26 C
Dhaka
Home Blog

ভূখণ্ড প্রশ্নে টানাপোড়ন কাটেনি, রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা কাল

প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আগামীকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা।

আজ মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পৌঁছেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিদল।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকী পূর্ণ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে শুরু হচ্ছে এই বৈঠক। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তৎপরতা স্পষ্ট।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তার সরকারের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে জেনেভায় পৌঁছেছে।

রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসও মস্কোর প্রতিনিধিদলের জেনেভায় পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করেছে।

দুই দিনব্যাপী এই আনুষ্ঠানিক আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার।

তিন দেশের সামরিক নেতারাও অংশ নেবেন বৈঠকে।

এপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সামরিক প্রতিনিধিত্ব করবেন ন্যাটোর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ ও মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল।  

জেনেভার বৈঠককে ‘বড় আলোচনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। গতকাল সোমবার ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এপির তথ্যমতে, রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ এ আলোচনার প্রধান ইস্যু।
ভূখণ্ড প্রশ্নে এখনো কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার জন্য জুন মাস পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

এছাড়া সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি যুদ্ধ পরবর্তী নিরাপত্তা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ নিরাপত্তা গ্যারান্টির দাবিও কিয়েভের প্রধান আলোচ্য বিষয়। মস্কো যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে আগ্রাসন চালাতে না পারে, তার নিশ্চয়তা চায় কিয়েভ।

এর আগে আবুধাবিতে প্রথম দফা আলোচনায় নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল গঠন ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছিল।

তবে দ্বিতীয় দফায় এই আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছে এপি।  
এদিকে আলোচনা শুরু হতে চললেও দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির দাবি, সোমবার রাতভর হামলায় প্রায় চারশ দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়া। ইউক্রেনের ১২টি এলাকায় হামলায় শিশুসহ অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন।

তার মতে, এ হামলা জেনেভায় শান্তি উদ্যোগকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

কাল শপথের পর বিএনপির সংসদীয় দলের সভা

জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর সংসদীয় দলের সভা ডেকেছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি।

আজ সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে এই সভা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা নির্বাচন হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ প্রার্থীর নাম ইতোমধ্যে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতটি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন পেয়েছে।

 

 

 

ছায়া মন্ত্রিসভা কী, কেন গঠিত হয়, কারা গঠন করে

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সংযোজন। যদিও এই ধারণা বহু বছরের পুরোনো। বাংলার পাঠকদের কাছে সেই পুরোনো রাজনৈতিক ভাবনাটি নতুন করে তুলে ধরা যেতে পারে।

মোটা দাগে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভার’ ভাবনাটি এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইনসভায় সরকারি দলের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধীদলের সদস্যদের শুধু বিতর্কই যথেষ্ট নয়, সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিরোধীদলগুলোকে কিছুটা বাড়তি দায়িত্বও পালন করতে হয়।

তাই সরকারের কাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিরোধীদলের সদস্যরা যখন একটি আনুষ্ঠানিক সমান্তরাল কাঠামো গড়ে তোলেন তখন সেই কাঠামোকে বলা হয় ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’।

অর্থাৎ, বিরোধীদলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত মন্ত্রিসভার কাজ-কর্মসূচি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে সেখানকার ভুলত্রুটি জনগণের সামনে তুলে ধরবেন।

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’

ছায়া মন্ত্রিসভা হলো সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি সমান্তরাল মন্ত্রিসভা। এখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ থাকেন। এই ‘মন্ত্রী’রা মূলত বিরোধীদলের আইনপ্রণেতা।

যেমন: অর্থমন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তারা ক্ষমতায় না থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাতের নীতি, বাজেট, আইন ও কর্মসূচি নিয়ে বিকল্প ভাবনা তুলে ধরেন।

যেভাবে গঠিত হয়

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া দেশভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও সাধারণ কাঠামো প্রায় একই।

বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে গঠন: সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দলের নেতা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

দলীয় সিনিয়র নেতাদের অন্তর্ভুক্তি: অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

পোর্টফোলিও বণ্টন: সরকারের মন্ত্রণালয় কাঠামো অনুসরণ করে দায়িত্ব ভাগ করা হয়।

রাজনৈতিক কৌশলগত ভারসাম্য: অঞ্চল, মতাদর্শ, গোষ্ঠী ভারসাম্যও বিবেচনায় রাখা হয়।

ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ

ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল সমালোচনার প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি বিরোধীদের একটি পূর্ণাঙ্গ বিকল্প শাসন-প্রস্তুতির কাঠামো।

সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, ব্যয়, নীতি ও আইন প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে সমালোচনা ও প্রশ্ন তোলে।

বিকল্প নীতি প্রস্তাব দেওয়া: শুধু বিরোধিতা নয়, একই ইস্যুতে নিজেদের নীতিগত সমাধান তুলে ধরে।

সংসদীয় বিতর্কে নেতৃত্ব: বাজেট, আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, সব বড় আলোচনায় ছায়া মন্ত্রীরা খাতভিত্তিক বক্তব্য দেন।

ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের প্রস্তুতি: পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়ী হলে এই ছায়া মন্ত্রীরাই প্রায়শই মন্ত্রীর দায়িত্ব পান, ফলে তাদের প্রশাসনিক প্রস্তুতি আগে থেকেই থাকে। এতে বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসনিক দক্ষতা তৈরি হয়।

জনমত সংগঠিত করা: সংবাদ সম্মেলন, নীতিগত প্রস্তাব-প্রচারণার মাধ্যমে সরকারের বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করে।

যেসব দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা

ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত গ্রেট ব্রিটেনের ‘ওয়েস্টমিনস্টার’ ধাঁচের সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চাকারী দেশগুলোয় বেশি প্রচলিত।

যুক্তরাজ্য

ছায়া মন্ত্রিসভার সবচেয়ে কার্যকর, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রভাবশালী রূপ দেখা যায় যুক্তরাজ্যে। এখানে বিরোধী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয় ‘হিজ ম্যাজেস্টিস মোস্ট লয়্যাল অপজিশন’, অর্থাৎ রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত কিন্তু সরকারের বিরোধী।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়াতেও বিরোধী দল সুসংগঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং সংসদীয় কমিটি ও নীতি-নির্ধারণী বিতর্কে সক্রিয় থাকে।

কানাডা

কানাডাতে ছায়া মন্ত্রিসভাকে কখনও ‘অপজিশন ক্রিটিক’ বলা হয়। সেখানে প্রতিটি খাতের জন্য সমালোচক নির্ধারিত থাকে।

নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডেও বিরোধী দল সরকারবিরোধী নীতি বিশ্লেষণ ও বিকল্প পরিকল্পনায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে।

ভারত

ভারত ব্রিটেনের মতো সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করলেও দেশটিতে আনুষ্ঠানিক ছায়া মন্ত্রিসভা নেই। তবে কয়েকটি রাজনৈতিক দল অনানুষ্ঠানিকভাবে খাতভিত্তিক মুখপাত্র ও সমন্বয়ক রাখে, যা আংশিক ছায়া মন্ত্রিসভার কাঠামোর মতো কাজ করে।

অন্যান্য দেশ

দক্ষিণ আফ্রিকা, জ্যামাইকা, মালয়েশিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ আরও কয়েকটি ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশে বিভিন্ন মাত্রায় ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা আছে।

দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক ছায়া মন্ত্রিসভা সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গঠিত না হলেও বিভিন্ন সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঘোষিত কমিটির পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক ছায়া কমিটি গঠন করেছে।

তবে সেগুলো নিয়মিত সংসদীয় কাঠামোর অংশ নয়। বাজেট ও আইন প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা সীমিত ও দলীয় রাজনৈতিক কৌশলেই বেশি ব্যবহৃত হয়।

ফলে ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের পূর্ণাঙ্গ ছায়া মন্ত্রিসভার মতো প্রভাব কখনোই তৈরি হয়নি।

যে কারণে ছায়া মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শক্তিশালী ছায়া মন্ত্রিসভা থাকলে সংসদীয় গণতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য জোরদার হয়, নীতিনির্ধারণে বিকল্প চিন্তার প্রসার ঘটে, ক্ষমতার পালাবদলে নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং একদলীয় আধিপত্যের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

ছায়া মন্ত্রিসভা গণতন্ত্রের ‘অদৃশ্য কিন্তু কার্যকর’ একটি কাঠামো। এটি সরকার পরিচালনা করে না, কিন্তু সরকারকে দেশ পরিচালনায় সতর্ক রাখে। উন্নত সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা যত শক্তিশালী, শাসনব্যবস্থার জবাবদিহিও তত দৃঢ়, এমনটাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

কম দামি আইফোন আনলো অ্যাপল

বলতে গেলে চুপিচুপি বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যের ফোন এনেছে অ্যাপল। এটি আইফোন-১৭ সিরিজের নতুন সংযোজন এবং নাম রাখা হয়েছে আইফোন-১৭ই। অ্যাপল বলছে, তুলনামূলক কম দামে উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ফোনটি আনা হয়েছে।

প্রযুক্তি সাময়িকী টেক ক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইফোন-১৭ইতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের সর্বশেষ প্রজন্মের এ১৯ চিপ, যা উন্নত ৩-ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে রয়েছে ৬-কোর সিপিইউ, যা আইফোন ১১ এর তুলনায় প্রায় দুই গুণ দ্রুত। এছাড়া রয়েছে ৪-কোর জিপিইউ, যেখানে নিউরাল অ্যাক্সিলারেটর, কনসোল-লেভেলের গেমিং এবং হার্ডওয়্যার-অ্যাক্সেলারেটেড রে ট্রেসিং যুক্ত আছে।

ফোনটিতে আরও আছে ১৬-কোর নিউরাল ইঞ্জিন, যা বিশেষভাবে জেনারেটিভ এআই মডেলের জন্য অপ্টিমাইজড।

ডিসপ্লের ক্ষেত্রে আইফোন-১৭ইতে রয়েছে ৬ দশমিকি ১ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর ওলেড ডিসপ্লে, যার সর্বোচ্চ এইচডিআর উজ্জ্বলতা ১ হাজার ২০০ নিটস। স্ক্রিন সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে সিরামিক শিল্ড ২।

এই ডিভাইসটি স্যাটেলাইট সুবিধাও দেবে। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ওয়াই-ফাই না থাকলেও ব্যবহারকারীরা জরুরি এসওএসম, রোডসাইড অ্যাসিসট্যান্স, ম্যাসেজ ও ফাইন্ড মাই ব্যবহার করতে পারবেন।

৪ মার্চ থেকে আইফোন-১৭ইর প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং ১১ মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পাওয়া যাবে। এটি কালো, সাদা এবং সফট পিঙ্ক ম্যাট ফিনিশ এই তিনটি রঙে আসবে। ২৫৬ জিবি সংস্করণের জন্য শুরুর মূল্য ৫৯৯ মার্কিন ডলার।

জিম্বাবুয়েকে গুঁড়িয়ে টিকে রইল ভারত, সেমিতে দ.আফ্রিকা

অভিষেক শর্মা, হার্দিক পান্ডিয়াদের তাণ্ডবে ভারত রেকর্ড পুঁজি গড়ার পরই ম্যাচের পরণতি একরকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো। নাগালের বাইরে থাকা লক্ষ্যে কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। বিশাল জয়ে ভারতের আশা বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার।

চেন্নাইতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের ম্যাচ স্বাগতিকরা জিতেছে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে। আগে ব্যাট করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ দলীয় ২৫৬ রানের পুঁজি পায় ভারত। যার পিছে ছুটে ১৮৪ পর্যন্ত যেতে পেরেছে আফ্রিকার দেশটি। 

আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দেওয়ায় সেমির পথে সহজ সমীকরণ পায় ভারত। এবার জিম্বাবুয়েকে ভারত গুঁড়িয়ে দিলে শেষ চার নিশ্চিত হয়ে গেছে প্রোটিয়াদের।

পাহাড়সময় লক্ষ্যে জিম্বাবুয়ের হয়ে বিনোদন দিয়েছেন ব্রায়ান বেনেট। পুরো আসরে দারুণ ধারাবাহিক ওপেনার ৫৯ বলে করেন ৯৭ রান। তার ইনিংসের কোন পর্যায়েই অবশ্য ভারতের ভয় ধরার কোন কারণ তৈরি হয়নি। নির্ভার হয়েই এই ডানহাতির ইনিংসে তালি বাজিয়েছেন স্বাগতিক দর্শকরা। বেনেট বাদ দিলে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা করেন ২১ বলে ৩১ রান, এর বাইরে বলার মতো কেউ কিছু করতে পারেননি। বল হাতে ভারতে সেরা বাঁহাতি পেসার আর্শ্বদীপ সিং। ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। 

টস হেরে ব্যাট করতে নেমেই কাজটা সেরে ফেলেছিলো সূর্যকুমার যাদবের দল। একাদশে দুই বদল এনে নেমে ঝড় শুরু করে তারা। একাদশে ফিরেই পাওয়ার প্লের উড়ন্ত সূচনা আনেন সঞ্জু স্যামসন। ১৫ বলে ২৪ করে তিনি ফিরে গেলেও মোমেন্টাম এনে দিয়ে যান। তা ধরেই ছন্দ হারানো অভিষেক শর্মা ফিরে পান নিজেকে। ২৬ বলে ফিফটি স্পর্শ করে আউট হন ৫৫ রান করে। তিনে নেমে ইশান কিশান খেলেন ২৪ বলে ৩৮ রানের ইনিংস। আদর্শ ভিত পেয়ে সূর্যকুমার ১৩ বলেই তুলেন ৩৩ রান। শেষ দিকটা মাতোয়ারা করেন হার্দিক আর তিলক। হার্দিক ২৩ বলে ৫০ করে ছিলেন অপরাজিত। রান খরায় থাকা তিলক বর্মা ছয়ে নেমে ১৬ বলে খেলেন ৪৪ রানের ইনিংস। 

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে বিধ্বস্ত হয়ে সেমি ফাইনাল শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলো ভারতের। এবার জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দেওয়ার দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারে পরিস্থিতি বদলে গেছে তাদের। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেই সেমি ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

প্রাজ্ঞের পিঞ্জর: স্বাধীনতা ছাড়া কি প্রকৃত গবেষক তৈরি সম্ভব

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভূমিকা কেবল নতুন প্রজন্মের কাছে বিদ্যমান জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞানের সীমানাকে আরও প্রসারিত করা।

বৌদ্ধিক স্বাধীনতা হরণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় আর নতুন চিন্তার আকরশালা থাকে না। এটি তখন কারখানায় পরিণত হয়। সেখানে প্রকৃত গবেষণা ও সত্যিকারের পাণ্ডিত্য বিকাশের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়।

গবেষণায় দ্বান্দ্বিকতার প্রয়োজনীয়তা

প্রকৃত গবেষণা স্বভাবগতভাবেই প্রচলিত ব্যবস্থার মূলে কুঠারাঘাত করে। বিদ্যমান তত্ত্বগুলো সমর্থন করার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা গবেষণার কাজ নয়; বরং এটি হলো প্রচলিত ধারণার ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টা।

একটি ভালো গবেষণা পদ্ধতি (সেটি বিজ্ঞান, ইতিহাস বা সমাজবিজ্ঞান যে বিষয়েই হোক না কেন) নির্ভর করে প্রতিষ্ঠিত কোনো ‘তথ্য’ বা ‘ধারণা’র দিকে তাকিয়ে এই প্রশ্নটি করার ওপর যে ‘যদি এই ধারণাটি ভুল হয়, তবে কী হবে?’

যে পরিবেশে রাজনৈতিক বা বিশেষ কোনো আদর্শিক গোঁড়ামির কারণে বাক-স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতা রুদ্ধ থাকে, সেখানে এই প্রাথমিক প্রশ্নটি করাও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। যদি কোনো প্রতিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষ বা ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলে পেশাগত জীবন ধ্বংস হওয়া বা শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, তবে বড় কোনো উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘বৌদ্ধিক ঝুঁকি’ নেওয়ার সাহস হারিয়ে যায়।

তদুপরি, বুদ্ধিবৃত্তিক সততা নির্ভর করে কঠোর এবং নিরপেক্ষ ‘পিয়ার রিভিউ’ বা সহকর্মী মূল্যায়নের ওপর। গবেষণা তখনই বৈধতা পায়, যখন সহকর্মীরা স্বাধীনভাবে এর দুর্বলতাগুলো ব্যবচ্ছেদ করার সুযোগ পায়। কোনো গবেষক যদি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা কোনো ত্রুটিপূর্ণ গবেষণার সমালোচনা করতে ভয় পান, তবে সেই বিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞান কেবল একটি ‘অনির্ভরযোগ্য প্রহসনে’ পরিণত হয়।

স্বৈরতান্ত্রিক ধাঁধা: কারিগর বনাম পথপ্রদর্শক

প্রায়ই যুক্তি দেওয়া হয় যে, স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাও ঐতিহাসিকভাবে অনেক উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত সাফল্য অর্জন করেছে। যেমন: সোভিয়েত মহাকাশ কর্মসূচি বা নাৎসি জার্মানির রকেট প্রযুক্তির উদ্ভাবন। এতে মনে হতে পারে যে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির জন্য স্বাধীনতার প্রয়োজন নেই।

তবে এই যুক্তিতে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য এড়িয়ে যাওয়া হয়। একটি কঠোর শাসনব্যবস্থার অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়তো পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নের মতো ‘কঠিন বিজ্ঞান’ শাখায় দক্ষ কারিগর, প্রকৌশলী বা বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে পারে। কারণ এই বিষয়গুলোকে সরাসরি রাজনৈতিক রূপ দেওয়া কঠিন। শাসকরা এই বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ল্যাবরেটরির ভেতরে কিছুটা স্বাধীনতা দিলেও ল্যাবের বাইরে তাদের কথা বলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

এর ফলে যা তৈরি হয় তাকে বলা হয় ‘নির্দেশিত গবেষণা’। এটি ‘কৌতূহল-চালিত গবেষণা’ নয়। এই বিজ্ঞানীরা আগে থেকে নির্ধারিত নির্দেশ অনুসরণ করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু তারা মহতী কোনো আবিষ্কার পারেন না। পৃথিবী তখন সেই সব ‘আকস্মিক আবিষ্কার’ থেকে বঞ্চিত হয়, যা ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে শেখায়। কারণ, তখন মানুষের মস্তিষ্ক অনুমোদিত সীমানার বাইরে বিচরণ করতে স্বাধীন থাকে না।

ইতিহাসের রায়: যখন তথ্যকে হঠিয়ে দেয় অন্ধবিশ্বাস

ইতিহাস আমাদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেয় যে, যখন রাজনৈতিক বা নির্দিষ্ট মতাদর্শকে অভিজ্ঞতাবাদী অনুসন্ধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়, তখন তার ফলাফল কী হয়। যখন রাষ্ট্র ‘সত্য’ নির্ধারণ করে দেয়, তখন গবেষণার পুরো ক্ষেত্রটিই ধসে পড়তে পারে, যা কয়েক প্রজন্মের স্থবিরতা বা বিপর্যয় ডেকে আনে। এর চারটি ঐতিহাসিক উদাহরণ দেখা যাক:

১. সোভিয়েত ইউনিয়ন ও লিসেনকোবাদ (১৯৩০-১৯৬০ দশক)

আদর্শিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে কুখ্যাত উদাহরণ হলো ট্রফিম লিসেনকোর উত্থান। লিসেনকো মেন্ডেলীয় বংশগতিবিদ্যা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ, তার মনে হয়েছিল ‘বংশগত বৈশিষ্ট্য’র ধারণাটি মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী আদর্শের বিরোধী। স্টালিনের ছত্রছায়ায় ‘লিসেনকোবাদ’ একমাত্র সরকারি স্বীকৃত জীববিজ্ঞানে পরিণত হয়; ভিন্নমতাবলম্বী বিজ্ঞানীদের কারারুদ্ধ বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর ফলে সোভিয়েত জীববিজ্ঞান কয়েক দশক পিছিয়ে যায় এবং ত্রুটিপূর্ণ কৃষি পদ্ধতির কারণে দুর্ভিক্ষে লাখো মানুষের মৃত্যু ঘটে।

২. নাৎসি জার্মানি ও ‘আর্য পদার্থবিজ্ঞান’ (১৯৩০ দশক)

ক্ষমতায় আসার পর নাৎসি শাসকরা জার্মান বিজ্ঞানকে ‘ইহুদি প্রভাব’ থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। তারা আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব বা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মতো বৈপ্লবিক ধারণাগুলোকে ‘অ-জার্মান’ বলে আখ্যা দেয়। প্রায় ১৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞানীকে বহিষ্কার করা হয়। এই আদর্শিক শুদ্ধি অভিযান পদার্থবিজ্ঞানের বিশ্বকেন্দ্র হিসেবে জার্মানির অবস্থানকে ধুলিসাৎ করে দেয় এবং বিজ্ঞানের নেতৃত্ব ও আইনস্টাইনের মতো মেধাবী মানুষদের যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের হাতে তুলে দেয়।

৩. চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব (১৯৬৬-১৯৭৬)

মাও সে তুংয়ের শাসনকালে বুদ্ধিজীবীদের শ্রেণি-শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চীনজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বছরের পর বছর বন্ধ ছিল। যখন সেগুলো পুনরায় খোলা হয়, ভর্তির যোগ্যতা মেধাকে নয় বরং রাজনৈতিক আনুগত্যকে করা হয়। বিজ্ঞানীদের ‘পুনঃশিক্ষার’ জন্য শ্রমশিবিরে পাঠানো হয়। এর ফলে গবেষকদের একটি বিশাল প্রজন্ম হারিয়ে যায় এবং মৌলিক গবেষণায় এক চরম স্থবিরতা নেমে আসে।

৪. ইস্তাম্বুল মানমন্দির ধ্বংস (১৫৮০)

১৫৮০ সালে তাকি আল-দিনের ইস্তাম্বুল মানমন্দির ধ্বংস করার ঘটনাটি একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ যে কীভাবে আদর্শিক দমন একটি পুরো সভ্যতার অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে পারে। এক সময় এই মানমন্দিরটি ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার বিশ্বসেরা কেন্দ্র, যেখানে ইউরোপের চেয়েও উন্নত যন্ত্রাংশ ছিল। কিন্তু ১৫৭৭ সালের ধূমকেতু এবং একটি মহামারিকে পুঁজি করে ধর্মীয় রক্ষণশীলরা দাবি করে যে, আকাশের রহস্য নিয়ে ‘নাক গলানো’ অমঙ্গল ডেকে আনে। রাজনৈতিক চাপে সুলতান মুরাদ তৃতীয় নৌবাহিনী পাঠিয়ে মানমন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেন। এটি ছিল যুক্তিবাদী চিন্তার ওপর এক চরম আঘাত।

প্রাতিষ্ঠানিক পরিণতি

ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের বাইরেও স্বাধীনতার অভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এক ধরনের কাঠামোগত অবক্ষয় বা ‘পচন’ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মধ্যম মানের মেধাবী তৈরি করে। একটি অবরুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় অনিবার্যভাবে ‘মেধা পাচার’ সমস্যার সম্মুখীন হয়। কারণ, বিশ্বমানের মেধার অভাব ঘটে এবং স্থানীয় মেধাবীরা প্রথম সুযোগেই দেশ ছেড়ে পালায়। তদুপরি, শিক্ষার্থীদের মানসিকতাও কলুষিত হয়। তাদের ‘কেন?’ জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে ‘কী অনুমোদিত?’ তা শিখতে বাধ্য করা হয়। পরিশেষে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও সেই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। কারণ, চাপের মুখে করা গবেষণাকে বিশ্ব সমাজ সন্দেহের চোখে দেখে।

বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান অত্যন্ত নাজুক একটি বিষয়। এর জন্য এমন একটি সুরক্ষিত পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে অপ্রিয় বা প্রচলিত মতের বিরোধী ধারণাও কোনো ভয় ছাড়াই পরীক্ষা করা যায়। মন যদি ‘বিপজ্জনক’ বৌদ্ধিক বিষয়ে বিচরণ করার স্বাধীনতা না পায়, তবে কোনো ক্ষেত্রেই বড় কোনো উদ্ভাবন সম্ভব নয়।

ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে যুক্তি দেওয়ার নিরাপত্তা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় আর আবিষ্কারের সূতিকাগার থাকে না, বরং স্রেফ রাষ্ট্রের একটি আজ্ঞাবহ হাতিয়ারে পরিণত হয়। অন্য কথায়, বাক-স্বাধীনতা ছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো দক্ষ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হতে পারে, কিন্তু সেখানে প্রকৃত অর্থে কোনো ‘গবেষক’ তৈরি হতে পারে না।

সামিও শীশ: সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঈদের ইত্যাদির বিশেষ অতিথি মোশাররফ করিম

ঈদের বিশেষ আয়োজন মানেই বাড়তি চমকে ভরা ইত্যাদি। এবারের ঈদেও থাকছে বিশেষ আয়োজন।

নাটক, সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে সমান দক্ষতার স্বাক্ষর রাখা দর্শকপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম অংশ নিয়েছেন এবারের ঈদ ইত্যাদির দর্শকপর্বে অতিথি হিসেবে। 

শুধু উপস্থিতিই নয়—তিনি সরাসরি অভিনয় করেছেন দর্শকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত চারজনের সঙ্গে। ঈদের বিশেষ পর্বে দর্শক নির্বাচনও ছিল ভিন্নধর্মী। প্রশ্নোত্তরের বদলে একটি বিশেষ উপকরণের মাধ্যমে হাজারো দর্শকের মধ্য থেকে চারজনকে বাছাই করা হয়।

সেই বাছাই প্রক্রিয়াই তৈরি করে অনন্য এক দৃশ্য।

এরপর নির্বাচিত দর্শকদের নিয়ে শুরু হয় মূল অভিনয়পর্ব। এই অংশে তাৎক্ষণিক প্রস্তুতিতে মোশাররফ করিম অভিনয় করেন তিনটি ভিন্ন চরিত্রে, সঙ্গে ছিলেন দর্শকরা—যারা কেউই পেশাদার অভিনেতা নন। তবু তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অভিনেতার অভিনয় দক্ষতায় তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

ঈদের পরদিন রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ।

অনুষ্ঠানটির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় আছেন হানিফ সংকেত।

ভারত-ফ্রান্স অংশীদারত্বের কোনো সীমানা নেই: মোদি

ভারত-ফ্রান্স অংশীদারত্বের কোনো সীমানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

আজ মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন তিনি। 

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবে তৈরি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ভারতফ্রান্স সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। 

মোদি বলেন, ‘দুই দেশের অংশীদারত্বের পরিসর এতটাই বিস্তৃত যে, তা গভীর সমুদ্র থেকে সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।

এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘খুবই বিশেষবলে উল্লেখ করেন তিনি। 

মোদি আরও বলেন, ‘আজকের অস্থির বিশ্বে এই অংশীদারত্ব শুধু দ্বিপক্ষীয় নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

উভয় দেশই আইনের শাসন ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় বিশ্বাসী বলে জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। 

মোদি বলেন, ‘সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বহুপাক্ষিকতা জোরদার করে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করব আমরা।

অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁও দু’দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে, যা পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ার ফল।

মাখোঁ আরও বলেন, ‘দুই দেশই কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ বা কয়েকটি শক্তির সংঘাতের অধীন হতে চায় না।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় দুই নেতা একে অপরকে ‘প্রিয় বন্ধু বলে উল্লেখ করেন।

২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটি মাখোঁর চতুর্থ ভারত সফর।

এএফপি জানায়, তিন দিনের সফরে সম্ভাব্য বহু বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়েও আলোচনা করবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ।

আগামীকাল বুধবার এআই সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে যাওয়ার কথা রয়েছে মাখোঁর।

ঢাকা-১৭ রেখে বগুড়া-৬ ছাড়লেন তারেক রহমান

বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি পাঠিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ সোমবার বিকেলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন তারেক রহমান। দুই আসনেই তিনি জয় লাভ করেন।

আখতার আহমেদ বলেন, তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন। উনি ঢাকা-১৭ আসন রাখবেন।

বগুড়া-৬ আসনের কী হবে, জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ওই আসনটি অবশ্যই শূন্য ঘোষণা করতে হবে। গেজেট প্রকাশের কাজ চলছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৯(২) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি একাধিক আসন থেকে নির্বাচিত হন, তবে তাকে গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে, তিনি কোন আসনটি রাখতে চান। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না জানালে নির্বাচন কমিশন একটি আসন রেখে অবশিষ্ট আসন শূন্য ঘোষণা করতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। ওই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।

অন্যদিকে ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান পান ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। 

আরপিও অনুযায়ী, কোনো আসন শূন্য ঘোষণা করা হলে তার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ফলে ইসিকে বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন করতে হবে।

সাড়ে ৩ মাসে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় নিহত ১০, আহত ২৫০৩: এইচআরএসএস

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫০৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরবর্তী’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মো. ইজাজুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থাটি দেশের ৬৪ জেলায় ৫৬৫ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে। তারা ১০০টি আসনের ১ হাজার ৭৩৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া ৩৪৭ জন পর্যবেক্ষক ভোট গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন।

তবে ইজাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সমর্থকদের দ্বারা অন্তত ৪৮ জন পর্যবেক্ষককে গণনাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি কিংবা বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী, গণনার সময় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিত থাকার সুযোগ আছে।

তিনি জানান, সারাদেশে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম বিগত সময়ের তুলনায় সুষ্ঠু, সহিংসতামুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তাদের পর্যবেক্ষণে ২১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম ও পর্যবেক্ষণে কিছু অনিয়ম ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

সংস্থাটির প্রোগ্রাম অফিসার সাইফুল ইসলাম বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠ করে শোনান।

তিনি জানান, ভোটের দিন সারা দেশে মোট ৩৯৩টি অনিয়ম ও সংঘর্ষের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল—১৪৯টি কেন্দ্রভিত্তিক বিশৃঙ্খলা, ১০৫টি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ৫৯টি ব্যালট স্টাফিংয়ের অভিযোগ, ১৯টি পোলিং এজেন্ট অপসারণ, ১৩টি নির্বাচনী কর্মকর্তার গাফিলতি, ১৮টি ভোটার বাধা, ৬টি প্রার্থীর ওপর হামলা, ৩টি ব্যালটবক্স ছিনতাই, ২টি অগ্নিসংযোগ এবং ৩১টি অন্যান্য অনিয়ম ছিল।

ভোটের দিন সংঘর্ষে মোট ১৪৫ জন আহত হন। এছাড়া ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, ১৩ জন প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয় এবং ৫৫টি ঘটনায় কারাদণ্ড বা জরিমানা দেওয়া হয়।

এছাড়া ভোটের দিন পাঁচজন সাংবাদিক আহত হন, তিনটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল করা হয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ৬৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।

এইচআরএসএস জানায়, অক্টোবর ২০২৫ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সারাদেশে ৭০০টির বেশি নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন নিহত ও ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

অন্তত ৩৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নির্বাচনী কার্যালয় ও ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর, লুট বা অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে।

১১ ডিসেম্বর ২০২৫ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ২৫৪টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়। এতে ১ হাজার ৬৫০ জন আহত ও পাঁচজন নিহত হন। এই সময়ে অন্তত ২৪ জন গুলিবিদ্ধ হন এবং ২০০টির বেশি বাড়িঘর ও স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

ফলাফল ঘোষণার পর সহিংসতা অন্তত ৩০ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের ২০০টির বেশি সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি আহত হন এবং অন্তত ৩৫০টি কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ করা হয়। নিহত ১০ জনের মধ্যে তিনজন ফলাফল ঘোষণার পর নিহত হন।

এছাড়া গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩২টি ঘটনায় নারীদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এইচআরএসএস। এতে ৪৫ নারী হয়রানির শিকার এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। 

সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস। ভবিষ্যতে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি।