28 C
Dhaka
Home Blog

আগের তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলোই সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। 

আজ বুধবার বনানী কবরস্থানে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুরো রিপোর্টটি না দেখে এর আগে দেওয়া তার একটি বক্তব্য তিনি সংশোধন করতে চান।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তের জন্য সরকার একটি নতুন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আজ তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এ (অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া) রিপোর্টটি না পড়েই আমি কিছু কথা বলেছি, যেগুলো আজকে সংশোধন করতে চাই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। সেদিন কথা বলার প্রয়োজনে তিনি সেই প্রতিবেদনের ওপর কেবল চোখ বুলিয়েছিলেন। 

ওই প্রতিবেদনে প্রায় ৭০ জনের বিষয়ে সুপারিশ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপারিশের সঙ্গে যুক্ত অনেক বিষয় এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমরা এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, সরকার শহীদ পরিবার এবং জাতিকে আশ্বস্ত করতে চায় যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। যাতে এই জাতীয় কোনো ঘটনা আমাদেরকে জাতীয় জীবনে আর না দেখতে হয়। 

তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।’

তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাবেন।

তবে দলের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি ও শক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আমরা তদন্ত দাবি করছি।’

তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার, কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। এই দিনটিকে আমরা সবচেয়ে কলঙ্কজনক এ জন্য মনে করি, এই দিনে চক্রান্ত হয়েছিল, প্রচেষ্টা হয়েছিল বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার। চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।’

‘আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বিগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহত ও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

 

ফুলবাড়ীর যে শিক্ষা বিএনপির মনে রাখা উচিত

সম্প্রতি আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘এখন আমরা ফুলবাড়ী এবং অন্যান্য স্থানে ওপেন-পিট কয়লা উত্তোলনের দিকে যাচ্ছি। কারণ আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।’

অথচ ২০ বছর আগে ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ফুলবাড়ী উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৬ দফা চুক্তি করেছিল। সেখানে তারা সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করেছিলো—ফুলবাড়ীসহ বাংলাদেশের আর কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হবে না।

বর্তমান বিএনপি সরকার যদি মনে করে জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে, তাহলে সেটা হবে মারাত্মক ভুল ও বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত। কেন ভুল, তা বুঝতে হলে ২০০৬ সালে ফুলবাড়ী আন্দোলনের কথা স্মরণ করা দরকার।

কেন ফুলবাড়ীর মানুষ উন্মুক্ত খননের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিএইচপি মিনারেলস ফুলবাড়ীর কয়লাখনিটি আবিষ্কার করে। বিশ্বের অন্যতম বড় খনন কোম্পানি হিসেবে তারা ওই এলাকার ভূতাত্ত্বিক জটিলতা, কৃষিনির্ভরতা, বন্যাপ্রবণতা, নদী-খাল এবং ঘনবসতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়।

কোম্পানিটি বুঝতে পেরেছিল, এখানে কয়লা উত্তোলন করলে বড় ধরনের পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই তারা খননকাজ শুরু করেনি। পরে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৯৯৮ সালে তারা খনি খননের অভিজ্ঞতা না থাকা নবগঠিত ‘এশিয়া এনার্জি’র কাছে লাইসেন্স হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ত্যাগ করে।

এশিয়া এনার্জি (বর্তমান জিসিএম রিসোর্সেস) ৬৬ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার জমি নিয়ে একটি বড় উন্মুক্ত কয়লাখনি করার পরিকল্পনা করে। কোম্পানির পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সালে তারা কাজ শুরু করে এবং ২০০৫ সালে তা আরও জোরদার করে। ফুলবাড়ী, বিরামপুর, পার্বতীপুর ও নবাবগঞ্জ এলাকায় জনসমর্থন আদায়ের জন্য তারা প্রচারও চালায়।

কিন্তু স্থানীয় মানুষ প্রকল্পটি মেনে নেয়নি। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ধ্বংস হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশকে মাত্র ৬ শতাংশ রয়্যালটি দিয়ে কয়লা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাতেও তারা আপত্তি জানায়।

জীবিকা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশ—সব দিক থেকেই ফুলবাড়ীর মানুষের কাছে প্রকল্পটি সুযোগের চেয়ে বড় হুমকি মনে হয়েছিল।

শুরু হলো আন্দোলন 

২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ‘ফুলবাড়ী শহর রক্ষা কমিটি’ গঠন করেন। পরে আশপাশের গ্রামগুলোও এতে যুক্ত হলে সংগঠনটির নাম হয় ‘ফুলবাড়ী রক্ষা কমিটি’। তারা স্মারকলিপি, মিছিল, অনশন, হরতালসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে।

এক পর্যায়ে স্থানীয় জনগণের আগ্রহে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, গঠিত হয় জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখা। এর ফলে ফুলবাড়ী উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলন জাতীয় মাত্রা পায়।

জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ২০০৬ সালের মার্চে ঢাকা থেকে ফুলবাড়ী পর্যন্ত রোডমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের সমর্থন আদায়ে এশিয়া এনার্জি প্রচার, তদবিরসহ নানা তৎপরতা চালাতে থাকে। কিন্তু ফুলবাড়ীর মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ও কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে অনড় থাকেন।

২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ‘উন্মুক্ত না, রপ্তানি না, বিদেশি না’ স্লোগানে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে এশিয়া এনার্জির কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রায় এক লক্ষ মানুষ। তখন কোম্পানিটিকে ফুলবাড়ীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এক দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশের শেষদিকে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। এতে নিহত হন আমিন, তরিকুল ও সালেকিন, যারা সবাই ছিলেন কিশোর ও তরুণ।

এই হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ে। ফুলবাড়ীতে অনির্দিষ্টকালের হরতাল শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায়ও প্রতিবাদ ও সংহতি আন্দোলন জোরদার হয়।

একপর্যায়ে ফুলবাড়ী ও আশপাশের এলাকা কার্যত আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ৩০ আগস্ট সরকার বাধ্য হয় আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবি মেনে নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে।

সরকার তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ফুলবাড়ীসহ বাংলাদেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি করা হবে না। এশিয়া এনার্জির সঙ্গে করা সব চুক্তি বাতিল করা হবে এবং কোম্পানিটিকে এলাকা ছেড়ে যেতে হবে।

ফুলবাড়ী বাংলাদেশকে কী থেকে বাঁচিয়েছিল 

ফুলবাড়ীর আন্দোলন শুধু একটা এলাকার মানুষকে রক্ষা করেছিল—বিষয়টি এমন নয়। এর ফলে গোটা উত্তরবঙ্গই ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।

প্রথম বড় সমস্যা ভূগর্ভস্থ পানি। ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়ার কয়লার স্তরের ওপর রয়েছে ৮০ থেকে ১২০ মিটার পুরু ডুপিটিলা পানির স্তর। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে হলে কয়লার উপরের স্তরকে পানি শূন্য করতে হতো।

২০০৬ সালে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সরকার গঠিত একটি কমিটি আশঙ্কা করেছিল, খনির আশপাশের ৩১৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যেতে পারে।

২০১২ সালে সাবেক পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন মোশাররফ কমিটিও সতর্ক করেছিল। তাদের মতে, খনির ২৭ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ পর্যন্ত এলাকায় নলকূপ, অগভীর পাম্প ও গভীর নলকূপ থেকে কৃষি ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের ভূগর্ভের গঠন বিশ্বের অনেক কয়লা উৎপাদনকারী এলাকার চেয়ে আলাদা। অনেক দেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কয়লার স্তরের নিচে থাকে। তাই সেখানে কয়লা তুলতে ভূগর্ভস্থ পানি সরানোর প্রয়োজন হয় না।

কিন্তু বাংলাদেশে পানির স্তর কয়লার স্তরের ওপরে। এ কারণেই ফুলবাড়ীর পরিস্থিতি আলাদা। মোশাররফ কমিটি ভারতের নেইভ্যালি লিগনাইট মাইনের উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিল। সেখানে পানির স্তর কয়লার স্তরের নিচে। ফলে ফুলবাড়ীর মতো পানি ব্যবস্থাপনার জটিলতা সেখানে নেই।

দ্বিতীয় বড় সমস্যা মানুষের উচ্ছেদ। এশিয়া এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য অন্তত ৬৬ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ করতে হতো। এর মধ্যে খনির জন্য লাগত ৫৪ দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটার। এতে ১২ হাজার ৩১২টি পরিবার বা ৫৪ হাজার ৭৪ জন মানুষকে তাদের বসতভিটা ছাড়তে হতো।

তবে মোশাররফ কমিটির হিসাব ছিল আরও ভয়াবহ। তাদের মতে, প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

যদি প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হলে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে এত মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে পুনর্বাসন করা আরও কঠিন।

তৃতীয় সমস্যা কৃষিজমি ও খাদ্যনিরাপত্তা। এশিয়া এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির মধ্যে ৪২ দশমিক ৩৪ বর্গকিলোমিটার ছিল কৃষিজমি।

কয়লা খনন শুরু হলে জমির উপরের উর্বর মাটি তুলে ফেলতে হবে। এতে বহু বছরের তৈরি মাটির উর্বরতা নষ্ট হবে। পাশাপাশি মাটি বা ওভার বার্ডেন রাখার জন্য জায়গা এবং জলাধারের জন্য আরও ২৬ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমি স্থায়ীভাবে হারিয়ে যাবে।

আয়তনের দিক থেকে এই জমি প্রায় পুরো দিনাজপুর শহরের সমান। নুরুল ইসলাম কমিটি এটিকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেছিল।

চতুর্থ সমস্যা কর্মসংস্থান। প্রায় ৬৭ বর্গকিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ করে বিপুলসংখ্যক কৃষক, বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীর জীবিকা নষ্ট হলেও প্রকল্পটিতে শুরুতে মাত্র প্রায় ২ হাজার ১০০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘমেয়াদে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ানোর কথা ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০-তে।

তার ওপর খনিতে কাজের জন্য বিশেষ ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন। ফলে যারা জমি ও জীবিকা হারাতেন, তাদের অনেকেই এসব চাকরির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতেন না।

পঞ্চম বড় সমস্যা পরিবেশ। কয়লাবাহী স্তরে ২ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত সালফার রয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় এর পরিমাণ ২০ শতাংশ পর্যন্ত। খনন করা হলে অ্যাসিড মাইন ড্রেনেজ তৈরি হতে পারে। এর ফলে তামা, সিসা ও পারদের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতু ভূগর্ভস্থ ও উপরিভাগের পানিতে মিশে পানি দূষিত করে ফেলতো।

নুরুল ইসলাম কমিটি বলেছিল, শক্তিশালী পরিবেশগত প্রতিষ্ঠান ও কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রও এই ধরনের দূষণ পুরোপুরি ঠেকাতে পারেনি। দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হাজার হাজার মাইল নদী অ্যাসিড মাইন ড্রেনেজের কারণে দূষিত হয়েছে।

আবার কেন ফুলবাড়ীর দিকে নজর?

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনন করলে বড় ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতি হতে পারে—এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। এ কারণে আবারও ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লাখনি করার চেষ্টা হলে স্থানীয় মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন, এমন সম্ভাবনাই বেশি। তারপরও সময় সময় ফুলবাড়ীতে খনি করার পক্ষে জনসমর্থন তৈরির চেষ্টা দেখা যায়।

তবে এবার যুক্তিটা বদলে গেছে। একসময় এশিয়া এনার্জি বলত, কয়লা রপ্তানি করে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে। এখন বলা হচ্ছে, দেশে কয়লা উত্তোলন করলে আমদানি করা কয়লার ওপর নির্ভরতা কমবে।

বাংলাদেশ যখন একের পর এক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করছিল, তখন আমদানি করা কয়লাকে সস্তা বিদ্যুতের উৎস হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। যদিও তখনই স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এখন আমদানি করা কয়লার ওপর সেই নির্ভরতাকেই দেশে কয়লা উত্তোলনের যুক্তি হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে।

অর্থাৎ যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য একসময় সস্তা আমদানি করা কয়লার কথা বলে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল, এখন সেই আমদানির খরচকেই দেশের ভেতরে কয়লা তুলে কৃষিজমি, পানির উৎস ও মানুষের জীবিকা ধ্বংস করার কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

সমালোচকেরা অনেক দিন ধরেই এই কৌশল নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, শুরুতে বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করে সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মুলা ঝোলানো হবে। পরে সেই কয়লা আমদানির বাড়তি খরচ দেখিয়ে দেশে কয়লা উত্তোলনের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন তারা।

বর্তমান সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের কথা বলছে। কিন্তু কয়লা খননের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে না। অথচ সরকারের নিয়োগ দেওয়া একাধিক বিশেষজ্ঞ কমিটি বহু আগেই এসব ঝুঁকির কথা জানিয়েছে।

কার স্বার্থে আবার উন্মুক্ত কয়লাখনি?

ফুলবাড়ীতে আবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খননের তৎপরতার পেছনে ব্যবসায়িক স্বার্থও স্পষ্ট। এশিয়া এনার্জি বা জিসিএম রিসোর্সেস ফুলবাড়ী প্রকল্পে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা রাখঢাক করছে না।

কোম্পানিটির খননকাজের কোনো আইনি অনুমোদন নেই। তাদের কাছে শুধু একটি মেয়াদোত্তীর্ণ অনুসন্ধান লাইসেন্স রয়েছে। তারপরও ফুলবাড়ী কয়লাখনিকে দেখিয়ে লন্ডনের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেট থেকে কোম্পানিটি কয়েক মিলিয়ন পাউন্ডের শেয়ার বিক্রি করেছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে ১৬ জানুয়ারি আরও এক মিলিয়ন পাউন্ড এবং ১১ ফেব্রুয়ারি ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড পুঁজি সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। শেয়ারহোল্ডারদের জানানো হয়, ফুলবাড়ী-সংক্রান্ত কার্যক্রমে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর জিসিএমের শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। কোম্পানিটিও সরকারের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

জিসিএম কয়লা উত্তোলনে সহযোগিতার জন্য চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানি পাওয়ার কনস্ট্রাকশান করপোরেশন অব চায়না লিমিটেডের (পাওয়ার চায়না) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক এবং এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইপিসি কন্ট্রাক্ট স্বাক্ষর করেছে।

পাওয়ার চায়নার বাংলাদেশের দুটি বেসরকারি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অংশীদারত্ব রয়েছে। এগুলো হলো বাঁশখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ৩৫০ মেগাওয়াটের বরিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। দুটি কেন্দ্রই ফুলবাড়ীর কয়লা কিনতে আগ্রহী।

এ ছাড়া সরকারকে অনুমোদন দিতে রাজি করানোর কাজে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট ডিজিআই ইনফ্রাটেক প্রাইভেট লিমিটেডকেও নিয়োগ করেছে জিসিএম। এসব যোগাযোগের মধ্য দিয়ে আবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খননের পেছনে করপোরেট স্বার্থের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে যদি বর্তমান বিএনপি সরকার এসব ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে আবারও বড় ভুল করার পথে এগোবে।

বাংলাদেশের বিকল্প আছে

বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের বিকল্প কখনোই ছিল না, এ কথা ঠিক নয়। দেশে যেসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, সেগুলো ইতোমধ্যেই পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর নানা ধরনের চাপ তৈরি করছে।

শুধু এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে তুলনামূলক কম দামে কয়লা সরবরাহ করার জন্য বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও পানির উৎস ধ্বংস করা কোনোভাবেই টেকসই জ্বালানি নীতি হতে পারে না।

বাংলাদেশের উচিত বরং দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়া এবং দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।

কয়লা ও এলএনজির পেছনে যত বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করা হবে এবং এসব বিকল্পকে যত বেশি অবহেলা করা হবে, চলমান জ্বালানি সংকট থেকে বেরিয়ে আসা তত কঠিন হবে।

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন। 

[email protected]

ছবিতে ছবিতে আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর জয়ের মুহূর্ত

বিদায়ের শঙ্কা আর অমরত্বের স্বপ্ন, দুটোর মাঝখানে ছিল মাত্র কয়েকটি মুহূর্ত। গ্যালারিজুড়ে তখন নিস্তব্ধতা। লিওনেল মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে প্রায় বিদায়ের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছিলেন মিসরের গোলরক্ষক। মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে হয়তো এভাবেই শেষ হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার পথচলা।

কিন্তু চ্যাম্পিয়নরা হার মানতে জানে না। অধিনায়কের হতাশাকে শক্তিতে রূপান্তর করে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে আর্জেন্টিনা। টানা তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে নাটকীয়ভাবে নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে আর্জেন্টিনার আধিপত্যের মাঝেও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ভয় ধরিয়ে দেয় মিসর।

পুরো ম্যাচের নাটকীয় কিছু মুহূর্ত তুলে ধরা হলো ডেইলিস্টারের পাঠকদের জন্য-

ছবি- রয়টার্স 

 

চেতনা বিক্রির ব্যবসা ভালো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাইয়ের চেতনা যারা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি ভবিষ্যতে দেখা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সংগঠন করে, রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য চেতনা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে। ইতিহাস কিন্তু তাই।’

‘যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করতো, তারা চেতনা বিক্রি করতে করতে আজকে দিল্লি যেয়ে বসে আছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে উৎখাত করেছে। সুতরাং চেতনা বিক্রির ব্যবসা ভালো নয়। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার উদ্দেশ্য ভালো নয়,’ যোগ করেন তিনি।

আজ শনিবার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই চব্বিশ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এর আয়োজন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংগঠন দুটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন আমরা কেউ ব্যবসা না করি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনাগতকালে, ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্মরা যেন দেখে স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদের পতন কীভাবে হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী-স্বৈরাচারী আচরণ যেন ভবিষ্যতের কোনো সরকার না করে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ভস্মের ওপরে দাঁড়িয়ে আমরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পেয়েছি, জনগণ দিয়েছে। সেই ভস্মের মধ্যে কিছু নেই! সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ফোকলা অবস্থা। ব্যাংকিং খাত লুটপাট হয়ে গেছে। ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। দাবি আমাদের অনেক, জাতির প্রত্যাশা অনেক, আকাশ ছোঁয়া কিন্তু আমাদেরকে বাস্তবতায় আসতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি কোথায়? আমাদের নেতা যে পরিকল্পনা করেছেন, আমরা যে বাজেট দিয়েছি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সেই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্যে কী আছে? এই সমস্ত সামাজিক নিরাপত্তা খাতগুলো আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে সমস্ত বিষয় সমাধান করতে চাই, সেই বিষয়গুলো যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই, তাহলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে।’

‘আমরা শুধু চাই চাই আর চাই করতে পারবো না। আমাদের পরিকল্পনা আছে, কিন্তু সেই আর্থিক সামর্থ্য অর্জন করার জন্য আমাদেরকে সময় দিতে হবে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নেতৃত্বের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ‘পর্দার আড়ালের কথা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার নেতা তারেক রহমান—দুইজনেই আমরা নির্বাসিত ছিলাম। আল্লাহর কী মহিমা! যদি আমরা নির্বাসিত না থাকতাম, হয়তো এই জুলাইয়ের মতো একটা অভ্যুত্থান সফলভাবে সমাপ্ত করা সম্ভব হতো না। এটাই হচ্ছে পর্দা অন্তরালের কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনোদিন আমরা ঘুমাইনি। ২৪টা ঘণ্টা সমন্বয় করে আমাদের নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্নভাবে সংগঠিত করে, এই জুলাই যোদ্ধাদের সম্মুখে রেখে অরাজনৈতিক পরিচয়ে এই আন্দোলনের একটা পর্যায় পর্যন্ত আমরা নিয়ে এসেছি।’

‘৩-৪ তারিখে আমরা যখন নৈতিক সমর্থন দেই, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে যেদিন আমরা ১৬ জুলাই পর্যন্ত পৌঁছালাম, সেদিন আমার নেতা বলেছেন—দফা এক, দাবি এক, স্বৈরাচারের পদত্যাগ। অন্য কোনোভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে না। আজকে যারা জুলাই যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দাবি করেন, তাদের অনেকেই সেদিন বলেছিল, আমাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি নাই। আমাদের দাবি বৈষম্যহীন এই ছাত্র আন্দোলনের দাবি, বৈষম্য দূর করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা জানি, স্বৈরাচারকে গদিতে রেখে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাদেরকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, কিন্তু তাদের সেই সাহস ছিল না। আমরা রাজনৈতিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে শত-সহস্র শহীদের রক্তের স্রোতের মধ্য দিয়ে আমরা এই জায়গায় এসেছি আজকে। এই বাংলাদেশ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। এই মানচিত্র রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা বিজয় অর্জন করেছি ৫ আগস্ট। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয় যদি বিভাজন করি, তাহলে সর্ববৃহৎ অংশটি থাকবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের-যুবদলের-বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের রিপোর্টে এক হাজার ৪০০ (প্রাণহানির) এর কথা বলা আছে, কিন্তু অফিশিয়ালি বিভিন্ন পত্রিকা ও জরিপে ৭০০ থেকে ৮০০ এর মতো খতিয়ান পাওয়া যায়। বাকিগুলো গেল কোথায়? কারণ শহীদের খতিয়ান হসপিটাল রক্ষা করতে পারে নাই। তাদের ডকুমেন্ট পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে দাফন করা হয়েছে যেন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে। আজকে স্বজনরা তার কবরের সন্ধান করে, আমরা দিতে পারি না। এ রকম একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরে, গণহত্যার পরে আজও পর্যন্ত সেই গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার কোনো রকমের অনুশোচনা নাই। তারা জুলাই যোদ্ধাদেরকে অপরাধী হিসেবে তকমা দিচ্ছে। বাংলাদেশের এই গণঅভ্যুত্থানকে তারা একটা জঙ্গি তকমা দিচ্ছে। বাংলাদেশে নাকি জঙ্গিবাদের মধ্য দিয়ে তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই।’

‘তাদের মধ্যে অনুশোচনাও নেই, দোষ স্বীকারের সেই অবস্থাও তাদের নেই। সেই ইতিহাসই তাদের নেই। তারা উল্টো বিদেশে বসে বাংলাদেশে এখন নাকি গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিপাত হয়েছে, নির্মূল হয়েছে। দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। সেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেছি আমরা। আপনারা দাবি করেছেন, তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ খুব শিগগির রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে,’ যোগ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইন সংশোধন করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আছে, আইসিটি অ্যাক্টে আছে, রাজনৈতিক দলের-সংগঠনের বিচার করা যাবে। সুতরাং অপেক্ষা করুন।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘শফিউল আলম শফী আমার প্রতিবেশী, আমার গ্রামের…তার সন্তান শহীদ ওয়াসিম আকরাম। তাকে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ বলা হলেও যদি সময়ের দিক বিবেচনা করা হয়, আবু সাঈদের সাময়িক সময়ে সে শাহাদত বরণ করেছে।’

শিলংয়ে দেখা করার স্মৃতিচারণ করেন সালাহউদ্দিন।

সামাজিকমাধ্যমে মৃত্যুর গুজব, শক্তি কাপুর বললেন ‘আমি সুস্থ আছি’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শক্তি কাপুরের মৃত্যুর গুজব ছড়ায়। পরে অভিনেতা নিজেই এক ভিডিও বার্তায় জানান, ‘আমি পুরোপুরি সুস্থ আছি, ভালো আছি’।

আজ শুক্রবার বলিউড লাইফের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ভিডিওতে তিনি ভুয়া খবর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এ ধরনের গুজব দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ছড়ানো উচিত নয়।

এ ঘটনাকে তিনি ‘বিরক্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যারা এই ভুয়া খবর ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

ভিডিওতে শক্তি কাপুর বলেন, ‘হ্যালো সবাই, আমার মৃত্যুর খবর পুরোপুরি ভুয়া। আমি সুস্থ আছি, ভালো আছি। দয়া করে এসব খবরে পাত্তা দেবেন না। আমি এ ব্যাপারে অভিযোগ করব। এটা মোটেও ভালো কাজ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাইবার অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছি, কারণ এ ধরনের কাজ একদমই ঠিক নয়।’

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে বাবা শক্তি কাপুরের সঙ্গে দেখা যায়।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রদ্ধা কাপুর তার বাবাকে গাড়িতে উঠতে সাহায্য করছেন। দুজনের মুখেই মাস্ক ছিল।

‘কখন যে ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়বে কেউ বলতে পারে না’, মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্কে বাংলাদেশিরা

ঘড়িতে তখন সকাল ৮টা। আগের দিন তেহরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওমর ফারুক আরব আমিরাতের শারজাহ সীমান্তের কাছে দুবাইয়ের আল কুসাইসের আকাশে দেখতে পান, কিছু একটা উড়ে আসছে। অন্য অনেকের মতো তিনিও মোবাইল দিয়ে ভিডিও করতে শুরু করেন।

‘মুহূর্তেই বুঝতে পারি এটা ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল)। দূরে যাচ্ছে না, আমাদের কাছেই আসছে। তখন সবাই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করি। কয়েক কিলোমিটার দূরে এসে সেটা পড়ে। বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়তে দেখি,’ কথাগুলো একটানে বললেও ফারুকের কণ্ঠজুড়ে আতঙ্ক।

উন্নত জীবনের আশায় প্রায় তিন বছর আগে নরসিংদীর পলাশ থেকে আমিরাতে পাড়ি জমান ফারুক। দুবাইয়ের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গাড়িচালক হিসেবে কাজ নেন।

বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফারুকের সঙ্গে কথা হয় দ্য ডেইলি স্টারের। তখনো তার ভেতর আতঙ্ক।

২ মার্চের সেই হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ক্যাম্পের কাছেই এই ঘটনা ঘটে।’

২৮ ফেব্রুয়ারি পারস্য উপসাগরীয় দেশ ইরানে দফায় দফায় তীব্র হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন’ হামলা চালায়।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে দফা দফায় এসব হামলা চালায়। তাদের দাবি, ২৭টি মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলের তেল নফ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একই শহরের একটি বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে।

এই হামলা-পাল্টা হামলা বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সীমিত থাকেনি।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। এরপর লেবাননে পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল।

একটু ভালো থাকার আশায় যারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছেন, তাদের সবার পরিস্থিতি অনেকটাই ফারুকের মতো। ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নন। প্রতি মুহূর্ত কাটছে ‘মৃত্যুভয়’ নিয়ে। কখন কোথায় হামলা হবে কেউ জানে না।

‘এখনো আতঙ্ক নিয়ে বের হতে হচ্ছে,’ জানিয়ে ফারুক আরও বলেন, ‘দেশে ফিরতে চাই। ছুটি চেয়েছি। এখান থেকে যদি ছুটি দেয়, আর যদি প্লেনে যাওয়ার সুযোগ পাই, দেশে চলে যাব।’

বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিক ফারুকের সঙ্গে কথা বলার পর কথা হয় এক ভিনদেশি শ্রমিকের সঙ্গেও।

গত এক দশক ধরে দুবাইয়ে বাস করছেন ফিলিপাইনের নাগরিক নোভি। দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহতে এক শপিংমলে তিনি কাজ করেন, থাকেন আল সাতওয়া এলাকায়।

নোভি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত ১ মার্চ রাতে তিনি যখন শপিংমলে কাজ করছিলেন, তখন বিকট শব্দ শুনতে পান। ইসরায়েল-ইরান হামলা-পাল্টা হামলার কথা তিনি আগের দিনই শুনেছিলেন।

‘হঠাৎ এমন শব্দে আমরা সবাই ভীত হয়ে পড়ি। কর্তৃপক্ষ শপিংমল বন্ধ করে দেয়। বের হয়ে জানতে পারি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এরপর বাসায় চলে যাই।’

আরও বলেন, ‘আমরা কেবল যুদ্ধ থামার জন্য দোয়া করতে পারি।’

কিন্তু, এই যুদ্ধ সহসা থামার বড় লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরানে এই হামলায় খামেনিসহ তাদের শীর্ষ নেতারা কেবল নন, নিহত হয়েছে স্কুলে থাকা কয়েকশ শিক্ষার্থীও। প্রতিশোধ নিতে ইরান যখন মরিয়া হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা যায়, ইরান যদি প্রতিশোধ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি দিয়ে হামলা করবে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। এমনকি, তিনি এটাও বলেছেন যে ইরানে হামলা ৪ সপ্তাহ চলতে পারে

বুধবারও দুবাইয়ের পরিস্থিতি থমথমে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান মো. রশিদ। নোয়াখালীর এই বাসিন্দা ব্যবসা করেন সেখানে।

তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চার বছর ধরে দুবাই থাকি। এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি।’

‘যে শহর ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকে, সে শহরে গত কয়েক দিন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে না,’ বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

১ মার্চ রাতে বেশ কয়েকবার বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন জানিয়ে রশিদ আরও বলেন, ‘তখনো বুঝতে পারিনি কী হচ্ছে। পরে জানলাম, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।’

হবিগঞ্জের বাসিন্দা পারভেজ আহমেদ প্রায় ১১ বছর বাহরাইনের রাজধানী মানামায় থাকেন। সেখানেই তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মানামা থেকে একটু দূরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। কয়েকটি ভবনে আঘাত করেছে। দূরে ধোঁয়া দেখেছি।’

নিয়মিত হামলার কারণে গত কয়েক রাত ঘুমাতে পারেননি বলেও জানান পারভেজ। আরও জানান, প্রথম দিন ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচণ্ড শব্দ শুনেছিলেন। সেই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সাইরেন বেজেছে। প্রতি রাতেই ১০-১২ বার সাইরেন বেজে ওঠে।

‘তবে প্রথম দিনের তুলনায় সাইরেনের শব্দ কমেছে। এখনো দোকান খোলা রেখেছি,’ বলেন তিনি।

নাটোরের বড় হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদ হোসেন ১৫ মাস আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যান। চাকরি করেন আল খারিজ এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রিয়াদের মানুষ আতঙ্কিত। কখন যে ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে, সারাক্ষণ সেই আশঙ্কা।’

‘দোয়া করি যুদ্ধ যেন তাড়াতাড়ি থেমে যায়, পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক হয়। এখনো দেশে ফেরার কথা চিন্তা করিনি। ফ্লাইটও বন্ধ। চাইলেই ফিরতে পারবো, সেই পরিস্থিতি নেই,’ বলেন জাহিদ।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তত ৭টি দেশ তাদের আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়। এসব বিমানবন্দর কবে নাগাদ চালু হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ‘ফ্লাইটরাডার-২৪’ এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি বিমানবন্দরে ৩ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বিমান চলাচল বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, ‘পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।’

হরিশপুর থেকেই প্রায় ১৪ মাস আগে ওয়েল্ডার হিসেবে কাজ নিয়ে সৌদির জেদ্দায় যান রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখানে সবাই আতঙ্কিত। বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে।’

‘আমিও ঘরবন্দি। কখনো যুদ্ধ পরিস্থিতি এভাবে দেখিনি। খবরে শুনতাম যুদ্ধ হচ্ছে। এখানে পরিস্থিতি এমন, কখন যে ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়বে, তা কেউ বলতে পারে না!’

‘প্রতিদিনই দেশ থেকে ফোন করছে। বাড়ির সবাই কান্নাকাটি করছে। আমরা যারা প্রবাসী, আমরাও আতঙ্কে-দুশ্চিন্তায় আছি। কত দিন যুদ্ধ চলবে তা তো বলা যায় না।’

‘সবাইকে একটা কথাই বলছি, আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমরাও দোয়া করছি। দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই।’

গত বছরের শেষে দিকে নাটোরের বড়গাছা এলাকা থেকে সৌদি আরবে যান জাকিয়া সুলতানা। রিয়াদের অদূরে আল কাসিম প্রদেশের বুরাইদায় কাজ করেন তিনি।

জাকিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দেশে ভালো কাজ না পেয়ে বিদেশে আসি। অথচ এখন যুদ্ধ শুরু হলো। যদিও বুরাইদায় হামলা হচ্ছে না, কিন্তু প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় হামলার তথ্য পাচ্ছি। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে, আমার দেশের মানুষও মারা যাচ্ছে।’

‘আমাদের অসহায় অবস্থা। ভাগ্যে যা আছে, তাই হবে—আর বলার কিছু নেই।’

হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৪৫ জনে পৌঁছেছে। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে অন্তত আট জন এবং ছয় জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

এই যুদ্ধের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও আমিরাতবাহরাইনে দুই বাংলাদেশি নিহত এবং কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কথা হয় ভারতের পাঞ্জাবের বাসিন্দা বন্দনার সঙ্গেও। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে থাকছেন দুবাইয়ে। কাজ করছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

‘এই যুদ্ধের কোনো অর্থ নেই, কোনো যৌক্তিকতাও নেই,’ বলে মন্তব্য করেন বন্দনা।

‘শত শত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আবাসনের দাম কমে যাবে। ফলে কাজ হারানোর আশঙ্কা আছে।’

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে চুক্তিভিত্তিক সচিব নিয়োগের গুঞ্জন: কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ

প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার আলোচনাকে কেন্দ্র করে বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত সোমবার ১৩ জন সচিবকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন আরও এক ডজন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগের কাজ করছে। একই সঙ্গে, বেশ কয়েকজন বর্তমান সচিবকে সমমর্যাদার অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে ওই পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের পদায়ন করা যায়। 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি (পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর পদোন্নতি) পেয়ে সচিব হওয়া অন্তত ৮-১০ জন কর্মকর্তার নাম এখন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আলোচিত হচ্ছে। তারা সবাই বেশ কয়েক বছর আগে অবসরে গিয়েছেন।

এই তালিকায় ১৯৮৪ ব্যাচের আব্দুল খালেক, ১৯৮৫ ব্যাচের কামরুজ্জামান, বাকী বিল্লাহ ও তৌহিদুল ইসলাম, ১৯৮৬ ব্যাচের জাকির হোসেন কামাল এবং ১১তম ব্যাচের ফরিদুল ইসলামের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। 

গতকাল রাতে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের চুক্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে নতুন সরকার ১৯৮২ ব্যাচের এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেয়।

পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, যাদের নাম চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য আলোচিত হচ্ছে, তারা অতীতে নিঃসন্দেহে কঠিন সময় পার করেছেন। তবে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির মাধ্যমে তারা ইতোমধ্যে পদমর্যাদা এবং আর্থিক সুবিধাদি পেয়ে গেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘এখন যদি তারা আমাদের প্রাপ্য পদগুলো দখল করেন, তবে বঞ্চনার সেই ধারাবাহিকতা থেকেই যাবে। এতে করে নতুন বৈষম্য তৈরি হচ্ছে, আমরা তো নতুন কোনো সংস্কৃতি দেখছি না।’

আরেকজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘মেধাতন্ত্র’ বা মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের অঙ্গীকার থাকলেও সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েই তাদের যাত্রা শুরু করছে। 

তিনি আরও বলেন, শীর্ষ পর্যায়ে একজনকে চুক্তিতে নিয়োগ দিলে তার অধীনস্থ অন্তত দুই-তিনজন মেধাবী কর্মকর্তার পদোন্নতি ও কর্মজীবনের স্বাভাবিক গতি থমকে যায়। ফলে তারা অনেকটা দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করেন। 

সাবেক সচিব বদিউর রহমান বলেন, ‘আমলাতন্ত্রের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। যে জনসমর্থন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি নিয়ে এই সরকার কাজ শুরু করেছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তার সঙ্গে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়।’

খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা, দুজনেই শীর্ষ প্রশাসনিক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ওপর নির্ভর করে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। বদিউর রহমান বলেন, ‘গত অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার মূল কারিগর ছিলেন এই চুক্তিভিত্তিক সচিবরা। এই সরকারও যদি কয়েক বছর আগে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য বেছে নেয়, তবে আর বলার কিছু থাকে না।’

যদিও গত সোমবার নয়জন সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ আরও কিছু স্থানে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তারা এখনো বহাল আছেন।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল দুই সচিবের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং মো. আনোয়ার জাহান ভূঁইয়াকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইফোন কবে আসবে জানালো অ্যাপল

অ্যাপল তাদের পরবর্তী পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেছে।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে অবস্থিত অ্যাপল পার্ক ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। এবারের অনুষ্ঠানের ট্যাগলাইন ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’।

অ্যাপলের জন্য এবারের আয়োজনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কেননা, ১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে টিম কুকের জায়গায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা জন টার্নাসের।

২০১১ সাল থেকে অ্যাপলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন টিম কুক। ফলে টার্নাসের নেতৃত্বে এটিই হবে অ্যাপলের প্রথম কোনো পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মডেল দুটিতে বড় ধরনের নকশাগত পরিবর্তনের পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে ধারাবাহিক বা সীমিত আপগ্রেড দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে, এই অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ উন্মোচন না করে আগামী বছর বাজারে আনার পরিকল্পনা থাকতে পারে অ্যাপলের।

এবারের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করতে পারে অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত ফোল্ডেবল আইফোন। স্যামসাংসহ বেশ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। তবে অ্যাপল এখনো প্রচলিত নকশার আইফোনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তাই সত্যিই যদি নতুন ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হয়, সেটিই এবারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

আইফোনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ এবং নতুন একটি অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা উন্মোচনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আরও কিছু নতুন স্মার্ট-হোম পণ্যও ঘোষণা করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেমগুলোর প্রকাশের তারিখও অনুষ্ঠানে জানানো হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আইওএস ২৭, আইপ্যাডওএস ২৭ এবং ম্যাকওএস গোল্ডেন গেট।

সব মিলিয়ে, নতুন আইফোনের পাশাপাশি ফোল্ডেবল ডিভাইস, নতুন প্রজন্মের স্মার্ট ডিভাইস ও নতুন সিইওকে ঘিরে ৯ সেপ্টেম্বরের আয়োজনটি অ্যাপলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

কাজটা তো এআই দিয়েই করা যাবে, তাহলে আপনাকে আর কী দরকার?

শুনতে কঠিন লাগলেও, খুব শিগগির চাকরির ইন্টারভিউতে এই প্রশ্ন শুনতেই হতে পারে যে, কাজটা তো এআই দিয়েই করা যাবে, তাহলে আপনাকে আর দরকার কী?

সম্প্রতি এক তরুণের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হয়েছে, হাতে ডিগ্রি, কয়েকটি ইন্টার্নশিপ, লিংকডইনে সুন্দর প্রোফাইল; কিন্তু মাথায় দুশ্চিন্তা, ‘এআই তো এখন সব করতে পারে। আমরা যারা নতুন, আমাদের চাকরি হবে তো?’

প্রশ্নটা শুনে আমার নিজের প্রথম চাকরির দিনের কথা মনে পড়ল। তখন এআই নিয়ে ভয় ছিল না, ভয় ছিল অন্যরকম। আমি এত কিছু শিখেছি, কিন্তু আসলে কী করতে পারি? আজকের তরুণদের সমস্যাটা একটু আলাদা। তাদের প্রতিযোগিতা কেবল তার মতোই অন্য একজন ব্যক্তির সঙ্গে নয়, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গেও। তাদের প্রতিযোগী কয়েক সেকেন্ডে একটা প্রতিবেদন লিখতে পারে, প্রেজেন্টেশন বানাতে পারে, তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, কোড লিখতে পারে, ছবি বানাতে পারে, এমনকি ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিও করিয়ে দিতে পারে।

তাহলে নতুন গ্র্যাজুয়েটরা করবেন কী?

প্রথম কথা, এআইকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। বরং একটা বিষয় মেনে নেওয়া ভালো, কাজের কিছু অংশ এআই আপনার চেয়ে ভালো ও দ্রুত করবেই। এটা খারাপ খবর নয়। একজন গ্রাফিক ডিজাইনারের প্রাথমিক ড্রাফট এআই বানিয়ে দিতে পারে, একজন কমিউনিকেশন কর্মকর্তার প্রথম ড্রাফট লিখে দিতে পারে, একজন গবেষকের জন্য শত শত নথির মূল কথা বের করে দিতে পারে।

কিন্তু একটা মজার বিষয় আছে। এআই মানুষের চেয়ে দ্রুত প্রতিবেদন লিখতে পারলেও যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘এই রিপোর্টে কোন কথাটা বলা উচিত নয়’, কিংবা ‘এই গল্পটা আমাদের টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ’, তখন বিষয়টা একটু বদলে যায়।

চাকরিদাতারা কেবল একজন কনটেন্ট প্রস্তুতকারী খোঁজেন না। তারা এমন একজন চান, যিনি বুঝতে পারবেন যে কী করতে হবে, কেন করতে হবে এবং কার জন্য করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েই ‘সব জানি’ ভাবার দরকার নেই। সদ্য গ্র্যাজুয়েট হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে ‘আপনি এখনও শিখতে পারেন’। আপনার হয়তো পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা নেই, কিন্তু যদি নতুন কোনো সফটওয়্যারের কাজ শিখতে পারেন, ডেটা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, একটা সমস্যাকে ভিন্নভাবে দেখতে পারেন, তাহলে আপনার মধ্যে এমন কিছু আছে যা সিভির অভিজ্ঞতা কলামে লেখা যায় না।

অনেক সময় দেখি, তরুণরা ইন্টারভিউয়ের আগে নিজের স্কিলের একটা লম্বা তালিকা তৈরি করে—এমএস ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, এমএস এক্সেল, ক্যানভা, এআই টুলস, কমিউনিকেশন, লিডারশিপ ইত্যাদি।

সবই ভালো। কিন্তু, ইন্টারভিউয়ের সময় যদি জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি এক্সেল জানেন। সেটা দিয়ে শেষবার কী সমস্যা সমাধান করেছিলেন?’ তখন অনেকেই থেমে যান। সেখানেই আসল পার্থক্য তৈরি হয়। টুল জানাটা স্কিল নয়, সেটা ব্যবহার করে সমস্যা সমাধান করতে পারাটাই স্কিল।

একটা ছোট উদাহরণ দিই। ধরুন, একটি এনজিওর সোশ্যাল মিডিয়া টিমে ইন্টার্নশিপ করছেন। আপনাকে বলা হলো, ‘একজন নারী কৃষকের গল্প লিখুন।’ আপনি এআইকে বললেন, ‘একজন নারী কৃষক সম্পর্কে উৎসাহমূলক কনটেন্ট লিখে দাও।’ এআই সুন্দর একটা গল্প লিখে দিলো। কিন্তু আপনি যদি মাঠে গিয়ে একজন নারী কৃষকের সঙ্গে ৩০ মিনিট কথা বলেন, তাহলে হয়তো জানতে পারবেন যে তিনি প্রথম প্রথম সমবায় মিটিংয়ে কথা বলতে ভয় পেতেন, নিজের আয় সম্পর্কে পরিবারের সামনে বলতে সংকোচ করতেন এবং সেই তিনিই এখন অন্য নারীদের নিয়ে সঞ্চয় গ্রুপ চালান। তাহলে আপনি শুধু একটা গল্প পেলেন না, একজন মানুষকেও বুঝলেন। এই পার্থক্যটাই ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আরেকটা জিনিস শেখা উচিত। সেটা হলো, প্রশ্ন করা। সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলোর একটি হলো, সব প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করবেন না, কিন্তু ভালো প্রশ্ন করতে শিখুন। ‘কেন এই প্রজেক্ট করা হচ্ছে?’, ‘কৃষক এটা গ্রহণ করছেন না কেন?’, ‘এই ডেটা কোথা থেকে এসেছে’, ‘আমরা যে গল্পটা বলছি, উপকারভোগী কি একইভাবে দেখছেন?’, ‘এই ক্যাম্পেইনের আসল অডিয়েন্স কে?’, ইত্যাদি নানা প্রশ্ন আপনার ভেতরে থাকতে হবে।

কোনো সিনিয়র কাজ দিলে ‘ঠিক আছে’ বলার আগে একবার জিজ্ঞেস করুন, ‘এর মূল উদ্দেশ্যটা কী?’ এই একটি প্রশ্ন আপনার কাজের মান অনেক বদলে দিতে পারে।

এআই ব্যবহার করুন, কিন্তু নিজের মাথার ব্যবহার বন্ধ করে না

এআই দিয়ে সিভি বানান, প্রেজেন্টেশনের কাঠামোটা তৈরি করুন, গবেষণার শুরুটা দ্রুত করুন, বানান ও ব্যাকরণ ঠিক করুন, কোনো আইডিয়া নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন, পরিসংখ্যানের সূত্র খুঁজুন; কিন্তু এআই যা বলল, সেটাকেই সত্য ধরে নেবেন না। তথ্যগুলো যাচাই করুন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গল্পের মানুষটির সঙ্গে কথা বলুন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের মাথা ব্যবহার করুন। কারণ, আগামী দিনের চাকরির বাজারে হয়তো দুই ধরনের মানুষ থাকবে—প্রথমত, যারা এআই ব্যবহার করে কাজ করে এবং দ্বিতীয়ত, যারা এআইয়ের ফলাফল নিয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কাজ করে। আর দ্বিতীয় দলটির চাহিদা বেশি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

একইসঙ্গে নিজেকে খুব তাড়াতাড়ি ‘বিশেষজ্ঞ’ বানানোর চেষ্টা করবেন না। প্রথম চাকরিতে হয়তো আপনাকে বড় কোনো জায়গায় কাজ দেওয়া হবে না, হয়তো মিটিংয়ের কার্যবিবরণী লিখতে হবে, ডেটা বিশ্লেষণ করতে হবে, ৫০টা কল করতে হবে, প্রেজেন্টেশন ঠিক করতে হবে। হয়তো সেখানে আপনার আইডিয়া কেউ শুনবেই না। কিন্তু, এসবের মধ্যেই শিখতে হবে। কারণ, ক্যারিয়ার অনেক সময় বড় কোনো সুযোগের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় না, ছোট ছোট কাজ ভালোভাবে করার অভ্যাস থেকেই তৈরি হয়। আজ একটা ভালো ইমেইল লিখলেন, কাল একটা মিটিং ভালোভাবে পরিচালনা করলেন, পরশু এমন একজন সহকর্মীর সঙ্গে দারুণভাবে কাজ করলেন যার সঙ্গে কাজ করাকে সবাই কঠিন মনে করে। তারপর একসময় দেখবেন, আপনাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য খোঁজা হচ্ছে।

তাহলে, এআইয়ের যুগে একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েটের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কী? আমার কাছে উত্তরটা খুব কঠিন মনে হয় না। উত্তরটা হলো, কৌতূহল বা প্রশ্ন করার অভ্যাস, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল তা বোঝার ক্ষমতা, মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও শোনার ক্ষমতা, নতুন কিছু এলে তা শেখার মানসিকতা এবং অপর মানুষটির জায়গায় দাঁড়িয়ে বিষয়টা দেখার ক্ষমতা।

একইসঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের চিন্তা নিজে করার অভ্যাস। কারণ, এআই আপনার হয়ে লিখতে পারে, প্রেজেন্টেশন বানাতে পারে, গবেষণার একটা বড় অংশ করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা আপনার কাছেই থাকবে—‘আপনি কী ভ্যালু যোগ করছেন?’ সেই উত্তরটা এখন থেকেই খুঁজতে শুরু করুন।

চাকরির বাজারে এআই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। এআইয়ের যুগে আপনার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে নিজের অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার ভয়। ভয় না পেয়ে শেখা শুরু করুন। কারণ, ভবিষ্যৎটা হয়তো এআইয়ের হাতে নয়। ভবিষ্যৎটা তাদের, যারা এআইকে কাজে লাগিয়ে আরও ভালো মানুষ, আরও ভালো চিন্তক ও আরও ভালো সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম।

আব্দুল্লাহ সেরু: একটি এনজিওতে যোগাযোগ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।

অবিশ্বাস্য জয়ের পর অশ্রুসিক্ত মেসি

মিশরের দ্বিতীয় গোলের পর ক্যামেরা তখন এক মুহূর্তের জন্য লিওনেল মেসির মুখের দিকে তাক করা। চোখ ভরা অবিশ্বাস, কিছুটা কি শঙ্কাও ছিল? যদি থেকেও থাকে, সতীর্থদের সাথে নিয়ে নিজেই তা দূর করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। আর্জেন্টিনাকে অক্সিজেন যোগান দেয়া প্রথম গোলের অ্যাসিস্ট করেছেন, সমতায় ফেরানো গোলটিও করেছেন। 

আর এনজো ফার্নান্দেজের গোলে যখন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হলো, মেসি তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথে মাঠেই অশ্রুসজল হয়েছে মেসির চোখ। এমন স্বস্তির জয়ের পর মেসিও নিজের আবেগে বাঁধ দিতে চাননি বোধহয়! 

আর্জেন্টিনার এই দলটা যে মেসিকে প্রাণভোমরা মেনে খেলে, সেটির প্রমাণ আরও একবার দেখা গেলো ম্যাচ শেষে। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে নাটকীয় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সবাই মিলে গোল হয়ে মেসিকে শুন্যে ছুঁড়েছেন। মেসিসহ প্রত্যেকের মুখের হাসিই বলে দিচ্ছিলো, এই জয় তাদের কাছে কতটা অর্থবহ, কতটা স্বস্তিদায়ক।

ম্যাচ শেষে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ধারাভাষ্য দেয়া সাবেক ফুটবলার রয় কিনও অনুভব করতে পেরেছেন মেসির আবেগ, ‘আমার গলা ভেঙে গেছে। অনবদ্য ম্যাচ। গতকাল রোনালদোর চোখে দুঃখের কান্না দেখেছি, আজ মেসির চোখে খুশির কান্না’। 

আর্জেন্টিনার চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসাও করেছেন কিন, ‘ওরা কখনোই হাল ছাড়ে না। তাদের প্রতিটা গোলই ছিল দারুণ। এ কারণেই আমরা ফুটবলকে এত ভালোবাসি’। 

এরকম প্রত্যাবর্তনের রাতে ব্যক্তিগত অর্জন ভীষণই তুচ্ছ, তবে এই টুর্নামেন্টে প্রায় প্রতি ম্যাচেই কিছু না কিছু রেকর্ড ভেঙে চলেছেন মেসি। ব্যতিক্রম হয়নি আজও। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি। সবশেষ নয় বিশ্বকাপ ম্যাচে মেসির এখন ১৩ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট।