37.3 C
Dhaka
Home Blog

ব্যাংকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমায় আবগারি শুল্ক দিতে হবে না

যারা ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন তাদের জন্য স্বস্তির খবর আসছে আগামী বাজেটে। ব্যাংকে জমা রাখা টাকার ওপর আবগারি শুল্ক মওকুফের সীমা বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। 

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে যাদের ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা থাকবে, তাদের কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না।

বর্তমানে ব্যাংকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা থাকলে কোনো শুল্ক কাটা হয় না।

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন বিধানের কথা জানাতে পারেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম ধাপে শুল্কমুক্ত সীমা ৫ লাখ টাকা করা হলেও এর পরের স্তরগুলোর (স্ল্যাব) সীমা ও শুল্কের হার অপরিবর্তিত থাকবে।’

ব্যাংক হিসাবে জমা টাকার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বছরে ৫০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক কাটা হবে। 

আগামী অর্থবছর থেকে ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতি (ব্যালেন্স) থাকলে ৫০০ টাকা শুল্ক দিতে হবে। আর জমার পরিমাণ ৫ কোটি টাকা ছাড়ালে শুল্ক হবে ৫০ হাজার টাকা। এর মাঝামাঝি আরও কয়েকটি স্তর থাকছে।

বর্তমানে এই আবগারি শুল্ক থেকে সরকার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, ‘৫ লাখ টাকার শুল্কমুক্ত সীমা কার্যকর হলে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা স্বস্তি পাবেন। তবে এতে সরকারের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব কমে যেতে পারে।’

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মনে করেন, ব্যাংক আমানতের ওপর থেকে এই শুল্ক ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘আবগারি শুল্ক ধীরে ধীরে উঠিয়ে নেওয়া উচিত। আমার একে ন্যায্য মনে হয় না। এটি অনেকটা ব্যাংকে টাকা রাখার জন্য “জরিমানা” দেওয়ার মতো।’

এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘সরকারের উচিত এই ব্যবস্থা বাতিল করে একটি আধুনিক ও ন্যায্য কর ব্যবস্থা চালু করা।’

(সংক্ষেপিত অনুবাদ, বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে)

সংসদে দাঁড়িয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া জাতির জন্য লজ্জার: বিরোধীদলীয় নেতা

জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারকে সঠিক তথ্য প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের ও লজ্জার।

আজ শনিবার দুপুরে আসাদগেটে পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর চালক-মালিকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কথা বলে বুঝতে পারলাম যে, একটি গাড়িকে একবারে ২ হাজার টাকার বেশি তেল দেওয়া হয় না। আর একটি মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ৫০০ ও সর্বনিম্ন ১৫০ টাকার তেল দেওয়া হয়। পাম্প ভেদে এটা কম-বেশি হয়।’

পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, মালিকদের কেউ এখানে ছিলেন না, ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন, তারা জানিয়েছেন, আগে প্রতিদিন তারা তিন গাড়ি তেল পেতেন। এই সংকট সৃষ্টি হওয়ার পরে দেওয়া হয় এক গাড়ি। এটা দিয়ে তারা ২৪ ঘণ্টা কাভার করতে পারেন না। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন তেল অনেক বেশি বিক্রি হয়।’

‘তাদের আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, পান যখন তিন ভাগের এক ভাগ, আপনারা বেশি বিক্রি করেন কোত্থেকে? তারা বললেন যে, এই কথাটা সত্য নয়। আমরা যেহেতু তিন ভাগের এক ভাগ পাই, ওই আগের তিন ভাগের এক ভাগই আমরা বিক্রি করি। সমানও পারি না, বেশি তো প্রশ্নই আসে না,’ জানান জামায়াত আমির।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জাতীয় সংসদকে বলা হচ্ছে মহান জাতীয় সংসদ, পবিত্র জাতীয় সংসদ, সার্বভৌম জাতীয় সংসদ—অনেক কিছু বলা হচ্ছে। কিন্তু সেই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যদি জাতিকে অন্ধকারে রাখা হয় এবং সত্য কথা বলা না হয়, যদি অসত্য তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের এবং লজ্জার।’

সাধারণ মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘তাদের দুঃখ দূর করার মতো কিছু যদি আমাদের হাতে থাকতো, আমরা সেটা করতাম।’

এই পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তিনি সংসদে তুলে ধরবেন বলে জানান।

‘বলবো, হাওয়ায় বসে কথা বলছি না। এসিতে বসে কথা বলছি না। আমরা ওখানে গিয়েছি গরমের মধ্যে, অল্প সময় হলেও আমরা তাদের সঙ্গে থেকেছি। কথা বলেছি, বুঝেছি।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এটাও বিশ্বাস করি এবং স্বীকার করি, এই সংকটটা এই সরকারের তৈরি না। এই সংকট তৈরি হয়েছে বিশ্বের যুদ্ধে লাগার কারণে। তাহলে এখানে লুকোচুরির কী আছে! আমরা খোলামেলা সত্য কথাটা বলি। সবাই মিলে তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করব।’

‘ধামাচাপা দিলে কি সেচের পাওয়ার টিলার চালানোর জন্য আমার কৃষক ভাইটা তেল পাবে’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, মোটরসাইকেল চালিয়ে যারা সংসার চালাতো তাদের আয় দেড় হাজার থেকে কমে ৫০০-৬০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

‘অথচ দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে। দুটি কারণে—তেলের বাজারে অস্থিরতা সংকট, এ জন্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। আরেকটা হলো চাঁদাবাজের রেটও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দুইটার ভার এসে সাধারণ জনগণের ঘাড়ে পড়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আজকে তিনদিন বা চারদিন হবে গাজীপুরের মাওনায় একজন ইমাম সাহেবের মেয়েকে দিনে-দুপুরে তার সামনে থেকে ঘরের দরজা ভেঙে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে কিছু দুর্বৃত্ত। আমরা খবর পেয়েছি, তারা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এই দুর্বৃত্তপনা করেছে। বাবা বলছে, আমার মেয়েটা যদি দুনিয়া থেকে চলে যেত, এত কষ্ট আমার লাগতো না। এখন আমার মেয়েটা কোথায় আছে আমি তো জানি না। আমি সেই দুর্ভাগা বাবা! যার চোখের সামনে থেকে আমার কলিজার টুকরাকে কেড়ে নিলো। আমি চেয়ে চেয়ে শুধু চোখের পানি ফেললাম, আমি আর কিছু করতে পারলাম না।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তার অপহৃত সন্তান ফিরে পাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি বলব, আপনার প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এখন আপনি হস্তক্ষেপ করে এই নিরীহ-নিষ্পাপ মেয়েটাকে তার বাবা ও মায়ের বুকে ফিরিয়ে দেন।’

এ সময় তিনি জড়িতদের দৃশ্যমান কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যে দেশে সরকার একটি অবুঝ-নিরীহ মেয়ের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই সরকারের দেশ চালানোর নৈতিক অধিকার কতটুকু—সেটা আপনারাই বিচার করবেন। আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। দেশবাসীও বিচার করবে।’

আজীবন সম্মাননা পেলেন রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা

বগুড়ার এক পাঁচতারকা হোটেলে বসে সংগীত জগতের তারকাদের এক মহামিলন মেলা। উপলক্ষ ২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। 

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোটেলটির উন্মুক্ত মঞ্চে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

সংগীত শিল্পে অবদান রাখায় এবারের আয়োজনে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপাকে।

বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া।

অনুষ্ঠানে দুই কিংবদন্তি রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিন গান গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন।

আধুনিক গান শ্রেষ্ঠ শিল্পী: লিজা (খুব প্রিয় আমার)

ইউটিউব ক্যাটাগরিতে সেরা আধুনিক গান: এঞ্জেল নূর (যদি আবার) 

শ্রেষ্ঠ সুরকার আধুনিক গান: বাপ্পা মজুমদার (অবশেষে)

শ্রেষ্ঠ গীতিকার আধুনিক গান: তারেক আনন্দ এবং শাহনাজ কাজী (প্রেমবতী মা) 

শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড: মেট্রিক্যাল (গণতন্ত্রের ঘুড়ি)

শ্রেষ্ঠ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার: সেতু চৌধুরী (গণতন্ত্রের ঘুড়ি)

শ্রেষ্ঠ দ্বৈত সংগীত শিল্পী: ইমরান ও সিঁথি সাহা (প্রেম বুঝি)

শ্রেষ্ঠ লোকসংগীত শিল্পী: বিউটি (চার চাঁদে দিচ্ছে ঝলক) 

ইউটিউব ক্যাটাগরিতে লটারির মাধ্যমে সেরা লোকসংগীত শিল্পী: শরিফ উদ্দিন দেওয়ান সাগর (মা লো মা)

শ্রেষ্ঠ ছায়াছবির গান: আতিয়া আনিসা (ছোট্ট সোনা)

ইউটিউব ক্যাটাগরিতে লটারির মাধ্যমে সেরা ছায়াছবির গান: দিলশাদ নাহার কনা (দুষ্টু কোকিল) 

শ্রেষ্ঠ সুরকার ছায়াছবির গান: শওকত আলী ইমন (ছোট্ট সোনা)

শ্রেষ্ঠ গীতিকার ছায়াছবির গান: রোহিত সাধুখাঁ (বেঁচে যাওয়া ভালোবাসা)

শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও নির্মাতা: তানভীর তারেক (পাখি আমার নীড়ের পাখি)

শ্রেষ্ঠ নজরুল সংগীত শিল্পী: শহিদ কবির পলাশ (সৃজন ছন্দে)

শ্রেষ্ঠ উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী: নাশিদ কামাল (সব সখিয়া চলো)

শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী: সভ্যতা (অধিকার)

শ্রেষ্ঠ অডিও কোম্পানি: বেঙ্গল মিউজিক 

কেন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা পাকিস্তানের

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর সীমান্ত সংঘাত চরম আকার ধারণ করার মধ্যেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বেশ কিছু শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।

হামলায় ২৭০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। আফগানিস্তানও ইতোমধ্যে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। হামলায় ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ঘোষণা করেছেন, আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে তারা ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পাকিস্তান প্রথম বিমান হামলা শুরু করে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন, সীমান্তে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগানিস্তান ‘বড় আকারের অভিযান’ চালাচ্ছে।

দ্য ডনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান আফগানিস্তানে যে সামরিক হামলা চালাচ্ছে তার নাম দিয়েছে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ বা ‘ন্যায়ের হামলা’।

কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে কেন এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হলো? আল জাজিরা বলছে, গতরাতে শুরু হওয়া এ সংঘাতের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি কারণ রয়েছে।

ডুরান্ড লাইন বিতর্ক

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তরেখা ডুরান্ড লাইনকে কাবুল কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়নি। সীমান্ত এলাকায় উগ্রগোষ্ঠীদের নিরাপদ আশ্রয়, শরণার্থী আসা-যাওয়া, সীমান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ দেশ দুটির সম্পর্ক বৈরী হয়েছে গত কয়েক দশকে।

২০২১ সালে তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে এই সম্পর্ক কখনো সতর্ক অবস্থানে থেকে ইতিবাচক হয়েছে, আবার কখনো প্রকাশ্যে শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। সংঘর্ষের কারণে প্রায়ই সীমান্তে পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার কারণে বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ব্যাহত হয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘রাতের আঁধারে চালানো এই হামলায় দুই দেশের মধ্যে ‘উত্তেজনা’ বিপজ্জনক দিকে গেল।’

টিটিপি ইস্যু

পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবানকে (টিটিপি) আফগানিস্তান প্রশ্রয় দিচ্ছে। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আত্মঘাতী হামলার জন্য টিটিপিসহ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দায়ী করে পাকিস্তান।
তবে তালেবান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেে, আফগানিস্তানের মাটি অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কাজে ব্যবহার হচ্ছে না।

প্রতিশোধ ও উত্তেজনা

দুই দেশের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পারস্পরিক অভিযোগ এবং প্রতিশোধকে ঘিরে। গতকাল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ ২ সেনাসদস্য নিহত হন। গত সপ্তাহে, পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে বিস্ফোরকপূর্ণ গাড়ির ধাক্কায় ১১ সেনাসদস্য ও এক শিশু নিহত হয়। পরে ওই গাড়িতে থাকা হামলাকারীকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করে পাকিস্তান। এছাড়া গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হন।

আজ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।’

দুই দেশের মধ্যে চলা সংঘাতের ধারাবাহিকতার মধ্যে গত অক্টোবরে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সামি ওমারি আল জাজিরাকে বলেছেন, ২০২১ সাল থেকে আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে অন্তত ৭৫ দফা সংঘর্ষ হয়েছে।

পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেন, ‘তালেবানরাই এই পরিস্থিতি তৈরিতে বাধ্য করেছে। সীমান্তের উভয় পাশের নিরীহ নাগরিকদের স্বার্থে আমি আশা করব তালেবানরা পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করবে।’

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার (এসিএলইডি) দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পার্ল পান্ড্য আল জাজিরাকে বলেন, ‘আফগান প্রশাসন যদি টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তবে অনিবার্যভাবে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হবে।’

ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড বলেন, ‘পাকিস্তান আরও আক্রমণাত্মক ও শক্তিশালী হামলা করতে পারে।’

তবে, পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে আফগানিস্তান খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিশ্লেষক আব্দুল বাসিত বলেন, ‘পাকিস্তানের তুলনায় সামরিক শক্তিতে সক্ষমতা কম থাকায় আফগান তালেবানরা পাল্টা-হামলার জন্য অপ্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তারা আত্মঘাতী বোমা হামলার দিকে যেতে পারে।’

কুগেলম্যান বলেন, ‘পাকিস্তান এখন জঙ্গি স্থাপনার পরিবর্তে সরাসরি তালেবান সরকারের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা করছে। এর অর্থ তারা এখন সরাসরি তালেবান শাসনব্যবস্থাকেই টার্গেট করছে।’

ইনকিলাব আমাদের ভাষা না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। যারা আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, এগুলো তাদের ভাষা।

আজ শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবসের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলা ভাষা ও তার ইতিহাস নিয়ে আমরা যত্নবান না। যে জাতি তার নিজের ইতিহাস জানে না, সে জাতি কোনোদিনও উন্নতি করতে পারে না। আমরা নিজের ভাষাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মাঝে ন্যাশনালিজম গ্রো করে না।

তিনি বলেন, আজ বাংলা ভাষা সম্পর্কে আমরা নিজেরা যদি একটু চিন্তা করতাম, তাহলে জেন-জি ইনকিলাব বলতো না। তারা ইনকিলাব বললে আমার রক্তক্ষরণ হয়।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আমি জীবন দিতে‌ মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। মরে গেলে আজ কেউ আমার নাম নিতো না। বেঁচে আছি বলেই আজ মন্ত্রী হয়েছি। এই ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে বলেই আমি মন্ত্রী হয়েছি। সুতরাং দেশকে ভালোবেসে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।

 

 

ইসলামি ব্যাংকিং আসলে কতটা ইসলামি?

‘যাহারা সুদ খায়, তারা সে ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দিয়েছে। কারণ তারা বলে, “কেনাবেচা তো সুদেরই মতো।” অথচ আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।… আর যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে সময় দেওয়া উচিত…।’ —সূরা আল-বাকারাহ (মুহাম্মদ আসাদের ইংরেজি থেকে অনুবাদ)।

পাকিস্তানে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। ১৯৮৫ সালের মধ্যেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ‘সুদ’ শব্দের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। এর বদলে তারা ‘মার্ক-আপ’ বা লভ্যাংশ শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করে। তবে এই ব্যাংকিং যে আসলে পুরোপুরি ইসলামি ছিল না সেটি পরে স্পষ্ট হয়। এটি কেবল শব্দগত পরিবর্তন মাত্র।

পাকিস্তানে আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সূচনা হয় ২০০২ সালে। ওই বছর প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করে। এরপর থেকে দেশটিতে ইসলামি ব্যাংকিং দ্রুত বিকশিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ইসলামি ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক। পাশাপাশি পাকিস্তানিদের মধ্যেও ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ব্যাংকে লেনদেনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ইসলামি ব্যাংকগুলোতে এখন শরিয়াহ বোর্ড আছে। ব্যাংকের কার্যক্রম শরিয়াহসম্মত কি না, এই বোর্ড সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানেরও (এসবিপি) একটি শরিয়াহ উপদেষ্টা কমিটি আছে। কেবল ব্যাংকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে পাকিস্তান সরকার বর্তমানে সুকুক (সম্পদ-ভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি বন্ড) ইস্যু করছে। এ ছাড়া ইসলামি লিজিং এবং তাকাফুল নামে ইসলামি ইনস্যুরেন্সও রয়েছে।

আগামী বছর পাকিস্তানে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের রজতজয়ন্তী। এই সময়ে এসে আমাদের ভেবে দেখা দরকার, বর্তমানের এই ব্যাংকিং ব্যবস্থা কোরআনের নির্দেশনার ঠিক কতটা কাছাকাছি? এটি কি সত্যিই ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী এগোচ্ছে?

একটি কোম্পানি তার চলতি মূলধনের জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের জন্য সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারে। অন্যদিকে ইসলামি ব্যাংক থেকে তারা মুশারাকা বা মুরাবাহা এবং ইসতিসনা সুবিধা নিতে পারে।

ইসতিসনার একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, একটি কোম্পানি তুলা কেনার জন্য ঋণ চায়। ইসলামি ব্যাংক ১ কোটি রুপি দিয়ে তুলা কিনে তা কোম্পানির কাছে ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে বিক্রি করবে, যা এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। অথবা ১ কোটি ৫ লাখ রুপিতে বিক্রি করবে, যা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। বাস্তবে ব্যাংক কোনো তুলা কেনে না বা কোম্পানির কাছে বিক্রিও করে না। তবে এমন একটি ধারণা দেওয়ার জন্য কাগজে-কলমে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

ব্যাংক কতটা মুনাফা করবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত পলিসি রেট বা নীতি সুদের হারের ওপর। পলিসি রেট বেশি হলে ব্যাংকের মুনাফাও সমানুপাতিক হারে বেড়ে যায়।

মুশারাকা ব্যবস্থায় ইসলামি ব্যাংক কোম্পানির কাছ থেকে যে মুনাফা আদায় করে, তা-ও স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের পলিসি রেটের ওপরই নির্ভর করে। সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যদি পলিসি রেটের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি সুদ আদায় করে, তবে ইসলামি ব্যাংকগুলোর দাবিকৃত মুনাফার হারও প্রায় একই থাকে। ঋণের মেয়াদ চলাকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি পলিসি রেট বাড়ায়, তবে ইসলামি ব্যাংকগুলোও তাদের মুনাফার হার একই পরিমাণে বাড়িয়ে দেয়।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেমন কোম্পানির লাভ-লোকসানের তোয়াক্কা না করে নির্দিষ্ট হারে সুদ আদায় করে, ইসলামি ব্যাংকগুলোও ঠিক তেমনই গ্রাহক লোকসানে পড়লে কোনো ক্ষতি বা ঝুঁকি নেয় না। ঋণখেলাপি বা ঋণ পুনর্গঠনের ঘটনা ছাড়া কোনো ইসলামি ব্যাংক কখনো গ্রাহকের লোকসানের কারণে নিজেরা লোকসান গুনেছে বলে শোনা যায় না।

ইসলামের দৃষ্টিতে ঋণ ব্যবস্থা যেমন বাণিজ্যভিত্তিক এবং ঝুঁকি গ্রহণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কথা, বর্তমানের এই চর্চা তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ মনে করতে পারে, ইসতিসনা ব্যবস্থার অধীনে কোনো কোম্পানি যদি ১ হাজার বেল তুলা কেনার জন্য ঋণ নেয়, তবে তুলার নতুন দাম যা-ই হোক না কেন, তাদের ১ হাজার বেল তুলার সমমূল্যই ফেরত দেওয়া উচিত। তুলার দাম বাড়লে ব্যাংক লাভ করবে, আর কমলে লোকসান করবে। কিন্তু তুলার দামের যা-ই হোক না কেন, ব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট সুদভিত্তিক ‘মুনাফা’ পাবে না।

একইভাবে মুশারাকা ব্যবস্থায় মানুষের ধারণা থাকে যে, কোম্পানি লাভ করলে ইসলামি ব্যাংকগুলোও লাভ করবে, কিন্তু কোম্পানি লোকসান করলে তারা কোনো লাভ পাবে না। তা না হলে এটি কেবল আরবি নামের মোড়কে সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের মতোই হয়ে যায়।

পাকিস্তানি ইসলামি ব্যাংকগুলোর বর্তমান চর্চায় বাণিজ্যভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূল সুবিধাই হারিয়ে যাচ্ছে। সঠিক কোম্পানি খুঁজে ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে ব্যাংকগুলোর কোনো আগ্রহ থাকে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মতো যদি মুনাফাও সুদের হারের সঙ্গে একেবারে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়, তবে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সেই ‘বরকত’ আর থাকে না।

গত বছর পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আমানতকারীদের ন্যূনতম মুনাফা দেওয়া ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু ইসলামি ব্যাংকগুলো এর বিরোধিতা করে বলেছিল যে আমানতকারীদের নির্দিষ্ট মুনাফা দেওয়া ইসলামি নীতির পরিপন্থী। অথচ সেই একই ইসলামি ব্যাংকগুলো এসবিপির পলিসি রেটের ভিত্তিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা আদায় করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

এই দ্বৈতনীতির মানে হলো, ইসলামি ব্যাংকগুলো অন্য যেকোনো ব্যাংকের চেয়ে বেশি মুনাফা করলেও তাদের গ্রাহকেরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহকদের তুলনায় আমানতের ওপর কম মুনাফা পাচ্ছিলেন। সোজা কথায়, ভালো মুসলমান হওয়ার জন্য গ্রাহকদেরকে উল্টো বেশি মূল্য চোকাতে হচ্ছিল। এখনও ইসলামি ব্যাংকগুলো তাদের আমানতকারীদের অপেক্ষাকৃত কম মুনাফা দেয়, যা ইসলামের শোষণবিরোধী নীতির সরাসরি পরিপন্থি।

ঋণগ্রহীতা ঋণ বা সুদ/মুনাফা পরিশোধে দেরি করলে ইসলামি ও বাণিজ্যিক উভয় ব্যাংকই শাস্তিমূলক সুদ আরোপ করে (যা কোরআনের উল্লিখিত আয়াতের পরিপন্থি)। তবে পার্থক্য হলো, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এই অর্থ নিজেদের মুনাফা হিসেবে রেখে দেয়, আর ইসলামি ব্যাংকগুলো তা দান হিসেবে দিয়ে দেয়।

সত্যি বলতে, ইসলামি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যকার এই পার্থক্যটা আসলে বৈশিষ্ট্যে ততটা নয়, যতটা নামের মোড়কে। ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা এই সত্যিটা জানেন, কিন্তু তারা এই আশায় চুপ থাকেন যে ইসলামি ব্যাংকগুলো হয়তো একদিন সত্যিকারের ইসলামি ব্যাংকিংয়ের দিকে এগোবে। তবে রূঢ় সত্য হলো কয়েক দশক পার হলেও সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই। হয়তো ‘ইসলামি’ ব্যাংকগুলো অনেক বেশি লাভজনক হওয়ায় তারা এই ব্যবসায়িক মডেল থেকে বের হতে চায় না।

ইসলামি ব্যাংকাররা তাদের ব্যবসার যৌক্তিকতা বোঝাতে গরুর মাংস খাওয়ার উদাহরণ টানেন। তারা বলেন, হালাল পদ্ধতিতে জবাই না করা গরুর মাংস খাওয়া যাবে না। কিন্তু সঠিকভাবে জবাই করা হলে সেই একই মাংস হালাল হয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে এটা চমৎকার কথা। তবে এই কথা ব্যাংকে প্রযোজ্য নয়। কারণ, ইসলামে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়নি, শুধু পশু জবাইয়ের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সুদের নিষেধাজ্ঞা আসলে অনেকটা মদ পানের নিষেধাজ্ঞার মতো। মদ চায়ের কাপে খাওয়া হলো নাকি মদের গ্লাসে, তা বিবেচ্য নয়; নিষেধাজ্ঞা সব সময়ই বহাল থাকে। একইভাবে ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্য অনুমোদিত হলেও সুদ পুরোপুরি নিষিদ্ধ, সে আপনি যে আরবি নামেই ডাকুন না কেন।

আমাদের উচিত ইসলামি ব্যাংকিংকে পরিবর্তনশীল মুনাফা এবং ঝুঁকির ভাগ নেওয়ার মতো ইসলামের প্রকৃত নীতিগুলোর আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরালো উদ্যোগ নেওয়া।

________________________________________
(লেখাটি দ্য ডেইলি স্টারের এএনএন অংশীদার পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকায় গত ৬ জুন ‘ইজ ইসলামিক ব্যাংকিং ইসলামিক?’ শিরোনামে প্রথম প্রকাশিত হয়।)
 

মিফতা ইসমাইল: পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী।

 

বিসিবি নির্বাচন: ৩৩ প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের আসন্ন নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) শনিবার যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৩২টিই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার প্রকাশিত তালিকায় একমাত্র গোপালগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন খান খসরুর মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এই প্রার্থী আগামীকাল রোববার নির্ধারিত আপত্তি ও শুনানি প্রক্রিয়ার সময় ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন। যদি তার মনোনয়নপত্র পুনর্বহাল না হয়, তবে ঢাকা বিভাগ থেকে সাইদ বিন জামান (ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর) ও এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ (জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হবেন।

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর আরও চারজন কাউন্সিলরের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হওয়া একরকম নিশ্চিত। তারা হলেন— রাজশাহী বিভাগ থেকে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, রংপুর বিভাগ থেকে মির্জা ফয়সল আমীন, সিলেট বিভাগ থেকে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী (সবাই ক্যাটাগরি-১ থেকে) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর (ক্যাটাগরি-৩ থেকে)।

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, কেবল তিনটি বিভাগের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো— চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল। এই বিভাগগুলোতে পরিচালক পদের সংখ্যার চেয়ে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। এই তিনটি সাব-ক্যাটাগরি থেকে মোট চারজন পরিচালক নির্বাচিত হবেন (চট্টগ্রাম বিভাগের দুজন, খুলনা বিভাগের দুজন ও বরিশাল বিভাগের একজন)।

ক্যাটাগরি-২ থেকে পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৮ জন ক্লাব কাউন্সিলরের নামও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ক্যাটাগরি থেকে ১২ জন বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হবেন। মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় এই ১৮ জন প্রার্থীর সবাই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সবুজ সংকেত পেয়েছেন।

প্রার্থীরা হলেন— ফাহিম সিনহা, মাসুদুজ্জামান, মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, আসিফ রব্বানী, ফৈয়াজুর রহমান, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বাবু, অধ্যাপক ড. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শানিয়ান তানিম, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, সৈয়দ বোরহানুল হোসেন, শফিক আহমেদ সালাম, মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) ও মোহাম্মদ মাহমুদ-উর-রহমান।

প্রার্থীরা আগামী ২৫ মের মধ্যে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং একই দিনে নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোয়নপত্র বৈধ হওয়াদের মধ্য থেকে ৭ জুন অনুষ্ঠেয় বিসিবি নির্বাচনে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। বাকি দুই পরিচালক আসবেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে মনোনীত হয়ে।

বদলে যাচ্ছে কেনাকাটার অভ্যাস, সুপারশপে বাড়ছে বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা

একসময় বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের জীবন আর কাঁচাবাজার ছিল অবিচ্ছেদ্য। সকাল সকাল থলে হাতে বাজারে যাওয়া, কলার মোচা নিয়ে দরদাম কিংবা ইলিশের ফুলকা দেখে টাটকা কি না যাচাই করা ছিল আমাদের সংস্কৃতির অংশ।

কিন্তু সময়ের চাকায় দ্রুত নগরায়ন আর যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় সেই চিরচেনা অভ্যাসে এসেছে বড় পরিবর্তন। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে এখন আর সবার হাতে সকালে বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় নেই, নেই আগের মতো জহুরি চোখ দিয়ে পণ্য চেনার আত্মবিশ্বাসও।

ক্রেতাদের এই সময়ের অভাব আর স্বাচ্ছন্দ্যের চাহিদাকে পুঁজি করে প্রায় ২৫ বছর আগে দেশে যাত্রা শুরু করেছিল সুপারশপ। শুরুতে কেবল শহুরে আভিজাত্যের প্রতীক মনে হলেও বর্তমানে এটি মধ্যবিত্তের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে করোনা পরবর্তী সময়ে ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের পর সুপারশপ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে এসেছে জোয়ার। বর্তমানে এই খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুপারশপ চেইনগুলো প্রায় একই ধরনের ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করেছে। মানসম্মত পণ্য, টাটকা বাজার এবং এক জায়গায় সবকিছু পাওয়ার সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এই মডেলের মাধ্যমে গত আড়াই দশক ধরে দেশের মোট খুচরা বাজারের প্রায় ৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বাজার দখলে রেখেছে এ খাত। 

আগের সুপারশপগুলোর মতো শুধু আবাসিক এলাকায় দোকান না খুলে নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। যেমন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন ব্র্যান্ড ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’ ঢাকার মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে শাখা চালু করছে।

‘ফ্রেশ মার্ট’ বলছে, টোকিও ও লন্ডনের মতো আধুনিক শহরের ধাঁচে তারা মানুষের চলাচল বেশি হয় এমন জায়গাকে গুরুত্ব দিয়ে আউটলেট খুলছে, শুধু আবাসিক এলাকা নয়।

বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৩০টি বড় সুপারশপ ব্র্যান্ড রয়েছে।

শুরুতে এই খাত বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এসিআইয়ের ‘স্বপ্ন’ এবং প্রাণ গ্রুপের ‘ডেইলি শপিং’-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের মাধ্যমে এখন কিছু উপজেলা শহরেও সুপারশপ পৌঁছে গেছে।

এখন শহরের অনেক মানুষ চাল, সবজি, মাছ, মাংস ও গৃহস্থালির বিভিন্ন পণ্য মাসিক ভিত্তিতে সুপারশপ থেকে কিনছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ এখনও সুপারশপের পাশাপাশি কাঁচাবাজার থেকেও কেনাকাটা করেন, বিশেষ করে টাটকা সবজি ও অন্যান্য তাজা পণ্যের জন্য।

ঢাকার বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা রোকসানা আফরোজ বলেন, তিনি মূলত এমন পণ্য সুপারশপ থেকে কেনেন, যেগুলো স্থানীয় দোকানে সহজে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ‘মুদি দোকানে সাধারণত প্যাকেটজাত পণ্যের বৈচিত্র্য কম থাকে এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডই পাওয়া যায়। কিন্তু সুপারশপে অনেক ধরনের পণ্য সহজেই পাওয়া যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হয় না বলে একই দামে পণ্য কিনতে পারি, আবার কখনো ছাড়ও পাওয়া যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাজারের চেয়ে সবজির দামও কম থাকে, আর দরদামের ঝামেলাও নেই।’

আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে সুপারশপে বেশি ভরসা পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

তার ভাষায়, ‘আমদানিকারকের সিল থাকায় পণ্যের বিষয়ে আস্থা তৈরি হয় এবং নিরাপদে কেনাকাটা করা যায়।’

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা শাহজাহান আলী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি সুপারশপ ও কাঁচাবাজার—দুই জায়গা থেকেই কেনাকাটা করেন। তার মতে, সুপারশপে দামের স্থিতিশীলতা বেশি থাকে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি খোলা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম হঠাৎ করে লিটারে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। কিন্তু সুপারশপগুলো আগের দামেই তেল বিক্রি করেছে।

তিনি আরও বলেন, এক ছাদের নিচে প্রায় সব প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায় বলে সুপারশপে সময়ও বাঁচে। তবে সবজি ও শাকপাতার জন্য তিনি এখনও কাঁচাবাজারকেই বেশি পছন্দ করেন।

সুবিধা ও মানসম্মত পণ্যের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সুপারশপের বিস্তার

দেশের প্রথম সুপারশপ চেইন ‘আগোরা’ ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে রহিমআফরোজ সুপারস্টোরস লিমিটেডের মাধ্যমে। তারা মানসম্মত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার স্লোগানে যাত্রা করেছিল।

এর এক বছর পর জেমকন গ্রুপ চালু করে ‘মীনা বাজার’। তাদের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে টাটকা পণ্য পৌঁছে দেওয়া।

বর্তমানে দেশের আধুনিক খুচরা বাজারের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্ন’। ২০০৮ সালে এসিআই এটি চালু করে। এখন তাদের ৯০২টি আউটলেট রয়েছে এবং আধুনিক খুচরা বাজারের ৫৩ শতাংশ তাদের দখলে।

২০১৪ সালে প্রাণ গ্রুপ চালু করে ‘ডেইলি শপিং’। তারা মূলত সহজ ও ঝামেলামুক্ত কেনাকাটার সুবিধাকে গুরুত্ব দেয়। এরপর থেকে নিয়মিত নতুন নতুন শাখা চালুর মাধ্যমে এ খাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনলাইন ডেলিভারি সেবার জনপ্রিয়তা বাড়ায় সুপারশপগুলোর বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ বাসার কাছাকাছি কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই তাদের প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের খুচরা বিক্রি মডেলের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, ২০১২ সালে স্বপ্নের আউটলেট ছিল মাত্র ৩৭টি। বর্তমানে তা বেড়ে ৯০২টিতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর প্রতিষ্ঠানটির দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে।

প্রাণের ‘ডেইলি শপিং’ ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় মাত্র সাতটি আউটলেট ও ৩০ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ আলম জানান, তখন প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা।

বর্তমানে তাদের আউটলেট সংখ্যা বেড়ে ১১২টিতে দাঁড়িয়েছে এবং আরও প্রায় ৩৫টি নতুন আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফিরোজ আলম বলেন, এই প্রবৃদ্ধি মানুষের কেনাকাটার অভ্যাস বদলেরই প্রমাণ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় এক হাজার কর্মী কাজ করছেন এবং মোট বিনিয়োগ বেড়ে প্রায় ৯০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

তার মতে, আগে দেশের ১ শতাংশেরও কম মানুষ সুপারশপ ব্যবহার করতেন। এখন তা প্রায় ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। আয় বাড়া ও অভ্যাস পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এটি ৬ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে।

ফিরোজ আলম বলেন, দামের স্বচ্ছতা সুপারশপ জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম বড় কারণ।

তিনি বলেন, ‘আরেকটি বড় সুবিধা হলো এখানে ক্রেতারা স্বাধীনভাবে পণ্য বেছে নিতে পারেন। কাঁচাবাজারে সাধারণত বিক্রেতারাই পণ্য তুলে দেন। কিন্তু সুপারশপে ক্রেতারা নিজেরাই পণ্য দেখে ও যাচাই করে কিনতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, সুপারশপে কেনাকাটার ওপর থাকা ৫ শতাংশ ভ্যাট তুলে দেওয়ায় সংগঠিত খুচরা বাজার এখন আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এসেছে।

মীনা বাজারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জায়গীরদার বলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল ছোট কৃষকদের সঙ্গে ভোক্তাদের সরাসরি ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাই, একই সঙ্গে ক্রেতাদের আরও টাটকা ও নিরাপদ পণ্য দিতে চাই। আমাদের ‘ব্যাক টু রুট’ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিকে শক্তিশালী করা এবং আরও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারেরই অংশ।’

বাজার সম্প্রসারণে বিদেশি বিনিয়োগ আগ্রহ বাড়ছে

দেশে আধুনিক খুচরা বাজার বা সুপারশপ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহও বাড়ছে। কেউ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আসছে, আবার কেউ সরাসরি নিজেদের আউটলেট চালু করছে।

চলতি বছর ‘স্বপ্ন’ জাপানের প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কো লিমিটেডের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে। এই অংশীদারত্বের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ ব্যয় কমানো এবং সেবার মান আরও উন্নত করা।

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আলফামার্ট ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। কাজী ফার্মস গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারা শহর ও শহরতলির ক্রেতাদের লক্ষ্য করে ছোট আকারের সুপারশপ চেইন চালু করেছে।

জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন বর্তমানে আলফামার্টের অন্যতম শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্পটির প্রথম ধাপে ৫ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। পরে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কাজী ফার্মস গ্রুপের পরিচালক কাজী জাহিন হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা গুলশানে একটি এবং উত্তরায় আরেকটি স্টোর চালু করেছি।’

ডেইলি শপিংয়ের ফিরোজ আলম বলেন, দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাড়তি প্রতিযোগিতাকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

তার ভাষায়, ‘আমরা এই প্রতিযোগিতাকে ভালোভাবে দেখি। কারণ এতে একচেটিয়া ব্যবসা কমে, সেবার মান উন্নত হয় এবং ক্রেতারা মান ও দামের দিক থেকে আরও ভালো বিকল্প পান।’

সুপারশপ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যবসার ধরন ও অবস্থান নিয়ে নতুনভাবে ভাবছে। শুধু ক্রেতার অপেক্ষায় না থেকে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান মানুষের চলাচল বেশি, এমন ব্যস্ত শহুরে জায়গার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেঘনা গ্রুপ ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’-এর নয়টি আউটলেট চালু করবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে পাঁচ বছরের জন্য এসব আউটলেট পরিচালনা করা হবে।

স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে মতিঝিল, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, পল্লবী, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা নর্থ।

মেঘনা গ্রুপ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক তানভীর আহমেদ মোস্তফা বলেন, এসব আউটলেটে আধুনিক খুচরা বিক্রয় সুবিধা থাকবে। এখানে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, হিমায়িত খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যপণ্য, ক্যাফে আইটেম, প্রস্তুত খাবার এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায় এমন ওষুধ পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, যাত্রী চলাচল বেশি হওয়ায় মেট্রোরেল স্টেশনগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

‘প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এসব স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন এবং তাদের অনেকেরই দ্রুত কিছু কেনাকাটার প্রয়োজন হয়,’ বলেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘আমরা বড় সুপারশপ তৈরি করছি না। আমরা এমন ছোট আকারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি, যা আজকের শহুরে জীবনের গতির সঙ্গে মানানসই। অফিসে যাওয়ার পথে দ্রুত নাস্তা ও কফি, বাসায় ফেরার পথে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা, আর কাউন্টারে পরিচিত মুখ এই অভিজ্ঞতাই আমরা দিতে চাই।’

বর্তমানে মেঘনা গ্রুপের তেজগাঁও, মেঘনাঘাট ও মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে চারটি আউটলেট রয়েছে। এছাড়া গুলশানে তাদের অফিসেও আরেকটি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

মেঘনা গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিরপুর-১০ স্টেশনের আউটলেটগুলোতে বিক্রির ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন আউটলেটের ইনচার্জ মো. দ্বীন ইসলাম বলেন, আউটলেটি প্রায় ৩০ ধরনের পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে ছিল এবং চালুর পর থেকে ভালো বিক্রি হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন দুই সময়ে ক্রেতার চাপ বেশি থাকে। প্রথম ধাপ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, যখন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা কেনাকাটা করেন। দ্বিতীয় ধাপ বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, যখন মানুষ বাসায় ফেরেন।

দ্বীন ইসলাম আরও বলেন, বিশেষ করে স্ন্যাকস, ডেজার্ট ও প্রস্তুত খাবারের জন্য অনেক নিয়মিত ক্রেতা তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমাদের মোট ক্রেতার প্রায় ৪০ শতাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এতে বোঝা যায়, এই আউটলেটটির সঙ্গে ক্যাম্পাসের একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।’

এনসিপির ‘জাতীয় নারীশক্তি’র ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু।

এতে বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের অনুমোদনে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক এবং মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। মুখ্য সংগঠক হয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম। শীর্ষ নেতৃত্বে আরও রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুন বুশরা মিশমা ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মনজিলা ঝুমা।

 

প্রথমবার তুরস্ক এসে ভীষণ ভালো লাগছে: ববিতা

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা। বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের নায়িকা হিসেবে পরিচিত তিনি। দর্শকদের বিপুল ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি।

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা করেও নন্দিত হয়েছেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননা, একুশে পদকসহ বহু অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছেন ববিতা। 

ববিতা তার বোন চম্পা ও ভাইকে নিয়ে তুরস্কে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। 

 

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে তুরস্ক ভ্রমণ নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছেন ববিতা। 

ববিতা বলেন, ‘প্রথমবারের মতো তুরস্ক এসেছি।

প্রথমবার এই দেশে এসে ভীষণ ভালো লাগছে। মন ভরে গেছে। যা দেখছি তাই ভালো লাগছে। মুগ্ধ হচ্ছি খুব।’

ববিতা আরো বলেন, ‘দুই বোন ও এক ভাই মিলে পরিকল্পনা করেই এসেছি। পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরেছি। কিন্তু তুরস্ক এবারই প্রথম আসা। এই দেশের অনেক ঐতিহ্য আছে, ইতিহাস আছে, কালচার আছে। পছন্দের একটি দেশ। অনেক দেরিতে এলেও উপভোগ করছি।’

 

ঘুরে বেড়ানোর উদাহরণ টেনে ববিতা বলেন, ‘এখানে আসার পর অনেক কিছু দেখার সুযোগ হয়েছে। আজ আমরা দারুণ একটা জায়গায় ঘুরব। জাহাজে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাব। জাহাজেই খাওয়া-দাওয়া করব। আনন্দ করব।’

‘আমার বোন চম্পা এবং ভাই এসেছে। ওদেরও খুব ভালো লাগছে। তিনজন মিলে তুরস্ক ঘুরে বেড়ানোটা উপভোগ করছি। সুন্দর সুন্দর স্মৃতি জমা হচ্ছে। জীবনে এইসব সুন্দর স্মৃতিরও প্রয়োজন আছে’, যোগ করেন তিনি। 

ববিতা বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এসেছি। তুরস্কে নেমেই দারুণ এক ধরনের সুখকর অনুভূতি কাজ করেছে। দেশটা আসলেই সুন্দর।’

তুরস্কের খাবার-দাবার নিয়ে ববিতা বলেন, ‘এখানকার খাবার খুব ভালো। দেশে থাকলে বাঙালি খাবারই আমার পছন্দ। কিন্তু দেশের বাইরে তো নানান দেশে নানানরকম খাবার। তুরস্কের খাবার আমরা মজা করেই খাচ্ছি। খাবারগুলো অসাধারণ।’

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কয়েকটা দিন খুব ঘুরব। যত পারি দেখব। দেখার মধ্যে আনন্দ আছে। দেখার মধ্যে ভালো লাগা কাজ করে। সত্যি কথা বলতে তুরস্কে অনেক কিছু আছে দেখার মতো। যে কয়টি দিন থাকব শুধু দেখব।’

ববিতা বলেন, ‘আগামীকাল আরেকটি সুন্দর জায়গায় ঘুরব। ওখানে বেলুন উড়ানো হবে। আশা করছি অনেক আনন্দ করব।’