28.5 C
Dhaka
Home Blog

৩ মাসে বাংলাদেশ থেকে আপলোড করা দেড় কোটি ভিডিও ডিলিট করেছে টিকটক

টিকটকের কমিউনিটি গাইডলাইনস লঙ্ঘনের কারণে বাংলাদেশ থেকে আপলোড করা প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ভিডিও ডিলিট করেছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক।

গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত টিকটকের সর্বশেষ কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) বাংলাদেশের মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৫টি ভিডিও ডিলিট করা হয়েছে। যা প্ল্যাটফর্মটিতে আপলোড করা মোট কনটেন্টের প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।

টিকটক জানিয়েছে, ইউজাররা রিপোর্ট করা বা অভিযোগ জানানোর আগেই ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভিডিও শনাক্ত করে ডিলিট করা হয়েছে। এসব ভিডিওর ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ পোস্ট করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানো হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে ইউজারদের আপিলসহ অন্যান্য কারণে ২ লাখ ৫ হাজার ১টি ভিডিও আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে একই সময়ে মোট ১৮ কোটি ৮৩ লাখের বেশি ভিডিও ডিলিট করেছে টিকটক, যা আপলোড করা মোট কনটেন্টের প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

টিকটকের নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ডিলিট করা ভিডিওগুলো মূলত অশ্লীল, সংবেদনশীল ও আপত্তিকর কনটেন্টযুক্ত। পাশাপাশি, এডিটেড মিডিয়া ও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টও ডিলিট করেছে টিকটক।

ভিডিওর পাশাপাশি ওই ত্রৈমাসিকে বিশ্বজুড়ে ২৭ কোটি ৮৩ লাখের বেশি কমেন্ট ডিলিট করেছে টিকটক। আগের ত্রৈমাসিকে এ সংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ৭৫ লাখ।

এই তিন মাসে প্রায় ১৪ কোটি ৬৮ লাখ ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে টিকটক।

পাশাপাশি, ২ কোটি ৬৮ লাখ সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে টিকটক। ধারণা করা হয়, ওই অ্যাকাউন্টগুলো ১৩ বছরের কম বয়সীরা ব্যবহার করছিল, যা টিকটকের নীতিমালা পরিপন্থি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিভিন্ন নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জড়ো হন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে তারেক রহমান বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকরা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

সকল নেতাকর্মীর অবদান গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে দলের চেয়ারম্যান বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলটির বিভিন্ন কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

তারেক রহমান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর মৎস্য অবমুক্ত করেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা হবে। সেখানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এতে অংশ নেবেন।

পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ২ জাহাজের সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজের সঙ্গে নোঙর করে থাকা অপর এক খালি জাহাজের সংঘর্ষ হয়েছে।

লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাটিতে ৩৫ হাজার ৩৫০ টন সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ছিল বলে জানা গেছে।

আজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আলফা অ্যাংকরেজ এলাকায় নোঙর করার সময় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এমভি আনাসসা নামের জাহাজটি প্রবল স্রোতের কারণে আগে থেকে নোঙর করে থাকা বাংলাদেশি পতাকাবাহী এমভি জাহাব জাহানের সামনের অংশে ধাক্কা দেয়।

তিনি জানান, দুর্ঘটনায় কোনো হতাহত, জাহাজে পানি ঢোকা বা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি।

বন্দর কর্মকর্তা জানায়, সংঘর্ষের পরপরই দুটি জাহাজ নিরাপদে আলাদা হয়ে যায় এবং নোঙর করে। বর্তমানে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুই জাহাজের ২১ জন নাবিকই নিরাপদে আছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেরিন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে দুই জাহাজের কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

পরিসংখ্যান বলছে, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতবে আর্জেন্টিনা

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল রোববার সকাল ৭টায়।

পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচে জিতবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কারণ সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৬০ বছরের মুখোমুখি লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত তারা অপরাজিত আছে।

পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচ:

অপরাজিত আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ১১টি ম্যাচে কোনো হার দেখেনি আর্জেন্টিনা, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দলটির দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড। তারা জিতেছে নয়টি ম্যাচ এবং ড্র করেছে বাকি দুটি।

গোলের বন্যা

আর্জেন্টিনা তাদের শেষ ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রতিটিতে অন্তত দুটি করে গোল করেছে। এর মাধ্যমে তারা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে একাধিক গোল করার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে। এর আগে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে উরুগুয়ে এই কীর্তি গড়েছিল।

শক্ত রক্ষণভাগ বনাম গোল হজম

এবারের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে কেবল স্পেনের (পাঁচটি) বিপক্ষে আর্জেন্টিনার (নয়টি) চেয়ে কম অন-টার্গেট শট হয়েছে। তবে চিন্তার বিষয় হলো, বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা প্রতিপক্ষের সেই নয়টি শটের মধ্যে পাঁচটিতেই গোল হজম করেছে।

মেসির অপ্রতিরোধ্য যাত্রা

প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের টানা ছয়টি নকআউট ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। শুধু তাই নয়, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে টানা নয়টি ম্যাচে গোল করে বাকিদের ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষা

কানসাস সিটির এই ম্যাচটি হবে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের প্রথম উপস্থিতি। শেষবার তারা শেষ আটে খেলেছিল ১৯৫৪ সালের আসরে।

একক আধিপত্য

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা আগের সাতটি ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি সুইজারল্যান্ড। তারা হেরেছে পাঁচটি ও ড্র করেছে দুটি।

বিশ্বকাপের অতীত ইতিহাস

বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের দুটি দেখাতেই জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা— ১৯৬৬ সালের গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে এবং সবশেষ ২০১৪ সালের অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো শেষ ষোলোর ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে।

লাতিন জুজু

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে খেলা ১০টি ম্যাচের মধ্যে সুইজারল্যান্ড জিতেছে মাত্র একটি। তারা তিনটি ড্র করেছে এবং ছয়টি হেরেছে।

সুইজারল্যান্ড যেখানে অনন্য

২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানে (বাছাইপর্ব ও মূল পর্ব মিলিয়ে) সুইজারল্যান্ডই একমাত্র দল, যারা ম্যাচের কোনো পর্যায়েই এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের চেয়ে গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েনি।

তারকারা কে কোন দলের সমর্থক

সারা বিশ্বজুড়ে চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা। অনেক দেশের চেয়ে এ দেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা বেশি। চায়ের দোকান থেকে সর্বত্র এখন খেলা নিয়ে আলোচনা। সেই সঙ্গে চলছে প্রিয় দলের পতাকা টাঙানোর হিড়িক। শোবিজ তারকারাও কোনো না কোনো দল ভালোবাসেন, সমর্থনও করেন।

অভিনেতা আবুল হায়াত কোন দল সমর্থন করেন, নিশ্চয়ই তা জানার আগ্রহ অনেক মানুষের আছে! তার পছন্দের দল ব্রাজিল। তিনি বলেন, ‘বুঝতে শেখার পর থেকেই ব্রাজিল সমর্থন করি। ভালো লাগে ব্রাজিলের খেলা। এই দলের খেলার ভক্ত বলব না, পোকা বলব; এতটাই পছন্দ করি। আবার আর্জেন্টিনার খেলাও ভালো লাগে, কিন্তু প্রিয় দল কিংবা পছন্দের দল হচ্ছে ব্রাজিল। ইউরোপিয়ান ক্লাবের খেলা নিয়মিত দেখি। বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি। ওদের খেলা যখন দেখি, তখন ভাবি কবে যে আমাদের ছেলেরা ওই রকম করে খেলতে পারবে। এবার অপেক্ষা করছি ব্রাজিল যেন ভালো কিছু করে। প্রিয় দলের জন্য শুভকামনা।’

আজিজুল হাকিম সমর্থন করেন জার্মানি। তিনি বলেন, ‘আমি জার্মানির সমর্থক। শুরু থেকেই এই দলটিকে সাপোর্ট করে আসছি। ফুটবলের যে নান্দনিকতা, ফুটবলের যে ছন্দ, তা এই দলের মধ্যে আছে। আমি একসময় ফুটবল খেলতাম। ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে খেলেছি একসময়। প্রথম বিভাগে খেলেছি। সেই সময় থেকে জার্মানির খেলা আমাকে মুগ্ধ করে। ওদের খেলার ভক্ত হয়ে যাই, এখনো আছি।’

চলচ্চিত্র নায়ক সিয়াম আহমেদ সমর্থন করেন স্পেন। তিনি বলেন, ‘স্পেনের খেলা আমাকে ভীষণ টানে, ভালো লাগে। শুরু থেকেই স্পেন সমর্থন করি। কখনোই নিজ দল থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করিনি। দেখা গেছে, বেশির ভাগ মানুষ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থন করলেও আমার পছন্দের দল স্পেন। ওদের খেলা খুব ভালো লাগে। খুব উপভোগ করি। অন্য রকম ছন্দ নিয়ে খেলে ওরা, যা আমাকে মুগ্ধ করে। এবার কোন দল জিতবে কেউ জানি না, কিন্তু আমার প্রত্যাশা স্পেন ভালো কিছু করুক।’

রাফিয়াত রশীদ মিথিলা সমর্থন করেন আর্জেন্টিনা। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা সমর্থন করি। ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনা। কোনো কারণ নেই, ওদের খেলা ভালো লাগে। বিশ্বকে ওরা নান্দনিক খেলা উপহার দিয়ে যাচ্ছে বহু বছর ধরে। আমি ম্যারাডোনার খেলা যেমন ভালোবাসি, মেসির খেলাও ভালোবাসি। এই বিশ্বকাপে প্রিয় দল ভালো কিছু করুক, রেকর্ড করুক, সেটাই চাওয়া।’

তানজিকা আমিন সমর্থন করেন আর্জেন্টিনা। তিনি বলেন, ‘কোনো কথা হবে না, শুধুই আর্জেন্টিনা। আসলে ফুটবল নিয়ে গল্প করলে বা তর্ক করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা করা সম্ভব। যার যার পছন্দের দল থাকতেই পারে। পছন্দের দল থাকাটাই স্বাভাবিক। সেভাবেই আমার পছন্দের দলও আর্জেন্টিনা। আমি খুব করে চাই প্রিয় দল এবার বিশ্বকাপ জিতুক। প্রিয় দল ভালো কিছু করুক।’

চঞ্চল চৌধুরীর ভক্ত রয়েছে দুই বাংলাজুড়ে। দেখা যাক, ফুটবল বিশ্বকাপে চঞ্চল চৌধুরী কোন দল সমর্থন করেন? তিনি বলেন, ‘আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। আমার পছন্দের ও ভালোবাসার দল আর্জেন্টিনা। বুঝতে শেখার পর থেকেই এই দলের প্রতি আমার ভালোবাসা জন্মেছে। আমি যেমন আর্জেন্টিনা সমর্থন করি, আমার পুত্রও তাই করে। দুজনের পছন্দের দল এবারের বিশ্বকাপে ভালো কিছু করুক—এটাই প্রত্যাশা।’

জিয়াউল ফারুক অপূর্ব পছন্দ করেন ব্রাজিলের খেলা। তার প্রিয় দল ব্রাজিল। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের খেলার মধ্যে একটা ছন্দ আছে। ব্রাজিল একটু অন্য রকম খেলে। খুব পছন্দ করি। এই দলের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা।’

সজল খেলা খুব পছন্দ করেন। হোক ক্রিকেট কি ফুটবল। আর ফুটবলে তার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। তিনি বলেন, ‘দেখতে দেখতে আবারও চলে এল বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা। অনেক কারণেই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করি। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ম্যারাডোনার জন্য। খুব ছোটবেলায় প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখার স্মৃতি আজও মনে পড়ে।’

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর সমর্থন করেন ব্রাজিল। দর্শকপ্রিয় মডেল ও অভিনয়শিল্পী মোনালিসা সমর্থন করেন আর্জেন্টিনা। মোনালিসা বলেন, ‘প্রিয় দলের জন্য ভালোবাসা। প্রিয় দল বিশ্বকাপ ঘরে তুলবে, এটাই চাওয়া।’

চলচ্চিত্র নায়ক ইমন আর্জেন্টিনার সমর্থক। নায়ক ওমর সানী অবশ্য ব্রাজিলের সমর্থক। অপু বিশ্বাস ব্রাজিলের সমর্থক। ছোট পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসানের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা।

বিদ্যা সিনহা মিম সমর্থন করেন ব্রাজিলকে। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল আমার পছন্দের দল। ফুটবলের জাদুকর পেলের দেশ ব্রাজিল। ছোটবেলা থেকেই ওদের খেলা পছন্দ করি। এবার বিশ্বকাপে প্রিয় দল ভালো করবে, সেই প্রত্যাশা করছি।’

সৌদিতে আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বাংলাদেশিসহ নিহত ২

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আল-খার্জ শহরের একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও অপরজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। 

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা ও সৌদি গণমাধ্যম সৌদি গ্যাজেট।  

বেসামরিক সুরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র জানান, রোববারে আবাসিক কমপাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ওই স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

অপর ১২ ব্যক্তি এই হামলায় আহত হয়েছেন। 

এক্সে দেওয়া পোস্টে বেসামরিক সুরক্ষা দপ্তর ইরানের নাম উল্লেখ করেনি। ক্ষেপণাস্ত্র বা মিসাইলের কথা উল্লেখ না করে ‘সামরিক প্রক্ষেপক’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। 

তবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এর আগে জানিয়েছিল, তারা আল-খার্জ সহ সৌদি আরবের অন্যান্য শহরের রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। 

উল্লেখ্য, আল-খার্জ শহরেই যুবরাজ সুলতান বিমানঘাঁটির অবস্থান। ওই স্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর পাল্টা হামলা হিসেবে এই বিমানঘাঁটি তেহরানের নিরবচ্ছিন্ন হামলার শিকার হয়েছে। 

 

আল জাজিরার দোহা সংবাদদাতা লরা খান জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর জরুরি সেবাদাতারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তারা সরকারের অনুমোদন দেওয়া প্রক্রিয়া অনুযায়ী কাজ শুরু করেন। 
মুখপাত্র জানান, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। 
এর আগে আরব লিগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত ইরানের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আরব লিগের সদস্য দেশগুলোর ওপর বেপরোয়া হামলা চালাচ্ছে ইরান।’

 

দুদক চেয়ারম্যান ও ২ কমিশনারের পদত্যাগ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সঙ্গে বৈঠকের পর দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করে দুদক কমিশন।

দুদকের কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আলি আকবার আজিজি দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার রোববার জানিয়েছিল, তারা ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক নয়। তাদের স্বেচ্ছায় এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বঙ্গভবনে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

দুদকের আইন অনুযায়ী, সংস্থাটির চেয়ারম্যান যে কোনো সময় ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগ করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতিকে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়, যা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে অন্তত এক মাস আগে দাখিল করতে হয়। সাধারণত এই চিঠি মন্ত্রিপরিষদ সচিব বা দুদক সচিবের মারফত পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরই কার্যকর হয়।

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি আজকে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসেই জনগণের কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষায় তারেক রহমান নিরলস পরিশ্রম করছেন, দিন-রাত কাজ করছেন।

দলের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ না থাকলে সেটি মোকাবিলা করে ভালো কিছু করার মধ্যে তো কোনো কৃতিত্ব নেই! নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে, ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত আছে, কিন্তু সেগুলোকে মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার অঙ্গীকারগুলো—ফার্মারস কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভাতা, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকটে বিএনপি বা সরকার দায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ…হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুএকটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোম পড়েছে। তারপরেও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের উপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’

মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে। তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা, অথচ সরকার চালাতে গিয়ে দল হিসেবে বিএনপি পৃথক থাকতে পারছে না—গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভেগ টার্ম।’

রিজভী বলেন, ‘জনগণ পার্টিকে ভোট দিয়েছে, পার্টি সরকার গঠন করেছে। সরকারের মন্ত্রীরা সব বিএনপির নেতা। অধিকাংশই বিএনপির নেতা। তাহলে পার্টিকে যখন ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে, পার্টির লোকরাই তো সরকার পরিচালনা করবে! এটার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’

‘আমরা বারবার বলেছি, তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মী সরকারের অংশ। সরকারের সব কর্মসূচি, যেটা জনকল্যাণে-জনস্বার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলো আমাদের নেতাকর্মীরা ভালো করে জনগণকে অবহিত করবে। এর মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই, কোনো বৈশব্দ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্টি পার্টির জায়গায় আছে, সরকার সরকারের জায়গায় আছে। কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে বিএনপি এবং বিএনপির লোক। সুতরাং দলের লোকরাই তো মন্ত্রী হবে, চিফ হুইপ হবে। চিফ হুইপ ভাইস চেয়ারম্যান কাকে করবে? অন্য দেশ থেকে ধার করে আনবে, না অন্য পার্টি থেকে ধার করে আনবে? দলের লোকরাই হবে।’

‘এটা (দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা) একটা কথা ছুড়ে দিয়েছে, এটা একটা ভেগ টার্ম। এটার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নাই। পার্টিতে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তারা পার্টির দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারেও যারা মন্ত্রী আছেন, তারা মন্ত্রিত্বের ফাঁকে পার্টির যে দায়িত্ব তাদের ওপর আছে, তার পদ অনুযায়ী সেই দায়িত্ব পালন করবেন,’ বলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

খরচ মেলাতে মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে টান, কেনাকাটায় কাটছাঁট

মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাপন ছকে বাঁধা থাকে। কর্মস্থলের খুব কাছাকাছি না হলেও যাতায়াত করা যায়, এমন দূরত্বে একটি ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া। ঘরে একটি এসি, হয়তো একটি মোটরসাইকেল বা ছোট একটি গাড়ি থাকে। ছুটির দিনে হয়তো পরিবার নিয়ে বাইরে কোথাও খেতে যাওয়া। মাস শেষে যদি সম্ভব হয়, সামান্য কিছু টাকা সঞ্চয় করা।

এটি কোনো বিলাসী জীবনের ছবি নয়। এটা অনেকটা—কারও কাছে হাত না পেতে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার চেষ্টা। কিন্তু দিন দিন বেড়ে চলা জীবনযাত্রার খরচের কারণে মধ্যবিত্তের সেই চেনা ছক এখন হুমকির মুখে।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রেজওয়ানা রহমানের কথাই ধরা যাক। গত আগস্ট মাসে তিনি যখন বিদ্যুতের বিল হাতে পান, ভেবেছিলেন বিল আগের চেয়ে কম আসবে।

কারণ, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমের পর জুলাইয়ে আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা ছিল। তাই পরিবারের একমাত্র এসিটি সেভাবে চালানোই হয়নি। লাইনের গ্যাসের সরবরাহও ঠিক ছিল। ফলে ইনডাকশন চুলাও ব্যবহার করতে হয়নি।

রেজওয়ানার ধারণা ছিল, তার দুই বেডরুমের ছোট ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ বিল ২ হাজার টাকার নিচেই থাকবে। কিন্তু বিল হাতে পেয়ে দেখেন ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

রেজওয়ানা বলেন, ‘এত বেশি বিল আসার পেছনে বিদ্যুতের বাড়তি দাম ছাড়া আর কোনো কারণ থাকতে পারে না।’

অর্থনীতিবিদদের মতে রেজওয়ানার মতো মধ্যবিত্তের এই দুর্ভোগের পেছনে আছে ‘স্টিকি অ্যান্ড স্টাবর্ন ইনফ্লেশন’ বা ‘জেদি মূল্যস্ফীতি’।

সরকারের নানা উদ্যোগের পরও মূল্যস্ফীতির হার কয়েক বছর ধরেই মানুষের স্বস্তিদায়ক সীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে।

এই চাপ সমাজের নানা স্তরে দৃশ্যমান। ভর্তুকি মূল্যের নিত্যপণ্যের লাইনে মানুষের ভিড় বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও দেখা যাচ্ছে, লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। আর যে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো একসময় মাস শেষে কিছুটা সঞ্চয় করতে পারত, তাদের সেই জমানো টাকা এখন নিত্যদিনের খরচ মেটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এই মূল্যস্ফীতি ধনীদের জন্য কোনো বড় সমস্যা নয়। অন্যদিকে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের কিছু সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি থাকে। কিন্তু মধ্যবিত্তরা পড়েছে দোলাচলে। তাদের আয় এতটাই যে তারা সরকারি সাহায্য পাওয়ার যোগ্য নয়, আবার মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলানোর মতো আর্থিক সামর্থ্যও তাদের নেই।

ধনীদের ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো: ‘আমি কি এটা কিনতে পারব?’ আর মধ্যবিত্তের প্রশ্ন হলো: ‘সঞ্চয়ে হাত না দিয়ে বা অন্য কোনো খরচ না কমিয়ে আমি কীভাবে এটা কিনব?’

বছরের পর বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় পরিবারের জমানো সেই সঞ্চয়টুকুও নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। রেজওয়ানা এবং তার মতো লাখো মধ্যবিত্তের মাসের হিসাব এখন আর কিছুতেই মিলছে না।

চারদিক থেকে চাপ

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সরকার দেশে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ এবং সিলিন্ডারের গ্যাসের দাম বাড়ায়।

এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর এসে পড়ে। সব দিক থেকেই তাদের ওপর চাপ বাড়তে থাকে—বাড়তি বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বাড়ায় খাবারের দাম বৃদ্ধি এবং রান্না করার খরচ বেড়ে যাওয়া।

অর্থনীতিবিদরা এই চাপ নিয়ে সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল। দুবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গত জুনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছিল, বিদ্যুতের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

সিপিডির সেই আশঙ্কাই এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই মূলত সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে ৯ দশমিক ২১ শতাংশে নিয়ে গেছে।

এই চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাইনের গ্যাসের তীব্র সংকট। শহরের অনেক বাসাবাড়িতেই রান্নার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা বা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে, যা বেশ ব্যয়বহুল। এর ওপর ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

রাজধানীর পল্লবীর বাসিন্দা মাহমুদা কামাল বলেন, ‘ছুটির দিনে বা সরকারি ছুটির দিনে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন রাইস কুকার ও এয়ার ফ্রায়ারের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।’

ইনডাকশন কুকার কেনার কথা ভেবেছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাহমুদাও। কিন্তু পরে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার ভয়ে সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন।

ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা লালন্তিকা পিয়াসি জানান, তার এলপিজি সিলিন্ডারের খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এই খরচ মেটাতে অন্য খরচগুলো কাটছাঁট করতে হচ্ছে তাকে।

বেড়েছে খাবারের খরচ

শুধু জ্বালানি বিলই নয়, মধ্যবিত্তের এই চাপ বাজারের থলে থেকে ডাইনিং টেবিলের থালাতেও এসে পৌঁছেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বাজারে গেলেই এখন হিসাব করতে হয় যে কোন জিনিসটি না কিনলেও আপাতত চলবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে এই হার ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ থাকলেও, মার্চে তা বেড়ে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং জুনে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়। মূলত মাংস, মাছ, ফল, সবজি এবং মসলার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রেজওয়ানা বলেন, ‘যখনই বাজারে যাই, দেখি কোনো না কোনো জিনিসের দাম আবার বেড়ে গেছে।’

এর মধ্যে সরকার খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে। মোটরসাইকেলে করে যাতায়াত করা ঢাকার বসিলা এলাকার বাসিন্দা রকিবুল হাসান এর প্রভাব টের পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘অকটেনের দাম বেশ কিছুটা বেড়েছে, যা আমার মাসিক বাজেটে বড় একটা ধাক্কা দিয়েছে।’

রকিবুল জানান, সম্প্রতি তার বেতন কিছুটা বাড়ায় তিনি বাড়তি এই খরচ কোনো রকমে সামলাতে পারছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সাধারণ মানুষের আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।

গত জুনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছিলেন, মানুষের আয় বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে পিছিয়ে আছে, যার ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে মানুষের আয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের এই ব্যবধান আরও বেড়েছে। জুনে আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা ওই সময়ের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।

ফুরিয়ে যাচ্ছে সঞ্চয়

ক্রমাগত এই মূল্যস্ফীতি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন আর শুধু সাময়িক কোনো ধাক্কা নয়। দীর্ঘমেয়াদি এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা এবং সঞ্চয়ের সক্ষমতা ধীরে ধীরে শেষ করে দিচ্ছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন, ইউটিলিটি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার খরচ বারবার বাড়ায় মানুষের প্রকৃত আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘যাদের আয় কাগজে-কলমে বেড়েছে, তারাও বাস্তবে আরও দরিদ্র হয়েছেন। কারণ, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় বাড়েনি।’

রেজওয়ানার জীবনের আর্থিক টানাপোড়েন এই বৃহত্তর চিত্রের সঙ্গে মিলে যায়। চারজনের পরিবারে একমাত্র স্বামী আয় করেন। খুব হিসাব করে তাদের সংসার চালাতে হয়।

বেশি দিন আগের কথা নয়, রেজওয়ানা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা সঞ্চয় করতে পারতেন। কিন্তু গত প্রায় ছয় মাস ধরে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকায় সঞ্চয়ের জায়গাটি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন তো শুধু বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে গেছে। সঞ্চয় করব কীভাবে?’

সেলিম রায়হান বলেন, ‘এই পরিবারগুলোর কি এখনো কোনো সঞ্চয় আছে? দিন দিন এর উত্তর “না” হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, অনেকেই তাদের জমানো টাকা তুলে ফেলছেন, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাচ্ছেন, সস্তা পণ্য কিনছেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পেছনে খরচ কমাচ্ছেন।

তার মতে, মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি বিপদে আছে। কারণ, তারা একদিকে যেমন সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে থাকে, অন্যদিকে তাদের আবাসন, শিক্ষা এবং পারিবারিক খরচের বিশাল একটি বোঝাও টানতে হয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘অর্থনৈতিক চাপে মানুষের সামাজিক অবস্থান স্থায়ীভাবে নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।’

অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব

দেশের এই মূল্যস্ফীতি এখন আর শুধু বৈশ্বিক বাজারের ধাক্কার ফলাফল নয়। এটি দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে সামনে এনেছে।

সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই সংকটের স্থায়িত্বই একে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারগুলোর বাজেটের বড় অংশই চলে যায় খাবারের পেছনে। প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় তাদের খরচ কমানোর আর কোনো সুযোগই অবশিষ্ট নেই।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, বিশেষ করে খাবারের দামের মাধ্যমে আঘাত হেনেছে।

তিনি জানান, এর প্রভাব শুধু পরিবারের বাজেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে, কারখানাগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান মনে করেন, প্রচলিত মুদ্রানীতি বা অর্থের জোগান কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এই সংকট উত্তরণে খুব একটা কার্যকর নয়। কারণ, এই সংকট মূলত পণ্য সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা, বাজারের অব্যবস্থাপনা এবং বিতরণ কাঠামোর ত্রুটির কারণে তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারকে বুঝতে হবে যে বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারণেই মূলত এই মূল্যস্ফীতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থনীতির এই ধীরগতির সময়ে মানুষের কেনাকাটা বা চাহিদা কমানোর চেষ্টা করলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, এতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার মূল কারণগুলোর কোনো সমাধান হবে না, উল্টো অর্থনীতির আরও বেশি ক্ষতি হতে পারে।

দুই ম্যাচে ছয় কার্ড: আর্জেন্টিনার ম্যাচে দায়িত্বপ্রাপ্ত কে এই পর্তুগিজ রেফারি?

আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালের মূল রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো। প্রথমবারের মতো রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে আসা পিনহেইরো এর আগে কখনো আর্জেন্টিনার ম্যাচের দায়িত্ব পালন করেননি। 

তবে চলতি বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ৪-১ গোলে জেতা ম্যাচে তিনটি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন পিনহেইরো। 

এছাড়া রাউন্ড অব ৩২ এ কানাডা-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচও পরিচালনা করেছেন পিনহেইরো। সেই ম্যাচেও দুটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে স্বাগতিক কানাডার জোরালো দাবি সত্ত্বেও একটি পেনাল্টি দেননি তিনি। এই বিশ্বকাপে দুই ম্যাচেই মোট ৬ বার কার্ড দেখিয়েছেন তিনি। 

৩৮ বছর বয়সী এই রেফারি ২০১৬ সালে পেশাদার রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বিশ্বকাপে প্রথমবার দায়িত্ব পালন করলেও বড় মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা তার আছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে রেফারি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে বেশ কিছু বড় ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। 

এই বছরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ শোরগোল পড়েছিল। বায়ার্ন মিউনিখ ও পিএসজির মধ্যকার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে পিএসজি যখন ১-০ গোলে এগিয়ে, তখন বায়ার্নের একটি পেনাল্টির আবেদনে তিনি সাড়া দেননি। বায়ার্নের অভিযোগ ছিল, পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসের হাতে বল লাগার পরেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। এ ঘটনার প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল পুরো বায়ার্ন মিউনিখের বেঞ্চ। 

এছাড়া গত বছর পিএসজি ও টটেনহাম হটস্পারের মধ্যকার সুপার কাপের ফাইনালেও রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই রেফারি। সেই ম্যাচেও চারটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন তিনি।