31 C
Dhaka
Home Blog

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপা‌ন সফরের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে জাপান।

আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন।

সাক্ষাৎকারে তারা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়, মেট্রোরেল সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে একে অপরকে সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠককালে রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে জাপানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উভয় পক্ষ এমপ্লয়মেন্ট স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে জাপানে কাজ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং জাপানি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তথ্যের সহজলভ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং একটি ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ তৈরির প্রস্তাব দেন। এটি জাপানি নিয়োগকর্তাদের জন্য দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করবে।

এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে একই দিনে জাপানি রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপানের দ্রুত স্বীকৃতির কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটির বিশেষ সংস্করণ, থাকছে নিরাপত্তা ও শিক্ষাকেন্দ্রিক ফিচার

কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটির বিশেষ সংস্করণ চালু করেছে ওপেনএআই। ‘চ্যাটজিপিটি ফর টিনস’ নামে নতুন এই সংস্করণে থাকছে বয়স উপযোগী নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের সুবিধা।

এছাড়া, কিশোররা যাতে স্কুলের পড়াশোনা বা বাড়ির কাজে ফাঁকি দেওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে না পারে, তা ঠেকানোর জন্য এতে বিশেষ কিছু সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।

প্রায় তিন বছর আগে চালু হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই চ্যাটবটটিতে এসব সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। এতদিন পর সেবাটিতে নতুন সংস্করণ আনা হলো।

নতুন সংস্করণে ‘স্টাডি মুড’ নামে একটি ফিচার রয়েছে। এতে কিশোর বয়সী ব্যবহারকারীদের কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে দিকনির্দেশনামূলক ও ধাপে ধাপে সহায়তা দেবে চ্যাটজিপিটি, যাতে তারা কোর্সের বিষয়বস্তু বুঝতে পারে।

সিস্টেম যদি বুঝতে পারে যে, কোনো কিশোর শেখার পরিবর্তে চ্যাটবট ব্যবহার করে বাড়ির কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে, তখন তাকে হোমওয়ার্ক রিমাইন্ডার দেখানো হবে এবং স্টাডি মুড ব্যবহারে উৎসাহিত করবে।

চ্যাটজিপিটি ফর টিনস-এ কুইজ, শেখার বিষয়গুলোর দৃশ্যায়ন ও অভিভাবকদের জন্য বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ সুবিধাও রয়েছে। এর ফলে অভিভাবকরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, ডিফল্টভাবে কখন স্টাডি মুড চালু থাকবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাসংক্রান্ত নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে।

বয়স উপযোগী কনটেন্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা এতে চালুই থাকবে। উদ্দেশ্য হলো, কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর কিংবা তাদের বয়স ও মানসিক বিকাশের জন্য অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শ কমানো।

ওপেনএআই জানিয়েছে, এসব সুরক্ষা ব্যবস্থা শিশু-কিশোরদের বিকাশসংক্রান্ত বিজ্ঞান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

এআই কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে এর সমালোচনামূলক মূল্যায়ন করতে হয়, তরুণ ব্যবহারকারীদের তা বুঝতে সহায়তা করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কোডএআই-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণাও দিয়েছে।

তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চ্যাটজিপিটির প্রভাব নিয়ে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার পর এই সেবা চালু করা হলো। এসব মামলার মধ্যে কিশোরদের আত্মহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাও রয়েছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে চালু হয় চ্যাটজিপিটি। কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর আগেই এর সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েক কোটিতে পৌঁছে যায়।

টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি সুইজারল্যান্ড

রুদ্ধশ্বাস লড়াই, ১২০ মিনিটেও কোনো গোল নেই। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হলো টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুর লড়াইয়ে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মিলিয়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। এরপর টাইব্রেকারে সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জয় নিশ্চিত হয় ইউরোপের দলটির।

টাইব্রেকারে একপর্যায়ে দুই দলই একটি করে শট মিস করে। এরপর কলম্বিয়ার কুচো হার্নান্দেসের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন কোবেল। পরে শেষ শটে রুবেন ভার্গাস গোল করলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় সুইজারল্যান্ডের।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল জমাট রক্ষণাত্মক লড়াই। প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে ২১ মিনিটে। কলম্বিয়ার গুস্তাভো পুয়ের্তার বাঁকানো শট উড়ে গিয়ে দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন কোবেল।

প্রথম কুলিং ব্রেকের পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় সুইজারল্যান্ড। ফাবিয়ান রিডারের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। এরপর ড্যান এনদয়ের চেষ্টাও ব্যর্থ করে দেন তিনি।

বিরতির পর ম্যাচে কিছুটা গতি এলেও দুই দলই গোলমুখে কার্যকর হতে পারেনি। কলম্বিয়ার লুইস সুয়ারেজ একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন, আর পুরো ম্যাচেই সুইস রক্ষণে আটকে ছিলেন দলের তারকা উইঙ্গার লুইস দিয়াস।

নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে সুইজারল্যান্ডের এনদয়ের শট গোলমুখ অতিক্রম করলেও সেটিকে জালে পাঠানোর মতো কেউ ছিলেন না। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেই জমে ওঠে ম্যাচ। কর্নার থেকে কলম্বিয়ার জন লুকুমির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর জামিন্তন কাম্পাসের শক্তিশালী শটও রুখে দেন সুইস গোলরক্ষক কোবেল।

অন্য প্রান্তে বদলি খেলোয়াড় জেকি আমদুনির শটও প্রতিহত করেন কলম্বিয়ান গোলরক্ষক ভার্গাস। অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে ম্যাচ জেতানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি কাম্পাস।

অবশেষে টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয় ম্যাচের ভাগ্য। গোলরক্ষক কোবেলের দুর্দান্ত সেভ এবং ভার্গাসের নিখুঁত শেষ শটে জয় নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড।

আগামী শনিবার কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার-ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা। একই দিনে আটলান্টায় মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল।

১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল সুইজারল্যান্ড।

 

যুক্তরাষ্ট্রের গম টনপ্রতি ২৪ ডলার বেশি দিয়ে কিনছে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় প্রতি টন গম আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় ২৪ ডলার বেশি দামে আমদানি করবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর শর্ত পূরণ করে শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) জি-টু-জি ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড পুরো চালান সরবরাহ করবে। এর মধ্যে জি-টু-জি ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি করা হবে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭০ কোটি টাকা। প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২২ ডলার।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং প্রতি টনের দাম পড়বে ২৯৭ দশমিক ৯২ ডলার, যা জি-টু-জি চুক্তির দামের তুলনায় প্রায় ২৪ ডলার কম।

এই আমদানি কার্যক্রমের ভিত্তি ২০২৫ সালের ২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের (ইউএসডব্লিউএ) সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। ওই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৭ লাখ টন মার্কিন গম আমদানি করতে পারবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার আওতায় প্রথম চালানটি ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর দেশে পৌঁছায়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার টন গম কিনেছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আমদানি করা গমের মান প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। চুক্তিতে ন্যূনতম ১১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিন থাকার কথা থাকলেও সরবরাহকৃত গমে প্রোটিনের পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। পাশাপাশি আর্দ্রতা ও শস্যদানার ওজনও অত্যন্ত সন্তোষজনক ছিল।

বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে বছরে প্রায় ৭ লাখ টন আমদানির মাধ্যমে পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গমের শীর্ষ ১০ বাজারের একটি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ।

স্পট মার্কেট থেকে দুটি এলএনজি কার্গো আমদানির অনুমোদন

সিসিজিপি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে দুটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে। সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী এ জন্য মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড প্রতি এমএমবিটিইউ (মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) ১৬ দশমিক ৯৮ ডলার দরে একটি কার্গো সরবরাহ করবে। অন্যটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড সরবরাহ করবে, যার দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ১৬ দশমিক ৯৭ ডলার।

রাশিয়া ও কানাডা থেকে ৭৫ হাজার টন পটাশ সার আমদানি

কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে ৭৫ হাজার টন মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬৪ কোটি টাকা এবং প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮০ ডলার।

অন্যদিকে, কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির আওতায় কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে। এ জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৭ কোটি টাকা। এখানেও প্রতি টনের দাম ৩৮০ ডলার।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সড়ক উন্নয়নে বড় দুই প্রকল্প

লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের অধীনে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সংযোগ সড়ক উন্নয়নের দুটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সিসিজিপি।

এর মধ্যে একটি প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক এমএএইচ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, যার চুক্তিমূল্য ১৩৫ কোটি টাকা। অন্য প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেড, যার চুক্তিমূল্য ১৪৬ কোটি টাকা।

গানের মঞ্চ থেকে নাটক-সিনেমার পর্দায় কণ্ঠশিল্পীরা

বাংলা বিনোদন অঙ্গনে কণ্ঠশিল্পীদের অভিনয়ে অংশ নেওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। বিভিন্ন সময়ে অনেক জনপ্রিয় শিল্পী নাটক, সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন। কেউ কেউ একক অভিনয়ে প্রশংসিত হয়েছেন, আবার কেউ নিয়মিতভাবেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন। গানের মঞ্চ থেকে পর্দায়, এই ভিন্নধর্মী যাত্রা অনেক শিল্পীর ক্যারিয়ারে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা অভিনয় করেছেন ‘শিল্পী’ নামের একটি সিনেমায়। চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে ছিলেন আলমগীর। সিনেমাটির কাহিনী অনেকটাই তাকে কেন্দ্র করে নির্মিত, এবং প্রয়োজনের খাতিরেই তিনি অভিনয়ে যুক্ত হয়েছিলেন।

হৃদয় খান অভিনয় করেছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘রূপকথা’ নাটকে, যেখানে তার সহশিল্পী ছিলেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। এছাড়া তন্ময় তানসেন পরিচালিত ‘ক্ষরণ’ টেলিফিল্মে তারিনের বিপরীতেও অভিনয় করেছেন তিনি।

তাহসান খান গানের পাশাপাশি নিয়মিত অভিনয় করেছেন। নাটকের পাশাপাশি বড় পর্দায়ও তিনি সফল। ‘যদি একদিন’ সিনেমায় ভারতের শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির বিপরীতে তার অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পার্থ বড়ুয়া বিভিন্ন নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘আয়নাবাজী’ সিনেমায় তার উপস্থিতি দর্শকের নজর কাড়ে। এছাড়া চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত ‘মেইড ইন চিটাগং’ সিনেমাতেও দেখা গেছে তাকে।

প্রীতম হাসান সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ে বেশ আলোচিত। ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ক্যাকটাস, তুমি আমি শুধু’ এবং ‘ঘুমপরী’ ওয়েব কনটেন্টে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। একইসঙ্গে ‘তুফান’ সিনেমার ‘লাগে উড়াধুড়া’ গানে পারফরম্যান্স করেও আলোচনায় ছিলেন তিনি।

জেফার অভিনয় করেছেন বিভিন্ন ওয়েব ফিল্মে। ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন ২’ ও ‘তুমি আমি শুধু’–তে তাকে দেখা গেছে। এছাড়া ‘লাস্ট ডিফেন্ডার অব মনোগামী’ ওয়েব ফিল্মে চঞ্চল চৌধুরীর বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে তার।

রাশেদ উদ্দিন আহমেদ তপু মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মিত ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা।

বালাম অভিনয় করেছেন মিঠু খান পরিচালিত ‘নীলচক্র’ সিনেমায়। তাকে সিনেমায় ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। ইমরান ও আতিয়া আনিসা ‘টগর সিনেমার ও সুন্দরী’ গানে পারফর্ম করেন।

ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ ‘রিদম অব লাইফ’ নামের ছয় পর্বের ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন। অন্যদিকে পড়শী ‘মেন্টাল’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং বর্তমানে মাঝেমধ্যে নাটকেও কাজ করছেন।

দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর মেগা এপিসোডে (৫২তম পর্ব) সংগীতশিল্পী আরফিন রুমি ও দোলা রহমান নিজেদের চরিত্রেই অভিনয় করেছেন। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।

কণ্ঠশিল্পীদের অতিথি চরিত্রে অভিনয়ের ঘটনাও কম নয়। আজম খান, বাপ্পা মজুমদার, সামিনা চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, কোনাল, সালমা, মিলা—এমন অনেক শিল্পী নাটক ও সিনেমায় অতিথি চরিত্রে উপস্থিত হয়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন।

গানের কণ্ঠশিল্পীদের অভিনয়ে অংশগ্রহণ নতুন কিছু না হলেও সময়ের সঙ্গে এটি আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়ে নিজেদের দক্ষতা দেখিয়ে অনেক শিল্পীই দর্শকের কাছে নতুনভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন।

ইরান কি ভেঙে যাবে?

সব আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়ে ইরানে দ্বিতীয়বারের মতো যুগপৎ হামলা চালিয়েছে মহাক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্র ও এর প্রধান মিত্র ইসরায়েল।

এবারের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার পর এখন অনেকের মনে প্রশ্ন—প্রাচীন সভ্যতার এই দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা পাবে তো?

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইরানের নির্বাসিত ‘যুবরাজ’ রেজা পাহলভি নিজের ওয়েবসাইটে ইরানের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য নিজ দেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন—‘ইরানের ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো আপোস হবে না। আমরা ইরানের এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বো না।’

তার ভাষ্য, ইরানের ভৌগোলিক বিভাজন কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যাবে না। যেসব ব্যক্তি বা দল ইরানের অখণ্ডতা নষ্ট করতে কাজ করবে, এমনকি যারা এ কাজে সমর্থন দেবে তাদেরকে ইরানের জনগণ কঠোর হাতে প্রতিরোধ করবে।

 

একই ভাষ্য ইরানের বর্তমান শাসকদেরও।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামির বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়—ইরানের অখণ্ডতা রক্ষা করতে সশস্ত্র বাহিনী ‘শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত’ লড়াই করে যাবে।
এ কথা স্মরণ করা যেতে পারে যে আজ থেকে ঠিক ৪৭ বছর আগে ইরানের জনগণের প্রবল আন্দোলনে দেশছাড়া হয়েছিলেন ইরানের সম্রাট রেজা শাহ পাহলভি। সেসময় যুবরাজ রেজা পাহলভি এক প্রশিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন।

 

ইরানের সেই সাবেক রাজার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তাঁবেদারির পাশাপাশি নিজ দেশের জনগণের ওপর সীমাহীন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল।

ইরান-সম্রাট রেজা শাহ পাহলভির দেশ পালানোর পর যারা ক্ষমতায় আসেন তাদের বিরুদ্ধেও আছে জন-নির্যাতনের অভিযোগ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করায় ইরানের বিপ্লব-পরবর্তী শাসকরা সারা বিশ্বে ‘প্রতিরোধের প্রধান মুখ’ হয়ে উঠে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার সংবাদে ইরানে খামেনিপন্থিদের শোকের পাশাপাশি ও পাহলভিপন্থিদের উল্লাসের ভিডিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে। এমন বাস্তবতায় দুই পক্ষই ইরানের অখণ্ডতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তবুও যেন প্রায় ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৫ বর্গকিলোমিটারের দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই। আর তাই যেন এ নিয়ে সব পক্ষই সরব।

বছর পাঁচেক আগে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছিল—‘ইরানকে ভেঙে টুকরো টুকরো করা একটি অলীক কল্পনা’। প্রতিবেদনটিতে এর নানাবিধ কারণও তুলে ধরা হয়।

ইরানের সম্ভাব্য ভেঙে পড়াকে ‘বলকানাইজেশন’ বা ‘বলকানীকরণ’ হিসেবে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিভাষাটির মাধ্যমে ইউরোপের বলকান অঞ্চলে সাবেক যুগোস্লাভিয়া ভেঙে সাত দেশের জন্ম নেওয়াকে বোঝানো হয়।

 

প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানে এখনো পর্যন্ত সরকারবিরোধী যত বিক্ষোভ দেখা গেছে সেগুলো ছিল মূলত রাজনৈতিক। তেহরানের শাসকদের বিরুদ্ধে দেশটির জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিদ্রোহ করার সম্ভাবনা খুবই কম। অধিকাংশ ইরানি ‘এক পতাকা’র নিচে থাকার মানসিকতা নিয়ে চলেন। তারা তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে চান।

তবে সেই প্রতিবেদনটিতে ইরানের জাতিগত ‘বিভেদের’ চিত্রও তুলে ধরা হয়।

ইরানে প্রধান জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে আছে আজেরি, কুর্দি, আরব ও বেলুচ। প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখের দেশ ইরানে জাতিগত সংখ্যালঘুরা মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের কাছাকাছি।

প্রতিবেদন অনুসারে—এসব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় বসবাস করলেও তারা যেকোনো সময় দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ইরানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এসব জাতিগোষ্ঠীর প্রতি দীর্ঘদিন ধরে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বৈষম্য’ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আছে। তাদের ভাষা-সংস্কৃতির ওপর সরকারি ভাষা ফারসির সীমাহীন প্রভাব ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে বলেও বলা হয়ে থাকে।

সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার কথা ইরানের সংবিধানে উল্লেখ থাকলেও বহু বছর ধরে এর বাস্তবায়ন নিয়ে জন-দাবি আছে।

ইরানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ শিয়া মতবাদের হলেও বাকি ১০ শতাংশের কম সুন্নি মতাদর্শের মানুষদের নিয়ে দেশটিতে ধর্মীয় উত্তেজনা আছে। আছে স্বাধীন রাষ্ট্রের আশায় সশস্ত্র আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাস।

গত ১৮ জানুয়ারি ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানকে ‘বলকানের’ মতো ভেঙে ফেলার ‘কৌশলগত ভ্রান্তি’ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পররাষ্ট্রনীতিতে এমন ভাবনা রাখা সত্ত্বে ইরানকে টুকরো করা হলেও সেই দেশ দুইটির সঙ্গে তেহরানের সমস্যা দূর হবে না।

কেননা, বলকান অঞ্চলে বাইরের শক্তির আগ্রাসন ছিল না। সেই অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীগুলো নিজেদের আত্মপরিচয়ে জেগে ওঠায় নতুন নতুন দেশের জন্ম হয়। ইরানের জাতিগত বৈচিত্র্য ঐতিহাসিক। সেটি কোনো কাঠামোগত ত্রুটি নয় যে একটু সুযোগ পেলেই ভেঙে পড়বে। অর্থাৎ, আধুনিক ইরানের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে থাকা ‘অ-ইরানি’ বা ‘অ-পারসি’ জাতিগুলো আবহমান কাল থেকে ইরানি সংস্কৃতি ও ধর্মবিশ্বাসের বন্ধনে আবদ্ধ, বলে প্রতিবেদনটিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে, ইতিহাসের বরাত দিয়ে রাজনীতি বিশ্লেষকদের অনেকে বলেন—যুগোস্লাভিয়ার শীর্ষ নেতা মার্শাল টিটোর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বলকানের সেই ‘এক দেহে লীন’ বহু জাতিক শিল্পসমৃদ্ধ দেশটির ঐক্য বজায় রাখতে আজকের ইরানের ‘একতা’র মতোই বয়ান তুলে ধরা হতো। টিটোর মৃত্যুর ঠিক এক দশকের মাথায় তথা ১৯৯১ সাল থেকে ধীরে ধীরে এক দেশ ভেঙে সাত দেশের জন্ম হতে দেখেছিল বিশ্ববাসী।

তাই, ইরানের ‘বলকানীকরণের’ বা দেশটিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করার বিষয়ে আজকের ‘কৌশলগত ভ্রান্তি’ নিকট ভবিষ্যতে যে নিছক বাস্তবতার রূপ নেবে না তা কেই বা নিশ্চিত করে বলতে পারেন।

তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে সেই ‘কল্পনাকে বাস্তবের রূপ দিতে গেলে অনেক ঝুঁকি আছে’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বলা হয়েছে—ইরানকে অস্থিতিশীল করে তোলা হলে সেই অস্থিরতা দেশটির সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা আছে। অর্থাৎ, ইরানের উত্তর-সীমানার ককেশাস, পশ্চিম ও দক্ষিণে উপসাগরীয় এলাকা, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে মধ্য এশিয়াসহ পশ্চিম ও দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়বে।

তাই ইরানকে ভেঙে ফেলার আগে বিশ্বশক্তিগুলোকে অনেক হিসাব করতে হবে বলেও প্রতিবেদনটিতে মন্তব্য করা হয়।

ইরানের পুব থেকে পশ্চিমে সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোয় জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষদের মধ্যে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আন্দোলন বেশ জোরালো। বিশেষ করে, ইরানের পশ্চিম সীমান্তে কুর্দি-অধ্যুষিত ‘পূর্ব কুর্দিস্তানে’ ‍ও পুবে বেলুচ-অধ্যুষিত সিস্তান-বেলুচিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের সংবাদ প্রায়শই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়।

 

এ ছাড়াও, ইরানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ পারসি হলেও আজেরিদের সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ। বৃহত্তম জনগোষ্ঠী পারসিদের সঙ্গে দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী আজেরিদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।

আবার, ইরানে থাকা আরব জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে অনারব পারসিকদের সংঘাত ‘ঐতিহাসিক’।

গত বছর ১৯ জুন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—ইরান অশান্ত হলে সীমান্তে সশস্ত্র হামলা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা পাকিস্তানের।

সে বছর জুনের শুরুতে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ইরানে হামলা চালিয়েছিল। রয়টার্সের সেই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছিল—ইরানের শাসকদের পতন হলে এর সুযোগ নেবে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকিস্তান-ইরান সীমান্তে থাকা পাকিস্তান ও ইরানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।
এ কথা সবাই জানেন যে, বেলুচ জাতিগোষ্ঠী ইরান ও পাকিস্তানে বিভক্ত হয়ে আছে। দুই দেশেই স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠনের জন্য সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। জইশ আল-আদল এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম।

 

এই সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সিস্তান-বেলুচিস্তানে ইরানের সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে ইরানি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত।

গত বছর ১২ ডিসেম্বর গ্রাগভিত্তিক মার্কিন সহায়তা-পুষ্ট রেডিও ফ্রি ইউরোপ-এর এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—ইরানে বিস্তৃত অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী জইশ আল-আদল নতুন রূপে হাজির হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়—সুন্নি সশস্ত্র সংগঠন জইশ আল-আদল বলেছে যে তারা ছোট ছোট বেলুচ আধা-সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে একটি নতুন জোট গঠন করেছে। তাদের লক্ষ্য ইরানের ‘নিপীড়ক’ শাসকদের ওপর হামলা চালানো।

ইরানে মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশ বেলুচ জাতিগোষ্ঠীর হলেও তারা দেশটির সিস্তান-বেলুচিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই প্রদেশটি পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তবর্তী। এই দুই দেশের সীমানা লাগোয়া দুই প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন সক্রিয়।

গত ১৬ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়—প্রতিবেশী ইরাকে আশ্রয় নেওয়া ইরানের কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় দেশটির আধা-সামরিক বিপ্লবী গার্ডের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

 

এর দুইদিন আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়—সশস্ত্র কুর্দি সংগঠনগুলো সীমান্তবর্তী ইরাক থেকে ইরানে ঢোকার সুযোগ খুঁজছে। প্রতিবেদনটিতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ও তুরস্কের গোয়েন্দা বিভাগের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাত শতাংশ কুর্দি হলেও এই জাতিগোষ্ঠী দেশটির অন্তত চারটি প্রদেশে সংখ্যাগুরু। ইরাক-তুরস্ক-সিরিয়ার কুর্দিদের মতো ইরানের কুর্দিরাও বহু বছর ধরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য সশস্ত্র আন্দোলন করে আসছে।

গত ১ মার্চ তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু আজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়—ইরাকে আশ্রয় নেওয়া ইরানের কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির (পিএকে) অভিযোগ ইরাকে গোষ্ঠীটির সদরদপ্তরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড হামলা চালিয়েছে। এতে আরও বলা হয় যে, পিএকে-কে ইরান সরকার সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা দিয়েছে।

ইরানে শীর্ষ কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে পিএকে অন্যতম।

এ ছাড়াও—তুরস্ক, ইরাক, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান লাগোয়া ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আজেরি জাতিগোষ্ঠীর ভেতর বিচ্ছিন্নতাবাদী চেতনা দীর্ঘদিনের। আজেরিরা তুর্কি ভাষা ও জাতিসত্তার মানুষ। তারা অ-ইরানি এবং তুর্কি জাতিরাষ্ট্র তুরস্ক ও আজেরি জাতিরাষ্ট্র আজারবাইজানের সঙ্গে বেশি মিল খুঁজে পায়।

 

আজেরিরা ইরানের ভেতর চারটি প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা দীর্ঘদিন ধরে সেসব প্রদেশ একত্র করে ‘দক্ষিণ আজারবাইজান’ নাম দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন করে আসছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আলি খামেনি বাবার দিক থেকে আজেরি বংশোদ্ভূত।

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, ইরানে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠী আজেরিদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা-বোধ কমানোর জন্য ১৯৮৯ সালে আলি খামেনিকে অনেক নিয়ম ডেঙিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা করা হয়েছিল। তাকে সর্বোচ্চ নেতা বানানোয় সংখ্যাগরিষ্ঠ পারসিদের অনেকে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলেও সেই সময় সংবাদ বিশ্লেষণগুলোয় বলা হয়েছিল।

এ কথা মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে—তেল আবিবের পক্ষ থেকে বহুবার জানানো হয়েছে যে ইরানে প্রতিটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে ইসরায়েলের ‘পূর্ণ সমর্থন’ আছে।

আবার ফিরে আসা যাক ইরানের সেই নির্বাসিত ‘যুবরাজে’র কথায়।

গত ১ মার্চ দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এ এক মতামতে রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেছেন যে ইরানি জনগণের স্বাধীনতা তাদের হাতের কাছে চলে এসেছে। তবে তিনি সতর্ক করে এটাও বলেছেন যে, ‘ইরান ইরাক নয়’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরাকে যেসব ভুল হয়েছিল তারা তা করবেন না।

বিশ্ববাসী দেখেছে মার্কিন হামলা ও শাসন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের ফলে ইরাকের কী পরিণতি হয়েছে। কিভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় খনিজসমৃদ্ধ দেশটি। দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নানাবিধ দ্বন্দ্বের কারণে সেখানে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।

এখন দেখা যাক, ইরানের ভাগ্যে কী ঘটে।

এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০, সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা

হিজরি ১৪৪৭ সনের সাদাকাতুল ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে আয়োজিত জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।

সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, ইসলামী শরিয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী আটা, যব, খেজুর, ও পনির—এসব পণ্যের যে কোনো একটি বা এর বাজার মূল্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন।

গম বা আটার ক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা; যব ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা ৫৯৫ টাকা; খেজুর ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা ২ হাজার ৪৭৫ টাকা; কিসমিস ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা ২ হাজার ৬৪০ টাকা ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৮০৫ টাকা ফিতরা প্রদান করতে হবে।

বহু দূরের মহাজাগতিক বস্তু আবিষ্কার বাংলাদেশি জ্যোতির্বিদের, গ্রহ নাকি নক্ষত্র?

পৃথিবী থেকে এক হাজার আলোকবর্ষেরও বেশি দূরে একটি অস্বাভাবিক মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন এক বাংলাদেশি গবেষক।

এই অসামান্য কীর্তির নেপথ্যে আছেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের পিএইচডি গবেষক ও বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ।

পিএইচডি গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি টিওআই-২১৫৫বি নামের মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন।

পৃথিবী থেকে এক হাজার ৩৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে এটি। আকারে বৃহস্পতি গ্রহের মতো হলেও এর ভর সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহটির তুলনায় প্রায় ৮০ দশমিক ৬ গুণ বেশি।

এটি ব্রাউন ডোয়ার্ফ (বাদামি বামন) নাকি অতি কম ভরের নক্ষত্র, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রেদোয়ান বলেন, ‘এটি হয়তো বিশাল ভরের একটি ব্রাউন ডোয়ার্ফ অথবা খুব কম ভরের একটি নক্ষত্র।’

ব্রাউন ডোয়ার্ফ মূলত এমন একটি মহাজাগতিক বস্তু, যা দেখতে নক্ষত্রের মতো হলেও আদতে নক্ষত্র নয়। একটি নক্ষত্রকে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে হাইড্রোজেন দহন প্রক্রিয়া চালানোর সক্ষমতা থাকতে হয়। ব্রাউন ডোয়ার্ফের সেই সক্ষমতা থাকে না। এগুলোও নক্ষত্রের মতো বিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। তবে এক পর্যায়ে এগুলো শীতল ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

এ কারণে ব্রাউন ডোয়ার্ফকে কখনো কখনো ‘ব্যর্থ নক্ষত্র’ বলা হয়—অর্থাৎ এমন বস্তু, যা নক্ষত্রের মতো প্রক্রিয়ায় গঠিত হলেও দীর্ঘস্থায়ী হাইড্রোজেন-দহনকারী নক্ষত্রে পরিণত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভর অর্জন করতে পারেনি।

এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফ মোটামুটি একই ধরনের মহাকর্ষীয় প্রক্রিয়ায় গঠিত হলেও তাদের বিবর্তনের পথ ভিন্ন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সাধারণত হাইড্রোজেন-দহনকারী নক্ষত্র হওয়ার ন্যূনতম ভর বৃহস্পতির ভরের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ গুণ বলে মনে করেন।

তবে সুনির্দিষ্ট সীমাটি বয়স, রাসায়নিক গঠন, বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহৃত নাক্ষত্রিক মডেলের মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

টিওআই-২১৫৫বি এই মানদণ্ড অনুযায়ী নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফের সীমারেখার প্রায় ঠিক মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। এর পরিমাপ করা ভর বৃহস্পতি গ্রহের তুলনায় প্রায় ৮০ দশমিক ৬ গুণ। ফলে এটি সবচেয়ে বেশি ভরের ব্রাউন ডোয়ার্ফ এবং সবচেয়ে কম ভরের নক্ষত্রের মধ্যকার তাত্ত্বিক সীমার কাছাকাছি।

এর ভর নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হওয়ায় হাইড্রোজেন-দহন সীমা নিয়ে বিভিন্ন মডেল যাচাই করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে ব্রাউন ডোয়ার্ফ ও নক্ষত্রের মধ্যকার রূপান্তরকে সত্যিই একটি নির্দিষ্ট সীমা দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তোলা সম্ভব হচ্ছে।

এই আবিষ্কারের শুরু হয়েছিল নক্ষত্রের আলোয় পরিবর্তন শনাক্ত করার মাধ্যমে—অর্থাৎ নক্ষত্র থেকে নির্গত তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণে পরিবর্তন।

রেদোয়ান ও তার সহগবেষকেরা নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট বা টিইএসএস ব্যবহার করে টিওআই-২১৫৫বি শনাক্ত করেন। এই মহাকাশযান নক্ষত্রের ঔজ্জ্বল্যের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে।

রেদোয়ান বলেন, ‘আমরা আসলে এই বস্তুটিকে “দেখিনি”। ট্রানজিট—অর্থাৎ নক্ষত্রের আলোয় পরিবর্তন—এবং রেডিয়াল ভেলোসিটি পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা এটিকে শনাক্ত করেছি।’

‘টিওআই-২১৫৫বি-কে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত ও এটি নিয়ে গবেষণা করতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও রাশিয়ার স্থলভিত্তিক টেলিস্কোপ ব্যবহার করেছি। স্যাটেলাইট এবং স্থলভিত্তিক টেলিস্কোপগুলো তথ্য সরবরাহ করে; আমরা সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে এর অন্তর্নিহিত পদার্থবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি’, যোগ করেন রেদোয়ান।

টিওআই-২১৫৫বি-এর ঘনত্বও অস্বাভাবিক। এটি এমন একটি অঞ্চলে অবস্থান করছে, যেখানে ভর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘনত্ব কমতে শুরু করে। ফলে ব্রাউন ডোয়ার্ফ কোথায় শেষ হয় এবং নক্ষত্র কোথা থেকে শুরু হয়—সেই ধাঁধা আরও জটিল হয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রূপান্তর অঞ্চলে থাকা মহাজাগতিক বস্তু খুঁজে আসছেন। কারণ এগুলো নক্ষত্র কীভাবে জীবনের শুরু করে এবং কেন কিছু বস্তু দীর্ঘস্থায়ী হাইড্রোজেন-দহনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারে না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

একটি মাত্র বস্তু দিয়ে সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে টিওআই-২১৫৫বি-এর মতো আরও বস্তু নিয়ে গবেষণা করা গেলে নক্ষত্র ও উপ-নাক্ষত্রিক বস্তুর বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত মডেলগুলো আরও নিখুঁত করা সম্ভব হতে পারে।

সহযোগীদের নিয়ে রেদোয়ানের এই আবিষ্কার নিয়ে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল’ সাময়িকীতে।

এর ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্নের অনুসন্ধানের কেন্দ্রে চলে এসেছে তার গবেষণা—ঠিক কোথা থেকে একটি নক্ষত্রের শুরু?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো শিগগিরই পাওয়া যাবে না। টিওআই-২১৫৫বি আসলে কী, তা নির্ধারণ করতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হবে। আপাতত এই আবিষ্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কয়েকটি প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। 

গ্রহ, ব্রাউন ডোয়ার্ফ ও নক্ষত্রের মধ্যকার অস্পষ্ট সীমারেখা এবং প্রকৃতি কীভাবে নির্ধারণ করে কখন একটি মহাজাগতিক বস্তু নক্ষত্রে পরিণত হবে, সেই প্রশ্নের জবাব মিললেই অনেক ধোঁয়াশা দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। 
 

এখানেই শেষ নয়, বরং ‘নতুন চক্রের শুরু’ দেখছেন আনচেলত্তি

ব্রাজিলের খারাপ সময় চলছে অনেকদিন ধরেই। তবে সেই খারাপের সময়েও গত ৮ আসরে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। ৩৬ বছর পর পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা বিদায় নিল শেষ আটে যাওয়ার আগেই। নরওয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলছেন, তার দল আরও ভালো কিছুর দাবিদার ছিল। এই বিদায় হতাশাজনক হলেও এতেই তিনি শেষ দেখছেন না বরং নতুন চক্রের শুরুর দেখছেন এই ইতালিয়ান। 

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সোমবার আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা, যা ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের দ্রুততম বিদায়।

তবুও আনচেলত্তি কেবল ফলাফলের ওপর আটকে থাকতে রাজি হননি। এই ইতালিয়ান বলেন, ‘যা ঘটেছে তা বিবেচনা করলে, স্পষ্টতই সবাই গভীরভাবে হতাশ।’

‘আমি মনে করি না আমরা একটি দুর্দান্ত বিশ্বকাপ কাটিয়েছি, তবে আমরা একটি ভালো বিশ্বকাপ কাটিয়েছি। আমি মনে করি আজ এমনকি আমাদের ম্যাচটি জেতা উচিত ছিল।’

ব্রুনো গিমারায়েসের প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসের পর ব্রাজিলের আশায় বড় ধাক্কা লাগে, যার পর শেষ দিকে হালান্ড জোড়া গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ে নেইমারের পেনাল্টি গোলটি কেবল সান্ত্বনাই বয়ে এনেছে।

২০১৪ সালে জার্মানির কাছে সেই কুখ্যাত ৭-১ ব্যবধানের সেমিফাইনাল জয়ে টনি ক্রুস এবং আন্দ্রে শুর্লের পর হালান্ড প্রথম খেলোয়াড় যিনি বিশ্বকাপের ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেন।

গিমারায়েসের মিসের জন্য ব্রাজিলকে আফসোসও করতে হয়েছে। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দুটি স্পট-কিকই গোলে রূপান্তর করার পর, জাতীয় দলের হয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডারের এটিই প্রথম ব্যর্থ পেনাল্টি ছিল। এছাড়া টাইব্রেকার বাদে, ১৯৮৬ সালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জিকোর পর তিনি প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেন।

পরিসংখ্যান একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। নরওয়ে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে গোলের উদ্দেশ্যে শট বেশি নিয়েছে ব্রাজিল, সুযোগও তৈরি করেছে তারাই বেশি। 

এই হারের পর হাল ছেড়ে দিতে রাজী নন আনচেলত্তি। তার সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের চুক্তি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। মাত্র এক বছর আগে শুরু করা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প ত্যাগ করার কোনো কারণ নেই তার। 

তিনি বলেন, ‘আপনাকে এই ধরনের পরাজয় হজম করতে হবে। এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। এখন আমাদের নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে হবে, আরও উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’

ক্লাব ফুটবলের সফলতম কোচ বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি শেষ। আমি মনে করি এটি একটি নতুন চক্রের শুরু।’

‘আমি মনে করি যে স্কোয়াড রয়েছে, তা নিয়ে ব্রাজিল এই বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পারত, এমনকি আজকের ম্যাচে যা ঘটেছে তা বিবেচনা করার পরেও।’

রেকর্ড বাড়িয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার জন্য ব্রাজিলের অপেক্ষা এখন ২৮ বছর ছাড়িয়ে যাবে, যাদের শেষ সাফল্য এসেছিল ২০০২ সালে জাপানে। এই পরাজয় একটি উদ্বেগজনক ধারাকেও দীর্ঘায়িত করেছে, কারণ সেলেসাওরা ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর থেকে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের শেষ সাতটি নকআউট ম্যাচের প্রতিটিতেই হেরেছে।

তবে আনচেলত্তি বিশ্বাস করেন যে, এই ধাক্কা আরও বড় কিছুর ভিত্তি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা যা করতে পারি এবং যা করতে যাচ্ছি তা হলোজাতীয় দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া, উন্নতি করার চেষ্টা করা এবং নতুন আইডিয়া খুঁজে বের করা।’

‘আমি মনে করি আমরা একটি ভালো কাজ করেছি, তবে এটি ফুটবল এবং এটি খেলাধুলা। আপনাকে কেবল এটির মুখোমুখি হতে হবে, এই দুঃখ এবং পরাজয়ের স্বাদকে মেনে নিতে হবে।’

‘আমি এতে ভীষণ অভ্যস্ত এবং আমরা এটি সামলে নেব। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এটিকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করব।’

দলকে নিয়ে আনচেলত্তি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার জন্য একটা অভিজ্ঞতা। এই ফল ভীষণ হতাশাজনক এবং আমরা সবাই ভীষণ মর্তাহত। তবে দলটা দারুণ ছিল। আমি ছেলেদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, তারা জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছেন। আমার মনে হয় না ম্যাচটা আমাদের হারা উচিত ছিল, তবে ফুটবল এমনই। আপনাকে পরাজয়ের এই তেতো স্বাদ আর দুঃখ মেনে নিতেই হবে।’

 

গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে গণমাধ্যমের সাফল্যের ওপর: মির্জা ফখরুল

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে রাজনীতিবিদদের ভুল হতে পারে, আর সেই ভুল তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব ।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যে সমালোচনার ঊর্ধ্বে তা নন। রাজনীতিবিদরা অবশ্যই সমালোচনার মধ্যেই থাকবেন। রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করাটাই আমি মনে করি যে সাংবাদিকদের জন্য উপযুক্ত কাজ। কারণ তাকে সঠিকভাবে ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া, সঠিক পথে গাইড করা খুব জরুরি।’

‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে সংবাদপত্রে যারা কাজ করেন তারা অনেক সময়  নিগৃহীত হন। যেকোনো একটা সত্য ঘটনা প্রকাশ করলে দেখা যায় যে যার বিরুদ্ধে খবরটা বেড়িয়েছে, সে তার প্রতি চড়াও হয়। সাংবাদিকরা হামলা-হয়রানির শিকার হন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক,’ বলেন তিনি।  

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিডিয়া যদি শক্ত হয় দেশে গণতন্ত্রও শক্ত হয়। কারণ গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে মিডিয়ার সাফল্যের ওপর।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ব্যক্তি নয় কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের সাফল্য যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।’

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, দক্ষ ও সৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি নতুন উপজেলা পরিচালনায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

পরে তিনি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এছাড়া জেলার ২৬৫ অসহায় মানুষদের মাঝে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন।