28.6 C
Dhaka
Home Blog

পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করা যাবে না। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক হোক, কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না।

তবে এখানে পুলিশের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কার্যক্রমও দেখা হবে, যেন জনগণ কোনো হয়রানির শিকার না হয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সময়ে শুধু পুলিশ নয়, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে। সেই মোটিভেশনাল ওয়ার্কটা আমরা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো, তাদের সাহস জোগাবো এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দিকনির্দেশনা দেবো। পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে লক্ষ্য রেখেই এগিয়ে যেতে হবে।’

স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা: সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার কি স্বপ্নই থাকবে?

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে কথা বলতে গেলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক করুণ চিত্র। একদিকে সরকারি হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই, অন্যদিকে বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ বছরের পর বছর অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা এখন আর মৌলিক অধিকার নয়, বরং বিশাল দুর্ভেদ্য পাহাড় ডিঙানোর মতো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি কেন অবহেলার শিকার হচ্ছে এবং কীভাবে আমরা এই অকার্যকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।

জীবিকার সুবাদে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আমার হয়েছে। একজন জনস্বাস্থ্য কর্মী ও গবেষণার তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রতিষ্ঠিত জার্নালে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন বা কেস স্টাডি দেখে যে তাত্ত্বিক রূপরেখা পাওয়া যায়, বাস্তব চিত্র তারচেয়েও অনেক বেশি নাজুক ও ভঙ্গুর।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার জটিলতা বুঝতে হলে যেকোনো সরকারি হাসপাতালে বা সেবাকেন্দ্রে গিয়ে এর সিস্টেমের গলদগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে হবে, তাহলেই উত্তরণের পথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ‘সরকারি হাসপাতালের শয্যা বাড়ছে, কিন্তু ডাক্তার কোথায়?’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের এই খাঁটি ও রূঢ় বাস্তবতাকে সংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্যের মাধ্যমে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনটির তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও সেই অনুপাতে জনবল বা চিকিৎসক বাড়েনি। ফলে, এই তীব্র সংকট পুরো সেবা ব্যবস্থাটিকে ভেতরে ভেতরে পঙ্গু করে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংখ্য পদ খালি পড়ে আছে, যার মধ্যে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার শিক্ষক পর্যন্ত রয়েছেন। এই বিশাল শূন্যপদের কারণে একদিকে যেমন রোগীরা উপযুক্ত সেবা পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের পড়াশোনা ও মান নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠছে।

এই অব্যবস্থাপনার আরেকটি অন্ধকার দিক হলো, কেনাকাটা ও বাজেট বাস্তবায়নের ধীরগতি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে যে বিশাল বাজেট ছিল, সংশোধিত বাজেটে এসে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা কয়েক হাজার কোটি টাকা কমে যায়। এই অপচয় ও ধীরগতির অর্থ হলো, সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধ, আধুনিক যন্ত্রপাতি বা চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে একটি ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে বা নিচতলা থেকে উপরতলায় রোগী স্থানান্তরের মতো সাধারণ কাজের জন্যও রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত অর্থ বা ‘বকশিশ’ দিতে বাধ্য করা হয়। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত সবজায়গায় সেবা পেতে হলে ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া যেন এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বৈষম্যটি দৃশ্যমান হয় কিছু চিকিৎসকের তৎপরতায়। একই চিকিৎসক যখন সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তিনি এক অদৃশ্য সীমাবদ্ধতায় বন্দি। অথচ বেসরকারি ক্লিনিকে গেলেই তিনি দারুণ সক্রিয় হয়ে যান। এটি কেবল চিকিৎসকের একক দোষ নয়, বরং আমাদের সরকারি কর্মক্ষেত্রের জবাবদিহিতা ও অনুন্নত পরিবেশের প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি। এর ফলে ধনীরা বেসরকারি বিশেষায়িত অত্যাধুনিক হাসপাতালে আধুনিক সেবা পেলেও গরিব ও প্রান্তিক মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে বা সহায়-সম্বল বিক্রি করে পথে বসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি দেশের স্বাস্থ্যখাতে মোট জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দ করা উচিত এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর একটি নির্দিষ্ট অনুপাত (১:৩) বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশেরও কম, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (ইউএইচসি) বা সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল কথাই হলো—চিকিৎসা নিতে গিয়ে কোনো নাগরিক যেন আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে না পড়েন। আমাদের দেশের বর্তমান বাস্তবতা এই আন্তর্জাতিক নির্দেশনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

একজন জনস্বাস্থ্য গবেষণা কর্মী এবং এ দেশের সচেতন মানুষ হিসেবে আমি মনে করি, এই নাজুক পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় কিংবা অবকাঠামো বা শয্যার সংখ্যাগত বৃদ্ধির মধ্যে নিহিত নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিধিবদ্ধ তথ্য-উপাত্তের সঠিক প্রয়োগ এবং উভয় পক্ষের, অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারীর মানসিকতার আমূল পরিবর্তন। আমাদের পর্যাপ্ত সম্পদ আছে, অভাব শুধু সদিচ্ছা ও জবাবদিহিতার।

বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর সুপারিশ তুলে ধরা হলো:

১. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় স্বাধীনতা: ঢাকার ওপর সমস্ত নির্ভরতা কমিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে বাজেট প্রণয়ন ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা দিতে হবে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী যেন দ্রুত সরঞ্জাম বা ওষুধ কেনা যায়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

২. নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতিশীলতা ও জনবল সংকট দূরীকরণ: দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে প্রকাশিত শূন্যপদগুলোর দিকে নজর রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের শূন্যপদগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত না হয়।

৩. ডিজিটাল মনিটরিং ও কেনাকাটায় স্বচ্ছতা: সরকারি অর্থ ও বাজেট যেন বছরের শেষে ফেরত না যায়, সেজন্য বছরের শুরু থেকেই ক্রয়ের পরিকল্পনা করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের স্টক ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি (ই-গভর্নেন্স) করতে হবে, যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কেনাকাটার দুর্নীতি বন্ধ হয়।

৪. চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা ও প্রণোদনা প্যাকেজ: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বায়োমেট্রিক হাজিরা ও কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে সেবার মানের বৈষম্য দূর করতে হবে।

৫. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ও মান নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, সরকার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সেবামূল্য নির্ধারণ ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ করবে। প্রয়োজনে সরকারি খরচে বেসরকারিখাতের মাধ্যমে দরিদ্র রোগীদের সাশ্রয়ী বা বিনামূল্যে জটিল চিকিৎসা দেওয়ার জন্য অংশীদারিত্ব চুক্তি করা যেতে পারে।

৬. তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক তদারকি কমিটি: হাসপাতালের সেবার মান ও দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, জনস্বাস্থ্য কর্মী ও রোগীর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদারকি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটি সরাসরি স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রিপোর্ট করবে।

৭. স্বাস্থ্য বিমা ও সবার জন্য স্বাস্থ্য (ইউএইচসি) বাস্তবায়ন: প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসা খরচ কমাতে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে সর্বজনীন স্বাস্থ্য বিমা চালু করা সময়ের দাবি। এতে করে কোনো পরিবারকে চিকিৎসার জন্য জমি বা সহায়-সম্বল বিক্রি করে নিঃস্ব হতে হবে না।

স্বাস্থ্যসেবা করুণা বা দয়ার দান নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত মৌলিক অধিকার। আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য বড় বাজেট ঘোষণার চেয়েও বেশি প্রয়োজন সেই বাজেটের সঠিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক ও সময়োপযোগী প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন। একজন জনস্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সংকটের পথ যতই কঠিন হোক না কেন, সদিচ্ছা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাহসের সঙ্গে কার্যকর উদ্যোগ নিলে এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে চিকিৎসার অভাবে কোনো গরিব মায়ের বুক খালি হবে না এবং দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল হবে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে আস্থার ঠিকানা।

সুমিত বণিক: জনস্বাস্থ্য কর্মী ও প্রশিক্ষক, ঢাকা
[email protected]

‘রোনালদো-মদ্রিচ নয়, ম্যাচের ভাগ্য গড়বে মিডফিল্ডের লড়াই’

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার দ্বৈরথ। একদিকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে লুকা মদরিচ। দুই কিংবদন্তির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ মনে করেন, এই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবেন না রোনালদো কিংবা মদ্রিচ; আসল লড়াই হবে মাঝমাঠে।

বুধবার টরন্টোয় সংবাদ সম্মেলনে দালিচ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এটি হবে মিডফিল্ডারদের লড়াই। পর্তুগালের মাঝমাঠে অসাধারণ খেলোয়াড় রয়েছে। তারা কৌশলগতভাবে খুবই শক্তিশালী। এই ম্যাচে একটি ভুলও বড় মূল্য চুকাতে হতে পারে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ক্রোয়েশিয়া। এরপর পানামাকে ১-০ এবং ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে তারা।

অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি জয় এবং দুটি ড্র নিয়ে নকআউটে উঠেছে পর্তুগাল। পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো না হলেও প্রতিপক্ষকে একটুও হালকাভাবে নিচ্ছেন না দালিচ, ‘পর্তুগাল এমন একটি দল, যারা সবসময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখতে চায়। তাদের দুর্বলতা খুবই কম। যেকোনো মুহূর্তে তারা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’

ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেবেন ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। তার সঙ্গে থাকবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করা মার্টিন বাতুরিনা এবং ঘানার বিপক্ষে গোল পাওয়া পেতার সুচিচ।

অন্যদিকে পর্তুগালের মিডফিল্ডে রয়েছেন ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেস। যদিও সব আলো কেড়ে নিচ্ছেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

টরন্টোয় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি শহরটির এবারের বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ। একই সঙ্গে এটি রোনালদো কিংবা মদ্রিচ, দুই কিংবদন্তির একজনের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচও হয়ে যেতে পারে।

ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ দুই তারকার প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘তারা দুজনই ফুটবলের জন্য অসাধারণ অবদান রেখেছেন। আমি বিশ্বাস করি, লুকা তার পথচলা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে দুজনের সম্পর্কেই আমার কেবল ইতিবাচক কথাই বলার আছে।’

 

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান

খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মাসুদ খানকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অর্থমন্ত্রণালয় চার বছরের জন্য তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

মাসুদ খান ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের বোর্ডে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০১৯ সালের এপ্রিলে চেয়ারম্যান হন।

তিনি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপ বাংলাদেশের বোর্ডে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশে ১৮ বছর চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে দেশে ও বিদেশে অর্থ ও সংশ্লিষ্ট ভূমিকায় ২০ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একজন স্বতন্ত্র পরিচালকও ছিলেন।

এ ছাড়া ৪৫ বছর ধরে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশে (আইসিএবি) একজন প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

মাসুদ খান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব কমার্স (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি ১৯৭৭ সালে অল ইন্ডিয়া সিএ পরীক্ষায় রৌপ্য পদক লাভ করেন।

যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে সভাপতি করা হয়েছে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে।

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানানো হয়।

এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছে যুবদল।

কমিটিতে রেজাউল কবীর পলকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিল্লাল হোসেন তারেককে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মো. কামরুজ্জামান জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ তালিকা

১. সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না

২. সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল

৩. সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া

৪. সহ-সভাপতি কামাল আনোয়ার আহাম্মদ

৫. সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ

৬. সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দুলাল

৭. সহ-সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী

৮. সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান

৯. সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ দিপু

১০. সহ-সভাপতি আবদুল জব্বার খান

১১. সহ-সভাপতি খন্দকার এনামুল হক এনাম

১২. সহ-সভাপতি শরীফ উদ্দীন জুয়েল

১৩. সহ-সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ

১৪. সহ-সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার

১৫. সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু

১৬. সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফিরোজ আবদুল্লাহ

১৭. সহ-সভাপতি মাহমুদুস সালেহীন

১৮. সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক

১৯. সহ-সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জল

২০. সহ-সভাপতি এইচ এম তসলিম উদ্দিন

২১. সহ-সভাপতি নাজমুল আলম নাজু

২২. সহ-সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল হক

২৩. সহ-সভাপতি আবু সাঈদ আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র)

২৪. সহ-সভাপতি রহিম উদ্দিন (যুক্তরাজ্য)

২৫. সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মুন্না

২৬. সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম টিটু

২৭. সহ-সভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

২৮. সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন

২৯. সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান আকন্দ

৩০. সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে)

৩১. সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন

৩২. ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক

৩৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

৩৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সোহাগ

৩৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু আতিক আল হাসান মিন্টু

৩৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নাসির উদ্দিন রুমন

৩৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন ভূইয়া

৩৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন রুবেল

৩৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মিলন

৪০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট

৪১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার রহমান কবির

৪২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন

৪৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ

৪৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিঞা মোহাম্মদ রাসেল

৪৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম সরকার

৪৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক

৪৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা

৪৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খান দীপক

৪৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন

৫০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান

৫১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা সুমন

৫২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক উজ জামান তারেক

৫৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়াইব খন্দকার

৫৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর রহমান বাবু

৫৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ

৫৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহাব

৫৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ হিরো (সৌদি আরব)

৫৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম তমাল আহমেদ

৫৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম

৬০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া (দপ্তরের দায়িত্বে)

৬১. সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন লিমন

৬২. সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান পারভেজ

৬৩. সহ-সাধারণ সম্পাদক এন এম আব্দুল্লাহ উজ্জল

৬৪. সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ

৬৫. সহ-সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মামুন

৬৬. সহ-সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন ভূইয়া

৬৭. সহ-সাধারণ সম্পাদক রাহাদুল আলম খান

৬৮. সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল ইসলাম মনি

৬৯. সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান

৭০. সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক পাভেল

৭১. সহ-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাইনউদ্দিন খোকন

৭২. সহ-সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন চয়ন

৭৩. সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ

৭৪. সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক আরিফ

৭৫. সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান খান সাইফুল

৭৬. সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান

৭৭. সহ-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির সেলিম

৭৮. সহ-সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান ভূইয়া সবুজ

৭৯. সহ-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল

৮০. সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হক

৮১. সহ-সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন মুন্না

৮২. সহ-সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম রানা

৮৩. সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী

৮৪. সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জুয়েল

৮৫. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ গাফফার

৮৬. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ফারুকী হীরা

৮৭. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন

৮৮. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব

৮৯. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আলম

৯০. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার শাওন

৯১. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান শামীম

৯২. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি

৯৩. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান সোহেল

৯৪. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম

৯৫. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রিয়াজ

৯৬. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো। রাশেদুল ইসলাম রিপন

৯৭. প্রচার সম্পাদক আল মেহেদী তালুকদার

৯৮. সহ-প্রচার সম্পাদক তারেকুর রহমান

৯৯. সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আশরাফ জালাল খান মনন

১০০. সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল

১০১. তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন

১০২. কোষাধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন

১০৩. আইনবিষয়ক সম্পাদক  মুর্তজা কামাল মোস্তাক

১০৪. আইনবিষয়ক সম্পাদক ইউনুস আলী রবি

১০৫. আইনবিষয়ক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ

১০৬. আইনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান সোহেল

১০৭. আইনবিষয়ক সম্পাদক গাজী মো. মাসকুরুল আলম সৌরভ

১০৮. কৃষিবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ সানোয়ার আলম

১০৯. সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির লিঙ্কন

১১০. শ্রমবিষয়ক সম্পাদক পার্থ দেব মন্ডল

১১১. শিল্পবিষয়ক সম্পাদক কারীমুল হাই নাঈম

১১২. যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক সাজিদ হাসান বাবু

১১৩. ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি

১১৪. সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. মেজবাহউদ্দিন মেজু

১১৫. পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম রুমন

১১৬. গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মহিন উদ্দিন রাজু

১১৭. সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান রয়েল

১১৮. বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পী

১১৯. সহ-বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম

১২০. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান

১২১. ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান নান্নু

১২২. ত্রাণ ও পুর্নবাসনবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ

১২৩. সহ-ত্রাণ ও পুর্নবাসনবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মজুমদার

১২৪. সহ-গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার মাহবুবুর রহমান মাহী

১২৫. সহ-জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন

১২৬. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক কে এস এম মুসাব্বির শাফী

১২৭. তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইমরান আহমেদ প্রিন্স

১২৮. মৎস্য ও পশুপালনবিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান রনি

১২৯. স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক গালিব হাসান

১৩০. স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেন নাজিম

১৩১. সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান খান সুমন

১৩২. সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আল মামুন হাসান খান এমিল

১৩৩. সহ-কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান

১৩৪. আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খায়রুজ্জামান লিঙ্কন (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা)

১৩৫. আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এ আর মামুন খান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা)

১৩৬. আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা)

১৩৭. মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল আলম আকতার

১৩৮. প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান

১৩৯. পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক হেদায়েত হোসেন ভূইয়া

১৪০. সহ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক রাশেদ আল আমিন শুভ

১৪১. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) আমিনুল ইসলাম খান

১৪২. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মাহবুব শিকদার

১৪৩. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মহসীন বিশ্বাস

১৪৪. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) জহিরুল ইসলাম বিপ্লব

১৪৫. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু

১৪৬. সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি শাহেদ

১৪৭. সদস্য নাজিম উদ্দিন মিঠু

১৪৮. সদস্য মাহমুদুল করিম সজল

১৪৯. সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ শাহীন

১৫০. সদস্য মো. এমরান হোসেন শাহীন

১৫১. সদস্য ফখরুল বিন খালেক

৩০০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক, কে এই ভারতীয় অভিনেতা

ভারতের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের তালিকা বলতে গেলে প্রথমেই উঠে আসে শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান কিংবা অক্ষয় কুমারের নাম। দক্ষিণ ভারতে এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে রেখেছেন রজনীকান্ত।

কিন্তু ২০২৬ সালে এই চিত্র বদলে গেছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, যিনি এই তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন, গত দুই বছরে তার নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি!

বলিউড লাইফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতা হলেন দক্ষিণী সুপারস্টার আল্লু অর্জুন। ভক্তদের কাছে তিনি ‘পুষ্পা ভাই’ নামেই বেশি পরিচিত।

রিপোর্ট বলছে, পারিশ্রমিকের দিক থেকে বলিউড ও দক্ষিণ—দুই ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় তারকাকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

জানা গেছে, একটি সিনেমার জন্য তিনি নেন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি রুপি। এই বিশাল অঙ্কই প্রমাণ করে, বর্তমানে তার জনপ্রিয়তা ও বাজারমূল্য কতটা উঁচুতে পৌঁছেছে।

আল্লু অর্জুনের শেষ বড় কাজ ছিল পুষ্পা: দ্য রাইজ এবং পুষ্পা ২: দ্য রুল। এই দুটি সিনেমাই বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। প্রথম সিনেমা আয় করে প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি, দ্বিতীয় সিনেমা আয় করে প্রায় ১ হাজার ৭৪২ কোটি রুপি। মোট আয় প্রায় ২ হাজার ৯২ কোটি রুপি।

‘পুষ্পা’ সিরিজ এখন ভারতের সবচেয়ে সফল চলচ্চিত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটি।

আল্লু অর্জুন ২০০ থেকে ৩০০ কোটি রুপি, শাহরুখ খান ১৫০ থেকে ২৫০ কোটি, থালাপাতি বিজয় ১৫০ থেকে ২৭৫ কোটি, আমির খান ১০০ থেকে ২৭৫ কোটি, রজনীকান্ত ১২৫ থেকে ২৭০ কোটি।

বর্তমানে আল্লু অর্জুন কাজ করছেন পরিচালক অ্যাটলি কুমারের নতুন সিনেমা রাকাতে। সিনেমাটি ২০২৭ সালে মুক্তি পেতে পারে। এই সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন ও জাহ্নবী কাপুর। ইতোমধ্যেই প্রকাশিত ফার্স্ট লুক পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সব মিলিয়ে দুটি সিনেমার বিশাল সাফল্য ও বিপুল ভক্তসমর্থনের জোরেই আল্লু অর্জুন এখন ভারতের সবচেয়ে দামি তারকা।

আমিরাতে ইরানি হামলায় বাংলাদেশি নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও একজন পাকিস্তানি ও একজন নেপালি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

আজ রোববার আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হামলা চালালে আমিরাতে অন্তত ৩ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, হামলা একজন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি ও একজন নেপালি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় বলছে, আমিরাত ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে যার মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মোট ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

সঠিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি কতগুলো নিয়ম-কানুন আছে। সরকারি যেসব প্রথাগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যে কতগুলোর মেয়াদ আছে, কতগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে আমরা সরকারের তরফ থেকে একটা সঠিক সময়ে এই নির্বাচনগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করব। তবে নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

প্রশাসক নিয়োগে নির্বাচন বিলম্বিত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি হবে না বলে জানান।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন।

সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নের যোগ্যতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নারী আসনের নির্বাচন, এটা তো আপনার পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত হবে। আর প্রার্থী মনোনয়নের যোগ্যতা হবে দলের আদর্শ, নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নিবিড় সম্পৃক্ততা থাকতে হবে; দলের জন্য ত্যাগ থাকতে হবে। আমাদের দলের মধ্যে যারা দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত আছেন, যাদের ত্যাগ রয়েছে, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।’

একই পরিবারের দুই সদস্যকে নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা এখনই কিছু বলা যাবে না। এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় চালু হওয়ার খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে বলা আছে যে, তাদের (আওয়ামী লীগের) কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সেইভাবে এটাকে দেখা হবে সব জায়গায়।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার শুরুতে মির্জা ফখরুল দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই কেন্দ্রীয় অফিস। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় অফিস। এখান থেকে পরিচালিত হয়েছে গণতন্ত্রের উত্তরণের, সংগ্রামের সমস্ত আন্দোলনগুলো এবং এই অফিস থেকেই আমরা আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তার সভাপতিত্বে আমরা এই অফিসের সামনে বহু সমাবেশ করেছি, যেগুলো জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।’

‘আজকে খুব কষ্টের সঙ্গে আমাদের স্মরণ করতে হয় যে আমাদের সেই মহান নেত্রী যিনি আমাদের বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্রকে আমরা ফিরে পেয়েছি বারবার, ৯০-এর গণআন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, ৯১-এ সরকার গঠন করেছেন, পরবর্তীকালে ৯৬ সালে এবং তার পরের প্রত্যেকটি আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করেছেন এবং তাকে সেজন্যই আমরা বারবার স্মরণ করি এবং আমি বিশ্বাস করি যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশ নয় আমাদের এই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্যে যে সমস্ত নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম। আল্লাহ তালার কাছে প্রার্থনা করি যে, তাকে যেন বেহেশত নসিব করা হয়।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এখন নতুন এক বাংলাদেশের জন্য কাজ করছি, স্বপ্ন দেখছি আমাদের নেতা, আমাদের তরুণ নেতা, আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের নেতৃত্বে। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি যে দেশের মানুষের মধ্যে যে একটা অবস্থান করে নিয়েছেন। তিনি যে কাজ করে শুরু করেছেন এবং করবেন, তার বিভিন্ন কর্মপদ্ধতিতে সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে।’

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তার নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং যে সরকার গঠন করা হয়েছে তার নেতৃত্বে সেই সরকার সফল হবে বাংলাদেশকে তার ঈপ্সিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে এবং সত্যিকার অর্থেই একটা সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল। আমরা আশা করব, আমাদের বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দলকে সহায়তা করবে পূর্বের মতো সবসময়।’

ঢাকার জলাবদ্ধতা: প্রযুক্তি যেভাবে বদলে দিতে পারে পরিস্থিতি

প্রতি বছর বর্ষা এলে ঢাকা শহরটা বিশাল নদীতে পরিণত হয়। রাস্তায় হাঁটু পানি, আর আমাদের একই প্রশ্ন—এই শহরটা কি কোনোদিন ঠিক হবে না? উত্তরটা মন খারাপ করালেও বলা উচিত—এই সিস্টেম ঠিক করার প্রযুক্তি আমাদের হাতের কাছেই আছে। শুধু ব্যবহার করার ইচ্ছেটা নেই। আমরা বাংলাদেশিরা সব বুঝি, শুধু প্রযুক্তি বুঝি না। কারণ, আমরা ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও অংকে দুর্বল। হয়তো আমাদের দুর্বল করে রাখা হয়েছে।

ঢাকার আসল সমস্যা হলো, এই শহরের কোনো ঠিকঠাক মাস্টার প্ল্যান কখনো ছিল না। যেখানে জায়গা পেয়েছে, সেখানেই বাড়ি উঠেছে। যে খাল দিয়ে পানি নামার কথা, সেই খাল ভরাট করে ভবন উঠে গেছে। এখন প্রকৌশলীরা অনুমান করে পাইপ বসান, কারণ মাটির নিচে আসলে কী আছে, কেউ জানে না। এই জায়গাতেই এআই কাজে লাগতে পারে—অনুমান নয়, ডেটা দিয়ে সমাধান।

ধরুন, একটা ‘ডিজিটাল টুইন’—পুরো ঢাকা শহরের একটা ভার্চুয়াল কপি, স্যাটেলাইট ছবি, ড্রোন স্ক্যান আর এলিভেশন ম্যাপ দিয়ে বানানো। এই ডিজিটাল মডেলের ভেতর ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি ফেলে দিলে এআই বলে দিতে পারবে, কোথায় পানি জমবে, কতটা জোরে গড়াবে, আর কোথায় কত ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ লাগবে যাতে জলাবদ্ধতা না হয়। এটা অনেকটা গাড়ি চালানোর আগে জিপিএস দেখে নেওয়ার মতো। আগে থেকে জানলে বিপদ এড়ানো সহজ হয়।

দ্বিতীয় সমস্যাটা আরও পুরোনো ও কষ্টের। ঢাকায় গত কয়েক দশকে ৫০টারও বেশি খাল হারিয়ে গেছে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের হাতে ভরাট হয়ে। কাগজের পুরোনো ম্যাপ ঘেঁটে এই খালগুলো খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব যেন। কিন্তু কম্পিউটার ভিশন অ্যালগরিদম গত ৩০ বছরের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে কয়েক ঘণ্টায় দেখিয়ে দিতে পারে আসল খালগুলো কোথায় ছিল। এতে সরকারের হাতে একটা স্পষ্ট, তর্কাতীত প্রমাণ থাকবে যে কোন স্থাপনা ভেঙে পানির পথ ফিরিয়ে দিতে হবে।

তৃতীয়টা হলো ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা। ঢাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক আর বস্তি এলাকা এমনভাবে মিশে আছে যে, মাটির পানি শোষণের কোনো জায়গাই বাকি নেই। জেনারেটিভ এআই সফটওয়্যারে শহরের ঘনত্ব আর জমির তথ্য দিলে সেটা বলে দিতে পারে, কোথায় ছাদ-বাগান, কোথায় সবুজ জায়গা, আর কোথায় পানি চুইয়ে যাওয়ার মতো রাস্তা বানাতে হবে।

চতুর্থ ব্যাপারটা হলো, যা আছে তা দিয়েই স্মার্ট হওয়া। রাতারাতি ঢাকার সব পাইপ পাল্টানো সম্ভব না। কিন্তু স্লুইস গেট আর পাম্পে আইওটি সেন্সর বসিয়ে দিলে একটা সেন্ট্রাল ড্যাশবোর্ড থেকে পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ধানমন্ডিতে পানি জমছে দেখলে, বুড়িগঙ্গার দিকে ড্রেন খালি আছে বুঝে এআই নিজেই নির্দিষ্ট পাম্প চালু করে দিতে পারে। রাস্তায় পানি ওঠার আগেই সমাধান।

এই কাজ যে কল্পনা না, তার প্রমাণ আছে বাইরের দুনিয়ায়। আরেকটা ডুবতে থাকা মেগাসিটি জাকার্তা তাদের জাকি প্ল্যাটফর্মে এআই আর আইওটি বসিয়ে নদীর পানির লেভেল রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করে, আর ভারী বৃষ্টির ৬ ঘণ্টা আগেই পাম্প আর গেট চালু করে দেয়। উহান শহর জিওএআই দিয়ে তাদের কংক্রিটের শহরকে স্পঞ্জ সিটিতে বদলে ফেলেছে। শতকরা ৭০ ভাগ বৃষ্টির পানি এখন মাটি নিজেই শুষে নেয়।

তাহলে ঢাকা কেন পারছে না? উত্তরটা প্রযুক্তির অভাব নয়। উত্তরটা হলো, আমাদের ডেটা এলোমেলো, ছড়ানো-ছিটানো। ওয়াসা এক জায়গায় তথ্য রাখে, সিটি করপোরেশন আরেক জায়গায়, রাজউকের হাতে জমির ম্যাপ এবং কেউ কারো সঙ্গে কথা বলে না। যতদিন এই প্রতিষ্ঠানগুলো একটা কমন সিস্টেমে ডেটা শেয়ার না করবে, ততদিন এআই যতই শক্তিশালীই হোক, তার হাত-পা বাঁধা থাকবে। সরকারের হয়ে একবার কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি এটা নিয়ে ড্রাইভ দিয়েছিলাম। কিন্তু ততদিনে বুঝে গেছি এটার জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। উপর থেকে ‘ওহি’ নাযিল না হলে কাজ হয় না।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটা, মোবাইল অপারেটরের সিডিআর, আর ট্যাক্স অথরিটির তথ্য যেভাবে এক জায়গায় এলে নাগরিক সেবা বদলে যেতে পারে, ঠিক সেভাবেই ওয়াসা-রাজউক-সিটি করপোরেশনের ডেটা এক প্ল্যাটফর্মে এলে ঢাকার জলাবদ্ধতাও বদলে যেতে পারে। প্রযুক্তি আমাদের হাতে আছে। শুধু একসঙ্গে বসে কাজ করার সাহসটা লাগবে।

রকিবুল হাসান: টেলিকম, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র’ বইয়ের লেখক

বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এমন রেকর্ড আছে শুধু এমবাপেরই

সেই ১৯৩০ সাল থেকে শুরু। এই ৯৬ বছরে কম রথী-মহারথীর পা পড়েনি ফুটবল বিশ্বকাপে। ক্যারিয়ার শেষে কিলিয়ান এমবাপে নিজেকে ফুটবল কিংবদন্তিদের তালিকায় কোথায় নিয়ে যাবেন তা সময়ই বলবে, তবে আজকের ম্যাচে এমন এক বিরল রেকর্ড তিনি করেছেন, যা পুরো বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমবাপের আগে করে দেখাতে পারেননি আর কেউ। 

অনেক খ্যাতনামা ফুটবলারের যেখানে পুরো ক্যারিয়ার মিলিয়েও বিশ্বকাপে ১০টি গোল নেই, সেখানে এমবাপে কেবল নক-আউট পর্বের ম্যাচগুলোতেই ১০ গোল করেছেন! বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই রেকর্ড কেবল এমবাপেই করে দেখাতে পেরেছেন। 

মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপে অংশ নেয়া এমবাপে এই রেকর্ড ছিনিয়ে নিয়েছেন দুই ব্রাজিলিয়ান লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিওর কাছ থেকে। নকআউটে ৮ গোল নিয়ে এতদিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন তারা। প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে এটিকে দুই অঙ্কের ঘরে তুলে দিলেন ফরাসি তারকা। 

নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ২০১৮ তে নকআউট পর্বে তিন গোল করেছিলেন এমবাপে। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারানো ম্যাচ দুই গোল, আর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে পেলের পর দ্বিতীয় টিনেজার হিসেবে করেছিলেন এক গোল। 

স্বপ্নের মতো কাটানো ২০২২ বিশ্বকাপের নকআউটে তিনি ছিলেন আরও দুর্দমনীয়। নকআউটে সেবার তিনি করেছিলেন ৫ গোল। এর মধ্যে শেষ ষোলোতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি, আর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে তো হ্যাটট্রিকই করলেন। 

আগের দুই আসরের ৮ গোলের সাথে আজ সুইডেনের সাথে করা দুই গোল মিলিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১০ গোলের মালিক হলেন এমবাপে। এই রেকর্ডের মাহাত্ম্য বোঝাতে স্রেফ একটি তথ্যই যথেষ্ট। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন লিওনেল মেসি, তাঁর নকআউট গোলের সংখ্যা ৫। এই পাঁচটি গোলই এসেছিল কাতার বিশ্বকাপে, অর্থাৎ প্রথম চার বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই নকআউট পর্বে খেললেও কোনো গোল করতে পারেননি মেসি। কাতার বিশ্বকাপে তবু সেই আক্ষেপ ঘুচেছে মেসির, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ৬টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নক আউট পর্বে এখনও একটিও গোল করতে পারেননি!  

গত বিশ্বকাপের মতো এবারও মেসি-এমবাপের দ্বৈরথ চলছে দেখার মতো। বিশ্বকাপের একই আসরে দুই দলের দুই ফুটবলার একই সাথে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও গোল্ডেন বুট জেতার জন্য লড়ছেন, এমন দৃশ্য এর আগে কখনো দেখা যায়নি। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের সৌজন্যে দর্শকেরা সাক্ষী হচ্ছেন এমনি এক বিরল প্রতিযোগিতার। সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির পাশে বসেছেন এমবাপে। আর সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে ফ্রেঞ্চ তারকা পিছিয়ে স্রেফ এক গোলে।

নরওয়ের বিপক্ষে গোল না পাওয়া এমবাপে বাকি তিন ম্যাচেই করেছেন দুটি করে গোল। ছয় গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও আছে তাঁর দখলে। 

আর সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়েও মেসির সাথে ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন এমবাপে। ২৯ ম্যাচে ১৯ গোল নিয়ে শীর্ষে মেসি, সেখানে মাত্র ১৮ ম্যাচে ১৮ গোল নিয়ে দুইয়ে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এবারের বিশ্বকাপে যে দুরন্ত গতিতে এগোচ্ছেন এমবাপে, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই এমবাপের কাছে মেসিকে রেকর্ডটি খোয়াতে হয় কি না, সেটি নিয়েই এখন আলোচনা!