33.8 C
Dhaka
Home Blog

বিটিভির বিশ্বকাপ চুক্তি অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা

বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সুখবর। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রস্তাবে অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি।

শনিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ২৫তম বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবে বিশ্বকাপের সর্বমাধ্যম সম্প্রচার স্বত্ব সরাসরি ফিফার কাছ থেকে কেনার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এই স্বত্ব কিনতে ব্যয় হবে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। সম্প্রচার স্বত্বের একমাত্র মালিক হওয়ায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ফিফাকে নির্বাচন করা হয়েছে।

এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি সারা দেশে ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ এবং সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারবে। ফলে দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী বিনামূল্যে বিশ্বকাপ উপভোগের সুযোগ পাবেন।

আগামী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এটি হবে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে অংশ নেবে ৪৮টি দল। ফলে ম্যাচের সংখ্যা এবং টুর্নামেন্টের ব্যাপ্তিও আগের যেকোনো আসরের তুলনায় বড় হতে যাচ্ছে।

 

মোবাইল সেবার মান যাচাইয়ে খরচ ২১ কোটি, চার বছরেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন নেই

দেশের মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দিচ্ছে কি না, সেটি পর্যবেক্ষণে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম কিনেছিল টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। খরচ হয়েছিল ১৫ লাখ ইউরো (বর্তমান হিসাবে ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা)। চার বছর পেরিয়ে গেলেও অপারেটরদের সেবার মান নিয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেনি তারা।

কল ড্রপ, ভয়েস কোয়ালিটি, ইন্টারনেটের গতি ও নেটওয়ার্ক কভারেজ পরিমাপে জার্মানির তৈরি এই সিস্টেম কেনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে এটি উদ্বোধন করা হয়। তখন সংস্থাটি বলেছিল, গ্রাহকদের আরও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে এটি সাহায্য করবে।

সারা দেশে বেশ কয়েকবার ‘ড্রাইভ টেস্ট’ বা মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালালেও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল দিতে পারেনি কমিশন। নথিপত্র বলছে, বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত তিনটি বড় পরীক্ষা চালিয়েছে বিটিআরসি। তবে তাদের পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের দেওয়া তথ্যের বড় ধরনের পার্থক্য আছে। এ নিয়ে অপারেটরদের আপত্তি আছে।

বিটিআরসি এখন বলছে, পরীক্ষা পদ্ধতির মাপকাঠি ঠিক করতে তারা অপারেটরদের সঙ্গে কাজ করছে। এরপর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রাহকদের মানসম্মত মোবাইল সেবা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়মিত এ ধরনের পরীক্ষা করে। এসব পরীক্ষায় মূলত কল ড্রপ, ভয়েস কোয়ালিটি, ইন্টারনেটের গতি এবং নেটওয়ার্ক কভারেজ যাচাই করা হয়। এর মাধ্যমে সেবার মান যাচাইয়ের পাশাপাশি অপারেটরদের কোথায় নেটওয়ার্ক উন্নত করা প্রয়োজন, তা–ও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

নতুন এই সিস্টেম কেনার আগে বিটিআরসি বছরে কয়েকবার তাদের ওয়েবসাইটে কল ড্রপসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করত।

বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটরদের তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি স্বীকার করেছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, আমরা একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে চাই, যাতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া যায়।

নতুন সিস্টেম ব্যবহার করে প্রথম বড় পরীক্ষাটি চালানো হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ জুনের মধ্যে। ঢাকা সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও সাভারে এই পরীক্ষা চলে। এতে সেবার মানের ৪০টি সূচক যাচাই করা হয়।

দেশে মোট মোবাইল গ্রাহক ১৮ কোটি ৬০ লাখ। এর মধ্যে ৫ কোটি ৭৪ লাখ গ্রাহক রয়েছে রবির। পরীক্ষায় রবি পাঁচটি সূচকে অকৃতকার্য হয়। ৮ কোটি ৫৫ লাখ গ্রাহক থাকা গ্রামীণফোন অকৃতকার্য হয় ছয়টি সূচকে। অন্যদিকে বাংলালিংক ১৪টি এবং টেলিটক ২৬টি সূচকে ব্যর্থ হয়।

টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। ইন্টারনেট সেবার মানদণ্ড পূরণে একমাত্র টেলিটকই ব্যর্থ হয়।

ঢাকায় কল ড্রপের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে বাংলালিংক। কেরানীগঞ্জ ও সাভারে কল সেটআপ টাইম (সংযোগের সময়) এবং সেবার মান নিয়ে সব অপারেটরই ভুগেছে। টু-জি এবং ফোর-জি ভয়েস সেবার সূচকেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।

ওই সময় রবি ও বাংলালিংক দাবি করে, বিটিআরসির যন্ত্রপাতির ফলাফলের সঙ্গে তাদের নিজস্ব পরীক্ষার ফলাফলে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মাধ্যমে তারা এ বিষয়ে আপত্তি জানায়।

তখন এক বিবৃতিতে রবি বলেছিল, ড্রাইভ টেস্টের ফলাফলের বিষয়ে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব বলে আশাবাদী।

গ্রামীণফোনের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, অপারেটরদের ফলাফল এবং বিটিআরসির ফলাফলের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। তাই সূচক গণনার একটি সমন্বিত পদ্ধতি বের করতে অ্যামটব, বিটিআরসি এবং ড্রাইভ টেস্ট ভেন্ডররা একসঙ্গে কাজ করছে।

তবে পরে আরও দুই দফা পরীক্ষার পরও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অপারেটররা কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। গত বছরের শেষের দিকে এক পরীক্ষায় বিটিআরসির পরিদর্শকেরা দেখেন, ফোর-জি কভারেজ নিয়ে অপারেটরদের দাবির সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকৃত সেবার মানের বড় ব্যবধান রয়েছে।

টাঙ্গাইল, বগুড়া, গাইবান্ধা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুরের শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওই পরীক্ষা চলে। পরিদর্শক দল দেখতে পায়, এসব এলাকায় ফোর-জি সিগন্যাল দুর্বল বা একেবারেই নেই। এ ছাড়া ঘন ঘন কল ড্রপ, ঘরের ভেতরে দুর্বল নেটওয়ার্ক এবং লোডশেডিংয়ের সময় নেটওয়ার্ক না থাকার প্রমাণও পায় তারা।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ ও ১৬ এপ্রিল চালানো পরীক্ষায় গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক—সবার ক্ষেত্রেই কল ড্রপের হার পাওয়া যায় ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেওয়া সীমার চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে নেটওয়ার্কের মানের দিক থেকে বরাবরই পিছিয়ে থাকা টেলিটকের কল ড্রপ পাওয়া যায় শূন্য শতাংশ।

একই রকম কল ড্রপের ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সংখ্যাগুলো কেন হুবহু এমন হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত বছরের শেষে এবং সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের কথা হয় বেশ কয়েকজন মোবাইল ব্যবহারকারীর সঙ্গে। তারা জানান, কল ড্রপ, ঘরের ভেতরে দুর্বল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেটে ধীরগতি এখন নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকেরা জানান, ঘরের ভেতরে তারা প্রায়ই নেটওয়ার্ক পান না।

ঢাকার বাসিন্দা মো. নাবিদ বলেন, ঘন ঘন কল ড্রপ হয়। তিনি বলেন, ‘এর ওপর কখনো কখনো অপর প্রান্তের কথা শোনা গেলেও আমার কথা শোনে না। এর বিপরীত ঘটনাও ঘটে। অনেক সময় দুজনই হ্যালো হ্যালো করতে থাকি, কিন্তু কেউ কারও কথা শুনতে পাই না।’

সার্কুলার রোডের বাসিন্দা নুমান আহমেদ রবি ও বাংলালিংক ব্যবহার করেন। তিনি জানান, ঘরের ভেতরে কোনো নেটওয়ার্কই ঠিকমতো কাজ করে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শারমিন আহমেদ বলেন, প্রতি সপ্তাহে তার দুই-তিনটি কল ড্রপ হয়। তিনি বলেন, বেশির ভাগ সময় আমি কথা বলার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করি। সেটাও সব সময় ঠিকমতো কাজ করে না।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বলেন, পরিমাপ পদ্ধতি নিয়ে শিল্প খাত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে একটি স্পষ্ট ও প্রমিত নিয়ম চালুর চেষ্টা চলছে। যেহেতু মতপার্থক্য রয়েছে এবং ফলাফল এখনো চূড়ান্ত নয়, তাই এই মুহূর্তে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

শিগগিরই ওয়েবসাইটে ড্রাইভ টেস্টের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, সিস্টেম চালুর চার বছর পরও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারাটা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার অভাবকেই তুলে ধরে।

তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় এসব সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। তাই এগুলো কেন সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ: ফজলুর রহমান

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না, শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ বাংলায় শুধু বেলি-চামেলি আর জুঁই ফুল ফোটে না, রক্ত জবাও ফোটে। এ দেশে শুধু কোকিল ডাকে না, এদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও থাকে।’ 

‘যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, মুক্তিযোদ্ধা জিতবে, রাজাকার কোনোদিন এই দেশে জয়লাভ করতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্যের পরে তারা বলবে আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই! বিরোধী দলে যারা বসে আছেন, অনেকেই আমাকে “ফজা পাগলা” বলে ডাকে, তারা নাকি সভ্য।’

‘বিরোধী দলের নেতা বলেছেন উনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক, শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ।’ 

‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজন জামায়াত করতে পারে না। আর শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ,’ বলেন তিনি। 

ফজলুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে কী হলো আপনারা জানেন। ইউনূস সরকার ছিল। আমি শিল্পকলার সামনে থাকি। সেখানে একটা গান হতে পারেনি, নাটক হতে পারেনি, লালন গীতি হতে পারেনি। সবকিছু কালো শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছিল।’ 

‘তারা বলেছিল কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। সাতচল্লিশ হয়েছে, আর চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে। আর গন্ডগোল হয়েছে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এখনো কিন্তু ফজলুর রহমানদের মতো মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত আছে। এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ সত্য, ৩০ লাখ লোক জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য,’ বলেন তিনি। 

এই সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনে মব হয়েছে আমাকে হত্যা করার জন্য। সেদিনের জন্য আমি পুলিশকে ধন্যবাদ দেবো, মিলিটারিকে ধন্যবাদ দেবো। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ির সামনে তারা গিয়ে উপস্থিত হয়েছে আমাকে বাঁচানোর জন্য।’ 

‘অনেক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে ইলেকশন হয়েছে’ মন্তব্য করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘ইলেকশনে তারা কী করেছে, আজকে যারা আমার ডানদিকে বসে আছে তারা কী করেছে? আমরা তো ভাই ছিলাম। তারা যা করেছে সেটা কল্পনা করার মতো না। যত চক্রান্ত করেছে, সেই চক্রান্তের ভেতর দিয়ে যখন তারা প্রচার করতে শুরু করল যে, তারা দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি পেয়ে পাশ করবে। আমি হতভাগা ফজলুর রহমান বলেছিলাম জামায়াত জোট যদি মেজরিটি পায়, তাহলে আমি বিষ খাব। এই কথাটা আমি বলেছি। কথা সত্য তারা কোনোদিন যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারে নাই, কারণ তাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ চায় নাই।’

‘মানুষ আবার হলে যাচ্ছে, সিনেমা দেখছে, এটা শিল্পের জন্য ভালো’

বাংলা নাটকের প্রাণ পুরুষ মামুনুর রশীদ। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে নাটক লেখা, পরিচালনা ও অভিনয়ের সঙ্গ যুক্ত আছেন। তার নাটকে মাটি ও মানুষের গল্প উঠে এসেছে। দেশ-বিদেশের বহু মঞ্চে তিনি নাটক উপস্থাপন করেছেন। ১৯৭২ সালে শহীদ মুনীর চৌধুরীর কবর নাটক দিয়ে প্রথমবার পরিচালনায় নাম লেখান। এখনো লিখছেন, অভিনয় করছেন ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেন মামুনুর রশীদ।

এই মুহূর্তে শিল্প নিয়ে আপনার ভাবনা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘একটা মুক্ত চিন্তার পরিবেশ তৈরি করা। সংস্কৃতিকর্মীদের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ দরকার। সৃজনশীলদের নেতৃত্বে নাটক, আবৃত্তি, চারুকলা, সংগীতের বিভিন্ন সংগঠন গড়ে ওঠা উচিত। কোনো দলীয় চিন্তা পরিহার করে স্বাধীন চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো দরকার।

তিনি আরও বলেন, ফর্ম ও কনটেন্টের ব্যাপারে অবশ্যই কনটেন্ট আন্তর্জাতিক হতে পারে। ফর্ম বা আঙ্গিকটা জাতীয় হতে হবে। লালন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদসহ যত কবি ও লেখক কালজয়ী হয়েছেন, তারাও জাতীয় আঙ্গিক ব্যবহার করেছেন।

‘মঙ্গল শব্দটা মঙ্গল কাব্য, মঙ্গল চিন্তা, অসময়ের মধ্যে জেগে উঠে এসেছে। মানুষের মঙ্গল কামনা করা—এটি সব মানুষের মধ্যে প্রচলিত। মানুষ মানুষের জন্য মঙ্গল কামনা করেন। এখন মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়েও কথা হচ্ছে। জনগণের সংস্কৃতি চিন্তাকে উপেক্ষা করা খুব অনভিপ্রেত,’ বলেন তিনি।

বর্তমানে থিয়েটারের অবস্থা নিয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘থিয়েটার স্থবির হয়ে ছিল। দেশ নাটকের প্রদর্শনী মববাজির কারণে বন্ধ ছিল। তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল, আমরা সমাবেশ করেছি। এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। দর্শক নাটক দেখতে আসছে। নতুন নতুন নাটক আসছে। আশা করছি মঞ্চের অবস্থা ভালো হবে।’

বর্তমান সরকারের কাছে শিল্পসাহিত্য নিয়ে চাওয়া ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যেসব ক্লাসিক শিল্প আছে তা সংরক্ষণ করতে হবে। লোকসংস্কৃতি অবলুপ্তির পথে, রক্ষা করা দরকার। থিয়েটারে টিকিট বিক্রির যে টাকা আসে তা সামান্য, এখানে অনুদান দরকার। অবকাঠামো করা দরকার। রাজধানীর মিরপুরে যদি এক কোটি মানুষ বসবাস করেন, তাদের জন্য একটি থিয়েটারও নেই, খুব দরকার মিরপুরে থিয়েটারের। রাজধানীর উত্তরা, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিতে থিয়েটার নেই, এইসব জায়গায় থিয়েটার দরকার।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সেভাবে পাঠাগার নেই, থিয়েটার নেই, সিনেমা হল নেই। সরকারের সুদৃষ্টি দরকার। প্রত্যেকটি উন্নত দেশের লাইব্রেরি আছে। উন্নত দেশের বেশিরভাগ জায়গায় লাইব্রেরির ভেতরে মঞ্চ আছে। নিউইয়র্ক, ডালাসে অনেক দেখেছি। এগুলো থাকলে তরুণরা ভালো থাকবে, পজিটিভ চিন্তা করবে।’

নিজের অপূর্ণতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এখনো মনে করি, ভালো নাটক লিখতে পারিনি, ভালো অভিনয় করতে পারিনি। সবসময় এসবই মনে হয়। আর মনে হয় বলেই নতুন নতুন সৃষ্টির নেশায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি।’

ঈদের সিনেমা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মানুষ আবার হলে যেতে শুরু করেছে। পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখছে। এটা সিনেমা শিল্পের জন্য ভালো উদাহরণ।’

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে মঞ্চ নাটকের তুলনা নিয়ে তার ভাষ্য, ‘আমাদের মঞ্চ নাটক অনেক দূর এগিয়েছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গে থিয়েটার বেশি। পুরো পশ্চিমবঙ্গজুড়ে, বিশেষ করে শহরে এবং গ্রামেও থিয়েটার আছে। সেখানে নিয়মিত নাটক হচ্ছে। নিয়মিত অভিনয় করার সুযোগ পাচ্ছে।’

কলকাতায় মঞ্চ নাটক নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, বহু দেশে মঞ্চ নাটক নিয়ে গিয়েছি। তবে, পশ্চিমবঙ্গের যে কোন শহরে আমাদের ‘আরণ্যক নাট্যদল’-এর নাম বললে ওখানকার মানুষ চিনবেন। আমরা অনেকবার নাটক করেছি। আমাদের নাটক প্রশংসিত হয়েছে। কলকাতায় আমার নির্দেশিত নাটকের ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছি।

তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী হওয়ার বিষয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মানুষকে পড়তে হবে। সুস্থ জীবন নিয়ে চলতে হলে বই পড়তে হবে। মানুষের জীবনে বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক। এটা নিত্য দিনের কাজ।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে যা করতে পারে ইরান

ইরানের ওপর আজ শনিবার ভোরে যৌথ সামরিক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ‘এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘লায়নস রোর’নামে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। এর বিপরীতে পাল্টা আঘাত হানছে ইরানও।

ইরানের গণমাধ্যম ইরনাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে খামেনি সরকার, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীসহ (আইআরজিসি) দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি) এ পর্যন্ত কী ধরনের জবাব দিচ্ছে ও দিতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পরই পাল্টা হামলা শুরু করেছে তেহরান। 

বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’। 

ইতোমধ্যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ৫টি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। 

আইআরজিসি জানায়, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছে।

পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্র লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে ইরান। 

আরও যা করতে পারে ইরান

বার্তাসংস্থা এপি জানায়, গত বছর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে ইরান। তবে এ যুদ্ধ থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছে এবং গত ৮ মাসে ক্ষতি কাটিয়ে পাল্টা হামলার প্রস্তুতিও নিয়েছে দেশটি।

ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী ইরানের কাছে এখনো শত শত মাঝারি থেকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাও কম নয়।

ফিনান্সিয়াল টাইমস জানায়, গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ৫০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান। এরপর আবার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুনর্গঠন করেছে তারা।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সম্মিলিত মজুত এখন হাজারের ঘরে, যা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্রযুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা রাখে।

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিট্রিনোভিচ এপিকে বলেন, ‘ইরানের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার প্রায় অক্ষত রয়েছে। ফলে ইসরায়েলের ভেতরে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সমুদ্রে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত কঠিন নয়।’

এর আগে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়। তবে এর মধ্যেও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে মোসাদের সদর দপ্তরসহ সামরিক স্থাপনার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নজিরবিহীনভাবে কম। এ কারনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই সঙ্গে হামলার কার্যকারিতা বাড়াতে কীভাবে সময় ও গতি সমন্বয় করতে হয়, সে অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে ইরান।

ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণস্থল গোপন রাখতেও তেহরান তৎপর বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে রাখা প্রতিশোধের আরেকটি সম্ভাব্য উপায় হতে পারে। তবে এক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, এতে চীন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ওপর চীন ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

 

ইরান এর আগে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছে। গত সপ্তাহে সামরিক মহড়ার সময় আংশিকভাবে তা বন্ধ করার দাবি করেছে তেহরান।

উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। ২০১৯ সালে সৌদি আরবে এক হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়, যাতে সাময়িকভাবে দেশটির অর্ধেক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালের মতো ইরান কাছাকাছি কোনো ট্যাংকার জাহাজ হয়রানি বা জব্দ করতে পারে, অথবা মিত্র মিলিশিয়াদের দিয়ে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে পারে। হুতি বিদ্রোহী বা ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের মতো আঞ্চলিক মিত্ররা দূতাবাস বা কম সুরক্ষিত ঘাঁটিতেও হামলা চালাতে পারে।

এ ব্যাপারে আটলান্টিক কাউন্সিলের ইরান স্ট্র্যাটেজি প্রজেক্টের প্রধান নেট সোয়ানসন জানান, ‘ইরান দুর্বল হতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত ক্ষতি করার উপায় এখনো তার হাতে রয়েছে এবং আগের চেয়ে তা প্রয়োগের সম্ভাবনাও বেশি।’

তিনি বলেন, ‘ইরানি কর্মকর্তারা মনে করেন, ট্রাম্পকে অন্তত একবার আঘাত করতে না পারলে ঝুঁকি আরও স্থায়ী হবে।’

তবে ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের শীর্ষ কর্মকর্তা জন অল্টারম্যান মনে করেন প্রতিক্রিয়া হবে পরিমিত।

তিনি বলেন, ‘ইরান কখনোই দীর্ঘমেয়াদি প্রচলিত যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী ছিল না।’

চকরিয়ায় এমপির গাড়িবহরের ধাক্কায় শিশু নিহত

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের গাড়িবহরের একটি গাড়ির ধাক্কায় ৮ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে চকরিয়া উপজেলায় বদরখালী ফাজিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মো. খালেদ বিন ওয়ালিদ বদরখালীর টেকচিপাড়া এলাকার প্রবাসী আমানুল ইসলাম ও সুমাইয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এমপির গাড়িবহরের তৃতীয় গাড়িটির ধাক্কায় শিশুটি পিষ্ট হয়। আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি বলেন, ‘শিশুটি দোকানে যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।’

তিনি জানান, স্থানীয় জনতা ফেরিঘাট এলাকা থেকে গাড়িটি আটকে ঘটনাস্থলে ফিরিয়ে আনে এবং ভাঙচুর করে। এমপির গাড়িটি বহরের সামনে থাকায় সেটি আগেই চলে গিয়েছিল।
পুলিশ গাড়িটি হেফাজতে নিয়েছে। তবে, রাত ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শিশুটিকে চাপা দেওয়া গাড়িটি ভাড়া করা ছিল এবং ভেতরে কোনো যাত্রী ছিল না।’

‘গাড়িটি বহরের পেছনের দিকে থাকায় দুর্ঘটনার কথা পরে জানতে পারি,’ বলেন তিনি।

দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এমপি মাহফুজ উল্লাহ জানান, গাড়িচালক দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার এখন চীনের

বিশ্বব্যাপী সুপারকম্পিউটারের র‌্যাঙ্কিং ‘টপ-৫০০’-এ যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিটান’কে পেছনে ফেলে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে চীনের ‘লাইনশাইন’ কম্পিউটার।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাফল্য চীনের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার বার্তা দিলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিযোগিতায় এখনও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি চীন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন বছর পর এই তালিকায় চীনের কোনো সুপারকম্পিউটার শীর্ষে উঠল।

‘লাইনশাইন’ কম্পিউটারটি চীনের শেনঝেনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের তৈরি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে থাকা ‘এল ক্যাপিটান’ সুপারকম্পিউটারটি মূলত দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়।

উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। মাত্র এক দিন আগেই সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোয়ান্টাম কম্পিউটিং খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখতে নতুন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।

চীনের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চীনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লাইনশাইন সুপারকম্পিউটারে উন্নত এআই চিপ ব্যবহার করা হয়নি। কারণ এসব চিপ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ওপর এখনও যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনের এই সাফল্য মূলত নিজস্ব চিপ ডিজাইনের সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি প্রচেষ্টা।

চীন ২০১০ সালে প্রথমবার টপ-৫০০ তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে পালাক্রমে শীর্ষস্থান বদল হলেও ২০২৩ সালের পর দেশটি তালিকায় নতুন কোনো সিস্টেম জমা দেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন এতদিন নিজেদের সিস্টেম প্রকাশে অনাগ্রহী ছিল। এবার তারা আবারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লোবাল কনফ্লিক্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো জিমি গুডরিচ বলেন, ‘চীন বিশ্বের কাছে বোঝাতে চাইছে যে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর নয়। তবে এর পেছনের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলোও দেখা দরকার।’

কেন এআই দৌড়ের চিত্র আলাদা?

একসময় সুপারকম্পিউটার মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারগুলোতে জটিল বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশের কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রশিক্ষণের জন্য বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলেছে।

এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত তাদের সিস্টেম টপ-৫০০ তালিকায় জমা দেয় না।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, টপ-৫০০ তালিকা মূলত এমন কিছু পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জটিল গণনার দক্ষতা পরিমাপ করে।

এআই-ভিত্তিক কাজের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি পুরোপুরি উপযোগী নয় বলেও জানান তারা।

তাদের মতে, যদি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এআই-কেন্দ্রিক সুপারকম্পিউটার তালিকাভুক্ত করা হতো, তাহলে লাইনশাইন হয়তো শীর্ষ পাঁচেও জায়গা পেত না।

গত বছরের এক গবেষণায় গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের মালিকানাধীন ‘এক্সএআই’-এর তৈরি ‘কলোসাস’ সিস্টেমটি ইতোমধ্যেই মার্কিন সরকারের ‘এল ক্যাপিটান’-এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী।

সাফের ফাইনালে হতাশ করল বাংলাদেশ, চ্যাম্পিয়ন ভারত

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলল বাংলাদেশের মেয়েরা। বিবর্ণ ফুটবল প্রদর্শনীতে স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে লড়াই জমাতে পারেননি ঋতুপর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্ডারা। ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হারিয়ে সাফে রেকর্ড ৬ষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। 

গোয়ার মারগাঁওয়ে সাফ উইমেন চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ভারত। প্রথমার্ধে ১-১ সমতায় থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের জালে আরও দুই গোল দেয় স্বাগতিকরা।

ম্যাচের ৪৩ মিনিটে পিয়ারি জাজার গোলে এগিয়ে যায় ভারত। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের খেলায় ফেরান ঋতুপর্ণা। তবে বিরতির পর সানফিদা ননগ্রুম ভারতকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৮১ মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন লিন্ডা কম।

ঢিমেতালে শুরু হওয়া ম্যাচে ১২ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার ক্রস শামসুন্নাহার ধরতে না পারায় লাভ হয়নি। দুই মিনিট পর তুলনামূলক সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন তহুরা খাতুন।

১৬ মিনিটে ভারতের আস্তাম ওরাওঁ মারেন বারের ওপর দিয়ে। ৩০ মিনিটে তিনি আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন হেড লক্ষ্যে রাখতে না পেরে। ৩৮ মিনিটে মিলি আক্তার দারুণ দক্ষতায় বাঁচান বাংলাদেশকে।

৪২ মিনিটে গোল পেয়ে যায় ভারত। বাঁ দিক থেকে আক্রমণে গিয়ে বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান পিয়ারি জাজা। বাংলাদেশের একজন ডিফেন্ডারের ট্যাকলের মাঝে বল উড়িয়ে দেন তিনি। মিলি সামান্য এগিয়ে থাকায় সেই বল আটকাতে পারেননি, অসহায়ভাবে দেখেন গোল।

অবশ্য ম্যাচে ফিরতে দেরি করেনি গত দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। প্রতি-আক্রমণ থেকে তহুরা বল নিয়ে ছোটেন, তিনি বাঁ দিকে ফাঁকায় থাকা ঋতুপর্ণাকে দিলে বাংলাদেশের সেরা তারকা কোনো ভুল করেননি। দারুণ প্লেসিং শটে দলকে সমতায় ফিরিয়ে বিরতিতে যান।

বিরতির পর পরই এগিয়ে যায় ভারত। ডান প্রান্ত থেকে পাওয়া ক্রস থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান সানফিদা। পরের কয়েক মিনিটে বাংলাদেশের বক্সে একের পর এক হানা দিতে থাকে ভারত। কয়েকটি সহজ সুযোগও হাতছাড়া হয়ে যায়।

৮২ মিনিটে লিন্ডা কমকে আর আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ। তার গোলে অবশ্য বাজে ডিফেন্ডিংয়ের দায় আছে। আফঈদা খন্দকারের ভুলে বল পেয়ে মিলি আক্তারকে পরাস্ত করেন লিন্ডা। এরপর আর ম্যাচে ফেরার তেমন সুযোগ ছিল না বাংলাদেশের।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সর্বনিম্নে, কী বার্তা যাচ্ছে অর্থনীতিতে?

চলতি বছরের মার্চে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এ খাতের জন্য রেকর্ড সর্বনিম্ন। এ বছরের জাতীয় নির্বাচনের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন সরকার গঠিত হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই নির্বাচনের পর বেসরকারি বিনিয়োগের খরা কেটে যাবে।

অথচ তখনই বেসরকারি খাতে ঋণের এই নিম্নমুখী প্রবণতার তথ্য সামনে এলো। আর এই তথ্য যেন সেই প্রত্যাশাকে ম্লান করে দিয়েছে। বরং, এখন ভাবার সময় হয়েছে, সমস্যাটা আসলে কোথায়?

এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর হলো—ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ। এই যুদ্ধের কারণে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ (হরমুজ প্রণালী) বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে এই যুদ্ধের প্রভাবে তেল, গ্যাস, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বিপাকে পড়েন।

অনেক বিনিয়োগকারী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি ও আমদানি-নির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা চিন্তা করে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। বিশেষত যারা নির্বাচনের পর নতুন করে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘এমন অস্থিতিশীল পরিবেশে কেউই বিনিয়োগ করতে চাই না।’

‘করোনা মহামারির পর থেকে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপের কারণে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে আছেন, আর বেসরকারি খাতে ঋণের এই রেকর্ড নিম্ন প্রবৃদ্ধি মূলত তারই প্রতিফলন। গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগকারীরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, তার মধ্যে আছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চরম জ্বালানি সংকট, ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক ঋণের ক্রমবর্ধমান সুদের হার অন্যতম,’ বলেন তিনি।

তাসকিন আহমেদ আরও বলেন, চলমান যুদ্ধ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবই হচ্ছে ঋণের এই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি।

ব্যাংক এশিয়া পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন বলেন, অনেক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, স্থানীয় মুদ্রার (টাকা) আরও অবমূল্যায়ন হতে পারে। কারণ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের নিজস্ব মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গত সাত-আট বছরে কিছু বড় ঋণগ্রহীতাকে অতিরিক্ত ঋণ দেওয়া দিয়েছিল। ফলে বাজার এখন নিজেই নিজেকে সংশোধন (কারেকশন) করছে এবং ঋণের চাহিদাও কমে গেছে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়া বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের জন্য মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।

তিনি জানান, এর একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো সুদের হারের ঊর্ধ্বগতি, যা কেবল নতুন ঋণের জন্যই নয়, বরং বিদ্যমান ঋণের ক্ষেত্রেও ঋণের ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলোও এখন বাণিজ্যিক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছে। বিপরীতে অনেক ব্যাংক নিরাপদ মুনাফার আশায় সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করছে।

মীর নাসির হোসেনের মতে, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির এই সর্বশেষ তথ্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়।

‘এটি সত্যিই অত্যন্ত উদ্বেগজনক,’ বলেন তিনি।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তার মতে, বেসরকারি খাতের এই দুর্বল ঋণ প্রবৃদ্ধি মূলত বেসরকারি বিনিয়োগ সংকটের একটি বড় সতর্কবার্তা।

তিনি বলেন, ‘এটি বেশ কিছু পরিস্থিতিকে সামনে আনছে। যেমন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী নয়, ব্যাংকগুলো ঋণ ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে অথবা অনিচ্ছা দেখাচ্ছে, ঋণ নেওয়ার খরচ এখনো চড়া, সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা আর্থিক খাতকে সংকুচিত করছে। এছাড়া জ্বালানি, মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও মুদ্রা বিনিময় হার নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলোর ওপর ক্রমাগত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

তার মতে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি, প্রভিশন রাখার চাপ, মূলধন ঘাটতি, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা ও তারল্য সংকট ইত্যাদি কারণে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে, ঋণগ্রহীতাদের মান বা যোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

‘প্রকৃতপক্ষে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে উঠছে। তারা নতুন বিনিয়োগে সহায়তা করার চেয়ে নিজেদের ব্যালেন্স শিট (আর্থিক হিসাবের ভারসাম্য) সুরক্ষাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে,’ বলেন তিনি।

আব্দুর রাজ্জাকও বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশ অস্বাভাবিক। কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে ঋণের চাহিদার ঘাটতি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ জোগানের ক্ষেত্রে অনীহা, উভয় সংকটেরই মুখোমুখি হচ্ছে।

‘এই দ্বিমুখী সংকটের কারণে অর্থনীতি ‘নিম্ন-ভারসাম্যের ফাঁদে’ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আস্থা কম থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করছে না, ঝুঁকি বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে না, আবার বিনিয়োগ ও আমদানি সংকুচিত হওয়ায় উৎপাদনও স্থবির হয়ে আছে। আর এই ধীরগতির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন ঋণের যৌক্তিকতাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। এই চক্রটি ভাঙতে হলে ঋণ লক্ষ্যমাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তনের চেয়েও বড় ধরনের পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে,’ মন্তব্য করেন তিনি।

অবশ্য, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এপ্রিল-মে থেকে ঋণের চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করবে।

‘মনে হচ্ছে এই মন্দা দশা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, এখন থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে,’ তিনি বলেন।

তবে আব্দুর রাজ্জাক মনে করেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ক্ষতিকর প্রভাবগুলো যদি সরকার স্বীকার না করে, তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির পুনরুদ্ধার কঠিনই থেকে যাবে।

‘সরকারি ঋণ যখন ব্যাংকগুলোকে আরও নিরাপদ এবং সহজ আয়ের সুযোগ করে দেয়, তখন বেসরকারি খাত বা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি প্রান্তিক বা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তাই ঋণের প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে শুধু কম মূল্যস্ফীতি  ও স্থিতিশীল মুদ্রা বিনিময় হার যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন ব্যাংকিং খাতের নির্ভরযোগ্য সংস্কার, সুশৃঙ্খল সরকারি ঋণ ব্যবস্থা, আস্থার উন্নয়ন। এছাড়া একটি স্পষ্ট নীতিগত বার্তা দরকার যে, উৎপাদনশীল বেসরকারি বিনিয়োগকেই আবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে,’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো।

চলমান আইনি সংস্কারগুলো বিনিয়োগ পরিবেশের আরও উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ উদ্বেগ জানান।

জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ইইউ মিশনের প্রধান ইভার্স ইয়াবসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা, ডেপুটি চিফ অবজারভার ইন্টা লেইস, লিগ্যাল অ্যানালিস্ট ইরিনি মারিয়া গোওনারি ও রায়ান ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে ইভার্স ইয়াবস বিরোধীদলীয় নেতার সার্বিক ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। 

এ সময় বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি প্রতিবেদন শফিকুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বৈঠকে সফররত ইইউ প্রতিনিধি দল ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও জানতে চায়।

জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় নির্বাচন, গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবে একমত হলেও পরে সেগুলোর বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে।

এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সহিংসতা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা এবং একাধিক স্থানে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

অন্যদিকে, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সদস্যরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন তারা।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং তার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দলের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইভার্স ইয়াবস বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সবচেয়ে ভালো উপায় অনুসরণ করে আমরা আমাদের কাজটা করেছি এবং ভোটের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে—এমন কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং আমরা দেখিনি। সুতরাং এ রকম কিছু সেখানে ছিল না।’