33.4 C
Dhaka
Home Blog

বাংলাদেশের সঙ্গে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করতে আগ্রহী ভারত: হাইকমিশনার

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করতে ভারত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

আজ রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক সুবিধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও অগ্রগতিমুখী উপায়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’

‘এটাই ছিল আমাদের আলোচনার বিষয় এবং আমরা সত্যিই এ বিষয়ে এগিয়ে যেতে চাই,’ যোগ করেন তিনি। 

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক সম্পর্কে প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আমি মনে করি, অবশ্যই মানুষে মানুষে যোগাযোগ আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

তিনি জানান, নির্বাচনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান ও টেলিফোনে কথা বলেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘এসব উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে বাংলাদেশ-ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।’

‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন এবং আমাদের বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও জানিয়েছি,’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশিদের জন্য ভারত কবে পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটিও মানুষে মানুষে সহযোগিতার লক্ষ্যের আওতায় পড়ে।’

নির্বাচনের পরদিনই পদত্যাগ বিসিবি পরিচালক সীমান্তর

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক ঘটনা সামনে এসেছে। রাজশাহী বিভাগের পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া মীর শাকরুল আলম সিমান্ত নির্বাচনের মাত্র একদিন পরই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে ক্যাটাগরি-১ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া সাত পরিচালকের একজন ছিলেন সিমান্ত। তবে তার এই পদত্যাগ খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। এর আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন তিনি।

বিসিবির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আহসানুল করিম এর আগেই জানিয়েছিলেন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৫ মে পর্যন্ত সিমান্ত নিজের নাম প্রত্যাহার না করায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর পদত্যাগে কোনো বাধা ছিল না, আর সেই আনুষ্ঠানিকতাই এবার সম্পন্ন করলেন তিনি।

বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিমান্ত আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন এবং বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছিল। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে তাকে পুরো প্রক্রিয়ায় থাকতে হয়েছে। নতুন বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো পরিচালকের পদ শূন্য হলে সেই পদ পূরণের জন্য নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ফলে সিমান্তর পদত্যাগের পর রাজশাহী বিভাগের শূন্য পরিচালক পদে শিগগিরই নতুন নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে ক্রিকেট বোর্ডকে। 
 

বেসরকারি খাতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

সংকটে থাকা বেসরকারি খাতকে সহায়তা দিতে, বিনিয়োগ বাড়াতে ও দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ শনিবার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ প্যাকেজের ঘোষণা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্যাকেজের দুটি অংশের কথা জানানো হয়। প্রথমটি ৪১ হাজার কোটি টাকার পুন-অর্থায়ন তহবিল। এই তহবিল ১০ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি আমানত হিসেবে ব্যাংকগুলো থেকে সংগ্রহ করা হবে।

দ্বিতীয় প্যাকেজটি ১৯ হাজার কোটি টাকার। এটি সরকারের গ্যারান্টি সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে নেওয়া হবে।

পুন-অর্থায়ন তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে বন্ধ কলকারখানাগুলোর জন্য।

এছাড়া, কৃষি ও গ্রামীণ খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র-কুটির-মাঝারি শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উত্তরবঙ্গ কৃষি হাবের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আর, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০টি সুনির্দিষ্ট স্কিম বা খাতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিপমেন্ট-পূর্ব ঋণ পুনঃঅর্থায়ন, কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও স্টার্টআপ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই প্যাকেজের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে ২৫ লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই তহবিল থেকে মাত্র ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে বলেও জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

শরিয়াহ আইন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান কী, প্রশ্ন তথ্যমন্ত্রীর

শরিয়াহ আইন নিয়ে সংসদে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ বৃহস্পতিবার প্রয়াত সংসদ সদস্য সুনীল কুমার গুপ্তের স্মরণ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কথাটা বলার মধ্য দিয়েই একটা বহুত্ববাদী রাজনীতির কথা আমরা বলেছি। একটা বহু চিন্তার বৈচিত্র্যের কথা আমরা বলেছি এবং বর্তমান সভ্যতার জন্য এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যারা যারা এই বৈচিত্র্যকে স্বীকার করতে চায় না, তারাই সমাজে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। যে সমাজ বৈচিত্র্যকে মেনে নিয়ে, ধারণ করে, এটাকে একটা সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করে, সেই সমাজ এবং রাষ্ট্র অনেক বেশি সভ্য এবং এগিয়ে যায়।’

এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বৈচিত্র্যকে ধারণ করে চলতে পারার কারণেই কিন্তু আজকে উন্নতির শিখরে উপস্থিত হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিরোধী দল, জামায়াতে ইসলামী গতকালকেও বক্তৃতায় বলেছেন শরিয়াহ আইন কায়েম করবে। অথচ গত ১৪ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যখন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল দেখা করতে গিয়েছিল, সেখানে স্পষ্টভাবেই জামায়াত আমির বলেছেন যে, তারা শরিয়াহ আইন রাখবেন না। ক্ষমতায় গেলে তারা সংবিধান দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবেন। আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জানতে চাই, কোনটি তাদের অবস্থান?’

‘তারা কি দেশের প্রচলিত সাংবিধানিক আইনকে মেনে শাসন ক্ষমতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন নাকি তারা শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা প্রতিজ্ঞা নিয়ে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, সাংবিধানিক এবং সংসদীয় তৎপরতা চালাচ্ছেন,’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দেয়। এ ব্যাপারকে ‘শুভ লক্ষণ’ উল্লেখ করে স্বপন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর জন্ম লগ্ন থেকেই আমরা খেয়াল করেছি যে, তারা ধীরে ধীরে অনেক পরিবর্তন এনেছেন। জন্ম লগ্নে মওদুদী সাহেব যেটা বলেছিলেন, ইসলামি সংবিধান তৈরি করতে হবে। যে কারণে পাকিস্তান জন্মেরও তারা বিরোধিতা করেছিলেন। মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তানের এই সংগ্রামকে তারা একটি প্রকৃত আদর্শভিত্তিক আন্দোলন মনে করেন নাই। করেন নাই বলেই পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন। পাকিস্তান জন্মের পরে মেনে নিয়েছিলেন।’

‘পরবর্তীকালে আবার পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোতে কাদিয়ানিদের সঙ্গে আবার বিরোধ এবং কাদিয়ানিদের হত্যাকাণ্ড। সেই হত্যাকাণ্ড তদন্ত ও বিচারের জন্য তৎকালীন বিচারপতি মনিরের নেতৃত্বে মনির কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিশন অপরাধী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নেতা আবুল আলা মওদুদী সাহেবকে চিহ্নিত এবং তার ফাঁসির সুপারিশ করেছিল। পরবর্তীকালে ফাঁসির আদেশ কমিয়ে তাকে কারাবন্দি থাকতে হয়েছে বছর দুয়েকের মতো,’ বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা খেয়াল করেছি ২০১২ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বজায় রাখার জন্য তারা আরও বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন। তাদের গঠনতন্ত্রে ছিল যে, আল্লাহর আইন কায়েম করতে হবে, আল্লাহর শাসন কায়েম করতে হবে, সার্বভৌমত্ব, ইসলামি শাসন ব্যবস্থা ইত্যাদির ক্ষেত্রে তারা পরিবর্তন নিয়ে আসছেন। আমাদের সাংবিধানিক যেসব শব্দগুলো আছে, সেভাবে তারা এটাকে রিপ্লেস করেছেন। এভাবে জন্ম লগ্নের অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে হতে গত জানুয়ারি মাসে শরিয়াহ আইন বাতিল করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে তারা রাজনীতি করার প্রস্তুতি আমরা দেখেছিলাম পত্রিকায়, সে জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই।’

‘কিন্তু পার্লামেন্টের এখন নতুন করে যেহেতু প্রশ্ন আসছে, আমি গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের কাছে জানতে চাই এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থানটা কী,’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

আশা ভোসলের সঙ্গে দুইবার দেখা হয়েছিল: রফিকুল আলম

ভারতীয় প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে। সুর দিয়ে জয় করেছেন কোটি মানুষের হৃদয়। অনেক কালজয়ী গান আছে তার। ৯২ বছর বয়সে আজ দুপুর বারোটায় মারা গেছেন তিনি।

নন্দিত এই শিল্পী বাংলাদেশেও এসেছিলেন।

আশা ভোসলের সঙ্গে দুইবার দেখা হয়েছিল এদেশের গুণী সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম-এর। সেই স্মৃতির গল্প তিনি বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

রফিকুল আলম বলেন, ‘আশা ভোসলে কতটা গুণী শিল্পী তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাকে নিয়ে বলাটা দু:সাহস মনে করছি। তারপরও কিছু কথা বলছি। তার মতো বিখ্যাত শিল্পীর সঙ্গে আমার দুইবার দেখা হয়েছিল। একবার ঢাকায়, আরেকবার কলকাতায়।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় আশা ভোসলে গান করেছিলেন শেরাটন হোটেলে। কলকাতায় পেয়েছিলাম একটি স্টেজে।’

রফিকুল আলম বলেন, ‘ঢাকায় উনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলবার সুযোগ পেয়েছিলাম। কাছ থেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আশাজি, আপনার গাওয়া “জীবনও গান”— এই গানটি বাংলা ভাষার অসম্ভব সুন্দর একটি গান। আপনি ছাড়া কেউ পারবেন না এই গান করতে। শুনে খুশি হয়েছিলেন। হেসেছিলেন। এরপর বলেছিলেন, “(গানটা) এখানেও পপুলার নাকি?” আমি বলেছিলাম, এটা অনেকেরই পছন্দের গান। সেই সঙ্গে সবার মাঝেই জনপ্রিয় এই গান।’

‘তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা দুই বোন তো বাবার সঙ্গে মন্দিরেও গান করতেন। তাহলে ধর্মীয় গান গাইলেন না কেন? তিনি সুন্দর করে জবাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, করা হয়নি। সুযোগ পেলে গাইব। তবে, ফিল্মে কিন্তু ধর্মীয় গান কিছু গেয়েছি’, বলেন রফিকুল আলম। 

তিনি বলেন, ‘এইরকম একজন বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীর সঙ্গে কথা বলে ভালো লেগেছিল। তার মতো প্রতিভা কমই এসেছে।’

নন্দিত শিল্পী রফিকুল আলম আরও বলেন, ‘যে কোনো শাস্ত্র নিয়ে কথা বলতে গেলে একটা উপমা দরকার পড়ে। প্রথম উপমায় আশা ভোসলের নাম আসবেই। লাইফ মিউজিকের ক্ষেত্রে যদি বলি তাহলে উনার নাম অনায়াসে উঠে আসবে। সংগীত দিয়ে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। উদাহরণ হয়ে থাকবেন সারাজীবন।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তার মতো শিল্পীর কাছে পৌঁছাতে আমাকে দুইবার জন্ম নিতে হবে। লাইভ মিউজিকে, শাস্ত্রীয় সংগীতে নারী শিল্পী হিসেবে আশা ভোসলের নাম অনেক ওপরে। আজ তিনি চলে গেলেন। তাকে স্মরণ করতেই হবে। তার গাওয়া গানই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে।’

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অবসানে চীনের আহ্বান, ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার অবিলম্বে অবসান চেয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মানের ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং।

China is highly concerned over the military strikes against Iran launched by the U.S. and Israel. Iran’s sovereignty, security and territorial integrity should be respected.

China calls for an immediate stop of the military actions, no further escalation of the tense situation,… pic.twitter.com/JzpKQgEpGy

— CHINA MFA Spokesperson 中国外交部发言人 (@MFA_China) February 28, 2026

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো হামলায় বেইজিং ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। একইসঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, ‘ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা উচিত।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।

পাশাপাশি সব পক্ষকে আরও উত্তেজনা এড়িয়ে সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাবেক কর্মস্থলে ফিরলেন অধ্যাপক ইউনূস

দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর নিজের সাবেক কর্মস্থলে ফিরেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ রোববার ঢাকার মিরপুরে টেলিকম ভবনে অবস্থিত ইউনূস সেন্টারে অফিস করেছেন তিনি।

ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

এ সময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি গ্রামীণ সংগঠনগুলো এবং ইউনূস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চলতি মাসের শেষ নাগাদ ঢাকার গুলশানে তার বাসভবনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউনূস সেন্টার।

তামাকের সহজলভ্যতা বাড়াচ্ছে অসংক্রামক রোগের বোঝা

বাংলাদেশে লাখো মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যান। অথচ যে পণ্য এই বিপুল মৃত্যু ও বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের জন্য দায়ী, সেটিই এখনো দেশের সস্তা ও সহজলভ্য পণ্যের মধ্যে একটি। ফলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের সতর্কতা সত্ত্বেও তামাক ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত হারে কমছে না।

গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ (প্রায় ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, তামাকজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর বড় অংশই অকালমৃত্যু, যা কার্যকর নীতিগত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব।

বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক। ফলে তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পরিবার, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক বোঝা ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে একই সময়ে এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ তামাক থেকে সরকার যে রাজস্ব আয় করে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ ব্যয় হয় তামাকের ক্ষতি মোকাবিলায়।

সরকার অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ক্যানসার ও কিডনি রোগের চিকিৎসা সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

কিন্তু একইসঙ্গে তামাকপণ্যের কর ও মূল্যনীতি যদি কার্যকর না হয়, তাহলে এসব উদ্যোগের সুফল অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়বে। কারণ, একদিকে সরকার অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিনিয়োগ করবে, অন্যদিকে তামাকপণ্য সস্তা ও সহজলভ্য থাকবে—যা পরস্পরবিরোধী।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৬০ টাকা থেকে ৬২ টাকা করা হয়েছে, যা মাত্র ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি। মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম ৮০ টাকা থেকে ৯২ টাকা (১৫ শতাংশ বৃদ্ধি), উচ্চ স্তরের দাম ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা (১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি) এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা (১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি) নির্ধারণ করা হয়েছে।

কাগজে-কলমে এই মূল্যবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য মনে হলেও বাস্তবে তা মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে, তামাকপণ্যের প্রকৃত মূল্য কমছে এবং সেগুলো আরও সহজলভ্য হয়ে উঠছে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রকৃত মূল্যহ্রাস’।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। ২৫ শলাকার নন-ফিল্টার বিড়ি এবং ২০ শলাকার ফিল্টার বিড়ির খুচরা মূল্য ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে, মূল্যস্ফীতির প্রভাবে বিড়ির প্রকৃত মূল্য আরও কমে যাবে।

এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ, বাংলাদেশের সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের সিগারেটের দখলে, যার প্রধান ব্যবহারকারী তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। একইভাবে বিড়ি, জর্দা ও গুলের ব্যবহারও তুলনামূলক বেশি নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এসব পণ্যের প্রকৃত মূল্য কমে গেলে স্বাস্থ্য বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তামাক ব্যবহার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো কর বৃদ্ধি করে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো। বিশেষ করে তরুণরা মূল্য পরিবর্তনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। দাম বাড়লে তারা তামাক ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত হয় এবং বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের অনেকেই তামাক ছাড়তে উৎসাহিত হন।

কিন্তু, বাংলাদেশের বর্তমান তামাক করব্যবস্থা জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ। বিভিন্ন মূল্যস্তর ও করহারের কারণে ব্যবহারকারীরা সহজেই উচ্চমূল্যের পণ্য থেকে কমদামি পণ্যে চলে যেতে পারেন। ফলে, কর বৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত জনস্বাস্থ্যগত সুফল পাওয়া যায় না।

এ কারণেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে তামাক কর কাঠামো সহজ ও কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার ন্যূনতম খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।

একইসঙ্গে বিড়ি, জর্দা ও গুলসহ সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম ও করহার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা একটি পণ্য থেকে অন্য অপেক্ষাকৃত সস্তা পণ্যে স্থানান্তরিত হতে না পারেন।

সুনির্দিষ্ট করব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে তামাক কোম্পানিগুলো মূল্যস্তরের ফাঁক ব্যবহার করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। একইসঙ্গে কর আহরণ সহজ হয়, কর ফাঁকির সুযোগ কমে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ে।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় সরকার প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারত। একইসঙ্গে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হতেন এবং প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকতেন। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।

অর্থাৎ কার্যকর তামাক করনীতি শুধু রাজস্ব বাড়ানোর উপায় নয়; এটি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর জনস্বাস্থ্য হস্তক্ষেপগুলোর একটি।

কিন্তু, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে সেই প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও দেখায়, সাহসী তামাক করনীতি দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ফিলিপাইন ২০১২ সালে তামাক শিল্পের প্রবল লবিং উপেক্ষা করে কার্যকর সিন ট্যাক্স সংস্কার বাস্তবায়ন করেছিল। এর এক দশকের মধ্যে দেশটিতে ধূমপানের হার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে এবং অতিরিক্ত রাজস্ব ব্যবহার করে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশও চাইলে একই পথ অনুসরণ করতে পারে। কিন্তু, বিদ্যমান করকাঠামোয় কোনো মৌলিক সংস্কার না হওয়ায় সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তামাক কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফায় পরিণত হবে। এই অতিরিক্ত মুনাফা আবার তামাক ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা এবং এর ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে ১০ শলাকা হিটেড টোব্যাকো পণ্যের খুচরা মূল্য ২১০ টাকা এবং এর ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব নতুন তামাক ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশে প্রচলিত নয় এমন পণ্যের জন্য করকাঠামো নির্ধারণের ফলে কার্যত নতুন বাজার তৈরি হবে এবং জনগণ বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্যখাতের বিষয় নয়; এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হলে তামাকের ব্যবহার কমানোর বিকল্প নেই।

চূড়ান্ত বাজেট পাসের আগে সরকারের সামনে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞানভিত্তিক কর ও মূল্যনীতি প্রণয়ন করে একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধি দুই লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব।

তামাকপণ্য মানুষের নাগালের বাইরে নেওয়া গেলে কমবে তামাক ব্যবহার, কমবে অসংক্রামক রোগের বোঝা, কমবে চিকিৎসা ব্যয় এবং রোধ করা যাবে হাজারো অকালমৃত্যু।

 

অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী: বিভাগীয় প্রধান, রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট

চওয়ালিনস্কাকে হারিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতলেন আন্দ্রেভা

ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে পোলিশ কোয়ালিফায়ার মায়া চওয়ালিনস্কাকে সরাসরি সেটে হারিয়ে শনিবার নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতেছেন মিরা আন্দ্রেভা।

১৯ বছর বয়সী এই রাশিয়ান চওয়ালিনস্কাকে ৬-৩, ৬-২ ব্যবধানে পরাজিত করেন। এর মাধ্যমে ১৯৯২ সালে মনিকা সেলেস (তখন বয়স ছিল ১৮ বছর) প্যারিসে টানা তৃতীয় শিরোপা জেতার পর, সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে রোলঁ গ্যারোসের নারী এককের চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি।

নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম মেঝর মুকুটের সঙ্গে সঙ্গে, ২০০৫ সালের পর জন্মগ্রহণকারী প্রথম খেলোয়াড় (পুরুষ বা নারী) হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জেতার কীর্তি গড়লেন আন্দ্রেভা।

আন্দ্রেভার ক্রমবর্ধমান ট্রফি ক্যাবিনেটে এখন মূল আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নেবে ‘কুপ সুজান লেংলেন’ (ফ্রেঞ্চ ওপেন ট্রফি), যেখানে ইতিমধ্যেই দুটি ডব্লিউটিএ ১০০০ শিরোপা রয়েছে।

ফাইনালের এই হার চওয়ালিনস্কার এক অবিশ্বাস্য যাত্রার সমাপ্তি ঘটালো, যা শুরু হয়েছিল বাছাইপর্ব থেকে। ফরাসি রাজধানীতে নয়টি ম্যাচ জিতে তিনি ওপেন এরা-র ইতিহাসে প্রথম কোয়ালিফায়ার হিসেবে ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়েন।

তবে, বিশ্বের ১১৪ নম্বর খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার এখন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে, কারণ তিনি র‍্যাঙ্কিংয়ে ২১ নম্বরে উঠে আসবেন এবং টেনিসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নিশ্চিত করবেন।
 

দাম বাড়ায় কমছে এলপিজির চাহিদা, রান্নায় বিকল্পতে ঝুঁকছে মানুষ

এলপিজি গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এর ব্যবহার কমতে শুরু করেছে। সংসারের খরচ সামলাতে অনেক পরিবার এখন গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার রান্নার জন্য ইলেকট্রিক চুলা বা অন্য বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবেশকদের ভাষ্য, চলতি মাসে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ, বাড়তি জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে মানুষ এখন প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত ব্যয় এড়িয়ে চলছেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। সংস্থাটি জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফুয়েল কর্নারের মালিক এবং বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের পরিবেশক সুব্রত সাহা বলেন, দাম বাড়ার পর থেকেই বিক্রি দ্রুত কমে গেছে। আগে তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬০টি ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করতেন, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৩৫টিতে।

তার মতে, অনেক গ্রাহক এখন ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার দিকে ঝুঁকছেন। কারণ, বিদ্যুতে রান্নার খরচ এখন প্রায় এলপিজির সমান হয়ে গেছে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার বহন ও পরিবহনের ঝামেলাও এড়ানো যায়।

পেট্রোম্যাক্স এলপিজির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত দেড় মাসে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। তার ভাষ্য, এক মাসের মধ্যেই দেশে এলপিজির মাসিক চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন থেকে কমে ১ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। অর্থাৎ অল্প সময়েই দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

তার মতে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগেই কমে গেছে। এর মধ্যে রান্নার খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চাপে পড়েছে।

এদিকে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কোম্পানি সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। গ্রাহক ধরে রাখতে কিছু প্রতিষ্ঠান ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ও দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। এতে পুরো খাতেই ব্যয় বেড়েছে।

তার মতে, এই পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে প্রায় ৬ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই আবার পুরোনো জ্বালানির দিকে ফিরে যাচ্ছেন।

তবে তিনি আশার কথা শুনিয়ে বলেন, বাজারে ধীরে ধীরে ভারসাম্য ফিরতে শুরু করেছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক খুচরা বিক্রেতা এখন সরকারি নির্ধারিত দাম মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ছে এবং ক্রেতাদের আস্থাও ফিরছে।

বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, মূল্যস্ফীতি ও গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে শহর ও গ্রাম—সব জায়গাতেই চাহিদা কমেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।

ইউনাইটেড আয়গ্যাজ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন ওরতাচ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের জন্য স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে তার মতে, সময়মতো বিইআরসির মূল্য সমন্বয় ও নীতিগত সহায়তার কারণে দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের সংকট এড়ানো গেছে।