28 C
Dhaka
Home Blog

দায়িত্ব নিলেন নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির আজ বুধবার সকালে দায়িত্ব নিয়েছেন। সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছালে একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।

গতকাল আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজি ছিলেন তিনি। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে তিনি বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন আলী হোসেন ফকির। তিনি নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন।

তিনি আরআরএফ সিলেটের কমান্ড্যান্ট এবং ৩ এপিবিএন খুলনা, ৫ এপিবিএন ঢাকা, ৭ এপিবিএন সিলেটের অধিনায়ক ছিলেন। ডিআইজি হিসেবে তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স‌‌‌ এবং এসপিবিএনে কর্মরত ছিলেন।

আলী হোসেন ফকির কসোভো ও আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এ ছাড়া তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন এবং প্রশিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। এ ছাড়া তিনি ১৫তম বিসিএস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের আহ্বায়ক এবং অফিসার্স ক্লাব ঢাকা ও খুলনা ক্লাবের সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

আলী হোসেন ফকির ১৯৬৮ সালের ৫ এপ্রিল বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে বিকম (অনার্স) ও এমকম এবং এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। 

নিরাপত্তার নামে ঢাবির ছাত্রী হলে কেন এই নিয়ন্ত্রণ?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে একটি নিয়ম চালু আছে। রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত হলগেট বন্ধ থাকে। রাত ২টার পর প্রতিটি ভবনের নিচের গেটও তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। এই নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই কর্তৃপক্ষ বলে নিরাপত্তার কথা। কিন্তু, বাস্তবে তালাবদ্ধ করে কারো নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, হয় শুধু নিয়ন্ত্রণ।

হলে থাকা অনেক ছাত্রী নিজের খরচ জোগানোর তাগিদে টিউশনি করেন, খণ্ডকালীন চাকরি করেন। যানজটে বা অন্য কোনো কারণে ফিরতে দেরি হলে, রাত ১০টা পার হয়ে গেলেই তাদের হলে ঢুকতে সমস্যা হয়, গেটে দারোয়ানের অপমান সহ্য করতে হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যারা থাকেন, বাড়ি ফেরার সময় তারা ভোরের বাস বা ট্রেন ধরতে পারেন না। বাড়ি থেকে ফেরার সময় ভোরে বা বেশি রাতে বাস বা ট্রেন থেকে নামলেও হলে ঢুকতে পরেন বিড়ম্বনায়, এমনকি অনেকে ঢুকতেও পারেন না।

২০২২ সালের একটা ঘটনা আমার মনে আছে। আমার বাড়ি উত্তরবঙ্গে। ঈদের পর বাবা আমাকে নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। প্রায় ১৬ ঘণ্টার যানজট পেরিয়ে রাত সাড়ে ১১টায় আমরা হলগেটে পৌঁছাই। বাবা আর আমি অসংখ্যবার অনুরোধ করলেও আমাকে হলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাবার বারবার অনুরোধের পর হাউজ টিউটর অনুমতি দেন। সদ্য প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে সেদিন আমি বুঝিনি, এটা আসলে হল কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা। এমন অভিজ্ঞতা হলে থাকা বেশিরভাগ ছাত্রীরই আছে।

২০২৪ সালে মুগদা হাসপাতাল থেকে একজন মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়ে ফেরার সময়ও রাত ১১টা বেজে যাওয়ায় একই ধরনের হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল আমাকে। এমন পরিস্থিতিতে পড়লে ঠিক বোঝা যায়, রাত ১০টার নির্দিষ্ট সময়সীমা নারী শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে কতটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই নিয়মের বিরুদ্ধে এখন প্রশ্ন তুলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা। অধিকার সচেতন নারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’ ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন ও বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈধ আইডি কার্ড প্রদর্শন করে সকল ছাত্রীকে যেকোনো হলে প্রবেশ ও অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপনের সুযোগ দেওয়া এবং নারী স্বজনদের হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

শিক্ষার্থীদের আপত্তি শুধু রাত ১০টার পর হলে ঢুকতে না পারা নিয়ে নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থী কেন নিজের চলাফেরার সময় নির্ধারণ করতে পারবেন না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী মুনতাহা রহমান মনামী বলেন, ‘স্বাধীনতা মানে শুধু বিপদে পড়লে দরজা খোলার অনুমতি পাওয়া নয়। স্রেফ ইচ্ছা করছে বলেই বাইরে বের হতে পারার সাধারণ অধিকার থাকা চাই। মাঝরাতে একজন ছেলে অনায়াসে বের হতে পারছে, অথচ একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রী হিসেবে আমি পারছি না। মূল বৈষম্যটা শুরু এখান থেকেই।’

নিরাপত্তার নামে এই বিধিনিষেধ যে বৈষম্য তৈরি করছে, সেটিও শিক্ষার্থীদের অন্যতম অভিযোগ। সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী নুসরাত রুষা বলেন, ‘আমি মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন মধ্যযুগীয় নিষেধাজ্ঞার মতো। সভ্য সমাজে এখনো কেন এমন নিয়ম থাকবে? তাও আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে? অবিলম্বে সান্ধ্য আইন বাতিল করা হোক।’

রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী নাইমা জান্নাতের মতে, এই নিয়মের প্রভাব শিক্ষার্থীদের সুযোগের ওপরও পড়ে। ‘ঢাবির মেয়েদের হলগুলোর সান্ধ্য আইন মূলত নিরাপত্তার নামে মেয়েদের চলাচল ও সুযোগকে সীমিত করে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ শিক্ষার্থীরা যেখানে টিউশনি, ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রম, অনুষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নির্দ্বিধায় যোগ দিতে পারেন, সেখানে নারী শিক্ষার্থীরা এই সান্ধ্য আইনের কারণে সুযোগগুলো থেকে বঞ্চিত হন।’

সান্ধ্য আইনের কারণে টিউশনি, খণ্ডকালীন চাকরি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম শেষে হলে ফেরাও অনেকের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠে। রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী রাইসা মনে করেন, নিয়ম থাকলেও সেটি আরও নমনীয় করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় টিউশন বা ডিপার্টমেন্টের কাজে মেয়েদের ফিরতে দেরি হতে পারে। হলে লেট পারমিশন নিতে হয়। কিন্তু আমাদের হলে লেট পারমিশন নেওয়ার প্রক্রিয়াটা বেশ ঝামেলার পাশাপাশি হলের দাদুদের (দারোয়ান) ব্যবহারও ভালো না। হলের আইন যদি শিথিল করা হয় বা ১১টা পর্যন্ত করা হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয়, সেটা ভালো হবে।’

তার মতে, নিরাপত্তার জন্য শিক্ষার্থীদের চলাচল পুরোপুরি সীমিত না করে একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ‘একটি মেয়ে কখন আসছে, কখন যাচ্ছে, সেটা যেন কর্তৃপক্ষ জানে এবং এন্ট্রির ব্যবস্থা থাকে। সবকিছু নথিবদ্ধ থাকতে পারে। প্রয়োজনে পরিবারকেও অবগত করা যেতে পারে।’

জরুরি পরিস্থিতিতেও এই নিয়ম শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রোকেয়া হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অসুস্থতা কিংবা বিপদের তো কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না। অথচ এমনভাবে মেয়েদের হলের নিয়মগুলো তৈরি করে রাখা হয়েছে যেন রাতে মেয়েদের কোনো ধরনের সমস্যা হতেই পারে না। যদি কোনোভাবে হয়েও যায়, হাজারটা জটিলতার ভেতর দিয়ে হাউজ টিউটরদের অনুমোদন নিতে হয়। এসব কঠোর নিয়ম শিথিল হলে আবাসিক ছাত্রীদের হয়রানি অনেকটাই লাঘব হবে।’

সান্ধ্য আইনের প্রভাব পড়ছে ছাত্রীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও। কনসার্ট কিংবা সাংস্কৃতিক যেকোনো আয়োজন শেষ হতে বেশি রাত হলে অনেক নারী শিক্ষার্থী সেখানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থী ফারজানা আমিন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনেক সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকে, যেগুলো শেষ হতে রাত ১০টা পার হয়ে যায়। অনেক সময় রাতে কনসার্ট থাকে। এরকম বাঁধাধরা নিয়মের জন্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মেয়েদের অংশগ্রহণ কম লক্ষ্য করা যায়। কারণ, দিনশেষে সবার একটা ভয় থাকে যে, অমুক অনুষ্ঠানে গেলে হয়তো রাতে হলে ফিরতে দেরি হয়ে যাবে।’

সান্ধ্য আইন তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ে হলের গেট বন্ধ হওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চলাচলের অধিকার, কাজ, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ।

নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যদি শিক্ষার্থীদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, কিন্তু সেই নিরাপত্তার শর্ত হিসেবে স্বাধীন চলাচলের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।

 

আনিকা তাহসিন হাফসা: আবাসিক শিক্ষার্থী, রোকেয়া হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ট্রেইনি সাব-এডিটর, আর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট, দ্য ডেইলি স্টার।
[email protected]

কাঁদতে কাঁদতে স্কালোনি বললেন, ‘কী দারুণ একঝাঁক খেলোয়াড়’

৭৯তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকল আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিদায় তখন দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। কিন্তু অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের স্মরণীয় গল্প লিখে নির্ধারিত সময়েই জিতে গেল তারা! ম্যাচের পর অঝোরে কাঁদতে দেখা গেল দলটির মহাতারকা লিওনেল মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনিকে।

মঙ্গলবার রাতে আটলান্টায় শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তাদের গোলগুলো আসে মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে! ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমানোর পর মেসি ফেরান সমতা। আর এঞ্জো ফার্নান্দেজের গোলে নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে টিকে থাকা।

ম্যাচের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত স্কালোনি বেশি কিছু বলতে পারলেন না। দ্রুত সরে যাওয়ার আগে অবশ্য শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসালেন তিনি, ‘আমি এমনকি মাথা তুলে তাকাতেও পারছি না, আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি ভীষণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। কী দারুণ একঝাঁক খেলোয়াড়! আমাকে এখন যেতে হবে, মাফ করবেন।’

বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই বা এর বেশি গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে এই প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এমন বিরুদ্ধ পরিস্থিতির সামনে পড়ে আগের ১৩ বারের প্রতিটিতে হেরেছিল তারা।

খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার কণ্ঠেও একই সুর শোনা গেল, ‘আমরা এখন অবিশ্বাস্য রকমের স্বস্তি বোধ করছি। আমরা এই ছেলেদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের অনুপ্রাণিত করে, যারা কখনো ক্লান্ত হয় না, যারা সব সময় আরও বেশি কিছুর জন্য চেষ্টা করে এবং যারা এই ধরনের কাজ করতে সক্ষম।’

তিনি যোগ করেন, আলবিসেলেস্তেদের কোচিং প্যানেল শঙ্কায় পড়ে গেলেও শেষ বাঁশির আগে মেসি-এঞ্জোরা হাল ছাড়তে রাজী ছিলেন না, ‘আমরা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম, কিন্তু তারা নিজেদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে, যদি আমাদের বিদায় নিতেই হয়, তবে আমরা মাথা উঁচু করেই বিদায় নেব। এটি এই অবিশ্বাস্য দলটির আরেকটি অনন্য দৃষ্টান্ত।’

ঋণ নয়, এখন সরকারি সিকিউরিটিতেই ব্যাংকের বেশি আয়

২০২১ সালেও দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আয়ের প্রধান উৎস ছিল ঋণ বিতরণ। কিন্তু মাত্র চার বছরের ব্যবধানে সেই চিরচেনা চিত্র পুরোপুরি উল্টে গেছে। এখন আর ঋণ নয়, বরং সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগেই মুনাফা বেশি হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সুদভিত্তিক আয় (নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম) ক্রমেই চাপে পড়েছে। একই সময়ে আমদানি কমে যাওয়ায় এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলাসহ বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা থেকে কমিশন আয়ও কমেছে।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে এবং মুনাফার ধারা বজায় রাখতে ব্যাংকগুলো এখন আর ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। এর বদলে তারা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড, যেখানে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই মিলছে চড়া সুদ।

কাগজে-কলমে ব্যাংকগুলোকে এখন বেশ লাভজনক দেখাচ্ছে। কারণ কোনো ঋণ-ঝুঁকি ছাড়াই তারা সরকারি সিকিউরিটি থেকে বিপুল মুনাফা তুলে নিচ্ছে। 

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা সতর্ক করে বলছেন, এই সাময়িক লাভের পেছনে দুটি বড় বিপদ লুকিয়ে আছে।

প্রথমত, ব্যাংকগুলো যদি মূল ব্যবসা ঋণ দেওয়া ছেড়ে কেবল সরকারকে টাকা ধার দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেয়, তবে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি ধীর হয়ে পড়বে।

দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে যদি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার কমে যায়, তখন ব্যাংকগুলোর পক্ষে এই আয়ের ধারা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

দ্রুত বদলে গেছে ব্যাংকের আয়ের ধরন

২০২১ সালে দেশের ৫২টি প্রধান ব্যাংকের মোট আয় ছিল ৪০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।

এর মধ্যে মোট আয়ের ৪৭ শতাংশ এসেছিল ঋণের সুদ থেকে। সরকারি সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকে এসেছিল ৩৪ শতাংশ। বাকি ১৯ শতাংশ ছিল কমিশনভিত্তিক আয়। এসব তথ্য পাওয়া গেছে ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন থেকে।

২০২২ সালে বিনিয়োগ থেকে আয় বাড়লেও তা তখনও সুদ আয়ের চেয়ে কম ছিল। ২০২৩ সালেও আয়ের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।

তবে ২০২৪ সালে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। ওই বছর প্রথমবারের মতো সুদ আয়ের চেয়ে বিনিয়োগ থেকে আয় বেশি হয় এবং সেটিই ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসে পরিণত হয়।

আর ২০২৫ সালে এসে তো মূল ব্যাংকিং ব্যবসা বা নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম মোট আয়ের মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। বিপরীতে, বিনিয়োগ থেকে আয় এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট আয়ের ৭৩ শতাংশে। বাকি প্রায় ২০ শতাংশ এসেছে কমিশন থেকে। 

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এই প্রবণতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমতে শুরু করলেই ব্যাংকগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

আয়ের এই পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমানতের বিপরীতে সুদের খরচ এবং ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় বাড়ায় ঋণের মুনাফার মার্জিন কমে গেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো খেলাপি ঋণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে ব্যাংক কোনো সুদ পাচ্ছে না, অথচ আমানতকারীদের ঠিকই সুদ গুনে যেতে হচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, একটি ব্যাংকের প্রধান আয় হওয়া উচিত ঋণ বিতরণ থেকে। কিন্তু খেলাপি ঋণের বোঝা ব্যাংকগুলোকে পঙ্গু করে দিয়েছে। একই সাথে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য কমে যাওয়ায় কমিশন এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের মুনাফাও উধাও হয়ে গেছে। 

তার মতে, দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে মূল ব্যবসায় ফিরতেই হবে, তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে এর কোনো লক্ষণ দেখছি না।

বিনিয়োগ ও অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

ত তিন বছর ধরে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ঋণ ব্যবসার আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। এমনকি ২০২৫ সালে কমিশন আয়ও আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে। বিপরীতে গত পাঁচ বছর ধরে কেবল সরকারি বন্ডের আয়ই ঊর্ধ্বমুখী। 

শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, ট্রেজারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোর স্পষ্ট প্রণোদনা ছিল। কারণ সেখানে ভালো মুনাফা পাওয়া যাচ্ছিল, অথচ ঋণ দেওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এ কারণেই বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে।

তার ভাষায়, ব্যাংক স্বাভাবিকভাবেই এমন খাতে অর্থ বিনিয়োগ করবে, যেখানে কম ঝুঁকিতে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাংকগুলো যদি ঋণ দেওয়ার বদলে সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে পুরো অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ সীমিত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীর হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ট্রেজারি সিকিউরিটির সুদের হার যত দিন বেশি থাকবে, তত দিন ব্যাংকগুলো ভালো মুনাফা করতে পারবে। পরে সুদের হার কমতে শুরু করলে শুরুতে ট্রেজারি বন্ড থেকে মূলধনী মুনাফা (ক্যাপিটাল গেইন) মিলতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলোর মোট আয়ও কমে আসবে।

তার মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরালো না হলে বর্তমানে সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থ উৎপাদনশীল বেসরকারি খাতে ঋণ হিসেবে স্থানান্তর করা ব্যাংকগুলোর জন্য কঠিন হবে।

কমিশন আয় কমে যাওয়ার বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, আমদানি ও রপ্তানি—দুটিই দুর্বল থাকায় বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট ফি ও কমিশন কমেছে। এছাড়া শেয়ারবাজারে লেনদেন তলানিতে নামায় যেসব ব্যাংকের নিজস্ব ব্রোকারেজ হাউস আছে, তাদের কমিশনও কমেছে। তবে চলতি বছরে এই কমিশন আয় কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৯৬০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে আরও কমে হয় ৫৭৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ৫৬৬ কোটি টাকায়। আর ২০২৫ সালে দৈনিক গড় লেনদেন আরও কমে মাত্র ৫১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

 

‘বাকি জীবন বিএনপিতেই থাকতে চাই’ বিএনপিতে যোগ দিয়ে আ. লীগ নেতা

বাকি জীবন বিএনপির রাজনীতি করে যেতে চান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নরসিংদী জেলা শাখার উপদেষ্টা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমেদ দুলু।

তিনি বলেছেন, নরসিংদী-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের সম্মতিতে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার রায়পুরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এমন ঘোষণা দেন।

দুলু বলেন, ‘গত ২ ফেব্রুয়ারি খোকন ভাইয়ের (এমপি) কথামতো খোকন ভাইয়ের মাধ্যমে বিএনপিতে যোগদান করেছি। আগের সবগুলি ছাইড়া দিয়া, যে যেইডাই বলুক না ক্যান, কিন্তু যোগ দেওয়ার পরে আমি প্রেসক্লাবে বলি নাই। কাজেই আজকে আমাদের সেই খাইরুল কবির খোকন ভাই, নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে আমাকে অনুমতি দিয়েছেন যে, আপনি আপনার এলাকাতে প্রেসক্লাবে, সাংবাদিকদের নিয়া একটা মিটিং করেন, আলোচনা সভা করেন। সেই লক্ষ্যে আমার এই আজকের সাংবাদিক সম্মেলন।’

বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দুইবার আমাকে রাজু সাহেব (আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী) জোর কইরা ফেল করাইছে (ইউপি নির্বাচনে) এবং আমাকে হয়রানি করেছে। আমাকে নির্বাচন অফিসে আটকে রেখেছে, অনেক হয়রানি হইছি। আমি কিন্তু কোনো দল করি নাই। আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একসময় ছাত্রদল করতাম। ১৯৮১ সাল থেকে ছাত্রদল করতে গিয়ে আমি যখন চেয়ারম্যান হইলাম, তখন যে দল ক্ষমতায় যখন আসছে, সেই দলের পাশে ব্যালেন্স করে চলে আসছি। কিন্তু অরিজিনালি আমি বিএনপি ছোটবেলা থেকে করছি। আমার এলাকাতে এই যে আমার ভাইয়েরা আছেন, এরা সবাই বিএনপির লোক।’

আলী আহম্মেদ দুলু বলেন, ‘অরিজিনালি আমি বিএনপিতে ছিলাম, আমি ছাত্রদল করেছিলাম। এখন আমি আমার ঘরে ফিরে আসছি। এই বিএনপিতে আজকে আবার নতুন করে প্রেসক্লাবের মাধ্যমে, সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে বিএনপিতে পুরোভাবে যোগদান করলাম। আজ থেকে আমি সকল এমপি-মন্ত্রী যারা আছেন সবার সাথেই আমি ফুল নিয়ে দেখা করব। বিএনপি করেছিলাম, বিএনপিতে এসেছি এবং বাকি জীবন বিএনপি করেই আমি থাকতে চাই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলী আহমেদ দুলু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহবায়ক এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদও লাভ করেন।

যোগাযোগ করা হলে আলী আহমেদ দুলু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর বিপরীত ব্লকে রাজনীতি করেছি। জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ আছে আমার। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি পরিস্থিতির শিকার হয়ে। এখন অতীত মুছে আজীবন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে থাকতে চাই। দলীয় হাইকমান্ডকে অবগত করেই বিএনপির সঙ্গে আছি।’

আমি তৃণমূলপন্থী নই, মমতা হাতেপায়ে ধরে ভোটে দাঁড় করিয়েছিলেন: কবীর সুমন

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা গায়ক কবীর সুমনের। পশ্চিমবঙ্গের জাদবপুর থেকে তৃণমুলের মনোনয়নে লোকসভা নির্বাচন করে সাংসদও হয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূল বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর তিনি বলেছেন, ‘আমি তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই।’

আজতক বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তার আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না।’

নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় সুমন বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ নই, আমি সংগীতের লোক। যেভাবে ভোটটা হল, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল… ট্যাঙ্ক ঢুকবে, সাঁজোয়া গাড়ি—এটা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ভোট নিয়ে মন্তব্য কীভাবে করব? এটা কী ভোট হল? এখন একটা কথা চালু হয়েছে, জনাদেশ। তাহলে এটা জনাদেশ হল। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না।’

তৃণমূলের শাসন নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি।’

তার ভাষ্য, ‘আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে।’

একইসঙ্গে রাজনৈতিক ভাষার অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে সমালোচনা করা যায়, কিন্তু তাঁকে চটিপিসি বলা, তাঁর সমর্থকদের চটিচাটা বলা—এগুলো কী! আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপসংস্কৃতির চর্চা করেছি।’

ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজন নিয়েও মন্তব্য করেন এই গায়ক। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ আছেন… কিন্তু এখনও অনেকেই মুসলমানদের আলাদা করে দেখেন।’

এদিকে, সুমনের এই অবস্থান বদল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

ইরানে সরকার পরিবর্তন নিয়ে সংশয়ে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পরও দেশটিতে অদূর ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান যুক্তরাষ্ট্রের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

হামলার আগে ও পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার পাশাপাশি দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

রোববার ট্রুথ সোশ্যালে এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইরানের সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা স্বাধীনতার এই মুহূর্তটি লুফে নিন… এবং আপনাদের দেশ পুনরুদ্ধার করুন।’

তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল তিনজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা ইরানের ধর্মীয় কট্টরপন্থি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা এখনই ভেঙে পড়বে—এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণ নেই। দেশটির সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা এই মুহূর্তে এতটাই দুর্বল যে তাদের পক্ষে সরকার পতন ঘটানো কঠিন।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কোনো কর্মকর্তাই অবশ্য সরকার পতনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। কারণ, চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন। গত জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে বিক্ষোভে নজিরবিহীন দমন-পীড়নের কারণে সরকার এখন জনবিচ্ছিন্ন। তবে তারা বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া সিআইএর এক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, খামেনি নিহত হলে তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কোনো কট্টরপন্থি নেতা অথবা সমমনা কোনো ধর্মীয় নেতা।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য রাখেন এমন এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়বেন—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

সিআইএর মূল্যায়নের পাশাপাশি আরেকটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বড় বিক্ষোভের সময়ও আইআরজিসি থেকে কেউ দলত্যাগ করেনি। বরং তারা বিক্ষোভ দমনে নির্মম শক্তি প্রয়োগ করেছে। তিনটি সূত্র জানিয়েছে, সফল বিপ্লব হতে হলে আইআরজিসির ভেতর থেকে দলত্যাগ বা বিদ্রোহ জরুরি, যা এখনো দেখা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব কর্মকর্তা জানান, খামেনি নিহত হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ধরনে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ ছাড়া খামেনির মৃত্যুতে ইরানকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করবে কিনা, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক কাউন্সিলের ফেলো ও সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন পানিকফ বলেন, ‘দিন শেষে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা থামার পর যদি ইরানের জনগণ রাস্তায় নামে, তবে তাদের সফলতা নির্ভর করবে সাধারণ সেনাসদস্যরা তাদের পাশে দাঁড়াবে কি না, তার ওপর। অন্যথায়, সরকারের অবশিষ্টাংশ—যাদের হাতে অস্ত্র আছে—তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে সেই অস্ত্র ব্যবহার করবে।’

১৮ মাস পর ফের চালু হলো ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিস

দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হলো ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস সেবা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ‘রয়াল মৈত্রী’ পরিবহনের একটি বাস পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার কমলাপুর বাস ডিপো থেকে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় প্রবেশ করে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভিসা জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এই সেবাটি এতদিন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে আবার এই রুটটি চালু করলো।

ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিসের জেনারেল ম্যানেজার ওয়ারিশ আলম ডিএস জানান, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে দুদিন এই বাস চলবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল থাকা সাপেক্ষে পরে সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত সার্ভিসটি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আগরতলা থেকে গুয়াহাটি হয়ে ট্রেনে কলকাতা পৌঁছাতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। অন্যদিকে, ঢাকার ওপর দিয়ে বাস ভ্রমণে এই দূরত্ব কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫০০ কিলোমিটারে, যা যাত্রীদের সময় ও খরচ দুটোই বাঁচিয়ে দেয়।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এই বাস সেবা আবার চালু হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এই বাস সেবাকে কেবল একটি পরিবহন সংযোগ হিসেবে নয়, বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তার মতে, এই সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় যোগাযোগ, পর্যটন ও বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে সুশান্ত চৌধুরী আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অতীতে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক পুনরায় ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।

‘কোচ বলেছিলেন বিশ্বাস হারিও না’—সেই মন্ত্রেই আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন

মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে ফিরে আসা, ফুটবলে এমন গল্প খুব বেশি দেখা যায় না। মিশর ম্যাচে ঠিক সেই গল্পই লিখেছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া, লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস, সব মিলিয়ে যখন বিদায়ের শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের, তখনই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। সেই জয়ে নিশ্চিত হয় দলটির কোয়ার্টার-ফাইনাল।

শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টাইন শিবিরে ছিল আবেগের বিস্ফোরণ। খেলোয়াড়দের চোখে জল, মুখে স্বস্তির হাসি আর গর্ব মিলিয়ে ছিল এক স্মরণীয় রাত।

সবার আগে কথা বলেন দলের জয়সূচক নায়ক এনজো ফার্নান্দেজ। যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত হেডে গোল করে জয় নিশ্চিত করা এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘অবিশ্বাস্য অনুভূতি। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই একটি গোলের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের দলে এমন একদল ফুটবলার আছে, যারা কখনো হাল ছাড়ে না। আমরা আরেকটি বিশ্বকাপ উপভোগ করতে এসেছি, কিন্তু লক্ষ্য একটাই, শিরোপা ধরে রাখা। অতীত ভুলে আমরা আবারও চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’

জয়সূচক গোলের আগে পাল্টা আক্রমণে এনজোকে নিখুঁত ক্রস বাড়িয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। ম্যাচ শেষে আবেগ লুকাতে পারেননি তিনিও, ‘খুব কঠিন একটা ম্যাচ ছিল। আজ রাতে আমরা যা করেছি, অনেক দিন এমন কিছু দেখিনি, এমন অনুভূতিও হয়নি। হাতে তখন আর কয়েক মিনিট বাকি, প্রতিপক্ষ ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করছিল। কিন্তু আমরা আবারও দেখিয়েছি আমাদের চরিত্র, বিনয় আর আত্মত্যাগ। প্রতিদিন লিওকে (মেসি) যেভাবে নিজেকে উজাড় করে দিতে দেখি, সেটাই আমাদের অনুপ্রেরণা। আমি তাকে বলেছি, কাঁদতে দাও, সে এটা প্রাপ্য।’

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, দ্বিতীয়ার্ধে কুলিং ব্রেকের সময় স্কালোনির দেওয়া বার্তাও প্রকাশ করেন লাউতারো, ‘পানি খাওয়ার বিরতিতে কোচ আমাদের বলেছিলেন, যা আছে সব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে। তিনি বিশ্বাস করতেন, সুযোগ আসবেই। সেই কথাই আমাদের নতুন শক্তি দিয়েছিল।’

একই কথা জানান জুলিয়ান আলভারেজও, ‘কুলিং ব্রেকের সময় কোচের একটাই বার্তা ছিল, কখনো বিশ্বাস হারাবে না। আমরা ভালো খেলছিলাম, কিন্তু ওরা সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। এটা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমরা জানতাম, গোল আসবেই।’

বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি, ‘এটা দারুণ আনন্দের, একই সঙ্গে খুব আবেগেরও। আমি সাধারণত সহজে আবেগপ্রবণ হই না। কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় নিজেকে সামলাতে পারিনি। ম্যাচের পরিস্থিতি আর যেভাবে আমরা ফিরেছি, এটা জাতীয় দলের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি।’

মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসও ছিলেন প্রত্যাবর্তনের অন্যতম কারিগর। ২-২ সমতায় ফেরার পর তার গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল থেকেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার জয়সূচক আক্রমণ। তার ভাষায়, ‘ঘটনাটা তখন বুঝতেই পারিনি। ওরা খুব দ্রুত এগিয়ে আসছিল। পরে সতীর্থরা বলেছে, ট্যাকলটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটা জেনে অবশ্যই ভালো লাগছে।’

শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিশ্বাসের কথাই তুলে ধরেন পারেদেস, ‘আমরা কখনো মনে করিনি ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস রেখেছি। কঠিন ম্যাচ ছিল, কিন্তু এই দল কখনো লড়াই থামায় না, কখনো বিশ্বাস হারায় না।’

তিন মাস পরপর ভ্যাট: ব্যবসায়ীদের স্বস্তি, রাজস্ব আদায় নিয়ে শঙ্কা

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় পরিবর্তন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন থেকে চাইলে প্রতি মাসে নয়, প্রতি তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া ও ভ্যাট পরিশোধ করা যাবে।

নতুন এই ব্যবস্থাকে ঘিরে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা একে স্বাগত জানিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মতে, এতে ভ্যাট আইন মেনে চলা সহজ হবে এবং রিটার্ন ও পরিশোধের মধ্যে অসামঞ্জস্য কমবে।

তবে কর বিশেষজ্ঞ ও এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, এমন সময়ে এই পরিবর্তন আনা হলো, যখন সরকার রাজস্ব আদায় নিয়ে আগে থেকেই চাপে রয়েছে। ফলে সরকারের নগদ অর্থপ্রবাহে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে।

অতীতে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হতো।

কিন্তু অর্থ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এখন থেকে তিনটি কর মেয়াদ শেষে, অর্থাৎ প্রতি তিন মাস পরপর একবার রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তৃতীয় কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত দিন সরকারি ছুটি হলে পরবর্তী কর্মদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

তবে মাসিক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে আগের মতো প্রতি মাসেও ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে ও ভ্যাট পরিশোধ করতে পারবে।

অর্থাৎ, সরকার মাসিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেনি; বরং এটি বিকল্প হিসেবে চালু করেছে।

ব্যবসায়ীদের স্বস্তি

ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ বলে মন্তব্য করেছেন। 

নেসলে বাংলাদেশের সাবেক কর ও করপোরেট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক দেবব্রত রায় চৌধুরী বলেন, ত্রৈমাসিক রিটার্ন চালু হলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ঝামেলা কমবে। কার্যকর মূলধন ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে ব্যবসাগুলো আর্থিকভাবে আরও নমনীয়ভাবে চলতে পারবে।

তিনি স্বীকার করেন, এতে সরকারের স্বল্পমেয়াদি নগদ প্রবাহে কিছু চাপ তৈরি হতে পারে। তবে তার মতে, ব্যবসার সুবিধাই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, তিন মাস সময় পাওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের টাকা অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারে। তবে দেবব্রত রায় চৌধুরীর মতে, খেলাপির ঝুঁকি শুধু এই ব্যবস্থায় নয়, যেকোনো ব্যবস্থাতেই থাকে।

তার ভাষায়, মূল গুরুত্ব হওয়া উচিত আইন মেনে চলা নিশ্চিত করার ওপর।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাকও মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে সরকারের তারল্য সংকট হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, সরকার কোথাও বলেনি যে সবাইকে তিন মাস অপেক্ষা করেই ভ্যাট দিতে হবে। শুধু ব্যবসায়ীদের আরও বেশি নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে। যারা নিয়মিত মাসে মাসে ভ্যাট দেয়, তারা চাইলে আগের মতোই তা চালিয়ে যেতে পারবে।

রাজস্ব নিয়ে উদ্বেগ

তবে রাজস্ব বিশেষজ্ঞরা এতটা আশাবাদী নন।

এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, গত প্রায় ৩৫ বছর ধরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে ভ্যাট পরিশোধ করে আসছে।

তার ভাষায়, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তিন মাস পর্যন্ত ভ্যাটের টাকা নিজেদের কাছে রাখতে পারে, তাহলে কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের আগে সেই অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারে।

এতে আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানের খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব প্রবাহও ধীর হয়ে যেতে পারে।

এনবিআরের এক সাবেক সদস্যও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সরকার যখন রাজস্ব বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে ও ব্যয় বাড়ছে, তখন রাজস্ব আদায় আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন ছিল। বিলম্বিত করার নয়।

তার মতে, কঠোর নজরদারি না থাকলে এই পরিবর্তন রাজস্ব সংগ্রহকে দুর্বল করতে পারে।

ভ্যাট সরকারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রাজস্ব উৎসগুলোর একটি। এই অর্থ দিয়েই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, পেনশন, ঋণের সুদ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় মেটানো হয়।

এ কারণে সারা বছর নিয়মিত ভ্যাট আদায় সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে এনবিআর রাজস্ব আদায়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় বারবার কম হচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআর প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এটি তাদের নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা কম। আর সরকারের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বড় অংশের ভ্যাট তিন মাস পর আসে, তাহলে সাময়িকভাবে সরকারের কোষাগারে অর্থের সংকট দেখা দিতে পারে। যদিও বছরের শেষে মোট রাজস্ব একই থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতির প্রভাব নির্ভর করবে সরকারের নগদ মজুত, ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো ভ্যাট পরিশোধ করছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।

এনবিআরের সাবেক ওই সদস্যের মতে, ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের ওঠানামা হলে সরকারকে স্বল্পমেয়াদি ব্যাংকঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

এদিকে এম এ রাজ্জাকের প্রশ্ন, এই পরিবর্তন আদৌ কতটা প্রয়োজন ছিল। তার মতে, সাধারণভাবে এক মাসের মধ্যেই একটি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাটের হিসাব নির্ধারণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, পরিশোধের সময়সীমা বাড়লে কেউ কেউ ভ্যাটের অর্থ আটকে রাখতে, প্রকৃত দায় কম দেখাতে বা পরে পুরো অর্থ পরিশোধ না করার চেষ্টা করতে পারে। এতে রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি বাড়বে।

তবে তার মতে, শেষ পর্যন্ত সরকার যদি একই পরিমাণ রাজস্ব পায় ও সামগ্রিক রাজস্ব প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে শুরুতে কিছুটা সমন্বয়হীনতা দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে।

তার ভাষায়, রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এখনই এর প্রকৃত প্রভাব কতটা হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।