27.8 C
Dhaka
Home Blog

আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান শফিকুর রহমানের

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে অবহেলা, ত্রুটি বা অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; পুরো হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে শুক্রবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সবাই গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে, যা মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

শফিকুর রহমান বলেন, তদন্তের মাধ্যমে কোনো অবহেলা, ত্রুটি কিংবা অপরাধ চিহ্নিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তা না করে যে হাসপাতালটি ‘গরিবের হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এবং মানসম্মত সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, সেই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এতে শেষ পর্যন্ত জনগণেরই ক্ষতি হবে।

তিনি আরও বলেন, আদ-দ্বীন একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মেডিকেল শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি নার্সিং কোর্সও চালু রয়েছে। লাইসেন্স বাতিলের ফলে এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকারের প্রতি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কারও দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া কাম্য নয়।

‘বয়স তো কেবল একটি সংখ্যা’

একসময় ঢালিউডের পর্দা মাতানো জনপ্রিয় নায়িকা রোজিনা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও যুক্ত ছিলেন এই তারকা। তার হাতে নির্মিত হয়েছে একাধিক নাটক ও চলচ্চিত্র।

কিছুদিন বিরতির পর আবারও নতুন সিনেমা পরিচালনায় ফিরছেন রোজিনা। নতুন সিনেমার নাম আপাতত ‘এখনই সময়’—তবে নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আছে।

রোজিনা বলেন, ‘গল্প নিয়ে শিগগিরই বসব। এটি ছটকু আহমেদ ভাইয়ের গল্প।’

নতুন সিনেমা নিয়ে তিনি জানান, এটি হবে পারিবারিক গল্পের সিনেমা। তবে কেবল বিনোদন নয়, দর্শকদের জন্য থাকবে স্পষ্ট বার্তা।

তার ভাষায়, ‘দর্শকরা ভালো একটি বার্তা পাবেন। আমার নতুন সিনেমায় কিছু বার্তা থাকবে।’

সামাজিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসবে এই সিনেমাতে। রোজিনা বলেন, ‘আমাদের সমাজে, বিশেষ করে গ্রামে এখনো যৌতুকের প্রচলন আছে। এটি খুবই ক্ষতিকর, এক ধরনের অপরাধও বলা যায়। এই বিষয়টিও আমার সিনেমায় তুলে ধরতে চাই।’

শুটিং কবে শুরু হবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানাতে পারেননি তিনি। বলেন, ‘সিনেমা মানেই বড় বাজেট, বড় টিম। অনেক প্রস্তুতির বিষয় থাকে। ধীরে ধীরে সব গুছিয়ে নিচ্ছি। আশা করছি ভালো কিছু হবে।’

অভিনয়ে কারা থাকবেন—এ প্রশ্নে রোজিনা জানান, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। তবে আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘ভালো ভালো শিল্পীরা অভিনয় করবেন।’

সিনেমার সঙ্গে সম্পর্ক রোজিনা স্মৃতিচারণ করেন শৈশবের। তার বাড়ি রাজবাড়ীতে। সেখানে ‘চিত্রা’ নামে একটি সিনেমা হল ছিল, যেখানে ছোটবেলায় নিয়মিত সিনেমা দেখতেন। তিনি বলেন, ‘জীবনের প্রথম দেখা সিনেমার কথা এখনো মনে আছে, নাম ছিল সাত ভাই চম্পা। সেখানে কবরী ম্যাডাম ছিলেন।’

মায়ের কাছ থেকেও শিল্পের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন রোজিনা। তিনি জানান, তার মা হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান করতেন, বিশেষ করে রবীন্দ্রসংগীত। একই সঙ্গে ধর্মীয় চর্চাও করতেন।

‘তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি,’ বলেন তিনি।

গত ২০ এপ্রিল ছিল রোজিনার জন্মদিন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জন্মদিন কখনো বড় করে উদযাপন করি না। তবে সারা দিন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পাই—এটা ভালো লাগে।’

বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হেসে উড়িয়ে দেন তিনি। বলেন, ‘বয়স তো একটা সংখ্যা মাত্র। একটা জীবন সিনেমার মধ্যেই কাটিয়ে দিলাম। আমি সিনেমার মানুষ। এই শিল্পকে ভীষণ ভালোবাসি। জীবনে কিছু কাজ করতে পেরেছি, আরও করতে চাই।’

এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ঢাকায় প্রতি আসনে ১৫২ আবেদনকারী

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) প্রতিটি জেলার নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য দেশব্যাপী প্রায় ৮৩ হাজার আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এসব আবেদনকারী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। সে হিসাবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ৩২ জনের বেশি বৈধ আবেদনকারী প্রতিযোগিতা করছেন। ঢাকা জেলায় ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৭৮০ জন। ফলে সেখানে প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ১৫২ জন আবেদনকারী।

লিখিত পরীক্ষা চলাকালে ঢাকার কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পরিচালনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় একই সময়ে সুষ্ঠুভাবে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার আলোকে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে।

তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে ৩০ জুলাই। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে আগামী ২ আগস্ট থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে মোট ১১ হাজার ২০০ জন যুব ও যুব নারীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জন বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জন অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ দুই মাস। এ সময়ে ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বেসিক এআই প্রশিক্ষণে চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফট কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, গ্রামারলি, কুইলবট, জ্যাসপার, ক্যানভা, পিক্সলার, ইনভিডিও এবং ইলেভেনল্যাবস ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণে রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, মিডজার্নি, ট্যাবলো, জ্যাপিয়ার, ডিসক্রিপ্ট, ক্লিকআপ, নোশন এআই, ডরিক এআই, আহরেফস, সেলসফোর্স, হাবস্পট, কপি ডট এআই, অ্যাডোবি সেনসেই, ড্যাল-ই এবং ভিও প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রশিক্ষণে কেবল বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের কৌশল নয়, এআইভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও নির্মাণ, ডেটা বিশ্লেষণ, অটোমেশন, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ইরানি হামলায় ৪ মার্কিন সেনা নিহত: প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে সম্মিলিত আক্রমণের পর ইরানের পাল্টা হামলায় এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৪ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

পিট হেগসেথ বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একতরফা ও নির্মম যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। বৈরুতে গাড়ি বোমা হামলা, আমাদের জাহাজে রকেট হামলা, আমাদের দূতাবাসে হত্যাকাণ্ড, ইরাক ও আফগানিস্তানে সড়কপথে বোমা হামলার মাধ্যমে তারা এটি করে আসছে।’

‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা এটি শেষ করছি,’ বলেন তিনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত জুনে ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তারা ঔদ্ধত্যের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প, শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার কূটনৈতিক সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শান্তিপূর্ণ ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তি করার প্রতিটি সুযোগ থাকলেও তেহরান আলোচনায় আগ্রহী ছিল না।’

অপরেশন এপিক ফিউরির লক্ষ্য সম্পর্কে হেগসেথ বলেন, ‘শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ঢাল তৈরির হুমকি দিয়ে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে চেয়েছিল ইরান। আমাদের লক্ষ্য তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎপাদন সক্ষমতা, তাদের নৌবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা অবকাঠামো ধ্বংস করা। যেন ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।’

‘আমরা তাদের ওপর নিখুঁতভাবে, ব্যাপক মাত্রায় ও বিন্দুমাত্র ক্ষমা না দেখিয়ে আঘাত হানছি,’ বলেন হেগসেথ।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রধান ও জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযান এক রাতের কোনো একক মিশন নয়।’

‘আমরা আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছি, তবে সবসময়ই আমরা মার্কিন ক্ষতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করব,’ বলেন কেইন। 

সপ্তাহখানেক ধরে ভালো আছি বেশ: কালের কণ্ঠকে রাষ্ট্রপতি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছিল। কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই সাক্ষাৎকারে অন্যান্য বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

কেমন আছেন জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সপ্তাহখানেক ধরে ভালো আছি বেশ।’

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর বঙ্গভবনে কেমন কেটেছে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই দেড় বছর আমি কোনো আলোচনায় নেই অথচ আমাকে নিয়ে চলে নানা চক্রান্ত। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়চিত্তে আমার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম। যে কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি। দেড় বছর বঙ্গভবনের অভিজ্ঞতা যে ভালো, তা বলা যাবে না। আমার ওপর দিয়ে যে ঝড় গেছে, এ রকম ঝড় সহ্য করার মতো ক্ষমতা অন্য কারো ছিল কি না আমি জানি না।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপে তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ‘এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও একটা সিদ্ধান্তে এসেছিল। সেটা হলো, যদি রাজনৈতিক দলগুলো চায় আমি অপসারিত হই, তাহলেই শুধু আমি অপসারিত হতে পারি; নচেত্ নয়। পরে দেখা গেল যে এই ইস্যুতে দুটি গ্রুপ হয়ে গেল।’

তিনি জানান, বিএনপির উচ্চপদে আসীন এক নেতা তাকে সমর্থনের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। ‘আমি বলব যে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা একটা গ্রুপ হয়ে যায়। আর আরেকটা গ্রুপ হয়ে যায়, তাদের আপনারা সবাই চেনেন। তবে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। উদ্যোগটা ব্যর্থ হলো বিএনপি ও তাদের জোটের কারণে।’

‘রাজনৈতিক পর্যায় থেকে ওই উদ্যোগটা ব্যর্থ হলে খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেই নতুন করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে এসে আমার জায়গায় বসানোর চক্রান্ত করে অন্তর্বর্তী সরকার। আমি বিষয়টি জেনেছি। সরকারের পক্ষ থেকে একজন উপদেষ্টা ওই বিচারপতির শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তারা ঘণ্টাব্যাপী মিটিং করেন। তবে ওই বিচারপতি রাজি হননি।’  

তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে সমর্থন পাওয়ার কথা জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘তারা বিভিন্ন সময় আমার কাছে এসে আমাকে মনোবল দিয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকে আরেকবার আমাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে শুনেছি। তখনো তিন বাহিনীর প্রধানরা আমার পক্ষে অবস্থান নেন। বঙ্গভবনের সামনে যখন মব সৃষ্টি করা হয়, তখনো সশস্ত্র বাহিনী অবস্থান নিয়েছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সবশেষ চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘না, কোনো কিছুই আমি জানি না। এ রকম রাষ্ট্রীয় একটা চুক্তি অবশ্যই আমাকে জানানো দরকার ছিল। এটা ছোটখাটো হোক আর বড় কিছু হোক, অবশ্যই পূর্ববর্তী সরকারপ্রধানরা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন। আর এটি হলো সাংবিধানিক একটা বাধ্যবাধকতা। কিন্তু তিনি তো তা করেননি।’

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘উনি যে প্রধান উপদেষ্টা হলেন, সেই প্রক্রিয়ার উৎসই ছিলাম আমি। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা পরবর্তী সময়ে আমার সঙ্গে সেভাবে সমন্বয় করেননি। এটি আসলে বোঝানোর কোনো উপায়ও নেই। কেননা তিনি একটিবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি। আমাকে সম্পূর্ণভাবে আড়ালে রাখার চেষ্টা করে গেছেন। আমার দুইবার বিদেশ সফর উনি আটকে দিয়েছেন।’

কেন বিদেশ সফরে যেতে দেওয়া হয়নি বলে মনে করেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই সরকার চায়নি কোথাও আমার নাম আসুক। আমাকে একদম অন্ধকারে ফেলে রাখার চেষ্টা করেছে। তারা চায়নি জনগণ আমাকে চিনুক, জানুক। এটি আমাকে খুবই কষ্ট দিয়েছে। শুধু বিদেশে নয়, দেশের কোনো অনুষ্ঠানেও আমাকে যেতে দেয়নি। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির যাওয়ার কথা। সেটিও তারা আটকে দেয়।’

‘এক রাতের মধ্যে সারা পৃথিবীর সব হাইকমিশন থেকে আমার ছবি নামিয়ে দেওয়া হলো। দীর্ঘদিনের একটা রেওয়াজ রাতারাতি শেষ করে দেওয়া হলো। ওই ঘটনাটি গণমাধ্যমে এলে আমি জানতে পারি। তখন আমার মনে হয়েছে যে এটি বোধহয় আমাকে অপসারণের প্রথম ধাপ। সুতরাং পরবর্তী ধাপে হয়তো আমাকে সরিয়ে দেবে। এ জন্য আমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং প্রত্যাহার করে নেয়— এমনটি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এসব করা হয়েছে বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমার এক্সপোজারটা বন্ধ করার জন্য। এই যে দেশের বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়, সেখানে রাষ্ট্রপতির ছবি ও বাণী দেওয়া বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।’

মানুষের আগেও কি উন্নত সভ্যতা ছিল, থাকলে জানা সম্ভব?

ডাইনোসরের কথা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু কখনো কি ভেবেছি, মানুষের জন্মের অনেক আগে পৃথিবীতে যদি আমাদের মতো আরেকটি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকত? তারা যদি বড় বড় শহর বানাত, যন্ত্র ব্যবহার করত, এমনকি নিজেদের ভুলে একদিন হারিয়েও যেত। তাহলে কি আজ তাদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পেতাম?

এই কৌতূহল থেকেই ২০১৮ সালে একটি ব্যতিক্রমী গবেষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্জীববিজ্ঞানী অ্যাডাম ফ্র্যাঙ্ক এবং নাসার জলবায়ুবিজ্ঞানী গ্যাভিন শ্মিট। তারা এই ধারণার নাম দেন ‘সিলুরিয়ান হাইপোথিসিস’। নামটি নেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ডক্টর হু-এর কাল্পনিক সরীসৃপ জাতির নাম থেকে।

গবেষকেরা বলছেন, এটি কোনো দাবি নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক চিন্তার পরীক্ষা। যার উদ্দেশ্য হলো, যদি সত্যিই অতীতে কোনো উন্নত সভ্যতা থেকে থাকে, তাহলে তারা পৃথিবীতে কী ধরনের চিহ্ন রেখে যেতে পারত এবং আজ আমরা সেগুলো শনাক্ত করতে পারতাম কি না।

প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। অনেক প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস নিঃসরণের কারণে হতে পারে। তবে সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

এই ঘটনাটির সঙ্গে বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু মিল দেখে গবেষকদের মনে প্রশ্ন জাগে, এটি কেবলই প্রাকৃতিক ঘটনা, নাকি অন্য কোনো সম্ভাবনাও থাকতে পারে?

এখন প্রশ্ন হলো, কোনো সভ্যতা থাকলে তার প্রমাণ কি টিকে থাকত?

বিজ্ঞানীদের মতে, খুব সম্ভবত শহর, ভবন বা রাস্তার মতো স্থাপনা কোটি কোটি বছর টিকে থাকত না। পৃথিবীর ভূত্বক সব সময় বদলে যাচ্ছে। ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি, ক্ষয় ও টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ায় পুরোনো সবকিছু ধীরে ধীরে মুছে যায়। জীবাশ্ম থেকেও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া কঠিন। কারণ পৃথিবীতে মারা যাওয়া প্রাণীদের খুব অল্প অংশই জীবাশ্মে পরিণত হয়।

গবেষকদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে পৃথিবীর রাসায়নিক পরিবর্তনের রেকর্ড। যেমন—বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত কার্বনের চিহ্ন, মাটির স্তরে প্লাস্টিকের অবশিষ্টাংশ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ব্যবহৃত ভারী ধাতুর উপস্থিতি, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কৃত্রিম রাসায়নিক বা হরমোনের চিহ্ন।

তারা বলছেন, মানুষের বর্তমান সভ্যতা একদিন বিলীন হয়ে গেলেও, এসব উপাদান হয়তো কোটি বছর পরও ভূস্তরে থেকে যেতে পারে।

তাহলে কি সত্যিই মানুষের আগেও উন্নত সভ্যতা ছিল? এই প্রশ্নের কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা নিজেরাও এমন কোনো সভ্যতার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না। তবে তারা বলছেন, বর্তমান তথ্য দিয়ে এ সম্ভাবনাকে শতভাগ বাতিলও করা যায় না।

Sand dunes in bright sun in the Negev Desert, Israel. This is the oldest large-scale stretch of land on Earth.

অন্যদিকে, অনেক ভূতত্ত্ববিদ মনে করেন, যদি মানুষের মতো বড় আকারের প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতা আগে থাকত, তাহলে শহর, ধাতু, প্লাস্টিক ও শিল্পকারখানার বর্জ্যের স্পষ্ট চিহ্ন পৃথিবীতে পাওয়া যেত। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য অতীতের কোনো হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার খোঁজ নয়। বরং এটি আমাদের বর্তমান নিয়েই প্রশ্ন তোলে, যেমন—মানবসভ্যতা কি প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসইভাবে টিকে থাকতে পারবে, নাকি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একদিন নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে?

বিজ্ঞানীদের ভাষায়, পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার মতো প্রযুক্তি মানুষ তৈরি করেছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সেই প্রযুক্তির পরিণতি সামলে আমরা কত দিন টিকে থাকতে পারব?

সূত্র: সিএনএন

চার বছরের চুক্তিতে রিয়ালে ডামফ্রিস

নতুন মৌসুমের দল গোছানোর কাজ অব্যাহত রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নেদারল্যান্ডসের রাইট উইং-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। চার বছরের চুক্তিতে ইন্টার মিলান ছেড়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পাড়ি জমিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

রোববার এক বিবৃতিতে ডামফ্রিসকে দলে ভেড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রিয়াল। যদিও দুই ক্লাবের কেউই আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ডামফ্রিসের ২ কোটি ইউরো (প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ মার্কিন ডলার) রিলিজ ক্লজ সক্রিয় করেই তাকে দলে নিয়েছে লস ব্লাঙ্কোস।

২০২১ সালে পিএসভি আইন্দহোভেন থেকে ইন্টারে যোগ দিয়েছিলেন ডামফ্রিস। পাঁচ মৌসুমে ইতালিয়ান ক্লাবটির হয়ে নিজেকে নির্ভরযোগ্য রাইট উইং-ব্যাক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
ইন্টারের জার্সিতে ২০৭টি ম্যাচ খেলে করেছেন ২৭টি গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ২৮টি গোল।

মিলানের ক্লাবটির হয়ে মোট আটটি শিরোপা জিতেছেন ডাচ এই ডিফেন্ডার। এর মধ্যে রয়েছে দুটি সিরি আ এবং তিনটি কোপা ইতালিয়া। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ইন্টার যখন সিরি আ ও কোপা ইতালিয়া, দুই শিরোপাই জিতে ঘরোয়া ডাবল সম্পন্ন করে, তখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ডামফ্রিসের।

চলতি দলবদলে রিয়াল মাদ্রিদের চতুর্থ সাইনিং তিনি। এর আগে মার্ক কুকুরেয়া, বের্নার্দো সিলভা এবং ইব্রাহিমা কোনাতেকেও দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

গত মৌসুমে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দলকে নতুন করে গড়ে তুলতেই বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রিয়াল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে লা লিগার শিরোপা জিততে পারেনি তারা। এছাড়া উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকেও কোয়ার্টার-ফাইনালেই বিদায় নিতে হয়েছিল।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ক্লাবের রক্ষণভাগ শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিলেন ডামফ্রিস, যাকে শেষ পর্যন্ত দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে রিয়াল।

ডামফ্রিস সর্বশেষ নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপেও খেলেছেন। তবে শেষ বত্রিশে মরক্কোর কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ডাচরা।

 

ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য সরকারের

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করেছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।

এই ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহযোগ্য অর্থের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগের অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সে হিসেবে আগামী অর্থবছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারের মতে, ব্যাংক খাতের ওপর ঋণ নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎসের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও মুক্তি পাচ্ছে ‘মাইকেল’, দেখা যাবে স্টার সিনেপ্লেক্সে

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্ত-অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ নেই। সেই কৌতূহলকে বড় পর্দায় রূপ দিতে নির্মিত হয়েছে তার জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’।

আগামীকাল ২৪ এপ্রিল আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তির দিনেই বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। অ্যান্টনি ফুকো পরিচালিত এই সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাইয়ের সন্তান জাফার জ্যাকসন।

এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাইলস টেলার, কোলম্যান ডোমিঙ্গো, ক্যাট গ্রাহাম, নিয়ালং, লরা হ্যারিয়ার, কেনড্রিক স্যাম্পসন ও জুলিয়ানো ক্রু ভ্যালদি।

বায়োপিকে সংগীতের জাদুকরী অধ্যায়ের বাইরেও মাইকেলের ব্যক্তিজীবনের অজানা গল্পগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডের সেই তরুণ প্রতিভা থেকে কীভাবে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিনোদন-শিল্পী হয়ে উঠলেন, সেই যাত্রাই দেখা যাবে পর্দায়।

মঞ্চের চাকচিক্য ছাপিয়ে তার একাকীত্ব, সংগ্রাম এবং একক সংগীতজীবনের সোনালী মুহূর্তগুলো দর্শকদের সামনে আসবে একেবারে নতুনভাবে।

বায়োপিকটিতে মাইকেলের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চরিত্রগুলোও প্রাধান্য পেয়েছে। তার বাবা জো জ্যাকসনের চরিত্রে কোলম্যান ডমিঙ্গো এবং মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিয়া লং। বোন লাটোয়া জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসিকা সুলা।

এ ছাড়া সংগীত জগতের গুরুত্বপূর্ণ মোটাউন রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা বেরি গর্ডি, সংগীত নির্বাহী সুজান দে পাসে এবং ডায়ানা রসের চরিত্রও রয়েছে। এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে মাইকেলের ক্যারিয়ারের পেছনের মানুষদের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

২০০৯ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেও মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। এখনো স্পটিফাইয়ে তার মাসিক শ্রোতা প্রায় ৬৫ মিলিয়ন।

মুক্তির আগেই আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে বায়োপিক ‘মাইকেল’। গত বছরের নভেম্বরে সিনেমাটির টিজার মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১১৬.২ মিলিয়ন ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছিল। কোনো মিউজিক্যাল বায়োপিকের ক্ষেত্রে এত অণ্প সময়ে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ট্রেলার মুক্তির পর সেই উন্মাদনা আরও বেড়েছে।

স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মাইকেল জ্যাকসনের প্রচুর ভক্ত রয়েছেন। সেই আশি-নব্বই দশক থেকে শুরু করে এই সময়েও পপ সংগীত শ্রোতাদের কাছে সম্রাট হয়ে আছেন মাইকেল। তার বায়োপিক দেখার আগ্রহ আছে সবার। এটি সবার মন জয় করবে বলে আমরা আশাবাদী।’

একই হামলায় আহত খামেনির স্ত্রীও মারা গেছেন: রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একই হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হওয়ার সময় আহত হন তার স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

একই হামলার ঘটনায় খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, খামেনির দীর্ঘ শাসনামল জুড়ে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যেত তার স্ত্রী মানসুরেহকে।