29 C
Dhaka
Home Blog

‘ইরানের হাতে এখনো যথেষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র আছে’

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বহু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তারপরও ইরানের এখনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ‘উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা’ আছে।

আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন এ কথা বলেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জাননো হয়।

তিনি জানান, ইসরায়েলের জন্য জন্য বড় ধরনের হুমকি ছিল এমন ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র ধ্বংস করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্রগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখব এবং নিক্ষেপের পরিমাণ কমিয়ে আনব। তবে তাদের শাসনব্যবস্থার এখনো উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে।

‘আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে, আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্ভেদ্য নয়।’

১২ লাখ কৃষকের দেড় হাজার কোটি টাকার ঋণ মাফ করছে সরকার

মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক প্রথম বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ও সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সাংবাদিকদের জানান, কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

এ সময় আরও জানানো হয়, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত সুদসহ কৃষকদের কাছে পাওনা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা এ মওকুফের আওতাভুক্ত হবে।

এ ঋণ মওকুফ করা হলে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হবে। ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন, যা তাদের কর্মস্পৃহা বাড়াবে এবং দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ঋণের কিস্তি বাবদ যে অর্থ কৃষকের ব্যয় হতো, সেই অর্থ তারা উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

এছাড়া কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমান ভালো হবে। ফলে তারা ব্যাংক থেকে পুনরায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি তারা স্থানীয় মহাজনী ঋণের উচ্চ সুদের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

কৃষকরা নতুন উদ্যোমে শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে করে জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ও আমদানি নির্ভরতা কমবে। প্রায় তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন কমবে এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ১৯৯১-৯৬ মেয়াদকালে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছিল।

সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একইসঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক হয়েও কেন আম আমদানি করে বাংলাদেশ

বিশ্বে আম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। দেশে বছরে ২৪ থেকে ২৬ লাখ টন আম উৎপাদিত হয় এবং এর অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার।

তারপরও দেশে নিয়মিত আম আমদানি করা হয়। আর এসব আম আসে উচ্চ আয়ের ভোক্তাদের সারা বছর আমের চাহিদা মেটাতে।

গুলশান, বনানী, বায়তুল মোকাররম, ধানমন্ডি ও উত্তরার কাঁচাবাজার ও সুপারশপগুলোর ফলের দোকানে সারা বছরই এসব আমদানি করা আম দেখা যায়। বেশি দাম দিয়ে হলেও বছরজুড়ে আম কিনতে ইচ্ছুক উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতেই এসব আম বিক্রি করা হয়।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বাদের দিক থেকে বাংলাদেশের আম অতুলনীয়। তাই, দেশে যখন আমের মৌসুম চলে তখন আমদানি করা জাতগুলোর চাহিদা তেমন একটা থাকে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে আম আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৮ দশমিক ৩ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ব্যাপকভাবে বেড়ে ১ হাজার ৩৪৩ টনে পৌঁছায়। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি কমে ১৪১ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ২৯ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৪ দশমিক ৮৭ টনে নেমে আসে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে আমদানি আবার বেড়ে ৩৭ দশমিক ০৫ টনে পৌঁছায়।

থাইল্যান্ড, মিশর, ভারত, কেনিয়া, নেদারল্যান্ডস, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আম আমদানি করে বাংলাদেশ। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু থাইল্যান্ড ও ভারতের পাশাপাশি হাতে গোণা কয়েকটি দেশ থেকে আম আমদানি করা হয়েছে।

আম আমদানিকারক মো. আব্দুল মানিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আগে খরচ কম থাকায় আমদানি বেশি হয়েছিল। তখন প্রতি কেজিতে শুল্ক ছিল ৪৫ টাকার মতো, আর উড়োজাহাজে পরিবহন খরচ ছিল প্রতি কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আর এখন প্রতি কেজিতে শুল্কই দিতে হয় প্রায় ৫০০ টাকা। সেইসঙ্গে প্রতি কেজিতে উড়োজাহাজে পরিবহন খরচ বেড়ে প্রায় ৩০০ টাকা হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে এসব আমের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই আমদানিও কমেছে।’

থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে খাদ্য আমদানিতে মাত্র প্রায় পাঁচ শতাংশ কর আরোপ করা হয় উল্লেখ করে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাংলাদেশে কর কমানো হলে আঙুর, আপেল ও মাল্টার মতো ফল আরও কম দামে পাওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমদানি করতে যে খরচ পড়ে যায়, তাতে উচ্চ আয়ের অল্পসংখ্যক মানুষই আমদানি করা আম কিনতে পারেন। আসলে মিষ্টি বেশি হওয়ার কারণে এসব আমের চাহিদা রয়েছে। থাই সুইট ম্যাঙ্গো এখনো সবচেয়ে বেশি চলে।’

ইউনিমার্টের গুলশান-২ শাখার বিক্রয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ লিমন জানান, দেশে আমের মৌসুম শুরু হলে বিদেশি আমের চাহিদা কমে যায় এবং সে অনুযায়ী আমদানিও কমানো হয়। মৌসুম শেষ হলে আবার আমদানি বাড়ে।

তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার আর২ই২, ভারতের কাটিমন ও থাইল্যান্ডের ব্যানানা ম্যাঙ্গোসহ আরও কয়েকটি জাতের চাহিদা বেশি। এগুলোর পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস থেকেও আম আমদানি করা হয়। আর২ই২ প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। কাটিমন বিক্রি হয় প্রতি কেজি ২৫০ টাকায়।’

লিমনের ভাষ্য, বছরজুড়ে এসব আমের চাহিদা থাকলেও রমজানে চাহিদা বাড়ে। রমজানে সব জাতের আমের চাহিদা বেশি থাকে।

গুলশান-২ কাঁচাবাজারের ফল বিক্রেতা কবির হোসেন বলেন, ‘থাইল্যান্ডের জাম্বু, চেরি ম্যাঙ্গো ও সুইট ম্যাঙ্গোর চাহিদা বেশি। জাম্বু প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা, চেরি ম্যাঙ্গো ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সুইট ম্যাঙ্গো ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।’

তার ভাষ্য, আমদানি করা এসব আমের মূল ক্রেতা বড় ব্যবসায়ী ও ভালো বেতনের পেশাজীবীরা। প্রতি সপ্তাহে তিনি প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কেজি আম বিক্রি করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সরফ উদ্দিন বলেন, ‘দেশে আমের মৌসুম না থাকলে আমদানি করা আম ভোক্তার চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু, স্বাদ ও মানের হিসাব করলে আমদানি করা আমগুলো বাংলাদেশের আমের সমকক্ষ নয়। আসলে সারা বছর যারা আম খেতে চান, তারা বাজারে প্রাপ্যতার ভিত্তিতেই আমদানি করা আম কেনেন।’

যখন একটি গোল দরকার, তখন রোনালদোকে তুলে নিতে পারেন না: মার্তিনেজ

তেমন কোনো প্রভাব রাখতে না পারলেও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে রাখলেন রবার্তো মার্তিনেজ। আগের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে যোগ করা সময়ে গোল করে দলকে জেতানো গনসালো রামোসকে খেলালেনই না তিনি। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট খেলানো এবং রামোসকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার এমন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন পর্তুগালের কোচ।

সোমবার রাতে ডালাসে শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেন বদলি নামা মিকেল মেরিনো। গোটা ম্যাচে মাঠে থেকে মাত্র ১৯ বার বল স্পর্শ করতে পারেন রোনালদো।

৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার পড়তি ফর্ম এবং তাকে ম্যাচের পর ম্যাচ খেলানো নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। চলতি বিশ্বকাপেও এই প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে বহুবার। আগের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করার পর রোনালদোকে ৮০তম মিনিটে তুলে নিয়েছিলেন মার্তিনেজ। তবে স্পেনের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরও নিজের পুরোনো যুক্তিতেই অটল থেকেছেন এই স্প্যানিশ কোচ।

রোনালদোকে শেষ বাঁশি পর্যন্ত মাঠে রাখার কারণ জানিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘যখন দলের কথা ভাবতে হচ্ছে এবং দলের জন্য একটি গোল দরকার, তখন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে তুলে নিতে পারেন না। সে কোনো সমস্যা ছাড়াই ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’

পর্তুগালের বিদায়ী কোচের মতে, গোল করার জন্য রোনালদোর বিকল্প ভাবা অসম্ভব, ‘সে প্রভাববিস্তারকারী ফুটবলার। মাঠে তার উপস্থিতিতেই অনেক কিছু হয়। তার কারণে জায়গা তৈরি হয়, ডেডবল পরিস্থিতিতে বা বক্সের ভেতরে যেকোনো পরিস্থিতিতে তাকে বদলি করার কোনো মানেই হয় না।’

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে গোলটি হজম করে পর্তুগাল। এর আগেই নিয়মানুযায়ী পাঁচটি বদলি করে ফেলায় রোনালদোকে উঠিয়ে মার্তিনেজের সামনে নতুন কাউকে নামানোর কোনো সুযোগও ছিল না।

রামোসকে না খেলানোর বিষয়ে এই কোচের ব্যাখ্যা, খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ষষ্ঠ বদলি হিসেবে হয়তো তাকে মাঠে নামাতেন, ‘অতিরিক্ত সময়ে হয়তো গনসালো রামোসকে ব্যবহার করাটা যুক্তিযুক্ত হতো। কিন্তু আমাদের খেলার কাঠামোটা ধরে রাখতে হতো। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ৯০ মিনিটের মধ্যে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না।’

এই ম্যাচটি দিয়ে শেষ হয়েছে পর্তুগালের কোচ হিসেবে মার্তিনেজের মেয়াদ। বিশ্বকাপের আগেই তিনি বলেছিলেন, মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইচ্ছে তার নেই। শুধু তা-ই নয়, স্পেনের বিপক্ষে হারটি হয়ে থাকছে বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনালদোরও শেষ ম্যাচ। ফলে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বাদ অচেনাই থেকে গেল ফুটবলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার।

‘থিয়েটারের পরিপূর্ণ মানুষ ছিলেন আতাউর রহমান’

সদ্য প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে বাংলাদেশের থিয়েটার অঙ্গনের একজন পরিপূর্ণ ও আধুনিক মনের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নাট্যকার মাসুম রেজা।

তিনি বলেন, বাংলা নাটককে সমৃদ্ধ করতে আতাউর রহমানের অবদান ছিল ব্যাপক।

জনপ্রিয় নাট্যকার মাসুম রেজা দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চ নাটকের সঙ্গে যুক্ত। নাট্যদল ‘দেশ নাটক’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি অসংখ্য নাটক লিখেছেন এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারও পেয়েছেন।

সদ্য প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই নাট্যকার।

মাসুম রেজা বলেন, ‘আতাউর রহমান থিয়েটারের মানুষ। সত্যি কথা বলতে, থিয়েটারের পরিপূর্ণ মানুষ আতাউর রহমান। সংস্কৃতিমনা মানুষ। আধুনিক মনের মানুষ। এত সিনিয়র হওয়ার পরও অনেক আধুনিক একজন মানুষ ছিলেন আমার প্রিয় আতা ভাই।’

থিয়েটারে আতাউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বাংলা নাটকে তার ব্যাপক অবদান। বাংলা নাটককে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। সৃষ্টিশীল মানুষ ছিলেন। সবসময় সৃষ্টির নেশায় থাকতেন।’

ঢাকার মঞ্চে বহুল প্রশংসিত নাটক ‘গ্যালিলিও’-এর প্রসঙ্গ টেনে মাসুম রেজা বলেন, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন আতাউর রহমান। সে সময় জার্মান কালচারাল সেন্টারে নাটকটির প্রদর্শনী হতো এবং দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায়।

তার ভাষায়, ‘আতা ভাইয়ের অন্যতম সফল কাজ এটি।’

‘রক্তকরবী’ নাটকের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মাসুম রেজা। তিনি বলেন, ‘রক্তকরবী তিনি মঞ্চে নির্দেশনা দিয়েছেন। বড় একটি কাজ। আসলে বিশ্ববিখ্যাত ক্লাসিক নাটকগুলোকে আতা ভাই মঞ্চে নিয়ে এসেছেন পরম যত্ন করে। বাংলাদেশের মঞ্চে তার নাটকগুলো সবার ভালোবাসা পেয়েছে।’

আতাউর রহমানের সাহিত্যচর্চা ও বিশ্বনাট্যের প্রতি আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মাসুম রেজা বলেন, ‘যেকোনো কাজে রবীন্দ্রনাথের লেখা থেকে আতা ভাই উদ্ধৃতি দিতেন। রবীন্দ্রনাথের ভক্ত ছিলেন এবং প্রচুর পড়াশোনা করা একজন মানুষ ছিলেন। শেকসপিয়ার নিয়ে কাজ করেছেন। বিশ্বখ্যাত নাট্যকারদের প্রতি তার প্রবল শ্রদ্ধাবোধ ছিল। সেইসব কাজ মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। কাজ করে তৃপ্তি পেয়েছেন।’

আতাউর রহমানের আড্ডাপ্রিয় স্বভাবের কথাও স্মরণ করেন এই নাট্যকার। তিনি বলেন, ‘ভীষণ আড্ডাপ্রিয় মানুষ ছিলেন তিনি। আড্ডা দিতে ভালোবাসতেন। আড্ডাটাকে জমিয়ে রাখতেন। আমি ও প্রয়াত খালেদ খান হয়তো আড্ডা দিচ্ছি, তিনি আসতেন এবং অনায়াসে আড্ডা জমিয়ে তুলতেন।’

শেষে মাসুম রেজা বলেন, ‘তার কথায় আনন্দ পেতাম। অনেক কিছু জানতাম। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।’

খামেনির দাফন নিয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান স্থগিত

ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। 

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাতে আজ বুধবার বার্তাসংস্থা এএফপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। 

নিউইয়র্ক টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা থেকে খামেনির তিন দিনব্যাপী বিদায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে আয়োজনের প্রস্তুতিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছে। 

অনুষ্ঠানের নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে। 

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে তাকে সমাহিত করার কথা। 

ওই শহরেই জন্মগ্রহণ করেন খামেনি। সেখানে ইমাম রেজার মাজার এলাকায় তার বাবাকেও দাফন করা হয়েছিল।

দাফনের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হলো নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস

আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের দুই সপ্তাহ আগেই নাটোরের লালপুরে অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলসের ২০২৫-২৬ মৌসুমের মাড়াই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত বছরের ১০ নভেম্বর মাড়াই মৌসুম শুরু হয়। সূত্র জানিয়েছে, ১২২ দিন চালু রেখে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

‘প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করার পর পর্যাপ্ত আখ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২৩ ফেব্রুয়ারি মিলের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হই,’ বলেন মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. আশাব উদ্দিন।

নথি অনুযায়ী, এ মৌসুমে ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আখ থেকে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় চলতি মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, আখ চাষ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকটই উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।

আশাব উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, চাষাবাদে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হলেও বেশ কিছু কারণ প্রভাব ফেলেছে—বিপুল পরিমাণ আখ গুড় উৎপাদক ও অন্যান্য মিলে সরবরাহ করা হচ্ছে; অনেক কৃষক আখের পরিবর্তে অধিক লাভজনক অন্যান্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন।

চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার একর জমি থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও প্রকৃত উৎপাদন তার চেয়ে কম হয়েছে।

স্থানীয় চাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম মণ প্রতি ২৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ থেকে ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ হাজার কৃষক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের পাওনা ১৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও আখ সংকটে চিনির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি।

গত বছর (২০২৪-২৫ মৌসুমে) নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করেছিল। সে তুলনায় প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন কম আখ মাড়াই হয়েছে।

একদিন অক্ষর ছাপত মানুষ, আজ মানুষকে পড়ে অ্যালগরিদম

আজ ৬ সেপ্টেম্বর। বাংলা ভাষা ও বাঙালির চিন্তার মুক্তির এক অনন্য স্মরণীয় দিন। ১৭৭৮ সালের আজকের এই দিনে অবিভক্ত বাংলার হুগলিতে চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকারের হাত ধরে বাংলা চলনশীল হরফের এক ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল।

 

সেদিন ধাতু গলিয়ে তৈরি হয়েছিল বাংলা অক্ষর। কেউ হয়তো ভাবেনি, ছোট ছোট সেই ধাতব হরফ একদিন বদলে দেবে জ্ঞান ও যোগাযোগের জগৎ।

 

সেই পঞ্চানন কর্মকার থেকে আজকের এআই প্রম্পট। সীসার হরফ থেকে সিলিকন সার্ভার। খোদাই থেকে কোড। অক্ষর থেকে অ্যালগরিদম। বাংলা ও বাঙালির গণযোগাযোগের প্রায় আড়াইশ বছরের ইতিহাসকে হয়তো এভাবেই দেখা যায়।

 

আজ মুহূর্তের মধ্যে খবর পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। আমাদের পছন্দ-আগ্রহ বুঝে অ্যালগরিদম সাজিয়ে দেয় ব্যক্তিগত এক তথ্যজগৎ।

 

কখনো একটি পোস্ট পৌঁছে যায় লাখো মানুষের কাছে। আবার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংবাদ হারিয়ে যায় অসংখ্য কনটেন্টের ভিড়ে।

 

কিন্তু একবার ভাবুন তো, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এত দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকার পরও যদি বাংলা অক্ষর কখনো যন্ত্রের শরীর না পেত? একটি বইয়ের প্রতিলিপি তৈরি করতে হতো হাতে লিখে। একজন পুঁথি পড়তেন, অন্যরা শুনতেন। জ্ঞান ও সংবাদ ছড়িয়ে পড়ত ধীরে, সীমিত পরিসরে।

সম্ভবত সংবাদপত্রের ইতিহাস ভিন্ন হতো। সমাজসংস্কার, জনমত গঠন এবং ব্যক্তিগত পাঠাভ্যাসের বিস্তার ঘটত অন্য গতিতে।

 

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের ফিরে যেতে হয় ১৭৭৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের হুগলিতে। চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকারের প্রচেষ্টায় বাংলা হরফ ধাতব চলনশীল টাইপে রূপ পায়। এটি শুধু একটি মুদ্রণপ্রযুক্তির সাফল্য ছিল না, জ্ঞান ও যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনার সূচনাও ছিল।

 

 

মুদ্রণযন্ত্রের আগে বাংলায় জ্ঞান ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের সম্পদ। হাতে লেখা পুঁথি তৈরি করতে সময় ও অর্থ দুটোই লাগত। ফলে বইয়ের মালিকানা ও জ্ঞান সংরক্ষণের সুযোগও সমাজের সীমিত অংশের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।

 

মুদ্রণ সেই বাস্তবতা বদলে দেয়। একবার অক্ষর ও ছাঁচ তৈরি হলে একই লেখা বহু কপিতে ছাপা সম্ভব হলো। জ্ঞান আর একটি পুঁথি বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটকে থাকল না। ধীরে ধীরে তা পৌঁছাতে শুরু করল বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে।

 

জ্ঞান যত বেশি মানুষের হাতে গেল, তত বেশি মানুষ পড়ার, প্রশ্ন করার এবং নিজের মত গঠনের সুযোগ পেল। 

 

 

মুদ্রণের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি ছিল পাঠকের পরিচয়ের পরিবর্তন। পুঁথির যুগে পাঠ অনেক ক্ষেত্রেই ছিল সমষ্টিগত অভিজ্ঞতা। একজন পড়তেন, অন্যরা শুনতেন।

 

মুদ্রিত বই মানুষের হাতে পৌঁছালে পাঠ ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। একজন মানুষ নিজের সময় ও নিজের গতিতে পড়তে পারেন। অন্য বইয়ের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন।

 

এভাবেই তৈরি হয় এমন এক পাঠকসমাজ, যারা শুধু শুনে গ্রহণ করে না—পড়ে, ভাবে, প্রশ্ন করে এবং মতামত তৈরি করে।

 

বাংলা মুদ্রণের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রবাহেরও নতুন কাঠামো তৈরি হয়। পরবর্তীকালে দিগদর্শন ও সমাচার দর্পণের মতো প্রকাশনা নিয়মিতভাবে জ্ঞান ও সংবাদ বৃহত্তর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করে।

 

এক অঞ্চলের ঘটনা অন্য অঞ্চলের মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সামাজিক প্রশ্ন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে মত গড়ে উঠতে থাকে। এভাবেই মুদ্রণ তথ্যকে ব্যক্তিগত সীমা থেকে জনপরিসরে নিয়ে আসে।

মুদ্রণভিত্তিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছিল। এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে ছিলেন সম্পাদক। কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কোন উৎস বিশ্বাসযোগ্য এবং কোন সংবাদ আরও যাচাই করা দরকার, এসব সিদ্ধান্তে সম্পাদকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ তত্ত্বে একে বলা হয় ‘গেটকিপিং’।

অবশ্য এই ব্যবস্থা পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিল না। রাজনৈতিক চাপ, মালিকানার প্রভাব বা ব্যক্তিগত মতাদর্শ সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করতে পারত। তবু তথ্য প্রকাশের আগে একটি মানবিক বিচার ও পেশাগত যাচাইয়ের স্তর ছিল।

আজ সেই গেটকিপিং পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তবে তার চরিত্র বদলে গেছে। মানুষের পাশাপাশি এখন তথ্যের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে অ্যালগরিদম।

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিয়ে আপনি প্রথমে কী দেখেন? কোন সংবাদ সামনে আসবে, কোন ভিডিও আপনার মনোযোগ কাড়বে বা কোন পোস্টে আপনি প্রতিক্রিয়া জানাবেন, এসব সিদ্ধান্তের বড় অংশ এখন কোনো মানব সম্পাদক নেন না। নেয় অ্যালগরিদম।

আপনি কী দেখেন, কোথায় বেশি সময় দেন, কোন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান, এসব আচরণ বিশ্লেষণ করে প্ল্যাটফর্মগুলো আপনার জন্য একটি ব্যক্তিগত তথ্যজগৎ তৈরি করে।

এর লক্ষ্য সবসময় সবচেয়ে নির্ভুল তথ্য সামনে আনা নয়, বরং আপনার মনোযোগ ধরে রাখা। ফলে আমাদের মনোযোগও তথ্য অর্থনীতির একটি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে।

মুদ্রণযুগে একটি সংবাদপত্রের হাজারো পাঠক একই প্রধান সংবাদ পড়তেন। এতে সমাজের মানুষের মধ্যে অন্তত কিছু সাধারণ তথ্যভিত্তি তৈরি হতো।

ডিজিটাল যুগে একই শহরে থাকা দুই ব্যক্তি একই সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্যজগতে থাকতে পারেন। একজনের সামনে রাজনৈতিক বিতর্ক। অন্যজনের সামনে বিনোদন। 

 

অ্যালগরিদম আমাদের আগ্রহ অনুসরণ করতে করতে অনেক সময় একই ধরনের মতামত বারবার সামনে আনে। তৈরি হয় ‘ফিল্টার বাবল’।

 

সমস্যা হলো, মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ বাস্তবতার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। তথ্য বেড়েছে। কিন্তু সবাই যে একই পৃথিবী দেখছে, তা আর নিশ্চিত নয়।

 

মুদ্রণপ্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগও বদলে যায়। লিখিত ঘোষণা, আইন ও বিজ্ঞপ্তি তুলনামূলকভাবে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।

 

পরে সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে একই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে। এটি ছিল ‘ওয়ান-টু-মেনি’ যোগাযোগের যুগ।

 

আজ সেই কাঠামো বদলে গেছে। একই প্রতিষ্ঠান এখন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন বার্তা পৌঁছাতে পারে। গণযোগাযোগ তাই ক্রমশ ব্যক্তিগত যোগাযোগের বৈশিষ্ট্য অর্জন করছে।

 

একসময় একটি বিজ্ঞাপন বা প্রেস রিলিজ একইভাবে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাত। ডিজিটাল যুগে মানুষের বয়স, আগ্রহ ও অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণ করে আলাদা বার্তা তৈরি করা সম্ভব। 

 

ফলে যোগাযোগ এখন শুধু কী বলা হবে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্ন হলো, কাকে, কখন এবং কোন প্রেক্ষাপটে সেই বার্তা দেখানো হবে?

 

এতে যোগাযোগ অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে সামনে এসেছে ব্যক্তিগত তথ্য ও মনস্তত্ত্ব ব্যবহারের প্রশ্নও। আগে প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইত। এখন প্রতিষ্ঠান মানুষের ব্যক্তিগত স্ক্রিনের ভেতরে পৌঁছাতে চায়।

 

১৭৭৮ সালে পঞ্চানন কর্মকারের কাছে একটি বাংলা অক্ষর ছিল কারিগরি দক্ষতার ফল। একটি হরফের আকার, বাঁক ও গঠন তৈরি করতে প্রয়োজন হতো সূক্ষ্ম শ্রম।

 

আজ আমরা একটি বাক্য লিখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নির্দেশ দিতে পারি, একটি প্রতিবেদন লেখো, সংবাদ তৈরি করো বা প্রেস রিলিজ তৈরি করো।

সেকেন্ডের মধ্যে তৈরি হয়ে যেতে পারে শত শত শব্দ। একসময় মানুষ অক্ষর তৈরি করত। আজ মানুষ যন্ত্রকে নির্দেশ দেয় অক্ষর সাজাতে।

কিন্তু এখানেই নতুন প্রশ্ন। মানুষ কি ভবিষ্যতেও চিন্তার স্রষ্টা থাকবে? নাকি শুধু যন্ত্রের তৈরি তথ্যের নির্বাচনকারী হয়ে উঠবে?

প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, মানুষের নিজস্ব বিচারবোধের প্রয়োজনও তত বাড়ছে।

 

মুদ্রণযন্ত্র তথ্যের বিস্তার ঘটিয়েছিল। ডিজিটাল প্রযুক্তি সেই বিস্তারকে প্রায় সীমাহীন করে দিয়েছে। আজ তথ্যের অভাব আমাদের প্রধান সমস্যা নয়। সমস্যা হলো, তথ্যের ভিড়ে কোনটি সত্য?

 

প্রতিদিন অসংখ্য সংবাদ, পোস্ট, ভিডিও ও মতামত আমাদের সামনে আসে। এর মধ্যে কোনটি নির্ভরযোগ্য, কোনটি বিভ্রান্তিকর আর কোনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে উঠছে।

তথ্য তৈরি করার ক্ষমতা মানুষের হাতে যত দ্রুত পৌঁছেছে, তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি তত দ্রুত গড়ে ওঠেনি।

আজকের প্রযুক্তি আরও দ্রুত, শক্তিশালী এবং সর্বব্যাপী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই প্রযুক্তি কি আমাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করছে? নাকি এমন একটি তথ্যজগৎ তৈরি করছে, যার সীমা আমরা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছি না?

অসংখ্য মতামতের ভিড়ে স্বাধীনভাবে বিচার করার সক্ষমতা না থাকলে সেই ভিড়ই হয়ে উঠতে পারে বিভ্রান্তির গোলকধাঁধা। 

১৭৭৮ সালের হুগলি থেকে আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ, এই দীর্ঘ ইতিহাসে প্রযুক্তি বারবার মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলেছে। কিন্তু প্রতিটি যুগে একটি প্রশ্ন একই রয়ে গেছে। তথ্যের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

অক্ষর মানুষকে পড়তে শিখিয়েছিল। এখন অ্যালগরিদমের যুগে আমাদের নতুন করে শিখতে হবে, কীভাবে নিজের মতো করে ভাবতে হয়। 

১৭৭৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের সেই ঐতিহাসিক দিন তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়। এটি আজও আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন রেখে যায়, আমরা কি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি, নাকি প্রযুক্তিই ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তার দিক নির্ধারণ করছে?

হুগলির সেই উনুনে একদিন ধাতু গলেছিল মানুষের ভাবনাকে অক্ষরের শরীর দেওয়ার জন্য। আজ অসংখ্য সার্ভারে তথ্যের প্রবাহ ছুটছে মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য।

দুই যুগের প্রযুক্তি আলাদা। কিন্তু সতর্কতার জায়গাটি একই। অক্ষর একদিন চিন্তাকে মুক্ত করেছিল, অ্যালগরিদম যেন তাকে অদৃশ্যভাবে বন্দী করতে না পারে। 

 

 

লেখক: রাজীব নন্দী, সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; ডক্টোরাল স্কলার, স্কুল অব জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত। ইমেইল: [email protected] 

 

জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত সোমবার রাত থেকে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে থাকে।

এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্যকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে একটি কক্ষে এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। 

লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে, তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়।

বিবৃতিতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত ১৩ জুলাই তিনি দুই স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা বাইরে থেকে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে তাকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন এবং পরে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।

বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাদের বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ককে একটি রাজনৈতিক মহল হেয় করার জন্য বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করছে।

তবে, দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা কেন তাকে জিম্মি করে টাকা দাবি করেছেন, সে ব্যাপারে বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে এ বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তাদের ধারণা, ভিডিওটি ঢাকার একটি বাসার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।