32 C
Dhaka
Home Blog

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশবিরোধী তৎপরতা ছিল: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য।

আগামীকাল জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছিল। ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল- নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি বলে আমি মনে করি। এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা রকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বিপরীতে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবো- এই হোক শহীদ সেনা দিবসের প্রত্যয়।’

ঝাল খাবারে আলসার হয় না, প্রমাণ করতে ব্যাকটেরিয়া গিলেছিলেন চিকিৎসক

একসময় মানুষের বদ্ধমূল ধারণা ছিল—অতিরিক্ত ঝাল খাবার, মানসিক চাপ আর পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিডই আলসারের মূল কারণ। কিন্তু আলসারের আসল কারণ যে কোনো খাবার নয়, বরং একটি ব্যাকটেরিয়া তা প্রমাণ করতে এক চিকিৎসক নিজেই গিলে খেয়েছিলেন ব্যাকটেরিয়াযুক্ত তরল।

আলসার নিয়ে এই গবেষণা করেন অস্ট্রেলীয় দুই চিকিৎসক ড. ব্যারি মার্শাল ও ড. রবিন ওয়ারেন। আলসারের প্রকৃত কারণ আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৫ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান তারা।

যুগ যুগ ধরে মানুষের ধারণা ছিল, আলসারের মূল কারণ মানসিক চাপ ও ঝাল খাবার। তাই তারা রোগীদের অ্যাসিডিটির ওষুধ সেবন ও খাদ্যাভ্যাস বদলানোর পরামর্শ দিতেন। এতে সাময়িক উপশম মিললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কষ্টদায়ক রোগটি বারবার ফিরে আসত।

তবে ১৯৭৯ সালে ডা. রবিন ওয়ারেন প্রথম পাকস্থলীর প্রদাহে আক্রান্ত রোগীদের নমুনায় একধরনের সর্পিল আকারের ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান। তৎকালীন বিশেষজ্ঞদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, পাকস্থলীর তীব্র অম্লীয় পরিবেশে কোনো ব্যাকটেরিয়ার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

ওয়ারেনের এই পর্যবেক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেন ড. ব্যারি মার্শাল। এই ব্যাকটেরিয়াই কি আলসার ঘটাচ্ছে কি না, সেটা অনুসন্ধানে নেমে পড়েন দুই বিজ্ঞানী।

তাদের এই ধারণাকে একবাক্যে মেনে নিতে রাজি ছিলেন না কেউই। অনেকেই এতে সন্দেহ পোষণ করলে ড. মার্শাল এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নেন। এমন একটি কাজ করেন তিনি, যা আধুনিক যুগের প্রতিষ্ঠিত নৈতিক মানদণ্ডে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি নিজেই নিজেকে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার গিনিপিগে রূপান্তর করেন—পান করেন ‘হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি’ নামে পরবর্তীকালে পরিচিতি পাওয়া সেই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত তরল।

কয়েক দিনের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মার্শাল। বমি, তিক্ত ভাব ও মুখে দুর্গন্ধের মতো আলসারের সব পরিচিত উপসর্গ দেখা দেয় তার মধ্যে। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার পাকস্থলীতে প্রদাহ হয়েছে এবং সেখানে ওই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। পরে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

সে আমলে ড. মার্শালের নিজেকে নিয়ে করা এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে আলসারের মূল কারণ নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটায়নি। তবে পরবর্তীতে গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টির প্রমাণে তার এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

এই আবিষ্কার আলসারের চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আনে। শুধু পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানো এবং উপসর্গ আবার ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকেন না চিকিৎসকরা। রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দ্রুত এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ করে তোলার প্রচেষ্টা নেন তারা।

অনেক রোগীর ক্ষেত্রে যে অসুখকে একসময় দীর্ঘস্থায়ী ও বারবার ফিরে আসা সমস্যা হিসেবে দেখা হতো, তা এখন সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব শুধু আলসারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় এই ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত থাকলে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যদিও এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত অনেক মানুষ কখনোই আলসার বা ক্যানসারে আক্রান্ত হন না।

একটি বড় আকারের গবেষণার ফল থেকে দেখা গেছে, এখনো প্রায় প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে চারজনই এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। ওই গবেষণায় আরও জানা গেছে, ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের ৫৮ দশমিক দুই শতাংশ থেকে এই হার কমে ২০১১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৪৩ দশমিক এক শতাংশে নেমেছে।

দীর্ঘদিন ধরে আলসারের চিকিৎসার কেন্দ্রে ছিল অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ। তবে দুই বিজ্ঞানীর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারে বিষয়টি অনেকটাই বদলে যায়। চিকিৎসকরা এখন রোগীর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের বদলে রোগ নিরাময়ে মনোযোগ দিচ্ছেন।

 

লেখক পঞ্চম বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থী। 

ই-মেইল: [email protected]
 

রাজনীতিবিদ ও প্রকৌশলীদের ভালো দিক মানুষের চোখে পড়ে না: শাহে আলম

রাজনীতিবিদ ও প্রকৌশলীদের ভালো দিক মানুষের চোখে পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারদের বহু সফলতা আছে বাংলাদেশে। হাজারো সফলতার গল্প আছে, কিন্তু এই গল্প মানুষের নজরে পড়ে না। মানুষের নজরে পরে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। ওটা একটা টিকটক বানিয়ে ছেড়ে দেয়। কোন সময় পর্যন্ত কার্পেটিংটা থাকবে, সেটেল হবে এটার সম্বন্ধে কিন্তু যে ওঠাচ্ছে তার ধারণা নাই। পলেস্তারা উঠিয়ে ফেলছে। উঠিয়ে ভিডিও করে ছাড়ছে। দুর্নাম হচ্ছে কার? ডিপার্টমেন্টের ইঞ্জিনিয়ারের।’

‘হাজার-কোটি টাকা খরচ করে আমরা ভালো ভালো প্রকল্প নির্মাণ করছি। কিন্তু টুকটাক যেখানে প্রবলেম হচ্ছে, সেই প্রবলেমগুলো মানুষের সামনে নিয়ে এসে ইঞ্জিনিয়ারদের হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। যেটা আমাদের কারও জন্যই কাম্য নয়,’ যোগ করেন তিনি।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনৈতিক কাজের সঙ্গে কম-বেশি সবাই জড়িত। দোষ হয় ইঞ্জিনিয়ারের। একটা ডিপিপি প্রণয়ন, প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন, বিল থেকে শুরু করে সব কিছুর সঙ্গে কি ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষরেই কি বিল যায়? এর সঙ্গে ইউএনও থাকে, ডিসি থাকে। অন্য প্রজেক্ট হলে অন্যরা বা আমাদের মন্ত্রণালয়ের লোকজন জড়িত থাকে। সর্বশেষ দোষের দোষী হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার।’

দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রকৌশলীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মধ্যে থাকলে হবে না। এই ছোট ছোট পরিকল্পনা করতে গিয়ে বারবার আমরা ধাক্কা খাচ্ছি।’

সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কিছু এলাকায় আমি দেখলাম, সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।’

ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুসরণ করা হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেওড়াপাড়ায় গিয়ে এমন একটা জায়গা দেখলাম, যেখানে অনেক বিস্তৃত বাড়িঘর তৈরি হয়েছে। মানুষ তো মরণশীল, মানুষ মারা যাবে। একটা মানুষ ইন্তেকাল করলে ওই জায়গা থেকে যে জানাজার জন্য যে খাটিয়ায় মরদেহটা নিয়ে আসবে, সেই পরিবেশে ওখানে নাই। এর মধ্যে আবার বিদ্যুতের লাইন, গ্যাসের লাইন, পানির লাইন গেছে।’

মেগা প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এলজিডির মাধ্যমে একটা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। সেই ব্রিজের ফিজিবিলিটি স্টাডি করে যারা ডিজাইন দিয়েছেন, তারা ইঞ্জিনিয়ার। ব্রিজ নির্মিত হয়েছে, ৯০ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। নির্মাণের পর দেখা যাচ্ছে যে, ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি যাওয়ারই জায়গা নাই। ৬০ লাখ টাকা দিয়ে নতুন করে এলজিডির পক্ষ থেকে পাশে আরেকটি স্টিল ব্রিজ করে দেওয়া হচ্ছে মানুষের চলাচলের জন্য। এটার জন্য আমরা কাকে দায়ী করব? মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা দায়ী থাকবে? সচিব দায়ী থাকবে না প্রজেক্ট যারা অনুমোদন করেছেন তারা দায়ী থাকবে?’

নেইমারকে ফুটবল চালিয়ে যেতে বাবার আবেগঘন বার্তা

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর নেইমার জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর তার একটি মন্তব্যেই জোরালো হয়েছে জাতীয় দল থেকে অবসরের গুঞ্জন। আর সেই মুহূর্তে ছেলেকে ফুটবল না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে আবেগঘন এক খোলা চিঠি লিখেছেন নেইমারের বাবা।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই শেষ। আমার এখানকার পথচলা শেষ।’

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে আর কিছু না বললেও, তার বাবা দীর্ঘ এক বার্তায় ছেলেকে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান। ছেলেকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘বাবা, ফুটবলটা খেলেই যাও। পায়ে বল নিয়ে খেলার আনন্দটা আবার খুঁজে বের করো। মাঠে আবার হাসো। আজ তুমি সুস্থ আছ। ঈশ্বর তোমাকে আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন, যেটা তুমি সবসময় সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছ, সেটা করার। খেলাটা উপভোগ করো। সিদ্ধান্ত, সমালোচনা, প্রত্যাশা কিংবা জীবনের ব্যর্থতার ভার নিজের কাঁধে তুলে নিও না।’

চিঠিতে তিনি স্মরণ করেন নেইমারের শৈশবের দিনগুলোর কথা, ‘মনে হয় যেন সেদিনের কথা, যখন ছোট্ট সেই ছেলেটাকে পায়ে বল নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতাম। খুব ছোটবেলাতেই বুঝেছিলাম, তোমার মধ্যে আলাদা কিছু আছে। সেটা শুধু প্রতিভা ছিল না, ছিল একটি উদ্দেশ্য।’

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশায় আবেগপ্রবণ হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি, ‘ভবিষ্যৎ ঈশ্বরের হাতে। আজ নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত তোমার পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে না। কোনো স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি মানেই সেটি শেষ হয়ে যায়নি। একটি কঠিন মুহূর্ত কখনো গল্পের শেষ লিখে দেয় না। আমাদের জীবনের শেষ অধ্যায় লেখেন ঈশ্বর।’

ছেলের ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ‘এই পুরো পথচলায় আমি তোমার সঙ্গেই ছিলাম। তোমার প্রথম গোল, প্রথম সাফল্য, পেশাদার ফুটবলে অভিষেক, সবই দেখেছি। পরে দেখেছি বিশাল সব স্টেডিয়ামের গর্জন, শিরোপা জয় আর পৃথিবীর নানা প্রান্তে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি। সেই ছোট্ট ছেলেটিকে নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে উঠতে দেখেছি। কিন্তু একজন বাবা হিসেবে তোমার প্রতিটি পদক্ষেপের সাক্ষী হতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

বয়সকে কোনো বাধা মানতে নারাজ নেইমারের বাবা, ‘সেরাটা বয়স বা পরিস্থিতি দিয়ে নির্ধারিত হয় না। সেরাটা নির্ভর করে ঈশ্বরের ইচ্ছার ওপর। সামনে এমন অনেক অধ্যায় অপেক্ষা করতে পারে, যা তুমি এখনো কল্পনাও করোনি। হয়তো ঈশ্বর তোমার জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন, যা তোমার সবচেয়ে বড় স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যাবে।’

চিঠির শেষেও ছেলের প্রতি নিজের নিঃশর্ত ভালোবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি, ‘ততদিন পর্যন্ত সুখে থাকো। হালকা মন নিয়ে ফুটবল খেলো। আবার মানুষকে আনন্দ দাও। ছোটবেলায় ঈশ্বর তোমার হাতে যে প্রতিভা তুলে দিয়েছিলেন, সেটাই করে যাও। আর কখনো ভুলে যেও না পৃথিবী তোমাকে ভালোবাসার আগেই ঈশ্বর তোমাকে ভালোবেসেছেন। বাবা, আবার সুযোগ পেলে আমি সবই করতাম, প্রতিটি সফর, প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি নির্ঘুম রাত, প্রতিটি দুশ্চিন্তা আর প্রতিটি প্রার্থনা।’
 

বাংলাদেশে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ভিওনের

বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন। প্রতিষ্ঠানটি ১০০ কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছে, এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। 

এই প্রস্তাব নিয়ে গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভিওনের চেয়ারম্যান অগি ফাবিলার মধ্যে বৈঠক হয়।

‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ!’ নামে এই উদ্যোগটি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রস্তাব। এর লক্ষ্য দেশের ডিজিটাল খাতে আরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আনা।

আলোচনা প্রসঙ্গে এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, এই উদ্যোগের মূল ফোকাস থাকবে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো, ডিজিটাল সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে।

তার ভাষ্য, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ডিজিটাল বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

এক বিবৃতিতে বাংলালিংক জানায়, নিজেদের বিনিয়োগের পাশাপাশি ভিওন তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

ভিওন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অগি কে. ফাবিলা (দ্বিতীয়) বলেন, বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যাত্রায় আমরা দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার। ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ’ উদ্যোগের মাধ্যমে ভিওন ১০০ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উচ্চাভিলাষী কর্মসূচিতে প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, নিজেদের বিনিয়োগের পাশাপাশি আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করব, যেন বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়। ডিজিটাল ও আর্থিক রূপান্তর নিয়ে সরকারের যে লক্ষ্য, তার সঙ্গে আমরা পুরোপুরি একমত। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলালিংককে স্মার্টফোনের দাম আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলেন, যেন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সহজে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব আর্থসামাজিক শ্রেণির মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়া ও সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ভিওনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মিশিয়েল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে।

এদিকে, ভিওন বাংলাদেশে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অধিগ্রহণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে দুবাইভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সঙ্গে কৌশলগতভাবে একীভূত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কিছু কৌশলগত সম্পদ নিয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রস্তাবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মালিকানাধীন মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ অধিগ্রহণের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নগদে বিনিয়োগ বা মালিকানার অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করা কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভিওনও রয়েছে।

ভিওন জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। পাশাপাশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত দুই দশকে বাংলালিংকের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে ২৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। একই সময়ে জাতীয় কোষাগারে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্বও জমা দিয়েছে।

মৌসুমী বলছেন ‘নাটক’, নির্মাতা নিলেন সিনেমার সেন্সর

বাংলাদেশের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি প্রজেক্টে কাজ করেন। শুরুতে নাটক হিসেবে নির্মাণের কথা থাকলেও পরে টেলিফিল্ম হিসেবে নির্মাণ হয়। তবে এখন শোনা যাচ্ছে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে!

সিনেমাটির নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর জানান, সেন্সরবোর্ডের অনুমতিতে আগামী ১৫ মে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

তবে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌসুমী। এক ভিডিও তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রে এসে একটি মেয়ের স্ট্রাগল টাইমের ছোট গল্প নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের কথা ছিল। হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হয়েছি। শুরুতে এটা ঘণ্টার একটি নাটক ছিল। দুই দিনে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দিন লেগে যায়। কিছুদিন পর নির্মাতা এসে বলে, এটার শুটিংতো বেশি হয়েছে আমরা টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচার করতে চাই। তাতেও আমি রাজি হয়ে কাজটি শেষ করেছি।’

‘‘কিন্তু খবরে দেখছি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নাকি সিনেমা হিসেবে আসছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি। বোর্ডে এটাকে কীভাবে সেন্সর সার্টিফিকেশন দিল। তার চেয়ে বড় কথা হলো, আমি যেখানে সিনেমাই করি না, সেখানে এ রকম একটা গল্প দিয়ে আমাকে হুট করে পর্দায় নিয়ে আসা যুক্তিসংগত বলে মনে করি না। আমিতো জানিই না ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের আগে-পরে কী আছে। নির্মাতা ও প্রযোজকের কাছে এটা আমি মোটেই আশা করিনি,’ বলেন তিনি।

মৌসুমী বলেন, ‘এমন অবস্থায় সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া উচিত কিনা তা দূর দেশ থেকে বুঝতে পারছি না। আমার মতে এটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি না পাক। তার পরও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি ও প্রযোজক সমিতিসহ যারা আছেন তারা যেন বিষয়টি বিবেচনা করেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এই প্রজেক্টে মৌসুমী ম্যাডামকে সিনেমার সম্মানি দিয়েই যুক্ত করেছিলাম। এটা কখনো টেলিফিল্ম নাটক বলে শুটিং করিনি।’

এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের আকাশ নিয়ন্ত্রণে নেব: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরান অভিযানে আরও সামরিক বাহিনী পাঠানো হচ্ছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। 

আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। 

হেগসেথ বলেন, ‘আজই আরও যুদ্ধ ও বোমারু বিমান যোগ দিচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই দুই দেশের বাহিনী ইরানের আকাশসীমার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।’

তার মতে, আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সারাদিন ইরানের ওপর হামলা চালানো সম্ভব হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এবারের অভিযান প্রায় সাত গুণ বেশি তীব্র হবে।’

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের শুরুতে পরিচালিত মার্কিন অভিযানের তুলনায় এটি দ্বিগুণ তীব্র হবে বলেও জানান হেগসেথ। 

‘আমাদের সফলতা নিশ্চিত করতে যত সময় প্রয়োজন, আমরা তত সময় নেব,’ যোগ করেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ এবং উন্নত ও শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। 

ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যত ধরনের কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা সম্ভব আমরা তা পাঠিয়েছি।’

একনেক গঠন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গঠন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখার অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এই কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি’র (একনেক) সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিকল্প সভাপতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, শিল্প বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সহায়তাদানকারী কর্মকর্তারা হলেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যগণ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ কমিটিতে ‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন।

কমিটির কার্যপরিধি

এই কমিটি সব বিনিয়োগ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এবং টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট প্রপোজাল (টিএপিপি) ও টেকনিক্যাল প্রজেক্ট প্রপোজাল (টিপিপি) বিবেচনা করবে এবং অনুমোদন দেবে।

সরকারি খাতে ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকার ঊর্ধ্বে মোট বিনিয়োগ ব্যয় সংবলিত প্রকল্পগুলতে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার সুপারিশ বিবেচনা ও অনুমোদনের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এই কমিটি।

বেসরকারি উদ্যোগ, যৌথ উদ্যোগ অথবা অংশগ্রহণমূলক বিনিয়োগ কোম্পানিসমূহের প্রস্তাব বিবেচনা করবে কমিটি।

এই কমিটি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবীক্ষণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারণী বিষয়গুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনা ও অনুমোদন এবং এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটির বৈঠক প্রয়োজনানুসারে অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন: অস্ট্রেলিয়ার মডেল থেকে কী শেখা যায়?

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। অথচ বাংলাদেশে এখনো শিক্ষা এমন একটি খাত, যেখানে বারবার মুখরোচক নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সবচেয়ে কম রূপান্তর ঘটেছে। প্রতি বছর বাজেট এলেই আশা, সংস্কার ও বিনিয়োগের সেই চেনা বুলি শোনা যায়। কিন্তু, বাস্তবে এর ফল যা আসে, তা একটি তরুণ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও জনবহুল দেশের চাহিদার তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল।

বাংলাদেশ যদি কেবল টিকে থাকার মানসিকতা থেকে বের হয়ে টেকসই সমৃদ্ধির দিকে এগোতে চায়, তাহলে শিক্ষাকে আর দশটা সাধারণ খরচের খাত হিসেবে না দেখে জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে হবে। যদিও বর্তমান বিএনপি সরকার শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে, তবুও এতে আরও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।

আসলে মূল সমস্যাটি কেবল বাজেটের স্বল্পতা নয়, বরং ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশ স্কুলে ভর্তি বৃদ্ধি, লিঙ্গ সমতা ও শিক্ষার সুযোগ প্রসারে দারুণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু, শিক্ষার গুণগত মান, সমতা ও প্রাসঙ্গিকতা এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। বহু শিক্ষার্থী বছরের পর বছর পড়াশোনা শেষ করার পরও পর্যাপ্ত পঠন, লিখন, গাণিতিক, ডিজিটাল বা সমস্যা সমাধানের কিংবা প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না। এর অর্থ হলো, এই ব্যবস্থা যোগ্যতার চেয়ে সনদ তৈরিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

২০২৬–২৭ অর্থবছরে শিক্ষার প্রস্তাবিত বরাদ্দ একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকায়, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। অথচ, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে তা ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, ভালো কথা। এই সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নীতি-নির্ধারকরা প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিচারে একটি দেশে প্রতিযোগিতামূলক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে, গবেষণার মান উন্নত করতে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের জন্য লাখো তরুণকে প্রস্তুত করতে শিক্ষায় জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ অতি সামান্য।

আরও গভীর সমস্যা হলো, অর্থ বরাদ্দ হলেও তা প্রায়শই বাস্তবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে না। বরাদ্দের একটি বড় অংশ চলে যায় বেতন, প্রশাসনিক ব্যয়, বিচ্ছিন্ন নানা প্রকল্প এবং গতানুগতিক পদ্ধতির রক্ষণাবেক্ষণে। ফলে, শিক্ষকদের উন্নয়ন, গবেষণা, ডিজিটাল শিক্ষা, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য খুব কমই অবশিষ্ট থাকে। অন্য কথায়, সমস্যাটি কেবল কতটা খরচ করা হচ্ছে তা নয়, বরং কতটুকু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খরচ করা হচ্ছে সেটাই আসল বিষয়। সুশাসন ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় সংস্কার না আনলে অতিরিক্ত অর্থ কেবল একই অদক্ষ কাঠামোর পেটেই যাবে।

আদতে বাংলাদেশ একটি বৃহত্তর উন্নয়নগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। যদিও সীমিত অভ্যন্তরীণ রাজস্ব, সরকারি অর্থায়নের চাপ এবং অবকাঠামো, ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতের সঙ্গে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন। তবুও এটিই একমাত্র খাত, যা দেশের উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটাতে পারে। আর সেজন্যই বাজেটের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন না আনলে কেবল বরাদ্দ বাড়িয়ে কোনো দেশ বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জন করতে পারে না।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিউএস র‍্যাংকিংয়ে স্থান পেলেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৬’-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৪ নম্বরে থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে শীর্ষে ছিল। বুয়েট ছিল ৭৬১–৭৭০ এর মধ্যে এবং দেশের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকার আরও নিচের দিকে ছিল। এটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একক ব্যর্থতা নয়, বরং উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থারই প্রতিফলন। আমরা এখনো কেবল যেখানে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবা শিক্ষার মান নিয়ে তেমন মাথাব্যথাই যেন কারো নেই।

কিউএস তাদের র‍্যাংকিং মূলত একাডেমিক সুনাম, নিয়োগের স্বচ্ছতা মূল্যায়ন, গবেষণার পরিধি ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার মতো বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে। আর এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়। গবেষণার তহবিল সীমিত, গবেষণাগারে পর্যাপ্ত রিসোর্স নেই, শিক্ষকদের উন্নয়ন অসম, প্রকাশনায় প্রণোদনা দুর্বল এবং অনেক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণামুখী না হয়ে এখনো মূলত শিক্ষাদানকেন্দ্রিক রয়ে গেছে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি তৃতীয় বিশ্বের সুযোগ-সুবিধা এবং অনিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিয়ে বিশ্বমানের ফল দিতে বলা হয়, তাহলে তারা বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে ভালো করতে পারে না—এটাই স্বাভাবিক।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো সুশাসন। ছাত্র ও শিক্ষকদের নোংরা রাজনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, নিয়োগে বিলম্ব, ধীরগতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক অদক্ষতায় জর্জরিত। অন্যদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিছু ক্ষেত্রে বেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও পরিধি, গবেষণার সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক মানের দিক দিয়ে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। যদিও নর্থ-সাউথ, ব্র্যাক, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মতো কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে, তবুও সামগ্রিকভাবে উভয়ক্ষেত্রেই সুস্থ ব্যবস্থার অনেক সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়া শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে একটি উপযোগী বৈপরীত্য তুলে ধরে। কারণ, তারা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে যা আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বস্ত, সুনিয়ন্ত্রিত ও রপ্তানিমুখী। অস্ট্রেলিয়ার সরকার তাদের ব্যবস্থাকে এমন একটি মান নিয়ন্ত্রণ ও অ্যাক্রেডিটেশন হিসেবে পরিচালনা করে, যা শিক্ষার্থীদের চমৎকার অভিজ্ঞতা ও সাফল্য সুনিশ্চিত করার জন্য উপযোগী। অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিখন, সমস্যা সমাধান ও উচ্চতর চিন্তন দক্ষতার জন্যও ব্যাপকভাবে স্বীকৃত এবং সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের সেরাগুলোর তালিকায় রয়েছে।

আসলে পার্থক্যটি কেবল অর্থের নয়, যদিও অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়া অর্থায়নের পাশাপাশি সুশাসন, দায়বদ্ধতা, স্বায়ত্তশাসন ও মানের নিশ্চয়তাকে সমন্বিত করে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতা করা, গবেষণার মেধা আকর্ষণ করা, মান বজায় রাখা এবং শিল্প, তথা বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করে নেওয়া হয়।

ব্যবস্থাটি শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, যাতে গ্র্যাজুয়েটরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে বের হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক চাহিদার মধ্যকার এই সমন্বয়ই অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বজুড়ে একটি বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদানকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অন্যতম কারণ।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল ডিগ্রি দেওয়ার কারখানা না ভেবে জ্ঞানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার যে সংস্কৃতি, অস্ট্রেলিয়া তার সুফলও পায়। এখানে গবেষণা আরও পদ্ধতিগতভাবে অর্থায়ন পায়, একাডেমিক পেশা অনেক বেশি আকর্ষণীয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রতিযোগিতা ও গুণগত মানকে আরও সমৃদ্ধ করে। তাই বাংলাদেশের জন্য শিক্ষাটি স্পষ্ট—সম্মান কেবল স্লোগান থেকে আসে না, এটি আসে নিরবচ্ছিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা থেকে।

অর্থায়নের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে ব্যয় ধীরে ধীরে বাড়লেও ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষাখাতকে শক্তিশালী মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে সুসংহতভাবে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়।

দুটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও অবস্থানের ক্ষেত্রেও পার্থক্য স্পষ্ট। শিক্ষাদানের সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও পার্থক্য বিদ্যমান। যেখানে বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রিক ও ডিগ্রিমুখী; সেখানে অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, অর্জিত একাডেমিক জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের পদ্ধতি এবং স্বাধীনভাবে শেখার সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর অধিক জোর দেয় অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

গবেষণা পরিবেশের দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো সীমিত অর্থায়ন ও দুর্বল গবেষণা সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় উন্নত গবেষণা অবকাঠামো, পর্যাপ্ত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অধিক দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী গবেষণা কার্যক্রম বিদ্যমান।

সবশেষে, সুশাসনের প্রশ্নে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপের প্রতি নির্ভরশীল এবং অনেক বেশি সংবেদনশীল। পক্ষান্তরে, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা অধিকতর কাঠামোবদ্ধ নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর মাননিশ্চিতকরণ ও সুসংগঠিত নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

তবে এই তুলনার উদ্দেশ্য বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো হীনমন্যতা সৃষ্টি করা নয়, বরং জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে আনা। আয়তন, জনসংখ্যা ও জনসেবার ওপর চাপ—সবদিক থেকেই অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় অনেক বড় ও জটিল দেশ বাংলাদেশ। আর ঠিক এই কারণেই শিক্ষা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনেক জরুরি। কয়েক কোটি তরুণ-তরুণীর দেশে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা বহন করার সামর্থ্য রাখে না, যা পর্যাপ্ত উদ্ভাবন সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ গ্র্যাজুয়েট গড়ে তুলতে পারে না। তাই শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকাঠামো তথা পরিকল্পনা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

প্রথমত, বাংলাদেশকে শিক্ষার ব্যয় ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে এবং এটিকে অসংখ্য কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যটি কেবল একটি প্রতীকী সংখ্যা হওয়া উচিত নয়; এটি হওয়া উচিত স্বাক্ষরতা, গাণিতিক দক্ষতা, গ্র্যাজুয়েশনের মান, শিক্ষকদের উন্নয়ন ও গবেষণার ফলাফলের মতো পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত বহু বছরের একটি অঙ্গীকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজেটে কেবল ভবন ও কাগজপত্রের চেয়ে শ্রেণীকক্ষ, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষকের গুণগত মানকে সংস্কারের কেন্দ্রে রাখতে হবে। স্বচ্ছ নিয়োগ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল দক্ষতা ও পারফরম্যান্সভিত্তিক পেশাগত অগ্রগতির মাধ্যমে শিক্ষকদের পেছনে বিনিয়োগ না করলে কোনো শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি হয় না। একজন দক্ষ শিক্ষক একটি দুর্বল স্কুলকে টেনে তুলতে পারেন; আর একজন দুর্বল শিক্ষক একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। বাংলাদেশের উচিত শিক্ষকতাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে গড়ে তোলা, চাকরি না পেয়ে কোনো শেষ ভরসা নয়।

তৃতীয়ত, উচ্চশিক্ষায় জবাবদিহিতার সঙ্গে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্ভাবন, কোর্স ডিজাইন ও গবেষণা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার স্বাধীনতা থাকা উচিত। তবে স্বচ্ছ সূচকের ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়নও করতে হবে। এর অর্থ হলো আরও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান, শক্তিশালী প্রকাশনা প্রণোদনা, শিল্পখাতের সঙ্গে উন্নত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিনিময় কর্মসূচি। দেশে ডজন ডজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন নেই, যারা একই কাজ খারাপভাবে করবে। বরং অল্প কিছু বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন, যারা প্রয়োজনীয় কাজগুলো অসাধারণভাবে করবে।

চতুর্থত, পাঠ্যক্রমকে মুখস্থবিদ্যা থেকে সরিয়ে দক্ষতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশকে ২১ শতকের অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে শিক্ষাকে মেলাতে হবে। ডিজিটাল স্বাক্ষরতা, ইংরেজি যোগাযোগ, ডেটা স্কিল, কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা হওয়া ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। নতুন অর্থনীতি কেবল মুখস্থবিদ্যাকে পুরস্কৃত করবে না, এটি পুরস্কৃত করবে সৃজনশীলতা, অভিযোজনযোগ্যতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে।

বাংলাদেশের শিক্ষার চ্যালেঞ্জ উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাব নয়, এটি কাঠামোগত বাস্তবায়নের অভাব। বাজেট বাড়ছে, কিন্তু ধীরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং আছে, কিন্তু তা মাঝারি থেকে নিচের সারিতে। এই ব্যবস্থা বিপুল সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে, কিন্তু পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক চিন্তাবিদ, গবেষক ও পেশাজীবী তৈরি করতে পারছে না। এ কারণেই শিক্ষা সংস্কারকে একটি বার্ষিক বাজেটের খাত হিসেবে না দেখে দেশ গড়ার প্রকল্প হিসেবে দেখতে হবে।

গুণগত মান সুনিশ্চিতকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিখন এবং গবেষণা সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিলে কী পাওয়া সম্ভব, অস্ট্রেলিয়া তার বড় প্রমাণ। অস্ট্রেলিয়াকে অন্ধভাবে অনুকরণ করা নয়, বরং বাংলাদেশের উচিত তাদের সাফল্যের পেছনের নীতিগুলো থেকে শেখা। বাংলাদেশ যদি উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়, ভালো চাকরি ও শক্তিশালী বৈশ্বিক সুনাম চায়, তাহলে গোড়া থেকেই শিক্ষাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।

সুতরাং সামনের পথটি পরিষ্কার—বেশি খরচ করুন, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খরচ করুন, শিক্ষকের মান রক্ষা করুন, গবেষণাকে শক্তিশালী করুন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমান এবং এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলুন, যেখানে দক্ষতার মূল্যায়ন হবে। বাংলাদেশ যদি তা করতে পারে, তাহলে শিক্ষাখাত আর নিত্যদিনের অভিযোগের বিষয় থাকবে না, বরং জাতীয় শক্তিতে পরিণত হবে এবং সে শুরুটা শুরুর সময় এখনই।

সুমন রেজা: কবি ও কলামিস্ট; অস্ট্রেলিয়ার উলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছে শফিকুর রহমান সরাসরি বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জামায়াত জানিয়েছে, বাঁশখালীর পর শফিকুর রহমান সাতকানিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকাও পরিদর্শন করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন।

পরিদর্শনকালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলামসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।