26.4 C
Dhaka
Home Blog

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান

খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মাসুদ খানকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অর্থমন্ত্রণালয় চার বছরের জন্য তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

মাসুদ খান ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের বোর্ডে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০১৯ সালের এপ্রিলে চেয়ারম্যান হন।

তিনি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপ বাংলাদেশের বোর্ডে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশে ১৮ বছর চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে দেশে ও বিদেশে অর্থ ও সংশ্লিষ্ট ভূমিকায় ২০ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একজন স্বতন্ত্র পরিচালকও ছিলেন।

এ ছাড়া ৪৫ বছর ধরে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশে (আইসিএবি) একজন প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

মাসুদ খান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব কমার্স (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি ১৯৭৭ সালে অল ইন্ডিয়া সিএ পরীক্ষায় রৌপ্য পদক লাভ করেন।

যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে সভাপতি করা হয়েছে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে।

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানানো হয়।

এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছে যুবদল।

কমিটিতে রেজাউল কবীর পলকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিল্লাল হোসেন তারেককে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মো. কামরুজ্জামান জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ তালিকা

১. সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না

২. সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল

৩. সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া

৪. সহ-সভাপতি কামাল আনোয়ার আহাম্মদ

৫. সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ

৬. সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দুলাল

৭. সহ-সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী

৮. সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান

৯. সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ দিপু

১০. সহ-সভাপতি আবদুল জব্বার খান

১১. সহ-সভাপতি খন্দকার এনামুল হক এনাম

১২. সহ-সভাপতি শরীফ উদ্দীন জুয়েল

১৩. সহ-সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ

১৪. সহ-সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার

১৫. সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু

১৬. সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফিরোজ আবদুল্লাহ

১৭. সহ-সভাপতি মাহমুদুস সালেহীন

১৮. সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক

১৯. সহ-সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জল

২০. সহ-সভাপতি এইচ এম তসলিম উদ্দিন

২১. সহ-সভাপতি নাজমুল আলম নাজু

২২. সহ-সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল হক

২৩. সহ-সভাপতি আবু সাঈদ আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র)

২৪. সহ-সভাপতি রহিম উদ্দিন (যুক্তরাজ্য)

২৫. সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মুন্না

২৬. সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম টিটু

২৭. সহ-সভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

২৮. সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন

২৯. সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান আকন্দ

৩০. সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে)

৩১. সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন

৩২. ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক

৩৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

৩৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সোহাগ

৩৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু আতিক আল হাসান মিন্টু

৩৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নাসির উদ্দিন রুমন

৩৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন ভূইয়া

৩৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন রুবেল

৩৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মিলন

৪০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট

৪১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার রহমান কবির

৪২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন

৪৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ

৪৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিঞা মোহাম্মদ রাসেল

৪৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম সরকার

৪৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক

৪৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা

৪৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খান দীপক

৪৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন

৫০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান

৫১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা সুমন

৫২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক উজ জামান তারেক

৫৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়াইব খন্দকার

৫৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর রহমান বাবু

৫৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ

৫৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহাব

৫৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ হিরো (সৌদি আরব)

৫৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম তমাল আহমেদ

৫৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম

৬০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া (দপ্তরের দায়িত্বে)

৬১. সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন লিমন

৬২. সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান পারভেজ

৬৩. সহ-সাধারণ সম্পাদক এন এম আব্দুল্লাহ উজ্জল

৬৪. সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ

৬৫. সহ-সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মামুন

৬৬. সহ-সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন ভূইয়া

৬৭. সহ-সাধারণ সম্পাদক রাহাদুল আলম খান

৬৮. সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল ইসলাম মনি

৬৯. সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান

৭০. সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক পাভেল

৭১. সহ-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাইনউদ্দিন খোকন

৭২. সহ-সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন চয়ন

৭৩. সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ

৭৪. সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক আরিফ

৭৫. সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান খান সাইফুল

৭৬. সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান

৭৭. সহ-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির সেলিম

৭৮. সহ-সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান ভূইয়া সবুজ

৭৯. সহ-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল

৮০. সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হক

৮১. সহ-সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন মুন্না

৮২. সহ-সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম রানা

৮৩. সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী

৮৪. সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জুয়েল

৮৫. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ গাফফার

৮৬. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ফারুকী হীরা

৮৭. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন

৮৮. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব

৮৯. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আলম

৯০. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার শাওন

৯১. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান শামীম

৯২. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি

৯৩. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান সোহেল

৯৪. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম

৯৫. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রিয়াজ

৯৬. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো। রাশেদুল ইসলাম রিপন

৯৭. প্রচার সম্পাদক আল মেহেদী তালুকদার

৯৮. সহ-প্রচার সম্পাদক তারেকুর রহমান

৯৯. সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আশরাফ জালাল খান মনন

১০০. সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল

১০১. তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন

১০২. কোষাধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন

১০৩. আইনবিষয়ক সম্পাদক  মুর্তজা কামাল মোস্তাক

১০৪. আইনবিষয়ক সম্পাদক ইউনুস আলী রবি

১০৫. আইনবিষয়ক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ

১০৬. আইনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান সোহেল

১০৭. আইনবিষয়ক সম্পাদক গাজী মো. মাসকুরুল আলম সৌরভ

১০৮. কৃষিবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ সানোয়ার আলম

১০৯. সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির লিঙ্কন

১১০. শ্রমবিষয়ক সম্পাদক পার্থ দেব মন্ডল

১১১. শিল্পবিষয়ক সম্পাদক কারীমুল হাই নাঈম

১১২. যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক সাজিদ হাসান বাবু

১১৩. ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি

১১৪. সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. মেজবাহউদ্দিন মেজু

১১৫. পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম রুমন

১১৬. গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মহিন উদ্দিন রাজু

১১৭. সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান রয়েল

১১৮. বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পী

১১৯. সহ-বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম

১২০. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান

১২১. ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান নান্নু

১২২. ত্রাণ ও পুর্নবাসনবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ

১২৩. সহ-ত্রাণ ও পুর্নবাসনবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মজুমদার

১২৪. সহ-গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার মাহবুবুর রহমান মাহী

১২৫. সহ-জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন

১২৬. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক কে এস এম মুসাব্বির শাফী

১২৭. তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইমরান আহমেদ প্রিন্স

১২৮. মৎস্য ও পশুপালনবিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান রনি

১২৯. স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক গালিব হাসান

১৩০. স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেন নাজিম

১৩১. সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান খান সুমন

১৩২. সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আল মামুন হাসান খান এমিল

১৩৩. সহ-কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান

১৩৪. আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খায়রুজ্জামান লিঙ্কন (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা)

১৩৫. আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এ আর মামুন খান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা)

১৩৬. আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা)

১৩৭. মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল আলম আকতার

১৩৮. প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান

১৩৯. পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক হেদায়েত হোসেন ভূইয়া

১৪০. সহ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক রাশেদ আল আমিন শুভ

১৪১. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) আমিনুল ইসলাম খান

১৪২. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মাহবুব শিকদার

১৪৩. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মহসীন বিশ্বাস

১৪৪. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) জহিরুল ইসলাম বিপ্লব

১৪৫. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু

১৪৬. সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি শাহেদ

১৪৭. সদস্য নাজিম উদ্দিন মিঠু

১৪৮. সদস্য মাহমুদুল করিম সজল

১৪৯. সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ শাহীন

১৫০. সদস্য মো. এমরান হোসেন শাহীন

১৫১. সদস্য ফখরুল বিন খালেক

৩০০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক, কে এই ভারতীয় অভিনেতা

ভারতের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের তালিকা বলতে গেলে প্রথমেই উঠে আসে শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান কিংবা অক্ষয় কুমারের নাম। দক্ষিণ ভারতে এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে রেখেছেন রজনীকান্ত।

কিন্তু ২০২৬ সালে এই চিত্র বদলে গেছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, যিনি এই তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন, গত দুই বছরে তার নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি!

বলিউড লাইফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতা হলেন দক্ষিণী সুপারস্টার আল্লু অর্জুন। ভক্তদের কাছে তিনি ‘পুষ্পা ভাই’ নামেই বেশি পরিচিত।

রিপোর্ট বলছে, পারিশ্রমিকের দিক থেকে বলিউড ও দক্ষিণ—দুই ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় তারকাকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

জানা গেছে, একটি সিনেমার জন্য তিনি নেন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি রুপি। এই বিশাল অঙ্কই প্রমাণ করে, বর্তমানে তার জনপ্রিয়তা ও বাজারমূল্য কতটা উঁচুতে পৌঁছেছে।

আল্লু অর্জুনের শেষ বড় কাজ ছিল পুষ্পা: দ্য রাইজ এবং পুষ্পা ২: দ্য রুল। এই দুটি সিনেমাই বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। প্রথম সিনেমা আয় করে প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি, দ্বিতীয় সিনেমা আয় করে প্রায় ১ হাজার ৭৪২ কোটি রুপি। মোট আয় প্রায় ২ হাজার ৯২ কোটি রুপি।

‘পুষ্পা’ সিরিজ এখন ভারতের সবচেয়ে সফল চলচ্চিত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটি।

আল্লু অর্জুন ২০০ থেকে ৩০০ কোটি রুপি, শাহরুখ খান ১৫০ থেকে ২৫০ কোটি, থালাপাতি বিজয় ১৫০ থেকে ২৭৫ কোটি, আমির খান ১০০ থেকে ২৭৫ কোটি, রজনীকান্ত ১২৫ থেকে ২৭০ কোটি।

বর্তমানে আল্লু অর্জুন কাজ করছেন পরিচালক অ্যাটলি কুমারের নতুন সিনেমা রাকাতে। সিনেমাটি ২০২৭ সালে মুক্তি পেতে পারে। এই সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন ও জাহ্নবী কাপুর। ইতোমধ্যেই প্রকাশিত ফার্স্ট লুক পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সব মিলিয়ে দুটি সিনেমার বিশাল সাফল্য ও বিপুল ভক্তসমর্থনের জোরেই আল্লু অর্জুন এখন ভারতের সবচেয়ে দামি তারকা।

আমিরাতে ইরানি হামলায় বাংলাদেশি নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও একজন পাকিস্তানি ও একজন নেপালি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

আজ রোববার আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হামলা চালালে আমিরাতে অন্তত ৩ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, হামলা একজন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি ও একজন নেপালি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় বলছে, আমিরাত ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে যার মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মোট ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

সঠিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি কতগুলো নিয়ম-কানুন আছে। সরকারি যেসব প্রথাগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যে কতগুলোর মেয়াদ আছে, কতগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে আমরা সরকারের তরফ থেকে একটা সঠিক সময়ে এই নির্বাচনগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করব। তবে নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

প্রশাসক নিয়োগে নির্বাচন বিলম্বিত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি হবে না বলে জানান।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন।

সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নের যোগ্যতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নারী আসনের নির্বাচন, এটা তো আপনার পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত হবে। আর প্রার্থী মনোনয়নের যোগ্যতা হবে দলের আদর্শ, নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নিবিড় সম্পৃক্ততা থাকতে হবে; দলের জন্য ত্যাগ থাকতে হবে। আমাদের দলের মধ্যে যারা দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত আছেন, যাদের ত্যাগ রয়েছে, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।’

একই পরিবারের দুই সদস্যকে নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা এখনই কিছু বলা যাবে না। এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় চালু হওয়ার খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে বলা আছে যে, তাদের (আওয়ামী লীগের) কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সেইভাবে এটাকে দেখা হবে সব জায়গায়।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার শুরুতে মির্জা ফখরুল দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই কেন্দ্রীয় অফিস। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় অফিস। এখান থেকে পরিচালিত হয়েছে গণতন্ত্রের উত্তরণের, সংগ্রামের সমস্ত আন্দোলনগুলো এবং এই অফিস থেকেই আমরা আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তার সভাপতিত্বে আমরা এই অফিসের সামনে বহু সমাবেশ করেছি, যেগুলো জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।’

‘আজকে খুব কষ্টের সঙ্গে আমাদের স্মরণ করতে হয় যে আমাদের সেই মহান নেত্রী যিনি আমাদের বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্রকে আমরা ফিরে পেয়েছি বারবার, ৯০-এর গণআন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, ৯১-এ সরকার গঠন করেছেন, পরবর্তীকালে ৯৬ সালে এবং তার পরের প্রত্যেকটি আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করেছেন এবং তাকে সেজন্যই আমরা বারবার স্মরণ করি এবং আমি বিশ্বাস করি যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশ নয় আমাদের এই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্যে যে সমস্ত নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম। আল্লাহ তালার কাছে প্রার্থনা করি যে, তাকে যেন বেহেশত নসিব করা হয়।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এখন নতুন এক বাংলাদেশের জন্য কাজ করছি, স্বপ্ন দেখছি আমাদের নেতা, আমাদের তরুণ নেতা, আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের নেতৃত্বে। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি যে দেশের মানুষের মধ্যে যে একটা অবস্থান করে নিয়েছেন। তিনি যে কাজ করে শুরু করেছেন এবং করবেন, তার বিভিন্ন কর্মপদ্ধতিতে সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে।’

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তার নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং যে সরকার গঠন করা হয়েছে তার নেতৃত্বে সেই সরকার সফল হবে বাংলাদেশকে তার ঈপ্সিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে এবং সত্যিকার অর্থেই একটা সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল। আমরা আশা করব, আমাদের বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দলকে সহায়তা করবে পূর্বের মতো সবসময়।’

ঢাকার জলাবদ্ধতা: প্রযুক্তি যেভাবে বদলে দিতে পারে পরিস্থিতি

প্রতি বছর বর্ষা এলে ঢাকা শহরটা বিশাল নদীতে পরিণত হয়। রাস্তায় হাঁটু পানি, আর আমাদের একই প্রশ্ন—এই শহরটা কি কোনোদিন ঠিক হবে না? উত্তরটা মন খারাপ করালেও বলা উচিত—এই সিস্টেম ঠিক করার প্রযুক্তি আমাদের হাতের কাছেই আছে। শুধু ব্যবহার করার ইচ্ছেটা নেই। আমরা বাংলাদেশিরা সব বুঝি, শুধু প্রযুক্তি বুঝি না। কারণ, আমরা ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও অংকে দুর্বল। হয়তো আমাদের দুর্বল করে রাখা হয়েছে।

ঢাকার আসল সমস্যা হলো, এই শহরের কোনো ঠিকঠাক মাস্টার প্ল্যান কখনো ছিল না। যেখানে জায়গা পেয়েছে, সেখানেই বাড়ি উঠেছে। যে খাল দিয়ে পানি নামার কথা, সেই খাল ভরাট করে ভবন উঠে গেছে। এখন প্রকৌশলীরা অনুমান করে পাইপ বসান, কারণ মাটির নিচে আসলে কী আছে, কেউ জানে না। এই জায়গাতেই এআই কাজে লাগতে পারে—অনুমান নয়, ডেটা দিয়ে সমাধান।

ধরুন, একটা ‘ডিজিটাল টুইন’—পুরো ঢাকা শহরের একটা ভার্চুয়াল কপি, স্যাটেলাইট ছবি, ড্রোন স্ক্যান আর এলিভেশন ম্যাপ দিয়ে বানানো। এই ডিজিটাল মডেলের ভেতর ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি ফেলে দিলে এআই বলে দিতে পারবে, কোথায় পানি জমবে, কতটা জোরে গড়াবে, আর কোথায় কত ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ লাগবে যাতে জলাবদ্ধতা না হয়। এটা অনেকটা গাড়ি চালানোর আগে জিপিএস দেখে নেওয়ার মতো। আগে থেকে জানলে বিপদ এড়ানো সহজ হয়।

দ্বিতীয় সমস্যাটা আরও পুরোনো ও কষ্টের। ঢাকায় গত কয়েক দশকে ৫০টারও বেশি খাল হারিয়ে গেছে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের হাতে ভরাট হয়ে। কাগজের পুরোনো ম্যাপ ঘেঁটে এই খালগুলো খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব যেন। কিন্তু কম্পিউটার ভিশন অ্যালগরিদম গত ৩০ বছরের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে কয়েক ঘণ্টায় দেখিয়ে দিতে পারে আসল খালগুলো কোথায় ছিল। এতে সরকারের হাতে একটা স্পষ্ট, তর্কাতীত প্রমাণ থাকবে যে কোন স্থাপনা ভেঙে পানির পথ ফিরিয়ে দিতে হবে।

তৃতীয়টা হলো ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা। ঢাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক আর বস্তি এলাকা এমনভাবে মিশে আছে যে, মাটির পানি শোষণের কোনো জায়গাই বাকি নেই। জেনারেটিভ এআই সফটওয়্যারে শহরের ঘনত্ব আর জমির তথ্য দিলে সেটা বলে দিতে পারে, কোথায় ছাদ-বাগান, কোথায় সবুজ জায়গা, আর কোথায় পানি চুইয়ে যাওয়ার মতো রাস্তা বানাতে হবে।

চতুর্থ ব্যাপারটা হলো, যা আছে তা দিয়েই স্মার্ট হওয়া। রাতারাতি ঢাকার সব পাইপ পাল্টানো সম্ভব না। কিন্তু স্লুইস গেট আর পাম্পে আইওটি সেন্সর বসিয়ে দিলে একটা সেন্ট্রাল ড্যাশবোর্ড থেকে পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ধানমন্ডিতে পানি জমছে দেখলে, বুড়িগঙ্গার দিকে ড্রেন খালি আছে বুঝে এআই নিজেই নির্দিষ্ট পাম্প চালু করে দিতে পারে। রাস্তায় পানি ওঠার আগেই সমাধান।

এই কাজ যে কল্পনা না, তার প্রমাণ আছে বাইরের দুনিয়ায়। আরেকটা ডুবতে থাকা মেগাসিটি জাকার্তা তাদের জাকি প্ল্যাটফর্মে এআই আর আইওটি বসিয়ে নদীর পানির লেভেল রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করে, আর ভারী বৃষ্টির ৬ ঘণ্টা আগেই পাম্প আর গেট চালু করে দেয়। উহান শহর জিওএআই দিয়ে তাদের কংক্রিটের শহরকে স্পঞ্জ সিটিতে বদলে ফেলেছে। শতকরা ৭০ ভাগ বৃষ্টির পানি এখন মাটি নিজেই শুষে নেয়।

তাহলে ঢাকা কেন পারছে না? উত্তরটা প্রযুক্তির অভাব নয়। উত্তরটা হলো, আমাদের ডেটা এলোমেলো, ছড়ানো-ছিটানো। ওয়াসা এক জায়গায় তথ্য রাখে, সিটি করপোরেশন আরেক জায়গায়, রাজউকের হাতে জমির ম্যাপ এবং কেউ কারো সঙ্গে কথা বলে না। যতদিন এই প্রতিষ্ঠানগুলো একটা কমন সিস্টেমে ডেটা শেয়ার না করবে, ততদিন এআই যতই শক্তিশালীই হোক, তার হাত-পা বাঁধা থাকবে। সরকারের হয়ে একবার কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি এটা নিয়ে ড্রাইভ দিয়েছিলাম। কিন্তু ততদিনে বুঝে গেছি এটার জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। উপর থেকে ‘ওহি’ নাযিল না হলে কাজ হয় না।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটা, মোবাইল অপারেটরের সিডিআর, আর ট্যাক্স অথরিটির তথ্য যেভাবে এক জায়গায় এলে নাগরিক সেবা বদলে যেতে পারে, ঠিক সেভাবেই ওয়াসা-রাজউক-সিটি করপোরেশনের ডেটা এক প্ল্যাটফর্মে এলে ঢাকার জলাবদ্ধতাও বদলে যেতে পারে। প্রযুক্তি আমাদের হাতে আছে। শুধু একসঙ্গে বসে কাজ করার সাহসটা লাগবে।

রকিবুল হাসান: টেলিকম, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র’ বইয়ের লেখক

বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এমন রেকর্ড আছে শুধু এমবাপেরই

সেই ১৯৩০ সাল থেকে শুরু। এই ৯৬ বছরে কম রথী-মহারথীর পা পড়েনি ফুটবল বিশ্বকাপে। ক্যারিয়ার শেষে কিলিয়ান এমবাপে নিজেকে ফুটবল কিংবদন্তিদের তালিকায় কোথায় নিয়ে যাবেন তা সময়ই বলবে, তবে আজকের ম্যাচে এমন এক বিরল রেকর্ড তিনি করেছেন, যা পুরো বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমবাপের আগে করে দেখাতে পারেননি আর কেউ। 

অনেক খ্যাতনামা ফুটবলারের যেখানে পুরো ক্যারিয়ার মিলিয়েও বিশ্বকাপে ১০টি গোল নেই, সেখানে এমবাপে কেবল নক-আউট পর্বের ম্যাচগুলোতেই ১০ গোল করেছেন! বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই রেকর্ড কেবল এমবাপেই করে দেখাতে পেরেছেন। 

মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপে অংশ নেয়া এমবাপে এই রেকর্ড ছিনিয়ে নিয়েছেন দুই ব্রাজিলিয়ান লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিওর কাছ থেকে। নকআউটে ৮ গোল নিয়ে এতদিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন তারা। প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে এটিকে দুই অঙ্কের ঘরে তুলে দিলেন ফরাসি তারকা। 

নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ২০১৮ তে নকআউট পর্বে তিন গোল করেছিলেন এমবাপে। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারানো ম্যাচ দুই গোল, আর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে পেলের পর দ্বিতীয় টিনেজার হিসেবে করেছিলেন এক গোল। 

স্বপ্নের মতো কাটানো ২০২২ বিশ্বকাপের নকআউটে তিনি ছিলেন আরও দুর্দমনীয়। নকআউটে সেবার তিনি করেছিলেন ৫ গোল। এর মধ্যে শেষ ষোলোতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি, আর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে তো হ্যাটট্রিকই করলেন। 

আগের দুই আসরের ৮ গোলের সাথে আজ সুইডেনের সাথে করা দুই গোল মিলিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১০ গোলের মালিক হলেন এমবাপে। এই রেকর্ডের মাহাত্ম্য বোঝাতে স্রেফ একটি তথ্যই যথেষ্ট। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন লিওনেল মেসি, তাঁর নকআউট গোলের সংখ্যা ৫। এই পাঁচটি গোলই এসেছিল কাতার বিশ্বকাপে, অর্থাৎ প্রথম চার বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই নকআউট পর্বে খেললেও কোনো গোল করতে পারেননি মেসি। কাতার বিশ্বকাপে তবু সেই আক্ষেপ ঘুচেছে মেসির, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ৬টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নক আউট পর্বে এখনও একটিও গোল করতে পারেননি!  

গত বিশ্বকাপের মতো এবারও মেসি-এমবাপের দ্বৈরথ চলছে দেখার মতো। বিশ্বকাপের একই আসরে দুই দলের দুই ফুটবলার একই সাথে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও গোল্ডেন বুট জেতার জন্য লড়ছেন, এমন দৃশ্য এর আগে কখনো দেখা যায়নি। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের সৌজন্যে দর্শকেরা সাক্ষী হচ্ছেন এমনি এক বিরল প্রতিযোগিতার। সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির পাশে বসেছেন এমবাপে। আর সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে ফ্রেঞ্চ তারকা পিছিয়ে স্রেফ এক গোলে।

নরওয়ের বিপক্ষে গোল না পাওয়া এমবাপে বাকি তিন ম্যাচেই করেছেন দুটি করে গোল। ছয় গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও আছে তাঁর দখলে। 

আর সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়েও মেসির সাথে ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন এমবাপে। ২৯ ম্যাচে ১৯ গোল নিয়ে শীর্ষে মেসি, সেখানে মাত্র ১৮ ম্যাচে ১৮ গোল নিয়ে দুইয়ে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এবারের বিশ্বকাপে যে দুরন্ত গতিতে এগোচ্ছেন এমবাপে, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই এমবাপের কাছে মেসিকে রেকর্ডটি খোয়াতে হয় কি না, সেটি নিয়েই এখন আলোচনা! 

কর-জিডিপি অনুপাতে যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান-ইয়েমেনের সামান্য ওপরে বাংলাদেশ

অর্থনীতির আকারের তুলনায় বাংলাদেশের সরকারি রাজস্ব আদায়ের হার বিশ্বের অন্যতম কম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য বলছে, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন ও সুদানের সামান্য ওপরে।

সরকার প্রতি বছর যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে, সেটিকে দেশের মোট অর্থনীতির আকার বা জিডিপির সঙ্গে তুলনা করে যে হার বের করা হয়, সেটিই কর-জিডিপি অনুপাত।

২০২৪ সালে বাংলাদেশের এই অনুপাত ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলো ও বাংলাদেশের সমমানের অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যেও এটি অন্যতম সর্বনিম্ন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই কম রাজস্ব আদায়ের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো ও অন্যান্য নাগরিক সেবায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারের সক্ষমতা সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

কেন এত কম রাজস্ব আদায় হয়?

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত কম থাকার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—করদাতার সংখ্যা কম হওয়া, বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাত করের বাইরে থাকা, অতিরিক্ত কর ছাড় ও কর অবকাশ দেওয়া, কর আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, কর ফাঁকি এবং প্রত্যক্ষ করের বদলে পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি) বলছে, দুর্নীতির কারণে সরকারি ব্যয়ের ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। ফলে মানুষ কর দিতে আগ্রহ হারায়।

এছাড়া মানুষ সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা পাচ্ছে, সেটিও কর দেওয়ার মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলে।

উন্নয়নে কী প্রভাব পড়ছে?

গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, কম রাজস্ব আদায়ের কারণে বহু বছর ধরেই সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উন্নয়নের ওপর। 

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের ব্যয় বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কম। এর ফলে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা যায়নি।

অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে তিনি বলেন, কম কর আদায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। কারণ মানুষ কম কর দেওয়ায় তাদের হাতে খরচ করার মতো অর্থ বেশি থেকেছে, যা বেসরকারি খাতের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে।

অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা

প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই কর-জিডিপি অনুপাত ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। পাকিস্তানে এটি ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ১৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে ভুটানে সরকারি রাজস্বের পরিমাণ জিডিপির ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হতে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে লাওস ও নেপালের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বাকি দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানই সবার নিচে।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, সলোমন দ্বীপপুঞ্জের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ১৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং সেনেগালে ২০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

আন্তর্জাতিকভাবে কর-জিডিপি অনুপাতের ন্যূনতম আদর্শ মান ধরা হয় ১৫ শতাংশ। এই হারের নিচে নামলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এই সীমার নিচে থাকলে সরকারের কার্যকারিতা, আর্থিক খাতের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যায়।

তা সত্ত্বেও ৭০টিরও বেশি উন্নয়নশীল দেশ এখনো জিডিপির ১৫ শতাংশের কম কর আদায় করে। এটি তাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং সরকারকে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ফেলছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান ও ইয়েমেনের কর-জিডিপি অনুপাত যথাক্রমে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাওয়া ইথিওপিয়ায় এই হার ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

এই দেশগুলো জিডিপির ১০ শতাংশের কম রাজস্ব আদায় করলেও অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, কুয়েত ও নরওয়ের মতো বেশ কিছু দেশ ৫০ শতাংশের বেশি রাজস্ব আদায় করে।

উচ্চ কর হার ও কম রিটার্ন

ড. রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের করপোরেট করের হার বিশ্বের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু তারপরও সামগ্রিক রাজস্ব আদায় কম। 

তিনি বলেন, শুধু রাজস্ব আদায় কম নয়, আদায়কৃত অর্থের একটি অংশও অদক্ষ ও অপচয়মূলক খাতে ব্যয় হয়। এতে সরকারি সেবার মান কমে যায়।

আইজিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম দুর্নীতি মানুষের মধ্যে কর ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি করে এবং কর ফাঁকি বাড়ায়।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ অপচয় হতে দেখতে চায় না। এ কারণেও অনেকে কর ফাঁকির পথ খোঁজেন।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেম বলেন, বাংলাদেশের কিছু করের হার সমমানের দেশগুলোর চেয়েও বেশি।

তবে তার মতে, আসল সমস্যা হলো জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ কর ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, দেশে ভ্যাট ও আয়করে বড় ধরনের অযৌক্তিক কর ছাড় রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, কর ছাড়ের পরিমাণ প্রায় আদায়কৃত করের সমান। এর ফলে সরকার রাজস্ব হারায়, দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয় এবং খুব কম মানুষ ও প্রতিষ্ঠান কর দেয়।

জঁ পেম আরও বলেন, আমদানি-রপ্তানি শুল্কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাণিজ্যকে নিরুৎসাহিত করছে। উচ্চ শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এখন জরুরিভিত্তিতে সাহসী ও ব্যাপক কর সংস্কার প্রয়োজন। এর জন্য নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

পেম আরও জানান, বর্তমানের সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো কর ছাড় ও প্রণোদনা যৌক্তিক করা এবং ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কার করা। এছাড়া কর প্রশাসনকে আধুনিক করতে ডিজিটাল অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

সমাধানে পরামর্শ

অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাকের মতে, মূল সমস্যা করের হার নয়, বরং করের আওতা সীমিত থাকা। 

তিনি বলেন, গ্রামীণ বাজার, উপশহরের শিল্প এলাকা এবং অনেক অর্থনৈতিক কার্যক্রম এখনো কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে। এগুলোকে করের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, করের আওতা না বাড়ায় অর্থনীতির বড় একটি অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে রয়ে গেছে।

আয়কর ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, জমি কেনাবেচার সময় প্রায়ই প্রকৃত মূল্য কম দেখানো হয়। এতে সরকার রাজস্ব হারায়।

র‍্যাপিডের এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ১ শতাংশ মানুষের হাতে ৫০ শতাংশের বেশি সম্পদ কেন্দ্রীভূত। এতে বৈষম্য বেড়েছে।

তার মতে, শুধু সম্পদ কর নয়, এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সম্পদ হস্তান্তরের ওপর কর আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।

তিনি পরামর্শ দেন, কর ফাঁকি কমাতে কর আদায় ব্যবস্থা অবশ্যই ডিজিটাল করতে হবে। একই সাথে পরোক্ষ করের চেয়ে সরাসরি আয়ের ওপর কর (প্রত্যক্ষ কর) আদায়ের প্রতি বেশি জোর দিতে হবে।

তোফায়েল আহমেদ: চড়াই-উতরাইয়ের রাজনৈতিক জীবন

ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল অগ্রভাগ থেকে শুরু করে নিজের সব সম্পদ দান করে দেওয়া তোফায়েল আহমেদের জীবন কেবল পদ-পদবি আর বক্তৃতার ইতিহাস নয়। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি কখনোই বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বাস হারাননি।

তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন ও জাতিসত্তার আন্দোলন গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন। ছয় দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিরলসভাবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন।

৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার মারা গেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী।

১৯৭০ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের (মুজিব বাহিনী) প্রধান নেতাদের একজন ছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন; প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পালন করেন; পরবর্তী সময়ে তিনবার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন এবং একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব করেন।

তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোরালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলেজজীবন থেকেই তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬২ সালে ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ১৯৬৪ সালে ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি ছিলেন।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি হিসেবে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ছিলেন এবং পাকিস্তানি শাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারামুক্ত হওয়ার পর এক জনসভায় তিনি আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

১৯৬৯ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরের বছর আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

তোফায়েল আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং মুজিব বাহিনীর চার আঞ্চলিক কমান্ডারের একজন। তিনি ১৯৭১ সালের গণপরিষদ ও ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সেপ্টেম্বরে তোফায়েল আহমেদ গ্রেপ্তার হন এবং ৩৩ মাস কারাবন্দি থাকেন। রাজনৈতিক কারণে তিনি আরও অন্তত সাতবার কারাবরণ করেন।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এইচ এম এরশাদের শাসনামলে চারবার এবং ১৯৯৫ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে হওয়া আন্দোলনেও কারাবন্দি হন। ২০০২ সালেও তাকে কারাগারে যেতে হয়।

১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় আওয়ামী লীগে সংস্কার আনার প্রস্তাব দেওয়া অল্প কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার মধ্যে তিনি ছিলেন। ওই প্রস্তাবের মধ্যে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর বিষয়টিও ছিল বলে জানা যায়।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরে। কিন্তু, তোফায়েল আহমেদকে মন্ত্রিসভা, এমনকি দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে প্রেসিডিয়াম সদস্যও করা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তোফায়েল আহমেদের অবস্থানের কারণেই তাকে দলে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল।

২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

২০১৩-১৪ সালে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

২০২১ সালে তোফায়েল আহমেদ ঘোষণা দেন, তিনি তার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশনে দান করবেন। প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম ও বৃত্তির ব্যবস্থা করে।

কয়েক বছর আগে স্ট্রোক করার পর তার শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায় এবং এরপর থেকে তাকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হতো।

মৃত্যুকালে তোফায়েল আহমেদ এক কন্যা, জামাতা এবং অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তার সহধর্মিণী আনোয়ারা আহমেদ ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর মারা যান।

সোমবার মাগরিবের নামাজের পর ঢাকার ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তোফায়েল আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ রাখা হয় স্কয়ার হাসপাতাল মর্গে।

মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ ভোলায় নিয়ে যাওয়া হবে। জোহরের নামাজের পর সেখানে আরেকটি জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে।

পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখা যায় এমন নাটক বানাতে চেয়েছি: মোস্তফা কামাল রাজ

হালের সুপরিচিত নাট্যপরিচালক ও চলচ্চিত্র পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। তার পরিচালিত ‘এটা আমাদেরই গল্প’—এ সময়ের অন্যতম দর্শকপ্রিয় ও আলোচিত একটি ধারাবাহিক নাটক। নাটকটি প্রচার হচ্ছে চ্যানেল আইতে এবং ইউটিউবে।

মোস্তফা কামাল রাজের এই নাটকের মধ্যে দিয়ে অনেকদিন পর পারিবারিক গল্পের নাটক প্রচার হচ্ছে, যা দর্শকদের ছুঁয়ে গেছে। যারা অভিনয় করেছেন, তারাও খুব প্রশংসা পাচ্ছেন। বিশেষ করে ফুপুর চরিত্রে অভিনয় করে দীপা খন্দকার তুমুল সাড়া পাচ্ছেন। মনিরা মিঠু মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন।

এটা আমাদেরই গল্প নাটকে অভিনয় করে আরও বেশ কয়েকজন শিল্পী প্রশংসিত হচ্ছেন।

মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত প্রথম সিনেমা প্রজাপতি। এই সিনেমায় জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম ও মৌসুমী অভিনয় করেন।

সাম্প্রতিক কাজগুলো নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।

দ্য ডেইলি স্টার: আপনার পরিচালিত এটা আমাদেরই গল্প ধারাবাহিকটি এতটা জনপ্রিয়তা পাবে, তা কি ভাবনায় ছিল?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: সত্যি কথা বলতে, আমি যখন কাজটি শুরু করি, তখন ভালো কিছু করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু, এতটা ভালোবাসা পাব, এতটা গ্রহণ করবেন দর্শকরা, তা কল্পনাও করিনি। দর্শকরা যেভাবে নিজেদের গল্পের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন, সেটিই নাটকটিকে এত দূর নিয়ে এসেছে। এজন্য, দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

দ্য ডেইলি স্টার: এটা আমাদেরই গল্প নাটকটিকে দর্শকরা আপন করে নিয়েছেন। এই নাটকটি সবাই এত পছন্দ করার কারণ কী?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: আমার মনে হয়, গল্পের সরলতা এবং বাস্তবতাই বড় কারণ। এই নাটকে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। বরং, আমাদের চারপাশের পরিচিত মানুষ, সম্পর্ক আর আবেগগুলো নাটকে উঠে এসেছে। যা কিনা দর্শকদের মনে খুব সহজেই জায়গা করে নিয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার: এদেশে একসময় পারিবারিক গল্পের নাটকের জয় জয়কার ছিল, কিন্তু এখন কমে গেছে। তারপরও আপনি কেন পারিবারিক গল্পের নাটক নিয়ে কাজ করেছেন?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: পারিবারিক গল্প আমাদের জীবনের খুব কাছের। এখনকার সময়ে এই ধরনের গল্প কিছুটা কম দেখা যায়। অথচ, দর্শকরা এখনো এমন গল্পের জন্য অপেক্ষা করেন। আমি চেয়েছি এমন কিছু করতে, যা পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে উপভোগ করা যায়। সেই চিন্তা করেই পারিবারিক গল্প বেছে নিয়েছি।

দ্য ডেইলি স্টার: অনেকদিন পর আপনার পরিচালিত এটা আমাদেরই গল্প নাটক নিয়ে সবখানে আলোচনা হচ্ছে, পরিচালক হিসেবে কেমন অনুভূতি কাজ করছে?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: এটা সত্যিই খুব ভালো লাগার একটা অনুভূতি। যখন দর্শকরা কাজটিকে নিজের মতো করে গ্রহণ করেন, তখন মনে হয় পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। সেই সঙ্গে আরো ভালো কাজ করার দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়।

দ্য ডেইলি স্টার: এই নাটকের সিজন টু হবে কী?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: সিজন টু হবে না, তবে নতুন কিছু আসবে। তবে, গল্পটা যেন আগের মতোই সুন্দর ও অর্থবহ থাকে। তা নিশ্চিত করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

দ্য ডেইলি স্টার: যেসব অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে কাজ করছেন, তাদের সম্পর্কে বলুন?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকের প্রতিটি শিল্পী নিজের জায়গা থেকে অসাধারণ কাজ করেছেন। তাদের আন্তরিকতা আর পরিশ্রমই চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে। টিমওয়ার্ক এতটা ভালো ছিল বলেই আমরা এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।

দ্য ডেইলি স্টার: পরিচালক হিসেবে আপনার বড় প্রাপ্তি কী?

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ: সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে দর্শকদের ভালোবাসা। সেই সঙ্গে ইউটিউবে দর্শকদের কমেন্টস। যখন মানুষ কমেন্টস করে, তারা গল্পটাকে অনুভব করে, নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিল পেয়েছেন—এর চেয়ে বড় অর্জন আর কিছু হতে পারে না। দর্শকদের জন্য ভালোবাসা।

সত্যি কথা বলতে, আগামী মাসে নাটকটির প্রচার শেষ হয়ে যাবে। দীর্ঘ দিন আমরা যারা নাটকের সঙ্গে ছিলাম, একসঙ্গে কাজ করেছি, এটা একটা পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছিল, তাই শেষটা একটু আবেগের।