25.9 C
Dhaka
Home Blog

এবার ৯ সচিবের চুক্তি বাতিল করল সরকার

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া নয়জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। 

আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

চুক্তি বাতিল করা সচিবেরা হলেন—স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. কাইয়ুম আরা বেগম।

সিনিয়র সচিবরা হলেন—জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মমতাজ আহমেদ, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. মোখলেস উর রহমান ও এম এ আকমল হোসেন আজাদ।

এর আগে আজ পৃথক তিনটি আদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় সরকার।

ফুটবল ক্যাপিটালিজম: ৯০ মিনিটের খেলা যখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

এক সময় ফুটবলকে বলা হতো ‘গরিব মানুষের খেলা’। একটি বল, একটি খোলা মাঠ আর কয়েকজন খেলোয়াড় থাকলেই খেলা শুরু হয়ে যেত। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে সেই ফুটবলই বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনোদন শিল্পগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। আজ ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, যেখানে আবেগ, বিনোদন, ব্যবসা এবং পুঁজির স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা বড় ক্লাব টুর্নামেন্টগুলোকে যদি আমরা শুধু খেলাধুলার দৃষ্টিতে দেখি, তাহলে ছবির একটি অংশই দেখা হবে। এর পেছনে রয়েছে টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব, ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, বহুজাতিক স্পন্সর, ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, পর্যটন শিল্প, টিকিট বিক্রি, মার্চেন্ডাইজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমিং, বেটিং মার্কেট এবং অসংখ্য বাণিজ্যিক চুক্তি। সব মিলিয়ে ফুটবল এখন এমন একটি শিল্প, যেখানে প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়।

এই বিশাল অর্থনীতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কী? স্টেডিয়াম নয়, ট্রফিও নয়। সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো মানুষের মনোযোগ।

আজকের পৃথিবীতে মনোযোগই নতুন মুদ্রা। কোটি কোটি মানুষ যদি একটি ম্যাচ একসঙ্গে দেখে, তাহলে সেই ম্যাচের বিজ্ঞাপনের মূল্য বেড়ে যায়। সম্প্রচার স্বত্বের দাম বাড়ে। স্পন্সররা আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনগেজমেন্ট বাড়ে। ফলে ফুটবলে সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে ওঠে সেই ব্যক্তি, যিনি কোটি মানুষের মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।

সেই কারণেই কিছু ফুটবলার কেবল খেলোয়াড় নন; তারা একেকটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। তাদের নাম শুনেই টিকিট বিক্রি হয়, জার্সি বিক্রি হয়, স্টেডিয়াম পূর্ণ হয়, টেলিভিশনের দর্শকসংখ্যা বাড়ে এবং স্পন্সরদের বিনিয়োগের যৌক্তিকতা আরও শক্তিশালী হয়। একজন সুপারস্টারের উপস্থিতি কখনো কখনো একটি পুরো টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক মূল্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা এই বাস্তবতাকে অনেক সময় ‘স্টার ইকোনমি’ বলে ব্যাখ্যা করেন। অর্থাৎ এমন একটি বাজার, যেখানে একজন ব্যক্তির জনপ্রিয়তা পুরো শিল্পের আয় বাড়িয়ে দেয়। ফুটবলে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট, কারণ এখানে আবেগ এবং ব্যবসা একসঙ্গে কাজ করে।

এখান থেকেই ‘ফুটবল ক্যাপিটালিজম’ ধারণার জন্ম। এই ধারণা বলে, আধুনিক ফুটবলের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল খেলাধুলার যুক্তি নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতাও কাজ করে। কোন শহরে টুর্নামেন্ট হবে, কোন সময়ে ম্যাচ হবে, কোন ব্র্যান্ড স্পন্সর হবে, কোন সম্প্রচার সংস্থা স্বত্ব পাবে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোন বিষয়টি বেশি প্রচার পাবে—এসবের পেছনেও অর্থনৈতিক হিসাব থাকে।

অবশ্য এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। বড় তারকাদের উপস্থিতি বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান হওয়া আর কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচে তাদের সুবিধা দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া—এই দুটি বিষয় এক নয়। প্রথমটি একটি স্বীকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতা; দ্বিতীয়টি প্রমাণের বিষয়। তাই কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচের রেফারিং বা সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ তুলতে হলে তার পক্ষে শক্ত প্রমাণ থাকা জরুরি।

তবুও কেন বিতর্কের পর মানুষ ‘ফুটবল ক্যাপিটালিজম’ নিয়ে কথা বলে? কারণ মানুষ বুঝতে শিখেছে যে আধুনিক খেলাধুলা আর সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনো জগৎ নয়। করপোরেট বিনিয়োগ, ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং বৈশ্বিক বাজার এখন ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে যখনই বড় কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হয়, অনেক সমর্থকের মনে প্রশ্ন জাগে—এটি কি শুধুই মানবিক ভুল, নাকি এর সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থও কোনোভাবে জড়িত?

এই প্রশ্নের উত্তর সব সময় সহজ নয়। তবে ইতিহাস বলে, ক্রীড়া জগতেও অর্থনৈতিক স্বার্থ বহু সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। সম্প্রচারের সুবিধার জন্য ম্যাচের সময় পরিবর্তন, নতুন টুর্নামেন্টের সূচনা, ক্লাব বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ, প্রাক-মৌসুম সফরের গন্তব্য নির্বাচন কিংবা খেলোয়াড়দের বিপণন কৌশল—এসব ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই ফুটবলকে বুঝতে হলে শুধু মাঠের খেলা নয়, মাঠের বাইরের ব্যবসায়িক কাঠামোটিও বুঝতে হয়।

আধুনিক ফুটবলে একটি গোল যেমন স্কোরবোর্ড বদলে দেয়, তেমনি একটি সুপারস্টারের উপস্থিতি বদলে দিতে পারে সম্প্রচারের রেটিং, বিজ্ঞাপনের আয় এবং স্পন্সরদের বিনিয়োগের হিসাব। এখানেই ফুটবল ক্যাপিটালিজমের মূল দর্শন—খেলাটি আবেগ দিয়ে বেঁচে থাকে, কিন্তু সেই আবেগকে ঘিরেই গড়ে ওঠে বিশাল অর্থনীতি।

তাই আজ ফুটবল বিশ্লেষণ করতে গেলে শুধু ট্যাকটিকস, অফসাইড বা পেনাল্টির নিয়ম জানাই যথেষ্ট নয়। বুঝতে হয় ব্র্যান্ড ভ্যালু, মিডিয়া ইকোনমি, করপোরেট বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক পুঁজির গতিপ্রকৃতিও। কারণ আধুনিক ফুটবলে খেলা হয় দুটি মাঠে—একটি ঘাসের ওপর, আরেকটি অর্থনীতির বিশাল অঙ্গনে। প্রথম মাঠে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে খেলোয়াড়রা; দ্বিতীয় মাঠে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা চলে দর্শকের মনোযোগ, বাজারের অংশীদারত্ব এবং বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক মূল্য ধরে রাখার।

মো. আব্বাস বর্তমানে কাজ করছেন করপোরেট কমিউনিকেশন্সে।
ইমেইল: [email protected]

লিটনকে নিয়ে ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণা

জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেলেও ওয়ানডে সিরিজে লিটন দাসকে সহ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। সদ্য শেষ হওয়া অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জয়ী স্কোয়াডের সবাই থাকছেন জিম্বাবুয়ে সিরিজেও। 

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কনকাশন বদলি হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নামা শেখ মেহেদী হাসানের জায়গা হয়নি ওয়ানডে দলে। 

জুলাইয়ের ৬, ৯ ও ১১ তারিখ হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি ওয়ানডে। 

বাংলাদেশ স্কোয়াড: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক), তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, লিটন দাস, নূরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, নাহিদ রানা। 

মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা

দুর্বল ঋণ আদায় ও সুশাসনের অভাবের মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাস পর ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষে মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। গত ডিসেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

সবমিলিয়ে ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতিগত সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ব্যাপক পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিলের ফলে গত বছরের শেষে খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৩১ শতাংশে নেমে এসেছিল।

দুই বছরেই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হবে: আফরোজা খানম

আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।  

আজ বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ে পরিদর্শন শেষে বিমানবন্দর এলাকায় এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। 

বিমানবন্দর চালু প্রসঙ্গে আফরোজা খানম বলেন, ‘আপনাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। একটু সময় লাগবে। এমনভাবে করতে চাই না যে দুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়। আমরা স্থায়ী বন্দোবন্ত করতে চাই।’

‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে ওয়াদা করে গেলাম সেটা যাতে রক্ষা করতে পারি। এই বিশ্বাসটুকু রাখেন, যত কম সময়ের মধ্যে চালু করা সম্ভব, সেজন্য আমরা রাতদিন পরিশ্রম করব,’ বলেন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর আগামী দুই বছরের মধ্যে চালু হবে। আমরা ঠাকুরগাঁও থেকে বিমানে চড়ে ঢাকা যাব।’

জামায়াতের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটা দল আছে, যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। জামায়াতকে কখনোই এ দেশের জনগণ ক্ষমতায় আনবে না। কারণ তারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, মা-বোনদের সম্ভ্রম বিনষ্ট করেছে।’

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঠাকুরগাও-২ ও ঠাকুরগাও-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম ও মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

 

আগামী সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে ‘মাইকেল’

আগামী ২৪ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। একই দিনে বাংলাদেশেও সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

স্টার সিনেপ্লেক্স তাদের ফেসবুক পেজে ‘কামিং সুন’ লিখে একটি প্রচারণামূলক পোস্ট দিয়েছে। 

 

প্রয়াত মার্কিন পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। 

পপ সঙ্গীতের অবিসংবাদিত রাজা বা ‘কিং অব পপ’ মাইকেলের জীবনকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জ্যাকসন পরিবারেরই এক সদস্য। তার নাম জাফর জ্যাকসন।

মাইকেল জ্যাকসনের আলোচিত গান ‘বিট ইট’-এর মিউজিক ভিডিও থেকে মাইকেলের লুক বেছে নেওয়া হয়েছে। সিনেমাবোদ্ধাদের অনেকেই বলছেন, মেকআপ-গেটআপে হুবহু মাইকেলের মতোই দেখিয়েছে জাফরকে।

ইতোমধ্যে সিনেমাটির টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। উভয়ই বিশ্বজুড়ে আলোচিত। অধীর আগ্রহে মাইকেলের ভক্ত-শ্রোতারা এই সিনেমা দেখার অপেক্ষায় আছেন। 

মাইকেলের অকাল প্রয়াণের পর ১৬ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। তবুও পপসম্রাটের জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল কম নয়। 

উপস্থাপনায় ভিন্নতা, গানের সঙ্গে মনোমুগ্ধকর পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত আদর্শ এবং আলোচিত-সমালোচিত নানা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।

বিংশ শতাব্দীর সংগীত জগতের অন্যতম এই কিংবদন্তির জীবনপ্রদীপ নিভে যায় মাত্র ৫০ বছর বয়সে। 

মাইকেলের বায়োপিক পরিচালনা করছেন অ্যান্টনি ফুকো। এই বায়োপিকে তুলে ধরা হবে মাইকেল জ্যাকসনের অজানা অনেক গল্প।

ইরানে এক দিনে ১২০০ বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে চলমান আগ্রাসনে বড় একটি পার্থক্য হলো, এবার যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইরানের আকাশে আধিপত্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। আর এ কাজে তাদেরকে সমর্থন যুগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ রোববার ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের এক দিনে পার হতে না হতেই দুই দেশের বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে ইরানের মাটিতে এক হাজার ২০০ বোমা ফেলেছে। যার ফলে, ‘আকাশপথে আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইসরায়েল। 

যুদ্ধের শুরুতেই আকাশপথ দখলে নেওয়ায় খুব সহজেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারবে যৌথ বাহিনী। এমন মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। 

এমন এক ভবন হলো থারাল্লাহ সদরদপ্তর। গত দুই মাসে ওই ভবনে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষদের আটক রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
২০২৫ সালের জুনের সর্বশেষ যুদ্ধে এ ধরনের আধিপত্য বিস্তার করতে হিমশিম খায় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ওই যুদ্ধে ইরানের আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতোটাই ক্ষতির শিকার হয়েছিল যে সে পরিস্থিতি থেকে তারা এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। 

এবার খুব অনায়াসেই ইরানের আকাশ সীমায় ঢুকে পড়তে পেরেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়েই হামলা শুরু করেছে দুই দেশ। বিশেষত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েকমাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে রণতরি ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন অব্যাহত রেখেছিলেন।  

রোববার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় দুই দেশের বিমানবাহিনী তেহরানের সরকারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। 

এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন। 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর এক হাজার ২০০ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। 

এর আগে, শনিবার রাতে আইডিএফ জানিয়েছিল ২০০টি যুদ্ধবিমান ৫০০ লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। এটাই ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমানহামলার ঘটনা। 

প্রথম দুই দফা হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে আইডিএফ। 

প্রথম দফার হামলায় অসংখ্য রাডার ও বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়। 

দ্বিতীয় দফায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়। 

তাবরিজ এলাকায় আইডিএফ এমন একটি অবস্থানে হামলা চালায়, যেখান থেকে গত বছরের যুদ্ধের সময় ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে অসংখ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। 

আকাশপথে আধিপত্য বিস্তারের আরেকটি লক্ষ্য হলো ইরানের ড্রোন ও অন্যান্য আকাশযান যাতে দেশটির আকাশসীমা পেরিয়ে ইসরায়েলের দিকে না আগাতে পারে, তা নিশ্চিত করা। 

গতবারের অভিজ্ঞতা বলছে, ইরানের ড্রোন ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম। 

আইডিএফ আরও জানায়, তারা এরপর আরও বেশ কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল যথারীতি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। 

ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত কোম এলাকার একটি স্থাপনায় বিমানহামলা চালায় ইসরায়েল। 

ওই স্থাপনায় হাজারো কেজি বিস্ফোরক রাখা ছিল। এই স্থাপনা ধ্বংসের ফলে ইসরায়েল অসংখ্য সম্ভাব্য হামলার হাত থেকে বেঁচে গেছে বলে বিশ্লেষকরা মত দেন। 

রোববার সকালে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানে অন্তত ৯০০ লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালিয়েছে।

 

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

আজ রবিবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে আজ সকাল ৯টা ৫ মিনিটে দাপ্তরিক কাজ শুরু করতে সচিবালয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সূত্রে জানা গেছে, আজ প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকে নীতি নির্ধারণী অগ্রাধিকার, প্রশাসনিক বিষয় এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাধীনতার ২৫০ বছর: আমেরিকানরা কি তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালা সম্পর্কে জানেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি ক্যাম্পাস এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতাম। যুক্তরাষ্ট্রে এই বিক্ষোভ আরও ব্যাপক ছিল। বিক্ষোভ প্রদর্শন একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং ষাটের দশকের শেষের দিকে ও সত্তরের দশকের শুরুতে সেই বিক্ষোভে কখনো কখনো মার্কিন পতাকা পোড়ানোর ঘটনাও ঘটত। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং ১৯৭১ সালে আমাদের সদ্য জেতা স্বাধীনতা যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় পতাকার বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত আবেগঘন ছিল। তাই কোনো দেশের পতাকা পোড়ানো আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এটি যেভাবে সহ্য করা হয়েছিল, তা আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছিল।

বহু বছর পরে ১৯৮৯ সালে আমি তখন ইউনেস্কোতে কর্মরত, বাংলাদেশে ফিরে একটি ইংরেজি পত্রিকা চালু করার পরিকল্পনা করছিলাম, সেসময়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়—টেক্সাস বনাম জনসন—সম্পর্কে পড়ি। সেখানে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে জাতীয় পতাকা পোড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ হিসেবে সুরক্ষিত। আমি সঙ্গে সঙ্গে এই সংশোধনীটি বিস্তারিতভাবে পড়ি এবং এর বিষয়বস্তু দেখে বিস্মিত হই, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতাসহ আরও বহু বিষয়ে স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পতাকা পোড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস ‘ফ্ল্যাগ প্রটেকশন অ্যাক্ট ১৯৮৯’ পাস করলেও যুক্তরাষ্ট্র বনাম আইখম্যান মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে দেয়।

এসব রায়ের পর আমি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর প্রবল অনুরাগী হয়ে উঠি, যা একটি হবু প্রকাশকের জন্য স্বপ্নের মতো ছিল। টমাস জেফারসনের সেই বিখ্যাত মন্তব্যটিও আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন—‘গণআকাঙ্ক্ষাই যেহেতু আমাদের সরকারের ভিত্তি, তাই প্রথম কাজ হওয়া উচিত সেই অধিকার সংরক্ষণ করা; আর যদি আমাকে দুটির মধ্যে বেছে নিতে বলা হয়, সংবাদপত্রবিহীন সরকার নাকি সরকারবিহীন সংবাদপত্র, তবে আমি দেশের জন্যে নিমিষেই পরেরটি নেব’। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে এত শক্তিশালী ও সর্বব্যাপী বক্তব্য বিরল।

যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে আমার যত সমালোচনাই থাকুক না কেন, তাদের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ও জেফারসনের মন্তব্যটি আমার মনে দৃঢ়ভাবে স্থান পেয়েছিল এবং আজও তা একইভাবে আছে। দুঃখজনকভাবে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই সেই মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। সাংবাদিকদের ‘সবচেয়ে খারাপ’ মানুষ বলা হচ্ছে এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই অনেককে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা হচ্ছে। যে দেশটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকাশে এত বড় অবদান রেখেছে, সেই দেশেই এমন দৃশ্য দেখার জন্য বিশ্ব প্রস্তুত ছিল না।

আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী আকর্ষণ—চিন্তার স্বাধীনতা—আজ চাপের মুখে। বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যেগুলো দেশের ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বিশ্বের সেরা মেধাবীদের আকৃষ্ট করে, সেগুলো এখন অপমানিত হচ্ছে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ও ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে আখ্যা পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ক্যাপিটলে সহিংস হামলা এবং পরবর্তীতে সহিংস অপরাধে দণ্ডিতদের মুক্তি দেওয়া, যাদের মধ্যে পুলিশ হত্যাকারীও ছিল, সেটা আইনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ব্যবহার করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে তাদের হাতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে সংবিধানে বর্ণিত ‘জীবনের অধিকার’-এর ওপর জনআস্থা ভেঙে পড়ছে।

বিশ্বের নানা প্রান্তের অভিবাসীদের সমন্বয়ে শুরু থেকেই গড়ে ওঠা বহুসাংস্কৃতিক সমাজ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক পরিচয় এখন অনেক সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তরিত হচ্ছে, যা সেই দেশেই ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদের বিষয়ে উদ্বেগজনক প্রশ্ন তুলছে। অথচ এই দেশকেই একসময় বিশ্বের ‘মেল্টিং পট’ হিসেবে প্রশংসা করা হতো। ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’-এর ধীরে ধীরে ক্ষয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের অবক্ষয়—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কর্মকাণ্ডেই তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছরে এসে উদযাপনের তেমন কিছু নেই বলেই মনে হয়। কারণ আমেরিকানরাই যেন ভুলে গেছেন কেন একসময় বিশ্ব তাদের এত শ্রদ্ধা করত। সব আমেরিকান তো দূরের কথা, প্রতিটি কংগ্রেসম্যান, সিনেটর, নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ১৭৮৯ সালে পাস হওয়া মার্কিন সংবিধানের নীতিমালাগুলো পুরোপুরি জানেন কি না আমার সন্দেহ আছে। এই সংবিধান প্রণয়নে জেমস ম্যাডিসন, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, আলেকজান্ডার হ্যামিলটন ও জর্জ ওয়াশিংটনের মতো বরেণ্য ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এটি এমন অগ্রণী দলিলগুলোর একটি, যা সরকারের তিনটি স্বতন্ত্র শাখা—আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ—প্রতিষ্ঠা করে এবং ক্ষমতার সব কেন্দ্রের মধ্যে ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। ১৭৯১ সালে অনুমোদিত প্রথম ১০টি সংশোধনী, যা ‘বিল অব রাইটস’ নামে পরিচিত, আজও যেকোনো সংবিধানে গৃহীত সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক ও মূল্যবান দলিলগুলোর মধ্যে অন্যতম।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালাগুলোকে এত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে সেই সময়ের বাস্তবতা। সেগুলো উদ্ভূত হয়েছিল এমন সময়, যখন বিশ্ব ছিল রাজতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ ও বংশানুক্রমিক শাসনের দখলে। সেটি ছিল একইসঙ্গে ঔপনিবেশিকতার যুগ। ১৭৯১ সালের মধ্যে কুইবেক প্রদেশসহ উত্তর আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চল এবং ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশ শাসন করছিল ব্রিটেন। পাশাপাশি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ভারতে দ্রুত তাদের শাসন বিস্তার করেছিল। লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ, মেক্সিকো, ফ্লোরিডা ও ফিলিপাইন শাসন করত স্পেন। ব্রাজিল নিয়ন্ত্রণ করত পর্তুগাল। একইসঙ্গে আফ্রিকা ও এশিয়ায় বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল পর্তুগালের। ক্যারিবীয় অঞ্চলে ফ্রান্সেরও উপনিবেশ ছিল। ডাচ প্রজাতন্ত্র ও সুইস কনফেডারেশন ছাড়া কোথাও প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের সামান্যতম অস্তিত্বও ছিল না।

সেই সময়ের তুলনায় আমেরিকার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার নেতা ও মার্কিন সংবিধানের প্রণেতারা ছিলেন বিস্ময়করভাবে গণতান্ত্রিক, অসাধারণ দূরদর্শী এবং অত্যন্ত জনমুখী। তাদের এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার সূচনা করে। এসব দলিলে অন্তর্ভুক্ত ধারণাগুলো ফরাসি বিপ্লব, লাতিন আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন এবং বিশ্বব্যাপী উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এমনকি আমাদের ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাও অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের সেই অভিজ্ঞতা ও নীতিমালা থেকে অনুপ্রাণিত ছিল।

তবে এসব মূল্যবোধ ও নীতির মধ্যে একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব বিদ্যমান ছিল। সার্বজনীন সমতার ধারণার পাশাপাশি দাসপ্রথাও টিকে ছিল। আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও নারীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং নেটিভ আমেরিকানদের ভূমি থেকে উৎখাত করা—এসব মিলিয়ে এক লজ্জাজনক দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ তৈরি হয়।

এই বৈপরীত্যের সবচেয়ে বড় উদাহরণ স্বাধীনতার প্রায় এক শতাব্দী পর, মার্কিন গৃহযুদ্ধ (১৮৬১-১৮৬৫) পর্যন্ত দাসপ্রথা অব্যাহত থাকা। প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির এই বিশ্বাসঘাতকতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে আদিবাসী জনগোষ্ঠী—নেটিভ আমেরিকানদের প্রতি আচরণে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেই তাদের ‘নির্মম ইন্ডিয়ান বর্বর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা তৎকালীন বর্ণবাদী ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রতিফলন। নিয়মিত মারধর, ভূমি থেকে উচ্ছেদ, বসতভিটা ধ্বংস—সব মিলিয়ে একটি জনগোষ্ঠীকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে ফেলার প্রক্রিয়া চলেছে। ১৮৬৫ সালে ১৩তম সংশোধনী গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়। নেটিভ আমেরিকানরা নাগরিকত্ব পায় ১৯২৪ সালে। বর্ণভিত্তিক বিভাজন তো বন্ধ হলো এই সেদিন মাত্র।

মার্কিন নারীরা ভোটাধিকার পেয়েছে ১৯২০ সালে ১৯তম সংশোধনীর মাধ্যমে—প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ারও দুই বছর পর এবং দীর্ঘদিন ভোটাধিকার আন্দোলনের পরে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে গেলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী পরিবর্তন-স্রষ্টা হিসেবে আবির্ভূত হয়। ফ্যাসিবাদের ধ্বংস এবং নাৎসি সামরিক শক্তির সম্পূর্ণ পরাজয় (এবং ইহুদিদের ভয়াবহ গণহত্যা) যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক সমৃদ্ধি গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।

কিন্তু শীতল যুদ্ধের আবির্ভাব সবকিছু বদলে দেয়। পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্লকের আদর্শিক প্রতিযোগিতা শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে স্বৈরাচারী, নির্মম ও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করতে প্রণোদিত করে—কেবল তারা কমিউনিজমবিরোধী হওয়ায়। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে জেনারেল আইয়ুবের অভ্যুত্থানকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেয়, ফলে পাকিস্তানে গণতন্ত্রের সম্ভাবনা নষ্ট হয়—কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিজমবিরোধী কৌশলের অংশ হতে রাজি হয়েছিলেন। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ায় যুদ্ধগুলো প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের ভাষায় তথাকথিত ‘সামরিক-শিল্প জটিলতা’-কে আরও শক্তিশালী করে।

ধারণা করা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৫০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক হস্তক্ষেপ চালিয়েছে—যার মধ্যে কয়েক দিনের স্বল্পমেয়াদি অভিযান থেকে শুরু করে কয়েক দশকব্যাপী দীর্ঘ যুদ্ধও রয়েছে। কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্যমতে, ১৭৯৮ সাল থেকে বিদেশে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহারের ৪৬৯টি ঘটনার কথা জানা যায়। যেমন: মেক্সিকান-আমেরিকান যুদ্ধ, স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ, ফিলিপাইন-আমেরিকান যুদ্ধ এবং গ্রানাডা ও পানামা আক্রমণ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও আফগানিস্তান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির মর্যাদাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ইরাক ও লিবিয়ায় ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ (ডব্লিউএমডি) থাকার মিথ্যা অজুহাতে পরিচালিত আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্রকে এক যুদ্ধপ্রবণ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

কিছু গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫০টি দেশ ও অঞ্চলে ১২০-১৩০টি বড় আকারের সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে। আরও বিস্তৃত হিসাব অনুযায়ী—যেখানে ছোট স্থাপনা, লজিস্টিক হাব এবং সমন্বিত নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলো অন্তর্ভুক্ত—মোট সামরিক স্থাপনার সংখ্যা প্রায় ৭৫০, যা প্রায় ৮০টি দেশ ও অঞ্চলে বিস্তৃত।

১৭৭৬ সালে জন্মলগ্নে যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। কিন্তু আজ তা ক্রমেই নিজের সামরিক শক্তি এবং অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে উঠেছে। ১৯৪৫ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নাটকীয়ভাবে বিস্তৃত হয়। বিশ্ব শিল্প উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তাদের সামরিক শক্তি ছিল বিশ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তাদের ‘ডলার’ হয়ে ওঠে বিশ্বের প্রধান মুদ্রা। জাতিসংঘ, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও ন্যাটো প্রতিষ্ঠায় তারা নেতৃত্ব দেয়। পরবর্তী দশকে—১৯৯০ থেকে ২০০০—এই প্রাধান্য অব্যাহত থাকে। তবে ২০০১ সালের পর থেকে তুলনামূলকভাবে একধরনের পতন শুরু হয়েছে। আজও যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী, কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক অগ্রগামিতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশই দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলিদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে মেনে নিয়েছিল। কিন্তু গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা পরিচালনায় সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন তুলেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামলার জন্য হামাস অবশ্যই নিন্দার যোগ্য। কিন্তু এই অজুহাতে ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা এবং ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষকে আহত করার বৈধতা কি দেওয়া যায়? গাজার মানুষকে খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করাও কি গ্রহণযোগ্য? প্রায় তিন বছর ধরে এই পরিস্থিতি চলছে, যেখানে গাজার বাসিন্দারা খুবই সামান্য সহায়তা পাচ্ছেন। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতার মধ্যে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই গণহত্যায় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অর্থ সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা তার বৈশ্বিক নীতি ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে এবং এটি কতটা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে কাজ করেছে—সে প্রশ্ন আমেরিকানদের নিজেদেরই করা উচিত।

শেষ করতে চাই আরেকটি প্রশ্ন তুলে: কে আমেরিকান?

একটি হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার প্রায় ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ২০ শতাংশ হিস্পানিক, ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ আফ্রিকান-আমেরিকান, ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এশীয় এবং ১ দশমিক ৪ শতাংশ নেটিভ আমেরিকান। বংশগত উৎসের বিচারে—জাতিগত পরিচয়ের বাইরে—এই জনসংখ্যা জার্মান, আইরিশ, ইংরেজ, মেক্সিকান, ইতালীয়, আফ্রিকান-আমেরিকান, পোলিশ, ফরাসি, ভারতীয়, চীনা, ফিলিপিনো, ভিয়েতনামি, পুয়ের্তো রিকানসহ অসংখ্য উৎস থেকে গঠিত। এটি এক অসাধারণ সম্পদ। এমন বৈচিত্র্যের কাছে পৃথিবীর আর কোনো দেশই পৌঁছাতে পারবে না।

তাই প্রশ্ন হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র কি তার অভ্যন্তরীণ বন্ধন, যা সেই দেশটিকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, এটিকে আরও দৃঢ় করে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে? নাকি সেই কাঠামোতেই ফাটল ধরাবে?

আমাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতে এটাই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

ব্রাজিলকে পেল জাপান, মরক্কোর মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস, নকআউটে সুইডেনও

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের প্রত্যাশিত জয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে টিকিট কেটেছে নেদারল্যান্ডস। নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে জমজমাট লড়াই শেষে ১-১ গোলে ড্র করেছে জাপান ও সুইডেন। এই দুটি দলও ডাচদের পাশাপাশি এবারের আসরের শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে।

তিন ম্যাচ খেলে ৭ পয়েন্ট পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে জাপান। আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরা আটটি দলের একটি হিসেবে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে গেছে সুইডেন। তবে আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া তিউনিসিয়া পয়েন্টের খাতাই খুলতে পারেনি। হতশ্রী পারফরম্যান্সে তিন ম্যাচে তারা হজম করেছে ১২ গোল।

নকআউট পর্বের প্রথম পর্যায়ে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে এই গ্রুপের দলগুলোর জন্য। বিশ্বকাপের তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হবে গতবারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর। রেকর্ড চারবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন জাপানের প্রতিপক্ষ রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর ১৯৫৮ সালের রানার্সআপ সুইডেন খেলবে বিশ্বকাপের দুইবারের শিরোপাজয়ী ফ্রান্স কিংবা নরওয়ের বিপক্ষে।

ম্যাচের বয়স তিন মিনিট হতেই লিড নেয় নেদারল্যান্ডস। ডান প্রান্ত থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসের বাড়ানো ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন তিউনিসিয়া অধিনায়ক ইলিয়াস স্কিহিরি। এই আত্মঘাতী গোলের ধাক্কা প্রতিপক্ষ সামলে ওঠার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ডাচরা। সপ্তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে বল বাড়িয়েছিলেন ভার্জিল ফন ডাইক। তিউনিসিয়ার রক্ষণ তা সরাতে ব্যর্থ হলে নিখুঁত ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রায়ান ব্রবি।

শুরুতেই দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ডাচরা। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রথমার্ধের বাকিটা সময় একের পর এক আক্রমণ করলেও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে খুব একটা পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা। তবে বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচ জমানোর আভাস দেয় তিউনিসিয়া। ৫৪তম মিনিটে কর্নার থেকে লাফিয়ে ওঠা দারুণ হেডে ব্যবধান কমান হাজেম মাস্তুরি।

আফ্রিকান দলটির সেই স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি। আট মিনিট পরেই আবার ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় কমলা শিবির। কর্নার থেকে ইয়ান পল ফন হেকের নেওয়া হেড গোলমুখে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। ম্যাচের বাকি সময়ে আরও কিছু সুযোগ তৈরি করলেও স্কোরলাইনে আর কোনো বদল আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ডাচরা।

একই সময়ে মাঠে গড়ানো অন্য ম্যাচটিতে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে লড়াই। শুরুতেই প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল সুইডেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে আলেকসান্দার বার্নহার্দসনের নেওয়া বাঁকানো শট ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন জাপান গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। সেই উত্তেজনার পর দীর্ঘক্ষণ খেলা চলে মূলত মাঝমাঠে, যেখানে দুই দলের কেউই তেমন জোরাল আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি।

প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে সুইডেনের রক্ষণে চাপ বাড়ায় ব্লু সামুরাইরা। ৪০তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ইউকিনারি সুগাওয়ারার নেওয়া শট আটকে দেন ইয়াকুব ভিদেল জেতেরস্ত্রম। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আবারও জাপানের সামনে সুযোগ আসে লিড নেওয়ার। তবে কেইতো নাকামুরার বাঁকানো শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান সুইডিশ গোলরক্ষক।

বিরতির পর আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৬তম মিনিটে চমৎকার এক দলীয় প্রচেষ্টায় এগিয়ে যায় জাপান। আয়াসে উয়েদার সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করেন রিতসু দোয়ান। সেখান থেকে নিখুঁত পাসে তিনি খুঁজে নেন পেনাল্টি স্পটের কাছে থাকা দাইজেন মায়েদাকে, যিনি দারুণ ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। তবে জাপানের আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মিনিট। ৬২তম মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গার গোলে সমতায় ফেরে সুইডেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ক্রস করার ছলে  তার নেওয়া আচমকা গতিময় শটটি সুজুকিকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।

সমতা ফেরার পর ব্যবধান গড়ার সুযোগ এসেছিল দুই দলের সামনেই। ৬৫তম মিনিটে সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেকসান্দার ইসাকের একটি বিপজ্জনক শট রুখে দেন সুজুকি। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে আবারও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন জাপানি গোলরক্ষক। এলাঙ্গার আরেকটি জোরাল শট চমৎকার দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন তিনি। শেষমেশ পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দুই দল।