28 C
Dhaka
Home Blog

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে গাইবেন কে-পপ তারকা লিসা

আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে পারফর্ম করবেন কে-পপ তারকা লিসা। প্রথম নারী কে-পপ শিল্পী হিসেবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করবেন তিনি।

মার্কিন ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, লিসা ইতোমধ্যে ফিফার সঙ্গে চুক্তি সই করেছেন। আগামী ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলসের সোফি স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচের আগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি পারফর্ম করবেন। একই মঞ্চে থাকবেন কেটি পেরি, ফিউচার ও ডিজে সঞ্জয়।

এর আগে, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাংকুক গান গেয়েছিলেন। এবার লিসার অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো কে-পপ শিল্পী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তাই তিন দেশেই আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে।

লিসা ২০১৬ সালে ব্ল্যাকপিঙ্কের সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে একক শিল্পী হিসেবেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ২০২১ সালে প্রকাশিত তার একক গান ‘লালিসা’ প্রথম সপ্তাহেই ৭ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

২০২৫ সালের অ্যালবাম ‘অল্টার এগো’ প্রকাশের পরও তিনি নিয়মিত নতুন গান ‍করেন। সম্প্রতি ইতালিয়ান-আমেরিকান প্রযোজকের সঙ্গে তার নতুন গান ‘ব্যাড অ্যাঞ্জেল’ প্রকাশ পেয়েছে।

জর্ডানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর

ইরান সমর্থিত ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী সারায়া আওলিয়া আল-দাম দাবি করেছে, তারা জর্ডানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

আজ বুধবার এ হামলা চালানো হয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের ভেতরে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে 

গোষ্ঠীটি নির্দিষ্ট করে জানায়নি তাদের লক্ষ্যবস্তু ঠিক কী ছিল।

তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা ফুটেজে আকাশপথে একটি অস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা যায়।

মনোনয়ন পেলেও কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার স্থগিত

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য কবিতা বিভাগে এ বছরের মনোনীত হলেও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কবি মোহন রায়হানের পুরস্কার স্থগিত করেছে বাংলা একাডেমি।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একাডেমি থেকে পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই তালিকায় কবিতা বিভাগে মোহন রায়হানের নাম ছিল। 

আজ বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রদানের সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মঞ্চ থেকে তার নাম ঘোষণা করা হয়নি। পরে পুরস্কার না নিয়েই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন মোহন রায়হান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায়ও আমি পুরস্কার গ্রহণের মহড়ায় অংশ নিয়েছি। তখনও আমাকে কিছুই বলা হয়নি।’

‘কিন্তু আজ অনুষ্ঠানে আসার পর জানতে পারলাম আমাকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না। আমি এখনো জানি না এটা কি দাপ্তরিকভাবে বাতিল করা হয়েছে কি না। যদি বাতিল করা হতো, তবে সরকারি প্রজ্ঞাপন থাকা উচিত ছিল।’

মোহন রায়হান অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আমার পুরস্কার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত “সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়” থেকে এসেছে।’

তার দাবি, কর্নেল তাহেরকে নিয়ে চার দশক আগে তার লেখা ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘আমি শুনেছি ৪০ বছর আগে লেখা ওই কবিতার কারণেই আমাকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি,’ বলেন তিনি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কবি মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ওঠায় পুরস্কারটি “সাময়িকভাবে স্থগিত” রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তবে অন্যান্য বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ বা গবেষণায় সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মোস্তফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্যে মঈদুল হাসান এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

আস্থা গড়ছেন প্রধানমন্ত্রী, ক্ষয় করছে বিএনপি

এটা ঠিক যে, সরকার বা ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক মূল্যায়ন করার মতো যথেষ্ট সময় এখনো পেরোয়নি। কিন্তু, দলটি কোন দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য এই সময়টা কমও নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সঠিক বার্তাই দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দলের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ উদ্বেগজনক। তার মধ্যে রয়েছে বিরোধীদলের সঙ্গে আচরণ এবং বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। কিছু ক্ষেত্রে এর সুযোগ নিচ্ছেন নেতা ও মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যরা।

প্রথমেই যে প্রশ্নটি করা দরকার সেটা হলো, সরকার কি জনগণের কথা শুনছে? এর উত্তর পেতে হলে আমাদের জানতে হবে, সরকারের ও ক্ষমতাসীন দলের এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা আছে কি না, যার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামত তাদের কাছে, বিশেষ করে ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাবে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, সরকারি কিংবা দলীয় কোনোপক্ষই কখনো এই কাজটি করেনি। কারণ, তারা অপ্রীতিকর কোনো খবরই উপরমহলে পৌঁছে দিত না। তারা এমন কিছুই বলত না, যার কারণে ‘বস’ অসন্তুষ্ট হতে পারেন। সেই সংস্কৃতির কি পরিবর্তন হয়েছে? আমরা আশা করি হয়েছে। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতি যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা যেন ভিন্ন বার্তাই দিচ্ছে।

গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া গণমাধ্যমগুলো রাজনৈতিক বিভাজনে বিভক্ত। এটা গণমাধ্যমের জন্য যেমন স্বাস্থ্যকর না, তেমনি ক্ষমতাসীনদের জন্যও সহায়ক না। এখন পর্যন্ত বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে চলেছে, এ জন্য আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই।

সম্প্রতি বিএনপি ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। এ উপলক্ষে দলটির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারা ‘জবাবদিহিমূলক শাসনের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান’ দিতে চান। তিনি যদি এই একটি কাজ পরিপূর্ণভাবে করতে পারেন, তাহলে জনগণ সবসময় তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।

কিন্তু একটি ‘জবাবদিহিমূলক’ সরকারের প্রাথমিক লক্ষণ কী? মানুষ প্রথম যে ধাক্কাটি খেয়েছে তা হলো, সরকার ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় লোক বসানোর প্রবণতা। অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল করে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি দলীয় অনুগতদের দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, অভিজ্ঞতা ও সততা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে—বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। জনগণ ও সরকারকে সেবা দেওয়ার জন্য তারাই কেবল সবচেয়ে ভালো হতে পারে, বিষয়টি এমনও নয়। বরং তারা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত এবং শেখ হাসিনার আমলেও বিএনপির প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন বলে পুরস্কৃত করতেই তাদের কোনো না কোনো পদে বসানো হয়েছে।

নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে প্রশাসক হিসেবেও বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্তদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে বিরোধীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে জামায়াত নেতারা দাবি তুলেছেন, স্থানীয় সরকারের সব স্তর থেকে যেন দ্রুত দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহার করা হয় এবং নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের যেন আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

বিরোধীদের এই দাবি সহজেই উড়িয়ে দেওয়া যেত, যদি এর ভিত্তি দুর্বল হতো। অধিকাংশ পর্যায়ে, বিশেষ করে নিচের স্তরগুলোতে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা শাসনব্যবস্থাকে জবাবদিহিমূলক হওয়ার থেকে বিরত রাখছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর উপেক্ষা করা উচিত নয়।

জবাবদিহিমূলক শাসনের প্রশ্নে আরেকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা প্রয়োজন। সেটি হলো, মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব বণ্টন কীভাবে করা হয়েছে? মন্ত্রণালয় বণ্টনের সময় মন্ত্রীদের দক্ষতা কি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে? আমরা আগেও বলেছি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সবসময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা আশা করা না গেলেও অন্তত সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তাদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করা উচিত। এক্ষেত্রে তাদের জন্য ‘প্রশিক্ষণ’ শব্দটি হয়তো যথোপযুক্ত হবে না, কিন্তু তারা যে চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বের ভার পেয়েছেন সেটা যেন পরিপূর্ণভাবে বুঝতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। বিষয়টি মোটেই হালকাভাবে নেওয়ার মতো বিষয় না। কারণ, আজকের দিনে রাষ্ট্র পরিচালনাও একটি বিজ্ঞান এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন এই কাজটি অনেক বেশি জটিল।

একাধিক মন্ত্রণালয়ে দেখা যাচ্ছে একজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী এবং এক বা একাধিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত একজন উপদেষ্টা রয়েছেন, যারা সরাসরি উপরমহলে রিপোর্ট করেন। এক্ষেত্রে সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ছিল তাদের একটি টিম হিসেবে কাজ করানো। কিন্তু বাস্তবে প্রায়শই তেমনটি দেখা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীর মতো কাজ করেন। এর ফলে, কার কাছে রিপোর্ট করতে হবে বা কার কাছ থেকে নির্দেশনা নিতে হবে, সেটা নিয়ে জটিলতায় পড়েন আমলারা। এই বাস্তবতায় প্রভাব খাটানো, স্বজনতোষণ ও দুর্নীতির জন্য একটি বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ধীরে ধীরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি এমন এক স্ব-নির্মিত বয়ান ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলছে, যা তাকে কঠিন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে বলে মনে হচ্ছে। ব্যাপকভাবে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, জুলাই সনদকে যে গুরুত্ব ও গভীরতার সঙ্গে দেখা উচিত, বিএনপি তা দেখছে না এবং নির্বাহী বিভাগের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমে যাবে, এমন ক্ষেত্রগুলোতে সনদটি বাস্তবায়নের পথে এগোবে না।

মনে রাখতে হবে, আমাদের সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত সীমাহীন ক্ষমতা দিয়েছে। সেই ক্ষমতার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত দুর্বল। সংসদ ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর যে তদারকি ক্ষমতা আছে, তাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের আধিপত্যের কারণে। আরও পরিহাসের বিষয় হলো, বিরোধীদলীয় এমপিদের ওয়াকআউট, বয়কট ও শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের যে সংস্কৃতি অতীতে ছিল, সেটা সংসদ নেতার প্রশ্নহীন ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিতো। কারণ, বিরোধীদল না থাকলে ক্ষমতাসীন দল যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।

জুলাই সনদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতা কমানো এবং তাকে সংসদের কাছে আরও জবাবদিহিমূলক করা। কিছু ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই চেতনা থেকেই এসেছে। জুলাই সনদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক ব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে আমাদের ক্ষমতা কাঠামোর গণতান্ত্রিকীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এর মধ্যে ১১৩টি ত্রয়োদশ সংসদ অনুমোদন করেছে, যার বেশিরভাগই রুটিন বিষয় নিয়ে ছিল। বাকি ২০টি হয় বাতিল করা হয়েছে, নয়তো মেয়াদোত্তীর্ণ হতে দেওয়া হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ অধ্যাদেশগুলোতে স্বাধীন বিচার বিভাগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশনসহ প্রকৃত সংস্কারের বিষয়গুলো ছিল। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি এগুলোর লক্ষ্য ছিল নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কমানো। এগুলো নতুন করে প্রণয়নের ক্ষেত্রে কারণ দেখানো হয়েছে যে, ক্ষমতাসীন দল এসব বিধানকে আরও কার্যকর করতে চায়।

গুম ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত দুটি বিলের ক্ষেত্রে এখন আমরা চূড়ান্ত রূপটি দেখতে পাচ্ছি। এই দুটি বিল হয়তো খুব শিগগির আইনে পরিণত হবে। জুলাই সনদ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে প্রস্তাবিত এই আইনগুলো ‘জবাবদিহিমূলক শাসন’ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি কতদূর যেতে ইচ্ছুক, সে বিষয়ে তাদের মানসিকতার একটি আভাস দেয়। যে আভাসের উপসংহার জনগণের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম সন্তোষজনক। আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘নখদন্তহীন বাঘ’ বলা হতো। বিলটির আলোকে নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এখন আর সেটাও বলা যাবে না। সর্বোচ্চ বলা যেতে পারে, ‘নখদন্তহীন বিড়াল বা ইঁদুর’। গুম-সংক্রান্ত বিলের ক্ষেত্রেও মূল্যায়নটা একই।

এই দুটি বিল আমাদের ভাবতে বাধ্য করছে যে, হয় বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি, না হয় নিজেকে এমন বিধিনিষেধ ও জবাবদিহির আওতায় আনতে চাইছে না, যা জুলাই সনদের মূল দাবি।

শেখ হাসিনা কেন ব্যর্থ হয়েছেন? অন্য অনেক কারণের পাশাপাশি এর একটি সরল উত্তর হলো, তিনি এমন কোনো ‘স্বাধীন’ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে দেননি, যেখান থেকে তাকে ও তার সরকারকে প্রশ্ন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী যদি ‘জবাবদিহিমূলক শাসন’ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চান, তাহলে তাকে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে, যেগুলো সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার মতো যথেষ্ট স্বাধীন। ড্যারন অ্যাসেমোগ্লু ও জেমস এ রবিনসনের ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘হোয়াই ন্যাশনস ফেইল’ বইটি বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনৈতিক নেতা ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করেছে। বইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হলো, যেসব দেশ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়, তারা উন্নয়ন ধরে রাখতে বেশি সক্ষম হয়। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ছাড়া একটি দেশ স্বল্পমেয়াদে অগ্রগতি দেখতে পেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, ব্যক্তির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি কি আদৌ সেই শিক্ষা গ্রহণ করবে?

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে যেসব ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন

বিমানবন্দর, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল, হোটেল কিংবা কোনো লাউঞ্জে বসে অপেক্ষার সময় ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ পেয়ে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যান। তাতে মোবাইল ডেটা যেমন বাঁচে, ইন্টারনেটও পাওয়া যায় বিনা খরচে।

কিন্তু ফ্রি বা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের আগে একটি প্রশ্ন করা জরুরি—নিজের ব্যক্তিগত তথ্যগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলছেন না তো?

পাবলিক ওয়াই-ফাই মানেই বিপজ্জনক—এ ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।

বর্তমানে অধিকাংশ পরিচিত ওয়েবসাইট এইচটিটিপিএস এনক্রিপশন ব্যবহার করে, ফলে আগের তুলনায় ঝুঁকি অনেক কমেছে। তবে নকল ওয়াই-ফাই, ভুয়া ওয়েবসাইট বা দুর্বল সিকিউরিটির কারণে এখনো আপনার ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) জানিয়েছে, আধুনিক এনক্রিপশনের কারণে পাবলিক ওয়াই-ফাই সাধারণত আগের চেয়ে নিরাপদ হলেও ব্যবহারকারীর সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়তে পারে যেসব তথ্য—

•    ইমেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের লগ-ইন সংক্রান্ত তথ্য 
•    পাসওয়ার্ড
•    ব্যাংকিং বা ব্যাংক কার্ডের তথ্য
•    ব্যক্তিগত মেসেজ ও ডকুমেন্ট
•    অন্যান্য বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের সংবেদনশীল তথ্য

বিশেষ করে এনক্রিপটেড নয় এমন ওয়েবসাইট বা সন্দেহজনক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে অন্য কেউ ওই নেটওয়ার্ক ট্রাফিক পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় ব্যাংকিং, শপিং, পাসওয়ার্ড কিংবা কার্ডের তথ্য ব্যবহারের সময় বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়।

ধরুন, একটি কফিশপের আসল ওয়াই-ফাই-এর নাম ‘কফিহাউজ_গেস্ট’। এখন কোনো প্রতারক কাছাকাছি বসে আরেকটি হটস্পট চালু করল ‘কফিহাউজ_ফ্রি_ওয়াইফাই’-নামে।

এ ধরনের নকল হটস্পট-কে অনেক সময় ‘ইভিল টুইন’ বলা হয়। উদ্দেশ্য হলো—ব্যবহারকারীকে আসল নেটওয়ার্ক মনে করিয়ে প্রতারকের তৈরি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা।

এবার নাম দেখে আপনি দ্বিতীয়টিতে সংযুক্ত হলেন। আর এতেই ওই প্রতারক আপনার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।

তাই এয়ারপোর্ট, হোটেল বা রেস্টুরেন্টের ফ্রি বা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার আগে প্রতিষ্ঠানের স্টাফের কাছ থেকে নেটওয়ার্কের সঠিক নাম জেনে নেওয়া ভালো।

অবশ্যই নয়।

রেস্টুরেন্টের দেয়ালে লেখা একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে শত শত মানুষ একই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন। ফলে শুধু পাসওয়ার্ড থাকাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না।

তবে কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই সরাসরি সংযুক্ত হতে পারা উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই-এর ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।

আর নিজের বাসার ওয়াই-ফাই হলে ডব্লিউপিএ২ বা ডব্লিউপিএ৩ এনক্রিপশন ব্যবহার করা নিরাপদ। এফটিসি বর্তমানে ডব্লিউপিএ৩-কে নতুন ও শক্তিশালী এনক্রিপশনের মানদণ্ড হিসেবে হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ওয়েবসাইট-এর ঠিকানায় এইচটিটিপিএস দেখুন

পাবলিক ওয়াই-ফাই দিয়ে কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহার করার আগে অ্যাড্রেস বারে ‘https://’ এবং ব্রাউজারের লক ইনডিকেটর আছে কি না খেয়াল করুন।

এইচটিটিপিএস থাকলে আপনার ডিভাইস এবং ওয়েবসাইটের মধ্যে পাঠানো তথ্য এনক্রিপটেড থাকে। ফলে একই ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা অন্য কারোর পক্ষে আপনার তথ্য সরাসরি পড়ে ফেলা অনেক কঠিন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

এইচটিটিপিএস মানেই ওয়েবসাইটটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

প্রতারকের ভুয়া ওয়েবসাইটও এইচটিটিপিএস ব্যবহার করতে পারে। এ বিষয়ে এফটিসি সতর্ক করেছে, স্ক্যামাররাও এনক্রিপটেড ওয়েবসাইট বানাতে পারে। এতে আপনার সংযোগ এনক্রিপটেড হলেও তথ্য সরাসরি প্রতারকের কাছেই যাচ্ছে।

তাই লক চিহ্ন দেখার পাশাপাশি ডোমেইনটিও ঠিক আছে কি না যাচাই করুন।

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ফেসবুক স্ক্রল করা বা সংবাদ পড়া আর ব্যাংকিংয়ের কাজ করা এক বিষয় নয়।

ব্যাংকিং অ্যাপ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কিংবা কার্ড দিয়ে পেমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার ক্ষেত্রে সম্ভব হলে ওয়াই-ফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিজের মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন।

বিশেষ করে অপরিচিত উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই-তে বসে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা গুরুত্বপূর্ণ অর্থ লেনদেন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

ফোনে ওয়াই-ফাই অটো-কানেক্ট অপশন চালু থাকলে আগে ব্যবহার করা নেটওয়ার্কের নাম পেলেই ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হতে পারে।

এটি সুবিধাজনক হলেও জনসমাগমের স্থানে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তাই অপ্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক-এর ক্ষেত্রে অটো-কানেক্ট বা অটো-জয়েন অপশন বন্ধ রাখুন এবং কাজ শেষ হলে নেটওয়ার্কটি ডিভাইস থেকে মুছে (ফরগেট) ফেলুন।

পাবলিক ওয়াই-ফাই-এর ক্ষেত্রে সিআইএসএও অটোমেটিক কানেকশন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়।

বিশ্বস্ত ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করলে ডিভাইস ও ভিপিএন সার্ভারের মধ্যকার ট্রাফিক এনক্রিপটেড থাকে। ফলে পাবলিক ওয়াই-ফাই এর লোকাল নেটওয়ার্ক থেকে ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ করা আরও কঠিন হয়।

সংবেনশীল কাজের জন্য সিআইএসএ পাবলিক ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক বা ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় ভিপিএন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

তবে ভিপিএন কোনো জাদুকরী ঢাল নয়।

আপনি যদি ভিপিএন চালু রেখেও ভুয়া ব্যাংকিং ওয়েবসাইট-এ আপনার পাসওয়ার্ড লিখে দেন, ভিপিএন আপনাকে সেই প্রতারণা থেকে বাঁচাবে না।

তাই ভিপিএনের পাশাপাশি ওয়েবসাইট ও সার্ভিসের সত্যতা যাচাই করাও জরুরি।

সংযোগ দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় দেখুন—

নেটওয়ার্ক-এর নাম নিশ্চিত করুন: একই ধরনের একাধিক নাম থাকলে স্টাফ-এর কাছে প্রকৃত নাম জেনে নিন।

অচেনা লগইন পেজ-এ তথ্য দেবেন না: ওয়াই-ফাই চালু করতে যদি ইমেইল পাসওয়ার্ড, ফেসবুক পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য চায়, সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে বের হয়ে আসুন।

এইচটিটিপিএস ব্যবহার করুন: গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট-এর ডোমেইন ও এনক্রিপশন দুটোই পরীক্ষা করুন।

সংবেদনশীল কাজ এড়িয়ে চলুন: ব্যাংকিং বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনার জন্য মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন।

অটো-কানেক্ট বন্ধ রাখুন: অপ্রয়োজনীয় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে নিজে থেকে ফোনকে যুক্ত হতে দেবেন না।

ফোন আপডেট রাখুন: সিকিউরিটি আপডেট পুরোনো থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ফোনের সিকিউরিটি নিয়মিত আপডেট রাখুন।

পাবলিক ওয়াই-ফাই নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ারও প্রয়োজন নেই।

আধুনিক ওয়েবসাইট ও অ্যাপের অধিকাংশ যোগাযোগ এনক্রিপটেড হওয়ায় সাধারণ ব্রাউজিং আগের তুলনায় অনেক নিরাপদ হয়েছে।

কিন্তু ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস হলো—কোনো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ককে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার আগে সেগুলো যাচাই করা।

ফ্রি ওয়াই-ফাই এর কয়েক মিনিটের ইন্টারনেট হয়তো আপনার কিছু মোবাইল ডেটা বাঁচাবে।

কিন্তু ভুল নেটওয়ার্কে একবার পাসওয়ার্ড দিয়ে দিলে ক্ষতির মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগে সংসদ সদস্যের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে—এমন অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘদিনের। এই দূরত্ব কমাতে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু তার নির্বাচনী এলাকায় চালু করেছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘জনতার সংযোগ’।

এই উদ্যোগের আওতায় সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার তিনটি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ ফোন বুথ। এসব বুথ কিংবা নির্ধারিত ফোন নম্বরে কল করে এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি তাদের সমস্যা, অভিযোগ ও পরামর্শ এমপির কাছে পৌঁছে দিতে পারছেন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বুথগুলোর মাধ্যমে আসা তথ্য কন্ট্রোল রুমে সংরক্ষণ ও শ্রেণিবিন্যাস করে দ্রুত এমপির কাছে পাঠানো হয়। জরুরি বিষয় হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে অবহিত করা হয়, আর প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

উদ্যোগটির সমন্বয়ক এবং ছাত্রদলের সাবেক নেতা মির্জা ফয়সাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রথম ফোন বুথ উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো এমন কর্মসূচি চালু হয়েছে।

তার দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।

তিনি জানান, সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সদর উপজেলার মানুষ এসব বুথ বা নির্ধারিত নম্বরে ফোন করে তাদের সমস্যা জানাতে পারেন।

ফয়সালের ভাষ্য, ফোন বুথে থাকা লাল বোতাম চাপলে বা নির্ধারিত নম্বরে কল করলে এমপির নিযুক্ত প্রতিনিধিরা ফোন রিসিভ করেন। তারা অভিযোগ বা তথ্য লিপিবদ্ধ করে এমপির কাছে পাঠান। জরুরি বিষয় হলে তা সঙ্গে সঙ্গেই জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, এমপির পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বাকি ১৫টি ওয়ার্ডেও একই ধরনের ফোন বুথ স্থাপন করা হবে।

অভিযোগের পর সহায়তা পাওয়ার দাবি

ঘারিন্দা ইউনিয়নের পয়লা গ্রামের বাসিন্দা ও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত সালমা বেগম জানান, ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ফোন বুথের কথা জানতে পারেন তিনি। সেখান থেকেই ফোন করে সমাজসেবা অফিসে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন ছয় মাসেও নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়টি এমপিকে জানানোর অনুরোধ করেন।

সালমার দাবি, দুই দিনের মধ্যে এমপি তার বাড়িতে লোক পাঠান এবং ফোনে কথা বলে একটি আবেদনপত্র দিতে বলেন। পরে টাঙ্গাইলে দেখা করারও পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

একইভাবে, তারটিয়া গ্রামের খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, ঝিনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তার এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি ফোনে জানানোর পর এমপির নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন।

বেড়াবুচনা এলাকার সজীব মিয়ার অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে এক বিএনপি কর্মী তার ওপর হামলা করার পর তিনি ফোন বুথের মাধ্যমে বিষয়টি এমপিকে জানান। পরে কন্ট্রোল রুম থেকে তাকে জানানো হয়, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য মাহমুদুল হক সানুকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিলিমপুর ইউনিয়নের মো. শামীম বলেন, তিনি গ্রামের একটি ভাঙাচোরা সড়কের দুরবস্থার কথা কন্ট্রোল রুমে জানিয়েছেন। তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে বিষয়টি এমপির নজরে আনা হবে।

অন্যদিকে, সুরজ এলাকার এক বাসিন্দা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি এলাকায় মাদকাসক্তি ও মাদক ব্যবসার বিষয়ে ফোনে অভিযোগ করেছিলেন।

তার দাবি, দুই দিন পর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং মাদকবিরোধী সতর্কতামূলক সভা করে।

যেভাবে কাজ করে কন্ট্রোল রুম

এই প্রতিবেদক ঢাকার মিরপুরে থাকা কন্ট্রোল রুমে ফোন করলে সানজিদা নামে এক অপারেটর জানান, সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এমপির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, মানুষ ব্যক্তিগত, সামাজিক কিংবা স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফোন করেন। কন্ট্রোল রুমের কর্মীরা প্রতিটি কলের বিষয়বস্তু বিশেষ সফটওয়্যারে শ্রেণিবিন্যাস করে এমপির কাছে পাঠান। এরপর এমপি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। জরুরি হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানানো হয় এবং প্রয়োজনে তিনি নিজেও ফোনকারীর সঙ্গে কথা বলেন।

সানজিদা আরও জানান, অনেকেই পরিচয় প্রকাশ না করে অভিযোগ জানাতে চান। সে ক্ষেত্রে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়।

যা বললেন এমপি

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষ শুধু বুথ থেকেই নয়, নিজেদের মোবাইল ফোন থেকেও নির্ধারিত নম্বরে কল করে তার কাছে অভিযোগ বা সমস্যা জানাতে পারেন।

তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারি ও দাপ্তরিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে হয়। ফলে সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় তার পক্ষে এলাকায় থাকা সম্ভব হয় না। তবে বিভিন্ন প্রয়োজনে এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

তার ভাষায়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধমুক্ত একটি মডেল টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘এখন এই উদ্যোগকে জনগণের কল্যাণে আরও কীভাবে কার্যকর করা যায়, সেটি নিয়েই কাজ করছি’, বলেন তিনি।

আইএমএফের নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা শুরু কাল, পরিমাণ জানা যাবে জানুয়ারিতে

নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় বসবে।

এ আলোচনার উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এবং এ পর্যন্ত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু করতে পারে আইএমএফ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আগে আইএমএফের ঋণ বা কিস্তি পর্যালোচনায় মিশনগুলো অন্তত ১৫ দিন ধরে আলোচনা করত, সেখানে এবারের মিশনটি তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। সর্বোচ্চ ৫ দিন এই আলোচনা চলবে।

অক্টোবরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে নতুন এই ঋণ কর্মসূচির প্রাথমিক আলোচনা শুরু হবে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন ওই কর্মকর্তা।

এরপর আইএমএফ মিশন বাংলাদেশ সফর করবে। মূল সংস্কার কর্মসূচি ও ঋণের পরিমাণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে অক্টোবরের শেষভাগে বা নভেম্বরের দিকে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, অগ্রগতি সন্তোষজনক হলে নতুন ঋণ প্রস্তাব আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুমোদনের জন্য আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডে উত্থাপন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা গত ৯ জুলাই ডেইলি স্টারকে জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটকেও আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইএমএফের চাওয়া ছিল, কর ও জিডিপির অনুপাত ৯ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা এবং বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ শতাংশের নিচে রাখা।

এর আগে, জাতীয় বাজেটে ঘাটতি ৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখার সুযোগ দেওয়া হতো, যদিও বাস্তবায়নের সময় তা সাধারণত ৪ শতাংশের নিচেই থাকত।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগের ঋণ কর্মসূচির অসমাপ্ত সংস্কারগুলোর সঙ্গে নতুন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক নীতিমালার সমন্বয় করে নতুন ঋণ কর্মসূচি সাজানো হতে পারে।

গত মাসে এক বিবৃতিতে ইভো ক্রজনার বলেন, ‘যেকোনো নতুন চুক্তি হতে হবে বাংলাদেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (লেনদেনের ভারসাম্য) সংক্রান্ত প্রয়োজন এবং নির্ভরযোগ্য সংস্কার এজেন্ডার ওপর ভিত্তি করে, শক্তিশালী নীতিগত অঙ্গীকারের আলোকে।’

‘ঋণ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে আইএমএফের নীতিমালা ও নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদনের ওপর। পরবর্তী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আইএমএফ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সরকার ও তাদের সংস্কার এজেন্ডা এবং নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করছেন,’ বলেন তিনি।

আসন্ন সফর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সংস্কারের চ্যালেঞ্জগুলো খতিয়ে দেখার সুযোগ করে দেবে বলে মনে করেন তিনি।

চলতি বছরের ২১ মে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর নতুন ঋণ কর্মসূচির অগ্রগতি সামনে আসে।

পরে ২৫ মে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ও আইএমএফ নতুন করে ৩ বছর মেয়াদি একটি ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে একমত হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ মানবতার জন্য লজ্জা: মিশর কোচ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিক এক ইস্যুতে সরব হলেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে ‘পুরো বিশ্বের জন্য লজ্জা’ বলে উল্লেখ করে তিনি ফুটবলকে মানবিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদ্‌যাপন করেছিলেন হাসান। মঙ্গলবার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও সেই অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মিশরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বলেন, ‘যদি কেউ ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব না করেন, তাহলে তার মধ্যে মানবতা নেই। আমি বলতে চাই, এটি আমাদের জন্য লজ্জার। শুধু আরব বিশ্বের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই লজ্জার। বিশেষ করে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মানুষকে এমন অবস্থায় ফেলে রেখেছেন, তাদের জন্যও এটি লজ্জার।’

হাসানের এই বক্তব্য শেষ হলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অনেক সাংবাদিক হাততালি দিয়ে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। হোসাম হাসান মনে করেন, ফুটবল কেবল খেলা নয়, এটি মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

তিনি বলেন, ‘আমার বার্তা হলো, ফুটবলকে “সফট পাওয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। আমি আপনাদের গণমাধ্যম, বিশ্বের সব ক্রীড়াবিদকে, তাদের পরিচয় যাই হোক না কেন, একটি সম্মিলিত বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তার সেই বার্তাটি ছিল, ‘ফিলিস্তিনি জনগণকে বাঁচতে দিন। তাদের অস্তিত্ব থাকতে দিন। নিজেদের মতো করে জীবনযাপন করতে দিন। এটাই তো স্বাভাবিক।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলায় সরকারি ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

অভিনেতা আতাউর রহমান মারা গেছেন

দেশের বরেণ্য অভিনেতা-নাট্যকার আতাউর রহমান মারা গেছেন।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দিনগত রাত ১২টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মঞ্চসারথি আতাউর রহমান না ফেরার দেশে চলে গেলেন। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।

এর আগে গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা ওই মুহূর্তে না পাওয়ায় পরে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিনই শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী। তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত তিনি। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।

ট্রাম্পের হুমকি: স্পেনের পাশে থাকার কথা জানাল ইইউ

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) স্পেনের প্রতি ‘পূর্ণ সংহতি’ প্রকাশ করেছে।

আজ বুধবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তিনি সংহতি প্রকাশ করেন।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

কস্তা এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলেন, আমি সানচেজের সঙ্গে কথা বলেছি এবং স্পেনের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছি।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবসময় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
পাশাপাশি তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা বিধি মেনে জোটের ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন, ইরানে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযানের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারেন।