31 C
Dhaka
Home Blog

ভোলার গ্যাসে বিনিয়োগ না করার সামর্থ্য কি বাংলাদেশের আছে?

জ্বালানি সংকট দেখা দিলেই দেশীয় গ্যাস ব্যবহারের কথা আলোচনায় আসে। সংকট কিছুটা সহনীয় হয়ে উঠলেই আলোচনা আর এগোয় না। বারবার এমনটাই ঘটেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে। ১৯৯০-এর দশকে ভোলায় গ্যাস আবিষ্কৃত হলেও বারবার দাবি ওঠার পরও তা আজও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়নি। এখন আবার গ্যাস সংকটের মধ্যে ভোলার গ্যাস জাতীয় আলোচনায় ফিরে এসেছে। সঙ্গে ফিরে এসেছে, এই গ্যাস উত্তোলন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে কি না, সেই প্রশ্নও।

প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর উত্তর শুধু একটি পাইপলাইন নির্মাণের খরচের দিকে তাকিয়ে দেওয়া যায় না। আমাদের আরও জানতে হবে, বাংলাদেশ আমদানি করা এলএনজির পেছনে কত অর্থ ব্যয় করছে, ভবিষ্যতে আরও কত ব্যয় করবে এবং এই নির্ভরতা অর্থনীতি, শিল্প ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

ভোলায় হারানো সুযোগ

ভোলায় বর্তমানে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে: শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ এবং সুন্দরপুর। এসব ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ আনুমানিক ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ), যার মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৫ টিসিএফ উত্তোলনযোগ্য হতে পারে।

ভোলার বিদ্যমান কূপগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমানে বাপেক্স উত্তোলন করছে প্রায় ৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সরকার আরও ১০টি কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি একটি চীনা কোম্পানি এবং পাঁচটি বাপেক্স খনন করবে। আরও কূপ হলে গ্যাস ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু পাইপলাইন না থাকলে সেই গ্যাস অব্যবহৃতই থেকে যাবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভোলায় এ পর্যন্ত খনন করা প্রতিটি কূপেই গ্যাস পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সাফল্যের হার ১০০ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে ভোলায় পর্যাপ্ত গ্যাস নেই, কিংবা সেখানে বিনিয়োগ লাভজনক হবে না, এমন যুক্তি গ্রহণ করা কঠিন।

ভোলা থেকে পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব নতুন নয়। অন্তত ১৫ বছর ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০১৮ সালে ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের একটি পাইপলাইন নির্মাণের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬০০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৩৫০–৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরিবহনের পরিকল্পনা ছিল। এই পরিমাণ একটি আধুনিক এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহক্ষমতার কাছাকাছি।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই বিলম্বের জন্য সিদ্ধান্তহীনতা, অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ এবং এলএনজি আমদানির পক্ষে লবিংকে দায়ী করেছেন। ফলে যে প্রকল্পটি ৬০০ কোটি টাকায় নির্মাণ করা সম্ভব ছিল, এখন তার ব্যয় অন্তত সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। মূল্যস্ফীতি, বিদেশি পরামর্শক, আমদানি করা যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি এবং জমি অধিগ্রহণের কারণে এই ব্যয় ৮-৯ হাজার কোটি টাকায়ও পৌঁছাতে পারে।

এটি শুধু একটি পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যর্থতা নয়। এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করার উচ্চমূল্যের একটি উদাহরণ।

পরিকল্পনার ব্যর্থতা নাকি আরও কিছু?

স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো, এটি কি পরিকল্পনাগত ভুলের একটি উদাহরণ? অর্থাৎ ‘আজ সামান্য সাশ্রয় করতে গিয়ে ভবিষ্যতে বিপুল ব্যয়’ করার সেই প্রবণতা, যেখানে নীতিনির্ধারকেরা বর্তমানের তুলনামূলক কম বিনিয়োগ এড়িয়ে যান, অথচ পরে অনেক বেশি খরচ করতে বাধ্য হন?

এটি কি এমন এক ধরনের ‘কৃচ্ছ্রসাধনের অভিনয়’, যেখানে সরকার জনব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতার ভাব দেখায়। কিন্তু একই সঙ্গে দেশকে আরও ব্যয়বহুল আমদানির ওপর নির্ভরশীল করে তোলে? নাকি দেশীয় গ্যাসের বদলে এলএনজিকে বারবার অগ্রাধিকার দেওয়া এমন একটি রেন্ট-সিকিং সিনড্রোম বা প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে প্রভাবশালী বাণিজ্যিক গোষ্ঠী আমদানিনির্ভর নীতি থেকে লাভবান হয়?

সরকার একই ভুল বারবার করতে পারে না, তারপর প্রতিটি বিলম্বকে বিচ্ছিন্ন কারিগরি বা আর্থিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে না। ৬০০ কোটি টাকার একটি পাইপলাইন যখন বছরের পর বছর পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন থেকে নয় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে পরিণত হয়। আর একই সময়ে আমদানি করা এলএনজির পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। তখন এই প্রবণতা নিয়ে গভীর তদন্ত হওয়া দরকার।

যদি আমরা ধরে নিই যে সরকার কোনো অবাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তাহলে এই সিদ্ধান্তে বিশেষ গোষ্ঠী স্বার্থর সঙ্গে সরকারের আঁতাতের প্রভাব থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

নতুন বিএনপি সরকারও যদি দেশীয় অনুসন্ধান ও অবকাঠামো উন্নয়ন বিলম্বিত করে ব্যয়বহুল আমদানিকে অগ্রাধিকার দিতে থাকে, তাহলে এ ক্ষেত্রে আগের সরকারগুলোর থেকে মৌলিকভাবে আলাদা প্রমাণিত হবে না। সরকার পরিবর্তনের অর্থ একই ত্রুটিপূর্ণ নীতির সুবিধাভোগী পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়। যেকোনো নতুন প্রশাসনকে প্রমাণ করতে হবে যে সিদ্ধান্তগুলো জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, আমদানি-নির্ভর ব্যবসায়িক লবি বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের চাপে নয়।

এলএনজি নির্ভরতার ব্যয়

ভোলা থেকে পাইপলাইন নির্মাণ যখন বিলম্বিত হচ্ছিল, তখন বাংলাদেশ দ্রুত এলএনজি আমদানির দিকে এগিয়ে যায়। ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু হয় এবং দেশের গ্যাস সংকট সমাধানের একটি বড় উপায় হিসেবে তা উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও গ্যাস সংকট দূর হয়নি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানিতে ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। একই সময়ে সরকার গ্যাস খাতে আরও ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। কয়েক দফা গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে এবং পেট্রোবাংলা ক্রমশ বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

শুধু গত অর্থবছরেই বাংলাদেশ ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১৩টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে। এর সঙ্গে আরও ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১১৫টি কার্গো আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারদর বর্তমান পর্যায়ে থাকলে শুধু এলএনজি আমদানিতেই প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজার অত্যন্ত অস্থিতিশীল। যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলের রুট এবং সরবরাহে বিঘ্ন, সবকিছুর ওপর দাম নির্ভর করে। জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ২ হাজার ৮২২ টাকার বেশি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারিতে দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১ হাজার ৩১৯ টাকা। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১১৪ শতাংশ বেড়েছে।

এই অস্থিরতা এলএনজিকে জাতীয় জ্বালানি নীতির ভিত্তি হিসেবে ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

আরও টার্মিনাল, আরও আর্থিক চাপ

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার আরও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। একটি নতুন টার্মিনাল ইতোমধ্যে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে মহেশখালীতে বাংলাদেশের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত সরবরাহক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আরও দুটি টার্মিনাল নির্মিত হলে এই সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াতে পারে।

কিন্তু একটি টার্মিনালের ব্যয় শুধু নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্যাস খালাস, সংরক্ষণ, পুনর্গ্যাসীকরণ এবং উচ্চচাপের পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পরিবহনের প্রয়োজন হয়। নতুন পাইপলাইন নির্মাণের জন্য পথ জরিপ, পরিবেশগত মূল্যায়ন, জমি অধিগ্রহণ এবং কয়েক বছর ধরে নির্মাণকাজ চালাতে হয়। ফলে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে প্রস্তাবিত কোনো টার্মিনাল দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নাও করতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টার্মিনাল নির্মাণের পরও বাংলাদেশকে এলএনজি কিনতে হবে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আরও দুটি টার্মিনাল চালু হলে বার্ষিক আমদানি ব্যয় বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। পেট্রোবাংলার কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, চারটি টার্মিনাল হলে বছরে এলএনজি আমদানিতে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

আইইইএফএর একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, দেশীয় গ্যাসের আবিষ্কার সীমিত পর্যায়ে থাকলে এবং এলএনজির দাম অস্থিতিশীল থাকলে ২০২৯–৩০ অর্থবছরে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি বিল ১ লাখ ৪ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। বাজারদর আরও বাড়লে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

তাই নতুন টার্মিনাল নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আগে বাংলাদেশকে ভাবতে হবে, আমরা কি এমন অবকাঠামো তৈরি করছি, যা আমদানিনির্ভরতা আরও গভীর করবে এবং স্থায়ী আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে?

ভোলার বাইরেও দেশীয় সম্ভাবনা

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর কয়েকটি উপায় চিহ্নিত করেছেন। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্যাসের সম্ভাবনা শুধু নতুন ও অনাবিষ্কৃত এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য মজুদ থাকতে পারে।

বাংলাদেশে ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০টি কার্যকর বা উৎপাদনশীল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একটি গ্যাসক্ষেত্রে এক বা কয়েকটি কূপ খনন করলেই সব গ্যাস উত্তোলন করা যায় না। ভূতাত্ত্বিক প্রতিবন্ধকতার কারণে গ্যাস অনেক সময় এমন এলাকায় আটকে থাকে, যেগুলোকে ‘আনড্রেইনড কম্পার্টমেন্ট’  বলা হয়।

বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক তথ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, পুনর্ব্যাখ্যা এবং পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে এসব অনুত্তোলিত কম্পার্টমেন্ট চিহ্নিত করা সম্ভব। এরপর ওই এলাকায় নতুন কূপ খনন করা যেতে পারে। একই ক্ষেত্রে আগে গ্যাস পাওয়া গেছে বলে সাফল্যের সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে বেশি হবে। বিদ্যমান পাইপলাইন ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামোও ব্যবহার করা যাবে, ফলে গ্যাস সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

দ্বিতীয় সুযোগ হলো পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার বা সংস্কার। বাংলাদেশে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। ফলে অনেক কূপ এখন পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত। এসব কূপ মেরামত করা গেলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

তৃতীয় সুযোগ রয়েছে গভীর খননে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক গ্যাসক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্তই অনুসন্ধান করা হয়েছে। আরও গভীর ভূতাত্ত্বিক স্তরে অতিরিক্ত গ্যাস থাকতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গভীর খনন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভালো ফল দিতে পারে।

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন তিতাস, বাখরাবাদ ও বিবিয়ানা কাঠামোর আশপাশের কম অনুসন্ধান করা এলাকাগুলোর কথাও উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া কলকাতা থেকে পাবনা, ময়মনসিংহ হয়ে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত হিঞ্জ জোন, সিলেট ট্রফ বা সুরমা অববাহিকা এবং হাতিয়া ট্রফও গুরুত্বপূর্ণ। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমুদ্রসীমার এলাকাগুলোর প্রতিও আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে কিছু ভূতাত্ত্বিক সাদৃশ্য রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলের। সেখানে ১৫০টিরও বেশি অনুসন্ধানী কূপ থেকে আনুমানিক ২ দশমিক ৭ টিসিএফ প্রমাণিত গ্যাস পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ১৪ টিসিএফ পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২৮টি শনাক্ত কাঠামো রয়েছে, কিন্তু সেখানে অনুসন্ধান এখনো সীমিত।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাতেও সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক এলাকার কিছু অংশের সঙ্গে মিয়ানমারের গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর ভূতাত্ত্বিক সাদৃশ্য আশাব্যঞ্জক।

অনুসন্ধানের অর্থনীতি

দেশীয় গ্যাসের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য আয়ের তুলনায়।

আনোয়ার হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি কূপ খনন করলে অন্তত ৫ টিসিএফ গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। ওই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। ৩০টি কূপ খননের ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে তা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।

এটি নিশ্চিতভাবে গ্যাস আবিষ্কারের হিসাব নয়। অনুসন্ধানে ঝুঁকি থাকে এবং কিছু কূপে গ্যাস নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে একটি শুষ্ক কূপ মানেই সম্পূর্ণ ক্ষতি নয়। সেখান থেকে পাওয়া ভূতাত্ত্বিক তথ্য ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানকে উন্নত করতে এবং অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

এলএনজির সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়। ৩০টি কূপ খননের জন্য মোট প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, যা শুধু গত অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় করা ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তুলনায় অনেক কম। ভর্তুকিসহ এই ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩০টি কূপ খননের ব্যয় গত বছরের এলএনজি আমদানি ও ভর্তুকি ব্যয়ের প্রায় এক-সপ্তমাংশ।

দেশীয় অনুসন্ধান স্থায়ী জাতীয় সম্পদও তৈরি করে: গ্যাসের মজুদ, অবকাঠামো, কারিগরি দক্ষতা এবং ভূতাত্ত্বিক তথ্য। বিপরীতে, এলএনজিতে ব্যয় করা অর্থের বড় অংশই দেশ থেকে বেরিয়ে যায় এবং গ্যাস ব্যবহৃত হয়ে গেলে কোনো স্থায়ী সম্পদ অবশিষ্ট থাকে না।

একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি কৌশল

বাংলাদেশ এখনই এলএনজি আমদানি বন্ধ করতে পারবে না। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যকার ঘাটতি পূরণে আমদানি প্রয়োজনীয়। অবিলম্বে আমদানি বন্ধ করা অযৌক্তিক হবে। তবে ভবিষ্যতে এলএনজি দেশীয় গ্যাসের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত, বিকল্প হিসেবে নয়। বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থেই আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করতে হবে এবং নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে।

দেশীয় গ্যাস মাটির নিচে রেখে প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানির ওপর নির্ভর করা অযৌক্তিক। বাংলাদেশের এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ দরকার, যা নিজস্ব মজুদ সুরক্ষিত রাখবে, আর্থিক ঝুঁকি কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে।

সরকারের উচিত ভোলা পাইপলাইন প্রকল্প, ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা, পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার, গভীর খনন এবং স্থলভাগ ও সমুদ্রসীমার কম অনুসন্ধান করা এলাকায় অনুসন্ধান দ্রুত বাস্তবায়ন করা। বাপেক্সকে আধুনিক রিগ, সফটওয়্যার, সিসমিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ প্রকৌশলী ও ভূতাত্ত্বিকদের কাজের উন্নত সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশি কোম্পানিকে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থ, মালিকানা, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে হবে।

প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৩০টি কূপ থেকে সম্ভাব্যভাবে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এলএনজি আমদানির ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম। ভোলা পাইপলাইন ও দেশীয় অনুসন্ধান যদি আগে শুরু করা হতো, তাহলে বাংলাদেশ প্রায় চার বছরের এলএনজি আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারত।

প্রশ্নটি এখন আর এই নয় যে বাংলাদেশ দেশীয় গ্যাসে বিনিয়োগ করতে পারে কি না। বড় প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের বিনিয়োগ না করে চলার সামর্থ্য আছে কিনা।

সুযোগ এখনো আছে। দেশীয় গ্যাসে বিনিয়োগ না করা এখন আর কোনো বিকল্প নয়, দেশীয় গ্যাসে বিনিয়োগ করাই এখন অপরিহার্য।

ড. মোশাহিদা সুলতানা: জ্বালানি গবেষক ও সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: তফসিল নিয়ে আলোচনায় স্পিকারের সাক্ষাৎ চাইবে ইসি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকারের সাক্ষাৎ চাইবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে বৈঠক শেষে আজ রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে অনুযায়ী সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।’

এর আগে আজ সিইসির কার্যালয়ে সব নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব বৈঠক করেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হয়।

৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাংলাদেশের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এসব পণ্যে মাত্রার চেয়ে বেশি প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি ও নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার বিএসটিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ এবং কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিমে টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাট বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গেছে।

এছাড়া অলিভ বাংলাদেশের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা ফোমিং মিল্ক ও অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ডেকো ফুডসের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে কম ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়।

বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই।

নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনগণ যেন মানসম্মত পণ্য কিনতে পারে, এ বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ মানসম্মত পণ্য জনগণের অধিকার। পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ক্রেতাদের যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইর মানচিহ্নের অপব্যবহার–সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

 

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ চলার মাঝেই দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্টরা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে এএফএ-এর বিরুদ্ধে এই তদন্ত চলছে। আর্জেন্টিনার শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ‘লা নাসিওন’ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে এমনিতেই চরম বিতর্ক চলছে। তার মধ্যেই ‘লা নাসিওন’-এর প্রতিবেদনটি সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাচার বা জালিয়াতি করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্যুরপ্রোড এন্টার এলএলসি এএফএ-এর বৈদেশিক আর্থিক বিষয়গুলো দেখাশোনা করে। প্রতিষ্ঠানটি এখন তদন্তের মুখে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার লেনদেন করেছেন। ব্যাংকগুলো হলো— সিটি ব্যাংক, সিনোভাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান ও পিএনসি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে ট্যুরপ্রোড এন্টার এলএলসি এএফএ-এর অন্তত ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের হিসাব-নিকাশ সামলেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কেবল একটি অংশই তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন সংস্থাটির নিয়মিত খরচের সঙ্গে মিলেছে। বাকি ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিভিন্ন কোম্পানি ও সুবিধাভোগী ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন এই অর্থ তাদেরকে দেওয়া হয়েছে, নথিপত্রে তার কোনো স্পষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি।

এর আগেও তাপিয়া নানা ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে গত মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে ওঠা কর ফাঁকির অভিযোগ এবং ক্লাবগুলোর মালিকানার নিয়ম নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব উল্লেখযোগ্য।

আবারও ছোটকাকু চরিত্রে আফজাল হোসেন

এবার ঈদেও ছোটপর্দায় আসছে জনপ্রিয় ‘ছোটকাকু’ সিরিজের নতুন নাটক। ফরিদুর রেজা সাগরের উপন্যাস অবলম্বনে এবারের নাটকের নাম ‘কিশোরগঞ্জে কিশোরদল’। বরাবরই মতো এবারও নামভূমিকায় অভিনয় করছেন আফজাল হোসেন।

আরিফ খানের পরিচালনায় ঢাকায় নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে। এতে অভিনয় করছেন আহসান হাবিব নাসিম, তাহমিনা সুলতানা মৌ, তানভীর হোসেন প্রবাল, উপমা, বিশাল প্রমুখ।

আফজাল হোসেন বলেন, ‘ছোটকাকু চরিত্রে অনেক দিন ধরে অভিনয় করছি। এক ধরনের ভালোলাগা জন্মে গেছে। এবার নতুন গল্প নিয়ে কাজ হচ্ছে। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে।’

ঈদে চ্যানেল আইয়ের প্রচারিত হবে ‘কিশোরগঞ্জে কিশোরদল’।

নাটক ছাড়াও সম্প্রতি ‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’ নামের একটি টেলিফিল্মের শুটিং শেষ করেছেন আফজাল হোসেন। এর বাইরে নুহাশ হুমায়ূনের নতুন সিনেমা ‘মুভিং বাংলাদেশ’-এও অভিনয় করছেন তিনি।

লাখো মানুষের জীবন নিয়ে ‘রাশিয়ান রুলেট’ খেলছে যুক্তরাষ্ট্র, হুঁশিয়ারি স্পেনের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেছেন, এই সংঘাত লাখো মানুষের জীবন নিয়ে ‘রাশিয়ান রুলেট’ খেলার শামিল, যা মানবতার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ইরানে হামলা নিয়ে বাগযুদ্ধে জড়িয়েছে স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরয়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধেও সরব ছিল মাদ্রিদ। সর্বশেষ ইরানে হামলায় স্পনের ভূমি ব্যবহারে অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর জেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদ্রিদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকিও দিয়েছেন। এর পরই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী তার কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে সানচেজ বলেন, ‘মানবতার বড় বড় বিপর্যয় এভাবেই শুরু হয়… লাখো মানুষের ভাগ্য নিয়ে রাশিয়ান রুলেট খেলা যায় না।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বোমাবর্ষণকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছিলেন সানচেজ। পরে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে হামলায় স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলের নৌ ও বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে মার্কিন উড়োজাহাজকে নিষেধ করেন। এতে দুই ন্যাটো মিত্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বোমা দিয়ে বিশ্বের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘স্পেন সরকারের অবস্থানকে তিন শব্দে সংক্ষেপে বলা যায়: “যুদ্ধকে না বলুন”।’

ট্রাম্পের বাণিজ্য বন্ধের হুমকির জবাবে সানচেজ বলেন, ‘আমরা এমন কোনো কাজে সহযোগী হব না যা বিশ্বের জন্য খারাপ বা আমাদের মূল্যবোধ ও স্বার্থের পরিপন্থি। কারও ভয়ে আমরা নীতি বিসর্জন দেব না।’

ইরাক যুদ্ধের ফল হিসেবে জঙ্গিবাদের উত্থান ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সানচেজ বলেন, ইরানে এই হামলার পরিণতিও হবে তেমনই। এটি কোনোভাবেই একটি ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে না।

৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ড ওয়ারফেজকে একুশে পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও মিউজিক ব্যান্ড ওয়ারফেজকে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননা প্রদান করেন।

এবার অভিনয়ে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক মো. আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নৃত্যে অর্থি আহমেদ, পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় প্রফেসর ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার ও ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস একুশে পদক পেয়েছেন। এর সঙ্গে মিউজিক ব্যান্ড ওয়ারফেজ এই পদক পেয়েছে।

আইয়ুব বাচ্চুর পক্ষে তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা এবং ওয়ারফেজ ব্যান্ডের পক্ষে এর দলনেতা শেখ মুনিরুল আলম টিপু প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেন।

সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা এবং পদকপ্রাপ্তদের মানপত্র পাঠ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতিসচিব মো. মফিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আয় গোপনে জরিমানা হওয়া উচিত প্রমাণসাপেক্ষে

কর দেওয়া নাগরিকের দায়িত্ব এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দেওয়া অপরাধ। কেউ আয় গোপন করলে, সম্পদ বা দায়ের তথ্য অসত্যভাবে দেখালে কিংবা ভুয়া ব্যয় দেখিয়ে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব ফাঁকি দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক। তবে আয়কর রিটার্নে ভুল পাওয়া গেলেই কোনো করদাতাকে কর ‘ফাঁকিদাতা’ বলা যায় না। কর কম পরিশোধ হওয়া এবং অসত্য তথ্য দিয়ে কর ফাঁকি দেওয়া সবসময় একই বিষয় নয়।

কোনো আয় করযোগ্য কি না, ব্যয় অনুমোদনযোগ্য কি না, কিংবা কোনো ছাড় বা অব্যাহতি প্রযোজ্য কি না—এসব বিষয়ে করদাতা ও কর কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য হতে পারে। এর ফলে করযোগ্য আয় বাড়তে এবং অতিরিক্ত কর নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত কর নির্ধারণ হলেই আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৭২ অনুযায়ী জরিমানার ভিত্তি তৈরি হয় না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বরের আদেশ নং ০৩/২০২৬-এ এই সীমারেখাটি স্পষ্ট করা হয়েছে।

ধারা ২৭২-এর মূল বক্তব্য

ধারা ২৭২ মূলত আয় গোপন বা কর-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অসত্য পরিমাণে প্রদর্শনের মাধ্যমে কর ফাঁকির ক্ষেত্রে জরিমানার বিধান। অর্থাৎ, করদাতা যদি আয়, সম্পদ, দায়, ব্যয় বা প্রদেয় করের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য অসত্যভাবে উপস্থাপন করেন এবং এর ফলে সরকারের প্রাপ্য অর্থ ফাঁকি হয়, তখন এ ধারার প্রয়োগের প্রশ্ন আসে। সুতরাং শুধু কর কম নির্ধারিত হয়েছে—এটি জরিমানার জন্য যথেষ্ট নয়। অসত্য বা গোপন তথ্য এবং তার ফলে কর ফাঁকির বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কর নির্ধারণে কোনো অঙ্ক যোগ হওয়া এবং অসত্য তথ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে কর ফাঁকি প্রমাণিত হওয়া দুটি পৃথক বিষয়।

ধরা যাক, একজন চাকরিজীবীর প্রকৃত বার্ষিক আয় ৩০ লাখ টাকা, কিন্তু তিনি রিটার্নে ২০ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। নিয়োগকর্তার বেতন বিবরণী, ব্যাংক হিসাব বা অন্য গ্রহণযোগ্য নথিতে ৩০ লাখ টাকার আয় প্রমাণিত হলে অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা অপ্রদর্শিত আয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর ফলে কর কম পরিশোধ হলে ধারা ২৭২-এর অধীনে জরিমানার প্রশ্ন উঠবে।

অন্যদিকে, একই করদাতা পুরো ৩০ লাখ টাকা আয় দেখালেও যদি এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা কোনো আইনি বিধান অনুযায়ী করমুক্ত বলে দাবি করেন এবং কর কর্তৃপক্ষ পরে সেই দাবি গ্রহণ না করে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন। করদাতার আইনি ব্যাখ্যা ভুল হতে পারে এবং তাকে অতিরিক্ত কর দিতে হতে পারে; কিন্তু তিনি আয় গোপন করেননি। বিরোধটি আয়ের অস্তিত্ব নিয়ে নয়, বরং আইনের প্রয়োগ নিয়ে।

‘ভুল দাবি’ ও ‘মিথ্যা তথ্য’ এক নয়

এই পার্থক্য ব্যয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কোনো করদাতা বাস্তবে একটি ব্যয় করেছেন, যথাযথ নথিসহ রিটার্নে তা প্রকাশ করেছেন এবং মনে করেছেন, ব্যয়টি করযোগ্য আয় থেকে বাদ দেওয়া যাবে। পরে কর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিল যে, আইন অনুযায়ী ব্যয়টি অনুমোদনযোগ্য নয়। এতে অতিরিক্ত কর নির্ধারিত হতে পারে, কিন্তু শুধু এ কারণে ব্যয়টিকে ভুয়া বলা যায় না।

অন্যদিকে, কোনো ব্যয় আদৌ ঘটেনি, অথচ ভুয়া চালান বা মিথ্যা হিসাবের মাধ্যমে তা দেখানো হলে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথম ক্ষেত্রে তথ্য সত্য, বিরোধ আইনের ব্যাখ্যায়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তথ্যই অসত্য। ধারা ২৭২-এর মতো শাস্তিমূলক বিধান প্রয়োগে এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। একজন ব্যবসায়ী রিটার্নে ৫ কোটি টাকা বিক্রয় দেখালেন। পরে ব্যাংক হিসাব, মূসক-সংক্রান্ত তথ্য, বিক্রয় চালান বা ক্রেতার হিসাব থেকে যদি প্রমাণিত হয় যে, প্রকৃত বিক্রয় ছিল ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ৫০ লাখ টাকা গোপন করা হয়েছে, তাহলে কর ফাঁকির প্রশ্ন আসতে পারে। কিন্তু পুরো বিক্রয় দেখানো হয়েছে, অথচ কোনো প্রকৃত ব্যয় আইন অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য কি না—এ নিয়ে বিরোধ হলে সেটি কর নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়।

জরিমানার হিসাব

ধারা ২৭২-এর ক্ষেত্রে গোপন আয়ের অঙ্ক সরাসরি জরিমানার ভিত্তি নয়। ‘ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক’ বলতে মূলত সঠিক তথ্য দিলে যে কর ও অন্যান্য প্রদেয় অর্থ পরিশোধ করতে হতো এবং বাস্তবে যে অঙ্ক পরিশোধ করা হয়েছে—এই দুইয়ের পার্থক্য বোঝানো হয়েছে। বর্তমান বিধান অনুযায়ী জরিমানার সূত্র হলো ‘জরিমানা = ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক × ১০% × করবর্ষের সংখ্যা’।

করবর্ষের সংখ্যা গণনা করা হবে, যে করবর্ষে ফাঁকি সংঘটিত হয়েছে, সেই বছর থেকে যে করবর্ষে বিষয়টি উদঘাটিত হয়েছে, সেই বছরসহ। যেমন: অসত্য বা গোপন তথ্যের কারণে ২ লাখ টাকা কর ফাঁকি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট করবর্ষের সংখ্যা তিন হলে জরিমানা হবে ৬০ হাজার টাকা। অতএব, ‘কত আয় গোপন হয়েছে’ এবং ‘কত কর ফাঁকি হয়েছে’—দুটি বিষয় এক নয়।

অনুমান নয়, প্রয়োজন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ

এনবিআরের আদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ। শুধু কর কর্মকর্তার ধারণা বা প্রাক্কলনের ভিত্তিতে ধারা ২৭২-এর জরিমানা আরোপ করা যথেষ্ট নয়।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো করদাতা তার বাড়ির মূল্য ২ কোটি টাকা দেখালেন। কর কর্মকর্তার ধারণা, এর মূল্য ৩ কোটি টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু ৩ কোটি টাকার পক্ষে যদি মূল্যায়ন প্রতিবেদন, বিক্রয় দলিল বা অন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকে, তাহলে শুধু অনুমানের ভিত্তিতে বলা যাবে না যে করদাতা সম্পদের মূল্য গোপন করেছেন।

প্রথমে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট আয় বা তথ্য গোপন করা হয়েছে অথবা অসত্য পরিমাণে প্রদর্শন করা হয়েছে। এরপর দেখতে হবে, এর ফলে সরকারের প্রাপ্য অর্থ ফাঁকি হয়েছে কি না। শুধু প্রাক্কলিত আয় ও ঘোষিত আয়ের পার্থক্যই কর ফাঁকির প্রমাণ নয়।

এই নীতি চাকরি, ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা বা পেশা, মূলধনী আয়, আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয় এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয়—সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আয় যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, কিন্তু করমুক্তি, অব্যাহতি, ব্যয়ের অনুমোদন বা অন্য কোনো আইনি বিধানের প্রয়োগ নিয়ে বিরোধ হয়েছে, শুধু সে কারণে সেটিকে আয় গোপন বলা যাবে না।

কর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব

ধারা ২৭২ প্রয়োগের আগে কর কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, করদাতা কী তথ্য দিয়েছেন, সঠিক তথ্য কী, কোথায় ও কতটুকু পার্থক্য রয়েছে, সেই পার্থক্যের পক্ষে কী প্রমাণ আছে এবং এর ফলে কত টাকা কর ফাঁকি হয়েছে। শুধু কর নির্ধারণে কোনো অঙ্ক যোগ করা হয়েছে বলে সেই অঙ্ককে আয় গোপনের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। জরিমানার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে করদাতাকে বক্তব্য দেওয়া বা শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোরতাও থাকবে

এই ব্যাখ্যার অর্থ এই নয় যে প্রকৃত কর ফাঁকিদাতারা সুবিধা পাবেন। গ্রহণযোগ্য প্রমাণে যদি দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি আয় বা বিক্রয় গোপন করেছেন, সম্পদ বা দায়ের তথ্য অসত্যভাবে দেখিয়েছেন, ভুয়া ব্যয় সৃষ্টি করেছেন কিংবা অন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অসত্যভাবে উপস্থাপন করে সরকারের প্রাপ্য কর ফাঁকি দিয়েছেন, তাহলে ধারা ২৭২ প্রযোজ্য হবে।

আদেশটির উদ্দেশ্য হলো, প্রকৃত কর ফাঁকি এবং কর নির্ধারণসংক্রান্ত সাধারণ মতপার্থক্যের মধ্যে পার্থক্য নিশ্চিত করা। কোনো কর নির্ধারণে অতিরিক্ত কর এলে তাই প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, কর বাড়ল কেন? আয় গোপন করা হয়েছিল, নাকি ঘোষিত আয়ের ওপর করমুক্তির দাবি গ্রহণ করা হয়নি? ব্যয়টি ভুয়া ছিল, নাকি বাস্তব ব্যয় হলেও আইন অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য ছিল না? সম্পদের তথ্য অসত্য ছিল, নাকি তার মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে, বিষয়টি শুধু অতিরিক্ত কর নির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ধারা ২৭২-এর জরিমানাও প্রযোজ্য হবে।

আস্থাভিত্তিক কর-ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

একটি কার্যকর কর-ব্যবস্থায় কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোরতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সৎ করদাতার জন্য আইনি নিশ্চয়তাও জরুরি। আয়কর রিটার্নে সত্য তথ্য প্রকাশের পর কেবল আইনের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগে মতপার্থক্যের কারণে কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ফাঁকিদাতা হিসেবে বিবেচনা করা ন্যায়সঙ্গত নয়। একইভাবে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আয় গোপন বা অসত্য তথ্য দিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও প্রয়োজন।

এনবিআরের আদেশ নং ০৩/২০২৬-এর মূল শিক্ষা হলো, কর কম নির্ধারিত হলেই তা কর ফাঁকি নয়; আর গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ছাড়া ধারা ২৭২-এর জরিমানার ভিত্তিও তৈরি হয় না। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থ রক্ষা এবং সৎ করদাতাকে অযথা শাস্তির আশঙ্কা থেকে সুরক্ষা, ন্যায়সঙ্গত কর প্রশাসনের ভারসাম্য এখানেই।

ফয়সাল ইসলাম এফসিএ: আর্থিকখাত বিশ্লেষক।
[email protected]

২০২৫ সালে জাতীয় পার্টির আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি

গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে।

দাখিলকৃত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দলটির আয় হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বর্তমানে দলটির ব্যাংক হিসাবে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা জমা আছে।

আজ রোববার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে হিসাব বিবরণী জমা দেন জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।

হিসাব দাখিল শেষে গণমাধ্যমকে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের দলের আয় ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ ৪ হাজার ২৭০ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ টাকা। অর্থাৎ, আয়ের চেয়ে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৬৩ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে দলের ব্যাংক হিসাবে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকা জমা আছে।’

রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থন দেবে জাতীয় পার্টি।

তিনি বলেন, ‘গতবার আমরা দলীয়ভাবে প্রার্থী দিয়েছিলাম। তবে এবার আমাদের প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন এবং আমরা তাদের সমর্থন দেবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সারা দেশে ভালো করব এবং কিছু অঞ্চলে আমাদের প্রার্থীরা ভালো ফল করবেন। তৃণমূলে বিভক্তির কোনো প্রভাব নেই। এমনকি দুইপক্ষের এক হওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।’

১৪ ব্যাংকিং সেবায় বাড়তি ফি’র প্রস্তাব, ক্ষোভ গ্রাহকদের

ব্যাংকের ১৪টি সেবায় নতুন ও বাড়তি ফি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমার বেশি নগদ টাকা তুললে ফি দিতে হবে। পাশাপাশি সুপ্ত (ডরম্যান্ট) হিসাব পুনরায় চালু করা, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার খরচও বাড়বে। এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিনা খরচে পাওয়া কিছু সেবার জন্যও ভবিষ্যতে টাকা দিতে হতে পারে। যেমন মাসে যতবার ইচ্ছা নগদ টাকা তোলার সুযোগ আর বিনা খরচে থাকবে না।

এবিবির দাবি, মূল্যস্ফীতির কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেবামূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন।

তবে এ প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বাণিজ্য খাতের নেতারা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ছোট আমানতকারী, ঋণগ্রহীতা, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক—সবাইকে বাড়তি খরচ বহন করতে হবে।

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এমন সময়ে এ প্রস্তাব কেন দেওয়া হলো, যখন ব্যাংক খাত আস্থার সংকটে রয়েছে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।

অন্যদিকে কঠোর মুদ্রানীতির কারণে ঋণের সুদহারও এখন বেশি। এতে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে অনেক ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রাহকসেবায় দুর্বলতার অভিযোগও রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি নগদ টাকা তুললে প্রতি লেনদেনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হবে।

সঞ্চয়ী হিসাবে মাসে প্রথম তিনবার নগদ টাকা তোলা যাবে বিনা খরচে। চতুর্থ থেকে দশমবার পর্যন্ত প্রতিবার টাকা তুলতে ১০০ টাকা ফি দিতে হবে। একাদশবার থেকে প্রতিবার উত্তোলনে ফি হবে ৩০০ টাকা।

চলতি হিসাবে মাসে ২০তম থেকে ৫০তম উত্তোলনের জন্য প্রতিবার ১০০ টাকা ফি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫১তম উত্তোলন থেকে প্রতিবার ১৫০ টাকা ফি দিতে হবে।

সুপ্ত (ডরম্যান্ট) হিসাব পুনরায় চালু করতে ৫০০ টাকা ফি নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে এবিবি।

এ ছাড়া ঋণ ব্যবস্থাপনা, ঋণ তদারকি, ঝুঁকি প্রিমিয়াম, নির্ধারিত সময়ের আগে ঋণ পরিশোধ, এলসি খোলা, এলসির নথি ব্যবস্থাপনা ও নথির সত্যায়িত কপির জন্য নতুন ফি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

রপ্তানি এলসি বাতিল, বায়ার্স ক্রেডিটের ব্যবস্থা, চুক্তি কাঠামো তৈরি, ঝুঁকি প্রিমিয়াম ও নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির কমিশনেও নতুন চার্জ আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।

ব্যাংকের সলভেন্সি সনদের ফি ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চেক ফেরত যাওয়ার ফি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করারও প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ, এলসি, ব্যাংক গ্যারান্টি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডারসহ আরও বিভিন্ন সেবার ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে এবিবি বলেছে, সর্বোচ্চ নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে প্রতিটি ব্যাংক যেন নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল, সেবার ধরন ও ব্যয়ের ভিত্তিতে ফি নির্ধারণ করতে পারে।

মূল্যস্ফীতি, প্রযুক্তি ব্যয় ও সেবা প্রদানের খরচ বাড়ার সঙ্গে মিল রেখে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ফি ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান মাশরুর আরেফিন বলেন, গত ছয় থেকে সাত বছরে ব্যাংক পরিচালনার ব্যয় অনেক বেড়েছে। সেই বাস্তবতায় সেবামূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২০-২১ সালে যখন বর্তমান সেবামূল্যের তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখনকার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করতে হবে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও দায়িত্বে থাকা মাশরুর আরেফিন বলেন, এ সময়ে ডলারের দাম ৮৭ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১২৩ টাকায় উঠেছে। কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতিও বেশি।

তিনি বলেন, ২০২০-২১ সালে প্রিন্টারের টোনারের দাম কত ছিল, আর এখন কত—একবার ভেবে দেখুন। ছয়-সাত বছর ধরে বছরে অন্তত ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। একই সময়ে ডলারের দামও অনেক বেড়েছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে আমাদের মতো অনেক ব্যাংক নতুন শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র ও এটিএম স্থাপনে বড় বিনিয়োগ করেছে। ২০২০ সালে আমাদের সেবার পরিধি যত ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, তখনকার পরিচালন ব্যয় আর বর্তমান ব্যয়ের তুলনা করলে বোঝা যাবে, সেবামূল্যের তালিকা সংশোধনের প্রয়োজন কেন হয়েছে। এতে গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

তবে এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন গ্রাহক ও ব্যবসায়ী নেতারা।

এনসিসি ব্যাংকের গ্রাহক সোহেল মাহমুদ বলেন, চাকরিজীবীরা ব্যাংকে টাকা রাখলেও খরচ, তুললেও খরচ—দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এবিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, সঞ্চয়ী হিসাবে ত্রৈমাসিক গড় স্থিতি (কোয়ার্টারলি অ্যাভারেজ ব্যালেন্স) ২৫ হাজার টাকার বেশি হলে ৩০০ টাকা ফি দিতে হবে।

তিনি বলেন, এর অর্থ হলো ব্যাংকগুলোর নিজেদের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও খেলাপি ঋণের বোঝা এখন সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে। সুপ্ত হিসাব চালু করতে ৫০০ টাকা, ব্যালেন্স সনদের জন্য ৩০০ টাকা এবং চেক ফেরত ও সলভেন্সি সনদের ফি বাড়ানো কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে সামান্য আস্থা আছে, সেটিও নষ্ট হয়ে যাবে।

বেসরকারি চাকরিজীবী এবং আইএফআইসি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গ্রাহক এম এ জামান বলেন, এটা হাস্যকর। নিজের টাকা তুলতে কেন আমাকে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে? চাকরিজীবী হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে টাকা তুলতে হয়। এমন চার্জ আরোপ করা অন্যায্য।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান  তাসকিন আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ প্রস্তাব অযৌক্তিক, তড়িঘড়ি করা এবং গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদহারের কারণে ব্যবসায়ীরা এমনিতেই চাপে আছেন। এর সঙ্গে নতুন চার্জ যোগ হলে ব্যবসার খরচ আরও বাড়বে।

তাসকিন আহমেদের মতে, ব্যাংক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ ও পরিচালন ব্যয়ের বোঝা ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর উচিত প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, অলাভজনক শাখা বন্ধ করা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দেওয়া।

অন্যথায় দেশের বাণিজ্য ও শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিও (সিসিসিআই) নতুন ব্যাংকিং চার্জ অনুমোদন না দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে সিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের অনুরোধ জানান।

চেম্বারের ভাষ্য, ব্যাংকিং সেবার খরচ বাড়লে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পণ্যের দাম বাড়ার মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।