36.8 C
Dhaka
Home Blog

‘দম’ সিনেমার সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নূর ইসলাম

ঈদে মুক্তি পেয়েছে পরিচালক রেদওয়ান রনির নতুন সিনেমা ‘দম’। আফগানিস্তানে তালেবানদের হাতে অপহৃত এক বাংলাদেশির শ্বাসরুদ্ধকর বেঁচে ফেরার সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। সেই গল্পের নেপথ্য নায়ক মো. নূর ইসলাম নিজেই শোনালেন তার জীবনের সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা।

২০০৮ সালে আফগানিস্তানে অপহৃত হয়েছিলেন নূর ইসলাম। ৮৪ দিন বন্দিজীবনের পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বড় পর্দায় তার সেই জীবনযুদ্ধের গল্প উঠে এসেছে। নূর ইসলাম বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক ও ধর্ম সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগে আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে আমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সেই ৮৪ দিনের সব ঘটনা দুই ঘণ্টার সিনেমায় পুরোপুরি তুলে আনা সম্ভব নয়। তবে আমি চাই দেশের মানুষ জানুক। আর বড় শিক্ষা হলো, আপনার ভেতরে যতক্ষণ দম আছে, ততক্ষণ হার মানা যাবে না।’

সিনেমাটিতে নূর ইসলামের স্ত্রী আনোয়ার পারভীন ওরফে রানির চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরী। বাস্তবে সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা মনে করে আনোয়ারা পারভীন বলেন, ‘আমার সব সময় মনে হতো সে বেঁচে আছে। আমার বিশ্বাস ছিল, তার কিছু হলে আমি ঠিকই টের পাব। অনেকে আমাকে পাগল বলত, কিন্তু আমার মনের অবস্থা কেউ বুঝত না।’

‘দম’ সিনেমায় নূর ইসলামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, যার পর্দার নাম ‘শাহজাহান ইসলাম নূর’। নিশো বলেন, ‘নূর ভাই ও তার স্ত্রীকে এখন আপনারা হাসিখুশি দেখছেন, কিন্তু তাদের ভেতরে সেই দিনের স্মৃতিগুলো এখনো জীবন্ত। তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আমরা সেই হাহাকার ও ক্ষোভটা টের পেয়েছি। আমি আমার চরিত্রের অনুপ্রেরণা তাদের কাছ থেকেই নিয়েছি।’

পরিচালক রেদওয়ান রনি জানান, নূর ইসলামের ডায়েরি পড়েই তিনি এই সিনেমার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। রনি বলেন, ‘গল্পটি যখন প্রথম পড়ি তখন কেঁদেছি, নূর ভাইয়ের সঙ্গে যখন প্রথম বসলাম, তখন আমরা দুজনই কেঁদেছি। নূর ভাই ডায়েরিটা আমাকে দিয়েছিলেন। সেটি পড়লে বোঝা যায় কেন এটি এক বাংলাদেশির জিতে যাওয়ার গল্প। সিনেমাটি দেখার পর নূর ভাই যখন জড়িয়ে ধরলেন, তখন মনে হলো আমার চেষ্টা সার্থক হয়েছে।’

এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড ও চরকির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘দম’ সিনেমাটি আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে দেশের সিনেমা হলগুলোতে (সিঙ্গেল স্ক্রিন) মুক্তি পাবে। রেদওয়ান রনির সঙ্গে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল আলম রবি।

ইসরায়েলের পাশে থাকবে ভারত, বললেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের সফরে এখন ইসরায়েলে রয়েছেন। তিনি দেশটির পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ভাষণ দিয়েছেন। এই ভাষণে তিনি দৃঢ় সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ইসরায়েল সফরে গিয়ে মোদি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এই সফর নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরেই সমালোচনা হচ্ছে।

পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে মোদি বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় যারা জীবন হারিয়েছেন এবং যেসব পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে, তাদের জন্য ভারতের জনগণের গভীর শোকবার্তা আমি সঙ্গে করে এনেছি।

তিনি বলেন, আমরা আপনাদের যন্ত্রণা বুঝি, আপনাদের দুঃখে সমব্যথী। এই কঠিন সময়ে ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে নিহত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির কথা মোদি তার ভাষণে সরাসরি উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বলেন, ভারত টেকসই শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখে এমন সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

মোদি ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের আরও বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ইসরায়েলের উদ্ভাবনী নেতৃত্ব আমাদের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করিয়েছে।

তিনি বিশেষভাবে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, চিপ শিল্প ও এআই খাতে দুই দেশের মধ্যে জোরালো সমন্বয়ের সুযোগের কথাও তুলে ধরেন।

নেতানিয়াহু মোদিকে বলেন, ভারত ইসরায়েলকে সমর্থন করে। কারণ ইসরায়েল বর্বরতার বিরুদ্ধে একটি প্রাচীর হিসেবে ভূমিকা রাখে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার সফর দুই দেশের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো ইসরায়েল সফর করছেন নরেন্দ্র মোদি।

বন্ধুত্বের বার্তা

বুধবার ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং উড়োজাহাজ থেকে নামার পর নেতানিয়াহু তাকে আলিঙ্গন করে স্বাগত জানান।

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মুখপাত্র বেড্রোসিয়ান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, দুই নেতার মধ্যে বিশেষ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।  ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে বন্ধন দৃঢ়—আমরা উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং সমন্বিত কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে একসঙ্গে কাজ করি।

নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, স্বাগত অনুষ্ঠানের পর দুই রক্ষণশীল নেতার ব্যক্তিগত বৈঠক হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সম্পর্ককে ‘সত্যিকারের বন্ধুত্ব’ বলে উল্লেখ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মোদি জানান, তাদের মধ্যে চমৎকার বৈঠক হয়েছে।  তিনি লেখেন, আমরা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।

সফরে মোদির ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে।
নয়াদিল্লি মধ্যপ্রাচ্যে তার কূটনৈতিক স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রতিরক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা ক্রমাগত বাড়িয়েছে।

ভারত সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারত-ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্য ৩ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ২০১৪ সালে হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

দেশে সমালোচনা

মোদি প্রথমবার ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন এবং এর পরের বছর নেতানিয়াহু ভারত সফর করেন।

২০২৩ সালে নয়াদিল্লিতে রেলওয়ে, বন্দর, বিদ্যুৎ, ডেটা নেটওয়ার্ক এবং পাইপলাইন সংযোগের জন্য ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর’ গঠনের বিশাল পরিকল্পনা উন্মোচন করা হয়েছিল।

তবে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা এবং পরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হলে সেই পরিকল্পনা থমকে যায়।

২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরের কয়েক মাস পর মোদি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধান আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র রামাল্লা সফর করেছিলেন।

তবে তার এবারের ইসরায়েল সফর ভারতে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, তিনি আশা করেছিলেন মোদি তার ভাষণে গাজায় হাজার হাজার নিরীহ পুরুষ, নারী ও শিশু হত্যার কথা উল্লেখ করবেন।

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারত হিন্দুপ্রধান হলেও সেখানে আনুমানিক ২২ কোটি মুসলিম বসবাস করেন। ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ ইসরায়েলের হাইফা বন্দর পরিচালনা করছে।

২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি সামরিক ড্রোন প্রযুক্তি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন রেখেছিল।

সংসদের অধিবেশন বসবে ১২ মার্চ বা দুই-একদিন আগে: সালাহউদ্দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ বা এর দুই-একদিন আগে বসবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।

পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী মাসের ১২ মার্চ অথবা এর দুই-একদিন আগে। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে। এই অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের অধ্যাদেশসমূহ উপস্থাপন করা হবে এবং শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। 
 

সাইবার জগতে বট ট্রাফিক: ভবিষ্যদ্বাণীর দেড় বছর আগেই যেভাবে ছাড়িয়ে গেল মানুষকে

ধরুন, এই গরমে আপনি অনলাইনে এসি কেনার জন্য কয়েকটি ওয়েবসাইট ঘুরে দেখছেন। আপনি মানুষ, তাই খুব বেশি হলে ৫ থেকে ১০টি সাইট ঘেঁটে দাম যাচাই করবেন। কিন্তু আপনি যেসময়ে ওই সাইটগুলো দেখলেন, সেসময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বট ঘুরে ফেলেছে কয়েক হাজার সাইট।

এসব বট সেকেন্ডে কতটি ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবে জানেন? উত্তর হলো—কমপক্ষে এক হাজার থেকে ১০ হাজার।

অনলাইনে এআই বা মেশিনের এই অতিমানবীয় গতির কারণেই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ঘটে গেছে এক অবিশ্বাস্য পরিবর্তন। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটে মোট ট্রাফিক বা ভিজিটরের সংখ্যায় মানুষকে ছাড়িয়ে গেছে স্বয়ংক্রিয় ‘বট’ বা মেশিন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, আপনি এখন যে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, সেখানে মানুষের চেয়ে রোবট বা বটের চলাচলই বেশি।

ইন্টারনেট নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বৈশ্বিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স সম্প্রতি এই তথ্য সামনে এনেছেন। এ নিয়ে শুক্রবার মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ক্লাউডফ্লেয়ারের রাডার ড্যাশবোর্ডের লাইভ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইন্টারনেটের (এইচটিএমএল কনটেন্টে) মোট ট্রাফিকের ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশই তৈরি করছে বট বা মেশিন। আর মানুষ বা হিউম্যান ট্রাফিক মাত্র ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রযুক্তিবিদ ম্যাথিউ প্রিন্স লিখেছেন, ‘ইন্টারনেটের ইতিহাসে এই প্রথম স্বয়ংক্রিয় বট থেকে আসা ট্রাফিক মানুষের তৈরি ট্রাফিককে ছাড়িয়ে গেছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘স্বয়ংক্রিয় বট ট্রাফিক এমন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা এই খাতের কেউ এত দ্রুত আশা করেনি।’

এর আগে ম্যাথিউ প্রিন্স ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বট মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে।

কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেছে প্রায় দেড় বছর আগেই।

 

Welp, that happened faster than I predicted. Thought it would be end of 2027, then early 2027, but agentic traffic growing so fast that bots have now passed human traffic online for the first time in the Internet’s history. https://t.co/2zX5bHdhsa

— Matthew Prince 🌥 (@eastdakota) June 3, 2026

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন সার্চ ইঞ্জিনের পুরোনো আমলের ক্রলার বা ডেটা চোর (ওয়েব স্ক্র্যাপার) বটের কারণে হয়নি। এর পেছনে কাজ করছে নতুন প্রজন্মের ‘এজেন্টিক এআই’।

এসব এআই এজেন্ট মানুষের হয়ে বিচরণ করে সাইবার জগতে। সময় বাঁচিয়ে আপনাকে তথ্য খুজে দেয়। আপনার হয়ে অতি অল্প সময়ে আপনার পছন্দের ও দামের রেঞ্জের এসি কোথায় পাওয়া যেতে পারে, তার তালিকা হাজির করে।

এটি এমন এক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা কেবল তথ্য খোঁজে না বরং মানুষের সহকারী বা ‘এজেন্ট’ হয়ে নিজে নিজে অনলাইনে কাজ করে দেয়। শুধু আপনার জন্য তথ্য খুঁজে দেওয়াই নয়, টিকিট বুকিং করা, শপিং সাইট থেকে সেরা ডিল খুঁজে বের করাসহ নানা ধরনের কাজ করে দেয়।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘হিউম্যান সিকিউরিটি’-এর ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মানুষের তুলনায় এআইচালিত ট্রাফিক আট গুণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিকের মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল এআই এজেন্টভিত্তিক। বছরের শেষে এই ট্রাফিক প্রায় ৮ হাজার শতাংশ বেড়ে গেছে।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজকের যে ইন্টারনেট ব্যবস্থা তা ডিজাইন করা হয়েছিল মানুষের মনোযোগ ও ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে। পুরো ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, অনলাইন কেনাকাটা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওয়েবসাইটের আয়সহ পুরো ই-কমার্স মডেলটি দাঁড়িয়ে আছে মানুষের ওপর ভিত্তি করে। এখানে সবকিছুর ক্ষেত্রেই ধরে নেওয়া হয় যে ব্যবহারকারী একজন মানুষ।

কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যবহারকারী বট হতে পারে—এমন সম্ভাবনাই বাড়ছে।

ফরাসি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইম্পারভা’ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির এ বছরের ‘ব্যাড বট’ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব কোম্পানি এখনো ভাবছে তাদের ব্যবহারকারীরা সবাই মানুষ, তারা নিজেদের সিস্টেম বুঝতে ভুল করছে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নামে পরিচিত কিছু বিনিয়োগকারী দ্রুত বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন স্টার্টআপ ও প্রাথমিক পর্যায়ের কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে এবং বিনিময়ে মালিকানার শেয়ার নেয়।

এসব বড় বিনিয়োগকারীদের পুরো অনলাইন বাজার ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছে ইম্পারভা।

এর কারণ হলো বর্তমানে সব অনলাইন মিডিয়া, ই-কমার্স ও ব্র্যান্ডগুলোতে মানুষের চেয়ে বটের চলাচলই বেশি। তাই বিনিয়োগ আসলে কার জন্য করা হচ্ছে—মানুষ নাকি বট, তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদমাধ্যম, বিজ্ঞাপন ও অনলাইন বিপণন খাত সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট বা এআই বট যখন আপনার হয়ে এক সেকেন্ডে পাঁচ হাজার ওয়েবসাইট ঘুরে আসবে, তখন সেখানে একটিও ‘হিউম্যান ভিউ’ বা মানুষের ইম্প্রেশন তৈরি হবে না।

ফলে বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় পেজভিউ বা ক্লিকের ওপর ভিত্তি করে আয়ের যে মডেল তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এআই এজেন্ট বা বটের কারণে ওয়েবসাইটে ভিজিটরের সংখ্যা বাড়লেও বাস্তবে দেখা যাবে—পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। কারণ মেশিন ভিজিট করলেও বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য কেনে না।

এর ফলে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজারে ব্যবহৃত বিভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি পুনরায় বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ইম্পারভার গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এআইচালিত বট হামলা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৫ গুণ বেড়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ৪০ শতাংশই ক্ষতিকর বা ম্যালিশিয়াস বটের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বৈধ এআই এজেন্ট এবং ক্ষতিকর বটের আচরণ অনেক ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম। ফলে কোনটি উপকারী আর কোনটি ক্ষতিকর—তা শনাক্ত করা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘হিউম্যান সিকিউরিটি’-এর তথ্য মতে, মানুষ ও ক্ষতিকর স্বয়ংক্রিয় বটের মধ্যে পার্থক্য মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

ফলে এটি মানুষ নাকি বট—শনাক্ত করার যে পুরোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তা ইতোমধ্যে অকেজো হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ইন্টারনেটে মানুষ ও যন্ত্র—দুই ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা পরিচয় ও যাচাই ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে।

এআই এজেন্ট বা বটকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না। এর বদলে তাদের পরিচয় যাচাই, অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

যারা মেশিনের পরিচয় যাচাই ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে নতুন নিরাপত্তা দেয়াল তৈরি করতে পারবে, প্রযুক্তি দুনিয়ার ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই থাকবে।

মানেকে নিয়ে বিশ্বকাপে সেনেগাল

বিশ্বকাপ সামনে রেখে শক্তিশালী ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে সেনেগাল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বড় মঞ্চে ফিরছেন তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানে। আল নাসরের এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই মূলত আক্রমণভাগ সাজিয়েছে আফ্রিকান এই দলটি, যেখানে অভিজ্ঞতা ও তরুণদের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড।

মানে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্কোয়াডে থাকলেও হাঁটুর চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত খেলা হয়নি। এবার পুরোপুরি ফিট হয়ে তিনি আবারও জাতীয় দলের মূল ভরসা হয়ে ফিরেছেন। ক্যারিয়ারে লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবে খেলা এই তারকা শুধু গোল করার ক্ষমতাই নয়, নেতৃত্বগুণ দিয়েও দলকে অনুপ্রাণিত করেন।

এর আগে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একটি বিতর্কিত ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে স্টপেজ টাইম পেনাল্টির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে চলে যায়। তবে সেই মুহূর্তে মাঠে থাকা মানে সতীর্থদের আবারও খেলায় ফেরার আহ্বান জানান। অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেয়ের গোলের পর সেনেগাল জয় পেলেও পরে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেয় আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)।

কোচ পাপে থিয়া যখন চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করবেন, তখন এই ২৮ জনের স্কোয়াড থেকে দু’জনকে বাদ পড়তে হবে।

সেনেগাল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২২ জুন নরওয়ে এবং ২৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে খেলবে তারা।

সেনেগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক: এদুয়ার্দ মান্দি, ইভান দিয়ুফ, মোরি দিয়াও।

ডিফেন্ডার: ক্রেপিন দিয়াতা, অঁতোয়ান মান্দি, আবদুলায়ে সেক, কালিদু কুলিবালি, ইলায়ে কামারা, মুসা নিয়াখাতে, মামাদু সার, এল-হাজি মালিক দিয়ুফ, মুস্তাফা মবু, ইসমাইল জাকোবস।

মিডফিল্ডার: ইদ্রিসা গেয়ে, হাবিব দিয়ারা, পাপে মাতার সার, পাপে গেয়, লামিন কামারা, পাতেহ সিস, বারা ন্দিয়ে।

ফরোয়ার্ড: সাদিও মানে, বাম্বা দিয়েং, ইলিমান ন্দিয়ে, নিকোলাস জ্যাকসন, অসানে দিয়াও, ইব্রাহিম মবায়ে, শেরিফ ন্দিয়ে, ইসমাইলা সার।

 

চট্টগ্রামে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৫ শাখায় আমানতকারীদের তালা

আমানতের ওপর মুনাফা কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং টাকা উত্তোলনের সীমা তুলে নিয়ে স্বাভাবিক লেনদেনের দাবিতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৫টি শাখায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকেরা।

আজ সোমবার সকালে ব্যাংকে তালা দিয়ে গ্রাহকেরা আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করেন।

একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। এর আগে একই দাবিতে খাতুনগঞ্জে তিনটি ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়েছিলেন গ্রাহকেরা।

আমানতকারীদের প্রধান দাবি হলো—অবিলম্বে মুনাফা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে এবং তাদের জমানো টাকা ফেরতের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি টাকা উত্তোলনের সীমা তুলে নিয়ে স্বাভাবিক লেনদেন চালু করা এবং গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে আমানতকারীরা আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে মিছিল বের করেন। এরপর তারা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তারা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে জড়ো হন।

সেখানে দ্বিতীয় তলায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শাখার সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। নিচতলায় একীভূত হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর একটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের কাছে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ওই কার্যালয়েও তালা ঝুলিয়ে দিলে ভেতরে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এ সময় শতাধিক গ্রাহককে ‘ব্যাংকে আমার টাকা, আমি কেন রাস্তায়?’—স্লোগান দিতে দেখা যায়। নিজেদের জমানো টাকা তুলতে না পারার ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

আমানতকারী সামিনা আক্তার বলেন, ‘ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্যই টাকা জমিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দরকারে টাকা তুলতে পারছি না। সামনে ঈদুল আজহা, টাকা না পেলে হয়তো কোরবানি দিতে পারব না। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে!’

এর আগে গত রোববার খাতুনগঞ্জেও আমানতকারীরা ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করে কয়েকটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন।

সেখানে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারী সমিতির চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজম প্রশ্ন তোলেন, ‘গ্রাহকেরা আদৌ তাদের টাকা ফেরত পাবেন কি না? একীভূত ইসলামী ব্যাংকের নামে, নাকি আলাদা ব্যাংকের পরিচয়ে টাকা দেওয়া হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আমরা নিশ্চয়তা চাই।’

সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জীবনের সব সঞ্চয় আমরা নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকে রেখেছিলাম। আর এখন নিজের টাকা তুলতেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে। সামনে ঈদ, পরিবারের নানা দায়িত্ব আছে। আমরা দ্রুত আমাদের আমানত ফেরত চাই।’

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, ‘তালাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার ঢাকায় ১১ দলের মিছিল

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১৮ এপ্রিল ১১ দলের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল, ২৫ এপ্রিল ঢাকা বাদে অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে গণমিছিল এবং ২ মে জেলা শহরগুলোতে গণমিছিল।

এ ছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ ও সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এর আগে বেলা ১১টায় আল ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃত্বের এক বৈঠক শুরু হয়। চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার প্রমুখ।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই ধাপের কর্মসূচি শেষে পরবর্তী ধাপে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে ১১ দলের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ হবে। সমাবেশসহ কর্মসূচির দিনক্ষণ পরবর্তী সময়ে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে ঠিক হবে। এরপর ১১ দল রাজধানীতে বিশাল সমাবেশ করবে। সেই সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণরায় মানছে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নই ১১ দলের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দল দফায় দফায় কর্মসূচি দেবে।

ঈদুল আযহার জন্য নতুন দ্বৈত গানে ন্যান্‌সি

‘এতো ভালোবাসো কীভাবে’ শিরোনামে নতুন একটি দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি এবং কলকাতার আকাশ সেন। 

স্নেহাশীষ ঘোষের কথা ও সুরে গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন রিয়েল আশিক। 

ঈদুল আযহা উপলক্ষে গানটি মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশিত হবে অনুপম মিউজিক থেকে। এর আগে আকাশ সেনের সুরে ন্যান্‌সির গান প্রকাশিত হলেও এটাই তাদের প্রথম ‘ডুয়েট’। 

 

গানটি সম্পর্কে ন্যান্‌সি বলেন, ‘আকাশ সেনের সুর করা গান এর আগে গাইলেও দ্বৈত গান এবারই প্রথম। নিটোল প্রেমের অনুভূতি মিশে আছে গানের কথা ও সুরে। সব মিলিয়ে গানটা শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

অন্যদিকে আকাশ সেন বলেন, ‘ন্যান্‌সি আমার খুবই প্রিয় একজন কণ্ঠশিল্পী। তার গায়কী আমার ভীষণ পছন্দ। আমাদের এই গানটির কথা ও সুর যেরকম হয়েছে তাতে আমি মনে করি আমাদের শুরুটা একটু দেরিতে হলেও এটি একটি মনে রাখার মতো গান হতে যাচ্ছে। শ্রোতারা নতুন এক রসায়ন খুঁজে পাবেন এই গানে।’

 

গানের গীতিকার ও সুরকার স্নেহাশীষ ঘোষ বলেন, ‘ন্যানসি আপুর জন্য প্রায় ৩০টি গান লিখেছি যার মধ্যে আছে ডানাকাটা পরী, ভালো আছি ভালোবেসে, নাম কী তোমার, ঠিক-বেঠিক, ভালোবাসি অকারণে-এর মতো গান। যেগুলো শ্রোতারা ভালোবেসে গ্রহণ করেছিল।’ 

‘প্রায় ৯ বছর পর তার জন্য নতুন গান লিখেছি ও সুরও করেছি। গানটি অনুপম মিউজিক থেকে ঈদুল আজহায় প্রকাশিত হবে’, যোগ করেন স্নেহাশীষ।

চীনের সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন পাইলট গ্রেপ্তার

মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সাবেক পাইলট গ্রেপ্তার হয়েছেন। পূর্ব অনুমোদন ছাড়া চীনের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ।

মার্কিন বিচার বিভাগ এ বিষয়ে একটি ঘোষণা দিয়েছে। 
আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন জেরাল্ড এডি ব্রাউন জুনিয়র (৬৫)। বিমানবাহিনীতে তার কল সাইন ছিল ‘রানার’। সম্প্রতি তিনি চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে এসেছেন। 

বিচার বিভাগের বিবৃতি মতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনে গিয়েছিলেন এডি ব্রাউন। 

তার বিরুদ্ধে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছ থেকে নিবন্ধন না নিয়ে ‘বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগসাজশে চীনের বিমান বাহিনীর পাইলটদের সামরিক বিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ’ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। 

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক ক্যাশ পাটেল এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘বড় খবর…এফবিআই এবং অন্যান্য অংশীদাররা চীনের সামরিক বাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে।’

 

বিবৃতি মতে, এডি ব্রাউন ২৪ বছর বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ‘পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দেন এবং বেশ কয়েক ধরনের যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।’ 

 

১৯৯৬ সালে বিমানবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে মালামাল পরিবহনকারী উড়োজাহাজের পাইলট হিসেবে কাজ করেন তিনি। পরবর্তীতে চুক্তির ভিত্তিতে এ-১০ ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ পরিচালনায় মার্কিন পাইলটদের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন তিনি। 

অভিযোগ মতে, ২০২৩ সালের আগস্টে চীনা নাগরিক স্টিফেন সু বিন-এর সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি শুরু করেন এডি ব্রাউন। চীনের ওই নাগরিক ২০১৬ সাল থেকে গুপ্তচরবৃত্তির অপর এক অভিযোগে চার বছর যুক্তরাষ্ট্রের আটক ছিলেন। 

 

আলোচনার পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনে গিয়ে সেখানকার পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন ব্রাউন। 

এফবিআই-এর কাউন্টারইন্টেলিজেন্স ও এসপিওনাজ বিভাগের কর্মকর্তা রোমান রোঝাভস্কি বলেন, ‘চীনা সরকার দেশটির সামরিক সক্ষমতার আধুনিকায়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কাজ অব্যাহত রেখেছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘(এডি ব্রাউনকে) গ্রেপ্তারের খবরটি এফবিআই ও আমাদের অংশীদারদের প্রতি একটি সতর্কবার্তা। যারা আমাদের শত্রুদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, তাদেরকে থামাতে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কোনো ভাবে দেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে না পারে।’

 

২৬ বছর ধরে বিনা টাকায় খতম তারাবিহ পড়ান তিনি

কিশোরগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র পুরান থানা এলাকায় অবস্থিত ‘শহীদি মসজিদ’। এটি জেলার কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে পরিচিত। মসজিদটির নাম একসময় পুরান থানা মসজিদ ছিল। ১৯৪২ সালের ২৪ অক্টোবর মসজিদের ভেতরে ব্রিটিশ সেনাদের অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণে পাঁচজন মুসল্লি নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকে নামকরণ হয় শহীদি মসজিদ। ঐতিহাসিক মসজিদের তিনটি পিলারে এখনো রয়েছে সেই গুলির চিহ্ন।

শহীদি মসজিদে ২৬ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে খতম তারাবিহ পড়াচ্ছেন মাহফুজুর রহমান (৫৬)। স্থানীয়ভাবে তিনি হাফেজ ও মাওলানা মাহফুজ হুজুর নামে পরিচিত। অবশ্য এই মসজিদে একাধারে ৪২ বছর খতম তারাবিহ পড়িয়ে নজির সৃষ্টি করেছিলেন মাওলানা আজহার আলী আনোয়ার শাহ।

মাহফুজুর রহমান ১৯৯৩ সাল থেকে আনোয়ার শাহের পেছনে শ্রবণকারী হিসেবে দ্বিতীয় ইমামের দায়িত্ব পালন করেন। আর ২০০১ সাল থেকে তিনি খতম তারাবিহর নামাজ পড়ান। বর্তমানে মাহফুজুর ছাড়াও হাফেজ মাহমুদুল হাসান, হাফেজ মোহাম্মদ সফিউল্লাহ ও হাফেজ আতহার রাসেল খতম তারাবিহ পড়ান। এর মধ্যে প্রথম ছয় রাকাত নামাজ পড়ান মাহফুজুর। বাকি নামাজ পড়ান তিনজনে মিলে।

মাহফুজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, মসজিদ–সংলগ্ন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া হিফজুল কোরআন বিভাগ থেকে ১৯৮২ সালে মাত্র এক বছরে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করি। তখন বয়স ছিল ১২ বছর। ১৯৯৩ সালে শহীদি মসজিদে আল্লামা হাফেজ মাওলানা আনোয়ার শাহের পেছনে সাধারণ মুসল্লি হিসেবে তারাবিহর নামাজ পড়ছিলাম। একদিন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের সময় ইমামের দৃষ্টিগোচরের জন্য আমি লোকমা দেই। (নামাজে ইমাম ভুল করলে মুসল্লিদের কর্তব্য লোকমা দিয়ে শুধরে দেওয়া)। নামাজ শেষে ইমাম আনোয়ার শাহ বলেন, ‘কে লোকমা দিয়েছিল?’ আমি দাঁড়াতেই উনি (আনোয়ার শাহ) মোয়াজ্জিনকে ডেকে বললেন, ‘একটি জায়নামাজ এনে আমার পেছনে দাও। আজ থেকে আমার পেছনে তুমি নামাজে দাঁড়াবে এবং তেলাওয়াত শ্রবণকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’ এভাবেই দায়িত্ব পাই। এরপর আট বছর হুজুরের পেছনে শ্রবণকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ২০০১ সালে তারাবিহর নামাজ পড়ানো শুরু করি।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর বিশেষ নিয়ামতে, ওস্তাদদের নেক দোয়ায় ও মুসল্লিদের ভালোবাসায় এত বছর সুস্থ থেকে একই মসজিদে টানা তারাবিহর নামাজ পড়ানোর সৌভাগ্য অর্জন করতে পেরেছি। তারাবিহ পড়াতে গিয়ে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। অনেক বড় বড় আলেম ও সরকারি কর্মকর্তা এখানে নামাজ পড়েন। আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে, এ মসজিদে আমি দুই প্রজন্মকে তিলাওয়াত শোনাতে পেরেছি। আমার কোনো চাওয়া–পাওয়া নেই। যত দিন সুস্থ থাকব, পবিত্র কোরআনের খেদমতের মাধ্যমেই মসজিদে বাকি জীবন অতিবাহিত করতে চাই।

মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ পড়েন হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে শহীদি মসজিদে নিয়মিত তারাবিহ পড়ছি। আমার সঙ্গে এখন আমার ছেলেও নিয়মিত এই মসজিদে তারাবিহ পড়ে। হাফেজ মাহফুজুর রহমানের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত অনেক শ্রুতিমধুর এবং তিনি প্রতিটি হরফের স্পষ্ট উচ্চারণের পাশাপাশি নিখুঁত তিলাওয়াত করেন। তার তিলাওয়াত শুনতে অনেক ভালো লাগে।

মাহফুজুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের চর শোলাকিয়া এলাকার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। তার দুই ছেলে হুজাইফা ও মুয়াজ পবিত্র কোরআনের হাফেজ। মাহফুজুর দাওরায়ে হাদিস পাস করার পাশাপাশি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন। তিনি মিফতাহুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক।

শহীদি মসজিদের মোতোয়ালি ও আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বির আহমাদ বলেন, শহীদি মসজিদ হলো কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দ্রীয় মসজিদ। এখানে তারাবিহ ও জুমার নামাজ আদায়ের জন্য আশপাশসহ দূর-দূরান্ত থেকে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে। এখানে হাফেজ মাহফুজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে তারাবিহর নামাজ পড়াচ্ছেন। তার শ্রুতিমধুর ও সুন্দর তিলাওয়াতে সবাই মুগ্ধ। যত দিন তিনি নামাজ পড়াতে সক্ষম হবেন, ততদিন এখানেই নামাজ পড়াবেন। এটাই মসজিদ কমিটিসহ সব মুসল্লির চাওয়া। বর্তমানে মসজিদে হাফেজ মাহফুজুর ছাড়াও আরও তিনজন হাফেজ খতম তারাবিহ পড়ান। এর বিনিময়ে তারা কোনো বেতন নেন না। কমিটি দিতে চাইলেও তারা নিতে রাজি নন। বলা চলে বিনা পয়সায় তারা তারাবিহর ইমামতি করেন।