31.3 C
Dhaka
Home Blog

বিএনপি মনোনীত মাধবী মার্মার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাধবী মার্মার মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা।

চন্দ্রা চাকমার অভিযোগ, মাধবী মার্মা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য। তিনি এ পদে থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।

আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিল জমা নেওয়া হয়।

দুপুরে মাধবী মার্মার বিরুদ্ধে আপিল জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চন্দ্রা চাকমা। তিনি বলেন, ‘বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য মাধবী মারমা লাভজনক পদে থেকে পদত্যাগ না করে গত ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আইনগতভাবে এ মনোনয়নপত্র অবৈধ।’

চন্দ্রা চাকমা জানান, তিনিও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিয়েছিলেন। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক।

চন্দ্রা চাকমা বলেন, ‘মাধবী মার্মা পদত্যাগ করেননি। ফলে তিনি জেলা পরিষদের আইন যেমন লঙ্ঘন করেছেন, তেমনি নির্বাচন কমিশনের আইনও লঙ্ঘন করেছেন।’

তবে চন্দ্রা চাকমার অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবী মার্মার দাবি, তিনি গত ২০ এপ্রিল বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

আজ দুপুরে মাধবী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “আমি ইতোমধ্যে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং এটার কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন কি না, জানতে চাইলে মাধবী মার্মা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্রের আবেদনে এই ধরনের তথ্যের ঘর উল্লেখ ছিল না। আবেদনের ফরমে এই অপশন ছিল না।’

এদিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২০ এপ্রিল মাধবী মার্মা তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে সেই পদত্যাগ পত্রটি আজ রোববার তারা গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মাধবী মার্মা তার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

কবে পদত্যাগ করেছেন জানতে চাইলে মুহা. আবুল মনসুর বলেন, ‘তার পদত্যাগের কপি আজ আমি হাতে পেয়েছি।’

গত ৮ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গত ২১ এপ্রিল।

এর আগে, গত ২০ এপ্রিল বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য ৩৬ জনকে মনোনয়ন দেয়। এই তালিকায় আছেন মাধবী মার্মা।

হাসপাতালে আশা ভোসলে, অবস্থা সংকটাপন্ন

প্রখ্যাত ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোসলেকে (৯২) সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শনিবার এই সংগীতশিল্পীকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন।

খবরে বলা হয়েছে, আগের দিন তিনি হঠাৎ হৃদরোগে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) আক্রান্ত হন। এরপর দ্রুত তাকে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসক প্রতীত সামদানি জানিয়েছেন, তাকে জরুরি বিভাগে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এখনও পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বুলেটিন দেয়নি।

এদিকে, তার সুস্থতা কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনেক তারকা। এর মধ্যে রয়েছেন অনুপম খের, শাবান আজমি, সঞ্জয় কাপুর।

আশা ভোসলে ভারতীয় সংগীত জগতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী। দীর্ঘ কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে তিনি হাজার হাজার গান গেয়েছেন এবং ভারতসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন।

ইরানে হামলা মনিটর করছেন ট্রাম্প, কথা বলছেন নেতানিয়াহুর সঙ্গে: হোয়াইট হাউস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় নিজ বাসভবন মার-এ-লাগো থেকে ইরানে হামলা মনিটর করছেন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হামলা নিয়ে কথাও বলছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট আজ শনিবার এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের বিরুদ্ধে “বড় আকারের সামরিক অভিযান” শুরু করে, তখন থেকেই সারারাত ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।’

লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টূইটার) এক পোস্টে বলেন, ‘হামলা চলার সময় ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ইসরায়েল জানিয়েছে যে তারাও ইরানে হামলা চালাচ্ছে।’

লেভিট লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সারারাত তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।’

লেভিট জানান, হামলার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের নেতাদের জানানোর জন্য যোগাযোগ করেছিলেন।

রুবিও কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ আটজন সদস্যের মধ্যে সাতজনের সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হন।
লেভিট আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার জাতীয় নিরাপত্তা দল সারাদিন পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।’

ইরানে শনিবার সকালে ‘বড় সামরিক অভিযান’ শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেন ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে। 

ইরানে সামরিক অভিযান ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগের ফলাফল কী হবে—তা নিয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু (ইরানের) জনগণের জন্য স্বাধীনতা চাই।’

এর আগে, ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। জাহাজ থেকে টমাহক ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয় এবং মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী এসব হামলা পরিচালনা করে। ট্রাম্প প্রশাসন এই হামলাকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নাম দিয়েছে।

হামলা শুরুর পরপর এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান এবং ইরানি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা শাসনভারের নিয়ন্ত্রণ নিন। কয়েক প্রজন্ম পর এটি হয়ত আপনাদের একমাত্র সুযোগ।’

৭৪ বছরে প্রথমবার শহীদ মিনারে জামায়াত, ব্যাখ্যায় যা বললেন দলের আমির

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও সাম্প্রতিক নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে বিভিন্ন বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে জামায়াতের সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা হলেও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছরে দলের কোনো আমিরকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে দেখা যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে এবারের উপস্থিতি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শহীদ মিনারে শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও আখতার হুসেইনসহ জোটের অন্যান্য নেতারা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বিরোধীদলীয় নেতা সেখানে মোনাজাত পরিচালনা করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াত আমির। এতদিন কেন জামায়াত শহীদ মিনারে আসেনি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে তাই আমি এসেছি।’

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে জামায়াত এখনো ‘নাজায়েজ’ মনে করে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বলেন, ‘আপনি এই প্রশ্ন কেন আজকে করছেন। এইরকম একটা পবিত্র দিনে এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।’

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আসলে ভাষা শহীদদের আগে সাতচল্লিশে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদেরও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদেরও স্মরণ করি। একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করি। এরপরে যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন, তাদেরকেও স্মরণ করি। বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছে, তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা স্মরণ করি যারা জুলাইযোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন তাদের। ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি যে প্রশ্ন করেছিলেন, তারা যে কারণে লড়াই করেছিলেন সেই প্রত্যাশা কতখানি পূরণ হয়েছে—না, সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্যই আমরা এই লড়াই অব্যাহত রাখব। জাতির মুক্তি না আসা পর্যন্ত ফ্যাসিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন না হওয়া পর্যন্ত, একটা মানবিক দেশ গঠনের জন্য আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। এবং কোনো অপকর্মের সাথে আমরা আপস করব না।’

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শফিকুর রহমান দলীয় নেতাদের নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে যান এবং সেখানে ভাষা শহীদদের কবরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

 

ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই: বাংলাদেশে কেন বাড়ছে শিক্ষিত বেকার

বাংলাদেশে স্নাতক পাস করা বেকারের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার। ২০২৪ সালে লেবার ফোর্স সার্ভে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই সংখ্যার উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যেখানে কোনো পড়াশোনাই করেনি নেই এমন মানুষদের বেকারত্বের হার মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

অর্থাৎ যত বেশি পড়াশোনা, বেকারত্বের হার তত বেশি। অন্তত ১৬ বছরের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম আর লাখো টাকা খরচের পরেও যদি এমন পরিস্থিতি দাঁড়ায়, তাহলে কি পড়ালেখা না করলেই ভালো হয়?

বিষয়টা ঠিক তেমন হওয়ার তো কথা না! আমাদের নিশ্চয়ই কোথাও একটা ভুল হচ্ছে এবং সেটাই আমাদের বোঝা দরকার।

বাংলাদেশ একটা তরুণ দেশ। জনসংখ্যার বড় একটা অংশ এখন পড়াশোনা শেষ করে কাজে ঢুকতে চাইছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে, ভর্তির সুযোগ বেড়েছে, স্নাতকের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতি বছর। এটা ভালো খবর।

কিন্তু তারপরও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের শুরুটা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষভাবে হতাশাজনক ছিল। এমনকি ২০২৬ সালও। সরকারি ও বেসরকারি উভয়খাতেই চাকরির বিজ্ঞপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বেসরকারিখাতে বিনিয়োগেও ধীরগতি।

এখন আমাদের আছে লাখো গ্র্যাজুয়েট, আর সংকুচিত চাকরির বাজার। মাঝখানে আটকে আছি আমরা।

এই করুণ পরিস্থিতির জন্য যেসব বিষয়কে দায়ী করা যায় তার মধ্যে রয়েছে:

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত সনদকে প্রাধান্য দেয়, দক্ষতাকে না। মুখস্থ করাকে গুরুত্ব দেয়, দক্ষতা তৈরিকে না। যার ফল বেশ অদ্ভুত।

নামকরা পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চমৎকার সিজিপিএ পাওয়া গ্র্যাজুয়েটরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা থেকেই ঝরে পড়ছে। একটু ভাবুন। ৪ বছর পড়াশোনা, দারুণ ফলাফল। তারপরও প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ। স্বপ্ন এখানেই চুরমার অনেকের।

গত ১৫ বছরে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮২ থেকে বেড়ে ১৭৮ হয়েছে। কিন্তু এই সম্প্রসারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানের বিনিময়ে হয়েছে। সংখ্যা দিয়ে সমস্যার সমাধান হয় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংখ্যা দিয়ে বরং সমস্যার সংখ্যা আরও বেড়েছে।

প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় ১২ হাজার সিএসই গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে। অথচ বাজারে কাজ আছে মাত্র ৫ হাজার। এর ওপর নিয়োগকর্তারা বলছেন, আইটি বা সিএসই গ্র্যাজুয়েটদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ কোডিং, গণিত ও ইংরেজিতে বেসিক দক্ষতা পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে পারছেন না।

ফলে যেসব বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে, তার কর্মক্ষেত্র কম। আর যেসবে কর্মক্ষেত্র আছে, তা পড়ানোই হচ্ছে না।

বিআইডিএস এর এক গবেষণা অনুযায়ী, জাতীয় বিশইবদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে পাস করা ৬৬ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট বেকার। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতেই।

বাংলাদেশে শিক্ষা ক্রমশ বুদ্ধিবৃত্তিক বা পেশাদার বিকাশের উপায় হওয়ার বদলে সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠছে। পরিবারগুলো সন্তানদের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনকি চাকরির বাজারে সেই ডিগ্রির কোনো প্রাসঙ্গিকতা না থাকলেও ডিগ্রি নিচ্ছে।

কর্মমুখী ভোকেশনাল শিক্ষাকে সমাজ এখনও ‘নিচু মানের’ বলে ধরে নেয়। ফলে একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান হওয়ার চেয়ে একজন বেকার গ্র্যাজুয়েট হওয়া ‘সম্মানজনক’ মনে করে সমাজ।

২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ইউএনবিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তানভীর রহমান নামে এক যুবক জানান, তার বিজনেস ডিগ্রি আছে, স্বপ্নও ছিল বড়। কিন্তু ২ বছর ধরে চাকরি খোঁজার পরও প্রথম সুযোগের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

এই ‘তানভীর’রা এখন একটা বিশেষ মনোজগতে বাস করছেন। মনোবিজ্ঞানীরা এটাকে বলছেন ‘অর্জিত অসহায়ত্ব’। সহজ ভাষায়, এই পরিস্থিতি তখনই আসে যখন বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর কেউ ভাবতে শুরু করে যে চেষ্টা করে আর লাভ নেই। এই মানসিকতা একবার তৈরি হলে এর থেকে বের হওয়া কঠিন।

তার ওপর পরিবারের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, বন্ধুদের সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার যন্ত্রণা তো রয়েছেই।

২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়পড়া তরুণদের বেকারত্বের হার ছিল ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

একটা দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার শিক্ষিত তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু সেই সম্পদ যদি কাজে না লাগে, তাহলে সেটা আর সম্পদ থাকে না। বোঝা হয়ে যায়। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বেকারত্ব বাড়বে, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হবে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।

আরেকটু সহজ করে বললে। লখো তরুণ যদি বছরের পর বছর অলস বসে থাকে, হতাশায় ডুবে থাকে, তাহলে সেই হতাশা একসময় রাস্তায় নামে। ইতিহাস বলে, দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষিত বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ায়।

আমরা তরুণদের বলি, ‘পড়াশোনা করো, ভালো ভবিষ্যৎ পাবে।’ কিন্তু যে সিস্টেম তৈরি করেছি, সেটা কি সেই প্রতিশ্রুতি রাখার উপযুক্ত?

সমস্যাটা তরুণদের না। সমস্যাটা সিস্টেমের। এই সিস্টেম দশকের পর দশক ধরে গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে, কিন্তু সুযোগ তৈরি করছে না।

শিক্ষার্থীরা সনদ পাচ্ছে। কিন্তু বাজার চাইছে দক্ষতা, পরিবার চাইছে নিরাপত্তা, সমাজ চাইছে মর্যাদা। সবদিক থেকে টান পড়ছে তরুণদের ওপর এবং সে আটকে যাচ্ছে ঠিক মাঝখানে।

এই ভারটা কিছুটা সহজ করতে তরুণদের বড় একটা দল পাড়ি জমাচ্ছে প্রবাসে। কিন্তু তাও কি সহজ হয়? যাত্রাপথে প্রাণ হারান অসংখ্য মানুষ। অনেকের খোঁজ মেলে না। প্রবাসে পাড়ি দিয়েও হয়রানিতে পড়েন অনেকে।

প্রশ্ন হলো। আমরা কি তাদের জন্য একটা ভালো পরবর্তী অধ্যায় লিখতে পারব? যদি পারি, তাহলে কবে এবং কীভাবে?

 

কাজী সাঈদ মাহমুদ: ভিজুয়াল আর্টিস্ট।

মাঠের লড়াইয়ের আগে কাগজ-কলমের যুদ্ধ: ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক কিছু রেকর্ড

ফুটবল বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়লেই এ দেশের আবহাওয়া কেমন যেন বদলে যায়! চায়ের কাপে ঝড় তোলার জন্য শীত বা বর্ষার প্রয়োজন হয় না। কেবল ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ানো দুই বন্ধুর মুখোমুখি হওয়াই যথেষ্ট। পাড়ার টং দোকান থেকে শুরু করে ফেসবুকের নিউজফিড— সবখানেই এখন তর্কের ঝাঁঝালো গন্ধ। কারণ, বাংলাদেশিদের বিশ্বকাপ-প্রেমের প্রায় পুরোটা জুড়েই তো লাতিন আমেরিকার এই দুই পরাশক্তির ভার্চুয়াল ও বাস্তব ‘যুদ্ধ’, যেখানে কেউ এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

তবে শুধু মুখের কথায় তো আর যুদ্ধ জেতা যায় না! তর্কের ময়দানে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে হলে দরকার অকাট্য যুক্তি আর কিছু জাদুকরী পরিসংখ্যান। যখন কথার লড়াইয়ে আবেগ কাজে দেয় না, তখন ঠান্ডা মাথায় ছুড়ে দেওয়া নিজ দলের পক্ষের একটা সঠিক রেকর্ডই হতে পারে আপনার ব্রহ্মাস্ত্র। তাই ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা— যে দলেরই সমর্থক হোন না কেন, নিজের ঝুলিতে কিছু ঐতিহাসিক সত্য জমা রাখা এখন সময়ের দাবি।

আসুন, মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই কাগজ-কলমের লড়াইয়ে নিজেদের এগিয়ে রাখি। দুই দলের এমন কিছু চোখধাঁধানো রেকর্ড ও পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বোলানো যাক, যা আপনার প্রিয় দলটির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে ঢাল-তলোয়ার হিসেবে কাজ করবে।

ট্রফির শোকেসে আর ফাইনালের মঞ্চে কার দাপট বেশি?

তর্কের শুরুতেই যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি ধেয়ে আসে, তা হলো— ‘ভাই, তোমাদের ট্রফি কয়টা?’ এই এক প্রশ্নে যেমন আলোচনা জমিয়ে দেওয়া যায়, তেমনি থামিয়েও দেওয়া যায়।

পরিসংখ্যান বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি আসরে (এবারেরটিসহ ২৩ বার) অংশ নিয়েছে সেলেসাওরা। পেলে-রোনালদো নাজারিওদের দেশ ফাইনাল খেলেছে ৭ বার, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ বার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২) সোনালী ট্রফিটা নিজেদের করে নিয়েছে।

অন্যদিকে, আলবিসেলেস্তেরা এই মহাযজ্ঞে অংশ নিতে যাচ্ছে ১৯তম বারের মতো। ফাইনালের মঞ্চে তারা পা রেখেছে ৬ বার। এর মধ্যে ঘরের মাঠে ১৯৭৮ সালে, দিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুতে ১৯৮৬ সালে আর লিওনেল মেসির হাত ধরে সবশেষ ২০২২ সালে— সব মিলিয়ে তারা জিতেছে ৩টি বিশ্বকাপ।

ট্রফি আর ফাইনালের লড়াইয়ে সেলেসাওরা এগিয়ে থাকলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সাম্প্রতিক দাপট কিন্তু হেলাফেলা করার মতো নয়!

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে সার্বিক পারফরম্যান্সে কে কতটা নিখুঁত?

মুখোমুখি তর্কের দ্বিতীয় ধাপে আসে দলগত ধারাবাহিকতার হিসাব-নিকাশ। ব্রাজিল এখানেও নিজেদের ‘হেভিওয়েট’ প্রমাণ করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ১১৪টি ম্যাচ খেলে তাদের জয় রেকর্ড ৭৬টি, ড্র ১৯টি আর হার মাত্র ১৯টি। প্রতিপক্ষের জালে তারা বল জড়িয়েছে ২৩৭ বার, বিপরীতে গোল হজম করেছে ১০৮টি।

খুব বেশি পিছিয়ে নেই আর্জেন্টিনাও। ৮৮টি ম্যাচ খেলে আলবিসেলেস্তেদের জয় ৪৭টি, ড্র ১৭টি ও হার ২৪টি। তারা প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছে ১৫২ বার, আর তাদের নিজেদের জালে বল জড়িয়েছে ১০১ বার।

বৈশ্বিক মঞ্চের সরাসরি দ্বৈরথে কে কাকে কতটা নাচিয়েছে?

সব তর্ক একদিকে, আর ‘বিশ্বকাপে মুখোমুখি দেখায় কে জিতেছে?’— এই প্রশ্ন সম্পূর্ণ অন্যদিকে। প্রতিবেশী এই দুই পরাশক্তি এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ। আর এই ‘সুপার ক্লাসিকো’ খ্যাত দ্বৈরথেও এগিয়ে আছে সেলেসাওরাই। ব্রাজিলের জয় ২টি ম্যাচে, আর্জেন্টিনার ১টিতে আর বাকি ম্যাচটি হয়েছে ড্র।

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে জার্মানির মাটিতে ব্রাজিল ২-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায়। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হয়।

এরপর ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে জিকো-সক্রেটিসদের ব্রাজিল ৩-১ ব্যবধানে পরাস্ত করে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে। তবে আলবিসেলেস্তেরা এর মধুর প্রতিশোধ নেয় ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। শেষ ১৬-র সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ম্যারাডোনার জাদুকরী পাস থেকে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার করা একমাত্র গোলে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।

ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব: গোল, অ্যাসিস্ট আর শিরোপার মহিমায় কে এগিয়ে?

দলগত অর্জন তো হলো, এবার আসা যাক ব্যক্তিগত জাদুতে। আর্জেন্টিনার ভক্তদের সবচেয়ে বড় ট্রাম্প কার্ড হলেন রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া মেসি। ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে সবচেয়ে বেশি ২৬টি ম্যাচ খেলার কীর্তি তো তার নামের পাশে আছেই। পাশাপাশি ‘ক্ষুদে জাদুকর’ খ্যাত এই ফরোয়ার্ডের আরও অনেক অর্জন আলবিসেলেস্তেদের জন্য তর্কের বড় শক্তি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ১১ বার ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন মেসি। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুবার গোল্ডেন বল জিতেছেন। ২০১৪ সালের ব্রাজিল ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবেও সবার চেয়ে বেশি ১৯টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২১টি গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড মেসির দখলে। এই কীর্তি অবশ্য তার আগে করেছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে। নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ ছয়টি অ্যাসিস্ট করার কীর্তিও রয়েছে দুজনের নামের পাশে। এছাড়া, সব বিশ্বকাপ মিলিয়ে গোল করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ (৬৭টি) তৈরির রেকর্ডটির যৌথ মালিকানা মেসি ও কিংবদন্তি ম্যারাডোনার।

মেসি ও ম্যারাডোনার পাল্টা জবাবে ব্রাজিল ভক্তরা হয়তো সামনে আনবেন পেলে আর ‘দ্য ফেনোমেনন’ খ্যাত রোনালদোকে। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয় পেলেকে রেখেছে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর নকআউট পর্ব বা ফাইনালে গোল করার দিক থেকে ২০০২ বিশ্বকাপের নায়ক রোনালদোর জুড়ি মেলা ভার। ১৫টি গোল নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা।

একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক কাফু তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে)। অন্যদিকে, তার স্বদেশি পেলে তিনটি বিশ্বকাপ জিতলেও চোটের কারণে ১৯৬২ সালের ফাইনালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে।

বেসরকারি খাতে আসছে বড় প্রণোদনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা

ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের চাপ ও শিল্প খাতের স্থবিরতার মধ্যে বেসরকারি খাতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্ধ কারখানা চালু হবে, নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, সরবরাহ সংকট ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো না গেলে এই প্রণোদনা উল্টো মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, শিল্প খাতের অচলাবস্থা, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় এই প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে।

এই প্যাকেজের দুটি মূল অংশ রয়েছে। প্রথম অংশ হলো ৪১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে কমপক্ষে তিন বছরের জন্য ১০ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি আমানত নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অর্থ ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন করবে এবং বাকি ৬ শতাংশ সরকার ভর্তুকি দেবে।

দ্বিতীয় অংশে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত ১৯ হাজার কোটি টাকার তহবিল। এই অর্থ সরকারের গ্যারান্টিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে দেওয়া হবে।

এই পরিকল্পনার আওতায় বড় ঋণগ্রহীতারা প্রায় ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। তবে পরিচালন ও প্রশাসনিক ব্যয়ের কারণে ছোট ঋণের সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে। বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা পরে সার্কুলারের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সবচেয়ে বড় অংশ, অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর জন্য। এছাড়া কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্প খাতের (সিএমএসএমই) জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গ কৃষি হাব উদ্যোগের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নের ১৯ হাজার কোটি টাকার অংশ থেকে ১০টি বিশেষ কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিপমেন্ট-পূর্ব রপ্তানি অর্থায়ন, সিএমএসএমই সহায়তা, প্রবাসী কর্মসংস্থান অর্থায়ন, স্টার্টআপ তহবিল ও তরুণদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি।

এছাড়া সৃজনশীল শিল্প খাতে সহায়তার জন্য করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই অর্থ ফেরত দিতে হবে না।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার (২৮টি আলাদা কর্মসূচির অধীনে) প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই উদ্যোগ সেই সময়ের পর সবচেয়ে বড় প্রণোদনা প্যাকেজ।

গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। এটি আরও কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ইস্পাত, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতের স্থবিরতা অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, আমানতকারীদের আস্থা কমে যাওয়া এবং ঋণের উচ্চ সুদ এসএমই খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত করেছে।

গভর্নর আরও বলেন, অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়ম ব্যাংকিং খাতকে দুর্বল করেছে এবং তারল্য সংকট বাড়িয়েছে। তার মতে, অনেক খেলাপি ঋণ ব্যবসায়িক ব্যর্থতার কারণে নয়, বরং যথাযথ জামানত ছাড়াই অর্থ সরিয়ে নেওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, এই প্যাকেজের জন্য নতুন টাকা ছাপানো হচ্ছে না। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পড়ে থাকা অলস অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা হবে।

তিনি জানান, কিছু ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে, আবার কিছু ব্যাংক তারল্য সংকটে আছে। পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে এই অলস অর্থ অর্থনীতির সক্রিয় খাতে প্রবাহিত করাই মূল লক্ষ্য।

গভর্নর আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৯ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বৃত্ত মুনাফা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি স্বীকার করেন, কোভিডকালীন প্রণোদনা কর্মসূচিতে কিছু বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বেশি সুবিধা পেয়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী হলেও ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা এই প্যাকেজের নকশা, তহবিলের উৎস, বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন এই উদ্যোগকে ‘চমৎকার পরিকল্পনা’ বললেও বাস্তবায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

তার ভাষ্য, ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ ইতোমধ্যে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা আছে। পাশাপাশি দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্যও ব্যাংকগুলোকে কিছু অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। ফলে এই তহবিলে অংশ নেওয়া সহজ নাও হতে পারে।

তিনি পরামর্শ দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিপরীতে রেপো রেট কমাতে পারত অথবা সিআরআর কমিয়ে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত তারল্য দিতে পারত। এতে প্যাকেজ বাস্তবায়ন আরও সহজ হতো বলে তিনি মনে করেন।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বন্ধ বা ব্যর্থ কারখানায় ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করতে ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন, নতুন কর্মী নিয়োগ এবং আর্থিক পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর কারণ তারল্যের অভাব নয়, বরং ভালো ঋণগ্রহীতার সংকট। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্যাকেজটির উদ্দেশ্য ভালো হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তার মতে, এই ধরনের বড় প্রণোদনা বাজারে মূল্যচাপ বাড়াতে পারে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াতে পারে। 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সাধারণত অর্থনীতিতে চাহিদা কমে গেলে এবং মূল্যস্ফীতি কম থাকলে এ ধরনের প্রণোদনা কার্যকর হয়। কিন্তু বাংলাদেশ এখন একই সঙ্গে ধীর প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে রয়েছে।

তার মতে, সরবরাহব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধান না করে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ করলে উৎপাদনের চেয়ে পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ার ঝুঁকিই বেশি থাকবে।

 

 

বিএনপি নিজেরাই দেশের জমিদারি দখল নিতে চাচ্ছে: জামায়াত আমির

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দলটি ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি ভেঙে এককভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার পথে হাঁটছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা ন্যারেটিভ তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করেছিল। আর আপনারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন। এখন কী করছেন? একদলকে পাকিস্তানে, আরেক দলকে পেশোয়ারে পাঠাচ্ছেন—আর নিজেরাই দেশের জমিদারি দখল নিতে চাচ্ছেন।’

আজ শুক্রবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির মামুনুল হক।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের দুটি স্লোগান—‘‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’’ ও ‘‘দেশটা কারও বাপের নয়’’—জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’

‘এই দেশ কোনো ব্যক্তির নয়, জনগণের,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করায় ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘রক্তাক্ত সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতায় একসময় যারা মজলুম ছিল, তাদেরই একটি অংশ এখন ক্ষমতায় গিয়ে অতীত ভুলে গেছে।’

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর আইনি উপায় হিসেবে গণভোটের বিকল্প নেই—এ কথা বিএনপি নিজেরাই আগে স্বীকার করেছিল। নির্বাচনী প্রচারে ভোটারদের দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।’

‘এখন সেই গণভোটকেই অবৈধ বলা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানকে ‘পরস্পরবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গণভোট নির্বাচন-পূর্বে বৈধ থাকলেও পরে কীভাবে অবৈধ হলো? একই আদেশে দুই ভোট—গোশত হালাল, ঝোল হারাম, এটা সুবিধাবাদী মানসিকতা।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গণভোটের রায় মেনে নিলে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তবে তা বাস্তবায়ন না হলে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই আন্দোলন চলবে।’

‘রাজপথ ও সংসদ একাকার হয়ে গেলে বালুর বাঁধ দিয়ে জোয়ার ঠেকানো যাবে না,’ সতর্ক করেন তিনি।

জনগণের রায় অস্বীকারের পরিণতি ভালো হয় না উল্লেখ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে গণভোটের ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে। মে, জুন ও জুলাই মাসে জেলা পর্যায়ে নাগরিক সমাবেশ এবং আগামী ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা জন্ম নিয়েছেন, তার সঙ্গে গাদ্দারি করা মানে জন্মদাত্রী মায়ের গর্ভকে অস্বীকার করা। বাংলাদেশে পূর্বে তিনটি গণভোট হয়েছে—কোনো গণভোটের সঙ্গেই কেউ গাদ্দারি করেনি।’

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট ও হাম পরিস্থিতিতে জনগণ ভালো নেই।’

‘আমরা দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। কিন্তু সরকার বারবার কথার বরখেলাপ করছে,’ অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখও বক্তব্য দেন।

চারুকলা আমাদের শেকড়: বিপাশা হায়াত

অভিনয়শিল্পী বিপাশা হায়াতের চেয়ে চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াত এখন বেশি সরব। দেশে-বিদেশে তার আঁকা ছবি নিয়ে প্রদর্শনী হচ্ছে এবং তিনি প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি ছবি আঁকায় বেশি মগ্ন হয়েছেন। 

থিতু হয়েছেন আমেরিকায়, সেখানে বসেই শিল্পীর কাজটা করে যাচ্ছেন। 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি বেড়েছে একজন শিল্পী হিসেবে।

বিপাশা হায়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়ালেখা করেছেন। অভিনয়জীবনে তিনি সফল। শীর্ষ তারকার খেতাব পেয়েছেন বহু আগে। নাটকে ও সিনেমায় নন্দিত হয়েছেন। নাট্যকার হিসেবেও সফল তিনি।

 

আগুনের পরশমনি সিনেমায় অভিনয় করে সবার ভালোবাসা যেমন পেয়েছেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন।

এখন অভিনয়ে তিনি অনিয়মিত। বলা যায়, অনেক দিন অভিনয় করেননি। কিন্তু ছবি আঁকা চলছেই। 

এবার দেশে এসেছেন কিছুদিন আগে। দেশে এসে গিয়েছিলেন চারুকলায়। 

চারুকলায় তিনি ছবি আঁকছেন—এই রকম একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে আর প্রশংসায় ভাসছে।

চারুকলায় কত দিন পর গেলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বিপাশা হায়াত বলেন, চারুকলা আমার ভীষণ পছন্দের জায়গা। ওখানে আমি পড়াশোনা করেছি। কাজেই এটা খুব পছন্দের জায়গা।

তিনি বলেন, ‘যখনই দেশে আসি চারুকলায় যাই। ভালো লাগে। কত স্মৃতি চোখে ভাসে। কত কী শিখেছি।’

‘চারুকলা আমাদের শেকড়। শেকড়ের টানেই ছুটে যাই’, যোগ করেন এই দর্শকনন্দিত অভিনেত্রী।
 

খামেনির পতন হলেও যেভাবে চলতে পারে ইরানের শাসনব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা যে যুদ্ধে রুপ নিতে পারে সে আশঙ্কা আগেই করেছিল ইরান। যুদ্ধ প্রস্তুতির সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে যেসব কৌশলের আশ্রয় নিতে পারে খামেনি সরকার তা উঠে এসেছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে। 

যোগ্য উত্তরসূরি, নেতৃত্ব নির্ধারণসহ সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে এসব প্রতিবেদনে। একইসঙ্গে ইরানের হাতে সম্ভাব্য বিকল্প কী আছে—সে বিষয়েও মতামত জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইসলামি শাসন ব্যবস্থাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন ৮৬ বছর বয়সী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। খুব সহজে তা ছেড়ে দেবেন বা অবসান ঘটতে দেবেন—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

উত্তরসূরি
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ধারণা খামেনি মারা গেলে, তার উত্তরসূরি হতে পারেন দেশটির বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কোনো কর্মকর্তা।

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিট্রিনোভিচ বার্তাসংস্থা এপিকে বলেন, ‘খামেনি নিহত হলে বিকল্প পরিকল্পনা আছে ইরানের। একক উত্তরসূরি মনোনয়নের বদলে ছোট কমিটির হাতে ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে।’

তার মতে, গত বছর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে শীর্ষ ২০ নেতাকে হারানোর পর নেতৃত্ব রক্ষায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন খামেনি। গত আট মাস ধরে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও জোরদার করেছেন।

নিজের উত্তরসূরি হিসেবে তিনজনের নামও ঠিক করেছেন খামেনি। যদিও তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। 

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক ভ্যালি নাসর নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘খামেনি যুদ্ধ ও উত্তরাধিকার—দুই পরিস্থিতির জন্যই রাষ্ট্রকে প্রস্তুত করেছেন।’

রাষ্ট্রকাঠামো
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো নতুন করে সাজিয়েছেন খামেনি।

সামরিক ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পদে চার স্তরের উত্তরাধিকার কাঠামো নির্ধারণ করেছেন।

শীর্ষ নেতৃত্বকে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা থেকে বাঁচানোসহ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কৌশল নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়েছেন শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিসহ ঘনিষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগীদের। 

যোগ্য উত্তরসূরি নির্ধারণ করতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিজ নিজ বিকল্পের তালিকাও তৈরি করতে বলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ এই নেতা।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বা নিহত হলে যেন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, সে ক্ষমতাও একটি ঘনিষ্ঠ বলয়ের কাছে দিয়ে রেখেছেন খামেনি।

নতুন নেতৃত্ব
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইতোমধ্যে নেতৃত্বের ভার অনেকটাই তার বিশ্বস্ত সহযোগী ও শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানির হাতে তুলে দিয়েছেন। 

৬৭ বছর বয়সী লারিজানি ইরানের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার ও বর্তমানে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান।

ইরানের ছয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিপ্লবী গার্ডের সদস্য ও সাবেক কূটনীতিকদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, সম্প্রতি কঠোরভাবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নেতৃত্ব দেন লারিজানি।

সাম্প্রতিক সময়ে কার্যত লারিজানিই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বলেও জানান তারা। তারা বলেন, যুদ্ধের সময় রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনাও লারিজানির হাতে।

‘ইরানের ডেলসি’
ভেনেজুয়েলায় উদাহরণ সামনে রেখে ‘ইরানের ডেলসি’ কে হতে পারেন—তা নিয়েও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছেন খামেনি। 

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হলে কারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে সে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লারিজানি। এরপরই পার্লামেন্ট স্পিকার ও সাবেক গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিশেষজ্ঞ আলি ভাইজ বলেন, বিকল্প পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের ফল অনিশ্চিত। খামেনি এখন কম দৃশ্যমান, বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু তিনি এখনো পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন।

ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোহাম্মদ ইসলামি তুরস্কের গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র টিকে থাকবে। কোন অবস্থায় থাকবে, আমি বলতে পারছি না, তবে তারা পিছু হটবে না। এমনকি যদি তাদের পুরো অঞ্চল জ্বালিয়ে দিতে হয়, তারা তা করবে।’