28.3 C
Dhaka
Home Blog

‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে’ রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াত আমিরের

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে আনা মুলতবি প্রস্তাবে ‘প্রতিকার’ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর এবার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এই আন্দোলনের কর্মপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরে জানানো হবে।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর এক ব্রিফিংয়ে জামায়াত আমির এ কথা জানান।

এর আগে, বিকেলে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন শফিকুর রহমান। এরপর বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

এদিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান প্রশ্নে আনা মুলতবি প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত না পাওয়ার অভিযোগ তোলে বিরোধী দল। তাদের প্রস্তাব চাপা দিতেই একই বিষয়ে আরেকটি নোটিশ আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধী দলীয় নেতা।

সন্ধ্যার ব্রিফিংয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা খুবই বিস্মিত, আহত, মর্মাহত। এর আগে তিনটা গণভোট বাংলাদেশে হয়েছে। কোনো গণভোট এভাবে শেষ হয়ে যায়নি। তিনটিতেই জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী জনগণ পরবর্তী সুযোগ পেয়েছে। এই প্রথম যেটাতে আমরা সবাই—সরকারি দল, বিরোধী দল—এক ছিলাম, সবাই এর পক্ষে ভোট চাইলাম, সেখানে এসে এটাকে অগ্রাহ্য করা হলো, অমান্য করা হলো এবং এটাকে শেষ করে দেওয়া হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে চেয়েছিলাম, এখানে হাউজের ভেতরে এর সমাধান হোক। হাউজের ভেতরে সমাধান হলে জনগণ আনন্দিত হতো।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু হাউজের ভেতরে জনগণের এই অভিপ্রায়ের বিষয়টি সেভাবে সম্মানিত ও গৃহীত হলো না, আমাদের জন্য এখন পথ একটাই—আবার জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে। যে জনগণ আমাদের এই রায় দিয়েছে, আমরা এখন তাদের কাছেই ফিরে যাব এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি কীভাবে আদায় করা যায়, সে কার্যক্রম গ্রহণ করব।’

বিরোধী দলীয় নেতার ভাষ্য, ‘জনগণের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, দেশের রাজনৈতিক চরিত্র পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়মমাফিক চলতে দেওয়া হলো না। এটি এই জাতির জন্য, আমাদের জন্য কষ্টের জায়গা। আর এই সংসদের জন্য এটি দুর্ভাগ্যের।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১১ দল দ্রুত বসছি এবং বসে আমাদের সিদ্ধান্তগুলো নেব। আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে আমরা জানাব।’

আট দিনে ২ কোটি পার: ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে উচ্ছ্বাস

ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এখন তুমুল আলোচনায়। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বক্স অফিসেও। মুক্তির আট দিনেই সিনেমাটির গ্রস কালেকশন দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সিনেমার শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

সিনেমাটির প্রধান একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। সাফল্যের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘একজন প্রযোজক যখন সিনেমায় টাকা লগ্নি করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা চান টাকাটা উঠে আসুক। এতে নতুন কাজ করার সাহস ও আগ্রহ জন্মায়। “বনলতা এক্সপ্রেস”-এর ক্ষেত্রে সেই আশার আলো দেখা যাচ্ছে। আমি নিজে কয়েকবার হলে গিয়েছি, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আমাকে মুগ্ধ করেছে।’banalata

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘আট দিনে দুই কোটির বেশি টাকা টিকিট বিক্রি হওয়া অনেক আনন্দের খবর। এই সিনেমার একজন শিল্পী হিসেবে আমি গর্বিত। আমার মনে হচ্ছে, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো সিনেমার যে জোয়ার শুরু হয়েছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা। প্রযোজকদের টাকা উঠে এলে তারা নতুন নতুন সিনেমা বানাতে সাহস পাবেন। আমার বিশ্বাস, আগামী দিনগুলোতেও দর্শক এভাবেই সিনেমাটির পাশে থাকবেন।’

সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা গেছে জাকিয়া বারী মমকে। তিনি মনে করেন, ভালো গল্পের প্রতি দর্শকদের তৃষ্ণা সব সময়ই থাকে। মম বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ স্যারের গল্পের একটা আলাদা দর্শক রয়েছে। পরিচালক তানিম নূর তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, আর আমরা সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দর্শকরা ভালো গল্পের পাশে আছেন, এটাই আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।’

অভিনেতা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘গল্পটা দারুণ ছিল, সেই সঙ্গে তানিম নূরও অত্যন্ত মেধার সঙ্গে সিনেমাটি বানিয়েছেন। একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী কাজ করেছেন এতে। সব মিলিয়ে দর্শক একটি পরিপূর্ণ সিনেমা পাচ্ছেন বলেই আগ্রহ নিয়ে হলে আসছেন।’

সাফল্যের এই আনন্দ ছুঁয়ে গেছে অভিনেতা ইন্তেখাব দিনারকেও। তিনি বলেন, ‘“বনলতা এক্সপ্রেস”-এর সাফল্য আমাকে আনন্দিত করেছে। আবারও প্রমাণ হলো যে দর্শকরা ভালো সিনেমার পাশে আগেও ছিলেন, এখনো আছেন।’

৩১ মার্চের মধ্যে নকশাল আন্দোলন চিরতরে বন্ধের অঙ্গীকার দিল্লির

ভারতে দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী গেরিলাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। নয়াদিল্লির দাবি, এই অভিযান প্রায় ‘শেষ পর্যায়ে’।

সম্প্রতি এক জ্যেষ্ঠ মাওবাদী গেরিলা কমান্ডার আত্মসমর্পণ করেছেন। ওই ঘটনাকে ঘিরেই ভারত সরকার আগাম বিজয়বার্তা প্রচার করছে।

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

১৯৬৭ সালে হিমালয়ের পাদদেশে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি গ্রামে চীনের কমিউনিস্ট নেতা মাও সে তুং-এর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একদল বিপ্লবী সমাজ পরিবর্তনের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন।

ওই আন্দোলনকে ‘দেশদ্রোহিতার’ তকমা দিয়ে এর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান শুরু করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

এরপর বেশ কয়েকবার ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও ‘নকশালপন্থিদের’ প্রতি মনোভাব বদলায়নি নয়াদিল্লির।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে নকশালপন্থিদের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক’ অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। আগামী মার্চের মধ্যেই এই আন্দোলনকে সমূলে উৎপাটন করার উদ্দেশ্য নিয়ে এগোচ্ছে সেনারা।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্য-ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদীদের সশস্ত্র কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে এসেছেন থিপ্পিরি তিরুপতি। তিনি দেবুজী বা দেবজী নামেই বেশি পরিচিত।

ছত্তিশগড়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা গতকাল রোববার দিনের শেষভাগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘(মাওবাদবিরোধী অভিযানের) চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয়েছে।’

‘(দেবজীর গ্রেপ্তার) সশস্ত্র নকশালবাদীদের পুরোপুরি নির্মূল করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ,’ যোগ করেন তিনি।

এক পর্যায়ে ভারতের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে নকশাল আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। এক সময় ১৫ থেকে ২০ হাজার যোদ্ধা এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়।

তবে বিপ্লবীদের সেই সুদিন আর নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আন্দোলনের তেজ নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। যোদ্ধা ও কমান্ডাররা বেশিরভাগ সময়ই লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

২০২৪ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি মাওবাদী যোদ্ধা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারও আছেন বলে সরকার জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে এই আন্দোলনের জেরে গত ছয় দশকে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

মাওবাদীদের দাবি, তারা ভারতের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছেন। মূলত বর্ণভিত্তিক এলাকাগুলোয় অন্যান্য রাজ্য থেকে ব্যবসায়ীরা খনিজ আহরণ করতে এসে স্থানীয়দের বঞ্চিত করছেন—এমন অভিযোগও করেন তারা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বিদ্রোহীদের নির্মূলের অঙ্গীকার করে আসছেন।
গত শনিবার তিনি জানান, ভারত পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদের অবসান ঘটাবে।

Amit Shah to visit Mayapur on 18 Feb, be part of ISKCON celebrations

এক বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি শেষের পথে। আগেও বলেছি এবং আবারও বলছি: ৩১ মার্চের মধ্যে আমরা এই দেশকে মাওবাদ সংক্রান্ত সমস্যা থেকে পুরোপুরি মুক্ত করব। মাওবাদ নির্মূল হবে।’

‘আমি কল্পনা করতে পারছি না, এ ধরনের ঐতিহাসিক, সুবিশাল, ভয়াবহ ও কষ্টসাধ্য কাজকে কীভাবে মাত্র তিন বছরের মধ্যে আমরা সাফল্যের সঙ্গে শেষ করে এনেছি,’ যোগ করেন তিনি।

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি: প্রতিরক্ষা চুক্তি ও বাণিজ্যে জোর

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বার্তা দেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়টের এক্স হ্যান্ডেল (সাবেক টুইটার) থেকে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠির শুরুতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনার ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ের জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার সফল মেয়াদ কামনা করছি।’

দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে উন্মুক্ত রাখা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের অংশীদারত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একটি মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত; যেখানে শক্তিশালী ও সার্বভৌম জাতিগুলো সমৃদ্ধি লাভ করতে পারে।’

US President Donald J. Trump has congratulated the Hon’ble Prime Minister H.E. Mr. Tarique Rahman on his assumption as the Prime Minister of Bangladesh. In his congratulatory message, President Trump has expressed his wish to work together based on mutual respect and shared… pic.twitter.com/PvGHOnBv1R

— Ministry of Foreign Affairs (@BDMOFA) February 19, 2026

 

বাণিজ্য সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, ‘মেয়াদ শুরুর এই সময়ে আমি আশা করি, আমাদের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গতি ধরে রাখতে আপনি আমাকে সহায়তা করবেন। এই চুক্তি আমাদের উভয় দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য কল্যাণকর।’

চিঠিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয় নিয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আরও আশা করি, আপনি সেই সব রুটিন প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করতে দ্রুত ও নির্ণায়ক পদক্ষেপ নেবেন, যা শেষ পর্যন্ত আপনার সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সেরা অত্যাধুনিক আমেরিকান সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।’

ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করতে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। বাংলাদেশে নিযুক্ত আমার রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। একসঙ্গে কাজ করে আমাদের উভয় জাতিকে আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করার সুযোগ রয়েছে।’

চিঠির শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আগামী দিনগুলোর জন্য আপনার প্রতি শুভকামনা রইল।’

ভারতে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ধর্মীয় রাজনীতির উত্থান, বিস্তার ও ভবিষ্যৎ

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির করতলগত হলো। অনেকদিন ধরেই এই ধরনের একটা আলামত ও আলোচনা ছিল, বিশেষ করে ২০২১ সালে মমতা ব্যানার্জি তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই।

২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি খুব বেশি সুবিধা করতে না পারলেও ভোটের শতকরা হারে অনেকাংশে এগিয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছিল, সেটা অনেক বিশ্লেষকই বলেছেন।

যদিও এই আলামতকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলের বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া মহল কখনই সেভাবে স্বীকার করেননি বা করতে চাননি। কিন্তু, মানুষের মনোজগত ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে বিজেপির পরিবর্তনের ডাকে সারা দিয়েছে। যার ফল এবারের নির্বাচনে দেখা গেছে।

২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল ৭৭টি। এবার সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৬টি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টির জায়গায় এবার পেয়েছে ৮৬টি আসন। ভোটের শতকরা হিসাবে বিজেপি ৪৬ শতাংশ ও তৃণমূল ৪১ শতাংশ পেয়েছে। গত নির্বাচনের চেয়ে এবার বিজেপির ভোট বেড়েছে আট শতাংশ।

বিজেপির নেতাকর্মীরা যতগুলো আসন পাওয়ার আভাস দিয়েছিলেন, তাদের প্রাপ্তি সে তুলনায় অনেক বেশি।

পশ্চিমবঙ্গে এই পরিবর্তনতে বলা যায় প্যারাডাইম শিফট। অর্থাৎ মধ্যপন্থী থেকে ডানপন্থী পশ্চিমবঙ্গে রূপান্তর। মধ্যপন্থীতে রূপান্তরিত হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গ ছিল বামপন্থী।

মধ্য থেকে ডানে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়াটা একদিনে যেমন হয়নি, তেমনি এর কারণও বহুমাত্রিক। এখানে শাসক দলের রাজনৈতিক ব্যর্থতা যেমন দায়ী, তেমনি দায়ী সংখ্যালঘুদের বিশেষত মুসলিম ভোটারদের আবেগ কাজে লাগিয়ে জেতা ও ক্ষমতায় থাকার কৌশল। এর বিপরীতে ভারতজুড়ে উত্থান ঘটেছে হিন্দুত্ববাদী মেরুকরণ বা সংখ্যাগুরুর পরিচিতি নিয়ে রাজনীতি।

সংখ্যালঘু পরিচয় নিয়ে রাজনীতি সাময়িকভাবে কিছুটা কাজ করলেও সেটা দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল হয়ে পরে। যারা এ ধরনের রাজনীতি করে একসময় এটাই তাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলের চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, যাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করা হয়।

এই রাজনীতি সংখ্যালঘুদের সরাসরি সংখ্যাগুরুদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। ফলে সংখ্যাগুরুদের মনে ধীরে ধীরে ক্রোধ জমতে থাকে। ধর্মকে কেন্দ্র করে যারা রাজনীতি করে, তাদের জন্য এই ক্রোধকে পূঁজি করা সহজ হয়। একপর্যায়ে তারা সফল হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় চলে আসে এবং সংখ্যালঘুদের বিপদ তখন প্রকাশ্য হয়। তথাকথিত সুবিধাজনক অবস্থান থেকে তারা সবচেয়ে প্রান্তিক ও অরক্ষিত অবস্থানে চলে যায়। এই রাজনীতি তাদের প্রকৃত নাগরিকের পরিবর্তে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করে।

রাজনীতিতে সংখ্যাগুরু পরিচিতি ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি মৌলিক বিষয় আগে পরিষ্কার করা দরকার। এই ধরনের রাজনীতি হঠাৎ উদ্ভূত ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা রাজনৈতিক কৌশল, সামাজিক অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়ার সম্মিলিত ফল এটি।

ভারত, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এই বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (কংগ্রেস)। তারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষতার ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি ধারণা সমাজে ছড়িয়ে পড়ে যে, সরকার সংখ্যালঘুদের প্রতি বিশেষভাবে সহানুভূতিশীল।

এর বাস্তবতা যতটা, তারচেয়ে এই ধারণাটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই ধারণাই ধীরে ধীরে সংখ্যাগুরুদের মধ্যে এক ধরনের বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি করে, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়।

এই জায়গাতেই উত্থান ঘটে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মতো সংগঠনের, যারা এই ক্ষোভকে সাংগঠনিক রূপ দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু এটাকে শুধুমাত্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যেখানে সাংস্কৃতিক নিরাপত্তাহীনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আমাদের ইতিহাসকে খাটো করা হচ্ছে, আমাদের সংস্কৃতি হুমকির মুখে—এই ধরনের বয়ান ধীরে ধীরে জনমনে জায়গা করে নেয়। ধর্মীয় রাজনীতি এই অনুভূতিকে সংস্কৃতি রক্ষার সংগ্রাম হিসেবে ফ্রেম করে এবং সেটিকেই রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে রাজনৈতিক শূন্যতা। যখন কংগ্রেস নেতৃত্ব সংকট, দুর্নীতি ও সাংগঠনিক দুর্বলতায় ভুগতে থাকে, তখন বিকল্প শক্তির জন্য জায়গা তৈরি হয়। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি এই শূন্যতাকে শুধু পূরণই করেনি, বরং নতুন রাজনৈতিক ধারায় রূপ দিয়েছে। এখন সেখানে পরিচয়, উন্নয়ন ও শক্তিশালী নেতৃত্ব—এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করেছে।

ফলে ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মোদির নেতৃত্বে বিজেপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন। শুধু তাই নয় রাজ্য পর্যায়েও তাদের ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের বাম শাসনের পর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে এবং দ্রুতই বড় আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি, দলীয় দাপট ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে এই ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক ধরে রাখতে দলটি বিশেষ নীতি অনুসরণ করছে।

এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে। বিশেষ করে ২০২১ সালের নির্বাচনে তারা যে ৭৭টি আসন পায়, তা কেবল সাংগঠনিক বিস্তার বা প্রচারের ফল নয়; বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষ, বিরোধী শূন্যতা ও ধর্মীয় মেরুকরণের সম্মিলিত প্রতিফলন।

উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল বা প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে বিজেপির সাফল্য দেখিয়েছে যে অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও পরিচয়ের রাজনীতি অনেক সময় একে অপরকে শক্তিশালী করে।

এখানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক হতাশার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বেকারত্ব, আঞ্চলিক বৈষম্য বা উন্নয়নের অসম বণ্টনের মতো সমস্যা যখন দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকে, তখন মানুষ সহজ ব্যাখ্যা খোঁজে। রাজনৈতিক বয়ান তখন অনেক সময় এই জটিল সমস্যাগুলোকে অন্য কোনো গোষ্ঠীর উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে, যা পরিচিতি নিয়ে রাজনীতিকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

মিডিয়া ও ন্যারেটিভ নির্মাণ এই পুরো প্রক্রিয়াকে গতি দেয়। টেলিভিশন বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যমে একটি ধারাবাহিক গল্প তৈরি হয়, যেখানে সংখ্যাগুরুদের বঞ্চিত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এই পুনরাবৃত্ত বয়ান মানুষের চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলে এবং ধীরে ধীরে সেটিই বাস্তবতার জায়গা দখল করে নেয়। ফলে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তৈরি হয়। সংখ্যালঘু পরিচয়ে রাজনীতি করলে সংখ্যাগুরুদের মনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আবার সেই প্রতিক্রিয়া সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি বাড়ায়। সবমিলিয়ে নতুন মেরুকরণকে ত্বরান্বিত করে।

ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ উভয় ক্ষেত্রেই এই চক্রের লক্ষণ দেখা যায়। যদিও এর রূপ ও মাত্রা ভিন্ন।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আগে যে প্রশ্নটি সামনে আসে তা হলো, সংখ্যালঘুদের অবস্থান কী হবে?

এ ধরনের রাজনীতিতে রাষ্ট্র ও সমাজের ভেতরে ‘আমরা বনাম তারা’ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর ফলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক আস্থার সংকট ও অর্থনৈতিক সুযোগে বৈষম্যের আশঙ্কা বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের মতপ্রকাশ বা নাগরিক অংশগ্রহণে সতর্ক হয়ে পড়ে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করতে পারে।

ভারতের প্রেক্ষাপটে হিন্দুত্ববাদকেন্দ্রীক পরিচয়ের রাজনীতি একেবারে নতুন নয়। তবে সম্প্রতি এটি আরও সংগঠিত রূপ পেয়েছে।

প্রশ্ন হলো, ভারত কি এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?

ইতিহাস বলছে, কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে যে রাজনীতি হয় তা স্থায়ী হয় না। সময়ের সঙ্গে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি ও শাসনব্যবস্থার বাস্তবতাই বড় ইস্যু হয়ে ওঠে। যখন ভোটাররা জীবনযাত্রার উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন রাজনৈতিক দলগুলোও বাধ্য হয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে ফলাফল দেখানোর রাজনীতিতে মনোযোগ দিতে।

তবে এই পরিবর্তনও হঠাৎ ঘটে না। অর্থাৎ সামনের আরও বেশকিছু সময় ভারতে ধর্মীয় পরিচয়ে রাজনীতির বিস্তার ও প্রভাব নিশ্চিতভাবেই বজায় থাকবে।

এই প্রবণতার আঞ্চলিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের রাজনৈতিক ন্যারেটিভ সরাসরি প্রতিফলিত না হলেও পরোক্ষ প্রভাব পড়বে। সীমান্ত, অভিবাসন বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভাষ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।

মোটকথা ভারতে সংখ্যাগুরু পরিচয়ের রাজনীতির বিস্তার সংখ্যালঘুদের জন্য নিশ্চিতভাবেই ঝুঁকি তৈরি করবে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক ও কূটনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে।

তরুন ইউসুফ: কবি ও কলামিস্ট

বার্সেলোনার বিপক্ষে কোর্তোয়াকে পাচ্ছে রিয়াল

এল ক্লাসিকোর আগে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। চোটের দুঃস্বপ্নে জর্জরিত এক মৌসুমের মাঝেই অবশেষে সুখবর, বার্সেলোনার বিপক্ষে মহারণে ফিরতে যাচ্ছেন দলের অন্যতম ভরসা থিবো কোর্তোয়া।

মৌসুমের শেষভাগে এসে লা লিগার শিরোপা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে বার্সা। মাত্র পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতে দুই দলের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১১ পয়েন্টে। ফলে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এখন ট্রফির লড়াই নয়, বরং চোট-আঘাতই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

সোমবার নিশ্চিত করা হয়, কিলিয়ান এমবাপে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিং চোটে ভুগছেন। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন তিনি। যদিও চোট গুরুতর নয়, তবুও মৌসুমের বাকি অংশ এবং সামনে বিশ্বকাপ থাকায় তার খেলা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তবে সতীর্থদের কাছে তিনি ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, মে ১০ তারিখ ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠেয় এল ক্লাসিকোতে খেলার ইচ্ছা রয়েছে তার, এখন সবকিছু নির্ভর করছে তার পুনর্বাসনের গতির ওপর।

এরই মধ্যে আরেকটি প্রত্যাশিত দুঃসংবাদ এসেছে এদের মিলিতাওকে ঘিরে। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারকে, ফলে প্রায় পাঁচ মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।

তবে সব নেতিবাচকতার মাঝেও আশার আলো হয়ে দেখা দিচ্ছেন কোর্তোয়া। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বেলজিয়ান এই গোলরক্ষক তার পুনর্বাসনের শেষ ধাপে রয়েছেন এবং বড় কোনো সমস্যা না হলে বার্সার বিপক্ষে ম্যাচে তার খেলা প্রায় নিশ্চিত। এমনকি চলতি সপ্তাহেই আরসিডি এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে দেখা যেতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে, যদিও সেটি এখনও অনিশ্চিত।

উল্লেখ্য, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটি বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগে ডান পায়ের কোয়াড্রিসেপসে চোট পান কোর্তোয়া। তার অনুপস্থিতিতে সাত ম্যাচে মাত্র দুইটি জয় পেয়েছে রিয়াল, সঙ্গে দুটি ড্র ও তিনটি হার, যা তার গুরুত্বই স্পষ্ট করে।

 

আইএমএফের ঋণ স্থগিতের খবর নাকচ করল সরকার

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের `স্প্রিং মিটিং’-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে বলে সংবাদমাধ্যমে আসা খবরকে নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল গতকাল শুক্রবার আইএমএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছেন।

প্রথম বৈঠকটি সকালে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন ও তার দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। 

দ্বিতীয় বৈঠকটি একইদিন বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) নাইজেল ক্লার্ক ও তার টিমের সঙ্গে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে বলে গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশ হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ অসত্য’। এতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী আগের দিন আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকগুলোতেও এ ধরনের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং আলোচনাগুলো অত্যন্ত ‘ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত’ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

বৈঠক চলাকালে অর্থমন্ত্রী নবনির্বাচিত সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো তুলে ধরেন। 

উভয় পক্ষ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন। অধিকাংশ বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হলেও কিছু ক্ষেত্রে আরও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বিশেষ করে জনস্বার্থের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন বিষয়গুলোতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। 

বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়েছে, উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং সংলাপের মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।

কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা থাকলেও উভয় পক্ষই ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আইএমএফ বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে তাদের ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা বলেছে।

পাকুন্দিয়ায় খাল খনন নিয়ে বিএনপির ২ পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খামা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার আল আশরাফ ওরফে মামুন ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে উভয়পক্ষ দাবি করেছে। তবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ ওরফে মামুনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় স্থানীয় গোলডুবা-খামা সংযোগ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

খননকাজ চলাকালে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিনের সমর্থকরা সেখানে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পাকুন্দিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ও ওসি আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।  

খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোক্তা খন্দকার আল আশরাফ মামুন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় বিএনপি নামধারী কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।’

এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের জালাল উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি খুরশিদ উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এই খাল সরকারিভাবে খননের জন্য আমরা এমপির কাছে আবেদন করেছিলাম। যারা খাল খনন করতে গেছে তারা নিজেদের জমি বাঁচাতে নামমাত্র পরিষ্কার করে ছবি তোলার জন্য এই কাজ করছে। খবর পেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা হামলা করিনি। উল্টো প্রতিপক্ষের লোকজনই আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।’

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কে বা কারা খাল খননের নামে আগাছা পরিষ্কার করছে সেটা আমার জানা নেই। আর যে উদ্যোক্তারা  ব্যানার নিয়ে খনন কর্মসূচিতে এসেছেন, নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় কখনো তাদের দেখা যায়নি। তারা খননের নামে লোক দেখাতে এসেছেন।’

‘আজকের ঘটনায় আমার পক্ষের কোনো লোক ছিল না। এলাকাবাসী কর্মসূচিতে বাঁধা দিতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘এক পক্ষ খাল পরিষ্কার করতে এলে অন্য পক্ষ বাধা দেয়। এরপর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

ইউএনও বলেন, ‘খাল পরিষ্কার কর্মসূচি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

তদন্তাধীন মৃত্যু নিয়ে অপপ্রচার: ডিজিটাল নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

গাজীপুরের টঙ্গীর ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাহেলা খাতুন (৪৮) নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা বলে দাবি করেছে। সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকা থেকে রাহেলা খাতুনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ছায়েদুর রহমানের অধীনে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর শরীরে ডায়াবেটিস (RBS: 18 mmol/L), এন্টারিক ফিভার, ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স, জন্ডিস, রক্তে প্রোটিনের অভাব এবং হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত হয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, রোগীর শরীরে প্রোটিনের অভাবজনিত কারণে পা ফুলে গিয়েছিল, যা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়াচ্ছিল। এই ঝুঁকি নির্ণয়ে ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোগীর স্বজনরা তা সম্পন্ন করেননি। গত ২৯ ডিসেম্বর রাত ১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর রোগীর ছেলে রায়হান হোসেন ও অন্য স্বজনরা হাসপাতালের আইসিইউ এবং পাঁচ তলার ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালান। এ সময় কর্তব্যরত নার্স ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ওই রাতে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শেখ মাহমুদুল হাসান স্বজনদের সাথে কথা বলতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হায়দার তানভীরুজ্জামান এই বিষয়ে জানান, রোগীর মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে। চিকিৎসা আইন অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা বা নীতিগত ব্যর্থতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ব্যক্তিগত দায় আরোপ করা যায় না। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই মৃত্যুকে ভুল চিকিৎসা হিসেবে প্রচার করছে। বিশেষ করে, বিশেষ করে, ১২ বছর আগে হাসপাতালের মূল প্রতিষ্ঠান আইএমএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুবিন খানের স্ত্রীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে (যেখানে অপরাধী ড্রাইভার গ্রেফতার হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটর সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়) এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র‍্যাব অপরাধীকে ধরে ফেলে এবং ২০০ ভরি গহনার মধ্যে ৬৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং গাড়ি উদ্ধার হয়। রাহেলা খাতুনের মৃত্যুর সাথে এই ঘটনা সম্পৃক্ত করার বিষয়টি পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাহেলা খাতুনের মৃত্যুর ৩ মাস পর তার মৃত্যু নিয়ে এই ধরনের সংবাদ এবং আইএমএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য ভুয়া, মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনে হীন স্বার্থ চরিতার্থের গভীর ষড়যন্ত্র বলে প্রতীয়মান হয়।

হাসপাতালের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই ঘটনার তদন্ত করছে। পিবিআই-এর পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী তদন্তভার পরিচালনা করছেন। তদন্ত শেষেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।

নেপালে বাস দুর্ঘটনায় ব্রিটিশ পর্যটকসহ নিহত ১৯

নেপালে একটি পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী বরফাচ্ছাদিত নদীতে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় এক ব্রিটিশ পর্যটকসহ মোট ১৯ জন নিহত হয়েছেন। 

আজ সোমবার স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

পর্যটনকেন্দ্র পোখারা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডু ফেরার সময় বাসটি প্রায় ৬৫৫ ফুট উচ্চতা থেকে ধাদিং জেলার ত্রিশুলি নদীতে পড়ে যায়। সোমবার ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রকাশ দাহাল এএফপিকে বলেন, ’৪৪ আরোহীর মধ্যে ১৯ জন মারা গেছেন। ২৫ জন চিকিৎসাধীন আছেন।’

নিহতদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক আছেন বলে নিশ্চিত করেন দাহাল। 

তিনি জানান, এই দুর্ঘটনায় চীন ও নিউজিল্যান্ডের দুই নাগরিক আহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানাননি তিনি। 

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মোহন প্রসাদ নুপান বলেন, সূর্যোদয়ের আগেই উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হয়। 

‘আহতরা চিকিৎসাধীন আছেন’, যোগ করেন নুপান। 

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভূমিধসের পর একই নদীতে দুইটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। উভয় বাসে ৫০ এর বেশি যাত্রী ছিল।  

ভঙ্গুর সড়ক, পরিবহনের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ ও অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে নেপালে নিয়মিত এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।