29 C
Dhaka
Home Blog

জৈব অস্ত্র তৈরির পদ্ধতি জানাল চীনের এআই, ‘জেলব্রেকিং’ নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে বারবার এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে উদ্বেগজনক খবর প্রকাশিত হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই সামনে এলো চীনের এআই প্রতিষ্ঠান মুনশটের নতুন ঘটনা।

গবেষকেরা মুনশটের জনপ্রিয় কিমি মডেলের দুটি এআই মডেলকে জৈব অস্ত্র তৈরি ও হত্যাকাণ্ড চালানোর পদ্ধতি জানাতে রাজি করাতে পেরেছেন। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর চীনের ওই প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু করেছে।

আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

এআই সিস্টেমের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে মাইন্ডগার্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি মাইন্ডগার্ড বিবিসিকে জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে তারা শনাক্ত করে যে মুনশটের ‘কিমি কে২.৬’ ও ‘কে৩ সোয়ার্ম’ মডেল নির্মাতাদের বেঁধে দেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারে।

এটি ‘জেলব্রেকিং’ নামের একটি প্রক্রিয়ার সময় ধরা পড়ে। এ প্রক্রিয়ায় গবেষকেরা একগুচ্ছ জটিল নির্দেশনা দিয়ে পরীক্ষা করেন, এআই টুল নিরাপত্তাব্যবস্থা উপেক্ষা করে কি না।

মাইন্ডগার্ডের ভাষ্য, এসব নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করার কথা ছিল, কিমিকে এ ধরনের উদ্বেগজনক বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা হলে সে যেন জবাব না দেয়।

মুনশট বিবিসিকে জানিয়েছে, ‘আরও উন্নত ও নিরাপদ এআই তৈরির অন্যতম প্রধান ভিত্তি’ হিসেবে তারা তৃতীয় পক্ষের মতামতকে স্বাগত জানায়।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, এ অনুসন্ধানের বিষয়ে তারা মাইন্ডগার্ডের সঙ্গে আলোচনা করছে।

মাইন্ডগার্ডের প্রতিষ্ঠাতা পিটার গ্যারাগান বিবিসিকে জানান, কিমি কে২.৬ ও কে৩ সোয়ার্ম নিয়ে তাদের অনুসন্ধানে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ‘টেক লাইফ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পিটার বলেন, ‘জেলব্রেকিং সফল হলে এটি (কিমি) যেকোনো বিষয় নিয়েই কথা বলবে। এমনকি ক্ষতিকর অন্যান্য বিষয়েও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরামর্শ দেবে। এ ক্ষেত্রে এটি উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল হয়ে উঠবে।’

জেলব্রেকিং শব্দটি প্রযুক্তিতে উৎসাহী মানুষের কাছে নতুন নয়। স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেমের বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে বাড়তি সুবিধা ব্যবহারের প্রক্রিয়াকেও জেলব্রেকিং বলা হয়। তবে এআইয়ের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, বিশেষভাবে সাজানো নির্দেশনার মাধ্যমে মডেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া এবং নিষিদ্ধ বা অনুপযুক্ত বিষয়ে উত্তর দিতে বাধ্য করা।

সাম্প্রতিক সময়ে ওপেনএআই, মেটা ও অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই এজেন্টকে বিভিন্ন অনলাইন সেবায় হ্যাকিং চালাতে দেখা গেছে।

তবে এ ক্ষেত্রে জেলব্রেকিং ভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

জেলব্রেকিং বেশ জটিল একটি প্রক্রিয়া। এতে অনেক সময় ও প্রচেষ্টার প্রয়োজন। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, হ্যাকার ও অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তিরা ক্ষতি করার জন্য এগুলো ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারেন।

অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি জানিয়েছে, তাদের একটি এআই মডেল ব্যবহার করে ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড’ চালানোর চেষ্টা শনাক্ত করে তা ঠেকানো হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জৈব অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা পাওয়া সম্ভব ছিল।

আয়কর রিটার্নের খুঁটিনাটি: কার জন্য বাধ্যতামূলক, দেরি ও ভুল হলে করণীয় কী

আয়কর রিটার্ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। রিটার্ন দাখিল কার জন্য বাধ্যতামূলক, কার জন্য নয়, কিংবা দেরিতে রিটার্ন দিলে কী ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়, ভুল রিটার্ন কীভাবে সংশোধন করা যায় এবং অসম্পূর্ণ রিটার্ন দাখিল করলে কী পরিণতি হতে পারে, এসব প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে।

আয়কর আইনে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। একজন করদাতার জন্য তাই শুধু রিটার্ন দাখিল করাই যথেষ্ট নয়; বরং সঠিক ব্যক্তি, সঠিক সময়, সঠিক ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং যথাযথ তথ্য—সবকিছু মিলিয়েই একটি পূর্ণাঙ্গ রিটার্ন দাখিল করা জরুরি। এমনকি রিটার্ন জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র হাতে পাওয়ার পরও সেটি আইনের চোখে সম্পূর্ণ নাও হতে পারে, এই বাস্তবতাও অনেকের অজানা।

কারা রিটার্ন দাখিল করবেন

আয়কর আইনের ১৬৬ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির আয় যদি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করমুক্ত আয় সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

তবে শুধু আয় করযোগ্য হলেই নয়, আরও কিছু পরিস্থিতিতেও রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের পূর্ববর্তী তিন বছরের মধ্যে কোনো বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলেও রিটার্ন দিতে হবে।

এ ছাড়া, কিছু ব্যক্তি ও সত্তার ক্ষেত্রে আয়ের পরিমাণ নির্বিশেষে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোম্পানি, কোনো কোম্পানির অংশীদার-পরিচালক বা অংশীদার-কর্মচারী, ফার্ম, ফার্মের অংশীদার, ব্যক্তিসংঘ, ব্যবসায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপকের পদধারী কর্মচারী, গণকর্মচারী এবং বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা রয়েছে, এমন অনিবাসী ব্যক্তি।

কেউ যদি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে এমন আয় পান, যা আইনের অংশ ৬-এর প্রথম অধ্যায়ের অধীন কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহারের সুবিধাপ্রাপ্ত, তাহলেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তার রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। ২৬১ ধারা অনুযায়ী, করদাতা হিসেবে নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি এবং ২৬৪ ধারা অনুযায়ী, যাদের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখাতে হয়, তারাও এই বাধ্যবাধকতার আওতায় পড়েন।

কারা রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন

আইনে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা ভাষায় পাঠদানকারী প্রাথমিক বা প্রাক্‌-প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাসিক পেমেন্ট আদেশভুক্ত (এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যদি তাদের ইংরেজি ভার্সন কারিকুলাম না থাকে।

এ ছাড়া, অব্যাহতির তালিকায় রয়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড। কোনো আইন বা সরকারি আদেশে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা, কর্তৃপক্ষ, কমিশন, ইনস্টিটিউট, বোর্ড, একাডেমি বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠান, যারা কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না এবং পরিচালন ব্যয়ের আংশিক বা সম্পূর্ণ অর্থ সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত পায়, তারাও এই ছাড়ের আওতায় পড়ে। এতিমখানা, অনাথ আশ্রম, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নেই এমন অনিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি, তহবিল ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই তালিকায় পড়তে পারেন।

রিটার্ন কীভাবে দাখিল করতে হবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সব স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। তবে ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তার বেশি বয়সের প্রবীণ করদাতা সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি অথবা বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের পরিবর্তে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

এ ছাড়া, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ছাড়া অন্যান্য করদাতাকে ১৬৯ ধারা অনুযায়ী বোর্ড নির্ধারিত ফরমে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। শুধু মূল ফরম পূরণ করলেই হবে না; প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তফসিল, বিবৃতি, হিসাব, পরিশিষ্ট ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্রও দিতে হবে। যেসব করদাতার ৭৩ ধারা অনুযায়ী নিরীক্ষিত আয় বিবরণী ও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাদের রিটার্নের সঙ্গে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, বোর্ড নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণের প্রমাণ, আয় পরিগণনাপত্র এবং উৎসে করের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

কোনো আয়বর্ষে আন্তর্জাতিক লেনদেন থাকা সত্তার ক্ষেত্রে ২৩৮ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত নির্ধারিত বিবরণীও রিটার্নের সঙ্গে দাখিল করতে হয়। অনিবাসী বাংলাদেশি চাইলে নিকটস্থ বাংলাদেশ মিশনে কর পরিশোধের প্রমাণসহ রিটার্ন জমা দিতে পারেন। মিশন দাপ্তরিক সিলসহ প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দিয়ে রিটার্নটি বোর্ডে পাঠাবে।

রিটার্নে কার সই প্রয়োজন

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে করদাতা নিজেই রিটার্নে সই করবেন। তিনি বাংলাদেশে না থাকলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা আইনগতভাবে উপযুক্ত ব্যক্তি সই করতে পারেন। আইনগতভাবে বৈধ কারণে কোনো করদাতা স্বাভাবিক কাজ করতে অপারগ হলে তার অভিভাবক বা আইনগত প্রতিনিধি সই করতে পারেন। হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে সাধারণত পরিবারের কর্তা সই করেন। কর্তা বাংলাদেশে না থাকলে বা মানসিক অক্ষমতার কারণে অপারগ হলে পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য সই করতে পারেন।

কোম্পানি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে মুখ্য কর্মকর্তা, ফার্মের ক্ষেত্রে নাবালক অংশীদার ছাড়া যেকোনো অংশীদার এবং অন্য কোনো সংঘের ক্ষেত্রে সদস্য বা মুখ্য কর্মকর্তা সই করতে পারেন। অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে বা তার পক্ষে সই করার আইনগত ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি সই করবেন।

বিশেষ পরিস্থিতিতে নোটিশ দিয়ে রিটার্ন চাওয়া যেতে পারে

১৭২ ধারা অনুযায়ী, উপ-কর কমিশনার নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে নোটিশ দিয়ে রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দিতে পারেন। দাখিল করা রিটার্ন অসম্পূর্ণ মনে হলে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসা কোনো অর্থবছরে বন্ধ হলে বা মালিকানা হস্তান্তরের সম্ভাবনা থাকলে, কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি বাংলাদেশ ত্যাগ করলে বা ত্যাগের সম্ভাবনা থাকলে, করদাতা কোনো করবর্ষের কর এড়িয়ে গেলে বা রিটার্ন দাখিল না করলে, অংশীদারি ফার্মের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন হলে বা নতুন উত্তরসূরি ফার্ম সৃষ্টি হলে এ ধরনের নোটিশ আসতে পারে। কেউ মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনোভাবে অন্যের ব্যবসার উত্তরাধিকারী হলেও রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৭০ ধারা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতা আয়কর রিটার্নের সঙ্গে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ—সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—কর প্রণোদনা বা করছাড় পাবেন। তবে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো কর প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

বিপরীতে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি—অতিরিক্ত কর দিতে হবে। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি—অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হবে।

নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দিলে

১৭৪ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর স্বপ্রণোদিতভাবে দাখিল করা রিটার্ন কিংবা করবর্ষ অতিক্রান্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে দাখিল করা রিটার্ন, উভয়ই ‘বিলম্ব রিটার্ন’ হিসেবে ধরা হতে পারে। স্বপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব রিটার্ন দিলে ১৭৩ ধারা অনুযায়ী, প্রযোজ্য কর পরিশোধের পাশাপাশি অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধযোগ্য করের ১০ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি—অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

করবর্ষ পার হওয়ার পর নোটিশের ভিত্তিতে বিলম্ব রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর হবে পরিশোধযোগ্য করের ১৫ শতাংশ বা ১০ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি।

এ ছাড়া, ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১-এর নির্দিষ্ট কয়েকটি দফায় উল্লিখিত আয় ও চাকরি থেকে আয় পরিগণনায় কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়ের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনো আয়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব রিটার্নে কর অব্যাহতি প্রযোজ্য না হলে যেভাবে কর নির্ধারণ হতো, সেভাবেই কর পরিগণনা করে পরিশোধ করতে হতে পারে। অর্থাৎ দেরির মাশুল হিসেবে শুধু অতিরিক্ত করই নয়, নির্দিষ্ট কর অব্যাহতির সুবিধাও হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রিটার্নে ভুল হলে করণীয়

রিটার্ন দাখিলের পর ভুল ধরা পড়লে ১৭৫ ধারা অনুযায়ী, সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যেতে পারে। স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হওয়া রিটার্নে করদাতা নিজে ত্রুটি দেখতে পেলে, কর মামলা অডিটের সময়, উপ-কর কমিশনার কর্তৃক কর নির্ধারণের সময়, নির্দিষ্ট নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে কিংবা আপিল কর্তৃপক্ষ বা কর আপিল ট্রাইব্যুনালের সেট-এসাইড আদেশের পর দাখিল করা রিটার্নও সংশোধিত রিটার্ন হিসেবে গণ্য হয়।

তবে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের এই সুযোগ সীমাহীন নয়। আইন অনুযায়ী, মূল রিটার্ন দাখিলের তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে হবে। সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সময় বা তার আগে প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশোধিত রিটার্ন দিয়ে একই করবর্ষের মূল রিটার্নে দেখানো কর-দায় কমানো যাবে না। একইভাবে দালিলিক প্রমাণ ছাড়া মূল রিটার্নে দেখানো আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয়ের তথ্য পরিবর্তন বা স্থানান্তর করা যাবে না।

অসম্পূর্ণ রিটার্নের ঝুঁকি

১৭৬ ধারা অনুযায়ী, রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সময় আইন বা বোর্ডের নির্দেশনা না মানলে রিটার্নটি অসম্পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে, উপ-কর কমিশনার কারণ উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় তথ্য, দলিল, বিবৃতি বা যাচাই নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দাখিলের জন্য নোটিশ দিতে পারেন।

করদাতা নোটিশের নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে পালন না করলে সংশ্লিষ্ট বিধান পরিপালনে ব্যর্থতার কারণে রিটার্নটি বাতিল বা অকার্যকর বলে গণ্য হতে পারে। অর্থাৎ এমনভাবে বিবেচনা করা হতে পারে যেন রিটার্নটি দাখিলই করা হয়নি। এমন ক্ষেত্রে উপ-কর কমিশনার রিটার্ন বাতিল বা অকার্যকর করার নোটিশ করদাতাকে পাঠাবেন এবং পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারকেও লিখিতভাবে অবহিত করবেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে রিটার্নটি অডিটের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, করদাতা যদি নোটিশ অনুযায়ী সব ঘাটতি পূরণ করেন, তাহলে রিটার্নটি মূল দাখিলের তারিখ থেকেই সম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে উপ-কর কমিশনার রিটার্নটি বাতিল বা অকার্যকর গণ্য করে নতুন করে রিটার্ন দাখিলের নোটিশ দিতে পারেন।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার, শুধু প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া মানেই রিটার্নটি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নয়। রিটার্ন গ্রহণ করা হয়েছে আর রিটার্ন আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ, এই দুটি বিষয় এক নয়।

করদাতার করণীয়

রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করদাতার প্রথম কাজ হলো, তার রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে কি না, তা নিশ্চিত করা। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক ফরমে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ রিটার্ন জমা দেওয়া প্রয়োজন। রিটার্নে ভুল হলে দ্রুত আইনসম্মত পদ্ধতিতে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর কোনো নোটিশ এলে তা উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জবাব ও কাগজপত্র দাখিল করা জরুরি।

রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলে, নির্ধারিত ফরমে, সঠিক সময়ে ও প্রয়োজনীয় সব দলিলসহ রিটার্ন জমা দিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে উপ-কর কমিশনারের নোটিশের ভিত্তিতেও রিটার্ন দিতে হতে পারে। আবার নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত কর-দায়ের পাশাপাশি কিছু কর অব্যাহতির সুবিধাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে। রিটার্নে ভুল থাকলে আইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশোধনের সুযোগ থাকলেও সংশোধনের নামে মূল রিটার্নের কর-দায় কমানো কিংবা দালিলিক প্রমাণ ছাড়া আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয়ের তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

করদাতাদের মনে রাখা দরকার, রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া আর আইন অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ রিটার্ন দাখিল করা এক বিষয় নয়। প্রয়োজনীয় তথ্য ও দলিলের ঘাটতি থাকলে রিটার্ন অসম্পূর্ণ, এমনকি ক্ষেত্র-বিশেষে বাতিল বা অকার্যকরও বিবেচিত হতে পারে। তাই রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সঠিক সময়ে দাখিল, সঠিক তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজনীয় দলিলসহ পূর্ণাঙ্গভাবে দাখিল।

 

ফয়সাল ইসলাম এফসিএ, আর্থিক খাতের বিশ্লেষক
[email protected]

আমরা যদি বলি জুলাই কার—জুলাই কারোই থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর আমরা যদি বলি জুলাই কার, জুলাই কার? জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না—রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বেঁচে থাকার কথা ছিল না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর জঘন্যতম ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্যতম স্বৈরাচারকে আমরা দেখেছি। যদি আমরা আয়না ঘরে যাই, যেখানে আমার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে একটা জানোয়ার ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারে না, আমরা সেখানে থেকেছি। আমার ভাই মীর কাসেম, তার ছেলে ব্যারিস্টার আরমান এখনো ট্রমাটাইজড। ওর বাবার বন্ধু ছিলাম, একসঙ্গে জেল খেটেছি…আমি বললাম, ভাই কেন ফেরত আসলেন? তিনি বললেন, আমি যদি না আসি আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে। ফাঁসি তো তার হলো, কিন্তু ছেলেকেও তো ধরে নিয়ে গেল। আমি একটা জীবন্ত ইতিহাস…বাবা এ জন্য ফিরে এসেছিলেন তার সন্তানকে রক্ষা করবেন, কিন্তু সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।’

‘সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। পৃথিবীতে অনেক জাতি আছে, স্বাধীনতার জন্য শতবর্ষ সংগ্রাম করে। কোনোদিন স্বাধীনতা পায় না। শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে যায়। মহামতি লেলিন বলেছিলেন, ‘দেয়ার আর ডিকেডস, নাথিং হ্যাপেনস দেয়ার। বাট দেয়ার আর ডেইস অ্যান্ড উইকস ডিকেডস হ্যাপেনস দেয়ার’। আমরা সেই শতাব্দীকে নিয়ে এসেছি। নিউটনের কোনো আপেল নয় আন্দোলন-বিপ্লব-গণঅভ্যুত্থান…সেই আপেলকে পেড়ে নিতে হয়েছে। পাকাতে হয়েছে। আমরা সেই আপেলকে নিয়ে এসেছি। দলীয়করণ করা যাবে না কোথাও,’ যোগ করেন তিনি।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের জের ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আসুন, একসাথে বসি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনাদের আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা এখনো নাম দেন নাই। গতকালকে প্রথম বৈঠক করেছি। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘গণরায় বাস্তবায়ন কি সংস্কার পরিষদে গেলে হবে, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে গেলে হবে না? আমি একবার বলেছিলাম, তাল ধপ করিয়া পড়িল, না পড়িয়া ধপ করিল—এক কথাই। কিন্তু সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হচ্ছে সংস্কার করা।’

তিনি বলেন, ‘মাঠের রাজনীতি করতে পারবেন, সংস্কার কমিশন করবেন বা জাতীয় সংস্কার পরিষদ করবেন, সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ করবেন, এগুলো সবই ওয়ার্ডিং। বাস্তবতায় যেটা আসতে হবে, সংস্কার। সেটা গ্রহণ করতে হবে সংসদে।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যখন কোনো আন্দোলন তার নিয়মতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে দেওয়া হয় না, তখনই অপরিহার্য হয়ে যায় সহিংস রক্তাক্ত আন্দোলন। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ এর সেই সোপানগুলো বাদ দিলে জুলাইয়ের ৩৬ দিনে কি নিউটনের আপেল টপকিয়ে পড়েছে? না। বন্ধুদের বুঝতে বলব, যারা জুলাই চেতনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করছে, সেই রাজনীতি করা যাবে না। একাত্তরের চেতনাকে বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। আমি অনেকবার বক্তব্য দিয়েছি, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।’

‘তারা এই চেতনা বিক্রি করতে করতে বাংলাদেশকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বললে মানুষ ঘৃণা করতো। আমরা যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয় সেই রকম রাজনীতি করি। জুলাই আমাদের সবার, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের সবার। আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, যারা শহীদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা।’

এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের জন্য ফরজ। অথচ জুলাইয়ের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য, (জুলাই নিয়ে) রাজনীতি করার জন্য সবাই প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আমরা প্রতিযোগিতা করছি জুলাই বাস্তবায়নের জন্য।’

জরুরি প্রয়োজনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকেরা

একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা এখন নিজেদের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা তুলতে পারবেন।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করতে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে। ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আমানতকারীরা শুধু নিজেদের চিকিৎসার খরচের জন্য টাকা তুলতে পারতেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং ভাই-বোনের চিকিৎসার জন্যও এই টাকা তোলা যাবে। এ ছাড়া অন্য যেকোনো জরুরি প্রয়োজনেও এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অনেক আমানতকারী চিকিৎসার বাইরেও পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের আমানতের টাকা ব্যবহারের সুযোগ চেয়েছিলেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই নীতিমালায় এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পরিচালনা পর্ষদের সভায় আমানতের মুনাফায় হেয়ারকাট বা কর্তনের ব্যবস্থা স্থগিত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন আমানতকারীরা শরিয়াহভিত্তিক নিয়ম অনুযায়ী পুরো মুনাফা পাবেন।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পাঁচটি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে। এরপর এসব ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক দলও প্রত্যাহার করা হবে।

আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক অনিয়ম ও বেপরোয়া ঋণ বিতরণের কারণে এই পাঁচটি ব্যাংক কার্যত ধসে পড়ে।

গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে এবং ধাপে ধাপে আমানতের টাকা পরিশোধের একটি পরিকল্পনা চালু করে।

একীভূত ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন (পেইড-আপ ক্যাপিটাল) ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড থেকে প্রতিটি আমানতকারীকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। অবশিষ্ট আমানত বাংলাদেশ ব্যাংক পৃথক একটি কর্মসূচির মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিশোধ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় ৮ লাখ ২২ হাজারের বেশি আমানতকারীকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ঋণের বিপরীতে যথাযথ জামানত ছিল।

একই সময়ে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেয়া কোচকে রেখে দিচ্ছে মিশর

নিজেদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হোসাম হাসানের অধীনে এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস সেরা ফলাফল করেছে মিশর। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও প্রায় বিদায় করে দিয়েছিল বিশ্বকাপ থেকে। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে হেরে ভঙ্গ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন। তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও কোচ হোসাম হাসানের উপর ভরসা রাখছে মিশর।  

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ‘অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হানি আবু রিদা ঘোষণা দিয়েছেন, বোর্ডের সম্মতিক্রমে জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসান ও পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে’। 

মিশরের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত হোসামের সাথে নতুন চুক্তি করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। 

৫৯ বছর বয়সী হোসাম হাসানকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সালাহদের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এবারের বিশ্বকাপে স্মরণীয় পারফরম্যান্সের আগে মিশরকে গত বছর আফ্রিকান কাপ অব ন্যাশনসের সেমিফাইনালে তুলেছিলেন হোসাম। 

বিশ্বকাপে আসার আগেই মিশর জাতীয় দলের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল হোসামের। হোসাম নিজেই জানিয়েছিলেন, এই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চুক্তি ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। 

 

২ পোস্টার দিয়ে ঈদে ‘মালিক’ সিনেমার মুক্তির ঘোষণা

ঈদুল আজহায় মুক্তির তালিকায় যোগ হয়েছে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ‘মালিক’ সিনেমাটি। ইতোমধ্যে সিনেমার নতুন দুটি পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে।

প্রথম পোস্টারে আরিফিন শুভকে অ্যাকশন লুকে দেখা গেছে এবং দ্বিতীয় পোস্টারে রোমান্টিক আবহে ধরা দিয়েছেন শুভ-মিম জুটি।  

এ বিষয়ে সিনেমার পরিচালক সাইফ চন্দন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা প্রথমে দুটি পোস্টার দিয়ে সিনেমাটি ঈদে মুক্তির ঘোষণা দিলাম। আগামীকাল শনিবার সিনেমার সেন্সর হলে গান ও ট্রেলার মুক্তি দেবো। এখন কলকাতায় শেষ মুহূর্তের কাজ করছি। আশা করছি সিনেমাটি ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মালিক অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা, এক জেদি মানুষের গল্প। যে মায়ের সম্মান ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমে অপরাধ জগতের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে যায়। সেই মালিক চরিত্রে থাকছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে মিমকে একেবারে নতুনভাবে আবিষ্কার করবেন দর্শক।’

‘মালিক’ সিনেমার সাত বছর আগে এই জুটিকে সর্বশেষ ‘সাপলুডু’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল। 
 

যুদ্ধ শেষ করতে কিছু দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে: ইরান প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রথমবারের মতো বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে কিছু দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে।’ 

তবে কোন কোন দেশ এ উদ্যোগ নিয়েছে তা তিনি উল্লেখ করেননি। 

তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো আলোচনা তাদের উদ্দেশ্যেই হওয়া উচিত, যারা যুদ্ধ শুরু করেছে।’

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ইরান প্রেসিডেন্টের দেওয়া এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে কাতার, তুরস্ক, মিশর ও ওমান বিভিন্ন সময় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। দুই দিন আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ‘এখন কূটনীতির সময় নয়, বরং দেশের প্রতিরক্ষার সময়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘কিছু দেশ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু করেছে। স্পষ্ট করে বলি, আমরা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আমাদের জাতির মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা কোনো দ্বিধা করব না। মধ্যস্থতা তাদের উদ্দেশ্যেই হওয়া উচিত যারা ইরানি জনগণকে অবমূল্যায়ন করেছে ও এই সংঘাত শুরু করেছে।’

ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় থাকাকালীন এ যুদ্ধ শুরু হয়। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর সময়েও দুই পক্ষের পারমাণবিক আলোচনা চলছিল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বক্তব্যে শিগগির আলোচনায় বসার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘ইরানের ওপর সামরিক অভিযান বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।’ 

অন্যদিকে শুক্রবার সকালে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী অভিযানকে আরও নতুন ও তীব্র পর্যায়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের আলোচনায় বসার জন্য এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। সামগ্রিকভাবে তিনি ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার ওপর বেশি জোর দিয়েছেন, যাতে সম্পূর্ণ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিস্থিতি এড়ানো যায়—যা ইসরায়েলের পছন্দ।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চান না, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন।

অবশ্য ইরানের দুর্বল হয়ে পড়া সংস্কারপন্থী জোট বলছে, তেহরানের উচিত এমন একজন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ করা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক প্রচারণাকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কমাবেন।

প্রায় দেড় বছর আগে পেজেশকিয়ানকে প্রেসিডেন্ট হতে সহায়তা করেছিল সংস্কারপন্থী জোট ‘রিফর্ম ফ্রন্ট’। তাদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বেসামরিক মার্কিন স্থাপনায় হামলা ইরানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন কমিয়ে দিচ্ছে। দেশটির দনইয়া-ই-একতেসাদ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এমনটা উদ্ধৃত হয়েছে। 

রিফর্ম ফ্রন্ট বলেছে, ‘নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন বিশ্বের কাছে শান্তি ও বন্ধুত্বের বার্তা দিতে পারে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করা সম্ভব। এটি ইরানে নতুন যুগের সূচনার বার্তা দেবে—যে যুগে দেশের শাসন ব্যবস্থায় সব রাজনৈতিক ও নাগরিক মত ও প্রবণতার অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি থাকবে।’

রিফর্ম ফ্রন্ট বলেছে, সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে রাজনৈতিক বন্দি ও নাগরিক কর্মীদের মুক্তি দেওয়া জরুরি। তাদের মতে, সবচেয়ে উন্নত সামরিক ও তথ্য প্রযুক্তি সম্বলিত এমন শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি থাকলেই কেবল সমাজ টিকে থাকতে পারে।

তারা আরও আহ্বান জানিয়েছে, ইরানি সমাজের সব অংশকে, যেমন তুর্কি, কুর্দি, লোর, আরব, বালুচি, তুর্কমেন, পার্সিয়ানসহ সবাইকে—ইরানের জাতীয় পরিচয়, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় এগিয়ে আসতে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনকে কঠোরভাবে নিন্দা করলেও তারা বলেছে, গত গ্রীষ্মে ১২ দিনের যুদ্ধের পর রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির আহ্বান যদি মানা হতো, তাহলে কূটনৈতিকভাবে ও সামাজিক সংহতির দিক থেকেও ইরান আরও শক্ত অবস্থানে থাকত।

২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, অর্ধেকই স্কুলের: আঁচল ফাউন্ডেশন

দেশে গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ৩৩ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, এর মধ্যে ৪৭ শতাংশই স্কুলের শিক্ষার্থী।

বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন আজ শনিবার সকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক এই সমীক্ষা প্রকাশ করে।

সমীক্ষা অনুসারে, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে পুরুষের তুলনায় নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে মোট ৪০৩ জন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটির হিসাবে, এর আগের বছর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঝরে গেছে ৩১০ শিক্ষার্থীর প্রাণ।

সংস্থাটি ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে এই সমীক্ষা প্রস্তুত করেছে। পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বাধিক স্কুল পর্যায়ের ১৯০ জন, যা মোট ঘটনার ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া, কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন বা ২২ দশমিক ৮ শতাংশ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন বা ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৪৪ জন বা ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৯ জনই নারী, যা শতকরা হিসাবে ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। পুরুষ ১৫৪ জন, অর্থাৎ ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ।

স্কুল পর্যায়ে গত বছর ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ; কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি—৪১ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

মাদ্রাসায় ২৪ জন নারী ও ২০ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে এই সময়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পাবলিক ও ১৭ জন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মেডিকেল কলেজের ৬ জন এবং ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর চেয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি, যা মোট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ।

আঁচল ফাউন্ডেশন মনে করে, সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, পারিবারিক টানাপড়েন, হতাশা ও যৌন নির্যাতন ভূমিকা রেখেছে। তবে স্কুলশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাডেমিক চাপ প্রধান কারণ।

সমীক্ষায় আরও জানানো হয়, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট সংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান শুধুমাত্র প্রতিবেদন নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সর্বাধিক ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে; ১১৮ জন বা ২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩ জন, অর্থাৎ ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন বা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ৫০ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরেছে, দেখা গেছে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কনসালট্যান্ট ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. আনিস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও কিশোর মনোরোগ হাসপাতাল অ্যাপল উড সেন্টারসের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের সহকারী পরিচালক ডা. মারুফ আহমেদ খান, আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোহেল মামুন ও সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ।

সার্বভৌম এআই: বাংলাদেশের যা করণীয়

১০ বছর আগের কথা। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল ‘ট্রান্সফরমার’ সিনেমাটা নিয়ে। সে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় পড়ায়। তার কথা ছিল, পুরো সিনেমায় শুধু টিনের সঙ্গে টিনের সংঘর্ষের শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। মানে যন্ত্রে যন্ত্রে যুদ্ধ। মূল কথাটা ছিল অন্য জায়গায়—যন্ত্র একদিন ফ্রন্টিয়ারে চলে যাবে, মানুষ বসে থাকবে সাইডলাইনে। হাসি-ঠাট্টার মধ্যে কথাটা বললেও এখন টের পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে।

পাঁচ বছর হলো ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের একটা বড় মাথাব্যথার নাম ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস’, সংক্ষেপে ডিডস। বাইরের অনেকগুলো নেটওয়ার্ক থেকে একসঙ্গে অতিরিক্ত প্যাকেট ছুড়ে একটা সচল নেটওয়ার্ককে বসিয়ে দেওয়া যায়। সরকারে থাকতেও এই সমস্যা দেখেছি, কিন্তু এবার সরাসরি রেভিনিউতে টান পড়ায় রিসার্চে নেমে পড়লাম।

যারা এসব আক্রমণ চালায়, তারা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে, তখন মানুষের একার পক্ষে সেটা ঠেকানো কঠিন। আমরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিলাম। এমন সিস্টেম শতকরা ৮০ ভাগ কাজ নিজে সামলে দেয়, বাকিটুকু মানুষ টিউন করে নেয়। তখনই বুঝলাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন তেল বা নিউক্লিয়ার অস্ত্রের মতো একটা কৌশলগত জিনিস, যেটা কেউ হাতছাড়া করতে চাইবে না। যার ফলাফল হিসেবে দেখছি, এই জিনিসের এক্সপোর্ট কন্ট্রোল নিয়ে দেশে দেশে টানাপড়েন শুরু হয়ে গেছে।

কয়েক মাস আগের একটা ঘটনা এই কথাটা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কমার্স ডিপার্টমেন্ট গত জুনে এক্সপোর্ট কন্ট্রোলের আওতায় অ্যানথ্রপিকের ফ্যাবল আর মিথস ৫ মডেলের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পর নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হলেও এই কয়েক সপ্তাহেই বিশ্ব বুঝে গেল একটা জিনিস—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো জরুরি টুলের কিল-সুইচ যদি অন্য দেশের কোম্পানির হাতে থাকে, তাহলে যেকোনো সময় সেটা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এরপর থেকেই প্রায় প্রতিটা দেশ সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

প্রশ্নটা এখন সহজ—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ভাড়া করে চালানো যাবে, নাকি নিজেদের তৈরি করতে হবে?

ইউরোপ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নিজেদের তৈরি প্যারিসের মিস্ট্রাল দিয়ে। ওপেন-ওয়েট এই মডেলকে তারা ধীরে ধীরে সাপোর্ট দিচ্ছে, লোকাল ডেটা সেন্টার থেকে চালানোর ব্যবস্থা করছে, যাতে মার্কিন সার্ভারের ওপর নির্ভরতা কমে। ভারত নিজস্ব মডেল আর ভাষিণীর মতো মাল্টিলিঙ্গুয়াল ডেটা প্ল্যাটফর্ম বানাচ্ছে, কারণ আমেরিকান মডেল আঞ্চলিক ডায়ালেক্ট বোঝে না। বাংলাদেশের মতো তাদের ‘কনটেক্সট’ বুঝতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে বাইরের মডেলগুলো। সিঙ্গাপুরও সি-লায়ন মডেল বানিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিজস্ব সংস্কৃতি আর ভাষার সূক্ষ্মতা রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

এআই মডেল নিয়ে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝেছি, সিলিকন ভ্যালি বা চীনের বড় মডেলগুলো এসব দেশীয় কনটেক্সট ধরতে পারে না। কারণ, তারা তৈরি হয়েছে অন্য একটা দুনিয়ার ডেটা দিয়ে।

বাংলাদেশের অবস্থানটা এখানেই চিন্তার অবকাশ রাখে। সিলিকন ভ্যালির মতো কোটি কোটি ডলার খরচ করে শূন্য থেকে ফ্রন্টিয়ার মডেল বানানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। আবার সিলিকন ভ্যালির মডেল বাংলা ভাষার সূক্ষ্মতা, স্থানীয় ইতিহাস, দেশীয় আইন—কিছুই বোঝে না। এর ওপর আছে নিরাপত্তার প্রশ্ন। রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য, নাগরিকের ডেটা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত বিদেশি সার্ভারে তুলে দেওয়া মানে বড় ধরনের ঝুঁকি নেওয়া। সরকার সম্প্রতি এই বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছে যে, বাইরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমে যেন গোপনীয় তথ্য না যায়। তার মানে সরকারও এখন এই কৌশলগত অস্ত্রটাকে দেশের কাজে লাগানোর কথা ভাবছে।

আমার মনে হয়, পথটা মাঝামাঝি জায়গায়। চাকা নতুন করে বানানোর দরকার নেই, লামা বা এই ধরনের শক্তিশালী ওপেন-ওয়েট মডেল বিনামূল্যেই নামিয়ে নেওয়া যায়। বরং জোর দেওয়া উচিত মানসম্পন্ন বাংলা ডেটাসেট তৈরিতে—আইনি নথি, ইতিহাস, সরকারি তথ্য, আঞ্চলিক ভাষার নমুনা।

সরকার এটা নিয়ে কয়েকটা বড় কাজ করেছে ইতোমধ্যে। ফলে এই ডেটা দিয়ে মডেলকে লোকালি ফাইন-টিউন করে বেসরকারি খাতে নিজস্ব ডেটা সেন্টারে চালাতে হবে, যাতে কোনো বিদেশি শক্তি চাইলেই বন্ধ করে দিতে না পারে। আমি ইচ্ছে করে বেসরকারি খাতের কথা বলেছি, কারণ সরকারের কাছে এ ধরনের কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত ‘ব্যান্ডউইথ’ নেই। সরকার ইতোমধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও এফডিআই নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, বরং বেসরকারি খাতকে যথার্থ প্রণোদনা দিলে এটা তারাই সমাধান করতে পারবে। সরকার প্রয়োজনমতো সেবা কিনবে। এটাই প্রথম ধাপ।

ডেটা যদি নতুন তেল হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন অন্য কারো গাড়িতে বসিয়ে যাত্রী হয়ে বসে থাকার সময় বাংলাদেশের নেই। প্রকৃত ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব মানে আমাদের ডেটা আমাদের সীমানার ভেতরেই থাকবে, আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মডেল সেটা প্রসেস করবে, আর সেটা চলবে আমাদের নিজের হার্ডওয়্যারে।

 

রকিবুল হাসান: টেলিকম, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র’ বইয়ের লেখক

রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগ থেকে রাজনৈতিক দলগুলো পরিপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

গত কয়দিনের পত্রিকার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘পারি নাই বলেই আমাদের রাজনীতিকে আজও কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করছে।’

আজ সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত জীবন্ত একটা পার্লামেন্টকে রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য গণতান্ত্রিক শক্তির যে রাজনৈতিক ঐক্য থাকা দরকার, তা যে আমরা এখনো সুসংহত করতে পারিনি তার প্রমাণ পার্লামেন্টকে রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত করার ব্যাপারে আমরা বিজয় অর্জনকারী দলগুলো এখনো ঐকমত্য চর্চা করতে পারছি না।’

‘শুধু তাই নয়, সামাজিক মাধ্যম যেহেতু পার্লামেন্ট ও রাজপথের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, সেখানেও যদি আমরা খুব সচেতনভাবে তদারক করি, নজর দিয়ে রাখি, তাহলে দেখতে পাব, সাধারণ মূল্যবোধ সংস্কৃতির যে মাত্রা, তা অতিক্রম করে একটা অশ্লীলতা চর্চার কাজ চলছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, এই তৎপরতাগুলো যখন কোনো আদর্শের ভিত্তিতে করা হয়, তখন তা আরও অনেক অশনি সংকেত আমাদের সামনে হাজির করে,’ যোগ করেন তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদদের স্মরণ করতে কেবলমাত্র আবেগ চর্চা করলে চলবে না, শহীদদেরকে স্মরণ করার জন্য কেবলমাত্র একটা আনুষ্ঠানিকতা চর্চা করলে চলবে না, শহীদদেরকে স্মরণ করার নামে আমরা যদি কেবলমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত অথবা কোনো গোষ্ঠীগত উপস্থিতিকে হাজির করার অজুহাত তৈরি করি, আমাদের বিবেকের কাছে কিন্তু আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হবো।

জুলাই শহীদসহ এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সব শহীদের রক্ত এবং বিসর্জনকে এক জায়গায় রেখে আমাদেরকে পরিমাপে বসতে হবে—এত রক্তের বিনিময়ে আমরা কতটুকু অর্জন করেছি? তা যদি পরিমাপ করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, সংসদকে আমরা কতটা কার্যকরী করতে পেরেছি। রাজনৈতিক বিতর্ককে আমরা কতটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে বিধিবদ্ধ করতে পেরেছি এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আমরা কতটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে মহিমান্বিত করতে পেরেছি। এটাই আমাদের একমাত্র মানদণ্ড, যোগ করেন তিনি।

এতে জুলাই অভ্যুত্থানে যুক্ত সব রাজনৈতিক দলকে সম্মিলিত হওয়ার আহ্বান জানান স্বপন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির সামনে দেশ পরিচালনা, সংসদকে সক্রিয় করা, বিচার বিভাগকে স্বকীয় মর্যাদায় রূপান্তরিত করা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে বাস্তবসম্মতভাবে সুসংহত করা ও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দাঁড় করানো, বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবার সহযোগিতা লাগবে।

‘আমরা চাই, পার্লামেন্টে ও রাজনীতিতে যাদের সহযোগিতা করার কথা, তারা সহযোগিতা করবেন,’ যোগ করেন তিনি।

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়, আবারও বলেন তিনি।

‘এই সব কিছুই করতে হবে জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে। এর বাইরে এই লক্ষ্য অর্জন করার আর কোনো সাংবিধানিক, নিয়মতান্ত্রিক মঞ্চ আমাদের কাছে নাই। আমরা ধীরে ধীরে সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এই কাজটি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে করতে চাচ্ছি। এভাবেই আমরা দেশে একটা সুশাসনকে নিশ্চিত করতে চাই।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা তা করতে পারি, তাহলেই কেবলমাত্র শহীদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। শহীদের মর্যাদাকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো এবং এই কাজ করার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে আমরা ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করব।

‘কিন্তু যদি জনগণের কাছে প্রমাণ হয়, কারও বিভ্রান্তি মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে; জনগণের কাছে যদি প্রমাণ হয়, কারও অশ্লীলতা মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে; যদি জনগণের কাছে প্রমাণ হয়, কেউ কেউ বিভিন্ন আদর্শের নামে এখানে বুঝে অথবা না বুঝে অন্য কারও চক্রান্তকে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব নিচ্ছেন—সে ক্ষেত্রেও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমাদেরকে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।