31 C
Dhaka
Home Blog

দেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বলেন, ‘এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচারের পুনর্বাসনের পথ সুগম করছে কি না, সেটি মনে হয় ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের।’

‘এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না,’ বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবশ্যই আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম-অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। বছরের পর বছর ঘর-বাড়িছাড়া হয়েছিলেন। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছিলেন হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু। আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ।’

সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং হতাহত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পরাজিত, পতিত, বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা, এমন বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল।’

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুন-অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংসতা, শুধুমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী তৎকালীন সরকারের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা চলে।’

‘আজকের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস যেমন তুলে ধরবে, অপরদিকে তাদের সামনে উন্মোচিত হবে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ। এই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। আমি আশা করি, এই জাদুঘর শুধুমাত্র ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হবে না, এই জাদুঘর বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে। শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানই নয়, এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকা জরুরি,’ যোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসনকে মেনে নিতে পারেনি। এদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এসব ইতিহাস জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।’

‘আমি আশা করি, এই জাদুঘরে জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের স্বাক্ষর, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বীর ছাত্র-জনতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াল লিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক ও ডিজিটাল উপাদান সংরক্ষিত থাকবে,’ বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না। বরং তা ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যৎ বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং প্রতিটি বিষয়ের যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত থাকা প্রয়োজন।’

পর্যায়ক্রমে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার হবে বলেও শহীদ পরিবারকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকার মনে করে, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি জানান, বিগত ১৭ বছর ও জুলাই আন্দোলনে শহীদ, গুম-খুনের শিকার মানুষের নামে তাদের এলাকায় যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে, এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।’

তিনি বলেন, আমি প্রায়ই একটি কথা বলি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভোলেননি, একইভাবে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদের জনগণ কখনোই ভুলবে না।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সহায়তা করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক, উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বর্তমান সরকার শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

একইসঙ্গে গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর-সমৃদ্ধ, নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চাই, বলেন তিনি।

গ্যাস সংকটে কমেছে প্যারাসিটামলের কাঁচামাল উৎপাদন

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশে প্যারাসিটামল এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের উৎপাদন সংশ্লিষ্ট খাতের বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জরুরি আমদানির ফলে ওষুধের সংকট আপাতত এড়ানো গেলেও প্যারাসিটামমলের এই কাঁচামালের উচ্চমূল্য ওষুধ প্রস্তুতকারকদের ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং আমদানি-নির্ভরতার বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসছে।

আইকিউভিআইএর (সাবেক আইএমএস হেলথ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্যারাসিটামলযুক্ত ওষুধ বিক্রির দিক থেকে চতুর্থ সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই গ্যাস সংকটের কারণে দেশের অন্যতম শীর্ষ এপিআই প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য বেসিক কেমিক্যাল লিমিটেডে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম জামাল উদ্দিন।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বয়লার প্রাকৃতিক গ্যাসে চলে। বয়লার ছাড়া কোনো সহায়ক যন্ত্রই চালানো সম্ভব নয়। চিলার, রিঅ্যাক্টরসহ অন্যান্য প্রসেসিং ইউনিটের সবই এর ওপর নির্ভরশীল। বয়লার বন্ধ হয়ে গেলে পুরো কারখানাই অচল হয়ে পড়ে।”

গত ১৫ দিন ধরে প্যারাসিটামল এপিআই উৎপাদন করতে পারছে না গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি। ফলে টঙ্গীভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক চার টন উৎপাদন প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

এই সংকট এমন সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন উৎপাদকরা কাঁচামালের বাড়তি দামের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। জামাল উদ্দিন জানান, বৈশ্বিক তেলবাজারের অস্থিরতার কারণে চীন থেকে আমদানিকৃত প্রধান কাঁচামালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে টনপ্রতি প্রায় ২ হাজার ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৩০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

‘পুরো এপিআই খাত এখন চাপে রয়েছে’, যোগ করেন তিনি।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে প্রতি মাসে প্যারাসিটামল এপিআইয়ের চাহিদা প্রায় ৬৫০ টন।

উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আগে গণস্বাস্থ্য মাসে প্রায় ৯০ টন প্যারাসিটামল এপিআই সরবরাহ করত। বাকি চাহিদা পূরণ করা হতো আমদানি ও অন্যান্য স্থানীয় উৎপাদকদের মাধ্যমে।

জামাল উদ্দিন জানান, বেক্সিমকো, অ্যাকমি, এসিআই, ইবনে সিনা, হেলথকেয়ার ও ইনসেপ্টাসহ অধিকাংশ শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে তারা এপিআই সরবরাহ করে। স্কয়ারই একমাত্র বড় প্রতিষ্ঠান, যারা নিজেদের প্যারাসিটামল এপিআই নিজেরাই উৎপাদন করে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ওপরই এই এপিআই উৎপাদন পুনরায় শুরুর বিষয়টি নির্ভর করছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ প্রস্তুত ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হলেও উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রায় ৯৫ শতাংশ এপিআই আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশ আসে চীন ও ভারত থেকে।

২০১৮ সালে এপিআই নীতি গ্রহণ ও এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপন করা হলেও নীতি, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রক জটিলতার কারণে আমদানি-নির্ভরতা কমানো এখনো সম্ভব হয়নি।

জামাল বলেন, ‘সরকারের সমন্বিত সহায়তায় এসব বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশ আমদানি-নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে। বর্তমানে দেশ বছরে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের এপিআই আমদানি করে, যা কমিয়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা সম্ভব।’

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) মো. শাহ ইমরান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্যারাসিটামল এপিআই উৎপাদন করলেও মাঝে মধ্যে গণস্বাস্থ্য থেকেও কিনে থাকে।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গণস্বাস্থ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বেক্সিমকোকে নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দেশে প্যারাসিটামলের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ বেক্সিমকো পূরণ করে এবং দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত থাকলে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাবনায় অবস্থিত তাদের এপিআই কারখানা গ্যাস সংকটে প্রভাবিত হয়নি। কারণ সেখানে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ রয়েছে।

তিনি বলেন, স্কয়ার একাই দেশের প্যারাসিটামল এপিআইয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম, যা জরুরি এই ওষুধের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করছে। তবে অন্যান্য স্থানীয় উৎপাদকদের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সৃষ্ট ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। সেই কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির বলেন, ওষুধ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে এপিআই আমদানির অনুমতি দিচ্ছে।

হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হালিমুজ্জামান বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত স্থানীয়ভাবে প্যারাসিটামল এপিআই সংগ্রহ করে, তারা ইতোমধ্যে আমদানির অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামালকে অগ্রাধিকার দিলেও সরবরাহ না থাকলে আমদানির অনুমতি দেয়।

হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের কাঁচামালের মজুত রাখে এবং আমদানির প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় আগেই অর্ডার দেয়। কারণ এপিআই আমদানি, মান পরীক্ষা এবং তা দিয়ে ওষুধ উৎপাদন—সবই সময়সাপেক্ষ।

‘প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারসাম্য রাখতে হয়। খুব কম আমদানি করলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার বেশি আমদানি করলে ব্যবহার করার আগেই কাঁচামালের মেয়াদ শেষ হয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে’, যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে, যা জাতীয় সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ।

মহেশখালীতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি কেন বন্ধ হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এই সংকটের তীব্র প্রভাব পড়েছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে। কারখানাগুলো এখন পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না এবং এর ফলে রপ্তানি বিলম্বিত হচ্ছে।

ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর ও কোনাবাড়ির কারখানা কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

প্যারাগন সিরামিকসের প্রশাসন ব্যবস্থাপক রোকনুজ্জামান জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে তারা তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন।

তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় প্রায় ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান একই সমস্যার সম্মুখীন।’ চলমান সংকট মোকাবিলায় কোম্পানিটি সিএনজি কিনতে বাধ্য হয়েছে। তবে সীমিত সরবরাহের কারণে সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারিনি এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন বড় ক্রেতা হারিয়েছি’, বলেন রোকনুজ্জামান।

গাজীপুরে কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক এম এম মামুন উর রশিদ বলেন, কোনো কারখানা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি। তবে সাত থেকে আটটি কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি শফিউল আলম বলেন, শ্রমিকরা ইতোমধ্যে ওভারটাইম আয়ের সুযোগ হারাচ্ছেন এবং সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কিছু কারখানায় ছাঁটাই হতে পারে।

বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ইউরোপীয় ক্রেতার বড় চালানের ডেনিম রপ্তানি অর্ডার হারানোর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সংকটের কারণে গাজীপুরে তাদের দুটি তৈরি পোশাক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এয়ার ফ্রেইটে পণ্য পাঠানোর সুযোগ নেই, কারণ খরচ অনেক বেশি। তাই আমরা উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বলে জানান প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের এই সাবেক সভাপতি বলেন, ‘সংকট আছে, কিন্তু তা কাটিয়ে ওঠার কোনো উপায় নেই। আমরা ডিজেল বা শিল্প এলপিজির মতো ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু তাতে বড় ধরনের লোকসান হবে।’

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

তিনি জানান, ডেল্টা অ্যাগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি এবং ন্যাশনাল সিমেন্ট মিলস লিমিটেড গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

‘গ্যাস ছাড়া উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের উৎপাদন খাত টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে’, যোগ করেন আমিরুল হক।

কঠিন পরিস্থিতি সামলে এমবাপে এখন মানসিকভাবে প্রস্তুত, জানালেন দেশম

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর তীব্র লড়াইয়ের পর দেশটির সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্য সইতে হয়েছিল কিলিয়ান এমবাপেকে। এই ঘটনায় কড়া বিবৃতিও দিয়েছিলেন তিনি। তিক্ত অবস্থা পার করে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের সেরা তারকা ও অধিনায়ক মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন, এমনটাই জানালেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

ভীষণ শারীরিক চ্যালেঞ্জ ও স্লেজিং নির্ভর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। ওই ম্যাচের পর প্যারাগুয়ের এক সিনেটর ফরাসি ফরোয়ার্ডকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। যেসব মন্তব্য বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়ে কড়া বিবৃতি দেয় ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন ও এমবাপে নিজে।

খেলার বাইরের এই ইস্যু মনোযোগ বিশ্বকাপ থেকে কিছুটা সরিয়ে নিলেও এমবাপে আবার নিজের কাজে মন দিয়েছেন। মরক্কোর বিপক্ষে নামার আগে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দেশম ফরাসি অধিনায়কের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন এবং জোর দিয়ে জানান যে এই ফরোয়ার্ড অবিচলিত আছেন।

দেশম বলেন, ‘কিলিয়ান ভালো আছে। মানসিক স্তরে সে একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে এবং আমি আর সে বিষয়ে ফিরে যেতে চাই না। সে মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী এক তরুণ। তার পুরো মনোযোগ আগামীকালের ম্যাচের দিকে, যা খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে কারণ আমাদের কাছে এমন দুটি দল রয়েছে যাদের যোগ্যতা আছে এবং কেবল একটি দলেরই পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কিলিয়ান ভালো আছে, দলের বাকিদের মতোই, এবং সে আগামীকালের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।’

ফরাসি কোচ কেবল মানসিক প্রস্তুতিই ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট—এমন ধারণাটি উড়িয়ে দিয়ে ৯০ মিনিটের শারীরিক পারফরম্যান্সের দিকেই আবার মনোযোগ আকর্ষণ করেন, ‘দলের মানসিকতা আপনাকে ম্যাচ জেতায় না, তবে আমি খুব ভালো করেই জানি যে এটি আপনার ম্যাচ হারার কারণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত, একমাত্র সত্য সেটাই যা মাঠের মধ্যে ঘটে।’

একটি দীর্ঘ মৌসুম জুড়ে খেলোয়াড়দের যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তা নিয়ে বলতে গিয়ে দেশম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি কীভাবে পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝাতে ফ্রান্সের আগের টুর্নামেন্টের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘এমন কিছু সময় আসে যা কিছু খেলোয়াড়ের জন্য কম-বেশি কঠিন হয়। আপনারা কিলিয়ানের কথা বলছেন, এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সে যে চোট পেয়েছিল, তার পর তার যাত্রা সেখানেই থেমে যেতে পারত। এবং আমরা যদি একটু পিছনের দিকে তাকাই, যদিও আমরা সেই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলাম, তবুও আমরা আক্রমণভাগে ভুগেছিলাম কারণ দুর্ভাগ্যবশত বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল।’

দেশম অধিনায়ক হিসেবে এমবাপের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ বলেন, ‘কিলিয়ানের বিষয়ে ফিরে আসি, সে অধিনায়ক এবং এই ভূমিকাটি পুরোপুরি ধারণ করে চমৎকারভাবে তা পালন করছে। সে খুব ভালো করেই জানে যে তার আচরণ পুরো দলের ওপর প্রভাব ফেলে এবং স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়েরা নিজেদের মধ্যে বিষয়গুলো সামলে নেয়। আমি বলছি না যে তারা নিজস্ব নিয়ম তৈরি করে, তবে সেখানে এক ধরনের বোঝাপড়া থাকে, কারণ এক, দুই বা তিনজন খেলোয়াড় কখনো কখনো এমন পেশাদার বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে পারে যা তাদের স্বাভাবিক রূপের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে দেয়। আর এখানেই সবাইকে সমর্থন করার জন্য দলের ভূমিকা সামনে আসে।’

 

রামিসা হত্যা: দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি শিল্পী সমাজের

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষও। অভিনেতা ও নির্মাতারা এ ঘটনাকে ‘নৃশংস’ ও ‘বর্বর’ উল্লেখ করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা তো পিশাচ দেখিনি, শুধু নাম শুনেছি। কিংবা ভয় দেখিয়ে বলি পিশাচের মতো ভয়ংকর। রামিসাকে যে হত্যা করেছে সে তো মানুষ নয়, একটা ভয়ংকর পিশাচ। আমরা কোন সমাজে বাস করছি? আমরা কি পিশাচের সমাজে বাস করছি?’

তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা কি কেউ আশা করতে পারি? এইভাবে একটা ছোট্ট শিশুকে জীবন দিতে হলো? ওর পবিত্র মুখটা দেখলেই হাহাকার করে উঠি। কীভাবে কেউ পারে এমন জঘন্য কাজ করতে? সেজন্যই জোর দিয়ে বলছি, রামিসার খুনি মানুষ নয়, পিশাচ।’

বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বিচারহীনতার জন্যই এটা হচ্ছে। যদি প্রতিটি ধর্ষণ ও খুনের বিচার হতো, তাহলে উদাহরণ হয়ে থাকত। রামিসা হত্যার বিচার হোক। তাহলেই আমরা পিশাচমুক্ত সমাজ পাব। আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।’

নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘আমি মর্মাহত, আমি ক্ষুব্ধ। রামিসার বিষয়টি খুবই অসহনীয়। মেনে নেওয়ার মতো নয়। জাতি হিসেবে আমরা এতটা নিষ্ঠুর কবে থেকে হলাম? আগেই ছিলাম, নাকি নতুন করে হলাম—এটা আমাকে খুব ভাবাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে চিন্তাভাবনার সময় হয়েছে। গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। রাষ্ট্রের যারা নীতিনির্ধারক, তারা একটু ভালো করে ভাববেন। রামিসার ঘটনা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এটা বর্বর ঘটনা।’

রামিসার হত্যাকারীর বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘যে রামিসাকে খুন করেছে, তার বিচার হোক। কঠিন শাস্তি হোক। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এমন ঘটনা আর না ঘটুক, সেই প্রত্যাশা করছি।’

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘রামিসার ঘটনাটি একটি নৃশংস ঘটনা। তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি আমাদের সমাজের জন্য ভয়াবহ এবং একই সঙ্গে লজ্জারও।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ, রাষ্ট্রও ব্যর্থ। শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারি না। মেয়েটার কথা ভাবতেই ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আমারও মেয়ে আছে। বিষয়টি আমাকে বেশি নাড়া দিচ্ছে।’

বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির সমালোচনা করে বাঁধন বলেন, ‘বিচারহীনতা বড় একটি বিষয়। বিচারগুলোতে দেরি হওয়াটাও বড় সমস্যা। আবার কখনো কখনো আসামিরা ছাড়া পেয়ে যায়। সব মিলিয়ে বিচারটা ঠিকভাবে হলে অপরাধীরা এত বড় অপরাধ করতে সাহস পেত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই রামিসা হত্যার বিচার হোক। এটা উদাহরণ হয়ে থাকুক। আমরা সবাই দেখি, বর্বরতার বিচার হয়েছে।’

অভিনেত্রী তানজিকা আমিন বলেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ হয়ে আছি রামিসার ঘটনায়। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছি। ফেসবুকে ঢুকতে পারছি না। রামিসার ছবি দেখলে প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছি। তার বাবা-মায়ের মুখ দেখে আরও কষ্ট হচ্ছে। কীভাবে সন্তানকে ছাড়া তারা বাঁচবেন—এটা ভেবে গা ছমছম করছে। তাদের কষ্ট মেনে নেওয়ার মতো নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাসায় গেছেন। নিশ্চয়ই রামিসার পরিবার ন্যায়বিচার পাবে। আমি বিচার চাই এবং দ্রুত বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘আর একটি শিশুকেও যেন ধর্ষণ করা না হয়। কঠিন শাস্তি হোক। দ্রুত রায় হোক। মানুষ ভুলে যাওয়ার আগেই যেন বিচার হয়। বিকৃত রুচির মানুষ যেন এই বিচার দেখে ভয় পায়। বিকৃত মানসিকতার মানুষকে নির্মূল করতে হবে।’

ইরানি জাহাজে মার্কিন টর্পেডোর হামলা, সাগরের তলদেশ নিয়ন্ত্রণের নতুন ইঙ্গিত?

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে ভারত মহাসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলার ঘটনায় সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের ‘আইআরআইএস ডেনা’ যুদ্ধজাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অন্তত ৮৬ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন নৌবাহিনী কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে টর্পেডো ছোড়েনি।

এ হামলার পর সাবমেরিন থেকে জাহাজটিতে টর্পেডো ছোড়ার পেরিস্কোপ ফুটেজ ও ইরানি জাহাজের তলিয়ে যাওয়ার একটি ছবি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন।

কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক অ্যালেসিও পাটালানো বলেন, ‘ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ২০ মিনিটের কম সময়ে ডুবে গেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রতলের যুদ্ধ কৌশল আরও আধুনিক হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাবমেরিন যুদ্ধ কখনো বন্ধ হয়নি। ১৯৮০ সালের পর থেকে নৌবাহিনীগুলোর মধ্যে বড় কোনো সংঘাত না হওয়ায় এটি শুধু আড়ালে ছিল।’

সর্বশেষ টর্পেডো হামলার ঘটনা ছিল ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময়। ব্রিটিশ সাবমেরিন ‘এইচএমএস কনকুয়েরর’ আর্জেন্টিনার ক্রুজার ‘বেলগ্রানো’ ডুবিয়ে দিয়েছিল।

এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘চিওনান’ করভেট যুদ্ধজাহাজ টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যায়। এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা হলেও তারা অস্বীকার করেছিল।

ইউরোপের একজন সাবমেরিন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাখ্যা করে বলেন, টর্পেডো জাহাজের গায়ে আঘাত করে না। বরং জাহাজের ঠিক নিচে বিস্ফোরণ ঘটায়।

তিনি বলেন, ‘জাহাজের কয়েক মিটার নিচে বিস্ফোরিত হয়ে বিশাল বুদবুদ তৈরি করে টর্পেডো। এতে জাহাজটিকে একবার উপরে তুলে নিচে ফেলে দেয় এবং এতে জাহাজের মূল কাঠামো দুই খণ্ড হয়ে যায়।’

তার মতে, ইরানের আইআরআইএস ডেনা জাহাজটির ডুবন্ত বস্তু শনাক্তের রেঞ্জ এতটাই সীমিত ছিল যে এটি আসন্ন হামলা বুঝতে সক্ষম হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবমেরিনের অতর্কিত ও অদৃশ্য চলাচল এবং অনেক দূর থেকে টর্পেডো ছোড়ার ক্ষমতা একে ‘যুদ্ধের চূড়ান্ত অস্ত্রে’ পরিণত করেছে।

যখন সমমানের দুই নৌবাহিনীর রাডার ও মিসাইলের পাল্লা সমান থাকে, তখন সাবমেরিনের এই সক্ষমতা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

ইউরোপীয় সামরিক বাহিনীর আরেকটি সূত্র জানায়, যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল থেকে অনেক দূরে টর্পেডো হামলা মূলত চীন ও রাশিয়ার মতো বৃহৎ শত্রুশক্তির উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘শক্তি প্রদর্শনের’ একটি নমুনা।

‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজে হামলার অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র আকাশ, সমুদ্র ও এমনকি সমুদ্রতলে আধিপত্য বিস্তার করছে। তারা সবখানেই আছে, শত্রু খুঁজে বের করতে ও ধ্বংস করতে সক্ষম,’ বলছে ওই সূত্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরে বিপর্যস্ত হওয়ার পরও নৌবহর আধুনিকীকরণে অবহেলা করলেও, সাবমেরিন উন্নত করতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

চীনও দীর্ঘ বছর ধরে নৌবাহিনী ও সাবমেরিন বহর উন্নত করছে।

মার্কিন সাবমেরিন ফোর্সের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল রিচার্ড সাইফ চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংসদীয় কমিটিকে বলেছেন, চীনের ‘দুর্ধর্ষ’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাবমেরিনগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘদিনের সমুদ্রতলের আধিপত্যের জন্য চ্যালেঞ্জ।

জন্মনিরোধক সংকটে দেশে বাড়ছে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ

দেশে জন্মনিরোধক সামগ্রীর চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এলাকায় সরকারিভাবে সরবরাহ করা সব ধরনের জন্মনিরোধক ইতোমধ্যে ফুরিয়ে গেছে। এতে অনিচ্ছাকৃত বা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের (ডিজিএফপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে চলে আসা এই সরবরাহ ঘাটতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জন্মনিরোধক পদ্ধতি কনডম। বর্তমানে ৩৯৭টি উপজেলায় এই সামগ্রীটি সম্পূর্ণ স্টক-আউট বা মজুতহীন অবস্থায় রয়েছে।

ডিজিএফপি সারা দেশে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে পাঁচ ধরনের জন্মনিরোধক—কনডম, খাওয়ার বড়ি (ওরাল পিল), আইইউডি (ইন্ট্রা ইউটারিন ডিভাইসেস), ইনজেকশন এবং ইমপ্ল্যান্ট বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকে।

২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২২০টি উপজেলায় খাওয়ার বড়ির মজুত শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি দেশের সবকটি উপজেলাতেই ইমপ্ল্যান্ট নেই। এছাড়া ৩৫৩টি উপজেলায় আইইউডি এবং ১৬৯টি উপজেলায় ইনজেকশনের মজুতও ফুরিয়ে গেছে।

গত এক বছরে জন্মনিরোধক সামগ্রীর সরবরাহ ক্রমাগত কমেছে। উদাহরণ হিসেবে, গত বছরের জানুয়ারিতে যেখানে ৫৩ দশমিক ৩১ লাখ কনডম সরবরাহ করা হয়েছিল, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা কমে মাত্র ৭ দশমিক ৪৯ লাখে নেমে এসেছে, অর্থাৎ ৮৫ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চলমান এই সংকট জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন গত পাঁচ দশকের মধ্যে দেশে প্রথমবারের মতো মোট প্রজনন হার (টিএফআর) বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, জন্মনিরোধক ব্যবহারের হার কমে যাওয়া এবং প্রজনন হার বৃদ্ধি পাওয়া—দুটোই ইঙ্গিত দেয় যে তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি ঠিকমতো কাজ করছে না।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জন্মনিরোধক সরবরাহে এই বিঘ্ন সরাসরি নিম্নবিত্ত মানুষকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে, কারণ বাজার থেকে কিনে ব্যবহারের সামর্থ্য তাদের অনেকেরই নেই। ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ বেড়ে যেতে পারে।

অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম আরও জানান, দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকট প্রজনন হার বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করবে।

ডিজিএফপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব ধরনের জন্মনিরোধক কেনার জন্য গত বছরের নভেম্বরে অনুমোদিত বড় প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পুরো কেনাকাটার প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে চার মাস সময় লাগবে।

সংকট সামাল দিতে ডিজিএফপি জরুরি ভিত্তিতে সীমিত আকারে কনডম ও খাওয়ার বড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এতে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

গত নভেম্বরে প্রকাশিত ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫ (মিকস)’-এর ফল প্রকাশের তিন মাস পর এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামনে এলো। ওই জরিপে দেখা গেছে, প্রজনন হার (টিএফআর) ২০১৯ সালের ২ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, জন্মনিরোধক ব্যবহারের হার এবং আধুনিক পদ্ধতির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ—দুটোই কমেছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, জন্মনিরোধক সামগ্রীর সংকটের সঙ্গে প্রজনন হার বাড়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যেহেতু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ সরকারি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, তাই সরবরাহ কমে যাওয়া জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউনিসেফের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের জন্মনিরোধক ব্যবহারের হার ২০১৯ সারে সর্বোচ্চ দেখা গিয়েছিল, ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ। সেখান থেকে কমে এখন ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। আধুনিক জন্মনিরোধক পদ্ধতির চাহিদা পূরণের হারও ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কনডম সরবরাহ ছিল ৯৯ দশমিক ২৪ লাখ, খাওয়ার বড়ি ৭২ দশমিক ৩৫ লাখ, ইনজেকশন ৯ দশমিক ৫ লাখ, আইইউডি শূন্য দশমিক ১৪ লাখ এবং ইমপ্ল্যান্ট শূন্য দশমিক ৩৫ লাখ।

ধীরে ধীরে এই মজুত কমতে কমতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। তখন কনডম সরবরাহ দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৫৪ লাখে। খাওয়ার বড়ির মজুত ছিল ২১ দশমিক ৯৬ লাখ, ইনজেকশন ৪ দশমিক ৮২ লাখ, আইইউডি ৩ হাজার ২৮৬টি এবং ইমপ্ল্যান্ট ২ হাজার ৩২৫টি।

ডিজিএফপির তথ্যমতে, ৩৯৭টি উপজেলায় কনডম পুরোপুরি শেষ। ৫০টি উপজেলায় মজুত শেষের পথে, সর্বোচ্চ আর ১৮ দিন চলবে। আরও ৯টি উপজেলায় মজুত প্রয়োজনের তুলনায় কম, সর্বোচ্চ ৪৮ দিন চলতে পারে। 

মাত্র ৭টি উপজেলায় সন্তোষজনক মজুত রয়েছে (৫১ থেকে ৯০ দিন চলবে), আর ২৪টি উপজেলায় তিন মাসের বেশি চলার মতো মজুত আছে।

খাওয়ার বড়ির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি সংকটজনক। ২২১টি উপজেলায় কোনো মজুত নেই। ১২৫টি উপজেলায় মজুত প্রায় শেষ, ৬৩টি উপজেলায় কম। মাত্র ৪১টি উপজেলায় সন্তোষজনক এবং ৩৭টি উপজেলায় অতিরিক্ত মজুত রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের এক জেলা উপপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে সরবরাহ সংকট চলছে। সামান্য পরিমাণে কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

তিনি জানান, ইনজেকশনের মজুত এক মাসেরও কম তাদের কাছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সেবাগ্রহীতাদের চাপে থাকছেন। এই সংকটের বিরূপ প্রভাব দুই-তিন বছর পর দৃশ্যমান হবে।

লজিস্টিকস অ্যান্ড সাপ্লাই ইউনিটের পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, সরকার গত নভেম্বরে ১ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকার একটি ক্রয় প্রকল্প অনুমোদন দিলেও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাত্র গত সপ্তাহে।

তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি জানান, পরিচালক এখন ক্রয়প্রক্রিয়া শুরু করবেন, তবে তা শেষ করতে অন্তত চার মাস লাগবে।

বর্তমানে হাতে থাকা তহবিল দিয়ে ডিজিএফপি ১ কোটি ২০ লাখ কনডম এবং ৩০ লাখ খাওয়ার বড়ি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

রাজ্জাক বলেন, ঈদুল ফিতরের পর কনডম হাতে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, তবে খাওয়ার বড়ি পেতে আরও সময় লাগবে। এই পরিমাণ সামগ্রী সংকট মোকাবিলায় খুবই সামান্য।

ডিজিএফপি কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় জন্মনিরোধকের ববহার কমে যায়। কিন্তু তৎকালীন সরকার এই কমার হার বাড়ানোর ব্যাপারে তৎপর হয়নি।

২০২৪ সালের জুনে ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি’ (এইচপিএনএসপি) শেষ হওয়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়, কারণ এর আওতায় আগের বেশিরভাগ কেনাকাটা হতো।

যোগাযোগ করা হলে ডিজিএফপি মহাপরিচালক আশরাফী আহমদ বলেন, গত বছর সামান্য কিছু কেনাকাটা ছাড়া ২০২৩ সাল থেকে আমরা কোনো জন্মনিরোধক কিনতে পারিনি।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন, এই সংকটের ক্রমপুঞ্জিত প্রভাব রয়েছে। আমরা এটা অস্বীকার করতে পারি না… সত্য বলতে, তৎকালীন সময়ে পরিবার পরিকল্পনা খাত যথাযথ অগ্রাধিকার পায়নি।

প্রজনন হার বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, এই সংকট রাতারাতি কাটবে না, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিয়েছে এবং সংকট নিরসনের বিষয়টি তাদের নজরে আনা হবে।

স্পটিফাই স্ট্রিমিংয়ে বিভ্রাট

মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইয়ে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বিভ্রাট শনাক্তকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর।

ওয়েবসাইটে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ১২ মিনিট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী স্পটিফাই ব্যবহারে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশেও একই সমস্যা পড়েন ব্যবহারকারীরা।

ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, স্পটিফাইয়ের মিউজিক স্ট্রিমিং সেবায় প্রবেশ করতে সমস্যায় পড়ছেন ব্যবহারকারীরা। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্পটিফাই বিভ্রাটের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকেও ২০টি সমস্যার প্রতিবেদন জমা পড়েছে।

বিভ্রাটের বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে স্পটিফাই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘আমরা এই মুহূর্তে কিছু সমস্যার বিষয়ে অবগত আছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

শেখ হাসিনার পালানোর অভ্যাস বহু পুরোনো: মির্জা ফখরুল

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, জামায়াতের উত্থান এবং বর্তমান সরকারের পাঁচ মাস নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুই বছর পার হয়েছে। রাজপথের দাবি অনুযায়ী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন কতটা দৃশ্যমান হয়েছে এবং মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের হাত ধরে দীর্ঘ সংস্কারপ্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পরে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফেরে।

দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের বেশি সময় পর, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার এখন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার, প্রশাসনে সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

এর পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং ভারত থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়গুলো নিয়েও রাজনীতিতে আলোচনা চলছে।

এই প্রেক্ষাপটে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন, সরকারের কার্যক্রম, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, বিরোধী দলের রাজনীতি এবং ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দ্য ডেইলি স্টার: ১৭ বছর রাস্তায় আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের পর আবার জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরেছে। এখন আপনি মন্ত্রী। এই পালাবদলকে কীভাবে দেখছেন?

মির্জা ফখরুল: গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি।

বিএনপির জন্য সরকারে আসা নতুন কিছু নয়। দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। ফ্যাসিস্ট (ফ্যাসিবাদী) হাসিনা সরকার রাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ায় এই অভ্যুত্থানের আগে থেকেই আমরা দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করতে শুরু করেছিলাম।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে আমরা সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করেছি। এখন আমাদের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের আশু চাহিদার বিষয়গুলো একই সঙ্গে দেখতে হচ্ছে।

আমাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরাও সেই প্রত্যাশা পূরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এর জন্য সার্বক্ষণিক মনোযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, যার কারণে আমার নিজের ব্যস্ততাও অনেক বেড়ে গেছে।

দ্য ডেইলি স্টার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন?

মির্জা ফখরুল: এই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হতে পারে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ছিল।

১৫ মাস ধরে সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলেছে। বিএনপি, ছাত্রনেতা, জামায়াত ও অন্যান্য দল একসঙ্গে বসে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছে।

তবে কিছু লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি এবং বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাবে আমরা কখনো একমত ছিলাম না এবং এ বিষয়ে আমরা ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছিলাম। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেই আমরা গণভোটে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু গণভোটের চারটি প্রশ্নে বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা জুলাই সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

জুলাই সনদে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করবে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে সেখানে অংশ নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এই আলোচনা থেকে দূরে রয়েছে। এর বদলে তারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় তাদের এই ভূমিকা নেতিবাচক।

বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য জামায়াতের উচিত সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে যোগ দেওয়া।

দ্য ডেইলি স্টার: বেশ কয়েকটি দলের দাবি, জুলাই অভ্যুত্থান যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

মির্জা ফখরুল: কিছু মানুষের হতাশা যুক্তিসংগত। কারণ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং দুর্বল অর্থনৈতিক পরিকল্পনাসহ গভীর কিছু সংকট রেখে গেছে। ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষানীতির কারণে অনেক তরুণ সাধারণ বিষয়ে ডিগ্রি নিলেও তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা নেই। ফলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

দেশের অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কোনো পরিকল্পনার বদলে মূলত প্রকল্পভিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট, বিশেষ করে শহরের মধ্যবিত্তের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।

কোনো দেশ রাতারাতি বদলায় না। পরিবর্তনের জন্য সময় এবং ধৈর্যের প্রয়োজন। প্রশাসন ও শিক্ষাব্যবস্থায় মেধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করা চলবে না। তবেই দেশ ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের দিকে এগোতে পারবে। বিএনপি সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

দ্য ডেইলি স্টার: অন্তর্বর্তী সরকারের সার্বিক কার্যক্রমকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মির্জা ফখরুল: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অর্জন হলো প্রয়োজনীয় সংস্কার কমিশনগুলো গঠন করা এবং ভবিষ্যতের পরিবর্তনের জন্য একটি দিকনির্দেশনা দেওয়া। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারা বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে পেরেছিল।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার সব সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তাদের প্রধান সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। সরকার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়া শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধির স্থায়ী সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়।

দ্য ডেইলি স্টার: সম্প্রতি শেখ হাসিনা বলেছেন যে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন।

মির্জা ফখরুল: এটা আমার কাছে হাসিনার স্টান্ট পলিটিক্স মনে হয়, যেহেতু তিনি সব সময় এমন রাজনীতিই করেন। উনার দেশে ফিরে আসার পরিণতিটা যদি উনি চিন্তা করেন, তাহলে তো উনাকে আবার ভাবতে হবে। কারণ, আসার সঙ্গে সঙ্গে উনি গ্রেপ্তার হবেন। ইতিমধ্যে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আছে। উনি আসবেন, তাকে এত সাহসী বলে আমার মনে হয় না।

কারণ, আমি বরাবরই দেখেছি, বহু আগের কথাই বলি। উনি দেশে ফিরেছেন এমন একটা সময়ে, যখন জিয়াউর রহমান সাহেব তাকে আসার সুযোগ করে দিলেন। তারপরেই, যেদিন জিয়াউর রহমান সাহেব শহীদ হলেন, ওই দিন কিন্তু উনি পালিয়ে যাচ্ছিলেন। উনি ত্রিপুরার কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। কেন? উনার তো ঢাকায় ফিরে এসে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার কথা ছিল। আরে উনি তো তখন বড় নেত্রী, উনি তো দেখবেন যে কী হচ্ছে। পালিয়ে যাচ্ছিলেন কেন? এই পালানোর ব্যাপারটা তার বহু আগে থেকেই আছে।

দ্য ডেইলি স্টার: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এখনো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আপনার কি মনে হয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে?

মির্জা ফখরুল: এটা আমি বলতে পারব না। তবে ভারতের তাকে ফেরত দেওয়া উচিত। এ জন্য যে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটাকে ভালো করার ক্ষেত্রে এটা একটা বড় বাধা হয়ে আছে। ফেরত দিলে তারা ভালো কাজ করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কটা আরও ভালো হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: যত দিন হাসিনাকে ফেরত না দেবে, তত দিন কি সম্পর্কে একটা নেতিবাচক প্রভাব থেকেই যাবে?

মির্জা ফখরুল: একটা চাপ তো থেকেই যাচ্ছে। এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি যে ক্ষতি করেছে, সেই লোকটাকে রেখে দিয়েছেন, তো ওখানে স্বভাবতই আমাদের তো একটা সমস্যা তৈরি হয়। আর ওখান থেকে বসে তিনি সমানে রাজনীতি করছেন। এতে একটা সমস্যা তৈরি হয়।

দ্য ডেইলি স্টার: একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনার কি মনে হয়, ১০ বছর পর আওয়ামী লীগের অবস্থান কোথায় থাকতে পারে?

মির্জা ফখরুল: আওয়ামী লীগের মূল জায়গাগুলোতেই আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে আগে মানুষের ধারণা ছিল যে এটি একটা লড়াকু পার্টি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা একটা দল। কিন্তু গত ১৫ বছরে তারা সেটা প্রমাণ করতে পারেনি। বরং আমাদের আগের কথাগুলোই প্রমাণ করেছে যে আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটি গণতন্ত্রবিরোধী দল। তারা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। তারা একদলীয় শাসন করতে চায়। এটা মানুষ এখন বিশ্বাস করে। কারণ মানুষ অতীতটাকে এ ক্ষেত্রে মিলিয়ে দেখেছে।

আরেকটা হয়েছে যে তৃণমূল পর্যন্ত তাদের নেতা-কর্মীরা এমন অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, যা মানুষ এখনো ভুলতে বা সহ্য করতে পারে না…আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে…এটা মানুষ সহ্য করতে পারে না। আমার এলাকায় তো আওয়ামী লীগ প্রধান এলাকা। কিন্তু এখন ওখানেই সাধারণ মানুষ এটা চায় না যে আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসুক বা ক্ষমতায় যাক। তারা বিএনপির সমালোচনা করবে, জামায়াতের সমালোচনা করবে ঠিকই আছে, কিন্তু আওয়ামী লীগকে তারা ঘৃণা করে। এই ঘৃণাটা আওয়ামী লীগ নিজেই তৈরি করেছে।

নির্বাচনগুলো ঠিকমতো না করা, রাজনীতি ভুল করা…গায়ের জোরে কি মানুষের মন জয় করা যায়? চিন্তা করতে পারেন? লক্ষ লক্ষ মানুষ শিশু-বৃদ্ধ সবাই নেমে এসেছে রাস্তায়। এটা অভূতপূর্ব। একটা মাত্র কারণ যে, তারা চেয়েছিল যে না, এখানে আমরা হাসিনাকে দেখতে চাই না। আমরা আওয়ামী লীগকে দেখতে চাই না।

সুতরাং যারা প্রচার করে যে হাসিনা ফিরে আসবে, আওয়ামী লীগ আবার আসবে…আওয়ামী লীগ কোনো দিন আর উঠতে পারবে না। যতক্ষণ না তারা তাদের পুরো বিষয়টি পরিবর্তন করে। এখনো আওয়ামী লীগ ধমকিয়ে কথা বলে, মেরে ফেলব বলে।

দ্য ডেইলি স্টার: এবারের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের ফল দলটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা। জামায়াতের এই উত্থানকে আপনি কীভাবে দেখছেন? আগামী নির্বাচনগুলোতে দলটির প্রভাব আরও বাড়বে বলে মনে করেন কি?

মির্জা ফখরুল: এটা আমারও একটা উদ্বেগের কারণ। আওয়ামী লীগের ভুল রাজনীতির কারণে…রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি করতে না দেওয়া, অত্যাচার-নির্যাতন করার ফলেই কিন্তু এই ডানপন্থীদের উত্থানটা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ যদি আওয়ামী লীগ রাখত তাহলে, আমরা ঠিকমতো কাজ করতে পারতাম, জামায়াতও যদি ঠিকমতো কাজ করতে পারত, তাহলে কিন্তু আজকে এই উত্থানটা হতো না।

এটা কিন্তু গণতন্ত্রের বিচ্যুতির কারণেই হয়েছে। গত বছরগুলোতে যে ঘাটতি ছিল, তারই পরিণতি এটা।

এখানে আরেকটা ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের একটা বড় অংশ জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। আমাদের স্টাডিও তাই বলে। এটাও একটা কারণ। আরেকটা কারণ হচ্ছে যে এবারের নির্বাচনে নতুন একটা ঘটনা ঘটেছে। এবার সনাতন ধর্মের মানুষেরা কিন্তু বিএনপিকে অনেক বেশি ভোট দিয়েছে। কারণটা হচ্ছে, বিএনপি একটা মধ্যপন্থী উদার রাজনীতিকে রিপ্রেজেন্ট করে। যখন তুলনার সময় এসেছে, তখন তারা অবশ্যই বিএনপিকে সমর্থন করেছে।

দ্য ডেইলি স্টার: বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মির্জা ফখরুল: এখন পর্যন্ত জামায়াত কিন্তু নেতিবাচক কিছু করেনি। তবে সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে তাদের ভূমিকাটা আমি মনে করি ইতিবাচক হচ্ছে না। তাদের উচিত সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটিতে আসা এবং এখানে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলোকে নির্ধারণ করা, যেগুলোতে সমস্যা আছে। এই একটি বিষয় ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে তারা ইতিবাচক ভূমিকাই রেখেছে।

দ্য ডেইলি স্টার: ৫ মাসের বেশি পার হওয়া বিএনপি সরকারের মূল্যায়ন কীভাবে করবেন?

মির্জা ফখরুল: আমি তো মনে করি এটা অনেক বড় সাফল্য। পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় জিনিস হয়েছে, সেটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ইশতেহারে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ করার চেষ্টা করছি।

ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী, খাল খনন কর্মসূচি, কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। দুস্থ খেলোয়াড়দের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মধ্য দিয়ে মেধা অন্বেষণের (ট্যালেন্ট হান্টিং) একটা কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নকলটা প্রায় বন্ধ হয়েছে। এটা একটা বড় অর্জন। ভালোভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজানোর আবার নতুন করে চেষ্টা করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও সেই পরিবর্তন এসেছে।

মিডিয়া এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। কোথাও থেকেও কোনো ফোন আসে না। কোনো চাপ নেই। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। অন্যদিকে একটা বাজেট হয়েছে, অর্থনীতিকে আবার সচল করা, অর্থনীতিকে ঠিক জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা, মানুষের চাপ কমানো—এসব কাজ শুরু হয়েছে। আমি মনে করি যে এই পাঁচ মাসে সরকারের অনেক সাফল্য রয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার: গত ৫ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্টি আছে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নিয়ে মানুষের প্রশ্ন আছে।

মির্জা ফখরুল: একটি দেশে রাতারাতি সব ঠিক হয়ে যাবে, এটা হয় না। আমেরিকার হিসাব নিয়ে দেখেন, সেখানেও প্রতি মুহূর্তে অপরাধ হচ্ছে। ইউরোপেও তাই হয়। এটা একেবারে নির্মূল হয়ে যাবে না।

এই ব্যাপারে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে রাজনৈতিকভাবে কোনো প্রাধান্য বা আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কি না। অনেকগুলো ক্ষেত্রে দলীয় লোকজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুতরাং রাতারাতি ঠিক হয়ে যাবে এমন মনে করার কোনো কারণ তো নেই।

তারপর পুলিশ বিভাগ সম্পূর্ণ দলীয়করণ হয়ে গিয়েছিল। সেটাকে আবার ঠিক করে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে যতটা সম্ভব। যারা সরাসরি হত্যাযজ্ঞে যুক্ত ছিল, তাদেরকে বাদ দিয়ে আবার ভালো পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। নতুন করে অফিসার নেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সুতরাং কাজ চলছে, কিন্তু রাতারাতি এটা সম্ভব না।

দ্য ডেইলি স্টার: কিছুদিন আগে বলেছিলেন, ‘আমার চার মাস মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি কিছুই বদলায়নি। যারা ঘুষ খেত, তারা একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে। যারা ভালো কাজ আটকে দিত, একইভাবে আটকে দিচ্ছে।’ আপনার কেন এমন মনে হলো?

মির্জা ফখরুল: দুর্ভাগ্যক্রমে প্রশাসনের মধ্যে যারা আছেন, তারা অনেকেই এখনো বদলাননি। আগের মতোই তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন…আগের সরকারের সঙ্গে যারা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন, এখন এসে এই সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন অনেক ক্ষেত্রে। তারাই সমস্যাগুলো তৈরি করছেন।

এই ক্ষেত্রে যারা ভালো কাজ করেন, তারা সব সময় সেই সুবিধাটা পান না। কারণ আমরা পুরোনো পদ্ধতিটাকে পরিবর্তন করতে পারিনি। তবে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনও আসবে।

দ্য ডেইলি স্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। তিনি দীর্ঘ সময় অফিস করছেন, ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন এবং তার নিরাপত্তাবহরও ছোট করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অন্যদেরও এসব অনুসরণ করতে উৎসাহিত করছেন। মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা কি প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করছেন?

মির্জা ফখরুল: মন্ত্রিসভার যারা সদস্য এরাই কি দেশটাকে চালান? তারা নীতি (পলিসি) দেন। তারা কাজ করার চেষ্টা করেন, তারা তো মাঠে কাজ করেন না। বেসামরিক আমলাদের অনেক বেশি ধরতে হবে। তাদেরকেই মাঠে কাজটা করতে হবে সবচেয়ে বেশি।

মন্ত্রিসভার সবাই খুবই সক্রিয়। প্রত্যেকবার দেখবেন আমাদের মন্ত্রীরা ছুটির দিন রাতেই এলাকায় চলে যান। তারপর সকালে এসে মিটিং করেন। সারা দিন কাজ করেন। সচিবালয়ে যেহেতু অনেকক্ষণ কাজ করেন প্রধানমন্ত্রী, সে কারণেও মন্ত্রীদের আসা-যাওয়া থাকে। ফলে কাজ সবাই করছেন।

দ্য ডেইলি স্টার: সম্প্রতি বেশ কয়েকটি নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা দেখেছি। ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পদে থাকা নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে, নাকি দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক বিবেচনাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে?

মির্জা ফখরুল: যোগ্যতা আছে বলেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একটি লোক বিএনপি করে বলে তার জন্য পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না? এটা তো হতে পারে না, একে গণতন্ত্রও বলে না।

আমেরিকার গণতন্ত্রে বা প্রেসিডেন্টশাসিত সরকারে যখন প্রেসিডেন্ট আসেন, তখন তিনি তার দলের লোকজনদের নিয়েই প্রশাসনকে সাজান। এটাই তাদের প্রথা ও ঐতিহ্য। এখানে দলের লোক হলেই সে গভর্নর হতে পারবে না, দলের লোক হলে সে কোনো চেয়ারম্যান হতে পারবে না—এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। যদি যোগ্যতা থাকে অবশ্যই যাবে। যোগ্যতা আছে বলেই তো দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক ব্যক্তি হতেই পারে। কিন্তু তার যদি যোগ্যতা থাকে, তার যদি মেধা থাকে, তার স্বচ্ছতা থাকে, তার সততা থাকে, তাহলে কেন নিয়োগ পাবে না?

গভর্নর সম্পর্কে এখন সবাই বলবে…ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞেস করে দেখেন তিনি কতটা কার্যকর। তিনি অত্যন্ত স্বচ্ছ, সৎ এবং সৃজনশীল একজন মানুষ। এখন পর্যন্ত যে ব্যবস্থাগুলো তিনি আসার পর নিয়েছেন, সেগুলো কিন্তু অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই কাজ করছে।

এখানে কিছু রাজনৈতিক ও মেধাবী লোক লাগবে। চিন্তাশীল লোক লাগবে। আপনি শুধু ওই আমলা দিয়ে কাজ করতে চাইলে কোনো কিছু অর্জন করতে পারবেন না। সেখানে রাজনীতি অবশ্যই থাকতে হবে।

আইয়ুব খানও বহু কাজ করেছিলেন। এরশাদও বহু কাজ করেছিলেন। হাসিনাও বেশ কয়েকটা কাজ করে গেছেন। কিন্তু রাজনীতিটা তারা করতে পারেননি। সেখানে এই যে প্রতিষ্ঠানগুলো, এখানে যদি রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা কাজ করে, স্বচ্ছতা থাকে, সততা থাকে, যোগ্যতা থাকে, তাহলে কেন নিয়োগ হবে না?

দ্য ডেইলি স্টার: দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় কি মনে হয়, একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করাই বিএনপি সরকারের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে?

মির্জা ফখরুল: নির্বাচন অবশ্যই খুব শান্তিপূর্ণ হবে। মাঠে যা দেখি, তাতে নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণ হবে। গতবার তো অনেকে ধারণা করেছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হয়তো রক্তপাত হবে। হয়েছে? হয়নি তো। এবারও দেখবেন অত্যন্ত সুন্দর নির্বাচন হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: আওয়ামী লীগ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?

মির্জা ফখরুল: এটা বলতে পারব না। কারণ, ওই রকম তো নিয়মই নেই। দল হিসেবে অংশগ্রহণ করার নিয়মই নেই। আইনে এখনো এমন বিধান নেই।

দ্য ডেইলি স্টার: বিএনপি কি চীনের দিকে বেশি ঝুঁকে গেছে?

মির্জা ফখরুল: এগুলো আপনাদের ভুল ধারণা। বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষে শুধু কোনো এক পক্ষের দিকে যাওয়াটা সম্ভবই না। সব দিক হিসাব করেই চলতে হবে। কাউকেই শত্রু বানানো যাবে না, কাউকেও অবজ্ঞা করা যাবে না। সবাইকে বন্ধু করেই চলতে হবে।

দ্য ডেইলি স্টার: সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে বাধা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। দলটি এসব ঘটনার জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা আছে বলে মনে হয়?

মির্জা ফখরুল: দুই-একটা ঘটনা ঘটেছে এটা আমি অস্বীকার করব না। অবশ্যই দু-একটা ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এটা দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নয় যে তাদেরকে বাধা দিতে হবে। বরং আমাদের কথা হচ্ছে যে, যার যার কাজ তাকে করতে দাও। কোথাও যদি ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে ওইটা স্থানীয়ভাবে ওইখানকার সমস্যা। এটি জাতীয় কোনো সমস্যা নয়।

সরবরাহ কমায় রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে পেয়ারা

পেয়ারার জন্য বিখ্যাত পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাগানগুলোতে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ভরা মৌসুমে যেখানে বাজারে পেয়ারার সরবরাহ বেড়ে দাম কমে যায়, সেখানে চলতি বছরে উৎপাদন কমেছে। ফলে সরবরাহ কমে ভালো মানের পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে রেকর্ড দামে। আকার ও মানভেদে প্রতি মণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকারও বেশি দরে।

চাষিরা জানান, পেয়ারা সংগ্রহের ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে। এই মৌসুম আরও দেড় মাস চলবে। বিগত বছরগুলোতে মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পেয়ারা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে ভরা মৌসুমে দাম নেমে আসে ৪০০ টাকা বা তারও নিচে। কিন্তু এ বছর ফলন কমায় পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক বেশি দামে।

চাষিদের মতে, গাছে ফুল আসার সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন কমেছে।

তাদের ভাষ্য, কেবল এবার না গত কয়েক বছর ধরেই পেয়ারার ফলন কমছে। তবে যতটুকু তারা স্মরণ করতে পারেন, এ বছর উৎপাদন হয়েছে সবচেয়ে কম। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গাছে পেয়ারা হয়েছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার শতদাশকাঠী গ্রামের কৃষক অরুণ মজুমদার জানান, ভরা মৌসুমে সাধারণত গাছে এত বেশি পেয়ারা থাকে, বেশিরভাগ সময় সব ফল সংগ্রহ করাও সম্ভব হয় না। ফলে অনেক পাকা পেয়ারা গাছেই নষ্ট হয় কিংবা মাটিতে ঝরে পড়ে। কিন্তু এ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

অরুণ মজুমদার বলেন, ‘এবার বাগানে খুবই অল্প পরিমাণ ফল আছে। ফলের স্বল্পতার কারণেই বর্তমানে স্বাভাবিকের তুলনায় পেয়ারার দাম বেশি।’

চাষিরা জানান, এ বছর অন্তত অর্ধেক পেয়ারায় ছিদ্র বা কালো দাগ দেখা দিয়েছে। ফলে এসব পেয়ারা বাজারে বিক্রির অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

একই গ্রামের বাদল মিস্ত্রি জানান, ফলের ক্ষতির কারণে সংগ্রহ করা পেয়ারার মাত্র অর্ধেক বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা পেয়ারা বাগানে কীটনাশক ব্যবহার করাও কঠিন ও ব্যয়বহুল।

অনুপ হালদার নামের আরেক চাষি জানান, ভরা মৌসুমে প্রতিদিন বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু এ বছর ফলন মারাত্মক কমায় প্রতি বাগান থেকে ফল সংগ্রহের জন্য অন্তত দুই দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অবশ্য ফলন কম হলেও পুরো মৌসুমজুড়ে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা খুশি বলে জানান তিনি।

পেয়ারার উৎপাদন কমার প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ীদের ওপরও। স্থানীয় কমিশন এজেন্ট গৌতম হালদার জানান, প্রতিবছর পাইকারি ক্রেতাদের পেয়ারা কিনতে সহযোগিতা করে তিনি ভালো আয় করেন। তবে এ বছর ফলন এতটাই কম যে, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পেয়ারা সরবরাহ করতে পারছেন না।

পটুয়াখালী থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, এ বছর বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বিগত বছরে চাষিরা পেয়ারা কেনার জন্য তাদের অনুরোধ করতেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি এমন যে, পেয়ারা বিক্রির জন্য চাষিদের কাছে তাদেরই অনুরোধ করতে হচ্ছে। ফলে এক ট্রাক ভর্তি করার মতো পর্যাপ্ত পেয়ারা সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পেয়ারা সংগ্রহের মৌসুমে প্রতিবছর নেছারাবাদ ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি হাটে বড় বড় পণ্যবাহী ট্রলার ও রাস্তাজুড়ে সারি সারি ট্রাক দেখা যায়। কিন্তু এ বছর বিভিন্ন হাট ঘুরে হাতে গোনা কয়েকটি ট্রাক ও পিকআপভ্যান দেখা গেছে।

জানতে চাইলে নেছারাবাদ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুন নবী, উৎপাদন কম হলেও চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ফলন কমায় এবার পেয়ারার মৌসুম নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, ছত্রাকজনিত অ্যানথ্রাকনোজ, বিটল পোকা ও ফলের মাছির আক্রমণে পেয়ারায় গুটি বা কালো দাগ হয়। কৃষকেরা এসব দমনের জন্য কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করায় এসব রোগ ও পোকার আক্রমণে পেয়ারা নষ্ট হচ্ছে।

এদিকে নেছারাবাদ ও ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নেছারাবাদে ৬০০ হেক্টর ও ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ২৯৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়েছে।

এই দুই উপজেলার প্রধানত আটঘর-কুড়িয়ানা, জলাবাড়ি, কীর্ত্তিপাশা ও নবগ্রাম ইউনিয়নে পেয়ারা উৎপাদিত হয়। দক্ষিণাঞ্চলের এই দুই উপজেলার উৎপাদিত পেয়ারা ট্রাক, পিকআপভ্যান এবং মাঝেমধ্যে বড় ট্রলারে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়।

বিশ্বকাপ ট্রফিই চূড়ান্ত লক্ষ্য, বলছেন মরক্কো কোচ

গত বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দময় ফুটবল খেলে সেমিফাইনালে উঠে অনেককেই চমকে দিয়েছিল মরক্কো। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা। গত কয়েক বছরে মরক্কোর ফুটবলের মান প্রশংসা কুড়িয়েছে ফুটবল বোদ্ধাদের। তবে মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলছেন, এবার আগেভাগে কোনো প্রশংসা বাক্য তিনি শুনতে চাইছেন না। কারণ তার চূড়ান্ত লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়। 

কোয়ার্টার ফাইনালে এবারের আসরের অন্যতম সেরা দল ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো। গত বিশ্বকাপে এই ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরেই স্বপ্নযাত্রা শেষ হয়েছিল তাদের। দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে ওয়াহবি তার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। 

ওয়াহবি বলেছেন, ‘যারা যারা বলবে তোমরা এখন পর্যন্ত যা করেছো দুর্দান্ত করেছো, আমি তাদের কথা শুনব না। আমি যা বলার টুর্নামেন্ট শেষে বলব, কারণ আমরা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারি। টুর্নামেন্ট শেষে আমরা সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করব’। 

গতবার ফ্রান্সের কাছে আটকে গেলেও এবার বিশ্বকাপ ট্রফিকেই পাখির চোখ করছেন ওয়াহবি, ‘ফ্রান্স ফেভারিট, কিন্তু ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে যেতে যা যা করা দরকার আমরা সব করব। এই পর্যন্ত এসেছি মানে আমরা অনেক ভালো করেছি, বাকি যা পব সব বোনাস- এই জাতীয় ধারণা আমি একদম পছন্দ করি না। আসল বোনাস হলো বিশ্বকাপ ট্রফি। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই পর্যন্ত এসেছি, এবং আরও সামনে যাব’। 

দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারাতে নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও চেষ্টা করতে চান ওয়াহবি, ‘ফ্রান্সের মতো আমরাও দল হিসেবে ক্রমাগত উন্নতি করেছি। মূল বিষয় হলো কোনো ধরণের আক্ষেপ ছাড়া ম্যাচটা খেলা। এই ম্যাচে আমাদের আরও উন্নতির জায়গা রয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত খারাপ খেলিনি, কেবল এটুকু ভেবেই সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। আমাদের নিজেদের সামর্থ্যের ২০০০ শতাংশ উজাড় করে দিয়ে খেলতে হবে’। 

ফ্রান্সকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যেতে পারলে মরক্কোই হবে প্রথম আফ্রিকান দেশ, যারা পরপর দুটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলবে।