28.7 C
Dhaka
Home Blog

মধ্যপ্রাচ্যে এখন পর্যন্ত ৪ বাংলাদেশি আহত, বড় ক্ষয়ক্ষতি নেই: প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত চার বাংলাদেশি আহত হওয়া ছাড়া বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক। 

আজ রোববার দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। তাই ওইসব দেশে আমাদের দেশের যারা অবস্থান করছেন, তাদেরকে নিরাপদে ও শান্ত থাকার জন্য আহবান জানানো হয়েছে। 

প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি কিছু জরুরি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, চলাচলের সময় নিজেদের পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সবসময় সাথে রাখতে হবে। যেকোনো ধরনের সামরিক স্থাপনা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে।

অভিবাসন ব্যয় ও দালাল চক্র প্রসঙ্গে নূরুল হক বলেন, যারা প্রবাসে যাচ্ছেন, তারা অনেকেই দালালদের খপ্পড়ে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন এজেন্সিরও নানা অনিয়ম রয়েছে। এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

বিদেশে গমনেচ্ছুদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষদের প্রবাসে যেতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এর প্রধান কারণ প্রতারক ও দালাল চক্র। বিগত দিনে যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অভিভাসন ব্যয় কমাতে কাজ করছি। 

প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তিন দিনের সফরে গত শুক্রবার পটুয়াখালী আসেন মো. নূরুল হক। সফরের প্রথম দুদিন তিনি তার নির্বাচনী এলাকা গলাচিপা ও দশমিনায় বিভিন্ন সরকারি ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। 

 

 

এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ আর মানুষের হাতে না থাকলে কী হতে পারে

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বই কিংবা সিনেমায় আমরা বহুবার এমন ঘটনা পড়েছি ও দেখেছি, যেখানে মানুষের তৈরি যন্ত্রের সক্ষমতা বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছে, যখন সেই যন্ত্রের ওপর মানুষের আর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এসব ঘটনায় প্রথমে মেশিনকে মানুষের সহকারী হিসেবে তৈরি করা হয়। এরপর মানুষের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়ে একপর্যায়ে মানুষের প্রভুতে পরিণত হয়। তখন মানুষ অস্তিত্ব রক্ষা করতে তার নিজের তৈরি মেশিনের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

এসব কল্পকাহিনিতে শেষপর্যন্ত অবশ্য মানুষ যন্ত্রকে পরাজিত করে নিজের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। এত দিন এসব গল্পকে কল্পকাহিনি মনে হলেও বর্তমানে সেটি আর কল্পকাহিনি বলার সুযোগ নেই। এমইটিআরয়ের স্বাধীন তদন্তে এআই সংক্রান্ত এমন কিছু ঘটনা উঠে এসেছে, যেগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে এসব কল্পকাহিনি ইতোমধ্যে বাস্তবে পরিণত হওয়া শুরু করেছে।

প্রশ্ন হলো, মানুষের লেখা কল্পকাহিনিতে মানুষ নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও, বাস্তবে যন্ত্র তথা এআই যখন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে নিজেরাই চিত্রনাট্যের কাহিনি লেখা শুরু করেছে, তখন শেষ হাসি কে হাসবে? মানুষ, নাকি এআই?

ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, মেশিনকে শুধু মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেই হবে এমন নয়। মানুষ যে লক্ষ্য দিয়েছে, সেটি পূরণ করতে গিয়ে একটি অত্যন্ত সক্ষম এআই এমন পথ বেছে নিতে পারে, যা মানুষ অনুমোদন করেনি। তাকে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে না; শুধু নিজের কাজটি করতে হবে। আর সেই কাজের অর্থ যদি এআই মানুষের চেয়ে ভিন্নভাবে বোঝে, তাহলেই বিপদ শুরু হতে পারে।

এখানেই এআই এজেন্ট ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ। এআই এজেন্ট হলো, এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা যা মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই কোনো লক্ষ্য অর্জনে নিজে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা ও কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এত দিন আমরা এআইকে মূলত একটি চ্যাটবট হিসেবে চিনেছি। তাকে প্রশ্ন করলে সে উত্তর দেয়, লেখা দিলে সম্পাদনা করে, তথ্য দিলে বিশ্লেষণ করে। কিন্তু এআই এজেন্টকে যদি কোনো কাজ করতে বলা হয়, তখন সে নিজেই ঠিক করতে পারে কোন তথ্য দরকার, কোথা থেকে তা সংগ্রহ করবে, কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করবে, কোথায় ব্যর্থ হয়েছে এবং বিকল্প কোন পথ চেষ্টা করবে।

এআই এজেন্ট কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে, কোড চালাতে পারে, ফাইল পরিবর্তন করতে পারে, ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজতে পারে এবং অন্য এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। অর্থাৎ চ্যাটবট মূলত উত্তর দেয়; এআই এজেন্ট কাজ করে। এই পার্থক্যটি প্রযুক্তির চরিত্রই বদলে দেয়। কোনো যন্ত্র শুধু ভুল উত্তর দিলে তার ক্ষতি সীমিত থাকতে পারে। কিন্তু সে যদি নিজেই কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, কোড চালায়, তথ্য পরিবর্তন করে কিংবা অন্য একটি ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এবং ভুলভাবে কোনো কাজ করে, তখন সেই কাজ ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

২০২৬ সালের মে মাসে ওপেনএআইয়ের গবেষণার সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এমইটিআরয়ের স্বাধীন তদন্তে উঠে এসেছে, যা এই পরিবর্তনের ভয়াবহতা বোঝার জন্য যথেষ্ট। সংস্থাটি সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা পরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রায় ১ হাজার ২০০ এআই এজেন্টকে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ সমাধানের দায়িত্ব দেয়। এজেন্টগুলোকে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া পৃথক স্যান্ডবক্সে রাখা হয়েছিল। স্যান্ডবক্স হলো নিরাপত্তা বলয় দিয়ে সীমাবদ্ধ এবং বিচ্ছিন্ন কম্পিউটার পরিবেশ, যার বাইরে এআই এজেন্টগুলোর যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু কাজগুলো ইন্টারনেট ছাড়া সম্ভব নয় দেখে পরীক্ষায় থাকা এজেন্টগুলো অননুমোদিত বিকল্প পথ তৈরি করে ইন্টারনেটে ঢোকে এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে।

এরপর ঘটনার সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায় শুরু হয়। এজেন্টগুলো আলাদা আলাদা পরিবেশে কাজ করলেও ব্যবহৃত কম্পিউটার অবকাঠামোর কিছু অংশে তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ ছিল। কয়েকটি এজেন্ট সেখানে নিজেদের কাজের তথ্য রাখে, যা অন্য এজেন্টরা পড়তে পারে। কেউ একটি সমস্যার সমাধান না পেলে সেখানে সাহায্য চায় এবং আরেকজন এসে তাকে সাহায্য করে। ধীরে ধীরে একটি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হয়। এভাবে এক একটি এজেন্টের আবিষ্কার হয়ে উঠল প্রতিটি এজেন্টের সমষ্টিগত সম্পদ। একজন মানুষ কোনো নতুন সাইবার কৌশল আবিষ্কার করলে সেটি অন্যদের শেখাতে সময় লাগে। কিন্তু এআই এজেন্টের ক্ষেত্রে একটি আবিষ্কার মুহূর্তের মধ্যে শত শত এজেন্টের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। ফলে একটি এজেন্ট যতটা জানে, তাদের সম্মিলিত জ্ঞান তারচেয়ে বহুগুণ বড় হয়ে ওঠে।

এই জায়গাটিতেই এআইয়ের নতুন শক্তি। একটি বুদ্ধিমান মেশিনের চেয়ে অনেকগুলো পরস্পর সংযুক্ত বুদ্ধিমান মেশিন অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হতে পারে। তদন্তে দেখা যায়, এই এজেন্টগুলো পরীক্ষার সময় ৭০ হাজারের বেশি বার্তা ও ফাইল আদান-প্রদান করেছিল।

প্রথম দিকে তাদের লক্ষ্য ছিল সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করা। কিন্তু পরে তারা পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে কীভাবে ফাঁকি দেওয়া যায়, সেই পথও খুঁজতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা এমন একটি সাধারণ কৌশল আবিষ্কার করেছিল, যার মাধ্যমে পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণকারী ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হচ্ছিল। অর্থাৎ আসল সমস্যার সমাধান করার বদলে তারা কীভাবে পরীক্ষায় সফল বলে গণ্য হওয়া যায়, সেই পথ খুঁজে নেয়। অনেকটা রিওয়ার্ড হ্যাকিংয়ের মতো।

এজেন্টগুলোকে শুধু কাজটি করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা বুঝতে পারে যে, অন্য উপায়ে কাজটি করা আরও সহজ হবে। ফলে তারা হ্যাকিংয়ের পথ বেছে নেয়। এখানে মেশিনের উদ্দেশ্য হয়ত মানুষের মতো প্রতারণা করা নয়; কিন্তু তার ফলাফল প্রতারণার চেয়েও ভয়ংকর। বিপদটি এখানেই।

এখানে এসে ঘটনাটি আর পরীক্ষাগারের ভেতরের একটি সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকল না। এটি বাস্তব একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোয় অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় পরিণত হলো। সবচেয়ে অস্বস্তিকর বিষয় ছিল, কিছু এজেন্ট বুঝতে পেরেছিল যে তারা এমন একটি তৃতীয়পক্ষের কম্পিউটার ব্যবস্থায় প্রবেশ করছে, যেখানে তাদের প্রবেশের অনুমতি নেই। তারা কাজটি না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু অন্য এজেন্টগুলো সেটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিল। অর্থাৎ এআই এজেন্টগুলোর মধ্যেও আচরণগত পার্থক্য দেখা যায়। কেউ সীমা মানে, কেউ সীমা ভাঙে; কেউ সতর্ক করে, কেউ ঝুঁকি নেয়; কেউ থামতে চায়, কেউ এগিয়ে যেতে চায়।

এটি মানুষের মতো নৈতিক বিবেকের বিষয় না হলেও বিভিন্ন এজেন্ট পরিস্থিতি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। আর যখন তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারে, তখন একটি এজেন্টের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত অন্যদেরও প্রভাবিত করতে পারে। এখানেই ভবিষ্যতের একটি বড় প্রশ্ন আসে। যদি একটি এআই মানুষের নির্দেশের পাশাপাশি অন্য এআইয়ের নির্দেশও অনুসরণ করে, তাহলে শেষ কর্তৃত্ব কার? মানুষের? কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার? নাকি সবচেয়ে প্রভাবশালী এজেন্টের? কারণ, এটি শুধু সাইবার নিরাপত্তার বিষয় না, ভবিষ্যতে এটি হবে দেশের নিরাপত্তা, আর্থিক বাজার, সরকারি প্রশাসন, বিদ্যুৎব্যবস্থা, স্বাস্থ্য অবকাঠামো কিংবা সামরিক কমান্ডের বিষয়।

ধরুন, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এআইকে দেশের নিরাপত্তার দিকে নজর রাখতে বলা হলো। মানুষের কাছে নিরাপত্তার অর্থ শুধু সম্ভাব্য শত্রুকে ধ্বংস করা নয়। নিরাপত্তার মধ্যে কূটনীতি, যুদ্ধ এড়িয়ে চলা, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও রয়েছে। কিন্তু একটি মেশিন যদি শুধু লক্ষ্যটির সর্বোচ্চ মাত্রা অর্জন করতে চায়, তাহলে নিরাপত্তা তার কাছে হয়ে উঠতে পারে সম্ভাব্য সব হুমকি দূর করা। সেখান থেকেই ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একটি এআই যদি মনে করে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যত বেশি হবে, লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনাও তত বেশি, তাহলে নিজের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, আরও তথ্য সংগ্রহ করা, অন্য এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা কিংবা মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো তার কাছে কার্যকর মধ্যবর্তী পদক্ষেপ বলে মনে হতে পারে। এআই নিরাপত্তা গবেষণায় এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।

আরেকটি দৃশ্য কল্পনা করুন, যেখানে একটি এআই গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করছে, আরেকটি উপগ্রহের ছবি দেখছে, অন্যটি সাইবার আক্রমণ শনাক্ত করছে এবং অন্য আরেকটি সামরিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রত্যেকটি এআই নিজের নির্দিষ্ট কাজ করছে। কিন্তু তাদের সম্মিলিত বিশ্লেষণে যদি একটি ভুল তৈরি হয়? একটি এআই প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতিকে আক্রমণের পূর্বলক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে। দ্বিতীয়টি সেই তথ্যকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তৃতীয়টি সামরিক সতর্কতা বাড়াতে পারে। শেষ পর্যন্ত মানুষ এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যার ভিত্তি ছিল একটি ভুল মেশিন ব্যাখ্যা। এখানে এআইকে নিজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হবে না। তাকে শুধু মানুষকে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো একটি তথ্য-পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

এই আশঙ্কা যে নিছক কল্পনা নয়, তার একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ মিলেছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কেই। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিএনএন জানায়, ইরান যুদ্ধ চলাকালে একটি এআইয়ের সহায়তায় তৈরি ভুল গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজ আটকানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। এআইয়ের প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন দাবি করা হয়েছিল, জাহাজটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপাদান বহন করছে। মার্কিন সামরিক সদস্যরা জাহাজে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং সামরিক বিমানও আকাশে ছিল। পরে কর্মকর্তারা গভীরভাবে যাচাই করে দেখতে পান, বিশেষ অভিযানবিষয়ক এআই চ্যাটবট জাহাজটির পণ্য ভুলভাবে শনাক্ত করেছিল। অভিযান শেষ মুহূর্তে থেমে যায়।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুল প্রতিবেদনটির কারণে প্রায় একটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যাচ্ছিল। ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, এআইকে নিজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হবে না; একটি ভুল গোয়েন্দা বিশ্লেষণই যথেষ্ট। আজ যদি একটি এআই ভুলভাবে চীনের কোনো সামরিক প্রস্তুতিকে আক্রমণের পূর্বলক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে, আর সেই তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সতর্কতা বাড়ায়; চীনের এআই আবার সেই মার্কিন প্রস্তুতিকে আক্রমণের সংকেত হিসেবে শনাক্ত করতে পারে; তাহলে শুরু হতে পারে এমন এক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চক্র, যেখানে কোনো পক্ষই যুদ্ধ চাইছে না, অথচ দুইপক্ষের যন্ত্রনির্ভর বিশ্লেষণ একে অপরের কর্মকাণ্ডকে ক্রমাগত আক্রমণাত্মক হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর রয়টার্সের প্রতিবেদন মারফত জানা যায়, এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সামরিক এআইয়ের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো কিছু সুরক্ষাসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, কোনো এআই যদি পারমাণবিক কমান্ড নেটওয়ার্কে হস্তক্ষেপ করে বা সামরিক সাইবার অভিযান শুরু করে, তাহলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাত্র কয়েক মিনিট থাকতে পারে।

তাছাড়া মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকা মানেই যে চূড়ান্ত কিছু, তা কিন্তু নয়। কাগজে-কলমে চূড়ান্ত অনুমোদনের এখতিয়ার হয়ত মানুষের হাতে থাকবে, কিন্তু সেই মানুষ এমন একটি তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে যা স্বায়ত্তশাসিত এআই নিজেই তৈরি করেছে। তাহলে বাস্তব নিয়ন্ত্রণের বড় অংশ ইতোমধ্যে মেশিনের হাতে চলে যেতে পারে। মানুষ হয়তো শেষ বোতামটি চাপবে, কিন্তু বোতাম চাপার মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে এআই।

এআইয়ের সম্ভাব্য পরিণতি শুধু যুদ্ধ বা পারমাণবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাপক সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থা অচল হতে পারে; বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে; ভুয়া তথ্য এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে যে সত্য ও মিথ্যা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়বে; স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ভুল সিদ্ধান্ত সরাসরি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে; আর্থিক বাজারে অসংখ্য স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট একই ধরনের সংকেত অনুসরণ করলে অল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আরেকটি বিপদ হলো এআই নির্ভরতার কারণে মানুষের চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ক্রমাগত কমতে থাকবে। মানুষ যখন দীর্ঘদিন এআইয়ের ওপর নির্ভর করবে, তখন ধীরে ধীরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে মানুষ এআইয়ের সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করার বদলে অনুমোদন করতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এআই দ্রুত, তথ্যসমৃদ্ধ ও আপাতদৃষ্টিতে নির্ভুল হওয়ায় মানুষ ধরে নিতে পারে এআই নিশ্চয়ই ঠিক বলছে। তখন মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাস্তবে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা ক্রমশ মেশিনের কাছে চলে যাবে।

পাশাপাশি এআইকে ঘিরে ভয়ংকর প্রতিযোগিতাও তৈরি হতে পারে। একটি রাষ্ট্র ভাবতে পারে, প্রতিপক্ষের এআই যদি বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে আমাদের এআইকেও আরও স্বাধীন করতে হবে। অন্য রাষ্ট্রও একই যুক্তি দেবে। এভাবে শুরু হতে পারে নতুন প্রযুক্তিগত অস্ত্র প্রতিযোগিতা। কার এআই দ্রুততর, কার এআই বেশি স্বায়ত্তশাসিত, কার এআই প্রতিপক্ষের এআইকে আগে শনাক্ত করতে পারে—এইসব।

কিন্তু এআইয়ের উন্নয়ন বন্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। কারণ, একটি দেশ উন্নয়ন বন্ধ করলেও অন্য দেশ তা নাও করতে পারে। তখন তৈরি হবে নতুন নিরাপত্তা দ্বিধা। কেউ থামতে চাইবে না। কারণ, সে আশঙ্কা করবে অন্যরা এগিয়ে যাচ্ছে। আবার নিয়ন্ত্রণহীনভাবে উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়াও বিপজ্জনক।

তাই এআই শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়; এটি ক্ষমতারও প্রশ্ন। যে রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে শক্তিশালী এআই নিয়ন্ত্রণ করবে, তারা একইসঙ্গে বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা, সাইবার সক্ষমতা, অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও সামরিক পরিকল্পনার সুবিধা পাবে। ভবিষ্যতের বৈষম্য তখন শুধু ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈষম্য হবে এআই কাদের কাছে কুক্ষিগত আর এআই কারা ব্যবহার করছে তাদের মধ্যে।

তবু একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এআই উন্নয়ন বন্ধ করার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কোন পর্যায়ের এআইকে কতটা স্বাধীন ক্ষমতা দেওয়া হবে, কোন কোন ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে এবং কোন সিদ্ধান্তের ওপর এআইয়ের কর্তৃত্ব কখনোই দেওয়া হবে না। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম একটি সীমা থাকা প্রয়োজন।

এআই বিশ্লেষণ করতে পারে, সতর্ক করতে পারে, তথ্য সাজাতে পারে, সম্ভাব্য পরিণতি হিসাব করতে পারে। কিন্তু, মানবসভ্যতার অস্তিত্ব নির্ধারণকারী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষের হাতেই থাকতে হবে। শুধু শেষ বোতামটি মানুষের হাতে রাখলেই হবে না; এমন ব্যবস্থাও থাকতে হবে যাতে কোনো একক এআই কিংবা এআই সমষ্টি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।

এখানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এআই উন্নয়ন ও সামরিক সক্ষমতায় এই দুই দেশই বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে। তারা যদি প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এআই নিরাপত্তা, স্বায়ত্তশাসিত সামরিক ব্যবস্থা, সাইবার ঝুঁকি ও পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থায় এআইয়ের সীমা নিয়ে ন্যূনতম কিছু অভিন্ন নিয়ম তৈরি করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি সীমিত করার একটি আন্তর্জাতিক ভিত্তি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য হওয়া উচিত একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং এমন কিছু সীমা নির্ধারণ করা, যা কোনোপক্ষই অতিক্রম করবে না।

কারণ, এআইকে মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে হবে না। তাকে শুধু তার দেওয়া কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করতে হবে। সে হয়তো বলবে না, আমি তোমাদের ধ্বংস করব। সে শুধু বলবে, আমি আমার কাজটি করছি। এই জায়গাটিই ভবিষ্যতের সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন। কাজটি কে নির্ধারণ করেছে? কাজটির অর্থ কে নির্ধারণ করেছে? সাফল্য কীভাবে মাপা হচ্ছে? ভুল হলে কে থামাবে? এআই যদি অন্য এআইয়ের সঙ্গে মিলে নতুন কৌশল তৈরি করে, মানুষ কি তা বুঝতে পারবে? আর মানুষের নির্দেশের সঙ্গে তার তৈরি কোনো উপ-লক্ষ্যের সংঘাত হলে সে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবে?

সাম্প্রতিক এআই এজেন্টের ঘটনাটি কোনো মেশিনের বিদ্রোহের প্রমাণ নয়। এআই এজেন্ট পরীক্ষায় পাস করতে গিয়ে নিরাপত্তা বলয় পাশ কাটিয়ে পরীক্ষার নিয়মে ফাঁকি দিয়েছে। আজ সে পরীক্ষার নিয়ম ফাঁকি দিচ্ছে, কাল কোনো সফটওয়্যারের দুর্বলতা ব্যবহার করতে পারে, পরশু কোটি কোটি মানুষের আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করবে। তারপরের দিন হয়তো সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে। আর একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর অনেকাংশ তার বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করতে পারে। সেদিন প্রশ্নটি এমন হবে না, এআই কি মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান? প্রশ্ন হবে, মানুষ কি নিজের তৈরি বুদ্ধিমান ব্যবস্থার ওপর শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে?

পারমাণবিক যুগে সবচেয়ে ভয়ংকর ভুল হবে যদি মানুষ পারমাণবিক অস্ত্রের বোতাম চাপে। এআইয়ের যুগে তারচেয়েও ভয়ংকর সম্ভাবনা হলো, মানুষ বুঝতেই পারল না বোতাম চাপার সিদ্ধান্তটি আসলে কখন থেকে তার নিজের আয়ত্তে আর থাকেনি।

 

তরুন ইউসুফ: কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সেকেন্ডে শরীর ভেদ করে যায় ১০০ ট্রিলিয়ন কণা, ‘গোস্ট পার্টিকেল’ নিউট্রিনো গবেষণায় এবারের নোবেল

মহাকাশ থেকে আসা অতি ক্ষীণ ও রহস্যময় কণা নিউট্রিনো শনাক্তের জন্য বিশাল পর্যবেক্ষণাগার তৈরির পথ দেখিয়ে পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামের পদার্থবিদ অধ্যাপক ফ্রান্সিস হ্যালজেন।

অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে এক ঘনকিলোমিটার বরফের মধ্যে হাজার হাজার আলোকসংবেদী সেন্সর বসিয়ে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দেন তিনি। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বলেছে, আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরির ক্ষেত্রে তার বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুতে নিউট্রিনো শনাক্তের এই পর্যবেক্ষণাগার তৈরির ধারণা প্রথম উপস্থাপন করেছিলেন হ্যালজেন। পরে তার নেতৃত্বে অ্যান্টার্কটিকার প্রায় এক কিলোমিটার ঘন বরফের মধ্যে দীর্ঘ তারের সঙ্গে হাজার হাজার সেন্সর স্থাপন করা হয়।

নিউট্রিনোকে বলা হয় ‘গোস্ট পার্টিকেল বা ভুতুড়ে কণা’। কারণ এগুলো এতটাই দুর্বলভাবে অন্য পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে যে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। সূর্য থেকে প্রতি সেকেন্ডে বিপুলসংখ্যক নিউট্রিনো পৃথিবীতে আসে। এমনকি মানুষের শরীরের মধ্য দিয়েও প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো চলে যায়, অথচ প্রায় কোনো নিউট্রিনোই শরীরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে না।

তবে আইসকিউবের লক্ষ্য সাধারণ নিউট্রিনো নয়। দূরবর্তী ছায়াপথে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ ও উচ্চশক্তির মহাজাগতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি নিউট্রিনো শনাক্ত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিজ্ঞানীদের কাছে এসব নিউট্রিনো যেন মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও চরম ঘটনাগুলোর বার্তাবাহক।

নিউট্রিনো সাধারণত বরফের মধ্য দিয়ে সরাসরি চলে যায়। তবে খুবই বিরল ক্ষেত্রে কোনো নিউট্রিনো বরফের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তখন দ্রুতগতির চার্জযুক্ত কণা তৈরি হয়, যা বরফের মধ্যে নীল আলোর ক্ষীণ ঝলক সৃষ্টি করে। আইসকিউবের সংবেদনশীল সেন্সর সেই আলো শনাক্ত করে। আলোটি কখন এবং কোন দিকে তৈরি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোটি কোথা থেকে এসেছে তা অনুমান করতে পারেন।

নোবেল পদার্থবিজ্ঞান পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মার্ক পিয়ার্স বলেছেন, হ্যালজেনের অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ তৈরি করেছে।

নিউট্রিনো শুধু মহাকাশের দূরবর্তী ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কণা মহাবিশ্বের কয়েকটি বড় রহস্য সমাধানের সূত্রও দিতে পারে।

নিউট্রিনোর অস্তিত্বের তাত্ত্বিক ধারণা প্রথম দেন পদার্থবিদ উলফগ্যাং পাওলি। ১৯৩০ সালে তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের একটি অমীমাংসিত বিষয় ব্যাখ্যা করতে তিনি এই কণার অস্তিত্বের প্রস্তাব দেন। পরে ১৯৫০-এর দশকে পরীক্ষার মাধ্যমে নিউট্রিনোর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়।

নিউট্রিনোর তিনটি পরিচিত ধরন বা ‘ফ্লেভার’ রয়েছে, যেমন—ইলেকট্রন নিউট্রিনো, মিউন নিউট্রিনো ও টাও নিউট্রিনো। বিজ্ঞানীরা পরে দেখতে পান, মহাকাশে চলার সময় নিউট্রিনো এক ধরনের ফ্লেভার থেকে অন্য ধরনের ফ্লেভারে পরিবর্তিত হতে পারে।

এই আবিষ্কার পদার্থবিজ্ঞানে বড় একটি সমস্যার জন্ম দেয়। কারণ নিউট্রিনোর ফ্লেভার পরিবর্তন বা ‘অসিলেশন’ সম্ভব হতে হলে নিউট্রিনোর ভর থাকতে হবে। অথচ কণাপদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুযায়ী নিউট্রিনোর ভর থাকার কথা নয়। পরে গবেষণায় দেখা যায়, নিউট্রিনোর ভর অত্যন্ত ক্ষুদ্র হলেও তা শূন্য নয়।

নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মহাবিশ্বে পদার্থ এত বেশি এবং প্রতিপদার্থ বা অ্যান্টিম্যাটার এত কম কেন।

বিগ ব্যাংয়ের পর সমপরিমাণ পদার্থ ও প্রতিপদার্থ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। তারা পরস্পর ধ্বংস হয়ে গেলে মহাবিশ্বে শুধু শক্তি থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে মহাবিশ্বে বিপুল পরিমাণ পদার্থ রয়েছে, আর প্রতিপদার্থ তুলনামূলকভাবে বিরল। এই বৈষম্যকে পদার্থ-প্রতিপদার্থের অসমতা বলা হয়।

বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হলো, নিউট্রিনোর আচরণে এমন কোনো পার্থক্য থাকতে পারে, যা এই অসমতার ব্যাখ্যা দিতে সাহায্য করবে। কিছু পরীক্ষায় নিউট্রিনো ও অ্যান্টিনিউট্রিনোর ফ্লেভার পরিবর্তনের সম্ভাবনায় পার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এটি নিশ্চিত হলে তা ‘সিপি ভায়োলেশন’-এর প্রমাণ হতে পারে, যা মহাবিশ্বে পদার্থের আধিক্যের কারণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

নিউট্রিনোকে ঘিরে আরেকটি বড় প্রশ্ন ডার্ক ম্যাটার। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানেন, মহাবিশ্বের বিপুল অংশ এমন এক অদৃশ্য পদার্থ দিয়ে গঠিত, যার উপস্থিতি সরাসরি দেখা যায় না। এর মহাকর্ষীয় প্রভাবের মাধ্যমে ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্বের ধারণা পাওয়া যায়।

সাধারণ নিউট্রিনোর কিছু বৈশিষ্ট্য ডার্ক ম্যাটারের সঙ্গে মিলে গেলেও তাদের ভর খুব কম এবং তারা প্রায় আলোর গতির কাছাকাছি চলে। ফলে মহাবিশ্বের ছায়াপথ ও অন্যান্য মহাজাগতিক কাঠামো গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ধীরগতির ‘ঠান্ডা’ ডার্ক ম্যাটার হিসেবে সাধারণ নিউট্রিনোকে উপযুক্ত মনে করা হয় না।

তবে বিজ্ঞানীরা ‘স্টেরাইল নিউট্রিনো’ নামে ভারী এক ধরনের সম্ভাব্য নিউট্রিনোর কথা বিবেচনা করেছেন। তাত্ত্বিকভাবে এগুলো ডার্ক ম্যাটারের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব কণার অস্তিত্বের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নিউট্রিনো নিজেরই প্রতিকণা কি না, সেটিও বিজ্ঞানীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ বিষয়ে ‘নিউট্রিনোলেস ডাবল বিটা ডিকে’ নামে একটি বিরল প্রক্রিয়া খোঁজা হচ্ছে। এর প্রমাণ পাওয়া গেলে মহাবিশ্বে পদার্থ কেন প্রতিপদার্থের চেয়ে বেশি—সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পথ আরও পরিষ্কার হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখনো পুরোপুরি বোঝা না গেলেও নিউট্রিনো আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম রহস্যময় কণা। মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে পদার্থের অস্তিত্ব ও ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি বোঝা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই ‘ভুতুড়ে কণা’ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।
 

ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে: রিজভী

ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যে নামটি অবিচ্ছেদ্যভাবে, অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িত—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাকে মুছে ফেলার একটা খুব গভীর চক্রান্তের প্রচেষ্টা চলছে।’

‘কাকে খুশি করতে চাচ্ছেন? পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন? এই প্রশ্ন তো আজকে জনগণের। এ প্রশ্ন আজকে মানুষের মুখে মুখে।’

আজ বুধবার সকালে বনানী কবরস্থানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

এদিন রিজভীর নেতৃত্বে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ করেন।

আরাফাত রহমান কোকোর পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া ফ্যাসিবাদের এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বন্দিনী মা—বালির ট্রাক, কাঠের ট্রাক দিয়ে তাকে (খালেদা জিয়া) অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং সেখানে তার চোখে গোল মরিচের স্প্রে করা হয়েছে। তার চোখে ক্ষত ছিল। উনার চোখে অপারেশন হয়েছে, ঠিক ওই মুহূর্তে গোল মরিচের স্প্রে করে তাকে আরও বেশি অসুস্থ করে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ওই মুহূর্তে আপন সন্তানের লাশ তাকে কোলে নিতে হয়েছে। এই হৃদয় বিদারক, মর্মান্তিক ঘটনা, এই ট্র্যাজেডি, এই বিয়োগান্তক ঘটনার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো বিয়োগান্তক মিল আছে বলে আমার মনে নাই। এই মর্মান্তিক ঘটনা সমস্ত বিয়োগান্তক ঘটনা, ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে।

এটি একজন অবৈধ ফ্যাসিবাদী শাসকের প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ছিল মন্তব্য করে রিজভী আরও বলেন, ‘একটি পরিবারকে নানাভাবে পর্যুদস্ত করার জন্য, জনগণের মধ্যে তার (খালেদা জিয়া) যে উপস্থিতি ও জনপ্রিয়তা, সেটিকে মুছে দেওয়ার জন্য এমন কোনো কৌশল নাই যেটা করেননি সাবেক পলাতক স্বৈরাচারিনী।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। জিয়াউর রহমান এ দেশের বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা। সেই সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তানসহ বন্দি। তিনিও একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ নেই যা করেননি। কারণ মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের অবদান নাই—না তার পিতার, তার না নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছেন। এই কারণেই প্রতিহিংসা, কেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করল?’

রিজভী আরও বলেন, তার এই দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কোনোদিনই বরদাস্ত করতে পারেনি। তাই একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক একটি প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সেখানে দেখানো হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় একাত্তর হালকা, পাল্লাটা উপরের দিকে চলে যায়। আর জুলাই নিচের দিকে নেমে আসে।

‘এগুলো হচ্ছে ছোটলোকামি। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন। জনগণের বিরুদ্ধে ছিলেন একাত্তরে, ছিলেন নব্বইয়ে, ছিলেন ছিয়াশিতে, সব সময় আপনারা সেই ভূমিকা রেখেছেন। এখন জুলাইকে পুঁজি করতে চাচ্ছেন।’

জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপি প্রত্যক্ষ সমর্থন জানিয়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। ‘তারেক রহমান লন্ডন থেকে বারবার ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন এবং সবাইকে অংশগ্রহণ করতে বলেছেন। তো এটা তো ইতিহাস।’

এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল ঋণ চালুর আহ্বান

দেশের আরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাকে ঋণের আওতায় আনতে ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়া চালু ও সহজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এসএমই ফাউন্ডেশন ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এসএমই ঋণ সহজীকরণ’ সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি সিএমএসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে সরাসরি ব্যাংকঋণ পান মাত্র ৯ শতাংশ।

এছাড়া প্রায় ১৪ শতাংশ উদ্যোক্তা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ পান। বাকি প্রায় ৭৭ শতাংশ উদ্যোক্তা এখনো ঋণের আওতার বাইরে। ফলে সম্ভাবনাময় অনেক উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হতে পারে না।

আরও বলা হয়, এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ফিনটেকভিত্তিক উদ্ভাবনী আর্থিক সেবার ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন ও এশিয়া ফাউন্ডেশন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য উদ্যোক্তা ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগের ব্যবধান কমানো, অর্থায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের সচেতন করা, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে উভয়পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তোলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতির সম্ভাবনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা।  

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ, এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের সদস্য খালিদ মাহমুদ খান প্রমুখ।

 

 

 

অবশেষে স্পেনের জালে বল, ৬৪৯ মিনিট পর সিমনের গোল হজম

কোয়ার্টার ফাইনালে এসে এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বল প্রবেশ করল স্পেনের জালে। টানা দীর্ঘ ৬৪৯ মিনিট পর অবশেষে গোল হজম করলেন দলটির গোলরক্ষক উনাই সিমন।

শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলসে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে স্পেন ও বেলজিয়াম। প্রথমার্ধ শেষে ম্যাচে চলছে ১-১ গোলে সমতা। অথচ বল দখল ও আক্রমণে বরাবরের মতো একক আধিপত্য দেখিয়েছে স্প্যানিশরা। ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ তাদেরকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৪১তম মিনিটে সিমনকে পরাস্ত করে সমতা টানেন চার্লস ডি কেটেলারে।

গোছানো আক্রমণে অভিজ্ঞ তারকা কেভিন ডি ব্রুইনা ডানপ্রান্তে খুঁজে নেন রাইটব্যাক টিমোথি কাস্টানিয়েকে। ডি-বক্সে তার ফেলা নিখুঁত ক্রসে জোরালো হেডে জাল কাঁপান ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তার ফরোয়ার্ড ডি কেটেলারে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবার সিমন গোল হজম করেছিলেন গত কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জাপানের বিপক্ষে। ওই ম্যাচের ৫১তম মিনিটে আও তানাকা লক্ষ্যভেদ করেছিলেন স্পেনের জালে। সেদিন ২-১ গোলে হেরে গিয়েছিল লা রোহারা। এরপর থেকে একদম অভেদ্য দুর্গ গড়েছিলেন সিমন, যেখানে শেষমেশ ফাটল ধরিয়েছেন ডি কেটেলারে।

বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি সময় গোল না খাওয়ার রেকর্ড আগেই গড়েছেন সিমন। তার আগে ৩৬ বছর ধরে কীর্তিটি ছিল ইতালির গোলরক্ষক ওয়াল্তার জেঙ্গার দখলে। তিনি ১৯৯০ সালের আসরে টানা ৫১৭ মিনিট কোনো গোল হজম করেননি।

এবারের আসরে আগের পাঁচ ম্যাচে জাল অক্ষত রেখেছিলেন ২৯ বছর বয়সী সিমন। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্পেন ড্র করেছিল চমক জাগানো কেপ ভার্দের সঙ্গে। এরপর সৌদি আরবকে ৪-০ ও উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় তারা।

গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে ওঠা লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের শেষ বত্রিশে প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রিয়া। ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয়ের পর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ গোলে পরাস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছে তারা।

বিয়ের গুঞ্জনে কঙ্গনা বললেন, গোপনে বিয়ে করব না, কথা দিচ্ছি

বলিউড অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ কঙ্গনা রনৌত সম্প্রতি নিজের বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এই আলোচনা শুরু হয়।

বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওতে কঙ্গনাকে গোলাপি রঙের সালোয়ার-কামিজে দেখা যায়। তার গলায় ছিল মঙ্গলসূত্র, কপালে টিপ ও হাতে সবুজ চুড়ি। সাধারণত হিন্দু বিবাহিত নারীরা এমন সাজ পরেন। তাই অনেকেই ধারণা করেন, কঙ্গনা হয়তো গোপনে বিয়ে করেছেন।

অবশেষে ২২ মে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন কঙ্গনা। তিনি জানান, এটি আসলে তার নতুন একটি সিনেমার চরিত্রের সাজ ছিল। অর্থাৎ তিনি কোনো গোপন বিয়ে করেননি।

মজার ছলে কঙ্গনা লিখেছেন, ‘আমি প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করছি। কেউ একজন চরিত্রের মেকআপে থাকা অবস্থায় আমার একটি ছবি তুলে ফেলেছে। তারপর থেকেই অনেক ফোন কল পাচ্ছি। কিন্তু বিবাহিত নারীর সাজ নিয়ে এত হইচই কেন? অভিনেতারা তো নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন। আমি গোপনে বিয়ে করব না, কথা দিচ্ছি!’

তবে তিনি কোন সিনেমার জন্য এই লুক নিয়েছিলেন, সেটি খোলাসা করেননি।

কঙ্গনাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ইমারজেন্সি সিনেমায়। এটি তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ, কারণ সিনেমাটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেছেন।

এদিকে কঙ্গনার নতুন সিনেমা আগামী ১২ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা আছে। মনোজ তপাদিয়া পরিচালিত এই সিনেমার গল্প ২০০৮ সালের মুম্বাইয়ে হামলার ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে।

ইরানের আরেক যুদ্ধজাহাজের ২০০ নাবিককে শ্রীলঙ্কার আশ্রয়

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় এলাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে একটি যুদ্ধ জাহাজ ডুবে যায়। নিহত হন অন্তত ৮৪ নাবিক। 

এই পরিস্থিতিতে একই অঞ্চলে অবস্থানরত অপর এক ইরানি জাহাজ কলম্বোর সহায়তা চায়। ওই জাহাজের ২০০ নাবিককে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে অনুঢ়া কুমার দিশানায়েকের দেশ। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

শুধু আশ্রয় দিয়েই থামেনি শ্রীলঙ্কা, ওয়াশিংটন-তেল আবিবের আগ্রাসনের প্রতি নিন্দাও জানিয়েছে দেশটি। 

বৃহস্পতির আইআরআইএস বুশেহর নামের জাহাজটির ২০০ ক্রুকে শ্রীলঙ্কার তীরে নিয়ে আসা হয়েছে

রাজধানী কলম্বোর কাছাকাছি একটি সামরিক ঘাঁটিতে তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। 

জাহাজটি বর্তমানে শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণে আছে। 

বুধবার মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে আইআরআইএস ডেনা নামের ইরানি জাহাজটি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ডুবে যায়। এরপর বুশেহর-এর ক্রুরা ‘ইঞ্জিনের কারিগরি সমস্যার’ কথা উল্লেখ করে শ্রীলঙ্কার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। 

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘আমাদের মতে, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।’

 

‘জনমানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে এবং মানবতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে আমরা এসব পদক্ষেপ নিয়েছি’, যোগ করেন দিশানায়েকে। 

তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।  

কয়েক ঘণ্টা আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শ্রীলঙ্কার নেতা বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে একটি দেশের জন্য বিপদগ্রস্ত নাবিকদের আশ্রয় দেওয়া ‘সবচেয়ে দুঃসাহসিক ও মানবিক কাজ।’

‘আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে নিরপেক্ষ থাকার নীতি বজায় রাখি। আমরা নিশ্চিত করি, মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের জীবন বাঁচানো আমাদের সবচেয়ে প্রাধান্যের বিষয় হিসেবে যেন টিকে থাকে’, যোগ করেন তিনি। 

চলমান সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। 

 

সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। অপরদিকে, চা রপ্তানির বাজার হিসেবে ইরান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। 

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার প্রধান রপ্তানি পণ্য চা। 

উদ্ধারকৃত ৩২ ক্রুকে বন্দরনগরী গলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, আইআরআইএস বুশেহর জাহাজের ২০৮ ক্রূর মধ্যে ২০৪ জনকে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজে করে উপকূলে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয় পেয়েছেন। 

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘জাহাজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন আমাদের সেনাবাহিনীর হাতে। এটাকে ত্রিনকোমালিতে নিয়ে যাওয়া হবে।’

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার পূর্ব প্রান্তের একটি বন্দর ত্রিনকোনমালি। রাজধানী কলম্বো থেকে এটি বেশ খানিকটাই দূরে। 

 

কর্মকর্তা জানান, শ্রীলঙ্কার সেনাদের সহায়তা করতে চার ইরানি জাহাজে থেকে গেছেন। 

এর আগে ওয়াশিংটন ঘোষণা দিয়ে আইআরআইএস ডেনার ওপর হামলার দায় নেয়। এই হামলার জেরে ৮৪ জন ক্রু নিহত ও ৬৪ জন নিখোঁজ হন। 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ হামলা শুরুর পর এটাই ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সীমানার বাইরে কোনো সামরিক হামলার ঘটনা। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই কোনো মার্কিন সাবমেরিনের প্রথম টর্পেডো হামলার ঘটনা।

ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে ভারত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করতে চলেছে ভারত। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে ভিসা কার্যক্রম, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর এটি ছিল হাইকমিশনারের একটি রুটিন সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত ও নিরাপত্তার মতো বিষয়ে ব্যাপক সম্পৃক্ততা রয়েছে।

ভিসা কার্যক্রম নিয়ে ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে ভারতের কনস্যুলেট ও ভিসা অফিসগুলোতে বিভিন্ন সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার কারণে তারা পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতায় কাজ করতে পারেনি। তবে তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে যে ভিসা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করা হবে।

পর্যটক ভিসা আলাদাভাবে চালু করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো কথা হয়নি।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পারস্পরিক স্বার্থ, মর্যাদা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা চায়। তিনি বলেন, আমরা সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য সব ক্ষেত্রে আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার আশা করি।

দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

বৈঠকে সীমান্ত হত্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সীমান্ত হত্যার বিষয়টি তুলেছি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার কথা আর শুনতে না হয়। আমরা চাই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক হোক, যাতে এ ধরনের ঘটনা যতটা সম্ভব এড়ানো যায়।’

কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগে দিনকে দিন নিয়ন্ত্রণহীন এলপিজির বাজার

পদ্ধতিটি বহুল ব্যবহৃত। প্রথমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয় যেন ভোক্তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে শুরু করেন। এরপর সরকারকে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্যটির দাম বাড়ানো হয়।

সয়াবিন থেকে শুরু করে চিনি, এলপিজিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে এভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। এরপর দাম বাড়ানো হয়। এমন বহু ঘটনা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি। 

মানুষ ভেবেছিলো জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত সরকারের সময়ে এমনটা ঘটবে না। সরকার নিত্যপণ্যের বাজারকে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের একচেটিয়া আধিপত্য থেকে মুক্ত করবে। কিন্তু বাস্তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও একই মডেলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির মতো অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটল।

দেশে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা চলছিল। সরকারি দরের চেয়ে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছিল। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়েও ভোক্তারা এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারছিলেন না।

এমন পরিস্থিতিতে ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দামও প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে।

বিইআরসি এই দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ ভাড়া বাড়ার কথা বলেছে। কিন্তু কোনো ধরনের গণশুনানি ছাড়া একতরফাভাবে এই মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধিকে কতটা সঠিকভাবে প্রতিফলিত করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এলপিজির এই দাম বাড়ানো হলো এমন এক সময়ে, যখন দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছেন। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, ২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে নিত্যপণ্যের দামও আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন। এর ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে। বাকি অংশ ব্যবহার হয় শিল্প ও পরিবহন খাতে।

এলপিজির এই বড় মূল্যবৃদ্ধির ফলে একদিকে রান্নার খরচ বাড়বে, যা সরাসরি চাপ ফেলবে সাধারণ মানুষের সংসারে। অন্যদিকে এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবহন ও শিল্প খাতের খরচও বাড়বে।

বাংলাদেশে যখন এলপিজির দাম নিয়ে অস্থিরতা চলছে, প্রতিবেশী ভারতে তখন এলপিজির বাজার বেশ স্থিতিশীল। গ্রাহকেরা সরকার নির্ধারিত দরে ঘরে বসেই সময়মতো এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত এখন পর্যন্ত গৃহস্থালি এলপিজির দাম দুই দফা বাড়িয়েছে। প্রথম দফায় মার্চে ৬০ রুপি বা ৭৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় জুনে ২৯ রুপি বা ৩৭ টাকা দাম বাড়ানো হয়। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর পর ভারতে দুই দফায় মোট দাম বেড়েছে ৮৯ রুপি বা ১১৪ টাকা।

এর ফলে ভারতে ১৪ দশমিক ২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৪২ রুপি বা ১ হাজার ২০৫ টাকা। জুনের পর এখন পর্যন্ত গৃহস্থালি এলপিজির দাম আর বাড়ানো হয়নি।

বাংলাদেশে এলপিজি সিলিন্ডারগুলো বেশিরভাগই ১২ কেজির। ভারতে ১২ কেজির সিলিন্ডার হলে এর দাম পড়ত ৭৯৬ রুপি বা ১ হাজার ১৫ টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগেই বাংলাদেশে এলপিজির সরকারি দাম এর চেয়ে বেশি ছিল। ১২ কেজির এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। যদিও বাস্তবে মানুষকে এর চেয়েও বেশি দামে কিনতে হতো।

যুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলেই বাংলাদেশে এলপিজির দাম দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর বেশ কয়েকবার দাম কমানো-বাড়ানোর মধ্য দিয়ে সর্বশেষ দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

এটা সরকার নির্ধারিত দাম। যদিও বাস্তবে মানুষকে বাজার থেকে এর চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে।

দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেড়েছে মোট ৪৯৬ টাকা। অর্থাৎ ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

যুদ্ধ একটাই। কিন্তু দুই দেশের সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব দুই রকম। একই যুদ্ধের কারণে ভারতে এলপিজির দাম বেড়েছে ১১৪ টাকা, আর বাংলাদেশে বেড়েছে ৪৯৬ টাকা। এই পার্থক্যের কারণ দুই দেশের এলপিজি বাজারের কাঠামো ও ব্যবস্থাপনার পার্থক্য।

বাংলাদেশে এলপিজি খাত পুরোপুরি বেসরকারি খাতের কয়েকটি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। এসব কোম্পানির ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে তারাই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলেই সরকার এলপিজির দাম বাড়িয়ে দেয়।

এবারের এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ উঠেছে। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি বলছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে এলপিজি আমদানিকারক কোম্পানিগুলো বাজারে সরবরাহ কমাতে শুরু করে। শুরুতে সরবরাহ কমানো হয় ৩০ শতাংশ। এরপর ধীরে ধীরে তা ৫০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে দেওয়া হয়।

এর ফলেই বাজারে এলপিজির সংকট তৈরি হয়। অথচ দেশে এলপিজি আমদানি কমেনি। আগস্টে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন।

প্রশ্ন হলো, এলপিজির আমদানি না কমলে সরবরাহ কমল কীভাবে? এলপিজি মজুত করে না রাখলে তো বাজারে সরবরাহ কমার কথা নয়।

অন্যদিকে ভারতের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোটাই রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। এসব কোম্পানির মাধ্যমে ভারত সরকার এলপিজি আমদানি করে এবং নির্ধারিত দরে বিক্রি করে। কোম্পানি তিনটি হলো ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম। এসব কোম্পানি নির্দিষ্ট ডিলারের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করে।

গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ, ফোন বা এসএমএসের মাধ্যমে এলপিজি বুকিং করেন। ডিলাররা নির্ধারিত দরের মধ্যেই সেই এলপিজি সিলিন্ডার গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছে দেন। এজন্য গ্রাহককে বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। এলপিজির দামের মধ্যেই সেই খরচ ধরা থাকে।

একজন গ্রাহক প্রতি মাসে ১৪ দশমিক ২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত ৯৪২ রুপি দরে কিনতে পারেন। এর চেয়ে বেশি এলপিজির প্রয়োজন হলে তুলনামূলক বেশি দামে বাজার নির্ধারিত মূল্যে কিনতে হয়।

এক্ষেত্রে কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি বন্ধ করতে সরকার ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড বা ডিএসি ব্যবস্থা কাজে লাগায়। কোনো গ্রাহক এলপিজি সিলিন্ডার বুক করলে তার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ওটিপি বা ডিএসি কোড চলে যায়।

সিলিন্ডার হাতে পাওয়ার পর গ্রাহক সেই কোড ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে শেয়ার করলেই কেবল ডেলিভারি সম্পন্ন দেখানো যায়। ফলে ডিলারদের পক্ষে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করা বা সিলিন্ডার অন্যত্র বিক্রি করা কঠিন।

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রান্নার জ্বালানি সংকটে ভুগছেন। এই সংকটের একটি সমাধান হতে পারত মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ও নিরাপদভাবে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু বেসরকারি খাতের ওপর এলপিজি বাজারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে যে তা সম্ভব নয়, তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত।

এক্ষেত্রে ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মাধ্যমে যেভাবে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা হয়, বাংলাদেশও তা কাজে লাগাতে পারে।

পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর এলপিজি আমদানি, মজুত ও সরবরাহের ওপর নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি বাড়াতে হবে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

এলপিজির বাজারে যথাযথ তদারকি ও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য খর্ব করতে না পারলে এলপিজির দাম নিয়ে এই অরাজকতা চলতেই থাকবে।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন।

[email protected]