27.1 C
Dhaka
Home Blog

মাঠের লড়াইয়ের আগে কাগজ-কলমের যুদ্ধ: ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক কিছু রেকর্ড

ফুটবল বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়লেই এ দেশের আবহাওয়া কেমন যেন বদলে যায়! চায়ের কাপে ঝড় তোলার জন্য শীত বা বর্ষার প্রয়োজন হয় না। কেবল ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ানো দুই বন্ধুর মুখোমুখি হওয়াই যথেষ্ট। পাড়ার টং দোকান থেকে শুরু করে ফেসবুকের নিউজফিড— সবখানেই এখন তর্কের ঝাঁঝালো গন্ধ। কারণ, বাংলাদেশিদের বিশ্বকাপ-প্রেমের প্রায় পুরোটা জুড়েই তো লাতিন আমেরিকার এই দুই পরাশক্তির ভার্চুয়াল ও বাস্তব ‘যুদ্ধ’, যেখানে কেউ এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

তবে শুধু মুখের কথায় তো আর যুদ্ধ জেতা যায় না! তর্কের ময়দানে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে হলে দরকার অকাট্য যুক্তি আর কিছু জাদুকরী পরিসংখ্যান। যখন কথার লড়াইয়ে আবেগ কাজে দেয় না, তখন ঠান্ডা মাথায় ছুড়ে দেওয়া নিজ দলের পক্ষের একটা সঠিক রেকর্ডই হতে পারে আপনার ব্রহ্মাস্ত্র। তাই ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা— যে দলেরই সমর্থক হোন না কেন, নিজের ঝুলিতে কিছু ঐতিহাসিক সত্য জমা রাখা এখন সময়ের দাবি।

আসুন, মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই কাগজ-কলমের লড়াইয়ে নিজেদের এগিয়ে রাখি। দুই দলের এমন কিছু চোখধাঁধানো রেকর্ড ও পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বোলানো যাক, যা আপনার প্রিয় দলটির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে ঢাল-তলোয়ার হিসেবে কাজ করবে।

ট্রফির শোকেসে আর ফাইনালের মঞ্চে কার দাপট বেশি?

তর্কের শুরুতেই যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি ধেয়ে আসে, তা হলো— ‘ভাই, তোমাদের ট্রফি কয়টা?’ এই এক প্রশ্নে যেমন আলোচনা জমিয়ে দেওয়া যায়, তেমনি থামিয়েও দেওয়া যায়।

পরিসংখ্যান বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি আসরে (এবারেরটিসহ ২৩ বার) অংশ নিয়েছে সেলেসাওরা। পেলে-রোনালদো নাজারিওদের দেশ ফাইনাল খেলেছে ৭ বার, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ বার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২) সোনালী ট্রফিটা নিজেদের করে নিয়েছে।

অন্যদিকে, আলবিসেলেস্তেরা এই মহাযজ্ঞে অংশ নিতে যাচ্ছে ১৯তম বারের মতো। ফাইনালের মঞ্চে তারা পা রেখেছে ৬ বার। এর মধ্যে ঘরের মাঠে ১৯৭৮ সালে, দিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুতে ১৯৮৬ সালে আর লিওনেল মেসির হাত ধরে সবশেষ ২০২২ সালে— সব মিলিয়ে তারা জিতেছে ৩টি বিশ্বকাপ।

ট্রফি আর ফাইনালের লড়াইয়ে সেলেসাওরা এগিয়ে থাকলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সাম্প্রতিক দাপট কিন্তু হেলাফেলা করার মতো নয়!

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে সার্বিক পারফরম্যান্সে কে কতটা নিখুঁত?

মুখোমুখি তর্কের দ্বিতীয় ধাপে আসে দলগত ধারাবাহিকতার হিসাব-নিকাশ। ব্রাজিল এখানেও নিজেদের ‘হেভিওয়েট’ প্রমাণ করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ১১৪টি ম্যাচ খেলে তাদের জয় রেকর্ড ৭৬টি, ড্র ১৯টি আর হার মাত্র ১৯টি। প্রতিপক্ষের জালে তারা বল জড়িয়েছে ২৩৭ বার, বিপরীতে গোল হজম করেছে ১০৮টি।

খুব বেশি পিছিয়ে নেই আর্জেন্টিনাও। ৮৮টি ম্যাচ খেলে আলবিসেলেস্তেদের জয় ৪৭টি, ড্র ১৭টি ও হার ২৪টি। তারা প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছে ১৫২ বার, আর তাদের নিজেদের জালে বল জড়িয়েছে ১০১ বার।

বৈশ্বিক মঞ্চের সরাসরি দ্বৈরথে কে কাকে কতটা নাচিয়েছে?

সব তর্ক একদিকে, আর ‘বিশ্বকাপে মুখোমুখি দেখায় কে জিতেছে?’— এই প্রশ্ন সম্পূর্ণ অন্যদিকে। প্রতিবেশী এই দুই পরাশক্তি এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ। আর এই ‘সুপার ক্লাসিকো’ খ্যাত দ্বৈরথেও এগিয়ে আছে সেলেসাওরাই। ব্রাজিলের জয় ২টি ম্যাচে, আর্জেন্টিনার ১টিতে আর বাকি ম্যাচটি হয়েছে ড্র।

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে জার্মানির মাটিতে ব্রাজিল ২-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায়। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হয়।

এরপর ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে জিকো-সক্রেটিসদের ব্রাজিল ৩-১ ব্যবধানে পরাস্ত করে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে। তবে আলবিসেলেস্তেরা এর মধুর প্রতিশোধ নেয় ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। শেষ ১৬-র সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ম্যারাডোনার জাদুকরী পাস থেকে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার করা একমাত্র গোলে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।

ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব: গোল, অ্যাসিস্ট আর শিরোপার মহিমায় কে এগিয়ে?

দলগত অর্জন তো হলো, এবার আসা যাক ব্যক্তিগত জাদুতে। আর্জেন্টিনার ভক্তদের সবচেয়ে বড় ট্রাম্প কার্ড হলেন রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া মেসি। ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে সবচেয়ে বেশি ২৬টি ম্যাচ খেলার কীর্তি তো তার নামের পাশে আছেই। পাশাপাশি ‘ক্ষুদে জাদুকর’ খ্যাত এই ফরোয়ার্ডের আরও অনেক অর্জন আলবিসেলেস্তেদের জন্য তর্কের বড় শক্তি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ১১ বার ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন মেসি। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুবার গোল্ডেন বল জিতেছেন। ২০১৪ সালের ব্রাজিল ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবেও সবার চেয়ে বেশি ১৯টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২১টি গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড মেসির দখলে। এই কীর্তি অবশ্য তার আগে করেছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে। নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ ছয়টি অ্যাসিস্ট করার কীর্তিও রয়েছে দুজনের নামের পাশে। এছাড়া, সব বিশ্বকাপ মিলিয়ে গোল করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ (৬৭টি) তৈরির রেকর্ডটির যৌথ মালিকানা মেসি ও কিংবদন্তি ম্যারাডোনার।

মেসি ও ম্যারাডোনার পাল্টা জবাবে ব্রাজিল ভক্তরা হয়তো সামনে আনবেন পেলে আর ‘দ্য ফেনোমেনন’ খ্যাত রোনালদোকে। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয় পেলেকে রেখেছে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর নকআউট পর্ব বা ফাইনালে গোল করার দিক থেকে ২০০২ বিশ্বকাপের নায়ক রোনালদোর জুড়ি মেলা ভার। ১৫টি গোল নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা।

একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক কাফু তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে)। অন্যদিকে, তার স্বদেশি পেলে তিনটি বিশ্বকাপ জিতলেও চোটের কারণে ১৯৬২ সালের ফাইনালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে।

বেসরকারি খাতে আসছে বড় প্রণোদনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা

ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের চাপ ও শিল্প খাতের স্থবিরতার মধ্যে বেসরকারি খাতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্ধ কারখানা চালু হবে, নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, সরবরাহ সংকট ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো না গেলে এই প্রণোদনা উল্টো মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, শিল্প খাতের অচলাবস্থা, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় এই প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে।

এই প্যাকেজের দুটি মূল অংশ রয়েছে। প্রথম অংশ হলো ৪১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে কমপক্ষে তিন বছরের জন্য ১০ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি আমানত নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অর্থ ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন করবে এবং বাকি ৬ শতাংশ সরকার ভর্তুকি দেবে।

দ্বিতীয় অংশে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত ১৯ হাজার কোটি টাকার তহবিল। এই অর্থ সরকারের গ্যারান্টিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে দেওয়া হবে।

এই পরিকল্পনার আওতায় বড় ঋণগ্রহীতারা প্রায় ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। তবে পরিচালন ও প্রশাসনিক ব্যয়ের কারণে ছোট ঋণের সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে। বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা পরে সার্কুলারের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সবচেয়ে বড় অংশ, অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর জন্য। এছাড়া কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্প খাতের (সিএমএসএমই) জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গ কৃষি হাব উদ্যোগের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নের ১৯ হাজার কোটি টাকার অংশ থেকে ১০টি বিশেষ কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিপমেন্ট-পূর্ব রপ্তানি অর্থায়ন, সিএমএসএমই সহায়তা, প্রবাসী কর্মসংস্থান অর্থায়ন, স্টার্টআপ তহবিল ও তরুণদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি।

এছাড়া সৃজনশীল শিল্প খাতে সহায়তার জন্য করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই অর্থ ফেরত দিতে হবে না।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার (২৮টি আলাদা কর্মসূচির অধীনে) প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই উদ্যোগ সেই সময়ের পর সবচেয়ে বড় প্রণোদনা প্যাকেজ।

গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। এটি আরও কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ইস্পাত, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতের স্থবিরতা অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, আমানতকারীদের আস্থা কমে যাওয়া এবং ঋণের উচ্চ সুদ এসএমই খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত করেছে।

গভর্নর আরও বলেন, অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়ম ব্যাংকিং খাতকে দুর্বল করেছে এবং তারল্য সংকট বাড়িয়েছে। তার মতে, অনেক খেলাপি ঋণ ব্যবসায়িক ব্যর্থতার কারণে নয়, বরং যথাযথ জামানত ছাড়াই অর্থ সরিয়ে নেওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, এই প্যাকেজের জন্য নতুন টাকা ছাপানো হচ্ছে না। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পড়ে থাকা অলস অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা হবে।

তিনি জানান, কিছু ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে, আবার কিছু ব্যাংক তারল্য সংকটে আছে। পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে এই অলস অর্থ অর্থনীতির সক্রিয় খাতে প্রবাহিত করাই মূল লক্ষ্য।

গভর্নর আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৯ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বৃত্ত মুনাফা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি স্বীকার করেন, কোভিডকালীন প্রণোদনা কর্মসূচিতে কিছু বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বেশি সুবিধা পেয়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী হলেও ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা এই প্যাকেজের নকশা, তহবিলের উৎস, বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন এই উদ্যোগকে ‘চমৎকার পরিকল্পনা’ বললেও বাস্তবায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

তার ভাষ্য, ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ ইতোমধ্যে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা আছে। পাশাপাশি দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্যও ব্যাংকগুলোকে কিছু অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। ফলে এই তহবিলে অংশ নেওয়া সহজ নাও হতে পারে।

তিনি পরামর্শ দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিপরীতে রেপো রেট কমাতে পারত অথবা সিআরআর কমিয়ে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত তারল্য দিতে পারত। এতে প্যাকেজ বাস্তবায়ন আরও সহজ হতো বলে তিনি মনে করেন।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বন্ধ বা ব্যর্থ কারখানায় ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করতে ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন, নতুন কর্মী নিয়োগ এবং আর্থিক পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর কারণ তারল্যের অভাব নয়, বরং ভালো ঋণগ্রহীতার সংকট। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্যাকেজটির উদ্দেশ্য ভালো হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তার মতে, এই ধরনের বড় প্রণোদনা বাজারে মূল্যচাপ বাড়াতে পারে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াতে পারে। 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সাধারণত অর্থনীতিতে চাহিদা কমে গেলে এবং মূল্যস্ফীতি কম থাকলে এ ধরনের প্রণোদনা কার্যকর হয়। কিন্তু বাংলাদেশ এখন একই সঙ্গে ধীর প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে রয়েছে।

তার মতে, সরবরাহব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধান না করে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ করলে উৎপাদনের চেয়ে পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ার ঝুঁকিই বেশি থাকবে।

 

 

বিএনপি নিজেরাই দেশের জমিদারি দখল নিতে চাচ্ছে: জামায়াত আমির

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দলটি ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি ভেঙে এককভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার পথে হাঁটছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা ন্যারেটিভ তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করেছিল। আর আপনারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন। এখন কী করছেন? একদলকে পাকিস্তানে, আরেক দলকে পেশোয়ারে পাঠাচ্ছেন—আর নিজেরাই দেশের জমিদারি দখল নিতে চাচ্ছেন।’

আজ শুক্রবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির মামুনুল হক।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের দুটি স্লোগান—‘‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’’ ও ‘‘দেশটা কারও বাপের নয়’’—জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’

‘এই দেশ কোনো ব্যক্তির নয়, জনগণের,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করায় ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘রক্তাক্ত সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতায় একসময় যারা মজলুম ছিল, তাদেরই একটি অংশ এখন ক্ষমতায় গিয়ে অতীত ভুলে গেছে।’

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর আইনি উপায় হিসেবে গণভোটের বিকল্প নেই—এ কথা বিএনপি নিজেরাই আগে স্বীকার করেছিল। নির্বাচনী প্রচারে ভোটারদের দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।’

‘এখন সেই গণভোটকেই অবৈধ বলা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানকে ‘পরস্পরবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গণভোট নির্বাচন-পূর্বে বৈধ থাকলেও পরে কীভাবে অবৈধ হলো? একই আদেশে দুই ভোট—গোশত হালাল, ঝোল হারাম, এটা সুবিধাবাদী মানসিকতা।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গণভোটের রায় মেনে নিলে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তবে তা বাস্তবায়ন না হলে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই আন্দোলন চলবে।’

‘রাজপথ ও সংসদ একাকার হয়ে গেলে বালুর বাঁধ দিয়ে জোয়ার ঠেকানো যাবে না,’ সতর্ক করেন তিনি।

জনগণের রায় অস্বীকারের পরিণতি ভালো হয় না উল্লেখ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে গণভোটের ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে। মে, জুন ও জুলাই মাসে জেলা পর্যায়ে নাগরিক সমাবেশ এবং আগামী ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা জন্ম নিয়েছেন, তার সঙ্গে গাদ্দারি করা মানে জন্মদাত্রী মায়ের গর্ভকে অস্বীকার করা। বাংলাদেশে পূর্বে তিনটি গণভোট হয়েছে—কোনো গণভোটের সঙ্গেই কেউ গাদ্দারি করেনি।’

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট ও হাম পরিস্থিতিতে জনগণ ভালো নেই।’

‘আমরা দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। কিন্তু সরকার বারবার কথার বরখেলাপ করছে,’ অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখও বক্তব্য দেন।

চারুকলা আমাদের শেকড়: বিপাশা হায়াত

অভিনয়শিল্পী বিপাশা হায়াতের চেয়ে চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াত এখন বেশি সরব। দেশে-বিদেশে তার আঁকা ছবি নিয়ে প্রদর্শনী হচ্ছে এবং তিনি প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি ছবি আঁকায় বেশি মগ্ন হয়েছেন। 

থিতু হয়েছেন আমেরিকায়, সেখানে বসেই শিল্পীর কাজটা করে যাচ্ছেন। 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি বেড়েছে একজন শিল্পী হিসেবে।

বিপাশা হায়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়ালেখা করেছেন। অভিনয়জীবনে তিনি সফল। শীর্ষ তারকার খেতাব পেয়েছেন বহু আগে। নাটকে ও সিনেমায় নন্দিত হয়েছেন। নাট্যকার হিসেবেও সফল তিনি।

 

আগুনের পরশমনি সিনেমায় অভিনয় করে সবার ভালোবাসা যেমন পেয়েছেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন।

এখন অভিনয়ে তিনি অনিয়মিত। বলা যায়, অনেক দিন অভিনয় করেননি। কিন্তু ছবি আঁকা চলছেই। 

এবার দেশে এসেছেন কিছুদিন আগে। দেশে এসে গিয়েছিলেন চারুকলায়। 

চারুকলায় তিনি ছবি আঁকছেন—এই রকম একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে আর প্রশংসায় ভাসছে।

চারুকলায় কত দিন পর গেলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বিপাশা হায়াত বলেন, চারুকলা আমার ভীষণ পছন্দের জায়গা। ওখানে আমি পড়াশোনা করেছি। কাজেই এটা খুব পছন্দের জায়গা।

তিনি বলেন, ‘যখনই দেশে আসি চারুকলায় যাই। ভালো লাগে। কত স্মৃতি চোখে ভাসে। কত কী শিখেছি।’

‘চারুকলা আমাদের শেকড়। শেকড়ের টানেই ছুটে যাই’, যোগ করেন এই দর্শকনন্দিত অভিনেত্রী।
 

খামেনির পতন হলেও যেভাবে চলতে পারে ইরানের শাসনব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা যে যুদ্ধে রুপ নিতে পারে সে আশঙ্কা আগেই করেছিল ইরান। যুদ্ধ প্রস্তুতির সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে যেসব কৌশলের আশ্রয় নিতে পারে খামেনি সরকার তা উঠে এসেছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে। 

যোগ্য উত্তরসূরি, নেতৃত্ব নির্ধারণসহ সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে এসব প্রতিবেদনে। একইসঙ্গে ইরানের হাতে সম্ভাব্য বিকল্প কী আছে—সে বিষয়েও মতামত জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইসলামি শাসন ব্যবস্থাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন ৮৬ বছর বয়সী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। খুব সহজে তা ছেড়ে দেবেন বা অবসান ঘটতে দেবেন—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

উত্তরসূরি
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ধারণা খামেনি মারা গেলে, তার উত্তরসূরি হতে পারেন দেশটির বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কোনো কর্মকর্তা।

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিট্রিনোভিচ বার্তাসংস্থা এপিকে বলেন, ‘খামেনি নিহত হলে বিকল্প পরিকল্পনা আছে ইরানের। একক উত্তরসূরি মনোনয়নের বদলে ছোট কমিটির হাতে ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে।’

তার মতে, গত বছর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে শীর্ষ ২০ নেতাকে হারানোর পর নেতৃত্ব রক্ষায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন খামেনি। গত আট মাস ধরে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও জোরদার করেছেন।

নিজের উত্তরসূরি হিসেবে তিনজনের নামও ঠিক করেছেন খামেনি। যদিও তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। 

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক ভ্যালি নাসর নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘খামেনি যুদ্ধ ও উত্তরাধিকার—দুই পরিস্থিতির জন্যই রাষ্ট্রকে প্রস্তুত করেছেন।’

রাষ্ট্রকাঠামো
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো নতুন করে সাজিয়েছেন খামেনি।

সামরিক ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পদে চার স্তরের উত্তরাধিকার কাঠামো নির্ধারণ করেছেন।

শীর্ষ নেতৃত্বকে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা থেকে বাঁচানোসহ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কৌশল নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়েছেন শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিসহ ঘনিষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগীদের। 

যোগ্য উত্তরসূরি নির্ধারণ করতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিজ নিজ বিকল্পের তালিকাও তৈরি করতে বলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ এই নেতা।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বা নিহত হলে যেন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, সে ক্ষমতাও একটি ঘনিষ্ঠ বলয়ের কাছে দিয়ে রেখেছেন খামেনি।

নতুন নেতৃত্ব
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইতোমধ্যে নেতৃত্বের ভার অনেকটাই তার বিশ্বস্ত সহযোগী ও শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানির হাতে তুলে দিয়েছেন। 

৬৭ বছর বয়সী লারিজানি ইরানের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার ও বর্তমানে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান।

ইরানের ছয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিপ্লবী গার্ডের সদস্য ও সাবেক কূটনীতিকদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, সম্প্রতি কঠোরভাবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নেতৃত্ব দেন লারিজানি।

সাম্প্রতিক সময়ে কার্যত লারিজানিই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বলেও জানান তারা। তারা বলেন, যুদ্ধের সময় রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনাও লারিজানির হাতে।

‘ইরানের ডেলসি’
ভেনেজুয়েলায় উদাহরণ সামনে রেখে ‘ইরানের ডেলসি’ কে হতে পারেন—তা নিয়েও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছেন খামেনি। 

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হলে কারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে সে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লারিজানি। এরপরই পার্লামেন্ট স্পিকার ও সাবেক গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিশেষজ্ঞ আলি ভাইজ বলেন, বিকল্প পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের ফল অনিশ্চিত। খামেনি এখন কম দৃশ্যমান, বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু তিনি এখনো পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন।

ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোহাম্মদ ইসলামি তুরস্কের গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র টিকে থাকবে। কোন অবস্থায় থাকবে, আমি বলতে পারছি না, তবে তারা পিছু হটবে না। এমনকি যদি তাদের পুরো অঞ্চল জ্বালিয়ে দিতে হয়, তারা তা করবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম অফিস করলেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করলেন তারেক রহমান। আজ সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছান।

কার্যালয়ে পৌঁছে তিনি প্রাঙ্গণে একটি স্বর্ণচাঁপার চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি সেখানে মোনাজাত করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ‘অমর একুশে’ স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন।

এর আগে কার্যালয়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

কার্যালয়ে মূল ভবনে প্রবেশের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নাম ধরে কাছে ডাকেন এবং তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন।

পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা নয়

নব্বই দশকের শুরু থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশ অর্জিত হয় এই শিল্প থেকেই। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে তাই পোশাক শিল্প অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থানের জোগান দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, এ শিল্পে কাজ করছেন প্রায় ৪৩ লাখ শ্রমিক, যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী। ভোরের আলো ফোঁটার সঙ্গে সঙ্গেই চোখে পড়ে শহরের ফুটপাত ধরে দলবেঁধে হেঁটে যাওয়া এই নারী কর্মীদের। তাদের অধিকাংশেরই বাস শহুরে বস্তিগুলোতে। বাইরে থেকে দেখলে অনেকেই ধারণা করতে পারেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার কারণে তারা হয়তো সমাজের আর দশজন নারীর চেয়ে অপেক্ষাকৃত ক্ষমতায়িত। তবে বাস্তবতা এখনও বেশ ভিন্ন। এই নারী শ্রমিকরা ঘর ও কর্মস্থল উভয় জায়গাতেই সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

সম্প্রতি আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত অ্যাডসার্চ প্রকল্পের গবেষণায় উঠে এসেছে, পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকলেও তাদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, এমনকি পারিবারিক নিরাপত্তাও উদ্বেগজনকভাবে দুর্বল। অথচ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার কেবল চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নয়, বরং তাদের মানবাধিকার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এ দেশের নারী পোশাক শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্র ও গৃহস্থালির ‘দ্বৈত বোঝা’ বহন করে চলেছেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ইতোপূর্বে পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু গবেষণা হলেও তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও সহিংসতা বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী বা কোহর্ট গবেষণা ছিল না।

আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত গবেষণাটিতে ঢাকার কড়াইল ও মিরপুর এবং টঙ্গীর বস্তিতে বাস করা ১৫–২৭ বছর বয়সী মোট ৭৭৮ জন বিবাহিত নারী শ্রমিক অংশ নিয়েছিলেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাটির তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণাটিতে অংশ নেওয়া নারী শ্রমিকদের প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজনেরই বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এবং তাদের প্রায় ৬৫ শতাংশ ১৮ বছর হওয়ার আগেই প্রথম গর্ভধারণ করেছেন। তাদের একটি অংশের বিয়ে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার আগেই হয়ে যায়। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও গর্ভপাতের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি। তাদের মধ্যে প্রায় প্রতি তিনজনে একজন নারীশ্রমিক জীবনে অন্তত একবার অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের মুখোমুখি হয়েছেন এবং এক-চতুর্থাংশের মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আর্থিকভাবে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পরও এই নারীরা সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে বাল্যবিবাহের কুফল থেকে মুক্তি পাননি। বাল্যবিবাহ তাদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি তৈরি করছে। কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ কেবল মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ নয়, একইসঙ্গে নবজাতকের মৃত্যু-ঝুঁকি ও অপুষ্টির হারও বাড়িয়ে দেয়।

কিশোরী গর্ভধারণের মূল নিয়ামকগুলো নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে, নারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে যারা তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষিত ও বাল্যবিবাহ হয়নি, তাদের কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। আবার যারা প্রথম গর্ভধারণের আগে গার্মেন্টসখাতে কাজ শুরু করেছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি কম ছিল। অন্যদিকে, স্বামীর মাধ্যমে সহিংসতার অভিজ্ঞতা থাকলে কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি ২৬ শতাংশ বেড়ে যায়।

তবে কিছুটা আশার বার্তা হলো, এসব পোশাক শিল্পে কাজ করছে বলেই সংসারের আয় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়েদের বিয়ে কিছুটা হলেও বিলম্ব করার সুযোগ হচ্ছে এবং অল্প বয়সে সন্তান ধারণের সংখ্যা কিছুটা হলেও কমছে।

এই কোহর্টের উপাত্ত ব্যবহার করে নারী ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক স্বামীর সহিংসতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা দেখানো হয়।

নারী ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক স্বামীর সহিংসতাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। যেমন: সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বেশি থাকলে মানসিক ও যৌন সহিংসতা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়; মতামত প্রকাশের ক্ষমতা থাকলে যৌন সহিংসতা কমে; নারী শ্রমিকের চলাচলে স্বাধীনতা বেশি থাকলে তার শারীরিক সহিংসতার ঝুঁকি কম।

ফলাফল বলছে, এ ধরণের ক্ষমতায়নের মাত্রা যত বাড়বে, নারী গার্মেন্ট শ্রমিকরা সহিংসতা থেকে তত বেশি সুরক্ষা পাবেন। সেইসঙ্গে ক্ষমতায়ন কোনো একমাত্রিক বিষয় নয়। শুধু আয়ের সুযোগ তৈরি হলেই নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, সামাজিক সম্মান, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ—সব মিলেই তৈরি হবে প্রকৃত ক্ষমতায়ন।

কিন্তু সহিংসতা থেকে মুক্তি কোথায়? দুই বছরব্যাপী এই গবেষণার শুরুতে প্রায় ৪৮ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে মানসিক সহিংসতার অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যা দুই বছর পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ শতাংশে। অর্থাৎ সহিংসতা ক্রমশ বাড়ছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সহিংসতার শিকার নারীরা প্রায় কেউই আনুষ্ঠানিক সাহায্য চাননি। মাত্র ২১ শতাংশ নারী অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিবার বা বন্ধুদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।

অর্থাৎ এখনো এক গভীর সামাজিক বলয় তাদেরকে ঘিরে আছে, যা থেকে বের হওয়া কঠিন। এই বাস্তবতা আমাদের সামনে প্রশ্ন তোলে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি যে নারী শ্রমিকেরা, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কি আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছি?

এই সমস্যার সমাধান অসম্ভব নয়। ক্ষমতায়নের মাত্রা বাড়লে সহিংসতার ঝুঁকি কমে। এই শিল্পে কর্মরত নারীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কর্মক্ষেত্রভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করে দেখা যেতে পারে। বড় বড় পোশাক কারখানাগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং সেবা সহজলভ্য করা যেতে পারে। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

এ ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে সব কারখানায় স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আলোচনা কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে। নারীদের জানাতে হবে, কোথায় গেলে কোন সেবাটি পাওয়া যায়। গার্মেন্টস মালিক ও তাদের সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে পারে। নারীর স্বাস্থ্য ভালো থাকলে এবং তাদের ওপর সহিংসতার মাত্রা কমানো গেলে তারা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, দেশের অর্থনীতির চাকা এগিয়ে যাবে।

কর্মক্ষেত্রে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে তাই সরকার, শিল্পমালিকগোষ্ঠী ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি ও পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত করে আচরণগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। নারী শ্রমিকরা যেন সহজেই তাদের পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পেতে পারেন, সেজন্য তারা যেসব এলাকায় বাস করেন, সেগুলোতে নারীবান্ধব দোকান খোলা ও অনলাইনে কেনাকাটার সুযোগও সৃষ্টি করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এ দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার নিরন্তর সংগ্রামের অংশ। এ দেশের নারী শ্রমিকরা নিজের ঘামে ও শ্রমে দেশের রপ্তানি আয় বাড়াচ্ছেন, পরিবারকে টিকিয়ে রাখছেন, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে এই উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে তাদের সামাজিক ক্ষমতায়ন যুক্ত করতে পারলেই পরিবর্তন সম্ভব। কারণ, একটি দেশের উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড শুধু রপ্তানি আয়ের পরিমাণ নয়, বরং সেই উন্নয়ন অবকাঠামোতে নারীরা কতটা নিরাপদ সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ এস এম রিয়াদ আরিফ, সিনিয়র কনটেন্ট ডেভেলপার, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ড. রুচিরা তাবাসসুম নভেদ্‌, ইমেরিটাস সায়েন্টিস্ট, আইসিডিডিআর,বি

প্রধান কোচ হিসেবে ইরাওলার সঙ্গে লিভারপুলের মৌখিক চুক্তি

নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আন্দোনি ইরাওলাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য একটি মৌখিক চুক্তিতে পৌঁছেছে ইংলিশ পরাশক্তি লিভারপুল। গত শনিবার আর্নে স্লটের বিদায়ের পর থেকেই অ্যানফিল্ডের ক্লাবটির দায়িত্ব নেওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি।

সূত্রের বরাতে আমেরিকান গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ কোচের সঙ্গে লিভারপুলের দুই বছরের চুক্তি হতে পারে। প্রিমিয়ার লিগের আরেক দল বোর্নমাউথের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ও তিনি একই মেয়াদের চুক্তি করেছিলেন।

গত মাসের শেষদিকে বোর্নমাউথের সঙ্গে তিন বছরের সম্পর্কের ইতি টানেন ইরাওলা। বর্তমানে লিভারপুলের সঙ্গে তার সহকারী কোচিং স্টাফদের চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

সহকারী হিসেবে পাবলো দে লা তোরে, টমি এলফিক, শন কুপার ও টম ওয়েবারকে পাশে চান স্পেনের হয়ে সাতটি ম্যাচ খেলা সাবেক এই ডিফেন্ডার। এরা সবাই বোর্নমাউথে তার কোচিং ও ব্যাকরুম স্টাফ হিসেবে ছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই লিভারপুল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেবে এবং সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেবে।

ইরাওলার সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছেন অলরেডদের স্পোর্টিং ডিরেক্টর রিচার্ড হিউজ, যিনি তাকে খুব ভালো করেই চেনেন। ২০২৩ সালে গ্যারি ও’নিলের উত্তরসূরি হিসেবে বোর্নমাউথের কোচ পদে ইরাওলাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন হিউজই।

বোর্নমাউথের প্রধান কোচ হিসেবে ইরাওলা দারুণ সাফল্য দেখিয়েছেন। তার অধীনে ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগে যথাক্রমে দ্বাদশ, নবম ও ষষ্ঠ স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে। সেই সঙ্গে সম্প্রতি নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উয়েফা ইউরোপা লিগে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করে তারা।

সব মিলিয়ে ইরাওলার সঙ্গে লিভারপুলের আলোচনা এত দ্রুত এগিয়ে যাওয়া এবং মৌখিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়াটা মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। যখন ব্যর্থতার দায়ে ডাচ কোচ স্লটকে বরখাস্ত করা হয়, তখনই ক্লাবটির নীতিনির্ধারকেরা দ্রুত নতুন কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। শূন্যস্থান পূরণের জন্য ইরাওলাই শুরু থেকে তাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন।

বোর্নমাউথ ছাড়ার পর ইরাওলা নিজেও একটি নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে উন্মুখ। ফলে পারিশ্রমিক ও শর্তাবলি নির্ধারণ এবং সহকারী স্টাফদের তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয়টি কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল।

আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমের আগে অনেক বিষয় সমাধান করার প্রয়োজনীয়তা থাকায় লিভারপুলের হাতে মোটেও সময় নেই। মোহামেদ সালাহ, অ্যান্ডি রবার্টসন ও ইব্রাহিমা কোনাতের মতো তারকারা ফ্রি এজেন্ট হিসেবে দল ছাড়ায় স্কোয়াডে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, কার্টিস জোন্স ও হার্ভে এলিয়টের চুক্তির মেয়াদ শেষ বছরে পদার্পণ করায় অ্যানফিল্ডে তাদের ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চিত।

শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বারবার হোঁচট খেয়ে সদ্যসমাপ্ত মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে পঞ্চম হয় লিভারপুল। অন্য প্রতিযোগিতাগুলোতেও আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পারায় তারা থেকেছে শিরোপাবিহীন।

মার্চে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো কোন জেলায়, কোন দেশ থেকে কত

চলতি বছরের মার্চে দেশে আসা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেকই এসেছে ঢাকা বিভাগে।

এ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে, ঢাকা বিভাগে এসেছে ১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চে মোট প্রবাসী আয়ের ৪৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর ঢাকায় ৪৫৬ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ রেমিট্যান্স বেশি এসেছে বলে প্রতিবেদনে দেখা গেছে।

প্রবাসী আয় প্রবাহের মাসিক প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগে এসেছে ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ৩১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

৩০১ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার আসায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সাধারণত বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময়, অর্থবছরের শেষ জুনে এবং ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে।

কোন জেলায় কত

জেলার হিসাবে ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এরপরে ৪১৩ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার নিয়ে চট্টগ্রাম।

২৪৩ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে কুমিল্লা তৃতীয় ও ১৬১ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ সিলেট জেলা।

ফেনীতে এসেছে ১১ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন, নোয়াখালীতে ১১১ দশমিক ৫১ মিলিয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসেছে ১০৩ দশমিক ০১ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

কোন দেশ থেকে কত

দেশের হিসাবে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীরা। তারা পাঠিয়েছেন ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া, মালয়েশিয়া থেকে ২ দশমিক ৭০ বিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন, ইতালি থেকে ১ দশমিক ৫৩২ ও ওমান থেকে এসেছে ১ দশমিক ৫৩১ বিলিয়ন ডলার।    

ব্যাংকগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠান হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক একাই পেয়েছে ৫৮৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চাপের মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিময় হারের ওঠানামা এবং ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয়ের মধ্যেই রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে।’

‘বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা, এমনকি নিজেদের ইশতেহারেরও বিরোধিতা করছে’

রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণকে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ দিতে যে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন, সেসবের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিএনপি বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তারা নিজেদের ঘোষিত কর্মসূচি, সংস্কার এমনকি ইশতেহারেরও বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয়, তারা যে কীসের বিরোধিতা করছে—সেই বোধটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।’

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, বিএনপি এখন প্রতিটি ইস্যুতেই ‘কথিত পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ’ অনুসরণ করছে। 

‘আমরা একসময় একসঙ্গেই নিপীড়নের শিকার ছিলাম। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, হাজার চেষ্টা করলেও আপনারা ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না—হয়তো দুর্বল সংস্করণ হতে পারেন, যারা জাতি ও বিরোধী দলকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত,’ বলেন তিনি।

গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের সংস্কারের পক্ষে রায়কে অগ্রাহ্য করাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই রায় বাস্তবায়িত হলে দেশ থেকে প্রকৃত অর্থেই ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের সেই আত্মত্যাগ না থাকলে আজ আপনারা ক্ষমতার স্বাদ পেতেন না। এই মা-বাবা, ভাই-বোনদের প্রিয়জনেরা জীবন দিয়েছেন বলেই আজকের এই বাস্তবতা।’

আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারও অবদান অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু তীরে ভেড়াতে পারিনি—জুলাইয়ের নায়করা সেই তরী ঘাটে তুলেছেন, জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তাদের সম্মান করতে শিখুন, অবমূল্যায়ন করবেন না।’

সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হয়েছে। নেত্রকোনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলার উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কেমন বাংলাদেশ? এমন বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম?’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন জামায়াত আমির।

‘আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে দা-কিরিচ-কুড়াল নয়, খাতা-কলম দেখতে চাই। কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী এসে আমাদের সন্তানদের ওপর দাপট দেখাক—এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। না হলে মনে রাখবেন, জুলাই শুধু চব্বিশেই সীমাবদ্ধ নয়—প্রয়োজনে আবার ফিরে আসবে,’ বলেন তিনি।

গণ-অভ্যুত্থানে হাত হারানো আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই রায়কে দমন করতে চাইলে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান বলেন, ‘জাতির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার সংসদে জুলাই শহীদদের অপমান করছে।’