31.1 C
Dhaka
Home Blog

সংসদের অধিবেশন বসবে ১২ মার্চ বা দুই-একদিন আগে: সালাহউদ্দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ বা এর দুই-একদিন আগে বসবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।

পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী মাসের ১২ মার্চ অথবা এর দুই-একদিন আগে। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে। এই অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের অধ্যাদেশসমূহ উপস্থাপন করা হবে এবং শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। 
 

সাইবার জগতে বট ট্রাফিক: ভবিষ্যদ্বাণীর দেড় বছর আগেই যেভাবে ছাড়িয়ে গেল মানুষকে

ধরুন, এই গরমে আপনি অনলাইনে এসি কেনার জন্য কয়েকটি ওয়েবসাইট ঘুরে দেখছেন। আপনি মানুষ, তাই খুব বেশি হলে ৫ থেকে ১০টি সাইট ঘেঁটে দাম যাচাই করবেন। কিন্তু আপনি যেসময়ে ওই সাইটগুলো দেখলেন, সেসময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বট ঘুরে ফেলেছে কয়েক হাজার সাইট।

এসব বট সেকেন্ডে কতটি ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবে জানেন? উত্তর হলো—কমপক্ষে এক হাজার থেকে ১০ হাজার।

অনলাইনে এআই বা মেশিনের এই অতিমানবীয় গতির কারণেই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ঘটে গেছে এক অবিশ্বাস্য পরিবর্তন। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটে মোট ট্রাফিক বা ভিজিটরের সংখ্যায় মানুষকে ছাড়িয়ে গেছে স্বয়ংক্রিয় ‘বট’ বা মেশিন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, আপনি এখন যে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, সেখানে মানুষের চেয়ে রোবট বা বটের চলাচলই বেশি।

ইন্টারনেট নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বৈশ্বিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স সম্প্রতি এই তথ্য সামনে এনেছেন। এ নিয়ে শুক্রবার মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ক্লাউডফ্লেয়ারের রাডার ড্যাশবোর্ডের লাইভ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইন্টারনেটের (এইচটিএমএল কনটেন্টে) মোট ট্রাফিকের ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশই তৈরি করছে বট বা মেশিন। আর মানুষ বা হিউম্যান ট্রাফিক মাত্র ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রযুক্তিবিদ ম্যাথিউ প্রিন্স লিখেছেন, ‘ইন্টারনেটের ইতিহাসে এই প্রথম স্বয়ংক্রিয় বট থেকে আসা ট্রাফিক মানুষের তৈরি ট্রাফিককে ছাড়িয়ে গেছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘স্বয়ংক্রিয় বট ট্রাফিক এমন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা এই খাতের কেউ এত দ্রুত আশা করেনি।’

এর আগে ম্যাথিউ প্রিন্স ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বট মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে।

কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেছে প্রায় দেড় বছর আগেই।

 

Welp, that happened faster than I predicted. Thought it would be end of 2027, then early 2027, but agentic traffic growing so fast that bots have now passed human traffic online for the first time in the Internet’s history. https://t.co/2zX5bHdhsa

— Matthew Prince 🌥 (@eastdakota) June 3, 2026

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন সার্চ ইঞ্জিনের পুরোনো আমলের ক্রলার বা ডেটা চোর (ওয়েব স্ক্র্যাপার) বটের কারণে হয়নি। এর পেছনে কাজ করছে নতুন প্রজন্মের ‘এজেন্টিক এআই’।

এসব এআই এজেন্ট মানুষের হয়ে বিচরণ করে সাইবার জগতে। সময় বাঁচিয়ে আপনাকে তথ্য খুজে দেয়। আপনার হয়ে অতি অল্প সময়ে আপনার পছন্দের ও দামের রেঞ্জের এসি কোথায় পাওয়া যেতে পারে, তার তালিকা হাজির করে।

এটি এমন এক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা কেবল তথ্য খোঁজে না বরং মানুষের সহকারী বা ‘এজেন্ট’ হয়ে নিজে নিজে অনলাইনে কাজ করে দেয়। শুধু আপনার জন্য তথ্য খুঁজে দেওয়াই নয়, টিকিট বুকিং করা, শপিং সাইট থেকে সেরা ডিল খুঁজে বের করাসহ নানা ধরনের কাজ করে দেয়।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘হিউম্যান সিকিউরিটি’-এর ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মানুষের তুলনায় এআইচালিত ট্রাফিক আট গুণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিকের মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল এআই এজেন্টভিত্তিক। বছরের শেষে এই ট্রাফিক প্রায় ৮ হাজার শতাংশ বেড়ে গেছে।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজকের যে ইন্টারনেট ব্যবস্থা তা ডিজাইন করা হয়েছিল মানুষের মনোযোগ ও ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে। পুরো ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, অনলাইন কেনাকাটা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওয়েবসাইটের আয়সহ পুরো ই-কমার্স মডেলটি দাঁড়িয়ে আছে মানুষের ওপর ভিত্তি করে। এখানে সবকিছুর ক্ষেত্রেই ধরে নেওয়া হয় যে ব্যবহারকারী একজন মানুষ।

কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যবহারকারী বট হতে পারে—এমন সম্ভাবনাই বাড়ছে।

ফরাসি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইম্পারভা’ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির এ বছরের ‘ব্যাড বট’ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব কোম্পানি এখনো ভাবছে তাদের ব্যবহারকারীরা সবাই মানুষ, তারা নিজেদের সিস্টেম বুঝতে ভুল করছে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নামে পরিচিত কিছু বিনিয়োগকারী দ্রুত বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন স্টার্টআপ ও প্রাথমিক পর্যায়ের কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে এবং বিনিময়ে মালিকানার শেয়ার নেয়।

এসব বড় বিনিয়োগকারীদের পুরো অনলাইন বাজার ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছে ইম্পারভা।

এর কারণ হলো বর্তমানে সব অনলাইন মিডিয়া, ই-কমার্স ও ব্র্যান্ডগুলোতে মানুষের চেয়ে বটের চলাচলই বেশি। তাই বিনিয়োগ আসলে কার জন্য করা হচ্ছে—মানুষ নাকি বট, তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদমাধ্যম, বিজ্ঞাপন ও অনলাইন বিপণন খাত সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট বা এআই বট যখন আপনার হয়ে এক সেকেন্ডে পাঁচ হাজার ওয়েবসাইট ঘুরে আসবে, তখন সেখানে একটিও ‘হিউম্যান ভিউ’ বা মানুষের ইম্প্রেশন তৈরি হবে না।

ফলে বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় পেজভিউ বা ক্লিকের ওপর ভিত্তি করে আয়ের যে মডেল তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এআই এজেন্ট বা বটের কারণে ওয়েবসাইটে ভিজিটরের সংখ্যা বাড়লেও বাস্তবে দেখা যাবে—পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। কারণ মেশিন ভিজিট করলেও বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য কেনে না।

এর ফলে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজারে ব্যবহৃত বিভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি পুনরায় বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ইম্পারভার গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এআইচালিত বট হামলা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৫ গুণ বেড়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ৪০ শতাংশই ক্ষতিকর বা ম্যালিশিয়াস বটের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বৈধ এআই এজেন্ট এবং ক্ষতিকর বটের আচরণ অনেক ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম। ফলে কোনটি উপকারী আর কোনটি ক্ষতিকর—তা শনাক্ত করা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘হিউম্যান সিকিউরিটি’-এর তথ্য মতে, মানুষ ও ক্ষতিকর স্বয়ংক্রিয় বটের মধ্যে পার্থক্য মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

ফলে এটি মানুষ নাকি বট—শনাক্ত করার যে পুরোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তা ইতোমধ্যে অকেজো হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ইন্টারনেটে মানুষ ও যন্ত্র—দুই ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা পরিচয় ও যাচাই ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে।

এআই এজেন্ট বা বটকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না। এর বদলে তাদের পরিচয় যাচাই, অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

যারা মেশিনের পরিচয় যাচাই ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে নতুন নিরাপত্তা দেয়াল তৈরি করতে পারবে, প্রযুক্তি দুনিয়ার ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই থাকবে।

মানেকে নিয়ে বিশ্বকাপে সেনেগাল

বিশ্বকাপ সামনে রেখে শক্তিশালী ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে সেনেগাল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বড় মঞ্চে ফিরছেন তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানে। আল নাসরের এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই মূলত আক্রমণভাগ সাজিয়েছে আফ্রিকান এই দলটি, যেখানে অভিজ্ঞতা ও তরুণদের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড।

মানে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্কোয়াডে থাকলেও হাঁটুর চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত খেলা হয়নি। এবার পুরোপুরি ফিট হয়ে তিনি আবারও জাতীয় দলের মূল ভরসা হয়ে ফিরেছেন। ক্যারিয়ারে লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবে খেলা এই তারকা শুধু গোল করার ক্ষমতাই নয়, নেতৃত্বগুণ দিয়েও দলকে অনুপ্রাণিত করেন।

এর আগে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একটি বিতর্কিত ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে স্টপেজ টাইম পেনাল্টির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে চলে যায়। তবে সেই মুহূর্তে মাঠে থাকা মানে সতীর্থদের আবারও খেলায় ফেরার আহ্বান জানান। অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেয়ের গোলের পর সেনেগাল জয় পেলেও পরে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেয় আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)।

কোচ পাপে থিয়া যখন চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করবেন, তখন এই ২৮ জনের স্কোয়াড থেকে দু’জনকে বাদ পড়তে হবে।

সেনেগাল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২২ জুন নরওয়ে এবং ২৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে খেলবে তারা।

সেনেগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক: এদুয়ার্দ মান্দি, ইভান দিয়ুফ, মোরি দিয়াও।

ডিফেন্ডার: ক্রেপিন দিয়াতা, অঁতোয়ান মান্দি, আবদুলায়ে সেক, কালিদু কুলিবালি, ইলায়ে কামারা, মুসা নিয়াখাতে, মামাদু সার, এল-হাজি মালিক দিয়ুফ, মুস্তাফা মবু, ইসমাইল জাকোবস।

মিডফিল্ডার: ইদ্রিসা গেয়ে, হাবিব দিয়ারা, পাপে মাতার সার, পাপে গেয়, লামিন কামারা, পাতেহ সিস, বারা ন্দিয়ে।

ফরোয়ার্ড: সাদিও মানে, বাম্বা দিয়েং, ইলিমান ন্দিয়ে, নিকোলাস জ্যাকসন, অসানে দিয়াও, ইব্রাহিম মবায়ে, শেরিফ ন্দিয়ে, ইসমাইলা সার।

 

চট্টগ্রামে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৫ শাখায় আমানতকারীদের তালা

আমানতের ওপর মুনাফা কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং টাকা উত্তোলনের সীমা তুলে নিয়ে স্বাভাবিক লেনদেনের দাবিতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৫টি শাখায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকেরা।

আজ সোমবার সকালে ব্যাংকে তালা দিয়ে গ্রাহকেরা আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করেন।

একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। এর আগে একই দাবিতে খাতুনগঞ্জে তিনটি ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়েছিলেন গ্রাহকেরা।

আমানতকারীদের প্রধান দাবি হলো—অবিলম্বে মুনাফা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে এবং তাদের জমানো টাকা ফেরতের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি টাকা উত্তোলনের সীমা তুলে নিয়ে স্বাভাবিক লেনদেন চালু করা এবং গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে আমানতকারীরা আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে মিছিল বের করেন। এরপর তারা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তারা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে জড়ো হন।

সেখানে দ্বিতীয় তলায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শাখার সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। নিচতলায় একীভূত হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর একটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের কাছে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ওই কার্যালয়েও তালা ঝুলিয়ে দিলে ভেতরে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এ সময় শতাধিক গ্রাহককে ‘ব্যাংকে আমার টাকা, আমি কেন রাস্তায়?’—স্লোগান দিতে দেখা যায়। নিজেদের জমানো টাকা তুলতে না পারার ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

আমানতকারী সামিনা আক্তার বলেন, ‘ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্যই টাকা জমিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দরকারে টাকা তুলতে পারছি না। সামনে ঈদুল আজহা, টাকা না পেলে হয়তো কোরবানি দিতে পারব না। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে!’

এর আগে গত রোববার খাতুনগঞ্জেও আমানতকারীরা ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করে কয়েকটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন।

সেখানে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারী সমিতির চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজম প্রশ্ন তোলেন, ‘গ্রাহকেরা আদৌ তাদের টাকা ফেরত পাবেন কি না? একীভূত ইসলামী ব্যাংকের নামে, নাকি আলাদা ব্যাংকের পরিচয়ে টাকা দেওয়া হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আমরা নিশ্চয়তা চাই।’

সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জীবনের সব সঞ্চয় আমরা নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকে রেখেছিলাম। আর এখন নিজের টাকা তুলতেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে। সামনে ঈদ, পরিবারের নানা দায়িত্ব আছে। আমরা দ্রুত আমাদের আমানত ফেরত চাই।’

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, ‘তালাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার ঢাকায় ১১ দলের মিছিল

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১৮ এপ্রিল ১১ দলের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল, ২৫ এপ্রিল ঢাকা বাদে অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে গণমিছিল এবং ২ মে জেলা শহরগুলোতে গণমিছিল।

এ ছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ ও সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এর আগে বেলা ১১টায় আল ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃত্বের এক বৈঠক শুরু হয়। চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার প্রমুখ।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই ধাপের কর্মসূচি শেষে পরবর্তী ধাপে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে ১১ দলের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ হবে। সমাবেশসহ কর্মসূচির দিনক্ষণ পরবর্তী সময়ে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে ঠিক হবে। এরপর ১১ দল রাজধানীতে বিশাল সমাবেশ করবে। সেই সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণরায় মানছে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নই ১১ দলের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দল দফায় দফায় কর্মসূচি দেবে।

ঈদুল আযহার জন্য নতুন দ্বৈত গানে ন্যান্‌সি

‘এতো ভালোবাসো কীভাবে’ শিরোনামে নতুন একটি দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি এবং কলকাতার আকাশ সেন। 

স্নেহাশীষ ঘোষের কথা ও সুরে গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন রিয়েল আশিক। 

ঈদুল আযহা উপলক্ষে গানটি মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশিত হবে অনুপম মিউজিক থেকে। এর আগে আকাশ সেনের সুরে ন্যান্‌সির গান প্রকাশিত হলেও এটাই তাদের প্রথম ‘ডুয়েট’। 

 

গানটি সম্পর্কে ন্যান্‌সি বলেন, ‘আকাশ সেনের সুর করা গান এর আগে গাইলেও দ্বৈত গান এবারই প্রথম। নিটোল প্রেমের অনুভূতি মিশে আছে গানের কথা ও সুরে। সব মিলিয়ে গানটা শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

অন্যদিকে আকাশ সেন বলেন, ‘ন্যান্‌সি আমার খুবই প্রিয় একজন কণ্ঠশিল্পী। তার গায়কী আমার ভীষণ পছন্দ। আমাদের এই গানটির কথা ও সুর যেরকম হয়েছে তাতে আমি মনে করি আমাদের শুরুটা একটু দেরিতে হলেও এটি একটি মনে রাখার মতো গান হতে যাচ্ছে। শ্রোতারা নতুন এক রসায়ন খুঁজে পাবেন এই গানে।’

 

গানের গীতিকার ও সুরকার স্নেহাশীষ ঘোষ বলেন, ‘ন্যানসি আপুর জন্য প্রায় ৩০টি গান লিখেছি যার মধ্যে আছে ডানাকাটা পরী, ভালো আছি ভালোবেসে, নাম কী তোমার, ঠিক-বেঠিক, ভালোবাসি অকারণে-এর মতো গান। যেগুলো শ্রোতারা ভালোবেসে গ্রহণ করেছিল।’ 

‘প্রায় ৯ বছর পর তার জন্য নতুন গান লিখেছি ও সুরও করেছি। গানটি অনুপম মিউজিক থেকে ঈদুল আজহায় প্রকাশিত হবে’, যোগ করেন স্নেহাশীষ।

চীনের সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন পাইলট গ্রেপ্তার

মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সাবেক পাইলট গ্রেপ্তার হয়েছেন। পূর্ব অনুমোদন ছাড়া চীনের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ।

মার্কিন বিচার বিভাগ এ বিষয়ে একটি ঘোষণা দিয়েছে। 
আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন জেরাল্ড এডি ব্রাউন জুনিয়র (৬৫)। বিমানবাহিনীতে তার কল সাইন ছিল ‘রানার’। সম্প্রতি তিনি চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে এসেছেন। 

বিচার বিভাগের বিবৃতি মতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনে গিয়েছিলেন এডি ব্রাউন। 

তার বিরুদ্ধে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছ থেকে নিবন্ধন না নিয়ে ‘বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগসাজশে চীনের বিমান বাহিনীর পাইলটদের সামরিক বিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ’ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। 

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক ক্যাশ পাটেল এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘বড় খবর…এফবিআই এবং অন্যান্য অংশীদাররা চীনের সামরিক বাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে।’

 

বিবৃতি মতে, এডি ব্রাউন ২৪ বছর বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ‘পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দেন এবং বেশ কয়েক ধরনের যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।’ 

 

১৯৯৬ সালে বিমানবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে মালামাল পরিবহনকারী উড়োজাহাজের পাইলট হিসেবে কাজ করেন তিনি। পরবর্তীতে চুক্তির ভিত্তিতে এ-১০ ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ পরিচালনায় মার্কিন পাইলটদের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন তিনি। 

অভিযোগ মতে, ২০২৩ সালের আগস্টে চীনা নাগরিক স্টিফেন সু বিন-এর সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি শুরু করেন এডি ব্রাউন। চীনের ওই নাগরিক ২০১৬ সাল থেকে গুপ্তচরবৃত্তির অপর এক অভিযোগে চার বছর যুক্তরাষ্ট্রের আটক ছিলেন। 

 

আলোচনার পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনে গিয়ে সেখানকার পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন ব্রাউন। 

এফবিআই-এর কাউন্টারইন্টেলিজেন্স ও এসপিওনাজ বিভাগের কর্মকর্তা রোমান রোঝাভস্কি বলেন, ‘চীনা সরকার দেশটির সামরিক সক্ষমতার আধুনিকায়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কাজ অব্যাহত রেখেছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘(এডি ব্রাউনকে) গ্রেপ্তারের খবরটি এফবিআই ও আমাদের অংশীদারদের প্রতি একটি সতর্কবার্তা। যারা আমাদের শত্রুদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, তাদেরকে থামাতে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কোনো ভাবে দেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে।’

 

২৬ বছর ধরে বিনা টাকায় খতম তারাবিহ পড়ান তিনি

কিশোরগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র পুরান থানা এলাকায় অবস্থিত ‘শহীদি মসজিদ’। এটি জেলার কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে পরিচিত। মসজিদটির নাম একসময় পুরান থানা মসজিদ ছিল। ১৯৪২ সালের ২৪ অক্টোবর মসজিদের ভেতরে ব্রিটিশ সেনাদের অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণে পাঁচজন মুসল্লি নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকে নামকরণ হয় শহীদি মসজিদ। ঐতিহাসিক মসজিদের তিনটি পিলারে এখনো রয়েছে সেই গুলির চিহ্ন।

শহীদি মসজিদে ২৬ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে খতম তারাবিহ পড়াচ্ছেন মাহফুজুর রহমান (৫৬)। স্থানীয়ভাবে তিনি হাফেজ ও মাওলানা মাহফুজ হুজুর নামে পরিচিত। অবশ্য এই মসজিদে একাধারে ৪২ বছর খতম তারাবিহ পড়িয়ে নজির সৃষ্টি করেছিলেন মাওলানা আজহার আলী আনোয়ার শাহ।

মাহফুজুর রহমান ১৯৯৩ সাল থেকে আনোয়ার শাহের পেছনে শ্রবণকারী হিসেবে দ্বিতীয় ইমামের দায়িত্ব পালন করেন। আর ২০০১ সাল থেকে তিনি খতম তারাবিহর নামাজ পড়ান। বর্তমানে মাহফুজুর ছাড়াও হাফেজ মাহমুদুল হাসান, হাফেজ মোহাম্মদ সফিউল্লাহ ও হাফেজ আতহার রাসেল খতম তারাবিহ পড়ান। এর মধ্যে প্রথম ছয় রাকাত নামাজ পড়ান মাহফুজুর। বাকি নামাজ পড়ান তিনজনে মিলে।

মাহফুজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, মসজিদ–সংলগ্ন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া হিফজুল কোরআন বিভাগ থেকে ১৯৮২ সালে মাত্র এক বছরে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করি। তখন বয়স ছিল ১২ বছর। ১৯৯৩ সালে শহীদি মসজিদে আল্লামা হাফেজ মাওলানা আনোয়ার শাহের পেছনে সাধারণ মুসল্লি হিসেবে তারাবিহর নামাজ পড়ছিলাম। একদিন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের সময় ইমামের দৃষ্টিগোচরের জন্য আমি লোকমা দেই। (নামাজে ইমাম ভুল করলে মুসল্লিদের কর্তব্য লোকমা দিয়ে শুধরে দেওয়া)। নামাজ শেষে ইমাম আনোয়ার শাহ বলেন, ‘কে লোকমা দিয়েছিল?’ আমি দাঁড়াতেই উনি (আনোয়ার শাহ) মোয়াজ্জিনকে ডেকে বললেন, ‘একটি জায়নামাজ এনে আমার পেছনে দাও। আজ থেকে আমার পেছনে তুমি নামাজে দাঁড়াবে এবং তেলাওয়াত শ্রবণকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’ এভাবেই দায়িত্ব পাই। এরপর আট বছর হুজুরের পেছনে শ্রবণকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ২০০১ সালে তারাবিহর নামাজ পড়ানো শুরু করি।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর বিশেষ নিয়ামতে, ওস্তাদদের নেক দোয়ায় ও মুসল্লিদের ভালোবাসায় এত বছর সুস্থ থেকে একই মসজিদে টানা তারাবিহর নামাজ পড়ানোর সৌভাগ্য অর্জন করতে পেরেছি। তারাবিহ পড়াতে গিয়ে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। অনেক বড় বড় আলেম ও সরকারি কর্মকর্তা এখানে নামাজ পড়েন। আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে, এ মসজিদে আমি দুই প্রজন্মকে তিলাওয়াত শোনাতে পেরেছি। আমার কোনো চাওয়া–পাওয়া নেই। যত দিন সুস্থ থাকব, পবিত্র কোরআনের খেদমতের মাধ্যমেই মসজিদে বাকি জীবন অতিবাহিত করতে চাই।

মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ পড়েন হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে শহীদি মসজিদে নিয়মিত তারাবিহ পড়ছি। আমার সঙ্গে এখন আমার ছেলেও নিয়মিত এই মসজিদে তারাবিহ পড়ে। হাফেজ মাহফুজুর রহমানের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত অনেক শ্রুতিমধুর এবং তিনি প্রতিটি হরফের স্পষ্ট উচ্চারণের পাশাপাশি নিখুঁত তিলাওয়াত করেন। তার তিলাওয়াত শুনতে অনেক ভালো লাগে।

মাহফুজুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের চর শোলাকিয়া এলাকার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। তার দুই ছেলে হুজাইফা ও মুয়াজ পবিত্র কোরআনের হাফেজ। মাহফুজুর দাওরায়ে হাদিস পাস করার পাশাপাশি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন। তিনি মিফতাহুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক।

শহীদি মসজিদের মোতোয়ালি ও আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বির আহমাদ বলেন, শহীদি মসজিদ হলো কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দ্রীয় মসজিদ। এখানে তারাবিহ ও জুমার নামাজ আদায়ের জন্য আশপাশসহ দূর-দূরান্ত থেকে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে। এখানে হাফেজ মাহফুজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে তারাবিহর নামাজ পড়াচ্ছেন। তার শ্রুতিমধুর ও সুন্দর তিলাওয়াতে সবাই মুগ্ধ। যত দিন তিনি নামাজ পড়াতে সক্ষম হবেন, ততদিন এখানেই নামাজ পড়াবেন। এটাই মসজিদ কমিটিসহ সব মুসল্লির চাওয়া। বর্তমানে মসজিদে হাফেজ মাহফুজুর ছাড়াও আরও তিনজন হাফেজ খতম তারাবিহ পড়ান। এর বিনিময়ে তারা কোনো বেতন নেন না। কমিটি দিতে চাইলেও তারা নিতে রাজি নন। বলা চলে বিনা পয়সায় তারা তারাবিহর ইমামতি করেন।
 

গণশত্রু থেকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং: প্রকৃতি, মিডিয়া ও প্রতিরোধের গল্প

আমরা যখন পরিবেশ নিয়ে কথা বলি, তখন সাধারণত কিছু পরিচিত ছবি ভেসে ওঠে—গলতে থাকা হিমবাহ, কাটা পড়া বন, প্লাস্টিকে ভরা সমুদ্র কিংবা ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া শহর। কিন্তু পরিবেশ আসলে শুধু ‘প্রকৃতি’র বিষয় নয়। এটি গল্পের বিষয়, ক্ষমতার ও মিডিয়ার বিষয়। আরও স্পষ্ট করে বললে—কে পৃথিবীর গল্প বলবে, আর কে শুধু সেই গল্পের ভুক্তভোগী হয়ে থাকবে—এই প্রশ্নও পরিবেশের অংশ।  

হলিউড বহু বছর ধরেই পৃথিবীর শেষ হয়ে যাওয়ার গল্প বানাচ্ছে। ‘দ্য ডে আফটার টুমরো’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘অ্যাভাটার’ কিংবা সাম্প্রতিক ‘ডোন্ট লুক আপ’—সব সিনেমাতেই পৃথিবী বিপদের মুখে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই সিনেমাগুলোর বেশিরভাগ সংকট গ্লোবাল হলেও তার নায়ক প্রায় সবসময়ই আমেরিকা। যেন পৃথিবী মানেই ওয়াশিংটন বা নিউ ইয়র্ক। অথচ জলবায়ু বিপর্যয়ের সবচেয়ে বাস্তব গল্পগুলো ঘটছে ঢাকার উপকণ্ঠে, সুন্দরবনের পাশে, কলকাতার তাপদগ্ধ রাস্তায়, পাকিস্তানের বন্যায় কিংবা আফ্রিকার খরাপীড়িত গ্রামে। পৃথিবীর সবচেয়ে কম কার্বন নিঃসরণ করা মানুষগুলোই আজ সবচেয়ে বেশি বিপদের মধ্যে। এটিই পরিবেশ রাজনীতির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো বহুদিন ধরেই বলে আসছে—‘তোমরা উন্নয়ন করেছ, আমরা মূল্য দিচ্ছি’। জলবায়ু পরিবর্তন এখানে শুধু তাপমাত্রার প্রশ্ন নয়; এটি ইতিহাসের প্রশ্ন। উপনিবেশবাদ, শিল্পায়ন, পুঁজিবাদ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘কার্বন সাম্রাজ্যবাদ’। গবেষকরা একে বলছেন ক্লাইমেট ইনজাস্টিস— যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলেই উপস্থিত নেই। বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক অন্যায়ের সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণগুলোর একটি।

পৃথিবীর মোট কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান নগণ্য। অথচ ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা আর জলবায়ু উদ্বাস্তু—সবকিছুর সবচেয়ে নির্মম অভিঘাত এখানেই। উপকূলের মানুষ শহরে আসছে। শহর তাদের জায়গা দিতে পারছে না। ফলে পরিবেশ সংকট একসময় সামাজিক সংকটে পরিণত হচ্ছে।

এই জায়গায় এসে পরিবেশ আর সমাজতত্ত্ব আলাদা থাকে না। সমাজতত্ত্ব আমাদের শেখায়—দুর্যোগ কখনও ‘সবার জন্য সমান’ নয়। ঢাকার ধনী এলাকার মানুষ এয়ার পিউরিফায়ার কিনতে পারে, কিন্তু বস্তির মানুষ দূষিত বাতাসই শ্বাস নেয়। দিল্লির অভিজাতরা হিটওয়েভের মধ্যে এসি চালায়, কিন্তু রাস্তায় কাজ করা শ্রমিকের শরীরই হয়ে ওঠে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম শিকার।

কিন্তু এই গল্পগুলো আমরা কীভাবে জানি? এখানেই আসে কমিউনিকেশন স্টাডিজ। 

মিডিয়া শুধু খবর দেয় না, মিডিয়া বাস্তবতাও তৈরি করে। কোন বিপর্যয় ‘বড় খবর’ হবে, কোন মৃত্যু ‘পরিসংখ্যান’ হয়ে থাকবে—তা অনেকটাই নির্ভর করে মিডিয়ার ওপর। ইউরোপে বন্যা হলে সেটি হয় ‘গ্লোবাল ট্র্যাজেডি’, কিন্তু বাংলাদেশের উপকূলে হাজার মানুষ গৃহহীন হলে সেটি অনেক সময় ‘লোকাল নিউজ’ হয়েও থাকে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অবশ্য এই সমীকরণ কিছুটা বদলে দিয়েছে। এখন কক্সবাজারের একজন তরুণীও ভিডিও বানিয়ে বলতে পারেন সমুদ্র কীভাবে তার বাড়ি গ্রাস করছে। সুন্দরবনের জেলে নিজের ভাষায় জলবায়ুর গল্প বলতে পারেন। অর্থাৎ পরিবেশ আন্দোলন এখন শুধু রাষ্ট্র বা এনজিওর বিষয় নয়, এটি মানুষের ব্যক্তিগত গল্প বলার জায়গাও হয়ে উঠছে।

ভারতীয় সিনেমাতেও পরিবেশ এখন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক হয়ে উঠছে। অমিতাভ বচ্চনের ‘আরক্ষণ’ বা দক্ষিণ ভারতের অনেক সিনেমায় উন্নয়ন বনাম প্রকৃতির দ্বন্দ্ব দেখা যায়। সাম্প্রতিক মালায়ালাম সিনেমাগুলোতে পাহাড় কাটা, নদী দখল বা করপোরেট আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক ভাষা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি সিনেমা এখনো খুব শক্তিশালীভাবে জলবায়ু সংকটকে ধারণ করতে পারেনি, কিন্তু ডকুমেন্টারি ও স্বাধীন চলচ্চিত্রে এই চেষ্টাগুলো বাড়ছে।

মজার ব্যাপার হলো, পরিবেশ নিয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী কাজগুলো প্রায়ই ‘মেইনস্ট্রিম’ নয়। কারণ প্রকৃত পরিবেশ রাজনীতি খুব আরামদায়ক কিছু নয়। এটি প্রশ্ন তোলে—কেন কিছু দেশ পৃথিবী ধ্বংস করার অধিকার পাবে? কেন উন্নয়নের নামে নদী মেরে ফেলা হবে? কেন বিজ্ঞাপন আমাদের এমন জীবনযাপনে উৎসাহিত করবে, যা পৃথিবী টিকিয়ে রাখতে পারে না?

আসলে পরিবেশ সংকটের বড় অংশই একটি ‘কমিউনিকেশন ক্রাইসিস’। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে মানুষ প্রকৃতির চেয়ে স্ক্রিন বেশি দেখে। ফলে নদী শুকিয়ে যাওয়ার চেয়ে নতুন ফোনের বিজ্ঞাপন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পুঁজিবাদ এখানে শুধু অর্থনীতি নয়, এটি কল্পনারও নিয়ন্ত্রক। এই কারণেই বিশ্ব পরিবেশ দিবস এখন শুধু গাছ লাগানোর অনুষ্ঠান হতে পারে না। এটি হওয়া উচিত নতুন গল্প বলার দিন। এমন গল্প, যেখানে পৃথিবী শুধু একটি ‘লোকেশন’ নয়, বরং একটি জীবন্ত রাজনৈতিক ও মানবিক সত্তা।

হয়তো ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ আন্দোলনটি হবে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন—যেখানে সিনেমা, সাহিত্য, গান, সাংবাদিকতা, ইউটিউব ভিডিও, এমনকি মিমও মানুষকে নতুনভাবে পৃথিবীর কথা ভাবতে শেখাবে।

পরিবেশ সংকট নিয়ে সিনেমা বহুদিন ধরেই আমাদের কল্পনা, ভয় এবং রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রভাবিত করছে। বং জুন-হো’র ‘স্নোপিয়ার্সার’–এ দেখা যায় জলবায়ু বিপর্যয়ের পর বেঁচে থাকা মানুষদের শ্রেণিভিত্তিক বিভক্ত এক ট্রেন-সভ্যতা, যেখানে পরিবেশ সংকট শেষ পর্যন্ত সামাজিক বৈষম্যের গল্প হয়ে ওঠে।

আবার ওকজা’র সিনেমায় করপোরেট খাদ্যশিল্প, প্রাণী ও পুঁজিবাদের সম্পর্ককে এমনভাবে দেখানো হয়, যা পরিবেশ রাজনীতিকে একেবারে ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গায় নিয়ে আসে। পিক্সারের ‘ওয়াল-ই’ হয়তো শিশুদের অ্যানিমেশন, কিন্তু সেটি মূলত অতিভোগবাদ, প্লাস্টিক সভ্যতা এবং করপোরেট পৃথিবীর বিরুদ্ধে এক গভীর রাজনৈতিক ভাষ্য।

ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ইন্টারস্টেলার’-এ ধ্বংসপ্রায় পৃথিবী ছেড়ে মানুষ নতুন গ্রহ খুঁজতে বের হয়। যেন পৃথিবীকে বাঁচানোর চেয়ে পালিয়ে যাওয়ার কল্পনাই আধুনিক সভ্যতার বড় স্বপ্ন। আর ‘ডোন্ট লুক আপ’ সিনেমাটি দেখিয়েছে, কীভাবে মিডিয়া, করপোরেট শক্তি ও রাজনৈতিক পপুলিজম মিলে বৈজ্ঞানিক সত্যকেও ‘বিনোদন’ বানিয়ে ফেলে।

এই সিনেমাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পরিবেশ সংকট শুধু প্রকৃতির সংকট নয়। এটি মিডিয়া, পুঁজিবাদ, তথ্য রাজনীতি এবং মানুষের কল্পনাশক্তিরও সংকট।

এই লেখাটি শেষ করব সত্যজিৎ রায়ের ‘গণশত্রু’ সিনেমাটির প্রসঙ্গ দিয়ে। সেখানে ডা. অশোক গুপ্ত আবিষ্কার করেন যে শহরের মন্দিরের ‘পবিত্র’ জল আসলে দূষিত এবং মানুষের অসুস্থতার কারণ। কিন্তু সত্য প্রকাশ করতে গেলে তিনি শুধু ধর্মীয় গোঁড়ামির মুখোমুখিই হন না; রাজনৈতিক ক্ষমতা, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং জনমোহিনী প্রচারণাও তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। এই লড়াইয়ে একজন সাংবাদিক ও কিছু তরুণ তার পাশে এসে দাঁড়ায়।

সত্যজিৎ যেন দেখাতে চেয়েছিলেন—সমাজকে রক্ষা করতে বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিদ্যা ও সাংবাদিকতার জোট কতটা জরুরি। আজকের জলবায়ু সংকটের সময়েও সেই কথাই নতুনভাবে সত্য হয়ে ওঠে। কারণ পরিবেশ রক্ষার সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত শুধু প্রকৃতির জন্য নয়, এটি সত্য, জনস্বাস্থ্য এবং মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, সাবেক পরিবেশবিষয়ক সাংবাদিক, নিউ মিডিয়া ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বিষয়ে গবেষক। ইমেইল: [email protected] 

ট্র্যাকের বিষণ্ণ শূন্যতা: হারিয়ে যাচ্ছে নারী অ্যাথলেটদের পদধ্বনি?

রোববার ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে দ্বিতীয় হয়েছেন শরিফা খাতুন। বুকে পদক, চোখে তৃপ্তি। খুব শিগগিরই তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষিণ সুদানে পাড়ি জমাবেন। এটি হয়তো তার শেষ জাতীয় প্রতিযোগিতা। খুলনার এই স্প্রিন্টার গত ১২ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে আছেন। এই খেলাই তাকে এনে দিয়েছে এই চাকরি। তাই গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন, ‘কখনো মনে হয়নি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ কিন্তু শারিফার এই আত্মবিশ্বাসী পথচলার পাশে যদি একটু দাঁড়িয়ে ট্র্যাকের দিকে তাকানো যায়, দেখা যাবে, এই পথে মেয়েদের পদচিহ্ন ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।

৪৭তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় নারী অ্যাথলেট ছিলেন ১৪৬ জন। ৪৮তম আসরে সেই সংখ্যা নামে ১০৭-এ। আর চলমান আসরে ৪৫টি সংস্থার ৪১০ জন অ্যাথলেটের মধ্যে নারী মাত্র ৯৮ জন। তিন বছরে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে নারীর উপস্থিতি। যদিও এ বছরে কমেছে ছেলেদের সংখ্যাও। সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, এগুলো এক একটি গল্পের অনুপস্থিতি। যে মেয়েটি আসেনি, সে কেন আসেনি, সেই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রথমেই যে কথাটা বারবার উঠে আসে, সেটা হলো ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। নেত্রকোনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোচ মোখলেসুর রহমান আশির দশক থেকে এই ট্র্যাকের মানুষ। বললেন, ‘জেলায় ভালো করলাম, বিভাগে ভালো করলাম, কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে কিছু হলো না, তখন কেউ দেখে না। পরিবারের কাছে সেটা দায় হয়ে যায়।’ একটি মেয়েকে বছরের পর বছর ট্র্যাকে দৌড়াতে পাঠানো মানে শুধু শারীরিক পরিশ্রম নয়, একটি পরিবারের স্বপ্ন আর আর্থিক বিনিয়োগও। সেই বিনিয়োগের শেষে যদি কোনো নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে পরিবার পিছিয়ে আসে।

একসময় এই নিশ্চয়তার জায়গাটা পূরণ করত বিটিএমসি, বিজিএমসি, কাস্টমস, রেলওয়ের মতো সংস্থাগুলো। অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মনে করিয়ে দিলেন সেই দিনগুলোর কথা। ‘আগে বারো থেকে পনেরোটি সার্ভিস দল ছিল। একটি সংস্থা দশ হাজার টাকা বেতন দিলে আরেকটি পনেরো হাজার দিয়ে খেলোয়াড় নিয়ে যেত। এই প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স আর আয় দুটোই বাড়ত।’ নিজের কথাই বললেন তিনি, চারটি স্বর্ণপদকের বিনিময়ে বিজেএমসি তাকে সরাসরি অফিসার পদে এবং আটটি ইনক্রিমেন্ট দিয়ে নিয়েছিল। সেই ব্যবস্থা এখন কার্যত নেই। এখন কেবল সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী খেলোয়াড় নেয়, তাও সীমিত সংখ্যায়।

সাবেক হার্ডলার সুমিতা রানী এই ব্যর্থতার দায় সরাসরি দেন ফেডারেশনকে। তার কথায় ক্ষোভ আর বেদনা মিলিয়ে আছে। ‘আমরা যখন খেলেছি, দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্পিং ছিল, পরপর গেম হতো, স্পনসর ছিল। এখন এগুলো নেই।’ তিনি মনে করেন, ফেডারেশনকে জেলা পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখতে হবে, ইকুইপমেন্ট ও সহায়তা দিতে হবে। নোয়াখালীতে একসময় অনেক অ্যাথলেট উঠে এসেছিল কেবল এই সংযোগটা থাকার কারণেই। সুমিতা একটু থামলেন, তারপর বললেন, ‘হার্ডলসে আমার মতন কেউ নেই। ১০০ মিটারেও দেখুন। শিরিন আর কিছু নাম ছাড়া তেমন কেউ নেই। কারণটা বুঝে নিন।’

কারণের আরেকটি স্তর আছে, যেটা নিয়ে কথা বলতে একটু সংকোচ থাকলেও সবাই বললেন। সেটা হলো সমাজ। মোখলেসুর রহমান বললেন তার জেলার একটি মেয়ের কথা। সাঁতারে ভালো ফল করেছিল, বিভাগীয় পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু অভিভাবক যেতে দেননি। কারণ হিসেবে বললেন, ‘এত বড় মেয়ে খেলতে যাবে, এটা পাপ।’ তার পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধর্মীয় রক্ষণশীলতার প্রসার মেয়েদের খেলাধুলায় আসার পথটাকে আরও সংকীর্ণ করে দিচ্ছে।

শারিফা খাতুনও একই কথা ঘুরিয়ে বললেন। ‘হাফ প্যান্ট পরে দৌড়ানো অনেক জায়গায় পছন্দ করে না। অনেক জায়গা থেকে মেয়েদের আসতে দেওয়া হয় না। এটাও একটা কারণ হতে পারে।’ সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় সামাজিক প্রভাব বেড়েছে বলে যে পর্যবেক্ষণ, তার প্রতিফলন মাঠেও পড়ছে।

এই চাপটা সবচেয়ে বেশি অনুভব করে গ্রামের মেয়েরা। ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্রী স্মৃতি আক্তার আজ ট্র্যাকে নেমেছেন পরিবারের সমর্থন নিয়ে। কিন্তু তার পাড়ার বেশিরভাগ মেয়ে আসতে পারেনি। ‘গ্রামাঞ্চলে মেয়েরা খেললে মানুষ অনেক কথা বলে। পারিবারিক কারণে, ধর্মীয় কারণে অনেকে আসতে পারে না।’ একই জেলার ইয়াসমিন আক্তারও বললেন, যদি সরকার থেকে প্রচার করা হতো যে খেলাধুলায় ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে, তাহলে বাবা-মায়েরা হয়তো মেয়েদের খেলতে ছেড়ে দিতেন।

সমস্যার গভীরে আরও একটি কারণ লুকিয়ে আছে, যেটা কাঠামোগত। মোখলেসুর রহমান বললেন, তার জেলায় শেষবার জেলা পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্স হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। চল্লিশ বছর ধরে জেলায় কোনো প্রতিযোগিতা নেই। তৃণমূলে প্রতিভা তৈরি না হলে জাতীয় পর্যায়ে মুখ কোথা থেকে আসবে? শাহ আলমও বললেন, এবার অনেক জেলা দল পাঠাতেই পারেনি, কারণ কমিটি গঠন নিয়ে ব্যস্ততায় খেলোয়াড় প্রস্তুত করার সময়ই হয়নি। ৬৪ জেলা ও ৮ বিভাগ মিলিয়ে ৭২টির মধ্যে এসেছে মাত্র ২০টির মতো। আর সংখ্যার এই কমতি দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করতে আসা প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও।

এত কারণের ভেতরেও শারিফা খাতুনের মতো কেউ কেউ টিকে থাকেন, পদক জেতেন, মিশনে যান। স্মৃতি বা ইয়াসমিনের মতো কেউ কেউ স্বপ্ন নিয়ে ট্র্যাকে নামেন ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে। কিন্তু এই ব্যক্তিগত সাহস পুরো ছবিটা বদলে দেয় না। ট্র্যাকে যে আলো কমছে, সেটা সংখ্যায় স্পষ্ট, এবং সেই সংখ্যার পেছনে আছে পরিবারের ভয়, সমাজের চোখ, রাষ্ট্রের উদাসীনতা আর একটি ব্যবস্থার ধীর ক্ষয়। শারিফারা মিশনে গেলে তার জায়গায় কে আসবেন, সেই প্রশ্নটার জবাব এখনো তৈরি নেই।