26.1 C
Dhaka
Home Blog

ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যানসারসহ ছয় দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের এককালীন সহায়তা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব করেন।

তিনি বলেন, ক্যানসারসহ ছয় দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের এককালীন সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা করে দেওয়া হবে।

যেসব আসনে হেরেছে বিএনপি, সেখানেই সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের দায়িত্ব

যেসব আসনে দলের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে সেখানে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের (এমপি) দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি। এসব জায়গায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে এই কৌশল নিয়েছে দলটি।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা কেন্দ্র ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবেন। ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, উন্নয়নকাজের খোঁজখবর রাখা এবং সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো দৃশ্যমান রাখতে সহায়তা করবেন তারা।

সূত্র আরও জানায়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বা স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে প্রতিযোগিতা এড়াতে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য আছেন এমন আসনগুলোয় তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

উদাহরণ হিসেবে, ফাহিমা নাসরিন মুন্নির রাজনৈতিক এলাকা মুন্সীগঞ্জ-৩ হলেও তাকে ঝিনাইদহ-৩ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

ফাহিমা নাসরিন বলেন, আমাদের মূলত সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবার যেসব আসনে অন্য দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, সেসব এলাকার স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। যাতে আগামী দিনে আমরা আরও ভালোভাবে মাঠে ফিরতে পারি।

তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে আমরা স্থানীয় নেতাদের দিয়ে ওই সব এলাকায় আরও জোরালো জনসম্পর্ক গড়তে চাই।

তবে এই দায়িত্বকে অন্য দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর খবরদারি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না বলেও জানান তিনি।

সংরক্ষিত আসনের আরেক নারী সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা দায়িত্ব বণ্টনের এই প্রক্রিয়াকে ‘স্মার্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক, দুই লক্ষ্যই পূরণ হবে।

তিনি জানান, যেসব আসনে বিএনপি জিততে পারেনি, সেখানেও দলের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর ধরে কাজ করেছেন। তাদের রাজনৈতিক সমর্থন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছানো এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সাহায্যের প্রয়োজন।

সানসিলা জেবরিন বলেন, যে আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য জয়ী হয়েছেন, বিএনপি সেখানে এলাকার উন্নয়ন এবং নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে। ওই এলাকায় বিএনপির এমন অনেক নেতাকর্মী আছেন, যারা বছরের পর বছর ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হয়তো অন্য দলের কোনো সংসদ সদস্যের কাছে সাহায্য চাইতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন না।

সানসিলার ভাষায়, ‘উদাহরণ হিসেবে, ছাত্রদলের কোনো কর্মীর যদি চাকরি বা কাজের জন্য কোনো আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রয়োজন হয়, তবে তিনি একজন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যের কাছেই সেই সাহায্য চাইবেন, জামায়াতের এমপির কাছে নয়।’

ঢাকা-১২, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফেরদৌসী আহমেদকে। এসব আসনে জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৫ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

এ ছাড়া বীথিকা বিনতে হোসাইনকে সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব কটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

আরিফা সুলতানা রুমাকে পাবনা-১, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পিরোজপুর-১ আসনে জেসমিন জুঁই এবং বরগুনা-১ আসনে সেলিনা রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোরের চারটি আসনে সুলতানা আহমেদ এবং কুমিল্লার একটি আসনে দায়িত্ব পেয়েছেন রাশেদা বেগম হীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এই পদক্ষেপ দলের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। নারী সংসদ সদস্যরা এসব এলাকায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন এবং হাতছাড়া হওয়া আসনগুলোয় দলের জনসম্পর্ক নতুন করে গড়তে তারা সাহায্য করতে পারেন কি না, দল তা মূল্যায়ন করবে।

ভবিষ্যতে সরাসরি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও তাদের এই কাজের মূল্যায়ন বিবেচনা করা হতে পারে বলে ওই নেতা জানান।

ফাহিমা নাসরিন বলেন, নতুন এই দায়িত্বের ফলে নারী সংসদ সদস্যরা নিজেদের চেনা রাজনৈতিক এলাকার বাইরে কাজ করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তারা বড় পরিসরে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, কী কারণে আমরা আগে হেরেছি এবং এখনকার পরিস্থিতি কী এসব মূল্যায়ন করেই আমাদের কাজ করতে হবে।

তবে বিএনপি নেতারা স্বীকার করছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা খুব একটা সহজ হবে না।

নিজস্ব রাজনৈতিক এলাকার বাইরে নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়ার মানে হলো, তাদের স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের প্রত্যাশাও পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে অন্য দলের নির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে দলকে চাঙা রাখতে হবে।

সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা বলেন, পারিবারিক পরিচিতি, সাংগঠনিক কাজ, নিয়মিত উপস্থিতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব তৈরি হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। ফলে বাইরে থেকে যাওয়া সংরক্ষিত আসনের এমপিদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বিরোধ তৈরি হতে পারে।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, তৃণমূলের প্রত্যাশা সামলানোই হবে তাদের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

নিজেদের সম্পর্ককে ‘সিচুয়েনশিপ’ বললেন রাকুল

বলিউডে বিয়ে মানেই জমকালো আয়োজন, সামাজিক রীতি ও নানা প্রত্যাশা। কিন্তু এই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে ভাবছেন অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং ও প্রযোজক-অভিনেতা জ্যাকি ভাগনানি। বিয়ের পর নিজেদের সম্পর্ককে তারা বলছেন ‘সিচুয়েশনশিপ’। আর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

তবে তাদের ভাষায় এই ‘সিচুয়েশনশিপ’ কোনো অনিশ্চয়তা নয়। বরং সম্পর্ককে চাপমুক্ত, সহজ ও স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা।

বলিউড লাইফকে জ্যাকি ভাগনানি বলেন, তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সহজ যোগাযোগ। সেখানে কোনো কিছু লুকানোর জায়গা নেই, নেই কোনো ভয়ও। নিজেদের অতীত সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন। এই স্বচ্ছতা সম্পর্ককে আরও সহজ করেছে এবং একে অপরের প্রতি আস্থা আরও বেড়েছে।

২০২৪ সালে বিয়ে হয় এই তারকা জুটির।

রাকুল প্রীত সিং মনে করেন, নিজেকে সুখে রাখতে কেবল সঙ্গীর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। বরং নিজের পরিচয়, লক্ষ্য ও ক্যারিয়ার ধরে রাখা জরুরি।

তাদের সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত চাপ বা অযৌক্তিক প্রত্যাশা নেই বলেও জানিয়েছেন তারা। সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে তারা গুরুত্ব দেন পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়াকে। এতে ঝগড়া কম হয়।

গোয়ায় অনুষ্ঠিত তাদের বিয়ের আয়োজন আড়ম্বরপূর্ণ হলেও বেশ সংযত ছিল। সব মিলিয়ে, ‘সিচুয়েশনশিপ’ শব্দটি তাদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। বরং তাদের আধুনিক সম্পর্ক নিয়ে ভাবনার বহিঃপ্রকাশ, যেখানে স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও মানসিক পরিপক্বতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দুবাইয়ে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত

দুবাইয়ে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য সীমিত সংখ্যক বিশেষ ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুবাই বিমানবন্দর।

আজ সোমবার দুবাই বিমানবন্দর, এমিরেটস ও ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

এমিরেটসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা আগের বুকিং থাকা যাত্রীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিশেষ ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে এমিরেটস সরাসরি যোগাযোগ করবে।’

যোগাযোগ করার আগ পর্যন্ত যাত্রীদের দুবাই আন্তর্জাতিক ও আল মাকতুম আন্তর্জাতিক—দুটি বিমানবন্দরেই না যেতে অনুরোধ জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।

 

এছাড়া পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত অন্যান্য সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে বলেও জানিয়েছে এমিরেটস। 

‘এমিরেটস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সে অনুযায়ী তাদের অপারেশনাল সময়সূচি নির্ধারণ করবে,’ বলা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

এদিকে আজ সন্ধ্যায় এমিরেটসের মতো ফ্লাই দুবাইয়েরও কিছু বিশেষ ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

এয়ারলাইনটির এক মুখপাত্রের বরাতে দুবাইভিত্তিক গণমাধ্যম খালিজ টাইমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

দুবাই বিমানবন্দর থেকে ফ্লাই দুবাইয়ের ৪টি ফ্লাইট ছেড়ে যাবে এবং ৫টি ফ্লাইট ফিরবে।

বিমানে যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে: বিমানমন্ত্রী

বিমানে যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

আজ সোমবার মানিকগঞ্জ সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘বেসামরিক বিমান ও পর্যটন খাতে পূর্বের অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

হজযাত্রীদের বিমানবন্দরে যেন কোনো অসুবিধা না হয়. সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখা হবে জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা এয়ারপোর্টে নেমেই যেন কনফোর্ড জোনে থাকেন, তারা যেন বলতে পারেন এই সরকারের আমলে পরিবর্তন এসেছে, এই সকল কাজই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে।’

সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানান আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠিনভাবে নেমেছেন এবং আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা তার দেখানো পথে হাঁটছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। আমাদের সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে সেসব কাজ করতে হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

পরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন আফরোজা খানম রিতা। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। 

 

 

হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করল নরওয়ে

প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন ব্রুনো গিমারায়েস। দ্বিতীয়ার্ধে গোলরক্ষক ওরিয়ান নিলান্ডকে একা পেয়েও জাল খুঁজে নিতে পারলেন না এন্দ্রিক। এসব সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার কড়া মাশুল গুণতে হলো ব্রাজিলকে। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। গোলপোস্টের নিচে নিলান্ডের দৃঢ়তার সঙ্গে শেষদিকে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলের সুবাদে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল নরওয়ে।

রোববার রাতে নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছে নরওয়ে। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে আরেকটি পেনাল্টি থেকে বদলি নামা নেইমারের লক্ষ্যভেদ কেবল সেলেসাওদের হারের ব্যবধানই কমায়।

সেলেসাওদের সামনে এমন এক পরিসংখ্যানগত জটিলতা দাঁড়িয়েছিল, যা তাদের বৈশ্বিক মর্যাদার সঙ্গে একেবারেই বেমানান। কারণ নরওয়ের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসটা পুরোপুরি তাদের বিপক্ষে। এবারও সেই অমীমাংসিত ধাঁধার সমাধান বের করতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল। নরওয়ের সঙ্গে পাঁচবারের দেখায় এটি তাদের তৃতীয় হার, বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্বিতীয়। এর আগে ১৯৯৮ সালের আসরের গ্রুপ পর্বেও একই ব্যবধানে হেরেছিল তারা। দুই দলের বাকি দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র।

১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া ব্রাজিলের হেক্সা মিশন আরও একবার পড়ল মুখ থুবড়ে। অন্যদিকে, নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল নরওয়েজিয়ানরা।

মাত্র ৩৪ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখলেও পাল্টা আক্রমণে গোলমুখে ভীতি ব্রাজিলই বেশি ছড়ায়। কিন্তু ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা ডুবিয়েছে তাদের। বিপরীতে, বলের দখল রেখে খেলা নরওয়ের অল্প সংখ্যক সুযোগ পেলেও তা দারুণভাবে কাজে লাগান হালান্ড। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে ৭ গোল নিয়ে যৌথভাবে এবারের আসরের গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে উঠলেন তিনি।

ম্যাচে থিতু হওয়ার আগে তৃতীয় মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বল পাঠান প্যাট্রিক বার্গ। তবে নরওয়ের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ স্থায়ী হয় কিছুক্ষণ মাত্র। বার্গকে পাস দেওয়া আলেক্সান্ডার সরলথ অফসাইডে থাকায় বাতিল হয় গোলটি।

ব্রাজিলের সামনে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ আসে ডি-বক্সে মাথেউস কুনিয়াকে ক্রিস্টোফার আইয়ের ফেলে দিলে। শুরুতে আবেদনে সাড়া না দিলেও পরে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। তবে ১৪তম মিনিটে গিমারায়েস স্পট-কিক থেকে হন ব্যর্থ। বামদিকে ঝাঁপিয়ে বল রুখে দিয়ে নরওয়েকে বাঁচান গোলরক্ষক নিলান্ড। রান-আপে কিছুটা থেমে নেওয়া গিমারায়েসের শটে তেমন জোরও ছিল না।

৩৫তম মিনিটে প্রথমবারের মতো গোলমুখে শট নেয় নরওয়ে। অ্যান্টোনিও নুসার পাসে মার্টিন ওডেগার্ডের কোণাকুণি শট বাইরের দিকে জালে লাগে। দুই মিনিট পর দুরূহ পরিস্থিতি থেকে হালান্ডের প্রচেষ্টা পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসনকে।

চার মিনিট পর নরওয়ের ডি-বক্সে ওডেগার্ডের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলির সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে যান তিনি। তবে তার কোণাকুণি শট পা দিয়ে দারুণভাবে রুখে জাল অক্ষত রাখেন নিলান্ড।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রাজিল বেঁচে যায় আলিসনের দৃঢ়তায়। ছুটতে থাকা হালান্ডকে আটকাতে মার্কিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েলের চ্যালেঞ্জ করেন একসঙ্গে। আলগা বল চলে যায় ওডেগার্ডের পায়ে। খুব কাছ থেকে তার নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান আলিসন।

প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা হয় একই ধাঁচে। নরওয়ে বল দখলে রেখে খেলতে থাকে, ব্রাজিল পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে সুযোগ খুঁজতে থাকে। তবে বিরতির পর ব্রাজিল হতাশ করার ধারা জারি রাখলেও হালান্ডের নৈপুণ্যে নরওয়ে ঠিকই গোল আদায় করে নেয়।

৫৯তম মিনিটে ম্যাচের অচলাবস্থা ভেঙে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেওয়ার সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পান আগের মিনিটে কুনিয়ার বদলি নামা এন্দ্রিক। পাল্টা আক্রমণে বাম দিক থেকে দুর্দান্ত এক থ্রু বল বাড়ান ভিনিসিয়ুস। তখন সামনে কেবলই গোলরক্ষক। প্রথম ছোঁয়াটা ভালো হলেও এন্দ্রিকের দ্বিতীয় ছোঁয়াটা কিছুটা জোরে হয়ে যায়। ততক্ষণে গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা নিলান্ডের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে শেষমেশ শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।

তিন মিনিট পর আবার নরওয়ের ত্রাণকর্তা নিলান্ড। ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে রায়ানের শট একজনের গায়ে লেগে সামান্য দিক পাল্টালেও দারুণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন তিনি।

জাপানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক মার্তিনেলির জায়গায় ৬৭তম মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। তবে ৩৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ তারকা বদলাতে পারেননি দলের ভাগ্য।

নিষ্প্রভ থাকা হালান্ড জ্বলে ওঠেন ৭৯তম মিনিটে। বাঁ দিক থেকে আন্দ্রেয়াস শেলদেরাপ নিখুঁত ক্রস ফেলেন ডি-বক্সের ভেতরে। গ্যাব্রিয়েলকে ফাঁকি দিয়ে লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করে নরওয়েকে লিড দেওয়ার পাশাপাশি ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দেন হালান্ড।

সমতার খোঁজে থাকা ব্রাজিল ৮৬তম মিনিটে ফের আটকে যায় নিলান্ড নামক বাধার দেয়ালে। এন্দ্রিকের শট আইয়েরের পায়ে লেগে ক্রসবার ঘেঁষে জালে জড়াতে যাচ্ছিল। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে অসাধারণভাবে বল রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক।

এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সেলেসাওদের ফেরার সব আশা শেষ করে দেন হালান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি নামা শেলদেরাপের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে আচমকা জোরাল নিচু শট নেন তিনি। ঝাঁপিয়ে পড়লেও তা ঠেকানোর কোনো উপায় জানা ছিল না আলিসনের।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই নিয়ে টানা ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে জাল খুঁজে নিলেন হালান্ড। শুধু তাই নয়, চোখ কপালে তোলার মতো বিষয় আছে আরও। নরওয়ের জার্সিতে সবশেষ ১৪টি ম্যাচে ২৭টি গোল করলেন তিনি।

যোগ করা আট মিনিট সময়ের শেষদিকে কাসেমিরো ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন লিও ওস্টিগার্ডের দ্বারা। পেনাল্টি থেকে নিলান্ডকে অবশেষে পরাস্ত করে গোল পাওয়ার হাসি ফুটে ওঠে নেইমারের মুখে। কিন্তু ম্যাচের ফল বদলাতে সেটা যথেষ্ট ছিল না। বরং কিছুক্ষণ পর শেষ বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমারসহ ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা।

ইতিহাস গড়ার পর বাঁধভাঙা আনন্দে মাতোয়ারা নরওয়ে এখন নতুন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায়। কোয়ার্টার ফাইনালে হালান্ডের প্রতিপক্ষে হবে এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো অথবা ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।

দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা, বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করা এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। এজন্য ব্যবস্থাপনা সংস্কার এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

এছাড়া ব্যাংক খাতে অনাদায়ী ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার লুট হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে এবং ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অনিয়ম বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করা হবে, যেন দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলো স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে, বলেন তিনি।

এছাড়া নারী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক সেবা প্রাপ্তি বাড়িয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রথম ১০০ দিনে অপরাধ বৃদ্ধির অভিযোগে সরকারের সমালোচনায় রুমিন ফারহানা

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ১০০ দিনেই হত্যা, অপহরণ, ছিনতাই এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে—অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেওয়া নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিসংখ্যান তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে অপরাধের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। শুধু মার্চ ও এপ্রিল মাসেই দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি ও ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১২৯টি পৃথক ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই হামলার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি।

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এ সময়ে ৩ হাজার ৪৯৬টি নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ থেকে ১০২টি ধর্ষণ, ৩০ থেকে ৩৬টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ৪৯ থেকে ৭১টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্টভাবে দেখায়, মাত্র তিন মাসের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।’

আজ সকালেই টিআইবির ওই প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। তারা মাঠপর্যায়ে কোনো প্রকার তদন্ত না করে শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর খালি আসন দেখিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সামনে তাকিয়ে দেখলাম তার আসনটি খালি, অর্থাৎ তিনি উপস্থিত নেই। কী আর করা, তার অনুপস্থিতিতেই বলি।’ 

‘সরকারের সামগ্রিক কার্যকারিতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা—এই দুটি খাতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা যেকোনো অর্থবহ মূল্যায়নের অর্ধেক নির্ধারণ করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকলে তার ব্যর্থতাগুলো আরও সহজে তুলে ধরা যেত,’ যোগ করেন এ সংসদ সদস্য।

ঈদুল আজহায় শীর্ষে থাকবে কোন সিনেমা, চলছে বিশ্লেষণ

গত ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো এখনো প্রেক্ষাগৃহে চলছে। এরমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে ঈদুল আজহার সিনেমার প্রস্তুতি। 

ঈদুল ফিতরে পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। তার মধ্যে রয়েছে— ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘প্রিন্স’, ‘প্রেসার কুকার’, ‘রাক্ষস’। 

ঈদুল ফিতরের এসব সিনেমার মধ্যে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এখনো শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্য সিনেমাগুলোও মোটামুটি ব্যবসা করেছে, প্রশংসিত হয়েছে। দেশের বাইরে মুক্তি পেয়ে ভালো সাড়া ফেলেছে। 

ঈদুল আজহায় কোন কোন সিনেমা ভালো করবে, সেটা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তির তালিকায় থাকা কয়েকটি সিনেমা নিয়ে এই আয়োজন।

 

ঈদুল আজহায় শাকিব খান অভিনীত নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’ মুক্তি পাবে। এই সিনেমায় দ্বিতীয়বারের মতো শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন সাবিলা নূর। 

এর আগে ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল এই জুটিকে। ‘রকস্টার’ সিনেমাটি পরিচালনা করছেন আজমান রুশো। সিনেমাটি ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে, এমন ঘোষণা দিয়েই শুটিং শুরু করা হয়েছে। 

ইতোমধ্যে বেশির ভাগ শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।

‘হাওয়া’ সিনেমার সাফল্যের পর ‘রইদ’ নির্মাণ করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন। ইতোমধ্যে পরিচালক ঈদুল আজহায় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। সিনেমাটির একটি গানও প্রকাশ হয়েছে। 

মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ‘ঈদুল আজহায় সিনেমাটি মুক্তি দিচ্ছি আমরা। সম্ভাব্য মুক্তিকে সামনে রেখে এর প্রথম গানটি প্রকাশ করা হয়েছে। এই গানটা দিয়েই আসলে রইদের যাত্রাটা শুরু হলো বলা যায়। 

গানের সুরের মতোই “রইদ”-এর গল্পটিও দর্শকদের অনুভূতির গভীরে দাগ কাটবে এবং আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হবে।’

আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মীম অভিনীত সিনেমা ‘মালিক’ ঈদুল আজহায় মুক্তির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন সাইফ চন্দন।

পরিচালক সাইফ চন্দন জানান, ‘আমরা সিনেমাটির মুক্তির বিষয়ে কোনো কিছুই এখনও অফিসিয়ালি জানাইনি। তবে আমরা প্রস্তুত করছি। ঈদে মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবেই সব জানানো হবে।’

প্রায় পাঁচ বছর আগে ‘মাসুদ রানা’ সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন পরিচালক সৈকত নাসির। সিনেমাটির বেশিরভাগ শুটিং শেষ হলেও বাকি ছিল একটি গান ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য। 

নানা জটিলতা কাটিয়ে সিনেমাটি ঈদুল আজহায় মুক্তির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

সিনেমায় ‘মাসুদ রানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা। তার বিপরীতে ‘সোহানা’ চরিত্রে আছেন পূজা চেরি।

বুবলী ও আদর আজাদ অভিনীত সিনেমা ‘পিনিক’।

জাহিদ জুয়েল পরিচালিত সিনেমাটি গত দুই ঈদ ধরেই মুক্তির ঘোষণা দিয়েও মুক্তি পায়নি। 

আগামী ঈদুল আজহায় সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়াও রায়হান খান পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল সিনেমাটিও ঈদে মুক্তি পেতে পারে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন তানিয়া বৃষ্টি, নুসরাত ফারিয়া, মৌসুমী হামিদ ও সায়রা আক্তার। 

আরও আছেন তারিক আনাম খান, আদর আজাদ ও ইভন। 

সিনেমাটির কিছু অংশের শুটিং বাকি রয়েছে।

ট্রাম্পের ইরান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং ইসরায়েলেরই স্বার্থে

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক পররাষ্ট্রনীতির যুগ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর মে মাসে অঞ্চলটির নেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, ওয়াশিংটন আর অন্য কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা বদলানো বা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মতো ব্যর্থ প্রকল্পে জড়াবে না।

তার ভাষ্য, ‘শেষ পর্যন্ত তথাকথিত রাষ্ট্রগঠনকারীরা যতগুলো দেশ গড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি দেশ ধ্বংস করেছে। আর হস্তক্ষেপকারীরা এমন জটিল সমাজে হস্তক্ষেপ করেছে, যেগুলো তারা নিজেরাই বুঝত না।’

নিজের আগ্রাসী পূর্বসূরিদের কঠোর সমালোচনাও করেছিলেন তিনি।

কিন্তু সেই ঘোষণার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।

‘স্বাধীনতা’ আনা হবে এমন লক্ষ্য সামনে রেখে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক হামলার নির্দেশ দেন। আর নির্দেশ তিনি দেন সেই ভাষা ও যুক্তিতে যা বহুদিন ধরে ব্যবহার করে আসছিলেন নব্য রক্ষণশীল হস্তক্ষেপবাদীরা, বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ।

অথচ রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে ট্রাম্প নিজেই সেই নীতির বিরোধিতা করেছিলেন। এখানেই শুরু হয় বড় প্রশ্ন।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের ঘোষিত রাজনৈতিক মতাদর্শ, নীতিগত অবস্থান কিংবা নির্বাচনী অঙ্গীকার—কোনোটির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বরং একাধিক ইরান-বিশেষজ্ঞ আল জাজিরাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়েছে, যার প্রধান সুবিধাভোগী ইসরায়েল এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ওয়াশিংটন ডিসির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোরতাজাভির ভাষায়, ‘এটি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের প্ররোচনায় শুরু করা একটি বেছে নেওয়া যুদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা আরেকটি ইসরায়েলি যুদ্ধ। দুই দশক ধরে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার জন্য চাপ দিয়েছে। আর অবশেষে তারা সেটি আদায় করেই ছাড়ল।’

মোরতাজাভিও স্মরণ করিয়ে দেন ট্রাম্পের আগের অবস্থান। সেখানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শাসন পরিবর্তনের যুদ্ধের জন্য পূর্বসূরিদের দায়ী করেছিলেন।

নিজেই নিজেকে শান্তির প্রেসিডেন্ট দাবি করে তার এই হামলার পদক্ষেপের ঘটনাকে বিদ্রূপাত্মকও বলেন তিনি।

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আগ্রাসনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। সেই সময় থেকেই তিনি দাবি করছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে।

তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক বোমা তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অস্ত্রে রূপ নিচ্ছে—নিশ্চিত প্রমাণ ওয়াশিংটনের হাতে নেই।

গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালায়।

ট্রাম্প দাবি করেন, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে।

কিন্তু এরপরই নেতানিয়াহু নতুন হুমকির দিকে মনোযোগ দেন। আর সেই হুমকি—ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি।

গত অক্টোবরে ইসরায়েলপন্থী পডকাস্টার বেন শাপিরোকে তিনি বলেন, ‘ইরান যেকোনো আমেরিকার নানা শহরকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে।’

তার দাবি ছিল, ইরান আট হাজার কিলোমিটার পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। এটি আরও উন্নয়ন হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলেও পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্পও একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন। যদিও তেহরান তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে এবং এর পক্ষে কোনো প্রকাশ্য পরীক্ষা বা প্রমাণ সামনে আসেনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ইতোমধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা ইউরোপ ও বিদেশে আমাদের ঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।’

গত জুনে সংঘাতের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছিল এবং নতুন হামলার হুমকি দিচ্ছিল।

অথচ যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, তারা নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে পশ্চিম গোলার্ধে গুরুত্ব দেবে।

ইরাক ও আফগানিস্তানের দীর্ঘ যুদ্ধের পর মার্কিন জনগণের মধ্যেও নতুন সংঘাতে জড়ানোর ক্লান্তি স্পষ্ট।

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২১ শতাংশ আমেরিকান ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সমর্থন করেন।
তবুও যুদ্ধ শুরু হয়।

প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সেনা উপস্থিত ঘাঁটি ও শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র অস্থিরতা।
ট্রাম্প স্বীকার করেন, এই সংঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঝুঁকি রয়েছে।

শনিবার তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে এমনটা প্রায়ই ঘটে।’
 
তিনি দাবি করেন, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতের জন্য যুগান্তকারী হতে যাচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে মনে হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের পথ থেকে সরে আসছে।

তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত হয় ট্রাম্প প্রশাসন। গত সপ্তাহে তিন দফা বৈঠকে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারি মেনে নেওয়ার কথা জানায়। ওমানি মধ্যস্থতাকারী ও ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, সর্বশেষ বৈঠকটি ইতিবাচক ছিল এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হয়েছিল।

কিন্তু এই আলোচনার মাঝপথেই আবার যুদ্ধ শুরু হয়।

ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের সভাপতি জামাল আবদি আল জাজিরাকে বলেন, ‘নেতানিয়াহুর লক্ষ্য সবসময়ই কূটনৈতিক সমাধান ঠেকানো। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন ট্রাম্প সত্যিই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন। তাই আলোচনার মাঝখানে যুদ্ধ শুরু হওয়া তার জন্য একটি শুভ সংবাদ।’

তার মতে, ট্রাম্পের শাসন পরিবর্তনে আগ্রহী হওয়া নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক বিজয়। কিন্তু এটি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত সামরিক সংঘাতে জড়াতে পারে।

হামলার ঘোষণা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার লক্ষ্য ইরানকে ‘আমেরিকার মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে হুমকি’ দেওয়া থেকে বিরত রাখা।

কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন—১০ হাজার কিলোমিটার দূরের ইরান কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হুমকি?

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের কিছু সমর্থকও এ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন।

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইরান না থাকলে হিজবুল্লাহ থাকত না। আর লেবানন সীমান্তে আমাদের সমস্যা থাকত না।’

এর জবাবে রক্ষণশীল বিশেষজ্ঞ টাকার কার্লসন বলেন, ‘লেবানন সীমান্তে কী সমস্যা? আমি একজন আমেরিকান। এই মুহূর্তে লেবানন সীমান্তে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি যুক্তরাষ্ট্রে থাকি।’

শনিবার কংগ্রেসওম্যান রাশিদা ত্লাইবও একই সুরে বলেন, মার্কিন জনগণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না।

তার ভাষ্য, ‘ট্রাম্প আমেরিকার রাজনৈতিক অভিজাতদের সহিংস পরিকল্পনা এবং ইসরায়েলের বর্ণবাদী সরকারের এজেন্ডা অনুসারে কাজ করছেন। আর স্পষ্ট ও জোরালোভাবে ‘আর যুদ্ধ নয়’ বলা মার্কিনীদের বৃহৎ অংশের মতামত উপেক্ষা করছেন।’