31 C
Dhaka
Home Blog

আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেয়া কোচকে রেখে দিচ্ছে মিশর

নিজেদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হোসাম হাসানের অধীনে এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস সেরা ফলাফল করেছে মিশর। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও প্রায় বিদায় করে দিয়েছিল বিশ্বকাপ থেকে। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে হেরে ভঙ্গ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন। তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও কোচ হোসাম হাসানের উপর ভরসা রাখছে মিশর।  

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ‘অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হানি আবু রিদা ঘোষণা দিয়েছেন, বোর্ডের সম্মতিক্রমে জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসান ও পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে’। 

মিশরের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত হোসামের সাথে নতুন চুক্তি করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। 

৫৯ বছর বয়সী হোসাম হাসানকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সালাহদের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এবারের বিশ্বকাপে স্মরণীয় পারফরম্যান্সের আগে মিশরকে গত বছর আফ্রিকান কাপ অব ন্যাশনসের সেমিফাইনালে তুলেছিলেন হোসাম। 

বিশ্বকাপে আসার আগেই মিশর জাতীয় দলের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল হোসামের। হোসাম নিজেই জানিয়েছিলেন, এই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চুক্তি ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। 

 

২ পোস্টার দিয়ে ঈদে ‘মালিক’ সিনেমার মুক্তির ঘোষণা

ঈদুল আজহায় মুক্তির তালিকায় যোগ হয়েছে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ‘মালিক’ সিনেমাটি। ইতোমধ্যে সিনেমার নতুন দুটি পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে।

প্রথম পোস্টারে আরিফিন শুভকে অ্যাকশন লুকে দেখা গেছে এবং দ্বিতীয় পোস্টারে রোমান্টিক আবহে ধরা দিয়েছেন শুভ-মিম জুটি।  

এ বিষয়ে সিনেমার পরিচালক সাইফ চন্দন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা প্রথমে দুটি পোস্টার দিয়ে সিনেমাটি ঈদে মুক্তির ঘোষণা দিলাম। আগামীকাল শনিবার সিনেমার সেন্সর হলে গান ও ট্রেলার মুক্তি দেবো। এখন কলকাতায় শেষ মুহূর্তের কাজ করছি। আশা করছি সিনেমাটি ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মালিক অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা, এক জেদি মানুষের গল্প। যে মায়ের সম্মান ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমে অপরাধ জগতের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে যায়। সেই মালিক চরিত্রে থাকছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে মিমকে একেবারে নতুনভাবে আবিষ্কার করবেন দর্শক।’

‘মালিক’ সিনেমার সাত বছর আগে এই জুটিকে সর্বশেষ ‘সাপলুডু’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল। 
 

যুদ্ধ শেষ করতে কিছু দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে: ইরান প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রথমবারের মতো বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে কিছু দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে।’ 

তবে কোন কোন দেশ এ উদ্যোগ নিয়েছে তা তিনি উল্লেখ করেননি। 

তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো আলোচনা তাদের উদ্দেশ্যেই হওয়া উচিত, যারা যুদ্ধ শুরু করেছে।’

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ইরান প্রেসিডেন্টের দেওয়া এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে কাতার, তুরস্ক, মিশর ও ওমান বিভিন্ন সময় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। দুই দিন আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ‘এখন কূটনীতির সময় নয়, বরং দেশের প্রতিরক্ষার সময়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘কিছু দেশ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু করেছে। স্পষ্ট করে বলি, আমরা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আমাদের জাতির মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা কোনো দ্বিধা করব না। মধ্যস্থতা তাদের উদ্দেশ্যেই হওয়া উচিত যারা ইরানি জনগণকে অবমূল্যায়ন করেছে ও এই সংঘাত শুরু করেছে।’

ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় থাকাকালীন এ যুদ্ধ শুরু হয়। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর সময়েও দুই পক্ষের পারমাণবিক আলোচনা চলছিল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বক্তব্যে শিগগির আলোচনায় বসার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘ইরানের ওপর সামরিক অভিযান বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।’ 

অন্যদিকে শুক্রবার সকালে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী অভিযানকে আরও নতুন ও তীব্র পর্যায়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের আলোচনায় বসার জন্য এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। সামগ্রিকভাবে তিনি ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার ওপর বেশি জোর দিয়েছেন, যাতে সম্পূর্ণ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিস্থিতি এড়ানো যায়—যা ইসরায়েলের পছন্দ।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চান না, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন।

অবশ্য ইরানের দুর্বল হয়ে পড়া সংস্কারপন্থী জোট বলছে, তেহরানের উচিত এমন একজন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ করা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক প্রচারণাকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কমাবেন।

প্রায় দেড় বছর আগে পেজেশকিয়ানকে প্রেসিডেন্ট হতে সহায়তা করেছিল সংস্কারপন্থী জোট ‘রিফর্ম ফ্রন্ট’। তাদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বেসামরিক মার্কিন স্থাপনায় হামলা ইরানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন কমিয়ে দিচ্ছে। দেশটির দনইয়া-ই-একতেসাদ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এমনটা উদ্ধৃত হয়েছে। 

রিফর্ম ফ্রন্ট বলেছে, ‘নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন বিশ্বের কাছে শান্তি ও বন্ধুত্বের বার্তা দিতে পারে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করা সম্ভব। এটি ইরানে নতুন যুগের সূচনার বার্তা দেবে—যে যুগে দেশের শাসন ব্যবস্থায় সব রাজনৈতিক ও নাগরিক মত ও প্রবণতার অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি থাকবে।’

রিফর্ম ফ্রন্ট বলেছে, সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে রাজনৈতিক বন্দি ও নাগরিক কর্মীদের মুক্তি দেওয়া জরুরি। তাদের মতে, সবচেয়ে উন্নত সামরিক ও তথ্য প্রযুক্তি সম্বলিত এমন শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি থাকলেই কেবল সমাজ টিকে থাকতে পারে।

তারা আরও আহ্বান জানিয়েছে, ইরানি সমাজের সব অংশকে, যেমন তুর্কি, কুর্দি, লোর, আরব, বালুচি, তুর্কমেন, পার্সিয়ানসহ সবাইকে—ইরানের জাতীয় পরিচয়, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় এগিয়ে আসতে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনকে কঠোরভাবে নিন্দা করলেও তারা বলেছে, গত গ্রীষ্মে ১২ দিনের যুদ্ধের পর রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির আহ্বান যদি মানা হতো, তাহলে কূটনৈতিকভাবে ও সামাজিক সংহতির দিক থেকেও ইরান আরও শক্ত অবস্থানে থাকত।

২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, অর্ধেকই স্কুলের: আঁচল ফাউন্ডেশন

দেশে গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ৩৩ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, এর মধ্যে ৪৭ শতাংশই স্কুলের শিক্ষার্থী।

বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন আজ শনিবার সকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক এই সমীক্ষা প্রকাশ করে।

সমীক্ষা অনুসারে, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে পুরুষের তুলনায় নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে মোট ৪০৩ জন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটির হিসাবে, এর আগের বছর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঝরে গেছে ৩১০ শিক্ষার্থীর প্রাণ।

সংস্থাটি ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে এই সমীক্ষা প্রস্তুত করেছে। পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বাধিক স্কুল পর্যায়ের ১৯০ জন, যা মোট ঘটনার ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া, কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন বা ২২ দশমিক ৮ শতাংশ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন বা ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৪৪ জন বা ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৯ জনই নারী, যা শতকরা হিসাবে ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। পুরুষ ১৫৪ জন, অর্থাৎ ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ।

স্কুল পর্যায়ে গত বছর ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ; কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি—৪১ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

মাদ্রাসায় ২৪ জন নারী ও ২০ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে এই সময়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পাবলিক ও ১৭ জন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মেডিকেল কলেজের ৬ জন এবং ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর চেয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি, যা মোট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ।

আঁচল ফাউন্ডেশন মনে করে, সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, পারিবারিক টানাপড়েন, হতাশা ও যৌন নির্যাতন ভূমিকা রেখেছে। তবে স্কুলশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাডেমিক চাপ প্রধান কারণ।

সমীক্ষায় আরও জানানো হয়, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট সংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান শুধুমাত্র প্রতিবেদন নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সর্বাধিক ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে; ১১৮ জন বা ২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩ জন, অর্থাৎ ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন বা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ৫০ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরেছে, দেখা গেছে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কনসালট্যান্ট ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. আনিস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও কিশোর মনোরোগ হাসপাতাল অ্যাপল উড সেন্টারসের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের সহকারী পরিচালক ডা. মারুফ আহমেদ খান, আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোহেল মামুন ও সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ।

সার্বভৌম এআই: বাংলাদেশের যা করণীয়

১০ বছর আগের কথা। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল ‘ট্রান্সফরমার’ সিনেমাটা নিয়ে। সে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় পড়ায়। তার কথা ছিল, পুরো সিনেমায় শুধু টিনের সঙ্গে টিনের সংঘর্ষের শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। মানে যন্ত্রে যন্ত্রে যুদ্ধ। মূল কথাটা ছিল অন্য জায়গায়—যন্ত্র একদিন ফ্রন্টিয়ারে চলে যাবে, মানুষ বসে থাকবে সাইডলাইনে। হাসি-ঠাট্টার মধ্যে কথাটা বললেও এখন টের পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে।

পাঁচ বছর হলো ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের একটা বড় মাথাব্যথার নাম ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস’, সংক্ষেপে ডিডস। বাইরের অনেকগুলো নেটওয়ার্ক থেকে একসঙ্গে অতিরিক্ত প্যাকেট ছুড়ে একটা সচল নেটওয়ার্ককে বসিয়ে দেওয়া যায়। সরকারে থাকতেও এই সমস্যা দেখেছি, কিন্তু এবার সরাসরি রেভিনিউতে টান পড়ায় রিসার্চে নেমে পড়লাম।

যারা এসব আক্রমণ চালায়, তারা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে, তখন মানুষের একার পক্ষে সেটা ঠেকানো কঠিন। আমরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিলাম। এমন সিস্টেম শতকরা ৮০ ভাগ কাজ নিজে সামলে দেয়, বাকিটুকু মানুষ টিউন করে নেয়। তখনই বুঝলাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন তেল বা নিউক্লিয়ার অস্ত্রের মতো একটা কৌশলগত জিনিস, যেটা কেউ হাতছাড়া করতে চাইবে না। যার ফলাফল হিসেবে দেখছি, এই জিনিসের এক্সপোর্ট কন্ট্রোল নিয়ে দেশে দেশে টানাপড়েন শুরু হয়ে গেছে।

কয়েক মাস আগের একটা ঘটনা এই কথাটা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কমার্স ডিপার্টমেন্ট গত জুনে এক্সপোর্ট কন্ট্রোলের আওতায় অ্যানথ্রপিকের ফ্যাবল আর মিথস ৫ মডেলের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পর নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হলেও এই কয়েক সপ্তাহেই বিশ্ব বুঝে গেল একটা জিনিস—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো জরুরি টুলের কিল-সুইচ যদি অন্য দেশের কোম্পানির হাতে থাকে, তাহলে যেকোনো সময় সেটা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এরপর থেকেই প্রায় প্রতিটা দেশ সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

প্রশ্নটা এখন সহজ—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ভাড়া করে চালানো যাবে, নাকি নিজেদের তৈরি করতে হবে?

ইউরোপ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নিজেদের তৈরি প্যারিসের মিস্ট্রাল দিয়ে। ওপেন-ওয়েট এই মডেলকে তারা ধীরে ধীরে সাপোর্ট দিচ্ছে, লোকাল ডেটা সেন্টার থেকে চালানোর ব্যবস্থা করছে, যাতে মার্কিন সার্ভারের ওপর নির্ভরতা কমে। ভারত নিজস্ব মডেল আর ভাষিণীর মতো মাল্টিলিঙ্গুয়াল ডেটা প্ল্যাটফর্ম বানাচ্ছে, কারণ আমেরিকান মডেল আঞ্চলিক ডায়ালেক্ট বোঝে না। বাংলাদেশের মতো তাদের ‘কনটেক্সট’ বুঝতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে বাইরের মডেলগুলো। সিঙ্গাপুরও সি-লায়ন মডেল বানিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিজস্ব সংস্কৃতি আর ভাষার সূক্ষ্মতা রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

এআই মডেল নিয়ে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝেছি, সিলিকন ভ্যালি বা চীনের বড় মডেলগুলো এসব দেশীয় কনটেক্সট ধরতে পারে না। কারণ, তারা তৈরি হয়েছে অন্য একটা দুনিয়ার ডেটা দিয়ে।

বাংলাদেশের অবস্থানটা এখানেই চিন্তার অবকাশ রাখে। সিলিকন ভ্যালির মতো কোটি কোটি ডলার খরচ করে শূন্য থেকে ফ্রন্টিয়ার মডেল বানানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। আবার সিলিকন ভ্যালির মডেল বাংলা ভাষার সূক্ষ্মতা, স্থানীয় ইতিহাস, দেশীয় আইন—কিছুই বোঝে না। এর ওপর আছে নিরাপত্তার প্রশ্ন। রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য, নাগরিকের ডেটা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত বিদেশি সার্ভারে তুলে দেওয়া মানে বড় ধরনের ঝুঁকি নেওয়া। সরকার সম্প্রতি এই বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছে যে, বাইরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমে যেন গোপনীয় তথ্য না যায়। তার মানে সরকারও এখন এই কৌশলগত অস্ত্রটাকে দেশের কাজে লাগানোর কথা ভাবছে।

আমার মনে হয়, পথটা মাঝামাঝি জায়গায়। চাকা নতুন করে বানানোর দরকার নেই, লামা বা এই ধরনের শক্তিশালী ওপেন-ওয়েট মডেল বিনামূল্যেই নামিয়ে নেওয়া যায়। বরং জোর দেওয়া উচিত মানসম্পন্ন বাংলা ডেটাসেট তৈরিতে—আইনি নথি, ইতিহাস, সরকারি তথ্য, আঞ্চলিক ভাষার নমুনা।

সরকার এটা নিয়ে কয়েকটা বড় কাজ করেছে ইতোমধ্যে। ফলে এই ডেটা দিয়ে মডেলকে লোকালি ফাইন-টিউন করে বেসরকারি খাতে নিজস্ব ডেটা সেন্টারে চালাতে হবে, যাতে কোনো বিদেশি শক্তি চাইলেই বন্ধ করে দিতে না পারে। আমি ইচ্ছে করে বেসরকারি খাতের কথা বলেছি, কারণ সরকারের কাছে এ ধরনের কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত ‘ব্যান্ডউইথ’ নেই। সরকার ইতোমধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও এফডিআই নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, বরং বেসরকারি খাতকে যথার্থ প্রণোদনা দিলে এটা তারাই সমাধান করতে পারবে। সরকার প্রয়োজনমতো সেবা কিনবে। এটাই প্রথম ধাপ।

ডেটা যদি নতুন তেল হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন অন্য কারো গাড়িতে বসিয়ে যাত্রী হয়ে বসে থাকার সময় বাংলাদেশের নেই। প্রকৃত ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব মানে আমাদের ডেটা আমাদের সীমানার ভেতরেই থাকবে, আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মডেল সেটা প্রসেস করবে, আর সেটা চলবে আমাদের নিজের হার্ডওয়্যারে।

 

রকিবুল হাসান: টেলিকম, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র’ বইয়ের লেখক

রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগ থেকে রাজনৈতিক দলগুলো পরিপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

গত কয়দিনের পত্রিকার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘পারি নাই বলেই আমাদের রাজনীতিকে আজও কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করছে।’

আজ সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত জীবন্ত একটা পার্লামেন্টকে রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য গণতান্ত্রিক শক্তির যে রাজনৈতিক ঐক্য থাকা দরকার, তা যে আমরা এখনো সুসংহত করতে পারিনি তার প্রমাণ পার্লামেন্টকে রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত করার ব্যাপারে আমরা বিজয় অর্জনকারী দলগুলো এখনো ঐকমত্য চর্চা করতে পারছি না।’

‘শুধু তাই নয়, সামাজিক মাধ্যম যেহেতু পার্লামেন্ট ও রাজপথের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, সেখানেও যদি আমরা খুব সচেতনভাবে তদারক করি, নজর দিয়ে রাখি, তাহলে দেখতে পাব, সাধারণ মূল্যবোধ সংস্কৃতির যে মাত্রা, তা অতিক্রম করে একটা অশ্লীলতা চর্চার কাজ চলছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, এই তৎপরতাগুলো যখন কোনো আদর্শের ভিত্তিতে করা হয়, তখন তা আরও অনেক অশনি সংকেত আমাদের সামনে হাজির করে,’ যোগ করেন তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদদের স্মরণ করতে কেবলমাত্র আবেগ চর্চা করলে চলবে না, শহীদদেরকে স্মরণ করার জন্য কেবলমাত্র একটা আনুষ্ঠানিকতা চর্চা করলে চলবে না, শহীদদেরকে স্মরণ করার নামে আমরা যদি কেবলমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত অথবা কোনো গোষ্ঠীগত উপস্থিতিকে হাজির করার অজুহাত তৈরি করি, আমাদের বিবেকের কাছে কিন্তু আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হবো।

জুলাই শহীদসহ এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সব শহীদের রক্ত এবং বিসর্জনকে এক জায়গায় রেখে আমাদেরকে পরিমাপে বসতে হবে—এত রক্তের বিনিময়ে আমরা কতটুকু অর্জন করেছি? তা যদি পরিমাপ করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, সংসদকে আমরা কতটা কার্যকরী করতে পেরেছি। রাজনৈতিক বিতর্ককে আমরা কতটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে বিধিবদ্ধ করতে পেরেছি এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আমরা কতটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে মহিমান্বিত করতে পেরেছি। এটাই আমাদের একমাত্র মানদণ্ড, যোগ করেন তিনি।

এতে জুলাই অভ্যুত্থানে যুক্ত সব রাজনৈতিক দলকে সম্মিলিত হওয়ার আহ্বান জানান স্বপন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির সামনে দেশ পরিচালনা, সংসদকে সক্রিয় করা, বিচার বিভাগকে স্বকীয় মর্যাদায় রূপান্তরিত করা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে বাস্তবসম্মতভাবে সুসংহত করা ও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দাঁড় করানো, বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবার সহযোগিতা লাগবে।

‘আমরা চাই, পার্লামেন্টে ও রাজনীতিতে যাদের সহযোগিতা করার কথা, তারা সহযোগিতা করবেন,’ যোগ করেন তিনি।

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়, আবারও বলেন তিনি।

‘এই সব কিছুই করতে হবে জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে। এর বাইরে এই লক্ষ্য অর্জন করার আর কোনো সাংবিধানিক, নিয়মতান্ত্রিক মঞ্চ আমাদের কাছে নাই। আমরা ধীরে ধীরে সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এই কাজটি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে করতে চাচ্ছি। এভাবেই আমরা দেশে একটা সুশাসনকে নিশ্চিত করতে চাই।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা তা করতে পারি, তাহলেই কেবলমাত্র শহীদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। শহীদের মর্যাদাকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো এবং এই কাজ করার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে আমরা ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করব।

‘কিন্তু যদি জনগণের কাছে প্রমাণ হয়, কারও বিভ্রান্তি মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে; জনগণের কাছে যদি প্রমাণ হয়, কারও অশ্লীলতা মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে; যদি জনগণের কাছে প্রমাণ হয়, কেউ কেউ বিভিন্ন আদর্শের নামে এখানে বুঝে অথবা না বুঝে অন্য কারও চক্রান্তকে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব নিচ্ছেন—সে ক্ষেত্রেও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমাদেরকে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

২৫ বছরে দুগ্ধশিল্পের বাজার ১২ হাজার কোটি টাকা

প্রায় ২৫ বছর আগে দেশের বাজারে প্যাকেটজাত তরল দুধ নিয়ে আসে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘প্রাণ’। তখন দেশে বিপুল পরিমাণ গুঁড়া দুধ আমদানি হতো। প্রাণের উদ্দেশ্য ছিল সহজ—তরল দুধের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনা। কারণ, কৃষির পর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দ্বিতীয় বড় আয়ের উৎসই গবাদিপশু পালন।

দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ সফল হওয়ার পর প্রাণ ঘি ও চিজের মতো দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন শুরু করে। তবে সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। পাস্তুরিত দুধ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বড় ধরনের বিনিয়োগ লাগলেও এসব প্রথাগত পণ্যে মুনাফার হার বেশ কম।

এই সংকটের পথ খুঁজতেই কৌশল বদলায় প্রতিষ্ঠানটি। কেবল তরল দুধে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈচিত্র্যময় দুগ্ধজাত পণ্যের প্রসার শুরু করে তারা। একপর্যায়ে মিষ্টি, দই, লাবান, মাঠা ও লাচ্ছি, লাবানসহ দুই ডজনেরও বেশি পণ্য বাজারে নিয়ে আসে প্রাণ।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাংলাদেশিরা মিষ্টি ভালোবাসেন। সেটা ভালো মিষ্টি হতে হবে। আর এটাই আমাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় এক দশক আগে ঢাকার অভিজাত এলাকার মানুষই কেবল চড়া দামে প্রিমিয়াম মিষ্টি কিনতেন। আমরা ভাবলাম, এসব পণ্য নিজেরাই তৈরি করে সাশ্রয়ী দামে সবার কাছে কেন পৌঁছে দিচ্ছি না?’

সেই চিন্তা থেকেই ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে মিষ্টি ও বেকারি ব্র্যান্ড ‘মিঠাই’। 

প্রাণের এই যাত্রার সঙ্গে আড়ং, মিল্ক ভিটা, প্যারাগন, আকিজ ও আরডি মিল্কসহ দেশের অন্যান্য বড় দুগ্ধ কোম্পানির গল্পেরও অনেকটা মিল রয়েছে। তারাও দুধ বিক্রির গণ্ডি পেরিয়ে দুগ্ধজাত পণ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। এসব কোম্পানি মিলে এখন প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বাজার গড়ে তুলেছে এবং বছরে ৬ থেকে ৮ শতাংশ হারে বাড়ছে এই বাজার। একসময় নির্মাণ ও আবাসন খাতও এমনই গতিতে বাজার বড় করেছে।

বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক এই দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

উৎপাদকদের মতে, নগরায়ণ, জীবনযাত্রার ধরনে পরিবর্তন, ব্যয়যোগ্য আয় বৃদ্ধি, ফাস্টফুডের প্রসার এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুই দশকে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।

তবে একটি মৌলিক সমস্যাও সামনে এসেছে। প্রক্রিয়াজাতকারীদের নিয়মিত দুধের সরবরাহ প্রয়োজন, অথচ দুধ উৎপাদনে আগ্রহী খামারির সংখ্যা কমছে।

এ ছাড়া, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ পণ্য নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন এক কৃষি অর্থনীতিবিদ।

দুগ্ধজাত পণ্য বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে বদলেছে এসব পণ্যের উৎপাদনের পরিসর ও বাজারের বিস্তৃতি।

আড়ং ব্র্যান্ডের দুগ্ধজাত পণ্য বাজারজাত করে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ডিরেক্টর মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, উদ্বৃত্ত দুধ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই মিষ্টি দই, ছানা ও ঘির মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্য তৈরি হয়ে আসছে। পরে ধীরে ধীরে এগুলো বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোক্তাদের চাহিদা এখন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির গণ্ডি ছাড়িয়ে টক দই, দুগ্ধভিত্তিক পানীয় ও বিভিন্ন ধরনের চিজেও বিস্তৃত হয়েছে।

আনিসুরের মতে, মিষ্টি ও দই এখনো সারা দেশে জনপ্রিয়। অন্যদিকে টক দই, দইয়ের পানীয় ও চিজ মূলত শহর ও মফস্বলে বেশি খাওয়া হয়।

তিনি বলেন, দেশে দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য আলাদাভাবে কোল্ড-চেইন অবকাঠামো না থাকায় এসব পণ্যের বাজার বাড়াতে প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব হিমাগার ও বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হয়েছে।

আনিসুরের মতে, কয়েকটি পণ্য এখন বিশেষ সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। কোমল পানীয়ের স্বাস্থ্যকর বিকল্প খুঁজছেন ভোক্তারা। ফলে লাবান, মাঠা ও লাচ্ছির মতো দুগ্ধভিত্তিক পানীয়ের বাজার দ্রুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ফাস্টফুড শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে মোজারেলা, কটেজ চিজ ও ক্রিম চিজের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিজের বাজারও বিস্তৃত হচ্ছে।

তবে ঘি ও দুধের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু ভোক্তা প্যাকেটজাত দুধের ব্যবহার কমাচ্ছেন। আবার অনেকে খাঁটি ঘির বদলে কম দামের বিকল্প পণ্য বেছে নিচ্ছেন।

আনিসুর বলেন, ‘চকলেট ও আমসহ বিভিন্ন ফ্লেভারড মিল্কেরও বাজার বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘মিল্ক ভিটা’ নামে পরিচিত বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রীতম কুমার দাস বলেন, পাস্তুরিত দুধ, মাখন, ঘি ও গুঁড়া দুধ দিয়ে শুরু করে সমবায় প্রতিষ্ঠানটি এখন পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে ২৪ ধরনের দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করছে। তাদের পণ্যের তালিকায় এখন মিষ্টি, টক ও মিষ্টি দই, দুগ্ধজাত পানীয় এবং মোজারেলা চিজ রয়েছে।

প্রীতম বলেন, ‘মিল্ক ভিটার সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে টক ও মিষ্টি দই। আর গ্রীষ্মকালে লাবানের চাহিদা বেড়ে যায়।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানান, তাদের পণ্যের মধ্যে দই, ঘি ও ফ্লেভারড মিল্কের বাজার সবচেয়ে বড়। ভবিষ্যতে হেলথ ড্রিংক, দই ও দুগ্ধজাত পানীয়র চাহিদা বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।

এই বাজারে নবাগত হিসেবে পা রেখেছে প্যারাগন। গ্রুপটির চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জানান, তাদের প্রধান দুগ্ধজাত পণ্য হলো পাস্তুরিত দুধ, ফ্লেভারড মিল্ক, মাখন ও ঘি। এর মধ্যে পাস্তুরিত ও ফ্লেভারড মিল্কের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, সরাসরি দুধ পান করার বদলে ভোক্তারা ফারমেন্টেড দুগ্ধপণ্য এবং তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন।

ঘিয়ের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বৈচিত্র্যময় পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে প্যারাগন। আইসক্রিমকে বড় প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে মশিউর বলেন, ‘বর্তমানে এর চাহিদা সরবরাহের চেয়ে বেশি।’

দুগ্ধশিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়তো ভোক্তার চাহিদায় নয়, বরং সরবরাহ শৃঙ্খলের অন্য প্রান্তে। ব্র্যাকের আনিসুর দুগ্ধ খামারিদের আগ্রহ কমতে থাকাকে এই খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি বলেন, গরুর মাংস উৎপাদন তুলনামূলক সহজ ও বেশি লাভজনক হওয়ায় খামারিরা সেদিকেই ঝুঁকছেন। অন্যদিকে দুগ্ধ খামারিদের প্রতিদিন গবাদিপশুর যত্ন নেওয়া, গাভির দুধ দোহন ও নির্ভরযোগ্য বাজার খোঁজার ঝক্কি সামলাতে হয়। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তারা সঠিক দাম পান না এবং অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়ও তুলতে পারেন না।

তিনি বলেন, সবুজ ঘাসের সংকট, কৃষিজমির পরিমাণ কমতে থাকা এবং পশুখাদ্যের ব্যয় বৃদ্ধির কারণেও দুগ্ধ খামারির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আরেকটি সমস্যা হলো, এই বাজার মূলত শহরকেন্দ্রিক। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কামরুজ্জামান বলেন, বিতরণ ও নির্ভরযোগ্য কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা প্রয়োজন হওয়ায় দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার মূলত শহর ও মফস্বলেই সীমাবদ্ধ।

প্যারাগন গ্রুপের মশিউর বলেন, সরকারি বিধিবিধান, প্রক্রিয়াজাতকরণসংক্রান্ত সমস্যা ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে ওষুধ ও টিকাসংক্রান্ত বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় আরও বেশি কোম্পানি বিনিয়োগ করায় দেশে দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর বলেন, মানুষের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে এবং এই বাজারও বড় হচ্ছে। তবে, এর পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে স্থানীয় উৎপাদকেরা ব্যয় কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন তার ওপর।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্যের দাম সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে উৎপাদন, বিপণন ও অন্যান্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্য প্রতিযোগিতামূলক দামে পাওয়া গেলে আমদানি করা পণ্যের ওপর ভোক্তাদের নির্ভরতা কমবে। এতে দেশীয় দুগ্ধশিল্প শক্তিশালী হবে।’

বাংলাদেশের বাজার আরও উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ পণ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর বলেন, এর ফলে দেশীয় দুগ্ধশিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, দর-কষাকষির সুযোগ ছাড়াই সরবরাহকারীর নির্ধারিত দামে আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিকূল অবস্থায় পড়তে পারেন। ‘চুক্তিটি পর্যালোচনা করে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত।’

খেলোয়াড়েরা সবাই সুস্থ আছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে প্রস্তুত: নরওয়ে কোচ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে হুট করে ছড়িয়ে পড়ে, অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নরওয়ের বেশ কিছু ফুটবলার। তবে এমন কোনো অসুস্থতার খবর নাকচ করে দিয়ে নরওয়ের কোচ নিশ্চিত করেছেন, তার খেলোয়াড়েরা সবাই সুস্থ আছেন এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। 

বিশেষ করে দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের শারীরিক সুস্থতা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে তা দূর করতে বাধ্য হন দলটির কোচ স্টেল সোলবাকেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক যে ওডেগার্ড অসুস্থ ছিল। তবে সেটা অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড নয়, বরং তার আত্মীয় থমাস ওডেগার্ড, যে পেশায় একজন ফিজিও’।

ওডেগার্ডের পাশাপাশি স্কোয়াডের কোনো ফুটবলারকে নিয়েই অসুস্থতার কোনো শঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন সোলবাকেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড় সুস্থ আছে। স্কোয়াডে কারোর কোনো অসুস্থতা নেই। কোচিং স্টাফের এক-দুইজন কিছুটা অসুস্থ’। 

দলের সাথে থাকা চিকিৎসক ওলা স্যান্ডও নিশ্চিত করেছেন, সবাই ইংল্যান্ড ম্যাচের জন্য প্রস্তুত আছেন। এত লম্বা একটি টুর্নামেন্টে ৫০ জনেরও বেশি সদস্যের একটি দলে কারোর কারোর সামান্য অসুস্থ হওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা বলেছেন তিনি। 

দুইদিন আগে সোলবাকেনের এক মন্তব্যের পর নরওয়ের খেলোয়াড়দের অসুস্থতার ব্যাপারটি আরও ছড়িয়ে পড়ে। নরওয়ে কোচ বলেছিলেন, তার স্কোয়াডের কিছু ফুটবলার একটু অসুস্থ বোধ করছেন। তবে সেটা কোনো ভাইরাসজনিত কারণে নয়, বরং মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্টের ভ্রমণ ধকল, গরম, বারবার হোটেল পরিবর্তন, অনুশীলন ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের ধকল থেকে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

তবে ফুটবলাররা সুস্থ থাকলেও নরওয়ের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে মায়ামির গরম। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, ম্যাচের দিন মায়ামিতে তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। ম্যাচ শুরুর আগে বিচ্ছিন্ন বজ্রপাতও হতে পারে। 

 

ক্ষুব্ধ-ব্যথিত রামেন্দু মজুমদার ও তারিক আনাম

শিশু রামিসার নির্মম হত্যাকাণ্ড নাড়া দিয়েছে সারা দেশকে। তার সঙ্গে ঘটা অপরাধ মেনে নিতে পারছেন না কেউই। এই নিষ্ঠুরতা ও বিকৃত মানসিকতার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের দুই প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও তারিক আনাম খান।

‘সমাজে বিকৃত মানসিকতা জেগে উঠেছে’

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে নাট্যজন ও নির্দেশক রামেন্দু মজুমদার বলেন, সমাজে এখন বিকৃত মানসিকতার কিছু মানুষ জেগে উঠেছে। এই মানুষেরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এরা কেন এমন হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত সমাধান করা জরুরি।

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। রামিসা একটা ফুলের মতো শিশু ছিল। ফোটার আগেই তাকে ঝরে যেতে হলো। অপরাধীর এমন শাস্তি হোক, যাতে আর কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।’

একসময় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের শীর্ষ পদে থাকা রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আমাদের আরও গভীরে যাওয়া উচিত। মানুষ এখন বই পড়া কমিয়ে দিয়েছে, দূরে সরে যাচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সুন্দর কাজগুলো থেকে। শিশুরা যদি খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে ওঠে, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর হবে।’

প্রযুক্তির আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মোবাইল আমাদের অনেক কিছু থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা একা হয়ে যাচ্ছি, আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছি। একধরনের অস্থিরতা কাজ করছে মানুষের মধ্যে, অনেকেই অমানবিক হয়ে উঠছে। সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সমাজের গভীরে গিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে।’

‘রামিসার বাবার মুখটা দেখে সহ্য করি কী করে’

অভিনেতা ও নির্দেশক তারিক আনাম খান শিশু রামিসার মৃত্যুতে স্তব্ধ। ঘটনাটিকে ‘ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আক্ষেপ করে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘শিশু হত্যা এক ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা। শিশুরা কোমল, সরল। তাদের জীবন যদি এভাবে শেষ হয়ে যায়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। আছিয়া থেকে রামিসা—আমরা আসলে কোন সমাজে চলে গেলাম?’

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বারবার রামিসার ছবিটা দেখছি আর ভেতরটা কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে। কী সুন্দর একটা মুখ! এই বয়সে এমন ছবি দেখে কতটা কষ্ট হচ্ছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। রামিসার বাবার মুখটা দেখে সহ্য করি কী করে? একজন বাবা কতটা অসহায় হলে অমন করে কথা বলেন? বাবা হিসেবে তিনি যা হারিয়েছেন, তা কি আর ফিরে পাবেন?’

নাট্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আমাদের সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই সমাজকে ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের সবার। সম্মিলিত চেষ্টা ছাড়া এই অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়। হত্যা, ধর্ষণ, বলাৎকার—এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে প্রতিটি অপরাধের সঠিক ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

সরকার পতনের পর নেপালে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

সরকার পতনের ছয় মাস পর আজ বৃহস্পতিবার নেপালে সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণ শক্তি ও দীর্ঘদিনের পুরোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।

নেপালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে আজ স্থানীয় সময় সকাল ৭টায়। ভোটকেন্দ্রগুলো ১০ ঘণ্টা খোলা থাকবে, অর্থাৎ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। রাজধানী কাঠমান্ডুর সড়কে আজ সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভার (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে ৮ লাখ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। তারা সরাসরি ভোট (ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট) এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির সমন্বয়ে ২৭৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন।

নির্বাচনে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে হাজারের বেশির বয়স ৪০ বছরের কম। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চললেও দেশের কিছু অংশে ভোটকেন্দ্রগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় খোলা থাকতে পারে।

দীর্ঘদিনের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলকে এবার টক্কর দিচ্ছে নতুন একটি দল। এই দলের নেতৃত্বে আছেন সাবেক র‍্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ। ক্ষমতাচ্যুত কে পি শর্মা অলিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই নির্বাচনে। দুজনই লড়ছেন দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শান্ত শহর ঝাপা থেকে।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর নেপালের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল থেকে ব্যালট বাক্স পরিবহন করা একটি বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভান্ডারি জানিয়েছেন, সরাসরি নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আসতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। আর জোট সরকার গঠনের আলোচনা যদি জটিল হয়, তবে সময় আরও বেশি লাগতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচনে কোনো একক দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

গত সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন–জি আন্দোলনে কে পি শর্মা অলির সরকারের পতন হয়। এরপর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি।