23.1 C
Dhaka
Home Blog

শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক হয়েও কেন মাছ আমদানি করে বাংলাদেশ?

বিশ্বের অন্যতম প্রধান মাছ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) জুন ২০২৬-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নদী, হ্রদ ও জলাভূমি থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় এবং মাছ চাষে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের (ডিওএফ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন বছরে ৫০ লাখ টনের বেশি মাছ উৎপাদিত হয়। যেখানে দেশে বার্ষিক মাছের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৯৩ হাজার টন।

কিন্তু, সরকারি নথি বলছে, দেশে প্রতি বছর নিয়মিত হাজারো টন মাছ আমদানি হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের মতে, এর কারণ মূলত মাছের বৈচিত্র্য। বাংলাদেশে চাহিদা রয়েছে এমন কিছু প্রজাতির মাছ দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না এবং কিছু মাছ একেবারেই উৎপাদিত হয় না। প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং বিশেষায়িত বাজারের সেই চাহিদা পূরণ করতেই মাছ আমদানি করতে হয়।

কোন মাছ, কীভাবে ও কোথা থেকে আসে

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২৮৮টি প্রতিষ্ঠান দেশে মাছ ও মাছজাত পণ্য আমদানির জন্য নিবন্ধিত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৫২১ কোটি টাকা মূল্যের ৫৬ হাজার টন মাছ আমদানি করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৭৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫৫ হাজার টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৬০ কোটি টাকা মূল্যের ৭১ হাজার টন এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪০৬ কোটি টাকা মূল্যের ৫৭ হাজার টন মাছ আমদানি করা হয়েছে।

যেসব মাছ বেশি আমদানি করা হয় তার মধ্যে রয়েছে রুই, পাঙাশ, রূপচাঁদা, টুনা, শ্যাড, মুলেট, দোরাব ও ম্যাকারেল। এ ছাড়া, লইট্টা ও পুঁটি মাছের শুঁটকিও আমদানি করা হয়।

এর বেশিরভাগই হিমায়িত অবস্থায় আসে। গত অর্থবছরে আমদানি করা প্রায় ৮৬ শতাংশ মাছ হিমায়িত অবস্থায় এসেছে। মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রায় হিমায়িত করে আনা হয় বলে এসব মাছে পচন ধরে না এবং কয়েক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। বাকি মাছগুলো আসে বরফে রাখা অবস্থায়। সেগুলো শূন্য থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, অর্থাৎ হিমাঙ্কের সামান্য ওপরে রাখা হয়। এতে স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারের জন্য মাছের গুণগত গঠন ভালো থাকে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মূলত মাছ আমদানি করে চীন, ভারত, মিয়ানমার, জাপান, ওমান, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে।

কেন আমদানি

ইয়েমেন, ওমান, দুবাই, চীন, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি ইলিশ, রুই, কাতলা, ইন্ডিয়ান ম্যাকারেল, হর্স ম্যাকারেল, টুনা, ক্যাটফিশ ও চন্দনা ইলিশ আমদানি করেন মো. সাঈদ আলী। এমনকি উরুগুয়ে থেকেও স্থানীয়ভাবে রূপসী বা লাফা নামে পরিচিত ইলিশ আমদানি করেন।

তার ক্রেতা রয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তিনি জানান, লইট্টার মতো আমদানি করা কিছু মাছ তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় ভালো বিক্রি হয়। মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই মাছ বেশি কেনেন।

তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে যেসব মাছের চাহিদা আছে, সেটার ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখছে আমদানি করা মাছ।

আরেক আমদানিকারক মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম রোকন ভারত ও মিয়ানমার থেকে রুই, কাতলা, ভেটকি ও ইলিশ আমদানি করেন। তিনি ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এসব মাছ বিক্রি করেন।

প্রায় সারা বছরই এসব মাছের চাহিদা থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব মাছের চাহিদা বেশি থাকে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখার জন্যই আমদানি করা হয়।’

দেশের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো আমদানি করা মাছের বড় ক্রেতা। ঢাকার কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও পশ্চিমা ধাঁচের সি-ফুড রেস্তোরাঁর মেনু দেখলেই সেটা বোঝা যায়।

ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের ঝরনা গ্রিলের মেনুতেও বিষয়টি স্পষ্ট। রেস্তোরাঁটির নিজস্ব মেনুতে তাদের ‘প্যাসিফিক-অনুপ্রাণিত খাবার’-এর উপকরণ হিসেবে ‘ভিয়েতনামিজ প্রন, কানাডিয়ান স্যামন, সিঙ্গাপুরের কাঁকড়া, অস্ট্রেলিয়ান বিফ’-এর কথা বলা হয়েছে। তাদের সি-ফুড তালিকায় নরওয়েজিয়ান স্যামন স্টেক রয়েছে, আর মাংসের জন্য আলাদা ‘ইমপোর্টেড স্টেকস’ বিভাগ রয়েছে।

দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার সিজনাল টেস্টস রেস্তোরাঁ চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে ‘অথেনটিক চিলড নরওয়েজিয়ান স্যামন’কে কেন্দ্র করে একটি সি-ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে। সেখানে সি-ফুড পায়েলা ও টেরিনও ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিলাসবহুল হোটেলটির এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আমদানি করা সি-ফুডের চাহিদা অনেক বেশি। চিলড স্যামন, স্মোকড স্যামন, টুনা ফিলেট, চিলিয়ান সি বাস ও পাঙাশ ফিলেটের চাহিদা রয়েছে। হোটেলটি প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কেজি আমদানি করা মাছ ব্যবহার করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেরাটন ঢাকার এক কর্মকর্তাও একই কথা জানান।

মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরিচালক মো. বরকতুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, দেশীয় নিয়মিত চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে মাছ আমদানির প্রয়োজন নেই, কারণ দেশে পর্যাপ্ত মাছ উৎপাদিত হয়। কিন্তু, বাজারের কিছু বিশেষ চাহিদা পূরণ করার জন্যই আমদানি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট প্রজাতি ও পণ্যের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারের বিভিন্ন খাত ও মাছভিত্তিক শিল্পকে সহায়তা করে আমদানি।’

আরও উন্নত নিয়ন্ত্রক তদারকি প্রয়োজন

তবে মৎস্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আমদানি করা মাছের মান নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকির ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘আমদানি করা মাছ ও মৎস্যজাত পণ্যের উৎস ও ধরন যত বৈচিত্র্যময় হচ্ছে, আমাদের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। যাতে শুধু নিরাপদ, মানসম্মত ও মানুষের খাওয়ার উপযোগী পণ্যই দেশের বাজারে আসতে পারে।’

বাংলাদেশে মাছ আমদানি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ইতোমধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি আরও সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক করার সুযোগ রয়েছে। এর লক্ষ্য হওয়া উচিত ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ন্যায্য বাণিজ্য বজায় রাখা এবং দেশীয় মাছ উৎপাদক ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা।’

তিনি জানান, বর্তমানে নিয়ন্ত্রক তদারকি মূলত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া অথবা সীমিতসংখ্যক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

বরকতুল আলম বলেন, রপ্তানিকারক দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন, আমদানির আগে যাচাই ও স্বাস্থ্য সনদ যাচাই থেকে শুরু করে ঝুঁকিভিত্তিক সীমান্ত পরিদর্শন, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা, পণ্যের গতিপথ অনুসরণ এবং ছাড়পত্র দেওয়ার পর নজরদারি—পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই এর আওতায় আনতে হবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বৈশ্বিক বাণিজ্য মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বিধিবিধান সামঞ্জস্যপূর্ণ করারও পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার খাদ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত চুক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, আমদানি নীতি আদেশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাও প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ ও শক্তিশালী করা উচিত।’

ধারাবাহিক সাফল্যের কারণেই বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এত বিতর্ক?

২০২১ সালের ১১ জুলাই। ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২৮ বছরের শিরোপা-খরা ঘোচায় আর্জেন্টিনা।

সেই রাতই লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় আক্ষেপের অবসান ঘটায়। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করলেও জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারায় বছরের পর বছর সমালোচিত হয়েছেন তিনি। 

২০১৪ থেকে ২০১৬- তিন বছরে টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরে ‘সিরিয়াল ফাইনালিস্ট’ তকমা পাওয়া আর্জেন্টিনার জন্য সেই জয় ছিল নতুন এক যুগের সূচনা। এরপর একে একে ২০২২ সালে ফিনালিসিমা, একই বছর কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে লিওনেল স্কালোনির দল। চলমান বিশ্বকাপেও তারা জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সফল জাতীয় দলগুলোর একটি হয়ে ওঠার পরও আর্জেন্টিনা যতটা না প্রশংসিত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে। তাদের প্রতিটি সাফল্য সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছে, আবার অনেকের দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধও হয়েছে। ফলে স্কালোনির দল বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দল হওয়ার পাশাপাশি অনেকের মধ্যে মতের বিভক্তিও সৃষ্টি করেছে। 

স্কালোনির অধীনে অবিশ্বাস্য সাফল্য 

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে খুব কম দলই আর্জেন্টিনার মতো ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সৌদি আরবের কাছে হারার আগে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত ছিল আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা তো জিতেছিলই, পাশাপাশি কোনো ম্যাচ না হেরে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বও শেষ করেছিল আলবিসেলেস্তেরা। 

সৌদির কাছে সেই পরাজয় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্নকে লাইনচ্যুত করে দিতে পারত। উল্টো সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ ফাইনাল জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপ জয়ের পরও থেমে থাকেনি তাদের সাফল্যের ধারা। ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পয়েন্ট তালিকাতেও শীর্ষে অবস্থান ধরে রাখে দলটি। ২০১৮ সালে স্কালোনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনা খেলেছে ১০১টি ম্যাচ। এর মধ্যে ৭৮টিতেই জয় পেয়েছে দলটি, আর হার মাত্র ৯টিতে—যা বর্তমান আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের আধিপত্যেরই প্রতিফলন। 

আধুনিক যুগের সেরা আন্তর্জাতিক দলগুলোর মধ্যে একটি আর্জেন্টিনা?

গত তিন দশকে আন্তর্জাতিক ফুটবল বেশ কয়েকটি আধিপত্য বিস্তারকারী দলের দেখা পেয়েছে। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০০০ সালে ইউরো জিতে নিজেদের স্বর্ণযুগ গড়ে তুলেছিল ফ্রান্স। এরপর ২০০২ বিশ্বকাপের পাশাপাশি ২০০৪ ও ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করে ব্রাজিল।

২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০১২ ইউরো—টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্ট জিতে স্পেন তর্কযোগ্যভাবে এই শতাব্দীর সবচেয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী দলটির জন্ম দিয়েছে। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ফ্রান্স। 

এই কিংবদন্তি দলগুলোর সাথে এক কাতারেই উচ্চারিত হচ্ছে আর্জেন্টিনার নাম। স্কালোনির অধীনে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে আলবিসেলেস্তেরা নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা জাতীয় দলগুলোর তালিকায়। আর যদি তারা ২০২৬ বিশ্বকাপও জিতে নিতে পারে, তাহলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা জাতীয় দলগুলোর আলোচনায় নিজেদের জায়গাটা আরও শক্ত করবে আর্জেন্টিনা।

মেসির লিগ্যাসি 

ক্যারিয়ারের বড় একটি সময়জুড়ে লিওনেল মেসিকে শুনতে হয়েছে একটিই সমালোচনা-বার্সেলোনার জার্সিতে যে সাফল্য তিনি পেয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে তার প্রতিফলন নেই। মেসি ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের ছোট্ট তালিকায় জায়গা পাবেন কি না এটি নিয়ে যারা সংশয় প্রকাশ করতো, তাদের কাছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল এই যুক্তিই।  

কিন্তু ধীরে ধীরে এই সংশয় মুখ থুবড়ে পড়েছে। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ- আন্তর্জাতিক ফুটবলে সম্ভাব্য প্রায় সব বড় শিরোপাই এখন মেসির দখলে। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি আর্জেন্টিনা দলের প্রাণভোমরা। বিশ্বকাপে গোল ও অ্যাসিস্টের একাধিক রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন, আর বড় ম্যাচগুলোতেও নিয়মিত পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে। 

তবে এসবের বাইরে মেসি তাঁর আর্জেন্টিনা সতীর্থদের থেকে যে সম্মান ও ভালোবাসা পান, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার নজির খুব কমই দেখা গেছে। মাঠে অনেক সময় তার সতীর্থদের দেখে মনে হয়, অধিনায়কের জন্য তারা যেন সর্বস্ব উজাড় করে দিতেও প্রস্তুত। অন্য কোনো তারকাকে ঘিরে এমন নিঃস্বার্থ নিবেদন আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব কমই দেখা গেছে।

যদিও মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, পেলে কিংবা রোনালদোকে ঘিরে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্ক হয়তো কখনোই শেষ হবে না, তবু অনেকের বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার জার্সিতে গত কয়েক বছরে মেসি যা কিছু অর্জন করেছেন, তাতে তাঁর সর্বকালের সেরা ফুটবলার তকমা পাওয়ার দাবি আরও শক্তিশালীই হয়েছে। 

সাফল্যের সঙ্গে কেন বাড়ছে সমালোচনাও?

সত্যিটা হলো, আর্জেন্টিনার সাফল্যই তাদেরকে সমালোচনার অন্যতম বড় লক্ষ্য বানিয়ে তুলেছে। 

একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করা ব্রাজিল এখন নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। অন্যদিকে রোনালদোর পর্তুগালও টানা কয়েকটি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ফলে বর্তমান সময়ে আর্জেন্টিনাই হয়ে উঠেছে সেই দল, যাদের সবাই হারাতে চায়। 

সাফল্যের সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনাও ধেয়ে আসে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক সাফল্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্বও। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে রেফারিদের সিদ্ধান্তগুলোকে কেন্দ্র করে।

চলমান বিশ্বকাপেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একটি কঠিন ট্যাকলের পরও মেসি কোনো কার্ড না পাওয়ায় প্রথম প্রশ্ন ওঠে। এরপর মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের ম্যাচেও রেফারির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। ম্যাচ শেষে মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ প্রকাশ্যেই রেফারিংয়ের সমালোচনা করেন। এমনকি কেউ কেউ টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ফিফার রেফারিং বিভাগ। তাদের দাবি, ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা ফুটবলের প্রচলিত আইন যথাযথভাবেই প্রয়োগ করেছেন।

তবু এসব বিতর্কের জেরে ফুটবল সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যে এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা সুবিধা পায়। যদিও এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বা প্রমাণিত তথ্য সামনে আসেনি।

অতীতের বিতর্কে বেড়েছে সন্দেহ

আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বর্তমানের নানা বিতর্কের পেছনে ইতিহাসেরও বড় ভূমিকা আছে। 

দেশটির প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা আসে ১৯৭৮ সালে। তবে সেই সাফল্য আজও পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত নয়। সে সময় জেনারেল হোর্হে রাফায়েল ভিদেলার সামরিক শাসনের অধীনে আয়োজিত বিশ্বকাপকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছিল। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কখনোই অকাট্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

১৯৮৬ বিশ্বকাপ মানেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। গোলটি আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি। অবশ্য একই ম্যাচে কয়েকজন ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে করা তার অবিশ্বাস্য একক গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবেও স্বীকৃত।

সাম্প্রতিক সময়েও বিতর্ক পুরোপুরি পিছু ছাড়েনি আর্জেন্টিনার। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তারা পেয়েছিল পাঁচটি পেনাল্টি—যা এক আসরে কোনো দলের পাওয়া সর্বোচ্চ পেনাল্টির রেকর্ড। এরপর থেকেই সমালোচকদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, তবে কি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে আর্জেন্টিনা রেফারিদের থেকে অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছিল? আর্জেন্টিনা ভক্তরা অবশ্য শক্তভাবে দাবি করেন যে প্রতিটি পেনাল্টির সিদ্ধান্তই ভিএআর দিয়ে পরীক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ীই দেয়া হয়েছিল, ফলে এখানে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

সাফল্য যত বড়, বিরূপ প্রতিক্রিয়াও তত বেশি

ন্যায়সঙ্গত হোক বা না-ই হোক, আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আজ যে বিতর্ক তা তাদের সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বেড়েছে। দলটির প্রতিটি অর্জন যেমন প্রশংসিত হয়, তেমনি তা খুঁটিয়ে বিশ্লেষণও করা হয়। 

আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মতে, এই সমালোচনার বড় কারণ হলো দীর্ঘ সময় ধরে সাফল্যের শীর্ষে থাকা। আর সমালোচকদের মতে, রেফারিং-সংক্রান্ত বিতর্ক এবং কিছু প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত বারবার সামনে আসায় এসব আলোচনা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। 

সম্ভবত বাস্তবতা এই দুই অবস্থানের মাঝামাঝি কোথাওই হবে। 

কারণ গত পাঁচ বছরে আর্জেন্টিনার সাফল্যকে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত দিয়ে মাপা যায় না। লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটির ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা, শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং চাপের মুহূর্তে সেরা ফুটবল উপহার দেওয়ার সক্ষমতা তাদের এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক দলে পরিণত করেছে।

কেউ পছন্দ করুক বা না করুক, মেসি এবং আর্জেন্টিনা এখন এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে, যেখানে তাদেরকে উপেক্ষা করা অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত তাদের লিগ্যাসি নির্ধারণ করবে ইতিহাস। আর ইতিহাস সাধারণত বিতর্কের চেয়ে চ্যাম্পিয়নদেরই বেশি মনে রাখে।

নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আফরান নিশো

‘সুড়ঙ্গ’-সিনেমার সাফল্যের পর এবার আসছে এর সিক্যুয়েল ‘সুড়ঙ্গ-২’। নতুন চমক নিয়ে ফিরছেন পরিচালক রায়হান রাফী এবং অভিনেতা আফরান নিশো।

বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি ‘সুড়ঙ্গ’ সমালোচকদেরও প্রশংসা অর্জন করে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আটটি বিভাগে সম্মাননা পায় এটি।

এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লি. প্রযোজিত এই সিক্যুয়েল মুক্তি পাবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে।

এ প্রসঙ্গে সিনেমাটির পরিচালক রায়হান রাফী বলেন, ‘সুড়ঙ্গ’ আমার চলচ্চিত্রযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলোর একটি। এই চলচ্চিত্রকে দর্শক যেভাবে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন, তা শুধু ভালোবাসা নয়, আমাদের প্রতি এক গভীর দায়িত্বও তৈরি করেছে। সুড়ঙ্গ-২–এ আমরা এমন একটি গল্পের দরজা খুলতে যাচ্ছি, যা শুধু আগের কাহিনির ধারাবাহিকতা নয়; বরং আমার চলচ্চিত্রের নিজস্ব ইউনিভার্সকে আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ করবে। মানুষের ভেতরের অন্ধকার, আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার লড়াই সবকিছুকে এবার আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে দেখার চেষ্টা করেছি।

অভিনেতা আফরান নিশো বলেন, আমার প্রথম সিনেমা ছিলো ‘সুড়ঙ্গ’, তাই এটি সবসময় আমার জন্যে বিশেষ কিছু। ‘মাসুদ’ চরিত্রটি আমার চলচ্চিত্রের জার্নিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র। দর্শকরা যেভাবে এই চরিত্রকে ভালোবেসেছেন, তা আমার জন্য বিশেষ পাওয়া। সুড়ঙ্গ-২ নিয়ে এতটুকু বলতে চাই, নতুন গল্প, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নতুন কিছু চমক দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে।’

‘শান্তিতে নোবেল প্রত্যাশী’ ট্রাম্প কেন যুদ্ধে নামলেন

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সময় বিকেলে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাসের ‘আমেরিকান এনার্জি ডমিন্যান্স’ নামে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি।

তিন ঘণ্টার ফ্লাইটে টেক্সাসের রিপাবলিকান রাজনীতিকদের সঙ্গে ইরানে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছিলেন ট্রাম্প। সেখানে ছিলেন টেক্সাস রাজ্যের দুই কট্টরপন্থী সিনেটর জন করনিন ও টেড ক্রুজ।

অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর সময় ওই বিমানে উপস্থিত ছিলেন অভিজ্ঞ চলচ্চিত্র তারকা ডেনিস কোয়েইডও।

ফ্লাইটের একপর্যায়ে টেড ক্রুজ একটি ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে অভিনেতা ডেনিস কোয়েইডকে ট্রাম্পের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। ২০২৪ সালের এক বায়োপিকে তার অভিনীত রোনাল্ড রিগানের চরিত্রটি কোয়েইডকে আবারও করে দেখাতে অনুরোধ করেন ক্রুজ।

এরপর রিগানের কণ্ঠস্বর অনুকরণ করে কোয়েইড বলেন, ‘ট্রাম্প আমারই শক্তিশালী সংস্করণ।’ এটি ছিল রিপাবলিকান কট্টরপন্থীদের প্রতীকী অভিভাবক রিগান থেকে বর্তমান নায়ক ট্রাম্পের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতীকী এক নাটকীয় মুহূর্ত।

তবে, ২০০৬ সালের ‘আমেরিকান ড্রিমজ’ চলচ্চিত্রে যুদ্ধংদেহী ও তেললোভী উপদেষ্টাদের প্ররোচনায় ইরাক আক্রমণকারী জর্জ ডব্লিউ বুশের একটি প্রহসনধর্মী চরিত্রে কোয়েইডের অভিনয়ের বিষয়টি এখানে তোলা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে গত সপ্তাহের ঘটনাবলীর পর ট্রাম্পের মধ্যে বুশের ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও অবশ্যম্ভাবী এই তুলনাগুলো হোয়াইট হাউস প্রত্যাখ্যান করেছে।

কিন্তু ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় নিজেকে এমন এক নেতা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন যিনি যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন। আফগানিস্তান, ইরাকসহ বিভিন্ন স্থানে বুশ যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। সেই পথে না যাওয়ার অঙ্গীকার ছিল তার বক্তব্যে।

বিদেশি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিরোধিতা করে ট্রাম্পের ‘মাগা’ বা মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। আর ২০২৫ সালের বড় একটি সময় নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার প্রচারণায় ব্যয় করেছিলেন তিনি।

কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ বুশের পর বড় কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া প্রথম মার্কিন নেতায় পরিণত হন। সেটিও আবার ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে।

বিদেশি শক্তিশালী নেতাদের প্রতি ট্রাম্পের দুর্বলতা, নজর ঘোরানোর দক্ষতা, এক জেদি প্রতিপক্ষ এবং সক্রিয় সামরিক যন্ত্রের অধিকারী হওয়ার মতো নানাবিধ কারণ অপারেশন ‘এপিক ফিউরির’ আগে এই দৃশ্যত পরিবর্তনের পেছনে কাজ করেছে।

বাস্তবে ট্রাম্পের এই যাত্রাপথ যতটা দীর্ঘ মনে হয়েছিল, ততটা ছিল না। যুদ্ধের প্রতি তার বিরোধিতা ছিল আংশিক। বৃহৎ আকারের স্থলযুদ্ধের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নিলেও শত্রুকে শাস্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল বিমানশক্তি ব্যবহার করতে তিনি সবসময় তৈরি ছিলেন।

প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার মাধ্যমে তিনি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। গত জুনে অপারেশন ‘মিডনাইট হ্যামারে’ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও বোমা হামলা চালান।

দ্বিতীয় মেয়াদে এসে ট্রাম্প যেন তার হাতে থাকা বিপুল সামরিক সক্ষমতার মোহে মুগ্ধ হয়ে পড়েছেন।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানি ছাড়াই ভেনেজুয়েলায় গভীর রাতের অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পথে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

অভিযানটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মাদুরোর ঘাঁটিতে যাওয়ার সময় একটি হেলিকপ্টারের পাইলট একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হয়েও বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে ভেতরে থাকা সবাই নিহত হলে অভিযানটি বাতিল হয়ে যেতে পারত। ট্রাম্প সম্ভবত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগ্রহও হারিয়ে ফেলতেন।

কিন্তু বাস্তবে মাদুরোকে অপহরণ অভিযানটি ট্রাম্পের জন্য টেলিভিশনে দেখানোর উপযোগী সফলতা হয়ে ওঠে। এই ঘটনা তার দেশের ভেতরে জমতে থাকা সংকট থেকে মনোযোগও সরিয়ে দেয়। বিশেষ করে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের নথি প্রকাশের জন্য তার প্রশাসনের ওপর যে চাপ বাড়ছিল, তা থেকে মনোযোগ ঘুরে যায়।

ওই নথিতে প্রেসিডেন্টের নাম ৩৮ হাজারেরও বেশি বার এসেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তিনি ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন।

বিদেশে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া ছিল আকর্ষণীয় ঘটনা। কিন্তু ইরানের পারমাণবিক বা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত হামলার বদলে শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে সর্বাত্মক হামলার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য এক বিশাল ঝুঁকিই ছিল।

যুদ্ধ শুরুর সময় ও পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করতে পেরেছেন। কিন্তু যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা অন্যরাও নির্ধারণ করতে পারবে। বিশেষ করে এখন যুদ্ধ শেষ হওয়া না হওয়ার বিষয়টি ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপরও নির্ভর করছে।

শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ট্রাম্পকে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে আবারও ইসরায়েলি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন চান তিনি।

ট্রাম্প শুরুতে শুধু সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পরিসর বেড়ে তা ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের জন্য যৌথ হামলার অঙ্গীকারে পরিণত হয়।

মাদুরো অভিযানের সফলতা ট্রাম্পের সামরিক আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছিল। ইরানের ভেতরের ঘটনাবলিও এতে প্রভাব ফেলেছিল। ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তখন এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অবস্থানে তিনি ছিলেন না।

ওই সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমানবাহী রণতরী ছিল না, যুদ্ধবিমানের সংখ্যাও ছিল সীমিত। আর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ছড়িয়ে থাকা তাদের প্রায় ৪০ হাজার সেনার কাছে সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ছিল না।

বিক্ষোভের ব্যাপকতা ও তীব্রতা সিআইএ ও মোসাদের কাছে শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে তাদের ধারণা বদলে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে উৎখাতের বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।

তারা ধারণা করতে শুরু করে, আয়াতুল্লাহদের হাত থেকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের জেনারেলদের হাতে ক্ষমতা চলে গেলে তারা আরও ধর্মনিরপেক্ষ হবে। এমনকি বাস্তববাদী এবং সমঝোতায় আগ্রহী হতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশও যুদ্ধের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিজুড়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ফোন করে গোপনে ইরানে হামলার আহ্বান জানান। প্রকাশ্যে তিনি অবশ্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বলে আসছিলেন।

কয়েক সপ্তাহ পর, ১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নেতানিয়াহু আবার যুক্তরাষ্ট্রে যান। তখন ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনই সবচেয়ে পছন্দের বিকল্প হয়ে ওঠে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে যৌথভাবে পরিকল্পনা করছিল। প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ হতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে—বিশেষ করে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে দ্বিতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড সেখানে পৌঁছাতে। ওই রণতরী আগে ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে অপসারণের অভিযানে যুক্ত ছিল।

প্রকাশ্যে ট্রাম্প বলছিলেন, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তৈরি হওয়া কথিত হুমকির কূটনৈতিক সমাধানই তিনি বেশি পছন্দ করেন। অথচ জুনে তিনি দাবি করেছিলেন, সেই কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেওয়া হয়েছে। পরে আবার বলেন, সেগুলো নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার তিনবার ইরানি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এই আলোচনা শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সামরিক প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দেওয়ার কৌশল ছিল কি না—এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। যাই হোক, দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য এতটাই বড় ছিল যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপ-নির্বাচনের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ মার্চের নির্ধারিত বগুড়া সফর স্থগিত করা হয়েছে। ওই দিন সেখানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরটি বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, ১০ মার্চের কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়েছে এবং পরে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।

জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচন চলায় ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী কোনো কর্মসূচি রাখেননি।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, ১০ মার্চ বগুড়া সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়। এর প্রাথমিক বাস্তবায়নের জন্য বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে নির্বাচন করা হয়। সুবিধাভোগী পরিবার শনাক্ত করতে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছিল।

কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একটি ওয়ার্ড-ভিত্তিক কমিটিও গঠন করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) এবং ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন।

নির্বাচন কমিশন আগামী ৯ এপ্রিল শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। এই আসনে বিএনপি তাদের জেলা ইউনিটের সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে।

সফর বাতিলের বিষয়ে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ আসছেন না। যেহেতু বগুড়া সদরে উপ-নির্বাচন হচ্ছে, তাই এই সময়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে। তিনি নিয়মের মধ্যে থাকতে চান। পরবর্তীতে এই কর্মসূচির নতুন তারিখ জানানো হবে।

দৌড়ঝাঁপ-নাচে দক্ষ চীনের রোবট, এখন শুধু ‘বুদ্ধিমান’ হওয়া বাকি

দীর্ঘদিন ধরে দৌড়ানো, নাচা ও ডিগবাজি দেওয়ার মতো সক্ষমতাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হয়েছে।

তবে এবার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব রোবটকে বুদ্ধিমান করে তোলার চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছে। গতকাল সোমবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানা গেছে।

রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই তৈরি করার চেষ্টা করছে, যা এসব যন্ত্রকে আরও বিস্তৃত পরিসরের কাজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে।

এই পরিবর্তনের ফলে ‘এমবডিড এআই’ খাতে বিনিয়োগের জোয়ার তৈরি হচ্ছে।

এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য এমন সফটওয়্যার তৈরি করা, যার মাধ্যমে রোবট চারপাশের পরিবেশ বুঝতে পারবে। প্রতিটি নতুন কাজের জন্য আলাদা করে প্রোগ্রাম করতে বা নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে না, এমন রোবট নির্মাণ করাই লক্ষ্য।

এই লক্ষ্য অর্জনে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে।

তথ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইটুজির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে চীনের এমবডিড এআই প্রতিষ্ঠানগুলো ৩২২টি চুক্তির মাধ্যমে ৯ হাজার ৩৫০ কোটি ইউয়ান বা ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে।

সাংহাইভিত্তিক প্রযুক্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জেনজেন ল্যাবসের প্রতিষ্ঠাতা ডারমট ম্যাকগ্রা বলেন, ‘রোবট নির্মাতারা এখন বুঝতে পারছেন, মুনাফা হার্ডওয়্যার থেকে নয়, বরং আসবে এর “মস্তিষ্ক” থেকে।’

স্পিরিট এআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা গাও ইয়াং বলেন, ‘রোবটের সামগ্রিক প্রযুক্তি ব্যবস্থায় মস্তিষ্কই আসলে সবচেয়ে দুর্বল অংশ।’

চীনের শেনজেনভিত্তিক রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এক্স স্কয়ারের প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের কাজের ভিডিও দেখেই রোবট বিভিন্ন বস্তু ধরার ও নাড়াচাড়া করার দক্ষতা অর্জন করতে পারে। প্রতিটি কাজের জন্য মডেলটিকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হয় না।

এক্স স্কয়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ইয়াং চিয়ান বলেন, ‘আমরা চাই, রোবট যেন শুধু কোডের নির্দেশে নয়, নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেও কাজ করতে পারে।’

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটবটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া আর মানুষের মতো দেখতে রোবটকে কাজ শেখানো এক নয়।

ইন্টারনেটের বিপুল পরিমাণ লেখা থেকে প্রশিক্ষণ নেয় চ্যাটবট। এই তথ্যভাণ্ডার প্রতিনিয়তই সমৃদ্ধ হচ্ছে।

অন্যদিকে, কোনো বস্তু আঁকড়ে ধরা থেকে শুরু করে নমনীয় তার নাড়াচাড়া করার মতো কাজ শেখাতে রোবটকে বাস্তব কাজের তথ্য, ভিডিও ও সিমুলেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিতে হয়।

এ ক্ষেত্রে কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান রোবটকে মানুষের কাজ করার ভিডিও দেখাচ্ছে। অন্যরা কম্পিউটার সিমুলেশন ব্যবহার করছে।

আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান দুই পদ্ধতির সমন্বয় ঘটাচ্ছে।

রোবটকে নতুন কাজ শেখানোর ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দিয়েছেন জয়ইন টেকনোলজির এইথার রোবট এআই উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ঝু মিংশুয়ান। তিনি বলেন, একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, নাগালের বাইরে থাকা আলমারিতে হেডফোন রাখতে পারছিল না একটি রোবট। পরে প্রকৌশলীরা মানুষ কীভাবে কাজটি করে, সেই ভিডিও রোবটটিকে দেখান। এরপর রোবটটি একটি বাক্স আলমারির দিকে ঠেলে নিয়ে যায় এবং সেটির ওপর উঠে কাজটি করার চেষ্টা করে।

রোবটের বুদ্ধিমত্তা তৈরির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোও এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

এই উদীয়মান খাত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যন্ত্রের সবচেয়ে কার্যকর সমন্বয় ঘটাতে পারবে, এ খাতে সেই দেশই এগিয়ে থাকবে।

চীনে বাস্তব কর্মক্ষেত্রেও রোবটের ব্যবহার শুরু হয়েছে। দেশটির ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিএটিএল জানিয়েছে, তাদের ঝোংঝৌ কারখানায় ব্যাটারি প্যাক পরীক্ষার সময় স্পিরিট এআইয়ের রোবট নমনীয় তার সংযুক্ত করছে। এ কাজে সফলতার হার ৯৯ শতাংশের বেশি।

রবিয়্যান্ট জানিয়েছে, সাংহাইয়ের দুটি ফার্মেসিতে তাদের রোবট ওষুধের অর্ডার প্রস্তুত করে। তবে পাঠানোর আগে কর্মীরা ওষুধগুলো পরীক্ষা করে দেখেন।

সব মিলিয়ে রোবটকে ‘বুদ্ধিমান ও বিভিন্ন কাজে দক্ষ’ করে তোলার প্রতিযোগিতা বেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

এ বিষয়টি অনেকের জন্যই অম্লমধুর—একদিকে এআই ও রোবটের সমন্বিত অগ্রগতিতে কাজ হারানোর আশঙ্কা, অন্যদিকে ‘রোবটরাই সব কাজ করে দিচ্ছে, আমাদের এখন গল্প-কবিতা লেখা ও বিশ্রামের সময়’—এমন ভবিষ্যতের হাতছানি।

ইউপি নির্বাচন নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র’ করছে সরকার: জামায়াত

ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখার অভিযোগ এনে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইউপি নির্বাচন নিয়ে সরকার গভীর ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মধ্য দিয়ে দেশ গণতান্ত্রিক পথে ফিরে এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সব স্তরেও দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রলম্বিত করার উদ্দেশ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের পর ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৩১১টি নির্বাচনযোগ্য। অথচ সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকে না গিয়ে এখনো প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে। এটি জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ‘নীলনকশা’।

তিনি দাবি করেন, গত দুই মাসে সাতটি নবগঠিত ইউনিয়নসহ অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে ১৯টি ইউনিয়ন বরিশাল জেলার।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে ১২ জন বিএনপি নেতা-নেত্রীকে পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন জামায়াতের এই নেতা। তার দাবি, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথ দীর্ঘমেয়াদে রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের অংশ।

গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলতি বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। অথচ বছরের চার মাস বাকি থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এটি জাতির সঙ্গে ‘স্পষ্ট প্রতারণা’ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার পথ তৈরির কৌশল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রলম্বিত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সরকারের সব স্তর থেকে দ্রুত দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহারের দাবি জানান। একইসঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করারও দাবি জানান।
 

নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারের ১৮০ দিনে প্রকাশিত ই-বুকে যা আছে

সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এতে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষ উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

আজ সোমবার প্রকাশিত বইয়ে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। দুই ধাপে এটি বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে। সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সই করেছেন।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন–ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের পর গত ২১ জানুয়ারি তারা সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাকির আহমেদ খান কমিশন।

এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তব্যে ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে  ধাপে ধাপে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিচ্ছি। গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বরাদ্দটি নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এ খাতে ব্যয় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।

কর্মকর্তাদের মতে, বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ৪৪ হাজার কোটি টাকার এই বরাদ্দ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে।

এবার মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে নবম পে কমিশন।

২০১৫ সালে দুই ধাপে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ওই বছর সংশোধিত মূল বেতন এবং পরের বছর সংশোধিত ভাতা কার্যকর করা হয়।

 

ভিএআরের যুগে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই, এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রটনা: স্কালোনি

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল স্কালোনির সংবাদ সম্মেলনে এখন একটি বিষয়ে প্রশ্ন যেন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা ছাড়িয়ে এখন স্কালোনির কাছেও পৌঁছে গেছে একই প্রশ্ন, আর্জেন্টিনা কি সত্যিই রেফারিদের থেকে অন্যায্য সুবিধা পায়? বারবার এমন অপ্রীতিকর প্রশ্ন শুনতে শুনতে স্কালোনিও বোধহয় কিছুটা বিরক্তই। এবার তাই বেশ কড়াভাবেই জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই, বরং এগুলো সবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রটনা। 

মিশরের দ্বিতীয় গোল বাতিলের প্রসঙ্গ উঠেছিল স্কালোনির সংবাদ সম্মেলনে। আর্জেন্টিনা কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটিকে ফাউল ধরা ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ নেই, ‘ভিএআর আসার পরে রেফারিদের থেকে সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভিএআরের সিদ্ধান্তের দ্বৈত অর্থ দাঁড় করানোরও সুযোগ নেই। স্পষ্টভাবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পা মাড়ানো হয়েছিল। সেটা অল্প হোক বা বেশি, এটি নিশ্চিত ফাউল। এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর কোনো সুযোগ নেই’। 

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সৃষ্টি বলেও মন্তব্য করেছেন স্কালোনি, ‘ফুটবলে সহায়তা বলে কোনো বিষয় নেই। বিশেষ করে ২০২৬ সালে এসে এতসব প্রযুক্তির মধ্যেও কারোর থেকে কোনো সহায়তা নেয়া এক কথায় অসম্ভব। খেলার নিয়ম-কানুনগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে’। 

মেসিদের কোচ আরও বলেছেন, কেউ কেউ আর্জেন্টিনাকে জিততে দেখতে চায় না বলেই এসব রটাচ্ছে। এসব অপপ্রচারকে তারা বরং অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কোচ, ‘১৯৮৬ সালেও তারা বলতো, আর্জেন্টিনা অন্যায্য সুবিধা নিচ্ছে। এসব কথা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। আর্জেন্টিনা সবসময়ই বিশ্বকাপে সমীহ করার মতো দল ছিল, এখনো আছে। কিছু মানুষ আছে যারা আর্জেন্টিনাকে জিততে দেখতে পছন্দ করে না। এসব কথাবার্তা আমার দলকে আরও ভালো ফুটবল খেলতে অনুপ্রাণিত করে’। 

বিশ্বকাপের ঠাসা সূচি নিয়েও অভিযোগ করেছেন স্কালোনি, ‘বিশ্বকাপের শেষ ভাগে এসে ম্যাচগুলোর মধ্যে আরও বিরতি থাকা উচিত ছিল। আমি আগেও এটা বলেছি। এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুর দূরত্ব অনেক, এবং খেলোয়াড়েরা কম সময় বিশ্রাম করতে পারছে। সৌভাগ্যবশত আমাদের খুব বেশি ভ্রমণ করতে হয়নি। তবে যদি আমরা গ্রুপে দ্বিতীয় হতাম, তাহলে এতদিনে আমাদের পুরো যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করা হয়ে যেতো’। 

আব্বা স্বপ্ন দেখতেন, আমি বড় ফুটবলার হবো: আজিজুল হাকিম

আজিজুল হাকিম দেশের একজন বরেণ্য ও দর্শকপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। নব্বই দশকের টেলিভিশন নাটকে তার অনবদ্য উপস্থিতি আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। আরণ্যক নাট্যদলের মাধ্যমে অভিনয় যাত্রা শুরু করা এই গুণী শিল্পী ছোট পর্দার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক পরিচালনাতেও তাকে দেখা গেছে।

একসময় ফার্স্ট ডিভিশনে ফুটবল খেলেছেন আজিজুল হাকিম। কিন্তু তিনি পরে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি শুনিয়েছেন তার ফেলে আসা ফুটবল জীবনের গল্প।

আজিজুল হাকিম বলেন, আমার ফুটবল খেলা শুরু স্কুলজীবন থেকে। স্কুলে ফুটবল খেলতাম, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম। আমাদের স্কুলে কাউসার স্যার ছিলেন। তার উৎসাহ ও তত্ত্বাবধানেই ফুটবল খেলতাম। সেই স্মৃতি আজও ভুলিনি। তখন আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা হতো, সেখানে অনেক উৎসাহ নিয়ে অংশ নিতাম। এভাবেই ফুটবলের প্রতি আমার ভালোবাসা জন্ম নেয়।

তিনি আরও বলেন, আমার আব্বা ফুটবল খেলার জন্য খুব উৎসাহ দিতেন। আব্বা স্বপ্ন দেখতেন, আমি বড় ফুটবলার হবো। সে সময় ফুটবল খেলার প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম তিনিই কিনে দিতেন। এতে আমি আরও উৎসাহ পেতাম। আব্বারও প্রিয় খেলা ছিল ফুটবল। ফুটবলের প্রতি এই ভালোবাসা আমি জেনেটিকভাবেই পেয়েছি।

আজিজুল হাকিম বলেন, স্কুল পাস করে ঢাকার তিতুমীর কলেজে ভর্তি হই। সেখানে এসেও ফুটবল ছাড়িনি। বলা যায়, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়। তিতুমীর কলেজের ফুটবল দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই। এ সময় ফুটবলের প্রতি আমার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। তখন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম।

কলেজজীবনের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, তিতুমীর কলেজে আমার সহপাঠী ছিলেন নায়ক রুবেল। সাথী নামে একজন ছিলেন, গামাও ছিলেন। আবার স্কুলজীবনে মুন্না, আনোয়ার, চিও ও স্বপন আমাদের দলে ছিল। কলেজ জীবনে আমার আব্বা স্বপ্ন দেখতেন, একদিন তার ছেলে জাতীয় দলে খেলবে।

‘একদিন তিনি আমাকে মফিজ চাচার কাছে নিয়ে যান। মফিজ চাচা তখন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যানেজার ছিলেন। তার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর স্বপ্ন আরও বড় হতে থাকে। সে সময় আব্দুর রহিম ছিলেন কোচ। মফিজ চাচাই তার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেন। এভাবেই ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে আমার খেলা শুরু হয়।’

তিনি বলেন, তখন ঢাকা স্টেডিয়ামে দর্শক কানায় কানায় ভরা থাকত। গ্যালারিও ভাগ হয়ে যেত। একদিকে আবাহনীর দর্শক, অন্যদিকে মোহামেডানের দর্শক। আমি আবাহনীর দর্শক ছিলাম, তবে অন্য দলের খেলাও পছন্দ করতাম। সে সময় প্রচুর খেলা দেখেছি।

আজিজুল হাকিম বলেন, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে তখন অনেক দলের বিপক্ষে খেলেছি। ওয়ারী, রহমতগঞ্জ, বিজিএমসি, ব্রাদার্স ইউনিয়নসহ অনেক দলের সঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ফার্স্ট ডিভিশনে ফুটবল খেলেছি। কত শত স্মৃতি যে মনে পড়ে! আমি ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলতাম। সে সময় ঢাকা স্টেডিয়ামেই বেশি খেলেছি।

তিনি বলেন, সেই সময় ফুটবলের আইকন ছিলেন মঞ্জু ভাই, নান্নু ভাই, সালাহউদ্দিন ভাইসহ আরও অনেকে। ঢাকার ফুটবলের তারকা ছিলেন তারা। ১৯৭৫, ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আমি ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে খেলেছি।

নিজের ছেলের কথা উল্লেখ করে এই অভিনেতা বলেন, এখন আমার ছেলেও ফুটবল খেলে। সেও স্বপ্ন দেখে একজন ভালো ফুটবলার হওয়ার। তাকে আমি সব সময় উৎসাহ দিই। হয়তো সে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাটা জেনেটিকভাবেই পেয়েছে, যেমন আমি পেয়েছিলাম আমার বাবার কাছ থেকে। এই বয়সে তাকে খেলতে যেতে দেখলে খুব ভালো লাগে।