28.1 C
Dhaka
Home Blog

উদ্বোধনী ম্যাচেই স্ট্রিমিং বিপর্যয়ে দর্শকদের ক্ষোভ, প্ল্যাটফর্মগুলোর দুঃখ প্রকাশ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সম্প্রচারের সময় বাংলাদেশে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, বিপুল সংখ্যক দর্শকের চাপ সামাল দিতে ওটিটি বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো যথেষ্ট প্রস্তুত ছিল কি না?

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হয় ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপর রাত ১টায় উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হয়। এ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল স্বাগতিক মেক্সিকো।

উদ্বোধনী ম্যাচ চলার সময় অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পেতে দেরি, পেমেন্ট জটিলতা, বাফারিং এবং লাইভ সম্প্রচারে বারবার বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বড় অংশই ছিল বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচারের স্বত্বধারী, বাংলালিংক পরিচালিত প্ল্যাটফর্ম টফিকে ঘিরে।

অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, সাবস্ক্রিপশন চালু করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবার কেউ কেউ ম্যাচ চলার সময় বারবার সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

আনামুল হক নামে একজন ব্যবহাকারী টফির একটি ফেসবুক পোস্টের নিচে লিখেছেন, ‘মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ২০ মিনিটও দেখতে পারিনি। আমার ৯৯ টাকা ফেরত দিলে খুশি হব।’

আরও কয়েকজন ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, এ বছর বিশ্বকাপের জন্য কেনা সাবস্ক্রিপশন হয়তো পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় কাজে আসতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলালিংকের করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের প্রধান গাজী তৌহিদ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘লাইভ সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটার পর অস্বাভাবিক হারে ওটিপি অনুরোধ বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছিল।’

ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি কারণ ব্যাখ্যা করেন। বলেন, ‘সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটার পর অনেক গ্রাহক বারবার লগইন ও সেশন পুনরায় চালু করার চেষ্টা করেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ওটিপি অনুরোধ তৈরি হয়েছিল, যে কারণে বিলম্ব হয়েছে।’

বাফারিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তৌহিদ বলেন, ‘বিশ্বকাপের ফিড স্বত্বধারী ও প্রযুক্তিগত অংশীদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, যাতে সমস্যাগুলো সমাধান করা যায় এবং প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা যায়।’

বর্তমানে সেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শুধু বাংলালিংকের টফি নয়, গ্রামীণফোন পরিচালিত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বায়োস্কোপ প্লাসের ব্যবহারকারীরাও প্রায় একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তারা অ্যাপে লগইন করতে পারেননি এবং শুধু লোডিং চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন।

অফি নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘আমি টিভিতে বায়োস্কোপ প্লাস অ্যাপের ওপেনিং অ্যানিমেশন উপভোগ করেছি। যেহেতু টাকা দিয়েছি, এটাকে অন্তত সুন্দর একটি প্রি-লোডার বলা যায়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কিছু গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। আমাদের টিম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক সেবা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করেছে।’

এ সময় তিনি সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রতি চার বছর পর পর হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট দেখতে গিয়ে বার বার ভোগান্তিতে পড়া গ্রাহকদের অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে বিপুল সংখ্যক দর্শক সামাল দেওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেছে কি না।

জাপানি বিনিয়োগ টানতে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি: জাইকা প্রেসিডেন্ট

বাংলাদেশে বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা দেখছে জাপান। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাক সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। 

গত ২ জুলাই দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট তানাকা আকিহিকো। তার ভাষায়, ‘জাপানি কোম্পানিগুলো অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না।’

তানাকা গত ১ জুলাই ঢাকা সফরে আসেন। আজ রোববার তার বাংলাদেশ ছাড়ার কথা। এই সফরকালে তিনি ২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তানাকা বলেন, বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশই জাপানের সহায়তায় চলমান বড় প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মেট্রোরেলের বিভিন্ন এমআরটি লাইন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বন্দর-সংযুক্ত যোগাযোগ অবকাঠামো ও অন্যান্য কৌশলগত বিনিয়োগ প্রকল্প।

সাক্ষাৎকারে জাপানের অর্থায়নে নির্মিত অবকাঠামো প্রকল্পের মান নিয়েও কথা বলেন তানাকা। তার মতে, এসব প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য অনেক বেশি।

তিনি জাপানের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, সেখানে বাংলাদেশের ভূমিকা, জাইকার ঋণের সুদের হার বাড়ার কারণ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রভাব ও বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়েও আলোচনা করেন।

তানাকা বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা এখনো শক্তিশালী। তার মতে, সুশাসন ও স্বচ্ছতা বাড়লে আরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ আসবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ প্রায় ৪০ কোটি ডলারের বেশি। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি ব্যবসা করছে।

জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের আগে কয়েকটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা।

তানাকার ভাষায়, বিশ্বের অনেক দেশের বিনিয়োগকারীর তুলনায় জাপানি কোম্পানিগুলো বেশি সতর্ক।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) ব্যবসার পরিবেশকে আরও অনুকূল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাঠামো যত শক্তিশালী হবে, ব্যবসা পরিচালনা তত সহজ হবে।

তবে তিনি বলেন, আরও বেশি জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আনতে হলে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সুশাসনেরও উন্নতি প্রয়োজন।

বড় প্রকল্পে কেন দেরি

জাইকা প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ ধীর হয়েছে। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ উল্লেখযোগ্য।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এসব বিষয়ে জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে কোনো মৌলিক মতবিরোধ নেই। তার ভাষায়, সার্বিকভাবে সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো মতপার্থক্য নেই। উভয় পক্ষই চায় টেন্ডার ও ক্রয়প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হোক, যাতে নির্মাণকাজ এগিয়ে যায়।

তার মতে, এমন বিলম্ব শুধু বাংলাদেশেই নয়। অন্যান্য দেশেও সরকারি প্রকল্পে বিভিন্ন ধাপের যাচাই-বাছাইয়ে সময় লাগে। তবে জাইকার প্রত্যাশা ছিল, ক্রয় ও দরপত্র প্রক্রিয়া আরও দ্রুত শেষ হবে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার আশা, সরকার ও জাইকা একসঙ্গে বাকি সমস্যাগুলোর সমাধান করবে।

ব্যয় নয়, মান বিবেচনা করতে হবে

জাপানের অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় বেশি—এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেন তানাকা। তিনি বলেন, আমরা মনে করি না জাপানের অর্থায়নে প্রকল্প ব্যয়বহুল।

তার মতে, শুধু ব্যয় নয়, প্রকল্পের মান ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলও বিবেচনায় নিতে হবে। একই মানের প্রকল্প হলে তখন ব্যয়ের তুলনা করা যেতে পারে। কিন্তু জাপানের প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে বেশি সুবিধা দেয়।

তিনি উদাহরণ হিসেবে ঢাকার মেট্রোরেলের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, মানুষ মেট্রোরেলকে আরামদায়ক ও সুবিধাজনক মনে করছে। এটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।

তার মতে, এমআরটি লাইন-৬-এর সাফল্যই উচ্চমানের অবকাঠামোয় বিনিয়োগের গুরুত্ব প্রমাণ করে।

ইন্দো-প্যাসিফিকে বাংলাদেশের গুরুত্ব

তানাকা বলেন, জাপানের ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ কৌশলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।

তার মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ধীরে ধীরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চলে আসছে। জাপানও এই পরিবর্তনের অংশ হতে চায়।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তানাকার মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে পণ্য পরিবহনে জট তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে শক্তিশালী একটি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রয়োজন। আর সে কারণেই মাতারবাড়ী প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, আগে জাপান বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে যুক্ত করে বড় আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল। এতে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।

এ ছাড়া নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশকে নিয়েও উত্তর-দক্ষিণ করিডরের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা কার্যত থেমে গেছে। তিনি এটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন।

জাইকার ঋণের সুদ কেন বাড়ছে

জাইকা প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ঋণের সুদের হার সমন্বয় করা ছাড়া উপায় ছিল না। তবে শুধু সুদের হার দেখলেই হবে না। ঋণের পরিশোধের সময় ও গ্রেস পিরিয়ডও বিবেচনা করতে হবে।

তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধের সুবিধা থাকলে কিছুটা বেশি সুদ হলেও সেই ঋণ এখনো সহজ শর্তের ঋণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 

তিনি ব্যক্তিগতভাবে আরও সহজ শর্তে ঋণ দিতে চান। তবে একই সঙ্গে জাইকার আর্থিক সক্ষমতাও ধরে রাখতে হবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ

তানাকা বলেন, কোভিড-১৯ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে।

তার মতে, এখন সামষ্টিক অর্থনীতির আরও উন্নতি, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, কর আদায় বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা দরকার। সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।

তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী করতে হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব খুবই শক্তিশালী। আগামী বছরগুলোতেও আমরা এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চাই।

কুনিয়া, ভিনিসিউসের ঝলকে তিন গোলে এগিয়ে ব্রাজিল

মরক্কোর বিপক্ষে আগের ম্যাচে বিবর্ণ থাকা ব্রাজিল হাইতির বিপক্ষে নেমেই খেলছে আগ্রাসী ফুটবল। মাথেউস কুনিয়া আর ভিনিসিউস জুনিয়রের ঝলকে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ফিলাডেলফিয়ায় ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রথমার্ধে দুই গোল করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা কুনিয়া, মরক্কোর বিপক্ষে গোল করা ভিনিসিউস পান বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় গোল।

শুরু থেকে আক্রমণ করে খেলতে থাকা ব্রাজিল ১৩ মিনিটে বল জালে জড়িয়েছিল। ডান প্রান্ত থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে দারুণ ফিনিশিং করেছিলেন রাফিনিহা। কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। মিনিট দশেক পর রাফিনিয়ার সামনেই আবার এসেছিল সুযোগ, তা হেলায় হারান তিনি।

খানিক পরই আসে প্রথম গোল। মাঝমাঠ থেকে বলের জোগান পেয়ে ভিনিসিউস বক্সে ঢুকে শট মারেন। ফিরতি বলে জটলার মধ্যে মাথেউস কুনিয়া বল পায়ে লাগিয়ে জালে জড়ান।

৩৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইউনাইটেড তারকা কুনিয়া। নিজেদের অর্দ্ধেক থেকে বল কেড়ে আক্রমণ শুরু করেন ডগলাস সান্তোস। তীব্র গতিতে ছুটে গিয়ে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে বল জালে জড়ান কুনিয়া।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গতিময় ভিনি ছুটে যান প্রতিপক্ষের বক্সে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা নিখুঁত প্লেসিং শটে খুঁজে নেন জাল।

 

ইসলামী ব্যাংকের সামনে তৃতীয় দিনেও বিক্ষোভ

নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের অপসারণ দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন একদল গ্রাহক।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশ করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ব্যাংকটিকে আবারও ‘লুটেরাদের’ হাতে তুলে দিতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে। তারা দাবি করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

গত সোমবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্ধারিত বৈঠককে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর সেটিই ছিল পর্ষদের প্রথম সভা।

সোমবার বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভের কারণে নির্ধারিত সভা বাধাগ্রস্ত হলে পরে সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।

ঈদের ছুটির ঠিক আগে খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার ভূমিকা বিতর্কিত ছিল। বিশেষ করে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলম বিভিন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ঋণ অনিয়মের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বিক্ষোভকারীরা ব্যাংকের নেতৃত্বে সংস্কার, অতীতের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের অপসারণ এবং এস আলম গ্রুপ যেন আবার ব্যাংকে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জনগণের দাবি হয়ে থাকলে কুমিল্লা বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের দাবি হয়ে থাকলে কুমিল্লা বিভাগ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় আয়োজিত পথসভায় তিনি এই আশ্বাস দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জনগণের কাছে যে ওয়াদা দেয়, বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সেই ওয়াদা পূরণ করে।’

গত ১৬-১৭ বছর জনগণ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতো, গুম হয়ে যেত, মামলা হতো, এসে ধরে নিয়ে যেত। যারা এসব করতো, দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এখন আমাদের মূল কাজ হচ্ছে, আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে, বহু মানুষ শহীদ হয়েছে, বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’

তারেক বলেন, ‘এখন আমাদের সময় হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করার। আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিলাম। ঠিক একই সময় আমাদের এই এশিয়া মহাদেশে অনেকগুলো দেশ সেই সময় স্বাধীন হয়েছিল। তার একটু আগে-পরে। কিন্তু সেই দেশগুলো আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিল এই দেশ, এই দেশের মানুষ। সেই স্বৈরাচার থেকে কবল থেকে এই দেশকে দেশের মানুষ মুক্ত করেছে। যেভাবে ঠিক ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিল।’

‘দেশ শুধু স্বাধীন করলে হবে না। দেশ যদি স্বাধীন করি, দেশকে যদি স্বৈরাচারমুক্ত করি, পরবর্তী কাজ হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা। দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ পুনর্গঠন আমরা একা, সরকার একা পারবে না।’

বাংলাদেশের নাগরিক বাংলাদেশের মালিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মালিক যখন নিজে দায়িত্ব নিয়ে তার দেশের দেখভাল করে, তখনই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। মালিক আজ দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি নামক একটি রাজনৈতিক দলকে গত ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে। কারণ আমরা আমাদের যেসব পরিকল্পনা বাংলাদেশের মানুষের সামনে নির্বাচনের আগে উপস্থাপন করেছিলাম, দেশের মানুষ ১২ তারিখ নির্বাচনে সেই পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়েছে এবং বিএনপিকে রাষ্ট্র সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর সাধারণ জনগণ স্লোগান দেয় ‘কুমিল্লা বিভাগ চাই’। সেই ঘটনার উল্লেখ করে তারেক বলেন, ‘এই দাবিটি যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, তাহলে সেটির বাস্তবায়ন হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র–কানাডার ৫৮ হলে ‘দম’

আমেরিকায় ‘দম’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে সাড়া পড়েছে। চাহিদার কারণে ১৭ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৫৮টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি। 

রেদওয়ান রনি পরিচালিত আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরী অভিনীত সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায় ১০ এপ্রিল। 

সপ্তাহ ঘুরতেই দর্শকদের আগ্রহে দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল থেকে ৫০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে ‘দম’।

এখানেই শেষ নয়, ১৭ এপ্রিল থেকে সিনেমাটি চলবে কানাডার ৮টি প্রেক্ষাগৃহে। 

‘দম’ উত্তর আমেরিকায় মুক্তি উপলক্ষে নির্মাতা রেদওয়ান রনি এখন অবস্থান করছেন আমেরিকায়। নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত একটি সিনেমা “দম”। কেন এবার সত্য ঘটনাকে আশ্রয় করলাম? কারণ আমার মনে হয়েছে এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের বিজয়ের গল্প বলা সম্ভব। আমিও অনেকদিন পর নির্মাণে ফিরলাম। এই ফেরাটা বাংলাদেশের বা বাংলাদেশিদের বিজয়ের গল্প বলার মাধ্যমে হওয়াটাই তৃপ্তির বলে মনে হয়েছে আমার।’

‘দেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার পর অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। বিদেশের মাটিতে প্রবাসী ভাই-বোনদের কাছে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমি অভিভূত। যেখানেই গিয়েছি, সেখানেই আমাকে যেভাবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের ভালোবাসা পেয়ে আমারও মনে হচ্ছে “দম” জিতে গিয়েছে’, যোগ করেন রেদওয়ান রনি। 

‘দম’ সিনেমা প্রযোজনা করেছে এসভিএফ আলফা-আই ও চরকি। 

সিনেমার চিত্রনাট্য করেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল আলম রবি।

ইরানে সামরিক অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে যা জানালেন ট্রাম্প

গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন-তেল আবিবের চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে বেশ কয়েকটি হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছেন।

মূলত একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমকে ফোনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান তিনি। 

আজ সোমবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ আপডেটে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানান, ‘এক ধাক্কায় ৪৮ (ইরানি) নেতা নিহত হয়েছেন’। তিনি আরও জানান, ইরানে সামরিক অভিযান ‘দ্রুতগতিতে আগাচ্ছে।’

সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ‘খুব ভালো ভাবে আগাচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচির আগেই (সব লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে)।’

‘আমরা শুধু আমাদের নিজেদের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের পক্ষে দায়িত্ব পালন করছি’, যোগ করেন তিনি। 

এমএস নাউকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসী ইরানীরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের সংবাদে উল্লাসে মেতে উঠেছে। 

এসব দৃশ্য তিনি নিজেই দেখেছেন বলে দাবি করেন ওই বিশ্বনেতা। 

 

লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী ইরানীদের একটি বড় সম্প্রদায় বসবাস করে। সেখানকার উৎসবমুখর পরিবেশের দিকে ইঙ্গিত করে ক্যাবল নিউজ চ্যানেলকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটা অসাধারণ একটি ঘটনা।’

দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খামেনি-পরবর্তী ইরানের নেতারা নতুন করে দরকষাকষি ও আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা গত সপ্তাহে ‘বানচাল’ হয়েছিল। 
তিনি বলেন, ‘তারা কথা বলতে চায়, আর আমি কথা বলতে রাজি হয়েছি। তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

‘তাদের এটা আরও আগে করা উচিৎ ছিল। খুবই বাস্তবসম্মত আর সহজ কাজটা তাদের আরো আগেই করা উচিৎ ছিল। তারা অনেক বেশি দেরি করে ফলেছে’, যোগ করেন বিশ্বনেতা ট্রাম্প।

মেয়াদ শেষ হয়নি, তবে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন চাই: চসিক মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী মেয়র হিসেবে আমার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য আমি দ্রুত মেয়র নির্বাচন চাই।’

আজ রোববার দুপুরে নগরীর হালিশহরে একটি খেলার মাঠ উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। 

তিনি আরও জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।

সবশেষ চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৮ আগস্ট রেজাউল করিম চৌধুরীসহ দেশজুড়ে অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। 

তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শাহাদাত হোসেন নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশন আদালতের রায়ের পর গেজেট প্রকাশ করলে, তিনি ওই বছরের ৩ নভেম্বর শপথ ও ৫ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অপসারিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কাউন্সিলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১। সে অনুযায়ী, ওই কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আজ। 

দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হয় স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী। এই আইনে মেয়রের মেয়াদ এবং নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত আলাদা বিধান রয়েছে। আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, কোনো সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ তার প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর।

মেয়রের মেয়াদকাল নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন শাহাদাত। 

তিনি বলেন, ‘আজ রেজাউল করিমের মেয়াদকাল শেষ হচ্ছে, আমার না।’ 

‘আমি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলাম এবং তিন বছর লড়াই করে ফল বের করেছি। আদালতের রায় অনুযায়ী, রেজাউল করিমের মেয়াদকাল সম্পূর্ণ অবৈধ। আদালত আমাকে ৫ বছরের জন্য মনোনীত করেছে। এমনকি বাংলাদেশ সরকার আমাকে যে ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট দিয়েছে, সেটাও ৫ বছরের জন্য,’ যোগ করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অনুশোচনার প্রসঙ্গ নিয়ে মেয়র শাহাদাত বলেন, ‘আমার ৩৯-৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এখনো পর্যন্ত কোনো ক্রেডিবল ইলেকশন আমি পাইনি। চট্টগ্রাম শহরে ২২ লাখ ভোটার আছে। তাদের কতজন আমাকে চায়?’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের একমাত্র মেয়র যে কোর্টের রায়ে ঘোষিত হয়েছে। আমি চাই চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সব সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন হোক, কারণ নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় জনগণ সঠিক সেবা পাচ্ছে না।’

‘এলজিআরডি মন্ত্রণালয় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আমাকে পদে থাকতে হবে, কারণ মেয়র পদ শূন্য রাখা যায় না। তবে দল যদি আমাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়, তবে আমি অবশ্যই পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব,’ বলেন শাহাদাত হোসেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও টিকে থাকবেন কারা?

কিছুদিন আগেও সবাই বলাবলি করছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এসে মানুষের সব কাজ কেড়ে নেবে এবং মানুষকে বেকার করে ছাড়বে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত তেমনটা বলছে না।

অ্যাক্টিভট্র্যাক নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা ১০ হাজারেরও বেশি কর্মীর ডিজিটাল কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখেছেন, মানুষ যখন এআই গ্রহণ করেছে, তখন তাদের কর্মজীবন আরও তীব্র ও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে, মোটেও সহজ হয়নি।

এই নতুন প্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যবহারকারীরা ইমেইল, মেসেজিং এবং চ্যাট অ্যাপে আগের চেয়ে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছেন। তাদের বিজনেস সফটওয়্যার ব্যবহারের হারও ৯৪ শতাংশ বেড়ে গেছে।

ইউসি বার্কলের হাস স্কুল অব বিজনেসের গবেষকরা দেখেছেন, এআই ব্যবহার করার ফলে কর্মীরা এমন সব কাজও নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন, যা তারা আগে অন্যদের দিয়ে করাতেন। কারণ, এআইয়ের কল্যাণে কোডিং বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কাজগুলো এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। তারা সন্ধ্যায়, ছুটির দিনে, এমনকি ওয়েটিং রুমে বসেও কাজের ফাঁকফোকর তৈরি করে নিচ্ছেন। আগের চেয়ে অনেক বেশি মাল্টিটাস্কিং করছেন এবং একইসঙ্গে বিভিন্ন বট প্রোগ্রামকে তদারকি করছেন।

গবেষণাগুলো থেকে একটি সাধারণ বিষয় স্পষ্ট হয়। এআই ব্যবহার করে মানুষ যে সময়টুকু বাঁচাচ্ছে, সেই সময়ে তারা বসে থাকছে না। বরং সেই বেঁচে যাওয়া সময়ে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব নিচ্ছে।

কর্মী এবং তাদের বসদের প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দিয়েছে এআই। দিনে ঠিক কতটা কাজ করা উচিত, সে সম্পর্কে তাদের ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। ফলে প্রতিটি কর্মঘণ্টা এখন আরও ব্যস্ত এবং একইসঙ্গে আরও ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে।

অ্যাক্টিভট্র্যাকের গবেষকরা দেখেছেন, মানুষের একটানা মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সময় ৯ শতাংশ কমে গেছে। এই মানসিক অবস্থার একটি নামও তৈরি হয়েছে—‘এআই ব্রেইন ফ্রাই’।

কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও ইতিহাসের দিকে তাকালে বিষয়টি বেশ স্বাভাবিক। যখনই মানুষের শ্রম কমানোর কোনো নতুন প্রযুক্তি এসেছে, বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে মানুষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের জীবনকে সহজ করবে।

কিন্তু বাস্তবে মানুষ সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবনকে আরও বেশি কর্মব্যস্ত করে তুলেছে। উড়োজাহাজ, ট্রেন বা গাড়ি যাতায়াতের সময় ও শ্রম বাঁচায় ঠিকই, কিন্তু এর ফলে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি ভ্রমণ করতে শুরু করেছে।

এই উদীয়মান এআই যুগের একটি মূলনীতি হলো, যখন বুদ্ধিমত্তা সহজলভ্য হয়ে যায়, তখন মানুষের ইচ্ছাশক্তির মূল্য বেড়ে যায়। এই যুগে তারাই পার্থক্য গড়ে দেবেন, যারা শুধু বিশ্রাম খোঁজার জন্য এআই ব্যবহার করবেন না। বরং নিজেদের মানসিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং আরও বেশি কাজ সম্পন্ন করতে এআইকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাবেন।

অন্য কথায়, মানুষকে এখন আর তার মেধা দিয়ে আলাদা করা যাবে না। মানসিক পরিশ্রমের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।

এআইয়ের এই যুগেও কারা সফলভাবে টিকে থাকবেন, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু মানুষের মধ্যে ‘নিড ফর কগনিশন’ বা চিন্তাভাবনা করার তীব্র চাহিদা থাকে। এরা কঠিন কাজ করতে এবং মস্তিষ্ক খাটাতে ভালোবাসেন। অন্যদিকে আছেন ‘কগনিটিভ মাইজার’ বা চিন্তার কৃপণরা মস্তিষ্ক খাটাতে পছন্দ করেন না এবং সুযোগ পেলেই চিন্তার কাজ এড়িয়ে চলেন।

এই দুইয়ের মাঝামাঝি আছেন মাঝারি ঘরানার মানুষ। তারা শুধু তখনই গভীরভাবে চিন্তা করেন, যখন বিষয়টি তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বভাবগতভাবে এটি তারা উপভোগ করেন না। মেধার সঙ্গে ‘নিড ফর কগনিশনের’ সম্পর্ক থাকলেও এটি পুরোপুরি এক বিষয় নয়। আবার অনেক অত্যন্ত মেধাবী মানুষ আছেন, যারা পরিশ্রম করতে ভালোবাসেন না।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এআইয়ের সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতাকে তিন ভাগে ভাগ করেছে আটলান্টিক।

যেসব মানুষের চিন্তাভাবনা করার আগ্রহ কম, তারা এআই ব্যবহার করে নিজেদের চিন্তা করার পরিমাণ আরও কমিয়ে দেবেন। তাদের সবচেয়ে বড় লাভ হবে, এআইয়ের সাহায্যে খুব দ্রুত কাজ শেষ করে অনেক বেশি উৎপাদনশীল হতে পারবেন।

কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হবে, কাজ সহজ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের মানসিক সক্ষমতা দিনকে দিন কমতে থাকবে।

মানুষ তখনই সবচেয়ে ভালো শেখে, যখন তারা একটি ‘অপটিমাল ডিফিকাল্টি’ বা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকে। অর্থাৎ কাজটি এমন হওয়া উচিত, যা খুব বেশি কঠিনও নয়, আবার একদম সহজও নয়।

এআই এই কম পরিশ্রমী মানুষদের সেই কাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জের জায়গা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।

এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার সময় মানুষের মস্তিষ্কের সংযোগ বা কানেক্টিভিটি ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

পসিবিলিটি সায়েন্সেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ভিভিয়েন মিং বলেন, মানুষ যখন এআই ব্যবহার করে, তখন তাদের মস্তিষ্কের গামা ওয়েভ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ।

এসবিএস সুইস বিজনেস স্কুলের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত এআই টুল ব্যবহার করেন তাদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।

কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ মিনিট এআইয়ের সাহায্যে সমস্যা সমাধানের পর যখন তাদের থেকে এআই সরিয়ে নেওয়া হয়, তখন তারা এআই ছাড়া কাজ করা মানুষদের চেয়ে বেশি খারাপ পারফর্ম করে এবং খুব সহজেই হাল ছেড়ে দেয়।

এন্ডোস্কোপি বিশেষজ্ঞদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, এআই ব্যবহারের আগে তারা ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্ত্রের ক্ষত শনাক্ত করতে পারতেন। এআই ব্যবহারের পর সেটি কেড়ে নেওয়া হলে তাদের শনাক্তকরণের হার কমে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসে।

ব্যাপারটি অনেকটা জিপিএস ব্যবহার করে গাড়ি চালানোর মতো। জিপিএস যেমন দিক নির্ণয়ের স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, এআইও ঠিক তেমনি মানুষের সামগ্রিক সক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

যাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা করার মাঝারি চাহিদা আছে, তারা বুঝবেন যে এআই তাদের মানসিক সক্ষমতা ফাঁপা করে দিচ্ছে। এই সম্ভাবনাটি তাদের চিন্তিত করবে এবং তারা মনে মনে প্রতিজ্ঞা করবেন যে তারা এর শিকার হবেন না।

কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের প্রচণ্ড চাপ ও ব্যস্ততার মাঝে তারা একসময় ঠিকই এর ফাঁদে পা দেবেন। এআই অত্যন্ত প্রলুব্ধকারী একটি প্রযুক্তি।

এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মানুষকে চ্যাটজিপিটি দিয়ে পর পর কয়েকটি প্রবন্ধ লিখতে বলা হয়, তখন তারা ধীরে ধীরে এআইয়ের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে শুধু ‘কাট-পেস্ট’ করতে শুরু করে।

প্রযুক্তি মানুষের মানসিকতাকে ‘কালটিভেশন’ বা কষ্ট করে কিছু শেখা থেকে সরিয়ে ‘অপ্টিমাইজেশন’ বা সবচেয়ে সহজে কাজ হাসিল করার দিকে নিয়ে যায়।

পুরো প্রযুক্তি শিল্পটিই অপ্টিমাইজেশনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনকে সম্পূর্ণ বাধাহীন করা। আধুনিক প্রযুক্তি মূলত একজন মানুষকে মানসিক বডি-বিল্ডার থেকে মানসিক অলসে পরিণত করতে চায়।

এই অপ্টিমাইজার গ্রুপের মানুষরাও একসময় কৌতূহল হারাতে শুরু করবেন।

সাংহাই টেক ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই দিয়ে একটি কাজ করার পর যখন অংশগ্রহণকারীদের এআই ছাড়াই অন্য একটি কাজ করতে বলা হয়, তখন তাদের অভ্যন্তরীণ অনুপ্রেরণা ১১ শতাংশ কমে যায় এবং একঘেয়েমি ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।

এছাড়া তারা ধীরে ধীরে এআইয়ের ভুল ধরতে ব্যর্থ হবেন।

ওয়ার্টন স্কুলের গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এআইয়ের দেওয়া ভুল উত্তরকে সঠিক বলে মেনে নেয়।

রিভেন্ডেল স্কুলের প্রধান ক্রিস সিব্বেন একে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন অব ডিটাচমেন্ট’ বা বিচ্ছিন্নতার শিল্পায়ন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে কাজ করার অর্থ হলো কাজের পেছনের সংগ্রাম ও শিক্ষাকে এড়িয়ে শুধু ফলাফলটাই চাওয়া। এতে একজন মানুষ অলস হওয়ার চেয়েও বেশি যা হয়, তা হলো সে অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

এবার আসি সেই মানুষদের কথায়, যাদের জ্ঞানীয় চাহিদা অনেক বেশি। এআই যুগে তারা অনেকটা ম্যারাথন দৌড়বিদদের মতো আচরণ করবেন। ২৬ দশমিক ২ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য গাড়ি একটি চমৎকার প্রযুক্তি হলেও কিছু মানুষ শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যই কষ্ট করে সেই পথ দৌড়ে পার হন।

উচ্চজ্ঞানের চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরাও ঠিক এমনই। তারা প্রজেক্টের ডেডলাইন ও চাপের মাঝেও নিজেদের মানসিক সক্ষমতা দিয়ে সমাধান বের করতে ভালোবাসেন। তারা এআইয়ের যুগে নিজেদের কাজকে আরও মৌলিক ও ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করবেন, যাতে সেটি তাদের নিজস্ব সত্তার প্রতিফলন হয়। তারা এআইকে ব্যবহার করবেন নিজেদের সক্ষমতা কমানোর জন্য নয়, বরং তা বাড়ানোর জন্য।

এই মানসিক ম্যারাথনাররা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু কার্যকর কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।

এআইয়ের কাছে সরাসরি উত্তর না চেয়ে কোনো বিষয়ের পটভূমি বা ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মানুষের অনুপ্রেরণা ও শেখার ক্ষমতা কমে না।

বটের কাছে যাওয়ার আগে একটি খালি কাগজে নিজের বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত লিখে নিন। এরপর আপনার চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এআইকে নির্দেশ দিন।

এআই দিয়ে কোনো কাজ করার পর, এমন একটি কাজ করুন যেখানে এআইয়ের প্রয়োজন নেই। এটি আপনার সৃজনশীল চিন্তার পেশিকে সচল রাখবে।

সাধারণ চ্যাটবট শেখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। কিন্তু এআই টিউটররা শেখার ক্ষমতা ও অনুপ্রেরণা বাড়ায়। বটের কাজ শুধু উত্তর দেওয়া নয়, বরং তাদের এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত যেন তারা একজন ব্যক্তিগত প্রশিক্ষকের মতো মানসিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সাধারণ ইমেইল লেখার কাজ এআইকে দিন। কিন্তু নিজের কোনো প্রবন্ধ বা মেমো এআইকে দিয়ে লেখাবেন না।

এআইকে দিয়ে সরাসরি সমস্যার সমাধান না করিয়ে তাকে লাইব্রেরিয়ানের মতো ব্যবহার করুন। যেমন, শিশু বিকাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে এআইকে বলতে পারেন জিন পিয়াজেঁ এবং এরিক এরিকসনের মধ্যে একটি কাল্পনিক বিতর্ক তৈরি করতে।

ভবিষ্যতের এই চিত্রটি একটি চরম জ্ঞানীয় মেরুকরণের দিকে ইঙ্গিত করছে। একদল মানুষ এআই ব্যবহার করে আরও বেশি চিন্তা করবেন এবং উৎপাদনশীল ও সুখী হবেন।

অন্যদিকে অধিকাংশ মানুষ এআই ব্যবহার করে চিন্তা করা কমিয়ে দেবেন এবং এতে তাদের চিন্তাশক্তি ও নিজস্ব সৃজনশীলতা দিনকে দিন কমতে থাকবে।

তবে এই ভবিষ্যৎ অবশ্যম্ভাবী নয়। মানুষের ইচ্ছাশক্তি পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তথ্য মুখস্থ করানো এবং বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এআই যুগে স্কুলগুলোকে বুদ্ধিমত্তার বদলে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাশক্তির ওপর জোর দিতে হবে।

যখন আমাদের চারপাশে এমন সব যন্ত্র থাকবে যারা সব বিষয়ে জানে, তখন মানুষকে আলাদা করবে তার কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং জ্ঞানকে সৃজনশীলভাবে প্রয়োগ করার ক্ষমতা। মূল চ্যালেঞ্জ হবে মানুষের ভেতরে কৌতূহল ও জটিল বিষয় নিয়ে ভাবার ইচ্ছাকে জাগিয়ে তোলা।

এডওয়ার্ড ডেসি এবং রিচার্ড রায়ানের ‘সেলফ-ডিটারমিনেশন থিওরি’ অনুসারে, মানুষ তখন সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হয় যখন তাদের স্বাধীনতা, সক্ষমতা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বোধ তৈরি হয়। মহান ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করলে বা চমৎকার শিল্পকর্ম দেখলে এই অনুপ্রেরণা বাড়ে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে মানুষের আসল পরিচয় নতুন করে চেনা যাচ্ছে। এতদিন মনে করা হতো ‘বুদ্ধিমত্তা’ই মানুষকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে, কিন্তু যন্ত্রের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।

আসলে মানুষের আসল পরিচয় তার আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং স্বপ্নের মধ্যে। যন্ত্রের কোনো জীবন নেই, তাই তার কোনো পিছুটান বা ভবিষ্যতের স্বপ্নও নেই। কম্পিউটার কেবল সমস্যার সমাধান করতে পারে। কিন্তু মানুষের জীবন মানে শুধুই সমস্যার সমাধান নয়, বরং অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ।

মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার ভেতরের তাড়না, যা তাকে কষ্ট করতে এবং বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়। তাই যন্ত্রনিয়ন্ত্রিত এই পৃথিবীতে মানুষের মর্যাদা ও স্বকীয়তা টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের স্বপ্ন দেখা এবং লক্ষ্য স্থির করা বন্ধ করা যাবে না।

বিএনপি সরকারের ৪ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির খতিয়ান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বছরের পর বছর ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

বাস্তবে দেখা গেল, গণঅভ্যুত্থানের পরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গুম বন্ধ হলেও সার্বিকভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা বন্ধ হয়নি। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে, মব সহিংসতা বেড়ে যায়।

এ সময় আশাহত মানুষের মধ্যে সম্ভাব্য নির্বাচিত সরকারকে কেন্দ্র করে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। সেসময় প্রথম আলোর উদ্যোগে করা এক জরিপ থেকে দেখা যায়, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আশা করেছিলেন, নির্বাচিত সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও নারীর নিশ্চিন্তে চলাফেরা ও নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সফল হবে। সরকার ভিন্ন রাজনৈতিক মতের ব্যাপারে সহিষ্ণুতা দেখাবে বলে আশাবাদী ছিলেন অর্ধেকেরও বেশি (৫৪ শতাংশ) মানুষ।

বাস্তবতা হলো, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিদিনই ঘটছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী তিন মাসে সারা দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ১০টিরও বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি ও মে মাসে ৩১০টি মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই তিন মাসে ৯৯৩টি মামলা হয়েছিল। তবে এর মধ্যে ২২৬টি ছিল আগের ঘটনার জের। ফলে তুলনামূলক প্রকৃত সংখ্যাটি ছিল ৭৬৭। অন্যদিকে ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭৯৪।

সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপিটুনি ও মব সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানের কথা বললেও তা বাস্তবে কমেনি। মার্চ ও এপ্রিলে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৬৯ থেকে ৮০টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১ থেকে ৪২ জন এবং আহত হয়েছেন ৭০ থেকে ১২৫ জন। এ ছাড়া, কারা হেফাজতে ১৪ থেকে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্যাতনে আহত হয়েছেন পাঁচজন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন একজন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাতজন এবং দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে তিনটি। বিভিন্ন স্থানে মাজার এবং ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা, কুষ্টিয়া ও সিলেটে মাজার ও বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং একজন পীরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে। সংস্থাটি বলছে, জুনে সারা দেশে অন্তত ৭৮টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগের মাসে মব সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ ও আহত ৭১ জন। সে হিসাবে আহতের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। চোর সন্দেহ, ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গুজব কিংবা ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জুন মাসের প্রতিবেদন অনুসারে, জুনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত ও নির্যাতনে তিনজন নিহত হন। তাদের মধ্যে দুইজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং একজন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান। গ্রেপ্তার এড়াতে পালাতে গিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। ২১ জুন ফরিদপুরের মধুখালীতে ডিবি পুলিশের হেফাজতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। ২৪ জুন খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে রবিন ত্রিপুরা নামে ইউপিডিএফ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ২৫ জুন খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে কথিত ডাকাত ‘দুলাইভাই বাহিনীর’ সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাকাত সরদার নামে একজন নিহত হন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুসারে, জুন মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে সাতজন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির একজন ও পাঁচজন সাধারণ আসামি। তাদের মধ্যে ২৪ জুন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকের একদিন পর যুবলীগ নেতা নুরুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান; ১৮ জুন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় আটক যুবদল কর্মী শহীদুল্লাহ রাসেলের মৃত্যু হয়।

এসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি চলমান থাকবে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া ও শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি গ্রেপ্তারের ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত মার্চ-এপ্রিল মাসে অন্তত চারজনকে ৫৪ ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার এবং একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুসারে জুন মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অন্তত ১১টি ঘটনায় ১১ জনকে আটক ও সাতটি মামলা হয়।

সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের (বিএজে) এক প্রতিবেদন অনুসারে, জুন মাসে সারা দেশে অন্তত ৪০টি ঘটনায় ৫১ জন সংবাদকর্মী শারীরিক হামলা, নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এসব হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন মাদক চোরাকারবারি, রাজনৈতিক দলের উশৃঙ্খল নেতাকর্মী, পেশাজীবী ও ঠিকাদাররা। সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’র ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও সংবাদপত্রটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে কয়েকদিন কারাগারে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনার মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগে যে ধরণের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল তা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোতে ব্যক্তি ও পোশাকের অদল-বদল হলেও মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। অথচ ন্যূনতম মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কার খুবই জরুরি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর তাদের সুপারিশে র‍্যাব বিলুপ্তি, বিজিবিকে সীমান্ত রক্ষা ও ডিজিএফআইকে সামরিক গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বিএনপি সরকারেরও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পুলিশ কমিশন গঠন ও মানবাধিকার কমিশনের সংস্কার বিষয়ে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সেগুলোও বাতিল করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিল করে বিএনপি সরকার নতুন যে খসড়া মানবাধিকার কমিশন আইন করছে, তাতে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তের এখতিয়ার খর্ব করা ও কমিশনের ওপর সরকারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।

সবমিলিয়ে নির্বাচিত সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের যে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। কোনো সরকার যতই উন্নয়ন বা জনকল্যাণের কথা বলুক না কেন, আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক না হলে সেই সরকার দ্রুত অজনপ্রিয় হয়ে যায়।

তাই পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পরিণতি বরণ করতে না চাইলে বিএনপি সরকারের উচিত হবে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এজন্য একদিকে সরকারি দল বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে, নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব থেকে দূরে রাখতে হবে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারবিভাগের কাঠামোগত সংস্কার করে সত্যিকার অর্থে পেশাদার পুলিশ বাহিনী ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদারকি ও জবাবদিহিতার জন্য স্বাধীন ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠন করতে হবে।

আর এসব কিছুর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক বাস্তব সমস্যার গভীরতা উপলব্ধি করে তা সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা পোষণ করবার উপর।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন।
[email protected]