35 C
Dhaka
Home Blog

তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে: বিরোধীদলীয় নেতা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একজন ঋণ খেলাপিকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকেও ‘কালো হাত’ বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

‘এখন আস্তে আস্তে তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের’—বলে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষায় সবাইকে ‘পাহারাদারের ভূমিকা’ পালন করতে হবে।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশগুলো সংসদে আনা এবং চলমান জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ‘ভুল থেকে বেরিয়ে আসার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকার সংসদের প্রথম দিনে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল সেই নিরপেক্ষতা পায়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করতে বাধ্য হয়েছেন এবং বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় আনা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে সব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে আনার বিষয়ে সম্মতি থাকার পরও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং আলোচ্য সূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া হলেও সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, ‘দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি ডিবেট হয় না, দুই মিনিটে কমেন্ট পাস করা যায়।’ পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট ছিল না এবং সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে বিস্তারিত উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে ‘লাখ লাখ কোটি টাকা’ লুট হয়ে বিদেশে পাচার হলেও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এসব অর্থ উদ্ধার এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রণীত উদ্যোগও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের বক্তব্যে অসঙ্গতির অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, একদিকে সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং এবং জ্বালানির জন্য মানুষের ভোগান্তি বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

তার মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প কারখানা ফার্নেস অয়েলের অভাবে ঝুঁকিতে পড়ছে এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণেও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, তবে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুলে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিনি সরকারকে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যেসব সংস্কার অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল, সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। ‘ভুল মানুষ করতে পারে, কিন্তু সেই ভুল থেকে বের হয়ে আসতে হবে’—বলে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি সতর্ক করেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

এছাড়া জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘দেশের চেয়ে দল বড়—এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।’ সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

জনপ্রিয় তামিল অভিনেত্রী সুভাষিণীর মরদেহ উদ্ধার

তামিল ধারাবাহিক কয়ালখ্যাত অভিনেত্রী সুভাষিণী বালসুব্রহ্মণ্যমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চেন্নাইয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্টে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিঙ্কভিলার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

খবর অনুযায়ী, সুভাষিণী ইয়ারাপ্পানথানগাল এলাকায় বসবাস করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার স্বামীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সুভাষিণী তামিল শোবিজে ক্যারিয়ার গড়তে শ্রীলঙ্কা থেকে চেন্নাইয়ে আসেন। এরপর তিনি কয়াল ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান।

টিভির পাশাপাশি তিনি দুটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।

কোন পথে পাকিস্তান-আফগানিস্তান ‘যুদ্ধ’

পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগকে দীর্ঘকাল উপেক্ষা করার পর, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ এবার তার সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ প্রদর্শনী শুরু করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এই পরিস্থিতিকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পাকিস্তানের ‘ধৈর্যের সীমা অতিক্রম’ করেছে আফগানিস্তান।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পাকিস্তানের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দুই দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীর মধ্যকার এ সীমান্ত সংঘাত ভবিষ্যতে কোন দিকে রূপ নিতে পারে? দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকদের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু চিত্র।

পাকিস্তান এবার কোনো রাখঢাক বা লুকোছাপা না করেই একটি সুনির্দিষ্ট নামে (অপারেশন গাজাব লিল-হক) আফগানিস্তান রাজধানী কাবুলসহ বেশকিছু এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এটি সাব-কনভেনশনাল বা ছদ্মবেশী যুদ্ধ থেকে একটি সরাসরি এবং প্রকাশ্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামরিক সংঘাতে উত্তরণের স্পষ্ট লক্ষণ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তানের বিরোধ আফগান জনগণের সাথে নয় বরং সেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, যারা আফগান সীমান্তে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানে রক্তপাত ঘটাচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে সরাসরি তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির নাম বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। উত্তেজনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এই টিটিপি-কে দায়ী করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং রিপোর্টগুলো ধারাবাহিকভাবে আফগানিস্তানে টিটিপির সরব উপস্থিতি এবং বর্তমান তালেবান শাসনের সাথে তাদের গভীর যোগসূত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুসারে, ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং রিপোর্টের প্রশংসা করে। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, টিটিপি ছাড়াও জামাত-উর-আহরার (জেইউএ) ও হিজব-উল-আহরার (এইচইউএ) এর মতো সশস্ত্র দলগুলো আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে পাকিস্তানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ গোষ্ঠীগুলো ২০২০ সালের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অন্তত শতাধিক হামলার পেছনে দায়ী বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এ গোষ্ঠীগুলোকে সম্মিলিতভাবে ‘পাকিস্তানি তালেবান’ বলে ডাকা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে এদের সন্ত্রাসী তৎপরতা আরও বেড়েছে বলেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।’

গত প্রায় ২৪ ঘণ্টায় অপারেশন গাজাব লিল-হক বা ‘ন্যায়ের হামলা’য় পাকিস্তান বিমান বাহিনী কাবুলের উপকণ্ঠসহ কান্দাহার, পাক্তিয়া এবং নানগারহার প্রদেশের বিভিন্ন সন্ত্রাসী আস্তানা ও কৌশলগত অবস্থানে অনুপ্রবেশ করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে।

হামলায় ২৭০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের সীমান্ত শহরগুলোতে প্রতিশোধমূলক পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা দেয় আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের বিশ্লেষণে বলা হয়, নিজেদের জনসমর্থন ধরে রাখতে এবং ‘অজেয়’ ভাবমূর্তি রক্ষায় তালেবান নেতৃত্ব প্রথাগত যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে মূলত পাকিস্তানের সামরিক শক্তির ফাঁদেই পা দিয়েছে।

ডন আরও জানিয়েছে, তালেবান নেতৃত্ব ধারণা করেছিল, ২০২৫ সালের অক্টোবরের সংঘর্ষের মতো এবারের উত্তেজনাও কাতার বা তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দ্রুত প্রশমিত হবে। তবে তারা ইসলামাবাদের বর্তমান কঠোর অবস্থান বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।

কেননা, তালেবান গেরিলা যুদ্ধের কৌশল ছেড়ে সরাসরি আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মূলত পাকিস্তানের শক্তির কাছে নিজেদের উন্মুক্ত করে দেবে। পাকিস্তানের বিমান শক্তি এবং প্রথাগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের সামনে তালেবানের এই সম্মুখ যুদ্ধ একটি আত্মঘাতী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিশ্লেষক আব্দুল বাসিত বলেন, ‘পাকিস্তানের তুলনায় সামরিক শক্তিতে সক্ষমতা কম থাকায় আফগান তালেবানরা পাল্টা-হামলার জন্য অপ্রচলিত পদ্ধতি যেমন আত্মঘাতী বোমা হামলার দিকে যেতে পারে।’

অবশ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতের সমাধান চান বলে জানিয়েছেন আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছি এবং এখনও চাই এই সমস্যার সমাধান সংলাপের মাধ্যমেই হোক।’ 

তবে নিজেদের ভূখণ্ডে টিটিপির অবস্থানের কথা অস্বীকার করে বিষয়টিকে ‘পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত সংঘর্ষে পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা নিহতের দাবি করে আফগান সরকারের মুখপাত্র হুঁশিয়ার করেন, ‘পাকিস্তান হামলা চালিয়ে যেতে থাকলে তার কঠোর জবাব দেওয়ার সামর্থ্য আছে কাবুলের।’ 

সংঘাত নিরসন ও উত্তেজনা হ্রাসে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

কাতার ও সৌদি আরব এর আগে দুদেশের মধ্যে সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে এবং বর্তমানেও পর্দার আড়ালে সক্রিয় রয়েছে। চীন ও তুরস্কের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব দুই দেশের ওপর রয়েছে, যা সংঘাত প্রশমনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইরান ও রাশিয়া তাদের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ‘সংলাপ ও প্রতিবেশীদের মধ্যকার আদর্শিক সুসম্পর্কের মাধ্যমে’ সংঘাত নিরসনের জন্য দুদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে, এখনি সীমান্ত হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের পথে এগোতে দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। 

তুরস্কের শীর্ষ কূটনীতিবিদ হাকান ফিদান পৃথক ফোনকলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কাতার ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে রয়টার্স। 

নিজেদের উপায়ে চীন মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে বলে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং। 

সীমান্ত বন্ধের আগে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে বছরে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয় বলে জানায় পাক-আফগান জয়েন্ট চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পর দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত তীব্র হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে পূর্ব-দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতিতে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। 

তাই ভবিষ্যতে অস্ত্রের বদলে আলোচনার টেবিলে এ সংঘাত সমাধানের দিকে মনোযোগী অন্যান্য দেশগুলো।

অমর একুশের দিনে এফডিএফের বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরের স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা করেছে ফরিদপুর ডিবেট ফোরাম (এফডিএফ)।

আজ শনিবার সকালে ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থায় এ আয়োজন করা হয়।   

বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সারদা সুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশিতা সাহা প্রথম হন। এছাড়া ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুলের শিক্ষার্থী শামছিয়া আলিমা শ্রদ্ধা দ্বিতীয় ও সারদা সুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্ষা তৃতীয় হন।

আলোচনা সভায় অতিথি ছিলেন ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম স্টালিন, এফডিএফের উপদেষ্টা হাসানুজ্জামান, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুরের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম, নাট্যকুঞ্জের সভাপতি নিরব ইমতিয়াজ শান্ত প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘ভাষা শহীদদের স্মরণে এমন আয়োজন প্রতিবছরই করা উচিত। এতে শিক্ষার্থীরা ভীষণ অনুপ্রাণিত হন।’ 

চ্যাটজিপিটির লকডাউন মোড কী, কাদের উপকারে আসবে

চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক চ্যাটবটের কাছে ইউজাররা খুব বেশি চিন্তা না করেই প্রচুর ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে থাকেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে গল্প করারও নজির আছে। 

মূলত, প্রশ্নের আরও ভালো এবং প্রাসঙ্গিক জবাব পেতেই এ কাজটা করে থাকেন বেশিরভাগ ইউজার। 

যার ফলে, ইন্টারনেটে অন্য যেকোনো অ্যাকাউন্টের মতো চ্যাটবট হ্যাক হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার একটি বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে।   

সম্প্রতি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই ‘লকডাউন মোড’ নামে একটি নতুন নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে। এর লক্ষ্য হলো হ্যাকারদের ব্যবহৃত ‘প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাক’-এর মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি কমানো। 

হ্যাকাররা কোনো একটি ওয়েবসাইটে বা ওয়েবও কন্টেন্টে (রিলস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ইউটিউব ভিডিও বা এরকম কনটেন্ট) কিছু ‘গোপন’ ও ‘ক্ষতিকর’ নির্দেশনা ‘ইনজেক্ট’ করে বা অনুপ্রবেশ করিয়ে রাখে।  

যখন ইউজারের প্রশ্নের জবাব দিতে চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য চ্যাটবট ওইসব ওয়েবসাইট বা কন্টেন্ট থেকে তথ্য নিতে যায়, তখন হ্যাকারদের নির্দেশনা কার্যকর হয়। মূলত, ইউজারদের ‘প্রম্পট’ বা চ্যাটবটের কাছে দেওয়া নির্দেশনার মাধ্যমেই হ্যাকাররা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। 

যার ফলে, ইউজারের কাছে প্রশ্নের সঠিক জবাব যাওয়ার পরিবর্তে ওই ইউজারের সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারের কাছে চলে যায়। 

ওপেনএআই জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করে, তারাই মূলত এ ধরনের সাইবার হামলার লক্ষ্য। তাদের কথা মাথায় রেখেই ‘লকডাউন মোড’ ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে। 

তবে লকডাউন মোড চালু করলে চ্যাটজিপিটির কয়েকটি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। 

এর মধ্যে আছে সরাসরি ওয়েব ব্রাউজিং, ইন্টারনেট থেকে আনা ছবি ব্যবহারের সুবিধা, ডিপ রিসার্চ টুল এবং এজেন্টধর্মী ফিচার।

লকডাউন মোডে থাকা অবস্থায় ইউজাররা চ্যাটজিপিটির ভেতর ছবি তৈরি করতে পারবেন, তবে মডেলটি তখন নতুন করে ওয়েব ব্রাউজিং না করে ক্যাশে সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্টের ওপর নির্ভর করে ছবি তৈরি করবে। 

ওপেনএআই স্বীকার করেছে, এই ফিচার হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে পারে না।

সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাকের ফলে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঠেকাতে লকডাউন মোড কাজ করে। এই মোড চালু করলে বাইরের নেটওয়ার্ক থেকে আসা নির্দেশনাগুলো সীমিত আকারে অনুসরণ করা হয়। যেসব নির্দেশনার মাধ্যমে তথ্য পাচার হতে পারে, সেগুলো প্রতিহত করা হয়।

তবে তথ্যের উৎসে এ ধরনের সাইবার হামলার নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকা না থাকার বিষয়ে লকডাউন মোডের তেমন কার্যকারিতা নেই। 

ক্যাশে রাখা ওয়েবও কনটেন্ট বা আপলোড করা ফাইলে প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাকের নির্দেশনা থাকতে পারে এবং তা ইউজারের ক্ষতির কারণ ঘটাতে পারে। 

আপাতত এই ফিচারটি বিজনেস অ্যাকাউন্টে চালু করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে ব্যক্তি পর্যায়ের ইউজারদেরকেও এই সুবিধা দেওয়া হবে। 

সেটিংস-এ ‘অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি’ সেকশনের আওতায় থাকা ‘সিকিউরিটি’ সেকশনে যেয়ে এই ফিচারটি চালু করা যাবে। 

তবে মজার বিষয় হলো, এই ফিচার কোনো অবস্থাতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে না। ঝুঁকি যত বড় হোক, ইউজারকে সেটা নিজে বুঝে নিয়ে লকডাউন মোড চালু করতে হবে। 

তবে লকডাউন মোড চালুর পর চ্যাটজিপিটির মূল সেবা বড় আকারে সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়বে। 

পাশাপাশি, ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, লকডাউন মোড ও ডেভেলপার মোড একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। একটি চালু করলে অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই ফিচার ইউজারদের কতটুকু কাজে আসবে, তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। 

আপাতত করোনাভাইরাস মহামারির ‘লকডাউন’-এর কথা মনে করিয়ে দেওয়া ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ের ইউজারদের জন্য এই মোডের তেমন কোনো কার্যকারিতা নেই—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।

খাদ্য মানেই হোক নিরাপদ খাদ্য

মানুষের সব মানবিক অধিকারের বাস্তব পূর্বশর্ত হলো তার দৈহিক অস্তিত্ব। আর দৈহিক অস্তিত্বের মৌলিক শর্ত হলো খাদ্য। তাই খাদ্যের অধিকার শুধু একটি সামাজিক অধিকার নয়। এটি মানুষের জীবন, সুস্থতা, মর্যাদা ও উৎপাদনশীলতার ভিত্তি এবং পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। 

‘খাদ্য’ বলতেই তা সুষম, স্বাস্থ্যকর ও গ্রহণের জন্য নিরাপদ হবে; মানুষ যা খাবে, সেটি তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে না—এটাই হবার কথা। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় ‘খাদ্য’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য’ দুটি আলাদা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আজ ৭ জুন ২০২৬ আন্তর্জাতিক নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য হলো, ‘সমস্যা থেকে সমাধানে—সর্বত্র নিরাপদ খাদ্য’। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। 

এর মধ্যে খাদ্যে ভেজাল রোধে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা ও আইনি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে। দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, নকল ও ভেজাল খাদ্য এবং ভোগ্যপণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও মনিটরিং বৃদ্ধি করা এবং নিরাপদ ফসল উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্য নিরাপদতা—দুটিই জরুরি। খাদ্য নিরাপত্তা বলতে বোঝায়, সব মানুষের জন্য সবসময় পর্যাপ্ত, পুষ্টিকর ও গ্রহণযোগ্য খাদ্যের শারীরিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা। 

খাদ্য নিরাপদতা বলতে বোঝায়, খাদ্য যেন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয় এবং প্রত্যাশিত ব্যবহার অনুযায়ী তা বিশুদ্ধ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত থাকে। পর্যাপ্ত খাদ্য থাকলেও যদি তা ভেজাল, দূষিত বা পুষ্টিমানে ঘাটতিপূর্ণ হয়, তবে তা খাদ্য অধিকার পূরণ করে না। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে স্বাস্থ্যকর খাবারের জায়গা আশঙ্কাজনকভাবে দখল করে নিচ্ছে পুষ্টিগুণহীন, অনিরাপদ, অস্বাস্থ্যকর খাবার। নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্যে সব মানুষের সমান প্রবেশগম্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। 

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে খাদ্য উৎপাদনের চাপ বেড়েছে। এই চাপ সামাল দিতে কৃষি ব্যবস্থায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে পুষ্টিগুণ ও গুণমান হারাচ্ছে খাদ্য। একই সঙ্গে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। এতে কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ভোক্তারাও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৪ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞানের অভাব, প্রচলিত খাদ্যাভ্যাস, অবৈজ্ঞানিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রান্না এবং খাদ্যে ভেজালের কারণে পুষ্টিগত মানের অবনতি ঘটছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ, চর্বি ও পানির সুষম উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু সার্বিক মূল্যস্ফীতি, মজুরি স্থবিরতা, টাকার অবমূল্যায়ন, কর্মসংস্থান সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিসহ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানাবিধ আর্থসামাজিক চাপের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। অনেকে সুষম খাবার গ্রহণ করতে পারছেন না। কিন্তু যার পক্ষে যেটুকু খাবার গ্রহণ করা সম্ভবপর হচ্ছে, তা কতখানি নিরাপদ, সেই ঝুঁকি এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। 

সম্প্রতি মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ গড়ে ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের আদর্শ মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ থাকার কথা কমপক্ষে ৫ শতাংশ। এতে খাদ্যের গুণগত মান ও খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। 

একইসঙ্গে, নগরায়ন, দ্রুত শিল্পায়ন, ভৌত অবকাঠামো বৃদ্ধি এবং পরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ফলে প্রতি বছর ১ শতাংশ হারে আবাদযোগ্য জমি কমছে। কৃষিকাজে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদিত ফসল অনেক সময় অনিরাপদ হয়ে পড়ছে।

বর্তমানে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ অপুষ্টিসহ নানা সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগে ভুগছে। এর অন্যতম কারণ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে নানা অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। 

জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, ক্রমবর্ধমান অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে দৈনিক ৮০ জন এবং বছরে ৩০ হাজার মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর অন্যতম কারণ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ। 

সাম্প্রতিক গবেষণায় মুরগির মাংসে ভারী ধাতুর উপস্থিতির তথ্য এসেছে, খাবারে ধরা পড়ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এর আগেও সয়াবিন তেল, ডিমসহ নানা খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার খবর মিলেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে খাদ্যকে জনগণের মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে বাস্তবে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির পথে কয়েকটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে । এর মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যার চাপ ও সীমিত ভূমি, পরিবেশগত অবক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, বাজারে ভেজাল ও মান নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যে কম প্রবেশগম্যতা, খাদ্য শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে মনিটরিং ঘাটতি, ভোক্তার সচেতনতার সীমাবদ্ধতা ও কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থার অভাব। 

ভোক্তা পর্যন্ত দূষণ ও ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ প্রণীত হয়। এই আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৭১৩টি খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ নমুনায় ভেজাল, দূষণ বা পুষ্টিমানের ঘাটতি পাওয়া গেছে। 

সংস্থাটির তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে খাদ্যে ভেজাল ও দূষণের হার বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ খাদ্যে ভেজাল বা দূষণ পাওয়া গিয়েছিল। এই তথ্য দেখায়, আইন ও নীতি থাকলেও প্রয়োগে বড় ঘাটতি রয়েছে। ফলে খাদ্য ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ভেজাল ও অনিরাপদ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তা বাড়ছে।

আইন অনুযায়ী জনগণের নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু এককভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সম্ভব নয়। উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মোড়কায়ন, পরিবহন, সংরক্ষণ, রান্না বা পরিবেশনের যেকোনো ধাপে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা অসাবধানতাবশত সামান্য ভুলও খাদ্যকে অনিরাপদ করতে পারে। তাই খাদ্যের নিরাপদতা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব।

জলবায়ু পরিবর্তনও খাদ্য নিরাপদতার একটি উদীয়মান ঝুঁকি। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং পানির সংকট খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। উচ্চ তাপমাত্রা খাদ্যে ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর বৃদ্ধি বাড়াতে পারে। বন্যা ও জলাবদ্ধতা খাদ্য, পানি ও মাটিতে দূষণ ছড়াতে পারে। লবণাক্ততা কৃষি উৎপাদন ও পানির নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে। এসব ঝুঁকি দরিদ্র মানুষ, নারী, শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষকে বেশি প্রভাবিত করে।

দেশের সব মানুষের সুস্থতার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি, উৎপাদক, ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক ও ভোক্তা সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে খানি আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিরাপদ কৃষি চর্চা, ভেজালবিরোধী নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং খাবার নির্বাচন, প্রস্তুত ও পরিবেশনে সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রস্তাবনা: জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা এবং নিরাপদতা নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যা সরকারি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনকারীর সম্মতি বা নীতিপালন এবং জনসচেতনতামূলক শিক্ষাকে একীভূত করবে। বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

১। নিরাপদ খাদ্যকে শুধু দিবসভিত্তিক আলোচনা নয়, বরং নিয়মিত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে হবে। এজন্য নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক নীতি, কর্মসূচি ও বাজেটকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ করতে হবে।

২। খাদ্যবাহিত রোগ, ভেজাল, দূষণ ও অন্যান্য ঝুঁকির তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন ঝুঁকি বেশি গুরুতর তা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। খাদ্যবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। 

৩। খাদ্যবাহিত রোগের নজরদারি, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা এবং বাজার মনিটরিং আরও শক্তিশালী করতে হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ ও অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।

৪। খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা নিরাপদ খাদ্য চর্চা, নতুন ঝুঁকি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানে। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের প্রতিটি ধাপে সঠিক চর্চা অনুসরণ করতে হবে।

৫। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গুড হাইজিন প্র্যাকটিস (জিএইচপি) এবং হ্যাজার্ড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কন্ট্রোল পয়েন্ট (এইচএসিসিপি) অনুসরণ করতে হবে। যাতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত কোথায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা আগে থেকে শনাক্ত করা যায় এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

৬। ঘরে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের সময় নিরাপদ খাদ্য চর্চা মেনে চলার জন্য সরকারি উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ খাদ্যের পাঁচটি মূল নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

৭। স্কুল, হাসপাতাল, হোটেল, রেস্তোরাঁ, মেলা ও রাস্তার খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপদ খাদ্য প্রটোকল সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রণয়ন করে সবাইকে সেটা মেনে চলার নির্দেশনা দিতে হবে। 

৮। ভোক্তার অভিযোগ ব্যবস্থাকে সহজ, ডিজিটাল ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর করতে হবে। অভিযোগ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

৯। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় খাদ্য নিরাপদতা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করতে হবে।

 

উম্মে সালমা, সদস্য, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক–খানি

[email protected]

 

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৬০-এর ভেতরে নিতে চান ডুলি

জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান কোচ টমাস ডুলি ঢাকায় পা রেখেই ব্যস্ত সময় পার করলেন। সকালে পৌঁছানোর পর বিকালে তিনি হাজির হলেন বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে। সেখানে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন এই কাণ্ডারি জানালেন তার প্রাথমিক লক্ষ্য। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের ১৬০ থেকে ১৫০-এর মধ্যে টেনে তুলতে চান তিনি।

হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর অনেক নাটকীয়তা শেষে ৬৫ বছর বয়সী ডুলিকে শুক্রবার নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। পরবর্তীতে রাজধানীতে আয়োজিত ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৮১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডুলি ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে দলটিকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। কোচ হিসেবে বিভিন্ন দলকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। বিশেষ করে, তার অধীনেই ফিলিপাইন তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল ২০১৮ সালে।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১ নম্বরে। ডুলি জানান, এই নাজুক অবস্থা থেকে উন্নতি করাই হবে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, যদিও এতে সময় লাগবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘জীবনে কোনো কিছু অর্জন করতে হলে আপনাকে কিছু না কিছু ত্যাগ করতেই হবে। আর যারা সেটা করতে রাজি, তাদের নিয়ে আমরা সফল হতে পারব। তাই আমার লক্ষ্য হলো র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করা। ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে আসা, এটা রাতারাতি হবে না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এটা নিয়ে আমি একটা বইও লিখেছি— দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস।’

তিনি যোগ করেছেন, ‘বইয়ে চারটি মূল স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে এবং তার একটি হলো মানসিকতা। আর মানসিকতা হুট করে বদলায় না, এটা হলো আপনার চিন্তা করার ধরন। আমাদের ফুটবল নিয়ে ভাবতে হবে এবং আমাদের কী করণীয়, তা বুঝতে হবে। তাহলেই আমরা যে কোনো কিছু অর্জন করতে পারব। লক্ষ্যটা বাস্তবসম্মত হতে হবে। ১৬০-এর নিচে নামাটা বাস্তবসম্মত, তবে তা আগামীকালই সম্ভব নয়, হয়তো এক বছরের মধ্যে সম্ভব।’

সাবেক স্প্যানিশ কোচ কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ দল প্রায়ই সমালোচিত হতো। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল— হামজা চৌধুরী বা শমিত শোমের মতো প্রবাসী প্রতিভাদের সঙ্গে স্থানীয় খেলোয়াড়দের সমন্বয়টা সঠিকভাবে করতে না পারা এবং অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করা। তার অধীনে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা কখনোই র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৮০-এর নিচে নামতে পারেনি।

আগামী রোববার থেকে কাজ শুরু করবেন ডুলি। এরপর ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের ডাগআউটে অভিষেক হবে তার। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ দলকে আক্রমণাত্মক ও পজেশনভিত্তিক (বল দখলে রেখে) ফুটবল খেলাতে চান, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ফুটবলের পেছনে ছুটতে নয়। আমি খেলোয়াড়দেরকেও সেটাই বলছি। পেছনে ছোটার মানে হলো শুধু শুধু দৌড়ানো।’

সারাদেশে টিসিবির ট্রাকসেল শুরু কাল, ৭২০ ট্রাকে মিলবে ৩ পণ্য

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে টিসিবির ট্রাকসেল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল সোমবার ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সারাদেশে ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ১১ থেকে ২১ মে পর্যন্ত শুক্রবার ব্যতীত বাকি ১০ দিন ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হবে।

ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। যেকোনো ভোক্তা এসব ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন।

টিসিবির উপপরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক নথি থেকে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকায় ৫০টি, চট্টগ্রামে ২০টি, ছয় বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।

১৩০ টাকা লিটার দরে সয়াবিন তেল, ৮০ টাকা কেজি দরে চিনি ও ৭০ টাকা কেজি দরে মসুর ডাল বিক্রি করা হবে এসব ট্রাকে। প্রতি ভোক্তা সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল, ১ কেজি চিনি ও ২ কেজি মসুর ডাল নিতে পারবেন।

টেলিভিশন টকশো-সোশ্যাল মিডিয়া বিভ্রান্ত করবে, এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে অনেক কচকচানি কথাই থাকবে। পার্লামেন্টের কথা শুনলে আপনাদের অনেক ভালো লাগবে, অনেকের ভালো লাগবে না। রাস্তায় বিভিন্ন বক্তৃতা শুনলে, কথা শুনলে আপনাদের মনে হবে যে, এটা আবার কী হলো! এটা আমরা আশা করিনি।’

‘টেলিভিশনের টকশো আপনাদেরকে বিভ্রান্ত করবে। আরও বেশি বিভ্রান্ত করবে সোশ্যাল মিডিয়া, যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনারা এখন সবাই আক্রান্ত। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাদের ভাবতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় একটি সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘এখনো আমাদের মাথাপিছু আয় অনেক কম। আমাদের জিডিপি অনেক কম। এখনো আমাদের প্রায় ৪২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এখনো আমাদের অনেক মানুষ দুবেলা খেতে পান না। এই শহরের ফুটপাথে মানুষ শুয়ে থাকে, পড়ে থাকে পরিবার নিয়ে—তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই। এখনো আমাদের অসংখ্য ছেলে-মেয়েরা, শিশুরা লেখাপড়া করতে পারে না, তাদেরকে শ্রম বিক্রি করে বেঁচে থাকতে হয়। এই যে একটা দেশ, এই যে সমাজ, এটাকে পরিবর্তন করার জন্যে আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে দায়ী করতে চাই না, কিন্তু এটা আমাদের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা।’

শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ৫৬ বছরে আমাদের অনেকগুলো ইতিবাচক অর্জন আছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন দেশ স্বাধীন হয়, তখনকার পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায় যে, আমাদের মানুষের সংখ্যা সাড়ে সাত কোটি এবং খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২৮ লাখ টন। আজকে ১৮ কোটি মানুষের দেশে খাদ্য ঘাটতি প্রায় নাই বললেই চলে। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের অর্জন।’

ফখরুল বলেন, ‘এ কথা বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, আরও অনেক কিছু করার ছিল। অন্তত যে শতকরা ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, তাদের দারিদ্র্য দূর করে উপরে টেনে তোলার কাজটা আমরা করতে পারিনি।’

স্বপ্ন ছাড়া বড় কিছু করা সম্ভব হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে আমি জোর গলায় বলতে পারি, এই স্বপ্নটি দেখেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চেয়েছেন। একদলীয় ব্যবস্থা থেকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে কৃষকদের মধ্যে উৎপাদনের একটি ক্রিয়া জাগিয়ে তুলেছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে তরুণদের মধ্যে উৎপাদনের একটা যজ্ঞ কাজ করতে শুরু করেছিলেন।’

জুলাই অভ্যুত্থান আশা জাগিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটা দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রায় ১৫ বছরের একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পরে যখন আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। যখন আমরা কথা বলতে পারতাম না। যখন আমাদের প্রিয়জন হারিয়ে গেলে, নিখোঁজ হয়ে গেলে তাকে আমরা খুঁজে পেতাম না। গুম হয়ে যেত। যখন আমরা চোখের সামনে দেখলাম ২৪ জুলাইয়ে আমাদের ছোট ছোট ছেলেরা-মেয়েরা প্রাণ দিচ্ছে অকাতরে দেশের পরিবর্তনের জন্য, আমাদের মনে আবার স্বপ্ন জেগে উঠেছে।’

‘দম’ সিনেমার সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নূর ইসলাম

ঈদে মুক্তি পেয়েছে পরিচালক রেদওয়ান রনির নতুন সিনেমা ‘দম’। আফগানিস্তানে তালেবানদের হাতে অপহৃত এক বাংলাদেশির শ্বাসরুদ্ধকর বেঁচে ফেরার সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। সেই গল্পের নেপথ্য নায়ক মো. নূর ইসলাম নিজেই শোনালেন তার জীবনের সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা।

২০০৮ সালে আফগানিস্তানে অপহৃত হয়েছিলেন নূর ইসলাম। ৮৪ দিন বন্দিজীবনের পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বড় পর্দায় তার সেই জীবনযুদ্ধের গল্প উঠে এসেছে। নূর ইসলাম বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক ও ধর্ম সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগে আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে আমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সেই ৮৪ দিনের সব ঘটনা দুই ঘণ্টার সিনেমায় পুরোপুরি তুলে আনা সম্ভব নয়। তবে আমি চাই দেশের মানুষ জানুক। আর বড় শিক্ষা হলো, আপনার ভেতরে যতক্ষণ দম আছে, ততক্ষণ হার মানা যাবে না।’

সিনেমাটিতে নূর ইসলামের স্ত্রী আনোয়ার পারভীন ওরফে রানির চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরী। বাস্তবে সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা মনে করে আনোয়ারা পারভীন বলেন, ‘আমার সব সময় মনে হতো সে বেঁচে আছে। আমার বিশ্বাস ছিল, তার কিছু হলে আমি ঠিকই টের পাব। অনেকে আমাকে পাগল বলত, কিন্তু আমার মনের অবস্থা কেউ বুঝত না।’

‘দম’ সিনেমায় নূর ইসলামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, যার পর্দার নাম ‘শাহজাহান ইসলাম নূর’। নিশো বলেন, ‘নূর ভাই ও তার স্ত্রীকে এখন আপনারা হাসিখুশি দেখছেন, কিন্তু তাদের ভেতরে সেই দিনের স্মৃতিগুলো এখনো জীবন্ত। তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আমরা সেই হাহাকার ও ক্ষোভটা টের পেয়েছি। আমি আমার চরিত্রের অনুপ্রেরণা তাদের কাছ থেকেই নিয়েছি।’

পরিচালক রেদওয়ান রনি জানান, নূর ইসলামের ডায়েরি পড়েই তিনি এই সিনেমার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। রনি বলেন, ‘গল্পটি যখন প্রথম পড়ি তখন কেঁদেছি, নূর ভাইয়ের সঙ্গে যখন প্রথম বসলাম, তখন আমরা দুজনই কেঁদেছি। নূর ভাই ডায়েরিটা আমাকে দিয়েছিলেন। সেটি পড়লে বোঝা যায় কেন এটি এক বাংলাদেশির জিতে যাওয়ার গল্প। সিনেমাটি দেখার পর নূর ভাই যখন জড়িয়ে ধরলেন, তখন মনে হলো আমার চেষ্টা সার্থক হয়েছে।’

এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড ও চরকির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘দম’ সিনেমাটি আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে দেশের সিনেমা হলগুলোতে (সিঙ্গেল স্ক্রিন) মুক্তি পাবে। রেদওয়ান রনির সঙ্গে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল আলম রবি।