35 C
Dhaka
Home Blog

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক ফলের আশা ইরানের

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৃতীয় দফার আলোচনায় ইতিবাচক ফল আসার সম্ভাবনা দেখছে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বুধবার আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধিদল জেনেভার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত মন্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা আলোচনার বিষয়ে ভালো সম্ভাবনা দেখছি। আগামীকাল জেনেভায় আরাঘচির নেতৃত্বে বৈঠক হবে। সর্বোচ্চ নেতার দিকনির্দেশনায় আমরা ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করছি।

মঙ্গলবার আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হাতের নাগালে। তারা কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলেই এটা সম্ভব।

সোমবার এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।  

চলতি মাসের শুরুর দিকে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশ পুনরায় আলোচনা শুরু করে। এর মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার আগে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

হামলা হলে অঞ্চলটিতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে ইরান।

সিরাজগঞ্জে ৪০০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ, ২ জনের কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে আটটি ঘোড়ার ৪০০ কেজি মাংস জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে এসব মাংস জব্দ করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ডাঙাপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ সেখের ছেলে কাওছার আলী পলাশ (৩৫) ও একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪৫)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, শুক্রবার ভোরে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ঘোড়া জবাই করে ঢাকার গাজীপুর ও রাজধানীর বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় মাংস বিক্রি করছে, এমন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালানো হয়।
পরে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ অনুযায়ী দুজনকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। জব্দ করা ৪০০ কেজি ঘোড়ার মাংস মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবু সাঈদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আহাদসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চালু হলো হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পেইড ভার্সন, খরচ কত?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড ফেসবুক। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান বা ‘মালিক’ মেটা প্ল্যাটফর্মস। মেটার মালিকানায় থাকা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের ফ্রি ভার্সনের পাশাপাশি এবার বাজারে আসছে ‘পেইড ভার্সন’। 

গতকাল বুধবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এই তথ্য জানিয়েছে মেটা।

এএফপির প্রতিবেদনে আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানানো হয়। 

এতকাল পর্যন্ত শুধু বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া আয়ের ওপর নির্ভরশীল মেটা এবার রাজস্ব আয়ের এই নতুন পন্থা নিয়ে সামনে আগাতে চাচ্ছে। 

নিজের ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট এ বিষয়ে ঘোষণা দেন। 

তিনি জানান, তারা বিশ্বজুড়ে ফেসবুক প্লাস, ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস সেবা চালু করতে যাচ্ছেন। জানান, পরবর্তীতে ব্যবসায়ী, ক্রিয়েটর ও এআই সেবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ বাজারে আনার পরিকল্পনা আছে তাদের।

এমন সময় এই ঘোষণা এলো, যখন মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় আকারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

ইতোমধ্যে চলতি বছরে এআই ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠার খরচ বাবদ প্রায় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মেটা। এ বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে ‘প্লাস’ সেবা চালু করছে মেটা।  

প্লাস সেবা চালুর খবর প্রকাশের পর পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারের দাম তিন শতাংশ বেড়ে যায়। 

বিভিন্ন প্রতিবেদন মতে, ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও ফেসবুক প্লাস ব্যবহার করতে প্রতি মাসে তিন ডলার ৯৯ সেন্ট খরচ করতে হবে (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৯১ টাকা) এবং হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের জন্য গুণতে হবে দুই ডলার ৯৯ সেন্ট (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৬৮ টাকা)। 

ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও ফেসবুক প্লাস বাড়তি কিছু ফিচার দেবে, যেমন আরও উন্নত ‘অ্যানালিটিকস’, স্টোরি কে কতবার দেখেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য, আরও বেশি মানুষের কাছে পোস্ট পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ এবং প্রোফাইল কাস্টোমাইজ করার সুবিধা। 

হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস পার্সোনালাইজেশনের দিকে নজর দেবে। প্রিমিয়াম স্টিকার, নিজের পছন্দসই রিংটোন ও অ্যাপ থিমের মতো সেবাগুলো পেতে প্রতি মাসে প্রায় ৩৬৮ টাকা করে খরচ বহন করতে হবে। 

তবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে একই মূল্য নির্ধারণ করা হবে কী না, সেটা এখনো মেটা নিশ্চিত করেনি। 

গ্লেইট জানান, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিভিন্ন সেবাকে ‘মেটা ওয়ান’ নামের একটি একক সেবার আওতায় নিয়ে আসতে আগ্রহী। 

২০২৩ সালে মেটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা প্রাইভেসি আইন মেনে চলার জন্য ইউরোপে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পেইড ভার্সন চালু করে। 
ওই পেইড ভার্সনটি ছিল পুরোপুরি বিজ্ঞাপনমুক্ত। এতে ফেসবুকের ফ্রি ভার্সনের সঙ্গে আর কোনো ব্যবধান ছিল না।

মিরপুরে নিরাপদ পুঁজি কত— উত্তর জানা নেই মিরাজের

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ৩৪ রানে। তবে ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাউকেই এগিয়ে রাখার উপায় নেই। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও জানালেন, ভারসাম্য চলছে দুই দলের লড়াইয়ে। আর এই উইকেটে জয়ের জন্য কত রান নিরাপদ হবে তা জানা না থাকলেও একটা ধারণা দিলেন তিনি।

শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান তোলার পর পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস থামে ৩৮৬ রানের। ফলে ২৭ রানের লিড মেলে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। তারা রোববারের খেলা শেষ করেছে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে।

বারবার ম্যাচের লাগাম বদল হচ্ছে। প্রথম দিনে বাংলাদেশ দাপট দেখালেও দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়িয়ে ছড়ি ঘোরায় সফরকারীরা। তৃতীয় দিনে আবার আধিপত্য দেখিয়েছে স্বাগতিকরা। সেখানে মূল কৃতিত্ব অফ স্পিনার মিরাজের। জ্বলে উঠে ১০২ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। টেস্টে এটি তার ১৪তম ৫ উইকেট দখলের নজির।

এই টেস্টের বর্তমান অবস্থাকে সমানে সমান হিসেবে দেখছেন মিরাজ। তার মতে, লিড খুব বেশি বড় না হওয়ায় বড় দায়িত্বটা রয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের কাঁধে। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এখনও দুই দিন বাকি আছে। ফল… এখনও ফিফটি ফিফটি পরিস্থিতিতে আছে। কারণ, আমরা অনেক বেশি লিড পাইনি এবং অবশ্যই দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে আমাদের। কেউ জানে না… মিরপুরে কত রান নিরাপদ, এটা আপনি বলতে পারবেন না। তবে ন্যূনতম যেন একটা রান করতে পারি, যেটা আমরা বোলাররা ডিফেন্ড করতে পারবে।’

পরে অবশ্য তিনি জানান, পাকিস্তানকে কত রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিতে চায় বাংলাদেশ, ‘তো আমার কাছে মনে হয় যে, প্রায় ২৯০ বা ৩০০ রান একটা ভালো স্কোর হতে পারে এই উইকেটে। কারণ, চার-পাঁচ নম্বর দিনে অনেক কঠিন হবে ব্যাট করা। তবে প্রত্যেকটা ব্যাটারের এই দায়িত্বটা নিয়ে খেলতে হবে।’

মিরাজের পর্যবেক্ষণ হলো, প্রথম তিন দিনে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে তা বদলাতে শুরু করবে। তাই শেষ দুই দিনে ব্যাটারদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, ‘আমার কাছে মনে হয়, তিনটা দিন ভালো উইকেট ছিল এবং খুবই ভালো উইকেট। এখনও উইকেট ভালো আছে। তবে চার-পাঁচ নম্বর দিনে তো একটু কঠিন হবেই। কারণ, একটা উইকেটে টানা খেলা হচ্ছে, দুই ইনিংস হয়েছে। তো ওইটুক দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটারদের খেলতে হবে।’

আর দুই দিন বাকি থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ চড়া। মিরাজের দৃষ্টিতে, ‘টেস্ট ক্রিকেটের এটাই সৌন্দর্য। অনেক সময় আমরা ভালো করব, অনেক সময় খারাপ করব। আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকেই। দেখুন, আমরা একটা সময় ব্যাটিংয়ে অনেক ভালো করছিলাম। আবার আমাদের দ্রুত উইকেট পড়ে গিয়েছে। ওরা কিন্তু ১ উইকেটে ২০০ রান করেছে। তারপর ২০ রানের ভেতর ৪ উইকেট পড়ে গেছে। আবার ওরা জুটি গড়েছে।’

সরবরাহ ব্যবস্থাকে এআই মডেলের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছি: বাণিজ্যমন্ত্রী

সারাদেশে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সহায়তা চেয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিসিদের কাছে একটি বিষয় অনুরোধ করেছি, আগামী দিনে তারা যেন বাজারে তদারকি বাড়ান এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে এই কাজগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে পারে সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’

আজ সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে উৎপাদক পর্যায় ও খুচরা দামের মধ্যে পার্থক্যটা বেশ উল্লেখযোগ্য।

গত ৫০–৫৫ বছরে বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি এআইভিত্তিক মডেলের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি মডেল তৈরি করছি, যার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করতে পারব।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব পণ্যের জন্য বাংলাদেশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোর জন্য কৌশলগত মজুত গড়ে তুলতে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা নেই। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যাতে কয়েকজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে থাকতে না হয়।’

‘রাজনৈতিক সিন্ডিকেটে’ই জ্বালানি সংকট: বিরোধীদলীয় নেতা

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ সংকটের পেছনে দেশে সক্রিয় ‘রাজনৈতিক সিন্ডিকেট’কেও দায়ী করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। 

তার অভিযোগ, জ্বালানি খাতসহ বড় সব সিন্ডিকেশনের পেছনে রয়েছে শাসক দলের প্রভাব—যা অতীতেও ছিল, এখনো আছে।

আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।

দেশের জ্বালানি খাতে ‘হাহাকার’ চলছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যত বড় সিন্ডিকেশন, তার পেছনে রুলিং পার্টিরই হাত থাকে। পরিবর্তন হয়নি।’ 

তার কথায়, সংসদে সরকারি দলের বক্তব্যে মনে হয় দেশ তেলে ভাসছে, অথচ বাস্তবে সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছে না। 

‘তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই’—এই মন্তব্যও করেন তিনি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত বাফার স্টক গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চাহিদা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। তার প্রস্তাব, অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা এবং সিন্ডিকেট ভেঙে বিকল্প জ্বালানি—বিশেষ করে সোলার ও অন্যান্য উৎস বিস্তারে জোর দেওয়া প্রয়োজন।

সংসদীয় কার্যক্রম নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়নই সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল কথা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন কম। সব আশা বিফলে যায়নি, কিন্তু এখনো জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ডেলিভারি আসেনি।’

দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘গোটা সমাজ এখন গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ে চলছে। ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে প্রকৃত নগদ না থাকলেও খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে—এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।’ 

মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘পলিটোক্রেটিক নয়, মেরিটোক্রেটিক সোসাইটি দরকার।’

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। অভিযোগ করেন, সেখানে ‘বিসিবির মতো ক্যু’র চেষ্টা চলছে। তার প্রশ্ন, মেধাভিত্তিক একটি সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে?

কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন, ‘কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’ জ্বালানি সংকটে সেচ ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, কৃষির বিপর্যয় মানেই জাতির বিপর্যয়—যা কোনো বিদেশি সহায়তায়ও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে চলা হলে আমরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়াব।’

সিনেপ্লেক্সের পর এবার অন্যান্য সিনেমা হলেও ‘রাক্ষস’

ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘রাক্ষস’ সিনেমাটি মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে মুক্তি পাওয়ার পর এবার দেশের অন্যান্য সিঙ্গেল স্ক্রিনেও মুক্তি পাচ্ছে। 

বাণিজ্যিক ঘরানার এই রোমান্টিক থ্রিলার নির্মাণ করেছেন মেহেদি হাসান হৃদয়। এর আগে তিনি ‘বরবাদ’ নির্মাণ করে আলোচনায় এসেছিলেন।

ঈদের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন ঘোষণা দিয়েছে আজ ৩ এপ্রিল (শুক্রবার) থেকে দেশের বিভিন্ন সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে ‘রাক্ষস’। 

ইতোমধ্যে বিভাগীয় ও জেলা শহরের  বিশের বেশি প্রেক্ষাগৃহে  সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে।

সিনেমাটির প্রযোজক শাহরীন আক্তার সুমি বলেন, ‘দর্শকদের অনেক অনুরোধ ছিল—কবে সিঙ্গেল স্ক্রিনে রাক্ষস আসবে। তাদের জন্য সুখবর, এবার মাল্টিপ্লেক্সের পাশাপাশি সিঙ্গেল স্ক্রিনেও সিনেমাটি উপভোগ করা যাবে। প্রথম ধাপে বিশের বেশি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে, পরবর্তী সপ্তাহে শতাধিক হলে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।’

 

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গেল দুই সপ্তাহ তো আমরা প্রিন্স চালিয়েছি। আজ শুক্রবার থেকে রাক্ষস চালাব। সিনেমাটির প্রশংসা শুনেছি। সিঙ্গেল স্ক্রিনের দর্শকদের পছন্দের সব উপাদান এতে রয়েছে। আশা করছি ভালো সাড়া মিলবে।’

সিনেমাটিতে সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সুষ্মিতা চ্যাটার্জি। 

এছাড়া রয়েছেন আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরও অনেকে। 

বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া।  

ইরানে মার্কিন হামলা হলে হস্তক্ষেপ করবে না হিজবুল্লাহ

সমর্থক দেশ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ‘সীমিত’ হামলা চালালে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বুধবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে হিজবুল্লার এক শীর্ষ নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে তিনি জানানা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে কোনো হামলাকে তারা ‘লাল রেখা’ বিবেচনা করবে।

ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিলে হিজবুল্লাহ জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে লেবানন কর্তৃপক্ষের।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে অতিরিক্ত কর্মী প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দূতাবাস সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ভূমধ্যসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।

বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে দুই দেশের মধ্যে তৃতীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থগিত থাকা ভিসা চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থগিত থাকা ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করতে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন।

আজ শুক্রবার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভিসা জটিলতা নিয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থগিত থাকা ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত পুনরায় চালু করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সমমর্যাদার। সব দেশের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে, বন্ধুত্ব থাকবে, কিন্তু সেটা হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে।’

‘অবশ্যই বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে এক নম্বর গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি হবে,’ যোগ করেন তিনি।

‎শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্থিতিশীল ও সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা।’

গরু নিয়ে গল্প: রাজনীতি ও মানুষের প্রতিচ্ছবি

বাংলায় গরু শুধু একটি প্রাণী নয়; এটি বহু দিন ধরেই অর্থনীতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও রাজনীতির জটিল সমীকরণের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে গরুকে ঘিরে যে বিতর্ক, বিভাজন ও রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা যাচ্ছে, তার শিকড় কিন্তু নতুন নয়। শতবর্ষ আগেও এই উপমহাদেশে গরুকে কেন্দ্র করে নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন ছিল। সেই বাস্তবতা বহু লেখকের রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বনফুল, আবুল মনসুর আহমদ এবং হুমায়ূন আহমেদের লেখায় গরু কখনো দরিদ্র মানুষের শেষ সম্বল, কখনো ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যঙ্গাত্মক রূপ, আবার কখনো মানুষের সীমাহীন ভোগ ও লোভের নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। এই চারজন লেখকের চারটি ভিন্নধর্মী রচনা আজকের সময়েও প্রাসঙ্গিক।

বাংলা সাহিত্যে গরুকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী গল্প নিঃসন্দেহে ‘মহেশ’। এটি কেবল একটি গরুর গল্প নয়; এটি বাংলার দরিদ্র কৃষকজীবনের করুণ বাস্তবতার এক অনন্য দলিল। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে দরিদ্র মুসলমান কৃষক গফুর এবং তার গরু মহেশ। মহেশ এখানে শুধু একটি পশু নয়; গফুরের জীবনের একমাত্র অবলম্বন, সঙ্গী এবং অস্তিত্বের অংশ।

ভয়াবহ খরা, দারিদ্র্য ও সামাজিক অবহেলায় যখন গফুর অসহায় হয়ে পড়ে, তখন মহেশের দুর্দশাও সমানভাবে সামনে আসে। গফুর নিজের ক্ষুধা সহ্য করতে পারে, কিন্তু মহেশের ক্ষুধা তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। শরৎচন্দ্র এখানে মানুষের সঙ্গে প্রাণীর সম্পর্ককে এমন এক মানবিক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে গরুটি আর নিছক গৃহপালিত প্রাণী থাকে না; হয়ে ওঠে জীবনের অংশ।

‘মহেশ’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাংলার কৃষিজীবনে গরু ছিল কেবল সম্পদ নয়, আবেগ ও বেঁচে থাকার অবলম্বন। আজ যখন গরুকে ঘিরে ধর্মীয় উত্তেজনা বা রাজনৈতিক স্লোগান বেশি শোনা যায়, তখন এই গল্পটি মনে করিয়ে দেয়—গরুর সঙ্গে বাংলার মানুষের সম্পর্ক মূলত শ্রম, মমতা ও সহাবস্থানের সম্পর্ক।

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ‘গরুর রচনা’ বাংলা সাহিত্যে এক ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা। বনফুলের লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য তার সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ ব্যঞ্জনা। সামান্য ঘটনার মধ্যেও তিনি সমাজের গভীর মনস্তত্ত্ব ধরতে পারতেন।

এই রচনায় গরুকে কেন্দ্র করে মানুষের সামাজিক আচরণ, ভণ্ডামি ও কৃত্রিমতা একধরনের সূক্ষ্ম ব্যঙ্গের ভেতর দিয়ে উঠে এসেছে। বনফুল দেখিয়েছেন, মানুষ প্রায়ই গরুকে নিয়ে অতিরিক্ত আবেগ দেখালেও সেই আবেগের ভেতরে থাকে সামাজিক স্বার্থ, ভান কিংবা আত্মপ্রদর্শনের প্রবণতা। তার লেখায় গরু কখনো প্রাণী নয়; বরং মানুষের মানসিকতার আয়না।

বনফুলের পর্যবেক্ষণ আজও বিস্ময় জাগায়। কারণ, সমাজ বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু মানুষের দ্বৈততা খুব বেশি বদলায়নি। এখনো আমরা দেখি, গরুকে ঘিরে অনেক আবেগ, অনেক বক্তব্য, কিন্তু সেই আবেগের ভেতরে প্রকৃত মানবিকতা কতটুকু সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

অন্যদিকে আবুল মনসুর আহমদের ‘গো-দেওতা কা দেশ’ বাংলা সাহিত্যে গরুকে কেন্দ্র করে রচিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যঙ্গরচনা। তার বিখ্যাত ব্যঙ্গগ্রন্থ ‘আয়না’-এর অন্তর্ভুক্ত এই গল্পে লেখক দেখিয়েছেন, কীভাবে গরুকে ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ার বানানো হয়।

আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন অসাধারণ পর্যবেক্ষক। তিনি বুঝেছিলেন, উপমহাদেশে গরু কেবল ধর্মীয় অনুভূতির বিষয় নয়; এটি ক্ষমতা, বিভাজন ও রাজনৈতিক আধিপত্যেরও একটি উপকরণ। ‘গো-দেওতা কা দেশ’-এ সেই বাস্তবতাই তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের মাধ্যমে উঠে এসেছে। গল্পটি পড়লে বোঝা যায়, মানুষ কখনো কখনো একটি প্রাণীর প্রতি মমতার চেয়ে তাকে কেন্দ্র করে নিজেদের ক্ষমতার প্রদর্শনেই বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

আজকের দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতায় এই গল্প নতুন করে পাঠের দাবি রাখে। কারণ এখনো গরুকে ঘিরে সহিংসতা, বিভাজন ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। আবুল মনসুর আহমদের ব্যঙ্গ যেন সময় পেরিয়েও একইভাবে সত্য থেকে গেছে।

বাংলা সাহিত্যে গরুকে ঘিরে আরেকটি ভিন্ন মাত্রার গল্প হলো হুমায়ূন আহমেদের ‘খাদক’। গল্পটির মূল চরিত্র মতি মিয়া—একজন কিংবদন্তিতুল্য খাদক। তিনি বাজি ধরে এক বসায় একটি আস্ত রান্না করা গরুর মাংস খাওয়ার চ্যালেঞ্জ নেন।

এটি সরাসরি গরুর জীবন নিয়ে লেখা গল্প নয়, কিন্তু মানুষের ভোগবাদী মানসিকতা ও সীমাহীন লোভের এক নির্মম প্রতীকী উপস্থাপন। হুমায়ূন আহমেদ তার স্বভাবসুলভ সহজ অথচ গভীর ভাষায় দেখিয়েছেন, মানুষ কখনো কখনো নিজের সীমা ভুলে গিয়ে ভোগের উন্মাদনায় ডুবে যায়। গল্পটি হাস্যরসের আবরণে লেখা হলেও এর ভেতরে গভীর ট্র্যাজেডি রয়েছে।

‘খাদক’-এ গরু খাদ্য ও প্রতিযোগিতার বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রাণীটির প্রতি কোনো আবেগ নেই; বরং মানুষের অহংকার ও প্রদর্শনেচ্ছাই প্রধান হয়ে উঠেছে। ফলে গল্পটি আধুনিক ভোগবাদী সমাজের এক তীব্র সমালোচনাও বটে। আজকের ভোগপ্রধান সমাজে দাঁড়িয়ে গল্পটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়।

এই চারটি রচনার দিকে একসঙ্গে তাকালে দেখা যায়, বাংলা সাহিত্যে গরু কখনোই একমাত্রিক প্রতীক নয়। শরৎচন্দ্রের কাছে এটি দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার সঙ্গী, বনফুলের কাছে সামাজিক ব্যঙ্গের উপাদান, আবুল মনসুর আহমদের কাছে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বাস্তবতার প্রতীক, আর হুমায়ূন আহমেদের কাছে মানুষের সীমাহীন ভোগের অনুষঙ্গ।

এই প্রসঙ্গে উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যশিল্পী মীর মশাররফ হোসেনের ‘গো-জীবন’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৮৮৯ সালে রচিত এই প্রবন্ধটি উপমহাদেশে গরুকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছিল। মীর মশাররফ হোসেন চেয়েছিলেন হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতি বজায় থাকুক এবং গরু কোরবানি নিয়ে বিরোধ কমে আসুক।

তার এই রচনার কারণে সে সময় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি গরুকে ঘিরে সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মানের কথাই বলেছিলেন। আজকের সময়েও তার বক্তব্য আশ্চর্য রকম প্রাসঙ্গিক। কারণ, সমাজে বিভাজনের রাজনীতি যত বাড়ছে, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তত কমছে।

বাংলা সাহিত্যের এই রচনাগুলো আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের সামনে দাঁড় করায়—গরুকে ঘিরে আলোচনা কেবল ধর্মীয় বা অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি মানুষের সভ্যতা, সহানুভূতি, রাজনীতি ও নৈতিকতারও প্রতিফলন। সাহিত্যের লেখকেরা গরুর ভেতর দিয়ে আসলে মানুষের মুখই দেখেছেন—কখনো করুণ, কখনো নির্মম, কখনো বিভ্রান্ত, কখনো সহানুভূতিশীল।

তাই শরৎচন্দ্র, বনফুল, আবুল মনসুর আহমদ, হুমায়ূন আহমেদ ও মীর মশাররফ হোসেনকে নতুনভাবে পড়া জরুরি। তাদের লেখায় গরুর গল্প আসলে মানুষের সমাজ, রাজনীতি ও মানবিকতার গল্প। গরুকে ঘিরে অহেতুক উত্তেজনা বা বিভাজনের বদলে মানুষের জীবন, কৃষকের বাস্তবতা এবং সমাজের সহমর্মিতার দিকগুলো নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। কারণ, শেষ পর্যন্ত গরুকে কেন্দ্র করে যে রাজনীতি তৈরি হয়, তার ভারও বহন করতে হয় মানুষকেই।