26.7 C
Dhaka
Home Blog

প্রতিবেশী দেশ থেকে হামলা না হলে পাল্টা হামলা নয়: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু না করার আশ্বাস দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে সেই সঙ্গে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, যদি কোনো প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আজ শনিবার প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ গতকাল একমত হয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর কোনো হামলা চালানো হবে না এবং কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে না। তবে শর্ত হলো, ওই সব দেশ থেকে ইরানের ওপর কোনো আক্রমণ যেন না আসে।’

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে এই ‘নেতৃত্ব পরিষদ’ দেশটির শাসনভার পরিচালনা করছে।

কেউ চাঁদা দাবি করলে তাকে জেলে থাকতে হবে: শিমুল বিশ্বাস

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেছেন, কেউ যদি কোনো কাজে চাঁদা দাবি করে তাকে জেলে থাকতে হবে।‌

শিমুল বিশ্বাস গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার পাবনায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করেন।

তিনি আজ পাবনা শহরের চাঁদমাড়ি থেকে নয়নামতি পর্যন্ত রাস্তার কাজ ও ছাতিয়ানী থেকে বুদের হাট পর্যন্ত রাস্তার কাজ উদ্বোধন করেন।

এর আগে গতকাল শহরের আতাইকোলা রোড, বগা মিয়া রোড‌‌, খেয়াঘাট ব্রিজ থেকে পিএন রোড পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত ও সড়কবাতি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

সোমবার শহরের পুরাতন বিআরটিসি স্ট্যান্ডের সামনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম শুরু হয়।

উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করে শিমুল বিশ্বাস সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘কেউ যদি এসব কাজসহ কোনো ধরনের কাজে কারো কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে, তাকে জেলে থাকতে হবে।’

‘উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো রকম অন্যায়, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
 

ডিজিটাল লেনদেনে অর্থদাতার নাম বাধ্যতামূলক হোক, ছোট পরিবর্তনে আসতে পারে বড় সুফল

ইলেকট্রনিক লেনদেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চেক সংগ্রহ, বহন ও ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হওয়ার পরও একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর অজানা থেকে যেতে পারে—এই টাকা কে পাঠিয়েছেন?

প্রতিটি ইলেকট্রনিক লেনদেনে অর্থদাতার নাম বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রাপকের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা জমার বিবরণীতে সেই নাম দেখানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

সরকারি ও বেসরকারি, উভয় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনেই এ সমস্যা দেখা যায়। কিছু ব্যাংকের স্টেটমেন্টে অর্থদাতার পরিচয় উল্লেখ থাকে, ফলে হিসাব মেলানো সহজ হয়।

অন্য ব্যাংকের স্টেটমেন্টে শুধু সাধারণ বিবরণ বা ব্যাংকের নাম দেখা যায়। একসঙ্গে অনেক লেনদেন গ্রহণ করে, এমন কোনো প্রতিষ্ঠানকে তখন প্রতিটি জমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও চালানের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হয়। অর্থদাতার পরিচয় না থাকলে টাকা জমা হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের হিসাব অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে।

সম্প্রতি আমার পর্যালোচনা করা একটি ব্যাংক স্টেটমেন্টের উদাহরণ দেই। জুন মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে সেখানে বিভিন্ন অঙ্কের একাধিক সরকারি ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার (ইএফটি) জমা হয়েছিল। প্রতিটি লেনদেনের বিবরণ প্রায় একই ছিল—‘ইএফটি ইনফ্লো//মতিঝিল/ট্রেজারি এস/গভর্নমেন্ট’।

টাকার পরিমাণ ও লেনদেন নম্বর দেখা গেলেও কোন সরকারি দপ্তর টাকা পাঠিয়েছে, তার উল্লেখ ছিল না। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের ক্ষেত্রেও জমার বিবরণীতে অর্থদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম না থাকলে একই সমস্যায় পড়তে হয় প্রাপককে।

এর বাস্তবিক পরিণতি সহজেই বোঝা যায়। হিসাব বিভাগ টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান টাকা পাঠিয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করতে পারে না।

এর বাস্তবিক পরিণতি সহজেই বোঝা যায়। হিসাব বিভাগ টাকা জমা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করতে পারলেও কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে টাকা জমা হয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করতে পারে না।

এ অবস্থায় কর্মীদের অর্থ পাঠানোর বিবরণ চাইতে হয়, বকেয়া বিলের সঙ্গে জমার পরিমাণ মিলিয়ে দেখতে হয় এবং ব্যাংক বা অর্থ পাঠানো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। কখনো সহজেই হিসাব মিলে যায়, আবার কখনো একাধিক বিলের অঙ্ক কাছাকাছি হওয়ায় হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

টাকা পরিশোধ করার পরও হিসাব না মেলা পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া তালিকায় থেকে যেতে পারে। এমনকি একই বিলের বিপরীতে আবারও টাকা পরিশোধের অনুরোধ জানানো হতে পারে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটার আশঙ্কা থাকে।

অর্থবছরের শেষে এ সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিপুলসংখ্যক জমার পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে সেগুলোর হিসাব মেলানো কঠিন হয়। এর ফলে আর্থিক প্রতিবেদনে আয় কম দেখানো, পাওনার হিসাবে অসংগতি এবং বছরশেষের নিরীক্ষায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অর্থদাতার নামের মতো একটি তথ্যের অভাব শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণীর নির্ভরযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

নিজের কাজেও ইএফটির সুবিধা দেখতে পাই। যেমন দূরের কোনো জেলার সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে একটি সংবাদপত্র ছোট কোনো বিজ্ঞাপনের বিল পেতে পারে। আগে ১০ হাজার টাকার একটি চেক সংগ্রহ করতে কাউকে ওই দপ্তরে পাঠাতে হতো। এরপর কুরিয়ারে চেকটি ঢাকায় আনতে হতো এবং অন্য কোনো সহকর্মীকে সেটি ব্যাংকে জমা দিতে বলতে হতো।

ইলেকট্রনিক লেনদেন এসব ঝামেলার অনেকটাই দূর করেছে। কিন্তু পরে সেই টাকা কে পাঠিয়েছে, তা শনাক্ত করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে হলে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সুবিধার একটি বড় অংশই ম্লান হয়ে যায়।

এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত প্রতিটি ইলেকট্রনিক লেনদেনে অর্থদাতার নাম উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি দপ্তরের পরিচয় দিতে হবে। লেনদেন শুরুর সময়ই নামটি নথিভুক্ত করতে হবে এবং পুরো লেনদেন প্রক্রিয়ায় তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। প্রাপকের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা জমার বিবরণীতেও নামটি দেখাতে হবে।

নামের ঘর ফাঁকা রাখা গেলে, সেখানে শুধু ‘সরকার’ লেখা হলে কিংবা অর্থদাতার নামের পরিবর্তে শুধু ব্যাংকের নাম দেখানো হলে এ উদ্যোগের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।

বিল বা চালানের নম্বর উল্লেখ করা হলে প্রাপকের পক্ষে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের হিসাব মেলানো আরও সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর উচিত লেনদেন নম্বর দিয়ে সহজে লেনদেনের তথ্য খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা করা। তবে এসব অতিরিক্ত তথ্য অর্থদাতার নামের বিকল্প হতে পারে না।

প্রত্যেক প্রাপকের জানার সুযোগ থাকা উচিত, কে টাকা দিয়েছেন। টাকা সরকারি দপ্তর থেকে আসুক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে, সব ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া দরকার।

লেনদেনের পরবর্তী হিসাব-নিকাশসহ পুরো প্রক্রিয়া সহজ হলেই ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব। অর্থদাতার নাম স্পষ্টভাবে দেখা গেলে প্রেরক ও প্রাপক, উভয় পক্ষের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। অর্থদাতার পরিচয় বাধ্যতামূলক করা সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

লেখক: হেড অব অপারেশনস এবং সিএফও, দ্য ডেইলি স্টার

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে আগামী বুধবার দেশে ফিরতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

আজ রোববার বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মির্জা আব্বাসকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট আগামী বুধবার রাত ৯টার দিকে ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস চিকিৎসার পর অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তিনি দেশে ফিরছেন।

গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ফিজিওথেরাপির জন্য মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে তিনি প্রায় এক মাস চিকিৎসা নেন।

এর আগে, গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে নিউরোলজিক্যাল বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিম তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে।

অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তী চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তাকে ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া হয়। 

হালাল অর্থনীতি হতে পারে অন্যতম নতুন সম্ভাবনা: বাণিজ্যমন্ত্রী

বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এ ক্ষেত্রে তিনি আসিয়ান অঞ্চলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আজ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হালাল অর্থনীতিকে এখন আর শুধু খাদ্য ও পানীয় খাতে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই।’ এটি বর্তমানে খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

‘রপ্তানি বাড়াতে প্রথমে আমাদের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি,’ যোগ করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম প্রধান শর্ত। এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটি বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা বাড়াবে এবং নতুন বাজার তৈরিতে সহায়তা করবে।

আলোচনায় উঠে আসে, আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার হালাল ইকোসিস্টেম বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। দেশটি হালালকে শুধু একটি পণ্য হিসেবে দেখেনি; বরং উৎপাদন থেকে শুরু করে গবেষণা, সার্টিফিকেশন, বিপণন ও রপ্তানি পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে।

এ সময় সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়—আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো তৈরি; আধুনিক পরীক্ষাগার ও উন্নত লজিস্টিক সুবিধাসহ বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা; বিদ্যমান উৎপাদন খাতগুলোকে আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতার উপযোগী করা; ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’-কে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করা।

বাটলারের সেঞ্চুরি, ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ইংল্যান্ড

সাউদাম্পটনে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৫৬ রানে হারিয়ে এই সংস্করণের আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে ইংল্যান্ড। জস বাটলারের বিস্ফোরক সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে স্বাগতিকরা দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে।

শনিবার টস হেরে আগে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২৫৭ রান তোলে ইংল্যান্ড। জবাবে পুরো ওভার খেলে সফরকারীরা পৌঁছাতে পারে ৮ উইকেটে ২০১ রান পর্যন্ত।

ভারত দল যানজটে আটকা পড়ায় টস হতে দেরি হয় পৌনে এক ঘণ্টা। তবে তাদের ভাগ্যের কোনো বদল হয়নি। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তারা ইংল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ৪-০ ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে রান খরায় ভুগতে থাকা বাটলার শক্তি ও সুনিপুণ টাইমিংয়ের এক চিরায়ত প্রদর্শনী দেখান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসের স্বাদ নেন তিনি। ১২টি চার ও আট ছক্কায় ৬৪ বলে ১৩১ রান করে হন ম্যাচসেরা।

ব্রুকের সাথে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের রেকর্ড ২৩৩ রানের জুটি গড়েন বাটলার। এটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির বিশ্ব রেকর্ডও। ব্রুক ৪৫ বলে অপরাজিত ৯৫ রানের ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে চারটি চার ও আটটি ছক্কা।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। পরে যা সফরকারীদের জন্য পাহাড়সম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

ইশান কিশান (৩৫ বলে ৫৬ রান) ও তিলক বর্মা (২৫ বলে ৫৩ রান) হাফসেঞ্চুরি করলেও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের বিপর্যস্ত দল কখনোই লড়াই জমানোর মতো অবস্থানে ছিল না। বিশেষ করে, তাদের ফিল্ডিং ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। এই হারের ফলে তারা টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে নেমে গেছে।

পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি ভারত। এই সিরিজের আগে আয়ারল্যান্ডের কাছে আকস্মিকভাবে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল তারা। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ ২০ ওভারের ম্যাচে টানা ছয়টি হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে দলটি।

দেশের পাশাপাশি বিদেশেও ঈদের তিন সিনেমা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তিন বাংলা সিনেমা ‘রকস্টার’, ‘রইদ’ ও ‘মালিক’ দেশের প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যাত্রা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে।

ঈদের সিনেমাগুলোর মধ্যে শীর্ষ নায়ক শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ গত শুক্রবার থেকে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ৪১টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে স্বপ্ন স্কয়ারক্রো।

পরিচালক আজমান রুশোর ‘রকস্টার’ এক সংগীতশিল্পীর জীবন, সাফল্য ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের গল্প নিয়ে নির্মিত। এতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া মিথিলা।

অন্যদিকে, পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন নির্মিত ‘রইদ’ গত ৫ জুন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নে মুক্তি পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড ও ক্যানবেরার দর্শকরাও ছবিটি দেখতে পারবেন। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সিনেমাটি পরিবেশন করছে স্ক্রিন এক্সকোপ ও দেশি ইভেন্টস।

গ্রামীণ জীবন ও লোকজ বাস্তবতার পটভূমিতে নির্মিত ‘রইদ’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র সাধু নামের এক যুবক। মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করা এই যুবক একসময় স্ত্রীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে দূরে কোথাও ফেলে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে স্ত্রী বারবার বাড়ির পথ খুঁজে ফিরে আসে। মানবিক সম্পর্ক, অপরাধবোধ, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার অনন্য গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।

ঈদের তৃতীয় সিনেমা ‘মালিক’ আগামী ১৩ ও ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যাংকসটাউনে প্রদর্শিত হবে। পরিচালক সাইফ চন্দন নির্মিত সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে বঙ্গজ ফিল্মস।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রদর্শনী উপলক্ষে ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন ছবির নায়ক আরিফিন শুভ। সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম।

দেশীয় প্রেক্ষাগৃহে ঈদের দর্শক টানার পাশাপাশি এসব সিনেমা আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উপস্থিতি জোরালো করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ম্যাপ, চার্ট ও ছবিতে ইরান সংকট

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে নতুন এক সংঘাত। এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের ক্ষমতা কাঠামো, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাজার, সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই হামলার বিস্তার, এর কৌশলগত প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে রয়টার্স।

ইরানের যেসব স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের ওপর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালায়। এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।

এই পদক্ষেপকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় বৈদেশিক নীতিগত ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ পুনর্নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং ইরানের সঙ্গে অচলাবস্থার কূটনৈতিক সমাধান চান বলে জানিয়েছিলেন।

শনিবার ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে, যার মধ্যে ছিল টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় ইরানি নকশা অনুসরণে তৈরি কম খরচের একমুখী আক্রমণ ড্রোন।

ইরান এই হামলাকে উসকানিহীন ও অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে এবং পাল্টা আঘাত হিসেবে ইসরায়েলসহ অন্তত সাতটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে উপসাগরীয় কয়েকটি রাষ্ট্র রয়েছে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে।

ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর ওপর হামলা

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলায় ইরানের সামরিক নেতৃত্বের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন।

গত দুই বছরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরানের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের প্রভাবশালী প্রক্সি বাহিনীগুলোও ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, তিনি নিজে, বিচার বিভাগের প্রধান এবং শক্তিশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের এক সদস্যকে নিয়ে গঠিত একটি নেতৃত্ব পরিষদ সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছে।

নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ভেঙে দিতে চেষ্টা চলানোর অভিযোগ তোলেন এবং সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী পদক্ষেপ নিলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

ইরানের ক্ষমতা কাঠামো

খামেনিকে হত্যার পর এই সামরিক অভিযান অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তন করে দিতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাই এ বিষয়ে সন্দিহান।

খামেনি নিহত হলে এর প্রভাব কী হতে পারে, এ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আলোচনা শুধু সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়।

কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিতর্ক চলছে যে, খামেনির মৃত্যু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অবস্থানে বড় পরিবর্তন আনবে কিনা।

তারা আরও বলেন, খামেনির মৃত্যু বা অপসারণ ইরানকে আবার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তোলা থেকে কতটা বিরত রাখতে পারে, এ বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি: তেল পরিবহনের সরুপথ

ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ায় উপসাগরীয় জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন সরুপথে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় হামলার পর এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ইরানের সক্ষমতা বাজারকে অস্থির করে তুলেছে এবং বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

তেলের দাম ইতোমধ্যে দ্রুত বেড়েছে এবং বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বাজারে উদ্বেগের কারণে দাম আরও কিছুদিন বেশি থাকবে।

গত বছর গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট ও জ্বালানি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে।

সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাক তাদের অধিকাংশ তেল এই পথ দিয়ে রপ্তানি করে, প্রধানত এশিয়ায়।

বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারও প্রায় সব গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পাঠায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের হামলায় কয়েকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরান ও ওমানের মাঝের এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানে হামলা সমর্থন করেন মাত্র চারজনের একজন মার্কিন নাগরিক

এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানে হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।

৪৩ শতাংশ এই হামলার বিরোধিতা করেছেন এবং ২৯ শতাংশ নিশ্চিত নন।

দলীয় বিভাজনও স্পষ্ট: রিপাবলিকানদের ৫৫ শতাংশ হামলাকে সমর্থন করলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমর্থন মাত্র ৭ শতাংশ।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে সামরিক শক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত আগ্রহী।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ব্যাহত

ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বড় বিমানবন্দরগুলো বন্ধ বা সীমিতভাবে চালু থাকায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

দুবাই, আবুধাবি ও দোহা, এই গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট বিমানবন্দরগুলোও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন বালি, কাঠমান্ডু ও ফ্রাঙ্কফুর্ট পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে এবং ইরান, ইরাক, কুয়েত, ইসরায়েল, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও কাতারের আকাশসীমা প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ক্ষয়ক্ষতি

বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া, ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলার চিহ্ন দেখা গেছে।

নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার প্রবেশপথে দুটি হামলার চিহ্ন শনাক্ত হয়েছে।

এই স্থাপনাটি ৫০ হাজার সেন্ট্রিফিউজ ধারণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ

মেরিনট্রাফিকের জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে যায়।

ডেটা অনুযায়ী, অন্তত ২০০টি জাহাজ প্রণালির বাইরে অপেক্ষা করছে এবং বন্দরে পৌঁছাতে পারছে না।

ইরান সীমান্তে কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী

ইরানি কুর্দি মিলিশিয়ারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে।

ইরান-ইরাক সীমান্তে অবস্থান নেওয়া এসব গোষ্ঠী এমন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রবিহীন জাতিগোষ্ঠীগুলোর একটি কুর্দিরা, সংখ্যা প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি।

তারা ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে।

ফলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বহু নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ‘প্রায় সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’

লেবাননে গণ-উচ্ছেদের নির্দেশ ও বৈরুতে বোমাবর্ষণ

ইসরায়েল লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

হামলার আগে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো খালি করার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, ‘এমন গণ-উচ্ছেদ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।’

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ

ইরানের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে।

জাপানের নিক্কেই সূচকও ৬ শতাংশ কমেছে।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারকদের মধ্যে অন্যতম এবং তাদের তেলের বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

গণঅভ্যুত্থানে রামপুরায় হত্যাকাণ্ডের রায় স্থগিতের আবেদন করবেন চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রামপুরায় দুই হত্যাকাণ্ড ও অন্য আরও দুজনকে গুলি করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় স্থগিতের আবেদন করবেন নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আগামীকাল বুধবার তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছিল।

যোগাযোগ করা হলে আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রসিকিউশন রায় স্থগিতের আবেদন করবে। আমরা মনে করি কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে এবং সেগুলো ঠিক করার সুযোগ আমাদের আছে।’ 

এ মামলায় তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন—তৎকালীন ডিএমপি (খিলগাঁও জোন) অতিরিক্ত উপকমিশনার রাশেদুল ইসলাম, তৎকালীন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান, তৎকালীন উপপরিদর্শক তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও তৎকালীন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক চঞ্চল চন্দ্র সরকার। 

তাদের মধ্যে শুধু চঞ্চল হেফাজতে রয়েছেন, বাকি চারজন পলাতক।

প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় পুলিশি অভিযানে ছয় বছর বয়সী মুসা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। একই গুলি শিশুটির শরীর ভেদ করে তার দাদি মায়া বেগমকে আঘাত করে, যিনি পরে মারা যান। 

একই ঘটনায় আরেক ভুক্তভোগী মো. নাদিমও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

ওইদিনের আরেকটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। 

ভিডিওতে দেখা যায়, ১৮ বছর বয়সী আমির হোসেন একটি নির্মাণাধীন ভবনের কিনারায় ঝুলে থাকার সময় দুই পুলিশ সদস্য কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। 

গত বছরের ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেয়। ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে চার্জ গঠন করে।

গত ১৬ অক্টোবর এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

এআইয়ের সাহায্যে ২০ বছর আগে হারানো চিত্রকর্ম খুঁজে পেল পুলিশ

শিল্পকর্ম চুরি বিশ্বজুড়ে একটি সমস্যা। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন দেশের পুলিশ। তবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। এআই প্রযুক্তির আশীর্বাদে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা শিল্পকর্মও শনাক্ত করতে পারছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।

সম্প্রতি ইতালির পারমা শহরে এআইয়ের সহায়তায় ২০ বছর আগে চুরি হওয়া একটি চিত্রকর্ম উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।

আজ বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ইতালির পারমায় বার্ষিক পুরাকীর্তি মেলায় নিয়মিত পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন স্টলে রাখা শিল্পকর্মের ছবি তুলছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। শিল্পকর্ম উপভোগের জন্য নয়, বরং গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তারা এ কাজ করছিলেন।

বিক্রেতাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে বলতে পুলিশ কর্মকর্তারা মেলার বিভিন্ন স্টলে ঘুরছিলেন। সেখানে ছিল মুষ্টির সমান ব্রোঞ্জের মূর্তি, পুরোনো পাত্র, হলদেটে হয়ে যাওয়া গ্লোব এবং অসংখ্য তৈলচিত্র। এসব শিল্পকর্মের ছবি কর্মকর্তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ ডেটাবেজে আপলোড করেন।

কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই পুলিশের এআই ব্যবস্থা একটি ছবিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা দেয়।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছিল, অ্যাকুয়ামেরিন ও লাল রঙের পোশাক পরা এক তরুণী এক হাতে আংশিক খোলা পার্চমেন্টের একটি পাণ্ডুলিপি ধরে আছেন। তার গায়ের রং ফর্সা।

পরদিন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চিত্রকর্মটি জব্দ করেন। এরপর শিল্পকর্ম বিশেষজ্ঞরা সেটি পরীক্ষা করে দেখেন।

ইতালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষাবিষয়ক পুলিশ ইউনিটের লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালভাতোরে রাপিকাভোলি বলেন, ছবিতে থাকা পাণ্ডুলিপিটি দেখে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। তার ভাষায়, ‘কিছু একটা ঠিক মনে হচ্ছিল না।’

রাপিকাভোলির দল অনেক দিন ধরে ইতালিজুড়ে চুরি হওয়া শিল্পকর্ম খুঁজে বের করার কাজ করছে।

তিনি জানান, ওই মেলায় বিশেষভাবে তৈরি নতুন এআই ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এ প্রযুক্তির ব্যবহারে তাদের কাজের দক্ষতা অনেক বেড়েছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এআইয়ের সহায়তায় তার দল ৩০০টিরও বেশি বড় চিত্রকর্ম ও মূর্তি এবং এক লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ছোট আকারের নিদর্শন উদ্ধার করতে পেরেছে। এসব নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে মুদ্রা, পদক, চিঠি, পাণ্ডুলিপি, ডাকটিকিট ও কার্ড। এসব নিদর্শনের মোট মূল্য ২২৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার ৮০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা)।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী রাপিকাভোলি ২০১৩ সালে ইতালীয় পুলিশের চুরি হওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধারের দলে যোগ দেন। ২০২০ সালে তার দল ‘স্টোলেন ওয়ার্কস অব আর্ট ডিটেকশন সিস্টেম’ (সোয়াডস) নামে একটি এআই অ্যালগরিদম তৈরির পরিকল্পনা করে। এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শিল্পকর্মের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দৃশ্যগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারে। রঙ ও সামগ্রিক আকৃতির মধ্যে মিল খুঁজে বের করে এটি দুটি ছবির তুলনা করে।

২০ বছর আগে চুরি হওয়া মূল চিত্রকর্মটিতে একই ফর্সা তরুণীর হাতে পাণ্ডুলিপির বদলে একটি ছোট সাদা মেষশাবক ও একটি পামগাছের ডাল ছিল। পরে চিত্রকর্মটিকে একধরনের ‘ছদ্মবেশ’ দেওয়া হয়।

চুরির পর ছবিটিকে কম চেনা যায় এমন করে তুলতে এর ওপর নতুন করে রং করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেষশাবকটিকে পাণ্ডুলিপির মতো দেখানো হয় এবং মাথার জ্যোতির্বলয় ও পামগাছের ডাল মুছে ফেলা হয়। ফলে সেন্ট অ্যাগনেসকে একজন সাধারণ তরুণীর মতো দেখাচ্ছিল।

কিন্তু চিত্রকর্মে পরিবর্তন আনা হলেও এআই রং, নকশা ও ছবির বিন্যাসের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়ে এই ছবিটিকে শনাক্ত করে।

আরও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যায়, ১৭শ শতকের সেন্ট অ্যাগনেসের এক মিটার উঁচু চিত্রকর্মটি ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট রাতে চুরি হয়েছিল। নেপলসের কাছে সুলমোনার ভারগো পোটেনস গির্জা থেকে এটি চুরি করা হয়। পারমার শিল্পমেলা থেকে গির্জাটির দূরত্ব ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি।

কোটি কোটি ডলারের কোনো চাঞ্চল্যকর শিল্পকর্ম চুরির ঘটনার সমাধান না হলেও স্থানীয় মানুষের কাছে এই চিত্রকর্মের আবেগগত ও ঐতিহ্যগত মূল্য কম নয় বলে মনে করেন রাপিকাভোলি।

২০২৫ সালের ২০ মে তার দল চিত্রকর্মটি সুলমোনার ভারগো পোটেনস গির্জায় ফিরিয়ে দেয়। সেখানে এটি সংস্কার করে আবার আগের জায়গায় টাঙানো হবে।