26 C
Dhaka
Home Blog

ইরানে এক দিনে ১২০০ বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে চলমান আগ্রাসনে বড় একটি পার্থক্য হলো, এবার যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইরানের আকাশে আধিপত্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। আর এ কাজে তাদেরকে সমর্থন যুগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ রোববার ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের এক দিনে পার হতে না হতেই দুই দেশের বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে ইরানের মাটিতে এক হাজার ২০০ বোমা ফেলেছে। যার ফলে, ‘আকাশপথে আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইসরায়েল। 

যুদ্ধের শুরুতেই আকাশপথ দখলে নেওয়ায় খুব সহজেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারবে যৌথ বাহিনী। এমন মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। 

এমন এক ভবন হলো থারাল্লাহ সদরদপ্তর। গত দুই মাসে ওই ভবনে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষদের আটক রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
২০২৫ সালের জুনের সর্বশেষ যুদ্ধে এ ধরনের আধিপত্য বিস্তার করতে হিমশিম খায় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ওই যুদ্ধে ইরানের আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতোটাই ক্ষতির শিকার হয়েছিল যে সে পরিস্থিতি থেকে তারা এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। 

এবার খুব অনায়াসেই ইরানের আকাশ সীমায় ঢুকে পড়তে পেরেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়েই হামলা শুরু করেছে দুই দেশ। বিশেষত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েকমাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে রণতরি ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন অব্যাহত রেখেছিলেন।  

রোববার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় দুই দেশের বিমানবাহিনী তেহরানের সরকারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। 

এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন। 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর এক হাজার ২০০ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। 

এর আগে, শনিবার রাতে আইডিএফ জানিয়েছিল ২০০টি যুদ্ধবিমান ৫০০ লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। এটাই ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমানহামলার ঘটনা। 

প্রথম দুই দফা হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে আইডিএফ। 

প্রথম দফার হামলায় অসংখ্য রাডার ও বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়। 

দ্বিতীয় দফায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়। 

তাবরিজ এলাকায় আইডিএফ এমন একটি অবস্থানে হামলা চালায়, যেখান থেকে গত বছরের যুদ্ধের সময় ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে অসংখ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। 

আকাশপথে আধিপত্য বিস্তারের আরেকটি লক্ষ্য হলো ইরানের ড্রোন ও অন্যান্য আকাশযান যাতে দেশটির আকাশসীমা পেরিয়ে ইসরায়েলের দিকে না আগাতে পারে, তা নিশ্চিত করা। 

গতবারের অভিজ্ঞতা বলছে, ইরানের ড্রোন ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম। 

আইডিএফ আরও জানায়, তারা এরপর আরও বেশ কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল যথারীতি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। 

ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত কোম এলাকার একটি স্থাপনায় বিমানহামলা চালায় ইসরায়েল। 

ওই স্থাপনায় হাজারো কেজি বিস্ফোরক রাখা ছিল। এই স্থাপনা ধ্বংসের ফলে ইসরায়েল অসংখ্য সম্ভাব্য হামলার হাত থেকে বেঁচে গেছে বলে বিশ্লেষকরা মত দেন। 

রোববার সকালে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানে অন্তত ৯০০ লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালিয়েছে।

 

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

আজ রবিবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে আজ সকাল ৯টা ৫ মিনিটে দাপ্তরিক কাজ শুরু করতে সচিবালয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সূত্রে জানা গেছে, আজ প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকে নীতি নির্ধারণী অগ্রাধিকার, প্রশাসনিক বিষয় এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাধীনতার ২৫০ বছর: আমেরিকানরা কি তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালা সম্পর্কে জানেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি ক্যাম্পাস এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতাম। যুক্তরাষ্ট্রে এই বিক্ষোভ আরও ব্যাপক ছিল। বিক্ষোভ প্রদর্শন একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং ষাটের দশকের শেষের দিকে ও সত্তরের দশকের শুরুতে সেই বিক্ষোভে কখনো কখনো মার্কিন পতাকা পোড়ানোর ঘটনাও ঘটত। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং ১৯৭১ সালে আমাদের সদ্য জেতা স্বাধীনতা যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় পতাকার বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত আবেগঘন ছিল। তাই কোনো দেশের পতাকা পোড়ানো আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এটি যেভাবে সহ্য করা হয়েছিল, তা আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছিল।

বহু বছর পরে ১৯৮৯ সালে আমি তখন ইউনেস্কোতে কর্মরত, বাংলাদেশে ফিরে একটি ইংরেজি পত্রিকা চালু করার পরিকল্পনা করছিলাম, সেসময়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়—টেক্সাস বনাম জনসন—সম্পর্কে পড়ি। সেখানে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে জাতীয় পতাকা পোড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ হিসেবে সুরক্ষিত। আমি সঙ্গে সঙ্গে এই সংশোধনীটি বিস্তারিতভাবে পড়ি এবং এর বিষয়বস্তু দেখে বিস্মিত হই, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতাসহ আরও বহু বিষয়ে স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পতাকা পোড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস ‘ফ্ল্যাগ প্রটেকশন অ্যাক্ট ১৯৮৯’ পাস করলেও যুক্তরাষ্ট্র বনাম আইখম্যান মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে দেয়।

এসব রায়ের পর আমি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর প্রবল অনুরাগী হয়ে উঠি, যা একটি হবু প্রকাশকের জন্য স্বপ্নের মতো ছিল। টমাস জেফারসনের সেই বিখ্যাত মন্তব্যটিও আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন—‘গণআকাঙ্ক্ষাই যেহেতু আমাদের সরকারের ভিত্তি, তাই প্রথম কাজ হওয়া উচিত সেই অধিকার সংরক্ষণ করা; আর যদি আমাকে দুটির মধ্যে বেছে নিতে বলা হয়, সংবাদপত্রবিহীন সরকার নাকি সরকারবিহীন সংবাদপত্র, তবে আমি দেশের জন্যে নিমিষেই পরেরটি নেব’। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে এত শক্তিশালী ও সর্বব্যাপী বক্তব্য বিরল।

যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে আমার যত সমালোচনাই থাকুক না কেন, তাদের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ও জেফারসনের মন্তব্যটি আমার মনে দৃঢ়ভাবে স্থান পেয়েছিল এবং আজও তা একইভাবে আছে। দুঃখজনকভাবে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই সেই মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। সাংবাদিকদের ‘সবচেয়ে খারাপ’ মানুষ বলা হচ্ছে এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই অনেককে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা হচ্ছে। যে দেশটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকাশে এত বড় অবদান রেখেছে, সেই দেশেই এমন দৃশ্য দেখার জন্য বিশ্ব প্রস্তুত ছিল না।

আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী আকর্ষণ—চিন্তার স্বাধীনতা—আজ চাপের মুখে। বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যেগুলো দেশের ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বিশ্বের সেরা মেধাবীদের আকৃষ্ট করে, সেগুলো এখন অপমানিত হচ্ছে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ও ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে আখ্যা পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ক্যাপিটলে সহিংস হামলা এবং পরবর্তীতে সহিংস অপরাধে দণ্ডিতদের মুক্তি দেওয়া, যাদের মধ্যে পুলিশ হত্যাকারীও ছিল, সেটা আইনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ব্যবহার করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে তাদের হাতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে সংবিধানে বর্ণিত ‘জীবনের অধিকার’-এর ওপর জনআস্থা ভেঙে পড়ছে।

বিশ্বের নানা প্রান্তের অভিবাসীদের সমন্বয়ে শুরু থেকেই গড়ে ওঠা বহুসাংস্কৃতিক সমাজ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক পরিচয় এখন অনেক সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তরিত হচ্ছে, যা সেই দেশেই ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদের বিষয়ে উদ্বেগজনক প্রশ্ন তুলছে। অথচ এই দেশকেই একসময় বিশ্বের ‘মেল্টিং পট’ হিসেবে প্রশংসা করা হতো। ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’-এর ধীরে ধীরে ক্ষয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের অবক্ষয়—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কর্মকাণ্ডেই তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছরে এসে উদযাপনের তেমন কিছু নেই বলেই মনে হয়। কারণ আমেরিকানরাই যেন ভুলে গেছেন কেন একসময় বিশ্ব তাদের এত শ্রদ্ধা করত। সব আমেরিকান তো দূরের কথা, প্রতিটি কংগ্রেসম্যান, সিনেটর, নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ১৭৮৯ সালে পাস হওয়া মার্কিন সংবিধানের নীতিমালাগুলো পুরোপুরি জানেন কি না আমার সন্দেহ আছে। এই সংবিধান প্রণয়নে জেমস ম্যাডিসন, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, আলেকজান্ডার হ্যামিলটন ও জর্জ ওয়াশিংটনের মতো বরেণ্য ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এটি এমন অগ্রণী দলিলগুলোর একটি, যা সরকারের তিনটি স্বতন্ত্র শাখা—আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ—প্রতিষ্ঠা করে এবং ক্ষমতার সব কেন্দ্রের মধ্যে ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। ১৭৯১ সালে অনুমোদিত প্রথম ১০টি সংশোধনী, যা ‘বিল অব রাইটস’ নামে পরিচিত, আজও যেকোনো সংবিধানে গৃহীত সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক ও মূল্যবান দলিলগুলোর মধ্যে অন্যতম।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালাগুলোকে এত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে সেই সময়ের বাস্তবতা। সেগুলো উদ্ভূত হয়েছিল এমন সময়, যখন বিশ্ব ছিল রাজতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ ও বংশানুক্রমিক শাসনের দখলে। সেটি ছিল একইসঙ্গে ঔপনিবেশিকতার যুগ। ১৭৯১ সালের মধ্যে কুইবেক প্রদেশসহ উত্তর আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চল এবং ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশ শাসন করছিল ব্রিটেন। পাশাপাশি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ভারতে দ্রুত তাদের শাসন বিস্তার করেছিল। লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ, মেক্সিকো, ফ্লোরিডা ও ফিলিপাইন শাসন করত স্পেন। ব্রাজিল নিয়ন্ত্রণ করত পর্তুগাল। একইসঙ্গে আফ্রিকা ও এশিয়ায় বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল পর্তুগালের। ক্যারিবীয় অঞ্চলে ফ্রান্সেরও উপনিবেশ ছিল। ডাচ প্রজাতন্ত্র ও সুইস কনফেডারেশন ছাড়া কোথাও প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের সামান্যতম অস্তিত্বও ছিল না।

সেই সময়ের তুলনায় আমেরিকার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার নেতা ও মার্কিন সংবিধানের প্রণেতারা ছিলেন বিস্ময়করভাবে গণতান্ত্রিক, অসাধারণ দূরদর্শী এবং অত্যন্ত জনমুখী। তাদের এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার সূচনা করে। এসব দলিলে অন্তর্ভুক্ত ধারণাগুলো ফরাসি বিপ্লব, লাতিন আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন এবং বিশ্বব্যাপী উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এমনকি আমাদের ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাও অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের সেই অভিজ্ঞতা ও নীতিমালা থেকে অনুপ্রাণিত ছিল।

তবে এসব মূল্যবোধ ও নীতির মধ্যে একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব বিদ্যমান ছিল। সার্বজনীন সমতার ধারণার পাশাপাশি দাসপ্রথাও টিকে ছিল। আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও নারীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং নেটিভ আমেরিকানদের ভূমি থেকে উৎখাত করা—এসব মিলিয়ে এক লজ্জাজনক দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ তৈরি হয়।

এই বৈপরীত্যের সবচেয়ে বড় উদাহরণ স্বাধীনতার প্রায় এক শতাব্দী পর, মার্কিন গৃহযুদ্ধ (১৮৬১-১৮৬৫) পর্যন্ত দাসপ্রথা অব্যাহত থাকা। প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির এই বিশ্বাসঘাতকতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে আদিবাসী জনগোষ্ঠী—নেটিভ আমেরিকানদের প্রতি আচরণে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেই তাদের ‘নির্মম ইন্ডিয়ান বর্বর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা তৎকালীন বর্ণবাদী ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রতিফলন। নিয়মিত মারধর, ভূমি থেকে উচ্ছেদ, বসতভিটা ধ্বংস—সব মিলিয়ে একটি জনগোষ্ঠীকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে ফেলার প্রক্রিয়া চলেছে। ১৮৬৫ সালে ১৩তম সংশোধনী গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়। নেটিভ আমেরিকানরা নাগরিকত্ব পায় ১৯২৪ সালে। বর্ণভিত্তিক বিভাজন তো বন্ধ হলো এই সেদিন মাত্র।

মার্কিন নারীরা ভোটাধিকার পেয়েছে ১৯২০ সালে ১৯তম সংশোধনীর মাধ্যমে—প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ারও দুই বছর পর এবং দীর্ঘদিন ভোটাধিকার আন্দোলনের পরে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে গেলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী পরিবর্তন-স্রষ্টা হিসেবে আবির্ভূত হয়। ফ্যাসিবাদের ধ্বংস এবং নাৎসি সামরিক শক্তির সম্পূর্ণ পরাজয় (এবং ইহুদিদের ভয়াবহ গণহত্যা) যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক সমৃদ্ধি গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।

কিন্তু শীতল যুদ্ধের আবির্ভাব সবকিছু বদলে দেয়। পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্লকের আদর্শিক প্রতিযোগিতা শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে স্বৈরাচারী, নির্মম ও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করতে প্রণোদিত করে—কেবল তারা কমিউনিজমবিরোধী হওয়ায়। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে জেনারেল আইয়ুবের অভ্যুত্থানকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেয়, ফলে পাকিস্তানে গণতন্ত্রের সম্ভাবনা নষ্ট হয়—কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিজমবিরোধী কৌশলের অংশ হতে রাজি হয়েছিলেন। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ায় যুদ্ধগুলো প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের ভাষায় তথাকথিত ‘সামরিক-শিল্প জটিলতা’-কে আরও শক্তিশালী করে।

ধারণা করা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৫০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক হস্তক্ষেপ চালিয়েছে—যার মধ্যে কয়েক দিনের স্বল্পমেয়াদি অভিযান থেকে শুরু করে কয়েক দশকব্যাপী দীর্ঘ যুদ্ধও রয়েছে। কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্যমতে, ১৭৯৮ সাল থেকে বিদেশে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহারের ৪৬৯টি ঘটনার কথা জানা যায়। যেমন: মেক্সিকান-আমেরিকান যুদ্ধ, স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ, ফিলিপাইন-আমেরিকান যুদ্ধ এবং গ্রানাডা ও পানামা আক্রমণ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও আফগানিস্তান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির মর্যাদাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ইরাক ও লিবিয়ায় ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ (ডব্লিউএমডি) থাকার মিথ্যা অজুহাতে পরিচালিত আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্রকে এক যুদ্ধপ্রবণ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

কিছু গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫০টি দেশ ও অঞ্চলে ১২০-১৩০টি বড় আকারের সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে। আরও বিস্তৃত হিসাব অনুযায়ী—যেখানে ছোট স্থাপনা, লজিস্টিক হাব এবং সমন্বিত নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলো অন্তর্ভুক্ত—মোট সামরিক স্থাপনার সংখ্যা প্রায় ৭৫০, যা প্রায় ৮০টি দেশ ও অঞ্চলে বিস্তৃত।

১৭৭৬ সালে জন্মলগ্নে যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। কিন্তু আজ তা ক্রমেই নিজের সামরিক শক্তি এবং অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে উঠেছে। ১৯৪৫ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নাটকীয়ভাবে বিস্তৃত হয়। বিশ্ব শিল্প উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তাদের সামরিক শক্তি ছিল বিশ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তাদের ‘ডলার’ হয়ে ওঠে বিশ্বের প্রধান মুদ্রা। জাতিসংঘ, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও ন্যাটো প্রতিষ্ঠায় তারা নেতৃত্ব দেয়। পরবর্তী দশকে—১৯৯০ থেকে ২০০০—এই প্রাধান্য অব্যাহত থাকে। তবে ২০০১ সালের পর থেকে তুলনামূলকভাবে একধরনের পতন শুরু হয়েছে। আজও যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী, কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক অগ্রগামিতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশই দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলিদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে মেনে নিয়েছিল। কিন্তু গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা পরিচালনায় সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন তুলেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামলার জন্য হামাস অবশ্যই নিন্দার যোগ্য। কিন্তু এই অজুহাতে ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা এবং ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষকে আহত করার বৈধতা কি দেওয়া যায়? গাজার মানুষকে খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করাও কি গ্রহণযোগ্য? প্রায় তিন বছর ধরে এই পরিস্থিতি চলছে, যেখানে গাজার বাসিন্দারা খুবই সামান্য সহায়তা পাচ্ছেন। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতার মধ্যে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই গণহত্যায় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অর্থ সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা তার বৈশ্বিক নীতি ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে এবং এটি কতটা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে কাজ করেছে—সে প্রশ্ন আমেরিকানদের নিজেদেরই করা উচিত।

শেষ করতে চাই আরেকটি প্রশ্ন তুলে: কে আমেরিকান?

একটি হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার প্রায় ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ২০ শতাংশ হিস্পানিক, ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ আফ্রিকান-আমেরিকান, ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এশীয় এবং ১ দশমিক ৪ শতাংশ নেটিভ আমেরিকান। বংশগত উৎসের বিচারে—জাতিগত পরিচয়ের বাইরে—এই জনসংখ্যা জার্মান, আইরিশ, ইংরেজ, মেক্সিকান, ইতালীয়, আফ্রিকান-আমেরিকান, পোলিশ, ফরাসি, ভারতীয়, চীনা, ফিলিপিনো, ভিয়েতনামি, পুয়ের্তো রিকানসহ অসংখ্য উৎস থেকে গঠিত। এটি এক অসাধারণ সম্পদ। এমন বৈচিত্র্যের কাছে পৃথিবীর আর কোনো দেশই পৌঁছাতে পারবে না।

তাই প্রশ্ন হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র কি তার অভ্যন্তরীণ বন্ধন, যা সেই দেশটিকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, এটিকে আরও দৃঢ় করে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে? নাকি সেই কাঠামোতেই ফাটল ধরাবে?

আমাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতে এটাই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

ব্রাজিলকে পেল জাপান, মরক্কোর মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস, নকআউটে সুইডেনও

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের প্রত্যাশিত জয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে টিকিট কেটেছে নেদারল্যান্ডস। নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে জমজমাট লড়াই শেষে ১-১ গোলে ড্র করেছে জাপান ও সুইডেন। এই দুটি দলও ডাচদের পাশাপাশি এবারের আসরের শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে।

তিন ম্যাচ খেলে ৭ পয়েন্ট পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে জাপান। আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরা আটটি দলের একটি হিসেবে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে গেছে সুইডেন। তবে আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া তিউনিসিয়া পয়েন্টের খাতাই খুলতে পারেনি। হতশ্রী পারফরম্যান্সে তিন ম্যাচে তারা হজম করেছে ১২ গোল।

নকআউট পর্বের প্রথম পর্যায়ে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে এই গ্রুপের দলগুলোর জন্য। বিশ্বকাপের তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হবে গতবারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর। রেকর্ড চারবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন জাপানের প্রতিপক্ষ রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর ১৯৫৮ সালের রানার্সআপ সুইডেন খেলবে বিশ্বকাপের দুইবারের শিরোপাজয়ী ফ্রান্স কিংবা নরওয়ের বিপক্ষে।

ম্যাচের বয়স তিন মিনিট হতেই লিড নেয় নেদারল্যান্ডস। ডান প্রান্ত থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসের বাড়ানো ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন তিউনিসিয়া অধিনায়ক ইলিয়াস স্কিহিরি। এই আত্মঘাতী গোলের ধাক্কা প্রতিপক্ষ সামলে ওঠার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ডাচরা। সপ্তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে বল বাড়িয়েছিলেন ভার্জিল ফন ডাইক। তিউনিসিয়ার রক্ষণ তা সরাতে ব্যর্থ হলে নিখুঁত ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রায়ান ব্রবি।

শুরুতেই দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ডাচরা। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রথমার্ধের বাকিটা সময় একের পর এক আক্রমণ করলেও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে খুব একটা পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা। তবে বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচ জমানোর আভাস দেয় তিউনিসিয়া। ৫৪তম মিনিটে কর্নার থেকে লাফিয়ে ওঠা দারুণ হেডে ব্যবধান কমান হাজেম মাস্তুরি।

আফ্রিকান দলটির সেই স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি। আট মিনিট পরেই আবার ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় কমলা শিবির। কর্নার থেকে ইয়ান পল ফন হেকের নেওয়া হেড গোলমুখে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। ম্যাচের বাকি সময়ে আরও কিছু সুযোগ তৈরি করলেও স্কোরলাইনে আর কোনো বদল আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ডাচরা।

একই সময়ে মাঠে গড়ানো অন্য ম্যাচটিতে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে লড়াই। শুরুতেই প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল সুইডেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে আলেকসান্দার বার্নহার্দসনের নেওয়া বাঁকানো শট ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন জাপান গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। সেই উত্তেজনার পর দীর্ঘক্ষণ খেলা চলে মূলত মাঝমাঠে, যেখানে দুই দলের কেউই তেমন জোরাল আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি।

প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে সুইডেনের রক্ষণে চাপ বাড়ায় ব্লু সামুরাইরা। ৪০তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ইউকিনারি সুগাওয়ারার নেওয়া শট আটকে দেন ইয়াকুব ভিদেল জেতেরস্ত্রম। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আবারও জাপানের সামনে সুযোগ আসে লিড নেওয়ার। তবে কেইতো নাকামুরার বাঁকানো শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান সুইডিশ গোলরক্ষক।

বিরতির পর আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৬তম মিনিটে চমৎকার এক দলীয় প্রচেষ্টায় এগিয়ে যায় জাপান। আয়াসে উয়েদার সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করেন রিতসু দোয়ান। সেখান থেকে নিখুঁত পাসে তিনি খুঁজে নেন পেনাল্টি স্পটের কাছে থাকা দাইজেন মায়েদাকে, যিনি দারুণ ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। তবে জাপানের আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মিনিট। ৬২তম মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গার গোলে সমতায় ফেরে সুইডেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ক্রস করার ছলে  তার নেওয়া আচমকা গতিময় শটটি সুজুকিকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।

সমতা ফেরার পর ব্যবধান গড়ার সুযোগ এসেছিল দুই দলের সামনেই। ৬৫তম মিনিটে সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেকসান্দার ইসাকের একটি বিপজ্জনক শট রুখে দেন সুজুকি। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে আবারও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন জাপানি গোলরক্ষক। এলাঙ্গার আরেকটি জোরাল শট চমৎকার দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন তিনি। শেষমেশ পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দুই দল।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের কর ছাড়ের পরিকল্পনা

দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ ও অনলাইনভিত্তিক উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিদ্যমান ৭ দশমিক ৫ শতাংশ উৎস কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রোরেলের ভাড়ার ওপর বিদ্যমান ভ্যাট বা মূসক অব্যাহতির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হতে পারে।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে বিদেশ থেকে আসা আয়ের ওপর আর উৎস কর কাটা হবে না। বর্তমানে বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্সের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে উৎস কর কাটা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিদ্যমান উৎস কর কাঠামোর আওতায় এই ছাড় দিতে ফিন্যান্স বিল ২০২৬-এ একটি বিধান যুক্ত করা হবে।

তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ বলতে স্বাধীনভাবে কনটেন্ট তৈরি করা ব্যক্তিদের বোঝাবে। ফলে কোনো মিডিয়া হাউস বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় আসবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আগামী ১১ জুন সংসদে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব ঘোষণা করতে পারেন।

কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা খাতকে উৎসাহ দিতে সরকারের বৃহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এই খাত কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কর ছাড় কার্যকর হলে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতারা আরও বেশি উৎসাহিত হবেন এবং দেশের দ্রুত বিকাশমান ‘ক্রিয়েটর ইকোনমি’ আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।

সম্প্রতি প্রকৃতিনির্ভর কনটেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘চিত্ত মিডিয়া’র মালিক জুয়েল রানার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর বিষয়টি নতুন গতি পায়। বৈঠক শেষে জুয়েল রানা জানান, ফ্রিল্যান্স ও কনটেন্ট নির্মাণ খাতের আয়ের ওপর উৎস কর প্রত্যাহারে সরকার আশ্বাস দিয়েছে।

এদিকে, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের ওপর উৎসে কর কাটা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। একই সঙ্গে আগে কেটে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ব্যাংকটি।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ ফ্রিল্যান্সার ডিজিটাল সেবা ও কনটেন্ট নির্মাণ খাতে কাজ করছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় ফ্রিল্যান্স কর্মশক্তি।

মেট্রোরেলের ভ্যাট অব্যাহতি বহাল থাকতে পারে

জনপ্রিয়তা ও যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির কথা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা মেট্রোরেলের ভাড়ার ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হতে পারে। চলতি বছরের জুনে বর্তমান সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আসন্ন বাজেটে অর্থমন্ত্রী এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন বলে জানা গেছে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকেই মেট্রোরেল রাজধানীর যাত্রীদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যানজটপূর্ণ সড়কপথে বাসযাত্রার বিকল্প হিসেবে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের কাছে এটি স্বস্তির মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন।

সাঁথিয়ায় বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে পশুর হাটের ইজারা বন্ধ, ১৪৪ ধারা

পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাদের মধ্যে বিরোধের জেরে পাবনার সাঁথিয়ায় একটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বন্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত হাট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া পৌর এলাকায় ইছামতী নদীর তীরের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেয় পৌর প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের অনুমতি পেয়ে গত ১৯ মে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ হাটের প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়।

এরপর ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মোট ২৬ জন দরদাতা নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

নিলাম চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত দরদাতাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিফ রায়হান কার্যক্রম স্থগিত করেন।

পরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিলাম ডাকা হলে দুপক্ষের মধ্যে আবার বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

ইউএনও রিজু তামান্না বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেও শান্তিপূর্ণভাবে ইজারা সম্পন্ন করতে পারিনি।’

এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, ‘পশুর হাট নিয়ে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হলেও প্রশাসনের একটি মহলের যোগসাজশে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে, সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘নিলামে অংশ নিতে গেলেও জামায়াত নেতাকর্মীদের গালিগালাজ ও হুমকির কারণে আমরা নিলাম বর্জন করতে বাধ্য হই।’

ইউএনও জানান, ইছামতী নদীর ডাইকের পাশে এখনো কোনো পক্ষকে ইজারা দেওয়া হয়নি। হাট নিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় জনস্বার্থে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১৪৪ ধারার কারণে সেখানে হাট বসানোর সুযোগ থাকছে না বলে জানান তিনি।

এটা আমাদেরই গল্প: ৭ মাসের জার্নি নিয়ে যা বললেন তারকারা

পারিবারিক গল্প নিয়ে নির্মিত ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিক নাটকটি দর্শক পছন্দের তালিকায় ছিল উপরের দিকে।

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় নাটকটি গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে প্রতি মঙ্গল ও বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় চ্যানেল আই-এ সম্প্রচারিত হয়। পরে সিনেমাওয়ালার ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায় ধারাবাহিকটি। এবার শেষ হতে চলেছে সেটি।

এই নাটকে অভিনয় করেছেন—খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা আক্তার মিঠু, নাদের চৌধুরী, শিল্পী সরকার অপু, ডিকন নূর, মাহমুদুল ইসলাম মিঠুসহ অনেকেই। 

অভিনেত্রী দীপা খন্দকার বলেন, ‘আমাদের ৭ মাসের জার্নি শেষ হচ্ছে। সাতটা লট করেছি, এটাই লাস্ট। ৭ মাস আগেও বলেছিলাম, মানুষ ফ্যামিলির গল্প দেখতে চায়, এসব নাটক দেখতে মানুষ অপেক্ষা করে। এখন কতটুকু অপেক্ষা করে, সেটা আপনারা বলতে পারবেন।’ 

অভিনেত্রী কেয়া পায়েল বলেন, ‘সবসময় অভিনেত্রী হিসেবে এমন কাজ করতে চাইতাম, যেটা আমাকে দীর্ঘদিন মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে। “এটা আমাদেরই গল্প” করার পর মনে হয়েছে, কাল থেকে যদি অভিনয় ছেড়ে দেই, আমার কোনো আফসোস থাকবে না। এই সিরিয়ালটি আমাকে সেই স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।’

খায়রুল বাসার বলেন, ‘আমার জন্য এই নাটকটি দারণ এক অভিজ্ঞতা। এতগুলো মানুষ মিলে গত ৭ মাস একটা পরিবারের মতো ছিলাম সবাই। নাটকটি যখন আমি দর্শক হিসেবে দেখেছি, নানা জায়গায় ইমোশনাল হয়েছি। এই নাটকে আমার নাম সামীর, অনেকেই আমার আসল নাম জানেন না, কিন্তু সামীর নামে চেনেন। আমার মনে হয়, মানুষ আমাকে সামীর নামেই চিনুক।’

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা, দাম বাড়ল ১০ শতাংশ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রোববার তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।

রয়টার্স জানায়, সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক তেলের এই মানদণ্ড সূচকটি চলতি বছরে ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। শুক্রবার তা ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারে পৌঁছে জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে যায়। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে লেনদেন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলায় মধ্যপ্রাচ্য নতুন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার রয়টার্সকে বলেন, ‘সামরিক হামলা তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। তবে এখানে মূল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া।’

রয়টার্স বাণিজ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান ওই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর অধিকাংশ ট্যাঙ্কার মালিক, শীর্ষ তেল কোম্পানি ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান হরমুজ প্রণালি হয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন স্থগিত করেছে।

বিশ্বে উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

আরবিসির বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়ে যেতে পারে বলে মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন।

রয়টার্স জানায়, ওপেক প্লাসভুক্ত তেল উৎপাদক দেশগুলো রোববার এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে এটি বৈশ্বিক চাহিদার ০ দশমিক ২ শতাংশেরও কম।

রিস্টাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন রয়টার্সকে বলেন, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ও আবুধাবির পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু সরবরাহ সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরও প্রণালি বন্ধ হলে দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হবে।

রিস্টাডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজার খুললে তেলের দাম ২০ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

‘রমজান মাসে ক্যারাম-টিভি চলবে না’, বাজারে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশ

‘কোনো ক্যারাম, কোনো টিভি চলবে না, এক কথায় শেষ, রমজান মাস’, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি বাজারে গিয়ে এক চা দোকানিকে এমন নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা।

ঘটনাটি গত শুক্রবারের। সেসময় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ছিলেন।

ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে সেদিন সন্ধ্যায় নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজার পরিদর্শন করতে দেখা যায় আমির হামজাকে। তার সঙ্গে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আওতাধীন পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম। তিনি সেসময় সাদাপোশাকে ছিলেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হঠাৎ এক চা দোকানির দিকে আঙুল তুলে কড়া ভাষায় নির্দেশ দিতে শুরু করেন মসিউল। বলতে থাকেন, ‘ওই যে ক্যারাম খেলতেছে। আমি বন্ধ করে দিছি কিনা? কেন চলল? দেব বসান? আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না, তারাবির একমাস কোনো ক্যারাম, কোনো টিভি চলবে না। কেন চলল?’

পরে ক্যারাম বোর্ডের দিকে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি।

সেসময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমির হামজা বলেন, ‘রমজান মাস, ইবাদতের মাস। যাই করবেন, নামাজের সময় যেন এইসব না করেন।’

এ ঘটনার পরদিন রাত ৮টার দিকে ওই বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ওই চায়ের দোকানসহ বেশিরভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান খুললেও শাটার অর্ধেক নামিয়ে রেখেছেন।

বাজারের শেষ মাথায় খোলা ছিল শুধু একটি চায়ের দোকান। সেখানে টেলিভিশন চললেও বন্ধ ছিল ক্যারাম খেলা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চা বিক্রেতা রমজান মুখ লুকিয়ে ফেলেন। তারপর বলেন, ‘আমার এখানে এই কয়ডা লোকই বসে। তারা একটু টিভি দেখেন।’

সেসময় ওই দোকানে আসেন স্থানীয় কাশেম মেম্বার। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হঠাৎ এসব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না। তরুণদের বিনোদন-খেলাধুলার দরকার আছে। আমাদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও মাঝে মধ্যে খেলতে আসেন।’

‘তবে টাকা দিয়ে ক্যারাম খেলা ভালো না,’ বলেন তিনি।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা মসিউল মাঝে মধ্যে মসজিদে ওয়াজও করেন।

চা দোকানির প্রতি এমন নির্দেশ কেন? জানতে চাইলে মসিউল ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এটা ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। আমি তো কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেইনি।’

এ বিষয়ে ওপর মহলের নির্দেশ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওপরের নির্দেশেই আমরা কথা বলি। নিজে থেকে কিছু বলি নাকি!’

যদিও অধস্তনদের প্রতি এ ধরনের কোনো নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা।

তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ওই কর্মকর্তাকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিনও বলেছেন, ‘এটা কোনো পুলিশি নির্দেশনা না।’

‘রোজার দিনে চায়ের দোকান খোলা থাকবে কিনা, সেটা আইন-কানুনের বিষয় না। মানুষের অনুভূতির বিষয়, মানা না মানার বিষয়। এজন্য আমরা তো কাউকে জেল-ফাঁস দিতে পারব না’, যোগ করেন তিনি।

ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: নগর শৃঙ্খলায় বড় চ্যালেঞ্জ

ঢাকার সড়ক ব্যবস্থা বহুদিন ধরেই যানজট, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতার এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে চলছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হচ্ছে নগর পরিবহনে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা।

একসময় অলিগলি ও আবাসিক এলাকার পরিবহন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কে দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক, এমনকি বিভিন্ন ভিআইপি সড়কেও এসব যানবাহনের উপস্থিতি এখন নিয়মিত দৃশ্য।

কাগজে-কলমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নতুন কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। ২০১৫ সালে সরকারের এক সিদ্ধান্তে ঢাকার প্রধান সড়ক এবং দেশের ২৩টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টও এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর সড়ক এবং বিভিন্ন মহাসড়কে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—যে আইন বাস্তবে প্রয়োগই করা যায় না, সেই আইন থাকার অর্থ কী?

ব্যাটারিচালিত রিকশা নিঃসন্দেহে নগরবাসীর জন্য একটি সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। কিন্তু একটি পরিবহন ব্যবস্থা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা জননিরাপত্তা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা এবং নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। দুঃখজনকভাবে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে সেই সামঞ্জস্য আজ অনুপস্থিত।

কিন্তু এই সমস্যার মূল জায়গা হলো নিয়ন্ত্রণহীনতা। বর্তমানে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনো সুনির্দিষ্ট নিবন্ধন নেই, চালকদের অধিকাংশের নেই প্রশিক্ষণ, আর যানবাহনের নিরাপত্তা মান নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন। 

এসব রিকশা সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আধুনিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না। ব্রেকিং সিস্টেম দুর্বল, কাঠামোগত স্থায়িত্ব সীমিত এবং গতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা অনুপস্থিত।

অথচ অনেক চালক এসব যানবাহন উচ্চগতিতে চালান, যা যাত্রী ও পথচারী উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও আহত হওয়ার সংখ্যা।

আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো রাজধানীর যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। 

শুধু অলিগলি নয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, বাজার এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সামনেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এসব যানবাহন। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার একটি বড় অংশ কার্যত দখল করে রাখায় সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যায় এবং যান চলাচলের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

এর পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামার জন্য হঠাৎ থেমে যাওয়া, মোড়ের কাছে যত্রতত্র অবস্থান নেওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে অন্যান্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। ফলে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। 

প্রতিদিন কোটি মানুষের চলাচলের এ নগরীতে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অকার্যকর ও বিশৃঙ্খল করে তুলছে।

বিষয়টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যুৎ ব্যবহার। বিভিন্ন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার কাজে। 

উদ্বেগজনক হলো, এই চার্জিংয়ের বড় একটি অংশ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বিদ্যুৎ চুরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, বিশেষ করে যখন দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

তবে বাস্তবতা হলো, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত নীতি। 

প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করতে হবে এবং নিবন্ধন ও ফিটনেস ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং অবৈধ চার্জিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কিন্তু ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সেটা হিতে বিপরীত হচ্ছে । সম্প্রতি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দকে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। 

ঘটনাটি শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো উদাহরণ নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়।

সম্প্রতি রাজধানী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারণের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একার পক্ষে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ও যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লেক রোডে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা দায়ের ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিএমপি কমিশনার জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে কেবল পুলিশের একক প্রচেষ্টায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

ফলে অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘাত ও জনদুর্ভোগ এড়ানোর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকের মধ্যে আইন অমান্যের প্রবণতা বাড়ছে এবং তাদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। 

কার্যকর ও ধারাবাহিক আইন প্রয়োগের অভাবে সড়কে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হয়। ঢাকার ক্ষেত্রেও সময় এসেছে বাস্তবসম্মত, কিন্তু দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নগরবাসীর নিরাপত্তা, সড়কের শৃঙ্খলা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

ঢাকার সড়ক কারও একক সম্পত্তি নয়; এটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাই নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে হলে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।

ঢাকাকে যদি সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য, নিরাপদ ও গতিশীল নগরীতে পরিণত করতে হয়, তাহলে এখনই সাহসী ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং নগর শৃঙ্খলার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল বন্ধ করা আজ আর কোনো বিকল্প নয়; এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি।

 

হুমায়ুন আহমেদ বিলাস, বর্তমানে করপোরেট কমিউনিকেশনস ও পাবলিক রিলেশন্স নিয়ে কাজ করছেন।