29 C
Dhaka
Home Blog

আশা ভোসলের সঙ্গে দুইবার দেখা হয়েছিল: রফিকুল আলম

ভারতীয় প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে। সুর দিয়ে জয় করেছেন কোটি মানুষের হৃদয়। অনেক কালজয়ী গান আছে তার। ৯২ বছর বয়সে আজ দুপুর বারোটায় মারা গেছেন তিনি।

নন্দিত এই শিল্পী বাংলাদেশেও এসেছিলেন।

আশা ভোসলের সঙ্গে দুইবার দেখা হয়েছিল এদেশের গুণী সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম-এর। সেই স্মৃতির গল্প তিনি বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

রফিকুল আলম বলেন, ‘আশা ভোসলে কতটা গুণী শিল্পী তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাকে নিয়ে বলাটা দু:সাহস মনে করছি। তারপরও কিছু কথা বলছি। তার মতো বিখ্যাত শিল্পীর সঙ্গে আমার দুইবার দেখা হয়েছিল। একবার ঢাকায়, আরেকবার কলকাতায়।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় আশা ভোসলে গান করেছিলেন শেরাটন হোটেলে। কলকাতায় পেয়েছিলাম একটি স্টেজে।’

রফিকুল আলম বলেন, ‘ঢাকায় উনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলবার সুযোগ পেয়েছিলাম। কাছ থেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আশাজি, আপনার গাওয়া “জীবনও গান”— এই গানটি বাংলা ভাষার অসম্ভব সুন্দর একটি গান। আপনি ছাড়া কেউ পারবেন না এই গান করতে। শুনে খুশি হয়েছিলেন। হেসেছিলেন। এরপর বলেছিলেন, “(গানটা) এখানেও পপুলার নাকি?” আমি বলেছিলাম, এটা অনেকেরই পছন্দের গান। সেই সঙ্গে সবার মাঝেই জনপ্রিয় এই গান।’

‘তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা দুই বোন তো বাবার সঙ্গে মন্দিরেও গান করতেন। তাহলে ধর্মীয় গান গাইলেন না কেন? তিনি সুন্দর করে জবাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, করা হয়নি। সুযোগ পেলে গাইব। তবে, ফিল্মে কিন্তু ধর্মীয় গান কিছু গেয়েছি’, বলেন রফিকুল আলম। 

তিনি বলেন, ‘এইরকম একজন বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীর সঙ্গে কথা বলে ভালো লেগেছিল। তার মতো প্রতিভা কমই এসেছে।’

নন্দিত শিল্পী রফিকুল আলম আরও বলেন, ‘যে কোনো শাস্ত্র নিয়ে কথা বলতে গেলে একটা উপমা দরকার পড়ে। প্রথম উপমায় আশা ভোসলের নাম আসবেই। লাইফ মিউজিকের ক্ষেত্রে যদি বলি তাহলে উনার নাম অনায়াসে উঠে আসবে। সংগীত দিয়ে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। উদাহরণ হয়ে থাকবেন সারাজীবন।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তার মতো শিল্পীর কাছে পৌঁছাতে আমাকে দুইবার জন্ম নিতে হবে। লাইভ মিউজিকে, শাস্ত্রীয় সংগীতে নারী শিল্পী হিসেবে আশা ভোসলের নাম অনেক ওপরে। আজ তিনি চলে গেলেন। তাকে স্মরণ করতেই হবে। তার গাওয়া গানই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে।’

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অবসানে চীনের আহ্বান, ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার অবিলম্বে অবসান চেয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মানের ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং।

China is highly concerned over the military strikes against Iran launched by the U.S. and Israel. Iran’s sovereignty, security and territorial integrity should be respected.

China calls for an immediate stop of the military actions, no further escalation of the tense situation,… pic.twitter.com/JzpKQgEpGy

— CHINA MFA Spokesperson 中国外交部发言人 (@MFA_China) February 28, 2026

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো হামলায় বেইজিং ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। একইসঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, ‘ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা উচিত।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।

পাশাপাশি সব পক্ষকে আরও উত্তেজনা এড়িয়ে সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাবেক কর্মস্থলে ফিরলেন অধ্যাপক ইউনূস

দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর নিজের সাবেক কর্মস্থলে ফিরেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ রোববার ঢাকার মিরপুরে টেলিকম ভবনে অবস্থিত ইউনূস সেন্টারে অফিস করেছেন তিনি।

ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

এ সময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি গ্রামীণ সংগঠনগুলো এবং ইউনূস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চলতি মাসের শেষ নাগাদ ঢাকার গুলশানে তার বাসভবনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউনূস সেন্টার।

তামাকের সহজলভ্যতা বাড়াচ্ছে অসংক্রামক রোগের বোঝা

বাংলাদেশে লাখো মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যান। অথচ যে পণ্য এই বিপুল মৃত্যু ও বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের জন্য দায়ী, সেটিই এখনো দেশের সস্তা ও সহজলভ্য পণ্যের মধ্যে একটি। ফলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের সতর্কতা সত্ত্বেও তামাক ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত হারে কমছে না।

গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ (প্রায় ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, তামাকজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর বড় অংশই অকালমৃত্যু, যা কার্যকর নীতিগত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব।

বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক। ফলে তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পরিবার, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক বোঝা ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে একই সময়ে এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ তামাক থেকে সরকার যে রাজস্ব আয় করে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ ব্যয় হয় তামাকের ক্ষতি মোকাবিলায়।

সরকার অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ক্যানসার ও কিডনি রোগের চিকিৎসা সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

কিন্তু একইসঙ্গে তামাকপণ্যের কর ও মূল্যনীতি যদি কার্যকর না হয়, তাহলে এসব উদ্যোগের সুফল অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়বে। কারণ, একদিকে সরকার অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিনিয়োগ করবে, অন্যদিকে তামাকপণ্য সস্তা ও সহজলভ্য থাকবে—যা পরস্পরবিরোধী।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৬০ টাকা থেকে ৬২ টাকা করা হয়েছে, যা মাত্র ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি। মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম ৮০ টাকা থেকে ৯২ টাকা (১৫ শতাংশ বৃদ্ধি), উচ্চ স্তরের দাম ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা (১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি) এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা (১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি) নির্ধারণ করা হয়েছে।

কাগজে-কলমে এই মূল্যবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য মনে হলেও বাস্তবে তা মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে, তামাকপণ্যের প্রকৃত মূল্য কমছে এবং সেগুলো আরও সহজলভ্য হয়ে উঠছে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রকৃত মূল্যহ্রাস’।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। ২৫ শলাকার নন-ফিল্টার বিড়ি এবং ২০ শলাকার ফিল্টার বিড়ির খুচরা মূল্য ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে, মূল্যস্ফীতির প্রভাবে বিড়ির প্রকৃত মূল্য আরও কমে যাবে।

এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ, বাংলাদেশের সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের সিগারেটের দখলে, যার প্রধান ব্যবহারকারী তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। একইভাবে বিড়ি, জর্দা ও গুলের ব্যবহারও তুলনামূলক বেশি নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এসব পণ্যের প্রকৃত মূল্য কমে গেলে স্বাস্থ্য বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তামাক ব্যবহার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো কর বৃদ্ধি করে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো। বিশেষ করে তরুণরা মূল্য পরিবর্তনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। দাম বাড়লে তারা তামাক ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত হয় এবং বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের অনেকেই তামাক ছাড়তে উৎসাহিত হন।

কিন্তু, বাংলাদেশের বর্তমান তামাক করব্যবস্থা জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ। বিভিন্ন মূল্যস্তর ও করহারের কারণে ব্যবহারকারীরা সহজেই উচ্চমূল্যের পণ্য থেকে কমদামি পণ্যে চলে যেতে পারেন। ফলে, কর বৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত জনস্বাস্থ্যগত সুফল পাওয়া যায় না।

এ কারণেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে তামাক কর কাঠামো সহজ ও কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার ন্যূনতম খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।

একইসঙ্গে বিড়ি, জর্দা ও গুলসহ সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম ও করহার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা একটি পণ্য থেকে অন্য অপেক্ষাকৃত সস্তা পণ্যে স্থানান্তরিত হতে না পারেন।

সুনির্দিষ্ট করব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে তামাক কোম্পানিগুলো মূল্যস্তরের ফাঁক ব্যবহার করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। একইসঙ্গে কর আহরণ সহজ হয়, কর ফাঁকির সুযোগ কমে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ে।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় সরকার প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারত। একইসঙ্গে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হতেন এবং প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকতেন। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।

অর্থাৎ কার্যকর তামাক করনীতি শুধু রাজস্ব বাড়ানোর উপায় নয়; এটি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর জনস্বাস্থ্য হস্তক্ষেপগুলোর একটি।

কিন্তু, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে সেই প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও দেখায়, সাহসী তামাক করনীতি দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ফিলিপাইন ২০১২ সালে তামাক শিল্পের প্রবল লবিং উপেক্ষা করে কার্যকর সিন ট্যাক্স সংস্কার বাস্তবায়ন করেছিল। এর এক দশকের মধ্যে দেশটিতে ধূমপানের হার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে এবং অতিরিক্ত রাজস্ব ব্যবহার করে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশও চাইলে একই পথ অনুসরণ করতে পারে। কিন্তু, বিদ্যমান করকাঠামোয় কোনো মৌলিক সংস্কার না হওয়ায় সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তামাক কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফায় পরিণত হবে। এই অতিরিক্ত মুনাফা আবার তামাক ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা এবং এর ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে ১০ শলাকা হিটেড টোব্যাকো পণ্যের খুচরা মূল্য ২১০ টাকা এবং এর ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব নতুন তামাক ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশে প্রচলিত নয় এমন পণ্যের জন্য করকাঠামো নির্ধারণের ফলে কার্যত নতুন বাজার তৈরি হবে এবং জনগণ বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্যখাতের বিষয় নয়; এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হলে তামাকের ব্যবহার কমানোর বিকল্প নেই।

চূড়ান্ত বাজেট পাসের আগে সরকারের সামনে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞানভিত্তিক কর ও মূল্যনীতি প্রণয়ন করে একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধি দুই লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব।

তামাকপণ্য মানুষের নাগালের বাইরে নেওয়া গেলে কমবে তামাক ব্যবহার, কমবে অসংক্রামক রোগের বোঝা, কমবে চিকিৎসা ব্যয় এবং রোধ করা যাবে হাজারো অকালমৃত্যু।

 

অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী: বিভাগীয় প্রধান, রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট

চওয়ালিনস্কাকে হারিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতলেন আন্দ্রেভা

ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে পোলিশ কোয়ালিফায়ার মায়া চওয়ালিনস্কাকে সরাসরি সেটে হারিয়ে শনিবার নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতেছেন মিরা আন্দ্রেভা।

১৯ বছর বয়সী এই রাশিয়ান চওয়ালিনস্কাকে ৬-৩, ৬-২ ব্যবধানে পরাজিত করেন। এর মাধ্যমে ১৯৯২ সালে মনিকা সেলেস (তখন বয়স ছিল ১৮ বছর) প্যারিসে টানা তৃতীয় শিরোপা জেতার পর, সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে রোলঁ গ্যারোসের নারী এককের চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি।

নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম মেঝর মুকুটের সঙ্গে সঙ্গে, ২০০৫ সালের পর জন্মগ্রহণকারী প্রথম খেলোয়াড় (পুরুষ বা নারী) হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জেতার কীর্তি গড়লেন আন্দ্রেভা।

আন্দ্রেভার ক্রমবর্ধমান ট্রফি ক্যাবিনেটে এখন মূল আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নেবে ‘কুপ সুজান লেংলেন’ (ফ্রেঞ্চ ওপেন ট্রফি), যেখানে ইতিমধ্যেই দুটি ডব্লিউটিএ ১০০০ শিরোপা রয়েছে।

ফাইনালের এই হার চওয়ালিনস্কার এক অবিশ্বাস্য যাত্রার সমাপ্তি ঘটালো, যা শুরু হয়েছিল বাছাইপর্ব থেকে। ফরাসি রাজধানীতে নয়টি ম্যাচ জিতে তিনি ওপেন এরা-র ইতিহাসে প্রথম কোয়ালিফায়ার হিসেবে ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়েন।

তবে, বিশ্বের ১১৪ নম্বর খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার এখন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে, কারণ তিনি র‍্যাঙ্কিংয়ে ২১ নম্বরে উঠে আসবেন এবং টেনিসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নিশ্চিত করবেন।
 

দাম বাড়ায় কমছে এলপিজির চাহিদা, রান্নায় বিকল্পতে ঝুঁকছে মানুষ

এলপিজি গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এর ব্যবহার কমতে শুরু করেছে। সংসারের খরচ সামলাতে অনেক পরিবার এখন গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার রান্নার জন্য ইলেকট্রিক চুলা বা অন্য বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবেশকদের ভাষ্য, চলতি মাসে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ, বাড়তি জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে মানুষ এখন প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত ব্যয় এড়িয়ে চলছেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। সংস্থাটি জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফুয়েল কর্নারের মালিক এবং বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের পরিবেশক সুব্রত সাহা বলেন, দাম বাড়ার পর থেকেই বিক্রি দ্রুত কমে গেছে। আগে তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬০টি ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করতেন, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৩৫টিতে।

তার মতে, অনেক গ্রাহক এখন ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার দিকে ঝুঁকছেন। কারণ, বিদ্যুতে রান্নার খরচ এখন প্রায় এলপিজির সমান হয়ে গেছে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার বহন ও পরিবহনের ঝামেলাও এড়ানো যায়।

পেট্রোম্যাক্স এলপিজির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত দেড় মাসে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। তার ভাষ্য, এক মাসের মধ্যেই দেশে এলপিজির মাসিক চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন থেকে কমে ১ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। অর্থাৎ অল্প সময়েই দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

তার মতে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগেই কমে গেছে। এর মধ্যে রান্নার খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চাপে পড়েছে।

এদিকে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কোম্পানি সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। গ্রাহক ধরে রাখতে কিছু প্রতিষ্ঠান ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ও দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। এতে পুরো খাতেই ব্যয় বেড়েছে।

তার মতে, এই পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে প্রায় ৬ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই আবার পুরোনো জ্বালানির দিকে ফিরে যাচ্ছেন।

তবে তিনি আশার কথা শুনিয়ে বলেন, বাজারে ধীরে ধীরে ভারসাম্য ফিরতে শুরু করেছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক খুচরা বিক্রেতা এখন সরকারি নির্ধারিত দাম মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ছে এবং ক্রেতাদের আস্থাও ফিরছে।

বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, মূল্যস্ফীতি ও গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে শহর ও গ্রাম—সব জায়গাতেই চাহিদা কমেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।

ইউনাইটেড আয়গ্যাজ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন ওরতাচ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের জন্য স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে তার মতে, সময়মতো বিইআরসির মূল্য সমন্বয় ও নীতিগত সহায়তার কারণে দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের সংকট এড়ানো গেছে।

সরকার কেবল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ব্যর্থ: আসিফ মাহমুদ

সরকার কেবল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, ‘এটি যদি টাকা ছাপানো না হয়, তবে আমরা একে কী বলব? ফটোকপি?’

আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর কমিটির নবনিযুক্ত নেতা ও সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে আসিফ বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে বলা হয়েছিল যে, নির্বাচন হয়ে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

‘কিন্তু নির্বাচনের পর আমরা দেখছি যে, এই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তো বটেই, রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনায়ও চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে আসিফ বলেন, সরকার দাবি করছে জ্বালানি তেলের মজুদ ঐতিহাসিক উচ্চতায় রয়েছে, অথচ মানুষ পেট্রোল পাম্পগুলোতে ‘ইতিহাসের দীর্ঘতম লাইনে’ দাঁড়িয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

আসিফ জানান, এনসিপি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় তারা গড়ে প্রায় ৮০ হাজার করে ভোট পেয়েছে। বর্তমানে এনসিপি তাদের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে কাজ করছে এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার দল জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে।

‘যারা আমাদের ভোট দিতে আসবেন তাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমরা একটি ভোটও নষ্ট হতে দেবো না। আমরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্র শক্তভাবে পাহারা দেবো,’ যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা আসিফের সমর্থনে স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘জনগণের মেয়র কে? আসিফ ভাই, আসিফ ভাই।’

বক্তব্য শেষে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ নতুন কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান এবং সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে ঈদের ৫ সিনেমা কত কোটির ব্যবসা করলো

ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচটি সিনেমা মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে তানিম নূর নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। 

মাল্টিপ্লেক্স টিকেট বিক্রির শীর্ষে রয়েছে এই সিনেমাটি। এখানে শুধু দেশের মাল্টিপ্লেক্সের টিকেট বিক্রির হিসেব দেওয়া হয়েছে। দেশের বাইরে যে সিনেমাগুলো মুক্তি পেয়েছে, তার হিসেব এখানে উল্লেখ করা হয়নি। 

ঈদের অন্য সিনেমাগুলো হলো- রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’, মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘রাক্ষস’, রায়হান রাফীর সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’ এবং আবু হায়াত মাহমুদ নির্মিত ‘প্রিন্স’। 

সিনেমার ব্যবসার হিসেব দেশের বেশিরভাগ মাল্টিপ্লেক্স ও সিনেমা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তৈরি করা হয়েছে।

 

তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সে, ব্লকবাস্টার সিনেমাস, লায়ন সিনেমাস ও অন্যান্য মাল্টিপ্লেক্সে। 

তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর, শরীফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, আরেফিন জিলানী, লাবন্য চৌধুরী, মাশাসহ অনেকেই। 

দেশের বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি ঈদে মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে ৬ কোটি ১০ লাখ টাকার গ্রস সেল দিয়েছে।

 

রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমাটি ঈদের চতুর্থ সপ্তাহে শুধুমাত্র মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে চলছে। স্টার সিনেপ্লেক্সে ঈদের প্রথম দিন থেকে বেশ ভালো চলছে সিনেমাটি। 

এ ছাড়া সিনেমাটি ব্লকবাস্টার সিনেমাস, লায়ন সিনেমাস ও অন্যান্য মাল্টিপ্লেক্সে চলছে। আফরান নিশো ও পূজা চেরি অভিনীত এই সিনেমায় আরও আছেন চঞ্চল চৌধুরী ও ডলি জহুর। 

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘দম’ ঈদে মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে চার কোটির বেশি টাকার গ্রস সেল দিয়েছে।

 

শাকিব খান অভিনীত আবু হায়াত মাহমুদ নির্মিত ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। 
এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য, রাশেদ মামুন অপু, ইন্তেখাব দিনার ও ডা. এজাজসহ অনেকেই।

ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধ জগৎ নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। 

এই সিনেমাটি মুক্তির আগে বুকিং মানি ছিল ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। মাল্টিপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে সিনেমাটি ১ কোটি ৯২ লাখ টাকার গ্রস সেল দিয়েছে।
 

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও কানন ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে রায়হান রাফীর সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’। সিনেমাটি স্টার সিনেপ্লেক্সে, ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লায়ন সিনেমাসে চলছে। 

এতে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলি, নাজিফা তুষি, স্নিগ্ধা চৌধুরী, মারিয়া শান্ত, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, মিশা সওদাগর ও সাবেরী আলম। 

মাল্টিপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাটি ঈদে মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকার গ্রস সেল দিয়েছে।

 

মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘রাক্ষস’ সিনেমাটি দেখা যাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্সের সাতটি শাখা, ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লায়ন সিনেমাসে। 

এ ছাড়া মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে ৫৫টি সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এই সিনেমায় সিয়াম আহমেদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ভারতের সুষ্মিতা চ্যাটার্জি।

সারাদেশের মাল্টিপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই ছবির গ্রস সেল ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

 

খামেনি জীবিত, উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত আছেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাও নিরাপদ রয়েছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে জল্পনার মধ্যে এ মন্তব্য করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

আজ শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া আব্বাস আরাঘচির এক সাক্ষাৎকারের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, তার জানা মতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত আছেন। ইরান উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, ‘শীর্ষ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাই জীবিত আছেন।’

উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, ‘আমি তাদের ব্যাখ্যা করে জানিয়েছি—আমরা তাদের ওপর হামলার কোনো ইচ্ছা পোষণ করি না। শুধু আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছি।’

তিনি জানান, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো যোগাযোগ নেই।

আরাঘচি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়, তারা জানে কীভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আমরা অবশ্যই উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী।’

চাঁদা বাড়ানোর খবর পেয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ

ময়মনসিংহে সড়কে বাড়তি চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা।

আজ রোববার ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন চালকরা।

বিক্ষোভকারী কয়েকজন চালক দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সড়কে ইউনিয়ন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। সম্প্রতি ২০ টাকা চাঁদা বাড়িয়ে ৫০ টাকা আদায়ের কথা জানানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চালকরা মহাসড়ক অবরোধ করে।

সিএনজিচালক সাইফুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে, ‘আমরা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের জন্য ২০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে থাকি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ইউনিয়ন থেকে বলা হচ্ছে চাঁদার পরিমাণ বাড়ানো হবে। আজ বাড়তি টাকা আদায়ে চাপ দেওয়ায় আমরা বিক্ষোভ করি।’

পরে পুলিশ এসে কথা বলার পর চালকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

মন্তব্যের জন্য সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ত্রিশালে পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করা হয় না। ময়মনসিংহ শহরে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে ত্রিশালের চালকরা একত্রিত হয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন।’

এদিকে, চাঁদা বন্ধের দাবিতে আজ দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর রহমতপুর বাইপাস মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা সড়ক অবরোধ করে। 

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম রহমতপুর মোড়ে গিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলেন।

চাঁদা বন্ধের বিষয়ে আশ্বস্ত করলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন অটোরিকশা চালকরা।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ডেইলি স্টারকে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।