33.3 C
Dhaka
Home Blog

৪ বছর পর কোর্টে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস

টেনিস বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রত্যাবর্তনগুলোর একটি অবশেষে সত্যি হতে যাচ্ছে। প্রায় চার বছর প্রতিযোগিতামূলক টেনিসের বাইরে থাকার পর আবারও র‌্যাকেট হাতে কোর্টে ফিরছেন কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস। ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম একক শিরোপাজয়ী এই মার্কিন তারকা লন্ডনের কুইন্স ক্লাবে নারী দ্বৈত বিভাগে অংশ নিয়ে নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন।

৪৪ বছর বয়সী সেরেনা সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২২ সালের ইউএস ওপেনে। সেই আসরের তৃতীয় রাউন্ডে বিদায়ের পর আর তাকে পেশাদার টেনিস কোর্টে দেখা যায়নি। তবে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের ফেরার খবর নিশ্চিত করেন তিনি।

ভিডিওতে সাদা রঙের নাইকি পোশাকে কোর্টে দেখা যায় সেরেনাকে। সঙ্গে ছিল তার ফোনে একের পর এক বার্তা আসার দৃশ্য। ভিডিওটির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘সুন্দর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’

গত বছরের ডিসেম্বরে সেরেনার নাম আবারও অ্যান্টি-ডোপিং কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। কারণ পেশাদার ট্যুরে ফিরতে চাইলে এই কর্মসূচির অংশ হওয়া বাধ্যতামূলক। যদিও সে সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘ওহ মাই গড, আমি ফিরছি না। এই গুজব একেবারেই পাগলামি।’

কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বদলে গেছে পরিস্থিতি। কুইন্স ক্লাবের নারী দ্বৈত প্রতিযোগিতায় তাকে ওয়াইল্ড কার্ড দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তরুণ কানাডিয়ান খেলোয়াড় ভিক্টোরিয়া এমবোকোর সঙ্গে জুটি বেঁধেই কোর্টে নামবেন সেরেনা।

প্রত্যাবর্তন নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাসও লুকাননি তিনি। সেরেনা বলেন, ‘কুইন্স ক্লাব আমার নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য একদম উপযুক্ত জায়গা বলে মনে হয়েছে। ঘাসের কোর্ট আমাকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। তাই খেলাধুলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত।’

উইম্বলডনে সাতবারের একক চ্যাম্পিয়ন সেরেনার জন্য ঘাসের কোর্ট সবসময়ই বিশেষ কিছু। আর সেই কারণেই অনেকের কাছে কুইন্স ক্লাবকে তার প্রত্যাবর্তনের আদর্শ মঞ্চ বলে মনে হচ্ছে। ডব্লিউটিএ টুর্নামেন্ট পরিচালক লরা রবসনও সেরেনার ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সেরেনা উইলিয়ামস বিশ্বের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদদের একজন। এলটিএর এইচএসবিসি চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে আবার টেনিস কোর্টে দেখতে পেরে আমরা আনন্দিত। গত বছর কুইন্স ক্লাবে নারী টেনিসের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন হয়েছিল, আর এবার খেলাটির এক মহাতারকাকে আবার কোর্টে দেখা যাবে।’

২০২২ সালে টেনিস থেকে সরে দাঁড়ানোর সময়ও সেরেনা ‘অবসর’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাননি। বরং তিনি বলেছিলেন, তিনি টেনিসের বাইরে জীবনের নতুন পথে ‘বিবর্তিত’ হচ্ছেন। তবে সময় যেন শেষ পর্যন্ত তাকে আবার টেনিসেই ফিরিয়ে আনল।

বন্দর থেকে আদা খালাসে আমদানিকারকদের গড়িমসি, ঈদের আগে দাম বেড়ে দ্বিগুণ

ঈদুল আজহার আগে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে আদার দাম। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরে ১১ লাখ কেজি আদার চালান খালাস না করে ফেলে রেখেছেন আমদানিকারকরা।

মাংস রান্নায় অপরিহার্য এই মসলাটি মে মাসের শুরুতে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে সারা দেশে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে কারসাজি করতে এর আগেও ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এই ঘটনা নতুন নয়।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, মত দেন তারা। তবে আমদানিকারকদের দাবি, নথি সংক্রান্ত জটিলতায় খালাসে দেরি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানিয়েছে, ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ১৪ জন আমদানিকারক ৪১টি কনটেইনারে প্রায় ১১ লাখ কেজি আদা আমদানি করেন। তবে এখনো সেসব চালান বন্দর থেকে খালাস করা হয়নি।

কাস্টমস ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের আগামীকাল শনিবারের মধ্যে চালান খালাস করতে বলেছেন। এই সময়ের মধ্যে আদা খালাস করা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে আদার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫ লাখ টন। এর মধ্যে আমাদের দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টন। বাকিটা আমদানি করতে হয়।

ব্যবসায়ীদের মতে, মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার আগে সাধারণত আদার চাহিদা বেড়ে যায়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, খালাস প্রক্রিয়ায় যুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মঙ্গলবার  ডেকে দেরির কারণ জানতে চাওয়া হয়।

‘আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের এজেন্টরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, শনিবারের মধ্যে তারা চালান খালাস করবেন,’ বলেন তিনি।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে আমদানিকারকরা বন্দরে চালান আটকে রাখছেন—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদুল আজহার আগে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বাজার কারসাজি বা মজুতদারির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ৭৭ হাজার টন আদা আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৭৯ হাজার টন।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স ট্রেড, ইফতি ইন্টারন্যাশনাল, সৌরভ ইন্টারন্যাশনাল ও নাঈম ট্রেডার্স খালাসে দেরি করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের চালান খালাসের দায়িত্বে রয়েছে মার্কো ইন্টারন্যাশনাল সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. একরামুল হক ভূঁইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতার কারণে খালাসে দেরি হয়েছে। সব আমদানিকারকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং আমাদের দায়িত্বে থাকা নয়টি চালান শনিবারের মধ্যে খালাস করা হবে।’

তিনি দাবি করেন, আদাভর্তি কনটেইনারগুলো প্রতিদিন ধাপে ধাপে খালাস করা হচ্ছে এবং বাকি চালানও পর্যায়ক্রমে ছাড়িয়ে নেওয়া হবে।

বন্দর বিধিমালা অনুযায়ী, পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর চার দিনের মধ্যে খালাস করলে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত কোনো চার্জ দিতে হয় না। এরপর থেকে বিলম্ব মাশুল আরোপ করা হয়। ৩০ দিনের বেশি সময় পণ্য খালাস করা না হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেগুলো নিলামেও তুলতে পারে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘আমদানিকৃত পণ্য খালাসে দেরি করে বন্দরকে গুদাম হিসেবে ব্যবহারের এই চর্চা নতুন নয়।’

‘বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগের পরও এই চর্চা বন্ধ হয়নি। যথাযথ কারণ ছাড়া যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে পণ্য জব্দসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত,’ বলেন তিনি।

সংসদে সমঝোতার কথা বলে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা দ্বিচারিতা: গোলাম পরওয়ার

সংসদে সমঝোতার কথা বলে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা দ্বিচারিতা বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্কের একটি অডিটোরিয়ামে এক সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ছাত্রশিবিরের রগ কাটার রাজনীতি করার কোনো প্রমাণ নেই। এসব অভিযোগ অপপ্রচার। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। আপনারা শিবরকে গুপ্ত বলেন, জনগণ যদি বলে—১৭ বছর যারা দেশে না থেকে এখন আসছে, তারাই গুপ্ত ছিল।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের নেতারা বলেছিলেন—আমরা ১৭ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রাজনীতি করতে পারিনি। এখন তারা কোথা থেকে এলো, তাহলে তারাও গুপ্ত।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ডাকসু নির্বাচনে ৩০-৪০ হাজার শিক্ষার্থীর ভোটে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিকে আপনারা শাহবাগ থানার ভেতরে হামলা করেছেন। কুমিল্লা পলিটেকনিক, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, ঈশ্বরদী ও রাজশাহীসহ দেশের সব ক্যাম্পাসে আপনারা ছাত্রদলকে শিবিরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন।

‘এদিকে পার্লামেন্টে জামায়াত আমির বলছেন—আমরা সরকারকে ভালো কাজে সাহায্য করব। জ্বালানি সংকটের জন্য নোটিশ দিয়েছে, আলোচনা হয়েছে। জামায়াত আমির বলেছেন—আমাদের কাছে ভালো প্রস্তাব আছে। আপনারা ওয়েলকাম করেছেন। একটা কমিটি করে সমাধান করবেন ভালো কথা। কিন্তু সংসদে সমঝোতার কথা বলবেন, আর সেইদিন সন্ধ্যায় ডাকসু নেতাদের হামলা করবেন, এ দ্বিচারিতা জনগণ মেনে নেবে না।’

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, পাঁচ কোটি মানুষের ভোটের প্রতি আস্থা রেখে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আগামীকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশের লক্ষ্য—রাজনৈতিক সংকট নিরসন ও রক্তপাত এড়ানো।

তিনি বলেন, জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে—সংসদেও, রাজপথেও।

‘ভয় দেখিয়েইসলামী আন্দোলন দমন করা যাবে না। যারা রক্ত দিতে ও জীবন দিতে প্রস্তুত, তাদের থামানো সম্ভব নয়’, বলেন তিনি। 

নিজের জন্য দুঃখ নেই, প্রান্তিক মানুষের জন্য আছে

বিশ্বনন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ। বিশ্বের বহু দেশে জাদু দেখিয়ে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন। 

একজন বংশীবাদক হিসেবেও তার খ্যাতি আছে। আবার একইসঙ্গে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও তিনি। একুশে পদক পেয়েছেন এবং বিশ্বের অনেক দেশ থেকে পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

আজ ১০ এপ্রিল তার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তিনি কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

‘অসংখ্য মানুষ আপনাকে ভালোবাসে—কেমন লাগে?’ এই প্রশ্নের জবাবে জুয়েল আইচ বলেন, ‘ভালো লাগে। আমি আনন্দিত। এত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। অনেক ভালো লাগা কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সমাজে একজন মানুষের সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য যা যা দরকার তা আমার আছে। বেশি কিছু চাই না। তবে সাধারণ মানুষ, গরিব মানুষ, প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখে খারাপ লাগে। কষ্ট পাই। প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করতে পারিনি। এটা আমাকে কষ্ট দেয়।’

জুয়েল আইচ বলেন, ‘নিজের জন্য দুঃখ নেই, প্রান্তিক মানুষের জন্য আছে।’

কথায় কথায় জুয়েল আইচ বলেন, ‘আমি তো মুক্তিযোদ্ধা। মাঝে মাঝে যুদ্ধের স্মৃতি মনে করি। একটি ঘটনা মনে পড়ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের সঙ্গে দুজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যাদের শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। গেঞ্জি পরে জীবন দিয়ে যুদ্ধ করতে এসেছিলেন। একজনের গেঞ্জি এতটাই ছেঁড়া ছিল যে মনে পড়লেই চোখ ভিজে যায়। এইরকম উদাহরণ অনেক আছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময় টের পেয়েছি কী কষ্ট করে প্রান্তিক মানুষের জীবন কাটে। তারপরও তারা জীবনদান করতে এসেছিলেন স্বাধীন দেশ পাওয়ার আশায়। তাও আবার আমরা যুদ্ধ করেছি পাকিস্তানের সাথে, যাদের ছিল বিশাল বাহিনী।’

১৯৭১ সালের স্মৃতি স্মরণ করে জুয়েল আইচ আরও বলেন, ‘ওই সময় আমাদের কলার থোড় খেয়ে পানির অভাব পূরণ করতে হয়েছিল। কেননা, নদী দিয়ে প্রায়ই লাশ ভেসে আসত। ওই নদীর পানি খাওয়ার মতো অবস্থা তখন ছিল না। শকুন এসে লাশের ভুড়ি খেয়ে যেত।’

তিনি বলেন, ‘জায়গাটার নাম পেয়ারা বাগান। ঝালকাঠি, স্বরূপকাঠি ও বানারিপাড়ার একটা অংশ নিয়ে পেয়ারা বাগান। ওখানেই যুদ্ধের সময় আমরা ছিলাম।’

জন্মদিনে কে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে। মেয়ে বড় হয়েছে। আমাকে এখন মায়ের মতো আদর করে, শাসন করে।’

এদিকে, জুয়েল আইচের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবছি অনুষ্ঠানের আয়োজন যারা করেছেন, ওখানে আবার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বেশি চলে আসেন কি না। এটা নিয়ে চিন্তায় আছি। তাছাড়া, যারা আয়োজন করেছেন তাদের প্রতি ভালোবাসা।’

ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত ২০১, আহত ৭৪৭

ইরানে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।

রোববার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রেড ক্রিসেন্টের বরাতে ইরানি গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে যে ইরানের ২৪টি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।

এর আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর হামলায় নিজেদের ‘ইতিহাসের বৃহত্তম বিমান হামলা’ চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত করেছে।

এতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে প্রায় ৫০০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি হামলা চালিয়েছে পশ্চিম ইরানের তাবরিজে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থান লক্ষ্য করে।

সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য প্রচার নিয়ে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত অপতথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বা তাঁর পক্ষে দাবি করে কোনো ব্যক্তি যেন নিজ উদ্যোগে মামলা, বিবৃতি কিংবা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, সে বিষয়ে সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমানের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদন বা নির্দেশনার সম্পর্ক নেই।

বিবৃতিতে সম্প্রতি দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর চারজনকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। এতে প্রতিমন্ত্রী ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আশা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবে এবং গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন।

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মামলার বাদীও একজন সাংবাদিক এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ। ফলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজের দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী তাঁর সম্পর্কে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সম্মানিত সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছেন।

কলাগাছের মিনার, বুনোফুলে শ্রদ্ধা

খুলনার ডুমুরিয়ার লাইন বিল পাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থাপিত হয়েছিল ১৯৪৫ সালে। স্কুলটিতে কোনো শহীদ মিনার নেই।

প্রতিবছর ভাষা দিবস আসে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা কলাগাছ সংগ্রহ করে। গুটি গুটি হাতে শহীদ মিনার বানায়। রঙিন কাগজে মুড়িয়ে দেয়।

ভোরের আলো ফোটার আগেই খালি পায়ে স্কুলে ছোটে। পরম মমতায় বিছিয়ে দেয় বুনোফুল। হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা জানায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

ছবিগুলো তুলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী হাবিবুর রহমান।

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলে কি কার্যকর হবে?

বিষয়টি আর কেবল ধারণার পর্যায়ে নেই। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কার্যকর হওয়া বিশ্বের প্রথম বিধিনিষেধের পর এবার যুক্তরাজ্যও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

উভয় দেশের যুক্তি একই—শিশুরা যেন কম সময় স্ক্রল করে, অনলাইনে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কম যোগাযোগ করে এবং ক্ষতিকর প্রভাব বাড়াতে পারে এমন অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্টের প্রভাব থেকে দূরে থাকে।

বাংলাদেশে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিতর্ক ইতোমধ্যেই অভিভাবকের পরামর্শের গণ্ডি ছাড়িয়ে আইনি আলোচনায় পৌঁছেছে। মে মাসে একটি আইনি নোটিশে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, শিশু ও কিশোররা ক্রমবর্ধমানভাবে এসব প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার করছে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছে।

এই উদ্বেগ এমন এক নগরীতে সামনে এসেছে, যা আগে থেকেই নানা চাপের মধ্যে রয়েছে। আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ৮৩ শতাংশ স্কুলশিক্ষার্থী প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনে কাটায় এবং গড় ব্যবহার সময় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা।

একই প্রতিবেদনে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে কম ঘুম, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, স্থূলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের সম্পর্কও তুলে ধরা হয়েছে।

সরকার চিন্তিত কি না, তা নিয়ে আসল প্রশ্ন নয়। বড় প্রশ্ন হলো, যেসব দেশে শিশুদের ডিজিটাল জীবন গোছানো নয় আর অফলাইন জীবনেও তাদের প্রয়োজন মেটে না, সেখানে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসলে কাজ করবে কি না? এই পরীক্ষার সবচেয়ে কঠিন জায়গাগুলোর একটি হবে বাংলাদেশ।

যুক্তরাজ্যের নতুন নীতিটি ব্যতিক্রমধর্মীভাবে বিস্তৃত। সরকারের ভাষ্য, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং এক্সের মতো প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলো।

কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগনালের মতো মেসেজিং অ্যাপগুলো এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবে। বয়সভিত্তিক সীমারেখা ছাড়াও এই পরিকল্পনায় লাইভস্ট্রিমিং এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো সুবিধাগুলোকেও প্রশ্ন করা হয়েছে।

পাশাপাশি সরকার বলছে, কেউ যাতে নিয়ম এড়িয়ে যেতে না পারে, তাই আরও কার্যকর বয়স যাচাই পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ‘শিশুদের শৈশব ফিরিয়ে দেওয়া।’

এই নীতির রাজনৈতিক যুক্তি স্পষ্ট। যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, প্রতি ১০ জন অভিভাবকের মধ্যে ৯ জন এই পরিবর্তনের পক্ষে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে যে আইন যথেষ্ট কঠোর হলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা যায়।

রয়টার্স জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞার ফলে শুধু প্রথম মাসেই ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। দুই মাস পরও প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অস্ট্রেলীয় কিশোর-কিশোরী টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করছিল। এটি মনে করিয়ে দেয় যে বয়সভিত্তিক বাধা আচরণকে কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি বদলে দিতে পারে না।

এ কারণেই বিশ্বের অনেক সরকার অস্ট্রেলিয়াকে একটি পরীক্ষামূলক উদাহরণ হিসেবে দেখছে।

ফ্রান্স ও ডেনমার্কের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো একই ধরনের বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ চালু করেছে বা বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে জার্মানি ও ইতালি নির্দিষ্ট বয়সসীমার ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতির ওপর নির্ভর করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ‘ডিউটি অব কেয়ার’ বা দায়িত্বশীলতা-ভিত্তিক আইনের দিকে এগোচ্ছে।

অথচ বড় বড় প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো বয়স যাচাই কার্যকর করতে হিমশিম খাচ্ছে। যদিও তাদের নিজস্ব নীতিমালায় সাধারণত ব্যবহারকারীর ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর নির্ধারণ করা আছে।

এসব পদক্ষেপের পক্ষে যে কোনো সরল গবেষণালব্ধ তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে এসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটায়, তাদের কিশোর বয়সে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ঘুমের ব্যাঘাতকে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অ্যালগরিদমনির্ভর ফিড ব্যবহারকারীদের বিপজ্জনক, মানসিকভাবে অস্বস্তিকর বা অতিমাত্রায় আকর্ষণীয় কনটেন্টের সংস্পর্শও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মনের বন্ধুর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী তৌহিদা শিরোপা মনে করেন, হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া আবেগগতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, বাড়িতে ব্যবহার বন্ধ করে দিলে শিশুরা অন্য কোনো পথ খুঁজে নেবে। যে শিশু আগে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করত, হঠাৎ সেটি হারালে তার আচরণ ও মানসিক অবস্থায় এর প্রভাব পড়বে। কঠোরভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না।

শিরোপার বৃহত্তর বক্তব্যটি হলো বাধা দেওয়া নিয়ে।

তার মতে, যখন সহপাঠীরা একই অ্যাপ বা অনলাইন প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করে, তখন যেসব শিশুকে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না, তারা নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করতে পারে। এই বৈষম্য স্পষ্ট—কিছু শিশু আলোচনার ভেতরে থাকে, কিছু থাকে বাইরে। আর যারা বাইরে থাকে, তারা মনে করে বন্ধুদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। নিষেধাজ্ঞা শুধু বিধিনিষেধই তৈরি করে না, সামাজিক দূরত্বও সৃষ্টি করতে পারে। একটি শিশুর জীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। অনেক সময় এটি তার কোনো দলের অংশ হওয়ার মাপকাঠি।

তাছাড়া প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষের শহর ঢাকায় ৩০০টিও খেলার মাঠ নেই। তাই এই স্ক্রিননির্ভর জীবনধারা গড়ে উঠেছে।

শিরোপার আক্ষেপ, ‘যাওয়ার মতো কোনো জায়গাই নেই।’

তিনি আরও বলেন, শিশুরা ঘরেও নিরাপদ নয়, বাইরেও নয়। ঢাকার মতো শহরে, যেখানে অনেক শিশুর জীবন স্কুল, বাসা, কোচিং আর যানজটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সেখানে উন্মুক্ত পার্ক, পরিকল্পিত খেলাধুলা বা নিরাপদ জনপরিসরে প্রবেশাধিকার খুবই সীমিত।

শিরোপার ভাষ্য, বাস্তব জগতের এই সংকীর্ণতার কারণেই ডিজিটাল জগত একটি চাপমুক্তির জায়গায় পরিণত হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি না করে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে সেই শক্তি বা আগ্রহ হারিয়ে যায় না, বরং অন্য কোথাও সরে যায়।

উদ্বেগের বিষয় এই নয় যে, শিশুদের সীমাহীন প্রবেশাধিকার থাকা উচিত। বরং সীমাবদ্ধতাগুলো হওয়া উচিত ধীরে ধীরে, দৃশ্যমানভাবে এবং সম্পর্কের অংশ হিসেবে। শিরোপা হঠাৎ করে পুরো প্রবেশাধিকার বন্ধ না করে সময়সীমা নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

তার মতে, একবারে সবকিছু হারালে শিশুর মধ্যে আরও তীব্রভাবে বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, রাতারাতি বাতিল না করে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত। এটি যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় গড়ে ওঠা ভিন্ন একটি দর্শন, যা আকস্মিক নিয়ন্ত্রণের আবেগগত মূল্যকেও গুরুত্ব দেয়।

আরও একটি বিষয় হলো, শিশুরা অনলাইন জগতকে নিজস্বভাবে কল্পনা করে। তারা সব সময় বুঝতে পারে না যে তারা যা দেখছে, তা আংশিক বা বিকৃত বাস্তবতা হতে পারে। বরং তারা সেটিকে কেন্দ্র করে নিজেদের এক ধরনের কল্পিত জগৎ গড়ে তোলে। সহিংস বা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী কনটেন্ট সেই জগৎকে বদলে দিতে পারে। কারণ ছোট বয়সী শিশুদের মধ্যে এখনো সঠিক ও ভুলের পার্থক্য নির্ধারণের পরিপক্ব বিচারবোধ তৈরি হয় না।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিতে হবে।

স্ট্র্যাটেজেমের প্রিন্সিপাল আবু নাজাম এম তানভীর হোসেন বয়সসীমা নির্ধারণের ধারণার প্রতি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল। তবে তিনি শুরুতেই বাস্তবায়নের বড় বাধার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এসব প্ল্যাটফর্মে বয়স যাচাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ শুধু সিম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে না। কারণ শিশুরা প্রায়ই তাদের বাবা-মায়ের ডিভাইস ও পারিবারিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে।

তিনি আরও বলেন, বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র আপলোডের বদলে গোপনীয়তা-সুরক্ষিত বয়স যাচাই, অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ এবং প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত করা আরও ভালো পথ হতে পারে।

হোসেন বলেন, শেয়ার করা ডিভাইস, পারিবারিক অ্যাকাউন্ট এবং ভুয়া বা বট অ্যাকাউন্টের উপস্থিতি আসলে কে একটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।

তিনি উল্লেখ করেন, শিশুরা অ্যাকাউন্ট নিজে খুলতে বা কিনতে পারে, অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারে বা বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে সহজেই স্থানান্তরিত হতে পারে। ফলে কোনো প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছরের একজন ব্যবহারকারীকে ব্লক চাইলে তার বয়স কীভাবে নিশ্চিত করবে? জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে? নাকি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে? কোনো পদ্ধতিই শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয় এবং দুটিই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

তাছাড়া, নিষেধাজ্ঞা প্রায়ই ব্যবহারকারীদের অন্য প্ল্যাটফর্মে ঠেলে দেয়। অনেক শিশু-কিশোর সম্ভবত ভিপিএন, বিকল্প অ্যাপ বা কম নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে চলে যাবে, যা ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। কারণ এসব প্ল্যাটফর্মে সাধারণত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা অভিভাবকদের নজরদারিও কম থাকে। বাংলাদেশের জন্য এই সতর্কবার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি ইতোমধ্যেই দেখেছে ব্যাপক ডিজিটাল বিধিনিষেধের কী ধরনের প্রভাব হতে পারে।

হোসেন আরও বলেন, সার্বিক নিষেধাজ্ঞা ডিজিটাল লিটারেসি ও কনটেন্ট নির্মাতাভিত্তিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কারণ বাংলাদেশের অনেক তরুণ ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহার করে দক্ষতা অর্জন, দর্শকগোষ্ঠী তৈরি, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা এবং আয় করে থাকে। এ কারণেই সম্পূর্ণ বঞ্চনার বদলে নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশুদের শুধু চুপ করিয়ে রাখার জন্য ফোন দেওয়া উচিত নয়। বরং তাদের সঠিক ব্যবহার শেখানো এবং বয়সোপযোগী কনটেন্টের সুযোগ দেওয়া উচিত।

কনটেন্ট-সংক্রান্ত এই সমস্যাটিই মূল বিষয়। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে শিশুদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও উপযোগী কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহিত করতে হবে। কারণ শিশুরা চিরকাল শিশু থাকে না। তাদের আগ্রহ ও প্রয়োজন প্রতিটি বয়সপর্বে ভিন্নভাবে পূরণ করতে হয়।

হোসেনের ভাষ্য, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত শিশুবান্ধব কনটেন্টের অভাব রয়েছে। সবকিছুর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার বদলে আমাদের একটি বিশেষায়িত টাস্কফোর্স গঠন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তদারকির আওতায় ডিভাইস ব্যবহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো স্বাভাবিকভাবে নিরাপদ নয়। তবে যদি এই ব্যবস্থার ভেতরেই শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিকল্প তৈরি না করা যায়, তাহলে তারা ঝুঁকিপূর্ণ দিকেই ঝুঁকে পড়বে।

বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্ন এটাই। কড়া নিষেধাজ্ঞা শুনতে ভালো লাগতে পারে। প্রথম দিকে মানুষও এটি পছন্দ করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা ভিন্ন। এখানে একটা ফোন অনেকে মিলে ব্যবহার করে। পরিবারের সবাই একই অ্যাকাউন্টে লগইন করে। বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা ভালো নয়, খেলার মাঠ কম ও সব বাবা-মা সমানভাবে সন্তানের দিকে খেয়াল রাখতে পারেন না। আর এখানে অনেক তরুণ আছে, যারা অনলাইনেই শেখে, আয় করে ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।

এই কারণে যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ম এখানে সরাসরি চালু করলে তা কাজ করবে না। যুক্তরাজ্যে এই নিয়ম চলছে, কারণ তাদের আছে ভালো বাস্তবায়ন ব্যবস্থা এবং অনলাইন সুরক্ষার মজবুত কাঠামো। বাংলাদেশকে আগে এই কাঠামো তৈরি করতে হবে। নিয়ম চালু করার আগে এটি জরুরি।

তাই সবচেয়ে সত্যি উত্তর হলো—এটা একদম ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়। আসল কথা হলো, নিষেধাজ্ঞা কিছু ক্ষতি কমাতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে না। শিশুরা নিজেদের একা মনে করবে। তারা অন্য পথ খুঁজবে। আর সেই পথ খুঁজতে গিয়ে তারা ইন্টারনেটের আরও খারাপ ও কম নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার পেছনের কারণ বোঝা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা বলছে, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই সমস্যা মিটবে না।

যেসব দেশ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করেছে:

এছাড়া ফ্রান্স, ডেনমার্ক, গ্রিস, নরওয়ে, জার্মানি ও স্পেনসহ ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে আসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ বা বিবেচনা করছে।

দুইবার এগিয়েও চীনের কাছে হার বাংলাদেশের

দারুণ শুরু করেও শেষ পর্যন্ত হতাশা সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। ম্যাচে দুইবার এগিয়ে থেকেও সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ হকি দল। ফলে পুরুষদের অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় পুল ম্যাচে চীনের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জাপানের কাকামিগাহারায় অবস্থিত কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানোর পর দলের লক্ষ্য ছিল টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেওয়া।

ম্যাচের নবম মিনিটেই সেই লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। পেনাল্টি কর্নার থেকে সফলভাবে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মুন্না ইসলাম। প্রথম দুই কোয়ার্টারে সেই ব্যবধান ধরে রেখে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

তবে তৃতীয় কোয়ার্টার শুরু হতেই ম্যাচে ফিরে আসে চীন। ৩১তম মিনিটে জুয়ান বোলাং গোল করে সমতা ফেরান। এতে ম্যাচ নতুন করে জমে ওঠে।

চীনের সমতায় কিছুটা চাপে পড়লেও বাংলাদেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। ৪১তম মিনিটে ওপেন প্লে থেকে আকাশ তুহিন গোল করে আবারও লিড এনে দেন দলকে। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পরই ওপেন প্লে থেকে ঝাং ইউওয়েই গোল করে আবারও সমতায় ফেরান চীনকে।

ম্যাচের শেষ ভাগে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় চীনারা। সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় তারা। লিয়াও জিয়াঝেন জয়সূচক গোলটি করে চীনের জয় নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবিয়ে দেন।

মজার বিষয় হলো, গত আসরে এই চীনকেই ৫-২ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এবার সেই প্রতিশোধই যেন নিয়ে নিল পূর্ব এশিয়ার দলটি।

এই পরাজয়ের ফলে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ শেষে ‘বি’ পুলের চারটি দলেরই সমান তিন পয়েন্ট রয়েছে। ফলে শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য জয়ের বিকল্প প্রায় নেই। সেই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে সেমিফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে।

সোনালি ধান কালচে, হাওরের কৃষকের চোখে হতাশার ছায়া

মাথার ওপর বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার শঙ্কা আর নিচে কোমর সমান পানি—কোনো বাধাই আটকাতে পারেনি কৃষক আতিকুর রহমানকে। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল, যেভাবেই হোক আধাপাকা বোরো ফসল ঘরে তোলা।

এদিকে হাওরে বিরামহীন বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল উজানের ঢল। প্রকৃতির এই প্রতিকূলতার মাঝেই নিজের শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় মরিয়া লড়াই চালাচ্ছিলেন এই কৃষক।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার খয়রাকান্দা হাওরের এই কৃষক বহু চেষ্টার পর তার চার বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘার ধান রক্ষা করতে পেরেছেন। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় ধান শুকাতেও বিপাকে পড়তে হয় তাকে, ফলে ধানের রং নষ্ট হয়ে কালচে হয়ে গিয়েছে।

গত শনিবার স্থানীয় বড় বাজার ‘চামড়া ঘাটে’ তিনি ১০০ বস্তা বোরো ধান নিয়ে গেলে ক্রেতারা প্রতি মণের দাম হাঁকেন মাত্র ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

তার দাবি, চলতি মৌসুমে প্রতি মণ বোরো ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকারও বেশি।

আক্ষেপ করে এই কৃষক বলেন, “এই দামে ধান বিক্রি করলে তা দিয়ে কেবল নৌকা ভাড়া আর বস্তা নামানোর শ্রমিকের মজুরিটুকু উঠবে। আমার নিজের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এখন মনে হচ্ছে, ধান চাষ করাই আমার বড় ভুল ছিল।”

শুধু কিশোরগঞ্জ নয়, হাওরের সাত জেলাজুড়েই এখন একই চিত্র। ভেজা, আংশিক নষ্ট হওয়া কিংবা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া ধান নিয়ে কৃষকরা এক বাজার থেকে অন্য বাজারে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। কিন্তু ক্রেতা মিলছে না। আর যদি মেলে, তাতেও দাম বেশ কম।

অন্যদিকে সরকারও এই ধরনের ধান কিনছে না। যার কারণে কৃষকেরা উভয় সংকটে পড়ে এখন দিশেহারা।

এদিকে, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদকেরা অন্তত ৩০ জনেরও বেশি হাওর কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছে, যাদের মধ্যে ২৩ জনই জানিয়েছেন, তারা এই একই সংকটের মুখে পড়েছেন। কয়েকজন কৃষক জানান, তারা ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন এবং আশা ছিল ফসল কাটার পর তা শোধ করবেন।

নেত্রকোনার কৃষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি চেষ্টা করছি, অন্তত পোল্ট্রি ফিড (মুরগির খাদ্য) হিসেবেও যদি এই ধান বিক্রি করা যায়, যেন কিছু টাকা অন্তত উঠে আসে।” তার ১০০ কাঠা জমির বোরো ধানের প্রায় অর্ধেকই এবার পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

হাওরে বোরো ধানের ক্ষতি ২ দশমিক ৩০ লাখ টন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত অতিবৃষ্টি, বন্যা ও উজানের ঢলে দেশের সাতটি হাওর জেলায় প্রায় ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, হাওরের মোট ফসলি জমির ১১ দশমিক ০৫ শতাংশ বা ৫২ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এতে বোরো ধানের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩০ লাখ টন এবং প্রায় ২ দশমিক ৮৮ লাখ কৃষক এই ক্ষতির শিকার হয়েছেন, বলেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দেওয়া তথ্যমতে, এই সাত জেলায় মোট ৪ দশমিক ৫৫ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল।

ডিএইর প্রাথমিক হিসাব বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী বোরো চাষের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৫০ লাখ হেক্টরে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আবাদের এই হার ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে।

রং নষ্ট হয়ে যাওয়া ধান কিনছে না সরকার

গত ৩ মে থেকে হাওর অঞ্চলে সরকারি ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। তবে কিশোরগঞ্জের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, কৃষকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের বিবর্ণ বা ভেজা ধান গ্রহণ করা হচ্ছে না।

নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোয়াতাসিমুর রহমান জানান, ধান কেনার আগে সরকারি কর্মকর্তারা আর্দ্রতা ও বিশুদ্ধতার মানসহ মোট ১৪টি মাপকাঠি যাচাই করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নিরাপদ মজুতের স্বার্থেই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হওয়া ধান কেনা সম্ভব নয়। ভেজা বা পচা ধান গুদামে রাখলে তা নষ্ট হওয়া বা অঙ্কুরোদগমের ঝুঁকি থাকে, তাই নিয়মে শিথিলতার কোনো সুযোগ নেই।

সাতটি হাওর জেলায় এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ১০ শতাংশ এবং চালের ১৮ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কৃষক পরিবারকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রাথমিক তালিকাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে, যেন কেউ অন্যায্যভাবে বাদ না পড়ে বা অযোগ্য কেউ তালিকায় না আসে, বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন করেন, চলতি মাস থেকেই আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে এবং মে, জুন ও জুলাই মাসজুড়ে এটি চলবে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই উদ্যোগে মোট ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার নীতিগত সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে, যাতে কৃষকরা সরাসরি সরকারি ক্রয়মূল্য—প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকায়, তাদের ধান বিক্রি করতে পারেন।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের বিক্রয় সক্ষমতা ও সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থার চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমাতে কাজ চলছে এবং একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন আমাদের সিলেট প্রতিনিধি দোহা চৌধুরী]