28.7 C
Dhaka
Home Blog

সাঁথিয়ায় বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে পশুর হাটের ইজারা বন্ধ, ১৪৪ ধারা

পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাদের মধ্যে বিরোধের জেরে পাবনার সাঁথিয়ায় একটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বন্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত হাট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া পৌর এলাকায় ইছামতী নদীর তীরের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেয় পৌর প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের অনুমতি পেয়ে গত ১৯ মে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ হাটের প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়।

এরপর ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মোট ২৬ জন দরদাতা নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

নিলাম চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত দরদাতাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিফ রায়হান কার্যক্রম স্থগিত করেন।

পরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিলাম ডাকা হলে দুপক্ষের মধ্যে আবার বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

ইউএনও রিজু তামান্না বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেও শান্তিপূর্ণভাবে ইজারা সম্পন্ন করতে পারিনি।’

এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, ‘পশুর হাট নিয়ে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হলেও প্রশাসনের একটি মহলের যোগসাজশে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে, সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘নিলামে অংশ নিতে গেলেও জামায়াত নেতাকর্মীদের গালিগালাজ ও হুমকির কারণে আমরা নিলাম বর্জন করতে বাধ্য হই।’

ইউএনও জানান, ইছামতী নদীর ডাইকের পাশে এখনো কোনো পক্ষকে ইজারা দেওয়া হয়নি। হাট নিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় জনস্বার্থে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১৪৪ ধারার কারণে সেখানে হাট বসানোর সুযোগ থাকছে না বলে জানান তিনি।

এটা আমাদেরই গল্প: ৭ মাসের জার্নি নিয়ে যা বললেন তারকারা

পারিবারিক গল্প নিয়ে নির্মিত ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিক নাটকটি দর্শক পছন্দের তালিকায় ছিল উপরের দিকে।

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় নাটকটি গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে প্রতি মঙ্গল ও বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় চ্যানেল আই-এ সম্প্রচারিত হয়। পরে সিনেমাওয়ালার ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায় ধারাবাহিকটি। এবার শেষ হতে চলেছে সেটি।

এই নাটকে অভিনয় করেছেন—খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা আক্তার মিঠু, নাদের চৌধুরী, শিল্পী সরকার অপু, ডিকন নূর, মাহমুদুল ইসলাম মিঠুসহ অনেকেই। 

অভিনেত্রী দীপা খন্দকার বলেন, ‘আমাদের ৭ মাসের জার্নি শেষ হচ্ছে। সাতটা লট করেছি, এটাই লাস্ট। ৭ মাস আগেও বলেছিলাম, মানুষ ফ্যামিলির গল্প দেখতে চায়, এসব নাটক দেখতে মানুষ অপেক্ষা করে। এখন কতটুকু অপেক্ষা করে, সেটা আপনারা বলতে পারবেন।’ 

অভিনেত্রী কেয়া পায়েল বলেন, ‘সবসময় অভিনেত্রী হিসেবে এমন কাজ করতে চাইতাম, যেটা আমাকে দীর্ঘদিন মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে। “এটা আমাদেরই গল্প” করার পর মনে হয়েছে, কাল থেকে যদি অভিনয় ছেড়ে দেই, আমার কোনো আফসোস থাকবে না। এই সিরিয়ালটি আমাকে সেই স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।’

খায়রুল বাসার বলেন, ‘আমার জন্য এই নাটকটি দারণ এক অভিজ্ঞতা। এতগুলো মানুষ মিলে গত ৭ মাস একটা পরিবারের মতো ছিলাম সবাই। নাটকটি যখন আমি দর্শক হিসেবে দেখেছি, নানা জায়গায় ইমোশনাল হয়েছি। এই নাটকে আমার নাম সামীর, অনেকেই আমার আসল নাম জানেন না, কিন্তু সামীর নামে চেনেন। আমার মনে হয়, মানুষ আমাকে সামীর নামেই চিনুক।’

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা, দাম বাড়ল ১০ শতাংশ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রোববার তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।

রয়টার্স জানায়, সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক তেলের এই মানদণ্ড সূচকটি চলতি বছরে ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। শুক্রবার তা ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারে পৌঁছে জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে যায়। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে লেনদেন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলায় মধ্যপ্রাচ্য নতুন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার রয়টার্সকে বলেন, ‘সামরিক হামলা তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। তবে এখানে মূল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া।’

রয়টার্স বাণিজ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান ওই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর অধিকাংশ ট্যাঙ্কার মালিক, শীর্ষ তেল কোম্পানি ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান হরমুজ প্রণালি হয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন স্থগিত করেছে।

বিশ্বে উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

আরবিসির বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়ে যেতে পারে বলে মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন।

রয়টার্স জানায়, ওপেক প্লাসভুক্ত তেল উৎপাদক দেশগুলো রোববার এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে এটি বৈশ্বিক চাহিদার ০ দশমিক ২ শতাংশেরও কম।

রিস্টাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন রয়টার্সকে বলেন, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ও আবুধাবির পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু সরবরাহ সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরও প্রণালি বন্ধ হলে দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হবে।

রিস্টাডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজার খুললে তেলের দাম ২০ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

‘রমজান মাসে ক্যারাম-টিভি চলবে না’, বাজারে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশ

‘কোনো ক্যারাম, কোনো টিভি চলবে না, এক কথায় শেষ, রমজান মাস’, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি বাজারে গিয়ে এক চা দোকানিকে এমন নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা।

ঘটনাটি গত শুক্রবারের। সেসময় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ছিলেন।

ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে সেদিন সন্ধ্যায় নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজার পরিদর্শন করতে দেখা যায় আমির হামজাকে। তার সঙ্গে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আওতাধীন পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম। তিনি সেসময় সাদাপোশাকে ছিলেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হঠাৎ এক চা দোকানির দিকে আঙুল তুলে কড়া ভাষায় নির্দেশ দিতে শুরু করেন মসিউল। বলতে থাকেন, ‘ওই যে ক্যারাম খেলতেছে। আমি বন্ধ করে দিছি কিনা? কেন চলল? দেব বসান? আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না, তারাবির একমাস কোনো ক্যারাম, কোনো টিভি চলবে না। কেন চলল?’

পরে ক্যারাম বোর্ডের দিকে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি।

সেসময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমির হামজা বলেন, ‘রমজান মাস, ইবাদতের মাস। যাই করবেন, নামাজের সময় যেন এইসব না করেন।’

এ ঘটনার পরদিন রাত ৮টার দিকে ওই বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ওই চায়ের দোকানসহ বেশিরভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান খুললেও শাটার অর্ধেক নামিয়ে রেখেছেন।

বাজারের শেষ মাথায় খোলা ছিল শুধু একটি চায়ের দোকান। সেখানে টেলিভিশন চললেও বন্ধ ছিল ক্যারাম খেলা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চা বিক্রেতা রমজান মুখ লুকিয়ে ফেলেন। তারপর বলেন, ‘আমার এখানে এই কয়ডা লোকই বসে। তারা একটু টিভি দেখেন।’

সেসময় ওই দোকানে আসেন স্থানীয় কাশেম মেম্বার। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হঠাৎ এসব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না। তরুণদের বিনোদন-খেলাধুলার দরকার আছে। আমাদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও মাঝে মধ্যে খেলতে আসেন।’

‘তবে টাকা দিয়ে ক্যারাম খেলা ভালো না,’ বলেন তিনি।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা মসিউল মাঝে মধ্যে মসজিদে ওয়াজও করেন।

চা দোকানির প্রতি এমন নির্দেশ কেন? জানতে চাইলে মসিউল ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এটা ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। আমি তো কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেইনি।’

এ বিষয়ে ওপর মহলের নির্দেশ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওপরের নির্দেশেই আমরা কথা বলি। নিজে থেকে কিছু বলি নাকি!’

যদিও অধস্তনদের প্রতি এ ধরনের কোনো নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা।

তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ওই কর্মকর্তাকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিনও বলেছেন, ‘এটা কোনো পুলিশি নির্দেশনা না।’

‘রোজার দিনে চায়ের দোকান খোলা থাকবে কিনা, সেটা আইন-কানুনের বিষয় না। মানুষের অনুভূতির বিষয়, মানা না মানার বিষয়। এজন্য আমরা তো কাউকে জেল-ফাঁস দিতে পারব না’, যোগ করেন তিনি।

ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: নগর শৃঙ্খলায় বড় চ্যালেঞ্জ

ঢাকার সড়ক ব্যবস্থা বহুদিন ধরেই যানজট, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতার এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে চলছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হচ্ছে নগর পরিবহনে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা।

একসময় অলিগলি ও আবাসিক এলাকার পরিবহন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কে দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক, এমনকি বিভিন্ন ভিআইপি সড়কেও এসব যানবাহনের উপস্থিতি এখন নিয়মিত দৃশ্য।

কাগজে-কলমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নতুন কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। ২০১৫ সালে সরকারের এক সিদ্ধান্তে ঢাকার প্রধান সড়ক এবং দেশের ২৩টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টও এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর সড়ক এবং বিভিন্ন মহাসড়কে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—যে আইন বাস্তবে প্রয়োগই করা যায় না, সেই আইন থাকার অর্থ কী?

ব্যাটারিচালিত রিকশা নিঃসন্দেহে নগরবাসীর জন্য একটি সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। কিন্তু একটি পরিবহন ব্যবস্থা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা জননিরাপত্তা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা এবং নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। দুঃখজনকভাবে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে সেই সামঞ্জস্য আজ অনুপস্থিত।

কিন্তু এই সমস্যার মূল জায়গা হলো নিয়ন্ত্রণহীনতা। বর্তমানে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনো সুনির্দিষ্ট নিবন্ধন নেই, চালকদের অধিকাংশের নেই প্রশিক্ষণ, আর যানবাহনের নিরাপত্তা মান নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন। 

এসব রিকশা সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আধুনিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না। ব্রেকিং সিস্টেম দুর্বল, কাঠামোগত স্থায়িত্ব সীমিত এবং গতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা অনুপস্থিত।

অথচ অনেক চালক এসব যানবাহন উচ্চগতিতে চালান, যা যাত্রী ও পথচারী উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও আহত হওয়ার সংখ্যা।

আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো রাজধানীর যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। 

শুধু অলিগলি নয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, বাজার এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সামনেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এসব যানবাহন। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার একটি বড় অংশ কার্যত দখল করে রাখায় সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যায় এবং যান চলাচলের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

এর পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামার জন্য হঠাৎ থেমে যাওয়া, মোড়ের কাছে যত্রতত্র অবস্থান নেওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে অন্যান্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। ফলে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। 

প্রতিদিন কোটি মানুষের চলাচলের এ নগরীতে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অকার্যকর ও বিশৃঙ্খল করে তুলছে।

বিষয়টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যুৎ ব্যবহার। বিভিন্ন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার কাজে। 

উদ্বেগজনক হলো, এই চার্জিংয়ের বড় একটি অংশ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বিদ্যুৎ চুরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, বিশেষ করে যখন দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

তবে বাস্তবতা হলো, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত নীতি। 

প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করতে হবে এবং নিবন্ধন ও ফিটনেস ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং অবৈধ চার্জিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কিন্তু ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সেটা হিতে বিপরীত হচ্ছে । সম্প্রতি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দকে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। 

ঘটনাটি শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো উদাহরণ নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়।

সম্প্রতি রাজধানী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারণের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একার পক্ষে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ও যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লেক রোডে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা দায়ের ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিএমপি কমিশনার জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে কেবল পুলিশের একক প্রচেষ্টায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

ফলে অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘাত ও জনদুর্ভোগ এড়ানোর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকের মধ্যে আইন অমান্যের প্রবণতা বাড়ছে এবং তাদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। 

কার্যকর ও ধারাবাহিক আইন প্রয়োগের অভাবে সড়কে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হয়। ঢাকার ক্ষেত্রেও সময় এসেছে বাস্তবসম্মত, কিন্তু দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নগরবাসীর নিরাপত্তা, সড়কের শৃঙ্খলা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

ঢাকার সড়ক কারও একক সম্পত্তি নয়; এটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাই নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে হলে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।

ঢাকাকে যদি সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য, নিরাপদ ও গতিশীল নগরীতে পরিণত করতে হয়, তাহলে এখনই সাহসী ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং নগর শৃঙ্খলার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল বন্ধ করা আজ আর কোনো বিকল্প নয়; এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি।

 

হুমায়ুন আহমেদ বিলাস, বর্তমানে করপোরেট কমিউনিকেশনস ও পাবলিক রিলেশন্স নিয়ে কাজ করছেন।

২৪ বছর পর যে কীর্তিতে রোনালদো-রোমারিওদের পাশে ভিনিসিউস

ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২৪ বছর আগে, সেই ২০০২ সালে। বিশ্বকাপ জয়ের পথে সেবার গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করেছিলেন রোনালদো ও রিভালদো। এরপর ব্রাজিলের আর কেউ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল পাননি।

বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে ৩-০ গোলে জেতার ম্যাচে জোড়া গোল করে সেখানে নাম লেখালেন ভিনিসিউস জুনিয়র। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের হয়ে একমাত্র গোল করেন তিনি, পরের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষেও ভিনিসিউস পান গোল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েও জোড়া গোলে মাঠ ছাড়েন চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেরা পারফর্মার।

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে ব্রাজিলিয়ানদের গোল করার নজির আছে আরও দুটি। মজার কথা হলো ১৯৯৪ ও ১৯৭০ সালের সেই দুই বিশ্বকাপও জিতেছিল ব্রাজিল। ১৯৭০ সালে এমন কীর্তি দেখান জাইরজিনহো। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে গোল পান কিংবদন্তি রোমারিও।

এদিন ম্যাচে ৭ মিনিটেই গোল পেয়ে যান ভিনি। প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভুলে রায়ান বল কেড়ে দেন ভিনিকে। গোলরক্ষককে কাটিয়ে অনায়াসে জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। খানিক পর আরেক ডিফেন্ডারের ভুলে দ্বিতীয় গোলও করে ফেলেছিলেন, উদযাপনের পর ভিএআর (VAR) চেক করে বল কেড়ে নেওয়ার আগে হালকা টাচ পাওয়ায় সেটা বাতিল করে দেন রেফারি।

অবশ্য দমে না গিয়ে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারেজের পাস থেকে হেড করে দ্বিতীয় গোল করেন ভিনি।

 

বিদ্যুৎ ও সারে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ

বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), জ্বালানি তেল ও সারের দাম বাড়ায় আগামী অর্থবছরে সরকারের ভর্তুকির বোঝা আরও ভারী হতে যাচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার ৫৫ শতাংশই যাবে বিদ্যুৎ ও সার খাতে।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। এরও অর্ধেকের বেশি ব্যয় হয়েছে বিদ্যুৎ ও সারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে এলএনজি, জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং সার খাতে ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও সার ভর্তুকির জন্য মোট ৬৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু বিদ্যুৎ খাতেই থাকবে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগ আরও বেশি বরাদ্দ চাইছে। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস ও ফার্নেসের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিদ্যুৎ খাতের জন্য গ্যাসের দাম বেড়েছে ২০৮ শতাংশ। পাশাপাশি ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের মতো জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নও ব্যয় বাড়াচ্ছে।

গ্যাস খাতে সরকারের ভর্তুকির বড় অংশই যায় এলএনজি আমদানিতে। গত কয়েক বছর ধরে এ খাতে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও চলতি অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ৬ হাজার কোটি টাকার বাইরে আরও প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে। এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।

সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও আপাতত কৃষকদের জন্য সারের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে নিম্নআয়ের মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে খাদ্য ভর্তুকিও বাড়ানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে তা বেড়ে ১০ হাজার ২১৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় প্রণোদনার বরাদ্দ প্রায় ১৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ বলছেন, ডলারের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় এখন এ ধরনের প্রণোদনার প্রয়োজন আগের তুলনায় কমে এসেছে।

প্রণোদনা চালুর সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা। এখন তা প্রায় ১২২ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ এ সময়ে টাকার মান কমেছে প্রায় ৩৭ টাকা।

রপ্তানি প্রণোদনায় আগামী অর্থবছরেও ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের সমান। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পর এসব প্রণোদনা ধীরে ধীরে তুলে নেওয়ার কথা ছিল। তবে উত্তরণের সময় তিন বছর পিছিয়ে যাওয়ায় প্রণোদনাও আরও কিছুদিন বহাল থাকবে।

এ ছাড়া পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের ভর্তুকি ও প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সারের ভর্তুকি কমাতে হলে কৃষকের জন্য সারের দাম বাড়াতে হবে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত। তার ওপর বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকি কমানোর সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ ভর্তুকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা ঘড়ির কাঁটার মতো প্রতিদিনই বাড়তে থাকে। আজ যা দিচ্ছেন, কাল আবার যোগ হচ্ছে। এর মূল কারণ ক্যাপাসিটি চার্জ, যা টিকটিক করা টাইম বোমার মতো।

তার মতে, এই সংকট মোকাবিলায় দুটি পথ আছে—খরচ কমানো অথবা দাম বাড়ানো।

খরচ কমাতে হলে ক্যাপাসিটি চার্জসংক্রান্ত চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু এগুলো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হওয়ায় সহজে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সরকার যদি একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করে, তাহলে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। তাই আলোচনার মাধ্যমে কিংবা চুক্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটিকে ভিত্তি করে চুক্তি পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো ও বিতরণ অপচয় কমিয়ে কিছু সাশ্রয় সম্ভব হলেও মোট ব্যয়ের তুলনায় তা খুব বড় নয়।

অন্য বিকল্প হলো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো। এতে বছরে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আসতে পারে। তবে এরপরও বড় অঙ্কের ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।

রপ্তানি প্রণোদনা প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে এসব প্রণোদনা কমাতে হবে। তবে সরাসরি প্রণোদনা না কমিয়ে উৎসে কর বাড়িয়েও একই ধরনের প্রভাব তৈরি করা সম্ভব।

রেমিট্যান্স প্রণোদনা নিয়ে তিনি বলেন, ডলারের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রণোদনার প্রয়োজন আগের মতো নেই। তবে এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। প্রণোদনা কমানো হলে অর্থনীতিবিদ ও বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে সরকারকে।

 

 

সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে নারী এমপিদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় নারী সংসদ সদস্যদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সোমবার বিকেলে এক সভায় দলের নবনির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে তথ্যসমৃদ্ধ হতে হবে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে নারী এমপিদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে কেউ যাতে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সেজন্য সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমনকি নিজ নিজ এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপও করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর জনগণ এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণায় ছিল। মানুষ কথা বলতে পারেনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষ সব ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করছেন।

সভায় জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের কর্মপদ্ধতি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নারী সংসদ সদস্যরা তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।

সভায় বিএনপি দলীয় ৩৬ জন নারী সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখেন।

সভা শেষে সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরুর আগে সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিষয়ে দলীয়ভাবে আমাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরারও নির্দেশ দিয়েছেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। এতে বিএনপি ৩৬টি আসন লাভ করে।

উত্তর আমেরিকায় ‘হাওয়া’ সিনেমার রেকর্ড ভাঙল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

উত্তর আমেরিকার (কানাডা ও আমেরিকা) বক্স অফিসে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সেখানে মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় সিনেমাটি ছাড়িয়ে গেছে আয়ের শীর্ষে থাকা সিনেমা ‘হাওয়া’এর লাইফটাইম গ্রস কালেকশনকে।

আন্তর্জাতিক পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো ও বক্স অফিস কমস্কোর জানিয়েছে, ‘হাওয়া’ উত্তর আমেরিকায় মুক্তির পর আয় করেছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার। অন্যদিকে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তির প্রথম দুই সপ্তাহেই আয় করেছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ডলার।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার আন্তর্জাতিক পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আশা ব্যক্ত করেন, এই সিনেমা দিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি কোনো সিনেমা চারশো হাজারের ক্লাবে যোগ দিবে বলে আমরা মনে করছি।

জানতে চাইলে সিনেমাটির পরিচালক তানিম নূর বলেন, ‘এই অর্জন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার সম্ভাবনাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিলে আমরা টিম হিসেবে গর্বিত হব।’

তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন—মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর, শরীফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, আরেফিন জিলানী, লাবণ্য চৌধুরী, মাশাসহ অনেকেই।

ইরানে অভিযানে ৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ৫

ইরানে সামরিক অভিযানে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, অপারেশন এপিক ফিউরিতে অংশ নিয়েছিল ওই তিন সেনা। 

চলমান প্রেক্ষাপটে নিহতদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না জানিয়েছে সেন্টকম। 

বিবৃতিতে বলা হয়, বিস্ফোরণে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা শেষে পুনরায় কাজে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বড় পরিসরের সামরিক অভিযান এখনও চলমান বলেও জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।