28.3 C
Dhaka
Home Blog

এক বছরে বাংলাদেশিদের ১৪ লাখ ভিসা দিয়েছে সৌদি আরব: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য ২০২৫ সালে ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসাসহ ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি সরকার।

আজ রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং সৌদি আরব-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৫ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসা এবং সব মিলিয়ে ১৪ লাখ ভিসা দিয়েছে। সৌদি আরবে অনেক উন্নয়ন কাজ চলছে বলে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবকে বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও দীর্ঘকালীন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া ১৯৭৭ সালে সৌদি আরবে এক ঐতিহাসিক সফরও করেছিলেন।

মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তার ঐতিহাসিক অবদানের কথা উভয়পক্ষই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেন।

ড. খলিলুর রহমান মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীকে সৌদি আরবে কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানিসহ অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুরোধে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে সৌদি আরবের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তার প্রশংসাও করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সৌদি আরবের সমর্থন কামনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও ব্যাপক ও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এর আগে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে তাকে অভিনন্দন জানান সৌদি রাষ্ট্রদূত।

প্রতিমন্ত্রী সৌদি ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

উভয়পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গাদের জন্য আসা ত্রাণের অর্থ অপব্যবহারের খেসারত

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটগুলোর একটি। মিয়ানমার থেকে নিপীড়িত হয়ে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে তাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে সংস্থাটি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বের অন্যতম অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য এই সহায়তা কার্যক্রমে ইউএনএইচসিআরের অবদান নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঠিক এই কারণেই সম্প্রতি নিউ এজ-এ প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টের পর্যবেক্ষণগুলো গভীর মনোযোগ দাবি করে। জাতিসংঘের সদর দপ্তরের অফিস অব ইন্টারনাল ওভারসাইট সার্ভিসেস (ওআইওএস) ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের ওপর পরিচালিত এই অডিটে বাংলাদেশের ইউএনএইচসিআর পরিচালিত রোহিঙ্গা সহায়তা প্রকল্পগুলোতে গুরুতর অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও ত্রাণ সহায়তার অপব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে।

অডিট প্রতিবেদনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এখানে তুলে ধরা হলো:

১. ত্রাণসামগ্রী অপচয়: এমন অনেক ত্রাণ সামগ্রী কেনা হয়েছে যেগুলো রোহিঙ্গাদের কোনো প্রয়োজন ছিল না। যেমন: খাওয়ার জন্য চামচ, কাঁটাচামচ ও ছুরি। রোহিঙ্গারা হাত দিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন। তাই তাদের খাওয়ার জন্য এসব সামগ্রী কেনার কোনো অর্থ হয় না। তাও তাদের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ডলার মূল্যের চামচ, কাঁটাচামচ ও ছুরি কেনা হয়েছে। এসব নিয়ে বারবার অভিযোগ করার পরও ত্রাণসামগ্রীর ধরন পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে ৬২ হাজারের বেশি কুকিং সেট গুদামে পড়ে ছিল, যার মূল্য ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

২. হাতি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের নামে অপচয়: ২২ লাখ ডলার বা ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৯টি হাতি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। পরে মূল্যায়নে দেখা যায়, টাওয়ারগুলো কার্যকর নয়। ৮৩টি টাওয়ারের ছাদ ঘূর্ণিঝড়-উপযোগী না হওয়ায় তা খুলে ফেলতে হয়। এতে ৫৬ হাজার ডলার মূল্যের উপকরণ নষ্ট হয়। টাওয়ারগুলো টেকসই করতে আরও ৩ লাখ ৬৭ ডলার ব্যয় করা হলেও তা কোনো কাজে লাগেনি। ২০২৫ সালের মূল্যায়নে টাওয়ারের সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করা হলেও অডিট পর্যন্ত মাত্র ১২টি অপসারণ করা হয়।

৩. অপ্রয়োজনীয় যানবাহন: সরকারি প্রকল্পের মতোই অপ্রয়োজনীয় গাড়ি কেনা হয়েছে। ১৬টি ক্যাম্পের জন্য কেনা ৫২টি গাড়ির কোনো যৌক্তিকতা দেখাতে পারেনি ইউএনইএচসিআর। প্রশাসনিক কাজে ৪৮টি গাড়ি কেনা হয়েছে, যদিও এসব গাড়ির চালক মাত্র ২৯ জন। ১০৪টি গাড়ির মধ্যে ১০টি দীর্ঘদিন অচল ছিল। তারপরেও এসব অচল গাড়ির জন্য ভাড়া বাবদ ৮০ হাজার ডলারের বেশি পরিশোধ করা হয়েছে।

৪. এলপিজি ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয়: ২ কোটি ৪২ লাখ ডলার বা ২৯৫ কোটি টাকা মূল্যের এলপিজি রিফিল কেনা হলেও প্রকৃত প্রয়োজন ছিল ১ কোটি ৮৭ লাখ ডলার বা ২২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় ৫৫ লাখ ডলার বা ৬৭ কোটি টাকা বেশি ব্যয় করা হয়েছে।

৫. নির্মাণ ও কেনাকাটায় অপচয়: কক্সবাজারে ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন অফিস নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জমির মালিকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। প্রকল্প চলাকালে নকশা পরিবর্তন করে তৃতীয়তলা যোগ করায় ব্যয় বেড়ে যায়। ভবন নির্মাণ শেষে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেন জমির মালিক, যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক ভাড়াচুক্তি ছিল না। নতুন অফিস পাঁচ মাস খালি পড়ে থাকলেও পুরোনো অফিসের জন্য প্রতি মাসে ১১ হাজার ডলার বা ১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে।

এছাড়া, এমন কতগুলো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে যেগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে উখিয়ায় ১৫ লাখ ডলার (প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা) ব্যয়ে নির্মিত একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, ভাসানচরে স্থাপিত ২০ শয্যার হাসপাতাল ও সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি যার মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা) এবং ৭৪ হাজার ৩০১ ডলার (প্রায় ৯১ লাখ টাকা) মূল্যের একটি এক্স-রে মেশিন।

৬. ঠিকাদার নির্বাচন ও কেনাকাটায় অনিয়ম: ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৩০৫ কোটি টাকা মূল্যের নির্মাণকাজ ও কেনাকাটার কাজ একজন ঠিকাদারকেই দেওয়া হয়। এই ঠিকাদার বাজার দরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি দর নিয়েছে, যার ফলে ক্ষতি হয়েছে ৬৫ লাখ ডলার বা ৭৯ কোটি টাকা। আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণেও একজন ঠিকাদারের ওপর নির্ভর করা হয়। যদিও ২০২৪ সালে নির্বাচিত অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের দর ছিল ৩৩–৪৩ শতাংশ কম।

এলপিজি রিফিল, চুলা, ইগনাইটার, প্রেসার কুকার ও প্রশিক্ষণের জন্য ৩ কোটি ডলার বা ৩৬৬ কোটি টাকা মূল্যের কাজও একজন সরবরাহকারীকে দেওয়া হয়, যদিও তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন না। ওই সরবরাহকারী আবার অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করায় ব্যয় আরও বেড়ে যায়। চুক্তি অনুযায়ী এলপিজি ডিপোর খরচ ঠিকাদারের বহন করার কথা থাকলেও ইউএনএইচসিআর নিজেই ১৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা ২০ কোটি টাকা নিজে পরিশোধ করে। প্রেসার কুকারের ওয়ারেন্টির আওতায় স্পার্ক লাইটার পাওয়ার কথা থাকলেও আরও ৬৫ হাজার ডলার বা ৮০ লাখ টাকা মূল্যের লাইটার কেনা হয়।

৭. জ্বালানি ও পরিবেশ প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়: ৩৯ লাখ ডলার বা ৪৭ কোটি টাকা মূল্যের জ্বালানি ও পরিবেশ কর্মসূচিতে বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে কাজ করানো হয়েছে। ২০২১ সালের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ঠিকাদারের দর বাজারদর ও অন্যান্য সংস্থার তুলনায় সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ বেশি ছিল। ২০২৩ সালে কোনো যৌক্তিকতা ছাড়াই আরও ১৯–২৫ শতাংশ দর বাড়ানো হয়। এতে ২ লাখ ৯৪ হাজার ডলার বা ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বাড়তি ব্যয় হয়। বৈদ্যুতিক কাজের জন্য বাজারদরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১৫ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা প্রণয়ন ও বৈদ্যুতিক স্থাপনার কাজ করানো হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে স্বার্থের সংঘাতের সৃষ্টি করেছে।

এই অডিটের পর্যবেক্ষণগুলোর গুরুত্ব শুধু হিসাব-নিকাশ বা আর্থিক অনিয়মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

রোহিঙ্গাদের জন্য পরিচালিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এখন তীব্র অর্থসংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে একের পর এক মানবিক সংকট দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিলের জন্য প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং গত কয়েক বছরে রোহিঙ্গা সংকটে দাতা দেশগুলোর অর্থ সহায়তা কমেছে। এর ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে আনতে হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং শরণার্থী শিবিরে ন্যূনতম সেবাগুলো চালিয়ে রাখতেও সাহায্য সংস্থাগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি ডলারই অত্যন্ত মূল্যবান। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় মানে এমন অর্থের অপচয়, যা দিয়ে শরণার্থী পরিবারগুলোর খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় বা সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেত। তাই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অপচয় কেবল অদক্ষতার বিষয় নয়; এর প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ে দুনিয়ার সবচেয়ে অসহায় মানুষের জীবনের উপর।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানবিক সহায়তা মূলত দাতা দেশগুলোর জনগণের আস্থার ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের করদাতাদের অর্থ আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ করে এই বিশ্বাসে যে, সেই অর্থ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ব্যয় হবে। কিন্তু দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কিংবা অকার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো অভিযোগ সেই আস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। যদি দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা সংকটে অর্থায়নের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তাহলে তার খেসারত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নয়, প্রথমে দিতে হবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের। একইসঙ্গে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সেবায় অর্থায়নের ঘাটতি পূরণের অতিরিক্ত চাপ পড়বে বাংলাদেশের ওপরও। অথচ বাংলাদেশ এমনিতেই নিজস্ব অর্থনৈতিক ও রাজস্বসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর অডিটে উত্থাপিত অনেক পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করেছে এবং সংশোধনমূলক উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তবে সেই প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে। ক্রয় ব্যবস্থা কীভাবে শক্তিশালী করা হচ্ছে, প্রকল্প পরিকল্পনায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং অডিটের সুপারিশগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, এসব বিষয় জনসমক্ষে স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

দিনে দিনে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সহায়তার পরিমাণ কমছে। অথচ রোহিঙ্গাদের সংকটের কোনো সমাধান হচ্ছে না, তাদের প্রয়োজনও কমছে না। এরকম একটা অবস্থায় যতটুকু অর্থই পাওয়া যাচ্ছে, তার সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে অপচয়, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার খেসারত কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে না; দিতে হবে সেইসব রোহিঙ্গা পরিবারকে, যাদের বেঁচে থাকা এখনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন।
[email protected]

প্রথম এশিয়া-প্যাসিফিক এআই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ৩টি স্বর্ণপদক জয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রথম এশিয়া-প্যাসিফিক অলিম্পিয়াডে (এপিওএআই) তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে আর কোনো দেশ এককভাবে এতগুলো স্বর্ণপদক জেতেনি। 

চীন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান ও ইরানসহ ১৮টি দেশের ১২৯ শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। মোট ১০টি স্বর্ণপদকের মধ্যে তিনটিই অর্জন করেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশের হয়ে এই গৌরব এনে দিয়েছে হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির মো. সাইদুজ্জামান এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ত্রিদিব রায়। আন্তর্জাতিক এই আসরের চূড়ান্ত র‍্যাঙ্কিংয়ে তারা যথাক্রমে ৪র্থ, ৫ম ও ৯ম স্থান অর্জন করেছে। 

বাংলাদেশ দলের আরও ৪ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে সম্মানজনক স্বীকৃতি। তারা হলো দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাওফিল রহমান, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈরা নাওয়ার আহমেদ, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনন্য যারিফ আকন্দ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম। দলের আরেক সদস্য ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুর্তজা আব্দুল্লাহ।

গত ১৩ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (আইআইটি) থেকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের মতো সরাসরি অনলাইনে ভিডিও প্রক্টরিং ও স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয় বাংলাদেশ দলের আট শিক্ষার্থী। 

ছয় ঘণ্টার এই প্রতিযোগিতায় ‘বোরিয়াম’ নামের প্ল্যাটফর্মে চারটি পৃথক মেশিন লার্নিং সমস্যার সমাধান করে প্রতিযোগীরা।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) জানায়, এপ্রিল মাসে স্থানীয় বাছাইপর্বের মাধ্যমে জাতীয় কার্যক্রম শুরু হয়। 

বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) জানায়, গত এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হয়। 

আঞ্চলিক পর্ব শেষে ১৬ মে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। 

২০ থেকে ২৩ মে আয়োজিত জাতীয় নির্বাচন ক্যাম্পের মাধ্যমে চূড়ান্ত দল গঠন করা হয়।
 

কুরাসাওকে বাস্তবতা বুঝিয়ে বিশাল জয়ে শুরু জার্মানির

ম্যাচ শুরুর আগে ধারাভাষ্যকারেরা বলছিলেন, সত্যিকারের ডেভিড-গোলিয়াথ লড়াই বোধহয় একেই বলে। একদিকে মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও, প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসার আনন্দে যারা বিভোর। আরেকদিকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, যৌথভাবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সফলতম দল। মাঠের খেলায়ও সেই ব্যবধান ভালোভাবেই বুঝিয়েছে জার্মানরা। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জার্মানি। 

শুধু ফলাফল দেখে মনে হতে পারে একপেশে ম্যাচ হয়েছে, কিন্তু ম্যাচের শুরুটা বেশ রোমাঞ্চকরই হয়েছিলো। মাত্র ৬ মিনিটে ফেলিক্স মেচার বাঁকানো শটে জার্মানি এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ শুরু থেকেই রাখতে চলেছে তারা। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২১ মিনিটে গোল শোধ করে বসে কুরাসাও। ডি বক্সের ভেতর থেকে নেয়া জোরালো শট জার্মান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে ঢুকলেও ইতিহাসে নাম উঠে গেছে লিভানো কোমেনেন্সিয়ার। কুরাসাওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করার কৃতিত্ব আজীবনের মতো হয়ে গেলো তার। 

অপ্রত্যাশিতভাবে গোল খেয়ে জার্মানি নড়েচড়ে বসলেও কুরাসাও বেশ গোছানো ফুটবল খেলেছে এরপর। বিশেষ করে ডিফেন্স লাইন এবং ইন্টার মায়ামিতে খেলা গোলকিপার এলয় রুম বেশ কয়েকবার জার্মান আক্রমণ ঠেকিয়েছেন। কিন্তু ৩৮ মিনিটে কর্ণার থেকে নিকো শ্লটারব্যাকের হেডে এগিয়ে যাওয়ার পর আর জার্মানিকে ধরতে পারেনি ৮১ তম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলা কুরাসাও। 

তবে কুরাসাওয়ের মনোবল ভাঙার কাজ জার্মানি করেছে বিরতির আগে-পরে মিলিয়ে দুই মিনিটে দুই গোল করে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে অযথা ফাউল করে জার্মানিকে পেনাল্টি উপহার দেয় ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশটি, ফলাফল কাই হাভার্টজের গোলে ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি। বিরতি থেকে ফিরেই আবার গোল, ৪৭ মিনিটে কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। 

হুট করে দুই গোল খেয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি কুরাসাও। দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময়টা জার্মানি আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। ৬৮ মিনিটে সুন্দর ফিনিশিংয়ে ন্যাথানিয়েল ব্রাউন আর বদলি হিসেবে নেমে ৭৮ মিনিটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন ডেনিজ উন্দাভ। গোলবন্যার শেষটাও হয়েছে হাভার্টজকে দিয়ে, ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন জার্মানির। 

বড় জয়ের মাঝেও জার্মানি কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানকে আলাদা স্বস্তি দিবে ছয়জন আলাদা খেলোয়াড়ের গোল করার বিষয়টি। বিশেষ করে মেচা ও মুসিয়ালার প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে কোচের খুশি হওয়ারই কথা। দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় এই জয়ে তাই নির্ভারই থাকবে জার্মানরা।

মেডিকেল কলেজের নামে অপপ্রচার ও হুমকি: সাবেক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

গাজীপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো এবং প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক সাবেক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) ঢাকার বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫০০ (মানহানি) ও ৫০৬ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার সিআর নম্বর ৫১৭/২৬। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ও কলেজ সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান মাসুদ। মামলার একমাত্র আসামি ডা. কাজল আক্তার, যিনি পূর্বে প্রতিষ্ঠানটির প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল গত ২৬ বছর ধরে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে। কর্মরত অবস্থায় ডা. কাজল আক্তারের বিরুদ্ধে গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ, নৈতিক স্খলন এবং শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি থেকে অব্যাহতির পর ডা. কাজল আক্তার ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্রের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু করেন। তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন ছদ্মনাম, ভুয়া ফেসবুক আইডি, বেনামী হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং ইমেইল ব্যবহার করে কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর একটি বেনামী হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মানহানিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি “Medical Admission Helpline 2025-2026” নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ‘জুলফিকার খান’ নামে একটি ভুয়া আইডি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়।

এ ছাড়া, ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি বেনামী ইমেইল থেকে কলেজের অফিসিয়াল ইমেইল ঠিকানায় বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠানো হয়। এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি ডা. কাজল আক্তার পরিচালিত বলে অভিযোগ করা “Probash World” নামের একটি ফেসবুক পেজে কলেজের প্রশাসনিক নীতি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত বিষয় জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, এসব অপপ্রচারের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে গত ৭ মার্চ কলেজ কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বেনামী ফেসবুক আইডি, ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরগুলো ডা. কাজল আক্তার পরিচালনা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়।

ডিজিটাল আলামত সংগ্রহের পর গত ৫ এপ্রিল ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২৬০) করা হয়। পরবর্তীতে ১০ মে আসামির কাছে একটি আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) পাঠানো হলেও তিনি এর কোনো জবাব দেননি বলে বাদীপক্ষের দাবি।

বাদীর অভিযোগ, আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরও ডা. কাজল আক্তার ও তাঁর সহযোগীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তারা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. মুবিন খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, পরিকল্পিত এই অপপ্রচারের কারণে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘদিনের অর্জিত প্রতিষ্ঠানের সুনাম, জনআস্থা এবং আর্থিক স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাদীপক্ষ আদালতের কাছে আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে।

২ দিনে সাভার ট্যানারিতে চামড়া এসেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার

ঈদের প্রথম দুই দিনে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে পৌঁছেছে।

আজ শনিবার বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. শওকত উল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত ঈদের দিন ও পরদিন শিল্পনগরীতে চামড়া এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার গরু ও ১৬ হাজার ছাগলের চামড়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংগৃহীত চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দুই থেকে তিন দিন পর প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে।’

এবারের কোরবানির ঈদকে ঘিরে শিল্পখাতের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শওকত উল্লাহ।

ট্যানারি মালিকরা এ বছর ৭৫ লাখ থেকে ৮০ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ চামড়া সরাসরি রাজধানী থেকে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে ঢাকায় কাঁচা চামড়ার দাম সামান্য বেড়েছে। অবশ্য তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এখনো নিচে রয়েছে।

রাজধানীতে বড় ও মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম ঈদের দিনের তুলনায় অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে। তবে ছাগলের ও ছোট আকারের গরুর চামড়ার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বড় ও ভালো মানের চামড়া বেশি আসার কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, লালবাগ এবং পোস্তা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় আকারের গরুর চামড়ার দাম উঠছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

ঈদের দিন মাঝারি আকারের চামড়া ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকায় আকারভেদে গরুর চামড়া ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে।

পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। মান ও আকারভেদে চামড়া ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে, রাজধানীর বাইরে কম দামের কারণে ব্যবসায়ীরা অবিক্রীত চামড়া ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির গতকাল লালবাগের পোস্তায় চামড়া বিক্রি পরিদর্শন শেষে বলেন, ‘সরকার কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ জুলাই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।’

মুক্তাদির আরও বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করা হলেও এখনও অনেক ট্যানারি পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।’

তিনি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন। এসব সমস্যার সমাধান এবং অধিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্পে আরও শিল্পায়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় তিন মাসব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের ৭ম ব্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধিরা এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, “ডিজিটাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই প্রকল্পের আওতায় ৭ম ব্যাচে ৪৮০০ হাজার তরুণ-তরুণী কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইনের মতো চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এ উদ্যোগ তাদের আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সহায়তা করবে। সরকারের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেকারত্ব হ্রাস এবং পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, “দেশের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষণার্থীরা যদি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, তবে তারা নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে সফলভাবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন। এই উদ্যোগ তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও সুগম করবে।”

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, “বাংলাদেশের অসংখ্য ফ্রিল্যান্সার আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছেন। তবে তাদের অনেকেই নিজেদের সাফল্যের গল্প প্রকাশ করেন না। আমি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা নিজেদের অর্জন ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করুন। আপনাদের সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আরও বেশি তরুণ-তরুণী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত হবে।”

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার শিক্ষিত যুব-যুবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।

২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী ৭ম ব্যাচের প্রশিক্ষণে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস তরুণ-তরুণীরা এ সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ছয়টি ব্যাচে ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ১১ হাজার ৩৫৩ জন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন।

এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মোট আয় ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯০ মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৭ টাকা। সব মিলিয়ে তাদের মোট উপার্জনের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ২১৫ টাকা। প্রশিক্ষণার্থীদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এবারের ব্যাচে ভর্তির জন্য লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে প্রায় ৭০ হাজার আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংরেজি, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিং।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত কার্যক্রম তদারকি করছেন।

মির্জা আব্বাস অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন: আফরোজা আব্বাস

মালয়েশিয়ায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।

আজ বুধবার রাতে এ কথা জানান তিনি।

আফরোজা আব্বাস বলেন, আল্লাহর রহমতে এখন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো। তিনি অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।

তিনি বলেন, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। প্রতিদিন তাকে থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।

মির্জা আব্বাসের জন্য দেশবাসী ও প্রবাসীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন আফরোজা।

অসুস্থ হওয়ার পর এ প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মির্জা আব্বাসের একটি ছবিও পোস্ট করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, হুইল চেয়ারে বসে আছেন সাবেক এই মন্ত্রী। তার পাশে রয়েছেন আফরোজা আব্বাস ও ছোট ভাই মির্জা খোকনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

আফরোজা আব্বাস বলেন, এই ছবিটি আজ তোলা হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত ১৪ এপ্রিল মির্জা আব্বাসকে ফিজিওথেরাপির দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় মির্জা আব্বাস হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

গত ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর তার অবস্থার উন্নতি হয়।

পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে মির্জা আব্বাসকে ফিজিওথেরাপি দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সুমন, তুষি ও ইমরানের ‘রইদ’ ঈদুল আজহায়

‘হাওয়া’-খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত নতুন সিনেমা ‘রইদ’ আগামী ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে।

খবরটি নিশ্চিত করে নির্মাতা বলেন, ‘আসছে কোরবানি ঈদকে ঘিরেই পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সময় চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিতে চাই। সেভাবেই কাজ করছি।’

এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অনেকে।

গত বছরের শেষে ‘রইদ’ সিনেমার পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছিল। সেসময় দর্শকরা বেশ পছন্দ করেন। এরপর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের ৫৫তম আসরে অংশ নেয় সিনেমাটি। সেখান থেকে পুরস্কার নিয়ে ফিরতে না পারলেও দর্শকদের একরাশ মুগ্ধতা দিয়েছে।

‘রইদ’ সিনেমার প্লট গড়ে উঠেছে সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে নিয়ে। মূল পাত্র-পাত্রী নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এ ছবিটির সেট তৈরিতে ফাঁকা জায়গায় প্রায় ৫০ হাজার গাছ লাগিয়েছিলেন পরিচালক।

দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সেই গাছগুলোর নিবিড় যত্ন নেওয়া হয়েছিল, পুরো এলাকাটি যেন সিনেমার সঙ্গে মিশে যায়। লোকেশনকে কেবল ব্যবহার নয়, বরং লোকেশনকে গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতেই এই কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন নির্মাতা।

সুমন জানান, ‘রইদ’ একটি প্রতীকী ও বহুমাত্রিক আখ্যান। এখানে সাধু, তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী এবং তাদের বাড়ির পাশের তালগাছকে কেন্দ্র করে গল্পটি আবর্তিত হয়েছে।

নির্মাতা আরও জানান, এই চলচ্চিত্রে তিনি হাজার বছরের পুরোনো আখ্যানকে সমসাময়িক অনুভূতির ভেতর দিয়ে পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করেছেন। এতে গ্রামীণ বাংলার নান্দনিকতা ও চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের শিল্পভাবনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’ মুক্তি পায় ২০২২ সালে। মুক্তির পর দেশে ও বিদেশে সাড়া ফেলেছিল সিনেমাটি। 

ইসরায়েল লক্ষ্য করে আরেক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

ইসরায়েল লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

প্রায় একই সময়ে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরান দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন ঢেউ প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা কাতারের রাজধানী দোহা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে নতুন দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

ইরান বলেছে, তারা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আজ সকাল থেকে ইসরায়েলের দিকে প্রায় ৩৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রতিহত করা হয়েছে, আর অন্যগুলো খোলা এলাকায় আঘাত হেনেছে।