26.2 C
Dhaka
Home Blog

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি

প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করবে।

তিনি জানান, ঈদুল আজহা মাঝামাঝি সময়ে পড়ায় কোনো কর্মসূচি দু-একদিন পিছিয়ে আয়োজন করা হলেও তাতে সমস্যা হবে না।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।

একইদিন সকাল ১১টায় দলের মহাসচিব, জ্যেষ্ঠ নেতা ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান রিজভী।

৩১ মে দুপুর ২টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

রিজভী বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় দুস্থদের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি সারা দেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

তিনি জানান, ছাত্রদল, কৃষক দল, ওলামা দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করবে।

এর আগে অনুষ্ঠিত যৌথসভায় দলের যুগ্ম মহাসচিবরা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতারা এবং কেন্দ্রীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন।

পারিবারিক নাটক কেন কমে গেল, কারণ জানালেন পাঁচ নির্মাতা

একসময় এ দেশে পারিবারিক গল্পের অসংখ্য নাটক তৈরি হতো। সেসব নাটক আগ্রহ নিয়ে দেখতেন দর্শকরা। আমজাদ হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, আতিকুল হক চৌধুরী থেকে শুরু করে হুমায়ূন আহমেদের তৈরি করা নাটকগুলো আজও স্মৃতিকাতর করে দর্শকদের। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই ধারাবাহিকতা অনেকটাই কমে গেছে। এখন হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া সেভাবে পারিবারিক নাটক চোখে পড়ে না।

কেন কমে গেল পারিবারিক গল্পের নাটক? এ নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের পাঁচ জনপ্রিয় নির্মাতা। তারা হলেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, অরণ্য আনোয়ার, অনিমেষ আইচ ও সোহেল আরমান।

গিয়াস উদ্দিন সেলিম

পারিবারিক গল্পের নাটকের চাহিদা একসময় তুঙ্গে ছিল। বিটিভি থেকে এর শুরু, এরপর দীর্ঘদিন ধরে এই ধারা চলেছে। পরে ইউটিউবসহ নানা কারণে নাটকের ধরন অন্যদিকে মোড় নেয়। একসময় নাটক পুরোপুরি নায়ক-নায়িকানির্ভর হয়ে পড়ে, যার ফলে ক্যারেক্টার আর্টিস্টদের কাজ কমে যায়। এসব কারণেই পারিবারিক নাটক কমে যায়। তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে, আবার পারিবারিক গল্প ফিরে আসছে। যদিও তা আগের তুলনায় কিছুই না। দর্শকেরা আসলে ভালো গল্প চান। পারিবারিক নাটকে আমাদের জীবনের কথাই উঠে আসে, তাই এই ধরনের নাটক আরও বেশি হওয়া উচিত।

সালাহউদ্দিন লাভলু

পারিবারিক নাটক কম হওয়ার অনেক কারণ আছে। অথচ আমাদের ছিল পারিবারিক নাটকের বিশাল ঐতিহ্য। এ দেশের দর্শকেরা পারিবারিক নাটকই বেশি দেখতেন। আমাদের অগ্রজ পরিচালক ও নাট্যকারেরা পারিবারিক নাটক দিয়ে বাজিমাত করে গেছেন, যেগুলো কালজয়ী হয়ে আছে। আমি গ্রামের গল্প নিয়ে নাটক করলেও সব সময় চেষ্টা করি সেখানে পারিবারিক বিষয়গুলো তুলে আনতে। পারিবারিক গল্পের নাটক কীভাবে যেন কমতে শুরু করল! এর দায় কার? তবে এখনো সদিচ্ছা থাকলে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

অরণ্য আনোয়ার

পারিবারিক গল্পনির্ভর নাটক কম হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে সময়ের বদল। একটা সময় আমরা যৌথ পরিবারে বাস করতাম। এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ যৌথ পরিবারে বেড়ে উঠেছে। যে কারণে পারিবারিক গল্প বেশি তৈরি হতো এবং দর্শকও তা আগ্রহ নিয়ে দেখতেন। এখন যৌথ পরিবার নেই বললেই চলে, সবাই যার যার মতো আলাদা থাকছে। ফলে সমাজবাস্তবতার প্রতিফলন ঘটছে নাটকে। তবে একেবারেই যে হচ্ছে না, তা নয়। মোস্তফা কামাল রাজ সম্প্রতি ‘পারিবারিক’ ঘরানার একটি নাটক নির্মাণ করেছেন, যা দর্শক খুব পছন্দ করেছেন। তবে সামগ্রিকভাবে আবেগের এই গল্পগুলো এখন কমই হচ্ছে।

অনিমেষ আইচ

পারিবারিক নাটক কম হওয়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হতে পারে ভালো নাট্যকার ও পরিচালকের অভাব। এখন অনেকেই মনে করেন, নাটকে শুধু তারকা থাকলেই চলবে। আবার কেউ কেউ ভাবেন, পারিবারিক নাটকে হয়তো ‘ভিউ’ কম হবে। অনেকেই এখন শুধু ভিউ বা সাময়িক জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটছেন। যখন ভিউয়ের পেছনে দৌড়ানো হয়, তখন স্বভাবতই পারিবারিক গল্প কমে যায়। অথচ ভালো পারিবারিক গল্প হলে তা ঠিকই দর্শকের মন জয় করে।

সোহেল আরমান

একটা সময় ছিল যখন আমজাদ হোসেন, হুমায়ূন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল মামুন বা আতিকুল হক চৌধুরীদের নামে এ দেশে নাটক চলত। লাখ লাখ দর্শক তাদের নাটক দেখতেন। সেখান থেকে আজ আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি! মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় বিনোদনের মাধ্যমও বদলে গেছে। এখন অনেকেই ‘ভাইরাল’ হওয়ার পেছনে ছুটছেন। আমি ‘ভাইরাল’ শব্দটিরই পক্ষে নই, এটি মূলত নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার হয়। নেতিবাচক কোনো কিছু সাময়িক জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু তা দিয়ে সবকিছুর বিচার করা যায় না। এসব নানা কারণেই ধীরে ধীরে পারিবারিক গল্পের নাটক কমে গেছে।

হামলায় ইরানের ৪৮ নেতা নিহত: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে ৪৮ নেতা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আজ রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি। 

সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যে সাফল্য পাচ্ছি তা কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। এক ধাক্কায় ৪৮ জন নেতা মারা গেছেন এবং এটি দ্রুত এগিয়ে চলেছে।’ 

প্রতিবেদনে ‘সিএনবিসি’ ও ‘দ্য আটলান্টিক’কে দেওয়া ট্রাম্পের অপর দুটি সাক্ষাৎকারের তথ্যও তুলে ধরা হয়। 

সিএনবিসিকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কেবল আমাদের জন্য নয়, বিশ্বের জন্য কাজ করছি।’

সবকিছু নির্ধারিত সময়ের আগেই হচ্ছে উল্লেখ করে পরিস্থিতি ইতিবাচকভাবে এগুচ্ছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

অন্যদিকে দ্য আটলান্টিককে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সম্ভাব্য পরবর্তী নেতাদের সঙ্গে তিনি কথা বলতে আগ্রহী। 

তিনি বলেন, ‘তারা কথা বলতে চান এবং আমি রাজি হয়েছি।’

ইরানি নেতাদের এটা আরও আগে করা উচিত ছিল বলে মনে করেন ট্রাম্প। 

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের উচিত ছিল যা খুব বাস্তব এবং সহজে করা যায় তা আরও আগে করা।’  

তবে ইরানের নতুন নেতাদের সঙ্গে কখন ও কীভাবে কথা হবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি ট্রাম্প। 

সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বসবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন।

আজ রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি। সেটা নির্ধারণ হয়েছে আগামী ১২ মার্চ।’

‘সংসদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে (প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে) আলোচনা করেছি। এটা নির্ধারণ হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহবানের প্রজ্ঞাপন দেবেন অধিবেশনের ১৫ দিন আগে,’ বলেন তিনি।

সালাউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে পরামর্শের জন্য। রাষ্ট্রপতি সেটা অনুমোদন করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন।’

‘অধিবেশনে কী কর্মসূচি থাকবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমন অধিবেশনে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেসব অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে সেগুলো উপস্থাপন করা হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে,’ বলেন তিনি।

বিক্রি হচ্ছে স্পেসএক্সের শেয়ার, কিনতে পারবেন যারা, ঝুঁকি কতটুকু

বিশ্বের শেয়ার বাজারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে আগামী ১২ জুন। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মহাকাশযান প্রস্তুতকারক, মহাকাশ উৎক্ষেপণ ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ প্রযুক্তি সরবরাহকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স তাদের শেয়ারের একটি অংশ সাধারণ মানুষের জন্য ছেড়ে দিচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেক্সাসের এই কোম্পানির কোনো শেয়ার বর্তমানে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নেই। তবে, প্রাথমিক প্রস্তাবে সাধারণ স্টকের ৫৫ কোটি ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫টি শেয়ার প্রতিটি ১৩৫ ডলার মূল্যে বিক্রির কথা জানিয়েছে স্পেসএক্স।

প্রাথমিক প্রস্তাবে দুই ধরনের সাধারণ শেয়ারের কথা জানিয়েছে স্পেসএক্স। ‘ক্লাস এ’ পর্যায়ের প্রতিটি শেয়ারের মালিক শেয়ার প্রতি একটি করে ভোট দেওয়ার অধিকারী হবেন। ‘ক্লাস বি’ পর্যায়ের প্রতিটি শেয়ারের মালিক শেয়ার প্রতি ১০টি ভোট দিতে পারবেন।

কেন বাজারে শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা

বিবিসি জানিয়েছে, আগামী ১২ জুন প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের পাবলিক শেয়ারের লেনদেন শুরু হবে।

এর লক্ষ্য বিশাল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা। স্পেসএক্সের প্রাথমিক লক্ষ্য বাজারে কোম্পানিটির ৫৫৫ মিলিয়ন শেয়ার প্রতিটি ১৩৫ ডলারে বিক্রি করে অন্তত ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা।

এই অর্থ দিয়ে স্পেসএক্সের বর্তমান কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং সেইসঙ্গে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন মাস্ক। তার পরিকল্পনার মধ্যে আছে—গ্রহাণু থেকে খনিজ আহরণ, মঙ্গল গ্রহে কলোনি তৈরি, মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন।

ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮২৫ বিলিয়ন ডলার। আর তার প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্সের আর্থিক মূল্যমান রেটিং প্রতিষ্ঠান মর্নিংস্টারের মতে ৭৮০ বিলিয়ন ডলার।

গত মাসে স্পেসএক্সের জমা দেওয়া করা আইপিও বিবরণী অনুযায়ী, ইলন মাস্কের হাতে আছে কোম্পানিটির শেয়ারের ৪২ শতাংশ বা প্রতিটি ৮ দশমিক ৩৯ ডলার মূল্যের ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন শেয়ার।

কিন্তু শেয়ারের দাম বাড়ানোর ফলে কোম্পানিটির মূল্য দাঁড়াবে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ইলন মাস্ক হবেন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার।

যেভাবে কেনা যাবে স্পেসএক্সের শেয়ার

শেয়ার তালিকাভুক্ত হয়ে যাওয়ার পর যেকোনো সময় তা কেনা যাবে। এককভাবে শেয়ার কিনতে চাইলে এমন কোনো প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে যারা স্পেসএক্সের শেয়ারের ব্রোকার হিসেবে কাজ করছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেসএক্সের পাবলিক শেয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম নিউইয়র্ক সিটির নাসড্যাক শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত হবে।

নাসডাকসহ কিছু শেয়ার বাজারে সম্প্রতি এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে যার ফলে শেয়ার বাজারের অন্তর্ভুক্ত বিনিয়োগকারীরা সরাসরি চেষ্টা না করলেও, শেষ পর্যন্ত হয়তো স্পেসএক্সের সামান্য অংশের মালিক হয়ে যেতে পারেন।

যুক্তরাজ্যে কয়েকটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের স্পেসএক্সের শেয়ার আছে। এর মধ্যে রয়েছে এডিনবরা ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও বেইলি গিফোর্ড ইউএস গ্রোথ।

এছাড়া, যুক্তরাজ্যের এজে বেল, হারগ্রিভস ল্যান্সডাউন তাদের গ্রাহকদের স্পেসএক্সের শেয়ার কেনার সুযোগ দিচ্ছে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্ম চার্লস সোয়াব, ফিডেলিটি, রবিনহুড, সোফাই টেকনোলজিস ও মরগান স্ট্যানলির ই-ট্রেডের মাধ্যমেও স্পেসএক্সের শেয়ার কেনা যাবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে আগামী ১১ জুন শেয়ারের অফিসিয়াল দাম নির্ধারণ করা হবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বেস্টইনভেস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেসন হল্যান্ডস বলেন, ‘সাধারণত, যুক্তরাজ্যের ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্কিন শেয়ার বাজারে ঢোকা বেশ কঠিন। কিন্তু বেশ কয়েকটি ব্রোকার ও ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম স্পেসএক্সের আইপিও কেনার সুযোগ দিচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদা এবং এটি যে বড় একটি সুযোগ তা টের পেয়েছে তারা।’

তিনি জানান, এসব প্ল্যাটফর্মের সর্বনিম্ন সাবস্ক্রিপশন সাধারণত এক হাজার পাউন্ড হতে পারে এবং আবেদনের সময়সীমা আগামী বুধবার শেষ হবে।

শেয়ার বণ্টন

গার্ডিয়ান বলছে, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত শেয়ার যদি শেষ পর্যন্ত না থাকে, তা ভেবে বণ্টন পদ্ধতি এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

এমন হতে পারে যে অনেকে সমান সংখ্যক শেয়ার পাবেন, অথবা কে কত বিনিয়োগ করতে চান সেই অনুযায়ী বণ্টন করা হতে পারে।

আবেদন অনেক বেশি হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত কিছু বিনিয়োগকারী হয়তো কিছুই পাবেন না।

এজে বেলের মার্কেট ব্যবস্থাপনার প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন, ‘ধরা যাক কেউ ৫ হাজার পাউন্ড কিংবা সাড়ে ৬ হাজার ডলারের শেয়ারের জন্য আবেদন করলেন। তারা হয়তো প্রথম ১ হাজার ডলার বা পাউন্ড মূল্যের শেয়ার পুরোটা বরাদ্দ পাবেন। কিন্তু বাকি অর্থের ওপর হয়ত তাদের নির্দিষ্ট শতাংশের শেয়ার দেওয়া হতে পারে। আবেদনগুলোর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম এখন পর্যন্ত নেই।’

মাস্কের শেয়ারের কী হবে

বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে স্পেসএক্সের শেয়ার কিনে হয়ত অনেকে ভাবতে পারেন যে প্রতিষ্ঠানটির নীতি-নির্ধারণীতে থাকার সুযোগ হবে। কিন্তু সত্য হলো বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেশি হলেও স্পেসএক্স কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মাস্ক তার নিজের শেয়ার বিক্রি করছেন না এবং কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারদের মোট ভোটের ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ নিজের কাছেই রাখছেন।

এই শেয়ার কিনে কতটা লাভ কতটা ঝুঁকি

প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগকারীরা আশা করবেন, স্পেসএক্সের শেয়ার কেনার পর দাম হয়তো এক লাফে অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু শেয়ারের দাম যেমন বাড়তে পারে, তেমনি কমতেও পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্সের মতো কোম্পানিগুলো সাধারণত তাদের কার্যক্রমের দিকে বেশি মনোযোগী থাকে। তারা এটাও জানে না যে, শেয়ারের লেনদেন শুরু হলে দাম বাড়বে নাকি কমবে।

এর আগে রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে ইলন মাস্কের জনপ্রিয়তা কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল। তার ওপর তার উদ্যোগগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অনিশ্চয়তায় ভরা।

গত বছর স্পেসএক্স ১৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, তাদের নেট লোকসান ছিল ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

স্পেসএক্সের শেয়ার বিক্রির শর্ত-সম্বলিত আইপিও বিবরণীতে বলা হয়েছে, কোম্পানির নেট লোকসানের ইতিহাস আছে এবং ভবিষ্যতেও এটি লাভজনক নাও হতে পারে।

এখন এর শেয়ার কেনা নির্ভর করবে বিনিয়োগকারী কী চায় তার ওপর। স্পেসএক্সের শেয়ারের মালিক—এই কথা ভেবেই যদি কেউ শান্তি পায় তার ক্ষেত্রে হারানোর কিছু থাকছে না।

ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন, স্পেসএক্সের প্রবৃদ্ধির সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি সম্ভাব্য কিছু ঝুঁকিও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে শেয়ারের মূল্য কমিয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘স্পেসএক্সের ব্যর্থতা, নীতিগত বা আইনি পরিবর্তন, ইলন মাস্কের বিতর্কিত মন্তব্য কোম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে।’

এসবের বাইরে, কোনো ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ না করে সরাসরি একটি একক কোম্পানির শেয়ার কেনা সবসময়ই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ—কারণ পরিস্থিতি খারাপ হলে লোকসান ছাড়া উপায় থাকে না।

বেস্ট ইনভেস্টেরের হল্যান্ডস বলেন, ‘স্পেসএক্সে কারও বিনিয়োগের বড় অংশ খাটাতে আমি সতর্ক থাকব। যদি শুরুর দিকে ভালো লাভ হয়, তবে কোম্পানির অভ্যন্তরীন কেউ শেয়ার বিক্রির সুযোগ পাওয়ার আগেই কিছু মুনাফা তুলে নেওয়া এক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’

ইয়ামাল ফিরতেই চেনা ছন্দে ফিরলো স্পেন

টানা ৩১ টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থেকে অন্যতম ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল স্পেন। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সেই স্পেন ছিল একদমই অচেনা। অবশেষে আজ সৌদি আরবের বিপক্ষে চিরচেনা রূপে ধরা দিলো স্প্যানিশ ফুটবলের সৌন্দর্য। সৌদি আরবকে নাস্তানাবুদ করে ৪-০ জয়ের গোলে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে স্পেন। 

জয়ের ধারায় ফিরতে মরিয়া স্পেন এদিন শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনে, যার মধ্যে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনটি ছিল একাদশে লামিন ইয়ামালের অন্তর্ভুক্তি। ইয়ামাল না থাকায় আগের ম্যাচে স্পেনের আক্রমণ অনেকটাই ভোঁতা লেগেছিল। আজও শুরু থেকে তাকে পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে ইয়ামাল খেলেছেন এবং স্পেনকেও খেলিয়েছেন। আজ প্রথম মিনিট থেকেই তিনি বুঝিয়েছেন, কেন তাকে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার মানা হয়। 

সৌদির বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই রাইট উইং থেকে একের পর এক ক্রস তুলেছেন ইয়ামাল। প্রথম সাফল্যটাও এসেছে এই বার্সা তারকার পা থেকেই। বক্সের বাঁ পাশ থেকে নিখুঁত কোণে বল পাঠান মিকেল ওয়ারজাবাল, স্লাইড করে সেটিকে শুধু জালে ঢুকিয়ে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেয়েছেন ইয়ামাল। 

প্রথমার্ধের বাকি অংশে ইয়ামালকে ছাপিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই স্পেনের নায়ক ওয়ারজাবাল। বছর দুয়েক ধরেই প্রথাগত স্ট্রাইকার ছাড়া খেলে অভ্যস্ত স্পেনের গোলের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন রিয়াল সোসিয়েদাদে খেলা এই ফরোয়ার্ড। আগের ম্যাচে ৩০ মিনিটেও একবার বল স্পর্শ করতে পারেননি। আজ ২১ থেকে ২৪- তিন মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সংশয় শেষ করে দিয়েছেন তিনি। হ্যাটট্রিকও পেয়ে যেতে পারতেন, যদি না ৩৬ মিনিটে ক্রসবারে বল লাগাতেন। 

ফলাফল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বিরতির সময়ই দুই গোলদাতাকে উঠিয়ে নেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বিরতির ঠিক পরপরই ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ গোলটি পায় বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। কর্নার থেকে আসা বলে শক্তিশালী শট নিয়েছিলেন কুকুরেয়া, সেটি গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ফিরে এসে আবার ডিফেন্ডার আল-তামবাক্তির গায়ে লেগে জালে ঢুকে। এই নিয়ে এটি এবারের বিশ্বকাপের অষ্টম আত্মঘাতী গোল। 

এরপর অনেকটাই খোলসে ঢুকে যায় স্পেন। বল পায়ে রেখে নিরাপদ খেলেছে অনেকটা সময়। স্টপেজ টাইমে ট্যাপ ইন করে একটি গোল করেছিলেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। 

পুরো ম্যাচে বলতে গেলে একাই খেলেছে স্পেন। সৌদির গোলমুখে মোট ২২টি শট নিয়েছে তারা, বল দখলে রেখেছিল ৬৭ শতাংশ সময়। দাপুটে এই জয়ে আপাতত গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে স্পেন। গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ লাতিন দল উরুগুয়ের বিপক্ষে। 

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়া ও মার্কিন বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ ধারায় তদন্ত শেষে গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) এ প্রস্তাবের কথা ঘোষণা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত পণ্য আমদানির বিষয়টি মোকাবিলা করতে বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের জন্য অসমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে।

গ্রিয়ার আরও বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের এই ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। বৈশ্বিক বাণিজ্য যেন কোনোভাবেই এ ধরনের শ্রম চর্চাকে উৎসাহিত না করে, সেজন্য সরকারগুলোকে আরও ভূমিকা রাখতে হবে।

ইউএসটিআর বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ ৫৪টি দেশকে চিহ্নিত করেছে। এই দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকরভাবে বলবৎ করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

এছাড়া বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ না করার জন্য কানাডা, মেক্সিকো ও পাকিস্তানসহ আরও ছয়টি দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশে আংশিক জোরপূর্বক শ্রম আমদানি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বা যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি আছে, তারা অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হবে। আর যেসব দেশের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি নেই, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্কের মুখে পড়তে পারে।

তবে এই শুল্ক এখনই কার্যকর হচ্ছে না। চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে এটি জনসাধারণের মতামত ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে। এর ফলে শুল্ক চূড়ান্ত হওয়ার আগে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। 

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে লিখিত মতামত জমা দিতে হবে। ৭ জুলাই থেকে ‘সেকশন ৩০১’ প্যানেলের গণশুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এই পদক্ষেপটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিস্তৃত বাণিজ্য কৌশলের অংশ। এটি চলতি বছরের শেষ দিকে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া অস্থায়ী ব্যবস্থাগুলোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট দেশের জন্য স্থায়ী শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করতে পারে।

এছাড়া ইউএসটিআর একটি পৃথক টেক্সটাইল ব্যবস্থারও প্রস্তাব করেছে। এর অধীনে নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল সামগ্রী কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে এর যোগ্যতা ও কোটার পরিমাণ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

আরও ২ মামলায় আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিনের আদেশ বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত।

আজ রোববার আইভীর জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি পৃথক আবেদনের বিষয়ে ‘নো অর্ডার’ আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।

আইভীর আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্য ১০টি মামলায় জামিন বহাল থাকায় তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনগত বাধা নেই।

আদালতে আজ আইভীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান ও আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।

এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল দুটি পৃথক হত্যা মামলায় আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট এবং কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেন।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সেলিম মন্ডল ও আবদুস সালামকে হত্যার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছিল।

গত বছরের ৯ মে পোশাক শ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 
পরে তাকে আরও নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই বছরের ৯ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পৃথক জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আইভীকে ১০টি মামলাতেই জামিন দিয়েছিলেন।

অতিপ্রাকৃত ভৌতিক ‘দ্য মমি’ সিনেমায় কী থাকছে

আজ ১৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেয়েছে আমেরিকান অতিপ্রাকৃত ভৌতিক সিনেমা ‘দ্য মমি’। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। 

আগেও মমি নামে হলিউডে কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। সেগুলো ছিল মূলত অ্যাডভেঞ্চারধর্মী। তবে নতুন এই সিনেমাটি আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। 

এটি একটি আর-রেটিং পাওয়া ভৌতিক সিনেমা, যেখানে অত্যন্ত ভীতিজনক ও নৃশংস দৃশ্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো সিনেমা মুক্তির আগে মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমপিএএ) নামের সংস্থা ওই সিনেমার একটি রেটিং দিয়ে থাকে। সেই রেটিং অনুযায়ী নির্ধারণ হয় উল্লেখিত সিনেমাটি কোন বয়সীদের দেখার উপযোগী। 

আর বা রেস্ট্রিকটেড রেটিং পাওয়া সিনেমাগুলো ১৭ বছরের কম বয়সী দর্শকদের জন্য উপযোগী নয়।

লি ক্রোনিন পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন জ্যাক রেনর, লাইয়া কস্তা, মে ক্যালামাউই, নাটালি গ্রেস, ভেরোনিকা ফ্যালকন প্রমুখ।

 

দ্য মমি সিনেমায় গল্পটি এক সাংবাদিক বাবা ও তার পরিবারকে কেন্দ্র করে। একসময় তারা সুখী পরিবার ছিল। একদিন তাদের ছোট মেয়েটি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায় না। এই ঘটনাটি পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। 

৮ বছর পর হঠাৎ একদিন সেই মেয়েটিকে মরুভূমির একটি এলাকায় পাওয়া যায়। সে বেঁচে আছে কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তার বয়স বাড়েনি। পরিবার তাকে ফিরে পেয়ে খুশি হলেও, কিছু অদ্ভুত বিষয় তাদের চোখে পড়ে। মেয়েটি বাড়ি ফেরার পর তার আচরণ ঠাণ্ডা ও অচেনা হয়ে যায়। সে অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলতে থাকে। রাতে অস্বাভাবিক কিছু ঘটনা ঘটে। তার শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন শুরু হয়। মনে হতে থাকে, সে পুরোপুরি মানুষ নয়।

গল্প এগোতে থাকলে মেয়েটির শরীর ধীরে ধীরে মমির মতো হয়ে যায়। সে অস্বাভাবিক ক্ষমতা দেখাতে শুরু করে। তার উপস্থিতি ঘরে ভয়ংকর প্রভাব ফেলে।

তেহরানকে নির্বিচার হামলা বন্ধের আহ্বান জানাল বার্লিন

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানকে অবিলম্বে ‘নির্বিচার হামলা’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি পূর্বাভাষ দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ধর্মীয় নেতাদের শাসনের অবসান ঘটেছে।

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলছিল পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা। গত বুধবার তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে সব কিছু ‘ইতিবাচক’ বলেই ধরে নিয়েছিল উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় থাকা বিশ্ববাসী। 

তবে দুই দিনের মাথায় শান্তি উদ্যোগকে ছুঁড়ে ফেলে ইরানে যুগপৎ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। 

এই হামলায় এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ মোট ৪৮ জন নেতা এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন। 

খামেনি হত্যা ও দেশের ওপর হামলার জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি আছে, সেগুলোর ওপর হামলা শুরু করে ইরান। 

 

একে একে আক্রান্ত হয় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব এবং ইসরায়েল। 

এসব হামলাকেই ‘নির্বিচার হামলা’ আখ্যা দেন জার্মান চ্যান্সেলর।  

বার্লিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মের্ৎস বলেন, ‘ইরানের জনগণের পাশাপাশি জার্মানরাও দেশটিতে ধর্মীয় শাসনের অবসান ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করছে।’

তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হওয়ায় ইরান এখন ‘অনিশ্চিত ভবিষ্যতের’ দিকে আগাচ্ছে। 

 

মের্ৎস নিশ্চিত করেন, তিনি বুধবার ওয়াশিংটন সফর করবেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। 
‘আমরা এখনো জানি না, তাদের (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) পরিকল্পনা সফল হবে কী না’, যোগ করেন তিনি। 

উল্লেখ্য, এই অভিযানে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি অংশ নেয়নি। 

তিনি জানান, জার্মানির মাটিতে কোনো ধরনের ‘ইহুদিবিদ্বেষী বা মার্কিনবিদ্বেষী’ হামলা সহ্য করা হবে না।