28.3 C
Dhaka
Home Blog

দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

বর্তমান বিধিবিধান ও নিয়ম মেনে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। যত দ্রুত সম্ভব এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে ফখরুল বলেন, যারা জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত এবং দলের কাজে সক্রিয়, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে, এটা আমরা চাইনি। আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ বলা হয়েছে এবং সেভাবেই বিষয়টি দেখা হবে।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে মির্জা ফখরুল নয়াপল্টন কার্যালয়ে পৌঁছালে মূল ফটকে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে তিনি তৃতীয়তলায় তার কক্ষে যান এবং সেখানে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এটিই ছিল মির্জা ফখরুলের প্রথম সফর। এসময় তিনি সহকারী দপ্তর সম্পাদকদের নিয়মিত উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন এবং দাপ্তরিক কাজে শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মির্জা ফখরুল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের খোঁজখবর নেন এবং কোনো কাজ যেন বাকি না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, আপনাদের নিয়মিত অফিসে আসতে হবে। কোনো কাজ অসম্পূর্ণ রাখা যাবে না। দূর-দূরান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা এলে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা করা চলবে না।

প্রায় ৪৫ মিনিট কার্যালয়ে অবস্থানের পর মির্জা ফখরুল সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

দেশে যাত্রা শুরু করল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতির প্রতিষ্ঠান ‘হেইগা’

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বয়ংক্রিয় আলোকসজ্জা প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘হেইগা’। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, অংশীদার এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (২৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হেইগার স্বয়ংক্রিয় সংবেদনশীল বাতিতে ‘মোশন সেন্সর’ এবং আলো শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষের উপস্থিতি ও আশপাশের আলোর মাত্রা অনুযায়ী বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ও নিভে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রচলিত বাতির তুলনায় সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

হেইগা জানায়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় গৃহ ও কার্যালয় ব্যবস্থাপনা পণ্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্মার্ট সুইচ, দরজার ঘণ্টা, প্লাগসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও প্রযুক্তিপণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হেইগার দেশীয় ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে ঘর ও প্রতিষ্ঠানে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে আমরা কাজ করব।”

হেইগার পণ্য ও সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট www.hegabd.com-এ পাওয়া যাবে।

অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা ক্লাব গঠনের ঘোষণা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির

বর্তমান সময়ে সাইবার নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যু। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা প্রায়ই তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগে থাকেন।

কিছুদিন পর পরই পত্রিকার শিরোনামে সাইবার অপরাধের খবর আসে। উন্নত দেশগুলোতেও সাইবার অপরাধের বলি হয়ে লাখো ইউজারের তথ্য বেহাত, আর্থিক ক্ষতিসহ নানা দুর্ভোগের কথা জানা যায়। 

এরকম পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানো ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে  সময়োপযোগী জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে সারাদেশের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা ক্লাব গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। 

আজ রোববার লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। 

এ সময় তিনি কলেজটির সাইবার নিরাপত্তা ক্লাব উদ্বোধন করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্টেইং সেফ অনলাইন: প্রোটেক্ট ইওরসেলফ ফ্রম সাইবারক্রাইমস’ সেমিনারে ভিসি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধও বহুমাত্রিক রূপ ধারণ করেছে।

অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি, পরিচয় জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, সাইবার সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও তত বেশি বাড়ছে।’

‘একটি দেশের ডিজিটাল অগ্রগতি তখনই অর্থবহ হয়, যখন নাগরিকরা নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সাইবার নৈতিকতা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল আচরণবিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি। সচেতনতার অভাবেই অধিকাংশ মানুষ সাইবার অপরাধের শিকার হন’, যোগ করেন তিনি। 

ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আরও বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাইবার সচেতনতামূলক সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকতে হবে, অচেনা লিংক বা বার্তায় সাড়া দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) নিশ্চিত করতে হবে। একটি সচেতন প্রজন্মই সাইবার অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’

লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুলতানা মাহমুদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন।

সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা এবং বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মাহবুবুল আলম (পিপিএম)।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম। 

সেমিনারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের সভাপতি মো. মহিবুল হাসান এবং সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন সামী।

‘বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড আমাদেরই,’ দাবি স্প্যানিশ কোচের

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে ধরা হয় স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী দলের মিডফিল্ডকে। জাভি, ইনিয়েস্তা, বুসকেতস, আলোনসোদের সেই মধ্যমাঠই স্প্যানিশ ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। তবে বর্তমান স্পেন দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের বিশ্বাস, তার হাতে থাকা বর্তমান প্রজন্মের মিডফিল্ডও সেই উচ্চতায় পৌঁছে গেছে, এমনকি বিশ্বের সেরার দাবিদারও তারাই।

বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ২০১০ সালের স্পেনের কিংবদন্তি মিডফিল্ডের সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা করতে বলা হলে দে লা ফুয়েন্তে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই নিজের মত তুলে ধরেন।

বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা দুটোই অসাধারণ মিডফিল্ড। আমার মতে, এবং আমি সবার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখেই বলছি, আমাদেরই বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড আছে।’

বর্তমান স্প্যানিশ দলে মিডফিল্ডের গভীরতা ও মান নিয়ে গর্বিত দে লা ফুয়েন্তে একে একে উল্লেখ করেন রদ্রি, মার্টিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইস, পেদ্রি, দানি ওলমো, মিকেল মেরিনো, আলেক্স বায়েনা, গাভি ও ফারমিন লোপেজের মতো ফুটবলারদের নাম। যদিও লোপেজ চোটের কারণে নেই এই বিশ্বকাপে।

তবে প্রতিটি পজিশনে হাতে অন্তত দুটি করে বিশ্বমানের বিকল্প রয়েছে দাবি করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘প্রতিটি পজিশনের জন্য আমাদের কাছে দুজন করে সেরা খেলোয়াড় আছে। আমি নাম বলতে পারি। রদ্রি, জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান, পেদ্রি, ওলমো, মেরিনো, বায়েনা, গাভি, ফারমিন… আরও অনেকেই আছে। হয়তো কাউকে বাদ দিয়ে ফেলেছি, সে রাগ করতে পারে।’

তবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের মিডফিল্ডের কৃতিত্বও অস্বীকার করেননি তিনি। সেই দলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ওটাও ছিল অসাধারণ একটি মিডফিল্ড, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ফুটবল বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু আমি আমাদের প্রায় একই স্তরে রাখব।’

বর্তমান স্পেন দলের সবচেয়ে আলোচিত মিডফিল্ডার পেদ্রির প্রশংসাও করেছেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘সে একজন জাদুকর। প্রতিভা আর টেকনিকের প্রকৃত সংজ্ঞা হলো, সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোকে এমনভাবে করা, যেন সেগুলো খুব সহজ। পেদ্রি ঠিক সেটাই করে। সে এমন সব পাস দেখতে পায়, যা আমরা বাকিরা দেখতে পাই না। এটা প্রতিভাবানদের বিশেষ ক্ষমতা।’

জামায়াতের ৮ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ, জাতীয় পরিচয়পত্রকে (এনআইডি) কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিন) হিসেবে ব্যবহার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে এ বাজেটে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২০২৭ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দলটির পক্ষে ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা সাইফুল আলম খান মিলন।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

সাইফুল আলম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের মূল দর্শন হলো—সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। বিগত বছরগুলোতে অর্থনীতিতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার অন্যতম উপায় হতে পারে।

করব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে আলাদা টিন নম্বরের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয়পত্রকে কর শনাক্তকরণ নম্বর হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে করজাল সম্প্রসারণে ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর’ চালুর কথাও বলা হয়েছে।

ছায়া বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া কোনো করদাতার নিজের অথবা তার পরিবারের সদস্য কিংবা পোষ্যের শিক্ষা ব্যয়ের ওপর কর রেয়াতের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতা বর্তমানে ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকার পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার টাকা এবং পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের সব মসজিদের ইমামদের মাসিক ৭ হাজার ৫০০ টাকা, মুয়াজ্জিনদের ৫ হাজার টাকা এবং খাদেমদের ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে দলটি।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১০০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৮০ শতাংশ বেতন পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হবে।

খাত ভিত্তিক বরাদ্দে জনপ্রশাসন খাত সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে।

এ খাতে ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বা মোট বাজেটের ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ।

এ ছাড়া ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, শুধু বাজেট প্রণয়ন নয়, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এসব অনুপস্থিত থাকলে কোনো বাজেটই কার্যকর হবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাড়ছে এবং এতে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

কর আদায়ের বর্তমান পদ্ধতিকেও ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বড় অংশ বাস্তবায়নের তাড়াহুড়া দেখা যায়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণে অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ফিসকাল ইয়ার জুলাই থেকে জুন। জুন মাসে বর্ষা, খরা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। কিন্তু তখনই এডিপির বড় অংশ দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এর সুফল জনগণ পায় না, বরং অসাধু সুবিধাভোগীরা লাভবান হয়।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, সম্পূরক বাজেটও বছর শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে সংসদে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে ব্যয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা যায়। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে সম্পূরক বাজেট অর্থবছরের একেবারে শেষ দিকে উপস্থাপিত হয়, যখন ব্যয়ের বড় অংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায়। এতে সংসদীয় তদারকি ও জবাবদিহি কার্যকর থাকে না।

 

ডেইলি স্টারের ৩৫ বছরে তারকাদের প্রত্যাশা

দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ৩৫ বছরে পা দিয়েছে। পত্রিকাটি এখন দেশের শীর্ষ ইংরেজি পত্রিকা। পাঠকদের ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা নিয়ে দিন দিন এগিয়ে চলেছে। 

পত্রিকার কাছে পাঠকদের যেমন প্রত্যাশা রয়েছে, তারকাদেরও প্রত্যাশা কম নয়। 

৩৫ বছর পূর্তিকে ঘিরে কয়েকজন তারকা শিল্পী দ্য ডেইলি স্টারের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা বলেছেন।

একসময় এদেশে অবজারভার পত্রিকার নাম খুব শোনা যেত। অন্যদিকে, বেশ কয়েক বছর ধরে ডেইলি স্টার পত্রিকার নাম খুব শোনা যায়। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো—নাম দুটি সুনামের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। আমি মনে করি, ডেইলি স্টার পাঠকের কাছ থেকে বিশ্বাস অর্জন করেছে। এটাই বড় পাওয়া। এই পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম সুন্দরভাবে নেতৃত্ব দিয়ে পত্রিকাটিকে অনেক দূর নিয়ে গেছেন। এদেশের ইংরেজি পত্রিকা হিসেবে পাঠকের ভালোবাসা পাচ্ছেন। মাহফুজ আনামের প্রতি শুভকামনা এবং পত্রিকার সঙ্গে যারা জড়িত, সবার প্রতি শুভেচ্ছা। গত বছরের শেষ দিকে পত্রিকাটির কার্যালয়ে হামলা হয়েছিল। তা দুঃখজনক। এইরকম দাগ যেন আর না পড়ে। পত্রিকাটির ৩৫ বছরে শুভেচ্ছা।

ডেইলি স্টার আমাদের দেশের পাঠকপ্রিয় একটি ইংরেজি পত্রিকা। অসংখ্য পাঠক পত্রিকাটি পড়েন। আমিও এই পত্রিকার একজন পাঠক। আমি মনে করি, এই সুনাম অব্যাহত রয়েছে মাহফুজ আনামের মতো একজন দক্ষ ও জানাশোনা সম্পাদকের সুন্দর নেতৃত্বের জন্য। তার প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা ও আশীর্বাদ। ৩৫ বছর নয়, শত বছর পার করুক। আমরা যারা কালচারাল সেক্টরে কাজ করি, ডেইলি স্টার তাদের কথা বলে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির কথা বলে। এভাবেই যেন সারাজীবন দেশের কথা বলে যায়। পত্রিকার অফিসে হামলা হয়েছিল। কোনো হামলাকে সমর্থন করি না। পাঠকই বড় আদালত। তারা পত্রিকার পাশে আছেন। শত ফুলের ভালোবাসা জানাই।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা ডেইলি স্টারের জন্য। ৩৫ বছর সুনামের সঙ্গে টিকে থাকা কম কথা নয়। অনেক বড় ব্যাপার এটি। পাঠকের কাছাকাছি থেকে, পাঠকের বিশ্বাস নিয়ে পত্রিকাটি এগিয়ে যাচ্ছে। এই বিশ্বাস অর্জন করাটাই অনেক বড় কথা। দিন দিন আরো উন্নতি কামনা করছি। আমি জানি, ডেইলি স্টার আমাদের কথা বলে। শিল্পীদের পাশে সবসময়ই ছিল পত্রিকাটি। সেজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তার হাত ধরে এতদূর এসেছে ডেইলি স্টার। আরো অনেক দূর যাক—সেই প্রত্যাশা করছি।

ডেইলি স্টার যেভাবে আমাদের পাশে ছিল, সেভাবে আগামীতেও পাশে থাকবে—এই বিশ্বাস আছে। শিল্পীর জন্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতির জন্য পত্রিকাটি কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যারা শিল্পী, তাদের জন্য অনেক ভূমিকা রেখেছে পত্রিকাটি। সবসময় তাই যেন হয়। পাঠকের তুমুল ভালোবাসা অর্জন করা পত্রিকাটি ৩৫ বছর নয়, যুগ যুগ ধরে টিকে থাকুক। ডেইলি স্টারে আক্রমণ হয়েছিল, এইরকম যেন আর না হয়। আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, শুভকামনা এবং ভালোবাসা। শতবছর পার করুক ডেইলি স্টার।

৩৫ বছরে ডেইলি স্টার—সেজন্য শুরুতেই শুভেচ্ছা জানাই। আমি লক্ষ করেছি, দেশের ইংরেজি পত্রিকার মধ্যে এটি ভীষণভাবে পাঠকপ্রিয়। তা একদিনে সম্ভব হয়নি। বহু বছর লেগেছে। পত্রিকার সম্পাদক তার যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাকেও ধন্যবাদ জানাই। শুভকামনা জানাই। আমি সিনেমার মানুষ। সিনেমা শিল্পের পাশে, আমাদের পাশে পত্রিকাটি সবসময়ই ছিল এবং ভবিষ্যতেও যেন থাকে। ভালোবাসা রইল। আরো বহুদূর এগিয়ে যাক।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না, জনগণ সুযোগ কাজে লাগাবে: হেগসেথ

ইরাকের মতো ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। 

সেই সঙ্গে ইরানি জনগণ এই ‘অবিশ্বাস্য সুযোগ’ কাজে লাগাবে বলে আশা করছেন তিনি। 

আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

অপারেশন এপিক ফিউরি ‘এক রাতের মধ্যে’ শেষ হবে না উল্লেখ করে পিট হেগসেথ বলেন, ‘এটি একটি বড় যুদ্ধক্ষেত্র। তাদেরও অনেক সক্ষমতা রয়েছে। এ কারণেই তারা আমাদের জন্য এত বড় হুমকি।’ 

অভিযানের সময়কাল সম্পর্কে হেগসেথ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করব। যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থ রক্ষায় যতদূর প্রয়োজন ততদূর যাবে, তবে তাড়াহুড়ো করে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।’

‘ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান কোনো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হবে না,’ বলেন হেগসেথ।’

এ মুহূর্তে ইরানের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সৈন্য নেই বলে জানান হেগসেথ। তবে ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ওয়াশিংটন আশা করে ইরানের জনগণ এই “অবিশ্বাস্য সুযোগ” কাজে লাগাবে। 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে হেগসেথ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে “এখনই তোমাদের সময়”, যা ইরানের জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা।’

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন।

আজ সোমবার সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যান বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আসেন। এই সময়ে তাকে স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধানরা।’

প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তারেক রহমানের প্রথম অফিস।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তার চেম্বারে বসেন। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীকে ‘র‌্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল  এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম।

ডিজিটাল যুগে সম্পর্কের নতুন ব্যাকরণ: উত্তম কুমার কি এখনো প্রাসঙ্গিক?

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবস ২৪ জুলাই। একইসঙ্গে দিনটি আজকের ডিজিটাল যুগে আমাদের সামনে এক অদ্ভুত আয়না হয়ে দাঁড়ায়—যেখানে প্রেম, বিচ্ছেদ, সেলিব্রিটি, আবেগ আর জনপরিসর সবকিছুই এক নতুন ব্যাকরণে লিখিত হচ্ছে। গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা’র পর আমরা যেন প্রবেশ করেছি এক নতুন উপন্যাসে—‘লাভ ইন দ্য টাইম অব নিউ মিডিয়া’।

ফেসবুক বা নিউ মিডিয়া এখন আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি এক ধরনের ডিজিটাল সমাজব্যবস্থা। এখানে হাসি-কান্না, রাগ-অনুরাগ, প্রেম-অভিমান সবকিছুই ‘কনটেন্ট’ হয়ে ওঠে। জেন-জি প্রজন্মের কাছে সম্পর্ক মানে শুধু অনুভূতি নয়, বরং এক ধরনের এক্সপ্রেশনাল পারফরম্যান্স—স্টোরি, রিল, পোস্ট, রিঅ্যাকশন ও ভিউয়ের ভেতর দিয়ে তা বারবার পুনর্গঠিত হয়।

প্রেম এখানে ব্যক্তিগত থেকেও বেশি হয়ে ওঠে পাবলিক ইভেন্ট। এই পাবলিক ইভেন্টের ভেতরেই তৈরি হয় নতুন ধরনের নৈতিকতা—নিউ এথিকস। আগে যেখানে সম্পর্কের গোপনীয়তা ছিল মৌলিক শর্ত, এখন সেখানে দৃশ্যমানতাই সত্য। কে কাকে ভালোবাসছে, কে কাকে ছেড়ে যাচ্ছে, এগুলো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি হয়ে দাঁড়ায় সামাজিক বিচার্য বিষয়। সম্পর্ক ভাঙলেই শুরু হয় বিশ্লেষণ, স্ক্রিনশট, পক্ষ-বিপক্ষ এবং এক ধরনের ডিজিটাল ট্রায়াল।

আজকের এই বাস্তবতায় উত্তম-সুচিত্রা যেন এক ভিন্ন সময়ের নান্দনিক প্রতীক। তাদের প্রেম, বিচ্ছেদ, অপেক্ষা—সবকিছুই ছিল পর্দার ভাষায় আবৃত, সংযত, ইঙ্গিতপূর্ণ। উত্তম কুমারের মৃত্যুদিবসে দাঁড়িয়ে তাই মনে হয়, সেই সাদা-কালো যুগে সম্পর্ক ছিল ধীর, গভীর ও অনেক বেশি ‘অদৃশ্য’। আর অদৃশ্য বলেই সেখানে কল্পনার জায়গা ছিল বিস্তৃত, শ্রদ্ধার জায়গা ছিল অটুট।

আজকের ডিজিটাল সমাজে সেই অদৃশ্যতার জায়গাটি প্রায় নেই। উত্তম-সুচিত্রার যুগে বিচ্ছেদও ছিল এক ধরনের নীরব শিল্প। আর আজকের নিউ মিডিয়ায় বিচ্ছেদ এক ধরনের ‘স্পেকটাকল’—যেখানে জনতা দর্শক থেকে বিচারকে পরিণত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো সেলিব্রিটির সম্পর্ক ভাঙলেই যে সামাজিক মিডিয়া উৎসব শুরু হয়, তা দেখায় যে আমরা এখন আবেগকে অনুভব করার চেয়ে বিশ্লেষণ করতে বেশি আগ্রহী।

এই জায়গাতেই জেন-জি প্রজন্মের দ্বন্দ্ব আরও গভীর। তারা একদিকে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সম্পর্ক নিয়ে সবচেয়ে বেশি খোলামেলা; অন্যদিকে একইসঙ্গে তারা সবচেয়ে বেশি এক্সপোজড, সবচেয়ে বেশি নজরদারির মধ্যে থাকা প্রজন্ম। সম্পর্কের রসায়ন এখানে আর নিষিদ্ধ ট্যাবু নয়, কিন্তু একইসঙ্গে তা আবার কনটেন্ট, ট্রেন্ড ও ডিজিটাল ভ্যালিডেশনের অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে সম্পর্কও আর কেবল ‘ভালোবাসা’ নয়, এক ধরনের ডিজিটাল অর্থনীতি। লাইক, কমেন্ট, ভিউ, ফলোয়ার—সবমিলিয়ে কে কতটা ‘মূল্যবান’ তা নির্ধারিত হচ্ছে।

প্রেম এখানে অনুভূতির চেয়ে বেশি এক ধরনের এক্সচেঞ্জ সিস্টেমে পরিণত হয়েছে, যেখানে আবেগের পাশাপাশি কাজ করছে দৃশ্যমানতা ও জনপ্রিয়তার চাপ।

উত্তম কুমারের কালজয়িতা বোঝা যায় তার কয়েকটি প্রতিনিধিত্বশীল চলচ্চিত্রের ভেতর দিয়ে। যেমন: ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘নায়ক’, ‘চাওয়া পাওয়া’ বা ‘সাগরিকা’। যোগাযোগবিদ্যা ও চলচ্চিত্র অধ্যয়নের দৃষ্টিতে এসব চলচ্চিত্র শুধু কাহিনীর জন্য নয়, বরং ‘স্টার ইমেজ কনস্ট্রাকশন’-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

‘সপ্তপদী’তে রোমান্টিক সম্পর্ক ধর্ম, পরিচয় ও সামাজিক টেনশনের ভেতর দিয়ে ধীরে বিকশিত হয়, যেখানে প্রেম এক ধরনের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার জায়গা তৈরি করে। ‘হারানো সুর’-এ সঙ্গীত ও স্মৃতির মাধ্যমে পরিচয় পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া দেখা যায়, তা আজকের দ্রুতগতির ডিজিটাল পরিচয় রাজনীতির বিপরীতে এক দীর্ঘস্থায়ী আবেগীয় আর্কাইভ নির্মাণ করে। আবার সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’-এ উত্তম নিজেই এক মিডিয়া টেক্সট হয়ে ওঠেন, যেখানে খ্যাতি, ইমেজ ও অন্তর্গত নিঃসঙ্গতার দ্বন্দ্ব আধুনিক সেলিব্রিটি কালচারের আগাম রূপরেখা তৈরি করে।

এই চলচ্চিত্রগুলো দেখায়, উত্তম কুমারের স্টারডম কেবল বিনোদন নয়, বরং এক ধরনের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যেখানে ধীর ন্যারেটিভ, সংযত আবেগ ও নৈতিক কোড দর্শকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ তৈরি করতো। তাই আজকের অ্যালগরিদমিক, দ্রুতভোগ্য কনটেন্ট-সংস্কৃতিতে তাকে ‘অচল’ মনে হলেও, আসলে তিনি সেই মিডিয়া-ইকোসিস্টেমের প্রতিনিধি, যেখানে অর্থ তৈরি হতো স্ক্রল নয়, বরং স্থিরদৃষ্টির গভীরতায়।

যোগাযোগবিদ্যা ও চলচ্চিত্র অধ্যয়নের দৃষ্টিতে উত্তম কুমারকে ‘অচল’ বলা এক অর্থে সময়ের পরিবর্তিত মিডিয়া-ইকোলজির প্রতিফলন। কারণ, তিনি যে ইমেজ-রেজিমে কাজ করেছেন, তা ছিল ক্লাসিক্যাল সিনেমা যুগের, যেখানে স্টার ইমেজ তৈরি হতো ধীর গতির ন্যারেটিভ, সীমিত মিডিয়া এক্সপোজার এবং নিয়ন্ত্রিত জনপরিসরের ভেতরে।

আজকের প্ল্যাটফর্ম ক্যাপিটালিজমে সেই স্টারডম আর টিকে নেই। এখন সেলিব্রিটি মানে রিয়েল-টাইম পারফরম্যান্স, ইনফ্লুয়েন্সার ইকোনমি, আর অ্যালগরিদমিক দৃশ্যমানতা। এই অর্থে উত্তম কুমার ‘অচল’। কারণ, তিনি অ্যালগরিদম-নির্ভর নন, বরং ন্যারেটিভ-নির্ভর এক যুগের নির্মাণ।

কিন্তু, একইসঙ্গে তিনি গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ, ফিল্ম স্টাডিজে স্টার টেক্সট কেবল সমকালীন জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি সাংস্কৃতিক স্মৃতি, জাতিগত কল্পনা ও আবেগীয় আর্কাইভের অংশ হয়ে থাকে। উত্তম কুমারের ইমেজ একটি স্থির ডিজিটাল প্রোফাইল নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক প্রতীক, যেখানে ‘নায়কত্ব’ কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিশমা নয়, বরং মধ্যবিত্ত নৈতিকতা, সামাজিক শৃঙ্খলা ও রোমান্টিক সংযমের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই তাকে ‘অচল’ বলা মানে আসলে একটি নির্দিষ্ট মিডিয়া-টেম্পোরালিটির বাইরে থাকা এক নান্দনিক কাঠামোকে ভুল বোঝা।

যোগাযোগবিদ্যার তত্ত্বের ভাষায় বলা যায়, উত্তম কুমার যে ধরনের ‘ইমোশনাল সিগনিফিকেশন’ তৈরি করেছিলেন, তা আজকের মিম-কালচার বা ফাস্ট কনটেন্ট ইকোসিস্টেমে দ্রুত ভেঙে পড়া অর্থের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে। তার ইমেজ ভোগের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি আবেগীয় স্থায়িত্বের জন্য নির্মিত। তাই ডিজিটাল যুগে তাকে অচল মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে তিনি একটি বিকল্প মিডিয়া এথিকসের প্রতিনিধিত্ব করেন, যেখানে দৃশ্যমানতা নয়, বরং অর্থের গভীরতা ও নীরবতার শক্তিই স্টারডমের ভিত্তি।

উত্তম কুমার ছিলেন এক ভিন্ন সময়ের নায়ক, যেখানে নায়কত্ব মানে ছিল নৈতিকতা, সংযম ও এক ধরনের সামাজিক দায়িত্ব। তার চোখের ভেতরের আবেগও ছিল নিয়ন্ত্রিত, পরিশীলিত। আজকের ডিজিটাল নায়ক-নায়িকারা আবার একইসঙ্গে দৃশ্যমান ও ভঙ্গুর। তাদের জীবন লাইভ, কিন্তু তাদের নিঃসঙ্গতাও লাইভ-ই।

আজ তাই উত্তম কুমারের মৃত্যুদিবসে দাঁড়িয়ে মনে হয়, আমরা শুধু একজন মহানায়ককে স্মরণ করছি না; স্মরণ করছি এক হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক-সংস্কৃতিকে। যেখানে ভালোবাসা মানে ছিল দায়বোধ, বিচ্ছেদ মানে ছিল নীরবতা, আর স্মৃতি মানে ছিল সম্মান।

আজকের ‘লাভ ইন দ্য টাইম অব নিউ মিডিয়া’য় সেই নীরবতার জায়গা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে না? এই প্রশ্নের ভেতরেই যেন ফিরে আসে সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ চলচ্চিত্রের সেই বিখ্যাত মুহূর্ত—যখন খ্যাতির চূড়ায় দাঁড়িয়েও উত্তম কুমার নিজের ভেতরের নিঃসঙ্গতাকে চিনে ফেলেন, আর শোনা যায় সেই উচ্চাভিলাষী, তীব্র উচ্চারণ ‘আই উইল গো টু দি টপ, দি টপ, দি টপ’। এই এক লাইনে অরিন্দম মুখার্জীর স্বপ্ন যেমন আছে, তেমনি আছে আধুনিক সেলিব্রিটি সংস্কৃতির সারকথাও।

গুরুর সতর্কতা উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক সাফল্যের শিখরে ওঠার যে তাড়না, তা আজ আর কেবল চলচ্চিত্রের কাহিনী নয়; বরং নিউ মিডিয়া যুগে প্রত্যেক ইনফ্লুয়েন্সার, প্রতিটি ইউজার প্রোফাইলের নীরব প্রতিজ্ঞা। কিন্তু সেই ‘টপ’-এ পৌঁছে যাওয়ার পর যে শূন্যতা, যে একাকীত্ব, যে আত্মসংঘাত তা-ই এই সংলাপকে কালজয়ী করে তোলে। আর আজকের ডিজিটাল দৃশ্যমানতার রাজনীতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। আজ আমরা তাই দেখি কাউকে ‘টপ’ করে ঝরেও যেতে!

আজ আমাদের ‘উত্তম’ নেই বলে নিউ মিডিয়া ও নিউ জেনারেশনের ‘অধম হইবার এত বাসনা’! তবু ইতিহাসের পর্দা পুরোপুরি নামেনি। উত্তম-সুচিত্রার ধীর আলোয় গড়া প্রেম, সংযমে নির্মিত আবেগ, আর মানবিক সম্পর্কের যে নীরব ব্যাকরণ ছিল, তা হয়তো এখন আর স্ক্রিনে দেখা যায় না, কিন্তু ডিজিটাল কোলাহলের ফাঁকে ফাঁকে তার প্রতিধ্বনি এখনো শোনা যায়। সেই প্রতিধ্বনিই মনে করিয়ে দেয়, দৃশ্যমানতার যুগ শেষ কথা নয়, অনুভবের নীরবতাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।

 

রাজীব নন্দী: সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; ডক্টোরাল স্কলার, স্কুল অব জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত।
[email protected]

ফ্রান্সকে ‘আফ্রিকার দল’ বলায় ক্ষুব্ধ ফরাসি ফুটবল প্রধান

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচকে ঘিরে বর্ণবাদ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন প্যারাগুয়ের সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক হোসে লুইস চিলাভার্ট। ফ্রান্সকে ‘আফ্রিকার একটি দল’ বলে মন্তব্য করায় তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে চিলাভার্টের মন্তব্যকে বর্ণবাদী আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন দিয়ালো, ‘ফরাসি জাতীয় দলকে নিয়ে হোসে লুইস চিলাভার্ট যে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। এই ধরনের বক্তব্য আমাদের ফুটবলের সম্মান, ভ্রাতৃত্ব ও বৈচিত্র্যের মূল্যবোধকে আঘাত করে।’

এরপর আরও কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, ‘একসময় তিনি হয়তো একজন অসাধারণ গোলরক্ষক ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি নিজের মর্যাদা হারিয়েছেন।’

প্যারাগুয়ের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার চিলাভার্ট ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

৬০ বছর বয়সী এই সাবেক গোলরক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। যেখানে ফ্রান্সের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্রিস্তফ দুগারি বলেছেন, প্যারাগুয়ের জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই। তারই জবাব দিয়ে চিলাভার্ট লেখেন, ‘ক্রিস্তফ, তুমি ঠিকই বলেছ। ১৯৯৮ সালে আমরা ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিলাম, আর এবার প্যারাগুয়ে খেলবে আফ্রিকার একটি দলের বিপক্ষে।’

ফ্রান্স জাতীয় দল দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বহুসাংস্কৃতিক ও বৈচিত্র্যময় পরিচয়ের জন্য পরিচিত। দলের অনেক ফুটবলারেরই আফ্রিকান বংশোদ্ভূত পারিবারিক শিকড় রয়েছে। কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলের মতো তারকারা আফ্রিকান অভিবাসী পরিবারের সন্তান।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়ও ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ফরাসি দলের সদস্য ছিলেন দুগারি। অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলের জয়ে সেবার প্যারাগুয়েকে বিদায় করেছিল ফ্রান্স।

মজার বিষয় হলো, প্রায় তিন দশক পর ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়েও একই ব্যবধানে অর্থাৎ ১-০ গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স।