29 C
Dhaka
Home Blog

‘কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন—আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ চালাই’

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকারি দলের এমপিদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘একটা টেনডেনসি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি, প্রায় সকল বক্তা কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন। আসেন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ানডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে চলি।’

আজ সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সহযোগিতার মানসিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

সংসদ সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এই পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। এই পার্লামেন্ট মজলুমের পার্লামেন্ট। সংগত কারণেই আশা করি যে এই পার্লামেন্ট এমন কোনো আচরণ করবে না, যেটা মজলুম দেশবাসীকে আহত করে। এই পার্লামেন্ট দায়িত্বশীল আচরণ করবে, জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, জাতিকে জাগিয়ে তুলবে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।’

সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংসদে আজকে আমরা যারা আছি, একসময় আমরা একদিকেই বসতাম। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ (সাল), অল্প দু-একজন বা দু-একটি দল ছাড়া। এখন আমরা দুই অংশে সংযুক্ত—আমি বিভক্ত বলছি না। কারণ, কোনো যানবাহনই এক চাকায় চলে না। যানবাহন চালাতে হলে অন্তত দুইটা টায়ার লাগে। এই সংসদেরও দুইটা টায়ার। একটা সরকারি দল, আরেকটা বিরোধী দল। যেকোনো একটা টায়ার যদি অকেজো হয়ে যায়, পুরো যানবাহন অকেজো। সুতরাং আমরা সতর্ক থাকব, দুটি টায়ার যাতে সচল থাকে। এই টায়ারে আপনি পিন লাগাবেন, পেরেক মারবেন, তাহলে কিন্তু ওই টায়ারটা ফুটো হয়ে যাবে। ফুটো হয়ে গেলে ওই অবশিষ্ট টায়ারও চলবে না।’

সংসদের অতীত রীতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগই নবীন, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। কিন্তু আমরা মন্দটা শিখতে চাই না। আমরা শিখতে চাই ভালোটা। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা হওয়া উচিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা তোষামদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জায়গা। অনেক সময় ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আমরা বেশি করে আঘাত করে ফেলি।’

জামায়াত আমির সংসদে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, আ স ম আবদুর রবসহ সব শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কষ্টে ভোগা দল। এক-দুই করে ১১ জনকে আমাদের বুক থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ এ সময় পাশে বসা দলটির আরেক নেতা এ টি এম আজহারকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘১২ নম্বর জন এখানে জীবিত আছেন।’

৪০ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি, দর্শক চাহিদা পূরণে সকাল ৭টা থেকে শো

রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া দেশমুখের নতুন সিনেমা রাজা শিবাজি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ১ মে। তবে মুক্তির আগে সিনেমাটি বেশ সাড়া ফেলেছে। ইতোমধ্যে ৪০ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে।

ভারতের বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যমে বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বলিউড হাঙ্গামার তথ্য অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত ‘রাজা শিবাজি’ সিনেমার ৪০ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে।

সিনেমাটির মারাঠি সংস্করণ সবচেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। এর কারণ হলো গল্পের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির সম্পৃক্ততা এবং বড় তারকাদের উপস্থিতি।

আগে অনেকবার ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হলেও, ‘রাজা শিবাজি’কে সবচেয়ে বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ প্রজেক্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ কারণেও দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে।

টিকিট বুকিং ওয়েবসাইটগুলো দেখলে বোঝা যায়, মহারাষ্ট্রজুড়ে অনেক শো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

মুম্বাই ভালো সাড়া ফেললেও চমক দেখাচ্ছে পুনে। সেখানে চাহিদা এতটাই বেশি যে, অনেক সিনেমা হলে সকাল সাতটা থেকেই শো শুরু করা হচ্ছে। মুম্বাইয়ের কিছু হলও একই পথে হাঁটছে, তবে পুনের মতো না।

বলিউড হাঙ্গামা জানায়, বর্তমানে ভারতে সবচেয়ে বেশি টিকিট বিক্রির কেন্দ্র হয়ে উঠেছে পুনে, যা মুম্বাইয়ের মতো বড় বাজারকেও টক্কর দিচ্ছে।

এই টিকিট বিক্রির ভিত্তিতে বলা যায়, সিনেমাটি প্রথম দিনেই ভালো আয় করবে।

তবে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ অগ্রিম বুকিং হয়েছে মারাঠি সংস্করণের জন্য। হিন্দি সংস্করণের বুকিং পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই সেটিও একই সাড়া পাবে কি না, তা দেখার বিষয়।

‘রাজা শিবাজি’ সিনেমাতে রিতেশ দেশমুখ অভিনয় করছেন শিবাজি মহারাজের ভূমিকায়। তার সঙ্গে আরও আছেন, জেনেলিয়া দেশমুখ, সঞ্জয় দত্ত, অভিষেক বচ্চন, বিদ্যা বালান, ফারদিন খান, ভাগ্যশ্রী, শচীন খেদকর, অমল গুপ্ত, জিতেন্দ্র যোশী প্রমুখ।

আজারবাইজান থেকে ইসরায়েলে জ্বালানি তেল নেওয়া বন্ধের হুমকি ইরানের

ইসরায়েলের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ মেটায় ইরানের প্রতিবেশী ককেশীয় অঞ্চলের দেশ আজারবাইজান। সেই তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে যায় আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসি হয়ে তুরস্কের ভূ-মধ্যসাগরীয় শহর জায়হানে। তারপর সেখান থেকে সেই তেল রপ্তানি হয় তেল আবিবে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা চলমান থাকার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল তেহরানে হামলা করে বসে। পরে, সেই হামলায় যোগ দেয় ওয়াশিংটন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ ৩ মার্চ বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরান।

আজ মঙ্গলবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়—ইউরোপের জেট ফুয়েল সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ হরমুজ দিয়ে সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, নৌপথে সরবরাহ করা বিশ্বের মোট তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাঁচ ভাগের একভাগ এই পথ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভর করে না।

এদিকে, একই দিনে লন্ডনভিত্তিক মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়—নৌপথে সরবরাহ করা বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়।

একই সংবাদমাধ্যমের অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—ইরানের বিপ্লবী গার্ডের প্রধানের এক উপদেষ্টা বার্তায় জানিয়েছেন, ইরান শত্রুদের পাইপলাইনকে হামলার লক্ষ্য করতে পারে। তারা সেই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির অনুমতি দেবে না।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে এমন সময় এমন হুমকি এলো যখন দেশটির ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অপ্রত্যাশিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানান যে, কমান্ডারের উপদেষ্টার এমন বার্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) মালিকানাধীন বাকু-তিবিলিসি-জায়হান (বিটিসি) পাইপলাইন দিয়ে আজারবাইজান থেকে ইসরায়েলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

তাদের মতে, ইরান যখন ‘শত্রুর তেলের লাইনে’ হামলার হুমকি দেয় তখন তা সাধারণত বিটিসি পাইপলাইনকে বোঝায়। কেননা, মূলত সেই পাইপলাইন দিয়ে ইসরায়েলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসে।

বিটিসি পাইপলাইন ইরানের হাতের নাগালে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের সূত্রগুলো সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে—ইসরায়েল আজারবাইজানের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী ইরান ও সেই অঞ্চলের অন্যান্য তেহরানপন্থি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি, সেসব হামলার সংখ্যা ও মাত্রা বেড়েছে।

তাই ইরান ইসরায়েলের তেল সরবরাহ বিঘ্নিত করতে চায় বলে মনে করছেন তারা।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান সম্পাদক পরিষদের

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

আজ বুধবার এক বিবৃতিতে সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ পরিষদের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানান।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে এখনো অনেক সাংবাদিক কারাবন্দি রয়েছেন এবং অনেকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

তবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, বলা হয় বিবৃতিতে।

মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার ও সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একাধিকবার বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে এতে বলা হয়, তারা আমাদের আশ্বস্তও করেছিলেন যে, মামলাগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।

নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্পাদক পরিষদের জোরাল আহ্বান, তারা যেন বিষয়টির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

সম্পাদক পরিষদ বিবৃতিতে আরও বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার—এই প্রত্যাশাই আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেভাবে বদলে দিতে পারে জনপদের অর্থনীতিও

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ভীমরুলি, আটঘর ও কুড়িয়ানা এলাকার ভাসমান পেয়ারা বাজার নিয়ে অসংখ্য সংবাদ পড়েছি। বর্ষা এলেই এই সংক্রান্ত সংবাদ কোনো না কোনো মিডিয়ায় দেখা যায়। অধিকাংশ খবরে থাকে ফলন কেমন হলো, দাম কেমন, কিংবা কৃষকের লোকসান, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, অথবা বিক্রি না হওয়া পেয়ারা খালে ফেলে দেওয়ার কথা।

কিন্তু, সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা ইউএনবিতে নজরে পরে এই ভাসমান বাজারের একটা ভিন্ন গল্প। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক  যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এই ভাসমান পেয়ারা বাজার একটা পর্যটন এলাকায় পরিণত হয়েছে! আর এর ফলে পেয়ারার চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে এবং ওই জনপদের অর্থনীতিকে বেশ শক্তিশালী করেছে।

প্রতিবেদনটা শেষ করেই মনে হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ ব্যবহারকারীদের সত্যনিষ্ঠ, প্রকৃত, যথার্থ ভিডিও কতটা শক্তিশালী হতে পারে! একই মাধ্যম ব্যবহার করে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, তর্ক-বিতর্কের জোয়ার উঠছে। তাহলে প্রকৃত সমস্যাটা কোথায়, মাধ্যমের বৈশিষ্ট্যে, নাকি ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ধরনে? এগুলো আমাদের আলোচনার বাইরেই থেকে যায়।

পিরোজপুরের ভাসমান পেয়ারা বাজার একটা পর্যটনকেন্দ্র হয়ে ওঠার পেছনে কোনো প্রথাগত বিজ্ঞাপনের হাত নেই। কেবল রয়েছে কিছু মানুষের প্রযুক্তির সচেতন ব্যবহার, কিছু ভ্রমণপিপাসু মানুষের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা কনটেন্ট। একজন সাধারণ মানুষ সেখানে ভ্রমণে গিয়ে যা দেখেছেন, সেটাই ভিডিওতে ধারণ করেছেন, কিংবা ছবি তুলেছেন, শেয়ার করেছেন বন্ধুদের সঙ্গে। অথবা একজন ইউটিউবার হয়তো নৌকায় বসে ভিডিও করেছেন ভাসমান বাজারের। ফেসবুকে কেউ হয়তো শুধু কয়েকটা ছবি বা ছোট্ট একটা রিল পোস্ট করেছেন। এসব কনটেন্টের মূল বৈশিষ্ট্য একটাই, সেটা হলো বাস্তবতাকে তারা অতিরঞ্জিত করেননি। গ্রামীণ একটা জনপদের নির্দিষ্ট ফসলকে কেন্দ্র করে যে অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, মোবাইলের ক্যামেরায় শুধু সেটুকুই ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর সেই সরল উপস্থাপনাটাই মূলত মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছে, নিজ চোখে দেখার আগ্রহ তৈরি রয়েছে অন্যদের মাঝে।

অর্থাৎ একটা ভিডিও বা একটা ছবি শুধুমাত্র প্ল্যাটফর্মেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং একটা মানুষের ভ্রমণ গন্তব্য নির্ধারণের কারণ হয়েছে। তার তাতেই বদলে গেছে প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো এক ভাসমান বাজারকেন্দ্রিক পিরোজপুরের ভীমরুলি, আটঘর ও কুড়িয়ানা এলাকার অর্থনীতি।

সাধারণ মানুষের তৈরি করা কনটেন্টের কারণে সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশের এ ধরনের আরও অসংখ্য স্থান আছে। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামে শাপলা বিল কিংবা সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রামে জাদুকাটা নদীর তীরের শিমুল বাগান—এই জায়গাগুলো একটা সময় শুধুই স্থানীয়দের কাছেই পরিচিত ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণপিপাসুদের ছবি, ভিডিও ও অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ার পরই সারা দেশে পরিচিতি পায়।

কোথাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, তো কোথাও কৃষকের বিস্তৃত খেতে ফুটে থাকা রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, গ্ল্যাডিওলাস, এমনকি সরিষা বা সূর্যমুখী ফুল মানুষকে আকর্ষণ করছে। একেক মৌসুমে কৃষিজমিও পরিণত হচ্ছে পর্যটনের অংশে।

এখন মানুষ মৌসুম ভেদে এসব জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। যে মৌসুমে যে জায়গাটা আরও বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে, সেই মৌসুমে সেখানেই মানুষের যাত্রা। গৎবাঁধা ভ্রমণ গন্তব্যের বদলে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সৌন্দর্যসুধা পান করতে সবাই বেড়িয়ে পরেন।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ডেনিস ম্যাককুয়েল তার ‘ম্যাস কমিউনিকেশন থিওরি: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন’ গ্রন্থে মিডিয়াকে একটা জানালার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা ঘটনা এবং অভিজ্ঞতার এমন একটা জানালা যা আমাদের দৃষ্টিসীমাকে বিস্তৃত করে এবং অন্যের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আমাদের চারপাশে কী ঘটছে, তা নিজের চোখে দেখার সুযোগ দেয়।

অনেকটা সময় ধরে এই জানালার নিয়ন্ত্রণ ছিল শুধুমাত্র মূলধারার গণমাধ্যমের হাতে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আবির্ভাবে এই ক্ষমতা এখন প্রতিটা মানুষের হাতেই চলে এসেছে। মিডিয়া গবেষক হেনরি জেনকিন্স তার ‘কনভার্জেন্স কালচার: হোয়্যার ওল্ড অ্যান্ড নিউ মিডিয়া কোলাইড’ গ্রন্থে এটাকেই বলেছেন ‘অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি’।

পিরোজপুরের ভাসমান পেয়ারা বাজারের ক্ষেত্রে হয়েছে তাই। এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্যও লক্ষ্য করা যায়। প্রথমত: যেকোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এখন অনেক সহজ। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই শুধু ইন্টারনেট সংযোগ আর স্মার্টফোন থাকলেই যে কেউ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন। দ্বিতীয়ত: প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেওয়ার অপেক্ষা ছাড়াই নিজ উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। আর সেই ভিডিওই অন্যদের জন্য অনানুষ্ঠানিক পথনির্দেশনায় পরিণত হচ্ছে। কোথায় যেতে হবে, কীভাবে যেতে হবে, কোন মৌসুমে গেলে সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে প্রভৃতি তথ্যগুলো পোস্ট করা কনটেন্ট থেকেই পেয়ে যাচ্ছেন। আর তৃতীয়ত: একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর ছোট্ট একটি কনটেন্টে বদলে যেতে পারো একটি এলাকার অর্থনীতি—সেটাও হয়তো তার অজান্তেই।

আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ডেই নিজের চেহারা বদলে ফেলা যায়, গাছের রং, আকাশের রং, মাঠের রং বদলে ফেলা যায়! এমন দৃশ্যও তৈরি করা যায়, যা বাস্তবে কখনো ছিলই না। কৃত্রিমভাবে তৈরি করা এমন দৃশ্য হয়তো কিছুক্ষণের জন্য বিস্ময় তৈরি করে, ব্যক্তিগতভাবে আমাদেরকে ক্ষণিকের আনন্দও দেয়; কিন্তু একটি বাস্তবতা-নির্ভর চিত্র বা ভিডিও মানুষকে নতুন বার্তা দেয়, ভাবায়, ভ্রমণে আগ্রহী করে তোলে। আর তাইতো সেগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি।

সবমিলিয়ে একটা বার্তা স্পষ্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যথেষ্ট শক্তিশালী। এটাকে ব্যবহার করে দেশ ও মানুষের উপকার করব, নাকি বিদ্বেষ ছড়াবো, সেটা নির্ভর করছে আমাদের ওপরই।

 

জান্নাতুল রুহী: সাংবাদিক ও লেখক।

যে কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পুরোনো বইয়ের বিক্রি

হঠাৎ করেই গোটা বিশ্বে পুরোনো ও আগে ব্যবহার করা বইয়ের চাহিদা বেড়ে গেছে।

গত কয়েক মাসে বই বিক্রেতারা এ বিষয়টি লক্ষ্য করছেন। পুরোনো বই কেনার অসংখ্য অর্ডার পাচ্ছেন তারা। একসঙ্গে হাজারো কপি উপন্যাস দূরবর্তী কোনো গুদামে পাঠানোর নির্দেশনা মানতে হচ্ছে তাদের।

অনেকের ধারণা, এই নজিরবিহীন চাহিদার নেপথ্যে আছে এআই প্রযুক্তি।

নর্থাম্বারল্যান্ডের বার্টার বুকস নামের বইয়ের দোকানের মালিক স্টুয়ার্ট ম্যানলি বিবিসিকে জানান, তিনি সাধারণত প্রতি সপ্তাহে দুই-তিন হাজার বই বিক্রি করে থাকেন।

তবে সম্প্রতি তিনি একটি কানাডীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে অসংখ্য বইয়ের অর্ডার পান। সংখ্যা উল্লেখ না করে স্টুয়ার্ট জানান, সাত দিনেও তিনি এত বই বিক্রি করতে পারেন না।

তিনি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে পুরোনো বইয়ের ব্যবসায় আছি। এরকম ঘটনা এর আগে কখনো দেখিনি।’

স্টুয়ার্টই একমাত্র বিক্রেতা নন, যিনি এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বই বিক্রেতারা একই ধরনের ঘটনার কথা জানিয়েছেন।

তাদের অনেকেই জানেন না, বিক্রি করা বই শেষ পর্যন্ত কোথায় বা কার হাতে পৌঁছাবে।

সন্দেহ করা হচ্ছে, আগ্রহী পাঠক নয়, এসব বই চলে যাবে নতুন তথ্যের উৎসের জন্য বুভুক্ষু হয়ে থাকা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা এআইয়ের কাছে।

উত্তর লন্ডনে ওয়ালডেন বুকস পরিচালনা করেন ডেভিড টোবিন। তার দোকানেও সম্প্রতি অস্বাভাবিক ধরনের বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে বিক্রি হয়নি এমন কিছু বই বিক্রি করতে পেরে ভালো লাগছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলো ধ্বংস করে ফেলা হলে তা দুঃখজনক হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের রায় থেকে এ বিষয়টি সম্পর্কে সামান্য আভাস পাওয়া যায়।

এআই সফটওয়্যারকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য গণহারে পুরোনো বই কেনা কোনো অবৈধ কাজ নয়—এমন রায় দেন মার্কিন বিচারক। ঘটনাটি ২০২৫ সালের।

এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে তিনজন লেখক মামলা করেছিলেন। ওই মামলার রায়ে বিচারক উইলিয়াম অ্যালসাপ উল্লেখ করেন, সমাজে বৈপ্লবিক রূপান্তর আনবে এমন উদ্যোগে ওই লেখকদের বইগুলো ব্যবহার করছে অ্যানথ্রপিক। যার ফলে বাদী লেখকদের মামলা বাতিল করে দেন বিচারক।

গত মাসে ওই বিচারিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত আদালতের নথি প্রকাশ করা হলে জানা যায়, অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লডকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য হাজারো পুরোনো বই কেনা হলেও সেগুলো ‘কাজ শেষে’ ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে।

“ক্লডকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় উন্মুক্ত ওয়েব ডেটা, বাণিজ্যিকভাবে সংগৃহীত বিভিন্ন ডেটাসেট এবং আমরা নিজেরা তৈরি করা ডেটার সমন্বয়ে,” বলেন এক মুখপাত্র।

তারা জোর দিয়ে বলেন, এআই প্রশিক্ষণের জন্য বই সংগ্রহ করা এই খাতে খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়।

তারা আরও বলেন, ‘আমাদের কোনো ডেটা সংগ্রহ কর্মসূচিতে বিরল বা প্রাচীন বই কিনে ধ্বংস করা হয় না।’

তবু এআই ইঞ্জিনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর বিপুল পরিমাণ পুরোনো বই কাগজের মণ্ডে পরিণত করে ধ্বংস করা হচ্ছে—এমন ধারণা বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি করছে।

অ্যানথ্রপিকের মামলাসংক্রান্ত আদালতের নথিতে জানা যায়, পুরোনো বই সংগ্রহ করে এআইয়ের প্রশিক্ষণে যুক্ত করার এই প্রকল্প নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নিয়মিত একে অপরের সঙ্গে বার্তা বিনিময় করতেন। এ সময় তারা একে ‘পানামা প্রকল্প’ বলে উল্লেখ করেন।

নথিতে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল ‘বিশ্বের সব বই স্ক্যান করে ধ্বংস করে ফেলা’।

ইংরেজিতে ‘ডেস্ট্রাক্টিভ স্ক্যানিং’ বা ধ্বংসাত্মক স্ক্যানিং নামের এই প্রক্রিয়ায় বই এমন স্থানে পাঠানো হয়, যেখানে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় অসংখ্য বইয়ের ডিজিটাল রূপান্তর করা সম্ভব।

সব পৃষ্ঠা দ্রুত স্ক্যান করার সুবিধার্থে এর বাঁধাই খুলে ফেলা হয়। এর ফলে চাইলেও এই বইগুলো আর পাঠকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় থাকে না। স্ক্যানের পর বইগুলোর পুনঃচক্রায়ন করা হয়।

বার্টার বুকসের ম্যানলি বলেন, ‘প্রজেক্ট পানামাকে ঘিরে অনেক রহস্য রয়েছে।’

‘নামটি আমার কাছে নতুন, তবে প্রকল্পটির বাস্তবতা নতুন নয়। বই বিক্রেতাদের বিভিন্ন ফোরামে এটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।

তার বইগুলো এই প্রকল্প বা অন্য এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের কোনো প্রকল্পের জন্য কেনা হচ্ছে কি না, তা তিনি জানেন না।

তবে তিনি বলেন, এসব বিক্রির হিসাব রাখাও কঠিন। কারণ বিক্রিগুলো এমনভাবে হচ্ছে, যার ‘সুনির্দিষ্ট কোনো ধরন বা যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না’।

বিক্রি হওয়া বইয়ের মধ্যে দুর্লভ বা অপ্রচলিত লাতিন ভাষার বই থেকে শুরু করে কাউবয় উপন্যাসও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বইগুলোর বিষয়বস্তুর এই বৈচিত্র্যও এআইয়ের দিকে ইঙ্গিত করে।

কারণ কিছুটা ভিন্ন ধরনের এবং অপেক্ষাকৃত দুর্লভ বইয়ের লেখাগুলো চ্যাটবটের মতো জেনারেটিভ এআই টুলের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার হতে পারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাস্বত্ব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এমিলি হাডসন বলেন, যুক্তরাজ্যের কপিরাইট আইন যুক্তরাষ্ট্রের আইন থেকে ভিন্ন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে মূল বিষয়টি হলো, এ ধরনের সব ধরনের কপি করার কাজ করার আগে কপিরাইটের মূল মালিকের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া বা প্রশিক্ষণের জন্য লাইব্রেরি তৈরি করার মতো কাজও এর অন্তর্ভুক্ত।’

বই বিক্রেতাদের জন্য বিষয়টি একটি নৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

বই ধ্বংস করার ধারণায় তারা অস্বস্তি বোধ করছেন। যদিও তারা স্বীকার করেন, সব বই সংরক্ষণ করা জরুরি নয়।

এডিনবরার ম্যাকনটাস বইয়ের দোকানের মালিক ডেরেক ওয়াকার বিবিসিকে বলেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশিত কোনো অ্যাকাডেমিক বই যদি মাত্র ১০০ কপি প্রকাশিত হয়ে থাকে এবং এর মধ্যে ৭৫টি ইতোমধ্যে বিভিন্ন লাইব্রেরিতে থাকে, তাহলে বাজারে সেটি খুবই দুর্লভ হতে পারে। তবে এর একটি কপি ধ্বংস হয়ে গেলে হয়তো খুব বড় ক্ষতি হবে না।’

‘কিন্তু আমাদের কাছে এমন বইও রয়েছে এবং আমরা এমন বই বিক্রিও করেছি, যার একটি মাত্র সংস্করণের একটি মাত্র কপি তখন পর্যন্ত টিকে ছিল’, বলেন তিনি।

তিনি মত দেন, ‘এত দীর্ঘ সময় টিকে থাকার পর এ ধরনের কোনো বই শুধু (স্ক্যান করে) ধ্বংস করার জন্য কেনা হলে সেটা অনেক বড় সমস্যা তৈরি করবে।’

বই ব্যবসায়ী ম্যানলি বলেন, ‘অনেক বইয়ের ক্ষেত্রে পুনঃচক্রায়ন একটি ভালো সমাধান হতে পারে। বিশেষ করে যেসব বই মানুষ আর নিজেদের বুকশেলফে রাখতে চান না। এতে সার্বিকভাবে বইয়ের ব্যবসা গতিশীলও হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বইগুলো শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে এবং সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে কারও কারও নৈতিক উদ্বেগ থাকতে পারে।’

কিন্তু বিশ্বের এখন আর ‘দা ভিঞ্চি কোড’ বইটির ৫০ লাখ কপির প্রয়োজন নেই—মত দেন তিনি।

‘আমি এমন বইয়ের বিজ্ঞাপন অনলাইনে ২০ বছর ধরে দিয়ে আসছি, যেগুলো এখন পর্যন্ত এক কপিও বিক্রি হয়নি’, যোগ করেন তিনি।

ঢাকার পর্নতারকা সুমাইয়া সাঈদ গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে পর্নতারকা ও ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সুমাইয়া সাঈদকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তাকে এক দিনের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

এর আগে গত ১১ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সুমাইয়া সাঈদকে (২৫) গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে তার কথিত প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেগুলো বিক্রির বিজ্ঞাপন নজরে আসে। নথিতে তার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং কনটেন্ট বিক্রির প্যাকেজের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এসব কনটেন্ট গ্রাহকদের সরবরাহ করা হতো। মামলার নথিতে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্টের জন্য বিভিন্ন মূল্যের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে পরে টেলিগ্রাম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কনটেন্ট সরবরাহ করা হতো।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রযুক্তির সহায়তায় সুমাইয়ার অবস্থান শনাক্ত করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করা হয়। মামলার জব্দ তালিকাতেও মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের তথ্য রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া বেশ কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে অনলাইনভিত্তিক এই কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য দিয়েছেন। তদন্তকারীরা এখন ওই সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন।

এ ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, তিনি মেয়ের কথিত অনৈতিক উপার্জনের বিষয়টি জানতেন এবং সেই অর্থ গ্রহণ করতেন। তবে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তা মামলার নথিতে স্পষ্ট নয়।

মামলার নথিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের প্রচার ও বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্ট, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং যোগাযোগের মাধ্যমের তথ্যও সংযুক্ত করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ক্রিনশট ও বিভিন্ন কনটেন্টের ছবিও নথিতে সংযুক্ত রয়েছে।

এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা বলছে, চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কীভাবে কনটেন্ট সংগ্রহ ও বিতরণ করা হতো এবং এর আর্থিক লেনদেনের পরিধি কতটা—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দুজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আরবি ও বাংলা শেখার সুযোগ দিচ্ছে ‘ফিফো লার্নিং’

বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে আরবি ও বাংলা ভাষা এবং ইসলামিক শিক্ষা শেখার সুযোগ দিচ্ছে এডটেক প্ল্যাটফর্ম ‘ফিফো লার্নিং’ (FIFO Learning)।

অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে নমনীয় সময়সূচিতে ৩০ মিনিটের ইন্টারঅ্যাকটিভ লাইভ ক্লাস পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। কোর্সগুলো ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রবাসী পরিবার ও বিদেশি শিক্ষার্থীরাও সহজে এসব কোর্সে অংশ নিতে পারবেন।

ফিফো লার্নিংয়ের প্রধান কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিগিনার ইসলামিক স্টাডিজ, নিউ মুসলিম কোর্স, নূরানী কায়দা, তাজবীদ, কুরআন তিলাওয়াত, বাংলা ফাউন্ডেশন ও বাংলা অ্যাডভান্সড।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বিগিনার ইসলামিক স্টাডিজ, নিউ মুসলিম ও নূরানী কায়দা কোর্সে সপ্তাহে তিন দিনের ক্লাসের মাসিক ফি ৪৮ ডলার এবং পাঁচ দিনের ক্লাসের ফি ৮০ ডলার। তাজবীদ ও কুরআন তিলাওয়াত কোর্সে সপ্তাহে তিন দিনের ফি ৬০ ডলার এবং পাঁচ দিনের ফি ১০০ ডলার। বাংলা ফাউন্ডেশন কোর্সের ফি ৪৮ ও ৮০ ডলার এবং বাংলা অ্যাডভান্সড কোর্সের ফি ৬০ ও ১০০ ডলার।

শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ান-অন-ওয়ান মনোযোগ, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সহযোগিতামূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোর্সগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক সনদের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ফিফো লার্নিং এলএলসি-এর ফাউন্ডার তৌহিদ হোসেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অনলাইন আরবি ও বাংলা কোর্সগুলোতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কার্যক্রম শুরু হলেও এখন অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও কোর্স উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পরিচিতদের জন্য প্রথম মাসে ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। আগ্রহীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন।

আগ্রহীরা ফিফো লার্নিংয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। ওয়েবসাইট: fifolearning.com, ফেসবুক: FIFOLearning, হোয়াটসঅ্যাপ: +1 571 946 6604

হারারেতে প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

হারারেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

টস জিতে বোলিং নেয়ার ব্যাপারে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছেন, উইকেটে পেসারদের জন্য কিছুটা সহযোগিতা আছে। সেটি কাজে লাগানোর জন্য আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। 

একমাত্র টেস্টে বাজেভাবে হারলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে আছে টাইগাররা। টানা চারটি সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাসী মিরাজের দল। যদিও ২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে খেলা সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশ একাদশ: সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা। 

জিম্বাবুয়ে একাদশ: বেন কারান, ব্রায়ান বেনেট, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্রেগ আরভাইন, সিকান্দার রাজা, ওয়েসলে মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদান্দে, ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামহুরি, রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি।

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রোডম্যাপ

দেশের বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় বিস্তৃত মধ্যমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকখাতে আস্থা ফেরানোর লক্ষ্যে কঠোর তদারকি, ঋণের অর্থ দ্রুত পুনরুদ্ধার, আইনি সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক ঋণ-ক্ষতি নির্ধারণ মানদণ্ডে রূপান্তরের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এতে।

আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের সর্বশেষ মুদ্রানীতি বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ধারাবাহিকভাবে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ দেশের আর্থিকখাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা, মূলধনের সক্ষমতা, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও মুদ্রানীতির কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, মোট খেলাপি ঋণের হার ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছায়। পরে তা কমে ২০২৬ সালের মার্চে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে আসে।

নিট খেলাপি ঋণের হারও একই ধারা অনুসরণ করেছে। এটি ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছানোর পর ২০২৬ সালের মার্চে কমে ১৫ দশমিক ০১ শতাংশে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট শ্রেণিকৃত ঋণ ডিসেম্বরে ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মার্চের শেষে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার পরিবর্তন, স্বল্পমেয়াদি কার্যকরী মূলধন ঋণের সমন্বয়কাল ও চাপের মুখে থাকা ঋণ হিসাবের সুদ সংযোজনের ধরনের কারণে এই ওঠানামা হয়েছে।

সম্পদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্কার চালু করেছে। সীমিত পুনরুদ্ধার সম্ভাবনাসম্পন্ন খেলাপি ঋণ অবলোপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যাংকগুলোর ব্যালান্স শিটের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাপের মুখে থাকা ঋণগ্রহীতাদের জন্য নীতিমালাও সংশোধন করেছে। এর আওতায় সম্ভাবনাময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকৃত ঋণ সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। এ বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকখাতে ঋণ-শৃঙ্খলা জোরদারে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং সংক্রান্ত নির্দেশিকা হালনাগাদ করে। উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের স্ট্যান্ডার্ড ও স্পেশাল মেনশনড অ্যাকাউন্টের (এসএমএ) জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কম প্রভিশন রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যমেয়াদি কৌশলের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো বিধিভিত্তিক প্রভিশনিং পদ্ধতি থেকে আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণ-ক্ষতি (ইসিএল) কাঠামোয় রূপান্তর, যা ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বহু দেশে ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী, ঋণ প্রকৃতপক্ষে খেলাপি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব করে তা স্বীকৃতি দিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। এর মাধ্যমে ক্ষতির লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর প্রভিশন রাখার প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তন আসবে। সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে আগেভাগে সংরক্ষণ রাখার ফলে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার আরও সময়োপযোগী ও স্বচ্ছ চিত্র পাওয়া যাবে।

সামনের দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রোডম্যাপ অস্থায়ী নিয়ন্ত্রক শিথিলতার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে খেলাপি ঋণ কমাতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই কৌশল চারটি মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (আরবিএস) জোরদার করবে এবং বিশেষ করে দুর্বল সুশাসন বা উচ্চমাত্রার ঋণঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সম্পদ মান পর্যালোচনা (একিউআর) পরিচালনা করবে।

দ্বিতীয়ত, ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠন ও প্রভিশন পরিকল্পনাকে ঋণ পুনরুদ্ধারের বাস্তব অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হবে। পুনরুদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে লভ্যাংশ বিতরণে বিধিনিষেধসহ তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তৃতীয়ত, ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ শুধুমাত্র আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। যেসব ঋণগ্রহীতা পরিশোধের অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চতুর্থত, ব্যাংকের অভ্যন্তরে বিশেষায়িত পুনরুদ্ধার ইউনিট, শক্তিশালী আইনি বিভাগ, অর্থঋণ আদালতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি এবং জামানত বাস্তবায়নের আরও কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হবে।

এ ছাড়া, আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যাংকগুলোর জন্য তারল্য সহায়তা এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানের মূলধন পুনর্গঠনকে আলাদা রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কাঠামোবদ্ধ জরুরি তারল্য সহায়তা (ইএলএ) ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

রোডম্যাপকে সমর্থন জোগাতে সম্প্রতি প্রণীত দুটি আইন—ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ এবং আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬ কার্যকর হয়েছে। এর লক্ষ্য, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক পুনর্গঠনে কর্তৃপক্ষকে আরও শক্তিশালী ক্ষমতা দেওয়া, খুচরা আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আর্থিকখাতে নৈতিক ঝুঁকি কমানো।

সবশেষে, ইসিএল কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তা এবং ঋণগ্রহীতাদের ঋণমানের অবনতি আগেভাগে শনাক্ত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকগুলোর ঋণঝুঁকি মডেলিং সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।