31.2 C
Dhaka
Home Blog

গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্পর্কই আসল

১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেখে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলই বিস্মিত হয়। বিএনপি জয়ের জন্য এবং আওয়ামী লীগ পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল না। আওয়ামী লীগ ধরেই নিয়েছিল, তারা ক্ষমতায় যাচ্ছে। এমনকি ঠাট্টার ছলে বলা হতো, আওয়ামী লীগের নেতারা নাকি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য পোশাকও ইস্ত্রি করে রেখেছিলেন।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় পদ্ধতিতে যাত্রা শুরু করে। সেই ব্যবস্থা বাতিল করে ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতি চালু করা হয়। স্বৈরশাসন পরবর্তী সময়ে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে আবারও ফিরে আসে সংসদীয় ব্যবস্থা।

তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের দাবি মেনে নিয়ে খালেদা জিয়া সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরান। অথচ, সেই নির্বাচনে বিএনপির দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থার কথাই বলা ছিল। তারপরও খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী দলের দাবি মেনে নিয়েছিলেন।

আমার দৃষ্টিতে, এটি ছিল সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক সূচনার এক অনন্য সুযোগ। সেটা স্বাভাবিকভাবেই হওয়ার কথা ছিল। কারণ, সরকারি দল বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারব্যবস্থার ধরনই বদলে দিয়েছিল। সংসদ নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া তার প্রয়াত স্বামীর পথ ধরে রাষ্ট্রপতি হতে পারতেন। কিন্তু, তিনি তা না করে এক নতুন পথে হাঁটলেন। এর মাধ্যমে সরকারি দল ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে আমাদের একটি গঠনমূলক যাত্রার সূচনা হওয়ার কথা ছিল।

 

দুর্ভাগ্যবশত, সেটা হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতোই এ দেশেও বিরোধী দল কখনোই তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি, পরিসর ও অধিকার পায়নি। কেন বিরোধী দলকে ‘অপেক্ষমান সরকার’ বলা হয় কিংবা ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতিতে কেন তাদের কাছ থেকে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রত্যাশা করা হয়, সেটা বোঝার চেষ্টা আমরা কখনো করিনি। এসবের অর্থ হলো, সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারি ও বিরোধী দল মিলেই সামগ্রিক শাসনপ্রক্রিয়া গঠন করে। এখানে বিরোধী দল সংসদে সুশৃঙ্খল, নীতি-আদর্শভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শাসনপ্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৯১ সালে আমরা ভুল পথে, আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে বিপরীতমুখী গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছিলাম। শেখ হাসিনা ওই নির্বাচনে ‘সূক্ষ্ম কারচুপি’র অভিযোগ তুলেছিলেন। যেহেতু নির্বাচনকে ‘জনরায়’ হিসেবেই তারা দেখেনি, তাই সেই রায় মানার ক্ষেত্রে বিরোধী দল নৈতিক বাধ্যবাধকতাও দেখায়নি। বিরোধী দলের প্রস্তাবিত সংসদীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে বিএনপির ‘সমঝোতা’ বা ‘সহযোগিতার মনোভাব’ হিসেবে দেখেনি আওয়ামী লীগ। তারা বরং ধরেই নিয়েছিল এটা বিএনপির পরাজয়। যার ফলে গঠনমূলক বিরোধিতার বদলে বিরোধী দলের কাছ থেকে আমরা আরও আগ্রাসী ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আচরণ দেখেছি। যার লক্ষ্য ছিল সরকারকে অকার্যকর করে দেওয়া এবং তাদের শুধু ব্যর্থ নয়, বরং অযোগ্য ও ক্ষমতায় থাকার অনুপযুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা। এর মাধ্যমে এমন একটি ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল যে, সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করাটা যৌক্তিক।

দ্য ডেইলি স্টারের শুরুর দিকের সেই দিনগুলোতে আমি সংবাদ সম্মেলন, সেমিনার, আলোচনা ও সংসদ অধিবেশনসহ (আমার ‘ফ্রম দ্য গ্যালারি’ কলামের জন্য) সব জায়গায় যেতাম। সম্ভবত ১৯৯২ বা ১৯৯৩ সালে সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিরতির সময় আমি বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার কক্ষে যাই এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। এমন সময় অধিবেশন শুরুর ঘণ্টা বেজে উঠল। হঠাৎ শেখ হাসিনা চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘ওয়াকআউট, ওয়াকআউট’। ওই কক্ষে থাকা কয়েকজনকে বললেন, দলের বাকি সংসদ সদস্যদের এটা জানিয়ে দিতে। কিছুক্ষণ পর দুই সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও তোফায়েল আহমেদ সেখানে এসে এর কারণ জানতে চাইলেন। কারণ ওয়াকআউট করার মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি। কিছুক্ষণ পর ঝাঁঝালো কণ্ঠে শেখ হাসিনা বললেন, ‘আপনাদের যা খুশি করেন।’ তার সেই জবাব থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, ওয়াকআউট করার সিদ্ধান্ত মানতে না চাওয়ায় তিনি খুশি ছিলেন না।

‘জনগণের সদন’ বা সংসদের কার্যক্রমের প্রতি বিরোধীদলীয় নেতার মনোভাব কতটা তাচ্ছিল্যপূর্ণ হতে পারে, তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমার সেটাই ছিল। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উঠতে দেখলাম আমরা। তখনো নির্বাচনের কয়েক বছর বাকি। কিন্তু, এই দাবিতে ঘন ঘন ‘ওয়াকআউট’, পরে ‘বয়কট’ এবং শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সংসদ পুরোপুরি একপাক্ষিক এবং কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।

সংসদের ভেতরে যখন এই পরিস্থিতি, রাজপথে তখন চলছিল সহিংসতা, পুলিশের সঙ্গে লাগাতার সংঘর্ষ এবং বিশৃঙ্খলা। ঘন ঘন হরতালের ডাক। একদিন, দুদিন, তিনদিন, এমনকি একসময় পুরো সপ্তাহ হরতাল থাকতো। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংসদের প্রতি অশ্রদ্ধা তৈরি হয়। অজান্তেই আমরা আমাদের কাজ, সময়সূচি ও সময়সীমার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ি। সেটার প্রভাব পড়ে আমাদের কর্মসংস্কৃতির ওপর। এমনকি আজও আমরা সেই অবস্থা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারিনি।

পরিহাসের বিষয় হলো, বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড যতই ধ্বংসাত্মক হোক না কেন, পরবর্তী নির্বাচনে তারাই জয়ী হতো। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ, ২০০১ সালে বিএনপি এবং ২০০৯ সালে আবার আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ফলে এমন একটি ধারা তৈরি হয় যে, ক্ষমতাসীন দল সবসময়ই নির্বাচনে হেরে যায়। যার ফলে বিরোধী দলের মনে এই নেতিবাচক ধারণা গেঁথে যায়, তাদের রাজনীতি যত ধ্বংসাত্মকই হোক না কেন, তা ক্ষমতাসীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রাখে। স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না।

আওয়ামী লীগ আঁচ করতে পেরেছিল, এই ধারা অব্যাহত থাকলে তারা পরবর্তী নির্বাচনে হেরে যাবে। সেজন্যই ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর পরবর্তী নির্বাচনের আগেই ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই নির্বাচন আয়োজনের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করে তারা। যার পরিণতিতে আমরা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সম্পূর্ণ কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করি।

কারচুপির নির্বাচনের প্রভাব আমাদের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে পড়ে। পুলিশ, আমলাতন্ত্র, গোয়েন্দা সংস্থা, নিম্ন আদালত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিকীকরণ হয়। বেসরকারি খাতকেও সরকারের অনুগত থাকার জন্য প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং সংসদকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করার মধ্য দিয়ে এর শুরু করতে হবে। গণতান্ত্রিক যাত্রা নতুন করে শুরু করার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে এক নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে এবং এর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে।

তবে নতুন সংসদেও আমাদের শুরুটা খুব একটা সুখকর ছিল না। গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য শপথ নিতে বিএনপি রাজি না হওয়ায় জামায়াতের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্যের শুরু হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় আইনপ্রণেতাদের একইসঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়েছিল।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হতে দিয়েছে বিএনপি। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম এবং দুর্নীতি দমন ও মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। এই অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়, যেগুলোর বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল। বিশেষ করে গুম, মানবাধিকার কমিশনসহ যেসব বিষয়সংক্রান্ত অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হতে দেওয়া হয়েছিল, সেসব বিষয়ে উত্থাপন করা বিলগুলোর কঠোর সমালোচনা করে তারা।

এরপর আসে আরও বড় ধাক্কা। ৫০টি সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদের মধ্যে বিরোধী দলকে দেওয়া হয় মাত্র একটি—পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। অথচ, বিরোধী দলের দাবি ছিল ২৬ শতাংশ সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ।

সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের সংসদীয় কমিটি গঠনে বিএনপির উদ্যোগ এবং সেখানে বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্য দেওয়ার প্রস্তাবও তারা গ্রহণ করেনি। কারণ, বিরোধী দলের দাবি ছিল, এটি জুলাই সনদ পরিপন্থী। এখন পর্যন্ত এই কমিটি জুলাই সনদে সই করা সব দলকে তাদের মতামত জানানোর জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যেখানে বিরোধী জোট অংশ নেয়নি।

এটা স্পষ্ট যে বিরোধী দলের উত্থাপন করা কিছু বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি আরও সতর্ক ও বিচক্ষণ হতে পারত। আমরা মনে করি, বিরোধী দলের যুক্তিগুলো বিবেচনা করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে এবং শুরুর দিকের কিছু লক্ষণ বেশ উদ্বেগজনক। দুইপক্ষের মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। বিরোধী দল সরকারি দলের কঠোর সমালোচনা করবে, সেটিও স্বাভাবিক ও যৌক্তিক।

আমরা আগেও বলেছি, আবারও বলছি—বিরোধী দলের রাজপথে নামার হুমকি দেওয়ার মতো সময় এখনো আসেনি। সরকারের ব্যর্থতা ও ঘাটতি তুলে ধরা, দলীয় নিয়োগ প্রকাশ্যে আনা এবং দুর্নীতির যেকোনো ঘটনা উন্মোচন করা উচিত। কিন্তু সরকারকে অস্থিতিশীল করার হুমকি, অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি এবং একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত নির্বাচনের পরও জনমনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ভয় তৈরি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক বা গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা যদি সত্যিই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে ক্ষমতাসীন দলকে বিরোধী দলের দাবির প্রতি আরও সহনশীল এবং বিরোধী দলকে তাদের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে আরও সংযত ও পরিণত হওয়ার আহ্বান জানাই। আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্র যাতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, তার জন্যও এটি অপরিহার্য।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

২.৩ বিলিয়ন ডলারে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদের নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপ কিনছে উবার

যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ ‘ইজিকেটার’ ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিচ্ছে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার টেকনোলজিস। বোস্টনভিত্তিক এই স্টার্টআপের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমান।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি ডলারের দর ছিল ১২৩.০৭ টাকা। সেই হিসাবে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে ২৮ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা আসে। এই অংক নগদ অর্থে পরিশোধ করবে উবার।

টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে জানানো নয়, নিহাদ রহমান জেপিমরগ্যান চেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জেনারেল ইলেকট্রিকের বিভিন্ন শীর্ষ পদে কাজ করার পর ২০২২ সালে তিনি প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে ইজিকেটারে যোগ দেন।

এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হন তিনি। একই বছরের মে মাসে তাকে স্থায়ী সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁর সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপন করে ইজিকেটার। করপোরেট খাবারের অর্ডারের ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণ ভোক্তাদের অর্ডারের চেয়ে এ ধরনের করপোরেট অর্ডার বেশ বড় হয়ে থাকে। এ কারণেই স্টার্টআপটি কিনে নিচ্ছে উবার।

উবার জানিয়েছে, ইজিকেটারের ক্যাটারিং এবং ‘বিজনেস-টু-বিজনেস’ কার্যক্রমকে তারা ‘উবার ইটস’ ও ‘উবার ফর বিজনেস’-এর সঙ্গে যুক্ত করবে।

এই উদ্যোগের ফলে করপোরেট ক্যাটারিংয়ের বাজারে উবারের উপস্থিতি আরও বাড়বে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই লেনদেন চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ রোববার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) একান্ত সচিব মুহাম্মদ আশরাফুল আলম আজ দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আইন অনুযায়ী, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা।

আগামী ২০ আগস্ট বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। গত ৬ আগস্ট ইসি এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

তফসিল অনুযায়ী,  আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হবে এবং এটি সম্পন্ন করতে যতক্ষণ সময় প্রয়োজন, ততক্ষণ চলবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন নেওয়া হবে।

কমিশন জানিয়েছে, তারা এরইমধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৩৪৯ সদস্যের ভোটার তালিকা হাতে পেয়েছে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।

হামের আঘাতের পর দরিদ্রদের ঘাড়ে ঋণের বোঝা

চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যয় মেটাতে প্রতি ১০টি পরিবারের প্রায় ৯টিকেই ঋণ নিতে হয়েছে এবং ১০টির মধ্যে ৬টি পরিবার তাদের সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছে বলে নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) যৌথভাবে এই জরিপ করেছে।

জরিপে দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হলেও হামের প্রাদুর্ভাবের আর্থিক প্রভাব হাসপাতালের চিকিৎসার বাইরেও অনেকদূর বিস্তৃত।

হাম সংশ্লিষ্ট কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারের একেকটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে জরুরি নগদ সহায়তার জন্য নির্বাচন এবং এই সংকটের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে এই জরিপটি পরিচালনা করে বিডিআরসিএস-আইএফআরসি।

মে ও জুন মাসে ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হামে আক্রান্ত ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর জরিপটি চালানো হয়। এতে দেখা যায়, চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যয় মেটাতে ২ হাজার ৪৪২টি পরিবার, অর্থাৎ ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশকে ঋণ নিতে হয়েছে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, অন্তত ১ হাজার ৬৭০টি পরিবার বা ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ তাদের সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছে। আর ১১২টি পরিবার বা ৪ দশমিক ১ শতাংশকে সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে। অন্যদিকে ৯০টি পরিবার বা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ আর্থিক চাপ সামাল দিতে অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।

হামের প্রাদুর্ভাবে ঋণের বোঝা কাঁধে পড়া পরিবারগুলোর একটি নাজমা বেগমের পরিবার।

গত মাসে দ্য ডেইলি স্টার যখন রাজধানির ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে যায়, যেখানে শুধু হাম রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়; সেখানে চিকিৎসাধীন ছিল নাজমার ১০ মাস বয়সী মেয়ে আশিয়া।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার গৃহিণী নাজমা বলেন, প্রথমে তার মেয়ের প্রচণ্ড জ্বর আসে। পরে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘পরে তাকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা হাম শনাক্ত করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন।’

নাজমার স্বামী একজন রাজমিস্ত্রি। নিয়মিত কাজ পান না। নাজমা বলেন, ‘মেয়েকে চিকিৎসার জন্য এখানে আনতে আমাদের ঋণ নিতে হয়েছে।’ তবে কত টাকা ঋণ নিয়েছেন, তা তিনি জানাননি।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষ, যাদের বেশির ভাগই শিশু, হাম বা হামের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১০ জনে।

গত পাঁচ মাসে দ্য ডেইলি স্টার ঢাকার তিনটি প্রধান হাম চিকিৎসাকেন্দ্র—ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল, সংক্রামক রোগ হাসপাতাল (আইডিএইচ) এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন কয়েক ডজন শিশুর অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন নাজমাও। সবার অভিজ্ঞতায় একটি মিল পাওয়া গেছে।

অনেক পরিবারই স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে জটিলতা সামাল দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় রাজধানীতে এসেছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিভাবক জানিয়েছেন, সন্তান হামে আক্রান্ত হওয়ার আগেই অন্য রোগের চিকিৎসায় তাদের সঞ্চয় শেষ হয়ে গিয়েছিল।

মে মাসে ফারজানা আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তার পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে সাদিকা নূর সাফা জলবসন্তে আক্রান্ত হলে প্রথমে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এতে চিকিৎসার পেছনে তাদের প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়।

শিশুটি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মাত্র ১০ দিনের মাথায় আবার হামে আক্রান্ত হয়। এতে চিকিৎসার জন্য পরিবারটিকে আবারও ঢাকায় আসতে হয়।

ফারজানা ও নাজমার মতো আক্রান্ত বেশির ভাগ পরিবারই ছিল নিম্নআয়ের। তাদের জন্য স্বাস্থ্যসংকট দ্রুতই আর্থিক সংকটে পরিণত হয়। ঢাকায় চিকিৎসার খরচ জোগাতে অনেককেই আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী বা অনানুষ্ঠানিক ঋণদাতার কাছ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটাতে টাকা ধার নিতে হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যয়—বিশেষ করে খাবার, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাতায়াত সাধারণত ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো হয়ে থাকে। আর যেসব শিশুর বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হয়, তাদের চিকিৎসা ব্যয় কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

বিডিআরসিএস ও আইএফআরসির জরিপে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা শুধু চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের চাপই সামলায়নি, অসুস্থ সন্তানের সেবাযত্ন করতে হাসপাতালে থাকার কারণে অনেকেই মজুরি হারিয়েছেন, এমনকি জীবিকার উৎসও হারিয়েছেন।

মূল্যায়নে বলা হয়, আক্রান্ত অধিকাংশ পরিবারই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। ফলে তাদের জন্য আর্থিক চাপ আরও তীব্র। চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের গড় প্রায় ১৬ হাজার টাকা, যা যাতায়াত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচসহ সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতার কাছে ওষুধ ছিল সবচেয়ে জরুরি চাহিদা। এরপর ছিল নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত সহায়তা (৩৩ শতাংশ) এবং খাদ্য সহায়তা (২২ শতাংশ)।

যেসব পরিবার তাদের পেশার তথ্য দিয়েছে, তাদের ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। তাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আয় হারানোর ঝুঁকিতে তারা সবচেয়ে বেশি রয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।

মাদারীপুরের ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যানচালক টিটু নাকতি এর আগে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, হামে আক্রান্ত ১১ মাস বয়সী ছেলের চিকিৎসার জন্য ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে থাকতে গিয়ে তিনি আয় হারিয়েছেন। চিকিৎসার খরচ চালাতে প্রতিবেশীর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ধারও নিতে হয়েছে। সেই ঋণের জন্য তাকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সুদ দিতে হচ্ছে।

বিডিআরসিএসের মহাসচিব কবির এম আশরাফ আলম বলেন, ‘আক্রান্ত পরিবারগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বোঝা এবং জরুরি নগদ সহায়তার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতেই এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

লিখিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই মূল্যায়নে দেখা গেছে, অনেক পরিবার শুধু স্বাস্থ্যসংকট নয়, তীব্র আর্থিক সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে।’

বাংলাদেশে আইএফআরসির হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, ‘হামের এই জরুরি পরিস্থিতির প্রভাব হাসপাতালের দরজায় শেষ হয়নি। অসুস্থ শিশুদের সেবা দিতে গিয়ে বহু পরিবার অসহনীয় আর্থিক সংকটে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই জরিপের ফলাফল জনস্বাস্থ্যের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা এবং আরও শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শফিউন নাহিন শিমুল বলেন, এই জরিপের ফলাফল অর্থনীতিবিদদের ভাষায় ‘বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয়ের’ একটি ক্লাসিক উদাহরণ। তার সতর্কবার্তা, হামের প্রাদুর্ভাব এমনিতেই ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে আরও গভীর দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘যখন কোনো পরিবারের আয়ের তুলনায় স্বাস্থ্য ব্যয় অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেড়ে যায়, তখন মানুষকে সঞ্চয় শেষ করতে, সম্পদ বিক্রি করতে কিংবা ঋণ নিতে হয়। এই জরিপে ঠিক সেটিই উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর। এসব পরিবারে অপুষ্টির হার বেশি এবং শিশুদের মধ্যে গুরুতর হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকিও বেশি।

শিমুল বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পুরোপুরি বিনামূল্যের নয়।

তার ভাষায়, ‘হাসপাতালে সব প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশেষ করে ব্যয়বহুল ওষুধ, সব সময় সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে রোগীদের ওষুধ কিনতে হয়। এ ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা এবং রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনের খাবারের খরচও রয়েছে।’

তিনি বলেন, বেশির ভাগ রোগী গ্রামাঞ্চল থেকে আসে। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা দুজনকেই একসঙ্গে ঢাকায় আসতে হয়, ফলে ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য জরুরি তহবিল বা চিকিৎসা সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করে শিমুল বলেন, এমন সহায়তা না থাকলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার পরও এই আর্থিক ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে থেকে যেতে পারে।

সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই স্বীকার করছি যে, অনেক সমস্যা আছে। সরকার নিশ্চয়ই এতটুকু প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েকবার বসেছি। প্রথমে আপনাদের সঙ্গেই বসেছিলাম, পরে ফোরামের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

আগের বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেসবের অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে এবং সেগুলো নিয়েও কাজ করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার। তার ভাষায়, ‘আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের সমস্যাগুলো জানতে পারব ও সেগুলোর সমাধান করতে পারব।’

ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যা পর্যালোচনা করে ২১টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, রেফারিরা নন: দেশম

আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়ের পর তৈরি হওয়া নতুন রেফারিং ইস্যু খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন। তাদের একমাত্র মনোযোগ এখন মরক্কোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটির ওপর।

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের সিদ্ধান্তের তোলপাড় হচ্ছে ফুটবল বিশ্বে। এরমধ্যে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে ফিফা সম্পূর্ণ আর্জেন্টাইন রেফারি প্যানেল নিয়োগ দেওয়ায় সেই বিতর্কের পালে নতুন হাওয়া লাগে। তবে দেশম এরমধ্যে জড়াতে চাইছেন না। 

মরক্কোর বিপক্ষে নামার আগে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু সিদ্ধান্ত সবসময়ই থাকে যা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। এটা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনি কোন পক্ষে আছেন তার ওপর।’

২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো ৫৭ বছর বয়সী এই কোচ আরও যোগ করেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, রেফারিরা নন। আমি রেফারিদের ওপর আস্থা রাখি।’

দেশম একই সঙ্গে লেতেক্সিয়েরের নিয়ে রসিকতা করে বলেন, তিনি আশা করেন বৃহস্পতিবারের (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা) ম্যাচের রেফারিরা ‘মঁসিয়ে লেতেক্সিয়েরের মতোই ভালো’ পারফর্ম করবেন। তবে দেশম জানান, ফ্রান্সের পুরো মনোযোগ থাকবে মাঠের খেলার উপর। 

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের মিডফিল্ডার দেশম মনে করেন মরক্কো বিশ্বকাপ ‘জিততে এসেছে’। এমন একটি দলের বিপক্ষে তাই খেলোয়াড়দের গোলপোস্টের সামনে আরও নিখুঁত হওয়ার আহ্বান জানান।

প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে মাইকেল অলিস হলুদ কার্ড পেয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি কার্ড পেলে তিনি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হবেন, সেক্ষেত্রে ফ্রান্স সেমিফাইনালে উঠলে অলিসের মতো তারকাকে পাবে না। তবে অলিসের হলুদ কার্ড প্রত্যাহারের জন্য ফ্রান্সের আবেদনের বিষয়ে দেশম জানান, ফিফা তাদের জানিয়েছে যে এটা বহাল থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের ওপর আরোপিত ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হয়ে যায়। যা তিনি চলে তুমুল সমালোচনা। এর কদিনের মধ্যে ফিফা অলিসের হলুদ কার্ড বহাল রাখার রায় দিল। 

 

ঈদে মুক্তি পাওয়া ৮ সিনেমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলে কোনটি

কোরবানির ঈদ মানেই প্রেক্ষাগৃহে নতুন সিনেমার উৎসব। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দেশের ১৮১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আটটি সিনেমা—রকস্টার, রইদ, মালিক, বনলতা সেন, মাসুদ রানা, অফিসার, তছনছ ও পিনিক।

এর মধ্যে কয়েকটি সিনেমা সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পেয়েছে। কিছু সিনেমা চলছে শুধু মাল্টিপ্লেক্সে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’।

শীর্ষে ‘রকস্টার’

শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ সবচেয়ে বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্স মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে সিনেমাটি। এটি পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো। সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে আছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েক।

‘মালিক’

ঈদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত সিনেমা ‘মালিক’। এটি পরিচালনা করেছেন সাঈফ চন্দন। সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্স মিলিয়ে ৩২টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে সিনেমাটি।

‘রইদ’

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’। এটি মাল্টিপ্লেক্সের ১১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ‘হাওয়া’খ্যাত এই নির্মাতার নতুন কাজ বলে সিনেমাটি ঘিরে দর্শকের বাড়তি কৌতূহল রয়েছে। এক সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে তৈরি হয়েছে এর গল্প। এতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ।

‘বনলতা সেন’

সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘বনলতা সেন’ সিনেমাটি ঈদে মুক্তি পেয়েছে। এটি মাল্টিপ্লেক্সের ৮টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। বাস্তবতা ও রূপকের মিশেলে তৈরি এ সিনেমায় বনলতা সেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে আছেন খায়রুল বাশার। আরও অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকিদ, ময়মুনা মম, শরিফ সিরাজসহ অনেকেই।

‘মাসুদ রানা’

সৈকত নাসির পরিচালিত ‘মাসুদ রানা’ সিনেমাটি মাল্টিপ্লেক্সের চারটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা, পূজা চেরি ও সৈয়দা তিথি অমনি। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়া।

‘পিনিক’

শবনম বুবলী ও আদর আজাদ অভিনীত ‘পিনিক’ সিনেমাটি ঈদে মুক্তি পেয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন জাহিদ জুয়েল। সিনেমাটি দেশের তিনটি মাল্টিপ্লেক্সে চলছে।

‘তছনছ’

বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘তছনছ’ সিনেমাটিও ঈদে ১০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন ববি হক, মুন্না খানসহ অনেকে।

‘অফিসার’

এতে অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি ও ডি এ তায়েব। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বদিউল আলম খোকন। ঈদে ১০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মধ্যেও বাজারে পর্যাপ্ত তেল আছে: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করলেও বাজারে পর্যাপ্ত তেল আছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।

সংস্থাটির প্রধান ফাতিহ বিরল আজ শুক্রবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলায় বিশ্বজুড়ে তেল সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তা প্রশমিত করার চেষ্টা চলছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত তেল আছে।’

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে তেহরানের হামলায় বিশ্ববাজারে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এতে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা প্রধান বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক দেশ চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে।’

‘তবে বিশ্ববাজারে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি তেল মজুদ রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

জরুরি মজুদ থেকে তেল সরবরাহের বিষয়ে পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব ধরনের বিকল্পই আলোচনায় আছে। প্রচুর তেল আছে, কোনো ঘাটতি নেই।’

‘আমরা সাময়িক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি,’ বলেন তিনি।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পরিবহনে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ পথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।

এ সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও তেলের দাম বেড়েই চলছে।

সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম গত কয়েকদিনে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে বিশ্বজুড়ে তেল সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থা নিতেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা প্রতিষ্ঠা হয়।

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ১

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের আরও ছয়জন।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার কামিল মাদ্রাসার গেটের সামনে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত হাফিজুর রহমান উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ছোট ভাই।

এসপি মনিরুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে পথে তিনি মারা যান। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুরসহ কয়েকজন কর্মী হাসাদহ বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে কামিল মাদ্রাসার সামনে মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। মেহেদী হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান ডেইলি স্টারকে বলেন, এ ঘটনার জন্য জামায়াত দায়ী। নির্বাচনের পর থেকে জামায়াত আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অহেতুক মারামারি শুরু করে। তারা আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সেই ঘটনার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. রুহুল আমিন ডেইলি স্টারকে বলেন, এটা সংঘর্ষ নয়, হামলা। গতকাল সুটিয়া গ্রামের এক ছেলে ইফতার কিনতে হাসাদাহ বাজারে যায়। সেখানে বিএনপির গুন্ডারা তাকে মারধর করে। পরে আমাদের লোকজন বিষয়টি সমাধান করতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের একজন কর্মী মারা গেছেন। এছাড়া তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ ডেইলি স্টারকে বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মেহেদী হাসান উপজেলার সুটিয়া গ্রামে গিয়ে হামলার শিকার হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই ঘটনার জেরে শনিবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল ডেইলি স্টারকে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাতে পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অতিরিক্ত ফোর্স চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আমরা আবেদন করেছি।

‘আবার ঘুরেফিরে সেই গোপালি দিয়া ভইরা গেছে’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত সদস্যদের মধ্যে যাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়, তাদের তালিকা চেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।

আজ রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে এ তালিকা চান।

তার ভাষ্য, ‘গোপালি’ (গোপালগঞ্জের বাসিন্দা) দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ভরে গেছে।

আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ‘একটা কথা বলতে গেলে এসপি সাহেবের ওপর পড়ে, তবুও আমি বলি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও বলব এই কথাটা, আজ আমি যাইতেছি ঢাকা। ৫ আগস্টের আগে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা গোপালি দিয়ে ভরে গিয়েছিল প্রশাসন।’

‘এখনো আবার ঘুরেফিরে সেই গোপালি দিয়া ভইরা গেছে। পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা গোপালি দিয়া ভইরা গেছে। আইনশৃঙ্খলা কেমনে সুন্দর হবে? গোপালিরা কি আমাদের ভালো চাইবে? ভালো চাইবে না,’ যোগ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে এ সভায় জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সিও উপস্থিত ছিলেন।

ডিসি-এসপির কাছে তালিকা চেয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ‘এটার লিস্ট চাই আমরা। কার বাড়ি কোন দেশে, এই নারায়ণগঞ্জে কোন থানার মধ্যে কে আছে, এটার লিস্ট চাই। তালিকা চাই আমরা। ঘুরেফিরে আবার ওই গোপালি দিয়ে ভরে গেছে পুরো নারায়ণগঞ্জ।’

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি নদীপথে চাঁদাবাজির জন্য বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘মেঘনা বা বিভিন্ন নদী থেকে বালুর বাল্কহেডগুলো ঢোকার আগেই চাঁদা শুরু হয়ে যায়। আবার নাকি মোবাইলে চাঁদা দিয়ে দেয়, কীভাবে দেয় জানি না। এটার সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর অফিসাররাও জড়িত।’

নিজের নির্বাচনী এলাকা সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের জন্য তিতাস গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সোনারগাঁয়ে ৬৫ হাজার গ্যাস লাইন অবৈধ। আওয়ামী লীগের আমলে এইসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে দেওয়া হইছে। অবৈধ গ্যাস লাইনের জন্য যদি মামলা দেওয়া হয় তাইলে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের এক নম্বর আসামি করবেন, তাইলে দেখবেন সব কমে গেছে।’

‘আমি কিন্তু আমার থানায় অর্ডার দিয়েছি, যারা তিতাস গ্যাসের অফিসার যাবে তাদের আগে পিটানোর জন্য। তারা অবৈধ সব কাজ করে,’ বলেন এমপি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীবসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।