26 C
Dhaka
Home Blog

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার ফার্স্টলুকে ট্রেনযাত্রায় নানা চরিত্রের গল্প

ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাচ্ছে তানিম নূর পরিচালিত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই ছবির অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশের পর এবার সামনে এলো ফার্স্টলুক। এতে ছবির প্রায় প্রতিটি চরিত্রের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।

হইচই বাংলাদেশ ও বুড়িগঙ্গা টকিজের ইউটিউব চ্যানেলসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফার্স্টলুকটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ফুটে উঠেছে এক নস্টালজিক রেলস্টেশনের আবহ—যেখানে ট্রেনযাত্রার ভেতর দিয়ে একে একে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন চরিত্রকে। এই ভ্রমণে সহযাত্রী হয়েছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, জাকিয়া বারী মম, সাবিলা নূর, আজমেরী হক বাঁধন, ইন্তেখাব দিনার, শ্যামল মাওলা, শরীফুল রাজসহ অনেকেই।

 

নির্মাতার কথায়, ‘হুমায়ূন আহমেদের গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের অনুভূতি, নিঃশব্দ যন্ত্রণা ও গভীর মানবিকতা। বনলতা এক্সপ্রেস সেই অনুভবেরই একটি ভিজুয়াল যাত্রা। এই সিনেমায় পুরো বাংলাদেশকে এক ট্রেনযাত্রার অভিজ্ঞতায় এবং একটি অভিন্ন অনুভূতিতে বেঁধে ফেলার চেষ্টা রয়েছে।

 

দেশের প্রেক্ষাগৃহে ঈদুল ফিতরে মুক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও ৩ এপ্রিল থেকে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে।

 

ইরানে সম্ভাব্য হামলার সময়সূচি নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্প

ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।

বুধবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ইরান ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা ও এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা বলেন, হামলা চালানো হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন—সামরিক বাহিনী শনিবারের মধ্যেই ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আলোচনা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, এই সপ্তাহের শেষেই যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা এখনো চলমান এবং পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল। হোয়াইট হাউস উত্তেজনার ঝুঁকি এবং সংযম প্রদর্শনের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিণতি বিবেচনা করছে।

একাধিক কর্মকর্তার মতে, আগামী তিন দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অভিযানে অগ্রসর হলে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু কর্মীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে সম্পদ ও জনবল স্থানান্তর করা পেন্টাগনের নিয়মিত প্রক্রিয়া।

সূত্রগুলোর একটির ভাষ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুই সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার জন্য সাক্ষাৎ করবেন।

বুধবার হোয়াইট হাউস ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অনেক কারণ ও যুক্তি উপস্থাপন করা যেতে পারে, তবে কূটনীতি সবসময়ই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ।

সম্ভাব্য হামলা ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে প্রশাসন ‘অত্যন্ত সফল একটি অভিযান’ পরিচালনা করেছিল।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোই ইরানের জন্য অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সিবিএস জানায়, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও তার যুদ্ধজাহাজবহর ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে রয়েছে। দ্বিতীয় রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও’ মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে।

সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ফোর্ড পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে অবস্থান করছিল।

মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চাইলে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়া’ সম্ভব ।

মঙ্গলবার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি ও মার্কিন আলোচকরা বৈঠক করেন। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে বুধবার লেভিট বলেন, ‘কিছু বিষয়ে আমরা এখনো বেশ দূরে অবস্থান করছি।’

গত জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এতে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিতে গুরুতর ক্ষতি হয়।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা শুরু করে—যা অস্ত্রমানের মাত্রা থেকে প্রযুক্তিগতভাবে অল্প দূরে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, পারমাণবিক বোমা না থাকা দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইরানই এ পর্যায় পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে যুক্তরাজ্য-ভারত-পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

আজ মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের পর এই প্রতিনিধিরা সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন—ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে, যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. বেরিস একিনচি, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়—প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ায় শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ও করেন।

এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে সাইমন ড্রিংয়ের প্রতিবেদনের পেছনের গল্প

‘আল্লাহ ও ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের’ নামে ঢাকা আজ একটি বিধ্বস্ত এবং ভীতসন্ত্রস্ত নগরী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২৪ ঘণ্টার নির্মম, ঠাণ্ডা মাথায় গোলাবর্ষণে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। বিশাল এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে নির্মমভাবে দমন করা হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার সংগ্রাম।

দেশের (পাকিস্তানের) সামরিক সরকারের প্রধান রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান দাবি করেছেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত। যদিও হাজারো মানুষ গ্রামাঞ্চলে পালিয়ে যাচ্ছেন। নগরীর রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য এবং বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন জায়গাতে এখনও হত্যাকাণ্ড চলছে। (ট্যাঙ্কস্ ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তানের ভাবানুবাদ, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, ৩০ মার্চ ১৯৭১) উপরে উল্লেখিত বিবরণ ছিল ১৯৭১ সালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে প্রকাশিত প্রথম কোন সংবাদের ভূমিকা। যাকে সাংবাদিকতার পরিভাষায় সংবাদ শীর্ষ, সংবাদ সূচনা বা ইনট্রো বলা হয়ে থাকে। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ লন্ডনভিত্তিক দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ সংবাদপত্র ট্যাঙ্কস্ ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান—শিরোনামে এই স্কুপ নিউজটি প্রকাশ করেছিল। ঐতিহাসিক এই প্রতিবেদন তৈরিতে সংবাদমাধ্যমটির একজন তরুণ সংবাদদাতা নিজের জীবন বিপন্ন করেছিলেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন পাকিস্তানি বর্বরতা। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন জন ড্রিং (১৯৪৫-২০২১)। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের একজন যুদ্ধ ও সংঘাত বিষয়ক সংবাদদাতা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তিনি একজন মানবতাবাদী দুঃসাহসী সাংবাদিক।

সায়মনের আরও একটি পরিচয় আছে। তিনি বাংলাদেশের আধুনিক সম্প্রচার সাংবাদিকতার প্রাণপুরুষ। তিনি একুশে টেলিভিশনের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টা সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল যমুনা টিভি ছিল তার শেষ কর্মস্থল। এই স্টেশনে তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধান সম্প্রচার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। সেই সময় আমি যমুনা টিভিতে একজন সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতাম। যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে একদিন বিকেলে তিনি আমাকে ১৯৭১ সালে ঢাকায় তার কাটানো ৩২ ঘণ্টারও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সময়ের গল্প বলেছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট নামের বর্বর গণহত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নের শুরুতে সায়মন ও এপির ফরাসি ফটোসাংবাদিক মিশেল লরেন্ট ঢাকা শহরে দুঃসাহসিক অভিযানে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা শহর তখন জ্বলছিল। রাস্তায় ছিল উদ্যত মেশিনগানসহ পাকিস্তানি সেনা জিপ। মানুষ যে যার মতো শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ১৯৭১ সালে এই দুই জনই ছিলেন প্রথম কোনো বিদেশী সাংবাদিক যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুরাতন ঢাকা, রমনা কালী মন্দির, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৩২ নম্বর বাড়ি এবং অন্যান্য স্থান থেকে সরেজমিন সংবাদ ও ছবি সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৭১ সালের মার্চে সায়মন জন ড্রিং দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে কম্বোডিয়ার সংঘাত কভার করছিলেন। সেই সময় পলপটের খেমাররুজ বাহিনী দেশটির সরকারি সেনাবাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ সম্পাদক লন্ডন থেকে সায়মনকে ফোন করে পূর্ব পাকিস্তানের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি বর্ণনা করেন। পরে অফিস থেকে সিদ্ধান্ত হয় সায়মন ঢাকার উদ্ভূত পরিস্থিতি কভার করবেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সী তরুণ সাংবাদিক সায়মন জন ড্রিং ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ ঢাকায় পৌঁছান।

ঢাকা ছিল সায়মনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক শহর। আওয়ামী লীগের ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন চলছে। রাস্তায় মিছিল, গুলিতে মানুষ মরছে। প্রতি রাতে মশাল মিছিল। একেবারে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। নতুন দেশ, অপরিচিত মানুষ, অচেনা পরিবেশ। সয়মনের জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল বাংলা ভাষা বুঝতে পারা। তবে একটি বিষয়ের সঙ্গে তার পূর্ব অভিজ্ঞতার মিল ছিল। অতীতে সায়মন অনেক যুদ্ধ এবং সংঘাত কাভার করেছেন। তিনি সংঘাত ও সামরিক অভিযানের আগে-পরের পরিস্থিতি ভালো বুঝতেন। ঢাকায় মাত্র এক রাত কাটানোর পর সায়মন ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ কভার করেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি বাংলা ভাষা বুঝতেন না। অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে দোভাষীর ব্যবস্থাও করা সম্ভব হয়নি। যদিও রেসকোর্স ময়দানের জনস্রোত, প্রতিবাদ, অভিব্যক্তি, উৎসাহ আর ‘জয় বাংলার’ সমুদ্র গর্জন শুনে তিনি খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন, সামরিক শক্তি দিয়ে এই জাতিকে দমন করা সম্ভব নয়।

৭ মার্চের পর সায়মন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাথে বেশ কয়েকবার দেখা করেন। তিনি জানিয়েছেন, শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তার সেই সাক্ষাৎকারগুলো দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রকাশিত প্রতিবেদন তৈরির জন্য খুবই সহায়ক ছিল।

এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বিকেলে সায়মন এবং ঢাকায় থাকা প্রায় ২০০ বিদেশী সাংবাদিক জানতে পারেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান অনেকটা গোপনে ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন। সেসময় শহরে প্রবল গুঞ্জন ছিল ইয়াহিয়া খান ইতিমধ্যেই সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। সায়মন তখন স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে, ‘চিপস আর ডাউন’ (খুব খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে)। সায়মনের অনুমান ঠিক ছিল—সে রাতেই ঢাকার বুকে পরিচালিত হয় হালাকু খানের তাণ্ডব। বর্বর জিঘাংসায় ঢাকা নগরীকে ধ্বংস করতে নামে পাকিস্তানি সেনারা। যার প্রতিফলন ছিল সায়মন জন ড্রিং-এর ঐতিহাসিক ওই প্রতিবেদনে।

ট্যাঙ্কস্ ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান—শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে সায়মন পরের দিকে আরও লিখেছেন, ছাত্রদেরও সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু ঔই রাতে তখনও যারা আশেপাশে ছিলেন তাদের ধারণা ছিল কেবল গ্রেপ্তার করা হবে। মধ্যরাতের আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এম-২৪ ট্যাঙ্ক নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা রাস্তায় নেমে পরে। যে ট্যাঙ্কগুলো আমেরিকানরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। মধ্যরাতের পরপরই এক কলাম সৈন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটে আসে। সৈন্যরা ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরি এলকা দখলে নেয়। এরপর সেখান থেকে আশেপাশের ছাত্রাবাস এলাকায় গোলাগুলি চালায়। সম্পূর্ণ আকস্মিক এই আক্রমণে ইকবাল হলের (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) বিস্মিত প্রায় ২০০ ছাত্র নিহত হন। দুর্বার অসহযোগ আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি—ছাত্র সংগঠনগুলোর ঘাঁটি ছিল এই আবাসিক হল। এর ভবনে শেল বিস্ফোরিত হয় এবং হলের কক্ষগুলোতে মেশিনগানের গুলি ছোঁড়া হয়। (ট্যাঙ্কস্ ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তানের ভাবানুবাদ, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, ৩০ মার্চ ১৯৭১) এটিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণহত্যার প্রথম বিবরণ যা একজন বিদেশী সাংবাদিক হিসেবে প্রথম লিপিবদ্ধ করেছিলেন সায়মন জন ড্রিং।

এই সাংবাদিক আরও জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিকের চোখ ফাঁকি দেওয়ার পর ২৭ মার্চ তিনি ও মিশেল সরেজমিন ঢাকা শহরের পরিস্থিতি দেখতে বের হয়েছিলেন। সেদিন কিছু সময়ের জন্য কারফিউ শিথিল ছিল। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বাঙালি কর্মচারীরা সায়মন ও মিশেলকে একটা বেকারি ভ্যানের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। আর তারা দুজনই পশ্চিমা পোশাক পাল্টে পড়েছিলেন পাজামা ও পাঞ্জাবি। সাময়নের ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ঔই বাঙালি কর্মচারীরা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই জন বিদেশী সাংবাদিককে লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং পরে সংবাদ সংগ্রহে সহযোগিতা করেছিলেন।

ঐতিহাসিক ওই প্রতিবেদনে পরের দিকে উঠে আসে অপারেশন সার্চলাইটের আরও ভয়াবহ চিত্র। এতে বলা হয়—বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রমণ চালানোর সঙ্গে সঙ্গে শহরের অন্য প্রান্তে পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের রাজারবাগ সদর দপ্তরের সামনে আরেকটি সেনাদল পৌঁছে যায়। প্রথমে ট্যাঙ্ক থেকে গুলি চালানো হয়। তারপর সৈন্যরা সেখানে প্রবেশ করে এবং ভবনগুলিতে আগুন লাগানোর জন্য বিশেষ ধরনের গুলি চালায়।

সে সময় কতজন মারা গেছেন তা জানা যায়নি। এমনকি পুলিশ সদরদপ্তরের (রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স) বিপরীতে বসবাসকারী লোকেরাও ঠিক জানে না হতাহতের সংখ্যা। তবে সেখানে থাকা ১০০ জন পুলিশের মধ্যে খুব বেশি পুলিশ পালিয়ে যাননি বলে মনে করা হয়। (ট্যাঙ্কস্ ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তানের ভাবানুবাদ, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, ৩০ মার্চ ১৯৭১)

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, অপারেশন সার্চলাইটের প্রথম পর্যায়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাঙালি পুলিশ সদস্যরা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। আর যুদ্ধ কৌশল হিসেবে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছিল ব্যারাকের ছাদে। সমরবিদ্যায় সেটা ছিল বেশ সুবিধাজনক অবস্থান। যে কারণে পাকিস্তানি সেনারা প্রথম আক্রমণের পর বিশেষ যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে ব্যারাকে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনের প্রচণ্ড তাপে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

ট্যাঙ্কস্ ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান প্রতিবেদনে সায়মন দুটি স্বাধীনতাপন্থী সংবাদপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। সায়মন জন ড্রিং আবিদুর রহমানের দ্য পিপলের উপর আক্রমণের বর্ণনা ঠিক এভাবে দিয়েছেন, … [শহরের] কিছু এলাকায় তখনও ভারী গোলাবর্ষণ চলছিল। কিন্তু লড়াই লক্ষণীয়ভাবে ধীর হতে শুরু করেছিল। এক পর্যায়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বিপরীতে এক প্লাটুন সৈন্য ঢাকার ‘পিপল’(দ্য পিপল) পত্রিকার খালি জায়গায় হামলা চালায়। এলাকার বেশিরভাগ বাড়িঘরসহ এটি (দ্য পিপল) পুড়িয়ে দেয় এবং একজন একাকী রাতের প্রহরীকে হত্যা করে। (ট্যাঙ্কস্ ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তানের ভাবানুবাদ, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, ৩০ মার্চ ১৯৭১)

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে শুরু হওয়া অপারেশন সার্চলাইটের বড় লক্ষ্য ছিল হিন্দু অধ্যূষিত পুরাতন ঢাকা। সায়মন ও মিশেল প্রায় প্রাণ হাতে নিয়ে এই এলাকায় গিয়েছিলেন সংবাদের জন্য তথ্য ও ছবি সংগ্রহে। প্রতিবেদনের পরের দিকে সায়মন বর্ণনা দিয়েছেন পুরাতন ঢাকায় পাকিস্তানি বর্বরতার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার পুরো অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ডের একটি ঘটেছিল পুরাতন ঢাকার হিন্দু এলাকায়। সেখানে সৈন্যরা লোকজনকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে এনে দলে দলে গুলি করে। (ট্যাঙ্কস্ ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তানের ভাবানুবাদ, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, ৩০ মার্চ ১৯৭১) এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, পাকিস্তান সেনা কর্তৃপক্ষ বরাবরই পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনকে ভারতীয় ষড়যন্ত্র, হিন্দুদের ষড়যন্ত্র হিসেবে চিত্রিত করেছে। যে কারণে হিন্দুদের উপর পাকিস্তানি সেনাদের প্রবল আক্রোশ ছিল। সে কারণেই পুরাতন ঢাকার হিন্দু এলাকাগুলির এই ভয়াবহ বর্ণনা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। সায়মন এবং মিশেলই জানতে পারেন যে, ২৬শে মার্চ মধ্যরাতে এই এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আক্রমণ চালায়। সেসময় পুরাতন ঢাকায় প্রায় ৭০০ মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। সায়মনের ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ডের সময় যারা বাড়ির ভিতরে লুকিয়ে ছিলেন তাদের অনেককেই জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়।

বিধ্বস্ত, অনেকটা মৃত নগরীর খবর এবং ছবি সংগ্রহের পর সায়মন ও মিশেল ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজা শুরু করেন। সেই সময় পাকিস্তান এয়ারলাইন্স (পিআইএ) প্রচুর অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। সেই জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানে যাত্রী পরিবহনের জন্য টিকিটের বিপরীতে নম্বর ইস্যু করা হতো। সায়মন ও মিশেলের কাছে টিকিট ছিল কিন্তু নম্বর ছিল না। ভাগ্যক্রমে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে থাকা দুই জার্মান নাগরিক তাদের দুটি নম্বর দেন। তারপর তারা পরিকল্পনা করেন কীভাবে ক্যামেরার ফিল্ম এবং সংবাদের নোট অক্ষত রাখা যায়। সেই শ্বাসরুদ্ধকর সময়ে সায়মন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের অফিসে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সহযোগিতা করেনি। অভিজাত ব্রিটিশদের মতো আচরণ করে দূতাবাসের কর্মকর্তারা বেশ অপমানজনকভাবে বলেছিলেন, কোনও উপায় নেই। তবে ঢাকার পূর্ব জার্মান দূতাবাস অফিস সায়মনকে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। তারা কূটনৈতিক ট্যাগসহ ক্যামেরার রিল পাঠাতে রাজি হয়। সায়মন এবং মিশেল পূর্ব জার্মান হাইকমিশনে অর্ধেক রিল (৯টি রোল) জমা দিয়েছিলেন। কথা ছিল ছবিগুলো বন শহরে (পশ্চিম জার্মার্নির রাজধানী) পৌঁছানোর পর এপির কর্মকর্তারা সেগুলো নিয়ে যাবেন। কিন্তু তা হয়নি। পাকিস্তানি গণহত্যার সেই মূল্যবান ছবিগুলো চিরতরে হারিয়ে যায়। সেগুলো কখনো জার্মানিতে পৌঁছায়নি।

ঢাকা বিমানবন্দরে সায়মন এবং মিশেলের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ। সাইমন সত্যিই ভীত ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সেদিন বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা দায়িত্বে ছিলেন। তাই সেই কর্মকর্তারা তাদের চিনতে পারেননি। মিশেল এবং সায়মন আলাদাভাবে কাস্টমসে যান। সব ব্যাগ ঠিকমতো পরীক্ষা করা হয়। কর্মকর্তারা ব্যাগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কিছু মানচিত্র পান। তাদের সন্দেহ বেড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ চলতে থাকে। তবে সে যাত্রায় কিছু বই সায়মন এবং মিশেলকে বাঁচিয়েছিল। সায়মন অফিসারকে বলেছিলেন, তাঁরা পর্যটক, পূর্ব পাকিস্তান ভ্রমণে এসেছিলেন। ঢাকা বিমানবন্দরে তারা কোনমতে বেঁচে যান। সাময়ন জুতার মোজা এবং টুথপেস্ট টিউবে কিছু ছবির ফিল্ম এবং রিপোর্টিং  নোট লুকিয়ে রেখেছিলেন। সেগুলো নিয়ে কোনমতে তারা ঢাকা ছাড়েন।

১৯৭১ সালে ভারতীয় আকাশসীমায় পাকিস্তানি বিমান নিষিদ্ধ থাকায় পাকিস্তানি বাণিজ্যিক বিমানগুলি কলম্বো হয়ে চলাচল করতো। সায়মন ঢাকা থেকে সিলন (এখন শ্রীলঙ্কা) পৌঁছান। সেখানে এক ঘন্টার ট্রানজিট ছিল। তিনি ব্রিটিশ হাইকমিশনে ফোন করেন। কিন্তু ফলাফল একই। কিন্তু হাইকমিশন বলা হয়, দুঃখিত! কোনও সাহায্য করার সুযোগ নেই। সায়মন ও মিশেল উঠে পড়েন করাচীগামী বিমানে। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরও বড় বিপদ।

করাচিতে সাময়ন ও মিশেলের সব লাগেজ খোলা হয়। পরীক্ষা করা হয় তন্নতন্ন করে। সেখানকার অফিসাররা তাদেরকে সাংবাদিক সন্দেহ করেছিলেন। সায়মনকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করা হয়েছিল। পরীক্ষা করা হয় তার পায়ুপথও। তবে সেখানেও সায়মন চালাকি করে মোজা খুলেছিলেন। যাতে মোজার ভেরতেই সংবাদ প্রতিবেদনের নোটগুলি থাকে। সায়মনের ধারণা ছিল মেজর সিদ্দিক সালিকের কোন এক বার্তার প্রেক্ষিতে তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ চেক-আপ চলছিল। তবে এক পর্যায়ে করাচির কর্মকর্তারা তাদের ছেড়ে দেয়। করাচি থেকে প্যান অমেরিকা এয়ালাইন্সের বিমানটি ব্যাংককের উদ্দেশ্যে আকাশে উড়ে যায়।

বিমানের ভেতেরেই জুতার ভেতর থেকে নোটগুলি বের করে সংবাদ লিখতে শুরু করেন সায়মন জন ড্রিং। ছোট ছোট, দুমড়ে মুচড়ে দলা পাকা নোটগুলির সাহায্যেই লেখা হতে থাকে বাংলাদেশের উপর পাকিস্তানি গণহত্যার প্রথম প্রতিবেদন। যার শিরোনাম ‘ট্যাঙ্কস ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’। এটি এখন বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ।

সাংবাদিক সায়মন জন ড্রিং ২০২১ সালের জুলাইয়ে ৭৬ বছর বয়সে রোমানিয়ায় মারা যান।

(লেখক, সহকারী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)  

(দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, দ্য ডেইলি স্টার কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার দ্য ডেইলি স্টার নেবে না।)

1.    Tanks Crush Revolt in Pakistan (30th March, 1971), The Daily Telegraph. London.

2.    সাক্ষাৎকার, সায়মন জন ড্রিং (২০১৩), ঢাকা।

3.    ‘Simon Dring, reporter who covered conflicts around the world and was made an honorary citizen of Bangladesh – obituary’ (2 July 2021), The Telegraph (online), Retrieved on 08-12-2025, https://www.telegraph.co.uk/obituaries/2021/07/22/simon-dring-reporter-covered-conflicts-around-world-made-honorary/

বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করে সিরিজে ফিরল পাকিস্তান

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। বৃষ্টি নামার আগেই শাহিন শাহ আফ্রিদির তোপে হারিয়ে ফেলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে স্কোরবোর্ডে তখন রান মাত্র ১৫, চাপটা তখন থেকেই স্পষ্ট। পরে বৃষ্টি আইনে লক্ষ্য হয়ে যায় আরও কঠিন।

তবে একপর্যায়ে লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল, ম্যাচে ফেরার লড়াইটা জমে উঠতে পারে। কিন্তু সেই আশা বেশি দূর এগোয়নি। হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাতের দুর্দান্ত বোলিংয়ে এই জুটি ভাঙার পরই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন-আপ। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই হার মানতে হয় স্বাগতিকদের।

শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে হারায় পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান করে তারা। জবাবে ২৩.৩ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচের এমন দাপুটে জয়ে সিরিজে ফিরে এলো সফরকারী দলটি।

বৃষ্টির পর তাওহিদকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন লিটন। ৪৮ রানের জুটিও গড়েন তারা। কিন্তু সাদাকাতের বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পরেন লিটন। যদিও আম্পায়ার শুরুতে আউট দেননি। রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায় পাকিস্তান। তার বিদায়ের পর ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ। কেউ দায়িত্ব নিতে পারেননি। ৪১ রান তুলতেই হারায় শেষ ৭ উইকেট।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। তাওহিদ করেন ২৮ রান। এ দুই ব্যাটার ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন সাইফ হাসান ও আফিফ হোসেন। ফলে বড় ব্যবধানেই হারতে হয় টাইগারদের। 

পাকিস্তানের পক্ষে ২৩ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন সাদাকাত। এছাড়া ৩টি শিকার করেন হারিস রউফও। শাহিন শাহ নেন ২টি উইকেট।

এর আগে টস জিতে আগের ম্যাচের মতোই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মিরাজ। তবে শুরুটা আশানুরূপ হয়নি স্বাগতিকদের জন্য। আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকার করা নাহিদ রানা এদিন শুরুতে ছিলেন ছন্নছাড়া। সেই সুযোগে পাকিস্তানি দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত রীতিমতো তান্ডব চালান। তাতে মাত্র ১২.২ ওভারেই দলীয় শতরান পূর্ণ করে পাকিস্তান।

তবে দ্রুতই ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় বাংলাদেশ। ব্রেক-থ্রু এনে দেন খোদ অধিনায়ক মিরাজ; সাজঘরে ফেরান ভয়ংকর হয়ে ওঠা সাদাকাতকে। এরপরই পথ হারায় পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদের বলে ফারহান এবং নাহিদ রানার শিকারে পরিণত হয়ে শামিল হোসেন বিদায় নিলে ১২২ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা। চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা মিলে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন। এই জুটিতে আসে ১০৯ রান, যা পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল।

কিন্তু ম্যাচের সব নাটকীয়তা যেন জমা ছিল ইনিংসের ৩৯তম ওভারের জন্য। মিরাজের একটি ডেলিভারি রিজওয়ান বোলারের দিকে ঠেলে দিলে মিরাজ সেটি পা দিয়ে থামান। এসময় নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান আগা অনেকটা অসতর্কভাবেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং বলটি কুড়িয়ে মিরাজের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল তখনো ‘ডেড’ হয়নি দেখে উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন মিরাজ; দ্রুত বল তুলে নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দেন। আম্পায়ারদের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর নিয়ম অনুযায়ী সালমানকে আউট ঘোষণা করা হলে মাঠে গড়ায় চরম উত্তেজনা।

৬২ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে এভাবে বিদায় নেওয়াটা মেনে নিতে পারেননি সালমান। সাজঘরে ফেরার আগে মিরাজের সঙ্গে তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় রাগে-ক্ষোভে হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে মারতেও দেখা যায় এই ব্যাটারকে। সালমানের এই বিতর্কিত বিদায়েই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপ। একই ওভারে মিরাজকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েন থিতু হওয়া রিজওয়ানও (৪৪)।

এরপর আর কেউই দলের হাল ধরতে না পারায় ১৫ বল বাকি থাকতেই ২৭৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে বোর্ডে মাত্র ৪৩ রান যোগ করতে পেরেছে পাকিস্তান, এমনকি পুরো ৫০ ওভারও টিকতে পারেনি তারা

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ রান আসে সাদাকাতের ব্যাট থেকে; মাত্র ৪৬ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় এই বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৫৬ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। অধিনায়ক মিরাজ নেন ২টি উইকেট।

ব্যাংকারদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ

জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ বুধবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধানদের এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চিঠিতে চলমান পরিস্থিতিতে গ্যাস ও জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

এ অবস্থায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাখা, উপশাখা ও অন্যান্য অফিসে বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত করতে হবে। 

দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনে লাইট ও এসি বন্ধ রাখতে হবে। এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না।

ব্যাংকগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয়ে গাড়ির জ্বালানি খরচ কমাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রমণে মিতব্যয়িতা অবলম্বন করতে হবে। 

কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার এবং সম্ভব হলে গাড়ি শেয়ারিংয়ের কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত যথাসম্ভব সীমিত করতে হবে।

ব্যাংক ভবনের আলোকসজ্জা ও প্রচারণামূলক বৈদ্যুতিক ডিসপ্লে বোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সূচি ও বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। 

এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। বিদ্যুৎ জেনারেটরে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। 

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারায় এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানে হামলা: খামেনির শোক বইয়ে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্বাক্ষর

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

আজ শুক্রবার ঢাকায় ইরান দূতাবাসে গিয়ে জামায়াতের পক্ষে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

তারা দুজনেই ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদীর উপস্থিতিতে নিজ নিজ দলের পক্ষে এই হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

এ সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ‘মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে প্রভাবশালী মুসলিম ধর্মীয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে পরওয়ার বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে অসংখ্য নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য বা স্বার্থ কখনোই নিরপরাধ মানুষের জীবনহানিকে বৈধতা দিতে পারে না।’

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম, প্রজ্ঞা ও মানবিকতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান।

শোক বইয়ে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ঐক্য কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান বর্তমান পরিস্থিতি অতিক্রম করে দ্রুত স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং দেশটির সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

মামুনুল হকের সঙ্গে ছিলেন দলের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব ফরিদ খান।

শনিবার ইরানজুড়ে হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার স্ত্রী-কন্যা, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন।

ওই হামলার জেরে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, সেখানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন। আছে শিশু ও সাধারণ নাগরিক।

ঈদে আসছে নিশোর ‘দম’, প্রকাশ পেল ফার্স্টলুক পোস্টার

আসন্ন ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় দর্শকদের জন্য চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত সিনেমা ‘দম’ সিনেমার নিয়ে তিনি হাজির হচ্ছেন ভিন্ন রূপে।

আজ রোববার দুপুরে প্রকাশ পেয়েছে ছবিটির বহুল প্রতীক্ষিত ফার্স্টলুক পোস্টার, যা ইতোমধ্যেই দর্শক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে।

রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে চঞ্চল চৌধুরীকে। আর নিশোর বিপরীতে দেখা যাবে পূজা চেরিকে।

প্রকাশিত পোস্টারে লেখা আছে

‘শুধু লড়াই নয়, অস্তিত্বের প্রশ্ন!
যত বাধাই আসুক, দম থাকলে ঠেকায় কে?’

সিনেমাটি প্রসঙ্গে নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘দম একজন সাধারণ মানুষের জ্বলে ওঠার গল্প। বলতে পারেন, ‘পাওয়ার অব অ্যা কমন ম্যান’ নিয়ে কাজ করেছি। অনেক বছর ধরেই এমন গল্পের খোঁজে ছিলাম। চরিত্রটির মধ্যে এমন এক শক্তি আছে, যা শুধু আমাকে নয়, দর্শকদের জীবনেও অনুপ্রেরণা জোগাবে।’

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নির্মিত এই সিনেমা বড় পর্দায় কতটা আলোড়ন তুলতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

নথি ফাঁস, গাজায় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের যে পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন

গাজায় প্রায় ৫ হাজার সেনার জন্য একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রায় সাড়ে ৩০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হবে এই ঘাঁটি।

‘বোর্ড অব পিস’ সংক্রান্ত ফাঁস হওয়া একটি ঠিকাদারি নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

নথির বরাতে আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ (আইএসএফ)-এর সামরিক অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত হবে ঘাঁটিটি।

নথিতে ধাপে ধাপে একটি সামরিক আউটপোস্ট নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। যার চূড়ান্ত আয়তন হবে দৈর্ঘে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার ও প্রস্থে ১ হাজার ১০০ মিটার।

কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা থাকবে পুরো ঘাঁটি। এতে থাকবে ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার, ছোট অস্ত্র প্রশিক্ষণ রেঞ্জ, বাঙ্কার ও সামরিক সরঞ্জাম রাখার গুদাম।

ঘাঁটির জন্য দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতল এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ইসরায়েলি বোমা হামলার ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।

নথিতে ৬ মিটার লম্বা, ৪ মিটার প্রস্থ ও আড়াই উচ্চতার বাঙ্কার নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। যেখানে উন্নত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা থাকবে, যেন যুদ্ধাবস্থায় সেনারা আশ্রয় নিতে পারে।

পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, যুদ্ধাঞ্চলে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন কয়েকটি আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিকে ইতোমধ্যে গাজায় সরেজমিন পরিদর্শনে নেওয়া হয়েছে।

নথিতে ভূগর্ভস্থ ফাঁকা স্থান বা সুড়ঙ্গ শনাক্তে জরিপ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গার্ডিয়ান বলছে, গাজাজুড়ে হামাসের বিস্তৃত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে নথিতে।

নথির একটি অংশে ‘মানব দেহাবশেষ প্রোটোকল’-এর বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের সময় মানবদেহাবশেষ বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে কাজ বন্ধ রাখতে হবে।

গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার তথ্য মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে।

ঘাঁটির জন্য নির্ধারিত জমির মালিকানা স্পষ্ট নয়। তবে দক্ষিণ গাজার বড় অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে।

এ ব্যাপারে ফিলিস্তিনি-কানাডীয় আইনজীবী ডায়ানা বুত্তু গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি সরকারের অনুমতি ছাড়া তাদের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ দখলদারত্বের শামিল।’

এ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণে তারা কার অনুমতি নিয়েছে, এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনার অধিকাংশই হয় এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যালে, সরকারি ইমেইলে নয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। তবে তিনি গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘মার্কিন সেনা গাজার মাটিতে নামবে না বলে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফাঁস হওয়া কোনো নথি নিয়ে আমরা আলোচনা করব না।’

প্রধানমন্ত্রীর পিএস আশরাফ রেজা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিনের সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন বা মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে তার একান্ত সচিব-১ পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন, ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে।

জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপর এক আদেশে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. উজ্জল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকল অফিসার-১ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।