26.2 C
Dhaka
Home Blog

আনচেলত্তির ছাঁটাই চান রোমারিও, এন্দ্রিককে কড়া ভাষায় তুলোধোনা

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের অপ্রত্যাশিত বিদায়ের ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটির ফুটবল অঙ্গন। ক্ষোভে ফুঁসছেন অনেক সাবেক খেলোয়াড়, সমর্থক থেকে শুরু করে কিংবদন্তিরাও। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সরব ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী রোমারিও। নরওয়ের কাছে হারের পর জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সহজ সুযোগ নষ্ট করা তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককেও একহাত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।

রোমারিওর মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে বয়স কোনো অজুহাত হতে পারে না। নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাড়ানো বল থেকে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন ১৯ বছর বয়সী এন্দ্রিক। সেই ব্যর্থতাকেই ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন তিনি।

নিজের ইউটিউব অনুষ্ঠান রোমারিও টিভিতে সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘অনেকে বলছে, সে তো এখনো তরুণ। এসবের কোনো মূল্য নেই। তরুণ হোক, অভিজ্ঞ হোক, সুযোগ পেলে গোল করতেই হবে। জাতীয় দলে খেলতে নামলে দায়িত্বও নিতে হবে। এন্দ্রিকের মিস করা সুযোগটা পুরোপুরি তার নিজের ভুল। এমন মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় গোল করতে হয়। আমি তাকে পছন্দ করি, বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে সে ব্রাজিলকে অনেক আনন্দ দেবে। কিন্তু ওই ম্যাচে সে খুবই বাজে খেলেছে।’

শুধু এন্দ্রিক নন, কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতিও ছিল রোমারিওর তীব্র ক্ষোভ। ইতালিয়ান এই কোচের অধীন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি মনে করেন, আনচেলত্তির আর দায়িত্বে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

রোমারিও বলেন, ‘এই ব্যর্থতা ও লজ্জার পর আনচেলত্তির ব্রাজিলের কোচ হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি হলে তার চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলতাম। এরপর চাইলে তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলাই করতেন।’

সমালোচনা থেকে রেহাই পাননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিসের প্রসঙ্গ টেনে রোমারিওর দাবি, দলের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব ভিনিসিয়ুসেরই নেওয়া উচিত ছিল।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ব্রুনো নাকি পেনাল্টি ভালো নেয়, তাই কোচের নির্দেশ ছিল সে নেবে। ঠিক আছে, কিন্তু ভিনিসিয়ুস তো দলের সবচেয়ে বড় তারকা। এমন মুহূর্তে নেতৃত্ব দেখাতে হয়। বলটা নিজের হাতে নিয়ে পেনাল্টি নেওয়া উচিত ছিল।’

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) ভেতরেও আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাকে রেখে দেওয়ার পক্ষে থাকলেও রোমারিওর মতো কিংবদন্তিদের প্রকাশ্য সমালোচনা ইতালিয়ান কোচের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

৪ নায়িকার চোখে ‘অভিনয়ের জাদুকর’ চঞ্চল চৌধুরী

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। একের পর এক প্রশংসিত কাজের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। দুই বাংলাতেই রয়েছে তার জনপ্রিয়তা।

মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই অভিনেতা সিনেমা, নাটক ও ওটিটি—সব মাধ্যমেই সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রদর্শিত হয়েছে। ক্যারিয়ারে একাধিকবার অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

এই গুণী শিল্পীর আজ জন্মদিন। এ দিনে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে চার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জানিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা।

জয়া আহসান বলেন, ‘একজন শিল্পীকে প্রথমে সংবেদনশীল মানুষ হতে হয়। চঞ্চল চৌধুরী তেমনই একজন। ভালো মানুষ। শিল্পীর যত গুণ থাকা দরকার সবই তার মধ্যে আছে। বারবার তিনি প্রমাণ করেছেন সুন্দর অভিনয় দিয়ে। অভিনয়ের জাদুকর চঞ্চল চৌধুরী।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে বহু বছর ধরে বিনোদন দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বড় মাপের শিল্পী। তাকে কিছু দেওয়ার দায় আমাদেরও আছে।’

চঞ্চল চৌধুরীর ব্যক্তিত্বের আরও কিছু দিক তুলে ধরে জয়া বলেন, ‘আমি ফেসবুকে লিখেছি—স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান, দুরন্ত ড্রাইভার ও অভিনেতা। এত ভালো গাড়ি ড্রাইভ করতে পারেন, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। মজা করে বলি, তিনি যদি অভিনয় না করে গাড়ি ড্রাইভ করেন আর কমেডি করেন, তাহলেও সারাটা জীবন সুন্দরভাবে চলতে পারবেন। সহশিল্পী হিসেবে অসাধারণ।’

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘মানুষ হিসেবে চঞ্চল চৌধুরী ভীষণ আন্তরিক। ভীষণ অতিথিপরায়ণ। ভীষণ ভালো মানুষ। তার বাসায় গিয়েছি, তার স্ত্রীও খুব আন্তরিক।’

তিনি বলেন, ‘দুজনে অনেক নাটক করেছি একসঙ্গে। অনেক স্মৃতি আছে। তবে সিনেমা একটাই—‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সিনেমাটিকে ঘিরে আমাদের অনেক স্মৃতি রয়েছে। আমরা একসঙ্গে রিহার্সেল করেছি। একজন সহশিল্পী হিসেবে তিনি দারুণ।’

চঞ্চলের বহুমাত্রিক প্রতিভার প্রসঙ্গ তুলে বাঁধন বলেন, ‘তার সিনেমাগুলো দর্শকনন্দিত হয়েছে। খুব বেছে বেছে সিনেমা করেন। অভিনয়শিল্পীর বাইরে একজন গায়কও তিনি। ভালো গান করতে পারেন। ভালো ছবি আঁকতে পারেন। আজ প্রিয় সহশিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ দিনে তার জন্য শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।’

জাকিয়া বারী মম বলেন, ‘চঞ্চল চৌধুরী একজন শিল্পী। পরিপূর্ণ শিল্পী। যেকোনো চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তার মধ্যে আছে। অভিনয়ের সবগুলো মাধ্যমেই তিনি সফল।’

তিনি বলেন, ‘তার ক্যারিয়ারে ভালো ভালো কিছু সিনেমা যুক্ত হয়েছে, যা দারুণভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমরা একসঙ্গে নাটকে অভিনয় করেছি। সহশিল্পী হিসেবে তিনি অতুলনীয়। মানুষ হিসেবেও খুব ভালো। একজন অসাধারণ অভিনেতা তো বটেই।’

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রসঙ্গে মম বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমায় আমরা অভিনয় করেছি। যে সিনেমার সাফল্যের ধারাবাহিকতা এখনো আছে। অভিনয়ের জাদুকর চঞ্চল চৌধুরী। শুভ জন্মদিন ভাই। কেবলই শুভকামনা।’

বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘প্রথমেই বলতে হয়, চঞ্চল দা খুব ভালো মানুষ। পুরোপুরি একজন শিল্পী। নাটক, সিনেমা, ওটিটি—সবখানেই তিনি সফল।’

তিনি বলেন, ‘দাদার সঙ্গে বেশ কয়েকটি নাটক করেছি। যখন অভিনয় করেন, শতভাগ দরদ ও ভালোবাসা দিয়ে করেন। অভিনয় করার সময় প্রচণ্ড মনোযোগী থাকেন। সহশিল্পীর প্রতি তার সম্মান রয়েছে। যে কারণে তার কাজগুলোও আলাদা হয়ে থাকে।’

মিমের ভাষায়, ‘একজন সহশিল্পী হিসেবে তিনি খুব ইতিবাচক। দর্শকরাও তাকে ভালোবাসেন। মানুষ হিসেবে তাকে মনে হয়েছে সবার আপন হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে। বড় পর্দায় আমাদের একসঙ্গে কাজ করা হয়নি। কিন্তু তার সিনেমা দেখেছি। সবগুলো সিনেমা করেই আলোচনায় এসেছেন।’

জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এভাবেই আরও বহু বছর অভিনয় করে যান। জন্মদিনের শুভেচ্ছা, দাদা।’

খামেনি হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর যা জানা যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও আলোচনা নির্ধারিত ছিল। সম্ভবত তিনি মনে করেছিলেন, কোনো হত্যাচেষ্টা হলেও রাতে হতে পারে। তাই গত শনিবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি তেহরানে তার নিজস্ব কমপ্লেক্সেই ছিলেন। সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ সকাল।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালে সেই কমপ্লেক্সে একটি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় খামেনি, তার স্ত্রী এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক সপ্তাহে ইরানে হাজার হাজার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর মধ্যে ধীরে ধীরে কিছু তথ্য সামনে এসেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও মোসাদ অভিযানটি পরিকল্পনা করেছিল। এই ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কতটা গভীরভাবে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল ইসরায়েলের একটি হামলা। তবে এটি সম্ভব হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ গোয়েন্দা নজরদারিতে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হামলার দিন ভোরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি) খামেনির অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ইসরায়েলকে সরবরাহ করেছিল।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রায় সব সড়ক নজরদারি ক্যামেরা কয়েক বছর আগেই ইসরায়েল হ্যাক করেছিল। সেগুলোর এনক্রিপ্টেড ভিডিও ফিড ইসরায়েলের সার্ভারে পাঠানো হতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রে পাস্তুর স্ট্রিটে অবস্থিত সর্বোচ্চ নেতার কমপ্লেক্সের দিকে একটি ক্যামেরার বিশেষ দৃষ্টিকোণ ছিল। এর মাধ্যমে নিরাপত্তারক্ষীদের পরিচয়, তাদের দৈনন্দিন রুটিন এবং চলাচল শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।

এক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আমরা তেহরানকে জেরুজালেমের মতোই ভালোভাবে চিনি।’

খামেনির সঙ্গে ইরানের কতজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, তার সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।

ইরানি গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, সেনাবাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি, বিপ্লবী গার্ডসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পুলিশ গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধানসহ আরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

এএফপি জানায়, ইসরায়েলি গণমাধ্যমের কিছু অনিশ্চিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে খামেনির মরদেহের একটি ছবি পাঠানো হয়েছিল।

কলামিস্ট বেন ক্যাসপিট লিখেছেন, ‘তার হত্যার বিস্তারিত প্রকাশ পেলে সবাই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবে।’

ইসরায়েলি পত্রিকা মারিভে ক্যাসপিট লিখেছেন, ‘ইরান পুরোপুরি অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা পড়েছে। এই প্রাথমিক হামলাটি আগামী বহু বছর ধরে বিশ্বের সামরিক কলেজগুলোতে পড়ানো হবে।’

সামরিক বিশ্লেষক ইয়োসি ইয়েহোশুয়া দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথে লিখেছেন, খামেনির হত্যাকাণ্ড ‘মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধের ভারসাম্য বদলে দিয়েছে এবং ইসরায়েলকে এমন এক সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে, যা তারা আগে কখনো পায়নি।’

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো রাষ্ট্রনেতাকে হত্যার একটি বিপজ্জনক নজিরও তৈরি করতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের প্রাণঘাতী হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। তবে এরপর থেকে তাদের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ আবার নিজেদের সুনাম বাড়িয়েছে।

আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈরুতে হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়েহ, যিনি তেহরানে নিহত হন।

ইসরায়েল হিজবুল্লাহর সদস্যদের ওপর এক বিস্ময়কর হামলাও চালায়। সেখানে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর ব্যবহৃত কক্ষে ছোট বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে দূর থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

এএফপি জানায়, এ ধরনের অভিযানে ইসরায়েলের সক্ষমতা স্পষ্টভাবেই বাড়ছে। খামেনিকে হত্যা করে তারা ‘সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এক ধরনের শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

মোসাদ নিয়ে একটি বেস্টসেলার বইয়ের লেখক ইসরায়েলি অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোনেন বার্গম্যান বলেছেন, খামেনি গোপনে বসবাস করতেন না।

তিনি সামাজিক মাধ্যমে রসিকতা করে লিখেছেন, ‘মনে হয় যেন তার দরজায় একটি সাইনবোর্ড টাঙানো ছিল—এখানে সুখী খামেনি পরিবার বাস করে।’

তবে অন্যরা মনে করেন, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি হয়তো মৃত্যুকে শহীদত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলেন। অথবা তিনি বিশ্বাস করতেন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতাকে হত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন তাকে সুরক্ষা দেবে।

একাধিক সংঘাত নিয়ে কাজ করা ফরাসি সেনাবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে এএফপিকে বলেছেন, খামেনির মৃত্যুর পূর্ণ প্রভাব এখনো বোঝা বাকি।

ওই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘গোপন অভিযানের বিস্তারিত স্বাভাবিকভাবেই জানা খুব কঠিন এবং এটি তথ্যযুদ্ধের একটি বড় ক্ষেত্র।’

তিনি বলেন, ‘এই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে যে এটি ছিল একটি পরিষ্কার, নিখুঁত ও ত্রুটিহীন অভিযান। আর এটি এক আঘাতেই একটি শাসনব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু অন্য পক্ষ তাসের খেলা খেলছে না। এটি লাস ভেগাস নয়। তারা দাবা খেলছে—এবং একটি বড় ঘুঁটি হারালেই খেলা শেষ হয়ে যায় না।’

সাতক্ষীরায় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আগুন

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার রাইসমিল মোড়ে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম লুৎফর কবির দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ওসি বলেন, ‘আগুনে কয়েকটি চেয়ার পুড়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি খালি পেট্রোলের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ।’ 

নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মহব্বত আলী সরদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আমাদের কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। এতে কার্যালয়ে থাকা আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে।’

লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি কবির।

শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন মির্জা ফখরুল

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

জুমার নামাজের পর ফখরুল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে যাবেন। সেখানে তিনি তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন, সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করবেন এবং মোনাজাত করবেন।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ফখরুলের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের আশপাশে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে।

গতকাল সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ ৮৮ ভোট পান।

সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী প্রশাসকদের যেসব ক্ষমতা দেওয়া হলো

সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনিন্দিন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন এবং সংকট নিরসনে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রশাসকদের।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার অস্থায়ী প্রশাসন সংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করে।

এই প্রবিধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩’ এর অধীনে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রবিধান অনুযায়ী দুইভাবে প্রশাসক নিয়োগ হবে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬ এর ১৯ ধারার আওতায় আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থার অধীনে কিংবা রেজল্যুশনের অধীনে প্রশাসক বা তার সহযোগী নিয়োগ দেবে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট।

প্রশাসক বা সহযোগী নিয়োগের জন্য যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী এক বা একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে।

মনোনীতরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়োগ দিতে হবে। এ নিয়োগ ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে হবে। তবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের স্বার্থের কোনো সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) থাকা যাবে না।

এ বিষয়ে প্রবিধানে বলা হয়েছে, কেউ প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার সময় তার সঙ্গে বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে যদি ওই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, আর্থিক বা অন্য কোনো স্বার্থে থাকে তাহলে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টকে জানাতে হবে।

প্রশাসকের ক্ষমতা

প্রবিধানে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চলমান রাখতে আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থার অধীনে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসক প্রয়োজনে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সরাতে পারবেন এবং নিজে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

প্রশাসককে ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ করতে হবে যিনি অস্থায়ী প্রশাসনের আওতায় থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করবেন।

নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রশাসক নিয়োগের তারিখ থেকে ৩ মাস অথবা ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করতে হবে।

এরপর এক মাসের মধ্যে আর্থিক অবস্থা সংরক্ষণ বা পুনরুদ্ধারের জন্য পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন প্রশাসক। একইসঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা এবং গোপনীয়তা সংরক্ষণ করবেন।

অস্থায়ী প্রশাসকের মেয়াদকালে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

আর, পুনর্গঠন বা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সম্পদ ও দায় সংক্রান্ত তালিকা তৈরি করে ২ মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে প্রশাসকদের।

তালিকা জমা দেওয়ার এক মাসের মধ্যে পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় বা বিকল্প সুপারিশ করতে হবে।

প্রবিধানে ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে সন্দেহভাজন আর্থিক অপরাধ তদন্তের দায়িত্বও প্রশাসকদের দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের অধীনে কোনো পরিচালক বা কর্মকর্তা অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে আইনি পদক্ষেপ নেবেন প্রশাসক।

গৃহীত সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর অগ্রগতি প্রতিবেদন ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টে দাখিল করতে হবে।

প্রয়োজন হলে ব্যাংকের সব সম্পদ ও দায় এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বা ব্রিজ ব্যাংক বা হস্তান্তরগ্রহীতা বা অবসায়কের কাছে যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা যাবে।

হস্তান্তরগ্রহীতার কার্যক্রম পরিচালনা, সম্পদ ও দায়-দায়িত্ব ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে প্রশাসকদের।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী অস্থায়ী প্রশাসনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার তারিখ থেকে ৩ মাসের মধ্যে অস্থায়ী প্রশাসনের কার্যক্রমের ওপর চূড়ান্ত প্রতিবেদন ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টে জমা দিতে হবে।

এছাড়া প্রবিধানে আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রশাসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি পরবর্তী কার্যদিবসের মধ্যে নিজেদের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এবং বহুল প্রচারিত বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করতে হবে।

নতুন এই প্রবিধানে অস্থায়ী প্রশাসন সংক্রান্ত আগের সব বিধানকে বাতিল করা হয়েছে। তবে, আগের বিধানের অধীনে নেওয়া ব্যবস্থা এই নতুন প্রবিধানমালার অধীনে নেওয়া হয়েছে বলেই গণ্য হবে।

স্প্যানিশদের ‘জীবন কঠিন’ করে তুলতে চান লুকাকু

ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদেরকে ‘আন্ডারডগ’ মেনে নিয়ে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া বলেছেন, স্প্যানিশদের বিদায় নিশ্চিত করে অঘটন ঘটানোর মতো ফুটবলার এবং আত্মবিশ্বাস তার আছে। 

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই স্পেনকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই দাবি মেনে নিতে কোনো আপত্তি নেই গার্সিয়ার। নিজেও স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়ে এই ফ্রেঞ্চ ম্যানেজার বলেছেন, ‘আমরা জানি টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিটদের মুখোমুখি হচ্ছি। বল নিজেদের পায়ে রাখার ক্ষেত্রে স্পেন সম্ভবত সবার সেরা। গত ১৫-২০ বছর ধরে তারা নিজেদের খেলার একটি পরিচিত স্টাইল তৈরি করেছে। তবে আমাদের দলটাও দারুণ। আমরা জানি এখনও পর্যন্ত তারা কোনো গোল হজম করেনি, কিন্তু পরিসংখ্যান তৈরিই হয় ভাঙার জন্য। এই বিশ্বকাপে আমরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করেছি। আমরা এমন এক দলের বিপক্ষে নামছি যাদের প্রত্যাশিত গোলের (এক্সপেক্টেড গোল)  অনুপাত সবচেয়ে বেশি। আমরা স্পেনকে হারানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী’। 

এই টুর্নামেন্টে বেলজিয়ামের (১৩) চেয়ে বেশি গোল করেছে কেবল ফ্রান্স (১৬) ও আর্জেন্টিনা (১৪)। 

স্পেনের স্কোয়াডে গভীরতা থাকলেও গার্সিয়া বলছেন, তার কাছেও দুটি দল আছে যারা নিজেদের কাজ সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল, ‘হয়তো কেউ কেউ আমাদেরকে এখন নতুন করে চিনছেন, তবে আমি এই দলটাকে হৃদয় থেকে চিনি। ভালো সময়ে এই দলের মাহাত্ম্য বোঝা যায় না। আমার দুইটি দল আছে। এক দল ম্যাচটা শুরু করে, আরেকদল ম্যাচ শেষ করে। আমাদের রিজার্ভ বেঞ্চ শক্তিশালী ও মানসম্পন্ন। এবং আমার হাতে সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার’। 

গার্সিয়া যার কথা বলেছেন, সেই স্ট্রাইকার হলেন রোমেলু লুকাকু। সংবাদ সম্মেলনে কোচের পাশেই ছিলেন এই স্ট্রাইকার। কোচের কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে লুকাকুর কণ্ঠেও। নিজেদের আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে স্প্যানিশদের ‘জীবন কঠিন’ করে তুলতে চান এই নাপোলি ফরোয়ার্ড, ‘টুর্নামেন্টে এতদূর এসে আপনি নিশ্চয়ই বাড়ি ফিরতে চাইবেন না। স্পেন দারুণ একটি দল। দুই উইংয়ে তাদের গতিশীল ফুটবলার আছে, তাদের গভীরতাও দারুণ। কিন্তু আমরা ভালোভাবেই প্রস্তুত আছি এবং তাদের জীবন কঠিন করে তোলার মতো রসদ আমাদের আছে’। 

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার শুরুর একাদশে ছিলেন লুকাকু। কিন্তু বদলি হিসেবে নেমেও তিন গোল করেছেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সী লুকাকু বলছেন, গত এপ্রিলেই কোচ গার্সিয়ার সাথে কথা বলে এই বেলজিয়াম দলে তার ভূমিকা কী হবে সেটি নিশ্চিত হয়ে নিয়েছেন তিনি, ‘কোচ আমাকে একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা পালনের ব্যাপারে বলেছিলেন, এবং আমি সেটায় রাজি হয়েছিলাম। আমাদের কাছে দল সবার আগে। আমি মাঠে ও মাঠের বাইরে দলকে সাহায্য করতে চেষ্টা করি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে খেলাটা মস্তিষ্ক দিয়েও খেলতে হয়’। 

সিয়াটলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বেলজিয়াম। অনুমিতভাবেই ৮০ হাজার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকরা বেলজিয়ামদের পরিস্থিতি কঠিন করে তুলতে চাইবেন। তবে কোচ গার্সিয়া আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন, তার দলের মনোযোগ নষ্ট করা এত সহজ হবে না, ‘আমরা মাত্রই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নিজেদের মাঠে হারিয়েছি, যেখানে সবাই আমাদের বিপক্ষে গলা ফাটাচ্ছিল। দর্শকরা কিন্তু মাঠে নেমে গোল করবে না। আমি জানি না মাঠের পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তবে আমরা মাঠে কী করতে পারি সেদিকেই পূর্ণ মনোযোগী হচ্ছি’।

এমনকি বালোগুনের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা বাতিলের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে লাখো নতুন বেলজিয়াম সমর্থক তৈরি হয়েছে বলেও বিশ্বাস গার্সিয়ার। এই নতুন সমর্থকরা তাকে অনুপ্রাণিত করছে বলেও মন্তব্য করেছেন গার্সিয়া, ‘আগে আমাদের ১২ মিলিয়ন সমর্থক ছিল। গত কয়েক দিনের ঘটনায় আমরা নতুন অনেক সমর্থককে আমাদের পাশে পেয়েছি, যেটা এই ম্যাচে আমাদের পক্ষে কাজ করবে। তারা আমাদের আরও শক্তিশালী করবে’। 

 

 

এক বসায় দেখে ফেলতে পারেন যে ১০ স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা

ফ্রেন্ডলি নেইবরহুড ফিল্মমেকারসের (এফএনএফ) উদ্যোগে অল্প পরিসরে ও স্বল্প খরচে নির্মিত হয়েছিল ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। চলতি সময়ের এতো এতো সিনেমা ও কনটেন্টের ভিড়ে এক বসাতেই দেখে ফেলা যায় সিনেমাগুলো।

গত বছর ৩০ মে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয় ১০ নির্মাতার ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। প্রদর্শনীর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবার চলচ্চিত্রগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এফএনএফ-এর ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে চলচ্চিত্রগুলো।

ভিন্ন ভিন্ন জনরায় নির্মিত সিনেমাগুলো হলো ‘হুদাই মিস’ (জাহিদুল হক অপু), ‘হামাংকুলাস’ (ইবনে নূর রাকিব), ‘সোলমেট’ (আদেল ইমাম অনুপ), ‘চা চাই’ (শেখ কোরাশানী), ‘তেলাপোকা’ (আল-আমিন হাসান নির্ঝর), ‘লোক’ (মাহমুদা সুলতানা রীমা), ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ (কনক খন্দকার), ‘ফর সেল’ (ফজলে রাব্বি), ‘অন দ্যা কন্ট্রারি’ (ইমতিয়াজ হোসেন) এবং ‘ইশপাইট’ (আবীর ফেরদৌস মুখর)।

এফএনএফ–এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউটিউবে সাধারণত সেসব কনটেন্ট প্রচার করা হয়, তাদের সিনেমাগুলো তেমন না। অনেকগুলো মিসম্যাচ জনরা আছে। এখানে ‘লোক’ নামের সিনেমাটি বাংলাদেশি ফোক হরর ঘরানার। এরইমধ্যে সিনেমাটি একাধিক বিদেশি ফেস্টিভালে প্রদর্শিত হয়েছে।

‘সোলমেট’ সিনেমাটা একটা জুতার পয়েন্ট অব ভিউ থেকে বলা হয়েছে। এই সিনেমাটাও গিয়েছে আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।

একজন করপোরেট চাকরিজীবী আর জ্বীনের দেখা হওয়া নিয়ে গল্প আছে ‘হুদাই মিস’ সিনেমা। রোমান্টিক গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘ইশপাইট’।

‘প্রেসার কুকার’ সিনেমার রিজভী রিজু অভিনয় করেছেন ‘ফর সেল’ সিনেমায়। ‘রকস্টার’ সিনেমার কণ্ঠশিল্পী আহমেদ হাসান সানি অভিনীত ‘অন দ্যা কন্ট্রারি’ সিনেমা রয়েছে এই ১০ সিনেমার তালিকায়।

ইসরায়েলের শহর খালি করতে হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি

লেবানন সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের উত্তরের শহর কিরিয়াত শমোনার বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যেই শনিবার এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই শহরে তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে—নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।

এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘সতর্কবার্তা। কিরিয়াত শমোনার সব বাসিন্দাকে অবিলম্বে এলাকা খালি করার অনুরোধ করা হচ্ছে। দক্ষিণে চলে যান।’

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সোমবার ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন ছুড়লে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে লেবাননও জড়িয়ে পড়ে।

এর জবাবে ইসরায়েল দেশটির দক্ষিণ, পূর্ব এবং বৈরুতের কাছাকাছি এলাকায় ব্যাপক হামলা চালায় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্স জানায়, ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হিজবুল্লাহ উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করলে সেখানে বসবাসকারী কয়েক হাজার ইসরায়েলি তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান।

পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলে বাসিন্দারা আবার তাদের বাড়িতে ফিরে আসেন।

তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই সপ্তাহে বারবার উত্তরের বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সামরিক বাহিনী।

আশুলিয়া মহাসড়কে হকার উচ্ছেদ শুরু

ঢাকার সাভারের আশুলিয়া মহাসড়কের পাশে হকার উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, ঈদ সামনে রেখে মহাসড়কে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে হকার উচ্ছেদের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদে মহাসড়ক দুটিতে যানবাহনের চাপ থাকে। মহাসড়কের পাশে এসব অবৈধ দোকানের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।’ 

‘ঈদে যানজট নিরসনে সাভার উপজেলার ৬টি স্পটে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে আজ নবীনগর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দিনব্যাপী এ অভিযান চলবে,’ বলেন তিনি।

তবে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার হকারদের অভিযোগ, কোনো নোটিশ ছাড়া অভিযান শুরু হওয়ায় ব্যবসাসামগ্রী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

দ্য ডেইলি স্টারকে ওই এলাকার হকার মো. মামুন বলেন, ‘হঠাৎ করে আজ সকালে এসে বলছে দোকান সরিয়ে নিতে। না হলে ভাঙচুর করা হবে। আগে থেকে জানালে আমরা কাঁচামাল আনতাম না। আমরা এখন ক্ষতির মুখে পড়লাম।’

হকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এটা অমানবিক। আমরা শতশত হকার পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আগে বিপাকে পরলাম। আমাদের ঈদের আনন্দ মাটি হবে। বিকল্প কোথাও বসার ব্যবস্থা করে উচ্ছেদ করলে আমাদের সমস্যা হতো না। নোটিশ ছাড়াই আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নোটিশ দিয়ে অভিযান চালালে হকাররা এক হয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এ কারণে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়নি।’