32 C
Dhaka
Home Blog

ইরান কেন বন্ধুহীন?

শান্তি আলোচনা চলমান অবস্থায় ইরানে দ্বিতীয়বারের মতো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত সামরিক অভিযানের মধ্যে একটি তথ্য অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে।

তথ্যটি হলো: যুদ্ধ শুরুর পরের দিন তথা গত রোববার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়—‘সৌদি চাপ, ইসরায়েলি সহায়তা ট্রাম্পকে ইরান হামলায় উদ্বুদ্ধ করেছিল।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখনই কোনো হুমকি ছিল না। কিন্তু, আঞ্চলিক মিত্রদের যুক্তি এটাই হামলার প্রকৃত সময়।

সব আন্তর্জাতিক আইনকে চরমভাবে উপেক্ষা করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর মরণ-আঘাত হেনে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। খনিজসমৃদ্ধ অথচ অপেক্ষাকৃত অনেক দুর্বল এই দেশটি এখন সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে।

অথচ, বিপদে পাশে দাঁড়ান যিনি তিনিই তো প্রকৃত বন্ধু। সেই আলোকে বিচার করা যেতে পারে ইরানের আজকের পরিস্থিতিকে। প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ থেকেই নিজেদের প্রয়োজনে অনেক রাষ্ট্র সুবিধাজনক দামে তেল-গ্যাস নিয়েছে। 

 

অথচ, দেশটির এমন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে কোনো রাষ্ট্রকেই তেহরানের পাশে দেখা যাচ্ছে না।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে দেখা যায়—বিশ্বের প্রথম পরাশক্তি হিসেবে খ্যাত পারস্য সাম্রাজ্যের ‘গর্বিত’ উত্তরাধিকার ইরান এখন প্রকৃত অর্থেই এক ‘বন্ধুহীন’ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা হামলার পর খনিজসমৃদ্ধ ইরানের ‘বন্ধুহীনতা’ আরও সুস্পষ্ট হয়েছে।

গত বছর জুনের প্রথম দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো যখন ইরানে হামলা চালিয়েছিল তখনো ইরানের ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে সুবিদিত রাশিয়া ও চীনকে তেহরানের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। এমনকি, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে কোনো শোরগোলও তুলেনি ইরানের পরাশক্তিধর ‘বন্ধু’ দেশ দুটিকে।

সে বছর ২২ জুন টাইম-এর এক প্রতিবেদনের শিরোনাম বলেছিল—মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কিভাবে বিচ্ছিন্ন দেশে পরিণত হলো।

প্রতিবেদনে জানানো হয়—তেহরান আশা করেছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইরানকে সহায়তা করবে। কিন্তু, বাস্তবে দেখা গেল সেই অঞ্চলে ইরানের সত্যিকারের কোনো বন্ধু নেই।

ইরানের সত্যিই কেন বন্ধু নেই?—এ সম্পর্কে ইন্টারনেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেল: ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণের আরব এবং উত্তর-পুবের অনারব মুসলিম দেশের সরকারগুলোর সঙ্গে ইরানের দূরত্ব হঠাৎ অনেক বেড়ে যায়। এর মূল কারণ ধর্মীয় মতভেদ।

অন্যদিকে, তেহরানের কট্টরপন্থি শাসকদের যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো ‘শত্রু’ আখ্যা দেওয়ায় ধীরে ধীরে ইরান একটি বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, যে গুটিকয়েক রাষ্ট্র হোয়াইট হাউসের নীতির বিরোধিতা করে, ইরানকে সেসব রাষ্ট্রের সঙ্গে সখ্যতা রেখে চলতে হয়েছে।

 

পাশাপাশি, ইরানকে তার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী পররাষ্ট্রনীতির কারণে এই দুই দেশের ক্রমাগত আক্রমণ মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধ-নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইরানকে ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

ক্ষমতাসীনদের নানান ‘নিপীড়নমূলক’ সিদ্ধান্ত মানুষকে বিক্ষুব্ধ করায় ইরানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নষ্ট নানা সময়ে নষ্ট হয়েছে। বহির্বিশ্বের ইরান নিজেকে ‘আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ মুখ’ হিসেবে প্রচার করে। আবার সেই দেশের সরকারি বাহিনীর হাতে নিরীহ বিক্ষোভকারীরা নিহত হন। এমন বাস্তবতায় ইরান আন্তর্জাতিক মহলে সহমর্মিতা হারায়।

শুধু তাই নয়—মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রভাব কমানোর পাশাপাশি নিজের প্রভাব বাড়াতে ইরান প্রতিবেশী ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনের জনগণের একাংশকে নিয়ে ‘প্রতিরোধ বলয়’ নামে সশস্ত্র সংগঠন গড়ে তোলে। এসব সংগঠন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকে ইরানের ক্ষমতাসীনদের ‘অনুগত’ হওয়ায় তেহরানের সরকারকে উন্নত দেশগুলো ‘সন্ত্রাসীদের মদতদাতা’ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে।

আবার ইরানের ‘সমর্থনপুষ্ট’ এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজ নিজ দেশে প্রথমে প্রতিরোধ যোদ্ধা ও পরে ‘অরাজকতার’ প্রতীক হয়ে ওঠে। তাদের সামরিক শক্তি নিজ নিজ দেশকে কার্যত অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করে। ফলে ইরান সরকার নিজ দেশের জনগণের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর জনগণের কাছেও ‘স্বৈরাচার’ তকমা পেতে থাকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভার্জিনিয়াভিত্তিক রাজনৈতিক সাময়িকী ‘পলিটিকো’র এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—পুতিনের বন্ধুত্বের একটা সীমা আছে, ইরান এইমাত্র তা বুঝতে পারলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়—ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরান থেকে মস্কোয় ফোন দেওয়া হয়েছিল। ওপাশ থেকে অর্থাৎ, মস্কো থেকে শুধু সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়। সমর্থনের আশ্বাস দেওয়া হয় মৌখিকভাবে।

প্রতিবেদনটিতে রাশিয়ার অপর দুই সাবেক মিত্র সিরিয়া ও ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়, সেই দুই ঘটনায় বুঝে নেওয়া যায় যে মার্কিন হামলার বিপক্ষে ক্রেমলিন আসলে কী করতে পারে। এ ছাড়াও, সেই দুই দেশের সরকারের পরিণতির কথা ইরানের সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

 

ইরানের এই অস্তিত্ব-সংকটে ‘বন্ধু’ চীনের ভূমিকা কী?—এ সম্পর্কে ইন্টারনেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেল—আজ সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং তার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে জাতিসংঘের অনুমোদন ছিল না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’

 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই মুখপাত্রের প্রশ্ন-উত্তর সবিস্তার দেওয়া আছে। এর আগের দিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—‘ইরানে হামলায় চীনের নিন্দা, যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার আহ্বান’।

অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের চাপ যখন ইরানের বিরুদ্ধে, তখন মস্কোর মতো বেইজিংকেও ‘নিন্দা’ ও ‘সহানুভূতি’র মধ্যে বন্দি থাকতে দেখা গেল।

ইরান বিশ্লেষকদের অনেকের মতে—গত ৪৭ বছরে তেহরানের বিপ্লবী সরকার পশ্চিমের চাপ প্রতিহত করে আন্তর্জাতিক মহলে কারও সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারেনি।

পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ ‘অব্যবস্থাপনা’র কারণে তারা ইরানকেও একটি ‘ভঙ্গুর’ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

আর এ জন্যই হয়ত ইরান বিশ্বের প্রথম পরাশক্তি হয়েও আজ প্রকৃত অর্থেই বন্ধুহীন।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর নজিরবিহীন হামলা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর পুড়িয়ে দেওয়া ভবনে আয়োজিত ‘আলো’ শীর্ষক প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলার ঘটনায় ডিবি পুলিশকে আগামী দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনি বলেন, আমরা লজ্জিত। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীর সামনে একটা মেসেজ গেছে যে বাংলাদেশে নিউজপেপারের ওপর যখন খুশি আক্রমণ করা যায়। এই দেশের যারা বলতে গেলে প্রগতির বিরুদ্ধে, যারা সাম্প্রদায়িক এবং উগ্রবাদী শক্তি; তাদের একটা রমরমা ভাব ছিল—এই মেসেজটা সারা পৃথিবীতে গেছে। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীকে তার একটা উল্টো মেসেজ দেবো।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের যে ইশতেহার, সেখানে বলেছি—আমরা স্বাধীন গণমাধ্যম চাই এবং গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা আমরা প্রতিষ্ঠা করব।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, দুটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা একটি সভ্য সমাজের পরিপন্থী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই হামলার কারণে আমাকে স্থানীয় কূটনৈতিক মহলে ও বিদেশে কথা শুনতে হয়েছে। আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে। আমরা আজকে একটা প্রতিজ্ঞা করতে পারি, এই ধরনের ঘটনা আমাদের দেশে আর ঘটবে না।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ধ্বংসস্তূপ থেকে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরে বিকেলে ডেইলি স্টারের অগ্নিদগ্ধ ভবন ঘুরে দেখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
 

 

 

অস্ট্রেলিয়া সরকারের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছিল ওপেনএআই, জানালেন আলবানিজ

অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটি ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিবিসি বলছে, এটিকে বিশ্বের প্রথম প্রকাশ্যে জানানো কোনো সরকারি ওয়েবসাইটে এআই-চালিত সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার পর এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা আলবানিজ গতকাল এ ঘটনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি ‘স্পষ্টতই অগ্রহণযোগ্য’।

আলবানিজ জানান, তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারকে ঘটনাটি জানাতে ওপেনএআইয়ের অনেক বেশি সময় নেওয়া এবং যেভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে, তাতেও তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

তবে গতরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন কি না, তা জানাননি আলবানিজ।

অতি সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত: ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী

আলবানিজের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন রিচার্ড মার্লেস। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তার তথ্য একটি দুর্গের মতো নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে রাখি।’

তবে এবারের ঘটনায় যেসব তথ্যের নাগাল পাওয়া গেছে, সেগুলো তুলনামূলকভাবে কম সুরক্ষিত একটি ব্যবস্থার মধ্যে ছিল বলে জানান তিনি।

মার্লেস বলেন, ‘এআই এজেন্টটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা টপকে ঢুকে পড়েছিল। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি অনিচ্ছাকৃত ছিল। এজেন্টটিকে এমনটা করতে বলা হয়নি।’

কীভাবে ঘটল

ওপেনএআই জানিয়েছে, গত জুনে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণার সময় এ ঘটনা ঘটে। তখন এআই এজেন্টটি অস্ট্রেলিয়া সরকারের বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটে থাকা ফাইলের নাগাল পায়।

এর মধ্যে দেশটির সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মেডিকেয়ারের এমন কিছু তথ্যও ছিল, যা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল না।

ওপেনএআই বলেছে, আগস্টের আগে তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেনি। পরে ১০ সেপ্টেম্বর তারা অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংস্থা সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়াকে বিষয়টি জানায়। তবে এজন্য সংস্থাটির সাধারণ জিজ্ঞাসা গ্রহণের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়। কয়েক দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, এআই এজেন্টটি কোনো সংবেদনশীল ফাইলে প্রবেশ করেনি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক এবং এর বিষয়ে ওপেনএআইয়ের প্রতিক্রিয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে।

‘সতর্ক’ হওয়ার সময় এসেছে

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের ইনস্টিটিউট ফর সাইবার সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হ্যামন্ড পিয়ার্স বিবিসিকে বলেন, প্রকাশ্যে জানানো তথ্য অনুযায়ী এটি এআই এজেন্টের মাধ্যমে সংঘটিত এ ধরনের প্রথম ঘটনা।

এর আগে ‘বেপরোয়া আচরণ’ করা এআই এজেন্টের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা জানলেও, সংবেদনশীল সরকারি তথ্যের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে কোনো এআই এজেন্টের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানান তিনি।

পিয়ার্স বলেন, এ ধরনের হামলা ভবিষ্যতে আরও ঘটতে পারে এবং সেগুলোর মাত্রা ও সংখ্যা দুটিই বাড়তে পারে।

ওপেনএআইয়ের ব্যাখ্যা

এক বিবৃতিতে ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন মডেল কার্যক্রম’ নিয়ে চলমান একটি বিস্তৃত পর্যালোচনার সময় ঘটনাটি শনাক্ত করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অস্ট্রেলিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও উন্মুক্ত পরিসংখ্যান খুঁজতে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সময় তাদের মডেলগুলো অস্ট্রেলিয়া সরকারের কয়েকটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে। ওই প্রক্রিয়ায় মডেলগুলো এমন কিছু কাজ করে, যা ওপেনএআইয়ের উদ্দেশ্য ছিল না।

ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, রোগীদের তথ্যে প্রবেশ বা সংগ্রহের কোনো রেকর্ড তারা পায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও মোকাবিলায় তদন্তকারীদের কারিগরি তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তাদের সামগ্রিক পর্যালোচনা এখনো চলছে এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্য প্রকাশ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারলেই গণতন্ত্র টিকবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতনের পর দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে দীর্ঘ সংগ্রাম ও লড়াই হয়েছে। এই সংগ্রাম ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। দেশে নতুন একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্ভাবনাটি হলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করা।’

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি আজ এই কথা বলেন।

গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র যদি চলে, তবে বাকি কাজগুলো এমনিতেই হয়ে যায়। আমরা যদি প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ তৈরি করতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে। প্রশাসনকে যদি দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি, তবে রাষ্ট্র উপকৃত হবে। আর সংসদের কমিটিগুলোকে যদি সক্রিয় ও কার্যকর করতে পারি, তবে গণতন্ত্র অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে সমস্যার শেষ নেই। সমস্যা থাকবে, বিরোধিতা থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, আন্দোলনও হবে—কিন্তু এর মধ্য দিয়েও যদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারি, তবেই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে পারব।

ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘পাশের দেশ ভারতের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের অনেক সমস্যা। সমস্যার কোনো শেষ নেই। তার পরও দিন শেষে তাদের গণতন্ত্র টিকে যায়। টিকে যায় এই কারণে যে তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে গেছে। তাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন, প্রশাসন দক্ষ এবং মিডিয়া শক্তিশালী।’

উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা বিষয় সব সময় ধরে রাখার চেষ্টা করবেন, আর সেটি হচ্ছে আইনের শাসন ও ইনসাফ। এ দুটিকে যদি ধরে রাখতে পারি, তবে সমাজকে অনেকটাই এগিয়ে নিতে পারব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেশ কিছু সময় ধরে আমরা এই জায়গাগুলো থেকেই বঞ্চিত হয়েছি।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব পুরো ঠাকুরগাঁওকে একটি উন্নয়নের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি পূরণ হয়েছে, মেডিকেল কলেজও হয়ে গেছে। শহরের চারদিক দিয়ে রিং রোড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা ঠাকুরগাঁও শহরের একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে চাই। এখানে একটি কালচারাল কমপ্লেক্স হচ্ছে।’

জলাবদ্ধতা দূর করতে রামদাঁড়া খাল খনন করে সেগুনবাগান সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশে দারিদ্র্য বড় প্রকট, বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ে। এখানে কোনো কলকারখানা নেই। আমরা এখানে শিল্পায়ন গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।’

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইউসূফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শেখ ফরিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী ও আইনজীবী আবদুল হালিম প্রমুখ।

নিত্যপণ্যের আগাম সংকট শনাক্ত করবে এআই: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে তথ্য বিশ্লেষণে এআইভিত্তিক (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বর্তমানে কৃষি, খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে কাজ করছে। এসব পণ্যের কোনটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, কোনটি আমদানিনির্ভর ও কোনটির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় রয়েছে—তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অনেক সময় সরবরাহ সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি উৎসে সমস্যা তৈরি হলে যাতে হঠাৎ সরবরাহ ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

‘কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সরকার ভর্তুকি দিয়ে কমাবে কি না, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যেন বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য,’ যোগ করেন তিনি।

মুক্তাদির আরও বলেন, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন, মৌসুমি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়মিত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কোনো বছর দেশে ডালের উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ফসল ঘরে ওঠার আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। একইসঙ্গে বিশ্বের যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেসব দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি ও রপ্তানি সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

‘আমাদের জানতে হবে—কোন সময় কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। কোন দেশ থেকে কখন আমদানি করলে ভালো হবে এবং কোন বাজারে দাম তুলনামূলক সুবিধাজনক থাকবে।’

এ লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা ১০ বছরের বাজার তথ্য, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সভা করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। এআইভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ পাওয়া সম্ভব হবে। এআই ব্যবস্থা আগাম জানাতে পারবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করা সুবিধাজনক হবে, কোন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা কতটুকু রয়েছে এবং কখন ক্রয় করলে বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে।

জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হার বাংলাদেশের

তাওহিদ হৃদয় ও তানজিদ হাসান তামিমের দুটি লড়াকু অর্ধশতকও রক্ষা করতে পারল না বাংলাদেশকে। জয়ের পথে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল টাইগাররা, কিন্তু শেষ দিকে ভয়াবহ ব্যাটিং ধসে হার মেনে নিতে হয়েছে তাদের। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

বৃহস্পতিবার হারারের হারারে স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৩ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

হৃদয় ৯০ বলে ৬০ এবং তানজিদ ৭০ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন। উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানও ৩৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। তবে অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার বলে সোহান আউট হওয়ার পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ চার উইকেট মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে হারিয়ে হারের বৃত্তেই আটকে যায় টাইগাররা।

সাত নম্বরে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজ ২৭ রান করলেও শেষ দিকে এনগারাভার শিকার হন। তিন উইকেট নেওয়া এই পেসারের দারুণ বোলিংয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। ২০২২ সালের পর টানা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল আফ্রিকার দলটি।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে একসময় ৩৬.৪ ওভারে ১৪৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে ওপেনার বেন কারান ও ব্র্যাড ইভান্স অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রানের জুটিতে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন।

কারান ১৩৫ বলে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৯টি চার। অন্যদিকে ইভান্স মাত্র ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করেন, মারেন ২টি চার ও ৫টি ছক্কা। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের শেষ ওভারে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন তিনি। জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে তোলে ২৪৭ রান।

বাংলাদেশের হয়ে শুরুটা দারুণ করেছিলেন তাসকিন। নিজের প্রথম দুই ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে শূন্য এবং ইনোসেন্ট কাইয়াকে ৪ রানে ফেরান। পরে নাহিদ রানা ফিরিয়ে দেন ক্রেইগ আরভিনকে (৯)।

মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়েসলি মাধেভেরেকে (১৫) আউট করে জিম্বাবুয়েকে ৬৬/৪-এ নামিয়ে আনেন। এরপর কারান ও সিকান্দার রাজা পঞ্চম উইকেটে ৬৮ রান যোগ করেন। রাজা ৩৩ রান করে আউট হন। মিরাজ ও রিশাদ হোসেন আরও একটি করে উইকেট নিলেও শেষ জুটির ঝড়ে বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।

জবাবে শুরুতেই সৌম্য সরকার (৫) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৯) ফিরে গেলে ৩৮ রানেই ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তানজিদ ও হৃদয়ের ৮৪ রানের জুটি দলকে ম্যাচে ফেরায়। তানজিদের বিদায়ের পর হৃদয় ও সোহান চতুর্থ উইকেটে আরও ৪৭ রান যোগ করেন। কিন্তু হৃদয়ের আউটের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের হয়ে এনগারাভা নেন ৩ উইকেট। ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স শিকার করেন দুটি করে উইকেট।

প্রথম ওয়ানডেতেও ২৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে শনিবার একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন শুধুই নিয়মরক্ষার লড়াই।

পাপারাজ্জিদের আচরণে ক্ষুব্ধ সালমান খান

বলিউড অভিনেতা সালমান খান মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালের বাইরে পাপারাজ্জিদের আচরণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দেন।

বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে সালমান খান মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে কাউকে দেখতে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

এ সময় হাসপাতালের বাইরে জড়ো হওয়া ফটোগ্রাফাররা তার আসন্ন সিনেমা মাতৃভূমি নিয়ে বারবার চিৎকার করতে থাকেন। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এমন পরিস্থিতিতে সালমান খান বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ঘটনার পর ইনস্টাগ্রামে একাধিক পোস্টে সালমান লেখেন, আমি সবসময় প্রেসের লোকদের সম্মান করেছি। তাদের পাশে থেকেছি। কিন্তু হাসপাতালে আমার কষ্টকে উপভোগ করতে দেখলে বিষয়টি ভালো লাগার পর্যায়ের থাকে না।

আরেক পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, তারা আমার কষ্টকে টাকা আয়ের উপায় বানাতে চাই।

তিনি প্রশ্নে তোলেন, এমন সংবেদনশীল মুহূর্তে সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। নিজের পরিবারের কাউকে হাসপাতালে দেখতে গেলে সাংবাদিকরা এমন আচরণ করলে কেমন লাগে?

এক পোস্টে সালমান খান লেখেন, আমার বয়স এখন ষাট, কিন্তু লড়াই করতে ভুলিনি, এটা মনে রেখো।

এর একদিন আগেই সালমান খানের একটি শার্টলেস ছবি ও রহস্যময় ক্যাপশন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা জল্পনা শুরু হয়। তিনি লিখেছিলেন, একাকী থাকা আর নিঃসঙ্গ হওয়া এক জিনিস নয়…।

পরে অবশ্য তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, পোস্টটি তাকে নিয়ে ছিল না। তিনি লেখেন, ‘আমার এত বড় পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও আপনারা থাকতে আমি কেন এক হব?

পেশাগত দিক থেকে সালমান খান সম্প্রতি পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া পরিচালিত মাতৃভূমি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। যদিও শোনা যাচ্ছে, সিনেমাটির মুক্তি কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি নতুন সিনেমার কাজও শুরু করেছেন, যেখানে সহশিল্পী হিসেবে আছেন নয়নতারা।

দোহায় মার্কিন দূতাবাস সংলগ্ন এলাকা খালি করছে কাতার

কাতারের দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি সাময়িক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দোহার মার্কিন দূতাবাসের আশেপাশে বসবাসরত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাদের জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত শনিবার ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর কাতার ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানো শুরু করে।

এরমধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেটে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এই হামলার ঘটনার পর কাতার মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করার জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং জর্দানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে তোড়জোড় চালাচ্ছে মার্কিন সরকার। একই সঙ্গে অন্য কোথাও আটকে পড়া নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট বুকিংয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত তাদের প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন।

আবুধাবিতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার খবরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক

আবুধাবির মুসাফফা শিল্প এলাকা থেকে মাত্র ১৫–১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মুসাফফায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আজ শনিবার দ্য ডেইলি স্টারকে কয়েকজন প্রবাসী জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় তারা কয়েকটি বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শুনতে পান। এগুলো সম্ভবত প্রতিরোধমূলক প্রতিহত করার কার্যক্রমের অংশ ছিল।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সংবাদমাধ্যমে কথা না বলার কঠোর নির্দেশনার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
এক প্রবাসী বলেন, আমি কথা বলার সময় দুই, তিন, এমনকি চারবার প্রতিহত করার শব্দ শুনেছি।

তিনি বলেন, শুরুর দিকে অনেকেই আকাশে ধোঁয়া দেখে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা আসা শুরু হলে সবাই দ্রুত ভেতরে চলে যান।

তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ বারবার জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে, জানালার কাছে না দাঁড়াতে ও বাইরে না যেতে পরামর্শ দেয়। তাদের নিজ নিজ আবাসনের সবচেয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

আবুধাবিতে বসবাসরত আরেক বাংলাদেশি জানান, প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে সবাই আতঙ্কিত। কেউ বিস্তারিত কিছু বলতে পারছে না। তবে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

প্রবাসীরা জানিয়েছেন, মুসাফফা এলাকায় প্রধানত এশীয় শ্রমিকরা বসবাস করেন। এদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন।

বাংলাদেশি এক প্রবাসী বলেন, আমার আশপাশের এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বাংলাদেশি। বাকিরা মূলত পাকিস্তান, মিসর ও ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে আসা। 
শিল্পাঞ্চলে অধিকাংশ বাসিন্দাই শ্রমিক। তাদের পরিবারগুলো বসবাস করেন কাছাকাছি আবাসিক এলাকায়।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় পরিবার খুব কম। তবে মুসাফফার বাইরে আবাসিক এলাকা আছে, যেখানে পরিবারগুলো থাকে।

তিনি আরও বলেন, বিকট শব্দে প্রবাসী পরিবারগুলোর শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

মুসাফফায় এখন পর্যন্ত বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে ও নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশনা ছাড়া অতিরিক্ত কোনো নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা হয়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় কোনো বাংলাদেশির হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

 

সরকারের এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ১ লাখের বেশি প্রার্থী

দেশের তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশের ৬৪ জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে একযোগে এ লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের জন্য মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি আবেদন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়। বৈধ আবেদনকারীদের মধ্য থেকেই লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করা হচ্ছে।

প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের কথা রয়েছে। সে হিসাবে বৈধ আবেদনকারীর সংখ্যা বিবেচনায় প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ৬৪ জনের বেশি প্রার্থী রয়েছেন।

এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি। ঢাকা জেলার ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৫৫২ জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০২ জন প্রার্থী রয়েছেন।

পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তাঁরা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, আসনব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।

পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ দুই মাস মেয়াদি এবং ৫০টি ক্লাসে মোট ৩০০ ঘণ্টার পাঠদান থাকবে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, মিডজার্নি, রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, ট্যাবলো, ক্লিকআপ ও অ্যাডোবি সেনসেইসহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুল ও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।