26.5 C
Dhaka
Home Blog

ট্রাম্পের ফোনেই স্থগিত হলো বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা?

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার জন্য ফিফার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করেছিলেন। রোববার রাতে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এমন খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে গত বৃহস্পতিবার সানফ্রান্সিসকোতে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ গোলে হারায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে। সেদিন তাদের হয়ে প্রথম গোলটি করা বালোগুন প্রতিপক্ষের তারিক মুহারেমিভিচের ডান গোড়ালিতে পা দিয়ে আঘাত করেন। ফলে তাকে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।

এতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ষোলোর ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ফর্মে থাকা এই ফরোয়ার্ডের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আপাতত স্থগিত করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারই ইনফান্তিনোকে ফোন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপর রোববার বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এবারের আসরের সহ-আয়োজক দলটির হয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে তার আর কোনো বাধা নেই।

এক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, ‘ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্তটি এক বছরের পর্যবেক্ষণমূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হলো।’

সেখানে আরও বলা হয়, ‘এই পর্যবেক্ষণমূলক সময়ের মধ্যে বালোগুন যদি একই ধরনের এবং সমমাত্রার কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং পূর্বের শাস্তি কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি নতুন অপরাধের জন্য অতিরিক্ত শাস্তিও এর সাথে যুক্ত হতে পারে।’

এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ফিফাকে ধন্যবাদ জানান। তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে তিনি লেখেন, ‘সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং একটি বড় অবিচারকে বদলে দেওয়ার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ!’

স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশন চলতি বিশ্বকাপে তাদের শীর্ষ গোলদাতাকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে খেলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে তিনটি গোল করে দুবার ম্যাচসেরাও হয়েছেন ২৫ বছর বয়সী বালোগুন।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল

অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সরকার ‘থ্রি-আর’ কৌশল উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

এই কৌশলের মধ্যে রয়েছে রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন। সরকার তিন ধাপে এই কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

প্রথম ধাপ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং এটি এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। 

দ্বিতীয় ধাপ- অর্থনীতির উত্তরণ, যা বর্তমান সরকারের এক থেকে তিন বছর মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 

তৃতীয় ধাপ- সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণ। পাঁচ বছর ধরে এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি গতি ফিরে পেয়েছে এবং ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই থ্রি-আর কৌশল ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ফ্যাসিবাদী আমলের ঠিকাদারদের ঠেকাতে ক্রয় আইন পর্যালোচনা করবে সরকার: সংসদে ফখরুল

ফ্যাসিবাদী আমলে সুবিধাভোগী ঠিকাদাররা যাতে ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের কাজ না পায়, সে জন্য সরকার সংশ্লিষ্ট আইন পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেওয়া নোটিশে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। 

নরসিংদী-২ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, ই-জিপি ব্যবস্থার আওতায় সাবেক শাসনামলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা তখনকার সময়ে গড়ে তোলা প্রোফাইলের ভিত্তিতে এখনো দরপত্রে জয়ী হচ্ছেন।

তিনি দাবি করেন, এসব ঠিকাদার প্রায়ই প্রকল্পের কাজ একাধিকবার বিক্রি করে দেন ও শেষ পর্যন্ত অযোগ্য স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছে কাজ হস্তান্তর করেন, যারা অধিক মুনাফার জন্য নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সঠিক ব্যক্তিরা যেন কাজ পান—নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো পর্যালোচনা করা হবে। তবে কোন কোন আইন বিবেচনায় রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

ই-জিপি ব্যবস্থা বর্তমানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট বা সরকারি ক্রয় আইনের আওতায় পরিচালিত হয়।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে ঢাকা ও অন্যান্য শহরের খেলার মাঠ ও পার্ক দখলমুক্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, একসময় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান বর্তমানে মাদকসেবী, বখাটে, অবৈধ দখলদার ও হকারদের দখলে চলে গেছে।

জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিগত সময়ে রাজনৈতিক ও অন্যান্য কারণে দেশের অনেক মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখল হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব স্থান পুনরুদ্ধার করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে। গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্ককে হকার ও অপরাধমুক্ত করে আধুনিক পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মতিঝিল পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, রসুলবাগ মাঠ, খিলগাঁও-বাসাবো মাঠ, সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, হাজারীবাগ পার্ক ও আমলীগোলা খেলার মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।’

নুহাশের সিনেমায় আফজাল হোসেন

নুহাশ হুমায়ুন তার কাজের মাধ্যমে মেধার পরিচয় রেখেছেন। দেশে-বিদেশে তার কাজ আলোচিত হয়েছে এবং প্রশংসা পেয়েছে। 

সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি সিনেমা পরিচালনা করছেন। নতুন সিনেমার নাম মুভিং বাংলাদেশ।

মুভিং বাংলাদেশ সিনেমার শিল্পীদের নাম এখনো প্রকাশ করেননি নুহাশ। 

তবে, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, চিরসবুজ নায়ক আফজাল হোসেন এই সিনেমায় অভিনয় করছেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দর্শকরা তাকে দেখতে পারবেন।

সূত্র আরও জানায়, আফজাল হোসেন কয়েকটি দিন মুভিং বাংলাদেশ সিনেমার শুটিং করেছেন। বাকি শুটিং কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে।

নুহাশ হুমায়ুনের সিনেমায় কাজ করার বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন আফজাল হোসেন। তবে এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।

এদিকে, মুভিং বাংলাদেশ সিনেমা ছাড়াও আরও দুটো ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছেন আফজাল হোসেন।

এছাড়া, আগামী মাসে একটি নাটকের শুটিং করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, মুভিং বাংলাদেশ সিনেমার কাহিনী গড়ে উঠেছে একজন বাইক রাইডারের সংগ্রামের গল্প নিয়ে।

ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণ হয় যেভাবে

প্রায় ৩৭ বছর ক্ষমতায় থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ায় দেশটির ভবিষ্যৎ শাসনক্ষমতার ‘ভরকেন্দ্র’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আজ রোববার সকাল থেকেই এ সংক্রান্ত জটিল সব সমীকরণ সামনে আসতে শুরু করেছে।

ইরানের শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষদের ধারণা খুব একটা স্পষ্ট নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে দেশটিতে সর্বোচ্চ নেতার পরিবর্তন মাত্র একবারই ঘটেছে। বিপ্লবের রূপকার আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ১৯৮৯ সালে ৮৬ বছর বয়সে মারা গেলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আলি খামেনি দায়িত্ব দেন। সেবার ধর্মীয় পরিষদ তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করে। যদিও তখন তিনি সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ধর্মীয় মর্যাদায় পৌঁছাননি। পরে সংবিধান সংশোধন করে তার নির্বাচনের পথ তৈরি করা হয়।

এবার এমন সময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হলো যখন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে ইরানের শীর্ষ সামরিক, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনেকেই নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধেও নিহত হয়েছিলেন বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কমান্ডার, সামরিক বাহিনীর প্রধান ও কয়েকজন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী।

বার্তা সংস্থা এপি জানায়, বর্তমানে ইরানে একটি অস্থায়ী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণ করবে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী ইতোমধ্যে তিন সদস্যের এই পরিষদ গঠিত হয়েছে। তারা দেশের শাসনকার্য ও নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে।

পরিষদে অন্তর্ভুক্ত ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি ইজেজি ও এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল মনোনীত অভিভাবক পরিষদের সদস্য আলি রেজা আরাফি।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও বিচার বিভাগীয় প্রধান মোহসেনি ইজেজি ‘সাময়িকভাবে নেতৃত্বের সব দায়িত্ব’ পালন করবেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সময়ে অস্থায়ী পরিষদ শাসনভার গ্রহণ করলেও, ইরানের আইন অনুসারে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল যত দ্রুত সম্ভব নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে।

এই প্যানেলটি সম্পূর্ণ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত হয়। এই প্যানেলের সদস্যরা প্রতি আট বছর পরপর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তবে তাদের প্রার্থিতা অনুমোদিত হতে হয় সাংবিধানিক নজরদারি সংস্থা ‘অভিভাবক পরিষদের’ মাধ্যমে। এই সংস্থাটি কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে।

গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকেই আলি খামেনির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, ওয়াশিংটন খামেনির অবস্থান জানত কিন্তু তাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল না।
বার্তা সংস্থাটি আরও বলছে—২০২৪ সালে ৮৮ সদস্যের ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ প্যানেল নির্বাচনে আলি খামেনির অনুগতরাই সব কয়টি পদে জয়ী হন।

সংবিধান অনুযায়ী, এই প্যানেলই নতুন নেতা নিয়োগ দেবে। যদিও আইনে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে কোনো প্রার্থী দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তাত্ত্বিকভাবে এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদই অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরান শাসন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা থাকলেও চূড়ান্তভাবে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলামী বিপ্লবী গার্ডসহ সবগুলো সংস্থার কাছে উত্তরসূরিকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নিয়ে ধর্মীয় পর্যালোচনা ও বিভিন্ন যুক্তি সাধারণত নাগরিকদের আড়ালে হয়ে থাকে। এ কারণে শীর্ষ নেতা কে হতে পারেন তা অনুমান করা কঠিন। আগে ধারণা করা হতো যে, খামেনির প্রিয়ভাজন সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এই পদের একজন প্রধান দাবিদার। কিন্তু ২০২৪ সালের মে মাসে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন।

এরপর খামেনির ছেলে ৫৬ বছর বয়সী শিয়া পণ্ডিত মোজতাবা খামেনি একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসেন। যদিও তিনি কখনো কোনো সরকারি পদে ছিলেন না। সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে বাবার পর ছেলের ক্ষমতা গ্রহণ ইরানি জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে। এটিকে অনেক ক্ষেত্রে ১৯৭৯ সালে উৎখাত হওয়া শাহ আমলের মতো নতুন ‘ধর্মীয় রাজবংশ’ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হতে পারে বলেও এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইরানের সাবেক বিচার বিভাগীয় প্রধান সাদেক আমোলি লারিজানি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির নাম এসেছিল।

বিশেষজ্ঞ পরিষদের কয়েকজনকেও সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ধর্মীয় পণ্ডিত আলিরেজা আরাফিও আছেন। তিনি ইরানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও ধর্মীয় পদমর্যাদায় অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে খামেনি তাকে অভিভাবক পরিষদে নিযুক্ত করেন এবং ২০২৪ সালে তিনি বিশেষজ্ঞ পরিষদের দ্বিতীয় ডেপুটি চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করেন।

এ ছাড়াও, প্যানেলের ফার্স্ট ডেপুটি চেয়ারম্যান হাশেম হোসেইনি বুশেহরি, মহসেন আরাকি ও মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি উত্তরাধিকারের তালিকায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

অন্যদিকে, প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি সংস্কারবাদী ও মধ্যপন্থিদের পছন্দের প্রার্থী। তার ধর্মীয় যোগ্যতা ও পারিবারিক ঐতিহ্য গুরুত্ব বহন করলেও, সীমিত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারণে তার সম্ভাবনা ততটা উল্লেখযোগ্য নয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

আজ সোমবার ‍দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিকে স্বাগত জানিয়েছে চীন।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব রকম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন দেশটির প্রতিনিধি।

সাক্ষাতের সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা করে।
 

ভিনির বদলে গিমারেসের পেনাল্টি নেওয়ার কারণ জানালেন আনচেলত্তি

ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়ে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। পেনাল্টি নিতে শুরুতে ছুটে যান ভিনিসিউস জুনিয়র। কিন্তু বল নিয়ে হুট করেই তুলে দেন ব্রুনো গিমারেসের কাছে। মিডফিল্ডে দারুণ খেলা গিমারেস সুর্বণ সুযোগ হাতছাড়া করেন হেলায়। ব্রাজিল নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। ম্যাচ শেষে অবশ্য কোচ কার্লো আনচেলত্তি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। 

ব্রাজিলের কোচ জানান এই সিদ্ধান্তটি কোনো আবেগের বশে নয়, বরং তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে নেওয়া হয়েছিল।

গিমারেসের প্রথমার্ধের দুর্বল পেনাল্টি শটটি নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান ন্যাল্যান্ড আটকে দেন, যা ব্রাজিলের ২-১ গোলের হারের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই হারের ফলে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল সেলেসাওরা।

নিউকেসল ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডারকে পেনাল্টি নিতে দেখে অনেক সমর্থকই অবাক হয়েছিলেন, বিশেষ করে মাঠের শুরুর একাদশে যখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকা ছিলেন। তবে আনচেলত্তি জানান, এই পছন্দটি দলের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছিল।

সাংবাদিকদের আনচেলত্তি বলেন, ‘সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পেনাল্টি নেওয়ার জন্য নেইমার ছিলেন সেরা পছন্দ, এবং তারপর যথাক্রমে রাফিনহা, ইগর থিয়াগো ও ব্রুনো।’

‘তাই আমরা তাকেই বেছে নিয়েছিলাম কারণ আমাদের মনে হয়েছিল মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই সেরা। গিমারেসের পর মার্টিনেলি ছিলেন।’

ব্রাজিলের নিয়মিত পেনাল্টি নেওয়া দুই খেলোয়াড়—নেইমার এবং রাফিনহা—কেউই এই ম্যাচের শুরুর একাদশে ছিলেন না। কোচিং স্টাফদের তথ্য অনুযায়ী, মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়দের মধ্যে গিমারেসই ছিলেন পেনাল্টি নেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

ব্রাজিল ম্যাচের বেশিরভাগ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও নরওয়ের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল। আনচেলত্তি ব্যাখ্যা করেন যে, তার দল জেনেশুনেই অতিরিক্ত খেলোয়াড়কে আক্রমণে পাঠিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি।

তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে আমার কাছে মনে হয়েছিল আমরা একটি গোছানো দল হিসেবে খেলছি এবং সুযোগ তৈরি করছি।’

‘নরওয়ে তাদের রক্ষণভাগ পুরোপুরি আটকে রাখায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা কঠিন ছিল। খুব বেশি চাপ দিতে যাওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।’

দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের ‘কুলিং ব্রেক’-এর সময় নেইমারকে মাঠে নামানো হয়। তিনি ব্রাজিলের আক্রমণে গতি ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে নরওয়ে শুরুর দিকের চাপ সামলে নিয়েছে এবং ম্যাচের শেষের দিকে আর্লিং হালান্ড দুইবার গোল করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে দেন।

নেইমার ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও, তা সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

এই হতাশাজনক বিদায় সত্ত্বেও, আনচেলত্তি একা গিমারেসকে দোষ দিতে বা পেনাল্টি মিসের বিষয়টি নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি হননি।

এর বদলে, এই ইতালিয়ান কোচ স্বীকার করেছেন যে ব্রাজিলকে আরও উন্নতি করতে হবে, বিশেষ করে মাঝমাঠে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু তরুণ প্রতিভার প্রয়োজন, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ভালো মানের খেলোয়াড়দের আসা দরকার।’

‘আমার মনে হয় আমরা একটা নিরেট কাজ করেছি, কিন্তু ফুটবল এমনই, খেলাধুলা এমনই। মাঝেমধ্যে আপনাকে পরাজয়ের স্বাদও নিতে হবে।’

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে শুরু হওয়া মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেটে অনুমোদন দেওয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রীতি অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিপরিষদের এ বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভাতেই জাতীয় বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিশেষ এ সভা শেষে আজ বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। পরে অর্থমন্ত্রী সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন।

মঙ্গলবার জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে জোট শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির পর এবার ‘ছায়া বাজেট’ দিতে যাচ্ছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই ছায়া বাজেট উপস্থাপন করা হবে বলে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে শুক্রবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক এনসিপির পক্ষ থেকেও একটি ‘ছায়া বাজেট’ উপস্থাপন করা হয়।

এতে দেশের অর্থনীতিকে ১২ খাতে ভাগ করে ৭১টি প্রস্তাব দেয় দলটি।

ইনফ্লুয়েন্সার থেকে বিগ বস মারাঠি বিজয়ী, কে এই তানভি কোলতে

মডেল ও অভিনেত্রী তানভি কোলতে ‘বিগ বস মারাঠি’ সিজন-৬ এর বিজয়ী হয়েছেন। গতকাল ফাইনালে রাকেশ বাপাতকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছেন। ট্রফির পাশাপাশি তানভি ১৫ লাখ রুপি পুরস্কারও পাচ্ছেন তানভি।

ডিএনএ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, তানভি কোলতে একজন মারাঠি টিভি অভিনেত্রী ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার।

তিনি ভারতের রত্নাগিরি এলাকার সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতির সঙ্গে তার পথচলা। পড়ালেখায় ভালো করার পাশাপাশি তার স্বপ্ন ছিল অভিনেত্রী হওয়ার। তাই উচ্চশিক্ষা শেষে মডেলিং ও অভিনয়ে মন দেন।

শুরুর দিকে বিজ্ঞাপন ও ছোটখাটো টিভি চরিত্রে কাজ করেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকায় দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। বিশেষ করে স্পষ্টভাষী স্বভাব তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। আর সেখান থেকেই বিগ বস মারাঠিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

পুরো শোতে সাহসী ও সরাসরি কথা বলার জন্য দর্শকদের মন জয় করেন। কোনো কিছু না লুকিয়ে স্পষ্টভাবে বলার কারণে তাকে ‘ঢাক্কড় গার্ল’ বলা হতো। বিভিন্ন টাস্কে ভালো পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ‘টাস্ক কুইন’ উপাধিও পান।

তবে পুরো যাত্রায় তাকে নিয়ে কিছু বিতর্কও ছিল। রাকেশ বাপাত ও ভিশাল কোটিয়ানের সঙ্গে তার তর্ক ও ঝামেলা হয়।

অনেক প্রতিযোগী তাকে প্রভাব বিস্তারকারী বা বেশি আগ্রাসী বলেও অভিযোগ করেন। তবে এসব বিতর্ক তাকে বেশি আলোচনায় এনে জনপ্রিয় করেছিল।