28.9 C
Dhaka
Home Blog

কলাগাছের মিনার, বুনোফুলে শ্রদ্ধা

খুলনার ডুমুরিয়ার লাইন বিল পাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থাপিত হয়েছিল ১৯৪৫ সালে। স্কুলটিতে কোনো শহীদ মিনার নেই।

প্রতিবছর ভাষা দিবস আসে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা কলাগাছ সংগ্রহ করে। গুটি গুটি হাতে শহীদ মিনার বানায়। রঙিন কাগজে মুড়িয়ে দেয়।

ভোরের আলো ফোটার আগেই খালি পায়ে স্কুলে ছোটে। পরম মমতায় বিছিয়ে দেয় বুনোফুল। হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা জানায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

ছবিগুলো তুলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী হাবিবুর রহমান।

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলে কি কার্যকর হবে?

বিষয়টি আর কেবল ধারণার পর্যায়ে নেই। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কার্যকর হওয়া বিশ্বের প্রথম বিধিনিষেধের পর এবার যুক্তরাজ্যও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

উভয় দেশের যুক্তি একই—শিশুরা যেন কম সময় স্ক্রল করে, অনলাইনে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কম যোগাযোগ করে এবং ক্ষতিকর প্রভাব বাড়াতে পারে এমন অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্টের প্রভাব থেকে দূরে থাকে।

বাংলাদেশে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিতর্ক ইতোমধ্যেই অভিভাবকের পরামর্শের গণ্ডি ছাড়িয়ে আইনি আলোচনায় পৌঁছেছে। মে মাসে একটি আইনি নোটিশে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, শিশু ও কিশোররা ক্রমবর্ধমানভাবে এসব প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার করছে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছে।

এই উদ্বেগ এমন এক নগরীতে সামনে এসেছে, যা আগে থেকেই নানা চাপের মধ্যে রয়েছে। আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ৮৩ শতাংশ স্কুলশিক্ষার্থী প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনে কাটায় এবং গড় ব্যবহার সময় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা।

একই প্রতিবেদনে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে কম ঘুম, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, স্থূলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের সম্পর্কও তুলে ধরা হয়েছে।

সরকার চিন্তিত কি না, তা নিয়ে আসল প্রশ্ন নয়। বড় প্রশ্ন হলো, যেসব দেশে শিশুদের ডিজিটাল জীবন গোছানো নয় আর অফলাইন জীবনেও তাদের প্রয়োজন মেটে না, সেখানে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসলে কাজ করবে কি না? এই পরীক্ষার সবচেয়ে কঠিন জায়গাগুলোর একটি হবে বাংলাদেশ।

যুক্তরাজ্যের নতুন নীতিটি ব্যতিক্রমধর্মীভাবে বিস্তৃত। সরকারের ভাষ্য, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং এক্সের মতো প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলো।

কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগনালের মতো মেসেজিং অ্যাপগুলো এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবে। বয়সভিত্তিক সীমারেখা ছাড়াও এই পরিকল্পনায় লাইভস্ট্রিমিং এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো সুবিধাগুলোকেও প্রশ্ন করা হয়েছে।

পাশাপাশি সরকার বলছে, কেউ যাতে নিয়ম এড়িয়ে যেতে না পারে, তাই আরও কার্যকর বয়স যাচাই পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ‘শিশুদের শৈশব ফিরিয়ে দেওয়া।’

এই নীতির রাজনৈতিক যুক্তি স্পষ্ট। যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, প্রতি ১০ জন অভিভাবকের মধ্যে ৯ জন এই পরিবর্তনের পক্ষে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে যে আইন যথেষ্ট কঠোর হলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা যায়।

রয়টার্স জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞার ফলে শুধু প্রথম মাসেই ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। দুই মাস পরও প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অস্ট্রেলীয় কিশোর-কিশোরী টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করছিল। এটি মনে করিয়ে দেয় যে বয়সভিত্তিক বাধা আচরণকে কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি বদলে দিতে পারে না।

এ কারণেই বিশ্বের অনেক সরকার অস্ট্রেলিয়াকে একটি পরীক্ষামূলক উদাহরণ হিসেবে দেখছে।

ফ্রান্স ও ডেনমার্কের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো একই ধরনের বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ চালু করেছে বা বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে জার্মানি ও ইতালি নির্দিষ্ট বয়সসীমার ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতির ওপর নির্ভর করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ‘ডিউটি অব কেয়ার’ বা দায়িত্বশীলতা-ভিত্তিক আইনের দিকে এগোচ্ছে।

অথচ বড় বড় প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো বয়স যাচাই কার্যকর করতে হিমশিম খাচ্ছে। যদিও তাদের নিজস্ব নীতিমালায় সাধারণত ব্যবহারকারীর ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর নির্ধারণ করা আছে।

এসব পদক্ষেপের পক্ষে যে কোনো সরল গবেষণালব্ধ তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে এসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটায়, তাদের কিশোর বয়সে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ঘুমের ব্যাঘাতকে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অ্যালগরিদমনির্ভর ফিড ব্যবহারকারীদের বিপজ্জনক, মানসিকভাবে অস্বস্তিকর বা অতিমাত্রায় আকর্ষণীয় কনটেন্টের সংস্পর্শও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মনের বন্ধুর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী তৌহিদা শিরোপা মনে করেন, হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া আবেগগতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, বাড়িতে ব্যবহার বন্ধ করে দিলে শিশুরা অন্য কোনো পথ খুঁজে নেবে। যে শিশু আগে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করত, হঠাৎ সেটি হারালে তার আচরণ ও মানসিক অবস্থায় এর প্রভাব পড়বে। কঠোরভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না।

শিরোপার বৃহত্তর বক্তব্যটি হলো বাধা দেওয়া নিয়ে।

তার মতে, যখন সহপাঠীরা একই অ্যাপ বা অনলাইন প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করে, তখন যেসব শিশুকে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না, তারা নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করতে পারে। এই বৈষম্য স্পষ্ট—কিছু শিশু আলোচনার ভেতরে থাকে, কিছু থাকে বাইরে। আর যারা বাইরে থাকে, তারা মনে করে বন্ধুদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। নিষেধাজ্ঞা শুধু বিধিনিষেধই তৈরি করে না, সামাজিক দূরত্বও সৃষ্টি করতে পারে। একটি শিশুর জীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। অনেক সময় এটি তার কোনো দলের অংশ হওয়ার মাপকাঠি।

তাছাড়া প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষের শহর ঢাকায় ৩০০টিও খেলার মাঠ নেই। তাই এই স্ক্রিননির্ভর জীবনধারা গড়ে উঠেছে।

শিরোপার আক্ষেপ, ‘যাওয়ার মতো কোনো জায়গাই নেই।’

তিনি আরও বলেন, শিশুরা ঘরেও নিরাপদ নয়, বাইরেও নয়। ঢাকার মতো শহরে, যেখানে অনেক শিশুর জীবন স্কুল, বাসা, কোচিং আর যানজটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সেখানে উন্মুক্ত পার্ক, পরিকল্পিত খেলাধুলা বা নিরাপদ জনপরিসরে প্রবেশাধিকার খুবই সীমিত।

শিরোপার ভাষ্য, বাস্তব জগতের এই সংকীর্ণতার কারণেই ডিজিটাল জগত একটি চাপমুক্তির জায়গায় পরিণত হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি না করে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে সেই শক্তি বা আগ্রহ হারিয়ে যায় না, বরং অন্য কোথাও সরে যায়।

উদ্বেগের বিষয় এই নয় যে, শিশুদের সীমাহীন প্রবেশাধিকার থাকা উচিত। বরং সীমাবদ্ধতাগুলো হওয়া উচিত ধীরে ধীরে, দৃশ্যমানভাবে এবং সম্পর্কের অংশ হিসেবে। শিরোপা হঠাৎ করে পুরো প্রবেশাধিকার বন্ধ না করে সময়সীমা নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

তার মতে, একবারে সবকিছু হারালে শিশুর মধ্যে আরও তীব্রভাবে বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, রাতারাতি বাতিল না করে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত। এটি যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় গড়ে ওঠা ভিন্ন একটি দর্শন, যা আকস্মিক নিয়ন্ত্রণের আবেগগত মূল্যকেও গুরুত্ব দেয়।

আরও একটি বিষয় হলো, শিশুরা অনলাইন জগতকে নিজস্বভাবে কল্পনা করে। তারা সব সময় বুঝতে পারে না যে তারা যা দেখছে, তা আংশিক বা বিকৃত বাস্তবতা হতে পারে। বরং তারা সেটিকে কেন্দ্র করে নিজেদের এক ধরনের কল্পিত জগৎ গড়ে তোলে। সহিংস বা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী কনটেন্ট সেই জগৎকে বদলে দিতে পারে। কারণ ছোট বয়সী শিশুদের মধ্যে এখনো সঠিক ও ভুলের পার্থক্য নির্ধারণের পরিপক্ব বিচারবোধ তৈরি হয় না।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিতে হবে।

স্ট্র্যাটেজেমের প্রিন্সিপাল আবু নাজাম এম তানভীর হোসেন বয়সসীমা নির্ধারণের ধারণার প্রতি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল। তবে তিনি শুরুতেই বাস্তবায়নের বড় বাধার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এসব প্ল্যাটফর্মে বয়স যাচাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ শুধু সিম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে না। কারণ শিশুরা প্রায়ই তাদের বাবা-মায়ের ডিভাইস ও পারিবারিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে।

তিনি আরও বলেন, বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র আপলোডের বদলে গোপনীয়তা-সুরক্ষিত বয়স যাচাই, অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ এবং প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত করা আরও ভালো পথ হতে পারে।

হোসেন বলেন, শেয়ার করা ডিভাইস, পারিবারিক অ্যাকাউন্ট এবং ভুয়া বা বট অ্যাকাউন্টের উপস্থিতি আসলে কে একটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।

তিনি উল্লেখ করেন, শিশুরা অ্যাকাউন্ট নিজে খুলতে বা কিনতে পারে, অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারে বা বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে সহজেই স্থানান্তরিত হতে পারে। ফলে কোনো প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছরের একজন ব্যবহারকারীকে ব্লক চাইলে তার বয়স কীভাবে নিশ্চিত করবে? জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে? নাকি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে? কোনো পদ্ধতিই শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয় এবং দুটিই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

তাছাড়া, নিষেধাজ্ঞা প্রায়ই ব্যবহারকারীদের অন্য প্ল্যাটফর্মে ঠেলে দেয়। অনেক শিশু-কিশোর সম্ভবত ভিপিএন, বিকল্প অ্যাপ বা কম নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে চলে যাবে, যা ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। কারণ এসব প্ল্যাটফর্মে সাধারণত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা অভিভাবকদের নজরদারিও কম থাকে। বাংলাদেশের জন্য এই সতর্কবার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি ইতোমধ্যেই দেখেছে ব্যাপক ডিজিটাল বিধিনিষেধের কী ধরনের প্রভাব হতে পারে।

হোসেন আরও বলেন, সার্বিক নিষেধাজ্ঞা ডিজিটাল লিটারেসি ও কনটেন্ট নির্মাতাভিত্তিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কারণ বাংলাদেশের অনেক তরুণ ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহার করে দক্ষতা অর্জন, দর্শকগোষ্ঠী তৈরি, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা এবং আয় করে থাকে। এ কারণেই সম্পূর্ণ বঞ্চনার বদলে নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশুদের শুধু চুপ করিয়ে রাখার জন্য ফোন দেওয়া উচিত নয়। বরং তাদের সঠিক ব্যবহার শেখানো এবং বয়সোপযোগী কনটেন্টের সুযোগ দেওয়া উচিত।

কনটেন্ট-সংক্রান্ত এই সমস্যাটিই মূল বিষয়। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে শিশুদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও উপযোগী কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহিত করতে হবে। কারণ শিশুরা চিরকাল শিশু থাকে না। তাদের আগ্রহ ও প্রয়োজন প্রতিটি বয়সপর্বে ভিন্নভাবে পূরণ করতে হয়।

হোসেনের ভাষ্য, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত শিশুবান্ধব কনটেন্টের অভাব রয়েছে। সবকিছুর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার বদলে আমাদের একটি বিশেষায়িত টাস্কফোর্স গঠন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তদারকির আওতায় ডিভাইস ব্যবহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো স্বাভাবিকভাবে নিরাপদ নয়। তবে যদি এই ব্যবস্থার ভেতরেই শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিকল্প তৈরি না করা যায়, তাহলে তারা ঝুঁকিপূর্ণ দিকেই ঝুঁকে পড়বে।

বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্ন এটাই। কড়া নিষেধাজ্ঞা শুনতে ভালো লাগতে পারে। প্রথম দিকে মানুষও এটি পছন্দ করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা ভিন্ন। এখানে একটা ফোন অনেকে মিলে ব্যবহার করে। পরিবারের সবাই একই অ্যাকাউন্টে লগইন করে। বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা ভালো নয়, খেলার মাঠ কম ও সব বাবা-মা সমানভাবে সন্তানের দিকে খেয়াল রাখতে পারেন না। আর এখানে অনেক তরুণ আছে, যারা অনলাইনেই শেখে, আয় করে ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।

এই কারণে যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ম এখানে সরাসরি চালু করলে তা কাজ করবে না। যুক্তরাজ্যে এই নিয়ম চলছে, কারণ তাদের আছে ভালো বাস্তবায়ন ব্যবস্থা এবং অনলাইন সুরক্ষার মজবুত কাঠামো। বাংলাদেশকে আগে এই কাঠামো তৈরি করতে হবে। নিয়ম চালু করার আগে এটি জরুরি।

তাই সবচেয়ে সত্যি উত্তর হলো—এটা একদম ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়। আসল কথা হলো, নিষেধাজ্ঞা কিছু ক্ষতি কমাতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে না। শিশুরা নিজেদের একা মনে করবে। তারা অন্য পথ খুঁজবে। আর সেই পথ খুঁজতে গিয়ে তারা ইন্টারনেটের আরও খারাপ ও কম নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার পেছনের কারণ বোঝা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা বলছে, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই সমস্যা মিটবে না।

যেসব দেশ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করেছে:

এছাড়া ফ্রান্স, ডেনমার্ক, গ্রিস, নরওয়ে, জার্মানি ও স্পেনসহ ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে আসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ বা বিবেচনা করছে।

দুইবার এগিয়েও চীনের কাছে হার বাংলাদেশের

দারুণ শুরু করেও শেষ পর্যন্ত হতাশা সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। ম্যাচে দুইবার এগিয়ে থেকেও সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ হকি দল। ফলে পুরুষদের অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় পুল ম্যাচে চীনের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জাপানের কাকামিগাহারায় অবস্থিত কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানোর পর দলের লক্ষ্য ছিল টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেওয়া।

ম্যাচের নবম মিনিটেই সেই লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। পেনাল্টি কর্নার থেকে সফলভাবে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মুন্না ইসলাম। প্রথম দুই কোয়ার্টারে সেই ব্যবধান ধরে রেখে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

তবে তৃতীয় কোয়ার্টার শুরু হতেই ম্যাচে ফিরে আসে চীন। ৩১তম মিনিটে জুয়ান বোলাং গোল করে সমতা ফেরান। এতে ম্যাচ নতুন করে জমে ওঠে।

চীনের সমতায় কিছুটা চাপে পড়লেও বাংলাদেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। ৪১তম মিনিটে ওপেন প্লে থেকে আকাশ তুহিন গোল করে আবারও লিড এনে দেন দলকে। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পরই ওপেন প্লে থেকে ঝাং ইউওয়েই গোল করে আবারও সমতায় ফেরান চীনকে।

ম্যাচের শেষ ভাগে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় চীনারা। সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় তারা। লিয়াও জিয়াঝেন জয়সূচক গোলটি করে চীনের জয় নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবিয়ে দেন।

মজার বিষয় হলো, গত আসরে এই চীনকেই ৫-২ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এবার সেই প্রতিশোধই যেন নিয়ে নিল পূর্ব এশিয়ার দলটি।

এই পরাজয়ের ফলে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ শেষে ‘বি’ পুলের চারটি দলেরই সমান তিন পয়েন্ট রয়েছে। ফলে শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য জয়ের বিকল্প প্রায় নেই। সেই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে সেমিফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে।

সোনালি ধান কালচে, হাওরের কৃষকের চোখে হতাশার ছায়া

মাথার ওপর বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার শঙ্কা আর নিচে কোমর সমান পানি—কোনো বাধাই আটকাতে পারেনি কৃষক আতিকুর রহমানকে। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল, যেভাবেই হোক আধাপাকা বোরো ফসল ঘরে তোলা।

এদিকে হাওরে বিরামহীন বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল উজানের ঢল। প্রকৃতির এই প্রতিকূলতার মাঝেই নিজের শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় মরিয়া লড়াই চালাচ্ছিলেন এই কৃষক।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার খয়রাকান্দা হাওরের এই কৃষক বহু চেষ্টার পর তার চার বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘার ধান রক্ষা করতে পেরেছেন। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় ধান শুকাতেও বিপাকে পড়তে হয় তাকে, ফলে ধানের রং নষ্ট হয়ে কালচে হয়ে গিয়েছে।

গত শনিবার স্থানীয় বড় বাজার ‘চামড়া ঘাটে’ তিনি ১০০ বস্তা বোরো ধান নিয়ে গেলে ক্রেতারা প্রতি মণের দাম হাঁকেন মাত্র ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

তার দাবি, চলতি মৌসুমে প্রতি মণ বোরো ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকারও বেশি।

আক্ষেপ করে এই কৃষক বলেন, “এই দামে ধান বিক্রি করলে তা দিয়ে কেবল নৌকা ভাড়া আর বস্তা নামানোর শ্রমিকের মজুরিটুকু উঠবে। আমার নিজের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এখন মনে হচ্ছে, ধান চাষ করাই আমার বড় ভুল ছিল।”

শুধু কিশোরগঞ্জ নয়, হাওরের সাত জেলাজুড়েই এখন একই চিত্র। ভেজা, আংশিক নষ্ট হওয়া কিংবা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া ধান নিয়ে কৃষকরা এক বাজার থেকে অন্য বাজারে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। কিন্তু ক্রেতা মিলছে না। আর যদি মেলে, তাতেও দাম বেশ কম।

অন্যদিকে সরকারও এই ধরনের ধান কিনছে না। যার কারণে কৃষকেরা উভয় সংকটে পড়ে এখন দিশেহারা।

এদিকে, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদকেরা অন্তত ৩০ জনেরও বেশি হাওর কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছে, যাদের মধ্যে ২৩ জনই জানিয়েছেন, তারা এই একই সংকটের মুখে পড়েছেন। কয়েকজন কৃষক জানান, তারা ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন এবং আশা ছিল ফসল কাটার পর তা শোধ করবেন।

নেত্রকোনার কৃষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি চেষ্টা করছি, অন্তত পোল্ট্রি ফিড (মুরগির খাদ্য) হিসেবেও যদি এই ধান বিক্রি করা যায়, যেন কিছু টাকা অন্তত উঠে আসে।” তার ১০০ কাঠা জমির বোরো ধানের প্রায় অর্ধেকই এবার পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

হাওরে বোরো ধানের ক্ষতি ২ দশমিক ৩০ লাখ টন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত অতিবৃষ্টি, বন্যা ও উজানের ঢলে দেশের সাতটি হাওর জেলায় প্রায় ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, হাওরের মোট ফসলি জমির ১১ দশমিক ০৫ শতাংশ বা ৫২ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এতে বোরো ধানের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩০ লাখ টন এবং প্রায় ২ দশমিক ৮৮ লাখ কৃষক এই ক্ষতির শিকার হয়েছেন, বলেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দেওয়া তথ্যমতে, এই সাত জেলায় মোট ৪ দশমিক ৫৫ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল।

ডিএইর প্রাথমিক হিসাব বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী বোরো চাষের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৫০ লাখ হেক্টরে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আবাদের এই হার ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে।

রং নষ্ট হয়ে যাওয়া ধান কিনছে না সরকার

গত ৩ মে থেকে হাওর অঞ্চলে সরকারি ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। তবে কিশোরগঞ্জের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, কৃষকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের বিবর্ণ বা ভেজা ধান গ্রহণ করা হচ্ছে না।

নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোয়াতাসিমুর রহমান জানান, ধান কেনার আগে সরকারি কর্মকর্তারা আর্দ্রতা ও বিশুদ্ধতার মানসহ মোট ১৪টি মাপকাঠি যাচাই করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নিরাপদ মজুতের স্বার্থেই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হওয়া ধান কেনা সম্ভব নয়। ভেজা বা পচা ধান গুদামে রাখলে তা নষ্ট হওয়া বা অঙ্কুরোদগমের ঝুঁকি থাকে, তাই নিয়মে শিথিলতার কোনো সুযোগ নেই।

সাতটি হাওর জেলায় এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ১০ শতাংশ এবং চালের ১৮ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কৃষক পরিবারকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রাথমিক তালিকাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে, যেন কেউ অন্যায্যভাবে বাদ না পড়ে বা অযোগ্য কেউ তালিকায় না আসে, বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন করেন, চলতি মাস থেকেই আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে এবং মে, জুন ও জুলাই মাসজুড়ে এটি চলবে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই উদ্যোগে মোট ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার নীতিগত সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে, যাতে কৃষকরা সরাসরি সরকারি ক্রয়মূল্য—প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকায়, তাদের ধান বিক্রি করতে পারেন।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের বিক্রয় সক্ষমতা ও সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থার চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমাতে কাজ চলছে এবং একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন আমাদের সিলেট প্রতিনিধি দোহা চৌধুরী]

শ্রীপুরে স্কুলের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে হট্টগোল, বিএনপির ৬ নেতা বহিষ্কার

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির ৬ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খাইরুল কবীর মণ্ডল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল মোতালেব বলেন, এ ধরনের কাজ দল কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে এমন হাঙ্গামা করা মোটেও ঠিক হয়নি।

বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীরা হলেন গাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার আউয়াল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. হাসমত আলী হাসু, সদস্য মো. আরমান আলী, মো. মাহবুব আলম ও মো. রফিকুল ইসলাম।

বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ এপ্রিল শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের ‘বাঁশবাড়ী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়’-এর বিদায় অনুষ্ঠানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শিক্ষকদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটান। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান চলছিল। লিখিত দাওয়াত না পেয়ে ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সদলবলে উপস্থিত হন। তারা সেখানে গিয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নেতাকর্মীরা প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। এই হট্টগোলের মধ্যে একপর্যায়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি নিয়ে গত ২০ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টারের অনলাইন সংস্করণে ‘স্কুলের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না করায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

মুক্তির আগেই অনলাইনে ফাঁস থালাপতি বিজয়ের সিনেমা, বক্সঅফিসে ক্ষতির আশঙ্কা

থালাপতি বিজয়ের সম্ভাব্য শেষ সিনেমা জন নায়গন সম্প্রতি বিভিন্ন কারণে আলোচনায় এসেছে। সবচেয়ে বড় কারণ হলো, সিনেমাটি বড় পর্দায় মুক্তির আগেই অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেছে।

পিঙ্কভিলার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সিনেমাটি আগে ৯ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে এটি মুক্তি পায়নি। এরপর ৯ এপ্রিল পুরো সিনেমাটি অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায় এবং সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর থালাপতি বিজয়ের ভক্তরা বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনেকেই মনে করছেন, এতে সিনেমাটির বক্স অফিসে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

কিছু ভক্ত সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, সিনেমাটি যত দ্রুত সম্ভব প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া উচিত, নইলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, পুরো সিনেমাটি এইচডি কোয়ালিটিতে ফাঁস হয়ে গেছে এবং এখন অনেকেই এটি শেয়ার করছে। দ্রুত কপিরাইট ব্যবস্থা নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। তাই দ্রুত সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া উচিত।

আরেকজন ভক্ত সবাইকে অনুরোধ করে বলেন, লিক হওয়া ভিডিও ডাউনলোড বা শেয়ার না করতে এবং সিনেমাটি হলে গিয়ে দেখার জন্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির বাজেট প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি রুপি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রযোজক ও সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) মধ্যে কিছু সমস্যার কারণে সিনেমার মুক্তি বিলম্বিত হয়।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এইচ বিনোদ এবং প্রযোজনা করেছেন ভেঙ্কট কে নারায়াণ। এতে থালাপতি বিজয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল, মামিথা বাইজু, প্রকাশ রাজ, প্রিয়ামনি প্রমুখ।

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা, কাবুল-কান্দাহারে পাকিস্তানের হামলা

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ কয়েকটি শহরে আজ শুক্রবার হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এরইমধ্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন।

গত রাতে এএফপির সাংবাদিকরা কাবুলে বিস্ফোরণ এবং মাথার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় কারো ক্ষতি হয়নি।

এর আগে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছিলেন আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তবে সেই পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ইসলামাবাদের নতুন এই অভিযানকে  বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীদের ওপর আফগান সেনাদের হামলার জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, কাবুল, পাকতিয়া প্রদেশ ও কান্দাহারে আফগান তালেবানের প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও লেখেন, আমাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এখন আমাদের আর তোমাদের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরো হলো।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৭০ জন নিহত হন। এর ফলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে এবং সেই থেকে সীমান্ত পারাপারও বন্ধ রয়েছে।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তান তাদের মাটিতে সক্রিয় সেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে যারা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে উভয় পক্ষ।

প্রবীণ সামরার সঙ্গেই কি হারিয়ে যাবে মৌলভীবাজারের সৌরা ভাষা?

নিজের মাতৃভাষা কি মানুষ ভুলে যেতে পারে? হারিয়ে ফেলতে পারে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়? কালের পরিক্রমায় এমনটাই ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে। বিলুপ্তির শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে আছে এখানকার স্থানীয় ‘সৌরা’ ভাষা। সৌরা ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারা একমাত্র ব্যক্তিটি গত ছয় মাস ধরে অসুস্থ। তিনি চলে গেলে হয়তো চিরতরে হারিয়ে যাবে একটি ভাষা, একটি জাতির পরিচয়।

চার বছর আগে দ্য ডেইলি স্টার সৌরা ভাষা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই সময় সামরা সৌরার বয়স ছিল ৮৫ বছর, এখন তিনি ৯০-এর কোঠায়। 

গত সোমবার মৌলভীবাজারের সেই সৌরা পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, সামরা সৌরা এখন খুব অসুস্থ। একা হাঁটতে পারেন না, শ্বাস নিচ্ছেন খুব জোরে জোরে। দু-তিনটি কথা বললেই হাঁপিয়ে পড়ছেন।

প্রতিবেদক কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। ক্ষীণ কণ্ঠে শুধু বললেন, ‘আমি মারা গেলে ভাষাটাও মারা যাবে। দয়া করে আমার মরার আগে আমার মায়ের ভাষাটা বাঁচানোর উদ্যোগ নেন। এই ভাষায় আমার পরিচয়।’

সৌরা সমাজের সচেতন ব্যক্তি আলকুমার সৌরা (৫৬) বলেন, ‘সামরা সৌরা একমাত্র ব্যক্তি যে আমাদের ভাষাতেই শুধু কথা বলতে পারতো। চা বাগানের অন্য দু-একটি ভাষা বুঝতে পারলেও সে সবার সাথে সৌরা ভাষাতেই কথা বলতো। সৌরা ভাষাভাষির তরুণ ছেলেমেয়েরা উচ্চারণ শুনে হাসাহাসি করলেও কেউ কেউ তার কারণে বলার চেষ্টাও করতো।’

সামরা সৌরাকে এই ভাষার ‘ওয়ান-ম্যান আর্মি’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তার সমবয়সী আমাদের সমাজে আর কেউ নেই। এমনকি তার মতো পুরোদমে কেউ বলতেও পারে না। ৭০ বছর বয়সের ওপরে সৌরা জাতিসত্ত্বার যারা বেঁচে আছেন, তারা কিছু শব্দ পারেন। কিন্তু সামরা সৌরার মতো কেউ বলতে পারেন না।’

তবে তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, ‘গত ১৫-২০ বছরে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষজন এসে শুধু সাক্ষাৎকার নিয়ে গেছেন, কিন্তু ভাষাটি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। আস্তে আস্তে আমাদের মায়ের মুখের ভাষাটা হারিয়ে যাচ্ছে।’

৭০ বছর বয়সী শ্রীধর সৌরা বলেন, ‘আমরা আমাদের মাতৃভাষা রক্ষার জন্য সরকারের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কিছুই করা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারের মধ্যে এই ভাষায় কেউ কথা বলতে পারে না। ফলে আমিও সৌরা ভাষার অনেক শব্দ ভুলে গেছি।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আইএসএলআই) যে ১৪টি ভাষাকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সৌরা তার মধ্যে একটি। বর্তমানে বাংলাদেশে মাত্র ১২০টি পরিবার এই ভাষায় কথা বলে, তার মধ্যে আবার বেশিরভাগই বয়স্ক সদস্য। 

অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা সৌরা ভারতের উড়িষ্যা, অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং বিহারেও পাওয়া যায়। এ ভাষার লিখিত রূপ আছে। অন্ধ্রপ্রদেশে সৌরা প্রাথমিক নামে একটি পাঠ্যপুস্তকও রয়েছে।

৭২ বছর বয়সী উমিলা সৌরা বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই বাংলা, ওড়িয়া ও সাদরি ভাষাতেই কথা বলেন। চা-বাগানে সৌরার থেকে ওড়িয়া ও সাদরি সম্প্রদায়ই বড়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাড়িতে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলি। আজকাল অনেকে এ ভাষাকে উড়িয়া বা জংলি ভাষার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন। তাই আমাদের বাংলা ভাষায় কথা বলতে হয়। সৌরা বললে মানুষজন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।’

তরুণ প্রজন্মের সাহান সৌরা জানায়, স্কুলে বা বন্ধুদের মাঝে সৌরা ভাষায় কথা বললে অন্যরা হাসাহাসি করে এবং একে ‘অপভাষা’ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। ফলে তারা লজ্জায় এই ভাষা বলতে চায় না।

সান্তনা সৌরা বলেন, ‘আমরা দাদুর কাছ থেকে কিছু শব্দ শুনেছি, কিন্তু ঠিকমতো বলতে পারি না। স্কুলে সবাই বাংলায় কথা বলে, তাই আমরাও বাংলাই বলি।’

তবে নিপা সৌরা এই ভাষায় আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘দাদু যখন এই ভাষা বলেন, তখন আমরা সবকিছু বুঝতে পারি না। কেউ যদি আমাদের ব্যাখ্যা করেন, তাহলে আমরা আরও আগ্রহী হব।’

গবেষক পরিমল বাড়াইক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন (২০১০) বাস্তবায়নের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানান। তিনি সমস্ত জাতিগত ভাষার সংরক্ষণ এবং লিখিত রূপের বিকাশের উপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যদিও এনজিওগুলো ক্ষুদ্র জাতিগত গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করে, ভাষা সংরক্ষণ প্রায়ই অবহেলিত হয়।’

আদিবাসী ভাষা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ভাষা সম্পদ কেন্দ্রের (এলআরএইচ) প্রধান এবং ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা দশকের (আইডিআইএল) গ্লোবাল টাস্কফোর্স সদস্য সমর এম. সরেন বলেন, ‘বাংলাদেশে সৌরা ভাষা, যা সাভারা নামেও পরিচিত এবং সিলেট ও ​​মৌলভীবাজারের চা বাগানে প্রধানত সাভারা সম্প্রদায়ের লোকেরা এই ভাষা ব্যবহার করে, তা বিলুপ্তির পথে।’

তরুণ প্রজন্ম সৌরা ভাষা শিখছে না বা ব্যবহার করছে না। মূলত বাংলার মতো প্রভাবশালী ভাষার প্রভাব এবং সম্প্রদায়ের আকার ছোট হওয়ার কারণে ভাষাটি চর্চা করা হচ্ছে না।

ডিজিটাল স্পেস, গণমাধ্যম বা শিক্ষায় এই ভাষার তেমন কোনো উপস্থিতি নেই। খুব সীমিত সাক্ষরতার উপকরণ এবং লিপি রয়েছে এবং কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই। যদিও এই ভাষার নিজস্ব সোরাং সোম্পেং লিপি রয়েছে, বাংলাদেশে লেখার জন্য বাংলা বেশি ব্যবহৃত হয়। 

সৌরা ভাষার পাশাপাশি এই ভাষার লোককাহিনী, আচার-অনুষ্ঠান, গান, গল্প এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুশীলনের মতো মূল্যবান ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানও চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ডকুমেন্টেশন, পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি, সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় না পেলে আগামী বছরগুলোতে সৌরা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক এ এফ এম জাকারিয়া বলেন, ‘পরিবার-ভিত্তিক অনুশীলনের মাধ্যমে একটি ভাষা টিকে থাকে। যখন এক প্রজন্ম অন্য প্রজন্মকে তা শেখায় না বা শেখাতে পারে না, তখন বিলুপ্তি অনিবার্য হয়ে ওঠে। কখনও কখনও ভাষাগুলো জোর করে নয়, বরং সামাজিক চাপ এবং হীনমন্যতার মাধ্যমে হারিয়ে যায়। এটি সাংস্কৃতিক সহিংসতার একটি নীরব রূপ।’

এই অধ্যাপক সামরা সৌরার মতো এই ভাষার শেষ বক্তাদের কাছ থেকে অডিও এবং ভিডিও ডকুমেন্টেশন সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

৬০ বছর বয়সী যামিনী সৌরা বলেন, ‘মাত্র দুজন প্রবীণ এই ভাষায় অনর্গল কথা বলতেন। একজন বহু বছর আগে মারা গেছেন। অন্যজন এখন কথা বলতেও কষ্ট পাচ্ছেন। মনে হচ্ছে যখন তিনি মারা যাবেন, তখন আমাদের ভাষাও তার সাথে মারা যাবে।’

 

 

 

ক্যানসার চিকিৎসা: সহানুভূতি নয়, দরকার কাঠামোগত পরিবর্তন

বাংলাদেশে ক্যানসার আজ শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যগত সংকট নয়, বরং গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। একটি পরিবারে কারো ক্যানসার ধরা পড়লে সেই পরিবার শুধু রোগীকে বাঁচানোর লড়াইয়ে নামে না, তারা লড়াই করে আর্থিক ধ্বংস, মানসিক বিপর্যয় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিরুদ্ধেও।

সম্প্রতি সরকার ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের জন্য বছরে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি মানবিক উদ্যোগ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই সহায়তা বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ?

ক্যানসার চিকিৎসার বাস্তব চিত্র অত্যন্ত কঠিন। একটি কেমোথেরাপির খরচ অনেক ক্ষেত্রেই লাখ টাকার বেশি হয়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ, যার প্রতিটিই ব্যয়বহুল। এ দেশের অধিকাংশ পরিবারের জন্যই সেই খরচ প্রায় অসহনীয়। ফলে এক লাখ টাকার সহায়তা নিঃসন্দেহে সহায়ক হলেও এটি সামগ্রিক সমস্যার অতি ক্ষুদ্র অংশই সমাধান করতে পারে।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, আমরা কি কেবল আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারব, নাকি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভেতরে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন?

বাংলাদেশের ক্যানসার চিকিৎসার কেন্দ্র হিসেবে মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নাম সবার আগে আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই হাসপাতালের সেবার মান, ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা দেশের বিপুল রোগীর চাহিদার তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

প্রতিদিন হাজারো রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন, যার বড় অংশই গ্রামাঞ্চলের। তাদের অনেককেই রাত ২টা বা তারও আগে এসে লাইনে দাঁড়াতে হয় শুধুমাত্র একটি টিকিট পাওয়ার জন্য।

এই দীর্ঘ লাইনের পেছনে রয়েছে সীমিত জনবল, অবকাঠামোগত ঘাটতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দালালচক্র, যারা রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফলে যে সরকারি হাসপাতাল হওয়ার কথা ছিল সাধারণ মানুষের শেষ ভরসা, সেটি অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠছে ভোগান্তির আরেক নাম।

যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তারা বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এতে একদিকে যেমন দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের ওপর মানুষ আস্থা হারাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে এখন সময় এসেছে বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে যাওয়ার।

প্রথমত, মহাখালীর ক্যানসার হাসপাতালকে আধুনিক, সুসংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তর করতে হবে। এখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে এবং কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে, যাতে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন না হয়।

দ্বিতীয়ত, ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসার খরচ কমানোর জন্য সরকারকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হবে। ডায়াগনস্টিক টেস্টগুলোর ওপর ভর্তুকি দেওয়া, বিদেশি ওষুধের ওপর শুল্ক কমানো এবং কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মতো চিকিৎসাকে সাশ্রয়ী করতে হবে।

তৃতীয়ত, ঢাকার বাইরে অন্তত বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরি। এতে রোগীদের রাজধানীতে আসার চাপ কমবে এবং চিকিৎসা খানিকটা সহজলভ্য হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যানসার চিকিৎসাকে সমন্বিত স্বাস্থ্যনীতি হিসেবে দেখতে হবে। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার সঙ্গেও জড়িত।

ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য সরকারের এক লাখ টাকার সহায়তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু এই সংকটের গভীরতা বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, আমাদের প্রয়োজন আরও বড় চিন্তা, আরও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ।

ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজন রোগী একা নয়, তার সঙ্গে লড়াই করে একটি পরিবার। সেই লড়াইয়ে রাষ্ট্র যদি শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তাহলেই এই লড়াই কিছুটা হলেও সহজ হবে।

মো. তরিকুল ইসলাম: কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

একই ক্লাবের ১০ জনকে নিয়ে চেক প্রজাতন্ত্রের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য একই ক্লাবের ১০ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে চেক প্রজাতন্ত্রের চূড়ান্ত স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। ইউরোপের দেশটির বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন স্লাভিয়া প্রাগ থেকেই সর্বোচ্চ সংখ্যক ফুটবলার সুযোগ পেয়েছেন।

রোববার চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ মিরোস্লাভ কৌবেক চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। সেখানে আছেন দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে খেলা ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার টমাস সৌচেক এবং বায়ার লেভারকুসেনের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিকের মতো তারকারা।

৭৪ বছর বয়সী এই কোচ দলে রেখেছেন স্পার্টা প্রাগের ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার হুগো সোকুরেককেও, যিনি মৌসুমের শেষভাগে নিজ ক্লাবের হয়ে দারুণ পারফর্ম করে নজর কেড়েছেন।

ফারো আইল্যান্ডসের বিপক্ষে বাছাইপর্বে অপ্রত্যাশিত হারের পর গত ডিসেম্বরে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন কৌবেক। এরপর তার অধীনে প্লে-অফ পেরিয়ে ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় চেক প্রজাতন্ত্র।

প্লে-অফে আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্কের বিপক্ষে জয়ে ভূমিকা রাখা খেলোয়াড়রাই স্কোয়াডের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের ডিফেন্ডার লাদিস্লাভ ক্রেইচি এবং অলিম্পিক লিওঁর মিডফিল্ডার পাভেল সুলৎস।

আগামী ১২ জুন গুয়াদালাহারায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে চেক প্রজাতন্ত্র। এরপর সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে তারা।

চেক প্রজাতন্ত্রের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: লুকাস হর্নিচেক, মাতেই কোভার, জিন্দ্রিক স্টানেক

ডিফেন্ডার: ভ্লাদিমির কৌফাল, ডেভিড দৌদেরা, টমাস হোলেস, রবিন হ্রানাচ, স্টেপান কালৌপেক, ডেভিড ইয়ুরাসেক, লাদিস্লাভ ক্রেইচি, ইয়ারোস্লাভ জেলেনি, ডেভিড জিমা

মিডফিল্ডার: লুকাস চেরভ, ভ্লাদিমির দারিদা, লুকাস প্রোভোদ, মিকাল সাদিলেক, হুগো সোকুরেক, আলেকসান্দর সোইকা, টমাস সৌচেক, পাভেল সুলৎস, ডেনিস ভিসিনস্কি।

ফরোয়ার্ড: অ্যাডাম হ্লোজেক, টমাস কোরি, ময়মির কিতিল, ইয়ান কুকতা, প্যাট্রিক শিক।