33.8 C
Dhaka
Home Blog

২ দিনে সাভার ট্যানারিতে চামড়া এসেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার

ঈদের প্রথম দুই দিনে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে পৌঁছেছে।

আজ শনিবার বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. শওকত উল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত ঈদের দিন ও পরদিন শিল্পনগরীতে চামড়া এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার গরু ও ১৬ হাজার ছাগলের চামড়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংগৃহীত চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দুই থেকে তিন দিন পর প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে।’

এবারের কোরবানির ঈদকে ঘিরে শিল্পখাতের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শওকত উল্লাহ।

ট্যানারি মালিকরা এ বছর ৭৫ লাখ থেকে ৮০ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ চামড়া সরাসরি রাজধানী থেকে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে ঢাকায় কাঁচা চামড়ার দাম সামান্য বেড়েছে। অবশ্য তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এখনো নিচে রয়েছে।

রাজধানীতে বড় ও মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম ঈদের দিনের তুলনায় অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে। তবে ছাগলের ও ছোট আকারের গরুর চামড়ার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বড় ও ভালো মানের চামড়া বেশি আসার কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, লালবাগ এবং পোস্তা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় আকারের গরুর চামড়ার দাম উঠছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

ঈদের দিন মাঝারি আকারের চামড়া ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকায় আকারভেদে গরুর চামড়া ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে।

পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। মান ও আকারভেদে চামড়া ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে, রাজধানীর বাইরে কম দামের কারণে ব্যবসায়ীরা অবিক্রীত চামড়া ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির গতকাল লালবাগের পোস্তায় চামড়া বিক্রি পরিদর্শন শেষে বলেন, ‘সরকার কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ জুলাই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।’

মুক্তাদির আরও বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করা হলেও এখনও অনেক ট্যানারি পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।’

তিনি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন। এসব সমস্যার সমাধান এবং অধিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্পে আরও শিল্পায়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় তিন মাসব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের ৭ম ব্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধিরা এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, “ডিজিটাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই প্রকল্পের আওতায় ৭ম ব্যাচে ৪৮০০ হাজার তরুণ-তরুণী কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইনের মতো চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এ উদ্যোগ তাদের আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সহায়তা করবে। সরকারের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেকারত্ব হ্রাস এবং পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, “দেশের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষণার্থীরা যদি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, তবে তারা নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে সফলভাবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন। এই উদ্যোগ তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও সুগম করবে।”

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, “বাংলাদেশের অসংখ্য ফ্রিল্যান্সার আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছেন। তবে তাদের অনেকেই নিজেদের সাফল্যের গল্প প্রকাশ করেন না। আমি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা নিজেদের অর্জন ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করুন। আপনাদের সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আরও বেশি তরুণ-তরুণী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত হবে।”

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার শিক্ষিত যুব-যুবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।

২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী ৭ম ব্যাচের প্রশিক্ষণে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস তরুণ-তরুণীরা এ সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ছয়টি ব্যাচে ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ১১ হাজার ৩৫৩ জন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন।

এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মোট আয় ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯০ মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৭ টাকা। সব মিলিয়ে তাদের মোট উপার্জনের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ২১৫ টাকা। প্রশিক্ষণার্থীদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এবারের ব্যাচে ভর্তির জন্য লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে প্রায় ৭০ হাজার আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংরেজি, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিং।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত কার্যক্রম তদারকি করছেন।

মির্জা আব্বাস অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন: আফরোজা আব্বাস

মালয়েশিয়ায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।

আজ বুধবার রাতে এ কথা জানান তিনি।

আফরোজা আব্বাস বলেন, আল্লাহর রহমতে এখন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো। তিনি অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।

তিনি বলেন, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। প্রতিদিন তাকে থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।

মির্জা আব্বাসের জন্য দেশবাসী ও প্রবাসীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন আফরোজা।

অসুস্থ হওয়ার পর এ প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মির্জা আব্বাসের একটি ছবিও পোস্ট করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, হুইল চেয়ারে বসে আছেন সাবেক এই মন্ত্রী। তার পাশে রয়েছেন আফরোজা আব্বাস ও ছোট ভাই মির্জা খোকনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

আফরোজা আব্বাস বলেন, এই ছবিটি আজ তোলা হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত ১৪ এপ্রিল মির্জা আব্বাসকে ফিজিওথেরাপির দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় মির্জা আব্বাস হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

গত ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর তার অবস্থার উন্নতি হয়।

পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে মির্জা আব্বাসকে ফিজিওথেরাপি দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সুমন, তুষি ও ইমরানের ‘রইদ’ ঈদুল আজহায়

‘হাওয়া’-খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত নতুন সিনেমা ‘রইদ’ আগামী ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে।

খবরটি নিশ্চিত করে নির্মাতা বলেন, ‘আসছে কোরবানি ঈদকে ঘিরেই পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সময় চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিতে চাই। সেভাবেই কাজ করছি।’

এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অনেকে।

গত বছরের শেষে ‘রইদ’ সিনেমার পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছিল। সেসময় দর্শকরা বেশ পছন্দ করেন। এরপর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের ৫৫তম আসরে অংশ নেয় সিনেমাটি। সেখান থেকে পুরস্কার নিয়ে ফিরতে না পারলেও দর্শকদের একরাশ মুগ্ধতা দিয়েছে।

‘রইদ’ সিনেমার প্লট গড়ে উঠেছে সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে নিয়ে। মূল পাত্র-পাত্রী নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এ ছবিটির সেট তৈরিতে ফাঁকা জায়গায় প্রায় ৫০ হাজার গাছ লাগিয়েছিলেন পরিচালক।

দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সেই গাছগুলোর নিবিড় যত্ন নেওয়া হয়েছিল, পুরো এলাকাটি যেন সিনেমার সঙ্গে মিশে যায়। লোকেশনকে কেবল ব্যবহার নয়, বরং লোকেশনকে গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতেই এই কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন নির্মাতা।

সুমন জানান, ‘রইদ’ একটি প্রতীকী ও বহুমাত্রিক আখ্যান। এখানে সাধু, তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী এবং তাদের বাড়ির পাশের তালগাছকে কেন্দ্র করে গল্পটি আবর্তিত হয়েছে।

নির্মাতা আরও জানান, এই চলচ্চিত্রে তিনি হাজার বছরের পুরোনো আখ্যানকে সমসাময়িক অনুভূতির ভেতর দিয়ে পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করেছেন। এতে গ্রামীণ বাংলার নান্দনিকতা ও চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের শিল্পভাবনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’ মুক্তি পায় ২০২২ সালে। মুক্তির পর দেশে ও বিদেশে সাড়া ফেলেছিল সিনেমাটি। 

ইসরায়েল লক্ষ্য করে আরেক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

ইসরায়েল লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

প্রায় একই সময়ে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরান দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন ঢেউ প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা কাতারের রাজধানী দোহা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে নতুন দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

ইরান বলেছে, তারা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আজ সকাল থেকে ইসরায়েলের দিকে প্রায় ৩৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রতিহত করা হয়েছে, আর অন্যগুলো খোলা এলাকায় আঘাত হেনেছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক প্রদান ও বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন ও একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই দিন সকালে একুশে পদক প্রদান করবেন এবং বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণিজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে সরকার। এ সিদ্ধান্তকে প্রকাশকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

অনুষ্ঠান দুটি ঘিরে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশি শিক্ষিত তরুণদের ‘স্কিল গ্যাপ’ ও কর্মসংস্থানের বাস্তবতা

বাংলাদেশে কি সত্যিই চাকরির অভাব? নাকি আমরা কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ব্যর্থ হচ্ছি? সাম্প্রতিক বাস্তবতায় এই প্রশ্নটি আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে।

একদিকে প্রতি বছর লাখো তরুণ উচ্চশিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে আসছে, অন্যদিকে নিয়োগদাতারা বলছেন, ‘যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না’। এই দ্বৈত বাস্তবতাই স্পষ্ট করে দেয়, আমাদের সামনে মূল সংকটটি হলো ‘স্কিল গ্যাপ’।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমবাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে উপযুক্ত চাকরি খুঁজে পায় না।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে, বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের উল্লেখযোগ্য অংশ শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজে নিয়োজিত নয়।

বেসরকারিখাতের বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে, নিয়োগদাতাদের বড় একটি অংশ দক্ষতার ঘাটতিকে নিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন।

এই বৈপরীত্যের মূল কারণ খুঁজতে গেলে প্রথমেই সামনে আসে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। এখনও অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষাদান পদ্ধতি তাত্ত্বিক জ্ঞানকেন্দ্রিক। পাঠ্যক্রমে বাস্তবমুখী দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট। ফলে শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি অর্জন করলেও সেই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে না।

বর্তমান শ্রমবাজারে যে দক্ষতাগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ইংরেজিতে কার্যকর যোগাযোগ, প্রেজেন্টেশন দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, সময় ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল টুল ব্যবহারের দক্ষতা।

বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনে বারবার বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তরুণদের একটি বড় অংশ এই ‘সফট স্কিল’ ও ‘এমপ্লয়েবিলিটি স্কিলে’ পিছিয়ে রয়েছে। ফলে তারা চাকরির সুযোগ পেলেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে। ভালো ফলাফল নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি একাধিক চাকরির ইন্টারভিউ দেন, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হন। পরে উপলব্ধি করেন, তার মূল দুর্বলতা ছিল যোগাযোগ দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাব। কয়েকটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর তার অবস্থার পরিবর্তন হয়। এটা কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা নয়, বরং হাজারো তরুণের বাস্তব চিত্র।

বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের বিস্তার শ্রমবাজারকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী দশকে বহু প্রচলিত চাকরি হারিয়ে যেতে পারে, আবার নতুন ধরনের দক্ষতার চাহিদা তৈরি হবে।

কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেনি। ফলে শিক্ষার্থীরা একটি পুরনো কাঠামোর মধ্যে শিক্ষা গ্রহণ করে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যারিয়ার পরিকল্পনার অভাব। আমাদের দেশে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা দক্ষতা-ভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়াই উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করে। পরিবার ও সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণা, ‘জনপ্রিয়’ বিষয়ে পড়ার প্রবণতা ও তথ্যের অভাবে তারা অনেক সময়ই এমন সিদ্ধান্ত নেয়, যা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। প্রথমত, শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব প্রয়োগের সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জাতীয় পর্যায়ে স্কিল ডেভেলপমেন্টকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকার, বেসরকারিখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী দক্ষতা উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, ইংরেজি যোগাযোগ ও উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

তৃতীয়ত, তরুণদের মানসিকতার পরিবর্তন অপরিহার্য। শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জন করাই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, বরং নিজেকে কর্মযোগ্য করে তোলাই হওয়া উচিত প্রধান উদ্দেশ্য। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেকে ক্রমাগত আপডেট রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

সবশেষে, একটি বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, ডিগ্রি এখন আর সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড নয়। বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন দক্ষতা, অভিযোজন ক্ষমতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা। সময় থাকতে যদি আমরা এই ‘স্কিল গ্যাপ’ কমানোর কার্যকর উদ্যোগ না নিই, তাহলে একইসঙ্গে দুই ধরনের সংকটে পড়ব। একদিকে বাড়তে থাকবে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, অন্যদিকে দক্ষ জনশক্তির অভাবে বাধাগ্রস্ত হবে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি।

বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগাতে হলে এখনই প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, সময়োপযোগী শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রতি বাস্তব অঙ্গীকার।

মো. তরিকুল ইসলাম: লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

মরক্কো দেখিয়ে দিল সেলেসাওদের দুর্বলতা

বিশ্বকাপের প্রথম বড় লড়াইয়ে জয় পায়নি কেউ। তবে ম্যাচ শেষে সন্তুষ্ট থাকার কারণ হয়তো মরক্কোরই বেশি। আফ্রিকার প্রতিনিধিরা দুর্দান্ত ফুটবল খেলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে চাপে রেখেছে ম্যাচের বড় একটা সময়। শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অসাধারণ এক গোল ব্রাজিলকে হার থেকে বাঁচালেও মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে, তারা আর কেবল ‘চমক’ নয়, বিশ্ব ফুটবলের বড় শক্তিগুলোর জন্য বাস্তব হুমকি।

নিউ জার্সির দর্শকভর্তি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘সি’র ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। মরক্কোর হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ইসমাইল সাইবারি, আর ব্রাজিলের সমতাসূচক গোলটি আসে ভিনিসিয়ুসের পা থেকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং সংগঠিত দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে মরক্কো। আক্রমণে আশরাফ হাকিমি ও বিলাল এল খান্নুসের গতি এবং সৃজনশীলতা ব্রাজিলকে বারবার সমস্যায় ফেলে। অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুতে অনেকটাই পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করে খেলতে থাকে।

মধ্যমাঠে মরক্কোর আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে তরুণ আয়ুব বুয়াদ্দি অসাধারণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গড়ে বারবার ব্রাজিলের মাঝমাঠকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। দুই লাইনের মাঝখানে তৈরি হওয়া ফাঁকগুলো কাজে লাগিয়ে মরক্কো সহজেই আক্রমণে উঠে আসে।

ব্রাজিলের প্রথম ভালো সুযোগ আসে ১৪তম মিনিটে। কিন্তু ইগর থিয়াগো হেডে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। এর সাত মিনিট পরই আসে মরক্কোর গোল। মাঝমাঠে লুকাস পাকেতা বল হারালে দ্রুত আক্রমণে ওঠে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাসে ফাঁকা জায়গায় বল পান সাইবারি। সে সময় মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল দুজনই রক্ষণে ভুল অবস্থানে ছিলেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দেন গোলরক্ষক অ্যালিসন, যিনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামনে এগিয়ে আসেন। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল তার মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান সাইবারি।

গোলের পরও মরক্কো ছিল বেশি বিপজ্জনক দল। তাদের তীব্রতা, সংগঠন এবং গতির সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে থাকে ব্রাজিল। তবে সেই আধিপত্য থেকে আর কোনো গোল বের করতে পারেনি আফ্রিকান দলটি।

এরপরই দেখা যায় ভিনিসিয়ুসের জাদু। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের পাস পেয়ে বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে কাট করেন তিনি। এরপর ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠিয়ে দেন দূরের উপরের কোণে। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর কোনো কিছুই করার ছিল না।

বিরতির ঠিক আগে প্রায় এগিয়েও গিয়েছিল ব্রাজিল। পাকেতার দুর্দান্ত সিজর কিক অবশ্য অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বুনো।

প্রথমার্ধে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তন আনেন। কাসেমিরো ও রজার ইবানিয়েজের পরিবর্তে মাঠে নামেন ফাবিনিয়ো ও দানিলো। এতে মাঝমাঠে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল বেশি ছিল ব্রাজিলের। তারা আরও ধৈর্য নিয়ে খেলতে শুরু করে এবং মরক্কোকে নিজেদের অর্ধে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। ৭৮তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের ক্রস থেকে রাফিনিয়া সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।

ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, দুই দলই ঝুঁকি নেওয়া কমিয়ে দেয়। যদিও শেষ দিকে মাতাইস কুনিয়ার একটি প্রচেষ্টা ব্রাজিলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিল, তবু শেষ পর্যন্ত সেই কাঙ্ক্ষিত গোল আর আসেনি।

ড্রয়ের ফলে দুই দলই এখনও গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য তাদের রক্ষা করলেও দলগতভাবে এখনও অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে।

অন্যদিকে মরক্কো আবারও দেখিয়ে দিল, ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। সংগঠিত, আত্মবিশ্বাসী এবং সাহসী এই দলটি এবারও বিশ্ব ফুটবলের বড় শক্তিগুলোর জন্য কঠিন পরীক্ষার নাম হয়ে উঠতে পারে।

ঈদের বাজারে রেকর্ড বিক্রি চেস্ট ফ্রিজারের

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শোরুমগুলোতে আশানুরূপ ক্রেতা না থাকা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স বাজারে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।

কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হলেও বাজারে এবার স্পষ্টভাবে বদলে গেছে ক্রেতাদের চাহিদার ধরন। বড় ও দামি পণ্যের পরিবর্তে তুলনামূলক সাশ্রয়ী পণ্যের দিকে ঝুঁকেছেন ক্রেতারা। আর ফ্রিজের বাজারে এবার সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা গেছে চেস্ট ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজে।

ট্রান্সকম ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তাদের নির্ধারিত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় বড় ও উচ্চমূল্যের (হাই-এন্ড) ইলেকট্রনিক্স পণ্যের চাহিদা এবার তুলনামূলক কম ছিল। এর বিপরীতে মাঝারি ও কম দামের পণ্য ভালো বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে মূল্য নিয়ে সংবেদনশীলতা ছিল। একই বাজেটের মধ্যে অনেকে বড় সাইজের টেলিভিশন অথবা বিকল্প ব্র্যান্ডের পণ্য বেছে নিয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, ক্রেতারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি হিসাব করে খরচ করছেন।

তিনি আরও জানান, ফোনের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হলেও অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় এবার শোরুমে সরাসরি আসা ক্রেতার সংখ্যা কম ছিল।

ফেয়ার ইলেকট্রনিক্সের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স বিভাগের প্রোডাক্ট হেড মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, সাধারণত বটম মাউন্ট ও টপ মাউন্ট রেফ্রিজারেটরের বিক্রিই বাজারে সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। পুরো মৌসুমজুড়েই ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল চেস্ট ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজের দিকে।

তিনি জানান, সাধারণত ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে ডিপ ফ্রিজারের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরু থেকেই এর চাহিদা ছিল ব্যাপক। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয় এবং আসা বেশিরভাগ পণ্যই দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।

তার ভাষ্য, যেখানে সাধারণত বটম মাউন্ট ও টপ মাউন্ট ফ্রিজ বাজারে আধিপত্য করে, সেখানে এবার ডিপ ফ্রিজ উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করেছে। বিপরীতে বটম মাউন্ট রেফ্রিজারেটরের বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

ওয়ালটন হোম অ্যান্ড কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সেসের চিফ বিজনেস অফিসার মো. আবদুল্লাহ-আল-জুনায়েদ বলেন, তাদের কোম্পানি বর্তমানে বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বিক্রি অব্যাহত ছিল এবং গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ওয়াশিং মেশিন ও ওভেনের চাহিদা সারা বছরই স্থিতিশীল থাকে। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মশলা পেষার জন্য ব্লেন্ডার এবং দ্রুত মাংস রান্নার জন্য প্রেসার কুকারের চাহিদা বেড়ে যায়। এবারও এই দুই পণ্যের বিক্রি ভালো হয়েছে। পাশাপাশি কুকওয়্যার পণ্যের বিক্রিও সন্তোষজনক।

র‌্যাংগস ইমার্টের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মাহমুদুল ইসলাম রাজ বলেন, ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসগুলোতে হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রি কিছুটা বেড়েছিল। তবে দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় শোরুমে প্রত্যাশিত ক্রেতাসমাগম হয়নি।

তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মতো নানা বাহ্যিক কারণ ক্রেতাদের আস্থা ও কেনাকাটার আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ইলেকট্রো মার্ট গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নুরুল আফসারও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান। তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল ভোক্তা মনোভাবের কারণে এবারের ঈদ বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে।

তার মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ নতুন ইলেকট্রনিক্স পণ্য কেনার বদলে কোরবানির পশু কেনাকাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে স্বাভাবিক ঈদ মৌসুমের তুলনায় এবার বিক্রি প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম হয়েছে। যদিও ঈদের আগের কয়েক দিনে বিক্রিতে কিছুটা গতি ফিরে আসে।

 

গালগল্প বা ইতিহাসের মাস্টার হতে সংসদে যাইনি: বিরোধীদলীয় নেতা

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিদেশে অনেক কষ্ট করে প্রবাসীরা টাকা আয় করেন। সেই টাকা দিয়ে তারা বিদেশে প্রাসাদ না বানিয়ে দেশে পাঠান। তবে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয় না।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইটে শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।

জামায়াত আমির বলেন, বিদেশে মিশন, হাইকমিশন, অ্যাম্বাসি বা বড় বড় কর্মকর্তা থাকলেও প্রবাসীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। তারা পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেলে দালালদের খপ্পরে পড়ে বিড়ম্বনার শিকার হন। সঙ্গত বা অসঙ্গত কারণে কেউ চাকরি হারালে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না।

প্রবাসীদের দাবির বিষয়ে ঠিকমতো কথা বলা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের মর্যাদা যেন নিশ্চিত করা হয়। তাদের প্রয়োজনে দেশ ও সরকার যেন পাশে দাঁড়ায়। যেসব দেশে অ্যাম্বাসি প্রবাসীদের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে না পারে, সেখানে অ্যাম্বাসি থাকার দরকার নেই। অ্যাম্বাসির কাজ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লালন-পালন করা নয়, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের কাজ।

শ্রমিক দিবস প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, প্রতিবছর সারা বিশ্বে শ্রম দিবস পালিত হয়। বিভিন্ন দেশে শ্রমিক সমাবেশগুলোতে সরকারি ও বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়ে শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের আশ্বাস দেন।

‘শিকাগোর বেদনাদায়ক ঘটনার ১৪০ বছর পার হয়েছে। নেতাদের দেওয়া ওয়াদার ১০ ভাগের এক ভাগও যদি পূরণ করা হতো, তাহলে শ্রমিকদের আর কোনো দাবি-দাওয়া অবশিষ্ট থাকতো না’, যোগ করেন তিনি।  

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের প্রয়োজন ও মর্যাদাকে উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না।

বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে যারা নিজেদের বামপন্থী বলে দাবি করেন, তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বেশি সংগ্রাম করেন। এখন বাংলাদেশে, তার আগে পাকিস্তানে ধারাবাহিকভাবে এটি চলে আসছে। যখনই কোনো ইস্যু আসে, বাম নেতারা সামনে এসে দাঁড়িয়ে যান। তারপরে আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে, মাঠ গরম হয়, কিছু মানুষের জীবন যায়, অনেকে আহত হন। আর কিছু মানুষের চাকরি যায়।

‘কিন্তু নেতারা রাতের আঁধারে ভাগটা পেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে যান। তখন গড়ে ওঠা আন্দোলনকে তারা ব্ল্যাকমেইলিং করে। এভাবে যুগ যুগ ধরে নেতারা কপালের পরিবর্তন হলেও শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে সংসদ হবে—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধী দল গালগল্প করা বা ইতিহাসের মাস্টার হতে সংসদে যায়নি। সেখানে বিরোধী দল গিয়েছে দুঃখী মানুষের পক্ষে কথা বলতে। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে সংসদের ভেতরে-বাহিরে লড়াই চলবে। শ্রমিকদের ন্যায্যতা ও মর্যাদা যতদিন প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন লড়াই অব্যাহত থাকবে।