27.3 C
Dhaka
Home Blog

স্মরণীয় জয়ের উদযাপনে আহত হয়ে হাসপাতালে ইংলিশ ফুটবলার

মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদেরই মাঠে দুর্দান্ত জয়ের রেশে এখনও উত্তাল ইংলিশ ভক্ত-সমর্থকেরা। তবে এই আনন্দের মাঝে দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসনের আহত হওয়ার খবর। ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সাথে উদযাপন করতে গিয়ে বিজ্ঞাপন বোর্ডের উপর থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, কবজিতে ব্যথা পাওয়ায় হেন্ডারসনকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এই ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপে তাকে আর পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। 

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর ইংল্যান্ড ফুটবলাররা গ্যালারির কাছে তাদের সমর্থকদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়েছিলেন। এর মাঝেই মেডিকেল স্টাফদের স্ট্রেচার নিয়ে দ্রুতগতিতে সেদিকে দৌড়ে আসতে দেখা যায়। এরপর সেখানেই অক্সিজেন দেয়ার পর স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেয়া হয় হেন্ডারসনকে। 

সাবেক এই লিভারপুল অধিনায়কের চোটের মাত্রা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল বলেছেন, ‘এই জয়ের পর আমার মিশ্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, কারণ জর্ডানের ইনজুরির কারণে আমি দুঃখিত ও আবেগী হয়ে পড়েছি। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। চোটের মাত্রা বেশ গুরুতর। এরকম একটি স্মরণীয় সন্ধ্যায় সে আমাদের সাথে নেই, এটি একদমই মানানসই নয়। আমরা জয় উদযাপনের পাশাপাশি তার কথাও ভাবছি’। 

মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে না নেমেও বেঞ্চে থাকা অবস্থায় হলুদ কার্ড দেখেছেন এই মিডফিল্ডার। চলতি বিশ্বকাপে কেবল পানামার বিপক্ষে ম্যাচে ৮৪ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন হেন্ডারসন।   

 

সুকুক বন্ডে বিনিয়োগে আগ্রহী, কেনার আগে যা জানা প্রয়োজন

ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগে উৎসাহীদের জন্য আছে সরকারি সুকুক বন্ড। বিভিন্ন মেয়াদের সুকুকের মাধ্যমে এর আগে ৪৮ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে সরকার।

গত ২৮ জুন প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি সুকুকের নিলাম করা হয়। ২৭৩ দিন মেয়াদি এই বন্ডের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক’।

শরিয়াহভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি এই বন্ড প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। সরকার এই নিলাম থেকে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বিনিয়োগকারীরা ৫৬ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার দরপত্র জমা দেন। অর্থাৎ, লক্ষ্যের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

বিনিয়োগকারীদের বিপুল আগ্রহের কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সুকুকের মাধ্যমে আরও তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী দিনে বিভিন্ন মেয়াদের সুকুক নিলামের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা তোলা হতে পারে।

সুকুক সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন: সুকুক কী?

সুকুক হলো প্রচলিত বন্ডের বিকল্প ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ। প্রচলিত বন্ডে যেখানে সুদ দেওয়া হয়, সেখানে সুকুকে কোনো সুদ থাকে না। বরং সুকুকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ কোনো সম্পদ বা প্রকল্পে বিনিয়োগ করে সেখান থেকে যে আয় হয়, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা হিসেবে ভাগ করে দেওয়া হয়। সরকারের সর্বশেষ এই সুকুকটি ‘ইজারা সুকুক’ কাঠামোর। অর্থাৎ, এখানে বিনিয়োগকারীরা সুদের বদলে ইজারা বা ভাড়ার আয় থেকে মুনাফা পাবেন।

কারা বিনিয়োগ করতে পারবেন

ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

কত বিনিয়োগ করা যাবে

সুকুকে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা যায়। তবে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই।

কীভাবে বিনিয়োগ করবেন

যেকোনো তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সুকুকে বিনিয়োগের আবেদন করা যাবে। তবে যারা প্রথমবারের মতো সুকুকে বিনিয়োগ করবেন, তাদের ব্যাংক থেকে একটি ‘সুকুক ইনভেস্টর’ (এসআই) আইডি খুলে নিতে হবে। আর যারা আগে সুকুকে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের নতুন করে আইডি খোলার প্রয়োজন নেই।

মুনাফায় উৎসে কর

বিনিয়োগকারীর হিসাবে টাকা জমা হওয়ার আগে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হবে।

মেয়াদ পূর্তির আগে নগদায়ন বা বিক্রি

মেয়াদ পূর্তির আগেও প্রয়োজন হলে নগদায়ন করা যাবে। প্রচলিত বাজার পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য নিয়মনীতি মেনে বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ পূর্তির আগেই সুকুক ভাঙাতে বা বিক্রি করতে পারবেন।

সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরের তুলনায় মুনাফা

সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকের স্থায়ী আমানতে যে ধরনের মুনাফা পাওয়া যায়, সুকুকের মুনাফাও প্রায় কাছাকাছি। তবে মূল পার্থক্য হলো, সুকুকে সুদের বদলে নির্দিষ্ট সম্পদের আয় থেকে মুনাফা দেওয়া হয়। ইসলামি শরিয়াহসম্মত করতে মুনাফার হার নির্দিষ্ট থাকে না।

মেয়াদ শেষে কীভাবে আসল ও মুনাফা পাওয়া যাবে
মেয়াদ পূর্তিতে বিনিয়োগ করা মূল টাকা এবং এর বিপরীতে জমা হওয়া মুনাফা একসঙ্গে এককালীন পরিশোধ করা হবে। এই টাকা সরাসরি বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যাবে।

‘আরও দুই-চারবার বিরোধী দলে থাকলে সমালোচনা করা শিখবেন’

বিরোধী দলের সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা এই প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন। আমার বিশ্বাস, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে আপনারা ভুল করেছেন। আরও দুই-চারবার বিরোধী দলে থাকলে আস্তে আস্তে সমালোচনা করাটাও বুঝে যাবেন।’

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রবিউল আলম বলেন, ‘আমি বিরোধী দলের সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না। এই সরকার তাদের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেছে। বাজেট হচ্ছে রাষ্ট্র কর্তৃক আহরিত অর্থের সম্ভাব্য ব্যবহারের চিত্র। সরকার এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্যই জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে।’

অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যয় বা অনুন্নয়ন ব্যয় আগের অর্থবছরে ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী সেখান থেকে কমিয়ে তা ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নিয়ে এসেছেন। অর্থাৎ তিনি অপচয় রোধ করেছেন এবং অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করেছেন, যা গত অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকার এই জাতির জন্য কলঙ্ক হিসেবে প্রচুর ঋণ চাপিয়ে দিয়ে গেছে। সেই ঋণের সুদ দেওয়ার জন্যই বর্তমান সরকারকে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এটি না দিতে হলে অনুন্নয়ন ব্যয় আরও কমানো যেত।’

বিএনপি সরকার এর আগে কীভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে, তার উদাহরণ দিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ থেকে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছিল। এবার আমাদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বিএনপি জানে কীভাবে লক্ষ্য অর্জন করতে হয়।’

‘রকস্টার’ সিনেমার ৫৪ সেকেন্ডের অ্যানিমেটেড ভিডিও

বাংলা সিনেমায় নতুন চমক নিয়ে আসছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। তার নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে এবার নতুন বার্তা দিলেন তিনি। আজ সকালে ৫৪ সেকেন্ডের একটি অ্যানিমেটেড ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ক্যাপশনে শাকিব খান লিখেছেন, ‘একটা গল্প, যা বদলে দেবে সবকিছু! আসছে খুব শিগগিরই।’

অ্যানিমেটেড ভিডিওটির শুরুতেই দেখা যায় ঝুম বৃষ্টি। একটি উঁচু বিশাল দালানের দেয়ালে তখন আলো ছড়াচ্ছে ‘রকস্টার’ শাকিবের ছবি। স্ক্রিনে তখন ভেসে ওঠে রহস্যময় দুটি চরিত্র।

ভিডিওর শেষে দেখা যায়, কনসার্টে উপস্থিত অসংখ্য দর্শকের সামনে গান গাইছেন ‘রকস্টার’। ‘আমাকে পুড়িয়ে দাও, আমাকে ভাসিয়ে দাও’—এমন গানে মুগ্ধতা ছড়ানোর পর জানানো হয়, আগামী ৫ মে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ‘রকস্টার’ সিনেমার টিজার।

সান কমিউনিকেশনসের প্রযোজনায় ‘রকস্টার’ পরিচালনা করছেন আজমান রুশো। সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে রয়েছেন অভিনেত্রী সাবিলা নূর। এ ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ বিজয়ী মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ২০ বছরে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের গড় দাম ১১ সেন্ট বেড়ে প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ১১ ডলার হয়েছে। ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার পর দেশটিতে এটাই এক দিনে জ্বালানি তেলের দামে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের বরাতে আজ মঙ্গলবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ছে।

প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরবে ইরান হামলা চালানোর কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। 

মঙ্গলবার মার্কিন বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। সোমবার বেড়েছিল ৬ শতাংশ। 

তবে সিএনএন বলছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে খুচরা মূল্য হয়ত নাও বাড়তে পারে। 

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ ডেভিড অক্সলে সিএনএনকে বলেন, ‘পাম্পে যে দাম দিতে হয় তা আসলে খুবই ছোট একটা অংশ।’

কোন দিন পাওয়া যাবে রেলের কোন তারিখের আগাম টিকিট

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামলাতে আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদ যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ৩ মার্চ থেকে এবং চলবে ৯ মার্চ পর্যন্ত। আর ফিরতি টিকিট পাওয়া যাবে ১৩ থেকে ১৮ মার্চ। 

আজ বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় রেলপথ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

বিক্রির প্রথম দিন ৩ মার্চ ১৩ মার্চের আগাম টিকিট পাবেন যাত্রীরা। দ্বিতীয় দিন ৪ মার্চ ১৪ মার্চের ও তৃতীয় দিন ৫ মার্চ ১৫ মার্চের ট্রেনের টিকিট পাবেন যাত্রীরা। ১৬ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে ৬ মার্চ, ১৭ মার্চের টিকিট ৭ মার্চ, ১৮ মার্চের টিকিট ৮ মার্চ ও ১৯ মার্চের টিকিট ৯ মার্চ বিক্রি হবে।

২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে।

একজন যাত্রী একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন, অগ্রিম ও ফিরতি উভয় ক্ষেত্রেই। তবে ঈদের অগ্রিম ও ফিরতি টিকিট কোনোভাবেই ফেরতযোগ্য নয়।

পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে অনলাইনে ছাড়া হবে। 

নিয়মিত আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  

১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঈদের পর পূর্বের ছুটির নিয়ম চালু হবে।

ভ্রমণের দিনে মোট আসনের (উচ্চশ্রেণি বাদে) ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাত্রার (স্ট্যান্ডিং) টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে। 

কন্টেইনার ও জ্বালানি ট্রেন ছাড়া সব পণ্যবাহী ট্রেন ১৯ মার্চ রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক রিলিফ ট্রেন প্রস্তুত রাখা হবে।

ঈদ উপলক্ষে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ, ভৈরব বাজার-কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ এবং জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে। 

‘চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১’ চট্টগ্রাম থেকে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে চাঁদপুর পৌঁছাবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে। ফিরতি ট্রেন চাঁদপুর থেকে ভোর ৪টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। 

তিস্তা স্পেশাল-৩ ঢাকা থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাবে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে এবং তিস্তা স্পেশাল-৪ দেওয়ানগঞ্জ থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় ফিরবে।

শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ভৈরব বাজার থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে এবং ফিরতি ট্রেন দুপুরে আবার ভৈরব বাজারে আসবে। 

একইভাবে ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ রুটে শোলাকিয়া স্পেশাল চলবে। 

পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ জয়দেবপুর থেকে সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে পার্বতীপুর পৌঁছাবে রাত ২টা ৩০ মিনিটে। 

চলন্ত ট্রেন, স্টেশন ও রেললাইনে নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। 

তরুণ নেতৃত্বে শক্তিশালী হোক সামাজিক সংলাপ ও ট্রেড ইউনিয়ন

একজন তরুণ ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি বললেন, ‘আমাদের প্রায়ই অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। বলা হয়, আমার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু সুযোগই যদি না পাই, তাহলে অভিজ্ঞতা অর্জন করব কীভাবে?’

তার কথাগুলো বাংলাদেশে বিদ্যমান ট্রেড ইউনিয়নগুলোর একটি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে। তরুণরা ট্রেড ইউনিয়নগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা সীমিতই থেকে যাচ্ছে। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন এবং বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়নগুলোতে তরুণরা সক্রিয় অবদান রাখলেও নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ এখনো মূলত জ্যেষ্ঠ নেতাদের হাতেই কেন্দ্রীভূত।

বিষয়টি অভিজ্ঞ নেতৃত্ব বনাম তরুণ নেতৃত্বের নয়। বরং অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয় ঘটানোর বিষয়। বিশ্বের প্রতিটি শক্তিশালী শ্রমিক আন্দোলনই প্রজন্মের ধারাবাহিকতার ওপর গড়ে উঠেছে। তাই চ্যালেঞ্জটি কেবল তরুণদের জন্য কিছু জায়গা তৈরি করা নয়; বরং তাদের ওপর আস্থা রাখা, দায়িত্ব দেওয়া ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অর্থবহ ভূমিকা নিশ্চিত করা। তরুণ নেতারা বর্তমান নেতৃত্বকে প্রতিস্থাপন করতে চান না; তারা তাদের কাছ থেকে শিখতে, তাদের পাশে থেকে কাজ করতে এবং আগামী দিনের শ্রমিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চান।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ। জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, যেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন ও গিগ অর্থনীতির বিস্তারের ফলে কাজের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

এটি কেবল বাংলাদেশের বাস্তবতা নয়, বরং বৈশ্বিক প্রবণতা। আইএলও-এর ‘গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ট্রেন্ডস ফর ইয়ুথ ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান চ্যালেঞ্জ শুধু তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়; বরং নিশ্চিত করা যে শ্রমবাজারে তারা প্রবেশ করছে তা নিরাপদ, উৎপাদনশীল এবং সেখানে শোভন কাজের সুযোগ আছে।

এই পরিবর্তনের সময়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা এবং ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্বে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শ্রমিকদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর যদি নতুন প্রজন্মের অভিজ্ঞতা ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত না করে, তাহলে তা ধীরে ধীরে বর্তমান শ্রমবাজারের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

তাই ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে—তরুণদের সম্পৃক্ত করার পদ্ধতিকে নতুনভাবে ভাবার। তরুণ শ্রমিকরা ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়া, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাজ এবং জলবায়ু সহনশীলতা ও কেয়ার ইকোনমির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে পারেন। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের জন্য সুস্পষ্ট পথ তৈরি করতে হবে এবং অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ ও মেন্টরশিপের সুযোগ বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে সরকারকে সামাজিক সংলাপের কাঠামোতে তরুণদের আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং আইএলওসহ উন্নয়ন সহযোগীদের এই বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে অর্থবহ সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে—কীভাবে শ্রমিক আন্দোলন আগামী প্রজন্মের শ্রমিকদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে পারে।

দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে—যা সমষ্টিগত দরকষাকষি ও সামাজিক সংলাপের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান—সময়ের সঙ্গে বিকশিত হতে হবে। সম্প্রতি আইএলও আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় আমরা দেখেছি, তরুণ নেতারা সেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। কারখানা পর্যায়ে তারা ইউনিয়ন গঠন, শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সামনের সারিতে কাজ করছেন। তারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন যে, নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

তবুও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব, সমষ্টিগত দরকষাকষি এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ এখনো সীমিত। অনেকের অভিজ্ঞতা হলো, অনেক সময় দক্ষতা ও সক্ষমতার চেয়ে বয়স ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই বেশি গুরুত্ব পায়। তরুণ নারী নেত্রীরা আরও কিছু অতিরিক্ত প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেছেন। যেমন: সামাজিক প্রত্যাশা, অবৈতনিক পরিচর্যা কাজের দায়িত্ব এবং নেতৃত্ব বিকাশের তুলনামূলক কম সুযোগ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তরুণ নেতারা শুধু প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর কথা বলেননি; তারা নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করার সুযোগও চেয়েছেন। তারা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬, শিল্প সম্পর্ক, সমষ্টিগত দরকষাকষি, পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, ডিজিটাল রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতের কাজ সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জন করতে চান। তারা জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছ থেকে মেন্টরশিপ, আলোচনায় ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সর্বোপরি অর্থবহভাবে অবদান রাখার সুযোগ প্রত্যাশা করেন।

অবশ্য তরুণদেরও দায়িত্ব রয়েছে। নেতৃত্ব গড়ে ওঠে অঙ্গীকার, ধারাবাহিক শিক্ষা, সংলাপ ও সেবার মনোভাবের মাধ্যমে। যেসব তরুণ নেতার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে, তারাও এ বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা, নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা এবং বৃহত্তর দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যা দেশের ক্রমবর্ধমান এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ শ্রমশক্তিকে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। আমরা ইতোমধ্যেই সরকার ও বিভিন্ন শিল্পখাতে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে দেখছি। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনেও সেই পরিবর্তন সমানভাবে জরুরি। তরুণ নেতৃত্বে বিনিয়োগ করা শুধু ট্রেড ইউনিয়নের ভবিষ্যতের জন্য নয়; এটি বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা ও সামগ্রিক অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্যও একটি অপরিহার্য বিনিয়োগ।

এই আন্তর্জাতিক যুব দিবসে আমাদের চ্যালেঞ্জ তারুণ্যের উদযাপনের ঊর্ধ্বে গিয়ে তরুণদের ওপর আস্থা রাখা, প্রকৃত দায়িত্ব অর্পণ করা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। কারণ ভবিষ্যতের কর্মজগত গড়ে তুলবে আজকের তরুণ শ্রমিকরাই। সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগও তাদের প্রাপ্য।

 

ম্যাক্স তুনন: কান্ট্রি ডিরেক্টর, আইএলও বাংলাদেশ

ন্যাশনস লীগের ফাইনাল থেকে রোনালদোদের হারানোর টোটকা খুঁজছেন স্পেন কোচ

নামের ভারে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় ম্যাচ পর্তুগাল বনাম স্পেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দেশ সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল গত বছরের উয়েফা ন্যাশনস লীগের ফাইনালে। সেই ম্যাচে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। সেই ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করেই এবার পর্তুগাল বধের রণকৌশল সাজাচ্ছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। 

মিউনিখের সেই ম্যাচে পর্তুগালকে হারাতে পারেনি স্পেন। হারাতে পারেনি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়া শেষ ম্যাচেও। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল সেই ম্যাচ। এবার শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রতিবেশী দেশকে হারাতে তাই পুরনো ভিডিও বিশ্লেষণে জোর দিচ্ছেন স্পেন কোচ। 

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমি আবার সেই ফাইনালের ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যত বেশি জানতে পারব তত আমরা এগিয়ে থাকব। আমরা তাদের শক্তিমত্তা সম্পর্কে অবগত থাকতে চাই, এবং প্রতিটি দলের যেমন দুর্বলতা আছে, তেমনি তাদের দুর্বলতাগুলোও জেনে নিতে চাই’। 

দুই দলের ফুটবল দর্শনকে অনেকটা একই রকম আখ্যা দিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলছেন, ম্যাচে ছোটখাটো বিষয়গুলো যারা নিজেদের পক্ষে আনতে পারবে তাদেরই জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকবে, ‘আমরা এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলতে নামছি যাদের মান আমাদের কাছাকাছি। ছোটখাটো বিষয়গুলো এই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আমরা ওদের হাতে খেলার নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে চাই না’। 

ম্যাচের আগে অবধারিতভাবে রোনালদোকে নিয়েও কথা বলতে হয়েছে ইউরোজয়ী স্প্যানিশ কোচকে। দে লা ফুয়েন্তে বলছেন, রোনালদো না খেললেই তিনি খুশি হতেন, ‘সে এমন এক ফুটবলার যে মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তার প্রতি মনোযোগী না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন না যে আমাদের ম্যান মার্কিং করতে হবে, কিন্তু আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সে এই ম্যাচে না খেললেই আমি খুশি হতাম, কিন্তু আমার ধারণা সে খেলবে’।  

স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম কাণ্ডারি বার্সেলোনার টিনেজার পাউ কুবার্সি। চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত দারুণভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কিন্তু রোনালদোর মতো অভিজ্ঞ গোলদাতার সামনে কুবার্সিকে নিয়ে কতটা আত্মবিশ্বাসী স্পেন কোচ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের খেলোয়াড়দের উপর পূর্ণ আস্থাই রেখেছেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘রোনালদোর বিপক্ষে আপনি কখনোই নির্ভার থাকতে পারবেন না, যেমন পারবেন না লামিন কিংবা ওয়ারজাবালের বিপক্ষে। আমার খেলোয়াড়দের উপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে। পাউ এবং লাপোর্ত দুইজনই ভরসার প্রতিদান দিয়েছে। যেকোনো প্রতিপক্ষকে আটকানোর সক্ষমতা ওদের আছে’। 

এই ম্যাচে লেফট উইংয়ে নিকো উইলিয়ামসকে দেখা যাবে কি না সে ব্যাপারে অবশ্য কিছু নিশ্চিত করেননি স্পেন কোচ। ২০২৪ সালের ইউরোজয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিকো এখনও কোনো ম্যাচের শুরুর একাদশে থাকেনি। পর্তুগালের বিপক্ষেও তার শুরু করার সম্ভাবনা কম। তবে স্পেন কোচ জানিয়েছেন, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে নিকোকে কখন নামানো হবে। 

ঋণের মূল অর্থ পরিশোধ করেই পার পাবেন খেলাপিরা

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ও ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ এক্সিট সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এই নীতিমালার আওতায় আর্থিক সংকটে পড়লেও যেসব ঋণগ্রহীতার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তারা ঋণের মূল অর্থ এককালীন পরিশোধ করে দায় নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করতে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ‘মন্দ’ ও ‘ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে থাকা ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংকার গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ এক্সিট সুবিধা দেওয়া যাবে।

তবে এই বিশেষ এক্সিট সুবিধা পেতে কিছু শর্ত রয়েছে।

সেগুলো হলো—ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, সব আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে আগের দুটি সার্কুলারের (২০২২ সালের ২১ এপ্রিল জারি করা সার্কুলারের তহবিল ব্যয় আদায় নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত শর্ত এবং ওই বছরের ২৪ মে জারি করা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের আয় খাত বিকলন না করার শর্ত) শিথিল থাকবে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব ‘মন্দ’ বা ‘ক্ষতিজনক’ মানের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলোও এই সার্কুলারের আওতায় বিশেষ এক্সিট সুবিধা পাবে এবং কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণ ও সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র ঋণগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এই নির্দেশনা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড ১৮ কোটি মানুষ: শফিকুর রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কোনো একক ব্যক্তিকে মানতে নারাজ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

সংসদে তার আগের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘আন্দোলনের প্রধান নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করার জবাবে তিনি বলেছেন, ‘ওই বক্তব্য ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিলের। ৫ আগস্টের পর আমার অবস্থান স্পষ্ট—এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না।’

আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

এ সময় তিনি শফিকুর রহমানের একটি পুরোনো বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমানকে গণঅভ্যুত্থানের ‘প্রধান নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এরপর দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা দেন শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাহেবকে। উনি আমার একটা বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। কিন্তু সময়টা সঠিকভাবে বলেননি। এই বক্তব্য ছিল চব্বিশের এপ্রিল মাসের। পরিবর্তনটা হয়েছে চব্বিশের ৫ আগস্ট।’

গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা নেতৃত্বের কাছে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় যাদের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে, আমরা সবাই অন্তর থেকে তাদের সম্মান করি, ভালোবাসি। তাদের সেই জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে।’

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ড. ইউনূস আমেরিকায় গিয়ে একজনকে মাস্টারমাইন্ড বলেছিলেন। আমি প্রথমেই এর প্রতিবাদ করে বলেছি, এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের যুব সমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। আর মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।’