28 C
Dhaka
Home Blog

স্পেনকে বিদায় করে ‘চমক’ দেবে বেলজিয়াম, বিশ্বাস কোর্তোয়ার

বেলজিয়ামের এবারের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল মিশর ও ইরানের সাথে দুই ড্র দিয়ে। সেই দলই এরপর দারুণ ফুটবল খেলে পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। দলটির গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া আশাবাদী, ভালো ফুটবলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্পেনকে হারিয়ে আরও একটি চমকের জন্ম দিতে পারবেন তারা। 

স্পেন ম্যাচকে সামনে রেখে অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন কোর্তোয়া। সেখানেই তিনি বলেছেন, তারা প্রতি ম্যাচেই উন্নতি করছেন এবং স্পেনকে হারানোর ব্যাপারে তারা আশাবাদী। 

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক কোর্তোয়া বলেছেন, ‘প্রতিটি টুর্নামেন্টেই চমক থাকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপা লিগ, বিশ্বকাপ সব টুর্নামেন্টেই থাকে। আমি মনে করি এবার আমরাই সেই চমক দিতে পারি। ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দেয়া অবশ্যই বড় চমক হবে’। 

স্পেনকে নিরঙ্কুশ ফেভারিট মেনে নিলেও তাদের দুর্বলতা কোথায় সেটাও জানা আছে বলে দাবি করেছেন কোর্তোয়া, ‘অবশ্যই স্পেন ফেভারিট। বল ধরে রেখে খেলার ব্যাপারে তারা অসাধারণ। আবার বল হারিয়ে ফেললেও তারা দ্রুত প্রেস করে সেটা কেড়ে নেয়। এখানেই আমাদের জন্য সুযোগ থাকবে, তাদের রক্ষণভাগের পেছনের জায়গা কীভাবে দ্রুত দখল করে নিতে পারি আমরা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে’। 

স্পেনের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা লামিন ইয়ামালের প্রশংসাও করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা, ‘পর্তুগালের বিপক্ষে গোলটাই স্পেনের শক্তিমত্তার নির্দেশক। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে লামিন কতটা ভয়ংকর আমরা সবাই জানি। সে ক্ষিপ্র, দ্রুতগতির এবং একাই দুজন ফুটবলারকে ছিটকে ফেলতে সক্ষম’। 

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্পেনে ক্লাব ফুটবল খেলছেন কোর্তোয়া। খেলেছেন মাদ্রিদের দুই বড় ক্লাবের হয়েই। এক অর্থে স্পেন তার দ্বিতীয় বাড়ি। তবে এই ম্যাচে তার বেলজিয়ান সত্ত্বাই তাকে বেশি অনুপ্রাণিত করছে, ‘এগারো বছর ধরে আমি স্পেনে আছি। স্পেন আমার দ্বিতীয় বাড়ি, ক্যারিয়ার শেষে হয়তো আমি সেখানেই স্থায়ী হবো। আমার দুই শিশু যতটা না বেলজিয়ান তার চেয়ে বেশি স্প্যানিশ। তবে দিনশেষে ম্যাচটা কিন্তু আমি বেলজিয়ামের হয়েই খেলব’। 

‘সালমান শাহর কথা মনে পড়লেই কান্না আসে’

একটা সময় টেলিভিশনের নাটকে প্রচুর কাজ করেছেন তমালিকা কর্মকার। নাটক ও চলচ্চিত্র ছাড়াও আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ৩০ বছর।

‘কীর্তনখোলা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। সাড়া জাগানো ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে সুমা চরিত্রে অভিনয় করেও আলোচিত হন তিনি। 

বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এককালের তুমুল জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেশ থেকেই টেলিফোনের মাধ্যমে কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়কদের অন্যতম, প্রয়াত সালমান শাহর সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করেছেন তমালিকা কর্মকার। সালমান শাহর সঙ্গে নাটকও করেছেন। ছোটবেলা থেকেই সালমান শাহ তার পরিচিত ছিলেন।

‘সালমান শাহর কথা মনে পড়লেই কান্না চলে আসে। সবাই তো তাকে সালমান শাহ বলে ডাকেন, এই নামেই চেনেন। আমার কাছে সে ইমন। ইমন আমার ছোটবেলার বন্ধু। খুব ভালো বন্ধু’, যোগ করেন তিনি। 

তমালিকা বলেন, ‘তখন আমরা শাহজাহানপুরে থাকতাম। ওই সময় সালমান শাহ আমার বাসায় প্রচুর এসেছে। ভীষণ ভালো বন্ধু ছিল সে। এত গুড লুকিং ছিল!’

দ্য ডেইলি স্টার: সালমান শাহর সঙ্গে সিনেমা করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

তমালিকা কর্মকার: ‘এই ঘর এই সংসার’ সিনেমায় আমরা অভিনয় করেছি একসঙ্গে। শুটিং শেষে প্রতিদিন সালমান শাহ আমাকে বাসায় দিয়ে যেতেন। ভালো মানুষ ছিলেন। মন খারাপ হলেই আমার বাসায় আসতেন। খুব মিস করি। সে আমার হার্ট।’

তমালিকা কর্মকার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি নাচ, গান ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সাড়ে তিন বছর বয়সে আমি প্রথম অভিনয় করি। পারিবারিকভাবে সুন্দর একটা কালচারাল পরিবেশ পেয়েছিলাম। মা তো আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাচ, গান শেখাটা পরিবার থেকেই হয়েছিল। শিশুশিল্পী হিসেবে অনেকগুলো কাজ করেছি এবং অনেক পুরস্কারও পেয়েছি।’

প্রথম নায়িকা হওয়ার স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘তখন আমার কিশোরী বয়স। “হার মানা হার” নামে একটি নাটকে জীবনে প্রথমবারের মতো নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করি। সেটা বিটিভির নাটক ছিল। নাটকের গল্পে একজন কিশোরী মেয়ে হঠাৎ একদিন নায়িকা হয়ে গেল।’ 

Tamalika Karmaker

‘কিন্তু, তার আগে অনেক নাটকে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা আমার ছিল ছোটবেলায়’, যোগ করেন তিনি। 
তমালিকা বলেন, ‘ওই নাটকের প্রযোজক ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। ওই নাটকটি দর্শকরা সাদরে গ্রহণ করেছিল। নাটকের গল্পে একজন কিশোরী মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক এক ব্যক্তির প্রেমে পড়ে।’

‘কোথাও কেউ নেই’ নামের সাড়া জাগানো নাটকে সুমা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পান তমালিকা। 

তমালিকা কর্মকার বলেন, ‘এই নাটকের প্রযোজক ছিলেন বরকতউল্লাহ আংকেল। হুমায়ূন আহমেদের লেখা কালজয়ী নাটক। এদেশে প্রথম কোনো নাটকের জন্য রাজপথে মিছিল হয়েছিল বাকের ভাইয়ের জন্য। কী দুর্দান্ত সময় পার করে এসেছি!’

Tamalika Karmaker

তমালিকা কর্মকার বলেন, ‘বরকতউল্লাহ আংকেল একদিন আমাকে ডাকেন। হুমায়ূন আহমেদ আমার কথা বলা দেখে তখন বলেছিলেন, বাচ্চাদের মতো করে কথা বলো, এভাবেই কথা বলতে হবে। তুমি যেভাবে কথা বলো, এভাবেই নাটকে কথা বলবে। তারপর শুটিং করলাম। নাটক প্রচার শুরু হলো। চারদিকে ব্যাপক সাড়া পড়ে গেল। হইচই পড়ে গেল। দারুণ ভালো লাগল।’

তমালিকা বলেন, ‘নাটকে কারাগারের কিছু দৃশ্য ছিল। কেন্দ্রীয় কারাগারে ওই দৃশ্যগুলোর শুটিং হয়েছিল। ওই নাটকের জন্য সুবর্ণা মুস্তাফা, হুমায়ূন আহমেদ, বরকতউল্লাহ আংকেল—উনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
‘সুমা চরিত্রের জন্য অনেক প্রশংসা পেয়েছি। নাটকটির জন্য দর্শকদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। এখনো নাটকটির কথা মনে হলে আমাকে নাড়া দেয়’, বলেন তিনি।

দ্য ডেইলি স্টার: অভিনয় নিয়ে কোনো আক্ষেপ কাজ করে কি?

তমালিকা কর্মকার: ‘নাটকের গোল্ডেন টাইমে অভিনয় করেছি। সেজন্য আক্ষেপ নেই।’

দ্য ডেইলি স্টার: নিজেকে স্টার মনে করেন?

তমালিকা কর্মকার: ‘নিজেকে স্টার মনে করি না। আমি একজন অভিনয়শিল্পী। সবসময় তাই মনে করি। স্টার ভাবি না। আমার আলাদা একটা ইমেজ আছে।’

তমালিকা কর্মকার প্রথম যে সিনেমায় অভিনয় করেন, তার পরিচালক ছিলেন শেখ নিয়ামত আলী। সিনেমার নাম ‘অন্য জীবন’।  

দ্য ডেইলি স্টার: অভিনয় জীবন কতটা মিস করেন?

তমালিকা কর্মকার: ‘লাইট, ক্যামেরা খুব মিস করি। যে জীবনে অর্ধেকের বেশি সময় অভিনয় করেছি, সেই জীবন ভীষণ মিস করি। অভিনয় আমার কাছে বড় কিছু।’

Tamalika Karmaker

তিনি বলেন, ‘স্কুল জীবন থেকে শিল্পচর্চা আর বই পড়া টানত। ক্লাস টেনে উঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গল্পগুচ্ছ’ পড়ছি। পারিবারিকভাবে বই পড়ার অভ্যাস ছিল।’

নাচের বিষয়ে তমালিকা কর্মকার বলেন, ‘সেই সময় নাচের এত সুযোগ ছিল না। নাচ পেশা হিসেবে নেওয়া যেত না। অভিনয়ই করতে হয়েছে। অভিনয় যা করেছি, গড গিফটেড।’

তমালিকা কর্মকার বলেন, ‘১৯৯২ সালে আমি আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হই। এরপর তো টানা ৩০ বছর অভিনয় করেছি মঞ্চে। বেশ কিছু ভালো ভালো কাজ করার সুযোগ হয়েছে মঞ্চে। ঢাকার মঞ্চে অনেক প্রশংসিত নাটকে অভিনয় করেছি।’

‘আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে অভিনয়’, যোগ করেন তিনি।
 

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাল অস্ট্রেলিয়া

বাড়তে থাকা সংঘাতের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। আল জাজিরার খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জরুরি পরিকল্পনার (কন্টিনজেন্সি প্ল্যান) অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ট্রেলীয় সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

অস্ট্রেলীয় পার্লামেন্টে অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, সরকার ওই অঞ্চলে ছয়টি ক্রাইসিস রেসপন্স টিম পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে আমাদের জরুরি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম এসবিএস নিউজ জানিয়েছে যে দুটি সামরিক উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে ক্যানবেরায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, (যুদ্ধে) অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করা যায় না।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। আজ ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবারও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। 

‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ মেসেজ পাঠিয়ে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি

চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে সন্ত্রাসীরা।

আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায় স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মুজিবুর রহমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

মুজিবুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, আমরা পাঁচ ভাই। আমাদের পরিবার এখানেই থাকে। ফজরের নামাজ পড়ে আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন বাড়ির পেছন থেকে হামলা হয়। হামলার সময় বাড়ির সামনে অস্ত্রধারী পুলিশ ছিল। এছাড়া আমাদের নিজস্ব চারজন গানম্যান ছিল। তাদের উপস্থিতিতেই এই হামলা হয়। পরে আমি ৯৯৯ ফোন করি।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা চাঁদার জন্য আগে আমাকে ফোন করতো। আমি নম্বর ব্লক করার পর আমার বড় ভাই স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করে।

মুজিবুর রহমান বলেন, একটি বিদেশি নম্বর থেকে সাজ্জাদ ও আরেকটি নম্বর থেকে ইমন পরিচয়ে ফোন দেয়। সর্বশেষ মোবাইল ফোনে একটি মেসেজে বলা হয়—‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।

তিনি বলেন, আমরা আতঙ্কে আছি। এর আগেও আমাদের বাড়িতে গুলি করা হয়েছিল।

মুজিবুর আরও বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৩৫ হাজার লোক কাজ করেন। আমাদের ব্যবসা করতে না দিলে করব না। সরকার নিরাপত্তা দিতে পারলে থাকব, নাহলে প্রাণ বাঁচাতে বিদেশে চলে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই।

উপকমিশনার হোসাইন কবির বলেন, চাঁদার জন্য ভয় দেখাতে এই হামলা করা হয়েছে৷ একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে সন্ত্রাসীরা বাড়ির পেছন দিকে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী বলে আমরা ধারণা করছি। এর আগে একইভাবে তার বাড়িতে হামলা হয়েছিল।

হোসাইন কবির বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বাড়ির পেছনে মাস্ক পরে তিনজন হেঁটে আসেন। তাদের একজনের হাতে পিস্তল, একজনের হাতে সাব মেশিনগান (এসএমজি) ও অন্যজনের হাতে শটগান ছিল। সেখান থেকে তিনজন বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তিনটি অস্ত্র থেকে প্রায় ১৫ রাউন্ডের মতো গুলি ছোড়া হয়। দূরে অস্ত্র হাতে আরেকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে তারা চলে যান।

হামলাকারীদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি ওই বাসায় গুলি করা হয়।

 

 

 

 

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকারের প্রশ্ন

সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান সংস্থাটির আর্থিক সংকট ও লোকসানের কথা জানিয়ে জ্বালানি বিভাগকে একটি চিঠি পাঠায়। ৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া এই চিঠিতে বিপিসির আর্থিক সংকটের পেছনে দুটি বিষয়কে দায়ী করা হয়। 

প্রথমত, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে নিয়মিতভাবে সেই অনুপাতে দাম সমন্বয় করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, ২০২৫ সালের জুন থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্যের শুল্কায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে নির্ধারিত ট্যারিফ মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক ও কর হিসাব করা হতো। এখন আমদানি করা পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রকৃত আমদানি মূল্য বা ইনভয়েস মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক ও কর নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি মূল্যও বাড়ে। একই সঙ্গে বাড়ে শুল্ক ও করের পরিমাণ।

প্রথম কারণটি সরকারের দিক থেকে বেশ ফলাও করে প্রচার করা হলেও দ্বিতীয় কারণটি তুলনামূলক কম আলোচিত। অথচ বিপিসির লোকসানের পেছনে শুল্কায়ন পদ্ধতির এই পরিবর্তন কম ভূমিকা রাখছে না। 

বিপিসির তথ্য অনুসারে, নতুন পদ্ধতির কারণে আগের ব্যবস্থার তুলনায় প্রতি লিটার জ্বালানি তেলে তাদের করের বোঝা প্রায় ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

যেমন ২০২৫ সালের জুনের আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত ট্যারিফ মূল্যের ভিত্তিতে প্রতি লিটার জ্বালানি তেল আমদানিতে ১৬ দশমিক ৭৬ টাকা শুল্ক-কর নেওয়া হতো। এখন ইনভয়েস মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়ন হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপিসির শুল্ক-করও বাড়ছে। সরকারের রাজস্ব আয়ও তত বাড়ছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে গত মার্চে প্রতি লিটারে শুল্ক-কর দিতে হয়েছে ৩৮ দশমিক ৬৪ টাকা। এপ্রিলে তা বেড়ে হয় ৩৮ দশমিক ৯০ টাকা। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পর জুলাইয়ে তা কমে ২৯ দশমিক ৭৪ টাকায় নামে। আগস্টে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৪৪ টাকা। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি লিটারে শুল্ক দিতে হবে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

লোকসান কমাতে বিপিসি সরকারের কাছে কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো, বিপিসির লোকসানের পুরো অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া এবং আগের শুল্কায়ন পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা। এছাড়া চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক ও কর সাময়িকভাবে মওকুফের প্রস্তাবও ছিল।

এর মধ্যে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের উপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় প্রথম প্রস্তাবটি ছিল সবচেয়ে ক্ষতিকর। কারণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব শুধু পেট্রোলপাম্পে সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়ে। পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়লে পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এবং রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যায়।

অন্যদিকে জ্বালানি তেল আমদানির উপর শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবটি ছিল সবচেয়ে কম ক্ষতিকর। বিশ্বের অনেক দেশের সরকারই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির অভিঘাত থেকে দেশের জনগণকে রক্ষা করতে সাময়িকভাবে কর কমানোর পদক্ষেপ নেয়। প্রতিবেশী ভারতও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর জ্বালানি খাতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে দুঃখজনক হলো, ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর পথটিই বেছে নিয়েছে। সরকার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরসিনোর দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। এতে ডিজেলের দাম ১১৫ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খুচরা দাম।

বর্তমান সরকারের আমলে সাত মাসে তিন দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ডিজেলের ৩৫ টাকা, কেরোসিন ৪৩ টাকা, পেট্রোল ৪৪ টাকা এবং অকটেন ৪৫ টাকা দাম বেড়েছে।

দেশে যখন এ মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ অবস্থানে নেই। যুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলে অপরিশোধিত তেলের দাম (ক্রুড অয়েল) ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে উঠেছিল। বর্তমানে তা ১০০ ডলারের আশপাশে এবং কমতির দিকে রয়েছে। তারপরও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাড়ানো হলো।

মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এরই মধ্যে বিভিন্ন খাতে দেখা যাচ্ছে। সরকার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়িয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক রুটে এর চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ইতোমধ্যে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের লোকাল বাসেও ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। পণ্য পরিবহনের ট্রাক ভাড়াও ২ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এছাড়া বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘ফুয়েল সারচার্জ’ আরোপ করেছে।

চলমান সার সংকটে বিপর্যস্ত কৃষকের ঘাড়ে বাড়তি চাপ হিসেবে যোগ হয়েছে ডিজেলের বাড়তি দাম। দেশে ব্যবহৃত মোট ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১০ লাখ ৪৪ হাজার টন কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। কৃষিতে ডিজেলের ব্যবহার শুধু সেচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, ফসল কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও কৃষিপণ্য পরিবহনের কাজেও ডিজেল লাগে।

ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে কৃষির প্রায় প্রতিটি ধাপেই খরচ বাড়তে পারে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে। সেই তুলনায় মানুষের আয় ও মজুরি সেই হারে বাড়ছে না। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। অর্থনীতির গতি থমকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন দেশের জ্বালানির দামের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, ন্যূনতম মজুরি বা মূল্যস্ফীতির হারের কোন তুলনা দেওয়া হয়নি। 

অথচ মূল্যস্ফীতির মধ্যে তুলনামূলক নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য জ্বালানির বাড়তি ব্যয় করা বেশি কঠিন। কারণ নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের বড় অংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই ব্যয় হয়। জ্বালানির দাম বাড়লে এসব পণ্যের দামও বাড়তে পারে। ফলে তাদের ওপর চাপ তুলনামূলক বেশি পড়ে।

সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে কিছু তথ্যগত অসঙ্গতিও আছে। যেমন বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা বলা হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতায় ডিজেলের দাম ছিল ৯৯ দশমিক ৮২ ভারতীয় রুপি। সেপ্টেম্বর মাসের গড় বিনিময় হার ধরে এর দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৫ টাকা ৭৭ পয়সা। অর্থাৎ বাংলাদেশের বর্তমান দামের চেয়ে প্রায় ৯ টাকা ২৩ পয়সা কম।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ডিজেলের দাম আরও কম। সেখানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৯৫ দশমিক ২০ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১৯ টাকা ৯৫ পয়সা। বাংলাদেশের বর্তমান দামের তুলনায় এটি প্রায় ১৫ টাকা কম।

অন্যদিকে নয়াদিল্লিতে ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার ৪৫৬ রুপি বা প্রায় ২৩ হাজার ২৫৪ টাকা। বাংলাদেশের পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ দিল্লির ন্যূনতম মজুরি বাংলাদেশের পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরির তুলনায় প্রায় ৮৬ শতাংশ বেশি।

গত আগস্টে ভারতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক। অর্থাৎ দিল্লিতে ন্যূনতম মজুরি বেশি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ বাংলাদেশের চেয়ে কম হওয়ার পরেও সেখানকার ডিজেলের দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম। এর কারণ হলো ভারতের সরকার শুল্ক কমানোর মাধ্যমে ডিজেলের মতো কৌশলগত জ্বালানি পণ্যের দাম জনগণের জন্য সহনীয় রেখেছে। 

বাংলাদেশের সরকারও চাইলে শুল্ক-কর কমিয়ে জনগণকে স্বস্তি দিতে পারত। কিন্তু সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বাড়তি মূল্য সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দিল। 

সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমবে। একই সময়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এতে তিন বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি বছরে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, ২০২৭ সালে ৪৪ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা এবং ২০২৮ সালে ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ, চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনা এবং জাপানের ঋণে মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফলে এখানে মূল প্রশ্নটি স্রেফ ব্যয় সাশ্রয় বা অর্থনৈতিক সংকট নয়। বরং সরকার কার স্বার্থকে কতটুকু প্রাধান্য দিচ্ছে, সেটাই প্রধান প্রশ্ন। সরকারের কাছে দেশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে জ্বালানির দাম কম রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, নাকি সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দেশের স্বার্থে নতুন নতুন কেনাকাটা ও প্রকল্প গ্রহণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এক্ষেত্রে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হলে সরকারের উচিত জ্বালানি তেল, বিশেষত ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা। ব্যয় সাশ্রয় করতে হলে সরকারের দায়িত্ব প্রথমে অনাবশ্যক ও কম জরুরি ব্যয়ের খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কাটছাঁট করা। 

জ্বালানি তেলের মতো কৌশলগত ও অপরিহার্য পণ্য বাবদ ব্যয়ে সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই এই খাতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো যাবে না। এর পরিবর্তে নতুন নতুন সরকারি কেনাকাটা ও অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির মতো অতিরিক্ত ব্যয় স্থগিত বা সীমিত করতে হবে। এসবই অর্থনৈতিক বিচারে বেশি যৌক্তিক।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন। 

 

[email protected]

 

ফোনে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করার ৬ সহজ উপায়

রাত একটা। মাত্র চোখ দুটো বন্ধ করেছেন তানভীর (ছদ্মনাম)। ঠিক তখনই ফোনটা কেঁপে উঠল—‘টুং!’ ‘জরুরি কোনো ইমেইল এল বুঝি?’—ভেবে লাফিয়ে উঠে ফোন হাতে নিলেন তিনি।

স্ক্রিন আলো করে ভেসে উঠল নোটিফিকেশন—’…বিরিয়ানিতে ২০% ছাড়!’ তারপরই আরও কয়েকটি—ফেসবুকে বন্ধুর ছবি আপলোড, শপিং অ্যাপের ছাড় আর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের একশ মেসেজ।

সারাদিন খবরের পেছনে দৌড়ে রাতে একটু শান্তিতে ঘুমানোর উপায় নেই। তানভীর মনে মনে বললেন—কাজের কাজের কিছু নয়, অনর্থক এই নোটিফিকেশনের ডিজিটাল মশাগুলো যেন সারাক্ষণ কানের কাছে ভনভন করছে।

খুব বিরক্ত হলেন তানভীর। সরাসরি ফোনের সেটিংসে গিয়ে জরুরি দু-একটা কাজের অ্যাপ ছাড়া ফেসবুক, ফুড ডেলিভারি, শপিং অ্যাপ—সবগুলোর নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিলেন। মনটা এক নিমেষে হালকা হয়ে গেল তানভীরের।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি ৯১ লাখের বেশি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে।

অধিকাংশ মানুষই জীবনের প্রায় সব ধরনের হিসাব-নিকাশ বা নজরদারির জন্য ফোনের ওপর নির্ভর করেন। আর তার জন্য দিনভর অসংখ্য অ্যালার্ট ও এসএমএস সামলাতে হয় তাকে।

তবে প্রশ্ন হলো, এসব নোটিফিকেশন ও এসএমএসের মধ্যে আসলে কতগুলো প্রয়োজনীয়?

সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাজের ইমেইল বা বন্ধুদের টেক্সটের মতো দরকারি নোটিফিকেশনের পাশাপাশি আমরা প্রচুর অহেতুক আপডেটও পেতে থাকি—যেমন নতুন ভিডিও, খাবারের ডিসকাউন্ট কোড কিংবা ইনস্টাগ্রাম লাইকের নোটিফিকেশন।

ফোনে ঘনঘন এসব ভাইব্রেশন একদিকে যেমন মনোযোগ নষ্ট করে, অন্যদিকে বিরক্তিকর ‘অ্যালার্ট ক্লান্তি’ তৈরি করে। এ অবস্থায় ফোন একদম ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে দিয়ে সব নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেওয়াটাই প্রথম উপায় মনে হতে পারে, তবে কিছু সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে আরও সচেতনভাবে দিনটিকে শান্তিময় করে তোলা সম্ভব।

আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড—যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, এই ৬টি টিপস আপনাকে নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কেবল প্রয়োজনীয় অ্যালার্টগুলো দেখতে সাহায্য করবে।

নোটিফিকেশন সেটিংস পরিবর্তন করার আগে ফোনের অ্যাপগুলোর দিকে নজর দিন এবং যেসব অ্যাপ আর ব্যবহার করা হয় না সেগুলো আনইনস্টল করে দিন। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নোটিফিকেশনের সংখ্যা কমে যাবে এবং পরবর্তীতে সেটিংস কাস্টমাইজ করা সহজ হবে।

সাধারণত অ্যাপ আইকনের ওপর চেপে ধরে রেখে (লং প্রেস) তা রিমুভ বা আনইনস্টল করা হয়।

ফোনটি যদি উপুড় করে রাখা না থাকে বা হাতের নাগালের বাইরে না থাকে, তবে স্ক্রিনের আলো জ্বলে উঠলেই চোখ সেদিকে যাবেই। তবে নোটিফিকেশন দেখানোর ধরণ বদলে দিয়ে আপনি এই মনোযোগ ভঙ্গের হার কমাতে পারেন।

আইফোনে নোটিফিকেশন দেখানোর পদ্ধতি কাস্টমাইজ করার একাধিক উপায় রয়েছে। যেমন, কোন অ্যাপের নোটিফিকেশন চান, লক স্ক্রিন বা হোম স্ক্রিনে সেগুলো কীভাবে দেখাবে, প্রিভিউ দেখাবে কি না ইত্যাদি।

সবচেয়ে সাধারণ ও সহজ উপায়ের জন্য—সেটিংস > নোটিফিকেশন > ডিসপ্লে অ্যাজ (এস) এরপর ‘কাউন্ট’ অপশনটি নির্বাচন করুন।

এতে সব নোটিফিকেশনের লম্বা তালিকার বদলে স্ক্রিনের নিচে কেবল মোট নোটিফিকেশনের সংখ্যাটি দেখাবে। আলাদাভাবে কোনো নোটিফিকেশন দেখতে চাইলে লক স্ক্রিন থেকে সোয়াইপ আপ করে নেওয়া যাবে।

অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে ফোনভেদে ধাপগুলো কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

সেটিংস অ্যাপে গিয়ে ‘লক স্ক্রিন’ লিখে সার্চ করুন।

পিক্সেল ফোনে এটি ‘ডিসপ্লে এন্ড টাচ’ এর অধীনে থাকে। আর স্যামসাং ফোনে পাবেন সেটিং > নোটিফিকেশন।

সেখানে লক স্ক্রিনে নোটিফিকেশন কীভাবে দেখাবে বা একেবারেই দেখাবে কি না তা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন।

কাজের ব্যাঘাত ঘটানো বন্ধ করার আরেকটি উপায় হলো নোটিফিকেশনগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে সারসংক্ষেপ হিসেবে পাওয়ার ব্যবস্থা করা। এর মাধ্যমে সারাদিন ধরে একটি একটি করে নোটিফিকেশন এসে বিরক্ত করার বদলে নির্দিষ্ট সময়ে সব নোটিফিকেশন একসঙ্গে পাওয়া যায়।

আইফোনে সেটিংস > নোটিফিকেশন > সিডিউলড সামারিতে গিয়ে সিডিউলড সামারি অপশনটি চালু করুন।

তারপর কোন কোন অ্যাপের নোটিফিকেশন ওই সারসংক্ষেপে যুক্ত করবেন এবং কখন তা চান, তা নির্বাচন করুন।

তালিকায় পছন্দের অ্যাপ না থাকলে সেটিংস > অ্যাপসে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপটি নির্বাচন করে অ্যালাউ নোটিফিকেশন চালু করে দিন। এই নোটিফিকেশনগুলো আপনার ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সাজানো থাকবে।

গুগল পিক্সেল ফোনে নোটিফিকেশন অরগানাইজার ফিচারটি চালু করা যায়, যা এআই ব্যবহার করে কম গুরুত্বপূর্ণ অ্যালার্টগুলোকে একসঙ্গে করে সাইলেন্ট করে দেয়।

আর স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনে সেটিংস > নোটিফিকেশন > সর্ট এন্ড ফিল্টার > সর্ট নোটিফিকেশন এ গিয়ে ‘বাই পায়োরিটি’ নির্বাচন করুন।

আপনি যদি আইফোন ব্যবহারকারী হন এবং এক ক্লিকেই সব নোটিফিকেশন ও অ্যালার্ট বন্ধ করে রাখতে চান, তবে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ ফিচারটি চালু করুন।

তবে এর পাশাপাশি কাজ, ঘুম এবং গাড়ি চালানোর সময় প্রিসেটগুলো ব্যবহার করতে পারেন, যাতে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোড চালু থাকা সত্ত্বেও কেবল নির্দিষ্ট কিছু নোটিফিকেশন আসবে।

সাধারণত প্রতিটি অপশনে নোটিফিকেশন শূন্য করা থাকে, তবে আপনি চাইলে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপ বা কন্টাক্টকে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। যেমন, ‘স্লিপ মোডে’ জরুরি প্রয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কল আসার অনুমতি দিয়ে রাখা যায়। আবার ‘ওয়ার্ক মোডে’ শুধু জিমেইলের মতো অ্যাপের নোটিফিকেশন চালু রেখে বাকি সব সাইলেন্ট রাখা সম্ভব।

এই প্রিসেটগুলোতে কাজ না হলে নিজের পছন্দ মতো ‘ফোকাস মোড’ তৈরি করে নিতে পারেন।

আইফোনের ডানপাশের ওপর থেকে নিচে সোয়াইপ করে ফোকাস মোডে ট্যাপ করুন এবং প্লাস (+) চিহ্নে চাপ দিন। সেখান থেকে আপনি নির্ধারণ করতে পারবেন কোন নোটিফিকেশন সাইলেন্ট থাকবে, কখন তা চালু হবে এবং অ্যাপ, ফোন কল বা মেসেজের ক্ষেত্রে নিয়মগুলো কী হবে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও এর নিজস্ব সংস্করণ রয়েছে।

গুগল পিক্সেল ফোনে সেটিংস > ডিজিটাল ওয়েলবিয়িংসে গিয়ে ফোকাস নির্বাচন করে সময় ও অ্যাপ নির্ধারণ করা যায়।

অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সেটিংসে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ লিখে সার্চ দিলেই এই কাস্টমাইজেশন সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিভিন্ন কোম্পানি প্রমোশনাল পুশ নোটিফিকেশন পাঠাতে ভালোবাসে, যার বেশিরভাগই অপ্রয়োজনীয় এবং কেবল অ্যাপে প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। তবে আপনি চাইলে কোন অ্যাপ থেকে নোটিফিকেশন আসবে আর কোনটিতে বন্ধ থাকবে, তা নির্ধারণ করে দিতে পারেন।

আইফোনে সেটিংস > নোটিফিকেশনে গিয়ে নিচের দিকে নোটিফিকেশন স্টাইল অংশে ফোনে থাকা সব অ্যাপের তালিকা দেখতে পাবেন। 

 

যে অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করতে চান সেটিতে ট্যাপ করে অ্যালাউ নোটিফিকেশন অপশনটি বন্ধ করে দিন।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সেটিংস > নোটিফিকেশন > অ্যাপ নোটিফিকেশনে (পিক্সেল ফোনে অল অ্যাপস) গিয়ে যে কোনো অ্যাপের নোটিফিকেশন সুবিধামতো বন্ধ করে দিতে পারেন।

একবারে সব সেটিংস বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। যদি সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হয় যে কোন অ্যাপগুলো দিয়ে শুরু করবেন, তবে ধীরে ধীরে শুরু করতে পারেন। কোনো নোটিফিকেশন আসার পর সরাসরি লক স্ক্রিন থেকেই এর সেটিংস ঠিক করা সম্ভব।

আইফোনে আসা নোটিফিকেশনের ওপর ডানদিকে সোয়াইপ করে অপশনে ট্যাপ করুন এবং ‘মিউট ফর ওয়ান আওয়ার’ অথবা ‘মিউট ফর টুডে’ বেছে নিন। এতে স্থায়ীভাবে বন্ধ না হয়ে সাময়িকভাবে সেটিংস পরিবর্তন হবে।

আর যদি পুরোপুরি বন্ধ করতে চান, তবে সেখান থেকেই ‘টার্ন অফ’ চাপুন।

গুগল পিক্সেল ফোনে ‘নোটিফিকেশন কুলডাউন’ নামে একটি ফিচার রয়েছে।

এটি যখন দেখে যে অল্প সময়ের মধ্যে অনেকগুলো নোটিফিকেশন আসছে, তখন এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশনের সাউন্ড কমিয়ে দেয় এবং অ্যালার্টগুলোকে মিনিমাইজ করে ফেলে।

আপনি চাইলে স্ক্রিনের ওপর থেকে নোটিফিকেশন মেনু নামিয়ে সেগুলো দেখে নিতে পারেন।

এটি চালু করতে সেটিংস > নোটিফিকেশনসে গিয়ে ‘জেনারেল’ ট্যাবের অধীনে থাকা ‘নোটিফিকেশন কুলডাউন’ অপশনটি অন করুন।

সামাজিক মাধ্যম দূষিত করতে ‘প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে কেউ কেউ: তথ্যমন্ত্রী

সরকার যখন একটি গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাইছে, তখন কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমকে দূষিত করতে ‘প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেছেন, পার্লামেন্টের বিষয়কে রাজপথে এনে সামাজিক মাধ্যমে যুদ্ধ বাধানোর এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সরকার ভালোভাবেই অবগত।

আজ শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই, জাতীয় সংসদকে যখন কার্যকর করতে চাই, তখন আমরা খেয়াল করছি, পার্লামেন্টের চেয়ে রাজপথই অনেকের বেশি পছন্দ। পার্লামেন্টের ছোটখাটো নাটককে রাজপথে এনে আরও বেশি বাষ্প দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা রকম যুদ্ধে লিপ্ত করার একটা প্রকল্প কেউ কেউ হাতে নিয়েছে।’

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, এ কথা মনে করার কোনো কারণ নেই, তারেক রহমানের সরকার এই ষড়যন্ত্রের গভীরতা বোঝে না। বুঝি বলেই কিন্তু আমরা দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি, আমাদের গঠনমূলক সমাধানের কথা চিন্তা করতে হয়।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘প্রতিক্রিয়াধর্মী ও উত্তেজনাকর অশ্লীল বক্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা দূষিত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে আমরা আমাদের দায়িত্ব বিঘ্নিত করতে পারি না। বিশেষ করে জনগণ যখন আমাদের রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব দিয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাজার মাইল দূর থেকে তারেক রহমান আন্দোলনের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। শুরুতেই তিনি আমাদের সাহস দেওয়ার জন্য স্লোগান তুলেছিলেন—যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ। এই স্লোগান আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।’

৫ আগস্টের পর নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত হয়েছিল দাবি করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেদিন জাতীয় নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে শুরু করলাম। কিন্তু জনগণের ভোটের ক্ষমতা জনগণকে না দেওয়ার জন্য নানা ধরনের চক্রান্ত হয়েছিল। খুব দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা লক্ষ করেছিলাম, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের বিপক্ষে কথা বলেছিলেন। সেদিনও তারেক রহমান লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের তারিখ ঠিক করেছিলেন, সেটাই ছিল একমাত্র সমাধান।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন করা কারও কারও পেশা হতে পারে, কিন্তু আমাদের জন্য তা ছিল ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার মাধ্যমে একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ।’

‘যারা সমস্যা তৈরি করবেন, আমরা তাদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু আঙ্গুল যদি বাঁকা করতে হয়, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে, জাতির প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে সরকারকে কিন্তু অবশ্যই তা করতে হবে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করব শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়গুলোর সমাধান করতে,’ যোগ করেন তিনি।

ভাসমান হাটের জনপদ: পেয়ারা চাষের পাশাপাশি জনপ্রিয় হচ্ছে আমড়াও

পিরোজপুরের নেছারাবাদে পেয়ারার পাশাপাশি এখন আমড়াও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নে গ্রামের পর গ্রামজুড়ে বিস্তৃত বাগানগুলো যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে বড় এক অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ।

বর্ষা শুরু হলে এখানকার খালগুলোতে প্রতিদিন ভোরে নৌকায় বসে ঐতিহ্যবাহী ফলের হাট। মূলত এই পেয়ারা ও আমড়া চাষকে কেন্দ্র করেই সচল থাকে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা আর অর্থনীতির চাকা।

আগে এই উপজেলার নাম ছিল স্বরূপকাঠি, যা পরবর্তীতে নেছারাবাদ করা হয়। নেছারাবাদে পেয়ারা চাষের ইতিহাস প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো। জনশ্রুতি রয়েছে, এই অঞ্চলের ভদ্রাঙ্ক গ্রামের পূর্ণ মন্ডল নামে এক ব্যক্তি ভারতের বিহার রাজ্যের গয়া জেলায় ভ্রমণে গিয়ে ফেরার সময় কিছু পেয়ারার বীজ সাথে করে নিয়ে আসেন। নিজ গ্রামে সেই বীজ বপন করার মাধ্যমেই মূলত এই এলাকায় পেয়ারা চাষের সূচনা হয়।

অল্প সময়েই ভালো ফলন হওয়ায় পেয়ারা চাষ দ্রুত আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি আটঘর কুড়িয়ানা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী জলাবাড়ি ইউনিয়ন এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ও নবগ্রাম ইউনিয়নেও বিস্তৃত হয়েছে। নিচু জলাভূমি হওয়ায় এই এলাকার কৃষকেরা ‘সর্জান’ পদ্ধতিতে সফলভাবে পেয়ারা উৎপাদন করে চলেছেন।

নিচু এলাকায় কৃষকেরা অন্যান্য ফসল ফলাতে ব্যর্থ হলেও সেখানে খুব ভালোভাবেই উৎপাদিত হচ্ছে সুমিষ্ট এই মৌসুমি ফল। ফলে এক সময়ের পতিত জলাভূমি পরিণত হয়েছে অন্যতম ফল উৎপাদনকারী এলাকায়। এই অঞ্চলে উৎপাদিত পেয়ারার বিশেষ চাহিদা রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বর্তমানে এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পেয়ারা চাষ, বাগান পরিচর্যা, পেয়ারা ক্রয়-বিক্রয়, ফল সংগ্রহ কিংবা পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। খুব সকাল থেকে শুরু করে চার-পাঁচ ঘণ্টা ধরে ছোট ছোট নৌকায় বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহের পর সেগুলো স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা ভাসমান হাটে নিয়ে বিক্রি করেন চাষিরা।

নেছারাবাদ ও ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নেছারাবাদ উপজেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৩৮৪ জন কৃষক প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ করছেন। এ ছাড়া ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ২৯৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা উৎপাদন করছেন প্রায় তিন হাজার কৃষক। গত বছর হেক্টর প্রতি পেয়ারার গড় উৎপাদন ছিল প্রায় সাড়ে নয় টন।

গত এক দশকে পেয়ারার পাশাপাশি আমড়া চাষ এ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মৌসুমি এই ফলের ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার কারণে প্রতিবছরই চাষ বাড়ছে। ফলে পেয়ারার পাশাপাশি আমড়া চাষও এই দুই উপজেলার অর্থনীতিতে জায়গা করে নিচ্ছে।

বর্তমানে নেছারাবাদ উপজেলায় ২৯৫ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৩৮৯ জন কৃষক এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১৬০ হেক্টর জমিতে ৯০০ জন কৃষক আমড়া উৎপাদন করছেন। গত বছর দুই উপজেলায় হেক্টর প্রতি আমড়ার গড় উৎপাদন ছিল ১০ টন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা বীজ থেকেই তারা পেয়ারার চারা উৎপাদন করেন। প্রতি বিঘা জমিতে তারা ১০০টি চারা রোপণ করতে পারেন। দেড় বছর বয়সী চারাগুলো রোপণের পাঁচ বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে ফলন দিলেও পেয়ারা গাছ খুব কম জায়গা দখল করে। এ ছাড়া জলমগ্ন জমিতেও অনায়াসেই টিকে থাকতে পারে পেয়ারা গাছ।

তবে আমড়া চাষের পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। আমড়া গাছ বেশি জায়গা দখল করে, তাই পেয়ারা গাছের তুলনায় কম ঘনত্বে এর চারা রোপণ করতে হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় মাস বয়সী সর্বোচ্চ ৫০টি চারা রোপণ করা যায়, যা পরবর্তী তিন বছরের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে। এরপর টানা সর্বোচ্চ ৫০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। একটি পরিপক্ব গাছ থেকে বছরে ১০-১২ মণ আমড়া পাওয়া সম্ভব।

আটঘর গ্রামের রথিন মিস্ত্রি জানান, তাদের গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার কোনো না কোনোভাবে পেয়ারা ও আমড়া চাষের সঙ্গে যুক্ত। ওই এলাকার মানুষের কাছে এই দুটি ফলই উপার্জনের প্রধান উৎস।

প্রবীণ কৃষক মাখন লাল মজুমদার পুরোনো স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রায় পাঁচ দশক আগে তারা সংখ্যা গুনে পেয়ারা বিক্রি করতেন; কিন্তু বর্তমানে পেয়ারা ওজন করে বিক্রি হয়। তিনি আরও জানান, তখন পেয়ারার উৎপাদন প্রচুর থাকলেও দাম ছিল খুবই কম। এমনকি ক্রেতার অভাবে মাঝেমধ্যে অবিক্রীত পেয়ারা খালের পানিতে ভাসিয়ে দিতে হতো।

তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় চাষিদের এখন আর আগের মতো কেবল জলপথের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে না। উন্নত সড়ক ব্যবস্থার কারণে বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে এখানকার পেয়ারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে, পেয়ারা চাষের দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকলেও অধিক লাভের আশায় অনেক কৃষকই এখন পেয়ারা থেকে আমড়া চাষের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় চাষি পলাশ দেউড়ী জানান, এক বিঘা জমি থেকে বছরে যেখানে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করা যায়, সেখানে একই জমি থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আমড়া বিক্রি করা সম্ভব।

মূল্য ও সংরক্ষণের দিক থেকেও আমড়া বেশি সুবিধাজনক। এক মণ পেয়ারা সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও ভরা মৌসুমে এর দাম  কমে যায়। এ ছাড়া পেয়ারা দ্রুত পচনশীল; পরিপক্ব হওয়ার পর দ্রুত বাগান থেকে সংগ্রহ করা না হলে তা ঝরে পড়ে এবং সংগ্রহের পর খুব বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না।

এর বিপরীতে, এক মণ আমড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয় এবং আমড়া পরিপক্ব হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় গাছে রেখে সুবিধামতো বিক্রি করা যায়। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে পেয়ারার ফলন কিছুটা কমেছে, যার ধারাবাহিকতা এ বছরও বজায় রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, পেয়ারা বাগানের আগাছা দমনে কোদাল ও নিড়ানির পরিবর্তে অনেক চাষি এখন রাসায়নিক আগাছানাশক ব্যবহার করছেন। মূলত এই রাসায়নিকের প্রভাবেই পেয়ারার উৎপাদন কমে গেছে বলে তারা মনে করছেন।

তবে অনেক কৃষক মনে করছেন, এই বছর পেয়ারার দামও ভালো। ভালো দাম থাকলে পেয়ারা চাষে আগ্রহ কমবে না। বরং এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে পেয়ারা ও আমড়া সমানতালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, পেয়ারার তুলনায় আমড়া চাষ কয়েক গুণ বেশি লাভজনক হওয়ায় এ ফলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে চাষিরা পেয়ারারও বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন।

বাগানে আগাছা দমনে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ব্যবহারের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ সবসময়ই কৃষকদের কোদাল বা অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতির সাহায্যে নিজ হাতে আগাছা পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

গোল, পাস, নির্ভুলতা—পরিসংখ্যানে বিশ্বকাপের সেরা আর্জেন্টিনা

চলতি বিশ্বকাপে প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পরই নিশ্চিত হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে পারফরম্যান্সে ওঠানামা থাকলেও লিওনেল স্কালোনির দলের একটি পরিচয় অটুট রয়েছে, বল দখলে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ। আর সেই আধিপত্যই ফুটে উঠেছে ফিফার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে।

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে প্রকাশিত টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকে সবার ওপরে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে আর্জেন্টিনা করেছে ১৪ গোল, যা ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এই ১৪ গোলের মধ্যে ৮টিই এসেছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির পা থেকে, যা এবারের বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ।

শুধু গোল নয়, পাসিংয়েও আধিপত্য স্কালোনির দলের। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা সফলভাবে ৩,৪৪৬টি পাস সম্পন্ন করেছে, যা সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন (৩,৩৮২) এবং তৃতীয় মরক্কো (৩,১২৬)।

পাসিংয়ের নির্ভুলতার দিক থেকেও শীর্ষে আর্জেন্টিনা। তাদের সফল পাসের হার ৯১ শতাংশ, যা স্পেনের সমান। ৮৯ শতাংশ সফল পাস নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো।

এই পরিসংখ্যান স্কালোনির বল দখলভিত্তিক ফুটবল দর্শনেরই প্রতিফলন। প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি সময় বল নিজেদের দখলে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তোলাই আর্জেন্টিনার অন্যতম শক্তি। সেই কৌশলই তাদের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

গোলের তালিকাতেও প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের ১৪ গোলের পর রয়েছে বেলজিয়াম (১৩) এবং নরওয়ে (১২)। কোয়ার্টার ফাইনালে এই দলগুলোর সামনে নিজেদের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে পরিসংখ্যান যতই আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলুক, কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় মনে করিয়ে দিচ্ছে, এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। শিরোপা ধরে রাখতে চাইলে শুধু সংখ্যায় নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও আরও নিখুঁত হতে হবে মেসিদের।
 

যে কারণে আর কখনোই অভিনয়ে ফিরবেন না শান্তা ইসলাম

শান্তা ইসলাম টেলিভিশন নাটকের দর্শকপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। একটা সময় অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। আরণ্যক নাট্যদলের ‘ময়ুর সিংহাসন’, ‘জয়জয়ন্তী’, ‘আগুনমুখা’ নাটকে অভিনয় করে মঞ্চেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। 

কিন্তু, টানা ২১ বছর ধরে অভিনয় থেকে দূরে আছেন শান্তা ইসলাম। আর কখনো অভিনয় জগতে ফিরবেন না—এমনটাই তার সিদ্ধান্ত। 

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শান্তা ইসলাম বলেছেন অভিনয়ে না ফেরার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলো ।

শান্তা ইসলাম বলেন, ‘সর্বশেষ ২১ বছর আগে একটি নাটকে অভিনয় করি। ওই নাটকের নামটাও এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। সে সময় আমার একমাত্র ছেলে সৌমিক ক্লাস ফাইভে পড়ে। আমি ঢাকা থেকে চলে গেছি সিলেটে মায়ের কাছে। স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব হয়েছে। পারিবারিকভাবে আমরা দুজনে বিচ্ছিন্ন। হঠাৎ একদিন সৌমিক বলল, মা আমি কী ক্লাস সিক্সে ভর্তি হব না? আমাকে কথাটা নাড়া দেয়। আমি বারবার ভাবতে শুরু করি। মাকে বলি, আমাকে বিমানের টিকিট কেটে দাও। আমি ঢাকায় যাব, সৌমিককে স্কুলে ভর্তি করাব।’

সে সময়ের স্মৃতি বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মা টিকিট কেটে দেওয়ার পর সৌমিককে নিয়ে ঢাকায় আসি। উড়োজাহাজে বসে সেদিন চোখের পানি পড়ছিল। খুব কাঁদছিলাম। কিন্তু, ঢাকায় এসে থাকব কোথায়? সিলেট থেকেই আমার ছেলের ক্লাসমেটের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা একটি বাসার সন্ধান দেন। এরপর চলে আসি। জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়।’

‘ছেলেকে ভর্তি করালাম। সে সময় ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক ব্যস্ত ছিলাম। শুটিং শেষ করতে করতে রাত হয়ে যেত প্রায়ই। ভাবলাম, নিয়মিত এত রাত করে বাসায় ফিরলে সন্তানের কী হবে? তাকে সময় দেবে কে? সিদ্ধান্ত নিলাম অভিনয় করব না। আগে সন্তান মানুষ হোক। ক্যারিয়ারের চেয়ে জীবনের অংশ আমার সন্তানের মানুষ হওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিলাম। যে নাটকগুলোর কাজ বাকি ছিল দ্রুত শুটিং শেষ করে দিই। এরপর অভিনয় থেকে সরে আসি। চিরচেনা লাইট, অ্যাকশন, ক্যামেরা শব্দগুলো থেকে সরে যাই।’

একমাত্র ছেলেকে নিয়ে সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে শান্তা ইসলাম বলেন, ‘তখন আমার সংগ্রাম চলছে।ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে যেতাম। এমনও হয়েছে রিকশায় না গিয়ে হেঁটে হেঁটে গিয়েছি টাকা বাঁচানোর জন্য। দশ টাকা রিকশা ভাড়া বাঁচাতাম হেঁটে গিয়ে। কয়েক মাস এমন হয়েছে। সৌমিককে বুঝতে দিতাম না। ও জানত না আমি হেঁটে হেঁটে ওর স্কুলে যাই।’

সে সময় একদিন পাবলিক বাসে ওঠার অভিজ্ঞতা শোনান শান্তা ইসলাম। বলেন, ‘উত্তরা থেকে একদিন মগবাজারে যাব। তখন নতুন ট্যাক্সি নেমেছে। আমি একটা বাসে উঠে পড়ি। কিন্তু, একটু পর দেখি বাসের মধ্যে ফিসফাস হচ্ছে—শান্তা ইসলাম বাসে! আমি একটু পর নেমে পড়ি। বুঝতে পারি, আমার পক্ষে বাসে যাতায়াত করা সম্ভব না।’

‘তখন আমার পায়ের নিচে মাটি ছিল না। পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন হই স্বামীর সঙ্গে। আমার মা একদিন বলেছিলেন, মনে কর তোর সৌমিকের কেউ নেই। তুই আছিস শুধু। তখনই বড় একটা শক্তি পাই। ওপর থেকে কেউ যেন শক্তিটা জোগান দেয়। আমি এগিয়ে যাবার পণ করি এবং ভাবি সৌমিককে আমারই মানুষ করতেই হবে। সেজন্য প্রচুর জনপ্রিয় থাকার পরও ক্যারিয়ারের কথা ভাবিনি’, যোগ করেন তিনি।’ 

তিনি বলেন, ‘সেই সময় আমার ছেলে স্কলাস্টিকায় পড়ত। ওর স্কুলের কাছাকাছি বাসা নিই। এরপর সন্তানকে মানুষ করার জন্য এভাবেই জীবন এগিয়ে যায়। অভিনয় না করে চিন্তা করি অন্য কী করা যায়। আরটিভিতে টক শো করার বিষয়টি একসময় চূড়ান্ত হলো। আমার পরিচালনা, উপস্থাপনা ও পরিকল্পনায় টক শো করি। ছেলেকে সময় দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে কাজগুলো করি। তখন অবশ্য সৌমিক বেশ বড় হয়ে গেছে’।

শান্তা ইসলাম বলেন, ‘একসময় আমার ছেলে এ লেভেল এবং ও লেভেলে ভালো রেজাল্ট করে কানাডায় পড়তে যায়। পুরো স্কলারশিপ পায় সে। এখন তো চাকরি করছে। বিয়ে করেছে। আমার একটা নাতনিও আছে। ছেলের সুখ আমাকে সুখী করে। ওর জন্য এমন একটা জীবনই চেয়েছিলাম।’

দ্য ডেইলি স্টার: কিন্তু, আপনার সন্তান বড় হওয়ার পর তো আবার অভিনয়ে ফিরতে পারতেন?’

শান্তা ইসলাম: কোনো একদিন মা একটা কাজ দেখে বলেছিলেন, এসব চরিত্র না করলে হয় না? মায়ের কথা আমাকে ধাক্কা দেয়। আমি সিদ্ধান্ত নিই অভিনয় করব না।

প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠু তার সিনেমায় অভিনয় করতে বলেছিলেন অনেক দিন আগে। 

সে কথা মনে করে শান্তা ইসলাম বলেন, ‘মিঠু ভাই আমাকে তার সিনেমায় অভিনয় করার জন্য বলেছিলেন অনেক বছর আগে। আমি বলেছিলাম তিন দিন সময় দিন। তিন দিন একা একা ভাবি। ভাবার পর মনে হলো, না, আর অভিনয় করব না। তারপর সেটা তাকে জানিয়ে দেই।’ 

দ্য ডেইলি স্টার: এখন তো চাইলে অভিনয়ে ফিরতে পারেন?

শান্তা ইসলাম: আর ফেরা হবে না অভিনয়ে। অভিনয়ের প্রস্তাব যে আসে না, তা কিন্তু না। অনেক আসে। কেউ কেউ বলেন, আপনাকে কেন্দ্র করে গল্প লেখা হবে, তবুও অভিনয় করেন। মন টানে না। দেখুন, আমার জীবন নিয়ে আমি স্যাটিসফায়েড। এই জীবনে ভীষণ খুশি আমি। ভীষণ ভাবে সুখী।’

দ্য ডেইলি স্টার: কোনো ধরনের আফসোস কাজ করে কি?’

শান্তা ইসলাম: আমার সুন্দর সময়টা মা দেখে যেতে পারেননি, মাকে কাছে পাইনি। মা বিদায় নিয়েছেন। এই আফসোসটা আছে।’