33 C
Dhaka
Home Blog

ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র কারও আধিপত্য মেনে নেব না: নাহিদ ইসলাম

ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র কারও আধিপত্যই মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জাতি ঋণী। বিভিন্ন সময়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের স্বীকৃতি এখনো পায়নি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মূল্যবোধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা। দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্গঠন প্রয়োজন। ভিসি নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জবির অনেক বড় ভূমিকা ছিল। আমরা আন্দোলনের বিভিন্ন সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষায় থাকতাম। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন,’ যোগ করেন তিনি।

‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে পারেনি’ মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্রের জন্য, ভোটাধিকারের জন্য। এবার আমরা দুটি ভোট দিয়েছি। কিন্তু এখনো গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির জন্য, নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য। আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেবো না, ভারতেরও না, আমেরিকারও না।’

সভায় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, প্রক্টর অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন, ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
 

সাপের বিষের খামার, স্বপ্ন বড় কিন্তু ক্রেতা নেই

প্রতিবছর বাংলাদেশে বিষধর সাপের কামড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। অথচ সাপের কামড়ের চিকিৎসায় দেশের হাসপাতালগুলো নির্ভরশীল বিদেশ থেকে আমদানি করা অ্যান্টিভেনমের ওপর। 

এর পেছনে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। সেই নির্ভরতা কমানোর আশায় পটুয়াখালীতে গড়ে উঠেছে একটি বেসরকারি সাপের বিষের খামার।

২০০০ সালে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামে বাংলাদেশ স্নেক ভেনম নামে এ খামার প্রতিষ্ঠা করেন প্রবাসফেরত আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাস।

এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজ্জাক জানান, সৌদি আরবে ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করার সময় তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখেছেন। দেশে ফিরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের সঞ্চিত অর্থ এমন একটি উদ্যোগে বিনিয়োগ করবেন, যা স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

তার বিশ্বাস ছিল, নিজ জেলায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।

এরপর তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিষধর সাপ সংগ্রহ ও লালন-পালন শুরু করেন। গত ২৬ বছরে তার সংগ্রহে ২৫০টিরও বেশি সাপ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিং কোবরা, গোখরা, শঙ্খিনী, কালাচ, রাসেলস ভাইপার, পিট ভাইপার, অজগর ও দাড়াশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ।

২০০৮ সালে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে খামারটির নিবন্ধন ও ২০১৮ সালে পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেন রাজ্জাক। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে প্রায় তিন মাস আগে খামারটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন পায়। এর ফলে খামারটিতে এখন আইনিভাবে বিষধর সাপ থেকে বিষ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রেতার অভাব। কোনো ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এখনো এই বিষ কিনতে রাজি হয়নি।

রাজ্জাক বলেন, ‘সাপের কাঁচা বিষ সরাসরি বিক্রি করা যায় না। অনুমোদিত মান বজায় রেখে তা প্রক্রিয়াজাত করে অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধ কোম্পানি এই বিষ সংগ্রহ বা প্রক্রিয়াজাত করার আগ্রহ দেখায়নি।’

রাজ্জাক জানান, ইনসেপ্টাসহ কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু তারা জানিয়েছে, তারা শুধু পরিশোধিত (রিফাইন্ড) বিষ কিনে থাকে।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষ পরিশোধনের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।’

‘সেই অনুমতি পেলে আমি সরাসরি ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছে বিষ বিক্রি করতে পারব।’

রাজ্জাকের দাবি, তার খামারে প্রতি মাসে প্রায় এক পাউন্ড সাপের বিষ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা।

তার মতে, এই বিষ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে অ্যান্টিভেনম আমদানি কমিয়ে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ বাংলাদেশে একটি বড় শিল্পে পরিণত হতে পারে।’

বর্তমানে খামারটিতে চারজন কর্মী কাজ করছেন। শুরুতে কর্মীর সংখ্যা ছিল দুইজন।

রাজ্জাক বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কর্মীদের বেতন দিতেও তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। খামার পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ফলে মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ টাকা।

খামারটি টিকিয়ে রাখতে তাকে ব্যক্তিগতভাবেও বড় মূল্য দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। সৌদি আরবে চাকরি করে জমানো প্রায় সব অর্থ ব্যয় করার পাশাপাশি পৈতৃক জমির গাছ বিক্রি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হয়েছে।

রাজ্জাক বলেন, ‘আমি খামারটি আরও ভালো জায়গায় স্থানান্তর করে আধুনিক সুবিধা যুক্ত করতে চাই। এজন্য ব্যাংক ঋণের প্রয়োজন হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) ইউনিটের এক গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক ৪ লাখ ৩ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫১১ জনের মৃত্যু হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা বাসস চলতি মাসের শুরুতে এ তথ্য প্রকাশ করে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, সাপের কামড়ের প্রতি চারটি ঘটনার মধ্যে একটি বিষধর সাপের কামড়। আক্রান্তদের মধ্যে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ স্থায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার হন এবং ১ দশমিক ৯ শতাংশ মানসিক প্রতিবন্ধিতায় ভোগেন। এছাড়া প্রায় ৯৫ শতাংশ সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটে গ্রামীণ এলাকায়। নারীদের তুলনায় পুরুষদের সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১ দশমিক ৪ গুণ বেশি।

পটুয়াখালীর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘খামারটি সাপের বিষ সংগ্রহের নিবন্ধন পেলেও সেই বিষ সরাসরি বাজারজাত করা যাবে না। ওষুধ শিল্পে ব্যবহারের আগে অনুমোদিত মান ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা প্রক্রিয়াজাত করতে হবে।’

যোগাযোগ করা হলে পটুয়াখালীর বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালের স্বত্বাধিকারী আল-আমিন হাওলাদার জানান, তার প্রতিষ্ঠান অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করে না। তবে তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার অ্যান্টিভেনম আমদানি করে। বড় বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর এই খাতে বিনিয়োগ করা উচিত। এতে নতুন একটি শিল্প গড়ে উঠতে পারে, উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।’

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায়, যেখানে সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে, সেখানে আক্রান্তদের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ফুটবলে অবিচ্ছেদ্য গান

ইংরেজি ডিকশনারিতে ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ শব্দটির কোনো অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না। ১৯৬৮ সালে ‘ওয়ান্ডারওয়াল মিউজিক’ নামে জর্জ হ্যারিসনের একটি সাউন্ডট্র্যাক অ্যালবাম বের হয়েছিল বটে। তবে এ শব্দটিকে পরিচিতি দিয়েছে ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘ওয়েসিস’। আর ‘ওয়ান্ডারওয়াল’-এ নতুন অর্থ যোগ করেছেন এবারের ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ম্যাচ চলাকালে মাঠে উপস্থিত ভক্তরা।

‘ওয়ান্ডারওয়াল’ গানটিতে এমন একজন মানুষের কথা বলা হয়েছে, যিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে হিমশিম খান; কিন্তু বিশ্বাস করেন যে আরেকজন মানুষ তার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বারবার উচ্চারিত ‘মেইবি’ (হয়তো) শব্দটি যতখানি ‘দ্বিধা’ বোঝায়, তার চাইতে বেশি বোঝায় ‘আশা’। গানটির রচয়িতা নোয়েল গ্যালাঘারের মতে, গানটি এমন এক ‘কাল্পনিক বন্ধু’র কথা বলে, যে এসে আপনাকে আপনার নিজের ভেতরের সংকট থেকে উদ্ধার করবে।

ইংল্যান্ডের ফুটবলপ্রেমীরা এই ‘কাল্পনিক বন্ধু’-কে পার্থিব করে তুলেছেন। এবারের বিশ্বকাপ মিশনের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪–২ গোলে হারানোর পর গোটা স্টেডিয়াম ইংল্যান্ডের উদ্দেশে একসঙ্গে গেয়ে ওঠে ‘মেইবি ইউ গনা বি দ্য ওয়ান দ্যাট সেইভস মি’। সেসময় পর্দায় বারবার উঠে আসতে থাকে হ্যারি কেইনের মুখ। ইংল্যান্ড দলের সব ফুটবলার একে অন্যের কাঁধে হাত রেখে দর্শকের দিকে তাকিয়ে গানটি গাইছিলেন। দৃশ্যটি নাড়া দিয়ে যায়নি এমন ফুটবলপ্রেমী (ও সংগীতপ্রেমী) বোধহয় কমই আছে।

সেই অনন্য মুহূর্তের কারণেই গানটি পরে ইংল্যান্ডের সব ম্যাচের নিয়মিত অংশ হয়ে ওঠে। যেন এটিই ইংল্যান্ড ফুটবল দলের থিম সং।

‘ওয়ান্ডারওয়াল’ ইংলিশ ফুটবল লিগের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে জায়গা তৈরি করে নিয়েছিল অনেক আগেই। তবে হাজারো ভক্ত যখন হ্যারি কেইনের দিকে তাকিয়ে গায় ‘মেইবি ইউ গনা বি দ্য ওয়ান দ্যাট সেইভস মি’ তখন মনে হয়, ‘হ্যারি কেইনই সেই খেলোয়াড়, যার পায়ে একটি জাতির স্বপ্ন’।

ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইনও বলেছেন, ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে এটি তার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি।

তার ভাষায়, ‘সেই মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে সমর্থকদের দারুণ এক বন্ধন তৈরি হয়। স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় সবার গানটির লিরিক্স মুখস্থ ছিল, সবাই একসঙ্গে গাইছিল।’

গান বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এক দশক আগেও ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামে গানের ব্যবহার সীমিত ছিল। দশর্করাই নিজেদের গান ও স্লোগানে স্টেডিয়াম মাতিয়ে রাখতেন। ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামগুলোতে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয় এবং ক্লাবগুলো নিয়মিতভাবে পরিকল্পনামাফিক প্লেলিস্ট সাজাতে শুরু করে। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর অনেকেরই নিজস্ব ‘সংগীত পরিচয়’ আছে।

জাতীয় দলের ক্ষেত্রে ঠিক সেই অভিজ্ঞতাই তৈরি করতে চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, কোন গান কখন বাজানো হবে তা আগেভাগেই ঠিক করে রাখা হয়েছে। ফিফার ‘স্টেডিয়াম এন্টারটেইনমেন্ট টিম’ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এমন প্লেলিস্ট তৈরি করেছে।

এ বছর প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ায় এবারের প্লেলিস্টেও এসেছে অভূতপূর্ব বৈচিত্র্য। এ বছর ৭৫০টিরও বেশি গান নির্বাচন করা হয়েছে। এসব প্লেলিস্টে সাধারণত স্টেডিয়ামে বাজানো হয় এমন জনপ্রিয় ক্লাসিক গানগুলোর পাশাপাশি প্রতিটি দেশের সমর্থকদের প্রিয় গানও রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

ফিফার প্লেলিস্টে জায়গা পেয়েছে ‘স্টেডিয়াম-সং’ খ্যাত দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের ‘সেভেন নেশন আর্মি’, এসি/ডিসির ‘থান্ডারস্ট্রাক’। আছে ১৯৯০-এর দশকের জনপ্রিয় ইউরোড্যান্স গান গ্যালার ‘ফ্রিড ফ্রম ডিজায়ার’। গানটি অন্তত এক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে নিয়মিত বাজানো হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নিয়মিত শোনা যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের মাঠে।

এ ছাড়া, প্রতিটি দলের জন্য আলাদা কিছু ‘সিগনেচার’ গান নির্ধারণ করেছে ফিফা ‘স্টেডিয়াম এন্টারটেইনমেন্ট টিম’। যেমন, আর্জেন্টাইন রক ব্যান্ড ‘লোস ফাবুলোসোস ক্যাডিলাকস’-এর ‘এল ম্যাটাডোর’ গানটি স্থান পেয়েছে আর্জেন্টিনা ম্যাচের প্লেলিস্টে। বাস্তবে গানটির অর্থ বেশ গভীর। রেগে প্রভাবিত গানটি মূলত ১৯৭০-এর দশকে লাতিন আমেরিকার সামরিক একনায়কতন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে লেখা। গানটির মূল বার্তা রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ইতিহাসকে তুলে ধরলেও ফুটবল মাঠে এটি পরিণত হয়েছে বিজয় ও উচ্ছ্বাসের প্রতীক হিসেবে। গানটির কোরাসে বারবার ‘ম্যাটাডোর! ম্যাটাডোর!’ ধ্বনির সঙ্গে লিওনেল মেসির উপস্থিতিতে মনে হয়, গানটি মেসির দুর্দান্ত গোল করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতাকে প্রশংসা করেই গাওয়া হচ্ছে।

একইভাবে দলের সিগনেচার গান হিসেবে ঘানার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ‘ডোপনেশন’-এর ২০২৫ সালের জনপ্রিয় গান ‘কাকালিকা’। গানটির মূল বার্তা হলো বৈচিত্র্য উদযাপন এবং মানুষকে আনন্দের সঙ্গে গান ও নাচ উপভোগ করতে উৎসাহিত করা।

মেক্সিকো বেছে নিয়েছে ‘মারিয়াচি ভারগাস’ ব্যান্ডের তিনটি ভিন্ন গান। মারিয়াচি ভারগাস একটি বিখ্যাত মারিয়াচি লোকসংগীত ব্যান্ড, যা ১৮৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যান্ডটি তাদের সংগীত ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এবং আজও সমান জনপ্রিয়।

আর দক্ষিণ কোরিয়া বরাবরের মতোই তাদের প্লেলিস্টে রেখেছে কে-পপ। আছে ব্ল্যাকপিঙ্ক এবং বিটিএসের একাধিক গান, যা দেশটির আধুনিক জনপ্রিয় সংগীত সংস্কৃতিকে বিশ্বকাপের মঞ্চে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের জন্য যেন নির্ধারিত ডাফট প্নাকের বিখ্যাত গান ‘ওয়ান মোর টাই’। এমবাপের একের পর এক গোলের সাফল্যের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে গেছে গানটি।

অস্ট্রেলিয়ার সিগনেচার গান মেন অ্যাট ওয়ার্ক ব্যান্ডের বিখ্যাত ‘ডাউন আন্ডার’। এই গানটি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পরিচয় ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত।

আর বেলজিয়াম তাদের ওয়ার্ম-আপের জন্য বেছে নিয়েছে টেকনোট্রনিকের জনপ্রিয় গান ‘পাম্প আপ দ্য জ্যাম’-কে।

স্বাগতিক দল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকরা শুরুর দিকে মাঠে কেবল ‘ইউএসএ ইউএসএ’ স্লোগান দিলেও তেমন কোনো গানে নিজেদের পরিচিত করাতে পারেনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিঠাট্টাও হয়েছে। পরে খুব দ্রুতই নিজেদের একটি গান খুঁজে নিয়ে বিড়ম্বনামুক্ত হয়েছে তারা। জন ডেনভারের বিখ্যাত গান ‘কান্ট্রি রোডস টেক মি হোম’ অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের থিম সংয়ে পরিণত হয়েছে। গানটি গাইতে শুরু করার পর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ও অংশগ্রহণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ফিফা বলছে, এসব গানের উদ্দেশ্য ম্যাচের আবহ তৈরি করা, প্রতিটি দলের সাংস্কৃতিক পরিচয় ফুটিয়ে তোলা এবং এমন স্মরণীয় মুহূর্ত সৃষ্টি করা, যা অনেক সময় ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও দীর্ঘদিন মানুষের মনে থেকে যায়।

কারণ শেষপর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে মানুষ শুধু গোল, ট্রফি কিংবা স্কোরলাইনই মনে রাখে না। মনে রাখে, সম্মিলিত আনন্দ, উদযাপন কিংবা দুঃখের স্মৃতি। কিশোর বয়সে স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার স্মৃতি কারও মনে হয়ত গেঁথে থাকবে এই গানগুলোর সঙ্গে। যেকোনো পরিস্থিতিতে এই গান আরও একবার কোনো একটি নির্দিষ্ট ম্যাচের কথাই মনে করিয়ে দেবে।

মৌসুমী অভিনীত ছবির সেন্সর সাময়িক স্থগিত, যা জানা গেল

দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি প্রজেক্টে কাজ করেন বাংলাদেশের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। শুরুতে নাটক ও পরে টেলিফিল্ম হিসেবে নির্মিত হলেও শেষ পর্যন্ত সিনেমা হিসেবে মুক্তি পেতে যাচ্ছিল এটি। 

সেন্সরবোর্ডের অনুমতিতে আগামী ১৫ মে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবার কথা ছিল সিনেমাটির। কিন্তু অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিনেমা মুক্তির সেন্সর সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বোর্ড। 

আজ বুধবার চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপ-পরিচালক মঈন উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমটিার সার্টিফিকেশন সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।’ 

নাটক বা টেলিফিল্মের পরিবর্তে এটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মৌসুমীও। 

যোগাযোগ করা হলে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কোনো চিঠি এখনো পাইনি। সেন্সর স্থগিতের চিঠি পেলে কথা বলতে পারব। এমনকিছু হলে আমি হাইকোর্টে রিট করবো। যতদূর যাওয়া যায়, যাব। এত সহজেই একটা সিনেমার সেন্সর বাতিল করা খুব অন্যায়।’

পরিচালনার পাশাপাশি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন হাসান জাহাঙ্গীর। সঙ্গে রয়েছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী, জেবা জান্নাতসহ অনেকেই। 

মোজতাবা খামেনিকে ‘পছন্দ নয়’ ট্রাম্পের, ইরানের নেতা নির্বাচনে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

অ্যাক্সিওসের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ‘ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত থাকতে হবে।

ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় যেমন ভূমিকা ছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থাকা উচিত।’

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সময় নষ্ট করছে। খামেনির ছেলে দুর্বল নেতা। আমরা এমন একজন নেতাকে দেখতে চাই, যিনি ইরানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে পারবেন।’

তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এমন কোনো নতুন ইরানি নেতা মেনে নেবেন না, যিনি আগের মতোই নীতি অনুসরণ করবেন। তার মতে, তা হলে পাঁচ বছরের মধ্যে আবার যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে ‘রাজনৈতিক নিয়োগে’ জামায়াতের উদ্বেগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে দলের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ উদ্বেগ জানান।

পোস্টে গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ কোনো আনুষ্ঠানিক বা অলংকারমূলক দায়িত্ব নয়; এটি একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর একটি। এ পদের ওপর নির্ভর করে মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আস্থা গড়ে তোলা।

জুলাইয়ের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত নেতা বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর মানুষ যখন কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল, তখন যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। 

তিনি মনে করেন, কোটা আন্দোলন কেবল কোটার প্রশ্ন ছিল না; এটি মূলত মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের দাবিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

নতুন গভর্নরের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের অল্প সময় আগে তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকার (সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছিল। পাশাপাশি ওই ব্যক্তি বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয় পোস্টে।

জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা ইতোমধ্যে স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দিলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সতর্ক করে বলেন, শক্তিশালী, স্বাধীন ও দক্ষ নেতৃত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ এবং মেধা-যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত দেশীয় আস্থা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও আস্থার সংকট তৈরি করে।

মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তিনি কীভাবে পুরো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন—এ প্রশ্ন এখন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।

দেশের অর্থনীতির জন্য যখন বিশ্বাসযোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার অবসানের সংকেত দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

 

 

বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, আবেদন করবেন যেভাবে

দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুব নারীদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার। ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচের তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। সারাদেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ই লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।

অষ্টম ব্যাচের প্রশিক্ষণ আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। তিন মাসের এ প্রশিক্ষণে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৬০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণে অংশ নিতে কোনো প্রশিক্ষণ ফি দিতে হবে না।

প্রশিক্ষণে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। দেশের সব জেলার কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুব নারীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আইসিটি বা কম্পিউটার বিষয়ে মৌলিক ধারণা এবং ইংরেজিতে দক্ষতা রয়েছে এমন প্রার্থীদের প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জেলার উপপরিচালকের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিসহ পাঁচ সদস্যের ভর্তি কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটির মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে মনোনীত প্রতিনিধিরা সরেজমিন তদারকির মাধ্যমে বাছাই কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাশতার ব্যবস্থা থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণদের সনদ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে আয় বৃদ্ধির কার্যক্রমে যুক্ত হতে প্রশিক্ষণার্থীদের মেন্টরিং সাপোর্ট দেওয়া হবে।

আবেদন করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন সফলভাবে জমা দেওয়ার পর আবেদনের কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে। বৈধ আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার তারিখ ও সময় জানানো হবে। এসএমএসে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে পরীক্ষার সময় সঙ্গে আনতে হবে।

অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। বৈধ আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা ১৯ সেপ্টেম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষা ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা ও পরীক্ষার ফলাফল ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার স্থান, সময় ও ফলাফলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর আবেদন লিংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রশিক্ষণ ও ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও জানা যাবে https://e-laeltd.com/64-student-reg-jubo ওয়েবসাইটে।

ব্রিকস জোটের ‘ওপেন-সোর্স এআই জোন’ তৈরির প্রস্তাব দিলেন শি

ব্রিকস জোটের সদস্যদের জন্য একটি ‘ওপেন-সোর্স এআই জোন’ তৈরির কাজে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

আজ রোববার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস জোটের বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন তিনি এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।

চীনের এআই প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বসেরা ওপেন-সোর্স এআই মডেল তৈরি করছে। ‘ওপেন সোর্স’ হওয়ায় খুব সহজেই যেকোনো কোডার বা প্রোগ্রামার ইউজারদের প্রয়োজন অনুযায়ী এই মডেলগুলো বদলে নিতে পারেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এআই প্রতিষ্ঠানগুলো অতটা উদার মনোভাব বজায় রাখেনি। সেখানে এআই ব্যবহার করে কাজ করার ক্ষেত্রে তেমন বিধিনিষেধ না থাকলেও এর সোর্স কোড উন্মুক্ত রাখার নজির নেই বললেই চলে।

জোটের ‘ওপেন-সোর্স ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই উদ্যোগের’ অংশ হিসেবে দেওয়া এই প্রস্তাবে ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের উন্নয়ন ও ব্যবহারিক প্রয়োগে পারস্পরিক সহযোগিতার’ প্রতিশ্রুতি দেন শি জিনপিং।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে শি জিনপিংয়ের বক্তব্যের বিবরণ প্রচার করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ব্রিকস জোটের দেশগুলোর জন্য ‘এআই বিষয়ে বিশেষায়িত গবেষণা ও প্রশিক্ষণ’ চালুর কথাও রয়েছে।

শি বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ‘এআইয়ের জন্য একটি উন্মুক্ত বাস্তুতন্ত্র তৈরি করা’।

চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস জোট ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উদীয়মান বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পশ্চিমা শক্তির আধিপত্য কমিয়ে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।

শি জিনপিং একটি ‘বিস্তৃত ও ঐকমত্যভিত্তিক বৈশ্বিক এআই সুশাসন কাঠামো’ প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানিয়েছেন।

শি জিনপিং চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এআই প্রযুক্তির লাগামহীন উন্নয়ন এবং এর ফলাফল হিসেবে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি ও উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই নেতার আলোচনায় এআই পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্থান পেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।

ইতোমধ্যে সম্মেলন শেষে ভারত ছেড়ে গেছেন শি জিনপিং ও রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিন।
 

ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যার কথা কি আমরা ভুলে যাচ্ছি?

ইসরায়েল এখন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তাই করছে, যেটা নাৎসিরা ইহুদিদের সঙ্গে করেছিল। তারা গাজা ও পশ্চিম তীরকে কার্যত বন্দিশিবিরে পরিণত করেছে। গ্যাস চেম্বারের জায়গায় প্রায় প্রতিদিন নিরস্ত্র ও অসহায় ফিলিস্তিনিদের ওপর বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

কী নির্মম পরিহাস! নাৎসি ও তাদের সহযোগীরা ইউরোপজুড়ে লাখো ইহুদিকে হত্যা করেছিল, পুরো বিশ্ব তাদের দুর্দশায় সহানুভূতিশীল হয়ে ন্যায়বিচার চেয়েছিল এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূল্য চুকাতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের।

ইসরায়েলের অবিরাম বোমা হামলায় গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যারা এখন পর্যন্ত এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও বেঁচে আছেন, তাদের খাবার ও জীবনধারণের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই, তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। হাসপাতালগুলোতে বোমা হামলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সুপেয় পানি থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকি মাসের পর মাস তাদের বাধ্য হয়ে সমুদ্রের পানি পান করতে হচ্ছে।

ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও হামাসকে নির্মূল করার অজুহাতে তিনি ও তার দুষ্কর্মের সহযোগীরা এভাবেই সবচেয়ে অমানবিক ও বর্বর অপরাধ করে যাচ্ছেন।

ফিলিস্তিনে যারা এখনো বেঁচে আছেন, ভবিষ্যতের কোনো ধরনের আশা ছাড়াই কেবল টিকে থাকার লড়াই করে প্রতিটি দিন কাটছে তাদের। ইসরায়েলিরা গাজার বাসিন্দাদের অনাহারে রেখে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছে। গোটা বিশ্বের চোখের সামনে এমন গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে, অথচ কেউই সেটার যথেষ্ট নিন্দা জানাচ্ছে না।

ট্র্যাজেডি হলো, বিশ্ববাসীর মনোযোগ এখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের দিকে। ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে, ইসরায়েল কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ-ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিশ্ববাসীর মনোযোগ ফিলিস্তিন থেকে অনেকটাই সরে গেছে।

অনেকেই আশা করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধটি দ্রুতই শেষ হবে। কিন্তু সেটা না হওয়ায় বিশ্ববাসীর মনোযোগ অন্যদিকে থাকার সুযোগে ফিলিস্তিনে হত্যাকাণ্ড ও ভূখণ্ড দখল চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

এদিকে, গত ২ মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার ৪০০ জন, আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ১৭৯ বার হামলা হয়েছে এবং এতে ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ চলছেই। ইসরায়েলের কাছে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা যেন ‘বিনোদনের’ বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যার সপক্ষে সবসময়ই কোনো না কোনো যুক্তি দাঁড় করানো হয়।

নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের হামলা। এসব হামলায় ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত ৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, স্থাপনা ধ্বংস এবং উচ্ছেদের কারণে অনেক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ইসরায়েল যা-ই করছে তার নেপথ্যে রয়েছে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। এটি একটি রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী ভাবনা, যা বর্তমান উগ্র ডানপন্থী সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়। তারা বর্তমান ইসরায়েলের চেয়ে অনেক বড় একটি ভূখণ্ড চায়।

অর্থোডক্স ইহুদিদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘গ্রেটার ইসরায়েল’-এর কথিত বাইবেলভিত্তিক সংস্করণের সীমানা নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি সংস্করণে ভূমধ্যসাগর থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডের কথা বলা হয়। অনেক জায়নবাদী সমর্থিত একটি সংস্করণের মধ্যে রয়েছে পশ্চিম তীর ও গাজার ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। ইসরায়েল ইতোমধ্যে পূর্ব জেরুজালেম ও গোলান মালভূমি দখলে নিয়েছে।

১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধের ফলাফল ইসরায়েলি নেতাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, যেখানে ইসরায়েলের এমন বিজয় কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এরপরই তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব। সেই যুদ্ধের ১০ বছর পর ১৯৭৭ সালে মেনাখেম বেগিন ও তার লিকুদ পার্টি ক্ষমতায় এলে লিকুদ ও ইসরায়েলি ডানপন্থীদের আদর্শ গ্রেটার ইসরায়েলের ধারণা আরও দ্রুত বাস্তবায়িত হতে শুরু করে। বছরের পর বছর ধরে এই ধারণা আরও বিস্তৃত হয় এবং ক্রমেই বেশি সংখ্যক জায়নবাদী এটিকে নিজেদের পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করেন।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী হতে হতো। এর ফলে সামরিক বাহিনীর সম্প্রসারণ এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ডানপন্থী মিলিশিয়া গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র জেনে বা না জেনে এই পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

ফলে লক্ষ্যটি স্পষ্ট—পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করা এবং সেগুলোকে যতটা সম্ভব স্থায়ী করা, যাতে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও এসব বসতি সরিয়ে দেওয়া শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব হয়ে পড়ে।

১৯৬৭ সালের ওই যুদ্ধের পর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন শুরু করে ইসরায়েল। ১৯৭২ সালের মধ্যে বসতির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪টিতে এবং চার বছরের মধ্যে তা বেড়ে ২০টিতে পৌঁছায়, যেখানে বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ২০০।

এই যুক্তি তাদের মধ্যে আরও জোরালো হয়ে ওঠে যে, জুডিয়া ও সামারিয়া কেবল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণই নয়, ধর্মীয়ভাবেও এগুলো গ্রেটার ইসরায়েলের অংশ হওয়ার জন্য নির্ধারিত। বেগিন ক্ষমতায় আসার পর বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা ৩ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ১৭ হাজার ৪০০-তে দাঁড়ায় এবং বসতির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯৮৩ সালের মধ্যে বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২২ হাজার ৮০০-তে এবং স্বীকৃত বসতির সংখ্যা ৭৬টিতে।

এক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এসে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে, ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বসতিগুলোকে ন্যায্যতা দেওয়া হতো; ১৯৭৭ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তা আরও বেশি আদর্শিক রূপ নেয়; আর ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বসতি সম্প্রসারণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা হলো কার্যত সংযুক্তিকরণ।

এ সময়কালে শান্তিপূর্ণ সমাধানের একমাত্র বড় প্রচেষ্টা ছিল অসলো চুক্তি। ১৯৯২ সালে গোপনে এর সূচনা হয় এবং ইসরায়েল ও পিএলওর মধ্যে সরাসরি আলোচনায় রূপ নেয়। ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উপস্থিতিতে আইজ্যাক রবিন ও ইয়াসির আরাফাত আনুষ্ঠানিকভাবে অসলো চুক্তিতে সই করেন।

এরপর ১৯৯৪ সালে গাজা-জেরিকো চুক্তি হয়, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রথম বড় চুক্তি বাস্তবায়িত হয়। ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয় অসলো চুক্তি সই হয়, যার মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে এ, বি ও সি এলাকায় ভাগ করা হয়। লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসনের পরিধি বাড়ানো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভূখণ্ডটির ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণই আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে পশ্চিম তীরের বিস্তৃত অবকাঠামো, সামরিক চৌকি, সড়ক, পৌর প্রশাসনের কর্তৃত্ব ও অর্থনৈতিক একীভূতকরণের কারণে বলা যায়, এটি কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্প্রতি যে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, সেটি দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির জন্য এই দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই এখন পর্যন্ত সামনে এগোনোর একমাত্র পথ।

যৌথ বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ‘দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে। বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন মাত্রার সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণের কারণে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।’

অবিলম্বে বসতি সম্প্রসারণ ও বেসামরিক প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

দেশগুলো আরও ঘোষণা করেছে, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে তারা উদ্যোগ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব অনুযায়ী আমরা দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি দ্ব্যর্থহীনভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ, যা একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে পাশাপাশি বসবাসের সুযোগ দেবে…’

নেতানিয়াহু ও তার উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রিসভা ফিলিস্তিনিদের নির্মূল করার লক্ষ্য কখনো গোপন করেনি। এজন্য তারা সবসময় দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ঘোর বিরোধিতা করে এসেছে। সেখানে এসব পশ্চিমা দেশের পক্ষ থেকে সেই দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান পুনরুজ্জীবনের পক্ষে জোরালো সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

এর আগে ইসরায়েলকে কখনো এমন ঐক্যবদ্ধ পশ্চিমা অবস্থানের মুখোমুখি হতে হয়নি। এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ব্যাপকতর স্বীকৃতির উদ্যোগ নেয় সৌদি আরব ও ফ্রান্স। যার ফলে আরও অনেক দেশও একই পথে এগিয়ে যায়। দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে পশ্চিমা দেশগুলোর সর্বশেষ উদ্যোগটির আরও ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া উচিত। সব আরব দেশেরই এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো উচিত, একইভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও।

এই সমাধানটি শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বরং এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যও করা উচিত, যেখানে আইনের শাসন থাকবে এবং যে ব্যবস্থা আমাদের সবার জন্য একটি উন্নততর বিশ্ব তৈরি করবে। তা না হলে আমরা এমন এক সভ্যতায় পরিণত হবো, যেখানে মূল্যবোধ, নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং শান্তির কোনো স্থান থাকবে না।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ হলেও কর্মকাণ্ড ‘সবার আগে বিএনপি’: গোলাম পরওয়ার

ছাত্রদলের তিন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ গ্রেডে উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে সামনে এনে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির দাবি, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মধ্যেই বিএনপি বিভিন্ন সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান আবিরকে মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

‘এ ছাড়া ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবকেও ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে’, বলেন গোলাম পরওয়ার।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফার নবম দফায় ‘সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে’ উঠে রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার এখন সেই প্রতিশ্রুতির বিপরীত পথে হাঁটছে।

তার ভাষ্য, ‘সংকীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে ওঠার কথা বলে এখন শতভাগ দলীয় সংকীর্ণতার মধ্যে থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ হলেও সরকারের কর্মকাণ্ডে এখন ‘সবার আগে বিএনপি’—এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

তার দাবি, সামসুল আলম অতীতে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি কমিটির সদস্য ছিলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে পুনরায় এত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সামসুল আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে এই জামায়াত নেতা বলেন, এই নিয়োগ বহাল থাকলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিরোধী দলগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার একটি তালিকাও তুলে ধরে জামায়াত।

দলটির দাবি, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হককে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়েছে। বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেককে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপুকে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে দাবি করে জামায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসানকে বাংলাদেশ পাট করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নেতাদের বসানোর মাধ্যমে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা অতীতে আওয়ামী লীগের আমলে দেখা দলীয়করণের পুনরাবৃত্তি।

তার ভাষ্য, ‘শুধু নাম পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি।’

মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় নিয়োগের প্রধান যোগ্যতা হয়ে উঠছে—এমন আশঙ্কার কথাও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

তিনি বলেন, এখন মনে হচ্ছে, বিএনপির একটি পদ বা ছাত্রদলের একটি পদে থাকাই নিয়োগের যোগ্যতা হয়ে যাচ্ছে।

দলীয় বিবেচনায় দেওয়া এসব নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার এই পথ থেকে না ফিরলে জামায়াত সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রতিনিধিদল পাঠানোসহ আরও কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।