31.5 C
Dhaka
Home Blog

সংসদে উত্থাপিত বক্তব্যে নিরপেক্ষ তদন্ত চায় নাবিল গ্রুপ

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-সংক্রান্ত আলোচনায় নাবিল গ্রুপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সংসদে উপস্থাপিত কিছু তথ্য তাদের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যাংকিং নথি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার রেকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেন। আবেদনপত্রের অনুলিপি অর্থমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নাবিল গ্রুপ সম্পর্কে উত্থাপিত তথ্য জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকার এলসি সুবিধা গ্রহণ এবং তা পরিশোধ না করার বিষয়ে সংসদে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা ব্যাংকিং নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নাবিল গ্রুপের তথ্যমতে, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং অন্যান্য ট্রেডিং পণ্য আমদানির জন্য মোট ৭ হাজার ১৮১ কোটি টাকা সমমূল্যের এলসি খুলেছে। এসব এলসির বিপরীতে ৫ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকার সাইট ও অ্যাকসেপ্টেড বিল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিশোধ করা হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়।

নাবিল গ্রুপের মোট ব্যাংক দায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বলে যে তথ্য সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে আবেদনপত্রে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তাদের মোট ব্যাংক দায়ের পরিমাণ ৫ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের আগস্টে এ পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ২ হাজার কোটির বেশি কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তারা কখনও কোনো ব্যাংক ঋণের খেলাপি হয়নি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংসদে নাবিল গ্রুপের অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে ব্যবহৃত হয়েছে, এ ধরনের ইঙ্গিতেরও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়া নাবিল গ্রুপ বা এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার কিংবা প্রতারণা-সংক্রান্ত কোনো প্রমাণিত অভিযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পরিবারের সদস্যরা দেশে অবস্থান করছেন এবং দেশের বাইরে তাদের কোনো অবৈধ বা গোপন সম্পদ নেই বলে আবেদনপত্রে দাবি করা হয়।

নাবিল গ্রুপ জানায়, তারা গত দুই দশক ধরে কৃষি, শিল্প, খাদ্যপণ্য, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি এবং ভোগ্যপণ্য খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই বছর দেশের শীর্ষ পাঁচ ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাদের মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, বর্তমানে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি এবং দুই লাখের বেশি মানুষ পরোক্ষভাবে নাবিল গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের মোট বিনিয়োগের ৮০ শতাংশ উত্তরাঞ্চলে রয়েছে। আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও নাবিল গ্রুপের কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা দেশে অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তার স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মা রাজশাহীতে বসবাস করেন এবং সন্তানরা সেখানেই পড়াশোনা করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, নাবিল গ্রুপ কখনও কোনো ব্যাংকে ঋণখেলাপি হয়নি। ব্যাংকিং কার্যক্রম পারস্পরিক চুক্তি ও প্রচলিত বিধি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে দেড় হাজারের বেশি বিধবা ও দুস্থ নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ক্রীড়া খাতে অবদানের প্রসঙ্গ তুলে নাবিল গ্রুপ জানায়, এ বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে তাদের মালিকানাধীন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং বাংলাদেশ উইমেন্স প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে রাজশাহী স্টারস এফসি শিরোপা জিতেছে। এছাড়া রাজশাহী স্টারস এফসি এশিয়ান উইমেন্স ফুটবল ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে।

আবেদনপত্রে নাবিল গ্রুপ বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রে তথ্য, নথি ও প্রমাণকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। যথাযথ যাচাই ছাড়া সংসদীয় বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা অন্য কোনো স্বাধীন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টির তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগী হিসেবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার তাদের রয়েছে।

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের পরও আজমুনকে দলে ফেরাতে চায় ইরান সরকার

সর্দার আজমুনকে ঘিরে ইরানের ফুটবলে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন নতুন মোড় নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ওঠার পর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া এই স্ট্রাইকারকে আবারও দলে ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের এক ভাইস প্রেসিডেন্ট।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুলকরিম হোসেইনজাদেহ বলেন, ‘মাতৃভূমির প্রয়োজন হলো তার সন্তানদের মধ্যকার সম্পর্কের সুতো অটুট রাখা। সারদার আজমুন সেই সম্পর্কের প্রকাশ ঘটিয়েছেন, বিষয়টি যেন আমরা উপেক্ষা না করি। সম্ভব হলে তাকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা উচিত।’

বর্তমানে তুরস্কে প্রস্তুতি ক্যাম্প করছে ইরান জাতীয় দল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কোচের প্রাথমিক দলে জায়গা হয়নি ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তার বাদ পড়া নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আজমুন নিজেকে ‘ইরানের সন্তান’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একসময় অন্য একটি দেশের কাছ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

আজমুন লিখেছিলেন, ‘আমি যেখানেই ফুটবল খেলি না কেন, আমার পরিচয়, হৃদয় এবং গর্ব সবই ইরান।’ একই সঙ্গে জাতীয় দলের জন্য শুভকামনাও জানান তিনি।

ইরানের ক্রীড়া সাংবাদিকদের অনেকেই ধারণা করছেন, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময়সীমার আগে এখনও তাকে স্কোয়াডে যোগ করা হতে পারে।

ইরানের হয়ে ৫৭ গোল করা আজমুন ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলেও পরিচিত মুখ। বেয়ার লিভারকুসেন ও এএস রোমার হয়ে খেলেছেন তিনি। তবে অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার।

গত মার্চে দুবাইয়ের আমিরের সঙ্গে তার একটি ছবি প্রকাশ হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বর্তমানে দুবাইয়েই খেলছেন ও বসবাস করছেন আজমুন।

জাতীয় দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই অবশ্য বলেছেন, স্কোয়াড নির্বাচন ছিল তার ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে কঠিন টেকনিক্যাল সিদ্ধান্ত’ এবং খেলোয়াড় বাছাইয়ে শুধুই ফুটবলীয় বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।

‘টিম মেল্লি’ নামে পরিচিত ইরান বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ ‘জি’তে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলবে ইরান।

এদিকে ফিফার অনুমোদনের পর বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ২১ মে’র মধ্যে দিতে হবে: শ্রমমন্ত্রী

দেশের সব কারখানায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস আগামী ২১ মের মধ্যে এবং মাসিক বেতন নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আবশ্যিকভাবে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সিরড্যাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৫তম এবং আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের ২৪তম সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সভায় শ্রমিক নেতারা আশ্বাস দেন, ঠিক সময়ে বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হলে কোনো ধরনের আন্দোলন বা শিল্প অসন্তোষ সৃষ্টি হবে না।

তবে যেসব কারখানা এখনো বকেয়া বেতন পরিশোধ করেনি, তাদের বিষয়ে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ ছাড়া, শ্রমিকদের ঈদযাত্রা সহজ করতে বিশেষ বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সড়কে যানজট এড়াতে মালিক ও শ্রমিক-পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বা ধাপে ধাপে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, বেতন-বোনাস পরিশোধ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানান, শ্রমিকদের ঈদযাত্রা সহজ করতে সব রুটে জাহাজ ও লঞ্চের ভাড়া ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনসহ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মালিক ও শ্রমিক-পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

হামের চিকিৎসায় শিশু হাসপাতালের বরাদ্দ যথেষ্ট না: বিরোধীদলীয় নেতা

হামের চিকিৎসায় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সরকারি বরাদ্দ যথেষ্ট না বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালটা সরকারি না, এটা সংবিধিবদ্ধ একটা হাসপাতাল। সরকার আগে প্রতি বছর দিতো ৩০ কোটি, এবার দিচ্ছে ২৮ কোটি। সেই ২৮ কোটির মধ্যে এ পর্যন্ত তারা ফার্স্ট কোয়ার্টারে ৭ কোটি টাকা পেয়েছেন, বাকিটা হয়তো তারা পাবেন। কিন্তু এ দিয়ে হাসপাতাল চলে না। এখানে ৭০০টি শয্যা আছে, এর মধ্যে ২৫০ শয্যা হলো ফ্রি। বাকিগুলোতে রোগীদের সব খরচ দিয়ে থাকতে হয়। সেভাবে তারা চালাচ্ছেন, এবং যেটুকু সম্ভব তাদের পক্ষে, সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।’

পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পেরেছি যে, এখানে আরও অনেক গুরুত্ব দেওয়া দরকার সরকারের।’

আজ শনিবার দুপুরে শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বর্তমানে হাম নিয়ে যে বিব্রতকর অবস্থায় দেশবাসী আছে, এটা বোঝার জন্য আমরা মূলত গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমরা দেখলাম, এটা বাংলাদেশের একমাত্র স্পেশালাইজড ডেডিকেটেড শিশু হাসপাতাল সরকারিভাবে। এ জন্য সারা দেশ থেকে এখানে রোগী চলে আসে। তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) এর চাপ নিতে পারছেন না। অনেক রোগী এখান থেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন। তারা কোথায় যাচ্ছেন তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) তো বলতে পারবেন না।’

হাম রোগীর চিকিৎসায় একটি আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) করে দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই হাসপাতালের বেড বাড়ানো দরকার এবং সেই সুযোগ আছে।

তিনি শিশু হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়ে ২ হাজার করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘তাহলে মানুষ কিছু স্বস্তি পাবে।’

এ সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে শিশু হাসপাতালের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান।

উত্তর আমেরিকায় ওপেনিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সিনেমাগুলোর মধ্যে আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়েছে তানিম নূরের সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশক প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো জানিয়েছে, প্রথম তিন দিনে উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির মোট আয় (গ্রস) হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ডলার। এর আগে প্রথম তিন দিনে ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার আয় করে তালিকার শীর্ষে ছিল ‘হাওয়া’।

এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পরিচালক তানিম নূর। তিনি বলেন, ‘উত্তর আমেরিকার দর্শকদের এই সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। সিনেমার সব শিল্পী ও কুশলীকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষভাবে স্মরণ করছি হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে, তিনিই আসল জাদুকর।’

সিনামাটির পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব বলেন, গত তিন দিনে কানাডা ও আমেরিকার বক্স অফিসে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ যা করেছে তা অবিশ্বাস্য।

সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, শ্যামল মওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর ও আরেফিন জিলানীসহ একঝাঁক তারকা।

২৭৪ তালেবান সেনা নিহতের দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৭৪ তালেবান সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। অভিযানে আহত হয়েছে আরও ৪ শতাধিক তালেবান।

আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এ দাবি করেন বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর মহাপরিচালক জানিয়েছেন, ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ নামে চালানো অভিযানে এ পর্যন্ত আফগানিস্তানের ২৭৪ জন তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে চারশ জনের বেশি।’

সংঘাতে এ পর্যন্ত ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানান তিনি। 

তিনি বলেন, ‘কাবুল, কান্দাহার, পাকতিয়া, নানগারহার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে মোট ২২টি স্থান হামলার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত ৭৩টি চৌকি, অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও কামান ধ্বংস করা হয়েছে। ১৭টি চৌকি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পাকিস্তান।’

তার ভাষ্য, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল তালেবান বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর, ব্রিগেড ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর, সেক্টর কমান্ড, গোলাবারুদ ডিপো এবং জঙ্গি ও তাদের সহযোগীদের আশ্রয়স্থল।

বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ অস্বীকার করে ডিজি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো সম্পূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু। বেসামরিক কোনো ক্ষয়ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।’

ভুয়া ব্যবসার আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা: মঞ্জুরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

রাজধানী ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ব্যবসা, জাল ওয়ার্ক অর্ডার, চেক ডিজঅনার এবং সংঘবদ্ধ আর্থিক প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার কথিত সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, “রাইন্ড্রপ এন্টারপ্রাইজ (Raindrop Enterprise)” নামের প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখে সাধারণ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং পরিচিত মহলের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরুল ইসলাম নিজেকে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের ভুয়া বা সন্দেহজনক ওয়ার্ক অর্ডার প্রদর্শন করতেন। কখনো গাড়ি কোম্পানি, কখনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কখনো বড় কর্পোরেট সাপ্লাইয়ের গল্প দেখিয়ে কোটি টাকার বিনিয়োগ সংগ্রহ করা হতো। শুরুতে অল্প অঙ্কের লাভ ও টাকা ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হতো, পরে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর শুরু হতো সময়ক্ষেপণ, মিথ্যা আশ্বাস ও গা-ঢাকা দেওয়ার কৌশল।

অভিযোগ উঠেছে, মঞ্জুর একা নন; তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র পরিচালনা করছেন, যেখানে তার বিভিন্ন বন্ধু, পরিচিত ব্যবসায়ী এবং পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চক্রের মূল কাজই হচ্ছে বিশ্বাস অর্জন করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ সংগ্রহ করা এবং পরে তা আত্মসাৎ করা।

সূত্র বলছে, মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। চেক ডিজঅনার, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ছয়টিরও বেশি মামলা চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটিরও বেশি টাকার প্রতারণার অভিযোগ বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা ফেরতের চাপ বাড়লে মঞ্জুর ও তার ঘনিষ্ঠরা বিভিন্ন সময় জমি, নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট, ভবিষ্যৎ সম্পত্তি বিক্রি অথবা নতুন বিনিয়োগ আসার গল্প বলে সময় নিতেন। বিশেষ করে তার শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে বহু ভুক্তভোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরের শাশুড়ি রিজিয়া হোসেন এর নামও একাধিক আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রির কথা বলে ভুক্তভোগীদের আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো কার্যকর সম্পত্তি হস্তান্তর বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

বিভিন্ন ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, “এটি কোনো একক প্রতারণা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংগঠিত আর্থিক প্রতারণা চক্র, যারা সম্পর্ক, পরিচয়, সামাজিক অবস্থান এবং ভুয়া ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে ভুয়া ব্যবসায়িক উপস্থাপন, চেক ডিজঅনার, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং সংঘবদ্ধ আর্থিক জালিয়াতির মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা হবে

বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: রুমিন

বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিক কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় তার সমর্থকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, বারোটা এক মিনিটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমারই প্রথম ফুল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির কিছু লোক সেখানে রীতিমতো হামলা চালায়। আমাকে এক পাশে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। বিএনপি যদি তার নেতাকর্মীদের লোকাল লেভেলে এখনই কন্ট্রোল না করে, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপির উপজেলা শাখার প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি সেখানে ছিলেন না। এলাকায় গুন্ডা হিসেবে পরিচিত একজনের নেতৃত্বে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে হামলা চালায়।

হামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতেছি। তাদের মধ্যে পরাজয় মেনে নেওয়ার কষ্ট আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, পুলিশ চেষ্টা করেছে। কিন্তু সরকারি দলের নেতাকর্মীরা যখন ভয়াবহভাবে তাণ্ডব চালায়, পাঁচ থেকে ১০ জন পুলিশ সেটা কন্ট্রোল করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আমি মামলা করেছি। যদি এটা প্রাণনাশের কোনো চেষ্টা হয়ে থাকে, সঠিকভাবে তদন্ত করে বিচার হতে হবে। আর সরকার যদি এখানে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, সরকারকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে অধিক বরাদ্দ দেওয়া উচিত যে কারণে

কৃষিপণ্য বলতে ফসল চাষ, পশু ও পাখি পালন, মাছ উৎপাদন এবং বৃক্ষরোপণ থেকে প্রাপ্ত সব ধরনের উৎপাদনকে বোঝায়। কৃষির উপখাতগুলোকে সাধারণত ফসল, প্রাণিসম্পদ, বন ও মৎস্য—এই চার ভাগে বিভক্ত করা হয়। এসব উপখাত থেকে অর্জিত মোট দেশজ উৎপাদনকে (জিডিপি) কৃষি জিডিপি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৫০ শতাংশই ছিল কৃষি জিডিপির অবদান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ শতাংশে। কৃষির প্রতিটি উপখাতেও একই ধরনের আনুপাতিক হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে ফসল, প্রাণিসম্পদ, বন ও মৎস্য খাতের অবদান যথাক্রমে জিডিপির ৫ দশমিক ০৬, ১ দশমিক ৮১, ১ দশমিক ৭২ ও ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

শিল্প ও সেবা খাতের উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে মোট জিডিপিতে কৃষি ও এর উপখাতগুলোর অংশ কমে গেছে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে মোট কৃষি উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আত্মনির্ভরতার পথে কৃষি খাত উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ১৯৭২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদন পাঁচ গুণ বেড়েছে। গত ৫২ বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ ছিল। এর ফলে উৎপাদন ১৯৭৩ সালের ১১০ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৫০৩ দশমিক ৫৪ লাখ টনে পৌঁছেছে।

আর অন্যান্য ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। দেশীয় উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, ডাল ও মসলা আমদানির ওপর দেশকে নির্ভর করতে হয়। দুধ, মাংস, ডিম ও মাছের একক মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্যে প্রবেশাধিকার নেই।

জলবায়ুগত দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত দেশ। বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০ দশমিক ৫ শতাংশ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি বহন করতে হচ্ছে এ দেশকেই। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষভাগ ও মে মাসের শুরুতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যায় হাজারো হেক্টর বোরো ধানখেত তলিয়ে গেছে, যা ফসল কাটার মৌসুমে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়েছে। 
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুধু নেত্রকোণাতেই ১৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জেও হাজারো হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের বার্ষিক আয়ের একমাত্র উৎস বোরো ফসল কাটার ঠিক আগে পানিতে তলিয়ে গেছে।

২০২৬ সালের ২ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক কৃষক তার ছয় বিঘা বোরো ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে মৃত্যুবরণ করেন। জ্বালানি, সার, কীটনাশক ও শ্রমের মতো উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের কৃষি খাত বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে, খামার পর্যায়ে ফসলের বাজারদর কমে যাওয়ায় কৃষকের লাভজনকতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বোরো ধানের মতো প্রধান ফসলের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অনেক কৃষক সেচের পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছেন না। এর ফলে কৃষি খামারের মুনাফা এবং কৃষকের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জের কৃষক আলী আকবর বলেন, ‘ফসল উৎপাদন করে আমাদের কোনো লাভ হচ্ছে না। কৃষিকাজে কঠোর পরিশ্রম করেও কোনো রকমে টিকে আছি।’ (প্রথম আলো, ২৫ এপ্রিল ২০২৬)

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ফসলের কম বাজারদর অনেক কৃষককে ঋণের চক্রে ফেলে দিয়েছে এবং তাদের অনেককে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য করছে। এমনকি কিছু কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। 
আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা দরিদ্র ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো খাদ্য মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার, যা দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে এই হ্রাস সম্ভব হয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রধান শর্ত হলো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি উৎপাদন বাড়লেও এর প্রবৃদ্ধির হার অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বর্তমানে কৃষি খাতের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি খুবই কম।

২০০৯-১০ অর্থবছরে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে প্রায় ২ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে।

এমনকি আগের বছরের ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায়ও এটি একটি নিম্নগতি নির্দেশ করে। দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ শ্রমশক্তি কৃষি খাতে নিয়োজিত থাকলেও তুলনামূলক কম বাজেট বরাদ্দের কারণে এ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

জাতীয় বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) কৃষি খাতের অংশীদারত্ব সাধারণভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। কৃষি ভর্তুকি মূলত সার, সেচের বিদ্যুৎ এবং কৃষিযন্ত্রের ওপর কেন্দ্রীভূত।

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সার ও কৃষিযন্ত্র আমদানি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, ফলে কৃষি খাতে আরও বেশি ভর্তুকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বাজেট ও ভর্তুকি বরাদ্দ স্থবির রয়েছে এবং কৃষি প্রবৃদ্ধিকে প্রয়োজনীয় মাত্রায় উন্নীত করা ও খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার ৪ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এর জন্য কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন, কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।

২০১১-১২ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ দশমিক ৭৮ গুণ বেড়েছে। বিপরীতে কৃষি বাজেট বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৭৮ গুণ।

২০১১-১২ অর্থবছরে মোট বাজেটের মধ্যে কৃষি বাজেটের অংশ ছিল ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে কৃষি ভর্তুকির অংশও ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, সামগ্রিক বাজেট বৃদ্ধির তুলনায় কৃষি বাজেট ও ভর্তুকি আনুপাতিক হারে বাড়েনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বাজেটের পাশাপাশি কৃষি বাজেট ও ভর্তুকির পরিমাণও কমানো হয়েছে।

গত ১৬ বছরে কৃষিঋণের পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে এবং এর গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ। তবে এখনও এটি মাত্র ২২ শতাংশ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছে। মোট প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের মধ্যে কৃষিঋণের অংশ মাত্র প্রায় ২ শতাংশ।

আমদানি-প্রতিস্থাপনকারী ফসল (ডাল, তৈলবীজ, ভুট্টা ও মসলা) উৎপাদনের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা থাকলেও কৃষকেরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ব্যাংক শাখাগুলো প্রকৃত প্রয়োজনীয় কৃষকদের এই ঋণ দিতে অনাগ্রহী। 
কৃষিঋণ পরিশোধের হার অত্যন্ত সন্তোষজনক, যা অন্যান্য খাতের তুলনায় অনেক ভালো। অনেক সময় ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বিতরণের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে যায়। এটি প্রমাণ করে যে কৃষকেরা ঋণ পরিশোধের ব্যাপক চাপের মধ্যে থাকেন এবং কখনো কখনো চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নেন।

উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় বোরো ধানের ক্ষতি এবং বহিরাগত ধাক্কার কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে গুরুতর খাদ্যনিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য খাদ্যনিরাপত্তা, আধুনিকায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনকে কেন্দ্র করে উচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

বৃহত্তর কৃষি খাতের জন্য মোট ৯৪ হাজার কোটি টাকা (মোট বাজেটের ১০ শতাংশ) বরাদ্দ রেখে বাজেট প্রণয়ন করা উচিত। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে (কৃষি উৎপাদনের মূল্যের ১০ শতাংশ) বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। আগামী বাজেটে কৃষকদের সহায়তার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর কমানো, শুল্ক অব্যাহতি এবং অন্যান্য সহায়ক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

টেকসই কৃষি প্রবৃদ্ধি এবং উন্নত খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যান্ত্রিকীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন বৈচিত্র্য, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।

উৎপাদন ব্যয় পর্যবেক্ষণ, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতার মাত্রা মূল্যায়ন, কৃষিপণ্যের কর ও শুল্কহার নির্ধারণ এবং কৃষকদের জন্য সহায়ক মূল্য সুপারিশের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন কৃষি মূল্য কমিশন গঠন করা উচিত।

ড. জাহাঙ্গীর আলম: কৃষি অর্থনীতিবিদ

যে গ্রীষ্মে বিশ্ব চিনেছিল হামেস রদ্রিগেজকে

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ এক স্মরণীয় টুর্নামেন্ট। সাম্বার দেশে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে জন্ম নেওয়া অজস্র গল্পের মধ্যে অন্যতম সেরা গল্পটি ছিল এক ২২ বছর বয়সী কলম্বিয়ানের অভাবনীয় উত্থানের। ১৯৯০ সালের আসরের পর বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বলার মতো কোনো সাফল্য ছিল না, তাই এই টুর্নামেন্ট ঘিরে তাদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ও গোলমেশিন রাদামেল ফ্যালকাও চোটে ছিটকে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন ফিকে হতে বসেছিল। তার শূন্যস্থান পূরণের কঠিন দায়িত্ব এসে পড়ে এক তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের কাঁধে।

ঠিক তখনই যেন এক জাদুকর হিসেবে আবির্ভূত হলেন তিনি। দুর্দান্ত বাম পা আর গ্যালারি মাতানো নিষ্পাপ হাসিতে ভর করে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি হয়ে উঠলেন গোটা বিশ্বের নতুন সুপারস্টার। তার নাম হামেস রদ্রিগেজ। ২০১৪ সালের সেই গ্রীষ্মকালটি তার জন্য শুধু একটি সাধারণ টুর্নামেন্ট ছিল না, বরং তা ছিল বিশ্ব ফুটবলে তার শক্ত খুঁটি গেঁড়ে বিজয়কেতন ওড়ানোর। কলম্বিয়ার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিতে তিনি যে সৃজনশীলতা ও জাদুর ছোঁয়া দেখিয়েছিলেন, তা ভক্ত-সমর্থকদের পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।

গ্রুপ পর্বে গ্রিস, আইভরিকোস্ট ও জাপানের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই গোল করে তিনি জানান দিয়েছিলেন নিজের আগমনী বার্তা। জাপানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ৪৫ মিনিট খেলে একটি দৃষ্টিনন্দন গোল এবং দুটি চমৎকার অ্যাসিস্ট করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি সাধারণ কেউ নন। শুধু বল পায়ে নৈপুণ্যই নয়, প্রতিটি গোলের পর সতীর্থদের নিয়ে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে তার সেই আইকনিক সালসা নাচ যেন হয়ে উঠেছিল ব্রাজিল বিশ্বকাপের অঘোষিত থিম সং।

গ্রুপ পর্বেই হামেসের এমন অনবদ্য পারফরম্যান্স এবং মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণের অসাধারণ ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন সবাই। কলম্বিয়ার তৎকালীন আর্জেন্টাইন কোচ হোসে পেকারম্যান বুঝতে পেরেছিলেন, তার হাতে এক অমূল্য রত্ন রয়েছে। এই প্রিয় শিষ্য সম্পর্কে তিনি গর্বের সাথে বলেছিলেন, ‘হামেসের প্রতিভা নিয়ে আমার মনে কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না। বিশ্বমঞ্চে নিজেকে বিশ্বমানের খেলোয়াড় হিসেবে প্রমাণ করার সব উপাদান ওর মধ্যে রয়েছে। ও এমন একজন খেলোয়াড়, যে একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।’

তবে হামেস নিজের এই উল্কাসম উত্থানকে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে যান ২৮ জুন। রিও দি জানেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সেদিন কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী উরুগুয়ে। প্রথমার্ধের ২৮তম মিনিটের মাথায় সতীর্থ মিডফিল্ডার আবেল আগিলার হেডে বল ভাসিয়ে দেন ডি-বক্সের ঠিক বাইরে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা হামেসের দিকে। এরপর যা হলো, তা যেন ক্যানভাসে আঁকা এক নিখুঁত শিল্পকর্ম।

বলটি আসার আগেই হামেস একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিলেন উরুগুইয়ান গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার অবস্থান। এরপর বুক দিয়ে ভাসমান বলটি আলতো করে রিসিভ করে, মাটিতে পড়ার আগেই অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় শরীরটাকে ঘুরিয়ে নিলেন। তার বাঁ পায়ের জোরালো ভলি মুসলেরার হাতের ডগা ছুঁয়ে ক্রসবারের ভেতরের দিকে লেগে আছড়ে পড়ল জালে। পদার্থবিদ্যার সূত্রকে যেন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে করা সেই গোলটি কেবল ২০১৪ বিশ্বকাপের সেরা গোলই হয়নি, জিতেছিল সে বছরের ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ডও।

এই জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন উরুগুয়ের কিংবদন্তি কোচ অস্কার তাবারেজ। ম্যাচ শেষে অকপটে তিনি স্বীকার করে নিয়েছিলেন হামেসের শ্রেষ্ঠত্ব। তিনি বলেছিলেন, ‘ফুটবলে কিছু খেলোয়াড় থাকেন, যারা জন্মগতভাবেই বিশেষ প্রতিভার অধিকারী। দিয়েগো ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি বা লুইস সুয়ারেজ— ওরা এমন কিছু করে, যা সাধারণের কল্পনাতীত। হামেস রদ্রিগেজ ঠিক সেই ঘরানারই একজন খেলোয়াড়। আমার মনে হয়, ও-ই এই বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার।’

সেদিন উরুগুয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে কলম্বিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন হামেস। এরপর শেষ আটে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করার সময় তার ডান হাতে এসে বসা সেই বিশাল সবুজ ঘাসফড়িংয়ের দৃশ্যটি আজও আইকনিক। ম্যাচটিতে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বিদায়বেলায় প্রতিপক্ষ ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দাভিদ লুইজ যেভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে পুরো স্টেডিয়ামকে হাততালি দেওয়ার ইশারা করেছিলেন, তা ছিল এই তরুণের অবিশ্বাস্য উত্থানের এক অনন্য স্বীকৃতি।

মাত্র ৫ ম্যাচ খেলে ৬টি গোল, সাথে ২টি অ্যাসিস্ট— এই অসামান্য পরিসংখ্যান নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ‘গোল্ডেন বুট’ জয় করেন হামেস। এই একটি টুর্নামেন্ট তাকে রাতারাতি বৈশ্বিক সুপারস্টারে পরিণত করে। বিশ্বকাপের ঠিক পরপরই রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তাকে দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফ্রেঞ্চ ক্লাব এএস মোনাকো থেকে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল চুক্তিতে স্বপ্নের ক্লাবে যোগ দেন হামেস। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছিল প্রায় ৪৫ হাজার দর্শক।

পরবর্তী সময়ে ক্লাব ক্যারিয়ারে চোট আর ফর্মহীনতার কারণে হয়তো সেই শীর্ষস্থান তিনি ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে পারেননি। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে বায়ার্ন মিউনিখ কিংবা এভারটন হয়ে তার ক্লাব ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন এসেছে, চেনা সেই ছন্দের দেখাও সব সময় মেলেনি। তবে ২০১৪ সালের সেই গ্রীষ্মে হামেস নামের যে নক্ষত্রকে বিশ্ব ফুটবল আপন করে নিয়েছিল, তা কোনো পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা সম্ভব নয়। ঐ সময়টুকু তার ছিল, আছে ও ইতিহাসের পাতায় এক মোহনীয় অধ্যায় হিসেবে চিরকাল অমলিন থাকবে।