31 C
Dhaka
Home Blog

আয় গোপনে জরিমানা হওয়া উচিত প্রমাণসাপেক্ষে

কর দেওয়া নাগরিকের দায়িত্ব এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দেওয়া অপরাধ। কেউ আয় গোপন করলে, সম্পদ বা দায়ের তথ্য অসত্যভাবে দেখালে কিংবা ভুয়া ব্যয় দেখিয়ে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব ফাঁকি দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক। তবে আয়কর রিটার্নে ভুল পাওয়া গেলেই কোনো করদাতাকে কর ‘ফাঁকিদাতা’ বলা যায় না। কর কম পরিশোধ হওয়া এবং অসত্য তথ্য দিয়ে কর ফাঁকি দেওয়া সবসময় একই বিষয় নয়।

কোনো আয় করযোগ্য কি না, ব্যয় অনুমোদনযোগ্য কি না, কিংবা কোনো ছাড় বা অব্যাহতি প্রযোজ্য কি না—এসব বিষয়ে করদাতা ও কর কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য হতে পারে। এর ফলে করযোগ্য আয় বাড়তে এবং অতিরিক্ত কর নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত কর নির্ধারণ হলেই আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৭২ অনুযায়ী জরিমানার ভিত্তি তৈরি হয় না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বরের আদেশ নং ০৩/২০২৬-এ এই সীমারেখাটি স্পষ্ট করা হয়েছে।

ধারা ২৭২-এর মূল বক্তব্য

ধারা ২৭২ মূলত আয় গোপন বা কর-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অসত্য পরিমাণে প্রদর্শনের মাধ্যমে কর ফাঁকির ক্ষেত্রে জরিমানার বিধান। অর্থাৎ, করদাতা যদি আয়, সম্পদ, দায়, ব্যয় বা প্রদেয় করের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য অসত্যভাবে উপস্থাপন করেন এবং এর ফলে সরকারের প্রাপ্য অর্থ ফাঁকি হয়, তখন এ ধারার প্রয়োগের প্রশ্ন আসে। সুতরাং শুধু কর কম নির্ধারিত হয়েছে—এটি জরিমানার জন্য যথেষ্ট নয়। অসত্য বা গোপন তথ্য এবং তার ফলে কর ফাঁকির বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কর নির্ধারণে কোনো অঙ্ক যোগ হওয়া এবং অসত্য তথ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে কর ফাঁকি প্রমাণিত হওয়া দুটি পৃথক বিষয়।

ধরা যাক, একজন চাকরিজীবীর প্রকৃত বার্ষিক আয় ৩০ লাখ টাকা, কিন্তু তিনি রিটার্নে ২০ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। নিয়োগকর্তার বেতন বিবরণী, ব্যাংক হিসাব বা অন্য গ্রহণযোগ্য নথিতে ৩০ লাখ টাকার আয় প্রমাণিত হলে অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা অপ্রদর্শিত আয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর ফলে কর কম পরিশোধ হলে ধারা ২৭২-এর অধীনে জরিমানার প্রশ্ন উঠবে।

অন্যদিকে, একই করদাতা পুরো ৩০ লাখ টাকা আয় দেখালেও যদি এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা কোনো আইনি বিধান অনুযায়ী করমুক্ত বলে দাবি করেন এবং কর কর্তৃপক্ষ পরে সেই দাবি গ্রহণ না করে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন। করদাতার আইনি ব্যাখ্যা ভুল হতে পারে এবং তাকে অতিরিক্ত কর দিতে হতে পারে; কিন্তু তিনি আয় গোপন করেননি। বিরোধটি আয়ের অস্তিত্ব নিয়ে নয়, বরং আইনের প্রয়োগ নিয়ে।

‘ভুল দাবি’ ও ‘মিথ্যা তথ্য’ এক নয়

এই পার্থক্য ব্যয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কোনো করদাতা বাস্তবে একটি ব্যয় করেছেন, যথাযথ নথিসহ রিটার্নে তা প্রকাশ করেছেন এবং মনে করেছেন, ব্যয়টি করযোগ্য আয় থেকে বাদ দেওয়া যাবে। পরে কর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিল যে, আইন অনুযায়ী ব্যয়টি অনুমোদনযোগ্য নয়। এতে অতিরিক্ত কর নির্ধারিত হতে পারে, কিন্তু শুধু এ কারণে ব্যয়টিকে ভুয়া বলা যায় না।

অন্যদিকে, কোনো ব্যয় আদৌ ঘটেনি, অথচ ভুয়া চালান বা মিথ্যা হিসাবের মাধ্যমে তা দেখানো হলে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথম ক্ষেত্রে তথ্য সত্য, বিরোধ আইনের ব্যাখ্যায়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তথ্যই অসত্য। ধারা ২৭২-এর মতো শাস্তিমূলক বিধান প্রয়োগে এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। একজন ব্যবসায়ী রিটার্নে ৫ কোটি টাকা বিক্রয় দেখালেন। পরে ব্যাংক হিসাব, মূসক-সংক্রান্ত তথ্য, বিক্রয় চালান বা ক্রেতার হিসাব থেকে যদি প্রমাণিত হয় যে, প্রকৃত বিক্রয় ছিল ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ৫০ লাখ টাকা গোপন করা হয়েছে, তাহলে কর ফাঁকির প্রশ্ন আসতে পারে। কিন্তু পুরো বিক্রয় দেখানো হয়েছে, অথচ কোনো প্রকৃত ব্যয় আইন অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য কি না—এ নিয়ে বিরোধ হলে সেটি কর নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়।

জরিমানার হিসাব

ধারা ২৭২-এর ক্ষেত্রে গোপন আয়ের অঙ্ক সরাসরি জরিমানার ভিত্তি নয়। ‘ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক’ বলতে মূলত সঠিক তথ্য দিলে যে কর ও অন্যান্য প্রদেয় অর্থ পরিশোধ করতে হতো এবং বাস্তবে যে অঙ্ক পরিশোধ করা হয়েছে—এই দুইয়ের পার্থক্য বোঝানো হয়েছে। বর্তমান বিধান অনুযায়ী জরিমানার সূত্র হলো ‘জরিমানা = ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক × ১০% × করবর্ষের সংখ্যা’।

করবর্ষের সংখ্যা গণনা করা হবে, যে করবর্ষে ফাঁকি সংঘটিত হয়েছে, সেই বছর থেকে যে করবর্ষে বিষয়টি উদঘাটিত হয়েছে, সেই বছরসহ। যেমন: অসত্য বা গোপন তথ্যের কারণে ২ লাখ টাকা কর ফাঁকি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট করবর্ষের সংখ্যা তিন হলে জরিমানা হবে ৬০ হাজার টাকা। অতএব, ‘কত আয় গোপন হয়েছে’ এবং ‘কত কর ফাঁকি হয়েছে’—দুটি বিষয় এক নয়।

অনুমান নয়, প্রয়োজন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ

এনবিআরের আদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ। শুধু কর কর্মকর্তার ধারণা বা প্রাক্কলনের ভিত্তিতে ধারা ২৭২-এর জরিমানা আরোপ করা যথেষ্ট নয়।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো করদাতা তার বাড়ির মূল্য ২ কোটি টাকা দেখালেন। কর কর্মকর্তার ধারণা, এর মূল্য ৩ কোটি টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু ৩ কোটি টাকার পক্ষে যদি মূল্যায়ন প্রতিবেদন, বিক্রয় দলিল বা অন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকে, তাহলে শুধু অনুমানের ভিত্তিতে বলা যাবে না যে করদাতা সম্পদের মূল্য গোপন করেছেন।

প্রথমে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট আয় বা তথ্য গোপন করা হয়েছে অথবা অসত্য পরিমাণে প্রদর্শন করা হয়েছে। এরপর দেখতে হবে, এর ফলে সরকারের প্রাপ্য অর্থ ফাঁকি হয়েছে কি না। শুধু প্রাক্কলিত আয় ও ঘোষিত আয়ের পার্থক্যই কর ফাঁকির প্রমাণ নয়।

এই নীতি চাকরি, ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা বা পেশা, মূলধনী আয়, আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয় এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয়—সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আয় যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, কিন্তু করমুক্তি, অব্যাহতি, ব্যয়ের অনুমোদন বা অন্য কোনো আইনি বিধানের প্রয়োগ নিয়ে বিরোধ হয়েছে, শুধু সে কারণে সেটিকে আয় গোপন বলা যাবে না।

কর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব

ধারা ২৭২ প্রয়োগের আগে কর কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, করদাতা কী তথ্য দিয়েছেন, সঠিক তথ্য কী, কোথায় ও কতটুকু পার্থক্য রয়েছে, সেই পার্থক্যের পক্ষে কী প্রমাণ আছে এবং এর ফলে কত টাকা কর ফাঁকি হয়েছে। শুধু কর নির্ধারণে কোনো অঙ্ক যোগ করা হয়েছে বলে সেই অঙ্ককে আয় গোপনের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। জরিমানার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে করদাতাকে বক্তব্য দেওয়া বা শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোরতাও থাকবে

এই ব্যাখ্যার অর্থ এই নয় যে প্রকৃত কর ফাঁকিদাতারা সুবিধা পাবেন। গ্রহণযোগ্য প্রমাণে যদি দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি আয় বা বিক্রয় গোপন করেছেন, সম্পদ বা দায়ের তথ্য অসত্যভাবে দেখিয়েছেন, ভুয়া ব্যয় সৃষ্টি করেছেন কিংবা অন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অসত্যভাবে উপস্থাপন করে সরকারের প্রাপ্য কর ফাঁকি দিয়েছেন, তাহলে ধারা ২৭২ প্রযোজ্য হবে।

আদেশটির উদ্দেশ্য হলো, প্রকৃত কর ফাঁকি এবং কর নির্ধারণসংক্রান্ত সাধারণ মতপার্থক্যের মধ্যে পার্থক্য নিশ্চিত করা। কোনো কর নির্ধারণে অতিরিক্ত কর এলে তাই প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, কর বাড়ল কেন? আয় গোপন করা হয়েছিল, নাকি ঘোষিত আয়ের ওপর করমুক্তির দাবি গ্রহণ করা হয়নি? ব্যয়টি ভুয়া ছিল, নাকি বাস্তব ব্যয় হলেও আইন অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য ছিল না? সম্পদের তথ্য অসত্য ছিল, নাকি তার মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে, বিষয়টি শুধু অতিরিক্ত কর নির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ধারা ২৭২-এর জরিমানাও প্রযোজ্য হবে।

আস্থাভিত্তিক কর-ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

একটি কার্যকর কর-ব্যবস্থায় কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোরতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সৎ করদাতার জন্য আইনি নিশ্চয়তাও জরুরি। আয়কর রিটার্নে সত্য তথ্য প্রকাশের পর কেবল আইনের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগে মতপার্থক্যের কারণে কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ফাঁকিদাতা হিসেবে বিবেচনা করা ন্যায়সঙ্গত নয়। একইভাবে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আয় গোপন বা অসত্য তথ্য দিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও প্রয়োজন।

এনবিআরের আদেশ নং ০৩/২০২৬-এর মূল শিক্ষা হলো, কর কম নির্ধারিত হলেই তা কর ফাঁকি নয়; আর গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ছাড়া ধারা ২৭২-এর জরিমানার ভিত্তিও তৈরি হয় না। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থ রক্ষা এবং সৎ করদাতাকে অযথা শাস্তির আশঙ্কা থেকে সুরক্ষা, ন্যায়সঙ্গত কর প্রশাসনের ভারসাম্য এখানেই।

ফয়সাল ইসলাম এফসিএ: আর্থিকখাত বিশ্লেষক।
[email protected]

২০২৫ সালে জাতীয় পার্টির আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি

গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে।

দাখিলকৃত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দলটির আয় হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বর্তমানে দলটির ব্যাংক হিসাবে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা জমা আছে।

আজ রোববার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে হিসাব বিবরণী জমা দেন জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।

হিসাব দাখিল শেষে গণমাধ্যমকে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের দলের আয় ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ ৪ হাজার ২৭০ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ টাকা। অর্থাৎ, আয়ের চেয়ে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৬৩ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে দলের ব্যাংক হিসাবে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকা জমা আছে।’

রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থন দেবে জাতীয় পার্টি।

তিনি বলেন, ‘গতবার আমরা দলীয়ভাবে প্রার্থী দিয়েছিলাম। তবে এবার আমাদের প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন এবং আমরা তাদের সমর্থন দেবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সারা দেশে ভালো করব এবং কিছু অঞ্চলে আমাদের প্রার্থীরা ভালো ফল করবেন। তৃণমূলে বিভক্তির কোনো প্রভাব নেই। এমনকি দুইপক্ষের এক হওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।’

১৪ ব্যাংকিং সেবায় বাড়তি ফি’র প্রস্তাব, ক্ষোভ গ্রাহকদের

ব্যাংকের ১৪টি সেবায় নতুন ও বাড়তি ফি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমার বেশি নগদ টাকা তুললে ফি দিতে হবে। পাশাপাশি সুপ্ত (ডরম্যান্ট) হিসাব পুনরায় চালু করা, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার খরচও বাড়বে। এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিনা খরচে পাওয়া কিছু সেবার জন্যও ভবিষ্যতে টাকা দিতে হতে পারে। যেমন মাসে যতবার ইচ্ছা নগদ টাকা তোলার সুযোগ আর বিনা খরচে থাকবে না।

এবিবির দাবি, মূল্যস্ফীতির কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেবামূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন।

তবে এ প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বাণিজ্য খাতের নেতারা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ছোট আমানতকারী, ঋণগ্রহীতা, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক—সবাইকে বাড়তি খরচ বহন করতে হবে।

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এমন সময়ে এ প্রস্তাব কেন দেওয়া হলো, যখন ব্যাংক খাত আস্থার সংকটে রয়েছে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।

অন্যদিকে কঠোর মুদ্রানীতির কারণে ঋণের সুদহারও এখন বেশি। এতে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়েছে।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে অনেক ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রাহকসেবায় দুর্বলতার অভিযোগও রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি নগদ টাকা তুললে প্রতি লেনদেনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হবে।

সঞ্চয়ী হিসাবে মাসে প্রথম তিনবার নগদ টাকা তোলা যাবে বিনা খরচে। চতুর্থ থেকে দশমবার পর্যন্ত প্রতিবার টাকা তুলতে ১০০ টাকা ফি দিতে হবে। একাদশবার থেকে প্রতিবার উত্তোলনে ফি হবে ৩০০ টাকা।

চলতি হিসাবে মাসে ২০তম থেকে ৫০তম উত্তোলনের জন্য প্রতিবার ১০০ টাকা ফি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫১তম উত্তোলন থেকে প্রতিবার ১৫০ টাকা ফি দিতে হবে।

সুপ্ত (ডরম্যান্ট) হিসাব পুনরায় চালু করতে ৫০০ টাকা ফি নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে এবিবি।

এ ছাড়া ঋণ ব্যবস্থাপনা, ঋণ তদারকি, ঝুঁকি প্রিমিয়াম, নির্ধারিত সময়ের আগে ঋণ পরিশোধ, এলসি খোলা, এলসির নথি ব্যবস্থাপনা ও নথির সত্যায়িত কপির জন্য নতুন ফি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

রপ্তানি এলসি বাতিল, বায়ার্স ক্রেডিটের ব্যবস্থা, চুক্তি কাঠামো তৈরি, ঝুঁকি প্রিমিয়াম ও নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির কমিশনেও নতুন চার্জ আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।

ব্যাংকের সলভেন্সি সনদের ফি ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চেক ফেরত যাওয়ার ফি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করারও প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ, এলসি, ব্যাংক গ্যারান্টি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডারসহ আরও বিভিন্ন সেবার ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে এবিবি বলেছে, সর্বোচ্চ নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে প্রতিটি ব্যাংক যেন নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল, সেবার ধরন ও ব্যয়ের ভিত্তিতে ফি নির্ধারণ করতে পারে।

মূল্যস্ফীতি, প্রযুক্তি ব্যয় ও সেবা প্রদানের খরচ বাড়ার সঙ্গে মিল রেখে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ফি ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান মাশরুর আরেফিন বলেন, গত ছয় থেকে সাত বছরে ব্যাংক পরিচালনার ব্যয় অনেক বেড়েছে। সেই বাস্তবতায় সেবামূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২০-২১ সালে যখন বর্তমান সেবামূল্যের তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখনকার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করতে হবে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও দায়িত্বে থাকা মাশরুর আরেফিন বলেন, এ সময়ে ডলারের দাম ৮৭ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১২৩ টাকায় উঠেছে। কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতিও বেশি।

তিনি বলেন, ২০২০-২১ সালে প্রিন্টারের টোনারের দাম কত ছিল, আর এখন কত—একবার ভেবে দেখুন। ছয়-সাত বছর ধরে বছরে অন্তত ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। একই সময়ে ডলারের দামও অনেক বেড়েছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে আমাদের মতো অনেক ব্যাংক নতুন শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র ও এটিএম স্থাপনে বড় বিনিয়োগ করেছে। ২০২০ সালে আমাদের সেবার পরিধি যত ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, তখনকার পরিচালন ব্যয় আর বর্তমান ব্যয়ের তুলনা করলে বোঝা যাবে, সেবামূল্যের তালিকা সংশোধনের প্রয়োজন কেন হয়েছে। এতে গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

তবে এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন গ্রাহক ও ব্যবসায়ী নেতারা।

এনসিসি ব্যাংকের গ্রাহক সোহেল মাহমুদ বলেন, চাকরিজীবীরা ব্যাংকে টাকা রাখলেও খরচ, তুললেও খরচ—দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এবিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, সঞ্চয়ী হিসাবে ত্রৈমাসিক গড় স্থিতি (কোয়ার্টারলি অ্যাভারেজ ব্যালেন্স) ২৫ হাজার টাকার বেশি হলে ৩০০ টাকা ফি দিতে হবে।

তিনি বলেন, এর অর্থ হলো ব্যাংকগুলোর নিজেদের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও খেলাপি ঋণের বোঝা এখন সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে। সুপ্ত হিসাব চালু করতে ৫০০ টাকা, ব্যালেন্স সনদের জন্য ৩০০ টাকা এবং চেক ফেরত ও সলভেন্সি সনদের ফি বাড়ানো কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে সামান্য আস্থা আছে, সেটিও নষ্ট হয়ে যাবে।

বেসরকারি চাকরিজীবী এবং আইএফআইসি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গ্রাহক এম এ জামান বলেন, এটা হাস্যকর। নিজের টাকা তুলতে কেন আমাকে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে? চাকরিজীবী হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে টাকা তুলতে হয়। এমন চার্জ আরোপ করা অন্যায্য।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান  তাসকিন আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ প্রস্তাব অযৌক্তিক, তড়িঘড়ি করা এবং গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদহারের কারণে ব্যবসায়ীরা এমনিতেই চাপে আছেন। এর সঙ্গে নতুন চার্জ যোগ হলে ব্যবসার খরচ আরও বাড়বে।

তাসকিন আহমেদের মতে, ব্যাংক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ ও পরিচালন ব্যয়ের বোঝা ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর উচিত প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, অলাভজনক শাখা বন্ধ করা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দেওয়া।

অন্যথায় দেশের বাণিজ্য ও শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিও (সিসিসিআই) নতুন ব্যাংকিং চার্জ অনুমোদন না দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে সিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের অনুরোধ জানান।

চেম্বারের ভাষ্য, ব্যাংকিং সেবার খরচ বাড়লে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পণ্যের দাম বাড়ার মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।

 

 

বালোগানকে নিয়ে নেমেও বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্র, কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

এই ম্যাচের আগে মূল আলোচনা ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিফা বিশ্বকাপে হস্তক্ষেপ। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করিয়েছিলেন তিনি। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্বে চলা তুমুল সমালোচনার মাঝে মাঠের ফুটবলে কিছু করতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র। বালোগানকে নিয়ে নেমেও পেরে উঠল না তারা। বড় ব্যবধানের জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করল বেলজিয়াম।

সিয়াটল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই ম্যাচে রুডি গার্সিয়ার দল মাঠ ছাড়ে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে। বেলজিয়ামের এই দাপুটে জয়ের নায়ক আতালান্তা ফরোয়ার্ড চার্লস ডি কেটেলিয়ারে, যিনি জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও এক গোল। অন্যদিকে তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করে একাদশে জায়গা পাওয়া বালোগান পুরো ম্যাচেই ছিলেন চেনা ছন্দের বাইরে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পশরা সাজায় বেলজিয়াম। যার ফল মিলতে বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটে নিকোলাস রাস্কিনের চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন চার্লস ডি কেটেলিয়ারে। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ২১ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বেলজিয়ান মিডফিল্ডার আমাদু ওনানাকে, ‘তার’ পরিবর্তে মাঠে নামেন হ্যান্স ভানাকেন।

খেলার ধারার বিপরীতে ৩১ মিনিটে সমতায় ফেরে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। বক্সের বাইরে থেকে মালিক টিলম্যানের নেওয়া একটি জোরালো ফ্রি-কিক ভানাকেনের মাথায় সামান্য দিক পরিবর্তন করে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। তবে মার্কিন শিবিরের এই উদযাপনের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র দুই মিনিট। ৩৩ মিনিটে লিয়েনড্রো ট্রোসার্ডের চমৎকার ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বেলজিয়ামকে আবার ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডি কেটেলিয়ারে। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বেলজিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সরাসরি তিন গোলে অবদান রাখার অনন্য রেকর্ডও গড়েন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে জিয়োভান্নি রেইনাকে মাঠে নামান মার্কিন কোচ পচেত্তিনো। তবে ৫৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ফ্রিসের এক মারাত্মক ভুলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় স্বাগতিকরা। বল ক্লিয়ার করতে ফ্রিস বক্সের অনেক বাইরে চলে আসলে ‘তাকে’ বাধা দেন ডি কেটেলিয়ারে। সেই আলগা বল পেয়ে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ফাঁকা পোস্টে শট নেন হ্যান্স ভানাকেন। মার্কিন ডিফেন্ডার টিম রিম মরিয়া চেষ্টা করেও বলের জাল ছোঁয়া আটকাতে পারেননি। ভানাকেনের এই গোলটি চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরপাল্লার গোল।

৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে অল-আউট আক্রমণে যায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়েস্টন ম্যাককেনি কিংবা বালোগানের প্রচেষ্টাগুলো নসাৎ করে দেন বেলজিয়ান ডিফেন্ডাররা। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন বদলি হিসেবে নামা রোমেলু লুকাকু। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩’) হ্যান্স ভানাকেনের অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন এই তারকা স্ট্রাইকার। এই গোলের সঙ্গেই ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রেড ডেভিলরা।

কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন। 

ছবিতে কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রথম দিন

ফ্রান্সের দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরের তীরে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র আয়োজন ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’। 

এবার উৎসবের ৭৯তম আসরকে ঘিরে শুরু থেকেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এআইয়ের প্রভাব এবং প্রতিযোগিতা বিভাগে বড় বাজেটের হলিউডের চলচ্চিত্রের তুলনামূলক কম উপস্থিতি।

এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন ইউরোপ ও এশিয়ার নির্মাতারা।

সেরা চলচ্চিত্রের লড়াইয়ে রয়েছে ২২টি সিনেমা। আগামী ২৩ মে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হবে এই সম্মাননা।

প্রতিযোগিতা বিভাগে হলিউডের উপস্থিতি কম হলেও লালগালিচায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি। উদ্বোধনী রাতেই ঝলমলে পোশাকে হাজির হন তারকারা।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম ইরান: খামেনির উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার।

বরং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যেতে ইরান সক্ষম বলে দাবি করেছেন এই উপদেষ্টা। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। 

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ মোখবার বলেন, ‘আমেরিকানদের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো ভিত্তিও এই মুহূর্তে নেই।’

ওয়াশিংটনের কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা যতদিন প্রয়োজন, ততদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখি।’

 

 

দুপুরে ২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মেট্রোরেলের ঢাবি স্টেশন

মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) স্টেশন সাময়িকভাবে ২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনিবার্য কারনবশত আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশনে মেট্রো ট্রেন থামবে না।

সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
 

৮০ ও ৯০-এর দশক যদি এতই চমৎকার হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমানটা গড়ে তুলল কে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে ৮০ ও ৯০-এর দশকের নস্টালজিয়া। সবাই যেন বর্তমান সময়ের নিজেদের ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে ৮০ ও ৯০-এর দশকের অবয়বে রূপ দিচ্ছেন। একইসঙ্গে হৃদয়ের কাছের সেই সময় হারিয়ে যাওয়ার জন্য আক্ষেপ করছেন এবং বর্তমানকে অভিশাপ দিচ্ছেন।

এআইয়ের ছোঁয়া হয়তো নতুন, কিন্তু এই অনুভূতি মোটেও নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ৮০ ও ৯০-এর দশকের স্মৃতিচারণকারীদের পোস্টে ভরে যায়। তারা জোর দিয়ে বলেন, তখন জীবন অনেক ভালো ছিল এবং আক্ষেপ করেন যে বর্তমান প্রজন্ম কোনো না কোনোভাবে ‘রসাতলে গেছে’।

জেন জি প্রজন্মের একজন সদস্য হিসেবে অতীতকে এমন রঙিন চশমায় দেখার বিষয়টি আমার কাচে বেশ অবিশ্বাস্য মনে হয়।

নস্টালজিয়া খারাপ কিছু নয়। এটি মানুষের সবচেয়ে স্বাভাবিক অনুভূতিগুলোর একটি। আমরা সবাই জীবনের কিছু সময়, বিশেষ করে শৈশব ও কৈশোরকে রোমান্টিকভাবে স্মরণ করি। কিন্তু আমরা একসময় কোনো এক সাংস্কৃতিক স্বর্ণযুগে বাস করতাম এবং এরপর হঠাৎ করেই সবকিছু অধঃপতনের দিকে গেল, এমন ধারণা অনেক বেশি জটিল।

কারণ বর্তমান প্রজন্ম তো শূন্য থেকে আসেনি। ২০২৬ সালের এই পৃথিবী একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। ৮০-এর দশক ৯০-এর দশককে গড়ে দিয়েছে, ৯০-এর দশক গড়ে দিয়েছে ২০০০-এর দশককে, ২০০০-এর দশক গড়ে দিয়েছে ২০১০-এর দশককে। আমরা আজ যে সমাজে বাস করি, এভাবেই বিভিন্ন দশকের ধারাবাহিকতায় সেটি তৈরি হয়েছে।

আর এখানে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন আছে: এখন আসলে দেশ চালাচ্ছেন কারা?

কথিত সেই গৌরবময় ৮০ ও ৯০-এর দশকে বেড়ে ওঠা মানুষগুলোই আজকের নীতিনির্ধারক, আমলা, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের নিয়ন্ত্রক এবং রাজনৈতিক নেতা। যে প্রতিষ্ঠান ও সমাজ নিয়ে আমরা এখন অভিযোগ করি, সেগুলো গড়ে তুলতে তারা বছরের পর বছর ব্যয় করেছেন।

তাহলে কথিত সেই চমৎকার সময়ে বেড়ে ওঠা যদি সত্যিই আমরা যতটা শুনি, ততটাই অসাধারণ হয়ে থাকে, তাহলে তা আসলে কী তৈরি করেছে? প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ কোথায়? নাগরিক সংস্কৃতি কোথায়? জবাবদিহি কোথায়? জননৈতিকতা কোথায়? বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য কোথায়? কথিত সেই উন্নততর সামাজিক মূল্যবোধই বা কোথায়?

তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিকভাবে নিকৃষ্ট বলে যেতে পারেন না, অথচ স্বীকার করতে অস্বীকার করবেন যে আপনারাই এই দেশটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন এবং যে সমাজে তারা বেড়ে উঠেছে, সেটি গড়ে তুলতে আপনারাও ভূমিকা রেখেছেন।

অতীতকে আমরা যেভাবে মনে রাখি, সেখানেও একটি সমস্যা আছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তন নিয়ে যথেষ্ট কঠোর ও গভীর একাডেমিক গবেষণা কখনোই হয়নি। মোটামুটি ২০১০-এর দশক পর্যন্ত জনপরিসরও নগরভিত্তিক অভিজাত শ্রেণি ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের নিয়ন্ত্রকদের দ্বারা অনেক বেশি প্রভাবিত ছিল।

ফলে আমরা ‘সমাজ’ বলতে যা দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম, তা প্রায়ই ছিল সমাজের সেই সম্মানজনক অংশটুকুই, যেটিকে ওই নিয়ন্ত্রকেরা জনসমক্ষে আসার যোগ্য বলে মনে করতেন।

যেসব বিষয়কে আমরা এখন ‘অশ্লীল’, ‘রুচিহীন’ বা ‘অপসংস্কৃতি’ বলি, সেগুলো আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সৃষ্টি করেনি। এগুলো বরাবরই জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ ছিল। শুধু মূলধারায় তাদের প্রবেশাধিকার ছিল না।

হুমায়ূন আহমেদ ও কাসেম বিন আবু বকরকে উদাহরণ হিসেবে নেওয়া যাক।

হুমায়ূন আহমেদ বিপুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন, কারণ তিনি মধ্যবিত্তের সাংস্কৃতিক রুচির একটি পরিশীলিত ও সহজবোধ্য রূপ তুলে ধরেছিলেন এবং টেলিভিশন ও সাহিত্যের মাধ্যমে সফলভাবে মূলধারায় প্রবেশ করেছিলেন।

কিন্তু কাসেম বিন আবু বকরের বইও তখন বিপুল জনপ্রিয় ছিল। পার্থক্য ছিল, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের প্রভাবশালী মহল তাকে একই ধরনের মূলধারার মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য মনে করেনি। তার জনপ্রিয়তা তবু ছিল। ঢাকাকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক অভিজাতরা শুধু সেটি দেখতে পাননি।

সাংস্কৃতিক অভিজাতদের চোখে কোনো কিছু অদৃশ্য থাকার অর্থ এই নয় যে তার অস্তিত্ব ছিল না।

প্রযুক্তি এখন সেই নিয়ন্ত্রণের বড় একটি অংশই ভেঙে দিয়েছে। প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন এবং ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকে প্রবেশাধিকার রয়েছে। যারা একসময় অদৃশ্যই থেকে যেতেন, তারা এখন সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, প্রকাশক বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতি না নিয়েই বিপুল দর্শক-শ্রোতা তৈরি করতে পারেন।

এভাবেই হিরো আলম, প্রিন্স মামুনসহ অগণিত মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে।

তারা আর আড়ালে নেই। কখনো কখনো তারা এতটাই বর্ণময়, বিতর্কিত ও সাংস্কৃতিকভাবে সর্বব্যাপী হয়ে ওঠেন যে, জনসাধারণের মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য কী, একসময় যারা তা নির্ধারণ করতেন, সেই অভিজাতদেরই তারা ছাপিয়ে যেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত মূলধারার গণমাধ্যমের তাদের স্বীকৃতি দেওয়া ছাড়া তেমন কোনো উপায় থাকে না।

আর তখন মধ্যবিত্তের ‘সুরুচি’র রক্ষকেরা আক্ষেপ করতে শুরু করেন যে, সমাজে ‘নান্দনিক রুচির দুর্ভিক্ষ’ চলছে।

কিন্তু হয়তো সমাজ হঠাৎ রসাতলে যাচ্ছে না। হয়তো যা সব সময়ই ছিল, আমরা এখন শুধু তার আরও বেশি কিছু দেখতে পাচ্ছি।

তাই ৮০ ও ৯০-এর দশকের নস্টালজিয়ার সমস্যা হলো, আমরা সেই অংশগুলোই মনে রাখি, যা আমাদের ভালো অনুভব করায়। অথচ যেসব বিষয় বর্তমান কেন এমন দেখাচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে, সেগুলো ভুলে যাই।

আর কথিত সেই গৌরবময় দশকগুলোতে বেড়ে ওঠা মানুষগুলো যদি এখন দেশ চালিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের নিজেদের একটি সহজ প্রশ্ন করা উচিত: আপনার বেড়ে ওঠার সময়টা যদি সত্যিই এত অসাধারণ হয়ে থাকে, তাহলে আপনারা যে সমাজ গড়ে তুলেছেন, এবং এখনো যেভাবে গড়ে চলেছেন, তার অবস্থা এত করুণ কেন?
 

‘কাজটি অনৈতিক নয়, অসামাজিক’ মন্তব্যে বিতর্কের পর ‘খণ্ডিত বক্তব্য’ প্রচারের দাবি জামায়াত এমপির

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক। তিনি বলেছেন, গাজী নজরুল ইসলাম যা করেছেন তা ‘অনৈতিক নয়, অসামাজিক’। পরে এই বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে তিনি দাবি করেন, তার মূল বক্তব্যকে খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোদাঘাটা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে শিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল খালেক বিতর্কিত এ মন্তব্য করেন।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেবের (গাজী নজরুল ইসলাম) বড় ওয়াইফসহ সবাইকে আমরা ডেকে নিয়ে বসেছিলাম। ওই মেয়েটার আবদার—আমি অন্য জায়গায় বিয়ে করব না। আমি যে কয়দিন বাঁচবো, এমপি সাহেবকে সেবা করে যাব। এভাবে মেয়েটির দাবির মুখে তার বাপ-মা বাধ্য হয়ে তাদের বাড়িতে বিয়ের ব্যবস্থা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ কাজটা অনৈতিক না, অসামাজিক। এ কারণে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তার এমপি পদও বাতিল হয়ে যাবে। জামায়াতে ইসলামী নৈতিকতার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেয় না।’

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ ভুল করলে মাফ করা যায়, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল নেতার ক্ষেত্রে ভুলের মাত্রা বেশি বিবেচিত হয়।

তবে তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বিতর্কের মুখে পরে বিবৃতি দিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন এমপি আব্দুল খালেক। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি অংশ গণমাধ্যমে খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এতে তার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বিকৃত হয়েছে এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিবাদ বার্তায় তিনি বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে যে বিষয়টি নিয়ে আমি বক্তব্য দিয়েছি, সেখানে আমি কোনো ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করিনি। বরং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই নারী নিজে কী বলেছিলেন, সেটিই আমি তুলে ধরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নৈতিকতা, আদর্শ ও নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতা। আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা কোনো ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে সংগঠন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা উচিত নয়।’

তিনি বলেন, তার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে তাকে ওই ঘটনার সমর্থক বানানোর চেষ্টা ‘অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

পুরোনো মালিকদের হাতে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এআইবিএল) নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকটির আগের মালিক ও শেয়ারধারীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ১৪ জন পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। 

নতুন পর্ষদে বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি ফিরে এসেছেন প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুর রহমান ও তার সহযোগীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এটি প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগের তুলনায় ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাই এটি প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক আরও কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি অথবা তারা ব্যাংকের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন না।

তিনি বলেন, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তারা রয়েছেন, তাই ব্যাংকটি তাদের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নতুন পর্ষদ, পুরোনো মুখ

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আগের পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক বহাল রয়েছেন।

এর পাশাপাশি সাবেক ১৪ জন সদস্যকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী ও এনায়েত উল্লা।

এছাড়া কেডিএস গার্মেন্টসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কেওয়াই স্টিল মিলসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে শরীফ উদ্দিন তসলিমকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফিরে আসা পরিচালকদের মধ্যে খলিলুর রহমান বর্তমানে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আইন অনুযায়ী একই ব্যক্তি একসঙ্গে কোনো ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারেন না। তাই আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে যোগ দিতে তাকে ওই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে বেসরকারি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০২৩ সালে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তিনি দেশ ছাড়েন এবং ব্যাংকটির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ হারান।

এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। তখন লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে এরপরও ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে এবং গত দুই বছরে কোনো নগদ লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংকটির শেয়ার ‘জেড’ শ্রেণিতে নেমে যায়।

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলেও অন্য নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলো থেকে গ্রুপটি বিপুল অর্থ পাচার করেছে বলে অভিযোগ আছে। তবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি নয়।

গত বছর ব্যাংকটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

একই সময়ে ব্যাংকটির আমানত ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ৪৮ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

তবে খেলাপি ঋণ ১৯ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৮৫২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ১৭ শতাংশ।

বছর শেষে ব্যাংকটির সম্পদের বিপরীতে মুনাফার হার (রিটার্ন অন অ্যাসেটস) ছিল শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ এবং নিট মুনাফার মার্জিন ছিল ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।