28.1 C
Dhaka
Home Blog

বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বাংলাদেশি নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বাহরাইনে কর্মরত এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। 

নিহত তারেক চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের সাইদুল হকের ছেলে।

বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, আজ সোমবার বাহরাইনের মুহাররাক দ্বীপের সালমান শিল্পাঞ্চল এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হলে সেটির টুকরো তারেকের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দূতাবাস নিহতের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রইস হাসান সরোয়ার বলেন, বাহরাইনে অবস্থানরত অধিকাংশ বাংলাদেশি এখন পর্যন্ত নিরাপদ থাকলেও হামলার ধরন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোনো নির্দিষ্ট সময় মেনে আসছে না, হঠাৎ আঘাত হানছে। ফলে আগে থেকে বিপদের আভাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রবাসীরা বর্তমানে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ঘরে অবস্থান করছেন। ফলে দূতাবাসে এখনো জরুরি সহায়তার জন্য বড় কোনো ভিড় দেখা যায়নি।

আঞ্চলিক এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত তিনজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। নিহত বাকি দুজন পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর আরমান উল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, মিশন বিষয়টি নিয়ে আমিরাত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

এদিকে, গত রোববার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় আরও চার বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে উত্তেজনা ক্রমে বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসী কর্মীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হতাহতের ঝুঁকি এড়াতে প্রবাসীদের যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশে কিনেমাস্টারে ওয়াটারমার্ক ছাড়া ভিডিও এডিটের সুযোগ

ভিডিও সম্পাদনার জনপ্রিয় অ্যাপ কিনেমাস্টারে এখন বিনামূল্যে ওয়াটারমার্ক ছাড়া ভিডিও তৈরি করা যাবে। বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০ পিক্সেল মানের ভিডিও সম্পাদনা ও এক্সপোর্ট করতে পারবেন।

পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ব্যবহারকারীরাও এ সুবিধা পাবেন। কিনেমাস্টারের ৮ পয়েন্ট ২ সংস্করণে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভিডিও সম্পাদনা বা এডিট করার পর অনেক সময় ভিডিওর ওপর অ্যাপের নাম বা লোগো দেখা যায়। একে বলা হয় ওয়াটারমার্ক। এটি সরাতে এত দিন কিনেমাস্টারে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিতে হতো। নতুন সুবিধার ফলে বিনামূল্যে এই অ্যাপটির ব্যবহারকারীরা ওয়াটারমার্ক ছাড়াই ভিডিও এডিট করতে পারবেন।

কিনেমাস্টারের অধিকাংশ এডিটিং টুলস আগে থেকেই বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। অ্যাপটির অ্যাসেট স্টোরেও বিনামূল্যে গ্রাফিকস, সংগীত, ভিডিওর দৃশ্য পরিবর্তনের নানা প্রভাব এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্লাগইন রয়েছে।

তবে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিলে আরও কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে অ্যাপের সব উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ, বিজ্ঞাপন বন্ধ করা এবং নির্দিষ্ট কিছু সরঞ্জামের ব্যবহারের সীমা তুলে দেওয়া।

প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীরা টুকে ও ফোরকে মানের ভিডিও এক্সপোর্ট করতে পারবেন। এছাড়া কিনেক্লাউডের মাধ্যমে ভিডিও এডিটিংয়ের ব্যাকআপ রাখা এবং ব্যক্তিগতভাবে শেয়ার করার সুবিধাও পাবেন।

নতুন এ সুবিধা বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, কনটেন্ট নির্মাতা ও সাংবাদিকদের অনেক কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সাংবাদিকেরা সংবাদ প্রতিবেদন তৈরিতেও এসব অ্যাপ ব্যবহার করেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক এবং জার্নালিজম, মিডিয়া ও কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান জামিল খান বলেন, মোবাইলে ভিডিও সম্পাদনার শুরুর দিক থেকেই কিনেমাস্টার জনপ্রিয়। ২০১৬ সাল থেকে আমি মানুষকে অ্যাপটি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেকের পক্ষেই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন কেনা সম্ভব নয়। এ কারণে শিক্ষার্থীদের বিকল্প খুঁজতে হয়। বিনামূল্যে ওয়াটারমার্ক ছাড়া ভিডিও তৈরির সুযোগ সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী, কনটেন্ট নির্মাতা ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের কাজে আসবে।

জামিল খান আরও বলেন, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য যারা ভিডিও তৈরি করেন, তারাও এ সুবিধা থেকে উপকৃত হতে পারেন। তবে কিনেমাস্টারের সঙ্গে ক্যাপকাট, ইনশট ও মেটার এডিটসের মতো অ্যাপের প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।

কিনেমাস্টার জানিয়েছে, নতুন সুবিধা, উপকরণ ও এআই টুলস তৈরির খরচ মেটাতে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের এআই প্লাগইন ব্যবহারকারীর যন্ত্রেই ছবি, ভিডিওসহ অন্যান্য উপকরণ প্রক্রিয়া করে। এসব উপকরণ প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে পাঠানো হয় না।

১৮০ দিনে বিএনপি সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

সরকার গঠনের ১৮০ দিনে বিএনপি নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

আজ সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ বলেন, বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা কী রকম ছিল তা নিয়ে তারা নিজেরা প্রেস ব্রিফিং করেছে, একটা ই-বুক প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে দেখেছি, তারা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, সেগুলোর অধিকাংশই তারা রক্ষা করতে পারে নাই। দেশে যে সংকটগুলো তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো জবাবদিহিতা নাই।’

বিএনপি নিজেদের সফল দাবি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়। সেগুলো হলো—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ।

‘আমরা দেখতে পেলাম, এই তিনটি বিষয়েই তারা নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের এই নেতা বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সবগুলোর দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বেড়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী।

‘নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট পুরো দমে সক্রিয় রয়েছে। গত ৬ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ হয়েছে।’

নাহিদ বলেন, বিএনপি সরকার আসার পরে মার্চ-এপ্রিলে পাম্পগুলোতে ভয়াবহ পেট্রোল ও ডিজেল সংকট শুরু হয়েছিল। প্রচুর লাইন আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। সংসদে তখন জ্বালানিমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, জ্বালানির সংকট নেই, এগুলো পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।

‘পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে একটি কমিটি করে সংকট মোকাবিলায় প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। সেখানে বিরোধীদল অংশ নিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবনা অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি,’ অভিযোগ তোলেন তিনি।

নাহিদ বলেন, সে সময় জ্বালানি তেলের রেকর্ড পরিমাণে মূল্য বৃদ্ধি পণ্য পরিবহন, সেচ ও কৃষির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ওই সংকটের পেছনে আমরা দেখেছি, স্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। পাম্পের ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংকে তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, অভিজ্ঞতাহীন, প্রভাবশালী গোষ্ঠী সরবরাহ ব্যবসায় প্রবেশ করেছে এবং উচ্চ কমিশনে বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) ও পেট্রোবাংলায় পাইকারি বিক্রি শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ জ্বালানি কেনায় স্বচ্ছতার প্রশ্ন অনুপস্থিত ছিল এবং বিভিন্ন জায়গায় আমরা পাম্পের মজুতদারির ঘটনা দেখেছি।

‘সেই সিন্ডিকেট সরকার ভাঙতে পারেনি,’ বলেন নাহিদ।

গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদায় ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদা, সেখানে সরবরাহ আছে ২১৫ কোটি ঘনফুট। ঢাকার মতো শহরে দিনে এখন প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা চুলা জ্বলছে না। বিদ্যুৎ সরবরাহও সীমিত রয়েছে।

‘শিল্প কারখানা উৎপাদনের জন্য অন্তত ৩ থেকে ৪ পিএসআই গ্যাস প্রয়োজন, কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এই বিপুল ঘাটতি পূরণে সুপরিকল্পিত কোনো সমাধান হাজির করা হয়নি বরং সংকটকে পুঁজি করে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে ক্রয়ের আয়োজন করা হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণের আওতাধীন করপোরেট-১ শাখাগুলোর জুন-২০২৬ ভিত্তিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর জুন-২০২৬ ভিত্তিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসেবা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার, হাসান তানভীর ও মো. হারুনুর রশীদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, মো. মইন উদ্দিন মাসুদ, বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা দক্ষিণের মহাব্যবস্থাপক তানভীর হাসনাইন মইন, ঢাকা উত্তরের মহাব্যবস্থাপক শেখ মুনজুর করিমসহ সংশ্লিষ্ট করপোরেট শাখাগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জুন-২০২৬ ভিত্তিক ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি চলতি বছরের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের কঠিন সময়

ফুটবল বিশ্বকাপের ভরা মৌসুমে আড়ালেই পড়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ক্রিকেটাররা ভাবতে পারেন ভাগ্যিস আলোটা আপাতত তাদের দিকে নেই! না হলে গত কয়েকদিনে যেমন পারফরম্যান্স করেছে গোটা দল, তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ হওয়ার কথা। জিম্বাবুয়েতে গিয়ে একমাত্র টেস্টে ইনিংস হারের পর ওয়ানডে সিরিজেও পাত্তা পায়নি বাংলাদেশ। এরমধ্যে চোট শঙ্কা টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়েও খুব আশাবাদী হতে দিচ্ছে না।

গতকাল সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে ২ উইকেটে ১২২ তুলে ফেলার পর অস্বাভাবিক ধসে ওই ম্যাচ সফরকারী দল হেরেছে ১৩ রানে। প্রথম ওয়ানডেতেও দল হেরেছিল ২৫ রানে। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তাই সিরিজের মীমাংসা শেষ। শনিবার শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে হোয়াইটওয়াশের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানোর মিশন।

এই ম্যাচের মধ্যেই জানা গেছে গোটা সফর থেকে ছিটকে গেছেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাওয়া যাচ্ছে না তাকে। এর আগে কাফ মাসলের চোটে সিরিজ থেকে ছিটকে যান কিপার-ব্যাটার লিটন দাস। দলের বেহাল দশার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ দুজনের অনুপস্থিতি মিলিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা আছে বিপাকে।

জিম্বাবুয়ে এমনিতেই বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আফ্রিকার মাঠগুলোতে বাড়তি বাউন্স, সুইং মিলিয়ে ভোগেন ব্যাটাররা। তবে নিজেদের পেস আক্রমণ শক্তিশালী হওয়ায় এবার ভিন্ন কিছুর আশা করা হচ্ছিল। তবে ২০২২ সালের মতো এবারও সেখানে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ হারল বাংলাদেশ।

গতকাল রান তাড়ায় ৩৮ রানে ২ উইকেট পড়ার পর বড় জুটি গড়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহিদ হৃদয়। ৮৩ রানের জুটিতে এক পর্যায়ে জেতার পথে ভালোভাবেই ছিল দল। ৫৭ করে তানজিদ বোল্ড হওয়ার পর হৃদয় থামেন বাজে শটে। এরপর চলতে থাকে আসা-যাওয়ার মিছিল। শেষ দিকে মিরাজ কিছু চেষ্টা চালালেও কেউই আসলে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেননি।

দলের এই অবস্থার জন্য নিজেদের দায় দেখেন তানজিদ, ‘যখন আমি আর হৃদয় ব্যাট করছিলাম, আমরা খুব ভালোভাবেই থিতু হয়েছিলাম এবং এটা (জুটি) বড় করা দরকার ছিল। দুজনই পঞ্চাশের পর আউট হয়েছি। কিন্তু একজনের উচিত ছিল শেষ বল পর্যন্ত ইনিংস টেনে নেওয়ার। আমার মনে হয়, এ কারণেই ম্যাচ হেরেছি।’

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের পুরোটা ব্যাট করে ওপেনার বেন কারান ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। তানজিদের মতে এটাই গড়ে দিয়েছে ফারাক, ‘সে (কারান) শেষ বল পর্যন্ত ইনিংস টেনে নিয়েছে, আমরা পারিনি। এটিই পার্থক্য।’

টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে ভিন্ন বাস্তবতা দেখল বাংলাদেশ। সিরিজের বাকি সময়টাও কঠিন হওয়ার আভাস স্পষ্ট। তবে শনিবার শেষ ওয়ানডে জিতে অন্তত টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভিন্ন ফল আনতে মরিয়া তানজিদ, ‘এটা খারাপ একটা সিরিজ গিয়েছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে আমাদের একটি ওয়ানডে আছে। যদি আমরা ভালো খেলি এবং ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগে ভালো করি, তাহলে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ভালো করার আত্মবিশ্বাস দেবে।’

সফরের শুরুতে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ৮৫ রানে। জিম্বাবুয়ের কাছে এত বড় ব্যবধানে কখনো হারেনি বাংলাদেশ। দলটির বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল ২৫ বছর পর! গত কয়েক মাস টেস্টে দারুণ ফল করা বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েতে গিয়ে যেন ফিরিয়ে আনল সেই শুরুর সময়।

বাংলাদেশকে টেস্টে ওভাবে হারানোর পর জিম্বাবুয়ের এক সংবাদপত্রের শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাডেড’; ওয়ানডে সিরিজেও একই ফল আসলে তারা শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাডেথ’। এসব দেখলে নিশ্চিতভাবেই ক্রিকেটারদের গায়ে লাগার কথা। উজ্জীবিত হয়ে তারা সফরের শেষটা অন্তত ভালো কিছু করতে পারেন কি না, দেখার বিষয়।

৫ জুলাই আমির খানের বিয়ের গুঞ্জন, পাত্রী কে?

বলিউডে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন অভিনেতা আমির খান। শোনা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্ককে এবার আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৫ জুলাই মুম্বাইয়ে নিজের বাসভবনেই ছোট ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করতে পারেন আমির।

খবর অনুযায়ী, এই আয়োজন হবে একেবারেই ব্যক্তিগত। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং হাতে গোনা কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছাড়া সেখানে আর কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। কয়েক মাস ধরেই দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এখন সেই সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

অবশ্য ছোট পরিসরের অনুষ্ঠান হলেও অতিথি তালিকা নিয়ে ইতোমধ্যে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
বলিউডের দুই সুপারস্টার শাহরুখ খান ও সালমান খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। আমিরের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা সবারই জানা। তবে শেষ পর্যন্ত তারা উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নির্ভর করবে তাদের ব্যস্ততার ওপর।

এর আগে, গত বছর নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো গৌরী স্প্র্যাটকে প্রকাশ্যে পরিচয় করিয়ে দেন আমির খান।

সেই সময়ই তিনি জানান, তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং তারা একে অপরের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে দেখা গেছে এই যুগলকে। ফলে বিয়ের খবর সামনে আসতেই তা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে।

গৌরী স্প্র্যাট বেঙ্গালুরুতে বেড়ে উঠেছেন। ফ্যাশন ও স্টাইলিং বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস থেকে।

তবে এখন পর্যন্ত আমির খান বা গৌরী স্প্র্যাটের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ফলে ৫ জুলাইয়ের সেই সম্ভাব্য আয়োজন আদৌ বাস্তব হচ্ছে কি না, তা জানতে ভক্তদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

পেজেশকিয়ানের ‘দুঃখপ্রকাশ’কে ‘ইরানের আত্মসমর্পণ’ বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ইরান ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

আজ শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।

তবে পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ওই দেশগুলো থেকে ইরানে হামলা না হলে তেহরান তাদের হামলা করবে না।

ট্রাম্প তার পোস্টে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ইঙ্গিত করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইরান এবং তাদের ওপর আর হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু এখন তারা আশপাশের দেশগুলোর কাছে পরাজিত হয়েছে।’

তার ভাষায়, হাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইরান মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে পরাজিত হয়েছে এবং বহু বছর এমনই থাকবে—যতক্ষণ না তারা আত্মসমর্পণ করে বা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।

তিনি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং তিনি তাদের স্বাগতম জানিয়েছেন। 

পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘লুজার’ অ্যাখ্যা দিয়ে এমন কিছু এলাকা ও গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান। 

বলেন, এসব গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত হামলার তালিকায় ছিল না।

৬৯ বছর বয়সী সাবেক কর্মকর্তাকে ধর্মসচিব নিয়োগ

মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদকে এক বছরের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

তার জন্ম ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই বলেও জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিন আল আজাদ ২০০৯ সাল পর্যন্ত নিয়মিত প্রশাসনের অংশ ছিলেন। বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার পর তিনি আর কোনো নিয়মিত প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেননি।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী সরকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, যোগ্যতার বিষয়গুলোকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা কখনো ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেনি। তাকে কেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি পদ্মা ব্রিজ রেলওয়ে লিঙ্ক প্রজেক্ট ফেজ-২ (ভাঙ্গা-বেনাপোল) ভূমি অধিগ্রহণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) পরিচালক ছিলেন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, সেটি ছিল ভবিষ্যতের ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল’।

আজ রোববার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশে যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি। তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়। তাদের কসরত করতে হয়, রিহার্সাল দিতে হয়। এরা যেন চব্বিশকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, ২০২৪ সালের পর তিনি মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ এবার পরিষ্কার হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, বরং আবর্জনার কলেবর আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যায় না। ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী।

জামায়াত আমির আরও বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর যারা নির্যাতিত ছিলেন, তাদের কেউ এখন সরকারি দলে, আবার কেউ বিরোধীদলে রয়েছেন। তবে বিরোধীদলের দায়িত্ব সরকারকে অন্ধভাবে বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো করলে তাকে সহযোগিতা-সমর্থন করা আর সরকার যদি কোনো অন্যায় করে, জনগণের কোনো অধিকার হরণ করে অথবা খারাপ পথে হাঁটে, তাহলে সরকারকে বাধা দেওয়া, প্রতিবাদ করা—এটাই বিরোধীদলের দায়িত্ব।

সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী সরকারের পথ অনুসরণের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকার সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে।

‘এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদের রাস্তা। এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা। এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। এই রাস্তা শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার রাস্তা’, বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কাউকে এই পথে চলতে দেবে না। সুতরাং বিরত থাকুন।

অনুষ্ঠানে দেশের ভাবমূর্তি ও নাগরিকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের কাছে একটি জাতির সম্মানের অন্যতম মানদণ্ড হচ্ছে তার ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা পাসপোর্ট।

বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর পেছনে দেশের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও দায়ী।

তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে বারবার ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা ঘটেছে এবং ক্ষমতায় আসা কেউই এ অপকর্ম থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি।

শফিকুর রহমান বলেন, মানুষকে ধরে নিয়ে বছরের পর বছর গুম করে রাখা, তাদের স্বজনদের অন্ধকারে রাখা এবং নির্যাতন চালানোর মতো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে।

তিনি সচেতন নাগরিকদের জুলাই জাদুঘর ও স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানান।

তবে ‘বিশেষ একটি দেশকে খুশি করার জন্য’ সেখানে অতীতের নির্যাতন ও রাজনৈতিক ঘটনাবলির অনেক স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।

৫ ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ করল সরকার

একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা পুরোনো মালিকদের হাতে ফিরে যাওয়ার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

এ সংক্রান্ত বিধান রেখে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে সংশোধনীটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, ‘দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনার মুখে এই ধারা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের আওতায় তৎকালীন সরকার পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করেছিল। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে সংসদে অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস হওয়ার সময় বিএনপি সরকার নতুন একটি ধারা যুক্ত করে। ওই ১৮(ক) ধারার মাধ্যমে এসব ব্যাংকের সাবেক মালিকদের আবারও মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

এই বিধান বহাল রাখায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে এখন বিতর্কিত ওই ধারাটি বাতিল করা হলো।

তবে ধারাটি বাতিলের বিষয়ে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারার সব শর্ত মেনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় সরকার ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৈঠকে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া ‘ভিসা নীতি-২০২৬’-এরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।