27.5 C
Dhaka
Home Blog

হামলায় ইরানের ৪৮ নেতা নিহত: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে ৪৮ নেতা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আজ রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি। 

সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যে সাফল্য পাচ্ছি তা কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। এক ধাক্কায় ৪৮ জন নেতা মারা গেছেন এবং এটি দ্রুত এগিয়ে চলেছে।’ 

প্রতিবেদনে ‘সিএনবিসি’ ও ‘দ্য আটলান্টিক’কে দেওয়া ট্রাম্পের অপর দুটি সাক্ষাৎকারের তথ্যও তুলে ধরা হয়। 

সিএনবিসিকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কেবল আমাদের জন্য নয়, বিশ্বের জন্য কাজ করছি।’

সবকিছু নির্ধারিত সময়ের আগেই হচ্ছে উল্লেখ করে পরিস্থিতি ইতিবাচকভাবে এগুচ্ছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

অন্যদিকে দ্য আটলান্টিককে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সম্ভাব্য পরবর্তী নেতাদের সঙ্গে তিনি কথা বলতে আগ্রহী। 

তিনি বলেন, ‘তারা কথা বলতে চান এবং আমি রাজি হয়েছি।’

ইরানি নেতাদের এটা আরও আগে করা উচিত ছিল বলে মনে করেন ট্রাম্প। 

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের উচিত ছিল যা খুব বাস্তব এবং সহজে করা যায় তা আরও আগে করা।’  

তবে ইরানের নতুন নেতাদের সঙ্গে কখন ও কীভাবে কথা হবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি ট্রাম্প। 

সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বসবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন।

আজ রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি। সেটা নির্ধারণ হয়েছে আগামী ১২ মার্চ।’

‘সংসদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে (প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে) আলোচনা করেছি। এটা নির্ধারণ হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহবানের প্রজ্ঞাপন দেবেন অধিবেশনের ১৫ দিন আগে,’ বলেন তিনি।

সালাউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে পরামর্শের জন্য। রাষ্ট্রপতি সেটা অনুমোদন করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন।’

‘অধিবেশনে কী কর্মসূচি থাকবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমন অধিবেশনে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেসব অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে সেগুলো উপস্থাপন করা হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে,’ বলেন তিনি।

বিক্রি হচ্ছে স্পেসএক্সের শেয়ার, কিনতে পারবেন যারা, ঝুঁকি কতটুকু

বিশ্বের শেয়ার বাজারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে আগামী ১২ জুন। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মহাকাশযান প্রস্তুতকারক, মহাকাশ উৎক্ষেপণ ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ প্রযুক্তি সরবরাহকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স তাদের শেয়ারের একটি অংশ সাধারণ মানুষের জন্য ছেড়ে দিচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেক্সাসের এই কোম্পানির কোনো শেয়ার বর্তমানে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নেই। তবে, প্রাথমিক প্রস্তাবে সাধারণ স্টকের ৫৫ কোটি ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫টি শেয়ার প্রতিটি ১৩৫ ডলার মূল্যে বিক্রির কথা জানিয়েছে স্পেসএক্স।

প্রাথমিক প্রস্তাবে দুই ধরনের সাধারণ শেয়ারের কথা জানিয়েছে স্পেসএক্স। ‘ক্লাস এ’ পর্যায়ের প্রতিটি শেয়ারের মালিক শেয়ার প্রতি একটি করে ভোট দেওয়ার অধিকারী হবেন। ‘ক্লাস বি’ পর্যায়ের প্রতিটি শেয়ারের মালিক শেয়ার প্রতি ১০টি ভোট দিতে পারবেন।

কেন বাজারে শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা

বিবিসি জানিয়েছে, আগামী ১২ জুন প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের পাবলিক শেয়ারের লেনদেন শুরু হবে।

এর লক্ষ্য বিশাল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা। স্পেসএক্সের প্রাথমিক লক্ষ্য বাজারে কোম্পানিটির ৫৫৫ মিলিয়ন শেয়ার প্রতিটি ১৩৫ ডলারে বিক্রি করে অন্তত ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা।

এই অর্থ দিয়ে স্পেসএক্সের বর্তমান কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং সেইসঙ্গে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন মাস্ক। তার পরিকল্পনার মধ্যে আছে—গ্রহাণু থেকে খনিজ আহরণ, মঙ্গল গ্রহে কলোনি তৈরি, মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন।

ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮২৫ বিলিয়ন ডলার। আর তার প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্সের আর্থিক মূল্যমান রেটিং প্রতিষ্ঠান মর্নিংস্টারের মতে ৭৮০ বিলিয়ন ডলার।

গত মাসে স্পেসএক্সের জমা দেওয়া করা আইপিও বিবরণী অনুযায়ী, ইলন মাস্কের হাতে আছে কোম্পানিটির শেয়ারের ৪২ শতাংশ বা প্রতিটি ৮ দশমিক ৩৯ ডলার মূল্যের ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন শেয়ার।

কিন্তু শেয়ারের দাম বাড়ানোর ফলে কোম্পানিটির মূল্য দাঁড়াবে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ইলন মাস্ক হবেন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার।

যেভাবে কেনা যাবে স্পেসএক্সের শেয়ার

শেয়ার তালিকাভুক্ত হয়ে যাওয়ার পর যেকোনো সময় তা কেনা যাবে। এককভাবে শেয়ার কিনতে চাইলে এমন কোনো প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে যারা স্পেসএক্সের শেয়ারের ব্রোকার হিসেবে কাজ করছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেসএক্সের পাবলিক শেয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম নিউইয়র্ক সিটির নাসড্যাক শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত হবে।

নাসডাকসহ কিছু শেয়ার বাজারে সম্প্রতি এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে যার ফলে শেয়ার বাজারের অন্তর্ভুক্ত বিনিয়োগকারীরা সরাসরি চেষ্টা না করলেও, শেষ পর্যন্ত হয়তো স্পেসএক্সের সামান্য অংশের মালিক হয়ে যেতে পারেন।

যুক্তরাজ্যে কয়েকটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের স্পেসএক্সের শেয়ার আছে। এর মধ্যে রয়েছে এডিনবরা ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও বেইলি গিফোর্ড ইউএস গ্রোথ।

এছাড়া, যুক্তরাজ্যের এজে বেল, হারগ্রিভস ল্যান্সডাউন তাদের গ্রাহকদের স্পেসএক্সের শেয়ার কেনার সুযোগ দিচ্ছে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্ম চার্লস সোয়াব, ফিডেলিটি, রবিনহুড, সোফাই টেকনোলজিস ও মরগান স্ট্যানলির ই-ট্রেডের মাধ্যমেও স্পেসএক্সের শেয়ার কেনা যাবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে আগামী ১১ জুন শেয়ারের অফিসিয়াল দাম নির্ধারণ করা হবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বেস্টইনভেস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেসন হল্যান্ডস বলেন, ‘সাধারণত, যুক্তরাজ্যের ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্কিন শেয়ার বাজারে ঢোকা বেশ কঠিন। কিন্তু বেশ কয়েকটি ব্রোকার ও ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম স্পেসএক্সের আইপিও কেনার সুযোগ দিচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদা এবং এটি যে বড় একটি সুযোগ তা টের পেয়েছে তারা।’

তিনি জানান, এসব প্ল্যাটফর্মের সর্বনিম্ন সাবস্ক্রিপশন সাধারণত এক হাজার পাউন্ড হতে পারে এবং আবেদনের সময়সীমা আগামী বুধবার শেষ হবে।

শেয়ার বণ্টন

গার্ডিয়ান বলছে, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত শেয়ার যদি শেষ পর্যন্ত না থাকে, তা ভেবে বণ্টন পদ্ধতি এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

এমন হতে পারে যে অনেকে সমান সংখ্যক শেয়ার পাবেন, অথবা কে কত বিনিয়োগ করতে চান সেই অনুযায়ী বণ্টন করা হতে পারে।

আবেদন অনেক বেশি হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত কিছু বিনিয়োগকারী হয়তো কিছুই পাবেন না।

এজে বেলের মার্কেট ব্যবস্থাপনার প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন, ‘ধরা যাক কেউ ৫ হাজার পাউন্ড কিংবা সাড়ে ৬ হাজার ডলারের শেয়ারের জন্য আবেদন করলেন। তারা হয়তো প্রথম ১ হাজার ডলার বা পাউন্ড মূল্যের শেয়ার পুরোটা বরাদ্দ পাবেন। কিন্তু বাকি অর্থের ওপর হয়ত তাদের নির্দিষ্ট শতাংশের শেয়ার দেওয়া হতে পারে। আবেদনগুলোর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম এখন পর্যন্ত নেই।’

মাস্কের শেয়ারের কী হবে

বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে স্পেসএক্সের শেয়ার কিনে হয়ত অনেকে ভাবতে পারেন যে প্রতিষ্ঠানটির নীতি-নির্ধারণীতে থাকার সুযোগ হবে। কিন্তু সত্য হলো বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেশি হলেও স্পেসএক্স কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মাস্ক তার নিজের শেয়ার বিক্রি করছেন না এবং কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারদের মোট ভোটের ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ নিজের কাছেই রাখছেন।

এই শেয়ার কিনে কতটা লাভ কতটা ঝুঁকি

প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগকারীরা আশা করবেন, স্পেসএক্সের শেয়ার কেনার পর দাম হয়তো এক লাফে অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু শেয়ারের দাম যেমন বাড়তে পারে, তেমনি কমতেও পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্সের মতো কোম্পানিগুলো সাধারণত তাদের কার্যক্রমের দিকে বেশি মনোযোগী থাকে। তারা এটাও জানে না যে, শেয়ারের লেনদেন শুরু হলে দাম বাড়বে নাকি কমবে।

এর আগে রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে ইলন মাস্কের জনপ্রিয়তা কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল। তার ওপর তার উদ্যোগগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অনিশ্চয়তায় ভরা।

গত বছর স্পেসএক্স ১৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, তাদের নেট লোকসান ছিল ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

স্পেসএক্সের শেয়ার বিক্রির শর্ত-সম্বলিত আইপিও বিবরণীতে বলা হয়েছে, কোম্পানির নেট লোকসানের ইতিহাস আছে এবং ভবিষ্যতেও এটি লাভজনক নাও হতে পারে।

এখন এর শেয়ার কেনা নির্ভর করবে বিনিয়োগকারী কী চায় তার ওপর। স্পেসএক্সের শেয়ারের মালিক—এই কথা ভেবেই যদি কেউ শান্তি পায় তার ক্ষেত্রে হারানোর কিছু থাকছে না।

ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন, স্পেসএক্সের প্রবৃদ্ধির সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি সম্ভাব্য কিছু ঝুঁকিও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে শেয়ারের মূল্য কমিয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘স্পেসএক্সের ব্যর্থতা, নীতিগত বা আইনি পরিবর্তন, ইলন মাস্কের বিতর্কিত মন্তব্য কোম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে।’

এসবের বাইরে, কোনো ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ না করে সরাসরি একটি একক কোম্পানির শেয়ার কেনা সবসময়ই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ—কারণ পরিস্থিতি খারাপ হলে লোকসান ছাড়া উপায় থাকে না।

বেস্ট ইনভেস্টেরের হল্যান্ডস বলেন, ‘স্পেসএক্সে কারও বিনিয়োগের বড় অংশ খাটাতে আমি সতর্ক থাকব। যদি শুরুর দিকে ভালো লাভ হয়, তবে কোম্পানির অভ্যন্তরীন কেউ শেয়ার বিক্রির সুযোগ পাওয়ার আগেই কিছু মুনাফা তুলে নেওয়া এক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’

ইয়ামাল ফিরতেই চেনা ছন্দে ফিরলো স্পেন

টানা ৩১ টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থেকে অন্যতম ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল স্পেন। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সেই স্পেন ছিল একদমই অচেনা। অবশেষে আজ সৌদি আরবের বিপক্ষে চিরচেনা রূপে ধরা দিলো স্প্যানিশ ফুটবলের সৌন্দর্য। সৌদি আরবকে নাস্তানাবুদ করে ৪-০ জয়ের গোলে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে স্পেন। 

জয়ের ধারায় ফিরতে মরিয়া স্পেন এদিন শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনে, যার মধ্যে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনটি ছিল একাদশে লামিন ইয়ামালের অন্তর্ভুক্তি। ইয়ামাল না থাকায় আগের ম্যাচে স্পেনের আক্রমণ অনেকটাই ভোঁতা লেগেছিল। আজও শুরু থেকে তাকে পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে ইয়ামাল খেলেছেন এবং স্পেনকেও খেলিয়েছেন। আজ প্রথম মিনিট থেকেই তিনি বুঝিয়েছেন, কেন তাকে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার মানা হয়। 

সৌদির বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই রাইট উইং থেকে একের পর এক ক্রস তুলেছেন ইয়ামাল। প্রথম সাফল্যটাও এসেছে এই বার্সা তারকার পা থেকেই। বক্সের বাঁ পাশ থেকে নিখুঁত কোণে বল পাঠান মিকেল ওয়ারজাবাল, স্লাইড করে সেটিকে শুধু জালে ঢুকিয়ে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেয়েছেন ইয়ামাল। 

প্রথমার্ধের বাকি অংশে ইয়ামালকে ছাপিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই স্পেনের নায়ক ওয়ারজাবাল। বছর দুয়েক ধরেই প্রথাগত স্ট্রাইকার ছাড়া খেলে অভ্যস্ত স্পেনের গোলের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন রিয়াল সোসিয়েদাদে খেলা এই ফরোয়ার্ড। আগের ম্যাচে ৩০ মিনিটেও একবার বল স্পর্শ করতে পারেননি। আজ ২১ থেকে ২৪- তিন মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সংশয় শেষ করে দিয়েছেন তিনি। হ্যাটট্রিকও পেয়ে যেতে পারতেন, যদি না ৩৬ মিনিটে ক্রসবারে বল লাগাতেন। 

ফলাফল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বিরতির সময়ই দুই গোলদাতাকে উঠিয়ে নেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বিরতির ঠিক পরপরই ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ গোলটি পায় বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। কর্নার থেকে আসা বলে শক্তিশালী শট নিয়েছিলেন কুকুরেয়া, সেটি গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ফিরে এসে আবার ডিফেন্ডার আল-তামবাক্তির গায়ে লেগে জালে ঢুকে। এই নিয়ে এটি এবারের বিশ্বকাপের অষ্টম আত্মঘাতী গোল। 

এরপর অনেকটাই খোলসে ঢুকে যায় স্পেন। বল পায়ে রেখে নিরাপদ খেলেছে অনেকটা সময়। স্টপেজ টাইমে ট্যাপ ইন করে একটি গোল করেছিলেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। 

পুরো ম্যাচে বলতে গেলে একাই খেলেছে স্পেন। সৌদির গোলমুখে মোট ২২টি শট নিয়েছে তারা, বল দখলে রেখেছিল ৬৭ শতাংশ সময়। দাপুটে এই জয়ে আপাতত গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে স্পেন। গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ লাতিন দল উরুগুয়ের বিপক্ষে। 

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়া ও মার্কিন বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ ধারায় তদন্ত শেষে গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) এ প্রস্তাবের কথা ঘোষণা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত পণ্য আমদানির বিষয়টি মোকাবিলা করতে বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের জন্য অসমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে।

গ্রিয়ার আরও বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের এই ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। বৈশ্বিক বাণিজ্য যেন কোনোভাবেই এ ধরনের শ্রম চর্চাকে উৎসাহিত না করে, সেজন্য সরকারগুলোকে আরও ভূমিকা রাখতে হবে।

ইউএসটিআর বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ ৫৪টি দেশকে চিহ্নিত করেছে। এই দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকরভাবে বলবৎ করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

এছাড়া বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ না করার জন্য কানাডা, মেক্সিকো ও পাকিস্তানসহ আরও ছয়টি দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশে আংশিক জোরপূর্বক শ্রম আমদানি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বা যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি আছে, তারা অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হবে। আর যেসব দেশের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি নেই, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্কের মুখে পড়তে পারে।

তবে এই শুল্ক এখনই কার্যকর হচ্ছে না। চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে এটি জনসাধারণের মতামত ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে। এর ফলে শুল্ক চূড়ান্ত হওয়ার আগে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। 

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে লিখিত মতামত জমা দিতে হবে। ৭ জুলাই থেকে ‘সেকশন ৩০১’ প্যানেলের গণশুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এই পদক্ষেপটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিস্তৃত বাণিজ্য কৌশলের অংশ। এটি চলতি বছরের শেষ দিকে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া অস্থায়ী ব্যবস্থাগুলোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট দেশের জন্য স্থায়ী শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করতে পারে।

এছাড়া ইউএসটিআর একটি পৃথক টেক্সটাইল ব্যবস্থারও প্রস্তাব করেছে। এর অধীনে নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল সামগ্রী কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে এর যোগ্যতা ও কোটার পরিমাণ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

আরও ২ মামলায় আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিনের আদেশ বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত।

আজ রোববার আইভীর জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি পৃথক আবেদনের বিষয়ে ‘নো অর্ডার’ আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।

আইভীর আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্য ১০টি মামলায় জামিন বহাল থাকায় তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনগত বাধা নেই।

আদালতে আজ আইভীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান ও আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।

এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল দুটি পৃথক হত্যা মামলায় আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট এবং কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেন।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সেলিম মন্ডল ও আবদুস সালামকে হত্যার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছিল।

গত বছরের ৯ মে পোশাক শ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 
পরে তাকে আরও নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই বছরের ৯ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পৃথক জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আইভীকে ১০টি মামলাতেই জামিন দিয়েছিলেন।

অতিপ্রাকৃত ভৌতিক ‘দ্য মমি’ সিনেমায় কী থাকছে

আজ ১৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেয়েছে আমেরিকান অতিপ্রাকৃত ভৌতিক সিনেমা ‘দ্য মমি’। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। 

আগেও মমি নামে হলিউডে কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। সেগুলো ছিল মূলত অ্যাডভেঞ্চারধর্মী। তবে নতুন এই সিনেমাটি আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। 

এটি একটি আর-রেটিং পাওয়া ভৌতিক সিনেমা, যেখানে অত্যন্ত ভীতিজনক ও নৃশংস দৃশ্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো সিনেমা মুক্তির আগে মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমপিএএ) নামের সংস্থা ওই সিনেমার একটি রেটিং দিয়ে থাকে। সেই রেটিং অনুযায়ী নির্ধারণ হয় উল্লেখিত সিনেমাটি কোন বয়সীদের দেখার উপযোগী। 

আর বা রেস্ট্রিকটেড রেটিং পাওয়া সিনেমাগুলো ১৭ বছরের কম বয়সী দর্শকদের জন্য উপযোগী নয়।

লি ক্রোনিন পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন জ্যাক রেনর, লাইয়া কস্তা, মে ক্যালামাউই, নাটালি গ্রেস, ভেরোনিকা ফ্যালকন প্রমুখ।

 

দ্য মমি সিনেমায় গল্পটি এক সাংবাদিক বাবা ও তার পরিবারকে কেন্দ্র করে। একসময় তারা সুখী পরিবার ছিল। একদিন তাদের ছোট মেয়েটি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায় না। এই ঘটনাটি পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। 

৮ বছর পর হঠাৎ একদিন সেই মেয়েটিকে মরুভূমির একটি এলাকায় পাওয়া যায়। সে বেঁচে আছে কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তার বয়স বাড়েনি। পরিবার তাকে ফিরে পেয়ে খুশি হলেও, কিছু অদ্ভুত বিষয় তাদের চোখে পড়ে। মেয়েটি বাড়ি ফেরার পর তার আচরণ ঠাণ্ডা ও অচেনা হয়ে যায়। সে অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলতে থাকে। রাতে অস্বাভাবিক কিছু ঘটনা ঘটে। তার শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন শুরু হয়। মনে হতে থাকে, সে পুরোপুরি মানুষ নয়।

গল্প এগোতে থাকলে মেয়েটির শরীর ধীরে ধীরে মমির মতো হয়ে যায়। সে অস্বাভাবিক ক্ষমতা দেখাতে শুরু করে। তার উপস্থিতি ঘরে ভয়ংকর প্রভাব ফেলে।

তেহরানকে নির্বিচার হামলা বন্ধের আহ্বান জানাল বার্লিন

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানকে অবিলম্বে ‘নির্বিচার হামলা’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি পূর্বাভাষ দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ধর্মীয় নেতাদের শাসনের অবসান ঘটেছে।

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলছিল পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা। গত বুধবার তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে সব কিছু ‘ইতিবাচক’ বলেই ধরে নিয়েছিল উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় থাকা বিশ্ববাসী। 

তবে দুই দিনের মাথায় শান্তি উদ্যোগকে ছুঁড়ে ফেলে ইরানে যুগপৎ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। 

এই হামলায় এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ মোট ৪৮ জন নেতা এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন। 

খামেনি হত্যা ও দেশের ওপর হামলার জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি আছে, সেগুলোর ওপর হামলা শুরু করে ইরান। 

 

একে একে আক্রান্ত হয় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব এবং ইসরায়েল। 

এসব হামলাকেই ‘নির্বিচার হামলা’ আখ্যা দেন জার্মান চ্যান্সেলর।  

বার্লিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মের্ৎস বলেন, ‘ইরানের জনগণের পাশাপাশি জার্মানরাও দেশটিতে ধর্মীয় শাসনের অবসান ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করছে।’

তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হওয়ায় ইরান এখন ‘অনিশ্চিত ভবিষ্যতের’ দিকে আগাচ্ছে। 

 

মের্ৎস নিশ্চিত করেন, তিনি বুধবার ওয়াশিংটন সফর করবেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। 
‘আমরা এখনো জানি না, তাদের (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) পরিকল্পনা সফল হবে কী না’, যোগ করেন তিনি। 

উল্লেখ্য, এই অভিযানে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি অংশ নেয়নি। 

তিনি জানান, জার্মানির মাটিতে কোনো ধরনের ‘ইহুদিবিদ্বেষী বা মার্কিনবিদ্বেষী’ হামলা সহ্য করা হবে না।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না: আইজিপি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

এসময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

বাহারুল আলম বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদক সংক্রান্ত অপরাধ করলে দলমত নির্বিশেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

আজ রোববার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পুলিশের সব ইউনিট প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় এ নির্দেশনা প্রদান করেন আইজিপি।

তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

আইজিপি মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে হাইওয়ের ডাকাতি বন্ধ করতে হবে।’

তিনি হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এসময় পুলিশ সদরদপ্তর প্রান্তে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিরা উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে ধ্বংস হলো সোনাদিয়া দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বন

ভয়ংকর দৃশ্য! হাজার হাজার একরের ম্যানগ্রোভ বন কেটে ফেলা হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছের কাণ্ড, পুড়িয়ে ফেলা ডালপালা ও গাছের পাতারা সাক্ষী দিচ্ছে ওই দৃশ্যের।

এটিই আমাদের সোনাদিয়া দ্বীপ, যার অবস্থান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে।

কিছুদিন আগেও যে বিস্তৃত এলাকা ঢাকা ছিল ঘন ম্যানগ্রোভ বনে, এখন তার বিভিন্ন দিকে নির্মাণ করা হয়েছে চার-পাঁচ ফুট উচ্চতার মাটির বাঁধ।

ধ্বংসযজ্ঞের যে দৃশ্য দেখছি, তা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় রোনাল্ড জোফের ১৯৮৪ সালে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য কিলিং ফিল্ডস’-এর কথা। এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে খেমার রুজের শাসনকালে কম্বোডিয়ার বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যায়—গাছের ভাঙা ডালপালা ও অবশিষ্টাংশের সঙ্গে অসংখ্য লাশের স্তূপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এখানে-সেখানে।

সোনাদিয়া দ্বীপে নির্বিচারে গাছ কাটা চলচ্চিত্রে দেখানো তেমনই একটি ভৌতিক দৃশ্যের মতোই—যা বাস্তবতাকে ছাপিয়ে গেছে বহুলাংশে।

সোনাদিয়ায় মাটির বাঁধগুলো নির্মাণ করা হয়েছে নদীর তীর ঘেঁষে। কয়েকশ গজ পরপর বসানো হয়েছে স্লুইস গেট, যাতে লবণাক্ত পানি ভেতরে ঢুকতে পারে। বাঁধগুলোর নকশা এমনভাবে করা যাতে বাগদা চিংড়ির ঘেরগুলোয় লবণাক্ত পানি ধরে রাখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান ও কানাডার উচ্চ চাহিদার সামুদ্রিক খাদ্যের বাজারে রপ্তানি হয় এখানকার চিংড়ি।

দ্বীপটির উত্তর-দক্ষিণ বরাবর তৈরি মাটির বাঁধের পশ্চিম দিকের ম্যানগ্রোভ বন বেশ কিছুদিন আগেই কাটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আর পূর্ব দিকের গাছগুলো কাটা হয়েছে সম্প্রতি। সেগুলো এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। বোঝা যাচ্ছে কেটে রাখা এসব গাছ শিগগিরই পুড়িয়ে ফেলা হবে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত সোনাদিয়া ম্যানগ্রোভ বনের ধ্বংসযজ্ঞের একটি সামগ্রিক অবস্থা দেখা গেলেও, আমাদের ড্রোন ফুটেজে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও সূক্ষ্ম ও বিস্তৃতভাবে উঠে এসেছে।

দেখে মনে হচ্ছে সোনাদিয়া দ্বীপটি ধীরে ধীরে সাগরের বুকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আর উন্মোচিত হচ্ছে লালচে এক ভূখণ্ডের। যা এই দ্বীপে প্রতিনিয়ত ম্যানগ্রোভ বন নিধন ও পোড়ানোর সাক্ষ্য বহন করে। একসময় উপকূলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে ঘন সবুজ ম্যানগ্রোভ বনের বেষ্টনী ছিল। যা এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য। উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত একটি সরু খাল দ্বীপটিকে মহেশখালী থেকে পৃথক করেছে।

খালের পাড় ধরে কিছু সবুজ গাছপালা অবশিষ্ট আছে। ওই খালের পাশে মাটির বাঁধ ঘেঁষে কিছু মানুষকে জমিতে কাজ করতে দেখি। ভয় আর কৌতূহল নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যাই। আমরা শুনেছি, সোনাদিয়া দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বন এলাকা দখল করার জন্য রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সশস্ত্র দল ও ভাড়াটে গুন্ডাদের ব্যবহার করে। তাই কোনো ধরনের হামলার শিকার হলে যাতে দ্রুত নৌকায় করে নিরাপদে ফিরে যেতে পারি, সেজন্য আমাদের অভিজ্ঞ ট্রলারচালককে ইঞ্জিন চালু রাখতে বলি।

কিন্তু ঘটল ঠিক উল্টোটা। আমরা কাছে যেতেই লোকজন মাটির বাঁধ ধরে সরে যেতে থাকে এবং এক সময় তারা অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপর আমরা আরও কাছে গিয়ে দেখি, দূর থেকে যাকে ‘কিলিং ফিল্ড’ মনে হচ্ছিলো তা নোনাপানি আটকে রেখে গড়া চিংড়ি খামার। কাছেই একটি ছোট ঘর। ঘরটির বাইরে ঝুলিয়ে রাখা ছিল কক্সবাজারের মহেশখালীর মোরকোজুল এলাকায় ইজারাকৃত জমি-সংক্রান্ত এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের অনুলিপি।

রিট আবেদনটি স্থানীয় ইজারাদার হাজী মোস্তাক আহমেদ ও অন্যান্যদের পক্ষ থেকে করা। আবেদনে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি), বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ প্রশাসন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষসহ (বেজা) বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে বিবাদী করা হয়েছে।

সহজ কথায়, আবেদনকারীরা আদালতকে আর্জিতে বলেছেন, তারা চিংড়ি চাষের জন্য আইনসম্মতভাবে জমি ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকারি কর্তৃপক্ষ বা অন্য পক্ষ জমির ওপর তাদের দখল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তাই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন—যেন ইজারা বাতিল বা নবায়ন না করার মতো কোনো উদ্যোগ নেওয়া না যায়।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট লিজের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লিজকৃত জমির ওপর আবেদনকারীদের শান্তিপূর্ণ দখল ও ভোগদখলের ওপর কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না চালাতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা জারি করেন। একইসঙ্গে আবেদনকারীদের উত্থাপিত লিজ নবায়নের বিষয়টিও আদালত বিবেচনা করেন।

সর্বশেষ গত ২ মার্চ দেওয়া আদেশ অনুযায়ী, আদালত তার পূর্ববর্তী সুরক্ষা আদেশের মেয়াদ ওই তারিখ থেকে আরও ছয় মাসের জন্য বৃদ্ধি করেন। এর ফলে, আদালতের আদেশ পরিবর্তন না হলে আবেদনকারীরা এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে লিজকৃত জমি দখলে রেখে ব্যবহার করতে পারবেন।

আইনি নথিতে লিজকৃত জমির পরিমাণ উল্লেখ নেই। তবে উত্তর দিকে যতদূর চোখ যায়, ততদূর পর্যন্ত ম্যানগ্রোভ বন উজাড় করা হয়েছে। দেখে মনে হয়, এলাকাটির ওপর রাষ্ট্র বা তার সংস্থাগুলোর কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই। বরং অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে, ভয় আর পেশিশক্তি যাদের মূল অস্ত্র।

আমরা ট্রলারে ফিরে আসি এবং বদরখালী খাল ধরে উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে যাই। চিংড়িচাষের জন্য খালের দুই ধারে কাদামাটির বাঁধ। লবণাক্ত পানি প্রবেশের সুযোগ করে দিতে বাঁধ কেটে মাঝে মাঝে স্লুইস গেট বসানো হয়েছে।

তখন জোয়ারের সময়। চারপাশের দৃশ্য দেখে আমরা হতবাক। খালের দুই পাশে বাঁধের ভেতরের গাছপালা কেটে সাফ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় মাটির কালো দাগ, কেটে ফেলা গাছগুলো পোড়ানোর নিদারুণ সাক্ষী দিচ্ছে।

আরও কিছুদূর সামনে যেতেই ডান দিকে সদ্য উজাড় করা ও আগুনে পোড়ানো বিস্তীর্ণ এক এলাকা চোখে পড়ে। আমরা ট্রলার থেকে নেমে পড়ি। এটা কি সত্যিই সম্ভব? অল্প কিছুদিন আগেও এখানে ছিল ঘন সবুজ ম্যানগ্রোভ বন, যা কেটে ফেলার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নদী তীরের বাঁধটি থেকে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে আরও নতুন নতুন বাঁধ তোলা হয়েছে, যা পুরো ভূখণ্ডটিকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করেছে।

আমরা এমনই এক বাঁধ ধরে উত্তর দিকে হাঁটতে থাকি। ডান পাশে আর কোনো সবুজ অবশিষ্ট নেই। প্রতিটি গাছ কেটে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে আছে শুধু অজস্র শ্বাসমূল—হারিয়ে যাওয়া ম্যানগ্রোভ বনের বোবা সাক্ষী।

বাঁধের পশ্চিম পাশে তখনো গাছ কাটা হচ্ছিল। দূর থেকে কয়েকজন মানুষকে এ কাজ করতে দেখি। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়েই দ্রুত তারা চোখের আড়াল হয়ে যায়। আরও উত্তরে এগিয়ে এমন একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় পৌঁছাই, যেখানে বড় একটি জায়গা থেকে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। কাটা গাছগুলো পড়ে থাকতে থাকতে শুকিয়ে গেছে। এক জায়গায় আগুন দেওয়ার চিহ্নও দেখতে পাই।

এরপর আমরা এমন একটি জায়গায় পৌঁছাই, যা আমাদের সম্পূর্ণভাবে হতবাক করে দেয়। ডান ও বাম উভয় দিকে কাদামাটির বাঁধ। গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে শুকানোর জন্য। সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বনে সুন্দরবনের মতো লম্বা ও বিশাল আকারের গাছ হয় না। এই বনের অনন্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গাছগুলো হলো কম উচ্চতার বাইন, কেওড়া ও গেওয়া।

প্রখর রোদ, চারদিকে সুনসান নীরবতা। আমাদের আর সামনে এগোনোর সাহস হলো না। আমার সঙ্গী স্থানীয় সাংবাদিক কায়সার হামিদ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন। চারপাশে ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা ট্রলারে ফিরে আসি।

আমরা এবার বদরখালী খাল ধরে আরও পশ্চিমে এগিয়ে বাম দিকের নতুন একটি খালে প্রবেশ করি। বেশ কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর দেখতে পাই, এখানে এখনো কিছু সবুজ অবশিষ্ট রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রেও এমনটা দেখা গিয়েছিল। একটা বড় জায়গায় অবশ্য চিংড়ি ঘের করার জন্য সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাদামাটির বাঁধ দিয়ে জমিটি ঘিরে রাখা হয়েছে। বন উজাড়ের এই ঘটনাটিও ঘটেছে খুব সম্প্রতি। চারদিকে অসংখ্য শুকনো ডালপালা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আমি কখনো কল্পনাও করিনি এমন একটি দৃশ্য দেখব।

আরও সামনের দিকে যেতে গিয়ে একটা সময় আমাদের থামতে হয়। কেননা ভাটা শুরু হয়ে যাওয়ায় পানি নেমে যাচ্ছে। এটা যেহেতু জোয়ার-ভাটার উপকূলীয় অঞ্চল, তাই পর্যাপ্ত জোয়ারের পানি থাকা অবস্থাতেই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। নইলে ভাটার সময় খালগুলো শুকিয়ে যাবে আর আমরা আটকে যাব। তা সত্ত্বেও আমরা অল্প সময়ের জন্য নিচে নামি। দেখি, কাদামাটির বাঁধ দিয়ে ঘেরা একটি এলাকার ভেতরে বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে লবণ চাষ হচ্ছে। এই অংশের পশ্চিমেই সোনাদিয়ার সৈকত ও জেলেপল্লি।

সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। আমরা দ্রুত ঘটিভাঙ্গার উদ্দেশে রওনা হই। এখান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সোনাদিয়ায় যেতে হলে ঘটিভাঙ্গা থেকে ট্রলারে চড়তে হয়।

আমরা পৌঁছানোর আগেই জোয়ারের পানি পুরোপুরি নেমে যায়। তাই তীরে উঠতে ঘন কাদার ভেতর দিয়ে হাঁটতে হবে আমাদের। ঠিক এমন সময় ঘটিভাঙ্গার জেলে আসরউদ্দিন তার ছোট নৌকা নিয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। নিজের নৌকায় করে নোয়াছড়া খালের পশ্চিম তীরে আমাদেরকে নামিয়ে দিলেন এই জেলে। পশ্চিম তীর থেকে খালের ওইপাড়ে যেতে আমাদের জরাজীর্ণ ঘটিভাঙ্গা সেতু পায়ে হেঁটে পার হতে হয়।

মাঝবয়সী আসরউদ্দিন কিশোর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে বের হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সোনাদিয়া প্যারাবনের (ম্যানগ্রোভ বন) ৮০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে।’

এই ধ্বংসযজ্ঞের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ওপর, বিশেষ করে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের জীবনে। যারা জীবিকার জন্য সোনাদিয়া ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালগুলো থেকে মাছ ধরেন।

আসারউদ্দিন নিজে এই ধ্বংসযজ্ঞের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে ম্যানগ্রোভ বন ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়, এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা অব্যাহত থাকে এবং এখনো চলছে।’

‘আমার মতো ছোট জেলেদের জীবনে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। যখন এলাকাটি ম্যানগ্রোভ বনে আচ্ছাদিত ছিল, তখন মাছ ধরে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা আয় করতাম। এখন সেই আয় কমে এক হাজার টাকায় নেমে এসেছে। অনেক জেলে তো বেঁচে থাকার জন্য ভিক্ষা করছেন,’ বলেন তিনি।

আসারউদ্দিন জানান, এই বন ধ্বংসের সঙ্গে ঘটিভাঙ্গার যারা জড়িত, তাদের অনেককেই তিনি চেনেন। কিন্তু ভয়ের কারণে তাদের নাম প্রকাশ করতে চান না। ‘নাম যদি বলি, তারা আমাকে মেরে ফেলবে,’ বলেন তিনি।

এই এলাকার মহিষপালক মো. শাহাবুদ্দিন। যে জমিতে তিনি ৫২টি মহিষ চরাচ্ছেন, সেটি প্রথমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আবার জেলা প্রশাসনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। 
অতীতের অন্য এক সোনাদিয়ার স্মৃতিচারণ করেন শাহাবুদ্দিন। একটা সময় বাবার সঙ্গে মিলে এই দ্বীপে ১০০টিরও বেশি মহিষ চরাতেন তিনি। বাবার পথ অনুসরণ করে শাহাবুদ্দিনও যখন মহিষ পালনকে জীবিকা হিসেবে নেন, তখনো দ্বীপটি ঘন ম্যানগ্রোভ বনে আচ্ছাদিত ছিল।

‘তখন মহিষ চরানো খুব সহজ ছিল। চারদিকে ম্যানগ্রোভ বন আর বিস্তীর্ণ চারণভূমি। এখন পরিস্থিতি অনেক কঠিন। কারণ প্রায় সব বনই উজাড় হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আমি বেশিরভাগ বাছুর, এমনকি কিছু প্রাপ্তবয়স্ক মহিষও বিক্রি করে দিয়েছি,’ বলেন তিনি।

উপকূলীয় বন বিভাগ সূত্র জানায়, কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ২০১৬ সালে সোনাদিয়া দ্বীপের ৯ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯৩ একর জমি বেজার কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ২০১৮ সালে আরও ১২ হাজার ২৭০ দশমিক ০০৮ একর জমি হস্তান্তর করা হয়।

সূত্রমতে, মন্ত্রিসভার এক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক এসব জমি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেন। হস্তান্তর করা জমির মধ্যে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাও (ইসিএ) অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শেখ হাসিনা সরকারের সময় পর্যটন ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বেজার কাছে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সোনাদিয়া দ্বীপে দেশের বৃহত্তম পরিবেশবান্ধব পর্যটন পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘বেজার কাছে জমি হস্তান্তরের ফলে দুর্বৃত্তচক্র এলাকাটি দখল করার সুযোগ পায়। তারা গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন উজাড় করে সেখানে চিংড়ি চাষ শুরু করে। জমি হস্তান্তরের পর বন বিভাগ সোনাদিয়া কার্যালয় বন্ধ ও টহল কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়।’

আমীর চৌধুরী আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বন আইন, ১৯২৭-এর ধারা ৪ ও ৬ অনুসারে বেজার কাছ থেকে ৯ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯৩ একর জমি ফেরত নেয়। তবে এই ধারা দুটি ওই জমির ওপর বন বিভাগকে সীমিত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেয়। বেজা অবশিষ্ট জমি ফেরত দিতে এখনো অনিচ্ছুক।

তিনি আরও বলেন, ‘একবার জমি দখল হয়ে গেলে ও সন্ত্রাসী চক্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে আমাদের করার মতো তেমন কিছুই থাকে না।’

বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ের আরেক কর্মকর্তাও বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে মদদপুষ্ট স্থানীয় ও বহিরাগত প্রভাবশালী মহল চিংড়ি ঘের তৈরির জন্য ম্যানগ্রোভ বন কেটে ফেলেছে।’

অসহায়ের মতো এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে দ্বীপটির স্থানীয়দের এবং তা আজও অব্যাহত আছে।

সোনাদিয়া দ্বীপে প্রাকৃতিকভাবে ম্যানগ্রোভ বন জন্মালেও ১৯৭৩ সাল থেকে বন বিভাগ এখানে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ শুরু করে। বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ২০১৬ সাল নাগাদ সংস্থাটি সেখানে প্রায় ৫ হাজার একর ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করে। ১৯৮৫-৮৬ সালে সোনাদিয়ার বনভূমি বন আইন, ১৯২৭-এর ধারা ৪-এর আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

বন বিভাগের ২০১৪ সালের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৮ হাজার ১ দশমিক ৭০ একর বনভূমিকে ‘সংরক্ষিত বন’ হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

সোনাদিয়া দ্বীপে যা ঘটেছে, তা কেবল প্রাকৃতিক পরিবেশের ধ্বংসই নয়, বরং প্রকৃতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বিশেষ করে জেলেরা, যাদের জীবিকা এখানকার নাজুক বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল।

একইসঙ্গে এটি রাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়; এমন সংগঠিত ও রাজনৈতিক মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হাত থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রযন্ত্র কতটা আন্তরিক? সেটিই এখন প্রমাণের সময় এসেছে।

ভোক্তা দেশগুলোকেও এ দায় থেকে মুক্ত করা যায় না। বিশ্ববাজারে চিংড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদাই সোনাদিয়া, চকরিয়া, সুন্দরবনসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চচাহিদাই চিংড়িকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচনায় নিতে সরকারকে উৎসাহিত করেছে।

বিশ্ববাজারে চিংড়ির চাহিদা যত বাড়বে ও রাষ্ট্র যতদিন নীরব থাকবে, ততদিন সোনাদিয়ার অবশিষ্ট ম্যানগ্রোভ বন টিকে থাকার আশা ক্ষীণই থেকে যাবে। তবে একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না—সোনাদিয়া দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বন কেবল একটি উপকূলীয় বনভূমি নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান প্রতিবেশ ব্যবস্থার ভিত্তি। এই ম্যানগ্রোভ বন মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়াসহ নানা সামুদ্রিক প্রাণীর প্রজনন ও বেড়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল, যা স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তাকেও নিরাপদ রাখে।

দ্বীপটির কাদাময় চরভূমি ও বালুর সৈকতের সঙ্গে মিলে এই ম্যানগ্রোভ বন ভিন্ন ‍ভিন্ন বৈচিত্র্যের অনেক বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার উপকূলীয় পরিযায়ী পাখি, যারা পূর্ব এশিয়া-অস্ট্রেলেশিয়া পরিযান পথ (ইস্ট এশিয়া-অস্ট্রেলেশিয়ান ফ্লাইওয়ে) ধরে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এখানে আসে। বিশেষ করে পৃথিবীর অন্যতম বিরল ও মহাবিপন্ন পাখি, স্পুন-বিলড স্যান্ডপাইপারের জন্য সোনাদিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এছাড়া আরও বেশ কিছু বিপন্ন প্রজাতির প্রাণিও এ এলাকার ওপর নির্ভরশীল।

ম্যানগ্রোভ বন উপকূলকে স্থিতিশীল রাখে, ভাঙন কমায় এবং ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে নিচু জায়গাগুলোকে সুরক্ষা দেয়। একইসঙ্গে পাখিপ্রেমী, গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে, যা সোনাদিয়ায় পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়ায়। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় জীবিকা টিকিয়ে রাখা ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ অপরিহার্য।

কিন্তু সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধারের আশা ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ২০২৬ সালের ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসেও সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই বন ধ্বংস এবং চিংড়ি চাষের জন্য বনভূমি দখলের ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অসাধু চক্রগুলোকে এখনো থামানো যায়নি।

বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের পাখি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ড. সায়েম ইউ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এর জন্য জানতে হবে কেন মূল ম্যানগ্রোভ বন হারিয়ে গেছে এবং প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ পুনঃস্থাপন করে, নতুন করে বনের ক্ষতিসাধন বন্ধ করে উপযুক্ত দেশীয় প্রজাতিগুলোকে স্বাভাবিকভাবে জন্মানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধান বন সংরক্ষক আমীর বলেন, ‘আশি ও নব্বইয়ের দশকে আমরা চকরিয়ার বন ধ্বংস হওয়া প্রত্যক্ষ করেছি যেভাবে, আজ সোনাদিয়ায় ঠিক একই ঘটনা ঘটছে। সরকার যদি ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসকারী চিংড়িচাষিদের উচ্ছেদ করতে পারে, তাহলে আমরা সম্ভবত সোনাদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন ফিরিয়ে আনতে পারব।’

ফিলিপ গাইন: সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (এসইএইচডি) পরিচালক ও একজন গবেষক।
ইমেইল: [email protected]