37.9 C
Dhaka
Home Blog

নতুন চিপ আনছে এনভিডিয়া, ব্যক্তিগত কম্পিউটারে থাকবে সরাসরি এআই

প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি এনভিডিয়া ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সক্ষমতা নিয়ে আসবে, এমন একটি নতুন চিপ উন্মোচন করেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন চিপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস (এএমডি), ইন্টেল এবং অ্যাপলের সঙ্গে এবার সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামল।

কম্পিউটেক্স সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে তাইওয়ানে অবস্থানরত এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং বলেন, তারা মাইক্রোসফটের সঙ্গে মিলে তিন বছর ধরে কাজ করে ‘আরটিএক্স স্পার্ক’ নামে একটি নতুন চিপ বানিয়েছে। এই চিপের লক্ষ্য হলো ব্যক্তিগত কম্পিউটারকে এআই উপযোগী করে নতুনভাবে তৈরি করা।

তিনি আরও বলেন, তাইওয়ানের কোম্পানি মিডিয়াটেকের সহায়তায় এনভিডিয়া আরটিএক্স স্পার্ক চিপটি তৈরি করেছে।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নীল শাহ রয়টার্সকে বলেন, আরটিএক্স স্পার্ক সাধারণ পিসিকে একটি স্মার্ট এআই কম্পিউটারে বদলে দেবে। আগামী দিনে ব্যক্তিগত এআই সহকারীর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এই ধরনের কম্পিউটার প্রতিটি বাড়িতেই দেখা যাবে।

রয়টার্স জানায়, নতুন এই চিপ এবং ভেরা সিপিইউ থেকে বোঝা যাচ্ছে, এনভিডিয়া এখন পিসি ও প্রসেসর বাজারেও মনোযোগ দিচ্ছে। জেনসেন হুয়াং তার মূল বক্তৃতার বড় অংশে এই দুটি পণ্য নিয়েই কথা বলেছেন।

পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি এনভিডিয়ার প্রধান জানান, ভেরা সিপিইউ মূলত এআই এজেন্টের কথা মাথায় রেখে তৈরি। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও স্পেসএক্সের মতো কোম্পানিগুলোও এটি ব্যবহার করতে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চিপ উন্মোচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-বাজার লেনদেনে এএমডি ও ইন্টেলের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ করে কমে যায়। কোয়ালকমের শেয়ার প্রায় ৭ শতাংশ এবং অ্যাপলের শেয়ার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে। অন্যদিকে সফটওয়্যার খাতের শেয়ারের পুনরুদ্ধারের প্রভাবে মাইক্রোসফটের শেয়ার ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু

স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বর্তমান সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আবারও প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর এই ঘোষণা এসেছে।

এক বিবৃতিতে আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আগামী ২৩ মে পর্যন্ত ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ক্লাবটির কর্তৃপক্ষ। তবে সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার শর্তগুলো বেশ কঠিন।

একজন প্রার্থীকে অন্তত ২০ বছর রিয়ালের সদস্য থাকতে হবে। পাশাপাশি তাকে ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে ২১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাতে হবে। এই গ্যারান্টির পরিমাণ ক্লাবের বার্ষিক বাজেটের ১৫ শতাংশের সমান।

গত বছরের জানুয়ারিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় টানা পঞ্চমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন পেরেজ। চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফের নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে তিনি সবাইকে চমকে দেন।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর গুঞ্জন, পানি ও জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠান ‘কক্স’-এর প্রধান এনরিকে রিকেলমে এবার পেরেজের বিপক্ষে লড়তে পারেন। তবে তিনি প্রস্তুতির জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়েছেন।

রিকেলমের সময় চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে পেরেজ বেশ রসিকতা করারা পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সাথেই জবাব দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘২০০০ সালে যখন আমি প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম, তখন কোনো বাড়তি সময় চাইনি। আমি লড়াই করেছি ও জিতেছি।’

যদি ২৩ মের মধ্যে অন্য কেউ প্রার্থী না হন, তবে ৭৯ বছর বয়সী পেরেজই বিনা ভোটে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হবেন। এর আগেও তিনি চারবার— ২০১৩, ২০১৭, ২০২১ ও ২০২৫ সালে এভাবে দায়িত্ব ধরে রেখেছিলেন।

২০০০ সালে প্রথমবার সভাপতি হয়ে রিয়ালে ‘গ্যালাকটিকো’ যুগের সূচনা করেছিলেন পেরেজ। ২০০৬ সালে পদত্যাগ করলেও ২০০৯ সালে আবারও দায়িত্বে ফেরেন তিনি। তার হাত ধরে ক্লাবটি পাঁচটি লা লিগা ও ছয়টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ বহু ট্রফি জিতেছে।

হাওরের বন্যায় ১০৪৭ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত দেশের সাতটি হাওর জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হাওর অঞ্চলের মোট কৃষিজমির ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এতে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার টন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার কৃষক।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, সাতটি হাওর জেলায় এবার ৪ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৫০ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

ডিএইর তথ্যে দেখা যায়, বোরো ধানের উৎপাদন ২০২১-২২ অর্থবছরের ২ কোটি ১ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ১৩ লাখ টনে পৌঁছেছে। চলতি মৌসুমে ২ কোটি ২৪ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

বোরো হলো শুষ্ক মৌসুমের সেচনির্ভর ধান, যা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত রোপণ করা হয় এবং এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে কাটা হয়। দেশের মোট বার্ষিক চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে এই ফসল থেকে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রাথমিক হিসাবে হাওর অঞ্চলের প্রায় ১১ শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘হাওর অঞ্চলের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। তবে প্রায় ৮০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত মৌসুমের মধ্যেই হাওর অঞ্চলের ধান কাটা শেষ হয়। কিন্তু এবার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এবং এপ্রিলের ভারী বৃষ্টিপাতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে।’

সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং দু-একদিনের মধ্যেই শেষ হবে।’

তার ভাষ্য, আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে এবং তিন মাস পর্যন্ত চলবে। এতে করে কৃষক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

এদিকে, কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের গোপদিঘী ইউনিয়নের বজরপুর হাওরের কৃষক ফয়জুল ইসলাম পাঁচ একর জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে দুই একরের ধান পানিতে তলিয়ে যায়। বাকি তিন একরের ধান কাটলেও মাড়াইয়ের মাঠে রাখা ধানে অঙ্কুর গজিয়ে তা-ও নষ্ট হয়ে যায়।

সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ মণ ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ফয়জুল।

স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে ফয়জুল ইসলাম জানান, এখন কীভাবে সেই টাকা শোধ করবেন তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।

তিনি বলেন, ‘এই টাকা এখন কীভাবে শোধ করব? শেষ পর্যন্ত হয়তো জমি বিক্রি করা ছাড়া আর উপায় থাকবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওর অঞ্চলে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্বচ্ছতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এই তালিকার ভিত্তিতেই আগামী তিন মাস কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যতো দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে কৃষক যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে জন্য ধান রোপণ ও সংগ্রহের মৌসুম কিছুটা এগিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সংসদে আবার ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদে আবার ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আগে সংসদে দাঁড়িয়ে আজ যারা সরকারি দলের গ্যালারিতে বসেছেন, তাদের উদ্দেশে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা হতো, এখন দুয়েকজন আমাদের লক্ষ্য করে সেরকম কথা বলা শুরু করেছেন। আমরা তাদের বলি, জিহ্বা সংযত করুন।’

আজ সোমবার ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াত আমির বলেন, ‘এই মনোভাব ও এই আচরণ দেখাবেন না। জুলাই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম, যে দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারও চোখ রাঙানির পরোয়া করে না।’

শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে যারা এরকম আচরণ করেছে, তাদের পরিণতি চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছেন। মনে রাখবেন, অপকর্ম করলে আগেরটার চাইতে পরের পরিণতি আরও ভয়ংকর হয়। সে পথেই তো হাঁটছেন। বাইরে তো আপনাদের পাদচারণা দেখছি না, সবকিছু কুক্ষিগত করছেন।

গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়, ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ-বাটোয়ারা নয়। এই আন্দোলন ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখে, শহীদদের রক্তের সঙ্গে তাদের ওয়াদা বাস্তবায়ন করার জন্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষাপূরণ করার জন্য।’

ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সবকিছু কুক্ষিগত করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে অভ্যুত্থান করার পরে এখন দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক—ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে। এই অপসংস্কৃতি চলতে থাকলে জামায়াতে ইসলামী বসে বসে আঙুল চুষবে না।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘যে ব্যাংক দেশের রেমিট্যান্সের ৩২ শতাংশ একা আহরণ করে, এই ব্যাংকের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে।’

সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাবধান করে দিচ্ছি, এটাকে দলীয়করণ করবেন না। যদি দলীয়করণ করেন, ব্যাংকগুলোকে একটার পর একটা, জনগণ আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গত ১৬ বছর যে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা আমরা বলেছি, লড়াই করেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত দেড় বছরে যেই জিনিস নিয়ে আমরা আলাপ করেছি, এখন আমাদের ঠিক সেই বিষয় নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। সেই বিষয় নিয়ে আবার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতিকে এই দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি। ফলে বিএনপিকে দায়ভার এবং এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এর পরিণতি খুব সহজ হবে না।’

সেমিনারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া আইনের ব্যাখ্যা ও বক্তব্যের সমালোচনা করেন। 

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো সাংবিধানিক সার্বভৌমত্বের কথা বলছেন, আবার কখনো বলছেন সংবিধানে গণভোটের কথা নেই। তিনি ইচ্ছা করেই সংবিধানের স্পিরিট তথা মূল চেতনার কথা বলছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান মানুষের জন্য। আইন দিয়ে সবকিছু হয় না। বিশ্বের বহু দেশে লিখিত সংবিধানের ওপরেও জনগণের ইচ্ছাকে স্থান দেওয়া হয়। অথচ মন্ত্রী অর্ধেক সত্য বলে পুরো মিথ্যা ছড়ানোর চেয়েও ভয়ংকর কাজ করছেন।’

 

‘এখনো প্রতিদিন ফোনে কথা হয়, আড্ডা দিই’

এদেশের সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল একজন অভিনেতা আলমগীর। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় আজও মানুষ ভোলেনি। রেকর্ড সংখ্যক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তার অভিনীত বহু সিনেমা সুপার-ডুপার ব্যবসা করেছে।

একাধারে তিনি নায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক। পেয়েছেন একুশে পদকও। পাঁচ দশক ধরে অভিনয়ের এই যাত্রায় তিনি সোনালি দিনের এক সফল চিত্রনায়ক।

আজ শুক্রবার আলমগীরের ৭৬তম জন্মদিন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরেক চিত্রনায়ক উজ্জ্বল। দুজনের পরিচয়-যোগাযোগ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে।

জন্মদিনে বন্ধু আলমগীরকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন উজ্জ্বল। তার মতে, নায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে সবক্ষেত্রে সফল আলমগীরের অভিনয়গুণ অসাধারণ।

উজ্জ্বল বলেন, ‘এক ডজন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তিই স্মরণ করিয়ে দেয় আলমগীর কত বড় মাপের শিল্পী। দেশে যত বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আছেন—তাদের কেউ বেঁচে আছেন, কেউ হয়তো নেই—তাদের প্রায় সবার সিনেমায় অভিনয় করেছেন আলমগীর। এটাই প্রমাণ করে তিনি কত শক্তিশালী ও দর্শকনন্দিত একজন অভিনেতা।’

মানুষ হিসেবে আলমগীরকে ‘অসাধারণ’ উল্লেখ করে উজ্জ্বল বলেন, ‘তার একটা বিশেষ গুণ সম্পর্কে দীর্ঘ পাঁচ যুগ ধরে আমি জানি। তা হচ্ছে তার মানবিক দিক। তিনি কখনোই এটা দেখাননি। আমাদের সিনেমা শিল্পের যত শিল্পী, কলাকুশলী, পরিচালক ও প্রযোজক আছেন, নীরবে তিনি সবার খোঁজখবর রাখেন এবং যোগাযোগ রক্ষা করেন। তিনি কখনো এসব প্রকাশ করেন না। এটি তার চরিত্রের একটি বিরল গুণাবলী।’

‘আমাদের শিল্পীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অনেক চড়াই-উৎরাই ও সংগ্রাম থাকে। কিন্তু তিনি আদর্শ নিয়েই আছেন। আলমগীরের মধ্যে এমন কিছু কখনো দেখিনি যা অন্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে। আমরা কেউ কেউ অবচেতন মনে কিংবা জেনে-শুনে মানুষের ক্ষতি করি, তবে আলমগীর কখনো তা করেননি, বরং সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন নীরবে,’ বলেন উজ্জ্বল।

এদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে যারা প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন, সেই শিল্পীদের মধ্যে আলমগীর অন্যতম—উল্লেখ করে উজ্জ্বল জানান, আলমগীর শত শত সিনেমায় অভিনয় করে কোটি মানুষের মন জয় করেছেন।

দুজনের বন্ধুত্ব নিয়ে উজ্জ্বল বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, দীর্ঘ পাঁচ দশকেও আমাদের সম্পর্ক একইরকম আছে। আমাদের বন্ধুত্ব আগের মতোই অটুট। এখনো আমরা নিয়ম করে দেখা করি, সময় কাটাই, আড্ডা দিই। আমাদের আড্ডায় ঘুরেফিরে এদেশের সিনেমার কথা উঠে আসে, যারা হারিয়ে গেছেন তাদের কথা আসে। এদেশের সিনেমার কীভাবে উন্নতি হবে, তা নিয়েও আমরা কথা বলি।’

উজ্জ্বল জানান, দেশের প্রথম সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’-এর অন্যতম প্রযোজক ছিলেন আলমগীরের বাবা।

তিনি বলেন, ‘পর্দার বাইরে আমাদের সম্পর্কটা পারিবারিক। প্রতিদিন আমাদের ফোনে কথা হয়, যোগাযোগ হয়। আমরা যখন নায়ক ছিলাম, সেই সময়ে আমরা প্রতিযোগিতা করেছি, কিন্তু কখনো প্রতিপক্ষ ছিলাম না।’

বন্ধু আলমগীরের জন্মদিনে হৃদয় থেকে ভালোবাসা জানিয়ে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন চিত্রনায়ক উজ্জ্বল।

রাখাইনে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা, নিহত অন্তত ১৭

মিয়ানমারের রাখাইনে একটি গ্রামের বাজারে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে।

দুটি স্থানীয় সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

রাখাইনে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখন জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে। তারা জানিয়েছে, ইয়ো নু গ্রামে ওই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। 

অন্যদিকে বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পোন্নাগিউন ইয়ুথস অ্যাসোসিয়েশন (পিওয়াইএ) দাবি করেছে নিহতের সংখ্যা ১৮।

হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পিওয়াইএ’র চেয়ারম্যান পিয়া ফিও নাইং।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ ছিল। কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটি ভবন ধ্বংস হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পৌঁছানোর পরও কিছু বাড়িতে আগুন জ্বলছিল। অনেকেই সেখান থেকে পালাচ্ছিলেন।’

এ বিষয়ে জানতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমার। দেশটির সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

‘আমি কি ভুলিতে পারি…’

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আগামীকাল শনিবার। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হবে এদিন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। একুশের ভোরে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানাবে সর্বস্তরের জনতা।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। বাঙালি জাতির কাছে এটি একদিকে যেমন গভীর শোক ও বেদনার, অন্যদিকে মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এক ঐতিহাসিক দিন।

১৯৫২ সালের এই দিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা আরও অনেকে শহীদ হন। তাদের সেই আত্মত্যাগই আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া, দেশের সব মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব স্যাটেলাইট চ্যানেল ও গণমাধ্যমে একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রকাশ করা হবে।

মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে সামাজিকমাধ্যম

মালয়েশিয়ায় এখন থেকে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোররা আর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার থেকেই দেশটিতে এই নিয়ম কার্যকর হতে শুরু করেছে। সরকারের দাবি, শিশুদের নিরাপদ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

সরকার বলছে, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের জন্য সব সময় নিরাপদ নয়। এখানে অনেক সময় খারাপ কনটেন্ট, সাইবার বুলিং ও অতিরিক্ত আসক্তির ঝুঁকি থাকে।

এই ঝুঁকি থেকে শিশুদের দূরে রাখতেই ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বড় বড় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে।

যদি কোনো অ্যাকাউন্ট ১৬ বছরের নিচে কারও বলে শনাক্ত হয়, তাহলে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য ডাউনলোড করে রাখার জন্য এক মাস সময় পাবে।
নিয়ম না মানলে কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে।

মালয়েশিয়ার অনেক পরিবার এই সিদ্ধান্তকে ভালো বলছে। তাদের মতে, এতে শিশুরা বই পড়া, খেলাধুলা ও বাস্তব জীবনের কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।

অনেক অভিভাবক মনে করেন, সামাজিকমাধ্যম শিশুদের অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় চাপ ও আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তানরা নিরাপদে বড় হোক, ভুল কিছুর প্রভাব যেন তাদের ওপর না পড়ে।’
তবে সবাই একমত নন। কিছু পরিবার মনে করছে, সামাজিকমাধ্যম এখন কেবল বিনোদন নয়, এটা শেখারও জায়গা।

তাদের মতে, ইউটিউব বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশুরা অনেক কিছু শিখতে পারে। তাই পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভালো উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু এটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
কারণ অনেক সময় বয়স লুকিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব হতে পারে। আবার বয়স যাচাইয়ের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হলে গোপনীয়তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

রেকর্ডের রাজসিংহাসনে মেসি: পরিসংখ্যানে শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য দলিল

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। দলগুলোর রণকৌশল, স্কোয়াড আর সূচি নিয়ে যেমন আলোচনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তেমনি ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষায় আছে এক মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় দেখার। ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বমঞ্চে শেষবারের মতো দ্যুতি ছড়ানোর সুযোগ। গত দুই দশক ধরে এই টুর্নামেন্টকে রাঙিয়ে তিনি যেসব ইতিহাস গড়েছেন, বিদায়ী মঞ্চে নামার আগে তার আসব অর্জনের খতিয়ানে আরও একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া তাই প্রাসঙ্গিক।

বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনার সমৃদ্ধ ইতিহাসে মেসির এই পথচলা শুধুই শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক নয়, বরং তার অদম্য শারীরিক ও মানসিক শক্তিরও অনন্য নিদর্শন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মাঠে তার ভূমিকা ও পজিশনে পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, কিন্তু দলের প্রাণভোমরা হিসেবে তিনি থেকে গেছেন আগের মতোই অপরিহার্য। সবশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত হারের পর দলকে যেভাবে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন, সেটার পুরোটা জুড়েই ছিল তার জাদুকরী নেতৃত্বের ছাপ।

৩৬ বছরের শিরোপাখরা ঘুচিয়ে আকাশি-সাদাদের মরুর বুকে বিশ্বজয় মূলত মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারেরই পূর্ণতা দিয়েছিল। কারণ ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব বড় শিরোপা জেতা এই মহাতারকার মুকুটে কাতারে মাটিতেই যুক্ত হয়েছিল আরাধ্য সেই সোনালী পালক।

২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ফিরে তাকানো যাক মেসির অতিমানবীয় রেকর্ডগুলোর দিকে, গত পাঁচটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে যা তাকে নিয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরের এক অনন্য উচ্চতায়।

* বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ পাঁচটি আসরে খেলার বিরল রেকর্ডের তালিকায় আছেন মেসি। তিনি ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছেন। বাকি পাঁচজন হলেন জার্মানির লোথার ম্যাথাউস, পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর আন্তোনিও কারবাহাল, রাফায়েল মার্কেজ ও আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো।

* মেসিই বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপের পাঁচটি ভিন্ন আসরে গোল করিয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ব্রাজিলের পেলে, পোল্যান্ডের জেগজ লাটো, আর্জেন্টিনার দিয়েগো ম্যারাডোনা ও ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম। তারা প্রত্যেকে তিনটি করে আসরে অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

*  সবশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালটি ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির ২৬তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন। তিনি ২০০৬ সালে তিনটি, ২০১০ সালে পাঁচটি, ২০১৪ সালে সাতটি, ২০১৮ সালে চারটি ও ২০২২ সালে সাতটি ম্যাচ খেলেন। আগের কীর্তিটি ছিল ম্যাথাউসের (২৫ ম্যাচ)।

* বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। তার গোল সংখ্যা ১৩টি। এই তালিকায় পরের স্থানগুলোতে রয়েছেন যথাক্রমে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা (১০ গোল), ম্যারাডোনা (৮ গোল), গিয়ের্মো স্তাবিল (৮ গোল), মারিও কেম্পেস (৬ গোল) ও গঞ্জালো হিগুয়াইন (৫ গোল)।

* বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ১১ বার ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন মেসি। এর মধ্যে কেবল কাতার বিশ্বকাপেই তিনি পাঁচবার ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছিল।

* বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুবার গোল্ডেন বল জিতেছেন। তিনি ২০১৪ সালের ব্রাজিল ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন। ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলেও কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জিতে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। এতে পরম আরাধ্য সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার স্বাদ লাভ করেন মেসি।

* ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলার রেকর্ডও মেসির দখলে। তিনি মোট ২ হাজার ৩১৪ মিনিট মাঠে থেকেছেন। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল চলাকালীন তিনি পেছনে ফেলেন ইতালির পাওলো মালদিনিকে (২ হাজার ২১৭ মিনিট)।

* বিশ্বকাপে মেসি অধিনায়ক হিসেবে সবার চেয়ে বেশি ১৯টি ম্যাচ খেলেছেন। এই তালিকায় তার পেছনে রয়েছেন মার্কেজ (১৭ ম্যাচ) ও ম্যারাডোনা (১৬ ম্যাচ)।

* মেসিই ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার, যিনি কোনো একটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল— প্রতিটি ধাপেই গোল করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। কাতারে অনুষ্ঠিত আসরে তিনি এই কীর্তি সম্পন্ন করেন। কেবল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

* বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২১টি গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড যৌথভাবে মেসি ও ব্রাজিলের পেলের দখলে। নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ ছয়টি অ্যাসিস্ট করার কীর্তিও রয়েছে তাদের নামের পাশে।

* ২০০৬ সালের আসরের গ্রুপ পর্বে সার্বিয়া অ্যান্ড মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে মেসি যখন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন, তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। তিনি বিশ্বকাপের সপ্তম কনিষ্ঠতম গোলদাতা। এই তালিকার শীর্ষে আছেন পেলে। ১৯৫৮ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করার সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ২৩৯ দিন।

* বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব মিলিয়ে গোল করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ (৬৭টি) তৈরির রেকর্ডটি যৌথভাবে মেসি ও ম্যারাডোনার দখলে। এর মধ্যে কাতারে অনুষ্ঠিত আসরে মেসি ২১টি সুযোগ তৈরি করেছিলেন।

* মোট ১২১টি সফল ড্রিবলিং মেসি সম্পন্ন করেছেন, যা বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বাধিক। ২০১৪ সালে তিনি ৪৬টি সফল ড্রিবলিং করেছিলেন, যা কোনো একটি আসরে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকায় তার উপরে আছেন ব্রাজিলের জারজিনিয়ো (১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ৪৭টি) ও ম্যারাডোনা (১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ৫৩টি)।

এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়াল

দেশে এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা গত মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। মূলত খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই মূল্যস্ফীতি এ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত তথ্যে মূল্যস্ফীতির এ চিত্র উঠে এসেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে মূল ভূমিকায় ছিল খাদ্যবহির্ভূত খাত।

নিত্যপণ্যের দামের ওপর চাপ অব্যাহত থাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এক মাস আগে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আরও বেশি বেড়ে এপ্রিলে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এটি জ্বালানি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবার ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধির বার্তা দিচ্ছে।