26.6 C
Dhaka
Home Blog

মহাসড়ক নির্মাণের খেসারত কায়পুত্ররা দেবে কেন?

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ আলিপুর ইউনিয়নের একটি মর্মন্তুদ ঘটনা এখনো অনেক মানুষের কাছেই অজানা। কোনো প্রত্যন্ত চর বা গভীর অরণ্য নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশেই ঘটছে ঘটনাটি।

সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়কের পার ঘেঁষে ৪৬টি কায়পুত্র পরিবার কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছে। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) দক্ষিণ আলিপুরের ভেতর দিয়ে মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করলে সড়কের পাশেই থাকা কায়পুত্রদের পাঁচটি পরিবারের ঘড়বাড়ি ভেঙে পড়ে। হতভাগ্য পরিবারের সদস্যরা এখন খোলা আকাশের নিচে পলিথিনের ছাউনিতে রাত পার করছেন। বাকিরাও একই ভাগ্য বরণের হুমকিতে রয়েছেন।

উচ্ছেদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা, কায়পুত্র সম্প্রদায়ের লোকজন ও স্থানীয় সাংবাদিক মারফতে জানা যায়, সওজ তাদের অধিকৃত জমিতে যারা বসবাস করছেন তাদের আগামী ২৪ ও ২৫ জুনের মধ্যে চলে যেতে মাইকিং করছে। অন্যথায়, তাদের ঘড়বাড়ি ভাঙা পড়বে। এটা যদি সত্যি হয়, তবে তা কেবলমাত্র একটি উচ্ছেদের ঘটনাই হবে না; বরং বাংলাদেশ কতটা মানবিক সেই প্রশ্ন সামনে আসবে। কারণ এসব ভূমিহীন পরিবারের যাওয়ার মতো আর কোনো আশ্রয় বা বিকল্প বাসস্থান নেই।

কায়পুত্ররা ঐতিহ্যগতভাবে খোলা মাঠে শূকর চড়ানো গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠী বাংলাদেশের একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যারা পেশাগত পরিচয়ের কারণে নানাবিধ সামাজিক বঞ্চনা, বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার শিকার। সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর জেলার প্রায় ৭৫টি গ্রামে তাদের বসবাস। তাদের মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ১২ হাজার। সাধারণ মানুষ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারি নথিপত্রে এখনো এই সম্প্রদায়কে ‘কাওড়া’ নামে সম্বোধন করে, যা একটি অবমাননাকর ও নেতিবাচক অর্থবহনকারী শব্দ। বর্তমানে এই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদেরকে ‘কায়পুত্র’ নামেই পরিচিত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ এই নামের মধ্য দিয়ে তারা দীর্ঘদিনের অপমান ও হেয় প্রতিপন্নতার বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ার পথ খুঁজছেন। তবে শুধু নাম পরিবর্তন করলেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তৈরি হওয়া গভীর সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য মুছে ফেলা যায় না।

সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে কায়পুত্ররা এক অস্বস্তিকর ও প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছে। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে, যেখানে শূকরকে অপবিত্র মনে করা হয় এবং ইসলামে এর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ, সেখানে পেশাগত পরিচয়ের কারণে কায়পুত্ররা প্রায়শই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর অবজ্ঞা ও ঘৃণার শিকার হন। একইসঙ্গে, হিন্দু সমাজের কিছু অংশেও ঐতিহাসিকভাবে তাদের ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সম্ভবত এমন আর কোনো জনগোষ্ঠী খুঁজে পাওয়া যাবে না, যারা এত গভীরভাবে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, একঘরে করে রাখা ও বঞ্চনার শিকার। দক্ষিণ আলিপুরের কায়পুত্র জনগোষ্ঠী প্রতিদিন এই সামাজিক বোঝা বহন করে চলেছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন খতিয়ান নম্বর ২-এর আওতাভুক্ত সরকারি খাসজমির ওপর তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে প্রবীণ অনেক বাসিন্দার দাবি, বাংলাদেশ স্বাধীনের আগ থেকেই তারা এ এলাকায় আছেন। অনেকের এখানেই জন্ম এবং বড় হওয়া। কেউ কেউ আইয়ুব খানের আমলের কথাও স্মরণ করতে পারেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে এখানে বসবাস করলেও তাদের দারিদ্র্য এখনো চরম পর্যায়ে রয়ে গেছে।

এখানকার কায়পুত্রদের ঘরবাড়ি মূলত অস্থায়ী ঝুপড়ির মতো, যা গোলপাতা, মরিচা পড়া টিন ও পলিথিন দিয়ে তৈরি। সেখানে কোনো যথাযথ পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থা নেই। ৪৬টি পরিবারের অনেকেই এখনো খোলা স্থানে মলত্যাগ করে। কারণ তাদের শৌচাগারের কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক নারী, প্রবীণ ও বিধবা ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। এমনকি প্রতিবন্ধীদের অনেকে সরকারি ভাতা পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কোনো ভাতা পান না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তাদের এই দারিদ্র্য এমন এক সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ফল, যা এখন প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় কায়পুত্র নারী শেফালি মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি জানান, এখন আর আগের মতো দিনমজুরের কাজের জন্য ডাক পান না। কারণ, তারা ‘নিম্নবর্ণের’ মানুষ হিসেবে বিবেচিত। অনেক নারীই খোলাখুলিভাবে সামাজিক অপমান ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তাদের অভিযোগ, বাজারে বা চায়ের দোকানে তাদেরকে অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়, শুধুমাত্র তাদের পরিবারের পুরুষরা শূকর চড়ানোর কাজে যুক্ত আছেন বলে। অথচ দেশে শূকরের মাংসের একটি উল্লেখযোগ্য বাজার রয়েছে, যা অর্থনীতিরও একটি অংশ। কায়পুত্রদের কায়িক শ্রমে উৎপাদিত শূকরের মাংস অমুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক মানুষের খাবার। এই মাংস ঢাকাসহ বেশ কিছু বড় শহরের হোটেলে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, সেই মানুষগুলো সমাজের চোখে প্রায় অদৃশ্য এবং অনেক ক্ষেত্রেই অবাঞ্ছিত রয়ে গেছে।

কায়পুত্রদের জীবিকা ক্রমশ হুমকির মুখে পড়েছে। কারণ ঐতিহ্যবাহী শূকর পালন পেশা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। চারণভূমির বড় একটি অংশ মাছের ঘেরে পরিণত হওয়ায় শূকর পালনের জন্য প্রয়োজনীয় খোলা জমি এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে ও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে অনেক কায়পুত্র ইতোমধ্যে তাদের বংশানুক্রমিক পেশা ত্যাগ করে মাছ ধরা পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। গবেষকদের মতে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী এক প্রজন্মের মধ্যেই ঐতিহ্যবাহী শূকর পালন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ আলিপুরে উচ্ছেদের এই ঘটনা তাদের শেষ অবলম্বনগুলোর একটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

একথা সত্য যে বাংলাদেশের সড়ক নির্মাণ প্রয়োজন। উন্নত অবকাঠামো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং জনকল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উন্নয়নের অর্থ এটা হতে পারে না যে সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষগুলোকে ভিটেহারা করে দেওয়া।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ দাবি করছে, জমিটি আইনগতভাবে তাদের মালিকানাধীন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দায়িত্ব তাদের নয়, বরং জেলা প্রশাসনের। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই অবস্থান সঠিক হতে পারে। জানা যায়, জমিটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৯৬২ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে অধিগ্রহণ করে এবং বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যমান ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়ককে সম্প্রসারণ করে ৩৪ ফুট প্রশস্ত দুই লেনের মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে।

কিন্তু এখানে আইনগত বিষয়টি প্রধান নয়। যখন রাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান মানুষের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব ন্যস্ত করে, তখন এসব পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অংশ অর্থাৎ যারা উচ্ছেদের শিকার, তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

কায়পুত্ররা উন্নয়নের বিরোধিতা করছেন না। বরং তারা একটি বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে তাদের যে বসতি রয়েছে, তার পেছনে আরও কিছু খাসজমি রয়েছে, সেখানে তাদের পুনর্বাসন করা এবং সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা অন্য কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন না—শুধু বসবাসের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা চাইছেন। তাদের এই দাবি অত্যন্ত সংযত ও ন্যায্য; রাষ্ট্রের উচিত তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই পদক্ষেপের পেছনে আরও একটি বৃহত্তর নীতিগত প্রেক্ষাপট রয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সাতক্ষীরা জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ আলিপুরের বাস্তবতা সেই দাবিকে স্পষ্টভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যদি এই কায়পুত্র পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলাকে গৃহহীনমুক্ত বলা যায় না। এই সংকটের অবিলম্বে নীতিগত সংশোধনের দাবি জানান তারা।

পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসনকে নিকটবর্তী খাসজমি বরাদ্দ দিতে হবে; সব পরিবারকে সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত বাসিন্দাদের ফ্যামিলি কার্ড, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এটি মূলত আমরা কেমন দেশ গড়ে তুলতে চাই, সেই নৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত—আমরা কি এমন একটি দেশ চাই, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে সড়ক সম্প্রসারণ করে; নাকি এমন একটি দেশ, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অদৃশ্য থেকে যাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর দিয়েই মহাসড়ক নির্মিত হয়। দক্ষিণ আলিপুরের মানুষ কোনো অবৈধ দখলদার নয়; তারা এমন নাগরিক, যাদের জন্য সমাজ কখনোই প্রকৃত অর্থে কোনো জায়গা তৈরি করেনি। ফলে তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। নৈতিকভাবে এই দায় আমাদের সমগ্র সমাজের ওপর বর্তায়। কায়পুত্ররা প্রজন্মের পর প্রজন্ম সমাজের প্রান্তে বসবাস করে এসেছে। রাষ্ট্র যেন তাদের সেই প্রান্ত থেকেও সম্পূর্ণভাবে ফেলে না দেয়।

সাতক্ষীরার দক্ষিণ আলিপুর থেকে তথ্য সংগ্রহে লেখককে সহায়তা করেছেন সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) গবেষণা দলের সদস্য রবিউল্লাহ, ফাহমিদা রহমান ও ফাহমিদা আফরোজ নাদিয়া।

ফিলিপ গাইন: গবেষক এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে লম্বা ও খাটো ফুটবলারের উচ্চতার ব্যবধান ৪৫ সেন্টিমিটার

বিশ্বকাপ মানেই গোল, রেকর্ড, তারকা আর চমকপ্রদ গল্পের মেলা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে আলোচনার একটি ভিন্ন বিষয়ও সামনে এসেছে খেলোয়াড়দের উচ্চতা। এক প্রান্তে আছেন ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা, অন্য প্রান্তে সবচেয়ে খাটো ফুটবলার। আর তাদের মাঝে ব্যবধান ০.৪৫ মিটার।

এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে লম্বা ফুটবলার হলেন ফ্লোরিয়ান উইগেলে। অস্ট্রিয়ার এই গোলরক্ষকের উচ্চতা ২.০৫ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি। শুধু এবারের আসরেই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা স্কোয়াডভুক্ত খেলোয়াড়ও তিনি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল আন্দ্রেয়াস নোপার্টের দখলে, যার উচ্চতা ছিল ২.০৩ মিটার।

উচ্চতার তালিকায় এরপরই আছেন ড্যান বার্ন, আলভারো মন্তেরো এবং স্টেপান রেদেলিক। তিনজনেরই উচ্চতা ২.০১ মিটার। আকাশি বলের লড়াইয়ে তারা প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে উচ্চতার তালিকার একেবারে নিচে রয়েছেন সিজার ইয়ানিস। পানামার এই মিডফিল্ডারের উচ্চতা মাত্র ১.৬০ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। তার ঠিক ওপরে রয়েছেন জেরেমি আন্তোনিসে, যার উচ্চতা ১.৬৪ মিটার। তবে খাটো হওয়াটা তাদের জন্য কোনো সীমাবদ্ধতা নয়। বরং দ্রুত গতি, ভারসাম্য ও সংকীর্ণ জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতাই তাদের বড় শক্তি।

মজার বিষয় হলো, ইংল্যান্ডের ড্যান বার্ন এবং পানামার সিজার ইয়ানিসের উচ্চতার পার্থক্য ৪১ সেন্টিমিটার। আর ভাগ্যের পরিহাসে, ‘এল’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড ও পানামা মুখোমুখি হবে। ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে লম্বা আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের একজন এবং সবচেয়ে খাটো ফুটবলারের একই মাঠে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন এনইসিতে

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আজ সোমবার ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন এই এডিপি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সংস্কারমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

এনইসি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নতুন সরকারের অধীনে প্রথম এনইসি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা অংশ নেন।

বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রণয়নাধীন একটি কৌশলগত আর্থিক পরিকল্পনা কাঠামোর নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়, যা সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) অধীনে একটি উপদেষ্টা কমিটি প্রস্তুত করছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত এডিপির আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে।

এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় বেশি, যা সরকারের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার উন্নতি নির্দেশ করে।

নতুন এডিপিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১ হাজার ২৭৭টি নতুন প্রকল্পের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) ৮০টি প্রকল্প এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১৪৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, কর্মসূচিটি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগে জোরালো গুরুত্বের প্রতিফলন।

এডিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়নের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় উন্নত সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

১৫টি খাতের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে।

এ ছাড়া, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নতুন অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর একটি বড় অংশ বৈদেশিক অর্থায়ননির্ভর, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থার প্রতিফলন।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকা প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পে নতুন ব্যয় সীমিত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে উন্নয়ন ব্যয় আরো কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হয়।

সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপির আকার ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় সম্পদ থেকে বরাদ্দ ৪৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ৫২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নতুন এডিপিতে দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পর্যটন, নীল অর্থনীতি, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের স্ব-অর্থায়িত প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত করলে মোট এডিপির আকার দাঁড়াবে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ দশমিক ৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৩ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা সরকারি ও নিজস্ব উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার দশমিক ৯০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে।

কর্মসূচিতে ৯৭১টি বিনিয়োগ ও জরিপ প্রকল্পে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯১৪ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা এবং ১০৭টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পে ২ হাজার ৭৯৬ দশমিক ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

এ ছাড়া, ‘বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা’ ব্লক বরাদ্দ হিসেবে ৩৮ হাজার ২৭ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তার জন্য আরও ১৭ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

নতুন এডিপিতে খাতভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯২ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা বা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ পেয়েছে।

শিক্ষাখাত পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯১ দশমিক ১২ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ; স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ৩৫ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে বরাদ্দ হয়েছে ৩২ হাজার ৬৯১ দশমিক ৫৪ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ; গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে বরাদ্দ ২০ হাজার ৩৬১ দশমিক ৭২ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এই পাঁচ খাতই মোট ক্ষেত্রভিত্তিক বরাদ্দের ৬২ শতাংশের বেশি।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৭৩৫ দশমিক ১০ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৩০ হাজার ৭৪১ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২৬ হাজার ৮০৬ দশমিক ২৬ কোটি টাকা।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২০ হাজার ৮৩৫ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯ হাজার ৪৪০ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ পেয়েছে ১৪ হাজার ৯৩৮ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এ ছাড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৭ হাজার ৪০৩ দশমিক ৭৪ কোটি টাকা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৮ হাজার ২২০ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ২০৬ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন এসডিজি, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ), জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি), সবুজ জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কৌশল (জিসিআরডি) এবং ডেল্টা অ্যাপ্রাইজাল ফ্রেমওয়ার্কের (ডিএএফ) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

যেসব প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত, পিপিপি উদ্যোগ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন রয়েছে, সেগুলোকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সময়কালে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে সম্পন্ন হওয়ার জন্য চিহ্নিত ২৬টি প্রকল্প পরবর্তী অর্থবছরে বহন করা হবে।

বিএনপি মনোনীত মাধবী মার্মার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাধবী মার্মার মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা।

চন্দ্রা চাকমার অভিযোগ, মাধবী মার্মা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য। তিনি এ পদে থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।

আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিল জমা নেওয়া হয়।

দুপুরে মাধবী মার্মার বিরুদ্ধে আপিল জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চন্দ্রা চাকমা। তিনি বলেন, ‘বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য মাধবী মারমা লাভজনক পদে থেকে পদত্যাগ না করে গত ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আইনগতভাবে এ মনোনয়নপত্র অবৈধ।’

চন্দ্রা চাকমা জানান, তিনিও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিয়েছিলেন। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক।

চন্দ্রা চাকমা বলেন, ‘মাধবী মার্মা পদত্যাগ করেননি। ফলে তিনি জেলা পরিষদের আইন যেমন লঙ্ঘন করেছেন, তেমনি নির্বাচন কমিশনের আইনও লঙ্ঘন করেছেন।’

তবে চন্দ্রা চাকমার অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবী মার্মার দাবি, তিনি গত ২০ এপ্রিল বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

আজ দুপুরে মাধবী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “আমি ইতোমধ্যে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং এটার কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন কি না, জানতে চাইলে মাধবী মার্মা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্রের আবেদনে এই ধরনের তথ্যের ঘর উল্লেখ ছিল না। আবেদনের ফরমে এই অপশন ছিল না।’

এদিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২০ এপ্রিল মাধবী মার্মা তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে সেই পদত্যাগ পত্রটি আজ রোববার তারা গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মাধবী মার্মা তার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

কবে পদত্যাগ করেছেন জানতে চাইলে মুহা. আবুল মনসুর বলেন, ‘তার পদত্যাগের কপি আজ আমি হাতে পেয়েছি।’

গত ৮ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গত ২১ এপ্রিল।

এর আগে, গত ২০ এপ্রিল বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য ৩৬ জনকে মনোনয়ন দেয়। এই তালিকায় আছেন মাধবী মার্মা।

হাসপাতালে আশা ভোসলে, অবস্থা সংকটাপন্ন

প্রখ্যাত ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোসলেকে (৯২) সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শনিবার এই সংগীতশিল্পীকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন।

খবরে বলা হয়েছে, আগের দিন তিনি হঠাৎ হৃদরোগে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) আক্রান্ত হন। এরপর দ্রুত তাকে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসক প্রতীত সামদানি জানিয়েছেন, তাকে জরুরি বিভাগে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এখনও পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বুলেটিন দেয়নি।

এদিকে, তার সুস্থতা কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনেক তারকা। এর মধ্যে রয়েছেন অনুপম খের, শাবান আজমি, সঞ্জয় কাপুর।

আশা ভোসলে ভারতীয় সংগীত জগতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী। দীর্ঘ কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে তিনি হাজার হাজার গান গেয়েছেন এবং ভারতসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন।

ইরানে হামলা মনিটর করছেন ট্রাম্প, কথা বলছেন নেতানিয়াহুর সঙ্গে: হোয়াইট হাউস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় নিজ বাসভবন মার-এ-লাগো থেকে ইরানে হামলা মনিটর করছেন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হামলা নিয়ে কথাও বলছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট আজ শনিবার এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের বিরুদ্ধে “বড় আকারের সামরিক অভিযান” শুরু করে, তখন থেকেই সারারাত ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।’

লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টূইটার) এক পোস্টে বলেন, ‘হামলা চলার সময় ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ইসরায়েল জানিয়েছে যে তারাও ইরানে হামলা চালাচ্ছে।’

লেভিট লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সারারাত তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।’

লেভিট জানান, হামলার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের নেতাদের জানানোর জন্য যোগাযোগ করেছিলেন।

রুবিও কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ আটজন সদস্যের মধ্যে সাতজনের সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হন।
লেভিট আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার জাতীয় নিরাপত্তা দল সারাদিন পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।’

ইরানে শনিবার সকালে ‘বড় সামরিক অভিযান’ শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেন ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে। 

ইরানে সামরিক অভিযান ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগের ফলাফল কী হবে—তা নিয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু (ইরানের) জনগণের জন্য স্বাধীনতা চাই।’

এর আগে, ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। জাহাজ থেকে টমাহক ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয় এবং মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী এসব হামলা পরিচালনা করে। ট্রাম্প প্রশাসন এই হামলাকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নাম দিয়েছে।

হামলা শুরুর পরপর এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান এবং ইরানি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা শাসনভারের নিয়ন্ত্রণ নিন। কয়েক প্রজন্ম পর এটি হয়ত আপনাদের একমাত্র সুযোগ।’

৭৪ বছরে প্রথমবার শহীদ মিনারে জামায়াত, ব্যাখ্যায় যা বললেন দলের আমির

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও সাম্প্রতিক নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে বিভিন্ন বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে জামায়াতের সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা হলেও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছরে দলের কোনো আমিরকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে দেখা যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে এবারের উপস্থিতি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শহীদ মিনারে শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও আখতার হুসেইনসহ জোটের অন্যান্য নেতারা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বিরোধীদলীয় নেতা সেখানে মোনাজাত পরিচালনা করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াত আমির। এতদিন কেন জামায়াত শহীদ মিনারে আসেনি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে তাই আমি এসেছি।’

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে জামায়াত এখনো ‘নাজায়েজ’ মনে করে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বলেন, ‘আপনি এই প্রশ্ন কেন আজকে করছেন। এইরকম একটা পবিত্র দিনে এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।’

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আসলে ভাষা শহীদদের আগে সাতচল্লিশে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদেরও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদেরও স্মরণ করি। একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করি। এরপরে যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন, তাদেরকেও স্মরণ করি। বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছে, তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা স্মরণ করি যারা জুলাইযোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন তাদের। ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি যে প্রশ্ন করেছিলেন, তারা যে কারণে লড়াই করেছিলেন সেই প্রত্যাশা কতখানি পূরণ হয়েছে—না, সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্যই আমরা এই লড়াই অব্যাহত রাখব। জাতির মুক্তি না আসা পর্যন্ত ফ্যাসিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন না হওয়া পর্যন্ত, একটা মানবিক দেশ গঠনের জন্য আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। এবং কোনো অপকর্মের সাথে আমরা আপস করব না।’

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শফিকুর রহমান দলীয় নেতাদের নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে যান এবং সেখানে ভাষা শহীদদের কবরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

 

ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই: বাংলাদেশে কেন বাড়ছে শিক্ষিত বেকার

বাংলাদেশে স্নাতক পাস করা বেকারের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার। ২০২৪ সালে লেবার ফোর্স সার্ভে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই সংখ্যার উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যেখানে কোনো পড়াশোনাই করেনি নেই এমন মানুষদের বেকারত্বের হার মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

অর্থাৎ যত বেশি পড়াশোনা, বেকারত্বের হার তত বেশি। অন্তত ১৬ বছরের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম আর লাখো টাকা খরচের পরেও যদি এমন পরিস্থিতি দাঁড়ায়, তাহলে কি পড়ালেখা না করলেই ভালো হয়?

বিষয়টা ঠিক তেমন হওয়ার তো কথা না! আমাদের নিশ্চয়ই কোথাও একটা ভুল হচ্ছে এবং সেটাই আমাদের বোঝা দরকার।

বাংলাদেশ একটা তরুণ দেশ। জনসংখ্যার বড় একটা অংশ এখন পড়াশোনা শেষ করে কাজে ঢুকতে চাইছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে, ভর্তির সুযোগ বেড়েছে, স্নাতকের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতি বছর। এটা ভালো খবর।

কিন্তু তারপরও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের শুরুটা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষভাবে হতাশাজনক ছিল। এমনকি ২০২৬ সালও। সরকারি ও বেসরকারি উভয়খাতেই চাকরির বিজ্ঞপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বেসরকারিখাতে বিনিয়োগেও ধীরগতি।

এখন আমাদের আছে লাখো গ্র্যাজুয়েট, আর সংকুচিত চাকরির বাজার। মাঝখানে আটকে আছি আমরা।

এই করুণ পরিস্থিতির জন্য যেসব বিষয়কে দায়ী করা যায় তার মধ্যে রয়েছে:

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত সনদকে প্রাধান্য দেয়, দক্ষতাকে না। মুখস্থ করাকে গুরুত্ব দেয়, দক্ষতা তৈরিকে না। যার ফল বেশ অদ্ভুত।

নামকরা পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চমৎকার সিজিপিএ পাওয়া গ্র্যাজুয়েটরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা থেকেই ঝরে পড়ছে। একটু ভাবুন। ৪ বছর পড়াশোনা, দারুণ ফলাফল। তারপরও প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ। স্বপ্ন এখানেই চুরমার অনেকের।

গত ১৫ বছরে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮২ থেকে বেড়ে ১৭৮ হয়েছে। কিন্তু এই সম্প্রসারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানের বিনিময়ে হয়েছে। সংখ্যা দিয়ে সমস্যার সমাধান হয় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংখ্যা দিয়ে বরং সমস্যার সংখ্যা আরও বেড়েছে।

প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় ১২ হাজার সিএসই গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে। অথচ বাজারে কাজ আছে মাত্র ৫ হাজার। এর ওপর নিয়োগকর্তারা বলছেন, আইটি বা সিএসই গ্র্যাজুয়েটদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ কোডিং, গণিত ও ইংরেজিতে বেসিক দক্ষতা পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে পারছেন না।

ফলে যেসব বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে, তার কর্মক্ষেত্র কম। আর যেসবে কর্মক্ষেত্র আছে, তা পড়ানোই হচ্ছে না।

বিআইডিএস এর এক গবেষণা অনুযায়ী, জাতীয় বিশইবদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে পাস করা ৬৬ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট বেকার। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতেই।

বাংলাদেশে শিক্ষা ক্রমশ বুদ্ধিবৃত্তিক বা পেশাদার বিকাশের উপায় হওয়ার বদলে সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠছে। পরিবারগুলো সন্তানদের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনকি চাকরির বাজারে সেই ডিগ্রির কোনো প্রাসঙ্গিকতা না থাকলেও ডিগ্রি নিচ্ছে।

কর্মমুখী ভোকেশনাল শিক্ষাকে সমাজ এখনও ‘নিচু মানের’ বলে ধরে নেয়। ফলে একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান হওয়ার চেয়ে একজন বেকার গ্র্যাজুয়েট হওয়া ‘সম্মানজনক’ মনে করে সমাজ।

২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ইউএনবিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তানভীর রহমান নামে এক যুবক জানান, তার বিজনেস ডিগ্রি আছে, স্বপ্নও ছিল বড়। কিন্তু ২ বছর ধরে চাকরি খোঁজার পরও প্রথম সুযোগের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

এই ‘তানভীর’রা এখন একটা বিশেষ মনোজগতে বাস করছেন। মনোবিজ্ঞানীরা এটাকে বলছেন ‘অর্জিত অসহায়ত্ব’। সহজ ভাষায়, এই পরিস্থিতি তখনই আসে যখন বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর কেউ ভাবতে শুরু করে যে চেষ্টা করে আর লাভ নেই। এই মানসিকতা একবার তৈরি হলে এর থেকে বের হওয়া কঠিন।

তার ওপর পরিবারের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, বন্ধুদের সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার যন্ত্রণা তো রয়েছেই।

২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়পড়া তরুণদের বেকারত্বের হার ছিল ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

একটা দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার শিক্ষিত তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু সেই সম্পদ যদি কাজে না লাগে, তাহলে সেটা আর সম্পদ থাকে না। বোঝা হয়ে যায়। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বেকারত্ব বাড়বে, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হবে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।

আরেকটু সহজ করে বললে। লখো তরুণ যদি বছরের পর বছর অলস বসে থাকে, হতাশায় ডুবে থাকে, তাহলে সেই হতাশা একসময় রাস্তায় নামে। ইতিহাস বলে, দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষিত বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ায়।

আমরা তরুণদের বলি, ‘পড়াশোনা করো, ভালো ভবিষ্যৎ পাবে।’ কিন্তু যে সিস্টেম তৈরি করেছি, সেটা কি সেই প্রতিশ্রুতি রাখার উপযুক্ত?

সমস্যাটা তরুণদের না। সমস্যাটা সিস্টেমের। এই সিস্টেম দশকের পর দশক ধরে গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে, কিন্তু সুযোগ তৈরি করছে না।

শিক্ষার্থীরা সনদ পাচ্ছে। কিন্তু বাজার চাইছে দক্ষতা, পরিবার চাইছে নিরাপত্তা, সমাজ চাইছে মর্যাদা। সবদিক থেকে টান পড়ছে তরুণদের ওপর এবং সে আটকে যাচ্ছে ঠিক মাঝখানে।

এই ভারটা কিছুটা সহজ করতে তরুণদের বড় একটা দল পাড়ি জমাচ্ছে প্রবাসে। কিন্তু তাও কি সহজ হয়? যাত্রাপথে প্রাণ হারান অসংখ্য মানুষ। অনেকের খোঁজ মেলে না। প্রবাসে পাড়ি দিয়েও হয়রানিতে পড়েন অনেকে।

প্রশ্ন হলো। আমরা কি তাদের জন্য একটা ভালো পরবর্তী অধ্যায় লিখতে পারব? যদি পারি, তাহলে কবে এবং কীভাবে?

 

কাজী সাঈদ মাহমুদ: ভিজুয়াল আর্টিস্ট।

মাঠের লড়াইয়ের আগে কাগজ-কলমের যুদ্ধ: ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক কিছু রেকর্ড

ফুটবল বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়লেই এ দেশের আবহাওয়া কেমন যেন বদলে যায়! চায়ের কাপে ঝড় তোলার জন্য শীত বা বর্ষার প্রয়োজন হয় না। কেবল ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ানো দুই বন্ধুর মুখোমুখি হওয়াই যথেষ্ট। পাড়ার টং দোকান থেকে শুরু করে ফেসবুকের নিউজফিড— সবখানেই এখন তর্কের ঝাঁঝালো গন্ধ। কারণ, বাংলাদেশিদের বিশ্বকাপ-প্রেমের প্রায় পুরোটা জুড়েই তো লাতিন আমেরিকার এই দুই পরাশক্তির ভার্চুয়াল ও বাস্তব ‘যুদ্ধ’, যেখানে কেউ এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

তবে শুধু মুখের কথায় তো আর যুদ্ধ জেতা যায় না! তর্কের ময়দানে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে হলে দরকার অকাট্য যুক্তি আর কিছু জাদুকরী পরিসংখ্যান। যখন কথার লড়াইয়ে আবেগ কাজে দেয় না, তখন ঠান্ডা মাথায় ছুড়ে দেওয়া নিজ দলের পক্ষের একটা সঠিক রেকর্ডই হতে পারে আপনার ব্রহ্মাস্ত্র। তাই ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা— যে দলেরই সমর্থক হোন না কেন, নিজের ঝুলিতে কিছু ঐতিহাসিক সত্য জমা রাখা এখন সময়ের দাবি।

আসুন, মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই কাগজ-কলমের লড়াইয়ে নিজেদের এগিয়ে রাখি। দুই দলের এমন কিছু চোখধাঁধানো রেকর্ড ও পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বোলানো যাক, যা আপনার প্রিয় দলটির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে ঢাল-তলোয়ার হিসেবে কাজ করবে।

ট্রফির শোকেসে আর ফাইনালের মঞ্চে কার দাপট বেশি?

তর্কের শুরুতেই যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি ধেয়ে আসে, তা হলো— ‘ভাই, তোমাদের ট্রফি কয়টা?’ এই এক প্রশ্নে যেমন আলোচনা জমিয়ে দেওয়া যায়, তেমনি থামিয়েও দেওয়া যায়।

পরিসংখ্যান বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি আসরে (এবারেরটিসহ ২৩ বার) অংশ নিয়েছে সেলেসাওরা। পেলে-রোনালদো নাজারিওদের দেশ ফাইনাল খেলেছে ৭ বার, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ বার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২) সোনালী ট্রফিটা নিজেদের করে নিয়েছে।

অন্যদিকে, আলবিসেলেস্তেরা এই মহাযজ্ঞে অংশ নিতে যাচ্ছে ১৯তম বারের মতো। ফাইনালের মঞ্চে তারা পা রেখেছে ৬ বার। এর মধ্যে ঘরের মাঠে ১৯৭৮ সালে, দিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুতে ১৯৮৬ সালে আর লিওনেল মেসির হাত ধরে সবশেষ ২০২২ সালে— সব মিলিয়ে তারা জিতেছে ৩টি বিশ্বকাপ।

ট্রফি আর ফাইনালের লড়াইয়ে সেলেসাওরা এগিয়ে থাকলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সাম্প্রতিক দাপট কিন্তু হেলাফেলা করার মতো নয়!

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে সার্বিক পারফরম্যান্সে কে কতটা নিখুঁত?

মুখোমুখি তর্কের দ্বিতীয় ধাপে আসে দলগত ধারাবাহিকতার হিসাব-নিকাশ। ব্রাজিল এখানেও নিজেদের ‘হেভিওয়েট’ প্রমাণ করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ১১৪টি ম্যাচ খেলে তাদের জয় রেকর্ড ৭৬টি, ড্র ১৯টি আর হার মাত্র ১৯টি। প্রতিপক্ষের জালে তারা বল জড়িয়েছে ২৩৭ বার, বিপরীতে গোল হজম করেছে ১০৮টি।

খুব বেশি পিছিয়ে নেই আর্জেন্টিনাও। ৮৮টি ম্যাচ খেলে আলবিসেলেস্তেদের জয় ৪৭টি, ড্র ১৭টি ও হার ২৪টি। তারা প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছে ১৫২ বার, আর তাদের নিজেদের জালে বল জড়িয়েছে ১০১ বার।

বৈশ্বিক মঞ্চের সরাসরি দ্বৈরথে কে কাকে কতটা নাচিয়েছে?

সব তর্ক একদিকে, আর ‘বিশ্বকাপে মুখোমুখি দেখায় কে জিতেছে?’— এই প্রশ্ন সম্পূর্ণ অন্যদিকে। প্রতিবেশী এই দুই পরাশক্তি এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ। আর এই ‘সুপার ক্লাসিকো’ খ্যাত দ্বৈরথেও এগিয়ে আছে সেলেসাওরাই। ব্রাজিলের জয় ২টি ম্যাচে, আর্জেন্টিনার ১টিতে আর বাকি ম্যাচটি হয়েছে ড্র।

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে জার্মানির মাটিতে ব্রাজিল ২-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায়। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হয়।

এরপর ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে জিকো-সক্রেটিসদের ব্রাজিল ৩-১ ব্যবধানে পরাস্ত করে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে। তবে আলবিসেলেস্তেরা এর মধুর প্রতিশোধ নেয় ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। শেষ ১৬-র সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ম্যারাডোনার জাদুকরী পাস থেকে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার করা একমাত্র গোলে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।

ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব: গোল, অ্যাসিস্ট আর শিরোপার মহিমায় কে এগিয়ে?

দলগত অর্জন তো হলো, এবার আসা যাক ব্যক্তিগত জাদুতে। আর্জেন্টিনার ভক্তদের সবচেয়ে বড় ট্রাম্প কার্ড হলেন রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া মেসি। ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে সবচেয়ে বেশি ২৬টি ম্যাচ খেলার কীর্তি তো তার নামের পাশে আছেই। পাশাপাশি ‘ক্ষুদে জাদুকর’ খ্যাত এই ফরোয়ার্ডের আরও অনেক অর্জন আলবিসেলেস্তেদের জন্য তর্কের বড় শক্তি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ১১ বার ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন মেসি। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুবার গোল্ডেন বল জিতেছেন। ২০১৪ সালের ব্রাজিল ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবেও সবার চেয়ে বেশি ১৯টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২১টি গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড মেসির দখলে। এই কীর্তি অবশ্য তার আগে করেছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে। নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ ছয়টি অ্যাসিস্ট করার কীর্তিও রয়েছে দুজনের নামের পাশে। এছাড়া, সব বিশ্বকাপ মিলিয়ে গোল করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ (৬৭টি) তৈরির রেকর্ডটির যৌথ মালিকানা মেসি ও কিংবদন্তি ম্যারাডোনার।

মেসি ও ম্যারাডোনার পাল্টা জবাবে ব্রাজিল ভক্তরা হয়তো সামনে আনবেন পেলে আর ‘দ্য ফেনোমেনন’ খ্যাত রোনালদোকে। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয় পেলেকে রেখেছে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর নকআউট পর্ব বা ফাইনালে গোল করার দিক থেকে ২০০২ বিশ্বকাপের নায়ক রোনালদোর জুড়ি মেলা ভার। ১৫টি গোল নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা।

একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক কাফু তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে)। অন্যদিকে, তার স্বদেশি পেলে তিনটি বিশ্বকাপ জিতলেও চোটের কারণে ১৯৬২ সালের ফাইনালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে।

বেসরকারি খাতে আসছে বড় প্রণোদনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা

ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের চাপ ও শিল্প খাতের স্থবিরতার মধ্যে বেসরকারি খাতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্ধ কারখানা চালু হবে, নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, সরবরাহ সংকট ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো না গেলে এই প্রণোদনা উল্টো মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, শিল্প খাতের অচলাবস্থা, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় এই প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে।

এই প্যাকেজের দুটি মূল অংশ রয়েছে। প্রথম অংশ হলো ৪১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে কমপক্ষে তিন বছরের জন্য ১০ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি আমানত নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অর্থ ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন করবে এবং বাকি ৬ শতাংশ সরকার ভর্তুকি দেবে।

দ্বিতীয় অংশে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত ১৯ হাজার কোটি টাকার তহবিল। এই অর্থ সরকারের গ্যারান্টিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে দেওয়া হবে।

এই পরিকল্পনার আওতায় বড় ঋণগ্রহীতারা প্রায় ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। তবে পরিচালন ও প্রশাসনিক ব্যয়ের কারণে ছোট ঋণের সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে। বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা পরে সার্কুলারের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সবচেয়ে বড় অংশ, অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর জন্য। এছাড়া কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্প খাতের (সিএমএসএমই) জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গ কৃষি হাব উদ্যোগের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নের ১৯ হাজার কোটি টাকার অংশ থেকে ১০টি বিশেষ কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিপমেন্ট-পূর্ব রপ্তানি অর্থায়ন, সিএমএসএমই সহায়তা, প্রবাসী কর্মসংস্থান অর্থায়ন, স্টার্টআপ তহবিল ও তরুণদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি।

এছাড়া সৃজনশীল শিল্প খাতে সহায়তার জন্য করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই অর্থ ফেরত দিতে হবে না।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার (২৮টি আলাদা কর্মসূচির অধীনে) প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই উদ্যোগ সেই সময়ের পর সবচেয়ে বড় প্রণোদনা প্যাকেজ।

গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। এটি আরও কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ইস্পাত, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতের স্থবিরতা অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, আমানতকারীদের আস্থা কমে যাওয়া এবং ঋণের উচ্চ সুদ এসএমই খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত করেছে।

গভর্নর আরও বলেন, অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়ম ব্যাংকিং খাতকে দুর্বল করেছে এবং তারল্য সংকট বাড়িয়েছে। তার মতে, অনেক খেলাপি ঋণ ব্যবসায়িক ব্যর্থতার কারণে নয়, বরং যথাযথ জামানত ছাড়াই অর্থ সরিয়ে নেওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, এই প্যাকেজের জন্য নতুন টাকা ছাপানো হচ্ছে না। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পড়ে থাকা অলস অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা হবে।

তিনি জানান, কিছু ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে, আবার কিছু ব্যাংক তারল্য সংকটে আছে। পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে এই অলস অর্থ অর্থনীতির সক্রিয় খাতে প্রবাহিত করাই মূল লক্ষ্য।

গভর্নর আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৯ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বৃত্ত মুনাফা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি স্বীকার করেন, কোভিডকালীন প্রণোদনা কর্মসূচিতে কিছু বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বেশি সুবিধা পেয়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী হলেও ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা এই প্যাকেজের নকশা, তহবিলের উৎস, বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন এই উদ্যোগকে ‘চমৎকার পরিকল্পনা’ বললেও বাস্তবায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

তার ভাষ্য, ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ ইতোমধ্যে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা আছে। পাশাপাশি দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্যও ব্যাংকগুলোকে কিছু অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। ফলে এই তহবিলে অংশ নেওয়া সহজ নাও হতে পারে।

তিনি পরামর্শ দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিপরীতে রেপো রেট কমাতে পারত অথবা সিআরআর কমিয়ে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত তারল্য দিতে পারত। এতে প্যাকেজ বাস্তবায়ন আরও সহজ হতো বলে তিনি মনে করেন।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বন্ধ বা ব্যর্থ কারখানায় ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করতে ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন, নতুন কর্মী নিয়োগ এবং আর্থিক পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর কারণ তারল্যের অভাব নয়, বরং ভালো ঋণগ্রহীতার সংকট। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্যাকেজটির উদ্দেশ্য ভালো হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তার মতে, এই ধরনের বড় প্রণোদনা বাজারে মূল্যচাপ বাড়াতে পারে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াতে পারে। 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সাধারণত অর্থনীতিতে চাহিদা কমে গেলে এবং মূল্যস্ফীতি কম থাকলে এ ধরনের প্রণোদনা কার্যকর হয়। কিন্তু বাংলাদেশ এখন একই সঙ্গে ধীর প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে রয়েছে।

তার মতে, সরবরাহব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধান না করে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ করলে উৎপাদনের চেয়ে পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ার ঝুঁকিই বেশি থাকবে।