27.5 C
Dhaka
Home Blog

মার্চে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো কোন জেলায়, কোন দেশ থেকে কত

চলতি বছরের মার্চে দেশে আসা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেকই এসেছে ঢাকা বিভাগে।

এ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে, ঢাকা বিভাগে এসেছে ১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চে মোট প্রবাসী আয়ের ৪৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর ঢাকায় ৪৫৬ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ রেমিট্যান্স বেশি এসেছে বলে প্রতিবেদনে দেখা গেছে।

প্রবাসী আয় প্রবাহের মাসিক প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগে এসেছে ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ৩১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

৩০১ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার আসায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সাধারণত বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময়, অর্থবছরের শেষ জুনে এবং ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে।

কোন জেলায় কত

জেলার হিসাবে ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এরপরে ৪১৩ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার নিয়ে চট্টগ্রাম।

২৪৩ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে কুমিল্লা তৃতীয় ও ১৬১ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ সিলেট জেলা।

ফেনীতে এসেছে ১১ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন, নোয়াখালীতে ১১১ দশমিক ৫১ মিলিয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসেছে ১০৩ দশমিক ০১ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

কোন দেশ থেকে কত

দেশের হিসাবে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীরা। তারা পাঠিয়েছেন ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া, মালয়েশিয়া থেকে ২ দশমিক ৭০ বিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন, ইতালি থেকে ১ দশমিক ৫৩২ ও ওমান থেকে এসেছে ১ দশমিক ৫৩১ বিলিয়ন ডলার।    

ব্যাংকগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠান হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক একাই পেয়েছে ৫৮৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চাপের মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিময় হারের ওঠানামা এবং ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয়ের মধ্যেই রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে।’

‘বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা, এমনকি নিজেদের ইশতেহারেরও বিরোধিতা করছে’

রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণকে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ দিতে যে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন, সেসবের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিএনপি বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তারা নিজেদের ঘোষিত কর্মসূচি, সংস্কার এমনকি ইশতেহারেরও বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয়, তারা যে কীসের বিরোধিতা করছে—সেই বোধটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।’

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, বিএনপি এখন প্রতিটি ইস্যুতেই ‘কথিত পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ’ অনুসরণ করছে। 

‘আমরা একসময় একসঙ্গেই নিপীড়নের শিকার ছিলাম। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, হাজার চেষ্টা করলেও আপনারা ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না—হয়তো দুর্বল সংস্করণ হতে পারেন, যারা জাতি ও বিরোধী দলকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত,’ বলেন তিনি।

গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের সংস্কারের পক্ষে রায়কে অগ্রাহ্য করাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই রায় বাস্তবায়িত হলে দেশ থেকে প্রকৃত অর্থেই ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের সেই আত্মত্যাগ না থাকলে আজ আপনারা ক্ষমতার স্বাদ পেতেন না। এই মা-বাবা, ভাই-বোনদের প্রিয়জনেরা জীবন দিয়েছেন বলেই আজকের এই বাস্তবতা।’

আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারও অবদান অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু তীরে ভেড়াতে পারিনি—জুলাইয়ের নায়করা সেই তরী ঘাটে তুলেছেন, জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তাদের সম্মান করতে শিখুন, অবমূল্যায়ন করবেন না।’

সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হয়েছে। নেত্রকোনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলার উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কেমন বাংলাদেশ? এমন বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম?’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন জামায়াত আমির।

‘আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে দা-কিরিচ-কুড়াল নয়, খাতা-কলম দেখতে চাই। কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী এসে আমাদের সন্তানদের ওপর দাপট দেখাক—এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। না হলে মনে রাখবেন, জুলাই শুধু চব্বিশেই সীমাবদ্ধ নয়—প্রয়োজনে আবার ফিরে আসবে,’ বলেন তিনি।

গণ-অভ্যুত্থানে হাত হারানো আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই রায়কে দমন করতে চাইলে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান বলেন, ‘জাতির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার সংসদে জুলাই শহীদদের অপমান করছে।’

যে নারীরা নিজের মতো বাঁচতে চায়, সমাজ তাদের মানতে পারে না: হানিয়া আমির

পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির বলেছেন, যেসব নারী নিজের মতো করে বাঁচতে চায় সমাজ এখনো তাদের মেনে নিতে পারে না।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি বিরতি নিয়েছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল, এ সময় ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে ভাববেন।

হানিয়া এ সময় একটি বিষয় উপলব্ধি করেন। তার ভাষায়, যেসব নারী নিজের মতো করে থাকতে চায়, তাদের অনলাইনে অযথা সমালোচনা ও ট্রলিংয়ের শিকার হতে হয়। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, অনেক সময় একই ইন্ডাস্ট্রির মানুষও তাদের টার্গেট করে।

তিনি বলেন, বিষয়টি কেবল পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, নারীরাও অনেক সময় অন্য নারীর অযথা সমালোচনা করে।

এই অভিনেত্রী বলেন, যারা অন্যের স্বীকৃতির বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে চায় সমাজ এমন নারীদের পছন্দ করে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভাবতাম ‘মানুষ কী বলবে?’ এই ধারণা অনেক পুরোনো হলেও এখনো বদলায়নি। শুধু মাধ্যম বদলেছে—আগে মুখে বলা হতো, এখন সেটা সামাজিকমাধ্যমে লেখা হয়।

তার ভাষ্য, আমরা এখনো নারীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছি। এখনো গায়ের রং, শরীরের গঠন—এসব নিয়ে মন্তব্য করছি, এখন সেটা সামাজিকমাধ্যমে বেশি হচ্ছে।

যদিও তিনি স্বীকার করেন যে, সামাজিকমাধ্যমের অনেক ভালো দিকও আছে। তবে নারীদের ওপর অতিরিক্ত ঘৃণা ও ট্রলিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি সবার প্রতি, বিশেষ করে নারীদের প্রতি আহ্বান জানান, অন্য নারীদের জীবনযাপন নিয়ে অযথা সমালোচনা না করতে।
হানিয়া আমির বলেন, সবাইকে নিজের মতো করে বাঁচতে দেওয়া দরকার।

ইরানে ইতিহাসের ‘বৃহত্তম বিমান হামলা’র দাবি ইসরায়েলের

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর হামলায় নিজেদের ‘ইতিহাসের বৃহত্তম বিমান হামলা’ চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাতে আজ শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত করেছে।

এতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে প্রায় ৫০০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি হামলা চালিয়েছে পশ্চিম ইরানের তাবরিজে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থান লক্ষ্য করে।
 

কর্মসংস্থান বাড়াতে শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা গতানুগতিক ধারায় চলার কারণে বেকারত্ব বাড়ছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামঞ্জস্য রাখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তা বেকারত্ব কমাতে ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে ভূমিকা রাখবে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সভার আয়োজন করে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান চালুর নানান দাবি এলেও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা ও বাজারের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা ও প্রথম ভাষা হিসেবে এর মর্যাদা অটুট। মাতৃভাষা চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান বাহন। বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য। বাংলা ভাষা বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলোর একটি এবং এর সংরক্ষণে বাংলাদেশের অবদান অনন্য। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাধ্যমে ভাষা সংরক্ষণের নৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাসমূহের সংরক্ষণ ও বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকে দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভিত্তি দুর্বল হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি মূল বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে—পাঠ্যক্রম, ক্লাসরুম এবং কনসিস্টেন্সি (ধারাবাহিকতা)। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাসহ বিভিন্ন ধারার মধ্যে মানগত সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যান্ড্রয়েড ১৭ ভার্সনে থাকছে যেসব নতুন ফিচার

সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সবচেয়ে নতুন ভার্সনটি রিলিজ করেছে গুগল। বরাবরের মতো এবারও থাকছে বেশ কিছু নতুন ফিচার। 

চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূলত গুগলের বিভিন্ন ফোন মডেলে পাওয়া যাচ্ছে ‘অ্যান্ড্রয়েড ১৭’ এর আপডেট। 

গুগলের নিজস্ব পিক্সেল ৬ থেকে পিক্সেল ১০ পর্যন্ত হ্যান্ডসেটে ইতোমধ্যে এই আপডেট চলে এসেছে। 

পাশাপাশি, পিক্সেল ১০ প্রো ফোল্ড, পিক্সেল ফোল্ড ও পিক্সেল ট্যাবলেটেও অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণটি ডাউনলোড করা যাচ্ছে। 

How Google's new Pixel 10 phones compare to one another on paper | The Verge

তবে এখনো সব অঞ্চলে এই আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

স্যামসাং, মটোরোলা ও শাওমি ফোনগুলোতেও আগামী মাসগুলোতে নতুন অ্যান্ড্রয়েড ভিত্তিক আপডেট আনা হবে বলে জানা গেছে। 

এই প্রতিবেদনে অ্যান্ড্রয়েড ১৭-এর কয়েকটি নতুন ফিচার তুলে ধরা হলো। 

আগে মূলত মেসেজিং অ্যাপেই বাবলস ব্যবহার করা হতো। এখন কিছু অ্যাপে এই সুবিধা আরও বিস্তৃত হচ্ছে, ফলে নির্দিষ্ট অ্যাপের কার্যক্রম বা কথোপকথন স্ক্রিনের ওপর ভাসমান ছোট বাবল আকারে রাখা যাবে।

ব্যবহারকারী সেই বাবল স্ক্রিনের যেকোনো জায়গায় সরিয়ে নিতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত খুলে বা বন্ধ করতে পারবেন। এতে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ বা কথোপকথনের মধ্যে সহজে কাজ করা যায়।

গুগলের দাবি, এই ধরনের মাল্টিটাস্কিং সুবিধা ম্যাপস, নোটস বা ভিডিও কনটেন্ট ব্যবহার করার সময় আরও সুবিধাজনক অভিজ্ঞতা দেবে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ভিডিও তৈরি আরও সহজ করতে ‘স্ক্রিন রিঅ্যাকশন’ নামে নতুন একটি টুল এনেছে গুগল। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একই সঙ্গে ফোনের স্ক্রিনে যা দেখা যাচ্ছে এবং ফ্রন্ট ক্যামেরায় নিজের প্রতিক্রিয়া—দুটিই রেকর্ড করতে পারবেন।

সহজভাবে বললে, কোনো ভিডিও দেখা, ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও মন্তব্য নিয়ে কথা বলার সময় ব্যবহারকারীর মুখ ও কণ্ঠস্বর স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের ওপরেই দেখা যাবে। এতে আলাদা অ্যাপ ব্যবহার, গ্রিন স্ক্রিন সেটআপ বা জটিল সম্পাদনার প্রয়োজন হবে না।

এক্সপ্লেইনার ভিডিও তৈরি সহজ করতে এই ফিচারটি আনা হয়েছে। গুগল জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মেই প্রথমে পিক্সেল ফোনে এটি চালু করা হবে।

বাজারে ইতোমধ্যে বেশ কয়েক ধরনের ফোল্ডেবল ডিভাইস এসেছে। এবার এসব ডিভাইসের ফোল্ডিং স্ক্রিনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে গেমারদের জন্য নতুন ফিচার এনেছে গুগল।

এই ফিচারের মাধ্যমে ফোল্ডেবল ডিভাইসের ওপরের অংশে গেম চলবে এবং নিচের অংশটি রূপান্তরিত হবে একটি ভার্চুয়াল গেমপ্যাডে। পাশাপাশি আলাদাভাবে ফিজিক্যাল গেমপ্যাড সংযুক্ত করার সুবিধাও থাকছে নতুন অ্যান্ড্রয়েডে।

হাই-ডেফিনিশন গেমিংয়ের সময় ফ্রেমরেট কমে যাওয়া বা ল্যাগের সমস্যা কমাতে উন্নত মেমোরি ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স অপটিমাইজেশন ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গুগল।

গুগলের দাবি, নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।

এর ফলে কোনো অ্যাপকে স্থায়ী অনুমতি না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডিভাইসের সুনির্দিষ্ট লোকেশন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে। একইভাবে, কনট্যাক্ট শেয়ার করার সময় পুরো ফোনবুক উন্মুক্ত না করে শুধু নির্বাচিত ব্যক্তিদের তথ্য শেয়ার করা সম্ভব হবে।

একটি উন্নত ‘ফাইন্ড হাব’ ফিচারও আনা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া ফোনকে বায়োমেট্রিক্স (যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি) দিয়ে লক করা যাবে।

এতে কেউ যদি ফোনের পাসকোড জেনেও নেয়, তবুও সে ডিভাইসে প্রবেশ করতে বা ট্র্যাকিং বন্ধ করতে পারবে না।

এছাড়া পিন কোড অনুমানের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং ভুল পিন বারবার দেওয়ার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় বাড়ানো হয়েছে। ফলে ডিভাইসটি অনুমানভিত্তিক আক্রমণ থেকে আরও সুরক্ষিত থাকবে।

পাশাপাশি ‘লাইভ থ্রেট ডিটেকশন’ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক অ্যাপ ও প্রতারণার প্রচেষ্টা আরও কার্যকরভাবে শনাক্ত ও প্রতিহত করা যায়। একইসঙ্গে ‘অ্যাডভান্সড প্রোটেকশন মোড’ সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা জটিল ও উন্নত সাইবার হামলা থেকে ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সুরক্ষা দেবে।

বড় ফিচারের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড ১৭-এ আরও কিছু ছোটখাট পরিবর্তন থাকছে।

এর মধ্যে রয়েছে হোম স্ক্রিনে অ্যাপের নাম লুকানোর সুবিধা, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের জন্য আলাদা ভলিউম কন্ট্রোল, ডার্ক থিমে আরও কাস্টমাইজেশন সেটিংস, এবং সব অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সম্প্রসারণ।

নতুন অ্যাপ মেমোরি লিমিট যুক্ত করা হয়েছে, যাতে কোনো একটি অ্যাপ অতিরিক্ত র‍্যাম ব্যবহার করতে না পারে। গুগলের দাবি, এতে ডিভাইসের পারফরম্যান্স ও ব্যাটারির স্থায়িত্ব আরও উন্নত হবে।

এছাড়া নির্বাচিত কিছু হাই-এন্ড ডিভাইসে চলতি গ্রীষ্মের শেষ দিকে জেমিনাই ইন্টেলিজেন্স নামের একটি অন-ডিভাইস এআই ফিচার সেট পাওয়া যাবে। এই ‘অন-ডিভাইস’ এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজ আরও সহজভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।

তবে এতে ঠিক কী কী ফিচার থাকবে, তা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

৪ বছর পর কোর্টে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস

টেনিস বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রত্যাবর্তনগুলোর একটি অবশেষে সত্যি হতে যাচ্ছে। প্রায় চার বছর প্রতিযোগিতামূলক টেনিসের বাইরে থাকার পর আবারও র‌্যাকেট হাতে কোর্টে ফিরছেন কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস। ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম একক শিরোপাজয়ী এই মার্কিন তারকা লন্ডনের কুইন্স ক্লাবে নারী দ্বৈত বিভাগে অংশ নিয়ে নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন।

৪৪ বছর বয়সী সেরেনা সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২২ সালের ইউএস ওপেনে। সেই আসরের তৃতীয় রাউন্ডে বিদায়ের পর আর তাকে পেশাদার টেনিস কোর্টে দেখা যায়নি। তবে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের ফেরার খবর নিশ্চিত করেন তিনি।

ভিডিওতে সাদা রঙের নাইকি পোশাকে কোর্টে দেখা যায় সেরেনাকে। সঙ্গে ছিল তার ফোনে একের পর এক বার্তা আসার দৃশ্য। ভিডিওটির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘সুন্দর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’

গত বছরের ডিসেম্বরে সেরেনার নাম আবারও অ্যান্টি-ডোপিং কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। কারণ পেশাদার ট্যুরে ফিরতে চাইলে এই কর্মসূচির অংশ হওয়া বাধ্যতামূলক। যদিও সে সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘ওহ মাই গড, আমি ফিরছি না। এই গুজব একেবারেই পাগলামি।’

কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বদলে গেছে পরিস্থিতি। কুইন্স ক্লাবের নারী দ্বৈত প্রতিযোগিতায় তাকে ওয়াইল্ড কার্ড দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তরুণ কানাডিয়ান খেলোয়াড় ভিক্টোরিয়া এমবোকোর সঙ্গে জুটি বেঁধেই কোর্টে নামবেন সেরেনা।

প্রত্যাবর্তন নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাসও লুকাননি তিনি। সেরেনা বলেন, ‘কুইন্স ক্লাব আমার নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য একদম উপযুক্ত জায়গা বলে মনে হয়েছে। ঘাসের কোর্ট আমাকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। তাই খেলাধুলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত।’

উইম্বলডনে সাতবারের একক চ্যাম্পিয়ন সেরেনার জন্য ঘাসের কোর্ট সবসময়ই বিশেষ কিছু। আর সেই কারণেই অনেকের কাছে কুইন্স ক্লাবকে তার প্রত্যাবর্তনের আদর্শ মঞ্চ বলে মনে হচ্ছে। ডব্লিউটিএ টুর্নামেন্ট পরিচালক লরা রবসনও সেরেনার ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সেরেনা উইলিয়ামস বিশ্বের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদদের একজন। এলটিএর এইচএসবিসি চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে আবার টেনিস কোর্টে দেখতে পেরে আমরা আনন্দিত। গত বছর কুইন্স ক্লাবে নারী টেনিসের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন হয়েছিল, আর এবার খেলাটির এক মহাতারকাকে আবার কোর্টে দেখা যাবে।’

২০২২ সালে টেনিস থেকে সরে দাঁড়ানোর সময়ও সেরেনা ‘অবসর’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাননি। বরং তিনি বলেছিলেন, তিনি টেনিসের বাইরে জীবনের নতুন পথে ‘বিবর্তিত’ হচ্ছেন। তবে সময় যেন শেষ পর্যন্ত তাকে আবার টেনিসেই ফিরিয়ে আনল।

বন্দর থেকে আদা খালাসে আমদানিকারকদের গড়িমসি, ঈদের আগে দাম বেড়ে দ্বিগুণ

ঈদুল আজহার আগে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে আদার দাম। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরে ১১ লাখ কেজি আদার চালান খালাস না করে ফেলে রেখেছেন আমদানিকারকরা।

মাংস রান্নায় অপরিহার্য এই মসলাটি মে মাসের শুরুতে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে সারা দেশে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে কারসাজি করতে এর আগেও ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এই ঘটনা নতুন নয়।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, মত দেন তারা। তবে আমদানিকারকদের দাবি, নথি সংক্রান্ত জটিলতায় খালাসে দেরি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানিয়েছে, ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ১৪ জন আমদানিকারক ৪১টি কনটেইনারে প্রায় ১১ লাখ কেজি আদা আমদানি করেন। তবে এখনো সেসব চালান বন্দর থেকে খালাস করা হয়নি।

কাস্টমস ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের আগামীকাল শনিবারের মধ্যে চালান খালাস করতে বলেছেন। এই সময়ের মধ্যে আদা খালাস করা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে আদার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫ লাখ টন। এর মধ্যে আমাদের দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টন। বাকিটা আমদানি করতে হয়।

ব্যবসায়ীদের মতে, মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার আগে সাধারণত আদার চাহিদা বেড়ে যায়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, খালাস প্রক্রিয়ায় যুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মঙ্গলবার  ডেকে দেরির কারণ জানতে চাওয়া হয়।

‘আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের এজেন্টরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, শনিবারের মধ্যে তারা চালান খালাস করবেন,’ বলেন তিনি।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে আমদানিকারকরা বন্দরে চালান আটকে রাখছেন—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদুল আজহার আগে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বাজার কারসাজি বা মজুতদারির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ৭৭ হাজার টন আদা আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৭৯ হাজার টন।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স ট্রেড, ইফতি ইন্টারন্যাশনাল, সৌরভ ইন্টারন্যাশনাল ও নাঈম ট্রেডার্স খালাসে দেরি করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের চালান খালাসের দায়িত্বে রয়েছে মার্কো ইন্টারন্যাশনাল সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. একরামুল হক ভূঁইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতার কারণে খালাসে দেরি হয়েছে। সব আমদানিকারকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং আমাদের দায়িত্বে থাকা নয়টি চালান শনিবারের মধ্যে খালাস করা হবে।’

তিনি দাবি করেন, আদাভর্তি কনটেইনারগুলো প্রতিদিন ধাপে ধাপে খালাস করা হচ্ছে এবং বাকি চালানও পর্যায়ক্রমে ছাড়িয়ে নেওয়া হবে।

বন্দর বিধিমালা অনুযায়ী, পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর চার দিনের মধ্যে খালাস করলে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত কোনো চার্জ দিতে হয় না। এরপর থেকে বিলম্ব মাশুল আরোপ করা হয়। ৩০ দিনের বেশি সময় পণ্য খালাস করা না হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেগুলো নিলামেও তুলতে পারে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘আমদানিকৃত পণ্য খালাসে দেরি করে বন্দরকে গুদাম হিসেবে ব্যবহারের এই চর্চা নতুন নয়।’

‘বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগের পরও এই চর্চা বন্ধ হয়নি। যথাযথ কারণ ছাড়া যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে পণ্য জব্দসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত,’ বলেন তিনি।

সংসদে সমঝোতার কথা বলে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা দ্বিচারিতা: গোলাম পরওয়ার

সংসদে সমঝোতার কথা বলে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা দ্বিচারিতা বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্কের একটি অডিটোরিয়ামে এক সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ছাত্রশিবিরের রগ কাটার রাজনীতি করার কোনো প্রমাণ নেই। এসব অভিযোগ অপপ্রচার। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। আপনারা শিবরকে গুপ্ত বলেন, জনগণ যদি বলে—১৭ বছর যারা দেশে না থেকে এখন আসছে, তারাই গুপ্ত ছিল।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের নেতারা বলেছিলেন—আমরা ১৭ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রাজনীতি করতে পারিনি। এখন তারা কোথা থেকে এলো, তাহলে তারাও গুপ্ত।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ডাকসু নির্বাচনে ৩০-৪০ হাজার শিক্ষার্থীর ভোটে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিকে আপনারা শাহবাগ থানার ভেতরে হামলা করেছেন। কুমিল্লা পলিটেকনিক, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, ঈশ্বরদী ও রাজশাহীসহ দেশের সব ক্যাম্পাসে আপনারা ছাত্রদলকে শিবিরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন।

‘এদিকে পার্লামেন্টে জামায়াত আমির বলছেন—আমরা সরকারকে ভালো কাজে সাহায্য করব। জ্বালানি সংকটের জন্য নোটিশ দিয়েছে, আলোচনা হয়েছে। জামায়াত আমির বলেছেন—আমাদের কাছে ভালো প্রস্তাব আছে। আপনারা ওয়েলকাম করেছেন। একটা কমিটি করে সমাধান করবেন ভালো কথা। কিন্তু সংসদে সমঝোতার কথা বলবেন, আর সেইদিন সন্ধ্যায় ডাকসু নেতাদের হামলা করবেন, এ দ্বিচারিতা জনগণ মেনে নেবে না।’

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, পাঁচ কোটি মানুষের ভোটের প্রতি আস্থা রেখে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আগামীকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশের লক্ষ্য—রাজনৈতিক সংকট নিরসন ও রক্তপাত এড়ানো।

তিনি বলেন, জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে—সংসদেও, রাজপথেও।

‘ভয় দেখিয়েইসলামী আন্দোলন দমন করা যাবে না। যারা রক্ত দিতে ও জীবন দিতে প্রস্তুত, তাদের থামানো সম্ভব নয়’, বলেন তিনি। 

নিজের জন্য দুঃখ নেই, প্রান্তিক মানুষের জন্য আছে

বিশ্বনন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ। বিশ্বের বহু দেশে জাদু দেখিয়ে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন। 

একজন বংশীবাদক হিসেবেও তার খ্যাতি আছে। আবার একইসঙ্গে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও তিনি। একুশে পদক পেয়েছেন এবং বিশ্বের অনেক দেশ থেকে পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

আজ ১০ এপ্রিল তার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তিনি কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

‘অসংখ্য মানুষ আপনাকে ভালোবাসে—কেমন লাগে?’ এই প্রশ্নের জবাবে জুয়েল আইচ বলেন, ‘ভালো লাগে। আমি আনন্দিত। এত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। অনেক ভালো লাগা কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সমাজে একজন মানুষের সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য যা যা দরকার তা আমার আছে। বেশি কিছু চাই না। তবে সাধারণ মানুষ, গরিব মানুষ, প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখে খারাপ লাগে। কষ্ট পাই। প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করতে পারিনি। এটা আমাকে কষ্ট দেয়।’

জুয়েল আইচ বলেন, ‘নিজের জন্য দুঃখ নেই, প্রান্তিক মানুষের জন্য আছে।’

কথায় কথায় জুয়েল আইচ বলেন, ‘আমি তো মুক্তিযোদ্ধা। মাঝে মাঝে যুদ্ধের স্মৃতি মনে করি। একটি ঘটনা মনে পড়ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের সঙ্গে দুজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যাদের শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। গেঞ্জি পরে জীবন দিয়ে যুদ্ধ করতে এসেছিলেন। একজনের গেঞ্জি এতটাই ছেঁড়া ছিল যে মনে পড়লেই চোখ ভিজে যায়। এইরকম উদাহরণ অনেক আছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময় টের পেয়েছি কী কষ্ট করে প্রান্তিক মানুষের জীবন কাটে। তারপরও তারা জীবনদান করতে এসেছিলেন স্বাধীন দেশ পাওয়ার আশায়। তাও আবার আমরা যুদ্ধ করেছি পাকিস্তানের সাথে, যাদের ছিল বিশাল বাহিনী।’

১৯৭১ সালের স্মৃতি স্মরণ করে জুয়েল আইচ আরও বলেন, ‘ওই সময় আমাদের কলার থোড় খেয়ে পানির অভাব পূরণ করতে হয়েছিল। কেননা, নদী দিয়ে প্রায়ই লাশ ভেসে আসত। ওই নদীর পানি খাওয়ার মতো অবস্থা তখন ছিল না। শকুন এসে লাশের ভুড়ি খেয়ে যেত।’

তিনি বলেন, ‘জায়গাটার নাম পেয়ারা বাগান। ঝালকাঠি, স্বরূপকাঠি ও বানারিপাড়ার একটা অংশ নিয়ে পেয়ারা বাগান। ওখানেই যুদ্ধের সময় আমরা ছিলাম।’

জন্মদিনে কে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে। মেয়ে বড় হয়েছে। আমাকে এখন মায়ের মতো আদর করে, শাসন করে।’

এদিকে, জুয়েল আইচের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবছি অনুষ্ঠানের আয়োজন যারা করেছেন, ওখানে আবার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বেশি চলে আসেন কি না। এটা নিয়ে চিন্তায় আছি। তাছাড়া, যারা আয়োজন করেছেন তাদের প্রতি ভালোবাসা।’