27.5 C
Dhaka
Home Blog

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মাতৃভাষায় শিক্ষার দাবিতে চবিতে মানববন্ধন

সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আদিবাসীদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) চবি শাখা ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। 

পিসিপি চবি শাখার সভাপতি অন্বেষ চাকমার সভাপতিত্বে এবং তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ঋষণ চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবির, পিসিপি চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা এবং রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি জাল্লাং এনরিকো কুবি। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পিসিপি চবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেনঙি ম্রো।

বক্তব্যে রিবেক চাকমা বলেন, ভাষা আন্দোলনের সময় বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার আজও অবহেলিত। বাংলাদেশ শুধু বাঙালিদের নয়, মারমা, চাকমা, ম্রো ও মাহাতোসহ সব জাতিসত্তার।

তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বান্দরবানের ‘রেংমিটচ্য’ ভাষা আজ বিলুপ্তির পথে। তাই অবিলম্বে আদিবাসী শিশুদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

জাল্লাং এনরিকো কুবি বলেন, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকায় দেশের জাতিগত বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। বম সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিনা বিচারে আটক রাখা এবং মধুপুরে গারোদের জমি দখলের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি এসব জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও অধিকার রক্ষায় উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অন্বেষ চাকমা বলেন, ভাষাই একটি জাতির পরিচয়ের ভিত্তি। স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে তিনি আদিবাসী শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা এবং সংবিধানে তাদের পৃথক জাতিগত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান।

মানববন্ধনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে একটি মিছিল বের করা হয়, যা জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

 

ব্রাউজারে জমা থাকে সার্চ করা তথ্য, মুছবেন যেভাবে

ধরুন, ইন্টারনেটে নতুন একটি সাইকেল খুঁজছেন। অথবা বন্ধুর জন্মদিনের উপহার নিয়ে খোঁজখবর করছেন। হয়তো কোনো মজার ভিডিও দেখেছেন, কোনো জায়গার মানচিত্র দেখেছেন বা কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। কিন্তু হয়তো কয়েক মিনিট পরই বিষয়টি ভুলে গেলেন। কিন্তু ওয়েব ব্রাউজার? সে কিন্তু সব মনে রাখে!

আপনি কোথায় গিয়েছেন, কী খুঁজেছেন, কোন ভিডিও দেখেছেন, এসব তথ্যের অনেকটাই সংরক্ষিত থাকে ব্রাউজারের ‘হিস্টোরি’ বা ইতিহাসে।

তাই অনেকেই জানতে চান, এই তথ্যগুলো কীভাবে দেখা যায় এবং প্রয়োজন হলে কীভাবে মুছে ফেলা যায়।

ব্রাউজার হিস্টোরি হলো ইন্টারনেট ভ্রমণের ডায়েরি। আমরা যখন কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি বা কিছু খুঁজি, তখন ব্রাউজার সেই তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে। পরে চাইলে সেই তালিকা দেখে আগের কোনো ওয়েবসাইটে আবার প্রবেশ করা যায়।

এটি সুবিধাজনক হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন—ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখতে, অন্য কেউ যেন আপনার খোঁজা তথ্য দেখতে না পারে, ব্রাউজারের অপ্রয়োজনীয় তথ্য কমাতে, শেয়ার করা কম্পিউটার ব্যবহারের পর নিরাপত্তা বাড়াতে।

তবে মনে রাখতে হবে, হিস্টোরি মুছে ফেললেই ইন্টারনেটে সব তথ্য সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায় না। বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী কিছু তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে।

গুগল ক্রোম বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার। কম্পিউটারে ক্রোম ব্যবহার করলে প্রথমে ব্রাউজারের ডানদিকে উপরের তিনটি ডট (…) চাপুন, এরপর History নির্বাচন করুন, আবার History-তে ক্লিক করুন অথবা কিবোর্ডে Ctrl + H চাপলেও হিস্টোরি ওপেন হবে।

ক্রোম ব্রাউজারের হিস্টোরি মুছতে প্রথমে History পেজে গিয়ে Clear Browsing Data নির্বাচন করুন। এবার কত দিনের তথ্য মুছতে চান তা নির্বাচন করুন। চাইলে কুকি (Cookies) এবং ক্যাশ (Cache) তথ্যও মুছে দিতে পারেন। এরপর Clear Data চাপুন। এতে আপনার ব্রাউজিং হিস্টোরি মুছে যাবে।

যারা ফায়ারফক্স ব্যবহার করেন, তারা প্রথমে উপরের ডানদিকে থাকা তিনটি রেখা (☰) চিহ্নে ক্লিক করুন। তারপর Library নির্বাচন করুন। সেখান থেকে History ওপেন করুন। এবার  প্রয়োজনীয় সময়সীমার হিস্টোরি নির্বাচন করে মুছে ফেলুন।

অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য কাজটি আরও সহজ। ম্যাক কম্পিউটারে প্রথমে Safari মেনু ওপেন করুন। তারপর History নির্বাচন করুন। এবার Clear History চাপুন এবং সময়সীমা নির্বাচন করে নিশ্চিত করুন।

আইফোন বা আইপ্যাডে প্রথমে Settings ওপেন করুন। তারপর Safari নির্বাচন করুন এবং Clear History and Website Data চাপুন।

অনেকে ভাবেন, ব্রাউজারের হিস্টোরি মুছে ফেললেই সব শেষ। আসলে গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করা থাকলে আপনার কিছু কার্যক্রম আলাদাভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে। যেমন—গুগল সার্চ, ইউটিউব ভিডিও দেখা, গুগল ম্যাপস ব্যবহার ও ভয়েস সার্চ।

এসব তথ্য দেখতে ও মুছতে পারেন আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের My Activity থেকে।

গুগলের My Activity এমন একটি জায়গা যেখানে গুগল বিভিন্ন কার্যক্রমের রেকর্ড দেখায়। সেখানে গিয়ে দেখতে পারবেন—কী কী সার্চ করেছেন, কোন ভিডিও দেখেছেন, কোন অ্যাপ ব্যবহার করেছেন এবং কখন ব্যবহার করেছেন। তবে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দিন, মাস বা সম্পূর্ণ হিস্টোরি মুছে ফেলতে পারবেন।

আজকের পৃথিবীতে সবাই ডিজিটাল জীবনযাপনের মধ্যে থাকি। আমাদের সার্চ, ভিডিও দেখা, মানচিত্র ব্যবহার সবকিছুই এক ধরনের ডিজিটাল হিস্টোরি। তাই মাঝে মাঝে নিজের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে ব্রাউজার ও অ্যাকাউন্টের হিস্টোরি পর্যালোচনা করা অবশ্যই একটি ভালো অভ্যাস।
 

রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে জিতে ফের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পিএসজির

রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেওয়া আর্সেনাল ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে গেল। অন্যদিকে, আক্রমণকেই খেলার রসদ বানানো পিএসজি সমতায় ফিরল দ্বিতীয়ার্ধে। তবে নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও আলাদা করা গেল না দুই দলকে। তাই ফাইনাল গড়াল টাইব্রেকারে। সেখাতে বাজিমাত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতল পিএসজি।

হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে জিতে ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব আসরে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল ফরাসি লিগের চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়ের খেলাও শেষ হয় ১-১ গোলে। এরপর পেনাল্টি শ্যুটআউটে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে উল্লাসে মাতে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।

জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে দেন আর্সেনালকে। এতে দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতা গানারদের প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন ডানা মেলে। লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আর্সেনালের জমাট রক্ষণে ফাটল ধরাতে সক্ষম হয় আক্রমণের বন্যা বইয়ে দেওয়া পিএসজি। ৬৫তম মিনিটে ব্যালন দি’অরজয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে পেনাল্টি থেকে সমতা টানেন লড়াইয়ে। ক্রিস্তিয়ান মসকেরা ডি-বক্সে খাভিচা কাভারাতস্খেলিয়াকে ফাউল করায় রেফারি বাজিয়েছিলেন স্পট-কিকের বাঁশি। ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) প্রযুক্তি ব্যবহারের পরও বহাল ছিল সেই সিদ্ধান্ত।

বাকি সময়ে কোনো দলই আর জাল খুঁজে নিতে পারেনি। আর্সেনাল ছিল পাল্টা-আক্রমণে মনোযোগী। গোলমুখে তাদের নেওয়া সাতটি শটের মধ্যে কেবল হাভার্টজের ওই গোলটিই ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, পিএসজি বল দখলে রেখে আক্রমণ শানাতে থাকে বারবার। গোলমুখে ২১টি শট নিয়ে তারা চারটি লক্ষ্যে রাখলেও দ্বিতীয়বার আর জালের ঠিকানা পায়নি। এর মধ্যে ৭৩তম মিনিটে জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খাভারাতস্খেলিয়ার শট মাইলস লুইস-স্কেলির গায়ে লেগে পোস্ট ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়।

ফয়সালার জন্য তাই দ্বারস্থ হতে হয় টাইব্রেকারের। সেখানে পিএসজির প্রথম দুটি ও আর্সেনালের প্রথম শট জালে জড়ায়। এরপর ইংলিশ মিডফিল্ডার এবেরেচি এজের দুর্বল শট লক্ষ্যেই থাকেনি। ফলে আর্সেনালের ডেরা ঢেকে যায় হতাশার কালো মেঘে। কিন্তু পরক্ষণেই তারা উজ্জীবিত হয়ে ওঠে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসের শট স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ রায়া বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দিলে।

তারপর দুই দলেরই দুটি করে শট গোললাইন অতিক্রম করে। তবে শেষ শটটি নিতে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল ভেঙে পড়েন চাপের মুখে। তিনি বল উড়িয়ে মেরে বাইরে পাঠিয়ে দিলে আর্সেনালের ইউরোপ সেরা হওয়ার আশা ফের ভেস্তে যায়। এর আগে ২০০৬ সালের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা।

বিপরীতে, কাতারি মালিকানাধীন পিএসজি লম্বা সময় ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অধরা শিরোপার স্বাদ পাওয়ার খোঁজে ছিল। স্প্যনিশ কোচ এনরিকের অধীনে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে সেই অপেক্ষা গত মৌসুমে শেষ করে দলটি। এবার সাফল্যের ধারা বজায় রেখে তারা উদযাপন করল ট্রফি ধরে রাখার আনন্দ।

১৯৯২ সালে ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতার নাম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (আগে ছিল ইউরোপিয়ান কাপ) হওয়ার পর এতদিন কেবল স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদেরই ছিল টানা শিরোপা জয়ের কীর্তি। তারা ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হ্যাটট্রিক গড়েছিল। এবার তাদের পাশে নাম লেখাল উড়তে থাকা পিএসজি।

কারওয়ান বাজারে দৈনিক ২-৩ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে: জামায়াত এমপি মিলন

রাজধানীর অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-১২ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম খান মিলন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত সরকারের মতো বর্তমান সরকারের আমলেও সরকারি দলের লোকেরাই এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। এমনকি শুধু কারওয়ান বাজারের কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে।

আজ সোমবার রাজধানীতে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক বাজেট সংলাপে মিলন প্রশ্ন তোলেন, ‘পারস্পরিক সমঝোতার’ আড়ালে যে লেনদেন হয়, তাকে কি চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়?

তিনি দাবি করেন, এই চাঁদাবাজির অর্থের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই চাপে, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১৩তম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা জামায়াত এমপি মিলনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং তার এই অবস্থানকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দেন।

মাহমুদা বলেন, আমার এলাকায় যদি আমি সাংসদ হই, যারা চাঁদাবাজি করবে— সরকারি দল হোক বা বাইরের দল হোক, আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করব এবং আইনের আশ্রয় নেব।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মিলন দাবি করেন, মামলাই নেওয়া হয় না, আইনের আশ্রয় কীভাবে নেওয়া হবে?

তিনি জানান, বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে এনেছেন এবং তার সহযোগিতা চেয়েছেন। এ ছাড়া চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য তিনি শিগগিরই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন।

জনস্বার্থ বিবেচনায় কারওয়ান বাজার এবং মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সব ধরনের চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিরোধী দলের প্রার্থী যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ১৩ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।

আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সই করা তালিকাটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

তালিকা অনুযায়ী, ১৩ জনের মধ্যে জামায়াতের আটজন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুইজন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন করে এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজন প্রার্থী রয়েছেন।

জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন—কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি সাবিকুন নাহার মুন্নি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ, প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, সিলেটের নেত্রী মাহফুজা হান্নান, বগুড়ার নেত্রী ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ এবং চট্টগ্রামের নেত্রী শামসুন্নাহার বেগম।

এনসিপির প্রার্থীরা হলেন—দলের নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্যসচিব মাহমুদা আলম মিতু।

জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিমও তালিকায় রয়েছেন।

এ ছাড়া জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে প্রার্থী করা হয়েছে।

প্রার্থীদের ভেতর মাহবুবা সিদ্দিকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের ভাগনি হন বলে জানা গেছে।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন দলগুলোর সাধারণ আসনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বণ্টিত হয়। প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি করে নারী আসন নির্ধারিত। সেই হিসাবে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি ও স্বতন্ত্ররা একটি আসন পাবে।

১১ দলীয় এই জোটের নেতারা গত ১৬ জানুয়ারি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এখন সংরক্ষিত নারী আসনও নিজেদের মধ্যে বণ্টন করছে জোটটি।

পোস্টারেই বাজিমাত, রাকা সিনেমায় কত পারিশ্রমিক পাবেন আল্লু অর্জুন

ভারতের সান পিকচারস তাদের বড় বাজেটের ফ্যান্টাসি-অ্যাকশন প্রজেক্টের নাম ঘোষণা করেছে। এটি পরিচালনা করবেন অ্যাটলি এবং এতে অভিনয় করছেন অল্লু অর্জুন ও দীপিকা পাডুকোন। সিনেমাটির নাম রাকা।

বুধবার আল্লু অর্জুনের জন্মদিনে সিনেমার পোস্টার প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
 

পিঙ্কভিলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাকা হলো বড় আকারের প্যান-ইন্ডিয়ান মেগা প্রজেক্ট। সান পিকচারসের প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমাতে থাকবে অত্যাধুনিক ভিএফএক্স, হাই-অ্যাকশন রিয়েল-টাইম সিকোয়েন্স, ফ্যান্টাসি উপাদান, একাধিক চরিত্রের রূপান্তর এবং আরও অনেক কিছু।

গত বছর সিনেমার শুটিং শুরু হয়। পরে সান পিকচারস একটি ভিডিও শেয়ার করে। যেখানে দেখা যায়, দীপিকা পাডুকোন পরিচালক অ্যাটলির সঙ্গে বসে স্ক্রিপ্ট পড়ছেন। তখন সবাই নিশ্চিত হয়, এই বড় প্রজেক্টে দীপিকা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন।

এটি অল্লু অর্জুন ও পরিচালক অ্যাটলির একসঙ্গে প্রথম কাজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির বাজেট প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি রুপি।

এশিয়ানেট নিউজের প্রতিবেদনের অনুযায়ী, রাকাতে অল্লু অর্জুনের পারিশ্রমিক ধরা হয়েছে প্রায় ১৭৫ কোটি রুপি। এছাড়াও, তিনি সিনেমার লাভের ১৫ শতাংশ নেবেন। সবমিলিয়ে এই সিনেমা থেকে তার মোট আয় ৩০০ কোটি টাকার ওপরে যেতে পারে।

অ্যাটলি জওয়ান সিনেমার সাফল্যের পর, তার পারিশ্রমিক বাড়িয়েছেন। এই সিনেমার জন্য তিনি ১০০ কোটি রুপি নিচ্ছেন। এর আগে তিনি শাহরুখ খানের সিনেমা পরিচালনার জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা পেয়েছিলেন।

দীপিকা পাডুকোন প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।

এছাড়া রাশমিকা মান্দানা পাবেন ৫ থেকে ৭ কোটি রুপি।

তবে এই বাজেটের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

অ্যাটলি শাহরুখ খানের ব্লকবাস্টার জওয়ান এবং তামিল ভাষার হিট সিনেমা ‘মার্সাল’ ও ‘বিগিল’ পরিচালনা করেছেন। তিনি বলেছেন, রাকা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রজেক্ট।

তার ভাষ্য, রাকা কেবল একটি সিনেমা নয়। বছরের পর বছর ধরে এই সিনেমাটির স্বপ্ন লালন করেছি।

চেন্নাইভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান পিকচারস জানিয়েছে, সিনেমাটি ভারতীয় সিনেমার আন্তর্জাতিক পরিসরে বাড়াতে সহায়তা করবে।

অল্লু অর্জুন পুষ্পা: দ্য রাইজ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

মূলত পুষ্পা দিয়েই প্যান ইন্ডিয়া তারকাখ্যাতি পান আল্লু অর্জুন। ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। এরপর ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া সিক্যুয়েল পুষ্পা ২: দ্য রুল বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৯৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড।

মার্কিন আগ্রাসনের হুমকির মাঝেও কাবুল-ইসলামাবাদ সংঘাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের

মার্কিন হামলার হুমকিতে টালমাটাল অবস্থায় তেহরান। কিন্তু এর মাঝেও ভ্রাতৃসম দুই প্রতিবেশি দেশের সংঘাত নিরসনে এগিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।  

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ কয়েকটি শহরে আজ শুক্রবার হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এরইমধ্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন। 

এই হামলায় অন্তত ১৩৩ তালেবান সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে এমন দাবি করেন।

এই পরিস্থিতিতে কাবুল-ইসলামাবাদের সংঘাত নিরসনে এগিয়ে আসার প্রস্তাব রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী মুসলিম দেশ ইরান। 

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে এবং তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সম্প্রসারণ ঘটাতে যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত।’

তবে মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা প্রসঙ্গে বড় ধরনের চাপের মুখে আছে ইরান। বারবার ‘চুক্তিতে রাজি না হলে হামলার’ হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে দুইটি রণতরীসহ সমীহ জাগানিয়া সেনা মোতায়েন করে ইরানের নেতৃবৃন্দকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শান্তি ফেরাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘বোর্ড অব পিস’ সভায় এক সম্ভাব্য অশান্তির প্রস্তাব দিয়ে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প। তিনি তেহরানকে সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য ‘১০ দিনের’ সময় বেঁধে দেন। তা না হলে ‘ফলাফল’ ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন।

এর মাঝে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার জেনেভায় তৃতীয় দফার বৈঠকে অংশ নিয়েছে ওয়াশিংটন-তেহরান। ওই বৈঠক ‘ইতিবাচক’ হলেও এখনো পরমাণু চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। 

এই পরিস্থিতিতে পাগলাটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলা করে বসতেও পারেন। সে সময় দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর ‘ঝগড়া’ থামাতে কতটুকু উদ্যোগ নিতে পারবে ইরান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ফেব্রুয়ারি এলে কদর বাড়ে, সারা বছর অবহেলা

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন ভাষাশহীদরা। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রভাষা হয় বাংলা। ভাষা আন্দোলনে শহীদের সংখ্যা অনেক হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন পাঁচজন—আবদুস সালাম, আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার ও শফিউর রহমান। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত এই শহীদদের প্রত্যেককেই রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। ২০০০ সালে এই ভাষাশহীদদের মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।

ভাষাশহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রায় দুই দশক আগে তিন ভাষাশহীদের জন্মস্থানে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ। ভাষাশহীদ বরকতের নামে স্মৃতি সংগ্রহশালা নির্মাণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো পর্যন্ত ভাষাশহীদ শফিউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণে কোনো স্থাপনা নির্মিত হয়নি।

ভাষাশহীদদের গ্রামে নির্মিত স্মৃতিস্থাপনার বর্তমান অবস্থা দেখতে ও ভাষাশহীদ পরিবারগুলোর খোঁজ নিতে বিভিন্ন জেলায় যান এই প্রতিবেদক। সরেজমিনে দেখা যায়, বছরের বেশির ভাগ সময় এসব স্থাপনা অবহেলাতেই পড়ে থাকে। ফেব্রুয়ারি এলে বাড়ে কর্মচাঞ্চল্য ও দর্শনার্থীদের ভিড়। ভাষাশহীদদের গ্রামে ঘুরে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে নানাবিধ সংকট ও অপ্রাপ্তির চিত্র উঠে এসেছে। দুই পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

পরিবার না চাইলেও হয়েছে গফরগাঁওয়ে

ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারের জন্ম ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে। আনসার বাহিনীতে কর্মরত থাকাকালে পঞ্চাশের দশকের শুরুতেই তিনি তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী শিমুলকুচি গ্রামে পাঠিয়ে দেন। তার মৃত্যুর পর ১৯৫৩ সালে তার পরিবারের বাকি সদস্যরাও শিমুলকুচিতে চলে আসেন। পাঁচুয়ার সঙ্গে সে অর্থে তার পরিবারের তেমন কোনো যোগাযোগ নেই।

২০০৮ সালে পাঁচুয়াতে ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করে জেলা পরিষদ। গফরগাঁওয়ে যাতায়াত না থাকায় শহীদ জব্বারের পরিবারের সদস্যরা শুরু থেকেই চেয়েছিলেন জাদুঘরটি যেন শিমুলকুচিতে করা হয়। কিন্তু প্রকল্পে জন্মস্থান নির্ধারিত হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।

একই বছর পাঁচুয়া গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জব্বার নগর। যদিও বিগত ১৮ বছরে এ সংক্রান্ত কোনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। ফলে কাগজে-কলমে গ্রামের নাম এখনো পাঁচুয়াই রয়ে গেছে।

ভাষাশহীদ আবদুর জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে নেই শহীদ জব্বারের কোনো স্মৃতিচিহ্ন বা ব্যবহার্য সামগ্রী। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী জাদুঘরে এলেও স্মৃতিচিহ্ন না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যান। উপজেলায় কেন্দ্রীয়ভাবে শহীদ দিবস এই গ্রন্থাগার ও জাদুঘর প্রাঙ্গণে পালিত হয়।

গ্রন্থাগারিক মো. কায়সারুজ্জামান বলেন, ‘এখানে দর্শনার্থীরাই বেশি আসেন। দর্শনার্থীরা মূলত শহীদ জব্বারের ব্যবহার্য জিনিসপত্র দেখতে চান। কিন্তু আমাদের সংরক্ষণে না থাকায় আমরা তা প্রদর্শন করতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্রন্থাগারে চার হাজারের মতো বই আছে। আগে দৈনিক পত্রিকা রাখা হলেও এখন রাখা হয় না, পত্রিকা রাখা গেলে পাঠকের সংখ্যা বাড়ত।’

ভাষাশহীদ জব্বারের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা নেই

হালুয়াঘাটের শিমুলকুচি গ্রামের মূল সড়ক থেকে ভাষাশহীদ জব্বারের বাড়িতে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। গ্রামের পাকা সড়ক থেকে জব্বারের বাড়ির দূরত্ব এক কিলোমিটার। এর মধ্যে অর্ধেক রাস্তা কাঁচা থাকলেও বাকি অর্ধেক অংশে কোনো রাস্তাই নেই। একাংশে মানুষের বাড়ি, আর বাকি পুরোটাই ফসলি জমির আইল। জব্বারের বাড়ির সামনে ফসলের খেতে অবহেলায় পড়ে রয়েছে তার নামে নির্মিত শহীদ মিনার। রাস্তা না থাকায় শহীদ মিনার ও তার বাড়িতে যেতে হলে আইল ধরে হেঁটে যেতে হয়।

তিন দশক আগে বাড়ির সামনের জমিতে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেছিলেন শহীদ জব্বারের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাদল। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে এটির সংস্কার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে শহীদ মিনারটি।

এই গ্রামে রয়েছে জব্বারের মা, স্ত্রী ও একমাত্র ছেলের কবর। বর্তমানে এ বাড়িতে থাকেন শহীদ জব্বারের নাতনি আফরোজা খানম। তিনি বলেন, ‘দাদা ভাষার জন্য শহীদ হয়েছেন। বাবা প্রাণ বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। অথচ আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। বাড়িতে যাতায়াতের মতো একটা রাস্তা পর্যন্ত নেই।’

আফরোজা খানম আরও বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ায় দাদার ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। আমার এক ভাই প্রতিবন্ধী। যেই আসে, সেই কেবল আশ্বাসই দেয়। কাজের কাজ কিছুই হয় না।’

২০০৭ সালে শহীদ জব্বারের ভাতিজা আতিক উল্লাহর দেওয়া এক একর জমিতে গড়ে তোলা হয় ‘ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার ফাউন্ডেশন’। ২০১০ সালে ফাউন্ডেশনটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন পায়। শুরুতে একটি টিনের ঘরে ফাউন্ডেশনের কাজ চললেও, পরে ঝড়ে ঘরটি ভেঙে পড়ে। এখনো পর্যন্ত ঘরের সংস্কার না হওয়ায় জমিতে কেবল নামসংবলিত একটি সাইনবোর্ডই ঝুলতে দেখা গেছে।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি আতিকউল্লাহ বলেন, ‘অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। কিন্তু সবার আগে বাড়ি ও শহীদ মিনারে যেতে অন্তত একটি রাস্তার ভীষণ প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই পাঁচুয়ার বদলে শিমুলকুচিতে জাদুঘরটি করার জন্য আবেদন করেছিলাম। আমাদের কাছে শহীদ জব্বারের ব্যবহার্য জিনিসপত্র, স্মৃতিস্মারকগুলো রয়েছে। শিমুলকুচিতে একটি জাদুঘর হলে আমরা সেগুলো প্রদর্শন করতে পারতাম।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. কামরুল হুদা বলেন, ‘গফরগাঁওয়ে যেহেতু একবার জাদুঘর নির্মিত হয়েছে, হালুয়াঘাটে করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় যদি চায়, তাহলে হতে পারে। জেলা পরিষদের এ বিষয়ে কোনো এখতিয়ার নেই।’

রাস্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা নতুন করে রাস্তার জন্য আবেদন করলে আমরা জেলা পরিষদ থেকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেব। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা ছাড়াও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনাতেই এটি হওয়ার কথা। আগে কেন হয়নি, আমার জানা নেই। আমি নির্বাচনের কয়েক দিন আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে এসেছি।’

নামেই জাদুঘর, নেই কোনো স্মৃতিচিহ্ন

ভাষাশহীদ আবদুস সালামের বাড়ি ফেনীর দাগনভুঁইয়া উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামে। ২০০৮ সালে গ্রামটির নাম পরিবর্তন করে সালামনগর রাখা হয়। একই বছর গ্রামে নির্মিত হয় ভাষাশহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। নামে স্মৃতি জাদুঘর হলেও সেখানে নেই শহীদ সালামের কোনো স্মৃতিচিহ্ন।

ষাটের দশকে তৎকালীন সংসদ সদস্য খাজা আহমদ শহীদ সালামের বাবার কাছ থেকে সালামের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত শার্ট ও ছবি জাদুঘরে দেবেন বলে নিয়ে যান। পরে সেই শার্টের হদিস পাওয়া যায়নি। পরে বাড়িতে একাধিকবার চুরি হওয়ায় বাকি সব স্মৃতিচিহ্নও হারিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে হাতে আঁকা শহীদ সালামের বহুল প্রচলিত ছবিটি ছাড়া সালামের কোনো ছবি, স্মৃতিচিহ্ন বা ব্যবহার্য সামগ্রী নেই।

স্থানীয়রা জানান, বছরের বেশির ভাগ সময় গ্রন্থাগারটি ফাঁকা পড়ে থাকে, তবে একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই পাল্টে যায় চিত্র। এদিন উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গ্রন্থাগার ও জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বর্তমানে গ্রন্থাগারে আড়াই হাজার বই রয়েছে। তবে রাখা হয় না কোনো দৈনিক পত্রিকা। ২০২৪ সালের বন্যায় বেশ কিছু বইয়ের তাক ও বই পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।

গ্রন্থাগারিক লুৎফুর রহমান বলেন, ‘বন্যার পরে কিছু বই পানিতে ভিজে একবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু রোদে শুকিয়ে পাঠযোগ্য করেছি। স্মৃতি জাদুঘর হওয়ায় মানুষ সালামের স্মৃতিচিহ্ন দেখতে চায়। কিন্তু আমাদের কাছে না থাকায় তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।’

গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের পাশেই রয়েছে ভাষাশহীদ সালাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারীকরণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০২ জন।

বিদ্যালয়ের পাশে গ্রন্থাগার থাকলেও সেখানে নেই কোনো শিশু কর্নার। গ্রন্থাগারে একটি শিশু কর্নার থাকলে শিশুরা ভাষা আন্দোলন ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারত বলে মন্তব্য করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঁখি রাণী দাস। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই শ্রেণিকক্ষে ভাষাশহীদদের নিয়ে আলোচনা করি। লাইব্রেরিতে একটি শিশু কর্নার থাকলে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা সেখানে গিয়ে নিয়মিতভাবে পড়তে পারত। এতে শৈশবেই তাদের পাঠাভ্যাস গড়ে উঠত।’

বর্তমানে শহীদ সালামের ভাইবোনদের মধ্যে তার ছোট ভাই আবদুল করিম জীবিত রয়েছেন। তবে বয়সের ভারে তিনি কাউকে চিনতে পারেন না। সালামের ভাতিজা মো. মামুন বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাস ছাড়া কেউই আমাদের খোঁজখবর নেয় না। সারা বছর অপাংক্তেয় থাকলেও ফেব্রুয়ারি এলেই আমাদের কদর বেড়ে যায়।’

সব ক্ষেত্রেই অবহেলিত শফিউর

ভাষাশহীদদের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত হয়ে আছেন শফিউর রহমান। রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত অন্য ভাষাশহীদদের নামে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মিত হলেও শফিউরের নামে কোনো স্মৃতি জাদুঘর নির্মিত হয়নি। তার নামে কোনো স্থাপনার নামও রাখা হয়নি। ২০২৩ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষা ভবন পর্যন্ত সড়কটি ভাষাশহীদ শফিউর রহমানের নামে নামকরণ করার প্রস্তাব পাস করে। এ ছাড়া তার কয়েকটি ছবি বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে বাংলা একাডেমির ভাষা আন্দোলন জাদুঘরে।

শফিউরের জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে সপরিবার এপারে চলে আসেন শফিউর। বায়ান্নর ফেব্রুয়ারিতে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে হিসাবরক্ষণ শাখায় কেরানি পদে কর্মরত ছিলেন। কেন তার নামে স্মৃতি জাদুঘর নির্মিত হয়নি—জানতে গিয়ে জানা যায়, মূলত জন্মস্থানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ভাষাশহীদ বরকতের জন্মও পশ্চিমবঙ্গে। তবে প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিবেচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্মৃতি জাদুঘর ও সংগ্রহশালার জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিল।

বর্তমানে ভাষাশহীদ শফিউরের পরিবারের মধ্যে কেবল তার একমাত্র মেয়ে শাহানাজ জীবিত রয়েছেন। তিনি রাজধানীর উত্তরায় থাকেন। শহীদ শফিউরের একমাত্র ছেলে শফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে মারা গেছেন।

শাহানাজ বলেন, ‘বাবার স্মৃতিস্মারকসহ ব্যবহার্য যা কিছু ছিল, তা আমরা জাদুঘরে দিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে শহীদ পরিবার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছি। তাও আবার পাঁচ বছর বন্ধ ছিল, গত বছর ভাতা পুনরায় চালু হয়েছে।’

আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘অন্তত তার নামে কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জাদুঘর নির্মাণের জন্য আমরা বহুবার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েছি। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আমার ভাই জীবিত থাকতে অনেকবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আর এখন তো আমারও বয়স হয়েছে। সেসব আশা ছেড়ে দিয়েছি। অথচ সরকার চাইলেই তার নামে কিছু একটা করতে পারত।’

ব্রাজিল না আর্জেন্টিনা? এই উন্মাদনা বাংলাদেশের জন্য কেন ভালো

বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ যেন দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এক ভাগ ব্রাজিল, আরেক ভাগ আর্জেন্টিনা। রাস্তায় রাস্তায় পতাকা উড়ে, ছাদে ছাদে ব্যানার টাঙানো হয়, ফেসবুকে তর্ক শুরু হয়, অফিসে খোঁচাখুঁচি চলে, বন্ধুদের আড্ডায় হাসি ঠাট্টা জমে ওঠে। কেউ মেসির ছবি দিয়ে প্রোফাইল সাজান, কেউ আবার নেইমার বা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পোস্টারে ভরিয়ে ফেলেন নিজের টাইমলাইন।

অনেকেই এই বিষয়টিকে গুরুত্বহীন মনে করেন। কেউ কেউ আবার বিরক্তও হন। তাদের প্রশ্ন, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার সম্পর্ক কী? এত আবেগ কেন? এত সময় নষ্ট কেন?

কিন্তু বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখারও সুযোগ আছে। বরং বলা যায়, এই উন্মাদনা বাংলাদেশের মতো একটি সমাজের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন প্রতিদিনের খবরের বড় অংশজুড়ে থাকে হতাশা, সহিংসতা আর উদ্বেগ। সংবাদ খুললেই কোথাও খুন, কোথাও ধর্ষণ, কোথাও দুর্নীতি, কোথাও প্রতারণা। শিশু থেকে বৃদ্ধ, কেউই যেন অনিরাপত্তার অনুভূতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই অবস্থা। রাজনৈতিক বিভাজন, ঘৃণা, ব্যক্তিগত আক্রমণ আর নেতিবাচকতা প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা।

এই বাস্তবতায় মানুষ একটু আনন্দ খুঁজবে না?

ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের এই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেই আনন্দেরই একটি জায়গা। এখানে মানুষ নিজের পছন্দের দলকে নিয়ে গর্ব করে, প্রতিপক্ষকে খোঁচা দেয়, আবার ম্যাচ শেষে একসঙ্গেই চা খায়। এই খোঁচাখুঁচির বেশিরভাগটাই বিনোদন। এর ভেতরে রাজনৈতিক শত্রুতা নেই, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই, ক্ষমতার লড়াই নেই।ফিফা গলি

বাংলাদেশের মানুষ খেলাধুলা ভালোবাসে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে আমাদের জাতীয় দলের উপস্থিতি নেই। তাই বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকা এলে মানুষ নিজেদের আবেগের জন্য একটি দল বেছে নেয়। কেউ ব্রাজিল, কেউ আর্জেন্টিনা। তারপর সেই দলকে ঘিরেই তৈরি হয় গল্প, স্মৃতি, হাসি আর উত্তেজনা।

একবার ভেবে দেখুন, একটি দেশের লাখ লাখ মানুষ একই সময়ে একটি খেলা নিয়ে কথা বলছে। রিকশাচালক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দোকানদার থেকে করপোরেট কর্মকর্তা, গ্রামের চায়ের দোকান থেকে রাজধানীর কফিশপ, সবাই একই আলোচনায় যুক্ত হচ্ছে। সমাজে এমন মিলনমেলার সুযোগ আর কত জায়গায় তৈরি হয়?

অনেক সময় বলা হয়, অনলাইনে ঝগড়া হচ্ছে। কিন্তু সব ঝগড়া এক রকম নয়। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে তর্ক হয়, তার বড় অংশই রসিকতা আর ঠাট্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ‘তোমাদের কাপ কয়টা?’ কিংবা ‘তোমাদের শেষ ট্রফি কবে?’ এ-জাতীয় কথাগুলো শুনে মানুষ রাগের চেয়ে বেশি হাসে। পরদিন আবার সেই দুই পক্ষ একসঙ্গে ক্লাসে যায়, অফিসে কাজ করে, আড্ডা দেয়।

বরং এই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মানসিক চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে। একজন মানুষ সারা দিন চাকরির চাপ, ব্যবসার চিন্তা, পারিবারিক দায়িত্ব বা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বসে ফুটবল নিয়ে একটু হাসাহাসি করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজার একটি পোস্ট দেওয়া বা প্রতিপক্ষকে হালকা খোঁচা দেওয়া তার জন্য এক ধরনের মানসিক মুক্তি।

আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, মানুষের জীবনে বিনোদনের প্রয়োজন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কাজ, দায়িত্ব আর উদ্বেগ দিয়ে একটি সমাজ সুস্থ থাকতে পারে না। মানুষের হাসারও দরকার আছে। আনন্দ করারও দরকার আছে। এমন কিছু বিষয় দরকার, যা নিয়ে তর্ক হবে কিন্তু সম্পর্ক নষ্ট হবে না।

ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকটা পাড়ার দুই বন্ধুর দাবা খেলার মতো। একজন জিতলে আরেকজনকে খোঁচা দেবে। আবার পরদিন দুজন একসঙ্গেই বসে চা খাবে। এই সংস্কৃতির ভেতরে এক ধরনের সামাজিক উষ্ণতা আছে।

অবশ্যই সীমা থাকা জরুরি। খেলা নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমান বা সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো সংস্কৃতিকে বিচার করাও ঠিক হবে না। কারণ বাস্তবে দেখা যায়, বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আনন্দের অংশ হিসেবেই দেখেন।

আসলে বিষয়টি পতাকা বা দলের চেয়েও বড়। এটি মানুষের একসঙ্গে আনন্দ করার ক্ষমতার প্রতিফলন। এমন একটি দেশে, যেখানে প্রতিদিনের বাস্তবতা প্রায়ই ক্লান্তিকর, সেখানে এক মাসের জন্য হলেও যদি মানুষ ফুটবল নিয়ে উত্তেজিত হয়, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক করে, বাড়ির ছাদে পতাকা ওড়ায়, রাতে খেলা দেখে এবং কিছুক্ষণ দৈনন্দিন উদ্বেগ ভুলে থাকতে পারে, তাহলে সেটিকে খারাপ চোখে দেখার কারণ নেই।

সব বিনোদন যে অর্থ উপার্জন করবে, সমাজ বদলে দেবে বা বড় কোনো উদ্দেশ্য পূরণ করবে, এমন নয়। কিছু বিনোদনের কাজ শুধু মানুষকে হাসানো। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের উন্মাদনাও অনেকটা তেমন।

যে দেশে প্রতিদিন অসংখ্য নেতিবাচক খবর আমাদের মনকে ভারী করে তোলে, সেখানে ফুটবল নিয়ে এই নির্মল উন্মাদনা হয়তো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ এখনো হাসতে পারে, মজা করতে পারে, বন্ধুত্বপূর্ণভাবে তর্ক করতে পারে। আর সেটাও কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।

কখনো কখনো একটি দেশের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য বড় কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং ছাদের ওপর উড়তে থাকা একটি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার পতাকা, যার নিচে দাঁড়িয়ে কয়েকজন বন্ধু প্রাণ খুলে হাসছে। সেই হাসির মূল্যও কম নয়।

লেখক: মো. আব্বাস বর্তমানে কাজ করছেন কর্পোরেট কমিউনিকেশনে। ইমেল: [email protected]

ভারতের বিপক্ষে আরও ভালো খেলার প্রত্যয় প্রীতিদের

মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু জয় পেয়েও যেন পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কারণ স্কোরবোর্ডে চার গোল থাকলেও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন ফুটবলাররা। 

শুক্রবার গোয়ার উতোর্দা বিচের প্ল্যানেট হলিউড বিচ রিসোর্টে দুই দলের মানসিকতার পার্থক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বাগতিক ভারতের খেলোয়াড়দের মুখে ছিল স্বস্তি ও হাসি, অন্যদিকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দেখা গেছে অনেকটাই গম্ভীর। মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় সত্ত্বেও নিজেদের খেলায় বেশ কিছু ঘাটতি খুঁজে পেয়েছেন তারা। 

ম্যাচের পরদিন ফুটবলারদের বিশ্রাম দেওয়া হয়। সকালে সমুদ্রসৈকতে হাঁটা এবং সংক্ষিপ্ত আইস-বাথ সেশন ছাড়া কোনো অনুশীলন ছিল না। আগামীকাল পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরবে দল। এরপর রোববার গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। 

মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে একটি গোল করা ফরোয়ার্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতি স্বীকার করেছেন, জয় পেলেও পারফরম্যান্স নিয়ে দলের মধ্যে কিছুটা হতাশা রয়েছে। বাংলাদেশ অসংখ্য সুযোগ তৈরি করলেও অনেকগুলো নষ্ট করেছে। পাশাপাশি রক্ষণভাগের ভুলে দুই গোলও হজম করতে হয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় মালদ্বীপের বিপক্ষে আগের দুই দেখায় কোনো গোলই খায়নি তারা। 

তবে ম্যাচ নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে খুব বেশি আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রীতি। তিনি বলেন, “এ নিয়ে আমরা খুব বেশি কথা বলিনি। কোচ খুশি, কারণ আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল তিন পয়েন্ট পাওয়া, আর আমরা সেটা অর্জন করেছি।” 

এদিকে কোচিং স্টাফ মালদ্বীপ ম্যাচের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করতে বৈঠক করেছে। ম্যাচের পরিসংখ্যান পর্যালোচনার পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে কৌশলও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। 

তবুও ভারতের বিপক্ষে ভালো কিছু করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী প্রীতি। তার বিশ্বাস, এই ম্যাচে বাংলাদেশ আরও উন্নত ফুটবল খেলতে পারবে। 

প্রীতি বলেন, “ভারতের বিপক্ষে খেললে আমরা বাড়তি শক্তি পাই। তাদের বিপক্ষে আমরা সবসময়ই ভালো খেলি। ভারত শক্তিশালী দল, আবার প্রতিবেশী দেশও। তাই ম্যাচটি আমাদের জন্য আলাদা অনুপ্রেরণার।” 

গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন এই ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে একাদশে না থাকলেও তা নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। 

তিনি বলেন, “কোচ হয়তো মনে করেন শুরুর একাদশে অন্যরা ভালো বিকল্প। আমরা তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তবে আমাদের ফিনিশিং আরও ভালো করতে হবে এবং আমরা সেটি নিয়েই নিয়মিত কাজ করছি।” 

রোববারের বাংলাদেশ-ভারত লড়াই শুধু গ্রুপ সেরার লড়াই নয়, সাফ নারী ফুটবলের দুই প্রধান শক্তির আরেকটি বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথও। আর সেই ম্যাচে নিজেদের সেরা রূপে ফিরতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশের মেয়েরা।