27.3 C
Dhaka
Home Blog

হরমুজ প্রণালিতে ২ জাহাজে হামলার অভিযোগ

হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

আজ রোববার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আক্রমণ অব্যাহত রাখার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও এক বিবৃতিতে জানায়, ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে অপর একটি জাহাজে  হামলা চালানো হয়েছে।

বেসরকারি সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেকও একই তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আল জাজিরাকে বলেছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। এই পর্যায়ে হরমুজে চলাচল ব্যাহত করবে এমন কিছু করারও পরিকল্পনা নেই।

‘বোরকা পরা ২ জন আমাকে এলোপাতাড়ি কোপায়’

‘রোববার রাত ১০টার দিকে বাসার সামনে চায়ের দোকানে বসেছিলাম। তখন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তিনজন নামেন। তাদের মধ্যে দুজন বোরকা ও একজন পাঞ্জাবি পরা ছিলেন। নামার সঙ্গে সঙ্গে বোরকা পরা দুইজন চাপাতি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে আমার বাম হাতের কনুই প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হামলার পর তারা দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়।’

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) থেকে কথাগুলো বলছিলেন ইব্রাহিম খলিল শুভ (২৬)।

গতকাল রাতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় একটি চায়ের দোকানে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ইব্রাহিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় পঙ্গু হাসপাতালে।

ইব্রাহিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর শাখার সাবেক সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

হাসপাতাল থেকে ইব্রাহিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হামলা করার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে তিন থেকে পাঁচজন হামলাকারীদের পাহারা দেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারাগার থেকে তিনি একাধিকবার মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকি দেন।

ছয় মাস আগেও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

ইব্রাহিম আরও বলেন, আমার ধারণা, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই আমার ‍ওপর হামলা করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইব্রাহিমের শয্যার পাশে ছিলেন তার মা রানু বেগম।

তিনি বলেন, ‘ইব্রাহিম আমাদের একমাত্র সন্তান। আমার স্বামী ড্রাইভার। আশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে ইব্রাহিম সংসারের হাল ধরবে। এখন হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।’

রানু বেগম আরও বলেন, ‘আমি দ্রুত ইব্রাহিমের সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গতকাল রাতে ইব্রাহিমের বাম হাতে অপারেশন করা হয়েছে। তার বাম হাতে আরও একটি অপারেশন করতে হবে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, হামলার ঘটনায় এখনো মামলা করা হয়নি। আমরা তদন্ত করছি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইব্রাহিম জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় ছিলেন। তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

সমালোচনার মুখে এআই ছবি তৈরির ফিচার বন্ধ করল মেটা

সম্প্রতি ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এআইর মাধ্যমে ছবি তৈরির একটি নতুন ইমেজ মডেল চালু করেছে। 

মিউজ নামের এই ইমেজ মডেলে টেক্সট প্রম্পট ব্যবহার করে ছবি তৈরির পাশাপাশি ভিন্নধর্মী কয়েকটি ফিচারও রাখা হয়েছিল।

এরকমই একটি ফিচারের মাধ্যমে কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যবহারকারী যেকোনো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ‘পাবলিক’ ছবিগুলোর ভিত্তিতে নতুন এআই ছবি তৈরির সুযোগ পেয়েছিলেন। ধীরে ধীরে ওই ফিচারটি সব ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল মেটা।

কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হয়। বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে মেটা।

গত সপ্তাহে মিউজ চালু করে মেটা। এই টুলে এমন একটি ফিচার ছিল, যার মাধ্যমে মেটা এআই চ্যাটবট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাবলিক প্রোফাইলগুলোকে ট্যাগ করতে পারত।

ট্যাগ করার পর ওই কনটেন্টের ভিত্তিতে খুব সহজেই সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি তৈরি করা যেত।

এ বিষয়টি নিয়েই তীব্র আপত্তি ওঠে। কয়েক দিনের ব্যবধানে অভিনেতা, শিল্পী ও স্যাগ-আফট্রা ইউনিয়ন এর তীব্র নিন্দা জানায়।

তাদের মতে, এই ফিচারের মাধ্যমে মানুষের অনুমতি ছাড়াই তাদের ছবি বিকৃত করার ঝুঁকি বেড়েছে।

গত শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে মেটা দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, এটি একটি সৃজনশীল ফিচার হিসেবে চালু করা হলেও ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। 

তাই এই ফিচার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করে মেটা। 

এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেতা হ্যানা এইনবাইন্ডার তার অনুসারীদের (ফলোয়ারদের) এই ফিচার বন্ধ করে রাখার আহ্বান জানান।

তিনি জানতে পারেন, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে গেছে।

অভিনেতাদের ইউনিয়ন স্যাগ-আফট্রা ওই ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার বিষয়টিকে ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে আখ্যা দেয়।

পাশাপাশি, ‘জনমানুষের অনুভূতির কথা মাথায় না রেখে, বিপদ ও ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্যমান ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ফিচার চালুর ভুল উদ্যোগের’ নিন্দা জানায় তারা।

ফিচারটি সরিয়ে নেওয়ার পর ইউনিয়নের এক প্রতিনিধি মেটাকে ধন্যবাদ জানান।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পাবলিক কনটেন্ট নিয়ে চাপের মুখে আছে। কীভাবে এ ধরনের কনটেন্ট ব্যবহার করে এআই টুলগুলো কাজ করবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। 

ব্যবহারকারীদের দাবি, তাদের অনুমতি ছাড়া এআই টুল যাতে তাদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে না পারে, সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীদের হাতেই থাকতে হবে। আর তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেই নিশ্চিত করতে হবে।

মেটার মিউজ ইমেজ টুল ছিল প্রতিষ্ঠানটির সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবের প্রথম ছবি তৈরির টুল।

তবে মিউজ টুলের ওই ফিচার বন্ধ হলেও বাকি ফিচারগুলো যথারীতি ইউজারদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। 

এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সংকেত আমাদের কী বার্তা দিচ্ছে?

সারা দেশে চলছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা। প্রতি বছরের মতো এবারও লাখো শিক্ষার্থী নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও অনিশ্চয়তাকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে বসেছে। এই পরীক্ষা শুধু একটি পাবলিক পরীক্ষা নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মজীবন ও ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সোপান।

কিন্তু এবারের পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই একটি বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিবন্ধিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। গত ২ জুলাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। তারা ফরমই পূরণ করেনি। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী এবারের এইচএসসি পরীক্ষার বাইরে রয়েছে।

এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি উপলক্ষ।

এমনকি খোদ শিক্ষামন্ত্রীও এই সংখ্যাকে ‘খুব খারাপ ইন্ডিকেটর’ উল্লেখ করে বলেছেন, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ‘মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরিতে ৫৪ শতাংশ ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৩৩ শতাংশ ঝরে গেছে। এটা বড় সংখ্যা।’ (প্রথম আলো) সাধারণত এই হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকে।

কেন একজন শিক্ষার্থী এতদূর এসে, দীর্ঘ শিক্ষাজীবন অতিক্রম করার পরও শেষ মুহূর্তে পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের কেবল পরীক্ষার ফলাফল নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকাতে হবে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা একের পর এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। করোনা মহামারিতে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। অনেক শিক্ষার্থীর শেখার ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে। অনলাইন শিক্ষা চালু হলেও দেশের সব শিক্ষার্থী সমানভাবে সেই সুযোগ পায়নি। শহর ও গ্রামের মধ্যে প্রযুক্তিগত বৈষম্য, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও মানসম্মত শিক্ষার অভাব বহু শিক্ষার্থীকে পিছিয়ে দিয়েছে।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পারিবারিক অর্থনৈতিক সংকটও অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কেউ পরিবারকে সহায়তা করতে কাজে নেমেছে, কেউ পড়াশোনা থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, আবার কেউ মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছে যে পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলেছে।

আজকের শিক্ষার্থীরা এমন এক পৃথিবীতে বেড়ে উঠছে, যেখানে তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু মনোযোগের অভাব প্রকট। একটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে তারা কয়েক সেকেন্ডেই পুরো পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শর্ট ভিডিও, গেমিং ও অবিরাম ডিজিটাল বিনোদন তাদের মনোযোগকে ক্রমাগত খণ্ডিত করছে। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী শিক্ষাবিদদের মতে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

এর অর্থ এই নয় যে বর্তমান প্রজন্ম অমনোযোগী বা অযোগ্য। বরং তারা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রযুক্তিগতভাবে বেশি দক্ষ, দ্রুত শেখার সক্ষমতা রাখে এবং নতুন ধারণা গ্রহণে অনেক বেশি উন্মুক্ত। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করার মতো শিক্ষা পরিবেশ, পারিবারিক সহায়তা এবং ইতিবাচক দিকনির্দেশনা সবসময় তারা পায় না।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো পরীক্ষার ফলাফলকে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণ, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কিংবা মানসিক সুস্থতাকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের ব্যর্থ মনে করে। অথচ, তাদের মধ্যে অন্যক্ষেত্রে অসাধারণ সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকতে পারে।

অভিভাবকদেরও এই বাস্তবতা নতুনভাবে উপলব্ধি করতে হবে। সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত প্রত্যাশা, অন্যের সঙ্গে তুলনা ও কেবল নম্বরকেন্দ্রিক চাপ অনেক সময় শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপদ, সহানুভূতিশীল ও উৎসাহব্যঞ্জক পারিবারিক পরিবেশ।

একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং জীবনদক্ষতা উন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আজকের পৃথিবীতে কেবল পাঠ্যবই মুখস্থ করলেই সফল হওয়া যায় না। প্রয়োজন সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগের ক্ষমতা ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মানসিকতা।

নীতিনির্ধারকদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশ কিংবা পাসের হার নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না। আমাদের জানতে হবে, কতজন শিক্ষার্থী মাঝপথে ঝরে যাচ্ছে, কেন ঝরে যাচ্ছে এবং তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য কী ধরনের নীতি ও কার্যক্রম প্রয়োজন। কারণ, একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা মানে শুধু একটি খালি আসন নয়; এর পেছনে থাকতে পারে একটি পরিবারের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন, একটি সম্ভাবনাময় জীবনের থেমে যাওয়া পথচলা।

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা যেন কেবল প্রশ্নপত্র, পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমাদের আলোচনার কেন্দ্রে আসুক শিক্ষার্থী, তার শেখার পরিবেশ, মানসিক সুস্থতা, দক্ষতা অর্জন ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি।

বাংলাদেশ আজ জনসংখ্যাগত সুবিধার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই তরুণ জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু তাদের একটি অংশ যদি শিক্ষা থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, জাতীয় উন্নয়নের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এইচএসসি পরীক্ষা তাই শুধু একটি বার্ষিক পরীক্ষা নয়; এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আয়না। সেই আয়নায় আমরা কী দেখছি, কী শিখছি এবং কী পরিবর্তন আনছি, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামী বাংলাদেশের মানসম্মত মানবসম্পদ গড়ে তোলার সাফল্য।

যারা পরীক্ষার হলে বসেছে, তাদের জন্য শুভকামনা। আর যারা কোনো কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাদের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কারণ, একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি তখনই নিশ্চিত হয়, যখন সে তার প্রতিটি শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাকে মূল্য দেয় এবং কাউকে পিছিয়ে পড়তে দেয় না।

 

মো. তরিকুল ইসলাম: লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

পানামাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, কেইনের রেকর্ড গোল

পানামার বিপক্ষে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকই গুছিয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের গোলে ২-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে তারা। 

শনিবার রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই জয়ে টমাস টুখেলের দল ‘এল’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে।

নিউ জার্সির এক বৃষ্টিভেজা দিনে, ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর বুকায়ো সাকার কর্নার থেকে বল পেয়ে ডেডলক ভাঙেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেলিংহাম।

সেই পর্যন্ত ম্যাচটা বেশ ম্যাড়মেড়ে ছিল। তবে প্রথম গোলটার একটা আবহ তৈরি হচ্ছিল বেশ কিছু সময় ধরেই। এরপর বেলিংহামের ক্রস থেকে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে হেডে দ্বিতীয় গোলটা করেন কেইন।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানের উদ্বোধনী জয়ে জোড়া গোল করার পর এটা ছিল এই টুর্নামেন্টে কেইনের তৃতীয় গোল। এর মাধ্যমে অধিনায়ক কেইন কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১১ গোল) হয়ে গেলেন।

২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড যখন পানামাকে ৬-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল, তখন কেইন একাই তিনটি গোল করেছিলেন। তবে এবার ‘থ্রি লায়ন্স’দের কাজটা অতটা সহজ ছিল না, কারণ প্রতিপক্ষ দলটার সীমাবদ্ধতা থাকলেও মাঠের পরিশ্রমে তারা কোনো কমতি রাখেনি।

গত মঙ্গলবার বোস্টনে ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর, এই ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নিয়ে হয়তো প্রশ্ন উঠছিল।

ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে জয়ের মতো ছন্দ তারা এখনো পুরোপুরি ফিরে পায়নি। তবে সম্ভাব্য ৯ পয়েন্টের মধ্যে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ডে গেল ইংল্যান্ড।

গ্রুপের শীর্ষে থাকা খুব দরকার ছিল, কারণ এর ফলে শেষ ১৬-তে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার ভয়টা এড়ানো গেল।

এর বদলে, আগামী বুধবার (১ জুলাই) আটলান্টায় একটি তৃতীয় স্থানে থাকা দলের সঙ্গে খেলতে নামবে তারা। সেই ম্যাচে জিতলে শেষ ১৬-র লড়াইয়ে মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে তাদের খেলা হতে পারে—সম্ভবত মেক্সিকোর সঙ্গেই, যেখানে ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছিল ইংল্যান্ড।

 

গ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে, রবির বেড়েছে কীভাবে?

দেশের শীর্ষ টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোনের আয় ও মুনাফা দুটোই কমেছে ২০২৫ সালে। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রবি আজিয়াটার আয় ও মুনাফা বেড়েছে।

কোম্পানি দুটির আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, গত বছর গ্রামীণফোনের আয় এর আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মুনাফা কমেছে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে রবির আয় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ এবং মুনাফা ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

গ্রাহকসংখ্যার ওঠানামায় আয়-মুনাফায় এই পার্থক্য। বছর শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকসংখ্যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮ কোটি ৩৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৭৪ লাখ।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর একটি নতুন নিয়মের জন্য তাদের গ্রাহক কমেছে। বছরের শেষ প্রান্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সিমের নিবন্ধনসীমা ১৫টি থেকে কমিয়ে ১০টি করেছে। এর ফলে গ্রাহকদের বাড়তি সিমগুলো বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানান, এই নিয়মের কারণে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।

সাংবাদিকদের দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের টেলিকম বাজারের প্রায় ৪৫ শতাংশ জিপির দখলে। তাই নিয়ম পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব জিপির ওপর পড়াটাই স্বাভাবিক।

বছর শেষে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮৭ লাখ। এটি তাদের মোট গ্রাহকের ৫৮ শতাংশ। তাদের মধ্যে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ফোর-জি ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে রবির সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৪ কোটি ৪৫ লাখ। এটি তাদের মোট গ্রাহকের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এদের মধ্যে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ফোর-জি গ্রাহক।

সাধারণত গ্রাহক ও তাদের খরচ বাড়লে কোম্পানির আয় ও মুনাফা বাড়ে। আর গ্রাহকসংখ্যা কমে গেলে মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রবি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিম নিবন্ধনের নিয়ম পরিবর্তনের পর বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে, গ্রাহক বৃদ্ধি তারই প্রতিফলন। এ ছাড়া তাদের ইন্টারনেট গ্রাহক ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে।

খরচের ধরনেও দেখা গেছে ভিন্নতা। গ্রামীণফোনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়েস ও ডেটা (ইন্টারনেট) থেকে আয় কমে যাওয়ায় গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ১৫৫ টাকা থেকে কমে ১৫১ টাকায় নেমেছে।

অন্যদিকে রবির গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৪৫ দশমিক ৮ টাকায় উন্নীত হয়েছে। মূলত ডেটা থেকে বেশি আয় এবং গ্রাহকদের প্যাকেজ বা অফার পরিবর্তনের ফলেই এই প্রবৃদ্ধি এসেছে।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা তানভীর বলেন, মূল্যস্ফীতির টানা চাপ এবং খরচের ব্যাপারে গ্রাহকদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় মোবাইল ব্যবহার কমেছে। ফলে আয়ও কমেছে।

তবে তিনি জানান, গ্রামীণফোনের গ্রাহকেরা অপেক্ষাকৃত বেশি পুরোনো ও দামি প্যাকেজ ব্যবহার করেন। গ্রাহক ধরে রাখা এবং তাদের সাধ্যের কথা বিবেচনা করে অনেক সময় স্বল্পমেয়াদে আয় ও মুনাফার ওঠানামা হতে পারে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকপ্রতি আয় বাড়ানোর চেয়ে জিপি সব সময় নেটওয়ার্কের মান, ডিজিটাল সেবা এবং যৌক্তিক মূল্য বজায় রাখার মাধ্যমে গ্রাহক সম্পর্ক তৈরির ওপর জোর দেয়।

কমেছে ভয়েস কল

উভয় অপারেটরেই গ্রাহকদের ভয়েস কল বা কথা বলার হার কমেছে, তবে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলক বেশি। জিপির গ্রাহকপ্রতি গড় কথা বলার সময় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১৬২ মিনিটে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রবির ক্ষেত্রে এই হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৪১ মিনিটে নেমেছে।

তানভীরের মতে, মানুষ এখন ওভার-দ্য-টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেটে বেশি কথা বলছেন। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে গ্রাহকেরা খরচ কমাতেও মোবাইল কলে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছেন।

গ্রামীণফোন ও রবির প্রবৃদ্ধির এই পার্থক্য নিয়ে কথা বলেন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সিইও কাজী মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রবির আয় মূলত ডেটানির্ভর। বাজারে ডেটার ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে ভয়েস কল কমছে। এর ফলে তাদের আয় বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রবির আয় বাড়লেও সেই তুলনায় তাদের মুনাফা এখনো বেশ কম, যেখানে গ্রামীণফোনের মুনাফা অনেক বেশি। এর মানে হলো, রবি তাদের পরিচালন দক্ষতায় সামান্য উন্নতি করলে তাদের মুনাফাও অনেকটা বাড়বে।

কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে রবির মুনাফা জিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সেদিক থেকে বলা যায়, রবির মুনাফার হার আসলে দীর্ঘ সময় ধরেই বেশ কম।

আয় ও মুনাফা কমলেও আর্থিক সূচকগুলোতে গ্রামীণফোন এখনো বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। জিপির মুনাফার হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে রবির ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। জিপির রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) ৪৯ শতাংশ, আর রবির ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য জিপির ৪১ দশমিক ৪৯ টাকা, যেখানে রবির ১৩ দশমিক ৩৪ টাকা।

(ঈষৎ সংক্ষেপিত, মূল প্রতিবেদনটি পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে)

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মধ্যে রাজনৈতিক শালীনতা দেখিনি: এ্যানি

এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মধ্যে রাজনৈতিক শালীনতা দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

নাসীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

আজ শনিবার প্রেসক্লাবে ‘নোঙর’ আয়োজিত জাতীয় নদী দিবস ২০২৬-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে নির্বাচনের আগ থেকেই দেখে আসছি। রাজনীতিতে যে শিষ্টাচার ও শালীনতা থাকা উচিত, তা তার বক্তব্যে কখনো খুঁজে পাইনি।’

‘তিনি এমন অনেক মন্তব্য করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও আপত্তিকর কথা আছে,’ বলেন এ্যানি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিনি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝিনাইদহে গেছেন। তার সঙ্গে যারা ছিলেন, তারা একসময় দেশের ছাত্ররাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছিল।’

আলোচনা সভায় দেশের নদী ও খাল রক্ষায় দূষণ ও অবৈধ দখল রোধে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘পানিই আমাদের জীবন, আবার পানির অভাবেই মরণ। পানি দূষিত হলেও আমাদের মরণ। নদী, খাল ও পানি সম্পদকে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এগুলো রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ‘কোনো তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং দেশের স্বার্থে এবং তিস্তাপাড়ের ৫ জেলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। বিগত সরকারের অবহেলায় তিস্তা ব্যারেজের কাজ শেষ হয়নি।’

‘পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩টি ইউনিট গত ৩ মাস ধরে তিস্তা পাড়ে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এই মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে,’ বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র ৩ মাসের মাথায় সরকারের প্রতিটি কাজ নিয়ে যেভাবে অসহযোগিতা করা হচ্ছে, তা একটি দায়িত্বশীল বিরোধীদলের কাছ থেকে জাতি প্রত্যাশা করে না।’
 

জীবন মূলত সময় নষ্ট করার খেলা: তৌকীর আহমেদ

তৌকীর আহমেদ একজন অসম্ভব মেধাবী অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা। তার পরিচালিত ‘জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্রটি ব্যাপকভাবে প্রশংসা পেয়েছে। ‘অজ্ঞাতনামা’ ও ‘হালদা’ চলচ্চিত্র দুইটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও পুরস্কার-প্রশংসা অর্জন করেছে। 

বহু বছর আগে নির্মাণ করেছেন বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র ‘দারুচিনি দ্বীপ’, যা এখনো মানুষের আলোচনায় ঘুরেফিরে আসে। ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’ পরিচালনা করেছেন। সব মিলিয়ে সাতটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন তিনি।

এ সময়ে এসেও মঞ্চ নাটক ‘তীর্থযাত্রী’-এর নির্দেশনা দিচ্ছেন। অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের পর নাটক নির্মাণ করেও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন।

১৯৮৮ সালে ‘ফিরিয়ে দাও অরণ্য’ নাটক দিয়ে বিটিভির পর্দায় অভিষেক হয় তৌকীরের। প্রথম নাটকে মাদকাসক্ত যুবকের চরিত্রে অভিনয় করে সবার মন জয় করে নেন তিনি। 

অভিনয় শিল্পী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তিনি।

সম্প্রতি জীবনের ৬০ বছর পূর্ণ করলেন এই নন্দিত তারকা। 

গতকাল রোববার শিল্পকলা একাডেমিতে বসে দ্য ডেইলি স্টারের সাথে কথা বলেছেন তৌকীর আহমেদ।

৬০ বছরে এসে জীবনকে কিভাবে দেখছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘সব বয়সের একটা সৌন্দর্য আছে। এই বয়সেরও নিশ্চয়ই আছে। তবে, জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা খুব স্পষ্ট। জীবন সম্পর্কে ধারণা হচ্ছে— এটি মূলত সময় নষ্ট করার খেলা। আমরা প্রত্যেকে বিভিন্নভাবে সময় পার করি। খেলা দেখে, সিনেমা দেখে, গান শুনে, ঘুমিয়ে, অনেকভাবে। এই খেলাটি ভীষণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে তখনই, যখন কেউ সৃষ্টির খেলায় মেতে উঠে।’

‘কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনই জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। কিন্তু, আমি এটাও জানি যে অর্থ খুবই প্রয়োজনীয়’, যোগ করেন তিনি। 

তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা এখন বুঝতে পারি একজীবন শেষ করে এসেছি। বাকি যে দিনগুলো আছে তা কাজে লাগাতে হবে। ৭০-৮০ দশকে আমাদের গড় আয়ু কম ছিল। একটা সময় আমাদের গড় আয়ু যখন ৪৬ বছর ছিল তখন উন্নত বিশ্বে মানুষ একশ বছর বেঁচে থাকতো। গুণগত মানটাও দেখতে হবে। বেঁচে থাকাও দরকার এবং একইসঙ্গে সময়টাকেও কাজে লাগানো দরকার।’

সাতটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন তৌকীর আহমেদ। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাতটি সিনেমা আমি বানিয়েছি। যদি পরিবেশ অনুকূলে থাকত তাহলে হয়তো আরো বেশি হতে পারতো। ১৪টি কিংবা ২১টি হতে পারতো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, টেলিভিশনের জন্য প্রচুর কাজ করেছি। নাইওরী নামে একটি টেলিফিল্ম বানিয়েছিলাম। যা আলোচনায় ছিল। গুণগত মানে অনেক এগিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘নাইওরী দেখে তানভীর মোকাম্মেল বলেছিলেন এটা সিনেমা হতে পারত। যেহেতু টেলিভিশনে প্রচার হয়েছে সে কারণে হয়তো অতটা গুরুত্ব পায়নি।’

‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রির যে ধারা তাতে মনে হয় আমাদের নিয়ন্ত্রণ করেছে। কাজ আরো বেশি হতে পারত। কিন্তু কোয়ালিটি একটা বিষয়’, যোগ করেন তিনি।

শিল্পী বেঁচে থাকেন দুই তিনটি কাজ দিয়েই— এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঠিক। সহমত পোষণ করছি।’

সীমাবদ্ধতার বিষয়ে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘দেশের বা সমাজের সাথে মার্চ করেই চলতে হবে। এখানে যে প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করেছে, সেখানে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সেই সীমাবদ্ধতার মাঝেই কাজ করতে হবে।’

নতুন সিনেমা নিয়ে নিজের মতামত ডেইলি স্টারককে জানান তৌকীর। 

তিনি বলেন, ‘অনেক দিন সিনেমা নির্মাণ করিনি। চলতি বছরের শেষ দিকে নতুন একটি সিনেমা বানাতে চাই। আমার শ্বশুর আবুল হায়াতকে সঙ্গে নিয়ে, তাকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণ চরিত্র তৈরি করে কাজ করতে চাই। মঞ্চের কাজ তো আছেই।’

স্মৃতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্মৃতি আমাদের প্রতারিত করে। এতটাই প্রতারিত করে যে যাপিত জীবন আমরা ভুলে যাই। অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। অসাধারণ উপলব্ধি হচ্ছে।’
 

প্রতিবেশীদের নয়, হামলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, প্রতিবেশীদের ওপর ইরান হামলা চালাচ্ছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হচ্ছে।

আজ রোববার সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। 

সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানে চলমান পরিস্থিতি, নেতৃত্ব নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। 

দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ এক বা দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে পারেন।’ 

ইরানে রাষ্ট্রীয় কাঠামো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

একইসঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান আরাঘচি।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতাকে নিয়ে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যারা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।’

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা প্রসঙ্গে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আত্মরক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানা সম্ভব নয়। তাই আমাদের এই অঞ্চলে বিভিন্ন দেশে তাদের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।’ 

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক মার্কিন সেনা সদস্য ঘাঁটি খালি করে হোটেলে অবস্থান নিয়ে মানবঢাল তৈরি করছে।

তবে ইরান শুধু সামরিক সদস্য ও সামরিক স্থাপনাকেই লক্ষ্য করে হামলা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

আপাতত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চাই না কিংবা সেখানে নৌ চলাচল ব্যাহত করবে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও নেই।’

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ নেই বলেও উল্লেখ করেন আরাঘচি।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছি না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা ও প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছি।’ 

উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন আব্বাস আরাঘচি।

এবার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাতে সরাইল থানায় এ মামলা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেনের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী তামিম মিয়া। এতে ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, একুশে ফেব্রুয়ারির ভোরে আনোয়ার হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ফারজানা আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ ও তার বাড়ির সামনে এজাহারভুক্ত আসামিরা গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে বাদী তামিম মিয়াকে মারধর ও তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে গতকাল রাতে সরাইলে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা ও মারপিটের অভিযোগে মামলা করেন রুমিন ফারহানার সমর্থক আহাদ মিয়া।

এ মামলায় আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামিসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও ১৫০ জনকে।

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন রুমিন ফারহানা। একপর্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই স্থান ত্যাগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তার সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।