31.4 C
Dhaka
Home Blog

হামলার পর বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি প্লান্টে উৎপাদন বন্ধ করল কাতার

ইরানের হামলার পর রাস লাফান কমপ্লেক্সে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করেছে কাতার এনার্জি।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানায়।

বিবৃতি অনুযায়ী, কাতার এনার্জি জানায়, একটি ড্রোন কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংককে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। রাস লাফানের একটি জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ড্রোনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

নাগরিক, বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে, গুজব এড়িয়ে চলতে এবং তথ্যের জন্য সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করতে।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বৃহৎ পরিসরে হামলা চালায়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কয়েকজন ইরানি নেতা নিহত হন। সেই প্রেক্ষাপটেই এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম। মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩-এর সেকশন ৭ অনুসারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য মো. আমিনুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদা, প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

একই প্রজ্ঞাপনে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগসংক্রান্ত আদেশটি বাতিল করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

২০১০ সালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলেও বর্তমানে এখানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিগত সরকারের শীর্ষ নেতাদের বিচার চলছে।

সেলফি ভেরিফিকেশনে ফেসবুকে মিলবে ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামে নতুন একটি বিনামূল্যের ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করেছে মেটা। এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একটি ভিডিও সেলফি দিয়ে প্রমাণ করতে পারবেন যে, প্রোফাইলটি সত্যিকারের ব্যক্তি ব্যবহার করেন।

মেটার এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই প্রক্রিয়া সফল হলে প্রোফাইলে ‘ভেরিফায়েড ব্যাজ’ যুক্ত হবে। তবে এজন্য কোনো ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি দরকার হবে না।

মেটা জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে ভুয়া ছবি, প্রোফাইল ও বার্তা তৈরি এখন অনেক সহজ। তাই প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে ও অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ডেটিং, গ্রুপস ও ব্যক্তিগত প্রোফাইলে এই ব্যাজ দেখা যাবে।

ফেসবুক অ্যাপ থেকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে।

প্রথম সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি ট্যাবে ক্লিক করতে হবে, এরপর সেটিংসে গিয়ে অ্যাকাউন্টস সেন্টার নির্বাচন করতে হবে। সেখান থেকে পাসওয়ার্ড অ্যান্ড সিকিউরিটি ট্যাব নির্বাচন করে ভেরিফিকেশন সেলফিতে ক্লিক করতে হবে।

ভেরিফিকেশন সেলফিতে ক্লিক করার পর পর্দায় দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করে জমা দিতে হবে। এরপর ফেসবুক ভিডিও সেলফির সঙ্গে প্রোফাইলে থাকা ছবিগুলোর মিল যাচাই করবে।

ভিডিও সেলফি দেওয়ার সময় যা খেয়াল রাখবেন—মুখ যেন স্পষ্টভাবে দেখা যায়, পর্যাপ্ত আলোতে ভিডিও ধারণ, মাস্ক, সানগ্লাস বা ক্যামেরার ফিল্টার ব্যবহার করবেন না, নির্দেশনা অনুযায়ী মাথা ও মুখ নড়াচড়া করতে হবে।

মেটার তথ্য অনুযায়ী, পুরো যাচাই প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।

ভেরিফিকেশন সেলফি অপশন পেলেই যে সবাই ভেরিফায়েড ব্যাজ পাবেন, এমন নয়। ব্যাজ পাওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

শর্তগুলো হলো—ব্যবহারকারীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। অ্যাকাউন্টটি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস মেনে চলতে হবে। প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের কোনো প্রমাণ থাকা যাবে না।

বর্তমানে ফিচারটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে চালু করা হচ্ছে। তাই কারও অ্যাকাউন্টে ভেরিফিকেশন সেলফি অপশন দেখা গেলেও অন্য কারও অ্যাকাউন্টে এটি এখনো নাও থাকতে পারে।

এ সুবিধাটি আপাতত সাধারণ ফেসবুক প্রোফাইলের জন্য চালু হচ্ছে। আপাতত পেজ বা প্রোফেশনাল মোড চালু থাকা প্রোফাইলের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে মেটা।

না। এই ব্যাজ শুধু নিশ্চিত করে যে প্রোফাইলটি সত্যিকারের ব্যক্তি চালান। তবে এর মানে এটা নয় যে, কোনো ব্যবহারকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা, বক্তব্যের সত্যতা বা অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া। তাই ভেরিফায়েড ব্যাজ থাকলেও অনলাইনে লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সব সময় সতর্ক থাকা উচিত।

হালান্ডের গতিও ব্রাজিলের দুশ্চিন্তার কারণ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এবার ব্রাজিলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন আর্লিং হালান্ড। গোল করার অসাধারণ দক্ষতার পাশাপাশি বিধ্বংসী গতিও নরওয়ের এই তারকার অন্যতম বড় অস্ত্র। আর ফিফার প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গতি বিবেচনায় এখন পর্যন্ত হালান্ডের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৫৩ ম্যাচে ৬০ গোলের দুর্দান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে খেলছেন হালান্ড। তবে শুধু গোলই নয়, তার ভয়ংকর গতিও প্রতিপক্ষের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৬.৫ কিলোমিটার, যা তিনি ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচে স্পর্শ করেন। এরপর সেনেগালের বিপক্ষে তার সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৫.২ কিলোমিটার। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে খেলেননি। আর আইভরি কোস্টের বিপক্ষে তার সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৩১.৪ কিলোমিটার।

অন্যদিকে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুতগতির রেকর্ড ডান-ব্যাক দানিলোর। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ঘণ্টায় ৩৪.২ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন। অর্থাৎ হালান্ডের সর্বোচ্চ গতির তুলনায় তিনি ঘণ্টায় ২.৩ কিলোমিটার পিছিয়ে। ব্রাজিলের অন্য খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ গতিও তুলনামূলকভাবে কম।

ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের গতি—

•    স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দানিলো – ৩৪.২ কিমি/ঘণ্টা
•    মরক্কোর বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র – ৩৪.১ কিমি/ঘণ্টা
•    জাপানের বিপক্ষে মারকিনিওস – ৩৩.৮ কিমি/ঘণ্টা
•    হাইতির বিপক্ষে রাফিনিয়া – ৩৩.৩ কিমি/ঘণ্টা

অন্যদিকে হালান্ডের গতি—

•    ইরাকের বিপক্ষে – ৩৬.৫ কিমি/ঘণ্টা
•    সেনেগালের বিপক্ষে – ৩৫.২ কিমি/ঘণ্টা
•    আইভরি কোস্টের বিপক্ষে – ৩১.৪ কিমি/ঘণ্টা
•    ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলেননি।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বাংলাদেশ সময় রোববার রাতে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। ম্যাচটির জয়ী দল আগামী ১১ জুলাই মায়ামিতে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলবে।
 

আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান শফিকুর রহমানের

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে অবহেলা, ত্রুটি বা অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; পুরো হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে শুক্রবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সবাই গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে, যা মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

শফিকুর রহমান বলেন, তদন্তের মাধ্যমে কোনো অবহেলা, ত্রুটি কিংবা অপরাধ চিহ্নিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তা না করে যে হাসপাতালটি ‘গরিবের হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এবং মানসম্মত সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, সেই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এতে শেষ পর্যন্ত জনগণেরই ক্ষতি হবে।

তিনি আরও বলেন, আদ-দ্বীন একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মেডিকেল শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি নার্সিং কোর্সও চালু রয়েছে। লাইসেন্স বাতিলের ফলে এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকারের প্রতি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কারও দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া কাম্য নয়।

‘বয়স তো কেবল একটি সংখ্যা’

একসময় ঢালিউডের পর্দা মাতানো জনপ্রিয় নায়িকা রোজিনা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও যুক্ত ছিলেন এই তারকা। তার হাতে নির্মিত হয়েছে একাধিক নাটক ও চলচ্চিত্র।

কিছুদিন বিরতির পর আবারও নতুন সিনেমা পরিচালনায় ফিরছেন রোজিনা। নতুন সিনেমার নাম আপাতত ‘এখনই সময়’—তবে নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আছে।

রোজিনা বলেন, ‘গল্প নিয়ে শিগগিরই বসব। এটি ছটকু আহমেদ ভাইয়ের গল্প।’

নতুন সিনেমা নিয়ে তিনি জানান, এটি হবে পারিবারিক গল্পের সিনেমা। তবে কেবল বিনোদন নয়, দর্শকদের জন্য থাকবে স্পষ্ট বার্তা।

তার ভাষায়, ‘দর্শকরা ভালো একটি বার্তা পাবেন। আমার নতুন সিনেমায় কিছু বার্তা থাকবে।’

সামাজিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসবে এই সিনেমাতে। রোজিনা বলেন, ‘আমাদের সমাজে, বিশেষ করে গ্রামে এখনো যৌতুকের প্রচলন আছে। এটি খুবই ক্ষতিকর, এক ধরনের অপরাধও বলা যায়। এই বিষয়টিও আমার সিনেমায় তুলে ধরতে চাই।’

শুটিং কবে শুরু হবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানাতে পারেননি তিনি। বলেন, ‘সিনেমা মানেই বড় বাজেট, বড় টিম। অনেক প্রস্তুতির বিষয় থাকে। ধীরে ধীরে সব গুছিয়ে নিচ্ছি। আশা করছি ভালো কিছু হবে।’

অভিনয়ে কারা থাকবেন—এ প্রশ্নে রোজিনা জানান, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। তবে আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘ভালো ভালো শিল্পীরা অভিনয় করবেন।’

সিনেমার সঙ্গে সম্পর্ক রোজিনা স্মৃতিচারণ করেন শৈশবের। তার বাড়ি রাজবাড়ীতে। সেখানে ‘চিত্রা’ নামে একটি সিনেমা হল ছিল, যেখানে ছোটবেলায় নিয়মিত সিনেমা দেখতেন। তিনি বলেন, ‘জীবনের প্রথম দেখা সিনেমার কথা এখনো মনে আছে, নাম ছিল সাত ভাই চম্পা। সেখানে কবরী ম্যাডাম ছিলেন।’

মায়ের কাছ থেকেও শিল্পের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন রোজিনা। তিনি জানান, তার মা হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান করতেন, বিশেষ করে রবীন্দ্রসংগীত। একই সঙ্গে ধর্মীয় চর্চাও করতেন।

‘তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি,’ বলেন তিনি।

গত ২০ এপ্রিল ছিল রোজিনার জন্মদিন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জন্মদিন কখনো বড় করে উদযাপন করি না। তবে সারা দিন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পাই—এটা ভালো লাগে।’

বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হেসে উড়িয়ে দেন তিনি। বলেন, ‘বয়স তো একটা সংখ্যা মাত্র। একটা জীবন সিনেমার মধ্যেই কাটিয়ে দিলাম। আমি সিনেমার মানুষ। এই শিল্পকে ভীষণ ভালোবাসি। জীবনে কিছু কাজ করতে পেরেছি, আরও করতে চাই।’

এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ঢাকায় প্রতি আসনে ১৫২ আবেদনকারী

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) প্রতিটি জেলার নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য দেশব্যাপী প্রায় ৮৩ হাজার আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এসব আবেদনকারী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। সে হিসাবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ৩২ জনের বেশি বৈধ আবেদনকারী প্রতিযোগিতা করছেন। ঢাকা জেলায় ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৭৮০ জন। ফলে সেখানে প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ১৫২ জন আবেদনকারী।

লিখিত পরীক্ষা চলাকালে ঢাকার কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পরিচালনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় একই সময়ে সুষ্ঠুভাবে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার আলোকে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে।

তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে ৩০ জুলাই। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে আগামী ২ আগস্ট থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে মোট ১১ হাজার ২০০ জন যুব ও যুব নারীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জন বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জন অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ দুই মাস। এ সময়ে ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বেসিক এআই প্রশিক্ষণে চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফট কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, গ্রামারলি, কুইলবট, জ্যাসপার, ক্যানভা, পিক্সলার, ইনভিডিও এবং ইলেভেনল্যাবস ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণে রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, মিডজার্নি, ট্যাবলো, জ্যাপিয়ার, ডিসক্রিপ্ট, ক্লিকআপ, নোশন এআই, ডরিক এআই, আহরেফস, সেলসফোর্স, হাবস্পট, কপি ডট এআই, অ্যাডোবি সেনসেই, ড্যাল-ই এবং ভিও প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রশিক্ষণে কেবল বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের কৌশল নয়, এআইভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও নির্মাণ, ডেটা বিশ্লেষণ, অটোমেশন, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ইরানি হামলায় ৪ মার্কিন সেনা নিহত: প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে সম্মিলিত আক্রমণের পর ইরানের পাল্টা হামলায় এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৪ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

পিট হেগসেথ বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একতরফা ও নির্মম যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। বৈরুতে গাড়ি বোমা হামলা, আমাদের জাহাজে রকেট হামলা, আমাদের দূতাবাসে হত্যাকাণ্ড, ইরাক ও আফগানিস্তানে সড়কপথে বোমা হামলার মাধ্যমে তারা এটি করে আসছে।’

‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা এটি শেষ করছি,’ বলেন তিনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত জুনে ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তারা ঔদ্ধত্যের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প, শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার কূটনৈতিক সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শান্তিপূর্ণ ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তি করার প্রতিটি সুযোগ থাকলেও তেহরান আলোচনায় আগ্রহী ছিল না।’

অপরেশন এপিক ফিউরির লক্ষ্য সম্পর্কে হেগসেথ বলেন, ‘শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ঢাল তৈরির হুমকি দিয়ে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে চেয়েছিল ইরান। আমাদের লক্ষ্য তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎপাদন সক্ষমতা, তাদের নৌবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা অবকাঠামো ধ্বংস করা। যেন ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।’

‘আমরা তাদের ওপর নিখুঁতভাবে, ব্যাপক মাত্রায় ও বিন্দুমাত্র ক্ষমা না দেখিয়ে আঘাত হানছি,’ বলেন হেগসেথ।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রধান ও জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযান এক রাতের কোনো একক মিশন নয়।’

‘আমরা আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছি, তবে সবসময়ই আমরা মার্কিন ক্ষতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করব,’ বলেন কেইন। 

সপ্তাহখানেক ধরে ভালো আছি বেশ: কালের কণ্ঠকে রাষ্ট্রপতি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছিল। কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই সাক্ষাৎকারে অন্যান্য বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

কেমন আছেন জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সপ্তাহখানেক ধরে ভালো আছি বেশ।’

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর বঙ্গভবনে কেমন কেটেছে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই দেড় বছর আমি কোনো আলোচনায় নেই অথচ আমাকে নিয়ে চলে নানা চক্রান্ত। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়চিত্তে আমার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম। যে কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি। দেড় বছর বঙ্গভবনের অভিজ্ঞতা যে ভালো, তা বলা যাবে না। আমার ওপর দিয়ে যে ঝড় গেছে, এ রকম ঝড় সহ্য করার মতো ক্ষমতা অন্য কারো ছিল কি না আমি জানি না।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপে তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ‘এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও একটা সিদ্ধান্তে এসেছিল। সেটা হলো, যদি রাজনৈতিক দলগুলো চায় আমি অপসারিত হই, তাহলেই শুধু আমি অপসারিত হতে পারি; নচেত্ নয়। পরে দেখা গেল যে এই ইস্যুতে দুটি গ্রুপ হয়ে গেল।’

তিনি জানান, বিএনপির উচ্চপদে আসীন এক নেতা তাকে সমর্থনের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। ‘আমি বলব যে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা একটা গ্রুপ হয়ে যায়। আর আরেকটা গ্রুপ হয়ে যায়, তাদের আপনারা সবাই চেনেন। তবে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। উদ্যোগটা ব্যর্থ হলো বিএনপি ও তাদের জোটের কারণে।’

‘রাজনৈতিক পর্যায় থেকে ওই উদ্যোগটা ব্যর্থ হলে খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেই নতুন করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে এসে আমার জায়গায় বসানোর চক্রান্ত করে অন্তর্বর্তী সরকার। আমি বিষয়টি জেনেছি। সরকারের পক্ষ থেকে একজন উপদেষ্টা ওই বিচারপতির শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তারা ঘণ্টাব্যাপী মিটিং করেন। তবে ওই বিচারপতি রাজি হননি।’  

তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে সমর্থন পাওয়ার কথা জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘তারা বিভিন্ন সময় আমার কাছে এসে আমাকে মনোবল দিয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকে আরেকবার আমাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে শুনেছি। তখনো তিন বাহিনীর প্রধানরা আমার পক্ষে অবস্থান নেন। বঙ্গভবনের সামনে যখন মব সৃষ্টি করা হয়, তখনো সশস্ত্র বাহিনী অবস্থান নিয়েছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সবশেষ চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘না, কোনো কিছুই আমি জানি না। এ রকম রাষ্ট্রীয় একটা চুক্তি অবশ্যই আমাকে জানানো দরকার ছিল। এটা ছোটখাটো হোক আর বড় কিছু হোক, অবশ্যই পূর্ববর্তী সরকারপ্রধানরা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন। আর এটি হলো সাংবিধানিক একটা বাধ্যবাধকতা। কিন্তু তিনি তো তা করেননি।’

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘উনি যে প্রধান উপদেষ্টা হলেন, সেই প্রক্রিয়ার উৎসই ছিলাম আমি। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা পরবর্তী সময়ে আমার সঙ্গে সেভাবে সমন্বয় করেননি। এটি আসলে বোঝানোর কোনো উপায়ও নেই। কেননা তিনি একটিবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি। আমাকে সম্পূর্ণভাবে আড়ালে রাখার চেষ্টা করে গেছেন। আমার দুইবার বিদেশ সফর উনি আটকে দিয়েছেন।’

কেন বিদেশ সফরে যেতে দেওয়া হয়নি বলে মনে করেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই সরকার চায়নি কোথাও আমার নাম আসুক। আমাকে একদম অন্ধকারে ফেলে রাখার চেষ্টা করেছে। তারা চায়নি জনগণ আমাকে চিনুক, জানুক। এটি আমাকে খুবই কষ্ট দিয়েছে। শুধু বিদেশে নয়, দেশের কোনো অনুষ্ঠানেও আমাকে যেতে দেয়নি। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির যাওয়ার কথা। সেটিও তারা আটকে দেয়।’

‘এক রাতের মধ্যে সারা পৃথিবীর সব হাইকমিশন থেকে আমার ছবি নামিয়ে দেওয়া হলো। দীর্ঘদিনের একটা রেওয়াজ রাতারাতি শেষ করে দেওয়া হলো। ওই ঘটনাটি গণমাধ্যমে এলে আমি জানতে পারি। তখন আমার মনে হয়েছে যে এটি বোধহয় আমাকে অপসারণের প্রথম ধাপ। সুতরাং পরবর্তী ধাপে হয়তো আমাকে সরিয়ে দেবে। এ জন্য আমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং প্রত্যাহার করে নেয়— এমনটি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এসব করা হয়েছে বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমার এক্সপোজারটা বন্ধ করার জন্য। এই যে দেশের বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়, সেখানে রাষ্ট্রপতির ছবি ও বাণী দেওয়া বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।’

মানুষের আগেও কি উন্নত সভ্যতা ছিল, থাকলে জানা সম্ভব?

ডাইনোসরের কথা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু কখনো কি ভেবেছি, মানুষের জন্মের অনেক আগে পৃথিবীতে যদি আমাদের মতো আরেকটি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকত? তারা যদি বড় বড় শহর বানাত, যন্ত্র ব্যবহার করত, এমনকি নিজেদের ভুলে একদিন হারিয়েও যেত। তাহলে কি আজ তাদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পেতাম?

এই কৌতূহল থেকেই ২০১৮ সালে একটি ব্যতিক্রমী গবেষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্জীববিজ্ঞানী অ্যাডাম ফ্র্যাঙ্ক এবং নাসার জলবায়ুবিজ্ঞানী গ্যাভিন শ্মিট। তারা এই ধারণার নাম দেন ‘সিলুরিয়ান হাইপোথিসিস’। নামটি নেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ডক্টর হু-এর কাল্পনিক সরীসৃপ জাতির নাম থেকে।

গবেষকেরা বলছেন, এটি কোনো দাবি নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক চিন্তার পরীক্ষা। যার উদ্দেশ্য হলো, যদি সত্যিই অতীতে কোনো উন্নত সভ্যতা থেকে থাকে, তাহলে তারা পৃথিবীতে কী ধরনের চিহ্ন রেখে যেতে পারত এবং আজ আমরা সেগুলো শনাক্ত করতে পারতাম কি না।

প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। অনেক প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস নিঃসরণের কারণে হতে পারে। তবে সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

এই ঘটনাটির সঙ্গে বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু মিল দেখে গবেষকদের মনে প্রশ্ন জাগে, এটি কেবলই প্রাকৃতিক ঘটনা, নাকি অন্য কোনো সম্ভাবনাও থাকতে পারে?

এখন প্রশ্ন হলো, কোনো সভ্যতা থাকলে তার প্রমাণ কি টিকে থাকত?

বিজ্ঞানীদের মতে, খুব সম্ভবত শহর, ভবন বা রাস্তার মতো স্থাপনা কোটি কোটি বছর টিকে থাকত না। পৃথিবীর ভূত্বক সব সময় বদলে যাচ্ছে। ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি, ক্ষয় ও টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ায় পুরোনো সবকিছু ধীরে ধীরে মুছে যায়। জীবাশ্ম থেকেও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া কঠিন। কারণ পৃথিবীতে মারা যাওয়া প্রাণীদের খুব অল্প অংশই জীবাশ্মে পরিণত হয়।

গবেষকদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে পৃথিবীর রাসায়নিক পরিবর্তনের রেকর্ড। যেমন—বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত কার্বনের চিহ্ন, মাটির স্তরে প্লাস্টিকের অবশিষ্টাংশ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ব্যবহৃত ভারী ধাতুর উপস্থিতি, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কৃত্রিম রাসায়নিক বা হরমোনের চিহ্ন।

তারা বলছেন, মানুষের বর্তমান সভ্যতা একদিন বিলীন হয়ে গেলেও, এসব উপাদান হয়তো কোটি বছর পরও ভূস্তরে থেকে যেতে পারে।

তাহলে কি সত্যিই মানুষের আগেও উন্নত সভ্যতা ছিল? এই প্রশ্নের কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা নিজেরাও এমন কোনো সভ্যতার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না। তবে তারা বলছেন, বর্তমান তথ্য দিয়ে এ সম্ভাবনাকে শতভাগ বাতিলও করা যায় না।

Sand dunes in bright sun in the Negev Desert, Israel. This is the oldest large-scale stretch of land on Earth.

অন্যদিকে, অনেক ভূতত্ত্ববিদ মনে করেন, যদি মানুষের মতো বড় আকারের প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতা আগে থাকত, তাহলে শহর, ধাতু, প্লাস্টিক ও শিল্পকারখানার বর্জ্যের স্পষ্ট চিহ্ন পৃথিবীতে পাওয়া যেত। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য অতীতের কোনো হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার খোঁজ নয়। বরং এটি আমাদের বর্তমান নিয়েই প্রশ্ন তোলে, যেমন—মানবসভ্যতা কি প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসইভাবে টিকে থাকতে পারবে, নাকি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একদিন নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে?

বিজ্ঞানীদের ভাষায়, পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার মতো প্রযুক্তি মানুষ তৈরি করেছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সেই প্রযুক্তির পরিণতি সামলে আমরা কত দিন টিকে থাকতে পারব?

সূত্র: সিএনএন