32.1 C
Dhaka
Home Blog

একাত্তরের জামায়াত আর এখনকার জামায়াত এক নয়: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশের জন্মলগ্নে ১৯৭১ সালের জামায়াত আর এখনকার জামায়াত এক নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংসদে আনা বিলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা প্রসঙ্গে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পরওয়ার বলেন, ‘তিনি বলেছেন, আমরা এই জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতিকে থেকে ফিরে আসতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম, এই বিলের মধ্যে পলিটিক্যাল ব্যাড ইনটেনশন আছে। এটা সংশোধন করা উচিত।’

‘বারবার সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে, অতীতের কোনো সরকার সময় এটা ছিল না,’ যোগ করেন পরওয়ার।

তার মত, ‘দেশের মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে যে অপশক্তি তৎপর আছে, তাদেরই অপতৎপরতার ফল হিসেবে এটাকে এইভাবে রাখা হয়েছে।’

বাংলাদেশে কেন—সারা দুনিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু বিতর্কিত আলোচনা ও বক্তব্য থাকতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০-৬০ বছর পরে জাতি যদি পুরাতন কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক এবং জাতিকে বিভক্ত করে, সে জাতি কোনোদিন এগিয়ে যেতে পারে না।’

‘আমাদের আমিরে জামায়াত বলেছেন, ইতিহাসকে নিয়ে পড়ে থাকলে আমরা কোনোদিন ইতিহাস তৈরি করতে পারবো না। সে জন্য আমাদের পরে স্বাধীন হওয়া পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশ, তারা আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে।’

এই জামায়াত নেতা বলেন, ‘যাদের স্বাধীনতার পরে জন্ম, আজকে পার্লামেন্টে যারা এমপি হয়েছেন আমাদের, তার অধিকাংশই বয়সে তরুণ। এই জন্মভূমিতে, স্বাধীনতার পরে জন্ম, আপনি তাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলবেন, আল বদর বলবেন, রাজাকার বলবেন, জনগণ তো হাসে!’

তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে সেই সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তখনকার যারা রাজনৈতিক দলে ছিলেন, সেখানকার রাজনৈতিক পলিসি, ভূমিকার ব্যাপারে অনেক আলোচনা-বিতর্ক হতে পারে। তার অর্থ এই না…স্বাধীনতার পরে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী…সেই সময়ের জামায়াত আর এখনকার জামায়াত এক নয়। বহুবার জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র, নীতি, পদ্ধতি বদল হয়েছে।’

জামায়াতের গঠনতন্ত্র পড়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে পরওয়ার বলেন, ‘ভূমিকাতেই রোকন শর্তের মধ্যে আমরা বলেছি, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই লড়াই-সংগ্রামকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে ধারণ করেছি, স্মরণ করেছি।’

এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ম রক্ষায় আত্মত্যাগের স্বীকৃতি না দিলে তিনি কেউ জামায়াতের ইসলামীর সদস্য হতে পারেন না বলেও জানান তিনি।

পরওয়ার আরও বলেন, ‘সাংবিধানিক এত পরিবর্তনের পরেও একটা মহল যখন এই বিতর্ক জিইয়ে রাখতে চান, এটা দেশপ্রেম নয়, স্বাধীনতার প্রেম নয়, এটা হচ্ছে জাতিকে বিভক্ত করার একটি বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশে তারা এই কথাগুলো বলেন। এই দুরভিসন্ধি থেকে জাতিকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি মনে করি, আমাদের এগোবার সময় আছে, জাতির মধ্যে একটা জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হোক।’

‘এই বিষয় এখানেই সমাধান করে ফেলা উচিত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল সংসদের সমাপনী দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে আমরা দেখলাম একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। আমরা এখন সামনে যেতে চাই। তাহলেই আমরা নতুন প্রজন্মকে একটা নতুন ইতিহাস দিয়ে যেতে পারবো।’

৫ তারকার স্মৃতিতে পহেলা বৈশাখ

আজ পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরের প্রথম দিনটি বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে উৎসব, আনন্দ আর নতুন প্রত্যাশা। এই বিশেষ দিনকে ঘিরে যেমন সাধারণ মানুষ মেতে ওঠেন, তেমনি তারকারাও ফিরে যান স্মৃতির পেছনে। ছেলেবেলার পহেলা বৈশাখ নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন পাঁচ জ্যেষ্ঠ তারকা।

মামুনুর রশীদ

আমাদের ছেলেবেলায় পহেলা বৈশাখে মেলা বসত গ্রামে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন মেলায়। সেই মেলায় মজার মজার খাবার পাওয়া যেত। লোভনীয় সব খাবার। আমরা মেলা থেকে খাবার কিনে খেতাম। খুব আনন্দ করতাম। অপেক্ষা করতাম কবে পহেলা বৈশাখ আসবে।

এ ছাড়া, আমাদের ছেলেবেলায় পহেলা বৈশাখ পুতুলনাচ হত। কী যে আকর্ষণীয় ছিল পুতুলনাচ! দল বেঁধে পুতুলনাচ দেখতাম। এখনো স্মৃতিগুলো চোখে ভাসে। এখনো সবকিছু মনে পড়ে। সত্যি কথা বলতে, পহেলা বৈশাখ আমাদের জীবনে বড় উৎসব। দিনটি সবার।

তবে, পহেলা বৈশাখে ঝড়-বৃষ্টিও হতো। দিনের শেষে ঝড় এসে সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিত। পরের দিন সকালে আবারও নতুন করে সব ঠিকঠাক করে ফের মেলায় দোকান বসত। কেননা, মেলা হতো কয়েকদিন ধরে। কিন্তু, পহেলা বৈশাখের দিন বেশি জমজমাট থাকত। দিনভর মেলায় ঘুরে বেড়াতাম।

আবুল হায়াত

ছেলেবেলায় অনেকগুলো বছর কেটেছে চট্টগ্রাম শহরে। অনেক স্মৃতি আছে। সেই সময় দেওয়ান হাটে চৈত্র সংক্রান্তি হতো। চৈত্র সংক্রান্তিতে মেলার মতো হতো। অনেক মানুষ আসতেন। ওখানে যাওয়ার স্মৃতি আছে। স্মৃতিগুলো আজও ভুলিনি।

পহেলা বৈশাখে তখনকার দিনে হালখাতা হতো। একটা উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করত। আসলে পহেলা বৈশাখ দিনটি আমাদের সবার। বছরের নতুন দিন শুরু হয়। সবাই ভালো কিছু প্রত্যাশা করেন। বিশেষ দিনে সবার জন্য শুভকামনা। সবার জীবনে সুখ শান্তি বিরাজ করুক। ছেলেবেলার পহেলা বৈশাখের মতো এখনকার বৈশাখও সবার জীবনে আনন্দ বয়ে নিয়ে আসুক।

রফিকুল আলম

আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। ছেলেবেলায় পহেলা বৈশাখের যত স্মৃতি, সবই রাজশাহী-কেন্দ্রিক। শহরে দরগাপাড়া নামে একটি জায়গা আছে। ওখানে পহেলা বৈশাখে মেলা হতো। অনেক মানুষ আসতেন মেলায়। আমাদের মতো স্কুলপড়ুয়াদের খুব আনন্দের বিষয় ছিল পহেলা বৈশাখ। স্কুলের বন্ধুরা কিংবা পরিবারের সমবয়সীরা দল বেঁধে মেলায় যেতাম, সেই স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। ওইরকম আনন্দ আর হবে না। ওইরকম ভালোলাগা আর হবে না।

ওখানে একটা মাঠ ছিল। অনেক মানুষ আসতেন। তাছাড়া, ছেলেবেলায় যখন স্কুলে পড়ি, তখন স্কুলে স্কুলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনুষ্ঠান হতো, গানের আয়োজনও হতো। তখনো অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার মতো অবস্থা আমার হয়নি। কিন্তু, আমরা দলবেঁধে শুনতে যেতাম। খুব মজা করতাম। স্কুলজীবনে দেখেছি, রাজশাহীতে অনেকগুলো মাড়োয়ারি পরিবার থাকত। আমার বেশ কয়েকজন মাড়োয়ারি বন্ধুও ছিল। একজনের নাম হিরালাল সেন। ওর সাথে কত স্মৃতি আছে! আসলে পহেলা বৈশাখটা অন্যরকম আনন্দের একটি দিন।

ওয়াহিদা মল্লিক জলি

ছোটবেলায় আমার পহেলা বৈশাখ কেটেছে রাজশাহী শহরে। খুব আনন্দ করতাম। বৈশাখী মেলা হতো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। স্কুলের অনুষ্ঠানে কবিতা পড়তাম। এটা প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে করতে হতো। খুব আনন্দ নিয়ে কবিতা পড়তাম। এখনো মনে পড়ে, ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হতো আমাকে।

রাজশাহীতে কড়াইতলা নামে একটি জায়গা আছে, ওখানে পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠান হতো। আমরা যেতাম এবং অনেক আনন্দ করতাম। মজার মজার খাবার বিক্রি হতো। হাওয়াই মিঠাইয়ের কথা ভুলিনি এখনো। পহেলা বৈশাখ আমার মা-বাবার বিয়েবার্ষিকী, সেজন্য বাড়িতে উৎসব হতো। খিচুড়ি রান্না হতো। বাবার কাছের মানুষেরা আসতেন। স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ে।

রহমত আলী

রাজশাহীর ঘোড়ামারায় আমাদের বাড়িতে চৈত্র সংক্রান্তিতে খুব বড় আয়োজন হতো। মায়ের জন্যই এটা হতো। কত মানুষ আসতেন বাড়িতে। কেউ না খেয়ে যেতে পারতেন না। লুচি রান্না হতো। আরও অনেক কিছু রান্না হতো।

তারপর, পহেলা বৈশাখের দিন রাজশাহী শহরে বৈশাখী মেলা হতো। ওখানে ছুটে যেতাম। আমাদের ঘোড়ামারাতেও মেলা হতো। তবে, নওগাঁয় গ্রামের দিকে পহেলা বৈশাখে বড় মেলা হতো। গ্রামীণ মেলা যেমন হয় আরকি। নওগাঁর মেলায় আমি যেতাম। আসলে, আমদের জীবনে পহেলা বৈশাখের গুরুত্ব অনেক।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের অন্তত ২০ প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রিসেন্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র মোজতবা খালেদি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি প্রদেশ হামলায় আক্রান্ত হয়েছে।’

পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আসবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শোনা যাচ্ছে যে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসতে পারে; সেটা কি শিগগিরই আসবে নাকি আরও দেরি হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু পরিবর্তন তো আসবে, একটু সময় দিলে আরকি।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশন কবে আহ্বান করা যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এটা নির্ধারণ হয়েছে যে রাষ্ট্রপতির অধিবেশন আহ্বানের যে প্রজ্ঞাপন, সেটা যেদিন সেশন হবে, তার কমপক্ষে ১৫ দিন আগে করতে হয়। এই সামারিটা সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। এরপর রাষ্ট্রপতি সেটা অনুমোদন করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি এবং মার্চের ১২ তারিখে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেই অধিবেশনে কী কী কর্মসূচি থাকবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমন সেই অধিবেশনে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবে; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেসব অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলো উপস্থাপন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সুপ্রস্তাব হবে প্রথামাফিক এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে। আর অন্যান্য যেসব বিষয় থাকবে, সেগুলো সংসদের নৈমিত্তিক কার্যক্রম।

নতুন রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তবে স্পিকার নির্বাচন পরে হবে বলে জানান তিনি।

মোহাম্মদপুরের আদাবরে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডগুলোতে আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন—জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ রকম একটা সংবাদ আমাদের কানেও এসেছে। আমি এটা খোঁজ নিতে বলেছি, তদন্ত করে আমাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। যদি সে রকম কিছু হয় আমরা এই সমস্ত বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে চায় না সরকার। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বড় এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি বছরের ১১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন হবে। 

দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের কারিগরি দল চুক্তি নবায়নে কাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।

তিনি জানান, চুক্তিতে নতুন বাস্তবতা ও অতিরিক্ত গ্যারান্টি ক্লজ (নিশ্চয়তার শর্ত) যুক্ত করার বিষয়েও বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।

গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ভারতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ। প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিবাচক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের দিকে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ প্রায় শেষ হলেও পরবর্তী সরকারগুলো এটি বাস্তবায়নে এগোয়নি। কেন বাস্তবায়ন করা হয়নি, তা স্পষ্ট নয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটি আবার চালু করে।

মন্ত্রী জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।

এ্যানি জানান, প্রকল্পটির জন্য নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে নির্মাণকাজ শুরুর আগে আরও সমীক্ষাও চালানো হবে। আগামী বাজেটে এ জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যারাজ নির্মাণে সাত বছর সময় লাগতে পারে। সে হিসাবে বছরে গড়ে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন হবে।

মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নিজস্ব অর্থায়নেই এ প্রকল্প শেষ করা সম্ভব। অতীতে দেশ থেকে যে বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে, তার তুলনায় এই অর্থ খুব বেশি নয়।

প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্ষায় বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকটে ভোগা ২৪ থেকে ২৬ জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষের জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যারাজের মাধ্যমে পদ্মায় একটি জলাধার (রিজার্ভার) তৈরি হবে, যেখানে পানি সংরক্ষণ করে কৃষি ও মাছ চাষে ব্যবহার করা যাবে।

ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্প। এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা

তিস্তা প্রকল্পে চীনের অর্থায়নের আগ্রহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে অর্থ লাগবে, তা পদ্মা ব্যারাজের প্রায় অর্ধেক। তাহলে কেন বিদেশি ঋণ নিতে হবে?

তিনি জানান, একনেক সভায় প্রকল্প প্রস্তাব তোলার আগে আরও বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে।

খাল খনন কর্মসূচি

২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

তিনি জানান, দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের শাহপাড়া খালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নিয়ে ১৮০ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৬৬৬টি খালের ৮০০ কিলোমিটারের বেশি খনন করা হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটারের লক্ষ্য ছাড়িয়ে ২৪ থেকে ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত খাল খনন করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ্যানি বলেন, সত্তরের দশকের শেষের দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময়ের খাল খনন কর্মসূচি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধারে সহায়তা মিলবে।

তিনি বলেন, খালগুলো পুনরুদ্ধার হলে কৃষকরা সেচে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় বাড়তে শুরু করবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, সঠিক পদ্ধতিতে খনন না হলে বর্ষায় অনেক খাল আবার ভরাট হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম), সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এবং ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) এ বিষয়ে সমীক্ষা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ সচল রাখা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার উপায় নিয়েও কাজ হচ্ছে। এই কর্মসূচি সফল করতে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় মানুষকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

নদী ও খালের দূষণ, বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের জলাশয় রক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচি জলাশয়ে বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করতে বিশ্বব্যাংক, জাইকা (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অপরিকল্পিত কালভার্ট সরিয়ে ফেলা হবে।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর অনেক খাল দখল করে বাড়িঘর, দোকানপাট ও বাজার নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাছ চাষের জন্য খালে বাঁধও দিয়েছেন। খাল খননের পাশাপাশি সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করা হবে।

এ্যানি বলেন, কিছু বাধা আসতে পারে। তবে সেগুলো মোকাবিলা করতেই হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

 

পরিসংখ্যানে ২০২৬ বিশ্বকাপ: রেকর্ড, মাইলফলক ও ইতিহাস

অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলল। দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো আর কানাডার যৌথ আয়োজনে এবারের আসরটি শুধু কলেবরেই বড় হচ্ছে না, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় যুক্ত করতে যাচ্ছে বেশ কিছু নতুন অধ্যায়। বদলে যাওয়া ফরম্যাট আর অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধি— সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টটি হতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব মহাযজ্ঞ।

চলুন, পরিসংখ্যানের চোখে দেখে নেওয়া যাক আসন্ন এই বিশ্বকাপের আদ্যোপান্ত:


কেপ ভার্দে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, কুরাসাও, সেনেগাল ও উরুগুয়ে— এই দলগুলোর কোনো ফুটবলারই নিজেদের দেশের ঘরোয়া লিগে খেলেন না। এদের পুরো স্কোয়াডই সাজানো হয়েছে বিদেশি লিগে খেলা ফুটবলারদের নিয়ে। এর ঠিক উল্টো চিত্র কাতার ও সৌদি আরবের। তাদের ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৫ জনই খেলেন নিজেদের দেশের লিগে।


ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে থাকছে তিনটি দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। এর আগে কখনোই তিন দেশ মিলে বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘটনা ঘটেনি।


মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ম্যাচ আয়োজনের অনন্য কীর্তি গড়তে যাচ্ছে। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর এবারের টুর্নামেন্টের পর্দাও উঠবে এই আইকনিক স্টেডিয়ামে।

এদিকে, তৃতীয় দল হিসেবে টানা তৃতীয় ফাইনালে ওঠার হাতছানি রয়েছে ফ্রান্সের সামনে। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন ও ২০২২ সালে রানার্সআপ হয়েছিল ফরাসিরা। এর আগে কেবল পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০) ও ব্রাজিল (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) টানা তিনটি ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়তে পেরেছে।


এবারের বিশ্বমঞ্চে অভিষেক হচ্ছে নতুন চারটি দেশের। নবাগত এই দেশগুলো হলো— কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তান। এদের যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মোট দেশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৪টি।


আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি ও পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মেক্সিকোর গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়াও ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। তবে ২০০৬ ও ২০১০ সালের আসরে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি।


বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ খেলেও জয়ের দেখা পায়নি মিশর। ৫ হার ও ২ ড্রয়ের রেকর্ড নিয়ে আগামী ১৬ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারা মাঠে নামবে এই খরা কাটানোর অভিযানে। বিশ্বকাপে জয়হীন থেকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি অবশ্য হন্ডুরাসের (নয়টি ম্যাচ)। তবে তারা এবারের আসরের টিকিট কাটতে পারেনি।

১৬
উত্তর আমেরিকার মোট ১৬টি শহর এবার বিশ্বকাপের সাক্ষী হবে। তবে মূল আয়োজক হিসেবে বেশিরভাগ ম্যাচই হবে যুক্তরাষ্ট্রে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি, মেক্সিকোর তিনটি ও কানাডার দুটি ভেন্যুতে খেলা গড়াবে।

১৯
ক্লাব ফুটবলের দলগুলোর মধ্যে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার সিটির (১৯ জন)। এরপরই আছে বায়ার্ন মিউনিখ (১৮), পিএসজি (১৬), আর্সেনাল (১৬) ও বার্সেলোনা (১৫)।

২৩
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে শুরু হওয়ার পর বিশ্বকাপের সবকটি আসরে অংশ নেওয়া একমাত্র দল ব্রাজিল। ২৩তম বারের মতো তারা মাঠে নামতে যাচ্ছে। ৭৬টি জয়, ২৩৭টি গোল ও +১২৯ গোল ব্যবধান নিয়ে সব রেকর্ডেই শীর্ষে সেলেসাওরা।

২৫
এবারের আসরের সবচেয়ে বয়স্ক এবং সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড়ের বয়সের ব্যবধান ২৫ বছরেরও বেশি! টুর্নামেন্ট শুরুর দিন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডনের বয়স হবে ৪৩ বছর ১৬২ দিন। অন্যদিকে, মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরার বয়স হবে মাত্র ১৭ বছর ২৪০ দিন।

২৫.৪৮
এবারের আসরের সবচেয়ে তরুণ দল আইভরি কোস্ট। তাদের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৫.৪৮ বছর। অন্যদিকে সবচেয়ে বয়স্ক দল কলম্বিয়া, যাদের গড় বয়স ২৯.৯৮ বছর।

৩৯
দলের সংখ্যা বাড়ায় বিশ্বকাপের ব্যাপ্তিও বেড়েছে। এবারের টুর্নামেন্ট চলবে মোট ৩৯ দিন ধরে।

৪৮
ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার ৪৮টি দল মূল পর্বে অংশ নিচ্ছে। সবশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও দলের সংখ্যা ছিল ৩২টি।

১০৪
নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, চারটি করে দল মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে। ফলে মোট ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে এক লাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪!

২০০
ঘরোয়া লিগ হিসেবে আধিপত্য ইংল্যান্ডের। এবার বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০০ জন খেলেন ইংলিশ লিগগুলোতে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মানির লিগ থেকে আছেন ১০৯ জন। এরপর রয়েছে ফ্রান্স (৮৬), স্পেন (৮৬), ইতালি (৭১) ও সৌদি আরব (৪৯)। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) থেকেও রেকর্ড ৪৪ জন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন।

২২৬
ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড নিয়ে বিশ্বকাপে নামবেন পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পাঁচটি বিশ্বকাপের আসরে গোল করা একমাত্র খেলোয়াড়ও তিনি (২২ ম্যাচে ৮ গোল)। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৬টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির। আর মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেই জাতীয় দলের হয়ে ২০০ ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচও এই ক্লাবে ঢুকতে আর মাত্র দুই ম্যাচ দূরে।

৭২৭
ফিফা এবার বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতিটি দল অংশ নেওয়ার জন্যই ন্যূনতম ১০.৫ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। আর গত বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ছিল ৪৪০ মিলিয়ন ডলার। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন ডলার।

১২৪৮
এবারের আসরে ৭১টি দেশের ৪৪৯টি ক্লাব থেকে রেকর্ড ১২৪৮ জন ফুটবলার অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে ৩৫৭ জনের আগের বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাকি ৮৯১ জন খেলোয়াড় এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছেন।

কম দামে দিশেহারা পেঁয়াজ চাষি, পচনে বাড়ছে ক্ষতি

দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন চাষিদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং সংরক্ষিত পেঁয়াজে ব্যাপক পচন ধরায় দেশের প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলের কৃষকেরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের ঘরে স্বস্তি ফেরেনি। বরং উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংরক্ষণ সমস্যাজনিত পচন, ওজন কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন। আগের অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৪২ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টনের বেশি।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া, চাষের বিস্তার এবং হাইব্রিড জাতের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বাজারে সেই বাড়তি উৎপাদনই এখন কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাবনার সুজানগর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি মো. কামারুজ্জামান জানান, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই পেঁয়াজের দাম সবচেয়ে কম।

তিনি জানান, নিজের জমিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। আর লিজ নেওয়া জমিতে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘চাষ করে যা খরচ হয়েছে, এখন বিক্রি করে তার অর্ধেকও উঠছে না।’

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার চাষি বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের অভিজ্ঞতা আরও হতাশাজনক। তিনি প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে সাড়ে চার একর জমিতে হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। ফলনও হয়েছিল ভালো—মোট ৬০০ মণ। কিন্তু ভালো দামের আশায় সংরক্ষণাগারে রাখা ৪৫০ মণ পেঁয়াজের প্রায় ৯০ শতাংশই পচে গেছে। এখন অবশিষ্ট পেঁয়াজ বিক্রি করেও এক লাখ টাকা পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।

তার কথায়, ‘যে পেঁয়াজ ধরে রেখে লাভের আশা করেছিলাম, সেই পেঁয়াজই এখন আমাদের সর্বনাশ করল।’

একই উপজেলার আরেক চাষি বাশার মোল্লা বলেন, কোরবানির ঈদের আগে ভালো দাম পাওয়ার আশায় তিনি পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছিলেন। সেই টাকায় পরিবার নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করবেন বলেও ভেবেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচই উঠছে না।

হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এ বছর পেঁয়াজ চাষিদের আর ঈদ বলে কিছু নেই।’

রাজবাড়ী সদর উপজেলার ইন্দনারায়ণপুর গ্রামের চাষি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন ভালো হওয়ায় তিনি আশা করেছিলেন পেঁয়াজ বিক্রি করে কোরবানির জন্য একটি গরু কিনবেন। কিন্তু এখন ১০০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও একটি মাঝারি গরু কেনা সম্ভব নয়।

তার কথায়, ‘যে ফসল নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেটাই এখন দুঃস্বপ্ন।’

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বাস্তপুটি গ্রামের কৃষক লক্ষ্মণ মণ্ডল জানান, প্রতি বছর লাভের আশায় তারা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। কিন্তু এবার দাম এতটাই কম যে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠবে না।

তিনি আরও জানান, সংরক্ষণের সময় পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজন কমে যায়, আবার পচন ধরলে পুরো মজুত নষ্ট হয়ে যায়। এতে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।

শুধু কৃষকেরাই নন, ক্ষতির মুখে রয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। রাজবাড়ীর বানিবহ বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

তার মতে, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম পড়ে গেছে। তিনি আরও জানান, অনেক কৃষক পচন ধরা পেঁয়াজ দ্রুত বিক্রি করে দিচ্ছেন, ফলে বাজারে সরবরাহ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী সেলিম মোল্লা বলেন, তিনি রাজবাড়ী থেকে পেঁয়াজ কিনে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পাঠান। কিন্তু কোরবানির পশু পরিবহনের কারণে ট্রাকের সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘১ হাজার টাকা মণ দরে পেঁয়াজ কিনলেও পরিবহন খরচ যোগ করে চট্টগ্রামে নিতে ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পড়ে যায়।’ এর সঙ্গে পচা পেঁয়াজ আলাদা করতে অতিরিক্ত শ্রমিক খরচও যুক্ত হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরাও মুনাফা করতে পারছেন না।

ফরিদপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ বাজার কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে এ দাম ছিল প্রায় দ্বিগুণ। তার মতে, উৎপাদন বেশি হওয়াই বাজারদর কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।

তবে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, এবারের বড় সংকট হলো পচন। ফরিদপুর মসলা গবেষণা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, হারভেস্টিংয়ের সময় কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে এ বছর পেঁয়াজে বেশি পচন ধরেছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, সাধারণ পেঁয়াজে যেখানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পানি থাকে, সেখানে হাইব্রিড পেঁয়াজে পানির পরিমাণ আরও বেশি। ফলে সংরক্ষণে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বেশি ফলনের আশায় কৃষকেরা হাইব্রিড জাতের দিকে ঝুঁকেছেন। কিন্তু সব হাইব্রিড জাত দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য নয়।’

তার মতে, অনেক কৃষক নিজেরা বীজ উৎপাদন করায় বিভিন্ন জাত মিশে যাচ্ছে। এতে কোন পেঁয়াজ দীর্ঘদিন রাখা যাবে আর কোনটি যাবে না—তা কৃষকেরা বুঝতে পারছেন না। ফলে ভুলভাবে সংরক্ষণ করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকের খরচ ২৮ থেকে ৩০ টাকা। বাজারদর যদি এর নিচে থাকে, তাহলে কৃষকের ক্ষতি হওয়াই স্বাভাবিক।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, এ বছর সারা দেশে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তাই বাজারে দাম কম। তিনি কৃষকদের এখনই পেঁয়াজ বিক্রি না করে আরও কিছুদিন সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন। তার আশা, আগামী এক মাসের মধ্যে বাজারে দাম বাড়তে পারে।

অন্যদিকে রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টি ও নিম্নমানের বীজের কারণে জেলায় উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের প্রায় ৫ শতাংশ নষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেশে কৃষকের কাছে পেঁয়াজ থাকা অবস্থায় যাতে আমদানি না করা হয়, সে বিষয়ে আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।’ একইসঙ্গে তিনি বাজারে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় প্রতি কেজি পেঁয়াজের ন্যূনতম মূল্য ৪০ টাকা নির্ধারণের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কৃষি অর্থনীতিতে পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কিন্তু উৎপাদন বাড়লেও যদি কৃষক ন্যায্যমূল্য না পান, তাহলে ভবিষ্যতে তারা এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। একইসঙ্গে সংরক্ষণব্যবস্থা আধুনিক না হলে প্রতি বছরই একই সংকট ফিরে আসবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকের প্রধান দাবি—পেঁয়াজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ এবং আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা। নইলে উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের ভাগ্য বদলাবে না। বরং বাম্পার ফলনই হয়ে উঠবে লোকসানের আরেক নাম।

জুলাই সনদ: ৭ বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা ১১ দলের

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে আন্দোলনরত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সাত বিভাগীয় শহরে সমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল ও ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশ করবে জোটটি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচি সম্পর্কে জানান কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে একটি মাত্র সমাবেশ রাখা হয়েছে। ঈদের পর জুন থেকে আবারও পুরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগীয় এসব সমাবেশে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, সমাবেশের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে।

ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত তৈরি ও রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি দেশবাসীর সমর্থন, সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করেন।

এর আগে, ১৬ এপ্রিল ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গণমিছিল করে ১১ দলীয় জোট। ওই সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ২ মের পর বিভাগীয় পর্যায় ও বড় শহরগুলোতে অন্তত ১২টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় সমাবেশ শেষে রাজধানীতে একটি ‘জাতীয় মহাসমাবেশ’ আয়োজন করা হবে।

জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী জোটটি ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে।

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। এসব প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের কথা। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা হয়নি।

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সদস্যরা শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে পরিষদ গঠন করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ২৯ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধি অনুযায়ী একটি মুলতবি প্রস্তাবের নোটিস দেন। পরে ওই প্রস্তাবে ‘প্রতিকার না পাওয়ার’ অভিযোগে ১ এপ্রিল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধীদল।

নার্গিস-মধুবালা থেকে কারিনা-ঐশ্বর্য: ৭ দশকে গেয়েছেন ১২ হাজার গান 

সংগীতের জগতে কিছু কণ্ঠ থাকে যা শুধু আমাদের কানে নয়, সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে পৌঁছায়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের মায়া ও নানান স্মৃতি। কিন্তু সেই কণ্ঠের পেছনে যদি থাকে এক পাহাড় সমান লড়াইয়ের গল্প, তবেই তা হয়ে ওঠে কিংবদন্তি। 

আশা ভোসলে ছিলেন তেমনই একজন শিল্পী। যার কর্মজীবন বর্ণাঢ্য ও সুরেলা, ঠিক তার কণ্ঠের মতোই। 

তবে এই কিংবদন্তির ব্যক্তিগত জীবন মোটেও সহজ ছিল না। ১৬ বছরের কিশোরী বয়সে তিনি মা-বাবার ঘর ছেড়েছিলেন। পরিবার ও বড় বোন লতার অমত থাকার পরেও গণপতরাও ভোসলে নামের এক ব্যক্তিকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। গণপতরাওয়ের বয়স তখন ৩১। এই সংসারে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেন আশা। এমনকি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আশা ভোসলেকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই সম্পর্ক ছিন্ন করে ১৯৬০ সালে তিন সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন আশা।

ষাটের দশকের ‘চরম রক্ষণশীল সমাজে দুই সন্তান এবং তৃতীয় সন্তানকে গর্ভে নিয়ে ‘সিঙ্গেল মাদার হিসেবে শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধ। বেশিরভাগ সময় সন্তানদের স্টুডিওতে নিয়ে যেতেন আশা। এক স্টুডিও থেকে আরেক স্টুডিও, এভাবেই চলতে থাকে রেকর্ডিং। এরই মাঝে মুক্তি পায় ‘হাম দোনো অমর হয় তার গান, ‘আভি না যাও ছোড়কার, কে দিল আভি ভারা নেহি। 

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের সেই উত্তাল সময়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে আশার একমাত্র সম্বল ছিল তার কণ্ঠ। স্টুডিওর এক কোণে ছোট সন্তানদের বসিয়ে রেখে তিনি মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গান গেয়েছেন। পরে তিনি রাহুল দেব বর্মণকে (আর ডি বর্মণ) বিয়ে করেন। 

তখন হিন্দি সিনেমায় বড় বোন লতা মঙ্গেশকর এবং গীতা দত্তের জয়জয়কার। বড় দিদির বিশাল ছায়ার নিচ থেকে নিজের আলাদা একটি পরিচয় তৈরি করা ছিল অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ। 

শুরুতে তাকে কেবল সেই গানগুলোই দেওয়া হতো যা লতা মঙ্গেশকর প্রত্যাখ্যান করতেন। কিন্তু আশা, আশাহত হননি। নিজের কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ করেছেন কোটি হৃদয়। 

আশা ভোসলের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে বিস্ময়ে বিমূঢ় হতে হয়। ২০১১ সালে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশটিরও বেশি ভাষায় তিনি প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার, কারও মতে আরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। মেলোডি, পপ, গজল, ভজন থেকে শুরু করে লোকসংগীত সবখানেই তার অবাধ বিচরণ ছিল। 

১৯৪৩ সালে মারাঠি সিনেমা ‘মাঝা বাল এ তিনি প্রথম গান গান। হিন্দি সিনেমায় যাত্রা শুরু করেন ১৯৪৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চুনারিয়া সিনেমার মাধ্যমে। এরপর এই যাত্রা চলে সাত দশক! 

তার সুরে সুর মিলিয়েছেন সাদা কালো যুগের নার্গিস, মধুবালা, বৈজন্তিমালা ও ওয়াহিদা রহমানের মতো অভিনেত্রী। আবার একুশ শতকের কারিনা কাপুর, ঐশ্বর্য, কাজলের জন্যও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। সহশিল্পী হিসেবে যেমন পেয়েছেন মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার আবার জুটি করেন উদিত নারায়ণ, সনু নিগমের সঙ্গেও। মজার বিষয় হলো, কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ব্রেট লির সঙ্গেও ডুয়েট গেয়েছেন আশা।   

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন অগণিত সম্মাননা। ভারত সরকার তাকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মবিভূষণ ও ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এছাড়া তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নারী সঙ্গীতশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন। ভারতীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্বও তার। ১৯৯৭ সালে প্রথম ভারতীয় সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি ‘লিগেসি অ্যালবামের জন্য গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত হয়েছিলেন।

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের এক সংগীত পরিবারে জন্ম নেন আশা ভোসলে। তিনি ছোটবেলা থেকেই গানের আবহে বড় হয়েছেন। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনেক মুখরোচক গল্প থাকলেও, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।

দিদি লতাকে তিনি তার মায়ের মতো শ্রদ্ধা করতেন। যদিও পেশাদার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তারা ছিলেন একে অপরের শক্তির উৎস। লতার প্রয়াণে আশা বলেছিলেন, তার জীবনের একটি অংশই যেন হারিয়ে গেল।

 

আশা ভোসলে তার গান নির্বাচনের জন্যও বিখ্যাত ছিলেন। পর্দার ‘নেতিবাচক চরিত্রগুলো, খল নারী চরিত্রদের জন্য কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ‘ঝুমকা গিরা রে, ‘দম মারো দম, ‘পিয়া তু আব তো আ যা, ‘ইয়ে লাড়কা হায় আল্লাহ এসব গানে ব্যক্ত করেছেন নারীর অনুভূতি, যা সমাজ এক রকম চেপেই রাখতে চায়। ক্যাবরে শিল্পী যাদের তথাকথিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ‘মন্দই দেখা হতো সেই ‘অভদ্র ও ‘মন্দ মেয়েদের কণ্ঠ ছিলেন আশা। তিনি প্রকৃত অর্থেই ছিলেন ‘প্রথাবিরোধী। 

অবশেষে সুরের এই মহাযাত্রার যবনিকা পড়ল। ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই সুরসম্রাজ্ঞী। ৯২ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা এবং মাল্টি-অর্গান ফেইলিউরের কারণে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। 

তার মৃত্যুতে বিশ্ব সংগীতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা অপূরণীয়। ১৩ এপ্রিল, মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। 

আশা ভোসলে মারা গেলেও তার রেখে যাওয়া হাজারো কালজয়ী গান চিরকাল বেঁচে থাকবে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।

রুশ নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ

ইরানে অবস্থানরত রুশ নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে রাশিয়া।

আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে লেবাননে থাকা নিজেদের নাগরিকদের দেশত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়ার দূতাবাস তাদের নাগরিকদের আর্মেনিয়া বা আজারবাইজানের মাধ্যমে ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান—উভয় দেশই ইরানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী।

এর আগে ইরানও রাজধানী তেহরান থেকে নাগরিকদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

আল জাজির জানায়, রাজধানীর প্রায় এক কোটি বাসিন্দাকে শহর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ব্যাপক যানযট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরের প্রদেশগুলোর দিকে যাওয়ার পথে, তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।

যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান যানজটপূর্ণ এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, সরকার জোর দিয়ে বলেছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য ও জ্বালানি মজুত রয়েছে। প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোর মন্ত্রী ও গভর্নরদের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল বন্ধ থাকবে এবং সম্ভব হলে ক্লাস অনলাইনে নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল ইতোমধ্যে অনলাইন পদ্ধতিতে পাঠদান শুরু করেছিল।