33.4 C
Dhaka
Home Blog

ভারতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলো রিলসভিত্তিক ফেসবুক নিউজফিড

ভারতে একটি অভিনব ও নতুন লেআউট চালু করেছে ফেসবুক। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি জানানো হয়।

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতে চালু করা লেআউটটি পুরোপুরি ভিডিওভিত্তিক। প্রথাগত নিউজফিডের বদলে ফুল-স্ক্রিন ভিডিও বা ফেসবুকের ভাষায়, রিলস দিয়ে এটি সাজানো হয়েছে।

নতুন লেআউটে ব্যবহারকারীরা অ্যাপে ঢুকে শুরুতেই রিলস দেখতে পাবেন। অন্য ধরনের কনটেন্ট দেখতে ভিন্ন ট্যাবে যেতে হবে।

মেটা জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়াতেও একই লেআউটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তারা চাইলে যেকোনো সময় আগের লেআউটে ফিরে যেতে পারেন। বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করেনি ফেসবুক।

টেকক্রাঞ্চ জানায়, জুলাইয়ে ফেসবুকের প্রধান টম অ্যালিসন প্রথম এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেসব দেশে ভিডিও দেখার প্রবণতা বেশি, সেখানে আরও ভিডিওকেন্দ্রিক নিউজফিড চালুর পরিকল্পনা করছে ফেসবুক।

আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রেও এর একটি সংস্করণ পরীক্ষা করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

মেটার জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে জরিপে অংশ নেওয়া ৯৭ শতাংশ ব্যবহারকারী প্রতিদিন মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভিডিও দেখেন।

আর জেন জি প্রজন্মের ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮৯ শতাংশই রিলস দেখেন।

কোম্পানির নিজস্ব বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে ভারত এখন ফেসবুকের সবচেয়ে বড় বাজার।

গত বছর ফেসবুকের ভিডিওতে বড় পরিবর্তন আনে মেটা। সব ধরনের ভিডিওকে ‘রিলস’-এর আওতায় নিয়ে আসা হয়। শুরুতে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওগুলোকে রিলস বলা হলেও এখন ফেসবুকে ‘ভিডিও’ ট্যাবের বদলে ‘রিলস’ ট্যাবের অধীনে সব ধরনের ভিডিও দেখা যায়।

একই সময়ে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীরা ফেসবুকে কাটানো সময়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ভিডিও দেখেই ব্যয় করেন।

টেকক্রাঞ্চ আরও জানায়, এ ধরনের পরিবর্তনের পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে এর আগেও ভারতকে ব্যবহার করেছে মেটা।

২০২০ সালে দেশটিতে টিকটক নিষিদ্ধ হওয়ার পরপরই ইনস্টাগ্রামে আলাদা রিলস ট্যাব চালুর পরীক্ষা করা হয়। পরে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর ওপর একই ধরনের ভিডিও-প্রধান লেআউট পরীক্ষা করা হয়েছিল।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না: জামায়াত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে যে দ্বিচারিতা করেছে, আমরা সেটা জাতির সামনে আনতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি “জুলাই সনদ” করেছি। সেটির ওপর একটি আদেশ জারি হয়েছে, সেই আদেশের ওপর গণভোটও হয়েছে। কিন্তু সেই গণভোটের রায় বা জনগণের রায় বিএনপি এখনো বাস্তবায়ন করেনি।’

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজ নির্বাচন কমিশন থেকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়িত হতো, তবে আজকের এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলন ঘটত।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রের ধাপে ধাপে মানুষের অধিকার যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আমরা সেটা দূর করতে চাই। এ জন্যই আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা বারবার বলে আসছি, পার্লামেন্টেও (সংসদ) বলেছি এবং পার্লামেন্টের বাইরে আন্দোলন ও কর্মসূচির মাধ্যমেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কিন্তু কেন সরকার সেদিকে যাচ্ছে না, তা আমরা জানি না।’

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘যদি আজ গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হতো, তাহলে ৭০ অনুচ্ছেদটি সংস্কারের আওতায় চলে আসত। এখন যারা ভোটার অর্থাৎ সংসদ সদস্যরা, তারা তো স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। তাহলে একদিকে আপনি তাদের ভোটাধিকার দিয়েছেন, আবার অন্যদিকে সেই অধিকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছেন।’

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে কোনো সংসদ সদস্যকে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিধান রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তার দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি এবং পদমর্যাদাপূর্ণ অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ। এই পদেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে যায়, তাহলে আমরা যে গণতন্ত্র চর্চার কথা বলি, সেটা আর হচ্ছে না। এ জন্যই আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই।’

জয় নিশ্চিত না জেনেও জামায়াত কেন রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত পরশু দিন দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আমরা (জামায়াত) নির্বাচনে অংশ নেব। এখানে জয়-পরাজয় কোনো বিষয় নয়। আমরা মূলত একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে আনতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজি, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর রেয়াত: এনবিআর

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ওপর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর রেয়াত পাবেন।

২০২৬ সালের অর্থ আইনের মাধ্যমে এই প্রণোদনা চালু করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা প্রদেয় করের ৫ শতাংশ পর্যন্ত, তবে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন।

১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো কর রেয়াত পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া ডিসেম্বরের পর রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর হবে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি।

এনবিআর জানিয়েছে, নতুন এই প্রণোদনার উদ্দেশ্য হলো করদাতাদের দ্রুত রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা, স্বেচ্ছায় কর পরিপালন জোরদার করা এবং কর প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করা।

২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ই-রিটার্ন সেবা গত ২২ জুলাই চালু করেছে এনবিআর।

করদাতারা etaxnbr.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন এবং ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং অন্যান্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর পরিশোধ করতে পারবেন।

সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন হলে করদাতারা সঙ্গে সঙ্গে রসিদ (অ্যাকনলেজমেন্ট রিসিপ্ট) এবং আয়কর সনদ ডাউনলোড করতে পারবেন।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় কোনো সমস্যা হলে কর্মদিবসে অফিস চলাকালে এনবিআরের কল সেন্টার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন বলে জানিয়েছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।

ঔপনিবেশিক সম্পর্ক ও ফুটবলের রোমাঞ্চ নিয়ে মুখোমুখি ফ্রান্স-মরক্কো

মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি প্যারিসের বাসিন্দা। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা তিনি। স্পেনে জন্মানো হাকিমি প্যারিসে বাস করলেও খেলেন শেকড়ের দেশ মরক্কোর হয়ে। মরক্কো দলে আছেন ফ্রান্সে জন্মানো একাধিক ফুটবলার, মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি যেমন খেলতেন ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলেও।  এক সময় মরক্কো ছিল ফ্রান্সের অধীনে। এই ম্যাচের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে রয়েছে দুই দেশের উত্তর-ঔপনিবেশিক সম্পর্ক—এখনো দুই রাষ্ট্র নানাবিধ সম্পর্কে জড়িত। এমন বাস্তবতার মাঝে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে ও আশরাফ হাকিমিরা।

বোস্টনে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে তারা। এটি এমন দুটি দেশের মধ্যকার সাক্ষাৎ যাদের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য, কিন্তু যাদের ফুটবলার এবং সমর্থকেরা প্রায়শই অভিবাসন, ভাষা, পরিবার এবং বন্ধুত্বের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।

১৯১২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত মরক্কো ফরাসি সুরক্ষিত রাষ্ট্র (প্রটেক্টরেট) ছিল। শিক্ষা, ব্যবসা ও অভিবাসনের মাধ্যমে দেশ দুটি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছে এবং ফুটবল এই সম্পর্কের অন্যতম স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হয়ে উঠেছে।

মরক্কো দলের ছয়জন সদস্য ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেছেন, আরও কয়েকজন ফরাসি শীর্ষ লিগে খেলেন। মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা অনেকেই খেলেছেন ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক ফুটবল ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে।

তরুণ আইয়ুব বুয়াদ্দি এই ওভারল্যাপিং সম্পর্কের অন্যতম স্পষ্ট উদাহরণ। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এবং লিলেতে বেড়ে ওঠা বুয়াদ্দি মরক্কোকে বেছে নেওয়ার আগে ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। তিনি এমন এক দ্বৈত ফুটবলীয় পরিচয়ের প্রতীক, যা এই ম্যাচটিকে একটি বিশেষ তাৎপর্য দেয়।

দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ফুটবলের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তি। আরেকটি বিশ্বকাপের খোঁজে থাকা একটি দলের কাছ থেকে যেমন টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণভাগের প্রতিভা আশা করা হয়, তাদের সেটি রয়েছে। অন্যদিকে, মরক্কো এসেছে এমন একটি দলের আত্মবিশ্বাস নিয়ে, যারা হিসেব-নিকেশ বদলে দিতে অভ্যস্ত। চার বছর আগে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও খেলেছে তারা।

২০২২ সালেও নকআউটে মুখোমুখি হয়েছিল তারা। সেবার মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

পুনরায় মুখোমুখি হওয়ার এই লড়াইয়ের জন্য বোস্টন এক কৌতূহলোদ্দীপক পরিবেশ তৈরি করেছে। ফরাসি শহরগুলোর তুলনায় এখানে মরক্কোর সম্প্রদায় আকারে ছোট এবং কম দৃশ্যমান। তবে বৃহত্তর মেট্রোপলিটন এলাকায় তারা সুপ্রতিষ্ঠিত, যেখানে মরক্কো বংশোদ্ভূত বাসিন্দারা পরিবার, শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন।

সেই সমর্থকদের জন্য এই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি কেবল একটি ঘরকে দুই ভাগে ভাগ করে দেবে না।

৫৭ বছর বয়সী ট্যাক্সি চালক মোহাম্মদ সাদি বলেন, ‘কেউ কেউ একই ভবনে বাস করেন। ফরাসি এবং মরক্কোবাসীরা একসঙ্গে খেলা দেখবেন এবং শেষে একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করবেন।’

‘এখানে কোনো উত্তেজনা নেই। ফুটবল একটি পারিবারিক বিষয় এবং ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচটিও এর ব্যতিক্রম হবে না। বরং এর উল্টোটিই হবে।’

বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগে বোস্টন কমনে এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ১,০০০-এর বেশি ভক্ত সমবেত হয়ে ‘দিমা ল-মাগরিব’ (সবসময় মরক্কো) গেয়েছেন এবং পতাকা উড়িয়েছেন।

৩৬ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইউসেফ বেনানি বলেন, ‘আমি ফিনল্যান্ড থেকে এসেছি।’

‘আমি মরক্কোর সব ম্যাচে উপস্থিত ছিলাম এবং এখানকার পরিবেশ সবচেয়ে সেরা। আমি অনেক মরক্কোবাসীর সঙ্গে দেখা করেছি, কিছু ফরাসি মানুষের সঙ্গেও দেখা হয়েছে। আগামীকাল এখানে একটি বড় উৎসব হতে যাচ্ছে।’

মরক্কোর এই অগ্রগতি ম্যাচের ধরন বদলে দিয়েছে। তারা এখন আর কেবল ২০২২ সালের সেই চমকপ্রদ ‘আন্ডারডগ’ দল নয়; বরং এমন এক দল যাদের সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা, খেলোয়াড় তৈরি করার ব্যবস্থা এবং ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তিদের চ্যালেঞ্জ করার মতো আত্মবিশ্বাস রয়েছে।

 

‘আনন্দমেলা’র উপস্থাপনায় আফরান নিশো

ঈদ উপলক্ষে বর্ণিল আয়োজনে সাজানো হয়েছে বিটিভি বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’। ঈদের দিন রাত ১০টায় অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে। এবারের ‘আনন্দমেলা’ উপস্থাপনা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো।

অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা হাজির হবেন ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেও না’ গানটি নতুনভাবে নিয়ে। অন্যদিকে ‘কাল সারারাত ছিল স্বপ্নের রাত’ গানটি পরিবেশন করেছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। এই গানের সঙ্গে কোরিওগ্রাফিতে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী চাঁদনী এবং শাওন।

অনুষ্ঠানে আরও গান পরিবেশন করেছেন বর্ষীয়ান শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। এ ছাড়া ‘কৃষ্ণচূড়া’ শিরোনামের একটি নতুন গান নিয়ে হাজির হবেন জনপ্রিয় দুই কণ্ঠশিল্পী ন্যান্‌সি ও ইমরান।আনন্দমেলা

এবারের আনন্দমেলায় ‘রূপনগরের রাজকন্যা’ সেজে নৃত্য পরিবেশন করবেন সাদিয়া ইসলাম মৌ। আর ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ গানের সঙ্গে নাচবেন মেহজাবীন চৌধুরী ও সাবিলা নূর। পুরো নাচের পর্বটি পরিচালনা করেছেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানের নানা পর্বে অংশ নিয়েছেন অভিনয়শিল্পী ফারহান আহমেদ জোভান, খায়রুল বাশার, কেয়া পায়েল, আতিয়া আনিসা, জেফার রহমান, ফররুখ আহমেদ রেহান, আবু হেনা রনি, ফারুক আহমেদ, শামীম জামান ও মুকিত মোহাম্মদ জাকারিয়া।

এবারের ‘আনন্দমেলা’ প্রযোজনা করেছেন আফরোজা সুলতানা, মো. হাসান রিয়াদ, ইয়াসির আরাফাত ও ইয়াসমিন আক্তার।

প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের বৈঠক কেন, অস্ত্রের মজুতে টান পড়েছে?

ইরানে হামলা ও সাম্প্রতিক অন্যান্য সামরিক অভিযানে ফুরিয়ে আসা অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র।

এজন্য দ্রুত অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের নির্বাহীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অস্ত্রের মজুত দ্রুত পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন জরুরি এই বৈঠক ডেকেছে বলে মনে হচ্ছে।

রয়টার্স বলছে, হোয়াইট হাউসের এই বৈঠকের সময় প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট প্রস্তাবও উত্থাপন করা হতে পারে, যা অস্ত্রের ঘাটতি পূরণে ব্যয় করা হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান কতদিন চলবে তার ওপর নির্ভর করে এই অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

কেননা বর্ধিত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টরসহ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জানা গেল কুয়েতে ড্রোন হামলায় আহত ৪ বাংলাদেশির পরিচয়

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় আহত চার বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আজ রোববার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া জানান, গতকাল শনিবারের হামলায় আহতদের মধ্যে একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম। তার হাঁটুতে আঘাত লেগেছে।

বাকি তিনজন বিস্ফোরণের ফলে উড়ে আসা কাচের টুকরোর আঘাতে আহত হয়েছেন। তারা হলেন—পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া গ্রামের রাকিবুল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লতিফপুর গ্রামের মাসুদুর রহমান ও কুমিল্লার পাতালিয়া কান্দি গ্রামের দুলাল মিয়া।

সচিব আরও জানান, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আহতদের সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

তবে আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ইরানের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গতকাল শনিবার থেকে যৌথ হামলা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা শুরু করে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে গতকাল কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

 

 

 

গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্পর্কই আসল

১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেখে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলই বিস্মিত হয়। বিএনপি জয়ের জন্য এবং আওয়ামী লীগ পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল না। আওয়ামী লীগ ধরেই নিয়েছিল, তারা ক্ষমতায় যাচ্ছে। এমনকি ঠাট্টার ছলে বলা হতো, আওয়ামী লীগের নেতারা নাকি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য পোশাকও ইস্ত্রি করে রেখেছিলেন।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় পদ্ধতিতে যাত্রা শুরু করে। সেই ব্যবস্থা বাতিল করে ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতি চালু করা হয়। স্বৈরশাসন পরবর্তী সময়ে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে আবারও ফিরে আসে সংসদীয় ব্যবস্থা।

তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের দাবি মেনে নিয়ে খালেদা জিয়া সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরান। অথচ, সেই নির্বাচনে বিএনপির দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থার কথাই বলা ছিল। তারপরও খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী দলের দাবি মেনে নিয়েছিলেন।

আমার দৃষ্টিতে, এটি ছিল সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক সূচনার এক অনন্য সুযোগ। সেটা স্বাভাবিকভাবেই হওয়ার কথা ছিল। কারণ, সরকারি দল বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারব্যবস্থার ধরনই বদলে দিয়েছিল। সংসদ নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া তার প্রয়াত স্বামীর পথ ধরে রাষ্ট্রপতি হতে পারতেন। কিন্তু, তিনি তা না করে এক নতুন পথে হাঁটলেন। এর মাধ্যমে সরকারি দল ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে আমাদের একটি গঠনমূলক যাত্রার সূচনা হওয়ার কথা ছিল।

 

দুর্ভাগ্যবশত, সেটা হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতোই এ দেশেও বিরোধী দল কখনোই তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি, পরিসর ও অধিকার পায়নি। কেন বিরোধী দলকে ‘অপেক্ষমান সরকার’ বলা হয় কিংবা ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতিতে কেন তাদের কাছ থেকে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রত্যাশা করা হয়, সেটা বোঝার চেষ্টা আমরা কখনো করিনি। এসবের অর্থ হলো, সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারি ও বিরোধী দল মিলেই সামগ্রিক শাসনপ্রক্রিয়া গঠন করে। এখানে বিরোধী দল সংসদে সুশৃঙ্খল, নীতি-আদর্শভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শাসনপ্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৯১ সালে আমরা ভুল পথে, আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে বিপরীতমুখী গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছিলাম। শেখ হাসিনা ওই নির্বাচনে ‘সূক্ষ্ম কারচুপি’র অভিযোগ তুলেছিলেন। যেহেতু নির্বাচনকে ‘জনরায়’ হিসেবেই তারা দেখেনি, তাই সেই রায় মানার ক্ষেত্রে বিরোধী দল নৈতিক বাধ্যবাধকতাও দেখায়নি। বিরোধী দলের প্রস্তাবিত সংসদীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে বিএনপির ‘সমঝোতা’ বা ‘সহযোগিতার মনোভাব’ হিসেবে দেখেনি আওয়ামী লীগ। তারা বরং ধরেই নিয়েছিল এটা বিএনপির পরাজয়। যার ফলে গঠনমূলক বিরোধিতার বদলে বিরোধী দলের কাছ থেকে আমরা আরও আগ্রাসী ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আচরণ দেখেছি। যার লক্ষ্য ছিল সরকারকে অকার্যকর করে দেওয়া এবং তাদের শুধু ব্যর্থ নয়, বরং অযোগ্য ও ক্ষমতায় থাকার অনুপযুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা। এর মাধ্যমে এমন একটি ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল যে, সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করাটা যৌক্তিক।

দ্য ডেইলি স্টারের শুরুর দিকের সেই দিনগুলোতে আমি সংবাদ সম্মেলন, সেমিনার, আলোচনা ও সংসদ অধিবেশনসহ (আমার ‘ফ্রম দ্য গ্যালারি’ কলামের জন্য) সব জায়গায় যেতাম। সম্ভবত ১৯৯২ বা ১৯৯৩ সালে সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিরতির সময় আমি বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার কক্ষে যাই এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। এমন সময় অধিবেশন শুরুর ঘণ্টা বেজে উঠল। হঠাৎ শেখ হাসিনা চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘ওয়াকআউট, ওয়াকআউট’। ওই কক্ষে থাকা কয়েকজনকে বললেন, দলের বাকি সংসদ সদস্যদের এটা জানিয়ে দিতে। কিছুক্ষণ পর দুই সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও তোফায়েল আহমেদ সেখানে এসে এর কারণ জানতে চাইলেন। কারণ ওয়াকআউট করার মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি। কিছুক্ষণ পর ঝাঁঝালো কণ্ঠে শেখ হাসিনা বললেন, ‘আপনাদের যা খুশি করেন।’ তার সেই জবাব থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, ওয়াকআউট করার সিদ্ধান্ত মানতে না চাওয়ায় তিনি খুশি ছিলেন না।

‘জনগণের সদন’ বা সংসদের কার্যক্রমের প্রতি বিরোধীদলীয় নেতার মনোভাব কতটা তাচ্ছিল্যপূর্ণ হতে পারে, তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমার সেটাই ছিল। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উঠতে দেখলাম আমরা। তখনো নির্বাচনের কয়েক বছর বাকি। কিন্তু, এই দাবিতে ঘন ঘন ‘ওয়াকআউট’, পরে ‘বয়কট’ এবং শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সংসদ পুরোপুরি একপাক্ষিক এবং কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।

সংসদের ভেতরে যখন এই পরিস্থিতি, রাজপথে তখন চলছিল সহিংসতা, পুলিশের সঙ্গে লাগাতার সংঘর্ষ এবং বিশৃঙ্খলা। ঘন ঘন হরতালের ডাক। একদিন, দুদিন, তিনদিন, এমনকি একসময় পুরো সপ্তাহ হরতাল থাকতো। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংসদের প্রতি অশ্রদ্ধা তৈরি হয়। অজান্তেই আমরা আমাদের কাজ, সময়সূচি ও সময়সীমার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ি। সেটার প্রভাব পড়ে আমাদের কর্মসংস্কৃতির ওপর। এমনকি আজও আমরা সেই অবস্থা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারিনি।

পরিহাসের বিষয় হলো, বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড যতই ধ্বংসাত্মক হোক না কেন, পরবর্তী নির্বাচনে তারাই জয়ী হতো। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ, ২০০১ সালে বিএনপি এবং ২০০৯ সালে আবার আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ফলে এমন একটি ধারা তৈরি হয় যে, ক্ষমতাসীন দল সবসময়ই নির্বাচনে হেরে যায়। যার ফলে বিরোধী দলের মনে এই নেতিবাচক ধারণা গেঁথে যায়, তাদের রাজনীতি যত ধ্বংসাত্মকই হোক না কেন, তা ক্ষমতাসীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রাখে। স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না।

আওয়ামী লীগ আঁচ করতে পেরেছিল, এই ধারা অব্যাহত থাকলে তারা পরবর্তী নির্বাচনে হেরে যাবে। সেজন্যই ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর পরবর্তী নির্বাচনের আগেই ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই নির্বাচন আয়োজনের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করে তারা। যার পরিণতিতে আমরা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সম্পূর্ণ কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করি।

কারচুপির নির্বাচনের প্রভাব আমাদের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে পড়ে। পুলিশ, আমলাতন্ত্র, গোয়েন্দা সংস্থা, নিম্ন আদালত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিকীকরণ হয়। বেসরকারি খাতকেও সরকারের অনুগত থাকার জন্য প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং সংসদকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করার মধ্য দিয়ে এর শুরু করতে হবে। গণতান্ত্রিক যাত্রা নতুন করে শুরু করার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে এক নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে এবং এর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে।

তবে নতুন সংসদেও আমাদের শুরুটা খুব একটা সুখকর ছিল না। গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য শপথ নিতে বিএনপি রাজি না হওয়ায় জামায়াতের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্যের শুরু হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় আইনপ্রণেতাদের একইসঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়েছিল।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হতে দিয়েছে বিএনপি। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম এবং দুর্নীতি দমন ও মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। এই অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়, যেগুলোর বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল। বিশেষ করে গুম, মানবাধিকার কমিশনসহ যেসব বিষয়সংক্রান্ত অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হতে দেওয়া হয়েছিল, সেসব বিষয়ে উত্থাপন করা বিলগুলোর কঠোর সমালোচনা করে তারা।

এরপর আসে আরও বড় ধাক্কা। ৫০টি সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদের মধ্যে বিরোধী দলকে দেওয়া হয় মাত্র একটি—পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। অথচ, বিরোধী দলের দাবি ছিল ২৬ শতাংশ সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ।

সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের সংসদীয় কমিটি গঠনে বিএনপির উদ্যোগ এবং সেখানে বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্য দেওয়ার প্রস্তাবও তারা গ্রহণ করেনি। কারণ, বিরোধী দলের দাবি ছিল, এটি জুলাই সনদ পরিপন্থী। এখন পর্যন্ত এই কমিটি জুলাই সনদে সই করা সব দলকে তাদের মতামত জানানোর জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যেখানে বিরোধী জোট অংশ নেয়নি।

এটা স্পষ্ট যে বিরোধী দলের উত্থাপন করা কিছু বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি আরও সতর্ক ও বিচক্ষণ হতে পারত। আমরা মনে করি, বিরোধী দলের যুক্তিগুলো বিবেচনা করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে এবং শুরুর দিকের কিছু লক্ষণ বেশ উদ্বেগজনক। দুইপক্ষের মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। বিরোধী দল সরকারি দলের কঠোর সমালোচনা করবে, সেটিও স্বাভাবিক ও যৌক্তিক।

আমরা আগেও বলেছি, আবারও বলছি—বিরোধী দলের রাজপথে নামার হুমকি দেওয়ার মতো সময় এখনো আসেনি। সরকারের ব্যর্থতা ও ঘাটতি তুলে ধরা, দলীয় নিয়োগ প্রকাশ্যে আনা এবং দুর্নীতির যেকোনো ঘটনা উন্মোচন করা উচিত। কিন্তু সরকারকে অস্থিতিশীল করার হুমকি, অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি এবং একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত নির্বাচনের পরও জনমনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ভয় তৈরি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক বা গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা যদি সত্যিই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে ক্ষমতাসীন দলকে বিরোধী দলের দাবির প্রতি আরও সহনশীল এবং বিরোধী দলকে তাদের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে আরও সংযত ও পরিণত হওয়ার আহ্বান জানাই। আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্র যাতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, তার জন্যও এটি অপরিহার্য।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

২.৩ বিলিয়ন ডলারে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদের নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপ কিনছে উবার

যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ ‘ইজিকেটার’ ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিচ্ছে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার টেকনোলজিস। বোস্টনভিত্তিক এই স্টার্টআপের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমান।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি ডলারের দর ছিল ১২৩.০৭ টাকা। সেই হিসাবে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে ২৮ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা আসে। এই অংক নগদ অর্থে পরিশোধ করবে উবার।

টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে জানানো নয়, নিহাদ রহমান জেপিমরগ্যান চেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জেনারেল ইলেকট্রিকের বিভিন্ন শীর্ষ পদে কাজ করার পর ২০২২ সালে তিনি প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে ইজিকেটারে যোগ দেন।

এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হন তিনি। একই বছরের মে মাসে তাকে স্থায়ী সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁর সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপন করে ইজিকেটার। করপোরেট খাবারের অর্ডারের ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণ ভোক্তাদের অর্ডারের চেয়ে এ ধরনের করপোরেট অর্ডার বেশ বড় হয়ে থাকে। এ কারণেই স্টার্টআপটি কিনে নিচ্ছে উবার।

উবার জানিয়েছে, ইজিকেটারের ক্যাটারিং এবং ‘বিজনেস-টু-বিজনেস’ কার্যক্রমকে তারা ‘উবার ইটস’ ও ‘উবার ফর বিজনেস’-এর সঙ্গে যুক্ত করবে।

এই উদ্যোগের ফলে করপোরেট ক্যাটারিংয়ের বাজারে উবারের উপস্থিতি আরও বাড়বে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই লেনদেন চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ রোববার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) একান্ত সচিব মুহাম্মদ আশরাফুল আলম আজ দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আইন অনুযায়ী, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা।

আগামী ২০ আগস্ট বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। গত ৬ আগস্ট ইসি এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

তফসিল অনুযায়ী,  আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হবে এবং এটি সম্পন্ন করতে যতক্ষণ সময় প্রয়োজন, ততক্ষণ চলবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন নেওয়া হবে।

কমিশন জানিয়েছে, তারা এরইমধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৩৪৯ সদস্যের ভোটার তালিকা হাতে পেয়েছে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।