28.2 C
Dhaka
Home Blog

ফ্যামিলি কার্ড পেতে আর্থিক লেনদেন ‘বেআইনি’: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

ফ্যামিলি কার্ড পেতে দালাল বা অন্য কোনো মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করা বেআইনি। এ ধরনের বেআইনি কাজে কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে এবং সরকারি উদ্যোগে বিনা টাকায় দেওয়া হবে।

এআইয়ের কারণে নয়, চাকরি হারাবেন নিজেকে আপগ্রেড না করলে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—এআই কি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে? অনেকের ধারণা, এআই যত উন্নত হবে, মানুষের প্রয়োজন তত কমবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো কেবল এআইয়ের কারণে চাকরি যাবে না; বরং নিজেকে আপগ্রেড না করলে চাকরি হারাতে হতে পারে। কারণ দ্রুত ও দক্ষভাবে এআই ব্যবহার করতে জানা ব্যক্তি আমাদের জায়গা নিতে পারেন।

প্রযুক্তির প্রতিটি বড় পরিবর্তনের সময়ই মানুষের মধ্যে চাকরি হারানোর ভীতি তৈরি হয়েছে। কম্পিউটার আসার পর মনে করা হয়েছিল, অফিসের অসংখ্য কর্মীর প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে। ইন্টারনেট আসার পর আশঙ্কা করা হয়েছিল, বহু প্রচলিত পেশা বিলুপ্ত হবে। বাস্তবে কিছু কাজের ধরন হারিয়েছে, আবার তার চেয়ে অনেক বেশি নতুন কাজ ও দক্ষতার চাহিদা তৈরি হয়েছে। এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই পরিবর্তন ঘটছে।

এআই মানুষের সব কাজ সম্পূর্ণভাবে দখল করে ফেলবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তবে এটি বিভিন্ন পেশার দৈনন্দিন কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। আগে যে প্রতিবেদন তৈরি করতে কয়েক ঘণ্টা লাগত, এআইয়ের সহায়তায় সেটির খসড়া কয়েক মিনিটেই প্রস্তুত করা সম্ভব। বড় ডেটা বিশ্লেষণ, ই-মেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন তৈরি, কোডিং, অনুবাদ, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কিংবা পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজে এআই সময় ও শ্রম কমিয়ে দিচ্ছে।

অর্থাৎ চাকরি হয়তো থাকবে, কিন্তু সেই চাকরিতে টিকে থাকার যোগ্যতা বদলে যাবে। প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবেই এমন কর্মীকে গুরুত্ব দেবে, যিনি কম সময়ে বেশি মানসম্পন্ন কাজ করতে পারবেন। একজন কর্মী যদি পুরোনো পদ্ধতিতে একই কাজ করতে কয়েক ঘণ্টা নেন, আর অন্যজন এআই ব্যবহার করে তা নির্ভুলভাবে অল্প সময়ে শেষ করেন, তাহলে প্রতিযোগিতায় কে এগিয়ে থাকবেন—উত্তরটি পরিষ্কার।

অনেকে মনে করেন, চ্যাটজিপিটি বা অন্য কোনো এআই টুলে একটি প্রশ্ন লিখতে পারলেই তিনি এআই ব্যবহার জানেন। কিন্তু প্রকৃত দক্ষতা কেবল নির্দেশনা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এআই থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা, ভুল শনাক্ত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী ফলাফল সম্পাদনা করা এবং নিজের পেশাগত জ্ঞানের সঙ্গে সেটিকে সমন্বয় করাই মূল দক্ষতা।

এআই অনেক সময় ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে পারে। তাই বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ছাড়া শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। একজন দক্ষ পেশাজীবী এআইকে নিজের বিকল্প হিসেবে দেখেন না; বরং সহকারী হিসেবে ব্যবহার করেন। সিদ্ধান্ত, বিচারবোধ, সৃজনশীলতা ও দায়বদ্ধতা মানুষের হাতেই থাকতে হবে।

এআইয়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন কেবল প্রযুক্তি খাতের মানুষের জন্য নয়। সাংবাদিক এআই ব্যবহার করে তথ্য গুছিয়ে নিতে পারেন, কিন্তু তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার গুরুত্ব নির্ধারণ তাকেই করতে হবে। শিক্ষক পাঠ পরিকল্পনা ও শিক্ষাসামগ্রী তৈরিতে এআইয়ের সহায়তা নিতে পারেন, কিন্তু শিক্ষার্থীর মানসিকতা বুঝে শেখানোর দায়িত্ব শিক্ষকেরই।

চিকিৎসক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারেন, তবে রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার পেশাগত দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে। হিসাবরক্ষক, আইনজীবী, বিপণনকর্মী, ডিজাইনার, প্রকৌশলী কিংবা সফটওয়্যার ডেভেলপার—প্রায় প্রতিটি পেশাতেই এআই সহায়ক শক্তি হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।

তাই নিজের পেশায় কোন কাজগুলো এআই সহজ করতে পারে, কোন কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে এবং কোন মানবিক দক্ষতাগুলো এখনো অপরিহার্য এসব বুঝতে হবে।

একসময় একটি ডিগ্রি কিংবা নির্দিষ্ট দক্ষতা দিয়ে দীর্ঘ সময় চাকরিজীবন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল। এখন প্রযুক্তি এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে, কয়েক বছর আগের দক্ষতা আজ আর যথেষ্ট নাও হতে পারে। বর্তমান কর্মজীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হচ্ছে নিয়মিত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা।

নিজেকে আপগ্রেড করার অর্থ প্রতিদিন নতুন একটি এআই টুল শেখা নয়। বরং নিজের কাজের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তি নির্বাচন করা, ছোট পরিসরে ব্যবহার শুরু করা এবং ধীরে ধীরে সেটিকে কর্মপ্রক্রিয়ার অংশ বানানো। একই সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো মানবিক দক্ষতাও বাড়াতে হবে।

এআইয়ের যুগে সবচেয়ে ঝুঁকিতে তিনি নন, যিনি এখনো এআই সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে তিনি, যিনি মনে করেন তার আর নতুন কিছু শেখার প্রয়োজন নেই। পরিবর্তনকে অস্বীকার করে দীর্ঘদিন একই নিয়মে কাজ করলে একসময় তার দক্ষতার বাজারমূল্য কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে যিনি নিয়মিত শেখেন, পরীক্ষা করেন ও নিজের কাজের গতি ও মান বাড়ান, এআই তার প্রতিযোগী নয়; বরং শক্তিশালী সহযোগী হয়ে ওঠে।

এআই মানুষের অভিজ্ঞতা, সহমর্মিতা, নৈতিক বিচার, নেতৃত্ব ও বাস্তব জীবনের উপলব্ধিকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। কিন্তু এটি সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে। ফলে মানুষের দায়িত্ব হবে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, উদ্ভাবন, সম্পর্ক তৈরি এবং জটিল সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেওয়া।

সুতরাং ভয় পাওয়ার পরিবর্তে প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই ‘এআই আমার চাকরি কেড়ে নেবে কি না’—এটি প্রশ্ন হওয়া উচিৎ নয়, বরং প্রশ্ন হতে হবে, ‘এআইয়ের যুগে আমার দক্ষতাকে কীভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করব?’

মনে রাখতে হবে, এআই হয়তো সরাসরি আপনার চাকরি কেড়ে নেবে না। কিন্তু আপনি যদি এআইয়ের সঙ্গে নিজেকে আপগ্রেড না করেন, তাহলে আপনার চেয়ে দক্ষ, দ্রুত ও প্রযুক্তিসচেতন কেউ আপনার জায়গা নিয়ে নিতে পারে। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার মূলমন্ত্র তাই একটিই, নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে।

‘বেঞ্চে থেকে প্রয়োজনে মাঠে নামবে রাফিনিয়া’, জানালেন আনচেলত্তি

রোববার বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সেলেসাও শিবিরে স্বস্তির খবর—চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, রাফিনিয়া ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে এখনই তাকে শুরুর একাদশে দেখা যাবে না, বরং বেঞ্চ থেকে দলের প্রয়োজনে মাঠে নামবেন এই তারকা।

গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন রাফিনিয়া। গত শুক্রবার তিনি অনুশীলনে ফেরেন। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি রাফিনিয়ার ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাফিনিয়ার অবস্থার খুব ভালো উন্নতি হচ্ছে। সে এখনও ১০০ ভাগ ফিট নয়, তবে বেঞ্চে থাকার জন্য এবং কয়েক মিনিট খেলার বা নির্দিষ্ট মুহূর্তে দলের কাজে লাগার জন্য সে প্রস্তুত।’

এই ফরোয়ার্ডের দ্রুত সেরে ওঠায় স্বস্তি প্রকাশ করে ব্রাজিল কোচ আরও বলেন, ‘সে খুব দ্রুত এবং ভালোভাবে সেরে উঠেছে। আমরা এতে খুবই খুশি, কারণ রাফিনিয়া আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।’

রাফিনিয়ার ফেরার ম্যাচে ব্রাজিলকে অবশ্য বড় ধাক্কা খেতে হচ্ছে মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার চোটে। জাপানের বিপক্ষে গত ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং টানের শিকার হওয়া পাকেতাকে এই ম্যাচে পাচ্ছে না সেলেসাওরা। পাকেতার বিকল্প নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘লুকাস পাকেতার মতো মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আমাদের স্কোয়াডে আর নেই, তাই অন্য কোনো খেলোয়াড় দিয়ে তার অভাব পূরণ করতে হবে। দানিলো, গ্যাব্রিয়েল, মাথেউস কুনহা বা এদেরসন—সবার খেলার ধরন আলাদা। আগামীকাল আমরা যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই, সেটির সঙ্গে কে মানানসই—তা বিবেচনায় নিয়েই আমি খেলোয়াড় নির্বাচন করব।’

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আক্রমণভাগে নেইমারের উপস্থিতির সঙ্গে বেঞ্চে রাফিনিয়ার মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের অন্তর্ভুক্তি ব্রাজিলের শক্তি বাড়াবে সন্দেহ নেই। 

শাহে আলম-কাণ্ডে বিব্রত বিএনপির সংসদ সদস্যরা

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কে বিএনপির বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বিষয়টি দলের ভেতরে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তিনজন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রায় চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো তারা উচ্চপদে আসীন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে বিব্রত বোধ করছেন।

গতকাল এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ক্ষমতাসীন দলের ১৩ জন সংসদ সদস্য, তিনজন মন্ত্রী, দুইজন প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির ছয়জন সদস্য জানান, বিষয়টি সরকারের সমালোচনা করার বড় সুযোগ করে দিয়েছে বিরোধীদের।

নিজের নির্বাচনী এলাকায় নবগঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম শাহে আলমের পারিবারিক পদবি এবং তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ার ঘটনায় সংসদে প্রশ্ন ওঠার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

গত সোমবার সংসদে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দুটি ইউনিয়নের নাম তার ছেলেদের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ার বিষয়টি ‘মিরাকল’।

এই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

তারা জানান, এটি এমন এক প্রতিমন্ত্রীর বিষয়, যার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ রয়েছে। তিনজন মন্ত্রীর মতে, এই বিতর্ক উপেক্ষা করা এখন সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি মন্ত্রিসভার ভেতরেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেখানে নিজের মায়ের নামেও কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করতে চান না, সেখানে ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে— এমন বিষয়ে মন্ত্রীদের অনেক বেশি সাবধান থাকা উচিত। সংসদে বিদ্রূপের সুরে কথা না বলে শাহে আলমের উচিত ছিল বিষয়টি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আছেন, যেখানে আমাদের দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাও (বিএনপি মহাসচিব এবং এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) আছেন। তার প্রতিটি কাজ অন্য সব মন্ত্রী এবং সরকারের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। ইউনিয়নগুলোর নামকরণ নিয়ে তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বরং আমাদের মন্ত্রিসভার সদস্যরাও সন্তুষ্ট নন।’

উত্তরাঞ্চলের একজন মন্ত্রী বলেন, ‘নিজের এলাকার প্রতি সবারই টান থাকে এবং সবাই চান সেখানে উন্নয়ন হোক যেন সরকারের কাজের প্রতিফলন ঘটে। তবে ইউনিয়নের নাম দিয়ে জনগণের কী লাভ? প্রধানমন্ত্রী যেখানে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন, সেখানে এই ধরনের বিতর্ক নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে।’

ঢাকা বিভাগের আরেকজন মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি মেনেও নেই যে নামগুলো অলৌকিকভাবে বা কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে, তবুও আমার প্রশ্ন হলো—নামগুলো চূড়ান্ত করার আগে তিনি কেন তা থামালেন না? আমরা কেন বিরোধীদের এমন সুযোগ করে দেব?’

বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, জানতে চাইলে ওই মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি জানেন। এখন এটি সম্পূর্ণ উনার বিষয় যে তিনি কী ব্যবস্থা নেবেন। এ বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য বা পরামর্শ নেই।’

কয়েকজন সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সভায় দলীয় সদস্যদের বারবার এই নির্দেশনা দিয়েছেন যেন তারা এমন কোনো কাজে লিপ্ত না হন যা সরকার বা দলের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। শাহে আলমের কাজ সেই নির্দেশনার পরিপন্থী বলেই মনে করছেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনের বিরতির সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সংসদ সদস্য বলেন, প্রতিমন্ত্রীর আচরণে সংসদ সদস্যরা হতাশ।

তিনি বলেন, ‘তার কর্মকাণ্ডে আমরা এমপিরা বিরক্ত। তিনি যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তা অত্যন্ত দুর্বল এবং আমাদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিচ্ছে। তিনি সবকিছু নিজের ইচ্ছামতো করছেন। সব প্রকল্প তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন, যা মোটেও ঠিক নয়।’

ওই সংসদ সদস্য আরও যোগ করেন, ‘হয়তো কেউ তাকে মদদ দিচ্ছে, আর সেই কারণেই তিনি এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরাও খুব বেশি কিছু বলতে পারছি না, কারণ আমরা সেই অবস্থানে নেই।’

চট্টগ্রাম বিভাগের আরেক সংসদ সদস্য বলেন, ‘সংসদ অধিবেশনের বিরতির সময় কয়েকজন সংসদ সদস্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যখন সরকারের একটি নতুন ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করছেন, তখন একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ড সত্যিই হতাশাজনক।’

উত্তরাঞ্চলের সরকারি দলের একজন এমপি বলেন, ‘আমাদের এমনকি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হচ্ছে। অথচ প্রতিমন্ত্রীর হাবভাব দেখে মনে হয় তিনি কাউকে পরোয়াই করছেন না।’

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক এমপি মনে করেন, সরকারের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, নাহলে অন্যরাও এমন কাজ করার সুযোগ পাবে এবং একটি বাজে নজির তৈরি হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির চারজন সদস্য জানিয়েছেন, এই বিতর্ক এখন স্থায়ী কমিটি পর্যন্ত গড়িয়েছে। একজন সদস্য জানান, এই ঘটনায় তৈরি হওয়া অস্বস্তি সম্পর্কে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোপুরি অবগত।

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের পর আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছি। অনেক নির্যাতিত বিএনপি নেতা সরকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। অথচ কেউ সেই সুযোগ পেয়ে যদি সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ঝুঁকির মুখে ফেলেন, তবে তা মেনে নেওয়া যায় না।’

অন্য এক সদস্য বলেন, ‘সম্প্রতি তাকে নিয়ে পত্রিকায় বেশ কিছু খবর এসেছে যেখানে বলা হয়েছে যে তার নির্বাচনী এলাকা সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে। এমনকি তার এক সন্তান ওই কাজের ঠিকাদারিও পেয়েছেন। মানুষ এসব দেখছে এবং সরকার ও বিএনপিকে দোষারোপ করছে। এখন দেখার বিষয় প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেন।’

গতকাল রাতে এই প্রতিবেদক মন্তব্যের জন্য শাহে আলমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠান, কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

দলীয় সূত্র জানায়, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য বগুড়া-২ আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বিএনপি সরে আসার পর শাহে আলম সেখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দল আগে ঘোষণা করেছিল যে সেখানে তারা কোনো প্রার্থী দেবে না। পরে শাহে আলম মনোনয়ন পান, নির্বাচনে জয়ী হন এবং প্রতিমন্ত্রীর পদ পান।

দুই সপ্তাহেই নগদ অর্থের সংকটে ইসলামী ব্যাংক

নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এর পর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে নগদ অর্থসংকটে পড়েছে ব্যাংকটি।

গ্রাহকদের আমানত তুলে নেওয়ার ব্যাপক চাপের মুখে গতকাল ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে তার আগেই ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতির বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাপক ঋণ অনিয়ম ও আর্থিক অনিয়মের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। কিন্তু গ্রাহকদের টাকা তুলে নেওয়ার হার বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটি এখন নতুন করে চাপে পড়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ৩১ মে পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে থাকা ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবের স্থিতি ইতিবাচক ছিল। কিন্তু গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তা প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ঘাটতিতে পড়েছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে এই চলতি হিসাব সংরক্ষণ করে। এটি মূলত আন্তব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং ব্যাংককে তাদের দৈনন্দিন দায় মেটাতে সাহায্য করে। এই হিসাবের স্থিতি ঋণাত্মক বা ঘাটতিতে পড়লে ব্যাংকগুলোর তহবিল স্থানান্তর ও লেনদেন নিষ্পত্তিতে সমস্যা হয়। এর ফলে গ্রাহকসেবা ব্যাহত হতে পারে।

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আলতাফ হোসেনও এই চাপের কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরতার কারণেই এই ঘাটতি বেড়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা পাওয়ার পর তহবিল স্থানান্তরসহ অন্যান্য লেনদেন সেবা পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানান তিনি।

ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, গ্রাহকেরা গড়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার কোটি টাকা তুলে নিচ্ছেন। জমাও পড়ছে প্রায় একই পরিমাণ টাকা। তবে টাকা তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা ব্যাংকটিকে চাপে ফেলেছে। এ কারণে শাখা পর্যায়ে প্রতি গ্রাহকের জন্য নগদ টাকা তোলার সীমা ৫০ হাজার টাকা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

তবে কয়েকজন গ্রাহক জানিয়েছেন, চলমান এই চাপের মুখে ঢাকার শাখাগুলো থেকে মাত্র ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তীব্র নগদ অর্থসংকট মোকাবিলায় দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংকটিকে গতকাল ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চলতি মাসের শুরু থেকেই গ্রাহকদের টাকা তুলে নেওয়ার ব্যাপক চাপের কারণে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও) সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মে ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা, যা ৭ জুন কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮০ হাজার ১৪১ কোটি টাকায়। এই চাপের মুখে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চায় ব্যাংকটি।

গত ১২ জুন বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটিকে সহায়তা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছিলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের সংকট শিগগিরই কেটে যাবে। আমানতকারীদের টাকা তুলতে কোনো অসুবিধা হবে না। প্রয়োজনে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে।’

পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ।

বৈঠক শেষে মো. আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি সহায়তার পর ব্যাংকের ব্যবসা ও তারল্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েই মূল আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, টাকা তোলার ধরন, খাতভিত্তিক চাহিদা এবং আগামী দিনগুলোর সম্ভাব্য তারল্য চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নতুন পাওয়া এই তহবিল ব্যবহার করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দল ব্যাংকটির যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখবে বলেও জানান তিনি।

যেভাবে অস্থিরতা শুরু

দেশ যখন ঈদের এক সপ্তাহের লম্বা ছুটির প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় গত ২৪ মে আগের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আকস্মিক এই নিয়োগে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ তৈরি হয়।

ঈদের ছুটির পর গত ১ জুন ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’–এর ব্যানারে একদল মানুষ ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে শত শত লোক সেখানে জড়ো হয়ে এই নিয়োগ বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছিলেন, খুরশীদ আলম তাদের একজন।

সচেতন গ্রাহক ফোরাম নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে।

এই আন্দোলনকারীদের প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন এবং দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্য থেকে এই নিয়োগের ব্যাপারে তাদের জোরালো আপত্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে গত সাধারণ নির্বাচনে ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা নিয়েও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা গেছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি জামায়াতকে সুবিধা দিয়েছে। তবে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে ওই বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে ইসলামী এই দলটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ইসলামী ব্যাংকের। এর পরিমাণ ৯৫ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫০ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

২০১৭ সালে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ব্যাংকিং খাতে বহুল চর্চিত অভিযোগ হলো, গ্রুপটি পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশই নিজেদের এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কোম্পানির নামে বের করে নেয়। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটিকে ওই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হয়। এত দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিতে গঠিত স্বতন্ত্র পরিচালকদের একটি পর্ষদের অধীনে এটি পরিচালিত হচ্ছিল।

ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত এবং তা আদায়ের হার খুবই কম।’

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটি অন্য গ্রহীতাদের কাছ থেকেও ঋণ আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে নিয়মিত গ্রাহকেরাও ঋণ পরিশোধে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন, যে কারণে এ ক্ষেত্রেও অগ্রগতি বেশ ধীর।

দ্য ডেইলি স্টারের ৩৫ বছর পূর্তিতে তারকাদের মিলনমেলা, আড্ডা ও স্মৃতিচারণ

দ্য ডেইলি স্টারের ৩৫ বছর উদযাপনে তারকাদের মিলনমেলা বসেছিল। বিকেল থেকেই একে একে শোবিজ তারকারা আসতে শুরু করেন। এরপর ঘুরে ঘুরে পুড়ে যাওয়া অংশ দেখেন। পুড়ে যাওয়া অংশে প্রদর্শনী চলছিল, সেখানে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কেউ কেউ। মন্তব্য করতে গিয়ে গিয়ে কারো করো চোখ ভিজে যায়।

বিকেল চারটা বাজার দশ মিনিট আগে হাজির হন বর্ষীয়ান তারকা জুটি ওয়াহিদা মল্লিক জলি এবং রহমত আলী। দুজনেই একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ছিলেন। জীবনভর অভিনয়ের সঙ্গে ছিলেন এই জুটি।
রহমত আলী বলেন, ‘বলেছিলাম চারটার আগে আসব, তাই করেছি।’

তার পাশ থেকে ওয়াহিদা মল্লিক জলি বলেন, ‘তোমাদের স্যার সারাজীবন শিক্ষকতা, থিয়েটার করা মানুষ, সময় মেনে চলেন।’

ডেইলি স্টারের পুড়ে যাওয়া অংশ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও রহমত আলী। মন খারাপ করে তারা বলেন, ‘ভারি অন্যায় কাজ হয়েছে। গণমাধ্যমের ওপর এভাবে আক্রমণ হতে পারে না।’ এরপর দুজনে দীর্ঘ সময় আড্ডা দেন।

চিরসবুজ নায়ক ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন মুঠোফোনে জানান, তিনি চারটায় ঢুকবেন, আবার দ্রুত চলে যাবেন। ঢাকা থিয়েটারে তার আরেক প্রোগ্রাম ছিল। তবে জ্যামের কারণে একটু দেরিতে আসেন তিনি। একই সময়ে পৌঁছে যান গুণী অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক মামুনুর রশীদ।

আফজাল হোসেন ও মামুনুর রশীদ প্রদর্শনী দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভারাক্রান্ত মনে আফজাল হোসেন বলেন, ‘ডেইলি স্টারের ৩৫ বছরে শুভকামনা জানাই। এই ধরনের আক্রমণ দুঃখজনক।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর হামলা হলে আর থাকে কী? এ ধরনের ঘটনা কখনোই চাই না। ৩৫ বছর নয়, শতবছর টিকে থাকুক ডেইলি স্টার।’

বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেনের পুত্র অভিনেতা ও পরিচালক সোহেল আরমান, মনপুরাখ্যাত পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম, পরিচালক অনিমেষ আইচ, নাট্যকার মাসুম রেজা কাছাকাছি সময়ে হাজির হন। এরপর তারা গল্প ও আড্ডায় মেতে ওঠেন। অভিনেত্রী স্বাগতা কিছু সময় পর আসেন। আড্ডায় তারা বলেন, ‘কতদিন পর দেখা হলো!’

আজমেরী হক বাঁধন এসেই সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি বলেন, ‘শুনতেই ভালো লাগছে পত্রিকাটি ৩৫ বছর পূর্ণ করলো। আরও বহু বছর পথ চলুক।’

হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমন আক্রমণ মানা যায় না, দুঃখজনক।’

সাবেক লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার জাকিয়া বারি মম সাড়ে চারটায় পৌঁছান। তাকে পেয়ে কেউ কেউ বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস!’ কারণ মম ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বাঁধনকেও কেউ কেউ একই কথা বলেন।

মম কিছু সময় প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, ‘অনেক খারাপ লাগছে দেখে। বেদনাদায়ক ও দুঃখজনকতো বটেই। তবে ৩৫ বছর উদযাপন আনন্দের সংবাদ। একটি ইংরেজি পত্রিকা ৩৫ বছর সুনামের সঙ্গে টিকে থাকাটা বড় বিষয়।’

মামুনুর রশীদ ও আফজাল হোসেনের সঙ্গে দেখা হয় মমর। মম তাদের খোঁজখবর নেন। আফজাল হোসেন বলেন, ‘তোমাকে দেখে ভালো লাগছে।’ এরপর তিনজন আড্ডায় মেতে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর গায়িকা কোনাল আসেন। সবাই একসঙ্গে আড্ডা দেন।

তনিমা হামিদ আসেন ফুল নিয়ে। তিনি একসময় প্রচুর নাটকে অভিনয় করেছেন এবং এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঙ্গে দেখা করেন।

চলচ্চিত্রের নতুন নায়িকা ঐশী ও মডেল-অভিনেত্রী শখ একসঙ্গে প্রবেশ করেন। প্রদর্শনী দেখে দুজনই আটতলায় যান। সেখানে অনেকক্ষণ আড্ডায় মেতে ছিলেন।

সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী অনুষ্ঠানে আসেন সন্ধ্যার একটু আগে। তাকে পেয়ে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে ছবি তোলা। তাকে ঘিরে আরও শিল্পীদের আড্ডা বসে।

সুমাইয়া শিমু নির্ধারিত সময়েই আসেন। অন্য শিল্পীদের পেয়ে তারও সময় ভালো কাটে। সবার সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন।
গুণী অভিনেতা তারিক আনাম খান, স্ত্রী নিমা রহমান এবং পুত্র আরিক আনাম খান একসঙ্গে প্রবেশ করেন। ঢুকেই তারিক আনাম খান বলেন, ‘বলেছিলাম শুটিং না থাকলে আসব।’ এ কথা নিমা রহমান হাসি দেন।

প্রদর্শনী দেখে তারিক আনাম খান আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘আগে আসিনি বলেই এখন মন খারাপ লাগছে।’

একসময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রী শান্তা ইসলাম এসে পরিচিতদের সঙ্গে ছবি তোলা শুরু করেন। তার পাশে বসেন তারিক আনাম খান ও নিমা রহমান। কাছাকাছি বসেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও রহমত আলীসহ আরও অনেকে। শুরু হয় স্মৃতিচারণ।

পরিচালক আশফাক নিপুণ ডেইলি স্টারে পৌঁছে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। চয়নিকা চৌধুরীও প্রদর্শনী দেখেন। রুনা খান এসেছিলেন কিছু সময়ের জন্য। পরিচিতদের পেয়ে গল্পে মেতে ওঠেন। তার সঙ্গে আড্ড জমিয়ে তোলেন পরিচালক কৌশিক শংকর দাশ, সজল।

গায়িকা ঐশী ছিলেন কিছু সময়। সাবিলা নূর ও সাদিয়া আয়মানও দীর্ঘ সময় গল্পে কাটান।

সারিকা সহশিল্পীদের পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বহুদিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হলো, খুব ভালো লাগছে।’ তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যপরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।

এভাবে একে একে আরও অনেক তারকা এসেছিলেন। ধীরে ধীরে জমে ওঠে তারকাদের মিলনমেলা।

জয়া আহসান ফোন করে জানান, তিনি পাঁচটায় ঢুকবেন। তবে দেরি হয়ে যায়। পরে ৬টা ৪০ মিনিটে পৌঁছান তিনি। জয়া প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঙ্গে দেখা করেন।

নন্দিত অভিনেত্রী জয়া বলেন, এত বড় হামলার পর ডেইলি স্টারের এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সত্যিই বিস্ময়কর।
তার সঙ্গে অনেকে ছবি তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি কাউকে নিরাশ করেননি।

সবশেষে আসেন অভিনেতা শাহেদ আলী। তার কিছু আগে আসেন সুষমা সরকার। শাহেদ আলী বলেন, ‘শুটিং থেকে এসেছি, তাই দেরি হয়েছে।’

এছাড়া আরও এসেছিলেন চিরকুট ব্যান্ডের সুমী, পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, পরিচালক তানিম নূর, কণ্ঠশিল্পী কাজী শুভ, ধ্রুব মিউজিকের ধ্রুব গুহ, অভিনেত্রী সারিকা সাবাহ, পরিচালক তপু খান।

এক সময় আড্ডা ও গল্পে মুখর তারকাদের এই মিলনমেলা ভেঙে যায়।

ইরানের রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও যোদ্ধা কে এই লারিজানি?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়লেও খুব দ্রুত সামনে আসেন আলি লারিজানি।

তিনি একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের কথা ঘোষণা দেন। ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি তিনি। সম্ভাব্য অস্থিরতা বা বিভাজনের আশঙ্কা মাথায় রেখে কঠোর বার্তাও দেন।

ভিন্নমতাবলম্বী কিংবা কোনো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ যদি পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে—এমন সতর্কবার্তাও দেন তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত সম্পর্ক গড়ে তোলারও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আলি লারিজানি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের একজন প্রভাবশালী নেতা। আন্তর্জাতিক স্তরে তিনি পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার তদারকি করেন। অবশ্য সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ওয়াশিংটন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

লারিজানি বিভিন্ন সময় মস্কো সফর করেন এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ট্রাম্পের চাপের বিরুদ্ধে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম এমন এক প্রধান মিত্র ও বিশ্বশক্তির সঙ্গে খামেনির সম্পর্ক সামলাতে তার এই সফর সহায়ক হয়।

লারিজানিকে চীনের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ২০২১ সালে ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তি সই হয়।

আলি লারিজানি প্রায় ২০ বছর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের (এসএনএসসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত বছর ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর তিনি আবারো এই পর্ষদের নেতৃত্বে ফিরে আসেন।  

লারিজানি ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সাবেক সদস্য। ২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রধান পারমাণবিক আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন।

সেই সময় পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ করার বিনিময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর দেওয়া সুযোগ-সুবিধার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি চকলেটের বিনিময়ে মুক্তা চাওয়ার মতো।

তখন ইরানি বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, লারিজানি কূটনীতির মাধ্যমে পশ্চিমাদের রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। তখন তাকে একজন বাস্তববাদী নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, ইরান এমন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ইরান দাবি করে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

লারিজানি ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন। সেই মেয়াদে থাকাকালীন প্রায় দুই বছরের জটিল আলোচনার পর ২০১৫ সালে ছয়টি বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরান একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছায়। ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।

লারিজানি বিভিন্ন সময় বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কখনোই ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব নয়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পিবিএস ফ্রন্টলাইনকে তিনি বলেন, আপনি যখন কোনো প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবেন, সেটি অন্য কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। বিষয়টি এমন ধরুন আপনি কোনো যন্ত্রের উদ্ভাবক এবং সেই যন্ত্রটি আপনার কাছ থেকে চুরি হয়ে গেছে। আপনি তবুও এটি আবারও তৈরি করতে পারবেন।

প্রথমে ২০০৫ সালে লারিজানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ে ব্যর্থ হন। পরে তিনি ২০২১ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছিলেন। কিন্তু দুইবারই গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে। অযোগ্যতার কারণ হিসেবে জীবনযাত্রার মান এবং বিদেশে পারিবারিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে ইরানের এক নেতৃস্থানীয় আলেম পরিবারে জন্ম নেওয়া লারিজানি শৈশবেই ইরানে চলে আসেন এবং পরে দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার ভাইদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিচার বিভাগ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে লারিজানির ভূমিকার কারণে ক্ষুব্ধ ইরানি-আমেরিকান অ্যাক্টিভিস্টদের প্রতিবাদের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক পদ থেকে তার মেয়েকে বরখাস্ত করা হয়।

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চট্টগ্রামের এমপি

সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম–১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নুরুল আমিন আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এমপি নুরুল আমিনকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এমপিকে তার বহরের আরেকটি গাড়িতে করে চট্টগ্রামে পাঠায়।

ওসি আসাদুল ইসলাম বলেন, এমপি নুরুল আমিন বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান ও বৃদ্ধ বয়সের সুরক্ষা: সঠিক পদক্ষেপ, তবে দূর করতে হবে আইনি অস্পষ্টতা

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ৩০ জুলাই জানিয়েছেন, সরকার সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ সংশোধনের কথা ভাবছে। প্রস্তাব করা হবে, সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও বাবা-মা জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ-দখলে রাখতে পারবেন।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো সম্পত্তি দান বা হস্তান্তরের পর বাবা-মাকে যেন সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে না হয়। পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলাও কমানো সম্ভব হবে।

প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য বেশ স্পষ্ট। জীবদ্দশায় সম্পত্তি সন্তানের নামে লিখে দেওয়ার পরও বাবা-মাকে যেন নিজের ঘর হারানোর ভয় বা সন্তানের দয়ার ওপর নির্ভর করে থাকতে না হয়।

প্রবীণ পিতামাতার সুরক্ষার দিক থেকে দেখলে আইনমন্ত্রীর এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী। এটা এমন একটা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে, যার কারণে অনেক পিতামাতা জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি দান করতে সাহস পান না। আইনি ভাষায় জীবিত অবস্থায় দান বা গিফট করা মানে বিনামূল্যে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বোঝানো হয়।

তবে এই প্রস্তাবের প্রভাব শুধু প্রবীণদের সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটা মুসলিম ব্যক্তিগত আইন, উত্তরাধিকার, নারীর সম্পত্তির অধিকার এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সম্পত্তি হস্তান্তর ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রথম প্রশ্ন হলো—এই প্রস্তাব কি ইসলামি উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক?

প্রথমে অনেকের তা-ই মনে হতে পারে। কারণ ইসলামি আইনে ছেলে-মেয়েসহ উত্তরাধিকারীদের জন্য নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করা আছে। অনেকের কাছে এই বিধান ধর্মীয় ও আইনি—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টা এত সরল নয়।

উত্তরাধিকার আইন কার্যকর হয় মৃত্যুর পর। ব্যক্তির মৃত্যুকালে তার মালিকানাধীন সব সম্পত্তি বা এস্টেট উত্তরাধিকার আইনের আওতায় আসে।

অন্যদিকে, ইসলামিক আইনে ‘হেবা’ হলো জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি দান করা। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, একবার বৈধভাবে হেবা সম্পন্ন হলে সেই সম্পত্তি সাধারণত আর দাতার সম্পত্তির অংশ হিসেবে থাকে না।

প্রস্তাবিত সংশোধনী এই মূল নীতিকে বদলাচ্ছে না। বরং এটি এমন ব্যবস্থা করতে চায়, যাতে দাতা মালিকানা হস্তান্তর করলেও জীবদ্দশায় সম্পত্তির দখল ও ব্যবহার নিজের কাছে রাখতে পারেন।

অর্থাৎ, এই প্রস্তাব ইসলামি উত্তরাধিকার আইনকে বদলাচ্ছে না। বরং উত্তরাধিকার আইন কখন কার্যকর হবে, বাস্তবে তার প্রভাব কীভাবে পড়বে, সেটায় কিছুটা পরিবর্তন করছে।

এই পার্থক্যটি ছোট মনে হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদি কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকতেই সম্পত্তির বড় অংশ হস্তান্তর করে দেন, তাহলে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার হিসেবে বণ্টনের জন্য কম সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে।

অর্থাৎ, উত্তরাধিকার আইন একই থাকলেও বাস্তবে তার গুরুত্ব কিছুটা কমে যেতে পারে।

এতে নারীদের সম্পত্তির অধিকারের বিষয়টিও সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ বলছেন, এই প্রস্তাব নারীদের সম্পত্তির অধিকার আরও শক্তিশালী করতে পারে। সেই যুক্তিরও ভিত্তি আছে।

অনেক বাবা-মা জীবদ্দশায় মেয়ের নামে সম্পত্তি লিখে দিতে চান না। কারণ একবার সম্পত্তি হস্তান্তর করলে নিজের নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও বসবাসের নিশ্চয়তা হারানোর আশঙ্কা থাকে।

যদি তারা আজীবন ভোগ-দখলের অধিকার ধরে রাখতে পারেন, তাহলে সেই ভয় অনেকটাই দূর হবে। ফলে যারা মেয়েকে সম্পত্তি দিতে চাইতেন, তারাও হয়তো আরও সহজে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন।

তবে উল্টো ঘটনাও ঘটতে পারে।

কারণ জীবদ্দশায় দেওয়া সম্পত্তি পরে উত্তরাধিকার আইনের আওতায় পড়ে না। ফলে কেউ যদি এই নতুন সুবিধার কারণে নিশ্চিন্ত বোধ করেন, তাহলে তিনি মৃত্যুর আগেই নিজের অধিকাংশ সম্পত্তি শুধু ছেলের নামে লিখে দিতে পারেন।

সে ক্ষেত্রে মেয়েরা উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে কেবল মৃত্যুর সময় যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে, তার অংশ। যদি অবশিষ্ট সম্পত্তি খুব কম থাকে, তাহলে উত্তরাধিকার আইন অপরিবর্তিত থাকলেও বাস্তবে মেয়েদের প্রাপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ অনেক কমে যেতে পারে।

এতে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় নেই। কারণ সম্পদ বণ্টনের কেন্দ্রবিন্দু যদি উত্তরাধিকার থেকে সরে জীবদ্দশায় দান করায় চলে যায়, তাহলে এমন ফল হওয়াই স্বাভাবিক।

এই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়াবে, নাকি কমাবে—তা শুধু আইনের ধারা দেখে বলা সম্ভব না।

আইনটি নিজে নিরপেক্ষ। এর সামাজিক প্রভাব নির্ভর করবে পরিবারগুলো এই সুযোগ কীভাবে ব্যবহার করবে, তার ওপর।

তাই এই বিতর্ককে শুধু ‘পিতামাতার সুরক্ষা’ বা ‘নারীর ক্ষমতায়ন’—এই দুই স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। বিষয়টা আসলে আরও বড়। এটা দেখায়, আইনের বিধান বাস্তব জীবনের সামাজিক আচরণের সঙ্গে কীভাবে মিলে কাজ করে।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে গেলে আরও কিছু বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। আজীবন ভোগ-দখলের অধিকার বলতে ঠিক কী বোঝানো হবে? পিতামাতা কি সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে ভাড়ার অর্থও পাবেন? সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, কর ও বিমার দায় কার থাকবে? জমির রেকর্ডে এই আজীবন ভোগদখলের অধিকার কীভাবে উল্লেখ করা হবে? পিতামাতার ভোগদখলের অধিকার থাকা অবস্থায় সন্তান কি সেই সম্পত্তি বন্ধক রাখতে পারবে? সরল বিশ্বাসে সম্পত্তি কেনা কোনো ক্রেতা বা ঋণদাতার স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা হবে?

এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না থাকলে একটা সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে নতুন ধরনের মামলা ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এসব প্রশ্ন তোলার অর্থ এই না যে এই সংস্কারের বিরোধিতা করা হচ্ছে। বরং এটি ইতিবাচক যে সরকার এমন একটি আইন করতে চাইছে, যা বিরোধ তৈরি হওয়ার পর সমাধান দেওয়ার বদলে আগেই বিরোধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একটা ভালো আইনকে শুধু তার উদ্দেশ্য দিয়ে নয়, বরং মানুষের পারস্পরিক আইনি সম্পর্ক কীভাবে বদলে দেয়, সেটাও বিবেচনায় নিতে হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনী শুধু প্রবীণ পিতামাতাকে সুরক্ষা দেবে না, এটা জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান, উত্তরাধিকার এবং মালিকানার পারস্পরিক সম্পর্ককেও নতুনভাবে সাজাবে।

এই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত ন্যায়সংগত হবে কি না, পারিবারিক স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করবে কি না, নাকি নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি করবে—তার উত্তর নির্ভর করবে শুধু আইনের ভাষার ওপর নয়, বরং পরিবারগুলো সেই আইন ব্যবহার করবে কীভাবে, তার ওপরও।

লেখক: ব্যারিস্টার নওশীন নাওয়াল। ইমেইল: [email protected]

রাত ৩টায় ঘুম ভাঙে, থাকতে পারে প্রাচীন অভ্যাসের যোগসূত্র

গভীর রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখা গেল—রাত ৩টা। অনেকেই তখন অস্থির হয়ে ভাবতে শুরু করে, ‘এই অসময়ে কেন ঘুম ভাঙল?’ কিংবা ‘শরীরে কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?’ কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, রাতের এই জেগে ওঠা সব সময় অসুস্থতার লক্ষণ নয়। বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে মানুষের হাজার বছরের পুরোনো ঘুমের অভ্যাস।

একসময় মানুষ একটানা আট ঘণ্টা ঘুমাত না। ইতিহাসবিদদের গবেষণা বলছে, বিদ্যুৎ, স্মার্টফোন কিংবা কৃত্রিম আলোর যুগ আসার বহু আগে পৃথিবীর নানা সংস্কৃতিতে মানুষের ঘুম মূলত দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।

সূর্য ডোবার কয়েক ঘণ্টা পর তারা ঘুমাতে যেত। তারপর মাঝরাতে একবার জেগে উঠত। সেই সময় কেউ আগুনে জ্বালানি দিত, কেউ পরিবারের সঙ্গে গল্প করত, কেউ প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা করত, আবার কেউ প্রার্থনা বা ধ্যান করত। এক থেকে দুই ঘণ্টা জেগে থাকার পর তারা আবার ঘুমিয়ে পড়ত এবং ভোর পর্যন্ত সেই ‘দ্বিতীয় ঘুম’ চলত।

ঘুম নিয়ে গবেষণা করা ইতিহাসবিদ রজার একির্চ প্রাচীন দলিল, চিকিৎসাবিষয়ক লেখা, আদালতের নথি, ব্যক্তিগত চিঠি ও কবিতাসহ দুই হাজারেরও বেশি ঐতিহাসিক নথিতে এই ‘প্রথম ঘুম’ ও ‘দ্বিতীয় ঘুম’-এর উল্লেখ খুঁজে পেয়েছেন। এমনকি হোমারের ওডিসিতেও এর ইঙ্গিত রয়েছে। সে সময় বিষয়টি এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে, লেখকেরা এর আলাদা কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনই মনে করতেন না।

কিন্তু শিল্পবিপ্লবের পর সবকিছু বদলে যেতে শুরু করে। ঘরে ঘরে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার বাড়ল। মানুষ রাত জেগে কাজ করতে লাগল। ঘুমানোর সময় পিছিয়ে গেল। ধীরে ধীরে দুই পর্বের ঘুম মিলেমিশে একটানা রাতের ঘুমে পরিণত হলো। আর আজ আমরা ধরে নিয়েছি, একটানা রাতভর না ঘুমাতে পারলেই বুঝি সমস্যা।

আধুনিক ঘুমবিজ্ঞান বলছে, মানুষের ঘুম আসলে একটানা গভীর থাকে না। প্রতি ৯০ থেকে ১১০ মিনিট পরপর ঘুমের একটি চক্র সম্পন্ন হয়। এক রাতে সাধারণত চার থেকে ছয়টি চক্রের মধ্য দিয়ে যায় আমাদের শরীর।

রাতের প্রথম ভাগে গভীর ঘুম বেশি থাকে। কিন্তু রাত যত গড়ায়, গভীর ঘুম কমে আসে এবং হালকা ঘুম ও স্বপ্ন দেখার পর্যায় বাড়তে থাকে। এই সময় সামান্য শব্দ, আলো বা শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনেও ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

মজার বিষয় হলো, অধিকাংশ মানুষই রাতে কয়েকবার জেগে ওঠে। তবে কয়েক সেকেণ্ড বা মিনিটের মধ্যেই আবার ঘুমিয়ে পড়ে বলে সকালে তা মনে থাকে না। সমস্যা তখনই হয়, যখন সেই জেগে থাকার সময় দীর্ঘ হয়ে যায় অথবা প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম ভেঙে যায়।

১৯৯২ সালে পরিচালিত একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের এমন পরিবেশে রাখা হয়েছিল, যেখানে কোনো ঘড়ি বা কৃত্রিম আলো ছিল না। কয়েক দিন পর দেখা গেল, তাদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই দুই পর্বে ঘুমাতে শুরু করেছে।

২০১৭ সালে মাদাগাস্কারের এমন একটি কৃষিভিত্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর গবেষণা করা হয়, যাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। গবেষকেরা দেখেন, তাদের অনেকের ঘুম এখনো দুই ভাগে বিভক্ত।

অর্থাৎ আধুনিক জীবনযাত্রা বদলালেও মানুষের শরীরে সেই প্রাচীন ছন্দের কিছুটা এখনো রয়ে যেতে পারে।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ধারণা ছিল, রাত ৩টার দিকে কর্টিসল নামের একটি হরমোন হঠাৎ বেড়ে যায় বলেই মানুষ জেগে ওঠে। কর্টিসল শরীরকে সকালে জাগিয়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে ২০২৫ সালের একটি নতুন গবেষণা এই ধারণাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছে। গবেষকেরা দুই শতাধিক মানুষের শরীরে সরাসরি কর্টিসলের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, ঘুম ভাঙার মুহূর্তে কর্টিসল হঠাৎ বেড়ে যায় না। বরং এটি নিজের স্বাভাবিক গতিতেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তা মানুষ জেগে থাকুক কিংবা ঘুমিয়ে থাকুক।

অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রেই রাত ৩টার জেগে ওঠা কোনো অস্বাভাবিক হরমোনের কারণে নয়; এটি শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়িরই একটি অংশ হতে পারে।

তবে সব ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক না। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এর পেছনে নির্দিষ্ট শারীরিক কারণও থাকতে পারে।

মেনোপজের সময় অনেক নারীর ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ায় গভীর ঘুম ব্যাহত হয়। পাশাপাশি রাতের গরম অনুভূতি (হট ফ্ল্যাশ) এবং হরমোনের পরিবর্তন ঘুম ভেঙে দিতে পারে।

আবার রাতের খাবার খুব কম খাওয়া বা অনেক আগে খেয়ে ফেললে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। তখন শরীর স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে, যা অনেকের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও অন্যদের মধ্যেও হতে পারে।

এ ছাড়া বিকেলে বা সন্ধ্যায় ক্যাফেইন গ্রহণ এবং রাতে অ্যালকোহল পান করলেও ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ঘুম ভাঙার চেয়ে বড় সমস্যা হলো, ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া। অনেকেই তখন ঘড়ির দিকে তাকায়, হিসাব করতে থাকে, ‘এখনো তো তিন ঘণ্টা ঘুমানো বাকি!’ এরপর শুরু হয় দুশ্চিন্তা। আর এই উদ্বেগই মস্তিষ্ককে শেখাতে থাকে যে, রাত ৩টা মানেই জেগে থাকার সময় নয়। ধীরে ধীরে এটি দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রার রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের জৈবঘড়িকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য নীল আলোর পর্দা এড়িয়ে চলা, বিকেল বা সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন না খাওয়া এবং অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকাও উপকারী।

যদি কেউ রাতের বেলা প্রায় ২০ মিনিটের বেশি জেগে থাকে, তাহলে বিছানায় শুয়ে অস্থির না থেকে উঠে কোনো বই পড়া বা অন্য কোনো কাজ করা ভালো। ঘুম এলে আবার বিছানায় ফিরে যেতে হবে। এতে বিছানাকে জেগে থাকার জায়গা হিসেবে মস্তিষ্কের মনে রাখার প্রবণতা কমে।

দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি ফর ইনসমনিয়া (সিবিটি-আই) সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যাওয়া মানেই শরীরে বড় কোনো সমস্যা হয়েছে এমন নয়। অনেক সময় এটি মানুষের বিবর্তনীয় ইতিহাসেরই পুরোনো ছাপ হতে পারে, যা এখনো আমাদের শরীরে রয়ে গেছে।

সূত্র: সায়েন্স এলার্ট