31 C
Dhaka
Home Blog

স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে হবে। এটা আমরা আগেও বলেছি। এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজগুলো করা হবে।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে হাজীপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৭ তারিখ আমরা শপথ নিয়েছি। এখন তো অনেক ভালো।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হয়েছি। ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ঋণী। বরাবরই তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সেই সমর্থনের কারণেই আমি আজ কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে পৌঁছান। সে সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থকেরা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

 

 

পুরোনো কোনো গন্ধে হঠাৎ শৈশব মনে পড়ে কেন?

অফিস শেষে বিকেলে বাড়ি ফিরছিলেন রকিব। হঠাৎ দেখলেন, দূরের আকাশ কালো হয়ে বৃষ্টি নামছে। আর তখনই ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ ভেসে এলো বাতাসে। থমকে গেল এলোমেলো ভাবনা। মনে পড়ে গেল শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা, গ্রামের বাড়ির দক্ষিণের জানালায় বসে কত বিকেল এমন বৃষ্টি আর মাটির গন্ধে কেটেছে! সুদূর অতীতের সেই চেনা ঘ্রাণ কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল শৈশবে।

এমন অনুভূতি কেবল রকিবেরই হয়েছে, এমন না। অনেক বছর পর গ্রামে গিয়ে পুরোনো কাঠের আলমারিটা খুলতেই এক অচেনা-চেনা গন্ধে থমকে গিয়েছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী নিপাও। ধুলো, কাঠ, ন্যাপথলিন আর জমানো কাপড়ের একটা মিশ্র ঘ্রাণ। খুব একটা যে ভালো লাগে, তা নয়। কিন্তু নিপার তখন মনে হয়েছিল, এই ঘরটায় তিনি আগেও ছিলেন। খুব ছোটবেলায়। মনে পড়ে যায়, আলমারি খুললে পাওয়া যেত মায়ের শাড়ি, বাবার পুরোনো পাঞ্জাবি, ঈদের নতুন জামার গন্ধ।

পুরোনো কোনো গন্ধে হঠাৎ এমন করে অতীত স্মৃতি মনে পড়ে যায় কেন?

মনোবিজ্ঞানে এই অতীত-যাত্রাকে বলা হয় ‘প্রুস্ত ফেনোমেনন’ বা প্রুস্ত প্রভাব। নামটা এসেছে ফরাসি লেখক মার্সেল প্রুস্তের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ‘ইন সার্চ অব লস্ট টাইম’ থেকে। 

উপন্যাসে দেখানো হয়েছিল, কীভাবে চায়ে চুবিয়ে নেওয়া এক টুকরো মাদেলিন কেকের স্বাদ-গন্ধ এক নিমেষে কেন্দ্রীয় চরিত্রটিকে শৈশবের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সেই বর্ণনা পরে মনোবিজ্ঞান ও স্মৃতিবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ একটা উদাহরণ হয়ে ওঠে। 

২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সাইমন চু ও জন জে. ডাউনস ঘ্রাণ ও স্মৃতির এই নিবিড় সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন। এর শিরোনাম ছিল, ‘ওডার-ইভোকড্ অটোবায়োগ্রাফিক্যাল মেমোরিজ: সাইকোলজিক্যাল ইনভেস্টিগেশনস অব প্রুস্তিয়ান ফেনোমেনা’।

তাদের গবেষণায় দেখা যায়, অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের তুলনায় গন্ধ অতীত স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলতে সবচেয়ে কার্যকর। গন্ধ দিয়ে মনে করা স্মৃতিগুলোতে আবেগের তীব্রতাও বেশি।

আর সেই স্মৃতিগুলো বেশির ভাগ সময়ই শৈশবের প্রথম ১০ বছরের। অর্থাৎ ৩০ বছর বয়সে হঠাৎ কোনো গন্ধে শৈশবের হারিয়ে যাওয়া বিকেল মনে পড়ে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

আমরা যখন কোনো গন্ধ নিই, নাকের ঘ্রাণগ্রাহক কোষগুলো সেই রাসায়নিক সংকেত সোজা পাঠিয়ে দেয় মস্তিষ্কে। এই সংকেত সরাসরি মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ ‘অ্যামিগডালা’ এবং স্মৃতির অংশ ‘হিপোক্যাম্পাস’কে নাড়া দেয়। তাই একটা গন্ধ একই সঙ্গে দুটি কাজ করতে পারে, কী ঘটেছিল আর কেমন লেগেছিল। 

২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী র‍্যাচেল হার্জ ও তার সহযোগীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রেইন-ইমেজিং গবেষণা পরিচালনা করেন। তাতে দেখা যায়, চোখে দেখা বা অন্য কোনো অনুভূতির চেয়ে ঘ্রাণের মাধ্যমে মানুষের অতীত স্মৃতি বেশি মনে পড়ে। 

সহজ কথায়, চোখ দিয়ে আমরা পুরোনো একটা ছবি দেখলে হয়তো ভাবি, আরে, এটা তো সেই জায়গা! কিন্তু কোনো পুরোনো গন্ধ হঠাৎ নাকে এলে মস্তিষ্ক অনেক সময় কল্পনায় সরাসরি আবার সেই দিনগুলোতেই ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

গন্ধ নিজে কোনো জাদুর কাঠি না। আসল জাদুটা লুকিয়ে থাকে গন্ধটার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়।

সরকারি চাকরিজীবী রিয়াদ বলেন, ‘ছোটবেলায় প্রায় প্রতিদিন বিকালে নাশতায় চায়ের সঙ্গে নাবিস্কো বিস্কুট খেতাম। একদিন ঢাকার তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো ফ্যাক্টরির দিকে যাওয়ার সময় সেই বিস্কুটের গন্ধ নাকে এসে লাগে। একদম ছোটবেলায় ফরে যাই। মনে হচ্ছিল সেই দিনগুলো কোথায় হারিয়ে গেছে?’

কারও কাছে হয়তো কাদার গন্ধে কিছুই মনে হয় না। আবার বেসরকারি চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে রাজধানীর কাওরানবাজারের কাদার গন্ধ তার শৈশবে নানাবাড়ি যাওয়ার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।   

গন্ধ স্মৃতি তৈরি করে না, বড়জোর পুরোনো স্মৃতির দরজা খুলে দিতে পারে। এই কারণেই গন্ধের স্মৃতি ব্যক্তিভেদে এত আলাদা।

মাহমুদা খাতুন তার ছেলের স্কুলের নতুন বইয়ের গন্ধে নিজের স্কুল-জীবনে ফিরে যান। কখনো অনিক কারও গা থেকে ভেসে আসা আতরের গন্ধে শৈশবের ঈদের সকাল খুঁজে পান। 

ধান কাটা, শুকনো পাতার বা ভেজা মাটির গন্ধ, রান্নাঘরের কাঠের ধোঁয়া, এগুলো অনেকের কাছে শুধু প্রকৃতির গন্ধ নয়। এগুলো জীবনের কোনো একটা সময়ের সঙ্গে জুড়ে থাকা সংকেত। এ কারণে একই গন্ধ একজনকে আনন্দিত আবার অন্যজনকে বিষণ্নও করে তুলতে পারে।

জীবনের প্রথম দিকের অভিজ্ঞতাগুলো সব মানুষের কাছে একেবারে নতুন ও তীব্র থাকে। পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ তখন আমরা প্রথম অনুভব করি। এই যেমন প্রথম স্কুলে যাওয়া, ঈদের দিনের নানা আয়োজন, স্কুলের লম্বা ছুটিতে নানাবাড়ি যাওয়া, পুকুরে সাঁতার, শীতের সকালে পিঠা বা গ্রামের মেঠোপথ। 

গবেষণায় দেখা গেছে, গন্ধের মাধ্যমে মনে পড়া ব্যক্তিগত স্মৃতিগুলো বেশিরভাগ সময়ই জীবনের তুলনামূলক পুরোনো সময়কার। অবশ্য তার মানে এই না যে সব মানুষের কাছে সব গন্ধই শৈশব স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে। বরং যে গন্ধের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত আবেগ বা অভিজ্ঞতা জড়িয়ে আছে, সেটাই ফিরে ফিরে আসে।

আসাফ প্রায় ২০ বছর পর তার শৈশবের স্কুলের এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেদিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘স্কুলের সেই একই বিল্ডিংটা যেন বদলে গেছে। মাঠটাকে বেশ ছোট লাগছিল। অথচ ছোটবেলায় কত বড়ই না লাগতো! কিন্তু হঠাৎ একটা ক্লাসরুমে ঢুকে পুরোনো কাঠের গন্ধ পাই, বেঞ্চের গা থেকে।’

সেই গন্ধ তার মনে কেমন অনুভূতি তৈরি করেছিল, সে কথাও জানান আসাফ। তার ভাষায়, ‘এক মুহূর্তের জন্য যেন আমি আমার বয়স ভুলে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমি আবার সেই ছোট বালকটি হয়ে বেঞ্চে বসে আছি।’

এটা শুধু ‘মনে পড়া’ না। গবেষণায় দেখা গেছে, গন্ধের মাধ্যমে জেগে ওঠা স্মৃতি অনেক মানুষকে অতীতে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি দেয়। যাকে গবেষকরা বলেন, বিং ব্রট ব্যাক ইন টাইম।

২০০৮ সালে কোহসুকে ইয়ামামোতো ডায়েরি-ভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে দেখা যায়, গন্ধের মাধ্যমে হঠাৎ জেগে ওঠা স্মৃতিগুলো অন্য স্মৃতির তুলনায় বেশি পুরোনো, নির্দিষ্ট ও আবেগঘন হয়। এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন, গন্ধের কারণে তারা যেন অতীতে ফিরে গিয়েছিলেন।

গন্ধ আমাদের অতীতে ফেরায় ঠিকই, তবে স্মৃতি কোনো নির্ভুল ভিডিও রেকর্ডার নয়। প্রতিবার অতীতে ফেরার সময় মস্তিষ্ক স্মৃতিটাকে একটু নতুন করে আঁকে। তাই হয়তো স্মৃতির উঠোনটা বাস্তবে চেয়ে একটু বেশি উজ্জ্বল দেখায়, মায়ের মুখটা দেখায় আরও কোমল।

এইসব গন্ধ হয়তো অনেক আগে হারিয়ে যাওয়া নিজের সংস্করণকে মনে করিয়ে দেয়। কোথায় যেন রয়ে গেছে সেই পুরোনো মানুষটি, বর্তমানে আটকে পড়া ‘আমি’র মধ্যে। বড় হওয়ার ব্যস্ততায় ফেলে আসা ‘আমি’র কাছে পৌঁছানোর পথটা বন্ধ হয়ে গেছে। একটা গন্ধ সেই পথের দরজা খুলে দেয়।

‘একটি দেশ সব দলকে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে, একটি দলকে পারেনি’

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে তুলে ধরে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের একমাত্র দোষ ছিল আমরা আধিপত্যবাদ মেনে নেইনি।’

তিনি দাবি করেন, ভারতে সম্প্রতি শেষ হওয়া ছাত্র আন্দোলনের পেছনেও জামায়াতকে দায়ী করা হচ্ছে, কারণ ‘সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ন্ত্রণে আনলেও জামায়াতকে বশে আনা যায়নি’।

‘ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে সোজা পথে চলুন। জাতি কঠিন সংকটে আছে,’ সরকারের উদ্দেশে বলেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনের কাউন্সিল হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর জামায়াতের উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের একমাত্র দোষ ছিল আমরা আধিপত্যবাদ মেনে নেইনি। এবারও দেখবেন ভারতের তরুণরা রাস্তায় নেমেছে, ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে। সরকার বলে দিয়েছে, এই আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী উসকানি দিয়েছে। আমাদের নিয়ে তাদের এত ভয় কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে একটি দেশ পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে, শুধু একটি দলকে পারেনি। সেই দলের নাম জামায়াতে ইসলামী। সমস্যাটা এখানেই।’

জুলাই আন্দোলনের সময় জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে দলটির আমির বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই তারা ছাত্রদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও দলটি কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেনি। ‘আমরা বলিনি, আমাদের দলের এতজন শহীদ হয়েছেন কিংবা আন্দোলনের নেতৃত্ব আমাদের হাতে ছিল। বরং আমরা শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ও আহতদের সেবা করতে কাজ করেছি,’ যোগ করেন তিনি।

জুলাই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ, অনেকেই ছাত্রও ছিলেন না। তাদের কোনো কোটার দাবি ছিল না, সরকারি চাকরির প্রত্যাশাও ছিল না। তারা রাস্তায় নেমেছিলেন একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে যদি আমরা তাদের সঙ্গে বেইমানি করি, তাহলে আল্লাহ কি আমাদের ছেড়ে দেবেন? শহীদ পরিবারের কাছে, আহত জুলাইযোদ্ধাদের কাছে আমাদের জবাব দিতে হবে।’

বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, ব্যাংক-বিমা, করপোরেশনসহ সরকারি-বেসরকারি সবখানে ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে। ‘যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষদের সরিয়ে অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ণদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যেন একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম করা যায়,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সহযোদ্ধারা কি শুধু এ জন্য জীবন দিলেন, যুদ্ধ করলেন, পঙ্গু হলেন যে একদলকে সরিয়ে আরেক দল ক্ষমতায় বসবে? তারা তো সিস্টেমের পরিবর্তন চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আমরা আবার সেই একই অন্ধকার গলিতে ঢুকে যাচ্ছি।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভুলভ্রান্তি মানুষের হয়, দলের হয়, সরকারেরও হয়। কিন্তু আমরা মনে করি, আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা লঙ্ঘন করেছেন, বিশ্বাস রক্ষা করেননি। আপনারা ফিরে আসুন, এই দাবি মেনে নিন। ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে সোজা পথে চলুন। জাতি কঠিন সংকটে আছে। দেশের মানুষ আপনাদের পাশে থেকে দেশ গড়তে চায়।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই শহীদদের হত্যার বিচার এবং আহতদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবি থেকে জামায়াত কখনো সরে আসবে না। বিচার আজ হোক বা ৫০ বছর পরে হোক, এই বাংলার মাটিতে তা একদিন হবেই।’

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলে যাব। জাতির অধিকারের প্রশ্নে আমাদের মুখ কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’

শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ৪৬ লাখ

শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এক বছরে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গত মার্চে ৪৫ লাখ ৮৩ হাজারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট খুচরা ঋণ গ্রহীতাদের।

এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আছে, এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা চলতি বছরের মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২১ লাখ ৬৩ হাজার।

গত ২৩ জুলাই ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়, খুচরা পর্যায়ে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক ঋণের চাপ, এসএমই কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাসের কারণে এটা হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদিও উচ্চ অঙ্কের খেলাপি ঋণ বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা তৈরি করে, তবে ছোট হিসাবগুলোও বড় আর্থিক সংকটের সতর্কবার্তা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মোট বকেয়া ঋণের বিপরীতে সার্বিক মন্দ বা খেলাপি ঋণের অনুপাত গত বছর যেখানে ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ, এবার তা বেড়ে চলতি বছরের মার্চে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, যা সুশাসনের অভাবকে নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারণে খেলাপির হার খুবই কম।

বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে, ২০১৬ বা তার পরে চালু হওয়া নতুন ব্যাংক এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো ছাড়া বাকি সব রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও ইসলামী ব্যাংকগুলোতে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে খুচরা ঋণ বেড়েছে।

শিল্পভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, কুটির শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মো. মাহীয়ুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে সঠিক ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়নের অভাব। এর একটি অংশ কনজিউমার ও ক্রেডিট কার্ড ঋণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে ব্যবসা, কৃষি ও শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি সব ধরনের শিল্পেই খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়েছে।
 

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিলেন ৫২ হাজার প্রার্থী

শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৮ম ব্যাচের লিখিত বাছাই পরীক্ষা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নেন ৫২ হাজার ২০০ জন প্রার্থী।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় এ ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে আইটি প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৮ম ব্যাচে সারাদেশে মোট ৪ হাজার ৮০০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেন ৮১ হাজার ৪০০ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ৫২ হাজার ২০০টি আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব বৈধ আবেদনকারীর মধ্যেই শনিবার লিখিত বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরে পরীক্ষার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। দেশের অন্যান্য জেলাতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করেন।

রাজধানীর কল্যাণপুরে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৫ হাজার ৫০০ জন প্রার্থী। সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের প্রতি আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরে।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার)। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে শুরু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৮ম ব্যাচ।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১২ হাজার ৩৫৪ জন প্রশিক্ষণার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের মোট আয় প্রায় ৩৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকার সমপরিমাণ।

‘আর্জেন্টিনার জন্যই সাজানো ছিল বিশ্বকাপ’—ক্ষোভে ফুঁসছেন জিকো

৭৯ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল রেফারিং বিতর্ক। পরাজয়ের পর ক্ষোভ ঝাড়লেন মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জিকো বিস্ফোরক অভিযোগ করেন, ‘বিশ্বকাপ জেতার জন্য আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন। টুর্নামেন্টটা আগেই সাজানো ছিল, তাদের আর কিছুই দরকার ছিল না। রেফারি ছিলেন অন্যায্য, অন্যায্য, অন্যায্য, অন্যায্য।’

ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর লিওনেল মেসির গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।

অবশ্য ম্যাচ শেষে দলের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেন জয়সূচক গোলের নায়ক এঞ্জো ফার্নান্দেজ, ‘আমাদের দলটা অসাধারণ। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। কাতার বিশ্বকাপের চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপ খেলতে এসেছি এবং আবারও শিরোপা জিততে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

তবে মিশরের ক্ষোভের মূল কারণ ম্যাচের বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্ত। ৫৮তম মিনিটে মোস্তফা জিকো গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনার পর বিল্ডআপে অনেক দূরে সংঘটিত একটি ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগে হামদি ফাথির ওপর ফাউলের দাবি জানায় মিশর। তাদের অভিযোগ, ওই ঘটনাটি ভিএআরে যথাযথভাবে পর্যালোচনাই করা হয়নি। এই দুই সিদ্ধান্তে মিশর শিবির তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে দলটি।

মূলত ম্যাচের শেষদিকে তাদের ২-০ ব্যবধানের লিড ধরে রাখতে না পারাই শেষ পর্যন্ত বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবু ম্যাচ শেষে মিশরের খেলোয়াড়দের হতাশা ছিল স্পষ্ট। তাদের বিশ্বাস, রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।

অন্যদিকে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে এখন কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা।

এক রকম বৈরাগ্য আছে, ঘর ছাড়ার ব্যাপার আছে ‘রহে না’ গানে: শিবু

চার বছর আগে ‘হাওয়া’ সিনেমা দিয়ে সাড়া ফেলেছিলেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। এবার তিনি ফিরছেন নতুন চলচ্চিত্র ‘রইদ’ নিয়ে। ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে সিনেমাটির ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ ও ‘মন ছাড়া কি’ গান দুটি। এবার মুক্তি পেলো নতুন গান ‘রহে না’।

গানটির গায়ক শিবু কুমার শীল বলেন, ‘মেঘদলের “এ হাওয়া” গানটি “হাওয়া” সিনেমায় ব্যবহার হয়। তারই ধারাবাহিকতায় “রহে না” গানটি এই সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গানটিতে এক রকম বৈরাগ্য আছে, ঘর ছাড়ার ব্যাপার আছে। সঙ্গে আবার ঘরে ফেরার ব্যাপারও আছে। একইসঙ্গে একটা মানুষ আরেকটা মানুষের প্রতি আকুল হয়ে থাকার ব্যাপারও আছে। মানুষের ঘরে বাইরের যে অস্থিরতা, টানাপোড়ান, সেই অনুভূতিটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

রটারডাম চলচ্চিত্র উৎসবের ৫৫তম আসরের ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ অফিসিয়ালি নির্বাচিত হয় ‘রইদ’। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে ‘রইদ’ এবার মুক্তি পাচ্ছে নিজ দেশে।

সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রাম ঘিরে ‘রইদ’ সিনেমার কাহিনি। এই দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।

সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ প্রমুখ।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতে কোন দেশে কতজন নিহত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিভিন্ন দেশে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইরানে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার মিনাবে একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন ছাত্রী ও স্কুলের কর্মী নিহত হন।

ইসরায়েলে মোট ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১ মার্চ বেইত শেমেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত হন।

সংঘাতে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

লেবাননে সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়েছেন।

বাহরাইনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় একজন নিহত হন।

কুয়েতে ইরানের হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন কুয়েতি সেনাসদস্যও রয়েছেন।

ওমানের উপকূলের কাছে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিহত হন।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংঘাতসংক্রান্ত ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

অনুমতি ছাড়া শিক্ষকেরা অন্য পেশায় থাকলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

অনুমতি ছাড়া শিক্ষকেরা অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ শুক্রবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুরের কচুয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতার বাইরে অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হতে চাইলে অনুমতি নিতে হয়। এটা সরকারি নিয়ম। যারা অনুমতি নেবে না, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে।

‎এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

রাজনৈতিক যোগাযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

রাজনৈতিক যোগাযোগের ইতিহাসে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রযুক্তি। পোস্টার ও মাইকিং থেকে শুরু করে রেডিও ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল নেতার কণ্ঠকে। রাজনীতিকে দৃশ্যমান করেছিল টেলিভিশন এবং রাজনীতিকে দ্বিমুখী করেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

রাজনৈতিক যোগাযোগের তত্ত্বে মার্শাল ম্যাকলুহানের বিখ্যাত ধারণা ছিল, মাধ্যম নিজেই বার্তার অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসার পর রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম বদলেছিল, ফলে রাজনীতির ভাষা, গতি ও দর্শকও বদলেছিল। পোস্টার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত রাজনৈতিক যোগাযোগের এই বিবর্তন নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়িয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসে সেই ধারায় আরেকটি মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। এখন রাজনৈতিক বার্তা তৈরি, ব্যক্তিভেদে বদলে দেওয়া, ভোটারের মনোভাব বিশ্লেষণ, প্রচারণার উপকরণ বানানো এবং প্রতিপক্ষকে ঘিরে কৃত্রিম তথ্য ছড়ানো পর্যন্ত অনেক কাজ অটোমেশনের আওতায় আসছে।

রাজনৈতিক যোগাযোগের গবেষক ক্লাস দে ভ্রেসে এবং ফাবিও ভোটা দেখিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একইসঙ্গে প্রচারণা, রাজনৈতিক সাংবাদিকতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুপারিশ ব্যবস্থা ও নাগরিকের তথ্য গ্রহণের ধরন বদলে দিচ্ছে।

ক্লাসিক রাজনৈতিক যোগাযোগে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বক্তব্য ছিল প্রভাব বিস্তারের প্রধান উপাদান। কিন্তু এখন একটি বড় ভাষা মডেল কয়েক সেকেন্ডে একই নীতির পক্ষে শত শত যুক্তি তৈরি করতে পারে। একজন প্রার্থীর প্রচারক যেখানে দিনে কয়েকশ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, একটি এআই ব্যবস্থা একই সময়ে অসংখ্য মানুষের জন্য আলাদা কথোপকথন তৈরি করতে পারে।

২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেস প্রার্থী শামেইন ড্যানিয়েলসের প্রচারণায় ব্যবহৃত ‘অ্যাশলি’ ছিল এর একটি প্রাথমিক উদাহরণ। এটি ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত রাজনৈতিক ফোনকর্মী, যা একই সময়ে অসংখ্য ভোটারের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথন চালাতে পারত। ভোটারের পরিচিতি ও আগ্রহ বিশ্লেষণ করে কথোপকথনের বিষয়ও বদলাতে পারত। ২০টিরও বেশি ভাষায় কথা বলার সক্ষমতার বিষয়েও নির্মাতারা জানিয়েছিলেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচলিত স্বয়ংক্রিয় ফোনবার্তার মতো আগে থেকে রেকর্ড করা বক্তব্য না শুনিয়ে ‘অ্যাশলি’ তাৎক্ষণিক কথোপকথন চালাতে পারত।

বাস্তবে রাজনৈতিক যোগাযোগে একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটছে। একজন প্রার্থী আগে একটি বক্তব্য তৈরি করে লাখো মানুষকে শোনাতেন। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে একই প্রার্থী লাখো মানুষের জন্য লাখো সংস্করণের বক্তব্য তৈরি করতে পারবেন।

ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এ বিষয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। র. যোগি প্রাওয়িরা, আসিয়ারি এবং আখমাদ রোকি আলাওয়ির ২০২৬ সালের গবেষণায় তিন প্রার্থীর জোটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এএমআইএন জোট সচেতনভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি প্রত্যাখ্যান করে মানব শিল্পীদের ওপর নির্ভর করেছিল। গানজার মাহফুদ জোট লেখাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চ্যাটবট ব্যবহার করলেও কৃত্রিম ছবি ব্যবহারে দূরত্ব রেখেছিল। প্রাবোয়ো গিবরান প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি দৃশ্যপট ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে তরুণ ভোটারদের কাছে একটি নতুন, বন্ধুসুলভ ‘জেমোয়’ পরিচিতি নির্মাণ করে। গবেষণাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তি সেখানে শুধু প্রচারের উপকরণ ছিল না, প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণেরও অংশ হয়ে উঠেছিল।

রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের তত্ত্ব হচ্ছে, একজন প্রার্থী ভোটারের কাছে নিজের একটি নির্দিষ্ট পরিচিতি তৈরি করতে চান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই পরিচিতি নির্মাণের কাজকে দ্রুত ও ব্যাপক করতে পারে। একই মুখকে তরুণ, জনপ্রিয়, দরিদ্রবান্ধব, ধর্মপ্রাণ, আধুনিক বা রাষ্ট্রনায়কসুলভ—নানা দৃশ্যে উপস্থাপন করা সম্ভব। ফলে রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে প্রার্থীর ডিজিটাল পরিচয়ের দূরত্ব বাড়তে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় এর বিপজ্জনক দিকও দেখা গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর মুখ ও কণ্ঠ ব্যবহার করে তৈরি একটি কৃত্রিম ভিডিও নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি কয়েক মিলিয়ন বার দেখা হয়েছিল। মৃত একজন রাষ্ট্রনায়ককে নতুন করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে ইতিহাসকেও রাজনৈতিক প্রচারণার উপাদানে পরিণত করতে পারে।

তবে বিপদের জায়গাটি শুধু ভুয়া ভিডিও ঘিরে নয়। কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষণা আলোচনায় বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে স্বয়ংক্রিয় প্রভাব বিস্তারকারী যোগাযোগব্যবস্থার বিস্তার। ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তিনটি দেশের পরীক্ষায় ভোটারের মনোভাব ও ভোট দেওয়ার অভিপ্রায়ে অর্থবহ পরিবর্তন ঘটাতে পেরেছে।

গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, এসব ব্যবস্থা সবসময় মনস্তাত্ত্বিক কৌশল প্রয়োগ করেই মানুষকে প্রভাবিত করে না। প্রাসঙ্গিক তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপন করেও তারা রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একইসঙ্গে এটি একটি গণতান্ত্রিক সুযোগও হতে পারে।

একটি ছোট দল হয়তো আগে পেশাদার গবেষক, লেখক, ভিডিও নির্মাতা কিংবা তথ্য বিশ্লেষকের বড় দল রাখতে পারত না। এখন সীমিত সম্পদে নীতিপত্রের খসড়া, বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ, নির্বাচনী এলাকার সমস্যার তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা নাগরিক প্রশ্নের উত্তর তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তি রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা ইতোমধ্যে বাস্তব। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে শত শত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক ভিডিও পাওয়া যায়। অনেক ভিডিওতে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার তথ্য সংযুক্ত ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর মধ্যে প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য, কৃত্রিম সংবাদ প্রতিবেদন, কণ্ঠ নকল এবং প্রতিদ্বন্দ্বীকে আক্রমণকারী উপাদান ছিল। (দ্য ডেইলি স্টার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

এমনকি নির্বাচন কমিশনের নতুন স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আচরণবিধিতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সরাসরি বিধান এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভ্রান্তি, চরিত্র হনন, ভুয়া তথ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (প্রথম আলো, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল ভুয়া ভিডিও বানানোর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অথচ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা বিশ্লেষণ, ভোটারের প্রশ্নের উত্তর, নীতিপত্র তৈরি, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে একই নীতির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া, তথ্য বিশ্লেষণ ও নাগরিক মতামত সংগ্রহেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে।

হার্ভার্ডের অ্যাশ সেন্টারের আলোচনায়ও আইন প্রণয়ন ও জনসম্পৃক্ততার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা উঠে এসেছে।

তাই প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সহকারী হিসেবে ব্যবহার করবে, নাকি মানুষের মনকে অদৃশ্যভাবে পরিচালনার যন্ত্রে পরিণত করবে।

গণতন্ত্রের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে যখন ভোটারের মনে এই নিয়ে বিভ্রান্তি থাকবে যে, সে আসলে মানুষ, দল, প্রচারকর্মী নাকি একটি অ্যালগরিদমের সঙ্গে কথা বলছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়ে বিধান তৈরি করেছে। কিন্তু আইন এখানে যথেষ্ট হবে না। রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আচরণবিধি, কৃত্রিম উপাদানে স্পষ্ট পরিচিতি, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের অর্থদাতা প্রকাশ এবং নাগরিকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্ত করার সক্ষমতা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও এখন কৃত্রিম রাজনৈতিক উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং নির্বাচনী ভুয়া ভিডিও নিয়ন্ত্রণের আইন তৈরি হচ্ছে।

রাজনীতির ইতিহাসে নতুন প্রযুক্তি কখনো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে, কখনো ক্ষমতার নতুন অস্ত্র তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও তার ব্যতিক্রম হবে না। আগামী দিনের নির্বাচনে হয়তো সবচেয়ে দক্ষ প্রচারক তিনিই হবেন না, যিনি সবচেয়ে ভালো বক্তা। তিনি হতে পারেন সেই রাজনৈতিক সংগঠক, যে সবচেয়ে ভালোভাবে তথ্য, প্রযুক্তি ও মানুষের মনস্তত্ত্বকে একত্রে বুঝতে পারে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের প্রশ্নটি হবে আস্থার। ভোটারের সঙ্গে কথা বলার জন্য যদি মেশিন ব্যবহার করি, তাহলে অন্তত ভোটারকে জানাতে হবে যে, ওপাশে মানুষ নেই।

 

সাজ্জাদ সাব্বির: এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ