27.2 C
Dhaka
Home Blog

বাটলারের সেঞ্চুরি, ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ইংল্যান্ড

সাউদাম্পটনে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৫৬ রানে হারিয়ে এই সংস্করণের আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে ইংল্যান্ড। জস বাটলারের বিস্ফোরক সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে স্বাগতিকরা দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে।

শনিবার টস হেরে আগে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২৫৭ রান তোলে ইংল্যান্ড। জবাবে পুরো ওভার খেলে সফরকারীরা পৌঁছাতে পারে ৮ উইকেটে ২০১ রান পর্যন্ত।

ভারত দল যানজটে আটকা পড়ায় টস হতে দেরি হয় পৌনে এক ঘণ্টা। তবে তাদের ভাগ্যের কোনো বদল হয়নি। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তারা ইংল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ৪-০ ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে রান খরায় ভুগতে থাকা বাটলার শক্তি ও সুনিপুণ টাইমিংয়ের এক চিরায়ত প্রদর্শনী দেখান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসের স্বাদ নেন তিনি। ১২টি চার ও আট ছক্কায় ৬৪ বলে ১৩১ রান করে হন ম্যাচসেরা।

ব্রুকের সাথে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের রেকর্ড ২৩৩ রানের জুটি গড়েন বাটলার। এটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির বিশ্ব রেকর্ডও। ব্রুক ৪৫ বলে অপরাজিত ৯৫ রানের ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে চারটি চার ও আটটি ছক্কা।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। পরে যা সফরকারীদের জন্য পাহাড়সম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

ইশান কিশান (৩৫ বলে ৫৬ রান) ও তিলক বর্মা (২৫ বলে ৫৩ রান) হাফসেঞ্চুরি করলেও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের বিপর্যস্ত দল কখনোই লড়াই জমানোর মতো অবস্থানে ছিল না। বিশেষ করে, তাদের ফিল্ডিং ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। এই হারের ফলে তারা টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে নেমে গেছে।

পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি ভারত। এই সিরিজের আগে আয়ারল্যান্ডের কাছে আকস্মিকভাবে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল তারা। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ ২০ ওভারের ম্যাচে টানা ছয়টি হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে দলটি।

দেশের পাশাপাশি বিদেশেও ঈদের তিন সিনেমা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তিন বাংলা সিনেমা ‘রকস্টার’, ‘রইদ’ ও ‘মালিক’ দেশের প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যাত্রা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে।

ঈদের সিনেমাগুলোর মধ্যে শীর্ষ নায়ক শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ গত শুক্রবার থেকে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ৪১টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে স্বপ্ন স্কয়ারক্রো।

পরিচালক আজমান রুশোর ‘রকস্টার’ এক সংগীতশিল্পীর জীবন, সাফল্য ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের গল্প নিয়ে নির্মিত। এতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া মিথিলা।

অন্যদিকে, পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন নির্মিত ‘রইদ’ গত ৫ জুন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নে মুক্তি পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড ও ক্যানবেরার দর্শকরাও ছবিটি দেখতে পারবেন। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সিনেমাটি পরিবেশন করছে স্ক্রিন এক্সকোপ ও দেশি ইভেন্টস।

গ্রামীণ জীবন ও লোকজ বাস্তবতার পটভূমিতে নির্মিত ‘রইদ’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র সাধু নামের এক যুবক। মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করা এই যুবক একসময় স্ত্রীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে দূরে কোথাও ফেলে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে স্ত্রী বারবার বাড়ির পথ খুঁজে ফিরে আসে। মানবিক সম্পর্ক, অপরাধবোধ, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার অনন্য গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।

ঈদের তৃতীয় সিনেমা ‘মালিক’ আগামী ১৩ ও ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যাংকসটাউনে প্রদর্শিত হবে। পরিচালক সাইফ চন্দন নির্মিত সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে বঙ্গজ ফিল্মস।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রদর্শনী উপলক্ষে ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন ছবির নায়ক আরিফিন শুভ। সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম।

দেশীয় প্রেক্ষাগৃহে ঈদের দর্শক টানার পাশাপাশি এসব সিনেমা আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উপস্থিতি জোরালো করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ম্যাপ, চার্ট ও ছবিতে ইরান সংকট

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে নতুন এক সংঘাত। এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের ক্ষমতা কাঠামো, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাজার, সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই হামলার বিস্তার, এর কৌশলগত প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে রয়টার্স।

ইরানের যেসব স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের ওপর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালায়। এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।

এই পদক্ষেপকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় বৈদেশিক নীতিগত ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ পুনর্নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং ইরানের সঙ্গে অচলাবস্থার কূটনৈতিক সমাধান চান বলে জানিয়েছিলেন।

শনিবার ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে, যার মধ্যে ছিল টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় ইরানি নকশা অনুসরণে তৈরি কম খরচের একমুখী আক্রমণ ড্রোন।

ইরান এই হামলাকে উসকানিহীন ও অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে এবং পাল্টা আঘাত হিসেবে ইসরায়েলসহ অন্তত সাতটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে উপসাগরীয় কয়েকটি রাষ্ট্র রয়েছে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে।

ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর ওপর হামলা

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলায় ইরানের সামরিক নেতৃত্বের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন।

গত দুই বছরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরানের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের প্রভাবশালী প্রক্সি বাহিনীগুলোও ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, তিনি নিজে, বিচার বিভাগের প্রধান এবং শক্তিশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের এক সদস্যকে নিয়ে গঠিত একটি নেতৃত্ব পরিষদ সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছে।

নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ভেঙে দিতে চেষ্টা চলানোর অভিযোগ তোলেন এবং সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী পদক্ষেপ নিলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

ইরানের ক্ষমতা কাঠামো

খামেনিকে হত্যার পর এই সামরিক অভিযান অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তন করে দিতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাই এ বিষয়ে সন্দিহান।

খামেনি নিহত হলে এর প্রভাব কী হতে পারে, এ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আলোচনা শুধু সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়।

কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিতর্ক চলছে যে, খামেনির মৃত্যু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অবস্থানে বড় পরিবর্তন আনবে কিনা।

তারা আরও বলেন, খামেনির মৃত্যু বা অপসারণ ইরানকে আবার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তোলা থেকে কতটা বিরত রাখতে পারে, এ বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি: তেল পরিবহনের সরুপথ

ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ায় উপসাগরীয় জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন সরুপথে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় হামলার পর এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ইরানের সক্ষমতা বাজারকে অস্থির করে তুলেছে এবং বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

তেলের দাম ইতোমধ্যে দ্রুত বেড়েছে এবং বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বাজারে উদ্বেগের কারণে দাম আরও কিছুদিন বেশি থাকবে।

গত বছর গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট ও জ্বালানি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে।

সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাক তাদের অধিকাংশ তেল এই পথ দিয়ে রপ্তানি করে, প্রধানত এশিয়ায়।

বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারও প্রায় সব গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পাঠায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের হামলায় কয়েকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরান ও ওমানের মাঝের এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানে হামলা সমর্থন করেন মাত্র চারজনের একজন মার্কিন নাগরিক

এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানে হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।

৪৩ শতাংশ এই হামলার বিরোধিতা করেছেন এবং ২৯ শতাংশ নিশ্চিত নন।

দলীয় বিভাজনও স্পষ্ট: রিপাবলিকানদের ৫৫ শতাংশ হামলাকে সমর্থন করলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমর্থন মাত্র ৭ শতাংশ।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে সামরিক শক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত আগ্রহী।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ব্যাহত

ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বড় বিমানবন্দরগুলো বন্ধ বা সীমিতভাবে চালু থাকায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

দুবাই, আবুধাবি ও দোহা, এই গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট বিমানবন্দরগুলোও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন বালি, কাঠমান্ডু ও ফ্রাঙ্কফুর্ট পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে এবং ইরান, ইরাক, কুয়েত, ইসরায়েল, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও কাতারের আকাশসীমা প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ক্ষয়ক্ষতি

বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া, ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলার চিহ্ন দেখা গেছে।

নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার প্রবেশপথে দুটি হামলার চিহ্ন শনাক্ত হয়েছে।

এই স্থাপনাটি ৫০ হাজার সেন্ট্রিফিউজ ধারণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ

মেরিনট্রাফিকের জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে যায়।

ডেটা অনুযায়ী, অন্তত ২০০টি জাহাজ প্রণালির বাইরে অপেক্ষা করছে এবং বন্দরে পৌঁছাতে পারছে না।

ইরান সীমান্তে কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী

ইরানি কুর্দি মিলিশিয়ারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে।

ইরান-ইরাক সীমান্তে অবস্থান নেওয়া এসব গোষ্ঠী এমন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রবিহীন জাতিগোষ্ঠীগুলোর একটি কুর্দিরা, সংখ্যা প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি।

তারা ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে।

ফলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বহু নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ‘প্রায় সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’

লেবাননে গণ-উচ্ছেদের নির্দেশ ও বৈরুতে বোমাবর্ষণ

ইসরায়েল লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

হামলার আগে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো খালি করার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, ‘এমন গণ-উচ্ছেদ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।’

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ

ইরানের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে।

জাপানের নিক্কেই সূচকও ৬ শতাংশ কমেছে।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারকদের মধ্যে অন্যতম এবং তাদের তেলের বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

গণঅভ্যুত্থানে রামপুরায় হত্যাকাণ্ডের রায় স্থগিতের আবেদন করবেন চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রামপুরায় দুই হত্যাকাণ্ড ও অন্য আরও দুজনকে গুলি করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় স্থগিতের আবেদন করবেন নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আগামীকাল বুধবার তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছিল।

যোগাযোগ করা হলে আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রসিকিউশন রায় স্থগিতের আবেদন করবে। আমরা মনে করি কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে এবং সেগুলো ঠিক করার সুযোগ আমাদের আছে।’ 

এ মামলায় তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন—তৎকালীন ডিএমপি (খিলগাঁও জোন) অতিরিক্ত উপকমিশনার রাশেদুল ইসলাম, তৎকালীন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান, তৎকালীন উপপরিদর্শক তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও তৎকালীন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক চঞ্চল চন্দ্র সরকার। 

তাদের মধ্যে শুধু চঞ্চল হেফাজতে রয়েছেন, বাকি চারজন পলাতক।

প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় পুলিশি অভিযানে ছয় বছর বয়সী মুসা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। একই গুলি শিশুটির শরীর ভেদ করে তার দাদি মায়া বেগমকে আঘাত করে, যিনি পরে মারা যান। 

একই ঘটনায় আরেক ভুক্তভোগী মো. নাদিমও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

ওইদিনের আরেকটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। 

ভিডিওতে দেখা যায়, ১৮ বছর বয়সী আমির হোসেন একটি নির্মাণাধীন ভবনের কিনারায় ঝুলে থাকার সময় দুই পুলিশ সদস্য কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। 

গত বছরের ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেয়। ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে চার্জ গঠন করে।

গত ১৬ অক্টোবর এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

এআইয়ের সাহায্যে ২০ বছর আগে হারানো চিত্রকর্ম খুঁজে পেল পুলিশ

শিল্পকর্ম চুরি বিশ্বজুড়ে একটি সমস্যা। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন দেশের পুলিশ। তবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। এআই প্রযুক্তির আশীর্বাদে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা শিল্পকর্মও শনাক্ত করতে পারছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।

সম্প্রতি ইতালির পারমা শহরে এআইয়ের সহায়তায় ২০ বছর আগে চুরি হওয়া একটি চিত্রকর্ম উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।

আজ বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ইতালির পারমায় বার্ষিক পুরাকীর্তি মেলায় নিয়মিত পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন স্টলে রাখা শিল্পকর্মের ছবি তুলছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। শিল্পকর্ম উপভোগের জন্য নয়, বরং গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তারা এ কাজ করছিলেন।

বিক্রেতাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে বলতে পুলিশ কর্মকর্তারা মেলার বিভিন্ন স্টলে ঘুরছিলেন। সেখানে ছিল মুষ্টির সমান ব্রোঞ্জের মূর্তি, পুরোনো পাত্র, হলদেটে হয়ে যাওয়া গ্লোব এবং অসংখ্য তৈলচিত্র। এসব শিল্পকর্মের ছবি কর্মকর্তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ ডেটাবেজে আপলোড করেন।

কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই পুলিশের এআই ব্যবস্থা একটি ছবিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা দেয়।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছিল, অ্যাকুয়ামেরিন ও লাল রঙের পোশাক পরা এক তরুণী এক হাতে আংশিক খোলা পার্চমেন্টের একটি পাণ্ডুলিপি ধরে আছেন। তার গায়ের রং ফর্সা।

পরদিন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চিত্রকর্মটি জব্দ করেন। এরপর শিল্পকর্ম বিশেষজ্ঞরা সেটি পরীক্ষা করে দেখেন।

ইতালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষাবিষয়ক পুলিশ ইউনিটের লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালভাতোরে রাপিকাভোলি বলেন, ছবিতে থাকা পাণ্ডুলিপিটি দেখে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। তার ভাষায়, ‘কিছু একটা ঠিক মনে হচ্ছিল না।’

রাপিকাভোলির দল অনেক দিন ধরে ইতালিজুড়ে চুরি হওয়া শিল্পকর্ম খুঁজে বের করার কাজ করছে।

তিনি জানান, ওই মেলায় বিশেষভাবে তৈরি নতুন এআই ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এ প্রযুক্তির ব্যবহারে তাদের কাজের দক্ষতা অনেক বেড়েছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এআইয়ের সহায়তায় তার দল ৩০০টিরও বেশি বড় চিত্রকর্ম ও মূর্তি এবং এক লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ছোট আকারের নিদর্শন উদ্ধার করতে পেরেছে। এসব নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে মুদ্রা, পদক, চিঠি, পাণ্ডুলিপি, ডাকটিকিট ও কার্ড। এসব নিদর্শনের মোট মূল্য ২২৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার ৮০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা)।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী রাপিকাভোলি ২০১৩ সালে ইতালীয় পুলিশের চুরি হওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধারের দলে যোগ দেন। ২০২০ সালে তার দল ‘স্টোলেন ওয়ার্কস অব আর্ট ডিটেকশন সিস্টেম’ (সোয়াডস) নামে একটি এআই অ্যালগরিদম তৈরির পরিকল্পনা করে। এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শিল্পকর্মের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দৃশ্যগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারে। রঙ ও সামগ্রিক আকৃতির মধ্যে মিল খুঁজে বের করে এটি দুটি ছবির তুলনা করে।

২০ বছর আগে চুরি হওয়া মূল চিত্রকর্মটিতে একই ফর্সা তরুণীর হাতে পাণ্ডুলিপির বদলে একটি ছোট সাদা মেষশাবক ও একটি পামগাছের ডাল ছিল। পরে চিত্রকর্মটিকে একধরনের ‘ছদ্মবেশ’ দেওয়া হয়।

চুরির পর ছবিটিকে কম চেনা যায় এমন করে তুলতে এর ওপর নতুন করে রং করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেষশাবকটিকে পাণ্ডুলিপির মতো দেখানো হয় এবং মাথার জ্যোতির্বলয় ও পামগাছের ডাল মুছে ফেলা হয়। ফলে সেন্ট অ্যাগনেসকে একজন সাধারণ তরুণীর মতো দেখাচ্ছিল।

কিন্তু চিত্রকর্মে পরিবর্তন আনা হলেও এআই রং, নকশা ও ছবির বিন্যাসের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়ে এই ছবিটিকে শনাক্ত করে।

আরও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যায়, ১৭শ শতকের সেন্ট অ্যাগনেসের এক মিটার উঁচু চিত্রকর্মটি ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট রাতে চুরি হয়েছিল। নেপলসের কাছে সুলমোনার ভারগো পোটেনস গির্জা থেকে এটি চুরি করা হয়। পারমার শিল্পমেলা থেকে গির্জাটির দূরত্ব ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি।

কোটি কোটি ডলারের কোনো চাঞ্চল্যকর শিল্পকর্ম চুরির ঘটনার সমাধান না হলেও স্থানীয় মানুষের কাছে এই চিত্রকর্মের আবেগগত ও ঐতিহ্যগত মূল্য কম নয় বলে মনে করেন রাপিকাভোলি।

২০২৫ সালের ২০ মে তার দল চিত্রকর্মটি সুলমোনার ভারগো পোটেনস গির্জায় ফিরিয়ে দেয়। সেখানে এটি সংস্কার করে আবার আগের জায়গায় টাঙানো হবে।

ওয়ার্ল্ডহোটেলসের আওতায় আসছে ১০০ দেশের ৪ হাজারের বেশি হোটেল

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বিএইচডব্লিউ হোটেলস তাদের ১০০টি দেশের ৪ হাজারের বেশি হোটেলকে ওয়ার্ল্ডহোটেলস ব্র্যান্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ১৮টি ব্র্যান্ড, লয়্যালটি প্রোগ্রাম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে একটি সমন্বিত পরিচয়ের আওতায় আনা হবে।

বেস্ট ওয়েস্টার্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত বিএইচডব্লিউ হোটেলসের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়ানো এবং ভ্রমণকারীদের জন্য হোটেল খোঁজা ও বুকিংয়ের প্রক্রিয়া সহজ করা। বিলাসবহুল হোটেল, বুটিক হোটেল, আপস্কেল আবাসন, দীর্ঘমেয়াদি থাকার ব্যবস্থা এবং ইকোনমি হোটেল এই কার্যক্রমের আওতায় থাকবে। তবে বিদ্যমান হোটেলগুলোর নাম ও নিজস্ব পরিচয় অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে স্বতন্ত্র মালিকানাধীন হোটেলগুলো নিজেদের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সুবিধা পাবে।

ওয়ার্ল্ডহোটেলসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ল্যারি কুকুলিক বলেন, প্রতিষ্ঠানটির আওতায় বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণের জন্য উপযোগী হোটেল থাকলেও অনেক ভ্রমণকারী এর পুরো পরিসর সম্পর্কে জানেন না। নতুন ব্র্যান্ড পরিচয়ের মাধ্যমে গ্রাহকেরা প্রতিষ্ঠানটির সেবা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র হোটেল মালিকেরাও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পাবেন।

দেশীয় পর্যটনের চাহিদা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার মধ্যে ওয়ার্ল্ডহোটেলসের এই ঘোষণা এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ছুটির মৌসুমে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের হোটেল ও রিসোর্টে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনায় আন্তর্জাতিক মানের আতিথেয়তা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ডহোটেলসের তিনটি হোটেল রয়েছে। এগুলো হলো ঢাকার বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস ম্যাপল লিফ ও বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস রানওয়ে এবং কক্সবাজারের বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ। এ ছাড়া কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে আরও চারটি হোটেল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়ার্ল্ডহোটেলসের চেয়ারম্যান রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, একটি ব্র্যান্ডের ভিত্তি তৈরি হয় আস্থা ও ঐতিহ্যের ওপর। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই অবস্থান ধরে রাখতে হয়। ওয়ার্ল্ডহোটেলসের অধীনে এই রূপান্তর বেস্ট ওয়েস্টার্নের প্রতিষ্ঠিত ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে হোটেল অংশীদার ও অতিথিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের বিকাশের সম্ভাবনা বিবেচনায় ওয়ার্ল্ডহোটেলস দেশের বাজার নিয়ে আশাবাদী। আন্তর্জাতিক মান, বিস্তৃত বাজারসংযোগ এবং স্বতন্ত্র আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের হোটেলগুলোর নিজস্ব পরিচয় ও স্থানীয় বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়ার্ল্ডহোটেলসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা অতুল জৈন বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও অবকাশযাপন উভয় ক্ষেত্রেই আতিথেয়তা খাতের সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে যেসব বাজারে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেগুলোতে আরও বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ল্ডহোটেলসের মাধ্যমে হোটেল অংশীদারেরা আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন এবং বৃহত্তর বিতরণ নেটওয়ার্কের সুবিধা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে তাঁরা নিজ নিজ বাজারের ভ্রমণকারীদের সেবা দিয়ে যাবেন।

এই রূপান্তরের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি চালু হবে ওয়ার্ল্ডহোটেলস রিওয়ার্ডস। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রায় সাত কোটি সদস্যের বিদ্যমান লয়্যালটি প্রোগ্রামগুলোকে একটি কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তিন স্তরের এই কর্মসূচিতে সদস্যদের জন্য বিশেষ রুম ভাড়া, স্ট্যাটাস ম্যাচিং এবং মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া পয়েন্টের সুবিধা থাকবে।

এ ছাড়া নতুনভাবে সাজানো ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে হোটেল বুকিং, পুরস্কার ও পয়েন্ট ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পর্যটন গন্তব্যের তথ্য একীভূত করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন হোটেলের কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া ১০ হাজার ঘণ্টার বেশি অভিজ্ঞতা ও তথ্য এই ডিজিটাল সেবা তৈরিতে কাজে লাগানো হবে।

প্রতিষ্ঠানটির বিলাসবহুল ও আপস্কেল স্বতন্ত্র হোটেলগুলোকে ওয়ার্ল্ডহোটেলস কালেকশনের আওতায় আনা হবে। এই কালেকশনে ছয়টি ব্র্যান্ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে হোটেলগুলোর নিজস্ব পরিচ

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আব্দুল্লাহর

জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে দেওয়া নিজের বক্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, নৌকাবাইচ বন্ধের স্থান নিয়ে সংসদে তিনি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন; ওটা সিলেট হবে, ভুল করে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন।

আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এর আগে গতকাল মধ্যরাতে হাসনাত আব্দুল্লাহর ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করছি।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা, সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। হাসনাতের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় আসলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও সেখানকার আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে বিশ্বের সামনে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের একটি কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায় শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমাতে বলেছিল। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা স্পষ্ট, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি। তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিল।’ হাসনাতের দাবি, এর মানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়, যেমনটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে সম্পর্কে ভুল বার্তা দিয়েছিলেন তাদের ছোট করেছিলেন।

সংসদে নৌকাবাইচ নিয়ে দেওয়া তথ্যে ভুলের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘নৌকাবাইচের বিষয়টিতে স্থান নিয়ে আমার তথ্যগত ত্রুটি হয়েছে। সিলেটের জায়গায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলি। এ ত্রুটিতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমি বিব্রত। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সংগীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।… যার যেটা পছন্দ হবে, সে সেটায় যাবে, অংশ নেবে, যার যেটা পছন্দ হবে না, সে সেটায় যাবে না। আর সরকার এইটুকু নিশ্চিত করবে, কেউ যেন আরেকজনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, এমন কিছু করতে না পারে।’

এর আগে জাতীয় সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ টানেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২টার দিকে শহরের কান্দিপাড়ায় জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে যান। মিছিল থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তার দল এনসিপিকে বয়কটের ঘোষণাসহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

এলডিসি উত্তরণে ৩ বছর সময় বাড়াতে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাইলো বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত তিন বছর সময় বৃদ্ধি, চীনের নেতৃত্বাধীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) সদস্যপদ লাভ এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনে দেশটির সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সদর দপ্তরে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে বাংলাদেশ এই বিষয়গুলো তুলে ধরে।

এতে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ফরেন ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) উইং‍য়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছাড়াও ওয়েলিংটনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ইশতিয়াক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির ট্রেড নেগোসিয়েশনস অ্যান্ড পলিসি ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সারা মেম্যান্ড ও ইউনিট ম্যানেজার জোনাস হোল্যান্ড।

বাংলাদেশ জানায়, আরসিইপি সদস্য পদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নাবলীর বিস্তারিত জবাব ইতোমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কাঠামোকে আরসিইপি-এর উচ্চমানের বাণিজ্য শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে—শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ, টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা ও লজিস্টিকস খাতকে আরও উন্মুক্ত করতে ‘পজিটিভ লিস্ট’ থেকে ‘নেগেটিভ লিস্ট’ পদ্ধতিতে রূপান্তর এবং প্রতিযোগিতা, পেটেন্ট, কপিরাইট ও ডেটা সুরক্ষা বিষয়ে আধুনিক আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন।

বৈঠকে আরসিইপি-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিউজিল্যান্ডের কাছে সংবেদনশীল পণ্য ও শিল্প খাতের সুরক্ষায় আসিয়ানের এলডিসি সদস্যদের মতো ১৫ থেকে ২০ বছর মেয়াদি পর্যায়ক্রমিক শুল্ক নমনীয়তার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি উন্নয়নশীল ও উত্তরণপ্রক্রিয়ায় থাকা অর্থনীতিগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে।

পাশাপাশি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের চলমান আর্থ-সামাজিক রূপান্তর, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীলকরণ এবং প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রস্তাবিত এফটিএ বাস্তবায়িত হলে নিউজিল্যান্ডের জন্য বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ভোক্তা বাজারে দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি ও ধাতব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এলডিসি উত্তর সময়ে নিউজিল্যান্ডের বাজারে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বেলিংহ্যামের নৈপুণ্যে হালান্ডদের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

এবারের বিশ্বকাপে বিস্ময় জাগানো নরওয়ে আরও একবার চমক দেখিয়ে নিয়ে নিল লিড। তবে দমে না গিয়ে জুড বেলিংহ্যামের নৈপুণ্যে অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড। ফের জ্বলে উঠে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে এই মিডফিল্ডার করলেন জোড়া গোল। তার কাঁধে চেপে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো লড়াইয়ে জিতে আসরের সেমিফাইনালে উঠল টমাস টুখেলের শিষ্যরা।

মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে অনুষ্ঠিত জমজমাট কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। এর আগে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ছিল ১-১ ব্যবধানে সমতা।

প্রথমার্ধের ৩৬তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরাপের গোলে নরওয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ম্যাচে সমতা টানেন বেলিংহ্যাম। দ্বিতীয়ার্ধে কোনো দলই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৩তম মিনিটে ফের মঞ্চে আবির্ভূত হন সুযোগসন্ধানী বেলিংহ্যাম। তার আরেকটি গোল গড়ে দেয় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এই নিয়ে চতুর্থবার সেমিফাইনালে উঠল ইংলিশরা। শেষবার তারা শেষ চারে খেলেছিল ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। অন্যদিকে, আর্লিং হালান্ডদের স্বপ্নযাত্রা থামল কোয়ার্টার ফাইনালে। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে খেলে দুটি ম্যাচ জেতা নরওয়ে এবার জিতেছে চারটিতে।

অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় মর্গান রজার্সের দূরপাল্লার শট নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিলান্ড লুফে নিতে ব্যর্থ হন। ফিরতি বল জালে জড়াতে একদম ভুল করেননি ডি-বক্সে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা বেলিংহ্যাম। তার এই লক্ষ্যভেদে ৬৪ হাজার ৪৭৮ জন দর্শকের উপস্থিতিতে গ্যালারিতে থাকা সাদাজার্সিধারী সমর্থকরা উল্লাসে মেতে ওঠেন।

এই জয়ের ফলে আটলান্টায় অনুষ্ঠেয় সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় অনুসারে আগামী বুধবার রাতে।

নরওয়ে হয়তো সুযোগগুলো লুফে নিতে না পারার আক্ষেপে পুড়বে। যদিও তাদের সেরা তারকা হালান্ড ছিলেন একেবারে নির্বিষ। জাতীয় দলের জার্সিতে গত ১৬টি ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম গোলহীন থাকলেন এই স্ট্রাইকার। তারপরও দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছে।

সম্ভবত প্রচণ্ড গরমের কারণে প্রথমার্ধের শুরুতে দুই দলই কিছুটা মন্থর ও সতর্ক ছিল। তবে ৩৫তম মিনিটে ম্যাচটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে যখন ইউলিয়ান রায়ারসনের ক্রসে হালান্ড জোরালো হেড করেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড তা সহজে রুখে দেন।

ঠিক এক মিনিট পর মাঝমাঠের কাছাকাছি হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন প্যাট্রিক বার্গ এবং বাম প্রান্তে থাকা শেলদেরাপের দিকে পাস বাড়িয়ে দেন। এই উইঙ্গার ইংল্যান্ডের ফুলব্যাক এজরি কনসাকে দারুণভাবে বোকা বানিয়ে কোণাকুণি শট নেন, যা চমক জাগিয়ে সরাসরি জালে জড়ায়। গোলের আগে কেইনকে ফাউল করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠলেও রেফারি কান দেননি।

এই গোলে ইংল্যান্ড বেশ ধাক্কা খায় এবং নরওয়ে এগিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর আলেক্সান্ডার সরলথের জোরালো শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং মার্টিন ওডেগার্ডের নিচু শট পিকফোর্ড প্রতিহত করেন।

৪৪তম মিনিটে নরওয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। ইংল্যান্ডের সীমানায় সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন সরলথ ও ডি-বক্সে ফাঁকায় ছিলেন হালান্ড। কিন্তু সরলথ হালান্ডকে পাস না দিয়ে নিজেই শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তা কাজে লাগেনি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এই সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিতে হয় নরওয়েকে। ডি-বক্সের মাথায় অ্যান্থনি গর্ডনের চতুর পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান বেলিংহ্যাম।

প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় ছিল ইংল্যান্ডেরই আধিপত্য। কেইন বল জালে জড়ালেও ভিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে তা বাতিল করা হয় অফসাইডের কারণে।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় আবার ভিএআরের হস্তক্ষেপ দেখা যায়। কর্নার থেকে টোরবিয়র্ন হেগে নরওয়েকে ফের এগিয়ে নিয়েছেন বলে মনে হলেও এই গোলটিও বাতিল করা হয়। কারণ ডি-বক্সে হালান্ড ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন।

৬৭তম মিনিটে দুই গতিময় উইঙ্গার অস্কার বব ও অ্যান্টোনিও নুসাকে মাঠে নামালে নরওয়ে আবারও ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। এরপর ডেভিড মোলার উলফের হেড পিকফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে লাগে ক্রসবারে। ফলে সেই যাত্রায় ইংল্যান্ড ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়।

ইংল্যান্ডের হয়ে বদলি নামা বুকায়ো সাকা ৮৭তম মিনিটে একটি দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করেন। তিনি বাইলাইনের কাছাকাছি পৌঁছে ডি-বক্সের ভেতরে বিপজ্জনক জায়গায় নিচু ক্রস বাড়ান। কিন্তু তার সতীর্থদের কেউই বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি।

অতিরিক্ত সময়ে বেলিংহ্যামের দ্বিতীয় গোলের পর আরও একবার ভিএআর কেড়ে নেয় সব আলো। এবার এবেরিচি এজেকে ফাউলের কারণে ইংল্যান্ডকে দেওয়া পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করেন রেফারি।

এই টুর্নামেন্টে সাত গোল করা হালান্ড অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ শেষে মাঠ ছাড়েন। বাকি সময়ে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ করলেও সফল হয়নি নরওয়ে। তাদেরকে আটকে রেখে ইংল্যান্ড মাঠ ছাড়ে কাঙ্ক্ষিত জয় নিয়ে।

রহস্য ও পারিবারিক গল্প নিয়ে হেডলাইনে অপূর্ব-ইয়াশ

একটি পুরনো খবরের কাগজ। তাতে ছাপা অসংখ্য শিরোনাম। সময়ের সঙ্গে যেসব খবর হারিয়ে গেছে পাঠকের স্মৃতি থেকে। কিন্তু যদি কোনো একদিন সেই চাপা পড়ে যাওয়া খবরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে এমন এক সত্য, যা বদলে দিতে পারে অনেক মানুষের জীবন?

এমনই এক রহস্য, অনুসন্ধান ও পারিবারিক নাটকের গল্প নিয়ে আসছে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘হেডলাইন’। জনপ্রিয় দুই অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও ইয়াশ রোহান অভিনীত সিরিজটি আগামী ২৫ তারিখে মুক্তি পাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে।

সিরিজটির নির্মাতা সালেহ সোবহান অনীম। এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম পোস্টার, যা দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে নতুন কৌতূহল।

প্রকাশিত পোস্টারে দেখা যায়, ব্ল্যাক টাক্সিডো ও বো-টাই পরিহিত অপূর্ব এবং ইয়াশ রোহানকে। দুজনের চোখে-মুখে তীক্ষ্ণ অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি। যেন তারা কোনো গোপন সত্যের সন্ধানে নেমেছেন।

পোস্টারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, পুরনো সংবাদপত্রের ব্যবহার। মনে হয়, খবরের কাগজের স্তূপ ভেদ করে বেরিয়ে আসছেন দুই চরিত্র। এই ভিজুয়াল ভাষা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কোনো চাপা পড়ে থাকা সংবাদ, যার পেছনের বাস্তবতা অনুসন্ধান করতে যাচ্ছেন তারা।

গাড় রঙ, রহস্যময় আবহ এবং চরিত্র দুটির অভিব্যক্তি দর্শকের মনে একটাই প্রশ্ন জাগায়, কোন সেই খবর, যার জন্য এত অনুসন্ধান?

‘হেডলাইন’ নাম শুনলেই প্রথমে মনে হতে পারে এটি সাংবাদিকতা বা সংবাদজগতের গল্প। কিন্তু নির্মাতার ভাষ্য বলছে, বিষয়টি তার চেয়েও গভীর।

পরিচালক সালেহ সোবহান অনীম জানিয়েছেন, সিরিজটি মূলত সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধানের আবরণে নির্মিত একটি পারিবারিক নাটক।

তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের নানা অস্থিরতা ও বিভাজনের মধ্যে দর্শকদের জন্য একটু স্বস্তির গল্পই বলতে চেয়েছেন তারা। এমন এক গল্প, যা দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে যেগুলো দেখে বড় হয়েছে একটি প্রজন্ম।

অর্থাৎ, হেডলাইন শুধু রহস্য নয়, থাকবে সম্পর্কের টানাপড়েন, পরিবারের ভাঙাগড়া এবং মানুষের ভেতরের অদেখা গল্পও।
বাংলাদেশের ওটিটি অঙ্গনে অপূর্বের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। গত কয়েক বছরে একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের আস্থা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ইয়াশ রোহান তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত মুখ।

হেডলাইনে এই দুই অভিনেতাকে একসঙ্গে দেখা যাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

অপূর্ব ও ইয়াশের পাশাপাশি সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন আফসান আরা বিন্দু, সারিকা সাবরিন, ফারহানা হামিদ এবং অর্নিল বিরলসহ আরও অনেকে।