27.5 C
Dhaka
Home Blog

আশুলিয়া মহাসড়কে হকার উচ্ছেদ শুরু

ঢাকার সাভারের আশুলিয়া মহাসড়কের পাশে হকার উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, ঈদ সামনে রেখে মহাসড়কে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে হকার উচ্ছেদের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদে মহাসড়ক দুটিতে যানবাহনের চাপ থাকে। মহাসড়কের পাশে এসব অবৈধ দোকানের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।’ 

‘ঈদে যানজট নিরসনে সাভার উপজেলার ৬টি স্পটে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে আজ নবীনগর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দিনব্যাপী এ অভিযান চলবে,’ বলেন তিনি।

তবে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার হকারদের অভিযোগ, কোনো নোটিশ ছাড়া অভিযান শুরু হওয়ায় ব্যবসাসামগ্রী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

দ্য ডেইলি স্টারকে ওই এলাকার হকার মো. মামুন বলেন, ‘হঠাৎ করে আজ সকালে এসে বলছে দোকান সরিয়ে নিতে। না হলে ভাঙচুর করা হবে। আগে থেকে জানালে আমরা কাঁচামাল আনতাম না। আমরা এখন ক্ষতির মুখে পড়লাম।’

হকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এটা অমানবিক। আমরা শতশত হকার পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আগে বিপাকে পরলাম। আমাদের ঈদের আনন্দ মাটি হবে। বিকল্প কোথাও বসার ব্যবস্থা করে উচ্ছেদ করলে আমাদের সমস্যা হতো না। নোটিশ ছাড়াই আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নোটিশ দিয়ে অভিযান চালালে হকাররা এক হয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এ কারণে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়নি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।

আজ বৃহস্পতিবার দলের সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ এর খ (৬) ধারা অনুযায়ী দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দল থেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

বিল ও রিচার্জের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আসছে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ

ইউটিলিটি বিল ও মোবাইল ফোনে রিচার্জের জন্য ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে ঋণের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ সুবিধার আওতায় ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার পাওয়া যাবে। ৩০ দিনের মধ্যে সুদ ছাড়াই এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি খসড়া নীতিমালায় এই সুযোগের কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এসব ঋণে কোনো সুদ প্রযোজ্য হবে না। এর পরিবর্তে ঋণের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট হারে সার্ভিস ফি নেওয়ার অনুমতি পাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই সুবিধা ক্যাশলেস (নগদবিহীন) অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসার ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বসাধারণের মতামত ও পরামর্শের জন্য খসড়া নীতিমালাটি প্রকাশ করেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দেওয়া মতামত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

নির্ধারিত সার্ভিস ফি অনুযায়ী, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫ টাকা ফি নেওয়া হবে।

২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণে ১০ টাকা ফি নেওয়া হবে।

৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে ১৫ টাকা ফি।

১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে ২৫ টাকা ফি।

২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে ৩৫ টাকা ফি।

৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে ৫০ টাকা ফি।

অনুমোদিত এই সার্ভিস ফি ছাড়া ব্যাংকগুলো কোনো ধরনের সুদ, জরিমানা, প্রসেসিং ফি বা অন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ নিতে পারবে না। নির্ধারিত সময়ের আগেই কেউ ঋণ শোধ করে দিলে তার কাছ থেকে বাড়তি কোনো আর্লি সেটেলমেন্ট ফিও নেওয়া যাবে না বলে খসড়ায় বলা হয়েছে।

পুরো ঋণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। কাগজের স্বাক্ষরের পরিবর্তে গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক সত্যতা যাচাই এবং ডিজিটাল সম্মতি গ্রহণ করবে ব্যাংকগুলো।

 

বিশ্বকাপ উন্মাদনার আড়ালে হারারেতে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিপর্যয়

ফুটবলপাগল বাংলাদেশ এখন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জ্বরে কাঁপছে। ব্যস্ত নগরীর রাস্তা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের আড্ডা, সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ফুটবল। তবে বিশ্বকাপ উন্মাদনার মাঝেও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, জিম্বাবুয়েতে আসলে কী ঘটছে?

প্রত্যাশিতভাবেই জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স স্বাভাবিক সময়ের মতো তেমন মনোযোগ পায়নি, কারণ সব আলো কেড়ে নিয়েছে ফুটবল। তবে বিশ্বকাপের জ্বর কেটে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন অবশ্যই জানতে চাইবে, হারারেতে ঠিক কী ঘটেছিল।

ফুটবল উন্মাদনার আড়ালে বাংলাদেশের ক্রিকেট নেমে গেছে এক গভীর নিম্নগামী অবস্থায়। জিম্বাবুয়ের কাছে টানা টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হেরে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম হতাশাজনক অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছে টাইগাররা।

এই ব্যর্থতাগুলো আরও বেশি উদ্বেগজনক, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যে দুই সংস্করণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছিল, ঠিক সেখানেই এসেছে এই ধাক্কা।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই, তবে হয়তো শক্তিশালী কয়েকটি দলের বিপক্ষে জয়ের পর সেখানে গিয়ে তারা কিছুটা আত্মতুষ্টিতে ভুগেছিল। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমার মনে হয় কন্ডিশন কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল এবং তারা সেটার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি।

‘তবে আমার মনে হয়, বিভিন্ন ধরনের কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট ক্রিকেট আমরা খেলেছি। আমাদের ব্যাটিংও দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক নয়, আর এই সফরেও সেটাই আবার দেখা গেছে।’

জিম্বাবুয়ে সফরের আগে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি টেস্ট সিরিজ জিতেছিল। ওয়ানডেতেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরপর চারটি সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা জিম্বাবুয়েতে গিয়েছিল। র‌্যাঙ্কিংয়েও এগিয়ে থাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ ছিল স্পষ্ট ফেভারিট।

কিন্তু এই সফর আবারও উন্মোচন করেছে সেই পুরোনো দুর্বলতাগুলো, যা দীর্ঘদিন ধরে টাইগারদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল একমাত্র টেস্টটিকে। কিন্তু সেটি পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। খেলার সব বিভাগেই পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ এবং মাত্র তিন দিনের মধ্যে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায়। এর মাধ্যমে ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট সিরিজ হারল তারা।

যদি টেস্টের ফলাফলকে এক দিনের ব্যর্থতা বলে উড়িয়ে দেওয়া যেত, তাহলে ওয়ানডে সিরিজের ঘটনাগুলো ছিল আরও বেশি উদ্বেগের।

প্রথম ওয়ানডেতে নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা ২১ রানে ৬ উইকেটের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে মাত্র ১৪১ রানে অলআউট হয়ে যায়। কিন্তু এরপরও অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধসের কারণে বাংলাদেশ ২৫ রানে হেরে বসে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও চিত্রটা ছিল প্রায় একই।

একসময় ৬ উইকেটে ১৪৮ রানে ধুঁকছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু বেন কারান ও ব্র্যাড ইভান্স গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে স্বাগতিকদের ৬ উইকেটে ২৪৭ রানের সংগ্রহ এনে দেন।

লক্ষ্য তাড়ায় তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহিদ হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এই দুই ব্যাটার আউট হওয়ার পর আবারও ভেঙে পড়ে ইনিংস। আরেকটি ব্যাটিং ধস ১৩ রানের হার নিশ্চিত করে এবং জিম্বাবুয়েকে এনে দেয় আরও একটি সিরিজ জয়।

সম্ভবত পরাজয়ের চেয়েও বেশি বিস্ময়কর ছিল ম্যাচ-পরবর্তী ব্যাখ্যাগুলো।

প্রথম ওয়ানডের পর ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ব্যাটিং ধসের কারণ হিসেবে হারারে স্পোর্টস ক্লাবের বড় বাউন্ডারি ও অতিরিক্ত বাউন্সের কথা উল্লেখ করেন। দ্বিতীয় ম্যাচের পর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম স্বীকার করেন, ইনিংসের শেষ দিকে আলো কমে আসা একটি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তবে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল মাঠের আম্পায়ারদের।

এই বিষয়গুলো কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে ঠিকই, কিন্তু পুরো সফরজুড়ে বাংলাদেশের বারবার ব্যাটিং ব্যর্থতার যথেষ্ট ব্যাখ্যা এগুলো নয়।

হারারের তিন ম্যাচেই বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল হতাশার মূল কারণ।

টেস্টে মুমিনুল হকই ছিলেন একমাত্র ব্যাটার যিনি ফিফটি করতে পেরেছেন। প্রথম ইনিংসে তিনি করেন ৬০ রান। অন্য কোনো ব্যাটার ৪০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। বাংলাদেশ দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১৪০ ও ১৮৫ রানে অলআউট হয়, আর জিম্বাবুয়ে তোলে ৪১০ রান।

একই চিত্র দেখা যায় ওয়ানডে সিরিজেও।

প্রথম ওয়ানডেতে ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করা ছিল প্রায় আনুষ্ঠানিকতার বিষয়। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১১৬ রানে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কিছুটা উন্নতির আভাস মিললেও আরেকটি মিডল-অর্ডার ধস সব পরিশ্রম মাটি করে দেয়। দীর্ঘ সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও ১১ বল হাতে রেখেই হার মানতে হয় বাংলাদেশকে।

উদ্বেগের বিষয় শুধু ব্যাটিং নয়।

নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। টেস্টে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজ, দুজনকেই এমন মনে হয়েছে যেন ম্যাচের গতি বারবার জিম্বাবুয়ের দিকে চলে যাওয়ার সময় তাদের হাতে কার্যকর কোনো উত্তর ছিল না। চোটের কারণে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার লিটন দাস ও মোস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতিও দলকে আরও দুর্বল করেছে।

ওয়ানডে পরাজয় বাংলাদেশের আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়েও প্রভাব ফেলেছে। ইতোমধ্যে তারা তিনটি রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে। সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলে ক্ষতি আরও বাড়বে, যা আগামী বছরের আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ক্রিকেট বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলতে পারে।

এখন শেষ ওয়ানডেতে কিছুটা হলেও সম্মান রক্ষার আশা করবে বাংলাদেশ। তবে বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় কাজটি মোটেও সহজ মনে হচ্ছে না।

উদ্বেগের সংকেত শুধু টেস্ট ও ওয়ানডেতে সীমাবদ্ধ নয়।

টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক নয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ সমতার পর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে তারা। ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান উন্নত করতে না পারলে সামনে টাইগারদের জন্য আরও হতাশা অপেক্ষা করতে পারে।

‘পৃথিবীতে ভালোবাসার মতো বড় আর কোনো শক্তি নেই’

এদেশের চিরসবুজ গায়ক বলা হয় কুমার বিশ্বজিৎকে। কেউ কেউ চিরতরুণ বলেন তাকে। একজীবনে অসংখ্য গান গেয়েছেন। তার গাওয়া অনেক গান শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। মানুষের মুখে মুখে ফেরে তার গাওয়া বহু গান। দেশে-বিদেশে স্টেজ শো করে দর্শকদের মাতিয়ে যাচ্ছেন কয়েক দশক ধরে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার।

আজ ১ জুন কুমার বিশ্বজিতের জন্মদিন।

বর্তমানে তিনি কানাডায় আছেন। তার একমাত্র ছেলে নিবিড় বেশ কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এখনো চিকিৎসাধীন। মূলত ছেলের জন্যই তিনি কানাডায় অবস্থান করছেন। 

গানের মানুষ কুমার বিশ্বজিৎ দেশ থেকে দূরে থাকলেও গানের সঙ্গেই আছেন। গানই তার ভালোবাসা, সাধনা ও সবকিছু।

বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানানোর পর কুমার বিশ্বজিৎ বললেন, ‘মনে রাখার জন্য ধন্যবাদ। যারা বিশেষ দিনে ভালোবাসায় সিক্ত করছেন, তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা। অন্তরের গভীর থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই। ভালোবাসার শক্তি বড় শক্তি। পৃথিবীতে ভালোবাসার মতো বড় আর কোনো শক্তি নেই।’

শিল্পী জীবনে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন—এই বিষয়ে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘শিল্পী জীবনে মানুষের ভালোবাসা বড় পাওয়া। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে? কিছুই না। আমি বিশ্বাস করি, আমি মনে করি, শিল্পী হিসেবে আমার বড় প্রাপ্তি হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা। প্রচুর মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। আমার জন্য আশীর্বাদ করেন।’

কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘মাঝে মাঝে ভাবি, কী এমন করেছি? কিছুই তো করিনি। তারপরও কত শত মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। আমার জন্য, পরিবারের জন্য আশীর্বাদ করেন। এত এত ভালোবাসা আমাকে আপ্লুত করে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিকূল অবস্থায় যখন মানুষ ভালোবাসে, দোয়া করে, মনে রাখে, পাশে থাকে, সাহস দেয়, ওটাই বড় কিছু। দেশের মানুষ আমাকে অনেক ভালোবাসেন। আমার জন্য, ছেলে নিবিড়ের জন্য মন থেকে দোয়া করেন। এটাই অনেক।’

ছেলে নিবিড় এখন কেমন আছে? এই প্রশ্নের জবাবে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘নিবিড় আছে। সময় লাগবে। সবাই মন ভরে আশীর্বাদ করবেন। নিবিড় আগের মতো সুস্থ হয়ে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকুক। বাবা হিসেবে এটুকুই চাওয়া।’

নিজে কেমন আছেন, এ প্রশ্নের জবাবে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আছি। আমাকে তো ভালো থাকতেই হবে (দীর্ঘশ্বাস), নিবিড়ের জন্য ভালো থাকতে হবে। আমার একমাত্র ছেলের জন্য ভালো থাকতে হবে। ওর সুস্থতাই বড় চাওয়া। জানি, সময় লাগবে।’

সবশেষে, জন্মদিনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশেষ দিনে মানুষের আশীর্বাদ চাই।’
 

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের উপকার করেছে: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের উপকার করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের অগ্রগতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এমন বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, শূন্য থেকে দশের স্কেলে ইরানের বিরুদ্ধে তার দেশের অভিযানের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ১৫।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই সেবা হিসেবে এটি করছি।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ছিল অসুস্থ মানুষ, খুবই অসুস্থ মানুষ।’

এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

প্রভাবশালীরা প্রায়শই খালের মাঝে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘আজকাল প্রায়শই দেখবেন, খালের মাঝে বাঁধ দিয়ে সেখানে মাছের চাষ করে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি। এখানেই শেষ না। পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খালটাকে দখল করে বাড়ি বা মার্কেট করে।’

তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ সরকারি সম্পত্তি। এটা জনসাধারণের। জনসাধারণের প্রয়োজনে এই খাল খনন কর্মসূচি বৃহৎ আকারে নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ উপকারভোগী হয়, সুবিধাটা পায়। জনস্বার্থে, জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই কাজগুলো তার সময়ে শুরু করেছিলেন।’

আজ সোমবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চৌক্কার খাল পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় তীক্ষ্ণ দূরদৃষ্টি থেকে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। তিনি চিন্তা করেছিলেন, খাল খনন কর্মসূচি থেকে জনগণ কি কি সুবিধা নিতে পারে এবং দিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এই যে চৌক্কার খাল, আমরা শুনেছি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কর্মসূচিতে নিজে এসেছিলেন। স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত করে কোদাল হাতে নিজে খাল খনন করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, এই খালটা খনন করা হলে, খালের পাড়ে গাছ থাকবে, খালে মাছ চাষ হবে, খালের পার্শ্ববর্তী জমিতে সেচ দিয়ে সেখানে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। মাছের বাজারসহ সব বাজার যাতে স্থিতিশীল থাকে, এসব চিন্তা থেকেই তিনি এই কর্মসূচিতে নেমেছিলেন।’

বিভিন্ন সরকার দীর্ঘদিন খাল খনন কর্মসূচি থেকে বিরত থেকেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যার কারণে আজ সারা দেশে প্রচুর জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হয়। সেইসঙ্গে খালের মাঝে এতো বর্জ্য থাকে যে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, নদীতে পানি যেতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘খাল খনন আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মাঝে আমরা কাজে নেমে পড়েছি।’

বাতাসে ঘুরবে গাড়ি, বাজারে আনছে ইলন মাস্কের টেসলা

দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন রোডস্টার গাড়ি সামনে এনেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি বাতাসে বা শূন্যে ঘুরতে পারে, উড়তে পারে। এ জন্য এতে যুক্ত করা হয়েছে রকেটের মতো থ্রাস্টার। তবে গাড়িটির উৎপাদন শুরু হবে ২০২৮ সালে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক অনুষ্ঠানে গাড়িটি উন্মোচন করে টেসলা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে এটি তৈরি করা হয়েছে।

Tesla unveils its next-generation Roadster electric sports car

অনুষ্ঠানে সাদা রঙের দুই আসনের গাড়িটি নানা কৌশল দেখায়। বিশেষ ব্যবস্থার সাহায্যে এটি একটি অর্ধবৃত্তাকার র‌্যাম্পের ওপর উল্টোভাবে চলেছে। এরপর বাতাসে ঘুরে থ্রাস্টারের সাহায্যে মাটিতে নেমেছে। পরে একটি ট্রাকসহ অন্য গাড়ির ওপর দিয়েও লাফিয়ে যায় এটি।

টেসলার গাড়ি প্রকৌশল বিভাগের প্রধান লার্স মোরাভি জানান, গাড়িটি ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নিতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৭০ কিলোমিটারের বেশি। একবার চার্জ দিলে চলতে পারবে ৪৮০ কিলোমিটারেরও বেশি।

তবে গাড়িটির দাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। টেসলার ওয়েবসাইটে ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার এবং থ্রাস্টারযুক্ত ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমা দিয়ে বুকিং দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর ‘রকেট’ সংস্করণটি পাওয়া যাবে আমন্ত্রণের ভিত্তিতে। এতে থাকবে একজনের বসার ব্যবস্থা ও বিশেষ উড্ডয়ন ব্যবস্থা।

Tesla unveils its next-generation Roadster electric sports car

২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টারের নমুনা দেখিয়েছিল টেসলা। তখন ২০২০ সালে গাড়িটি সরবরাহ শুরুর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। এবার উৎপাদন শুরুর নতুন সময় হিসেবে ২০২৮ সালের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এমন সময়ে গাড়িটির প্রদর্শনী হলো, যখন টেসলা চালকবিহীন গাড়ি ও রোবট তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

টেসলার বিনিয়োগকারীদের কাছে গাড়িটির প্রদর্শনী আকর্ষণীয় হলেও প্রতিষ্ঠানের আয়, মুনাফা ও নগদ অর্থের হিসাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আগামী ২১ অক্টোবর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করার কথা টেসলার।

স্বামীর মৃত্যুতে প্যারোলে ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি

স্বামী তৌফীক নাওয়াজের মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।

আজ বুধবার মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন দীপু মনির মেয়ে তানী দীপাবলি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মুক্তি পাচ্ছেন।

দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আজ দুপুর ১২টার দিকে তানী দীপাবলি মায়ের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান। বের হয়ে তিনি মায়ের জন্য ৪ দিনের মুক্তি চেয়ে আবেদন করেন।’

তিনি জানান, ঢাকার কলাবাগানের বাসভবনে দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজের মরদেহ রাখা হবে। আগামীকাল ভোরে মুক্তি পাওয়ার পর সেখানে যাবেন দীপু মনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ।

আগামীকাল আজাদ মসজিদে তার জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন হবে।

৪ বছরে রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে অর্ধেকেরও বেশি

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আরোপিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থ পরিশোধ বিঘ্নিত হওয়ায় রাশিয়ার সঙ্গে রপ্তানি, শ্রম অভিবাসন এবং প্রধান উন্নয়ন সহযোগিতা কার্যক্রম বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এরসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী কর্মী বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন না। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নেওয়া রুশ ঋণ পরিশোধের বিষয়টিও স্থবির হয়ে পড়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় চেয়ে ঢাকা ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ হয়েছিল, কিন্তু তাতে কোনো সুফল মেলেনি।

এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ ও রাশিয়া নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন সহজ করতে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে চলমান মডেল অনুসরণ করে ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত এসবার ব্যাংকের একটি শাখা খোলার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, গত জুনের শুরুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মস্কো সফরের অন্যতম প্রধান আলোচিত বিষয় ছিল অর্থ পরিশোধের একটি সমাধান খুঁজে বের করা।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বর্তমানে ভূ-রাজনীতি সরাসরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে, কারণ বহুপক্ষীয় সংস্থা এবং তাদের নিয়মকানুনগুলো এখন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, পণ্য আমদানিতে বিঘ্ন এবং আর্থিক নানা বিধিনিষেধের মাধ্যমে মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোই এর পরিণতি ভোগ করছে।’

রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৩৮ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নাটকীয়ভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৭ মিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে রাশিয়া থেকে আমদানি ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে মূলত গম ও সার আমদানি করে। এমনকি এসব আমদানির ক্ষেত্রেও আমাদের অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া আমরা সামরিক সরঞ্জামও আমদানি করতে পারছি না। অন্যদিকে, আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা তাদের পাওনা অর্থ বুঝে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদার অভাব এখন আর প্রধান সমস্যা নয়; আসল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি করা পণ্যের অর্থ বা ‘এক্সপোর্ট প্রসিড’ সংগ্রহ করতে না পারা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ২০২৪ সালের শুরু থেকে পাঠানো চালানের বিপরীতে অন্তত আটজন পোশাক রপ্তানিকারক এখন পর্যন্ত তাদের পাওনা আদায় করতে পারেননি।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বকেয়া পড়ে আছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, রাশিয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানি বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর রুশ ক্রেতারা শুরুতে চীনা ব্যাংকের মাধ্যমে চীনা ইউয়ানে রপ্তানিকারকদের পাওনা পরিশোধ করতেন। তবে প্রায় দুই বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তার পর ওই ব্যাংকগুলো লেনদেন বন্ধ করে দেয় এবং অর্থ রাশিয়ায় ফেরত পাঠায়।

হাতেম জানান, পরে রপ্তানিকারকরা থাইল্যান্ডের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে মার্কিন ডলারে কিছু পাওনা আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন, তবে এখনো চার মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বকেয়া রয়ে গেছে।

এ ছাড়া এ শিল্প খাত ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় রপ্তানি আদেশ হারিয়েছে। পোল্যান্ডের এক রিটেইলার প্রতিষ্ঠান তাদের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি বাতিল করে দেওয়ায় এমনটি ঘটেছে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাক প্রথমে পোল্যান্ডে পাঠানোর কথা ছিল এবং সেখান থেকে স্থলপথে তা রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে দেশের অর্থনীতি যখন চাপে রয়েছে, তখন সরকার রপ্তানি বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া এখনো একটি বিপুল সম্ভাবনাময় বাজার, কিন্তু অর্থ লেনদেন বা পেমেন্ট সেটেলমেন্ট এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহে বাধা

কর্মকর্তাদের অনুমান, রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক তাদের অর্জিত আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠাতে পারছেন না।

খলিলুর রহমানের মস্কো সফরে দুই দেশ আগামী এক বছরে এক লাখ পর্যন্ত বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের বড় উদ্যোগের জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রয়োজন হবে, তবে তার আগে লেনদেন বা অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

মস্কোয় নিযুক্ত একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক বলেন, প্রবাসী কর্মীরা যতক্ষণ পর্যন্ত বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন না, ততক্ষণ সেই বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যোগ হচ্ছে না।

স্থগিত হয়ে আছে রূপপুরের ঋণের কিস্তি

১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে জটিল হয়ে পড়েছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে রাশিয়া।

মূল চুক্তি অনুযায়ী ঋণের অর্থ মার্কিন ডলারে পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার প্রধান ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা ‘সুইফট’  থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় ডলারে অর্থ পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাশিয়া বারবার তাদের পাওনা চেয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে রুবলের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ চীনা ব্যাংকের মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পন্ন করার চেষ্টা করলেও সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

২০২২ সালের আগে বাংলাদেশ সুদ এবং অগ্রিম কিস্তি বাবদ প্রায় এক বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। এরপর থেকে আরও প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে আছে, কারণ আইনি জটিলতার কারণে এই অর্থ রাশিয়ায় স্থানান্তর করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রাশিয়া ভারতীয় রুপিতে ঋণ নিষ্পত্তির প্রস্তাবও দিয়েছে, তবে সেই প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি মূলত একটি কূটনৈতিক বিষয়, কোনো আর্থিক সমস্যা নয়। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে বকেয়া কিস্তির অর্থ নির্ধারিত এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রুশ কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি, কারণ তাদের পাওনা একটি স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিকল্প পথের সন্ধান

২০২২ সাল থেকে বেশ কয়েকটি লেনদেন পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখেছে দুই দেশ। তবে কোনোটিই এখন পর্যন্ত পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। কর্মকর্তারা এখন বাংলাদেশে রাশিয়ার এসবার ব্যাংকের একটি শাখা খোলার প্রস্তাবকে একটি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন।

মস্কো সফরকালে খলিলুর রহমান এসবার ব্যাংকের প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যান আলেকজান্ডার ভেদিয়াখিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেন সহজতর করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

এসবার ব্যাংক এরইমধ্যে ভারতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির ভারতীয় শাখা বর্তমানে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার অধিকাংশ লেনদেন নিজস্ব মুদ্রায় সম্পন্ন করছে।

এ ছাড়া ব্যাংকটি রুশ রপ্তানিকারকদের রুপিতে ঋণ দেওয়ার সুবিধা বাড়িয়েছে এবং লেনদেনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে।

বাংলাদেশি কর্মকর্তারা মনে করেন, একই ধরনের ব্যবস্থা বাংলাদেশে চালু করা গেলে তা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং আর্থিক লেনদেন পুনরায় স্বাভাবিক করতে সহায়ক হতে পারে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকিতে আছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশেষভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। কারণ বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে যখন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে জ্বালানি খাতে রাশিয়া বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে।

‘এর ফলে মস্কোর সাথে ঢাকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব ও ঝুঁকি—উভয়ই এখন অনেক বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও এখন একই ধরনের উভয় সংকটের মুখে পড়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনৈতিক চাহিদার কথা বিবেচনা না করেই পশ্চিমা দেশগুলো যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে এই দেশগুলোকে।’

কুগেলম্যানের পরামর্শ, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমান স্থিতিশীল সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় বা শিথিলতার আবেদন করতে পারে। এতে করে রাশিয়ার সঙ্গে বৈধ বাণিজ্যিক লেনদেনের কারণে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়ার ঝুঁকি কমবে।