28.1 C
Dhaka
Home Blog

মহাকাশে চিনির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা!

বিজ্ঞানীরা বহু দশক ধরে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। সেই দীর্ঘ অনুসন্ধানে এবার যোগ হলো এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। পৃথিবী থেকে হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরের মহাশূন্যে প্রথমবারের মতো পাওয়া গেছে একটি প্রাকৃতিক শর্করা (চিনি), যার নাম এরিথ্রুলোজ। গবেষকদের ধারণা, এই ছোট্ট অণুই হয়তো বহন করে এনেছে পৃথিবীতে জীবনের সূচনার এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

এরিথ্রুলোজ আমাদের কাছে একেবারে অপরিচিত কোনো পদার্থ নয়। এটি পৃথিবীতে রাস্পবেরি ফলের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়। এমনকি কৃত্রিম ট্যানিং (ফেক ট্যান) প্রসাধনীতেও এটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু একই শর্করা যে পৃথিবীর বাইরেও, নক্ষত্রের মাঝের বিশাল মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছে এমন ধারণা কয়েক বছর আগেও বিজ্ঞানীদের কাছে অকল্পনীয় ছিল।

সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত জি+০.৬৯৩−০.০২৭ নামের একটি বিশাল আণবিক মেঘে এই শর্করার উপস্থিতি শনাক্ত করেন। অত্যন্ত সংবেদনশীল দুটি রেডিও টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করে তারা এর রাসায়নিক উপস্থিতি খুঁজে পান। পরে পরীক্ষাগারের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি সত্যিই এরিথ্রুলোজ।

জীবনের মৌলিক উপাদানগুলোর মধ্যে শর্করার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেহের প্রতিটি কোষে থাকা ডিএনএ ও আরএনএর গঠন এবং বিভিন্ন জৈব প্রক্রিয়ায় শর্করার অবদান অপরিহার্য। সহজভাবে বললে, জীবন গঠনে যেসব উপাদান প্রয়োজন, শর্করা তাদের অন্যতম ভিত্তি।

তবে একটি প্রশ্ন বহুদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে, এই শর্করাগুলো প্রথম তৈরি হলো কীভাবে?

পৃথিবীতে প্রাণের জন্মের আগের পরিবেশ অনুকরণ করে গবেষণাগারে নানা পরীক্ষা চালানো হয়েছে। কিন্তু সেই পরীক্ষাগুলোতে স্বাভাবিকভাবে এমন জটিল শর্করা তৈরি করা যায়নি। ফলে জীবনের কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান পৃথিবীতে তৈরি হয়নি, এসেছে মহাশূন্য থেকেই এমন ধারণা আরও জোরালো হতে থাকে।

এর আগে উল্কাপিণ্ড ও গ্রহাণুর নমুনায় বিভিন্ন ধরনের শর্করার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এসব পদার্থ সৌরজগত গঠনের সময়কার আদিম আণবিক মেঘ থেকেই এসেছে। কিন্তু নক্ষত্রগুলোর মাঝখানের বিশাল আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে সরাসরি এমন কোনো শর্করার অস্তিত্ব আগে শনাক্ত করা যায়নি।

নতুন এই আবিষ্কার সেই শূন্যস্থান পূরণ করল। অর্থাৎ, জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জটিল অণু নক্ষত্রের জন্মের আগেই মহাশূন্যে তৈরি হতে পারে, এই আবিষ্কারের মাধ্যমে এমন ধারণা এখন আরও শক্ত ভিত্তি পেল।

গবেষণার আরেকটি দিক বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।

সাধারণ ধারণা ছিল, মহাশূন্যে অণুগুলো ধীরে ধীরে একটি করে কার্বন পরমাণু যুক্ত করে বড় হয়। সে ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত সহজ, তিন-কার্বনের শর্করা আগে পাওয়া যাওয়ার কথা। কিন্তু গবেষকেরা দেখলেন উল্টো ঘটনা, তিন-কার্বনের শর্করার কোনো প্রমাণই মেলেনি, বরং আরও জটিল চার-কার্বনের এরিথ্রুলোজই পাওয়া গেছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ইজাসকুন জিমেনেজ সেরা বলেন, এই ফলাফল প্রচলিত ধারণাকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। অর্থাৎ মহাশূন্যে জটিল জৈব অণু তৈরির প্রক্রিয়া হয়তো আমাদের কল্পনার চেয়েও ভিন্ন।

পৃথিবীর ইতিহাসে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে একটি সময়কে বলা হয় লেট হেভি বোম্বারডমেন্ট। তখন অসংখ্য গ্রহাণু ও ধূমকেতু পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। বিজ্ঞানীদের নতুন হিসাব বলছে, সেই সময় মহাকাশ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ থেকে পাঁচ কোটি টন এরিথ্রুলোজ পৃথিবীতে আসতে পারে।

যদি সত্যিই এমন হয়ে থাকে, তবে সেই শর্করা হয়তো আদিম পৃথিবীর রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল। কোটি কোটি বছর পরে যার ফল হিসেবে জন্ম নিয়েছে প্রাণের প্রথম রূপ। অবশ্য এটি এখনো একটি বৈজ্ঞানিক অনুমান। 

এই গবেষণার গুরুত্ব শুধু পৃথিবীর অতীত বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যদি মহাশূন্যে স্বাভাবিকভাবে এমন জটিল শর্করা তৈরি হতে পারে, তবে অন্য নক্ষত্রের চারপাশে গড়ে ওঠা গ্রহেও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান পৌঁছে যেতে পারে।
অর্থাৎ, মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব হয়তো আমাদের ধারণার চেয়েও স্বাভাবিক কোনো বিষয় হতে পারে।

সূত্র: ন্যাচার অ্যাস্ট্রোনমি, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

ভূমিকম্পে পা হারানো ক্ষুদে ভক্তের ইচ্ছাপূরণ রোনালদোর

ভেনেজুয়েলায় একাধিক প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে আড়াই হাজার। আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তাদেরই একজন আন্দ্রেস মিয়েলেস। এক পা হারিয়ে হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার লড়াইয়ে আছে ছোট্ট এই শিশু। আহত মিয়েলেস সরল মনে একটি ইচ্ছা পোষণ করেছিল, প্রিয় ফুটবলার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অফিশিয়াল স্টিকার পাওয়ার আবদার। ক্ষুদে ভক্তের এই আবদার পূরণ করেছেন রোনালদো।

মিয়েলেসের এই ভালোবাসা মাখানো ইচ্ছার কথা পৌঁছেছিল রোনালদোর কাছে। চরম দুঃসময়ে ছোট এই ভক্তের মুখে হাসি ফোটাতে রোনালদো পর্তুগালের জার্সি পরে একটি ভিডিও বানিয়েছেন। সেই ভিডিওতে মিয়েলেসকে নিজের একটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রোনালদো। 

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক ভিডিওতে রোনালদোকে বলতে দেখা গেছে, ‘হাই আন্দ্রেস, কেমন আছো? আমি এই ভিডিও বানাচ্ছি তোমাকে একটি আলিঙ্গন পৌঁছে দিতে। আমি জানি তুমি আমার বড় ভক্ত, আমি প্রার্থনা করছি তুমি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো। আমি তোমাকে আমার একটি ম্যাচে আমন্ত্রণ জানাতে চাই, যেন আমরা একসাথে ম্যাচটি উপভোগ করতে পারি। তোমার সাথে দেখা করতে তর সইছে না। ধৈর্য রেখো, বন্ধু’। 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ছোট্ট মিয়েলেসের আবদার অনুযায়ী রোনালদোর অফিশিয়াল স্টিকার এরই মধ্যে তার কাছে পৌঁছে গেছে। রোনালদোর সই করা একটি জার্সিও মিয়েলেসের কাছে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মোবাইলে যখন রোনালদোর ভিডিও বার্তা দেখছিল মিয়েলেস, তখন তার প্রাণোচ্ছল হাসি উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

 

২৩ জুন পুলিশ সতর্ক অবস্থায় থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগামী ২৩ জুন (সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে) রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সারা দেশে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহসিকতা ও জনহিতকর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ চারটি বিশেষ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের ১৫ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার, সনদ ও আর্থিক সম্মানী দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওই দিনটিকে কেন্দ্র করে তারা দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে পারে বলে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ সর্বদা তৎপর এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে ইউএই ফেডারেল পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আইনি পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিন সময় দিয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১৪৪ পৃষ্ঠার সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত ও অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে।

বর্তমান সরকারের কাজের গতি বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুততর বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।

মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অপরাধ প্রবণতা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকা রাতারাতি অপরাধমুক্ত করা সম্ভব না হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করে অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।

বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের স্বচ্ছতার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের সাবেক কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আইনি ও বিভাগীয় বিধিমালা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন।

অন্যদিকে, সম্প্রতি চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তদন্ত সম্পন্ন করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কনস্টেবল, উপপরিদর্শক এবং ওসির বিরুদ্ধে প্রত্যাহার ও সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মোংলায় কোস্টগার্ড ও স্থানীয়দের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যু দমনে কোস্টগার্ড স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিজার (এসওপি) অনুযায়ী কাজ করছে। চিহ্নিত ডাকাত মিরাজের অনুসারীরা কোস্টগার্ডের ওপর হামলা চালালে কোস্টগার্ড আত্মরক্ষার্থে ব্যবস্থা নেয় এবং বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রোববার থেকে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটে যাচ্ছেন বেনাপোল বন্দরের শ্রমিকরা

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের শ্রমিকরা রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেওয়া ঠিকাদার গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তি করেননি, সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখেননি। বাধ্য হয়ে তারা ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন।

শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানালেও ফল হয়নি।

বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন ও বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন গতকাল এই দুটি সংগঠনের নেতারা পরিচালকের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন।

বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মকছুদুর রহমান রিন্টু ও বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, অতীতেও কয়েকবার এ ধরনের ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে স্থগিত করা হয়।

দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সমাধান না হওয়ায় রোববার থেকে বন্দরের শ্রমিকরা পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবি সংবলিত আবেদনটি ইতোমধ্যে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

‘আমরা আশা করছি, দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত আসবে এবং সমস্যার সমাধান হবে,’ যোগ করেন তিনি।

বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম, যেভাবে বাজারে আসছে ১৬ কোটি ব্যারেল তেল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি সুপার ট্যাঙ্কার। বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম দেড় থেকে দুই শতাংশ কমেছে এবং ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই দাম সর্বনিম্ন।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে বিশ্ববাজারে সব মিলিয়ে ১৬ কোটি ব্যারলের বেশি তেল সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে আগামী কয়েক মাস তেলের দাম নিম্নমুখী থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে কী প্রভাব পড়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে হরমুজ পার হওয়া সৌদি পতাকাবাহী তিনটি সুপার ট্যাঙ্কারে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে।

জাহাজ পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের বরাতে রয়টার্স জানায়, হরমুজে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। কারণ, সমুদ্রে পাতা মাইন এখনো পুরোপুরি অপসারণ করা হয়নি, তবে কাজ চলছে।

পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করতে শুরু করেছে তেল ও পণ্যবাহী জাহাজগুলো। একইসঙ্গে হরমুজ দিয়ে চলাচলের প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর নিরাপত্তাজনিত কারণে হরমুজসহ পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত বিভিন্ন জাহাজ তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখত। এই যন্ত্র মূলত সাগরে জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয়। সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে যাওয়ায় ট্রান্সপন্ডার চালু করছে জাহাজগুলো।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এই প্রথম বিশ্ববাজারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে তেলের দাম।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ৫৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ৭৫ দশমিক ৩১ ডলারে নেমেছে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। একইসঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা চলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা কয়েক কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে প্রবেশ করবে। ফলে সরবরাহ বেড়ে তেলের দাম কমবে বলে ধারণা তাদের।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ ও জ্বালানি বাজার বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ খুললে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে আসতে পারে। আর ইরানের তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে আরও প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল বিশ্ববাজারে যুক্ত হতে পারে।

ক্লেপলারের সিনিয়র জ্বালানি বিশ্লেষক মুইউ শু বলেন, ‘সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্ত হতে পারে আন্তর্জাতিক বাজারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি তেলের সরবরাহ বাড়তে থাকবে।’

তবে সরবরাহ বাড়লেও তেলের দাম খুব দ্রুত কমবে না বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, এশিয়ার বেশিরভাগ শোধনাগার জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তেল আগেই কিনে ফেলেছে।

এ ছাড়া, সম্প্রতি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ব্যবহারকারী দেশ চীন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের বেশ কয়েকটি বড় বড় তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে। এ সময়ের মধ্যে দেশটি তেল আমদানি না-ও করতে পারে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ।

লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টসের তথ্য মতে, জুলাইয়ে দৈনিক প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধন বন্ধ রাখবে চীন। পাশাপাশি দেশটিতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধির কারণেও জ্বালানি তেলের চাহিদা কমছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল রপ্তানি যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে পারে এবং অক্টোবরের মধ্যে উৎপাদনও স্বাভাবিক হতে পারে।

তবে ফ্রান্সের ব্যাংক ন্যাশনাল ডি প্যারিস পারিবা’র (বিএনপি পারিবা) মতে, ঘাটতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে শিগগির ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ৭৫ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা কম।

তবে দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এশিয়ার দেশগুলো আবারো ওই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বক্স অফিসের শীর্ষে ‘মাইকেল’

কিংবদন্তি পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ মুক্তি পেয়েই বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে। মুক্তির কয়েকদিনেই সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ২১৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। 

ভ্যারাইটি তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বায়োপিক সিনেমার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সর্বকালের সেরা ওপেনিং ‘মাইকেল’ সিনেমার। এর আগে ২০১৫ সালের ‘স্ট্রেট আউটা কম্পটন’ (৬০ মিলিয়ন ডলার) এবং ২০১৮ সালের ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’ (৫১ মিলিয়ন ডলার) যে রেকর্ড গড়েছিল, ‘মাইকেল’ সেগুলোকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে। 

চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে আয়ের দিক থেকে এটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

চলচ্চিত্র সমালোচকরা ‘মাইকেল’ নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট না হলেও সাধারণ দর্শকরা এটি দারুণভাবে পছন্দ করেছেন।

অ্যান্টনি ফুকোয়া পরিচালিত ‘মাইকেল’ সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের ছোটবেলা থেকে বিশ্বসেরা তারকা হয়ে ওঠার গল্প দেখানো হয়েছে। 

মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসন।

প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করেছে লায়ন্সগেট, ইউনিভার্সাল ও মাইকেল জ্যাকসন এস্টেট।

সমালোচকদের মতে, জ্যাকসনের জীবনের অনেক বিষয় সিনেমার গল্পে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। 

মূলত আইনি জটিলতার কারণে চিত্রনাট্যে কিছু পরিবর্তন এনে ১৯৮৮ সালের ‘ব্যাড’ ট্যুর পর্যন্ত কাহিনি রাখা হয়েছে।

কুয়েতে কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

উপসাগরীয় অঞ্চলে তৃতীয় দিনের মতো ইরানের হামলা চলার মধ্যে কুয়েতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে উড়োজাহাজগুলোতে থাকা আরোহীরা বেঁচে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, আজ সোমবার সকালে বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বিধ্বস্ত বিমানে থাকা সমস্ত আরোহী বেঁচে আছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ক্রু সদস্যদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিনিধি।

 

 

বাধ্যতামূলক অবসর থেকে ফিরে আইজিপি আলী হোসেন ফকির

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। 

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে।

এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের সই করা প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে তিনি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য আলী হোসেন ফকিরের জন্ম ১৯৬৮ সালের ৫ এপ্রিল বাগেরহাটে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে বি. কম অনার্স, এম. কম এবং এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৯৫ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি ডিআইজি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ডিআইজি এসপিবিএন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এছাড়া, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার, নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলায় পুলিশ সুপার, কমান্ড্যান্ট আরআরএফ সিলেট এবং অধিনায়ক হিসেবে ৩ এপিবিএন খুলনা, ৫ এপিবিএন ঢাকা, ৭ এপিবিএন সিলেটে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ পুলিশের হয়ে কসোভো ও আইভরি কোস্ট জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশিক্ষণ ও সরকারি কাজে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন দেশেও ভ্রমণ করেন আলী হোসেন ফকির।

বর্তমানে তিনি পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৫তম বিসিএস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ১৫তম বিসিএস পুলিশ ফোরামের আহ্বায়ক, খুলনা ক্লাব এবং ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সদস্য। এছাড়া, এপিবিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকার সভাপতি, বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবল ক্লাবের সভাপতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন নতুন আইজিপি।

ক্ষমতাবানদের হাসপাতাল আলাদা কেন?

বাংলাদেশে একটি দৃশ্য বারবার ফিরে আসে। কোনো মন্ত্রী, স্পিকার, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ আমলা কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অসুস্থ হলেই খবর আসে, তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, ভারত বা অন্য কোনো দেশে গেছেন।

কয়েকদিন আগে খবর এলো, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গেছেন। অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব খবর আর মানুষের ভাবান্তর ঘটায় না। বরং আমরা ধরে নিয়েছি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চিকিৎসার ঠিকানা দেশের হাসপাতাল নয়, বিদেশ।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন?

উত্তরটি সবাই জানে, যদিও খুব কম মানুষই প্রকাশ্যে বলতে চান। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো দীর্ঘদিন ধরেই শয্যা সংকট, চিকিৎসক সংকট, অব্যবস্থাপনা, যন্ত্রপাতির অভাব এবং সেবার মান নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে। সামর্থ্যবান মানুষ বেসরকারি হাসপাতাল বা বিদেশে চিকিৎসা নেন। আর যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তারা বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান।

কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘এ দেশ থেকে বহু মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। এর ফলে প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার খরচে। দেশের মানুষের চিকিৎসা আমরা কেন দেশে করাতে পারব না? আমরা কেন মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারব না? এটা আইন প্রয়োগ করে হবে না। কেবল চিকিৎসকরাই পারবেন তাদের মানবিক এপ্রোচ আর সঠিক চিকিৎসা দানের মাধ্যমে দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস সম্পূর্ণ ফিরিয়ে আনতে। তাই চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান থাকবে রোগীর আস্থা অর্জনে আরও মানবিক হোন।’ (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ১১ জুলাই ২০২৬)

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, সেটি হলো মানুষের আস্থা। কিন্তু আস্থা কি শুধু চিকিৎসকের মানবিক আচরণে তৈরি হয়? একজন রোগী যখন হাসপাতালে গিয়ে শয্যা পান না, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক খুঁজে পান না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন কিংবা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বাইরে করাতে বাধ্য হন, তখন তার আস্থা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। আবার যখন তিনি দেখেন দেশের নীতিনির্ধারকেরা নিজেরাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন, তখন সেই আস্থা আরও ভেঙে পড়ে।

দেশের ৫৯টি জেলা হাসপাতালে ২০২৪ সালে গড় শয্যা ব্যবহার হার ছিল ১৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে ১৭৮ জন রোগীকে। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর গড় শয্যা ব্যবহার হার ছিল ১৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ হাসপাতালগুলো ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগীর চাপ সামলাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব, সেটি সহজেই অনুমান করা যায়। (দ্য ডেইলি স্টার, ২৬ জুলাই ২০২৬)

শুধু শয্যা সংকটই নয়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত চিকিৎসক পদের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও শূন্য। সংখ্যায় যা ৯ হাজার ৪০৭টি পদ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু শয্যা বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুফল রোগীরা পাবেন না। অথচ সরকার দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু জনবল ছাড়া বড় ভবন কখনোই ভালো স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। (দ্য ডেইলি স্টার, ২২ জুলাই ২০২৬)

এই বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ আমলা ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য কি দেশে যে চিকিৎসা সম্ভব, সেই চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়ার ওপর একটি কঠোর নীতিমালা বা আইন থাকা উচিত?

অনেকে বলতে পারেন, বাংলাদেশে তো অনেক আইনই আছে, সেগুলো ঠিকমতো মানা হয় না। তাহলে নতুন আইন করে কী হবে?

প্রশ্নটি যৌক্তিক। কিন্তু এখানে আইনের উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। আজ কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিদেশে চিকিৎসা নিতে চাইলে তাকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হয় না। অথচ একটি নীতিমালা থাকলে তাকে দেখাতে হবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাটি দেশে সম্ভব নয়। সেই সিদ্ধান্ত একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড নিতে পারে। অর্থাৎ দেশে যে চিকিৎসা সম্ভব, শুধু সেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হবে। আর দেশে যে চিকিৎসা নেই, সেখানে অবশ্যই ব্যতিক্রমের সুযোগ থাকবে।

আইনের শক্তি শুধু শাস্তি দেওয়ায় নয়, আচরণ পরিবর্তনের পথ তৈরি করায়। একসময় সিটবেল্ট ব্যবহার, কিংবা মোটরসাইকেলে হেলমেট পরার নিয়মও নতুন ছিল। প্রথম দিকে অনেকেই মানতে চাননি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সামাজিক আচরণের অংশ হয়ে উঠেছে। একইভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রেও একটি জবাবদিহিমূলক নীতিমালা ধীরে ধীরে নতুন সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, যে ব্যক্তি স্বাস্থ্যখাতের বাজেট অনুমোদন করবেন, হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেবেন কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থার সংস্কার করবেন, তিনি যদি নিজেই জানেন যে প্রয়োজনে তাকেও এই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হবে, তাহলে হাসপাতালের মান উন্নয়নে তার আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। কারণ তখন স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা আর শুধু জনগণের সমস্যা থাকবে না, সেটি তার নিজের সমস্যাও হয়ে দাঁড়াবে।

অবশ্য শুধু আইন করলেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়ে যাবে—এমন দাবি করা বাস্তবসম্মত নয়। হাসপাতাল উন্নত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। কিন্তু নীতিনির্ধারকেরা যখন নিজেরাও সেখানে যাবেন, তখন এসব পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক চাপ এবং জনদাবি দুটোই অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে ব্যয় করেন। এর একটি বড় অংশ যদি দেশের হাসপাতালগুলোতেই ব্যয় হতো, তাহলে দেশের স্বাস্থ্যখাতও আরও শক্তিশালী হতো। কিন্তু সেই আস্থা তৈরি করতে হলে শুধু চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রকেও উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

জনগণের প্রতিনিধি যদি জনগণের মতোই একই হাসপাতালের সেবা নেন, তাহলে হাসপাতালের সমস্যাগুলো আর কাগজের প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেগুলো নীতিনির্ধারকদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। আর ইতিহাস বলে, যেসব সমস্যার মুখোমুখি ক্ষমতাবানরা নিজেরা হন, সেসব সমস্যার সমাধানই সবচেয়ে দ্রুত হয়।

তাই বিদেশে চিকিৎসা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি নয়, বরং দেশে সম্ভব এমন চিকিৎসার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক নীতিমালা প্রণয়নের সময় এসেছে। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু কথায় নয়, কাজে দেখাতে হবে যে দেশের হাসপাতাল জনগণের জন্য যেমন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মানুষের জন্যও তেমনই।

মো. আব্বাস: করপোরেট কমিউনিকেশনসে কর্মরত।
[email protected]

‘কীভাবে রুক্ষ পরিস্থিতি সামলাতে হয় সেটাই দেখিয়েছি’, ম্যাচ জিতে বললেন এমবাপে

শনিবার ফিলাডেলফিয়ার প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচের ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপে। এই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাতে এবং বিশ্বকাপে তার মোট গোল হলো ১৯টি।

তবে ম্যাচের শেষদিকে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা অনবরত উসকানি ও স্লেজিং করে ম্যাচটিকে বেশ উত্তপ্ত করে তোলে। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সেই আচরণের জবাব দিয়ে ফরাসি অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা জানতাম আমাদের কেমন ম্যাচের মুখোমুখি হতে হবে, তবে আমি মনে করি আজকের দিনটি সত্যিই খুব ভালো গেছে।’

প্যারাগুয়ের রুক্ষ খেলার ধরন নিয়ে এমবাপে আরও বলেন, ‘তারা ভেবেছিল আমরা টাক্সিডো পরে মাঠে নামব, যেন আমরা কেবল কিছু চমৎকার নৈপুণ্য দেখাতে এসেছি। তবে আমরা কঠিন ও রুক্ষ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে কীভাবে খেলতে হয় তাও জানি। আজ আমরা সেটাই করেছি; আমরা জিতেছি, এমনকি সেই দিক থেকেও আমরা তাদের চেয়ে ভালো ছিলাম।’

রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড যোগ করেন, এই ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে ফ্রান্স শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলে না, পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতেও জানে। তার ভাষায়, ‘যদি আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, আমরা তা-ই করব। কথাটির জন্য দুঃখিত, তবে এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’

পুরো ম্যাচ জুড়েই মাঠের পরিবেশ ছিল বেশ বিশৃঙ্খল। এমনকি এমবাপে যখন পেনাল্টি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা স্পটের মাটি খুঁড়ে নষ্ট করার চেষ্টাও করেন। তবে সেসবকে পাত্তা না দিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন এই তারকা।

প্যারাগুয়ের খেলার কৌশল নিয়ে ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেন, ‘ওটা তাদের ফুটবল, ওটাই তাদের খেলার ধরন। সবাই তাদের শক্তি অনুযায়ী খেলে; ফুটবলে ভালো বা মন্দ বলে কোনো খেলার ধরন নেই। খেলার একটাই পথ আছে, আর তা হলো জয়ী হওয়া। তারা ওই উপায়ে আমাদের ওপর চড়াও হতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা সেই দিক থেকেও তাদের চেয়ে এগিয়ে গেছি। এখন আমরা পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাচ্ছি।’

আগামী শুক্রবার বোস্টনে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ২০২২ সালের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে যাওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে এমবাপে বলেন, ‘আমরা জানি তারা খুব ভালো একটি দল। এবং আমরা তাদের বিরুদ্ধে খেলার জন্য সত্যিই মুখিয়ে আছি। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দেব।’