28 C
Dhaka
Home Blog

টেন্ডার নিয়ে জামায়াতের ২ নেতাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার জমা দেওয়া নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল জমা দেওয়া শেষ দিন। একইসঙ্গে বিকেল ৩টায় জমা দেওয়া টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব তার নিজ এলাকার একটি হাটের টেন্ডার শিডিউল জমা দিতে উপজেলায় যান। সে সময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গিয়ে তার ওপর হামলা করেন। এর কিছুক্ষণ পর ইউএনও অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান। তখন ‌‘জামায়াতের সেক্রেটারি এখানে কেন’ বলেই তার ওপর হামলা করেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি ইউএনও সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম আমার এলাকার একটি সমস্যা-সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি যে টেন্ডার জমা দিয়েছেন, এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি জানতামও না। ইউএনও অফিসের কাজ শেষে রুম থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সবাই আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়ারুল হক সেন্টু ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘টেন্ডার জমা দেওয়ার সময় ইউএনওর কার্যালয়ে জামায়াত নেতার উপস্থিতি দেখে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সে সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আমরা দ্রুত সবাইকে শান্ত করি।’ ‌

এদিকে, এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পাবনা-৩ আসনে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আজগর। আজ বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান বলেন, জামায়াতের কর্মপরিষদ সভায় আলোচনা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করা হবে।

স্ক্রুর খাঁজ গুণে ক্যারিয়ার শুরু করে এখন অ্যাপলের সিইও, কে এই জন টার্নাস?

১৫ বছর ধরে অ্যাপলের নেতৃত্ব দিয়েছেন টিম কুক। এবার তার জায়গায় বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছেন এমন একজন, যাকে অ্যাপলের পণ্যপ্রেমীদের বাইরের কেউই খুব একটা চেনেন না। তিনি জন টার্নাস।

অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা টার্নাস মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নিয়েছেন।

প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে কুকের উত্তরসূরি হিসেবে তার নাম ঘোষণার পরই তাকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

কিন্তু টিম কুক অ্যাপল ছাড়ছেন না। তিনি প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নেতৃত্বের এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে হলো, যখন অ্যাপলকে নতুন আইফোনের উন্মোচন সামলাতে হচ্ছে, আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়েও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই নতুন আইফোন উন্মোচনের আয়োজন রয়েছে। শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত বিল্ট-ইন ভার্চুয়াল ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-র নতুন ও উন্নত ভার্সন চালুর পরিকল্পনাও করছে অ্যাপল। এটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির পেছনে থাকছে গুগলের জেমিনি।

টিম কুক তার শেষ কর্মদিবসে কর্মীদের উদ্দেশে লিখেছেন, জন টার্নাসের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে তিনি অত্যন্ত স্বস্তি বোধ করছেন। পৃথিবী বদলে দিতে পারে এমন পণ্য তৈরির জন্য কী প্রয়োজন, তা টার্নাসের মতো খুব কম মানুষই বোঝেন।

জন টার্নাসের বয়স এখন ৫১। তার জীবনের প্রায় অর্ধেক সময়ই অ্যাপলের সঙ্গে কেটেছে।

২০০১ সালে অ্যাপলের পণ্য নকশা দলে যোগ দেন তিনি। কলেজ শেষ করার পর সেটিই ছিল তার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরিটি ছিল ভার্চুয়াল রিয়েলিটি যন্ত্র তৈরি করা প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমসে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে টার্নাস অ্যাপলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। ২০২১ সালে তাকে হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়।

তিনি টিম কুকের চেয়ে বয়সে ১৫ বছরের ছোট। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যেসব শীর্ষ কর্মকর্তার নাম আগে আলোচনায় এসেছিল, তাদের মধ্যে টার্নাসই ছিলেন তুলনামূলকভাবে কম বয়সী।

অ্যাপলের নেতৃত্বের ইতিহাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি শতকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ছিলেন মাত্র দুজন, স্টিভ জবস ও টিম কুক। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, এমন কাউকেই অ্যাপল বেছে নিতে চেয়েছে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ ছিল।

টার্নাস এত দিন সরাসরি কুকের অধীনে কাজ করেছেন এবং তাকে নিজের পরামর্শদাতা হিসেবেও দেখেন। অ্যাপলের পুরো হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। আইফোন ও ম্যাকবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর কথা বিবেচনায় নিলে তার আগের দায়িত্বের গুরুত্ব বোঝা যায় সহজেই।

অ্যাপলে টার্নাসের শুরুর দিকের একটি কাজ ছিল অ্যাপল সিনেমা ডিসপ্লের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা।

২০২৪ সালে নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার প্রকৌশল বিভাগের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সেই সময়ের একটি ঘটনা বলেছিলেন তিনি।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অ্যাপলে যোগ দেওয়ার প্রথম বছরেই এক সরবরাহকারীর কারখানায় গিয়ে রাত পেরিয়ে স্ক্রুর মাথায় থাকা খাঁজ গুনছিলেন টার্নাস। সেখানে তিনি দেখতে পান, একটি যন্ত্রাংশে ৩৫টি খাঁজ রয়েছে, অথচ থাকার কথা ২৫টি।

সেই মুহূর্তে নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি আসলে কী করছেন এবং এটি স্বাভাবিক কি না। ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে অবশ্য এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর প্রতি তার মনোযোগই অ্যাপলের কাজের দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়।

টার্নাস তার সমাবর্তন বক্তব্যে বলেছিলেন, ঘরে থাকা অন্য সবার মতো নিজেকেও বুদ্ধিমান ভাবতে হবে, তবে কখনোই মনে করা যাবে না যে অন্যদের চেয়ে বেশি জানা আছে। তার মতে, এই মানসিকতা আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি প্রশ্ন করার মতো বিনয়ও তৈরি করে।

অ্যাপলের ভেতরে পদোন্নতির সঙ্গে সঙ্গে টার্নাসের দায়িত্বও বেড়েছে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের হার্ডওয়্যার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি এয়ারপডস, অ্যাপল ওয়াচ এবং ভিশন প্রোর মতো পণ্যের বাজারে আসার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অ্যাপলের ইন্টেল চিপ থেকে নিজেদের তৈরি অ্যাপল সিলিকন চিপে যাওয়ার বড় পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপলের তুলনামূলক কম দামের ল্যাপটপ ম্যাকবুক নিও তৈরির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। খরচ কমাতে এই ল্যাপটপে কিছু হার্ডওয়্যারগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে আইফোনে ব্যবহৃত চিপও ব্যবহার করা হয়েছে।

ম্যাকবুক নিও নিয়ে টমস গাইডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টার্নাস বলেন, অ্যাপল কখনো নিম্নমানের পণ্য বাজারে আনতে চায় না। নিও তৈরির জন্য তাই নতুন করে সবকিছু গড়ে তুলতে হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপল সিলিকন এবং ম্যাক, আইফোন ও আইপ্যাড তৈরির বহু বছরের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো হয়েছে।

স্টিভ জবসের সঙ্গে কাজের সময়কার একটি স্মৃতিও টার্নাসের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, জবসের কারুশিল্প এবং খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগের কথা মনে করেছিলেন টার্নাস। একবার একটি আসবাবের পেছনের দিকও সামনে অংশের মতোই সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছে কি না, তা জবস খেয়াল করেছিলেন। অথচ সেটি সাধারণত কারও দেখার কথা নয়।

টার্নাসের কাছে ঘটনাটি অ্যাপলের কাজের ধরনকে বোঝানোর একটি দারুণ উদাহরণ। ব্যবহারকারী কোনো অংশ দেখবেন কি না, সেটি বড় বিষয় নয়, পণ্য তৈরির প্রতিটি জায়গায় মান বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

এখন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সেই দর্শন ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটিও হবে টার্নাসের বড় পরীক্ষা।

নতুন দায়িত্বে টার্নাসকে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে অ্যাপলের পিছিয়ে পড়া অবস্থান কাটিয়ে ওঠা।

একইসঙ্গে ভিশন প্রোর পেছনে থাকা প্রযুক্তি নিয়ে অ্যাপল কী করবে, সেটিও তাকে ঠিক করতে হবে।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের নতুন সিরি ব্যবস্থায় গুগলের জেমিনি ব্যবহার করার ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ কৌশল টার্নাসের নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

অ্যাপলের বাইরে টার্নাসের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতার দলের সদস্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের প্রকল্প হিসেবে তিনি এমন একটি খাবার খাওয়ানোর যন্ত্র তৈরি করেন, যা চার হাত-পা অচল ব্যক্তিরাও মাথা নেড়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন।

টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকাশ্য রাজনৈতিক অনুদানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে টার্নাস ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর চাক শুমারকে ২ হাজার ৯০০ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।

এর বাইরে এত দিন তিনি অনেকটাই আড়ালে ছিলেন। এমনকি টেক ক্রাঞ্চের ভাষ্য, সম্প্রতি তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তবে সুযোগ এখন আর নেই।

এখন দেখার বিষয়, হার্ডওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে সাফল্যের পর বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি কতটা বড় পরিবর্তন আনতে পারেন।

ফ্লোরা টেলিকমের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে সুনাম, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির জন্য টেমেনোস টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার সরবরাহ ও বাস্তবায়নের কাজে ফ্লোরা টেলিকম চুক্তিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি আরও ১০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়। অগ্রণী ব্যাংকের ৯৭৯টি শাখায় টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সিস্টেম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পেয়ে আসছেন।

বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আধুনিক সফটওয়্যারকে নিয়মিত হালনাগাদ ও উন্নত সংস্করণে নেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে অগ্রণী ব্যাংকে ব্যবহৃত টি-২৪ কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আপগ্রেডেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। প্রচলিত প্রকিউরমেন্ট বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২১ সালের মার্চ মাসে অগ্রণী ব্যাংক বিদ্যমান টি-২৪ সফটওয়্যারকে সর্বশেষ সংস্করণে আপগ্রেড করার জন্য ফ্লোরা টেলিকমের অনুকূলে কার্যাদেশ প্রদান করে। কার্যাদেশে বর্ণিত শর্তাবলি অনুসরণ করে একই বছরের এপ্রিল মাসে অগ্রণী ব্যাংক ও ফ্লোরা টেলিকমের মধ্যে যথাযথ নিয়মে চুক্তি সম্পাদিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একটি টেলিভিশন এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩১২ কোটি খরচও কাজ করে না সফটওয়্যার, ফ্লোরা টেলিকমকে ৯১ কোটি টাকার সুবিধা দেয় অগ্রণী ব্যাংক” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ফ্লোরা টেলিকম উক্ত প্রতিবেদনকে অত্যন্ত দুঃখজনক, বিভ্রান্তিকর, একপেশে, অতিরঞ্জিত এবং প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে।

প্রতিবেদনটিতে পর্যাপ্ত ও যাচাইযোগ্য তথ্য উপাত্ত কিংবা প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন না করেই দাবি করা হয়েছে যে, অগ্রণী ব্যাংক ফ্লোরা টেলিকমকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ায় ৯১ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, ফ্লোরা টেলিকমের ৪৪ শতাংশ কর অগ্রণী ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ফ্লোরা টেলিকম স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ওই সময় ডলারের মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে পরবর্তীতে প্রায় ১২৩ টাকায় উন্নীত হয়। অন্যদিকে ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় গ্রহণ করলেও টেমেনোসের প্রাপ্য অর্থ মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে টেমেনোসের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফির অর্থ পরিশোধে ফ্লোরা টেলিকমকে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বহন করতে হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক চ্যালেঞ্জের প্রভাব প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপরও পড়ে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও ফ্লোরা টেলিকম প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং চুক্তিবদ্ধ দায়িত্ব ও কার্যপরিধি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও কার্যাদেশের আওতায় নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিদ্যমান রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির আওতায় অগ্রণী ব্যাংককে টি-২৪ সফটওয়্যারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এ রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির মেয়াদ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে।

ফ্লোরা টেলিকম মনে করে, একটি চলমান প্রযুক্তি প্রকল্পের ব্যয়, কার্যক্রম, চুক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং সফটওয়্যারের কার্যকারিতা সম্পর্কে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে একতরফা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য প্রচার করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো বৃহৎ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি প্রকল্প সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রকল্পের চুক্তিগত ও কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লোরা টেলিকমের আরও বক্তব্য, প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও বক্তব্য পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও স্পষ্টীকরণ প্রকাশের আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফ্লোরা টেলিকম সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ ও তথ্য যাচাই করার জন্যও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড তার দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবসায়িক সুনাম, পেশাদারিত্ব ও সততার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক, ব্যবসায়িক অংশীদার, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আমাদের বিনীত আহ্বান, যাচাইবিহীন, একপেশে ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ বা প্রচারণার কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করুন এবং ফ্লোরা টেলিকমের প্রতি আপনাদের দীর্ঘদিনের আস্থা ও সমর্থন অব্যাহত রাখুন।

ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

‘তৌহিদী জনতা’ আসলে কারা?

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একটি শব্দ বেশ দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠেছে—‘তৌহিদী জনতা’। ধর্মীয় বিশ্বাসের ভাষায় শব্দটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে খুবই সরল। কিন্তু গত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই নামের ব্যানারে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো একটু খেয়াল করলে একটি প্রশ্ন সামনে আসে। এই ‘তৌহিদী জনতা’ আসলে কারা?

প্রথম সমস্যাটিই হলো তাদের পরিচয়। ‘তৌহিদী জনতা’ কোনো একক সংগঠনের নাম নয়। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে কখনো স্থানীয় মুসল্লি, কখনো মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, কখনো ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী এবং কখনো কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন মানুষকেও এই পরিচয়ে দেখা গেছে।

দিনাজপুরের হাকিমপুরে নারী ফুটবল ম্যাচ বন্ধের দাবির ঘটনাটিই ধরা যাক। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের লোকজনের পাশাপাশি স্থানীয় মুসল্লিরাও ছিলেন। একই ঘটনায় খেলাফত মজলিসের স্থানীয় এক দায়িত্বশীলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথাও সংবাদে এসেছে।

তাই ‘তৌহিদী জনতা’কে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাঠামো হিসেবে দেখা কঠিন। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি এমন একটি পরিচয়, যার মাধ্যমে কোনো ধর্মীয়, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে দ্রুত মানুষকে সংগঠিত করা হচ্ছে।

এই পরিচয়ের বিস্তার বোঝার জন্য গত দুই বছরের ঘটনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনতার হস্তক্ষেপ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি, মাজার ঘিরে সংঘাত, নারী ফুটবল ম্যাচ বন্ধের দাবি, বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসের আয়োজন নিয়ে আপত্তি, লালন স্মরণোৎসব বন্ধের চেষ্টা, মাজারে হামলা, বইমেলায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে চাপ, নাট্য আয়োজন বন্ধের দাবি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

এসব ঘটনার মধ্যে একটি মিল দেখা যায়।

প্রথমে কোনো আয়োজন বা কর্মকাণ্ডকে ধর্মীয় অনুভূতির পরিপন্থী, অনৈতিক বা ইসলামবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর স্থানীয়ভাবে মানুষ সংগঠিত হয়। এরপর শুরু হয় বিক্ষোভ, অবস্থান এবং সহিংসতা।

দিনাজপুরে নারী ফুটবল ম্যাচ ঘিরে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভালোবাসা দিবসে ফুল বিক্রির দোকানে হামলা এবং পরে আয়োজন বাতিলের ঘটনাও সংবাদে এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নাটক মঞ্চায়ন নিয়েও ‘তৌহিদী জনতা’র আপত্তির খবর প্রকাশিত হয়।

তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়গুলোর একটি হলো মাজার ও সুফি সংস্কৃতিকে ঘিরে সংঘটিত হামলা।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের নুরাল হক ওরফে নুরাল পাগলাকে ঘিরে ঘটনাটি ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। মৃত্যুর পর কবর থেকে তার মরদেহ তুলে নেওয়া হয়। পরে সেই মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কবর থেকে মরদেহ তোলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

মাজারে হামলার সংখ্যাও কম নয়।

পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্টের পর ৪০টি মাজারে ৪৪ বার হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ২৩ জনকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অন্যদিকে বিশ্ব সুফি সংস্থা আরও বড় সংখ্যা দিয়ে ৮০টি মাজারে হামলার কথা জানিয়েছিল।

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে ১৭ মাসে ৯৭টি মাজারে হামলার তথ্য উঠে আসে। সেখানে ৫৯টি হামলার কারণ হিসেবে ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ এবং ১৬টির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা বলা হয়েছে।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। এসব ঘটনা একই রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উৎস থেকে সৃষ্টি হয়নি। কিছু ঘটনা ধর্মীয় মতবিরোধের কারণে ঘটেছে, কিছু স্থানীয় বিরোধের কারণে এবং কিছু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে ‘তৌহিদী জনতা’ নামটি কখনো ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ, কখনো স্থানীয় ক্ষোভ সংগঠিত করার একটি পরিচয় এবং কখনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মানুষ জড়ো করার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ নামে একটি পক্ষ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা মসজিদে সভা করে ২৮ আগস্টের আয়োজন বাতিলের দাবি তোলে। শেষ পর্যন্ত ‘আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন না করার’ শর্তে এবারের আয়োজন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, একটি স্থানীয় সামাজিক আয়োজন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কার? মানুষ কোনো আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানাতে পারে, প্রতিবাদ করতে পারে, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে পারে। কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কোনো স্বঘোষিত জনতার নয়।

আরও বড় সমস্যা তৈরি হয়, যখন অভিযোগ আর প্রমাণকে এক করে দেখা হয়।

ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড তার ভয়াবহ উদাহরণ। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যা করা হয়, মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

এখানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি মৌলিক বিষয় মনে রাখা দরকার। বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। একইসঙ্গে নাগরিকের সমান অধিকার ও আইনের শাসনের ভিত্তিও নিশ্চিত করে। কোনো ব্যক্তির বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে তার বিচার রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে হতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে, প্রমাণ দেখতে হবে, তারপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু জনতা বিচার করবে না।

এই সীমারেখা ভেঙে গেলে ক্ষতি শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা মাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় স্বাধীনতাও নিরাপদ থাকবে না। কারণ, আজ যে জনতা অন্যের আয়োজন বন্ধ করছে, কাল তার নিজের কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আয়োজনও অন্য কোনো সংগঠিত জনতার আপত্তির মুখে পড়তে পারে। একবার যদি মবের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াকে স্বাভাবিক করে ফেলা হয়, তাহলে শক্তিশালী পক্ষ দুর্বল পক্ষের ওপর নিজের নৈতিকতা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়।

এই কারণেই ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ‘তৌহিদী জনতা’র নামে হামলা ও নিপীড়নকারীদের সতর্ক করেছিলেন। পরে ওই শব্দ ব্যবহারের জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশও করেন। একই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকেও মবের মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়।

২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তর অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর নেতারা ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের ‘তৌহিদী জনতা’ না বলে দুর্বৃত্ত হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অর্থাৎ ‘তৌহিদী জনতা’ মানেই উগ্রবাদী নয়। আবার ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে হওয়া প্রতিটি কাজও দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করে না। এই পার্থক্য না করলে দুটি বিপদ তৈরি হবে। একদিকে শান্তিপূর্ণ ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্যায়ভাবে সন্দেহের চোখে পড়বেন। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে যারা ভয় দেখানো, হামলা, ভাঙচুর বা সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারা নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশের সমাজ বহু বৈচিত্র্যের। এখানে বাউল গান থাকবে, লালনচর্চা থাকবে, মাজার ও সুফি সংস্কৃতিও থাকবে। এখানে হিন্দু থাকবে, মুসলমান থাকবে, অন্য ধর্মের মানুষও থাকবে। পাহাড় থেকে সমতল, সব জায়গার মানুষই নিজের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বাঁচবে। এই সহাবস্থানই বাংলাদেশের শক্তি।

আর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ হিসেবে এই সহাবস্থান রক্ষার সবচেয়ে বড় দায়িত্বও মুসলমানদেরই নিতে হবে। ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অন্যের অধিকারকেও সম্মান করতে হবে।

ধর্ম থাকবে তার মর্যাদায়, সংস্কৃতি থাকবে তার স্বাধীনতায়, মতপ্রকাশ থাকবে আইনের সীমার মধ্যে। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে। কিন্তু বিচার করবে রাষ্ট্র। জনতা নয়।
 

সাজ্জাদ সাব্বির: কেন্দ্রীয় সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

লক্ষণ খুব ভালো নয়: জামায়াত আমির

চট্টগ্রামে নগরীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

কঠিন শাস্তি হবে কি না তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির লিখেছেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীতে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাণ্ডব চালানো দুর্বৃত্তদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে তা প্রকাশ করুন। তাদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনুন। জানি না, কঠিন শাস্তির বিধান হবে কি না। লক্ষণ খুব ভালো নয়।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকেই এখন নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ সরকার কোনো কার্যকর নিরাপত্তা দিতে পারছে না। একের পর এক অভিনব ঘটনা ঘটেই চলছে।’

‘এদের খুঁটির জোর কোথায়?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকায় এলো ৩ ফ্লাইট

বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে না পেরে ঢাকায় ফিরে এসেছে তিনটি ফ্লাইট।

এর মধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক ও একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট।

আজ মঙ্গলবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস৩৫০ ফ্লাইটটি বৈরী আবহাওয়ার কারণে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে গেছে। এছাড়া শারজাহ থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার এরাবিয়ার জি৯-৫২৬ ফ্লাইটটিও ঢাকায় ফিরে গেছে।

‘ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি১২১ ফ্লাইটটি অবতরণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সেই ফ্লাইটটিও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে,’ বলেন খলিল।

প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সব ফ্লাইট আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছে, জানান তিনি।

‘প্রকৃতির বিচারের’ অপেক্ষায় বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্ম

সিয়াটলের মাঠ তখনও বেলজিয়ামের বাঁধনহারা উৎসবে মুখর। যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর মাঠ ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে মনের কথাটা বলেই ফেললেন বেলজিয়াম মিডফিল্ডার নিকোলাস রাসকিন, ‘জীবনে কোথাও না কোথাও একটা বিচার ঠিকই থাকে।’ কথাটা নিছক জয়ের আনন্দ থেকে বলা নয়, এর পেছনে জড়িয়ে ছিল গত কয়েক দিনের এক অদ্ভুত নাটক, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোলদাতা ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে তার খেলার কথা ছিল না। কিন্তু বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই ফোন করেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে, অনুরোধ জানান সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনার। রোববার ফিফা জানিয়ে দেয়, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান বালোগান।

তবে বিতর্কের কোনো প্রভাবই পড়েনি ম্যাচে। নবম মিনিটে চার্লস দে কেতেলেয়ারের গোলে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। মালিক টিলম্যান সমতা ফেরালেও আবারও গোল করেন দে কেতেলেয়ার। দ্বিতীয়ার্ধে হানস ভানাকেন ও বদলি নেমে রোমেলু লুকাকুর গোল ম্যাচটিকে ৪-১ ব্যবধানে নিয়ে যায়। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু বালোগান ছিলেন প্রায় নিষ্প্রভ। শটের হিসাব (১৫-৭) ও এক্সপেক্টেড গোল (২.১৫-০.৬৭)-দুই ক্ষেত্রেই স্পষ্ট আধিপত্য ছিল বেলজিয়ামের।

ম্যাচ শেষে কয়েকজন বেলজিয়ান খেলোয়াড় ট্রাম্পের বিখ্যাত নাচ অনুকরণ করেন, দলের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকেও আসে কটাক্ষপূর্ণ পোস্ট। অধিনায়ক ইউরি টিলেম্যান্স জানান, বালোগান বিতর্কের পর দলীয় বৈঠকে সবাই মাঠেই জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। থিবো কোর্তোয়া আবার রসিকতা করে বলেন, এসব বিতর্ক পড়ে তিনি বরং হেসেছেন, কারণ সেনেগালের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হারানো নিয়ে তার আস্থা বেশি ছিল।

তবে বেলজিয়ামের সমর্থকদের কাছে ‘বিচার’ শব্দটির অর্থ আরও বড়। কারণ গত এক দশকের সবচেয়ে প্রতিভাবান দলগুলোর একটি হয়েও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি তারা। ২০১৮ সালে কেভিন ডি ব্রুইনা, থিবো কোর্তোয়া, এডেন হ্যাজার্ড ও রোমেলু লুকাকুদের ‘সোনালী প্রজন্ম’ সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে তৃতীয় হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেই প্রজন্মের পতন ঘটে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়ে। এরপর আক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান হ্যাজার্ড।

এবার সেই সোনালী প্রজন্মের শেষ কয়েকজন সদস্য, ৩৫ বছর বয়সী ডি ব্রুইনা, কোর্তোয়া ও লুকাকুকে নিয়েই বাজি ধরেছেন কোচ রুদি গার্সিয়া। এখন পর্যন্ত সেই বাজি সফলই বলা যায়। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব অবশ্য এবার ইউরি টিলেম্যান্সের হাতে, যিনি মৌসুম শেষ করেছেন ইউরোপা লিগ জিতে।

যদিও বিশ্বকাপের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না বেলজিয়ামের। মিশরের সঙ্গে ১-১ ও ইরানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর তাদের আক্রমণভাগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে তারা নতুন ছন্দ খুঁজে পায়।

রাউন্ড অব ৩২-এ সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচে ৫১ মিনিটেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বেলজিয়াম। তবে ২০১৮ সালে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ৮৬ মিনিট পিছিয়ে থাকার পর লুকাকু ও টিলেম্যান্সের গোলে সমতায় ফেরে তারা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ভিএআরের সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন টিলেম্যান্সই।

সেনেগালের বিপক্ষে মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসা সেই দলকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দেখা গেছে আরও আত্মবিশ্বাসী, আরও পরিণত রূপে। গার্সিয়ার ৪-২-৩-১ ছকে টিলেমেন্স ও আমাদু ওনানার ডাবল পিভট মাঝমাঠে ভারসাম্য আনে, আর ডি ব্রুইনা পান নাম্বার টেন হিসেবে পূর্ণ স্বাধীনতা। চার্লস দে কেতেলেয়ার প্রায়ই ‘ফলস নাইন’ হিসেবে নিচে নেমে খেলেন, আর সেই ফাঁকা জায়গায় আক্রমণে যোগ দেন লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্দ ও জেরেমি দোকু। রাসকিন, ওনানা ও টিলেমেন্সের সমন্বয় মাঝমাঠকে শক্তিশালী করেছে, আর পেছনে কোর্তোয়ার অভিজ্ঞতা রক্ষণকে দিয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

ডি ব্রুইনার বয়সের কথা মাথায় রেখে তাকে হিসেব করে ব্যবহার করছেন গার্সিয়া। সেনেগালের বিপক্ষে ৫৬ মিনিট খেলানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে প্রথমবারের মতো বেঞ্চে রাখা হয় তাকে। মৌসুমজুড়ে চোটে ভোগা লুকাকুকেও মূলত বদলি হিসেবেই ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে শেষ দিকে তার গতি ও শক্তি কাজে লাগে।

দুটি ড্র দিয়ে শুরু, এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় জয়, সেনেগালের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন এবং স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দেওয়া, প্রতি ম্যাচেই যেন আরও পরিণত হয়েছে বেলজিয়াম। এখন শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে স্পেন। রাসকিনের বলা ‘বিচার’ ছিল ট্রাম্প-বালোগান বিতর্কের প্রসঙ্গে, কিন্তু ফুটবল রোমান্টিকরা চাইবেন সেই বিচার যেন আরও বড় হয়ে আসে একটি বিশ্বকাপ ট্রফির মাধ্যমে, যা এত বছর ধরে অধরাই রয়ে গেছে বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের কাছে।
 

‘দর্শকরাও তাকে মা হিসেবে দেখতেন’

গুণী অভিনয়শিল্পী শর্মিলী আহমেদের জন্মদিন আজ ৮ মে। নাটক ও সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকের ভালোবাসা ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

বিশেষ করে অসংখ্য নাটকে মায়ের চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল।

‘আবির্ভাব’ সিনেমায় তার লিপে থাকা ‘সাতটি রঙের মাঝে আমি নীল খুঁজে না পাই…’ গানটি আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দেড় শতাধিক সিনেমা ও ৪ শতাধিক নাটকে অভিনয় করে তিনি রেখে গেছেন উজ্জ্বল এক শিল্পীসত্তার স্বাক্ষর।

শর্মিলী আহমেদ ১৯৬৪ সালে অভিনয়জীবন শুরু করেন।

জন্মদিনে তাকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের কাছে স্মৃতিচারণ করেছেন সহশিল্পীরা।

অভিনেত্রী ডলি জহুর বলেন, আমাদের দুজনের স্মৃতির শেষ নেই। শত শত স্মৃতি। এত ভালো মানুষ ছিলেন। এমন ভালো মানুষ পাব না। এমন বড় মনের মানুষ পাওয়া কঠিন। সবাইকে আপন করে নেওয়ার প্রচণ্ড ক্ষমতা ছিল শর্মিলী আহমেদের।

তিনি বলেন, আমি তাকে দিদি ডাকতাম। আমার সিনিয়র ছিলেন। তার বাড়ি ছিল রাজশাহীতে।  একবার রাজশাহীতে দিদির বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার বাবা খুব খুশি হয়েছিলেন। আমাকে মেয়ের চোখে দেখতেন। রাজশাহীতে যাওয়ার পর সবাই আপন করে নিয়েছিল আমাকে।

‘দিদির গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। গুণী শিল্পী ছিলেন তিনি। অসম্ভব ভালো মানুষ ছিলেন। তার হাতের রান্না অনেক খেয়েছি। নিজে রান্না করে আমার জন্য পাঠাতেন। যদি তিনি আসতে না পারতেন, তাহলে কাউকে দিয়ে খাবার পাঠিয়ে দিতেন। ফোনেও কথা হতো আমাদের। মাঝে মাঝে দেখা হতো। আজ দিদি নেই, ভাবতেই কষ্ট লাগে’, বলেন তিনি।

অভিনেত্রী দিলারা জামান বলেন, শর্মিলী আহমেদ আমাকে বুবু ডাকতেন। আমার খুব ভালো লাগত তার মুখ থেকে ‘বুবু’ ডাক শুনে। মানুষ হিসেবে এতটাই ভালো ছিলেন, বলে শেষ করা যাবে না। অভিনয়গুণ নিয়ে অন্যরা বলবেন, কেননা অসম্ভব গুণী শিল্পী ছিলেন। আমি শুধু বলব একজন ভালো মানুষকে নিয়ে। সেই ভালো মানুষ বোনটা আমার নেই, ভাবতেই খারাপ লাগে।

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক ছিল। কত কথা মনে পড়ে। কত স্মৃতি আমাদের। অভিনয় জীবন ছাড়াও পারিবারিকভাবে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল আমাদের মধ্যে। সবসময় মনে হতো, আমার আরেকটা বোন তিনি। ক্যানসার ধরা পড়ার পর ভেঙে পড়েছিলেন। তখন সাহস দিতাম। এভাবে চলে যাবেন, ভাবিনি।

নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, শর্মিলী আহমেদ অসম্ভব মেধাবী শিল্পী ছিলেন। মঞ্চ নাটক, টিভি নাটক, চলচ্চিত্র, তিন মাধ্যমেই সফল ছিলেন। একটা সময় মায়ের চরিত্রে এতটাই সাবলীল ছিলেন, দর্শকরাও তাকে মা হিসেবে দেখতেন। 

তিনি আরও বলেন, একসময় ক্যানসার ধরা পড়ে, তারপর তিনি চলেই গেলেন। শিল্পীর জীবনে কর্মটাই সব। তার কর্মই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। অনেক ভালো ভালো কাজ তিনি উপহার দিয়ে গেছেন।

বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত বলেন, শর্মিলী আহমেদ খুব মেধাবী শিল্পী ছিলেন। পারিবারিকভাবেই তিনি বেড়ে উঠেছিলেন সুন্দর পরিবেশে। শিল্পীমনা পরিবার ছিল তার। আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে অভিনয় করেছি। 

তিনি বলেন, এমন ভালো মানুষ কমই পেয়েছি। তার ব্যবহার ছিল চমৎকার। মানুষকে সম্মান করতেন। তিনিও সবার কাছ থেকে সম্মান পেয়েছেন। বড় কথা হচ্ছে, শর্মিলী আহমেদ গুণী শিল্পী ছিলেন। বিনয়ী শিল্পী ছিলেন। তার সঙ্গে অভিনয় করার কথা ভুলব না।

২০২২ সালের ৮ জুলাই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন শর্মিলী আহমেদ। তবে তার অসংখ্য স্মরণীয় কাজ আজও তাকে দর্শকের হৃদয়ে জীবন্ত করে রেখেছে।

 

বিশ্বব্যাপী ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর এ সপ্তাহে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক এ সপ্তাহে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

আজ বুধবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ কথা বলেছেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি শুল্ক নিয়ে আইনি বাধা কাটিয়ে বাণিজ্য নিয়ে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী ১৫ শতাংশ শুল্ক এ সপ্তাহে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করা শুল্ক বাতিলের রায় দেন। 

এরপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জন্য অন্য একটি আইনের আশ্রয় নেন ট্রাম্প। পরে এই শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়।

ভূমি অফিসে সেবা ফি সাইনবোর্ডে টানানোর নির্দেশ

দেশের সব ভূমি অফিসে নামজারি, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপের সরকার নির্ধারিত ফি দৃশ্যমানভাবে সাইনবোর্ডে টানানোর নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

আজ বৃহস্পতিবার ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে এই নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব উপজেলা, সার্কেল ভূমি অফিস, ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসে এ সাইনবোর্ড টানাতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ ফুট × ২.৫ ফুট আকারের সাইনবোর্ডে সেবাভিত্তিক ফি তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। নির্ধারিত ফি সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সেবা নিতে এসে মানুষের ভোগান্তি কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নামজারি ফি

নামজারির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালনাগাদ ফি এক হাজার টাকা এবং প্রতি কপি খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা। এ হিসাবে সর্বমোট ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা।

খতিয়ানের ফি

খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি বা অনলাইন কপির জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ টাকা। ডাকযোগে সংগ্রহ করলে অতিরিক্ত ৪০ টাকা ডাক মাশুল পরিশোধ করতে হবে।

মৌজা ম্যাপের ফি

মৌজা ম্যাপের প্রতি সিটের জন্য নির্ধারিত ফি ৫৪৫ টাকা। ডাকযোগে নিলে অতিরিক্ত ১১০ টাকা ডাকমাশুল পরিশোধ করতে হবে।