28.5 C
Dhaka
Home Blog

বাধ্যতামূলক অবসর থেকে ফিরে আইজিপি আলী হোসেন ফকির

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। 

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে।

এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের সই করা প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে তিনি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য আলী হোসেন ফকিরের জন্ম ১৯৬৮ সালের ৫ এপ্রিল বাগেরহাটে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে বি. কম অনার্স, এম. কম এবং এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৯৫ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি ডিআইজি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ডিআইজি এসপিবিএন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এছাড়া, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার, নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলায় পুলিশ সুপার, কমান্ড্যান্ট আরআরএফ সিলেট এবং অধিনায়ক হিসেবে ৩ এপিবিএন খুলনা, ৫ এপিবিএন ঢাকা, ৭ এপিবিএন সিলেটে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ পুলিশের হয়ে কসোভো ও আইভরি কোস্ট জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশিক্ষণ ও সরকারি কাজে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন দেশেও ভ্রমণ করেন আলী হোসেন ফকির।

বর্তমানে তিনি পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৫তম বিসিএস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ১৫তম বিসিএস পুলিশ ফোরামের আহ্বায়ক, খুলনা ক্লাব এবং ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সদস্য। এছাড়া, এপিবিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকার সভাপতি, বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবল ক্লাবের সভাপতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন নতুন আইজিপি।

ক্ষমতাবানদের হাসপাতাল আলাদা কেন?

বাংলাদেশে একটি দৃশ্য বারবার ফিরে আসে। কোনো মন্ত্রী, স্পিকার, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ আমলা কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অসুস্থ হলেই খবর আসে, তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, ভারত বা অন্য কোনো দেশে গেছেন।

কয়েকদিন আগে খবর এলো, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গেছেন। অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব খবর আর মানুষের ভাবান্তর ঘটায় না। বরং আমরা ধরে নিয়েছি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চিকিৎসার ঠিকানা দেশের হাসপাতাল নয়, বিদেশ।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন?

উত্তরটি সবাই জানে, যদিও খুব কম মানুষই প্রকাশ্যে বলতে চান। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো দীর্ঘদিন ধরেই শয্যা সংকট, চিকিৎসক সংকট, অব্যবস্থাপনা, যন্ত্রপাতির অভাব এবং সেবার মান নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে। সামর্থ্যবান মানুষ বেসরকারি হাসপাতাল বা বিদেশে চিকিৎসা নেন। আর যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তারা বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান।

কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘এ দেশ থেকে বহু মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। এর ফলে প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার খরচে। দেশের মানুষের চিকিৎসা আমরা কেন দেশে করাতে পারব না? আমরা কেন মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারব না? এটা আইন প্রয়োগ করে হবে না। কেবল চিকিৎসকরাই পারবেন তাদের মানবিক এপ্রোচ আর সঠিক চিকিৎসা দানের মাধ্যমে দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস সম্পূর্ণ ফিরিয়ে আনতে। তাই চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান থাকবে রোগীর আস্থা অর্জনে আরও মানবিক হোন।’ (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ১১ জুলাই ২০২৬)

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, সেটি হলো মানুষের আস্থা। কিন্তু আস্থা কি শুধু চিকিৎসকের মানবিক আচরণে তৈরি হয়? একজন রোগী যখন হাসপাতালে গিয়ে শয্যা পান না, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক খুঁজে পান না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন কিংবা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বাইরে করাতে বাধ্য হন, তখন তার আস্থা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। আবার যখন তিনি দেখেন দেশের নীতিনির্ধারকেরা নিজেরাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন, তখন সেই আস্থা আরও ভেঙে পড়ে।

দেশের ৫৯টি জেলা হাসপাতালে ২০২৪ সালে গড় শয্যা ব্যবহার হার ছিল ১৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে ১৭৮ জন রোগীকে। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর গড় শয্যা ব্যবহার হার ছিল ১৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ হাসপাতালগুলো ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগীর চাপ সামলাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব, সেটি সহজেই অনুমান করা যায়। (দ্য ডেইলি স্টার, ২৬ জুলাই ২০২৬)

শুধু শয্যা সংকটই নয়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত চিকিৎসক পদের প্রায় ২৩ শতাংশ এখনও শূন্য। সংখ্যায় যা ৯ হাজার ৪০৭টি পদ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু শয্যা বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুফল রোগীরা পাবেন না। অথচ সরকার দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু জনবল ছাড়া বড় ভবন কখনোই ভালো স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। (দ্য ডেইলি স্টার, ২২ জুলাই ২০২৬)

এই বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ আমলা ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য কি দেশে যে চিকিৎসা সম্ভব, সেই চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়ার ওপর একটি কঠোর নীতিমালা বা আইন থাকা উচিত?

অনেকে বলতে পারেন, বাংলাদেশে তো অনেক আইনই আছে, সেগুলো ঠিকমতো মানা হয় না। তাহলে নতুন আইন করে কী হবে?

প্রশ্নটি যৌক্তিক। কিন্তু এখানে আইনের উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। আজ কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিদেশে চিকিৎসা নিতে চাইলে তাকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হয় না। অথচ একটি নীতিমালা থাকলে তাকে দেখাতে হবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাটি দেশে সম্ভব নয়। সেই সিদ্ধান্ত একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড নিতে পারে। অর্থাৎ দেশে যে চিকিৎসা সম্ভব, শুধু সেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হবে। আর দেশে যে চিকিৎসা নেই, সেখানে অবশ্যই ব্যতিক্রমের সুযোগ থাকবে।

আইনের শক্তি শুধু শাস্তি দেওয়ায় নয়, আচরণ পরিবর্তনের পথ তৈরি করায়। একসময় সিটবেল্ট ব্যবহার, কিংবা মোটরসাইকেলে হেলমেট পরার নিয়মও নতুন ছিল। প্রথম দিকে অনেকেই মানতে চাননি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সামাজিক আচরণের অংশ হয়ে উঠেছে। একইভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রেও একটি জবাবদিহিমূলক নীতিমালা ধীরে ধীরে নতুন সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, যে ব্যক্তি স্বাস্থ্যখাতের বাজেট অনুমোদন করবেন, হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেবেন কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থার সংস্কার করবেন, তিনি যদি নিজেই জানেন যে প্রয়োজনে তাকেও এই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হবে, তাহলে হাসপাতালের মান উন্নয়নে তার আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। কারণ তখন স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা আর শুধু জনগণের সমস্যা থাকবে না, সেটি তার নিজের সমস্যাও হয়ে দাঁড়াবে।

অবশ্য শুধু আইন করলেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়ে যাবে—এমন দাবি করা বাস্তবসম্মত নয়। হাসপাতাল উন্নত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। কিন্তু নীতিনির্ধারকেরা যখন নিজেরাও সেখানে যাবেন, তখন এসব পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক চাপ এবং জনদাবি দুটোই অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে ব্যয় করেন। এর একটি বড় অংশ যদি দেশের হাসপাতালগুলোতেই ব্যয় হতো, তাহলে দেশের স্বাস্থ্যখাতও আরও শক্তিশালী হতো। কিন্তু সেই আস্থা তৈরি করতে হলে শুধু চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রকেও উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

জনগণের প্রতিনিধি যদি জনগণের মতোই একই হাসপাতালের সেবা নেন, তাহলে হাসপাতালের সমস্যাগুলো আর কাগজের প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেগুলো নীতিনির্ধারকদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। আর ইতিহাস বলে, যেসব সমস্যার মুখোমুখি ক্ষমতাবানরা নিজেরা হন, সেসব সমস্যার সমাধানই সবচেয়ে দ্রুত হয়।

তাই বিদেশে চিকিৎসা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি নয়, বরং দেশে সম্ভব এমন চিকিৎসার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক নীতিমালা প্রণয়নের সময় এসেছে। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু কথায় নয়, কাজে দেখাতে হবে যে দেশের হাসপাতাল জনগণের জন্য যেমন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মানুষের জন্যও তেমনই।

মো. আব্বাস: করপোরেট কমিউনিকেশনসে কর্মরত।
[email protected]

‘কীভাবে রুক্ষ পরিস্থিতি সামলাতে হয় সেটাই দেখিয়েছি’, ম্যাচ জিতে বললেন এমবাপে

শনিবার ফিলাডেলফিয়ার প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচের ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপে। এই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাতে এবং বিশ্বকাপে তার মোট গোল হলো ১৯টি।

তবে ম্যাচের শেষদিকে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা অনবরত উসকানি ও স্লেজিং করে ম্যাচটিকে বেশ উত্তপ্ত করে তোলে। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সেই আচরণের জবাব দিয়ে ফরাসি অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা জানতাম আমাদের কেমন ম্যাচের মুখোমুখি হতে হবে, তবে আমি মনে করি আজকের দিনটি সত্যিই খুব ভালো গেছে।’

প্যারাগুয়ের রুক্ষ খেলার ধরন নিয়ে এমবাপে আরও বলেন, ‘তারা ভেবেছিল আমরা টাক্সিডো পরে মাঠে নামব, যেন আমরা কেবল কিছু চমৎকার নৈপুণ্য দেখাতে এসেছি। তবে আমরা কঠিন ও রুক্ষ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে কীভাবে খেলতে হয় তাও জানি। আজ আমরা সেটাই করেছি; আমরা জিতেছি, এমনকি সেই দিক থেকেও আমরা তাদের চেয়ে ভালো ছিলাম।’

রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড যোগ করেন, এই ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে ফ্রান্স শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলে না, পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতেও জানে। তার ভাষায়, ‘যদি আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, আমরা তা-ই করব। কথাটির জন্য দুঃখিত, তবে এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’

পুরো ম্যাচ জুড়েই মাঠের পরিবেশ ছিল বেশ বিশৃঙ্খল। এমনকি এমবাপে যখন পেনাল্টি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা স্পটের মাটি খুঁড়ে নষ্ট করার চেষ্টাও করেন। তবে সেসবকে পাত্তা না দিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন এই তারকা।

প্যারাগুয়ের খেলার কৌশল নিয়ে ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেন, ‘ওটা তাদের ফুটবল, ওটাই তাদের খেলার ধরন। সবাই তাদের শক্তি অনুযায়ী খেলে; ফুটবলে ভালো বা মন্দ বলে কোনো খেলার ধরন নেই। খেলার একটাই পথ আছে, আর তা হলো জয়ী হওয়া। তারা ওই উপায়ে আমাদের ওপর চড়াও হতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা সেই দিক থেকেও তাদের চেয়ে এগিয়ে গেছি। এখন আমরা পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাচ্ছি।’

আগামী শুক্রবার বোস্টনে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ২০২২ সালের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে যাওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে এমবাপে বলেন, ‘আমরা জানি তারা খুব ভালো একটি দল। এবং আমরা তাদের বিরুদ্ধে খেলার জন্য সত্যিই মুখিয়ে আছি। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দেব।’

 

জামায়াত রেজিমেন্টেড পার্টি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

জামায়াতে ইসলামী রেজিমেন্টেড রাজনৈতিক দল, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ শহর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বিশ্বাস করে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা গত ৫০ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে আসছে। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে বিএনপি লড়াই করেছে।’

‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিএনপি নেতা তারেক রহমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিদেশে নির্বাসিত অবস্থায় ছিলেন,’ বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের সমর্থনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। সুতরাং, বিএনপির গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে সেটি সমীচীন হবে না।’

‘আর জামায়াত একটি রেজিমেন্টেড পলিটিক্যাল পার্টি। তারা গণতন্ত্রই বিশ্বাস করে না,’ মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। উভয়পক্ষ নিজেদের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষা করে চুক্তি করবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে কথা হবে।’

এর আগে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সরকারের মাত্র ৩ মাস সময় হয়েছে। এর মধ্যে বহু কাজ সরকার শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড করেছে, কৃষক কার্ড করেছে। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচি শুরু করেছে।’

তিনি মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগের খোঁজ-খবর নেন। পরে মন্ত্রী উত্তর ইসলামপুর সামাজিক কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন।

খেলাপি ঋণের ধাক্কায় ঋণাত্মক মূলধন ব্যাংকিং খাতে

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকিং খাতের আড়ালে থাকা বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জমতে থাকা এই লোকসানের ধাক্কায় ব্যাংকগুলোর মূলধন বা নিরাপত্তা বাফার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানেও নেমে গেছে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট (আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন) অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (সিআরএআর) ঋণাত্মক বা মাইনাস পর্যায়ে নেমে গেছে।

মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বা ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (সিআরএআর) ব্যাংকের একটি আর্থিক শক্তিমত্তার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি দেখায়, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ থেকে ক্ষতি হলে সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত মূলধন ব্যাংকের আছে কি না। অনুপাত ঋণাত্মক হয়ে যাওয়া মানে লোকসান ব্যাংকের নিরাপত্তা বাফার সম্পূর্ণ গ্রাস করেছে।

২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের সিআরএআর ছিল মাইনাস ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তুলনায় গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে এই হার ছিল ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের শেষে পাকিস্তানে ২০ দশমিক ৮০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম ১০ শতাংশ মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখতে হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ২ দশমিক ৫ শতাংশ সুরক্ষা বাফারও রাখতে হয়। সেই মানদণ্ড থেকে বাংলাদেশ এখন অনেক নিচে অবস্থান করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিনের আড়ালে থাকা ক্ষতি ও খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে শুরু করে। এরপর থেকেই খাতটির আর্থিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

২০২৪ সালে ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ছিল ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। একই সময়ে ভারতে ছিল ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের পর বছর ধরে চলা অনিয়ম, দুর্নীতি ও বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন এসব ক্ষতির পুরো চিত্র প্রকাশ করা হয়নি।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই ব্যাংকিং খাতের মূলধন পরিস্থিতি ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বেশ কিছু ব্যাংক আবার ‘রেগুলেটরি ডেফারেল’ বা বিশেষ ছাড়ের সুবিধা নিয়েছে। এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের লোকসান বা নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলার বাধ্যবাধকতা স্থগিত রাখতে পারে, যা মূলত ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটের তাৎক্ষণিক চাপ কমাতে ব্যবহৃত হয়।

তবে এই সুবিধার মেয়াদ শেষ হলে বা প্রত্যাহার করা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরেই কম মূলধন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গড়ে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। কিন্তু মাত্র এক বছরে তা ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্টেরও বেশি কমে মাইনাস ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে ৪২টি ব্যাংক ব্যাসেল-৩ এর শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এসব ব্যাংকের দখলে রয়েছে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট সম্পদের ৬০ শতাংশের বেশি।

অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক, বিশেষায়িত উন্নয়ন ব্যাংক এবং কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দুর্বল মূলধন অবস্থাই সামগ্রিক পতনের প্রধান কারণ।

ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় চাপের উৎস হয়ে উঠেছে খেলাপি ঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, ঋণাত্মক মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ব্যাংক খাতের গভীর কাঠামোগত দুর্বলতারই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে আগের বছরের তুলনায় ব্যাংকিং খাতের স্বাস্থ্য আরও খারাপ হয়েছে। সমস্যাগুলো দিন দিন আরও জটিল ও গুরুতর হয়ে উঠছে।

মুজেরির মতে, এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি; বহু বছরের জমে থাকা সমস্যার ফল এটি।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ও সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলে কঠোর ও কার্যকর সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সিইও রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এমন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে যখন আর্থিক খাতের দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সরকারকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সরকারেরও পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা নেই।

মূলধন পুনর্গঠন বা রিক্যাপিটালাইজেশন হলো লোকসানে পড়া ব্যাংককে নতুন মূলধন দিয়ে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করা। সাধারণত সরকার বা শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার পথও বেছে নেওয়া হয়।

গত সপ্তাহে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে সরকার।

এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, শুধু মূলধন জোগান দিলেই হবে না, ব্যাংক একীভূতকরণসহ আরও বিস্তৃত কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। 

তিনি উদাহরণ হিসেবে গ্রিসের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশটি একই ধরনের ব্যাংকিং সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বড় ধরনের মূলধন পুনর্গঠনের মাধ্যমে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিল। তবে বাংলাদেশের সেই ধরনের আর্থিক সক্ষমতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

‘সততা নিয়ে বেঁচে থাকা, সৎ থাকার মধ্যেই সুখ’

ওয়াহিদা মল্লিক জলি এবং রহমত আলী—দুজনেই অভিনয়ের মানুষ। দীর্ঘ দিন থিয়েটার করেছেন। নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন। দুজনে পড়াশোনা করেছেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই সঙ্গে দুজনে দীর্ঘ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এখনো অভিনয়ে সরব আছেন এই তারকা দম্পতি। 

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেছেন জীবনের নানা বিষয় নিয়ে।

ওয়াহিদা মল্লিক জলি এবং রহমত আলী সংসার জীবন শুরু করেন ১৯৯০ সালে। তারপর থেকে দুজনের সুন্দর সংসার জীবন চলছে। ঘর আলো করে এসেছে দুই সন্তান। একজন জার্মানিতে পড়াশোনা করে সেখানেই থাকছেন। আরেক সন্তান কানাডায় পড়াশোনা করছেন।
দুই সন্তান ভালো মানুষ হয়ে, মানবিক মানুষ হয়ে বেঁচে থাকুক—এটাই তারা চান।

অনেক বছর সংসার করছেন, মূলমন্ত্রটা কী? এর জবাবে ওয়াহিদা মল্লিক জলি বলেন, ‘অনেকে অনেকরকম যুক্তি দেখান। আমার কাছে মূল বিষয় হচ্ছে মায়া। সংসারের মায়া, সন্তানদের জন্য মায়া এবং স্বামীর প্রতি মায়া। বিশ্বাস—সে তো থাকবেই। মায়াটাই আসল। মায়া আছে বলেই এতটা পথ একসঙ্গে পাড়ি দিতে পেরেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংসারের মানুষদের ছেড়ে থাকব, এটা ভাবতেই পারি না।’

দুজনের পরিচয়ের পর্বটি জানতে চাইলে ওয়াহিদা মল্লিক জলি বলেন, ‘আমরা দুজনেই রাজশাহীর মানুষ। যখন ক্লাস টেনে পড়ি, তখন পরিচয়। আমার বাবার সঙ্গে থিয়েটার করত। একসময় আমি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাই। রহমত সেখানে পড়তে যায়। এভাবে পরিচয় থেকে চেনাজানা বাড়ে। আমার বাবা ছিলেন নাটকপাগল মানুষ। কিন্তু, তিনি চাইতেন না অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিই। কেননা, সেই সময় অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার অবস্থা ছিল না।’

জলি আরও বলেন, ‘রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার পর রহমত থিয়েটারে যোগ দিতে চাইল। আমাকেও দিতে বলল। সেই সময় কলকাতায় থিয়েটার ওয়ার্কশপ নামকরা ছিল। আরো তিন-চারটা নামকরা ওয়ার্কশপ ছিল। রহমত থিয়েটার ওয়ার্কশপে যোগ দেয়। বাবা বলতেন, আমিও যেন যোগ দেই। এভাবেই আমিও সেখানে যোগ দেই।’

‘থিয়েটারে কাজ করতে গিয়ে বেশ রাত হয়ে যেত। দল থেকে বলা হয়, রহমত যেন পৌঁছে দেয়। আমাকে পৌঁছে দিত। তখন কলকাতার কিছুই চিনি না। এভাবে আমাদের চেনাজানা বাড়তে থাকে। ভালো লাগাও বাড়তে শুরু করে’, স্মৃতিচারণ করে বলেন জলি। 

পেছনের স্মৃতি মনে করে জলি আরও বলেন, ‘রেডিওতে কাজ করার কারণে কলকাতায় যেদিন থিয়েটার ওয়ার্কশপে যোগ দিই, সেদিন আমাকে স্ক্রিপ্ট পড়তে দেওয়া হয়। আমার পড়া দেখে দলের সবাই অবাক হয়। এ কারণে, দলে যোগ দিয়ে আমাদের দুজনের কাউকেই বেশিদিন বসে থাকতে হয়নি। দ্রুত নাটকে কাজ করার সুযোগ পাই আমরা।’

রহমতের দোষ-গুণ কী? এ প্রশ্নের জবাবে জলি বলেন, ‘রহমতের বড় দোষ সে অল্পতে রেগে যায়। যা সত্য, তা অকপটে বলে দেয়। গুণ হচ্ছে, সে অনেক সরল। ভালো মানুষ তো অবশ্যই। আরো বড় গুণ, রহমত একজন সৎ মানুষ। সততা নিয়ে জীবন পার করছে। এজন্যই বোধ করি আমরা সুখে আছি। এজন্যই আমাদের সুখের পরিমাণ বেশি।’

রহমত আলী বলেন, ‘আমাদের সুখ বেশি। সুখ-দুঃখ থাকবেই। তবে, সুখটা বেশি। আমাদেরও ঝগড়া হয়, মান-অভিমান হয়। বেশি সময় থাকে না। সব ভুলে যাই। ভুল হলে স্বীকার করি। বড় বিষয় হচ্ছে ছাড় দেওয়া। দুজন দুজনকে ছাড় দেই। না হলে হবে না। তাতে সুখটা বেশি পাওয়া যায়।’

‘সততা নিয়ে বেঁচে থাকা, সৎ থাকা—এখানেই সুখ’, যোগ করেন রহমত। 

সংসারে কে বেশি দায়িত্ববান? রহমত বলেন, ‘আমার মনে হয় জলি বেশি দায়িত্ব পালন করে। সংসারের দায়িত্ব, সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব—সবই সে পালন করে।’

একটি উদাহরণ টেনে রহমত আলী বলেন, ‘একসময় আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছি। জলি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন। সেই সময় আমি দূরে ছিলাম। সংসার, সন্তান—সব সামলাতে হয়েছে তাকে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বছর শিক্ষকতা করে একসময় আমিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিই। তারপর দুজনে দায়িত্ব ভাগ করে নিই।’

জলির বড় গুণ কী? এর জবাবে রহমত বলেন, ‘ওর বড় গুণ সে বিবেচক। প্রচণ্ড বিবেচনাবোধ আছে। কথা বলে মেপে। হুট করে কিছু বলে না। ভেবে কথা বলে। ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়।’

‘আমরা দুজন দুজনকে বিশ্বাস করি। দুজন দুজনকে সম্মান করি। অন্যদেরও সম্মান করি। এজন্য মনে করি, এক জীবনে বহু মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। সম্মান পেয়েছি। এখনো পাচ্ছি’, যোগ করেন তিনি। 

সবশেষে ওয়াহিদা মল্লিক জলি বলেন, ‘জীবনে মানুষের ক্ষতি করিনি। মানুষকে সম্মান করেছি, ভালোবেসেছি।’

ইরান যেসব অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মোকাবিলা করছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরপরই ইরান দ্রুত পাল্টাজবাব দিতে শুরু করে। তেহরান জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে রয়েছে একটি বিশাল ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। এই সংঘাত কি পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ইরান ও এর আঞ্চলিক সহযোগী বাহিনীগুলোর অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার রয়েছে ইরানের। কিছুটা পুরোনো প্রযুক্তির হলেও দেশটির হাতে অনেক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল রয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হাতে পারে। 

স্বল্পপাল্লার যত ক্ষেপণাস্ত্র

কাছাকাছি থাকা লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানার জন্য ইরানের হাতে রয়েছে ১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ফতেহ ভেরিয়েন্টের ‘জুলফিকার’, ‘কিয়াম-১’ এবং ‘শাহাব-১/২’ এর মধ্যে অন্যতম। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার পর ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে হামলায় ইরান এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছিল।

মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের দেড় থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোই মূলত যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ‘শাহাব-৩’, ‘ইমাদ’, ‘গদর-১’, ‘খোররামশহর’ এবং ‘সেজ্জিল’-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েল ছাড়াও কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে সলিড ফুয়েলের ‘সেজ্জিল’ দ্রুত মোতায়েন করার উপযোগী হওয়ায় এটি ইরানের পাল্টা হামলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন

ইরানের হাতে রয়েছে ‘সুমার’, ‘ইয়া-আলি’, ‘কুদস’, ‘পাভেহ’ এবং ‘রাদ’-এর মতো ক্রুজ মিসাইল। আড়াই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘সুমার’ ক্ষেপণাস্ত্র মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন। ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রেখে মিসাইল হামলা চালানো ইরানের একটি পরিচিত কৌশল।

ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’

ইরান বছরের পর বছর ধরে মাটির নিচে সুরঙ্গ তৈরি করে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার গড়ে তুলেছে। মাটির নিচের এই বাঙ্কারগুলো ‘মিসাইল সিটি’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখেও মাটির নিচের এই সুরক্ষিত ঘাঁটি থেকে দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারবে ইরান।

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের হাতে রয়েছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, নেভাল মাইন ও ড্রোন, যা দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো সম্ভব। ইরান দাবি করেছে, তাদের হাতে ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের হাইপারসনিক মিসাইল রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন। ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি।

ফ্যামিলি কার্ড পেতে আর্থিক লেনদেন ‘বেআইনি’: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

ফ্যামিলি কার্ড পেতে দালাল বা অন্য কোনো মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করা বেআইনি। এ ধরনের বেআইনি কাজে কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে এবং সরকারি উদ্যোগে বিনা টাকায় দেওয়া হবে।

এআইয়ের কারণে নয়, চাকরি হারাবেন নিজেকে আপগ্রেড না করলে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—এআই কি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে? অনেকের ধারণা, এআই যত উন্নত হবে, মানুষের প্রয়োজন তত কমবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো কেবল এআইয়ের কারণে চাকরি যাবে না; বরং নিজেকে আপগ্রেড না করলে চাকরি হারাতে হতে পারে। কারণ দ্রুত ও দক্ষভাবে এআই ব্যবহার করতে জানা ব্যক্তি আমাদের জায়গা নিতে পারেন।

প্রযুক্তির প্রতিটি বড় পরিবর্তনের সময়ই মানুষের মধ্যে চাকরি হারানোর ভীতি তৈরি হয়েছে। কম্পিউটার আসার পর মনে করা হয়েছিল, অফিসের অসংখ্য কর্মীর প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে। ইন্টারনেট আসার পর আশঙ্কা করা হয়েছিল, বহু প্রচলিত পেশা বিলুপ্ত হবে। বাস্তবে কিছু কাজের ধরন হারিয়েছে, আবার তার চেয়ে অনেক বেশি নতুন কাজ ও দক্ষতার চাহিদা তৈরি হয়েছে। এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই পরিবর্তন ঘটছে।

এআই মানুষের সব কাজ সম্পূর্ণভাবে দখল করে ফেলবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তবে এটি বিভিন্ন পেশার দৈনন্দিন কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। আগে যে প্রতিবেদন তৈরি করতে কয়েক ঘণ্টা লাগত, এআইয়ের সহায়তায় সেটির খসড়া কয়েক মিনিটেই প্রস্তুত করা সম্ভব। বড় ডেটা বিশ্লেষণ, ই-মেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন তৈরি, কোডিং, অনুবাদ, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কিংবা পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজে এআই সময় ও শ্রম কমিয়ে দিচ্ছে।

অর্থাৎ চাকরি হয়তো থাকবে, কিন্তু সেই চাকরিতে টিকে থাকার যোগ্যতা বদলে যাবে। প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবেই এমন কর্মীকে গুরুত্ব দেবে, যিনি কম সময়ে বেশি মানসম্পন্ন কাজ করতে পারবেন। একজন কর্মী যদি পুরোনো পদ্ধতিতে একই কাজ করতে কয়েক ঘণ্টা নেন, আর অন্যজন এআই ব্যবহার করে তা নির্ভুলভাবে অল্প সময়ে শেষ করেন, তাহলে প্রতিযোগিতায় কে এগিয়ে থাকবেন—উত্তরটি পরিষ্কার।

অনেকে মনে করেন, চ্যাটজিপিটি বা অন্য কোনো এআই টুলে একটি প্রশ্ন লিখতে পারলেই তিনি এআই ব্যবহার জানেন। কিন্তু প্রকৃত দক্ষতা কেবল নির্দেশনা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এআই থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা, ভুল শনাক্ত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী ফলাফল সম্পাদনা করা এবং নিজের পেশাগত জ্ঞানের সঙ্গে সেটিকে সমন্বয় করাই মূল দক্ষতা।

এআই অনেক সময় ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে পারে। তাই বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ছাড়া শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। একজন দক্ষ পেশাজীবী এআইকে নিজের বিকল্প হিসেবে দেখেন না; বরং সহকারী হিসেবে ব্যবহার করেন। সিদ্ধান্ত, বিচারবোধ, সৃজনশীলতা ও দায়বদ্ধতা মানুষের হাতেই থাকতে হবে।

এআইয়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন কেবল প্রযুক্তি খাতের মানুষের জন্য নয়। সাংবাদিক এআই ব্যবহার করে তথ্য গুছিয়ে নিতে পারেন, কিন্তু তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার গুরুত্ব নির্ধারণ তাকেই করতে হবে। শিক্ষক পাঠ পরিকল্পনা ও শিক্ষাসামগ্রী তৈরিতে এআইয়ের সহায়তা নিতে পারেন, কিন্তু শিক্ষার্থীর মানসিকতা বুঝে শেখানোর দায়িত্ব শিক্ষকেরই।

চিকিৎসক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারেন, তবে রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার পেশাগত দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে। হিসাবরক্ষক, আইনজীবী, বিপণনকর্মী, ডিজাইনার, প্রকৌশলী কিংবা সফটওয়্যার ডেভেলপার—প্রায় প্রতিটি পেশাতেই এআই সহায়ক শক্তি হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।

তাই নিজের পেশায় কোন কাজগুলো এআই সহজ করতে পারে, কোন কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে এবং কোন মানবিক দক্ষতাগুলো এখনো অপরিহার্য এসব বুঝতে হবে।

একসময় একটি ডিগ্রি কিংবা নির্দিষ্ট দক্ষতা দিয়ে দীর্ঘ সময় চাকরিজীবন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল। এখন প্রযুক্তি এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে, কয়েক বছর আগের দক্ষতা আজ আর যথেষ্ট নাও হতে পারে। বর্তমান কর্মজীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হচ্ছে নিয়মিত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা।

নিজেকে আপগ্রেড করার অর্থ প্রতিদিন নতুন একটি এআই টুল শেখা নয়। বরং নিজের কাজের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তি নির্বাচন করা, ছোট পরিসরে ব্যবহার শুরু করা এবং ধীরে ধীরে সেটিকে কর্মপ্রক্রিয়ার অংশ বানানো। একই সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো মানবিক দক্ষতাও বাড়াতে হবে।

এআইয়ের যুগে সবচেয়ে ঝুঁকিতে তিনি নন, যিনি এখনো এআই সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে তিনি, যিনি মনে করেন তার আর নতুন কিছু শেখার প্রয়োজন নেই। পরিবর্তনকে অস্বীকার করে দীর্ঘদিন একই নিয়মে কাজ করলে একসময় তার দক্ষতার বাজারমূল্য কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে যিনি নিয়মিত শেখেন, পরীক্ষা করেন ও নিজের কাজের গতি ও মান বাড়ান, এআই তার প্রতিযোগী নয়; বরং শক্তিশালী সহযোগী হয়ে ওঠে।

এআই মানুষের অভিজ্ঞতা, সহমর্মিতা, নৈতিক বিচার, নেতৃত্ব ও বাস্তব জীবনের উপলব্ধিকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। কিন্তু এটি সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে। ফলে মানুষের দায়িত্ব হবে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, উদ্ভাবন, সম্পর্ক তৈরি এবং জটিল সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেওয়া।

সুতরাং ভয় পাওয়ার পরিবর্তে প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই ‘এআই আমার চাকরি কেড়ে নেবে কি না’—এটি প্রশ্ন হওয়া উচিৎ নয়, বরং প্রশ্ন হতে হবে, ‘এআইয়ের যুগে আমার দক্ষতাকে কীভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করব?’

মনে রাখতে হবে, এআই হয়তো সরাসরি আপনার চাকরি কেড়ে নেবে না। কিন্তু আপনি যদি এআইয়ের সঙ্গে নিজেকে আপগ্রেড না করেন, তাহলে আপনার চেয়ে দক্ষ, দ্রুত ও প্রযুক্তিসচেতন কেউ আপনার জায়গা নিয়ে নিতে পারে। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার মূলমন্ত্র তাই একটিই, নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে।

‘বেঞ্চে থেকে প্রয়োজনে মাঠে নামবে রাফিনিয়া’, জানালেন আনচেলত্তি

রোববার বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সেলেসাও শিবিরে স্বস্তির খবর—চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, রাফিনিয়া ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে এখনই তাকে শুরুর একাদশে দেখা যাবে না, বরং বেঞ্চ থেকে দলের প্রয়োজনে মাঠে নামবেন এই তারকা।

গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন রাফিনিয়া। গত শুক্রবার তিনি অনুশীলনে ফেরেন। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি রাফিনিয়ার ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাফিনিয়ার অবস্থার খুব ভালো উন্নতি হচ্ছে। সে এখনও ১০০ ভাগ ফিট নয়, তবে বেঞ্চে থাকার জন্য এবং কয়েক মিনিট খেলার বা নির্দিষ্ট মুহূর্তে দলের কাজে লাগার জন্য সে প্রস্তুত।’

এই ফরোয়ার্ডের দ্রুত সেরে ওঠায় স্বস্তি প্রকাশ করে ব্রাজিল কোচ আরও বলেন, ‘সে খুব দ্রুত এবং ভালোভাবে সেরে উঠেছে। আমরা এতে খুবই খুশি, কারণ রাফিনিয়া আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।’

রাফিনিয়ার ফেরার ম্যাচে ব্রাজিলকে অবশ্য বড় ধাক্কা খেতে হচ্ছে মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার চোটে। জাপানের বিপক্ষে গত ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং টানের শিকার হওয়া পাকেতাকে এই ম্যাচে পাচ্ছে না সেলেসাওরা। পাকেতার বিকল্প নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘লুকাস পাকেতার মতো মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আমাদের স্কোয়াডে আর নেই, তাই অন্য কোনো খেলোয়াড় দিয়ে তার অভাব পূরণ করতে হবে। দানিলো, গ্যাব্রিয়েল, মাথেউস কুনহা বা এদেরসন—সবার খেলার ধরন আলাদা। আগামীকাল আমরা যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই, সেটির সঙ্গে কে মানানসই—তা বিবেচনায় নিয়েই আমি খেলোয়াড় নির্বাচন করব।’

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আক্রমণভাগে নেইমারের উপস্থিতির সঙ্গে বেঞ্চে রাফিনিয়ার মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের অন্তর্ভুক্তি ব্রাজিলের শক্তি বাড়াবে সন্দেহ নেই।