31.8 C
Dhaka
Home Blog

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর নতুন কমান্ডার কে এই আহমাদ ওয়াহিদি?

এক চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে আহমাদ ওয়াহিদি ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডারের দায়িত্ব নিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তার দেশের যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধে এরইমধ্যে ইরানে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহর হামলায় বিধ্বস্ত। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাও হামলায় নিহত হয়েছেন।

আইআরজিসির দায়িত্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, আইআরজিসির এলিট ফোর্স কুদসের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চালানো একটি ড্রোন হামলায় নিহত হন।

আইআরজিসির সর্ব সাম্প্রতিক প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার শুরুর দিকেই নিহত হন। ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় পূর্বসূরি হোসেন সালামিকে হত্যা করার পরই পাকপুরকে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

আইআরজিসির শীর্ষ পদে ঘন ঘন পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয়, ইরানের সামরিক কাঠামোর এই শক্তিশালী পদ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। এখন ওয়াহিদিকে এমন দায়িত্ব পালন করতে হবে, যা সোলাইমানির মতো প্রভাবশালী নেতাকেও করতে হয়নি। আর তা হলো এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তিকে নেতৃত্ব দেওয়া।

আহমাদ ওয়াহিদি কে?

গত ডিসেম্বরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে আহমাদ ওয়াহিদিকে মনোনীত করেছিলেন। এর আগে তিনি ইরানের সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সত্তরের দশকের শেষ দিকে আইআরজিসি গঠনের শুরুর সময় থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওয়াহিদি। আশির দশকে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে গোয়েন্দা ও সামরিক বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি এলিট কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দেন।

এরপর তিনি কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব সোলাইমানির কাছে হস্তান্তর করেন। সোলাইমানি ১৯৯৮ সালে দায়িত্ব নেন এবং ২০২০ সালে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের প্রভাব বিস্তারের মূল কারিগর হিসেবে পরিচিতি পান।

গত ডিসেম্বরে তিনি আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার সময় ওয়াহিদি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা করা হলো বিশ্বের মহত্তম গুণগুলোর মধ্যে একটি।

২০২৫ সালে ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামি বিপ্লবের ৪৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে তিনি সেই বিপ্লবকে ইতিহাস পরিবর্তনের আলো হিসেবে বর্ণনা করেন।

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াহিদি ইরানি প্রতিনিধি এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে গোপন আলাপ-আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এসব যোগাযোগ আলোচিত ‘ইরান-কন্ট্রা’ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যার মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তারা গোপনে ইরানে অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটে’র ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি আলফোনেহ আল জাজিরাকে বলেন যে, ওয়াহিদি সেই আলোচনায় জড়িত থাকার মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানেন।

মন্ত্রিসভায় ক্যারিয়ার

দুই পূর্বসূরির মতো ওয়াহিদি কেবল একজন সামরিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ভূমিকাতেও ছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের অধীনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং ২০২৪ সালে সেই পদ থেকে সরে যান।

আলফোনেহ আল জাজিরাকে বলেন, ওয়াহিদি একজন ‘দক্ষ আমলা’ এবং তার এই অভিজ্ঞতা তাকে ‘যুদ্ধকালীন অপরিহার্য নেতা এবং বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর একজন উপযুক্ত প্রধান কমান্ডার করে তুলেছে।’

তবে আইআরজিসি এবং রাজনৈতিক দপ্তরে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগও ওঠে।

২০০৯ সালের শেষদিকে আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে একটি রেড নোটিশ জারি করে। ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় তার নাম আসে, যেখানে ৮৫ জন নিহত হন।

ইরান এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইন্টারপোলের নোটিশটিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশব্যাপী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চুল পুরোপুরি না ঢাকার জন্য ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়েছিল।

মিডল ইস্ট নিউজ আউটলেট আমওয়াজের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শাবানি এক্সে এক পোস্টে ইঙ্গিত দেন, ওয়াহিদি তার পূর্বসূরীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী।

‘লোকটি অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠুর। ইসরায়েলি হামলার ফলে যেসব পদ খালি হয়েছে, সেখানে কট্টরপন্থীদের বসাতে তারা এক মুহূর্ত সময়ও অপচয় করছে না।’

ওয়াহিদির দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ

গত ডিসেম্বরে যখন প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ওয়াহিদিকে আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন, তখন তার অন্যতম প্রধান কাজ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত করা।

বিশ্লেষকরা বলেন, সরকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘ সময় কাজ করার সুবাদে ইরানের কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে ওয়াহিদির, যা এখন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মন্তব্য থেকে দায়িত্বের চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট হয়। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু সামরিক ইউনিট ‘স্বাধীন এবং কিছুটা বিচ্ছিন্ন’, যারা বেসামরিক সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সাধারণ নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে।

আইআরজিসির সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ-আলি জাফরি পরিকল্পনা করেই বাহিনীটিকে বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল যেন ‘শীর্ষ কমান্ড ধ্বংস হওয়া কিংবা খোদ রাজধানী তেহরানের পতনের মুখেও সংস্থাটি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াহিদি এই ধরনের ছড়িয়ে থাকা বা বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর কাজগুলো সমন্বয় করার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি। এক্ষেত্রে তিনি অন্যান্য কমান্ডার ও প্রবীণ সদস্যদের সাহায্য পাবেন, যারা একত্রে সংগঠনের ভেতরে একটি শক্তিশালী কিন্তু অনানুষ্ঠানিক সম্মিলিত নেতৃত্ব হিসেবে কাজ করেন।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির আলওয়ালিদ সেন্টার ফর মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের পরিচালক এবং ‘সেক্টেরিয়ানাইজেশন: ম্যাপিং দ্য নিউ পলিটিক্স অব দ্য মিডল ইস্ট’-এর লেখক নাদের হাশেমি আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের নেতারা আইআরজিসি প্রধান হিসেবে ‘সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত কাউকে’ খুঁজছেন। 

তিনি বলেন, ঠিক এমন একজনকে প্রয়োজন, যিনি শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর পরও বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা ধরে রাখবেন এবং ‘অসম সামরিক শক্তি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাধারণ সদস্যদের মনোবল চাঙা রেখে যুদ্ধ চালিয়ে নিতে উৎসাহিত করবেন।’

হাশেমি আরও বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা আইআরজিসির ওপর নির্ভরশীল। ঠিক এই ধরনের মুহূর্তের জন্যই তাদের তৈরি করা হয়েছিল। এই হামলা মোকাবিলা করে পাল্টা লড়াই করা এবং টিকে থাকার সক্ষমতার ওপরই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।’

একদিনেই শেষ সাধুসঙ্গ, বসছে না মেলা

দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়িতে শুরু হয়েছে সাধুসঙ্গ। রমজানের কারণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে এবার একদিনেই শেষ হচ্ছে সাধুদের মিলনমেলা।

আজ সোমবার দুপুরে লালন একাডেমির অডিটোরিয়ামে সাধুসঙ্গের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার।

কুষ্টিয়ার বিদায়ী জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন ও পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা বিষয়ে ফকির নহির শাহ বলেন, ‘ফাল্গুন মাসের ভরা পূর্ণিমা তিথিতে ফকির লালন সাঁইজি পাঁচ ঘরের সাধুদের নিয়ে সাধুসঙ্গ করতেন। এগুলো হলো—খোদ সাঁইজি লালনের ঘর, পাঞ্জুশাহের ঘর, সতীমার ঘর, চৌধুরীর ঘর ও দেলবার শাহের ঘর।’

তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে পরদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাব্যাপী সাধুসঙ্গ হওয়ার কথা। প্রথমে অধিবাস, রাতে একটা সেবা। পরদিন সকালে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্যদিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হবে।’

দোলপূর্ণিমার এই আয়োজনে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত-অনুরাগীরা ভিড় জমান আখড়াবাড়ির মাজার প্রাঙ্গণে।

নতুন কেনা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকতে পারে ভাইরাস, করতে পারে যেসব ক্ষতি

নতুন স্মার্টফোন কিনে চালু করার আগেই সেটিতে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ভাইরাস থাকতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিটডিফেন্ডারের গবেষকেরা বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের হাজার হাজার কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এমন সফটওয়্যার পেয়েছেন। ফোনের সিস্টেম সফটওয়্যারের মধ্যেই এটি আগে থেকে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

গবেষকেরা এই ম্যালওয়্যার ছড়ানোর ঘটনাটির নাম দিয়েছেন ‘মিডনাইট মিমোসা’। গত দুই বছরে হাজার হাজার ফোনে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ফোনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মেক্সিকো, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে।

মিডিয়াটেক চিপ ব্যবহার করা কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এমন ফোন আছে যেগুলোর নাম ও বিজ্ঞাপনে দামি ও উন্নত স্মার্টফোনের মতো বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে।

এই ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর অজান্তেই ফোনে অ্যাপ ইনস্টল করতে বা মুছে ফেলতে পারে। ভুয়া বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মতো কার্যক্রমও চালাতে পারে। এমনকি ফোনের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করে ক্ষতিকর কাজ করতে পারে।

কিছু আক্রান্ত ফোন ব্যবহারকারীর অজান্তে অন্যদের ইন্টারনেটের তথ্য আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এভাবে ফোনটি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ডিভাইসের একটি দলের অংশ হয়ে যেতে পারে। এই ধরনের দলকে বলা হয় ‘বটনেট’।
গবেষকেরা গুগল প্লেতে ছড়িয়ে পড়া ১৩টি ক্ষতিকর অ্যাপও শনাক্ত করেছেন। ফোনে আগে থেকে থাকা ম্যালওয়্যার সাময়িকভাবে গুগল প্লে স্টোর বন্ধ করে দিতে পারে। এরপর এটি অন্য ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করার চেষ্টা করে, যেন গুগলের নিরাপত্তাব্যবস্থা সহজে তা শনাক্ত করতে না পারে।

এ ছাড়া সাধারণ অ্যাপের মতো দেখতে অন্তত ৩২ ধরনের অ্যাপ গোপনে ইনস্টল করতে পারে এই ম্যালওয়্যার। এসব অ্যাপের মধ্যে রয়েছে আবহাওয়ার খবর দেখার অ্যাপ, ফাইল সাজানোর অ্যাপ, আইকন বদলানোর টুল ও অডিও সম্পাদনার অ্যাপ।

সাধারণ অ্যাপ ফোনের সেটিংস থেকে মুছে ফেলা যায়। কিন্তু এই ম্যালওয়্যার ফোনের মূল সিস্টেম সফটওয়্যারের মধ্যে থাকায় সহজে সরানো যায় না।

বিটডিফেন্ডারের গবেষকদের মতে, এটি সরাতে ফোনের সিস্টেম সফটওয়্যারে বিশেষ পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এ জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রয়োজন, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কঠিন।

এই ম্যালওয়্যার কারা ছড়িয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। ফোন তৈরির সময়, নাকি বাজারে পৌঁছানোর পথে এগুলো আক্রান্ত হয়েছে, সেটিও নিশ্চিত নয়।

কিছু আক্রান্ত সফটওয়্যারে চীনা প্রতিষ্ঠান শেনজেন জেডিয়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল সনদ পাওয়া গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা প্রমাণ করতে পারেননি গবেষকেরা।

অ্যাপল, স্যামসাং ও অনরের দামি ফোনের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি কিছু ফোনেও ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে। আক্রান্ত কিছু মডেলের সঙ্গে চীনা ব্র্যান্ড ডুগি ও কিউবটের নামও যুক্ত আছে।

ফোনে হঠাৎ অনেক বিজ্ঞাপন দেখা, অপরিচিত অ্যাপ পাওয়া, অস্বাভাবিকভাবে চার্জ শেষ হওয়া, বেশি ডেটা খরচ বা ফোন ঘন ঘন গরম হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হোন। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে ফোনে ম্যালওয়্যার আছে, তা নিশ্চিত নয়।

ফোনের অ্যাপগুলো পরীক্ষা করুন, অ্যান্ড্রয়েড নিয়মিত হালনাগাদ রাখুন এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা অ্যাপ দিয়ে ফোন পরীক্ষা করুন। মনে রাখবেন, ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করলেও এই ম্যালওয়্যার থেকে মুক্তি নাও মিলতে পারে।

ফোনে ম্যালওয়্যার আছে বলে সন্দেহ হলে সেটি দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা এড়িয়ে চলুন।

ফোন কেনার সময়ও সতর্ক থাকা জরুরি। অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হওয়া ফোন, অপরিচিত বিক্রেতা কিংবা প্রস্তুতকারকের পরিচয় স্পষ্ট নয়, এমন পণ্য কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। পরিচিত ব্র্যান্ড ও অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে ফোন কিনলে ঝুঁকি কমতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ‘ব্যাডবক্স ২.০’ নামে আরেকটি বটনেটের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তখন বিশ্বজুড়ে ১০ লাখের বেশি ডিভাইস আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়।

বিভ্রান্ত করবেন না, সঠিক পরিকল্পনা আনুন বাস্তবায়ন করব: বিরোধীদলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে বিভ্রান্ত না করে দেশের উন্নয়নে বিরোধী দলকে সঠিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তায় ভাঙচুরের বিশৃঙ্খলা তৈরির দিন শেষ। সেই রাজনীতি শেষ। বক্তব্য দেওয়া খুব সহজ কাজ, সমালোচনা করা সহজ কাজ। যদি মুরোদ থাকে আসুন শার্টের হাতা গুটিয়ে মাঠে নামুন, মানুষের জন্য কাজ করুন। কিন্তু এমন কোনো কথা বলবেন না, যা বললে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এমন কোনো কাজ করবেন না যা করলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।’

‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মীরা এই রাজপথে টিকে ছিল। আর যারা আজ বড় বড় গলা উঁচিয়ে কথা বলছে, বিভ্রান্তিকর কথা বলছে গত ১৭ বছর মানুষ আপনাদের রাজপথে দেখতে পায়নি,’ বলেন তিনি।

বিরোধী দলকে ‘বিভ্রান্তির রাজনীতি’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সত্যিকার জনগণের কাজ হতে পারে, দেশ এগিয়ে যেতে পারে—এরকম যদি কোনো পরিকল্পনা আপনাদের কাছে থাকে, তাহলে উপস্থাপন করুন, সংসদে আনুন। সেই পরিকল্পনা যদি ভালো হয়, বাস্তবসম্মত হয়, দেশ ও মানুষের উপকারে আসে অবশ্যই আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘এই রাজনৈতিক দলকে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই আপনারা যদি মনে করেন জনগণের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব আছে, তাহলে পরিকল্পনা নিয়ে আসুন জনগণের সামনে। বিদ্যুতের সমস্যা, গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকারের থেকে ভালো কোনো পরিকল্পনা তারা যদি নিয়ে আসতে পারেন…যে পরিকল্পনায় আগামী তিন মাস না হোক ছয় মাসের মধ্যে সমাধান হতে পারে, তাহলে তাদের প্রত্যেকটি পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করব।’

‘আর যদি তারা শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য, এসব কথা বলে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ, একজন রাজনীতিবিদের কাজ নয় জনগণকে বিভ্রান্ত করা। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনগণকে ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ দেখানোই হচ্ছে কাজ। বিভ্রান্তির রাজনীতি স্বৈরাচার করে গেছে, মিথ্যার রাজনীতি স্বৈরাচার করে গেছে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘বিএনপি জনগণের কাজ করার জন্য কাজ করছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির পরিকল্পনা আছে দেশের জ্বালানি সমস্যার সমাধান করা। আগামী ২৭ আগস্ট সংসদের অধিবেশন শুরু হলে জ্বালানি সমস্যা নিয়ে আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা আমরা উপস্থাপন করব।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল মুদ্রার তালিকায় টাকা

গত এক বছরে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থিতিশীল মুদ্রা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এ বছরের মার্চের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয়েছে মাত্র ০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে তুলনামূলক বিচারে শুধু কম্বোডিয়া কিছুটা ভালো করেছে। দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের রুপির সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমেছে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীলঙ্কান রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ, ফিলিপাইনের পেসো ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ার ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে।

এর বিপরীতে, চীনের ইউয়ানের মান বেড়েছে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা ছিল এটিই।

এছাড়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির মানও কিছুটা বেড়েছে। এর মান বেড়েছে ০ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফের শর্ত মেনে গত বছরের মে মাসে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কমাতে মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরই টাকার অবমূল্যায়ন তুলনামূলক সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে পেরেছে, যা স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ৩০ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

গত এক বছরে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে, যা মুদ্রার স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি বিল পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ৪ আগস্ট আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ দশমিক ৮১ টাকা, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১২৩ দশমিক ৬৯ টাকা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে আচমকা হোটেল বদল হালান্ডদের

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে হুট করে হোটেল বদল করেছে গোটা নরওয়ে দল। একাধিক মিডিয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের হোটেলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্টকে হোটেল বদলানোর কথা জানান নরওয়ের ফুটবলাররা। 

ইয়াহু স্পোর্টসের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মায়ামিতে ইংল্যান্ড ম্যাচকে সামনে রেখে শুরুতে ফোর্ট লডারডেলের দ্য ডালমার হোটেলে উঠেছিলেন হালান্ডরা। কিন্তু মাত্র এক রাত পরেই এই হোটেল ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, হোটেলের বাইরে উচ্চ শব্দে নির্মাণকাজ চলার কারণে খেলোয়াড়েরা ম্যানেজমেন্টের কাছে অভিযোগ জানান এবং হোটেল পরিবর্তনের কথা বলেন। 

অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বলেছেন, ‘কিছু কিছু বিষয় আরেকটু ভালো হতে পারত। আমরা সেগুলো ঠিক করে নিয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে নিজেদের যথাসম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুত রাখার লক্ষ্যে এমনটা করা হয়েছে’। 

ম্যাচের মাত্র একদিন আগে এমন ঘটনা দলের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন অনেক সমর্থক। তবে নরওয়ে দলের লজিস্টিকস ম্যানেজার ট্রুলস ডাহেলি আশ্বস্ত করেছেন এমন কিছু ঘটবে না, ‘নতুন হোটেল নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। কেউ কেউ হয়তো ভয় পেতে পারেন যে এতে খেলোয়াড়দের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কী না। তবে এই স্থানান্তর আমাদের চেয়ে খেলোয়াড়েরাই বেশি চেয়েছে’। 

ডাহেলি আরও জানিয়েছেন, মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই পুরো স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন তারা, ‘এই সময়ে এসে হোটেল পরিবর্তনের ব্যাপারটা আদর্শ নয়, তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলাম। খেলোয়াড়দের ভালো পরিবেশে রাখা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মায়ামিতে এক সপ্তাহ থাকতে যাচ্ছি, এবং নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচটা খেলতে যাচ্ছি। এই পর্যায়ে এসে আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে পারি না। ফিফা আমাদের হোটেল পরিবর্তনের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে’। 

নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির স্বার্থে এটা দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, ‘এটা আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। এই ম্যাচের আগে আমাদের শতভাগ প্রস্তুত থাকতে হবে। ফিফা আমাদের ব্যাপারটা বুঝেছে। একটু তাড়াহুড়ো করে বদল করতে হয়েছে, কিন্তু আমরা সবাই এখন খুশি’। 

বেইন স্পোর্টসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, শব্দদূষণের পাশাপাশি অপরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগের কারণেও তড়িঘড়ি করে হোটেল পরিবর্তন করতে হয়েছে নরওয়েকে। ফিফাকে জানানোর পর তারা দ্রুত এই হোটেল পরিবর্তনে সহায়তা করেছে এবং এ সংক্রান্ত খরচের বেশিরভাগটুকু ফিফাই বহন করবে বলে জানা গেছে। 

 

বলিউড নির্মাতা জোয়া আখতারের অফিসে চুরি, উধাও ৬৬ হার্ডডিস্ক

বলিউডে চুরি-ডাকাতি নিয়ে অনেক সিনেমা হয়েছে। কিন্তু এবার যেন বাস্তবেই সিনেমার গল্প ঢুকে পড়ল নির্মাতা জোয়া আখতারের অফিসে!

এক সকালে অফিসে গিয়ে কর্মীরা দেখলেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু হার্ডডিস্ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথমে হয়তো মনে হয়েছিল, অন্য কোথাও রাখা আছে। তারপর খোঁজাখুঁজি। ড্রয়ার খুলে দেখা। আলমারি চেক। স্টোররুমে উঁকি। কিন্তু না! হার্ডডিস্কগুলো সত্যিই গায়েব!

এরপর বেরিয়ে আসে আরও চমকে দেওয়া তথ্য, এক বা দুইটা নয়, পুরো ৬৬টি হার্ডডিস্ক উধাও!

এই হার্ডডিস্কগুলো ছিল টাইগার বেবি ডিজিটাল এলএলপির। প্রতিষ্ঠানটি যৌথভাবে গড়েছেন জয়া আখতার ও নির্মাতা রিমা কাগতি। সেখানে সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, বিজ্ঞাপনসহ নানা প্রজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সংরক্ষণ করা ছিল।

তবে জোয়া আখতার পুরো ব্যাপারটা বেশ ঠাণ্ডা মাথায় সামলেছেন।

বলিউড হাঙ্গামাকে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমার অফিসে চুরি হয়েছে। হার্ডডিস্ক চুরি গেছে। আমরা অভিযোগ করেছি, পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। এটা অফিসের ভেতরের কারও কাজ। মানুষ টাকা রোজগারের জন্য কতটা নিচে নামতে পারে, এটা সত্যিই দুঃখজনক।

জোয়া জানান, ভাগ্য ভালো, সব কিছুর ব্যাকআপ ফাইল আমাদের কাছে আছে।

মানে, চোর হার্ডডিস্ক নিয়ে পালালেও পুরো সিনেমা নিয়ে পালাতে পারেনি!

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অফিসে মোট ১১৯টি হার্ডডিস্ক ছিল। এর মধ্যে ৬৬টি নেই। আর এগুলোর স্টোরেজ ক্ষমতা ১৬ টেরাবাইট থেকে ৭২ টেরাবাইট পর্যন্ত!

তদন্তকারীদের ধারণা, চুরি হওয়া হার্ডডিস্কগুলোতে জনপ্রিয় কিছু প্রজেক্টের ডেটাও ছিল। এর মধ্যে রয়েছে মেইড ইন হেভেন ও ঘোস্ট স্টোরিজের মতো আলোচিত কাজের ফাইল।

ঘটনাটি সামনে আসে গত ২১ মে। অফিসের কর্মীরা প্রয়োজনীয় কিছু হার্ডডিস্ক খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি স্টোরেজ বক্স ভাঙা এবং অনেক কেস খালি পড়ে আছে।

এরপর পুলিশের তদন্তে গ্রেপ্তার হন দুই ব্যক্তি। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের একজন নাকি গত কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে হার্ডডিস্ক সরিয়ে গ্রে মার্কেটে বিক্রি করছিলেন।

এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, শুধু হার্ডডিস্কই বিক্রি হয়েছে, নাকি ভেতরের ডেটাও কোথাও কপি বা ফাঁস করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর মুখপাত্র (আইআরজিসি) আলি মোহাম্মদ নাঈনি বলেছেন, ইরান ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের’ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেছেন, তেহরান এমন উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা এখনো এই সংঘাতে ব্যবহার করা হয়নি।

আজ শুক্রবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এক বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, ইরানের শত্রুদের ভয়াবহ হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ শিগগিরই হামলার নতুন ধরণের ঢেউ শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, ইরানের নতুন উদ্যোগ ও নতুন অস্ত্র আসছে। এই প্রযুক্তিগুলো এখনো বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়নি।

নাঈনি আরও বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় ইরান এখন অনেক বেশি প্রস্তুত।

সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রতিবেদককে মারধর, শ্যামনগর থানার সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাতক্ষীরায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবিতে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে ঢুকে দৈনিক সমকাল ও দৈনিক পত্রদূতের শ্যমনগর উপজেলা প্রতিনিধি এবং মুন্সিগঞ্জ কলেজের সহকারী অধ্যাপক সামিউল মনিরকে মারধর করা হয়। তার ওপর হামলায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত শ্যামনগর থানায় অবস্থান করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

এ সময় তারা শ্যামনগরে নদ-নদীতে বালু উত্তোলনকারী যুবদল নেতা আনোয়ারুল ইসলামসহ সামিউল মনিরের ওপর হামলায় জড়িত ও নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জড়িতদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা চলে যান।

আহত সামিউল মনির শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি। ইতোমধ্যে হামলায় জড়িত অভিযোগে শ্যামনগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলুর রহমান ও বিএনপি সমর্থক আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান, আজ দুপুরে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলুর রহমান, মিজানুর রহমান, মোতালেবসহ ২৫-৩০ জন প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে মারধর করতে করতে ভবনের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, সামিউলের মাথার বাম পাশে শক্ত বস্তু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ওসি বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকালে ‘যুবলীগ-যুবদল-জামায়াতের যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের বালু লুট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকে সামিউলকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর বলেন, ‘রোববার এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় সোমবার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন চলছিল। এ সময় সামিউল মনির তাদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এতে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা তার ওপর হামলা চালায়।’

তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন স্বীকার করে বলেন, ‘জনতাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি।’

এ ঘটনায় প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আগামীকাল সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট চত্বরে মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
 

চা শিল্প পুনর্গঠনে চা শ্রমিকদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে হবে

একবার ভাবুন, একজন নারী সদ্য তোলা চা-পাতায় বোঝাই একটি ভারী ঝুঁড়ির ভারে নুয়ে পড়েছেন। তার পা ভেজা, পিঠে টান আর কোমল কুঁড়ি ও কচি পাতার ফাঁকে দ্রুততার সঙ্গে চলছে তার হাত। দিন শেষে যে মজুরি তিনি পাবেন, তা দিয়ে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা মেটানোও প্রায় অসম্ভব। চা-বাগানের লেবার লাইনে তার ঠাঁই একটি ছোট্ট ঘরে। যে জমির ওপর তার ঘর সেই জমির মালিকানাও তার নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই চা-বাগানে বসবাস এবং কাজ করে আসছে তার পরিবার। অথচ বাগানের মালিকানা, ভালোমন্দ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াসহ সবকিছু থেকেই তারা বঞ্চিত।

এটিই বাংলাদেশের চা-শিল্পের মানবিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। চা-বাগানের সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর বৈষম্যে জর্জরিত এক আর্থসামাজিক ব্যবস্থা।

ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতার অবনতি এবং রপ্তানি আয় হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সরকার চা-শিল্পের পুনর্গঠনে একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে গঠিত টাস্কফোর্স এ খাতের সংস্কারের লক্ষ্যে ৫৯টি সুপারিশ পেশ করে। এর মধ্যে রয়েছে চা-কে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, ভ্যাট হ্রাস, ঋণ পুনর্গঠন, কারখানার আধুনিকায়ন এবং ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার একটি সহায়তা তহবিল গঠন। পরবর্তী সময়ে সংস্কার কার্যক্রম তদারকির জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পরিবীক্ষণ ও পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়।

চা শিল্পের গভীর সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়। নিষ্ক্রিয় বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো: এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কাদের স্বার্থে হচ্ছে? এর সুফল যদি কেবল বাগানমালিক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ  সরকার এমন এক শিল্পকে সংকট থেকে উদ্ধারের ঝুঁকি নেবে, অথচ উপেক্ষিত থেকে যাবেন সেই মানুষগুলো, যাদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রমের ওপর ভর করেই এই শিল্প টিকে আছে।

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করা, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন এবং জমির আনুষ্ঠানিক স্বত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে এ বছরের জুলাই ও আগস্টে এক মাসের বেশি সময় ধরে চা শ্রমিকদের আন্দোলন হয়। এই আন্দোলন আবারও চা-শিল্পের দীর্ঘদিনের সংকট এবং শ্রমিকদের বঞ্চনার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।

এর আগে, ২০২৪ সালে, রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ১২টি চা-বাগানের ১২ হাজারেরও বেশি শ্রমিক মজুরি নিয়ে কয়েক সপ্তাহের জন্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ফুলতলা চা-বাগানের প্রায় ১ হাজার ৬০০ শ্রমিক টানা ১২ সপ্তাহ মজুরি পায়নি এবং হবিগঞ্জের ইমাম ও বাওয়ানি চা-বাগানেও ২০২৩ সাল থেকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থাপনা সংকট চলছিল। গোটা শিল্পে ৭৯টি চা-বাগান গভীর সংকটের মধ্যে ছিল বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এসব বাগানে ভবিষ্যৎ তহবিলে (প্রভিডেন্ট ফান্ড) শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ জমা দেওয়া হয়নি, পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়, আর কারখানাগুলোতেও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না।

রাষ্ট্রের ৫১ শতাংশ শেয়ার মালিকানা থাকা ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে, কীভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক শৃঙ্খলার অভাব একটি প্রতিষ্ঠানকে পঙ্গু করে দিতে পারে। তবে সংকট কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত চা-বাগানেই সীমাবদ্ধ নেই। বছরের পর বছর ধরে ব্যক্তিমালিকানাধীন চা-বাগানগুলোতেও অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

চা-শিল্পে সংকটের জন্য মালিকপক্ষ সাধারণত চায়ের দাম কমে যাওয়া ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করে। এটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়; কিন্তু একই পরিস্থিতিতেও কেন কিছু চা-বাগান ভালোভাবে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে, আর কিছু চা বাগান কেন বছরের পর বছর উৎপাদনশীলতার সংকটে ভুগছে, তার ব্যাখ্যা মালিকরা দিতে পারেন না।

এক্ষেত্রে, মৌলভীবাজার জেলার ইস্পাহানি’র জেরিন চা-বাগান একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। বাগানটিতে একরপ্রতি চায়ের গড় উৎপাদন জাতীয় উৎপাদনের প্রায় দ্বিগুণ। একইসঙ্গে, সেখানকার শ্রমিকেরা তুলনামূলকভাবে উন্নত আবাসন, কর্মপরিবেশ এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট: উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য নয়। বরং, সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ দুটিই অর্জন করা সম্ভব।

টাস্কফোর্স এবং পরবর্তীকালে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারক এবং চা শিল্পের প্রতিনিধিরা স্থান পেয়েছেন। কিন্তু উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় চা শ্রমিকদের কিংবা তাদের ট্রেড ইউনিয়নের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।

টাস্কফোর্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ খাতে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার স্থায়ী এবং ৪০ হাজার অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন। চা উৎপাদনে তাদের শ্রম অপরিহার্য। অথচ তাদের জীবিকা, কর্মসংস্থান-সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎকে মৌলিকভাবে বদলে দিতে পারে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের কণ্ঠস্বর অনুপস্থিত। চা-বাগানের শ্রমিকেরা শিল্পনীতির নিষ্ক্রিয় সুবিধাভোগী নন। তারা উৎপাদনপ্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশীদার এবং শ্রম অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। অতএব, তাদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতামত দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান সংগঠন করার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। অন্যদিকে, শ্রম আইনেও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব, অংশগ্রহণ কমিটি গঠন এবং যৌথ দর-কষাকষির বিধান রয়েছে। তা সত্ত্বেও, চা-বাগানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এসব বিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বর্তমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের অনুপস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন অবহেলার ঘটনা নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে তাদের পরিকল্পিতভাবে দূরে সরিয়ে রাখার দীর্ঘদিনের গভীরতর প্রবণতারই প্রতিফলন।

সংস্কারে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকারের উচিত এই ভারসাম্যহীনতা দূর করা, একে আরও জোরদার করা নয়। ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় চা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সরকারি সহায়তা, ঋণ ও প্রণোদনার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাগান ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আর্থিক টেকসই সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং কর ও মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) মাধ্যমে নিয়মিত রাজস্ব অবদান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থ ও স্থানীয় অর্থনীতি সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

তবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি, বনায়ন এবং ক্লাস্টারভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে বাগানের ‘অব্যবহৃত’ জমি থেকে অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে যেকোনো আলোচনায় চা শ্রমিক ও তাদের প্রতিনিধিদের অবশ্যই পরামর্শ গ্রহণের জন্য সম্পৃক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশের চা শিল্পের গোড়াপত্তন হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে। এ সময় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকদের এনে চা বাগানে নিয়োগ করা হয়। বিভিন্ন জাতিসত্তা ও ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত সেই শ্রমিকদের বংশধরেরা আজও চা বাগানগুলোতে বসবাস করছেন। ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটলেও তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার আজও গভীরভাবে প্রোথিত।

প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার চা-শ্রমিকের মধ্যে ৯৫ শতাংশই অবাঙালি। নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও আজও তারা দেশের সবচেয়ে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীগুলোর একটি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রম দিলেও, যে জমিতে তারা চাষাবাদ কিংবা যে ঘরে বসবাস করেন, তার মালিকানা তাদের নেই। অর্থনৈতিক দিক থেকে চা-বাগানের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল তারা।

এ কারণেই চা-শ্রমিকদের দারিদ্র্যকে কেবল কম মজুরির পরিণতি হিসেবে দেখলে চলবে না। এর শিকড় এমন এক নির্ভরশীলতাভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্যে গেঁথে আছে, যা তাদের পেশা ও জীবিকা পরিবর্তনের স্বাধীনতা, দর-কষাকষির ক্ষমতা এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের সক্ষমতাকে সীমিত করে রাখে।

দৈনিক নগদ মজুরি ১৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৬ টাকা করা হলেও, এই সামান্য মজুরি আজও চা-শ্রমিকদের প্রতি অবিচারের প্রতীক হয়ে রয়েছে। চা শ্রমিকদের নৈমিত্তিক ও অর্জিত ছুটির ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক বিধান রয়েছে। তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না এবং তারা গ্র্যাচুইটি থেকেও বঞ্চিত হন। কোম্পানির মুনাফায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে আইনি বিধান থাকা সত্ত্বেও তারা প্রাপ্য সুবিধা পাননি।

অনেক চা বাগানে কর্মক্ষেত্রের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা (যেমন: শৌচাগার, হাত-মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা, ছায়াঘেরা স্থানে বসে খাবার খাওয়ার জায়গা এবং নিরাপদ পানীয় জল) এখনো অপ্রতুল। শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়োগকর্তাদের ওপর ন্যস্ত থাকলেও, চা বাগানগুলোতে তাদের আবাসনব্যবস্থার অবস্থা প্রায়ই নাজুক দেখা যায়। কোনো প্রতিষ্ঠানে কেবল মুনাফা হলেই শ্রমিকদের এসব সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে, বিষয়টি এমন নয়; বরং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা যা-ই হোক, প্রতিষ্ঠানকে এসব দায়িত্ব পালন করা বাধ্যতামূলক।

চাকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিলে চা-বাগানগুলো কম সুদে ঋণসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পেতে পারে। এর পেছনে অর্থনৈতিক যুক্তিও রয়েছে: চা চাষের সঙ্গে কৃষিকাজ জড়িত, অন্যদিকে সংগৃহীত চা-পাতা প্রক্রিয়াজাত করা একটি শিল্পকার্য। বাংলাদেশ ব্যাংকও চা খাতকে কৃষিভিত্তিক বা কৃষি-শিল্প খাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে চা-কে নতুন শ্রেণিভুক্ত করার ফলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং চা আইন, ২০১৬-এর অধীনে শ্রমিকদের শিল্পশ্রমিক হিসেবে স্বীকৃত অবস্থান কোনওভাবেই দুর্বল করা যাবে না। একইভাবে, সংগঠিত হওয়া এবং যৌথ দর-কষাকষির মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায়ের সুযোগও ক্ষুণ্ন করা চলবে না। মজুরি, বাসস্থান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে কার্যকরভাবে বলবৎযোগ্য অঙ্গীকারের মাধ্যমে। প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টায় ন্যায়বিচারের কোনো বিকল্প নেই।

শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে অভিন্ন উপলব্ধি গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি। চা শিল্পের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় চা শ্রমিক ও তাদের প্রতিনিধিদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; শ্রম আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং বিশ্বাসযোগ্য পরামর্শ ও আলোচনার ভিত্তিতে ন্যায্য মজুরি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাসস্থান, জমিতে প্রবেশাধিকার, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সংস্কার কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করতে হবে। সরকারি সহায়তা পাওয়ার আগে চা-বাগানগুলোকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকদের কল্যাণে কার্যকর অঙ্গীকারের প্রমাণ দিতে হবে।

পরিশেষে, উৎপাদন, মুনাফা, রপ্তানি কিংবা কোম্পানির আর্থিক হিসাবের ভিত্তিতেই পুনর্গঠনের সাফল্য পরিমাপ করা যায় না। এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে—উদাহরণস্বরূপ, একজন নারী শ্রমিক তার পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছেন কি না, সম্মানজনক বাসস্থানে থাকতে পারছেন কি না, সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারছেন কি না, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগহীনভাবে অবসরজীবনে প্রবেশ করতে পারছেন কি না এবং ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হয়ে নিজের অধিকার দাবি করতে পারছেন কি না—তার ওপর।

বাংলাদেশে চা কেবল একটি পণ্য নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রম, ইতিহাস ও আত্মত্যাগ। আধুনিকায়নের নামে চা শিল্পের পুনর্গঠন করে যদি শ্রমিকদের দারিদ্র্যের শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখা হয়, তাহলে তা হবে পুরোনো অবিচারকেই নতুন মোড়কে টিকিয়ে রাখা। আমাদের প্রয়োজন শুধু একটি লাভজনক শিল্প নয়; এমন একটি শিল্প, যেখানে শ্রমিকেরা তাদের সৃষ্ট সমৃদ্ধির ন্যায্য অংশীদার হবেন, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করবেন এবং নিজেদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থবহ মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

লিখাটির জন্য পটভূমি গবেষণা পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) গবেষক ফাহমিদা আফরোজ নাদিয়া।

ফিলিপ গাইন: গবেষক এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক।