32.5 C
Dhaka
Home Blog

ইউস্তাকিওর শেষ মুহূর্তের গোলে শেষ ষোলোতে কানাডা

ম্যাচটা যেন ধীরে ধীরে অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে কানাডার ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন স্টিফেন ইউস্তাকিও। তার দুর্দান্ত গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে আসরের সহ-আয়োজক দলটি। নিজেদের স্বপ্নের ডানা আরও বড় করেছে তারা।

বাংলাদেশ সময় রোববার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে স্টিফেন ইউস্তাকিওর একমাত্র গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ বত্রিশ পেরিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে কানাডা। পরের পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো।

এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জেসি মার্শের দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের একাদশে চারটি পরিবর্তন এনে নামা কানাডা বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায়। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা মূলত পাল্টা আক্রমণের ওপর ভরসা করে খেললেও পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

ম্যাচের শুরুতেই জনাথন ডেভিড কর্নার থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর আরেকটি ফ্রি-কিক থেকে কর্নেলিয়াস প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলের সঙ্গে ঠিকভাবে সংযোগ করতে পারেননি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে কানাডা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না। কর্নার থেকে বম্বিতোর হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন মোদিবা। ফিরতি বলে বুকানানের শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। কিছুক্ষণ পর লারিয়াকে বক্সের ভেতর ফেলে দেওয়া হলেও রেফারি কিংবা ভিএআর কেউই পেনাল্টি দিতে রাজি হননি।

বিরতির পর দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কোচ হুগো ব্রুস মিডফিল্ডে পরিবর্তন এনে দলকে আরও আক্রমণাত্মক করেন। এতে ম্যাচ কিছুটা সমতায় ফিরলেও কানাডাই সবচেয়ে বিপজ্জনক দল হিসেবে রয়ে যায়। একবার তাইও ওলুওয়াসেয়ি একা গোলরক্ষকের সামনে সুযোগ নষ্ট করেন, পরে জনাথন ডেভিডের ফিরতি শটও প্রতিহত হয়।

ম্যাচের ৭৫ মিনিটে মাঠে নামেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা আলফোনসো ডেভিস। বিশ্বকাপে এটিই ছিল তার প্রথম ম্যাচ। তাকে নামানোর পর কানাডার আক্রমণের গতি আরও বেড়ে যায়। প্রমিস ডেভিডের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর জনাথন ডেভিডের আরেকটি প্রচেষ্টা রুখে দেন উইলিয়ামস।

সবকিছু যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই আসে কানাডার স্বপ্নের মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্স বল ক্লিয়ার করলেও সেটি বক্সের বাইরে পেয়ে যান স্টিফেন ইউস্তাকিও। বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে বাঁকানো নিচু শটে জড়িয়ে দেন জালে। ৯২ মিনিটের সেই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে সোফি স্টেডিয়াম।

বাজেটে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি ইসলামী আন্দোলনের

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঋণের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। 

দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জনগণের করের টাকায় গঠিত বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরী, টালবাহানা, অপচয় ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যয়ের কোনো অধিকার সরকারের নেই।

আজ সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির হলে ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থ বছরের বাজেট: আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

রেজাউল করীমের ভাষ্য, প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণের বোঝা তুলনামূলকভাবে বেশি। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এ ধারা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। বাজেট কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, এটি জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারও।

তিনি বলেন, ‘দেশে প্রায় এক কোটি নিবন্ধিত করদাতা থাকলেও পরোক্ষ করের মাধ্যমে কার্যত সব নাগরিকই রাজস্বে অবদান রাখেন। দৈনন্দিন পণ্য ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও মানুষ কর পরিশোধ করে। তাই জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’

সরকার প্রতিবছর বাজেট পেশ ও অনুমোদন করলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নজরদারি, আমানতদারি ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি বলেন, ‘এ কারণে বাজেটের একটি বড় অংশ অপচয় হয়, আবার ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচারও ঘটে। এ প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।’

রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘বাজেটের নানা সুবিধার কথা বলা হলেও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার কারণে সেগুলোর অনেকটাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। বাজেট কার্যকর করতে হলে শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, নীতিগত পরিবর্তনও প্রয়োজন।’

তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শরিয়াভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমানের পরিচালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান, ইসলামী আন্দোলনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গোলাম মসীহ, জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মুসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম প্রমুখ।

শহীদ জিয়ার আদর্শে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এ দেশের সমগ্র গণমানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখ-ভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় একটি দিন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমৃত্যু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অগ্রগতির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার যে ঐতিহাসিক উত্থান ঘটেছিল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়েই তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথ। আমরা এই গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে সমস্ত মানুষের মধ্যে ইস্পাত-কঠিন ঐক্য সৃষ্টি করে জাতীয় সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হয়। আমরা তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শের রাজনীতি করি।’

গণতন্ত্রের প্রতি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এই দেশটিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করা হবে। ৫ আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের যে চেতনা, তার আলোকেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সীমাহীন ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমরা এখানে এসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য দোয়া করি এবং দেশ ও জনগণের সেবায় নতুন করে অনুপ্রাণিত হই।’

একজন তৌকীর আহমেদকে নিয়ে ১২ ঘণ্টার আয়োজন

দেশের খ্যাতিমান অভিনেতা, নির্মাতা, নাট্যনির্দেশক ও লেখক তৌকীর আহমেদকে নিয়ে ঢাকায় আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী এক বিশেষ অনুষ্ঠান।

বহুমাত্রিক সৃজনযাত্রার জন্য পরিচিত এই শিল্পীকে ঘিরে আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ১২ ঘণ্টার আয়োজন।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। দিনের শুরুতেই থাকছে ‘আমাদের সংস্কৃতি ও শিল্পীর দায়’ শিরোনামে একটি সেমিনার। এতে তৌকীর আহমেদের কাজ ও শিল্পভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন তার সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের নির্মাতা ও শিল্পীরা।

বিকেলে প্রদর্শিত হবে তার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’। আর সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে তার নির্দেশিত ও অভিনীত নাটক ‘তীর্থযাত্রী’—যার মাধ্যমে দর্শকরা মঞ্চে সরাসরি দেখতে পাবেন এই শিল্পীকে।

১৯৮০–এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া তৌকীর আহমেদ রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দর্শকমহলে আলাদা জায়গা করে নেন। বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘নদীর নাম মধুমতী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।

পরবর্তীতে নির্মাতা হিসেবে ২০০৪ সালে ‘জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্র দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর ধারাবাহিকভাবে নির্মাণ করেছেন ‘রূপকথার গল্প’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ও ‘স্ফুলিঙ্গ’র মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র।

তার দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক শিল্পযাত্রাকে স্মরণ ও পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ‘সুহৃদ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’ শিরোনামের এই আয়োজন সম্পর্কে আয়োজকদের ভাষ্য, এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এক শিল্পীর জীবন, তার সৃষ্টিকর্ম ও সমাজ সচেতন দায়বোধকে নতুনভাবে অনুধাবনের একটি উপলক্ষ।

হরমুজ প্রণালিতে ২ জাহাজে হামলার অভিযোগ

হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

আজ রোববার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আক্রমণ অব্যাহত রাখার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও এক বিবৃতিতে জানায়, ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে অপর একটি জাহাজে  হামলা চালানো হয়েছে।

বেসরকারি সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেকও একই তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আল জাজিরাকে বলেছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। এই পর্যায়ে হরমুজে চলাচল ব্যাহত করবে এমন কিছু করারও পরিকল্পনা নেই।

‘বোরকা পরা ২ জন আমাকে এলোপাতাড়ি কোপায়’

‘রোববার রাত ১০টার দিকে বাসার সামনে চায়ের দোকানে বসেছিলাম। তখন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তিনজন নামেন। তাদের মধ্যে দুজন বোরকা ও একজন পাঞ্জাবি পরা ছিলেন। নামার সঙ্গে সঙ্গে বোরকা পরা দুইজন চাপাতি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে আমার বাম হাতের কনুই প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হামলার পর তারা দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়।’

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) থেকে কথাগুলো বলছিলেন ইব্রাহিম খলিল শুভ (২৬)।

গতকাল রাতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় একটি চায়ের দোকানে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ইব্রাহিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় পঙ্গু হাসপাতালে।

ইব্রাহিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর শাখার সাবেক সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

হাসপাতাল থেকে ইব্রাহিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হামলা করার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে তিন থেকে পাঁচজন হামলাকারীদের পাহারা দেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারাগার থেকে তিনি একাধিকবার মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকি দেন।

ছয় মাস আগেও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

ইব্রাহিম আরও বলেন, আমার ধারণা, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই আমার ‍ওপর হামলা করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইব্রাহিমের শয্যার পাশে ছিলেন তার মা রানু বেগম।

তিনি বলেন, ‘ইব্রাহিম আমাদের একমাত্র সন্তান। আমার স্বামী ড্রাইভার। আশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে ইব্রাহিম সংসারের হাল ধরবে। এখন হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।’

রানু বেগম আরও বলেন, ‘আমি দ্রুত ইব্রাহিমের সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গতকাল রাতে ইব্রাহিমের বাম হাতে অপারেশন করা হয়েছে। তার বাম হাতে আরও একটি অপারেশন করতে হবে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, হামলার ঘটনায় এখনো মামলা করা হয়নি। আমরা তদন্ত করছি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইব্রাহিম জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় ছিলেন। তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

সমালোচনার মুখে এআই ছবি তৈরির ফিচার বন্ধ করল মেটা

সম্প্রতি ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এআইর মাধ্যমে ছবি তৈরির একটি নতুন ইমেজ মডেল চালু করেছে। 

মিউজ নামের এই ইমেজ মডেলে টেক্সট প্রম্পট ব্যবহার করে ছবি তৈরির পাশাপাশি ভিন্নধর্মী কয়েকটি ফিচারও রাখা হয়েছিল।

এরকমই একটি ফিচারের মাধ্যমে কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যবহারকারী যেকোনো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ‘পাবলিক’ ছবিগুলোর ভিত্তিতে নতুন এআই ছবি তৈরির সুযোগ পেয়েছিলেন। ধীরে ধীরে ওই ফিচারটি সব ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল মেটা।

কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হয়। বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে মেটা।

গত সপ্তাহে মিউজ চালু করে মেটা। এই টুলে এমন একটি ফিচার ছিল, যার মাধ্যমে মেটা এআই চ্যাটবট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাবলিক প্রোফাইলগুলোকে ট্যাগ করতে পারত।

ট্যাগ করার পর ওই কনটেন্টের ভিত্তিতে খুব সহজেই সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি তৈরি করা যেত।

এ বিষয়টি নিয়েই তীব্র আপত্তি ওঠে। কয়েক দিনের ব্যবধানে অভিনেতা, শিল্পী ও স্যাগ-আফট্রা ইউনিয়ন এর তীব্র নিন্দা জানায়।

তাদের মতে, এই ফিচারের মাধ্যমে মানুষের অনুমতি ছাড়াই তাদের ছবি বিকৃত করার ঝুঁকি বেড়েছে।

গত শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে মেটা দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, এটি একটি সৃজনশীল ফিচার হিসেবে চালু করা হলেও ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। 

তাই এই ফিচার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করে মেটা। 

এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেতা হ্যানা এইনবাইন্ডার তার অনুসারীদের (ফলোয়ারদের) এই ফিচার বন্ধ করে রাখার আহ্বান জানান।

তিনি জানতে পারেন, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে গেছে।

অভিনেতাদের ইউনিয়ন স্যাগ-আফট্রা ওই ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার বিষয়টিকে ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে আখ্যা দেয়।

পাশাপাশি, ‘জনমানুষের অনুভূতির কথা মাথায় না রেখে, বিপদ ও ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্যমান ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ফিচার চালুর ভুল উদ্যোগের’ নিন্দা জানায় তারা।

ফিচারটি সরিয়ে নেওয়ার পর ইউনিয়নের এক প্রতিনিধি মেটাকে ধন্যবাদ জানান।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পাবলিক কনটেন্ট নিয়ে চাপের মুখে আছে। কীভাবে এ ধরনের কনটেন্ট ব্যবহার করে এআই টুলগুলো কাজ করবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। 

ব্যবহারকারীদের দাবি, তাদের অনুমতি ছাড়া এআই টুল যাতে তাদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে না পারে, সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীদের হাতেই থাকতে হবে। আর তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেই নিশ্চিত করতে হবে।

মেটার মিউজ ইমেজ টুল ছিল প্রতিষ্ঠানটির সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবের প্রথম ছবি তৈরির টুল।

তবে মিউজ টুলের ওই ফিচার বন্ধ হলেও বাকি ফিচারগুলো যথারীতি ইউজারদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। 

এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সংকেত আমাদের কী বার্তা দিচ্ছে?

সারা দেশে চলছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা। প্রতি বছরের মতো এবারও লাখো শিক্ষার্থী নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও অনিশ্চয়তাকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে বসেছে। এই পরীক্ষা শুধু একটি পাবলিক পরীক্ষা নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মজীবন ও ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সোপান।

কিন্তু এবারের পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই একটি বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিবন্ধিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। গত ২ জুলাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। তারা ফরমই পূরণ করেনি। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী এবারের এইচএসসি পরীক্ষার বাইরে রয়েছে।

এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি উপলক্ষ।

এমনকি খোদ শিক্ষামন্ত্রীও এই সংখ্যাকে ‘খুব খারাপ ইন্ডিকেটর’ উল্লেখ করে বলেছেন, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ‘মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরিতে ৫৪ শতাংশ ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৩৩ শতাংশ ঝরে গেছে। এটা বড় সংখ্যা।’ (প্রথম আলো) সাধারণত এই হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকে।

কেন একজন শিক্ষার্থী এতদূর এসে, দীর্ঘ শিক্ষাজীবন অতিক্রম করার পরও শেষ মুহূর্তে পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের কেবল পরীক্ষার ফলাফল নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকাতে হবে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা একের পর এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। করোনা মহামারিতে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। অনেক শিক্ষার্থীর শেখার ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে। অনলাইন শিক্ষা চালু হলেও দেশের সব শিক্ষার্থী সমানভাবে সেই সুযোগ পায়নি। শহর ও গ্রামের মধ্যে প্রযুক্তিগত বৈষম্য, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও মানসম্মত শিক্ষার অভাব বহু শিক্ষার্থীকে পিছিয়ে দিয়েছে।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পারিবারিক অর্থনৈতিক সংকটও অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কেউ পরিবারকে সহায়তা করতে কাজে নেমেছে, কেউ পড়াশোনা থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, আবার কেউ মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছে যে পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলেছে।

আজকের শিক্ষার্থীরা এমন এক পৃথিবীতে বেড়ে উঠছে, যেখানে তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু মনোযোগের অভাব প্রকট। একটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে তারা কয়েক সেকেন্ডেই পুরো পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শর্ট ভিডিও, গেমিং ও অবিরাম ডিজিটাল বিনোদন তাদের মনোযোগকে ক্রমাগত খণ্ডিত করছে। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী শিক্ষাবিদদের মতে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

এর অর্থ এই নয় যে বর্তমান প্রজন্ম অমনোযোগী বা অযোগ্য। বরং তারা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রযুক্তিগতভাবে বেশি দক্ষ, দ্রুত শেখার সক্ষমতা রাখে এবং নতুন ধারণা গ্রহণে অনেক বেশি উন্মুক্ত। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করার মতো শিক্ষা পরিবেশ, পারিবারিক সহায়তা এবং ইতিবাচক দিকনির্দেশনা সবসময় তারা পায় না।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো পরীক্ষার ফলাফলকে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণ, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কিংবা মানসিক সুস্থতাকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের ব্যর্থ মনে করে। অথচ, তাদের মধ্যে অন্যক্ষেত্রে অসাধারণ সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকতে পারে।

অভিভাবকদেরও এই বাস্তবতা নতুনভাবে উপলব্ধি করতে হবে। সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত প্রত্যাশা, অন্যের সঙ্গে তুলনা ও কেবল নম্বরকেন্দ্রিক চাপ অনেক সময় শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপদ, সহানুভূতিশীল ও উৎসাহব্যঞ্জক পারিবারিক পরিবেশ।

একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং জীবনদক্ষতা উন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আজকের পৃথিবীতে কেবল পাঠ্যবই মুখস্থ করলেই সফল হওয়া যায় না। প্রয়োজন সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগের ক্ষমতা ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মানসিকতা।

নীতিনির্ধারকদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশ কিংবা পাসের হার নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না। আমাদের জানতে হবে, কতজন শিক্ষার্থী মাঝপথে ঝরে যাচ্ছে, কেন ঝরে যাচ্ছে এবং তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য কী ধরনের নীতি ও কার্যক্রম প্রয়োজন। কারণ, একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা মানে শুধু একটি খালি আসন নয়; এর পেছনে থাকতে পারে একটি পরিবারের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন, একটি সম্ভাবনাময় জীবনের থেমে যাওয়া পথচলা।

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা যেন কেবল প্রশ্নপত্র, পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমাদের আলোচনার কেন্দ্রে আসুক শিক্ষার্থী, তার শেখার পরিবেশ, মানসিক সুস্থতা, দক্ষতা অর্জন ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি।

বাংলাদেশ আজ জনসংখ্যাগত সুবিধার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই তরুণ জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু তাদের একটি অংশ যদি শিক্ষা থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, জাতীয় উন্নয়নের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এইচএসসি পরীক্ষা তাই শুধু একটি বার্ষিক পরীক্ষা নয়; এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আয়না। সেই আয়নায় আমরা কী দেখছি, কী শিখছি এবং কী পরিবর্তন আনছি, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামী বাংলাদেশের মানসম্মত মানবসম্পদ গড়ে তোলার সাফল্য।

যারা পরীক্ষার হলে বসেছে, তাদের জন্য শুভকামনা। আর যারা কোনো কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাদের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কারণ, একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি তখনই নিশ্চিত হয়, যখন সে তার প্রতিটি শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাকে মূল্য দেয় এবং কাউকে পিছিয়ে পড়তে দেয় না।

 

মো. তরিকুল ইসলাম: লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

পানামাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, কেইনের রেকর্ড গোল

পানামার বিপক্ষে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকই গুছিয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের গোলে ২-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে তারা। 

শনিবার রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই জয়ে টমাস টুখেলের দল ‘এল’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে।

নিউ জার্সির এক বৃষ্টিভেজা দিনে, ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর বুকায়ো সাকার কর্নার থেকে বল পেয়ে ডেডলক ভাঙেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেলিংহাম।

সেই পর্যন্ত ম্যাচটা বেশ ম্যাড়মেড়ে ছিল। তবে প্রথম গোলটার একটা আবহ তৈরি হচ্ছিল বেশ কিছু সময় ধরেই। এরপর বেলিংহামের ক্রস থেকে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে হেডে দ্বিতীয় গোলটা করেন কেইন।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানের উদ্বোধনী জয়ে জোড়া গোল করার পর এটা ছিল এই টুর্নামেন্টে কেইনের তৃতীয় গোল। এর মাধ্যমে অধিনায়ক কেইন কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১১ গোল) হয়ে গেলেন।

২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড যখন পানামাকে ৬-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল, তখন কেইন একাই তিনটি গোল করেছিলেন। তবে এবার ‘থ্রি লায়ন্স’দের কাজটা অতটা সহজ ছিল না, কারণ প্রতিপক্ষ দলটার সীমাবদ্ধতা থাকলেও মাঠের পরিশ্রমে তারা কোনো কমতি রাখেনি।

গত মঙ্গলবার বোস্টনে ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর, এই ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নিয়ে হয়তো প্রশ্ন উঠছিল।

ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে জয়ের মতো ছন্দ তারা এখনো পুরোপুরি ফিরে পায়নি। তবে সম্ভাব্য ৯ পয়েন্টের মধ্যে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ডে গেল ইংল্যান্ড।

গ্রুপের শীর্ষে থাকা খুব দরকার ছিল, কারণ এর ফলে শেষ ১৬-তে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার ভয়টা এড়ানো গেল।

এর বদলে, আগামী বুধবার (১ জুলাই) আটলান্টায় একটি তৃতীয় স্থানে থাকা দলের সঙ্গে খেলতে নামবে তারা। সেই ম্যাচে জিতলে শেষ ১৬-র লড়াইয়ে মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে তাদের খেলা হতে পারে—সম্ভবত মেক্সিকোর সঙ্গেই, যেখানে ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছিল ইংল্যান্ড।

 

গ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে, রবির বেড়েছে কীভাবে?

দেশের শীর্ষ টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোনের আয় ও মুনাফা দুটোই কমেছে ২০২৫ সালে। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রবি আজিয়াটার আয় ও মুনাফা বেড়েছে।

কোম্পানি দুটির আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, গত বছর গ্রামীণফোনের আয় এর আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মুনাফা কমেছে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে রবির আয় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ এবং মুনাফা ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

গ্রাহকসংখ্যার ওঠানামায় আয়-মুনাফায় এই পার্থক্য। বছর শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকসংখ্যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮ কোটি ৩৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৭৪ লাখ।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর একটি নতুন নিয়মের জন্য তাদের গ্রাহক কমেছে। বছরের শেষ প্রান্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সিমের নিবন্ধনসীমা ১৫টি থেকে কমিয়ে ১০টি করেছে। এর ফলে গ্রাহকদের বাড়তি সিমগুলো বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানান, এই নিয়মের কারণে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।

সাংবাদিকদের দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের টেলিকম বাজারের প্রায় ৪৫ শতাংশ জিপির দখলে। তাই নিয়ম পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব জিপির ওপর পড়াটাই স্বাভাবিক।

বছর শেষে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮৭ লাখ। এটি তাদের মোট গ্রাহকের ৫৮ শতাংশ। তাদের মধ্যে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ফোর-জি ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে রবির সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৪ কোটি ৪৫ লাখ। এটি তাদের মোট গ্রাহকের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এদের মধ্যে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ফোর-জি গ্রাহক।

সাধারণত গ্রাহক ও তাদের খরচ বাড়লে কোম্পানির আয় ও মুনাফা বাড়ে। আর গ্রাহকসংখ্যা কমে গেলে মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রবি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিম নিবন্ধনের নিয়ম পরিবর্তনের পর বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে, গ্রাহক বৃদ্ধি তারই প্রতিফলন। এ ছাড়া তাদের ইন্টারনেট গ্রাহক ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে।

খরচের ধরনেও দেখা গেছে ভিন্নতা। গ্রামীণফোনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়েস ও ডেটা (ইন্টারনেট) থেকে আয় কমে যাওয়ায় গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ১৫৫ টাকা থেকে কমে ১৫১ টাকায় নেমেছে।

অন্যদিকে রবির গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৪৫ দশমিক ৮ টাকায় উন্নীত হয়েছে। মূলত ডেটা থেকে বেশি আয় এবং গ্রাহকদের প্যাকেজ বা অফার পরিবর্তনের ফলেই এই প্রবৃদ্ধি এসেছে।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা তানভীর বলেন, মূল্যস্ফীতির টানা চাপ এবং খরচের ব্যাপারে গ্রাহকদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় মোবাইল ব্যবহার কমেছে। ফলে আয়ও কমেছে।

তবে তিনি জানান, গ্রামীণফোনের গ্রাহকেরা অপেক্ষাকৃত বেশি পুরোনো ও দামি প্যাকেজ ব্যবহার করেন। গ্রাহক ধরে রাখা এবং তাদের সাধ্যের কথা বিবেচনা করে অনেক সময় স্বল্পমেয়াদে আয় ও মুনাফার ওঠানামা হতে পারে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকপ্রতি আয় বাড়ানোর চেয়ে জিপি সব সময় নেটওয়ার্কের মান, ডিজিটাল সেবা এবং যৌক্তিক মূল্য বজায় রাখার মাধ্যমে গ্রাহক সম্পর্ক তৈরির ওপর জোর দেয়।

কমেছে ভয়েস কল

উভয় অপারেটরেই গ্রাহকদের ভয়েস কল বা কথা বলার হার কমেছে, তবে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলক বেশি। জিপির গ্রাহকপ্রতি গড় কথা বলার সময় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১৬২ মিনিটে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রবির ক্ষেত্রে এই হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৪১ মিনিটে নেমেছে।

তানভীরের মতে, মানুষ এখন ওভার-দ্য-টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেটে বেশি কথা বলছেন। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে গ্রাহকেরা খরচ কমাতেও মোবাইল কলে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছেন।

গ্রামীণফোন ও রবির প্রবৃদ্ধির এই পার্থক্য নিয়ে কথা বলেন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সিইও কাজী মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রবির আয় মূলত ডেটানির্ভর। বাজারে ডেটার ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে ভয়েস কল কমছে। এর ফলে তাদের আয় বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রবির আয় বাড়লেও সেই তুলনায় তাদের মুনাফা এখনো বেশ কম, যেখানে গ্রামীণফোনের মুনাফা অনেক বেশি। এর মানে হলো, রবি তাদের পরিচালন দক্ষতায় সামান্য উন্নতি করলে তাদের মুনাফাও অনেকটা বাড়বে।

কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে রবির মুনাফা জিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সেদিক থেকে বলা যায়, রবির মুনাফার হার আসলে দীর্ঘ সময় ধরেই বেশ কম।

আয় ও মুনাফা কমলেও আর্থিক সূচকগুলোতে গ্রামীণফোন এখনো বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। জিপির মুনাফার হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে রবির ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। জিপির রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) ৪৯ শতাংশ, আর রবির ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য জিপির ৪১ দশমিক ৪৯ টাকা, যেখানে রবির ১৩ দশমিক ৩৪ টাকা।

(ঈষৎ সংক্ষেপিত, মূল প্রতিবেদনটি পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে)