27 C
Dhaka
Home Blog

বিশ্বব্যাপী ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর এ সপ্তাহে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক এ সপ্তাহে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

আজ বুধবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ কথা বলেছেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি শুল্ক নিয়ে আইনি বাধা কাটিয়ে বাণিজ্য নিয়ে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী ১৫ শতাংশ শুল্ক এ সপ্তাহে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করা শুল্ক বাতিলের রায় দেন। 

এরপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জন্য অন্য একটি আইনের আশ্রয় নেন ট্রাম্প। পরে এই শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়।

ভূমি অফিসে সেবা ফি সাইনবোর্ডে টানানোর নির্দেশ

দেশের সব ভূমি অফিসে নামজারি, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপের সরকার নির্ধারিত ফি দৃশ্যমানভাবে সাইনবোর্ডে টানানোর নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

আজ বৃহস্পতিবার ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে এই নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব উপজেলা, সার্কেল ভূমি অফিস, ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসে এ সাইনবোর্ড টানাতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ ফুট × ২.৫ ফুট আকারের সাইনবোর্ডে সেবাভিত্তিক ফি তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। নির্ধারিত ফি সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সেবা নিতে এসে মানুষের ভোগান্তি কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নামজারি ফি

নামজারির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালনাগাদ ফি এক হাজার টাকা এবং প্রতি কপি খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা। এ হিসাবে সর্বমোট ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা।

খতিয়ানের ফি

খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি বা অনলাইন কপির জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ টাকা। ডাকযোগে সংগ্রহ করলে অতিরিক্ত ৪০ টাকা ডাক মাশুল পরিশোধ করতে হবে।

মৌজা ম্যাপের ফি

মৌজা ম্যাপের প্রতি সিটের জন্য নির্ধারিত ফি ৫৪৫ টাকা। ডাকযোগে নিলে অতিরিক্ত ১১০ টাকা ডাকমাশুল পরিশোধ করতে হবে।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী

যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আগামী ২০ জুলাই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আজ সোমবার সকালে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তারেক রহমান বসতে যাচ্ছেন।

দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে অনেক দলের অসন্তুষ্টি রয়ে গেছে। সেই বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে করণীয় সম্পর্কে শরিকদের পরামর্শ শুনবেন এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে সবার সহযোগিতা কামনা করবেন।

তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার বিকল্প খুঁজতে এআইইউবি শিক্ষার্থীদের গবেষণা

দেশের প্রচলিত তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আধুনিক যানবাহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থীরা। বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যান (পিএইচইভি) নিয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ কমানো, নিরাপদ চলাচল এবং টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এআইইউবির আয়োজনে ‘From Research to Reality: How We Built the EV/PHEV Feasibility Project’ শীর্ষক গবেষণা ও উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানে এ গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন এআইইউবির বাণিজ্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও চিফ ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ড. মুস্তাফা হাসান। প্রধান বক্তা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এআইইউবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও উপদেষ্টা এবং নর্দান ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থ্রিলীফ টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক—আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক উন্নয়ন রন্টি চৌধুরী এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আল-আমরান। এ ছাড়া এআইইউবির হেড অব এমআইএস ডিপার্টমেন্ট মো. মেজবাউল হক নাহিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণায় গুরুত্ব সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কোনো প্রযুক্তি বা বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা জরুরি। এতে প্রকল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিচালিত গবেষণাকে বাস্তব সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে গবেষণার সুফল সরাসরি দেশ ও মানুষের কাজে লাগানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকরা বাংলাদেশের নগর বাস্তবতায় ইভি ও পিএইচইভি ব্যবস্থার সম্ভাবনার পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

‘গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন, কোনো ধারণা বাস্তবে প্রয়োগের আগে এর প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক দিক যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে একটি প্রকল্পের বাস্তব সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। গবেষণা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার মাধ্যমে যে কোন সমস্যা মোকাবেলা ও সমাধান করা যায় ।

তিনি তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন, “গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়ন থেকে বাস্তব প্রভাব তৈরি করতে হবে।”

তিনি জানান, থ্রিলীফ টেকনোলজিস লিমিটেড গবেষণা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও টেকসই প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এআইইউবির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবমুখী গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাতের অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রন্টি চৌধুরী বলেন, গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগে নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার সঙ্গে শিল্পখাতের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বাজার অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে বাস্তবমুখী প্রকল্প তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নগর পরিবহন ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

টেকসই পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা

সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানজট, বায়ুদূষণ, জ্বালানি ব্যয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড যানবাহন ভবিষ্যতের নগর পরিবহনে বিকল্প সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে এ ধরনের যানবাহনের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

গবেষণায় শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি

অনুষ্ঠানে এআইইউবি এফবিএ স্টুডেন্ট রিসার্চ গ্রুপের গবেষণা কার্যক্রম এবং বাংলাদেশে ইভি/পিএইচইভি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অবদান রাখা সংশ্লিষ্ট প্রধান অতিথিকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের যৌথ উদ্যোগে গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সমাধান তৈরি হবে।

জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ

মে মাসের তুলনায় জুনে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। মূলত খাদ্যদ্রব্যের দামের নিম্নগতির কারণেই এই কমতি এসেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে জুনে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে।

অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও মে মাসের ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে সামান্য কমে জুনে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে বোঝা যায়, অর্থনীতির অন্যান্য খাতে মূল্যচাপ এখনো উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।

‘এ দেশে আরেকজন মোশাররফ করিমের জন্ম সম্ভব না’

চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিম—বাংলাদেশের অভিনয়জগতের দুই শীর্ষ তারকা। দুজনেই মঞ্চ থেকে উঠে এসেছেন। একজনের জন্ম পাবনার প্রত্যন্ত গ্রামে, আরেকজনের বরিশালে। অভিনয়ে আসার আগে দুজনে শিক্ষকতাও করেছেন। বন্ধুত্বের বয়সও ২৫ বছরের বেশি।

দেশের বাইরে, বিশেষ করে কলকাতাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যেও তারা ব্যাপক জনপ্রিয়।

‘ভবের হাট’ ধারাবাহিকে প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। পরে ‘হাড়কিপ্টে’ ধারাবাহিকেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। বড় পর্দায় প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘টেলিভিশন’ সিনেমায়। সবশেষ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা গ্রামে। পাবনার কামারহাট আমার গ্রাম। মোশাররফ করিমের জন্মও বরিশালের গ্রামে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক মিল। খুব ভালো বন্ধু আমরা।’

মোশাররফ করিম সম্পর্কে চঞ্চলের মূল্যায়ন, ‘মোশাররফ করিম সর্বক্ষেত্রে সফল একজন মানুষ। অভিনয়ের সব মাধ্যমেই সফল। এটা সহজ কথা নয়। তার যোগ্যতা ছিল, সাধনা করেছেন, থিয়েটার করেছেন, তারপর এই জায়গায় এসেছেন। এক বছর কিংবা দুই বছরের জার্নি নয়। বছরের পর বছর ধরে অভিনয়ে আছেন।’

এরপরই যোগ করেন, ‘এদেশে আরেকজন মোশাররফ করিমের জন্ম নেওয়া সম্ভব না।’

গ্রামের শৈশব, নদী আর বেড়ে ওঠার স্মৃতিও উঠে আসে তার কথায়। চঞ্চল বলেন, ‘মোশাররফ করিমের বাড়ির কাছে একটা নদী আছে। আমার বাড়ির কাছেও একটা নদী আছে। দুজনেই নদীতে সাঁতার কাটা মানুষ। সেখান থেকেই তো আমাদের জার্নি শুরু। আজও একই পথে আছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘মোশাররফ করিম এখন এদেশের অন্যতম প্রধান অভিনেতা। এটা একদিনে সম্ভব হয়নি। থিয়েটার করতে করতে শিখেছেন। আমিও তাই করেছি। মহিলা সমিতি কিংবা গাইড হাউসে কত শত স্মৃতি আমাদের।’

চঞ্চল বলেন, তখন মোশাররফ করিম ‘নাট্যকেন্দ্র’ করতেন আর আমি ছিলাম ‘আরণ্যক নাট্যদলে’। ‘ওর নাটকের শো হলে আমরা দল বেঁধে যেতাম, আমার দলের শো হলে ওরাও আসতো। সেই সময় থিয়েটারের মানুষেরা ভীষণ ভালোবেসে এই কাজটি করতাম।’

ঢাকায় সংগ্রামের দিনগুলোর স্মৃতির কথাও বলেন অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘একসময় দুজনেই গ্রাম থেকে ঢাকা শহরে আসি। মোশাররফ করিম ঢাকায় একটি কোচিং সেন্টারে পড়াতেন। আমিও ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভে শিক্ষকতা করেছি। দুজনেরই ছাত্র আছে। কিন্তু আমরা কেউই থিয়েটার ছাড়িনি।’

তার ভাষ্য, ‘কথায় আছে, কখনো কখনো পথই গন্তব্যে নিয়ে যায়। আমরা দুজনও অভিনয়ের পথে নেমেছিলাম, সেই পথই এতদূর নিয়ে এসেছে।’

চঞ্চল আরও বলেন, ‘একজন মোশাররফ করিম হয়ে ওঠার গল্পটা আমি জানি এবং একজন চঞ্চল চৌধুরী হয়ে ওঠার গল্প তিনিও জানেন। আজকের মোশাররফ করিম হয়ে উঠতে অনেক সাধনা করতে হয়েছে।’

দীর্ঘ বন্ধুত্বের নানা স্মৃতিও উঠে আসে তার কথায়। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরের পূবাইলে একটা টিনের ঘরে বড় একটি রুম ছিল। সেখানে তিনটি চৌকি ছিল। আমি, মোশাররফ করিম, আ খ ম হাসান, শামীম জামান—চারজন শুটিং শেষে সেই ঘরে ঘুমাতাম। রাতভর আড্ডা দিতাম। কত স্মৃতি মনে পড়ে!’

তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড শীতের রাতে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করেছি। মোশাররফ করিম যেখানেই থাকেন, ভালো আড্ডা জমাতে পারেন।’

চঞ্চল বলেন, ‘তখন আমরা বেশি কাজ করতাম সালাহউদ্দিন লাভলু পরিচালিত নাটকে। তখনো সংসার জীবন শুরু করিনি। শুটিং শেষ হলেও শুধু আড্ডা দেওয়ার জন্য থেকে যেতাম।’

‘ভবের হাট’ নাটকের স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, ‘গাজীপুরের হোতাপাড়ায় শুটিং করেছি। দুপুরে ব্রেক হলে আমি আর মোশাররফ করিম ফুটবল খেলতে নেমে যেতাম। বৃষ্টি হলেও খেলতাম। রাতের শুটিং শেষে ব্যাডমিন্টনও খেলতাম।’

তিনি বলেন, ‘কি আনন্দের সময় মোশাররফ করিম আর আমি কাটিয়েছি, বলে শেষ করা যাবে না।’

‘হাড়কিপ্টে’ ধারাবাহিক নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন চঞ্চল। তিনি বলেন, ‘দিনের পর দিন আমরা পূবাইলে শুটিং করেছি, থেকেছি। মহা আনন্দ নিয়ে শুটিং করেছি। মোশাররফ করিম এবং আমি জীবনের সেরা সময় কাটিয়েছি।’

চঞ্চলের মতে, মোশাররফ করিম এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, কলকাতাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত মুখ। পৃথিবীর যেসব দেশে আমাদের দেশের মানুষ আছেন, তাদের কাছেও তিনি পরিচিত।

বড় পর্দায় একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বহু বছর পর আমরা ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’ অভিনয় করেছি। এই সিনেমায় মোশাররফ করিম অসাধারণ অভিনয় করেছেন। ওর ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয়গুলোর একটি এটি।’

ব্যস্ততা বাড়লেও বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি বলেও জানান চঞ্চল। তিনি বলেন, ‘মোশাররফ করিম এখন প্রচণ্ড ব্যস্ত। আমিও। তারপরও আমাদের মধ্যে বন্ধনটা রয়ে গেছে। ভালোবাসার পারিবারিক সম্পর্ক রয়ে গেছে।’

সম্প্রতি নিজের বাসাতে একটি আড্ডার কথাও বলেন তিনি। ‘মোশাররফ করিমকে বলেছিলাম, চলে আসিস। রাতে স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিল। তারপর দারুণ আড্ডা জমে উঠেছিল। একসময় আড্ডার মধ্যমণি হয়ে ওঠে মোশাররফ করিম।’

চঞ্চল বলেন, ‘মোশাররফ করিম অভিনয়ের মধ্যমণি, আড্ডারও মধ্যমণি। যেখানেই আড্ডা দেন, সবাই ওর কথা মুগ্ধ হয়ে শোনে।’

শেষে আবারও বন্ধুর প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘অভিনয় ছাড়া আমরা কিছুই করিনি। অভিনয়কেই ভালোবাসি। মাঝে।’

ইরানের স্কুলে কেন হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে যখন যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে, তখন দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের ‘শাজারেহ তাইয়্যেবেহ’ স্কুলে জমায়েত হয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরু করার সময়ই একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে স্কুলটিতে আঘাত হানে। এতে ভবনটি ধসে পড়লে চাপা পড়ে শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্কুলে হামলার ঘটনায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী মেয়ে শিশু। আহত হয়েছে আরও অন্তত ৯৫ জন।

এই হত্যাযজ্ঞের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ইসরায়েল ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ হামলার দায় এড়ানোর চেষ্টা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্ররা টাইম ম্যাগাজিন ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, কোনো স্কুলে হামলার বিষয়ে তারা অবগত নন।

ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ঘটনাস্থলটি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) একটি ঘাঁটির অংশ ছিল।

কিন্তু, আল জাজিরার ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশনস ইউনিট ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। অনুসন্ধানে এক দশকের বেশি সময়ের স্যাটেলাইট ছবি, সাম্প্রতিক ভিডিও ফুটেজ, প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন ও ইরানের সরকারি সূত্র বিশ্লেষণ করে আল জাজিরা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্কুলটি অন্তত ১০ বছর ধরে পাশের সামরিক স্থাপনা থেকে স্পষ্টভাবে পৃথক ছিল।

এতে আরও দেখা যায়, হামলার ধরন এমন কিছু মৌলিক প্রশ্ন তোলে যা থেকে বোঝা যায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের যথার্থতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমনকি হামলাটি ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুল লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল কি না—সেটিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের প্রথম হামলার তালিকায় মিনাবকে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল তা বোঝার জন্য শহরটিকে বৃহত্তর ভূ-কৌশলগত প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে।

মিনাব দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের হরমোজগান প্রদেশে অবস্থিত। সরাসরি হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরের কাছে হওয়ায় প্রদেশটি সামরিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আইআরজিসির নৌবাহিনী নেদসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রও।

আইআরজিসি নৌবাহিনী ‘অসম যুদ্ধনীতি’ অনুসরণ করে। এখান থেকে দ্রুতগতির নৌযান, ড্রোন ও উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল ব্যাহত বা শত্রু নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে মিনাবের ‘সাইয়্যিদ আল-শুহাদা’ সামরিক কমপ্লেক্স বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তরও রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসিফ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিগেড। এটিকে আইআরজিসি নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণাত্মক ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কিছু সূত্র ও ইরানের সরকারি নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ স্কুলের প্রশাসনের সঙ্গে আইআরজিসি নৌবাহিনীর যোগসূত্র আছে এবং এটি বৃহত্তর স্কুল নেটওয়ার্কের অংশ। এসব স্কুলকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং মূলত আইআরজিসি সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ইরানের মেসেজিং অ্যাপ ‘বালেহর’ একটি চ্যানেলে ওই স্কুলের ভর্তি–সংক্রান্ত বার্তায় দেখা যায়, ভর্তি প্রক্রিয়ায় সামরিক কর্মীদের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কয়েকটি ঘোষণায় আইআরজিসি সদস্যদের সন্তানদের নির্দিষ্ট দিনে এসে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে, আর সাধারণ পরিবারের শিশুদের নিবন্ধন শুরু হয় অন্য দিনে।

তবে এই প্রশাসনিক সম্পর্ক বা শিক্ষার্থীদের পারিবারিক পরিচয় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে স্কুলটির বেসামরিক অবস্থান পরিবর্তন করে না—যতক্ষণ না এটি সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের স্কুলে পড়া শিশুরা সামরিক সদস্যদের সন্তান হোক বা সাধারণ নাগরিক—সবাই সশস্ত্র সংঘাতে বিশেষভাবে সুরক্ষিত থাকার কথা। তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা বা হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।

মানবাধিকার সংস্থা ইউরোমেড হিউম্যান রাইটস মনিটর এই হামলাকে ‘ভয়াবহ অপরাধ’ এবং বেসামরিক জনগণের জীবনের অনিরাপত্তার আরেকটি প্রমাণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, আশপাশে সামরিক ঘাঁটি থাকলেই কোনো স্কুলের বেসামরিক চরিত্র বদলে যায় না। আর লক্ষ্যবস্তুর প্রকৃতি নিশ্চিতভাবে যাচাই করার আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মুক্ত নয়।

শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়। মিনাব শহর ও হরমোজগান প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। তবে সেখানে তখনও সাধারণ জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল, শিশুরা স্কুলে যাচ্ছিল।

তখনকার ছবি ও ভিডিও যাচাই করে দেখা গেছে, স্কুলের আশপাশের সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ছিল।

সেদিনের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত স্কুল ভবনটি সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল। ইরানি সূত্র জানায়, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি স্কুলটিতে আঘাত হানে।

হামলার প্রকৃতি যাচাই করতে আল জাজিরার অনুসন্ধান দল টেলিগ্রামে প্রকাশিত দুটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে এবং দৃশ্যমান স্থাপনার সঙ্গে স্যাটেলাইট ছবি মিলিয়ে সেগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে।

প্রথম ভিডিওতে সামরিক ব্লকের ভেতর থেকে ধোঁয়া ওঠার দৃশ্য দেখা যায়, যা প্রমাণ করে—সামরিক ঘাঁটিটিও হামলার লক্ষ্য ছিল।

তবে দ্বিতীয় ভিডিওটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, একই সময়ে দুটি পৃথক কালো ধোঁয়ার স্তম্ভ উঠছে—একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে এবং অন্যটি ভৌগোলিকভাবে অন্য স্থানের মেয়েদের স্কুল থেকে।

এই দৃশ্য স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে মিলে যায় এবং পাশের সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণে স্কুলটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবিকে ভুল প্রমাণ করে। বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে স্কুলটিকে আলাদা করে লক্ষ্যবস্তু ধরা হয়েছিল।

আল জাজিরার অনুসন্ধানী দল ২০১৩ সাল থেকে ২০২৬ সালে হামলার আগ পর্যন্ত সংরক্ষিত স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে। এতে দেখা যায়, গত এক দশকে নকশা পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অংশটিকে সামরিক কমপ্লেক্স থেকে আলাদা করে বেসামরিক ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালের ছবিতে পুরো এলাকা একটি একীভূত সামরিক কমপ্লেক্স হিসেবে দেখা যায়। তখন বাইরের সীমানা প্রাচীর ছিল অবিচ্ছিন্ন, কোণাগুলোতে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ছিল এবং একটি মাত্র প্রধান প্রবেশপথ দিয়ে ওই স্কুলসহ সব ভবন সংযুক্ত ছিল।

কিন্তু ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের ছবিতে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। নতুন অভ্যন্তরীণ দেয়াল নির্মাণ করে স্কুলের অংশটিকে সামরিক ব্লক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা হয়। একই সময়ে দুটি ওয়াচ টাওয়ার সরিয়ে ফেলা হয় এবং জনসাধারণের জন্য রাস্তা থেকে তিনটি নতুন প্রবেশপথ তৈরি করা হয়।

এতে ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক ব্যারাকের বাইরে এনে একটি স্বতন্ত্র বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়।

২০১৮ সালের ছবিতে এর বেসামরিক ব্যবহার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেখানে নতুন প্রবেশপথের সামনে বেসামরিক গাড়ি, ভেতরে শিশুদের খেলার মাঠ এবং দেয়ালে রঙিন দেয়ালচিত্র দেখা যায়—যা একটি বিদ্যালয়ের খুবই সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

একই এলাকায় নির্মিত আরেকটি প্রকল্প এই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মিনাব শহর পরিদর্শন করেন আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি। তিনি সেখানে ‘শহীদ আবসালান’ নামে একটি বিশেষায়িত ক্লিনিক উদ্বোধন করেন।

প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইরানি তোমান ব্যয়ে নির্মিত এই ক্লিনিকটি একই কমপ্লেক্সের অন্য একটি অংশে তৈরি করা হয়। সেখানে সামরিক সদস্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবা দেওয়া শুরু হয়।

স্কুলের মতোই ক্লিনিকটির জন্যও সামরিক ঘাঁটি থেকে আলাদা প্রবেশপথ ও পার্কিং এলাকা তৈরি করা হয়।

ফলে আগে যে এলাকা একটি একীভূত সামরিক কমপ্লেক্স ছিল তা তিনটি পৃথক অংশে বিভক্ত হয়ে যায়—মেয়েদের স্কুল, বেসামরিক ক্লিনিক ও সক্রিয় সামরিক ঘাঁটি।

কিন্তু ২০২৬ সালের হামলায় দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র মিনাবের সামরিক ঘাঁটি ও স্কুলে আঘাত করলেও মাঝখানে অবস্থিত ক্লিনিক অক্ষত থাকে।

অনুসন্ধানকারীরা বলছেন, এটি ইঙ্গিত দেয় যে হামলাকারীরা এমন মানচিত্র ব্যবহার করছিল যেখানে স্থাপনাগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত ছিল।

এই বৈপরীত্য থেকেই মূল প্রশ্নটি উঠে আসে যে, যদি গোয়েন্দা তথ্য এতটাই হালনাগাদ হয় যে এক বছর আগে নির্মিত ক্লিনিককে এড়িয়ে যাওয়া যায়, তবে কীভাবে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া একটি স্কুলকে শনাক্ত করা গেল না?

এই প্রশ্ন থেকে দুটি সম্ভাবনা সামনে আসে—হয় পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করার কারণে গুরুতর ভুল হয়েছে, অথবা স্কুলটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হামলার পর এক্স প্ল্যাটফর্মে ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট দাবি করে, বাইরে থেকে কোনো হামলা হয়নি, বরং একটি ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে স্কুলে পড়েছে।

কিন্তু ওপেন সোর্স যাচাইয়ে দেখা যায়, এ দাবির সমর্থনে প্রচারিত সবচেয়ে ভাইরাল ছবিটি মিনাবের নয়। সেটি ছিল উত্তর-পশ্চিম ইরানের জানজান শহরের একটি ঘটনার ছবি, যা মিনাব থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরে।

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যই এই দাবিকে খণ্ডন করে—মিনাব উষ্ণ উপকূলীয় শহর, যেখানে তুষারপাত হয় না। অথচ ছবিতে তুষারঢাকা পাহাড় দেখা যায়।

সবকিছু মিলিয়ে অনুসন্ধানটি শেষ পর্যন্ত দুটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে—হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী পুরোনো ও হালনাগাদ না করা তথ্যের ওপর তালিকা করেছে, যা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি গুরুতর অবহেলার প্রমাণ। অথবা হামলাটি ইচ্ছাকৃতভাবে চালানো হয়েছে, যেন বড় ধাক্কা তৈরি করে ইরানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনসমর্থন দুর্বল করা যায়।

ঢাবিতে নারীকে লাঠি হাতে হেনস্তাকারী তরুণ গাজীপুরে হত্যা মামলার আসামি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের কাছে বুধবার ভোরে ২ নারীকে হেনস্তা ও শারীরিক লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে নারীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন এক তরুণ।

অভিযুক্ত ওই তরুণের নাম মো. রাকিব এবং তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার একটি হত্যা মামলার আসামি।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কালিয়াকৈর থানায় ২০২৪ সালের একটি হত্যা মামলার আসামি রাকিব। ইতোমধ্যে মামলার চার্জশিট হয়েছে।’

মো. রাকিব গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 

একই হত্যা মামলায় রাকিবের জমজ ভাই মো. সাকিবও আসামি। ওই মামলার পর থেকে তারা দুজনই এলাকায় পলাতক বলে জানা গেছে।

এদিকে, বুধবার রাতে টিএসসি এলাকায় দুই নারীকে লাঠি হাতে হেনস্তার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে। ওই ভিডিওতে রাকিবকে এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে যেতে দেখা যায়।

ভিডিওতে ওই নারী বলেন, পুরান ঢাকায় সেহেরি খেয়ে টিএসসি গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাবি প্রশাসন।

কালিয়াকৈর থানা সূত্রে জানা গেছে, রাকিব ও তার ভাই সাকিবের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কালিয়াকৈরের সফিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় এক তরুণকে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর রাকিব, সাকিব ও সাব্বির একসঙ্গে একটি জিমে যান। সেখান থেকে রাকিব ও সাকিবদের বাসা ইউনিক টাওয়ারের ছাদে ওঠেন। তাদের সঙ্গে ছিল স্থানীয় আরও দুই কিশোর। পরে ওই দুই কিশোরকে দোকানে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর দুজন ফিরে এসে ভবনের নিচে রক্তমাখা অবস্থায় সাব্বিরকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে তারা ছাদে গিয়ে সাব্বিরের কাটা নখ ও রক্তমাখা অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখে। 

ওই ঘটনায় সাব্বিরের বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন আবির বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। 

মহিউদ্দিন আবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘কালিয়াকৈর থানায় মামলা করা হলেও পরে মামলা চলে যায় গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। গোয়েন্দা পুলিশ ৫-৬ মাস আগে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো তৎপরতা দেখায়নি তারা।’

আবির আরও বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের সময় রাকিবকে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রচার–প্রচারণায় দেখা গেছে।’

কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মামলাটি তদন্ত করেছে ডিবি পুলিশ, তাই গ্রেপ্তারের দায়িত্বও তাদের।’

যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. হাসমত উল্লাহ বলেন, ‘দেশের নানা পরিস্থিতিতে আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়নি। এখন অভিযান চালানো হবে।’

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯৫ বছর।  

আজ রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটের দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তিনি ওই বছরের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এই নেতা বহু বছর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদীয় বিষয়কসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হন।

পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় জন্ম নেওয়া জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং আইনের ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরে আইন পেশায় যোগদানের আগে তিনি যুক্তরাজ্যের লিঙ্কনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন। 

এই বিশ্বকাপে কোনো ফেভারিট নেই, বলছেন স্কালোনি

নকআউটের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ পরীক্ষা নিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টে উড়ন্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্স প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এক গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে, পর্তুগালকে হারাতে স্পেনকেও অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ সময় পর্যন্ত। ফুটবলের বড় দুই ‘পাওয়ারহাউজ’ ব্রাজিল আর জার্মানি তো এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি তাই বলছেন, এই বিশ্বকাপে ফেভারিট বলতে কিছু নেই। 

মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কথা বলেছেন স্কালোনি। 

মেসিদের কোচ বলেছেন, ‘আগের বিশ্বকাপগুলোতে যেমন দেখা যেত, এবার তেমন কোনো স্পষ্ট ফেভারিট দল নেই। আগের আসরগুলোর তুলনায় এবার কন্ডিশনও অনেক আলাদা’। 

বিশ্বকাপে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকেও ফেভারিট দল না থাকার একটি কারণ হিসেবে দেখছেন স্কালোনি, ‘আগের চেয়ে খেলোয়াড়দের এবার বেশি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাদের শরীরের উপর ধকল বেশি যাচ্ছে। হয়তো দলগুলোকে আগের মানের ফুটবল খেলতে না দেখার পেছনে এটিও একটি কারণ। বিশ্বকাপের আগে যে চার-পাঁচটি দলকে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে দেখছিলো অনেকে, তারাও কিন্তু প্রত্যাশিত মানের ফুটবল খেলতে পারছে না’। 

তবে সামগ্রিকভাবে দলগুলোর খেলার মানে কিছুটা ভাটা পড়লেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে অখুশি নন স্কালোনি, ‘আমরা গ্রহণযোগ্য মানের ফুটবলই খেলেছি। আমরা টানা চার ম্যাচ জিতেছি, এবং আমার মনে হয় এতে আমরা খুশি হতে পারি। তবে ম্যাচ জিতলেও কিছু জিনিস শুধরে নেয়ার জায়গা সবসময়ই থাকে’।

কন্ডিশন, মাঠ, বল- সবকিছু মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপকে বেশ কঠিন মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনা কোচের, ‘এই বিশ্বকাপ অনেক দিক থেকেই কঠিন। ভ্রমণ, গরম, মাঠ, আবার ঘাসের কারণে বল সবসময় ভালো ভাবে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন। অনেকগুলো কারণেই দলগুলো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে খাবি খাচ্ছে’। 

তবে স্কালোনি আত্মবিশ্বাসী, সবকিছু নিজেদের পক্ষে না গেলেও ম্যাচ জেতার মতো সামর্থ্য তার দলের আছে, ‘যখন ম্যাচ আপনার পক্ষে যাচ্ছে না, কিংবা প্রতিপক্ষ আপনার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তখন আপনার দরকার হবে একাগ্রতা আর মানসিক দৃঢ়তা। এগুলো আমাদের ডিএনএ তেই আছে। আপনি যখন খারাপ খেলবেন, তখন এগুলো আপনার দরকার হবে। নাহলে আপনি বাদ পড়বেন। আমরা যদি গত ম্যাচে আমাদের চরিত্র না দেখাতে পারতাম, তাহলে এতক্ষণে আমরা টুর্নামেন্টের বাইরে থাকতাম’।