31.7 C
Dhaka
Home Blog

গ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে, রবির বেড়েছে কীভাবে?

দেশের শীর্ষ টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোনের আয় ও মুনাফা দুটোই কমেছে ২০২৫ সালে। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রবি আজিয়াটার আয় ও মুনাফা বেড়েছে।

কোম্পানি দুটির আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, গত বছর গ্রামীণফোনের আয় এর আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মুনাফা কমেছে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে রবির আয় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ এবং মুনাফা ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

গ্রাহকসংখ্যার ওঠানামায় আয়-মুনাফায় এই পার্থক্য। বছর শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকসংখ্যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮ কোটি ৩৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৭৪ লাখ।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর একটি নতুন নিয়মের জন্য তাদের গ্রাহক কমেছে। বছরের শেষ প্রান্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সিমের নিবন্ধনসীমা ১৫টি থেকে কমিয়ে ১০টি করেছে। এর ফলে গ্রাহকদের বাড়তি সিমগুলো বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানান, এই নিয়মের কারণে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।

সাংবাদিকদের দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের টেলিকম বাজারের প্রায় ৪৫ শতাংশ জিপির দখলে। তাই নিয়ম পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব জিপির ওপর পড়াটাই স্বাভাবিক।

বছর শেষে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮৭ লাখ। এটি তাদের মোট গ্রাহকের ৫৮ শতাংশ। তাদের মধ্যে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ফোর-জি ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে রবির সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৪ কোটি ৪৫ লাখ। এটি তাদের মোট গ্রাহকের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এদের মধ্যে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ফোর-জি গ্রাহক।

সাধারণত গ্রাহক ও তাদের খরচ বাড়লে কোম্পানির আয় ও মুনাফা বাড়ে। আর গ্রাহকসংখ্যা কমে গেলে মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রবি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিম নিবন্ধনের নিয়ম পরিবর্তনের পর বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে, গ্রাহক বৃদ্ধি তারই প্রতিফলন। এ ছাড়া তাদের ইন্টারনেট গ্রাহক ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে।

খরচের ধরনেও দেখা গেছে ভিন্নতা। গ্রামীণফোনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়েস ও ডেটা (ইন্টারনেট) থেকে আয় কমে যাওয়ায় গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ১৫৫ টাকা থেকে কমে ১৫১ টাকায় নেমেছে।

অন্যদিকে রবির গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৪৫ দশমিক ৮ টাকায় উন্নীত হয়েছে। মূলত ডেটা থেকে বেশি আয় এবং গ্রাহকদের প্যাকেজ বা অফার পরিবর্তনের ফলেই এই প্রবৃদ্ধি এসেছে।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা তানভীর বলেন, মূল্যস্ফীতির টানা চাপ এবং খরচের ব্যাপারে গ্রাহকদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় মোবাইল ব্যবহার কমেছে। ফলে আয়ও কমেছে।

তবে তিনি জানান, গ্রামীণফোনের গ্রাহকেরা অপেক্ষাকৃত বেশি পুরোনো ও দামি প্যাকেজ ব্যবহার করেন। গ্রাহক ধরে রাখা এবং তাদের সাধ্যের কথা বিবেচনা করে অনেক সময় স্বল্পমেয়াদে আয় ও মুনাফার ওঠানামা হতে পারে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকপ্রতি আয় বাড়ানোর চেয়ে জিপি সব সময় নেটওয়ার্কের মান, ডিজিটাল সেবা এবং যৌক্তিক মূল্য বজায় রাখার মাধ্যমে গ্রাহক সম্পর্ক তৈরির ওপর জোর দেয়।

কমেছে ভয়েস কল

উভয় অপারেটরেই গ্রাহকদের ভয়েস কল বা কথা বলার হার কমেছে, তবে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলক বেশি। জিপির গ্রাহকপ্রতি গড় কথা বলার সময় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১৬২ মিনিটে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রবির ক্ষেত্রে এই হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৪১ মিনিটে নেমেছে।

তানভীরের মতে, মানুষ এখন ওভার-দ্য-টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেটে বেশি কথা বলছেন। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে গ্রাহকেরা খরচ কমাতেও মোবাইল কলে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছেন।

গ্রামীণফোন ও রবির প্রবৃদ্ধির এই পার্থক্য নিয়ে কথা বলেন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সিইও কাজী মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রবির আয় মূলত ডেটানির্ভর। বাজারে ডেটার ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে ভয়েস কল কমছে। এর ফলে তাদের আয় বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রবির আয় বাড়লেও সেই তুলনায় তাদের মুনাফা এখনো বেশ কম, যেখানে গ্রামীণফোনের মুনাফা অনেক বেশি। এর মানে হলো, রবি তাদের পরিচালন দক্ষতায় সামান্য উন্নতি করলে তাদের মুনাফাও অনেকটা বাড়বে।

কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে রবির মুনাফা জিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সেদিক থেকে বলা যায়, রবির মুনাফার হার আসলে দীর্ঘ সময় ধরেই বেশ কম।

আয় ও মুনাফা কমলেও আর্থিক সূচকগুলোতে গ্রামীণফোন এখনো বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। জিপির মুনাফার হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে রবির ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। জিপির রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) ৪৯ শতাংশ, আর রবির ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য জিপির ৪১ দশমিক ৪৯ টাকা, যেখানে রবির ১৩ দশমিক ৩৪ টাকা।

(ঈষৎ সংক্ষেপিত, মূল প্রতিবেদনটি পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে)

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মধ্যে রাজনৈতিক শালীনতা দেখিনি: এ্যানি

এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মধ্যে রাজনৈতিক শালীনতা দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

নাসীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

আজ শনিবার প্রেসক্লাবে ‘নোঙর’ আয়োজিত জাতীয় নদী দিবস ২০২৬-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে নির্বাচনের আগ থেকেই দেখে আসছি। রাজনীতিতে যে শিষ্টাচার ও শালীনতা থাকা উচিত, তা তার বক্তব্যে কখনো খুঁজে পাইনি।’

‘তিনি এমন অনেক মন্তব্য করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও আপত্তিকর কথা আছে,’ বলেন এ্যানি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিনি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝিনাইদহে গেছেন। তার সঙ্গে যারা ছিলেন, তারা একসময় দেশের ছাত্ররাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছিল।’

আলোচনা সভায় দেশের নদী ও খাল রক্ষায় দূষণ ও অবৈধ দখল রোধে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘পানিই আমাদের জীবন, আবার পানির অভাবেই মরণ। পানি দূষিত হলেও আমাদের মরণ। নদী, খাল ও পানি সম্পদকে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এগুলো রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ‘কোনো তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং দেশের স্বার্থে এবং তিস্তাপাড়ের ৫ জেলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। বিগত সরকারের অবহেলায় তিস্তা ব্যারেজের কাজ শেষ হয়নি।’

‘পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩টি ইউনিট গত ৩ মাস ধরে তিস্তা পাড়ে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এই মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে,’ বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র ৩ মাসের মাথায় সরকারের প্রতিটি কাজ নিয়ে যেভাবে অসহযোগিতা করা হচ্ছে, তা একটি দায়িত্বশীল বিরোধীদলের কাছ থেকে জাতি প্রত্যাশা করে না।’
 

জীবন মূলত সময় নষ্ট করার খেলা: তৌকীর আহমেদ

তৌকীর আহমেদ একজন অসম্ভব মেধাবী অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা। তার পরিচালিত ‘জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্রটি ব্যাপকভাবে প্রশংসা পেয়েছে। ‘অজ্ঞাতনামা’ ও ‘হালদা’ চলচ্চিত্র দুইটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও পুরস্কার-প্রশংসা অর্জন করেছে। 

বহু বছর আগে নির্মাণ করেছেন বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র ‘দারুচিনি দ্বীপ’, যা এখনো মানুষের আলোচনায় ঘুরেফিরে আসে। ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’ পরিচালনা করেছেন। সব মিলিয়ে সাতটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন তিনি।

এ সময়ে এসেও মঞ্চ নাটক ‘তীর্থযাত্রী’-এর নির্দেশনা দিচ্ছেন। অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের পর নাটক নির্মাণ করেও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন।

১৯৮৮ সালে ‘ফিরিয়ে দাও অরণ্য’ নাটক দিয়ে বিটিভির পর্দায় অভিষেক হয় তৌকীরের। প্রথম নাটকে মাদকাসক্ত যুবকের চরিত্রে অভিনয় করে সবার মন জয় করে নেন তিনি। 

অভিনয় শিল্পী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তিনি।

সম্প্রতি জীবনের ৬০ বছর পূর্ণ করলেন এই নন্দিত তারকা। 

গতকাল রোববার শিল্পকলা একাডেমিতে বসে দ্য ডেইলি স্টারের সাথে কথা বলেছেন তৌকীর আহমেদ।

৬০ বছরে এসে জীবনকে কিভাবে দেখছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘সব বয়সের একটা সৌন্দর্য আছে। এই বয়সেরও নিশ্চয়ই আছে। তবে, জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা খুব স্পষ্ট। জীবন সম্পর্কে ধারণা হচ্ছে— এটি মূলত সময় নষ্ট করার খেলা। আমরা প্রত্যেকে বিভিন্নভাবে সময় পার করি। খেলা দেখে, সিনেমা দেখে, গান শুনে, ঘুমিয়ে, অনেকভাবে। এই খেলাটি ভীষণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে তখনই, যখন কেউ সৃষ্টির খেলায় মেতে উঠে।’

‘কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনই জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। কিন্তু, আমি এটাও জানি যে অর্থ খুবই প্রয়োজনীয়’, যোগ করেন তিনি। 

তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা এখন বুঝতে পারি একজীবন শেষ করে এসেছি। বাকি যে দিনগুলো আছে তা কাজে লাগাতে হবে। ৭০-৮০ দশকে আমাদের গড় আয়ু কম ছিল। একটা সময় আমাদের গড় আয়ু যখন ৪৬ বছর ছিল তখন উন্নত বিশ্বে মানুষ একশ বছর বেঁচে থাকতো। গুণগত মানটাও দেখতে হবে। বেঁচে থাকাও দরকার এবং একইসঙ্গে সময়টাকেও কাজে লাগানো দরকার।’

সাতটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন তৌকীর আহমেদ। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাতটি সিনেমা আমি বানিয়েছি। যদি পরিবেশ অনুকূলে থাকত তাহলে হয়তো আরো বেশি হতে পারতো। ১৪টি কিংবা ২১টি হতে পারতো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, টেলিভিশনের জন্য প্রচুর কাজ করেছি। নাইওরী নামে একটি টেলিফিল্ম বানিয়েছিলাম। যা আলোচনায় ছিল। গুণগত মানে অনেক এগিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘নাইওরী দেখে তানভীর মোকাম্মেল বলেছিলেন এটা সিনেমা হতে পারত। যেহেতু টেলিভিশনে প্রচার হয়েছে সে কারণে হয়তো অতটা গুরুত্ব পায়নি।’

‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রির যে ধারা তাতে মনে হয় আমাদের নিয়ন্ত্রণ করেছে। কাজ আরো বেশি হতে পারত। কিন্তু কোয়ালিটি একটা বিষয়’, যোগ করেন তিনি।

শিল্পী বেঁচে থাকেন দুই তিনটি কাজ দিয়েই— এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঠিক। সহমত পোষণ করছি।’

সীমাবদ্ধতার বিষয়ে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘দেশের বা সমাজের সাথে মার্চ করেই চলতে হবে। এখানে যে প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করেছে, সেখানে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সেই সীমাবদ্ধতার মাঝেই কাজ করতে হবে।’

নতুন সিনেমা নিয়ে নিজের মতামত ডেইলি স্টারককে জানান তৌকীর। 

তিনি বলেন, ‘অনেক দিন সিনেমা নির্মাণ করিনি। চলতি বছরের শেষ দিকে নতুন একটি সিনেমা বানাতে চাই। আমার শ্বশুর আবুল হায়াতকে সঙ্গে নিয়ে, তাকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণ চরিত্র তৈরি করে কাজ করতে চাই। মঞ্চের কাজ তো আছেই।’

স্মৃতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্মৃতি আমাদের প্রতারিত করে। এতটাই প্রতারিত করে যে যাপিত জীবন আমরা ভুলে যাই। অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। অসাধারণ উপলব্ধি হচ্ছে।’
 

প্রতিবেশীদের নয়, হামলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, প্রতিবেশীদের ওপর ইরান হামলা চালাচ্ছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হচ্ছে।

আজ রোববার সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। 

সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানে চলমান পরিস্থিতি, নেতৃত্ব নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। 

দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ এক বা দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে পারেন।’ 

ইরানে রাষ্ট্রীয় কাঠামো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

একইসঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান আরাঘচি।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতাকে নিয়ে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যারা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।’

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা প্রসঙ্গে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আত্মরক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানা সম্ভব নয়। তাই আমাদের এই অঞ্চলে বিভিন্ন দেশে তাদের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।’ 

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক মার্কিন সেনা সদস্য ঘাঁটি খালি করে হোটেলে অবস্থান নিয়ে মানবঢাল তৈরি করছে।

তবে ইরান শুধু সামরিক সদস্য ও সামরিক স্থাপনাকেই লক্ষ্য করে হামলা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

আপাতত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চাই না কিংবা সেখানে নৌ চলাচল ব্যাহত করবে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও নেই।’

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ নেই বলেও উল্লেখ করেন আরাঘচি।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছি না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা ও প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছি।’ 

উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন আব্বাস আরাঘচি।

এবার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাতে সরাইল থানায় এ মামলা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেনের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী তামিম মিয়া। এতে ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, একুশে ফেব্রুয়ারির ভোরে আনোয়ার হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ফারজানা আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ ও তার বাড়ির সামনে এজাহারভুক্ত আসামিরা গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে বাদী তামিম মিয়াকে মারধর ও তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে গতকাল রাতে সরাইলে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা ও মারপিটের অভিযোগে মামলা করেন রুমিন ফারহানার সমর্থক আহাদ মিয়া।

এ মামলায় আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামিসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও ১৫০ জনকে।

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন রুমিন ফারহানা। একপর্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই স্থান ত্যাগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তার সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।

বাংলাদেশের চা বাগানে কুষ্ঠ ‘পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি’

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের পাতাতোলা নারী চা শ্রমিক রূপন ভূমিজ (৫৪)। বছর পাঁচেক আগে তার কুষ্ঠরোগ শনাক্ত হয়। ওই সময় হঠাৎ করেই তিনি মুখে সাদা স্পট ও ছোট ছোট গোটার মতো দেখতে পান। ভেবেছিলেন এটা হয়তো কোনো প্রকার ফোড়া বা চর্মরোগ। আবার এটাও ভেবেছেন, যেহেতু চা বাগানে কাজ করেন তাই কোনো বিষাক্ত পোকার কামড় হতে পারে। তবে শুরু থেকেই লক্ষ্য করেছেন, মুখের ওই স্থানে কোনো অনুভূতি বা চুলকানি নেই। জোরে চিমটি দিলেও কিছু অনুভব হয় না।

সপ্তাহখানেক পর কমলগঞ্জের ভানুগাছে কুষ্ঠ নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা হীড বাংলাদেশে যান রূপন। সেখানে চিকিৎসকরা তার কান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং কুষ্ঠ শনাক্ত হয়। তিনি সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে এক নাগাড়ে ৪৫ দিন চিকিৎসা নেন এবং ওষুধ খেতে থাকেন।

রূপনের কুষ্ঠ সংক্রমণ ছিল বেশি। সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতালে যখন তিনি ভর্তি হন, তখন তার পা আর পায়ের পাতায় ক্ষত ছিল। চিকিৎসকরা তার পায়ের তালুতে ড্রেসিং করেন এবং বিশেষ জুতা দেন চলাফেরার জন্য। বর্তমানে তার দুই পা ও ডান হাতে সমস্যা। তিনি আর চা পাতা তুলতে পারেন না। এমনকি ব্যথার কারণে ওই হাত দিয়ে কোনো কাজও করতে পারেন না। তার পায়ের তালুতেও অনুভূতি পুরোপুরি আসেনি। রূপনের ভাষ্য, ‘পায়ের তালুর কোথাও কোথাও একেবারেই অনুভূতি নেই। এমনকি বেলের কাটা ফুটলেও কিছু বুঝবো না। শীতকালে এই সমস্যা আরও বাড়ে।’

কমলগঞ্জের পাত্রখোলা চা বাগানের চা শ্রমিকের সন্তান পূর্ণিমা অলমিক (১৩)। প্রায় দুই বছর আগে অলমিকের মুখে ছোট একটি দাগ ভেসে ওঠে। প্রাথমিকভাবে জন্মদাগ বলেই মনে করেছিল পরিবার। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটা বড় হয়। সেখানে চুলকানি বা ব্যথা ছিল না। পরে তারও কুষ্ঠরোগ শনাক্ত হয়।

রূপন ও পূর্ণিমার মতো সিলেট বিভাগের সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ১৩৬টি চা বাগানেও কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ আছেন। আর চট্টগ্রাম বিভাগের ২৪টি চা বাগানে কুষ্ঠরোগ নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

লেপ্রোসি মিশন বাংলাদেশ ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগের তিন জেলায় ২ হাজার ৪৮০ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত করে এবং চিকিৎসা দেয়, যাদের অধিকাংশ এখন সুস্থ।

কুষ্ঠ নিয়ে হীড বাংলাদেশ ১৯৭৪ সাল থেকে সিলেট বিভাগে কাজ করছে। সংস্থাটির লেপ্রোসি প্রজেক্টের ইনচার্জ রাজেস দেবনাথ বলেন, ‘সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত যেসব রোগী পাই, তাদের বেশিরভাগই চা বাগানের মানুষ। ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর চা শ্রমিকদের মধ্যে ২৫০ থেকে ৩৫০ জন কুষ্ঠরোগী আমরা শনাক্ত করেছি।’

চা বাগানে কুষ্ঠ সংক্রমণ বেশি হওয়ার পেছনে অসচেতনতা ও কুষ্ঠ ধরা পড়ার পর ওষুধ সেবনে অনীহাকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়। এ ছাড়া, দারিদ্র্যও চা বাগান থেকে কুষ্ঠ নির্মূলের পথে অন্যতম বাধা।

রূপন ভূমিজ জানান, কুষ্ঠ থেকে সেরে উঠতে তার আরও এক বছর ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে তিনি সিলেটের কুষ্ঠ হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে দেওয়া ওষুধ সংগ্রহ করতে যাচ্ছেন না। বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতিতে দূরে কোথাও যেতে একজনকে সঙ্গে নিতে হয়। সিলেটের হাসপাতালে যাওয়া-আসায় দুজন মানুষের খরচ হবে অন্তত দুই হাজার টাকা। এই টাকা তিনি জোগাড় করতে পারছেন না।

শ্রীমঙ্গলে দ্য লেপ্রোসি মিশন বাংলাদেশের প্রজেক্ট অফিসার স্মিতা দাস বলেন, ‘কুষ্ঠরোগের সংক্রমণ এতো ধীরগতিতে হয় যে চা জনগোষ্ঠীর মানুষ প্রাথমিক অবস্থায় মনেই করেন না এটি একটি রোগ। শারীরিক অবস্থা খারাপ না হওয়া পর্যন্ত তারা চিকিৎসার খোঁজে আসেন না।’

২০১৭ সালে লেপ্রোসি মিশন চা বাগানে কাজ শুরু করার পর প্রথম দিকে অনেকে হাতে ঘা অথবা বাঁকা আঙ্গুল নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসতেন। কিন্তু কুষ্ঠ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ক্যাম্পেইন চালানোর ফলে বাগানের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে বলে জানান স্মিতা দাস।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, চা বাগানগুলোতে হাজারো চা শ্রমিক আছেন, যারা কাজের ব্যস্ততায় পায়ের তলার দিকে খেয়াল রাখতে পারেন না। ‘সব ধরণের অসুখের জন্যই তারা চিকিৎসকের কাছে যান, কিন্তু কুষ্ঠ হলে যান না।’

তিনি বলেন, ‘কুষ্ঠরোগের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম ডোজ ওষুধ খাওয়ার পরই জীবাণু সংক্রমণ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু চা বাগানের শ্রমিকরা নিয়ম মেনে ওষুধ খান না। ছয় মাসের ওষুধ দিলে দুই মাস পরই খাওয়া বন্ধ করে দেন।’

পূর্ণিমা অলমিকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শুরুতে হীড বাংলাদেশ তাকে সাসপেক্ট কুষ্ঠরোগী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং দুই মাসের ওষুধ দেয়। এক মাস ওষুধ খাওয়ার পর যখন তার মুখের দাগ অনেকটা কমে আসে তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে আর ওষুধ খেতে বারণ করেন। ওষুধ বন্ধ করার পরই পূর্ণিমার শরীরের বিবর্ণ দাগ বেড়ে যায়। পরে তিনি আবারো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

গবেষক ও সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক ফিলিপ গাইন চা বাগান ও চা শ্রমিকদের অবস্থা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তিন দশক ধরে কাজ করছেন। তিনি জানান, চা শ্রমিকদের অধিকাংশ লেবার লাইনের যে পরিবেশে বসবাস করেন, তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং মালিক তাদেরকে যে স্বাস্থ্যসেবা দেয় তা একেবারেই সামান্য। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে তাদের স্বাস্থ্যের উপর।

তিনি বলেন, ‘চা শ্রমিকদের একটা বড় অংশই অপুষ্টির শিকার এবং বড় কোনো অসুখ হলে রোগ নির্ণয় করা কঠিন। কারণ চা বাগানগুলো অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। এ ছাড়া, দূরত্ব ও দারিদ্রের কারণে চা শ্রমিকদের অনেকেই বাগানের বাইরের হাসপাতালে যেতে পারেন না। ফলে কুষ্ঠর মতো রোগ হলে অনেকে প্রথম দিকে জানতেই পারেন না কী হয়েছে।’

কুষ্ঠ কোনো বংশগত রোগ নয়, এটি মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রে নামে পরিচিত এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, যা প্রান্তিক স্নায়ু আক্রান্ত করে। এই রোগের সংক্রমণে রোগী মারা না গেলেও চিকিৎসা নিতে দেরি করলে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। চামড়ায় এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়, তাই প্রাথমিকভাবে এটিকে চর্মরোগ মনে করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ মূলত একই গোত্রভুক্ত। দুটিই সংক্রামক ব্যাধি, যা হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। কিন্তু যক্ষ্মার জীবাণু আক্রমণের কয়েক সপ্তাহ পরেই প্রকাশ পায়, আর কুষ্ঠর লক্ষণ প্রকাশ পেতে কয়েক বছর লেগে যায়।

চা শ্রমিকদের মধ্যে রোগটি কেন এতো বেশি? এ বিষয়ে ফিলিপ গাইন বলেন, ‘চা শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি-বঞ্চিত একটি শ্রমজীবী গোষ্ঠী। দারিদ্র্য, নিম্নমানের আবাসন, লেবার লাইনের ঘিঞ্জি পরিবেশ, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে এ রোগের ব্যাকটেরিয়া নির্ণয়ের আগেই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে প্রবেশ করে।’

তিনি বলেন, ‘চা বাগানে কুষ্ঠরোগ কমিয়ে আনার জন্য সম্পূর্ণভাবে ভূমিহীন, ন্যায্য মজুরি-বঞ্চিত ও নাগরিক সুবিধা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করা দরকার। তাদের জন্য ন্যায্য মজুরি, পুষ্টি ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা এবং শোভন আবাসন নিশ্চিত করা আবশ্যক।’

দেশব্যাপী কুষ্ঠ-চিত্র

কুষ্ঠরোগ সংক্রমণের দিক থেকে মৌলভীবাজার জেলাকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ জেলায় প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৫ জন বা তার বেশি সংখ্যক কুষ্ঠরোগী রয়েছে। প্রতিবেদনে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ অন্য জেলাগুলো হলো পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, মেহেরপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবান।

‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ জেলাগুলো হলো লালমনিরহাট, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, হবিগঞ্জ ও খাগড়াছড়ি। এসব জেলায় প্রতি ১ লাখে ২ থেকে ৫ জন কুষ্ঠরোগী রয়েছে। আর একেবারেই কুষ্ঠরোগী পাওয়া যায়নি এমন জেলার মধ্যে আছে ঢাকা (সিটি করপোরেশন বাদে), রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, নড়াইল, বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর।

বাকি জেলাগুলোতে কুষ্ঠরোগী আছে, তবে সংখ্যায় কম—প্রতি লাখে ২ জনেরও কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালে কুষ্ঠ সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশকে বিশ্বের ১২টি দেশের মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেখানে বছরে ১ হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে নতুন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়। সংস্থাটি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ থেকে কুষ্ঠ নির্মূলের ঘোষণা দিলেও তার অর্থ ছিল, প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে একজনেরও কম রোগী রয়েছে।

দ্য লেপ্রোসি মিশন বাংলাদেশের হেড অব অপারেশনস জিপথো বৈরাগি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই ঘোষণা কুষ্ঠরোগ নির্মূলের পথে একটি বড় ধাপ। কিন্তু ১৯৯৮ সালে সংস্থাটির এই ঘোষণার ফলে কুষ্ঠরোগ প্রতিরোধে বরাদ্দ ও মনোযোগ কমে গেছে। এতে নতুন করে রোগটি দেখা যাচ্ছে।’

সরকারের জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে প্রতি বছরই দেশে নতুন করে গড়ে অন্তত ৩ হাজার মানুষ কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ১৯৯৮ সালে সারা দেশে ২ হাজার ২৬৫ শিশুসহ কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৩৭১ জন। ২০২২ সালে নতুন কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা কমে ১৪৮ শিশুসহ ২ হাজার ৯৮৮ হয়। দেশে কুষ্ঠরোগ শূন্যে নামিয়ে আনতে সরকারিভাবে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্লান ফর লেপ্রোসি ইন বাংলাদেশ ২০২৩-২০৩০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

কুষ্ঠ নির্মূলে দ্য লেপ্রোসি মিশন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। দেশের ৪০টি জেলায় সংস্থাটির কার্যক্রম রয়েছে এবং নীলফামারী জেলায় কুষ্ঠরোগীদের সেবায় ১১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল পরিচালনা করছে। এই হাসপাতালে অঙ্গহানির শিকার কুষ্ঠরোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কুষ্ঠরোগকে ঘিরে সমাজে এখনো অনেক ভ্রান্ত ধারণা, কুসংস্কার ও ঘৃণা প্রচলিত আছে। এ ব্যাপারে জিপথো বৈরাগি বলেন, ‘এ ধরণের ভ্রান্ত ধারণার জন্ম হয়েছে মূলত ব্রিটিশ আমলের “লেপার্স অ্যাক্ট ১৮৯৮” এর কারণে। এই আইনের আওতায় কুষ্ঠরোগীদের ওপর নানা ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপিত ছিল, যার মধ্যে অন্যতম কুষ্ঠরোগীদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, কিছু পেশায় কাজ নিষিদ্ধ করা ও গণপরিবহনে উঠতে না দেওয়া। ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইনটি ২০১১ সালে সরকার বাতিল করে।’

সরকারি হিসাবে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা যেখানে প্রতি ৫৬ হাজার ৮৩৬ মানুষের মধ্যে একজন, সেখানে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের চা বাগানগুলোতে চা জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে প্রতি ১ হাজার ৭০০ জনে কুষ্ঠরোগী একজন। এ হিসাবের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ২৪টি চা চাগান অন্তর্ভুক্ত নয়। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬০টি চা বাগানে ৫ লাখের মতো চা জনগোষ্ঠীর মানুষের বাস। এদের মধ্যে ৭৫ হাজারের মতো চট্টগ্রাম বিভাগে বাস করে। চা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে ১ লাখ ৪০ হাজারের মতো মানুষ। চা বাগানে কুষ্ঠরোগের বিস্তার নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ২০২৩ সালে একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে যে চা বাগানে কুষ্ঠরোগের হার পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্টের লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, ‘চা বাগানে কুষ্ঠরোগের বিস্তার রোধে প্রথম চাই পুষ্টির অবস্থা উন্নত করে চা জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি কুষ্ঠরোগী দ্রুত শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। তাদের জীবনমান ও আবাসন উন্নত করাও গুরুত্বপূর্ণ।’

 

ফাহমিদা রহমান: সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) গবেষক।

দেম্বেলের নৈপুণ্যে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ইরাককে উড়িয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখলো সেনেগাল

বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশের পর থেকেই ম্যাচটিকে দেখা হচ্ছিলো সময়ের দুই সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপে ও আরলিং হালান্ডের মহারণ হিসেবে। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন উসমান দেম্বেলে। তার প্রথমার্ধে করা দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের পর্বে উঠেছে ফ্রান্স। 

ম্যাচ শুরুর আগেই কোটি ফুটবলপ্রেমীর রোমাঞ্চে পানি ঢেলে দেন নরওয়ে কোচ। এমবাপ্পে একাদশে থাকলেও হালান্ডসহ গোটা শুরুর একাদশকেই বিশ্রাম দেয় নরওয়ে। সেনেগালের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকা ১০ জনকেই বদল করে সম্পূর্ণ নতুন দল নামান নরওয়ে কোচ। এতে করে হালান্ড-এমবাপে মহারণ আর দেখা হলো না ফুটবল অনুসারীদের।  

তবে তাই বলে ম্যাচে আক্রমণ কিংবা রোমাঞ্চ কোনটিরই কমতি ছিল না। একদম প্রথম মিনিট থেকেই মুহুর্মুহু আক্রমণে গেছে ফ্রান্স। এমবাপের শট বারে লেগে ফেরত না এলে মাত্র ২৫ সেকেন্ডেই এগিয়ে যেতে পারত তারা। ৪ মিনিটে আরেকটি পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিলেন মিডফিল্ডার কোনে, তবে নরওয়ে গোলকিপার দক্ষতার সাথে ফিরিয়ে দেন শট। 

এরপর মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় ম্যাচে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো এমবাপের দারুণ বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন দেম্বেলে। ১২ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। আর্সনেসের চিপ করে পাঠানো বল দুর্দান্তভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন স্ট্রান্ড লারসেন, কিন্তু এরপর সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও বারের উপর দিয়ে বল গ্যালারিতে পাঠান এই ক্রিস্টাল প্যালেস ফুটবলার। 

নরওয়েকে সমতায় ফেরার আর কোনো সুযোগ না দিয়ে ২০ মিনিটে আবারও গোল করে বসেন দেম্বেলে। আবারও মাঝমাঠ থেকে একই কায়দায় এমবাপের বাড়ানো বল থেকে গোল করেন দেম্বেলে। এই গোলের ঠিক ৮০ সেকেন্ডের মাথায় একটি গোল শোধ দিয়ে জমজমাট ম্যাচের আভাস দেয় নরওয়ে। গোল করেন থেলো আসগার্ড। 

নরওয়ে যখন বিরতির আগেই সমতায় ফেরার উপায় খুঁজছে, তখন সেই রাস্তা আরও কঠিন করে দেন সেই দেম্বেলেই। ৩২ মিনিটের মাথায় নিজের তৃতীয় গোলটি করে রেকর্ডবুকে নিজের নাম তুলেছেন এই পিএসজি তারকা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দেম্বেলের চেয়ে কম সময়ে হ্যাটট্রিক করার নজির আছে মাত্র একটি। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে মাত্র ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অস্ট্রিয়ার এরিখ প্রবস্ট।

দেম্বেলে হ্যাটট্রিকটি আরও এক দিক থেকে দারুণ কীর্তি গড়েছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর এই প্রথমবার প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক দেখলো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে সতীর্থ এমবাপের সমান চার গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির ঠিক পেছনেই রইলেন বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। 

ম্যাচ যখন ৩-১ ব্যবধানেই শেষ হবে মনে হচ্ছিল, তখন স্টপেজ টাইমে ফ্রান্সের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন আরেক পিএসজি ফুটবলার ডিজেরে ডুয়ে। এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের তিনটিই জিতলো দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

‘আই’ গ্রুপের আরেক ম্যাচও গোলবন্যা দেখেছে। এশিয়ার দেশ ইরাককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আফ্রিকান দেশ সেনেগাল। বড় এই জয়ে সেরা আট তৃতীয় দলের একটি হয়ে পরের পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখলো দেশটি। 

মাত্র চার মিনিটের মাথায় হাবিব দিয়ারার গোলে এগিয়ে যায় ‘তেরেঙ্গা লায়ন্স’ হিসেবে খ্যাত সেনেগাল। ১৩ মিনিটে রেবিন সুলাকা লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইরাক। প্রথমার্ধের বাকি সময় ইরাক গোলবার আগলে রাখতে পারলেও বিরতির পরে এসে চারটি গোল আদায় করে নেয় সেনেগাল। 

৫৬ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন ইসমাইলা সার। তবে সেনেগালের হয়ে এদিন ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন বদলি হিসেবে নামা পাপে গুয়েই। দলের তৃতীয় ও চতুর্থ গোলটি করার পাশাপাশি পঞ্চম গোলের এসিস্টও করেছেন তিনি। 

বিশাল এই জয়ে এখনো সেনেগালের আশা টিকে রইলো। বাকি গ্রুপগুলোর ম্যাচের দিকে এখন আগ্রহভরে তাকিয়ে থাকবে হবে তারা। তবে পাঁচ গোলের ব্যবধানের এই বড় জয় সেনেগালের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে অনেকটা। 

 

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ডেইলি স্টারের সুকান্ত হালদার

দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাত নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ পেয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার সুকান্ত হালদার।

গত ২৭ ডিসেম্বর দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ‘Potato Paradox: Just another curry on the rice plate? This will not solve the price problem’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য তিনি এ পুরস্কার অর্জন করেন।

আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

সুকান্ত হালদার ছাড়াও আরও ছয় সাংবাদিক এ বছর এই পুরস্কার পেয়েছেন।

প্রিন্ট বিভাগে আরও পুরস্কার পেয়েছেন দ্য ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম ও এম মুনির হোসেন। টেলিভিশন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন চ্যানেল ২৪-এর দেলাওয়ার হোসেন দোলন এবং একাত্তর টিভির রাকিব হোসেন। অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন জাগো নিউজ ২৪-এর নাজমুল হোসেন ও একুশে পত্রিকা ডটকমের শরিফুল রুকন।

পুরস্কারের বিচারক প্যানেলে ছিলেন রোবায়েত ফেরদৌস, খুরশিদ আহমেদ ফরহাদ এবং মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা ও বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল।

দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাত নিয়ে মানসম্পন্ন সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ চালু করেছে প্রাণ গ্রুপ।

১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে: আবদুস সালাম

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে দেশকে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম।

আজ শুক্রবার এলিফ্যান্ট রোডের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সালাম বলেন, ‘ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে আমরা এই শহর পরিষ্কার করব।’

তিনি জানান, কোরবানির পর নগর পরিষ্কার করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার ও ২১০ গ্যালন বা ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন দেওয়া হবে। এছাড়া, কোরবানির পশুর বর্জ্য ফেলার জন্য পুরো ঢাকা শহরে ১ লাখ ৪০ হাজার পিস ব্যাগ দেওয়া হবে।

আগামী ২-৩ বছর পরে স্লটার হাউসে কোরবানির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সালাম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে সিটি করপোরেশন ডুবিয়ে দিয়েছে। আমি বলি যে, ১৮ মাসে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। এই যে দেখেন, হামে বাচ্চারা মারা যাচ্ছে, এই দায়িত্বটা কার? এই দায়িত্বটা ওদের। সেই সময় টিকা আনে নাই।’

‘আজকে ঢাকা শহরে দেখেন রিকশার জ্যাম হয়। এই রিকশা কখন আসছে? ৫ আগস্টের পরে আসছে। আজকে পুরো রাস্তাঘাট সয়লাব। আজকে হকারে সব রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে তো চলতে পারে না! একটা সিস্টেম হতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

সালাম আরও বলেন, ‘ওই ১৮ মাস তারা কিছুই করে নাই। বরং দেশটা আরও পিছিয়ে দিয়েছে।’

এ সময় বিরোধীদলের সমালোচনা করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাত্র তিন মাসে অনেক কাজ করার চেষ্টা করেছেন। আজকে বিরোধীরা বলে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সরকার ফেলে দেবে। ‘ফেলে দেওয়ার কী হলো! জনগণ ভোট দিয়ে (বিএনপিকে ক্ষমতায়) এনেছে।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ কোত্থেকে এলো? আমাদের ১৭ বছরের আন্দোলনেই তো জুলাই সনদ। আমরা তো সেটার বাইরে না! আর সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের জন্য কাজ করছে কি না সরকার—এটা দেখতে হবে।’

জনগণ বিএনপিকে ৫ বছর সময় দিয়েছে, সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন বিএনপির এই নেতা।

বিরোধীরা আন্দোলন করলে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কথা বলে দেশটাকে আর পিছিয়ে দিয়েন না। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আজকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সারা পৃথিবীতে একটা অর্থনৈতিক মন্দা, বাংলাদেশও সেটার বাইরে না। কিন্তু আপনারা যদি এখন আবার একটা বিশৃঙ্খলা করেন, দেশটা তো আরও রসাতলে যাবে। কাজেই ধৈর্য ধরেন, একটু সময় দেন। দুই-তিন বছর সময় দেন।’

তিনি বলেন, ‘দেখেন না—তারেক সাহেব কতটুকু পারে, কী পারে না। তারপর না পারলে তো পাবলিকই বলবে। আপনারা তো পাবলিক না! আপনারা তো জামায়াতের লোক। আপনারা তো অমুক দলের ছাত্রদের লোক। আপনারা তো পাবলিক না, পাবলিক কী বলে সেটা শোনেন।’

‘দেশ চালানো অত সহজ না। আস্তে আস্তে চালাতে দেন, তারেক রহমানকে চালাতে দেন, গণতন্ত্রটা রাখেন। আবার নির্বাচন করবেন, নির্বাচনে যদি জনগণ তারেক রহমানকে পছন্দ না করে, আপনাদেরকে পছন্দ হলে আপনাদের ভোট দেবে। এত সহজ না তো। আপনাদের চরিত্র একাত্তরে তো মানুষ দেখেছে। ভুলে গেছে? ভোলার কথা না তো,’ যোগ করেন তিনি।

মেয়র নির্বাচিত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এলিফ্যান্ট রোড এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে নতুন প্রকল্প আসছে।

তিনি আরও জানান, এই এলাকার পানি ড্রেনেজ সিস্টেমের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গায় ফেললে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে।

এলিফ্যান্ট রোডের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়ে সালাম বলেন, ‘ময়লাটা যেখানে ফেলার, সেখানে ফেলতে হবে। যত্রতত্র না ফেলে একটা ডাস্টবিন বা গার্বেজ বক্স বা টিন, যেটাই আমরা ব্যবহার করতে পারি, অন্তত বাড়ির ময়লাগুলো…সব দোকান থেকে যদি ঝাড়ু দিয়ে এনে রাস্তার মধ্যে ফেলে দেয়, তাহলে তো রাস্তায় আবর্জনা হবেই এবং সারাদিন দেখা যায় যে, এই আবর্জনার মধ্যে গাড়ি-ঘোড়া চলে, আবর্জনাগুলো ছড়িয়ে যায়। এইগুলোতে আপনাদের শৃঙ্খলা আনতে। এগুলো (শৃঙ্খলা) আনার জন্য কিন্তু সিটি করপোরেশন পাহারা দিতে পারবে না।’

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সালাম আরও জানান, নগর পরিচ্ছন্নতায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিচালক মাতিয়া বানু শুকুর পরিবার

গুণী পরিচালক ও নাট্যকার মাতিয়া বানু শুকু। তার নির্মিত বহু নাটক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। নাট্যকার হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেছেন। 

‘লাল মোরগের ঝুটি’ সিনেমার প্রযোজক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

তার স্বামী আরেক গুণী নির্মাতা নুরুল আলম আতিক।

বর্তমানে ভালো নেই পরিচালক মাতিয়া বানু শুকু। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন আরও আগে। কিন্তু ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেজন্য সরকারের সহযোগিতা চাইছে পরিবার। 

এই বিষয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সাথে কথা বলেন নুরুল আলম আতিক।

নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘আসলে আমরা যারা নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করি তাদের তো কোনো পেনশন নেই। কাজটাই আসল আমাদের কাছে। হঠাৎ করে কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে পরিবারের বাকি সদস্যদের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। আমাদের ওপর দিয়েও যাচ্ছে।’

‘বন্ধুদের সহযোগিতা পেয়েছি। কাছের মানুষদের সহযোগিতা পেয়েছি। আমার স্ত্রী মাতিয়া বানু শুকুর অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। সকলে আশীর্বাদ করবেন। সে যেন সুস্থ হয়ে যায়’, বলেন তিনি। 

সরকারের সহযোগিতার বিষয়ে নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘আমরা শিল্পী মানুষ। দুজনই নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। মাঝে শুকুকে চেন্নাই নিয়ে গেছি। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এই চিকিৎসা অনেক দিন করতে হবে। সেজন্য সরকারের সহযোগিতা চাইছি। সরকার পাশে দাঁড়ালে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আশা করছি সরকার পাশে দাঁড়াবে।’

আবারও চেন্নাই নিতে হবে কিনা— এ প্রশ্নের জবাবে নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘নিতে হবে। ২৩ এপ্রিল অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া আছে। কিছু কাগজ ঠিক করতে হচ্ছে। তাছাড়া অর্থের বিষয়টি তো আছেই।’

৮ মাস আগে মাতিয়া বানু শুকুর ক্যানসা ধরা পড়ে। এরপর তাকে চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন ছিলেন। কেমো দেওয়া হয়েছে এবং থেরাপিও দেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে একটি করে কেমো দিতে হয়েছে। এছাড়া ২১ দিন পর পর থেরাপি দেওয়া হয়েছে।
নুরুল আলম আতিক বলেন, ‘গত সপ্তাহে কেমো দেওয়া হয়েছে। কিছু পরীক্ষা করাতে হবে।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে শুকুর জন্য দোয়া চাই। ভালোবাসা চাই। সবার ভালোবাসায় যেন সবকিছু ঠিক হয়ে যায়।’

উল্লেখ্য, মাতিয়া বানু শুকু পরিচালিত আলোচিত ধারাবাহিকগুলো হচ্ছে— গোল্লাছুট, টু লেট, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি।

তিনি ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের মেয়ে।