29.2 C
Dhaka
Home Blog

শৈশব যেন স্ক্রিনবন্দি না হয়ে যায়

ঢাকার শিশুদের স্ক্রিন টাইম ও এর প্রভাবে তাদের স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক সুস্থতা নিয়ে আইসিডিডিআর,বির সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল বেশ উদ্বেগজনক। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। 

গবেষণার ফল অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৮৩ শতাংশই প্রতিদিন ২ ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটায়, যা খুবই আশঙ্কাজন। কারণ এটি স্ক্রিন টাইমের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সীমার চেয়ে বেশি।

রাজধানীর ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর এই জরিপ চালানো হয়। এটি ভয়াবহ এক সামাজিক সমস্যার কথা প্রকাশ করল, যা আমাদের শিশুদের মানসিক ও শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখতে আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলগামী এই শিশুরা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, গেমিং ডিভাইস, টেলিভিশন ইত্যাদির স্ক্রিনে প্রতিদিন গড়ে ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছে। এত দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকায় তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর কারণে স্থূলতা, চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা ও অনিদ্রার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যে শিশুরা দৈনিক গড়ে ২ ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটাচ্ছে, তারা রাতে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টার মতো ঘুমাচ্ছে, যা এই বয়সী শিশুদের জন্য কম। চিকিৎসকরা শিশুদের ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত কম ঘুমানোর ফলে শিশুদের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। এ কারণেই হয়তো জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩১ শতাংশের অন্তত একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা—যেমন, নির্দিষ্ট কোনো ভীতি, দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা, ইচ্ছা করে নিজের ক্ষতি করা এবং অতি-চঞ্চলতা বা হাইপারঅ্যাক্টিভিটি থাকার তথ্য মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। এছাড়া, শিশুদের প্রতি ৩ জনে একজন চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং ৮০ শতাংশ শিশু মাথাব্যথার কথা জানিয়েছে।

ঢাকার বেশিরভাগ শিশুর এই গতিহীন জীবনযাপন এবং স্ক্রিনের প্রতি আসক্তি পুরোপুরি তাদের নিজেদের ইচ্ছায় তৈরি হয়নি। প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষের এই মহানগরে ৩০০টি খেলার মাঠও নেই। পাড়া-মহল্লার পার্ক বা মাঠ তো দূরে থাক, অনেক স্কুলেই নেই কোনো খেলার মাঠ কিংবা কোনো আঙিনা। এর সঙ্গে আরও আছে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের ব্যর্থতা। শিশুদের ওপর যে হারে সহিংসতার কথা শোনা যায়, সে কারণে কোনো খোলা জায়গায় কিংবা খোলা রাস্তায় শিশুদের একা ছাড়ার ভরসা পান না অভিভাবকরা। একক পরিবারে বাবা-মা দুজনেই কর্মজীবী হলে, তাদের জন্য শিশুদের চোখে চোখে রেখে খেলার সময় বের করা আরও কঠিন।

দুঃখজনকভাবে, আমাদের সরকার ও নীতিনির্ধারকরা শুধু মেগাপ্রজেক্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেই মনোযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। নিরাপদ খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান তৈরি করে শিশুদের সুস্থতার কথা খুব কমই ভাবা হয়েছে।

আইসিডিডিআর,বির এই গবেষণার ফল প্রকাশের পর সবার সচেতন হওয়া উচিত। এই মেগাসিটিকে শিশুবান্ধব করতে একটি বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য আমরা সরকার ও সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এছাড়া, শিশুদের স্ক্রিন টাইম সীমিত করতে এবং ডিভাইসকে দূরে রেখে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে নিবিড় ও আন্তরিক সময় কাটাতে উৎসাহিত করতে অন্যান্য দেশ যে ধরনের নীতিমালা তৈরি করছে, আমাদের সরকারও সেই পথ অনুসরণ করতে পারে। আমাদের শিশুদের ভার্চুয়াল জগত থেকে বাস্তব পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে আমাদের সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

দেশের ক্রিকেটে কাঠামোগত বিপ্লব আনার রূপরেখা তামিমের

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই নানা উদ্যোগের রূপরেখা সামনে নিয়ে এলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবাল। বৃহস্পতিবার মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

তামিম ইকবালের প্রথম ঘোষণাটি ছিল দর্শকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে। মিরপুর স্টেডিয়ামের যে গ্যালারিতে স্কোরবোর্ড রয়েছে, সেখানে এতদিন কোনো শেড বা ছাউনির ব্যবস্থা ছিল না। অথচ এই অংশেই টিকিটের দাম সবচেয়ে কম হওয়ায় দর্শকদের ভিড়ও থাকে সবচেয়ে বেশি। তীব্র রোদের মধ্যে এই দর্শকদের কষ্টের কথা ভেবে প্রায় ২৭ হাজার বর্গফুটজুড়ে একটি ক্যানোপি বা ছাউনি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আর ছাউনি বানানোর বিষয়ে সকলেই এক হয়েছেন জানিয়ে  তামিম বলেন, ‘বিষয়টিতে সকলে মৌখিকভাবে একমত হয়েছেন এবং প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে সম্প্রতি যে ধরনের ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে, এটিও সেই ধাঁচেই তৈরি হবে।’

দ্বিতীয় পরিকল্পনায় তামিম বলেন, ‘স্টেডিয়ামের সকল ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে। বিসিবিকে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়। সোলার সিস্টেম চালু হলে একদিকে পরিবেশ উপকৃত হবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মাধ্যমে বোর্ডের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

তবে তিনি স্বীকার করেন, এটি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বিনিয়োগ ও তার প্রতিদান হিসাব-নিকাশ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণাটি ছিল এনসিএলে সেকেন্ড ইলেভেন চালুর সিদ্ধান্ত, যেটিকে তামিম নিজেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। 
এ প্রসঙ্গে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এতদিন ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটিং কাঠামোয় জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাই বিপিএল, বিসিএল, এনসিএলসহ প্রায় সব টুর্নামেন্ট খেলে আসছেন। কিন্তু থার্ড, সেকেন্ড বা ফার্স্ট ডিভিশনের ক্রিকেটাররা নিজেদের লিগ ছাড়া আর কোনো প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছেন না। ফলে নিম্ন বিভাগ থেকে জাতীয় দলে উঠে আসার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই বিরল।’

ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটের অনুসরণে এখন থেকে প্রতিটি বিভাগীয় দলের পাশাপাশি একটি করে সেকেন্ড ইলেভেন দল থাকবে। অর্থাৎ ঢাকার পাশাপাশি ‘ঢাকা সেকেন্ড ইলেভেন’, চট্টগ্রামের পাশাপাশি ‘চট্টগ্রাম সেকেন্ড ইলেভেন’ এভাবে প্রতিটি দলেরই দুটি করে সংস্করণ থাকবে এবং সেকেন্ড ইলেভেনের ম্যাচগুলো হবে তিন দিনের। এই উদ্যোগের ফলে এক ধাক্কায় নতুন দেড়শ থেকে দুইশ ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পাবেন।

ফার্স্ট ইলেভেনে যে খেলোয়াড় ধারাবাহিকভাবে খারাপ করছেন, তাকে সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে সেকেন্ড ইলেভেনে পাঠিয়ে ফর্ম ফেরানোর সুযোগ দেওয়া যাবে। আবার সেকেন্ড ইলেভেনে ভালো করা কোনো খেলোয়াড়কে দ্রুত ফার্স্ট ইলেভেনে তুলে আনাও সম্ভব হবে। তামিম জানান, বাজেটসহ সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং এই মৌসুম থেকেই টুর্নামেন্টটি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্রিকেটকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার ঘোষণাও দেন তামিম। একসময় তিনি নিজে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহীতে ফার্স্ট ক্লাস খেলতে যেতেন, কিন্তু কোনো এক সময় থেকে এই পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যায়। এখন যেসব ভেন্যুতে মাঠ প্রস্তুত আছে, সেখানে আবার হোম ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করা হবে।

তামিম বলেন, ‘খুলনা, বরিশাল বা রাজশাহীর দর্শকরাও তাদের প্রিয় তারকাদের নিজেদের মাঠে খেলতে দেখার অধিকার রাখেন। শুধু টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনে নয়, মাঠে মাঠে ক্রিকেট পৌঁছে দেওয়াটাই হবে প্রকৃত প্রচার।’

বিসিবির রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিষয়েও তামিম গুরুত্বের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, গত এক থেকে দেড় বছরে বিসিবির রাজস্ব আয়ের অবস্থা বেশ খারাপ এবং আইসিসির অনুদানই মূলত বোর্ডকে টিকিয়ে রাখছে। দেশি-বিদেশি টিভি চ্যানেলগুলোকে আবার একটি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা, রাইটস বিক্রির সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার এবং স্পনসরশিপ বাড়ানোকে তিনি শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশে ক্রিকেটার তৈরিতে প্রাইভেট একাডেমিগুলোকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তামিম। বিসিবি ইতিমধ্যে বসুন্ধরা ক্রিকেটার্স একাডেমি, বিকেএসপি, ইউল্যাবসহ বিভিন্ন প্রাইভেট মাঠে খেলার আয়োজন করছে এবং সেই মাঠ ভাড়া দিয়ে একাডেমিগুলো নিজেদের রাজস্ব আয় করছে।

বিসিবি প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘বয়সভিত্তিক ক্যাম্পগুলো বিভিন্ন একাডেমিতে ছড়িয়ে দেওয়া হলে একাডেমিগুলো যেমন লাভবান হবে, তেমনি তারা নিজেদের অবকাঠামোও উন্নত করতে আগ্রহী হবে।’

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে চাপে দেশের অর্থনীতি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এই বার্তাই দিচ্ছে যে সরকারের পক্ষে আর বাড়তি খরচ সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তের অভিঘাত এখন অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে আছড়ে পড়ছে।

ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে সরকার কার্যত এটাই স্বীকার করে নিল যে, জ্বালানি খাতে ভর্তুকির বিশাল বোঝা বহন করা এখন আর সম্ভব নয়।

অর্থনীতিবিদরা এই পদক্ষেপকে একটি প্রয়োজনীয় সংস্কার হিসেবে স্বাগত জানালেও এর ফলে সরাসরি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতিতে জর্জরিত সাধারণ মানুষ।

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা থেকে দেশীয় ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতা যে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে, এই সিদ্ধান্তটি সেই চরম সত্যকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধকালীন’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজার এরইমধ্যে এই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষের জন্য সহনশীল পর্যায়ে রাখতে বাংলাদেশ এতদিন ধরে আমদানি দামের চেয়ে কম দামে তেল বিক্রি করে আসছিল।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেল কিনতে হয় বৈদেশিক মুদ্রায়। দাম সামান্য বাড়িয়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।

যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সেটিও তিনি উল্লেখ করেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই দাম সমন্বয় মূলত ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ এবং সরকারের সীমিত নীতিগত বিকল্পেরই প্রতিফলন।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির পর এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে আরও কমিয়ে দেবে। একইসঙ্গে পরিবহন, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যয়ের বোঝা বাড়িয়ে দেবে।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকবে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অত্যন্ত সতর্ক ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনও সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, ভর্তুকির কারণে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থের অপচয় হচ্ছিল, অন্যদিকে এর সুফল সাধারণ মানুষের চেয়ে সচ্ছল শ্রেণীই বেশি ভোগ করছিল।

তিনি বলেন, দাম সমন্বয় করা না হলে ভর্তুকির অর্থ জোগাতে সরকারকে হয় কর বাড়াতে হতো, না হয় ঋণ নিতে হতো অথবা অন্যান্য খাতের বরাদ্দ কমিয়ে দিতে হতো—যার প্রতিটিই সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনত।

জাহিদ হোসেন যুক্তি দেখান, আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কম দামে জ্বালানি বিক্রি করার ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যে লোকসানের মুখে পড়ে, তার চূড়ান্ত বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ করদাতাদের ওপরই বর্তায়।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, কৃত্রিমভাবে দাম কম রাখলে প্রায়ই বাজারে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘ সারি এবং কালোবাজারি বেড়ে যায়। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দামের বড় পার্থক্যের কারণে চোরাচালানকে উৎসাহিত করা হয়; এর ফলে বাংলাদেশের ভর্তুকি দেওয়া জ্বালানির সুবিধা ভোগ করে ভিনদেশের মানুষ।

নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে তিনি সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা (ক্যাশ ট্রান্সফার) বা ভাউচারের মতো সুনির্দিষ্ট সহায়তা প্রদানের পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে তিনি বিশ্বজুড়ে সরাসরি আর্থিক সহায়তার সফল উদাহরণগুলো তুলে ধরেন।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশি থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দাম সমন্বয়ে দেরি করলে তা ভবিষ্যতে আরও বেশি ভোগান্তি তৈরি করবে এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপকে দীর্ঘস্থায়ী করবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক এবং এটি আরও আগেই কার্যকর করা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, যা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে ভর্তুকির বিশাল বোঝা বিবেচনায় নিলে এই নেতিবাচক প্রভাব এড়ানোর কোনো উপায় ছিল না।

ম. তামিম উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ ধারণা করেছিল যে দাম সমন্বয় করা হবে আগামী মাসে। এই আশঙ্কায় তারা আতঙ্কিত হয়ে তড়িঘড়ি করে তেল কেনার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল।

তাছাড়া, সরকার আগেভাগেই দাম বাড়ানোর আভাস দেওয়ায় এবং কৃত্রিমভাবে দাম কমিয়ে রাখায় বাজারে মজুতদারি ও কালোবাজারি বেড়ে গেছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম এই সিদ্ধান্তকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মাসের মাঝামাঝি সময়ে দাম বাড়ানো হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে দাম সমন্বয়ের নিজস্ব নিয়ম লঙ্ঘন করে সরকার তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু বেসরকারি সরবরাহকারীর মজুতদারির বিষয়টি এখন স্পষ্ট। কারণ দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বেড়েছে।

গতকাল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) রাষ্ট্রীয় তিন বিতরণকারী সংস্থা—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকে গত বছরের তুলনায় ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে প্রতিদিন গড়ে ১১ হাজার ৮৬২ টন ডিজেল, এক হাজার ১৮৫ টন অকটেন এবং এক হাজার ৩৭৪ টন পেট্রোল সরবরাহ করা হয়েছিল।

চলতি বছরের ১ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি অনিশ্চয়তা এবং বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান দামের প্রেক্ষাপটে দৈনিক গড় ডিজেল সরবরাহ কমিয়ে ১১ হাজার ১০৭ টন, অকটেন এক হাজার ১২৯ টন এবং পেট্রোল এক হাজার ২৫৩ টনে নামিয়ে আনা হয়। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়।

তবে এপ্রিলের প্রথম ১৭ দিনের তুলনায় আজ থেকে ডিজেলের সরবরাহ ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৩ হাজার ৪৮ টন, অকটেন ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার ৪২২ টন এবং পেট্রোল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার ৫১১ টনে উন্নীত করা হচ্ছে।

অধ্যাপক শামসুল আলম প্রশ্ন তোলেন, দেশে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেনের দাম কেন আমদানিকৃত জ্বালানির দামের সমান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বিপিসি দীর্ঘদিন ধরে কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই নানা কারসাজি চালিয়ে আসছে। অব্যবস্থাপনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সরকার নিজেই এখন ফাঁদে পড়েছে, আর বিতরণকারী কোম্পানিগুলো এই সুযোগে অতি-মুনাফা লুটছে।

তার মতে, বিতরণকারী কোম্পানিগুলো ভোক্তাদের পকেট থেকে আসা মুনাফা দিয়ে নিজেদের সম্পদ বাড়াচ্ছে এবং বোনাস দিচ্ছে; অথচ এই বাড়তি খরচগুলো জ্বালানির দামের ভেতরেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান না করে সরকার তার পূর্বসূরিদের ভুলেরই পুনরাবৃত্তি করছে।’

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান কৃষি খাতের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে চলমান বোরো মৌসুমে যখন সেচের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তিনি জানান, ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে সেচ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘ লাইনের কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ানো সেচ থেকে শুরু করে ফসল কাটা, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ—অর্থাৎ কৃষিপণ্যের পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে খরচ বাড়িয়ে দেবে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, উৎপাদন কমে গেলে পুনরায় চাল আমদানির প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া গ্যাস সংকটে সারের অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি আরও বলেন, এখন ফসলের বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়, কিন্তু জ্বালানি সংকটে মাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে। এর ওপর কেরোসিনের দাম বাড়ায় গ্রামীণ পরিবারগুলোর ওপর চাপের বোঝা আরও ভারী হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক ও নৌপথ—উভয় খাতেই যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধির তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

গণপরিবহনের ভাড়া পুনঃনির্ধারণের লক্ষ্যে গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) একটি সভা করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভাড়ার নতুন হার নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

পরিবহন মালিক সমিতিগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা মহানগরে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ৪ টাকা এবং দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে ৩ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব দিতে পারে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে মহানগর এলাকায় যাতায়াত ভাড়া সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) লঞ্চের ভাড়া ৩৬ থেকে ৪২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে সর্বনিম্ন ভাড়াও বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
 

ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে, অর্জন ধরে রাখতে মাঠে নামতে হবে: নাহিদ ইসলাম

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন ধরে রাখতে হলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাদের মাঠে নামতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে আজ শনিবার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে যা কিছু হচ্ছে সংস্কারকে কেন্দ্র করে এটা অপ্রত্যাশিত না। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে, ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা বলেছিলাম নতুন সংবিধান, বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়। তারা পুরোনো সবকিছুকে রেখেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায় আমরা বলেছিলাম দেশের আমূল সংস্কার প্রয়োজন।’

‘এখন দেখা যাচ্ছে নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর আর কিছুকে তোয়াক্কা করছে না। তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনছেন না। তারা সেগুলোকে আইনে পরিণত করবেন না। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বাতিল করে তারা আসলে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে চাচ্ছে,’ বলেন তিনি।

‘সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল’ মন্তব্য করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘গত ১৬ বছর তারা নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছে, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কিন্তু মানুষ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। কারণ তাদের নেতৃত্বে কখনো আস্থা ছিল না মানুষের।’

‘আমরা সংসদে সমাধান চেয়েছিলাম। সংসদে যেহেতু উপযুক্ত সমাধান আমরা পাচ্ছি না, তাই রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হোক, অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা হোক। বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না যে সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। এ অবস্থায় সরকারের ওপর যদি জনগণের আস্থা না থাকে, বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না,’ বলেন তিনি।

ঢাকা-আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছে। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, তারা কোনো কথা বলবে না, ক্যারিয়ারে ফিরে যাবে—এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে।’

‘মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুক অর্জন সেসময় হয়েছে, সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও আমি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি,’ বলেন তিনি।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘দম’

এবারের ঈদে সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি সিনেমা। এর মধ্যে তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও রেদওয়ান রনির ‘দম’ দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পেয়েছে।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’

দেশের প্রেক্ষাগৃহে সাড়া ফেলার পর এবার আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তানিম নূর নির্মিত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। গতকাল শুক্রবার থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে দেখা যাচ্ছে সিনেমাটি। পরিচালক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান বঙ্গজ ফিল্মস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বঙ্গজ ফিল্মস জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকসটাউন, ক্যাম্পবেলটাউন, ক্যারোসলসহ শহরটির ১৯টি প্রেক্ষাগৃহে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া আগামী এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহেও সিনেমাটি মুক্তি পাবে।

একটি ট্রেনযাত্রাকে ঘিরে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার গল্প এগিয়েছে, যেখানে যাত্রীদের জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে। হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজ, সাবিলা নূর, আজমেরী হক বাঁধনসহ আরও অনেকে।দম

‘দম’

ঈদুল ফিতরে দেশে মুক্তির পর মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে চলছে রেদওয়ান রনি নির্মিত সিনেমা ‘দম’। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, পূজা চেরি, চঞ্চল চৌধুরী প্রমুখ।

এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যাত্রা শুরু করেছে সিনেমাটি। গতকাল ২৭ মার্চ থেকে আগামীকাল ২৯ মার্চ পর্যন্ত সিনেমাটি অস্ট্রেলিয়ায় প্রদর্শিত হবে।

গতকাল ব্যাংকসটাউনের একটি প্রেক্ষাগৃহে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল ৫টায় প্রসপেক্টে এবং সমাপনী দিন, অর্থাৎ আগামীকাল ২৯ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় ওয়েরিবি হলে ‘দম’ সিনেমাটি দেখা যাবে।

কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণে যেভাবে ‘ইসরায়েলি মডেল’ প্রয়োগ করছে ভারত

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত যখন প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে, তখন নয়াদিল্লি শুধু অস্ত্রই নয়—আরও অনেক কিছুই আমদানি করছে বলে মনে হচ্ছে।

২০১৯ সালের নভেম্বরে এক অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কে ভারতের তৎকালীন কনসাল জেনারেল সন্দীপ চক্রবর্তীকে বলতে শোনা যায়, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ‘ইসরায়েলি মডেল’ গ্রহণ করা উচিত।

সেসময় কাশ্মীরের লাখো মানুষ কঠোর সামরিক লকডাউন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে ছিলেন। মাত্র কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী সরকার অঞ্চলটির আংশিক স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে। হাজার হাজার মানুষ, এমনকি ভারতপন্থী আঞ্চলিক রাজনৈতিক নেতাদেরও গ্রেপ্তার করে।

জ্যেষ্ঠ এই কূটনীতিক দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের ডানপন্থী বসতি স্থাপনের প্রসঙ্গ টেনে কাশ্মীরি হিন্দুদের পুনর্বাসনের কথা বলছিলেন। যারা ১৯৮৯ সালে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরুর পর নিজেদের আবাসভূমি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল।

 

সন্দীপ চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে এটা হয়েছে। ইসরায়েলিরা যদি পারে, আমরাও পারব।’ আরও যোগ করেন, মোদি সরকার এ বিষয়ে ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’।

আল জাজিরা বলছে, ছয় বছর পর সেই বক্তব্য আরও প্রাসঙ্গিক বলে মনে হচ্ছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মোদি তার দ্বিতীয় ইসরায়েল সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই দেশ শুধু বন্ধুত্ব, বাণিজ্য বা সামরিক অংশীদারিত্বেই আবদ্ধ থাকছে না। কিছু বিশ্লেষকের মতে, শাসনব্যবস্থায় তারা একে অপরের মডেল অনুসরণ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোদির আমলে ভারত প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে আলিঙ্গন করেছে, যা দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের বিপরীতে গেছে। একইসঙ্গে নয়াদিল্লি ইসরায়েলের ফিলিস্তিনিদের প্রতি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির একাধিক উপাদানও নিজেদের নীতিতে প্রয়োগ করেছে।

বুলডোজার জাস্টিস

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অভিন্ন মতাদর্শ।

মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) হিন্দুত্ব দর্শন থেকে উদ্ভূত। তারা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। বিশ্বের সব হিন্দুর জন্য ভারতকে মাতৃভূমি হিসেবে দেখে। যা ইসরায়েলের মতো নিজেকে ইহুদি মাতৃভূমি হিসেবে দেখার ধারণার সঙ্গে মিলে যায়।

২০২৩ সালে প্রকাশিত ‘হোস্টাইল হোমল্যান্ডস: দ্য নিউ এলায়েন্স বিটুইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইসরায়েল’ বইয়ের লেখক আজাদ এসা বলেন, ‘মোদির অধীনে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক দুটি মতাদর্শের বন্ধন, যারা নিজেদের সভ্যতাগত প্রকল্প হিসেবে দেখে এবং মুসলিমদের জনসংখ্যাগত নিরাপত্তা হুমকি মনে করে।’

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই বন্ধুত্ব কাজ করে, কারণ তাদের একটাই শ্রেষ্ঠত্ববাদী লক্ষ্য। মোদির আমলে ভারত ও ইসরায়েল কৌশলগত অংশীদার হয়। দিল্লি বড় শক্তি হয়ে ওঠার পথে ইসরায়েলকে একটি টেমপ্লেট হিসেবে দেখতে শুরু করে।’

ইসরায়েল থেকে ধার নেওয়া ভারতের সবচেয়ে সমালোচিত আইডিয়ার একটি বিজেপির তথাকথিত ‘বুলডোজার জাস্টিস’ নীতি।

গত এক দশকে বিজেপি-শাসিত রাজ্যে শত শত মুসলিমের বাড়ি ও দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একাধিক মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইনি নোটিশ ছাড়াই এসব উচ্ছেদ করা হয়েছে। সাধারণত ধর্মীয় উত্তেজনা, মোদি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কিংবা কখনো স্থানীয় বিরোধ ধর্মীয় রূপ নেওয়ার পর এসব অভিযান চালানো হয়েছে।

বিজেপির শীর্ষ নেতা উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সমর্থকদের কাছে এখন ‘বুলডোজার বাবা’ নামে পরিচিত।

এটি ইসরায়েলের নীতিরই প্রতিফলন। ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনের জন্য দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাড়ি ভেঙে দিয়েছে এবং বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করেছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালে প্রায় সব বাড়িঘর, অফিস, হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও উপাসনালয় ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় জাতীয়তাবাদ ও সংঘাত নিয়ে গবেষণাকারী রাজনৈতিক বিজ্ঞানী সুমন্ত্র বোস বলেন, ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিশ্বাস-ব্যবস্থা জায়নবাদ ও ইসরায়েলের প্রতি গভীর অনুরাগে পূর্ণ। মোদিসহ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই আদর্শে দীক্ষিত।’

তার মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী ও শ্রেষ্ঠত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলই সেই মডেল, যা মোদির আমলে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা ভারতে বাস্তবায়ন করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে মুসলিমরা সামাজিক বয়কটের মুখোমুখি হয়েছেন। বাসা ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে, স্কুলে মুসলিম শিশুরা হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং হামলার পর অনেক গ্রাম থেকে মুসলিমরা চলে গেছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয়, অপরাধে অভিযুক্ত হলেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কারও সম্পত্তি ভাঙা যাবে না। তবুও বাস্তবে উচ্ছেদ অব্যাহত আছে।

লেখক এসা বলেন, ‘ভারত ও ইসরায়েল উভয়ই বাড়িঘর গুঁড়িয়ে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে শাস্তি দেওয়া এবং কে জাতির অন্তর্ভুক্ত আর কে বহিরাগত তা বোঝাতে রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।’

 

পেগাসাস দিয়ে নজরদারি

ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের অগ্রভাগে রয়েছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অভিন্ন নিরাপত্তা দর্শন। ভারত ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

গাজা যুদ্ধ চলাকালে ভারতও ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। ইসরায়েল ভারতীয় সেনাদের যৌথ প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত রাডার ও নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে।

ভারতে ইসরায়েলের অন্যতম বিতর্কিত রপ্তানি এনএসও গ্রুপের তৈরি অত্যাধুনিক স্পাইওয়্যার পেগাসাস।

দিল্লিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধার্থ ভারদারাজন তাদের মধ্যে একজন, যাদের ফোনে পেগাসাস ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে।

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার একটি আইফোনকে ব্যক্তিগত গুপ্তচর যন্ত্রে পরিণত করতে পারে, যা গোপনে ভিডিও ও ছবি রেকর্ড করে পাঠাতে পারে।’

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিল, যারা কিছু ফোনে ম্যালওয়্যার খুঁজে পেলেও পেগাসাসকে নিশ্চিতভাবে দায়ী করতে পারেননি।

ভারদারাজন বলেন, ‘দখলকৃত জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যে পদ্ধতি ব্যবহার করে, ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে তা ব্যবহার করা দুঃখজনক।’

জনগণকে হুমকি হিসেবে দেখা

ভারত বহুদিন ধরেই বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে এসার মতে, ‘ইসরায়েল ভারতকে আরও দমনমূলক, কর্তৃত্ববাদী ও সামরিক অস্ত্রে সমৃদ্ধ হতে প্রযুক্তি সরবরাহ করছে।’

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই পদ্ধতিগুলো সর্বব্যাপী। এগুলো জনগণকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।’

সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর।

বিশ্বের অন্যতম সামরিকীকরণকৃত অঞ্চল কাশ্মীর ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে শুধু স্বায়ত্তশাসন হারায়নি, বরং অন্যান্য প্রাদেশিক অঞ্চলের মতো গণতান্ত্রিক ক্ষমতাও হারিয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে রাজনৈতিক সংলাপ বা কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বন্ধে মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত ইসরায়েলি পন্থার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন ভারতের ক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক বোস।

কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের ইতিহাস ভিন্ন হলেও ভারতের কাশ্মীর নীতিতে পশ্চিম তীরের প্রতি ইসরায়েলের আচরণের সঙ্গে মিল দেখছেন এসাও।

তিনি বলেন, ‘সামরিকীকরণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ আইনি কাঠামো উভয় দেশকে দখলদারিত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করছে। তাদের সব ক্ষেত্রেই মিল রয়েছে। চেকপয়েন্ট, অভিযান, যোগাযোগ বন্ধ সবই তার অংশ।’

‘পশ্চিম তীরের মতোই ভারত কাশ্মীরকে প্রায় স্থায়ী জরুরি অবস্থায় রাখে, যেখানে সামরিক উপস্থিতি, নজরদারি ও বিশেষ আইনি ক্ষমতা দৈনন্দিন জীবনের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে’, যোগ করেন তিনি।

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ: তথ্যমন্ত্রী

আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই সরকার পাইলট ভিত্তিতে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি ছিল ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

স্বপন জানান, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারেই ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’

প্রথম ধাপে কত পরিবার কার্ড পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কর্মসূচিটি হবে সর্বজনীন, কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না। তবে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ শুরু হতে পারে। প্রথমে অতি দরিদ্র, পরে দরিদ্র এবং এরপর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’—বাস্তবে কি তা প্রতিষ্ঠা করা যাবে?

লেখার শিরোনামে প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য ব্যবহার করেছি, ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’। কথাটা অত্যন্ত সুমধুর। কেননা, এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্দেশনা দেশের অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। দেশের অধিকাংশ প্রত্যন্ত এলাকায় জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রথম সংযোগস্থল পুলিশ। সেখানে যদি জনগণের অভিজ্ঞতা সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তাহলে সরকারের প্রতি তাদের আস্থা বহুগুণে বেড়ে যায়।

অথচ, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটিই অতীত সরকারগুলোর হাতে ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থে সবচেয়ে বেশি অপব্যবহৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই পুলিশকে রাজনৈতিক ব্যবহার-মুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে পারেন, তাহলে আইনি নিপীড়ন ও দুর্নীতির শিকার দরিদ্র ও ক্ষমতাহীন মানুষের জীবনে বিরাট পরিবর্তন আসবে। সেই পরিবর্তন বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থাকেও নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বদলে দেবে এবং গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আরও কার্যকর ও জনমুখী হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়াশোনার অবস্থা নিয়েও কথা বলেছেন এবং আমরা সেটা নিয়েও আলোচনা করব।

এসব বিষয়ে আলোচনার আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি ঘটনা বলতে চাই, যেটা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে মতবিনিময়ের জন্য সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সদস্যদের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। বৈঠকে তিনি ছিলেন আন্তরিক ও বিনয়ী। তার ব্যক্তিগত একটি গল্প দিয়ে সেদিনের আলোচনা শুরু করায় আমরাও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

তারেক রহমান বলেন, তিনি পবিত্র রমজান মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। রাত পর্যন্ত কাজ করায় সহকর্মীদের নিয়ে অফিসেই ইফতার করতেন। তিনি দেখলেন, পর্যটন হোটেল থেকে আনা ইফতারের খরচ পড়ত জনপ্রতি ৯০০ টাকা। তিনি ইফতারের বিভিন্ন সামগ্রীর খোঁজ নেন এবং মাত্র ১৫০ টাকায় স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর ইফতারের ব্যবস্থা করেন। এরপর থেকে সেটিই ছিল তার অফিসে ইফতারের জনপ্রতি খরচ।

এরপর তিনি আমাদের চমকে দিয়ে বলেন, আমাদের জন্য দুপুরে খাবারের যে আয়োজন করা হয়েছে, সেখানেও জনপ্রতি খরচ হবে ১৫০ টাকা। খাবারে ছিল সাদা ভাত, সবজি, লাউ-চিংড়ি (ছোট চিংড়ি) ও ডাল। একদম গরম-গরম ও টাটকা খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। খরচ কম হলেও সেদিনের মধ্যাহ্নভোজ ছিল হালকা, স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু।

ইফতার ও দুপুরের খাবারে সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প বের করতে প্রধানমন্ত্রী যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, একইভাবে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও ব্যয়-সাশ্রয়ী ও কার্যকর পদ্ধতি খুঁজতে তিনি অনুপ্রাণিত হবেন বলে আশা করি।

সচিবালয়ে ঢোকার সময় প্রথমেই যা চোখে পড়ে সেটা থেকে অনেকের মনে হতে পারে, রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ কেন্দ্রটি যেন বিলাসবহুল এসইউভি ও দামী গাড়ির পার্কিং লটে পরিণত হয়েছে। দু-তিন সারিতে রাখা প্রতিটি গাড়ির দাম কোটি টাকার বেশি। এত গাড়ির ভিড়ে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে হেঁটে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। শুধু কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণই নয়, সরকারি কোষাগার শুষে নিয়ে প্রতিদিন মেটাতে হচ্ছে এসব দানব গাড়ির জ্বালানি চাহিদাও। জ্বালানির ব্যয় ইতোমধ্যেই অনেক বেশি এবং আগামীতে নিশ্চই আরও বাড়বে।

এমনকি জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও এই ব্যয়বহুল জ্বালানিখেকো গাড়ি দেওয়া হচ্ছে। যাদের সেবা দিতে এই কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে, সেই দরিদ্র জনগণের বাস্তবতার সঙ্গে তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলো ভয়াবহ বৈসাদৃশ্য তৈরি করে।

এই জায়গাতে শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর নজর দেওয়া উচিত। তার ‘সরল জীবনযাপন’ দর্শন প্রয়োগের মাধ্যমে এখন থেকেই প্রশাসনিক ব্যয় কমানো শুরু করা যেতে পারে। শুধু এসব গাড়ির দাম এবং জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সম্পর্কে জানলেই প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারবেন যে আমরা কী বলতে চাইছি।

ফিরি তার বক্তব্যে। এখানে আমরা দুটি বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই। একটি পুলিশ এবং অপরটি আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।

পুলিশ সপ্তাহে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বার্তা স্পষ্ট, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কঠোরভাবে আইন মেনে চলতে হবে। জনগণ যেন যেকোনো বিপদে থানাকে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এরপর গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং এত নিচে থাকার প্রধান কারণ হলো ‘রাজনৈতিক প্রভাবে শিক্ষক নিয়োগ, একাডেমিক পারফরম্যান্সের প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্বের অভাব ও গবেষণার ঘাটতি।’

জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দুটি সম্পর্কে তার এই মন্তব্যগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার বক্তব্য আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। মুক্ত গণমাধ্যম হিসেবে এসব ক্ষেত্রে আমাদের পেশাগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করছি।

পুলিশের প্রসঙ্গ দিয়েই শুরু করা যাক। দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’, তখন সেটা যেমন অত্যন্ত প্রশংসনীয়, তেমনি খানিকটা অবিশ্বাস্যও শোনায়। তিনি যদি সত্যিকার অর্থে সেটাই বোঝাতে চান, তাহলে পুলিশকে প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর স্বাধীনতা দিতে হবে।

বাস্তবতা হলো, সরকার ও ক্ষমতাসীন দল চায় বলেই বিরোধী দল ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয় পুলিশ। কোনো জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা যদি ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার পক্ষপাতমূলক নির্দেশ না মানতে চান, তাহলেই দেখা যায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। আর ওই কর্মকর্তা যদি অনড় থাকেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থা নিতেই দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার, আসলে অপব্যবহারের মূল কারণ সরকার ও ক্ষমতাসীন দল নিজেরাই। এটি বন্ধ করতে হলে শুরুটা করতে হবে নিজের আঙ্গিনা থেকেই। কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য যখন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী, ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা পারিবারিক শত্রুকে হয়রানি করার জন্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক নির্দেশ দেন, তখন একজন পুলিশ কর্মকর্তা কোন সাহসে স্বাধীনভাবে কাজ করবেন? একজন পুলিশ কর্মকর্তা তখনই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, যখন নিজেকে রক্ষার জন্য তার কাছে একটি সরকারি প্রক্রিয়া থাকবে। সেটা থাকলে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও নিয়ম মেনে চলার পরামর্শই দেবেন।

যদি প্রধানমন্ত্রী সত্যিই প্রতিষ্ঠা করতে চান যে ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’, তাহলে তারই দায়িত্ব হবে দুটি ‘আচরণবিধি’ তৈরি করা। একটি হবে পুলিশের জন্য, অপরটি দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য। একটিতে থাকবে, পুলিশ কীভাবে সংসদ সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের সঙ্গে আচরণ করবে এবং অপরটিতে থাকবে, দলীয় নেতারা পুলিশের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবে।

এটাও মনে রাখতে হবে, পুলিশের মধ্যেও, বিশেষ করে অবসরের কাছাকাছি থাকা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ক্ষমতাসীনদের খুশি করতে বাহিনীকে ব্যবহার করেন। কারণ, তারা শেষ মুহূর্তে পদোন্নতি, সুযোগ-সুবিধা, জাতিসংঘ মিশন ও আকর্ষণীয় পদায়নের সুযোগ হিসেবেই এটাকে দেখেন।

এবার আসি আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে। রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির কারণেই আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লজ্জাজনক নিম্ন র‌্যাংকিং—এ কথা বলে প্রধানমন্ত্রী সমস্যার গোড়াতেই আঘাত করেছেন।

এর সঙ্গে আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, সরকারি চাপ, দলীয়করণ ও তোষামোদি সংস্কৃতির মধ্যেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক শিক্ষক নিজেদের জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রেখেছেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ও একাডেমিক অঙ্গনে সম্মান অর্জন করেছেন। তাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাগত উৎকর্ষ ধ্বংসের জন্য ব্যাপকভাবে দায়ী। তবে এখানে মূল সমস্যা হলো উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষকরা গোলাপি, সাদা ও নীল প্যানেল গঠন করেছেন। এসব প্যানেল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের পছন্দের দল ক্ষমতায় এলে উপাচার্য, হল প্রভোস্ট, হাউস টিউটর এমনকি অনেক সময় ডিন নিয়োগ ও অন্যান্য কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রণ করেছে।

রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও রঙ বদলায়। সেইসঙ্গে বদলে যায় নিয়োগ প্রক্রিয়া, একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষকদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা। এর ফলেই বছরের পর বছর ধরে আমাদের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মর্যাদা, সম্মান ও গুণগত মান হারিয়েছে।

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার দুটি মৌলিক ক্ষেত্র হলো সুশাসন ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা। এই দুটি বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য দুটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছি।

পুলিশকে রাজনীতিমুক্ত করতে হলে দুটি কঠিন লড়াই জিততে হবে। প্রথমত, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বোঝাতে হবে যে পুলিশ তাদের দলীয় ক্যাডার বাহিনীর আরেকটি অংশ নয়। দ্বিতীয়ত, পুলিশ সদস্যদের মানসিকতা বদলাতে হবে এবং পেশাগত সীমার অনেক বাইরে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের সেবা করার অভ্যস্ততা বাদ দিতে হবে। এই চর্চা এত দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে যে, তারা হয়তো স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুভূতিটাই ভুলে গেছেন।

গত ১১ মে দ্য ডেইলি স্টারের বাংলা ও ইংরেজি অনলাইন এবং ১২ মে ছাপা পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এস আলম ডিজিএফআইকে ব্যবহার করে এসআইবিএলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। কাজেই পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পেশাদারিত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করতে হবে। সেটা হলো, তারা কীভাবে নির্বাচিত সরকারকে সেবা দেবে এবং কীভাবে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতাদের ‘দলীয়’ স্বার্থে কাজ করা থেকে বিরত থাকবে, সেটা স্পষ্ট করতে হবে। এই ‘স্পষ্টতা’ অত্যন্ত জরুরি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার পূর্বশর্ত।

আমাদের নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রয়োজন নেই। বিশ্বের প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশের কাছ থেকেই আমরা এটি শিখতে পারি। আমরা যে ‘স্পষ্টতা’র ওপর জোর দিয়েছি, সেটা ছাড়া পুলিশকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই আকাঙ্ক্ষা কখনোই বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হবে না।

আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনীতিমুক্ত করা এবং সেখানে একাডেমিক স্বাধীনতা ও উৎকর্ষ ফিরিয়ে আনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমরা যদি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সুশাসন ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক অগ্রগতির অংশ হতে চাই, তাহলে এটা করতেই হবে। এর শুরুটা হোক মেধা, নৈতিক গুণাবলি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততার ভিত্তিতে উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে। তাকে পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে এবং রাজনৈতিক ভিত্তির বদলে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সহায়তা করতে হবে। শিক্ষকদের বোঝাতে হবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে দলীয় রাজনীতি করা থেকে বিরত থাকতে। নাগরিক হিসেবে তারা রাজনীতি করতেই পারেন, কিন্তু শিক্ষক হিসেবে নয়। শিক্ষার্থীদেরও হয়তো বোঝানো যেতে পারে যে গণতন্ত্র ও দেশের অগ্রগতির জন্য রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে ক্যাম্পাসভিত্তিক দলীয় রাজনীতির বহু ক্ষতিকর দিক রয়েছে, যার শিকার আমরা অতীতে হয়েছি এবং প্রত্যক্ষও করেছি।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে। আমরা কিছু সড়ক, সেতু, কারখানা ও ভবনও বানিয়েছি। কিন্তু মেধা, নৈতিকতা ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি জনপ্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলতে পারিনি। বরং যেগুলো ছিল, সেগুলোকেও ধ্বংস করেছি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমাদের নতুন পথে যাত্রা শুরু করাতে পারে। কিন্তু সত্যিই সেটা হবে তো?

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

রিয়ার হ্যাটট্রিক, এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ের ফাইনালে বাংলাদেশের নারীরা

ইতিহাস গড়েই চলেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দল। চলমান এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পথে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছেন ফরোয়ার্ড আইরিন রিয়া।

মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে ৩-১ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে রিয়ার নৈপুণ্যই ব্যবধান গড়ে দেয়। ম্যাচের শেষ দিকে দুবার জাল কাঁপিয়ে তিনি লাল-সবুজ জার্সিধারীদের জয় নিশ্চিত করেন। ফলে নিজেদের প্রথম সিনিয়র আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়েই ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশের নারীরা।

জাহিদ হোসেন রাজুর শিষ্যরা আগামী বুধবার ফাইনালে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া অথবা চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি হবে। এদিনই এই দুটি দল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে একে অপরকে মোকাবিলা করবে।

ম্যাচের শুরুতেই লিড নেয় বাংলাদেশ। অষ্টম মিনিটে দারুণ দক্ষতায় কাছ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রিয়া। তবে এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র চার মিনিট পরেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে সিঙ্গাপুরকে সমতায় ফেরান চেরিল চিয়া।

গোল হজম করলেও বাংলাদেশ আক্রমণ অব্যাহত রাখে এবং বেশ কিছু পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয়। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের স্বাদ পাওয়া যাচ্ছিল না। চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টারে ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন রিয়া।

৫৭তম মিনিটে সিঙ্গাপুরের ডি-বক্সের ভেতর বল কেড়ে নিয়ে জোরালো শটে বাংলাদেশকে ফের এগিয়ে দেন তিনি। এর ঠিক এক মিনিট পর পূর্ণ হয় তার হ্যাটট্রিক। অধিনায়ক অর্পিতা পালের নিখুঁত ক্রস থেকে স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে দলকে উল্লাসে মাতান তিনি।

অভিষেক আসরেই এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশের নারী হকির জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। তাছাড়া, সেমিফাইনালে ওঠায় আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া আগেই নিশ্চিত হয়েছে তাদের।

ক্ষুদ্র খামারিদের প্রতি ডিমে ২ টাকা লোকসান: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বর্তমানে দেশের ক্ষুদ্র খামারিদের প্রতিটি ডিম বিক্রিতে দুই টাকা করে লোকসান করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র খামারিদের বর্তমানে প্রতি ডিম উৎপাদনে প্রায় নয় টাকা খরচ হলেও খামারিরা সাত টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমে দুই টাকা করে লোকসান হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।’

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষুদ্র খামারিদের টিকিয়ে রাখা জরুরি। কারণ, তারা না থাকলে বড় খামারিরাও টিকে থাকতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পোল্ট্রিখাতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতকে রপ্তানিমুখী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’

‘সরকার ও কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আমদানি করে থাকে। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি খামারি, ফিড, বাচ্চা উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে উইন-উইন পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে’, যোগ করেন তিনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে।’