28.2 C
Dhaka
Home Blog

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে তার মূল দায়িত্ব প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো। তবে সুযোগ পেলেই গোল করার ক্ষমতাও যে তার আছে, সেটি বহুবার প্রমাণ করেছেন তপু বর্মণ। বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ডিফেন্ডার এবারও দেখালেন নিজের সেই দক্ষতা। তার জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার স্তাদিও অলিম্পিকো দে সেরাভেলেতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের দুই গোলই এসেছে তপু বর্মণের কাছ থেকে।

এই জয় বাংলাদেশের জন্য আরও বিশেষ, কারণ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। ইউরোপের মাটিতে অভিষেক ম্যাচে পাওয়া এই সাফল্য নতুন অধ্যায়ের দারুণ সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ডুলির অধীনে প্রথম ম্যাচেই মাঠের নিয়ন্ত্রণে বেশ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে ৫৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা। তবে আক্রমণের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল স্বাগতিক সান মারিনো। তারা মোট ১৩টি শট নেয়, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বাংলাদেশ ৮টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।

অবশ্য বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে নিচের সারির দলগুলোর একটি সান ম্যারিনো। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২১১ নম্বরে থাকা দলটির বিপক্ষে কাগজে-কলমে বাংলাদেশই ছিল ফেভারিট। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার কোনো ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে ম্যাচ, নতুন কোচের অধীনে প্রথম পরীক্ষা এবং সাম্প্রতিক ব্যর্থতার চাপ মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে ছিল কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জেই দারুণভাবে উতরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে। স্বাগতিকরা প্রথম দিকে আক্রমণে উঠলেও বাংলাদেশের রক্ষণকে খুব বেশি ব্যস্ত রাখতে পারেনি। ধীরে ধীরে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে জামাল ভূঁইয়ারা।

বাংলাদেশ প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করলেও গোল আসে ১৬তম মিনিটে। হামজা চৌধুরির ফ্রি-কিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে শেখ মোরসালিনের দারুণ ক্রসে তপু বর্মণ হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বেরার্দির পাস থেকে নিকোলাস গিয়াকোপেত্তি গোল করে সমতা ফেরান। এরপরই আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও গোলরক্ষকের সঙ্গে একা হয়ে সাদ উদ্দিন সুযোগ নষ্ট করেন।

বিরতির পর কোচ থমাস ডুলি শমিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানাকে নামালে বাংলাদেশের আক্রমণে নতুন গতি আসে। সোহেল রানার সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়, আর ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে মিতুল মারমা দূরপাল্লার একটি শক্তিশালী শট এক হাতে ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন।

ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনা ও ফাউল বাড়তে থাকলেও আবারও নায়ক হন তপু বর্মণ। হামজা চৌধুরির আরেকটি নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। তাতেই আবার লিড পায় বাংলাদেশ।

শেষ দিকে মিতুলের একটি ভুলে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও বল গোললাইন অতিক্রম করেনি। যোগ করা সময়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষ বাঁশির সঙ্গে ইউরোপের মাটিতে স্মরণীয় জয় উদযাপন করে বাংলাদেশ।

ঋণের বোঝা বাড়ছে: চলতি অর্থবছরে দেশে-বিদেশে শোধ করতে হবে ৩০.৫৯ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ

একসময় সরকারের রাজস্ব উদ্বৃত্ত থেকে উন্নয়ন ব্যয়ের একটি অংশ মেটানো সম্ভব হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন শুধু উন্নয়ন ব্যয় নয়, সরকারের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতেও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এই অবনতির চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে। ওই বছর সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রকৃত রাজস্ব আয় ৪৬৩ কোটি টাকা কম পড়ে। পরে সেই ঘাটতি ঋণ নিয়ে পূরণ করা হয়।

পরের বছর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকায়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রধান মাধ্যম বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পুরো ব্যয়ই ঋণ নিয়ে চালাতে হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকটের পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ। একদিকে সরকার বড় বড় মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে, অন্যদিকে বাজেটের আকারও দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে রাজস্ব আদায় বাড়েনি। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান ক্রমেই বড় হয়েছে, আর সেই ঘাটতি পূরণে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিতে হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ ‘আর্টিকেল ফোর কনসালটেশন রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮৮ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪১ শতাংশের সমান। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের অন্যতম বড় ঋণদাতা সংস্থা আইএমএফ তাদের ঋণ স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে বাংলাদেশকে ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ থেকে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় স্থান দিয়েছে। ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, জিডিপির তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ, রপ্তানি আয় ও রাজস্ব আদায়ের দুর্বল অবস্থার ভিত্তিতেই এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এই ঋণ পরিশোধের চাপ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সরকার এখন তাদের প্রথম বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ঋণ পরিশোধ ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধি। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল ২৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, অতীতে নেওয়া উচ্চ সুদের এবং স্বল্প গ্রেস পিরিয়ডের বিদেশি ঋণ এখন বড় চাপ তৈরি করছে। এছাড়া মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাজেট টিকিয়ে রাখতে নেওয়া বিপুল ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়ও এখন চলে এসেছে।

এই বাড়তি ঋণ পরিশোধের চাপ সরকারের আর্থিক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেট ব্যবস্থাপনাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি কমাতে এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল অর্থায়নের জন্য সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভ্যন্তরীণ ঋণের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। কিন্তু এতে সুদের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারের মোট ঋণ পরিশোধ ব্যয়ের ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশই গেছে অভ্যন্তরীণ ঋণের পেছনে। সমপর্যায়ের অন্যান্য অর্থনীতির তুলনায় এই হার অনেক বেশি।

আইএমএফ আরও সতর্ক করেছে, ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। এতে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা ব্যাংক খাত আরও সংকটে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে ঋণের এই চাপ সামাল দেওয়া আরও কঠিন হবে।

আইএমএফ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাজস্ব আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধ ও সুদ ব্যয়ের উচ্চ হার আগামী বছরগুলোতে রোলওভার বা পুনঃঅর্থায়নের ঝুঁকি বাড়াবে।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো ৭ শতাংশের নিচে, যা এ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম কম। ফলে সরকারের পক্ষে বাড়তে থাকা ঋণের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ তার উত্তরসূরির জন্য রেখে যাওয়া এক নোটে বলেছেন, দেশের রপ্তানি আয় ও সরকারি রাজস্বের তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ অনেক দ্রুত বাড়ছে। তিনি নতুন সরকারকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চড়া সুদের কঠিন শর্তের বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

আইএমএফ ও দেশীয় অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব প্রশাসন, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতের বাজেট পরিচালনা করা সরকারের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে।

 

 

নতুন মামলায় আইভীকে ‘গ্রেপ্তার দেখানো’র বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কোনো মামলায় জামিন পাওয়ার পর, নতুন কোনো মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাকে কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন গ্রহণ না করতে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে আজ রোববার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে আইভী এ রিট করেছিলেন। রিটে তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ২ মার্চের নিম্ন আদালতের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে আজকের আদেশের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মো. মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সেলিনা হায়াৎ আইভী গত বছরের ৯ মে থেকে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ৯ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ইতোমধ্যে ১০টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, প্রতিবার তিনি জামিন পাওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা দেওয়া হচ্ছে, যদিও এজাহারে (এফআইআর) তার নাম ছিল না।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কাউকে কোনো মামলায় “গ্রেপ্তার দেখানো”র আগে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। নতুন আইনি বিধান অনুযায়ী, অভিযোগটি অবশ্যই “সুপ্রতিষ্ঠিত” হতে হবে, অর্থাৎ এর পেছনে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ থাকতে হবে। কিন্তু আইভীর ক্ষেত্রে তেমন কোনো ভিত্তি দেখানো হয়নি। এটা স্পষ্ট যে, তার কারামুক্তি ঠেকাতেই একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

স্বেচ্ছায় মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে গেলেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স

গ্রেপ্তারের এক মাসের কিছু সময় পর জনপ্রিয় মার্কিন সংগীতশিল্পী ব্রিটনি স্পিয়ার্স স্বেচ্ছায় একটি পুনর্বাসন (রিহ্যাব) কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন।

ব্রিটনির একজন প্রতিনিধি রোলিং স্টোনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রোলিং স্টোনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটনি নিজেই এই চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে গত ৪ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির বাইরে ব্রিটনি স্পিয়ার্সকে মদ্যপ ও মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, কর্মকর্তারা তার মধ্যে মাদকাসক্তের লক্ষণ দেখতে পান এবং তাকে একাধিক টেস্টে অংশ নিতে বলা হয়।

পরে তাকে ক্যালিফোর্নিয়া ভেহিকল কোড ২৩১৫২(জি) অনুযায়ী অ্যালকোহল ও মাদকের প্রভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ভেনচুরা কাউন্টি প্রধান কারাগারে নেওয়া হয়।

ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারের পর ব্রিটনির প্রতিনিধি জানান, তার জীবনে পরিবর্তন আনা খুব দরকার। তিনি নিজেই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

ব্রিটনির প্রতিনিধি বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ব্রিটনি সঠিক উদ্যোগ নেবেন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। আশা করি, এটি তার জীবনে পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হবে। এই কঠিন সময়ে তিনি যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন পান, সেটিই আমাদের কামনা।

তিনি আরও যোগ করেন, ব্রিটনির ঘনিষ্ঠজনরা তার সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ সফলতার জন্য একটি পরিকল্পনা করবেন।

পরবর্তীতে ব্রিটনি নিজেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি লেখেন, তোমাদের সবার সমর্নের জন্য ধন্যবাদ। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো সত্যিই অনেক ভালো। সবার প্রতি অনুরোধ, আমার পাশে থাকবেন।

ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে।

ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে শুরু করেছে ইরান। তবে, এ হামলায় নতুন করে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য ইসরায়েলের দুটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত করেছে। 

সকালে ইরান হামলা শুরু করলে ইসরায়েলের শহরগুলো রাস্তা জনশূন্য হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।

আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আমিরাত তা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

বাহরাইন এর আগে দেশটির ভেতরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে, পরে দেশজুড়ে বিপদ কেটে যাওয়ার সাইরেন বাজানো হয়েছে।

ইরানি হামলার মধ্যে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির জনগণকে ‘ঘরে থাকার’ আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। 

কুয়েতের সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন ও ভবন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে, সকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা শুরুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করে ইরান।

আমিরাতে হামলায় এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, প্রতিবেশী সিরিয়ায় অজ্ঞাত মিসাইলের হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশটির ৩১ প্রদেশের মধ্যে ২০টিতে হামলা হয়েছে।

দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও ইরানী সেনাবাহিনীর সব কমান্ডার সুস্থ আছেন।

গুলশানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ড. ইউনূস, সময় দিচ্ছেন পরিবারকে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তিনি এখনো যমুনায় অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন, সাজাচ্ছেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও।

অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, মাস খানেক বা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন। তবে এখনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি যমুনায় আছেন।

ড. ইউনূসের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানান, ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ গুছাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, মূলত ইউনূস সেন্টারে ফেরার কাজ ও নথিপত্র গোছাতে ব্যস্ত তিনি। কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। তরুণদের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়ে ভাবছেন, তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন বা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের ধারণার ওপর ভিত্তি করেই নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হতে পারে। তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদেশ থেকেও সফরের জন্য আমন্ত্রণ পান তিনি। এ ব্যাপারে তাকে সহায়তা করছেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। কোথায় তিনি সশরীরে যাবেন আর কোথায় ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দেবেন সে ব্যাপারেও কাজ করতে হয় তাকে।

যমুনায় ড. ইউনূসের আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে কম্পাউন্ডের ভেতরেই কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। নাশতার পর সকাল ১০টার দিকে কাজ শুরু করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তার সঙ্গে দেখা করতে চান, তাদের যেন সুযোগ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, ‘তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, যারাই দেখা করতে চায়, তাদের যেন সুযোগ দেওয়া হয়। আগে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এখন তিনি সবার কথা শুনতে চান।’

নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। কেউ অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা শুনতে চান, কেউ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চান, আবার কেউ পেশাগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে ড. ইউনূসের। সফরের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তার এক সহযোগী।

পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে ড. ইউনূসের মনোযোগ এখন পরিবারের দিকে। অফিসের কাজ শেষে তিনি অসুস্থ স্ত্রীর পাশেই থাকেন। বিকেলে ৫টার দিকে তিনি আরেক দফা হাঁটাহাঁটি করেন। সন্ধ্যা কাটে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে। এ ছাড়া মেয়ের দুই বিড়াল ‘মিনু’ ও ‘কায়রো’র সঙ্গেও সময় কাটে তার।

মহাসড়ক নির্মাণের খেসারত কায়পুত্ররা দেবে কেন?

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ আলিপুর ইউনিয়নের একটি মর্মন্তুদ ঘটনা এখনো অনেক মানুষের কাছেই অজানা। কোনো প্রত্যন্ত চর বা গভীর অরণ্য নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশেই ঘটছে ঘটনাটি।

সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়কের পার ঘেঁষে ৪৬টি কায়পুত্র পরিবার কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছে। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) দক্ষিণ আলিপুরের ভেতর দিয়ে মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করলে সড়কের পাশেই থাকা কায়পুত্রদের পাঁচটি পরিবারের ঘড়বাড়ি ভেঙে পড়ে। হতভাগ্য পরিবারের সদস্যরা এখন খোলা আকাশের নিচে পলিথিনের ছাউনিতে রাত পার করছেন। বাকিরাও একই ভাগ্য বরণের হুমকিতে রয়েছেন।

উচ্ছেদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা, কায়পুত্র সম্প্রদায়ের লোকজন ও স্থানীয় সাংবাদিক মারফতে জানা যায়, সওজ তাদের অধিকৃত জমিতে যারা বসবাস করছেন তাদের আগামী ২৪ ও ২৫ জুনের মধ্যে চলে যেতে মাইকিং করছে। অন্যথায়, তাদের ঘড়বাড়ি ভাঙা পড়বে। এটা যদি সত্যি হয়, তবে তা কেবলমাত্র একটি উচ্ছেদের ঘটনাই হবে না; বরং বাংলাদেশ কতটা মানবিক সেই প্রশ্ন সামনে আসবে। কারণ এসব ভূমিহীন পরিবারের যাওয়ার মতো আর কোনো আশ্রয় বা বিকল্প বাসস্থান নেই।

কায়পুত্ররা ঐতিহ্যগতভাবে খোলা মাঠে শূকর চড়ানো গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠী বাংলাদেশের একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যারা পেশাগত পরিচয়ের কারণে নানাবিধ সামাজিক বঞ্চনা, বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার শিকার। সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর জেলার প্রায় ৭৫টি গ্রামে তাদের বসবাস। তাদের মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ১২ হাজার। সাধারণ মানুষ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারি নথিপত্রে এখনো এই সম্প্রদায়কে ‘কাওড়া’ নামে সম্বোধন করে, যা একটি অবমাননাকর ও নেতিবাচক অর্থবহনকারী শব্দ। বর্তমানে এই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদেরকে ‘কায়পুত্র’ নামেই পরিচিত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ এই নামের মধ্য দিয়ে তারা দীর্ঘদিনের অপমান ও হেয় প্রতিপন্নতার বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ার পথ খুঁজছেন। তবে শুধু নাম পরিবর্তন করলেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তৈরি হওয়া গভীর সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য মুছে ফেলা যায় না।

সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে কায়পুত্ররা এক অস্বস্তিকর ও প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছে। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে, যেখানে শূকরকে অপবিত্র মনে করা হয় এবং ইসলামে এর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ, সেখানে পেশাগত পরিচয়ের কারণে কায়পুত্ররা প্রায়শই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর অবজ্ঞা ও ঘৃণার শিকার হন। একইসঙ্গে, হিন্দু সমাজের কিছু অংশেও ঐতিহাসিকভাবে তাদের ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সম্ভবত এমন আর কোনো জনগোষ্ঠী খুঁজে পাওয়া যাবে না, যারা এত গভীরভাবে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, একঘরে করে রাখা ও বঞ্চনার শিকার। দক্ষিণ আলিপুরের কায়পুত্র জনগোষ্ঠী প্রতিদিন এই সামাজিক বোঝা বহন করে চলেছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন খতিয়ান নম্বর ২-এর আওতাভুক্ত সরকারি খাসজমির ওপর তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে প্রবীণ অনেক বাসিন্দার দাবি, বাংলাদেশ স্বাধীনের আগ থেকেই তারা এ এলাকায় আছেন। অনেকের এখানেই জন্ম এবং বড় হওয়া। কেউ কেউ আইয়ুব খানের আমলের কথাও স্মরণ করতে পারেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে এখানে বসবাস করলেও তাদের দারিদ্র্য এখনো চরম পর্যায়ে রয়ে গেছে।

এখানকার কায়পুত্রদের ঘরবাড়ি মূলত অস্থায়ী ঝুপড়ির মতো, যা গোলপাতা, মরিচা পড়া টিন ও পলিথিন দিয়ে তৈরি। সেখানে কোনো যথাযথ পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থা নেই। ৪৬টি পরিবারের অনেকেই এখনো খোলা স্থানে মলত্যাগ করে। কারণ তাদের শৌচাগারের কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক নারী, প্রবীণ ও বিধবা ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। এমনকি প্রতিবন্ধীদের অনেকে সরকারি ভাতা পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কোনো ভাতা পান না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তাদের এই দারিদ্র্য এমন এক সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ফল, যা এখন প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় কায়পুত্র নারী শেফালি মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি জানান, এখন আর আগের মতো দিনমজুরের কাজের জন্য ডাক পান না। কারণ, তারা ‘নিম্নবর্ণের’ মানুষ হিসেবে বিবেচিত। অনেক নারীই খোলাখুলিভাবে সামাজিক অপমান ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তাদের অভিযোগ, বাজারে বা চায়ের দোকানে তাদেরকে অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়, শুধুমাত্র তাদের পরিবারের পুরুষরা শূকর চড়ানোর কাজে যুক্ত আছেন বলে। অথচ দেশে শূকরের মাংসের একটি উল্লেখযোগ্য বাজার রয়েছে, যা অর্থনীতিরও একটি অংশ। কায়পুত্রদের কায়িক শ্রমে উৎপাদিত শূকরের মাংস অমুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক মানুষের খাবার। এই মাংস ঢাকাসহ বেশ কিছু বড় শহরের হোটেলে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, সেই মানুষগুলো সমাজের চোখে প্রায় অদৃশ্য এবং অনেক ক্ষেত্রেই অবাঞ্ছিত রয়ে গেছে।

কায়পুত্রদের জীবিকা ক্রমশ হুমকির মুখে পড়েছে। কারণ ঐতিহ্যবাহী শূকর পালন পেশা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। চারণভূমির বড় একটি অংশ মাছের ঘেরে পরিণত হওয়ায় শূকর পালনের জন্য প্রয়োজনীয় খোলা জমি এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে ও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে অনেক কায়পুত্র ইতোমধ্যে তাদের বংশানুক্রমিক পেশা ত্যাগ করে মাছ ধরা পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। গবেষকদের মতে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী এক প্রজন্মের মধ্যেই ঐতিহ্যবাহী শূকর পালন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ আলিপুরে উচ্ছেদের এই ঘটনা তাদের শেষ অবলম্বনগুলোর একটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

একথা সত্য যে বাংলাদেশের সড়ক নির্মাণ প্রয়োজন। উন্নত অবকাঠামো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং জনকল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উন্নয়নের অর্থ এটা হতে পারে না যে সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষগুলোকে ভিটেহারা করে দেওয়া।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ দাবি করছে, জমিটি আইনগতভাবে তাদের মালিকানাধীন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দায়িত্ব তাদের নয়, বরং জেলা প্রশাসনের। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই অবস্থান সঠিক হতে পারে। জানা যায়, জমিটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৯৬২ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে অধিগ্রহণ করে এবং বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যমান ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়ককে সম্প্রসারণ করে ৩৪ ফুট প্রশস্ত দুই লেনের মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে।

কিন্তু এখানে আইনগত বিষয়টি প্রধান নয়। যখন রাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান মানুষের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব ন্যস্ত করে, তখন এসব পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অংশ অর্থাৎ যারা উচ্ছেদের শিকার, তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

কায়পুত্ররা উন্নয়নের বিরোধিতা করছেন না। বরং তারা একটি বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে তাদের যে বসতি রয়েছে, তার পেছনে আরও কিছু খাসজমি রয়েছে, সেখানে তাদের পুনর্বাসন করা এবং সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা অন্য কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন না—শুধু বসবাসের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা চাইছেন। তাদের এই দাবি অত্যন্ত সংযত ও ন্যায্য; রাষ্ট্রের উচিত তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই পদক্ষেপের পেছনে আরও একটি বৃহত্তর নীতিগত প্রেক্ষাপট রয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সাতক্ষীরা জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ আলিপুরের বাস্তবতা সেই দাবিকে স্পষ্টভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যদি এই কায়পুত্র পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলাকে গৃহহীনমুক্ত বলা যায় না। এই সংকটের অবিলম্বে নীতিগত সংশোধনের দাবি জানান তারা।

পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসনকে নিকটবর্তী খাসজমি বরাদ্দ দিতে হবে; সব পরিবারকে সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত বাসিন্দাদের ফ্যামিলি কার্ড, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এটি মূলত আমরা কেমন দেশ গড়ে তুলতে চাই, সেই নৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত—আমরা কি এমন একটি দেশ চাই, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে সড়ক সম্প্রসারণ করে; নাকি এমন একটি দেশ, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অদৃশ্য থেকে যাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর দিয়েই মহাসড়ক নির্মিত হয়। দক্ষিণ আলিপুরের মানুষ কোনো অবৈধ দখলদার নয়; তারা এমন নাগরিক, যাদের জন্য সমাজ কখনোই প্রকৃত অর্থে কোনো জায়গা তৈরি করেনি। ফলে তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। নৈতিকভাবে এই দায় আমাদের সমগ্র সমাজের ওপর বর্তায়। কায়পুত্ররা প্রজন্মের পর প্রজন্ম সমাজের প্রান্তে বসবাস করে এসেছে। রাষ্ট্র যেন তাদের সেই প্রান্ত থেকেও সম্পূর্ণভাবে ফেলে না দেয়।

সাতক্ষীরার দক্ষিণ আলিপুর থেকে তথ্য সংগ্রহে লেখককে সহায়তা করেছেন সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) গবেষণা দলের সদস্য রবিউল্লাহ, ফাহমিদা রহমান ও ফাহমিদা আফরোজ নাদিয়া।

ফিলিপ গাইন: গবেষক এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে লম্বা ও খাটো ফুটবলারের উচ্চতার ব্যবধান ৪৫ সেন্টিমিটার

বিশ্বকাপ মানেই গোল, রেকর্ড, তারকা আর চমকপ্রদ গল্পের মেলা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে আলোচনার একটি ভিন্ন বিষয়ও সামনে এসেছে খেলোয়াড়দের উচ্চতা। এক প্রান্তে আছেন ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা, অন্য প্রান্তে সবচেয়ে খাটো ফুটবলার। আর তাদের মাঝে ব্যবধান ০.৪৫ মিটার।

এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে লম্বা ফুটবলার হলেন ফ্লোরিয়ান উইগেলে। অস্ট্রিয়ার এই গোলরক্ষকের উচ্চতা ২.০৫ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি। শুধু এবারের আসরেই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা স্কোয়াডভুক্ত খেলোয়াড়ও তিনি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল আন্দ্রেয়াস নোপার্টের দখলে, যার উচ্চতা ছিল ২.০৩ মিটার।

উচ্চতার তালিকায় এরপরই আছেন ড্যান বার্ন, আলভারো মন্তেরো এবং স্টেপান রেদেলিক। তিনজনেরই উচ্চতা ২.০১ মিটার। আকাশি বলের লড়াইয়ে তারা প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে উচ্চতার তালিকার একেবারে নিচে রয়েছেন সিজার ইয়ানিস। পানামার এই মিডফিল্ডারের উচ্চতা মাত্র ১.৬০ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। তার ঠিক ওপরে রয়েছেন জেরেমি আন্তোনিসে, যার উচ্চতা ১.৬৪ মিটার। তবে খাটো হওয়াটা তাদের জন্য কোনো সীমাবদ্ধতা নয়। বরং দ্রুত গতি, ভারসাম্য ও সংকীর্ণ জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতাই তাদের বড় শক্তি।

মজার বিষয় হলো, ইংল্যান্ডের ড্যান বার্ন এবং পানামার সিজার ইয়ানিসের উচ্চতার পার্থক্য ৪১ সেন্টিমিটার। আর ভাগ্যের পরিহাসে, ‘এল’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড ও পানামা মুখোমুখি হবে। ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে লম্বা আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের একজন এবং সবচেয়ে খাটো ফুটবলারের একই মাঠে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন এনইসিতে

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আজ সোমবার ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন এই এডিপি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সংস্কারমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

এনইসি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নতুন সরকারের অধীনে প্রথম এনইসি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা অংশ নেন।

বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রণয়নাধীন একটি কৌশলগত আর্থিক পরিকল্পনা কাঠামোর নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়, যা সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) অধীনে একটি উপদেষ্টা কমিটি প্রস্তুত করছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত এডিপির আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে।

এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় বেশি, যা সরকারের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার উন্নতি নির্দেশ করে।

নতুন এডিপিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১ হাজার ২৭৭টি নতুন প্রকল্পের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) ৮০টি প্রকল্প এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১৪৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, কর্মসূচিটি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগে জোরালো গুরুত্বের প্রতিফলন।

এডিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়নের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় উন্নত সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

১৫টি খাতের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে।

এ ছাড়া, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নতুন অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর একটি বড় অংশ বৈদেশিক অর্থায়ননির্ভর, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থার প্রতিফলন।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকা প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পে নতুন ব্যয় সীমিত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে উন্নয়ন ব্যয় আরো কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হয়।

সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপির আকার ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় সম্পদ থেকে বরাদ্দ ৪৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ৫২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নতুন এডিপিতে দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পর্যটন, নীল অর্থনীতি, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের স্ব-অর্থায়িত প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত করলে মোট এডিপির আকার দাঁড়াবে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ দশমিক ৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৩ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা সরকারি ও নিজস্ব উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার দশমিক ৯০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে।

কর্মসূচিতে ৯৭১টি বিনিয়োগ ও জরিপ প্রকল্পে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯১৪ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা এবং ১০৭টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পে ২ হাজার ৭৯৬ দশমিক ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

এ ছাড়া, ‘বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা’ ব্লক বরাদ্দ হিসেবে ৩৮ হাজার ২৭ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তার জন্য আরও ১৭ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

নতুন এডিপিতে খাতভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯২ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা বা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ পেয়েছে।

শিক্ষাখাত পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯১ দশমিক ১২ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ; স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ৩৫ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে বরাদ্দ হয়েছে ৩২ হাজার ৬৯১ দশমিক ৫৪ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ; গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে বরাদ্দ ২০ হাজার ৩৬১ দশমিক ৭২ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এই পাঁচ খাতই মোট ক্ষেত্রভিত্তিক বরাদ্দের ৬২ শতাংশের বেশি।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৭৩৫ দশমিক ১০ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৩০ হাজার ৭৪১ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২৬ হাজার ৮০৬ দশমিক ২৬ কোটি টাকা।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২০ হাজার ৮৩৫ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯ হাজার ৪৪০ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ পেয়েছে ১৪ হাজার ৯৩৮ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এ ছাড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৭ হাজার ৪০৩ দশমিক ৭৪ কোটি টাকা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৮ হাজার ২২০ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ২০৬ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন এসডিজি, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ), জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি), সবুজ জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কৌশল (জিসিআরডি) এবং ডেল্টা অ্যাপ্রাইজাল ফ্রেমওয়ার্কের (ডিএএফ) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

যেসব প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত, পিপিপি উদ্যোগ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন রয়েছে, সেগুলোকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সময়কালে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে সম্পন্ন হওয়ার জন্য চিহ্নিত ২৬টি প্রকল্প পরবর্তী অর্থবছরে বহন করা হবে।

বিএনপি মনোনীত মাধবী মার্মার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাধবী মার্মার মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা।

চন্দ্রা চাকমার অভিযোগ, মাধবী মার্মা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য। তিনি এ পদে থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।

আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিল জমা নেওয়া হয়।

দুপুরে মাধবী মার্মার বিরুদ্ধে আপিল জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চন্দ্রা চাকমা। তিনি বলেন, ‘বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য মাধবী মারমা লাভজনক পদে থেকে পদত্যাগ না করে গত ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আইনগতভাবে এ মনোনয়নপত্র অবৈধ।’

চন্দ্রা চাকমা জানান, তিনিও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিয়েছিলেন। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক।

চন্দ্রা চাকমা বলেন, ‘মাধবী মার্মা পদত্যাগ করেননি। ফলে তিনি জেলা পরিষদের আইন যেমন লঙ্ঘন করেছেন, তেমনি নির্বাচন কমিশনের আইনও লঙ্ঘন করেছেন।’

তবে চন্দ্রা চাকমার অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবী মার্মার দাবি, তিনি গত ২০ এপ্রিল বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

আজ দুপুরে মাধবী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “আমি ইতোমধ্যে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং এটার কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন কি না, জানতে চাইলে মাধবী মার্মা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্রের আবেদনে এই ধরনের তথ্যের ঘর উল্লেখ ছিল না। আবেদনের ফরমে এই অপশন ছিল না।’

এদিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২০ এপ্রিল মাধবী মার্মা তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে সেই পদত্যাগ পত্রটি আজ রোববার তারা গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মাধবী মার্মা তার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

কবে পদত্যাগ করেছেন জানতে চাইলে মুহা. আবুল মনসুর বলেন, ‘তার পদত্যাগের কপি আজ আমি হাতে পেয়েছি।’

গত ৮ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গত ২১ এপ্রিল।

এর আগে, গত ২০ এপ্রিল বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য ৩৬ জনকে মনোনয়ন দেয়। এই তালিকায় আছেন মাধবী মার্মা।