32.5 C
Dhaka
Home Blog

ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ১৮০

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। আল জাজিরার খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান হোসেন কেরমানপুর বলেন, গত রোববার মিনাবের বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ‘প্রায় ১৮০ জন শিশু’ নিহত হয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও ‘একই ধরনের’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

গত শনিবার ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। সেইসঙ্গে তেল আবিবেও হামলা চালাচ্ছে তেহরান।

ইরানের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে লেবাননে পাল্টা আক্রমণ করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

তেহরানে নতুন করে আরও এক দফা শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আজ সোমবার ভোরে এই হামলার কথা জানায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ

সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আজ মঙ্গলবার সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠিয়ে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪-এর ৮৬ সংখ্যক নির্দেশ মোতাবেক সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

মাঠপর্যায়ের সব অফিসের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিনে স্ব স্ব কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কর্মস্থল ছাড়তে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এআই দিয়ে ভাইরাস বানালেন বিজ্ঞানীরা, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, তবে প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে কতটা নিরাপদ থাকবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখানে যে ভাইরাস তৈরি করা হয়েছে, তা ব্যাকটেরিওফাজ বা সংক্ষেপে ফাজ নামে পরিচিত। এ ধরনের ভাইরাস কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে, মানুষ বা অন্য প্রাণীকে নয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ না করা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ফাজ থেরাপি ব্যবহার করা হচ্ছে।

গবেষণাগারে দেখা গেছে, এআই-নকশা করা কয়েকটি ফাজের সমন্বয়ে তৈরি একটি ককটেল এমন ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াকেও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে, যেগুলো প্রাকৃতিক ফাজের প্রতিরোধী হয়ে উঠেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশলী ড. ব্রায়ান হাই ও তার সহকর্মীরা এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন। তারা জিনোম ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল নামে পরিচিত এক ধরনের এআই ব্যবহার করেন, যা মূলত মানুষের ব্যবহৃত বড় ভাষা মডেলের সংস্করণ। এই প্রযুক্তির সাহায্যে তারা নতুন ফাজের জিনোম বা জিনগত নকশা তৈরি করেন।

এরপর সেই নকশা ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে সত্যিকারের ফাজ তৈরি করা হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার ওপর পরীক্ষা চালানো হয়।

গবেষকদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সাহায্যে খুব দ্রুত নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন ফাজ তৈরি করা যাবে। ফলে এমন অনেক সংক্রমণের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে, যেগুলো এখন সহজে সারানো যায় না। এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ।

তবে বিজ্ঞানীরা শুরু থেকেই সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। তাদের মতে, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করার সময় নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তাই এ ধরনের গবেষণায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

একই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক, টম ইংলেসবি ও মরিটজ হ্যাঙ্কে। তাদের মতে, এখন এআই দিয়ে ভাইরাসের জিনোম তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তিকে নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মতো নিয়মকানুন এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

গবেষণায় ইভিও১ এবং ইভিও২ নামে দুটি এআই মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোকে প্রায় ২০ লাখ ব্যাকটেরিওফাজের জিনগত তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে মানুষ, প্রাণী বা গাছে রোগ ছড়াতে পারে এমন কোনো ভাইরাসের তথ্য ইচ্ছা করেই এতে দেওয়া হয়নি। এতে বিপজ্জনক ভাইরাস তৈরির ঝুঁকি কমে।

এআই কয়েক হাজার সম্ভাব্য জিনোম তৈরি করেছিল। সেখান থেকে বিজ্ঞানীরা প্রায় ৩০০টি বেছে নিয়ে পরীক্ষাগারে তৈরি করেন। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সত্যিই কাজ করেছে। যদিও সংখ্যায় কম, এই ১৬টি ফাজ একসঙ্গে ব্যবহার করে ই. কোলাইয়ের দুটি কঠিন ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে সফলভাবে ধ্বংস করা গেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এখানে থেকে দেখা গেছে এআই সত্যিই কাজ করতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে, এখনই এআই দিয়ে যেকোনো ভাইরাস সহজে তৈরি করা সম্ভব। কারণ, ব্যাকটেরিওফাজের জিনোম খুব ছোট ও তুলনামূলক সহজ। মানুষ বা প্রাণীতে রোগ ছড়ানো ভাইরাসের জিনোম অনেক বেশি জটিল।

যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক টম এলিস বলেন, এআইকে যদি বিপজ্জনক রোগজীবাণুর তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে জিনগত তথ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিপজ্জনক জিনোম তৈরির ওপর নজরদারি রাখলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. ফিলিপা লেনজোস মনে করেন, শুধু এআইকে নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না। যখন পরীক্ষাগারে ডিএনএ তৈরি করা হয়, তখনও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরীক্ষাগারের নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকতে হবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এআই ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। তবে সেই দরজা যেন মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে, বিপদ নয়—সেটি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

জুলাইয়ের প্রাণ ছিল গান, তার ওপরেই আঘাত কেন?

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দেখলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়, এর সাংস্কৃতিক শক্তি। কোনো গণআন্দোলন শুধু স্লোগান, মিছিল কিংবা রাজনৈতিক দাবির ওপর ভর করেই চলে না। মানুষের আবেগ, স্বপ্ন এবং আত্মপরিচয়বোধও একে শক্তি জোগায়। জুলাই আন্দোলনও এর ব্যতিক্রম ছিল না। রাজপথে যেমন ছিল জ্বালাময়ী স্লোগান, তেমনি ছিল প্রতিবাদী গান। নতুন প্রজন্মের র‍্যাপ, পুরোনো গণসংগীত এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী গান, সব মিলিয়ে সংগীত হয়ে উঠেছিল আন্দোলনের প্রাণ।

জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে গান কোনো বিনোদনের মাধ্যম ছিল না। এটি ছিল সাহস, ক্ষোভ এবং শোক প্রকাশের ভাষা। যে কথাগুলো সরাসরি বলা কঠিন ছিল, সেগুলোই মানুষ গানের মাধ্যমে আরও শক্তভাবে বলেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে গানগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু গান ছিল স্লোগানের চেয়েও শক্তিশালী, কেননা সেগুলো মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতিকে সম্মিলিত আবেগের সুতোয় বেঁধে ফেলেছিল।

শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের গণসমাবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে বাজছিল ‘সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি’। এটি শুধু একটি সমাবেশের ভিডিও ছিল না, এটি হয়ে ওঠে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও সাংস্কৃতিক জাগরণের এক অনন্য প্রতীক।

একইভাবে সেজানের র‍্যাপ গান ‘কথা ক’ জুলাই আন্দোলনের অনানুষ্ঠানিক থিমসং হয়ে ওঠে। প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষার বাইরে গিয়ে এটি তরুণদের ক্ষোভ, হতাশা ও প্রশ্নকে সুরে সুরে তুলে ধরে। হান্নানের ‘আওয়াজ উডা’ও ডিজিটাল প্রজন্মের প্রতিবাদের অন্যতম সাউন্ডট্র্যাকে পরিণত হয়। এসব গান দেখিয়ে দেয়, নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষা শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ নয়, গান, ভিডিও এবং অনলাইন সংস্কৃতিও তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জুলাইয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পুরোনো গানগুলোর নতুন করে ফিরে আসা। ‘কারার ওই লৌহকবাট’, ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’ এবং ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে আবারও জীবন্ত হয়ে ওঠে। একসময় এসব গান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং নানা ঐতিহাসিক সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। জুলাইয়ে এসে তারা নতুন অর্থ পায়। অতীতের ইতিহাস আর বর্তমানের আকাঙ্ক্ষা যেন এক সুতোয় গাঁথা হয়ে যায়।

বিশেষ করে ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গানটির ফিরে আসা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু একটি দেশাত্মবোধক গান নয়, স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষার সাংস্কৃতিক স্মারকও। জুলাই আন্দোলনে এর পুনরাবির্ভাব দেখিয়েছে, একটি জাতির ঐতিহাসিক গান কখনো হারিয়ে যায় না। প্রয়োজনের সময় সেগুলো নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে বারবার ফিরে আসে।

কিন্তু এখানেই তৈরি হয় সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য। যে গান একটি আন্দোলনকে শক্তি দিয়েছিল, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই গান, সেই শিল্পী এবং সেই সাংস্কৃতিক ধারাগুলোই নানা ধরনের চাপের মুখে পড়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, জুলাইয়ের সাংস্কৃতিক জাগরণ কি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে?

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে বেশ কিছু ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। মাজার ও খানকায় হামলা, বাউল শিল্পীদের ঘিরে বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, এসব ঘটনা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে রাজধানীর শাহবাগে ‘গানের আর্তনাদ’ নামে একটি কর্মসূচিতে বাউল শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন। সেই কর্মসূচিতে বাধা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে।

এই সংকটকে শুধু একটি সংগীতধারার সংকট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নও। কেননা এই ভূখণ্ডে সংস্কৃতি কখনোই শুধু বিনোদনের বিষয় ছিল না। ভাষা আন্দোলনের গান, মুক্তিযুদ্ধের সংগীত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের ভূমিকা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ, সবই প্রমাণ করে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস একে অপরের সঙ্গে কতটা গভীর।

এই কারণেই মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে যেকোনো টানাপোড়েন গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতার ইতিহাস নয়, এটি সাংস্কৃতিক মুক্তিরও ইতিহাস। যুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান, কবিতা ও নাটক মানুষের মনোবল জুগিয়েছিল। সেই ঐতিহ্য আজও বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, এর প্রতীক, স্মৃতিচিহ্ন এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে যে বিতর্ক ও সংঘাত তৈরি হয়েছে, তা অনেকের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, ভাস্কর্য, প্রতীক ও সাংস্কৃতিক উপাদানের ওপর আঘাতের ঘটনাকে অনেকে এই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের ওপর চাপ হিসেবে দেখছেন। একটি জাতির ইতিহাস নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে। কিন্তু ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ কোনো সমাজের জন্যই ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।

সংগীতাঙ্গনের ঘটনাগুলোও একই পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন। নগরবাউল জেমসের মতো জনপ্রিয় শিল্পীর কয়েকটি কনসার্ট নিরাপত্তা, অনুমতি বা বিশৃঙ্খলার কারণে বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ জেমস শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি বাংলাদেশের রকসংগীতের কয়েক প্রজন্মের কাণ্ডারি। তার গান বহু মানুষের কৈশোর, তারুণ্য ও আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিপরীতে দেশে কাওয়ালি ও সুফি সংগীতের রমরমা আয়োজন নতুন করে দৃশ্যমান হয়েছে। কাওয়ালি উপমহাদেশের সমৃদ্ধ সংগীত ঐতিহ্যেরই অংশ। তাই এর বিকাশ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্বাভাবিক প্রকাশ বটে। কিন্তু উদ্বেগ তৈরি হয় তখনই, যখন একটি সাংস্কৃতিক ধারার উত্থান অন্য একটি ধারার সংকোচনের সঙ্গে মিলে যায়। একটি সুস্থ সমাজে নতুন সংস্কৃতির বিকাশ কখনো অন্য সংস্কৃতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠা উচিত নয়।

বাউল সংস্কৃতির ওপর চাপের অভিযোগ এই সংকটকে আরও স্পষ্ট করে। বাউল দর্শনের মূল শক্তি প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, মানুষের প্রতি আস্থা এবং সংকীর্ণ পরিচয়ের গণ্ডি অতিক্রম করার চেষ্টা। বাউল শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেপ্তার ও মামলা এই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে আসে। ২০২৫ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এই ঘটনা দেখিয়েছে, লোকজ সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুভূতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমারেখা নিয়ে বাংলাদেশের সমাজে এখনো গভীর টানাপোড়েন রয়েছে।

মাজার ও খানকার ওপর হামলার ঘটনাগুলোও একই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। এসব স্থান শুধু ধর্মীয় চর্চার কেন্দ্র নয়, এগুলো আবহমান বাংলার লোকঐতিহ্য, সংগীত এবং সামাজিক মিলনেরও অংশ। বিভিন্ন গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আগস্টের পর বহু স্থানে একাধিক মাজারে হামলার তথ্য উঠে এসেছে। এসব ঘটনা বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক চরিত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এগুলো কি কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার সমষ্টি, নাকি সংস্কৃতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি বৃহত্তর প্রবণতার ইঙ্গিত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আবেগের পাশাপাশি তথ্যের দিকেও তাকাতে হবে। সব ঘটনার পেছনে একই শক্তি কাজ করেছে, এমন প্রমাণ নেই। তবে যদি ধারাবাহিকভাবে শিল্পী, সংগীত, লোকঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো ভয়ের মুখে পড়ে, তাহলে সেটি অবশ্যই সমাজের জন্য অশনি সংকেত।

সবকিছুর কেন্দ্রে একটি প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খায়, বাংলাদেশ কি তার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে ধারণ করতে পারবে? নাকি সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তৈরি হবে গ্রহণযোগ্য ও অগ্রহণযোগ্যতার নতুন দেয়াল?

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান যেমন জরুরি, তেমনি শিল্পীর স্বাধীনতা, ইতিহাসের বহুমাত্রিক চর্চা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গানকে থামিয়ে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মানুষের স্মৃতিকে থামানো যায় না। জুলাইয়ের রাজপথে যে গান মানুষকে সাহস দিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের সময় যে গান মানুষকে লড়াইয়ের শক্তি জুগিয়েছিল, সেই গানগুলো এই জাতির আত্মপরিচয়েরই অংশ।

ইতিহাস বলে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রথম লড়াই অনেক সময় শুরু হয় স্মৃতি ও সংস্কৃতিকে ঘিরে। একটি সমাজ কী গান শুনবে, কোন ইতিহাস মনে রাখবে এবং কোন শিল্পকে সম্মান করবে, এসব প্রশ্নই শেষ পর্যন্ত তার ভবিষ্যৎ পরিচয় নির্ধারণ করে।

আজকের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিকও। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে পারব, যেখানে ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’, ‘আওয়াজ উডা’, ‘কথা ক’ এবং বাউলের মানবদরদী গান, সবকিছুই নিজ নিজ জায়গা থেকে সমান মর্যাদায় বেঁচে থাকতে পারবে?

কারণ একটি জাতির স্বাধীনতা শুধু তার ভূখণ্ডে নয়, তার গানেও বেঁচে থাকে।

আরাফাত সেতু: সাংবাদিক, দ্য ডেইলি স্টার

নরওয়ে কোচকে জার্সি উপহার আনচেলত্তির

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। তবে ম্যাচের আগে দুই কোচকে ঘিরে তৈরি হওয়া ছোট্ট বিতর্কের সুন্দর সমাপ্তি ঘটালেন কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে নিজের নাম লেখা ব্রাজিলের জার্সি উপহার পাঠিয়ে নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেনের মন জয় করেছেন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে সোলবাকেন জানান, আনচেলত্তির এই আচরণ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারি, ম্যাচের পর তিনি (আনচেলত্তি) যে মহত্ত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা অসাধারণ। তিনি একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে আমার নাম লেখা ব্রাজিলের একটি জার্সি এবং একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। সত্যিই এটি ছিল দারুণ একটি ব্যাপার।’

ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সোলবাকেনকে বলতে শোনা যায়, ‘কার্লো আনচেলত্তি, আমরা আসছি!’ ভিডিওটি নিয়ে ব্রাজিলের অনেক সমর্থক ক্ষুব্ধ হন। তবে নরওয়ের ৫৮ বছর বয়সী কোচের দাবি, মন্তব্যটি প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর আনচেলত্তির আচরণেই বোঝা গেছে, তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মনোমালিন্য পুষে রাখেননি।

রোববার নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের উদ্‌যাপনের সুযোগ দিলেও নিজের রাতটা খুব একটা ভালো কাটেনি বলে জানান সোলবাকেন, ‘আমি সাপোর্ট স্টাফদের বলেছিলাম, তারা যেন নিজেদের মতো করে উদ্‌যাপন করে। আমি এতটাই ক্লান্ত ছিলাম যে বিছানায় চলে যাই। এরপর আবার ম্যাচটি দেখেছি, কিছুক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘেঁটেছি, কয়েকটি বার্তার উত্তর দিয়েছি। খুব কম ঘুম হয়েছে। তবে সকালে ঘুম থেকে উঠে দারুণ অনুভূতি হচ্ছিল।’

খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত ওরাই নেয়। স্বাধীনতা আছে, তবে দায়িত্বও আছে। সবসময়ই এমন থাকে। এই ছেলেরা খুব ভালোভাবেই জানে কীভাবে সবকিছু সামলাতে হয়।

ব্রাজিলকে হারানোর স্মরণীয় রাতের পর এখন নরওয়ের চোখ কোয়ার্টার ফাইনালে। আগামী শনিবার মায়ামিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে সোলবাকেনের দল।

নীতিমালা আছে, ব্যাংকের এমডিদের কি সুরক্ষা দিতে পারছে বাংলাদেশ ব্যাংক?

কোনো ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদত্যাগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের শুনানি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

গত এক বছরে ডজনেরও বেশি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী পদত্যাগ বা অপসারিত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো শুনানি করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এতে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভ্যন্তরীণ চাপে ব্যাংক নির্বাহীদের পদত্যাগ করা থেকে সুরক্ষা দিতে নীতিমালা থাকলেও সেগুলো কি যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে?

উদাহরণ হিসেবে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিমিয়া সাদাতের কথা বলা যেতে পারে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ৬ মে তিনি পদত্যাগ করেন। পূর্ণকালীন এমডি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পাওয়ার আগেই তিনি ব্যাংকটি ছেড়ে দেন।

যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গতকাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে তাকে ডাকেনি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন ওই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চাপে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে সাদাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেননি।

পদত্যাগের পেছনে কোনো চাপ ছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানি না। পর্ষদের একজন সদস্য এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। নিজের সম্মান বজায় রাখতে আমি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছি।’

সাদাতের ঘটনার চেয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খানের পদত্যাগ বেশি আলোচনায় আসে। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন ২৪ মে পদত্যাগ করেন ফারুক খান। ওই সময়ে তিনি দেড় মাসের ছুটিতে ছিলেন।

একই দিনে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক এম জুবাইদুর রহমানও পদত্যাগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) তাদের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।

নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের ফলে গ্রাহকদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং প্রায় দুই সপ্তাহ ব্যাংকের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যেও বিতর্ক হয়।

শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বাংলাদেশ ব্যাংক) এমডি ও চেয়ারম্যানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, খান পদত্যাগ করার প্রায় এক মাস পার হয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে শুনানির জন্য ডাকেনি।

গতকাল এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্য ডেইলি স্টার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

সব পদত্যাগই চাপের কারণে নয়

গত এক বছরে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সব পদত্যাগের পেছনেই যে অভ্যন্তরীণ চাপের অভিযোগ ছিল, বিষয়টি তা নয়।

কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা অন্য ব্যাংকে যোগ দেওয়ার জন্য পদ ছেড়েছেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন পদত্যাগের পর বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

গত বছরের মে মাসে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা দেন সেলিম আর এফ হোসেন। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রাইম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হাসান ও রশিদ পদত্যাগ করেন এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।

এর আগে গত বছরের আগস্টে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মারুফ। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে ডেকেছিল।

এ ছাড়া প্রিমিয়ার ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রথমে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং পরে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কোনো ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদত্যাগ করলে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সাধারণত তাদের শুনানির জন্য ডেকে থাকে। তবে কমিউনিটি ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের ডাকা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

নীতিমালা আছে, তবুও সংশয়

২০১৪ সালে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়োগ ও দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ২০২৪ সালে এ বিষয়ে একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়।

ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যদি তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন, তবে পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশসহ সেই আবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে।

এরপর কোনো সুপারিশ করার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত শুনানি নিতে হয়। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ব্যাংকের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে থাকেন এমডি, আর পরিচালনা পর্ষদ মূলত নীতি নির্ধারণ করে।

তিনি আরও বলেন, পর্ষদের অনুমোদনের প্রয়োজন এমন যেকোনো প্রস্তাব এমডিকেই উপস্থাপন করতে হয়। আবার পর্ষদ কোনো বিষয় অনুমোদন করলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও এমডির ওপরই বর্তায়। ফলে পরিচালনা পর্ষদ ও এমডির মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে কখনো সহযোগিতা থাকে, আবার কখনো তৈরি হয় চাপা উত্তেজনা।

তিনি বলেন, এই টানাপোড়েনের কারণেই অনেক সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের ওপর পদত্যাগের চাপ তৈরি হয়।

তিনি আরও যোগ করেন, বিদ্যমান নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারছে না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও এমডিদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।’

‘এর ফলে, কোনো এমডি যদি পর্ষদের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ না করেন, তবে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় অথবা পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘এমডিদের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন, তবে এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতাও জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই যদি দুর্বল হয়, তবে তারা এমডিদের রক্ষা করবে কীভাবে? তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন পাওয়ার বিষয়টি এখন সময়ের দাবি।’

শ্রদ্ধা কাপুর-নোরা ফাতেহির বিরুদ্ধে মাদক মামলার প্রমাণ পায়নি পুলিশ

বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর ও নোরা ফাতেহি ২০২২ সালের আলোচিত মাদক মামলা থেকে স্বস্তি পেতে যাচ্ছেন। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এই মামলায় সোশ্যাল মিডিয়া সেলিব্রেটি ওরি, সিদ্ধান্ত কাপুর ও রাজনীতিক জিসান সিদ্দিকীর নামও এসেছিল। তারাও এই মামলায় ক্লিন চিট পেতে পারেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের আগস্টে। তখন মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও অ্যান্টি-নারকোটিক্স সেল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম মোহাম্মদ সুহাইল শেখকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার রুপির মেপহেড্রোন উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন পার্টিতে মাদক সরবরাহ করতেন, যেখানে কিছু পরিচিত ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। এরপর তদন্তে কয়েকজন তারকার নাম উঠে আসে।

২০২৫ সালে শ্রদ্ধা কাপুর ও নোরা ফাতেহিসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, একটি সম্পূরক চার্জশিট প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখানে মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা চালু থাকবে, কিন্তু তারকাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

এই মামলাটি শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, কারণ এতে বলিউডের পরিচিত মুখদের নাম জড়িয়ে যায়। তবে তদন্তে প্রমাণের অভাবে তাদের নাম বাদ দেওয়ায় বিষয়টি এখন অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।

এদিকে, মাদক চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।

ইরানে হামলা নিয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলন, বক্তব্য রাখবেন পেন্টাগন প্রধান

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত সামরিক অভিযান তৃতীয় দিনে পা দিয়েছে। যুদ্ধের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষামন্ত্রী একইসঙ্গে পেন্টাগন প্রধান নামেও পরিচিত। 

চলতি মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদের নাম বদলে যুদ্ধমন্ত্রী করার উদ্যোগ নেন। তবে এখনো এটি কংগ্রেসের অনুমোদন পায়নি। 

আজ স্থানীয় সমায় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়) এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। 

সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করে পেন্টাগন এই তথ্য জানিয়েছে। 

পেন্টাগন  আরও জানিয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনও অংশ নেবেন। 

 

এখন পর্যন্ত চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্রে। 

দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বিচ্ছিন্নভাবে সামরিক অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে হালনাগাদ তথ্য দিয়েছেন। 

মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকমের পক্ষ থেকেও কিছু বিবৃতি এসেছে। 

বিশ্লেষকদের আশা, পিট হেগসেথের বক্তব্যে পরিষ্কার হবে এই সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কি এবং এটি কতদিন ধরে চলতে পারে। 

 

মঙ্গলবার পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের অধিবেশনে যোগ দিয়ে আইনপ্রণেতাদেরকে সামরিক অভিযানের অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করবেন। 

রোববার হোয়াইট হাউস এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কংগ্রেসের বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভিযোগ, সামরিক অভিযান শুরুর আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের শলাপরামর্শ করা হয়নি। 

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সেনা যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। 

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করে, রোববারের এক হামলায় তেহরানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন।

১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওইদিন ১৪ উপজেলায় কার্যক্রমের সূচনা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের উপ-কমিটির একটি সভা হয়েছে এবং এখানে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উপ-কমিটির সুপারিশের আলোকে ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে পাইলটিংয়ের একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। ১৪টি উপজেলাকে আমরা বাছাই করেছি। এসব উপজেলায় একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। একযুগে সেদিন ১৪ উপজেলায় কার্যক্রমের সূচনা হবে। এটা কন্টিনিউয়াসলি চলবে এবং এই কার্যক্রম দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম নির্বাচনী কমিটমেন্ট। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন এর ওপর কাজ করেছেন। আজ তার সভাপতিত্বে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এটি আজকে অনুমোদিত হয়েছে।

এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাওয়া যাবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিশ্বাস, কোনো ধরনের ধর্মীয় ডিসক্রিমিনেশন—কিছুই হবে না। এটি ইউনিভার্সাল একটি কার্ড এবং পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হচ্ছে। আশা করছি আগামী চার মাসের মধ্যে পাইলটিং কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। পরে আপনার সারা বাংলাদেশে আরও ব্যাপকভাবে, অন্তত প্রতিটি উপজেলা এর আওতায় আসবে।

বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাছাই করা হচ্ছে না। ইনফরমেশন কালেক্ট করা হচ্ছে ডোর টু ডোর স্টেপস অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে। কোনো অবস্থাতে ঘরে বসে কোনো বাছাই হবে না। ফিল্ড লেভেল থেকে ইনফো কালেকশন করা হবে এবং কাউকে ডিসক্রিমিনেট করা হবে না। কাউকে বাদ দেওয়া হবে না। প্রোগ্রামটা রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, কোনো গোয়েন্দা, কোনো দলীয়— কোনো ধরনের ইনভলভমেন্ট নাই। এখানে প্রোগ্রামটা রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সরকার। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে, আমাদের বিভিন্ন কর্মকর্তারা আছেন, তাদের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের সরকারি কর্মচারীরা আছেন। তাদের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীরা আছেন। তাদের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের কার্যক্রম তদারকির জন্য ওই উপজেলার একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাকে  দায়িত্ব দেওয়া হবে। দ্বিস্তর বিশিষ্ট চেকিং এবং রিচেকিং হবে, যেন ভুল-ভ্রান্তি সবচেয়ে কম হয়।

চাঁদে আছড়ে পড়া স্পেসএক্সের রকেট পৃথিবীর জন্য হুমকি নয়: নাসা

চাঁদের সঙ্গে ভেসে বেড়ানো একটি স্পেসএক্স রকেটের সম্ভাব্য সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

সংস্থাটির মতে, এই ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই।

আজ বুধবার বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নাসার মুখপাত্র জিমি রাসেল বলেন, সংঘর্ষের স্থানটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এ নিয়ে মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি জানান, এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে নাসার বিজ্ঞানীরা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে নতুন তথ্য সংগ্রহ করবেন। একই সঙ্গে মহাকাশে বিচরণকারী বিভিন্ন বস্তুকে শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি আরও উন্নত করার সুযোগ পাবেন।

এ বিষয়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমির জনসাধারণবিষয়ক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. ম্যাট বোথওয়েল বলেন, ‘বিশাল একটি বস্তুর চাঁদে আছড়ে পড়ার ঘটনা এটি। তবে এতে পৃথিবীর জন্য সামান্যতমও কোনো বিপদ নেই। আমরা কেবল ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করতে পারি।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদে এ ধরনের সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর মতো ঘন বায়ুমণ্ডল না থাকায় মহাকাশের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ও গ্রহাণু প্রায়ই চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে। তবে এই ঘটনাগুলোর প্রভাব পৃথিবীতে পড়ে না।

বরং এ ধরনের সংঘর্ষ বিজ্ঞানীদের জন্য চাঁদের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও মহাকাশে বস্তুর গতিপথ সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করে।