31.7 C
Dhaka
Home Blog

বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব: ৪ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি দ্বিগুণ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের আমদানিতে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে বছরের প্রথম চার মাসেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১০১ শতাংশ।

অন্যদিকে, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে খুবই সামান্য। মাত্র ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়ে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৪৬২ কোটি টাকায়।

মোট আমদানির বড় একটি অংশ, ৩৮ শতাংশই করেছে তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান—পেট্রোবাংলা, খাদ্য অধিদপ্তর ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) সঙ্গে বাংলাদেশের ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। সেই আলোচনার অংশ হিসেবেই আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। স্বাক্ষরিত হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে। চুক্তিটি নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক।

তবে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন কিছুটা অনিশ্চিত। গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর চুক্তিটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এমনকি মালয়েশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একই ধরনের একটি চুক্তি গত ১৬ মার্চ বাতিল ঘোষণা করেছে।

আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের অধীনে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন এবং পরের দিন তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন।

কিন্তু গত ৭ মে নিউইয়র্কের একটি বিশেষায়িত ফেডারেল আদালত রায় দেয় যে, এই আইনটি কেবল তখনই প্রয়োগ করা যেতে পারে যদি যুক্তরাষ্ট্রের লেনদেনের ভারসাম্যে ‘বড় ও গুরুতর’ ঘাটতি থাকে—যা বর্তমানে নেই বলে আদালত উল্লেখ করেছে।

এআরটি চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ৪ হাজার ৫০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নিতে রাজি হয়েছে। এছাড়া আরও ২ হাজার ২১০টি পণ্যের শুল্ক পর্যায়ক্রমে কমানো হবে।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ফাইবার, লোহা, ইস্পাত, ওষুধ, রাসায়নিক ও মার্কিন তুলা থেকে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যের ওপর আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। তবে গড়ে ১৬-১৭ শতাংশ মোস্ট-ফেভারড-নেশন (এমএফএন) শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে।

ইউএসটিআর বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরও এক শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে বাণিজ্য ঘাটতির অজুহাতে বাংলাদেশ থেকে আমদানির ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

চুক্তির আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু সরকার এর মধ্যেই আমদানি শুরু করে দিয়েছে। যেমন গত মাসেই বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বড় একটি চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

অধ্যাপক মইনুল বলেন, এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রাপ্তি সীমিত, বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি লাভবান হতে যাচ্ছে।

শুল্ক কমানোর পাশাপাশি এই চুক্তিতে কৃষি পণ্য, জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামালের ন্যূনতম বার্ষিক আমদানির প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, এর ফলে দেশীয় চাহিদা কম থাকলেও বা দাম বেশি হলেও বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানি করতে হতে পারে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ কম অগ্রাধিকার পেয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ৮৩ শতাংশই ছিল ১০টি নির্দিষ্ট পণ্য, যার মূল্য ১৫ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা। এগুলো হলো এলএনজি, এলপিজি, সয়াবিন, গম, তুলা, লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপ, সয়াবিন অয়েলকেক ও মিল, উড়োজাহাজের ইঞ্জিন, ব্রিউয়িং ওয়েস্ট ও তরল প্রোপেন।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে এলএনজি (৪ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা), যা আমদানি করেছে পেট্রোবাংলা। এর পরেই রয়েছে এলপিজি (৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা), যার প্রধান আমদানিকারক ছিল ওমেরা পেট্রোলিয়াম (৬৮৪ কোটি টাকা), সান গ্যাস (৫০৭ কোটি টাকা) এবং ইউনাইটেড আয়গাজ এলপিজি (৪৪২ কোটি টাকা)।

গত বছরের এই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো এলএনজি বা এলপিজি আমদানি করেনি।

এছাড়া এই চার মাসে ১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকার আমেরিকান গম আমদানি করা হয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো গম কেনা হয়নি। এর মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরই ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার গম আমদানি করেছে।

তৈরি পোশাক খাতের জন্য অপরিহার্য মার্কিন তুলার আমদানি গত বছরের তুলনায় ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ১৩৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তবে কিছু প্রধান পণ্যের আমদানি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন তেলের আমদানি ৩ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা থেকে কমে ৩ হাজার ২৪০ কোটি টাকায় এবং লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপের আমদানি ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা থেকে কমে ৭০৪ কোটি টাকায় নেমেছে।

আমদানিকারকদের মধ্যে সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকার সয়াবিন ও সয়াবিন বীজ আমদানি করেছে। ডেল্টা অ্যাগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজের আমদানির পরিমাণ ছিল ৮৬৭ কোটি টাকা এবং যমুনা স্পেসটেক জয়েন্ট ভেঞ্চারের ৮১১ কোটি টাকা।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও সিইও এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশগুলোকে এমন বাণিজ্য চুক্তিতে বাধ্য করেছে যাতে তাদের নিজেদের রপ্তানি বাড়ানো যায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বড় রপ্তানিকারক, তাই তাদের শর্ত মানতে হচ্ছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়েই আমদানি বেড়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, আমদানি করা পণ্যগুলোর অধিকাংশই ছিল জ্বালানি, গম, সয়াবিন ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। 

তিনি আরও জানান, আগে এসব পণ্য অন্য দেশ থেকে আনা হতো, এখন সেগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হচ্ছে। ফলে চুক্তিটির প্রভাব আমদানিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

 

সীমান্ত নিরাপত্তার চেয়েও ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন বেশি জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

বর্তমান বিশ্বে সীমান্ত নিরাপত্তার চেয়েও ডিজিটাল নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে বিশ্ব দ্রুত মেধা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তরিত হচ্ছে। তাই দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এ ন্যাশনালিস্ট আইসিটি ফোরাম (এনআইসিটিএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধ: নীতিমালা, প্রযুক্তি ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক রাউন্ড টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া সংবাদ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এখন শুধু সমস্যা চিহ্নিত করার সময় নয়, কার্যকর সমাধান বাস্তবায়নের সময় এসেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন, তবে সরকারের জন্য বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রস্তাবও দিন। জাতীয় সমস্যার সমাধানে কার্যকর পরামর্শ পেলে আমরা তা বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ করব।”

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনআইসিটিএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমতিয়াজ মীর্জা।

স্মার্ট ল্যাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াদ হাসনাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত রাউন্ড টেবিল বৈঠকে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান প্রতিবেদক আব্বাস উদ্দিন নয়ন বলেন, বর্তমানে দেশের হাতে গোনা কয়েকটি গণমাধ্যমে ফ্যাক্টচেকিং টিম থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে প্রতিটি গণমাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে একটি স্বতন্ত্র ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন, যা সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করবে।

একাত্তর টিভির ‘ফেইক নিউজ স্ক্যানার’ অনুষ্ঠানের সম্পাদক ও উপস্থাপক রাকিব হাসান বলেন, দেশে গুজব, মিসইনফরমেশন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য এখন কেবল সামাজিক সমস্যা নয়, বরং একটি বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দিষ্ট ন্যারিটিভ তৈরি করে গুজব ছড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলোয়ার বাড়ানো হচ্ছে এবং পরে সেই প্ল্যাটফর্ম আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

এনআইসিটিএফ-এর সভাপতি রাফেল কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ রাউন্ড টেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন, অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেল বিজনেস স্কুলের ‘বিজনেস অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড এআই’ বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ জে মিয়া, এনআইসিটিএফ উপদেষ্টা ড. মারুফ মল্লিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম, তথ্যপ্রযুক্তি ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

অধ্যাদেশ বাতিলে সরকারের ব্যাখ্যা আইনগতভাবে সঠিক নয়: জামায়াত

গুম ও মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যায় আইনগত অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শিশির মনির।

তার ভাষ্য, এ বিষয়ে সরকারের দেওয়া ব্যাখ্যা ‘আইনগতভাবে সঠিক নয়’।

আজ সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও চিফ হুইপের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ও আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।

শিশির মনির বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গুম ‘ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’-এর অংশ হলেও তা বিচারযোগ্য হতে ‘ওয়াইডস্প্রেড’ ও ‘সিস্টেমেটিক’ হতে হয়। একক কোনো গুমের ঘটনা এই আইনের আওতায় পড়ে না—ফলে গুম অধ্যাদেশ ও ট্রাইব্যুনাল আইনের সংজ্ঞা এক নয়। মানবাধিকার কমিশন আইনে তদন্ত, সময়সীমা ও ক্ষতিপূরণ–সংক্রান্ত কোনো বিধান নেই—সরকারের এমন বক্তব্যও খণ্ডন করেন তিনি। বলেন, সংশ্লিষ্ট ধারায় ৩০ দিনের সময়সীমা, তদন্ত প্রক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণের বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

গণভোট অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, সরকার নিজেই একে ‘ফ্যাক্টাম ভ্যালিড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের দায়ও সরকারের। বৈধতা স্বীকার করে তা বাস্তবায়ন না করা হলে দায় সরকারকেই নিতে হবে।

বিচারকদের শোকজ নোটিশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে আইনের আওতায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সেটি ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে—তাই এ ধরনের নোটিশ ‘আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য’।

এছাড়া ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে নতুন ধারা যুক্ত করে আগের মালিকদের কাছে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আরও বলেন, এতে আর্থিক খাতে অনিয়মের দায় নির্ধারণ ও অর্থ পুনরুদ্ধারের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সংবিধানের ৯৩(ডি) অনুচ্ছেদের সময়সীমা শেষে ১১৭টি পাস, সাতটি রহিত ও ১৬টি ল্যাপস হয়।

তার মতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথক সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ল্যাপস বা বাতিল হওয়ায় জনআকাঙ্ক্ষা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তিনি জানান, ‘জেন্টলম্যান এগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ী মতবিরোধহীন বিষয় পাস ও বিতর্কিত বিষয় আলোচনার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। সংসদে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে তারা দুই দফা ওয়াকআউট করেন। বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী দলসহ কিছু সদস্যের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অন্তর্ভুক্ত না করাকেও তিনি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগকে সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে মোমেন বলেন, এ কারণেই প্রথম ওয়াকআউট করা হয়; পরে প্রক্রিয়াগত অসঙ্গতির প্রতিবাদে আবারও ওয়াকআউট করা হয়।

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে শেষ মুহূর্তে ১৮(ক) ধারা সংযোজন করে আগের মালিকদের কাছে নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের একটা ইতিহাস আছে—গত ১৬ বছর ধরে তারা বলে আসছে, ঈদের পর আন্দোলন হবে। কিন্তু সেই ঈদ আর আসে না। এখন মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন ও বিচার বিভাগের সচিবালয়-সংক্রান্ত বিল সংশোধনের কথা বলছে। কিন্তু কবে তা আনা হবে—আবারও কি দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে, সেটাই এখন প্রশ্ন।’

তিনি আরও বলেন, জনগণ যদি অধিকার আদায়ে সংসদের ওপর আস্থা হারিয়ে রাজপথে নামে, তার দায় সরকার ও সরকারদলীয় সদস্যদেরই নিতে হবে।

‘চিত্রা’ চরিত্রটি আমার কাছে বিশেষ হয়ে থাকবে: সাবিলা নূর

ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য দর্শকের প্রশংসায় ভাসছেন অভিনেত্রী সাবিলা নূর।

হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমায় ‘চিত্রা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে সাবিলা নূর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অনেক প্রশংসা পাচ্ছি। এই অভিজ্ঞতা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। চরিত্রটির গভীরতা ও ভিন্নধর্মী উপস্থাপন নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। দর্শকরাও ভীষণ খুশী।  নির্মাতা তানিম নূর, সহশিল্পী মোশাররফ করিম ভাইয়া, শরিফুল রাজ থেকে শুরু থেকে টিমের সবার আন্তরিক সহযোগিতায় নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করতে পেরেছি।’

‘চিত্রা চরিত্রটি আমার কাছে সবসময় বিশেষ হয়ে থাকবে। দর্শক যেভাবে আমাকে গ্রহণ করেছেন, তা সত্যিই অভিভূত করার মতো। এই ভালোবাসা আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। আগামীর কাজ নিয়ে আরও সচেতন হয়েছি। ঈদের সিনেমা হিসেবে বনলতা এক্সপ্রেস ইতোমধ্যে দর্শকদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সর্বাধিক শো নিয়ে হাউজফুল হচ্ছে। সেই সঙ্গে ৩ এপ্রিল থেকে কানাডা, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে রিলিজ হচ্ছে।’

সাবিলা নূর তার কাছের মানুষদের নিয়ে সিনেমাটির একটি বিশেষ শো উপভোগ করেন। সেসময় তার অনুসারী সাবিলিয়ান থেকে মা, শাশুড়ি ও স্বামী সঙ্গে ছিলেন।

এই সিনেমা নিয়ে তার স্বামীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাবিলা নূর বলেন, ‘নেহাল আমার স্বামী এবং বেস্ট ফ্রেন্ড। আমার কাজ দেখে সে ক্রিটিসাইজ করতে পছন্দ করে। সেটা আমিও এনজয় করি। আমার মনে হচ্ছে বনলতা এক্সপ্রেস দেখে সে এবার অন্তত পুরো সিনেমাটি এনজয় করেছে। সেই সঙ্গে আমার একেবারে কাছের মানুষেরাও পছন্দ করেছেন।’

কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রধান বিচারক হলেন দ. কোরিয়ার পার্ক চ্যান-উক

ফ্রান্সের বিখ্যাত কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারকদের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় ফিল্ম নির্মাতা পার্ক চ্যান-উক। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নাগরিক হিসেবে তিনি এই বিরল সম্মান লাভ করেছেন। 

আগামী মে মাসে কান উৎসবের ৭৯তম আসরের সভাপতিত্ব করবেন পার্ক চ্যান-উক। 

আজ বৃহস্পতিবার চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

পরিচালক পার্ক চ্যান-উক এর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে ওল্ডবয় (২০০৩) সিনেমাটি। 

সভাপতি হিসেবে তিনি এ বছরের সেরা চলচ্চিত্রকে পাম ডি’ওর বা গোল্ডেন পাম নামে পরিচিত সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ডটি তুলে দেবেন। 

গত বছর এই সম্মান জেতেন ইরানের চিত্রনির্মাতা জাফর পানাহি। ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ সিনেমার জন্য এই অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। 

 

এমন সময় পার্ক চ্যান-উক বিচারকদের সভাপতি নির্বাচন হলেন, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

২০১৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় চিত্রনির্মাতা বং জুন-হোর ‘প্যারাসাইট’ সিনেমাটি গোল্ডেন পাম ও অস্কার জিতে নেয়। 

এ ছাড়া, স্কুইড গেম ও কে পপ ডেমন হান্টার-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় টিভি সিরিজ, বিটিএস ও ব্ল্যাকপিংকের মতো জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড—এ যেন দক্ষিণ কোরীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন চলছে। 

এ ধারায় সর্বশেষ সহযোজন পার্ক চ্যান-উকের এই স্বীকৃতি। 

সভাপতির পদ পেয়ে পার্ক (৬২) এক বিবৃতিতে জানান, ‘ঘৃণা ও বিভাজনের এই সময়ে একটি সিনেমা হলে যেয়ে একই সময়ে, একত্রিত হয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার সহজাত ঘটনাও একটি আবেগঘন, সার্বজনীন একাত্মবোধের অনুভূতি এনে দিতে পারে।’

চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকরা পার্কের সিনেমাগুলোকে, ‘বর্ণনামূলক, চৌকস ও মানবিক’ আখ্যা দেন। 

বং জুন হো সহ দক্ষিণ কোরিয়ার অসংখ্য চিত্রনির্মাতা পার্ক চ্যান-উকের কাজে ‘অনুপ্রেরণা’ খুঁজে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। 

২০০৪ সালে কান উৎসবের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ডটি জিতে নেয় পার্কের ওল্ডবয়। 

তার সর্বশেষ কাজ ‘নো আদার চয়েজ (২০২৫)’। ওই সিনেমাটি ডনাল্ড ওয়েস্টলেকের ১৯৯৭ সালের উপন্যাস ‘দ্য এক্স’ এর কাহিনীর ভিত্তিতে নির্মিত। ওই সিনেমায় এক বেকার মানুষের ‘প্রতিদ্বন্দ্বীদের খুন করার’ সিদ্ধান্তের চমকপ্রদ কাহিনী ফুটে উঠেছে। 

এতে স্কুইড গেম খ্যাত অভিনেতা লি বিইউং-হান ও ‘ক্র্যাশ ল্যান্ডিং অন ইউ’ খ্যাত অভিনেত্রী সন ইয়ে-জিন মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন। 

সিউলের সোগ্যাং বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন পার্ক।

ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে দখলবাজির চেষ্টা: ষড়যন্ত্র নস্যাৎ, ফিরছে শৃঙ্খলা

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন’ দখলের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে গেছে। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা একদল সুবিধাবাদী ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কর্মীর অপতৎপরতা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত ‘মব কালচার’ তৈরি করে এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে টেলিভিশনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল এই চক্রটি।

ভোল বদলে দখলের চেষ্টা
তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নিউজরুমের পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তোলে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির একজন এসোসিয়েট এডিটর এবং শিক্ষাবিটের একজন সিনিয়র রিপোর্টার। অভিযোগ উঠেছে, ওই এসোসিয়েট এডিটর নিজেকে বিএনপির এক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাতে শুরু করেন। অথচ বিগত সরকারের সময়েও তিনি একই প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ভূমিকা পালন করেছেন শিক্ষাবিটের সেই সিনিয়র রিপোর্টার। যিনি বিগত সরকারের আমলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে ছয়বার বিদেশ সফর করেছেন। এ ছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই সংবাদকর্মী হঠাৎ করেই ‘ছাত্রদল’ কর্মী সেজে জুলাই বিপ্লবের চেতনার ধারক হওয়ার নাটক শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিউজরুমে বসে তিনি বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন, অথচ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে সবচেয়ে বড় বিএনপিপন্থী হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন।

ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ‘জিয়া পরিবার’ ও ভুয়া পরিচয়
দখল প্রক্রিয়ায় এই চক্রের সাথে যুক্ত হন আরও এক সিনিয়র নিউজ এডিটর। তিনি নিজেকে ‘জিয়া পরিবারের সদস্য’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের আগে যার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কেউ জানত না, তিনি রাতারাতি অতি-বিএনপিপন্থী সেজে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেন।

মিথ্যা অভিযোগ ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার অপব্যবহার
সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে এই চক্রটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দাখিল করে। উদ্দেশ্য ছিল তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করানো এবং মানসিক চাপে ফেলে পদত্যাগে বাধ্য করা। যাতে করে শূন্য পদগুলোতে এই দখলদার চক্র নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারে।

কৃতঘ্নতার নজির
প্রতিষ্ঠানের ত্যাগী কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বর্তমান এসোসিয়েট এডিটর এবং চিফ নিউজ এডিটরকে (সিএনই) চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে চাপ সৃষ্টি করেছিল, তখন ইনডিপেনডেন্ট কর্তৃপক্ষ সাহসিকতার সঙ্গে সেই চাপ উপেক্ষা করে তাদের আগলে রেখেছিল। আজ সেই কর্মকর্তারাই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে ক্ষমতার নেশায় মত্ত হয়েছেন, যা চরম কৃতঘ্নতার বহিঃপ্রকাশ।

রক্ষা পেল ৫০০ কর্মীর রুটি-রুজি
টেলিভিশনটির অভ্যন্তরীণ এই বিশৃঙ্খলা ও দখলের ষড়যন্ত্রের মুখেও পিছু হঠেনি কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মসংস্থান ও প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও সাধারণ কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে ষড়যন্ত্রকারীরা বর্তমানে কোণঠাঁসা হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন আরও একটি বড় সংকট কাটিয়ে উঠল। তবে গণমাধ্যমের ভেতর এমন অপেশাদার রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি ও সুবিধাবাদীদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে টেলিভিশনটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল করতে কাজ করে যাচ্ছে।

চিকিৎসকদের সেবা সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

চিকিৎসকরা ঠিক মতো সেবা দিচ্ছেন কি না, সেটার সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যে বার্তা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী কাজ করব।

তিনি বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কি না, তা দেখতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যাব, দেখব। সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের কার্যক্রম দ্বারা যেন জনসাধারণ উপকৃত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কোনো সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেবো না।

স্বাস্থ্যসচিব মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে প্রচুর শূন্য পদ আছে, ফলে মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এছাড়া আমাদের মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য সচিব।

সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এআই, কেন উন্নয়ন থামাতে বলছে অ্যানথ্রোপিক?

মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই সিস্টেমের উন্নয়ন সাময়িকভাবে ধীর করা বা বিরতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সর্বাধুনিক এআই মডেলগুলো এমন কিছু লক্ষণ দেখাতে শুরু করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে এগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

এএফপি জানিয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এআই কোম্পানি অ্যানথ্রোপিক ইতোমধ্যে ক্লড নামের এআই মডেল তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী ধীরগতির করা হলে তা মানবসমাজের জন্য উপকারী হতে পারে।

তবে কেবল একটি কোম্পানি উন্নয়ন থামালে প্রতিদ্বন্দ্বীরা এগিয়ে যাবে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমরা মনে করি, সমাজের কাঠামো ও এআইকে মানবস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার গবেষণা যেন প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেজন্য অত্যাধুনিক এআই উন্নয়ন ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সুযোগ থাকা বিশ্বের জন্য ভালো হবে।’

অ্যানথ্রোপিকের মতে, কার্যকর বিরতি বাস্তবায়ন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ একাধিক দেশের বড় এআই কোম্পানিগুলোকে একই সময়ে উন্নয়ন বন্ধে সম্মত হতে হবে। পাশাপাশি এমন নিয়ম থাকতে হবে, যার বাস্তবায়ন যাচাই করা সম্ভব।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বৈশ্বিক সমন্বয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে কোম্পানি ও সরকারগুলোকে প্রতিযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তবে এ ধারণা প্রযুক্তি খাতের অনেকের কাছে জনপ্রিয় নাও হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, যাদের প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রতিযোগিতার অগ্রভাগে রয়েছে। তার মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বহুল প্রতীক্ষিত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি তাকে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অ্যানথ্রোপিকের এ অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে শিল্পখাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তাদের মতে, সবচেয়ে খারাপ সম্ভাব্য পরিস্থিতির ওপর অতিরিক্ত জোর দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেখাচ্ছে এবং নিরাপত্তার আড়ালে প্রতিদ্বন্দ্বীদের গতি কমাতে চাইছে।

তবুও হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে যে অ্যানথ্রোপিকের ‘মাইথোস’ মডেল অত্যন্ত শক্তিশালী। সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতার কারণে এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি; বর্তমানে কেবল নির্বাচিত কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

অ্যানথ্রোপিকের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। ওয়াশিংটন ও সিলিকন ভ্যালির অনেক নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি নির্বাহী মনে করেন, এআই উন্নয়ন ধীর করলে চীন এ প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় কৌশলগত সুবিধা পেয়ে যেতে পারে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বেইজিং সফরের সময় চীনের সঙ্গে এআই নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানান।

এ সপ্তাহে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশেও সই করেছেন, যার মাধ্যমে সবচেয়ে শক্তিশালী মার্কিন এআই মডেলগুলো প্রকাশের আগে সরকারকে ৩০ দিনের প্রাথমিক পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

‘মানুষের ভূমিকা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে’

অ্যানথ্রোপিক এ পরিস্থিতির তুলনা করেছে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির সঙ্গে। তবে তাদের মতে, এআই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন, কারণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির তুলনায় এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গোপন রাখা অনেক সহজ।

প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, ‘আপনার এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেখানে প্রয়োজন হলে গতি কমানো বা থামানোর সুযোগ থাকবে। বর্তমানে এআই শিল্পের কাছে যেন শুধু অ্যাক্সিলারেটর আছে, কিন্তু ব্রেক নেই।’

অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, সরকার, বিজ্ঞানী, নাগরিক সংগঠন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী এআই কোম্পানিগুলোকে নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা শুরু করবে তারা, যাতে এমন কোনো বৈশ্বিক ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর করা যায় তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, তাদের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী এআই এখন এআই উন্নয়নকেই উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুততর করছে। এর ফলে এমন একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তৈরি হতে পারে, যা গবেষকদের ভাষায় ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’-এর দিকে নিয়ে যাবে।

এর অর্থ হলো, এমন একটি এআই ব্যবস্থা, যা মানুষের খুব কম সহায়তায় নিজেই নিজেকে আরও বুদ্ধিমান করে তুলতে সক্ষম হবে।

অ্যানথ্রোপিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমরা এখনও সেখানে পৌঁছাইনি এবং রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট অবশ্যম্ভাবীও নয়।’ 
তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুত হওয়ার আগেই এ ধরনের সক্ষমতা বাস্তবে দেখা দিতে পারে।

প্রতিবেদনের ভাষায়, ‘এআই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে মানুষের ভূমিকা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।’

আশা ছাড়ছে না পাকিস্তান

হাতে আছে তিন উইকেট, পঞ্চম দিনে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে ১২১ রান। এমন অবস্থায়ও আশা ছাড়ছে না পাকিস্তান। দলটির ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিক জানিয়েছেন, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান থাকায় স্বপ্ন দেখছে তারা। 

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। দিনের খেলা শেষে সংবাদ মাধ্যমকে শফিক বলেন, ‘আমাদের ব্যাটিংয়ের আজকের পারফরম্যান্স আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। জয়ের জন্য ১২১ রান বাকি, রিজওয়ান দারুণ ফর্মে আছে, আর সাজিদ প্রথম ইনিংসেও ভালো খেলেছে। আমরা বিশ্বাস করি জয় সম্ভব।’

দিনভর পাকিস্তান বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে এগোলেও, নতুন বল নেওয়ার পরপরই খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম সাজিয়ে তোলা ১৩৪ রানের জুটি ভেঙে সালমান আলী আগাকে (৭১) বোল্ড করেন। পরের ওভারেই হাসান আলীকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তাইজুল।

দিনের শেষে রিজওয়ান ৭৫ এবং সাজিদ ৮ রানে অপরাজিত আছেন। কাল শেষ দিনে তাদের ওপরই তাকিয়ে আছে পাকিস্তান।

এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসে বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদের ৯২ রানের জুটি পাকিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। শফিক মনে করেন, এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিং তাদের দলের জন্য খুব প্রয়োজন ছিল।

সিলেটের উইকেট নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শফিক বলেন, ‘এটি টেস্ট খেলার জন্য দারুণ একটি উইকেট। এখানে স্পিনার ও পেসার—সবার জন্যই সুযোগ আছে, আবার ব্যাটসম্যানরাও শট খেলে রান পাচ্ছেন। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য এমন উইকেটই আদর্শ।’

টেস্টের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সফল রান তাড়ায় সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের (৪১৮ রান)। পাকিস্তান সেই ইতিহাস মাথায় রেখেই মাঠে নামবে।

 

ধানের দাম আরও কমেছে, বিপাকে হাওরের কৃষকেরা

টানা বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের কারণে ফসল শুকাতে পারছেন না হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা। এতে করে বোরো ধানের দাম আরও কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, কাটা ধান ভেজা থাকায় তা থেকে অঙ্কুর গজাচ্ছে (চারা বেরিয়ে যাচ্ছে)। এতে সেই ধান বাজারে বিক্রির অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই নামমাত্র মূল্যে ধান বিক্রি করছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

বাংলাদেশের বার্ষিক চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো থেকে। বোরো ধানের মৌসুম চলে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত।

সংকট নিরসনে সরকার হাওর অঞ্চলের ছয়টি জেলায় ১২ দিন আগে আজ থেকেই বোরো ধান সংগ্রহ শুরু করেছে। জেলাগুলো হলো—সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ। এ ছাড়া পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ থেকে সারা দেশেও ধান সংগ্রহ শুরু হবে।

তবে বৃষ্টির কারণে মজুত করতে না পেরে অনেক কৃষক এরইমধ্যে চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে অনেক কম দামে ধান বিক্রি করে দিয়েছেন।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ ধানের দাম ৭৫০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা থাকলেও এখন তা কমে ৬০০ টাকায় নেমে এসেছে, যা উৎপাদন খরচের প্রায় অর্ধেক।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বিধান সরকার জানান, তিনি শুরুতে প্রতি মণ ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু গতকাল সেই দাম কমে ৬০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত রোদের অভাবে ধান ঠিকমতো শুকানো যাচ্ছে না, যার ফলে দাম আরও পড়ে যাচ্ছে।

জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাজারগুলোতেও ধানের একই দাম দেখা গেছে।

স্থানীয় ফকিরের বাজারে কৃষক রনি মিয়া জানান, চাতাল মালিক ও ব্যবসায়ীরা প্রতি মণ ধানের দাম ৬০০ টাকা বলছেন। অথচ মাত্র কয়েক দিন আগেও তিনি ৮০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার এই ভেজা ধান কেউ কিনতে চাইছে না।’

চাল ব্যবসায়ী খোকন মিয়া বলেন, ‘ভেজা ধান মজুত করলে তাতে চারা গজিয়ে যায়। আমরা ৬০০-৬৫০ টাকা দরে কিছু ধান কিনেছিলাম, কিন্তু তাতে আমাদের লোকসান হয়েছে। রোদ উঠলে আমরা আবার ধান কেনা শুরু করব।’

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রাকিবুল হাসান জানান, জেলায় আট হাজার ১৯০ হেক্টর হাওর এলাকা এবং হাওরের বাইরে পাঁচ হাজার ২৭৬ হেক্টর এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তার মতে, কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী এই পরিস্থিতিতে সরাসরি ৮০ হাজারেরও বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের কৃষক আলিম উদ্দিন প্রায় তিন হেক্টর জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আমি প্রতি মণ ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি করেছি। মাত্র পাঁচ দিন আগে আমাকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধানের রং নষ্ট হয়ে গেছে, তাই তারা দাম আরও কমিয়ে দিয়েছেন।

ইটনা উপজেলার আশরাফুল ইসলাম জানান, তিন দিন আগে ১০০ মণ ধান বিক্রি করতে তাকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। ‘ব্যবসায়ীরা ৬০০ টাকা দাম বলেছিলেন। ১০টি বাজার ঘোরার পর আমি ৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। অথচ আমার উৎপাদন খরচ প্রতি মণে এক হাজার ২০০ টাকারও বেশি।’

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাদিকুর রহমান জানান, গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে নদী ও বন্যার পানির উচ্চতা বেড়েছে, এর ফলে প্রায় সাত হাজার হেক্টর হাওরের ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। তার দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২১ হাজারেরও বেশি কৃষক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, মেঘলা আবহাওয়ার কারণে তার কাটা ধান পচে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে আমি প্রতি মণ এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন আমি ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দীপক কুমার বিশ্বাস জানান, ২ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জেলায় ১১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে এবং এতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে। একইসঙ্গে সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের বিষয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে বোরো উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ০১ কোটি টন, যা গত অর্থবছরে বেড়ে ২ দশমিক ১৩ কোটি টনে দাঁড়িয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সরকার চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ দশমিক ২৪ কোটি টনে উন্নীত করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বোরো চাষের জমির পরিমাণও ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ৫০ দশমিক ৫০ লাখ হেক্টরে পৌঁছেছে।

চাষাবাদের খরচ বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও গত ২২ এপ্রিল সরকার ঘোষণা করেছে, ধান সংগ্রহের সরকারি দাম অপরিবর্তিত থাকবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ৫ লাখ টন ধান সংগ্রহ করবে, যা মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।

গতকাল সিলেটে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের সঙ্গে হাওর অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহের বিষয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে ঘোষণা বা প্রচার চালানো হবে। তিনি বলেন, যদি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা সম্ভব হয়, তবে তারা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি আয় করতে পারবেন।

তিনি আরও যোগ করেন, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরের কৃষকদের জন্য তিন মাসের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দিতে নতুন প্রকল্প নিতে হবে।

(এই প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা তাফসিলুল আজিজ)