27.1 C
Dhaka
Home Blog

স্বাধীনতার অনেক আকাঙ্ক্ষাই পূরণ হয়নি: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার অনেক আকাঙ্ক্ষাই পূরণ হয়নি। আর পূরণ হয়নি বলেই নতুন প্রজন্মকে আবারও রক্ত ও জীবন দিতে হয়েছে। আমরা চাই, সামনে যাতে আর এমন না হয়।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এই দিনে স্বাধীনতার সপক্ষে যারা ছিলেন, শহীদ হয়েছিলেন এবং যেসব মা-বোন বীরাঙ্গনা হয়েছেন, তাদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের যে আকাঙ্ক্ষা এবং ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, সেই সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা এখন সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।’

কী থাকছে ঈদের ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদে থাকছে বিটিভির সুপরিচিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’। নানা বৈচিত্র্যময় আয়োজনে সাজানো হচ্ছে অনুষ্ঠানটি

অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে ঈদের দিন রাত ১০টায়। 

জেনে নেয়া যাক কী থাকছে ঈদের ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে। 

অনুষ্ঠানে থাকছে তারকাদের নৃত্য পরিবেশনা। এখানে নাচবেন পূজা চেরি, মেহজাবীন চৌধুরী, রিচি সোলায়মান, চাঁদনী এবং আনিকা কবির শখ। 

 

সংগীত পরিবেশনায় থাকছেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, মনির খান, রবি চৌধুরী, ন্যান্সি, নাসির ও চিরকুট ব্যান্ড। 

দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে মনির খান ও কনকচাঁপা গাইবেন ‘প্রেমের তাজমহল’ গানটি।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে থাকবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় আকর্ষণীয় অ্যাক্রোবেটিক শো।

কৌতুক পরিবেশন করবেন কৌতুকশিল্পী আবু হেনা রনি। পাশাপাশি থাকবে যন্ত্রসংগীতে “রমজানের ঐ রোজার শেষে”, বিশেষ জিঙ্গেল ও নাটিকা। 

এবারের ‘আনন্দমেলা’ উপস্থাপনা করবেন মাসুমা রহমান নাবিলা ও ইরফান সাজ্জাদ।  

অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন আফরোজা সুলতানা, হাসান রিয়াদ ও ইয়াসমিন আক্তার।

ইরান ঘিরে উত্তেজনা: কাতার ও বাহরাইন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কাতার ও বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সংবাদ মাধ্যম গালফ নিউজ জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা একে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যাহার করা সেনা সদস্যরা কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ছিলেন।

এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন তেহরানের সঙ্গে সামরিক মুখোমুখি সংঘাতের আশঙ্কা এবং পুরো অঞ্চলে পাল্টা হামলার ঝুঁকি নিয়ে ওয়াশিংটনে উদ্বেগ বাড়ছে।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা আল উদেইদে প্রায় ১০ হাজার সেনা অবস্থান করেন। অঞ্চলজুড়ে মার্কিন বিমান অভিযানে এই ঘাঁটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা জানান, হঠাৎ উত্তেজনা বৃদ্ধি ঘটলে সেনাদের ঝুঁকি কমাতেই এটি হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে আসন্ন সংঘাতের ইঙ্গিত হিসেবে নয়, বরং বিকল্প পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

তবে ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিগুলোর নেটওয়ার্কজুড়ে মার্কিন বাহিনী এখনো মোতায়েন রয়েছে।

সিন্ডিকেট ভাঙার পরিকল্পনা করেছি: বিমান প্রতিমন্ত্রী

গণতান্ত্রিক সরকার আসার পরে একটু পরিবর্তন হয়েছে—দুএক সপ্তাহের মধ্যে অনুধাবন করা যাবে বলে জানিয়েছেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আজ বুধবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুনেছি যে, আমাদের বিমান খালি যায়। অনেকেই টিকিট পাচ্ছে না, অথচ বিমান যাচ্ছে খালি। সেই সিন্ডিকেট তো রয়েছে। সেগুলো ভাঙার জন্য যে যে পরিকল্পনা দরকার, আমরা করেছি। আমরা জানি কী কী সমস্যা রয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমরা একটা পরিকল্পনা তৈরি করেছি।’

সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে পরবর্তীতে জানানো হবে, বলেন তিনি।

মিল্লাত আরও বলেন, ‘রাতারাতি তো পরিবর্তন হবে না, ধীরে ধীরে হবে।’

গত ১৫ বছরে যে দুর্নীতিগুলো হয়েছে, বিএনপি সরকার সেগুলোর তদন্ত করবে কি না জানতে চাইলে বিমান প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘অবশ্যই। দুর্নীতি হলে তো তদন্ত হবেই। দুর্নীতির দায়ে অনেকে জেলেও আছে। এখনো দুর্নীতিমুক্ত হয়নি এবং সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা চলবে।’

পর্যটনের নিয়ে সরকারের সুদূর প্রসারী চিন্তা-ভাবনা রয়েছে বলেও এ সময় তিনি জানান।

মেট্রোরেল নির্মাণে অস্বাভাবিক বাড়তি ব্যয় কি চলতেই থাকবে!

বাংলাদেশে মেট্রোরেল নির্মাণে অস্বাভাবিক বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত-সমালোচিত। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) ঋণে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যে এমআরটি-৬ নির্মাণ করা হয়েছিল, তার পেছনে সমসাময়িককালে নির্মিত অন্যান্য দেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যাশা ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মেট্রোরেলের মতো অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয়ের চর্চার অবসান ঘটবে। কিন্তু প্রথম আলোর সংবাদ অনুসারে, ঢাকায় নতুন দুটি পথে মেট্রোরেল নির্মাণে জাপানি ঠিকাদাররা প্রতি কিলোমিটারে যে ব্যয় হাঁকাচ্ছে, তা উত্তরা-মতিঝিল পথের দ্বিগুণেরও বেশি।

রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছিলো ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পথে পরিকল্পিত এমআরটি-১ ও সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি-৫ (উত্তর) মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ দাঁড়াবে কিলোমিটারে ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। এত বেশি ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ করা হলে যাত্রীদের ওপর যেমন ভাড়ার চাপ বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতিতে ঋণের বোঝাও বাড়বে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বড় অংশই বিদেশি ঋণ-নির্ভর। এসব প্রকল্পে ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে ‘দাতা সংস্থা’ এবং প্রদত্ত ঋণকে ‘সহায়তা’ হিসেবে উল্লেখ করার একটি চল রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব ঋণের উদ্দেশ্য কতটা গ্রহীতা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা, আর কতটা ঋণদাতা দেশের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও রপ্তানি বৃদ্ধি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অনেক সময়, যে দেশ ঋণ দেয় তাদের সংস্থাই প্রকল্পের পরিকল্পনা, সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরামর্শকের কাজ করছে, আবার ঠিকাদার হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়নও করছে। প্রকল্পের বেশিরভাগ কেনাকাটাও হচ্ছে ঋণদাতা দেশ থেকে। এতে প্রকল্পের লাভ-লোকসান যাচাই যেমন নিরপেক্ষ ভাবে হয় না, তেমনি প্রকল্পের খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এতে ঋণদাতা দেশের করপোরেশনগুলো লাভবান হলেও প্রকল্পের উচ্চ-ব্যয় ও যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই না করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঋণগ্রহীতা দেশের জনগণ। বাংলাদেশের মেট্রোরেল প্রকল্প যার আদর্শ উদাহরণ।

মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে জাইকার ঋণে। নির্মাণ কাজের দরপত্র দলিল তৈরি ও মূল্যায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোই। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋণ ও দরপত্রের শর্ত এমনভাবে দেওয়া হয় যেন জাপানি কোম্পানির জন্য কাজ পাওয়া সহজ হয়, অন্য কোনো দেশের কোম্পানি আর প্রতিযোগিতাই করতে না পারে। যেমন: এমআরটি-১ প্রকল্পের দরপত্রে টানেল বা পাতালপথ নির্মাণে ‘ওয়ান পাস জয়েন্ট’ পদ্ধতি প্রয়োগের শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা জাপানি ঠিকাদারের জন্য সুবিধাজনক। সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের জাপানি স্টিল ব্যবহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা মূলত জাপানের তিনটি কোম্পানি উৎপাদন করে। অন্য দেশের একই মানের স্টিল ব্যবহার করতে হলে ঠিকাদারকে অবশ্যই জাপানি রোড অ্যাসোসিয়েশন থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

এসব শর্তের কারণে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেও জাপানের বাইরের কোনো ঠিকাদার পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘুরে ফিরে জাপানি দু-তিনটা ঠিকাদার চূড়ান্ত দরপত্রে অংশ নেয়। তারা যে দর প্রস্তাব করে, সেটিই মেনে নিতে হয়। এর ফলে জাইকার ঋণে নির্মিত মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয় সমসাময়িককালে আশপাশের অন্যান্য দেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হচ্ছে।

যেমন: এমআরটি-৬ নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ ভারতে উড়ালপথে এই ধরনের মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় কিলোমিটারে ১৫০ কোটি টাকা আর পাতাল পথে সর্বোচ্চ ৪৫০ কোটি টাকা। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় বাংলাদেশের চেয়ে কম। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) বিশ্লেষণ অনুসারে, প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে তুরস্কে ৬৭২ কোটি টাকা, আইভরিকোস্টে ৪৪৮ কোটি টাকা, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ৭৮৪ কোটি টাকা, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ৭৪০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। জাইকার ঋণের শর্তে যেভাবে ঢাকার পরবর্তী দুটি মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ এর জন্য ঠিকাদার নির্ধারণ করা হচ্ছে, তাতে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় দাঁড়াবে ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় তো বেশি বটেই, এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ আমলে নির্মিত এমআরটি-৬-এর প্রায় দ্বিগুণ।

ভারতও বিদেশি ঋণে অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। কিন্তু ঋণে এমন কোনো শর্ত তারা গ্রহণ করে না, যা ঠিকাদার নিয়োগে প্রতিযোগিতা ক্ষুণ্ণ করে। এর ফলে দেখা যায় বিদেশি ঠিকাদারদের বদলে অনেক ক্ষেত্রে সেই দেশের ঠিকাদাররাও কাজ করে। এতে ব্যয়ও কম হয়। যেমন: জাইকার ঋণে ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনায় মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজের মূল ঠিকাদার সব ভারতীয়। পাতালপথের এই মেট্রো নির্মাণে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় ৪৫০ কোটি টাকা। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঋণদাতা সংস্থার অন্যায্য শর্ত মেনে নেওয়ার কারণে মারাত্মক স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।

মেট্রোরেলের বাড়তি নির্মাণ ব্যয়ের কারণ হিসেবে জাইকার পক্ষ থেকে উচ্চ গুণগত মান রক্ষার কথা বলা হয়। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাতকারে জাইকার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরা বলেছেন, ‘উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন অবকাঠামো হলো, যার প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় বেশি, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত ব্যয় কম। এটার উদাহরণ হলো, যেমন ঢাকা মেট্রোরেল। এটি উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন প্রকল্পের একটি উদাহরণ।’

জাইকার এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথমত, জাইকার ঋণে ভারতের পাটনায় যে পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে ৪৫০ কোটি টাকা। এই খরচ বাংলাদেশের সম্ভাব্য খরচের আট ভাগের এক ভাগ। তাহলে কি সেখানে জাইকা উচ্চ গুণগত মান রক্ষা করছে না? দ্বিতীয়ত, মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএলের প্রতিবেদন অনুসারে, মতিঝিল-উত্তরা মেট্রোরেল ব্যবস্থায় ৪৫টি ত্রুটি ও ঘাটতি রয়েছে, যা উচ্চ গুণগত মানের নিদর্শন নয়। এর মধ্যে সংকেত ও টেলিযোগাযোগ কাজে ১০টি, বৈদ্যুতিক কাজে ১৬ ধরনের, পুরকৌশল কাজে ১০ ধরনের এবং ট্রেন ও এর সঙ্গে যুক্ত ব্যবস্থাপনায় ৯ ধরনের ত্রুটি ও ঘাটতি রয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ১৬টি স্টেশনের অন্তত ৮৯টি জায়গায় বৃষ্টির পানি ঢোকে; অনেক স্টেশনে ট্রেন নির্দিষ্ট জায়গায় না থেমে কিছুটা আগে-পরে থামে; ডিপো এলাকায় রেললাইনে মরিচা পড়েছে; ট্রেনের ‘সেন্সরে’ ত্রুটির কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে; শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়েছে বহুবার; টিকিটি ভেন্ডিং মেশিন ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম ঘনঘন নষ্ট হয়; মানহীন বিয়ারিং প্যাড ও নকশার ত্রুটির কারণে ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে একজন পথচারীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।

এ ছাড়া, বাড়তি ব্যয়ের কারণ হিসেবে কাজের পরিধি বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির যে যুক্তি দিয়েছে জাইকা সেটাও যথার্থ কিনা তা যাচাই করতে উন্মুক্ত দরপত্র ডাকতে হবে। টাকার মূল্যমান কমে যাওয়া ও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি শুধু জাপানি ঠিকাদারের বিষয় নয়। সবার দর প্রাক্কলনেই এর প্রভাব পরার কথা। জাপানি কোম্পানিসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানির মধ্যে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা হলেই কেবল জানা সম্ভব প্রকৃত খরচ কত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের রাজধানীতে যানজট সমস্যার সমাধান হিসেবে মেট্রোরেল নির্মাণ যে প্রয়োজন, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাই বলে অস্বাভাবিক বাড়তি ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো বিদেশি সংস্থা ঋণ দিলেই তার অযৌক্তিক শর্ত মানতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কারণ, ঋণের অর্থ জনগণের করের অর্থ থেকেই পরিশোধ করতে হয়। আবার নির্মাণ ব্যয় বেশি হলে জনগণকেই বাড়তি ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। কাজেই মেট্রোরেল নির্মাণে অবশ্যই উন্মুক্ত দরপত্র ও যথাযথ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যান্য দেশের তুলনায় অস্বাভাবিক বাড়তি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে দেশীয় বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, যেন উন্নয়নের নামে দেশের জনগণের অর্থ শুধু অন্য দেশের ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যয় না হয়।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন।
[email protected]

টি-টোয়েন্টি দলে নতুন মুখ সাকলাইন, ডাক পেলেন রিপন

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুটির জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেখানে নতুন মুখ একটি— প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। আরও ডাক পেয়েছেন তরুণ পেসার রিপন মন্ডল। চীনে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে তিনি লাল-সবুজ জার্সিতে তিনটি ম্যাচ খেললেও সেখানে নিয়মিত তারকারা অংশ নেননি।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। আগামী ২৭ ও ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠেয় ম্যাচ দুটিতে বিশ্রাম পেয়েছেন তিন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি আগামী ২ মে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

২৮ বছর বয়সী সাকলাইন সাম্প্রতিক সময়ে এই ফরম্যাটের জন্য আদর্শ বোলিং দক্ষতার কারণে নজরে এসেছেন। এছাড়া, লোয়ার অর্ডারে বড় শট খেলার ক্ষমতাসম্পন্ন একজন কার্যকর ব্যাটার হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। আর বাংলাদেশের মূল জাতীয় দলে এই প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী রিপন।

দলের নেতৃত্বের ভার রয়েছে লিটন দাসের কাঁধে। তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাইফ হাসান। ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন জাকের আলী অনিক ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।

ব্যাটিং বিভাগে লিটন ও সাইফের সঙ্গে আছেন পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। অলরাউন্ডার হিসেবে সাকলাইনের পাশাপাশি থাকছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। স্পিন বিভাগে রয়েছেন শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন। আর পেস আক্রমণ গঠিত হয়েছে রিপন, শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে।

প্রথম দুটি টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশের স্কোয়াড:

লিটন দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

২ বছর পর ছন্দ ফিরছে বৈশাখের বেচাকেনায়

পহেলা বৈশাখ ঘিরে দুই বছর পর দেশে পোশাকের বিক্রিতে এই বছর ছন্দ ফিরতে শুরু করেছে।

পোশাক ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ঈদ ও নববর্ষ কাছাকাছি সময়ে হওয়ার কারণে গত দুই বছর বিক্রি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কম ছিল। আর মিষ্টি ও জুতার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও গত দুই বছরের তুলনায় এবার বিক্রি বেড়েছে।

ফ্যাশন ব্র্যান্ডের খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ায় ক্রেতাদের আস্থা ফিরেছে। দোকানেও ভিড় বেড়েছে। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকায় ব্যবসায়ী ও তাঁতি-কারিগররা বৈশাখের প্রস্তুতিতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় পেয়েছেন।

ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফ্যাশন উদ্যোক্তা সমিতি (এফইএবি বা ফ্যাশন উদ্যোগ) ২০১২ সালে একটি জরিপ করেছিল। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ফ্যাশন হাউসে সারা বছর ছয় হাজার কোটি টাকার বেচাকেনা হয়। তার মধ্যে ৫০ শতাংশই হয় রোজার ঈদে। ২৫ শতাংশ হয় পয়লা বৈশাখে। বাকিটা সারা বছর। ছয় হাজার কোটি টাকার সেই বাজার গত এক দশকে অনেক বেড়েছে বলে জানালেন সমিতির নেতারা।

রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৌমিক দাস জানান, গত দুই মৌসুমের তুলনায় এ বছরের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের মধ্যে সময় কম থাকায় প্রস্তুতি সীমিত ছিল, তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভোক্তাদের ব্যয় কমানোর প্রবণতার পরও এবার বিক্রি ভালোই হচ্ছে।

এদিকে, কে ক্রাফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা খালিদ মাহমুদ খান বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বৈশাখের পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে।

বাজারজুড়ে পাইকারি বিক্রেতা ও শাড়ি ব্যবসায়ীরাও বিক্রি বাড়ার প্রবণতা দেখছেন। উৎপাদন পর্যায়ে তাঁতি ও কারিগররাও ভালো সাড়া পাচ্ছেন, যা বৈশাখী পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, বলেন তিনি।

অঞ্জন’স-এর স্বত্বাধিকারী শাহীন আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, লম্বা সময় পর এই বছর আমরা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন পণ্য তৈরি করেছি, আর এতে ভালো সাড়া মিলেছে।

তবে বিক্রি এখনো ২০২০ সালের আগের অবস্থায় পৌঁছায়নি। ওই সময়ের তুলনায় উৎপাদনের মাত্রাও এখনো বেশ কম, বলেন তিনি।

সারা লাইফস্টাইলের পরিচালক শরিফুন রেবা বলেন, ক্রেতাদের আগ্রহ স্থিতিশীল থাকায় এ মৌসুমে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।

আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও লাইফস্টাইল পণ্যের চাহিদার কারণে বাজার কিছুটা ইতিবাচক রয়েছে। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি এখনও সীমিত, বলেন তিনি।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং ডিরেক্টর কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর মিষ্টির বিক্রি ভালো। কেননা, গত বছর রমজানের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের সময় মিলে গিয়েছিল।’ 

এ বছর করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রি-অর্ডার প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে প্রিমিয়াম সুইটসের বাংলাদেশ প্রধান মাহবুবুর রহমান বকুল বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা ও চাহিদা কম। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ভোক্তাদের ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে খুচরা বাজারে।’

এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্র্যান্ড ও মার্কেটিং ম্যানেজার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ বছর ক্রেতাদের আগ্রহ ও উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ঈদের পরপরই বৈশাখ হওয়ায় অনেকে আগেই তাদের কেনাকাটা শেষ করেছেন।

সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ হওয়ায় কমেছে বিক্রি

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কারণে সরকারি নির্দেশে দেশজুড়ে শপিং সেন্টারগুলো সন্ধ্যা ৭টার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।  

ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান খোলার সময় রাত ৭টা পর্যন্ত সীমিত না থাকলে বিক্রি আরও বাড়ত। অনেকেই অফিস শেষে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন।

শরিফুন রেবা বলেন, ‘সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অনেক ক্রেতা চাহিদামাফিক দোকানে আসতে পারছেন না। এ ছাড়া সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ায় প্রায় ৫০ শতাংশ বিক্রির সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে।’

থানায় ঢুকে ওসিসহ ৮ পুলিশকে মারধর, যুব জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে মামলা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুব জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ৮ জন যুব জামায়াতের নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, এ ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম কাকন নামের এক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

ওসি সরোয়ার আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত রাতে ১০ থেকে ১৫ জন যুব জামায়াতের নেতাকর্মী অনৈতিক দাবি নিয়ে আমার কাছে আসেন। তারা আধা ঘণ্টার মধ্যে পৌরসভার মালিকানাধীন একটি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তা না হলে আমার চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেন।’

ওসি আরও বলেন, ‘দোকানটি যেহেতু সরকারি মালিকানাধীন, তাই সেখানে তালা দেওয়ার এখতিয়ার পুলিশের নেই। বিষয়টি আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু এ নিয়ে তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা আমাদের কিলঘুষি মারতে থাকেন এবং ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে আমিসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হই।’

ওসি জানান, তিনি নিজে, দুজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুইজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং তিনজন কনস্টেবল স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ইটের আঘাতে এএসআই রাসেলের হাতের হাড় ভেঙে গেছে।

গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এ বি এম রশিদুল বারী স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুধবার রাতে পলাশবাড়ী যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে একটি দল থানায় ঢোকে। তারা কালীবাজার এলাকার একটি দোকানে তালা লাগানোর জন্য ওসিকে চাপ দেয়। ওসি রাজি না হওয়ায় পলাশ ও তার অনুসারীরা চড়াও হন। তারা ওসিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং তাকে বাঁচাতে আসা অন্য পুলিশ সদস্যদেরও আহত করেন।’

যোগাযোগ করা হলে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এক ব্যক্তি স্থানীয় সরকারের একটি দোকানের পজিশন নিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গেলে দোকানটি অবৈধভাবে অন্য একজনকে ভাড়া দেওয়া হয়। আমরা দোকানটিতে তালা দিয়ে মূল মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘দোকানটিতে তালা দেওয়ার অনুরোধ করতে মাহমুদুল হাসান পলাশ গত রাতে আমাদের কিছু লোক নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন। সে সময় পুলিশ আমাদের একজনকে আটকে রাখলে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। আমাদের কিছু ছেলে উগ্র আচরণ করে ফেলেছে। পুলিশের গায়ে হাত তোলা উচিত হয়নি। আমরা পুলিশকে বলেছি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে, তবে নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।’

অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন

টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

চ্যানেল আইয়ের প্রযোজক অনন্যা রুমা দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন শামস সুমন। চ্যানেল আইয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘রেডিও ভূমি’র স্টেশন চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

এই তুখোড় অভিনেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননের সদস্য।

তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হলো মন জানে না মনের ঠিকানা (২০১৬), কক্সবাজারে কাকাতুয়া (২০১৬), চোখের দেখা (২০১৬), প্রিয়া তুমি সুখী হও (২০১৪), আয়না কাহিনী (২০১৩), বিদ্রোহী পদ্মা (২০০৬), জয়যাত্রা (২০০৪), নমুনা (২০০৮), হ্যালো অমিত (২০১২), জয়যাত্রা (২০০৪)।

‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে ২০০৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন শামস সুমন।

গ্রিনল্যান্ডে ভাসমান হাসপাতাল পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প, ‘প্রয়োজন নেই’ ডেনমার্কের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে একটি ভাসমান হাসপাতাল পাঠানোর জন্য তিনি লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সঙ্গে কাজ করছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে রিপাবলিকান গভর্নরদের নৈশভোজের ঠিক আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ডে উদ্দেশে ভাসমান হাসপাতালটি রওনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সেখানে অনেক অসুস্থ মানুষ রয়েছেন যাদের যথাযথভাবে দেখভাল করা হচ্ছে না।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো গ্রিনল্যান্ড সফর করেন। দ্বীপটি কেনার জন্য ট্রাম্পের আগ্রহের মুখে ভূখণ্ডটির সঙ্গে ঐক্য প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবে এই সফর দেখা হচ্ছে।

এদিকে এএফপি জানিয়েছে, ডেনিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোলস লুন্ড পউলসেন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগের প্রয়োজন নেই।

ডেনিশ সম্প্রচারমাধ্যম ডিআরকে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। তারা হয় গ্রিনল্যান্ডেই চিকিৎসা নেন, অথবা বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ডেনমার্কে চিকিৎসা পান।

রয়টার্স জানায়, মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি হাসপাতাল জাহাজ রয়েছে—মার্সি ও কমফোর্ট। তবে কোনোটি পাঠানো হয়েছে তা জানা যায় নি।