28 C
Dhaka
Home Blog

মিশরের বিপক্ষে জয়ের পর কেন কেঁদেছিলেন মেসি?

আর্জেন্টিনার বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল প্রায়। ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। তবে মঙ্গলবার রাতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে চরম নাটকীয় ও বিতর্কিত ম্যাচে মিসরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শেষে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সেই চোখের পানিতে আসলে মিশে ছিল এক ধরনের স্বস্তি। সংবাদমাধ্যমকে মেসি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এটি একটি মুক্তি ছিল, সবার জন্যই একটি স্বস্তি। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা একটি কুৎসিত মুহূর্ত ছিল।’

প্রথমার্ধে মেসির নেওয়া পেনাল্টি শট মিসরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবির আটকে দেন দারুণ দক্ষতায়। ওই ঘটনার আগে-পরে লক্ষ্যভেদ করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। তাছাড়া, ভিএআরের সহায়তা নিয়ে রেফারি তাদের একটি গোল বাতিলও করে দেন। তবে ম্যাচের শেষভাগে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন মেসিই।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী মেসি নিজেই গোল করে আলবিসেলেস্তেদের সমতায় ফেরান। আর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোলটি করে পূর্ণতা দেন অসামান্য প্রত্যাবর্তনের। তখন বাঁধনহারা উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা দল।

মেসির মতে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কা কাটিয়ে ফিরে এভাবে আসাটা সহজ ছিল না, ‘এভাবে একটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া— ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা— সহজ ছিল না। বিশেষ করে, এই বিশ্বকাপ যেভাবে চলছে এবং কোনো দল এমনি এমনি কাউকে ছেড়ে দিচ্ছে না এই সত্যিটা বিবেচনা করলে।’

আবেগ সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেলার প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, ‘এটি ছিল খাঁটি আনন্দ এবং স্বস্তির একটি মুহূর্ত। আমরা বিশ্বকাপে থাকতে চেয়েছিলাম। আমরা চাইনি আজই সব শেষ হয়ে যাক, আমরা বাড়ি যেতে চাইনি।’

চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম এবং সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২১তম গোলের স্বাদ নিয়েছেন মেসি। এর মাধ্যমে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে আবারও কিছুটা এগিয়ে গেছেন তিনি। মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে তিনবার জাল কাঁপিয়ে জয়ের পর সতীর্থরা তাকে শূন্যে ছুড়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন।

তবে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার পেছনে রোমেরোর গোলটিকে মূল মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন মেসি, ‘আজকের ম্যাচটি ছিল আমাদের মানসিক দৃঢ়তার আরেকটি প্রমাণ, পিছিয়ে পড়ার পর এভাবে ফিরে আসা সহজ নয়… সৌভাগ্যবশত, আমরা ওই গোলটি পেয়ে যাই। আমার মনে হয়, ওটাই ছিল সেই মুহূর্ত, যখন ভেতরের সবাই এটি অনুভব করেছিল এবং বিশ্বাস করেছিল যে, ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব এবং আমরা এটি করতে যাচ্ছি।’

‘আমরা সমতা ফেরানোর জন্য যথেষ্ট ভাগ্যবান ছিলাম এবং তারপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ম্যাচটা জিতে নিই। আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গিয়েছি। এই দল যা অর্জন করেছে তা স্রেফ অবিশ্বাস্য,’ যোগ করেছেন মেসি।

শাকিবের ‘রকস্টার’ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হলো যা কিছু

ঢাকাই সিনেমার শীর্ষনায়ক শাকিব খান অভিনীত এবারের ঈদুল আজহায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘রকস্টার’। আজমান রুশো পরিচালিত সিনেমাটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি।

এ ছাড়া, সিনেমার অফিসিয়াল মিউজিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড।

সিনেমাটির সব গান প্রকাশ হবে এসভিএফ মিউজিক-চরকি-বিলিং মিউজিকের অফিসিয়াল চ্যানেলে। এখান থেকেই সিনেমার প্রথম গান ‘পিরিতি’ প্রকাশিত হবে।

গত ৫ মে প্রথম টিজার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছে ‘রকস্টার’ সিনেমাটি।

রকস্টার সিনেমার নির্মাতা আজমান রুশো জানান, তিনি নিজে নির্মাণে আসার আগে মিউজিশিয়ান ছিলেন। নিজের জীবন ও বাস্তব জীবনের রকস্টারদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতার মিশেলে গল্পটি তৈরি করেছেন তিনি।

সিনেমায় শাকিব খানকে কোনো গ্যাংস্টার বা অ্যাকশন হিরো নন, বরং একজন প্রফেশনাল মিউজিশিয়ানের চরিত্রে দেখা যাবে। চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি ওজন কমিয়েছেন এবং লুকে এনেছেন আমূল পরিবর্তন।

সিনেমার সবগুলো গানের কথা ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি, যিনি নিজেও কণ্ঠ দিয়েছেন। সংগীত পরিচালনায় আছেন জাহিদ নিরব।

অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু নিবেদিত সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড  প্রযোজিত এই সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত মাটি। আজমান রুশোর গল্পে সিনেমাটির সংলাপ লিখেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভূঁইয়া। সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুণ্ডু।

ইরান যুদ্ধের ফল নির্ধারণ হবে কার অস্ত্র আগে ফুরাবে তার ওপর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ফলাফল ও এর স্থায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নির্ভর করতে পারে এক কঠোর হিসাবের ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কত বড়, আর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র কতদিন টিকে থাকবে তার ওপরই নির্ভর করছে সব কিছু।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র যৌথ আক্রমণের জবাবে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো শনিবার থেকে প্রায় এক হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল জুড়ে বিস্তৃত প্রায় এক ডজন দেশের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক বিমানবাহিনীর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো শক্তি না থাকায় তেহরান মূলত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভর করছে।

ইরানের পাল্টা হামলার ভৌগোলিক বিস্তার এই সংঘাতকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিস্তৃত যুদ্ধে পরিণত করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ইরানের শত শত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তবে শত্রুপক্ষের গুলিতে এখনো তাদের কোনো বিমান ভূপাতিত হয়নি।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও অবকাঠামোর যতটা সম্ভব ধ্বংসের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এজন্য তারা উৎক্ষেপণ যন্ত্র, গুদাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির প্রতিরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক স্টেসি পেটিজন বলেন, সংঘাতটি এখন ‘এক ধরনের স্যালভো প্রতিযোগিতায়’ পরিণত হয়েছে। সামরিক কৌশলে ‘স্যালভো প্রতিযোগিতা’ বলতে বোঝায়, দুই পক্ষের মধ্যে একই সময়ে বিপুল সংখ্যক নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি হামলা।

তিনি বলেন, ‘মূল প্রশ্ন হলো কার কাছে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত বেশি। আর বড় অজানা বিষয় হলো ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার ঠিক কতটা সমৃদ্ধ।’

মঙ্গলবার আবারও জেরুজালেমে সাইরেন বেজে ওঠে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে উড়ে এসে ইরানের নিক্ষেপ করা মিসাইল ধ্বংস করে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে ১১ জন নিহত ও শতাধিক আহত হলেও গত ৩৬ ঘণ্টায় ইরানের হামলার মাত্রা কিছুটা কমেছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট ৭৮৭ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান হয়তো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংরক্ষণ করতে চাইছে, অথবা এর চেয়ে বেশি হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের নেই।

পেটিজন বলেন, ‘ইসরায়েলে পৌঁছাতে পারে এমন অস্ত্রের সংখ্যা ইরানের কম, তুলনায় পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় হামলার সক্ষমতা বেশি। আর ইসরায়েলের দিকে যাওয়া অনেক ড্রোনই মাঝপথে ভূপাতিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যার মতো ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’-এর কারণে তাদের সামরিক কমান্ড কাঠামোতে কিছুটা বিশৃঙ্খলাও তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের কৌশল হতে পারে শত্রুদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করা, তাদের নাগরিকদের মনোবল দুর্বল করা এবং যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া।

ইসরায়েলভিত্তিক মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভাইজরি অ্যালায়েন্সের গবেষক তাল ইনবার বলেন, ‘শতভাগ প্রতিরক্ষা বলে কিছু নেই। এটি মূলত এক ধরনের ক্ষয়যুদ্ধ। একটি ক্ষেপণাস্ত্র যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানে, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ বিশাল হতে পারে।’

গত গ্রীষ্মে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও অনেকটা কমে গিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইনবার বলেন, ‘আগের যুদ্ধগুলোতে সংঘাতের স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করেছে আমাদের কাছে থাকা প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার ওপর। আসলে কখনোই যথেষ্ট ইন্টারসেপ্টর থাকে না।’

বর্তমান সংঘাতে জড়িত সব পক্ষই এই তীব্র আকাশযুদ্ধের গুরুত্ব বোঝে এবং উদ্বিগ্ন জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাচ্ছে, এমন খবর সঠিক নয়। দেশটি বলেছে, তাদের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা প্রতিহত করার মতো পর্যাপ্ত কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে।

সোমবার আমিরাত জানায়, তাদের দিকে ছোড়া ১৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৬১টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকিগুলো সাগরে পড়েছে। এ ছাড়া, ইরানের ৬৮৯টি ড্রোনের মধ্যে ৬৪৫টি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং আটটি ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করা হয়েছে, যদিও কিছু পার্শ্বক্ষতি হয়েছে।

ইরান কাতার, আবুধাবি, কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন ও ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দুবাইয়ের কিছু আন্তর্জাতিক হোটেলেও হামলার পর আগুন লাগে।

সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা হয়েছে।

কাতারও জানিয়েছে, তারা আকাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করে বেশিরভাগই প্রতিহত করেছে। তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা দুটি ইরানি যুদ্ধবিমান, তিনটি ক্রুজ মিসাইল, ১০১টির মধ্যে ৯৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৩৯টির মধ্যে ২৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের সামরিক বিশ্লেষক কেলি গ্রিকো বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ঠিক কত অস্ত্র মজুত আছে তা জানা কঠিন। তবে তারা খুব দ্রুত এসব ব্যবহার করছে এবং শিগগিরই কোন কোন স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রক্ষা করবে সে সিদ্ধান্ত তাদের নিতে হবে।’

তার মতে, ইরানও বিষয়টি জানে, তাই তারা একসঙ্গে খুব বড় হামলা চালাচ্ছে না। বরং দীর্ঘমেয়াদি চাপ ধরে রাখার কৌশল নিচ্ছে।

পেটিজন বলেন, যদি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যেতে শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো আক্রমণাত্মক অভিযান বন্ধ করে কোনো সমঝোতার পথ খুঁজতে বাধ্য হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করতে পারে, কিন্তু ইসরায়েলের সেই সুযোগ নেই। বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে।’

অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে গেলে তারাও হয়তো শান্তি আলোচনার দিকে যেতে বাধ্য হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিপুল ব্যয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্রিকোর হিসাব অনুযায়ী, একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যে খরচ হয়, তা ড্রোন তৈরির খরচের প্রায় পাঁচ গুণ।

তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রের মজুত খুবই সীমিত এবং এগুলো দ্রুত পুনরায় উৎপাদন করাও সম্ভব নয়। একই ধরনের অস্ত্র ইউক্রেন ও তাইওয়ানের মতো অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও ব্যাপকভাবে প্রয়োজন।

মোহাম্মদপুর-আদাবরে পুলিশের অভিযান, আটক ১০০

ঢাকার মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে চার ঘণ্টার এই অভিযানে প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনাল টিম রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত অভিযান চালায়।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবরে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ এবং অপরাধী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এই অভিযান চালানো হয়।

রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অপরাধী বা সংগঠিত গোষ্ঠী যেন এই সময়ের সুযোগ নিতে না পারে, পুলিশ তা নিশ্চিত করতে চায়।

এই কর্মকর্তা বলেন, রাত ১০টা থেকে প্রায় ২টা পর্যন্ত তেজগাঁও বিভাগের পক্ষ থেকে একটি অভিযান চালিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবর—এই দুই থানা মিলিয়ে আমরা বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১০০ জন অপরাধীকে আটক করেছি। আমাদের এই কার্যক্রম চলমান এবং এটি অব্যাহত থাকবে।

ডিসি জানান, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় যেন কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিতে না পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেজন্য এ ধরনের অভিযান চলবে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটকদের সংশ্লিষ্ট থানায় নেওয়া হয়েছে। 

ভোলার গ্যাসে বিনিয়োগ না করার সামর্থ্য কি বাংলাদেশের আছে?

জ্বালানি সংকট দেখা দিলেই দেশীয় গ্যাস ব্যবহারের কথা আলোচনায় আসে। সংকট কিছুটা সহনীয় হয়ে উঠলেই আলোচনা আর এগোয় না। বারবার এমনটাই ঘটেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে। ১৯৯০-এর দশকে ভোলায় গ্যাস আবিষ্কৃত হলেও বারবার দাবি ওঠার পরও তা আজও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়নি। এখন আবার গ্যাস সংকটের মধ্যে ভোলার গ্যাস জাতীয় আলোচনায় ফিরে এসেছে। সঙ্গে ফিরে এসেছে, এই গ্যাস উত্তোলন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে কি না, সেই প্রশ্নও।

প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর উত্তর শুধু একটি পাইপলাইন নির্মাণের খরচের দিকে তাকিয়ে দেওয়া যায় না। আমাদের আরও জানতে হবে, বাংলাদেশ আমদানি করা এলএনজির পেছনে কত অর্থ ব্যয় করছে, ভবিষ্যতে আরও কত ব্যয় করবে এবং এই নির্ভরতা অর্থনীতি, শিল্প ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

ভোলায় হারানো সুযোগ

ভোলায় বর্তমানে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে: শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ এবং সুন্দরপুর। এসব ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ আনুমানিক ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ), যার মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৫ টিসিএফ উত্তোলনযোগ্য হতে পারে।

ভোলার বিদ্যমান কূপগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমানে বাপেক্স উত্তোলন করছে প্রায় ৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সরকার আরও ১০টি কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি একটি চীনা কোম্পানি এবং পাঁচটি বাপেক্স খনন করবে। আরও কূপ হলে গ্যাস ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু পাইপলাইন না থাকলে সেই গ্যাস অব্যবহৃতই থেকে যাবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভোলায় এ পর্যন্ত খনন করা প্রতিটি কূপেই গ্যাস পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সাফল্যের হার ১০০ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে ভোলায় পর্যাপ্ত গ্যাস নেই, কিংবা সেখানে বিনিয়োগ লাভজনক হবে না, এমন যুক্তি গ্রহণ করা কঠিন।

ভোলা থেকে পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব নতুন নয়। অন্তত ১৫ বছর ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০১৮ সালে ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের একটি পাইপলাইন নির্মাণের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬০০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৩৫০–৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরিবহনের পরিকল্পনা ছিল। এই পরিমাণ একটি আধুনিক এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহক্ষমতার কাছাকাছি।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই বিলম্বের জন্য সিদ্ধান্তহীনতা, অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ এবং এলএনজি আমদানির পক্ষে লবিংকে দায়ী করেছেন। ফলে যে প্রকল্পটি ৬০০ কোটি টাকায় নির্মাণ করা সম্ভব ছিল, এখন তার ব্যয় অন্তত সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। মূল্যস্ফীতি, বিদেশি পরামর্শক, আমদানি করা যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি এবং জমি অধিগ্রহণের কারণে এই ব্যয় ৮-৯ হাজার কোটি টাকায়ও পৌঁছাতে পারে।

এটি শুধু একটি পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যর্থতা নয়। এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করার উচ্চমূল্যের একটি উদাহরণ।

পরিকল্পনার ব্যর্থতা নাকি আরও কিছু?

স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো, এটি কি পরিকল্পনাগত ভুলের একটি উদাহরণ? অর্থাৎ ‘আজ সামান্য সাশ্রয় করতে গিয়ে ভবিষ্যতে বিপুল ব্যয়’ করার সেই প্রবণতা, যেখানে নীতিনির্ধারকেরা বর্তমানের তুলনামূলক কম বিনিয়োগ এড়িয়ে যান, অথচ পরে অনেক বেশি খরচ করতে বাধ্য হন?

এটি কি এমন এক ধরনের ‘কৃচ্ছ্রসাধনের অভিনয়’, যেখানে সরকার জনব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতার ভাব দেখায়। কিন্তু একই সঙ্গে দেশকে আরও ব্যয়বহুল আমদানির ওপর নির্ভরশীল করে তোলে? নাকি দেশীয় গ্যাসের বদলে এলএনজিকে বারবার অগ্রাধিকার দেওয়া এমন একটি রেন্ট-সিকিং সিনড্রোম বা প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে প্রভাবশালী বাণিজ্যিক গোষ্ঠী আমদানিনির্ভর নীতি থেকে লাভবান হয়?

সরকার একই ভুল বারবার করতে পারে না, তারপর প্রতিটি বিলম্বকে বিচ্ছিন্ন কারিগরি বা আর্থিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে না। ৬০০ কোটি টাকার একটি পাইপলাইন যখন বছরের পর বছর পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন থেকে নয় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে পরিণত হয়। আর একই সময়ে আমদানি করা এলএনজির পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। তখন এই প্রবণতা নিয়ে গভীর তদন্ত হওয়া দরকার।

যদি আমরা ধরে নিই যে সরকার কোনো অবাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তাহলে এই সিদ্ধান্তে বিশেষ গোষ্ঠী স্বার্থর সঙ্গে সরকারের আঁতাতের প্রভাব থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

নতুন বিএনপি সরকারও যদি দেশীয় অনুসন্ধান ও অবকাঠামো উন্নয়ন বিলম্বিত করে ব্যয়বহুল আমদানিকে অগ্রাধিকার দিতে থাকে, তাহলে এ ক্ষেত্রে আগের সরকারগুলোর থেকে মৌলিকভাবে আলাদা প্রমাণিত হবে না। সরকার পরিবর্তনের অর্থ একই ত্রুটিপূর্ণ নীতির সুবিধাভোগী পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়। যেকোনো নতুন প্রশাসনকে প্রমাণ করতে হবে যে সিদ্ধান্তগুলো জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, আমদানি-নির্ভর ব্যবসায়িক লবি বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের চাপে নয়।

এলএনজি নির্ভরতার ব্যয়

ভোলা থেকে পাইপলাইন নির্মাণ যখন বিলম্বিত হচ্ছিল, তখন বাংলাদেশ দ্রুত এলএনজি আমদানির দিকে এগিয়ে যায়। ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু হয় এবং দেশের গ্যাস সংকট সমাধানের একটি বড় উপায় হিসেবে তা উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও গ্যাস সংকট দূর হয়নি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানিতে ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। একই সময়ে সরকার গ্যাস খাতে আরও ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। কয়েক দফা গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে এবং পেট্রোবাংলা ক্রমশ বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

শুধু গত অর্থবছরেই বাংলাদেশ ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১৩টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে। এর সঙ্গে আরও ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১১৫টি কার্গো আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারদর বর্তমান পর্যায়ে থাকলে শুধু এলএনজি আমদানিতেই প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজার অত্যন্ত অস্থিতিশীল। যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলের রুট এবং সরবরাহে বিঘ্ন, সবকিছুর ওপর দাম নির্ভর করে। জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ২ হাজার ৮২২ টাকার বেশি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারিতে দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১ হাজার ৩১৯ টাকা। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১১৪ শতাংশ বেড়েছে।

এই অস্থিরতা এলএনজিকে জাতীয় জ্বালানি নীতির ভিত্তি হিসেবে ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

আরও টার্মিনাল, আরও আর্থিক চাপ

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার আরও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। একটি নতুন টার্মিনাল ইতোমধ্যে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে মহেশখালীতে বাংলাদেশের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত সরবরাহক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আরও দুটি টার্মিনাল নির্মিত হলে এই সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াতে পারে।

কিন্তু একটি টার্মিনালের ব্যয় শুধু নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্যাস খালাস, সংরক্ষণ, পুনর্গ্যাসীকরণ এবং উচ্চচাপের পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পরিবহনের প্রয়োজন হয়। নতুন পাইপলাইন নির্মাণের জন্য পথ জরিপ, পরিবেশগত মূল্যায়ন, জমি অধিগ্রহণ এবং কয়েক বছর ধরে নির্মাণকাজ চালাতে হয়। ফলে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে প্রস্তাবিত কোনো টার্মিনাল দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নাও করতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টার্মিনাল নির্মাণের পরও বাংলাদেশকে এলএনজি কিনতে হবে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আরও দুটি টার্মিনাল চালু হলে বার্ষিক আমদানি ব্যয় বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। পেট্রোবাংলার কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, চারটি টার্মিনাল হলে বছরে এলএনজি আমদানিতে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

আইইইএফএর একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, দেশীয় গ্যাসের আবিষ্কার সীমিত পর্যায়ে থাকলে এবং এলএনজির দাম অস্থিতিশীল থাকলে ২০২৯–৩০ অর্থবছরে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি বিল ১ লাখ ৪ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। বাজারদর আরও বাড়লে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

তাই নতুন টার্মিনাল নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আগে বাংলাদেশকে ভাবতে হবে, আমরা কি এমন অবকাঠামো তৈরি করছি, যা আমদানিনির্ভরতা আরও গভীর করবে এবং স্থায়ী আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে?

ভোলার বাইরেও দেশীয় সম্ভাবনা

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর কয়েকটি উপায় চিহ্নিত করেছেন। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্যাসের সম্ভাবনা শুধু নতুন ও অনাবিষ্কৃত এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য মজুদ থাকতে পারে।

বাংলাদেশে ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০টি কার্যকর বা উৎপাদনশীল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একটি গ্যাসক্ষেত্রে এক বা কয়েকটি কূপ খনন করলেই সব গ্যাস উত্তোলন করা যায় না। ভূতাত্ত্বিক প্রতিবন্ধকতার কারণে গ্যাস অনেক সময় এমন এলাকায় আটকে থাকে, যেগুলোকে ‘আনড্রেইনড কম্পার্টমেন্ট’  বলা হয়।

বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক তথ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, পুনর্ব্যাখ্যা এবং পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে এসব অনুত্তোলিত কম্পার্টমেন্ট চিহ্নিত করা সম্ভব। এরপর ওই এলাকায় নতুন কূপ খনন করা যেতে পারে। একই ক্ষেত্রে আগে গ্যাস পাওয়া গেছে বলে সাফল্যের সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে বেশি হবে। বিদ্যমান পাইপলাইন ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামোও ব্যবহার করা যাবে, ফলে গ্যাস সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

দ্বিতীয় সুযোগ হলো পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার বা সংস্কার। বাংলাদেশে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। ফলে অনেক কূপ এখন পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত। এসব কূপ মেরামত করা গেলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

তৃতীয় সুযোগ রয়েছে গভীর খননে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক গ্যাসক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্তই অনুসন্ধান করা হয়েছে। আরও গভীর ভূতাত্ত্বিক স্তরে অতিরিক্ত গ্যাস থাকতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গভীর খনন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভালো ফল দিতে পারে।

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন তিতাস, বাখরাবাদ ও বিবিয়ানা কাঠামোর আশপাশের কম অনুসন্ধান করা এলাকাগুলোর কথাও উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া কলকাতা থেকে পাবনা, ময়মনসিংহ হয়ে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত হিঞ্জ জোন, সিলেট ট্রফ বা সুরমা অববাহিকা এবং হাতিয়া ট্রফও গুরুত্বপূর্ণ। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমুদ্রসীমার এলাকাগুলোর প্রতিও আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে কিছু ভূতাত্ত্বিক সাদৃশ্য রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলের। সেখানে ১৫০টিরও বেশি অনুসন্ধানী কূপ থেকে আনুমানিক ২ দশমিক ৭ টিসিএফ প্রমাণিত গ্যাস পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ১৪ টিসিএফ পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২৮টি শনাক্ত কাঠামো রয়েছে, কিন্তু সেখানে অনুসন্ধান এখনো সীমিত।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাতেও সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক এলাকার কিছু অংশের সঙ্গে মিয়ানমারের গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর ভূতাত্ত্বিক সাদৃশ্য আশাব্যঞ্জক।

অনুসন্ধানের অর্থনীতি

দেশীয় গ্যাসের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য আয়ের তুলনায়।

আনোয়ার হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি কূপ খনন করলে অন্তত ৫ টিসিএফ গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। ওই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। ৩০টি কূপ খননের ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে তা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।

এটি নিশ্চিতভাবে গ্যাস আবিষ্কারের হিসাব নয়। অনুসন্ধানে ঝুঁকি থাকে এবং কিছু কূপে গ্যাস নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে একটি শুষ্ক কূপ মানেই সম্পূর্ণ ক্ষতি নয়। সেখান থেকে পাওয়া ভূতাত্ত্বিক তথ্য ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানকে উন্নত করতে এবং অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

এলএনজির সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়। ৩০টি কূপ খননের জন্য মোট প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, যা শুধু গত অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় করা ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তুলনায় অনেক কম। ভর্তুকিসহ এই ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩০টি কূপ খননের ব্যয় গত বছরের এলএনজি আমদানি ও ভর্তুকি ব্যয়ের প্রায় এক-সপ্তমাংশ।

দেশীয় অনুসন্ধান স্থায়ী জাতীয় সম্পদও তৈরি করে: গ্যাসের মজুদ, অবকাঠামো, কারিগরি দক্ষতা এবং ভূতাত্ত্বিক তথ্য। বিপরীতে, এলএনজিতে ব্যয় করা অর্থের বড় অংশই দেশ থেকে বেরিয়ে যায় এবং গ্যাস ব্যবহৃত হয়ে গেলে কোনো স্থায়ী সম্পদ অবশিষ্ট থাকে না।

একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি কৌশল

বাংলাদেশ এখনই এলএনজি আমদানি বন্ধ করতে পারবে না। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যকার ঘাটতি পূরণে আমদানি প্রয়োজনীয়। অবিলম্বে আমদানি বন্ধ করা অযৌক্তিক হবে। তবে ভবিষ্যতে এলএনজি দেশীয় গ্যাসের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত, বিকল্প হিসেবে নয়। বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থেই আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করতে হবে এবং নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে।

দেশীয় গ্যাস মাটির নিচে রেখে প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানির ওপর নির্ভর করা অযৌক্তিক। বাংলাদেশের এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ দরকার, যা নিজস্ব মজুদ সুরক্ষিত রাখবে, আর্থিক ঝুঁকি কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে।

সরকারের উচিত ভোলা পাইপলাইন প্রকল্প, ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা, পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার, গভীর খনন এবং স্থলভাগ ও সমুদ্রসীমার কম অনুসন্ধান করা এলাকায় অনুসন্ধান দ্রুত বাস্তবায়ন করা। বাপেক্সকে আধুনিক রিগ, সফটওয়্যার, সিসমিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ প্রকৌশলী ও ভূতাত্ত্বিকদের কাজের উন্নত সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশি কোম্পানিকে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থ, মালিকানা, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে হবে।

প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৩০টি কূপ থেকে সম্ভাব্যভাবে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এলএনজি আমদানির ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম। ভোলা পাইপলাইন ও দেশীয় অনুসন্ধান যদি আগে শুরু করা হতো, তাহলে বাংলাদেশ প্রায় চার বছরের এলএনজি আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারত।

প্রশ্নটি এখন আর এই নয় যে বাংলাদেশ দেশীয় গ্যাসে বিনিয়োগ করতে পারে কি না। বড় প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের বিনিয়োগ না করে চলার সামর্থ্য আছে কিনা।

সুযোগ এখনো আছে। দেশীয় গ্যাসে বিনিয়োগ না করা এখন আর কোনো বিকল্প নয়, দেশীয় গ্যাসে বিনিয়োগ করাই এখন অপরিহার্য।

ড. মোশাহিদা সুলতানা: জ্বালানি গবেষক ও সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: তফসিল নিয়ে আলোচনায় স্পিকারের সাক্ষাৎ চাইবে ইসি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকারের সাক্ষাৎ চাইবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে বৈঠক শেষে আজ রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে অনুযায়ী সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।’

এর আগে আজ সিইসির কার্যালয়ে সব নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব বৈঠক করেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হয়।

৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাংলাদেশের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এসব পণ্যে মাত্রার চেয়ে বেশি প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি ও নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার বিএসটিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ এবং কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিমে টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাট বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গেছে।

এছাড়া অলিভ বাংলাদেশের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা ফোমিং মিল্ক ও অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ডেকো ফুডসের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে কম ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়।

বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই।

নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনগণ যেন মানসম্মত পণ্য কিনতে পারে, এ বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ মানসম্মত পণ্য জনগণের অধিকার। পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ক্রেতাদের যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইর মানচিহ্নের অপব্যবহার–সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

 

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ চলার মাঝেই দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্টরা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে এএফএ-এর বিরুদ্ধে এই তদন্ত চলছে। আর্জেন্টিনার শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ‘লা নাসিওন’ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে এমনিতেই চরম বিতর্ক চলছে। তার মধ্যেই ‘লা নাসিওন’-এর প্রতিবেদনটি সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাচার বা জালিয়াতি করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্যুরপ্রোড এন্টার এলএলসি এএফএ-এর বৈদেশিক আর্থিক বিষয়গুলো দেখাশোনা করে। প্রতিষ্ঠানটি এখন তদন্তের মুখে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার লেনদেন করেছেন। ব্যাংকগুলো হলো— সিটি ব্যাংক, সিনোভাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান ও পিএনসি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে ট্যুরপ্রোড এন্টার এলএলসি এএফএ-এর অন্তত ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের হিসাব-নিকাশ সামলেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কেবল একটি অংশই তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন সংস্থাটির নিয়মিত খরচের সঙ্গে মিলেছে। বাকি ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিভিন্ন কোম্পানি ও সুবিধাভোগী ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন এই অর্থ তাদেরকে দেওয়া হয়েছে, নথিপত্রে তার কোনো স্পষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি।

এর আগেও তাপিয়া নানা ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে গত মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে ওঠা কর ফাঁকির অভিযোগ এবং ক্লাবগুলোর মালিকানার নিয়ম নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব উল্লেখযোগ্য।

আবারও ছোটকাকু চরিত্রে আফজাল হোসেন

এবার ঈদেও ছোটপর্দায় আসছে জনপ্রিয় ‘ছোটকাকু’ সিরিজের নতুন নাটক। ফরিদুর রেজা সাগরের উপন্যাস অবলম্বনে এবারের নাটকের নাম ‘কিশোরগঞ্জে কিশোরদল’। বরাবরই মতো এবারও নামভূমিকায় অভিনয় করছেন আফজাল হোসেন।

আরিফ খানের পরিচালনায় ঢাকায় নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে। এতে অভিনয় করছেন আহসান হাবিব নাসিম, তাহমিনা সুলতানা মৌ, তানভীর হোসেন প্রবাল, উপমা, বিশাল প্রমুখ।

আফজাল হোসেন বলেন, ‘ছোটকাকু চরিত্রে অনেক দিন ধরে অভিনয় করছি। এক ধরনের ভালোলাগা জন্মে গেছে। এবার নতুন গল্প নিয়ে কাজ হচ্ছে। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে।’

ঈদে চ্যানেল আইয়ের প্রচারিত হবে ‘কিশোরগঞ্জে কিশোরদল’।

নাটক ছাড়াও সম্প্রতি ‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’ নামের একটি টেলিফিল্মের শুটিং শেষ করেছেন আফজাল হোসেন। এর বাইরে নুহাশ হুমায়ূনের নতুন সিনেমা ‘মুভিং বাংলাদেশ’-এও অভিনয় করছেন তিনি।

লাখো মানুষের জীবন নিয়ে ‘রাশিয়ান রুলেট’ খেলছে যুক্তরাষ্ট্র, হুঁশিয়ারি স্পেনের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেছেন, এই সংঘাত লাখো মানুষের জীবন নিয়ে ‘রাশিয়ান রুলেট’ খেলার শামিল, যা মানবতার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ইরানে হামলা নিয়ে বাগযুদ্ধে জড়িয়েছে স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরয়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধেও সরব ছিল মাদ্রিদ। সর্বশেষ ইরানে হামলায় স্পনের ভূমি ব্যবহারে অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর জেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদ্রিদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকিও দিয়েছেন। এর পরই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী তার কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে সানচেজ বলেন, ‘মানবতার বড় বড় বিপর্যয় এভাবেই শুরু হয়… লাখো মানুষের ভাগ্য নিয়ে রাশিয়ান রুলেট খেলা যায় না।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বোমাবর্ষণকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছিলেন সানচেজ। পরে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে হামলায় স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলের নৌ ও বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে মার্কিন উড়োজাহাজকে নিষেধ করেন। এতে দুই ন্যাটো মিত্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বোমা দিয়ে বিশ্বের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘স্পেন সরকারের অবস্থানকে তিন শব্দে সংক্ষেপে বলা যায়: “যুদ্ধকে না বলুন”।’

ট্রাম্পের বাণিজ্য বন্ধের হুমকির জবাবে সানচেজ বলেন, ‘আমরা এমন কোনো কাজে সহযোগী হব না যা বিশ্বের জন্য খারাপ বা আমাদের মূল্যবোধ ও স্বার্থের পরিপন্থি। কারও ভয়ে আমরা নীতি বিসর্জন দেব না।’

ইরাক যুদ্ধের ফল হিসেবে জঙ্গিবাদের উত্থান ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সানচেজ বলেন, ইরানে এই হামলার পরিণতিও হবে তেমনই। এটি কোনোভাবেই একটি ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে না।