26.3 C
Dhaka
Home Blog

তুলার বাজার হিসেবে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন তুলা রপ্তানি বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন চায় বাংলাদেশ যেন পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা পেতে মার্কিন তুলা ও টেক্সটাইল কাঁচামাল ব্যবহার করে।

গত সপ্তাহে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) যুক্তরাষ্ট্রের তুলা খাতকে চাঙা করতে ‘গ্রেট আমেরিকান কটন প্ল্যান’ চালু করে।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ইউএসডিএ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে মার্কিন তুলা কেনা ও মার্কিন তুলা ব্যবহার করে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে।

এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশ যদি মার্কিন তুলা ও টেক্সটাইল উপকরণ ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করে, তাহলে শুল্ক কমানোসহ আরও কিছু বাণিজ্য সুবিধা পেতে পারে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু বাংলাদেশি বস্ত্র ও পোশাকপণ্য শূন্য শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ সুবিধা কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কী পরিমাণ তুলা ও কৃত্রিম তন্তুর কাঁচামাল আমদানি করা হচ্ছে তার ওপর। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করে, আর এর মধ্যে মার্কিন তুলার অংশ ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্থানীয় সুতা ও বস্ত্রকল মালিকরাও এখন মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আগের চেয়ে বেশি তুলা কিনছেন। 

এ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।

তবে তার মতে, মার্কিন তুলার ব্যবহার বাড়াতে দুইটি বড় সমস্যা রয়েছে। একটি হলো রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত শর্ত), আর অন্যটি হলো পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগা।

তিনি বলেন, আমেরিকান তুলার মান ভালো হলেও বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা কী ধরনের শুল্ক সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা দরকার।

মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, শুল্ক ছাড় পেতে পোশাকে কতটা মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করতে হবে এবং রুলস অব অরিজিনের শর্তগুলো কী হবে।

‘আলোচনার ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে, কম শুল্কের সুবিধা সব রপ্তানির জন্য নয়; বরং এটি নির্দিষ্ট একটি কোটার মধ্যেই সীমিত থাকতে পারে,’ বলেন তিনি।

মার্কিন তুলা সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশে গুদাম সুবিধা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে তুলা আনতে কম সময় লাগে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আসতে ৪৫ দিনেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এতে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমতে পারে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক ফয়সল সামাদ বলেন, মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে রুলস অব অরিজিনের শর্ত নিয়ে আগামী সপ্তাহে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে বিজিএমইএ।

তিনি আরও জানান, এর আগে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ সংক্রান্ত নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট তুলা আমদানির প্রায় ৯ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশে বছরে তুলা আমদানির বাজার প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মোট পণ্য বাণিজ্য প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ দশমকি ৩ শতাংশ বেড়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি ছিল ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮৬ শতাংশই তৈরি পোশাক।

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন।

আজ বুধবার সকাল ১০টা ৯ মিনিটের দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন। 

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মোশাররফ হোসেন। তার পিতা এস ডব্লিউ হোসেন ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক।

তিনি নিজ গ্রামে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হন। ১৯৬৬ সালে তিনি মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।

বুয়েট থেকে স্নাতক শেষ করার পর তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিরোধ যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। যুদ্ধ চলাকালীন তিনি সম্মুখসমরে সক্রিয় ছিলেন এবং ১ নম্বর সেক্টরের অধীনে সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তার রাজনীতি শুরু হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তার আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব সুসংহত হয়। তিনি চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার (১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি বাংলাদেশ সরকারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (১৯৯৬-২০০১) এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় (২০১৪-২০১৯)।

মোশাররফ হোসেন বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তিনি দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্যও ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি ‘স্বাধীনতা পদক’ পান।

প্রকাশ পেল ‘রইদ’ সিনেমার নতুন গান

‘হাওয়া’-খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত নতুন সিনেমা ‘রইদ’ আগামী ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে। সিনেমাটির প্রচারণার অংশ হিসেবে নতুন গান ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ প্রকাশ পেয়েছে। 

গানটির কথা, মৌলিক সুর এবং কণ্ঠ দিয়েছেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু। গানটির সঙ্গীত পরিচালনা, চূড়ান্ত প্রযোজনা এবং মিক্স ও মাস্টারিং করেছে রাশীদ শরীফ শোয়েব। 

সার্বিক অডিও প্রোডাকশন এবং শব্দবিন্যাসের দায়িত্বে ছিল অডিও প্রতিষ্ঠান ‘স্টুডিও কাউবেল’।

চলচ্চিত্রটির পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ‘রইদ সিনেমাটি মূলত সাধু এবং তার পাগল স্ত্রীর সম্পর্কের এক সরল অথচ গভীর আখ্যান, যা প্রেম ও নীরবতার মাধ্যমে মানব বিবর্তনের সেই চিরন্তন আদিম প্রেমকে তুলে ধরে। ঈদুল আজহায় সিনেমাটির সম্ভাব্য মুক্তিকে সামনে রেখে সম্প্রতি এর প্রথম গানটি প্রকাশ করা হয়েছে।’

গানটির গায়ক, সুরকার ও গীতিকার রাজীব আহমেদ রাজু বলেন, ‘এই গানটি তৈরির অভিজ্ঞতা আমার জন্য একেবারেই নতুন; কারণ এর নামটা আগে পেয়েছি, গান তৈরি হয়েছে পরে। পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন আমাকে কোনো গতানুগতিক গল্প বলেননি, বরং এই সিনেমার পেছনের তার গভীর চিন্তা ও অনুভূতিগুলো শেয়ার করেছিলেন, যা থেকে প্রায় দুই বছর আগে গানটির জন্ম। এরপর আমাদের কাছের মানুষ শোয়েবের চমৎকার মিউজিক আয়োজনে গানটি পূর্ণতা পায়।’

 

গত বছরের শেষে ‘রইদ’ সিনেমার পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছিল। সেসময় দর্শকরা বেশ পছন্দ করেন। এরপর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের ৫৫তম আসরে অংশ নেয় সিনেমাটি। সেখান থেকে পুরস্কার নিয়ে ফিরতে না পারলেও দর্শকদের একরাশ মুগ্ধতা দিয়েছে।

ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ এবং ফেসকার্ড প্রোডাকশনের যৌথ প্রযোজনায় এই চলচ্চিত্রটি তৈরি হয়েছে।

এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অনেকে।

তেহরানের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ

ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল।

আজ শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বাসিন্দাদের তেহরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বিতীয় দফা হামলার প্রেক্ষাপটে এই পরামর্শ দেওয়া হলো।

দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাটির এক বার্তায় বলা হয়, পরিস্থিতির কারণে ‘যদি সম্ভব হয় আপনাদের নীরবে অন্য জায়গায় চলে যাওয়া উচিত।

এদিকে, বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়—তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও দেশটির রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

এর আগে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানিদের তাদের শহরের সামরিক এলাকাগুলোর চারপাশ থেকে সরে যাওয়ার বার্তা দেয়।

বিবিসির অপর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে মার্কিন হামলার মূল লক্ষ্য ইরানি জনগণের ‘স্বাধীনতা’।

এ ছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি ‘নিরাপদ’ দেশে পরিণত করার জন্য কাজ করছে বলেও জানান মার্কিন রাষ্ট্রপতি।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেউ নষ্টের চেষ্টা করলেও, তা সফল হবে না: চীনা রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের সঙ্গে সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

তিনি বলেছেন, ‘সুতরাং, বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা নষ্ট করার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীনা রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

ইয়াও ওয়েন জোর দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে চীনা সহযোগিতা এ অঞ্চলের জনগণের কল্যাণের জন্য এবং জনগণের সমর্থনেই প্রতিষ্ঠিত।’

তিনি বলেন, ‘নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে।’

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা বিশদ আলোচনা করেছেন।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য একটি বিজয়।’

বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী এবং ব্যাপক কৌশলগত ও সহযোগিতামূলক অংশীদার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চীন খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে এই সম্পর্কের আরও উন্নয়ন হয়।’

‘তাই এখন আমরা নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি,’ বলেন ওয়েন।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন বাংলাদেশের পাশে আছে।’

‘আমি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো ভালো বলে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত,’ যোগ করেন তিনি।

তিস্তা প্রকল্প সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রকল্পটি পুনরায় শুরু করতে চীন প্রস্তুত এবং আশাবাদী যে এটি শিগগির শুরু হবে।’

নতুন আইপ্যাড প্রো ও ম্যাকবুক প্রো আনছে অ্যাপল!

অ্যাপলপ্রেমীদের জন্য আবারও নতুন খবর। আগামী বছরের শুরুতেই নতুন আইপ্যাড প্রো ও ম্যাকবুক প্রো বাজারে আনতে পারে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এমনটাই জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদন বলছে, নতুন আইপ্যাড প্রোর চারটি মডেল তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এগুলোতে থাকবে আরও শক্তিশালী প্রসেসর। ফলে গতি হবে আগের চেয়ে বেশি।

শুধু আইপ্যাড নয়, নতুন একটি এন্ট্রি-লেভেল ম্যাকবুক প্রো নিয়েও কাজ চলছে। অর্থাৎ, তুলনামূলক কম দামে ম্যাকবুক প্রো কেনার সুযোগ মিলতে পারে। নতুন মডেলটির অভ্যন্তরীণ কোডনাম কে১০৪।

একই সময়ে অ্যাপলের নতুন এম৭ চিপও আসতে পারে। এই চিপ ভবিষ্যতের অনেক ডিভাইসে ব্যবহার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অ্যাপল সবশেষ আইপ্যাড প্রো এনেছিল গত বছরের অক্টোবরে। আর চলতি বছরের মার্চে বাজারে আসে নতুন ম্যাকবুক প্রো ও সাশ্রয়ী ম্যাকবুক নিও। তবে নিওতে ছিল আইফোনের এ১৮ চিপ। নতুন ম্যাকবুকটি হবে পূর্ণাঙ্গ ম্যাকবুক প্রো।

অবশ্য অ্যাপলকে ঘিরে গুঞ্জনের শেষ নেই। নতুন পণ্যের তালিকায় থাকতে পারে ভাঁজ করা আইফোনও।

এরই মধ্যে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তাই কয়েকটি পণ্যের দামও বাড়িয়েছে অ্যাপল। উদাহরণ হিসেবে, ১ টেরাবাইট স্টোরেজের ম্যাকবুক প্রোর দাম ১ হাজার ৬৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার হয়েছে।

তাই অনেকের আশা, নতুন এই ম্যাকবুক প্রো ও আইপ্যাড প্রোর কিছু সংস্করণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে আসতে পারে।
তবে এসব তথ্য নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি অ্যাপল।

হালান্ডের জোড়া গোলে জয়ে শুরু নরওয়ের

বিশ্বকাপের মঞ্চে নরওয়ের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন আর্লিং হালান্ড। দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে নেমে ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার করলেন নিজের প্রথম দুটি বিশ্বকাপ গোল। আর তাতেই ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে নরওয়ে।

বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে নরওয়ে। তবে গোলের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৯ মিনিট পর্যন্ত। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আন্তোনিও নুসার বুদ্ধিদীপ্ত পাসে বাম দিক দিয়ে উঠে আসেন ডেভিড মোলার উলফে। তার নিচু ক্রস থেকে পা বাড়িয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন হালান্ড।

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১০ মিনিট পরই সমতায় ফেরে ইরাক। আমির আল-আম্মারির দারুণ ক্রস থেকে উঁচুতে লাফিয়ে শক্তিশালী হেডে গোল করেন আইমেন হুসেইন। ১৯৮৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরাক তখন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল।

কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে দেন হালান্ড। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই প্রতিপক্ষের একটি বড় ভুলকে কাজে লাগিয়ে আবারও গোল করেন নরওয়ের গোলমেশিন। গোলরক্ষক জালাল হাসান একটি দুর্বল ব্যাকপাস সামলাতে গিয়ে দেরি করেন। তার ক্লিয়ারেন্সের চেষ্টা গিয়ে লাগে হালান্ডের পায়ে, সেখান থেকে বল জড়িয়ে যায় জালে। মাত্র ৫১ আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটি ছিল হালান্ডের ৫৭তম গোল, যা তার অসাধারণ গোলস্কোরিং ধারার আরেকটি প্রমাণ।

তবে হালান্ডের দ্বিতীয় গোলের পরও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি ইরাক। বরং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তারা বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। ইব্রাহিম বায়েশের শট শেষ মুহূর্তে ব্লক করেন নরওয়ের ডিফেন্ডাররা। আলি আল-হামাদির প্রচেষ্টা অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। আর আকাম হাশিমের দুর্দান্ত ভলিও ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।

ইরাকের লড়াই শেষ করে দেন বদলি খেলোয়াড় লিও ওস্তিগার্ড। ৭৬তম মিনিটে মার্টিন ওদেগার্ডের কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন তিনি। মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরই গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন নরওয়ের এই ডিফেন্ডার।

এরপর হালান্ডের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগও এসেছিল। আরেকটি ভুল পাস ধরে একা গোলরক্ষকের সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে এবার জালাল হাসান দুর্দান্ত সেভ করে তাকে থামিয়ে দেন।

তবু ম্যাচে শেষ হাসি হালান্ডই হাসেন। যোগ করা সময়ে তার হেড থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই বল পাঠিয়ে দেন আইমেন হুসেইন। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় নরওয়ের।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘আই’-এ গোল ব্যবধানে শীর্ষে উঠে এসেছে নরওয়ে। একই দিনে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারানো ফ্রান্সেরও সমান তিন পয়েন্ট, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। আগামী ২২ জুন নিউ জার্সিতে গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ফ্রান্স।
 

বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩৪ শতাংশ

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বড় আকারে কমে এসেছে।

এ সময়ে সরকারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশের রাজস্ব ও বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর চাপ বাড়ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইআরডি জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিলে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকল্প সহায়তা, বিশেষ করে ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ায় এ পতন দেখে দিয়েছে।

ইআরডির বৈদেশিক সহায়তা মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ১০ মাসে প্রকল্প সহায়তার জন্য প্রতিশ্রুতি কমে ২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

একইভাবে অনুদানের প্রতিশ্রুতি আগের বছর যেখানে ছিল ৩৫৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার, সেখানে এ বছরে অনুদানের প্রতিশ্রুতি অর্ধেকের বেশি কমে ১৫৬ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তবে, প্রতিশ্রুতি কমলেও বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের গতি এ ১০ মাসে তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিলে মোট ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একইসময়ে ছিল ৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

ছাড় হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় পুরোটাই (৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার) ছিল প্রকল্প সহায়তা। মোট ছাড়ের মধ্যে অনুদান ছিল খুবই কম।

একইসময়ে বাংলাদেশের বার্ষিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। ঋণের আসল পরিশোধ হয়েছে ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার ও সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

আগের অর্থবছরের একইসময়ে ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধ করতে হয় ৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।

আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না: জামায়াত আমির

বাজার পরিস্থিতি আগের চেয়ে বেশি অস্থির বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই বাজার অস্থির, ইদানীং মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি অস্থির।’

আজ মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১ নম্বরে সেকশনে শাহ আলী কাঁচা বাজার পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই যে একটা বিশাল আড়ত-মার্কেট আছে, এখানে যে দোকানগুলো আছে, স্বস্তিদায়কভাবে যারা ব্যবসা করে তারা পায় না। এখানেও দখলদারিত্ব আছে। এখানেও নীরব চাঁদাবাজি আছে। কিন্তু মুখ ফুটে কেউ কথা বলতে চায় না। সবার মুখ চেপে রাখা হয়েছে। কারা করে এই চাঁদাবাজি? আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ করে না। এখানেই আমাদের সাথে চলাফেরা করে, ওঠা-বসা করে বসবাস করে, এই লোকেরা এগুলো করে। তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সংসদের শেষ দিবসে আপনারা শুনেছেন, আমি পরিষ্কার বলেছি যে, সংসদের ৩০০ জন সদস্য যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস পাবে না। কিন্তু এরাই যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা অসম্ভব। আমরা চাই চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।’

‘মানুষের নাভিশ্বাস, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ যারা, তাদের অবস্থা এখন—বেঁচে থাকাই তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে,’ যোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

পরিস্থিতি বুঝতে বিরোধীদল খুচরা বাজার ও মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে যাবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, জায়গায় জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজির কারণে এখানে যারা ব্যবসায়ী আছে তারাও কিন্তু ভালো ব্যবসা করতে পারে না। আমরা ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে পণ্যগুলো পাই না। কৃষক তার উৎপাদিত মূল্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। মাঝখানে অন্যদের পেটে ঢুকে যায়। আমরা ওটা ভাঙতে চাই।’

‘কোন দিন ভাঙতে পারবো আল্লাহ ভালো জানেন, কিন্তু আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে, এই লড়াই চলবে। আমরা থামবো না। আমাদের আওয়াজ, আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের দাবি সংসদের ভেতরে ও বাইরে—সব জায়গায় অব্যাহত থাকবে। এই দেশটা আমরা সবাই মিলেই ভালো করতে পারবো। একা কেউ পারবে না। একা কোনো দলও পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার,’ যোগ করেন তিনি।

এ সময় জামায়াত আমিরের আহ্বানে একজন ব্যবসায়ী তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। বলেন, সরকার ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে দোকান বরাদ্দ দিয়েছে। যারা বরাদ্দ পেয়েছেন, তারা ১ থেকে দেড় লাখ টাকা মাসিক চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষকে ভাড়া দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়া প্রতি বর্গফুটে ১৩ টাকা। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘আমরা চাই চাঁদাবাজি বন্ধ হোক।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিরোধীদলের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে জামায়াত আমির গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আমরা সংগ্রাম করব। এগুলো নিয়ে মাঠে নামবো, আওয়াজ তুলবো, জনগণকে সংগঠিত করব এবং একটা সময়ের ব্যবধানে এই যন্ত্রণা থেকে আমরা জনগণকে মুক্ত করব।’

বাজার পরিদর্শনকালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

‘৭০-৮০ বছরের বয়স্ক মানুষ সিনেমা হলে আসছেন, এটা বড় পাওয়া’

তানিম নূর – এই নামটি বর্তমান সময়ে সিনেমাপাড়ায় উচ্চারিত হচ্ছে অনেক বেশি। তার পরিচালনায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শক চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত সাত কোটি ছাড়িয়ে গেছে টিকিট বিক্রি। এখনো অনেকেই টিকিট পাচ্ছেন না। দেশের বাইরেও দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। 

এর আগে উৎসব সিনেমা নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন তিনি।

সফল চলচ্চিত্র পরিচালক তানিম নূর আজ কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস সবদিক থেকে সফল একটি সিনেমা। এত বড় সাফল্যের মূল রহস্যটা কী?

তানিম নূর: আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে সিনেমা একার না, সবার সম্মিলিত চেষ্টার ফসল। সিনেমা নির্মাণে আমার সঙ্গে যারা ছিলেন, সবাইকে কৃতিত্ব দেব। শিল্পী, স্ক্রিপ্ট রাইটার, চিত্রগ্রাহক থেকে শুরু করে টিমের সবাই শতভাগ শ্রম ও ভালোবাসা দিয়েছেন। ভালোবেসে কাজটি করেছেন। এখানে আমার একার ক্রেডিট না, সবার। সবাই কাজটি যত্ন নিয়ে করেছেন বলেই দর্শকরা এত আগ্রহ নিয়ে দেখছেন।

দ্য ডেইলি স্টার: হুমায়ুন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটি বেছে নেওয়ার কারণ কী?

তানিম নূর: ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটি পড়ার পর ভালো লেগেছে। এই উপন্যাসটি বেছে নেওয়ার পেছনে কিছু কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, এটি ট্রেন জার্নির গল্প। সারা পৃথিবীতে ট্রেন জার্নি নিয়ে প্রচুর সিনেমা হয়েছে। অসংখ্য সিনেমার অংশ বিশেষ ট্রেনে শুটিং হয়েছে। ট্রেনের গল্পের মধ্য দিয়ে পুরো বাংলাদেশের চিত্র উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত ট্রেনের যাত্রী। দ্বিতীয়ত, স্বাধীন আমাকে একদিন উৎসব সিনেমার পর বললেন ‘কিছুক্ষণ’ নিয়ে কাজ করতে। এরপর বইটি পড়ি। সম্ভবত এই বইটি আমার আগে পড়া ছিল না। পড়ার পর দেখলাম এই উপন্যাসে অনেক কিছু আছে। কাজটি করা যায়। এভাবেই ‘কিছুক্ষণ’ নিয়ে কাজ করি।

দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার বেশিরভাগ শিল্পীরা বলেছেন উৎসবকেও ছাড়িয়ে যাবে, আপনার মন্তব্য কী?

তানিম নূর: এটি হয়েছে দর্শকদের জন্য। উৎসবকে ছাড়িয়ে যাবে বনলতা এক্সপ্রেস — সম্ভব হয়েছে দর্শকদের জন্য। দর্শকরা ভালো সিনেমা বানালে উৎসাহ দেন, হলে আসেন। এদেশের দর্শকরা মুখিয়ে থাকেন ভালো গল্পের জন্য, ভালো সিনেমার জন্য। উৎসব দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখেছেন। বনলতা এক্সপ্রেস আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। এজন্যই এই সিনেমাটি উৎসবকেও ছাড়িয়ে গেছে। আমরা কৃতজ্ঞ দর্শকদের কাছে।

দ্য ডেইলি স্টার: সিনেমাপাড়া থেকে সবখানে বলা হচ্ছে আপনি একজন সৌভাগ্যবান পরিচালক?

তানিম নূর: আমিও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। কেননা, আপনি একটি সিনেমা বানাবেন, তারপর দর্শকরা কীভাবে নেবেন তা আগে থেকে বলা সম্ভব না। সিনেমা দর্শকরা গ্রহণ করতেও পারেন আবার না-ও করতে পারেন। পুরোটাই দর্শকদের ওপর নির্ভর করছে। দর্শকরা আমার পরিচালিত উৎসব সিনেমা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন, বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমাও দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। কাজেই, নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

দ্য ডেইলি স্টার: অসংখ্য দর্শক বনলতা এক্সপ্রেস দেখছেন, কোন স্মৃতি আপনার মনে দাগ কেটে আছে?

তানিম নূর: অনেক ভালো ভালো স্মৃতি আছে। স্মৃতিগুলো মনে দাগ কেটে আছে। স্মৃতিগুলো মনে থাকবে। দর্শকরা দল বেঁধে হলে যাচ্ছেন — এই দৃশ্য অনেক আনন্দের। ৭০-৮০ বছরের বয়স্ক মানুষ হলে এসেছেন, এটা বড় পাওয়া। ৯ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা হলে এসেছেন, মুগ্ধ হয়েছি।

দ্য ডেইলি স্টার: পরবর্তী সিনেমা নিয়ে ভেবেছেন?

তানিম নূর: এখনো ভাবিনি। আরও সময় যাক, তারপর বলা যাবে। তবে প্রযোজনা করব যা অন্য কোনো পরিচালক নির্মাণ করবেন।

দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস দেশের বাইরে মুক্তি পেয়েছে, কেমন সাড়া পাচ্ছে?

তানিম নূর: খুব ভালো সাড়া পাচ্ছে দেশের বাইরে। নর্থ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ অনেকগুলো দেশে মুক্তি পেয়েছে। দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন দেশের বাইরেও। নর্থ আমেরিকায় তিন লাখ ২২ হাজার ডলার টিকিট বিক্রি হয়েছে এখন পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়ায় এক লাখ ডলারের টিকিট বিক্রি হয়েছে। আরও বাড়বে।

 

দ্য ডেইলি স্টার: বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার গ্রস কালেকশন কত?

তানিম নূর: গতকাল পর্যন্ত সাত কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এটা গ্রস কালেকশন। এখনো দর্শকরা টিকিট পাচ্ছেন না, এটা আনন্দের খবর। আশা করছি চলতেই থাকবে। একটি তথ্য যোগ করতে চাই। তা হচ্ছে — বাংলাদেশে দশ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হলে ট্যাক্স দিতে হবে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা। 

দ্য ডেইলি স্টার: সন্ধ্যার পর শো বন্ধ, কীভাবে দেখছেন?

তানিম নূর: রাতের শো বন্ধ, ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দর্শকরাও দেখতে পাচ্ছেন না। থিয়েটারের শো হচ্ছে, অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে রাতে। কিন্তু সিনেমার শো রাতে বন্ধ। এতে করে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।