29 C
Dhaka
Home Blog

ইউটিউবের ভিউ নিয়ে যে পরিবর্তন আসছে

সাধারণ ভিডিওর ভিউ গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। নতুন নিয়মে সাধারণ ভিডিওর ভিউ গণনার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।

এখন থেকে কোনো ইউজার ভিডিও চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ‘ভিউ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। একইভাবে, কোনো ব্যবহারকারী লাইভ স্ট্রিমে প্রবেশ করলেই সেটিও ভিউ হিসেবে গণনা করা হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে ইউটিউবের সাধারণ ভিডিওর ভিউ গণনার পদ্ধতি ‘শর্টস’-এর ভিউ গণনার পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী টিকটক ও ইনস্টাগ্রামও একই ধরনের পদ্ধতিতে ভিউ গণনা করে থাকে।

আগামী ২৪ আগস্ট থেকে নতুন নিয়মটি কার্যকর হবে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব।

ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে দেওয়া ঘোষণায় ইউটিউব আরও জানায়, ‘বিভিন্ন ভিডিও ফরম্যাটে ভিউ গণনার বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভিডিওটি কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’

এই পরিবর্তনের ফলে ইউটিউবের যেকোনো ভিডিওর ভিউয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। নতুন নিয়মে কোনো ভিডিওর প্রথম কয়েক সেকেন্ড দেখে ইউজাররা অন্য ভিডিও বা কনটেন্টে চলে গেলেও সেটি ভিউ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইউটিউব আগের এনগেজমেন্টভিত্তিক ভিউয়ের হিসাবটি নতুন নাম ‘এনগেজড ভিউজ’-এ রেখে দিচ্ছে, যা কনটেন্ট নির্মাতাদের অ্যানালিটিকস টুলে দেখা যাবে। এর মাধ্যমে কতজন দর্শক ভিডিওটি চালু হওয়ার পরও দেখা চালিয়ে গেছেন, তা বোঝা যাবে।

একদিকে ভিউ গণনার সীমা শিথিল করে প্রকাশ্য ভিউয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে ইউটিউব, অন্যদিকে ‘এনগেজড ভিউজ’ রেখে প্রকৃত দর্শক-আগ্রহের হিসাবও আলাদাভাবে দেখার সুযোগ দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, এই পরিবর্তনের ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় বা ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে তাদের যোগ্যতার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

সম্প্রতি নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য মনিটাইজেশনের নিয়ম আরও কঠোর করেছে ইউটিউব। চ্যানেল থেকে আয় শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সীমা আলাদাভাবে বাড়ানোর কিছুদিন পরই ভিউয়ের নিয়ম বদলের এই ঘোষণা এলো।

ইতোমধ্যে মনিটাইজেশনের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

আগামী বছর থেকে নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের আগের এক বছরে কমপক্ষে ৮ হাজার কোয়ালিফায়েড ওয়াচ আওয়ার অথবা বিগত ৯০ দিনে ২ কোটি কোয়ালিফায়েড শর্টস ভিউ থাকতে হবে। ইউটিউবের নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ হলেই কেবল ভিউকে কোয়ালিফায়েড বা ‘আয়ের যোগ্য’ হিসেবে ধরা হয়।

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন প্রকাশ্য ভিউয়ের সংখ্যা বাড়লেও এর ভিত্তিতে কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় বাড়বে না। ইউটিউব জানিয়েছে, নির্মাতাদের আয় আগের মতোই ‘এনগেজড শর্টস ভিউজ’ ও ‘এনগেজড ওয়াচ আওয়ার’-এর ভিত্তিতে হবে। একইভাবে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘কোয়ালিফায়েড শর্টস ভিউজ’ ও ‘কোয়ালিফায়েড ওয়াচ আওয়ার’ বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ, নতুন নিয়মে প্রকাশ্য ভিউয়ের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে; কিন্তু প্রকৃত দর্শক-আগ্রহ এবং আয় বোঝার ক্ষেত্রে ‘এনগেজড ভিউজ’ ও ওয়াচ আওয়ারই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

নরওয়েকে তাতিয়ে দেয় সেই পেনাল্টি সেইভ, বললেন নিলান্ড

নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিলান্ড বলেছেন, ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে তার পেনাল্টি সেভটিই এই অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।

আরলিং হালান্ড শেষ ১১ মিনিটে জোড়া গোল করে দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তিদের শেষ ১৬-এর মঞ্চ থেকে বিদায় করে দেওয়ার আগে, প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারায়েসের স্পট-কিক আটকে দেন নিলান্ড। ১০০তম মিনিটে নেইমারের পেনাল্টি গোলটি পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিলো না।

শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের স্মরণীয় জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে নরওয়ে। 

ম্যাচ শেষে নিলান্ড সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শুরুর অত তাড়াতাড়ি আপনি যখন একটি পেনাল্টি আটকে দিতে পারবেন, তখন আপনাকে হারানো খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এটি আমার নিজের জন্য যেমন দারুণ একটি মুহূর্ত ছিল, তেমনি দলের জন্য কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল।’

‘শেষ পর্যন্ত আমরা সঠিক সময়ে গোল করতেও সক্ষম হয়েছি, যা ছিল অসাধারণ।’

তবে শুধু পেনাল্টিই নয়, ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ দারুণ ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন তিনি। 

 

বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো উন্নয়ন সহায়তা পাচ্ছে না: জামায়াত আমির

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন অনুদান ও উন্নয়ন সহায়তা দেওয়া হলেও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শুক্রবার নেত্রকোণো সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, যেসব এলাকায় বর্তমান সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন, সেখানে ছোটোখাটো বিভিন্ন অনুদান ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলোতে সেই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়নি। আমরা এ ধরনের বৈষম্যকে উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি বলেন, এই সরকারের সময় হবে কি না, আমি জানি না, তবে কিছু আলামত আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করছি। আপনারা দেখেছেন, সংসদের ভেতরে আমরা আমাদের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।

জামায়াত আমির বলেন, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তারা দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি ও প্রতিটি নাগরিকের জন্য দায়বদ্ধ। তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল বা এলাকার জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য দায়িত্বশীল। আমরা বারবার এ কথা বলে আসছি এবং ভবিষ্যতেও বলে যাব। যেখানে বৈষম্য দেখব, সেখানে আমরা প্রতিবাদ জানাব ও আওয়াজ তুলব।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের প্রশ্নে সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল—এটি বড় বিষয় নয়। আমাদের ঐক্যের জায়গাটি অটুট থাকতে হবে। নীতি, কৌশল ও কর্মপদ্ধতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের অধিকার ও প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়।

‘জনস্বার্থ ও নাগরিকদের ন্যায্য প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে কোথাও বৈষম্য দেখা গেলে জনগণের পক্ষ থেকে কথা বলা, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং প্রয়োজনে আপত্তি জানানো শুধু আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকারও’, বলেন শফিকুর রহমান।

নিজের আয়কর নিজেই হিসাব করবেন যেভাবে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করেছে সরকার। একই সঙ্গে আগের ৫ শতাংশ করহার তুলে দিয়ে পুরো আয়কর স্ল্যাব নতুন করে সাজানো হয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে একদল করদাতার করের পরিমাণ একেবারেই বদলাবে না। আবার নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় হলেই আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হবে।

জেনে রাখা ভালো, আপনার আয় করমুক্তের সীমা অতিক্রম করলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

এবার মাসে কত আয় হলে কত কর দিতে হবে—এই হিসাবটা বুঝে নেওয়া যাক।

নতুন আয়কর স্ল্যাবে কী আছে?

নতুন কাঠামোতে সাধারণ করদাতাদের (পুরুষ) ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা আগের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। নারী ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এটি ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। 

এছাড়া প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের জন্য এই সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সাধারণ করদাতাদের প্রথম ৪ লাখের পর ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, এর পরের ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, পরের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ এবং এরপর থেকে ৩০ শতাংশ করে আয়কর দিতে হবে।

গত অর্থবছর (২০২৫-২৬) পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এরপর ১ লাখ টাকায় ৫ শতাংশ, পরের ৪ লাখে ১০ শতাংশ, পরের ৫ লাখে ১৫ শতাংশ, পরের ৫ লাখে ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখে ২৫ শতাংশ এবং বাকি অংশে ৩০ শতাংশ কর দিতে হতো।

অর্থাৎ সরকার একদিকে করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে ৫ শতাংশের করস্ল্যাব পুরোপুরি তুলে দিয়েছে।

কোন আয় পর্যন্ত করের পরিমাণ একেবারেই বদলায়নি?

বার্ষিক ৬ লাখ ও ৭ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে আগে এবং এখনকার গাণিতিক করের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের নিয়মে বার্ষিক ৭ লাখ টাকা আয়ে মোট কর আসত ৩০ হাজার টাকা, নতুন নিয়মেও পরিমাণটা একই থাকবে। একইভাবে ৬ লাখ টাকার ক্ষেত্রেও কর ২০ হাজার টাকাই থাকছে।

এর কারণ, করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়লেও ৫ শতাংশের পুরো একটি স্ল্যাব তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এই দুটি পরিবর্তন পরস্পরকে সমন্বয় করেছে।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, ৪ লাখ টাকা বা তার কাছাকাছি আয়ের ক্ষেত্রে করের পরিমাণ কমেছে। আগে করমুক্ত সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থাকায় ৪ লাখ টাকা আয়ের ওপর গাণিতিক কর কম আসলেও ন্যূনতম করের নিয়মের কারণে ৫ হাজার টাকা কর দিতে হতো। নতুন নিয়মে করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা হওয়ায় এখন এই আয়ে কোনো করই দিতে হবে না।

এখানে বিনিয়োগ ছাড়া করযোগ্য আয়ের ওপর করের হিসাব করা হয়েছে। কারণ কর রেয়াতের জন্য বিনিয়োগ যুক্ত হলে এই হিসাবটি আলাদা হবে।

মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকার বেশি হলে

কারও মাসিক আয় যদি ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকার বেশি হয়, তাহলে তার বার্ষিক আয় হবে ৪ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে কোনো কর দিতে হবে না। 

মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা হলে 

আপনার যদি মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়, তাহলে বছরে আয় হবে ৬ লাখ টাকা। এই আয়ের ক্ষেত্রে আগেও কর ছিল ২০ হাজার টাকা। এখনও ২০ হাজার টাকাই থাকবে। অর্থাৎ কোনো পরিবর্তন নেই।

মাসিক আয় প্রায় ৫৮ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ৫৮ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় করলে বছরে মোট আয় দাঁড়ায় ৭ লাখ টাকা। এই আয়ে আগের মতোই ৩০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এখানেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

মাসিক আয় ৬২ হাজার ৫০০ টাকা হলে

মাসে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা আয় করলে বছরে আয় হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই আয়ের ওপর আগে কর ছিল ৩৫ হাজার টাকা। এখন দিতে হবে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ নতুন হারে ২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় ৮৩ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ৮৩ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় হলে বছরে আয় দাঁড়ায় ১০ লাখ টাকা। আগে কর ছিল ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। এখন হবে ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে।

মাসিক আয় ১ লাখ টাকা হলে

মাসে ১ লাখ টাকা আয় হলে বছরে আয় হয় ১২ লাখ টাকা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী এই আয়ের ওপর কর আগের তুলনায় আরও কিছুটা বাড়বে। আগে ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হতো, এখন দিতে হবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিতে হবে, যা ১২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত।

মাসিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হলে

আপনার মাসিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হলে বার্ষিক আয় হয় ১৫ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে আগে কর দিতে হতো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এখন দিতে হবে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ২০ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় হলে বছরে আয় দাঁড়ায় ১৮ লাখ টাকা। আগের কর কাঠামোয় এই আয়ের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা কর দিতে হতো। নতুন কর কাঠামোয় কর হবে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ একই আয়ে ৩০ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হলে

আপনার মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হলে বছরে আয় ২০ লাখ ছাড়ায়। এক্ষেত্রে আগে কর ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। এখন দিতে হবে ২ লাখ ৯১ হাজার টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে।

একনজরে মাসিক আয় অনুসারে বিগত ও নতুন অর্থবছরের করের হিসাব 

 

 

 

 

রকস্টারের উত্থান-পতনের গল্প নিয়ে টিজারে শাকিব খান

কয়েকদিন আগে শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার ৫৪ সেকেন্ডের একটি অ্যানিমেটেড ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর ক্যাপশনে শাকিব খান লিখেছিলেন, ‘একটা গল্প, যা বদলে দেবে সবকিছু! আসছে খুব শিগগিরই।’

এবার প্রকাশিত হলো ‘রকস্টার’ সিনেমার ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের টিজার, যেখানে উঠে এসেছে এক রকস্টারের উত্থান-পতনের গল্প।

সিনেমাটির অফিশিয়াল পোস্টার প্রকাশের সময়ই শাকিবের লুক নিয়ে আলোচনা হয়। এবার টিজারে পাওয়া গেল নতুন লুক। এখানে তিনি আর অ্যাকশন হিরো কিংবা গ্যাংস্টার অবতারে নন, সংগীতশিল্পী হিসেবে ধরা দিয়েছেন।

টিজার দেখে বোঝা গেছে, সিনেমাটির জন্য ওজন ঝরিয়েছেন শাকিব, চুলের কাটেও এসেছে বৈচিত্র্য। টিজারটিতে কয়েকটি লুকে দেখা গেছে শাকিবকে।

সেইসঙ্গে অ্যানিমেশন ভিডিওতে থাকা সেই গান ‘আমাকে উড়িয়ে দাও, আমাকে পুড়িয়ে দাও’ বেজেছে।

সিনেমায় শাকিবের দুই নায়িকা সাবিলা নূর ও তানজিয়া জামান মিথিলা। আজমান রুশো পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পাবে আসন্ন ঈদুল আজহায়।

সিনেমার সবগুলো গানের কথা ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি। সংগীত পরিচালনায় আছেন জাহিদ নিরব।

টিজারের শেষ জানানো হয়েছে, এটা শুধু জ্যামিং, আরও একটি টিজার আসছে।

সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ালো কাতার

মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ শেষের পথে এমন সব ধরনের এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে উদ্ভূত বিমান চলাচল সংকটের কথা বিবেচনা করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। 

এতে বলা হয়, যেসব ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে কিংবা শেষের পথে, সেগুলোর মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বাড়ানো হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই এবং কোনো বাড়তি আবেদন বা ফি-ও লাগবে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সেবা পাওয়া যাবে।

তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে যে, যাদের ভিসার মেয়াদ গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে শেষ হয়েছে এবং আইন ভঙ্গ করেছেন, তাদের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা দিতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে কাতারগামী অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী নিজ দেশে আটকা পড়েছেন। সময়মতো ফ্লাইট ধরতে না পারায় অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। কাতারের এই সিদ্ধান্তে তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি।

পদত্যাগ করলেন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী আজ বুধবার পদত্যাগ করেছেন। ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে সাজ্জাত আলী ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালে ষষ্ঠ বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন।

এদিকে গতকাল ১৫তম বিসিএসের কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই নিয়োগের পরদিনই ডিএমপি কমিশনারের পদত্যাগের খবর এলো।

সাজ্জাত আলী ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে পুলিশের বিভিন্ন সূত্র বলছে, আগামী নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসা এবং তার চেয়ে কনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চীনা বুলেট ট্রেনের নতুন রেকর্ড, ৫.৩ সেকেন্ডে গতি ৮০০ কিলোমিটার

চীনে একটি পরীক্ষামূলক বুলেট ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটারে উঠতে সময় লেগেছে মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ড, যা নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে নতুন এ রেকর্ডের তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ১ দশমিক ১ টন ওজনের পরীক্ষামূলক ট্রেনটি চীনের হুবেই প্রদেশে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ট্র্যাকে পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছানোর পর প্রায় ২০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে নিয়ন্ত্রিতভাবে এটিকে থামানো হয়।

ম্যাগনেটিক লেভিটেশন (ম্যাগলেভ) প্রযুক্তি বা চৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে ট্রেনটিকে ট্র্যাকের ওপর ভাসিয়ে রাখা হয়। এ কারণে চীনের এই বুলেট ট্রেন, ম্যাগলেভ ট্রেন নামেও পরিচিত।

 

এই ট্রেনের কোনো চাকা থাকে না, ফলে ঘর্ষণ হয় না এবং তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে ট্রেনটিকে সামনে এগিয়ে চলে।

China tests new bullet train that goes from 0 to 800 kmph in 5 SECONDS

It is a new maglev record pic.twitter.com/RUzneiBZ9s

— RTBreaking (@RT_Breaking) August 14, 2026

গবেষকরা জানান, ম্যাগলেভ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রেনকে ভাসিয়ে রাখা, গতি বাড়ানো, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ট্রেনকে সম্পূর্ণ থামানোর পরীক্ষা করছেন তারা।

এর আগে ২০২৫ সালের জুনে প্রথম এই ট্রেনটির পরীক্ষা করা হয়। সে সময় মাত্র ৭ সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল এটি।

এরপরের পরীক্ষাগুলোতে গতি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার এবং সর্বশেষ ৭৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল।

গত ছয় মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই ট্রেন স্বল্প দূরত্বে গতি বৃদ্ধির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে এই প্রযুক্তির ট্রেন এখনো যাত্রী পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়নি।

তবে আগামীতে উচ্চগতি ও উৎক্ষেপণ কাজে ম্যাগলেভ প্রযুক্তি ব্যবহারের আশা করছেন গবেষকরা।

কম চাপ বা প্রায় শূন্য চাপের টিউবের ভেতরে চলতে পারে এমন ম্যাগলেভ যান নিয়েও গবেষণা করছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, এ ধরনের ব্যবস্থা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে চালু করার আগে বেশ কিছু বড় বাধা পার হতে হবে।

এর মধ্যে রয়েছে—অবকাঠামো নির্মাণের বিপুল ব্যয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘ দূরত্বে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ট্র্যাক নির্মাণের জটিলতা।

দশজনের দল নিয়ে ঘটনাবহুল ‘থ্রিলার’ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

দুই পেনাল্টি, লাল কার্ড, একের পর এক উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে এক অবিশ্বাস্য, শ্বাসরুদ্ধকর ফুটবল ম্যাচের সাক্ষী হলো মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়াম। স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও রোমাঞ্চকর জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড।

সোমবার বাংলাদেশ সময় সকালে শুরু হওয়া ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতেছে ৩-২ গোলে। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান হ্যারি কেইন। মেক্সিকোর দুই গোলদাতা হুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেজ। 

ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারির গর্জন কান পাতাই দায় করে তুলেছিল। তবে খেলার ধারার বিপরীতে প্রথমার্ধের ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে বেলিংহামের ব্যাক-টু-ব্যাক দুই গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই গোল করে ২৩ বছর বয়সী বেলিংহাম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বকনিষ্ঠ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে জোড়া গোলের রেকর্ড গড়েন। ৪২ মিনিটে গ্যালারিতে প্রাণ ফেরান মেক্সিকোর কিনোনেস, ক্লোজ রেঞ্জ থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। ৫৩ মিনিটে মেক্সিকোর গ্যালার্দোকে বিপজ্জনক ফাউল করায় ভিএআরে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ানসা। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ড অবশ্য দমে যায়নি। ৫৮ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। সফল স্পট-কিকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

তবে মেক্সিকোর আক্রমণভাগের চাপ ছিল দেখার মতো। ৬৯ মিনিটে বক্সের ভেতর কেইনের ফাউল দেখে আবার ভিএআরে আসে পেনাল্টি। সেকান থেকে মেক্সিকোর স্ট্রাইকার হিমেনেস গোল করলে ম্যাচ আবার জমে ওঠে (৩-২)। শেষ ১৫ মিনিটে ডিফেন্ডার ড্যান বার্নকে নামিয়ে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষ দিকে যোগ করা হয় রেকর্ড ১১ মিনিট।

যোগ করা সময়ে মেক্সিকোর গোলরক্ষক পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ডি-বক্সে চলে আসেন। মেক্সিকোর একের পর এক কর্নার ও আক্রমণ রুখে দেন জন স্টোনস ও গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। শেষ পর্যন্ত রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে আসতেকার মাঠেই ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।

 

পাকিস্তানপন্থীদের মন্ত্রী-এমপি করেছে বিএনপি, ক্ষমা চাইব কেন: গোলাম পরওয়ার

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন ব্যক্তিকে মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী করেছিল। তাই এ বিষয়ে জবাব বিএনপিকেই দিতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

গত রোববার জাতীয় সংসদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার জন্য জামায়াতকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। 

মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। ক্ষমা আপনার বাবাকে কবর থেকে চাইতে বলেন। কারণ আমরা অপরাধ করি নাই, ক্ষমা চাইব কেন? আপনার বাবা অপরাধী, এই অভিযোগ আছে। সুতরাং কথা সতর্কভাবে বলা উচিত।’

একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে আনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা বলে জামায়াতের ওপরে ভূত চেপেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার আর সরকারি দলের ওপরে ভূত চেপেছে। বিএনপি মহাসচিবের মাথায়ও মাঝে মাঝে ভূত চাপে। কিছুদিন গেলেই ৫০-৬০ বছরের পুরোনো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়কে সামনে এনে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেন।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেই পাকিস্তান আমলে সেই সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক রাজনৈতিক দল ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচার জন্য কী ভূমিকা পালন করেছিল, সেই দলের সে সময়কার নেতৃবৃন্দ তার ব্যাখ্যা, তার বক্তব্য জাতির সামনে তারাই তখন দিয়েছিল। তারা এখন অনেকেই দুনিয়াতে নেই। সেই ব্যাখ্যা কারও পছন্দ হতে পারে, না–ও হতে পারে, সেটা রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে।’

বিএনপির সঙ্গে অতীতের জোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এখন যে প্রশ্ন বিএনপি তুলছে, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সময় তাদের সেই অবস্থান কোথায় ছিল? খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয়, ১৮-দলীয় ও ২০-দলীয় জোটে প্রায় ২০-২২ বছর বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে রাজনীতি করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় গোলাম আযমের বাসায় বিএনপি নেতারা জামায়াতের সমর্থন চাইতে গিয়েছিলেন। চারদলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা একসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন, লংমার্চ করেছেন। তখন একাত্তরের প্রশ্ন তাদের মনে ছিল না।’

১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে জামায়াতের সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ক্ষমতায় গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যা শুরু করেছিল ছাত্রদল। এটাই কি বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিদান?’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘যখনই জামায়াতকে মোকাবিলা করার যুক্তি ও নৈতিকতা থাকে না, তখন পুরোনো কাসুন্দি টেনে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। জামায়াতের বিরুদ্ধে যৌক্তিক সমালোচনার কিছু না পেয়ে পুরোনো মীমাংসিত বিষয় বারবার সামনে আনা হচ্ছে। তবে তারা যে আশায় এগুলো করছে, সেই আশা পূরণ হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দু–একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের সংবাদপত্র সরাসরি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এমনভাবে প্রতিবেদন তৈরি করছে, যাতে মনে হয় তারা রাজনৈতিক দলের মুখপত্রের ভূমিকা পালন করছে। তারা যদি বিএনপির রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়ে থাকে, তাহলে সেটি ঘোষণা দেওয়া উচিত।’

ফ্যাসিবাদ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এসব সংবাদপত্র তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তার ভাষ্য, সে সময় তারা নির্লজ্জভাবে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করে তারা রূপ পরিবর্তন করে ফেলেছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘অতীতে বিভাজনের রাজনীতির কারণে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। আবার বর্তমান সরকার নেপথ্যে থেকে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে।’