28 C
Dhaka
Home Blog

এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০, সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা

হিজরি ১৪৪৭ সনের সাদাকাতুল ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে আয়োজিত জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।

সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, ইসলামী শরিয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী আটা, যব, খেজুর, ও পনির—এসব পণ্যের যে কোনো একটি বা এর বাজার মূল্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন।

গম বা আটার ক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা; যব ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা ৫৯৫ টাকা; খেজুর ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা ২ হাজার ৪৭৫ টাকা; কিসমিস ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা ২ হাজার ৬৪০ টাকা ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৮০৫ টাকা ফিতরা প্রদান করতে হবে।

বহু দূরের মহাজাগতিক বস্তু আবিষ্কার বাংলাদেশি জ্যোতির্বিদের, গ্রহ নাকি নক্ষত্র?

পৃথিবী থেকে এক হাজার আলোকবর্ষেরও বেশি দূরে একটি অস্বাভাবিক মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন এক বাংলাদেশি গবেষক।

এই অসামান্য কীর্তির নেপথ্যে আছেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের পিএইচডি গবেষক ও বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ।

পিএইচডি গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি টিওআই-২১৫৫বি নামের মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন।

পৃথিবী থেকে এক হাজার ৩৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে এটি। আকারে বৃহস্পতি গ্রহের মতো হলেও এর ভর সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহটির তুলনায় প্রায় ৮০ দশমিক ৬ গুণ বেশি।

এটি ব্রাউন ডোয়ার্ফ (বাদামি বামন) নাকি অতি কম ভরের নক্ষত্র, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রেদোয়ান বলেন, ‘এটি হয়তো বিশাল ভরের একটি ব্রাউন ডোয়ার্ফ অথবা খুব কম ভরের একটি নক্ষত্র।’

ব্রাউন ডোয়ার্ফ মূলত এমন একটি মহাজাগতিক বস্তু, যা দেখতে নক্ষত্রের মতো হলেও আদতে নক্ষত্র নয়। একটি নক্ষত্রকে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে হাইড্রোজেন দহন প্রক্রিয়া চালানোর সক্ষমতা থাকতে হয়। ব্রাউন ডোয়ার্ফের সেই সক্ষমতা থাকে না। এগুলোও নক্ষত্রের মতো বিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। তবে এক পর্যায়ে এগুলো শীতল ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

এ কারণে ব্রাউন ডোয়ার্ফকে কখনো কখনো ‘ব্যর্থ নক্ষত্র’ বলা হয়—অর্থাৎ এমন বস্তু, যা নক্ষত্রের মতো প্রক্রিয়ায় গঠিত হলেও দীর্ঘস্থায়ী হাইড্রোজেন-দহনকারী নক্ষত্রে পরিণত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভর অর্জন করতে পারেনি।

এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফ মোটামুটি একই ধরনের মহাকর্ষীয় প্রক্রিয়ায় গঠিত হলেও তাদের বিবর্তনের পথ ভিন্ন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সাধারণত হাইড্রোজেন-দহনকারী নক্ষত্র হওয়ার ন্যূনতম ভর বৃহস্পতির ভরের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ গুণ বলে মনে করেন।

তবে সুনির্দিষ্ট সীমাটি বয়স, রাসায়নিক গঠন, বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহৃত নাক্ষত্রিক মডেলের মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

টিওআই-২১৫৫বি এই মানদণ্ড অনুযায়ী নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফের সীমারেখার প্রায় ঠিক মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। এর পরিমাপ করা ভর বৃহস্পতি গ্রহের তুলনায় প্রায় ৮০ দশমিক ৬ গুণ। ফলে এটি সবচেয়ে বেশি ভরের ব্রাউন ডোয়ার্ফ এবং সবচেয়ে কম ভরের নক্ষত্রের মধ্যকার তাত্ত্বিক সীমার কাছাকাছি।

এর ভর নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হওয়ায় হাইড্রোজেন-দহন সীমা নিয়ে বিভিন্ন মডেল যাচাই করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে ব্রাউন ডোয়ার্ফ ও নক্ষত্রের মধ্যকার রূপান্তরকে সত্যিই একটি নির্দিষ্ট সীমা দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তোলা সম্ভব হচ্ছে।

এই আবিষ্কারের শুরু হয়েছিল নক্ষত্রের আলোয় পরিবর্তন শনাক্ত করার মাধ্যমে—অর্থাৎ নক্ষত্র থেকে নির্গত তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণে পরিবর্তন।

রেদোয়ান ও তার সহগবেষকেরা নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট বা টিইএসএস ব্যবহার করে টিওআই-২১৫৫বি শনাক্ত করেন। এই মহাকাশযান নক্ষত্রের ঔজ্জ্বল্যের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে।

রেদোয়ান বলেন, ‘আমরা আসলে এই বস্তুটিকে “দেখিনি”। ট্রানজিট—অর্থাৎ নক্ষত্রের আলোয় পরিবর্তন—এবং রেডিয়াল ভেলোসিটি পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা এটিকে শনাক্ত করেছি।’

‘টিওআই-২১৫৫বি-কে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত ও এটি নিয়ে গবেষণা করতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও রাশিয়ার স্থলভিত্তিক টেলিস্কোপ ব্যবহার করেছি। স্যাটেলাইট এবং স্থলভিত্তিক টেলিস্কোপগুলো তথ্য সরবরাহ করে; আমরা সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে এর অন্তর্নিহিত পদার্থবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি’, যোগ করেন রেদোয়ান।

টিওআই-২১৫৫বি-এর ঘনত্বও অস্বাভাবিক। এটি এমন একটি অঞ্চলে অবস্থান করছে, যেখানে ভর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘনত্ব কমতে শুরু করে। ফলে ব্রাউন ডোয়ার্ফ কোথায় শেষ হয় এবং নক্ষত্র কোথা থেকে শুরু হয়—সেই ধাঁধা আরও জটিল হয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রূপান্তর অঞ্চলে থাকা মহাজাগতিক বস্তু খুঁজে আসছেন। কারণ এগুলো নক্ষত্র কীভাবে জীবনের শুরু করে এবং কেন কিছু বস্তু দীর্ঘস্থায়ী হাইড্রোজেন-দহনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারে না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

একটি মাত্র বস্তু দিয়ে সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে টিওআই-২১৫৫বি-এর মতো আরও বস্তু নিয়ে গবেষণা করা গেলে নক্ষত্র ও উপ-নাক্ষত্রিক বস্তুর বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত মডেলগুলো আরও নিখুঁত করা সম্ভব হতে পারে।

সহযোগীদের নিয়ে রেদোয়ানের এই আবিষ্কার নিয়ে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল’ সাময়িকীতে।

এর ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্নের অনুসন্ধানের কেন্দ্রে চলে এসেছে তার গবেষণা—ঠিক কোথা থেকে একটি নক্ষত্রের শুরু?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো শিগগিরই পাওয়া যাবে না। টিওআই-২১৫৫বি আসলে কী, তা নির্ধারণ করতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হবে। আপাতত এই আবিষ্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কয়েকটি প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। 

গ্রহ, ব্রাউন ডোয়ার্ফ ও নক্ষত্রের মধ্যকার অস্পষ্ট সীমারেখা এবং প্রকৃতি কীভাবে নির্ধারণ করে কখন একটি মহাজাগতিক বস্তু নক্ষত্রে পরিণত হবে, সেই প্রশ্নের জবাব মিললেই অনেক ধোঁয়াশা দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। 
 

এখানেই শেষ নয়, বরং ‘নতুন চক্রের শুরু’ দেখছেন আনচেলত্তি

ব্রাজিলের খারাপ সময় চলছে অনেকদিন ধরেই। তবে সেই খারাপের সময়েও গত ৮ আসরে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। ৩৬ বছর পর পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা বিদায় নিল শেষ আটে যাওয়ার আগেই। নরওয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলছেন, তার দল আরও ভালো কিছুর দাবিদার ছিল। এই বিদায় হতাশাজনক হলেও এতেই তিনি শেষ দেখছেন না বরং নতুন চক্রের শুরুর দেখছেন এই ইতালিয়ান। 

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সোমবার আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা, যা ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের দ্রুততম বিদায়।

তবুও আনচেলত্তি কেবল ফলাফলের ওপর আটকে থাকতে রাজি হননি। এই ইতালিয়ান বলেন, ‘যা ঘটেছে তা বিবেচনা করলে, স্পষ্টতই সবাই গভীরভাবে হতাশ।’

‘আমি মনে করি না আমরা একটি দুর্দান্ত বিশ্বকাপ কাটিয়েছি, তবে আমরা একটি ভালো বিশ্বকাপ কাটিয়েছি। আমি মনে করি আজ এমনকি আমাদের ম্যাচটি জেতা উচিত ছিল।’

ব্রুনো গিমারায়েসের প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসের পর ব্রাজিলের আশায় বড় ধাক্কা লাগে, যার পর শেষ দিকে হালান্ড জোড়া গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ে নেইমারের পেনাল্টি গোলটি কেবল সান্ত্বনাই বয়ে এনেছে।

২০১৪ সালে জার্মানির কাছে সেই কুখ্যাত ৭-১ ব্যবধানের সেমিফাইনাল জয়ে টনি ক্রুস এবং আন্দ্রে শুর্লের পর হালান্ড প্রথম খেলোয়াড় যিনি বিশ্বকাপের ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেন।

গিমারায়েসের মিসের জন্য ব্রাজিলকে আফসোসও করতে হয়েছে। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দুটি স্পট-কিকই গোলে রূপান্তর করার পর, জাতীয় দলের হয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডারের এটিই প্রথম ব্যর্থ পেনাল্টি ছিল। এছাড়া টাইব্রেকার বাদে, ১৯৮৬ সালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জিকোর পর তিনি প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেন।

পরিসংখ্যান একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। নরওয়ে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে গোলের উদ্দেশ্যে শট বেশি নিয়েছে ব্রাজিল, সুযোগও তৈরি করেছে তারাই বেশি। 

এই হারের পর হাল ছেড়ে দিতে রাজী নন আনচেলত্তি। তার সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের চুক্তি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। মাত্র এক বছর আগে শুরু করা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প ত্যাগ করার কোনো কারণ নেই তার। 

তিনি বলেন, ‘আপনাকে এই ধরনের পরাজয় হজম করতে হবে। এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। এখন আমাদের নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে হবে, আরও উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’

ক্লাব ফুটবলের সফলতম কোচ বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি শেষ। আমি মনে করি এটি একটি নতুন চক্রের শুরু।’

‘আমি মনে করি যে স্কোয়াড রয়েছে, তা নিয়ে ব্রাজিল এই বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পারত, এমনকি আজকের ম্যাচে যা ঘটেছে তা বিবেচনা করার পরেও।’

রেকর্ড বাড়িয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার জন্য ব্রাজিলের অপেক্ষা এখন ২৮ বছর ছাড়িয়ে যাবে, যাদের শেষ সাফল্য এসেছিল ২০০২ সালে জাপানে। এই পরাজয় একটি উদ্বেগজনক ধারাকেও দীর্ঘায়িত করেছে, কারণ সেলেসাওরা ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর থেকে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের শেষ সাতটি নকআউট ম্যাচের প্রতিটিতেই হেরেছে।

তবে আনচেলত্তি বিশ্বাস করেন যে, এই ধাক্কা আরও বড় কিছুর ভিত্তি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা যা করতে পারি এবং যা করতে যাচ্ছি তা হলোজাতীয় দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া, উন্নতি করার চেষ্টা করা এবং নতুন আইডিয়া খুঁজে বের করা।’

‘আমি মনে করি আমরা একটি ভালো কাজ করেছি, তবে এটি ফুটবল এবং এটি খেলাধুলা। আপনাকে কেবল এটির মুখোমুখি হতে হবে, এই দুঃখ এবং পরাজয়ের স্বাদকে মেনে নিতে হবে।’

‘আমি এতে ভীষণ অভ্যস্ত এবং আমরা এটি সামলে নেব। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এটিকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করব।’

দলকে নিয়ে আনচেলত্তি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার জন্য একটা অভিজ্ঞতা। এই ফল ভীষণ হতাশাজনক এবং আমরা সবাই ভীষণ মর্তাহত। তবে দলটা দারুণ ছিল। আমি ছেলেদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, তারা জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছেন। আমার মনে হয় না ম্যাচটা আমাদের হারা উচিত ছিল, তবে ফুটবল এমনই। আপনাকে পরাজয়ের এই তেতো স্বাদ আর দুঃখ মেনে নিতেই হবে।’

 

গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে গণমাধ্যমের সাফল্যের ওপর: মির্জা ফখরুল

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে রাজনীতিবিদদের ভুল হতে পারে, আর সেই ভুল তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব ।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যে সমালোচনার ঊর্ধ্বে তা নন। রাজনীতিবিদরা অবশ্যই সমালোচনার মধ্যেই থাকবেন। রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করাটাই আমি মনে করি যে সাংবাদিকদের জন্য উপযুক্ত কাজ। কারণ তাকে সঠিকভাবে ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া, সঠিক পথে গাইড করা খুব জরুরি।’

‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে সংবাদপত্রে যারা কাজ করেন তারা অনেক সময়  নিগৃহীত হন। যেকোনো একটা সত্য ঘটনা প্রকাশ করলে দেখা যায় যে যার বিরুদ্ধে খবরটা বেড়িয়েছে, সে তার প্রতি চড়াও হয়। সাংবাদিকরা হামলা-হয়রানির শিকার হন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক,’ বলেন তিনি।  

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিডিয়া যদি শক্ত হয় দেশে গণতন্ত্রও শক্ত হয়। কারণ গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে মিডিয়ার সাফল্যের ওপর।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ব্যক্তি নয় কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের সাফল্য যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।’

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, দক্ষ ও সৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি নতুন উপজেলা পরিচালনায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

পরে তিনি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এছাড়া জেলার ২৬৫ অসহায় মানুষদের মাঝে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত বিধান বাতিল করা হবে: অর্থমন্ত্রী

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বহুল আলোচিত—পুরোনো মালিকদের অংশীদারত্ব দাবি করার সুযোগ রাখা বিধানটি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শের পর সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
 

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(এ) ধারা অনুযায়ী, একীভূত হওয়া বা একীভূতকরণের জন্য তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সাবেক মালিকরা তুলনামূলক সহজ শর্তে আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান। 

এ বিধানকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাংক খাতের সংস্কার থেকে সরে আসার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইন অনুযায়ী, একীভূত হওয়া বা একীভূতকরণের তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বা মালিকেরা সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া মূলধন সহায়তার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ করে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন। বাকি ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধ করতে হবে।

নির্বাচনে জিতেছেন বিজয়ের ড্রাইভারের ছেলেও

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল টিভিকে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে। প্রায় ছয় দশক ধরে চলা দ্রাবিড় রাজনীতির দ্বৈত আধিপত্য ভেঙে দিয়েছেন থালাপতি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিভিকে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১০০টির অনেক বেশি আসনে জয়ের পথে আছে। আর সেই আসনগুলোর একটি বিরুগামবাক্কম, যা চেন্নাই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জিতেছেন সাবারিনাথন। ৩০ বছর বয়সী সাবারিনাথন বিজয়ের ড্রাইভারের ছেলে এবং তিনিও তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ার পথে আছেন। প্রথম নির্বাচনে জয়ী হওয়া টিভিকে বিধায়কদের তালিকাতে তার নামও যোগ হবে।

তিনি ডিএমকের প্রভাকারা রাজা ও এআইএডিএমকের বিরুগাই রভিকে ২২ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন।

এদিকে তামিলনাড়ুর অন্যান্য জায়গায় উচ্চপ্রোফাইল ডিএমকে নেতারা একের পর এক পরাজিত হয়েছেন। পরাজিতদের তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন। তিনি কোলাথুর আসনে টিভিকের ভিএস বাবুর কাছে হেরে গেছেন।

তবে স্টালিনের ছেলে উধয়নিধি স্টালিন ভালো ফল করেছেন। তিনি চেপক-থিরুভাল্লিকেনি আসনে টিভিকে নেতা সেলভম ডিকে ৭ হাজার ১৪০ ভোটে হারিয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন।

অন্যদিকে সম্ভাব্য পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনটি জয়ের আনন্দ পেয়েছেন থালাপতি বিজয়।

রাজ্যটিতে গণনা শেষের দিকে ও টিভিকে বড় জয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায়, এখন নজর যাবে সরকার গঠনের দিকে। বিজয়ের দল সম্ভবত ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা থেকে সামান্য পিছিয়ে থাকবে, অর্থাৎ সেই সীমা পার করতে অন্য দলের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

এই সমর্থন কংগ্রেস, এআইএডিএমকে, নাকি বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সমন্বয়ে আসবে তা হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে জানা যাবে।

যুদ্ধের ওপর দুর্যোগ, ইরান কাঁপলো ভূমিকম্পে

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ হামলার আজ চতুর্থ দিন। ইতোমধ্যে দেশটিতে দুই ক্ষমতাধর দেশের হামলায় নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে এলো ভূমিকম্পের খবর।

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।  

ইরানের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলীয় পারস্য উপসাগর ঘেঁষা গেরাশ অঞ্চলে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

ইউএসজিএস জানায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে (৬ দশমিক ২১ মাইল) ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল খনিজসমৃদ্ধ ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। সেদিনই ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।

জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।

পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করে হামলা চালাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, এই যুদ্ধ চার সপ্তাহ বা এর কম সময় পর্যন্ত চলতে পারে। 

তবে এখন তা যেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

 

বইমেলায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: ডিএমপি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, বইমেলায় নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই। উসকানিমূলক কোনো বইও মেলায় থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারের বইমেলায় কোন ধরনের নাশকতার তথ্য নেই। মব সৃষ্টি করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ নেই।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা প্রাঙ্গনে আজ বুধবার ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সরওয়ার বলেন, বইমেলা এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। গোয়েন্দা সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন। সিসিটিভি ক্যামেরা ছাড়াও প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে আর্চওয়ে ব্যবস্থা থাকবে। মেলা আগের মতোই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। বইমেলার ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে নিয়োজিত থাকবে।

তিনি বলেন, মাজার রোড, হাকিম চত্বর, দোয়েল চত্বর, টিএসসিতে মেলা চলাকালে যানজট কমাতে ডাইভারশন চলবে। ধারালো ও বিষ্ফোরক দ্রব্য নিয়ে মেলায় প্রবেশ করা যাবে না।

মেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে বম্ব ডিসপোজাল (বোমা নিষ্ক্রিয়করণ) ইউনিট, সোয়াটসহ ডগ স্কোয়াড থাকবে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও রাখা হবে ।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন।

পিংক বাসের শহর ও গ্রামে খাসি খাওয়া বর

দেশে যাত্রা শুরু করেছে গোলাপি রঙের বাস। এই খবর গণপরিবহনে কী মাত্রা যোগ করবে তা ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাওর হয়েছে রঙ ও চালকের লিঙ্গীয় পরিচয়। এমন প্রশ্নও উঠেছে, আজ পিংক বাস, এরপর কি সড়কের রঙও পিংক হবে?

প্রশ্নের মূল আসলে বাসের রং বা চালক ও সহকারীর লিঙ্গীয় সত্তা নয়। বিআরটিসির ১৪টি ‘পিংক বাস’ চালুর উদ্যোগটির প্রতীকী অর্থ তাই বাসের রঙের চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু সড়কের রঙ পিংক হবে কি না, এমন প্রশ্ন আমাদের ঘরে নারীর অবস্থানকে আড়াল করছে। আমরা শহরের রাস্তায় নারীর জন্য যে জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছি, ঘরের ভেতরেও কি তার জন্য একই মাপের জায়গা তৈরি করছি?

গত ১৮ আগস্ট ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় নারী চালক ও সহকারী নিয়ে চালু হয়েছে পিংক বাস। একজন নারী যখন বাসের চালকের আসনে বসেন, তিনি শুধু একটি বাস চালান না; তিনি সেই পুরোনো ধারণাটিকেও চ্যালেঞ্জ করেন—কিছু কাজ, কিছু জায়গা, কিছু দায়িত্ব কেবলই পুরুষের জন্য।

কিন্তু প্রায় একই সময়ের আরেকটি ঘটনাও এখানে প্রাসঙ্গিক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের জন্য দেওয়া ‘খদরে’ খাসি না থাকায় বেশ হইচই হয় এবং কনের বাবার হস্তক্ষেপে তাকে বিয়ে না করেই ফিরে যেতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার জেরে পুনরায় জানা যায়, পরদিনই ওই বর অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন। এবার অবশ্য বরের পাতে নিশ্চিত করা হয়েছিল ‘আস্ত খাসি’।

ঘটনাটি নিয়ে হাসাহাসি হয়েছে, মিম হয়েছে, নানা মন্তব্য হয়েছে। হওয়াটাই স্বাভাবিক। ঘটনাটি একইসঙ্গে অদ্ভুত, বিস্ময়কর এবং আমাদের সামাজিক বাস্তবতার কিছু অস্বস্তিকর দিক সামনে আনে। তবে একটু থেমে প্রশ্ন করা যায়, বিষয়টি কি সত্যিই শুধু খাসি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষার?

পিংক বাস ও খাসির দুটি ঘটনাকে পাশাপাশি রাখলে কিছু বাস্তবতা সামনে আসে। নারীকে জনপরিসরে আরও দৃশ্যমান করা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তন। এই গোলাপি রঙের স্বস্তির বিপরীতে কিন্তু খাসি খাওয়ার বুবুক্ষ সত্তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা নারীর অবমূল্যায়নের সূত্রগুলো ঢাকা যাবে না। ঘরের ভেতর বা পরিবারে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগহীনতা কিছু ক্ষোভ তৈরি করতে পারে। কিন্তু এর উত্তর খুঁজতে হবে একটি সুনির্দিষ্ট তাত্ত্বিক পার্থক্যের ভেতরে—অধিকার থাকা এবং সেই অধিকার প্রকৃত অর্থে প্রয়োগ করতে পারার মধ্যকার পার্থক্য।

অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সক্ষমতা তত্ত্ব এই পার্থক্যটিকেই তার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন করে তোলে। তার যুক্তি হলো, একজন মানুষের আনুষ্ঠানিক অধিকারের তালিকা দিয়ে তার প্রকৃত স্বাধীনতা মাপা যায় না। সেটা মাপা যায় তার ‘ফাংশনিং’ দিয়ে। অর্থাৎ তিনি বাস্তবে কী হতে পারেন এবং কী করতে সক্ষম, তার মধ্য দিয়ে। অধিকার আর সক্ষমতার মধ্যে যে ফাঁক থাকে, অমর্ত্য সেন সেই ফাঁকটিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন বলে চিহ্নিত করেছেন।

একজন নারী আইনিভাবে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাখেন। এটি কাগজে-কলমে সত্য। কিন্তু সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক নির্ভরতা ও অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের কারণে সেই অধিকার বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা তার নাও থাকতে পারে। অধিকার কাগজে থাকলেও সক্ষমতা বাস্তবে না থাকলে সেই অধিকার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। এটিই অমর্ত্য সেনের তত্ত্বের মূল কথা।

পিংক বাস ও খাসির ঘটনা পাশাপাশি রাখলে এই তাত্ত্বিক পার্থক্যটি অস্বাভাবিক রকম স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পিংক বাস নারীকে এক নতুন সক্ষমতা দিচ্ছে। নিরাপদে চলাচলের সক্ষমতা। এখানে রাষ্ট্র শুধু অধিকার ঘোষণা করেনি, বাস্তবে সেই অধিকার প্রয়োগের অবকাঠামোও তৈরি করেছে—বাস দিয়েছে, রুট ঠিক করেছে, চালক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ফাংশনিং এখানে সরাসরি অধিকারের সঙ্গে মিলে গেছে। কারণ, রাষ্ট্র মাঝখানের দূরত্বটি নিজে ভরাট করে দিয়েছে।

কিন্তু বিয়ের প্রশ্নে নারীর সেই একই ধরনের সক্ষমতা কোথায়? তার ‘অধিকার আছে’ বলা সহজ, কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ করার মতো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কি তার হাতে আছে? আখাউড়ার মেয়েটির ক্ষেত্রে অবমাননাকর শর্ত প্রত্যাখ্যান করার সক্ষমতা এসেছিল বাবার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে, নিজের সক্ষমতা হিসেবে নয়। অর্থাৎ ‘নারী বাস চালাতে পারেন’ আর ‘নারী অবমাননাকর বিয়ের শর্ত প্রত্যাখ্যান করতে পারেন’, এই দুটি বাক্য দেখতে একই রকম মনে হলেও তাত্ত্বিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্নস্তরের দাবি করে। প্রথমটিতে সক্ষমতা রাষ্ট্রনির্মিত এবং নারীর নিজস্ব। দ্বিতীয়টিতে সক্ষমতা ধার করা, শর্তসাপেক্ষ এবং অন্যের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

এই নির্ভরতার প্রকৃতি বোঝার জন্য প্রশ্ন করা দরকার, একই সামাজিক বাস্তবতায় বাস করেও দুজন বাবা কেন দুই ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেন? আখাউড়ার ঘটনায় দুজন মেয়ের বাবাকে আমরা দেখতে পাই। প্রথম মেয়েটির বাবা সামাজিক চাপের বিপরীতে দাঁড়িয়ে মেয়েকে ওই বরের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। অথচ ঠিক একই সামাজিক পরিস্থিতিতে ছেলেটির সঙ্গে নিজের মেয়ের বিয়েতে অন্য একজন বাবা আস্ত খাসি জোগাড় করলেন।

দুজন বাবাই একই সমাজে বাস করেন, একই সামাজিক প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে যান। তবু একজন প্রত্যাখ্যান করলেন, আরেকজন মেনে নিলেন। অমর্ত্য সেনের কাঠামোয় এই বৈপরীত্যের অর্থ স্পষ্ট—মেয়ের মর্যাদা রক্ষা পাবে কি না, তা সমাজে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে কোন বাবার হাতে সিদ্ধান্তের ভার পড়ছে তার ওপর। যেখানে ব্যক্তিগত সাহস একটি অধিকারের বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে বুঝতে হবে অধিকারটি আসলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনুপস্থিত এবং সক্ষমতা ব্যক্তিভেদে লটারির মতো বণ্টিত হচ্ছে। এক পরিবারে মেয়ের মর্যাদা জেতে, আরেক পরিবারে হেরে যায়। অথচ দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট প্রায় একই।

আমাদের সমাজে এমন পরামর্শ খুব অস্বাভাবিক নয় যে, ‘আরে একটা খাসি জোগাড় করে দাও, বিয়েটা তো আর ভাঙা যায় না’। কারণ, মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেলে সামাজিক দায়, লজ্জা, আত্মীয়স্বজনের কথা সবকিছুর চাপ কেবল মেয়ের পরিবারের ওপরই পড়ে। ‘বিয়ে তো একবারই হয়’, ‘এতটুকু বিষয় নিয়ে বিয়ে ভাঙা ঠিক না’, ‘মেয়েকে একটু মানিয়ে নিতে বলো’—এই বাক্যগুলোর মধ্যে সমাজ কীভাবে নারীকে মর্যাদা দিয়ে থাকে তা বোঝা যায়।

প্রকৃত অর্থে, এগুলো সক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার ভাষা। প্রত্যাখ্যানের আইনি অধিকার অস্বীকার না করেই তার প্রয়োগকে অসম্ভব করে তোলার কৌশল। যে বাবা প্রত্যাখ্যান করলেন, তিনি মূলত নিজেই হয়ে উঠলেন মেয়ের সক্ষমতার সাময়িক বিকল্প। আর যে বাবা মেনে নিলেন, তিনি কোনো দুর্বল মানুষ নন, বরং এমন একটি কাঠামোর ভেতর সিদ্ধান্ত নিলেন যেখানে মেনে নেওয়াটাই স্বাভাবিক পথ বলে বিবেচিত হয় এবং প্রত্যাখ্যান করাটাই ব্যতিক্রম।

প্রশ্নটা তাই কেবল ব্যক্তির সাহস নিয়ে নয়। প্রশ্নটা হলো, একটি সমাজের মর্যাদা কি কারো ব্যক্তিগত সাহসের ওপর নির্ভর করা উচিত? নাকি এটি এমন একটি সক্ষমতায় পরিণত হওয়া উচিত, যা প্রতিটি নারীর নিজস্ব, যার জন্য কোনো ব্যতিক্রমী বাবার প্রয়োজন পড়ে না?

নারীবাদী রাষ্ট্রদার্শনিক ক্যারল পেটম্যান দেখিয়েছেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ‘পাবলিক’ ও ‘প্রাইভেট’ পরিসরের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে রাখে। যার ফলে রাষ্ট্র ও পরিবার আলাদা। তাইতো কে বাস চালাবে তা রাষ্ট্র করতে পারে, কিন্তু বিয়ের টেবিলে কে কী দাবি করবে সেই প্রশ্নে রাষ্ট্রের মুখে কুলুপ আঁটা থাকে। ফলে যে পরিসরে নারীর সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয়, ঠিক সেই পরিসরেই রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের হাত সবচেয়ে কম পৌঁছায়।

একইভাবে, আমরা শুধু এমন একটি সমাজ চাই না যেখানে নারীরা নারীর জন্য বরাদ্দকৃত বাস চালাতে পারবেন। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে একজন নারী জীবনের সিদ্ধান্তেও নিজের আত্মমর্যাদা নিয়ে দাঁড়াতে পারবেন এবং এর জন্য তাকে একজন ব্যতিক্রমী বাবার সাহসের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

ফাতিমা আমিন: সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউটিউবের ভিউ নিয়ে যে পরিবর্তন আসছে

সাধারণ ভিডিওর ভিউ গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। নতুন নিয়মে সাধারণ ভিডিওর ভিউ গণনার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।

এখন থেকে কোনো ইউজার ভিডিও চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ‘ভিউ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। একইভাবে, কোনো ব্যবহারকারী লাইভ স্ট্রিমে প্রবেশ করলেই সেটিও ভিউ হিসেবে গণনা করা হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে ইউটিউবের সাধারণ ভিডিওর ভিউ গণনার পদ্ধতি ‘শর্টস’-এর ভিউ গণনার পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী টিকটক ও ইনস্টাগ্রামও একই ধরনের পদ্ধতিতে ভিউ গণনা করে থাকে।

আগামী ২৪ আগস্ট থেকে নতুন নিয়মটি কার্যকর হবে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব।

ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে দেওয়া ঘোষণায় ইউটিউব আরও জানায়, ‘বিভিন্ন ভিডিও ফরম্যাটে ভিউ গণনার বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভিডিওটি কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’

এই পরিবর্তনের ফলে ইউটিউবের যেকোনো ভিডিওর ভিউয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। নতুন নিয়মে কোনো ভিডিওর প্রথম কয়েক সেকেন্ড দেখে ইউজাররা অন্য ভিডিও বা কনটেন্টে চলে গেলেও সেটি ভিউ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইউটিউব আগের এনগেজমেন্টভিত্তিক ভিউয়ের হিসাবটি নতুন নাম ‘এনগেজড ভিউজ’-এ রেখে দিচ্ছে, যা কনটেন্ট নির্মাতাদের অ্যানালিটিকস টুলে দেখা যাবে। এর মাধ্যমে কতজন দর্শক ভিডিওটি চালু হওয়ার পরও দেখা চালিয়ে গেছেন, তা বোঝা যাবে।

একদিকে ভিউ গণনার সীমা শিথিল করে প্রকাশ্য ভিউয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে ইউটিউব, অন্যদিকে ‘এনগেজড ভিউজ’ রেখে প্রকৃত দর্শক-আগ্রহের হিসাবও আলাদাভাবে দেখার সুযোগ দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, এই পরিবর্তনের ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় বা ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে তাদের যোগ্যতার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

সম্প্রতি নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য মনিটাইজেশনের নিয়ম আরও কঠোর করেছে ইউটিউব। চ্যানেল থেকে আয় শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সীমা আলাদাভাবে বাড়ানোর কিছুদিন পরই ভিউয়ের নিয়ম বদলের এই ঘোষণা এলো।

ইতোমধ্যে মনিটাইজেশনের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

আগামী বছর থেকে নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের আগের এক বছরে কমপক্ষে ৮ হাজার কোয়ালিফায়েড ওয়াচ আওয়ার অথবা বিগত ৯০ দিনে ২ কোটি কোয়ালিফায়েড শর্টস ভিউ থাকতে হবে। ইউটিউবের নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ হলেই কেবল ভিউকে কোয়ালিফায়েড বা ‘আয়ের যোগ্য’ হিসেবে ধরা হয়।

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন প্রকাশ্য ভিউয়ের সংখ্যা বাড়লেও এর ভিত্তিতে কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় বাড়বে না। ইউটিউব জানিয়েছে, নির্মাতাদের আয় আগের মতোই ‘এনগেজড শর্টস ভিউজ’ ও ‘এনগেজড ওয়াচ আওয়ার’-এর ভিত্তিতে হবে। একইভাবে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘কোয়ালিফায়েড শর্টস ভিউজ’ ও ‘কোয়ালিফায়েড ওয়াচ আওয়ার’ বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ, নতুন নিয়মে প্রকাশ্য ভিউয়ের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে; কিন্তু প্রকৃত দর্শক-আগ্রহ এবং আয় বোঝার ক্ষেত্রে ‘এনগেজড ভিউজ’ ও ওয়াচ আওয়ারই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।