31.3 C
Dhaka
Home Blog

ঢাকার জলাবদ্ধতা: প্রযুক্তি যেভাবে বদলে দিতে পারে পরিস্থিতি

প্রতি বছর বর্ষা এলে ঢাকা শহরটা বিশাল নদীতে পরিণত হয়। রাস্তায় হাঁটু পানি, আর আমাদের একই প্রশ্ন—এই শহরটা কি কোনোদিন ঠিক হবে না? উত্তরটা মন খারাপ করালেও বলা উচিত—এই সিস্টেম ঠিক করার প্রযুক্তি আমাদের হাতের কাছেই আছে। শুধু ব্যবহার করার ইচ্ছেটা নেই। আমরা বাংলাদেশিরা সব বুঝি, শুধু প্রযুক্তি বুঝি না। কারণ, আমরা ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও অংকে দুর্বল। হয়তো আমাদের দুর্বল করে রাখা হয়েছে।

ঢাকার আসল সমস্যা হলো, এই শহরের কোনো ঠিকঠাক মাস্টার প্ল্যান কখনো ছিল না। যেখানে জায়গা পেয়েছে, সেখানেই বাড়ি উঠেছে। যে খাল দিয়ে পানি নামার কথা, সেই খাল ভরাট করে ভবন উঠে গেছে। এখন প্রকৌশলীরা অনুমান করে পাইপ বসান, কারণ মাটির নিচে আসলে কী আছে, কেউ জানে না। এই জায়গাতেই এআই কাজে লাগতে পারে—অনুমান নয়, ডেটা দিয়ে সমাধান।

ধরুন, একটা ‘ডিজিটাল টুইন’—পুরো ঢাকা শহরের একটা ভার্চুয়াল কপি, স্যাটেলাইট ছবি, ড্রোন স্ক্যান আর এলিভেশন ম্যাপ দিয়ে বানানো। এই ডিজিটাল মডেলের ভেতর ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি ফেলে দিলে এআই বলে দিতে পারবে, কোথায় পানি জমবে, কতটা জোরে গড়াবে, আর কোথায় কত ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ লাগবে যাতে জলাবদ্ধতা না হয়। এটা অনেকটা গাড়ি চালানোর আগে জিপিএস দেখে নেওয়ার মতো। আগে থেকে জানলে বিপদ এড়ানো সহজ হয়।

দ্বিতীয় সমস্যাটা আরও পুরোনো ও কষ্টের। ঢাকায় গত কয়েক দশকে ৫০টারও বেশি খাল হারিয়ে গেছে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের হাতে ভরাট হয়ে। কাগজের পুরোনো ম্যাপ ঘেঁটে এই খালগুলো খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব যেন। কিন্তু কম্পিউটার ভিশন অ্যালগরিদম গত ৩০ বছরের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে কয়েক ঘণ্টায় দেখিয়ে দিতে পারে আসল খালগুলো কোথায় ছিল। এতে সরকারের হাতে একটা স্পষ্ট, তর্কাতীত প্রমাণ থাকবে যে কোন স্থাপনা ভেঙে পানির পথ ফিরিয়ে দিতে হবে।

তৃতীয়টা হলো ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা। ঢাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক আর বস্তি এলাকা এমনভাবে মিশে আছে যে, মাটির পানি শোষণের কোনো জায়গাই বাকি নেই। জেনারেটিভ এআই সফটওয়্যারে শহরের ঘনত্ব আর জমির তথ্য দিলে সেটা বলে দিতে পারে, কোথায় ছাদ-বাগান, কোথায় সবুজ জায়গা, আর কোথায় পানি চুইয়ে যাওয়ার মতো রাস্তা বানাতে হবে।

চতুর্থ ব্যাপারটা হলো, যা আছে তা দিয়েই স্মার্ট হওয়া। রাতারাতি ঢাকার সব পাইপ পাল্টানো সম্ভব না। কিন্তু স্লুইস গেট আর পাম্পে আইওটি সেন্সর বসিয়ে দিলে একটা সেন্ট্রাল ড্যাশবোর্ড থেকে পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ধানমন্ডিতে পানি জমছে দেখলে, বুড়িগঙ্গার দিকে ড্রেন খালি আছে বুঝে এআই নিজেই নির্দিষ্ট পাম্প চালু করে দিতে পারে। রাস্তায় পানি ওঠার আগেই সমাধান।

এই কাজ যে কল্পনা না, তার প্রমাণ আছে বাইরের দুনিয়ায়। আরেকটা ডুবতে থাকা মেগাসিটি জাকার্তা তাদের জাকি প্ল্যাটফর্মে এআই আর আইওটি বসিয়ে নদীর পানির লেভেল রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করে, আর ভারী বৃষ্টির ৬ ঘণ্টা আগেই পাম্প আর গেট চালু করে দেয়। উহান শহর জিওএআই দিয়ে তাদের কংক্রিটের শহরকে স্পঞ্জ সিটিতে বদলে ফেলেছে। শতকরা ৭০ ভাগ বৃষ্টির পানি এখন মাটি নিজেই শুষে নেয়।

তাহলে ঢাকা কেন পারছে না? উত্তরটা প্রযুক্তির অভাব নয়। উত্তরটা হলো, আমাদের ডেটা এলোমেলো, ছড়ানো-ছিটানো। ওয়াসা এক জায়গায় তথ্য রাখে, সিটি করপোরেশন আরেক জায়গায়, রাজউকের হাতে জমির ম্যাপ এবং কেউ কারো সঙ্গে কথা বলে না। যতদিন এই প্রতিষ্ঠানগুলো একটা কমন সিস্টেমে ডেটা শেয়ার না করবে, ততদিন এআই যতই শক্তিশালীই হোক, তার হাত-পা বাঁধা থাকবে। সরকারের হয়ে একবার কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি এটা নিয়ে ড্রাইভ দিয়েছিলাম। কিন্তু ততদিনে বুঝে গেছি এটার জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। উপর থেকে ‘ওহি’ নাযিল না হলে কাজ হয় না।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটা, মোবাইল অপারেটরের সিডিআর, আর ট্যাক্স অথরিটির তথ্য যেভাবে এক জায়গায় এলে নাগরিক সেবা বদলে যেতে পারে, ঠিক সেভাবেই ওয়াসা-রাজউক-সিটি করপোরেশনের ডেটা এক প্ল্যাটফর্মে এলে ঢাকার জলাবদ্ধতাও বদলে যেতে পারে। প্রযুক্তি আমাদের হাতে আছে। শুধু একসঙ্গে বসে কাজ করার সাহসটা লাগবে।

রকিবুল হাসান: টেলিকম, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র’ বইয়ের লেখক

বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এমন রেকর্ড আছে শুধু এমবাপেরই

সেই ১৯৩০ সাল থেকে শুরু। এই ৯৬ বছরে কম রথী-মহারথীর পা পড়েনি ফুটবল বিশ্বকাপে। ক্যারিয়ার শেষে কিলিয়ান এমবাপে নিজেকে ফুটবল কিংবদন্তিদের তালিকায় কোথায় নিয়ে যাবেন তা সময়ই বলবে, তবে আজকের ম্যাচে এমন এক বিরল রেকর্ড তিনি করেছেন, যা পুরো বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমবাপের আগে করে দেখাতে পারেননি আর কেউ। 

অনেক খ্যাতনামা ফুটবলারের যেখানে পুরো ক্যারিয়ার মিলিয়েও বিশ্বকাপে ১০টি গোল নেই, সেখানে এমবাপে কেবল নক-আউট পর্বের ম্যাচগুলোতেই ১০ গোল করেছেন! বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই রেকর্ড কেবল এমবাপেই করে দেখাতে পেরেছেন। 

মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপে অংশ নেয়া এমবাপে এই রেকর্ড ছিনিয়ে নিয়েছেন দুই ব্রাজিলিয়ান লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিওর কাছ থেকে। নকআউটে ৮ গোল নিয়ে এতদিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন তারা। প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে এটিকে দুই অঙ্কের ঘরে তুলে দিলেন ফরাসি তারকা। 

নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ২০১৮ তে নকআউট পর্বে তিন গোল করেছিলেন এমবাপে। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারানো ম্যাচ দুই গোল, আর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে পেলের পর দ্বিতীয় টিনেজার হিসেবে করেছিলেন এক গোল। 

স্বপ্নের মতো কাটানো ২০২২ বিশ্বকাপের নকআউটে তিনি ছিলেন আরও দুর্দমনীয়। নকআউটে সেবার তিনি করেছিলেন ৫ গোল। এর মধ্যে শেষ ষোলোতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি, আর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে তো হ্যাটট্রিকই করলেন। 

আগের দুই আসরের ৮ গোলের সাথে আজ সুইডেনের সাথে করা দুই গোল মিলিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১০ গোলের মালিক হলেন এমবাপে। এই রেকর্ডের মাহাত্ম্য বোঝাতে স্রেফ একটি তথ্যই যথেষ্ট। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন লিওনেল মেসি, তাঁর নকআউট গোলের সংখ্যা ৫। এই পাঁচটি গোলই এসেছিল কাতার বিশ্বকাপে, অর্থাৎ প্রথম চার বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই নকআউট পর্বে খেললেও কোনো গোল করতে পারেননি মেসি। কাতার বিশ্বকাপে তবু সেই আক্ষেপ ঘুচেছে মেসির, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ৬টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নক আউট পর্বে এখনও একটিও গোল করতে পারেননি!  

গত বিশ্বকাপের মতো এবারও মেসি-এমবাপের দ্বৈরথ চলছে দেখার মতো। বিশ্বকাপের একই আসরে দুই দলের দুই ফুটবলার একই সাথে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও গোল্ডেন বুট জেতার জন্য লড়ছেন, এমন দৃশ্য এর আগে কখনো দেখা যায়নি। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের সৌজন্যে দর্শকেরা সাক্ষী হচ্ছেন এমনি এক বিরল প্রতিযোগিতার। সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির পাশে বসেছেন এমবাপে। আর সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে ফ্রেঞ্চ তারকা পিছিয়ে স্রেফ এক গোলে।

নরওয়ের বিপক্ষে গোল না পাওয়া এমবাপে বাকি তিন ম্যাচেই করেছেন দুটি করে গোল। ছয় গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও আছে তাঁর দখলে। 

আর সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়েও মেসির সাথে ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন এমবাপে। ২৯ ম্যাচে ১৯ গোল নিয়ে শীর্ষে মেসি, সেখানে মাত্র ১৮ ম্যাচে ১৮ গোল নিয়ে দুইয়ে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এবারের বিশ্বকাপে যে দুরন্ত গতিতে এগোচ্ছেন এমবাপে, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই এমবাপের কাছে মেসিকে রেকর্ডটি খোয়াতে হয় কি না, সেটি নিয়েই এখন আলোচনা! 

কর-জিডিপি অনুপাতে যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান-ইয়েমেনের সামান্য ওপরে বাংলাদেশ

অর্থনীতির আকারের তুলনায় বাংলাদেশের সরকারি রাজস্ব আদায়ের হার বিশ্বের অন্যতম কম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য বলছে, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন ও সুদানের সামান্য ওপরে।

সরকার প্রতি বছর যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে, সেটিকে দেশের মোট অর্থনীতির আকার বা জিডিপির সঙ্গে তুলনা করে যে হার বের করা হয়, সেটিই কর-জিডিপি অনুপাত।

২০২৪ সালে বাংলাদেশের এই অনুপাত ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলো ও বাংলাদেশের সমমানের অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যেও এটি অন্যতম সর্বনিম্ন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই কম রাজস্ব আদায়ের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো ও অন্যান্য নাগরিক সেবায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারের সক্ষমতা সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

কেন এত কম রাজস্ব আদায় হয়?

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত কম থাকার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—করদাতার সংখ্যা কম হওয়া, বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাত করের বাইরে থাকা, অতিরিক্ত কর ছাড় ও কর অবকাশ দেওয়া, কর আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, কর ফাঁকি এবং প্রত্যক্ষ করের বদলে পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি) বলছে, দুর্নীতির কারণে সরকারি ব্যয়ের ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। ফলে মানুষ কর দিতে আগ্রহ হারায়।

এছাড়া মানুষ সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা পাচ্ছে, সেটিও কর দেওয়ার মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলে।

উন্নয়নে কী প্রভাব পড়ছে?

গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, কম রাজস্ব আদায়ের কারণে বহু বছর ধরেই সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উন্নয়নের ওপর। 

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের ব্যয় বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কম। এর ফলে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা যায়নি।

অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে তিনি বলেন, কম কর আদায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। কারণ মানুষ কম কর দেওয়ায় তাদের হাতে খরচ করার মতো অর্থ বেশি থেকেছে, যা বেসরকারি খাতের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে।

অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা

প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই কর-জিডিপি অনুপাত ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। পাকিস্তানে এটি ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ১৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে ভুটানে সরকারি রাজস্বের পরিমাণ জিডিপির ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হতে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে লাওস ও নেপালের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বাকি দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানই সবার নিচে।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, সলোমন দ্বীপপুঞ্জের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ১৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং সেনেগালে ২০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

আন্তর্জাতিকভাবে কর-জিডিপি অনুপাতের ন্যূনতম আদর্শ মান ধরা হয় ১৫ শতাংশ। এই হারের নিচে নামলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এই সীমার নিচে থাকলে সরকারের কার্যকারিতা, আর্থিক খাতের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যায়।

তা সত্ত্বেও ৭০টিরও বেশি উন্নয়নশীল দেশ এখনো জিডিপির ১৫ শতাংশের কম কর আদায় করে। এটি তাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং সরকারকে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ফেলছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান ও ইয়েমেনের কর-জিডিপি অনুপাত যথাক্রমে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাওয়া ইথিওপিয়ায় এই হার ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

এই দেশগুলো জিডিপির ১০ শতাংশের কম রাজস্ব আদায় করলেও অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, কুয়েত ও নরওয়ের মতো বেশ কিছু দেশ ৫০ শতাংশের বেশি রাজস্ব আদায় করে।

উচ্চ কর হার ও কম রিটার্ন

ড. রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের করপোরেট করের হার বিশ্বের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু তারপরও সামগ্রিক রাজস্ব আদায় কম। 

তিনি বলেন, শুধু রাজস্ব আদায় কম নয়, আদায়কৃত অর্থের একটি অংশও অদক্ষ ও অপচয়মূলক খাতে ব্যয় হয়। এতে সরকারি সেবার মান কমে যায়।

আইজিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম দুর্নীতি মানুষের মধ্যে কর ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি করে এবং কর ফাঁকি বাড়ায়।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ অপচয় হতে দেখতে চায় না। এ কারণেও অনেকে কর ফাঁকির পথ খোঁজেন।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেম বলেন, বাংলাদেশের কিছু করের হার সমমানের দেশগুলোর চেয়েও বেশি।

তবে তার মতে, আসল সমস্যা হলো জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ কর ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, দেশে ভ্যাট ও আয়করে বড় ধরনের অযৌক্তিক কর ছাড় রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, কর ছাড়ের পরিমাণ প্রায় আদায়কৃত করের সমান। এর ফলে সরকার রাজস্ব হারায়, দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয় এবং খুব কম মানুষ ও প্রতিষ্ঠান কর দেয়।

জঁ পেম আরও বলেন, আমদানি-রপ্তানি শুল্কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাণিজ্যকে নিরুৎসাহিত করছে। উচ্চ শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এখন জরুরিভিত্তিতে সাহসী ও ব্যাপক কর সংস্কার প্রয়োজন। এর জন্য নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

পেম আরও জানান, বর্তমানের সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো কর ছাড় ও প্রণোদনা যৌক্তিক করা এবং ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কার করা। এছাড়া কর প্রশাসনকে আধুনিক করতে ডিজিটাল অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

সমাধানে পরামর্শ

অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাকের মতে, মূল সমস্যা করের হার নয়, বরং করের আওতা সীমিত থাকা। 

তিনি বলেন, গ্রামীণ বাজার, উপশহরের শিল্প এলাকা এবং অনেক অর্থনৈতিক কার্যক্রম এখনো কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে। এগুলোকে করের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, করের আওতা না বাড়ায় অর্থনীতির বড় একটি অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে রয়ে গেছে।

আয়কর ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, জমি কেনাবেচার সময় প্রায়ই প্রকৃত মূল্য কম দেখানো হয়। এতে সরকার রাজস্ব হারায়।

র‍্যাপিডের এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ১ শতাংশ মানুষের হাতে ৫০ শতাংশের বেশি সম্পদ কেন্দ্রীভূত। এতে বৈষম্য বেড়েছে।

তার মতে, শুধু সম্পদ কর নয়, এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সম্পদ হস্তান্তরের ওপর কর আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।

তিনি পরামর্শ দেন, কর ফাঁকি কমাতে কর আদায় ব্যবস্থা অবশ্যই ডিজিটাল করতে হবে। একই সাথে পরোক্ষ করের চেয়ে সরাসরি আয়ের ওপর কর (প্রত্যক্ষ কর) আদায়ের প্রতি বেশি জোর দিতে হবে।

তোফায়েল আহমেদ: চড়াই-উতরাইয়ের রাজনৈতিক জীবন

ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল অগ্রভাগ থেকে শুরু করে নিজের সব সম্পদ দান করে দেওয়া তোফায়েল আহমেদের জীবন কেবল পদ-পদবি আর বক্তৃতার ইতিহাস নয়। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি কখনোই বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বাস হারাননি।

তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন ও জাতিসত্তার আন্দোলন গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন। ছয় দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিরলসভাবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন।

৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার মারা গেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী।

১৯৭০ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের (মুজিব বাহিনী) প্রধান নেতাদের একজন ছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন; প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পালন করেন; পরবর্তী সময়ে তিনবার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন এবং একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব করেন।

তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোরালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলেজজীবন থেকেই তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬২ সালে ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ১৯৬৪ সালে ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি ছিলেন।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি হিসেবে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ছিলেন এবং পাকিস্তানি শাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারামুক্ত হওয়ার পর এক জনসভায় তিনি আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

১৯৬৯ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরের বছর আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

তোফায়েল আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং মুজিব বাহিনীর চার আঞ্চলিক কমান্ডারের একজন। তিনি ১৯৭১ সালের গণপরিষদ ও ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সেপ্টেম্বরে তোফায়েল আহমেদ গ্রেপ্তার হন এবং ৩৩ মাস কারাবন্দি থাকেন। রাজনৈতিক কারণে তিনি আরও অন্তত সাতবার কারাবরণ করেন।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এইচ এম এরশাদের শাসনামলে চারবার এবং ১৯৯৫ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে হওয়া আন্দোলনেও কারাবন্দি হন। ২০০২ সালেও তাকে কারাগারে যেতে হয়।

১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় আওয়ামী লীগে সংস্কার আনার প্রস্তাব দেওয়া অল্প কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার মধ্যে তিনি ছিলেন। ওই প্রস্তাবের মধ্যে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর বিষয়টিও ছিল বলে জানা যায়।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরে। কিন্তু, তোফায়েল আহমেদকে মন্ত্রিসভা, এমনকি দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে প্রেসিডিয়াম সদস্যও করা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তোফায়েল আহমেদের অবস্থানের কারণেই তাকে দলে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল।

২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

২০১৩-১৪ সালে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

২০২১ সালে তোফায়েল আহমেদ ঘোষণা দেন, তিনি তার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশনে দান করবেন। প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম ও বৃত্তির ব্যবস্থা করে।

কয়েক বছর আগে স্ট্রোক করার পর তার শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায় এবং এরপর থেকে তাকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হতো।

মৃত্যুকালে তোফায়েল আহমেদ এক কন্যা, জামাতা এবং অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তার সহধর্মিণী আনোয়ারা আহমেদ ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর মারা যান।

সোমবার মাগরিবের নামাজের পর ঢাকার ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তোফায়েল আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ রাখা হয় স্কয়ার হাসপাতাল মর্গে।

মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ ভোলায় নিয়ে যাওয়া হবে। জোহরের নামাজের পর সেখানে আরেকটি জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে।

পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখা যায় এমন নাটক বানাতে চেয়েছি: মোস্তফা কামাল রাজ

হালের সুপরিচিত নাট্যপরিচালক ও চলচ্চিত্র পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। তার পরিচালিত ‘এটা আমাদেরই গল্প’—এ সময়ের অন্যতম দর্শকপ্রিয় ও আলোচিত একটি ধারাবাহিক নাটক। নাটকটি প্রচার হচ্ছে চ্যানেল আইতে এবং ইউটিউবে।

মোস্তফা কামাল রাজের এই নাটকের মধ্যে দিয়ে অনেকদিন পর পারিবারিক গল্পের নাটক প্রচার হচ্ছে, যা দর্শকদের ছুঁয়ে গেছে। যারা অভিনয় করেছেন, তারাও খুব প্রশংসা পাচ্ছেন। বিশেষ করে ফুপুর চরিত্রে অভিনয় করে দীপা খন্দকার তুমুল সাড়া পাচ্ছেন। মনিরা মিঠু মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন।

এটা আমাদেরই গল্প নাটকে অভিনয় করে আরও বেশ কয়েকজন শিল্পী প্রশংসিত হচ্ছেন।

মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত প্রথম সিনেমা প্রজাপতি। এই সিনেমায় জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম ও মৌসুমী অভিনয় করেন।

সাম্প্রতিক কাজগুলো নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।

দ্য ডেইলি স্টার: আপনার পরিচালিত এটা আমাদেরই গল্প ধারাবাহিকটি এতটা জনপ্রিয়তা পাবে, তা কি ভাবনায় ছিল?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: সত্যি কথা বলতে, আমি যখন কাজটি শুরু করি, তখন ভালো কিছু করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু, এতটা ভালোবাসা পাব, এতটা গ্রহণ করবেন দর্শকরা, তা কল্পনাও করিনি। দর্শকরা যেভাবে নিজেদের গল্পের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন, সেটিই নাটকটিকে এত দূর নিয়ে এসেছে। এজন্য, দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

দ্য ডেইলি স্টার: এটা আমাদেরই গল্প নাটকটিকে দর্শকরা আপন করে নিয়েছেন। এই নাটকটি সবাই এত পছন্দ করার কারণ কী?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: আমার মনে হয়, গল্পের সরলতা এবং বাস্তবতাই বড় কারণ। এই নাটকে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। বরং, আমাদের চারপাশের পরিচিত মানুষ, সম্পর্ক আর আবেগগুলো নাটকে উঠে এসেছে। যা কিনা দর্শকদের মনে খুব সহজেই জায়গা করে নিয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার: এদেশে একসময় পারিবারিক গল্পের নাটকের জয় জয়কার ছিল, কিন্তু এখন কমে গেছে। তারপরও আপনি কেন পারিবারিক গল্পের নাটক নিয়ে কাজ করেছেন?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: পারিবারিক গল্প আমাদের জীবনের খুব কাছের। এখনকার সময়ে এই ধরনের গল্প কিছুটা কম দেখা যায়। অথচ, দর্শকরা এখনো এমন গল্পের জন্য অপেক্ষা করেন। আমি চেয়েছি এমন কিছু করতে, যা পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে উপভোগ করা যায়। সেই চিন্তা করেই পারিবারিক গল্প বেছে নিয়েছি।

দ্য ডেইলি স্টার: অনেকদিন পর আপনার পরিচালিত এটা আমাদেরই গল্প নাটক নিয়ে সবখানে আলোচনা হচ্ছে, পরিচালক হিসেবে কেমন অনুভূতি কাজ করছে?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: এটা সত্যিই খুব ভালো লাগার একটা অনুভূতি। যখন দর্শকরা কাজটিকে নিজের মতো করে গ্রহণ করেন, তখন মনে হয় পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। সেই সঙ্গে আরো ভালো কাজ করার দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়।

দ্য ডেইলি স্টার: এই নাটকের সিজন টু হবে কী?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: সিজন টু হবে না, তবে নতুন কিছু আসবে। তবে, গল্পটা যেন আগের মতোই সুন্দর ও অর্থবহ থাকে। তা নিশ্চিত করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

দ্য ডেইলি স্টার: যেসব অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে কাজ করছেন, তাদের সম্পর্কে বলুন?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকের প্রতিটি শিল্পী নিজের জায়গা থেকে অসাধারণ কাজ করেছেন। তাদের আন্তরিকতা আর পরিশ্রমই চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে। টিমওয়ার্ক এতটা ভালো ছিল বলেই আমরা এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।

দ্য ডেইলি স্টার: পরিচালক হিসেবে আপনার বড় প্রাপ্তি কী?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে দর্শকদের ভালোবাসা। সেই সঙ্গে ইউটিউবে দর্শকদের কমেন্টস। যখন মানুষ কমেন্টস করে, তারা গল্পটাকে অনুভব করে, নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিল পেয়েছেন—এর চেয়ে বড় অর্জন আর কিছু হতে পারে না। দর্শকদের জন্য ভালোবাসা।

সত্যি কথা বলতে, আগামী মাসে নাটকটির প্রচার শেষ হয়ে যাবে। দীর্ঘ দিন আমরা যারা নাটকের সঙ্গে ছিলাম, একসঙ্গে কাজ করেছি, এটা একটা পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছিল, তাই শেষটা একটু আবেগের।

মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রোববার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এ দাবি করেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে গার্ডস বলেছে, ‘মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনকে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।’

একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে তারা বলেছে, ‘স্থল ও সমুদ্র ক্রমেই সন্ত্রাসী আগ্রাসনকারীদের কবরস্থানে পরিণত হবে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক এক্স পোস্টে এই দাবি অস্বীকার করেছে।

মার্চে বাংলাদেশে আসবেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর আগামী মার্চের শুরুতে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ কালে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং শান্তি ও উন্নয়নের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

আলোচনায় উভয়পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন অংশীদারত্ব, অভিবাসন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন চান।

উভয়পক্ষ আশা প্রকাশ করে, সব ক্ষেত্রে বর্ধিত সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। সেখানে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

যুক্তরাজ্যে ১৬-১৭ বছর বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ‘কারফিউ’

যুক্তরাজ্য সরকার সেদেশে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য রাতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ‘কারফিউ’ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে।

গত মাসে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বিভিন্ন অ্যাপে শিশুদের আসক্তি কমাতে নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সরকার জানায়, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

সরকার আরও জানিয়েছে, বয়সে বড় কিশোর-কিশোরীদের জন্য ইনফিনিট স্ক্রলিংয়ের মতো আসক্তিমূলক ফিচারগুলো ডিফল্টভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে এই সেটিংসগুলো পরিবর্তন করে পুনরায় চালু করতে পারবে।

সমালোচকদের মতে, এই সুযোগ থাকার কারণে সরকারের পদক্ষেপ অকার্যকর হতে পারে। এ ছাড়া এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

গত মাসে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো নিষিদ্ধ করে যুক্তরাজ্য এই তালিকায় সর্বশেষ দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এই নিয়ম ২০২৭ সালের শুরু থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশটির প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল এক বিবৃতিতে বলেন, ১৬ বছর বয়সীরা তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পেলেও তাদের অনলাইন জগতের সেই সব আসক্তিমূলক ফিচার থেকে সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। এটি তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে, পড়াশোনায় মনোযোগী হতে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই বিধিনিষেধের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট ব্যবহারের ওপর নজরদারিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার ফলে ১৮ বছরের কম বয়সীদের এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারের সময় নিয়মিত বিরতি নিতে হবে।

শিশুদের নিয়ে কাজ করা কিছু সংস্থা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক মনে করলেও, কেউ কেউ ভয় পাচ্ছেন, এর ফলে শিশুরা লুকিয়ে অনিরাপদ উপায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কানাডা, আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও একই পথে হাঁটছে।

আনচেলত্তির যে কৌশলে জাপান-বাধা ডিঙাল ব্রাজিল

জাপানের নিরেট রক্ষণভাগে ফাটল ধরানোর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না ব্রাজিল। উল্টো ম্যাচের ২৯তম মিনিটে নিজেদের ভুলে গোল হজম করে বসেছিল সেলেসাওরা। নৈরাশ্যবাদী সমর্থক থেকে শুরু করে নিন্দুকদের মাথায় তখন হয়তো কেন্তো শিওগাইয়ের কথাগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছিল।

‘ব্রাজিল একসময় পরাশক্তি ছিল, এখন শুধু ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনাই শক্তিশালী। ব্রাজিলকে নিয়ে তো এখন তেমন কিছু কানে আসে না,’ সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছিলেন জাপানের এই স্ট্রাইকার।

সেখানেই থামেননি তিনি। আরও বলেছিলেন, ‘সে কি আগের সেই নেইমার আছে? এখন (তাকে সামলাতে) কোনো সমস্যা হবে না বলেই মনে হয়।’

নেইমারকে মাঠে নামতে হয়নি। বিরতির পর ছন্দ খুঁজে পাওয়া ব্রাজিল কাসেমিরোর গোলে ৫৬তম মিনিটে সমতা টানে। আর বদলি নামা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি যোগ করা ছয় মিনিট সময়ের পঞ্চম মিনিটে গড়ে দেন পার্থক্য। আরও একবার বিশ্বকাপের নকআউটের প্রথম ধাপে হৃদয় ভাঙে জাপানের— এই নিয়ে পাঁচবার। অন্যদিকে, নাটকীয় জয়ে শেষ বত্রিশের বাধা ডিঙিয়ে শেষ ষোলোতে পা রাখে বর্ষীয়ান ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

হিউস্টনে ব্রাজিল বেছে নিয়েছিল আগের ৪-৩-৩ ফরমেশনই। জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসুও আস্থা রেখেছিলেন গত ম্যাচগুলোতে ব্যবহার করা ৩-৪-২-১ ফরমেশনে, যা প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে রূপ নেয় ৫-৪-১ ফরমেশনে।

রক্ষণে পাঁচজন ও মাঝমাঠে চারজনকে রেখে ‘প্রেস’ করে ফাঁদ বানায় জাপান। ব্রাজিলের মাঝমাঠকে প্রায় অকার্যকর করে ফেলে তারা। পাশপাশি দুই উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রায়ানকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলায় খেলায় তেমন প্রভাব রাখতে পারছিলেন না তারা। বাধ্য হয়ে ব্রাজিলের দুই ফুলব্যাক দানিলো ও দগলাস সান্তোসকে উপরে উঠে আসতে হচ্ছিল আক্রমণে সহায়তা করতে।

জাপানের এমন পাল্টা আক্রমণনির্ভর কৌশল কাজে লেগে যায়। মাঝমাঠে বেশি খেলোয়াড় রাখার ফায়দা তুলে নেয় এশিয়ার দলটি। দানিলোর পাসে ছিল না পর্যাপ্ত গতি। ঠিক মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে বাধাহীনভাবে ছুটতে থাকেন কাইশু সানো। ডি-বক্সের বাইরে কাছাকাছি পৌঁছে ২৫ গজ দূর থেকে নেন নিখুঁত গড়ানো শট। পরাস্ত হন গোলরক্ষক আলিসন। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এগিয়ে যাওয়ার উল্লাসে তখন মাতোয়ারা জাপান— যাদেরকে বলা হচ্ছিল এবারের বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’।

কাঠগড়ায় তখন শুধু রাইট ব্যাক দানিলো নন, অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরোও। তাকে অনায়াসেই কাটিয়ে গতিতে পেছনে ফেলেছিলেন সানো। আর ধরতে পারেননি কাসেমিরো।

পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা অল্প করে হলেও চোখ রাঙাচ্ছিল তাদের। কিন্তু দলটির নাম ব্রাজিল, তাদের কোচের নাম আনচেলত্তি— এত সহজে হাল ছেড়ে দেওয়া কারোরই ধাতে নেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে একটি পরিবর্তন আনেন তিন দশকের অভিজ্ঞতায় পূর্ণ আর সাফল্যে ভাস্বর ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি। চোট পাওয়া মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার জায়গায় নামান তরুণ স্ট্রাইকার এন্দ্রিককে। ব্রাজিলের ফরমেশন বদলে দাঁড়ায় ৪-২-৪, অর্থাৎ আক্রমণভাগে শক্তি বাড়িয়ে চারজন। ভিনিসিয়ুস, রায়ান ও মাথেউস কুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন এন্দ্রিক।

সেলেসাওদের আক্রমণের ধার বাড়ে। ডি-বক্সে তাদের খেলোয়াড়দের আনাগোনাও বাড়তে থাকে। আগের কৌশলেই খেলে যাওয়া জাপানের তিন সেন্টার ব্যাকের কাজ হয়ে পড়ে কঠিন।

গোল তবু আসি আসি করেও যেন আসছিল না। কখনও গোলরক্ষক জিওন সুজুকি, কখনও তাকেহিরো টমিয়াসু হয়ে উঠছিলেন ‘চীনের মহাপ্রাচীর’।

সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে। ব্রাজিলের আক্রমণভাগের জোর সামলাতে ততক্ষণে নিজেদের ডি-বক্সের আশেপাশে ঠাঁই নিয়েছে জাপান।

সুযোগ দেখলেন গ্যাব্রিয়েল— ডিফেন্ডার থেকে হয়ে ওঠেন একেবারে ‘প্লেমেকার’! বল নিয়ে উপরে উঠে যাওয়ার ‘লাইসেন্স’ পেয়ে নিজেকে আবিষ্কার করেন প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ঠিক সামনে। এরপর দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে বাঁ পায়ের মাপা ক্রস। সবচেয়ে বেশি লাফিয়ে উঠে জোরাল হেডে কাসেমিরো খুঁজে নিলেন জাল। সুজুকি প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগটুকুও পাননি।

আগের ভুলের ‘প্রায়শ্চিত্ত’ সঙ্গে দলকে দলকে সমতায় ফেরানো— এক ঢিলে দুই পাখি মারেন কাসেমিরো। আর ব্রাজিল? জয়ের সুঘ্রাণ পেয়ে তেতে ওঠে আরও।

এন্দ্রিক সাদামাটা থাকলেও তিনি মাঠে নামার পর দুই উইংয়ে ব্রাজিল জায়গা পেতে থাকে। কাসেমিরোর গোলের চার মিনিট পরই বাম প্রান্ত দিয়ে একক নৈপুণ্যে তেঁড়েফুঁড়ে আক্রমণে যান ভিনিসিয়ুস। মাঝমাঠের সামনে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে টমিয়াসুকে ‘নাটমেগ’ করে সোজা চলে যান ডি-বক্সে। এরপর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এবং আরও এক ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে নেন শট। ঝাঁপিয়ে পড়া সুজুকির হাতে লেগে বল বাধা পায় পোস্টে। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৪ গোল করা ভিনিসিয়ুসের ঝুলি অল্পের জন্য তাই ভারী হয়নি।

অন্যদিকে, গোল হজমের পর খোলসবন্দি হয়ে যায় মরিয়াসুর দল। ফরমেশন পাল্টে ৫-৩-২ করে ফেলে তারা। মাঝমাঠের দখল ছেড়ে দিয়ে নিচে নেমে যতটা সম্ভব রক্ষণ সামলাতে মনোযোগী হয়ে পড়ে। ফলে তাদের পাল্টা আক্রমণে ওঠার সম্ভাবনাও ভীষণ সীমিত হয়ে পড়ে।

বলের দখল দারুণভাবে উপভোগ করতে থাকে ব্রাজিল। এরই মধ্যে ৬৫তম মিনিটে কুনিয়ার জায়গায় নামেন মার্তিনেল্লি— যিনি পরে পালন করেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে তখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল ম্যাচ, যে কোনো সময় বাজবে রেফারির বাঁশি। দুই কোচ হয়তো পরবর্তী ৩০ মিনিটের জন্য নিজেদের ছকও কষে ফেলেছিলেন। কিন্তু ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ লুকিয়ে রেখেছিল কয়েকটি বিশেষ মুহূর্ত— যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে।

জাপানের ডি-বক্সের সামনে বল হারিয়ে ফেলা এন্দ্রিক হাল না ছেড়ে ‘প্রেস’ করতে থাকলেন। বদলি নামা আও তানাকা চাপে ভেঙে পড়েন। তার ভুলে ডানদিকে বল পান রায়ান। তিনি পাস দেন ম্যাচজুড়ে সারা মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো ব্রুনো গিমারায়েসকে।

ডি-বক্সে তখন জাপানের সাতজন খেলোয়াড়। কিন্তু চারজনই সরে গিয়েছিলেন ডানদিকে। গিমারায়েস তার সামর্থ্যের ছাপ রেখে ব্যবহার করেন ‘ভিশন’। তাড়াহুড়ো না করে বলে দুটি স্পর্শ নিয়ে তৃতীয়টিতে খুঁজে নেন মার্তিনেল্লিকে।

দুই ডিফেন্ডারের মাঝে থাকা মার্তিনেল্লির হাতে সময় বেশি ছিল না। তার বাঁ পায়ের প্রথম ছোয়াঁটা ছিল অসাধারণ। জায়গা বানিয়ে দ্রুতই ডান পায়ে নিলেন কোণাকুণি শট। সুজুকি এবার আর পারেননি। দূরের পোস্টে লেগেই বল ঢোকে জালে। গোল! উল্লাস! উন্মাদনা! বিষাদ! হতাশা!

‘মিশন হেক্সা’ পূরণের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে খেলতে যাওয়া ব্রাজিল টিকে রইল বিশ্বকাপের মঞ্চে, পুরোটা সময় বেঞ্চে থাকা শিওগাই ও জাপানকে ধরতে হলো বাড়ির পথ।

ম্যাচের আগে শিওগাইয়ের ‘মাইন্ড গেম’ নিয়ে আনচেলত্তি জানিয়েছিল, কথার লড়াইয়ে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই তার। মাঠের পারফরম্যান্সে রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিতের পর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি যা বলেন, তাতে ফুটে ওঠে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের সফলতার সূত্র, ‘এই জয়টা আমাদেরই প্রাপ্য ছিল। আমরা গোল হজম করেছি ঠিকই, তবে দল ধৈর্য হারায়নি। প্রথমার্ধেও দল বেশ ভালো খেলেছে। দারুণ একটি ম্যাচ ছিল।’

পদত্যাগ করলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ করেছেন।

তিনি গত ২১ মাস ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিএসইসির এক কর্মকর্তা জানান, মাকসুদ আজ বৃহস্পতিবার অফিসে আসেননি।

এক বিবৃতিতে মাকসুদ বলেন, ব্যক্তিগত কাজে মনোনিবেশ করার জন্য তিনি এই সরকারি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন এক অস্থির সময়ে দায়িত্ব নিয়েছিল এবং আইনি কাঠামো ও বাজারের শৃঙ্খলা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিল।

মাকসুদ জানান, তার সময়ে বিএসইসি মার্জিন লোন, ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও), মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট সিকিউরিটিজ এবং হুইসেলব্লোয়ার (তথ্য প্রদানকারী) সুরক্ষা সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করেছে।

তিনি জানান, বিএসইসি জনমতের জন্য করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট এবং করপোরেট পুনর্গঠন সংক্রান্ত তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে।

এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন’ এবং ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন’ নামে দুটি আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।