28.5 C
Dhaka
Home Blog

ইরান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে মার্কিন বি–১ বোমারু বিমান

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে একটি মার্কিন বি–১ বোমারু বিমান যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ১৪৬ ফুট দীর্ঘ মার্কিন বি–১ ল্যান্সার শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে পৌঁছায়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রকে ওই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর অনুমতি দেন।

বিবিসি জানায়, শুরুতে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এই সিদ্ধান্তে ‘তিনি যুক্তরাজ্যের ওপর সন্তুষ্ট নন’ এবং এর ফলে মার্কিন বিমানগুলোকে অতিরিক্ত সময় উড়তে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার বলেন, ইরানের ওপর হামলা ‘নাটকীয়ভাবে বাড়তে যাচ্ছে’।

বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮৬ টন ওজনের বি–১ ল্যান্সার মার্কিন বিমানবাহিনীর দ্রুততম বোমারু বিমানগুলোর একটি, যার গতি ঘণ্টায় ৯০০ মাইলের বেশি। ‘দ্য বোন’ নামে পরিচিত এই বিমানে উন্নত রাডার, জিপিএস ও ইলেকট্রনিক জ্যামারসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষক জাস্টিন ক্রাম্প বিবিসিকে বলেন, বি–১ ল্যান্সার ‘বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোমারু বিমান’ এবং এটি দ্রুত দীর্ঘ দূরত্বে বড় পরিমাণ অস্ত্র বহন করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে যাতায়াত করা অনেক বেশি কার্যকর।’

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শনিবার অষ্টম দিনে পৌঁছেছে। রাতভর তেহরানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বলে জানায় বিবিসি।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইপ্রাসে আরএএফের আক্রোটিরি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর যুক্তরাজ্য সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, হামলায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসম্পন্ন ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে রয়্যাল নেভির দুটি ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার সাইপ্রাসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

১৮০ দিনের মধ্যে নারীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করতে চায় সরকার

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে রাজধানীতে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করতে চায় সরকার। 

আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হকের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন এবং ঢাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চান। বিশেষ করে রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার কিছু অংশসহ রাজধানীর যেসব নিচু এলাকায় বাস চলাচল পর্যাপ্ত নয়, সেখানে বিকল্প হিসেবে ট্রেন সার্ভিস চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীতে বৈদ্যুতিক যান (ইলেকট্রিক ভেহিকল) চালুর পরিকল্পনাও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে একই সঙ্গে অধিক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি, দেশের আন্তঃনগর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সহজ করতে ভবিষ্যতে ‘হাই-স্পিড’ বা উচ্চগতির ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

আইফোন ডুয়োর স্ক্রিনে সমস্যা, বদলে দেবে অ্যাপল

সম্প্রতি বাজারে ফোল্ডেবল বা ভাঁজযোগ্য ফোন এনেছে অ্যাপল। তবে বহুল প্রতীক্ষিত এই স্মার্টফোন বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি।

বেশ কয়েকজন ক্রেতা আইফোন ডুয়োর স্ক্রিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। পরে অ্যাপলও বিষয়টি স্বীকার করেছে।

আজ মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে প্রযুক্তি জগতের বড় প্রতিষ্ঠানটির নতুন এই ডিভাইসের স্ক্রিনে দাগ দেখা যায়।

যুক্তরাজ্যে ফোনটির দাম ১ হাজার ৯৯৯ পাউন্ড (প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৮৩৫ টাকা) থেকে শুরু হয়েছে।

অ্যাপল জানিয়েছে, অল্প সংখ্যক ফোনের ইনার ডিসপ্লেতে সমস্যা দেখা দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত। ডিসপ্লে সমস্যাযুক্ত ফোনগুলো বদলে নতুন ফোন দেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনলাইনে প্রি-অর্ডার চালুর পর গত সপ্তাহে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাপলের স্টোরগুলোতে আইফোন ডুয়োর উন্মোচন ঘিরে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফোল্ডেবল ফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং ডিভাইসের বাজারে নতুনত্ব আনতে এই ফোন এনেছে অ্যাপল।

আইফোন ডুয়োর কয়েকজন ব্যবহারকারী অনলাইনে ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ফোনের স্ক্রিনের মাঝের ভাঁজ বরাবর ফাটল দেখা দিয়েছে।
এছাড়া অনেকে ফোনটি খোলার সময় মচমচ শব্দ হওয়ার অভিযোগ করেন।

আইফোন ডুয়োর ব্যবহারকারী জাস্টিন লোকোস ডিসপ্লের ডান পাশে দাগ দেখা যাওয়া একটি ফোনের ছবি প্রকাশ করেন।

পরে ত্রুটিপূর্ণ ফোনটির পাশে নতুন একটি ফোনের ছবি দিয়ে সহায়তার জন্য নিউইয়র্কের একটি অ্যাপল স্টোরকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সমস্যাটি কতটা ব্যাপক, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কতগুলো ফোনে এই ত্রুটি দেখা দিয়েছে, অ্যাপল তা জানায়নি। এদিকে, ত্রুটিপূর্ণ ফোনের কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইফোন ডুয়োর সম্পর্কে ইতিবাচক বা নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সতর্ক থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির প্রযুক্তি বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো।

তবে তিনি বলেন, সমস্যার প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলো এটাও দেখিয়েছে যে অ্যাপলের মতো কারিগরি সক্ষমতা ও সুসংহত সরবরাহ শৃঙ্খল থাকা প্রতিষ্ঠানও ফোল্ডেবল ফোন তৈরি করতে গিয়ে হোঁচট খেতে পারে।

ডুয়োর ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি (১৯ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার) ইনার ডিসপ্লে মাঝখানের একটি হিঞ্জ বা কবজার মাধ্যমে যুক্ত। এটি প্রকৌশলগতভাবে জটিল একটি ব্যবস্থা। অ্যাপলের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের তৈরি ফোল্ডেবল ফোনেও এ ধরনের ডিজাইনের কারণে একই রকম ত্রুটি দেখা গেছে।

স্যামসাংয়ের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন গ্যালাক্সি ফোল্ডও ২০১৯ সালে বাজারে আসার শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল। রিভিউয়াররা ফোনটির স্ক্রিন নষ্ট হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফোল্ডেবল ফোনের বিকল্প রয়েছে। ডুয়ো বাজারে আনার আগে এই প্রযুক্তি নিয়ে কয়েক বছর ধরে কাজ করেছে অ্যাপল।

এটি অ্যাপলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি আইফোন। সর্বোচ্চ সুবিধাসম্পন্ন মডেলটির দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ড (৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৩৫ টাকা)।

গত ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ডুয়ো উন্মোচন করা হয়। ১৬ অক্টোবর থেকে ওয়েবসাইটে প্রি-অর্ডার চালু হয়। এরপর ২৩ অক্টোবর নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারে এই ফোন নিয়ে আসে অ্যাপল।

আগামী ৩০ অক্টোবর আরও ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে এই ফোন পাওয়া যাবে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষক জেরোনিমো বলেন, ডুয়োকে বাজারে প্রতিষ্ঠিত ফোল্ডেবল ফোনগুলোর ‘প্রিমিয়াম বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরেছে অ্যাপল। তাই শুরুর দিকের এই সমস্যাটি অ্যাপল কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপর শুধু এই ফোনের বিক্রি নয়, বরং অ্যাপলের যেকোনো ফোল্ডেবল ফোনের প্রতি ক্রেতাদের আস্থাও নির্ভর করবে।

প্রায় দুই দশকের মধ্যে আইফোনের ডিজাইনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এই ডুয়ো।

সেপ্টেম্বরে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস ফোনটি উন্মোচন করেন।

‘লংমার্চে ১ লাখ লিটার তেল লাগবে, সংকট থাকলে বিরোধীদল এই জ্বালানি কোথায় পাবে’

বিরোধীদলের উদ্দেশে অনুরোধ রেখে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সস্তা জনপ্রিয়তা নেওয়ার জন্য জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না।

তিনি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, তারা ৫ তারিখের পর লংমার্চে যাবে এবং লংমার্চে যে পরিবহন ব্যবহার করবে, সেখানে ১ লাখ লিটার তেল তারা ব্যবহার করবে। জ্বালানির যদি সমস্যাই হয়, তাহলে বিরোধীদল এই ১ লাখ লিটার তেল কোথায় পাবে? নিশ্চয়ই তেলের সমস্যা নাই এবং তেলগুলো তারা গাড়িতে উঠিয়েই লংমার্চে যাবে।’

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৫ আগস্ট জানিয়েছেন, ছয় দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

পরওয়ার জানান, ওই দিন সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, লংমার্চে অন্তত এক হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। পথে আরও গাড়িবহরে যোগ দেবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নয়টি জেলা ও মহানগরীর জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পথে ছয়-সাতটি স্থানে শীর্ষ নেতাদের পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লংমার্চের ছয়টি প্রধান দাবি হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদল রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে এবং তারা একটি লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, এ ব্যাপারে সরকারের ভাবনা জানতে চাইলে শাহে আলম বলেন, বিরোধীদলের কর্মসূচি মোকাবিলা করার কিছু নাই। তারা গণতান্ত্রিক পন্থায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে এ ব্যাপারে সরকার সহায়তা করবে যেহেতু এটা গণতান্ত্রিক সরকার।

‘তবে আমি এইটুকুই বলবো যে, মঞ্চের পেছনে ফ্যান চালিয়ে আপনি যদি বলেন যে, বিদ্যুৎ নাই দিতে হবে—এই জিনিসটা সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

শাহে আলম বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জন্য সাময়িক যে অসুবিধা ছিল, এ ব্যাপারে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’

তিনি জানান, চলতি সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিষয়ে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসূচি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করবেন।

‘তখনই জাতির কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পরিকল্পনা কী,’ যোগ করেন তিনি।

চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—পাঁচটি অর্ডিন্যান্স সংসদে আইন আকারে পাস হয়েছে। সেখানে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া এবং জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান আমরা বিলুপ্ত করেছি। এখন এই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে সাধারণ প্রতীকে এবং নির্দলীয়ভাবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তবে রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্যই তাদের রাজনীতিকে ঠিক রাখার জন্য কোনো না কোনো প্রার্থীকে দলীয়ভাবে সমর্থন দেবে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার গুলশান অফিসে দলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলেও জানান তিনি।

আলম বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা বিএনপি ঠিক করবে, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাকে আমরা সমর্থন দেবো।’

গত ১৭ বছর নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই-সংগ্রাম করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তি দলীয় সমর্থনে অগ্রাধিকার পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাঠে ছিল, মামলা খেয়েছে, হয়রানি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভোটে জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে—এ ধরনের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।’

তিনি আরও জানান, আন্দোলনে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু নির্বাচনের মাঠের অভিজ্ঞতাটা খুবই কম—এ ধরনের প্রার্থীকে আমরা অন্য জায়গায় অ্যাকমোডেট করব, সমর্থন হয়তো দেবো না। আবার ভোটের মাঠে অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু ১৭ বছর খুঁজে পাওয়া যায়নি, এ ধরনের প্রার্থীকেও সমর্থন না দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অনুশাসন রয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে আমরা কোনো রকম প্রভাব বিস্তার করব না।’

তিনি বলেন, একদম অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, এই নির্বাচন করার ব্যাপারে সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে আমরা ১০০ ভাগ সহায়তা করব। কোনোক্রমেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এর বাইরে অন্য কিছু না হয়, এ ব্যাপারে আমাদের ১০০ ভাগ নজর থাকবে।

দলীয় সমর্থনের বাইরে কেউ নির্বাচনে দাঁড়ালে বহিষ্কার করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বিএনপি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। কেন্দ্র থেকে যেহেতু মনোনয়ন বা সমর্থন দেওয়া হচ্ছে না, সেহেতু কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারও করা হবে না।’

বিদেশের পড়াশোনার খরচ এখন ব্যাংকের কার্ডেই দেওয়া যাবে

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখন থেকে নির্ধারিত ডেবিট, ক্রেডিট বা প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন এবং এনরোলমেন্ট ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

এর ফলে কাগজপত্রের ঝামেলাপূর্ণ ‘স্টুডেন্ট ফাইল’ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ফি পরিশোধের প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হবে।

এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফি দেওয়ার জন্য অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো এখন থেকে নির্দিষ্ট কার্ড ইস্যু করতে পারবে বা কার্ড ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এসব কার্ড শিক্ষার্থীর নামে অথবা তাদের শিক্ষার খরচ বহনকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামে ইস্যু করা যেতে পারে।

নতুন এই পেমেন্ট সুবিধাটি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে পেশাদার ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের মতো বিস্তৃত একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে।

বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন তাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার কথা বলে থাকে। মূলত সেই কারণেই এই নতুন পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, এই নতুন সুবিধাটি ভ্রমণ কোটা এবং অন্যান্য সাধারণ বৈদেশিক মুদ্রার খরচ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হিসেবে ধরা হবে।

ভ্রমণ কোটা হলো সেই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, যা একজন বাংলাদেশি নাগরিক এক বছরে ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য আইনগতভাবে বিদেশে নিয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য এই সীমা ১২ হাজার ডলার।

আগে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে শিক্ষার্থীদের সাধারণত একটি আনুষ্ঠানিক এবং কাগজপত্রের জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো।

২০২৫ সালে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবিধান অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের তাদের পুরো কোর্সজুড়ে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন পরিচালনার জন্য একটি নির্ধারিত ব্যাংক শাখায় স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে হতো। এরপর ব্যাংকগুলো সরাসরি বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি পাঠাত।

ব্যাংক টাকা পাঠানোর আগে শিক্ষার্থীদের মূল ভর্তির কাগজপত্র, ফির আনুমানিক হিসাব এবং শিক্ষাগত সার্টিফিকেট জমা দিতে হতো।

ব্যাংকগুলোকে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়া টিউশন ফি এবং থাকা-খাওয়ার হিসাব অনুযায়ী সরাসরি ওয়্যার ট্রান্সফার করতে হতো।

আন্তর্জাতিক কার্ডগুলো আগে শুধুমাত্র জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের জন্য অনুমোদিত ছিল, এবং সেটিও কেবল তখনই যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেসব ফি সরাসরি তাদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিত না।

যে শিক্ষার্থীরা ব্যাংক পরিবর্তন করতে চাইতেন, তারা চাইলেই তাদের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিতে পারতেন না। তাদের স্টুডেন্ট ফাইলটি সরাসরি এক ব্যাংক শাখা থেকে অন্য শাখায় স্থানান্তর করতে হতো।

টোফেল বা স্যাট রেজিস্ট্রেশনের মতো কিছু অনলাইন পেমেন্টের জন্য ভার্চ্যুয়াল কার্ড ব্যবহার করা গেলেও মূল টিউশন ফি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমেই পরিশোধ করতে হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, লেনদেনের অনুমতি দেওয়ার আগে ব্যাংকগুলোকে সব প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই-বাছাই করতে হবে। বিশেষ করে মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধের নিয়মসহ প্রচলিত সব বৈদেশিক মুদ্রা আইন যেন সঠিকভাবে মেনে চলা হয়, সেদিকে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

কার্ডগুলো যেন শুধুমাত্র শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয় এবং পরিশোধ করা অর্থ যেন ঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশে পড়াশোনার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত অন্যান্য সব বিদ্যমান নিয়ম আগের মতোই কার্যকর থাকবে। এসব নিয়ম ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হালনাগাদ করা একটি বিস্তৃত কাঠামোর অংশ, যা বিদেশে টাকা পাঠানোর বিভিন্ন নিয়ম বা নির্দেশিকাকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন নিয়ম যেন যথাযথভাবে পালন করা হয়, তা নিশ্চিতে ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মনিটরিং মডিউলে (সিস্টেমে) জমা দিতে হবে।

চোট শঙ্কা উড়িয়ে এমবাপে বললেন ‘আমি একদম ঠিক আছি’

কিলিয়ান এমবাপের দারুণ গোলের পর ততক্ষণে গোল পেয়ে গেছেন উসমান দেম্বেলেও। পুরো নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্যাচে অনায়াসে জেতার রাস্তায় তখন ফ্রান্স। এমন সময় আচমকাই ভক্তদের কিছুটা যেন চিন্তায় ফেললেন এমবাপে। গোড়ালির আঘাতে মাঠে বসে পড়লেন তিনি, এবং দ্রুত বদলিও হয়ে গেলেন। তবে ম্যাচ শেষে তাকে পাওয়া গেল ফুরফুরে অবস্থায়। গোড়ালিতে একটু আঘাত লাগার বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি এই তারকা। স্পষ্ট বললেন, ‘আমি একদম ঠিক আছি।’

বস্টন স্টেডিয়ামে (জিলেট স্টেডিয়াম) মাঠের মধ্যেই ফ্রান্সের ফিজিওর কাছ থেকে চিকিৎসা নেন এমবাপে। এরপর ৭৭তম মিনিটে তার পরিবর্তে জঁ-ফিলিপ মাতেতাকে মাঠে নামানো হয়।

২৭ বছর বয়সী এই তারকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে তালি দিতে দিতে মাঠ ছাড়েন এবং তাকে খুব বেশি যন্ত্রণার মধ্যে আছেন বলে মনে হয়নি। পরবর্তীতে টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, এমবাপে তার ডান পায়ে বরফ বেঁধে বেঞ্চে বসে আছেন।

ম্যাচ শেষে এমবাপে বলেন, ‘আমি একদম ঠিক আছি। গোড়ালিতে একটু আঘাত পেয়েছিলাম, তবে সব ঠিক আছে। শেষ ১৫ মিনিট খেলার জন্য আমার চেয়ে জেপি [মাতেতা] বেশি উপযুক্ত ছিল।’

ইএসপিএন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ‘কিলিয়ানের গোড়ালি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার মতো কিছু নেই।’

জয়ের পর এমবাপে মুখে হাসি নিয়ে মাঠের মধ্যে এবং দলের ড্রেসিংরুমে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

গত বিশ্বকাপে কাতারে সেমিফাইনালে মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফ্রান্স। এবারও ব্যবধান থাকল একই। দলের জয়ে বড় অবদান এমবাপের। ডেডলক ভেঙে দারুণ শটে তিনিই এগিয়ে নেন দলকে। অবশ্য প্রথমার্ধে তার সামনে ছিল সহজ সুযোগ, কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। সেই পেনাল্টি নেওয়ার আগে তিন মিনিটেরও বেশি অপেক্ষা করায় মনঃসংযোগ বিঘ্ন হওয়ার অভিযোগ ছিল তার।

আগামী মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনে সেমিফাইনালে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের। সামনের চ্যালেঞ্জটা যে আরও কঠিন টের পাচ্ছেন এই তারকা, ‘আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা জানি যে স্বস্তি পাওয়ার একটাই উপায় আছে, আর তা হলো জয়ী হওয়া। তবে আমাদের এখনও অনেক পথ বাকি। আমরা জানি সামনে যা আসছে তা আরও কঠিন হবে, তবে আমরা যেকোনো কিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। আমরা ভালোভাবে ক্লান্তি কাটিয়ে উঠব এবং আগামীকালকের ম্যাচটি (স্পেন ও বেলজিয়ামের) দেখব যে আমাদের কার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

 

বাপ্পারাজের পরিবর্তে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কে?

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল চিত্রনায়ক বাপ্পারাজের। তবে শেষ মুহূর্তে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

এর আগে অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তির সঙ্গে একই প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল বাপ্পারাজের।

এদিকে শিল্পী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পারাজের পরিবর্তে সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন ফাইট ডিরেক্টর আরমান। তিনি সর্বশেষ শিল্পী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে সংগঠনটির বিভিন্ন কমিটিতে একাধিক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আরমান বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীদের আগ্রহে এবার সভাপতি পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিগত সময়ে যতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, শিল্পীরা আমাকে নিরাশ করেননি। এবারও আশা করব তারা আমাকে কাজের সুযোগ করে দেবেন।’

বাপ্পারাজের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে মুক্তি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে বাপ্পা ভাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। সে কারণে সাধারণ সদস্যদের আগ্রহে আরমান মামা সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গুণী শিল্পীদের নিয়ে সুন্দর একটি প্যানেল চূড়ান্ত করেছি। আমরা নির্বাচিত হলে শিল্পীদের জন্য কাজ করব। আগামী দিনেও কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ দিতে চাই।’

আসন্ন এই নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক কামাল মো. কিবরিয়া লিপু। আর আপিল বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা ছটকু আহমেদকে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আগামী ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আয় কম-ব্যয় বেশি, নিউজিল্যান্ড ছাড়লেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা

জেসিন্ডা আরডার্ন, নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নশীল দেশের মানুষ যখন ভাগ্য বদলাতে নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার কথা ভাবেন, তখন খবর এলো দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভাগ্য বদলাতে ছেড়েছেন নিজের দেশ।

শুধু জেসিন্ডাই নয়, তার মতো আরও অনেকে নিউজিল্যান্ড ছেড়েছেন। কারণ, আয় কম; আবার ব্যয় বেশি।

আজ শনিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়—গত ৪ বছরে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কিউইদের দেশত্যাগের হার দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। অর্থাৎ, ১৮ হাজার থেকে হয়েছে ৪৩ হাজার।

প্রতিবেদন অনুসারে—নিউজিল্যান্ডে একদিকে যেমন বাড়ছে জীবনযাত্রার খরচ, অন্যদিকে সংকুচিত হচ্ছে চাকরির বাজার। তাই তরুণদের দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী জেসিন্ডা আরডার্নও।

গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানানো হয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জেসিন্ডা প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে চলে গেছেন। শহরটির উত্তরে সাগর-ঘেঁষা অভিজাত এলাকায় তাদেরকে বাড়ি খুঁজতে দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে—স্বামী ব্লেয়ার ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউজিল্যান্ড ছাড়ার সময় জেসিন্ডার সঙ্গে ছিল পাঁচটি স্যুটকেস। নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনের বাড়ি বিনিময় করে তিনি মেলবোর্নে বাড়ি নিয়েছেন।

জেসিন্ডা সিএনএনকে বলেন, ‘কখনোই ভাবিনি ওয়েলিংটনের বাইরে গিয়ে থাকবো। নিউজিল্যান্ডের বাইরে থাকা তো দূরের কথা।’ নিজের দেশকে এখনো ভালোবাসেন জানিয়ে তিনি আরও বললেন, ‘পরিবার বড় হচ্ছে। জীবনবোধ বদলে যাচ্ছে।’

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে ছবির মতো সুন্দর নিউজিল্যান্ড অনেক ধনী মার্কিনির কাছে আকর্ষণীয়। সংঘাতপীড়িত বিশ্বে নিরাপদ দেশ হিসেবে তারা নিউজিল্যান্ডকে বসবাসের জন্য বেছে নেন।

এমন পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দাদের দেখা যাচ্ছে নিজ দেশ ছেড়ে যেতে। তাও আবার প্রায় রেকর্ড-হারে।

কিউইদের বিদেশে পাড়ি জমানো কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। তবে তাদের দেশত্যাগের হার আগের বছরগুলোর তুলনায় বেড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এর আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি মানুষ নিউজিল্যান্ড ছেড়েছেন। এর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার। ২০১২ সালের তুলনায় এই সংখ্যাটা বিশাল।

নিয়মিতভাবে ২০-এর কোঠায় থাকা তরুণরা নিউজিল্যান্ড থেকে বের হয়ে যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ায় জীবন কাটানোর কথা চিন্তা করেন। নিউজিল্যান্ডের সরকারি তথ্য বলছে, অবসর নেওয়া মানুষরাও এখন তাদের দলে যোগ দিচ্ছেন।

ওয়েলিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্র্যাড ওলসেন ঘটনাটিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, আর্থিক টানাপড়েনের কারণে ৪০-এর কোঠায় থাকা মানুষও দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় জেসিন্ডার ডেটা ইঞ্জিনিয়ার স্বামী ব্লেয়ারের বেতন নিউজিল্যান্ডের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি হবে বলে তারা সেখানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, জেসিন্ডার সন্তানরা নিউজিল্যান্ডের তুলনায় কম খরচে অস্ট্রেলিয়ায় পড়ালেখা করতে পারবে। সেখানে তাদের বাজার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত খরচেও বড় ধরনের সাশ্রয় হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় নিউজিল্যান্ডবাসীদের থাকার ও কাজের অনুমতি আছে বলে সেখান থেকে বাসিন্দারা ব্যাপকহারে প্রতিবেশী দেশটিতে পাড়ি জমাচ্ছেন।

সিএনএন বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে যে, নিউজিল্যান্ড বাসিন্দাদের কেউ কেউ ইংল্যান্ড, কেউ স্কটল্যান্ড, কেউ স্পেন, এমনকি কেউ কেউ কাতার, আবুধাবি ও তুরস্কে থাকার চিন্তা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রেও চলে যাচ্ছেন কেউ কেউ।

তবে নিউজিল্যান্ডারদের মধ্যে যারা দেশ ছাড়ছেন তাদের প্রায় ৬০ শতাংশই যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ায়।

নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) দেওয়া স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে ভ্রমণ ভিসা (ভিজিটর ভিসা) চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

পোস্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

তবে ভিসা স্থগিত হলেও আবেদন প্রক্রিয়া এখনই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ‘প্রভাবিত দেশগুলোর অভিবাসী ভিসা প্রার্থীরা আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ অব্যাহত রাখবে।’

বাংলাদেশ ছাড়া তালিকায় থাকা অন্য ৭৪টি দেশ হলো—আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বারবাডোজ, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার (বার্মা), কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, পাকিস্তান, রিপাবলিক অব কঙ্গো, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তাঞ্জানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।

বিরোধীদলের আন্দোলন দেশের জন্য ক্ষতিকর: পানিসম্পদমন্ত্রী

বিরোধীদলের আন্দোলন দেশের উন্নয়নকে ক্ষতি করবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, ‘বিরোধীদল লংমার্চ দিয়েছেন, আবার বলছেন আন্দোলন করবেন। দেশটা যদি আন্দোলনের ওপর থাকে তাহলে এলাকার উন্নয়ন হবে না। এ আন্দোলন এলাকার জন্য ক্ষতি, দেশের জন্য ক্ষতি।’

আজ শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকায় এসডিএফ-এর ‘বি স্ট্রং’ প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আরেকটি পক্ষ আমাদের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তারা এখন বিরোধী দলে। আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন তারা উপস্থিতও হয়নি এবং আমাদের সহযোগিতাও করেনি। এখন পর্যন্ত তারা আন্দোলনের কথা বলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসিনার বিরুদ্ধে আমরা ১৭ বছর আন্দোলন করেছি। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তার সরকারের সময় দেশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবাই মিলে আন্দোলন করে দেশকে রক্ষা করেছি, দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছি। এখন আমাদের কাজ হলো এই অর্জনকে সুরক্ষা করা এবং নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। এ কাজে বিরোধীদলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বিরোধীদলের আন্দোলন প্রসঙ্গে এ্যানি বলেন, ‘বিরোধীদল আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে জিম্মি করতে চাচ্ছে। অতীতে হাসিনা যেভাবে ১৭২ দিন হরতাল দিয়ে দেশের মানুষকে জিম্মি করে ক্ষমতায় এসেছিল। পরে দেশের ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে ১৭ বছরে। এখন বিরোধীদল মনে করছে, আন্দোলন করলে বিএনপি দুর্বল হয়ে যাবে, তারেক রহমান দুর্বল হয়ে যাবেন, মন্ত্রী-এমপিরা দুর্বল হয়ে যাবেন। সেই সুযোগে জনগণ বাধ্য হয়ে তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে। সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না।’

এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে আড়াই-তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে। তারেক রহমানের পিতা জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশকে স্বনির্ভর করেছেন। উনার মা বেগম খালেদা জিয়া গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে জনগণের সঙ্গে কাজ করেছেন, দেশের উন্নয়ন করেছিলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ৫ বছরে এ ধরনের কাজ হলে, আমাদের মুখে হাসি ফোটার সম্ভাবনা রয়েছে।’

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রব, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রব, সাধারন সম্পাদক ইউছুফ ভুঁইয়াসহ অনেকে।