33 C
Dhaka
Home Blog

খামেনির দাফন নিয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান স্থগিত

ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। 

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাতে আজ বুধবার বার্তাসংস্থা এএফপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। 

নিউইয়র্ক টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা থেকে খামেনির তিন দিনব্যাপী বিদায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে আয়োজনের প্রস্তুতিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছে। 

অনুষ্ঠানের নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে। 

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে তাকে সমাহিত করার কথা। 

ওই শহরেই জন্মগ্রহণ করেন খামেনি। সেখানে ইমাম রেজার মাজার এলাকায় তার বাবাকেও দাফন করা হয়েছিল।

দাফনের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হলো নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস

আখ সংকটে নির্ধারিত সময়ের দুই সপ্তাহ আগেই নাটোরের লালপুরে অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলসের ২০২৫-২৬ মৌসুমের মাড়াই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত বছরের ১০ নভেম্বর মাড়াই মৌসুম শুরু হয়। সূত্র জানিয়েছে, ১২২ দিন চালু রেখে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

‘প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করার পর পর্যাপ্ত আখ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২৩ ফেব্রুয়ারি মিলের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হই,’ বলেন মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. আশাব উদ্দিন।

নথি অনুযায়ী, এ মৌসুমে ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আখ থেকে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় চলতি মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, আখ চাষ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকটই উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।

আশাব উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, চাষাবাদে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হলেও বেশ কিছু কারণ প্রভাব ফেলেছে—বিপুল পরিমাণ আখ গুড় উৎপাদক ও অন্যান্য মিলে সরবরাহ করা হচ্ছে; অনেক কৃষক আখের পরিবর্তে অধিক লাভজনক অন্যান্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন।

চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার একর জমি থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও প্রকৃত উৎপাদন তার চেয়ে কম হয়েছে।

স্থানীয় চাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম মণ প্রতি ২৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ থেকে ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ হাজার কৃষক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের পাওনা ১৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও আখ সংকটে চিনির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি।

গত বছর (২০২৪-২৫ মৌসুমে) নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করেছিল। সে তুলনায় প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন কম আখ মাড়াই হয়েছে।

একদিন অক্ষর ছাপত মানুষ, আজ মানুষকে পড়ে অ্যালগরিদম

আজ ৬ সেপ্টেম্বর। বাংলা ভাষা ও বাঙালির চিন্তার মুক্তির এক অনন্য স্মরণীয় দিন। ১৭৭৮ সালের আজকের এই দিনে অবিভক্ত বাংলার হুগলিতে চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকারের হাত ধরে বাংলা চলনশীল হরফের এক ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল।

 

সেদিন ধাতু গলিয়ে তৈরি হয়েছিল বাংলা অক্ষর। কেউ হয়তো ভাবেনি, ছোট ছোট সেই ধাতব হরফ একদিন বদলে দেবে জ্ঞান ও যোগাযোগের জগৎ।

 

সেই পঞ্চানন কর্মকার থেকে আজকের এআই প্রম্পট। সীসার হরফ থেকে সিলিকন সার্ভার। খোদাই থেকে কোড। অক্ষর থেকে অ্যালগরিদম। বাংলা ও বাঙালির গণযোগাযোগের প্রায় আড়াইশ বছরের ইতিহাসকে হয়তো এভাবেই দেখা যায়।

 

আজ মুহূর্তের মধ্যে খবর পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। আমাদের পছন্দ-আগ্রহ বুঝে অ্যালগরিদম সাজিয়ে দেয় ব্যক্তিগত এক তথ্যজগৎ।

 

কখনো একটি পোস্ট পৌঁছে যায় লাখো মানুষের কাছে। আবার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংবাদ হারিয়ে যায় অসংখ্য কনটেন্টের ভিড়ে।

 

কিন্তু একবার ভাবুন তো, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এত দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকার পরও যদি বাংলা অক্ষর কখনো যন্ত্রের শরীর না পেত? একটি বইয়ের প্রতিলিপি তৈরি করতে হতো হাতে লিখে। একজন পুঁথি পড়তেন, অন্যরা শুনতেন। জ্ঞান ও সংবাদ ছড়িয়ে পড়ত ধীরে, সীমিত পরিসরে।

সম্ভবত সংবাদপত্রের ইতিহাস ভিন্ন হতো। সমাজসংস্কার, জনমত গঠন এবং ব্যক্তিগত পাঠাভ্যাসের বিস্তার ঘটত অন্য গতিতে।

 

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের ফিরে যেতে হয় ১৭৭৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের হুগলিতে। চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকারের প্রচেষ্টায় বাংলা হরফ ধাতব চলনশীল টাইপে রূপ পায়। এটি শুধু একটি মুদ্রণপ্রযুক্তির সাফল্য ছিল না, জ্ঞান ও যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনার সূচনাও ছিল।

 

 

মুদ্রণযন্ত্রের আগে বাংলায় জ্ঞান ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের সম্পদ। হাতে লেখা পুঁথি তৈরি করতে সময় ও অর্থ দুটোই লাগত। ফলে বইয়ের মালিকানা ও জ্ঞান সংরক্ষণের সুযোগও সমাজের সীমিত অংশের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।

 

মুদ্রণ সেই বাস্তবতা বদলে দেয়। একবার অক্ষর ও ছাঁচ তৈরি হলে একই লেখা বহু কপিতে ছাপা সম্ভব হলো। জ্ঞান আর একটি পুঁথি বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটকে থাকল না। ধীরে ধীরে তা পৌঁছাতে শুরু করল বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে।

 

জ্ঞান যত বেশি মানুষের হাতে গেল, তত বেশি মানুষ পড়ার, প্রশ্ন করার এবং নিজের মত গঠনের সুযোগ পেল। 

 

 

মুদ্রণের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি ছিল পাঠকের পরিচয়ের পরিবর্তন। পুঁথির যুগে পাঠ অনেক ক্ষেত্রেই ছিল সমষ্টিগত অভিজ্ঞতা। একজন পড়তেন, অন্যরা শুনতেন।

 

মুদ্রিত বই মানুষের হাতে পৌঁছালে পাঠ ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। একজন মানুষ নিজের সময় ও নিজের গতিতে পড়তে পারেন। অন্য বইয়ের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন।

 

এভাবেই তৈরি হয় এমন এক পাঠকসমাজ, যারা শুধু শুনে গ্রহণ করে না—পড়ে, ভাবে, প্রশ্ন করে এবং মতামত তৈরি করে।

 

বাংলা মুদ্রণের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রবাহেরও নতুন কাঠামো তৈরি হয়। পরবর্তীকালে দিগদর্শন ও সমাচার দর্পণের মতো প্রকাশনা নিয়মিতভাবে জ্ঞান ও সংবাদ বৃহত্তর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করে।

 

এক অঞ্চলের ঘটনা অন্য অঞ্চলের মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সামাজিক প্রশ্ন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে মত গড়ে উঠতে থাকে। এভাবেই মুদ্রণ তথ্যকে ব্যক্তিগত সীমা থেকে জনপরিসরে নিয়ে আসে।

মুদ্রণভিত্তিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছিল। এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে ছিলেন সম্পাদক। কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কোন উৎস বিশ্বাসযোগ্য এবং কোন সংবাদ আরও যাচাই করা দরকার, এসব সিদ্ধান্তে সম্পাদকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ তত্ত্বে একে বলা হয় ‘গেটকিপিং’।

অবশ্য এই ব্যবস্থা পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিল না। রাজনৈতিক চাপ, মালিকানার প্রভাব বা ব্যক্তিগত মতাদর্শ সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করতে পারত। তবু তথ্য প্রকাশের আগে একটি মানবিক বিচার ও পেশাগত যাচাইয়ের স্তর ছিল।

আজ সেই গেটকিপিং পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তবে তার চরিত্র বদলে গেছে। মানুষের পাশাপাশি এখন তথ্যের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে অ্যালগরিদম।

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিয়ে আপনি প্রথমে কী দেখেন? কোন সংবাদ সামনে আসবে, কোন ভিডিও আপনার মনোযোগ কাড়বে বা কোন পোস্টে আপনি প্রতিক্রিয়া জানাবেন, এসব সিদ্ধান্তের বড় অংশ এখন কোনো মানব সম্পাদক নেন না। নেয় অ্যালগরিদম।

আপনি কী দেখেন, কোথায় বেশি সময় দেন, কোন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান, এসব আচরণ বিশ্লেষণ করে প্ল্যাটফর্মগুলো আপনার জন্য একটি ব্যক্তিগত তথ্যজগৎ তৈরি করে।

এর লক্ষ্য সবসময় সবচেয়ে নির্ভুল তথ্য সামনে আনা নয়, বরং আপনার মনোযোগ ধরে রাখা। ফলে আমাদের মনোযোগও তথ্য অর্থনীতির একটি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে।

মুদ্রণযুগে একটি সংবাদপত্রের হাজারো পাঠক একই প্রধান সংবাদ পড়তেন। এতে সমাজের মানুষের মধ্যে অন্তত কিছু সাধারণ তথ্যভিত্তি তৈরি হতো।

ডিজিটাল যুগে একই শহরে থাকা দুই ব্যক্তি একই সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্যজগতে থাকতে পারেন। একজনের সামনে রাজনৈতিক বিতর্ক। অন্যজনের সামনে বিনোদন। 

 

অ্যালগরিদম আমাদের আগ্রহ অনুসরণ করতে করতে অনেক সময় একই ধরনের মতামত বারবার সামনে আনে। তৈরি হয় ‘ফিল্টার বাবল’।

 

সমস্যা হলো, মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ বাস্তবতার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। তথ্য বেড়েছে। কিন্তু সবাই যে একই পৃথিবী দেখছে, তা আর নিশ্চিত নয়।

 

মুদ্রণপ্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগও বদলে যায়। লিখিত ঘোষণা, আইন ও বিজ্ঞপ্তি তুলনামূলকভাবে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।

 

পরে সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে একই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে। এটি ছিল ‘ওয়ান-টু-মেনি’ যোগাযোগের যুগ।

 

আজ সেই কাঠামো বদলে গেছে। একই প্রতিষ্ঠান এখন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন বার্তা পৌঁছাতে পারে। গণযোগাযোগ তাই ক্রমশ ব্যক্তিগত যোগাযোগের বৈশিষ্ট্য অর্জন করছে।

 

একসময় একটি বিজ্ঞাপন বা প্রেস রিলিজ একইভাবে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাত। ডিজিটাল যুগে মানুষের বয়স, আগ্রহ ও অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণ করে আলাদা বার্তা তৈরি করা সম্ভব। 

 

ফলে যোগাযোগ এখন শুধু কী বলা হবে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্ন হলো, কাকে, কখন এবং কোন প্রেক্ষাপটে সেই বার্তা দেখানো হবে?

 

এতে যোগাযোগ অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে সামনে এসেছে ব্যক্তিগত তথ্য ও মনস্তত্ত্ব ব্যবহারের প্রশ্নও। আগে প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইত। এখন প্রতিষ্ঠান মানুষের ব্যক্তিগত স্ক্রিনের ভেতরে পৌঁছাতে চায়।

 

১৭৭৮ সালে পঞ্চানন কর্মকারের কাছে একটি বাংলা অক্ষর ছিল কারিগরি দক্ষতার ফল। একটি হরফের আকার, বাঁক ও গঠন তৈরি করতে প্রয়োজন হতো সূক্ষ্ম শ্রম।

 

আজ আমরা একটি বাক্য লিখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নির্দেশ দিতে পারি, একটি প্রতিবেদন লেখো, সংবাদ তৈরি করো বা প্রেস রিলিজ তৈরি করো।

সেকেন্ডের মধ্যে তৈরি হয়ে যেতে পারে শত শত শব্দ। একসময় মানুষ অক্ষর তৈরি করত। আজ মানুষ যন্ত্রকে নির্দেশ দেয় অক্ষর সাজাতে।

কিন্তু এখানেই নতুন প্রশ্ন। মানুষ কি ভবিষ্যতেও চিন্তার স্রষ্টা থাকবে? নাকি শুধু যন্ত্রের তৈরি তথ্যের নির্বাচনকারী হয়ে উঠবে?

প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, মানুষের নিজস্ব বিচারবোধের প্রয়োজনও তত বাড়ছে।

 

মুদ্রণযন্ত্র তথ্যের বিস্তার ঘটিয়েছিল। ডিজিটাল প্রযুক্তি সেই বিস্তারকে প্রায় সীমাহীন করে দিয়েছে। আজ তথ্যের অভাব আমাদের প্রধান সমস্যা নয়। সমস্যা হলো, তথ্যের ভিড়ে কোনটি সত্য?

 

প্রতিদিন অসংখ্য সংবাদ, পোস্ট, ভিডিও ও মতামত আমাদের সামনে আসে। এর মধ্যে কোনটি নির্ভরযোগ্য, কোনটি বিভ্রান্তিকর আর কোনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে উঠছে।

তথ্য তৈরি করার ক্ষমতা মানুষের হাতে যত দ্রুত পৌঁছেছে, তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি তত দ্রুত গড়ে ওঠেনি।

আজকের প্রযুক্তি আরও দ্রুত, শক্তিশালী এবং সর্বব্যাপী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই প্রযুক্তি কি আমাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করছে? নাকি এমন একটি তথ্যজগৎ তৈরি করছে, যার সীমা আমরা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছি না?

অসংখ্য মতামতের ভিড়ে স্বাধীনভাবে বিচার করার সক্ষমতা না থাকলে সেই ভিড়ই হয়ে উঠতে পারে বিভ্রান্তির গোলকধাঁধা। 

১৭৭৮ সালের হুগলি থেকে আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ, এই দীর্ঘ ইতিহাসে প্রযুক্তি বারবার মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলেছে। কিন্তু প্রতিটি যুগে একটি প্রশ্ন একই রয়ে গেছে। তথ্যের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

অক্ষর মানুষকে পড়তে শিখিয়েছিল। এখন অ্যালগরিদমের যুগে আমাদের নতুন করে শিখতে হবে, কীভাবে নিজের মতো করে ভাবতে হয়। 

১৭৭৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের সেই ঐতিহাসিক দিন তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়। এটি আজও আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন রেখে যায়, আমরা কি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি, নাকি প্রযুক্তিই ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তার দিক নির্ধারণ করছে?

হুগলির সেই উনুনে একদিন ধাতু গলেছিল মানুষের ভাবনাকে অক্ষরের শরীর দেওয়ার জন্য। আজ অসংখ্য সার্ভারে তথ্যের প্রবাহ ছুটছে মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য।

দুই যুগের প্রযুক্তি আলাদা। কিন্তু সতর্কতার জায়গাটি একই। অক্ষর একদিন চিন্তাকে মুক্ত করেছিল, অ্যালগরিদম যেন তাকে অদৃশ্যভাবে বন্দী করতে না পারে। 

 

 

লেখক: রাজীব নন্দী, সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; ডক্টোরাল স্কলার, স্কুল অব জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত। ইমেইল: [email protected] 

 

জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত সোমবার রাত থেকে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে থাকে।

এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্যকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে একটি কক্ষে এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। 

লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে, তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়।

বিবৃতিতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত ১৩ জুলাই তিনি দুই স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা বাইরে থেকে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে তাকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন এবং পরে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।

বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাদের বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ককে একটি রাজনৈতিক মহল হেয় করার জন্য বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করছে।

তবে, দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা কেন তাকে জিম্মি করে টাকা দাবি করেছেন, সে ব্যাপারে বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে এ বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তাদের ধারণা, ভিডিওটি ঢাকার একটি বাসার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাতে ৪৩ জেলায় ফসলের ক্ষতি

চলতি আমন মৌসুম ঘিরে বড় পরিকল্পনা ছিল প্রসাদ রায়ের। গত সপ্তাহেই খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খলশিবুনিয়া গ্রামের এই কৃষক ১০ কাঠা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। আশা ছিল, সেখানে উৎপাদিত চারা দিয়ে ১৭ বিঘা জমিতে ধান চাষ করবেন।

কিন্তু কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বীজতলাটি পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে, আর ভেস্তে গেছে তার ভালো ফলনের আশাও।

বারবার চেষ্টা করেও শ্যালো পাম্প দিয়ে পানি সরাতে পারেননি তিনি। চারাগুলো এরইমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আবার শুরু থেকে সব করতে হবে। টাকাও খরচ করতে হবে। অনিশ্চয়তা তো আছেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামের পাশের শালতা নদী গত পাঁচ বছরে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। আমাদের বিলের সব খাল ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় সেগুলো দিয়ে আর পানি নিষ্কাশন হয় না। তার ফল ভুগছি। বছরের পর বছর ধরে আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।’

প্রসাদের মতো দেশজুড়ে হাজারো কৃষক চলমান ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটসহ ৪৩ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫ লাখের বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং ১ লাখ ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আদা, হলুদ, পেঁপেসহ অন্যান্য ফসল।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে ৭৯ হাজার ৫০০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ১০ হাজার ৫০৪ হেক্টর আমনের বীজতলা ও ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির জমি রয়েছে।

সার্বিকভাবে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষকরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সবজিগাছ পচে গেছে। অন্যদিকে, নতুন রোপণ করা চারাগুলোও টিকতে পারেনি।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার চক শৈলমারী গ্রামের কৃষক মিরিন গোলদার ৭০ হাজার টাকা খরচ করে আগাম শিমের চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে প্রায় অর্ধেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে।

খুলনা জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অতিবৃষ্টিতে প্রায় ৩৪০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘কিছু ফসল আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে, কিছু আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর কিছু পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।’

পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘এক একর জমিতে রোপা আমনের বীজতলা করেছিলাম। সেগুলো এখন হাঁটুপানির নিচে। পানি নামলে আবার বীজতলা তৈরি করতে হবে। বাজার থেকে ধানের বীজ কিনতে আবারও খরচ করতে হবে। এই এলাকার বেশিরভাগ কৃষক একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।’

টানা বৃষ্টিতে বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পানচাষিরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাগজিরপুল এলাকার কৃষক বেলায়েত খান, জাকির হোসেন ও জাহাঙ্গীর হোসেনের আশঙ্কা, সম্মিলিতভাবে তাদের লোকসান হতে পারে প্রায় ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা।

৭০ বছর বয়সী বেলায়েত বলেন, ‘আমার সব সঞ্চয় এই বরজে। সব হারালাম।’

ছয় সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বে থাকা জাকির জানান, তিনি ইতোমধ্যে ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের বোঝায় জর্জরিত। জাহাঙ্গীর জানান, এই বিপুল ক্ষতির পর কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন এবং পরিবার  চালাবেন, তা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় আছেন।

দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিতে নিম্ন আয়ের মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সোমবার দ্য ডেইলি স্টারকে পটুয়াখালী শহরের রিকশাচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে যাত্রী সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তায় যাত্রী খুব কম। এমনিতে একদিনে যে আয় করি, আজ তার অর্ধেক হয়েছে। পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফিল্ড সার্ভিস উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে।

তিনি বলেন, ‘ফসলের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ, সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করাই এখন অগ্রাধিকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আমন ধান, আগাম শীতকালীন সবজির বীজ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ। প্রতিকূল আবহাওয়ার পর কৃষক যেন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে এবং কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এসব করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষ হলে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘কৃষকের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং দ্রুত কৃষিকাজ শুরু করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে।’

এর আগে গত ১১ জুলাই এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বলেছিলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন সহায়তা দিতে সরকার তালিকা প্রস্তুত করছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূলত নির্ভর করবে বন্যা কতদিন স্থায়ী হয়, বৃষ্টির তীব্রতা কেমন থাকে এবং কত দ্রুত পানি নেমে যায়—এসব বিষয়ের ওপর।

তিনি বলেন, ‘দ্রুত পানি নেমে গেলে ফসলের সামগ্রিক ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়া কিছু ফসল আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। তবে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, বিশেষ করে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের। দেশের মোট আবাদি জমির তুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ খুব বেশি না হলেও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব ব্যাপক। এর প্রভাব শুধু ফসলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, মৎস্য খাত ও পশুখাদ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত এবং গবাদিপশুর খাদ্যসংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা এবং খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখতে যথাযথ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও সময়মতো সহায়তা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

‘উত্তরাঞ্চল, তিস্তা অববাহিকা এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের মতো এলাকায় আরও বন্যার আশঙ্কা থাকায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জরুরি’, যোগ করেন তিনি।

সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ মেসি: ‘তাদের জন্যই এখনও বিশ্বকাপে খেলতে পারছি’

আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আবারও দেখালেন কেন তিনি শুধু মাঠের নায়ক নন, ড্রেসিংরুমেও সবার প্রিয় একজন নেতা। বিশ্বকাপের ব্যস্ততার মাঝেও সতীর্থদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মেসি। বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে খেলতে পারাটা তার জন্য বিশেষ আনন্দের, আর তাদের সমর্থন ও ভালোবাসাই তাকে এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যেতে অনুপ্রাণিত করছে বলেই জানান তিনি।

সতীর্থদের সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি আমার সতীর্থদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ এবং তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। তারা আমার বন্ধু। এটি খুব সুন্দর এবং খুব ঐক্যবদ্ধ একটি দল। তাদের কাছ থেকে এত ভালোবাসা ও স্নেহপূর্ণ কথা শুনতে আমার খুব ভালো লাগে।’

তবে মেসি বিনয় প্রকাশ করলেও আসল সত্যিটি হচ্ছে তিনি এখনও দলটির প্রাণভোমরা। চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। চার ম্যাচে সাতটি গোল দিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার একজন। এক ম্যাচ বেশি খেলে তার সমান করে গোল দিয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ড।

তবে বিশ্বকাপে নিজের পথচলায় দলের অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও তুলে ধরেছেন মেসি, ‘এই দল এবং এই সতীর্থদের কারণেই আমি আজ আরেকটি বিশ্বকাপে থাকতে পেরেছি এবং এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যেতে পারছি।’

৩৯ বছর বয়সেও মাঠে নিজের সেরাটা দিয়ে যাওয়া মেসি মনে করেন, তার সতীর্থরা তাকে সহায়তা করার জন্য বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি জানি তারা বাড়তি চেষ্টা করে যাতে আমি প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে পারি। আর তারা এটা হৃদয় থেকে করে, কারণ তারা সত্যিই সেটাই অনুভব করে।’

আটলান্টা স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার রাতে মিশরের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচ জিততে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার জয়ী দলের সঙ্গে। 

ছেলের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মদিন উদযাপন করবেন ববিতা

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা। বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের নায়িকা হিসেবে পরিচিত তিনি। ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়জুড়েই দর্শকদের বিপুল ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি।

চলতি বছরটা ববিতার জন্য বেশ আনন্দের। এই বছর তিনি একুশে পদক পেয়েছেন। 

সম্প্রতি মা দিবসে একটি সংগঠন থেকে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। 

জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্রে আনন্দমেলা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তাকে আরও একটি আজীবন সম্মাননা দেওয়া হবে। 

ববিতা বলেন, ‘সবকিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি দর্শকদের প্রতি আমার ভালোবাসা। তাদের জন্যই আমি।’

‘একটা জীবন অভিনয় করেছি। ভালো লাগে সম্মাননা পেলে। সম্মান দেওয়ার মালিক একমাত্র ওপরওয়ালা’, বলেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, ‘মা দিবসে সম্মাননা পেয়ে ভালো লাগছে। সকল মায়ের জন্য ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। সকল মায়ের জন্য প্রার্থনা। সবার মা ভালো থাকুক।’

ববিতা আরও জানান, ‘আমার একমাত্র ছেলে অনিক কানাডায় থাকে এবং সেখানেই চাকরি করছে। প্রতি বছর বেশ কয়েক মাসের জন্য ওর কাছে যাই। এবারও যাব। ছেলের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটিয়ে আসি। এবার অনিক বলেছে, আমার জন্মদিন উদযাপন করবে ক্যালিফোর্নিয়ায়। আমি খুশি হয়েছি।’

‘জন্মদিনের সময়টায় আমেরিকায় থাকব। ওখানে আমাকে চলচ্চিত্রে সারাজীবনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হবে। এই খবরটি আমার ছেলে অনিক জানে। সেভাবেই সে পরিকল্পনা করেছে, বিশেষ দিনে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিয়ে যাবে’, যোগ করেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘জন্মদিনটা ছেলের সঙ্গে কাটাতে ভালোবাসি। সামনের জন্মদিনটিও আশা করছি আরও সুন্দরভাবে কাটাব।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ববিতা বলেন, ‘আমি যখন সিনেমায় আসি, সেই সময়ের অনেকেই বেঁচে নেই। অনেক গুণী শিল্পী, অনেক গুণী পরিচালক এখন পৃথিবীতে নেই। এই সময়ে এসে তাদের কথা মনে পড়ে। তাদের জন্য মন ভরে প্রার্থনা করি।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘এখনকার চাওয়া হচ্ছে সুস্থ থাকা এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা। সেই সঙ্গে সবার সুস্থতা কামনা করি।’
 

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিশ্ব ঐতিহ্য গোলেস্তান প্রাসাদ ক্ষতিগ্রস্ত

টানা পঞ্চম দিনের মতো ইরানে ভয়াবহ হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও থেমে নেই। উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাত করছে তারা। এতে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এরমধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ১৬৫ জন নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই শিশু।

সিজিটিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলা থেকে রেহাই পায়নি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক নিদর্শনও।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ‘রোজ প্যালেস’ নামে পরিচিত গোলেস্তান প্রাসাদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তেহরানের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের রাজকীয় অতীতের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

শাব্দিক অর্থে এই ‘ফুলের প্রাসাদ’ একসময় কাজার রাজবংশের ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে যে স্থাপত্য কমপ্লেক্সটি দেখা যায় তার বেশিরভাগ অংশ গড়ে ওঠে উনিশ শতকে। সবুজ বাগান ঘিরে আটটি প্রধান ভবন নিয়ে গঠিত এই প্রাসাদে পারস্যের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সঙ্গে ইউরোপীয় নব্য-শাস্ত্রীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণ দেখা যায়।

২০১৩ সালে ইউনেস্কো গোলেস্তান প্রাসাদকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং একে কাজার যুগের স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে আখ্যা দেয়। শিল্প, স্থাপত্য, রাজকীয় আচার ও ইতিহাসের সংযোগস্থল হিসেবে এটি আজও ইরানি শিল্পী ও স্থপতিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার স্থান।

গতকাল ইরান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি পোস্টে প্রাসাদ কমপ্লেক্সের ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশ করে। ইরানি কর্মকর্তাদের শেয়ার করা ভিডিও এবং আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়—ভাঙা জানালা, ক্ষতিগ্রস্ত কাঠের দরজা এবং প্রাসাদের বিখ্যাত আয়নার কাচের টুকরো মেঝেতে ছড়িয়ে আছে।

একই দিনে এক বিবৃতিতে ইউনেস্কো জানায়, ২ মার্চের বিমান হামলায় এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বাড়তে থাকায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে তারা।

অনেক ইরানির কাছে এই ক্ষয়ক্ষতি শুধু ইট-কাঠ বা কাচ ভাঙার বিষয় নয়। গোলেস্তান প্রাসাদ কেবল অতীতের একটি রাজকীয় বাসভবনই নয়, এটি ইরানের শিল্প-ঐতিহ্যের জীবন্ত স্মারক, যা এখন বিস্তৃত যুদ্ধের চিহ্ন বহন করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় গোলেস্তান প্রাসাদ ও তেহরানের বিখ্যাত গ্র্যান্ড বাজারের মতো আরও কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউনেস্কোর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে ইরান।

ঋণ পুনঃতফসিল করা ব্যবসায়ী গভর্নর হিসেবে কতটা নির্মোহ হবেন, প্রশ্ন টিআইবির

নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করা ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে কতটা নির্মোহ হবেন—এমন প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ প্রশ্ন তোলেন।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে কতটা স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করা একজন ব্যবসায়ী কর্পোরেট স্বার্থের প্রভাবমুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও ব্যাংকখাতের সুশাসন নিশ্চিতে গভর্নর হিসেবে কতটা নির্মোহভাবে দায়িত্বপালন করতে পারবেন—এই প্রশ্নও উত্থাপন করছে সংস্থাটি।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নবনিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রস্ত থেকে ঋণখেলাপি ও পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলকরণ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত। এছাড়া, তৈরি পোশাক শিল্প, আবাসন, অ্যাটাব, ঢাকা চেম্বার্সের মতো প্রভাবশালী ব্যবসা লবির অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে নতুন গভর্নরের।’

‘কর্তৃত্ববাদী চৌর্যতন্ত্রের আমলে খাদে পড়া ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন গভর্নর ব্যবসায়ী লবি, ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি মহলের প্রভাবমুক্ত থেকে কতটা স্বাধীনভাবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? বিশেষ করে, যেখানে সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদের ৬২ শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা। তাছাড়া, সংসদ সদস্যদের প্রায় ৫০ শতাংশ ঋণগ্রস্ত, যাদের মোট আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে, সেখানে একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ী, যার বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যিনি তৈরি পোশাক শিল্প ও রিহ্যাবের মতো খাতে নীতি দখলের সুবিধাভোগী, এমন একজনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের প্রভাব ব্যাংক খাতের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সার্বিকভাবে এ নিয়োগের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কী বার্তা দিচ্ছে? তা সরকারকে ভেবে দেখার অনুরোধ করছি,’ বলা হয় বিবৃতিতে। 

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যবসায়ী হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে অভূতপূর্ব এ নিয়োগের মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাস্তবে আবারও কর্তৃত্ববাদী চৌর্যতন্ত্রের আমলের মতো জাতীয় স্বার্থের তুলনায় খেলাপি ঋণ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতানির্ভর ব্যবসায়ী লবির করায়ত্ত ও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘সদ্য ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বভার দেওয়া কতটা বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। একইসঙ্গে বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংক খাতের সুশাসন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের যে অঙ্গীকার করেছে, তার সঙ্গে এ জাতীয় স্বার্থের দ্বন্দ্বপুষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ প্রদান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের দলীয় বিবেচনা ও স্বার্থান্বেষী মহল সহায়ক কার্যক্রমের কারণে পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলে ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর দশা, অর্থপাচার ও খেলাপি ঋণসহ সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি তথা আর্থিক খাত কতটা নাজুক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, তা বর্তমান সরকারের অজানা নয়,’ যোগ করেন তিনি।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগসহ যেখানে সার্বিকভাবে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা দেশের জন্য খুবই জরুরি, সেসময় এই নিয়োগের ঘটনা কতটা ফলপ্রসূ হবে। তাছাড়া, ব্যাংকিং খাতের সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিতে ইতোমধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ ও কার্যক্রমগুলো কতটা বাস্তবায়িত হবে, সে ব্যাপারেও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিস্বার্থ সংরক্ষণকারী দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তিনি আদৌ কি স্বাধীন ও নির্মোহভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন?’

তিনি আরও প্রশ্ন করেন যে, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের যে জনআকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যে একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা অন্যতম। এক্ষেত্রে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নরের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকার দলীয় ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী স্বার্থের বাইরে গিয়ে কতটা স্বাধীনভাবে সার্বিক ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ ও সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারবে?’

অ্যাপলের ফোল্ডেবল ‘আইফোন আল্ট্রা’, দাম যেমন হতে পারে

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন ‘আইফোন আল্ট্রা’ বাজারে আসার আগেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনটির গড় বিক্রয়মূল্য হতে পারে ২ হাজার ৫৫০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

আজ শুক্রবার প্রযুক্তি সাময়িকী ম্যাশেবলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের নতুন আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠান। এর আগেই ফোল্ডেবল আইফোনের সম্ভাব্য দাম নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসছে।

বিভিন্ন ফাঁস হওয়া তথ্য ও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ফোনটির প্রাথমিক দাম ২ হাজার ডলার বা তার বেশি হতে পারে।

তবে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (আইডিসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোল্ডেবল আইফোনের গড় বিক্রয়মূল্য হতে পারে ২ হাজার ৫৫০ ডলার। অবশ্য এর মানে এটা নয় যে, ফোনটির শুরুর দামই এত হবে।বরং বেশি স্টোরেজের সংস্করণসহ অন্যান্য কনফিগারেশনের কারণে গড় বিক্রয়মূল্য আরও বাড়তে পারে।

কিছু অ্যাপল বিশ্লেষকের ধারণা, আইফোন আল্ট্রার প্রাথমিক দাম হতে পারে ২ হাজার ৩৯৯ ডলার। বেশি স্টোরেজের সংস্করণ কিনলে দাম ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

দাম বেশি হলেও আইডিসি মনে করছে, ফোনটি বাজারে বড় ধরনের সাফল্য পেতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি আইফোন আল্ট্রা বিক্রি হতে পারে। এ থেকে অ্যাপলের আয় হতে পারে ৪৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

আইডিসির গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল ম্যাশেবলকে বলেন, ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ কেবল এই খাতের প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনবে না, বরং পুরো বাজারের গতিপথই বদলে দিতে পারে।

আইডিসির হিসাবে, অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোনের বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখল করতে পারে। একইসঙ্গে এই ফোন বিক্রি থেকে তৈরি হওয়া মোট বাজারমূল্যের অর্ধেকেরও বেশি অ্যাপলের দখলে যেতে পারে।

অ্যাপলের নতুন ফোনটি বাজারে এলে দীর্ঘদিন ধরে ফোল্ড ফোনের বাজারে নেতৃত্ব দেওয়া স্যামসাং ও হুয়াওয়ের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এই প্রতিবেদনের সব তথ্যই এখনো পূর্বাভাস ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে আইফোন আল্ট্রার দাম বা বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন ঘোষণা না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত দাম নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।