28 C
Dhaka
Home Blog

সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ালো কাতার

মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ শেষের পথে এমন সব ধরনের এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে উদ্ভূত বিমান চলাচল সংকটের কথা বিবেচনা করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। 

এতে বলা হয়, যেসব ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে কিংবা শেষের পথে, সেগুলোর মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বাড়ানো হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই এবং কোনো বাড়তি আবেদন বা ফি-ও লাগবে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সেবা পাওয়া যাবে।

তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে যে, যাদের ভিসার মেয়াদ গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে শেষ হয়েছে এবং আইন ভঙ্গ করেছেন, তাদের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা দিতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে কাতারগামী অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী নিজ দেশে আটকা পড়েছেন। সময়মতো ফ্লাইট ধরতে না পারায় অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। কাতারের এই সিদ্ধান্তে তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি।

পদত্যাগ করলেন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী আজ বুধবার পদত্যাগ করেছেন। ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে সাজ্জাত আলী ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালে ষষ্ঠ বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন।

এদিকে গতকাল ১৫তম বিসিএসের কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই নিয়োগের পরদিনই ডিএমপি কমিশনারের পদত্যাগের খবর এলো।

সাজ্জাত আলী ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে পুলিশের বিভিন্ন সূত্র বলছে, আগামী নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসা এবং তার চেয়ে কনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চীনা বুলেট ট্রেনের নতুন রেকর্ড, ৫.৩ সেকেন্ডে গতি ৮০০ কিলোমিটার

চীনে একটি পরীক্ষামূলক বুলেট ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটারে উঠতে সময় লেগেছে মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ড, যা নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে নতুন এ রেকর্ডের তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ১ দশমিক ১ টন ওজনের পরীক্ষামূলক ট্রেনটি চীনের হুবেই প্রদেশে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ট্র্যাকে পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছানোর পর প্রায় ২০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে নিয়ন্ত্রিতভাবে এটিকে থামানো হয়।

ম্যাগনেটিক লেভিটেশন (ম্যাগলেভ) প্রযুক্তি বা চৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে ট্রেনটিকে ট্র্যাকের ওপর ভাসিয়ে রাখা হয়। এ কারণে চীনের এই বুলেট ট্রেন, ম্যাগলেভ ট্রেন নামেও পরিচিত।

 

এই ট্রেনের কোনো চাকা থাকে না, ফলে ঘর্ষণ হয় না এবং তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে ট্রেনটিকে সামনে এগিয়ে চলে।

China tests new bullet train that goes from 0 to 800 kmph in 5 SECONDS

It is a new maglev record pic.twitter.com/RUzneiBZ9s

— RTBreaking (@RT_Breaking) August 14, 2026

গবেষকরা জানান, ম্যাগলেভ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রেনকে ভাসিয়ে রাখা, গতি বাড়ানো, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ট্রেনকে সম্পূর্ণ থামানোর পরীক্ষা করছেন তারা।

এর আগে ২০২৫ সালের জুনে প্রথম এই ট্রেনটির পরীক্ষা করা হয়। সে সময় মাত্র ৭ সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল এটি।

এরপরের পরীক্ষাগুলোতে গতি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার এবং সর্বশেষ ৭৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল।

গত ছয় মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই ট্রেন স্বল্প দূরত্বে গতি বৃদ্ধির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে এই প্রযুক্তির ট্রেন এখনো যাত্রী পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়নি।

তবে আগামীতে উচ্চগতি ও উৎক্ষেপণ কাজে ম্যাগলেভ প্রযুক্তি ব্যবহারের আশা করছেন গবেষকরা।

কম চাপ বা প্রায় শূন্য চাপের টিউবের ভেতরে চলতে পারে এমন ম্যাগলেভ যান নিয়েও গবেষণা করছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, এ ধরনের ব্যবস্থা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে চালু করার আগে বেশ কিছু বড় বাধা পার হতে হবে।

এর মধ্যে রয়েছে—অবকাঠামো নির্মাণের বিপুল ব্যয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘ দূরত্বে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ট্র্যাক নির্মাণের জটিলতা।

দশজনের দল নিয়ে ঘটনাবহুল ‘থ্রিলার’ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

দুই পেনাল্টি, লাল কার্ড, একের পর এক উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে এক অবিশ্বাস্য, শ্বাসরুদ্ধকর ফুটবল ম্যাচের সাক্ষী হলো মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়াম। স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও রোমাঞ্চকর জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড।

সোমবার বাংলাদেশ সময় সকালে শুরু হওয়া ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতেছে ৩-২ গোলে। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান হ্যারি কেইন। মেক্সিকোর দুই গোলদাতা হুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেজ। 

ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারির গর্জন কান পাতাই দায় করে তুলেছিল। তবে খেলার ধারার বিপরীতে প্রথমার্ধের ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে বেলিংহামের ব্যাক-টু-ব্যাক দুই গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই গোল করে ২৩ বছর বয়সী বেলিংহাম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বকনিষ্ঠ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে জোড়া গোলের রেকর্ড গড়েন। ৪২ মিনিটে গ্যালারিতে প্রাণ ফেরান মেক্সিকোর কিনোনেস, ক্লোজ রেঞ্জ থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। ৫৩ মিনিটে মেক্সিকোর গ্যালার্দোকে বিপজ্জনক ফাউল করায় ভিএআরে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ানসা। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ড অবশ্য দমে যায়নি। ৫৮ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। সফল স্পট-কিকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

তবে মেক্সিকোর আক্রমণভাগের চাপ ছিল দেখার মতো। ৬৯ মিনিটে বক্সের ভেতর কেইনের ফাউল দেখে আবার ভিএআরে আসে পেনাল্টি। সেকান থেকে মেক্সিকোর স্ট্রাইকার হিমেনেস গোল করলে ম্যাচ আবার জমে ওঠে (৩-২)। শেষ ১৫ মিনিটে ডিফেন্ডার ড্যান বার্নকে নামিয়ে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষ দিকে যোগ করা হয় রেকর্ড ১১ মিনিট।

যোগ করা সময়ে মেক্সিকোর গোলরক্ষক পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ডি-বক্সে চলে আসেন। মেক্সিকোর একের পর এক কর্নার ও আক্রমণ রুখে দেন জন স্টোনস ও গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। শেষ পর্যন্ত রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে আসতেকার মাঠেই ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।

 

পাকিস্তানপন্থীদের মন্ত্রী-এমপি করেছে বিএনপি, ক্ষমা চাইব কেন: গোলাম পরওয়ার

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন ব্যক্তিকে মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী করেছিল। তাই এ বিষয়ে জবাব বিএনপিকেই দিতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

গত রোববার জাতীয় সংসদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার জন্য জামায়াতকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। 

মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। ক্ষমা আপনার বাবাকে কবর থেকে চাইতে বলেন। কারণ আমরা অপরাধ করি নাই, ক্ষমা চাইব কেন? আপনার বাবা অপরাধী, এই অভিযোগ আছে। সুতরাং কথা সতর্কভাবে বলা উচিত।’

একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে আনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা বলে জামায়াতের ওপরে ভূত চেপেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার আর সরকারি দলের ওপরে ভূত চেপেছে। বিএনপি মহাসচিবের মাথায়ও মাঝে মাঝে ভূত চাপে। কিছুদিন গেলেই ৫০-৬০ বছরের পুরোনো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়কে সামনে এনে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেন।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেই পাকিস্তান আমলে সেই সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক রাজনৈতিক দল ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচার জন্য কী ভূমিকা পালন করেছিল, সেই দলের সে সময়কার নেতৃবৃন্দ তার ব্যাখ্যা, তার বক্তব্য জাতির সামনে তারাই তখন দিয়েছিল। তারা এখন অনেকেই দুনিয়াতে নেই। সেই ব্যাখ্যা কারও পছন্দ হতে পারে, না–ও হতে পারে, সেটা রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে।’

বিএনপির সঙ্গে অতীতের জোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এখন যে প্রশ্ন বিএনপি তুলছে, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সময় তাদের সেই অবস্থান কোথায় ছিল? খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয়, ১৮-দলীয় ও ২০-দলীয় জোটে প্রায় ২০-২২ বছর বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে রাজনীতি করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় গোলাম আযমের বাসায় বিএনপি নেতারা জামায়াতের সমর্থন চাইতে গিয়েছিলেন। চারদলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা একসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন, লংমার্চ করেছেন। তখন একাত্তরের প্রশ্ন তাদের মনে ছিল না।’

১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে জামায়াতের সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ক্ষমতায় গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যা শুরু করেছিল ছাত্রদল। এটাই কি বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিদান?’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘যখনই জামায়াতকে মোকাবিলা করার যুক্তি ও নৈতিকতা থাকে না, তখন পুরোনো কাসুন্দি টেনে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। জামায়াতের বিরুদ্ধে যৌক্তিক সমালোচনার কিছু না পেয়ে পুরোনো মীমাংসিত বিষয় বারবার সামনে আনা হচ্ছে। তবে তারা যে আশায় এগুলো করছে, সেই আশা পূরণ হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দু–একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের সংবাদপত্র সরাসরি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এমনভাবে প্রতিবেদন তৈরি করছে, যাতে মনে হয় তারা রাজনৈতিক দলের মুখপত্রের ভূমিকা পালন করছে। তারা যদি বিএনপির রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়ে থাকে, তাহলে সেটি ঘোষণা দেওয়া উচিত।’

ফ্যাসিবাদ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এসব সংবাদপত্র তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তার ভাষ্য, সে সময় তারা নির্লজ্জভাবে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করে তারা রূপ পরিবর্তন করে ফেলেছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘অতীতে বিভাজনের রাজনীতির কারণে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। আবার বর্তমান সরকার নেপথ্যে থেকে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে।’

 

‘এফডিসিতে চুপিচুপি কেঁদেছিলাম’

ষাটের দশকের রোমান্টিক নায়িকা শবনম। তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় এহতেশামের উর্দু সিনেমা ‘চান্দা’র মাধ্যমে। বাংলা চলচ্চিত্রে তার আবির্ভাব ঘটে ‘হারানো দিন’ সিনেমায়। প্রথম সিনেমাতেই করেন বাজিমাত।

‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় অভিনয় করে পান আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। এই সিনেমার ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে’ গানের মাধ্যমে কোটি সিনেমাপ্রেমীর মনে জায়গা করে নেন তিনি।

নায়ক রহমান ও শবনম ছিলেন ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত জুটিগুলোর একটি। এর বাইরে রাজ্জাকসহ তৎকালীন অনেক নায়কের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, পাকিস্তানের চলচ্চিত্রেও অত্যন্ত সফল ছিলেন শবনম। সেখানে অভিনয় করে ১৩ বার পেয়েছেন ‘নিগার পুরস্কার’।

তবে ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমায় নামভূমিকায় অভিনয় করার পর তাকে আর রুপালি পর্দায় দেখা যায়নি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে শবনম বলেন, ‘নায়িকা হিসেবে আমার প্রথম সিনেমা হারানো দিন ভীষণ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। আবার আমার শেষ সিনেমা আম্মাজানও সুপারডুপার হিট। তাই বলতেই পারি, সিনেমায় আমার প্রথম এবং শেষ—দুটোই কালজয়ী হয়ে আছে।’

অভিনয় ছাড়ার পেছনে কোনো অভিমান ছিল কি না—জানতে চাইলে শবনম বলেন, ‘না, কোনো অভিমান নয়। আসলে সেভাবে আর গল্প পছন্দ হয়নি বলেই কাজ করিনি। মনের মতো গল্প পেলে নিশ্চয়ই করতাম।’

বহু বছর পর সম্প্রতি এফডিসিতে গিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। স্মৃতি হাতড়ে শবনম বলেন, ‘অল্প সময়ের জন্য এফডিসিতে গিয়েছিলাম। ঠিক কত বছর পর গিয়েছি, হিসাব করে বলতে পারব না। সেখানে যাওয়ার পর কত স্মৃতি, কত কথা যে মনে পড়ে গেল! ভেতরে গিয়ে অনেক পরিবর্তনও দেখলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন গিয়েছিলাম, সেদিন হয়তো শুক্রবার ছিল, তাই মানুষজন কম ছিল। মানুষ কম থাকায় আমার জন্য সুবিধা হয়েছিল। তবে এফডিসিতে গিয়ে আমি চুপিচুপি কেঁদেছিলাম। কেমন যেন একটা শূন্যতা আর কষ্ট লাগছিল, চোখ ভিজে এসেছিল।’

পর্দায় না থাকলেও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এখনো তাকে ঘিরে রেখেছে। শবনম বলেন, ‘আমি এখনো নিয়মিত বাজারে যাই। গুলশানের ওদিকের একটি বাজারে নিয়ম করেই যাওয়া হয়। আজ সকালেও বাজারে গিয়েছিলাম। যাওয়ার পর দোকানদারেরা বলছিলেন, সরে দাঁড়ান! ওই যে আম্মাজান এসেছেন!’

তিনি বলেন, ‘মানুষ যে আমাকে এতটা ভালোবাসে, সম্মান করে, “আম্মাজান” বলে ডাকে—এটি আমার অনেক বড় পাওয়া। এই ভালোবাসা ও সম্মান নিয়েই বাঁচতে চাই।’

এখন কীভাবে সময় কাটে? শবনম হাসিমুখে বলেন, ‘বই পড়ে, টেলিভিশন দেখে আর ছেলের সঙ্গে গল্প করে সময় কেটে যায়। ছেলের জন্য এটা-ওটা রান্না করতে আমার খুব ভালো লাগে। সব সময় একটি কথাই বলি, মানুষের ভালোবাসাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

ইরান যুদ্ধে কত খরচ হবে যুক্তরাষ্ট্রের?

কয়েকদিন ধরে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অনেক কথাতেও সেই  ইঙ্গিত ছিল। অবশেষে শনিবার সেই আশঙ্কায় সত্যি হয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন কি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আরেকটি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, এবং শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ কত হতে পারে?

এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ কত হবে তা পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ অর্থ নয়, বরং অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত।

২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প তার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা আট মিনিটের এক ভিডিওতে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে বড় সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে।

পরে পেন্টাগন জানায়, অভিযানের নাম অপারেশন এপিক ফিউরি।

ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ‘ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা’।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেব। এটি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার অভিযান শুরুর পর ইরানে ১ হাজার ২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পৃথক এক বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম), তারা ১১টি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে বিমান হামলা, সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় সমন্বিত হামলা এবং ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এবারের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি তেহরানে তার নিজের কম্পাউন্ডে নিহত হন।

সোমবার ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে যুদ্ধ যতদিন দরকার ততদিন চলবে, যা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

সোমবার পর্যন্ত ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইরানে ১৩০টির বেশি স্থানে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

এর বাইরে ইয়েমেন, ইরান ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৬৫ থেকে ১২ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ, সংঘাত-সংশ্লিষ্ট মোট মার্কিন ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ দশমিক ৩৫ থেকে ৩৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং এই ব্যয় এখনো বাড়ছে।

সেন্টকমের মতে, অপারেশন এপিক ফিউরিতে আকাশ, সমুদ্র, স্থল ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনী মিলিয়ে ২০টিরও বেশি অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।

সেন্টকমের সাবেক অপারেশন পরিচালক কেভিন ডোনেগান আল জাজিরাকে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা দুর্বল বা ক্ষয়িষ্ণু করে দেওয়া, যেন তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে না পারে।

Operation Epic Fury: The first 48 hours pic.twitter.com/uCQqHq5Ajx

— U.S. Central Command (@CENTCOM) March 2, 2026

বি-১ বোমারু বিমান, বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান (পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলা), এফ-৩৫ লাইটিং টু ও এফ-২২ র‌্যাপ্টর (উন্নত স্টেলথ যুদ্ধবিমান), এফ-১৫ যুদ্ধবিমান (১ মার্চ কুয়েতের আকাশে এক ঘটনায় তিনটি হারিয়েছে, এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন, এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট, এ-১০ আক্রমণকারী জেট, ইএ-১৮জি গ্রোলার (ইলেকট্রনিক হামলা ও শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা দমন), এডাব্লিউএসিএস (আকাশভিত্তিক আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান)।

লুকাস ড্রোন (স্বল্পমূল্যের একমুখী কমব্যাট ড্রোন, ইরানি নকশা থেকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার করা), এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, এম-১৪২ হিমারস রকেট সিস্টেম, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।

প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, থাড, কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা।

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও ইএসএস আব্রাহম লিংকন নেতৃত্বাধীন দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার, সি-১৩০ হারকিউলেস এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার।

চলমান যুদ্ধের মোট খরচ অনুমান করা কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

মার্কিন থিংক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবল বলেন, পেন্টাগন এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি, তাই আমরা কেবল অনুমান করতে পারি। অস্ত্রের আলাদা খরচ, নৌ অভিযান—এসব নিয়ে ধারণা করা যায়, কিন্তু পুরো চিত্র বেশ জটিল।

আনাদোলু সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরির প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র হয়তো প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

এছাড়া হামলার আগে সামরিক প্রস্তুতিতে খরচ করেছে অতিরিক্ত প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার। যেমন বিমান পুনর্বিন্যাস, এক ডজনের বেশি নৌযান মোতায়েন ও আঞ্চলিক সম্পদ সক্রিয় করা।

সেন্টার অপর অ্যা নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার লাগে।

এর বাইরে রয়েছে সরঞ্জাম ক্ষতির খরচ। কুয়েতে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটনায় অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।

প্রেবল বলেন, খরচের দিক বিবেচনা করলে যুদ্ধ চালানো সম্ভব। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট এক ট্রিলিয়ন ডলার এবং তা ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়নে উন্নীত করার প্রস্তাবও আছে।

‘এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে যে কোনো ‍যুদ্ধ অনেক দূর পর্যন্ত নেওয়া যায়। প্রশ্ন হলো, অস্ত্রভাণ্ডারের প্রকৃত মজুত, বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর, যেমন প্যাট্রিয়ান বা এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান হারে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অভিযান অনির্দিষ্টকাল চালানো সম্ভব নয়, সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের বেশি এটা চালানো যাবে না।

এর আগে গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতে একই ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তখন ধারণা করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মজুত কমে আসছে।

এই ইন্টারসেপ্টরগুলোর কিছু ইউক্রেন ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল। সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে অন্য অঞ্চলে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া এগুলো দ্রুত উৎপাদন করাও সম্ভব নয়।

প্রেবল বলেন, ‘একটি প্যাট্রিয়ান বা এসএম-৬ অনেকগুলো জটিল প্রযুক্তির সরঞ্জাম। এগুলো দিনে শত শত বা হাজার হাজার তৈরি করা যায় না। এছাড়া উৎপাদনের গতি খুব বেশি নয়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রকৃত খরচ নির্ভর করবে এর সময়কাল, সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং অস্ত্র মজুতের ওপর। অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চালাতে পারলেও, দীর্ঘমেয়াদে অস্ত্রভাণ্ডারের চাপই হতে পারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ নির্যাতনে হত্যা

বগুড়া শহরের সাবগ্রাম এলাকায় ‘মায়ের আশ্রয়’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কেন্দ্রে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অসুস্থ অবস্থায় সামিউলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সামিউল বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জনতা ব্যাংক শাখার সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের শফিউল্লাহর ছেলে।

ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাময় কেন্দ্রের দুই কর্মচারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুভর ভগ্নিপতি এটিএম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামিউল মানসিক রোগী ছিলেন। আমরা সুস্থ অবস্থায় ভর্তি  করেছিলাম। তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।’

তবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

বগুড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিল্লুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সামিউল দীর্ঘদিন গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলে আসক্ত ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে ডিটক্সিফিকেশনের জন্য গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ওই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। 

সিসিটিভি ফুটেজ ও কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল দুপুরের পর থেকে সামিউল খাবার খাচ্ছিলেন না। ইফতারের সময়ও তিনি কিছু খাননি। পরে নিস্তেজ হয়ে পড়লে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজি করার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জিল্লুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যৌথ তদন্ত চলছে। যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অধিদপ্তরের বিধান অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ওসি মনিরুল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রাতেই দুই কর্মচারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিবের কাছে যেসব প্রত্যাশা

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন। আমাদের বিশ্বাস, পূর্বতন ব্যক্তি এই পদের যে মর্যাদাহানি করেছিলেন, তার অনেকটাই তিনি ফিরিয়ে আনবেন।

নির্ভরযোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা, শালীনতা এবং দলের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের ‘মূর্ত প্রতীক’ হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন মির্জা ফখরুল। আমরা স্মরণ করতে পারি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে কী ভয়াবহ নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভীসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার মতো তাকেও জামিন না পেয়ে মাসের পর মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্ধারণ না করে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলীয় প্রধানের ওপর ছেড়ে দেয়। আর এভাবেই দলের নেতারাই দলীয় প্রধানকে অতিমাত্রায় ক্ষমতাবান করে তোলেন। এখানে তারেক রহমানও সবার মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি নীতিনিষ্ঠ ও প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতেন। সেক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিবেচনায় সহজেই অনুমেয়, সবাই দলীয় প্রধানের পছন্দটি আঁচ করে সেই অনুযায়ীই নিজেদের মতামত দিতেন। তাতে ফলাফল হয়তো একই থাকত, কিন্তু সেটা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত বলে প্রতিষ্ঠিত হতো। অথচ, এমন একটি প্রত্যাশিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ হাতছাড়া হলো।

মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির শূন্য পদটিতে কে বসবেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছিল। বিভিন্নজনের ব্যক্তিগত যোগ্যতা, দলীয় আনুগত্য, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যসহ আরও নানা ধরনের মাপকাঠিতে কে এগিয়ে তা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু, আওয়ামী লীগের কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতা, কোনো সাবেক বা কর্মরত আমলা কিংবা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতদের কেউ মো. সাহাবুদ্দিনের নাম বলেননি বা এই নাম নিয়ে কোথাও আলোচনা হয়নি। অথচ, তিনিই রাষ্ট্রপতি হলেন। কোনো সরকারি বা দলীয় যাচাই-বাছাই কিংবা উন্মুক্ত বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাকে বেছে নেওয়া হয়নি। তিনি ছিলেন একজনের ব্যক্তিগত পছন্দ। দেশের তৎকালীন স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থায় শেখ হাসিনা কতটা খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন, তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ এটি।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে তা হলো, দলটির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন? গতকাল বৃহস্পতিবার দলটি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করেছে। নতুন মহাসচিব কে হতে পারেন, সেটা জানতে হয়তো আমাদের দলটির পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি প্রধান ও দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সামনে এমন একজন মহাসচিব বেছে নেওয়ার সুযোগ এসেছে, যিনি বর্তমানের বিশাল ও নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত। মির্জা ফখরুলের মেয়াদের বেশিরভাগ সময় কেটেছে শেখ হাসিনার আক্রমণ মোকাবিলা করে এবং দলটি ভাঙার জন্য যত চাপ ও প্রলোভন দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি এই কঠিন দায়িত্ব সফলভাবেই পালন করেছেন।

তার উত্তরসূরিকে দল গড়তে হবে ভিন্ন ধারায়, যাতে জাতি গঠনের চেতনায় নারী, তরুণ, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত হয়। আমরা যে উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছি, সেখানে এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। নতুন মহাসচিবকে জেন-জি প্রজন্মের আস্থা অর্জন করতে হবে, যারা একটি সরকার উৎখাতের সক্ষমতা দেখিয়েছে। পাশাপাশি নতুন মহাসচিবকে অত্যন্ত সুসংগঠিত বিরোধীদলের মোকাবিলা করতে হবে, যাদের পরিচিত ও অপরিচিত নেটওয়ার্ক ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আমাদের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভুলে গেলে চলবে না, যেখানে বিরোধীদল কেবল ‘বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা’ করে ক্ষমতাসীন দলের ইতিবাচক উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত করেছে।

একইসঙ্গে, কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে স্বার্থান্বেষী মহলগুলোর সেই দলে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। কারণ, চারদিকে তখন ‘সুবিধা’ পাওয়ার সুযোগ থাকে। এমনকি পুরোনো ও অভিজ্ঞ তৃণমূল নেতারাও সেইসব লোকজন নিয়েই নিজেদের পাল্লা ভারী রাখেন, যাদের অর্থায়ন এসব স্বার্থান্বেষী মহল থেকেই আসে—সেটা ব্যক্তিগত অর্থায়ন হোক বা দলীয়।

নতুন মহাসচিব বেছে নেওয়ার আগে দলটির সাবেক মহাসচিবদের ভূমিকার ইতিহাস খতিয়ে দেখা প্রাসঙ্গিক হবে বিএনপি প্রধানের জন্য। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এরপর এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, কে এম ওবায়দুর রহমান, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এই দায়িত্ব পালন করেন। মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গঠনের সময় তার ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বেছে নিয়েছিলেন। এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ এবং এখান থেকে শেখার মতো অনেক কিছু আছে। মহাসচিব হিসেবে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এমন অনেক কাজ স্বাধীনভাবে করার সুযোগ পেয়েছিলেন, যা পরবর্তী মহাসচিবরা পাননি। শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে ছিল প্রকৃত অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা। দলীয় প্রধানের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সঙ্গে তার ডেপুটির রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও যোগাযোগ দক্ষতার সমন্বয় ছিল। বিএনপিতে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর শেষ দিনগুলো সুখকর না হলেও প্রতিষ্ঠাকালীন দিনগুলো ছিল ভিন্ন।

এখান থেকে তারেক রহমানের যে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন তা হলো, কেবল সহমত পোষণ করা কাউকে নয়, তার একজন আন্তরিক অংশীদার দরকার। এমন একজন দরকার, যিনি জাতি গঠনের চেতনায় দলকে নতুন করে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবেন। এমন একজন যার নিজস্ব ধারণা আছে এবং তা বাস্তবায়নের সক্ষমতাও আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পরবর্তী মহাসচিবের ভিন্নমত প্রকাশের সেই অপরিহার্য ও নৈতিক সাহস থাকতে হবে। সেটা বিরোধিতার মাধ্যমে নয়, বরং বিকল্প পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে। সেই পরামর্শ দেওয়ার স্বাধীনতা তাকে অবশ্যই দেওয়া উচিত।

তারেক রহমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ধারাটি শুরু করতে পারেন তা হলো, দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্বকে আলাদা করা। ঐতিহাসিকভাবেই ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হওয়া আমাদের দেশে যেন অনিবার্য। এত মন্ত্রণালয় থাকতে এই মন্ত্রণালয়টিই কেন? কারণ হতে পারে, দেশজুড়ে এই মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং এর বাজেটও অনেক বড়। এই অর্থের একটি বড় অংশ তৃণমূল পর্যায়ে নানা ধরনের অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। গ্রাম উন্নয়নের কাজও সাধারণত এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা হয় এবং এভাবেই সর্বত্র দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই চর্চা স্পষ্টতই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ‘স্বজনপ্রীতি’র আখড়ায় পরিণত করে, যা আসলে ছদ্মবেশী দুর্নীতি ছাড়া আর কিছুই না। দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জনগণের অর্থের এই মিশ্রণের কারণেই প্রতিটি ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তায় ধস নামার সূচনা হয়। ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিবের দায়িত্বটাকেই তার জন্য পূর্ণকালীন পদে পরিণত করা উচিত। প্রোটোকলের জন্য প্রয়োজনে তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মন্ত্রণালয় নয়।

এই জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিপর্যয়কর ব্যর্থতা থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। শেখ হাসিনা বহু প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন এবং আওয়ামী লীগ ছিল তার মধ্যে অন্যতম। দলটির পুরো কাঠামো ধসিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল দলীয় প্রধানের হাতে। বছরের পর বছর আমরা দেখেছি, দলটির সর্বোচ্চ ফোরাম বৈঠকে বসেছে এবং তাদের সিদ্ধান্ত হলো, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা নেবেন। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী নেতৃত্বের কাঠামো ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান নতুন মহাসচিব হিসেবে কাকে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বেছে নেবেন, তা অনেক কিছুই প্রকাশ করবে এবং দলের ভবিষ্যৎ গতিপথও নির্ধারণ করবে। বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। সেখানে দলের প্রধানকে দলীয় নেতৃত্বের যেকোনো স্তরে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। সময়ের সঙ্গে তারেক রহমান ধীরে ধীরে দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন কি না, সেটা নতুন বাংলাদেশ গড়তে তার স্বপ্নের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করবে। দলীয় নেতাদের কাজ করার জন্য আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে এবং একইসঙ্গে, তারা যেন জবাবদিহিতার আওতায় থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল যুগে এটি সহজেই করা সম্ভব।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে আত্মস্থ করার মতো অনেক কিছু আছে। ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণের প্রতি জনগণের মধ্যে স্বাভাবিক অনীহা রয়েছে। মানুষের স্মৃতি যত ক্ষণস্থায়ীই হোক, কিছু মৌলিক মূল্যবোধ তারা ধরে রাখে। নতুন করে বাংলাদেশ গড়ার জন্য তারেক রহমানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজের দলকে ভিন্নভাবে গড়ে তোলার দৃষ্টান্তও থাকতে হবে। আর সেটার শুরুটা হওয়া উচিত নতুন মহাসচিব নিয়োগের মাধ্যমে।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

উন্নত এআই ছাড়াও গুগল পিক্সেল ১১ সিরিজে আরও যেসব নতুন ফিচার

বাজারে পিক্সেল ১১ সিরিজের নতুন চারটি স্মার্টফোন আনছে গুগল। নতুন মডেলগুলো হলো—পিক্সেল ১১, পিক্সেল ১১ প্রো, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল ও পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড।

এবারের সিরিজে হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি আরও উন্নতমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জেমিনাই, নতুন নিজস্ব প্রসেসর এবং অত্যাধুনিক ক্যামেরাকে গুরুত্ব দিয়েছে গুগল।

চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে গুগলের বার্ষিক হার্ডওয়্যার ইভেন্ট ‘মেড বাই গুগল’ অনুষ্ঠানে পিক্সেল ১১ সিরিজের এই নতুন স্মার্টফোন উন্মোচন করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২৮ জিবি স্টোরেজের সংস্করণ বাদ দিয়েছে গুগল। পিক্সেল ১১ মডেলে ন্যূনতম স্টোরেজ থাকছে ২৫৬ জিবি। বেড়েছে দামও। আগের সিরিজের তুলনায় প্রায় ১০০ ডলার করে বেড়েছে পিক্সেল ১১ সিরিজের ফোনের দাম।

কারণ হিসেবে বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে গুগল।

২০ আগস্ট থেকে ফোনগুলো বাজারে পাওয়া যাবে। ১২ আগস্ট থেকে গুগল স্টোর, অ্যামাজন ও বেস্ট বাইয়ে প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে।

নতুন সিরিজের দাম

পিক্সেল ১১—৮৯৯ ডলার
পিক্সেল ১১ প্রো—১ হাজার ৯৯ ডলার
পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল—১ হাজার ২৯৯ ডলার
পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড—১ হাজার ৮৯৯ ডলার

প্রতিবেদনে বলা হয়, পিক্সেল ১১ সিরিজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘জেমিনাই ইন্টেলিজেন্স’। আগের তুলনায় এটি এখন আরও স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কাজ করতে পারবে।

গুগলের দাবি, ৪০টির বেশি অ্যাপে একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে জেমিনাই। যেমন: মুদি পণ্য অর্ডার করা, রাইড বুক করা, রিজার্ভেশন পরিচালনা করা কিংবা কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহারকারীর হয়ে ফোন করা।

ব্যবহারকারী চাইলে যেকোনো সময় এআইয়ের কাজ থামিয়ে নিজে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।

এআই সুবিধাগুলো চালানোর জন্য গুগল ব্যবহার করেছে নতুন ‘টেনসর জি৬’ চিপ। এটি গুগলের নিজস্ব তৈরি এবং অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ব্যবহৃত প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গুগলের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের চিপের তুলনায় এতে ৫০ শতাংশ বেশি মেশিন-লার্নিং ক্ষমতা রয়েছে।

এআই ছাড়া নতুন সিরিজে রয়েছে ন্যূনতম ১২ জিবি র‌্যাম। আর ব্যাটারি ব্যাকআপ ৩০ ঘণ্টার বেশি বলে দাবি করেছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ১৫ মিনিট চার্জ দিয়ে ব্যবহার করা যাবে প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত।

কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এই সিরিজের ক্যামেরা অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ‘ক্রিয়েটর স্যুট’। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ফ্রেমিং গ্রিড, স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রল করা এবং ভিডিওকে প্রজেক্টভিত্তিক ফোল্ডারে সাজানোর সুবিধা থাকবে।

এছাড়া পিক্সেল ১১ প্রো ও প্রো এক্সএল মডেলে রয়েছে ইনস্ট্যান্ট নাইট সাইট। গুগলের দাবি, এটি আগের সংস্করণের তুলনায় কম আলোয় ছবি ৪ দশমিক ৫ গুণ দ্রুত তুলতে পারবে, একইসঙ্গে ছবির মানও ধরে রাখবে।

মূল ক্যামেরাটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের, যা আগের সিরিজের চেয়ে ৫৬ শতাংশ বেশি আলো গ্রহণ করতে পারে।

পিক্সেল ১১ সিরিজের পাশাপাশি গুগল পিক্সেল ওয়াচ ৫ এবং তাদের প্রথম নিজস্ব আইটেম ট্র্যাকার পিক্সেল ট্যাগও উন্মোচন করেছে।

পিক্সেল ট্যাগে আলট্রা-ওয়াইডব্যান্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কাছাকাছি অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। চলতি বছরের শেষদিকে বাজারে আসার কথা এই ডিভাইসটির।

পিক্সেল ১১ সিরিজের প্রতিটি ফোনে সাত বছর পর্যন্ত অপারেটিং সিস্টেম, নিরাপত্তা ও পিক্সেল ড্রপ আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গুগল। পিক্সেল ৮ সিরিজ থেকে প্রতিষ্ঠানটি এই দীর্ঘমেয়াদি আপডেট নীতি অনুসরণ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পিক্সেল ১১ সিরিজকে এখন পর্যন্ত গুগলের সবচেয়ে বেশি এআই-কেন্দ্রিক স্মার্টফোন সিরিজ হিসেবে দেখা হচ্ছে।