33 C
Dhaka
Home Blog

বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো উন্নয়ন সহায়তা পাচ্ছে না: জামায়াত আমির

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন অনুদান ও উন্নয়ন সহায়তা দেওয়া হলেও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শুক্রবার নেত্রকোণো সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, যেসব এলাকায় বর্তমান সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন, সেখানে ছোটোখাটো বিভিন্ন অনুদান ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলোতে সেই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়নি। আমরা এ ধরনের বৈষম্যকে উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি বলেন, এই সরকারের সময় হবে কি না, আমি জানি না, তবে কিছু আলামত আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করছি। আপনারা দেখেছেন, সংসদের ভেতরে আমরা আমাদের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।

জামায়াত আমির বলেন, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তারা দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি ও প্রতিটি নাগরিকের জন্য দায়বদ্ধ। তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল বা এলাকার জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য দায়িত্বশীল। আমরা বারবার এ কথা বলে আসছি এবং ভবিষ্যতেও বলে যাব। যেখানে বৈষম্য দেখব, সেখানে আমরা প্রতিবাদ জানাব ও আওয়াজ তুলব।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের প্রশ্নে সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল—এটি বড় বিষয় নয়। আমাদের ঐক্যের জায়গাটি অটুট থাকতে হবে। নীতি, কৌশল ও কর্মপদ্ধতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের অধিকার ও প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়।

‘জনস্বার্থ ও নাগরিকদের ন্যায্য প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে কোথাও বৈষম্য দেখা গেলে জনগণের পক্ষ থেকে কথা বলা, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং প্রয়োজনে আপত্তি জানানো শুধু আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকারও’, বলেন শফিকুর রহমান।

নিজের আয়কর নিজেই হিসাব করবেন যেভাবে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করেছে সরকার। একই সঙ্গে আগের ৫ শতাংশ করহার তুলে দিয়ে পুরো আয়কর স্ল্যাব নতুন করে সাজানো হয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে একদল করদাতার করের পরিমাণ একেবারেই বদলাবে না। আবার নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় হলেই আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হবে।

জেনে রাখা ভালো, আপনার আয় করমুক্তের সীমা অতিক্রম করলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

এবার মাসে কত আয় হলে কত কর দিতে হবে—এই হিসাবটা বুঝে নেওয়া যাক।

নতুন আয়কর স্ল্যাবে কী আছে?

নতুন কাঠামোতে সাধারণ করদাতাদের (পুরুষ) ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা আগের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। নারী ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এটি ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। 

এছাড়া প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের জন্য এই সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সাধারণ করদাতাদের প্রথম ৪ লাখের পর ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, এর পরের ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, পরের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ এবং এরপর থেকে ৩০ শতাংশ করে আয়কর দিতে হবে।

গত অর্থবছর (২০২৫-২৬) পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এরপর ১ লাখ টাকায় ৫ শতাংশ, পরের ৪ লাখে ১০ শতাংশ, পরের ৫ লাখে ১৫ শতাংশ, পরের ৫ লাখে ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখে ২৫ শতাংশ এবং বাকি অংশে ৩০ শতাংশ কর দিতে হতো।

অর্থাৎ সরকার একদিকে করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে ৫ শতাংশের করস্ল্যাব পুরোপুরি তুলে দিয়েছে।

কোন আয় পর্যন্ত করের পরিমাণ একেবারেই বদলায়নি?

বার্ষিক ৬ লাখ ও ৭ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে আগে এবং এখনকার গাণিতিক করের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের নিয়মে বার্ষিক ৭ লাখ টাকা আয়ে মোট কর আসত ৩০ হাজার টাকা, নতুন নিয়মেও পরিমাণটা একই থাকবে। একইভাবে ৬ লাখ টাকার ক্ষেত্রেও কর ২০ হাজার টাকাই থাকছে।

এর কারণ, করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়লেও ৫ শতাংশের পুরো একটি স্ল্যাব তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এই দুটি পরিবর্তন পরস্পরকে সমন্বয় করেছে।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, ৪ লাখ টাকা বা তার কাছাকাছি আয়ের ক্ষেত্রে করের পরিমাণ কমেছে। আগে করমুক্ত সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থাকায় ৪ লাখ টাকা আয়ের ওপর গাণিতিক কর কম আসলেও ন্যূনতম করের নিয়মের কারণে ৫ হাজার টাকা কর দিতে হতো। নতুন নিয়মে করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা হওয়ায় এখন এই আয়ে কোনো করই দিতে হবে না।

এখানে বিনিয়োগ ছাড়া করযোগ্য আয়ের ওপর করের হিসাব করা হয়েছে। কারণ কর রেয়াতের জন্য বিনিয়োগ যুক্ত হলে এই হিসাবটি আলাদা হবে।

মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকার বেশি হলে

কারও মাসিক আয় যদি ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকার বেশি হয়, তাহলে তার বার্ষিক আয় হবে ৪ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে কোনো কর দিতে হবে না। 

মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা হলে 

আপনার যদি মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়, তাহলে বছরে আয় হবে ৬ লাখ টাকা। এই আয়ের ক্ষেত্রে আগেও কর ছিল ২০ হাজার টাকা। এখনও ২০ হাজার টাকাই থাকবে। অর্থাৎ কোনো পরিবর্তন নেই।

মাসিক আয় প্রায় ৫৮ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ৫৮ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় করলে বছরে মোট আয় দাঁড়ায় ৭ লাখ টাকা। এই আয়ে আগের মতোই ৩০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এখানেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

মাসিক আয় ৬২ হাজার ৫০০ টাকা হলে

মাসে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা আয় করলে বছরে আয় হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই আয়ের ওপর আগে কর ছিল ৩৫ হাজার টাকা। এখন দিতে হবে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ নতুন হারে ২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় ৮৩ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ৮৩ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় হলে বছরে আয় দাঁড়ায় ১০ লাখ টাকা। আগে কর ছিল ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। এখন হবে ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে।

মাসিক আয় ১ লাখ টাকা হলে

মাসে ১ লাখ টাকা আয় হলে বছরে আয় হয় ১২ লাখ টাকা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী এই আয়ের ওপর কর আগের তুলনায় আরও কিছুটা বাড়বে। আগে ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হতো, এখন দিতে হবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিতে হবে, যা ১২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত।

মাসিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হলে

আপনার মাসিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হলে বার্ষিক আয় হয় ১৫ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে আগে কর দিতে হতো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এখন দিতে হবে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ২০ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় হলে বছরে আয় দাঁড়ায় ১৮ লাখ টাকা। আগের কর কাঠামোয় এই আয়ের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা কর দিতে হতো। নতুন কর কাঠামোয় কর হবে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ একই আয়ে ৩০ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হলে

আপনার মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হলে বছরে আয় ২০ লাখ ছাড়ায়। এক্ষেত্রে আগে কর ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। এখন দিতে হবে ২ লাখ ৯১ হাজার টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে।

একনজরে মাসিক আয় অনুসারে বিগত ও নতুন অর্থবছরের করের হিসাব 

 

 

 

 

রকস্টারের উত্থান-পতনের গল্প নিয়ে টিজারে শাকিব খান

কয়েকদিন আগে শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার ৫৪ সেকেন্ডের একটি অ্যানিমেটেড ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর ক্যাপশনে শাকিব খান লিখেছিলেন, ‘একটা গল্প, যা বদলে দেবে সবকিছু! আসছে খুব শিগগিরই।’

এবার প্রকাশিত হলো ‘রকস্টার’ সিনেমার ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের টিজার, যেখানে উঠে এসেছে এক রকস্টারের উত্থান-পতনের গল্প।

সিনেমাটির অফিশিয়াল পোস্টার প্রকাশের সময়ই শাকিবের লুক নিয়ে আলোচনা হয়। এবার টিজারে পাওয়া গেল নতুন লুক। এখানে তিনি আর অ্যাকশন হিরো কিংবা গ্যাংস্টার অবতারে নন, সংগীতশিল্পী হিসেবে ধরা দিয়েছেন।

টিজার দেখে বোঝা গেছে, সিনেমাটির জন্য ওজন ঝরিয়েছেন শাকিব, চুলের কাটেও এসেছে বৈচিত্র্য। টিজারটিতে কয়েকটি লুকে দেখা গেছে শাকিবকে।

সেইসঙ্গে অ্যানিমেশন ভিডিওতে থাকা সেই গান ‘আমাকে উড়িয়ে দাও, আমাকে পুড়িয়ে দাও’ বেজেছে।

সিনেমায় শাকিবের দুই নায়িকা সাবিলা নূর ও তানজিয়া জামান মিথিলা। আজমান রুশো পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পাবে আসন্ন ঈদুল আজহায়।

সিনেমার সবগুলো গানের কথা ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি। সংগীত পরিচালনায় আছেন জাহিদ নিরব।

টিজারের শেষ জানানো হয়েছে, এটা শুধু জ্যামিং, আরও একটি টিজার আসছে।

সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ালো কাতার

মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ শেষের পথে এমন সব ধরনের এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে উদ্ভূত বিমান চলাচল সংকটের কথা বিবেচনা করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। 

এতে বলা হয়, যেসব ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে কিংবা শেষের পথে, সেগুলোর মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বাড়ানো হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই এবং কোনো বাড়তি আবেদন বা ফি-ও লাগবে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সেবা পাওয়া যাবে।

তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে যে, যাদের ভিসার মেয়াদ গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে শেষ হয়েছে এবং আইন ভঙ্গ করেছেন, তাদের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা দিতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে কাতারগামী অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী নিজ দেশে আটকা পড়েছেন। সময়মতো ফ্লাইট ধরতে না পারায় অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। কাতারের এই সিদ্ধান্তে তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি।

পদত্যাগ করলেন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী আজ বুধবার পদত্যাগ করেছেন। ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে সাজ্জাত আলী ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালে ষষ্ঠ বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন।

এদিকে গতকাল ১৫তম বিসিএসের কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই নিয়োগের পরদিনই ডিএমপি কমিশনারের পদত্যাগের খবর এলো।

সাজ্জাত আলী ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে পুলিশের বিভিন্ন সূত্র বলছে, আগামী নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসা এবং তার চেয়ে কনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চীনা বুলেট ট্রেনের নতুন রেকর্ড, ৫.৩ সেকেন্ডে গতি ৮০০ কিলোমিটার

চীনে একটি পরীক্ষামূলক বুলেট ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটারে উঠতে সময় লেগেছে মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ড, যা নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে নতুন এ রেকর্ডের তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ১ দশমিক ১ টন ওজনের পরীক্ষামূলক ট্রেনটি চীনের হুবেই প্রদেশে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ট্র্যাকে পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছানোর পর প্রায় ২০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে নিয়ন্ত্রিতভাবে এটিকে থামানো হয়।

ম্যাগনেটিক লেভিটেশন (ম্যাগলেভ) প্রযুক্তি বা চৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে ট্রেনটিকে ট্র্যাকের ওপর ভাসিয়ে রাখা হয়। এ কারণে চীনের এই বুলেট ট্রেন, ম্যাগলেভ ট্রেন নামেও পরিচিত।

 

এই ট্রেনের কোনো চাকা থাকে না, ফলে ঘর্ষণ হয় না এবং তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে ট্রেনটিকে সামনে এগিয়ে চলে।

China tests new bullet train that goes from 0 to 800 kmph in 5 SECONDS

It is a new maglev record pic.twitter.com/RUzneiBZ9s

— RTBreaking (@RT_Breaking) August 14, 2026

গবেষকরা জানান, ম্যাগলেভ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রেনকে ভাসিয়ে রাখা, গতি বাড়ানো, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ট্রেনকে সম্পূর্ণ থামানোর পরীক্ষা করছেন তারা।

এর আগে ২০২৫ সালের জুনে প্রথম এই ট্রেনটির পরীক্ষা করা হয়। সে সময় মাত্র ৭ সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল এটি।

এরপরের পরীক্ষাগুলোতে গতি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার এবং সর্বশেষ ৭৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল।

গত ছয় মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই ট্রেন স্বল্প দূরত্বে গতি বৃদ্ধির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে এই প্রযুক্তির ট্রেন এখনো যাত্রী পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়নি।

তবে আগামীতে উচ্চগতি ও উৎক্ষেপণ কাজে ম্যাগলেভ প্রযুক্তি ব্যবহারের আশা করছেন গবেষকরা।

কম চাপ বা প্রায় শূন্য চাপের টিউবের ভেতরে চলতে পারে এমন ম্যাগলেভ যান নিয়েও গবেষণা করছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, এ ধরনের ব্যবস্থা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে চালু করার আগে বেশ কিছু বড় বাধা পার হতে হবে।

এর মধ্যে রয়েছে—অবকাঠামো নির্মাণের বিপুল ব্যয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘ দূরত্বে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ট্র্যাক নির্মাণের জটিলতা।

দশজনের দল নিয়ে ঘটনাবহুল ‘থ্রিলার’ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

দুই পেনাল্টি, লাল কার্ড, একের পর এক উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে এক অবিশ্বাস্য, শ্বাসরুদ্ধকর ফুটবল ম্যাচের সাক্ষী হলো মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়াম। স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও রোমাঞ্চকর জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড।

সোমবার বাংলাদেশ সময় সকালে শুরু হওয়া ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতেছে ৩-২ গোলে। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান হ্যারি কেইন। মেক্সিকোর দুই গোলদাতা হুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেজ। 

ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারির গর্জন কান পাতাই দায় করে তুলেছিল। তবে খেলার ধারার বিপরীতে প্রথমার্ধের ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে বেলিংহামের ব্যাক-টু-ব্যাক দুই গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই গোল করে ২৩ বছর বয়সী বেলিংহাম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বকনিষ্ঠ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে জোড়া গোলের রেকর্ড গড়েন। ৪২ মিনিটে গ্যালারিতে প্রাণ ফেরান মেক্সিকোর কিনোনেস, ক্লোজ রেঞ্জ থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। ৫৩ মিনিটে মেক্সিকোর গ্যালার্দোকে বিপজ্জনক ফাউল করায় ভিএআরে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ানসা। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ড অবশ্য দমে যায়নি। ৫৮ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। সফল স্পট-কিকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

তবে মেক্সিকোর আক্রমণভাগের চাপ ছিল দেখার মতো। ৬৯ মিনিটে বক্সের ভেতর কেইনের ফাউল দেখে আবার ভিএআরে আসে পেনাল্টি। সেকান থেকে মেক্সিকোর স্ট্রাইকার হিমেনেস গোল করলে ম্যাচ আবার জমে ওঠে (৩-২)। শেষ ১৫ মিনিটে ডিফেন্ডার ড্যান বার্নকে নামিয়ে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষ দিকে যোগ করা হয় রেকর্ড ১১ মিনিট।

যোগ করা সময়ে মেক্সিকোর গোলরক্ষক পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ডি-বক্সে চলে আসেন। মেক্সিকোর একের পর এক কর্নার ও আক্রমণ রুখে দেন জন স্টোনস ও গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। শেষ পর্যন্ত রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে আসতেকার মাঠেই ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।

 

পাকিস্তানপন্থীদের মন্ত্রী-এমপি করেছে বিএনপি, ক্ষমা চাইব কেন: গোলাম পরওয়ার

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন ব্যক্তিকে মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী করেছিল। তাই এ বিষয়ে জবাব বিএনপিকেই দিতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

গত রোববার জাতীয় সংসদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার জন্য জামায়াতকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। 

মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। ক্ষমা আপনার বাবাকে কবর থেকে চাইতে বলেন। কারণ আমরা অপরাধ করি নাই, ক্ষমা চাইব কেন? আপনার বাবা অপরাধী, এই অভিযোগ আছে। সুতরাং কথা সতর্কভাবে বলা উচিত।’

একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে আনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা বলে জামায়াতের ওপরে ভূত চেপেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার আর সরকারি দলের ওপরে ভূত চেপেছে। বিএনপি মহাসচিবের মাথায়ও মাঝে মাঝে ভূত চাপে। কিছুদিন গেলেই ৫০-৬০ বছরের পুরোনো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়কে সামনে এনে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেন।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেই পাকিস্তান আমলে সেই সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক রাজনৈতিক দল ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচার জন্য কী ভূমিকা পালন করেছিল, সেই দলের সে সময়কার নেতৃবৃন্দ তার ব্যাখ্যা, তার বক্তব্য জাতির সামনে তারাই তখন দিয়েছিল। তারা এখন অনেকেই দুনিয়াতে নেই। সেই ব্যাখ্যা কারও পছন্দ হতে পারে, না–ও হতে পারে, সেটা রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে।’

বিএনপির সঙ্গে অতীতের জোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এখন যে প্রশ্ন বিএনপি তুলছে, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সময় তাদের সেই অবস্থান কোথায় ছিল? খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয়, ১৮-দলীয় ও ২০-দলীয় জোটে প্রায় ২০-২২ বছর বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে রাজনীতি করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় গোলাম আযমের বাসায় বিএনপি নেতারা জামায়াতের সমর্থন চাইতে গিয়েছিলেন। চারদলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা একসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন, লংমার্চ করেছেন। তখন একাত্তরের প্রশ্ন তাদের মনে ছিল না।’

১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে জামায়াতের সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ক্ষমতায় গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যা শুরু করেছিল ছাত্রদল। এটাই কি বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিদান?’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘যখনই জামায়াতকে মোকাবিলা করার যুক্তি ও নৈতিকতা থাকে না, তখন পুরোনো কাসুন্দি টেনে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। জামায়াতের বিরুদ্ধে যৌক্তিক সমালোচনার কিছু না পেয়ে পুরোনো মীমাংসিত বিষয় বারবার সামনে আনা হচ্ছে। তবে তারা যে আশায় এগুলো করছে, সেই আশা পূরণ হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দু–একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের সংবাদপত্র সরাসরি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এমনভাবে প্রতিবেদন তৈরি করছে, যাতে মনে হয় তারা রাজনৈতিক দলের মুখপত্রের ভূমিকা পালন করছে। তারা যদি বিএনপির রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়ে থাকে, তাহলে সেটি ঘোষণা দেওয়া উচিত।’

ফ্যাসিবাদ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এসব সংবাদপত্র তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তার ভাষ্য, সে সময় তারা নির্লজ্জভাবে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করে তারা রূপ পরিবর্তন করে ফেলেছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘অতীতে বিভাজনের রাজনীতির কারণে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। আবার বর্তমান সরকার নেপথ্যে থেকে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে।’

 

‘এফডিসিতে চুপিচুপি কেঁদেছিলাম’

ষাটের দশকের রোমান্টিক নায়িকা শবনম। তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় এহতেশামের উর্দু সিনেমা ‘চান্দা’র মাধ্যমে। বাংলা চলচ্চিত্রে তার আবির্ভাব ঘটে ‘হারানো দিন’ সিনেমায়। প্রথম সিনেমাতেই করেন বাজিমাত।

‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় অভিনয় করে পান আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। এই সিনেমার ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে’ গানের মাধ্যমে কোটি সিনেমাপ্রেমীর মনে জায়গা করে নেন তিনি।

নায়ক রহমান ও শবনম ছিলেন ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত জুটিগুলোর একটি। এর বাইরে রাজ্জাকসহ তৎকালীন অনেক নায়কের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, পাকিস্তানের চলচ্চিত্রেও অত্যন্ত সফল ছিলেন শবনম। সেখানে অভিনয় করে ১৩ বার পেয়েছেন ‘নিগার পুরস্কার’।

তবে ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমায় নামভূমিকায় অভিনয় করার পর তাকে আর রুপালি পর্দায় দেখা যায়নি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে শবনম বলেন, ‘নায়িকা হিসেবে আমার প্রথম সিনেমা হারানো দিন ভীষণ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। আবার আমার শেষ সিনেমা আম্মাজানও সুপারডুপার হিট। তাই বলতেই পারি, সিনেমায় আমার প্রথম এবং শেষ—দুটোই কালজয়ী হয়ে আছে।’

অভিনয় ছাড়ার পেছনে কোনো অভিমান ছিল কি না—জানতে চাইলে শবনম বলেন, ‘না, কোনো অভিমান নয়। আসলে সেভাবে আর গল্প পছন্দ হয়নি বলেই কাজ করিনি। মনের মতো গল্প পেলে নিশ্চয়ই করতাম।’

বহু বছর পর সম্প্রতি এফডিসিতে গিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। স্মৃতি হাতড়ে শবনম বলেন, ‘অল্প সময়ের জন্য এফডিসিতে গিয়েছিলাম। ঠিক কত বছর পর গিয়েছি, হিসাব করে বলতে পারব না। সেখানে যাওয়ার পর কত স্মৃতি, কত কথা যে মনে পড়ে গেল! ভেতরে গিয়ে অনেক পরিবর্তনও দেখলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন গিয়েছিলাম, সেদিন হয়তো শুক্রবার ছিল, তাই মানুষজন কম ছিল। মানুষ কম থাকায় আমার জন্য সুবিধা হয়েছিল। তবে এফডিসিতে গিয়ে আমি চুপিচুপি কেঁদেছিলাম। কেমন যেন একটা শূন্যতা আর কষ্ট লাগছিল, চোখ ভিজে এসেছিল।’

পর্দায় না থাকলেও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এখনো তাকে ঘিরে রেখেছে। শবনম বলেন, ‘আমি এখনো নিয়মিত বাজারে যাই। গুলশানের ওদিকের একটি বাজারে নিয়ম করেই যাওয়া হয়। আজ সকালেও বাজারে গিয়েছিলাম। যাওয়ার পর দোকানদারেরা বলছিলেন, সরে দাঁড়ান! ওই যে আম্মাজান এসেছেন!’

তিনি বলেন, ‘মানুষ যে আমাকে এতটা ভালোবাসে, সম্মান করে, “আম্মাজান” বলে ডাকে—এটি আমার অনেক বড় পাওয়া। এই ভালোবাসা ও সম্মান নিয়েই বাঁচতে চাই।’

এখন কীভাবে সময় কাটে? শবনম হাসিমুখে বলেন, ‘বই পড়ে, টেলিভিশন দেখে আর ছেলের সঙ্গে গল্প করে সময় কেটে যায়। ছেলের জন্য এটা-ওটা রান্না করতে আমার খুব ভালো লাগে। সব সময় একটি কথাই বলি, মানুষের ভালোবাসাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

ইরান যুদ্ধে কত খরচ হবে যুক্তরাষ্ট্রের?

কয়েকদিন ধরে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অনেক কথাতেও সেই  ইঙ্গিত ছিল। অবশেষে শনিবার সেই আশঙ্কায় সত্যি হয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন কি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আরেকটি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, এবং শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ কত হতে পারে?

এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ কত হবে তা পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ অর্থ নয়, বরং অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত।

২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প তার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা আট মিনিটের এক ভিডিওতে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে বড় সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে।

পরে পেন্টাগন জানায়, অভিযানের নাম অপারেশন এপিক ফিউরি।

ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ‘ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা’।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেব। এটি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার অভিযান শুরুর পর ইরানে ১ হাজার ২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পৃথক এক বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম), তারা ১১টি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে বিমান হামলা, সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় সমন্বিত হামলা এবং ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এবারের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি তেহরানে তার নিজের কম্পাউন্ডে নিহত হন।

সোমবার ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে যুদ্ধ যতদিন দরকার ততদিন চলবে, যা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

সোমবার পর্যন্ত ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইরানে ১৩০টির বেশি স্থানে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

এর বাইরে ইয়েমেন, ইরান ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৬৫ থেকে ১২ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ, সংঘাত-সংশ্লিষ্ট মোট মার্কিন ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ দশমিক ৩৫ থেকে ৩৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং এই ব্যয় এখনো বাড়ছে।

সেন্টকমের মতে, অপারেশন এপিক ফিউরিতে আকাশ, সমুদ্র, স্থল ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনী মিলিয়ে ২০টিরও বেশি অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।

সেন্টকমের সাবেক অপারেশন পরিচালক কেভিন ডোনেগান আল জাজিরাকে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা দুর্বল বা ক্ষয়িষ্ণু করে দেওয়া, যেন তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে না পারে।

Operation Epic Fury: The first 48 hours pic.twitter.com/uCQqHq5Ajx

— U.S. Central Command (@CENTCOM) March 2, 2026

বি-১ বোমারু বিমান, বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান (পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলা), এফ-৩৫ লাইটিং টু ও এফ-২২ র‌্যাপ্টর (উন্নত স্টেলথ যুদ্ধবিমান), এফ-১৫ যুদ্ধবিমান (১ মার্চ কুয়েতের আকাশে এক ঘটনায় তিনটি হারিয়েছে, এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন, এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট, এ-১০ আক্রমণকারী জেট, ইএ-১৮জি গ্রোলার (ইলেকট্রনিক হামলা ও শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা দমন), এডাব্লিউএসিএস (আকাশভিত্তিক আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান)।

লুকাস ড্রোন (স্বল্পমূল্যের একমুখী কমব্যাট ড্রোন, ইরানি নকশা থেকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার করা), এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, এম-১৪২ হিমারস রকেট সিস্টেম, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।

প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, থাড, কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা।

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও ইএসএস আব্রাহম লিংকন নেতৃত্বাধীন দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার, সি-১৩০ হারকিউলেস এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার।

চলমান যুদ্ধের মোট খরচ অনুমান করা কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

মার্কিন থিংক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবল বলেন, পেন্টাগন এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি, তাই আমরা কেবল অনুমান করতে পারি। অস্ত্রের আলাদা খরচ, নৌ অভিযান—এসব নিয়ে ধারণা করা যায়, কিন্তু পুরো চিত্র বেশ জটিল।

আনাদোলু সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরির প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র হয়তো প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

এছাড়া হামলার আগে সামরিক প্রস্তুতিতে খরচ করেছে অতিরিক্ত প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার। যেমন বিমান পুনর্বিন্যাস, এক ডজনের বেশি নৌযান মোতায়েন ও আঞ্চলিক সম্পদ সক্রিয় করা।

সেন্টার অপর অ্যা নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার লাগে।

এর বাইরে রয়েছে সরঞ্জাম ক্ষতির খরচ। কুয়েতে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটনায় অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।

প্রেবল বলেন, খরচের দিক বিবেচনা করলে যুদ্ধ চালানো সম্ভব। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট এক ট্রিলিয়ন ডলার এবং তা ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়নে উন্নীত করার প্রস্তাবও আছে।

‘এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে যে কোনো ‍যুদ্ধ অনেক দূর পর্যন্ত নেওয়া যায়। প্রশ্ন হলো, অস্ত্রভাণ্ডারের প্রকৃত মজুত, বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর, যেমন প্যাট্রিয়ান বা এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান হারে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অভিযান অনির্দিষ্টকাল চালানো সম্ভব নয়, সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের বেশি এটা চালানো যাবে না।

এর আগে গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতে একই ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তখন ধারণা করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মজুত কমে আসছে।

এই ইন্টারসেপ্টরগুলোর কিছু ইউক্রেন ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল। সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে অন্য অঞ্চলে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া এগুলো দ্রুত উৎপাদন করাও সম্ভব নয়।

প্রেবল বলেন, ‘একটি প্যাট্রিয়ান বা এসএম-৬ অনেকগুলো জটিল প্রযুক্তির সরঞ্জাম। এগুলো দিনে শত শত বা হাজার হাজার তৈরি করা যায় না। এছাড়া উৎপাদনের গতি খুব বেশি নয়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রকৃত খরচ নির্ভর করবে এর সময়কাল, সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং অস্ত্র মজুতের ওপর। অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চালাতে পারলেও, দীর্ঘমেয়াদে অস্ত্রভাণ্ডারের চাপই হতে পারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।