29.8 C
Dhaka
Home Blog

পথচারীদের জন্য স্বপ্ন’র বিনামূল্যে ইফতার

রমজানে অনেকে সঠিক সময়ে অফিস থেকে বের হলেও বাসায় পৌঁছানোর আগেই ইফতারের সময় হয়ে যায়। এমন সব মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্বপ্ন’।

ইফতারের আগে ও ইফতারের সময় পথচারী, সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য স্বপ্ন’র পক্ষ থেকে খেজুর ও শরবত দেওয়া হচ্ছে। এই আয়োজন চলবে পুরো রমজান মাস জুড়ে।

স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরে ট্রাফিক জ্যামসহ নানা কারণে সঠিক সময়ে বাসায় ফিরতে না পারা মানুষের জন্য তাদের এ প্রয়াস। সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা চিন্তা করেই সুপারশপ ‘স্বপ্ন’ এই উদ্যোগ নিয়েছে।

ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোট ৪৪টি স্বপ্ন আউটলেট থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষকে বিনামূল্যে এই ইফতার দেওয়া হচ্ছে।
 

বন্যা নয়, ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি: চট্টগ্রামকে আর কত বছর ডুবতে হবে?

বর্ষা এলেই চট্টগ্রামের মানুষের মনে আতঙ্ক ফিরে আসে। আকাশে কালো মেঘ জমলেই তারা আবহাওয়ার পূর্বাভাসে খোঁজেন, এবার পানি কতটুকু উঠবে। ঘরের আসবাব কোথায় সরাবেন, গবাদিপশু কোথায় রাখবেন, সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন—সেই হিসাব শুরু হয়ে যায়। এ দৃশ্য নতুন নয়। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, বর্ষা এলেই চট্টগ্রামের কোনো না কোনো এলাকা ডুবে যায়। সরকার বদলায়, জনপ্রতিনিধি বদলায়, উন্নয়নের ভাষা বদলায়, কিন্তু চট্টগ্রামের বন্যার চিত্র বদলায় না।

এ বছর টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও লাখো মানুষ পানিবন্দি, কোথাও শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, কোথাও কৃষকের ফসল তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেছে, সংবাদপত্রের শিরোনামও বদলেছে, কিন্তু মানুষের ক্ষতি থেকে যাবে বছরের পর বছর।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি প্রতি বর্ষায় একই সংবাদ পড়তে অভ্যস্ত হয়ে গেছি?

সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, এই দুর্যোগকে এখন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অবশ্যই আছে। অতিবৃষ্টি হবে, পাহাড়ি ঢল নামবে, সেটি বাস্তবতা। কিন্তু সেই বৃষ্টিকে ভয়াবহ দুর্যোগে পরিণত করছে মানুষের তৈরি অব্যবস্থাপনা। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল, জলাধার ভরাট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নদী ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা চট্টগ্রামকে স্থায়ী ঝুঁকির শহরে পরিণত করেছে।

প্রতি বছর আমরা প্রতিশ্রুতি শুনি—জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প হবে, নতুন খাল খনন হবে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, নদী সংস্কার হবে। বাস্তবে, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ে, ব্যয় বাড়ে, কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ কমে না। কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়, অথচ প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই শহর ও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। তাই প্রশ্ন ওঠে, এই উন্নয়ন আসলে কার জন্য?

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার মূল কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দ্রুত নগর সম্প্রসারণ, খাল, নালা ও জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, জোয়ার-ভাটার প্রভাব ও পানিপ্রবাহের বাস্তব পরিস্থিতি পরিকল্পনায় যথাযথভাবে বিবেচনায় না আনা এবং খালগুলোর পর্যাপ্ত খনন, সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি। কিন্তু তার জন্য কার্যত কোনো উদ্যোগ আমরা দেখি না। যা নেওয়া হয় তা বাস্তবায়নে গড়িমসিই বেশি দেখা যায়। বাস্তবায়ন হলেও অধিকাংশ সময় তড়িঘড়ি করে করা হয় এবং তার ফলও তেমনই হয়। ফলাফল সেই চিরচেনা জলাবদ্ধতা আর মানুষের ভোগান্তি।

২০১৭ সালে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন বাবদ একটি প্রকল্প তিন বছরের জন্য অনুমোদন দেওয়া হলেও নানা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নগত সমস্যার কারণে মেয়াদ বারবার বাড়াতে হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ, তিন বছরের প্রকল্প শেষ হতে ১১ বছর সময় লাগছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা, যা সংশোধিত হয়ে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। সর্বশেষ সংশোধনীতে ব্যয় কিছুটা কমিয়ে ৮ হাজার ৫৯১ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। (প্রথম আলো, ৬ জুলাই ২০২৬)

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল পরিকল্পনা পর্যায়ে। যথাযথ মাঠসমীক্ষা, বিস্তারিত জরিপ, পানিপ্রবাহ বিশ্লেষণ, জোয়ার-ভাটার প্রভাব এবং খাল-নালা-জলাধারের সমন্বিত মূল্যায়ন ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ফলে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে গিয়ে একের পর এক নতুন জটিলতা সামনে আসে এবং প্রকল্পের প্রথম দেড় থেকে দুই বছর কার্যত কোনো ভৌত কাজই শুরু করা যায়নি। বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পরিকল্পনার অসামঞ্জস্যের কারণে একাধিকবার প্রকল্প সংশোধন করতে হয়েছে।

এ ছাড়া, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেষ পর্যায়ে সিল্ট ট্র্যাপ, নালা সম্প্রসারণ, ফুটপাতসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৯৮ শতাংশ, তবুও হিজড়া খাল ও জামাল খান খালের কাজ এখনো শেষ হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতেই সঠিক পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করা হলে সময়, অর্থ ও জনদুর্ভোগ তিনটিই অনেকাংশে কমানো যেতো। (প্রথম আলো, ৬ জুলাই ২০২৬)

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এখানেই। শিল্প, বাণিজ্য ও আমদানি রপ্তানির বড় অংশ এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। অথচ সেই চট্টগ্রামই প্রতি বছর কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে। একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রকে বছরের পর বছর একই সংকটে ফেলে রাখা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আমরা এখনো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রতিক্রিয়াশীল। পানি ওঠার পর ত্রাণ যায়, আশ্রয়কেন্দ্র খোলে, প্রশাসন মাঠে নামে। কিন্তু পানি ওঠার আগেই ঝুঁকি কমানোর জন্য কী করা হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুব কমই পাওয়া যায়। দুর্যোগ মোকাবিলার চেয়ে দুর্যোগ প্রতিরোধে বিনিয়োগ অনেক বেশি কার্যকর। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনায় সেই দর্শন এখনো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এখানে রাজনৈতিক দায়ও এড়ানোর সুযোগ নেই। ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, চট্টগ্রামের মানুষ প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হন। তাই এটি কোনো এক সরকারের ব্যর্থতা নয়, বরং ধারাবাহিক নীতিগত ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে আমরা বারবার স্বল্পমেয়াদি সমাধানে সন্তুষ্ট থেকেছি। ফলাফলও একই রয়ে গেছে।

আমাদের স্বীকার করতে হবে, চট্টগ্রামের সমস্যা কেবল বৃষ্টির নয়। এটি পরিকল্পনার, সুশাসনের ও জবাবদিহির সমস্যা। খাল দখলমুক্ত করা, নিয়মিত খনন, পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, আধুনিক ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, জলাধার সংরক্ষণ ও সমন্বিত নগর পরিকল্পনা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একইসঙ্গে প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি ও ব্যয়ের ওপর কার্যকর জনজবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রামের মানুষ সহানুভূতি চান না। তারা প্রতি বছর ত্রাণের ছবিও দেখতে চান না। তারা চান এমন একটি শহর, যেখানে বর্ষা মানেই আতঙ্ক হবে না; কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে চলে যাবে না; কোনো পরিবারকে বারবার নতুন করে জীবন শুরু করতে হবে না।

আমরা প্রায়ই বলি, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই উন্নয়নের বাস্তব পরীক্ষা হয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। যদি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র প্রতি বর্ষায় একইভাবে ডুবে যায়, তাহলে উন্নয়নের দাবিকে মানুষ প্রশ্ন করবেই।

চট্টগ্রামকে প্রতি বছর ডুবতে দেখা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। একে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়াও উচিত নয়। একটি শহর, অঞ্চল ও লাখো মানুষের জীবনকে বছরের পর বছর একই সংকটের মধ্যে ফেলে রাখা কোনো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।

প্রতি বছরের মতো বর্ষা আগামী বছরও আসবে। আগামী বছরও কি আমরা চট্টগ্রাম নিয়ে একই সংবাদ পড়ব, একই কান্না শুনব এবং একই প্রতিশ্রুতি শুনে আবার ভুলে যাব? নাকি এবার সত্যিই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর বলতে না হয়, ‘ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, বর্ষা এলেই চট্টগ্রাম ডুবে যায়।’

 

মো. আব্বাস: করপোরেট কমিউনিকেশনস নিয়ে কাজ করছেন।
[email protected]

রোনালদো-রামোসের গোলে ক্রোয়েশিয়ার হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল

প্রথমার্ধে ম্যাড়মেড়ে লড়াইয়ের পর দ্বিতীয়ার্ধে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে গিয়েছিলো ক্রোয়েশিয়া। বিদায়ের শঙ্কার মাঝে পর্তুগালের সেরা তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো পেনাল্টি থেকে আনেন সমতা। এই স্কোরলাইন রেখে অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোতে থাকা ম্যাচে যোগ করা সময়ে তৈরি হলো চরম নাটকীয়তা। সেখানে গনসালো রামোসের বাজিমাতের পর ক্রোয়েশিয়ার আত্মঘাতী গোল পাওয়া ও ভিএআরে তা বাতিল হওয়া নিয়ে ছড়ালো উত্তাপ। শেষ পর্যন্ত লুকা মদ্রিচদের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোতে পা রাখল রোনালদোর পর্তুগাল।

টরন্টো স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। ৫৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল করেন পেরিসিচ। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা টানেন রোনালদো। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে জয়সূচক গোল আসে রামোসের কাছ থেকে। যোগ করা সময়ে খেলা হয়েছে ১৯ মিনিট, ম্যাচের সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছিল ওই সময়টাতেই।

প্রথমার্ধে পর্তুগাল ৬৭ শতাংশ বল দখলে রেখে একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও ক্রোয়েশিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ৪ মিনিটের মাথায় ব্রুনো ফার্নান্দেসের জোড়া প্রচেষ্টা রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ান প্রাচীর দমিনিক লিভাকোভিচ। ১৭ মিনিটে রেনাতো ভেইগার হেড বারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে গেলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্রপট। ম্যাচের ধারার বিপরীতে ৫৩ মিনিটে স্তানিসিকের ক্রসে বাঁ দিক থেকে দারুণ এক চিপে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিওগো কোস্তাকে পরাস্ত করেন ইভান পেরিসিক। উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারির ক্রোয়েশিয়ান সমর্থকেরা। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে রবার্তো মার্তিনেসের দল। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে কপাল পোড়ে পর্তুগালের। এর ৩ মিনিট পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

তবে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সমতা পায় পর্তুগাল। বক্সে রেনাতো ভেইগাকে ক্রোয়েশিয়ার ভ্লাসিচ ফাউল করলে ভিএআর চেকের মাধ্যমে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে পর্তুগালকে ১-১ সমতায় ফেরান অধিনায়ক রোনালদো। ৮১ মিনিটে রোনালদোকে তুলে রুবেন নেভেসকে মাঠে নামান কোচ। তবে কোচের এই সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি পর্তুগিজ মহাতারকার, মাঠ ছাড়ার সময় তার চোখে-মুখে স্পষ্ট অসন্তোষ দেখা যায়। যদিও পরে সতীর্থদের সঙ্গে মিশে দলের জয়ের তীব্রতার দিকে মন দেন তিনি। 

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে রেফারি ১০ মিনিট ইনজুরি টাইম ঘোষণা করেন। আর সেখানেই অপেক্ষা করছিল আসল রোমাঞ্চ।

৯০+৪ মিনিট: রাফায়েল লিয়াওয়ের চমৎকার ক্রস থেকে বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক হেডে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বিকল্প হিসেবে নামা গনসালো রামোস।

৯০+১৩ মিনিট: নাটকের তখনও অনেক বাকি ছিল। ক্রোয়েশিয়ার একটি ক্রস থেকে পর্তুগালের বক্সে চরম জটলা তৈরি হয়। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার রুবেন নেভেসের গায়ে লেগে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায় (২-২)। আত্মঘাতী গোলের উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া শিবির।

৯০+১৫ মিনিট: ক্রোয়েশিয়ার গোলের পর শুরু হয় দীর্ঘ ভিএআর  রিভিউ। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের সময় অফসাইড পজিশনে ছিলেন জোসকো গভার্দিওল। ফলে রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দিলে স্তব্ধ হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। স্কোরলাইন আবার ফিরে আসে পর্তুগাল ২-১ ক্রোয়েশিয়া।

৯০+১৮ মিনিট: নিশ্চিত গোল বাতিলের ধাক্কা মেনে নিতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্রোয়েশিয়ান সমর্থকেরা। গ্যালারি থেকে মাঠে বোতল ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারা হলে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। মাঠজুড়ে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা।

অবশেষে সব উত্তেজনা ছাপিয়ে ম্যাচের ১৯তম মিনিটে রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে জয়ের উল্লাসে মাতে পর্তুগাল।

এই জয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করল পর্তুগাল, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী স্পেনের। 

 

 

 

 

উচ্চাভিলাষী বাজেট: খরচ বইবে কে?

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত, ব্যাংক খাতে সংকট, আইএমএফের সঙ্গে আসন্ন বোঝাপড়া—তারই মধ্যে রেকর্ড বাজেট। একইসঙ্গে সবগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে চার মাসের মাথায় তার প্রথম বাজেট পেশ করবেন তিনি। 

প্রতি জুনেই বাংলাদেশে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হয়। আর প্রতিবছর তার কলেবরও বাড়তে থাকে। বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই ধারা। হিসাবের দিকে তাকালে এবারও ব্যতিক্রম কিছু হচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্নতা আছে বৈকি। দুই দশক পর এবার বিএনপির পালা এসেছে। বাজেট ঘোষণা, ঘাটতির ব্যাখ্যা কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষা—সবটাই এবার বিএনপির দায়িত্ব। এটা একদিক থেকে যেমন বোঝা, তেমনি সুযোগও বটে।

১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে কেবল দূর থেকেই দেশের অর্থনীতি দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার তিনি সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে। তার সামনে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে সেটা প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। আর ২০০৬ সালে বিএনপি ঘোষিত সর্বশেষ জাতীয় বাজেটের তুলনায় ১৩ গুণ বড়।

তবে বাস্তবতা বিবেচনায় মনে হচ্ছে, এই বাজেট বয়ে নেওয়া কঠিন।

জিডিপির মাত্র ৭ শতাংশের মতো কর আদায় করেই বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম প্রবৃদ্ধির দেশ হয়েছে। অথচ, এ দেশের কর আদায়ের হার ভারত, ভিয়েতনাম, এমনকি তুলনীয় সব দেশের চেয়ে কম। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই হার গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও এমন কোনো কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি, যাতে প্রয়োজনমতো ব্যয় করার সাধ্য দেশটির হয়। এটাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্তর্নিহিত বৈপরীত্য। কর আদায় আগেও কম ছিল এবং এবারের বাজেটেও থাকবে না। বিএনপি তার প্রথম বছরেই এর সমাধান করে ফেলবে তেমন প্রত্যাশাও অবশ্য কেউ করছে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরের অধিকাংশ সময়ই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। এপ্রিলের মধ্যেই রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকার বেশি হয়ে যায় এবং জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্ভবত একই থাকবে। কিন্তু, সরকার সেই চিরচেনা পথেই হাঁটবে। 

এনবিআরকে আগামী অর্থবছরের জন্য আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা দেবে, অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করবে বলে আশা করবে, ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করবে এবং এভাবেই এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের প্রতিটি সরকার একই কাজ করেছে।

গণতান্ত্রিক জোয়ারে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপি এখন বুঝতে পারছে, কাছ থেকে হিসাবের খাতাটা অনেক বেশি উদ্বেগজনক। তথ্য-উপাত্তে প্রবৃদ্ধির সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা এখনো হোঁচট খাচ্ছে। রপ্তানি কমেছে, কমেছে বেসরকারি বিনিয়োগও।

সাম্প্রতিক এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী তার স্বভাবসুলভ স্পষ্টভাষায় বলেন, আগের সরকারগুলো বিএনপিকে ‘ভঙ্গুর ও ঝুঁকিপূর্ণ’ একটি পরিস্থিতির মধ্যে রেখে গেছে। তিনি টিউবওয়েলের উদাহরণ দেন, যেখানে পানির স্তর নেমে গেলে নতুন করে পানি তোলার আগে কিছু পানি ঢেলে নিতে হয়। দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতির যত্নও সেভাবেই নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

বাজেটে প্রতিফলিত আমাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার ফারাকটা বিশাল। প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। যদিও পরিসংখ্যানের হিসাব করলে সব ঠিকঠাকই মনে হবে। কারণ, এই বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ শতাংশের কম, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমা ৫ শতাংশ। কিন্তু, বাস্তবতা হলো এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে সরকারকে দেশীয় ব্যাংকগুলো থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হবে এবং একইসঙ্গে বিদেশি ঋণদাতাদের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।

আমাদের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখন দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিনিয়োগ। অথচ, এমন একটা সময়ে এসে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারিখাতের ঋণ পাওয়ার পরিমাণ কমে যাবে। জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ কমেই চলেছে এবং বর্তমানে এর পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। যে সরকার নিজের কর আদায় করতে সক্ষম না, সে পরিচালনার জন্য আরও ঋণ নিলে শেষ পর্যন্ত ফল উল্টো হয়ে যেতে পারে।

বহুপাক্ষিক বিদেশি অর্থায়ন এই কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু, সেটাও এখনো নিশ্চিত হয়নি, কেবল আলোচনা চলছে। ফলে, বিষয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ চলতি হিসাবের ঘাটতি, টাকার অবমূল্যায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেয়, যা বাড়িয়ে সর্বশেষ ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। সেই ঋণের পাঁচটি কিস্তি ছাড় করা হলেও আইএমএফ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তিটি স্থগিত রাখে। তাদের বক্তব্য ছিল, তারা একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করতে চায়। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলেও সেই অর্থ আজও ছাড় হয়নি।

দেরি হওয়ার কারণ হলো, আইএমএফের কয়েকটি শর্ত পূরণ হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, কার্যকর ব্যাংকিংখাত সংস্কার ও প্রকৃত বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা।

সরকার এখন সম্পূর্ণ নতুন একটি ঋণের আবেদন করেছে। সেটা নিয়ে আলোচনা করতে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের শিগগির ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি সক্রিয় থাকলে সেটা আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতীক হিসেবেও কাজ করে। যার ফলে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি ডলারের সমান্তরাল বাজেট সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোথায় সমস্যা, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে। তিনি সেটা প্রকাশ করতেও দ্বিধা করেন না। তিনি ‘অর্থনীতির গণতান্ত্রিক রূপান্তর’-এর পক্ষে জোর দিচ্ছেন। 

তার মতে, জিডিপি শুধু বড় কারখানা বা শিপিং কোম্পানি থেকে আসে না। গ্রামীণ নারী, কামার, কুমার, তাঁতি ও শিল্পীদের শ্রম ও সৃজনশীলতা থেকেও আসে। তিনি মনে করেন, এসব প্রান্তিক উৎপাদক দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে নতুন বাজেটে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’র জন্য সরাসরি বরাদ্দ থাকবে। পাশাপাশি এনজিও ও বেসরকারিখাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের উৎপাদকদের অ্যামাজন ও ইবে’র মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও কমাতে চান। তার ভাষ্য, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পথে একটি বড় বাধা হচ্ছে নিয়ন্ত্রক আমলাতন্ত্র। এর সমাধান হিসেবে তিনি মনে করেন, সব সরকারি অনুমোদনের জন্য একক কেন্দ্র স্থাপন ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদনকারীদের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোনো দপ্তর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাড়া না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন মঞ্জুর হয়ে যাবে।

এছাড়া, নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার আগে চারটি কঠোর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হবে। সেগুলো হলো—ব্যয়ের যথার্থতা থাকতে হবে, বিনিয়োগের মুনাফা আসতে হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে হবে এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই হতে হবে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া যেসব প্রকল্প এই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হবে না, সেগুলো বাতিল করা হবে।

অর্থনীতিকে ব্যাংক ঋণ-নির্ভরতা থেকে বের করে আনতে তিনি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে পুনর্গঠন এবং বন্ড ও পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করতে চান। আগের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কমিশনাররা পদত্যাগ করেছেন। এখন নতুনরা দায়িত্বে। তবে অর্থমন্ত্রী যে বাজারকে একসময় ‘ক্যাসিনো’ বলে অভিহিত করেছিলেন, সেটিকে প্রকৃত অর্থে পুঁজি সৃষ্টির যন্ত্রে রূপান্তর করা সম্ভব হবে কি না, সেটা দেখার বিষয়।

এসব পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে বিরাট এক লক্ষ্য। সেটা হলো, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন (এক লক্ষ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে বাংলাদেশ ২০৪০ সালে এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী সেই পূর্বাভাসে দেওয়া সময়ের ছয় বছর আগেই এই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলতে চান। এর জন্য প্রায় দুই অঙ্কের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন অর্থাৎ প্রায় ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। 

সেই হিসাবে, এটি কি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা? নাকি কেবলই স্বপ্ন? উত্তরটা এই বাজেট থেকেই পাওয়া যাবে। অন্তত শুরু হবে এখান থেকে। তবে প্রস্তাবিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখে মনে হয় সেই ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্নটাও বুঝি প্রথম ধাপেই হোঁচট খেল।

ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় বিএনপি সরকারকে বৈশ্বিক তেলবাজারের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। কেননা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এর ফলে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারের বেশি হয়ে যায়। বাংলাদেশ তেল ও এলএনজির চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করে। কিন্তু, কোনোদিন আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে বিকল্প কী হবে, সেই প্রস্তুতি কখনো নেয়নি।

অর্থমন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার।

নির্মম পরিহাস হলো, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশের নতুন সরকার এমন এক ভূরাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছে, যেটা পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। শুধু তাই নয়, এই পরিস্থিতির কারণে এই সরকারের নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী তেলের দামও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, আবার হরমুজ প্রণালিও খুলে দিতে পারেন না। তিনি কেবল পারেন ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বাজেট উপস্থাপন করতে। একইসঙ্গে প্রত্যাশা করতে পারেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই এই যুদ্ধের অবসান হবে।

ব্যাংক খাতের সংকটও বিএনপি পেয়েছে উত্তরাধিকারসূত্রে। এই খাতের সংকট বাকি সবকিছুকেই আরও কঠিন করে তুলেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং তার তিন মাস আগে ছিল ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পাকিস্তানে খেলাপি ঋণের হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ভারতে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। আর ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় থাকা শ্রীলঙ্কায় এই হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। 

বাংলাদেশ তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। পাঁচটি ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে এর মধ্যে কিছু ব্যাংককে আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।

এর ফলে একটি স্পষ্ট দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে বন্ডবাজার গড়ে তুলতে চান। অথচ আসন্ন বাজেটের অর্থের একটি অংশ জোগাড় করতে হবে সেই সংকটাপন্ন ব্যাংক খাত থেকেই। এই ব্যাংকগুলোর কাছেই তার হাত পাততে হবে। আবার অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাকে কঠোর সংস্কার চালিয়ে যেতে হবে, ব্যাংক খাতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে ও অর্থনীতিকে স্থিতিশীলও রাখতে হবে। সব মিলিয়ে তিনি পড়েছেন ত্রাহি মধুসূদন অবস্থায়। 

সর্বোপরি এই বাজেটেই পরীক্ষা হবে, নতুন সরকার তাদের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে কি না। ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর’ ও ‘স্বচ্ছতা’ বিষয়ে ভাষণ দিতে পয়সা লাগে না। কিন্তু কার্যকর কর আদায় ব্যবস্থা, সময়মতো অনুমোদন দেওয়া, রাজনৈতিক চাপে থাকা ব্যাংক সংস্কার এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার বাস্তবসম্মত কাঠামো গড়ে তোলা, বলার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। বাজেট উপস্থাপনের আগে একজন অর্থমন্ত্রী সম্ভবত এরচেয়ে বেশি সৎ কথা আর বলতে পারেন না।

বাজেট বক্তৃতায় সংখ্যাগুলো হবে বিশাল, অনেক অনেক শূন্য থাকবে এবং শুনতে চমকপ্রদ মনে হবে। অর্থমন্ত্রী খসরুর সহকর্মীরা করতালিও দেবেন। পাশাপাশি অর্থনীতিবিদরা ভদ্র ভাষায় ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করবেন। কিন্তু, সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর উত্তর সংসদে পাওয়া যাবে না। সংশয় বা সন্দেহের উচিত জবাব হবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থিতিশীল বাজারমূল্য।

আমাদের সবার প্রত্যাশাও সেটিই। যদিও অতীত অভিজ্ঞতা ভিন্ন গল্প বলে। 

প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে জনগণকে হতাশ করেছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, তা নাহলে হলে সরকারকে জনগণের রুদ্ররোষ মোকাবিলা করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ‘দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে’ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে জনগণকে হতাশ করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কয়েক মাস আগেও সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছিল যে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও সাধারণ মানুষের জীবনে পড়বে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল দাবি করেন, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি, সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা কমানোর পরিবর্তে সরকার সেই দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।

আইএমএফের শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও অপচয় বন্ধ করে খাতটিকে সংস্কার করা উচিত ছিল।

সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করুন এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নিন। অন্যথায় জনগণের রুদ্ররোষের যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে।

বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংকের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে আগে একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী লুটপাট চালিয়েছে, আর এখন সরকার নতুন করে সেখানে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। জনগণের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে সরকার ব্যাংক খাতের সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

শেষ হচ্ছে ‘এটা আমাদেরই গল্প’

পারিবারিক গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’ শেষ হতে চলেছে। দর্শকমহলে বেশ জনপ্রিয়তা পাওয়া এই নাটকটি পরিচালনা করেছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।

গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে প্রতি মঙ্গলবার ও বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হয়েছে নাটকটি। পরে এটি সিনেমাওয়ালার ইউটিউব চ্যানেলেও প্রচার করা হয়। দীর্ঘ প্রায় ৭ মাসের যাত্রা শেষে এবার নাটকটির সম্প্রচার পর্ব শেষ হচ্ছে।

নাটকটিতে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা আক্তার মিঠু, নাদের চৌধুরী, শিল্পী সরকার অপু, ডিকন নূর, মাহমুদুল ইসলাম মিঠুসহ আরও অনেকে।

নাটকের শেষ পর্বের শুটিং শেষে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেন শিল্পীরা।

অভিনেত্রী দীপা খন্দকার বলেন, ‘আমাদের ৭ মাসের জার্নি শেষ হচ্ছে। সাতটি লট করেছি, এটাই শেষ। শুরুতেও বলেছিলাম, মানুষ পারিবারিক গল্প দেখতে চায়। এখন সেটি কতটা গ্রহণ করেছে, সেটা দর্শকরাই বলতে পারবেন।’

অভিনেত্রী কেয়া পায়েল বলেন, ‘সবসময় চাইতাম এমন কাজ করতে, যা আমাকে দীর্ঘদিন দর্শকের মনে বাঁচিয়ে রাখবে। এটা আমাদেরই গল্প করার পর মনে হয়েছে, কাল থেকেই যদি অভিনয় ছেড়ে দিই, তবুও কোনো আফসোস থাকবে না।’

অভিনেতা খায়রুল বাসার বলেন, ‘এই নাটকটি আমার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা। ৭ মাস আমরা সবাই এক পরিবারের মতো ছিলাম। দর্শক হিসেবে নাটকটি দেখেও আমি অনেক সময় আবেগপ্রবণ হয়েছি। আমার চরিত্র সামির নামেই অনেক দর্শক আমাকে চেনেন। আমি চাই, মানুষ আমাকে এই নামেই মনে রাখুক।’

দীর্ঘ এই যাত্রা শেষ হলেও নাটকটি ঘিরে দর্শক ও শিল্পীদের স্মৃতি রয়ে যাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইরান আক্রমণে ট্রাম্পকে চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন সৌদি যুবরাজ: ওয়াশিংটন পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গতকাল শনিবার ইরানে ব্যাপক সামরিক হামলা চালায়। হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৪ দশক ধরে ইরানের ক্ষমতায় থাকা দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। 

ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর এ ভয়াবহ হামলার আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপ দিয়ে আসছিল বলে ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

হামলার নীতিনির্ধারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত চারটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের দুই মিত্র—ইসরায়েল ও সৌদি আরবের কয়েক সপ্তাহের লবিংয়ের পর শনিবার হামলার সিদ্ধান্ত আসে।

ওই চারজন ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত এক মাসে ট্রাম্পকে একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে হামলার কথা বলেন। তবে, মুখে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলে আসছিলেন। 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে থেকেই ইরানকে তার দেশের ‘অস্তিত্বের হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার জন্য প্ররোচনা দিয়ে আসছিলেন।

দুজনের যৌথ প্রচেষ্টায় ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। হামলার প্রথম দিকেই খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন, আগামী এক দশকেও ইরানি বাহিনী মার্কিন মূল ভূখণ্ডের জন্য তেমন কোনো হুমকি নয়। এরপরও হামলা চালানো হয় ইরানে। এটি ট্রাম্পের আগের সামরিক সিদ্ধান্তের তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ইরানজুড়ে হামলার সময় একটি ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি আজ রাতে যা করতে চাচ্ছি, কোনো প্রেসিডেন্টই তা করতে রাজি ছিলেন না। এখন এমন একজন প্রেসিডেন্ট আছেন যিনি আপনারা যা চান তা করছেন। দেখা যাক আপনারা এতে কেমন সাড়া দেন।’

অর্থাৎ, ট্রাম্প অন্য কোনো দেশের শাসক উৎখাতের চেষ্টায় হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অথচ, এর একদিন আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দেশটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

আলোচনা চলাকালে সৌদি আরব একটি বিবৃতি জারি করে। সেখানে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ ও ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে ফোনালাপ হয়। যুবরাজ সালমান ইরানের ওপর কোনো হামলায় সৌদির আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।

অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় সৌদি যুবরাজ সতর্ক করে বলেন, ইরাকে ২০০৩ সালের আগ্রাসনের পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার এই সময়েও যদি যুক্তরাষ্ট্র আঘাত না করে, তবে ইরান আরো শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। 

মুহাম্মদ বিন সালমানের এই অবস্থানকে তার ভাই সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমানও সমর্থন করেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে হামলা না করার নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে সতর্ক করেন খালিদ।

ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, সৌদি নেতার এই দ্বৈত আচরণ হয়ত তার দেশের জ্বালানি তেল অবকাঠামো রক্ষা এবং তেহরানকে রিয়াদের ‘চরম শত্রু’ হিসেবে দেখার মধ্যকার একটি মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে হয়েছে। 

শিয়া প্রধান ইরান এবং সুন্নি নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক প্রক্সি যুদ্ধ হয়েছে।

শনিবার মার্কিন হামলা শুরুর পর ইরান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। রিয়াদ ক্ষুব্ধ হয়ে বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানায় এবং ইরানকে মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ আহ্বান জানায়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

উইটকফ ও কুশনার গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শেষ বৈঠক করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, তেহরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘খেলছে’—এমন ধারণা নিয়ে বৈঠক শেষ হয়। 

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি খুব স্পষ্ট যে তাদের (ইরানের) উদ্দেশ্য ছিল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়া যেন একসময় তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারে।’

শুক্রবার বিকেলে ট্রাম্প টেক্সাসে একটি সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বারবার ঘোষণা করেন, আলোচনার বিষয়ে তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর খুশি নন। 

তিনি বলেন, ‘আমার এখন অনেক কিছু করার আছে। আমাদের একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনারা তা জানেন, যা সহজ নয়, মোটেও সহজ নয়।’

পরে তিনি ফ্লোরিডায় পাম বিচে ফিরে যান এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় মার-এ-লাগো রিসোর্টে সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটান। সেখানে উপস্থিত ছিল এমন একজন জানান, ট্রাম্পকে সেসময় ক্লান্ত দেখালেও তার মেজাজ ভালো ছিল এবং পরে তিনি ব্যক্তিগত কক্ষে গিয়ে হামলার ঘোষণার বক্তব্য রেকর্ড করেন।

গত দুই মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক আকারে মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমেই এই আক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের অতীত রেকর্ড দেখে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না যে, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বেন।

এ সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প শনিবার ভিডিও বার্তায় ১৯৭৯ সালের ইরানের বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি এই হামলাকে ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের পর ৫২ মার্কিন নাগরিককে এক বছরের বেশি সময় জিম্মি করে রাখা, ১৯৮৩ সালে বৈরুতে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বোমা হামলায় ২৪১ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু এবং ২০০০ সালে ইয়েমেনে হামলার কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। যদিও ইয়েমেনে আত্মঘাতী হামলার পেছনে এতদিন আল-কায়েদাকে দায়ী করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি শাসকদের’ কাছ থেকে হুমকি আসছে। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যা দ্রুতই আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারে।

অথচ, গতবছর বিমান হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘নির্মূল’ করেছে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ওই হামলার পর ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে কি না, এমন কোনো প্রমাণ নেই।

ট্রাম্প সরকার ইরানিদের দেশের ক্ষমতা ‘দখল’ করার আহ্বান জানান বক্তৃতায়। তিনি এমন ঘোষণাও দেন যে, ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তি’ দেওয়া হবে।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘শুধু আকাশপথে হামলা করে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মৌলিক পরিবর্তন এবং পুনর্গঠন ইতিহাসে খুব একটা হয়নি।’ এটাকে ‘ট্রাম্পীয়’ বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন ‘এটা জুয়া খেলার মতো।’

২০০৩ সালে ইরাকের নেতা সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার পরিকল্পনায় হাজার হাজার মার্কিন সৈনাকে পাঠানো হয়, যারা সেখানে প্রায় এক দশক অবস্থান করে। নতুন সরকার গঠনের জন্য বেসামরিক মার্কিন কর্মকর্তারা কাজ করে।

ইরাক অভিযানের তীব্র সমালোচকদের কেউ কেউ ট্রাম্প প্রশাসনেও আছেন। তাদের মতে, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।

আপাতত ট্রাম্প বলছেন, তিনি আশা করেন খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ইরানি ‘দেশপ্রেমিকদের’ সঙ্গে কাজ করবে এবং দেশটির পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনবে।

পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করা যাবে না। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক হোক, কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না।

তবে এখানে পুলিশের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কার্যক্রমও দেখা হবে, যেন জনগণ কোনো হয়রানির শিকার না হয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সময়ে শুধু পুলিশ নয়, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে। সেই মোটিভেশনাল ওয়ার্কটা আমরা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো, তাদের সাহস জোগাবো এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দিকনির্দেশনা দেবো। পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে লক্ষ্য রেখেই এগিয়ে যেতে হবে।’

স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা: সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার কি স্বপ্নই থাকবে?

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে কথা বলতে গেলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক করুণ চিত্র। একদিকে সরকারি হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই, অন্যদিকে বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ বছরের পর বছর অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা এখন আর মৌলিক অধিকার নয়, বরং বিশাল দুর্ভেদ্য পাহাড় ডিঙানোর মতো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি কেন অবহেলার শিকার হচ্ছে এবং কীভাবে আমরা এই অকার্যকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।

জীবিকার সুবাদে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আমার হয়েছে। একজন জনস্বাস্থ্য কর্মী ও গবেষণার তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রতিষ্ঠিত জার্নালে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন বা কেস স্টাডি দেখে যে তাত্ত্বিক রূপরেখা পাওয়া যায়, বাস্তব চিত্র তারচেয়েও অনেক বেশি নাজুক ও ভঙ্গুর।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার জটিলতা বুঝতে হলে যেকোনো সরকারি হাসপাতালে বা সেবাকেন্দ্রে গিয়ে এর সিস্টেমের গলদগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে হবে, তাহলেই উত্তরণের পথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ‘সরকারি হাসপাতালের শয্যা বাড়ছে, কিন্তু ডাক্তার কোথায়?’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের এই খাঁটি ও রূঢ় বাস্তবতাকে সংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্যের মাধ্যমে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনটির তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও সেই অনুপাতে জনবল বা চিকিৎসক বাড়েনি। ফলে, এই তীব্র সংকট পুরো সেবা ব্যবস্থাটিকে ভেতরে ভেতরে পঙ্গু করে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংখ্য পদ খালি পড়ে আছে, যার মধ্যে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার শিক্ষক পর্যন্ত রয়েছেন। এই বিশাল শূন্যপদের কারণে একদিকে যেমন রোগীরা উপযুক্ত সেবা পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের পড়াশোনা ও মান নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠছে।

এই অব্যবস্থাপনার আরেকটি অন্ধকার দিক হলো, কেনাকাটা ও বাজেট বাস্তবায়নের ধীরগতি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে যে বিশাল বাজেট ছিল, সংশোধিত বাজেটে এসে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা কয়েক হাজার কোটি টাকা কমে যায়। এই অপচয় ও ধীরগতির অর্থ হলো, সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধ, আধুনিক যন্ত্রপাতি বা চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে একটি ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে বা নিচতলা থেকে উপরতলায় রোগী স্থানান্তরের মতো সাধারণ কাজের জন্যও রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত অর্থ বা ‘বকশিশ’ দিতে বাধ্য করা হয়। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত সবজায়গায় সেবা পেতে হলে ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া যেন এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বৈষম্যটি দৃশ্যমান হয় কিছু চিকিৎসকের তৎপরতায়। একই চিকিৎসক যখন সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তিনি এক অদৃশ্য সীমাবদ্ধতায় বন্দি। অথচ বেসরকারি ক্লিনিকে গেলেই তিনি দারুণ সক্রিয় হয়ে যান। এটি কেবল চিকিৎসকের একক দোষ নয়, বরং আমাদের সরকারি কর্মক্ষেত্রের জবাবদিহিতা ও অনুন্নত পরিবেশের প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি। এর ফলে ধনীরা বেসরকারি বিশেষায়িত অত্যাধুনিক হাসপাতালে আধুনিক সেবা পেলেও গরিব ও প্রান্তিক মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে বা সহায়-সম্বল বিক্রি করে পথে বসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি দেশের স্বাস্থ্যখাতে মোট জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দ করা উচিত এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর একটি নির্দিষ্ট অনুপাত (১:৩) বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশেরও কম, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (ইউএইচসি) বা সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল কথাই হলো—চিকিৎসা নিতে গিয়ে কোনো নাগরিক যেন আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে না পড়েন। আমাদের দেশের বর্তমান বাস্তবতা এই আন্তর্জাতিক নির্দেশনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

একজন জনস্বাস্থ্য গবেষণা কর্মী এবং এ দেশের সচেতন মানুষ হিসেবে আমি মনে করি, এই নাজুক পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় কিংবা অবকাঠামো বা শয্যার সংখ্যাগত বৃদ্ধির মধ্যে নিহিত নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিধিবদ্ধ তথ্য-উপাত্তের সঠিক প্রয়োগ এবং উভয় পক্ষের, অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারীর মানসিকতার আমূল পরিবর্তন। আমাদের পর্যাপ্ত সম্পদ আছে, অভাব শুধু সদিচ্ছা ও জবাবদিহিতার।

বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর সুপারিশ তুলে ধরা হলো:

১. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় স্বাধীনতা: ঢাকার ওপর সমস্ত নির্ভরতা কমিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে বাজেট প্রণয়ন ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা দিতে হবে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী যেন দ্রুত সরঞ্জাম বা ওষুধ কেনা যায়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

২. নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতিশীলতা ও জনবল সংকট দূরীকরণ: দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে প্রকাশিত শূন্যপদগুলোর দিকে নজর রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের শূন্যপদগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত না হয়।

৩. ডিজিটাল মনিটরিং ও কেনাকাটায় স্বচ্ছতা: সরকারি অর্থ ও বাজেট যেন বছরের শেষে ফেরত না যায়, সেজন্য বছরের শুরু থেকেই ক্রয়ের পরিকল্পনা করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের স্টক ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি (ই-গভর্নেন্স) করতে হবে, যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কেনাকাটার দুর্নীতি বন্ধ হয়।

৪. চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা ও প্রণোদনা প্যাকেজ: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বায়োমেট্রিক হাজিরা ও কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে সেবার মানের বৈষম্য দূর করতে হবে।

৫. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ও মান নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, সরকার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সেবামূল্য নির্ধারণ ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ করবে। প্রয়োজনে সরকারি খরচে বেসরকারিখাতের মাধ্যমে দরিদ্র রোগীদের সাশ্রয়ী বা বিনামূল্যে জটিল চিকিৎসা দেওয়ার জন্য অংশীদারিত্ব চুক্তি করা যেতে পারে।

৬. তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক তদারকি কমিটি: হাসপাতালের সেবার মান ও দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, জনস্বাস্থ্য কর্মী ও রোগীর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদারকি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটি সরাসরি স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রিপোর্ট করবে।

৭. স্বাস্থ্য বিমা ও সবার জন্য স্বাস্থ্য (ইউএইচসি) বাস্তবায়ন: প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসা খরচ কমাতে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে সর্বজনীন স্বাস্থ্য বিমা চালু করা সময়ের দাবি। এতে করে কোনো পরিবারকে চিকিৎসার জন্য জমি বা সহায়-সম্বল বিক্রি করে নিঃস্ব হতে হবে না।

স্বাস্থ্যসেবা করুণা বা দয়ার দান নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত মৌলিক অধিকার। আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য বড় বাজেট ঘোষণার চেয়েও বেশি প্রয়োজন সেই বাজেটের সঠিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক ও সময়োপযোগী প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন। একজন জনস্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সংকটের পথ যতই কঠিন হোক না কেন, সদিচ্ছা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাহসের সঙ্গে কার্যকর উদ্যোগ নিলে এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে চিকিৎসার অভাবে কোনো গরিব মায়ের বুক খালি হবে না এবং দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল হবে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে আস্থার ঠিকানা।

সুমিত বণিক: জনস্বাস্থ্য কর্মী ও প্রশিক্ষক, ঢাকা
[email protected]

‘রোনালদো-মদ্রিচ নয়, ম্যাচের ভাগ্য গড়বে মিডফিল্ডের লড়াই’

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার দ্বৈরথ। একদিকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে লুকা মদরিচ। দুই কিংবদন্তির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ মনে করেন, এই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবেন না রোনালদো কিংবা মদ্রিচ; আসল লড়াই হবে মাঝমাঠে।

বুধবার টরন্টোয় সংবাদ সম্মেলনে দালিচ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এটি হবে মিডফিল্ডারদের লড়াই। পর্তুগালের মাঝমাঠে অসাধারণ খেলোয়াড় রয়েছে। তারা কৌশলগতভাবে খুবই শক্তিশালী। এই ম্যাচে একটি ভুলও বড় মূল্য চুকাতে হতে পারে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ক্রোয়েশিয়া। এরপর পানামাকে ১-০ এবং ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে তারা।

অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি জয় এবং দুটি ড্র নিয়ে নকআউটে উঠেছে পর্তুগাল। পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো না হলেও প্রতিপক্ষকে একটুও হালকাভাবে নিচ্ছেন না দালিচ, ‘পর্তুগাল এমন একটি দল, যারা সবসময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখতে চায়। তাদের দুর্বলতা খুবই কম। যেকোনো মুহূর্তে তারা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’

ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেবেন ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। তার সঙ্গে থাকবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করা মার্টিন বাতুরিনা এবং ঘানার বিপক্ষে গোল পাওয়া পেতার সুচিচ।

অন্যদিকে পর্তুগালের মিডফিল্ডে রয়েছেন ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেস। যদিও সব আলো কেড়ে নিচ্ছেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

টরন্টোয় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি শহরটির এবারের বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ। একই সঙ্গে এটি রোনালদো কিংবা মদ্রিচ, দুই কিংবদন্তির একজনের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচও হয়ে যেতে পারে।

ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ দুই তারকার প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘তারা দুজনই ফুটবলের জন্য অসাধারণ অবদান রেখেছেন। আমি বিশ্বাস করি, লুকা তার পথচলা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে দুজনের সম্পর্কেই আমার কেবল ইতিবাচক কথাই বলার আছে।’