33 C
Dhaka
Home Blog

ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যার কথা কি আমরা ভুলে যাচ্ছি?

ইসরায়েল এখন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তাই করছে, যেটা নাৎসিরা ইহুদিদের সঙ্গে করেছিল। তারা গাজা ও পশ্চিম তীরকে কার্যত বন্দিশিবিরে পরিণত করেছে। গ্যাস চেম্বারের জায়গায় প্রায় প্রতিদিন নিরস্ত্র ও অসহায় ফিলিস্তিনিদের ওপর বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

কী নির্মম পরিহাস! নাৎসি ও তাদের সহযোগীরা ইউরোপজুড়ে লাখো ইহুদিকে হত্যা করেছিল, পুরো বিশ্ব তাদের দুর্দশায় সহানুভূতিশীল হয়ে ন্যায়বিচার চেয়েছিল এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূল্য চুকাতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের।

ইসরায়েলের অবিরাম বোমা হামলায় গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যারা এখন পর্যন্ত এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও বেঁচে আছেন, তাদের খাবার ও জীবনধারণের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই, তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। হাসপাতালগুলোতে বোমা হামলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সুপেয় পানি থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকি মাসের পর মাস তাদের বাধ্য হয়ে সমুদ্রের পানি পান করতে হচ্ছে।

ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও হামাসকে নির্মূল করার অজুহাতে তিনি ও তার দুষ্কর্মের সহযোগীরা এভাবেই সবচেয়ে অমানবিক ও বর্বর অপরাধ করে যাচ্ছেন।

ফিলিস্তিনে যারা এখনো বেঁচে আছেন, ভবিষ্যতের কোনো ধরনের আশা ছাড়াই কেবল টিকে থাকার লড়াই করে প্রতিটি দিন কাটছে তাদের। ইসরায়েলিরা গাজার বাসিন্দাদের অনাহারে রেখে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছে। গোটা বিশ্বের চোখের সামনে এমন গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে, অথচ কেউই সেটার যথেষ্ট নিন্দা জানাচ্ছে না।

ট্র্যাজেডি হলো, বিশ্ববাসীর মনোযোগ এখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের দিকে। ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে, ইসরায়েল কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ-ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিশ্ববাসীর মনোযোগ ফিলিস্তিন থেকে অনেকটাই সরে গেছে।

অনেকেই আশা করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধটি দ্রুতই শেষ হবে। কিন্তু সেটা না হওয়ায় বিশ্ববাসীর মনোযোগ অন্যদিকে থাকার সুযোগে ফিলিস্তিনে হত্যাকাণ্ড ও ভূখণ্ড দখল চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

এদিকে, গত ২ মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার ৪০০ জন, আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ১৭৯ বার হামলা হয়েছে এবং এতে ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ চলছেই। ইসরায়েলের কাছে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা যেন ‘বিনোদনের’ বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যার সপক্ষে সবসময়ই কোনো না কোনো যুক্তি দাঁড় করানো হয়।

নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের হামলা। এসব হামলায় ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত ৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, স্থাপনা ধ্বংস এবং উচ্ছেদের কারণে অনেক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ইসরায়েল যা-ই করছে তার নেপথ্যে রয়েছে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। এটি একটি রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী ভাবনা, যা বর্তমান উগ্র ডানপন্থী সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়। তারা বর্তমান ইসরায়েলের চেয়ে অনেক বড় একটি ভূখণ্ড চায়।

অর্থোডক্স ইহুদিদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘গ্রেটার ইসরায়েল’-এর কথিত বাইবেলভিত্তিক সংস্করণের সীমানা নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি সংস্করণে ভূমধ্যসাগর থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডের কথা বলা হয়। অনেক জায়নবাদী সমর্থিত একটি সংস্করণের মধ্যে রয়েছে পশ্চিম তীর ও গাজার ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। ইসরায়েল ইতোমধ্যে পূর্ব জেরুজালেম ও গোলান মালভূমি দখলে নিয়েছে।

১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধের ফলাফল ইসরায়েলি নেতাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, যেখানে ইসরায়েলের এমন বিজয় কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এরপরই তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব। সেই যুদ্ধের ১০ বছর পর ১৯৭৭ সালে মেনাখেম বেগিন ও তার লিকুদ পার্টি ক্ষমতায় এলে লিকুদ ও ইসরায়েলি ডানপন্থীদের আদর্শ গ্রেটার ইসরায়েলের ধারণা আরও দ্রুত বাস্তবায়িত হতে শুরু করে। বছরের পর বছর ধরে এই ধারণা আরও বিস্তৃত হয় এবং ক্রমেই বেশি সংখ্যক জায়নবাদী এটিকে নিজেদের পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করেন।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী হতে হতো। এর ফলে সামরিক বাহিনীর সম্প্রসারণ এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ডানপন্থী মিলিশিয়া গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র জেনে বা না জেনে এই পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

ফলে লক্ষ্যটি স্পষ্ট—পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করা এবং সেগুলোকে যতটা সম্ভব স্থায়ী করা, যাতে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও এসব বসতি সরিয়ে দেওয়া শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব হয়ে পড়ে।

১৯৬৭ সালের ওই যুদ্ধের পর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন শুরু করে ইসরায়েল। ১৯৭২ সালের মধ্যে বসতির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪টিতে এবং চার বছরের মধ্যে তা বেড়ে ২০টিতে পৌঁছায়, যেখানে বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ২০০।

এই যুক্তি তাদের মধ্যে আরও জোরালো হয়ে ওঠে যে, জুডিয়া ও সামারিয়া কেবল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণই নয়, ধর্মীয়ভাবেও এগুলো গ্রেটার ইসরায়েলের অংশ হওয়ার জন্য নির্ধারিত। বেগিন ক্ষমতায় আসার পর বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা ৩ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ১৭ হাজার ৪০০-তে দাঁড়ায় এবং বসতির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯৮৩ সালের মধ্যে বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২২ হাজার ৮০০-তে এবং স্বীকৃত বসতির সংখ্যা ৭৬টিতে।

এক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এসে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে, ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বসতিগুলোকে ন্যায্যতা দেওয়া হতো; ১৯৭৭ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তা আরও বেশি আদর্শিক রূপ নেয়; আর ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বসতি সম্প্রসারণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা হলো কার্যত সংযুক্তিকরণ।

এ সময়কালে শান্তিপূর্ণ সমাধানের একমাত্র বড় প্রচেষ্টা ছিল অসলো চুক্তি। ১৯৯২ সালে গোপনে এর সূচনা হয় এবং ইসরায়েল ও পিএলওর মধ্যে সরাসরি আলোচনায় রূপ নেয়। ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উপস্থিতিতে আইজ্যাক রবিন ও ইয়াসির আরাফাত আনুষ্ঠানিকভাবে অসলো চুক্তিতে সই করেন।

এরপর ১৯৯৪ সালে গাজা-জেরিকো চুক্তি হয়, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রথম বড় চুক্তি বাস্তবায়িত হয়। ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয় অসলো চুক্তি সই হয়, যার মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে এ, বি ও সি এলাকায় ভাগ করা হয়। লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসনের পরিধি বাড়ানো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভূখণ্ডটির ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণই আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে পশ্চিম তীরের বিস্তৃত অবকাঠামো, সামরিক চৌকি, সড়ক, পৌর প্রশাসনের কর্তৃত্ব ও অর্থনৈতিক একীভূতকরণের কারণে বলা যায়, এটি কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্প্রতি যে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, সেটি দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির জন্য এই দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই এখন পর্যন্ত সামনে এগোনোর একমাত্র পথ।

যৌথ বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ‘দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে। বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন মাত্রার সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণের কারণে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।’

অবিলম্বে বসতি সম্প্রসারণ ও বেসামরিক প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

দেশগুলো আরও ঘোষণা করেছে, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে তারা উদ্যোগ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব অনুযায়ী আমরা দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি দ্ব্যর্থহীনভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ, যা একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে পাশাপাশি বসবাসের সুযোগ দেবে…’

নেতানিয়াহু ও তার উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রিসভা ফিলিস্তিনিদের নির্মূল করার লক্ষ্য কখনো গোপন করেনি। এজন্য তারা সবসময় দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ঘোর বিরোধিতা করে এসেছে। সেখানে এসব পশ্চিমা দেশের পক্ষ থেকে সেই দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান পুনরুজ্জীবনের পক্ষে জোরালো সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

এর আগে ইসরায়েলকে কখনো এমন ঐক্যবদ্ধ পশ্চিমা অবস্থানের মুখোমুখি হতে হয়নি। এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ব্যাপকতর স্বীকৃতির উদ্যোগ নেয় সৌদি আরব ও ফ্রান্স। যার ফলে আরও অনেক দেশও একই পথে এগিয়ে যায়। দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে পশ্চিমা দেশগুলোর সর্বশেষ উদ্যোগটির আরও ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া উচিত। সব আরব দেশেরই এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো উচিত, একইভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও।

এই সমাধানটি শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বরং এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যও করা উচিত, যেখানে আইনের শাসন থাকবে এবং যে ব্যবস্থা আমাদের সবার জন্য একটি উন্নততর বিশ্ব তৈরি করবে। তা না হলে আমরা এমন এক সভ্যতায় পরিণত হবো, যেখানে মূল্যবোধ, নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং শান্তির কোনো স্থান থাকবে না।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ হলেও কর্মকাণ্ড ‘সবার আগে বিএনপি’: গোলাম পরওয়ার

ছাত্রদলের তিন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ গ্রেডে উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে সামনে এনে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির দাবি, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মধ্যেই বিএনপি বিভিন্ন সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান আবিরকে মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

‘এ ছাড়া ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবকেও ষষ্ঠ গ্রেডের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে’, বলেন গোলাম পরওয়ার।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফার নবম দফায় ‘সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে’ উঠে রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার এখন সেই প্রতিশ্রুতির বিপরীত পথে হাঁটছে।

তার ভাষ্য, ‘সংকীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে ওঠার কথা বলে এখন শতভাগ দলীয় সংকীর্ণতার মধ্যে থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ হলেও সরকারের কর্মকাণ্ডে এখন ‘সবার আগে বিএনপি’—এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

তার দাবি, সামসুল আলম অতীতে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি কমিটির সদস্য ছিলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে পুনরায় এত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সামসুল আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে এই জামায়াত নেতা বলেন, এই নিয়োগ বহাল থাকলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিরোধী দলগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার একটি তালিকাও তুলে ধরে জামায়াত।

দলটির দাবি, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হককে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়েছে। বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেককে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপুকে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে দাবি করে জামায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসানকে বাংলাদেশ পাট করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নেতাদের বসানোর মাধ্যমে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা অতীতে আওয়ামী লীগের আমলে দেখা দলীয়করণের পুনরাবৃত্তি।

তার ভাষ্য, ‘শুধু নাম পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি।’

মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় নিয়োগের প্রধান যোগ্যতা হয়ে উঠছে—এমন আশঙ্কার কথাও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

তিনি বলেন, এখন মনে হচ্ছে, বিএনপির একটি পদ বা ছাত্রদলের একটি পদে থাকাই নিয়োগের যোগ্যতা হয়ে যাচ্ছে।

দলীয় বিবেচনায় দেওয়া এসব নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার এই পথ থেকে না ফিরলে জামায়াত সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রতিনিধিদল পাঠানোসহ আরও কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়েছে ৮৫ শতাংশ

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি খরচ ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের আমদানি ব্যয় এতটা বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির খরচ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯৩ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য ও লুব্রিকেন্ট আমদানির খরচ ৮৪ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

আমদানির পরিমাণের সর্বশেষ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল ৭৪ লাখ টন।

বিশ্বব্যাংকের জুনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রতিবছর যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার করে, তার প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং গ্যাসের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকেই এই জ্বালানি আসে।

জুলাইয়ের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ কয়েকটি দিক থেকে প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি, জাহাজভাড়া ও বিমা খরচ বেড়ে যাওয়া, পণ্য পরিবহনে ব্যাঘাত, রপ্তানির চাহিদা কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাপ।’

তার মতে, আমদানি ব্যয় বাড়লে, মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে।

সানেমের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্বল রপ্তানি এবং প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো একসঙ্গে আঘাত হানলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রায় ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানি প্রায় ৬ শতাংশ ও প্রকৃত মজুরি ২ শতাংশের বেশি কমতে পারে, যেখানে মূল্যস্ফীতি আরও ৬ শতাংশের ওপরে উঠে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জুনের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বিশ্ব জ্বালানির বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। পেট্রোবাংলার এলএনজি সরবরাহের ছয়টি চুক্তির মধ্যে পাঁচটিই ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ (মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, যা আগের দামের দ্বিগুণেরও বেশি।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ভর্তুকি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মোট ভর্তুকির পরিমাণ ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকলেও, এবার তা বেড়ে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা খাত ও জরুরি সেবায় সরকারি বরাদ্দ সংকুচিত হয়ে যাবে।

গত মাসে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে শুধু তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং সারের ভর্তুকি মেটাতেই ২০২৬ অর্থবছরে অতিরিক্ত ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

যুদ্ধের কারণে সার উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় সারের আমদানি খরচও বেড়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসের মধ্যে সার আমদানিতে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের কৃষিখাত আমদানিকৃত সারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩৯২ কেজি সার ব্যবহৃত হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপির মতো সারের জন্য বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ইউরিয়া উৎপাদনও গ্যাসের স্থিতিশীল সরবরাহের ওপর নির্ভর করে।

কিন্তু গ্যাস-সংকটের কারণে দেশের ছয়টি ইউরিয়া কারখানার মধ্যে পাঁচটিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বাজারে ইউরিয়ার দাম ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দাম দ্বিগুণ হতে পারে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এ পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও সার নিশ্চিত করা, সরবরাহকারী ও পরিবহন রুটগুলোয় ভিন্নতা আনা, কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা এবং অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, বিদ্যুৎ সঞ্চালনে সিস্টেম লস কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে আমদানি-নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

মিশরের বিপক্ষে জয়ের পর কেন কেঁদেছিলেন মেসি?

আর্জেন্টিনার বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল প্রায়। ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। তবে মঙ্গলবার রাতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে চরম নাটকীয় ও বিতর্কিত ম্যাচে মিসরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শেষে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সেই চোখের পানিতে আসলে মিশে ছিল এক ধরনের স্বস্তি। সংবাদমাধ্যমকে মেসি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এটি একটি মুক্তি ছিল, সবার জন্যই একটি স্বস্তি। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা একটি কুৎসিত মুহূর্ত ছিল।’

প্রথমার্ধে মেসির নেওয়া পেনাল্টি শট মিসরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবির আটকে দেন দারুণ দক্ষতায়। ওই ঘটনার আগে-পরে লক্ষ্যভেদ করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। তাছাড়া, ভিএআরের সহায়তা নিয়ে রেফারি তাদের একটি গোল বাতিলও করে দেন। তবে ম্যাচের শেষভাগে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন মেসিই।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী মেসি নিজেই গোল করে আলবিসেলেস্তেদের সমতায় ফেরান। আর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোলটি করে পূর্ণতা দেন অসামান্য প্রত্যাবর্তনের। তখন বাঁধনহারা উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা দল।

মেসির মতে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কা কাটিয়ে ফিরে এভাবে আসাটা সহজ ছিল না, ‘এভাবে একটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া— ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা— সহজ ছিল না। বিশেষ করে, এই বিশ্বকাপ যেভাবে চলছে এবং কোনো দল এমনি এমনি কাউকে ছেড়ে দিচ্ছে না এই সত্যিটা বিবেচনা করলে।’

আবেগ সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেলার প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, ‘এটি ছিল খাঁটি আনন্দ এবং স্বস্তির একটি মুহূর্ত। আমরা বিশ্বকাপে থাকতে চেয়েছিলাম। আমরা চাইনি আজই সব শেষ হয়ে যাক, আমরা বাড়ি যেতে চাইনি।’

চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম এবং সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২১তম গোলের স্বাদ নিয়েছেন মেসি। এর মাধ্যমে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে আবারও কিছুটা এগিয়ে গেছেন তিনি। মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে তিনবার জাল কাঁপিয়ে জয়ের পর সতীর্থরা তাকে শূন্যে ছুড়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন।

তবে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার পেছনে রোমেরোর গোলটিকে মূল মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন মেসি, ‘আজকের ম্যাচটি ছিল আমাদের মানসিক দৃঢ়তার আরেকটি প্রমাণ, পিছিয়ে পড়ার পর এভাবে ফিরে আসা সহজ নয়… সৌভাগ্যবশত, আমরা ওই গোলটি পেয়ে যাই। আমার মনে হয়, ওটাই ছিল সেই মুহূর্ত, যখন ভেতরের সবাই এটি অনুভব করেছিল এবং বিশ্বাস করেছিল যে, ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব এবং আমরা এটি করতে যাচ্ছি।’

‘আমরা সমতা ফেরানোর জন্য যথেষ্ট ভাগ্যবান ছিলাম এবং তারপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ম্যাচটা জিতে নিই। আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গিয়েছি। এই দল যা অর্জন করেছে তা স্রেফ অবিশ্বাস্য,’ যোগ করেছেন মেসি।

শাকিবের ‘রকস্টার’ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হলো যা কিছু

ঢাকাই সিনেমার শীর্ষনায়ক শাকিব খান অভিনীত এবারের ঈদুল আজহায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘রকস্টার’। আজমান রুশো পরিচালিত সিনেমাটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি।

এ ছাড়া, সিনেমার অফিসিয়াল মিউজিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড।

সিনেমাটির সব গান প্রকাশ হবে এসভিএফ মিউজিক-চরকি-বিলিং মিউজিকের অফিসিয়াল চ্যানেলে। এখান থেকেই সিনেমার প্রথম গান ‘পিরিতি’ প্রকাশিত হবে।

গত ৫ মে প্রথম টিজার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছে ‘রকস্টার’ সিনেমাটি।

রকস্টার সিনেমার নির্মাতা আজমান রুশো জানান, তিনি নিজে নির্মাণে আসার আগে মিউজিশিয়ান ছিলেন। নিজের জীবন ও বাস্তব জীবনের রকস্টারদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতার মিশেলে গল্পটি তৈরি করেছেন তিনি।

সিনেমায় শাকিব খানকে কোনো গ্যাংস্টার বা অ্যাকশন হিরো নন, বরং একজন প্রফেশনাল মিউজিশিয়ানের চরিত্রে দেখা যাবে। চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি ওজন কমিয়েছেন এবং লুকে এনেছেন আমূল পরিবর্তন।

সিনেমার সবগুলো গানের কথা ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি, যিনি নিজেও কণ্ঠ দিয়েছেন। সংগীত পরিচালনায় আছেন জাহিদ নিরব।

অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু নিবেদিত সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড  প্রযোজিত এই সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত মাটি। আজমান রুশোর গল্পে সিনেমাটির সংলাপ লিখেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভূঁইয়া। সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুণ্ডু।

ইরান যুদ্ধের ফল নির্ধারণ হবে কার অস্ত্র আগে ফুরাবে তার ওপর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ফলাফল ও এর স্থায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নির্ভর করতে পারে এক কঠোর হিসাবের ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কত বড়, আর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র কতদিন টিকে থাকবে তার ওপরই নির্ভর করছে সব কিছু।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র যৌথ আক্রমণের জবাবে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো শনিবার থেকে প্রায় এক হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল জুড়ে বিস্তৃত প্রায় এক ডজন দেশের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক বিমানবাহিনীর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো শক্তি না থাকায় তেহরান মূলত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভর করছে।

ইরানের পাল্টা হামলার ভৌগোলিক বিস্তার এই সংঘাতকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিস্তৃত যুদ্ধে পরিণত করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ইরানের শত শত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তবে শত্রুপক্ষের গুলিতে এখনো তাদের কোনো বিমান ভূপাতিত হয়নি।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও অবকাঠামোর যতটা সম্ভব ধ্বংসের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এজন্য তারা উৎক্ষেপণ যন্ত্র, গুদাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির প্রতিরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক স্টেসি পেটিজন বলেন, সংঘাতটি এখন ‘এক ধরনের স্যালভো প্রতিযোগিতায়’ পরিণত হয়েছে। সামরিক কৌশলে ‘স্যালভো প্রতিযোগিতা’ বলতে বোঝায়, দুই পক্ষের মধ্যে একই সময়ে বিপুল সংখ্যক নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি হামলা।

তিনি বলেন, ‘মূল প্রশ্ন হলো কার কাছে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত বেশি। আর বড় অজানা বিষয় হলো ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার ঠিক কতটা সমৃদ্ধ।’

মঙ্গলবার আবারও জেরুজালেমে সাইরেন বেজে ওঠে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে উড়ে এসে ইরানের নিক্ষেপ করা মিসাইল ধ্বংস করে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে ১১ জন নিহত ও শতাধিক আহত হলেও গত ৩৬ ঘণ্টায় ইরানের হামলার মাত্রা কিছুটা কমেছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট ৭৮৭ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান হয়তো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংরক্ষণ করতে চাইছে, অথবা এর চেয়ে বেশি হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের নেই।

পেটিজন বলেন, ‘ইসরায়েলে পৌঁছাতে পারে এমন অস্ত্রের সংখ্যা ইরানের কম, তুলনায় পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় হামলার সক্ষমতা বেশি। আর ইসরায়েলের দিকে যাওয়া অনেক ড্রোনই মাঝপথে ভূপাতিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যার মতো ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’-এর কারণে তাদের সামরিক কমান্ড কাঠামোতে কিছুটা বিশৃঙ্খলাও তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের কৌশল হতে পারে শত্রুদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করা, তাদের নাগরিকদের মনোবল দুর্বল করা এবং যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া।

ইসরায়েলভিত্তিক মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভাইজরি অ্যালায়েন্সের গবেষক তাল ইনবার বলেন, ‘শতভাগ প্রতিরক্ষা বলে কিছু নেই। এটি মূলত এক ধরনের ক্ষয়যুদ্ধ। একটি ক্ষেপণাস্ত্র যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানে, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ বিশাল হতে পারে।’

গত গ্রীষ্মে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও অনেকটা কমে গিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইনবার বলেন, ‘আগের যুদ্ধগুলোতে সংঘাতের স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করেছে আমাদের কাছে থাকা প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার ওপর। আসলে কখনোই যথেষ্ট ইন্টারসেপ্টর থাকে না।’

বর্তমান সংঘাতে জড়িত সব পক্ষই এই তীব্র আকাশযুদ্ধের গুরুত্ব বোঝে এবং উদ্বিগ্ন জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাচ্ছে, এমন খবর সঠিক নয়। দেশটি বলেছে, তাদের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা প্রতিহত করার মতো পর্যাপ্ত কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে।

সোমবার আমিরাত জানায়, তাদের দিকে ছোড়া ১৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৬১টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকিগুলো সাগরে পড়েছে। এ ছাড়া, ইরানের ৬৮৯টি ড্রোনের মধ্যে ৬৪৫টি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং আটটি ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করা হয়েছে, যদিও কিছু পার্শ্বক্ষতি হয়েছে।

ইরান কাতার, আবুধাবি, কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন ও ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দুবাইয়ের কিছু আন্তর্জাতিক হোটেলেও হামলার পর আগুন লাগে।

সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা হয়েছে।

কাতারও জানিয়েছে, তারা আকাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করে বেশিরভাগই প্রতিহত করেছে। তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা দুটি ইরানি যুদ্ধবিমান, তিনটি ক্রুজ মিসাইল, ১০১টির মধ্যে ৯৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৩৯টির মধ্যে ২৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের সামরিক বিশ্লেষক কেলি গ্রিকো বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ঠিক কত অস্ত্র মজুত আছে তা জানা কঠিন। তবে তারা খুব দ্রুত এসব ব্যবহার করছে এবং শিগগিরই কোন কোন স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রক্ষা করবে সে সিদ্ধান্ত তাদের নিতে হবে।’

তার মতে, ইরানও বিষয়টি জানে, তাই তারা একসঙ্গে খুব বড় হামলা চালাচ্ছে না। বরং দীর্ঘমেয়াদি চাপ ধরে রাখার কৌশল নিচ্ছে।

পেটিজন বলেন, যদি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যেতে শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো আক্রমণাত্মক অভিযান বন্ধ করে কোনো সমঝোতার পথ খুঁজতে বাধ্য হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করতে পারে, কিন্তু ইসরায়েলের সেই সুযোগ নেই। বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে।’

অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে গেলে তারাও হয়তো শান্তি আলোচনার দিকে যেতে বাধ্য হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিপুল ব্যয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্রিকোর হিসাব অনুযায়ী, একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যে খরচ হয়, তা ড্রোন তৈরির খরচের প্রায় পাঁচ গুণ।

তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রের মজুত খুবই সীমিত এবং এগুলো দ্রুত পুনরায় উৎপাদন করাও সম্ভব নয়। একই ধরনের অস্ত্র ইউক্রেন ও তাইওয়ানের মতো অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও ব্যাপকভাবে প্রয়োজন।

মোহাম্মদপুর-আদাবরে পুলিশের অভিযান, আটক ১০০

ঢাকার মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে চার ঘণ্টার এই অভিযানে প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনাল টিম রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত অভিযান চালায়।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবরে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ এবং অপরাধী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এই অভিযান চালানো হয়।

রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অপরাধী বা সংগঠিত গোষ্ঠী যেন এই সময়ের সুযোগ নিতে না পারে, পুলিশ তা নিশ্চিত করতে চায়।

এই কর্মকর্তা বলেন, রাত ১০টা থেকে প্রায় ২টা পর্যন্ত তেজগাঁও বিভাগের পক্ষ থেকে একটি অভিযান চালিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবর—এই দুই থানা মিলিয়ে আমরা বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১০০ জন অপরাধীকে আটক করেছি। আমাদের এই কার্যক্রম চলমান এবং এটি অব্যাহত থাকবে।

ডিসি জানান, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় যেন কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিতে না পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেজন্য এ ধরনের অভিযান চলবে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটকদের সংশ্লিষ্ট থানায় নেওয়া হয়েছে। 

ভোলার গ্যাসে বিনিয়োগ না করার সামর্থ্য কি বাংলাদেশের আছে?

জ্বালানি সংকট দেখা দিলেই দেশীয় গ্যাস ব্যবহারের কথা আলোচনায় আসে। সংকট কিছুটা সহনীয় হয়ে উঠলেই আলোচনা আর এগোয় না। বারবার এমনটাই ঘটেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে। ১৯৯০-এর দশকে ভোলায় গ্যাস আবিষ্কৃত হলেও বারবার দাবি ওঠার পরও তা আজও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়নি। এখন আবার গ্যাস সংকটের মধ্যে ভোলার গ্যাস জাতীয় আলোচনায় ফিরে এসেছে। সঙ্গে ফিরে এসেছে, এই গ্যাস উত্তোলন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে কি না, সেই প্রশ্নও।

প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর উত্তর শুধু একটি পাইপলাইন নির্মাণের খরচের দিকে তাকিয়ে দেওয়া যায় না। আমাদের আরও জানতে হবে, বাংলাদেশ আমদানি করা এলএনজির পেছনে কত অর্থ ব্যয় করছে, ভবিষ্যতে আরও কত ব্যয় করবে এবং এই নির্ভরতা অর্থনীতি, শিল্প ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

ভোলায় হারানো সুযোগ

ভোলায় বর্তমানে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে: শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ এবং সুন্দরপুর। এসব ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ আনুমানিক ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ), যার মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৫ টিসিএফ উত্তোলনযোগ্য হতে পারে।

ভোলার বিদ্যমান কূপগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমানে বাপেক্স উত্তোলন করছে প্রায় ৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সরকার আরও ১০টি কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি একটি চীনা কোম্পানি এবং পাঁচটি বাপেক্স খনন করবে। আরও কূপ হলে গ্যাস ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু পাইপলাইন না থাকলে সেই গ্যাস অব্যবহৃতই থেকে যাবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভোলায় এ পর্যন্ত খনন করা প্রতিটি কূপেই গ্যাস পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সাফল্যের হার ১০০ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে ভোলায় পর্যাপ্ত গ্যাস নেই, কিংবা সেখানে বিনিয়োগ লাভজনক হবে না, এমন যুক্তি গ্রহণ করা কঠিন।

ভোলা থেকে পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব নতুন নয়। অন্তত ১৫ বছর ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০১৮ সালে ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের একটি পাইপলাইন নির্মাণের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬০০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৩৫০–৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরিবহনের পরিকল্পনা ছিল। এই পরিমাণ একটি আধুনিক এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহক্ষমতার কাছাকাছি।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই বিলম্বের জন্য সিদ্ধান্তহীনতা, অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ এবং এলএনজি আমদানির পক্ষে লবিংকে দায়ী করেছেন। ফলে যে প্রকল্পটি ৬০০ কোটি টাকায় নির্মাণ করা সম্ভব ছিল, এখন তার ব্যয় অন্তত সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। মূল্যস্ফীতি, বিদেশি পরামর্শক, আমদানি করা যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি এবং জমি অধিগ্রহণের কারণে এই ব্যয় ৮-৯ হাজার কোটি টাকায়ও পৌঁছাতে পারে।

এটি শুধু একটি পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যর্থতা নয়। এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করার উচ্চমূল্যের একটি উদাহরণ।

পরিকল্পনার ব্যর্থতা নাকি আরও কিছু?

স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো, এটি কি পরিকল্পনাগত ভুলের একটি উদাহরণ? অর্থাৎ ‘আজ সামান্য সাশ্রয় করতে গিয়ে ভবিষ্যতে বিপুল ব্যয়’ করার সেই প্রবণতা, যেখানে নীতিনির্ধারকেরা বর্তমানের তুলনামূলক কম বিনিয়োগ এড়িয়ে যান, অথচ পরে অনেক বেশি খরচ করতে বাধ্য হন?

এটি কি এমন এক ধরনের ‘কৃচ্ছ্রসাধনের অভিনয়’, যেখানে সরকার জনব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতার ভাব দেখায়। কিন্তু একই সঙ্গে দেশকে আরও ব্যয়বহুল আমদানির ওপর নির্ভরশীল করে তোলে? নাকি দেশীয় গ্যাসের বদলে এলএনজিকে বারবার অগ্রাধিকার দেওয়া এমন একটি রেন্ট-সিকিং সিনড্রোম বা প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে প্রভাবশালী বাণিজ্যিক গোষ্ঠী আমদানিনির্ভর নীতি থেকে লাভবান হয়?

সরকার একই ভুল বারবার করতে পারে না, তারপর প্রতিটি বিলম্বকে বিচ্ছিন্ন কারিগরি বা আর্থিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে না। ৬০০ কোটি টাকার একটি পাইপলাইন যখন বছরের পর বছর পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন থেকে নয় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে পরিণত হয়। আর একই সময়ে আমদানি করা এলএনজির পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। তখন এই প্রবণতা নিয়ে গভীর তদন্ত হওয়া দরকার।

যদি আমরা ধরে নিই যে সরকার কোনো অবাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তাহলে এই সিদ্ধান্তে বিশেষ গোষ্ঠী স্বার্থর সঙ্গে সরকারের আঁতাতের প্রভাব থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

নতুন বিএনপি সরকারও যদি দেশীয় অনুসন্ধান ও অবকাঠামো উন্নয়ন বিলম্বিত করে ব্যয়বহুল আমদানিকে অগ্রাধিকার দিতে থাকে, তাহলে এ ক্ষেত্রে আগের সরকারগুলোর থেকে মৌলিকভাবে আলাদা প্রমাণিত হবে না। সরকার পরিবর্তনের অর্থ একই ত্রুটিপূর্ণ নীতির সুবিধাভোগী পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়। যেকোনো নতুন প্রশাসনকে প্রমাণ করতে হবে যে সিদ্ধান্তগুলো জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, আমদানি-নির্ভর ব্যবসায়িক লবি বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের চাপে নয়।

এলএনজি নির্ভরতার ব্যয়

ভোলা থেকে পাইপলাইন নির্মাণ যখন বিলম্বিত হচ্ছিল, তখন বাংলাদেশ দ্রুত এলএনজি আমদানির দিকে এগিয়ে যায়। ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু হয় এবং দেশের গ্যাস সংকট সমাধানের একটি বড় উপায় হিসেবে তা উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও গ্যাস সংকট দূর হয়নি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানিতে ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। একই সময়ে সরকার গ্যাস খাতে আরও ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। কয়েক দফা গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে এবং পেট্রোবাংলা ক্রমশ বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

শুধু গত অর্থবছরেই বাংলাদেশ ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১৩টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে। এর সঙ্গে আরও ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১১৫টি কার্গো আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারদর বর্তমান পর্যায়ে থাকলে শুধু এলএনজি আমদানিতেই প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজার অত্যন্ত অস্থিতিশীল। যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলের রুট এবং সরবরাহে বিঘ্ন, সবকিছুর ওপর দাম নির্ভর করে। জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ২ হাজার ৮২২ টাকার বেশি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারিতে দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১ হাজার ৩১৯ টাকা। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১১৪ শতাংশ বেড়েছে।

এই অস্থিরতা এলএনজিকে জাতীয় জ্বালানি নীতির ভিত্তি হিসেবে ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

আরও টার্মিনাল, আরও আর্থিক চাপ

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার আরও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। একটি নতুন টার্মিনাল ইতোমধ্যে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে মহেশখালীতে বাংলাদেশের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত সরবরাহক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আরও দুটি টার্মিনাল নির্মিত হলে এই সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াতে পারে।

কিন্তু একটি টার্মিনালের ব্যয় শুধু নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্যাস খালাস, সংরক্ষণ, পুনর্গ্যাসীকরণ এবং উচ্চচাপের পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পরিবহনের প্রয়োজন হয়। নতুন পাইপলাইন নির্মাণের জন্য পথ জরিপ, পরিবেশগত মূল্যায়ন, জমি অধিগ্রহণ এবং কয়েক বছর ধরে নির্মাণকাজ চালাতে হয়। ফলে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে প্রস্তাবিত কোনো টার্মিনাল দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নাও করতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টার্মিনাল নির্মাণের পরও বাংলাদেশকে এলএনজি কিনতে হবে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আরও দুটি টার্মিনাল চালু হলে বার্ষিক আমদানি ব্যয় বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। পেট্রোবাংলার কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, চারটি টার্মিনাল হলে বছরে এলএনজি আমদানিতে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

আইইইএফএর একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, দেশীয় গ্যাসের আবিষ্কার সীমিত পর্যায়ে থাকলে এবং এলএনজির দাম অস্থিতিশীল থাকলে ২০২৯–৩০ অর্থবছরে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি বিল ১ লাখ ৪ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। বাজারদর আরও বাড়লে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

তাই নতুন টার্মিনাল নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আগে বাংলাদেশকে ভাবতে হবে, আমরা কি এমন অবকাঠামো তৈরি করছি, যা আমদানিনির্ভরতা আরও গভীর করবে এবং স্থায়ী আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে?

ভোলার বাইরেও দেশীয় সম্ভাবনা

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর কয়েকটি উপায় চিহ্নিত করেছেন। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্যাসের সম্ভাবনা শুধু নতুন ও অনাবিষ্কৃত এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য মজুদ থাকতে পারে।

বাংলাদেশে ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০টি কার্যকর বা উৎপাদনশীল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একটি গ্যাসক্ষেত্রে এক বা কয়েকটি কূপ খনন করলেই সব গ্যাস উত্তোলন করা যায় না। ভূতাত্ত্বিক প্রতিবন্ধকতার কারণে গ্যাস অনেক সময় এমন এলাকায় আটকে থাকে, যেগুলোকে ‘আনড্রেইনড কম্পার্টমেন্ট’  বলা হয়।

বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক তথ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, পুনর্ব্যাখ্যা এবং পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে এসব অনুত্তোলিত কম্পার্টমেন্ট চিহ্নিত করা সম্ভব। এরপর ওই এলাকায় নতুন কূপ খনন করা যেতে পারে। একই ক্ষেত্রে আগে গ্যাস পাওয়া গেছে বলে সাফল্যের সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে বেশি হবে। বিদ্যমান পাইপলাইন ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামোও ব্যবহার করা যাবে, ফলে গ্যাস সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

দ্বিতীয় সুযোগ হলো পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার বা সংস্কার। বাংলাদেশে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। ফলে অনেক কূপ এখন পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত। এসব কূপ মেরামত করা গেলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

তৃতীয় সুযোগ রয়েছে গভীর খননে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক গ্যাসক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্তই অনুসন্ধান করা হয়েছে। আরও গভীর ভূতাত্ত্বিক স্তরে অতিরিক্ত গ্যাস থাকতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গভীর খনন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভালো ফল দিতে পারে।

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন তিতাস, বাখরাবাদ ও বিবিয়ানা কাঠামোর আশপাশের কম অনুসন্ধান করা এলাকাগুলোর কথাও উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া কলকাতা থেকে পাবনা, ময়মনসিংহ হয়ে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত হিঞ্জ জোন, সিলেট ট্রফ বা সুরমা অববাহিকা এবং হাতিয়া ট্রফও গুরুত্বপূর্ণ। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমুদ্রসীমার এলাকাগুলোর প্রতিও আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে কিছু ভূতাত্ত্বিক সাদৃশ্য রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলের। সেখানে ১৫০টিরও বেশি অনুসন্ধানী কূপ থেকে আনুমানিক ২ দশমিক ৭ টিসিএফ প্রমাণিত গ্যাস পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ১৪ টিসিএফ পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২৮টি শনাক্ত কাঠামো রয়েছে, কিন্তু সেখানে অনুসন্ধান এখনো সীমিত।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাতেও সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক এলাকার কিছু অংশের সঙ্গে মিয়ানমারের গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর ভূতাত্ত্বিক সাদৃশ্য আশাব্যঞ্জক।

অনুসন্ধানের অর্থনীতি

দেশীয় গ্যাসের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য আয়ের তুলনায়।

আনোয়ার হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি কূপ খনন করলে অন্তত ৫ টিসিএফ গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। ওই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। ৩০টি কূপ খননের ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে তা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।

এটি নিশ্চিতভাবে গ্যাস আবিষ্কারের হিসাব নয়। অনুসন্ধানে ঝুঁকি থাকে এবং কিছু কূপে গ্যাস নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে একটি শুষ্ক কূপ মানেই সম্পূর্ণ ক্ষতি নয়। সেখান থেকে পাওয়া ভূতাত্ত্বিক তথ্য ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানকে উন্নত করতে এবং অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

এলএনজির সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়। ৩০টি কূপ খননের জন্য মোট প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, যা শুধু গত অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় করা ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তুলনায় অনেক কম। ভর্তুকিসহ এই ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩০টি কূপ খননের ব্যয় গত বছরের এলএনজি আমদানি ও ভর্তুকি ব্যয়ের প্রায় এক-সপ্তমাংশ।

দেশীয় অনুসন্ধান স্থায়ী জাতীয় সম্পদও তৈরি করে: গ্যাসের মজুদ, অবকাঠামো, কারিগরি দক্ষতা এবং ভূতাত্ত্বিক তথ্য। বিপরীতে, এলএনজিতে ব্যয় করা অর্থের বড় অংশই দেশ থেকে বেরিয়ে যায় এবং গ্যাস ব্যবহৃত হয়ে গেলে কোনো স্থায়ী সম্পদ অবশিষ্ট থাকে না।

একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি কৌশল

বাংলাদেশ এখনই এলএনজি আমদানি বন্ধ করতে পারবে না। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যকার ঘাটতি পূরণে আমদানি প্রয়োজনীয়। অবিলম্বে আমদানি বন্ধ করা অযৌক্তিক হবে। তবে ভবিষ্যতে এলএনজি দেশীয় গ্যাসের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত, বিকল্প হিসেবে নয়। বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থেই আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করতে হবে এবং নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে।

দেশীয় গ্যাস মাটির নিচে রেখে প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানির ওপর নির্ভর করা অযৌক্তিক। বাংলাদেশের এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ দরকার, যা নিজস্ব মজুদ সুরক্ষিত রাখবে, আর্থিক ঝুঁকি কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে।

সরকারের উচিত ভোলা পাইপলাইন প্রকল্প, ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা, পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার, গভীর খনন এবং স্থলভাগ ও সমুদ্রসীমার কম অনুসন্ধান করা এলাকায় অনুসন্ধান দ্রুত বাস্তবায়ন করা। বাপেক্সকে আধুনিক রিগ, সফটওয়্যার, সিসমিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ প্রকৌশলী ও ভূতাত্ত্বিকদের কাজের উন্নত সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশি কোম্পানিকে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থ, মালিকানা, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে হবে।

প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৩০টি কূপ থেকে সম্ভাব্যভাবে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এলএনজি আমদানির ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম। ভোলা পাইপলাইন ও দেশীয় অনুসন্ধান যদি আগে শুরু করা হতো, তাহলে বাংলাদেশ প্রায় চার বছরের এলএনজি আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারত।

প্রশ্নটি এখন আর এই নয় যে বাংলাদেশ দেশীয় গ্যাসে বিনিয়োগ করতে পারে কি না। বড় প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের বিনিয়োগ না করে চলার সামর্থ্য আছে কিনা।

সুযোগ এখনো আছে। দেশীয় গ্যাসে বিনিয়োগ না করা এখন আর কোনো বিকল্প নয়, দেশীয় গ্যাসে বিনিয়োগ করাই এখন অপরিহার্য।

ড. মোশাহিদা সুলতানা: জ্বালানি গবেষক ও সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: তফসিল নিয়ে আলোচনায় স্পিকারের সাক্ষাৎ চাইবে ইসি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকারের সাক্ষাৎ চাইবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে বৈঠক শেষে আজ রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে অনুযায়ী সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।’

এর আগে আজ সিইসির কার্যালয়ে সব নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব বৈঠক করেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হয়।

৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাংলাদেশের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এসব পণ্যে মাত্রার চেয়ে বেশি প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি ও নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার বিএসটিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ এবং কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিমে টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাট বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গেছে।

এছাড়া অলিভ বাংলাদেশের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা ফোমিং মিল্ক ও অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ডেকো ফুডসের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে কম ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়।

বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই।

নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনগণ যেন মানসম্মত পণ্য কিনতে পারে, এ বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ মানসম্মত পণ্য জনগণের অধিকার। পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ক্রেতাদের যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইর মানচিহ্নের অপব্যবহার–সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।