28 C
Dhaka
Home Blog

বৃষ্টি-বন্যায় কমেছে চাহিদা, আনারস নিয়ে হতাশ মধুপুরের ‍কৃষক

ভোরের আলো ফোটার আগেই টাঙ্গাইলের মধুপুরের জলছত্র বাজারে একে একে এসে থামে সারি সারি সাইকেল ও ভ্যান। প্রতিটি সাইকেলের পেছনে স্তূপ করে সাজানো শত শত আনারস। হলুদ-সবুজ রঙের ফলগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন তার সবচেয়ে মিষ্টি উপহারগুলো এখানে এনে সাজিয়ে রেখেছে। কিন্তু সেই রঙিন দৃশ্যের আড়ালে আছে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস, অনিশ্চয়তা ও লোকসানের গল্প।

একসময় যে আনারস বিক্রি করে কৃষকের মুখে হাসি ফুটত, এবার সেই আনারসই যেন তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃত মধুপুরের আনারস এখন মৌসুমে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে মাঝারি আকারের একটি আনারসের দাম মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা। বড় আকারের আনারস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।

চাষিরা জানান, চারা, সার, সেচ, শ্রমিক ও রক্ষণাবেক্ষণসহ একটি আনারস উৎপাদন করতে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ টাকা খরচ হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষকেরা।

বাজারে দাঁড়িয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ইসহাক আলী। তিনি বছরের পর বছর ধরে তিনি আনারস চাষ করছেন। কিন্তু এমন দুরবস্থা আগে খুব একটা দেখেননি।

‘এভাবে চলতে থাকলে আনারস চাষ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না,’ এভাবেই বললেন ইসহাক আলী।

এবারের এই দরপতনের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। টানা বর্ষণ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটায় বড় শহরগুলোর বাজারে ফলের চাহিদা কমে গেছে। যেসব শহরে মধুপুরের অধিকাংশ আনারস যায়, সেখানে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে, কমেছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও।

মধুপুরের সবচেয়ে বড় আনারসের বাজার জলছত্র বাজারের ব্যবসায়ী চান মিয়া বহু বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এবারের বাজার তাকে বিস্মিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর বড় আনারস ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। এবার একই আকারের আনারস ৩০ থেকে ৩৫ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারছি না। কেন এমন হলো, আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না। বন্যার প্রভাব হতে পারে, আবার মানুষের হাতে টাকাও হয়তো কম।’

বৃষ্টির আরেকটি প্রভাব পড়েছে ফলনেও। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে একই সময়ে বিপুল পরিমাণ আনারস পেকে গেছে। ফলে একসঙ্গে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও দ্রুত কমেছে।

কৃষক তারিকুল ইসলামের অভিজ্ঞতাও একই। তার মতে, বাজারে সরবরাহ সামান্য কমলেই আনারসের দাম আবার বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে উৎপাদন বৃদ্ধিও। মোটর বাজারের ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন,গত কয়েক বছরে ভালো লাভের আশায় অনেক কৃষক কলা চাষ ছেড়ে আনারস চাষে ঝুঁকেছেন। ফলে উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি চাহিদা। অতিরিক্ত সরবরাহের চাপ এখন উল্টো কৃষকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন ফলের ভরা মৌসুম, তাই দাম কম।’

টাঙ্গাইলের মধুপুর কেবল একটি উপজেলা নয়, বাংলাদেশের আনারস উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র।

টাঙ্গাইলের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নার্গিস আক্তারের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে টাঙ্গাইল জুড়ে ৭ হাজার ৭৭৩ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু মধুপুরেই ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে এবং এর থেকে ২ দশমিক ৮৭ লাখ টন ফলন হয়েছে।

২০২৫-২৬ সালে চাষের জমি সামান্য বেড়ে ৭ হাজার ৭৯৪ হেক্টর হয়েছে এবং উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৮ লাখ টন।

চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমের জমি ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

কৃষকদের দাবি, শুধু উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিলেই হবে না। প্রয়োজন আনারস সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা, কোল্ড স্টোরেজ, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং এমন একটি বাজারব্যবস্থা, যেখানে কৃষক ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন। তাহলেই মৌসুমভিত্তিক দামের বড় ওঠানামা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়েও বোলিং বেছে নিল বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস ভাগ্য পক্ষে এলো বাংলাদেশের। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সিরিজ হার এড়ানোর ম্যাচেও বেছে নিলেন বোলিং। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে বাংলাদেশ পাচ্ছে না বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে, তার জায়গায় এসেছেন শরিফুল ইসলাম।

হারারেতে প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে আটকে দিয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি সফরকারীরা। ব্যটিং ব্যর্থতায় হারে ২৫ রানে।

প্রথম ওয়ানডেতে ৬ ওভারে ১৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন মোস্তাফিজ। মিরাজ শেষ দিকে নিজেই বল করায় তাকে আর আনেননি আক্রমণে। সেই সময় টেল এন্ডাররা বেশ কিছু রান যোগ করে নেন, যা ম্যাচের ফল নির্ধারণে প্রভাবক হয়েছে। এবার শরিফুলকে খেলানো হচ্ছে তার জায়গায়। 

এই ম্যাচ দিয়ে ফেরার কথা ছিলো কিপার ব্যাটার লিটন দাসের। তবে বিসিবি আগের রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, চোট কাটিয়ে ফেরার লড়াই শেষ না হওয়ায় পুরো সিরিজেই নেই লিটন।

জিম্বাবুয়ে একাদশ:  বেন কারান, ব্রায়ান বেনেট, ইনোসেন্ট কায়া, ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদান্দে (উইকেটরক্ষক), ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামহুরি, রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক) ও ব্লেসিং মুজারাবানি।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, মেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

ঈদের ছুটিতে দেখুন ওটিটির ৭ আয়োজন

ঈদের ছুটি মানেই একটু আরাম, একটু অলস দুপুর, রাতজাগা আড্ডা ও প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ দেখা। কেউ গ্রামের বাড়িতে, কেউ শহরে—এই ব্যস্ততার মাঝেও এখন অনেকের বিনোদনের বড় ভরসা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম।

এবারের ঈদেও বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এসেছে নতুন সিনেমা, ওয়েব ফিল্ম ও সিরিজের বড় আয়োজন। প্রেক্ষাগৃহে আলোচনায় থাকা কয়েকটি সিনেমাও এখন দেখা যাচ্ছে ঘরে বসেই। প্রেম, রহস্য, থ্রিলার, পারিবারিক আবেগ কিংবা অ্যাকশন, সব ধরনের দর্শকের জন্যই আছে কিছু না কিছু। ঈদের ছুটিতে দেখে নিতে পারেন এমন সাত আয়োজন।

ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা বনলতা এক্সপ্রেস এখন দেখা যাচ্ছে হইচইয়ে। তানিম নুর পরিচালিত এই সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস কিছুক্ষণ অবলম্বনে। একটি ট্রেনযাত্রার মধ্যে নানা মানুষের সম্পর্ক, আবেগ ও রহস্য উঠে এসেছে গল্পে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, সাবিলা নূর, আজমেরী হক বাঁধনসহ আরও অনেকে।

প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের প্রশংসা কুড়ানোর পর এবার চরকিতে মুক্তি পেয়েছে দম। রেদওয়ান রনি পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরি। গল্প, অভিনয় ও টানটান পরিবেশের জন্য সিনেমাটি দর্শকদের নজর কেড়েছে।

ঈদের ছুটিতে উৎসবে দেখা যাবে শাকিব খান অভিনীত প্রিন্স। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। এতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিন ও কলকাতার অভিনেত্রী জৌর্তিময়ী কুণ্ডু।

অ্যাকশন ও রহস্য পছন্দ হলে দেখতে পারেন রাক্ষস। সিনেমাটি এখন দেখা যাচ্ছে উৎসবে। মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ ও কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জি।

ঈদ উপলক্ষে আইস্ক্রিনে এসেছে ওয়েব ফিল্ম সারার সংসার। আকা রেজা গালিব পরিচালিত এই কাজটি নির্মিত হয়েছে কাজী আনোয়ার হোসেনের মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস আর্তনাদের ছায়া অবলম্বনে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন সাদিয়া ইসলাম মৌ।

রোমান্টিক গল্প দেখতে চাইলে চোখ রাখতে পারেন বঙ্গতে ওয়েব ফিল্ম তাজমহল দেখতে। ওয়াহিদ আনাম পরিচালিত এই ফিল্মে অভিনয় করেছেন ফাইজুল ইয়ামিন ও কলকাতার অভিনেত্রী শ্রীজা দত্ত। দুই বাংলার দুই মানুষের আবেগঘন প্রেমের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে এটি।

ঈদের চতুর্থ দিন থেকে বঙ্গতে দেখা যাবে ওয়েব ফিল্ম মুখোশ মুখো। এটি পরিচালনা করেছেন সম্রাট। অভিনয়ে রয়েছেন খাইরুল বাশার, তর্ষা, নাসিরউদ্দিন খান, নাদিয়া হক।

ঈদের ছুটিতে পরিবার, বন্ধু বা প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এই ওটিটি আয়োজনগুলো। তাই কোরবানির মাংস, আড্ডা ও ঘোরাঘুরির ফাঁকে সময় বের করে দেখতে পারেন পছন্দের কোনো সিনেমা বা ওয়েব ফিল্ম।

ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করলেই যুদ্ধের অবসান: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আজ শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেছেন। 

ওই পোস্টের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ট্রাম্প বলেছেন যে, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তেহরান যদি শর্ত মেনে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসে, তাহলে ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন মহান ও গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচনের পর আমরা এবং আমাদের অনেক অসাধারণ ও অত্যন্ত সাহসী মিত্র-অংশীদাররা মিলে ইরানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে অক্লান্ত পরিশ্রম করব।’

পোস্টের শেষে ট্রাম্প নতুন একটি স্লোগান ব্যবহার করেন— ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’। 

তার রাজনৈতিক স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর অনুকরণে তৈরি নতুন স্লোগানটি।

রূপগঞ্জে ক্রেনের তার ছিঁড়ে ২ শ্রমিক নিহত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ক্রেনের তার ছিঁড়ে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর একটি ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সিরাজগঞ্জের তারাশ থানার নৌখাদা এলাকার আল-আমিন (৩২) ও একই থানার আল-আমিন মিয়া (২৬)।

রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদেকুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ট্রাইকম গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঘাটে মালামাল আনলোডের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এসআই সাদেকুর বলেন, ঘাটটিতে সন্ধ্যায় ক্রেন দিয়ে গম আনলোড করা হচ্ছিল। এ সময় ক্রেনের নিচে তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে ক্রেনের তার ছিঁড়ে গ্রাফ নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক শ্রমিক নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরেকজন।

ঘাটের সরদার মোহাম্মদ ওমর ফারুক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ক্রেনের গ্রাফ পড়ে দুজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বর্তমানে আমরা নিহতদের নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছি। তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

এ ঘটনায় তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এসআই সাদেকুর। 

প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষ: নতুন ধারার ৬ নেতাকর্মীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষ এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রায় তিন ঘণ্টার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর নতুন ধারা বাংলাদেশের ছয় নেতাকর্মীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে পুলিশি পাহারায় তাদের বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে একটি পুলিশ ভ্যানে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন, নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নূরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মাইনুল ইসলাম খান পুলক জানান, শান্তা ফারজানাসহ ছয়জন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ একটি কর্মসূচি পালন করছিল। গত ১ আগস্ট শান্তা ফারজানার ওপর কথিত হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে নতুন ধারার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসও ছিলেন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এরপর রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য ও সমর্থকেরা ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে জড়ো হন। তারা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে শান্তা ফারজানাসহ নতুন ধারার কয়েকজন নেতাকে জরুরি বিভাগের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তাদের বের করে আনার সময় আবারও হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসময় দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ‘এ ঘটনায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ হস্তক্ষেপের আগে এক পক্ষ হাসপাতালের বাইরে এবং অন্য পক্ষ জরুরি বিভাগের ভেতরে অবস্থান করছিল।’

সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই সংগঠন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।

রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাদের অভিযোগ, কর্মসূচিতে শান্তা ফারজানা জুলাই যোদ্ধা ও বিএনপিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ জানালে নতুন ধারার কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন বলে তারা দাবি করেন।

তবে নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী অভিযোগ করেন, আয়াস একদল লোক নিয়ে তাদের কর্মসূচিতে এসে হামলা চালান। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

এদিকে মঞ্চ-২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকীর নেতৃত্বে একদল লোক ঢামেক হাসপাতালের বাইরে শান্তা ফারজানার গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দেন।

ফাহিম ফারুকীর অভিযোগ, শান্তা ফারজানা জুলাই যোদ্ধা ও বিএনপিকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন এবং তার সমর্থকেরা প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তাকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা হাসপাতাল ছাড়ব না।’

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

টিকে আছে দুটি কারখানা, পেশা বদলেছে শতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ডুবি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ যখন ঘুমে আচ্ছন্ন—সূর্য ওঠার অনেক আগে কাজের প্রস্তুতি শুরু করেন ময়না বৈদ্য ও তার স্বামী অধীর বৈরাগী।

এখনো সনাতনী পদ্ধতিতে খাবার লবণ তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এই দম্পতি। স্থানীয়ভাবে এটি জ্বালানো লবণ নামে পরিচিত। লবণ কারখানার উচ্ছিষ্ট চুলায় জ্বালিয়ে তৈরি করা হয় বলে এই নাম।

অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় আগে শুরু হয় লবণ তৈরির এই কৌশল। তবে এটি কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়নি।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের সময় ডুবি গ্রামে শুরু হয়েছিল জ্বালানো লবণ তৈরি।

দুর্ভিক্ষের সময় অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে লবণের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল। এত বেশি বেড়েছিল যে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। সে সময় আবু বক্কর সিদ্দিকী নামে ডুবি গ্রামেরই এক বাসিন্দা লবণ কারখানার উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। সেই উচ্ছিষ্ট জ্বালিয়ে তৈরি হয় খাবার লবণ, জানান তারা।

কারখানায় লবণ তৈরির সময় উচ্ছিষ্ট পানি একটি জায়গায় জড়ো করে রাখা হয়। পরবর্তীতে এটি জমে কঠিন আকার নেয়। এতে যথেষ্ট পরিমাণে লবণ থাকে। বক্করকে অনুসরণ করে আরও অনেকে লবণ কারখানা থেকে এই উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে এটি বাণিজ্যিক রূপ নেয়।

ডুবি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আশে পাশের শতাধিক গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ এই পেশায় যুক্ত হন। ঝালকাঠি, খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হতো এই কাঁচামাল। পরবর্তীতে এটি বড় ট্যাংকে আবারও পানি দিয়ে গলিয়ে চুলায় জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হতো লবণ।

ময়না-অধীর দম্পতি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সকালে উঠে প্রথমেই তারা চুলা প্রস্তুত করেন। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় কাঠের গুঁড়া। ৪০ বর্গফুটের এই চুলা প্রস্তুত করতেই তাদের অনেকটা সময় লেগে যায়। এরপর শুরু হয় লবণ তৈরির প্রক্রিয়া।

বিশালাকৃতির পাত্রে লবণাক্ত পানি জ্বাল দিয়ে খাবার উপযোগী লবণ তৈরি করতে অন্তত ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এই দম্পতি প্রতিদিন ৪টি চুলায় দুবারে সর্বোচ্চ ৩০ মণ লবণ তৈরি করতে পারেন।

অধীর বলেন, ‘লবণ উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে আমাদের মজুরি হয়।’

‘১ মণ লবণ উৎপাদন করলে একজন শ্রমিক পায় ৬০ টাকা। তবে উৎপাদন খরচ—১৩ থেকে ১৪ টাকা মজুরি থেকেই বাদ যায়,’ বলেন তিনি।

এ কাজটি খুব সহজ নয় উল্লেখ করে অধীর বলেন, ‘এক নাগাড়ে ৬ ঘণ্টা চুলার পাশেই থাকতে হয়। পানি গরম হলে অন্যান্য বর্জ্য ফেনা আকারে উঠে আসে। সেগুলো তুলে ফেলে দিতে হয়। কিছুক্ষণ পর পর নাড়তে হয়। ৬ ঘণ্টা পর পাত্রের ভেতরে ধবধবে সাদা লবণ দৃশ্যমান হতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক মেশানো হয় না। চুলা থেকে নামিয়ে লবণ থেকে পানি ঝরাতে রাখা হয় বাঁশের তৈরি ঝুড়িতে। এরপর বড় কাঠের বাকশে সংরক্ষণ করা হয়। বাজারজাত করার আগে শেষ ধাপে আয়োডিন মিশিয়ে প্যাকেটে তোলা হয়।’

অধীর জানান, ময়নার পরিশ্রম আরও বেশি। কারখানায় দীর্ঘ সময় কাজ করার পর বাড়ি ফিরে তার স্ত্রীকে গৃহস্থালি কাজও করতে হয়।

কেবল লবণ তৈরি নয়, প্রতিদিন কারখানা ও লবণ জ্বাল দেওয়ার পাত্র পরিষ্কার করা তাদেরই দায়িত্ব। সব কাজ শেষ করে রাতে তারা সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন, জানান ময়না।

তাদের সঙ্গে একই কারখানায় কাজ করেন মোহাম্মদ এমদাদুল ও সালমা দম্পতি।

এমদাদুল জানান, বর্তমানে এ পেশায় টিকে থাকতে তাদের কঠোর সংগ্রাম করতে হচ্ছে। ‘আগে লবণ উৎপাদন করে ভালোই আয় হতো। গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আয় কমছে।’

তিনি বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো, উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে সে অনুযায়ী লবণের দাম বাড়েনি।’

‘এক সময় লবণ কারখানার এই উচ্ছিষ্ট বিনামূল্যে পাওয়া যেত। এখন কিনে আনতে হয় এবং সেই দামও আগের চেয়ে বেড়েছে। জ্বালানি হিসেবে কাঠের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। সেটার দামও বেড়ে গেছে। পল্ট্রি খামারে কাঠের গুঁড়ার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে, সে অনুযায়ী লবণের দাম বাড়েনি,’ যোগ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুর রহমান জানান, এক সময় জমজমাট অধিকাংশ কারখানাই বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবি গ্রামে ২২টি কারখানা ছিল। এখন কোনো রকমে টিকে আছে দুটি।

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২ দশক আগেও আশে পাশের শতাধিক গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ লবণ কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

‘যে দুটি কারখানা চালু আছে, সেগুলো কত দিন টিকে থাকবে তারও ঠিক নাই,’ আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

একই শঙ্কা প্রকাশ করেন একটি লবণ কারখানার মালিক সেলিম মাঝি। তিনি মনে করেন, সরকারি সহায়তা পেলে এই কারখানাগুলোকে লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

নেছারাবাদে উৎপাদিত লবণের চাহিদা বেশি মাদারীপুর, বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝড়ায়। এছাড়া, পিরোজপুরের বেশ কিছু এলাকায় এই লবণ বিক্রি হয়। তবে ডুবি গ্রামে উৎপাদিত লবণের চাহিদা নেছারাবাদে তুলনামূলক কম বলে জানান মুদি ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান মিলন। তিনি বলেন, ‘এ লবণ রান্নার কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়। অনেকে গরুকে খাওয়ানোর জন্যও কিনে নিয়ে যান।’

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই লবণ স্বাস্থ্যসম্মত কি না জানতে চাইলে পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুরঞ্জিৎ কুমার সাহা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘লবণে অপদ্রব্যের মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। এছাড়া সঠিক পরিমাণে আয়োডিন ও কালারিং এজেন্ট দেওয়া হলে সেটা ব্যবহার উপযোগী হবে।’

নিয়মিত লবণ পরীক্ষা করার পরামর্শও দেন তিনি।

নেছারাবাদের ডুবি গ্রামের একটি লবণ কারখানা বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) অনুমোদিত। বিএসটিআই বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার মো. ইয়াছির আরাফাত জানান, ওই কারখানার লবণের মান নিয়মিত যাচাই করা হয়।

ময়না-অধীর ও এমদাদুল-সালমা জানান, ডুবি গ্রামে টিকে থাকা দুটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে তাদের নতুন করে অন্য পেশা খুঁজতে হবে। পাশাপাশি চিরতরে হারিয়ে যাবে লবণ কারখানার উচ্ছিষ্ট থেকে লবণ তৈরির ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

আমরা কারও দ্বারা প্রভাবিত নই: ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা

এবার বিশ্বকাপে খেলা ছাপিয়েও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিতর্কিত রেফারিং। একাধিক ম্যাচে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখিত অভিযোগ জানাতে দেখা গেছে একাধিক দলকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে সেই বিতর্ক উঠে তুঙ্গে। প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয় দাবানলের মতো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় ফিফা প্রধানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পর। তবে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলছেন, তারা কারও দ্বারা প্রভাবিত নন।

৪৮ দলের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ৯৬ ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রেফারিংয়ের মান, ভিএআর-এর কার্যকারিতা এবং ম্যাচ অফিশিয়ালদের ওপর আসা নানা চাপ নিয়ে মুখ খুলেছেন কলিনা। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফিফা রেফারিং সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এটি কারও দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

তবে কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় বেশি ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে কিছু জিনিস প্রত্যাশা অনুযায়ী নাও হতে পারে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি, ‘শুরুতেই বলা যাক, কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে আমরা এবার ৫০% বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছি। এখনও আটটি বড় ম্যাচ বাকি আছে। সামগ্রিকভাবে আমরা খুশি। তবে অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ হওয়ায় কিছু বিষয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তেমন কিছু ঘটলে পরের ম্যাচের জন্য নিজেদের শতভাগ প্রস্তুত করতে তারা আরও কঠোর পরিশ্রমের জন্য তৈরি থাকে।’

তার মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই, তবে সেসব যেন ভিত্তিহীন না হয়, ‘সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সবসময়ই ফুটবলের অংশ। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান এই খেলায় নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমন অভিযোগের কারণে অনেক সময় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি মোটেও সঠিক নয়।’

রেফারিং বিভাগের ওপর ফিফা প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না উল্লেখ করে কলিনা বলেন, ‘কেউ দাবি করতে পারে না যে ফিফা রেফারিং কারও দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দ্বারাও নয়। তিনি আমাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন এবং সবসময় ফিফা টিম ওয়ানের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন দেখিয়েছেন।’

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের চরম বিতর্ক ও কলিনার ব্যাখ্যা:

চলমান টুর্নামেন্টে রেফারিং ও ভিএআর-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে ম্যাচের কিছু ফাউল এবং পেনাল্টি বা গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় তুমুল বিতর্ক চলছে।

সাধারণত টুর্নামেন্ট চলাকালীন সুনির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বা ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না ফিফার এই রেফারিং প্রধান। তবে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের এই চরম বিতর্ক নিয়ে এবার নিজেই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন কলিনা।

গোলের আগে আক্রমণের সময়ে (বিল্ড-আপ) ভিএআর-এর ভূমিকা পরিষ্কার করতে গিয়ে কলিনা এই ম্যাচের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচে মিশরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারওয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পায়ে পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি, ফাউল মানে ফাউলই। ফাউলটি স্পষ্ট মনে হোক বা না হোক, রেফারি যদি মাঠে এটি দেখতে না পান, তবে ভিএআর সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে। গোল থেকে দূরত্ব কতখানি ছিল বা ঘটনার কতক্ষণ পর গোল হয়েছে, সেটির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।’

একই ম্যাচের শেষদিকে তৈরি হওয়া আরও একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে কলিনা বলেন, ‘আবার যদি গোলের আগে কোনো ফাউল না থাকে, তবে ভিএআর রেফারিকে সেই অনুযায়ী পরামর্শ দেয়। যেমন ওই ম্যাচেরই শেষদিকে মোহামেদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেসের মধ্যকার ঘটনাটিকে রেফারি এবং ভিএআর সাধারণ ফুটবলীয় যোগাযোগ (কন্ট্যাক্ট) হিসেবেই গণ্য করেছিল। কারণ ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করেছিলেন এবং পরে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।’

তবে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের বিল্ডআপে ম্যাক অ্যালিস্টারের মিশরের হামদি ফাথির জার্সি ধরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় কেন ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি, সেই ব্যাপারে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ট্রাম্পের ফোনকল:

দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। কিন্তু শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়ে তা প্রত্যাহার করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই জানান যে, সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করতে তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন। শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। কড়া বিবৃতি দেয় ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফা। ট্রাম্পের ফোনকলের পরপর বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় তা নিয়ে চরম সমালোচনা চলে ফুটবল বিশ্বে। কিন্তু এই ব্যাপারে আর নতুন করে কিছু বলেননি কলিনা।

একই রকম ঘটনায় বিভিন্ন ম্যাচে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আসায় রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছিল।

 

অনলাইন জুয়ায় ক্যাসিনো সম্রাট রুবেলের উত্থান

একসময় টং দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের আর্থিক সংকট সামলাতে ছোটখাটো কাজও করতে হয়েছে। সেই রুবেল মিয়ার জীবনেই কয়েক বছরের ব্যবধানে এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। দামি গাড়ি, বিলাসবহুল জীবনযাপন, দেশে বিপুল সম্পদ এবং বিদেশে ব্যবসা, সব মিলিয়ে হবিগঞ্জের রুবেল মিয়া এখন স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ক্যাসিনো সম্রাট রুবেল’ নামে।

রুবেলকে ঘিরে অভিযোগের তালিকাও দীর্ঘ। অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসা, ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে বিপুল অর্থের লেনদেন, ডিজিটাল প্রতারণা, অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ, এমন নানা অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

এরই মধ্যে ঢাকার পল্টন থানায় দায়ের হওয়া একটি ডিজিটাল প্রতারণার মামলার নথিতে রুবেল মিয়াসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযোগের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৯ টাকা। নথিতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার উল্লেখ রয়েছে।

টং দোকান থেকে বিলাসী জীবন
রুবেল হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও তার আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। টং দোকানে কাজসহ বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বদলে যায় তার জীবনযাত্রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক দামি গাড়ি, বিলাসবহুল বাড়ি, জমি ও অন্যান্য সম্পদের মালিক হতে থাকেন রুবেল। দেশে-বিদেশে ব্যবসা ও সম্পদের বিস্তারের কারণে তার আর্থিক উত্থান নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের একটি অংশকে এই ব্যবসায় যুক্ত করা হয়েছে। এতে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে রুবেলকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক মামলা ও গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। ৩ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে রুবেলকে অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের কথা এবং তার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলা থাকার কথা জানানো হয়েছে।

৭৬ লাখ টাকার ডিজিটাল প্রতারণার মামলা
রুবেলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে স্পষ্ট নথিভিত্তিক অভিযোগগুলোর একটি এসেছে পল্টন থানার মামলায়। মামলার নথি অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ করে অভিযোগকারীকে বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভের প্রলোভন দেখানো হয়।

‘harrywinstongold.vip’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং WhatsApp যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়।
নথিতে বিভিন্ন লেনদেনের বিবরণ সংযুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযোগকারীর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৯ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে আরও অর্থ জমা দেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়। পরে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি একটি প্রতারণামূলক অনলাইন বিনিয়োগ চক্রের ফাঁদে পড়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

মামলার নথিতে রুবেলসহ একাধিক ব্যক্তির নাম
পল্টন থানার মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে রুবেল মিয়া ওরফে ‘ক্যাসিনো সম্রাট রুবেল’-এর নাম রয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নথিতে তাদের পরিচয় ও ঠিকানার তথ্যও রয়েছে।

তবে প্রত্যেক আসামির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল এবং অভিযোগের অর্থের সঙ্গে কার কী ধরনের আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়।

পাঁচ বছরে শতকোটি টাকার সম্পদ?
রুবেলকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তার সম্পদের উৎস নিয়ে। দলিল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে হবিগঞ্জ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় রুবেল এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ও অন্যান্য সম্পদ কেনা হয়েছে। এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক শত কোটি টাকা হতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু নিজ এলাকা নয়, শ্রীমঙ্গলেও বড় আকারের সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শত বিঘার বেশি জমির ওপর বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিকানা নিয়েও তথ্য রয়েছে।

এখন প্রশ্ন, টং দোকানে কাজ করা একজন ব্যক্তির আয় থেকে এত অল্প সময়ে এই বিপুল সম্পদ কীভাবে তৈরি হলো? সম্পদের দলিল, ক্রয়মূল্য, মালিকানা, অর্থের উৎস, আয়কর নথি ও ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ করলেই এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।

দুবাইয়ে বাংলো, সুপার শপ, হোটেল ও ক্যাসিনো?
রুবেলের সম্পদের বিস্তার শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, এমন অভিযোগও রয়েছে। দলিল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ে রুবেলের নামে বা তার নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক ব্যবসা ও সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিলাসবহুল বাংলো, সুপার শপ, হোটেল এবং ক্যাসিনো ব্যবসার কথাও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে সেই অর্থ দুবাইয়ের ব্যবসা ও সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং ওই অর্থের বৈধ উৎস কী ছিল।

এসব বিষয়ে বাংলাদেশি ব্যাংক হিসাব, বিদেশি লেনদেনের তথ্য, কোম্পানি নিবন্ধন, সম্পত্তির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যবসায়িক নথি পাশাপাশি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

‘মেম জল্লাই’ ও ‘গাড়িচোর দুলাল’, দুই সহযোগীকে ঘিরেও প্রশ্ন
রুবেলের কথিত নেটওয়ার্কে আব্দুল জলিল ওরফে ‘মেম জল্লাই’ এবং ময়নুল হাসান ওরফে ‘গাড়িচোর দুলাল’-এর নামও উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে রুবেলের বাংলাদেশি কার্যক্রম পরিচালনা, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং আর্থিক লেনদেনে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রুবেলকে ঘিরে আর্থিক নেটওয়ার্কের প্রকৃত চিত্র বের করতে হলে তার সহযোগীদের আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন দাবি এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে না।

নিষিদ্ধ সংগঠনে অর্থ সরবরাহের অভিযোগ
রুবেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুতর বিষয়গুলোর একটি হলো, তার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কাছে অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে কি না।

আপনার সরবরাহ করা তথ্য ও অন-রেকর্ড সূত্র অনুযায়ী, এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি শুধু অনলাইন জুয়া বা অর্থপাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; অর্থের উৎস, প্রাপক, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সবই তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

তবে এ অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নাম, লেনদেনের তারিখ, পরিমাণ এবং নথির ধরন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলে অভিযোগটি আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নিয়েও প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়া ও কথিত অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হলেও রুবেলের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও অর্থের কারণে অনেক সময় এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে ‘টাকার কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব’, এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য, অভিযানের নথি, মামলা ও জব্দ তালিকা, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের নথি প্রকাশ করা জরুরি। এতে অভিযোগটি আরও শক্ত প্রমাণভিত্তিক রূপ পাবে।

হত্যা মামলার আসামি, বিমানবন্দরে আটক
রুবেলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় আসামি থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। ৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোস্তাক হত্যা মামলায় তিনি অন্যতম আসামি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাতে দুবাই যাওয়ার সময় সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। ৩ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রুবেলের চারটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করা হয়েছে।

এখন নজর অর্থের রুটে
রুবেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন একটাই, বিপুল সম্পদের অর্থের উৎস কী? একদিকে পল্টন থানার মামলায় ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৯ টাকার ডিজিটাল প্রতারণার অভিযোগ। অন্যদিকে কয়েক বছরের মধ্যে শতকোটি টাকার সম্পদ, শ্রীমঙ্গলে বিশাল জমি ও রিসোর্ট, একাধিক দামি গাড়ি এবং দুবাইয়ে কথিত ব্যবসা ও সম্পদের অভিযোগ।

এই দুইয়ের মধ্যে কোনো আর্থিক যোগসূত্র আছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয় হতে পারে।

এর জন্য রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে, কোম্পানি ও ব্যবসার মালিকানা, জমির দলিল, গাড়ির নিবন্ধন, আয়কর রিটার্ন, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

পল্টন থানার মামলার নথিতে ডিজিটাল লেনদেনের যে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে, সেগুলো ইতোমধ্যে অভিযোগের একটি নথিভিত্তিক ভিত্তি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, রুবেলকে ঘিরে কয়েক শত কোটি টাকার সম্পদ, শ্রীমঙ্গলে শত বিঘার বেশি জমি, দুবাইয়ে ব্যবসা ও ক্যাসিনো এবং রাজনৈতিক নেটওয়ার্কে অর্থ সরবরাহের যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ আর্থিক যাচাই হলে চিত্রটি আরও পরিষ্কার হবে।

ঈদে ১০ সিনেমার ঘোষণা, শেষ পর্যন্ত কয়টি আসবে প্রেক্ষাগৃহে?

কোরবানির ঈদ মানেই প্রেক্ষাগৃহে নতুন সিনেমার উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে ঢাকাই সিনেমার বাজার। একের পর এক সিনেমার পোস্টার, টিজার, ট্রেলার আর গান প্রকাশ হচ্ছে। কেউ দিচ্ছেন অ্যাকশনের ঝলক, কেউ আনছেন প্রেম কিংবা ভিন্নধর্মী গল্প।

এবার ঈদুল আজহায় মুক্তির তালিকায় রয়েছে ১০টি সিনেমা—রকস্টার, রইদ, মালিক, বনলতা সেন, মাসুদ রানা, নাকফুলের কাব্য, পিনিক, তছনছ, অফিসার এবং দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল।

তবে প্রশ্ন একটাই—ঘোষণার পর শেষ পর্যন্ত কয়টি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারবে? কারণ এর আগে অনেক সিনেমাই মুক্তির ঘোষণা দিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গেছে। এবারও কয়েকটি সিনেমার জোর প্রচারণা দেখা গেলেও কিছু সিনেমা অনেকটাই নীরব।

শাকিব খান অভিনীত রকস্টার ঈদের আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো। ইতোমধ্যে সিনেমাটির ‘পিরিতি’ গান প্রকাশ হয়েছে। পাশাপাশি এসেছে দুটি টিজার। দ্বিতীয় টিজারে দেখা গেছে সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েককে। সিনেমাটির পোস্টার, অ্যানিমেশন টিজার ও অফিসিয়াল টিজারও প্রকাশ হয়েছে। এরই মধ্যে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। প্রকাশিত ঝলকগুলোতে শাকিব খানকে নতুন লুকে দেখা গেছে।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত রইদ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ কম নয়। হাওয়াখ্যাত এই নির্মাতার নতুন কাজ বলে বাড়তি কৌতূহল রয়েছে সিনেমাটি ঘিরে। ট্রেলারের পাশাপাশি প্রকাশ হয়েছে তিনটি গান—রইদে আইলা গা জুড়াইতে, মন ছাড়া কি এবং রহে না। সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমার গল্প। এতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুশি, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ। পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই আলোচনায় আসে সিনেমাটি। এখন গান প্রকাশ ও বিভিন্ন কনসার্টের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে পুরো টিম।

ঈদে মুক্তির তালিকায় রয়েছে মালিক। এতে জুটি হয়েছেন আরেফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সাইফ চন্দন। ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়েছে দুটি পোস্টার ও অফিসিয়াল ট্রেলার। প্রথম পোস্টারে শুভকে দেখা গেছে অ্যাকশন লুকে। আর দ্বিতীয় পোস্টারে ধরা দিয়েছেন রোমান্টিক আবহে। সিনেমাটি সেন্সর ছাড়পত্রও পেয়েছে। গল্পে মায়ের সম্মান ও অধিকার রক্ষার লড়াই করতে গিয়ে একজনকে অপরাধ জগতের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে উঠতে দেখা যাবে।

সৈকত নাসির পরিচালিত মাসুদ রানা নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল রয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা, পূজা চেরি ও ও সৈয়দা তিথি অমনি। সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় বইয়ের আদলে প্রকাশ হয়েছে সিনেমাটির প্রথম পোস্টার। পরে এসেছে ‘মাসুদ রানা গান রিলোড’ শিরোনামের একটি টিজার। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়া।

সরকারি অনুদানে নির্মিত বনলতা সেন সিনেমাটিও ঈদে মুক্তির কথা রয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। বাস্তবতা ও রূপকের মিশেলে তৈরি সিনেমায় বনলতা সেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে আছেন খাইরুল বাশার। সিনেমাটির টিজার, ট্রেলার এবং ‘এখানে কেউ নেই’ গানটি ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়েছে।

প্রেম ও বিরহের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাকফুলের কাব্য। এতে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি ও আদর আজাদ। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আলোক হাসান। অনেক আগেই সেন্সর ছাড়পত্র পেলেও এতদিন মুক্তি পায়নি। এবার ঈদে মুক্তির পরিকল্পনা করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

পিনিকি সিনেমায় জুটি হয়েছেন শবনম বুবলি ও আদর আজাদ। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জাহিদ জুয়েল। ইতোমধ্যে দুটি পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশ হয়েছে। এর আগেও কয়েকবার মুক্তির কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসেনি।

বদিউল আলম খোকন পরিচালিত তছনছ সিনেমাটিও ঈদের তালিকায় রয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ববি হক, মুন্না খান, মিশা সওদাগর, দীপা খন্দকারসহ আরও অনেকে। ইতোমধ্যে সিনেমাটির টিজার ও একটি গান প্রকাশ হয়েছে।

এতে অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি ও ডিএ তায়েব। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বদিউল আলম খোকন। ঈদে মুক্তির ঘোষণা দিলেও এখনো সিনেমাটির প্রচারণা খুব বেশি চোখে পড়েনি।

ঈদের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিনেমাটি। আকাশ হক পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাস, আখতারুজ্জামান আজাদ, আবু সায়েদ, ইফাদ হাসান ও নিলয় বালা।

এখন দেখার বিষয়, ঘোষণার এই দীর্ঘ তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত কয়টি সিনেমা সত্যিই ঈদের আনন্দ বাড়াতে প্রেক্ষাগৃহে আসে। কারণ ঈদের সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, এটি দর্শকদের জন্য আলাদা একটি উৎসব।