36.1 C
Dhaka
Home Blog

বদলে যাচ্ছে কেনাকাটার অভ্যাস, সুপারশপে বাড়ছে বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা

একসময় বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের জীবন আর কাঁচাবাজার ছিল অবিচ্ছেদ্য। সকাল সকাল থলে হাতে বাজারে যাওয়া, কলার মোচা নিয়ে দরদাম কিংবা ইলিশের ফুলকা দেখে টাটকা কি না যাচাই করা ছিল আমাদের সংস্কৃতির অংশ।

কিন্তু সময়ের চাকায় দ্রুত নগরায়ন আর যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় সেই চিরচেনা অভ্যাসে এসেছে বড় পরিবর্তন। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে এখন আর সবার হাতে সকালে বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় নেই, নেই আগের মতো জহুরি চোখ দিয়ে পণ্য চেনার আত্মবিশ্বাসও।

ক্রেতাদের এই সময়ের অভাব আর স্বাচ্ছন্দ্যের চাহিদাকে পুঁজি করে প্রায় ২৫ বছর আগে দেশে যাত্রা শুরু করেছিল সুপারশপ। শুরুতে কেবল শহুরে আভিজাত্যের প্রতীক মনে হলেও বর্তমানে এটি মধ্যবিত্তের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে করোনা পরবর্তী সময়ে ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের পর সুপারশপ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে এসেছে জোয়ার। বর্তমানে এই খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুপারশপ চেইনগুলো প্রায় একই ধরনের ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করেছে। মানসম্মত পণ্য, টাটকা বাজার এবং এক জায়গায় সবকিছু পাওয়ার সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এই মডেলের মাধ্যমে গত আড়াই দশক ধরে দেশের মোট খুচরা বাজারের প্রায় ৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বাজার দখলে রেখেছে এ খাত। 

আগের সুপারশপগুলোর মতো শুধু আবাসিক এলাকায় দোকান না খুলে নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। যেমন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন ব্র্যান্ড ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’ ঢাকার মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে শাখা চালু করছে।

‘ফ্রেশ মার্ট’ বলছে, টোকিও ও লন্ডনের মতো আধুনিক শহরের ধাঁচে তারা মানুষের চলাচল বেশি হয় এমন জায়গাকে গুরুত্ব দিয়ে আউটলেট খুলছে, শুধু আবাসিক এলাকা নয়।

বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৩০টি বড় সুপারশপ ব্র্যান্ড রয়েছে।

শুরুতে এই খাত বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এসিআইয়ের ‘স্বপ্ন’ এবং প্রাণ গ্রুপের ‘ডেইলি শপিং’-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের মাধ্যমে এখন কিছু উপজেলা শহরেও সুপারশপ পৌঁছে গেছে।

এখন শহরের অনেক মানুষ চাল, সবজি, মাছ, মাংস ও গৃহস্থালির বিভিন্ন পণ্য মাসিক ভিত্তিতে সুপারশপ থেকে কিনছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ এখনও সুপারশপের পাশাপাশি কাঁচাবাজার থেকেও কেনাকাটা করেন, বিশেষ করে টাটকা সবজি ও অন্যান্য তাজা পণ্যের জন্য।

ঢাকার বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা রোকসানা আফরোজ বলেন, তিনি মূলত এমন পণ্য সুপারশপ থেকে কেনেন, যেগুলো স্থানীয় দোকানে সহজে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ‘মুদি দোকানে সাধারণত প্যাকেটজাত পণ্যের বৈচিত্র্য কম থাকে এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডই পাওয়া যায়। কিন্তু সুপারশপে অনেক ধরনের পণ্য সহজেই পাওয়া যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হয় না বলে একই দামে পণ্য কিনতে পারি, আবার কখনো ছাড়ও পাওয়া যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাজারের চেয়ে সবজির দামও কম থাকে, আর দরদামের ঝামেলাও নেই।’

আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে সুপারশপে বেশি ভরসা পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

তার ভাষায়, ‘আমদানিকারকের সিল থাকায় পণ্যের বিষয়ে আস্থা তৈরি হয় এবং নিরাপদে কেনাকাটা করা যায়।’

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা শাহজাহান আলী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি সুপারশপ ও কাঁচাবাজার—দুই জায়গা থেকেই কেনাকাটা করেন। তার মতে, সুপারশপে দামের স্থিতিশীলতা বেশি থাকে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি খোলা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম হঠাৎ করে লিটারে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। কিন্তু সুপারশপগুলো আগের দামেই তেল বিক্রি করেছে।

তিনি আরও বলেন, এক ছাদের নিচে প্রায় সব প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায় বলে সুপারশপে সময়ও বাঁচে। তবে সবজি ও শাকপাতার জন্য তিনি এখনও কাঁচাবাজারকেই বেশি পছন্দ করেন।

সুবিধা ও মানসম্মত পণ্যের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সুপারশপের বিস্তার

দেশের প্রথম সুপারশপ চেইন ‘আগোরা’ ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে রহিমআফরোজ সুপারস্টোরস লিমিটেডের মাধ্যমে। তারা মানসম্মত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার স্লোগানে যাত্রা করেছিল।

এর এক বছর পর জেমকন গ্রুপ চালু করে ‘মীনা বাজার’। তাদের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে টাটকা পণ্য পৌঁছে দেওয়া।

বর্তমানে দেশের আধুনিক খুচরা বাজারের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্ন’। ২০০৮ সালে এসিআই এটি চালু করে। এখন তাদের ৯০২টি আউটলেট রয়েছে এবং আধুনিক খুচরা বাজারের ৫৩ শতাংশ তাদের দখলে।

২০১৪ সালে প্রাণ গ্রুপ চালু করে ‘ডেইলি শপিং’। তারা মূলত সহজ ও ঝামেলামুক্ত কেনাকাটার সুবিধাকে গুরুত্ব দেয়। এরপর থেকে নিয়মিত নতুন নতুন শাখা চালুর মাধ্যমে এ খাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনলাইন ডেলিভারি সেবার জনপ্রিয়তা বাড়ায় সুপারশপগুলোর বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ বাসার কাছাকাছি কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই তাদের প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের খুচরা বিক্রি মডেলের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, ২০১২ সালে স্বপ্নের আউটলেট ছিল মাত্র ৩৭টি। বর্তমানে তা বেড়ে ৯০২টিতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর প্রতিষ্ঠানটির দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে।

প্রাণের ‘ডেইলি শপিং’ ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় মাত্র সাতটি আউটলেট ও ৩০ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ আলম জানান, তখন প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা।

বর্তমানে তাদের আউটলেট সংখ্যা বেড়ে ১১২টিতে দাঁড়িয়েছে এবং আরও প্রায় ৩৫টি নতুন আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফিরোজ আলম বলেন, এই প্রবৃদ্ধি মানুষের কেনাকাটার অভ্যাস বদলেরই প্রমাণ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় এক হাজার কর্মী কাজ করছেন এবং মোট বিনিয়োগ বেড়ে প্রায় ৯০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

তার মতে, আগে দেশের ১ শতাংশেরও কম মানুষ সুপারশপ ব্যবহার করতেন। এখন তা প্রায় ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। আয় বাড়া ও অভ্যাস পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এটি ৬ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে।

ফিরোজ আলম বলেন, দামের স্বচ্ছতা সুপারশপ জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম বড় কারণ।

তিনি বলেন, ‘আরেকটি বড় সুবিধা হলো এখানে ক্রেতারা স্বাধীনভাবে পণ্য বেছে নিতে পারেন। কাঁচাবাজারে সাধারণত বিক্রেতারাই পণ্য তুলে দেন। কিন্তু সুপারশপে ক্রেতারা নিজেরাই পণ্য দেখে ও যাচাই করে কিনতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, সুপারশপে কেনাকাটার ওপর থাকা ৫ শতাংশ ভ্যাট তুলে দেওয়ায় সংগঠিত খুচরা বাজার এখন আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এসেছে।

মীনা বাজারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জায়গীরদার বলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল ছোট কৃষকদের সঙ্গে ভোক্তাদের সরাসরি ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাই, একই সঙ্গে ক্রেতাদের আরও টাটকা ও নিরাপদ পণ্য দিতে চাই। আমাদের ‘ব্যাক টু রুট’ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিকে শক্তিশালী করা এবং আরও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারেরই অংশ।’

বাজার সম্প্রসারণে বিদেশি বিনিয়োগ আগ্রহ বাড়ছে

দেশে আধুনিক খুচরা বাজার বা সুপারশপ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহও বাড়ছে। কেউ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আসছে, আবার কেউ সরাসরি নিজেদের আউটলেট চালু করছে।

চলতি বছর ‘স্বপ্ন’ জাপানের প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কো লিমিটেডের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে। এই অংশীদারত্বের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ ব্যয় কমানো এবং সেবার মান আরও উন্নত করা।

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আলফামার্ট ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। কাজী ফার্মস গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারা শহর ও শহরতলির ক্রেতাদের লক্ষ্য করে ছোট আকারের সুপারশপ চেইন চালু করেছে।

জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন বর্তমানে আলফামার্টের অন্যতম শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্পটির প্রথম ধাপে ৫ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। পরে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কাজী ফার্মস গ্রুপের পরিচালক কাজী জাহিন হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা গুলশানে একটি এবং উত্তরায় আরেকটি স্টোর চালু করেছি।’

ডেইলি শপিংয়ের ফিরোজ আলম বলেন, দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাড়তি প্রতিযোগিতাকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

তার ভাষায়, ‘আমরা এই প্রতিযোগিতাকে ভালোভাবে দেখি। কারণ এতে একচেটিয়া ব্যবসা কমে, সেবার মান উন্নত হয় এবং ক্রেতারা মান ও দামের দিক থেকে আরও ভালো বিকল্প পান।’

সুপারশপ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যবসার ধরন ও অবস্থান নিয়ে নতুনভাবে ভাবছে। শুধু ক্রেতার অপেক্ষায় না থেকে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান মানুষের চলাচল বেশি, এমন ব্যস্ত শহুরে জায়গার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেঘনা গ্রুপ ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’-এর নয়টি আউটলেট চালু করবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে পাঁচ বছরের জন্য এসব আউটলেট পরিচালনা করা হবে।

স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে মতিঝিল, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, পল্লবী, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা নর্থ।

মেঘনা গ্রুপ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক তানভীর আহমেদ মোস্তফা বলেন, এসব আউটলেটে আধুনিক খুচরা বিক্রয় সুবিধা থাকবে। এখানে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, হিমায়িত খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যপণ্য, ক্যাফে আইটেম, প্রস্তুত খাবার এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায় এমন ওষুধ পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, যাত্রী চলাচল বেশি হওয়ায় মেট্রোরেল স্টেশনগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

‘প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এসব স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন এবং তাদের অনেকেরই দ্রুত কিছু কেনাকাটার প্রয়োজন হয়,’ বলেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘আমরা বড় সুপারশপ তৈরি করছি না। আমরা এমন ছোট আকারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি, যা আজকের শহুরে জীবনের গতির সঙ্গে মানানসই। অফিসে যাওয়ার পথে দ্রুত নাস্তা ও কফি, বাসায় ফেরার পথে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা, আর কাউন্টারে পরিচিত মুখ এই অভিজ্ঞতাই আমরা দিতে চাই।’

বর্তমানে মেঘনা গ্রুপের তেজগাঁও, মেঘনাঘাট ও মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে চারটি আউটলেট রয়েছে। এছাড়া গুলশানে তাদের অফিসেও আরেকটি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

মেঘনা গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিরপুর-১০ স্টেশনের আউটলেটগুলোতে বিক্রির ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন আউটলেটের ইনচার্জ মো. দ্বীন ইসলাম বলেন, আউটলেটি প্রায় ৩০ ধরনের পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে ছিল এবং চালুর পর থেকে ভালো বিক্রি হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন দুই সময়ে ক্রেতার চাপ বেশি থাকে। প্রথম ধাপ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, যখন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা কেনাকাটা করেন। দ্বিতীয় ধাপ বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, যখন মানুষ বাসায় ফেরেন।

দ্বীন ইসলাম আরও বলেন, বিশেষ করে স্ন্যাকস, ডেজার্ট ও প্রস্তুত খাবারের জন্য অনেক নিয়মিত ক্রেতা তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমাদের মোট ক্রেতার প্রায় ৪০ শতাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এতে বোঝা যায়, এই আউটলেটটির সঙ্গে ক্যাম্পাসের একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।’

এনসিপির ‘জাতীয় নারীশক্তি’র ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু।

এতে বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের অনুমোদনে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক এবং মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। মুখ্য সংগঠক হয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম। শীর্ষ নেতৃত্বে আরও রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুন বুশরা মিশমা ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মনজিলা ঝুমা।

 

প্রথমবার তুরস্ক এসে ভীষণ ভালো লাগছে: ববিতা

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা। বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের নায়িকা হিসেবে পরিচিত তিনি। দর্শকদের বিপুল ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি।

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা করেও নন্দিত হয়েছেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননা, একুশে পদকসহ বহু অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছেন ববিতা। 

ববিতা তার বোন চম্পা ও ভাইকে নিয়ে তুরস্কে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। 

 

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে তুরস্ক ভ্রমণ নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছেন ববিতা। 

ববিতা বলেন, ‘প্রথমবারের মতো তুরস্ক এসেছি।

প্রথমবার এই দেশে এসে ভীষণ ভালো লাগছে। মন ভরে গেছে। যা দেখছি তাই ভালো লাগছে। মুগ্ধ হচ্ছি খুব।’

ববিতা আরো বলেন, ‘দুই বোন ও এক ভাই মিলে পরিকল্পনা করেই এসেছি। পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরেছি। কিন্তু তুরস্ক এবারই প্রথম আসা। এই দেশের অনেক ঐতিহ্য আছে, ইতিহাস আছে, কালচার আছে। পছন্দের একটি দেশ। অনেক দেরিতে এলেও উপভোগ করছি।’

 

ঘুরে বেড়ানোর উদাহরণ টেনে ববিতা বলেন, ‘এখানে আসার পর অনেক কিছু দেখার সুযোগ হয়েছে। আজ আমরা দারুণ একটা জায়গায় ঘুরব। জাহাজে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাব। জাহাজেই খাওয়া-দাওয়া করব। আনন্দ করব।’

‘আমার বোন চম্পা এবং ভাই এসেছে। ওদেরও খুব ভালো লাগছে। তিনজন মিলে তুরস্ক ঘুরে বেড়ানোটা উপভোগ করছি। সুন্দর সুন্দর স্মৃতি জমা হচ্ছে। জীবনে এইসব সুন্দর স্মৃতিরও প্রয়োজন আছে’, যোগ করেন তিনি। 

ববিতা বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এসেছি। তুরস্কে নেমেই দারুণ এক ধরনের সুখকর অনুভূতি কাজ করেছে। দেশটা আসলেই সুন্দর।’

তুরস্কের খাবার-দাবার নিয়ে ববিতা বলেন, ‘এখানকার খাবার খুব ভালো। দেশে থাকলে বাঙালি খাবারই আমার পছন্দ। কিন্তু দেশের বাইরে তো নানান দেশে নানানরকম খাবার। তুরস্কের খাবার আমরা মজা করেই খাচ্ছি। খাবারগুলো অসাধারণ।’

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কয়েকটা দিন খুব ঘুরব। যত পারি দেখব। দেখার মধ্যে আনন্দ আছে। দেখার মধ্যে ভালো লাগা কাজ করে। সত্যি কথা বলতে তুরস্কে অনেক কিছু আছে দেখার মতো। যে কয়টি দিন থাকব শুধু দেখব।’

ববিতা বলেন, ‘আগামীকাল আরেকটি সুন্দর জায়গায় ঘুরব। ওখানে বেলুন উড়ানো হবে। আশা করছি অনেক আনন্দ করব।’

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত ঘিরে এফ-১৬ ভূপাতিতের গুজব

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পুরোনো ছবি ও ভিডিও।

ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, এসব ছবি ও ভিডিও-এর অনেকগুলোই ভুয়া ও এডিটেড।

আজ শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ও পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন ফ্যাক্ট চেক করে জানিয়েছে এসব ছবি-ভিডিও ভুয়া ও পুরোনো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে পাকিস্তান হামলা চালানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ জ্বলছে’এমন একটি ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এটিকে নতুন ঘটনা দাবি করে অনেকেই পোস্ট দেন। 

বিবিসি জানায়, ছবিটি অন্তত লাখোবার দেখা হয়েছে। রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেখা গেছে, বর্তমান আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ছবিটির সবচেয়ে পুরোনো সংস্করণ পাওয়া যায় ২০২৫ সালের মে মাসে।

ডন দাবি করেছে, ভারতীয় ও আফগানপন্থী এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এসব ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। 

ওইসব অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছেএমনটাই বলা হয়।

এ ধরনের একটি পোস্ট প্রায় ৭ লাখ ৭৩ হাজার ভিউ পায়, আরেকটি পোস্ট ২ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি এবং একই ভিডিওর আরেক সংস্করণ প্রায় ৮০ হাজারের বেশি বার দেখা হয়।

তদন্তে ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ, বিমানের সিরিয়াল নম্বর যাচাই ও একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুল ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া কাবুলে বড় বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছেএমন দাবি করে ছড়ানো আরেকটি ভিডিও যাচাইয়ে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

রিভার্স সার্চে দেখা যায়, এটি আসলে ২০০৩ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে চালানো বিমান হামলার একটি পুরোনো ভিডিওর অংশ। 

 

এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি ভাষা সৈনিক আহমেদ সালেক

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষাবিদ আহমেদ সালেক। ২০০৯ সালে প্রয়াত হন তিনি। কিন্তু ভাষা সৈনিক হিসেবে আজও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি তার। 

উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পাকিস্তান শাসকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যখন সারা দেশে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে, তখন বিভিন্ন পেশার মানুষ ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। অনুপ্রাণিত তরুণ সালেকও তার সহপাঠীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন।

ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে ১৯৫২ সালের মার্চ মাসে সালেককে ময়মনসিংহ শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তিনি দুই মাস কারাভোগ করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় শেরপুর থেকেও গ্রেপ্তার হন। ওই সময় ময়মনসিংহ ও জামালপুর কারাগারে পাঁচ মাস আটক থাকেন তিনি।

১৯৩৫ সালের ১৭ মার্চ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দড়িভাবখালী গ্রামে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আহমেদ সালেক। তার বাবা ছিলেন মরহুম আব্দুল আজিজ এবং মা মরহুমা আজিজুন্নেসা। ১৯৫১ সালে শেরপুর ভিক্টোরিয়া স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। তৎকালীন ইকবাল হলের (পরবর্তীতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) আবাসিক ছাত্র ছিলেন সালেক। 

কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কারাবাস এবং চরম দারিদ্র্যের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ১৯৫৫ সালে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি বিএ এবং বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন ও শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৯৯৫ সালে মৃত্যুঞ্জয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি ময়মনসিংহ শহরের সিটি কলেজিয়েট স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন।

দ্য ডেইলি স্টারকে ৮৭ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজ-সংস্কৃতিকর্মী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা নিষিদ্ধ করা হলে ময়মনসিংহ শহরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন সালেক। সেইসঙ্গে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনেরও উদ্যোগ নেন।

‘সালেক ছিলেন প্রগতিশীল চিন্তার একজন শিক্ষক, যিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পরও তিনি তার প্রতিবাদী ও প্রগতিশীল কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসেননি,’ বলেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ । 

সালেক কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে সক্রিয় ছিলেন না। তবে তিনি ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা যেমন—কমরেড রবি নিয়োগী, জিতেন সেন, অমর ভট্টাচার্য, হাতেম আলী খান, তাহের উদ্দিন মল্লিক, আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, পরেশ দাস, নগেন সরকার, জ্যোতিষ বসু এবং দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবিশের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে জানান জিয়াউদ্দিন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে। তিনি পরিবারসহ আত্মগোপনে যান। তবে ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ক্যাম্প স্থাপনে তিনি সহায়তা করেন।

২১ ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত এবং প্রতিবছর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হলেও জীবিত ভাষা সৈনিকদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন সালেকের ছেলে আহমেদ শফিক।

তিনি বলেন, ‘এখনো ভাষা সৈনিকদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি।’

ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক ও উন্নয়ন আন্দোলনের সভাপতি ৮৬ বছর বয়সী অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘ভাষা সৈনিকদের বিশেষ সম্মান দেওয়া উচিত। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’ 

‘ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই স্বাধীনতার সংগ্রামের সূচনা, আর এই আন্দোলনই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার,’ বলেন তিনি।

উদীচী ময়মনসিংহ জেলা সংসদের সভাপতি ডা. প্রদীপ চন্দ্র কর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এখনো কয়েকজন ভাষা সৈনিক জীবিত আছেন। ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য সকল ভাষা সৈনিক ও শহীদদের জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।’

দুঃখজনকভাবে ভাষা সৈনিক আহমেদ সালেককে চেনেন না নতুন প্রজন্মের অনেকেই। তার নামটিও হারিয়ে যাচ্ছে বিস্মৃতির অতলে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: বিএনপি কেন ব্যর্থ বিদ্যুৎ নীতিতে ফিরছে?

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বলেছিল, ক্যাপাসিটি চার্জসহ রেন্টাল ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। (বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, পৃষ্ঠা ৩২)

নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের পরপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছিলেন, ‘সরকার আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না। তার পরিবর্তে সিস্টেম লস কমাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এখন বিদ্যুতের সিস্টেম লস হচ্ছে ৭ শতাংশের বেশি। এটি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে সরকারের সাশ্রয় হবে ১০ হাজার কোটি টাকা।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন, বিগত সরকারের সময় দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, যার চাপ জনগণ বহন করেছে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা চাই, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কীভাবে সমস্যা সমাধান করা যায়, মানুষকে কষ্ট না দিয়ে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বাস্তবে দেখা গেল এসব প্রতিশ্রুতি দেওয়ার তিন মাস পার হতে না হতেই বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলো।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত এমন একটি সময়ে নেওয়া হলো, যখন দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা মূল্যস্ফীতিতে দেশের মানুষ ব্যাপক চাপে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের মূল্যস্ফীতি যখন ৫ শতাংশের নীচে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি তখন ৯ শতাংশের আশপাশে থাকছে।

দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচিত সরকারের আমলে তারা উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু সরকার যেভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করলো, তাতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

ইতোমধ্যে দেড় মাসের ব্যবধানে সরকার দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে, যার প্রভাবে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এবার বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম। এর ফলে গ্রাহককে একদিকে বিদ্যুৎ কিনতে বাড়তি খরচ করতে হবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদিত সব পণ্যের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেগুলোর জন্যও বাড়তি মূল্য দিতে হবে।

এতে কৃষি, শিল্প, সেবাসহ সবখাতে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে। এর প্রভাব বহুগুণে গোটা অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতিতে এমনিতেই বিপর্যস্ত নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবন আরও দুর্বিসহ হবে।

মূল্য বৃদ্ধির উদ্যোগের পেছনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে ভর্তুকি কমিয়ে সরকারি ব্যয়ের বোঝা কমানো ও আইএমএফের শর্ত পূরণের কথা আসছে। কিন্তু ভর্তুকি কমানোর জন্য মূল্যবৃদ্ধিই একমাত্র উপায় নয়। উৎপাদন খরচ কমিয়েও ভর্তুকি কমানো যায়। তাছাড়া এই ভর্তুকির অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তার যৌক্তিকতা কতটুকু এই প্রশ্নেরও সুরাহা প্রয়োজন।

ভর্তুকি কমাতে হলে প্রথমে দেখতে হবে ভর্তুকি কেন দিতে হচ্ছে। ভর্তুকি দিতে হচ্ছে কারণ, আমদানিনির্ভর ও ব্যয়বহুল জ্বালানিভিত্তিক বেসরকারি মালিকানার বিদ্যুৎকেন্দ্র (আইপিপি) থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে পিডিবিকে। এই সমস্যাটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আগেও ছিল, যুদ্ধের কারণে ভর্তুকির চাপ আগের চেয়ে আরও বেড়েছে কেবল।

ভর্তুকির অর্থের একটা বড় অংশ আবার ব্যয় হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জের পেছনে। জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার একটা বড় অংশ সারা বছর অব্যবহৃত থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ না কিনলেও চুক্তি অনুসারে বিদ্যুতের একক ক্রেতা হিসেবে পিডিবি কর্তৃক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ বা ভাড়া দিতে হয়।

প্রতি বছর বেসরকারিখাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এই ক্যাপাসিটি চার্জের পরিমাণ এবং সেইসঙ্গে বেড়েছে পিডিবির লোকসান। আর সেই লোকসান কমানোর কথা বলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু লোকসান ও ভর্তুকি কমেনি। বরং বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে।

কাজেই ভর্তুকি কমানোর জন্য বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি কোনো টেকসই পথ নয়। টেকসই সমাধান করতে হলে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই উৎপাদন খরচ কমাতে হলে বেসরকারিখাতের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার অসম চুক্তিগুলো সংশোধন করে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা কমাতে হবে।

এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের কথা বলা যেতে পারে। পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতও উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ ও আমদানি করা ব্যয়বহুল জ্বালানি সমস্যায় জর্জরিত ছিল। দেশটি সম্প্রতি বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে এই সমস্যার সমাধানে উল্ল্যেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—

আইপিপির সঙ্গে চুক্তি বাতিল ও সংশোধন: সরকার পাঁচটি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী আইপিপির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে এবং ১৬টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি সংশোধন করে টেক-অ্যান্ড-পে মডেলে রূপান্তর করেছে এবং ক্যাপাসিটি চার্জ কমিয়েছে।

ডলারের বদলে রূপিতে বিদ্যুতের দর নির্ধারণ: বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্রয় চুক্তি সংশোধন করে বিদ্যুতের মূল্য ডলারের বদলে রূপিতে রুপান্তর করেছে।

রিটার্ন অন ইকুইটি কমানো: রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রিটার্ন অন ইকুইটি বা বিনিয়োগের বিপরীতে আয়ের হার ৩০ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

এ জন্য পাকিস্তান সরকার আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বলেছে, তোমরা হয় বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সংশোধনে রাজি হও, না হলে চুক্তি পুরোপুরি বাতিল করে দেব অথবা ফরেন্সিক অডিট করব। এতেই কাজ হয়েছে। শুধুমাত্র ১৪টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে সর্বমোট ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি রূপি সাশ্রয় হয়েছে।

এ ছাড়া, দেশটি দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমিয়েছে। বিশেষ করে সোলার প্যানেল আমদানির ব্যয় হ্রাস ও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ায় দেশটিতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে।

২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সমপরিমাণ সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা গড়ে উঠেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এলএনজির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি এড়াতে সক্ষম হয়েছে পাকিস্তান।

বাংলাদেশেও আইপিপিগুলোর সঙ্গে চুক্তি বাতিল ও সংশোধন করে, চুক্তিগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জের বদলে ‘টেক অ্যান্ড পে’ মডেলে কনভার্ট করে, বিদ্যুতের দাম ডলারের বদলে টাকায় নির্ধারণ করে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ উল্ল্যেখযোগ্য মাত্রায় কমানো সম্ভব।

কিন্তু বিগত অন্তর্বর্তী সরকার সেরকম কিছু বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে বিগত আওয়ামী লীগ আমলে বিশেষ আইনে সম্পাদিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষের দিকে সেই কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

কমিটির প্রতিবেদনে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে বেশি দরে বিদ্যুৎক্রয় ও বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার সমস্যার কথা তুলে ধরেছে।

কমিটি বলেছে, এসব চুক্তির মাধ্যমে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাজার দরের চেয়ে ৪০–৫০ শতাংশ বেশি এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪৫ শতাংশ বেশি দরে বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আদানি থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট খরচ ৪-৫ টাকা বেশি পড়ছে। এর একটি অংশ কয়লার দাম হলেও বড় অংশ এসেছে একতরফা শর্ত, উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ, কর ও ঝুঁকি সরকারের ওপর চাপানোর কারণে।

কমিটির হিসাবে, দেশে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ থেকে সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে বছরে ৯০ কোটি থেকে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার (১১ হাজার থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা) বাড়তি ব্যয় হচ্ছে।

এই সমস্যা সমাধানে কমিটির সুপারিশ হলো, যেসব চুক্তিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলো অবিলম্বে বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একইসঙ্গে উচ্চব্যয় ও বিদ্যুৎ কেনার অসম চুক্তিগুলোকে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে বছরে পিডিবির আয় বাড়বে ১৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ গত অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা প্রতি বছরই বাড়ছে। চুক্তি সংশোধন করে টেক অ্যান্ড পে মডেলে রূপান্তর করা হলে এই বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ খরচ কমানো সম্ভব।

কাজেই বিএনপি সরকারের উচিত ছিল দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত চুক্তিগুলো বাতিল বা সংশোধনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানো। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিল। যা বিএনপি সরকার কর্তৃক বিগত আওয়ামীল লীগ সরকারের মতোই জনস্বার্থের চেয়ে বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ আর আইএমএফের শর্ত রক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নের ইঙ্গিত দিল।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন।
[email protected]

ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে জোকোভিচের নতুন কোচ ট্রইকি

রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের লক্ষ্যে ফ্রেঞ্চ ওপেনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন নোভাক জোকোভিচ। আর সেই মিশনের আগে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও স্বদেশি ভিক্টর ট্রইকিকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক বিশ্ব এক নম্বর লিখেছেন, ‘স্বাগতম আমার বন্ধু, সতীর্থ এবং এখন কোচ… ভিক্টর ট্রইকি।’

জোকোভিচ ও ট্রইকির সম্পর্ক অনেক পুরোনো। ২০১০ সালে সার্বিয়াকে প্রথম ডেভিস কাপ শিরোপা জেতাতে একসঙ্গে খেলেছিলেন তারা। পরে কোচিং দলেও একসঙ্গে কাজ করেছেন দুজন।

২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে জোকোভিচের সোনা জয়ের সময়ও কোচিং স্টাফে ছিলেন ট্রইকি, যিনি বর্তমানে সার্বিয়ার ডেভিস কাপ দলের অধিনায়ক।

এবার তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, ইনজুরি-জর্জর মৌসুম কাটানো জোকোভিচকে আবারও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারের পর থেকেই চোট ও ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই তারকা। বিশেষ করে কাঁধের পুরোনো সমস্যার কারণে চলতি মৌসুমে কাজের চাপও নিয়ন্ত্রণ করে এগোচ্ছেন তিনি।

ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে মাটির কোর্টে প্রস্তুতির সুযোগও খুব বেশি পাননি জোকোভিচ। বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরু হবে আগামী রোববার।

 

আমানত ফেরত পেতে চট্টগ্রামে এক্সিম ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের অবস্থান

ব্যাংকে জমা রাখা টাকা ফেরতের দাবিতে এক্সিম ব্যাংকের একটি শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রাহকেরা। চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার এলাকায় ব্যাংকটির ওই শাখার সামনে আজ সোমবার এই বিক্ষোভ হয়। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক পরিষদের চট্টগ্রাম কমিটির ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বিক্ষোভকারী গ্রাহকেরা বলেন, নিজেদের জমা রাখা টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা ব্যাংক ছাড়বেন না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই জুবিলী রোড ও এনায়েত বাজার এলাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা ব্যাংক শাখার সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভের কারণে শাখাটিতে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক থেকে জমানো টাকা তুলতে পারছেন না তারা। এতে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সামনে ঈদুল আজহা। এ সময় পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে টাকার দরকার। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিচ্ছে না।

সংকট সমাধানে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন গ্রাহকরা। দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে জমানো পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে, মুনাফা কেটে রাখার (হেয়ারকাট) কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না এবং দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালু করতে হবে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জহির আহমেদ নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘নিরাপদ মনে করে নিজেদের কষ্টের টাকা আমরা ব্যাংকে রেখেছিলাম। অথচ আজ নিজের টাকার জন্যই রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। ব্যাংক একীভূতকরণ বা অন্য কোনো অজুহাতে গ্রাহকের জমানো টাকা আটকে রাখা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে: বিরোধীদলীয় নেতা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একজন ঋণ খেলাপিকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকেও ‘কালো হাত’ বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

‘এখন আস্তে আস্তে তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের’—বলে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষায় সবাইকে ‘পাহারাদারের ভূমিকা’ পালন করতে হবে।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশগুলো সংসদে আনা এবং চলমান জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ‘ভুল থেকে বেরিয়ে আসার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকার সংসদের প্রথম দিনে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল সেই নিরপেক্ষতা পায়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করতে বাধ্য হয়েছেন এবং বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় আনা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে সব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে আনার বিষয়ে সম্মতি থাকার পরও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং আলোচ্য সূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া হলেও সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, ‘দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি ডিবেট হয় না, দুই মিনিটে কমেন্ট পাস করা যায়।’ পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট ছিল না এবং সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে বিস্তারিত উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে ‘লাখ লাখ কোটি টাকা’ লুট হয়ে বিদেশে পাচার হলেও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এসব অর্থ উদ্ধার এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রণীত উদ্যোগও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের বক্তব্যে অসঙ্গতির অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, একদিকে সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং এবং জ্বালানির জন্য মানুষের ভোগান্তি বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

তার মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প কারখানা ফার্নেস অয়েলের অভাবে ঝুঁকিতে পড়ছে এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণেও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, তবে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুলে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিনি সরকারকে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যেসব সংস্কার অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল, সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। ‘ভুল মানুষ করতে পারে, কিন্তু সেই ভুল থেকে বের হয়ে আসতে হবে’—বলে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি সতর্ক করেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

এছাড়া জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘দেশের চেয়ে দল বড়—এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।’ সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

জনপ্রিয় তামিল অভিনেত্রী সুভাষিণীর মরদেহ উদ্ধার

তামিল ধারাবাহিক কয়ালখ্যাত অভিনেত্রী সুভাষিণী বালসুব্রহ্মণ্যমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চেন্নাইয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্টে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিঙ্কভিলার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

খবর অনুযায়ী, সুভাষিণী ইয়ারাপ্পানথানগাল এলাকায় বসবাস করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার স্বামীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সুভাষিণী তামিল শোবিজে ক্যারিয়ার গড়তে শ্রীলঙ্কা থেকে চেন্নাইয়ে আসেন। এরপর তিনি কয়াল ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান।

টিভির পাশাপাশি তিনি দুটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।