29.4 C
Dhaka
Home Blog

ভুয়া ব্যবসার আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা: মঞ্জুরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

রাজধানী ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ব্যবসা, জাল ওয়ার্ক অর্ডার, চেক ডিজঅনার এবং সংঘবদ্ধ আর্থিক প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার কথিত সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, “রাইন্ড্রপ এন্টারপ্রাইজ (Raindrop Enterprise)” নামের প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখে সাধারণ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং পরিচিত মহলের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরুল ইসলাম নিজেকে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের ভুয়া বা সন্দেহজনক ওয়ার্ক অর্ডার প্রদর্শন করতেন। কখনো গাড়ি কোম্পানি, কখনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কখনো বড় কর্পোরেট সাপ্লাইয়ের গল্প দেখিয়ে কোটি টাকার বিনিয়োগ সংগ্রহ করা হতো। শুরুতে অল্প অঙ্কের লাভ ও টাকা ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হতো, পরে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর শুরু হতো সময়ক্ষেপণ, মিথ্যা আশ্বাস ও গা-ঢাকা দেওয়ার কৌশল।

অভিযোগ উঠেছে, মঞ্জুর একা নন; তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র পরিচালনা করছেন, যেখানে তার বিভিন্ন বন্ধু, পরিচিত ব্যবসায়ী এবং পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চক্রের মূল কাজই হচ্ছে বিশ্বাস অর্জন করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ সংগ্রহ করা এবং পরে তা আত্মসাৎ করা।

সূত্র বলছে, মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। চেক ডিজঅনার, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ছয়টিরও বেশি মামলা চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটিরও বেশি টাকার প্রতারণার অভিযোগ বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা ফেরতের চাপ বাড়লে মঞ্জুর ও তার ঘনিষ্ঠরা বিভিন্ন সময় জমি, নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট, ভবিষ্যৎ সম্পত্তি বিক্রি অথবা নতুন বিনিয়োগ আসার গল্প বলে সময় নিতেন। বিশেষ করে তার শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে বহু ভুক্তভোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরের শাশুড়ি রিজিয়া হোসেন এর নামও একাধিক আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রির কথা বলে ভুক্তভোগীদের আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো কার্যকর সম্পত্তি হস্তান্তর বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

বিভিন্ন ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, “এটি কোনো একক প্রতারণা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংগঠিত আর্থিক প্রতারণা চক্র, যারা সম্পর্ক, পরিচয়, সামাজিক অবস্থান এবং ভুয়া ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে ভুয়া ব্যবসায়িক উপস্থাপন, চেক ডিজঅনার, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং সংঘবদ্ধ আর্থিক জালিয়াতির মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা হবে

বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: রুমিন

বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিক কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় তার সমর্থকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, বারোটা এক মিনিটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমারই প্রথম ফুল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির কিছু লোক সেখানে রীতিমতো হামলা চালায়। আমাকে এক পাশে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। বিএনপি যদি তার নেতাকর্মীদের লোকাল লেভেলে এখনই কন্ট্রোল না করে, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপির উপজেলা শাখার প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি সেখানে ছিলেন না। এলাকায় গুন্ডা হিসেবে পরিচিত একজনের নেতৃত্বে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে হামলা চালায়।

হামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতেছি। তাদের মধ্যে পরাজয় মেনে নেওয়ার কষ্ট আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, পুলিশ চেষ্টা করেছে। কিন্তু সরকারি দলের নেতাকর্মীরা যখন ভয়াবহভাবে তাণ্ডব চালায়, পাঁচ থেকে ১০ জন পুলিশ সেটা কন্ট্রোল করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আমি মামলা করেছি। যদি এটা প্রাণনাশের কোনো চেষ্টা হয়ে থাকে, সঠিকভাবে তদন্ত করে বিচার হতে হবে। আর সরকার যদি এখানে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, সরকারকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে অধিক বরাদ্দ দেওয়া উচিত যে কারণে

কৃষিপণ্য বলতে ফসল চাষ, পশু ও পাখি পালন, মাছ উৎপাদন এবং বৃক্ষরোপণ থেকে প্রাপ্ত সব ধরনের উৎপাদনকে বোঝায়। কৃষির উপখাতগুলোকে সাধারণত ফসল, প্রাণিসম্পদ, বন ও মৎস্য—এই চার ভাগে বিভক্ত করা হয়। এসব উপখাত থেকে অর্জিত মোট দেশজ উৎপাদনকে (জিডিপি) কৃষি জিডিপি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৫০ শতাংশই ছিল কৃষি জিডিপির অবদান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ শতাংশে। কৃষির প্রতিটি উপখাতেও একই ধরনের আনুপাতিক হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে ফসল, প্রাণিসম্পদ, বন ও মৎস্য খাতের অবদান যথাক্রমে জিডিপির ৫ দশমিক ০৬, ১ দশমিক ৮১, ১ দশমিক ৭২ ও ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

শিল্প ও সেবা খাতের উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে মোট জিডিপিতে কৃষি ও এর উপখাতগুলোর অংশ কমে গেছে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে মোট কৃষি উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আত্মনির্ভরতার পথে কৃষি খাত উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ১৯৭২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদন পাঁচ গুণ বেড়েছে। গত ৫২ বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ ছিল। এর ফলে উৎপাদন ১৯৭৩ সালের ১১০ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৫০৩ দশমিক ৫৪ লাখ টনে পৌঁছেছে।

আর অন্যান্য ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। দেশীয় উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, ডাল ও মসলা আমদানির ওপর দেশকে নির্ভর করতে হয়। দুধ, মাংস, ডিম ও মাছের একক মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্যে প্রবেশাধিকার নেই।

জলবায়ুগত দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত দেশ। বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০ দশমিক ৫ শতাংশ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি বহন করতে হচ্ছে এ দেশকেই। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষভাগ ও মে মাসের শুরুতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যায় হাজারো হেক্টর বোরো ধানখেত তলিয়ে গেছে, যা ফসল কাটার মৌসুমে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়েছে। 
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুধু নেত্রকোণাতেই ১৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জেও হাজারো হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের বার্ষিক আয়ের একমাত্র উৎস বোরো ফসল কাটার ঠিক আগে পানিতে তলিয়ে গেছে।

২০২৬ সালের ২ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক কৃষক তার ছয় বিঘা বোরো ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে মৃত্যুবরণ করেন। জ্বালানি, সার, কীটনাশক ও শ্রমের মতো উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের কৃষি খাত বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে, খামার পর্যায়ে ফসলের বাজারদর কমে যাওয়ায় কৃষকের লাভজনকতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বোরো ধানের মতো প্রধান ফসলের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অনেক কৃষক সেচের পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছেন না। এর ফলে কৃষি খামারের মুনাফা এবং কৃষকের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জের কৃষক আলী আকবর বলেন, ‘ফসল উৎপাদন করে আমাদের কোনো লাভ হচ্ছে না। কৃষিকাজে কঠোর পরিশ্রম করেও কোনো রকমে টিকে আছি।’ (প্রথম আলো, ২৫ এপ্রিল ২০২৬)

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ফসলের কম বাজারদর অনেক কৃষককে ঋণের চক্রে ফেলে দিয়েছে এবং তাদের অনেককে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য করছে। এমনকি কিছু কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। 
আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা দরিদ্র ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো খাদ্য মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার, যা দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে এই হ্রাস সম্ভব হয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রধান শর্ত হলো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি উৎপাদন বাড়লেও এর প্রবৃদ্ধির হার অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বর্তমানে কৃষি খাতের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি খুবই কম।

২০০৯-১০ অর্থবছরে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে প্রায় ২ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে।

এমনকি আগের বছরের ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায়ও এটি একটি নিম্নগতি নির্দেশ করে। দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ শ্রমশক্তি কৃষি খাতে নিয়োজিত থাকলেও তুলনামূলক কম বাজেট বরাদ্দের কারণে এ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

জাতীয় বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) কৃষি খাতের অংশীদারত্ব সাধারণভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। কৃষি ভর্তুকি মূলত সার, সেচের বিদ্যুৎ এবং কৃষিযন্ত্রের ওপর কেন্দ্রীভূত।

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সার ও কৃষিযন্ত্র আমদানি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, ফলে কৃষি খাতে আরও বেশি ভর্তুকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বাজেট ও ভর্তুকি বরাদ্দ স্থবির রয়েছে এবং কৃষি প্রবৃদ্ধিকে প্রয়োজনীয় মাত্রায় উন্নীত করা ও খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার ৪ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এর জন্য কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন, কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।

২০১১-১২ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ দশমিক ৭৮ গুণ বেড়েছে। বিপরীতে কৃষি বাজেট বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৭৮ গুণ।

২০১১-১২ অর্থবছরে মোট বাজেটের মধ্যে কৃষি বাজেটের অংশ ছিল ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে কৃষি ভর্তুকির অংশও ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, সামগ্রিক বাজেট বৃদ্ধির তুলনায় কৃষি বাজেট ও ভর্তুকি আনুপাতিক হারে বাড়েনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বাজেটের পাশাপাশি কৃষি বাজেট ও ভর্তুকির পরিমাণও কমানো হয়েছে।

গত ১৬ বছরে কৃষিঋণের পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে এবং এর গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ। তবে এখনও এটি মাত্র ২২ শতাংশ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছে। মোট প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের মধ্যে কৃষিঋণের অংশ মাত্র প্রায় ২ শতাংশ।

আমদানি-প্রতিস্থাপনকারী ফসল (ডাল, তৈলবীজ, ভুট্টা ও মসলা) উৎপাদনের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা থাকলেও কৃষকেরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ব্যাংক শাখাগুলো প্রকৃত প্রয়োজনীয় কৃষকদের এই ঋণ দিতে অনাগ্রহী। 
কৃষিঋণ পরিশোধের হার অত্যন্ত সন্তোষজনক, যা অন্যান্য খাতের তুলনায় অনেক ভালো। অনেক সময় ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বিতরণের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে যায়। এটি প্রমাণ করে যে কৃষকেরা ঋণ পরিশোধের ব্যাপক চাপের মধ্যে থাকেন এবং কখনো কখনো চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নেন।

উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় বোরো ধানের ক্ষতি এবং বহিরাগত ধাক্কার কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে গুরুতর খাদ্যনিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য খাদ্যনিরাপত্তা, আধুনিকায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনকে কেন্দ্র করে উচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

বৃহত্তর কৃষি খাতের জন্য মোট ৯৪ হাজার কোটি টাকা (মোট বাজেটের ১০ শতাংশ) বরাদ্দ রেখে বাজেট প্রণয়ন করা উচিত। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে (কৃষি উৎপাদনের মূল্যের ১০ শতাংশ) বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। আগামী বাজেটে কৃষকদের সহায়তার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর কমানো, শুল্ক অব্যাহতি এবং অন্যান্য সহায়ক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

টেকসই কৃষি প্রবৃদ্ধি এবং উন্নত খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যান্ত্রিকীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন বৈচিত্র্য, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।

উৎপাদন ব্যয় পর্যবেক্ষণ, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতার মাত্রা মূল্যায়ন, কৃষিপণ্যের কর ও শুল্কহার নির্ধারণ এবং কৃষকদের জন্য সহায়ক মূল্য সুপারিশের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন কৃষি মূল্য কমিশন গঠন করা উচিত।

ড. জাহাঙ্গীর আলম: কৃষি অর্থনীতিবিদ

যে গ্রীষ্মে বিশ্ব চিনেছিল হামেস রদ্রিগেজকে

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ এক স্মরণীয় টুর্নামেন্ট। সাম্বার দেশে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে জন্ম নেওয়া অজস্র গল্পের মধ্যে অন্যতম সেরা গল্পটি ছিল এক ২২ বছর বয়সী কলম্বিয়ানের অভাবনীয় উত্থানের। ১৯৯০ সালের আসরের পর বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বলার মতো কোনো সাফল্য ছিল না, তাই এই টুর্নামেন্ট ঘিরে তাদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ও গোলমেশিন রাদামেল ফ্যালকাও চোটে ছিটকে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন ফিকে হতে বসেছিল। তার শূন্যস্থান পূরণের কঠিন দায়িত্ব এসে পড়ে এক তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের কাঁধে।

ঠিক তখনই যেন এক জাদুকর হিসেবে আবির্ভূত হলেন তিনি। দুর্দান্ত বাম পা আর গ্যালারি মাতানো নিষ্পাপ হাসিতে ভর করে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি হয়ে উঠলেন গোটা বিশ্বের নতুন সুপারস্টার। তার নাম হামেস রদ্রিগেজ। ২০১৪ সালের সেই গ্রীষ্মকালটি তার জন্য শুধু একটি সাধারণ টুর্নামেন্ট ছিল না, বরং তা ছিল বিশ্ব ফুটবলে তার শক্ত খুঁটি গেঁড়ে বিজয়কেতন ওড়ানোর। কলম্বিয়ার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিতে তিনি যে সৃজনশীলতা ও জাদুর ছোঁয়া দেখিয়েছিলেন, তা ভক্ত-সমর্থকদের পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।

গ্রুপ পর্বে গ্রিস, আইভরিকোস্ট ও জাপানের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই গোল করে তিনি জানান দিয়েছিলেন নিজের আগমনী বার্তা। জাপানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ৪৫ মিনিট খেলে একটি দৃষ্টিনন্দন গোল এবং দুটি চমৎকার অ্যাসিস্ট করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি সাধারণ কেউ নন। শুধু বল পায়ে নৈপুণ্যই নয়, প্রতিটি গোলের পর সতীর্থদের নিয়ে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে তার সেই আইকনিক সালসা নাচ যেন হয়ে উঠেছিল ব্রাজিল বিশ্বকাপের অঘোষিত থিম সং।

গ্রুপ পর্বেই হামেসের এমন অনবদ্য পারফরম্যান্স এবং মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণের অসাধারণ ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন সবাই। কলম্বিয়ার তৎকালীন আর্জেন্টাইন কোচ হোসে পেকারম্যান বুঝতে পেরেছিলেন, তার হাতে এক অমূল্য রত্ন রয়েছে। এই প্রিয় শিষ্য সম্পর্কে তিনি গর্বের সাথে বলেছিলেন, ‘হামেসের প্রতিভা নিয়ে আমার মনে কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না। বিশ্বমঞ্চে নিজেকে বিশ্বমানের খেলোয়াড় হিসেবে প্রমাণ করার সব উপাদান ওর মধ্যে রয়েছে। ও এমন একজন খেলোয়াড়, যে একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।’

তবে হামেস নিজের এই উল্কাসম উত্থানকে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে যান ২৮ জুন। রিও দি জানেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সেদিন কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী উরুগুয়ে। প্রথমার্ধের ২৮তম মিনিটের মাথায় সতীর্থ মিডফিল্ডার আবেল আগিলার হেডে বল ভাসিয়ে দেন ডি-বক্সের ঠিক বাইরে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা হামেসের দিকে। এরপর যা হলো, তা যেন ক্যানভাসে আঁকা এক নিখুঁত শিল্পকর্ম।

বলটি আসার আগেই হামেস একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিলেন উরুগুইয়ান গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার অবস্থান। এরপর বুক দিয়ে ভাসমান বলটি আলতো করে রিসিভ করে, মাটিতে পড়ার আগেই অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় শরীরটাকে ঘুরিয়ে নিলেন। তার বাঁ পায়ের জোরালো ভলি মুসলেরার হাতের ডগা ছুঁয়ে ক্রসবারের ভেতরের দিকে লেগে আছড়ে পড়ল জালে। পদার্থবিদ্যার সূত্রকে যেন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে করা সেই গোলটি কেবল ২০১৪ বিশ্বকাপের সেরা গোলই হয়নি, জিতেছিল সে বছরের ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ডও।

এই জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন উরুগুয়ের কিংবদন্তি কোচ অস্কার তাবারেজ। ম্যাচ শেষে অকপটে তিনি স্বীকার করে নিয়েছিলেন হামেসের শ্রেষ্ঠত্ব। তিনি বলেছিলেন, ‘ফুটবলে কিছু খেলোয়াড় থাকেন, যারা জন্মগতভাবেই বিশেষ প্রতিভার অধিকারী। দিয়েগো ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি বা লুইস সুয়ারেজ— ওরা এমন কিছু করে, যা সাধারণের কল্পনাতীত। হামেস রদ্রিগেজ ঠিক সেই ঘরানারই একজন খেলোয়াড়। আমার মনে হয়, ও-ই এই বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার।’

সেদিন উরুগুয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে কলম্বিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন হামেস। এরপর শেষ আটে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করার সময় তার ডান হাতে এসে বসা সেই বিশাল সবুজ ঘাসফড়িংয়ের দৃশ্যটি আজও আইকনিক। ম্যাচটিতে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বিদায়বেলায় প্রতিপক্ষ ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দাভিদ লুইজ যেভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে পুরো স্টেডিয়ামকে হাততালি দেওয়ার ইশারা করেছিলেন, তা ছিল এই তরুণের অবিশ্বাস্য উত্থানের এক অনন্য স্বীকৃতি।

মাত্র ৫ ম্যাচ খেলে ৬টি গোল, সাথে ২টি অ্যাসিস্ট— এই অসামান্য পরিসংখ্যান নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ‘গোল্ডেন বুট’ জয় করেন হামেস। এই একটি টুর্নামেন্ট তাকে রাতারাতি বৈশ্বিক সুপারস্টারে পরিণত করে। বিশ্বকাপের ঠিক পরপরই রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তাকে দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফ্রেঞ্চ ক্লাব এএস মোনাকো থেকে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল চুক্তিতে স্বপ্নের ক্লাবে যোগ দেন হামেস। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছিল প্রায় ৪৫ হাজার দর্শক।

পরবর্তী সময়ে ক্লাব ক্যারিয়ারে চোট আর ফর্মহীনতার কারণে হয়তো সেই শীর্ষস্থান তিনি ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে পারেননি। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে বায়ার্ন মিউনিখ কিংবা এভারটন হয়ে তার ক্লাব ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন এসেছে, চেনা সেই ছন্দের দেখাও সব সময় মেলেনি। তবে ২০১৪ সালের সেই গ্রীষ্মে হামেস নামের যে নক্ষত্রকে বিশ্ব ফুটবল আপন করে নিয়েছিল, তা কোনো পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা সম্ভব নয়। ঐ সময়টুকু তার ছিল, আছে ও ইতিহাসের পাতায় এক মোহনীয় অধ্যায় হিসেবে চিরকাল অমলিন থাকবে।
 

ব্যাংকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমায় আবগারি শুল্ক দিতে হবে না

যারা ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন তাদের জন্য স্বস্তির খবর আসছে আগামী বাজেটে। ব্যাংকে জমা রাখা টাকার ওপর আবগারি শুল্ক মওকুফের সীমা বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। 

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে যাদের ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা থাকবে, তাদের কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না।

বর্তমানে ব্যাংকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা থাকলে কোনো শুল্ক কাটা হয় না।

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন বিধানের কথা জানাতে পারেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম ধাপে শুল্কমুক্ত সীমা ৫ লাখ টাকা করা হলেও এর পরের স্তরগুলোর (স্ল্যাব) সীমা ও শুল্কের হার অপরিবর্তিত থাকবে।’

ব্যাংক হিসাবে জমা টাকার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বছরে ৫০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক কাটা হবে। 

আগামী অর্থবছর থেকে ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতি (ব্যালেন্স) থাকলে ৫০০ টাকা শুল্ক দিতে হবে। আর জমার পরিমাণ ৫ কোটি টাকা ছাড়ালে শুল্ক হবে ৫০ হাজার টাকা। এর মাঝামাঝি আরও কয়েকটি স্তর থাকছে।

বর্তমানে এই আবগারি শুল্ক থেকে সরকার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, ‘৫ লাখ টাকার শুল্কমুক্ত সীমা কার্যকর হলে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা স্বস্তি পাবেন। তবে এতে সরকারের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব কমে যেতে পারে।’

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মনে করেন, ব্যাংক আমানতের ওপর থেকে এই শুল্ক ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘আবগারি শুল্ক ধীরে ধীরে উঠিয়ে নেওয়া উচিত। আমার একে ন্যায্য মনে হয় না। এটি অনেকটা ব্যাংকে টাকা রাখার জন্য “জরিমানা” দেওয়ার মতো।’

এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘সরকারের উচিত এই ব্যবস্থা বাতিল করে একটি আধুনিক ও ন্যায্য কর ব্যবস্থা চালু করা।’

(সংক্ষেপিত অনুবাদ, বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে)

সংসদে দাঁড়িয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া জাতির জন্য লজ্জার: বিরোধীদলীয় নেতা

জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারকে সঠিক তথ্য প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের ও লজ্জার।

আজ শনিবার দুপুরে আসাদগেটে পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর চালক-মালিকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কথা বলে বুঝতে পারলাম যে, একটি গাড়িকে একবারে ২ হাজার টাকার বেশি তেল দেওয়া হয় না। আর একটি মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ৫০০ ও সর্বনিম্ন ১৫০ টাকার তেল দেওয়া হয়। পাম্প ভেদে এটা কম-বেশি হয়।’

পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, মালিকদের কেউ এখানে ছিলেন না, ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন, তারা জানিয়েছেন, আগে প্রতিদিন তারা তিন গাড়ি তেল পেতেন। এই সংকট সৃষ্টি হওয়ার পরে দেওয়া হয় এক গাড়ি। এটা দিয়ে তারা ২৪ ঘণ্টা কাভার করতে পারেন না। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন তেল অনেক বেশি বিক্রি হয়।’

‘তাদের আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, পান যখন তিন ভাগের এক ভাগ, আপনারা বেশি বিক্রি করেন কোত্থেকে? তারা বললেন যে, এই কথাটা সত্য নয়। আমরা যেহেতু তিন ভাগের এক ভাগ পাই, ওই আগের তিন ভাগের এক ভাগই আমরা বিক্রি করি। সমানও পারি না, বেশি তো প্রশ্নই আসে না,’ জানান জামায়াত আমির।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জাতীয় সংসদকে বলা হচ্ছে মহান জাতীয় সংসদ, পবিত্র জাতীয় সংসদ, সার্বভৌম জাতীয় সংসদ—অনেক কিছু বলা হচ্ছে। কিন্তু সেই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যদি জাতিকে অন্ধকারে রাখা হয় এবং সত্য কথা বলা না হয়, যদি অসত্য তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের এবং লজ্জার।’

সাধারণ মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘তাদের দুঃখ দূর করার মতো কিছু যদি আমাদের হাতে থাকতো, আমরা সেটা করতাম।’

এই পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তিনি সংসদে তুলে ধরবেন বলে জানান।

‘বলবো, হাওয়ায় বসে কথা বলছি না। এসিতে বসে কথা বলছি না। আমরা ওখানে গিয়েছি গরমের মধ্যে, অল্প সময় হলেও আমরা তাদের সঙ্গে থেকেছি। কথা বলেছি, বুঝেছি।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এটাও বিশ্বাস করি এবং স্বীকার করি, এই সংকটটা এই সরকারের তৈরি না। এই সংকট তৈরি হয়েছে বিশ্বের যুদ্ধে লাগার কারণে। তাহলে এখানে লুকোচুরির কী আছে! আমরা খোলামেলা সত্য কথাটা বলি। সবাই মিলে তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করব।’

‘ধামাচাপা দিলে কি সেচের পাওয়ার টিলার চালানোর জন্য আমার কৃষক ভাইটা তেল পাবে’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, মোটরসাইকেল চালিয়ে যারা সংসার চালাতো তাদের আয় দেড় হাজার থেকে কমে ৫০০-৬০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

‘অথচ দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে। দুটি কারণে—তেলের বাজারে অস্থিরতা সংকট, এ জন্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। আরেকটা হলো চাঁদাবাজের রেটও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দুইটার ভার এসে সাধারণ জনগণের ঘাড়ে পড়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আজকে তিনদিন বা চারদিন হবে গাজীপুরের মাওনায় একজন ইমাম সাহেবের মেয়েকে দিনে-দুপুরে তার সামনে থেকে ঘরের দরজা ভেঙে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে কিছু দুর্বৃত্ত। আমরা খবর পেয়েছি, তারা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এই দুর্বৃত্তপনা করেছে। বাবা বলছে, আমার মেয়েটা যদি দুনিয়া থেকে চলে যেত, এত কষ্ট আমার লাগতো না। এখন আমার মেয়েটা কোথায় আছে আমি তো জানি না। আমি সেই দুর্ভাগা বাবা! যার চোখের সামনে থেকে আমার কলিজার টুকরাকে কেড়ে নিলো। আমি চেয়ে চেয়ে শুধু চোখের পানি ফেললাম, আমি আর কিছু করতে পারলাম না।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তার অপহৃত সন্তান ফিরে পাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি বলব, আপনার প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এখন আপনি হস্তক্ষেপ করে এই নিরীহ-নিষ্পাপ মেয়েটাকে তার বাবা ও মায়ের বুকে ফিরিয়ে দেন।’

এ সময় তিনি জড়িতদের দৃশ্যমান কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যে দেশে সরকার একটি অবুঝ-নিরীহ মেয়ের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই সরকারের দেশ চালানোর নৈতিক অধিকার কতটুকু—সেটা আপনারাই বিচার করবেন। আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। দেশবাসীও বিচার করবে।’

আজীবন সম্মাননা পেলেন রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা

বগুড়ার এক পাঁচতারকা হোটেলে বসে সংগীত জগতের তারকাদের এক মহামিলন মেলা। উপলক্ষ ২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। 

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোটেলটির উন্মুক্ত মঞ্চে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

সংগীত শিল্পে অবদান রাখায় এবারের আয়োজনে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপাকে।

বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া।

অনুষ্ঠানে দুই কিংবদন্তি রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিন গান গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন।

আধুনিক গান শ্রেষ্ঠ শিল্পী: লিজা (খুব প্রিয় আমার)

ইউটিউব ক্যাটাগরিতে সেরা আধুনিক গান: এঞ্জেল নূর (যদি আবার) 

শ্রেষ্ঠ সুরকার আধুনিক গান: বাপ্পা মজুমদার (অবশেষে)

শ্রেষ্ঠ গীতিকার আধুনিক গান: তারেক আনন্দ এবং শাহনাজ কাজী (প্রেমবতী মা) 

শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড: মেট্রিক্যাল (গণতন্ত্রের ঘুড়ি)

শ্রেষ্ঠ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার: সেতু চৌধুরী (গণতন্ত্রের ঘুড়ি)

শ্রেষ্ঠ দ্বৈত সংগীত শিল্পী: ইমরান ও সিঁথি সাহা (প্রেম বুঝি)

শ্রেষ্ঠ লোকসংগীত শিল্পী: বিউটি (চার চাঁদে দিচ্ছে ঝলক) 

ইউটিউব ক্যাটাগরিতে লটারির মাধ্যমে সেরা লোকসংগীত শিল্পী: শরিফ উদ্দিন দেওয়ান সাগর (মা লো মা)

শ্রেষ্ঠ ছায়াছবির গান: আতিয়া আনিসা (ছোট্ট সোনা)

ইউটিউব ক্যাটাগরিতে লটারির মাধ্যমে সেরা ছায়াছবির গান: দিলশাদ নাহার কনা (দুষ্টু কোকিল) 

শ্রেষ্ঠ সুরকার ছায়াছবির গান: শওকত আলী ইমন (ছোট্ট সোনা)

শ্রেষ্ঠ গীতিকার ছায়াছবির গান: রোহিত সাধুখাঁ (বেঁচে যাওয়া ভালোবাসা)

শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও নির্মাতা: তানভীর তারেক (পাখি আমার নীড়ের পাখি)

শ্রেষ্ঠ নজরুল সংগীত শিল্পী: শহিদ কবির পলাশ (সৃজন ছন্দে)

শ্রেষ্ঠ উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী: নাশিদ কামাল (সব সখিয়া চলো)

শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী: সভ্যতা (অধিকার)

শ্রেষ্ঠ অডিও কোম্পানি: বেঙ্গল মিউজিক 

কেন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা পাকিস্তানের

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর সীমান্ত সংঘাত চরম আকার ধারণ করার মধ্যেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বেশ কিছু শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।

হামলায় ২৭০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। আফগানিস্তানও ইতোমধ্যে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। হামলায় ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ঘোষণা করেছেন, আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে তারা ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পাকিস্তান প্রথম বিমান হামলা শুরু করে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন, সীমান্তে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগানিস্তান ‘বড় আকারের অভিযান’ চালাচ্ছে।

দ্য ডনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান আফগানিস্তানে যে সামরিক হামলা চালাচ্ছে তার নাম দিয়েছে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ বা ‘ন্যায়ের হামলা’।

কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে কেন এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হলো? আল জাজিরা বলছে, গতরাতে শুরু হওয়া এ সংঘাতের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি কারণ রয়েছে।

ডুরান্ড লাইন বিতর্ক

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তরেখা ডুরান্ড লাইনকে কাবুল কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়নি। সীমান্ত এলাকায় উগ্রগোষ্ঠীদের নিরাপদ আশ্রয়, শরণার্থী আসা-যাওয়া, সীমান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ দেশ দুটির সম্পর্ক বৈরী হয়েছে গত কয়েক দশকে।

২০২১ সালে তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে এই সম্পর্ক কখনো সতর্ক অবস্থানে থেকে ইতিবাচক হয়েছে, আবার কখনো প্রকাশ্যে শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। সংঘর্ষের কারণে প্রায়ই সীমান্তে পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার কারণে বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ব্যাহত হয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘রাতের আঁধারে চালানো এই হামলায় দুই দেশের মধ্যে ‘উত্তেজনা’ বিপজ্জনক দিকে গেল।’

টিটিপি ইস্যু

পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবানকে (টিটিপি) আফগানিস্তান প্রশ্রয় দিচ্ছে। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আত্মঘাতী হামলার জন্য টিটিপিসহ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দায়ী করে পাকিস্তান।
তবে তালেবান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেে, আফগানিস্তানের মাটি অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কাজে ব্যবহার হচ্ছে না।

প্রতিশোধ ও উত্তেজনা

দুই দেশের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পারস্পরিক অভিযোগ এবং প্রতিশোধকে ঘিরে। গতকাল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ ২ সেনাসদস্য নিহত হন। গত সপ্তাহে, পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে বিস্ফোরকপূর্ণ গাড়ির ধাক্কায় ১১ সেনাসদস্য ও এক শিশু নিহত হয়। পরে ওই গাড়িতে থাকা হামলাকারীকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করে পাকিস্তান। এছাড়া গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হন।

আজ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।’

দুই দেশের মধ্যে চলা সংঘাতের ধারাবাহিকতার মধ্যে গত অক্টোবরে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সামি ওমারি আল জাজিরাকে বলেছেন, ২০২১ সাল থেকে আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে অন্তত ৭৫ দফা সংঘর্ষ হয়েছে।

পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেন, ‘তালেবানরাই এই পরিস্থিতি তৈরিতে বাধ্য করেছে। সীমান্তের উভয় পাশের নিরীহ নাগরিকদের স্বার্থে আমি আশা করব তালেবানরা পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করবে।’

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার (এসিএলইডি) দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পার্ল পান্ড্য আল জাজিরাকে বলেন, ‘আফগান প্রশাসন যদি টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তবে অনিবার্যভাবে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হবে।’

ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড বলেন, ‘পাকিস্তান আরও আক্রমণাত্মক ও শক্তিশালী হামলা করতে পারে।’

তবে, পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে আফগানিস্তান খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিশ্লেষক আব্দুল বাসিত বলেন, ‘পাকিস্তানের তুলনায় সামরিক শক্তিতে সক্ষমতা কম থাকায় আফগান তালেবানরা পাল্টা-হামলার জন্য অপ্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তারা আত্মঘাতী বোমা হামলার দিকে যেতে পারে।’

কুগেলম্যান বলেন, ‘পাকিস্তান এখন জঙ্গি স্থাপনার পরিবর্তে সরাসরি তালেবান সরকারের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা করছে। এর অর্থ তারা এখন সরাসরি তালেবান শাসনব্যবস্থাকেই টার্গেট করছে।’

ইনকিলাব আমাদের ভাষা না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। যারা আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, এগুলো তাদের ভাষা।

আজ শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবসের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলা ভাষা ও তার ইতিহাস নিয়ে আমরা যত্নবান না। যে জাতি তার নিজের ইতিহাস জানে না, সে জাতি কোনোদিনও উন্নতি করতে পারে না। আমরা নিজের ভাষাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মাঝে ন্যাশনালিজম গ্রো করে না।

তিনি বলেন, আজ বাংলা ভাষা সম্পর্কে আমরা নিজেরা যদি একটু চিন্তা করতাম, তাহলে জেন-জি ইনকিলাব বলতো না। তারা ইনকিলাব বললে আমার রক্তক্ষরণ হয়।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আমি জীবন দিতে‌ মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। মরে গেলে আজ কেউ আমার নাম নিতো না। বেঁচে আছি বলেই আজ মন্ত্রী হয়েছি। এই ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে বলেই আমি মন্ত্রী হয়েছি। সুতরাং দেশকে ভালোবেসে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।

 

 

ইসলামি ব্যাংকিং আসলে কতটা ইসলামি?

‘যাহারা সুদ খায়, তারা সে ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দিয়েছে। কারণ তারা বলে, “কেনাবেচা তো সুদেরই মতো।” অথচ আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।… আর যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে সময় দেওয়া উচিত…।’ —সূরা আল-বাকারাহ (মুহাম্মদ আসাদের ইংরেজি থেকে অনুবাদ)।

পাকিস্তানে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। ১৯৮৫ সালের মধ্যেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ‘সুদ’ শব্দের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। এর বদলে তারা ‘মার্ক-আপ’ বা লভ্যাংশ শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করে। তবে এই ব্যাংকিং যে আসলে পুরোপুরি ইসলামি ছিল না সেটি পরে স্পষ্ট হয়। এটি কেবল শব্দগত পরিবর্তন মাত্র।

পাকিস্তানে আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সূচনা হয় ২০০২ সালে। ওই বছর প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করে। এরপর থেকে দেশটিতে ইসলামি ব্যাংকিং দ্রুত বিকশিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ইসলামি ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক। পাশাপাশি পাকিস্তানিদের মধ্যেও ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ব্যাংকে লেনদেনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ইসলামি ব্যাংকগুলোতে এখন শরিয়াহ বোর্ড আছে। ব্যাংকের কার্যক্রম শরিয়াহসম্মত কি না, এই বোর্ড সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানেরও (এসবিপি) একটি শরিয়াহ উপদেষ্টা কমিটি আছে। কেবল ব্যাংকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে পাকিস্তান সরকার বর্তমানে সুকুক (সম্পদ-ভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি বন্ড) ইস্যু করছে। এ ছাড়া ইসলামি লিজিং এবং তাকাফুল নামে ইসলামি ইনস্যুরেন্সও রয়েছে।

আগামী বছর পাকিস্তানে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের রজতজয়ন্তী। এই সময়ে এসে আমাদের ভেবে দেখা দরকার, বর্তমানের এই ব্যাংকিং ব্যবস্থা কোরআনের নির্দেশনার ঠিক কতটা কাছাকাছি? এটি কি সত্যিই ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী এগোচ্ছে?

একটি কোম্পানি তার চলতি মূলধনের জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের জন্য সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারে। অন্যদিকে ইসলামি ব্যাংক থেকে তারা মুশারাকা বা মুরাবাহা এবং ইসতিসনা সুবিধা নিতে পারে।

ইসতিসনার একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, একটি কোম্পানি তুলা কেনার জন্য ঋণ চায়। ইসলামি ব্যাংক ১ কোটি রুপি দিয়ে তুলা কিনে তা কোম্পানির কাছে ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে বিক্রি করবে, যা এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। অথবা ১ কোটি ৫ লাখ রুপিতে বিক্রি করবে, যা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। বাস্তবে ব্যাংক কোনো তুলা কেনে না বা কোম্পানির কাছে বিক্রিও করে না। তবে এমন একটি ধারণা দেওয়ার জন্য কাগজে-কলমে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

ব্যাংক কতটা মুনাফা করবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত পলিসি রেট বা নীতি সুদের হারের ওপর। পলিসি রেট বেশি হলে ব্যাংকের মুনাফাও সমানুপাতিক হারে বেড়ে যায়।

মুশারাকা ব্যবস্থায় ইসলামি ব্যাংক কোম্পানির কাছ থেকে যে মুনাফা আদায় করে, তা-ও স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের পলিসি রেটের ওপরই নির্ভর করে। সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যদি পলিসি রেটের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি সুদ আদায় করে, তবে ইসলামি ব্যাংকগুলোর দাবিকৃত মুনাফার হারও প্রায় একই থাকে। ঋণের মেয়াদ চলাকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি পলিসি রেট বাড়ায়, তবে ইসলামি ব্যাংকগুলোও তাদের মুনাফার হার একই পরিমাণে বাড়িয়ে দেয়।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেমন কোম্পানির লাভ-লোকসানের তোয়াক্কা না করে নির্দিষ্ট হারে সুদ আদায় করে, ইসলামি ব্যাংকগুলোও ঠিক তেমনই গ্রাহক লোকসানে পড়লে কোনো ক্ষতি বা ঝুঁকি নেয় না। ঋণখেলাপি বা ঋণ পুনর্গঠনের ঘটনা ছাড়া কোনো ইসলামি ব্যাংক কখনো গ্রাহকের লোকসানের কারণে নিজেরা লোকসান গুনেছে বলে শোনা যায় না।

ইসলামের দৃষ্টিতে ঋণ ব্যবস্থা যেমন বাণিজ্যভিত্তিক এবং ঝুঁকি গ্রহণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কথা, বর্তমানের এই চর্চা তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ মনে করতে পারে, ইসতিসনা ব্যবস্থার অধীনে কোনো কোম্পানি যদি ১ হাজার বেল তুলা কেনার জন্য ঋণ নেয়, তবে তুলার নতুন দাম যা-ই হোক না কেন, তাদের ১ হাজার বেল তুলার সমমূল্যই ফেরত দেওয়া উচিত। তুলার দাম বাড়লে ব্যাংক লাভ করবে, আর কমলে লোকসান করবে। কিন্তু তুলার দামের যা-ই হোক না কেন, ব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট সুদভিত্তিক ‘মুনাফা’ পাবে না।

একইভাবে মুশারাকা ব্যবস্থায় মানুষের ধারণা থাকে যে, কোম্পানি লাভ করলে ইসলামি ব্যাংকগুলোও লাভ করবে, কিন্তু কোম্পানি লোকসান করলে তারা কোনো লাভ পাবে না। তা না হলে এটি কেবল আরবি নামের মোড়কে সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের মতোই হয়ে যায়।

পাকিস্তানি ইসলামি ব্যাংকগুলোর বর্তমান চর্চায় বাণিজ্যভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূল সুবিধাই হারিয়ে যাচ্ছে। সঠিক কোম্পানি খুঁজে ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে ব্যাংকগুলোর কোনো আগ্রহ থাকে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মতো যদি মুনাফাও সুদের হারের সঙ্গে একেবারে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়, তবে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সেই ‘বরকত’ আর থাকে না।

গত বছর পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আমানতকারীদের ন্যূনতম মুনাফা দেওয়া ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু ইসলামি ব্যাংকগুলো এর বিরোধিতা করে বলেছিল যে আমানতকারীদের নির্দিষ্ট মুনাফা দেওয়া ইসলামি নীতির পরিপন্থী। অথচ সেই একই ইসলামি ব্যাংকগুলো এসবিপির পলিসি রেটের ভিত্তিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা আদায় করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

এই দ্বৈতনীতির মানে হলো, ইসলামি ব্যাংকগুলো অন্য যেকোনো ব্যাংকের চেয়ে বেশি মুনাফা করলেও তাদের গ্রাহকেরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহকদের তুলনায় আমানতের ওপর কম মুনাফা পাচ্ছিলেন। সোজা কথায়, ভালো মুসলমান হওয়ার জন্য গ্রাহকদেরকে উল্টো বেশি মূল্য চোকাতে হচ্ছিল। এখনও ইসলামি ব্যাংকগুলো তাদের আমানতকারীদের অপেক্ষাকৃত কম মুনাফা দেয়, যা ইসলামের শোষণবিরোধী নীতির সরাসরি পরিপন্থি।

ঋণগ্রহীতা ঋণ বা সুদ/মুনাফা পরিশোধে দেরি করলে ইসলামি ও বাণিজ্যিক উভয় ব্যাংকই শাস্তিমূলক সুদ আরোপ করে (যা কোরআনের উল্লিখিত আয়াতের পরিপন্থি)। তবে পার্থক্য হলো, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এই অর্থ নিজেদের মুনাফা হিসেবে রেখে দেয়, আর ইসলামি ব্যাংকগুলো তা দান হিসেবে দিয়ে দেয়।

সত্যি বলতে, ইসলামি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যকার এই পার্থক্যটা আসলে বৈশিষ্ট্যে ততটা নয়, যতটা নামের মোড়কে। ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা এই সত্যিটা জানেন, কিন্তু তারা এই আশায় চুপ থাকেন যে ইসলামি ব্যাংকগুলো হয়তো একদিন সত্যিকারের ইসলামি ব্যাংকিংয়ের দিকে এগোবে। তবে রূঢ় সত্য হলো কয়েক দশক পার হলেও সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই। হয়তো ‘ইসলামি’ ব্যাংকগুলো অনেক বেশি লাভজনক হওয়ায় তারা এই ব্যবসায়িক মডেল থেকে বের হতে চায় না।

ইসলামি ব্যাংকাররা তাদের ব্যবসার যৌক্তিকতা বোঝাতে গরুর মাংস খাওয়ার উদাহরণ টানেন। তারা বলেন, হালাল পদ্ধতিতে জবাই না করা গরুর মাংস খাওয়া যাবে না। কিন্তু সঠিকভাবে জবাই করা হলে সেই একই মাংস হালাল হয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে এটা চমৎকার কথা। তবে এই কথা ব্যাংকে প্রযোজ্য নয়। কারণ, ইসলামে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়নি, শুধু পশু জবাইয়ের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সুদের নিষেধাজ্ঞা আসলে অনেকটা মদ পানের নিষেধাজ্ঞার মতো। মদ চায়ের কাপে খাওয়া হলো নাকি মদের গ্লাসে, তা বিবেচ্য নয়; নিষেধাজ্ঞা সব সময়ই বহাল থাকে। একইভাবে ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্য অনুমোদিত হলেও সুদ পুরোপুরি নিষিদ্ধ, সে আপনি যে আরবি নামেই ডাকুন না কেন।

আমাদের উচিত ইসলামি ব্যাংকিংকে পরিবর্তনশীল মুনাফা এবং ঝুঁকির ভাগ নেওয়ার মতো ইসলামের প্রকৃত নীতিগুলোর আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরালো উদ্যোগ নেওয়া।

________________________________________
(লেখাটি দ্য ডেইলি স্টারের এএনএন অংশীদার পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকায় গত ৬ জুন ‘ইজ ইসলামিক ব্যাংকিং ইসলামিক?’ শিরোনামে প্রথম প্রকাশিত হয়।)
 

মিফতা ইসমাইল: পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী।