35 C
Dhaka
Home Blog

সরকারের ঋণের বোঝা ২২ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট সরকারি ঋণের বোঝা ২২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ থেকে ‘অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে’ সরকার অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক বুলেটিনে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ঋণ নেওয়া হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা।

বুলেটিনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুন শেষে, অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার এক মাস আগে সরকারি ঋণ ছিল ১৮ লাখ দশমিক ৯০ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সালের জুন শেষে ঋণ ছিল ১৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অভ্যন্তরীণ ঋণ ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ডিসেম্বরে ১২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৯ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকায় এসে দাঁড়ায়।

সরকারের সামগ্রিক ঋণ গ্রহণের চিত্রে অভ্যন্তরীণ ঋণ বেশি দেখা যাচ্ছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মোট সরকারি ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ছিল ৫৭ শতাংশ ও বৈদেশিক ছিল ৪৩ শতাংশ।

বুলেটিনে বলা হয়, স্থানীয় বাজারের ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে সরকার বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ তারল্য প্রবাহ বাড়িয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে সরকার মোট ৬২ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নেয় বা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৫৯ শতাংশ কমে, যা টাকার অংকে দাঁড়ায় ১০ হাজার ১৩০ কোটি।

এ সময়ে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭০ শতাংশ বেড়ে ৫২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায় পৌঁছায়। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে।

অভ্যন্তরীণ ঋণের বেশিরভাগই সংগ্রহ করা হয়েছে সরকারি ঋণপত্রের নিশ্চয়তায়।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সরকারের এই কৌশলের মূল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দিকে ঝোঁক স্পষ্ট ছিল।’

এদিকে, জুলাই-ডিসেম্বরে মোট সুদ পরিশোধ ২২ শতাংশ বেড়ে ৭১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা।

এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ করা হয় ৬১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি।

অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়া বেড়ে গেলে তা অনেক সময় বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করলেও, অর্থ মন্ত্রণালয় এটাকে একটি অনন্য সুযোগ হিসেবে দাবি করেছে। 
মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, শক্তিশালী ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য, সরকারি সিকিউরিটিজে মুনাফার হার হ্রাস ও বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় বেসরকারি ঋণগ্রহীতাদের কোনো সমস্যা না করেই টেকসই অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও বলছে, অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্র আরও স্থিতিস্থাপক ও স্বনির্ভর আর্থিক কাঠামো তৈরি করছে, যা বেসরকারি ঋণ বাজারে চাপ সৃষ্টি না করেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে।

বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বিএনপির নেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আগামী কোনো নির্বাচনেই বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বিএনপির নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আজ শনিবার সকালে জিয়া সরণি খাল পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমাদের নাই। আগামীতে যত নির্বাচন আসবে—সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, সব নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ হবে এবং এই সমস্ত নির্বাচনে আমাদের যারা প্রতিনিধিত্ব করবেন বা দাঁড়াবেন আমরা মানুষের ভোট নিয়ে নির্বাচিত হতে চাই। এই কারণে মানুষের উন্নয়নমূলক কাজ করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা আছে এবং আমাদেরও যথেষ্ট আগ্রহ আছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, আল্লাহর রহমতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে জিয়া সরণি খাল উদ্ধার, পুনঃখনন ও সৌন্দর্য বর্ধন করে পানির প্রবাহ সচল রাখা হবে।’

‘আমরা আপাতত পানি প্রবাহ সচল রাখার কাজ করছি,’ বলেন তিনি।

বর্ষা মৌসুমের পরে এই খালের দুইধার বাঁধাই করা হবে জানিয়ে পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি খালটি বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। আগামী জুলাই থেকে এই প্রকল্প শুরু হবে।

এছাড়া ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর খাল সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে, জানান তিনি।

শাহে আলম বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, এই খালটির শুধুমাত্র নাম জিয়া সরণি হওয়ার কারণে বিগত সরকার ১৯ বছরে এই খালের (উন্নয়নে) কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেনি। খাল মানুষের উপকারের জন্য। পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার জন্য। শুধুমাত্র মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি খাল হওয়ার কারণে একটি অবৈধ সরকার সেই খালের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করবে না, সেই খাল পরিষ্কার রাখবে না, এলাকার মানুষকে কষ্টে রাখবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আগামীতে কার নামে কী—এসব দেখতে চাই না।’

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে জনপ্রতিনিধিরা সমস্ত রাস্তাঘাট, খাল পুনরুদ্ধার করবেন এবং আগামী ছয় মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী।

‘দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো সিএস পর্চা ও ম্যাপ অনুযায়ী প্রথমে দখলমুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে অবৈধ দখলদারের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি।

খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সব সময় খাল পরিষ্কারই করতে থাকি, সরকারের প্রচুর টাকা অপচয় হবে। এই যে এখন পরিষ্কার হচ্ছে। আপনারা ময়লা-আবর্জনা আমাদের সিটি করপোরেশনের ড্রামগুলোতে ফেলার চেষ্টা করবেন।’

বিষয়টি তদারকির জন্য তিনি সচেতন নাগরিক কমিটির গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘আমি খুশি এবং সুখী’

বাংলাদেশের একজন প্রবল দর্শকনন্দিত অভিনেতা মোশাররফ করিম। ছোট-বড় সবার কাছে প্রিয় তিনি।

বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে কলকাতার দর্শকদের কাছেও তিনি জনপ্রিয়। অভিনয় গুণ দিয়ে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে মোশাররফ করিমের ব্যস্ততা ঈর্ষণীয়। নাটক, ওটিটিতে সাফল্যের বরপুত্র বলা হয় তাকে। কম সিনেমা করেও প্রশংসিত হয়েছেন।

 

চলতি সময়ের অন্যতম সফল সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের ভালোবাসায় ও প্রশংসায় ভাসছেন মোশাররফ করিম। 

দ্য ডেইলি স্টারের সাথে আজ বৃহস্পতিবার সকালে মোশাররফ করিম কথা বলেছেন অভিনয় জীবন, বরিশালের ফেলে আসা জীবনসহ অনেক কিছু নিয়ে।

তার কাছে প্রথমেই জানতে চাই, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’সিনেমাটি এত সাড়া পাওয়ার মূল কারণ কী?

এর জবাবে মোশাররফ করিম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মৌলিক গল্প দেখতে চায়। মৌলিক গল্পকে তারা নিজেদের সিনেমা মনে করে। আমিও বিশ্বাস করি, মৌলিক গল্পের মধ্য দিয়ে এই দেশের মানুষ নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখতে পায়।’

‘দীর্ঘদিন ধরে নাটকে অভিনয় করার ফলে অনেক কিছু জেনেছি। সেই হিসেবে বলতে পারি, দর্শকরা গল্প পছন্দ করেন। আমাদের নিজেদের গল্পকে তারা প্রাধান্য দেন’, বলেন তিনি। 

বনলতা এক্সপ্রেসের সাফল্যের জন্য কাকে বেশি কৃতিত্ব দিতে চান? এই প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ করিম বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে সত্যিকার অর্থে টিম হয়ে যাই আমরা। সাফল্যের পেছনে সবার কৃতিত্ব আছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিচালক অনেক ভালো করেছেন। তানিম নূরের সঙ্গে এটাই আমার প্রথম সিনেমা। যারা স্ক্রিপ্ট লিখেছেন তারাও ভালো করেছেন। অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে পুরো সিনেমার সাথে যারা যুক্ত ছিলেন, সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। সবার পরিশ্রমে কাজটি হয়েছে। কৃতিত্ব সবার।’

 

আপনার অভিনয়ের প্রশংসা চলছে সর্বত্র— এ বিষয়ে মোশাররফ করিম মন্তব্য করেন, ‘ বিষয়টাকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এটা আনন্দের। আমি খুশি এবং সুখী। ভালো লাগছে অবশ্যই। দর্শকদের ভালোবাসা একজন শিল্পীর জন্য অনেক কিছু।’

সহশিল্পীদের কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক সহশিল্পী প্রশংসা করেছেন।

একজন সিনিয়র শিল্পী বনলতা এক্সপ্রেস দেখার পর আমাকে ফোন কথা বলেছেন। প্রশংসাও করেছেন। সিনেমা দেখার পর সিনিয়র সহশিল্পীর ভালোবাসা পেয়ে অ্যাওয়ার্ডের মতোই মনে হয়েছে।

হুমায়ুন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে এই সিনেমা। আপনি কি উপন্যাসটি পড়েছেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। হুমায়ুন আহমেদ স্যারের লেখা নিয়ে কি বলব? বহু বছর ধরে তার লেখা পড়ি। তার লেখা পড়ে আধুনিক সাহিত্যে প্রবেশ করি। এর আগে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা পড়তাম, আরও অনেকের লেখা পড়তাম। কিন্তু আধুনিক সাহিত্যে প্রবেশ তার বই পড়ে।’

মোশাররফ করিম বলেন, ‘হুমায়ুন আহমেদ স্যারের সব লেখা প্রিয়। তার গদ্য পছন্দ করি। তার লেখা উপন্যাসের সংলাপ অনেক শক্তিশালী। তার ছোট গল্পগুলো আরও প্রিয়।’

তিনি জানান, কিছুক্ষণ উপন্যাসের গল্পটা একটি ট্রেন ভ্রমণকে কেন্দ্র করে হলেও এতে আরও অনেক কিছু আছে। 

 

বাংলাদেশে মূলত ঈদকে ঘিরেই সিনেমা মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়। দুই ঈদেই বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা মুক্তি পায়। 

এ বিষয়ে মোশাররফ করিম বলেন, ‘ধীরে ধীরে ঠিক হবে। আমি বিশ্বাস করি (বছরজুড়ে সিনেমা মুক্তি পাবে)। আমাদের তো হল কমে গেছে, হল বাড়ানো দরকার।’

‘আমাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি ঈর্ষা, হিংসা না থাকলেই ভালো। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা থাকা দরকার। সবাই মিলেই তো আমরা। বিনা কারণে কাউকে যেন কটাক্ষ করে না ফেলি, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিৎ’,  যোগ করেন মোশাররফ করিম।

এবারের ঈদে ভিন্নধর্মী গল্পের বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। 

 

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নানান ধরনের সিনেমা হবে। যে সিনেমাই হোক, বাংলাদেশের মৌলিক গল্প নিয়ে যেন হয়। তাহলেই আমরা এগিয়ে যাব। এখানে প্রত্যেকের সহযোগিতা দরকার। সবার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক দরকার।’

অনেক বছর পর এবার বরিশালে নিজের গ্রামের বাড়িতে ঈদ পালন করেন মোশাররফ করিম।  

সেই অভিজ্ঞতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওখানে কেউ থাকে না। এবার গেলাম অনেক দিন পর। ওখানে আবেগ জড়িয়ে আছে। নদীতে গোসল করেছি। বাড়ির কাছে ছোট নদী আছে। ওটা আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে। ওই নদীতে গোসল করেছি, সাঁতার কেটেছি ছেলেবেলায়। কত শত স্মৃতি জড়িয়ে আছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামে যাওয়ার অনুভূতি বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না, এতটাই ভালো লেগেছে যাওয়ার পর। পা রাখলেই ভালো লাগে। নিজের গ্রামে পা রাখলেই ভালো লাগে, শান্তি লাগে।’

সংঘাতের আশঙ্কায় নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলেছে বিভিন্ন দেশ

পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। ইতোমধ্যে ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ভূমধ্যসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।

এ অবস্থায় যেকোনো সময় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগ ও সেখানে ভ্রমণে সতর্কতা দিয়েছে বিভিন্ন দেশ।

আজ বুধবার সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই দেশগুলোর তথ্য জানানো হয়েছে।

যেসব দেশ সতর্কতা জারি করেছে—অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, সার্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া সরকার তার নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।

জার্মানি

জার্মান দূতাবাস জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। যেকোনো সময় আকাশপথ বন্ধ বা ফ্লাইট বাতিল হতে পারে, তাই নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

পোল্যান্ড

‘যুদ্ধের সম্ভাবনা অত্যন্ত বাস্তব’—উল্লেখ করে নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে পোলান্ড সরকার। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে উদ্ধার অভিযান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি।

সুইডেন

সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড এক বার্তায় জানিয়েছেন, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি অনিশ্চিত। তিনি নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে দেশটি ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়া

তেহরানে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস নিরাপত্তা সংক্রান্ত নোটিশ দিয়েছে। এতে মার্কিন হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশটি ভ্রমণের পরিকল্পনা আপাতত বাতিল বা স্থগিত করারও আহ্বান জানিয়েছে।

ভারত

ইরানে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকসহ সব নাগরিককে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে যেকোনো উপায়ে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে ভারত সরকার।

সার্বিয়া

সার্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের আপাতত ইরানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র

এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে অতিরিক্ত কর্মী প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দূতাবাস সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোন করে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বিন ইব্রাহিম।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়।

আনোয়ার ইব্রাহিম বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য মালয়েশিয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিনন্দন বার্তার জন্য আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানান এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে দুই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করে যাবে।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ডিপিএল: ডিএলএসে ফয়সালা চারটি ম্যাচের, রিজার্ভ ডেতে গড়াল দুটি

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) ২০২৫-২৬ মৌসুমের তৃতীয় রাউন্ডে বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। রোববার অনুষ্ঠিত ছয়টি ম্যাচের প্রতিটিতেই বৃষ্টির কারণে খেলা বিঘ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়েছে ডিএলএস (ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন) পদ্ধতিতে। আর বাকি দুটি ম্যাচ রিজার্ভ ডেতে নিতে বাধ্য হয়েছেন আম্পায়াররা।

ডিএলএস পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচগুলোর মধ্যে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ১০ রানে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ২০ রানে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ৬০ রানে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে এবং নাটকীয় লড়াইয়ে সিটি ক্লাব ১ রানে ঢাকা লেপার্ডসকে হারিয়েছে।

এদিকে, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব বনাম রূপগঞ্জ টাইগার্স এবং আবাহনী লিমিটেড বনাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচ দুটি রিজার্ভ ডেতে গড়িয়েছে। পরের ইনিংসে ন্যূনতম ২০ ওভার খেলা সম্পন্ন না হওয়ায় ম্যাচ দুটি যেখানে বন্ধ হয়েছিল, আগামীকাল সোমবার সেখান থেকেই আবার শুরু হবে।

বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স-গাজী গ্রুপ

ক্রিকেটার্স একাডেমিতে নুরুল হাসান সোহানের ৬০ বলে ৭৩ ও ইমরানুজ্জামানের ৭৭ বলে ৫৯ রানের সুবাদে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ২৩৫ রানে থামে। জবাবে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ১৯ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৯ রান তোলার পর আলোকস্বল্পতা ও বৃষ্টিতে খেলা বিঘ্নিত হয়। পরবর্তীতে তাদের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪ ওভারে ১৯৪ রান।

গাজী গ্রুপ জয়ের পথেই ছিল। এক পর্যায়ে তারা ৩০তম ওভারে ১৭৩ রানে ৬ উইকেট পৌঁছে যায়। কিন্তু নাটকীয় ধসের মুখে পড়ে শেষ ১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বসুন্ধরার দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করেন।

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ-প্রাইম ব্যাংক

বিকেএসপি তিন নম্বর মাঠে হাবিবুর রহমান সোহানের ৫৬ বলে ৬১ রানের সৌজন্যে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ২২৭ রানে অলআউট হয়। জবাবে প্রাইম ব্যাংক ২৫.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১০৮ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু উভয় ইনিংসে ২০ ওভার সম্পন্ন হয়েছিল এবং খেলা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি, তাই ডিএলএস পদ্ধতিতে প্রাইম ব্যাংককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। শাহাদাত হোসেন দিপু ৭১ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে টানা তৃতীয় জয় এনে দিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিয়ে যান।

গুলশান-অগ্রণী ব্যাংক

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে শাহাদত হোসেন সবুজ ১২১ বলে ১৩২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এবং শাহরিয়ার সাকিব ৯৪ বলে ৭৫ রান করে অবদান রাখেন। ফলে টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়া গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩০১ রান সংগ্রহ করে।

অগ্রণী ব্যাংকের রান তাড়া করার সময় বারবার বৃষ্টি, আলোকস্বল্পতা ও ভেজা আউটফিল্ড বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ১৬ ওভারে তাদের সংগ্রহ যখন ২ উইকেটে ৮৯ রান, তখন নতুন লক্ষ্য দেওয়া হয় ২৬ ওভারে ১৯৩ রান। তবে তারা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে এবং বাকি ৮ উইকেট মাত্র ৪৩ রানে হারিয়ে ২৪.২ ওভারে ১৩২ রানে অলআউট হয়। এতে গুলশান এবারের টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম জয়ের দেখা পায়।

অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে মাহফিজুল ইসলাম রবিন ৫৭ বলে সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন। গুলশানের হয়ে আব্দুর রহিম, নাঈম হোসেন সাকিব ও ফরহাদ রেজা তিনটি করে উইকেট নেন।

ঢাকা লেপার্ডস-সিটি

বিকেএসপি চার নম্বর মাঠে জাকির হাসানের ১৩৪ বলে ১৩৭ রান ও মঈন খানের ৬৬ রানের ওপর ভর করে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা লেপার্ডস ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০৬ রান সংগ্রহ করে। সিটি ক্লাবের ইনিংস ২০.১ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান থাকা অবস্থায় বৃষ্টিতে খেলা থেমে যায়। যেহেতু তারা ডিএলএস পদ্ধতিতে পার স্কোর থেকে মাত্র ১ রানে এগিয়ে ছিল এবং খেলা পুনরায় শুরু করা যায়নি, তাই তাদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এটি তিন ম্যাচে সিটি ক্লাবের দ্বিতীয় জয়।

মোহামেডান-রূপগঞ্জ টাইগার্স

ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নাঈম শেখ ১৩৬ বলে ১৪৫ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন (পাঁচটি চার ও ১২টি ছক্কা)। ইয়াসির আলীও উত্তাল ব্যাটিংয়ে করেন ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৯ রান। এতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৪৫ রানের বিশাল পুঁজি দাঁড় করায়।

এরপর পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ৫ ওভারে ২৪ রান খরচায় শিকার করেন ৪ উইকেট। তার তোপে ১৬.৫ ওভারে ৫৩ রানে রূপগঞ্জ টাইগার্স ৫ উইকেট হারানোর পর বৃষ্টি শুরু হয়। আর খেলা সম্ভব না হওয়ায় ম্যাচটি রিজার্ভ ডেতে নেওয়া হয়েছে।

আবাহনী-ব্রাদার্স ইউনিয়ন

শিরোপাধারী আবাহনী বনাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচটিও একই পরিণতির শিকার হয়েছে। ব্রাদার্স ১২ ওভারে ১ উইকেটে ৪৯ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে আবাহনী ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৩ রান সংগ্রহ করে। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ১১৩ বলে ৮৩, এস এম মেহেরব হাসান ৭৬ বলে ৭৭ ও অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৪০ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসের খেলেন।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (আরটিএ) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে। 

আজ সোমবার সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম পলকের পক্ষে আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস এই রিট আদালতে উপস্থাপন করেন। রিটে পররাষ্ট্র, অর্থ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি সুস্পষ্টভাবে অযৌক্তিক এবং কাঠামোগতভাবে অসম। এটি কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থেরই পরিপন্থী নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বৃহত্তর জনস্বার্থ রক্ষায় বিচারিক হস্তক্ষেপের দাবিতে এই পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, এই চুক্তির আলোচনা ও সম্পাদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জনকল্যাণ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।

আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ওপর অসম দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিকূল শুল্ক ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বায়ত্তশাসন খর্ব হওয়া এবং দেশীয় শিল্প, কৃষি ও পরিবেশগত সুরক্ষার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সংবিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, এই চুক্তির ক্ষেত্রে তা সঠিকভাবে মানা হয়নি। ফলে এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আবেদন জানানো হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারকে অচিরেই ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভোগ করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

বর্তমান সরকারকে অচিরেই ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ বলেন, ‘মানুষের অধিকার আদায়ের অনেক অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সেই ওয়াদা (বিএনপি সরকার) তারা ভঙ্গ করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে, তাদের পরিণতি কিন্তু খুব ভালো হয় নাই। বর্তমান সরকারকেও মনে রাখতে হবে, ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে ওয়াদা দিয়ে, তাদের রক্তের ওপর দিয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছে, এই ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি তাদের অচিরেই ভোগ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এক নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে ওয়াদা ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ আমরা গড়বো; রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ সব জায়গায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করব; নতুন বন্দোবস্তের শ্রমিকের হিস্যা নিশ্চিত করব; সেই লড়াইয়ে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে আছে বলেও জানান তিনি।

নাহিদ বলেন, ‘শুধু জাতীয় সংসদ নয়, আমাদেরকে এবার রাজপথের প্রস্তুতি নিতে হবে। রাজপথের প্রস্তুতির মাধ্যমে, গণআন্দোলনের প্রস্তুতির মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকের অধিকারে প্রতিটি দাবি যাতে নিশ্চিত হয়।’

‘আমরা বর্তমান সরকারকে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে, বর্তমানে জাতীয় ঐক্য অতি জরুরি ছিল, কিন্তু সেই জাতীয় ঐক্য, সেই জাতীয় সমঝোতা ভঙ্গ করেছে বর্তমান সরকার,’ অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ হোন। আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে গণঅভ্যুত্থানের বাংলাদেশকে, জুলাইয়ের বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

শুরু হচ্ছে ওয়েব অনুষ্ঠান ‘অণিমার গানঘর’

রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অণিমা রায়ের উপস্থাপনায় শুরু হতে যাচ্ছে নতুন অনুষ্ঠান ‘অণিমার গানঘর’। সংস্কৃতিজগতের নানা শাখার ব্যক্তিদের নিয়ে সাজানো হয়েছে এই আয়োজন। এতে অতিথিদের ভাবনা ও জীবনদর্শন নিয়ে চলবে বৈঠকি আলাপ।

উপস্থাপনা প্রসঙ্গে অণিমা রায় বলেন, ‘সংগীত নিয়েই যেহেতু আমার আজীবনের পথচলা, তাই গানের মানুষদের নিয়ে আড্ডা-আলাপের একটি আর্কাইভ করতে চাই। সেই ভাবনা থেকেই নিজস্ব গানঘরে সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনের গুণী মানুষদের নিয়ে এই আড্ডার আয়োজন।’

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সৌজন্যে ৪০ থেকে ৬০ মিনিট ব্যাপ্তির এই অনুষ্ঠান নির্মাণ করছেন তানভীর তারেক। কারিগরি সহযোগিতায় রয়েছে কোলাহল কমিউনিকেশন।

ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানের বেশ কয়েকটি পর্ব ধারণ করা হয়েছে। ‘অণিমার গানঘর’–এর অতিথি হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক তানভীর আলম সজীব ও গায়িকা ঐশী।

জানা গেছে, প্রতি শুক্রবার রাত ১০টায় কোলাহল কমিউনিকেশনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ, তানভীর তারেকের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল, স্বাধীন মিউজিক অ্যাপসহ মোট পাঁচটি প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠানটি প্রকাশ করা হবে।

আগামীকাল শুক্রবার রাত ১০টায় প্রচার হবে এই আয়োজনের প্রথম পর্ব। এতে অতিথি হিসেবে থাকছেন কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক তানভীর আলম সজীব।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক ফলের আশা ইরানের

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৃতীয় দফার আলোচনায় ইতিবাচক ফল আসার সম্ভাবনা দেখছে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বুধবার আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধিদল জেনেভার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত মন্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা আলোচনার বিষয়ে ভালো সম্ভাবনা দেখছি। আগামীকাল জেনেভায় আরাঘচির নেতৃত্বে বৈঠক হবে। সর্বোচ্চ নেতার দিকনির্দেশনায় আমরা ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করছি।

মঙ্গলবার আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হাতের নাগালে। তারা কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলেই এটা সম্ভব।

সোমবার এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।  

চলতি মাসের শুরুর দিকে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশ পুনরায় আলোচনা শুরু করে। এর মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার আগে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

হামলা হলে অঞ্চলটিতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে ইরান।