26.6 C
Dhaka
Home Blog

যুক্তরাষ্ট্র–কানাডার ৫৮ হলে ‘দম’

আমেরিকায় ‘দম’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে সাড়া পড়েছে। চাহিদার কারণে ১৭ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৫৮টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি। 

রেদওয়ান রনি পরিচালিত আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরী অভিনীত সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায় ১০ এপ্রিল। 

সপ্তাহ ঘুরতেই দর্শকদের আগ্রহে দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল থেকে ৫০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে ‘দম’।

এখানেই শেষ নয়, ১৭ এপ্রিল থেকে সিনেমাটি চলবে কানাডার ৮টি প্রেক্ষাগৃহে। 

‘দম’ উত্তর আমেরিকায় মুক্তি উপলক্ষে নির্মাতা রেদওয়ান রনি এখন অবস্থান করছেন আমেরিকায়। নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত একটি সিনেমা “দম”। কেন এবার সত্য ঘটনাকে আশ্রয় করলাম? কারণ আমার মনে হয়েছে এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের বিজয়ের গল্প বলা সম্ভব। আমিও অনেকদিন পর নির্মাণে ফিরলাম। এই ফেরাটা বাংলাদেশের বা বাংলাদেশিদের বিজয়ের গল্প বলার মাধ্যমে হওয়াটাই তৃপ্তির বলে মনে হয়েছে আমার।’

‘দেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার পর অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। বিদেশের মাটিতে প্রবাসী ভাই-বোনদের কাছে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমি অভিভূত। যেখানেই গিয়েছি, সেখানেই আমাকে যেভাবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের ভালোবাসা পেয়ে আমারও মনে হচ্ছে “দম” জিতে গিয়েছে’, যোগ করেন রেদওয়ান রনি। 

‘দম’ সিনেমা প্রযোজনা করেছে এসভিএফ আলফা-আই ও চরকি। 

সিনেমার চিত্রনাট্য করেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল আলম রবি।

ইরানে সামরিক অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে যা জানালেন ট্রাম্প

গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন-তেল আবিবের চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে বেশ কয়েকটি হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছেন।

মূলত একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমকে ফোনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান তিনি। 

আজ সোমবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ আপডেটে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানান, ‘এক ধাক্কায় ৪৮ (ইরানি) নেতা নিহত হয়েছেন’। তিনি আরও জানান, ইরানে সামরিক অভিযান ‘দ্রুতগতিতে আগাচ্ছে।’

সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ‘খুব ভালো ভাবে আগাচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচির আগেই (সব লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে)।’

‘আমরা শুধু আমাদের নিজেদের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের পক্ষে দায়িত্ব পালন করছি’, যোগ করেন তিনি। 

এমএস নাউকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসী ইরানীরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের সংবাদে উল্লাসে মেতে উঠেছে। 

এসব দৃশ্য তিনি নিজেই দেখেছেন বলে দাবি করেন ওই বিশ্বনেতা। 

 

লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী ইরানীদের একটি বড় সম্প্রদায় বসবাস করে। সেখানকার উৎসবমুখর পরিবেশের দিকে ইঙ্গিত করে ক্যাবল নিউজ চ্যানেলকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটা অসাধারণ একটি ঘটনা।’

দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খামেনি-পরবর্তী ইরানের নেতারা নতুন করে দরকষাকষি ও আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা গত সপ্তাহে ‘বানচাল’ হয়েছিল। 
তিনি বলেন, ‘তারা কথা বলতে চায়, আর আমি কথা বলতে রাজি হয়েছি। তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

‘তাদের এটা আরও আগে করা উচিৎ ছিল। খুবই বাস্তবসম্মত আর সহজ কাজটা তাদের আরো আগেই করা উচিৎ ছিল। তারা অনেক বেশি দেরি করে ফলেছে’, যোগ করেন বিশ্বনেতা ট্রাম্প।

মেয়াদ শেষ হয়নি, তবে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন চাই: চসিক মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী মেয়র হিসেবে আমার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য আমি দ্রুত মেয়র নির্বাচন চাই।’

আজ রোববার দুপুরে নগরীর হালিশহরে একটি খেলার মাঠ উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। 

তিনি আরও জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।

সবশেষ চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৮ আগস্ট রেজাউল করিম চৌধুরীসহ দেশজুড়ে অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। 

তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শাহাদাত হোসেন নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশন আদালতের রায়ের পর গেজেট প্রকাশ করলে, তিনি ওই বছরের ৩ নভেম্বর শপথ ও ৫ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অপসারিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কাউন্সিলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১। সে অনুযায়ী, ওই কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আজ। 

দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হয় স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী। এই আইনে মেয়রের মেয়াদ এবং নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত আলাদা বিধান রয়েছে। আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, কোনো সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ তার প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর।

মেয়রের মেয়াদকাল নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন শাহাদাত। 

তিনি বলেন, ‘আজ রেজাউল করিমের মেয়াদকাল শেষ হচ্ছে, আমার না।’ 

‘আমি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলাম এবং তিন বছর লড়াই করে ফল বের করেছি। আদালতের রায় অনুযায়ী, রেজাউল করিমের মেয়াদকাল সম্পূর্ণ অবৈধ। আদালত আমাকে ৫ বছরের জন্য মনোনীত করেছে। এমনকি বাংলাদেশ সরকার আমাকে যে ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট দিয়েছে, সেটাও ৫ বছরের জন্য,’ যোগ করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অনুশোচনার প্রসঙ্গ নিয়ে মেয়র শাহাদাত বলেন, ‘আমার ৩৯-৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এখনো পর্যন্ত কোনো ক্রেডিবল ইলেকশন আমি পাইনি। চট্টগ্রাম শহরে ২২ লাখ ভোটার আছে। তাদের কতজন আমাকে চায়?’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের একমাত্র মেয়র যে কোর্টের রায়ে ঘোষিত হয়েছে। আমি চাই চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সব সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন হোক, কারণ নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় জনগণ সঠিক সেবা পাচ্ছে না।’

‘এলজিআরডি মন্ত্রণালয় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আমাকে পদে থাকতে হবে, কারণ মেয়র পদ শূন্য রাখা যায় না। তবে দল যদি আমাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়, তবে আমি অবশ্যই পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব,’ বলেন শাহাদাত হোসেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও টিকে থাকবেন কারা?

কিছুদিন আগেও সবাই বলাবলি করছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এসে মানুষের সব কাজ কেড়ে নেবে এবং মানুষকে বেকার করে ছাড়বে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত তেমনটা বলছে না।

অ্যাক্টিভট্র্যাক নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা ১০ হাজারেরও বেশি কর্মীর ডিজিটাল কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখেছেন, মানুষ যখন এআই গ্রহণ করেছে, তখন তাদের কর্মজীবন আরও তীব্র ও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে, মোটেও সহজ হয়নি।

এই নতুন প্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যবহারকারীরা ইমেইল, মেসেজিং এবং চ্যাট অ্যাপে আগের চেয়ে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছেন। তাদের বিজনেস সফটওয়্যার ব্যবহারের হারও ৯৪ শতাংশ বেড়ে গেছে।

ইউসি বার্কলের হাস স্কুল অব বিজনেসের গবেষকরা দেখেছেন, এআই ব্যবহার করার ফলে কর্মীরা এমন সব কাজও নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন, যা তারা আগে অন্যদের দিয়ে করাতেন। কারণ, এআইয়ের কল্যাণে কোডিং বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কাজগুলো এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। তারা সন্ধ্যায়, ছুটির দিনে, এমনকি ওয়েটিং রুমে বসেও কাজের ফাঁকফোকর তৈরি করে নিচ্ছেন। আগের চেয়ে অনেক বেশি মাল্টিটাস্কিং করছেন এবং একইসঙ্গে বিভিন্ন বট প্রোগ্রামকে তদারকি করছেন।

গবেষণাগুলো থেকে একটি সাধারণ বিষয় স্পষ্ট হয়। এআই ব্যবহার করে মানুষ যে সময়টুকু বাঁচাচ্ছে, সেই সময়ে তারা বসে থাকছে না। বরং সেই বেঁচে যাওয়া সময়ে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব নিচ্ছে।

কর্মী এবং তাদের বসদের প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দিয়েছে এআই। দিনে ঠিক কতটা কাজ করা উচিত, সে সম্পর্কে তাদের ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। ফলে প্রতিটি কর্মঘণ্টা এখন আরও ব্যস্ত এবং একইসঙ্গে আরও ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে।

অ্যাক্টিভট্র্যাকের গবেষকরা দেখেছেন, মানুষের একটানা মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সময় ৯ শতাংশ কমে গেছে। এই মানসিক অবস্থার একটি নামও তৈরি হয়েছে—‘এআই ব্রেইন ফ্রাই’।

কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও ইতিহাসের দিকে তাকালে বিষয়টি বেশ স্বাভাবিক। যখনই মানুষের শ্রম কমানোর কোনো নতুন প্রযুক্তি এসেছে, বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে মানুষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের জীবনকে সহজ করবে।

কিন্তু বাস্তবে মানুষ সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবনকে আরও বেশি কর্মব্যস্ত করে তুলেছে। উড়োজাহাজ, ট্রেন বা গাড়ি যাতায়াতের সময় ও শ্রম বাঁচায় ঠিকই, কিন্তু এর ফলে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি ভ্রমণ করতে শুরু করেছে।

এই উদীয়মান এআই যুগের একটি মূলনীতি হলো, যখন বুদ্ধিমত্তা সহজলভ্য হয়ে যায়, তখন মানুষের ইচ্ছাশক্তির মূল্য বেড়ে যায়। এই যুগে তারাই পার্থক্য গড়ে দেবেন, যারা শুধু বিশ্রাম খোঁজার জন্য এআই ব্যবহার করবেন না। বরং নিজেদের মানসিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং আরও বেশি কাজ সম্পন্ন করতে এআইকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাবেন।

অন্য কথায়, মানুষকে এখন আর তার মেধা দিয়ে আলাদা করা যাবে না। মানসিক পরিশ্রমের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।

এআইয়ের এই যুগেও কারা সফলভাবে টিকে থাকবেন, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু মানুষের মধ্যে ‘নিড ফর কগনিশন’ বা চিন্তাভাবনা করার তীব্র চাহিদা থাকে। এরা কঠিন কাজ করতে এবং মস্তিষ্ক খাটাতে ভালোবাসেন। অন্যদিকে আছেন ‘কগনিটিভ মাইজার’ বা চিন্তার কৃপণরা মস্তিষ্ক খাটাতে পছন্দ করেন না এবং সুযোগ পেলেই চিন্তার কাজ এড়িয়ে চলেন।

এই দুইয়ের মাঝামাঝি আছেন মাঝারি ঘরানার মানুষ। তারা শুধু তখনই গভীরভাবে চিন্তা করেন, যখন বিষয়টি তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বভাবগতভাবে এটি তারা উপভোগ করেন না। মেধার সঙ্গে ‘নিড ফর কগনিশনের’ সম্পর্ক থাকলেও এটি পুরোপুরি এক বিষয় নয়। আবার অনেক অত্যন্ত মেধাবী মানুষ আছেন, যারা পরিশ্রম করতে ভালোবাসেন না।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এআইয়ের সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতাকে তিন ভাগে ভাগ করেছে আটলান্টিক।

যেসব মানুষের চিন্তাভাবনা করার আগ্রহ কম, তারা এআই ব্যবহার করে নিজেদের চিন্তা করার পরিমাণ আরও কমিয়ে দেবেন। তাদের সবচেয়ে বড় লাভ হবে, এআইয়ের সাহায্যে খুব দ্রুত কাজ শেষ করে অনেক বেশি উৎপাদনশীল হতে পারবেন।

কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হবে, কাজ সহজ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের মানসিক সক্ষমতা দিনকে দিন কমতে থাকবে।

মানুষ তখনই সবচেয়ে ভালো শেখে, যখন তারা একটি ‘অপটিমাল ডিফিকাল্টি’ বা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকে। অর্থাৎ কাজটি এমন হওয়া উচিত, যা খুব বেশি কঠিনও নয়, আবার একদম সহজও নয়।

এআই এই কম পরিশ্রমী মানুষদের সেই কাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জের জায়গা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।

এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার সময় মানুষের মস্তিষ্কের সংযোগ বা কানেক্টিভিটি ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

পসিবিলিটি সায়েন্সেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ভিভিয়েন মিং বলেন, মানুষ যখন এআই ব্যবহার করে, তখন তাদের মস্তিষ্কের গামা ওয়েভ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ।

এসবিএস সুইস বিজনেস স্কুলের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত এআই টুল ব্যবহার করেন তাদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।

কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ মিনিট এআইয়ের সাহায্যে সমস্যা সমাধানের পর যখন তাদের থেকে এআই সরিয়ে নেওয়া হয়, তখন তারা এআই ছাড়া কাজ করা মানুষদের চেয়ে বেশি খারাপ পারফর্ম করে এবং খুব সহজেই হাল ছেড়ে দেয়।

এন্ডোস্কোপি বিশেষজ্ঞদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, এআই ব্যবহারের আগে তারা ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্ত্রের ক্ষত শনাক্ত করতে পারতেন। এআই ব্যবহারের পর সেটি কেড়ে নেওয়া হলে তাদের শনাক্তকরণের হার কমে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসে।

ব্যাপারটি অনেকটা জিপিএস ব্যবহার করে গাড়ি চালানোর মতো। জিপিএস যেমন দিক নির্ণয়ের স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, এআইও ঠিক তেমনি মানুষের সামগ্রিক সক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

যাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা করার মাঝারি চাহিদা আছে, তারা বুঝবেন যে এআই তাদের মানসিক সক্ষমতা ফাঁপা করে দিচ্ছে। এই সম্ভাবনাটি তাদের চিন্তিত করবে এবং তারা মনে মনে প্রতিজ্ঞা করবেন যে তারা এর শিকার হবেন না।

কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের প্রচণ্ড চাপ ও ব্যস্ততার মাঝে তারা একসময় ঠিকই এর ফাঁদে পা দেবেন। এআই অত্যন্ত প্রলুব্ধকারী একটি প্রযুক্তি।

এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মানুষকে চ্যাটজিপিটি দিয়ে পর পর কয়েকটি প্রবন্ধ লিখতে বলা হয়, তখন তারা ধীরে ধীরে এআইয়ের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে শুধু ‘কাট-পেস্ট’ করতে শুরু করে।

প্রযুক্তি মানুষের মানসিকতাকে ‘কালটিভেশন’ বা কষ্ট করে কিছু শেখা থেকে সরিয়ে ‘অপ্টিমাইজেশন’ বা সবচেয়ে সহজে কাজ হাসিল করার দিকে নিয়ে যায়।

পুরো প্রযুক্তি শিল্পটিই অপ্টিমাইজেশনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনকে সম্পূর্ণ বাধাহীন করা। আধুনিক প্রযুক্তি মূলত একজন মানুষকে মানসিক বডি-বিল্ডার থেকে মানসিক অলসে পরিণত করতে চায়।

এই অপ্টিমাইজার গ্রুপের মানুষরাও একসময় কৌতূহল হারাতে শুরু করবেন।

সাংহাই টেক ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই দিয়ে একটি কাজ করার পর যখন অংশগ্রহণকারীদের এআই ছাড়াই অন্য একটি কাজ করতে বলা হয়, তখন তাদের অভ্যন্তরীণ অনুপ্রেরণা ১১ শতাংশ কমে যায় এবং একঘেয়েমি ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।

এছাড়া তারা ধীরে ধীরে এআইয়ের ভুল ধরতে ব্যর্থ হবেন।

ওয়ার্টন স্কুলের গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এআইয়ের দেওয়া ভুল উত্তরকে সঠিক বলে মেনে নেয়।

রিভেন্ডেল স্কুলের প্রধান ক্রিস সিব্বেন একে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন অব ডিটাচমেন্ট’ বা বিচ্ছিন্নতার শিল্পায়ন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে কাজ করার অর্থ হলো কাজের পেছনের সংগ্রাম ও শিক্ষাকে এড়িয়ে শুধু ফলাফলটাই চাওয়া। এতে একজন মানুষ অলস হওয়ার চেয়েও বেশি যা হয়, তা হলো সে অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

এবার আসি সেই মানুষদের কথায়, যাদের জ্ঞানীয় চাহিদা অনেক বেশি। এআই যুগে তারা অনেকটা ম্যারাথন দৌড়বিদদের মতো আচরণ করবেন। ২৬ দশমিক ২ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য গাড়ি একটি চমৎকার প্রযুক্তি হলেও কিছু মানুষ শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যই কষ্ট করে সেই পথ দৌড়ে পার হন।

উচ্চজ্ঞানের চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরাও ঠিক এমনই। তারা প্রজেক্টের ডেডলাইন ও চাপের মাঝেও নিজেদের মানসিক সক্ষমতা দিয়ে সমাধান বের করতে ভালোবাসেন। তারা এআইয়ের যুগে নিজেদের কাজকে আরও মৌলিক ও ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করবেন, যাতে সেটি তাদের নিজস্ব সত্তার প্রতিফলন হয়। তারা এআইকে ব্যবহার করবেন নিজেদের সক্ষমতা কমানোর জন্য নয়, বরং তা বাড়ানোর জন্য।

এই মানসিক ম্যারাথনাররা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু কার্যকর কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।

এআইয়ের কাছে সরাসরি উত্তর না চেয়ে কোনো বিষয়ের পটভূমি বা ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মানুষের অনুপ্রেরণা ও শেখার ক্ষমতা কমে না।

বটের কাছে যাওয়ার আগে একটি খালি কাগজে নিজের বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত লিখে নিন। এরপর আপনার চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এআইকে নির্দেশ দিন।

এআই দিয়ে কোনো কাজ করার পর, এমন একটি কাজ করুন যেখানে এআইয়ের প্রয়োজন নেই। এটি আপনার সৃজনশীল চিন্তার পেশিকে সচল রাখবে।

সাধারণ চ্যাটবট শেখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। কিন্তু এআই টিউটররা শেখার ক্ষমতা ও অনুপ্রেরণা বাড়ায়। বটের কাজ শুধু উত্তর দেওয়া নয়, বরং তাদের এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত যেন তারা একজন ব্যক্তিগত প্রশিক্ষকের মতো মানসিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সাধারণ ইমেইল লেখার কাজ এআইকে দিন। কিন্তু নিজের কোনো প্রবন্ধ বা মেমো এআইকে দিয়ে লেখাবেন না।

এআইকে দিয়ে সরাসরি সমস্যার সমাধান না করিয়ে তাকে লাইব্রেরিয়ানের মতো ব্যবহার করুন। যেমন, শিশু বিকাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে এআইকে বলতে পারেন জিন পিয়াজেঁ এবং এরিক এরিকসনের মধ্যে একটি কাল্পনিক বিতর্ক তৈরি করতে।

ভবিষ্যতের এই চিত্রটি একটি চরম জ্ঞানীয় মেরুকরণের দিকে ইঙ্গিত করছে। একদল মানুষ এআই ব্যবহার করে আরও বেশি চিন্তা করবেন এবং উৎপাদনশীল ও সুখী হবেন।

অন্যদিকে অধিকাংশ মানুষ এআই ব্যবহার করে চিন্তা করা কমিয়ে দেবেন এবং এতে তাদের চিন্তাশক্তি ও নিজস্ব সৃজনশীলতা দিনকে দিন কমতে থাকবে।

তবে এই ভবিষ্যৎ অবশ্যম্ভাবী নয়। মানুষের ইচ্ছাশক্তি পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তথ্য মুখস্থ করানো এবং বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এআই যুগে স্কুলগুলোকে বুদ্ধিমত্তার বদলে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাশক্তির ওপর জোর দিতে হবে।

যখন আমাদের চারপাশে এমন সব যন্ত্র থাকবে যারা সব বিষয়ে জানে, তখন মানুষকে আলাদা করবে তার কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং জ্ঞানকে সৃজনশীলভাবে প্রয়োগ করার ক্ষমতা। মূল চ্যালেঞ্জ হবে মানুষের ভেতরে কৌতূহল ও জটিল বিষয় নিয়ে ভাবার ইচ্ছাকে জাগিয়ে তোলা।

এডওয়ার্ড ডেসি এবং রিচার্ড রায়ানের ‘সেলফ-ডিটারমিনেশন থিওরি’ অনুসারে, মানুষ তখন সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হয় যখন তাদের স্বাধীনতা, সক্ষমতা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বোধ তৈরি হয়। মহান ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করলে বা চমৎকার শিল্পকর্ম দেখলে এই অনুপ্রেরণা বাড়ে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে মানুষের আসল পরিচয় নতুন করে চেনা যাচ্ছে। এতদিন মনে করা হতো ‘বুদ্ধিমত্তা’ই মানুষকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে, কিন্তু যন্ত্রের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।

আসলে মানুষের আসল পরিচয় তার আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং স্বপ্নের মধ্যে। যন্ত্রের কোনো জীবন নেই, তাই তার কোনো পিছুটান বা ভবিষ্যতের স্বপ্নও নেই। কম্পিউটার কেবল সমস্যার সমাধান করতে পারে। কিন্তু মানুষের জীবন মানে শুধুই সমস্যার সমাধান নয়, বরং অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ।

মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার ভেতরের তাড়না, যা তাকে কষ্ট করতে এবং বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়। তাই যন্ত্রনিয়ন্ত্রিত এই পৃথিবীতে মানুষের মর্যাদা ও স্বকীয়তা টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের স্বপ্ন দেখা এবং লক্ষ্য স্থির করা বন্ধ করা যাবে না।

বিএনপি সরকারের ৪ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির খতিয়ান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বছরের পর বছর ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

বাস্তবে দেখা গেল, গণঅভ্যুত্থানের পরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গুম বন্ধ হলেও সার্বিকভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা বন্ধ হয়নি। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে, মব সহিংসতা বেড়ে যায়।

এ সময় আশাহত মানুষের মধ্যে সম্ভাব্য নির্বাচিত সরকারকে কেন্দ্র করে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। সেসময় প্রথম আলোর উদ্যোগে করা এক জরিপ থেকে দেখা যায়, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আশা করেছিলেন, নির্বাচিত সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও নারীর নিশ্চিন্তে চলাফেরা ও নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সফল হবে। সরকার ভিন্ন রাজনৈতিক মতের ব্যাপারে সহিষ্ণুতা দেখাবে বলে আশাবাদী ছিলেন অর্ধেকেরও বেশি (৫৪ শতাংশ) মানুষ।

বাস্তবতা হলো, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিদিনই ঘটছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী তিন মাসে সারা দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ১০টিরও বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি ও মে মাসে ৩১০টি মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই তিন মাসে ৯৯৩টি মামলা হয়েছিল। তবে এর মধ্যে ২২৬টি ছিল আগের ঘটনার জের। ফলে তুলনামূলক প্রকৃত সংখ্যাটি ছিল ৭৬৭। অন্যদিকে ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭৯৪।

সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপিটুনি ও মব সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানের কথা বললেও তা বাস্তবে কমেনি। মার্চ ও এপ্রিলে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৬৯ থেকে ৮০টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১ থেকে ৪২ জন এবং আহত হয়েছেন ৭০ থেকে ১২৫ জন। এ ছাড়া, কারা হেফাজতে ১৪ থেকে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্যাতনে আহত হয়েছেন পাঁচজন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন একজন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাতজন এবং দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে তিনটি। বিভিন্ন স্থানে মাজার এবং ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা, কুষ্টিয়া ও সিলেটে মাজার ও বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং একজন পীরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে। সংস্থাটি বলছে, জুনে সারা দেশে অন্তত ৭৮টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগের মাসে মব সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ ও আহত ৭১ জন। সে হিসাবে আহতের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। চোর সন্দেহ, ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গুজব কিংবা ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জুন মাসের প্রতিবেদন অনুসারে, জুনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত ও নির্যাতনে তিনজন নিহত হন। তাদের মধ্যে দুইজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং একজন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান। গ্রেপ্তার এড়াতে পালাতে গিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। ২১ জুন ফরিদপুরের মধুখালীতে ডিবি পুলিশের হেফাজতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। ২৪ জুন খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে রবিন ত্রিপুরা নামে ইউপিডিএফ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ২৫ জুন খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে কথিত ডাকাত ‘দুলাইভাই বাহিনীর’ সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাকাত সরদার নামে একজন নিহত হন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুসারে, জুন মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে সাতজন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির একজন ও পাঁচজন সাধারণ আসামি। তাদের মধ্যে ২৪ জুন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকের একদিন পর যুবলীগ নেতা নুরুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান; ১৮ জুন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় আটক যুবদল কর্মী শহীদুল্লাহ রাসেলের মৃত্যু হয়।

এসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি চলমান থাকবে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া ও শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি গ্রেপ্তারের ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত মার্চ-এপ্রিল মাসে অন্তত চারজনকে ৫৪ ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার এবং একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুসারে জুন মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অন্তত ১১টি ঘটনায় ১১ জনকে আটক ও সাতটি মামলা হয়।

সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের (বিএজে) এক প্রতিবেদন অনুসারে, জুন মাসে সারা দেশে অন্তত ৪০টি ঘটনায় ৫১ জন সংবাদকর্মী শারীরিক হামলা, নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এসব হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন মাদক চোরাকারবারি, রাজনৈতিক দলের উশৃঙ্খল নেতাকর্মী, পেশাজীবী ও ঠিকাদাররা। সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’র ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও সংবাদপত্রটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে কয়েকদিন কারাগারে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনার মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগে যে ধরণের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল তা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোতে ব্যক্তি ও পোশাকের অদল-বদল হলেও মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। অথচ ন্যূনতম মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কার খুবই জরুরি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর তাদের সুপারিশে র‍্যাব বিলুপ্তি, বিজিবিকে সীমান্ত রক্ষা ও ডিজিএফআইকে সামরিক গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বিএনপি সরকারেরও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পুলিশ কমিশন গঠন ও মানবাধিকার কমিশনের সংস্কার বিষয়ে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সেগুলোও বাতিল করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিল করে বিএনপি সরকার নতুন যে খসড়া মানবাধিকার কমিশন আইন করছে, তাতে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তের এখতিয়ার খর্ব করা ও কমিশনের ওপর সরকারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।

সবমিলিয়ে নির্বাচিত সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের যে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। কোনো সরকার যতই উন্নয়ন বা জনকল্যাণের কথা বলুক না কেন, আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক না হলে সেই সরকার দ্রুত অজনপ্রিয় হয়ে যায়।

তাই পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পরিণতি বরণ করতে না চাইলে বিএনপি সরকারের উচিত হবে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এজন্য একদিকে সরকারি দল বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে, নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব থেকে দূরে রাখতে হবে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারবিভাগের কাঠামোগত সংস্কার করে সত্যিকার অর্থে পেশাদার পুলিশ বাহিনী ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদারকি ও জবাবদিহিতার জন্য স্বাধীন ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠন করতে হবে।

আর এসব কিছুর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক বাস্তব সমস্যার গভীরতা উপলব্ধি করে তা সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা পোষণ করবার উপর।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন।
[email protected]

১৬ বছর পর বিশ্বকাপে পয়েন্ট দক্ষিণ আফ্রিকার

নিজেদের প্রথম ম্যাচে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল চেকিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা দুই দলকেই। দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য ঝাঁপালেও এক পয়েন্টের বেশি পায়নি কোনো দলই। ১-১ গোলে ড্র করে ক্ষীণভাবে দুই দলই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে টিকে রইলো। 

এই ড্রয়ের ফলে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে কোনো পয়েন্ট পেলো দক্ষিণ আফ্রিকা। সবশেষ নিজেদের দেশে অনুষ্ঠিত ২০১০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আফ্রিকান দেশটি।

ম্যাচে ভালো শুরু করেছিল চেকিয়া। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মাথায় দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন চেক স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক। অরক্ষিত অবস্থায় থেকেও ঠিকভাবে হেড করতে না পারায় সুযোগ হারায় দলটি। তবে এগিয়ে যেতেও বেশি সময় নেয়নি তারা। ৬ মিনিট হওয়ার আগেই গোল করে চেকিয়াকে এগিয়ে নেন মিশাল সাদিলেক। এবারের আসরে এটিই এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোল। 

প্রথমার্ধে কোনো দলই আর পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে বক্সের ভেতর চেক খেলোয়াড় পাভেল সাল্কের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। স্পটকিক থেকে গোল করে খেলায় সমতা আনেন তেবোহো মোকোয়েনা। 

যোগ করা সময়ে মরিয়া হয়ে জয়সূচক গোলের চেষ্টা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভালো একটি আক্রমণও করেছিল, কিন্তু গোল পায়নি। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতাতেই খেলা শেষ হয়। 

এই ড্রয়ের ফলে গোল ব্যবধানে গ্রুপ ‘এ’ তে চেকিয়া আছে তৃতীয় স্থানে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা চতুর্থ স্থানে।  

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় ৩ বছর বাড়ানোর সুপারিশ জাতিসংঘ কমিটির

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ যে অনুরোধ জানিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।

বাংলাদেশ সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সিডিপির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

আজ মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বিষয়ে সরকারের প্রচেষ্টার পর সিডিপির ইতিবাচক সুপারিশের ঘোষণা এসেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করেছেন, কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি করা যথাযথ হবে। তবে বাংলাদেশকে এই সময়ে তার বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে হবে।

সিডিপি তাদের মূল্যায়নে উল্লেখ করেছে, এলডিসি উত্তরণে তিনটি সূচকের প্রতিটিতেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। নিকট ও মধ্যমেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

কমিটি বাংলাদেশ প্রণীত ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করে, প্রস্তুতি পর্বের সময়কাল বাড়লে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তারা একইসঙ্গে বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুতি পর্ব ও উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা ও বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধি।

সিডিপি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে আর্থিকখাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জোরদার, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ ও বেসরকারিখাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কমিটির মতে, প্রস্তুতি পর্বের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হলেও সেটাকে সংস্কার কার্যক্রমে দেরি করার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার সিডিপির এই ইতিবাচক মূল্যায়ন ও সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে।

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি: তথ্যমন্ত্রী

বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে বর্তমান সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রেই ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা ঘাড়ে নিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেছেন, এই অবস্থা থেকে দেশকে আবারও স্বাবলম্বী করতে বর্তমান সরকারের কমপক্ষে ২ বছর সময় লাগবে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একসময় দেশের দায়িত্ব নিয়েছি, যখন বিগত সরকারের লুট করে যাওয়া অর্থনীতির কারণে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। প্রতিবছর আমাদের ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হবে। আমাদের রপ্তানি আয় বছরে মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো। রেমিট্যান্স থেকে আমাদের আয় ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার। আমাদের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর, আমাদের ৬০-৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করতে হয়। ফলে আমাদের ঘাটতি অর্থনীতি ও ঘাটতি বাজেট নিয়ে চলতে হয়।’

অতীতের সরকারের লুটের দায়দায়িত্ব জনগণকে বহন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ভাঙা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি থেকে দেশকে আবার স্বাবলম্বী করতে এই সরকারের কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। সেই কারণে আমাদের সব ভোটারকে সজাগ করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক সংকট পুনরুদ্ধারের এই জটিল সময়ে কেউ আমাদের রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত করতে না পারে।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘হাজার বছর ধরে এই দেশে নানা ধর্ম ও নানা বর্ণের মানুষ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাস করি। এর মধ্যে কোনো সংঘাত ও বিরোধ তৈরি হওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু যারা ভোটারবিহীন ও গণবিচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল এবং দখল করে থাকতে চেয়েছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভেদ তৈরি করত। এর মধ্যে একটা বড় বিরোধ হচ্ছে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে আমরা অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক তর্কবিতর্ক করছি এবং তর্কবিতর্ক আমরা আরও করব। কারণ, গঠনমূলক তর্কবিতর্কের মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু কোনোভাবেই আমাদের সংসদের গঠনমূলক সমালোচনা যেন কেউ রাজপথে নিয়ে আসতে না পারে এবং সেই অজুহাতে যাতে আবার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম-ওলামাদেরও এ ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছর আমরা যদি একটি শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে না পারি, তাহলে ভাঙা অর্থনীতিকে আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারব না। আমাদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক এবং শান্তিপূর্ণ সামাজিক-ধর্মীয় জীবন অব্যাহত রাখতে পারব না।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী দিনের রাজনীতিতে সামাজিক স্থিতিশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই ক্ষেত্রে আপনারা যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করেন, তারা হতে পারেন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।’

এবার কার বায়োপিকে আমির

আমির খানের সর্বশেষ সিনেমা ছিল সিতারে জামিন পার। তারপর তার নতুন সিনেমা নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে আমিরের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ছিল বায়োপিকে অভিনয়ের।

একসময় তিনি গুলশান কুমারের বায়োপিকে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। পরে দাদাসাহেব ফালকের বায়োপিকে কাজ করার জোর গুঞ্জন ছিল। অবশেষে মনে হচ্ছে তিনি তার পছন্দের কাজ পেয়ে গেছেন।

সূত্রের বরাতে বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়, অশনীর গ্রোভারের বায়োপিকে কাজ করতে রাজি হয়েছেন আমির খান। ভারত-পের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্টার্টআপ জগতে তার অবদান বলিউডের এই সুপারস্টারকে মুগ্ধ করেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘আমির স্ক্রিপ্ট পড়েছেন এবং খুব পছন্দ করেছেন। তিনি এই সিনেমাতে কাজ করছেন। বর্তমানে এটি প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে আছে। এছাড়া অশনীর দর্শকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত হওয়ায় গল্পটি খুবই রিলেটেবল।’

বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অশনীরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বড় পর্দায় তার বায়োপিকে কাকে দেখতে চান। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, প্রথমে তার মনে আসে খানদের বা অক্ষয় কুমারের কথা। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট অভিনেতার প্রতি তার পক্ষপাতী নন। কারণ তার বিশ্বাস, গল্পই আসল নায়ক, তাই যে অভিনেতা গল্প নিয়ে ভাববেন, তাকেই নেওয়া উচিত।

ছবিতে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা

ইরানের ওপর আজ শনিবার ভোরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর মধ্যপ্রাচ্য আবারও পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কায় দাঁড়িয়ে গেছে। কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা, পারমাণবিক আলোচনা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির পর এই হামলা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হামলাকে ‘প্রতিরোধমূলক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, ইরানের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, অভিযানটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অপারেশন।

তেহরানে বিস্ফোরণ, জরুরি অবস্থা

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম জানায়, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং রিপাবলিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়। হামলার পরপরই শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন দেখা দেয় এবং সম্ভাব্য ইন্টারনেট বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েলজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। তেল আবিব আশঙ্কা করছে, ইরান ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালাতে পারে।

প্রতিরোধ না প্ররোচনা?

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দিকে এগোচ্ছে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি ছিল ভবিষ্যৎ আক্রমণ প্রতিরোধের অংশ।

তবে সমালোচকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ সরাসরি ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা সংঘাতকে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংকটে রূপ দিতে পারে।

রাশিয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনা ছিল সামরিক অভিযানের আগে একটি ‘আড়াল’ মাত্র। তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ সংহতির বার্তা তেহরানের

হামলার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সরকারপন্থী সমাবেশের পূর্বধারণকৃত ভিডিও প্রচার শুরু করে। সেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বক্তব্য সম্প্রচার করা হয়, যেখানে তিনি ‘শত্রুদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য’ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য অভ্যন্তরীণ জনমত প্রস্তুত করার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এই সংঘাত এখন সরাসরি রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। গাজা যুদ্ধ, লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় প্রক্সি সংঘাতের পর এবার ইরান সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।

ইরান যদি বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।

সামনে কী?

বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে। পাল্টা হামলা সীমিত থাকবে, নাকি তা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে, তা নির্ধারণ করবে আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনের ঘটনাপ্রবাহ।

একটি বিষয় স্পষ্ট, আজকের এই হামলা শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।