27.7 C
Dhaka
Home Blog

প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন আজ

একদিনের সফরে কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার সকালে তার কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা আছে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার বিমানযোগে কক্সবাজার যাবেন। কক্সবাজার নেমে সড়ক পথে চকরিয়ায় পিএমখালীতে পাতলী খাল পুনঃখনন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। রাতের ফ্লাইটেই তিনি ঢাকায় ফিরবেন।’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে কক্সবাজারে তারেক রহমানের এটি প্রথম সফর।

দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী, ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভা, সন্ধ্যায় সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখবেন।

কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী নতুন উপজেলার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

যেকোনো সময়ের চেয়ে চিন্তাশীল বাজেট, বাস্তবায়ন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

দেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে চিন্তাশীল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তবে দেশের আর্থিক কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এই বাজেট বাস্তবায়ন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি মনে করেন।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘মোটামুটিভাবে এই বাজেটের যে নীতি কাঠামো সেটা অর্থমন্ত্রী বলেছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে যে, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে একটা চিন্তাশীল বাজেট তৈরি হয়েছে।’

‘এই চিন্তাশীল বাজেটের মূল নীতি-কাঠামোর দিক, সেখানে অর্থনৈতিক স্থিতায়নের জন্য এক বছরের সময়ের কথা বলা হচ্ছে, আরও তিন বছরের পুনরুদ্ধারের সময়ের কথা বলা হচ্ছে এবং আরও এক বছর এটাকে বিনির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। যে সমস্ত পদক্ষেপের কথা এখন পর্যন্ত এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে, সরকার অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য আনার জন্য বিনিয়ন্ত্রণ, একইসঙ্গে উদারীকরণের ওপর বড় জোর দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটার ভেতরে একটি মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। সেজন্য বিভিন্ন বরাদ্দের উল্লেখ আছে। যুব সমাজ, পিছিয়ে পড়া মানুষ, এদের কথাও একইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে।’

‘তৃতীয়ত, বিনিয়ন্ত্রণ এবং মানবিকতার পাশে এসেছে ডিজিটালাইজেশন ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির বিষয়। আমি এই তিনটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছি,’ যোগ করেন তিনি।

দেবপ্রিয় বলেন, ‘নীতি কাঠামো নিঃসন্দেহে খুবই শক্তিশালী এবং সেই অর্থে সূক্ষ্মভাবে, বিচক্ষণতার সঙ্গে তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই নীতি কাঠামোকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে আর্থিক ভিত্তি, যে আর্থিক কাঠামো, সেটা অত্যন্ত দুর্বল। কারণ এটার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেই এবং যে অর্থের প্রাক্কলন করা হয়েছে, সেটা খুব বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না।’

‘আর্থিক কাঠামোতে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এই আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তাটা সেজন্য। কারণ অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যেটা মনে হয়, যদি আর্থিক বিপত্তি দেখা যায়, তাহলে এগুলোর ক্ষেত্রে কাটছাঁট হবে। শেষ বিচারে এই বাজেট বাস্তবায়নটাই তো বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে,’ যোগ করেন তিনি।

দেবপ্রিয় আরও বলেন, ‘এই সুন্দর বাজেটটিকে আগামী দিনে কীভাবে উনারা বাস্তবায়ন করেন, সংস্কারের পথে নিয়ে যান, সেটাই দেখতে চাই।’

রেশন পাচার মামলায় নুসরাত জাহানকে তলব

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের  (টিএমসি) সাবেক এমপি নুসরাত জাহানকে তলব করেছে দেশটির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ২০২০ সালের একটি রেশন পাচার মামলার তদন্তে তাকে তলব করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২২ এপ্রিল কলকাতার সল্টলেক দপ্তরে নুসরাতকে হাজির হতে বলা হয়েছে। তবে বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তিনি দিল্লির ইডি সদর দপ্তরে হাজিরার অনুমতি চেয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে নুসরাত জাহানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি এই তদন্ত শুরু করে। ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর বসিরহাট থানায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগটি করেছিলেন ঘোজাডাঙা ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি জনবিতরণ ব্যবস্থার (পিডিএস) আওতায় থাকা গম ব্যাপকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। বিশেষ করে, করোনার লকডাউনের সময় বসিরহাট সীমান্ত এলাকায় একাধিক ট্রাক আটক করা হয়। অভিযোগ ছিল, এসব ট্রাকে থাকা গম ও চাল পাচার করা হচ্ছিল। ওই সময় নুসরাত জাহান বসিরহাটের এমপি ছিলেন।

ইডি সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার তদন্তে একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুসরাত জাহানকে তলব করা হয়েছে।

এছাড়া, এই পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখছে ইডি। যদিও এখনো সরাসরি কোনো অভিযোগ আনেনি সংস্থাটি। তবে সংশ্লিষ্ট সময় তিনি এমপি থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৩ সালে একটি ফ্ল্যাট কেলেঙ্কারির মামলায়ও সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল নুসরাত জাহানকে।

হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করল লেবানন সরকার

লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম দলটিকে তাদের অস্ত্র রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ঘোষণা করেন, সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের ওপর ‘তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করেছে। দলটিকে রাষ্ট্রের কাছে তাদের অস্ত্র হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাঠামোর বাইরে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত যেকোনো সামরিক তৎপরতা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।

তিনি আরও বলেন, দলটিকে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে অর্জিত যুদ্ধবিরতির প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন সালাম। পাশাপাশি তিনি আলোচনা পুনরায় শুরুর কথাও জানান।

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করার পর পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে সরকার এই সিদ্ধান্ত নেয়।

ঢাকা উত্তর–দক্ষিণসহ ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ

ঢাকা উত্তর, দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।

২২ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার নিয়োগ পেয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪–এর ধারা ২৫ক–এর উপধারা (১)–এর অনুবৃত্তিক্রমে এই ছয়জনকে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, তারা স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪–এর ধারা ২৫ক–এর উপধারা (৩) অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন ।  

ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন মেক্সিকোর, কঠিন পরীক্ষার মুখে ইংল্যান্ড

স্বাগতিক মেক্সিকোর সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ, আর ইংল্যান্ডের জন্য বিশ্বকাপে টিকে থাকার আরেকটি কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজতেকায় শেষ ষোলোর মহারণে মুখোমুখি হবে দুই দল।

ম্যাচটি ঘিরে শুরু থেকেই একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামের বৈরী আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমনকি আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের ছয় ঘণ্টা আগে শুরু করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছিল।

এছাড়া মেক্সিকোর সমর্থকদের উন্মাদনাও ইংল্যান্ডের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ। মঙ্গলবার ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকোর ম্যাচের আগের রাতে প্রতিপক্ষ দলের হোটেলের বাইরে আতশবাজি ও উচ্চ শব্দ করে উৎসব করেছিলেন সমর্থকেরা। একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলেও ইংল্যান্ড শিবির বিষয়টি নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন নয়।

আরেকটি পরিসংখ্যানও ইংল্যান্ডের জন্য সতর্কবার্তা। ১৯৬৬ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এস্তাদিও অ্যাজতেকায় মেক্সিকোর রেকর্ড ৭০ জয়, ২ ড্র ও মাত্র ১৭ হার।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল বলেন, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে অ্যাজতেকায় খেলা সম্ভবত ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর এবং রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলোর একটি। তবে আমাদের সামনে অনেক বাধা অপেক্ষা করছে। উচ্চতা অবশ্যই বড় একটি অসুবিধা। মাত্র চার দিনে এর সঙ্গে শারীরিকভাবে মানিয়ে নেওয়া অসম্ভব।’

আটলান্টায় সর্বশেষ ম্যাচে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে অন্তত কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠাই থ্রি লায়ন্সদের লক্ষ্য।

অন্যদিকে, মেক্সিকোও ইতিহাস গড়তে মুখিয়ে আছে। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে মাত্র দুইবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছিল তারা। এবার স্বাগতিক হিসেবে সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে চায় এল ত্রি।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৮-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে রয়েছে মেক্সিকো। নিজেদের পরিচিত পরিবেশই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন মিডফিল্ডার আলভারো ফিদালগো, ‘এই স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলা প্রত্যেকের স্বপ্ন। সম্ভবত খেলোয়াড় হিসেবে এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলোর একটি। আমরা জানি, তাদের দলে অসাধারণ খেলোয়াড় আছে। বিশেষ করে তাদের মাঝমাঠ খুবই শক্তিশালী। প্রতিটি পজিশনেই তারা দুর্দান্ত।’

মেক্সিকোর রক্ষণকে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে নিয়ে। এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে পাঁচ গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। গোলদাতার তালিকায় তিনি নরওয়ের এরলিং হলান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন। তালিকার শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, দুজনেরই গোল সাতটি।

নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই যে আরও কঠিন হয়ে ওঠে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন কেইন, ‘অবশ্যই আমাদের আরও উন্নতির জায়গা আছে। তবে এই পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যেকোনোভাবে জিতে পরের রাউন্ডে ওঠা। টুর্নামেন্টের এই সময়ে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়, আর আমরা সেটাই করেছি।’

ইংল্যান্ডের আরেক ভরসার নাম জুড বেলিংহাম। এবার বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে দুই গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন এই মিডফিল্ডার।

মেক্সিকোর দলে কেইনের মতো একক কোনো মহাতারকা না থাকলেও আক্রমণভাগে রয়েছে দারুণ ভারসাম্য। হুলিয়ান কুইনোনেস করেছেন তিন গোল ও একটি অ্যাসিস্ট, রাউল হিমেনেসের গোল দুটি, আর রবার্তো আলভারাদো করেছেন তিনটি অ্যাসিস্ট।

এদিকে ম্যাচের সময় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেক্সিকো কোচ হাভিয়ের আগিরে। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি রাতেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
আগিরে বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল ম্যাচটি অন্য সময়ে হবে। আমি তখনই বলেছিলাম, এই পরিবর্তনে আমি খুশি নই। ম্যাচের এক দিন আগে এমন পরিবর্তন মোটেও সুবিধাজনক নয়। আমি শুধু এটুকুই বলেছিলাম।’

অন্যদিকে সম্ভাব্য উচ্চ শব্দের মধ্যেও নিশ্চিন্তে ঘুমানোর আশাই করছেন টুখেল, ‘আমরা ভালো একটি রাতের ঘুমেরই আশা করছি। ফিফা আমাদের হোটেলের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। যে সমস্যার অস্তিত্বই নেই, তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। আমাদের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখানো হয়েছে।’

এই ম্যাচের বিজয়ী আগামী ১১ জুলাই মায়ামি গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার-ফাইনালে ব্রাজিল অথবা নরওয়ের মুখোমুখি হবে।

 

যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদল মানে না: প্রধানমন্ত্রী

বিরোধীদলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদল মানে না। যে বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদলের পছন্দ নয়।’

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘তাহলে এবার বিরোধীদলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন? লক্ষ্য বুঝতে পেরেছেন? তাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, তাদের লক্ষ্য একটাই—সেটা হচ্ছে, দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীলতা, অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

আজ শনিবার সকালে কক্সবাজারে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ট্যাক্স কমিয়েছি। লক্ষ্য একটি, দেশের মানুষ যাতে একটু ভালো থাকতে পারে।

প্রতি বছর বাজেটের পরের দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বেড়ে যায়, এবার বাড়েনি—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ চাল-ডাল, তেল-নুনসহ প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর যে ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে। যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে।’

বিরোধীদলের সমালোচনা করে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বিরোধীদল বলছে, এই বাজেট তারা মানে না। গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না।’

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী জুলাই থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে আগামী এক বছরের ভেতরে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে প্রায় ১০ হাজার কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ডের’ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য রাজনীতি। সে জন্যই আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, কৃষক ভাইদের সুবিধাদের জন্য, স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই খাল খনন কর্মসূচি যেমন শুরু করেছি, একইসঙ্গে আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, প্রতি বছর কৃষক ভাইদের বীজ, কীটনাশক সার কেনার জন্য এককালীন আড়াই হাজার টাকার একটি সুবিধা দিতে চাই। সেটি দেবো আমরা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জানি, বাংলাদেশে শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়ে গিয়েছিলেন। বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা। এই নারীরা যদি শিক্ষিত না হয়, তারা যদি স্বাবলম্বী হতে না পারে, তাহলে পুরুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে না, এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। নারীরা যাতে আরও শিক্ষার সুযোগ পায়, সে জন্য বর্তমান সরকার স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে যারা ভালো রেজাল্ট করবে, তাদের আমরা উপবৃত্তিও দেবো। সে ব্যবস্থাও আমরা রেখেছি বাজেটে।’

গ্রামের খেটে খাওয়ার পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষির পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্য গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিল্প-বাণিজ্য গড়ে উঠলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। যেসব পণ্য দেশে উৎপন্ন হয়, একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে করে দেশে যে দ্রব্যটি উৎপাদিত হচ্ছে, সেটি যেন সহায়তা পেতে পারে, তার ব্যবস্থা আমরা বাজেটে রেখেছি। এটিও বিরোধীদলের পছন্দ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ কোনো দল বা পরিবার নয়। দেশের মালিক হচ্ছে ২০ কোটি জনগণ। আপনারা দেশের মালিক, আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি, আপনাদের কাছে আমি বিচার দিয়ে যাচ্ছি, যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের জন্য স্বস্তির ব্যবস্থার চেষ্টা করছে সরকার, সেই বাজেট বলে বিরোধীদল মানে না। তারা দাবি তুলেছে কেন মদের ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়ালাম! তারা দাবি তুলেছে কেন আমরা সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ালাম! এই তাদের দুঃখ। তাদের কষ্ট, কেন বর্তমান সরকার ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ট্যাক্স কমিয়ে দিলো—এই হচ্ছে তাদের দুঃখ।’

‘তাহলে কি এরা জনগণের বন্ধু হলো? জনগণের বন্ধু তারা হলো না। আজ সময় এসেছে কারা জনগণের বন্ধু, এবং কারা জনগণের বন্ধু নয় এটি সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। আমরা অতীতে দেখেছি, জনগণকে বিভ্রান্ত করে অনেকে অনেক কথা বলেছে, কিন্তু জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি, দেশের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। এই প্রথম আমরা চেষ্টা করছি,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপি অতীতেও চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আপনারাই বলেছেন, এখানে শহীদ জিয়া খাল খনন করেছিলেন, দেশনেত্রী বৃক্ষ রোপণ করেছিলেন। এই কাজগুলোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছিল।’

‘কিন্তু যারা বিভ্রান্তকারী, যারা ষড়যন্ত্রকারী, বিভিন্ন সময় তারা ষড়যন্ত্র করেছে। ষড়যন্ত্র করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে গতি, তাকে তারা বন্ধ করতে চেয়েছিল। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের যে গতি, তাকে তারা বন্ধ করতে চেয়েছিল। বিগত ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশের জন্য যারা কাজ করে, তাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। কাজেই জনগণের শক্তি হচ্ছে আমাদের শক্তি। জনগণের সমর্থনই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সমর্থন। আমাদের সঙ্গে জনগণের সমর্থন আছে বলেই যতক্ষণ এই ধরে প্রাণ থাকবে, আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ, এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। এই কাজের মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য। এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য। কারণ এই দেশই বিএনপির প্রথম ঠিকানা, এই দেশই হচ্ছে বিএনপির শেষ ঠিকানা।’

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ছাড়া সরকারি ব্যয় মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে: সিপিডি

আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের উচ্চাভিলাষী ব্যয় পরিকল্পনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে না পারলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সরকারি ব্যয়ের ফলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন না বাড়লে সরকারের নির্ধারিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, এটি একটি বড় বাজেট। সরকারি ব্যয় বাড়বে। কিন্তু সেই ব্যয় যদি উৎপাদনশীলতা না বাড়ায়, তাহলে তা মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার গত অর্থবছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আগামী বছরে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

মে মাস পর্যন্ত ১২ মাসের গড় হিসেবে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আর পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট হিসেবে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। যা এখনো উচ্চ মূল্যচাপের ইঙ্গিত দেয়।

সিপিডির মতে, দেশের মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহজনিত, যা শুধু মুদ্রানীতি কঠোর করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

গবেষণা সংস্থাটি বলেছে, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা খাতে সহায়তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাড়তি সরকারি ব্যয়কে অর্থনীতিতে উৎপাদনক্ষমতা সৃষ্টি করতে হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যয়ের মাধ্যমে যদি উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ে, তাহলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা টেকসইভাবে উন্নত হবে। অন্যথায় অতিরিক্ত ব্যয় কেবল মূল্যস্ফীতির চাপই বাড়াতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে রাজস্ব, মুদ্রা ও সরবরাহব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সিপিডির মতে, সাশ্রয়ী দামে পর্যাপ্ত খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

সংস্থাটি বলেছে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহ-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে বাড়ছে। খাদ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি ও যৌক্তিক মূল্যে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে সিপিডি বলছে, জ্বালানির দাম আরও বাড়লে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সিপিডির মতে, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কিছু সময় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখতে হতে পারে। একইসঙ্গে রাজস্বনীতি এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যেন সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে দুর্বল না করে।

সিপিডি জানায়, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা উন্নত হলেও অধিকাংশ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক এখনো চাপে রয়েছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হতে পারে। সেখান থেকে আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

সিপিডির মতে, বেসরকারি বিনিয়োগও উদ্বেগের আরেকটি বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২১ দশমিক ৩ শতাংশ হবে বলে ধরা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ২১ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি।

সিপিডি বলছে, কয়েক বছর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে গেছে।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের পূর্বাভাস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উচ্চ সুদহার, দুর্বল চাহিদা এবং ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও নিম্ন মূল্যস্ফীতি একসঙ্গে অর্জন করতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার অপরিহার্য বলে মনে করে সিপিডি।

সংস্থাটি বলেছে, অর্থনীতির জন্য উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা এবং দক্ষ সরকারি ব্যয় প্রয়োজন। এগুলো ছাড়া বাজেটের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।

বাস্তবায়ন হবে চ্যালেঞ্জিং

সিপিডি বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

সংস্থাটি বলেছে, বাজেটের আকার আগের তুলনায় বড় হলেও এর সাফল্য মূলত আকারের ওপর নয়, বরং বাস্তবায়নের মানের ওপর নির্ভর করবে।

এ জন্য প্রয়োজন এমন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যারা দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করে দৃশ্যমান ফলাফল নিশ্চিত করতে সক্ষম।

 

 

রুনা লায়লার নতুন গজলধর্মী গান

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা নতুন একটি গজলধর্মী গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটির শিরোনাম ‘অনায়াসে’।

এতে সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন বাপ্পা মজুমদার। গানটির কথা লিখেছেন গালিব হাসান।

এক ভিডিও বার্তায় রুনা লায়লা জানান, গানটি নতুন আঙ্গিকে বাংলা গজল হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

তার ভাষায়, এ ধরনের গান আগে খুব একটা হয়নি।

প্রথমে গানটি এককভাবে গাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানান বাপ্পা মজুমদার।

তিনি রুনা লায়লাকে গানটি শোনালে সঙ্গে সঙ্গে গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে গান শোনার পর রুনা লায়লা মত পরিবর্তন করে বলেন, গানটি তিনি একা নয়, বাপ্পার সঙ্গে দ্বৈতভাবে গাইতে চান।

পরে দুজন মিলে গানটি রেকর্ড করেন।

রুনা লায়লা বলেন, বাপ্পা প্রথমে অবাক হলেও পরে তারা একসঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করেন।

এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর রুনা লায়লা শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘প্রিন্স’-এর জন্য ‘জ্বালা জ্বালা’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন, যার সুর করেছেন প্রীতম হাসান।

সবকিছু ঠিক থাকলে ‘অনায়াসে’ গানটি আগামী মে মাসে প্রকাশ করা হবে।

হামলার পর বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি প্লান্টে উৎপাদন বন্ধ করল কাতার

ইরানের হামলার পর রাস লাফান কমপ্লেক্সে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করেছে কাতার এনার্জি।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানায়।

বিবৃতি অনুযায়ী, কাতার এনার্জি জানায়, একটি ড্রোন কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংককে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। রাস লাফানের একটি জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ড্রোনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

নাগরিক, বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে, গুজব এড়িয়ে চলতে এবং তথ্যের জন্য সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করতে।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বৃহৎ পরিসরে হামলা চালায়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কয়েকজন ইরানি নেতা নিহত হন। সেই প্রেক্ষাপটেই এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।