26 C
Dhaka
Home Blog

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল মুদ্রার তালিকায় টাকা

গত এক বছরে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থিতিশীল মুদ্রা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এ বছরের মার্চের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয়েছে মাত্র ০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে তুলনামূলক বিচারে শুধু কম্বোডিয়া কিছুটা ভালো করেছে। দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের রুপির সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমেছে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীলঙ্কান রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ, ফিলিপাইনের পেসো ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ার ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে।

এর বিপরীতে, চীনের ইউয়ানের মান বেড়েছে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা ছিল এটিই।

এছাড়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির মানও কিছুটা বেড়েছে। এর মান বেড়েছে ০ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফের শর্ত মেনে গত বছরের মে মাসে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কমাতে মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরই টাকার অবমূল্যায়ন তুলনামূলক সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে পেরেছে, যা স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ৩০ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

গত এক বছরে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে, যা মুদ্রার স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি বিল পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ৪ আগস্ট আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ দশমিক ৮১ টাকা, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১২৩ দশমিক ৬৯ টাকা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে আচমকা হোটেল বদল হালান্ডদের

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে হুট করে হোটেল বদল করেছে গোটা নরওয়ে দল। একাধিক মিডিয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের হোটেলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্টকে হোটেল বদলানোর কথা জানান নরওয়ের ফুটবলাররা। 

ইয়াহু স্পোর্টসের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মায়ামিতে ইংল্যান্ড ম্যাচকে সামনে রেখে শুরুতে ফোর্ট লডারডেলের দ্য ডালমার হোটেলে উঠেছিলেন হালান্ডরা। কিন্তু মাত্র এক রাত পরেই এই হোটেল ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, হোটেলের বাইরে উচ্চ শব্দে নির্মাণকাজ চলার কারণে খেলোয়াড়েরা ম্যানেজমেন্টের কাছে অভিযোগ জানান এবং হোটেল পরিবর্তনের কথা বলেন। 

অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বলেছেন, ‘কিছু কিছু বিষয় আরেকটু ভালো হতে পারত। আমরা সেগুলো ঠিক করে নিয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে নিজেদের যথাসম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুত রাখার লক্ষ্যে এমনটা করা হয়েছে’। 

ম্যাচের মাত্র একদিন আগে এমন ঘটনা দলের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন অনেক সমর্থক। তবে নরওয়ে দলের লজিস্টিকস ম্যানেজার ট্রুলস ডাহেলি আশ্বস্ত করেছেন এমন কিছু ঘটবে না, ‘নতুন হোটেল নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। কেউ কেউ হয়তো ভয় পেতে পারেন যে এতে খেলোয়াড়দের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কী না। তবে এই স্থানান্তর আমাদের চেয়ে খেলোয়াড়েরাই বেশি চেয়েছে’। 

ডাহেলি আরও জানিয়েছেন, মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই পুরো স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন তারা, ‘এই সময়ে এসে হোটেল পরিবর্তনের ব্যাপারটা আদর্শ নয়, তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলাম। খেলোয়াড়দের ভালো পরিবেশে রাখা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মায়ামিতে এক সপ্তাহ থাকতে যাচ্ছি, এবং নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচটা খেলতে যাচ্ছি। এই পর্যায়ে এসে আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে পারি না। ফিফা আমাদের হোটেল পরিবর্তনের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে’। 

নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির স্বার্থে এটা দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, ‘এটা আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। এই ম্যাচের আগে আমাদের শতভাগ প্রস্তুত থাকতে হবে। ফিফা আমাদের ব্যাপারটা বুঝেছে। একটু তাড়াহুড়ো করে বদল করতে হয়েছে, কিন্তু আমরা সবাই এখন খুশি’। 

বেইন স্পোর্টসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, শব্দদূষণের পাশাপাশি অপরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগের কারণেও তড়িঘড়ি করে হোটেল পরিবর্তন করতে হয়েছে নরওয়েকে। ফিফাকে জানানোর পর তারা দ্রুত এই হোটেল পরিবর্তনে সহায়তা করেছে এবং এ সংক্রান্ত খরচের বেশিরভাগটুকু ফিফাই বহন করবে বলে জানা গেছে। 

 

বলিউড নির্মাতা জোয়া আখতারের অফিসে চুরি, উধাও ৬৬ হার্ডডিস্ক

বলিউডে চুরি-ডাকাতি নিয়ে অনেক সিনেমা হয়েছে। কিন্তু এবার যেন বাস্তবেই সিনেমার গল্প ঢুকে পড়ল নির্মাতা জোয়া আখতারের অফিসে!

এক সকালে অফিসে গিয়ে কর্মীরা দেখলেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু হার্ডডিস্ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথমে হয়তো মনে হয়েছিল, অন্য কোথাও রাখা আছে। তারপর খোঁজাখুঁজি। ড্রয়ার খুলে দেখা। আলমারি চেক। স্টোররুমে উঁকি। কিন্তু না! হার্ডডিস্কগুলো সত্যিই গায়েব!

এরপর বেরিয়ে আসে আরও চমকে দেওয়া তথ্য, এক বা দুইটা নয়, পুরো ৬৬টি হার্ডডিস্ক উধাও!

এই হার্ডডিস্কগুলো ছিল টাইগার বেবি ডিজিটাল এলএলপির। প্রতিষ্ঠানটি যৌথভাবে গড়েছেন জয়া আখতার ও নির্মাতা রিমা কাগতি। সেখানে সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, বিজ্ঞাপনসহ নানা প্রজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সংরক্ষণ করা ছিল।

তবে জোয়া আখতার পুরো ব্যাপারটা বেশ ঠাণ্ডা মাথায় সামলেছেন।

বলিউড হাঙ্গামাকে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমার অফিসে চুরি হয়েছে। হার্ডডিস্ক চুরি গেছে। আমরা অভিযোগ করেছি, পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। এটা অফিসের ভেতরের কারও কাজ। মানুষ টাকা রোজগারের জন্য কতটা নিচে নামতে পারে, এটা সত্যিই দুঃখজনক।

জোয়া জানান, ভাগ্য ভালো, সব কিছুর ব্যাকআপ ফাইল আমাদের কাছে আছে।

মানে, চোর হার্ডডিস্ক নিয়ে পালালেও পুরো সিনেমা নিয়ে পালাতে পারেনি!

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অফিসে মোট ১১৯টি হার্ডডিস্ক ছিল। এর মধ্যে ৬৬টি নেই। আর এগুলোর স্টোরেজ ক্ষমতা ১৬ টেরাবাইট থেকে ৭২ টেরাবাইট পর্যন্ত!

তদন্তকারীদের ধারণা, চুরি হওয়া হার্ডডিস্কগুলোতে জনপ্রিয় কিছু প্রজেক্টের ডেটাও ছিল। এর মধ্যে রয়েছে মেইড ইন হেভেন ও ঘোস্ট স্টোরিজের মতো আলোচিত কাজের ফাইল।

ঘটনাটি সামনে আসে গত ২১ মে। অফিসের কর্মীরা প্রয়োজনীয় কিছু হার্ডডিস্ক খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি স্টোরেজ বক্স ভাঙা এবং অনেক কেস খালি পড়ে আছে।

এরপর পুলিশের তদন্তে গ্রেপ্তার হন দুই ব্যক্তি। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের একজন নাকি গত কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে হার্ডডিস্ক সরিয়ে গ্রে মার্কেটে বিক্রি করছিলেন।

এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, শুধু হার্ডডিস্কই বিক্রি হয়েছে, নাকি ভেতরের ডেটাও কোথাও কপি বা ফাঁস করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর মুখপাত্র (আইআরজিসি) আলি মোহাম্মদ নাঈনি বলেছেন, ইরান ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের’ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেছেন, তেহরান এমন উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা এখনো এই সংঘাতে ব্যবহার করা হয়নি।

আজ শুক্রবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এক বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, ইরানের শত্রুদের ভয়াবহ হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ শিগগিরই হামলার নতুন ধরণের ঢেউ শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, ইরানের নতুন উদ্যোগ ও নতুন অস্ত্র আসছে। এই প্রযুক্তিগুলো এখনো বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়নি।

নাঈনি আরও বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় ইরান এখন অনেক বেশি প্রস্তুত।

সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রতিবেদককে মারধর, শ্যামনগর থানার সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাতক্ষীরায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবিতে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে ঢুকে দৈনিক সমকাল ও দৈনিক পত্রদূতের শ্যমনগর উপজেলা প্রতিনিধি এবং মুন্সিগঞ্জ কলেজের সহকারী অধ্যাপক সামিউল মনিরকে মারধর করা হয়। তার ওপর হামলায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত শ্যামনগর থানায় অবস্থান করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

এ সময় তারা শ্যামনগরে নদ-নদীতে বালু উত্তোলনকারী যুবদল নেতা আনোয়ারুল ইসলামসহ সামিউল মনিরের ওপর হামলায় জড়িত ও নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জড়িতদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা চলে যান।

আহত সামিউল মনির শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি। ইতোমধ্যে হামলায় জড়িত অভিযোগে শ্যামনগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলুর রহমান ও বিএনপি সমর্থক আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান, আজ দুপুরে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলুর রহমান, মিজানুর রহমান, মোতালেবসহ ২৫-৩০ জন প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে মারধর করতে করতে ভবনের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, সামিউলের মাথার বাম পাশে শক্ত বস্তু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ওসি বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকালে ‘যুবলীগ-যুবদল-জামায়াতের যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের বালু লুট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকে সামিউলকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর বলেন, ‘রোববার এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় সোমবার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন চলছিল। এ সময় সামিউল মনির তাদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এতে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা তার ওপর হামলা চালায়।’

তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন স্বীকার করে বলেন, ‘জনতাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি।’

এ ঘটনায় প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আগামীকাল সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট চত্বরে মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
 

চা শিল্প পুনর্গঠনে চা শ্রমিকদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে হবে

একবার ভাবুন, একজন নারী সদ্য তোলা চা-পাতায় বোঝাই একটি ভারী ঝুঁড়ির ভারে নুয়ে পড়েছেন। তার পা ভেজা, পিঠে টান আর কোমল কুঁড়ি ও কচি পাতার ফাঁকে দ্রুততার সঙ্গে চলছে তার হাত। দিন শেষে যে মজুরি তিনি পাবেন, তা দিয়ে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা মেটানোও প্রায় অসম্ভব। চা-বাগানের লেবার লাইনে তার ঠাঁই একটি ছোট্ট ঘরে। যে জমির ওপর তার ঘর সেই জমির মালিকানাও তার নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই চা-বাগানে বসবাস এবং কাজ করে আসছে তার পরিবার। অথচ বাগানের মালিকানা, ভালোমন্দ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াসহ সবকিছু থেকেই তারা বঞ্চিত।

এটিই বাংলাদেশের চা-শিল্পের মানবিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। চা-বাগানের সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর বৈষম্যে জর্জরিত এক আর্থসামাজিক ব্যবস্থা।

ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতার অবনতি এবং রপ্তানি আয় হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সরকার চা-শিল্পের পুনর্গঠনে একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে গঠিত টাস্কফোর্স এ খাতের সংস্কারের লক্ষ্যে ৫৯টি সুপারিশ পেশ করে। এর মধ্যে রয়েছে চা-কে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, ভ্যাট হ্রাস, ঋণ পুনর্গঠন, কারখানার আধুনিকায়ন এবং ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার একটি সহায়তা তহবিল গঠন। পরবর্তী সময়ে সংস্কার কার্যক্রম তদারকির জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পরিবীক্ষণ ও পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়।

চা শিল্পের গভীর সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়। নিষ্ক্রিয় বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো: এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কাদের স্বার্থে হচ্ছে? এর সুফল যদি কেবল বাগানমালিক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ  সরকার এমন এক শিল্পকে সংকট থেকে উদ্ধারের ঝুঁকি নেবে, অথচ উপেক্ষিত থেকে যাবেন সেই মানুষগুলো, যাদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রমের ওপর ভর করেই এই শিল্প টিকে আছে।

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করা, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন এবং জমির আনুষ্ঠানিক স্বত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে এ বছরের জুলাই ও আগস্টে এক মাসের বেশি সময় ধরে চা শ্রমিকদের আন্দোলন হয়। এই আন্দোলন আবারও চা-শিল্পের দীর্ঘদিনের সংকট এবং শ্রমিকদের বঞ্চনার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।

এর আগে, ২০২৪ সালে, রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ১২টি চা-বাগানের ১২ হাজারেরও বেশি শ্রমিক মজুরি নিয়ে কয়েক সপ্তাহের জন্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ফুলতলা চা-বাগানের প্রায় ১ হাজার ৬০০ শ্রমিক টানা ১২ সপ্তাহ মজুরি পায়নি এবং হবিগঞ্জের ইমাম ও বাওয়ানি চা-বাগানেও ২০২৩ সাল থেকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থাপনা সংকট চলছিল। গোটা শিল্পে ৭৯টি চা-বাগান গভীর সংকটের মধ্যে ছিল বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এসব বাগানে ভবিষ্যৎ তহবিলে (প্রভিডেন্ট ফান্ড) শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ জমা দেওয়া হয়নি, পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়, আর কারখানাগুলোতেও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না।

রাষ্ট্রের ৫১ শতাংশ শেয়ার মালিকানা থাকা ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে, কীভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক শৃঙ্খলার অভাব একটি প্রতিষ্ঠানকে পঙ্গু করে দিতে পারে। তবে সংকট কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত চা-বাগানেই সীমাবদ্ধ নেই। বছরের পর বছর ধরে ব্যক্তিমালিকানাধীন চা-বাগানগুলোতেও অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

চা-শিল্পে সংকটের জন্য মালিকপক্ষ সাধারণত চায়ের দাম কমে যাওয়া ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করে। এটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়; কিন্তু একই পরিস্থিতিতেও কেন কিছু চা-বাগান ভালোভাবে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে, আর কিছু চা বাগান কেন বছরের পর বছর উৎপাদনশীলতার সংকটে ভুগছে, তার ব্যাখ্যা মালিকরা দিতে পারেন না।

এক্ষেত্রে, মৌলভীবাজার জেলার ইস্পাহানি’র জেরিন চা-বাগান একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। বাগানটিতে একরপ্রতি চায়ের গড় উৎপাদন জাতীয় উৎপাদনের প্রায় দ্বিগুণ। একইসঙ্গে, সেখানকার শ্রমিকেরা তুলনামূলকভাবে উন্নত আবাসন, কর্মপরিবেশ এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট: উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য নয়। বরং, সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ দুটিই অর্জন করা সম্ভব।

টাস্কফোর্স এবং পরবর্তীকালে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারক এবং চা শিল্পের প্রতিনিধিরা স্থান পেয়েছেন। কিন্তু উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় চা শ্রমিকদের কিংবা তাদের ট্রেড ইউনিয়নের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।

টাস্কফোর্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ খাতে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার স্থায়ী এবং ৪০ হাজার অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন। চা উৎপাদনে তাদের শ্রম অপরিহার্য। অথচ তাদের জীবিকা, কর্মসংস্থান-সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎকে মৌলিকভাবে বদলে দিতে পারে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের কণ্ঠস্বর অনুপস্থিত। চা-বাগানের শ্রমিকেরা শিল্পনীতির নিষ্ক্রিয় সুবিধাভোগী নন। তারা উৎপাদনপ্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশীদার এবং শ্রম অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। অতএব, তাদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতামত দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান সংগঠন করার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। অন্যদিকে, শ্রম আইনেও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব, অংশগ্রহণ কমিটি গঠন এবং যৌথ দর-কষাকষির বিধান রয়েছে। তা সত্ত্বেও, চা-বাগানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এসব বিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বর্তমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের অনুপস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন অবহেলার ঘটনা নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে তাদের পরিকল্পিতভাবে দূরে সরিয়ে রাখার দীর্ঘদিনের গভীরতর প্রবণতারই প্রতিফলন।

সংস্কারে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকারের উচিত এই ভারসাম্যহীনতা দূর করা, একে আরও জোরদার করা নয়। ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় চা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সরকারি সহায়তা, ঋণ ও প্রণোদনার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাগান ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আর্থিক টেকসই সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং কর ও মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) মাধ্যমে নিয়মিত রাজস্ব অবদান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থ ও স্থানীয় অর্থনীতি সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

তবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি, বনায়ন এবং ক্লাস্টারভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে বাগানের ‘অব্যবহৃত’ জমি থেকে অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে যেকোনো আলোচনায় চা শ্রমিক ও তাদের প্রতিনিধিদের অবশ্যই পরামর্শ গ্রহণের জন্য সম্পৃক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশের চা শিল্পের গোড়াপত্তন হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে। এ সময় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকদের এনে চা বাগানে নিয়োগ করা হয়। বিভিন্ন জাতিসত্তা ও ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত সেই শ্রমিকদের বংশধরেরা আজও চা বাগানগুলোতে বসবাস করছেন। ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটলেও তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার আজও গভীরভাবে প্রোথিত।

প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার চা-শ্রমিকের মধ্যে ৯৫ শতাংশই অবাঙালি। নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও আজও তারা দেশের সবচেয়ে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীগুলোর একটি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রম দিলেও, যে জমিতে তারা চাষাবাদ কিংবা যে ঘরে বসবাস করেন, তার মালিকানা তাদের নেই। অর্থনৈতিক দিক থেকে চা-বাগানের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল তারা।

এ কারণেই চা-শ্রমিকদের দারিদ্র্যকে কেবল কম মজুরির পরিণতি হিসেবে দেখলে চলবে না। এর শিকড় এমন এক নির্ভরশীলতাভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্যে গেঁথে আছে, যা তাদের পেশা ও জীবিকা পরিবর্তনের স্বাধীনতা, দর-কষাকষির ক্ষমতা এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের সক্ষমতাকে সীমিত করে রাখে।

দৈনিক নগদ মজুরি ১৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৬ টাকা করা হলেও, এই সামান্য মজুরি আজও চা-শ্রমিকদের প্রতি অবিচারের প্রতীক হয়ে রয়েছে। চা শ্রমিকদের নৈমিত্তিক ও অর্জিত ছুটির ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক বিধান রয়েছে। তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না এবং তারা গ্র্যাচুইটি থেকেও বঞ্চিত হন। কোম্পানির মুনাফায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে আইনি বিধান থাকা সত্ত্বেও তারা প্রাপ্য সুবিধা পাননি।

অনেক চা বাগানে কর্মক্ষেত্রের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা (যেমন: শৌচাগার, হাত-মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা, ছায়াঘেরা স্থানে বসে খাবার খাওয়ার জায়গা এবং নিরাপদ পানীয় জল) এখনো অপ্রতুল। শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়োগকর্তাদের ওপর ন্যস্ত থাকলেও, চা বাগানগুলোতে তাদের আবাসনব্যবস্থার অবস্থা প্রায়ই নাজুক দেখা যায়। কোনো প্রতিষ্ঠানে কেবল মুনাফা হলেই শ্রমিকদের এসব সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে, বিষয়টি এমন নয়; বরং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা যা-ই হোক, প্রতিষ্ঠানকে এসব দায়িত্ব পালন করা বাধ্যতামূলক।

চাকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিলে চা-বাগানগুলো কম সুদে ঋণসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পেতে পারে। এর পেছনে অর্থনৈতিক যুক্তিও রয়েছে: চা চাষের সঙ্গে কৃষিকাজ জড়িত, অন্যদিকে সংগৃহীত চা-পাতা প্রক্রিয়াজাত করা একটি শিল্পকার্য। বাংলাদেশ ব্যাংকও চা খাতকে কৃষিভিত্তিক বা কৃষি-শিল্প খাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে চা-কে নতুন শ্রেণিভুক্ত করার ফলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং চা আইন, ২০১৬-এর অধীনে শ্রমিকদের শিল্পশ্রমিক হিসেবে স্বীকৃত অবস্থান কোনওভাবেই দুর্বল করা যাবে না। একইভাবে, সংগঠিত হওয়া এবং যৌথ দর-কষাকষির মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায়ের সুযোগও ক্ষুণ্ন করা চলবে না। মজুরি, বাসস্থান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে কার্যকরভাবে বলবৎযোগ্য অঙ্গীকারের মাধ্যমে। প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টায় ন্যায়বিচারের কোনো বিকল্প নেই।

শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে অভিন্ন উপলব্ধি গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি। চা শিল্পের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় চা শ্রমিক ও তাদের প্রতিনিধিদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; শ্রম আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং বিশ্বাসযোগ্য পরামর্শ ও আলোচনার ভিত্তিতে ন্যায্য মজুরি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাসস্থান, জমিতে প্রবেশাধিকার, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সংস্কার কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করতে হবে। সরকারি সহায়তা পাওয়ার আগে চা-বাগানগুলোকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকদের কল্যাণে কার্যকর অঙ্গীকারের প্রমাণ দিতে হবে।

পরিশেষে, উৎপাদন, মুনাফা, রপ্তানি কিংবা কোম্পানির আর্থিক হিসাবের ভিত্তিতেই পুনর্গঠনের সাফল্য পরিমাপ করা যায় না। এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে—উদাহরণস্বরূপ, একজন নারী শ্রমিক তার পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছেন কি না, সম্মানজনক বাসস্থানে থাকতে পারছেন কি না, সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারছেন কি না, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগহীনভাবে অবসরজীবনে প্রবেশ করতে পারছেন কি না এবং ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হয়ে নিজের অধিকার দাবি করতে পারছেন কি না—তার ওপর।

বাংলাদেশে চা কেবল একটি পণ্য নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রম, ইতিহাস ও আত্মত্যাগ। আধুনিকায়নের নামে চা শিল্পের পুনর্গঠন করে যদি শ্রমিকদের দারিদ্র্যের শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখা হয়, তাহলে তা হবে পুরোনো অবিচারকেই নতুন মোড়কে টিকিয়ে রাখা। আমাদের প্রয়োজন শুধু একটি লাভজনক শিল্প নয়; এমন একটি শিল্প, যেখানে শ্রমিকেরা তাদের সৃষ্ট সমৃদ্ধির ন্যায্য অংশীদার হবেন, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করবেন এবং নিজেদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থবহ মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

লিখাটির জন্য পটভূমি গবেষণা পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) গবেষক ফাহমিদা আফরোজ নাদিয়া।

ফিলিপ গাইন: গবেষক এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক।

১ লাখ টাকার মধ্যে সেরা ৫ ল্যাপটপ

বৈশ্বিক সংকটের কারণে স্থানীয় বাজারে র‍্যামের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে ল্যাপটপের দামেও। ফলে নতুন ল্যাপটপ কেনার পরিকল্পনা থাকলে বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী মডেল বেছে নেওয়া জরুরি। 

বাংলাদেশের বাজারে ১ লাখ টাকার মধ্যে এখনো কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন ও গেমিংয়ের উপযোগী বেশ কিছু ল্যাপটপ পাওয়া যাচ্ছে। 

এ তালিকায় রয়েছে দৈনন্দিন ব্যবহারের ল্যাপটপ, ওএলইডি ডিসপ্লের মডেল এবং আলাদা গ্রাফিকস কার্ডযুক্ত ল্যাপটপ। দাম, প্রসেসর, মেমোরি, স্টোরেজ ও অন্যান্য সুবিধা বিবেচনায় ১ লাখ টাকার মধ্যে পাঁচটি ল্যাপটপের খোঁজ থাকছে এ আয়োজনে।

দাম: ৯০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা

প্রসেসর: ইন্টেল কোর আইফাইভ-১৩৪২০এইচ

মেমোরি: ১৬ জিবি ডিডিআর ফাইভ র‍্যাম

স্টোরেজ: ৫১২ জিবি পিসিআই-ই ৪.০ এনভিএমই এসএসডি

ডিসপ্লে: ১৫.৩ ইঞ্চি ৩০০ নিট ডব্লিউইউএক্সজিএ আইপিএস 

১৩তম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আইফাইভ-১৩৪২০এইচ প্রসেসরযুক্ত এই ল্যাপটপে রয়েছে ৮টি কোর ও ১২টি থ্রেড। ফলে তুলনামূলক ভারী কাজেও এটি ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে ১৬ জিবি দ্রুতগতির ডিডিআর ফাইভ র‍্যাম, যা একসঙ্গে অনেকগুলো ব্রাউজার ট্যাব খোলা রাখা এবং একাধিক ভারী অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহায়ক। ৫১২ জিবি এসএসডি দ্রুত ল্যাপটপ চালু করা এবং ফাইল স্থানান্তরের সুবিধা দেয়।

ল্যাপটপটির ১৫.৩ ইঞ্চি ডব্লিউইউএক্সজিএ আইপিএস ডিসপ্লেতে রয়েছে ১৯২০×১২০০ পিক্সেল রেজল্যুশন এবং ১৬:১০ অনুপাত। ফলে পর্দায় লম্বালম্বি বেশি জায়গা পাওয়া যায়। ৩০০ নিট উজ্জ্বলতার পাশাপাশি এতে রয়েছে অ্যান্টি-গ্লেয়ার আবরণ, যা প্রতিফলন কমাতে সাহায্য করে।

আধুনিক সংযোগ সুবিধার মধ্যে রয়েছে ওয়াই-ফাই ৬, পূর্ণ কার্যকারিতার ইউএসবি-সি পোর্ট এবং ওয়েবক্যামের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ফিজিক্যাল শাটার। এ ছাড়া ল্যাপটপটি সামরিক মানের এমআইএল-এসটিডি-৮১০এইচ স্থায়িত্ব পরীক্ষার সনদ পেয়েছে।

দাম: ৮৫,০০০ থেকে ৯৫,০০০ টাকা

প্রসেসর: ইন্টেল কোর আইসেভেন

মেমোরি: সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র‍্যাম

স্টোরেজ: ৫১২ জিবি এসএসডি

ডিসপ্লে: ১৫.৬ ইঞ্চি ওএলইডি

আসুস ভিভোবুক ১৫ ওএলইডির অন্যতম আকর্ষণ এর ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি ওএলইডি ডিসপ্লে। এতে রয়েছে ১০০ শতাংশ ডিসিআই-পি থ্রি কালার গ্যামাট কভারেজ, দ্রুত রেসপন্স টাইম, গভীর কালো রং এবং উচ্চ কনট্রাস্ট। ফলে ছবি ও ভিডিও দেখার পাশাপাশি রঙের সূক্ষ্মতা গুরুত্বপূর্ণ এমন কাজেও ডিসপ্লেটি ভালো অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

ল্যাপটপটিতে ইন্টেল কোর আইসেভেন প্রসেসর এবং সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র‍্যামের কনফিগারেশন রয়েছে। এ ছাড়া ডিসপ্লেটি কম নীল আলো নির্গমনের জন্য টিইউভি রাইনল্যান্ড সনদপ্রাপ্ত।

তবে কেনার আগে স্থানীয় বাজারে পাওয়া নির্দিষ্ট সংস্করণটির হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে প্রসেসরের প্রজন্ম এবং র‍্যাম বাড়ানোর সুযোগ আছে কি না, তা নিশ্চিত হলে নিজের কাজের সঙ্গে মিলিয়ে উপযুক্ত মডেল বেছে নেওয়া সহজ হবে।

দাম: ৮২,০০০ থেকে ৯২,০০০ টাকা

প্রসেসর: ইন্টেল কোর আই ফাইভ-১৩৪২০এইচ 

মেমোরি: ১৬ জিবি র‍্যাম

স্টোরেজ: ৫১২ জিবি এসএসডি

গ্রাফিকস: ৬ জিবি এনভিডিয়া জিফোর্স আরটিএক্স ৩০৫০

ডিসপ্লে: ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি

এসার অ্যাসপায়ার ৭-এ রয়েছে ১৩তম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আইফাইভ প্রসেসর, ১৬ জিবি র‍্যাম, ৫১২ জিবি এসএসডি এবং ৬ জিবি ভিডিও মেমোরিযুক্ত নভিডিয়া জিফোর্স আরটিএক্স ৩০৫০ গ্রাফিকস কার্ড। আলাদা গ্রাফিকস কার্ড থাকায় গ্রাফিকস প্রসেসরের ওপর নির্ভরশীল কাজের ক্ষেত্রে এটি বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

নভিডিয়া জিফোর্স আরটিএক্স ৩০৫০-এর ৬ জিবি জিডিডিআরসিক্স ভিডিও মেমোরি হার্ডওয়্যার-নির্ভর রে ট্রেসিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিএলএসএস প্রযুক্তি সমর্থন করে। এর সঙ্গে রয়েছে দুটি ফ্যানের কুলিং ব্যবস্থা, ব্যাকলিট কিবোর্ড এবং এইচডিএমআই ও ইউএসবি-সি-সহ বিভিন্ন সংযোগ পোর্ট।

গেমিংয়ের পাশাপাশি গ্রাফিকসনির্ভর কাজেও ব্যবহার করা যাবে, এমন একটি ল্যাপটপ খুঁজলে এসার অ্যাসপায়ার ৭ বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।

দাম: ৭৮,০০০ থেকে ৮৮,০০০ টাকা

প্রসেসর: ইন্টেল কোর ফাইভ ১২০ইউ

মেমোরি: ৮ জিবি র‍্যাম

স্টোরেজ: ৫১২ জিবি জেন৪ এনভিএমই এসএসডি

ডিসপ্লে: ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস

এমএসআই মডার্ন ১৫ এফ১এমজি-তে রয়েছে ইন্টেল কোর ফাইভ ১২০ইউ প্রসেসর, ৮ জিবি র‍্যাম, ৫১২ জিবি জেন৪ এনভিএমই এসএসডি এবং ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে। প্রসেসরটিতে পারফরম্যান্স ও দক্ষতাভিত্তিক কোরের সমন্বয় রয়েছে, যা তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচে কাজের গতি ও দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে।

ল্যাপটপটির ওজন ১.৮ কেজির কম। এতে রয়েছে ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সমতল করা যায় এমন হিঞ্জ, পূর্ণ আকারের ব্যাকলিট কিবোর্ড এবং আলাদা সংখ্যার কী-প্যাড। এর ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লেতে রয়েছে প্রশস্ত ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল।

দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নিয়মিত বহন করার উপযোগী ল্যাপটপ চাইলে এটি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ৮ জিবি র‍্যাম আপনার কাজের জন্য যথেষ্ট কি না, তা কেনার আগে ভেবে দেখা উচিত।

দাম: ৮০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকা

প্রসেসর: অ্যাপল এ১৮ প্রো 

মেমোরি: ৮ জিবি ইউনিফায়েড মেমোরি

স্টোরেজ: ২৫৬ জিবি বা ৫১২ জিবি এসএসডি

ডিসপ্লে: ১৩ ইঞ্চি লিকুইড রেটিনা

অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে প্রবেশ করতে চান, তবে বাজেটও সীমিত রাখতে চান, এমন ক্রেতাদের জন্য ম্যাকবুক নিও একটি বিকল্প। ১৩ ইঞ্চির এই ল্যাপটপে রয়েছে অ্যাপলের এ১৮ প্রো চিপ, ৮ জিবি ইউনিফায়েড মেমোরি এবং ২৫৬ জিবি বা ৫১২ জিবি এসএসডি।

হালকা অ্যালুমিনিয়ামের কাঠামো ও ফ্যানবিহীন নকশার পাশাপাশি এতে রয়েছে অ্যাপলের বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী চিপ। ফলে ব্যাটারি ব্যাকআপ এর অন্যতম আকর্ষণ। এ১৮ প্রো চিপ একক কোরের কাজে দ্রুত পারফরম্যান্স এবং মিডিয়া প্রসেসিংয়ের ভালো সক্ষমতা দেয়। ১৩ ইঞ্চি লিকুইড রেটিনা ডিসপ্লেতে রয়েছে উচ্চ পিক্সেল ঘনত্ব ও বিস্তৃত রঙের সমর্থন। 

অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে প্রবেশের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে। তবে কেনার আগে দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্টোরেজ প্রয়োজন হবে এবং কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে, তা বিবেচনা করা জরুরি। কারণ এর মেমোরি ও স্টোরেজ কেনার পর বাড়ানো যায় না। তাই ম্যাকওএস বেছে নেওয়ার আগে উইন্ডোজভিত্তিক বিকল্পগুলোর সঙ্গে নিজের প্রয়োজন মিলিয়ে দেখা উচিত।

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, আজ ঘোষণা

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় সূত্রে এমনটি জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ১০ দিনে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময় শেষে এলজিআরডি মন্ত্রী ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান।

এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন দলের চেয়ারম্যান।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকেই তারেক রহমান প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে পারেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হবে। এরপর প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে।’

সূত্র জানায়, ৭৮ বছর বয়সী ফখরুল এই বৈঠকেই তার মন্ত্রিত্বের পদ ছাড়তে পারেন, এমনটি ধারণা করা হচ্ছে।

এরপর বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনে যাবেন। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হতে পারে এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।

বিএনপির চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি জানান, জামায়াতে ইসলামী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম জনসমক্ষে ঘোষণা করা হবে।’

তফসিল অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

গত ১ আগস্টের এক বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনের জন্য তারেক রহমানকে পূর্ণ ক্ষমতা দেয়।

৯ আগস্ট মনি এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর পরের দিন রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদীয় অধিবেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট দেবেন।

২৪ জুলাই মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। তখন থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এলজিআরডি মন্ত্রী ছাড়াও ফখরুল বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য এবং বিএনপির মহাসচিবের পদে রয়েছেন। তিনি যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবে তাকে এই তিনটি পদই ছেড়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও দলকে তার স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে।

কেন ফখরুল?

বিএনপি মনে করে, দলের ভেতরে একজন পরীক্ষিত নেতা হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের কাছে ফখরুলের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ফখরুলকে সম্মানিত করতে চায়।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের মুখে বিএনপি ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। দলের প্রধান খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন এবং তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত অবস্থায় ছিলেন।

এই দুই শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতিতে ফখরুল দীর্ঘ সময় ধরে দেশের ভেতরে বিএনপির প্রধান দৃশ্যমান নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সংকটের সময়ে দলকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দল বিশ্বাস করে, তাকে পুরস্কৃত করা হলে তা একটি জোরালো উদাহরণ সৃষ্টি করবে এবং দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটের সময় এই পদটি বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য এখন তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়েছে। অতীতে এ ধরনের সময়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির অবস্থান, দলের ভেতর থেকেই একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত।

রাজনৈতিক জীবন

ফখরুল ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে, ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ফখরুল তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি নবম সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ফখরুল ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে এই নেতার জন্ম।

গাজীপুরে ২ শতাধিক ছোট পোশাক কারখানায় ৩ দিনের ছুটি

গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে এবং সামনে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গাজীপুরের দুই শতাধিক ছোট ও সাব-কন্ট্রাক্টিং পোশাক কারখানায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার গাজীপুর শিল্প পুলিশের (ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে ফোনে বলেন, মূলত সাব-কন্ট্রাক্টিং এবং ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতেই এই ছুটি দেওয়া হয়েছে, কারণ গ্যাসের নিম্নচাপের ফলে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সরকারি ছুটি ছিল। এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ (বৃহস্পতিবার) একদিনের জন্য কারখানা না খুলে টানা তিন দিনের ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বড় বড় কারখানাগুলো আজ পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, কারখানা বন্ধের পেছনে শুধুমাত্র গ্যাসের স্বল্প চাপই একমাত্র কারণ নয়। যারা এই পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি গ্যাস সংকটকে দায়ী করছেন, তাদের তথ্যকে তিনি ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে  আখ্যা দেন।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে আগেও বিভিন্ন সময় কারখানাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি ছুটি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অবস্থাকে তিনি খুব বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গাজীপুর অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, গাজীপুরে বর্তমানে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

তিনি আরও যোগ করেন, শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিকসহ প্রায় সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ বর্তমানে বিঘ্নিত হচ্ছে।

রোনালদো কখনোই সমস্যা নয়, জানালেন পর্তুগাল কোচ

পর্তুগাল জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন হোর্হে জেসুস। অভিজ্ঞ এই কোচ জানিয়ে দিয়েছেন, রোনালদো যদি খেলার মতো ফিট থাকেন এবং জাতীয় দলে নির্বাচনের যোগ্যতা ধরে রাখেন, তাহলে তাকে অবশ্যই দলে ডাকবেন।

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পর্তুগালের কোচ হিসেবে পরিচয় পর্বে জেসুস বলেন, ‘সে যত দিন খেলবে এবং নির্বাচনের মতো অবস্থায় থাকবে, আমি তাকে দলে নেব। অবশ্যই সেটা জাতীয় দলের স্বার্থ ও আমার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই হবে।’

৪১ বছর বয়সী রোনালদোর জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ সুখকর ছিল না। শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। পুরো আসরে তার পারফরম্যান্সও সমালোচনার মুখে পড়ে। 

বিশ্বকাপের আগেই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।

জেসুস জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো রোনালদোর সঙ্গে তার কথা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই দুজন বসে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবেন।

‘এখনো ক্রিসের সঙ্গে কথা হয়নি। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, ক্রিস কখনোই জাতীয় দলের জন্য সমস্যা ছিল না, আমার জন্যও হবে না,’ বলেন ৭১ বছর বয়সী এই কোচ।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ক্রিস পর্তুগিজ ফুটবলের প্রতীক, জাতীয় দলেরও প্রতীক। ইতিহাসে তার নাম চিরকাল লেখা থাকবে। গত এক বছর তার সঙ্গে কাজ করে আমি দারুণ আনন্দ পেয়েছি। তার সঙ্গে কাজ করা খুবই সহজ। এখন আমরা বসে আলোচনা করব, সে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে চায়।’

গত মৌসুমে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে রোনালদোর কোচ ছিলেন জেসুস। তার অধীনেই ক্লাবটি সৌদি প্রো লিগ শিরোপা জেতে। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জেসুস বলেন, ‘আমি জানি, সে আল-নাসরেই খেলতে চায়। সে আমাকে বারবার বলেছে, “আমি আল-নাসরেই আমার ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই।”‘

রবার্তো মার্টিনেজের স্থলাভিষিক্ত হওয়া জেসুস ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত পর্তুগালের দায়িত্বে থাকবেন। সেই বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশের একটি হবে পর্তুগাল, বাকি দুটি স্পেন ও মরক্কো।