28.4 C
Dhaka
Home Blog

নবম পে স্কেল: জুলাই থেকেই মিলতে পারে বর্ধিত মূল বেতন

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুই ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারে সরকার। এর মধ্যে আগামী জুলাই থেকেই নতুন স্কেলে সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির।

বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গঠিত তিনটি পৃথক পে কমিশনের প্রতিবেদনের পর্যালোচনা শেষে এই কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিকভাবে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে তিন ও দুই বছর মেয়াদি—দুটি বিকল্প বিবেচনা করেছিল সরকার।

তিন বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হতো এবং তৃতীয় বছরে ভাতাগুলো কার্যকর করা হতো।

তবে অর্থ বিভাগ জানায়, দুই ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে (আইবিএএসপ্লাসপ্লাস) কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে তারা একবারেই মূল বেতন পুরোটা কার্যকর করার সুপারিশ করে।

তবে সামগ্রিকভাবে দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে কমিটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। আমরা আশা করছি, জুলাইয়ের মাঝামাঝি বা তার পরের সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ করা হবে।’

বর্তমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে ১০০ শতাংশ বা তার কিছুটা কম এবং ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করতে পারে কমিটি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তব্যে ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে  ধাপে ধাপে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিচ্ছি। গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’

পে-স্কেল সংশোধনের আগের উদাহরণগুলোর মতো এবার বাজেট নথিতে বেতন-ভাতা খাতে আলাদা করে কোনো বৃদ্ধি দেখানো হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বরাদ্দটি নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এ খাতে ব্যয় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।

কর্মকর্তাদের মতে, বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ৪৪ হাজার কোটি টাকার এই বরাদ্দ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে।

এবার মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে নবম পে কমিশন।

২০১৫ সালে দুই ধাপে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ওই বছর সংশোধিত মূল বেতন এবং পরের বছর সংশোধিত ভাতা কার্যকর করা হয়।

বর্তমানে সরকার তার ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।

সংস্কার ও সুশাসনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি সরকার: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সরকার তা পূরণ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, অতীতে যে শাসনব্যবস্থা ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল, তার মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। ফলে জাতীয় জীবনে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়-সংলগ্ন আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, অভ্যুত্থানের পর মানুষ বিশ্বাস করেছিল, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি মৌলিক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘ সংলাপের পর যে সংস্কার সনদ তৈরি হয়েছিল, তার ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। যেসব রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কারণে অতীতে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলোও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সরকারি দল ও বিরোধী দল—উভয়েই গণভোটের ফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার এখন সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। এ কারণে জাতীয় জীবনে সংকট তৈরি হয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও জুলুম-নিপীড়ন বেড়েই চলেছে। মানুষের জানমাল ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থাকা সত্ত্বেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি নেই।

তিনি সরকারের প্রতি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল হিসেবে জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো সরকারি পদক্ষেপের প্রতিবাদ করা হবে। প্রয়োজন হলে তা প্রতিরোধও করা হবে। এই আন্দোলন সংসদের ভেতরে ও বাইরে সমানতালে চলবে।

তিনি বলেন, জামায়াত একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চায়। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত না করে মর্যাদাবান জাতি হিসেবে দাঁড়াতে চায়। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দলের লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা সম্ভব।

বক্তব্যের শুরুতে আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তি এবং কারবালায় ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও সত্য প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়।

তিনি বলেন, আজও বিশ্বজুড়ে নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে। আল্লাহর দেওয়া ন্যায়ভিত্তিক বিধান অনুসরণ করলেই মানবজাতির প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে সুশাসন, দক্ষতা, জবাবদিহি ও দেশপ্রেমভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এটা আমার ও দেশের জন্য বড় সম্মান: রুনা লায়লা

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। গান দিয়ে জয় করেছেন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা।

বাংলাদেশের গর্ব তিনি। নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। সেই সঙ্গে বাংলা গান দিয়ে বিশ্বের দরবারে নিজ দেশকে পরিচিত করিয়েছেন এবং সম্মান বয়ে এনেছেন। স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছেন দেশ-বিদেশ থেকে।

গুণী এই শিল্পী এখনো গানে গানে সরব আছেন।

এবার একসঙ্গে দুটি সুসংবাদ দিচ্ছেন রুনা লায়লা তার ভক্তদের জন্য। 

একটি হচ্ছে নতুন একটি গান করেছেন। ‘অনায়াসে’ নামের গানটি ১৬ মে মুক্তি পাচ্ছে। গানের মিউজিক ভিডিও করা হয়েছে।

এছাড়া, দ্বিতীয় সুখবরটি হচ্ছে তিনি দিল্লি থেকে বড় একটি সম্মান পাচ্ছেন। ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি। তাকে এই পুরস্কার দেবে দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষ। 

শুভ দিনটি ৪ মে। ওই দিন দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টস ও আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে উৎসব শুরু হবে।

এই উৎসব শেষ হবে ৮ মে। সেখানেই রুনা লায়লাকে সম্মাননা দেওয়া হবে।

দিল্লিতে পেতে যাওয়া সম্মাননার বিষয়ে রুনা লায়লা বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা আমার সম্মান এবং দেশের জন্য বড় সম্মান। বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সম্মান। খুবই আনন্দিত আমি। খুবই খুশি। গর্ব হচ্ছে আমি বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে সম্মানটি পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘কৃতজ্ঞতা জানাই সৃষ্টিকর্তাকে, ভালোবাসা জানাই আয়োজকদের।’

রুনা লায়লা বলেন, ‘দিল্লি থেকে আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান রাম কিশোর একটি চিঠিতে আমাকে খবরটি জানিয়েছেন। অনেক খুশি আমি। আয়োজনের অংশ হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’

এদিকে, নতুন গানের বিষয়ে রুনা লায়লা বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে গানটি সলো গাওয়ার কথা ছিল। পরে বাপ্পা মজুমদারকে নিলাম। এরপর ডুয়েট গান এখন। বাপ্পা শুরুতে ভয় পেল। বলল, আমি গাইব আপনার সঙ্গে?’

তারপর বাপ্পাকে বললাম, ‘অসুবিধা কী? তুমি ভালো গান করো। এভাবেই ডুয়েট গান হলো।’

‘গানটি আসলে নতুন ঢংয়ের। গজল টাইপের গান। এইরকম গান প্রথম গাইলাম। ভালো হয়েছে। সবার ভালো লাগবে। ১৬ মে সবাই শুনতে পারবেন’, যোগ করেন তিনি। 

রুনা লায়লা আরও বলেন, ‘গানের সুর অনেক সুন্দর হয়েছে। গানের কথাও খুব ভালো হয়েছে। এক কথায় আমার কাছে ভালো লেগেছে।’

গানের শিরোনাম ‘অনায়াসে’। গানের কথা লিখেছেন গালিব হাসান। সুর ও সংগীত করেছেন বাপ্পা মজুমদার।
রুনা লায়লা বলেন, ‘গানের কম্পোজিশন অনেক ভালো হয়েছে। গানের কথাও বেশ সুন্দর। সব মিলিয়ে সুন্দর একটি গান আসছে।’

এখনো নিয়মিত গান করে যাচ্ছেন? এর জবাবে রুনা লায়লা বলেন, ‘এটা ওপরওয়ালার রহমত। তার রহমত আছে বলেই গান করতে পারছি। আমি শুধু চেষ্টা ও সাধনা করছি, বাকিটুকু ওপরওয়ালার রহমত। এভাবেই সারাজীবন গান করে যেতে চাই।’

সম্প্রতি সিলেটে একটি শো করে এসেছেন। এই বিষয়ে রুনা লায়লা বলেন, ‘দেড় ঘণ্টার মতো স্টেজে গান করেছি। ভালো একটি শো হয়েছে। দীর্ঘ সময় নিয়ে গান করেছি। এখনো এভাবে গাইতে পারি, এটাও সৃষ্টিকর্তার রহমত।’

ডুয়েট গান নিয়ে ফেসবুকে রুনা লায়লার বার্তা শেয়ার করেন বাপ্পা মজুমদার

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ৪০, আহত ২৪৬

লেবাননে গত দুদিনের ইসরায়েলি হামলায় ৪০ জন নিহত ও ২৪৬ জন আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গতকাল পর্যন্ত লেবাননে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানায় জাতিসংঘ। 

ইরানে হামলার পর লেবাননের হিজবুল্লাহর বিপক্ষে যুগপৎ যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সীমান্ত অঞ্চলে বাফার জোন তৈরি করছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)।

দেশটির টেলিভিশনে দেওয়া বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন বলেন, ‘নর্দার্ন কমান্ড এগিয়ে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নাগরিকদের জন্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় একটি বাফার তৈরি করছি আমরা।’

হিজবুল্লাহর চৌকস বাহিনী রাদওয়ান ফোর্সসহ অন্তত ১৬০টি লক্ষ্যে সফল হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেছে ইসরায়েল। আইডিএফের বরাতে এএফপি জানায়, এসব হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন মুয়াকালেদ নিহত হয়েছেন। 

এদিকে, আজ দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালে দুই পক্ষের সংঘাতেও হিজবুল্লাহ বেশকিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছিল বলে জানায় রয়টার্স। 

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত হামলায় এ পর্যন্ত ৭৮৭ জন মারা গেছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠন করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০০৯ সালে রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ড পুনঃতদন্তের জন্য সরকার একটি কমিশন গঠন করবে।

মন্ত্রী গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুনরায় কমিশন গঠন করে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে সেই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এর বিচার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এটা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও আছে। আমরা যেকোনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এতে ৫৭ সেনাকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।

জেমিনাই-চ্যাটজিপিটিকে একটি প্রশ্ন করলে কত বিদ্যুৎ ও পানি খরচ হয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর শুধু গবেষণাগারের প্রযুক্তি নয়। চ্যাটজিপিটি, গুগল জেমিনাই, মাইক্রোসফট কোপাইলটের মতো এআই টুল প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের নানা কাজে ব্যবহার হচ্ছে। সাধারণত আমরা পর্দায় একটি প্রশ্ন লিখি, তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে উত্তর পেয়ে যাই। পুরো ব্যাপারটা আমাদের কাছে খুব সহজ মনে হয়।

কিন্তু পর্দার আড়ালে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য কাজ করছে বিশাল ডেটা সেন্টার। আর এসব ডেটা সেন্টার চালাতে প্রয়োজন হচ্ছে বিদ্যুৎ। কম্পিউটার ঠাণ্ডা রাখতেও প্রয়োজন হচ্ছে পানি। ফলে এআই যত বেশি ব্যবহার হচ্ছে, ততই বাড়ছে এর পরিবেশগত প্রভাব।

গত বছরের জুনে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছিলেন, চ্যাটজিপিটিতে একটি প্রশ্নের উত্তর তৈরি করতে গড়ে প্রায় শূন্য দশমিক ৩৪ ওয়াট-ঘণ্টা শক্তি এবং শূন্য দশমিক ৩২২ মিলিলিটার পানি লাগে।
তিনি তুলনা করে বলেছিলেন, একটি ওভেন এক সেকেন্ডের একটু বেশি সময় চালানোর মতো এটি।

একই বছরের আগস্টে গুগল ক্লাউডের এক ব্লগে জানানো হয়, জেমিনাইতে একটি প্রশ্নের জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় শূন্য দশমিক ২৪ ওয়াট-ঘণ্টা শক্তি বিদ্যুৎ ও শূন্য দশমিক ২৬ মিলিলিটার পানি, যা প্রায় পাঁচ ফোঁটা পানির সমান। বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি সহজ করে বললে, একটি জেমিনাই প্রশ্নের জন্য যতটা বিদ্যুৎ লাগে, তা দিয়ে ৯ সেকেন্ডেরও কম সময় টেলিভিশন চালানো যায়।

একটি প্রশ্নের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ খুবই সামান্য মনে হতে পারে। কয়েক ফোঁটা পানির মতোই নগণ্য। কিন্তু যখন প্রতিদিন কোটি কোটি প্রশ্ন করা হয়, তখন হিসাবটা বদলে যায়।

ধরা যাক, একজন মানুষ দিনে কয়েকবার এআই ব্যবহার করছেন। তার ব্যবহারের পরিমাণ হয়তো পরিবেশের ওপর চোখে পড়ার মতো প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু একই কাজ যদি কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন করেন, তাহলে সেই সামান্য সামান্য ব্যবহার একসঙ্গে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা তৈরি করে।

এআইয়ের পরিবেশগত খরচ বোঝার সময় দুটি বিষয় আলাদা করে দেখতে হয়। প্রথমটি হলো প্রশিক্ষণ, অর্থাৎ মডেলকে শেখানোর প্রক্রিয়া।

একটি বড় এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে বিপুল পরিমাণ তথ্য ব্যবহার করা হয়। হাজার হাজার জিপিইউ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। এই প্রশিক্ষণ কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। এই সময় প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়।

সমস্যা হলো, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের মডেল কীভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, কতক্ষণ প্রশিক্ষণ দিয়েছে কিংবা ঠিক কী ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে; এসব তথ্য সবসময় প্রকাশ করে না।

তাই মডেল প্রশিক্ষণের কার্বন নিঃসরণের পুরো হিসাব করা কঠিন।

দ্বিতীয় বিষয় হলো ইনফারেন্স। কেউ যখন এআইকে প্রশ্ন করেন এবং সে উত্তর তৈরি করে, তখন সেটিই ইনফারেন্স।

ধরি, কেউ ঢাকার আবহাওয়া জানতে চাইলেন।

আরেকজন ব্যবহারকারী এআইকে বললেন, ‘আমার জন্য ১০ দিনের একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করো, প্রতিদিনের খাবার, যাতায়াত, খরচ ও সম্ভাব্য ঝুঁকিসহ।’

দুটি প্রশ্নের জন্য কম্পিউটারের কাজ এক হবে না। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে অনেক বেশি হিসাব করতে হতে পারে। উত্তরও হতে পারে অনেক বড়।

এআই যে পরিমাণ লেখা প্রক্রিয়া করে, সেগুলোকে বলা হয় টোকেন। সাধারণভাবে বেশি টোকেন মানে বেশি গণনা ও বেশি শক্তি ব্যবহার।

জার্মানির মিউনিখ ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সের গবেষক ম্যাক্সিমিলিয়ান ডনার ও গডরান ছোচার ১৪টি ওপেন-সোর্স এআই মডেল নিয়ে গবেষণা করেন। মডেলগুলোর আকার ছিল ৭ বিলিয়ন থেকে ৭২ বিলিয়ন প্যারামিটার পর্যন্ত।
গবেষণায় দেখা যায়, সব এআই মডেলের শক্তি ব্যবহারের পরিমাণ এক নয়।

বিশেষ করে রিসোনিং মডেল উত্তর দেওয়ার আগে সাধারণ মডেলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তি ব্যবহার করতে পারে। এআইয়ের যে মডেল তুলনামূলক বেশি ধাপে হিসাব করে তাকে রিসোনিং মডেল বলে।

গবেষকরা বলছেন, প্রতিটি প্রশ্নের জন্য সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহার করা প্রয়োজন হয় না। সহজ একটি প্রশ্নের উত্তর যদি ছোট ও সাধারণ একটি মডেল ভালোভাবেই দিতে পারে, তাহলে শুধু অভ্যাসের কারণে সবচেয়ে বড় মডেল ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।

গবেষণায় এমন উদাহরণও পাওয়া গেছে, যেখানে একটি সাধারণ মডেল প্রায় একই ধরনের নির্ভুলতা বজায় রেখে রিসোনিং মডেলের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম কার্বন নিঃসরণ করেছে।

অর্থাৎ সঠিক কাজের জন্য সঠিক মডেল বেছে নেওয়াও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় একটি চমকপ্রদ তুলনাও উঠে এসেছে।

সায়েন্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭০ বিলিয়ন প্যারামিটারের ডিপসিক আর১ রিসোনিং মডেল দিয়ে ৫ লাখ প্রশ্নের উত্তর তৈরি করলে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হতে পারে, তা লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক যাওয়া-আসার একটি বিমানযাত্রার কার্বন নিঃসরণের কাছাকাছি হতে পারে।

এখানে অবশ্য মনে রাখতে হবে, এটি একটি নির্দিষ্ট মডেল ও নির্দিষ্ট পরীক্ষার হিসাব। সব এআই মডেলের ক্ষেত্রে একই সংখ্যা প্রযোজ্য নয়।

চ্যাটজিপিটি চালু হওয়ার পর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এআই ব্যবহারের বিস্ফোরণ ঘটেছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে টেকক্রাঞ্চ এক প্রতিবেদনে বলা জানিয়েছিল, চ্যাটজিপিটিতে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ কোটি প্রশ্ন বা প্রম্পট পাঠানো হচ্ছে।

অর্থাৎ মানুষ এখন কেবল আলাদা করে এআই অ্যাপ খুলে প্রশ্ন করছে না। নানা কাজের মধ্যেই এআই ঢুকে পড়ছে।

মাইক্রোসফট তাদের অফিস সফটওয়্যারে এআই যুক্ত করেছে। গুগল তাদের সার্চ ও জিমেইল সেবায় এআই ব্যবহার করছে। ফলে ভবিষ্যতে এআই ব্যবহারের পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এখানেই তৈরি হচ্ছে বড় প্রশ্ন, এত এআই ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও পানি আসবে কোথা থেকে?

আমরা যখন ফোন বা কম্পিউটার থেকে কোনো প্রশ্ন পাঠাই, তখন উত্তরটি আমাদের যন্ত্রের ভেতরে তৈরি হয় না। প্রশ্নটি চলে যায় দূরের কোনো ডেটা সেন্টারে।

সেখানে হাজার হাজার শক্তিশালী কম্পিউটার বা সার্ভার একসঙ্গে কাজ করে উত্তর তৈরি করে।

এই সার্ভারগুলো চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে। আবার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে গিয়ে সার্ভারগুলো গরম হয়ে যায়। তাই এগুলো ঠাণ্ডা রাখার জন্য বিশেষ ধরনের কুলিং ব্যবস্থা দরকার হয়।

কিছু ডেটা সেন্টারে এই ঠাণ্ডা রাখার প্রক্রিয়ায় পানি ব্যবহার করা হয়।

ফলে একটি এআই প্রশ্নের পরিবেশগত খরচ শুধু বিদ্যুতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পানি, অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে তৈরি হওয়া কার্বন নিঃসরণও।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ ২০২৫ সালের এপ্রিলে এ প্রতিবেদনে বলেছিল, বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টার বেশি হতে পারে।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি জাপানের বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাছাকাছি!

এর পেছনে এআই একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এআই মডেল যত বড় হচ্ছে, সেগুলো চালাতে তত বেশি কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন হচ্ছে। একই সঙ্গে মানুষও এআই ব্যবহার করছে আগের চেয়ে অনেক বেশি।

অর্থাৎ একদিকে প্রযুক্তি আরও দক্ষ হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।

এআই কোম্পানিগুলো অবশ্য বসে নেই। কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বেশি কাজ করা যায়—এমন নতুন চিপ তৈরি হচ্ছে। ডেটা সেন্টারের কুলিং প্রযুক্তিও উন্নত হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানির ব্যবহার কমানোর জন্য নতুন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দিকেও বিনিয়োগ করছে। কিন্তু এখানে একটি সমস্যা আছে। প্রযুক্তি আরও দক্ষ হলে সাধারণত সেটি ব্যবহার করাও সস্তা ও সহজ হয়ে যায়। ফলে মানুষ আরও বেশি ব্যবহার করতে শুরু করে।

অর্থনীতিতে এই ঘটনাকে বলা হয় জেভন্স প্যারাডক্স। অর্থাৎ একটি কাজ করতে যত কম সম্পদ লাগে, সেই প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়ে গেলে মোট সম্পদের ব্যবহার আবারও বাড়তে পারে। এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই বিষয় দেখা যাচ্ছে।

একটি প্রশ্নের জন্য হয়তো এখন আগের চেয়ে কম বিদ্যুৎ লাগবে। কিন্তু যদি প্রশ্নের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, তাহলে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার কমার বদলে বেড়েও যেতে পারে।

ব্যাপারটা তা নয়। এআইয়ের অনেক ইতিবাচক ব্যবহার রয়েছে। এটি চিকিৎসা গবেষণা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, যোগাযোগ, প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়তা এবং নানা ধরনের কাজকে সহজ করে তুলতে পারে।

সমস্যা হলো, এই প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি এর পরিবেশগত খরচকেও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

একটি প্রশ্নের জন্য কয়েক ফোঁটা পানি বা সামান্য বিদ্যুৎ হয়তো বড় বিষয় নয়। কিন্তু কোটি কোটি প্রশ্নের ক্ষেত্রে সেই সামান্য পরিমাণই বড় হয়ে ওঠে।

তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ হলো, কম সম্পদ ব্যবহার করে আরও কার্যকর এআই ব্যবস্থা তৈরি করা।

এর পাশাপাশি প্রয়োজন ডেটা সেন্টারের পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার।

এআই আমাদের জীবনকে সহজ করতে পারে। কিন্তু সেই সুবিধার মূল্য যেন পৃথিবীর পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবেশকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলে না সেদিকেও নজর দিতে হবে।

ফলাফল কেবল সংখ্যা, জীবন তারচেয়েও অনেক বড়

আজ বাংলাদেশের লাখো শিক্ষার্থীর জীবনে একটি বিশেষ দিন। প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। কারো ঘরে আনন্দ, কারো চোখে স্বস্তির জল, আবার কোথাও হয়তো নেমে এসেছে নীরবতা। কেউ প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছে, কেউ পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত ফলের চেয়ে কম, আবার কেউ হয়তো আজ নিজেকে ব্যর্থ ভাবতে শুরু করেছে।

কিন্তু ফল প্রকাশের এই দিনে সবচেয়ে জরুরি যে কথাটি মনে রাখা দরকার তা হলো, একটি নম্বর কখনোই একজন মানুষের পুরো জীবন, মেধা কিংবা সম্ভাবনাকে নির্ধারণ করে না।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। সার্বিক পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ পয়েন্ট।

এই সংখ্যাগুলো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলাফলের ওঠানামা নিয়ে বিশ্লেষণও প্রয়োজন। কেন পাসের হার কমল, কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ল, শিক্ষার মান কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, পরীক্ষা পদ্ধতি কতটা কার্যকর—এসব প্রশ্ন নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে।

কিন্তু আজকের দিনটি শুধু পরিসংখ্যানের দিন নয়, এমন কিছু কিশোর-কিশোরীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যারা এই বয়সেই নিজেদের সাফল্য বা ব্যর্থতার একটি কঠিন সংজ্ঞার মুখোমুখি হচ্ছে।

আমাদের সমাজে একটি প্রবণতা দীর্ঘদিনের—পরীক্ষায় ভালো ফল করলে বলি, ‘ছেলেটা খুব মেধাবী’; আর ফলাফল প্রত্যাশা মতো না হলে সহজেই বলে ফেলি, ‘ও পড়াশোনায় ভালো না’।

কিন্তু সত্যিই কি তাই? একজন শিক্ষার্থী কি তার পরীক্ষার খাতায় লেখা কয়েকটি সংখ্যার সমান? একজন ১৬ বা ১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীর মেধা, সৃজনশীলতা, কৌতূহল, নেতৃত্বের গুণ, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা কি কয়েকটি সংখ্যায় মাপা সম্ভব? অবশ্যই নয়।

তারপরও আমরা সন্তানদের এমন একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দিই, যেখানে জিপিএ-৫ যেন সাফল্যের একমাত্র সনদ। কে কত পেল, কে জিপিএ-৫ পেল, কে গোল্ডেন জিপিএ পেল, কে কোন কলেজে ভর্তি হবে, কে কার চেয়ে ভালো করেছে—এসব নিয়ে শুরু হয় তুলনা।

ফল প্রকাশের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের ছবি, অভিনন্দন, ফুল, কেক ও সাফল্যের গল্পে ভরে যায়। এগুলো আনন্দের এবং অবশ্যই উদযাপনের যোগ্য। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে এমন অনেক শিক্ষার্থীও থাকে, যারা নিজের ফলাফল নিয়ে ভীষণ হতাশ। কেউ হয়তো ভাবছে, ‘আমি কি ব্যর্থ?’

এখানেই আমাদের থামতে হবে। একজন সন্তানের ফলাফল দেখে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়, ‘কত পেয়েছ?’ প্রথমেই দেখা উচিত, তার মানসিক অবস্থাটা কেমন। কারণ, ফলাফল খারাপ হওয়ার পর একটি শিশুর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও পরিবারের সমর্থন। তখন তাকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা নয়, তার পাশে দাঁড়ানো জরুরি। তাকে বলতে হবে, ‘তুমি প্রত্যাশিত ফল পাওনি, কিন্তু তুমি আমাদের কাছে ব্যর্থ নও।’ এই একটি বাক্য হয়তো একটি ভেঙে পড়া মনকে আবার দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া আর জীবনে ব্যর্থ হওয়া এক বিষয় নয়। এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা শিক্ষাজীবনে অসাধারণ ফল করেননি, কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজেদের যোগ্যতা ও কর্ম দিয়ে পৃথিবীতে অন্যতম জায়গা অর্জন করেছেন। আবার এমন মানুষও আছেন, যারা পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল করেছিলেন, কিন্তু জীবনের নানা চ্যালেঞ্জে নিজেদের সামলে উঠতে পারেননি। কারণ, জীবন কোনো বোর্ড পরীক্ষা নয়। জীবনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অনেক বড়। সেখানে শুধু গণিত, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান কিংবা জীববিজ্ঞানের প্রশ্ন থাকে না। সেখানে থাকে সততা, দায়িত্ববোধ, ধৈর্য, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, মানবিকতা, যোগাযোগ দক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং ব্যর্থতার পর আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস।

একজন মানুষ পরীক্ষায় কত নম্বর পেয়েছে তারচেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে মানুষ হিসেবে কেমন হয়েছে। তাই যারা এবার ভালো ফল করেছে, তাদের অভিনন্দন জানাতেই হবে, তাদের পরিশ্রমকে সম্মান করতে হবে। কিন্তু তাদের এটাও মনে করিয়ে দিতে হবে, জিপিএ-৫ কোনো গন্তব্য নয়, এটি কেবল একটি ধাপ। সামনে আরও বড় পথ। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মজীবন এবং বাস্তব জীবনের অসংখ্য পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। সেখানে শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট হবে না। প্রয়োজন হবে দক্ষতা, মূল্যবোধ, প্রযুক্তিজ্ঞান, ভাষাজ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।

যারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তাদের বলি, গল্প এখানেই শেষ নয়। আজকের ফলাফল জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হতে পারে, কিন্তু পুরো বইটির নয়। হয়তো অন্য পথে সফলতা আসবে। হয়তো তোমার শক্তি এমন কোনো জায়গায়, যেটা এই পরীক্ষার খাতা মাপতে পারেনি। হয়তো তোমার আরও সময় প্রয়োজন। হয়তো তোমাকে নতুন করে চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু একটি পরীক্ষার ফলাফলের কারণে নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলো না।

আমাদের অভিভাবকদেরও মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। সন্তানকে প্রতিবেশীর সন্তানের সঙ্গে, আত্মীয়ের সন্তানের সঙ্গে কিংবা বন্ধুর সঙ্গে তুলনা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সন্তানের ফলাফলকে নিজের সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি বানানো যাবে না। সন্তান জিপিএ-৫ না পেলেও সে ভালো মানুষ হতে পারে, সে একজন দক্ষ উদ্যোক্তা হতে পারে, ভালো শিক্ষক হতে পারে, অসাধারণ শিল্পী হতে পারে, গবেষক হতে পারে, দক্ষ কারিগর হতে পারে কিংবা এমন কিছু করতে পারে, যার কথা আজ আমরা কল্পনাও করতে পারছি না।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সামনেও তাই বড় একটি প্রশ্ন রয়েছে। আমরা কি শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থী তৈরি করতে চাই, নাকি ভালো মানুষ এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য সক্ষম নাগরিক তৈরি করতে চাই? এই প্রশ্নটি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও নতুন প্রযুক্তি আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রকে আমূল পরিবর্তন করছে। শুধু মুখস্থ জ্ঞান দিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবীতে টিকে থাকা কঠিন হবে। যে শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে পারে, নতুন কিছু শিখতে পারে, নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, ভবিষ্যতে তারাই এগিয়ে থাকবে।

তাই ফলাফলকে সম্মান করুন, কিন্তু ফলাফল দিয়ে সন্তানকে বিচার করবেন না। একটি নম্বর তার খাতার পরিচয় হতে পারে, কিন্তু পুরো জীবনের পরিচয় নয়।

শিক্ষার্থীদের প্রতি বার্তা, আজ ফলাফল যাই আসুক, মনে রেখো—তোমার সামনে এখনো পুরো জীবন পড়ে আছে এবং আর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি এখনো শুরুই হয়নি।

 

মো. তরিকুল ইসলাম: লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

বিফলে নাহিদের রেকর্ড, ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ

২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং প্রায় একাই গুঁড়িয়ে দিলেন নাহিদ রানা। এই গতিময় পেসার গড়লেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। কিন্তু তার অনবদ্য কীর্তি গেল বিফলে। নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতায় সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়েও একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ল টাইগাররা।

সোমবার হারারেতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। পেসবান্ধব উইকেটে টস জিতে আগে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে মাত্র অলআউট করে দেয় তারা। কিন্তু জবাব দিতে নেমে ৩৩.১ ওভারে স্রেফ ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

জিম্বাবুয়ের ১০ উইকেটের ৮টি নেন বাংলাদেশের পেসাররা। নাহিদের ৬ শিকারের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ২ উইকেট পান ৩২ রানে। অন্যদিকে, কন্ডিশনের ফায়দা তুলে বাংলাদেশের পতন হওয়া ১০ উইকেটের সবকটি যায় জিম্বাবুয়ের পেসারদের ঝুলিতে। রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র‍্যাড ইভান্স তিনটি করে এবং ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান নিয়ামুরি দুটি করে উইকেট দখল করেন।

এই ফলের পেছনে জিম্বাবুয়ের বোলারদের সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাটারদের অ্যাপ্রোচের দায়ও কম নয়। উইকেট ছুড়ে আসেন বেশ কয়েকজন ব্যাটার। তাদের মধ্যে সৌম্য সরকার, তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজের আউট ছিল দৃষ্টিকটু।

দারুণ বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে অল্পতে গুটিয়ে দেওয়ার স্বস্তি বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামার পর দ্রুতই উড়ে যায়। পঞ্চম ওভারের মধ্যে তিন টপ অর্ডার ব্যাটার সাজঘরে ফিরলে বিপর্যয়ে পড়ে তারা। তখন দলের সংগ্রহ কেবল ১৭ রান।

ছক্কার চেষ্টায় ফাইন লেগে ক্যাচ দেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ফাঁদে পা দিয়ে ধরা পড়েন থার্ডম্যানে। তাদের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে আরেক ওপেনার সৌম্যও বিলাসী শটে বিদায় নেন ক্যাচ তুলে।

এরপর ৪৯ রানে জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। ১৯তম ওভারে এই জুটি ভাঙার পর আর লড়াইয়ে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। ফের অযথা  বড় শটের চেষ্টায় জিম্বাবুয়েকে উইকেট উপহার দেন হৃদয়। বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন সোহান। ডিআরএস না থাকায় রিভিউ নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।

হৃদয় ও সোহানের মাঝে ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে শামিল হন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও অধিনায়ক মিরাজ। এরপর লেজের দিকের ব্যাটাররা পারেননি অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে। ফলে বাজে হারে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।

সফরকারীদের মাত্র তিন ব্যাটার পৌঁছান দুই অঙ্কে। সোহান দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন। হৃদয় করেন ৫৮ বলে ২৫ রান। আর মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ১০ রান।

এর আগে ইনিংসের শুরুটা বেশ ইতিবাচকই করেছিল জিম্বাবুয়ে। ওভারপ্রতি প্রায় ৬ রান তুলে বিনা উইকেটে ৩৬ তুলে ফেলেছিল। তখনই রানআউটের ফাঁদে কাটা পড়েন ওপেনার বেন কারান। এরপর টানা দুই ওভারে জোড়া ধাক্কা দেন তাসকিন। আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা ক্রেইগ আরভাইনকে ফিরিয়ে দেন তিনি।

ইনিংসের বাকি অংশটুকু ছিল শুধুই নাহিদের। তার পেস যেন সামলাতেই পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৫ থেকে ৭০— এই ২৫ রান তুলতেই আরও ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। সবগুলোই নিজের পকেটে ঢোকান নাহিদ। জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডারের পাঁচ ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে রান তুলতে পারেননি।

এরপর প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক এনগারাভা ও নিয়ামুরি। নবম উইকেটে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ৬৩ রানের জুটিও ভাঙে নাহিদের হাতেই। ৪১ বলে ২৭ রান করা এনগারাভাকে ফিরিয়ে নিজের ষষ্ঠ শিকার তুলে নেন এই গতি তারকা। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ৫১ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন নিয়ামুরি। তাকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস মুড়িয়ে দেন মিরাজ।

তবে শেষমেশ এনগারাভা ও নিয়ামুরির ওই জুটিই স্বাগতিকদের জন্য ভীষণ কার্যকর হয়ে ওঠে। আর অল্প পুঁজি নিয়েও নিজেদের অসাধারণভাবে মেলে ধরে জয় ছিনিয়ে নেন তাদের বোলাররা।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ১ বছরে বেড়েছে ৪১ শতাংশ

২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়ে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ১২ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

২০২৪ সালে দেশটিতে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এই অর্থ ছিল সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আগের তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আমানত।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক প্রতি বছর আমানতের তথ্য প্রকাশ করে। ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড’ ক্যাটাগরির আওতায় দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক, বাসিন্দা বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরনের মুদ্রায় রাখা আমানত পর্যবেক্ষণ করে।

তবে প্রতিবেদনে আমানতকারীর ধরন বা কোন উদ্দেশ্যে আমানত রাখা হয়েছে, তা আলাদা করে দেখানো হয় না।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো ঐতিহাসিকভাবে আর্থিক গোপনীয়তার জন্য পরিচিত। যদিও সম্প্রতি কিছু সংস্কার আনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা ও সহযোগিতা বেড়েছে।

২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত সাধারণত ৪৮ কোটি থেকে ৬৬ কোটি ফ্রাঁ’র মধ্যে সীমিত ছিল।

২০২৩ সালে আমানতের পরিমাণ কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁতে নেমে যায়। ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের আমানত এক লাফে ৩৩ গুণ বেড়ে যায়।

অবৈধ আর্থিক প্রবাহের ওপর বৈশ্বিক নজরদারি বৃদ্ধির কারণে ২০২১ সালে করোনা-পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১০ লাখ ফ্রাঁ’তে পৌঁছানোর পর ২০২২ সালে আমানত হঠাৎ কমে যায়।

গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের আমানতের পরিমাণ কমেছে। ভারতের আমানত কমে দাঁড়ায় ৩২ কোটি ৩১ লাখ সুইস ফ্রাঁ ও পাকিস্তানের আমানত কমে দাঁড়ায় ২৩ কোটি ৬৩ লাখ ফ্রাঁ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংক্রান্ত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতে অথবা এসব দেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে পাচার করা হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিসটিংগুইশড ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সুইস ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট থাকে। এর মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমানত ছাড়াও বাংলাদেশিদের অবৈধ অর্থ থাকতে পারে। তাই সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না যে সেখানে আমানত বৃদ্ধির কারণ শুধু পাচার করা অর্থ।’

‘তবে বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে সুইস ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চাইতে পারে,’ বলেন তিনি।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা খুবই জটিল ও কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী পাচার অর্থ উদ্ধারের হার মাত্র ২ শতাংশের মতো। তা সত্ত্বেও প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কারণ এতে অন্তত জড়িতদের ওপর চাপ তৈরি হয়।’

এদিকে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘হঠাৎ আমানত বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগের ফলে ধনীরা বিদেশে সম্পদ স্থানান্তরে উৎসাহিত হয়েছে।’

গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে ১ জুলাই থেকে ১১ দলের ৩৬ দিনের কর্মসূচি

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ১ জুলাই থেকে ৩৬ দিনের কর্মসূচি পালন করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১–দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ থেকে ১৫ জুলাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের সব জেলা ও মহানগরে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ৬ জুলাই জাতীয় সংসদের সামনে শহীদ পরিবারের ব্যানারে মানববন্ধন এবং স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। ৮ জুলাই রাজধানীতে জাতীয় সেমিনার, ২০ জুলাই নারীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা এবং ২৩ থেকে ২৫ জুলাই চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া ৩১ জুলাই দেশের সব মসজিদে দোয়া এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার কর্মসূচি রয়েছে। ৫ আগস্ট রাজধানীসহ সারা দেশে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানীসহ সারা দেশে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ এবং গ্রাফিতি অঙ্কনের কর্মসূচিও থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ৩৬ দিনের কর্মসূচিগুলোর কিছু বিভিন্ন তারিখে বাস্তবায়ন করা হবে। এসব তারিখ ১১–দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি কয়েকটি মহানগরে আগে ঘোষিত সমাবেশ পূর্বনির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ৪ জুলাই রাজধানীর বাইরে সারা দেশে পূর্বঘোষিত গণমিছিলও হবে।

এর আগে সকাল ১১টায় ১১–দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিগত সরকারের আমলের ‘নৃশংসতার’ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতেই এ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ অন্য নেতারা।