27.3 C
Dhaka
Home Blog

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চট্টগ্রামের এমপি

সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম–১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নুরুল আমিন আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এমপি নুরুল আমিনকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এমপিকে তার বহরের আরেকটি গাড়িতে করে চট্টগ্রামে পাঠায়।

ওসি আসাদুল ইসলাম বলেন, এমপি নুরুল আমিন বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান ও বৃদ্ধ বয়সের সুরক্ষা: সঠিক পদক্ষেপ, তবে দূর করতে হবে আইনি অস্পষ্টতা

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ৩০ জুলাই জানিয়েছেন, সরকার সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ সংশোধনের কথা ভাবছে। প্রস্তাব করা হবে, সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও বাবা-মা জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ-দখলে রাখতে পারবেন।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো সম্পত্তি দান বা হস্তান্তরের পর বাবা-মাকে যেন সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে না হয়। পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলাও কমানো সম্ভব হবে।

প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য বেশ স্পষ্ট। জীবদ্দশায় সম্পত্তি সন্তানের নামে লিখে দেওয়ার পরও বাবা-মাকে যেন নিজের ঘর হারানোর ভয় বা সন্তানের দয়ার ওপর নির্ভর করে থাকতে না হয়।

প্রবীণ পিতামাতার সুরক্ষার দিক থেকে দেখলে আইনমন্ত্রীর এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী। এটা এমন একটা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে, যার কারণে অনেক পিতামাতা জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি দান করতে সাহস পান না। আইনি ভাষায় জীবিত অবস্থায় দান বা গিফট করা মানে বিনামূল্যে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বোঝানো হয়।

তবে এই প্রস্তাবের প্রভাব শুধু প্রবীণদের সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটা মুসলিম ব্যক্তিগত আইন, উত্তরাধিকার, নারীর সম্পত্তির অধিকার এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সম্পত্তি হস্তান্তর ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রথম প্রশ্ন হলো—এই প্রস্তাব কি ইসলামি উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক?

প্রথমে অনেকের তা-ই মনে হতে পারে। কারণ ইসলামি আইনে ছেলে-মেয়েসহ উত্তরাধিকারীদের জন্য নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করা আছে। অনেকের কাছে এই বিধান ধর্মীয় ও আইনি—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টা এত সরল নয়।

উত্তরাধিকার আইন কার্যকর হয় মৃত্যুর পর। ব্যক্তির মৃত্যুকালে তার মালিকানাধীন সব সম্পত্তি বা এস্টেট উত্তরাধিকার আইনের আওতায় আসে।

অন্যদিকে, ইসলামিক আইনে ‘হেবা’ হলো জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি দান করা। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, একবার বৈধভাবে হেবা সম্পন্ন হলে সেই সম্পত্তি সাধারণত আর দাতার সম্পত্তির অংশ হিসেবে থাকে না।

প্রস্তাবিত সংশোধনী এই মূল নীতিকে বদলাচ্ছে না। বরং এটি এমন ব্যবস্থা করতে চায়, যাতে দাতা মালিকানা হস্তান্তর করলেও জীবদ্দশায় সম্পত্তির দখল ও ব্যবহার নিজের কাছে রাখতে পারেন।

অর্থাৎ, এই প্রস্তাব ইসলামি উত্তরাধিকার আইনকে বদলাচ্ছে না। বরং উত্তরাধিকার আইন কখন কার্যকর হবে, বাস্তবে তার প্রভাব কীভাবে পড়বে, সেটায় কিছুটা পরিবর্তন করছে।

এই পার্থক্যটি ছোট মনে হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদি কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকতেই সম্পত্তির বড় অংশ হস্তান্তর করে দেন, তাহলে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার হিসেবে বণ্টনের জন্য কম সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে।

অর্থাৎ, উত্তরাধিকার আইন একই থাকলেও বাস্তবে তার গুরুত্ব কিছুটা কমে যেতে পারে।

এতে নারীদের সম্পত্তির অধিকারের বিষয়টিও সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ বলছেন, এই প্রস্তাব নারীদের সম্পত্তির অধিকার আরও শক্তিশালী করতে পারে। সেই যুক্তিরও ভিত্তি আছে।

অনেক বাবা-মা জীবদ্দশায় মেয়ের নামে সম্পত্তি লিখে দিতে চান না। কারণ একবার সম্পত্তি হস্তান্তর করলে নিজের নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও বসবাসের নিশ্চয়তা হারানোর আশঙ্কা থাকে।

যদি তারা আজীবন ভোগ-দখলের অধিকার ধরে রাখতে পারেন, তাহলে সেই ভয় অনেকটাই দূর হবে। ফলে যারা মেয়েকে সম্পত্তি দিতে চাইতেন, তারাও হয়তো আরও সহজে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন।

তবে উল্টো ঘটনাও ঘটতে পারে।

কারণ জীবদ্দশায় দেওয়া সম্পত্তি পরে উত্তরাধিকার আইনের আওতায় পড়ে না। ফলে কেউ যদি এই নতুন সুবিধার কারণে নিশ্চিন্ত বোধ করেন, তাহলে তিনি মৃত্যুর আগেই নিজের অধিকাংশ সম্পত্তি শুধু ছেলের নামে লিখে দিতে পারেন।

সে ক্ষেত্রে মেয়েরা উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে কেবল মৃত্যুর সময় যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে, তার অংশ। যদি অবশিষ্ট সম্পত্তি খুব কম থাকে, তাহলে উত্তরাধিকার আইন অপরিবর্তিত থাকলেও বাস্তবে মেয়েদের প্রাপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ অনেক কমে যেতে পারে।

এতে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় নেই। কারণ সম্পদ বণ্টনের কেন্দ্রবিন্দু যদি উত্তরাধিকার থেকে সরে জীবদ্দশায় দান করায় চলে যায়, তাহলে এমন ফল হওয়াই স্বাভাবিক।

এই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়াবে, নাকি কমাবে—তা শুধু আইনের ধারা দেখে বলা সম্ভব না।

আইনটি নিজে নিরপেক্ষ। এর সামাজিক প্রভাব নির্ভর করবে পরিবারগুলো এই সুযোগ কীভাবে ব্যবহার করবে, তার ওপর।

তাই এই বিতর্ককে শুধু ‘পিতামাতার সুরক্ষা’ বা ‘নারীর ক্ষমতায়ন’—এই দুই স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। বিষয়টা আসলে আরও বড়। এটা দেখায়, আইনের বিধান বাস্তব জীবনের সামাজিক আচরণের সঙ্গে কীভাবে মিলে কাজ করে।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে গেলে আরও কিছু বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। আজীবন ভোগ-দখলের অধিকার বলতে ঠিক কী বোঝানো হবে? পিতামাতা কি সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে ভাড়ার অর্থও পাবেন? সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, কর ও বিমার দায় কার থাকবে? জমির রেকর্ডে এই আজীবন ভোগদখলের অধিকার কীভাবে উল্লেখ করা হবে? পিতামাতার ভোগদখলের অধিকার থাকা অবস্থায় সন্তান কি সেই সম্পত্তি বন্ধক রাখতে পারবে? সরল বিশ্বাসে সম্পত্তি কেনা কোনো ক্রেতা বা ঋণদাতার স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা হবে?

এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না থাকলে একটা সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে নতুন ধরনের মামলা ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এসব প্রশ্ন তোলার অর্থ এই না যে এই সংস্কারের বিরোধিতা করা হচ্ছে। বরং এটি ইতিবাচক যে সরকার এমন একটি আইন করতে চাইছে, যা বিরোধ তৈরি হওয়ার পর সমাধান দেওয়ার বদলে আগেই বিরোধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একটা ভালো আইনকে শুধু তার উদ্দেশ্য দিয়ে নয়, বরং মানুষের পারস্পরিক আইনি সম্পর্ক কীভাবে বদলে দেয়, সেটাও বিবেচনায় নিতে হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনী শুধু প্রবীণ পিতামাতাকে সুরক্ষা দেবে না, এটা জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান, উত্তরাধিকার এবং মালিকানার পারস্পরিক সম্পর্ককেও নতুনভাবে সাজাবে।

এই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত ন্যায়সংগত হবে কি না, পারিবারিক স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করবে কি না, নাকি নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি করবে—তার উত্তর নির্ভর করবে শুধু আইনের ভাষার ওপর নয়, বরং পরিবারগুলো সেই আইন ব্যবহার করবে কীভাবে, তার ওপরও।

লেখক: ব্যারিস্টার নওশীন নাওয়াল। ইমেইল: [email protected]

রাত ৩টায় ঘুম ভাঙে, থাকতে পারে প্রাচীন অভ্যাসের যোগসূত্র

গভীর রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখা গেল—রাত ৩টা। অনেকেই তখন অস্থির হয়ে ভাবতে শুরু করে, ‘এই অসময়ে কেন ঘুম ভাঙল?’ কিংবা ‘শরীরে কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?’ কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, রাতের এই জেগে ওঠা সব সময় অসুস্থতার লক্ষণ নয়। বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে মানুষের হাজার বছরের পুরোনো ঘুমের অভ্যাস।

একসময় মানুষ একটানা আট ঘণ্টা ঘুমাত না। ইতিহাসবিদদের গবেষণা বলছে, বিদ্যুৎ, স্মার্টফোন কিংবা কৃত্রিম আলোর যুগ আসার বহু আগে পৃথিবীর নানা সংস্কৃতিতে মানুষের ঘুম মূলত দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।

সূর্য ডোবার কয়েক ঘণ্টা পর তারা ঘুমাতে যেত। তারপর মাঝরাতে একবার জেগে উঠত। সেই সময় কেউ আগুনে জ্বালানি দিত, কেউ পরিবারের সঙ্গে গল্প করত, কেউ প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা করত, আবার কেউ প্রার্থনা বা ধ্যান করত। এক থেকে দুই ঘণ্টা জেগে থাকার পর তারা আবার ঘুমিয়ে পড়ত এবং ভোর পর্যন্ত সেই ‘দ্বিতীয় ঘুম’ চলত।

ঘুম নিয়ে গবেষণা করা ইতিহাসবিদ রজার একির্চ প্রাচীন দলিল, চিকিৎসাবিষয়ক লেখা, আদালতের নথি, ব্যক্তিগত চিঠি ও কবিতাসহ দুই হাজারেরও বেশি ঐতিহাসিক নথিতে এই ‘প্রথম ঘুম’ ও ‘দ্বিতীয় ঘুম’-এর উল্লেখ খুঁজে পেয়েছেন। এমনকি হোমারের ওডিসিতেও এর ইঙ্গিত রয়েছে। সে সময় বিষয়টি এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে, লেখকেরা এর আলাদা কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনই মনে করতেন না।

কিন্তু শিল্পবিপ্লবের পর সবকিছু বদলে যেতে শুরু করে। ঘরে ঘরে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার বাড়ল। মানুষ রাত জেগে কাজ করতে লাগল। ঘুমানোর সময় পিছিয়ে গেল। ধীরে ধীরে দুই পর্বের ঘুম মিলেমিশে একটানা রাতের ঘুমে পরিণত হলো। আর আজ আমরা ধরে নিয়েছি, একটানা রাতভর না ঘুমাতে পারলেই বুঝি সমস্যা।

আধুনিক ঘুমবিজ্ঞান বলছে, মানুষের ঘুম আসলে একটানা গভীর থাকে না। প্রতি ৯০ থেকে ১১০ মিনিট পরপর ঘুমের একটি চক্র সম্পন্ন হয়। এক রাতে সাধারণত চার থেকে ছয়টি চক্রের মধ্য দিয়ে যায় আমাদের শরীর।

রাতের প্রথম ভাগে গভীর ঘুম বেশি থাকে। কিন্তু রাত যত গড়ায়, গভীর ঘুম কমে আসে এবং হালকা ঘুম ও স্বপ্ন দেখার পর্যায় বাড়তে থাকে। এই সময় সামান্য শব্দ, আলো বা শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনেও ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

মজার বিষয় হলো, অধিকাংশ মানুষই রাতে কয়েকবার জেগে ওঠে। তবে কয়েক সেকেণ্ড বা মিনিটের মধ্যেই আবার ঘুমিয়ে পড়ে বলে সকালে তা মনে থাকে না। সমস্যা তখনই হয়, যখন সেই জেগে থাকার সময় দীর্ঘ হয়ে যায় অথবা প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম ভেঙে যায়।

১৯৯২ সালে পরিচালিত একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের এমন পরিবেশে রাখা হয়েছিল, যেখানে কোনো ঘড়ি বা কৃত্রিম আলো ছিল না। কয়েক দিন পর দেখা গেল, তাদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই দুই পর্বে ঘুমাতে শুরু করেছে।

২০১৭ সালে মাদাগাস্কারের এমন একটি কৃষিভিত্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর গবেষণা করা হয়, যাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। গবেষকেরা দেখেন, তাদের অনেকের ঘুম এখনো দুই ভাগে বিভক্ত।

অর্থাৎ আধুনিক জীবনযাত্রা বদলালেও মানুষের শরীরে সেই প্রাচীন ছন্দের কিছুটা এখনো রয়ে যেতে পারে।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ধারণা ছিল, রাত ৩টার দিকে কর্টিসল নামের একটি হরমোন হঠাৎ বেড়ে যায় বলেই মানুষ জেগে ওঠে। কর্টিসল শরীরকে সকালে জাগিয়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে ২০২৫ সালের একটি নতুন গবেষণা এই ধারণাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছে। গবেষকেরা দুই শতাধিক মানুষের শরীরে সরাসরি কর্টিসলের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, ঘুম ভাঙার মুহূর্তে কর্টিসল হঠাৎ বেড়ে যায় না। বরং এটি নিজের স্বাভাবিক গতিতেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তা মানুষ জেগে থাকুক কিংবা ঘুমিয়ে থাকুক।

অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রেই রাত ৩টার জেগে ওঠা কোনো অস্বাভাবিক হরমোনের কারণে নয়; এটি শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়িরই একটি অংশ হতে পারে।

তবে সব ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক না। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এর পেছনে নির্দিষ্ট শারীরিক কারণও থাকতে পারে।

মেনোপজের সময় অনেক নারীর ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ায় গভীর ঘুম ব্যাহত হয়। পাশাপাশি রাতের গরম অনুভূতি (হট ফ্ল্যাশ) এবং হরমোনের পরিবর্তন ঘুম ভেঙে দিতে পারে।

আবার রাতের খাবার খুব কম খাওয়া বা অনেক আগে খেয়ে ফেললে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। তখন শরীর স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে, যা অনেকের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও অন্যদের মধ্যেও হতে পারে।

এ ছাড়া বিকেলে বা সন্ধ্যায় ক্যাফেইন গ্রহণ এবং রাতে অ্যালকোহল পান করলেও ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ঘুম ভাঙার চেয়ে বড় সমস্যা হলো, ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া। অনেকেই তখন ঘড়ির দিকে তাকায়, হিসাব করতে থাকে, ‘এখনো তো তিন ঘণ্টা ঘুমানো বাকি!’ এরপর শুরু হয় দুশ্চিন্তা। আর এই উদ্বেগই মস্তিষ্ককে শেখাতে থাকে যে, রাত ৩টা মানেই জেগে থাকার সময় নয়। ধীরে ধীরে এটি দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রার রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের জৈবঘড়িকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য নীল আলোর পর্দা এড়িয়ে চলা, বিকেল বা সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন না খাওয়া এবং অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকাও উপকারী।

যদি কেউ রাতের বেলা প্রায় ২০ মিনিটের বেশি জেগে থাকে, তাহলে বিছানায় শুয়ে অস্থির না থেকে উঠে কোনো বই পড়া বা অন্য কোনো কাজ করা ভালো। ঘুম এলে আবার বিছানায় ফিরে যেতে হবে। এতে বিছানাকে জেগে থাকার জায়গা হিসেবে মস্তিষ্কের মনে রাখার প্রবণতা কমে।

দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি ফর ইনসমনিয়া (সিবিটি-আই) সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যাওয়া মানেই শরীরে বড় কোনো সমস্যা হয়েছে এমন নয়। অনেক সময় এটি মানুষের বিবর্তনীয় ইতিহাসেরই পুরোনো ছাপ হতে পারে, যা এখনো আমাদের শরীরে রয়ে গেছে।

সূত্র: সায়েন্স এলার্ট

হালান্ডকে বোতলবন্দী করতে চায় ব্রাজিল

রোববার বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই লড়াইয়ে সেলেসাওদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। গতি আর শারীরিক শক্তিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে সিদ্ধহস্ত এই তারকাকে রুখে দেওয়ার ওপরই ম্যাচের ভাগ্য নির্ভর করছে বলে মনে করছে ব্রাজিল শিবির।

চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম ভয়ংকর এই ফরোয়ার্ডকে আটকানোর ছক নিয়ে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘হালান্ডকে সবাই চেনে। আমার ডিফেন্ডারদের বুঝিয়ে বলতে হবে না সে কীভাবে খেলে। তারা আমার চেয়েও তাকে ভালো চেনে, কারণ তার বিরুদ্ধে তারা অনেকবার খেলেছে। তবে অবশ্যই হালান্ডের শক্তি ও সামর্থ্যের বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে, কারণ সে খুবই বিপজ্জনক একজন ফরোয়ার্ড।’

এদিকে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস মনে করেন, ম্যাচ নির্ধারণী ভূমিকা রাখার জন্য হালান্ড যাতে বলের জোগান না পান, সেটি নিশ্চিত করাই হবে তাদের মূল কাজ। গিমারেস বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করতে হবে বল যেন তার কাছে না পৌঁছায়। আমরা আক্রমণে উঠব, তবে সব সময় কেউ না কেউ তার সঙ্গে আঠার মতো লেগে থাকবে যেন সে কোনো ফাঁকা জায়গা না পায়। কারণ আমরা জানি, মাত্র একটি বল পেলেই সে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।’

হালান্ডের উচ্চতা ও নরওয়ের ফিজিক্যাল ফুটবলকে মাথায় রেখে এই ম্যাচটি বেশ কৌশলী এবং স্নায়ুচাপের হতে পারে বলে ধারণা করছেন গিমারেস। বিশেষ করে সেট পিস থেকে নরওয়ে ব্রাজিলকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

গিমারেস আরও যোগ করেন, ‘তারা আমাদের বক্সে অনেক বল ফেলবে এবং প্রতিটি কর্নার বা ফ্রি-কিক থেকে গোল করার জন্য নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দেবে। তাদের সেই শক্তিকে নসাৎ করার জন্য আমরা সপ্তাহে অনেক অনুশীলন করেছি। এটি অত্যন্ত কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’

 

দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা হচ্ছে: জামায়াত আমির

বিএনপি দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর মাসদাইরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ; ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত; বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত অনুগত দলের কর্মীদেরকে ভিসি হিসেবে বসিয়ে দেওয়া; জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডার এবং নেতাদেরকে প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দেওয়া; এইভাবে একটা দলীয় শাসন—একদলীয় শাসন বাংলাদেশে কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

‘ইতিহাস ভুলে গেলে হবে না! শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। অর্ধবছরও ক্ষমতায় রাখতে পারেননি এরপরে। সুতরাং একদলীয় শাসন দেশের মানুষ মেনে নেবে না,’ যোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার এই সংস্কৃতি চালু করেছিল আওয়ামী লীগ। সবচেয়ে বেশি গালি দিতো বিএনপিকে। সাথে সাথে আমাদেরকেও একটু রাখতো, ছাড় দিত না। এখন বিএনপিও ওই পুরোনো আওয়ামী লীগ যা বলতো, সেই পুরোনো আমলের কথাগুলো এখন তারাও জপা শুরু করেছে। যে কথাগুলো জপতে জপতে আওয়ামী লীগ গিয়ে পড়েছে দিল্লিতে, আপনারা সেই কথাগুলো জপতে জপতে কোথায় গিয়ে পড়বেন?’

‘জনগণ এগুলো খায় না! তরুণ-যুব সমাজ এগুলো শুনতে চায় না। তরুণ-যুব সমাজের মুখের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন, না হলে ভুল করবে। আমরা আশা করতে চাই, সরকার নিজেদের ভুল নীতি পরিহার করে জনকল্যাণমূলক, জনবান্ধব নীতিতে ফিরে আসবে,’ বলেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে। অসুবিধা নাই, বাজেট দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও সরকারের। শুধু এতটুকু বলবো, গত সাড়ে ১৫ বছরে এই বাজেট থেকে যেভাবে আওয়ামী লীগ আর তার দোসর ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটবেন না। তবে কীভাবে আস্থা রাখব? কারণ সরকার গঠন করার আগে এবং পরে আপনারা তো চাঁদাবাজদের হাত আটকাতে পারেন নাই! একটা চাঁদাবাজকে আপনারা শাস্তির আওতায় আনেন নাই। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই, বরং তার মিটার আগের থেকে বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে জনগণ জনগণের জায়গায় তার ভাগ্য নিয়ে হুমড়ি খাবে। আর কিছু দল, দলকানা কিছু মানুষ এবং কিছু গোষ্ঠীর হয়তো ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। বাংলাদেশ আর এটা দেখতে চায় না।’

জুলাই যোদ্ধাদের অবদান খাটো করে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালে বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। সুতরাং, তাদের রক্ত ও ত্যাগের কারণে আজকের এই সংসদ, সরকার, বিরোধী দল।’

নারায়ণগঞ্জবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে হাজার জাল-জালিয়াতি, সন্ত্রাস, কালো টাকার ছড়াছড়ি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হাজার জাতের মেকানিজম-ইঞ্জিনিয়ারিং, সব কিছুকে উপেক্ষা করে আপনারা ১১ দলীয় ঐক্যকে একটি আসন কমপক্ষে আপনারা উপহার দিতে পেরেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন যেভাবে সুষ্ঠু হয়েছিল, তার ভোট গণনা এবং ফলাফল যদি সেইভাবে সুষ্ঠু হতো, অন্য আসনটিতেও অবশ্যই জোটের বিজয় হতো। বিজয় ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে।’

জনগণের মতামতের মূল্য দিতে জামায়াত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে বলেও জানান শফিকুর।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রথমে চুপ থাকলেও, নীরবে ‘না’ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছিল। পরবর্তীতে জনরোষের মুখে রংপুরে বলতে বাধ্য হয়েছিল, ১২ তারিখ দুটি ভোট। একটি গণভোট, আরেকটি জাতীয় সংসদের ভোট। তিনি হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

‘আউয়াল, ওয়াস্তে, আখের একবারই তিনি বলেছেন।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনি তো সেই দলটির নেতা, বর্তমান সংসদে তিনি সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী, সরকারের প্রধান, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী। তিনি এই যে বললেন কথাটা, সেই গণভোটে ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ভোট দিলো, তাদের ভোটের মূল্যটা তিনি কী দিলেন? তিনি শপথ নিয়েই গণভোটকে অস্বীকার করলেন।’

‘তার (প্রধানমন্ত্রীর) সহকর্মী, যাকে বলা হয় তিনি “সর্বমন্ত্রী”। সব মন্ত্রণালয়ে তিনি আজানও দেন, একামতও দেন। মাঝে মাঝে তিনি সংসদে ফতোয়াও দেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনটা যাতে হয়ে যায় এ জন্য আমরা এগুলো বলেছিলাম। লজ্জা…! একটা সংগঠনের শীর্ষ জায়গা থেকে যদি জনগণকে এভাবে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে কেন? মানুষ কেন রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদদেরকে বিশ্বাস করবে? আমরা ওই রাজনীতি করি নাই, আমরা ওই রাজনীতি করব না,’ যোগ করেন তিনি।

শফিকুর বলেন, ‘আমরা সংসদে নোটিশ দিয়ে আলোচনা করেছিলাম, গণভোট যেন হারিয়ে না যায়। গণভোটকে যেন সম্মান দেখানো হয়। আমরা বলেছিলাম, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা কখনো গণতন্ত্রপন্থী হতে পারে না। গণতন্ত্রের দাবি হচ্ছে, বেশির ভাগের রায়কে সম্মান করা। যেহেতু বেশিরভাগ জনগণ, প্রায় ৭০ ভাগ জনগণ হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, অতএব সরকারকে এই রেফারেন্ডামের যে সংস্কার প্রস্তাব, সবগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তারাও বলেছিলেন ভোটের আগে, জনগণ যদি হ্যাঁ এর পক্ষে রায় দেয়, তাহলে যেই সরকার গঠন করুক, আমরা এই জনরায় পরিপূর্ণ করতে, মানতে আমরা বাধ্য থাকব।’

‘এখনো আহ্বান জানাই, সময় আছে, ফিরে আসেন। রেফারেন্ডাম মেনে নিন, মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। নইলে মনে রাখবেন, মানুষের রায়কে উপেক্ষা-অগ্রাহ্য করে জোর করে যদি শাসন ব্যবস্থা চালাতে চান, এই জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। আমাদের রায়কে মানেন না, তাহলে দেশ আপনারা কীভাবে শাসন করবেন? জবাব দিতে পারবেন না,’ সরকারের উদ্দেশে বলেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ এক সময় সন্ত্রাসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হয়েছিল উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘দফায় দফায় ছোপ ছোপ রক্ত, আর কাঁড়ি কাঁড়ি লাশ এই নারায়ণগঞ্জকে উপহার দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো নেতা হুংকার দিয়ে বলতেন খেলা হবে। এখন কার বিরুদ্ধে খেলতেছেন? এখন কোন মাঠে খেলতেছেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘হুংকার দেওয়া ভালো নয়। অহংকার আল্লাহ তাআলার চাদর। আল্লাহ তাআলা পছন্দ করে না এটা নিয়ে কোনো মানুষ টানাটানি করুক। অহংকারীরা তাদের কিছুটা পাওনা পেয়েছে, বাকি পাওনাটাও তারা পাবে এটা দেশবাসী দেখতে চায়। নতুন করে ও রকম কোনো গডফাদার এখানে তৈরি হোক আমরা এটা চাই না।’

নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীর উদ্ধৃতি দিয়ে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজদের কারণে ব্যবসায়ীরা ভালো নেই।

‘দলের নেতা হয়ে বলা হবে, আমরা দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবো। আর ঘরে ঘরে চাঁদাবাজদেরকে লেলিয়ে দেবেন। কথার সাথে কাজের মিল নেই। আবার তারাই আমাদেরকে খোঁটা দেয়, হাজার জাতের খোঁটা। আমরা নাকি কোথায় জান্নাতের টিকেট বিক্রি করেছি,’ যোগ করেন তিনি।

উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কেউ কি জান্নাতের কোন টিকেট বিক্রি করেছেন? আপনাদের কাছে কি কেউ কোনো জান্নাতের টিকেট বিক্রি করেছে? আপনারাও বিক্রি করেন নাই, আপনাদের কাছেও বিক্রি করে নাই। জান্নাতের টিকেট কারা বিক্রি করেছে? যারা ইলেকশন করতে গিয়ে বলেছে, এই মার্কায় ভোট দিলে আপনারা জান্নাত পাবেন। সেই ভিডিও কি হারিয়ে গেছে? তারা বিক্রি করেছে। বলেছে, অমুক নেতার নাম ডেইলি ১০০ বার নিলে আপনি জান্নাতে যাবেন। তারা আরেক ধাপ অগ্রসর হয়ে বলেছে, আমাদের অমুক নেতার নাম নেওয়ার আগে অজু করা লাগবে।’

বাজেটের প্রভাব পড়েনি নিত্যপণ্যে, বাজারে সরবরাহ সন্তোষজনক: পাট প্রতিমন্ত্রী

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পরও রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

আজ সোমবার দুপুরে তিনি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। এরপর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

বাজার পরিদর্শনে গিয়ে শরীফুল পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে সরবরাহ-বিপণন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি বাজারে উপস্থিত ক্রেতাদের মতামতও জানতে চান।

পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে আমরা সার্বিক বাজার পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেছি। বাজারে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সরকার ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জনবান্ধব বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যে কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো যায়।

শরীফুল আলম বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে বাজেট ঘোষণার পর বাজারে মূল্যবৃদ্ধির যে প্রবণতা দেখা যেত, এবার তা পরিলক্ষিত হয়নি। কারণ এবারের বাজেট জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত তদারকির ফলে বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘অহেতুক কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের শেষ পর্ব নিয়ে যা জানা গেলো

দর্শকদের মাঝে আলোচিত ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। যার পরিচালনা করেছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এখন পর্যন্ত ৪৬টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। এরই মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে এই পারিবারিক গল্পের নাটকটি।

মূলত পাকিস্তানি সিরিজ ‘কাভি মে কাভি তুম’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে নাটকটি।

নাটকটির গল্পে উঠে এসেছে পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা, দ্বন্দ্ব আর মমত্ববোধ। মোট ৫২ পর্বে এই সিরিয়ালের যবনিকাপাত হতে চলেছে। 

নাটকে ফাহাদ চরিত্রে ইরফান সাজ্জাদ ও সামির চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার।

মেহরী চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল। সায়রা চরিত্রে আছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল।

সিরিজের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা আক্তার মিঠু, নাদের চৌধুরী, শিল্পী সরকার অপু, ডিকন নূর, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মুকিত জাকারিয়াসহ অনেকেই।

নির্মাতা রাজ জানিয়েছেন, ‘শেষ পর্বটি হবে বিশেষ মেগা এপিসোড। শুরু থেকে প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য ছিল ২৫ মিনিট। দর্শকদের অনুরোধ ছিল সময় আরও বাড়ানোর। তবে টেলিভিশন সম্প্রচারের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও স্পন্সর-সংশ্লিষ্ট সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। যে আক্ষেপ ছিল, সেটি মেগা এপিসোডের মাধ্যমে পূরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ 

‘শেষ পর্বে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গল্পের সমাপ্তি দেখানো হবে’, যোগ করেন তিনি। 
 

ইরানে হামলা ৪ সপ্তাহ চলতে পারে: ট্রাম্প

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

ইতোমধ্যে উড়োজাহাজ চলাচল ও তেল বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

গতকাল শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন যে যুদ্ধ কয়েকদিন চলতে পারে। তবে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলেও জানা গেছে।

এক পৃথক সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, ইরানে হামলা ৪ সপ্তাহ চলতে পারে।

‘এটি ৪ সপ্তাহের কাজ। আমরা ৪ সপ্তাহের মতো সময় লাগার কথা বিবেচনায় রেখেছি। আয়তনের দিক থেকে ইরান অনেক বড় দেশ। সেখানে ৪ সপ্তাহ বা কিছুটা কম সময় লাগতে পারে,’ যোগ করেন ট্রাম্প।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক এক্স বার্তায় জানান যে, তার দেশের সেনারা ইরানের পুব ও পশ্চিমে মার্কিন বাহিনীর ‘পরাজয়ের ব্যবস্থা’ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে। তারা এই হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতি-হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গতকাল রয়টার্সের অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেনাবহিনীর সদরদপ্তর পেন্টাগন দেশটির আইনসভা কংগ্রেসকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান প্রথম আঘাত করবে—এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত তারা পায়নি।

এতে আরও বলা হয়, গতকাল রোববার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানতে পারে যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার পরিকল্পনা করছে এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে ছিল না।

কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। ইরানের কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। এবং ইরানে ১ হাজারের বেশি জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে।

তারা একদিন আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোয় ইরান হামলা চালাতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন।

এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প চুপচাপ বসে থাকবেন না। তিনি মার্কিন সেনাদের ওপর কোনো হামলা সহ্য করবেন না।

ওমানের মধ্যস্থতায় যখন ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছিল তখন যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়ায় বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন বলেও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না দেখিয়েই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এদিকে, কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, মার্কিন গোয়েন্দাদের ভাষ্য—ইরান যুক্তরাষ্ট্রে হামলা করতে পারে এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল না। এটি বাড়িয়ে বলা হতে পারে।
 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযানে মারধর: ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গতকালের ঘটনায় জড়িত পুলিশ চার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, যারা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে, তাদের মধ্যে আরও দুই-তিনজনকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।  

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে দুই মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের মারধর করার অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার দুপুরে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা ডিসি মাসুদ আলমকে অপসারণ, হামলায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, ক্যাম্পাস ও শহরে অনাকাঙ্ক্ষিত পুলিশি কার্যক্রম বন্ধ এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান। 
 

৫ বছরের মধ্যে কোটি মানুষের ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট থাকবে, বলছেন জাকারবার্গ

ভাবুন তো, সকালে ঘুম থেকে উঠেই কেউ আপনাকে মনে করিয়ে দিল, আজ গুরুত্বপূর্ণ একটি মিটিং আছে। দুপুরে জানিয়ে দিল, বিদ্যুতের বিল দেওয়ার শেষ দিন। বিকেলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বলল। আর রাতে মনে করিয়ে দিল, অনেক দিন হলো মায়ের সঙ্গে কথা বলা হয়নি!

না, এটি কোনো অতিমানব নয়। মার্ক জাকারবার্গের কল্পনায় এটি হবে আপনার ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট।

টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারবার্গের বিশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই বিশ্বের কোটি মানুষের এমন একজন ব্যক্তিগত এআই সহকারী থাকবে। যে লক্ষ্য, অভ্যাস ও প্রয়োজন বুঝে ২৪ ঘণ্টা ব্যবহারকারীর হয়ে কাজ করবে।

সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর এমন একটি পৃথিবী কল্পনা করাই কঠিন হবে, যেখানে মানুষের নিজস্ব এআই এজেন্ট নেই। তার ভাষায়, এই ডিজিটাল সহকারী শুধু প্রশ্নের উত্তরই দেবে না, বরং লক্ষ্য পূরণে সারাক্ষণ কাজ করবে।

জাকারবার্গের মতে, অর্থের হিসাব রাখা, স্বাস্থ্য সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া, সম্পর্ক ভালো রাখতে প্রয়োজনীয় বিষয় মনে করিয়ে দেওয়া কিংবা ঘরের ছোটখাটো কাজ সামলানো—এসবই করতে পারবে ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট।

তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, এত কাজ যদি এআই করে দেয়, তাহলে মানুষ করবে কী? অবশ্য জাকারবার্গের উত্তর হতে পারে, মানুষ তখন আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল কাজে সময় দিতে পারবে।

ভবিষ্যতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হবে মেসেজিং অ্যাপ। জাকারবার্গ বলছেন, মানুষ যখন একাধিক এআই এজেন্টের সঙ্গে কথা বলবে, তখন হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব আরও বাড়বে। কারণ, বর্তমানে মেটা এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় মাধ্যমই হলো হোয়াটসঅ্যাপ।

অবশ্য এআই নিয়ে বড় স্বপ্ন কেবল মেটা দেখছে না। গুগলও তাদের সার্চে ব্যক্তিগত এআই সহকারীর ধারণা যুক্ত করছে। অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকের ক্লদও প্রোগ্রামারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, কারণ এটি কেবল পরামর্শ দেয় না, অনেক কাজও করে দেয়।

তবে এই স্বপ্নের দামও কম নয়। এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে মেটা এখন বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। কোম্পানিটির ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি বিভাগ চলতি প্রান্তিকে প্রায় ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে। আর ২০২১ সাল থেকে এই বিভাগের মোট লোকসান পৌঁছেছে প্রায় ৮৮ বিলিয়ন ডলারে।

এআইয়ের জন্য নতুন নতুন ডেটা সেন্টারও বানানো হচ্ছে। সম্প্রতি মেটা ও ব্ল্যাকরক মিলে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।

জাকারবার্গ অবশ্য আশাবাদী। তার বিশ্বাস, ব্যক্তিগত এআই এজেন্টই হবে মেটার পরবর্তী বড় ব্যবসা। ইতোমধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে চালু হওয়া মেটার ব্যবসায়িক এআই এজেন্ট ব্যবহার করছে বিশ্বের ১০ লাখেরও বেশি প্রতিষ্ঠান।