30.2 C
Dhaka
Home Blog

বিএনপি সরকারের ৪ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির খতিয়ান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বছরের পর বছর ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

বাস্তবে দেখা গেল, গণঅভ্যুত্থানের পরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গুম বন্ধ হলেও সার্বিকভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা বন্ধ হয়নি। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে, মব সহিংসতা বেড়ে যায়।

এ সময় আশাহত মানুষের মধ্যে সম্ভাব্য নির্বাচিত সরকারকে কেন্দ্র করে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। সেসময় প্রথম আলোর উদ্যোগে করা এক জরিপ থেকে দেখা যায়, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আশা করেছিলেন, নির্বাচিত সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও নারীর নিশ্চিন্তে চলাফেরা ও নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সফল হবে। সরকার ভিন্ন রাজনৈতিক মতের ব্যাপারে সহিষ্ণুতা দেখাবে বলে আশাবাদী ছিলেন অর্ধেকেরও বেশি (৫৪ শতাংশ) মানুষ।

বাস্তবতা হলো, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিদিনই ঘটছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী তিন মাসে সারা দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ১০টিরও বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি ও মে মাসে ৩১০টি মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই তিন মাসে ৯৯৩টি মামলা হয়েছিল। তবে এর মধ্যে ২২৬টি ছিল আগের ঘটনার জের। ফলে তুলনামূলক প্রকৃত সংখ্যাটি ছিল ৭৬৭। অন্যদিকে ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭৯৪।

সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপিটুনি ও মব সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানের কথা বললেও তা বাস্তবে কমেনি। মার্চ ও এপ্রিলে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৬৯ থেকে ৮০টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১ থেকে ৪২ জন এবং আহত হয়েছেন ৭০ থেকে ১২৫ জন। এ ছাড়া, কারা হেফাজতে ১৪ থেকে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্যাতনে আহত হয়েছেন পাঁচজন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন একজন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাতজন এবং দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে তিনটি। বিভিন্ন স্থানে মাজার এবং ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা, কুষ্টিয়া ও সিলেটে মাজার ও বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং একজন পীরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে। সংস্থাটি বলছে, জুনে সারা দেশে অন্তত ৭৮টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগের মাসে মব সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ ও আহত ৭১ জন। সে হিসাবে আহতের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। চোর সন্দেহ, ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গুজব কিংবা ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জুন মাসের প্রতিবেদন অনুসারে, জুনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত ও নির্যাতনে তিনজন নিহত হন। তাদের মধ্যে দুইজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং একজন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান। গ্রেপ্তার এড়াতে পালাতে গিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। ২১ জুন ফরিদপুরের মধুখালীতে ডিবি পুলিশের হেফাজতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। ২৪ জুন খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে রবিন ত্রিপুরা নামে ইউপিডিএফ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ২৫ জুন খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে কথিত ডাকাত ‘দুলাইভাই বাহিনীর’ সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাকাত সরদার নামে একজন নিহত হন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুসারে, জুন মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে সাতজন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির একজন ও পাঁচজন সাধারণ আসামি। তাদের মধ্যে ২৪ জুন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকের একদিন পর যুবলীগ নেতা নুরুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান; ১৮ জুন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় আটক যুবদল কর্মী শহীদুল্লাহ রাসেলের মৃত্যু হয়।

এসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি চলমান থাকবে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া ও শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি গ্রেপ্তারের ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত মার্চ-এপ্রিল মাসে অন্তত চারজনকে ৫৪ ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার এবং একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুসারে জুন মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অন্তত ১১টি ঘটনায় ১১ জনকে আটক ও সাতটি মামলা হয়।

সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের (বিএজে) এক প্রতিবেদন অনুসারে, জুন মাসে সারা দেশে অন্তত ৪০টি ঘটনায় ৫১ জন সংবাদকর্মী শারীরিক হামলা, নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এসব হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন মাদক চোরাকারবারি, রাজনৈতিক দলের উশৃঙ্খল নেতাকর্মী, পেশাজীবী ও ঠিকাদাররা। সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’র ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও সংবাদপত্রটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে কয়েকদিন কারাগারে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনার মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগে যে ধরণের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল তা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোতে ব্যক্তি ও পোশাকের অদল-বদল হলেও মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। অথচ ন্যূনতম মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কার খুবই জরুরি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর তাদের সুপারিশে র‍্যাব বিলুপ্তি, বিজিবিকে সীমান্ত রক্ষা ও ডিজিএফআইকে সামরিক গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বিএনপি সরকারেরও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পুলিশ কমিশন গঠন ও মানবাধিকার কমিশনের সংস্কার বিষয়ে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সেগুলোও বাতিল করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিল করে বিএনপি সরকার নতুন যে খসড়া মানবাধিকার কমিশন আইন করছে, তাতে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তের এখতিয়ার খর্ব করা ও কমিশনের ওপর সরকারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।

সবমিলিয়ে নির্বাচিত সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের যে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। কোনো সরকার যতই উন্নয়ন বা জনকল্যাণের কথা বলুক না কেন, আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক না হলে সেই সরকার দ্রুত অজনপ্রিয় হয়ে যায়।

তাই পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পরিণতি বরণ করতে না চাইলে বিএনপি সরকারের উচিত হবে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এজন্য একদিকে সরকারি দল বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে, নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব থেকে দূরে রাখতে হবে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারবিভাগের কাঠামোগত সংস্কার করে সত্যিকার অর্থে পেশাদার পুলিশ বাহিনী ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদারকি ও জবাবদিহিতার জন্য স্বাধীন ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠন করতে হবে।

আর এসব কিছুর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক বাস্তব সমস্যার গভীরতা উপলব্ধি করে তা সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা পোষণ করবার উপর।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন।
[email protected]

১৬ বছর পর বিশ্বকাপে পয়েন্ট দক্ষিণ আফ্রিকার

নিজেদের প্রথম ম্যাচে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল চেকিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা দুই দলকেই। দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য ঝাঁপালেও এক পয়েন্টের বেশি পায়নি কোনো দলই। ১-১ গোলে ড্র করে ক্ষীণভাবে দুই দলই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে টিকে রইলো। 

এই ড্রয়ের ফলে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে কোনো পয়েন্ট পেলো দক্ষিণ আফ্রিকা। সবশেষ নিজেদের দেশে অনুষ্ঠিত ২০১০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আফ্রিকান দেশটি।

ম্যাচে ভালো শুরু করেছিল চেকিয়া। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মাথায় দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন চেক স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক। অরক্ষিত অবস্থায় থেকেও ঠিকভাবে হেড করতে না পারায় সুযোগ হারায় দলটি। তবে এগিয়ে যেতেও বেশি সময় নেয়নি তারা। ৬ মিনিট হওয়ার আগেই গোল করে চেকিয়াকে এগিয়ে নেন মিশাল সাদিলেক। এবারের আসরে এটিই এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোল। 

প্রথমার্ধে কোনো দলই আর পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে বক্সের ভেতর চেক খেলোয়াড় পাভেল সাল্কের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। স্পটকিক থেকে গোল করে খেলায় সমতা আনেন তেবোহো মোকোয়েনা। 

যোগ করা সময়ে মরিয়া হয়ে জয়সূচক গোলের চেষ্টা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভালো একটি আক্রমণও করেছিল, কিন্তু গোল পায়নি। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতাতেই খেলা শেষ হয়। 

এই ড্রয়ের ফলে গোল ব্যবধানে গ্রুপ ‘এ’ তে চেকিয়া আছে তৃতীয় স্থানে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা চতুর্থ স্থানে।  

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় ৩ বছর বাড়ানোর সুপারিশ জাতিসংঘ কমিটির

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ যে অনুরোধ জানিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।

বাংলাদেশ সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সিডিপির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

আজ মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বিষয়ে সরকারের প্রচেষ্টার পর সিডিপির ইতিবাচক সুপারিশের ঘোষণা এসেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করেছেন, কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি করা যথাযথ হবে। তবে বাংলাদেশকে এই সময়ে তার বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে হবে।

সিডিপি তাদের মূল্যায়নে উল্লেখ করেছে, এলডিসি উত্তরণে তিনটি সূচকের প্রতিটিতেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। নিকট ও মধ্যমেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

কমিটি বাংলাদেশ প্রণীত ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করে, প্রস্তুতি পর্বের সময়কাল বাড়লে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তারা একইসঙ্গে বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুতি পর্ব ও উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা ও বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধি।

সিডিপি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে আর্থিকখাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জোরদার, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ ও বেসরকারিখাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কমিটির মতে, প্রস্তুতি পর্বের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হলেও সেটাকে সংস্কার কার্যক্রমে দেরি করার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার সিডিপির এই ইতিবাচক মূল্যায়ন ও সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে।

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি: তথ্যমন্ত্রী

বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে বর্তমান সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রেই ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা ঘাড়ে নিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেছেন, এই অবস্থা থেকে দেশকে আবারও স্বাবলম্বী করতে বর্তমান সরকারের কমপক্ষে ২ বছর সময় লাগবে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একসময় দেশের দায়িত্ব নিয়েছি, যখন বিগত সরকারের লুট করে যাওয়া অর্থনীতির কারণে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। প্রতিবছর আমাদের ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হবে। আমাদের রপ্তানি আয় বছরে মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো। রেমিট্যান্স থেকে আমাদের আয় ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার। আমাদের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর, আমাদের ৬০-৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করতে হয়। ফলে আমাদের ঘাটতি অর্থনীতি ও ঘাটতি বাজেট নিয়ে চলতে হয়।’

অতীতের সরকারের লুটের দায়দায়িত্ব জনগণকে বহন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ভাঙা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি থেকে দেশকে আবার স্বাবলম্বী করতে এই সরকারের কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। সেই কারণে আমাদের সব ভোটারকে সজাগ করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক সংকট পুনরুদ্ধারের এই জটিল সময়ে কেউ আমাদের রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত করতে না পারে।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘হাজার বছর ধরে এই দেশে নানা ধর্ম ও নানা বর্ণের মানুষ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাস করি। এর মধ্যে কোনো সংঘাত ও বিরোধ তৈরি হওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু যারা ভোটারবিহীন ও গণবিচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল এবং দখল করে থাকতে চেয়েছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভেদ তৈরি করত। এর মধ্যে একটা বড় বিরোধ হচ্ছে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে আমরা অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক তর্কবিতর্ক করছি এবং তর্কবিতর্ক আমরা আরও করব। কারণ, গঠনমূলক তর্কবিতর্কের মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু কোনোভাবেই আমাদের সংসদের গঠনমূলক সমালোচনা যেন কেউ রাজপথে নিয়ে আসতে না পারে এবং সেই অজুহাতে যাতে আবার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম-ওলামাদেরও এ ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছর আমরা যদি একটি শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে না পারি, তাহলে ভাঙা অর্থনীতিকে আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারব না। আমাদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক এবং শান্তিপূর্ণ সামাজিক-ধর্মীয় জীবন অব্যাহত রাখতে পারব না।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী দিনের রাজনীতিতে সামাজিক স্থিতিশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই ক্ষেত্রে আপনারা যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করেন, তারা হতে পারেন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।’

এবার কার বায়োপিকে আমির

আমির খানের সর্বশেষ সিনেমা ছিল সিতারে জামিন পার। তারপর তার নতুন সিনেমা নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে আমিরের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ছিল বায়োপিকে অভিনয়ের।

একসময় তিনি গুলশান কুমারের বায়োপিকে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। পরে দাদাসাহেব ফালকের বায়োপিকে কাজ করার জোর গুঞ্জন ছিল। অবশেষে মনে হচ্ছে তিনি তার পছন্দের কাজ পেয়ে গেছেন।

সূত্রের বরাতে বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়, অশনীর গ্রোভারের বায়োপিকে কাজ করতে রাজি হয়েছেন আমির খান। ভারত-পের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্টার্টআপ জগতে তার অবদান বলিউডের এই সুপারস্টারকে মুগ্ধ করেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘আমির স্ক্রিপ্ট পড়েছেন এবং খুব পছন্দ করেছেন। তিনি এই সিনেমাতে কাজ করছেন। বর্তমানে এটি প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে আছে। এছাড়া অশনীর দর্শকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত হওয়ায় গল্পটি খুবই রিলেটেবল।’

বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অশনীরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বড় পর্দায় তার বায়োপিকে কাকে দেখতে চান। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, প্রথমে তার মনে আসে খানদের বা অক্ষয় কুমারের কথা। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট অভিনেতার প্রতি তার পক্ষপাতী নন। কারণ তার বিশ্বাস, গল্পই আসল নায়ক, তাই যে অভিনেতা গল্প নিয়ে ভাববেন, তাকেই নেওয়া উচিত।

ছবিতে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা

ইরানের ওপর আজ শনিবার ভোরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর মধ্যপ্রাচ্য আবারও পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কায় দাঁড়িয়ে গেছে। কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা, পারমাণবিক আলোচনা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির পর এই হামলা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হামলাকে ‘প্রতিরোধমূলক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, ইরানের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, অভিযানটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অপারেশন।

তেহরানে বিস্ফোরণ, জরুরি অবস্থা

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম জানায়, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং রিপাবলিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়। হামলার পরপরই শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন দেখা দেয় এবং সম্ভাব্য ইন্টারনেট বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েলজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। তেল আবিব আশঙ্কা করছে, ইরান ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালাতে পারে।

প্রতিরোধ না প্ররোচনা?

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দিকে এগোচ্ছে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি ছিল ভবিষ্যৎ আক্রমণ প্রতিরোধের অংশ।

তবে সমালোচকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ সরাসরি ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা সংঘাতকে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংকটে রূপ দিতে পারে।

রাশিয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনা ছিল সামরিক অভিযানের আগে একটি ‘আড়াল’ মাত্র। তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ সংহতির বার্তা তেহরানের

হামলার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সরকারপন্থী সমাবেশের পূর্বধারণকৃত ভিডিও প্রচার শুরু করে। সেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বক্তব্য সম্প্রচার করা হয়, যেখানে তিনি ‘শত্রুদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য’ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য অভ্যন্তরীণ জনমত প্রস্তুত করার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এই সংঘাত এখন সরাসরি রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। গাজা যুদ্ধ, লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় প্রক্সি সংঘাতের পর এবার ইরান সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।

ইরান যদি বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।

সামনে কী?

বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে। পাল্টা হামলা সীমিত থাকবে, নাকি তা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে, তা নির্ধারণ করবে আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনের ঘটনাপ্রবাহ।

একটি বিষয় স্পষ্ট, আজকের এই হামলা শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একটি পোশাক কারখানার প্রায় ২৫০ জন শ্রমিক।

আজ রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টঙ্গীতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ট্রাউজার ল্যান্ড লিমিটেডের শ্রমিকরা। এই কারখানাটি টঙ্গী পশ্চিমের সাতাইশ এলাকার রাজানগরে অবস্থিত।

শ্রমিকরা জানান, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও চলতি মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার বলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা উচিত।

ডিআইএফই’র শ্রম পরিদর্শক মাকসুদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বকেয়া মজুরি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে মালিকপক্ষ উপস্থিত না থাকায় সমাধান সম্ভব হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ আবারও আরেকটি ত্রিপক্ষীয় সভার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষের লোকজন আসেনি।

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে বেতন পরিশোধ করতে না পারায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

মাকসুদুর রহমান বলেন, গত ডিসেম্বর মাসের কিছু বেতন পরিশোধ করা হলেও জানুয়ারি ও চলতি মাসের বেতন এখনো বকেয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

‘এআই দিয়ে লেখার’ অভিযোগ, তবুও পেলেন কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল একটি ছোটগল্প। অনেকের দাবি ছিল, গল্পটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে লেখা। কিন্তু সব বিতর্ক পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত সেই গল্পই জিতে নিয়েছে কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রাইজ।

বিজয়ী গল্পটির নাম দ্য সার্পেন্ট ইন দ্য গ্রোভ। গল্পটি লিখেছেন ক্যারিবীয় অঞ্চলের লেখক জামির নাজির।

মে মাসের মাঝামাঝি গল্পটি কমনওয়েলথের ক্যারিবীয় অঞ্চলের সেরা গল্প হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। এক্স (সাবেক টুইটার) ও ব্লুস্কাইয়ে অনেকেই দাবি করেন, গল্পটি এআই দিয়ে লেখা।

বিতর্ক এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে, সাহিত্য সাময়িকী গ্রান্টা কমনওয়েলথের বিজয়ী গল্প প্রকাশের চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়।

এরপর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশন। তারা লেখকদের খসড়া, সময়-সংবলিত নথি (টাইমস্ট্যাম্পড ডকুমেন্ট) এবং লেখার নোট পরীক্ষা করে।

ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক রাজমি ফারুক জানান, তদন্ত শেষে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বিজয়ী লেখকেরা গল্প লেখার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করেননি।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিজয়ী হিসেবে আগেই ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড পেয়েছিলেন জামির নাজির। এবার সামগ্রিক বিজয়ী হওয়ায় তিনি আরও ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড পুরস্কার পাবেন।

বিচারক প্যানেলের প্রধান লুইস ডাউটি গল্পটিকে ‘মৌলিক, কাব্যিক ও হৃদয়স্পর্শী’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সমালোচকদের মতে, গল্পটিতে এমন কিছু বাক্যগঠন রয়েছে, যেগুলো এআই দিয়ে লেখায় প্রায়ই দেখা যায়।

গল্পের কয়েকটি ব্যতিক্রমী বাক্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশনের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে জামির নাজির জানান, গল্পটি লিখতে তিনি ছয় থেকে সাতটি খসড়া তৈরি করেছিলেন। তিনি মোবাইলে স্পিচ-টু-টেক্সট সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। তার ফোনের পর্দায় একসঙ্গে মাত্র তিন-চারটি লাইন দেখা যেত। তাই প্রতিটি লাইন ভালোভাবে ঠিকঠাক করে তারপর পরের লাইনে যেতেন। এ কারণেই গল্পটি এত পরিশীলিত হয়েছে।

গল্পটির অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি বলেন, তার শৈশব কেটেছে ত্রিনিদাদের একটি গ্রামে। স্কুলে যাওয়ার পথে আখ শ্রমিকদের আড্ডা, হাসি, তর্ক ও গল্প শুনতেন। সেই অভিজ্ঞতাই গল্পটির ভিত্তি।

বিতর্কের সময় অনেকেই গল্পটি বিভিন্ন এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যারে পরীক্ষা করেন। কেউ কেউ দাবি করেন, সফটওয়্যার এটি শতভাগ এআইলিখিত বলে দেখিয়েছে।

তবে এসব সফটওয়্যারের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন আছে।

রাজমি ফারুক বলেন, তারা কোনো সফটওয়্যারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেননি। বরং লেখকের সৃজনশীল প্রক্রিয়ার প্রমাণ পর্যালোচনা করেছেন।

তার ভাষায়, এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যার সব সময় সঠিক ফল দেয় না। কখনো একেকবার একেক রকম ফল দেখায়। তাই শুধু সফটওয়্যারের ওপর ভরসা করলে সাহিত্য পুরস্কারের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যাদের লেখার ধরন প্রচলিত ধারার বাইরে, তারা অনেক সময় অযথাই সন্দেহের মুখে পড়েন। বিশেষ করে নতুন বা ভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের লেখকদের এখন কেবল নিজের প্রতিভা নয়, নিজের মানবিক সৃষ্টিশীলতাও প্রমাণ করতে হচ্ছে।

নির্বিষ পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর চমক

দীর্ঘ ৫২ বছরের অপেক্ষার পালা শেষ করে ফিফা বিশ্বকাপে ফিরেছে ডিআর কঙ্গো। আর ফুটবলের মহাযজ্ঞে নেমেই বাজিমাত করল নামেভারে পিছিয়ে থাকা আফ্রিকার দলটি। তারকায় ঠাসা হলেও পুরোটা সময় নির্বিষ থাকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে রুখে দিয়ে চমক দেখাল তারা।

বুধবার রাতে হিউস্টনে এবারের আসরের ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। দুটি গোলই এসেছে প্রথমার্ধে। ষষ্ঠ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট পর্তুগাল। তবে দমে না গিয়ে বিরতির ঠিক আগে কঙ্গোকে সমতায় ফেরান ইয়োয়ান উইসা।

ম্যাচের ৭৫ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখলেও পর্তুগিজরা আক্রমনে ছিল একেবারে ধারহীন। নিজেদের মধ্যে ৭২৪টি পাস খেললেও গোলমুখে মাত্র সাতটি শট নিতে পারে তারা, যার মধ্যে কেবল একটি ছিল লক্ষ্যে। রোনালদোর পাশাপাশি নামের প্রতি মোটেও সুবিচার করতে পারেননি ভিতিনিয়া-পেদ্রো নেতো-বার্নার্দো সিলভারা।

অন্যদিকে, রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে সফলতা পাওয়া কঙ্গো সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণ চালায়। গোলমুখে আটটি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখে তারা।

একই দিনে ইতিহাসের এক চূড়ায় দাঁড়িয়ে দুই মহাতারকা দেখলেন মুদ্রার দুই পিঠ। এদিন সকালে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার অনন্য কীর্তি গড়েন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। কানসাসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে জাদুকরী হ্যাটট্রিকে নিজের মহাকাব্যিক দিনটিকে রাজকীয়ভাবে রাঙিয়ে রাখেন তিনি।

এরপর সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন রোনালদোও। ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে নেমে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে। তবে রেকর্ড বইয়ের পাতা ভারী হলেও মাঠের সবুজ গালিচায় বিশেষ কিছুই করতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড। বরং মাঠে তার মন্থর মুভমেন্টে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বয়সের ভারী অবয়ব।

পর্তুগালের শুরুটা অবশ্য হয়েছিল স্বপ্নের মতো। নেতোর মাপা ক্রস থেকে দারুণ হেডে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার নেভেস। কিন্তু সেই গোলের পরই যেন খেই হারিয়ে ফেলে রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে গোলমুখে আর কোনো শটই নিতে পারেনি তারা।

বিপরীতে, শুরুতে গোল খেয়েও কঙ্গো ভেঙে পড়েনি, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলায় ফিরে আসে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ছোট কর্নারের পর আর্থার মাসুয়াকুর ক্রসে অরক্ষিত উইসার দুর্দান্ত ও নিখুঁত হেডে সমতায় ফেরে কঙ্গো। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে জায়ার নামে খেলার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই তাদের প্রথম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের চিত্রটাও ছিল প্রায় একই রকম। ৫৫তম মিনিটে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার জোয়াও ক্যানসেলোর ওভারহেড কিকে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি। দলের ব্যর্থতা কাটাতে ব্যর্থ হন রোনালদোও। দুই দফায় দুটি সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি।

শেষদিকে জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা করলেও কঙ্গোর রক্ষণভাগকে খুব একটা ভাবাতে পারেনি ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত তাই তীব্র হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদেরকে।

তুলার বাজার হিসেবে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন তুলা রপ্তানি বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন চায় বাংলাদেশ যেন পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা পেতে মার্কিন তুলা ও টেক্সটাইল কাঁচামাল ব্যবহার করে।

গত সপ্তাহে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) যুক্তরাষ্ট্রের তুলা খাতকে চাঙা করতে ‘গ্রেট আমেরিকান কটন প্ল্যান’ চালু করে।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ইউএসডিএ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে মার্কিন তুলা কেনা ও মার্কিন তুলা ব্যবহার করে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে।

এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশ যদি মার্কিন তুলা ও টেক্সটাইল উপকরণ ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করে, তাহলে শুল্ক কমানোসহ আরও কিছু বাণিজ্য সুবিধা পেতে পারে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু বাংলাদেশি বস্ত্র ও পোশাকপণ্য শূন্য শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ সুবিধা কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কী পরিমাণ তুলা ও কৃত্রিম তন্তুর কাঁচামাল আমদানি করা হচ্ছে তার ওপর। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করে, আর এর মধ্যে মার্কিন তুলার অংশ ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্থানীয় সুতা ও বস্ত্রকল মালিকরাও এখন মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আগের চেয়ে বেশি তুলা কিনছেন। 

এ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।

তবে তার মতে, মার্কিন তুলার ব্যবহার বাড়াতে দুইটি বড় সমস্যা রয়েছে। একটি হলো রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত শর্ত), আর অন্যটি হলো পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগা।

তিনি বলেন, আমেরিকান তুলার মান ভালো হলেও বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা কী ধরনের শুল্ক সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা দরকার।

মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, শুল্ক ছাড় পেতে পোশাকে কতটা মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করতে হবে এবং রুলস অব অরিজিনের শর্তগুলো কী হবে।

‘আলোচনার ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে, কম শুল্কের সুবিধা সব রপ্তানির জন্য নয়; বরং এটি নির্দিষ্ট একটি কোটার মধ্যেই সীমিত থাকতে পারে,’ বলেন তিনি।

মার্কিন তুলা সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশে গুদাম সুবিধা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে তুলা আনতে কম সময় লাগে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আসতে ৪৫ দিনেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এতে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমতে পারে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক ফয়সল সামাদ বলেন, মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে রুলস অব অরিজিনের শর্ত নিয়ে আগামী সপ্তাহে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে বিজিএমইএ।

তিনি আরও জানান, এর আগে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ সংক্রান্ত নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট তুলা আমদানির প্রায় ৯ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশে বছরে তুলা আমদানির বাজার প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মোট পণ্য বাণিজ্য প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ দশমকি ৩ শতাংশ বেড়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি ছিল ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮৬ শতাংশই তৈরি পোশাক।