33.3 C
Dhaka
Home Blog

মধ্যপ্রাচ্যে ‘সংঘাত’ বন্ধ চায় কাতার-সৌদি, আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার পর ফোনে কথা বলেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম ও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

আজ শনিবার তাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে কথা হয় বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।

ফোনে দুই রাষ্ট্রপ্রধান যেকোনো ধরনের উত্তেজনা ‘অবিলম্বে বন্ধ’ এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার ওপর জোর দেন।

কাতারে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে কাতারের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব পদক্ষেপে সম্ভাব্য সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন সৌদি যুবরাজ।

কাতারের আমির প্রতিবেশী হিসেবে সৌদি আরবের দৃঢ় অবস্থানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আমিরাতের রাষ্ট্রপ্রধান শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকেও ফোন করেন।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হামলায় শুধু মৃত্যু, ধ্বংস ও মানবিক দুর্দশাই বাড়বে। আমি আজ সকালে ইরান জুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং পরবর্তীতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা জানাই।’

‘সব সময় যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদেরই চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয়,’ বলেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় আমি সবাইকে ধৈর্য্য ধরে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার অনুরোধ করছি।’

গাইবান্ধায় মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে যুবককে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা

গাইবান্ধা শহরের জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে এক যুবককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে ওই কেন্দ্রের পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আজ রোববার গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ-আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গতকাল ভিকটিম মুর্শিদ হাক্কানীর (৩৭) বড় ভাই মো. আওরঙ্গ বাদী হয়ে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন।

মামলার পাঁচজন আসামি হলেন—বাঁধন (৩৫), লাবিব (৩২), শিহাব (৩৫), আতিফ (৩৬) ও তালহা (৩৫)।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, কেন্দ্রে ভর্তির প্রথম দিকে মুর্শিদের সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাৎ করতে দিলেও পরবর্তী সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাদী মুর্শিদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রথমে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরে লোকজন ডাকলে দেখা করতে দেওয়া হয়। সে সময় মুর্শিদ জানান—চিকিৎসা না দিয়ে তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। আসামিরা গত ৯ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদের মুখে কাপড় গুঁজে গ্রিলের সঙ্গে দুই পা উল্টো করে বেঁধে মারধর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রের কাউন্সেলর ও মামলার আসামি বাঁধন বলেন, মুর্শিদ আমাদের পুরোনো রোগী। পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি সব সময় খুবই এগ্রিসিভ ও ডিপ্রেসড থাকেন। এর আগে দুইবার তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষবার তার পরিবারের লোকজন জোর করে  তাকে এখানে ভর্তি করে।

নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুর্শিদ প্রায় অন্য রোগীদের মারধর ও গালিগালাজ করেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি গালিগালাজ ও মারধর করলে ১৫-১৬ জন রোগী একত্রিত হয়ে তাকে মারধর করেন। সে সময় আমার স্টাফরা তাকে রক্ষা করতে পারেননি। তাদেরও গাফিলতি রয়েছে।

ওসি আব্দুল্লাহ-আল মামুন বলেন, মুর্শিদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি আরও বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

জামায়াত আমিরের ‘গৃহযুদ্ধ’ মন্তব্যের নেপথ্যে কী?

রাজনীতিতে বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাবে, সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে—এটা দস্তুর। বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে কড়া প্রচারণা চালালেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। শেষ পর্যন্ত যেকোনো রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য তো পরের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসা। তাই বিরোধীদলীয় নেতা জনসভায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য রাখবেন—এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গৃহযুদ্ধ’ ঠেকাতে তিনি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন, তখন বিষয়টি স্বাভাবিক রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের সীমা ছাড়িয়ে যায়।

তখন স্বভাবতই মনে হয় বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রধান নিছক রাজনৈতিক প্রচারণার বাইরে গিয়ে আরও বিপজ্জনক কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সেই বিপদের আলোচনায় ঢোকার আগে একবার তার বক্তব্যের অন্য দিকটি নিয়েও আলোচনা করা প্রয়োজন।

গত ২০ জুন শফিকুর রহমান খুলনার জনসভায় বলেছেন, ‘দেশকে আমরা ভালোবাসি। শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফল আমরা মেনে নিয়েছি। এ কথা মনে করবেন না কেউ, নির্বাচনের ফলাফল দেশে একটা গৃহযুদ্ধ শুরু না হোক, সেই জন্য আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কারও বাপ–দাদার চোখ রাঙানিকে আমরা পরোয়া করব না। অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না। আমাদের নেতৃবৃন্দ হারতে হারতে ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে জাতির জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’

জামায়াত নেতা অভিযোগ করেছেন, সবশেষ নির্বাচনটি কার্যত পুরোপুরি সাজানো ছিল। অন্ততপক্ষে ব্যাপক অনিয়ম অভিযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনের চার মাসেরও বেশি সময় পরে এ ধরনের মন্তব্য বেশ বিস্ময়কর—বিশেষ করে যে নির্বাচন সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এটা অবশ্য ঠিক যে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছিল জামায়াত। তাদের দাবি অনুযায়ী, সেখানে সামান্য ব্যবধানে পরাজয় গণনার ত্রুটির কারণে হয়েছিল।

তবে এই অভিযোগ আসে গেজেট প্রকাশের পরে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যেসব ভোটকেন্দ্রে যে সময়ে আপত্তি জানানোর নিয়ম ছিল, সেখানে দলটি কোনো অভিযোগ করেনি। ওই ৩২ আসনের ফলাফলও আর পরিবর্তন হয়নি।

কিন্তু এই আসনগুলো নিয়ে জামায়াতের অভিযোগ, অভিযোগের ধরন ও আচরণ—সব মিলিয়ে শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল যে পুরো বিষয়টা আমলে নেওয়ার মতো নয়। বিরোধী দলের কিছু একটা বলার দরকার, দলের কর্মী ও সমর্থকদের সান্ত্বনা দেওয়ারও একটা ব্যাপার থাকে, এই ৩২ আসনের অভিযোগ সম্ভবত সেগুলোকে মাথায় রেখে ছিল।

যদি সত্যিই তারা পুনর্গণনার বিষয়ে আন্তরিক হতো, তাহলে দলের প্রতিনিধিরা ভোটকেন্দ্রেই প্রতিবাদ করতেন এবং তাদের ন্যায্য অধিকার হিসেবে পুনর্গণনা চাইতেন। সেটা না করে তারা গেজেট বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করেছে। এছাড়াও, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালেও এ নিয়ে অভিযোগ নেওয়া হয়নি। সেখানেও অভিযোগ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি হতে পারত। তার ওপর নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত জামায়াতের যত জনসভা হয়েছে, একটিতেও বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে আসেনি।

কিন্তু এখন জামায়াত প্রধান আবারও সেই ৩২টি আসনের প্রসঙ্গ তুলছেন কড়া ভাষায়। বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে আসনগুলো আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে দলটি তাদের প্রাপ্য আদায়ে কঠোর লড়াইয়ে নামত। সেটা এমনই লড়াই যে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারত।

জামায়াত নেতার এমন মন্তব্যে উদ্বেগজনকভাবে সহিংসতার ঝোঁক প্রকাশ পায়। পাশাপাশি গভীরতর কিছুর ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। প্রথমত মন্তব্যে বোঝা যায় দেশের স্বার্থে, একটা প্রাণবন্ত সংসদের জন্যে যেমন সরব বিরোধী দল দরকার, জামায়াত আদতে সেই বিরোধী দল নয়। দল এবং দলটির নেতারা দলীয় স্বার্থকে পুরো জাতির স্বার্থের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছে। না হয় ৩২টি আসনের জন্য গৃহযুদ্ধের প্রশ্ন আসবে কেন?

এই মন্তব্যে আরও একটি ব্যাপার উঠে আসে। জামায়াত প্রধানের আত্মবিশ্বাস তার নিয়ন্ত্রণে এমন শক্তি বা ক্ষমতা আছে, যে ইচ্ছা করলেই তা দিয়ে গৃহযুদ্ধ বাধানো যায়। কিন্তু তিনি সংযত থেকেছেন। পরেরবার নাও থাকতে পারেন।

প্রশ্ন জাগে, একটি রাজনৈতিক দলের কেন, কোন কারণে এমন শক্তির বা লোকবলের দরকার হয়, যা দিয়ে তারা গৃহযুদ্ধ পর্যন্ত বাধিয়ে দিতে পারে?

বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য কেবল মেঠো রাজনৈতিক বক্তৃতা বলে উড়িয়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। আর তিনি যেটা বলছেন তার মানে হলো, ২০২৪ সালের রক্তাক্ত রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের দেড় বছরের মাথায় তার দল আরেকটি রক্তাক্ত সংঘাতের জন্যে তৈরি ছিল, আর নেতারাও সেরকম একটি কর্মসূচির কথা চিন্তা করেছিলেন। রাজনৈতিক মিত্ররা সদয় হয়ে এমন মনোভাবকে হয়তো দায়িত্বজ্ঞানের অভাব বলবেন। তবে সমালোচকরা একে বিধ্বংসী মনোভাব হিসেবেই দেখবেন।

শফিকুর রহমান তার বক্তৃতায় পূর্বসূরিদের কথাও টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতৃবৃন্দ হারতে হারতে ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে জাতির জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’

কিন্তু তিনি যে পূর্বসূরিদের কথা বললেন, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হিসেবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাদের ফাঁসি হয়েছিল। হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিয়েছিল এবং দলটির নেতারা সেই অপকর্মের জন্য ফাঁসিতে ঝুলেছিলেন।

তারা যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্তু এই রায়গুলো কোনো আদালতে এখনো চ্যালেঞ্জ করা হয়নি, বাতিলও হয়নি। কিন্তু বর্তমান জামায়াত নেতা যখন গৃহযুদ্ধের হুমকি দিতে গিয়ে সেই নেতাদের স্মরণ করেন—যারা একসময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন—তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি বর্তমান জামায়াত নেতা তার পূর্বসূরিদের সেই আদর্শই ধারণ করেন?

জামায়াত ও তার ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা তাদের কলুষিত অতীত এবং সেই নেতাদের আঁকড়ে রাখতে চায়। টিএসসির ছবি প্রদর্শনীতে তাদের শহীদ আখ্যা দিয়ে কিংবা সংসদে শোকপ্রস্তাব তুলে তারা সেটাই জানান দেয় বারবার। তাই যখন শফিকুর রহমান ১৯৪৭ সাল থেকে দলের সদস্যদের ‘ভুলের’ জন্য ক্ষমা চান, কিন্তু ১৯৭১ সালের পাপ স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন না, তখন আর মনে হয় না তিনি সেটা সরল মনে চাইছেন। বরং মনে হয় এটা আশেপাশের বৈরী আবেগকে সাময়িকভাবে প্রশমিত করার কৌশল। জামায়াত এভাবেই বহু বছর পার করেছে। কিন্তু যতদিন ইতিহাসের মুখোমুখি না হবে, ততদিন এই বোঝা তাদের ঘাড় থেকে নামবে না।

তবে, জামায়াত এখন সংসদে প্রধান বিরোধী দল। এটা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দলটির কট্টর সমালোচকরাও চাইবেন যে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সফল হোক। তারা যেন সরকারি দলকে কড়া নজরদারির মধ্যে রাখেন, পান থেকে চুন খসলে তাদের জবাবদিহি করে। এটা দলটির জন্য দেশসেবার একটি বিরল সুযোগও বটে। কিন্তু দলের প্রধানের এরকম বক্তব্য সেই সম্ভাবনা নষ্ট করে দেবে। এমন বক্তব্য প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আর এটা দলটির জন্যেও ভালো কিছু বয়ে আনবে না।

তানিম আহমেদ: ডিজিটাল এডিটর, দ্য ডেইলি স্টার

১৯৩০ থেকে ২০২৬: একনজরে ফিফা বিশ্বকাপের সব পোস্টার

১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেই বছর থেকে প্রতিটি আসরের জন্য আলাদা অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রথম বিশ্বকাপের পোস্টারে সেসময়ের জনপ্রিয় শিল্পরীতিকে তুলে ধরা হয়েছিল।

এসব পোস্টার শুধু টুর্নামেন্টের প্রচারণার মাধ্যম নয়; বরং আয়োজক দেশের সংস্কৃতি, শিল্পধারা, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ফুটবল-উন্মাদনারও প্রতিচ্ছবি।

পরবর্তী কয়েক দশকে পোস্টারগুলোতে ফুটবল ও খেলোয়াড়ের শক্তিমত্তা, জাতীয় পতাকা, স্টেডিয়াম ও দেশীয় প্রতীক গুরুত্ব পায়।

১৯৬০ ও ১৯৭০ এর দশকে পোস্টারগুলোতে আধুনিক গ্রাফিক ডিজাইন ও উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার বাড়ে।

১৯৯৪ সালে পোস্টারের ডিজাইনে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাব দেখা যায়। 

এরপরের আসরগুলোতে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বৈশ্বিক ফুটবল ঐক্যের বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পায়।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের পোস্টারে সোভিয়েত যুগের পোস্টার শিল্পের ছাপ ছিল। সেখানে কিংবদন্তি গোলরক্ষক লেভ ইয়াশিনকে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের পোস্টারে মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতির প্রতিফলন হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপের পোস্টার ইতিহাসে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কারণ এবারই প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে।

প্রথমবারের মতো তিনজন শিল্পী (কানাডার কারসন টিং, মেক্সিকোর মিনার্ভা জিএম ও যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাঙ্ক উইলিস থমাস) মিলে অফিসিয়াল টুর্নামেন্ট পোস্টার তৈরি করেন। পোস্টারটিতে ফুটবল কীভাবে ভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশের মানুষকে একসূত্রে গেঁথে রাখে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে।

নির্ধারিত দামের কমে বিক্রি, এবারও হতাশ চামড়া ব্যবসায়ীরা

কোরবানির গরুর চামড়ার দাম সরকার গত বছরের তুলনায় বাড়ালেও রাজধানীতে সেই দরে বিক্রি হচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, তারা এবারও  সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে সেই দামে চামড়া কেনার কোনো নিশ্চয়তা তারা পাননি। ট্যানারি মালিকরা গত বছরের তুলনায় কম দাম দিচ্ছেন। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও কম দামে চামড়া কিনছেন।

এদিকে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় দাম কমেনি, বরং প্রতি পিসে ৫০–৬০ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর অনেক চামড়া বিক্রেতার অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় তারা প্রতি চামড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম পেয়েছেন। পাশাপাশি আগের বছরের মতোই ব্যবসায়ীরা ছাগলের চামড়া কেনায় তেমন আগ্রহ দেখাননি।

আজ বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দিনে রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এবার অধিকাংশ কাঁচা গরুর চামড়া ৫০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যেখানে গত বছর একই ধরনের চামড়া ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

এ বছর সরকার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বাড়িয়েছে।

ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২-৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০-৬৫ টাকা।

এছাড়া ছাগলের লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং বকরি ছাগলের চামড়ার দাম ২২-২৫ টাকা প্রতি বর্গফুট।

এই হিসাব অনুযায়ী, একটি ছোট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৯৯০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হতে পারে। মাঝারি আকারের চামড়ার দাম অন্তত ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, আর বড় চামড়ার দাম ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

 

সাধারণত বড় গরুর চামড়ার আয়তন ৩১–৪০ বর্গফুট, মাঝারি গরুর ২১–৩০ বর্গফুট ও ছোট গরুর ১৬–২০ বর্গফুট হয়ে থাকে।

মোহাম্মদপুরের শেরশাহ সুরি রোডে মৌসুমি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ স্বপন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি ছোট কাঁচা চামড়া ৪৫০ টাকায়, মাঝারি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় ও বড় চামড়া ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় কিনেছি।

তিনি বলেন, দুপুর ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আমি ৩০টি কাঁচা চামড়া কিনেছি। ৩০০টি কেনার পরিকল্পনা আছে।

সায়েন্স ল্যাব এলাকার আরেক মৌসুমি ব্যবসায়ী আবিদ হোসেন হানিফ বলেন, আমি ছোট চামড়া ৪০০–৪৫০ টাকা, মাঝারি ৫০০ টাকা ও বড় চামড়া ৫৫০–৬০০ টাকায় কিনেছি।

‘গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা কম, কারণ আমরা ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে যে দাম পাচ্ছি, সেই দামে চামড়া কিনছি’ বলেন তিনি।

ধানমন্ডি এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, ছাগলের চামড়ার দাম নেই বললেই চলে। যারা গরুর চামড়া বিক্রি করতে নিয়ে আসেন, তাদের অনেক সময় প্রতি পিসে মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা দেওয়া হয়, আর কিছু ক্ষেত্রে কোনো টাকা না দিয়েই চামড়া নিয়ে নেওয়া হয়।

তবে এ বছর চামড়ার দাম কমেনি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত উল্লাহ।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘এ বছর কাঁচা চামড়ার দাম কমেনি; বরং গত বছরের তুলনায় ২০-৫০ টাকা বেশি রয়েছে। আমি নিজেই ৬৫০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দামে চামড়া কিনেছি।’  

সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, রাজধানীতে কাঁচা চামড়ার বাজার যেন ঠিক থাকে, এ জন্য ট্যানারিগুলো সরাসরি কাঁচা চামড়া কিনে থাকে। আজ বিকেল পর্যন্ত চামড়ার বেচাকেনা সেভাবে জমেনি। এ কারণে কেউ কম দাম পেয়ে থাকতে পারেন। সন্ধ্যার দিকে দাম আরও বাড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, ট্যানারি মালিকরা এ বছর ৭৫ লাখ থেকে ৮০ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে তারা রাজধানীতে সরাসরি প্রায় ৮০ শতাংশ চামড়া কেনার পরিকল্পনা করছেন। গত বছর তারা রাজধানী থেকে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৮ লাখটি চামড়া সরাসরি কিনেছিল।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার। এর বিপরীতে গরু-ছাগলসহ কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার পশু।

 

 

 

একাত্তরের জামায়াত আর এখনকার জামায়াত এক নয়: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশের জন্মলগ্নে ১৯৭১ সালের জামায়াত আর এখনকার জামায়াত এক নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংসদে আনা বিলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা প্রসঙ্গে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পরওয়ার বলেন, ‘তিনি বলেছেন, আমরা এই জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতিকে থেকে ফিরে আসতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম, এই বিলের মধ্যে পলিটিক্যাল ব্যাড ইনটেনশন আছে। এটা সংশোধন করা উচিত।’

‘বারবার সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে, অতীতের কোনো সরকার সময় এটা ছিল না,’ যোগ করেন পরওয়ার।

তার মত, ‘দেশের মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে যে অপশক্তি তৎপর আছে, তাদেরই অপতৎপরতার ফল হিসেবে এটাকে এইভাবে রাখা হয়েছে।’

বাংলাদেশে কেন—সারা দুনিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু বিতর্কিত আলোচনা ও বক্তব্য থাকতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০-৬০ বছর পরে জাতি যদি পুরাতন কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক এবং জাতিকে বিভক্ত করে, সে জাতি কোনোদিন এগিয়ে যেতে পারে না।’

‘আমাদের আমিরে জামায়াত বলেছেন, ইতিহাসকে নিয়ে পড়ে থাকলে আমরা কোনোদিন ইতিহাস তৈরি করতে পারবো না। সে জন্য আমাদের পরে স্বাধীন হওয়া পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশ, তারা আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে।’

এই জামায়াত নেতা বলেন, ‘যাদের স্বাধীনতার পরে জন্ম, আজকে পার্লামেন্টে যারা এমপি হয়েছেন আমাদের, তার অধিকাংশই বয়সে তরুণ। এই জন্মভূমিতে, স্বাধীনতার পরে জন্ম, আপনি তাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলবেন, আল বদর বলবেন, রাজাকার বলবেন, জনগণ তো হাসে!’

তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে সেই সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তখনকার যারা রাজনৈতিক দলে ছিলেন, সেখানকার রাজনৈতিক পলিসি, ভূমিকার ব্যাপারে অনেক আলোচনা-বিতর্ক হতে পারে। তার অর্থ এই না…স্বাধীনতার পরে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী…সেই সময়ের জামায়াত আর এখনকার জামায়াত এক নয়। বহুবার জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র, নীতি, পদ্ধতি বদল হয়েছে।’

জামায়াতের গঠনতন্ত্র পড়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে পরওয়ার বলেন, ‘ভূমিকাতেই রোকন শর্তের মধ্যে আমরা বলেছি, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই লড়াই-সংগ্রামকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে ধারণ করেছি, স্মরণ করেছি।’

এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ম রক্ষায় আত্মত্যাগের স্বীকৃতি না দিলে তিনি কেউ জামায়াতের ইসলামীর সদস্য হতে পারেন না বলেও জানান তিনি।

পরওয়ার আরও বলেন, ‘সাংবিধানিক এত পরিবর্তনের পরেও একটা মহল যখন এই বিতর্ক জিইয়ে রাখতে চান, এটা দেশপ্রেম নয়, স্বাধীনতার প্রেম নয়, এটা হচ্ছে জাতিকে বিভক্ত করার একটি বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশে তারা এই কথাগুলো বলেন। এই দুরভিসন্ধি থেকে জাতিকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি মনে করি, আমাদের এগোবার সময় আছে, জাতির মধ্যে একটা জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হোক।’

‘এই বিষয় এখানেই সমাধান করে ফেলা উচিত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল সংসদের সমাপনী দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে আমরা দেখলাম একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। আমরা এখন সামনে যেতে চাই। তাহলেই আমরা নতুন প্রজন্মকে একটা নতুন ইতিহাস দিয়ে যেতে পারবো।’

৫ তারকার স্মৃতিতে পহেলা বৈশাখ

আজ পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরের প্রথম দিনটি বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে উৎসব, আনন্দ আর নতুন প্রত্যাশা। এই বিশেষ দিনকে ঘিরে যেমন সাধারণ মানুষ মেতে ওঠেন, তেমনি তারকারাও ফিরে যান স্মৃতির পেছনে। ছেলেবেলার পহেলা বৈশাখ নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন পাঁচ জ্যেষ্ঠ তারকা।

মামুনুর রশীদ

আমাদের ছেলেবেলায় পহেলা বৈশাখে মেলা বসত গ্রামে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন মেলায়। সেই মেলায় মজার মজার খাবার পাওয়া যেত। লোভনীয় সব খাবার। আমরা মেলা থেকে খাবার কিনে খেতাম। খুব আনন্দ করতাম। অপেক্ষা করতাম কবে পহেলা বৈশাখ আসবে।

এ ছাড়া, আমাদের ছেলেবেলায় পহেলা বৈশাখ পুতুলনাচ হত। কী যে আকর্ষণীয় ছিল পুতুলনাচ! দল বেঁধে পুতুলনাচ দেখতাম। এখনো স্মৃতিগুলো চোখে ভাসে। এখনো সবকিছু মনে পড়ে। সত্যি কথা বলতে, পহেলা বৈশাখ আমাদের জীবনে বড় উৎসব। দিনটি সবার।

তবে, পহেলা বৈশাখে ঝড়-বৃষ্টিও হতো। দিনের শেষে ঝড় এসে সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিত। পরের দিন সকালে আবারও নতুন করে সব ঠিকঠাক করে ফের মেলায় দোকান বসত। কেননা, মেলা হতো কয়েকদিন ধরে। কিন্তু, পহেলা বৈশাখের দিন বেশি জমজমাট থাকত। দিনভর মেলায় ঘুরে বেড়াতাম।

আবুল হায়াত

ছেলেবেলায় অনেকগুলো বছর কেটেছে চট্টগ্রাম শহরে। অনেক স্মৃতি আছে। সেই সময় দেওয়ান হাটে চৈত্র সংক্রান্তি হতো। চৈত্র সংক্রান্তিতে মেলার মতো হতো। অনেক মানুষ আসতেন। ওখানে যাওয়ার স্মৃতি আছে। স্মৃতিগুলো আজও ভুলিনি।

পহেলা বৈশাখে তখনকার দিনে হালখাতা হতো। একটা উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করত। আসলে পহেলা বৈশাখ দিনটি আমাদের সবার। বছরের নতুন দিন শুরু হয়। সবাই ভালো কিছু প্রত্যাশা করেন। বিশেষ দিনে সবার জন্য শুভকামনা। সবার জীবনে সুখ শান্তি বিরাজ করুক। ছেলেবেলার পহেলা বৈশাখের মতো এখনকার বৈশাখও সবার জীবনে আনন্দ বয়ে নিয়ে আসুক।

রফিকুল আলম

আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। ছেলেবেলায় পহেলা বৈশাখের যত স্মৃতি, সবই রাজশাহী-কেন্দ্রিক। শহরে দরগাপাড়া নামে একটি জায়গা আছে। ওখানে পহেলা বৈশাখে মেলা হতো। অনেক মানুষ আসতেন মেলায়। আমাদের মতো স্কুলপড়ুয়াদের খুব আনন্দের বিষয় ছিল পহেলা বৈশাখ। স্কুলের বন্ধুরা কিংবা পরিবারের সমবয়সীরা দল বেঁধে মেলায় যেতাম, সেই স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। ওইরকম আনন্দ আর হবে না। ওইরকম ভালোলাগা আর হবে না।

ওখানে একটা মাঠ ছিল। অনেক মানুষ আসতেন। তাছাড়া, ছেলেবেলায় যখন স্কুলে পড়ি, তখন স্কুলে স্কুলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনুষ্ঠান হতো, গানের আয়োজনও হতো। তখনো অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার মতো অবস্থা আমার হয়নি। কিন্তু, আমরা দলবেঁধে শুনতে যেতাম। খুব মজা করতাম। স্কুলজীবনে দেখেছি, রাজশাহীতে অনেকগুলো মাড়োয়ারি পরিবার থাকত। আমার বেশ কয়েকজন মাড়োয়ারি বন্ধুও ছিল। একজনের নাম হিরালাল সেন। ওর সাথে কত স্মৃতি আছে! আসলে পহেলা বৈশাখটা অন্যরকম আনন্দের একটি দিন।

ওয়াহিদা মল্লিক জলি

ছোটবেলায় আমার পহেলা বৈশাখ কেটেছে রাজশাহী শহরে। খুব আনন্দ করতাম। বৈশাখী মেলা হতো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। স্কুলের অনুষ্ঠানে কবিতা পড়তাম। এটা প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে করতে হতো। খুব আনন্দ নিয়ে কবিতা পড়তাম। এখনো মনে পড়ে, ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হতো আমাকে।

রাজশাহীতে কড়াইতলা নামে একটি জায়গা আছে, ওখানে পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠান হতো। আমরা যেতাম এবং অনেক আনন্দ করতাম। মজার মজার খাবার বিক্রি হতো। হাওয়াই মিঠাইয়ের কথা ভুলিনি এখনো। পহেলা বৈশাখ আমার মা-বাবার বিয়েবার্ষিকী, সেজন্য বাড়িতে উৎসব হতো। খিচুড়ি রান্না হতো। বাবার কাছের মানুষেরা আসতেন। স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ে।

রহমত আলী

রাজশাহীর ঘোড়ামারায় আমাদের বাড়িতে চৈত্র সংক্রান্তিতে খুব বড় আয়োজন হতো। মায়ের জন্যই এটা হতো। কত মানুষ আসতেন বাড়িতে। কেউ না খেয়ে যেতে পারতেন না। লুচি রান্না হতো। আরও অনেক কিছু রান্না হতো।

তারপর, পহেলা বৈশাখের দিন রাজশাহী শহরে বৈশাখী মেলা হতো। ওখানে ছুটে যেতাম। আমাদের ঘোড়ামারাতেও মেলা হতো। তবে, নওগাঁয় গ্রামের দিকে পহেলা বৈশাখে বড় মেলা হতো। গ্রামীণ মেলা যেমন হয় আরকি। নওগাঁর মেলায় আমি যেতাম। আসলে, আমদের জীবনে পহেলা বৈশাখের গুরুত্ব অনেক।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের অন্তত ২০ প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রিসেন্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র মোজতবা খালেদি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি প্রদেশ হামলায় আক্রান্ত হয়েছে।’

পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আসবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শোনা যাচ্ছে যে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসতে পারে; সেটা কি শিগগিরই আসবে নাকি আরও দেরি হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু পরিবর্তন তো আসবে, একটু সময় দিলে আরকি।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশন কবে আহ্বান করা যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এটা নির্ধারণ হয়েছে যে রাষ্ট্রপতির অধিবেশন আহ্বানের যে প্রজ্ঞাপন, সেটা যেদিন সেশন হবে, তার কমপক্ষে ১৫ দিন আগে করতে হয়। এই সামারিটা সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। এরপর রাষ্ট্রপতি সেটা অনুমোদন করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি এবং মার্চের ১২ তারিখে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেই অধিবেশনে কী কী কর্মসূচি থাকবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমন সেই অধিবেশনে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবে; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেসব অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলো উপস্থাপন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সুপ্রস্তাব হবে প্রথামাফিক এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে। আর অন্যান্য যেসব বিষয় থাকবে, সেগুলো সংসদের নৈমিত্তিক কার্যক্রম।

নতুন রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তবে স্পিকার নির্বাচন পরে হবে বলে জানান তিনি।

মোহাম্মদপুরের আদাবরে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডগুলোতে আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন—জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ রকম একটা সংবাদ আমাদের কানেও এসেছে। আমি এটা খোঁজ নিতে বলেছি, তদন্ত করে আমাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। যদি সে রকম কিছু হয় আমরা এই সমস্ত বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে চায় না সরকার। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বড় এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি বছরের ১১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন হবে। 

দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের কারিগরি দল চুক্তি নবায়নে কাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।

তিনি জানান, চুক্তিতে নতুন বাস্তবতা ও অতিরিক্ত গ্যারান্টি ক্লজ (নিশ্চয়তার শর্ত) যুক্ত করার বিষয়েও বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।

গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ভারতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ। প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিবাচক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের দিকে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ প্রায় শেষ হলেও পরবর্তী সরকারগুলো এটি বাস্তবায়নে এগোয়নি। কেন বাস্তবায়ন করা হয়নি, তা স্পষ্ট নয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটি আবার চালু করে।

মন্ত্রী জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।

এ্যানি জানান, প্রকল্পটির জন্য নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে নির্মাণকাজ শুরুর আগে আরও সমীক্ষাও চালানো হবে। আগামী বাজেটে এ জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যারাজ নির্মাণে সাত বছর সময় লাগতে পারে। সে হিসাবে বছরে গড়ে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন হবে।

মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নিজস্ব অর্থায়নেই এ প্রকল্প শেষ করা সম্ভব। অতীতে দেশ থেকে যে বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে, তার তুলনায় এই অর্থ খুব বেশি নয়।

প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্ষায় বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকটে ভোগা ২৪ থেকে ২৬ জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষের জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যারাজের মাধ্যমে পদ্মায় একটি জলাধার (রিজার্ভার) তৈরি হবে, যেখানে পানি সংরক্ষণ করে কৃষি ও মাছ চাষে ব্যবহার করা যাবে।

ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্প। এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা

তিস্তা প্রকল্পে চীনের অর্থায়নের আগ্রহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে অর্থ লাগবে, তা পদ্মা ব্যারাজের প্রায় অর্ধেক। তাহলে কেন বিদেশি ঋণ নিতে হবে?

তিনি জানান, একনেক সভায় প্রকল্প প্রস্তাব তোলার আগে আরও বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে।

খাল খনন কর্মসূচি

২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

তিনি জানান, দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের শাহপাড়া খালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নিয়ে ১৮০ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৬৬৬টি খালের ৮০০ কিলোমিটারের বেশি খনন করা হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটারের লক্ষ্য ছাড়িয়ে ২৪ থেকে ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত খাল খনন করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ্যানি বলেন, সত্তরের দশকের শেষের দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময়ের খাল খনন কর্মসূচি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধারে সহায়তা মিলবে।

তিনি বলেন, খালগুলো পুনরুদ্ধার হলে কৃষকরা সেচে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় বাড়তে শুরু করবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, সঠিক পদ্ধতিতে খনন না হলে বর্ষায় অনেক খাল আবার ভরাট হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম), সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এবং ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) এ বিষয়ে সমীক্ষা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ সচল রাখা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার উপায় নিয়েও কাজ হচ্ছে। এই কর্মসূচি সফল করতে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় মানুষকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

নদী ও খালের দূষণ, বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের জলাশয় রক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচি জলাশয়ে বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করতে বিশ্বব্যাংক, জাইকা (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অপরিকল্পিত কালভার্ট সরিয়ে ফেলা হবে।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর অনেক খাল দখল করে বাড়িঘর, দোকানপাট ও বাজার নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাছ চাষের জন্য খালে বাঁধও দিয়েছেন। খাল খননের পাশাপাশি সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করা হবে।

এ্যানি বলেন, কিছু বাধা আসতে পারে। তবে সেগুলো মোকাবিলা করতেই হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।