30.7 C
Dhaka
Home Blog

ইরানের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যের যেসব মার্কিন ঘাঁটি

ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় আবারও নতুন করে সামরিক সংঘাতের মুখে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্য। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিল তেহরান। 

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান ও ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আল জাজিরা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে কমপক্ষে ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘাঁটিতে ৪০-৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এর মধ্যে স্থায়ী ঘাঁটি ৮টি। এগুলো রয়েছে বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইরাক, সৌদি আরব ও জর্ডানে।

 

বাহরাইন
বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর। এই বহরের আওতায় রয়েছে— পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের কিছু অংশ।

এই ঘাঁটিতে ৯ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।

কাতার
রাজধানী দোহার বাইরে মরুভূমিতে অবস্থিত ২৪ হেক্টর আয়তনের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের ফরোয়ার্ড সদরদপ্তর। এই কমান্ড মিসর থেকে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। মধ্যপ্রাচ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা অবস্থান করে।

চলতি বছর জানুয়ারিতে এই ঘাঁটিতে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদারে একটি নতুন সমন্বয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

কুয়েত
কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বড় সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাম্প আরিফজান হলো ইউএস আর্মি সেন্ট্রালের ফরোয়ার্ড সদরদপ্তর। ইরাক সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত।

এছাড়া ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় এই ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েনের আগে সেনা ইউনিটগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি কেন্দ্র বা ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত
আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা বিমানঘাঁটি ইউএস এয়ার ফোর্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আমিরাত বিমান বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহৃত হয় এটি।

এই ঘাঁটিতে এফ-২২ এর মতো উন্নত বিমান, ড্রোন এবং সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানসহ গোটা অঞ্চলে নজরদারি ও সামরিক মিশনে সহায়তা করেছে এটি।

দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘাঁটি না হলেও এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় ‘পোর্ট অব কল’ বা বন্দর। এখানে নিয়মিতভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ভিড়ে।

ইরাক
পশ্চিম আনবার প্রদেশে অবস্থিত আইন আল আসাদ বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি রয়েছে। ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তার পাশাপাশি ন্যাটো মিশনে অবদান রাখছে এটি।

২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল তেহরান।

উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে এরবিল বিমানঘাঁটি মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও লজিস্টিক সমন্বয়ের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সৌদি আরব
২০২৪ সালে সৌদি আরবে মার্কিন সেনার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩২১ জন। তারা সৌদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং মার্কিন সামরিক বিমান পরিচালনায় সহায়তা করে।
এর কিছু সেনা রাজধানী রিয়াদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। এখানে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

জর্ডান
রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আজরাকে অবস্থিত মুয়াফফাক আল সালতি বিমানঘাঁটিতে ইউএস এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রালের ৩৩২তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং অবস্থান করছে। এখান থেকে লেভান্ত অঞ্চল বা পূর্ব ভূমধ্যসাগর বরাবর পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন মিশন পরিচালিত হয়।

এসব ঘাঁটির বাইরে তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ‘ইনজিরলিক’। 

তুরস্কে ‘ইনজিরলিক’ ঘাঁটি
যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক যৌথভাবে এটি পরিচালনা করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা মিশনের জন্য এটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। 
 

তুরস্কে মার্কিন ঘাঁটি

এই ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্কার ও কার্গো বিমানসহ ন্যাটোর বিভিন্ন ধরনের বিমান রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এটি লজিস্টিক হাব ও ফরোয়ার্ড ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে। গোয়েন্দা নজরদারি ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য মতে, আনুমানিক ২০ থেকে ৫০টি ‘মার্কিন বি-৬১’ নামে পারমাণবিক বোমা এই ঘাঁটিতে মজুদ রয়েছে।

ইরানের কাছে এই ঘাঁটির কৌশলগত অবস্থান আঞ্চলিক সংকটে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কে এই মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম।

আওয়ামী লীগ আমলের ১০০৬ মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক এক হাজার ছয়টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসানের সই করা এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও ভিন্নমত দমনের জন্য মামলাগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল।

রাউটারের গতি বাড়ানোর ১০ সহজ উপায়

অনলাইন ক্লাস, অফিসের জরুরি মিটিং, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স বা অনলাইন গেম সবকিছুর জন্যই এখন দ্রুতগতির ইন্টারনেট দরকার। কিন্তু অনেক সময় ভালো ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করলেও বাড়ির এক রুমে নেট চলে ভালো, আরেক রুমে গেলেই গতি কমে যায়। ভিডিও বাফারিং হয়, কল কেটে যায় বা ওয়েবসাইট ওপেন হতে চায় না।

এ ধরনের সমস্যার জন্য সব সময় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) দায়ী নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা থাকে রাউটারের অবস্থান, সেটিংস বা বাড়ির ভেতরের পরিবেশে। কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করলেই ওয়াইফাইয়ের গতি বাড়ানো যায়।

রাউটারের অবস্থান ওয়াইফাইয়ের গতি নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।

অনেকেই রাউটার ঘরের এক কোণে বা টিভির পাশে রেখে দেন। এতে বাড়ির অন্য প্রান্তে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়।

সবচেয়ে ভালো হয়, রাউটার বাড়ির মাঝামাঝি খোলা জায়গায় রাখা। চারপাশে যত কম দেওয়াল, দরজা বা বড় আসবাব থাকবে, সিগন্যাল তত ভালো ছড়াবে।

রাউটার মেঝেতে বা টেবিলের নিচে রাখলে সিগন্যাল বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই রাউটার আলমারি, বুকশেলফ বা দেয়ালের উঁচু তাকের ওপর রাখুন। এতে সিগন্যাল আরও ভালোভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।

যদি আপনার রাউটারে দুটি অ্যান্টেনা থাকে, তাহলে একটি সোজা ওপরে এবং অন্যটি আড়াআড়িভাবে রাখুন।

কারণ বিভিন্ন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও টিভির অ্যান্টেনার অবস্থান এক রকম নয়। অ্যান্টেনা দুটি ভিন্ন দিকে থাকলে সংযোগ আরও ভালো হয়।

যদি একটি অ্যান্টেনা থাকে, তাহলে সেটিকে সোজা বা আড়াআড়ি রেখে পরীক্ষা করে দেখুন কোন অবস্থায় ভালো সিগন্যাল পাওয়া যায়।

দোতলা বা বড় বাড়িতে অনেক সময় একটি রাউটার দিয়ে সব জায়গায় ভালো সিগন্যাল পাওয়া যায় না।

এ ক্ষেত্রে পাওয়ারলাইন নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ অন্য কক্ষে পৌঁছে দেয়।

তবে বাংলাদেশে এই ডিভাইস খুব বেশি প্রচলিত নয়। বিকল্প হিসেবে মেশ ওয়াইফাই সিস্টেম বা ওয়াইফাই এক্সটেন্ডারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

পাসওয়ার্ড ছাড়া ওয়াইফাই ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

অপরিচিত কেউ আপনার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। এমনকি ব্যক্তিগত তথ্যও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তাই রাউটারে ডাব্লিউপিএ২ বা ডাব্লিউপিএ৩ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখুন এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

বাড়ির কোন রুমে সিগন্যাল দুর্বল, তা আগে জানা দরকার।

এ জন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিভিন্ন ওয়াইফাই অ্যানালাইজার অ্যাপ বা কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়।

এর মাধ্যমে বোঝা যায় কোথায় সিগন্যাল কম এবং রাউটার কোথায় রাখলে ভালো কাভারেজ পাওয়া যাবে।

অনেক নতুন রাউটারেই ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজ—দুই ধরনের ব্যান্ড থাকে।

২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের পরিসর বেশি হলেও এটি অনেক সময় ব্যস্ত থাকে। কারণ ব্লুটুথ ডিভাইস, ওয়ারলেস মাউস, কিবোর্ডসহ অনেক যন্ত্র এই ব্যান্ড ব্যবহার করে।

অন্যদিকে ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে সাধারণত গতি বেশি পাওয়া যায় এবং বাধাও কম থাকে। তবে এর কাভারেজ তুলনামূলক কম।
যদি সুযোগ থাকে তাহলে ৫ গিগাহার্টজ বা ডুয়াল-ব্যান্ড মোড ব্যবহার করুন।

পাঁচ-ছয় বছর আগের রাউটার দিয়ে বর্তমানের উচ্চগতির ইন্টারনেটের পুরো সুবিধা পাওয়া নাও যেতে পারে।

আপনি যদি ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির সংযোগ ব্যবহার করেন, তাহলে পুরোনো রাউটারই হতে পারে সবচেয়ে বড় বাধা।

প্রয়োজনে নতুন প্রযুক্তির ডুয়াল-ব্যান্ড বা ওয়াই-ফাই ৬ সমর্থিত রাউটার ব্যবহার করতে পারেন।

নতুন রাউটার কেনার আগে বাড়িতে থাকা পুরোনো রাউটারটিকেও কাজে লাগানো যায়।

সঠিকভাবে সেটআপ করলে সেটি রিপিটার বা ব্রিজ হিসেবে কাজ করবে এবং ওয়াইফাইয়ের কাভারেজ বাড়িয়ে দেবে।
তবে এতে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমে যেতে পারে।

মনে রাখবেন দ্রুতগতির ইন্টারনেট কেবল ভালো প্যাকেজের ওপর নির্ভর করে না। রাউটারের অবস্থান, সেটিংস, নিরাপত্তা এবং বাড়ির পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন রাউটার কেনার আগে এই সহজ উপায়গুলো একবার চেষ্টা করে দেখুন। অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ওয়াইফাইয়ের গতি ও কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

নিঃসঙ্গতায় মৃত্যু—আমরা বেঁচে থাকতে কতজন সত্যিই জানে যে আমরা আছি

মানুষ একা থাকতে চায় না। সে চায়, কেউ তার জন্য অপেক্ষা করুক, তার নীরবতা টের পাক, তার ফোন না ধরলে আবার ফোন করুক, কয়েক দিন দরজা না খুললে উদ্বিগ্ন হয়ে কড়া নাড়ুক।

মানবসভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ দলবদ্ধভাবে শিকারে যেতো, শিকার শেষে দিনান্তে আগুনের চারপাশে বৃত্ত তৈরি করতো—শুধু শীত কাটানোর জন্য নয়, একে অপরের গল্প, ভয়, স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার জন্য। তাই মানুষের ইতিহাস আসলে সহাবস্থানের ইতিহাস। অথচ আজকের নগরসভ্যতা যেন সেই প্রাচীন বৃত্তটি ভেঙে দিয়েছে। মানুষ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মানুষের ভিড়ে থেকেও একা।

চলতি মাসের শুরুতে রাজধানীর পল্লবী ও মুগদা এলাকায় মাত্র চারদিনের ব্যবধানে তিনজন মানুষের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ। কেউ বিছানায়, কেউ ঘরের মেঝেতে, আবার কেউ ঝুলন্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন দিনের পর দিন। মৃত্যুর পরও তাদের খোঁজ নিতে কেউ আসেননি। এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন আলোচিত খবর হলো, রাজধানীর শাহবাগ এলাকার আজিজ সুপার মার্কেটের আবাসিক ভবনের ১৪তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারা ফেরদৌস নামে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৬ জুন বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তিনদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর অবশেষে তার নিথর দেহের সন্ধান মেলে।

ফারা ফেরদৌস, তানভীর হোসেইন শুভ, নূরজাহান বেগম কিংবা সেলিনা আফরোজ—তাদের মৃত্যুর ধরন এক নয়, জীবনও এক ছিল না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা সবাই একই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছেন—একটি গভীর নীরবতা। আরও নির্মম হলো, মৃত্যুর পরও সেই নীরবতা কয়েকদিন ধরে অটুট ছিল।

এই ঘটনাগুলোকে কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এগুলো আমাদের নগর সমাজের আয়না—যে সমাজে মেট্রোরেলের কামরায় শত মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু একজন আরেকজনের চোখের ক্লান্তি পড়ে না; যে সমাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো বন্ধু থাকে, কিন্তু অসুস্থ হলে দরজায় কড়া নাড়ার মানুষ থাকে না; যে সমাজে প্রতিদিন হাজারো বার্তা আদান-প্রদান হয়, কিন্তু একটি আন্তরিক প্রশ্ন ‘তুমি সত্যিই কেমন আছ?’ ক্রমশ বিরল হয়ে যাচ্ছে।

কার্ল মার্কস প্রায় দেড়শ বছর আগে লিখেছিলেন, আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষকে শুধু তার শ্রম থেকেই নয়, অন্য মানুষের থেকেও বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তখন তিনি কারখানার শ্রমিকের কথা বলছিলেন। আজ সেই বিচ্ছিন্নতা অফিসের নির্বাহী, চিকিৎসক, ব্যাংকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা করপোরেট কর্মী সবার জীবনে নতুন রূপে ফিরে এসেছে। আমরা এখন কাজ করি জীবনের জন্য নয়; অনেক সময় জীবনকেই কাজের কাছে সমর্পণ করি। ধীরে ধীরে মানুষ পরিচয় হারিয়ে কেবল একটি পেশা, একটি পদবি কিংবা একটি কর্মক্ষমতায় পরিণত হয়।

সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্খেইম বলেছিলেন, সমাজ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে শুধু আইন দিয়ে নয়, সম্পর্ক দিয়ে। পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধু, সহকর্মী এই অদৃশ্য বন্ধনগুলোই মানুষকে জীবনের সঙ্গে যুক্ত রাখে। যখন সেই বন্ধনগুলো আলগা হয়ে যায়, তখন মানুষ জনসমুদ্রে থেকেও নিজেকে পরিত্যক্ত মনে করে। বাংলাদেশের শহুরে জীবনে এই পরিবর্তন স্পষ্ট। যৌথ পরিবার ভেঙেছে, প্রতিবেশী সংস্কৃতি দুর্বল হয়েছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক উৎসবকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। ফলে, একসঙ্গে থেকেও আমরা একে অপরের জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।

আজকের মানুষকে সবসময় কেউ শোষণ করছে না, অনেক সময় মানুষ নিজেই নিজেকে শোষণ করছে। আরও সফল হওয়ার, আরও উৎপাদনশীল হওয়ার, আরও এগিয়ে থাকার অন্তহীন প্রতিযোগিতায় আমরা নিজের ভেতরের মানুষটিকেই অবহেলা করছি। অফিস শেষ হয়, কিন্তু কাজ শেষ হয় না। ফোন বন্ধ হয় না, ই-মেইল থামে না, উদ্বেগ কমে না। আমরা ক্রমশ ব্যস্ত হচ্ছি, কিন্তু সেই ব্যস্ততা আমাদের সম্পর্কগুলোকে নীরবে গ্রাস করছে। তাই এই মৃত্যুগুলো কেবল চারজন মানুষের মৃত্যু নয়। এগুলো এমন এক সমাজের সংকেত, যেখানে মানুষের সামাজিক মৃত্যু অনেক আগে ঘটে, শারীরিক মৃত্যু শুধু তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়ে আসে।

এই সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি ক্রমশ বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নীতির একটি বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কমিশন অন সোশ্যাল কানেকশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ দীর্ঘস্থায়ী নিঃসঙ্গতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও নিঃসঙ্গতার সঙ্গে প্রতি বছর আনুমানিক ৮ লাখ ৭১ হাজার অকালমৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ জন মানুষের মৃত্যু কোনো না কোনোভাবে এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নিঃসঙ্গতা কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট নয়; এটি হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, জ্ঞানীয় অবক্ষয় ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন নিঃসঙ্গতাকে ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়, বরং সামাজিক অবকাঠামো, নগর পরিকল্পনা, কর্মসংস্কৃতি ও জননীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক একাকী মৃত্যুগুলোও সেই বৈশ্বিক সংকটেরই স্থানীয় প্রতিধ্বনি বলে মনে হয়।

আমরা প্রায়ই বলি, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতির দেশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সত্যিই একে অপরের কাছাকাছি আছি? নাকি শুধু পাশাপাশি বাস করছি? পাশাপাশি অ্যাপার্টমেন্টে থেকেও প্রতিবেশীর নাম জানি না, একই অফিসে কাজ করেও সহকর্মীর দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা বুঝতে পারি না, একই পরিবারের সদস্য হয়েও মাসের পর মাস খোঁজ নিই না। সংখ্যায় আমরা একসঙ্গে, কিন্তু জীবনে ক্রমশ আলাদা হয়ে যাচ্ছি।

একাকীত্বের ইতিহাস মানুষের সভ্যতার মতোই পুরোনো। গ্রিক পুরাণে নার্সিসাস নিজের প্রতিচ্ছবির প্রেমে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের কাছেই বন্দী হয়ে যায়। এটি কেবল আত্মমুগ্ধতার গল্প নয়, নিজের বাইরে আর কাউকে স্পর্শ করতে না পারার ট্র্যাজেডিও। আবার ভারতীয় পুরানে নির্বাসিত যক্ষ মানুষের গভীরতম ভয়কে স্পর্শ করে, পরিত্যক্ত হওয়ার ভয়। কারণ, মানুষ প্রকৃতির একমাত্র প্রাণী, যে শুধু ভাত বা আশ্রয়ে বাঁচে না; সে বেঁচে থাকে অন্যের স্মৃতি, স্পর্শ, প্রতীক্ষা ও স্বীকৃতিতে। তাই নিঃসঙ্গতা কেবল একা একটি ঘরে বসে থাকা নয়; নিঃসঙ্গতা হলো এমন এক নীরব মরুভূমি, যেখানে চারপাশে মানুষের পদচিহ্ন আছে, কিন্তু কোনো পদধ্বনি নেই; জানালার বাইরে আলো জ্বলে, অথচ ভেতরে কারো জন্য কোনো প্রদীপ জ্বলে না। সম্ভবত এ কারণেই মানুষের সবচেয়ে বড় ভয় মৃত্যু নয়; বরং এমন এক জীবন, যেখানে তার অনুপস্থিতি যেমন কারো নজরে পড়ে না, তেমনি তার উপস্থিতিও কারো জীবনে বিশেষ কোনো পার্থক্য তৈরি করে না।

কবি আবুল হাসান বহু আগে লিখেছিলেন, ‘অবশেষে জেনেছি মানুষ একা!’। কিন্তু তাঁর সেই একাকীত্ব ছিল মানুষের চিরন্তন অস্তিত্বের দার্শনিক উপলব্ধি। আজকের ঢাকা শহরের একাকীত্ব ভিন্ন ধরনের। এটি শুধু অস্তিত্বের নয়; এটি সামাজিক। এখানে মানুষ একা হয় শুধু নিজের ভেতরে নয়, নিজের ফ্ল্যাটে, নিজের কর্মজীবনে, এমনকি মৃত্যুর পরও। আবুল হাসানের মানুষ নিজের কাছে অচেনা ছিল। আমাদের সময়ের মানুষ যেন অন্য মানুষের কাছেও অচেনা হয়ে উঠছে। তিনি লিখেছিলেন, ‘জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা!’

এই সংকটের সমাধান শুধু মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো নয়, যদিও সেটি জরুরি। এর সমাধান আরও গভীরে—মানুষকে আবার মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনা। হয়তো শুরুটা খুব ছোট। কোনো পুরোনো বন্ধুকে অকারণে ফোন করা। একা থাকা বাবা-মায়ের দরজায় কড়া নাড়া। সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করা, ‘আজ তোমাকে খুব ক্লান্ত লাগছে, সব ঠিক আছে তো?’ কারণ, অনেক সময় একটি প্রশ্নই একজন মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, সে এখনো কারো কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি আমাদের নিজেদের কাছেই ফিরে আসে। আমাদের মৃত্যুর পর কতদিন লাগবে মানুষ জানতে যে আমরা আর বেঁচে নেই? এই প্রশ্নের চেয়েও ভয়ংকর প্রশ্ন হলো, আমরা বেঁচে থাকতে কতজন সত্যিই জানে যে আমরা আছি?

 

রাজীব নন্দী: শিক্ষক ও গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

ল্যারিনের গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম পয়েন্ট

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে তেতে উঠল কানাডা। তবে বারবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রক্ষণে হানা দেওয়ার পরও গোল মিলছিল না তাদের। অবশেষে বদলি নামার দুই মিনিটের মধ্যে জাল কাঁপিয়ে সমতা টানলেন কাইল ল্যারিন। তার নৈপুণ্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট অর্জনের মধুর স্বাদ পেল এবারের আসরের সহ-আয়োজকরা।

শুক্রবার রাতে টরন্টোতে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। স্বাগতিক দর্শকদের ল্যারিন উল্লাসে মাতানোর আগে বসনিয়াকে এগিয়ে নেন ইয়োভো লুকিচ।

এর আগে দুবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ছয় ম্যাচ খেললেও পয়েন্টের ঝুলি শূন্য ছিল কানাডার। ১৯৮৬ সালে ও সবশেষ ২০২২ সালের আসরে গ্রুপ পর্বের সবগুলো খেলায় হেরেছিল তারা। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এবার পয়েন্টের খাতা খুলল দলটি। এই আনন্দের পাশাপাশি একটু আফসোসও থাকতে পারে তাদের। কারণ, বসনিয়ার বিপক্ষে পূর্ণ পয়েন্ট পয়েন্ট পাওয়ারই জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করেছিল তারা।

শুরুর দিকে কানাডা আধিপত্য বিস্তার করলেও ভালো সুযোগগুলো পায় বসনিয়াই। তৃতীয় মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুযোগে অবশ্য বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন আমার মেমিচ।

গত দুটি বড় টুর্নামেন্টে কানাডার এক-তৃতীয়াংশের বেশি গোলে অবদান ছিল জোনাথন ডেভিডের। তবে এদিন গোল পাননি এই ফরোয়ার্ড। ১৭তম মিনিটে নিজের পাওয়া সবচেয়ে সহজ সুযোগে সোজা গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলির বরাবর শট নেন তিনি।

চার মিনিট পর গ্যালারিতে উপস্থিত স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয় বসনিয়া। কাছের পোস্টে উড়ে আসা কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে বলে হেড করেন সিড কোলাসিনাচ। পেছনেই অপেক্ষায় থাকা ফরোয়ার্ড লুকিচ কাছ থেকে আরেকটি হেডে বল জালে পাঠান।

কানাডার হয়ে দারুণ কিছু করার আভাস দিচ্ছিলেন টানি ওলুওয়াসেই। ৩৩তম মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়েও যান তিনি। কিন্তু অনেক ওপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট মেরে গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপোকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি।

বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ায় স্বাগতিকরা। ৫৩তম মিনিটে রিচি লারিয়া প্রায় উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েই ফেলেছিলেন। তার নেওয়া নিচু শট ভাসিলির দুই পায়ের নিচ দিয়ে চলে যায়। তবে গোললাইনে ছুটে যাওয়া অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কোলাসিনাচ অবিশ্বাস্যভাবে দলকে বিপদমুক্ত করেন। তার প্রচেষ্টায় বল ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে।

কিছুক্ষণ পরই দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল পেয়ে গোল করার পরিষ্কার সুযোগ পান বসনিয়ার এরমেদিন দেমিরোভিচ। তবে ক্রেপো দ্রুত পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে সেই সুযোগ নস্যাৎ করে দেন। ফলে দেমিরোভিচের শট লক্ষ্যে থাকেনি।

এরপর ওলুওয়াসেইয়ের বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১২১ সেকেন্ডের মাথায় কানাডাকে সমতায় ফেরান স্ট্রাইকার ল্যারিন। ৭৮তম মিনিটে ডি-বক্সের মুখে প্রমিস ডেভিডের পাস দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাঝেই শরীর ঘুরিয়ে শট নেন তিনি। বল নিকোলা ক্যাতিচের গায়ে লেগে সামান্য দিক পাল্টে জালে জড়ায়।

যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটিও প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন ল্যারিন। তবে তার শট শরীর পেতে দিয়ে আটকে বসনিয়াকে বাঁচান তারিক মুহারেমোভিচ।

মূল্যস্ফীতির চাপে ঈদুল আজহায় বিক্রি কমেছে, পোশাক ও জুতা ব্যবসায়ীরা হতাশ

দেশের পোশাক ও জুতার খুচরা বিক্রেতারা এবার ঈদুল আজহার বাজার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ক্রেতাদের ব্যয়ের ধরণে পরিবর্তনের কারণে এ মৌসুমে বিক্রি আশানুরূপ হয়নি।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর ঈদুল ফিতর, পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল আজহার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কম থাকায় অনেকেই নতুন পোশাক ও জুতা কেনাকে অগ্রাধিকার দেননি।

ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বিক্রেতারা তাদের প্রত্যাশিত বিক্রির প্রায় ৬০ শতাংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহাকে ঘিরে সাধারণত উৎসবের আগের ১৫ দিন কেনাকাটার সবচেয়ে ব্যস্ত সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এবার সেই চিত্র দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সাদাকালোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহারুল হক আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গত এক দশকের মধ্যে এবারই ঈদুল আজহার সবচেয়ে দুর্বল বাজার দেখেছেন তারা।

তিনি বলেন, ক্রেতাদের ব্যয় করার আগ্রহে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

তার মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। পাশাপাশি রাত ১০টার মধ্যে বাজার বন্ধের সিদ্ধান্তও কেনাকাটার অভ্যাসে প্রভাব ফেলেছে। এতে সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে।

আজাদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে বিক্রি হয়েছে সাধারণ একটি ঈদুল আজহায় যে পরিমাণ বিক্রির আশা করা হয়, তার মাত্র ৪০ শতাংশের মতো।

মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও এপ্রিলেই তা আবার ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এপ্রিল মাসে বেড়ে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছায়, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। এতে জ্বালানি, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।

রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৌমিক দাস বলেন, এবারের বিক্রি ছিল হতাশাজনক। ব্যবসায়ীরা মূলত গত বছরের দুর্বল বিক্রির সমপর্যায়ে থাকতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশায় ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, বিক্রি বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

তার মতে, সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি এখনো স্থবির। ঈদুল আজহাকে ঘিরে উচ্চ প্রত্যাশা থাকলেও প্রকৃত ক্রয়-ব্যয় কম থাকায় উদ্যোক্তাদের অনেকেই হতাশ হয়েছেন।

সৌমিক বলেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় একটি অংশ হয়তো কোরবানির পশুর পেছনে ব্যয়কেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আবার অনেকে অপ্রয়োজনীয় খরচের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়েছেন।

সাধারণত ঈদের মৌসুমে বাড়তি ভিড় সামাল দিতে খুচরা বিক্রেতাদের অতিরিক্ত অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু এবার সে ধরনের চাপ ছিল না বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

সৌমিক আরও বলেন, রঙ বাংলাদেশ এ বছর অতিরিক্ত অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ দেয়নি। এমনকি সপ্তাহান্তেও অফিসের কর্মীদের বিক্রয়কেন্দ্রে সহায়তায় পাঠাতে হয়নি। কারণ ক্রেতার উপস্থিতি ছিল অফ-সিজনের স্বাভাবিক সময়ের কাছাকাছি।

কে ক্রাফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা খালিদ মাহমুদ খান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট ব্যবসায় ঈদুল আজহার বিক্রির ভাগ কমে গেছে। বাজারে টিকে থাকতে ব্যবসাগুলোকে ধারাবাহিক মূল্যছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তার মতে, এসব অফার ক্রেতা টানতে কার্যকর হলেও ব্যবসার মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

খালিদ বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পণ্যের বিক্রি কিছুটা বেশি হলেও অধিকাংশই বিক্রি হয়েছে তুলনামূলক কম দামে।

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে বাজার সচল রাখা এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার অভ্যাস ধরে রাখতে ব্যবসাগুলোকে খুব কম লাভে, এমনকি লাভ ছাড়াই পণ্য বিক্রি করতে হয়েছে।’

একটি শীর্ষস্থানীয় জুতা কোম্পানির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তীব্র গরম ও ভারী বৃষ্টিপাত ক্রেতাদের চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ফলে বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রেতা উপস্থিতিও কমে গেছে।

তিনি বলেন, ক্রেতাদের কেনাকাটার ধরণেও পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে বেশি দামের পণ্যের চাহিদা কমেছে।

তার মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে প্রিমিয়াম ও নিম্নমূল্যের উভয় বাজারের ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এফইএবির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা আজহারুল হক আজাদ বলেন, খুচরা ব্যবসা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপরাধ, দুর্ঘটনা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং ভোক্তাদের আস্থাও কমিয়েছে।

‘সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচন না দেয়, তাই আপস করে জুলাই সনদে সই করেছি’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটা তাগাদা ছিল সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচন না হয়, সেজন্য আমরা সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদে সই করেছি।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় তিনটি শব্দ খুব বেশি বাজার পেয়েছে। একটা হচ্ছে সংস্কার, আরেকটা হচ্ছে বিচার, আরেকটা হচ্ছে নির্বাচন। তবে নির্বাচনটা বলেছে যে সংস্কার ও বিচার সমাপ্ত হওয়ার পরে যদি কোনো সময় হলেও হতে পারে।’

‘সংস্কারের জন্য আমার কিছু বড় ভাই বুদ্ধিজীবি বিদেশ থেকে অবতরণ করেছিলেন, তারা অলৌকিক কিছু সংস্কার নিয়ে দেশে অবতরণ করলে, আমরা সংস্কার কমিশনে আলাপ-আলোচনা করতে করতে এই জুলাই জাতীয় সনদটা প্রণয়ন হয়েছে,’ বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে একটা বিষয় উঠে এসেছে, যখন ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টা প্রথম ডিসাইডেড হয় ঐকমত্য কমিশনে সবাই তখন নোট অব ডিসেন্টসহ একমত হলেন যে, দুটি বিষয়ে সবাই একমত, বিএনপিসহ কয়েকটি দল মনে করে সংবিধান সংশোধন ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি ৭০ অনুচ্ছেদে থাকতে হবে।’

‘সেদিন থেকে সিদ্ধান্ত হলো নোট অব ডিসেন্ট সহকারে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হবে এবং নোট অব ডিসেন্ট সহকারে আপনারা সই করেছেন। আমরাও সই করেছি। আসুন সেই জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করি,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমি আসলে বলতে চেয়েছিলাম সংস্কার হচ্ছে একটা চলমান প্রক্রিয়া। এই সংস্কার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হয়েছিল, বেগম খালেদা জিয়া এটা টেনে নিয়ে গেছেন। তারেক রহমান এই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন, ৩১ দফা প্রণয়ন করেছেন। আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে সেটা ধারণ করেছি। জুলাই জাতীয় সনদের মধ্যে আমরা অনেক কিছুই পেয়েছি, আবার অনেক কিছুই পাইনি, যেগুলো আমাদের ৩১ দফার ভিত্তিতে করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানে অনেক কিছু আনতে হবে যা আমরা সম্মত হয়েছিলাম। জুলাই জাতীয় সনদে সেরকম অনেক বিষয় আসেনি। পঞ্চদশ সংশোধনীর সব তফসিলগুলো বিলুপ্ত করতে হবে, আমরা একমত হয়েছিলাম, কিন্তু সনদে আসেনি।’

‘সনদ যখন সই করলাম, তখন অনেক কিছু নাই। কিন্তু আমাদের একটা তাগাদা ছিল যে, এরা সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা না হতে দেয়, সেজন্য আমরা সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদ সই করেছি,’ যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা একত্রিত হয়েছি, সমঝোতা হয়েছে এবং নির্বাচনের স্বার্থে আমরা অনেক কথা বলিনি। যখন অবৈধ, অসাংবিধানিক আদেশ প্রেসিডেন্ট জারি করলেন, আমরা ফুল বডি স্ট্যান্ডিং কমিটি প্রেস ব্রিফিং করে ঘোষণা করে বলেছি, বিএনপি ও সাথে যারা আছে আমরা কেউ জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে অন্য কিছু মানতে রাজি না। এগুলো রেকর্ড আছে, ভিডিও আছে, প্রেসে আছে, সব জায়গায় আছে।’

বৈশাখে দেশীয় ওটিটিতে নতুন দুই ওয়েব ফিল্ম

নববর্ষ উপলক্ষে দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে দুটি ওয়েব ফিল্ম। ওয়েব ফিল্ম দুটিতে অভিনয় করেছেন প্রীতম হাসান, জেফার, সাফা কবির, পার্থ শেখসহ অনেকেই। এই ওয়েব ফিল্ম দুটি নিয়ে এই আয়োজন।

‘তুমি আমি শুধু’

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিঞ্জে মুক্তি পাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম ‘তুমি আমি শুধু’। এতে প্রীতম হাসান ও জেফার রহমান জুটি হয়ে প্রথমবার পর্দায় অভিনয় করেছেন। এটি নির্মাণ করেছেন শিহাব শাহীন।

প্রীতম ও জেফার এবারই প্রথমবার কোনো ওয়েব ফিল্মে একসঙ্গে অভিনয় করছেন। তবে এর আগে শিহাব শাহীনের পরিচালনায় দুজনেরই অভিনয়ের অভিজ্ঞতা আছে।

প্রীতম অভিনয় করেছেন এই নির্মাতার ওয়েব ফিল্ম ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ এবং ‘ক্যাকটাস’ ওয়েব সিরিজে। জেফারকে দেখা গেছে ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন ২’ সিরিজে।

‘তুমি আমি শুধু’ ওয়েব ফিল্মে আরও অভিনয় করেছেন মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, সমু চৌধুরী, মুনমুন আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু প্রমুখ। পরিচালনার পাশাপাশি এর গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন শিহাব শাহীন।চা গরম

‘চা গরম’

এসেছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘চা গরম’। এটি বৈশাখের দিন আজ ১৪ এপ্রিল চরকিতে মুক্তি পেয়েছে। ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত এবং এতে অভিনয় করেছেন সাফা কবির, পার্থ শেখ, রেজওয়ান পারভেজ, সারাহ জাবিন অদিতি। এ ছাড়াও গল্পে আছেন এ কে আজাদ সেতু।

গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন সাইফুল্লাহ রিয়াদ।

পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, ছবিতে চা-বাগানের শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবন, তাদের অধিকার এবং জীবনমানের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে চা-বাগান সবসময় ব্যাকড্রপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমরা এবার চা-বাগানের ভেতরে ঢুকেছি এবং শ্রমিকদের জীবন ও কাজের নানা দিক দেখানোর চেষ্টা করেছি। শুধু সৌন্দর্যই নয়, এবার বাস্তব জীবনের গল্পও ক্যাপচার করেছি।’

অভিনেত্রী সাফা কবির বলেন, ‘চা গরম-এর প্রতি আমার আগ্রহের অন্যতম কারণ পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্ত। তিনি সবসময় ভিন্ন ধরনের গল্প বলেন এবং তার কাজের মধ্যে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। গল্পটি সমাজের এমন একটি দিক তুলে ধরে, যা আমরা সাধারণত দেখতে পাই না।’

অভিনেতা পার্থ শেখ জানান, শঙ্খ দা আমাকে একটি চরিত্রের প্রস্তাব দিলেন। গল্প শুনে মনে হলো, এটি আমার জন্য ভালো সুযোগ এবং এর আগে তার সঙ্গে ফিকশনে কাজ করা হয়নি।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সব স্থাপনাই বৈধ লক্ষ্যবস্তু: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ব্যবহৃত সব স্থাপনাকে ইরানের জন্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শনিবার ইরানি টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্টদের যে সব স্থান থেকে অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যেসব স্থানে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেসব স্থানকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে।’

তিনি আরও জানান, ইরানের প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত যেকোনো স্থাপনার বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।

 

The destroyed building is a primary school for girls in the south of Iran. It was bombed in broad daylight, when packed with young pupils.

Dozens of innocent children have been murdered at this site alone.

These crimes against the Iranian People will not go unanswered. pic.twitter.com/AVqiuolgWm

— Seyed Abbas Araghchi (@araghchi) February 28, 2026

 

এদিকে বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার জবাব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন আরাঘচি।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, এ বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন আরাঘচি।

ল্যাভরভ বলেন, ইরানের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে, প্রয়োজনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। ল্যাভরভ হামলা অবিলম্বে বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানে ফেরার আহ্বান জানান।

আনাদোলু জানায়, বিবৃতিতে বলা হয়, আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসন’ প্রতিহত করতে ইরানের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে রাশিয়াকে অবহিত করেছেন।

শনিবার ভোরে ইসরায়েল হামলা শুরু করে ইরানে এবং দেশে বিশেষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সালিম সামাদ মারা গেছেন

পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সালিম সামাদ মারা গেছেন। দীর্ঘদিন তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন।

আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

সালিম সামাদ ছিলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পেশাদার লেখক, গবেষক ও গণমাধ্যম অধিকার রক্ষা কর্মী।

তিনি ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য নিউজ টাইমস’, ‘বাংলাদেশ অবজারভার’ ও ‘দ্য এশিয়ান এজ’-এর বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তার লেখা নিবন্ধ বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ ম্যাগাজিন, ভারতের ‘ইন্ডিয়া টুডে’ ও ‘আউটলুক’ ম্যাগাজিন এবং পাকিস্তানের ‘সাউথ এশিয়া’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।

এ ছাড়া, তিনি ঢাকা ট্রিবিউন, শুদ্ধস্বর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স রিভিউ, হেলথ অ্যানালিটিক এশিয়া, নিউইয়র্ক এডিটোরিয়াল এবং প্রেসেনজা ইন্টারন্যাশনাল প্রেস এজেন্সিতে নিয়মিত কলাম লিখতেন।

তিনি বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক বিষয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।

তিনি কাঠমান্ডু (নেপাল), করাচি (পাকিস্তান), ঢাকা (বাংলাদেশ) ও কলম্বোতে (শ্রীলঙ্কা) দক্ষিণ এশীয় সাংবাদিকদের জন্য পরিবেশ ও উন্নয়ন সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেছেন।

মার্কিন অলাভজনক সংস্থা একাডেমি ফর এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (এইডি), এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও), বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিসিডিজেসি), বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট ফোরাম (বিএমএসএফ) এবং ফোরাম অব এনভায়রনমেন্টাল জার্নালিস্টস অব বাংলাদেশ (এফইজেবি)-এর গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।