26.2 C
Dhaka
Home Blog

ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: নগর শৃঙ্খলায় বড় চ্যালেঞ্জ

ঢাকার সড়ক ব্যবস্থা বহুদিন ধরেই যানজট, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতার এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে চলছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হচ্ছে নগর পরিবহনে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা।

একসময় অলিগলি ও আবাসিক এলাকার পরিবহন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কে দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক, এমনকি বিভিন্ন ভিআইপি সড়কেও এসব যানবাহনের উপস্থিতি এখন নিয়মিত দৃশ্য।

কাগজে-কলমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নতুন কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। ২০১৫ সালে সরকারের এক সিদ্ধান্তে ঢাকার প্রধান সড়ক এবং দেশের ২৩টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টও এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর সড়ক এবং বিভিন্ন মহাসড়কে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—যে আইন বাস্তবে প্রয়োগই করা যায় না, সেই আইন থাকার অর্থ কী?

ব্যাটারিচালিত রিকশা নিঃসন্দেহে নগরবাসীর জন্য একটি সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। কিন্তু একটি পরিবহন ব্যবস্থা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা জননিরাপত্তা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা এবং নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। দুঃখজনকভাবে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে সেই সামঞ্জস্য আজ অনুপস্থিত।

কিন্তু এই সমস্যার মূল জায়গা হলো নিয়ন্ত্রণহীনতা। বর্তমানে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনো সুনির্দিষ্ট নিবন্ধন নেই, চালকদের অধিকাংশের নেই প্রশিক্ষণ, আর যানবাহনের নিরাপত্তা মান নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন। 

এসব রিকশা সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আধুনিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না। ব্রেকিং সিস্টেম দুর্বল, কাঠামোগত স্থায়িত্ব সীমিত এবং গতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা অনুপস্থিত।

অথচ অনেক চালক এসব যানবাহন উচ্চগতিতে চালান, যা যাত্রী ও পথচারী উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও আহত হওয়ার সংখ্যা।

আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো রাজধানীর যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। 

শুধু অলিগলি নয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, বাজার এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সামনেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এসব যানবাহন। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার একটি বড় অংশ কার্যত দখল করে রাখায় সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যায় এবং যান চলাচলের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

এর পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামার জন্য হঠাৎ থেমে যাওয়া, মোড়ের কাছে যত্রতত্র অবস্থান নেওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে অন্যান্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। ফলে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। 

প্রতিদিন কোটি মানুষের চলাচলের এ নগরীতে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অকার্যকর ও বিশৃঙ্খল করে তুলছে।

বিষয়টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যুৎ ব্যবহার। বিভিন্ন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার কাজে। 

উদ্বেগজনক হলো, এই চার্জিংয়ের বড় একটি অংশ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বিদ্যুৎ চুরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, বিশেষ করে যখন দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

তবে বাস্তবতা হলো, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত নীতি। 

প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করতে হবে এবং নিবন্ধন ও ফিটনেস ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং অবৈধ চার্জিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কিন্তু ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সেটা হিতে বিপরীত হচ্ছে । সম্প্রতি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দকে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। 

ঘটনাটি শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো উদাহরণ নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়।

সম্প্রতি রাজধানী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারণের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একার পক্ষে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ও যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লেক রোডে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা দায়ের ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিএমপি কমিশনার জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে কেবল পুলিশের একক প্রচেষ্টায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

ফলে অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘাত ও জনদুর্ভোগ এড়ানোর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকের মধ্যে আইন অমান্যের প্রবণতা বাড়ছে এবং তাদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। 

কার্যকর ও ধারাবাহিক আইন প্রয়োগের অভাবে সড়কে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হয়। ঢাকার ক্ষেত্রেও সময় এসেছে বাস্তবসম্মত, কিন্তু দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নগরবাসীর নিরাপত্তা, সড়কের শৃঙ্খলা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

ঢাকার সড়ক কারও একক সম্পত্তি নয়; এটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাই নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে হলে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।

ঢাকাকে যদি সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য, নিরাপদ ও গতিশীল নগরীতে পরিণত করতে হয়, তাহলে এখনই সাহসী ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং নগর শৃঙ্খলার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল বন্ধ করা আজ আর কোনো বিকল্প নয়; এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি।

 

হুমায়ুন আহমেদ বিলাস, বর্তমানে করপোরেট কমিউনিকেশনস ও পাবলিক রিলেশন্স নিয়ে কাজ করছেন।

২৪ বছর পর যে কীর্তিতে রোনালদো-রোমারিওদের পাশে ভিনিসিউস

ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২৪ বছর আগে, সেই ২০০২ সালে। বিশ্বকাপ জয়ের পথে সেবার গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করেছিলেন রোনালদো ও রিভালদো। এরপর ব্রাজিলের আর কেউ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল পাননি।

বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে ৩-০ গোলে জেতার ম্যাচে জোড়া গোল করে সেখানে নাম লেখালেন ভিনিসিউস জুনিয়র। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের হয়ে একমাত্র গোল করেন তিনি, পরের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষেও ভিনিসিউস পান গোল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েও জোড়া গোলে মাঠ ছাড়েন চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেরা পারফর্মার।

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে ব্রাজিলিয়ানদের গোল করার নজির আছে আরও দুটি। মজার কথা হলো ১৯৯৪ ও ১৯৭০ সালের সেই দুই বিশ্বকাপও জিতেছিল ব্রাজিল। ১৯৭০ সালে এমন কীর্তি দেখান জাইরজিনহো। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে গোল পান কিংবদন্তি রোমারিও।

এদিন ম্যাচে ৭ মিনিটেই গোল পেয়ে যান ভিনি। প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভুলে রায়ান বল কেড়ে দেন ভিনিকে। গোলরক্ষককে কাটিয়ে অনায়াসে জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। খানিক পর আরেক ডিফেন্ডারের ভুলে দ্বিতীয় গোলও করে ফেলেছিলেন, উদযাপনের পর ভিএআর (VAR) চেক করে বল কেড়ে নেওয়ার আগে হালকা টাচ পাওয়ায় সেটা বাতিল করে দেন রেফারি।

অবশ্য দমে না গিয়ে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারেজের পাস থেকে হেড করে দ্বিতীয় গোল করেন ভিনি।

 

বিদ্যুৎ ও সারে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ

বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), জ্বালানি তেল ও সারের দাম বাড়ায় আগামী অর্থবছরে সরকারের ভর্তুকির বোঝা আরও ভারী হতে যাচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার ৫৫ শতাংশই যাবে বিদ্যুৎ ও সার খাতে।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। এরও অর্ধেকের বেশি ব্যয় হয়েছে বিদ্যুৎ ও সারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে এলএনজি, জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং সার খাতে ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও সার ভর্তুকির জন্য মোট ৬৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু বিদ্যুৎ খাতেই থাকবে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগ আরও বেশি বরাদ্দ চাইছে। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস ও ফার্নেসের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিদ্যুৎ খাতের জন্য গ্যাসের দাম বেড়েছে ২০৮ শতাংশ। পাশাপাশি ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের মতো জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নও ব্যয় বাড়াচ্ছে।

গ্যাস খাতে সরকারের ভর্তুকির বড় অংশই যায় এলএনজি আমদানিতে। গত কয়েক বছর ধরে এ খাতে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও চলতি অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ৬ হাজার কোটি টাকার বাইরে আরও প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে। এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।

সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও আপাতত কৃষকদের জন্য সারের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে নিম্নআয়ের মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে খাদ্য ভর্তুকিও বাড়ানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে তা বেড়ে ১০ হাজার ২১৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় প্রণোদনার বরাদ্দ প্রায় ১৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ বলছেন, ডলারের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় এখন এ ধরনের প্রণোদনার প্রয়োজন আগের তুলনায় কমে এসেছে।

প্রণোদনা চালুর সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা। এখন তা প্রায় ১২২ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ এ সময়ে টাকার মান কমেছে প্রায় ৩৭ টাকা।

রপ্তানি প্রণোদনায় আগামী অর্থবছরেও ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের সমান। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পর এসব প্রণোদনা ধীরে ধীরে তুলে নেওয়ার কথা ছিল। তবে উত্তরণের সময় তিন বছর পিছিয়ে যাওয়ায় প্রণোদনাও আরও কিছুদিন বহাল থাকবে।

এ ছাড়া পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের ভর্তুকি ও প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সারের ভর্তুকি কমাতে হলে কৃষকের জন্য সারের দাম বাড়াতে হবে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত। তার ওপর বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকি কমানোর সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ ভর্তুকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা ঘড়ির কাঁটার মতো প্রতিদিনই বাড়তে থাকে। আজ যা দিচ্ছেন, কাল আবার যোগ হচ্ছে। এর মূল কারণ ক্যাপাসিটি চার্জ, যা টিকটিক করা টাইম বোমার মতো।

তার মতে, এই সংকট মোকাবিলায় দুটি পথ আছে—খরচ কমানো অথবা দাম বাড়ানো।

খরচ কমাতে হলে ক্যাপাসিটি চার্জসংক্রান্ত চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু এগুলো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হওয়ায় সহজে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সরকার যদি একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করে, তাহলে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। তাই আলোচনার মাধ্যমে কিংবা চুক্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটিকে ভিত্তি করে চুক্তি পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো ও বিতরণ অপচয় কমিয়ে কিছু সাশ্রয় সম্ভব হলেও মোট ব্যয়ের তুলনায় তা খুব বড় নয়।

অন্য বিকল্প হলো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো। এতে বছরে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আসতে পারে। তবে এরপরও বড় অঙ্কের ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।

রপ্তানি প্রণোদনা প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে এসব প্রণোদনা কমাতে হবে। তবে সরাসরি প্রণোদনা না কমিয়ে উৎসে কর বাড়িয়েও একই ধরনের প্রভাব তৈরি করা সম্ভব।

রেমিট্যান্স প্রণোদনা নিয়ে তিনি বলেন, ডলারের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রণোদনার প্রয়োজন আগের মতো নেই। তবে এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। প্রণোদনা কমানো হলে অর্থনীতিবিদ ও বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে সরকারকে।

 

 

সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে নারী এমপিদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় নারী সংসদ সদস্যদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সোমবার বিকেলে এক সভায় দলের নবনির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে তথ্যসমৃদ্ধ হতে হবে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে নারী এমপিদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে কেউ যাতে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সেজন্য সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমনকি নিজ নিজ এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপও করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর জনগণ এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণায় ছিল। মানুষ কথা বলতে পারেনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষ সব ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করছেন।

সভায় জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের কর্মপদ্ধতি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নারী সংসদ সদস্যরা তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।

সভায় বিএনপি দলীয় ৩৬ জন নারী সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখেন।

সভা শেষে সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরুর আগে সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিষয়ে দলীয়ভাবে আমাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরারও নির্দেশ দিয়েছেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। এতে বিএনপি ৩৬টি আসন লাভ করে।

উত্তর আমেরিকায় ‘হাওয়া’ সিনেমার রেকর্ড ভাঙল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

উত্তর আমেরিকার (কানাডা ও আমেরিকা) বক্স অফিসে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সেখানে মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় সিনেমাটি ছাড়িয়ে গেছে আয়ের শীর্ষে থাকা সিনেমা ‘হাওয়া’এর লাইফটাইম গ্রস কালেকশনকে।

আন্তর্জাতিক পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো ও বক্স অফিস কমস্কোর জানিয়েছে, ‘হাওয়া’ উত্তর আমেরিকায় মুক্তির পর আয় করেছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার। অন্যদিকে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তির প্রথম দুই সপ্তাহেই আয় করেছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ডলার।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার আন্তর্জাতিক পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আশা ব্যক্ত করেন, এই সিনেমা দিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি কোনো সিনেমা চারশো হাজারের ক্লাবে যোগ দিবে বলে আমরা মনে করছি।

জানতে চাইলে সিনেমাটির পরিচালক তানিম নূর বলেন, ‘এই অর্জন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার সম্ভাবনাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিলে আমরা টিম হিসেবে গর্বিত হব।’

তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন—মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, সাবিলা নূর, শরীফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, আরেফিন জিলানী, লাবণ্য চৌধুরী, মাশাসহ অনেকেই।

ইরানে অভিযানে ৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ৫

ইরানে সামরিক অভিযানে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, অপারেশন এপিক ফিউরিতে অংশ নিয়েছিল ওই তিন সেনা। 

চলমান প্রেক্ষাপটে নিহতদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না জানিয়েছে সেন্টকম। 

বিবৃতিতে বলা হয়, বিস্ফোরণে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা শেষে পুনরায় কাজে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বড় পরিসরের সামরিক অভিযান এখনও চলমান বলেও জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।  

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাকে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং শিক্ষকদের দাবিদাওয়া পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আমাদের মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ৯০ শতাংশ সময় শিক্ষার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।’

শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও উৎসব ভাতার দাবি প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আপনারা বেতন স্কেলের কথা বলেছেন। এসব বিষয় আমাদের বিবেচনায় আছে। ঈদের বোনাস ২৫ শতাংশ ছিল। ১৭ বছর পর এই বোনাস ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনৈতিক বিষয়গুলো বাজেট বরাদ্দের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা এগুলো পর্যালোচনা করব। যেহেতু এটি নতুন বাজেট নয়, তাই এগুলো কার্যকর করতে সময় লাগবে।’

ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি নিয়ে শিক্ষকদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে আজ আমাদের বসার কথা ছিল। এই বৈঠক শেষেই আমরা বসব। পলিটিসাইজ বা রাজনীতিকরণের বিরুদ্ধে আপনারা বলছেন—এসব বিষয় আমরা দেখব।’

এনটিআরসিএ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এনটিআরসিএ আমার একক কষ্টের ফসল ছিল। এখন এটা পরিবর্তন হয়েছে। আমরা বুঝে দেখব, রিভিউ করে দেখব কোন কোন জায়গায় আবার আমাদের এটা রিসেক্ট (পুনর্গঠন বা সংস্কার) করতে হবে।’

শিক্ষকদের বদলি ও পদায়ন নিয়ে ৬৪ জেলাতেই সৎ কর্মকর্তার অভাব রয়েছে—শিক্ষক নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছেন ৬৪ জেলায় একজনও সৎ লোক নেই। এটা একটা সিরিয়াস চ্যালেঞ্জ। ঠিক আছে, আমার মাননীয় প্রতিমন্ত্রীও বললেন, আর আমার রেকর্ডটা আপনারা জানেন—আমরা দুর্নীতি করি না, করব না, করতে দেব না। আমিও করি না, আমার প্রতিমন্ত্রীও করেন না। আমরা দুজন শপথ করেছি দুর্নীতি করব না। কিন্তু আমাদের আরেকটা শপথ আছে, করতে দেব না।’

অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটার সর্বশেষ পরিস্থিতি কী, তা নিয়ে আমরা এখনো বসিনি। আমরা এখনো অফিসে সুস্থভাবে বসতে পারিনি। তবে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়ে বসা আমাদের এজেন্ডায় আছে। আমরা আস্তে আস্তে এসব নিয়ে বসব।’

শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আপনাদের দাবিদাওয়া নিয়ে আর রাজপথে আসতে হবে না। এই শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আপনারা নিশ্চিত থাকেন, আমরা আপনাদের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করব।’

সমাজচিন্তক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সাধনা

আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন বাংলাদেশি সংস্কৃতি বিকাশের এক অন্যতম প্রতিভূ। আমৃত্যু তিনি সমাজের অসংগতি দূরীকরণে সচেষ্ট ছিলেন। প্রাজ্ঞ ও পণ্ডিত কিন্তু একেবারে সাদাসিধে এই মানুষটি বাঙালির মুক্তির ধ্বজা হাতে দেশের মানুষকে পথ দেখিয়েছেন। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে একটি স্বপ্নরাজ্যের পরিসমাপ্তি ঘটল। তবুও তিনি বেঁচে থাকবেন বাঙালির মননে ও তার সৃষ্টির গুণে।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। তার বাবা মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, মা জাহানারা খাতুন এবং স্ত্রী ফরিদা প্রধান। তার দুই সন্তানের নাম শুচিতা শরমিন ও ফয়সল আরেফিন দীপন। তার মেয়ে শুচিতা শরমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (প্রথম নারী উপাচার্য) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপনকে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দুর্বৃত্তরা হত্যা করে।

আবুল কাসেম ফজলুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ চার দশক শিক্ষকতা করেছেন। তিনি তার লেখা ও কথার মাধ্যমে জনগণের মাঝে সৎ চিন্তা উসকে দিতে চেয়েছেন। তিনি মানুষের মধ্যে শুভবোধের জাগরণ কামনা করতেন। তিনি জনগণকে শ্রদ্ধা করতেন এবং তাদের কখনো তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন না। তিনি এমন মতপ্রকাশ করতেন যে, যেহেতু দেশের অধিকাংশ সাধারণ মানুষই ধর্মানুগত, তাই তাদের বিশ্বাসে সরাসরি আঘাত দিলে তাদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারাতে হয় এবং সমাজ পরিবর্তনের কাজ বিঘ্নিত হয়।

‘শিক্ষকতা চাকরি নয়, শিক্ষকতা হলো ব্রত’–এই চিন্তা আজীবন ধারণ করেছেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। কৃত্রিমতামুক্ত ভালোবাসা ও মমত্ববোধে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলো বিতরণ করে তিনি প্রকৃত শিক্ষক হতে পেরেছিলেন। শিক্ষকতা করলেই সবাই শিক্ষক হয় না; মহান শিক্ষকের তকমা তার শিক্ষার্থীরাই তাকে দিয়েছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মহলে অত্যন্ত বিনয়ী ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তার নাম সুবিদিত। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্যেই আবুল কাসেম ফজলুল হকের শিক্ষকতা সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর বাইরেও তিনি শিক্ষার্থীদের দেখিয়েছেন শোষণ ও অত্যাচার থেকে মুক্তির পথ। মত ও পথ অনেক হলেও তিনি সত্যকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান থেকে শুরু করে তিনি দেশের চিন্তার জগতে কাজ করেছেন। তাই তিনি হয়েছিলেন দেশ ও সমাজের চিন্তক, শিক্ষক ও আলোর দিশারি।

নিজেকে আলোকিত করে সমাজকে আলোকিত করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। যুগে যুগে জ্ঞানীদের মাধ্যমেই পৃথিবী থেকে অন্ধকার দূর হয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্ম পর্যন্ত আমরা এমন আলোর সারথিদের খুঁজে পাই। আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন সুশিক্ষিত; তার চিন্তার পরিধি দিয়ে প্রসারিত হয়েছে সমাজ ও দেশের চিন্তার জগৎ। পত্রপত্রিকায় অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। সাহিত্য সমালোচক হিসেবে তার খ্যাতি গগনচুম্বী। ষাট বছরের অধিক সময়ে তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি।

তার লেখা জনমানুষের মুক্তির কথা বলে, আশার বাণী শোনায়। সব্যসাচী লেখক হিসেবে তার লেখার পাঠকপ্রিয়তা তুঙ্গে। পৃথিবীতে মানবজন্মের এক গভীর রহস্য আছে। কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থেকে জীবন অতিবাহিত করা মানুষের ধর্ম নয়।

কবিতায়ও এমন চিন্তার প্রতিফলন লক্ষণীয়–‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’। পৃথিবীতে মানুষের অনেক দায়িত্ব আছে। পাশ্চাত্যের মনীষী ও সুপ্রসিদ্ধ লেখক রাস্কিন বলেছেন, এই পৃথিবীতে মানুষের তিনটি কর্তব্য আছে—স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য এবং মানব জাতির প্রতি কর্তব্য। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এই দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ জাগ্রত করার প্রয়াসে সর্বদা ব্যাপৃত ছিলেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার তাকে বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।

আবুল কাসেম ফজলুল হক অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তিনি সর্বদা তরুণ প্রজন্মকে পড়ালেখার প্রতি আকৃষ্ট করতে চাইতেন। আমার সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি আছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অতিথি হিসেবে থাকার সুযোগ পেয়েছি। টেলিভিশনে সমসাময়িক ঘটনাবলি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে তার সঙ্গে একত্রে কথা বলেছি। যখনই দেখা হতো, তখনই শুধু খোশগল্পে মেতে না থেকে জানতে চাইতেন–এখন কী নিয়ে কাজ করছি, কী লিখছি। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তার ভাবনাগুলো তিনি ভাগাভাগি করতেন। সর্বদা দেশমাতৃকার কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিতেন। তিনি কিছুতেই নিরাশ হতেন না। জীবন ও জগতের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা তার মধ্যে সর্বদা লক্ষ করা যেত।

দার্শনিক, সাহিত্যিক ও চিন্তকেরা সমাজের মানুষকে জাগ্রত করেন। নিজেদের প্রতি তাদের বিশ্বাস অটুট থাকে। টি এস এলিয়ট বলেছেন, ‘I can never see that poetry can ever be separated from something which I should call belief.’ কবিতার জন্ম কবির বিশ্বাস থেকে। কবিরা স্বপ্ন দেখান, কবিরাই বিপন্ন মানবতাকে তুলে ধরেন। কবিতা তাই বইয়ের পাতা ঘিরে থাকে না; কবিতা থাকে মানুষের মননে ও চেতনায়। শেষ পর্যন্ত কবিতাই সত্য, কবিতাই শক্তি। এই সত্য ও শক্তি কবিকণ্ঠে ধ্বনিত হয়ে জগত হয় সুন্দর। সেই সুন্দরের অপর নাম জীবন। মূলত জীবনই একটি অনবদ্য কবিতার নাম। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন এই চিন্তার এক মহান সারথি।

অহংবোধ মানুষকে ব্যক্তি ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অল্পজ্ঞানই এর প্রধান কারণ। প্রকৃত লেখক, কবি ও গবেষকেরা কখনো জ্ঞান নিয়ে অহংকার করেন না। তারা জানেন, অহংকার পতনের মূল। এ প্রসঙ্গে জালালুদ্দিন রুমির গল্পটি প্রাসঙ্গিক হবে–তিনি ছোটকাল থেকেই পড়ালেখায় মনোযোগী ছিলেন। কোথাও গেলে প্রচুর বইপত্র নিয়ে যেতেন। এমনও শোনা যায় যে সাতটি উটের ওপর তিনি বিভিন্ন কিতাব নিয়ে যেতেন। একদিন তিনি বই পড়ছিলেন, এমন সময় এক পাগল এসে তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘রুমি কী করছ?’ রুমি উত্তর দিলেন, ‘তুমি এসব বুঝবে না।’ কিছুক্ষণ পরে তার বইপত্রে আগুন লেগে গেল। তখন তিনি পাগলকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এসব কী হচ্ছে?’ পাগল উত্তর দিল, ‘এসব তুমি বুঝবে না।’

রুমি বুঝতে পারলেন লোকটি সাধারণ কোনো পাগল নয়, একজন আধ্যাত্মিক সাধক। কিছুক্ষণ পর পাগলকে আর দেখা গেল না। রুমি বুঝলেন, তার অহংকার করা ভুল হয়েছে। তিনি যে জ্ঞান আহরণ করেছেন, তার চেয়ে ওই পাগলের জ্ঞান অনেক বেশি। তাই তিনি অধিক জ্ঞান আহরণের জন্য উদ্যত হলেন এবং আধ্যাত্মিক গুরু খুঁজতে লাগলেন। পরে শামস তাবরিজির কাছে গিয়ে তিনি দীক্ষা নিলেন এবং একাকী ধর্মচর্চা শুরু করলেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মসনবি’ এখনো আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জনে এক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য।

জ্ঞানীরা সমাজকে পাহারা দেন; তারা সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন। চীনে মহাপ্রাচীর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন সম্রাট শিন হুয়া। তিনি প্রজাদের খুব ভালোবাসতেন। তিনি বিখ্যাত ছিলেন, তবে তার কিছু ভ্রান্তিও ছিল। তিনি যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন, তখন চীনে বড় একটি লাইব্রেরি ছিল। সিংহাসনে বসার পর তিনি সেই বিখ্যাত লাইব্রেরি পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কারণ, এতে বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী ছিল। তার ধারণা ছিল, ওই সব বই পড়লে মানুষ তো আর রাজার জীবনী পড়বে না। কনফুসিয়াস ওই সময়ের একজন চীনা দার্শনিক ও জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ওই লাইব্রেরিটি রক্ষা করেছিলেন এবং তার কারণেই শিনহুয়ার ওই ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি।

শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় শিক্ষক ও বাবা-মায়ের দ্বারা। বিখ্যাত ব্যবসায়ী বিল গেটস তার মায়ের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। বিল গেটসের জীবনে তার মায়ের সেরা তিনটি উপদেশ ছিল–স্কুলের ফল নিয়ে এসে যখন মাকে দেখালেন, মা দেখলেন তিনি শূন্য পেয়েছেন। বিল গেটস বললেন, ‘এই নম্বর আর কয়জন পেয়েছে? আমি একাই পেয়েছি।’ মা বললেন, ‘আমি খুব খুশি হয়েছি। তুমি দশ, বিশ, চল্লিশ বা আশি পেলেও আমি এত খুশি হতাম না। কারণ তুই একদম শূন্য পেয়েছিস। এখন এই শূন্য থেকেই শুরু কর।’ এরপর তার মা তিনটি উপদেশ দেন—

এক. প্রচুর বই পড়তে হবে। ক্লাসের পড়ার বাইরেও একটি বিশাল জগৎ রয়েছে; সে সম্পর্কে জানতে হলে বই পড়তে হবে।

দুই. তুমি যেরকম চিন্তা করবে, জীবন সেভাবেই গড়ে উঠবে। কখনো ছোট চিন্তা করবে না, বড় বড় চিন্তা করবে। এমন চিন্তা করবে যা নিজের কাছেই অসম্ভব মনে হয়।

তিন. জীবনে এমন কাজ করবে যা অন্য কেউ করে না; ভিন্ন চিন্তা করবে। নিজেই নিজের পথ তৈরি করবে এবং অন্যকে স্বপ্ন দেখাবে।

একবার বিল গেটসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সুপারহিরোদের যেমন অতিমানবীয় ক্ষমতা থাকে, আপনাকে যদি তেমন ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে আপনি কী চাইতে চাইবেন? তিনি সবাইকে চমকে দিয়ে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি যাতে দ্রুত বই পড়ে শেষ করতে পারি, সেই ক্ষমতাই চাইব।’ তিনি তার সাফল্যের রহস্য হিসেবে বই পড়ার অভ্যাসকেই তুলে ধরেন।

বই বাছাই এমন হওয়া উচিত, যা জীবনে অনন্য মূল্যবোধ যোগ করে। বইটি পড়ার পূর্বে একজন মানুষ যেমন থাকে, তা পড়া শেষ করার পর সে যেন পরিবর্তিত একজন মানুষ হয়ে ওঠে। বাইরে থেকে দেখতে আগের মতোই লাগলেও, ভেতরে ভেতরে মনমানসিকতায় অনেক কিছুই বদলে যাওয়া উচিত।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক তার শিক্ষার্থীদের মাঝে এভাবেই নিজের চিন্তা সঞ্চারিত করে সমাজ বদলাতে ভূমিকা পালন করেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে তিনি দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অবিচল ছিলেন।

আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন একজন নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক। তার প্রতিটি লেখায় উন্নত ভবিষ্যৎ সৃষ্টির চিন্তা ও আশার প্রকাশ থাকে। তার কর্মমুখী চিন্তাশীলতা সরাসরি বাস্তব অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। রাষ্ট্র, সমাজ, মানুষ, রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, নীতিবিজ্ঞান, জ্ঞানতত্ত্ব, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে তার যুক্তিগ্রাহ্য ও বুদ্ধিদীপ্ত গবেষণামূলক রচনা আমাদের চেতনা ও বিবেচনাবোধকে শাণিত ও সমৃদ্ধ করে চলেছে। তিনি দেশের শ্রমিক, কৃষক এবং মেহনতি মধ্যবিত্ত সাধারণ জনগণের একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নতির জন্য আজীবন লিখেছেন এবং দেশ ও সমাজের অগ্রগতির বিষয়ে সব সময় চিন্তাশীল থেকেছেন।

আবুল কাসেম ফজলুল হক কেবল নিজের কথা ভাবেননি। তিনি সারা জীবন অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করেছেন, যা আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক আরাধ্য স্বপ্ন। কেবল নিজের জন্য ভাবাই দার্শনিক ও চিন্তকদের কাজ নয়। যারা কেবল নিজেদের নিয়ে ভাবেন, তারা মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে পারেন না; মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের নাম মুছে যায়।

এইচ জি উইডোসন বলেছেন, ‘His memory is as dear today, as in the hour he passed away’—আজ তার স্মৃতি আপন হয়েছে কারণ কালে সে চলে গিয়েছে।

আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন সমাজের বাতিঘর। তিনি চিন্তা ও মননের দিক থেকে এক স্বচ্ছ মানুষ ছিলেন। আজীবন জনমানুষের মুক্তির বার্তা দিতে হাতে কলম ধরেছেন। শিক্ষার্থীরা যাতে দেশের প্রকৃত নাগরিক হতে পারে, সেই চেষ্টা করে গেছেন নিরন্তর।

জীবনসায়াহ্নেও তিনি থেমে থাকেননি; অবিরত কাজের মাধ্যমে জনকল্যাণে সরব থেকেছেন। তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তার কাছ থেকে হয়তো আর নতুন কোনো লেখা পাওয়া যাবে না বা সমাজ ও সংস্কৃতি পরিবর্তনে আর কোনো বক্তৃতাও তিনি দেবেন না। তাই আমাদের তার সৃষ্টিসমূহ অনুশীলন করতে হবে। তার লেখাগুলো ছড়িয়ে দিতে হবে তরুণ প্রজন্মের কাছে। তার লেখার মর্মার্থ অনুধাবনের মধ্য দিয়েই আবুল কাসেম ফজলুল হকের চিন্তাকে সমাজে আরও প্রসারিত করা সম্ভব। তার আলোর দিশারি লেখা ও কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দ্যুতি ছড়াবে বলে আমার বিশ্বাস।

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিচালক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট

রেকর্ড গড়ে রোনালদো বললেন, ‘আমি ফিরে এসেছি’

‘আমি ফিরে এসেছি!’ ‘আমি ফিরে এসেছি’- ক্যামেরার দিকে তাক করে দুবার বললেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। কোণঠাসা পরিস্থিতি থেকে রেকর্ড গড়া রাতে ৪১ পেরুনো তারকা পরে জানালেন দলকে জেতাতে পারার স্বস্তির কথা। 

হিউস্টনে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রবল চাপ নিয়ে নেমেছিলো পর্তুগাল। প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ড্র করায় সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছিলেন রোনালদো। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকার একাদশে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছিলো। 

এদিন খেলতে নেমেই সব কিছুর যেন জবাব দিলেন তিনি। ৬ মিনিটেই দারুণ গোলে গড়েন রেকর্ড। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ছয় আসরে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি। পরে ৩৯ মিনিটে দূরূহ কোন থেকে আরেক গোলে ছাড়িয়ে যান ইউসেবিওকে। পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া হলেও পর্তুগালের ৫-০ গোলের জয়ে রোনালদো ছিলেন মাঠময় ঝলমলে। সেই কারণে ম্যাচ সেরাও হন তিনি। 

তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বি লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে নেমেই দুই ম্যাচে করে ফেলেছেন পাঁচ গোল। দুই ম্যাচে চারটি করে গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে আর আর্লিং হালান্ড। রোনালদোর উপর দাবি তাই বাড়ছিল পর্তুগিজদের।

সব মিলিয়ে একটা জাগরণ দরকার ছিলো। সেই স্বস্তি থেকেই ক্যামেরায় নিজের ফেরার বার্তা দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহে আমরা জানতাম এমন কিছু হতে যাচ্ছে, তবে দল বেশ ভালো কাজ করেছে, আমরা অনেক উন্নতি করেছি। প্রচলিত কথায় যেমন বলে— মেঘের আড়ালে সূর্য হাসে। নিজের কথা বলতে গেলে— রেকর্ড ভাঙা সবসময়ই আনন্দের, তবে আমার লক্ষ্য হলো জাতীয় দলকে তার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করা। এই ধাপে লক্ষ্য ছিল প্রথম পর্ব পার হওয়া। আমার মনে হয় চার পয়েন্ট নিয়ে আমরা পরের ধাপে চলে গিয়েছি। আর আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

বয়স বাড়লেও রোনালদো এখনো নিজেকে নিংড়ে দেন সবটুকু। সেই পরিশ্রমের ফল পাওয়ার কথা জানিয়ে সতীর্থদের ধন্যবাদ দেন তিনি, ‘ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন যারা পরিশ্রম করে। আমি জানতাম আমার সতীর্থরাও আমাকে সাহায্য করবে। এটি একটি কঠিন সপ্তাহ ছিল, একটি অন্ধকার সপ্তাহ। মনে হচ্ছিল যেন আমি ফুটবল থেকেই অবসর নিয়ে ফেলেছি, তবে আমি হাল ছাড়িনি, যেমনটা আমি সবসময় করি, কারণ অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আমি কঠোর পরিশ্রমে বেশি বিশ্বাস করি। এটা কঠিন ছিল, আমি মিথ্যা বলব না, আমাকে স্বীকার করতেই হবে, তবে আমরা ফিরে এসেছি।’

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের বাধায় আইএফসির ৮০ মিলিয়ন ডলার ঋণ পাচ্ছে না মেঘনা গ্রুপ

ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) আবেদন প্রত্যাখান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চারটি জাহাজ কিনতে ঋণ পেতে এ আবেদন করেছিল এমজিআই। ঋণের অর্থ পেতে এমজিআইয়ের পক্ষে অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছিল বেসরকারি মধুমতি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে আবেদনটি নাকচ করা হয়েছে।

তবে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল জানান, কোনো কারণ না দেখিয়েই তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আইএফসির ঋণ পেতে হলে অনেক শর্ত পূরণ করতে হয়। সব শর্ত পূরণ করার পর, আমরা ৪টি জাহাজ কিনতে ৮০ মিলিয়ন ডলারের ঋণের অনুমোদন পেয়েছিলাম। কিন্তু এনওসির জন্য আমাদের আবেদনটি শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। প্রত্যাখ্যানের কোনো কারণও আমাদের জানানো হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ঋণ পরিশোধের জন্য এমজিআইয়ের পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস আছে। তা সত্ত্বেও এই অনুমোদন দেওয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিডার অধীনে থাকলে, বিডাই বৈদেশিক ঋণের প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। আর কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীনে পরিচালিত হলে বৈদেশিক ঋণ নিতে তাদের অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এনওসি নিতে হয়। এমজিআইর এই কোম্পানি বেজার আওতাভুক্ত হওয়ায় এটির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।’

তিনি জানান, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই আবেদনটি নাকচ করা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক থাকে। কারণ এ ধরনের ঋণ সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক ঋণ নেয় এবং তা পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে সেই ঋণের দায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রের ওপর এসে পড়তে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ইকুইটি অংশীদারত্ব এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়, কিন্তু বৈদেশিক ঋণকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। কারণ এগুলো বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়।’

‘উৎপাদন দেশীয় বাজারের জন্য হলে এবং এ থেকে রপ্তানি আয় না এলে ঋণ পরিশোধের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ থাকে না। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের প্রস্তাবগুলো নিবিড় পর্যালোচনা করে এবং সবসময় অনুমোদন দেয় না,’ বলেন তিনি।

মেঘনার গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এবং অন্যতম প্রধান ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান। এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নিজস্ব ১১০টিসহ মোট ১৪৫টি জাহাজ রয়েছে।