34 C
Dhaka
Home Blog

বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে এমপির বাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ

নওগাঁর মান্দা উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও ভালাইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে তুলে নিয়ে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) একরামুল বারী টিপুর বাসায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এমপির লোকজনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আজ মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত রোববার দুপুরে আমি উপজেলার প্রসাদপুর বাজারে জনতা ব্যাংকের সামনে একটি দোকানে ছিলাম। এমন সময় এমপির পার্সোনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, গোল্ডেন, মকবুলসহ ৮-১০ আমার কাছে এসে চাঁদা চায়। পরে তারা আমাকে কিলঘুষি মারতে মারতে কাছেই এমপির বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডের একটি ছোট রুমে নিয়ে যায়। সেখানে কাঠ দিয়ে আমাকে প্রায় এক ঘণ্টা নির্যাতন করে। সেসময় তারা বলেন, আমি যেন উপজেলা বিএনপির প্রধান প্রধান নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা না করি। তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।’

আজাদ আরও বলেন, ‘ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন এমপির বাড়ির গেটে জড়ো হলে তারা আমাকে ওই বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা আমাকে একটি ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে মৌখিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে বলি। পরে পরিবারের লোকজন আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

বিষয়টি নিয়ে সোমবার বিকেলে নওগাঁ শহরের মুক্তি মোড় এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন মান্দা উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। এসময় লিখিত বক্তব্যে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, এর আগে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদল সংসদ সদস্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে শামসুল ইসলাম বাদল ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত নির্বাচনে একরামুল বারী টিপু সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরদিন ১৩ ফ্রেব্রুয়ারি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমি নতুন এমপিকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে এমপির দুজন লোক আমাকে মারধর করেন।’

আজাদকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে এমপি টিপুর পিএস দাবি করেন অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘যারা অভিযোগ দিয়েছে তাদের কাছে শোনেন। আমি বলব না। আমার বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’

মন্তব্য জানতে নওগাঁ-৪ (মান্দা উপজেলা) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য একরামুল বারী টিপুকে ফোন করা হলে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা বাড়িতে শুধু ২ জন থাকি। আমি আর আমার স্ত্রী। সংসদ অধিবেশনের জন্য আমরা দুজন গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায়। আমার বাড়িতে কীভাবে টর্চার করে?’

‘যে উপজেলা দপ্তর সম্পাদককে মারধরের কথা বলা হয়েছে তিনি দুই নম্বর লোক। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। সে এক ব্যক্তি হয়ে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছে ঋণ নিয়েছে। সম্ভবত ব্যক্তিগত বিষয়ে কেউ তাকে মারধর করে থাকতে পারে,’ বলেন তিনি।

এমপি টিপু আরও বলেন, ‘যারা আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা গত নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে এবং জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। এখন তারা আমার সম্মানহানি করার জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে।’

‘আমি এখনো কাউকে পিএস বা এপিএস নিয়োগ দেইনি। দলের যে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে,’ বলেন তিনি।

এমপি আরও বলেন, ‘আমার বাড়িতে নির্যাতনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরেজমিন তদন্ত করতে পারে। আর যে সাংগঠনিক সম্পাদক আমার সঙ্গে দেখা করতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন তাকে বলেন যে, এই ঘটনা আগে কেন অভিযোগ করেনি। এখন কেন করছে? আমি কি ওইদিন তার সঙ্গে কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছি?’

জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। কিন্তু এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

দেশ মাতিয়ে এবার অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তি পাচ্ছে ‘দম’

ঈদুল ফিতরে দেশে মুক্তির পর মাল্টিপ্লেক্সে ভালো চলছে রেদওয়ান রনি নির্মিত ‘দম’ সিনেমাটি। 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, পূজা চেরি ও চঞ্চল চৌধুরী।

দেশের পর এবার আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হচ্ছে সিনেমাটির। আগামী ২৭ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সিনেমাটি অস্ট্রেলিয়ায় প্রদর্শিত হবে। 

আগামী শুক্রবার, ২৭ মার্চ ব্যাংকসটাউন হলে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। 
পরের দিন বিকেল ৫টায় প্রসপেক্ট-এ। 

সমাপনী দিন অর্থাৎ ২৯ মার্চ ওয়েরিবি হলে সন্ধ্যা ৬টায় ‘দম’ দেখা যাবে। 

 

এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, ঈদুল ফিতরে মুক্তির তিন দিনে মাল্টিপ্লেক্সে ১ কোটি টাকার গ্রস কালেকশন গড়েছে ‘দম’। 

স্টার সিনেপ্লেক্স ও লায়ন সিনেমাস মিলিয়ে ৩৫টি শো চলছে সিনেমাটির। প্রতিটি শো হাউজফুল যাচ্ছে বলে জানা গেছে। 

এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড এবং চরকি প্রযোজিত ‘দম’ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন রেদওয়ান রনি, রবিউল আলম রবি, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর ও মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ।

অবশেষে চিকিৎসা পেলেন ইমরান খান

অবশেষে পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চিকিৎসা পেয়েছেন। ইসলামাবাদের পিমস হাসপাতালে তার চোখের চিকিৎসা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন।  

চোখের চিকিৎসার জন্য ইমরানকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

সেখানে তার চোখে ‘দ্বিতীয় ডোজের’ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। 

হাসপাতাল জানিয়েছে, চিকিৎসার আগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের একটি বোর্ড তাকে পরীক্ষা করেন। সেখানে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞও উপস্থিত ছিলেন। 

এ সময় ইমরানের ইকোকার্ডিওগ্রাফি ও ইসিজি পরীক্ষা করা হয়। 

উভয় পরীক্ষায় স্বাভাবিক ফল পাওয়া গেছে। 

বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ‘ইমরানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।’

এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, ইমরানকে ২৪ জানুয়ারি একই হাসপাতালে ’২০ মিনিট’ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে কারাগারে বন্দী আছেন ইমরান। ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতির দায়ে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

সম্প্রতি ৭৩ বছর বয়সী নেতার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবী অভিযোগ করেন, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারাতে বসেছেন ইমরান। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উপদেষ্টা সায়েদ জুলফিকার বুখারি দাবি করেন, ইমরানকে তার ‘ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের’ সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া উচিৎ।’ 

গত সপ্তাহে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ইসলামাবাদের সরকারকে ‘সুষ্ঠু’ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইমরানের আইনজীবী সালমান সাফদার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ‘ইমরানের ডান চোখ মাত্র ১৫ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে।’ 

ইমরানের ছেলে কাসিম খান জানান, ‘আটক অবস্থায় চিকিৎসায় অবহেলার’ কারণে তার বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল, সেনাপ্রধান ও তাদের হাতের পুতুলরা এসব নির্দয় আচরণের জন্য দায়ী।’

২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান এই জনপ্রিয় নেতা। 

এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা দায়েরের হিড়িক পড়ে। 

ইমরান ও তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ দাবি করে, এসব মামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। 
২০২৩ সালের মে মাসে ইমরানকে গ্রেপ্তারের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। 

বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করে সরকার। 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানেরা।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এর আগে তার সঙ্গে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) মহাপরিচালকেরা সাক্ষাৎ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড স্কিম চালু করার জন্য কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও করেছেন।

২৫ কোটি গাছ লাগানোর জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নদী, খাল ও অন্যান্য জলাশয় খনন ও পুনঃখনন পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য দুপুর ২টায় আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। 

অফিসের ‘মা’ বলে যদি কাউকে ডাকা যায়

পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজেরই কোনো দৃশ্যমান মাপকাঠি নেই। অনেক অবদান আছে, যেগুলোর হিসাব হয় না। কিন্তু সেগুলো ছাড়া পুরো ব্যবস্থাটাই ধীরে ধীরে অগোছালো হয়ে পড়ে।

একটি পরিবারে সাধারণত বাবা উপার্জন করেন, যার মাধ্যমে সংসারের অর্থনীতি সচল থাকে। কিন্তু সেই আয়ের যথাযথ ব্যবহার, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সবার প্রয়োজন মেটানো, ভবিষ্যতের সংকটের জন্য সঞ্চয় করা এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্য যাতে নিশ্চিন্তে নিজের কাজ করতে পারে, এমন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেন সাধারণত ‘মা’।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের নারীরাও অনেক এগিয়ে গিয়েছেন, তারা আয় করে পরিবার সচলও রাখছেন। তবে, এখনো অনেক পরিবারেই মা হয়তো সরাসরি আয় করেন না, কিন্তু পুরো সংসারের ছন্দ গড়ে ওঠে তার হাতেই। মা কর্মজীবী হোক বা নাই হোক, পরিবারের কারো মন খারাপ, কারো অসুস্থতা, কারো পরীক্ষার চাপ কিংবা কারো স্বপ্ন পূরণ করার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকেন তিনি। পরিবারের সবাই ভালো থাকলেই যেন তার ভালো থাকা নিশ্চিত হয়।

একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগকে আমি অনেকটা ‘মায়ের’ সঙ্গেই তুলনা করি। কারণ, প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়-ব্যয় কিংবা মুনাফা সবই দৃশ্যমান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মানুষের আস্থা, স্বস্তি, সম্পর্ক, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তাবোধের ভিত্তি তৈরি করে যে বিভাগ, সেটিই হলো মানবসম্পদ বিভাগ।

একজন বাবা যেমন সংসারের জন্য আয়-উপার্জন করেন, তেমনি একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা বিভাগ সেই আয় সৃষ্টি করে। কিন্তু সেই আয়ের সঠিক ব্যবহার, মানুষের প্রয়োজন, সংকট ও সম্ভাবনার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করার দায়িত্ব অনেকটাই মানবসম্পদ বিভাগের ওপর এসে পড়ে।

ফাইন্যান্স ও কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই মানবসম্পদ বিভাগকে পুরো বছরের জনবল ব্যবস্থাপনা করতে হয়। কোথাও দক্ষ মানুষ আনতে হয়, কোথাও সীমিত সম্পদ দিয়েই কর্মীদের আস্থা ধরে রাখতে হয়, কোথাও ভবিষ্যতের জন্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হয়।

একজন সন্তান জন্ম দেওয়ার পেছনে যেমন সবচেয়ে বড় শারীরিক ও মানসিক ত্যাগ থাকে মায়ের, তেমনি একটি প্রতিষ্ঠানে নতুন একজন কর্মী খুঁজে বের করা, যাচাই করা, নিয়োগ দেওয়ার দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার বড় দায়িত্ব থাকে মানবসম্পদ বিভাগের ওপর।

কিন্তু দায়িত্ব শুধু নিয়োগ পর্যন্ত শেষ হয় না। একজন মা যেমন সন্তান জন্মের পর তাকে ধীরে ধীরে বড় করে তোলেন, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে শেখান, ভুল হলে শুধরে দেন, সাহস জোগান; ঠিক তেমনি একজন নতুন কর্মীকেও প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে হয় মানবসম্পদ বিভাগকে।

ওরিয়েন্টেশন, প্রশিক্ষণ, ফলোআপ, দক্ষতা উন্নয়ন সবকিছু মিলিয়ে একজন কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের উপযোগী করে গড়ে তোলার পেছনে মানবসম্পদ বিভাগের বড় ভূমিকা থাকে।

একজন মা চেষ্টা করেন ঘরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে, যেখানে সন্তান সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে। মানবসম্পদ বিভাগও চেষ্টা করে অফিসে এমন একটি কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে, যেখানে কর্মীরা নিরাপদ বোধ করবেন, সম্মান পাবেন, নিজের কাজটি মন দিয়ে করতে পারবেন। কারণ, একজন কর্মী শুধু বেতনের জন্য কাজ করেন না। তিনি কাজ করেন সম্মান, স্বীকৃতি ও মানসিক স্বস্তির জন্য এবং নিজের সম্ভাবনাকে অর্থবহ করে তোলার জন্য।

প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত রাজস্ব, মুনাফা, প্রবৃদ্ধি বা বাজার হিস্যার মাধ্যমে সংখ্যা দিয়ে সাফল্য পরিমাপ করে। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনেই একজন মানুষ থাকে। ক্লান্ত একজন মানুষ; স্বপ্ন দেখা একজন মানুষ; সংগ্রাম করা একজন মানুষ।

মানবসম্পদ বিভাগের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সম্ভবত এখানেই। যেন প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মানুষ কখনো শুধুই ‘রিসোর্স’ হয়ে না যান। যেন একজন কর্মী অনুভব করেন, তিনি শুধু একটি আইডি নম্বর নন; তিনি এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ।

একটি সন্তানের মানসিক, সামাজিক ও মানবিক বিকাশে যেমন মায়ের প্রভাব গভীর, তেমনি একজন কর্মী প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির সঙ্গে কীভাবে নিজেকে যুক্ত করবেন, সহকর্মীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন এবং নেতৃত্বকে কীভাবে দেখবেন, এসব ক্ষেত্রেও মানবসম্পদ বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন মা সন্তানদের শুধু আদর করেন না, শৃঙ্খলাও শেখান এবং প্রয়োজনে কঠোরও হন। মানবসম্পদ বিভাগকেও প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, নীতি ও পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বাইরে থেকে সেটি কঠোর মনে হতে পারে, কিন্তু অনেক সময় সেটিই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য প্রয়োজন হয়।

পরিবারে সন্তানদের নানা রকম অভিমান, অভিযোগ, চাওয়া-পাওয়া সবচেয়ে বেশি গিয়ে জমা হয় মায়ের কাছেই। অফিসেও কর্মীদের ব্যক্তিগত সমস্যা, ক্ষোভ, হতাশা, অসন্তোষ কিংবা প্রত্যাশার প্রথম দরজাগুলোর একটি হয় মানবসম্পদ বিভাগ। কখনো কাউন্সেলিং করে, কখনো বোঝাপড়া তৈরি করে, কখনো নীতিমালা প্রয়োগ করে—প্রতিদিন অসংখ্য মানবিক পরিস্থিতি সামলাতে হয় এইচআরকে।

ভাইবোনদের মধ্যে ঝগড়া হলে যেমন মা মধ্যস্থতা করেন, তেমনি অফিসেও কর্মী-কর্মী বা কর্মী-কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্বে অনেক সময় নিরপেক্ষ সমাধানকারীর ভূমিকায় দাঁড়াতে হয় মানবসম্পদ বিভাগকে। কখনো সম্পর্ক বাঁচাতে হয়, কখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হয়, কখনো কঠিন প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও নিতে হয়।

পরিবারের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে সাধারণত মাকেই সবচেয়ে বেশি ধৈর্য ধরতে হয়। আর্থিক সংকট, অসুস্থতা কিংবা পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেও তিনি চেষ্টা করেন ভেতরের ভারসাম্য ধরে রাখতে। প্রতিষ্ঠানের কঠিন সময়েও মানবসম্পদ বিভাগের ভূমিকা অনেকটা তেমন। সাংগঠনিক পরিবর্তন, অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ কিংবা সংকটের সময় কর্মীদের আস্থা ধরে রাখা, আতঙ্ক কমানো, মানবিক ভারসাম্য বজায় রাখা মানবসম্পদ বিভাগের সবচেয়ে কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি।

আবার সন্তানের ছোট্ট অর্জনেও যেমন মা সবচেয়ে বেশি খুশি হন, তেমনি একজন কর্মীর সাফল্য, পদোন্নতি, স্বীকৃতি কিংবা নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মুহূর্তেও মানবসম্পদ বিভাগ নীরব আনন্দ অনুভব করে। কারণ, একজন মানুষের বেড়ে ওঠার ভেতরে নিজের অবদান দেখতে পাওয়ার আনন্দ আলাদা।

মায়ের কাজের কোনো নির্দিষ্ট অফিস সময় নেই; সবাই ঘুমিয়ে গেলে তিনি পরের দিনের কথা ভাবেন; সবাই খেয়ে নিলে তবেই নিজের কথা ভাবেন। তেমনি মানবসম্পদ বিভাগের কাজও অনেকটা অদৃশ্য ও চলমান। একটি নিয়োগ শেষ হলে তৈরি হয় আরেকটি শূন্য পদ। একটি সমস্যা সমাধান হলে সামনে আসে নতুন আরেকটি মানবিক পরিস্থিতি। একটি আয়োজন শেষ হলে শুরু হয় পরবর্তী আয়োজনের প্রস্তুতি। কিন্তু এসব কাজের বড় অংশই সম্পন্ন হয় নীরবে, কোনো করতালি ছাড়াই।

একসময় সন্তানেরা বড় হয়। কেউ দূরে চলে যায়। কেউ নতুন জীবনের জন্য পরিবার ছেড়ে অন্য শহর বা দেশে পাড়ি জমায়। তবু মা কষ্ট চেপে রেখে সন্তানের ভালো চান। প্রতিষ্ঠানেও তেমন ঘটে। কোনো কর্মী নতুন সুযোগের জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে চাইলে মানবসম্পদ বিভাগ অনেক সময় তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। আবার বুঝতে পারে, এই চলে যাওয়াটাই হয়তো তার ক্যারিয়ারের জন্য ভালো। তখন সম্পর্ক নষ্ট না করে, সম্মান রেখেই বিদায় দেওয়ার দায়িত্বটিও মানবসম্পদ বিভাগের।

আসলে একটি ভালো প্রতিষ্ঠান শুধু বড় অফিস, বড় আয় কিংবা বড় ব্র্যান্ড দিয়ে তৈরি হয় না। এটি তৈরি হয় তখনই, যখন সেখানে কর্মীরা সম্মান পান, নিরাপদ বোধ করেন, নিজের কথা বলতে পারেন, ভুল করলে শেখার সুযোগ পান এবং নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পারেন।

আর এই মানবিক ভিত্তি তৈরির পেছনে মানবসম্পদ বিভাগের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, যদিও সবচেয়ে কম দৃশ্যমান। তাই ‘বিশ্ব মানবসম্পদ দিবসে’ মানবসম্পদ বিভাগের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো এটিই—এই বিভাগ শুধু জনবল পরিচালনা করে না; মানুষকে ধারণ করে। অনেকটা পরিবারের ‘মায়ের’ মতো। যার কাজের সবটুকু হয়তো চোখে পড়ে না, কিন্তু যাকে ছাড়া পুরো ব্যবস্থাটাই ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে।

 

মো. শামীম খান: মানবসম্পদ পেশাজীবী
[email protected]

মাদ্রিদের জয়ে ইতিহাসের পথে সিনার

মাদ্রিদের মাটিতে ইতিহাস গড়েই থেমে থাকেননি ইয়ানিক সিনার। দুর্দান্ত এক জয়ের পরপরই ইতালিয়ান তারকার চোখ এখন আরও বড় অর্জনের দিকে, নিজের দেশ রোমে জিতে ‘গোল্ডেন মাস্টার্স’ পূর্ণ করা। সেটি করতে পারলে টেনিস ইতিহাসে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাবেন তিনি।

২৪ বছর বয়সী সিনার রোববার মাদ্রিদে আলেকজান্ডার জভেরেভকে মাত্র ৫৭ মিনিটে ৬-১, ৬-২ সেটে উড়িয়ে দিয়ে টানা পঞ্চম মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছেন। এর আগে প্যারিস, ইন্ডিয়ান ওয়েলস, মায়ামি ও মন্টে কার্লো জয়ের ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো মাদ্রিদ।

এখন তার সংগ্রহে নেই শুধু রোমের শিরোপা। সেটি জিততে পারলেই সিনার হয়ে উঠবেন ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যিনি সবগুলো নয়টি মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা জিতেছেন, যে কীর্তি বর্তমানে কেবল নোভাক জোকোভিচের ঝুলিতে রয়েছে।

মাদ্রিদে শিরোপা জয়ের পরই রোম নিয়ে নিজের আবেগের কথা জানাতে ভোলেননি সিনার। তার ভাষায়, ‘নিজের দেশে খেলা সবসময়ই বিশেষ কিছু। শারীরিকভাবে আমি ভালো আছি, রোমে না খেলার কোনো কারণ নেই। সেখানে ফিরতে পারছি, এটা আমার জন্য দারুণ ব্যাপার।’

গত বছর রোমেই তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কোর্টে ফিরেছিলেন সিনার, যদিও ফাইনালে কার্লোস আলকারাজের কাছে হেরে রানার্সআপ হতে হয়েছিল তাকে। সেই স্মৃতি এখনও তাজা, তবে এবার লক্ষ্য একধাপ এগিয়ে যাওয়া।

তবে এত সাফল্যের মাঝেও বাস্তবতা ভুলছেন না এই ইতালিয়ান তারকা। তার মতে, প্রতিটি টুর্নামেন্টই কঠিন, আর জয় পাওয়াটা কখনোই সহজ নয়। আপাতত তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিশ্রাম নিতে চান, কারণ একটি টুর্নামেন্টে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার পর সেই ক্লান্তি কাটানোও জরুরি।

এই মৌসুমে হার্ড কোর্ট ও ক্লে দুই জায়গাতেই নিজের আধিপত্য দেখানো সিনার স্বীকার করেছেন, প্রত্যাশার চাপও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তবুও অন্যদের সঙ্গে তুলনায় না গিয়ে নিজের সেরাটা দেওয়াতেই মনোযোগ রাখতে চান তিনি।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়লো

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন মূল্য ১৯৯ টাকা। এর আগে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ছিল ১৯৫ টাকা।

ভোজ্য তেলের মূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে আজ বুধবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানিয়েছেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে, পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ভোরে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম আজ সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী, শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকার নির্বাচিত হন। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন।

সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগস্ট রংপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় স্বর্ণকার মুসলিম উদ্দিন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আসামি করা হয়। তবে ঠিক কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

হুইলচেয়ারে বসা দর্শককে দেখে আপ্লুত সিয়াম

‘পোড়ামন ২’ দিয়ে বাজিমাত করেছিলেন নায়ক সিয়াম আহমেদ। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সিনেমা করে কুড়িয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা। সবশেষ ‘জংলি’ দিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি। আর এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘রাক্ষস’।

সিনেমাটি মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সরাসরি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখেছেন সিয়াম। এ পর্যন্ত তিনটি হলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতাই দ্য ডেইলি স্টার কাছে তুলে ধরেছেন তিনি।

সিয়াম বলেন, ‘“রাক্ষস” মুক্তির পর ইতিমধ্যে তিনটি হলে গিয়েছি। দর্শকদের সাড়া দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে। আমার ভেতরে দারুণ উত্তেজনা কাজ করছে।’

দর্শকদের কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে? এমন প্রশ্নে সিয়াম বলেন, ‘সিনেমাটি দেখার পর দর্শকেরা আমার সামনেই বিভিন্ন সংলাপ বলছিলেন। বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করেছে। কেউ কেউ গানের কথা বলেছেন, আমার অভিনীত চরিত্রের প্রশংসা করেছেন। দর্শকদের এসব অনুভূতি আমাকে অন্য রকম ভালো লাগায় সিক্ত করেছে।’

সিয়াম বলেন, ‘এক দিন মিরপুরের সনি প্রেক্ষাগৃহে (স্টার সিনেপ্লেক্স) গিয়েছিলাম। শো শেষে দেখি অনেক ভিড়। সেই ভিড়ের মধ্যে একজন দর্শককে দেখলাম হুইলচেয়ারে বসে আছেন। ভিড়ের কারণে তার সমস্যা হতে পারে ভেবে আমাদের টিমের সদস্যদের বলি, তার যেন কোনো অসুবিধা না হয়।’

সিয়াম আরও বলেন, ‘এরপর আমি তার কাছে যাই। কথা বলি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, “ভাই, এত কষ্ট করে কেন সিনেমা দেখতে এসেছেন?” তিনি জানালেন, “পোড়ামন ২” থেকেই তিনি আমার সব সিনেমা দেখেন। সেই টানেই “রাক্ষস” দেখতে এসেছেন। তার কথা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই! নিজে হাঁটতে পারেন না, আরেকজনের সহযোগিতা নিয়ে আমার সিনেমা দেখতে এসেছেন—এ দেখে ইমোশনাল হয়ে পড়ি।’

দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সিয়াম বলেন, ‘দর্শকেরাই আমার আসল ভালোবাসা। তারাই শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখেন। শুরু থেকেই তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়ে আসছি। আমি দর্শকদের জন্যই কাজ করে যাব। তাদের ভালোবাসার চেয়ে বড় আর কিছু নেই।’

ইরানের দক্ষিণে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে বিপ্লবী গার্ড

ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা রেভল্যুশনারি গার্ড দেশের দক্ষিণে উপসাগরীয় এলাকায় মহড়া চালাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহড়াটি মূলত দক্ষিণ উপকূলকে কেন্দ্র করে হলেও ইরানের অন্যান্য অংশেও একইরকম মহড়া চলছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে, মহড়ায় ড্রোন, নৌযান, উভচর যান, স্থল থেকে সমুদ্রে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট এবং আর্টিলারি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এএফপি জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান দুই দফা আলোচনা শেষ করার পর এ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আবারও আলোচনায় বসবে দুই দেশ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছেন।

এএফপি জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

গত সপ্তাহে ইরানের নৌবাহিনী উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর আশপাশে আরেক দফা সামরিক মহড়া পরিচালনা করে।