31 C
Dhaka
Home Blog

চেতনা বিক্রির ব্যবসা ভালো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাইয়ের চেতনা যারা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি ভবিষ্যতে দেখা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সংগঠন করে, রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য চেতনা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে। ইতিহাস কিন্তু তাই।’

‘যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করতো, তারা চেতনা বিক্রি করতে করতে আজকে দিল্লি যেয়ে বসে আছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে উৎখাত করেছে। সুতরাং চেতনা বিক্রির ব্যবসা ভালো নয়। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার উদ্দেশ্য ভালো নয়,’ যোগ করেন তিনি।

আজ শনিবার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই চব্বিশ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এর আয়োজন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংগঠন দুটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন আমরা কেউ ব্যবসা না করি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনাগতকালে, ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্মরা যেন দেখে স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদের পতন কীভাবে হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী-স্বৈরাচারী আচরণ যেন ভবিষ্যতের কোনো সরকার না করে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ভস্মের ওপরে দাঁড়িয়ে আমরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পেয়েছি, জনগণ দিয়েছে। সেই ভস্মের মধ্যে কিছু নেই! সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ফোকলা অবস্থা। ব্যাংকিং খাত লুটপাট হয়ে গেছে। ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। দাবি আমাদের অনেক, জাতির প্রত্যাশা অনেক, আকাশ ছোঁয়া কিন্তু আমাদেরকে বাস্তবতায় আসতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি কোথায়? আমাদের নেতা যে পরিকল্পনা করেছেন, আমরা যে বাজেট দিয়েছি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সেই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্যে কী আছে? এই সমস্ত সামাজিক নিরাপত্তা খাতগুলো আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে সমস্ত বিষয় সমাধান করতে চাই, সেই বিষয়গুলো যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই, তাহলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে।’

‘আমরা শুধু চাই চাই আর চাই করতে পারবো না। আমাদের পরিকল্পনা আছে, কিন্তু সেই আর্থিক সামর্থ্য অর্জন করার জন্য আমাদেরকে সময় দিতে হবে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নেতৃত্বের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ‘পর্দার আড়ালের কথা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার নেতা তারেক রহমান—দুইজনেই আমরা নির্বাসিত ছিলাম। আল্লাহর কী মহিমা! যদি আমরা নির্বাসিত না থাকতাম, হয়তো এই জুলাইয়ের মতো একটা অভ্যুত্থান সফলভাবে সমাপ্ত করা সম্ভব হতো না। এটাই হচ্ছে পর্দা অন্তরালের কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনোদিন আমরা ঘুমাইনি। ২৪টা ঘণ্টা সমন্বয় করে আমাদের নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্নভাবে সংগঠিত করে, এই জুলাই যোদ্ধাদের সম্মুখে রেখে অরাজনৈতিক পরিচয়ে এই আন্দোলনের একটা পর্যায় পর্যন্ত আমরা নিয়ে এসেছি।’

‘৩-৪ তারিখে আমরা যখন নৈতিক সমর্থন দেই, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে যেদিন আমরা ১৬ জুলাই পর্যন্ত পৌঁছালাম, সেদিন আমার নেতা বলেছেন—দফা এক, দাবি এক, স্বৈরাচারের পদত্যাগ। অন্য কোনোভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে না। আজকে যারা জুলাই যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দাবি করেন, তাদের অনেকেই সেদিন বলেছিল, আমাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি নাই। আমাদের দাবি বৈষম্যহীন এই ছাত্র আন্দোলনের দাবি, বৈষম্য দূর করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা জানি, স্বৈরাচারকে গদিতে রেখে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাদেরকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, কিন্তু তাদের সেই সাহস ছিল না। আমরা রাজনৈতিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে শত-সহস্র শহীদের রক্তের স্রোতের মধ্য দিয়ে আমরা এই জায়গায় এসেছি আজকে। এই বাংলাদেশ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। এই মানচিত্র রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা বিজয় অর্জন করেছি ৫ আগস্ট। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয় যদি বিভাজন করি, তাহলে সর্ববৃহৎ অংশটি থাকবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের-যুবদলের-বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের রিপোর্টে এক হাজার ৪০০ (প্রাণহানির) এর কথা বলা আছে, কিন্তু অফিশিয়ালি বিভিন্ন পত্রিকা ও জরিপে ৭০০ থেকে ৮০০ এর মতো খতিয়ান পাওয়া যায়। বাকিগুলো গেল কোথায়? কারণ শহীদের খতিয়ান হসপিটাল রক্ষা করতে পারে নাই। তাদের ডকুমেন্ট পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে দাফন করা হয়েছে যেন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে। আজকে স্বজনরা তার কবরের সন্ধান করে, আমরা দিতে পারি না। এ রকম একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরে, গণহত্যার পরে আজও পর্যন্ত সেই গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার কোনো রকমের অনুশোচনা নাই। তারা জুলাই যোদ্ধাদেরকে অপরাধী হিসেবে তকমা দিচ্ছে। বাংলাদেশের এই গণঅভ্যুত্থানকে তারা একটা জঙ্গি তকমা দিচ্ছে। বাংলাদেশে নাকি জঙ্গিবাদের মধ্য দিয়ে তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই।’

‘তাদের মধ্যে অনুশোচনাও নেই, দোষ স্বীকারের সেই অবস্থাও তাদের নেই। সেই ইতিহাসই তাদের নেই। তারা উল্টো বিদেশে বসে বাংলাদেশে এখন নাকি গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিপাত হয়েছে, নির্মূল হয়েছে। দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। সেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেছি আমরা। আপনারা দাবি করেছেন, তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ খুব শিগগির রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে,’ যোগ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইন সংশোধন করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আছে, আইসিটি অ্যাক্টে আছে, রাজনৈতিক দলের-সংগঠনের বিচার করা যাবে। সুতরাং অপেক্ষা করুন।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘শফিউল আলম শফী আমার প্রতিবেশী, আমার গ্রামের…তার সন্তান শহীদ ওয়াসিম আকরাম। তাকে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ বলা হলেও যদি সময়ের দিক বিবেচনা করা হয়, আবু সাঈদের সাময়িক সময়ে সে শাহাদত বরণ করেছে।’

শিলংয়ে দেখা করার স্মৃতিচারণ করেন সালাহউদ্দিন।

সামাজিকমাধ্যমে মৃত্যুর গুজব, শক্তি কাপুর বললেন ‘আমি সুস্থ আছি’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শক্তি কাপুরের মৃত্যুর গুজব ছড়ায়। পরে অভিনেতা নিজেই এক ভিডিও বার্তায় জানান, ‘আমি পুরোপুরি সুস্থ আছি, ভালো আছি’।

আজ শুক্রবার বলিউড লাইফের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ভিডিওতে তিনি ভুয়া খবর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এ ধরনের গুজব দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ছড়ানো উচিত নয়।

এ ঘটনাকে তিনি ‘বিরক্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যারা এই ভুয়া খবর ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

ভিডিওতে শক্তি কাপুর বলেন, ‘হ্যালো সবাই, আমার মৃত্যুর খবর পুরোপুরি ভুয়া। আমি সুস্থ আছি, ভালো আছি। দয়া করে এসব খবরে পাত্তা দেবেন না। আমি এ ব্যাপারে অভিযোগ করব। এটা মোটেও ভালো কাজ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাইবার অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছি, কারণ এ ধরনের কাজ একদমই ঠিক নয়।’

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে বাবা শক্তি কাপুরের সঙ্গে দেখা যায়।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রদ্ধা কাপুর তার বাবাকে গাড়িতে উঠতে সাহায্য করছেন। দুজনের মুখেই মাস্ক ছিল।

‘কখন যে ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়বে কেউ বলতে পারে না’, মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্কে বাংলাদেশিরা

ঘড়িতে তখন সকাল ৮টা। আগের দিন তেহরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওমর ফারুক আরব আমিরাতের শারজাহ সীমান্তের কাছে দুবাইয়ের আল কুসাইসের আকাশে দেখতে পান, কিছু একটা উড়ে আসছে। অন্য অনেকের মতো তিনিও মোবাইল দিয়ে ভিডিও করতে শুরু করেন।

‘মুহূর্তেই বুঝতে পারি এটা ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল)। দূরে যাচ্ছে না, আমাদের কাছেই আসছে। তখন সবাই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করি। কয়েক কিলোমিটার দূরে এসে সেটা পড়ে। বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়তে দেখি,’ কথাগুলো একটানে বললেও ফারুকের কণ্ঠজুড়ে আতঙ্ক।

উন্নত জীবনের আশায় প্রায় তিন বছর আগে নরসিংদীর পলাশ থেকে আমিরাতে পাড়ি জমান ফারুক। দুবাইয়ের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গাড়িচালক হিসেবে কাজ নেন।

বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফারুকের সঙ্গে কথা হয় দ্য ডেইলি স্টারের। তখনো তার ভেতর আতঙ্ক।

২ মার্চের সেই হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ক্যাম্পের কাছেই এই ঘটনা ঘটে।’

২৮ ফেব্রুয়ারি পারস্য উপসাগরীয় দেশ ইরানে দফায় দফায় তীব্র হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন’ হামলা চালায়।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে দফা দফায় এসব হামলা চালায়। তাদের দাবি, ২৭টি মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলের তেল নফ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একই শহরের একটি বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে।

এই হামলা-পাল্টা হামলা বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সীমিত থাকেনি।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। এরপর লেবাননে পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল।

একটু ভালো থাকার আশায় যারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছেন, তাদের সবার পরিস্থিতি অনেকটাই ফারুকের মতো। ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নন। প্রতি মুহূর্ত কাটছে ‘মৃত্যুভয়’ নিয়ে। কখন কোথায় হামলা হবে কেউ জানে না।

‘এখনো আতঙ্ক নিয়ে বের হতে হচ্ছে,’ জানিয়ে ফারুক আরও বলেন, ‘দেশে ফিরতে চাই। ছুটি চেয়েছি। এখান থেকে যদি ছুটি দেয়, আর যদি প্লেনে যাওয়ার সুযোগ পাই, দেশে চলে যাব।’

বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিক ফারুকের সঙ্গে কথা বলার পর কথা হয় এক ভিনদেশি শ্রমিকের সঙ্গেও।

গত এক দশক ধরে দুবাইয়ে বাস করছেন ফিলিপাইনের নাগরিক নোভি। দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহতে এক শপিংমলে তিনি কাজ করেন, থাকেন আল সাতওয়া এলাকায়।

নোভি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত ১ মার্চ রাতে তিনি যখন শপিংমলে কাজ করছিলেন, তখন বিকট শব্দ শুনতে পান। ইসরায়েল-ইরান হামলা-পাল্টা হামলার কথা তিনি আগের দিনই শুনেছিলেন।

‘হঠাৎ এমন শব্দে আমরা সবাই ভীত হয়ে পড়ি। কর্তৃপক্ষ শপিংমল বন্ধ করে দেয়। বের হয়ে জানতে পারি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এরপর বাসায় চলে যাই।’

আরও বলেন, ‘আমরা কেবল যুদ্ধ থামার জন্য দোয়া করতে পারি।’

কিন্তু, এই যুদ্ধ সহসা থামার বড় লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরানে এই হামলায় খামেনিসহ তাদের শীর্ষ নেতারা কেবল নন, নিহত হয়েছে স্কুলে থাকা কয়েকশ শিক্ষার্থীও। প্রতিশোধ নিতে ইরান যখন মরিয়া হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা যায়, ইরান যদি প্রতিশোধ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি দিয়ে হামলা করবে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। এমনকি, তিনি এটাও বলেছেন যে ইরানে হামলা ৪ সপ্তাহ চলতে পারে

বুধবারও দুবাইয়ের পরিস্থিতি থমথমে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান মো. রশিদ। নোয়াখালীর এই বাসিন্দা ব্যবসা করেন সেখানে।

তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চার বছর ধরে দুবাই থাকি। এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি।’

‘যে শহর ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকে, সে শহরে গত কয়েক দিন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে না,’ বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

১ মার্চ রাতে বেশ কয়েকবার বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন জানিয়ে রশিদ আরও বলেন, ‘তখনো বুঝতে পারিনি কী হচ্ছে। পরে জানলাম, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।’

হবিগঞ্জের বাসিন্দা পারভেজ আহমেদ প্রায় ১১ বছর বাহরাইনের রাজধানী মানামায় থাকেন। সেখানেই তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মানামা থেকে একটু দূরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। কয়েকটি ভবনে আঘাত করেছে। দূরে ধোঁয়া দেখেছি।’

নিয়মিত হামলার কারণে গত কয়েক রাত ঘুমাতে পারেননি বলেও জানান পারভেজ। আরও জানান, প্রথম দিন ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচণ্ড শব্দ শুনেছিলেন। সেই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সাইরেন বেজেছে। প্রতি রাতেই ১০-১২ বার সাইরেন বেজে ওঠে।

‘তবে প্রথম দিনের তুলনায় সাইরেনের শব্দ কমেছে। এখনো দোকান খোলা রেখেছি,’ বলেন তিনি।

নাটোরের বড় হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদ হোসেন ১৫ মাস আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যান। চাকরি করেন আল খারিজ এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রিয়াদের মানুষ আতঙ্কিত। কখন যে ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে, সারাক্ষণ সেই আশঙ্কা।’

‘দোয়া করি যুদ্ধ যেন তাড়াতাড়ি থেমে যায়, পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক হয়। এখনো দেশে ফেরার কথা চিন্তা করিনি। ফ্লাইটও বন্ধ। চাইলেই ফিরতে পারবো, সেই পরিস্থিতি নেই,’ বলেন জাহিদ।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তত ৭টি দেশ তাদের আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়। এসব বিমানবন্দর কবে নাগাদ চালু হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ‘ফ্লাইটরাডার-২৪’ এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি বিমানবন্দরে ৩ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বিমান চলাচল বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, ‘পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।’

হরিশপুর থেকেই প্রায় ১৪ মাস আগে ওয়েল্ডার হিসেবে কাজ নিয়ে সৌদির জেদ্দায় যান রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখানে সবাই আতঙ্কিত। বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে।’

‘আমিও ঘরবন্দি। কখনো যুদ্ধ পরিস্থিতি এভাবে দেখিনি। খবরে শুনতাম যুদ্ধ হচ্ছে। এখানে পরিস্থিতি এমন, কখন যে ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়বে, তা কেউ বলতে পারে না!’

‘প্রতিদিনই দেশ থেকে ফোন করছে। বাড়ির সবাই কান্নাকাটি করছে। আমরা যারা প্রবাসী, আমরাও আতঙ্কে-দুশ্চিন্তায় আছি। কত দিন যুদ্ধ চলবে তা তো বলা যায় না।’

‘সবাইকে একটা কথাই বলছি, আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমরাও দোয়া করছি। দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই।’

গত বছরের শেষে দিকে নাটোরের বড়গাছা এলাকা থেকে সৌদি আরবে যান জাকিয়া সুলতানা। রিয়াদের অদূরে আল কাসিম প্রদেশের বুরাইদায় কাজ করেন তিনি।

জাকিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দেশে ভালো কাজ না পেয়ে বিদেশে আসি। অথচ এখন যুদ্ধ শুরু হলো। যদিও বুরাইদায় হামলা হচ্ছে না, কিন্তু প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় হামলার তথ্য পাচ্ছি। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে, আমার দেশের মানুষও মারা যাচ্ছে।’

‘আমাদের অসহায় অবস্থা। ভাগ্যে যা আছে, তাই হবে—আর বলার কিছু নেই।’

হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৪৫ জনে পৌঁছেছে। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে অন্তত আট জন এবং ছয় জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

এই যুদ্ধের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও আমিরাতবাহরাইনে দুই বাংলাদেশি নিহত এবং কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কথা হয় ভারতের পাঞ্জাবের বাসিন্দা বন্দনার সঙ্গেও। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে থাকছেন দুবাইয়ে। কাজ করছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

‘এই যুদ্ধের কোনো অর্থ নেই, কোনো যৌক্তিকতাও নেই,’ বলে মন্তব্য করেন বন্দনা।

‘শত শত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আবাসনের দাম কমে যাবে। ফলে কাজ হারানোর আশঙ্কা আছে।’

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে চুক্তিভিত্তিক সচিব নিয়োগের গুঞ্জন: কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ

প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার আলোচনাকে কেন্দ্র করে বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত সোমবার ১৩ জন সচিবকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন আরও এক ডজন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগের কাজ করছে। একই সঙ্গে, বেশ কয়েকজন বর্তমান সচিবকে সমমর্যাদার অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে ওই পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের পদায়ন করা যায়। 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি (পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর পদোন্নতি) পেয়ে সচিব হওয়া অন্তত ৮-১০ জন কর্মকর্তার নাম এখন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আলোচিত হচ্ছে। তারা সবাই বেশ কয়েক বছর আগে অবসরে গিয়েছেন।

এই তালিকায় ১৯৮৪ ব্যাচের আব্দুল খালেক, ১৯৮৫ ব্যাচের কামরুজ্জামান, বাকী বিল্লাহ ও তৌহিদুল ইসলাম, ১৯৮৬ ব্যাচের জাকির হোসেন কামাল এবং ১১তম ব্যাচের ফরিদুল ইসলামের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। 

গতকাল রাতে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের চুক্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে নতুন সরকার ১৯৮২ ব্যাচের এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেয়।

পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, যাদের নাম চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য আলোচিত হচ্ছে, তারা অতীতে নিঃসন্দেহে কঠিন সময় পার করেছেন। তবে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির মাধ্যমে তারা ইতোমধ্যে পদমর্যাদা এবং আর্থিক সুবিধাদি পেয়ে গেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘এখন যদি তারা আমাদের প্রাপ্য পদগুলো দখল করেন, তবে বঞ্চনার সেই ধারাবাহিকতা থেকেই যাবে। এতে করে নতুন বৈষম্য তৈরি হচ্ছে, আমরা তো নতুন কোনো সংস্কৃতি দেখছি না।’

আরেকজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘মেধাতন্ত্র’ বা মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের অঙ্গীকার থাকলেও সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েই তাদের যাত্রা শুরু করছে। 

তিনি আরও বলেন, শীর্ষ পর্যায়ে একজনকে চুক্তিতে নিয়োগ দিলে তার অধীনস্থ অন্তত দুই-তিনজন মেধাবী কর্মকর্তার পদোন্নতি ও কর্মজীবনের স্বাভাবিক গতি থমকে যায়। ফলে তারা অনেকটা দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করেন। 

সাবেক সচিব বদিউর রহমান বলেন, ‘আমলাতন্ত্রের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। যে জনসমর্থন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি নিয়ে এই সরকার কাজ শুরু করেছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তার সঙ্গে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়।’

খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা, দুজনেই শীর্ষ প্রশাসনিক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ওপর নির্ভর করে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। বদিউর রহমান বলেন, ‘গত অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার মূল কারিগর ছিলেন এই চুক্তিভিত্তিক সচিবরা। এই সরকারও যদি কয়েক বছর আগে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য বেছে নেয়, তবে আর বলার কিছু থাকে না।’

যদিও গত সোমবার নয়জন সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ আরও কিছু স্থানে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তারা এখনো বহাল আছেন।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল দুই সচিবের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং মো. আনোয়ার জাহান ভূঁইয়াকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইফোন কবে আসবে জানালো অ্যাপল

অ্যাপল তাদের পরবর্তী পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেছে।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে অবস্থিত অ্যাপল পার্ক ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। এবারের অনুষ্ঠানের ট্যাগলাইন ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’।

অ্যাপলের জন্য এবারের আয়োজনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কেননা, ১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে টিম কুকের জায়গায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা জন টার্নাসের।

২০১১ সাল থেকে অ্যাপলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন টিম কুক। ফলে টার্নাসের নেতৃত্বে এটিই হবে অ্যাপলের প্রথম কোনো পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মডেল দুটিতে বড় ধরনের নকশাগত পরিবর্তনের পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে ধারাবাহিক বা সীমিত আপগ্রেড দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে, এই অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ উন্মোচন না করে আগামী বছর বাজারে আনার পরিকল্পনা থাকতে পারে অ্যাপলের।

এবারের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করতে পারে অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত ফোল্ডেবল আইফোন। স্যামসাংসহ বেশ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। তবে অ্যাপল এখনো প্রচলিত নকশার আইফোনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তাই সত্যিই যদি নতুন ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হয়, সেটিই এবারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

আইফোনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ এবং নতুন একটি অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা উন্মোচনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আরও কিছু নতুন স্মার্ট-হোম পণ্যও ঘোষণা করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেমগুলোর প্রকাশের তারিখও অনুষ্ঠানে জানানো হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আইওএস ২৭, আইপ্যাডওএস ২৭ এবং ম্যাকওএস গোল্ডেন গেট।

সব মিলিয়ে, নতুন আইফোনের পাশাপাশি ফোল্ডেবল ডিভাইস, নতুন প্রজন্মের স্মার্ট ডিভাইস ও নতুন সিইওকে ঘিরে ৯ সেপ্টেম্বরের আয়োজনটি অ্যাপলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

কাজটা তো এআই দিয়েই করা যাবে, তাহলে আপনাকে আর কী দরকার?

শুনতে কঠিন লাগলেও, খুব শিগগির চাকরির ইন্টারভিউতে এই প্রশ্ন শুনতেই হতে পারে যে, কাজটা তো এআই দিয়েই করা যাবে, তাহলে আপনাকে আর দরকার কী?

সম্প্রতি এক তরুণের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হয়েছে, হাতে ডিগ্রি, কয়েকটি ইন্টার্নশিপ, লিংকডইনে সুন্দর প্রোফাইল; কিন্তু মাথায় দুশ্চিন্তা, ‘এআই তো এখন সব করতে পারে। আমরা যারা নতুন, আমাদের চাকরি হবে তো?’

প্রশ্নটা শুনে আমার নিজের প্রথম চাকরির দিনের কথা মনে পড়ল। তখন এআই নিয়ে ভয় ছিল না, ভয় ছিল অন্যরকম। আমি এত কিছু শিখেছি, কিন্তু আসলে কী করতে পারি? আজকের তরুণদের সমস্যাটা একটু আলাদা। তাদের প্রতিযোগিতা কেবল তার মতোই অন্য একজন ব্যক্তির সঙ্গে নয়, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গেও। তাদের প্রতিযোগী কয়েক সেকেন্ডে একটা প্রতিবেদন লিখতে পারে, প্রেজেন্টেশন বানাতে পারে, তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, কোড লিখতে পারে, ছবি বানাতে পারে, এমনকি ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিও করিয়ে দিতে পারে।

তাহলে নতুন গ্র্যাজুয়েটরা করবেন কী?

প্রথম কথা, এআইকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। বরং একটা বিষয় মেনে নেওয়া ভালো, কাজের কিছু অংশ এআই আপনার চেয়ে ভালো ও দ্রুত করবেই। এটা খারাপ খবর নয়। একজন গ্রাফিক ডিজাইনারের প্রাথমিক ড্রাফট এআই বানিয়ে দিতে পারে, একজন কমিউনিকেশন কর্মকর্তার প্রথম ড্রাফট লিখে দিতে পারে, একজন গবেষকের জন্য শত শত নথির মূল কথা বের করে দিতে পারে।

কিন্তু একটা মজার বিষয় আছে। এআই মানুষের চেয়ে দ্রুত প্রতিবেদন লিখতে পারলেও যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘এই রিপোর্টে কোন কথাটা বলা উচিত নয়’, কিংবা ‘এই গল্পটা আমাদের টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ’, তখন বিষয়টা একটু বদলে যায়।

চাকরিদাতারা কেবল একজন কনটেন্ট প্রস্তুতকারী খোঁজেন না। তারা এমন একজন চান, যিনি বুঝতে পারবেন যে কী করতে হবে, কেন করতে হবে এবং কার জন্য করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েই ‘সব জানি’ ভাবার দরকার নেই। সদ্য গ্র্যাজুয়েট হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে ‘আপনি এখনও শিখতে পারেন’। আপনার হয়তো পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা নেই, কিন্তু যদি নতুন কোনো সফটওয়্যারের কাজ শিখতে পারেন, ডেটা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, একটা সমস্যাকে ভিন্নভাবে দেখতে পারেন, তাহলে আপনার মধ্যে এমন কিছু আছে যা সিভির অভিজ্ঞতা কলামে লেখা যায় না।

অনেক সময় দেখি, তরুণরা ইন্টারভিউয়ের আগে নিজের স্কিলের একটা লম্বা তালিকা তৈরি করে—এমএস ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, এমএস এক্সেল, ক্যানভা, এআই টুলস, কমিউনিকেশন, লিডারশিপ ইত্যাদি।

সবই ভালো। কিন্তু, ইন্টারভিউয়ের সময় যদি জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি এক্সেল জানেন। সেটা দিয়ে শেষবার কী সমস্যা সমাধান করেছিলেন?’ তখন অনেকেই থেমে যান। সেখানেই আসল পার্থক্য তৈরি হয়। টুল জানাটা স্কিল নয়, সেটা ব্যবহার করে সমস্যা সমাধান করতে পারাটাই স্কিল।

একটা ছোট উদাহরণ দিই। ধরুন, একটি এনজিওর সোশ্যাল মিডিয়া টিমে ইন্টার্নশিপ করছেন। আপনাকে বলা হলো, ‘একজন নারী কৃষকের গল্প লিখুন।’ আপনি এআইকে বললেন, ‘একজন নারী কৃষক সম্পর্কে উৎসাহমূলক কনটেন্ট লিখে দাও।’ এআই সুন্দর একটা গল্প লিখে দিলো। কিন্তু আপনি যদি মাঠে গিয়ে একজন নারী কৃষকের সঙ্গে ৩০ মিনিট কথা বলেন, তাহলে হয়তো জানতে পারবেন যে তিনি প্রথম প্রথম সমবায় মিটিংয়ে কথা বলতে ভয় পেতেন, নিজের আয় সম্পর্কে পরিবারের সামনে বলতে সংকোচ করতেন এবং সেই তিনিই এখন অন্য নারীদের নিয়ে সঞ্চয় গ্রুপ চালান। তাহলে আপনি শুধু একটা গল্প পেলেন না, একজন মানুষকেও বুঝলেন। এই পার্থক্যটাই ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আরেকটা জিনিস শেখা উচিত। সেটা হলো, প্রশ্ন করা। সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলোর একটি হলো, সব প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করবেন না, কিন্তু ভালো প্রশ্ন করতে শিখুন। ‘কেন এই প্রজেক্ট করা হচ্ছে?’, ‘কৃষক এটা গ্রহণ করছেন না কেন?’, ‘এই ডেটা কোথা থেকে এসেছে’, ‘আমরা যে গল্পটা বলছি, উপকারভোগী কি একইভাবে দেখছেন?’, ‘এই ক্যাম্পেইনের আসল অডিয়েন্স কে?’, ইত্যাদি নানা প্রশ্ন আপনার ভেতরে থাকতে হবে।

কোনো সিনিয়র কাজ দিলে ‘ঠিক আছে’ বলার আগে একবার জিজ্ঞেস করুন, ‘এর মূল উদ্দেশ্যটা কী?’ এই একটি প্রশ্ন আপনার কাজের মান অনেক বদলে দিতে পারে।

এআই ব্যবহার করুন, কিন্তু নিজের মাথার ব্যবহার বন্ধ করে না

এআই দিয়ে সিভি বানান, প্রেজেন্টেশনের কাঠামোটা তৈরি করুন, গবেষণার শুরুটা দ্রুত করুন, বানান ও ব্যাকরণ ঠিক করুন, কোনো আইডিয়া নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন, পরিসংখ্যানের সূত্র খুঁজুন; কিন্তু এআই যা বলল, সেটাকেই সত্য ধরে নেবেন না। তথ্যগুলো যাচাই করুন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গল্পের মানুষটির সঙ্গে কথা বলুন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের মাথা ব্যবহার করুন। কারণ, আগামী দিনের চাকরির বাজারে হয়তো দুই ধরনের মানুষ থাকবে—প্রথমত, যারা এআই ব্যবহার করে কাজ করে এবং দ্বিতীয়ত, যারা এআইয়ের ফলাফল নিয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কাজ করে। আর দ্বিতীয় দলটির চাহিদা বেশি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

একইসঙ্গে নিজেকে খুব তাড়াতাড়ি ‘বিশেষজ্ঞ’ বানানোর চেষ্টা করবেন না। প্রথম চাকরিতে হয়তো আপনাকে বড় কোনো জায়গায় কাজ দেওয়া হবে না, হয়তো মিটিংয়ের কার্যবিবরণী লিখতে হবে, ডেটা বিশ্লেষণ করতে হবে, ৫০টা কল করতে হবে, প্রেজেন্টেশন ঠিক করতে হবে। হয়তো সেখানে আপনার আইডিয়া কেউ শুনবেই না। কিন্তু, এসবের মধ্যেই শিখতে হবে। কারণ, ক্যারিয়ার অনেক সময় বড় কোনো সুযোগের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় না, ছোট ছোট কাজ ভালোভাবে করার অভ্যাস থেকেই তৈরি হয়। আজ একটা ভালো ইমেইল লিখলেন, কাল একটা মিটিং ভালোভাবে পরিচালনা করলেন, পরশু এমন একজন সহকর্মীর সঙ্গে দারুণভাবে কাজ করলেন যার সঙ্গে কাজ করাকে সবাই কঠিন মনে করে। তারপর একসময় দেখবেন, আপনাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য খোঁজা হচ্ছে।

তাহলে, এআইয়ের যুগে একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েটের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কী? আমার কাছে উত্তরটা খুব কঠিন মনে হয় না। উত্তরটা হলো, কৌতূহল বা প্রশ্ন করার অভ্যাস, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল তা বোঝার ক্ষমতা, মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও শোনার ক্ষমতা, নতুন কিছু এলে তা শেখার মানসিকতা এবং অপর মানুষটির জায়গায় দাঁড়িয়ে বিষয়টা দেখার ক্ষমতা।

একইসঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের চিন্তা নিজে করার অভ্যাস। কারণ, এআই আপনার হয়ে লিখতে পারে, প্রেজেন্টেশন বানাতে পারে, গবেষণার একটা বড় অংশ করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা আপনার কাছেই থাকবে—‘আপনি কী ভ্যালু যোগ করছেন?’ সেই উত্তরটা এখন থেকেই খুঁজতে শুরু করুন।

চাকরির বাজারে এআই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। এআইয়ের যুগে আপনার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে নিজের অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার ভয়। ভয় না পেয়ে শেখা শুরু করুন। কারণ, ভবিষ্যৎটা হয়তো এআইয়ের হাতে নয়। ভবিষ্যৎটা তাদের, যারা এআইকে কাজে লাগিয়ে আরও ভালো মানুষ, আরও ভালো চিন্তক ও আরও ভালো সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম।

আব্দুল্লাহ সেরু: একটি এনজিওতে যোগাযোগ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।

অবিশ্বাস্য জয়ের পর অশ্রুসিক্ত মেসি

মিশরের দ্বিতীয় গোলের পর ক্যামেরা তখন এক মুহূর্তের জন্য লিওনেল মেসির মুখের দিকে তাক করা। চোখ ভরা অবিশ্বাস, কিছুটা কি শঙ্কাও ছিল? যদি থেকেও থাকে, সতীর্থদের সাথে নিয়ে নিজেই তা দূর করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। আর্জেন্টিনাকে অক্সিজেন যোগান দেয়া প্রথম গোলের অ্যাসিস্ট করেছেন, সমতায় ফেরানো গোলটিও করেছেন। 

আর এনজো ফার্নান্দেজের গোলে যখন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হলো, মেসি তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথে মাঠেই অশ্রুসজল হয়েছে মেসির চোখ। এমন স্বস্তির জয়ের পর মেসিও নিজের আবেগে বাঁধ দিতে চাননি বোধহয়! 

আর্জেন্টিনার এই দলটা যে মেসিকে প্রাণভোমরা মেনে খেলে, সেটির প্রমাণ আরও একবার দেখা গেলো ম্যাচ শেষে। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে নাটকীয় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সবাই মিলে গোল হয়ে মেসিকে শুন্যে ছুঁড়েছেন। মেসিসহ প্রত্যেকের মুখের হাসিই বলে দিচ্ছিলো, এই জয় তাদের কাছে কতটা অর্থবহ, কতটা স্বস্তিদায়ক।

ম্যাচ শেষে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ধারাভাষ্য দেয়া সাবেক ফুটবলার রয় কিনও অনুভব করতে পেরেছেন মেসির আবেগ, ‘আমার গলা ভেঙে গেছে। অনবদ্য ম্যাচ। গতকাল রোনালদোর চোখে দুঃখের কান্না দেখেছি, আজ মেসির চোখে খুশির কান্না’। 

আর্জেন্টিনার চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসাও করেছেন কিন, ‘ওরা কখনোই হাল ছাড়ে না। তাদের প্রতিটা গোলই ছিল দারুণ। এ কারণেই আমরা ফুটবলকে এত ভালোবাসি’। 

এরকম প্রত্যাবর্তনের রাতে ব্যক্তিগত অর্জন ভীষণই তুচ্ছ, তবে এই টুর্নামেন্টে প্রায় প্রতি ম্যাচেই কিছু না কিছু রেকর্ড ভেঙে চলেছেন মেসি। ব্যতিক্রম হয়নি আজও। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি। সবশেষ নয় বিশ্বকাপ ম্যাচে মেসির এখন ১৩ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট। 

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

বুধবার প্রকাশিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউয়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়ে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টনে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া বন্দরে আসা সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩২৪টিতে, যা এক বছর আগে ছিল চার হাজার ৭৭টি।

বেড়েছে বন্দরের পরিচালনাগত দক্ষতাও। কনটেইনারবাহী একটি জাহাজের গড় অবস্থানকাল আগের অর্থবছরের ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমে এসেছে।

অর্থবছরটিতে বন্দরের রাজস্ব বেড়ে ছয় হাজার ৬২৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল পাঁচ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। একই সময়ে পরিচালন ব্যয় দুই হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা থেকে কমে প্রায় এক হাজার ৯৫১ কোটি টাকায় নেমে আসায় প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

সিপিএ বলছে, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের সুফলের কারণেই এ রেকর্ড গড়া সম্ভব হয়েছে।

৬ জুলাই থেকে এনসিপির দেশব্যাপী পদযাত্রা

গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে দেশজুড়ে ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর রূপায়ন টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৬ জুলাই থেকে একইসঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে জুলাই পদযাত্রা ২০২৬ আয়োজন করবে এনসিপি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাসব্যাপী কর্মসূচিতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া, শহীদদের অবদান স্মরণ করা এবং দেশ গঠনের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করাই হবে এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।

ফেরদৌসী মজুমদারকে সম্মান জানাতেই এই টেলিফিল্ম: আফজাল হোসেন

টেলিভিশনে সাড়া জাগানো ‘চিরসবুজ’ নায়ক তিনি। অভিনেতা পরিচয়ের বাইরে নাট্যপরিচালক, চিত্রশিল্পী ও লেখক হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। তিনি আফজাল হোসেন। এখনো নাটক, চলচ্চিত্র ও ওটিটি—তিন মাধ্যমেই সমানতালে অভিনয় করে চলেছেন।

সম্প্রতি ‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’ নামের একটি টেলিফিল্মে কাজ করেছেন আফজাল হোসেন। তৌকীর আহমেদের রচনায় এটি পরিচালনা করেছেন আরিফ খান। এই টেলিফিল্মে ফেরদৌসী মজুমদারের বড় ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

অনেক বছর আগে ‘সুন্দর সর্বনাশ’ নামে একটি নাটক লিখেছিলেন আফজাল হোসেন। সেই নাটকে অভিনয় করেছিলেন ফেরদৌসী মজুমদার। এবার দুজন একসঙ্গে পর্দা ভাগ করছেন এই টেলিফিল্মে।

ফেরদৌসী মজুমদারের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘তিনি এ দেশের একজন বিখ্যাত ও গুণী শিল্পী। তিনি অসংখ্য মানুষের মন জয় করেছেন। এখনো মঞ্চে তিনি সাবলীল।’

আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘উনার মতো শিল্পীর জন্য আমাদের দেশে সেভাবে চরিত্র তৈরি করা হয় না। এই টেলিফিল্মে তা হয়েছে। এখানে তিনি একজন অভিনয়শিল্পীর চরিত্রেই অভিনয় করেছেন।’

ফেরদৌসী মজুমদারের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি সম্পর্কে অভিনেতা বলেন, ‘এই বয়সেও তার অনেক সংলাপ মুখস্থ! মন ভালো হয়ে যায়। কাছ থেকে তাকে অভিনয় করতে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। উনার সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি মহাআনন্দিত।’

‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’ টেলিফিল্মে কয়েক প্রজন্মের শিল্পীরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। এ বিষয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘হ্যাঁ, কয়েক প্রজন্মের শিল্পীরা মিলে এখানে অভিনয় করেছি। এটিও অনেক ভালো একটা অভিজ্ঞতা।’

ফেরদৌসী মজুমদারকে ঘিরেই এই টেলিফিল্মের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘মূলত ফেরদৌসী মজুমদারকে সম্মান জানানোর জন্যই আমি এই নাটকটি করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। উনার সম্মানেই আমরা সবাই মিলে কাজটি করেছি। আমার মনে হয়েছে, উনাকে এই সম্মানটুকু জানানো দরকার। কাজটি করার পর এখন মনে হচ্ছে, আমাদের ইচ্ছাপূরণ হয়েছে।’