28 C
Dhaka
Home Blog

‘ফুটবলকে সব দিয়েছি, যা-ই ঘটুক বিদায় নেব মাথা উঁচু করেই’

সোমবার ডালাসে প্রতিবেশী স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মহারণের আগে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো স্বীকার করে নিলেন, এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তবে বিদায়বেলায় কোনো আক্ষেপ বা অনুশোচনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে চান না তিনি। বিশ্বকাপ না জিততে পারলেও মাথা উঁচু করেই বিদায় নেবেন তিনি। 

রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে এসে এই মন্তব্য করেন। পুরো সংবাদ সম্মেলনজুড়েই অবশ্য তিনি একটি বিষয়ে অনড় ছিলেন— ট্রফি-ঝলমলে ক্যারিয়ারের ইতিটা তিনি টানবেন নিজের সিদ্ধান্তে, অন্য কারও কথায় নয়।

উপস্থিত সাংবাদিকদের করতালির মধ্য দিয়ে কক্ষ ছাড়ার আগে ক্রিস্তিয়ানো বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ হতে দিন। হ্যাঁ, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ; তবে আশা করি আগামীকালই (স্পেনের বিপক্ষে) আমার শেষ ম্যাচ হয়ে যাচ্ছে না।’

সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড অবশ্য শুরুতে এই টুর্নামেন্টটিই তার শেষ কি না, তা নিশ্চিত করতে চাননি। যদিও আগামী ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় তার বয়স গিয়ে ঠেকবে ৪৫-এ।

রোনালদো রবিবার প্রথমে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি যখন চাইব, তখনই থামব। আপনারা সবসময় একই প্রশ্ন করেন— এটাই কি শেষ? দেখা যাক কী হয়। আমি এই বিষয়টায় বাড়তি আলো ফেলতে চাই না। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামীকাল ভালো খেলা।’

পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা বলেন, ‘একেবারে মন থেকে বলছি, আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, ক্রিস্তিয়ানো ১০০০% পরিষ্কার বিবেক নিয়ে, মাথা উঁচু করেই বিদায় নেবে।’

‘ফুটবলকে আমার দেওয়ার যা ছিল, তার সবটুকুই দিয়েছি। এতগুলো বছর ধরে খেলে যাওয়াটা আমার আবেগ। কোনো দায় ঠেকায় পড়ে বা প্রয়োজনের তাগিদে আমি খেলছি না, জীবন আমাকে যথেষ্ট দিয়েছে। সবটাই আসলে ভালোবাসার টানে। আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলি, কারণ ফুটবল খেলাটা আমি অন্তরের সঙ্গে ভালোবাসি।’

‘আগামীকাল মাঠের ফল যা-ই হোক, আমাকে জিততেই হবে— এমন কোনো বাড়তি চাপ আমি নিজের ওপর নিতে যাচ্ছি না।’

‘বিশ্বকাপের মতো এত বড় একটা মঞ্চে আপনাকে প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করতে হবে। আমার মনে হয় আমি খুব একটা খারাপ করছি না। তিনটি গোল করেছি; অন্যরা হয়তো আরও ভালো করেছে, তবে আমার পারফরম্যান্স একেবারে মন্দ নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকা ক্রিস্তিয়ানো স্বীকার করেন, আগের পাঁচটি বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের আসরটি তিনি অনেক বেশি উপভোগ করছেন। একই সঙ্গে রবার্তো মার্তিনেসের দলের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। টুর্নামেন্ট যত গড়াচ্ছে, স্পেন তত বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও পর্তুগাল তাদের হারাতে পারবে বলেই বিশ্বাস তার।

তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বাসটাই যদি না থাকত, তবে আমরা আজ এখানে আসতাম না। অভিজ্ঞতাটা দারুণ হচ্ছে, আমরা প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরছি।’

‘আমরা জানি এটা কতটা কঠিন প্রতিযোগিতা এবং প্রতি ম্যাচে সেরাটা দেওয়া অসম্ভব। কিছু পরাশক্তি ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে, তাতেই বোঝা যায় লড়াইটা কতটা কঠিন। আমাদের দল বেশ ভালো অবস্থানে আছে— শান্ত ও সুসংহত। আমরা একটা কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, তবে আমার বিশ্বাস আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’

স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামলেই পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৩তম ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়বেন ক্রিস্তিয়ানো। স্পেনের সঙ্গে তার আত্মিক টানটাও বেশ পুরোনো, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে যে দীর্ঘ নয়টি মৌসুম কাটিয়েছেন সেখানে!

তবে আইবেরিয়ান প্রতিবেশীদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই পর্তুগিজ যুবরাজের গোল করার রেকর্ড খুব একটা সমৃদ্ধ নয়— স্প্যানিশদের জালে বল পাঠাতে পেরেছেন মোটে চারবার। অবশ্য এই চার গোলের তিনটিই এসেছিল ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে, সেই রোমাঞ্চকর ৩-৩ ড্র হওয়া ম্যাচে করা অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক থেকে।

প্রতিপক্ষকে সমীহ করে ক্রিস্তিয়ানো বলেন, ‘ইউরো কিংবা নেশনস লিগ— সব টুর্নামেন্টেই স্পেন সবসময় হট-ফেভারিট। এই বিশ্বকাপও তারা আগে জিতেছে।’

‘কাগজে-কলমে স্পেনই এগিয়ে। পর্তুগালের চেয়ে ওদের ট্রফি ক্যাবিনেট অনেক সমৃদ্ধ, তবে এটা একেবারেই ভিন্ন একটা প্রতিযোগিতা, যেখানে খেলোয়াড়রাও আলাদা। চোটের একটা ব্যাপার আছে, আছে প্রচণ্ড গরমও।’

‘স্পেনের বিপক্ষে খেলতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে, ওদের বিরুদ্ধে আমার রেকর্ডও বেশ জুতসই। আমি ১০ বা ১১ বার ওদের মুখোমুখি হয়েছি, লড়াইটা সবসময়ই সমানে-সমান ছিল। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবে ছোট ছোট কিছু ভুলত্রুটি। তবে আমার মন বলছে, ম্যাচটা আমরাই জিততে যাচ্ছি।’

 

নীতি সুদহার কী? ব্যাংক ঋণে এর প্রভাব পড়বে কীভাবে?

দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক বছর ধরেই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘রেপো রেট’ বা নীতি সুদহার বাড়িয়ে রাখছে। বর্তমানে এই হার ১০ শতাংশ।

প্রশ্ন হলো, রেপো রেট বা নীতি সুদহার কী? এটি বাড়ালে বা কমালে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ে? মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই হার কীভাবে কাজ করে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে দেশের প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যে সুদ হারে ঋণ নিতে হয়, সেটাই হলো ‘রিপারচেজ’ বা ‘রেপো’ রেট। একে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘নীতি সুদহার’ও বলা হয়।

অর্থনীতিতে রেপো রেটকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রানীতিগত অস্ত্র বলা হয়। কেননা, রেপো রেট বাড়লে ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বেশি সুদ দিয়ে অর্থ নিতে হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়ে আমানত ও ঋণের সুদের হারের ওপর। বেশি সুদে নেওয়া টাকা ব্যাংকগুলো গ্রাহককেও বেশি সুদে বিতরণ করে। ফলে, গ্রাহকের মাঝে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে এবং বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে। বিপরীতে, রেপো রেট কম থাকলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ে।

বাজারে অর্থের প্রবাহ বেশি থাকলে মানুষ বিনিয়োগ ও ভোগ বেশি করে থাকে। এতে করে পণ্যের চাহিদা বাড়ে এবং সেইসঙ্গে বেড়ে যায় পণ্যের দাম, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তোলে।

এই প্রক্রিয়ায় মূল্যস্ফীতি কমিয়ে রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপো রেট বাড়িয়ে বাজারে অর্থের প্রবাহ কমিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

রেপো রেট দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তবে, এই হার বাড়ালেই মূল্যস্ফীতি কমে যাবে কিংবা এই হার কমালেই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে, বিষয়টি এত সরল নয়। মূল্যস্ফীতিতে রেপো রেট যে প্রভাব ফেলে তা হলো—

১. ব্যাংকঋণ ব্যয়বহুল হয়। এতে করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কম ঋণ নেয় এবং বাজারে তখন নগদ অর্থ কম থাকে।

২. বাজারে নগদ অর্থ কম থাকলে ক্রয়-বিক্রয় কমে যায় এবং নতুন অর্থ সৃষ্টির গতি কমে যায়। অর্থাৎ জনগণের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে যায়।

৩. নগদ অর্থ কম থাকলে মানুষের ভোগ ও বিনিয়োগের চাহিদা কমে আসে এবং চাহিদা কমলে পণ্যের দামও কম থাকে।

তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশের মতো দেশে মূল্যস্ফীতি কেবল চাহিদা ও অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে হয় না। এর বড় অংশই সরবরাহব্যবস্থা, আমদানি ব্যয়, জ্বালানি মূল্য ও বিনিময় হারের মতো কারণে হয়ে থাকে।
সেক্ষেত্রে কেবল রেপো রেট বাড়ালে মূল্যস্ফীতি কমানো বা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, বাংলাদেশে মূল্যম্ফীতি মূলত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হচ্ছে না।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, বিনিময় হার অবমূল্যায়ন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বাজারের অদক্ষতা সবকিছুই মূল্যস্ফীতি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। কাজেই শুধু নীতি সুদহার বাড়িয়ে এসব সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব না।’

তার মতে, মুদ্রানীতির পাশাপাশি বিচক্ষণ রাজস্বনীতি এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, সরবরাহ সংকট নিরসন ও বাজারে প্রতিযোগিতা জোরদারে বিস্তৃত কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নীতিগত সমন্বয় করা না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানো কঠিন হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক দীন ইসলামও একই কথাই বলেন।

তার ভাষ্য, ‘মনে রাখতে হবে যে মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো সরবরাহজনিত সমস্যা, উচ্চ আমদানি ব্যয়, বিনিময় হারের প্রভাব এবং বাজারের অনমনীয়তা।’

তিনি বলেন, ‘মুদ্রানীতিতে শুধু সুদের হার নির্ধারণ করলেই হবে না; বরং নীতি বাস্তবায়নের কৌশলও স্পষ্ট করতে হবে—বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণ করবে, ঋণ শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে, উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করবে, রাজস্বনীতির সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে।’

একদিকে রেপো রেট মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে, অন্যদিকে অর্থ প্রবাহ কমে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়ে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর।

রেপো রেট বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদ হার বেড়ে গেলে বেসরকারি বিনিয়োগের গতি কমে যায়। কারণ, ব্যাংকঋণের সুদ বেড়ে গেলে নতুন কারখানা স্থাপন, যন্ত্রপাতি আমদানি, ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের খরচও বেড়ে যায়।

যেমন, কোনো ব্যবসায়ী ১০ শতাংশ সুদে ১০০ টাকা ধার নিলে বছর শেষে তাকে ১১০ টাকা ফেরত দিতে হবে। অর্থাৎ ওই ধার নেওয়া ১০০ টাকায় ১১৫ টাকার ব্যবসা করলে হাতে ৫ টাকা লাভ থাকে। কিন্তু ১৫ শতাংশ সুদ হলে তাকে ১০০ টাকায় ১২০ টাকার ব্যবসা করতে হবে। সেটা যেহেতু ক্রমশ কঠিন হয়ে যায়, তাই বেশি সুদে মানুষ ঋণও কম নেয়। ফলে এমন পরিস্থিতি হলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগ বন্ধ রাখে কিংবা বিনিয়োগের পরিসর ছোট করে ফেলে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এর ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন। কারণ, তাদের নিজস্ব মূলধন তুলনামূলক কম হয় এবং ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা থাকে।

আর বিনিয়োগ কমে গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টিও হয় না এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি ধীর হয়ে আসে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের নীতিনির্ধারকদের সামনে সবচেয়ে কঠিন যে প্রশ্নটি থাকে তা হলো—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করবে নাকি প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াবে?

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে স্বল্পমেয়াদে কিছু বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য আরও ক্ষতিকর। কারণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, উৎপাদন ব্যয় ও ভোক্তা চাহিদা অনিশ্চিত হয়ে যায়।

তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে যেসব উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে সেগুলো হলো—

১. সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন করে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। এতে করে কোনো পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়বে না।

২. উৎপাদনমুখী খাতে স্বল্পসুদের বিশেষ ঋণ দিতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য।

৩. সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়িয়ে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে।

৪. বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, আমদানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাসহ এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে এর কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল সুদ হার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে টেকসই সমাধান পাওয়া সম্ভব না। শক্তিশালী আর্থিক খাত, কার্যকর রাজস্বনীতি, উন্নত সরবরাহব্যবস্থা ও সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে।

১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাননি, এখনো সময় আছে ভাবার: জামায়াতের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল

১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী ক্ষমা চায়নি এবং এখনো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যারা ওই পাড়ে আছেন আমাদের বন্ধুরা তারা অনেকভাবে আমাদের ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন। আমার মনে হয় এই সময় এসে এটা ঠিক না। কারণ আপনাদের নিজেদের দিকে একবার ফিরে তাকানো দরকার।’

‘এজন্য তাকানো দরকার যে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য একবারও তো ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। এটা করলে কিন্তু আজকের এই সমস্যা হয় না। আপনারা সেটা করেননি,’ বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের নেতা প্রফেসর গোলাম আজম তখন বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে আমরা ভুল করিনি। আমার মনে হয় এখনো সময় আছে। আপনারা এখনো ভেবে দেখতে পারেন।’

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের ধারণাটা খুব পরিষ্কার করে আমাদের জানানো উচিত, বাংলাদেশকে জানানো উচিত বলে আমি মনে করি। আমি এর বেশি যেতে চাই না। কারণ বারবার আপনারা এই কথাগুলোই বলতে থাকেন।’

‘১৯৭১ সম্পর্কে আপনাদের ধারণা খুব পরিষ্কার করে আপনারা বলেন না, বলেননি। আমি আজ পর্যন্ত শুনিনি। এটা কেউ শোনেনি। এই কথাটা আমরা এজন্য বলছি যে, আজ যদি আপনারা এটা স্বীকার করে নেন, তাহলে আপনাদের জন্য রাজনীতি অনেক সহজ হয়ে যাবে,’ যোগ করেন তিনি।

জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত প্রিয় ছাত্রদের এবং তরুণদের দল এনসিপি খুব ভালো করছে। কিন্তু একটা ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব দুঃখিত যে, তারা এমন একটা দলের সঙ্গে জোট করেছে, যে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’

‘আমি আশা করব তারা তাদের রাজনীতিকে আরও পরিষ্কার করবে। এ কথা এ কারণে বলছি যে আমাদের নবীন রাজনীতিবিদরা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। আমরা চাই তারা ভালো করুক। কিন্তু এমন কোনো স্টিগমা যেন তাদের না থাকে,’ যোগ করেন তিনি।

মাইকেলকে হটিয়ে বক্স অফিসের শীর্ষে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’

পশ্চিমের বেশিরভাগ দেশেই শনিবার ও রোববারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এর ব্যতিক্রম নয়। সেই মার্কিন মুলুকে, সপ্তাহান্তে বক্স অফিসের শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’। 

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।   

২০ বছর আগে এই সিনেমার প্রথম পর্ব মুক্তি পেয়েছিল। ফ্যাশন জগতের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতার এক চরম বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছিল হলিউডের সেই ব্যতিক্রমী সিনেমায়। এবারও একই ধারায় এগিয়েছে সিনেমার কাহিনী। 

প্রথম পর্বের মতো সিকুয়েলেও অ্যান হ্যাথাওয়ের চরিত্রটিকে একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের একরোখা সম্পাদক মেরিল স্ট্রিপের অধীনে কাজ করতে দেখা যায়। 

গুরুত্বপূর্ণ দুই চরিত্রে ফিরেছেন এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচ্চি। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন প্রথম সারির অভিনেতাও এই সিনেমায় কাজ করেছেন।  

এই সিনেমাটি মুক্তি দিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স। পরিচালক হিসেবে এবারও কাজ করেছেন ডেভিড ফ্র্যাঙ্কেল। 

একজিবিটর রিলেশানস এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজারে সিনেমাটি ইতোমধ্যে ৭৭ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। 

ফ্র্যাঞ্চাইজ এন্টারটেইনমেন্ট রিসার্চের বিশ্লেষক ডেভিড এ. গ্রস বলেন, ‘এটা কোনো কমেডি ড্রামার জন্য অসামান্য ওপেনিং।’

তিনি জানান, সিনেমাটি ‘খুবই ভালো’ রিভিউ পাচ্ছে। এতে ক্ষমতা, ভাবমূর্তি ও সাফল্যের গল্প বলা হয়েছে, যা অন্য যেকোনো সময়ের এখন অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।’

‘ভোগ’ পত্রিকার দীর্ঘদিনের প্রধান সম্পাদক অ্যানা উইনট্যুর-এর চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় মেরিল স্ট্রিপের চরিত্র ‘মিরান্ডা প্রিসলি’। প্রথম পর্বে ওই চরিত্রে অভিনয় করে গোল্ডেন গ্লোব জেতেন মেরিল। পাশাপাশি, অস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছিলেন। 

গত সপ্তাহে বক্স অফিসের শীর্ষে ছিল প্রয়াত পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের ওপর নির্ভর করে বানানো সিনেমা ‘মাইকেল’। এ সপ্তাহে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমেছে সিনেমাটি। তা সত্ত্বেও, ৫৪ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে ‘মাইকেল’। 

প্রথম সপ্তাহে উত্তর আমেরিকায় ৯৭ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে সিনেমাটি। বিশ্বজুড়ে এর আয় ৪২৩ মিলিয়ন ডলার। 

১২ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে ‘দু সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’। 
ভিডিও গেমস চরিত্র মারিওকে ঘিরে নির্মিত এই অ্যানিমেশন সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। 

চতুর্থ অবস্থানে ৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার নিয়ে আছে সাই-ফাই অ্যাডভেঞ্চার কমেডি ‘প্রোজেক্ট হেইল ম্যারি।’

 

বক্স অফিসের শীর্ষ দশের বাকি অবস্থানগুলোতে আছে:

 

হোকাম (৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন) 

অ্যানিম্যাল ফার্ম (৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন)

লি ক্রোনিন’স মামি (২ দশমিক ২৩ মিলিয়ন)

ডিপ ওয়াটার (২ দশমিক ১৫ মিলিয়ন)

দ্যাট টাইম আই গট রিইনকার্নেটেড অ্যাজ আ স্লাইম (১ মিলিয়ন)

দ্য ড্রামা (৯ লাখ)

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহত ৭৮৭: রেড ক্রিসেন্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

আজ মঙ্গলবার রেড ক্রিসেন্টের দেয়া এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ের উদ্ধারকারী দলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে রেড ক্রিসেন্ট। 

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৭৬ শিশু রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইরানের ১৫৩টি শহরে পাঁচশ’র বেশি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। 

এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। 

এএফপি জানায়, আজও রাজধানী তেহরানে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহর ও মধ্যাঞ্চলে ইসফাহান শহরেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। 

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

আজ বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ ও আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০২৮ সালের আগস্টে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

রাষ্ট্র পরিচালনায় জনসংযোগ ঘাটতি: নীতির সঙ্গে বয়ানও কেন গুরুত্বপূর্ণ

সম্প্রতি অন্তত দুটি আলোচিত ঘটনায় সরকারের জনসংযোগ ও সংকটকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্বের ঘাটতি অতি স্পষ্ট হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ পরে সংশ্লিষ্ট পোস্ট বা বক্তব্য সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ততক্ষণে জনমনে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

এর একটি হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি পোস্ট, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ পোস্টটিকে সতর্কতামূলক বার্তা হিসেবে না দেখে বরং হুমকি হিসেবে নিয়েছেন। ফলে প্রশাসনিক সতর্কবার্তাটি খুব দ্রুতই জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

অপরটি জুলাই সংক্রান্ত একটি প্রামাণ্যচিত্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। সেটিও সরকারি জনসংযোগ ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতাকে সামনে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য দেখা যায়। একই বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ভিন্ন বা পরস্পরবিরোধী বার্তা আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এতে শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়েই বিভ্রান্তি তৈরি হয়নি, বরং সরকারের সামগ্রিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এখানেই ক্রাইসিস কমিউনিকেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। কোনো সংকটের মুহূর্তে মানুষের কাছে প্রথম যে বার্তাটি পৌঁছায়, সেটিই অনেক সময় পুরো পরিস্থিতি বোঝার ভিত্তি তৈরি করে। পরে দেওয়া ব্যাখ্যা বা সংশোধন ক্ষতি কিছুটা কমাতে পারলেও শুরুতেই তৈরি হওয়া আস্থার সংকট সবসময় পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায় না।

একই ধরনের সমস্যা বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ইস্যুতেও দেখা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, কোথাও আবার একই বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। যোগাযোগের ভাষায় এটিই মেসেজ ডিসিপ্লিনের ঘাটতি।

একটি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি একই ঘটনা বা নীতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে থাকে, তাহলে জনগণের কাছে সরকারের অবস্থান অস্পষ্ট হয়ে যায়। আর সেই অস্পষ্টতা ধীরে ধীরে বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলে। সেজন্যই রাষ্ট্র পরিচালনায় জনসংযোগ বা যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব। একটি নীতি কতটা কার্যকর, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ; তেমনি সেই নীতির উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা ও প্রভাব জনগণের কাছে কীভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন এখন সরকার, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানুষের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়াই যথেষ্ট নয়। সেই সিদ্ধান্তের ভাষা, সময়, প্রেক্ষাপট ও উপস্থাপনার ধরনও মানুষের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

অনেক সময় একটি ভালো নীতিও দুর্বল যোগাযোগ কৌশলের কারণে মানুষের কাছে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। আবার একটি জটিল সিদ্ধান্তও সঠিক ভাষা ও যথাযথ তথ্যের মাধ্যমে মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব। অর্থাৎ নীতি প্রণয়ন ও নীতির যোগাযোগ একে অপরের থেকে আলাদা কোনো বিষয় নয়। বরং কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় দুটিকে পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হয়।

এই বাস্তবতার কারণেই বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব বাড়ছে। করপোরেট হাউজ, বহুজাতিক কোম্পানি, এসএমই, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, রাজনৈতিক সংগঠন ও কূটনৈতিক মিশনগুলো এখন জনসংযোগ ও কৌশলগত যোগাযোগে বিশেষজ্ঞদের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ পেশায় কর্মসংস্থান প্রায় ৬ শতাংশ বাড়তে পারে, যা অনেক পেশার গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত। একইভাবে লিংকডইনের বৈশ্বিক চাকরির প্রবণতাতেও স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ও করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের মতো দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে।

তবে এই কাজ কেবল প্রেস বিজ্ঞপ্তি লেখা বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন দক্ষ যোগাযোগ বিশেষজ্ঞকে জনমত বিশ্লেষণ করতে হয়, বিভিন্ন অংশীজনের মনোভাব বুঝতে হয়, সম্ভাব্য সংকট আগে থেকে শনাক্ত করতে হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর বয়ান তৈরি করতে হয়। কোথাও প্রচলিত ভুল ধারণা ভেঙে দিতে হয়, কোথাও পাল্টা যুক্তি তৈরি করতে হয়। একইসঙ্গে মিডিয়া রিলেশন, ডিজিটাল কমিউনিকেশন, বিজনেস টু বিজনেস বা বিটুবি, বিজনেস টু গভর্নমেন্ট বা বিটুজি, ক্রাইসিস কমিউনিকেশন ও পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের মতো ক্ষেত্রেও সমান দক্ষতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতেও এই পরিবর্তন এখন স্পষ্ট। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স এবং পাবলিক রিলেশনস বিভাগকে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন, পাবলিক রিলেশনস, করপোরেট কমিউনিকেশন এবং ডিজিটাল মিডিয়ার ওপর বিভিন্ন একাডেমিক ও পেশাগত কোর্স চালু হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় এখনো এই পেশাদার কাঠামো প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। ফলে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রায়ই কমিউনিকেশন ঘাটতি চোখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে নীতিগত উদ্দেশ্য ইতিবাচক হলেও জনগণের কাছে সেটা সঠিকভাবে তুলে ধরতে না পারলে মূল উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল রাষ্ট্রগুলো অবশ্য অনেক আগেই বিষয়টির গুরুত্ব বুঝেছে। যুক্তরাজ্যের গভর্নমেন্ট কমিউনিকেশন সার্ভিস (জিসিএস) বিশ্বের অন্যতম সুসংগঠিত সরকারি যোগাযোগ কাঠামো হিসেবে পরিচিত। সেখানে পেশাদার কমিউনিকেশন কর্মকর্তারা নীতি প্রণয়নের বিভিন্ন পর্যায় থেকেই যুক্ত থাকেন। ক্রাইসিস কমিউনিকেশন, আচরণগত বিশ্লেষণ, ডিজিটাল প্রচার ও জনমত মূল্যায়নের জন্যও বিশেষজ্ঞ দল কাজ করে।

সিঙ্গাপুরের সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও একইভাবে সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ফলে, সেখানে শুধু নীতি প্রণয়ন নয়, নীতির উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তাও জনগণের কাছে কার্যকরভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশেও এখন সরকারি যোগাযোগকে কেবল তথ্য প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটিকে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি কৌশলগত সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে প্রশিক্ষিত স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন টিম, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিত মেসেজিং ব্যবস্থা, জনমত বিশ্লেষণ, ডিজিটাল মনিটরিং এবং সংকটকালীন যোগাযোগের সুস্পষ্ট প্রটোকল থাকা জরুরি। একইসঙ্গে বড় জাতীয় ইস্যুতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত বার্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কেননা, ভালো নীতি একটি সরকারের সক্ষমতার পরিচয় দেয়, কিন্তু সেই নীতিকে মানুষের কাছে বোধগম্য ও গ্রহণযোগ্য করে তোলাও বড় দায়িত্ব। জনগণ যদি কোনো সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য বুঝতেই না পারে, তাহলে একটি ভালো উদ্যোগও ভুল ব্যাখ্যা, বিভ্রান্তি বা বিতর্কের কারণে কাঙ্ক্ষিত গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে।

সাজ্জাদ সাব্বির: কেন্দ্রীয় সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি); করপোরেট কমিউনিকেশনসে কর্মরত।

রেকর্ড সৃষ্টি করে ৪৯২ কোটি টাকায় বিক্রি হলো ফেরারির ইলেকট্রিক গাড়ি ‘লুচে’

বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারির প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ির নাম ‘লুচে’। গত মে মাসে এটি বাজারে আনার ঘোষণা দেয় ইতালীয় প্রতিষ্ঠানটি। 

চলতি বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে গাড়িগুলো ভোক্তাদের কাছে ডেলিভারি দিতে শুরু করবে ফেরারি।

ইতোমধ্যে লুচের একটি বিশেষায়িত মডেল নিলামে ৪ কোটি ডলারে বিক্রি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটাই ওই মডেলের প্রথম ‘চ্যাসিস’।

চ্যাসিস জিরো লুচে গাড়িটির দাম বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হারের বিবেচনায় প্রায় ৪৯২ কোটি টাকার সমতুল্য।

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

নিলামে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির মধ্যে এটিই এখন সবচেয়ে দামি গাড়ি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

বিশেষভাবে তৈরি ফেরারি লুচের চ্যাসিস জিরোর জন্য রেকর্ড দর হাঁকেন এক নাম প্রকাশ না করা ক্রেতা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ফেরারির এই ইলেকট্রিক গাড়ির ডিজাইনকে ‘বুদবুদের’ সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এটি ফেরারি গাড়ির প্রথাগত কৌণিক ডিজাইন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদলে তৈরি।

লুচের এই ভিন্নধর্মী ডিজাইনের তথ্য প্রকাশের পর ফেরারির অনেক ভক্ত হতাশা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।

মন্টেরি কার উইক যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরিতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত একটি বিখ্যাত গাড়ি উৎসব, যেখানে দুর্লভ ও সংগ্রহযোগ্য গাড়ির প্রদর্শনী, নিলাম ও বিভিন্ন গাড়ি-সংক্রান্ত আয়োজন হয়।

চলতি বছরের উৎসবে লুচের চ্যাসিস জিরো গাড়িটি দাতব্য নিলামে ওঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে এর দাম ১১ লাখ ডলার অনুমান করা হয়েছিল।

গাড়ি নিলাম প্রতিষ্ঠান আরএম সোথবি জানিয়েছে, ওই মূল্যের তুলনায় অন্তত ৩৬ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে গাড়িটি।

রোববার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে ফেরারি ইউএসএ লিখেছে, ‘নিলামে একের পর এক সম্ভাব্য ক্রেতা দর হাঁকাতে থাকেন। এরপর ইতিহাস তৈরি হয়।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এই বিক্রি ‘নিলামে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড’ তৈরি করেছে।

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ শিক্ষামূলক বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তার জন্য দ্য ফেরারি ফাউন্ডেশনে দেওয়া হবে।

ইতালীয় ভাষায় লুচে শব্দের অর্থ ‘আলো’। এই গাড়ির চার চাকায় চারটি বৈদ্যুতিক মোটর যুক্ত করেছে ফেরারি। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, ‘এটি ভিন্নধর্মী ক্রেতাদের জন্য ফেরারির একটি ভিন্নধর্মী মডেল।’

আরএম সোথবি জানিয়েছে, ‘চ্যাসিস ০’-এ মুক্তার মতো বিশেষ আধা-চকচকে ফিনিশিং ব্যবহার করা হয়েছে।

যার ফলে গাড়ির বাইরের অংশে আলোর মাত্রা অনুযায়ী এর রঙ বদলে যায়। আলো পড়লে রঙের প্রতিফলন সবুজ থেকে বেগুনিতে পরিবর্তিত হয়।

গাড়িটির ভেতরের অংশেও বিশেষভাবে তৈরি উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে রয়েছে ‘পার্লা লে মানস’ ধাতব চামড়ার আসনসজ্জা এবং সাদা পটভূমির মধ্যে স্বতন্ত্র কালো উপাদান।

নিলাম শেষে গাড়িটি উত্তর ইতালির মারানেলো শহরে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেখানেই গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রেতার কাছে গাড়িটি হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৬ সালের শেষ তিন মাসে সাধারণ ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করবে লুচে। তাদের জন্য দাম ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বা ৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
 

‘মনে হচ্ছে আমরা যেন ফাইনাল জিতেছি’

তর্কসাপেক্ষে এবারের বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচটা ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো। গ্যালারিতে মেক্সিকো সমর্থকদের গর্জন, দুই দলের গতিময় ফুটবল, দুইটি পেনাল্টি, লাল কার্ড, নিশ্চিত গোল বাঁচানো- কী ছিল না এই ম্যাচে! বিশ্বকাপ ইতিহাসের ক্লাসিক ম্যাচের তালিকায় নিশ্চিতভাবে জায়গা করে নেবে এই ম্যাচ। শুধু সমর্থকরা নন, মহাকাব্যিক এই ম্যাচে শেষ হাসি হেসে আবেগাপ্লুত হয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলও। ম্যাচ শেষে অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেছেন, এই ম্যাচ ফাইনাল জেতার সমান আনন্দ দিয়েছে তাকে। 

অ্যাজটেকার উচ্চতাজনিত চ্যালেঞ্জ তো ছিলই, এই মাঠে গত ১৩ বছরে কোনো ম্যাচ হারেনি মেক্সিকো। টুর্নামেন্টেও চার ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতেছিল সহ-আয়োজকেরা। সাথে যে মানের ফুটবল উপহার দিয়েছে দুই দল, সব মিলিয়ে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় টুখেল বলেছেন, ‘আমার কাছে এটাকে কোনোভাবেই রাউন্ড অব সিক্সটিন এর ম্যাচ মনে হচ্ছিল না। এমনকি এখনো মনে হচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে আমরা ফাইনাল ম্যাচ বা ওই পর্যায়ের কোনো ম্যাচ জিতেছি’। 

জারেল কোয়ানসা সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় স্টপেজ টাইম সহ প্রায় ৪৫ মিনিট দশজন নিয়ে খেলতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। একে তো একজন খেলোয়াড় কম, তার উপর মেক্সিকোর মুহুর্মুহু আক্রমণ ম্যাচটাকে চূড়ান্ত কঠিন করে তুলেছিল ইংল্যান্ডের জন্য। কিন্তু হ্যারি কেইনদের দৃঢ়তায় ঠিকই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে থ্রি লায়ন্সরা। 

এমন ম্যাচের পর স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন কোচ টুখেল। জার্মান এই কোচ বলছেন, তার খেলোয়াড়দের ‘নায়কোচিত’ পারফরম্যান্সই অ্যাজটেকায় ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে এনেছে, ‘এটি একটি বীরের মতো পারফরম্যান্স। ফলাফলটাও বীরোচিত। আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি ভীষণ খুশি। গত দুই দিনে যা অভিজ্ঞতা হয়েছে তা অবর্ণনীয়। এই ম্যাচ আমার জন্য বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাদের, সেটিই এই জয়কে আরও বিশেষ বানিয়েছে’।

টুখেল বলছেন, প্রবল ইচ্ছাশক্তি না থাকলে এই ম্যাচ জিতে আসা সম্ভব হতো না, ‘কোনো দলের মধ্যে যদি সাহস ও নিজেদের প্রতি বিশ্বাস থেকে থাকে, তাহলে সেটা আমার এই দল। নিজেদের ইচ্ছাশক্তির জোরে তারা এই ম্যাচ জিতেছে। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ঐতিহাসিক এক স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছি আমরা। আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে আজকের ম্যাচে। ৪০-৫০ মিনিট দশজন নিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলা, তাও আবার এই শক্তিশালী মেক্সিকো দলের বিপক্ষে, আমি খুব খুশি’। 

দলের এই হার না মানা মানসিকতায় ভীষণ গর্বিত বলেও জানিয়েছেন টুখেল, ‘আমরা টুর্নামেন্টের এমন এক পর্যায়ে আছি, যখন আপনাকে কোনো না কোনোভাবে জয়ের উপায় খুঁজে নিতে হবে। আমরা সেটা পূর্ণ সাহস ও চারিত্রিক দৃঢ়তার সাথে করতে পেরেছি। আমি দলের এই মানসিকতায় ভীষণ গর্বিত। আমাদের জন্য বিশেষ এক রাত এটা’। 

এই অ্যাজটেকার সাথেই জড়িয়ে আছে ইংল্যান্ডের জন্য বিভীষিকাময় এক ইতিহাস। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এই মাঠেই অমর সেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল করেছিলেন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। টুখেল বলছেন, আজকের এই জয় তাদেরকে শান্তি দেবে, ‘এই মাঠের সাথে আমাদের খুব করুণ ইতিহাস জড়ানো আছে। আজকের এই ফলাফল আমাদের মানসিকভাবে শান্তি দেবে’। 

 

 

ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে না টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা

সীমিত আয়ের মানুষের চাপ কমাতে আগামী দুই অর্থবছর (২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮) করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থেকেও সরে আসতে পারে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থবিল ২০২৬ সংসদে পাস হওয়ার আগেই এসব পরিবর্তন এতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে অর্থবিলটি উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে একজন ব্যক্তি বছরে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করলে আয়কর দিতে হয় না।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন মহল থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। তাদের মতে, এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

তিনি জানান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে (বিটুবি) লেনদেনে শূন্য দশমিক দুই শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের যে প্রস্তাব বাজেটে দেওয়া হয়েছিল, সেটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এ ছাড়া সরকার সোনার ওপর মূলধনী লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) বর্তমান ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে।

প্রস্তাবিত অর্থবিলে করদাতার রিটার্নে ঘোষিত সোনা, রুপা, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম, প্রাচীন নিদর্শন ও ক্লাব সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত লাভকে মূলধনী লাভ হিসেবে গণ্য করে ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ট্রেজারি বিল, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ডিবেঞ্চার, সুকুক ও অন্যান্য শরিয়াহভিত্তিক সিকিউরিটিজ এবং বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও স্টক বিক্রি থেকে অর্জিত মূলধনী লাভের ওপরও ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সোনা ও গহনা বিক্রির লাভের ওপর কর আরোপের এই প্রস্তাব এসেছে।

আরেকটি সম্ভাব্য পরিবর্তন হলো, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করপোরেট করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা।

বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও শুধু আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ করপোরেট কর প্রযোজ্য।

তবে আবাসন খাতের ডেভেলপারদের কর ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।