34.5 C
Dhaka
Home Blog

চওয়ালিনস্কাকে হারিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতলেন আন্দ্রেভা

ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে পোলিশ কোয়ালিফায়ার মায়া চওয়ালিনস্কাকে সরাসরি সেটে হারিয়ে শনিবার নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতেছেন মিরা আন্দ্রেভা।

১৯ বছর বয়সী এই রাশিয়ান চওয়ালিনস্কাকে ৬-৩, ৬-২ ব্যবধানে পরাজিত করেন। এর মাধ্যমে ১৯৯২ সালে মনিকা সেলেস (তখন বয়স ছিল ১৮ বছর) প্যারিসে টানা তৃতীয় শিরোপা জেতার পর, সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে রোলঁ গ্যারোসের নারী এককের চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি।

নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম মেঝর মুকুটের সঙ্গে সঙ্গে, ২০০৫ সালের পর জন্মগ্রহণকারী প্রথম খেলোয়াড় (পুরুষ বা নারী) হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জেতার কীর্তি গড়লেন আন্দ্রেভা।

আন্দ্রেভার ক্রমবর্ধমান ট্রফি ক্যাবিনেটে এখন মূল আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নেবে ‘কুপ সুজান লেংলেন’ (ফ্রেঞ্চ ওপেন ট্রফি), যেখানে ইতিমধ্যেই দুটি ডব্লিউটিএ ১০০০ শিরোপা রয়েছে।

ফাইনালের এই হার চওয়ালিনস্কার এক অবিশ্বাস্য যাত্রার সমাপ্তি ঘটালো, যা শুরু হয়েছিল বাছাইপর্ব থেকে। ফরাসি রাজধানীতে নয়টি ম্যাচ জিতে তিনি ওপেন এরা-র ইতিহাসে প্রথম কোয়ালিফায়ার হিসেবে ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়েন।

তবে, বিশ্বের ১১৪ নম্বর খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার এখন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে, কারণ তিনি র‍্যাঙ্কিংয়ে ২১ নম্বরে উঠে আসবেন এবং টেনিসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নিশ্চিত করবেন।
 

দাম বাড়ায় কমছে এলপিজির চাহিদা, রান্নায় বিকল্পতে ঝুঁকছে মানুষ

এলপিজি গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এর ব্যবহার কমতে শুরু করেছে। সংসারের খরচ সামলাতে অনেক পরিবার এখন গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার রান্নার জন্য ইলেকট্রিক চুলা বা অন্য বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবেশকদের ভাষ্য, চলতি মাসে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ, বাড়তি জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে মানুষ এখন প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত ব্যয় এড়িয়ে চলছেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। সংস্থাটি জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফুয়েল কর্নারের মালিক এবং বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের পরিবেশক সুব্রত সাহা বলেন, দাম বাড়ার পর থেকেই বিক্রি দ্রুত কমে গেছে। আগে তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬০টি ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করতেন, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৩৫টিতে।

তার মতে, অনেক গ্রাহক এখন ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার দিকে ঝুঁকছেন। কারণ, বিদ্যুতে রান্নার খরচ এখন প্রায় এলপিজির সমান হয়ে গেছে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার বহন ও পরিবহনের ঝামেলাও এড়ানো যায়।

পেট্রোম্যাক্স এলপিজির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত দেড় মাসে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। তার ভাষ্য, এক মাসের মধ্যেই দেশে এলপিজির মাসিক চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন থেকে কমে ১ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। অর্থাৎ অল্প সময়েই দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

তার মতে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগেই কমে গেছে। এর মধ্যে রান্নার খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চাপে পড়েছে।

এদিকে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কোম্পানি সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। গ্রাহক ধরে রাখতে কিছু প্রতিষ্ঠান ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ও দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। এতে পুরো খাতেই ব্যয় বেড়েছে।

তার মতে, এই পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে প্রায় ৬ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই আবার পুরোনো জ্বালানির দিকে ফিরে যাচ্ছেন।

তবে তিনি আশার কথা শুনিয়ে বলেন, বাজারে ধীরে ধীরে ভারসাম্য ফিরতে শুরু করেছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক খুচরা বিক্রেতা এখন সরকারি নির্ধারিত দাম মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ছে এবং ক্রেতাদের আস্থাও ফিরছে।

বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, মূল্যস্ফীতি ও গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে শহর ও গ্রাম—সব জায়গাতেই চাহিদা কমেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।

ইউনাইটেড আয়গ্যাজ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন ওরতাচ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের জন্য স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে তার মতে, সময়মতো বিইআরসির মূল্য সমন্বয় ও নীতিগত সহায়তার কারণে দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের সংকট এড়ানো গেছে।

সরকার কেবল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ব্যর্থ: আসিফ মাহমুদ

সরকার কেবল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, ‘এটি যদি টাকা ছাপানো না হয়, তবে আমরা একে কী বলব? ফটোকপি?’

আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর কমিটির নবনিযুক্ত নেতা ও সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে আসিফ বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে বলা হয়েছিল যে, নির্বাচন হয়ে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

‘কিন্তু নির্বাচনের পর আমরা দেখছি যে, এই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তো বটেই, রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনায়ও চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে আসিফ বলেন, সরকার দাবি করছে জ্বালানি তেলের মজুদ ঐতিহাসিক উচ্চতায় রয়েছে, অথচ মানুষ পেট্রোল পাম্পগুলোতে ‘ইতিহাসের দীর্ঘতম লাইনে’ দাঁড়িয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

আসিফ জানান, এনসিপি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় তারা গড়ে প্রায় ৮০ হাজার করে ভোট পেয়েছে। বর্তমানে এনসিপি তাদের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে কাজ করছে এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার দল জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে।

‘যারা আমাদের ভোট দিতে আসবেন তাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমরা একটি ভোটও নষ্ট হতে দেবো না। আমরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্র শক্তভাবে পাহারা দেবো,’ যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা আসিফের সমর্থনে স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘জনগণের মেয়র কে? আসিফ ভাই, আসিফ ভাই।’

বক্তব্য শেষে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ নতুন কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান এবং সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে ঈদের ৫ সিনেমা কত কোটির ব্যবসা করলো

ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচটি সিনেমা মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে তানিম নূর নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। 

মাল্টিপ্লেক্স টিকেট বিক্রির শীর্ষে রয়েছে এই সিনেমাটি। এখানে শুধু দেশের মাল্টিপ্লেক্সের টিকেট বিক্রির হিসেব দেওয়া হয়েছে। দেশের বাইরে যে সিনেমাগুলো মুক্তি পেয়েছে, তার হিসেব এখানে উল্লেখ করা হয়নি। 

ঈদের অন্য সিনেমাগুলো হলো- রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’, মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘রাক্ষস’, রায়হান রাফীর সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’ এবং আবু হায়াত মাহমুদ নির্মিত ‘প্রিন্স’। 

সিনেমার ব্যবসার হিসেব দেশের বেশিরভাগ মাল্টিপ্লেক্স ও সিনেমা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তৈরি করা হয়েছে।

 

তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সে, ব্লকবাস্টার সিনেমাস, লায়ন সিনেমাস ও অন্যান্য মাল্টিপ্লেক্সে। 

তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর, শরীফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, আরেফিন জিলানী, লাবন্য চৌধুরী, মাশাসহ অনেকেই। 

দেশের বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি ঈদে মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে ৬ কোটি ১০ লাখ টাকার গ্রস সেল দিয়েছে।

 

রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমাটি ঈদের চতুর্থ সপ্তাহে শুধুমাত্র মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে চলছে। স্টার সিনেপ্লেক্সে ঈদের প্রথম দিন থেকে বেশ ভালো চলছে সিনেমাটি। 

এ ছাড়া সিনেমাটি ব্লকবাস্টার সিনেমাস, লায়ন সিনেমাস ও অন্যান্য মাল্টিপ্লেক্সে চলছে। আফরান নিশো ও পূজা চেরি অভিনীত এই সিনেমায় আরও আছেন চঞ্চল চৌধুরী ও ডলি জহুর। 

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘দম’ ঈদে মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে চার কোটির বেশি টাকার গ্রস সেল দিয়েছে।

 

শাকিব খান অভিনীত আবু হায়াত মাহমুদ নির্মিত ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। 
এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য, রাশেদ মামুন অপু, ইন্তেখাব দিনার ও ডা. এজাজসহ অনেকেই।

ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধ জগৎ নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। 

এই সিনেমাটি মুক্তির আগে বুকিং মানি ছিল ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। মাল্টিপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে সিনেমাটি ১ কোটি ৯২ লাখ টাকার গ্রস সেল দিয়েছে।
 

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও কানন ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে রায়হান রাফীর সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’। সিনেমাটি স্টার সিনেপ্লেক্সে, ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লায়ন সিনেমাসে চলছে। 

এতে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলি, নাজিফা তুষি, স্নিগ্ধা চৌধুরী, মারিয়া শান্ত, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, মিশা সওদাগর ও সাবেরী আলম। 

মাল্টিপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাটি ঈদে মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকার গ্রস সেল দিয়েছে।

 

মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘রাক্ষস’ সিনেমাটি দেখা যাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্সের সাতটি শাখা, ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লায়ন সিনেমাসে। 

এ ছাড়া মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে ৫৫টি সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এই সিনেমায় সিয়াম আহমেদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ভারতের সুষ্মিতা চ্যাটার্জি।

সারাদেশের মাল্টিপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই ছবির গ্রস সেল ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

 

খামেনি জীবিত, উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত আছেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাও নিরাপদ রয়েছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে জল্পনার মধ্যে এ মন্তব্য করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

আজ শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া আব্বাস আরাঘচির এক সাক্ষাৎকারের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, তার জানা মতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত আছেন। ইরান উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, ‘শীর্ষ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাই জীবিত আছেন।’

উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, ‘আমি তাদের ব্যাখ্যা করে জানিয়েছি—আমরা তাদের ওপর হামলার কোনো ইচ্ছা পোষণ করি না। শুধু আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছি।’

তিনি জানান, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো যোগাযোগ নেই।

আরাঘচি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়, তারা জানে কীভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আমরা অবশ্যই উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী।’

চাঁদা বাড়ানোর খবর পেয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ

ময়মনসিংহে সড়কে বাড়তি চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা।

আজ রোববার ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন চালকরা।

বিক্ষোভকারী কয়েকজন চালক দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সড়কে ইউনিয়ন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। সম্প্রতি ২০ টাকা চাঁদা বাড়িয়ে ৫০ টাকা আদায়ের কথা জানানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চালকরা মহাসড়ক অবরোধ করে।

সিএনজিচালক সাইফুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে, ‘আমরা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের জন্য ২০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে থাকি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ইউনিয়ন থেকে বলা হচ্ছে চাঁদার পরিমাণ বাড়ানো হবে। আজ বাড়তি টাকা আদায়ে চাপ দেওয়ায় আমরা বিক্ষোভ করি।’

পরে পুলিশ এসে কথা বলার পর চালকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

মন্তব্যের জন্য সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ত্রিশালে পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করা হয় না। ময়মনসিংহ শহরে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে ত্রিশালের চালকরা একত্রিত হয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন।’

এদিকে, চাঁদা বন্ধের দাবিতে আজ দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর রহমতপুর বাইপাস মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা সড়ক অবরোধ করে। 

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম রহমতপুর মোড়ে গিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলেন।

চাঁদা বন্ধের বিষয়ে আশ্বস্ত করলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন অটোরিকশা চালকরা।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ডেইলি স্টারকে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।

বিটিভির বিশ্বকাপ চুক্তি অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা

বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সুখবর। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রস্তাবে অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি।

শনিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ২৫তম বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবে বিশ্বকাপের সর্বমাধ্যম সম্প্রচার স্বত্ব সরাসরি ফিফার কাছ থেকে কেনার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এই স্বত্ব কিনতে ব্যয় হবে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। সম্প্রচার স্বত্বের একমাত্র মালিক হওয়ায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ফিফাকে নির্বাচন করা হয়েছে।

এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি সারা দেশে ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ এবং সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারবে। ফলে দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী বিনামূল্যে বিশ্বকাপ উপভোগের সুযোগ পাবেন।

আগামী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এটি হবে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে অংশ নেবে ৪৮টি দল। ফলে ম্যাচের সংখ্যা এবং টুর্নামেন্টের ব্যাপ্তিও আগের যেকোনো আসরের তুলনায় বড় হতে যাচ্ছে।

 

মোবাইল সেবার মান যাচাইয়ে খরচ ২১ কোটি, চার বছরেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন নেই

দেশের মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দিচ্ছে কি না, সেটি পর্যবেক্ষণে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম কিনেছিল টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। খরচ হয়েছিল ১৫ লাখ ইউরো (বর্তমান হিসাবে ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা)। চার বছর পেরিয়ে গেলেও অপারেটরদের সেবার মান নিয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেনি তারা।

কল ড্রপ, ভয়েস কোয়ালিটি, ইন্টারনেটের গতি ও নেটওয়ার্ক কভারেজ পরিমাপে জার্মানির তৈরি এই সিস্টেম কেনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে এটি উদ্বোধন করা হয়। তখন সংস্থাটি বলেছিল, গ্রাহকদের আরও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে এটি সাহায্য করবে।

সারা দেশে বেশ কয়েকবার ‘ড্রাইভ টেস্ট’ বা মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালালেও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল দিতে পারেনি কমিশন। নথিপত্র বলছে, বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত তিনটি বড় পরীক্ষা চালিয়েছে বিটিআরসি। তবে তাদের পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের দেওয়া তথ্যের বড় ধরনের পার্থক্য আছে। এ নিয়ে অপারেটরদের আপত্তি আছে।

বিটিআরসি এখন বলছে, পরীক্ষা পদ্ধতির মাপকাঠি ঠিক করতে তারা অপারেটরদের সঙ্গে কাজ করছে। এরপর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রাহকদের মানসম্মত মোবাইল সেবা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়মিত এ ধরনের পরীক্ষা করে। এসব পরীক্ষায় মূলত কল ড্রপ, ভয়েস কোয়ালিটি, ইন্টারনেটের গতি এবং নেটওয়ার্ক কভারেজ যাচাই করা হয়। এর মাধ্যমে সেবার মান যাচাইয়ের পাশাপাশি অপারেটরদের কোথায় নেটওয়ার্ক উন্নত করা প্রয়োজন, তা–ও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

নতুন এই সিস্টেম কেনার আগে বিটিআরসি বছরে কয়েকবার তাদের ওয়েবসাইটে কল ড্রপসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করত।

বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটরদের তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি স্বীকার করেছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, আমরা একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে চাই, যাতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া যায়।

নতুন সিস্টেম ব্যবহার করে প্রথম বড় পরীক্ষাটি চালানো হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ জুনের মধ্যে। ঢাকা সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও সাভারে এই পরীক্ষা চলে। এতে সেবার মানের ৪০টি সূচক যাচাই করা হয়।

দেশে মোট মোবাইল গ্রাহক ১৮ কোটি ৬০ লাখ। এর মধ্যে ৫ কোটি ৭৪ লাখ গ্রাহক রয়েছে রবির। পরীক্ষায় রবি পাঁচটি সূচকে অকৃতকার্য হয়। ৮ কোটি ৫৫ লাখ গ্রাহক থাকা গ্রামীণফোন অকৃতকার্য হয় ছয়টি সূচকে। অন্যদিকে বাংলালিংক ১৪টি এবং টেলিটক ২৬টি সূচকে ব্যর্থ হয়।

টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। ইন্টারনেট সেবার মানদণ্ড পূরণে একমাত্র টেলিটকই ব্যর্থ হয়।

ঢাকায় কল ড্রপের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে বাংলালিংক। কেরানীগঞ্জ ও সাভারে কল সেটআপ টাইম (সংযোগের সময়) এবং সেবার মান নিয়ে সব অপারেটরই ভুগেছে। টু-জি এবং ফোর-জি ভয়েস সেবার সূচকেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।

ওই সময় রবি ও বাংলালিংক দাবি করে, বিটিআরসির যন্ত্রপাতির ফলাফলের সঙ্গে তাদের নিজস্ব পরীক্ষার ফলাফলে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মাধ্যমে তারা এ বিষয়ে আপত্তি জানায়।

তখন এক বিবৃতিতে রবি বলেছিল, ড্রাইভ টেস্টের ফলাফলের বিষয়ে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব বলে আশাবাদী।

গ্রামীণফোনের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, অপারেটরদের ফলাফল এবং বিটিআরসির ফলাফলের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। তাই সূচক গণনার একটি সমন্বিত পদ্ধতি বের করতে অ্যামটব, বিটিআরসি এবং ড্রাইভ টেস্ট ভেন্ডররা একসঙ্গে কাজ করছে।

তবে পরে আরও দুই দফা পরীক্ষার পরও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অপারেটররা কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। গত বছরের শেষের দিকে এক পরীক্ষায় বিটিআরসির পরিদর্শকেরা দেখেন, ফোর-জি কভারেজ নিয়ে অপারেটরদের দাবির সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকৃত সেবার মানের বড় ব্যবধান রয়েছে।

টাঙ্গাইল, বগুড়া, গাইবান্ধা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুরের শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওই পরীক্ষা চলে। পরিদর্শক দল দেখতে পায়, এসব এলাকায় ফোর-জি সিগন্যাল দুর্বল বা একেবারেই নেই। এ ছাড়া ঘন ঘন কল ড্রপ, ঘরের ভেতরে দুর্বল নেটওয়ার্ক এবং লোডশেডিংয়ের সময় নেটওয়ার্ক না থাকার প্রমাণও পায় তারা।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ ও ১৬ এপ্রিল চালানো পরীক্ষায় গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক—সবার ক্ষেত্রেই কল ড্রপের হার পাওয়া যায় ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেওয়া সীমার চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে নেটওয়ার্কের মানের দিক থেকে বরাবরই পিছিয়ে থাকা টেলিটকের কল ড্রপ পাওয়া যায় শূন্য শতাংশ।

একই রকম কল ড্রপের ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সংখ্যাগুলো কেন হুবহু এমন হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত বছরের শেষে এবং সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের কথা হয় বেশ কয়েকজন মোবাইল ব্যবহারকারীর সঙ্গে। তারা জানান, কল ড্রপ, ঘরের ভেতরে দুর্বল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেটে ধীরগতি এখন নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকেরা জানান, ঘরের ভেতরে তারা প্রায়ই নেটওয়ার্ক পান না।

ঢাকার বাসিন্দা মো. নাবিদ বলেন, ঘন ঘন কল ড্রপ হয়। তিনি বলেন, ‘এর ওপর কখনো কখনো অপর প্রান্তের কথা শোনা গেলেও আমার কথা শোনে না। এর বিপরীত ঘটনাও ঘটে। অনেক সময় দুজনই হ্যালো হ্যালো করতে থাকি, কিন্তু কেউ কারও কথা শুনতে পাই না।’

সার্কুলার রোডের বাসিন্দা নুমান আহমেদ রবি ও বাংলালিংক ব্যবহার করেন। তিনি জানান, ঘরের ভেতরে কোনো নেটওয়ার্কই ঠিকমতো কাজ করে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শারমিন আহমেদ বলেন, প্রতি সপ্তাহে তার দুই-তিনটি কল ড্রপ হয়। তিনি বলেন, বেশির ভাগ সময় আমি কথা বলার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করি। সেটাও সব সময় ঠিকমতো কাজ করে না।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বলেন, পরিমাপ পদ্ধতি নিয়ে শিল্প খাত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে একটি স্পষ্ট ও প্রমিত নিয়ম চালুর চেষ্টা চলছে। যেহেতু মতপার্থক্য রয়েছে এবং ফলাফল এখনো চূড়ান্ত নয়, তাই এই মুহূর্তে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

শিগগিরই ওয়েবসাইটে ড্রাইভ টেস্টের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, সিস্টেম চালুর চার বছর পরও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারাটা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার অভাবকেই তুলে ধরে।

তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় এসব সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। তাই এগুলো কেন সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ: ফজলুর রহমান

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না, শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ বাংলায় শুধু বেলি-চামেলি আর জুঁই ফুল ফোটে না, রক্ত জবাও ফোটে। এ দেশে শুধু কোকিল ডাকে না, এদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও থাকে।’ 

‘যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, মুক্তিযোদ্ধা জিতবে, রাজাকার কোনোদিন এই দেশে জয়লাভ করতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্যের পরে তারা বলবে আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই! বিরোধী দলে যারা বসে আছেন, অনেকেই আমাকে “ফজা পাগলা” বলে ডাকে, তারা নাকি সভ্য।’

‘বিরোধী দলের নেতা বলেছেন উনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক, শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ।’ 

‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজন জামায়াত করতে পারে না। আর শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ,’ বলেন তিনি। 

ফজলুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে কী হলো আপনারা জানেন। ইউনূস সরকার ছিল। আমি শিল্পকলার সামনে থাকি। সেখানে একটা গান হতে পারেনি, নাটক হতে পারেনি, লালন গীতি হতে পারেনি। সবকিছু কালো শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছিল।’ 

‘তারা বলেছিল কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। সাতচল্লিশ হয়েছে, আর চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে। আর গন্ডগোল হয়েছে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এখনো কিন্তু ফজলুর রহমানদের মতো মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত আছে। এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ সত্য, ৩০ লাখ লোক জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য,’ বলেন তিনি। 

এই সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনে মব হয়েছে আমাকে হত্যা করার জন্য। সেদিনের জন্য আমি পুলিশকে ধন্যবাদ দেবো, মিলিটারিকে ধন্যবাদ দেবো। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ির সামনে তারা গিয়ে উপস্থিত হয়েছে আমাকে বাঁচানোর জন্য।’ 

‘অনেক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে ইলেকশন হয়েছে’ মন্তব্য করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘ইলেকশনে তারা কী করেছে, আজকে যারা আমার ডানদিকে বসে আছে তারা কী করেছে? আমরা তো ভাই ছিলাম। তারা যা করেছে সেটা কল্পনা করার মতো না। যত চক্রান্ত করেছে, সেই চক্রান্তের ভেতর দিয়ে যখন তারা প্রচার করতে শুরু করল যে, তারা দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি পেয়ে পাশ করবে। আমি হতভাগা ফজলুর রহমান বলেছিলাম জামায়াত জোট যদি মেজরিটি পায়, তাহলে আমি বিষ খাব। এই কথাটা আমি বলেছি। কথা সত্য তারা কোনোদিন যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারে নাই, কারণ তাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ চায় নাই।’

‘মানুষ আবার হলে যাচ্ছে, সিনেমা দেখছে, এটা শিল্পের জন্য ভালো’

বাংলা নাটকের প্রাণ পুরুষ মামুনুর রশীদ। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে নাটক লেখা, পরিচালনা ও অভিনয়ের সঙ্গ যুক্ত আছেন। তার নাটকে মাটি ও মানুষের গল্প উঠে এসেছে। দেশ-বিদেশের বহু মঞ্চে তিনি নাটক উপস্থাপন করেছেন। ১৯৭২ সালে শহীদ মুনীর চৌধুরীর কবর নাটক দিয়ে প্রথমবার পরিচালনায় নাম লেখান। এখনো লিখছেন, অভিনয় করছেন ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেন মামুনুর রশীদ।

এই মুহূর্তে শিল্প নিয়ে আপনার ভাবনা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘একটা মুক্ত চিন্তার পরিবেশ তৈরি করা। সংস্কৃতিকর্মীদের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ দরকার। সৃজনশীলদের নেতৃত্বে নাটক, আবৃত্তি, চারুকলা, সংগীতের বিভিন্ন সংগঠন গড়ে ওঠা উচিত। কোনো দলীয় চিন্তা পরিহার করে স্বাধীন চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো দরকার।

তিনি আরও বলেন, ফর্ম ও কনটেন্টের ব্যাপারে অবশ্যই কনটেন্ট আন্তর্জাতিক হতে পারে। ফর্ম বা আঙ্গিকটা জাতীয় হতে হবে। লালন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদসহ যত কবি ও লেখক কালজয়ী হয়েছেন, তারাও জাতীয় আঙ্গিক ব্যবহার করেছেন।

‘মঙ্গল শব্দটা মঙ্গল কাব্য, মঙ্গল চিন্তা, অসময়ের মধ্যে জেগে উঠে এসেছে। মানুষের মঙ্গল কামনা করা—এটি সব মানুষের মধ্যে প্রচলিত। মানুষ মানুষের জন্য মঙ্গল কামনা করেন। এখন মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়েও কথা হচ্ছে। জনগণের সংস্কৃতি চিন্তাকে উপেক্ষা করা খুব অনভিপ্রেত,’ বলেন তিনি।

বর্তমানে থিয়েটারের অবস্থা নিয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘থিয়েটার স্থবির হয়ে ছিল। দেশ নাটকের প্রদর্শনী মববাজির কারণে বন্ধ ছিল। তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল, আমরা সমাবেশ করেছি। এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। দর্শক নাটক দেখতে আসছে। নতুন নতুন নাটক আসছে। আশা করছি মঞ্চের অবস্থা ভালো হবে।’

বর্তমান সরকারের কাছে শিল্পসাহিত্য নিয়ে চাওয়া ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যেসব ক্লাসিক শিল্প আছে তা সংরক্ষণ করতে হবে। লোকসংস্কৃতি অবলুপ্তির পথে, রক্ষা করা দরকার। থিয়েটারে টিকিট বিক্রির যে টাকা আসে তা সামান্য, এখানে অনুদান দরকার। অবকাঠামো করা দরকার। রাজধানীর মিরপুরে যদি এক কোটি মানুষ বসবাস করেন, তাদের জন্য একটি থিয়েটারও নেই, খুব দরকার মিরপুরে থিয়েটারের। রাজধানীর উত্তরা, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিতে থিয়েটার নেই, এইসব জায়গায় থিয়েটার দরকার।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সেভাবে পাঠাগার নেই, থিয়েটার নেই, সিনেমা হল নেই। সরকারের সুদৃষ্টি দরকার। প্রত্যেকটি উন্নত দেশের লাইব্রেরি আছে। উন্নত দেশের বেশিরভাগ জায়গায় লাইব্রেরির ভেতরে মঞ্চ আছে। নিউইয়র্ক, ডালাসে অনেক দেখেছি। এগুলো থাকলে তরুণরা ভালো থাকবে, পজিটিভ চিন্তা করবে।’

নিজের অপূর্ণতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এখনো মনে করি, ভালো নাটক লিখতে পারিনি, ভালো অভিনয় করতে পারিনি। সবসময় এসবই মনে হয়। আর মনে হয় বলেই নতুন নতুন সৃষ্টির নেশায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি।’

ঈদের সিনেমা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মানুষ আবার হলে যেতে শুরু করেছে। পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখছে। এটা সিনেমা শিল্পের জন্য ভালো উদাহরণ।’

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে মঞ্চ নাটকের তুলনা নিয়ে তার ভাষ্য, ‘আমাদের মঞ্চ নাটক অনেক দূর এগিয়েছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গে থিয়েটার বেশি। পুরো পশ্চিমবঙ্গজুড়ে, বিশেষ করে শহরে এবং গ্রামেও থিয়েটার আছে। সেখানে নিয়মিত নাটক হচ্ছে। নিয়মিত অভিনয় করার সুযোগ পাচ্ছে।’

কলকাতায় মঞ্চ নাটক নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, বহু দেশে মঞ্চ নাটক নিয়ে গিয়েছি। তবে, পশ্চিমবঙ্গের যে কোন শহরে আমাদের ‘আরণ্যক নাট্যদল’-এর নাম বললে ওখানকার মানুষ চিনবেন। আমরা অনেকবার নাটক করেছি। আমাদের নাটক প্রশংসিত হয়েছে। কলকাতায় আমার নির্দেশিত নাটকের ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছি।

তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী হওয়ার বিষয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মানুষকে পড়তে হবে। সুস্থ জীবন নিয়ে চলতে হলে বই পড়তে হবে। মানুষের জীবনে বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক। এটা নিত্য দিনের কাজ।’