32 C
Dhaka
Home Blog

শান্ত-নাহিদের ইতিহাস, মিরপুরে পাকিস্তানকে হারানোর টেস্টে আরও যত রেকর্ড

মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করার দিনে ইতিহাস গড়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। গতিময় এই তারকা প্রথম ইনিংস বিবর্ণ থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে নেন পাঁচ উইকেট। আর এতেই অনন্য এক রেকর্ডের মালিক হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে যে আর কারো পাঁচ উইকেট নেই! 

পরিসংখ্যানের আলোয় মিরপুর টেস্ট 

ইঞ্জিনিয়ারিং ভোটের ছক! যশোরে নির্বাচন কমিটির সদস্যের বিরুদ্ধেই প্রতারণার গুরুতর প্রমাণ

যশোরের বকচরে অবস্থিত ‘পুরাতন লোহা ও মোটর ব্যবসায়ী মালিক সমিতি’র ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট এই অভিযোগ এনেছেন কোষাধ্যক্ষ পদের এক প্রার্থী।

জানা গেছে, ৯ মে সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে এই অভিযোগ জানান কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী মোঃ ফরহাদ হোসেন (সদস্য নং- ৪৩)।

অভিযোগপত্রে ফরহাদ হোসেন উল্লেখ করেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ মোর্তজা হোসেন ২২৭, সেক্রেটারি প্রকাশ্য নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে তার আপন ভাই এবং একই নির্বাচনের প্রার্থী মোঃ রবিউল ইসলাম ছোটু’র পক্ষে বিভিন্ন ভোটারের নিকট মোবাইলের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করছেন।

কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী ফরহাদ হোসেন দাবি করেন, তিনি নিজে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ওই সদস্য খোদ তার নিকটও তার ভাইয়ের জন্য ভোট চেয়েছেন, যার পর্যাপ্ত প্রমাণ ও স্ক্রিনশট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরহাদ হোসেন বলেন, যেহেতু ছোট্ট একটা মুদিখানা দোকানদার এই গাড়ি কাটা ব্যবসার সাথে সংযুক্ত নয়, তার দোকানের নাম মদিনা ভ্যারাইটিজ স্টোর। অথচ তার পরিচিতি তার ভাই মোর্তজা (২২৭, সেক্রেটারি)। সে যখন একজন দায়িত্বশীল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা হয়ে নিজের ভাইয়ের জন্য এভাবে ভোট চাবে, তখন সে তো ভোট পাবেই। শ্রমিক নেতা মোর্তজা ২২৭ এর মার্কা হল ফুটবল। এর মার্কা তার ছোট ভাইয়ের রবিউল ইসলাম ছোট্টু কে ‘ফুটবল মার্কা দিয়েছে। সে তার ভাইয়ের জন্য ফুটবল মার্কায় ভোট চাচ্ছে, কিন্তু আমাদের কোষাধ্যক্ষ পদে তো এই মার্কা নেই! কোষাধ্যক্ষ পদের মার্কাগুলো হলো তালা, টেবিল ফ্যান, আলমারি, চাবি ও টেবিল ঘড়ি। এখানে ফুটবলটা কোথা থেকে আসলো? আমরা তো কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট করছি না।

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মতো একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান, তবে আসন্ন নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই প্রার্থী আরও জানান, নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও কমিশনের চেয়ারম্যানের উচিত ছিল অভিযুক্ত সদস্যকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য কাউকে নির্বাচন কমিশনে যুক্ত করা। কিন্তু কমিশন তা না করে ‘ভোট পিছিয়ে যাওয়ার দোহাই’ দিয়ে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সদস্য পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অভিযুক্ত কমিটির সদস্য মোঃ মোর্তজা হোসেনের বিরুদ্ধে সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এই প্রার্থী। অভিযোগের সাথে প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন ভোটারদের নিকট ভোট চাওয়ার স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত কী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং নির্বাচন কতটুকু নিরপেক্ষ হয়েছে সেটাই দেখার বিষয়।

গ্লোব জনকণ্ঠের সম্পদ নিলামে তুলছে জনতা ব্যাংক

গ্লোব জনকণ্ঠের সম্পদ নিলামে বিক্রির বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জনতা ব্যাংক। ২১৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি এই নিলাম ডেকেছে। নিলামে ওঠা সম্পদের মধ্যে ১৫ তলা ‘জনকণ্ঠ ভবন’ও রয়েছে।

আগ্রহী দরদাতাদের ২৮ এপ্রিল দুপুর ২টার মধ্যে আদালতে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্যের (রিজার্ভ প্রাইস) ১০ শতাংশ পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে জমা দিতে হবে।

নিলামের সময় এই সংরক্ষিত মূল্য ঘোষণা করা হবে এবং আদালতের নিয়ম মেনেই দর উঠবে। তবে সম্পদ বিক্রির পর কোনো ধরনের বিরোধ দেখা দিলে ব্যাংক বা আদালত এর দায়ভার নেবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সুপারিশে ২০২১ সালে এই ঋণ দেওয়া হয়েছিল। জনতা ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখা থেকে ঋণ ছাড় করা হয়।

এর আগে ২০২০ সালের আগস্টে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দেন সালমান এফ রহমান। চিঠিতে গ্লোব জনকণ্ঠের জন্য ২৫০ কোটি টাকার চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণ মঞ্জুরের সুপারিশ করেন তিনি। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোম্পানিটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এরপর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জনতা ব্যাংকের পর্ষদ গ্লোব জনকণ্ঠের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২২৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণের অনুমোদন দেয়। এর দুই মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংকও এই ঋণের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দেয়।

গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের অধীনে মোট আটটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো—গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স, গ্লোব ইনসেক্টিসাইডস, গ্লোব কেবলস, গ্লোব প্রিন্টার্স, জনকণ্ঠ, গ্লোব কনস্ট্রাকশন, গ্লোব খামার প্রকল্প এবং গ্লোব টেকনোলজিস। এর মধ্যে বর্তমানে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই নিষ্ক্রিয়। গত মার্চ মাসে বাংলা দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ তাদের ছাপা কাগজ ও অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে গ্লোব জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হাফিজুর রহমান জানান, এই শিল্প গ্রুপের ঘাড়ে এখন বিশাল দেনার বোঝা।

গত বছর পদত্যাগ করা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তাদের পাওনাদারের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন। সব সম্পত্তিই ব্যাংকে বন্ধক রাখা আছে। দীর্ঘদিন ধরে আয়কর দেওয়া হচ্ছে না। এর ওপর রয়েছে বিশাল ব্যাংকঋণ। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের টিকে থাকা খুবই কঠিন।’

জনতা ব্যাংকের বিশাল খেলাপি ঋণ

বেক্সিমকো, এস আলম, থার্মেক্স গ্রুপ এবং অ্যাননটেক্স গ্রুপের মতো বড় গ্রাহকদের খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। গত বছরের শেষ দিকে ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৭ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশই মন্দ বা খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘অর্থঋণ আদালত আইন অনুযায়ী খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য প্রথমেই নিলামের মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়। তবে নিলামে সব সময় ভালো সাড়া মেলে না। ছোট ঋণের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে সাড়া পাওয়া যায়। এভাবে টাকা আদায় সম্ভব না হলে আইনের বিধান অনুযায়ী মামলা করতে হয়।’

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য মাধ্যমেও ঋণ আদায়ের চেষ্টা চলছে। গত বছর জনতা ব্যাংক ৯০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করতে পেরেছে।

বিরোধী দলকে বিভ্রান্ত করতে কৌশল নিয়েছে সরকার: জামায়াত আমির

বিএনপি সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘তারা আমাদের সম্ভবত শিশু মনে করেন।’

সংসদে বিল পাস ও অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি ঘিরে ‘ওয়াদা ভঙ্গ’ ও ‘আস্থাহীনতার’ অভিযোগ তুলে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার পর এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দল বিরোধী দলকে বিভ্রান্ত করতে কৌশল নিয়েছে। একটা কমলালেবু হাতে নিয়ে শিশুকে যদি নেড়েচেড়ে দেখানো হয়, সে বুঝতে পারে না সেটা আসল না প্লাস্টিক। তখন সে সেটার দিকে দৌড় দেয়। তারা হয়তো আমাদের সেরকম শিশু ভেবেছে।’

ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দিনের অধিবেশনে থাকার চেষ্টা করেও পরিস্থিতির কারণে বিরোধী দল থাকতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অধ্যাদেশ বিল আকারে পাসের বিষয়ে সরকার পূর্বের সমঝোতা ভঙ্গ করেছে।’

নাহিদ ইসলাম জানান, বিশেষ কমিটিতে ৯৮টি অধ্যাদেশ নিয়ে ঐকমত্য হয়েছিল—যেগুলো আপত্তি ছাড়া পাস হওয়ার কথা ছিল। আর যেগুলোতে ভিন্নমত ছিল, সেগুলো আলাদাভাবে আলোচনায় আনার কথা ছিল।

‘কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল পাসের মাত্র আধা ঘণ্টা আগে হঠাৎ একটি সংশোধনী আনা হয়, যা আমাদের না জানিয়ে পাস করানো হয়েছে’, বলেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আলোচনা ছাড়াই ল্যাপস হয়ে যাচ্ছে, যদিও আগে সিদ্ধান্ত ছিল প্রয়োজনে রাত ১২টা পর্যন্ত বসে সেগুলো নিষ্পত্তি করা হবে।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের পর তা যাচাইয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা ছিলেন। কিন্তু সেই কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিরোধী সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে।’

‘এটাই আস্থাভঙ্গের শুরু। যৌথভাবে বা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করা উচিত ছিল’, বলেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে স্পিকার আশ্বাস দিয়েছিলেন—সব অধ্যাদেশ সংসদে আলোচনা হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার সুযোগ না দিয়েই বাদ দেওয়া হয়েছে।’

দুদক, পুলিশ সংস্কার, গুম কমিশন ও পিএসসি সংক্রান্ত বিলসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো আনা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিলের সংশোধনী নিয়েও আপত্তি তুলে শফিকুর বলেন, ‘বিরোধী দলকে না জানিয়ে শেষ মুহূর্তে সংশোধনী আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই তা পাস করা হয়েছে।’

‘আমাদের হাতে এক ঘণ্টা আগে এক বস্তা কাগজ দেওয়া হয়েছে। যেগুলো আমরা দেখিনি, বুঝিনি—সেগুলো নিয়ে কীভাবে মতামত দেবো?’ ,প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিরোধী দলীয় দুই নেতা বলেন, সংসদে বারবার ওয়াদা ভঙ্গ ও প্রক্রিয়াগত অনিয়মের প্রতিবাদেই তারা ওয়াকআউট করেছেন। একই সঙ্গে তারা জনগণের অধিকারের প্রশ্নে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

ইমরান হাশমির ‘আওয়ারাপান টু’ মুক্তির তারিখ পেছাল

বলিউডের ২০২৬ সালের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাগুলোর একটি হলো আওয়ারাপান টু। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ইমরান হাশমি ও দিশা পাটানি। এটি ইমরান হাশমির আগের জনপ্রিয় সিনেমা আওয়ারাপানের সিক্যুয়েল।

বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ ঠিক করা হয়েছিল ৩ এপ্রিল। ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সামাজিকমাধ্যমে বেশ ট্রেন্ডিং হয়েছিল।

কিন্তু শুটিং এখনো শেষ না হওয়ায় নতুন মুক্তির তারিখ ঠিক করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলিউড হাঙ্গামাকে জানিয়েছে, আওয়ারাপান টু ২০২৬ সালে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহে মুক্তি পাবে।

এটি একটি সংগীতনির্ভর ও প্রেমের গল্প। মুক্তির জন্য নির্মাতারা কয়েকটি সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা দিবসের সময়কে বেছে নিয়েছেন।

বর্তমানে সিনেমার শুটিং চলছে এবং এপ্রিলের শেষ নাগাদ তা শেষ হওয়ার কথা। এরপর প্রায় দুই মাস পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ হবে। সব ঠিক থাকলে উৎসবের সময়েই সিনেমাটি মুক্তি পাবে।

আগের আওয়ারাপান সিনেমার গানগুলো আজও দর্শকদের কাছে খুব প্রিয়। সিক্যুয়েলেও সেই পুরনো অ্যালবামের দুটি গান নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যা এই সিনেমার বড় আকর্ষণ হতে পারে।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নিতিন কাকর।

২০৩১ সালের মধ্যে তাইওয়ানের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে জাপান

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাইওয়ানের কাছাকাছি ইয়োনাগুনি দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে জাপান।

সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি এই পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, বিমান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ২০৩১ সালের মার্চের মধ্যে দেশটির পশ্চিমতম দ্বীপ ইয়োনাগুনিতে মোতায়েন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘অবকাঠামো প্রস্তুতির অগ্রগতির ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে, তবে আমরা ২০৩০ অর্থবছরকে লক্ষ্য রেখে পরিকল্পনা করছি।’

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যকে ঘিরে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই এই ঘোষণা আসে। গত নভেম্বর তিনি সংসদ সদস্যদের বলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায় এবং তা জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জাপানের আত্মরক্ষাবাহিনী (এসডিএফ) জড়িয়ে পড়তে পারে।

তাকাইচি মন্তব্য প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে চীন তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ না করার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি ‘পুনরায় সামরিকীকরণে’ সহায়তার অভিযোগে কিছু জাপানি কোম্পানির কাছে পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে চীন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়োনাগুনি দ্বীপটি তাইওয়ান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে ইতোমধ্যে এসডিএফের একটি ঘাঁটি রয়েছে। ২০১৫ সালের গণভোটে ঘাঁটি স্থাপনের পক্ষে ৬৩২ এবং বিপক্ষে ৪৪৫ ভোট পড়ে। বর্তমানে প্রায় ১৬০ সদস্য পাহাড়চূড়ার রাডার কেন্দ্র থেকে চীনা নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।

আগামী সপ্তাহে দ্বীপটির প্রায় ১ হাজার ৫০০ বাসিন্দার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করা হবে বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি।

দল শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন, অন‍্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে: প্রধানমন্ত্রীকে টিআইবি

সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন হিসেবে উল্লেখ করে পরিবহনমন্ত্রী ‘একটি ঘোরতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার যে অজুহাত’ খুঁজেছেন, তাতে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একইসঙ্গে এ জাতীয় দুর্নীতিসহায়ক অপচেষ্টাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নিজ দলের শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে টিআইবি নিন্দা জানিয়ে এই আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পরিবহনমন্ত্রী চাঁদাবাজির যে সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন, তা তিনিসহ মন্ত্রিপরিষদের প্রায় প্রতিটি সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবিরোধী যে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন, তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকার প্রধানের জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণ, যেখানে কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার মাত্র ৪৮ ঘণ্টাও অতিবাহিত না হতেই মন্ত্রীর পরিবহন খাতের ক্যানসার চাঁদাবাজির সুরক্ষাপ্রয়াসী এ মন্তব্য খুবই হতাশাজনক। এর মাধ্যমে পরিবহনমন্ত্রী তার নিজ দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার ও সরকার প্রধানের দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থানকে বিব্রতকরভাবে অবমূল্যায়ন করেছেন।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তিনি যেভাবে সড়ক ও পরিবহন খাতের বিদ্যমান চাঁদা সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যাসহ পক্ষাবলম্বন ও সমর্থন করেছেন, তাতে স্পষ্টতই তিনি চাঁদাবাজির মতো একটি অনৈতিক ও যোগসাজশের দুর্নীতিকে বৈধতা প্রদানের চেষ্টা করছেন। যার সরাসরি ভুক্তভোগী এদেশের পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ, যাদের এ অবৈধতার বোঝা প্রত‍্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বইতে হয়। শুধু তাই নয়, মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে যেভাবে এখানে বৈধতার অজুহাত বা ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, তা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং এ খাতে বিরাজমান দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যপূর্ণ ব্যবস্থাকে সুরক্ষাসহ চলমান রাখার অপতৎপরতার শামিল।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার নামে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হলে বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসন ইত্যাদি সেবার পাশাপাশি সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক, বিদ্যুৎসহ অন্য সবখাতেও একই তত্ত্বের ধারাবাহিক প্রয়োগ ও প্রসার কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে—সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসবে। নবগঠিত সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারসহ বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতিতে বারবার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা যদি ফাঁকা বুলি কিংবা শুধু জনতুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে না হয়ে থাকে, তাহলে অনতিবিলম্বে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

‘মনে রাখতে হবে, কর্তৃত্ববাদ পতনের পর দেশব্যাপী যেভাবে বহুমাত্রিক চাঁদাবাজি, দলবাজি, দখলবাজির হাতবদলের মহোৎসব হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মন্ত্রীর এ অবস্থান কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের ভুলে যাওয়ার কথা নয় যে, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই ত্বত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে পতিত কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারের সড়কমন্ত্রীও সড়কে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিতে উদ্যোগ নিয়েছিল। আত্মঘাতী বিবেচনায় টিআইবি যার জোরালো প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছিল। নবগঠিত সরকারও একইপথে হাঁটছে শঙ্কায় টিআইবি হতাশ।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আপনার প্রতি ইতোমধ্যে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার ওপর পরিপূর্ণ আস্থা নিশ্চিত করার জন‍্য, আপনার পরিকল্পনায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী পথ রোধকল্পে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন। অন‍্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে। এর ফলে বিকল্পের খোলসে এমন শক্তি লাভবান হবে যাদের ভাবাদর্শ, দীক্ষা ও অভীষ্ট বায়ান্ন থেকে একাত্তর হয়ে চব্বিশ পর্যন্ত রক্তের বিনিময়ে লালিত বাংলাদেশের মৌলিক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে ভয়াবহ মাত্রায় সাংঘর্ষিক। প্রধানমন্ত্রী, সঠিক প্রাধান্য নির্ধারণের এখনই সময়।

সুজন মিয়ার ‘ভার’ এবং আমাদের হৃদয়ের ক্যামেরা বন্ধ করে ফোনের ক্যামেরা অন

ঈদ মানে সাধারণভাবে নতুন পোশাক, ভালো খাবার, বাড়ি ফেরার আনন্দ, পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে কিছু সুন্দর সময়। আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঈদ হলো আর্থ-সামাজিক যাঁতাকলে টিকে থাকার তীব্র লড়াইয়ের মাঝে নির্মল শান্তির একটু মুহূর্ত তৈরির চেষ্টা। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে একটি দিন পার করা।

নরসিংদীর শিবপুরের সুজন মিয়া ও সাথী বেগমের পরিবারের ঈদের প্রস্তুতিও ছিল প্রায় শেষ দিকে। দুই সন্তানসহ জেলা শহরে এসে ঈদের কেনাকাটা শেষে এবার ঘরে ফেরার পালা। ঈদের আগের রাত প্রায় ৮টার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌঁছালেন তারা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা, যা আবারও মনে করিয়ে দিলো জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলো কোনো পূর্বাভাস দিয়ে আসে না।

রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে সাথী ও তাদের দুই বছরের ছেলে হাছেন। জীবনের সব স্বপ্ন মুহূর্তেই খানখান হয়ে ভেঙে পড়ে পেশায় দিনমজুর কিংবা রিকশাচালক সুজন মিয়ার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যায় ওই ঘটনার বেশ কিছু ছবি-ভিডিও। মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করা ওই ছবি-ভিডিও অসংখ্য মানুষকে নাড়া দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনে কাটা পড়া স্ত্রীর মরদেহ এক কাঁধে তুলে নিলেন সুজন, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন তার কোলে তুলে দিলেন নিথর হাছেনকে। আর নিচে পড়ে থাকা সদ্য কেনা ঈদের পোশাক কেউ একজন যেন তার হাতে ধরিয়ে দিলো। আর এ অবস্থাতেই সুজন ছুটে চলেন হাসপাতালের উদ্দেশে।

ছবিটি দেখে প্রথম যে অনুভূতি আসে, তা হলো গভীর বেদনা। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে—স্টেশনজুড়ে এই পরিবারটির চারপাশে এত লোক ছিল, তারপরও কেন এই বিপর্যস্ত মানুষটিকে একাই এই অসহনীয় ভার বহন করতে হলো?

ছবিতে দেখা যায়, চারপাশে মানুষের অভাব নেই। অনেকেই দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ তাকিয়ে আছেন, কেউ মোবাইল ফোন হাতে দৃশ্যটি ধারণ করছেন। একজন বিপর্যস্ত মানুষ নিজের কাঁধে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ বহন করছেন, আর আশপাশের বহু মানুষ সেই দৃশ্যের দর্শকে পরিণত হয়েছেন। এই দৃশ্যটি হয়তো দুর্ঘটনার চেয়েও বেশি ভয়ংকর।

হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে আমাদের ফোনের ক্যামেরা যেভাবে অন হয়ে যায়, হৃদয়ের ক্যামেরা সেভাবে হয়তো অন হওয়া ভুলে গেছে। দুর্ঘটনা হঠাৎ ঘটলেও মানুষের ভেতরের মানবিকতার ক্ষয় একদিনে ঘটে না। এটি ধীরে ধীরে জন্ম নেয়, যখন আমরা অন্যের কষ্টকে অনুভব করার বদলে সেটিকে শুধুই একটি ঘটনা হিসেবে দেখতে শুরু করি।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে অনেকের কাছে কোনো ঘটনা ঘটার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় সাহায্যের হাত বাড়ানো নয়, বরং মোবাইল ফোন বের করা। কেউ আহত হলে ভিডিও, কেউ কাঁদলে ভিডিও, কেউ বিপদে পড়লে ভিডিও। যেন মানুষের জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও বেদনাদায়ক মুহূর্তও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টে পরিণত হয়েছে।

অবশ্যই সংবাদ ও তথ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু একজন ভেঙে পড়া মানুষকে সাহায্য করার আগে ভিডিও ধারণ করার প্রয়োজন কতটা? একজন বাবার কাঁধের ভার কি কয়েকজন মিলে ভাগ করে নেওয়া যেত না? কান্নারত শিশুটিকে কেউ কি কোলে নিতে পারত না? অন্তত কয়েক কদম পথ কি কেউ তার পাশে হাঁটতে পারত না?

প্রযুক্তি আমাদের সংযুক্ত করেছে, কিন্তু একইসঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের অনুভূতিহীনও করে তুলেছে। আমরা ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি, কিন্তু অংশগ্রহণকারী হচ্ছি না। আমরা দেখছি, কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছি না। আমরা ধারণ করছি, কিন্তু সহমর্মিতা দেখাচ্ছি না।

নরসিংদীর এই ঘটনা কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোক নয়। এটি আমাদের সমাজের জন্যও একটি আয়না। সেই আয়নায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, মানুষের ভিড়ের মধ্যেও একজন মানুষ কতটা একা হয়ে যেতে পারে।

কিছুদিন পর এই ছবি হয়তো টাইমলাইন থেকে হারিয়ে যাবে। নতুন খবর আসবে, নতুন আলোচনায় মানুষ ব্যস্ত হবে। কিন্তু সেই বাবার জন্য এই রাত কোনোদিন শেষ হবে না। তাঁর কাঁধ থেকে হয়তো স্ত্রীর মরদেহ নেমে গেছে, বুক থেকে সন্তানের নিথর দেহও সরেছে, কিন্তু সেই ভার তিনি বয়ে বেড়াবেন সারাজীবন।

প্রশ্ন হলো, আমরা কী মনে রাখব? দুর্ঘটনাটি, নাকি সেই মানুষটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য দর্শককে?

একটি সমাজের প্রকৃত পরিচয় তার উঁচু সেতু, বড় রাস্তা বা আধুনিক প্রযুক্তিতে নয়। তার পরিচয় নির্ধারিত হয় এই প্রশ্নে—বিপদের মুহূর্তে মানুষ কি মানুষের পাশে দাঁড়ায়?

এই ছবি-ভিডিওগুলো সেই প্রশ্নই আমাদের সামনে রেখে গেছে।

মো. আব্বাস: দ্য ডেইলি স্টারের সাবেক সংবাদকর্মী। বর্তমানে কাজ করছেন করপোরেট কমিউনিকেশনে।

ইমেল: [email protected]

ব্রাজিলের প্রাথমিক বিশ্বকাপ দলের তালিকায় আছেন নেইমার

২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও দেখা যেতে পারে নেইমারকে। দীর্ঘ ইনজুরি, ফিটনেস সংকট আর জাতীয় দল থেকে দূরে থাকার সময় পেরিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। কার্লো আনচেলত্তি তার প্রাথমিক ৫৫ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা দিয়েছেন নেইমারকে, যা নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ব্রাজিল সমর্থকদের।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, নাম নয় দলে জায়গা পাবে কেবল ফিট ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় থাকা ফুটবলাররা। সেই কারণেই ব্রাজিলের সর্বশেষ স্কোয়াডে ছিলেন না নেইমার। তখনও ভয়াবহ এসিএল ইনজুরি কাটিয়ে পুরোপুরি মাঠে ফেরেননি তিনি। তবে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

গত কয়েক মাসের ব্যবধানে দৃশ্যপট বদলে গেছে পুরোপুরি। শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আবারও নিজের পুরোনো ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন নেইমার। ১২ ম্যাচে করেছেন ৫ গোল, সঙ্গে ৩ অ্যাসিস্ট। শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, মাঠে তার প্রভাবও স্পষ্ট। তার নেতৃত্বে ব্রাজিলিয়ান লিগে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সান্তোস, পাশাপাশি কোপা সুদামেরিকানাতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছে দলটি।

নেইমারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল ড্রেসিংরুমেও এনে দিয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, আবারও নেইমারের সঙ্গে খেলতে মুখিয়ে আছেন তারা। রাফিনিয়া সম্প্রতি বলেছেন, ‘নেইমারকে দলে পাওয়া সবসময়ই ভালো।’ ব্রাজিল দলে আবারও তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখতে চান বলেও জানান বার্সেলোনা তারকা।

তবে এখনও চূড়ান্ত কিছু নিশ্চিত হয়নি। প্রাথমিক ৫৫ সদস্যের তালিকায় থাকলেও ১৮ মে ঘোষিত হবে আনচেলত্তির চূড়ান্ত স্কোয়াড। সেই তালিকায় জায়গা পেলেই নিশ্চিত হবে নেইমারের বিশ্বকাপ ফেরা। যদি সুযোগ পান, তাহলে এটি হবে ব্রাজিলের হয়ে তার চতুর্থ বিশ্বকাপ।

জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর, উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। সেই ম্যাচেই ভয়াবহ এসিএল ইনজুরিতে পড়েন তিনি। প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে কাটানোর পর এখন আবার বিশ্বমঞ্চে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: অ্যালিসন, এদেরসন, বেন্তো, হুগো সুজা, জন ও কার্লোস মিগেল।

ডিফেন্ডার: মারকিনিয়োস, থিয়াগো সিলভা, গাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ব্রেমার, লেও পেরেইরা, ইবানিয়েস, আলেক্সান্দ্রো, ফাব্রিসিও ব্রুনো, বেরালদো, ভিতর রেইস ও মুরিলো।

মিডফিল্ডার: কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, ফাবিনিয়ো, আন্দ্রেই সান্তোস, দানিলো, লুকাস পাকেতা, গাব্রিয়েল সারা, জোয়াও গোমেস, আন্দ্রেয়াস পেরেইরা, জোয়েলিন্তন, জেরসন ও মাতেউস পেরেইরা।

ফরোয়ার্ড: ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, মাতেউস কুনিয়া, লুইজ হেনরিকে, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, জোয়াও পেদ্রো, এস্তেভাও, নেইমার, এন্দ্রিক, রাইয়ান, অ্যান্টনি, ইগর থিয়াগো, পেদ্রো, রিচার্লিসন, ইগর জেসুস ও কাইও জর্জে।

 

সরকারের ঋণের বোঝা ২২ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট সরকারি ঋণের বোঝা ২২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ থেকে ‘অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে’ সরকার অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক বুলেটিনে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ঋণ নেওয়া হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা।

বুলেটিনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুন শেষে, অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার এক মাস আগে সরকারি ঋণ ছিল ১৮ লাখ দশমিক ৯০ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সালের জুন শেষে ঋণ ছিল ১৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অভ্যন্তরীণ ঋণ ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ডিসেম্বরে ১২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৯ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকায় এসে দাঁড়ায়।

সরকারের সামগ্রিক ঋণ গ্রহণের চিত্রে অভ্যন্তরীণ ঋণ বেশি দেখা যাচ্ছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মোট সরকারি ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ছিল ৫৭ শতাংশ ও বৈদেশিক ছিল ৪৩ শতাংশ।

বুলেটিনে বলা হয়, স্থানীয় বাজারের ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে সরকার বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ তারল্য প্রবাহ বাড়িয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে সরকার মোট ৬২ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নেয় বা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৫৯ শতাংশ কমে, যা টাকার অংকে দাঁড়ায় ১০ হাজার ১৩০ কোটি।

এ সময়ে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭০ শতাংশ বেড়ে ৫২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায় পৌঁছায়। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে।

অভ্যন্তরীণ ঋণের বেশিরভাগই সংগ্রহ করা হয়েছে সরকারি ঋণপত্রের নিশ্চয়তায়।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সরকারের এই কৌশলের মূল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দিকে ঝোঁক স্পষ্ট ছিল।’

এদিকে, জুলাই-ডিসেম্বরে মোট সুদ পরিশোধ ২২ শতাংশ বেড়ে ৭১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা।

এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ করা হয় ৬১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি।

অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়া বেড়ে গেলে তা অনেক সময় বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করলেও, অর্থ মন্ত্রণালয় এটাকে একটি অনন্য সুযোগ হিসেবে দাবি করেছে। 
মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, শক্তিশালী ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য, সরকারি সিকিউরিটিজে মুনাফার হার হ্রাস ও বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় বেসরকারি ঋণগ্রহীতাদের কোনো সমস্যা না করেই টেকসই অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও বলছে, অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্র আরও স্থিতিস্থাপক ও স্বনির্ভর আর্থিক কাঠামো তৈরি করছে, যা বেসরকারি ঋণ বাজারে চাপ সৃষ্টি না করেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে।