26 C
Dhaka
Home Blog

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এনপিএর উদ্বেগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)।

আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গভর্নর পদে একজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানায় এনপিএ।

তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবেদনশীল ও বিশেষায়িত দক্ষতানির্ভর প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞতা, পেশাগত সততা ও গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণে এ পদটির ভূমিকা মুখ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আধুনিক রাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব মূল্যস্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ও আর্থিক খাতের স্থিতি বজায় রাখা। স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।

সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, রাজনৈতিক চাপের কারণে অতীতে একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং পরিচালনা পর্ষদে দলীয় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ঋণের আড়ালে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে আমানতকারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ব্যাংক খাতের বড় অংশ ঋণখেলাপিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং বাজার ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ নিয়মিত পুনঃতফসিলের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনাকালে প্রণোদনা ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে সুবিধা নেওয়া এবং উন্নয়ন ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে ব্যাংকিং খাত থেকে অর্থ ছাড় দেওয়ার ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে বলেও সংগঠনটির দাবি।

এনপিএ জানায়, আর্থিক ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় সংসদের কাছে এর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। অতীতে একজন গভর্নরকে মেয়াদপূর্তির আগেই অপসারণের ঘটনা ভবিষ্যতে যোগ্য ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত গভর্নরের ব্যবসা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

সংগঠনটি গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও বোর্ড সদস্য নিয়োগে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ বন্ধ করে স্বাধীন সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অপসারণের ক্ষমতা সীমিত করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গভর্নরের নিয়মিত সংসদীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে এনপিএ।

আমেরিকার রাজনীতিতে ইসরায়েলবিরোধী রাজনীতিকদের অবস্থান কি শক্তিশালী হচ্ছে?

আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি সূক্ষ্ম অথচ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ইতোমধ্যে ঘটে গেছে। তার প্রথম বড় আভাস পাওয়া গিয়েছিল নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির উত্থানের মধ্য দিয়ে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ অ্যান্ড্রু কুওমোকে প্রাইমারিতে পরাজিত করে মামদানি শুধু নিউইয়র্কের রাজনীতিতেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেননি, বরং আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে ইসরায়েল ও জায়োনিজম নিয়ে প্রচলিত অবস্থানকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। পরে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি নিউইয়র্কের মেয়র হন।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি প্রকাশ্যে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার চেষ্টা করবেন।

মামদানির সেই উত্থানকে যদি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা মনে হয়ে থাকে, পরবর্তী কয়েকটি নির্বাচনী ফল সেই ধারণাকে ক্রমেই দুর্বল করেছে। মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদের বিজয় তার সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ। ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে তিনি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক মহলের সমর্থনপুষ্ট হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি হয়ে উঠেছেন মিশিগান থেকে মার্কিন সিনেটের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়া প্রথম মুসলিম।

তার প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠন এআইপ্যাক ও অন্যান্য সংগঠন প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল। মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতিতে যা ছিল নজিরবিহীন মাত্রার হস্তক্ষেপ। অথচ বিপুল অর্থের সেই রাজনৈতিক শক্তিকে পরাজিত করেই এল-সাইয়েদের উত্থান।

এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় আয়শা ওয়াহাবের উত্থানও একই প্রবণতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে সামনে আসে। আফগান-আমেরিকান ও মুসলিম এই নারী রাজনীতিক ২০২৬ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। ফিলিস্তিন ও গাজা প্রশ্নে তার অবস্থানও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রচলিত মধ্যপন্থী অবস্থান থেকে অনেক বেশি সমালোচনামুখর। এমনকি তার বিরুদ্ধে এআইপ্যাক ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলোর কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রচারও এই নির্বাচনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় টেনে এনেছে।

তিনটি ঘটনা তিনটি ভিন্ন রাজ্য, তিনটি ভিন্ন নির্বাচন এবং তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু তাদের মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মিল রয়েছে—আমেরিকার ডেমোক্রেটিক পার্টির তৃণমূলের একটি অংশ এখন আর ইসরায়েল প্রশ্নে দলের পুরোনো অবস্থানকে নিঃশর্তভাবে মেনে নিতে প্রস্তুত নয়; বরং তারা দেখিয়েছেন, ফিলিস্তিন, গাজা, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে আরও কঠোর প্রশ্ন তুলেও নির্বাচনে জয়ী হওয়া সম্ভব।

মামদানি, এল-সাইয়েদ ও আয়শা ওয়াহাবের উত্থান অন্তত সেই সম্ভাবনাটিই সামনে এনেছে। এখানেই প্রশ্নটি আরও গভীর হয়ে ওঠে—তবে কি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থী লবির দীর্ঘদিনের প্রভাব কমতে শুরু করেছে? বদলে যাচ্ছে ওয়াশিংটনের সেই পুরোনো রাজনৈতিক সমীকরণ, যেখানে ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ছিল প্রায় অলিখিত দ্বিদলীয় ঐকমত্যের অংশ?

দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার রাজনীতিতে ইসরায়েলকে সমর্থন করা শুধু একটি পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান ছিল না; এটি ছিল রাজনৈতিক নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ইসরায়েলের নীতির কঠোর সমালোচনা, বিশেষ করে ফিলিস্তিন প্রশ্নে, মূলধারার রাজনীতিকদের জন্য প্রায়ই রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করত।

কিন্তু গাজা যুদ্ধ সেই পুরোনো সমীকরণে গভীর ফাটল তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছে, এটা শুধুমাত্র জনমত জরিপের বিষয় নয়, ব্যালট বাক্সেও এর প্রভাব পড়ছে। তবে ঘটনাগুলোকে সরলীকরণ করাও বিপজ্জনক। এটি এখনই বলা যাবে না যে এআইপ্যাকের প্রভাব শেষ হয়ে গেছে, কিংবা আমেরিকা ইসরায়েলবিরোধী হয়ে গেছে। বলা যেতে পারে, পরিবর্তনটি সম্ভবত আরও সূক্ষ্ম।

আমেরিকার রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব এখনো শক্তিশালী, তবে ইসরায়েলি সরকারের নীতি এবং মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করা আর আগের মতো রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব নয়। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, প্রশ্নটি এখন শুধু ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির করিডরে সীমাবদ্ধ নেই। সেটি প্রবেশ করেছে নিউইয়র্ক, মিশিগান ও ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটকেন্দ্রে।

সুতরাং জোহরান মামদানি, আবদুল এল-সাইয়েদ কিংবা আয়শা ওয়াহাবের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্যের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে একটি প্রশ্ন—আমেরিকার নতুন প্রজন্মের ভোটাররা কি ইসরায়েল প্রশ্নে তাদের পূর্বসূরিদের চেয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করছে? আর যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তবে তার অভিঘাত কতটা গভীর হতে পারে ওয়াশিংটনের বহু দশকের পুরোনো মার্কিন-ইসরায়েল সমীকরণে?

ঐকমত্যের দেয়ালে প্রথম ফাটল

ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকান জনসমর্থনের পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। হলোকাস্টের স্মৃতি, মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত স্বার্থ, স্নায়ুযুদ্ধের উত্তরাধিকার, ইহুদি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক ভূমিকা, শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের ধর্মীয় বিশ্বাস—সবমিলিয়ে ইসরায়েল-আমেরিকা সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকেনি; আমেরিকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও অংশ হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু গাজা যুদ্ধ সেই পুরোনো কাঠামোর ওপর যেন এক প্রবল প্রভাব ফেলেছে। গাজার ধ্বংসস্তূপ, নিহত শিশু, উদ্বাস্তু মানুষের দীর্ঘ সারি, হাসপাতালের দৃশ্য—সবকিছু পৌঁছে যাচ্ছে আমেরিকার ঘরে ঘরে এবং বিশেষ করে তরুণদের সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। ফলে ওয়াশিংটনের পুরোনো কূটনৈতিক ভাষায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা তরুণ প্রজন্মের কাছে আর একা যথেষ্ট মনে হচ্ছে না। তাদের পাল্টা প্রশ্ন: ফিলিস্তিনিদের ওপর যে গণহত্যা চালানো হচ্ছে তার কি হবে?

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৬ সালের জরিপে ৬০ শতাংশ আমেরিকান ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মত দিয়েছেন। ২০২২ সালে এই হার ছিল ৪২ শতাংশ। ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো তরুণদের অবস্থান। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী আমেরিকানদের মধ্যে মাত্র ৩২ শতাংশ ইসরায়েলিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন; বিপরীতে ৫৮ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখেন।

তরুণ ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে ব্যবধান আরও নাটকীয়। এখানে আমেরিকার রাজনীতির একটি ভবিষ্যত প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। আজকের ২০ বছরের ভোটার আগামীকাল ৩০ বছরের ভোটার হবেন। আজকের শিক্ষার্থী তরুণই আগামী সময়ের কংগ্রেসম্যান, সাংবাদিক, অধ্যাপক, আইনজীবী, উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক সংগঠক হবেন। রাজনীতি শুধু আজকের ভোট দিয়ে বদলায় না। প্রজন্ম বদলালে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্মৃতিও বদলায়।

ডেমোক্রেটিক পার্টি: পরিবর্তনের বড় কেন্দ্র

আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরায়েল প্রশ্নে যে বড় পরিবর্তন, সেটির প্রাথমিক সূচনা হয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি অভ্যন্তরে। দলটি ইসরায়েলবিরোধী রাজনীতিকদের বড় কেন্দ্রও বটে। দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্রেট নেতৃত্ব ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রশ্নে তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ ছিল। এখন সেই ঐক্যের জায়গায় এসেছে বড় মতানৈক্য।

২০২৬ সালের এপি-নর্ক জরিপে ৫৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন করছে। ২০২৪ সালের শুরুতে এমন মত পোষণ করতেন ৪৫ শতাংশ। এই সংখ্যাটি শুধু একটি জরিপের ফল নয়, এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে রাজনৈতিক মেরুকরণের গভীরতার একটি সংকেত।

বার্নি স্যান্ডার্স বহু বছর আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন, আমেরিকার সম্পদ ও ক্ষমতা কার জন্য? বর্তমানে তার উত্তরসূরি প্রজন্ম সেই প্রশ্নকে বিদেশনীতি পর্যন্ত নিয়ে গেছে। আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের রাজনীতি তাই শুধু স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিকের অধিকার কিংবা জলবায়ু নীতির রাজনীতি নয়। তার রাজনীতি ক্রমেই এই প্রশ্নও করছে, আমেরিকা পৃথিবীতে তার সামরিক শক্তি কোথায় এবং কেন ব্যবহার করবে?

আর জোহরান মামদানি এই প্রশ্নের সঙ্গে যোগ করেছেন শহুরে জীবনের নির্মম বাস্তবতা—ভাড়া, বাসস্থান, পরিবহন, মজুরি ও স্বাস্থ্যসেবা। এই নতুন প্রগতিশীল রাজনীতির শক্তি এখানেই। এটি শুধু ফিলিস্তিনের কথাই বলছে না, আমেরিকার প্রান্তিক পরিবার এবং মানুষের কথাও বলছে। একটি আমেরিকান পরিবার যখন মাসের শেষে বাড়িভাড়া দিতে হিমশিম খায়, স্বাস্থ্যসেবার খরচ সামলাতে পারে না, তখন বিদেশে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তার প্রশ্ন তার কাছে আর সম্পূর্ণ বিদেশনীতি থাকছে না, সেটি হয়ে উঠছে আমেরিকানদের জীবনের প্রশ্ন।

নিউইয়র্কের পর মিশিগান: টাকাই শেষ কথা নয়

২০২৬ সালের মিশিগান সিনেট প্রাইমারি এই পরিবর্তনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক দৃশ্যগুলোর একটি। মিশিগান সিনেটের প্রাইমারিতে প্রগতিশীল আবদুল এল-সাইয়েদ প্রতিষ্ঠিত ডেমোক্রেট প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করেছেন। ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সামরিক সহায়তার কঠোর সমালোচনা ছিল তার প্রচারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর গুরুত্ব শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, আরও একটি জায়গায়। এআইপ্যাক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো স্টিভেন্সের পক্ষে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরবর্তী ব্যয়ের পরিমাণ ৩২ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বলে এসেছে। তারপরও এল-সাইয়েদ জিতেছেন।

এখানে একটি পুরোনো রাজনৈতিক ধারণা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একসময় আমেরিকার রাজনীতিকদের মধ্যে ধারণা ছিল, ইসরায়েল তার সমর্থকদের পক্ষে এবং সমালোচকদের বিপক্ষে প্রচুর অর্থ খরচ করে, যা প্রতিপক্ষকে নিশ্চিত পরাজয় বরণে বাধ্য করে। অর্থাৎ ইসরায়েলের সমালোচনা করলে তারা অর্থ দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

মিশিগানের আবদুল এল-সাইয়েদের প্রাইমারিতে বিজয় বলছে, সবসময় অর্থ দিয়ে জনমত পরিবর্তন করা যায় না। তবে এই ঘটনাকে এআইপ্যাকের পরাজয় হিসেবে দেখাও ভুল হবে। একই সময়ে মিসৌরিতে প্রগতিশীল কোরি বুশ হেরে গেছেন ওয়েসলি বেলের কাছে, যিনি ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের জন্য এআইপ্যাকের সমর্থন পেয়েছিলেন। অর্থাৎ এআইপ্যাক দুর্বল হয়ে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সময় এখনো আসেনি।

কিন্তু একটি বিষয় বদলেছে। ইসরায়েলের বিরোধিতা করা এখন আর রাজনৈতিক আত্মহত্যা বলে গণ্য হচ্ছে না। বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে এবং এটাই হচ্ছে পরিবর্তনের প্রকৃত বার্তা।

ইসরায়েলবিরোধীতার প্রকৃত রূপ

যেসব রাজনীতিক ইসরায়েলি সরকারের গাজা নীতির সমালোচনা করেন, তাকে যদি সরাসরি ইসরায়েলবিরোধী বলা হয়, তাহলে বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। কারণ, অনেক মার্কিন রাজনীতিকের অবস্থান আসলে অনেক বেশি সূক্ষ্ম। তারা বলছেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার আছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকার আছে, হামাসের সন্ত্রাসের বিরোধিতা করা উচিত; কিন্তু একইসঙ্গে ফিলিস্তিনিদেরও রাষ্ট্রের অধিকার আছে, গাজার বেসামরিক মানুষের জীবনরক্ষার অধিকার আছে, আন্তর্জাতিক আইন মানা উচিত। একইসঙ্গে আমেরিকার সামরিক সহায়তারও সীমা ও শর্ত থাকা উচিত।

এই অবস্থানকে শুধু ইসরায়েলবিরোধীতা বললে পরিবর্তনটি বোঝা যাবে না। বরং আমেরিকান রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নটি হলো—ইসরায়েলের নিরাপত্তা কি ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, নাকি দুইপক্ষের নিরাপত্তার জন্যই নতুন রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন? এই প্রশ্নের উত্তরই আগামী দশকের রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

এ ছাড়া, হামাস প্রশ্নেও আমেরিকান জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি বাড়লেও তারা হামাসের কার্যক্রমকে সেভাবে পছন্দ করছে না। পিউ রিসার্চের ২০২৬ সালের জরিপে তরুণ ডেমোক্র্যাটদের মাত্র ১৬ শতাংশ হামাসের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ বেশিরভাগ আমেরিকান ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি সমর্থন এবং হামাসের প্রতি সমর্থন—এই দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখছেন।

এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমেরিকার রাজনৈতিক মূলধারায় জায়গা পেতে হলে প্রগতিশীলদের একটি কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। তাদের একদিকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের কথা বলতে হবে, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদ ও বেসামরিক হত্যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট থাকতে হবে। এই ভারসাম্য যত পরিষ্কার হবে, তাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও তত বাড়বে।

রিপাবলিকান পার্টি: ইসরায়েলবিরোধীতার উল্টোস্রোত

ডেমোক্রেটিক পার্টি যখন ইসরায়েল প্রশ্নে বিভক্ত হচ্ছে, সেখানে রিপাবলিকান পার্টির প্রায় সব রাজনীতিক ইসরায়েলের মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রমকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েল সমর্থনের পরিমাণও বেশি।

পিউ রিসার্সের ২০২৬ জরিপে রিপাবলিকানদের ৫৮ শতাংশ ইসরায়েল সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। এ ছাড়া, রক্ষণশীল রিপাবলিকান রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন শক্তিশালী। কিন্তু এটি ইসরায়েলের জন্য সুবিধাজনক কোনো পরিস্থিতি নয়। বরং অসুবিধার পরিমাণটা এখানে বেশি। এতদিন ডেমোক্রেট রিপাবলিকান নির্বিশেষে ইসরায়েল দীর্ঘদিন আমেরিকার দ্বিদলীয় সমর্থন পেয়েছে। ইসরায়েলের জন্য এটি ছিল সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সম্পদ ছিল। কারণ, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনে কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি ইসরায়েলের প্রতি শুধুমাত্র রিপাবলিকানদের সমর্থন থাকে এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভক্তি বেড়ে দ্বিদলীয় ঐকমত্য ক্ষয়ে যায়, তাহলে ইসরায়েলের জন্য জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমস্যা তৈরি হবে। দ্বিদলীয় ঐকমত্য বদলে যাওয়া মানে ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকার একচ্ছত্র সমর্থনের কবর রচনা হওয়া।

পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও আমেরিকা-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যত

সেই নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে—আমেরিকা কি ইসরায়েলের সঙ্গে তার কয়েক দশকের সম্পর্ক আগের মতোই বজায় রাখবে, নাকি সেই সম্পর্কের শর্ত ও সীমা নতুন করে নির্ধারণ করবে? যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশ এখন ইসরায়েলকে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের একটি মিত্র হিসেবে দেখছে না; তারা এটিকে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক ব্যয়, মানবাধিকার ও বৈশ্বিক ক্ষমতা ব্যবহারের বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করছে।

২০২৬ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিগুলোতে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা, অস্ত্র সরবরাহ এবং এআইপ্যাকের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা তরুণ ভোটারদেরকে প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে আবাসন সংকট, স্বাস্থ্য ব্যয়, শিক্ষা ঋণ, বৈষম্য, সামরিক বাজেট ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয়।

অর্থাৎ, ইসরায়েল প্রশ্নটি ধীরে ধীরে ইসরায়েলপন্থী না ফিলিস্তিনপন্থী এই সরল দ্বন্দ্বের বাইরে গিয়ে আমেরিকা প্রথমে কোথায় অর্থ ও শক্তি ব্যয় করবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনগুলোতে এইসকল প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কে জোহরান মামদানি, মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদের মতো রাজনীতিকদের উত্থান দেখাচ্ছে যে ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি অংশ এখন পুরোনো রাজনৈতিক সমীকরণকে চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত। মিশিগানের ২০২৬ সালের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারিতে এল-সাইয়েদের বিজয় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ তিনি ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করে এবং প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থায়নের কাঠামোকে প্রশ্ন করে জয় পেয়েছেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল রাজনীতিকদের কাছে প্রশ্নটি ক্রমেই এমন হয়ে উঠছে: আমেরিকা কি তার মিত্রদের সমর্থন করবে—নাকি মিত্র হলেও তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করবে? ইসরায়েলের ক্ষেত্রে এর অর্থ হতে পারে—অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা কি নিঃশর্ত থাকবে, নাকি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে তা যুক্ত করা হবে? এই অবস্থান ইতিমধ্যে কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক রাজনীতিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি জায়গা করে নিয়েছে।

এখানে অবশ্য আরেকটি বাস্তবতা আছে। প্রাইমারি নির্বাচন আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এক নয়। ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে যে অবস্থান ভোটারদের উজ্জীবিত করতে পারে, তা মধ্যপন্থী ও দোদুল্যমান ভোটারদের কাছে একইভাবে প্রভাবিত করবে কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। ফলে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রগতিশীল প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে একই সঙ্গে দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে—ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকার নীতি কতটুকু এবং কিভাবে বদলাবে। সেই পরিবর্তিত নীতি আমেরিকার বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে? ইতিমধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যপন্থীরা সতর্ক করছে যে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল করা মানে শুধু একটি মিত্রকে দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়; এর অর্থ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কৌশলগত অবস্থানও দুর্বল করা। তবে মধ্যপন্থীরা ইসরায়েলকে সমর্থন করেও স্বীকার করছে যে পুরোনো নিঃশর্ত সমর্থন নীতি আর টেকসই হচ্ছে না।

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের বড় অংশ সম্ভবত আরও স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের পাশে থাকবে। এখানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান ভোটারদের দীর্ঘদিনের ইসরায়েলপন্থী অবস্থান এবং রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় নিরাপত্তাকেন্দ্রিক রাজনীতি। ফলে ২০২৮ সালে ইসরায়েল প্রশ্নটি দুই দলের মধ্যকার একটি পুরোনো বিভাজনকে আরও তীব্র করতে পারে। একদিকে ‘শক্তিশালী মিত্র ও শক্তিশালী আমেরিকা, অন্যদিকে শর্তহীন সামরিক সমর্থনের অবসান ও পররাষ্ট্রনীতির পুনর্বিন্যাস। এখানেই ২০২৮ সালের নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তাহলে কি ইসরায়েল-আমেরিকা সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে?

আসলে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনো আসেনি। ইসরায়েল এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র। দুদেশের সামরিক, গোয়েন্দা, প্রযুক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গভীর। কংগ্রেসেও ইসরায়েলপন্থী শক্তি যথেষ্ট প্রভাবশালী। কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ইসরায়েলি সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন, এই দুইটি আর একই অর্থ বহন করছে না। এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। একসময় আমেরিকান রাজনীতিকের জন্য ইসরায়েলের সমালোচনা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এখন কিছু নির্বাচনে উল্টো ইসরায়েলের সমালোচনা রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।

পুরোনো সমীকরণের সামনে নতুন আমেরিকা

আমেরিকায় ইসরায়েলপন্থী রাজনীতি শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এআইপ্যাক (AIPAC) এখনও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে পারে। ইসরায়েল এখনও ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। রিপাবলিকান পার্টির বড় অংশ এখনও ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ়ভাবে অনুগত। সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কও গভীর। কিন্তু যে বিষয়টি বদলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলবিরোধী রাজনীতিকদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ইসরায়েলি সরকারের নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করা রাজনীতি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। এটি এখন আর প্রান্তিক অবস্থান নয়। এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে একটি বড় রাজনৈতিক স্রোত। তরুণ আমেরিকানরা পুরোনো ইসরায়েল-সমর্থনের ধারণাকে প্রশ্ন করছে। ডেমোক্রেটিক ভোটারদের বড় অংশ মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন করছে। প্রগতিশীল রাজনীতিকরা এআইপ্যাকের মতো শক্তিশালী সংগঠনের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছেন। একসময় ইসরায়েলকে সমালোচনা করা ছিল রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এখন সেটিই কোনো কোনো ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর জন্য নির্বাচনে রাজনৈতিক শক্তির উৎস। তাই এটি শুধু কোন রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের গল্প নয়, এটি আমেরিকার রাজনৈতিক স্মৃতি বদলে যাওয়ারও গল্প।

মামদানির নিউইয়র্ক, এল-সাইয়েদের মিশিগান এবং ওয়াহাবের ক্যালিফোর্নিয়া—এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন নির্বাচনী গল্পের মধ্য দিয়ে সেই পরিবর্তনের রেখাটি দেখা যাচ্ছে। আজ যে প্রশ্নটি নিউইয়র্কের মেয়র, মিশিগানের সিনেট প্রাইমারি কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কংগ্রেশনাল আসনে উঠছে, কাল সেটিই হয়তো ওয়াশিংটনের জাতীয় নির্বাচনের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। আর তখন আমেরিকার রাজনীতির সামনে শুধু একটি প্রশ্ন থাকবে না—কে ইসরায়েলের পক্ষে? প্রশ্নটি আরও কঠিন হবে— যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কি আর আগের মতো ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত থাকবে? যদি উত্তরটি ধীরে ধীরে না এর দিকে যেতে শুরু করে, তাহলে এটাই হয়ে উঠবে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রথম দৃশ্যমান প্রতীক। ওয়াশিংটনের বহু দশকের পুরোনো মার্কিন-ইসরায়েল সমীকরণ নতুন করে লেখার সূচনা।

তরুন ইউসুফ: কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

আমরা সংশোধন চাই, সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি: ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি।’

জুলাই সদন নিয়ে বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও এ সময় অভিযোগ তোলেন তিনি।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।

ফখরুল বলেন, ‘জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। ম্যানিফেস্টোর মধ্যে যেটা ছিল, সেই ম্যানিফেস্টোতে টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। সুতরাং ওই জায়গায় কোনো রকমের কোনো বিভ্রান্তি অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আজকে অনেকগুলো প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথের ফায়সালা হবে। আমার কাছে মনে হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জুলাই সনদ আমরা স্বাক্ষর করেছি একসঙ্গে। যে সমস্ত দল আমরা আন্দোলন করেছি একসঙ্গে, তারা সবাই স্বাক্ষর করেছি। আমরা বারবার করে বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়িত করব…এটাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

গণভোটের একটি অংশ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। সে সময় আমি নিজে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সংস্কার কমিশন আমাদের কনসেন্ট ছাড়াই কথাগুলো সেদিন নিয়ে এসেছে।

‘জুলাই সনদের বইটা যদি আপনারা পড়েন…সেখানে প্রতিটি জায়গায় বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা বারবারই এই কথা বলে এসেছি এবং আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ৩১ দফাতে যেমন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ঠিক তেমনভাবে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি, সেভাবে আমরা বলছি। এখানে বিরোধীদল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না,’ যোগ করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘সংস্কার এদেশে কারা এনেছে? বিএনপি এনেছে। একদলের শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি নিয়ে এসেছে।’

বিরোধীদলের অনেকে মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জনগণের চেয়ে ভালো তো আর কেউ বোঝে না। আমরা যতই মনে করি…জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে কী বলেছি?’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি যে, বিরোধীদল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে (জুলাই সনদ) ব্যবহার করতে চায়। আমরা কিন্তু চাই না জুলাই ক্ষমতার যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।’

জুলাই আন্দোলনের বিএনপি ত্যাগ সবচেয়ে বেশি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় এক হাজার ৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। বিএনপি কয়েক হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। এই কথাগুলো বারবার করে আমাদেরকে বলতে হয় এ জন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।’

বিক্রি কম, সংকটে প্লাস্টিক খাত

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ধাক্কা এসে লেগেছে বাংলাদেশের প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম হু হু করে বাড়ছে, অন্যদিকে দেশে চাহিদা গেছে কমে। এই দ্বিমুখী চাপে আর্থিক সংকটে পড়েছে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

ঢাকার পল্টনে গতকাল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে সংকটের চিত্র তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি শামীম আহমেদ।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংকট শুরুর আগে প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানি হতো টনপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে। এখন সেই দাম বেড়ে দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

শামীম আহমেদ বলেন, কাঁচামালের চড়া দাম পুরো শিল্পকে চাপে রেখেছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরকে প্লাস্টিক পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে।

বিপিজিএমইএর তথ্যমতে, দেশে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের বার্ষিক বাজার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার। মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর আগে প্রতিমাসে এই খাতে বিক্রি হতো প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে।

শামীম আহমেদ জানান, গ্রাহকরা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। কিছু কিছু প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্যাকেজিং খাত। শামীম বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ এখন গৃহস্থালির টুকটাক জিনিস বা দ্রুত বিক্রি হওয়া ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) কম কিনছে। এর ধাক্কা লাগছে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, প্লাস্টিক বা প্যাকেজিং চূড়ান্ত পণ্য নয়। এটা অন্য শিল্পে সরবরাহ করা হয়। ভোক্তারা যখন ডিটারজেন্ট, খাবার বা গৃহস্থালির পণ্য কেনা কমিয়ে দেন, তখন প্যাকেজিং ও প্লাস্টিকের চাহিদাও কমে যায়।

তিনি জানান, অনেকেই মনে করেন প্লাস্টিক মানে শুধু বালতি, মগ আর রান্নাঘরের সরঞ্জাম। এই ধারণা সঠিক নয়। পোশাক, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং পানীয় শিল্পসহ সব জায়গাতেই প্লাস্টিক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার প্লাস্টিক কারখানার আছে। এর মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার কারখানাই অন্যান্য খাতে তাদের পণ্য সরবরাহ করে।

তাই প্লাস্টিক খাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত বা নেতিবাচক প্রভাব পড়লে, খুব দ্রুত পুরো অর্থনীতিতে এর ধাক্কা লাগবে বলে মনে করেন শামীম আহমেদ।

মতবিনিময় সভায় বিপিজিএমইএ নেতারা অভিযোগ করেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য অনেক সময়ই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ (শুল্ক বিভাগ) চালানের ইনভয়েসের চেয়ে বেশি দাম ধরে শুল্কায়ন করছে। প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে আনা হয়, তাই এখানে ‘আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিং’ করার সুযোগ নেই বললেই চলে। তবু ব্যবসায়ীদের অযথাই হয়রানি হতে হচ্ছে।

বিপিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, উৎপাদন খরচ অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়লেও এর সবটা ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে না। উতপাদকরা কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও টিকে থাকার লড়াই করছেন। তিনি বলেন, ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা চললেও এখনো দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে মুনাফা ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে।

(সংক্ষেপিত অনুবাদ, বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে)

প্যারাগুয়ের সিনেটরকে ‘ঘৃণ্য নারী’ বললেন এমবাপে

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে জয়সূচক গোল করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু মাঠের লড়াই শেষ হওয়ার পরও তাকে ঘিরে বিতর্ক থামেনি। এবার এক বর্ণবাদী মন্তব্যের জবাবে প্যারাগুয়ের এক সিনেটরকে ‘ঘৃণ্য নারী’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন।

শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে এমবাপের পেনাল্টির গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া এমবাপেকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তিনি এমবাপেকে ‘ক্যামেরুনীয় উপনিবেশের সন্তান, যে মরিয়া হয়ে নিজেকে ফরাসি প্রমাণ করতে চায়’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তাকে ‘বর্বর’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, তিনি নাকি লেখালেখিও শেখেননি।

এতেই থেমে থাকেননি আমারিয়া। ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের এমবাপেকে চড় মারা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিনেটরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এমবাপে, ‘ম্যাডাম সেলেস্তে আমারিয়া, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনার পদে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না, যে দেশটি এই বিশ্বকাপে আবেগ, সম্মান ও লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার বেপরোয়া আচরণ ও প্রকাশ্য বর্ণবাদের কারণে বিশ্ব এখন প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা ভুলে গিয়ে এমন এক অযোগ্য নারীর কথাই বলছে, যিনি নিজের দেশের সবচেয়ে খারাপ চিত্র তুলে ধরেছেন। আপনার মতো মানুষকে আমি কখনোই ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার স্বাধীনতা দিতে রাজি নই।’

ঘটনাটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সিনেটরের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘এই মন্তব্যগুলো অপরাধমূলক, জঘন্য এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এগুলোর বিচার হওয়া উচিত। সে লক্ষ্যেই আমরা রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির কাছে অভিযোগ দায়ের করছি।’

ফেডারেশন আরও বলেছে, ‘এ ধরনের মন্তব্য শুধু মন্তব্যকারীকেই নয়, যারা তা ছড়িয়ে দেয় তাদেরও লজ্জিত করে। ফ্রান্স জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই এই মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের দেশকেও অপমান করা হয়েছে।’

সিনেটরের মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে প্যারাগুয়ে সরকার। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সেলেস্তে আমারিয়ার মন্তব্যের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করছি। এগুলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানবিক মর্যাদার যে মূল্যবোধ আমাদের দেশ ধারণ করে, তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’

সরকার আরও স্পষ্ট করে জানায়, সিনেটরের বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মতামত, এটি প্যারাগুয়ে সরকার বা দেশের জনগণের অবস্থান নয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখে এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন এবং ফ্রান্সের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

এরপর ম্যাক্রোঁ নিজেও এক্সে লিখেছেন, ‘কিলিয়ান এমবাপের আরেকটি গোল এবার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে। আমার পূর্ণ সমর্থন তার প্রতি। যখন বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, তখন আমাদের মূল্যবোধ, মর্যাদা, সম্মান ও ভ্রাতৃত্ব তার জবাব দেয়।’

প্যারাগুয়ের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি বাসিলিও নুনিয়েসও বলেছেন, ‘বর্ণবাদ, বিদেশিবিদ্বেষ কিংবা সহিংসতায় উসকানি, এসব বার্তাকে আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এগুলো প্যারাগুয়ের মানুষের প্রকৃত মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ে দল সম্মান ও সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছে। রাজনীতি ও খেলাধুলাকে আলাদা রাখাই উচিত।’

এদিকে ফ্রান্সের সহকারী কোচ গি স্তেফান সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এমবাপের সঙ্গে এখনো কথা হয়নি। তবে তিনটি শব্দ বলব, এটি লজ্জাজনক, জঘন্য এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

গল্প পড়ে বলেছিলাম, এটা আপনি কী লিখলেন: নাজিফা তুষি

সিনেমা ও ওটিটির জন্য অভিনয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাজিফা তুষি। তার অভিনীত ও সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’। আগামী ঈদে আসছে ‘রইদ’ এবং বর্তমানে ‘সুরাইয়া’ সিনেমার শুটিং করছেন।

এরইমধ্যে জানা গেল ‘অ্যানি’ সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। এটি পরিচালনা করেছেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ।

প্রায় পাঁচ বছর বিরতির পর নতুন কাজ নিয়ে ফিরেছেন সাদ। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সিরিজকেন্দ্রিক উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’র ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ‘অ্যানি’। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তুষি। জার্মানির কোলনে আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠেয় উৎসবে মিনি সিরিজটির প্রদর্শনী হবে।

এই সিরিজে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তুষি বলেন, ‘আমি অ্যানির শুটিং করি ২০২৩ সালে। তখন হাওয়া ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। এই সময়টা আমার জন্য স্পেশাল। অ্যানি আমার বিশেষ পছন্দের কাজ। এটি নিয়ে খুব বেশি বলা যাবে না। কারণ, এখনো ট্রেলার প্রকাশ হয়নি। আমি এখানে নার্সের ভূমিকায় অভিনয় করেছি, যার পাঁচ ভাইবোন, বাবা-মা নেই। তখন একটা পেন্ডামিক ফেস করি। অন্যরকম একটি কনসেপ্টের গল্প।’

তুষি আরও বলেন, ‘অ্যানির চরিত্রটা করতে গিয়ে আমি অনেক স্ট্রং হয়েছি। আমার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে। পরিচালক সাদ আমাকে কাস্ট করেছেন। যখন তিনি আমাকে প্রথম পর্ব পড়তে দেন, পড়েই আমি থ হয়ে যাই। আমি বলেছিলাম, এটা আপনি কী লিখলেন! এতটা ভালো লাগছে। কাজটি আমার জীবনে অনেক প্রভাব ফেলেছে।’

ইরানে নিহত বেড়ে হাজার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৪৫ জনে পৌঁছেছে।

দেশটির বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুরের বরাতে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি বলছে, হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

হোসেইন কেরমানপুর বলেন, ‘হামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৯৪৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুই হাজার ১৮৪ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

গত শনিবার ইরানে যৌথ সামরিক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।

পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান।

 

টেন্ডার নিয়ে জামায়াতের ২ নেতাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার জমা দেওয়া নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল জমা দেওয়া শেষ দিন। একইসঙ্গে বিকেল ৩টায় জমা দেওয়া টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব তার নিজ এলাকার একটি হাটের টেন্ডার শিডিউল জমা দিতে উপজেলায় যান। সে সময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গিয়ে তার ওপর হামলা করেন। এর কিছুক্ষণ পর ইউএনও অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান। তখন ‌‘জামায়াতের সেক্রেটারি এখানে কেন’ বলেই তার ওপর হামলা করেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি ইউএনও সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম আমার এলাকার একটি সমস্যা-সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি যে টেন্ডার জমা দিয়েছেন, এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি জানতামও না। ইউএনও অফিসের কাজ শেষে রুম থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সবাই আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়ারুল হক সেন্টু ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘টেন্ডার জমা দেওয়ার সময় ইউএনওর কার্যালয়ে জামায়াত নেতার উপস্থিতি দেখে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সে সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আমরা দ্রুত সবাইকে শান্ত করি।’ ‌

এদিকে, এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পাবনা-৩ আসনে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আজগর। আজ বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান বলেন, জামায়াতের কর্মপরিষদ সভায় আলোচনা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করা হবে।

স্ক্রুর খাঁজ গুণে ক্যারিয়ার শুরু করে এখন অ্যাপলের সিইও, কে এই জন টার্নাস?

১৫ বছর ধরে অ্যাপলের নেতৃত্ব দিয়েছেন টিম কুক। এবার তার জায়গায় বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছেন এমন একজন, যাকে অ্যাপলের পণ্যপ্রেমীদের বাইরের কেউই খুব একটা চেনেন না। তিনি জন টার্নাস।

অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা টার্নাস মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নিয়েছেন।

প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে কুকের উত্তরসূরি হিসেবে তার নাম ঘোষণার পরই তাকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

কিন্তু টিম কুক অ্যাপল ছাড়ছেন না। তিনি প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নেতৃত্বের এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে হলো, যখন অ্যাপলকে নতুন আইফোনের উন্মোচন সামলাতে হচ্ছে, আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়েও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই নতুন আইফোন উন্মোচনের আয়োজন রয়েছে। শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত বিল্ট-ইন ভার্চুয়াল ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-র নতুন ও উন্নত ভার্সন চালুর পরিকল্পনাও করছে অ্যাপল। এটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির পেছনে থাকছে গুগলের জেমিনি।

টিম কুক তার শেষ কর্মদিবসে কর্মীদের উদ্দেশে লিখেছেন, জন টার্নাসের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে তিনি অত্যন্ত স্বস্তি বোধ করছেন। পৃথিবী বদলে দিতে পারে এমন পণ্য তৈরির জন্য কী প্রয়োজন, তা টার্নাসের মতো খুব কম মানুষই বোঝেন।

জন টার্নাসের বয়স এখন ৫১। তার জীবনের প্রায় অর্ধেক সময়ই অ্যাপলের সঙ্গে কেটেছে।

২০০১ সালে অ্যাপলের পণ্য নকশা দলে যোগ দেন তিনি। কলেজ শেষ করার পর সেটিই ছিল তার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরিটি ছিল ভার্চুয়াল রিয়েলিটি যন্ত্র তৈরি করা প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমসে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে টার্নাস অ্যাপলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। ২০২১ সালে তাকে হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়।

তিনি টিম কুকের চেয়ে বয়সে ১৫ বছরের ছোট। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যেসব শীর্ষ কর্মকর্তার নাম আগে আলোচনায় এসেছিল, তাদের মধ্যে টার্নাসই ছিলেন তুলনামূলকভাবে কম বয়সী।

অ্যাপলের নেতৃত্বের ইতিহাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি শতকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ছিলেন মাত্র দুজন, স্টিভ জবস ও টিম কুক। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, এমন কাউকেই অ্যাপল বেছে নিতে চেয়েছে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ ছিল।

টার্নাস এত দিন সরাসরি কুকের অধীনে কাজ করেছেন এবং তাকে নিজের পরামর্শদাতা হিসেবেও দেখেন। অ্যাপলের পুরো হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। আইফোন ও ম্যাকবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর কথা বিবেচনায় নিলে তার আগের দায়িত্বের গুরুত্ব বোঝা যায় সহজেই।

অ্যাপলে টার্নাসের শুরুর দিকের একটি কাজ ছিল অ্যাপল সিনেমা ডিসপ্লের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা।

২০২৪ সালে নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার প্রকৌশল বিভাগের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সেই সময়ের একটি ঘটনা বলেছিলেন তিনি।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অ্যাপলে যোগ দেওয়ার প্রথম বছরেই এক সরবরাহকারীর কারখানায় গিয়ে রাত পেরিয়ে স্ক্রুর মাথায় থাকা খাঁজ গুনছিলেন টার্নাস। সেখানে তিনি দেখতে পান, একটি যন্ত্রাংশে ৩৫টি খাঁজ রয়েছে, অথচ থাকার কথা ২৫টি।

সেই মুহূর্তে নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি আসলে কী করছেন এবং এটি স্বাভাবিক কি না। ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে অবশ্য এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর প্রতি তার মনোযোগই অ্যাপলের কাজের দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়।

টার্নাস তার সমাবর্তন বক্তব্যে বলেছিলেন, ঘরে থাকা অন্য সবার মতো নিজেকেও বুদ্ধিমান ভাবতে হবে, তবে কখনোই মনে করা যাবে না যে অন্যদের চেয়ে বেশি জানা আছে। তার মতে, এই মানসিকতা আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি প্রশ্ন করার মতো বিনয়ও তৈরি করে।

অ্যাপলের ভেতরে পদোন্নতির সঙ্গে সঙ্গে টার্নাসের দায়িত্বও বেড়েছে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের হার্ডওয়্যার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি এয়ারপডস, অ্যাপল ওয়াচ এবং ভিশন প্রোর মতো পণ্যের বাজারে আসার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অ্যাপলের ইন্টেল চিপ থেকে নিজেদের তৈরি অ্যাপল সিলিকন চিপে যাওয়ার বড় পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপলের তুলনামূলক কম দামের ল্যাপটপ ম্যাকবুক নিও তৈরির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। খরচ কমাতে এই ল্যাপটপে কিছু হার্ডওয়্যারগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে আইফোনে ব্যবহৃত চিপও ব্যবহার করা হয়েছে।

ম্যাকবুক নিও নিয়ে টমস গাইডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টার্নাস বলেন, অ্যাপল কখনো নিম্নমানের পণ্য বাজারে আনতে চায় না। নিও তৈরির জন্য তাই নতুন করে সবকিছু গড়ে তুলতে হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপল সিলিকন এবং ম্যাক, আইফোন ও আইপ্যাড তৈরির বহু বছরের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো হয়েছে।

স্টিভ জবসের সঙ্গে কাজের সময়কার একটি স্মৃতিও টার্নাসের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, জবসের কারুশিল্প এবং খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগের কথা মনে করেছিলেন টার্নাস। একবার একটি আসবাবের পেছনের দিকও সামনে অংশের মতোই সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছে কি না, তা জবস খেয়াল করেছিলেন। অথচ সেটি সাধারণত কারও দেখার কথা নয়।

টার্নাসের কাছে ঘটনাটি অ্যাপলের কাজের ধরনকে বোঝানোর একটি দারুণ উদাহরণ। ব্যবহারকারী কোনো অংশ দেখবেন কি না, সেটি বড় বিষয় নয়, পণ্য তৈরির প্রতিটি জায়গায় মান বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

এখন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সেই দর্শন ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটিও হবে টার্নাসের বড় পরীক্ষা।

নতুন দায়িত্বে টার্নাসকে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে অ্যাপলের পিছিয়ে পড়া অবস্থান কাটিয়ে ওঠা।

একইসঙ্গে ভিশন প্রোর পেছনে থাকা প্রযুক্তি নিয়ে অ্যাপল কী করবে, সেটিও তাকে ঠিক করতে হবে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের নতুন সিরি ব্যবস্থায় গুগলের জেমিনি ব্যবহার করার ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ কৌশল টার্নাসের নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

অ্যাপলের বাইরে টার্নাসের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতার দলের সদস্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের প্রকল্প হিসেবে তিনি এমন একটি খাবার খাওয়ানোর যন্ত্র তৈরি করেন, যা চার হাত-পা অচল ব্যক্তিরাও মাথা নেড়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকাশ্য রাজনৈতিক অনুদানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে টার্নাস ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর চাক শুমারকে ২ হাজার ৯০০ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।

এর বাইরে এত দিন তিনি অনেকটাই আড়ালে ছিলেন। এমনকি টেক ক্রাঞ্চের ভাষ্য, সম্প্রতি তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তবে সুযোগ এখন আর নেই।

এখন দেখার বিষয়, হার্ডওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে সাফল্যের পর বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি কতটা বড় পরিবর্তন আনতে পারেন।

ফ্লোরা টেলিকমের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে সুনাম, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির জন্য টেমেনোস টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার সরবরাহ ও বাস্তবায়নের কাজে ফ্লোরা টেলিকম চুক্তিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি আরও ১০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়। অগ্রণী ব্যাংকের ৯৭৯টি শাখায় টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সিস্টেম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পেয়ে আসছেন।

বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আধুনিক সফটওয়্যারকে নিয়মিত হালনাগাদ ও উন্নত সংস্করণে নেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে অগ্রণী ব্যাংকে ব্যবহৃত টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আপগ্রেডেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। প্রচলিত প্রকিউরমেন্ট বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২১ সালের মার্চ মাসে অগ্রণী ব্যাংক বিদ্যমান টি-২৪ সফটওয়্যারকে সর্বশেষ সংস্করণে আপগ্রেড করার জন্য ফ্লোরা টেলিকমের অনুকূলে কার্যাদেশ প্রদান করে। কার্যাদেশে বর্ণিত শর্তাবলি অনুসরণ করে একই বছরের এপ্রিল মাসে অগ্রণী ব্যাংক ও ফ্লোরা টেলিকমের মধ্যে যথাযথ নিয়মে চুক্তি সম্পাদিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একটি টেলিভিশন এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩১২ কোটি খরচও কাজ করে না সফটওয়্যার, ফ্লোরা টেলিকমকে ৯১ কোটি টাকার সুবিধা দেয় অগ্রণী ব্যাংক” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ফ্লোরা টেলিকম উক্ত প্রতিবেদনকে অত্যন্ত দুঃখজনক, বিভ্রান্তিকর, একপেশে, অতিরঞ্জিত এবং প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে।

প্রতিবেদনটিতে পর্যাপ্ত ও যাচাইযোগ্য তথ্য উপাত্ত কিংবা প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন না করেই দাবি করা হয়েছে যে, অগ্রণী ব্যাংক ফ্লোরা টেলিকমকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ায় ৯১ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, ফ্লোরা টেলিকমের ৪৪ শতাংশ কর অগ্রণী ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ফ্লোরা টেলিকম স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ওই সময় ডলারের মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে পরবর্তীতে প্রায় ১২৩ টাকায় উন্নীত হয়। অন্যদিকে ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় গ্রহণ করলেও টেমেনোসের প্রাপ্য অর্থ মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে টেমেনোসের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ পরিশোধে ফ্লোরা টেলিকমকে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বহন করতে হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক চ্যালেঞ্জের প্রভাব প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপরও পড়ে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও ফ্লোরা টেলিকম প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং চুক্তিবদ্ধ দায়িত্ব ও কার্যপরিধি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও কার্যাদেশের আওতায় নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিদ্যমান রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির আওতায় অগ্রণী ব্যাংককে টি-২৪ সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এ রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির মেয়াদ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে।

ফ্লোরা টেলিকম মনে করে, একটি চলমান প্রযুক্তি প্রকল্পের ব্যয়, কার্যক্রম, চুক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং সফটওয়্যারের কার্যকারিতা সম্পর্কে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে একতরফা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য প্রচার করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো বৃহৎ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি প্রকল্প সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রকল্পের চুক্তিগত ও কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লোরা টেলিকমের আরও বক্তব্য, প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও বক্তব্য পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও স্পষ্টীকরণ প্রকাশের আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফ্লোরা টেলিকম সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ ও তথ্য যাচাই করার জন্যও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড তার দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবসায়িক সুনাম, পেশাদারিত্ব ও সততার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক, ব্যবসায়িক অংশীদার, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আমাদের বিনীত আহ্বান, যাচাইবিহীন, একপেশে ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ বা প্রচারণার কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করুন এবং ফ্লোরা টেলিকমের প্রতি আপনাদের দীর্ঘদিনের আস্থা ও সমর্থন অব্যাহত রাখুন।

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।