31.8 C
Dhaka
Home Blog

আনচেলত্তির যে কৌশলে জাপান-বাধা ডিঙাল ব্রাজিল

জাপানের নিরেট রক্ষণভাগে ফাটল ধরানোর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না ব্রাজিল। উল্টো ম্যাচের ২৯তম মিনিটে নিজেদের ভুলে গোল হজম করে বসেছিল সেলেসাওরা। নৈরাশ্যবাদী সমর্থক থেকে শুরু করে নিন্দুকদের মাথায় তখন হয়তো কেন্তো শিওগাইয়ের কথাগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছিল।

‘ব্রাজিল একসময় পরাশক্তি ছিল, এখন শুধু ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনাই শক্তিশালী। ব্রাজিলকে নিয়ে তো এখন তেমন কিছু কানে আসে না,’ সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছিলেন জাপানের এই স্ট্রাইকার।

সেখানেই থামেননি তিনি। আরও বলেছিলেন, ‘সে কি আগের সেই নেইমার আছে? এখন (তাকে সামলাতে) কোনো সমস্যা হবে না বলেই মনে হয়।’

নেইমারকে মাঠে নামতে হয়নি। বিরতির পর ছন্দ খুঁজে পাওয়া ব্রাজিল কাসেমিরোর গোলে ৫৬তম মিনিটে সমতা টানে। আর বদলি নামা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি যোগ করা ছয় মিনিট সময়ের পঞ্চম মিনিটে গড়ে দেন পার্থক্য। আরও একবার বিশ্বকাপের নকআউটের প্রথম ধাপে হৃদয় ভাঙে জাপানের— এই নিয়ে পাঁচবার। অন্যদিকে, নাটকীয় জয়ে শেষ বত্রিশের বাধা ডিঙিয়ে শেষ ষোলোতে পা রাখে বর্ষীয়ান ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

হিউস্টনে ব্রাজিল বেছে নিয়েছিল আগের ৪-৩-৩ ফরমেশনই। জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসুও আস্থা রেখেছিলেন গত ম্যাচগুলোতে ব্যবহার করা ৩-৪-২-১ ফরমেশনে, যা প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে রূপ নেয় ৫-৪-১ ফরমেশনে।

রক্ষণে পাঁচজন ও মাঝমাঠে চারজনকে রেখে ‘প্রেস’ করে ফাঁদ বানায় জাপান। ব্রাজিলের মাঝমাঠকে প্রায় অকার্যকর করে ফেলে তারা। পাশপাশি দুই উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রায়ানকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলায় খেলায় তেমন প্রভাব রাখতে পারছিলেন না তারা। বাধ্য হয়ে ব্রাজিলের দুই ফুলব্যাক দানিলো ও দগলাস সান্তোসকে উপরে উঠে আসতে হচ্ছিল আক্রমণে সহায়তা করতে।

জাপানের এমন পাল্টা আক্রমণনির্ভর কৌশল কাজে লেগে যায়। মাঝমাঠে বেশি খেলোয়াড় রাখার ফায়দা তুলে নেয় এশিয়ার দলটি। দানিলোর পাসে ছিল না পর্যাপ্ত গতি। ঠিক মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে বাধাহীনভাবে ছুটতে থাকেন কাইশু সানো। ডি-বক্সের বাইরে কাছাকাছি পৌঁছে ২৫ গজ দূর থেকে নেন নিখুঁত গড়ানো শট। পরাস্ত হন গোলরক্ষক আলিসন। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এগিয়ে যাওয়ার উল্লাসে তখন মাতোয়ারা জাপান— যাদেরকে বলা হচ্ছিল এবারের বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’।

কাঠগড়ায় তখন শুধু রাইট ব্যাক দানিলো নন, অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরোও। তাকে অনায়াসেই কাটিয়ে গতিতে পেছনে ফেলেছিলেন সানো। আর ধরতে পারেননি কাসেমিরো।

পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা অল্প করে হলেও চোখ রাঙাচ্ছিল তাদের। কিন্তু দলটির নাম ব্রাজিল, তাদের কোচের নাম আনচেলত্তি— এত সহজে হাল ছেড়ে দেওয়া কারোরই ধাতে নেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে একটি পরিবর্তন আনেন তিন দশকের অভিজ্ঞতায় পূর্ণ আর সাফল্যে ভাস্বর ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি। চোট পাওয়া মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার জায়গায় নামান তরুণ স্ট্রাইকার এন্দ্রিককে। ব্রাজিলের ফরমেশন বদলে দাঁড়ায় ৪-২-৪, অর্থাৎ আক্রমণভাগে শক্তি বাড়িয়ে চারজন। ভিনিসিয়ুস, রায়ান ও মাথেউস কুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন এন্দ্রিক।

সেলেসাওদের আক্রমণের ধার বাড়ে। ডি-বক্সে তাদের খেলোয়াড়দের আনাগোনাও বাড়তে থাকে। আগের কৌশলেই খেলে যাওয়া জাপানের তিন সেন্টার ব্যাকের কাজ হয়ে পড়ে কঠিন।

গোল তবু আসি আসি করেও যেন আসছিল না। কখনও গোলরক্ষক জিওন সুজুকি, কখনও তাকেহিরো টমিয়াসু হয়ে উঠছিলেন ‘চীনের মহাপ্রাচীর’।

সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে। ব্রাজিলের আক্রমণভাগের জোর সামলাতে ততক্ষণে নিজেদের ডি-বক্সের আশেপাশে ঠাঁই নিয়েছে জাপান।

সুযোগ দেখলেন গ্যাব্রিয়েল— ডিফেন্ডার থেকে হয়ে ওঠেন একেবারে ‘প্লেমেকার’! বল নিয়ে উপরে উঠে যাওয়ার ‘লাইসেন্স’ পেয়ে নিজেকে আবিষ্কার করেন প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ঠিক সামনে। এরপর দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে বাঁ পায়ের মাপা ক্রস। সবচেয়ে বেশি লাফিয়ে উঠে জোরাল হেডে কাসেমিরো খুঁজে নিলেন জাল। সুজুকি প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগটুকুও পাননি।

আগের ভুলের ‘প্রায়শ্চিত্ত’ সঙ্গে দলকে দলকে সমতায় ফেরানো— এক ঢিলে দুই পাখি মারেন কাসেমিরো। আর ব্রাজিল? জয়ের সুঘ্রাণ পেয়ে তেতে ওঠে আরও।

এন্দ্রিক সাদামাটা থাকলেও তিনি মাঠে নামার পর দুই উইংয়ে ব্রাজিল জায়গা পেতে থাকে। কাসেমিরোর গোলের চার মিনিট পরই বাম প্রান্ত দিয়ে একক নৈপুণ্যে তেঁড়েফুঁড়ে আক্রমণে যান ভিনিসিয়ুস। মাঝমাঠের সামনে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে টমিয়াসুকে ‘নাটমেগ’ করে সোজা চলে যান ডি-বক্সে। এরপর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এবং আরও এক ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে নেন শট। ঝাঁপিয়ে পড়া সুজুকির হাতে লেগে বল বাধা পায় পোস্টে। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৪ গোল করা ভিনিসিয়ুসের ঝুলি অল্পের জন্য তাই ভারী হয়নি।

অন্যদিকে, গোল হজমের পর খোলসবন্দি হয়ে যায় মরিয়াসুর দল। ফরমেশন পাল্টে ৫-৩-২ করে ফেলে তারা। মাঝমাঠের দখল ছেড়ে দিয়ে নিচে নেমে যতটা সম্ভব রক্ষণ সামলাতে মনোযোগী হয়ে পড়ে। ফলে তাদের পাল্টা আক্রমণে ওঠার সম্ভাবনাও ভীষণ সীমিত হয়ে পড়ে।

বলের দখল দারুণভাবে উপভোগ করতে থাকে ব্রাজিল। এরই মধ্যে ৬৫তম মিনিটে কুনিয়ার জায়গায় নামেন মার্তিনেল্লি— যিনি পরে পালন করেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে তখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল ম্যাচ, যে কোনো সময় বাজবে রেফারির বাঁশি। দুই কোচ হয়তো পরবর্তী ৩০ মিনিটের জন্য নিজেদের ছকও কষে ফেলেছিলেন। কিন্তু ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ লুকিয়ে রেখেছিল কয়েকটি বিশেষ মুহূর্ত— যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে।

জাপানের ডি-বক্সের সামনে বল হারিয়ে ফেলা এন্দ্রিক হাল না ছেড়ে ‘প্রেস’ করতে থাকলেন। বদলি নামা আও তানাকা চাপে ভেঙে পড়েন। তার ভুলে ডানদিকে বল পান রায়ান। তিনি পাস দেন ম্যাচজুড়ে সারা মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো ব্রুনো গিমারায়েসকে।

ডি-বক্সে তখন জাপানের সাতজন খেলোয়াড়। কিন্তু চারজনই সরে গিয়েছিলেন ডানদিকে। গিমারায়েস তার সামর্থ্যের ছাপ রেখে ব্যবহার করেন ‘ভিশন’। তাড়াহুড়ো না করে বলে দুটি স্পর্শ নিয়ে তৃতীয়টিতে খুঁজে নেন মার্তিনেল্লিকে।

দুই ডিফেন্ডারের মাঝে থাকা মার্তিনেল্লির হাতে সময় বেশি ছিল না। তার বাঁ পায়ের প্রথম ছোয়াঁটা ছিল অসাধারণ। জায়গা বানিয়ে দ্রুতই ডান পায়ে নিলেন কোণাকুণি শট। সুজুকি এবার আর পারেননি। দূরের পোস্টে লেগেই বল ঢোকে জালে। গোল! উল্লাস! উন্মাদনা! বিষাদ! হতাশা!

‘মিশন হেক্সা’ পূরণের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে খেলতে যাওয়া ব্রাজিল টিকে রইল বিশ্বকাপের মঞ্চে, পুরোটা সময় বেঞ্চে থাকা শিওগাই ও জাপানকে ধরতে হলো বাড়ির পথ।

ম্যাচের আগে শিওগাইয়ের ‘মাইন্ড গেম’ নিয়ে আনচেলত্তি জানিয়েছিল, কথার লড়াইয়ে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই তার। মাঠের পারফরম্যান্সে রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিতের পর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি যা বলেন, তাতে ফুটে ওঠে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের সফলতার সূত্র, ‘এই জয়টা আমাদেরই প্রাপ্য ছিল। আমরা গোল হজম করেছি ঠিকই, তবে দল ধৈর্য হারায়নি। প্রথমার্ধেও দল বেশ ভালো খেলেছে। দারুণ একটি ম্যাচ ছিল।’

পদত্যাগ করলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ করেছেন।

তিনি গত ২১ মাস ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিএসইসির এক কর্মকর্তা জানান, মাকসুদ আজ বৃহস্পতিবার অফিসে আসেননি।

এক বিবৃতিতে মাকসুদ বলেন, ব্যক্তিগত কাজে মনোনিবেশ করার জন্য তিনি এই সরকারি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন এক অস্থির সময়ে দায়িত্ব নিয়েছিল এবং আইনি কাঠামো ও বাজারের শৃঙ্খলা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিল।

মাকসুদ জানান, তার সময়ে বিএসইসি মার্জিন লোন, ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও), মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট সিকিউরিটিজ এবং হুইসেলব্লোয়ার (তথ্য প্রদানকারী) সুরক্ষা সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করেছে।

তিনি জানান, বিএসইসি জনমতের জন্য করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট এবং করপোরেট পুনর্গঠন সংক্রান্ত তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে।

এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন’ এবং ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন’ নামে দুটি আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিমকে অব্যাহতি

ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূঁইয়াকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিককে।

আজ শনিবার রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূঁইয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো।

সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

আসছে শাকিব-সাবিলা জুটির দ্বিতীয় সিনেমা ‘রকস্টার’

আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তির তালিকায় রয়েছে শাকিব খান ও সাবিলা নূর জুটির দ্বিতীয় সিনেমা ‘রকস্টার’। এর আগে তাদের একসঙ্গে ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল। 

ওই সিনেমায় ‘লিচুর বাগান’ গানে এই জুটির পারফরম্যান্স দর্শকদের মন কেড়ে নেয়। 

‘রকস্টার’ একটি মিউজিক্যাল-রোমান্টিক ছবি। এবার ঈদেই নতুন গল্প ও ভিন্ন আবহে হাজির হচ্ছেন এই জুটি।

সিনেমার পোস্টারে প্রকৃতির সবুজ পরিবেশে রোমান্টিক মুহূর্তে ধরা দিতে দেখা যায় নায়ক-নায়িকাকে। শাকিব খানের কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে আছেন সাবিলা। 

পোস্টারের সঙ্গে যুক্ত গানের লিরিক— ‘জ্বলে আগুন, থামে সময়, চলি আমি তাই তো শুধু তোমারই সাথে’— ইঙ্গিত দিচ্ছে সিনেমাটি সংগীত ও প্রেমের মেলবন্ধনের।

‘রকস্টার’ সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে সান কমিউনিকেশনস। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন আজমান রুশো। মালয়েশিয়ায় শুটিং শুরুর পর বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে সিনেমার শুটিং।
 

টেক্সাসের পানশালায় বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩ আহত ১৪

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের অস্টিনে একটি পানশালায় এক বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন।

দেশটির স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে অস্টিনের সিক্সথ স্ট্রিট বিনোদন এলাকায় বাফোর্ডস পানশালায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

অস্টিন পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

ঘটনাস্থলেই পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে সন্দেহভাজন হামলাকারীও নিহত হয়েছে বলে জানায় অস্টিন পুলিশ। 

অস্টিন পুলিশের প্রধান লিসা ডেভিস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘শুরুতেই বলতে চাই আমরা কতটা ভাগ্যবান ছিলাম। ওই এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা নিয়মিত টহল দেন। ফলে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’

অস্টিন-ট্রাভিস কাউন্টির জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রধান রবার্ট লুক্রিটজ জানান,  ৫৭ সেকেন্ডের মধ্যে প্যারামেডিক কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঘটনাস্থলেই তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে হামলাকারীও রয়েছে।

আহত ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।

অবশ্য হামলাকারীর পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।

এত দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে পুলিশ ও উদ্ধারকারীদের প্রশংসা করেছেন অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন।  

৩ সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলো সরকার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার।

আজ সোমবার পৃথক তিনটি আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিনকে স্ব স্ব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর নতুন সরকার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে পরিবর্তন আনার বিষয়টি প্রশাসনে প্রত্যাশিত বিষয়। তারই সূচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জনস্বার্থে জারিকৃত ও অবিলম্বে কার্যকর হওয়া তথ্য জানানো হয়েছে।
 

যেভাবে তথ্য সুরক্ষিত করেও ব্যাংকিং কাজ সহজ করবে এআই

এআই থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে কারা? এন্টারপ্রাইজ আর ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউট, বিশেষ করে ব্যাংকগুলো। কারণ, তাদের কাছে আছে বিশাল তথ্যভাণ্ডার, একই ধরনের কাজ বারবার করার প্রক্রিয়া আর কমপ্লায়েন্সের চাপ। এআই বসালে এসব কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

কিন্তু এখানেই ঝামেলা দেখা দিচ্ছে। সেটা হচ্ছে নিরাপত্তায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ক্লাউডবেজড প্লাটফর্ম যেমন-তেমনভাবে ব্যবহার করা যায় না। গ্রাহকের ডেটা বাইরে যাবে—এটা মেনে নেওয়া কঠিন। তাই ব্যাংকগুলো চাইলেও ওপেনএআই বা ক্লডের মতো ক্লাউড সার্ভিস সরাসরি কোর সিস্টেমের সঙ্গে জুড়তে পারে না।

এর মধ্যে আবার নতুন সমস্যা যোগ হয়েছে এমসিপি। এমসিপি মানে এআই মডেলকে বাইরের টুল আর ডেটার সঙ্গে সংযুক্ত করার একটা প্রোটোকল। সমস্যা হলো, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমগুলোর মধ্যে ইন্টার কানেক্টেড সলিউশন ব্যবহার করার এমসিপি সার্ভারগুলো থাকে প্রাইভেট নেটওয়ার্কের ভেতরে। এগুলোকে ইন্টারনেটে এক্সপোজ করা মানেই বিপদ ডেকে আনা।

এই সমস্যাটা শুধু বাংলাদেশের না, পুরো বিশ্বই একই জিনিসে আটকে আছে। সম্প্রতি ওপেনএআই এই সমস্যার একটা সমাধান নিয়ে এসেছে। নাম দিয়েছে ‘সিকিউর এমসিপি টানেল’।

আইডিয়াটা সহজ। সাধারণত প্রাইভেট সার্ভিস পাবলিক করতে হলে তিনটা রাস্তা থাকে। পাবলিক এন্ডপয়েন্ট খুলে দেওয়া, থার্ড পার্টি টানেল ব্যবহার করা, অথবা ভিপিএন দিয়ে নেটওয়ার্ক জুড়ে দেওয়া। তিনটাতেই ঝুঁকি আছে। পাবলিক এন্ডপয়েন্ট মানে ঘরের সদর দরজা খোলা রাখা। থার্ড পার্টি টানেল মানে আরেকটা ভেন্ডরকে বিশ্বাস করা। ভিপিএন মানে দরকারের চেয়ে বেশি অ্যাক্সেস দিয়ে ফেলা।

ওপেনএআই এখানে উল্টো পথে হেঁটেছে। ওরা বলছে, প্রাইভেট সার্ভারকে বাইরে আনতে হবে না। বরং একটা ছোট্ট ক্লায়েন্ট প্রোগ্রাম কাস্টমারের নিজের নেটওয়ার্কের ভেতরে বসিয়ে দাও। সেই ক্লায়েন্ট নিজেই আউটবাউন্ড কানেকশন খুলে ওপেনএআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। মানে দরজা ভেতর থেকে খোলা হচ্ছে ঠিকই, তবে বাইরে থেকে না।

এই মডেলটা ব্যাংকের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এতে নেটওয়ার্কের সিকিউরিটি বাউন্ডারি ভাঙতে হবে না। কোর ব্যাংকিং সিস্টেম, কাস্টমার ডেটাবেস এসব এখনো ভেতরেই থাকবে। শুধু একটা ছোট ক্লায়েন্ট দিয়ে দরকার মতো রিকোয়েস্ট পাস হবে। আর ক্লায়েন্টটা ওপেন সোর্স। মানে সিকিউরিটি টিম চাইলে কোডটা চেক করে দেখতে পারবে, কোন ডেটা কোথায় যাচ্ছে।

আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোর জন্য এটা একটা মডেল হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রেগুলেশন মেনেও এআই ব্যবহার করা সম্ভব, যদি এরকম আর্কিটেকচার ফলো করা হয়। প্রশ্ন হলো, আমাদের রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক এই ধরনের টেকনিক্যাল সলিউশনকে কতটা বুঝবেন, আর কতটা দ্রুত সেগুলো গ্রহণ করতে সাহায্য করবেন।

আসলে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় বাধা টেকনোলজি না, বরং সনাতন বিশ্বাস আর নিয়মকানুন। প্রযুক্তি অনেক আগেই প্রস্তুত। আমরা শুধু নিয়মের মধ্যে সেগুলোকে গুছিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় আছি।

রকিবুল হাসান: টেলিকম, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র’ বইয়ের লেখক

ইউস্তাকিওর শেষ মুহূর্তের গোলে শেষ ষোলোতে কানাডা

ম্যাচটা যেন ধীরে ধীরে অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে কানাডার ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন স্টিফেন ইউস্তাকিও। তার দুর্দান্ত গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে আসরের সহ-আয়োজক দলটি। নিজেদের স্বপ্নের ডানা আরও বড় করেছে তারা।

বাংলাদেশ সময় রোববার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে স্টিফেন ইউস্তাকিওর একমাত্র গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ বত্রিশ পেরিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে কানাডা। পরের পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো।

এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জেসি মার্শের দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের একাদশে চারটি পরিবর্তন এনে নামা কানাডা বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায়। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা মূলত পাল্টা আক্রমণের ওপর ভরসা করে খেললেও পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

ম্যাচের শুরুতেই জনাথন ডেভিড কর্নার থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর আরেকটি ফ্রি-কিক থেকে কর্নেলিয়াস প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলের সঙ্গে ঠিকভাবে সংযোগ করতে পারেননি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে কানাডা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না। কর্নার থেকে বম্বিতোর হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন মোদিবা। ফিরতি বলে বুকানানের শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। কিছুক্ষণ পর লারিয়াকে বক্সের ভেতর ফেলে দেওয়া হলেও রেফারি কিংবা ভিএআর কেউই পেনাল্টি দিতে রাজি হননি।

বিরতির পর দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কোচ হুগো ব্রুস মিডফিল্ডে পরিবর্তন এনে দলকে আরও আক্রমণাত্মক করেন। এতে ম্যাচ কিছুটা সমতায় ফিরলেও কানাডাই সবচেয়ে বিপজ্জনক দল হিসেবে রয়ে যায়। একবার তাইও ওলুওয়াসেয়ি একা গোলরক্ষকের সামনে সুযোগ নষ্ট করেন, পরে জনাথন ডেভিডের ফিরতি শটও প্রতিহত হয়।

ম্যাচের ৭৫ মিনিটে মাঠে নামেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা আলফোনসো ডেভিস। বিশ্বকাপে এটিই ছিল তার প্রথম ম্যাচ। তাকে নামানোর পর কানাডার আক্রমণের গতি আরও বেড়ে যায়। প্রমিস ডেভিডের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর জনাথন ডেভিডের আরেকটি প্রচেষ্টা রুখে দেন উইলিয়ামস।

সবকিছু যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই আসে কানাডার স্বপ্নের মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্স বল ক্লিয়ার করলেও সেটি বক্সের বাইরে পেয়ে যান স্টিফেন ইউস্তাকিও। বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে বাঁকানো নিচু শটে জড়িয়ে দেন জালে। ৯২ মিনিটের সেই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে সোফি স্টেডিয়াম।

বাজেটে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি ইসলামী আন্দোলনের

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঋণের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। 

দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জনগণের করের টাকায় গঠিত বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরী, টালবাহানা, অপচয় ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যয়ের কোনো অধিকার সরকারের নেই।

আজ সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির হলে ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থ বছরের বাজেট: আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

রেজাউল করীমের ভাষ্য, প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণের বোঝা তুলনামূলকভাবে বেশি। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এ ধারা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। বাজেট কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, এটি জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারও।

তিনি বলেন, ‘দেশে প্রায় এক কোটি নিবন্ধিত করদাতা থাকলেও পরোক্ষ করের মাধ্যমে কার্যত সব নাগরিকই রাজস্বে অবদান রাখেন। দৈনন্দিন পণ্য ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও মানুষ কর পরিশোধ করে। তাই জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’

সরকার প্রতিবছর বাজেট পেশ ও অনুমোদন করলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নজরদারি, আমানতদারি ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি বলেন, ‘এ কারণে বাজেটের একটি বড় অংশ অপচয় হয়, আবার ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচারও ঘটে। এ প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।’

রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘বাজেটের নানা সুবিধার কথা বলা হলেও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার কারণে সেগুলোর অনেকটাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। বাজেট কার্যকর করতে হলে শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, নীতিগত পরিবর্তনও প্রয়োজন।’

তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শরিয়াভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমানের পরিচালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান, ইসলামী আন্দোলনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গোলাম মসীহ, জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মুসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম প্রমুখ।

শহীদ জিয়ার আদর্শে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এ দেশের সমগ্র গণমানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখ-ভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় একটি দিন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমৃত্যু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অগ্রগতির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার যে ঐতিহাসিক উত্থান ঘটেছিল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়েই তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথ। আমরা এই গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে সমস্ত মানুষের মধ্যে ইস্পাত-কঠিন ঐক্য সৃষ্টি করে জাতীয় সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হয়। আমরা তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শের রাজনীতি করি।’

গণতন্ত্রের প্রতি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এই দেশটিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করা হবে। ৫ আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের যে চেতনা, তার আলোকেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সীমাহীন ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমরা এখানে এসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য দোয়া করি এবং দেশ ও জনগণের সেবায় নতুন করে অনুপ্রাণিত হই।’