করেছে। আজ পর্যন্ত কোনো বছরই তারা লাভের মুখ দেখেনি।

মোট লোকসানের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি ফুড ডেলিভারি ব্যবসার, যার পরিমাণ ৭৯ দশমিক ২২ মিলিয়ন ইউরো। গত বছর এই একক খাতে লোকসান ৬৫ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়ায়, যা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির মোট বার্ষিক লোকসানের ৬০ শতাংশের বেশি।

অন্যান্য সহযোগী ইউনিটগুলোর মধ্যে প্যান্ডামার্ট গত বছর ২ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ইউরো লোকসান দিয়েছে। ২০২০ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এই ইউনিটের মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ইউরোতে।

অন্যদিকে, ডিএইচ কিচেনস তাদের লোকসান ১৫ শতাংশ কমিয়ে শূন্য দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ইউরোতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, যদিও ২০২০ সাল থেকে এই ইউনিটের মোট লোকসান ২ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ইউরো।

এ ছাড়া হোল্ডিং কোম্পানি জেড ১৩৪৩ গত বছর ২ দশমিক ০১ মিলিয়ন ইউরো লোকসান গুনেছে, যার ফলে ২০২১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ইউরোতে।

দীর্ঘ এক দশকের এই লোকসানি ধারার মধ্যেই গত সপ্তাহে ফুড পান্ডার মূল প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরো-কে কিনে নিতে উবারের ১৩ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবের খবর সামনে এসেছে।

উবারের ভাষ্য, এর মূল উদ্দেশ্য হলো ক্রস-সেলিং। অর্থাৎ যেসব বাজারে তাদের রাইড শেয়ারিং সেবা জনপ্রিয় কিন্তু ফুড ডেলিভারি সেবা নেই (যেমন: দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য), সেখানকার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের উভয় সেবায় অভ্যস্ত করে তোলা।

উবার মনে করে, একজন ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর কাছ থেকে আসা মোট বুকিংয়ের পরিমাণ একক ব্যবহারকারীর তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।

কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিত্রটা ভিন্ন। ২০২০ সালের জুনে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও শক্ত অবস্থান গড়তে ব্যর্থ হওয়ার পর মাত্র ১৪ মাসের মাথায় ফুড ডেলিভারি ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল উবার।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি এ কে এম ফাহিম মাসরুর এই চুক্তি নিয়ে দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। তার মতে, একটি সম্ভাবনা হলো উবার ফুডপান্ডা ব্র্যান্ডটি বজায় রাখবে এবং বর্তমানে যেভাবে ব্যবসা চলছে, তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

অন্যটি হলো উবার এই ব্র্যান্ডটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু খুব একটা লাভজনক বাজার নয়, তাই ব্র্যান্ডটি বিলুপ্ত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনাও রয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রশ্নের জবাবে ফুডপান্ডা বাংলাদেশ জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মটি কিনে নেওয়ার ঘোষণার পর তাদের কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাননি।

প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, আপাতত কোনো কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না। সাংগঠনিক বা ব্র্যান্ডিং সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর নেওয়া হবে, যা ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ডেলিভারি হিরোর কাছে বাংলাদেশ অন্যতম একটি গতিশীল বাজার, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।  

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য উবারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ফ্রান্স বনাম মরক্কো: জানা দরকার যেসব পরিসংখ্যান

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি দুই ভিন্ন মহাদেশের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও মরক্কো। একদিকে ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকায় সমৃদ্ধ ফ্রান্স; অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক উন্নতিতে আফ্রিকান ফুটবলের নতুন মানদণ্ড হয়ে ওঠা মরক্কো।

পরিসংখ্যান ও ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিক থেকে এগিয়ে ফরাসিরা। তবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কোও প্রস্তুত আরও একটি অঘটন ঘটাতে।

ম্যাচটি ঘিরে নজরকাড়া কিছু তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো দ্য ডেইলি স্টারের পাঠকদের জন্য—

•    এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও মরক্কো। এর মধ্যে চারটিতে জিতেছে ফ্রান্স, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ মরক্কো এখনও ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি।

•    বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখায় ২০২২ আসরের সেমিফাইনালে ২-০ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। সেই ম্যাচেও ফরাসি কোচ ছিলেন দিদিয়ের দেশম। ওই ম্যাচে গোল করেছিলেন থিও হার্নান্দেজ, যিনি এবারও দলে আছেন।

•    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আফ্রিকার দলের বিপক্ষে ফ্রান্সের শতভাগ জয়ের রেকর্ড। ২০১৪ সালে নাইজেরিয়াকে এবং ২০২২ সালে মরক্কোকে, দুই ম্যাচেই ২-০ গোলে হারিয়েছিল তারা।

•    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের রেকর্ড ৮ ম্যাচে ৬ জয় ও ২ হার। তাদের একমাত্র দুটি হার এসেছে ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে।

•    সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১৬ আন্তর্জাতিক ম্যাচের ১৪টিতেই জিতেছে ফ্রান্স (১ ড্র, ১ হার)। আর বিশ্বকাপে শেষ ১৯ ম্যাচে তাদের জয় ১৬টি (২ ড্র, ১ হার)।

•    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শেষ ২১ ম্যাচের ১৮টিতেই জয় পেয়েছে ফরাসিরা।

•    প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপের গোলটি ছিল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ১৫০তম গোল। ব্রাজিল, জার্মানি ও আর্জেন্টিনার পর চতুর্থ দল হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে ফ্রান্স।

•    বিশ্বকাপে শেষ ছয় ম্যাচে ১০ গোল করেছেন এমবাপে। টুর্নামেন্টে মোট ১৯ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৯।

•    আজ খেললে ২৭ বছর ২০১ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ২০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়বেন এমবাপে। ১৯৮২ সালে পোল্যান্ডের ভ্লাদিস্লাভ ঝমুদার (২৮ বছর ৩৪ দিন) রেকর্ড ভেঙে যাবে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ (২০) খেলার রেকর্ডে উগো লরিসের পাশে নাম লেখাবেন তিনি।

•    বিশ্বকাপে ইউরোপের দলের বিপক্ষে শেষ ৯ ম্যাচে মাত্র ২টিতে হেরেছে মরক্কো (৩ জয়, ৪ ড্র)।

•    বিশ্বকাপে শেষ ১৩ ম্যাচে মরক্কোর হার মাত্র দুটি (৬ জয়, ৫ ড্র)।

•    টানা দুই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা প্রথম আফ্রিকান দেশ মরক্কো।

•    এটি মরক্কোর ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০২২ সালে তারা পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার শেষ চারে উঠেছিল।

•    বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছে মরক্কো, যা তাদের ইতিহাসে দীর্ঘতম গোল করার ধারাবাহিকতা।

•    এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ১০ গোল করেছে মরক্কো। সেনেগালের (২০২৬) পর দ্বিতীয় আফ্রিকান দল হিসেবে এক আসরে ১০ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়েছে তারা।

•    মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ২০২১ সাল থেকে পিএসজির খেলোয়াড়। তার ক্লাব সতীর্থ ফ্রান্স দলে আছেন পাঁচজন -ওসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা, ওয়ারেন জায়ির-এমেরি, দেজিরে দুয়ে এবং লুকাস হার্নান্দেজ।

•    মরক্কো দলে আরও চারজন খেলোয়াড় বর্তমানে ফরাসি লিগ ওয়ানের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন -আয়ুব বুয়াদ্দি (লিল), আমিন সবাই (অ্যাঞ্জে), সামির এল মুরাবেত ও গেসিম ইয়াসিন (দুজনই স্ট্রাসবুর্গ)।

‘ঈদের সালামি আম্মা দিতেন ১০ টাকা আর আব্বা দিতেন ২০ টাকা’

এদেশের বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী ডলি জহুর। শতাধিক চলচ্চিত্রে এবং অসংখ্য নাটকে দুর্দান্ত অভিনয় করে দর্শকদের মন কেড়েছেন। 

বিটিভির সাড়া জাগানো অনেক নাটকে তিনি অনবদ্য অভিনয় করেছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘরে তুলেছেন। জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি। তার অর্জনের মধ্যে আছে একুশে পদকও। 

এখনো অভিনয় জগতের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন এই গুণী শিল্পী।

ছোটবেলার ঈদ নিয়ে ডলি জহুর কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

ডলি জহুর বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলার ঈদ মানেই প্রচণ্ড আনন্দ। সেই আনন্দ কোথায় হারিয়ে গেল?

বড়বেলায় কী সেই আনন্দ আছে? মাঝে মাঝে ভাবি, ঈদের আনন্দ বুঝি ছোটবেলায় বেশি পাওয়া যায়।

প্রতিটি মানুষের জীবনে ছোটবেলা আসে, আর তখনই যতরকম ঈদের আনন্দ কাজ করে। এই জীবনে ওইরকম আনন্দ আর পাব না। সত্যি বলতে, কখনোই ওইরকম আনন্দ ফিরে পাব না। ফিরে পাওয়া সম্ভব না।’

সালামি পাওয়ার দিনগুলোর কথা এখনো চোখে ভাসে ডলি জহুরের। 

ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ততই সালামির কথা যেন খুব করে মনে পড়ে। ডলি জহুর বলেন, ‘ঈদের সালামি আম্মা দিতেন দশ টাকা আর আব্বা দিতেন বিশ টাকা। ওই টাকা তখন অনেক কিছু। সালামি পাওয়ার পর অনেক ভালো লাগত। অনেক খুশি হতাম। বান্ধবীদের সঙ্গে শেয়ার করতাম। কে কত সালামি পেল, সেটাও আলোচনা করতাম।’

ঈদের সালামির টাকা দিয়ে ডলি জহুর আইসক্রিম কিনে খেতেন। 

তিনি বলেন, ‘ঈদে মা-বাবার কাছ থেকে সালামি পেতাম। সালামির টাকা দিয়ে বান্ধবীরা মিলে নিচে গিয়ে পরিচিত দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে খেতাম। মোড়ে মোড়ে আচার পাওয়া যেত। আচার কিনে খেতাম। সব স্বাদ যেন ওই আইসক্রিম আর আচারে ছিল। আহারে, শৈশব-কৈশোরের দিন কোথায় হারিয়ে গেল!’

ছোটবেলায় ঈদের সময় বান্ধবীরা মিলে রিকশা করে ঘুরতে বের হতেন। কখনো কখনো হারিয়েও যেতেন। সেইসব দিনের কথা মনে করে ডলি জহুর বলেন, ‘ঈদের দিন বান্ধবীরা মিলে ঘুরতাম। সবাই মিলে রিকশা নিয়ে এখানে-সেখানে যেতাম। হারিয়েও যেতাম মাঝে মাঝে। বান্ধবীদের বলতাম, “চিনিস না তো এদিকটায় নিয়ে এসেছিস কেন?” এরপর রিকশাওয়ালাকে বলতাম, “যেখান থেকে নিয়ে এসেছেন, সেখানে রেখে আসেন।“ এভাবেই ফিরে আসতাম বাসায়।’

ছোটবেলা ধানমন্ডিতে কেটেছে ডলি জহুরের। সেইসব স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘তখন আমাদের বাসা ছিল ধানমন্ডিতে। ঈদের ছুটিতে কতই না মজা হতো। বান্ধবীরা মিলে এ বাড়ি ও বাড়ি যেতাম। মা মাংস দিয়ে পাঠাতেন। পরিচিতদের বাসায় বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসতাম। ভীষণ আদর করতেন সবাই এবং নানা কিছু খেতে দিতেন। মধুর সময় ছিল তখন।’

ঈদের সময়ে অন্য সবার মতো ডলি জহুরও নতুন পোশাক পেতেন। 

ডলি জহুর বলেন, ‘ছোটবেলায় ঈদের সময় নতুন পোশাক পেতাম। এটা নিয়েও অনেক মজা করতাম। এমনভাবে বালিশের নিচে লুকিয়ে রাখতাম, কেউ যেন না দেখে। তারপর আশপাশের বাসায় যেতাম বান্ধবীদের পোশাক দেখার জন্য। কেউ দেখাত, আবার কেউ লুকিয়ে রাখত। সে এক অন্যরকম আনন্দের দিন ছিল। ওই দিনগুলো যদি ফিরে পেতাম! কিন্তু, সম্ভব তো নয়।’