30.7 C
Dhaka
Home Blog

প্রায় ৫ মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।

আজ বুধবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান তিনি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে দেশে ফিরেছেন মির্জা আব্বাস। তার সঙ্গে স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও দেশে ফিরেছেন।

গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ফিজিওথেরাপির জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে ফিজিওথেরাপি নেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মির্জা আব্বাস বেশ ভালো বোধ করছেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন আফরোজা আব্বাস।

এর আগে, গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। তখন তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নিউরোলজি বিশেষজ্ঞদের একটি চিকিৎসক দল তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করেন।

অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তাকে ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়।

বিদেশে বারবার শুল্কের মুখে বাংলাদেশি পণ্য, সুরক্ষায় পিছিয়ে দেশ: বিএফটিআই

অন্য দেশগুলো বাংলাদেশের পণ্যের বিরুদ্ধে একের পর এক অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা নিলেও বাংলাদেশ নিজে এ ধরনের বাণিজ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা খুব কমই ব্যবহার করেছে। অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেফগার্ড শুল্ক—এই তিন ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতা এখনও সীমিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) এক গবেষণা। 

অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেফগার্ড শুল্ক হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) অনুমোদিত তিন ধরনের বাণিজ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা। কম দামে পণ্য বিক্রি, সরকারি ভর্তুকির সুবিধা নিয়ে রপ্তানি বা হঠাৎ আমদানি বেড়ে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

গবেষণাটি বলছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে গেলে দেশের শিল্পকে বিদেশি পণ্যের অসম প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করতে এসব ব্যবস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এমন সময়ে এই গবেষণার তথ্য সামনে এল, যখন ভারতের বাণিজ্য প্রতিকার মহাপরিচালকের দপ্তর (ডিজিটিআর) বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে রপ্তানি করা পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্মের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ভারত এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটপণ্যের ওপর থাকা অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা শেষ করেছে।

গত ২৫ জুন প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো বদলে পণ্য ও উৎপাদনকারীভেদে আলাদা শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে। বর্তমানে এসব পণ্যে প্রতি টনে শূন্য থেকে ৩৫১ দশমিক ৭২ ডলার পর্যন্ত শুল্ক রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে এই শুল্ক কার্যকর।

নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ বাংলাদেশি উৎপাদনকারীকে পাটের সুতা ও টোকাইনির ক্ষেত্রে প্রতি টনে ৬৯ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগের ক্ষেত্রে ১২০ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

আর যেসব উৎপাদনকারীর নাম আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নেই, তাদের জন্য পাটের সুতা ও টুইনে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগে ২৮৩ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় কাস্টমস সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করার পরই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।

বিএফটিআইয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের আরও চারটি রপ্তানি পণ্য বিদেশে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের মুখে পড়ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা দেশ এই শুল্ক আরোপ করেছে।

পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ওপর বেশির ভাগ রপ্তানিকারকের জন্য ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির জন্য শুল্কের হার কম। ২০২১ সালের অক্টোবরে পর্যালোচনা শেষে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তুরস্ক কৃত্রিম তন্তুর সুতা আমদানিতে প্রতি কেজিতে শূন্য দশমিক ৮০ ডলার শুল্ক আরোপ করেছে। আগের একটি বাণিজ্য ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগের তদন্তের পর এই শুল্ক দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশের একটি কোম্পানিকে এ শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

আর্জেন্টিনা শতভাগ বোনা কাপড় দিয়ে তৈরি গ্লাভসের ওপর ৪২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এই শুল্ক ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর।

ব্রাজিল বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটের বস্তা ও ব্যাগের ওপর প্রতি কেজিতে শূন্য দশমিক ১৬ ডলার শুল্ক নেয়। ১৯৯২ সাল থেকে এই ব্যবস্থা চালু আছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এটি পর্যালোচনা করা হয়।

বিএফটিআইয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এসব দেশ বাংলাদেশি পণ্যের বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজন অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত করেছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) জন্য করা এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। কারণ চলতি নভেম্বরেই দেশটি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার কথা।

এলডিসি থেকে বের হলে বাংলাদেশ এত দিন পাওয়া শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধাসহ বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা হারাবে।

বিএফটিআইয়ের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে দেশটি আমদানি নিয়ন্ত্রণে এত দিন ব্যবহার করা কিছু প্রচলিত ব্যবস্থা ধীরে ধীরে হারাবে। এর মধ্যে রয়েছে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ন্যূনতম শুল্কমূল্য।

এ অবস্থায় ডব্লিউটিওর নিয়ম মেনে অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেফগার্ড শুল্কের মতো ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি। এসব ব্যবস্থা দেশের শিল্পকে অন্যায্য বাণিজ্য থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের বিরুদ্ধে তদন্ত হলে রপ্তানিকারকদেরও সহায়তা করবে।

বিএফটিআই সতর্ক করে বলেছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশের শিল্পগুলোকে আরও বেশি বিদেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। কম দামে পণ্য রপ্তানি, সরকারি ভর্তুকি পাওয়া পণ্য এবং হঠাৎ করে আমদানি বেড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণ করতে থাকায় বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক ধীরে ধীরে কমাতে হবে।

বিএফটিআইয়ের গবেষক হারুনুর রশীদ শামস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা দরকার। বিভিন্ন ধরনের বাড়তি শুল্ক দিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার বদলে আরও স্বচ্ছ, তথ্যনির্ভর এবং ডব্লিউটিওর নিয়ম মেনে বাণিজ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্যারা-ট্যারিফ বলতে কাস্টমস শুল্কের বাইরে আমদানির সময় নেওয়া বিভিন্ন ধরনের ফি বা করকে বোঝায়।

শামস বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে দেশের শিল্পকে সুরক্ষা দিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেফগার্ড শুল্ক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিগুলোও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

গবেষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিদেশে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের বিরুদ্ধে তদন্ত হলে তাদের সহায়তা করার জন্যও এসব বাণিজ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।

শামস বলেন, অন্যায্য বাণিজ্য শনাক্ত করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিটিটিসির বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ, পণ্যের উৎপাদন খরচ বিশ্লেষণকারী বিশেষজ্ঞ, বাণিজ্য আইনজীবী এবং আধুনিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিশ্বাসযোগ্য শিল্প সংগঠনগুলো যাতে নির্দিষ্ট পণ্যের আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য নিরাপদভাবে পেতে পারে, সে ব্যবস্থাও করা দরকার। এতে তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়বে, আরও ভালোভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে এবং বাণিজ্য সুরক্ষার তদন্তও আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে।

আইডব্লিউজি গ্লোবাল সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ব্যারিস্টার শুক্লা

বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার (বিডব্লিউএসএ) সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা ‘আইডব্লিউজি গ্লোবাল সামিট অন উইমেন অ্যান্ড স্পোর্ট ২০২৬’-এ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। খেলাধুলায় লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এটিই বিশ্বের বৃহত্তম সম্মেলন।

বার্মিংহামে ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত চলমান তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া প্রশাসক, নীতি-নির্ধারক ও ক্রীড়াবিদসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।

ব্যারিস্টার শুক্লা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) একজন পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের সম্মেলনে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং সেশন ও আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ব্যারিস্টার শুক্লা জানান, এই সম্মেলনটি ক্রীড়া বিষয়ে সেরা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাগুলো থেকে শেখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, ‘এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা খেলাধুলায় নারীর নেতৃত্ব ও আইনি সুরক্ষার আধুনিক কৌশলগুলো নিজেদের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করতে চাই। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্জনগুলোকেও সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।’

খেলাধুলায় নারীদের সুরক্ষা, সমতা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত একটি সরকারি কমিটিতে সম্প্রতি ব্যারিস্টার শুক্লাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘ডিসক্লোজার ডে’-তে ভিনগ্রহীদের নিয়ে ফিরছেন স্পিলবার্গ

ভিনগ্রহের প্রাণী আর কল্পবিজ্ঞানের রহস্যময় জগতের সিনেমা নিয়ে ফিরছেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। তার নতুন সিনেমা ‘ডিসক্লোজার ডে’ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে আগামী ১২ জুন। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা।

অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে স্পিলবার্গের সিনেমার বক্স অফিস আয় ছাড়িয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার, যা এখনো রেকর্ড। তার ঝুলিতে আছে সেরা পরিচালকের তিনটি অস্কার। সর্বশেষ ‘দ্য ফ্যাবেলম্যানস’ সিনেমায় নিজের বেড়ে ওঠার গল্প জানিয়েছেন তিনি।

তবে ‘ডিসক্লোজার ডে’ দিয়ে তিনি ফিরেছেন নিজের পুরোনো ধাঁচে। ‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল’, ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অব থার্ড কাইন্ড’ বা ‘ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস’-এর মতো এই সিনেমাতেও অজানা জগতের সঙ্গে মানুষের আবেগের সংযোগ ঘটিয়েছেন স্পিলবার্গ।

‘ডিসক্লোজার ডে’ সিনেমার গল্প পুরোপুরি প্রকাশ হয়নি। তবে জানা গেছে, ভিনগ্রহের প্রাণীদের পৃথিবীতে আসা এবং সেই সত্য আড়াল করার এক বিশাল সরকারি ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে এর কাহিনি।

সিনেমায় একজন আবহাওয়া সংবাদকর্মীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এমিলি ব্লান্ট, ভিনগ্রহের প্রাণীদের সঙ্গে যার যোগাযোগ তৈরি হয়। জশ ও’কনরকে দেখা যাবে এমন এক চরিত্রে, যিনি প্রমাণ হাতে পেয়েছেন যে মানুষের সঙ্গে অন্য জগতের যোগাযোগ ইতিমধ্যে ঘটেছে। অন্যদিকে কলিন ফার্থ ক্ষমতাধর এক প্রশাসনিক ব্যক্তি, যিনি এই সত্য গোপন রাখতে যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন ডেভিড কোয়েপ। নব্বইয়ের দশকে স্পিলবার্গের সাড়া জাগানো ‘জুরাসিক পার্ক’ সিনেমার চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন তিনি।

ইরানের তেল স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র নয়, শুধু ইসরায়েল হামলা করছে: ওয়াশিংটন

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ হামলার আজ অষ্টম দিন। এই দিনটিতে গণমাধ্যমের অনলাইন পেজজুড়ে ছিল জ্বলন্ত তেহরানের ছবি। 

এই পত্রিকার দুইটি সংবাদের শিরোনাম ছিল ‘ইসরায়েলের হামলায় তেহরানে ‘আগুনের নদী’ ও ‘তেহরান ও আশপাশের ৫ তেল স্থাপনায় হামলা’ যা থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।  

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল অন্যান্য হামলার মতো ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপরও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব সমন্বিত হামলা চালাচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকেও এমন দাবি আসে। 

তবে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জানিয়েছে, তেল অবকাঠামোর হামলার জন্য মূলত তেল আবিবই দায়ী। 

আজ রোববার এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, ইরানের সব ধরনের জ্বালানি অবকাঠামো মার্কিন হামলার আওতার বাইরে থাকবে। 

 

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে তিনি আরও জানান, সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকলেও পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস খাতের এই অস্থিরতা খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। 

‘সবচেয়ে খারাপ অবস্থাতেও এটা কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না। কয়েক মাসে গড়ানোর তো প্রশ্নই ওঠে না’, যোগ করেন তিনি। 

শনিবার তেহরান ও আশেপাশের এলাকাগুলোতে তেল সংরক্ষণাগারে হামলা চালায় ইসরায়েল। গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এটাই প্রথম হামলার ঘটনা। এসব হামলায় তেহরানে রাতভর আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। রোববার সকালেও পুরো শহর ধোঁয়ার অন্ধকারে ঢেকে ছিল। 

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট নিশ্চিত করেন, ‘এগুলো ইসরায়েলের হামলা। তারা স্থানীয় তেলের ডিপোতে হামলা চালিয়েছে। এগুলো থেকে গ্যাস ট্যাংক ভরানো হোত।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একবারও হামলা চালায়নি। ইরানের তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস বা জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো ধরনের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই আমাদের।’

আট দিনে ধরে চলতে থাকা সংঘাতের শুরুর দিকেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ২০ শতাংশ ওই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে যায়। 

 

এই ঘটনায় সারা বিশ্বে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বেড়েছে তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মানদণ্ড হলো ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট। এক দিনের ব্যবধানেই এই সূচকের মান ১২ শতাংশ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে, এ সপ্তাহে এটি ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। 

মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক তেল উৎপাদনের চার শতাংশ ইরান থেকে আসে।  

ইরানের তেল রপ্তানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও একে পাশ কাটিয়ে চীনসহ আরো কয়েকটি দেশে এই তেল রপ্তানি করে থাকে তেহরান।

‘দলীয় নাকি সাধারণ প্রতীক—সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় নির্বাচন’

স্থানীয় নির্বাচন দলীয় নাকি সাধারণ প্রতীকে হবে, সেই সিদ্ধান্তের পর সরকার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আজ মঙ্গলবার সিলেটে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় আইন পরিবর্তন করে দলীয় প্রতীক দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা হয়েছে। সেটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, অনেক আলোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোয় যাতে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না হয়—সাধারণ প্রতীকে নির্বাচন হয়।’

‘সব অধ্যাদেশ আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। সংসদ কোনগুলো গ্রহণ করবে বা কোনগুলো করবে না সেই সিদ্ধান্ত হবে। এর মধ্যে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত হবে সেটি আইন আকারে পাস হবে। দলীয় নাকি সাধারণ প্রতীকে হবে—সিদ্ধান্ত হওয়ার পর নির্বাচনের দিকে যাব। আমরা চাই সব জায়গায় নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকুক,’ যোগ করেন তিনি।

নির্বাচনে দেরি হলে অন্যান্য পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন দেরি হবে বলে আমি মনে করি না। যদি কোনো কারণে হয় সেই ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসবে যে, আমরা ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসক দেবো কি না?’

এ সময় সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রতিনিধি নিয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দলীয় প্রশাসক আসছে বলেই তারা জনবান্ধব। মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বুঝবে। এই শহরটা ওনার পরিচিত, কারণ ওনি এখানে জন্মগ্রহণ করেছেন। উনি এখানে বড় হয়েছেন। ভবিষ্যতে ওনার নির্বাচিত হওয়ার দায়বদ্ধতা আছে।’

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আমলা বা অতিরিক্ত সচিব বা বিভাগীয় কমিশনারের দায়বদ্ধতা আছে, কিন্তু জনগণের ভোট নেওয়ার ব্যাপারে বা জনপ্রতিনিধি হওয়ার ব্যাপারে দায়বদ্ধতা নেই। আমরা তো প্রশাসক দিয়ে শুরু করেছি। এটা চলতে থাক।’

তিনি আরও জানান, সিলেটে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

‘আশ্চর্য হচ্ছি যে, আমরা এত উন্নয়নের কথা শুনেছি, অথচ গ্রাম পর্যায়ে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এই যে আমরা অফিস করছি, বসছি, একই দাবি যে, রাস্তা নাই, সেতু নাই। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রাম পর্যায়ে কোথায় কী সমস্যা, সেগুলো চিহ্নিত করে উপস্থাপন করতে সংসদ সদস্যরা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

যেভাবে এড়িয়ে চলবেন ডিপফেকের ফাঁদ

অনলাইনে দেখা কোনো ছবি বা ভিডিও সত্যি, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি, তা বোঝা দিন দিন কঠিন হচ্ছে। আগে ছবির অস্বাভাবিকতা দেখে ভুয়া কনটেন্ট চেনা যেত। এখন সেই সুযোগও কমে এসেছে। তাই শুধু চোখের দেখায় বিশ্বাস না করে তথ্যের উৎস, ঘটনার প্রেক্ষাপটও যাচাই করা জরুরি।

একসময় এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিওতে কিছু অস্বাভাবিকতা থাকত। কারও হাতে আঙুল বেশি দেখা যেত, মুখের গড়নে অসঙ্গতি কিংবা চোখের দৃষ্টিতে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ত। এখন প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এসব ত্রুটি অনেকটাই দূর হয়েছে।

অনলাইন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান নর্ডভিপিএনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মারিজুস ব্রিয়েডিস প্রযুক্তি সাময়িকী ম্যাশেবলকে বলেন, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের পুরোনো ত্রুটিগুলো এখন আর সহজে চোখে পড়ে না। আর নতুন কোনো ত্রুটি শনাক্ত করার কৌশল প্রকাশিত হলে এআই কোম্পানিগুলো দ্রুত সেটি ঠিক করে ফেলেন। ফলে শুধু ছবির দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য দেখে ভুয়া কনটেন্ট চেনার কৌশল বেশিদিন কার্যকর থাকে না।

এতে শুধু ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকিই বাড়ছে না, বাড়ছে আর্থিক প্রতারণাও।

তাহলে চোখের দেখায় বিশ্বাস করা না গেলে কী করবেন? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিজের আবেগ, যুক্তিবোধ এবং ডিজিটাল যাচাইয়ের উপায় কাজে লাগাতে হবে।

Deepfakes demystified: An introduction to the controversial AI tool | The  Daily Star

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ছবি বা ভিডিওতে এআইয়ের ভুল খোঁজার চেয়ে সেটির উৎস যাচাই করা বেশি জরুরি।

ধরা যাক, কোনো রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের একটি ছোট ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে পুরো বক্তব্য বা সাক্ষাৎকার খুঁজে বের করুন। একই ঘটনা নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম কী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা-ও দেখুন।

ক্লাউড নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান মিটিগার গবেষণা বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক রোই শেরম্যান বলেন, ছোট ভিডিও থেকে অনেক সময় মূল ঘটনার প্রেক্ষাপট বাদ দেওয়া হয়। আর সেখানেই বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ থাকে।

ছবির উৎস খুঁজতে গুগলের রিভার্স ইমেজ সার্চ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটিও সব সময় নির্ভরযোগ্য নয়। ভুয়া তথ্য শনাক্তকারী প্রতিষ্ঠান নিউজগার্ডের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক সোফিয়া রুবিনসন জানান, গুগলের এআইভিত্তিক সার্চ অনেক সময় ভুল ছবিকে ভুল ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখায়। ফলে ভুয়া তথ্য আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

Deepfake technology for entertainment: the pros and cons - Motion Analysis

এমনকি কোনো ছবি বা ভিডিওর উৎস দেখতে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও সেটি আসল, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই উৎস যাচাইয়ের সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। যে অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্যটি এসেছে, সেটি কত দিনের পুরোনো? একই তথ্য কি অন্য নির্ভরযোগ্য সূত্রেও পাওয়া যাচ্ছে? আর কেউ কি আপনাকে দ্রুত কিছু করার জন্য চাপ দিচ্ছে? দিলে কেন?

ব্রিয়েডিসের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ছবির প্রতিটি পিক্সেল বা ভিডিওর শব্দতরঙ্গ বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন নেই। সাধারণ বুদ্ধি দিয়েই অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহজনক বিষয় চিহ্নিত করা সম্ভব।

কোনো পোস্ট দেখে খুব রাগ হচ্ছে? আতঙ্কিত বা উত্তেজিত বোধ করছেন? তাহলে একটু থামুন।

কোনো ঘটনা সত্য কি না, তা বোঝার জন্য একাধিক সূত্রে মিলিয়ে দেখুন। ঘটনাটি আদৌ ঘটার মতো কি না, সেটিও ভাবুন। কোনো পরিচিত ব্যক্তির নামে বক্তব্য ছড়ালে যাচাই করুন, তিনি সত্যিই এমন কথা বলেছেন কি না।

শুধু অবিশ্বাস্য বা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, রাজনীতিবিদদের উসকানিমূলক মন্তব্য কিংবা তারকাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খবরও যাচাই করা উচিত। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক তথ্যই ভুয়া হতে পারে। আবার কোনো খবর সত্য হলেও যাচাই ছাড়া সেটি ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

Deepfake Techniques Explained: Why Some Work in Real-Time and Others Don't  by Niv Amitay

নিজে যাচাই করেও কোনো ছবি বা ভিডিও সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারলে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
নিউজগার্ড এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ম্যাকাফিও তাদের ব্লগে এআইভিত্তিক প্রতারণার বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে। আর ডিপফেক শনাক্তকারী প্রতিষ্ঠান এআই অর নটের ওয়েবসাইটে পরিচিত ভুয়া ছবি ও পরিবর্তিত কনটেন্টের তথ্যভান্ডার রয়েছে।

এ ছাড়া ডিপফেক শনাক্তের প্রযুক্তি উন্নত করতে কাজ করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন দেশে আইন প্রণয়ন এবং কনটেন্টের উৎস শনাক্ত করার প্রযুক্তিও এ ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।

তবে কোনো অপতথ্য শনাক্তকারী টুলই শতভাগ নির্ভুল নয়। তাই একটি টুল কোনো ছবি বা ভিডিওকে আসল কিংবা নকল বললেই সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নেওয়া যাবে না।

ব্রিয়েডিসের মতে, কোনো কনটেন্ট দেখে সন্দেহ হলে শনাক্তকারী টুল প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে। কিন্তু এরপরও যথাযথভাবে সেটির উৎস যাচাই করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের সবশেষে পরামর্শ, কোনো ছবি বা ভিডিও সত্য কি না, নিশ্চিত হতে না পারলে সেটি শেয়ার করবেন না। কারণ যাচাই না করে একটি ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে দিলে অন্যরাও বিভ্রান্ত হতে পারেন।

সূত্র: ম্যাশেবল

৪৮ বছরে বিএনপি: ক্ষমতায় এসে ঘর গোছাতেই হিমশিম, তৃণমূলে বাড়ছে অস্থিরতা

দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিএনপি এখনো নিজের দল গোছাতে হিমশিম খাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার দলটি তার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করতে পারেনি তারা। এমনকি দলের কয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিলও সম্পন্ন হয়নি। কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারকদের বড় অংশ এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যস্ত।

অন্যদিকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বেশিরভাগ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এর ঠিক আগে তৃণমূলে আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নানা বিতর্ক সামলে দলকে সুসংগঠিত রাখাই এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট ও নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে দেশ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দল শক্তিশালী করার দিকে বিএনপির সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, বিরোধীরা বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করছে। কিন্তু দল হিসেবে বিএনপিকে মাঠে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের বড় অংশ এখন সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মেতে উঠেছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চাঁদাবাজি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মতো নানা অভিযোগ।

এছাড়া, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাত্র সাত সপ্তাহ আগে দলের মূল কাণ্ডারি খালেদা জিয়ার প্রয়াণ দলকে ঐক্যবদ্ধ করা ও নতুন করে সংগঠিত করার প্রচেষ্টাকে আরও দুর্বল করেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে বিএনপি বড় সমস্যায় পড়তে পারে।

তিনি বলেন, দল ও সরকারের মধ্যে যখন অতিরিক্ত মেলবন্ধন তৈরি হয়, তখন সরকারের সুযোগ-সুবিধা (জনগণের অর্থ, চাকরি ও বিভিন্ন সেবা) নাগরিকদের বদলে দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, কাউন্সিল না হওয়ায় দলের অনেক নেতা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এটা তাদের মধ্যে উপেক্ষিত বা কোণঠাসা হওয়ার অনুভূতি তৈরি করছে। দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাও এ কথা স্বীকার করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করা, গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দেওয়াই এই কমিটির কাজ।

কমিটির ১৮ সদস্যের বেশির ভাগই এখন সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন। সম্প্রতি আরও তিনজন যুক্ত হওয়ায় সংখ্যাটি বেড়েছে। কমিটির মাত্র পাঁচজন এখনো সরকারের বাইরে আছেন। তাদের একজন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন।

সরকারের দায়িত্বে থাকা নেতাদের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পাঁচজন মন্ত্রী ও দুজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। আরও দুজন জ্যেষ্ঠ নেতা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার পর দলের পদ ছেড়েছেন। তাদের একজন রাষ্ট্রপতি এবং অন্যজন স্পিকার হয়েছেন। সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে মাত্র চারটি।

দলের নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন সভাপতি হয়েছেন। আর রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনপির আরও অনেক নেতা সরকারের বিভিন্ন পদে যোগ দিয়েছেন। জুন ও জুলাই মাসে দলের বর্তমান ও সাবেক ১৭ নেতাকে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দলের নেতারা দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, নির্বাচনের পর দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়েছেন। দলকে নতুন করে গোছাতে আমাদের কিছুটা সময় লাগছে।

বিএনপি সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা। কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিটি নির্বাচন বা অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব কমিটির মেয়াদও তিন বছর।

দলের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক, আইনি ও সাংগঠনিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। এখন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কাজে বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে।

বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮২টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৭২টিরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অবস্থাও প্রায় একই—১১টি কমিটির মধ্যে নয়টির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপরও কয়েকটি পুরোনো কমিটি দিয়েই চলছে। অনেক সংগঠনের কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়েছে।

হাসানুজ্জামান বলেন, তৃণমূল শক্তিশালী করতে না পারলে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, কাউন্সিল ছাড়া নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় জায়গা করে নিতে পারেন না।

তার মতে, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপিকে সরকারের কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে হবে এবং সরকারের উদ্যোগগুলোকে সমর্থন দিতে হবে।

প্রায় এক দশক আগে বিএনপির গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

একজন নেতা একাধিক পদে থাকলে অন্যদের সুযোগ কমে যায়। এতে দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা দুর্বল হয় এবং নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার পথও বন্ধ হয়ে যায়, বলেন হাসানুজ্জামান।

তৃণমূলেও বিএনপি এখন নানা সমস্যার মুখোমুখি। দলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠছে। কোথাও কোথাও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাতও হচ্ছে। এসব ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, বিএনপি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে এর প্রভাব সরকারের ওপর এসেও পড়বে। এতে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে।

মার্চ ও এপ্রিল মাসে তৈরি করা পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে সারা দেশে এক হাজার ২০০ জন চাঁদাবাজিতে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক দলে যুক্ত ১৯৭ জনের ১৮১ জনই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ আরও ৩২৯ জনকে অভিযুক্ত চাঁদাবাজদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলে যুক্ত ২৭১ জনের ২১৪ জন বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে দলীয় কোন্দলে বিএনপির ১৮ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, ধর্ষণ, ভয়ভীতি দেখানো ও পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

উদাহরণ হিসেবে, মে মাসে রাজশাহীতে ৩০০ বস্তা জিরা লুটের ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। আগস্টে কিশোরগঞ্জে বিএনপির এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে ১১ বছরের বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ৩০ আগস্ট চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদে দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী। একই পদে একাধিক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন। যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিটি পদে একজন করে প্রার্থী দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়ার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে। সেখানে দেখা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রম অনেকটাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচি এবং জাতীয় ও দলীয় বিভিন্ন দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

হাসানুজ্জামান বলেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে দলের ভেতরে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এক দশকের বেশি সময় দেশ শাসন করেছে। এখন দলটির নেতৃত্বে তাদের ছেলে তারেক রহমান।

২০০৭-০৮ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ, সব কিছু সামলে বিএনপি টিকে আছে। শেখ হাসিনার পতনের পর দলটির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দুই রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, বিএনপির প্রতিটি প্রজন্মের সামনে আলাদা দায়িত্ব ছিল। জিয়াউর রহমান দলটি গড়ে তুলেছেন, খালেদা জিয়া প্রতিকূল সময়ে সেটিকে ধরে রেখেছেন। আর তারেক রহমানকে এখন একই সঙ্গে দল ও সরকার, দুটোই সামলাতে হবে।

পণ্য না পাঠিয়েই ২৪ কোটি টাকার ‘ভূতুড়ে’ রপ্তানি

এ বছরের মে মাসে ঈদুল আজহার লম্বা ছুটির আগে অফিসগুলোতে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছিল। এমন সময় নারায়ণগঞ্জের পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আরটি ফ্যাশন কাস্টমসকে জানায়, তারা প্রায় ৮৪ লাখ টাকা মূল্যের পোশাক রপ্তানি করছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট রপ্তানির ঘোষণাপত্র জমা দেয়। এরপর তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইন কাস্টমস ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে নথিভুক্ত হয়।

স্বাভাবিক নিয়মে পণ্য প্রথমে একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) যাওয়ার কথা। সেখানে কাস্টমস কর্মকর্তারা রপ্তানি ঘোষণার তথ্য যাচাই করেন, পণ্য পরীক্ষা করেন এবং কাগজপত্র মিলিয়ে দেখেন।

ছাড়পত্র পাওয়ার পর কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে যাওয়ার কথা। এরপর সেটি জাহাজে তোলা হয়।

আরটি ফ্যাশনের চালানটিও কাস্টমসের ব্যবস্থায় ছাড়পত্র পাওয়া এবং দেশ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত বলে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই, কোনো পণ্যই ছিল না।

নারায়ণগঞ্জের কারখানা থেকে ঘোষিত আইসিডি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডে কোনো পণ্য যায়নি। এমনকি চট্টগ্রাম বন্দরেও কোনো পণ্য পৌঁছায়নি। সরকারি নথি যাচাই করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

তারপরও জাল কাগজপত্র, স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে চালানটিকে রপ্তানি হিসেবে দেখানো হয়।

আরটি ফ্যাশনের ঘটনাটি একমাত্র এমন ঘটনা নয়। দ্য ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানে অন্তত সাতটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ১২২টি চালানে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। কাস্টমস কর্মকর্তা, আইসিডি কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে এখন পর্যন্ত ২৯টি চালানকে ভুয়া রপ্তানি হিসেবে নিশ্চিত করা গেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এসব চালানের ঘোষিত মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

ভুয়া রপ্তানির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আরটি ফ্যাশন, এইচবিএস অ্যাপারেলস, আল গালেব ফ্যাশন লিমিটেড, ডিলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেড, এনএম ফ্যাশন, এনএম নিট ফ্যাশন ও ভূঁইয়া ফেব্রিকস লিমিটেড।

চালানগুলো ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকংয়ে পাঠানোর কথা দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এসব পণ্য নির্ধারিত কোনো ডিপোতেই ঢোকেনি। তারপরও কাগজে সেগুলোকে রপ্তানি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সব কটি ঘটনায় প্রায় একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা শুল্কমুক্ত গুদাম ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো শুল্ক না দিয়েই কাঁচামাল আমদানি করতে পারে। তবে শর্ত হলো, এসব কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানি করতে হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তা ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ভাষ্য, কিছু রপ্তানিকারক এই শুল্কমুক্ত কাঁচামাল বিদেশে রপ্তানি না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছেন। এরপর কাগজে-কলমে ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে এমন একটি ছবি তৈরি করেছেন যে, ওই কাঁচামাল দিয়ে পোশাক তৈরি করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। 

বন্ডেড পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে পণ্যভেদে ৮৯ থেকে ১৫৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও কর দিতে হয়।

কিন্তু ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে ওই টাকা না দিয়েই শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা ধরে রাখা যায়। পাশাপাশি সরকার যে ২ শতাংশ নগদ রপ্তানি প্রণোদনা দেয়, সেটাও নেওয়ার সুযোগ থাকে বলে অভিযোগ।

আরটি ফ্যাশনের রপ্তানি ঘোষণায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার পরই নতুন করে এই ভুয়া রপ্তানির বিষয়টি সামনে আসে।

২৪ মে প্রতিষ্ঠানটি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের মাধ্যমে ২৩ হাজার ৯৯২ কেজি পোশাক রপ্তানির ঘোষণা দেয়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়, কারণ চালানটির মোট ওজন ও পণ্যের নিট ওজন একই দেখানো হয়েছিল।

সাধারণত মোট ওজনের মধ্যে পণ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত প্যাকেজিংয়ের ওজনও থাকে। তাই দুটির ওজন এক হওয়ার কথা নয়।

কাস্টমস কর্মকর্তারা মূল মূল্যায়নসংক্রান্ত কাগজপত্র চাইলে রপ্তানিকারক ঈদের ছুটি ও জাহাজে পণ্য তোলার শেষ সময়ের সুযোগ নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

২৬ মে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তানজিনা জান্নাত আইভি এবং আরও তিন কাস্টমস কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে চালানটি ছাড় করা হয়েছে বলে দেখানো হয়।

তানজিনা জান্নাত আইভি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আরটি ফ্যাশনের চালানসহ অন্তত চারটি চালানে তার ও তার সহকর্মীদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

ছুটির পর কাস্টমস কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই করার সময় দেখেন, চালানটি এরই মধ্যে রপ্তানি হয়েছে বলে নথিভুক্ত হয়ে গেছে।

ডিপোর দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার শুভ্র দেব মন্ডল বলেন, পণ্য জাহাজে তোলার শেষ দিনে কাগজপত্র জমা দিয়ে প্রতারকরা জনবল সংকটের সুযোগ নিয়েছে। ওই দিন কর্মকর্তাদের ওপর দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ ছিল।

২৯টি ভুয়া রপ্তানি চালানের ঘোষণা তিনটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো শাহজালাল এন্টারপ্রাইজ, আলফা টেক্সটাইল লিমিটেড ও বাংলাদেশ শিপিং এজেন্সি।

চালানগুলো দুটি বেসরকারি আইসিডির মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হয়। এগুলো হলো সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড এবং পোর্ট লিংক লজিস্টিকস সেন্টার লিমিটেড।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানির সময় পণ্যের দাম বেশি দেখিয়ে কিছু রপ্তানিকারক বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিয়েছেন। পরে সেই অর্থের লেনদেনকে বৈধ দেখাতেও ভুয়া রপ্তানির কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

দুটি ঘটনাই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একজন কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ যে ভুয়া রপ্তানির ঘটনা ধরা পড়েছে, সেটি হয়তো আরও বড় একটি চক্রের সামান্য অংশ।

ভুয়া রপ্তানির ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার প্রথম এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘চট্টগ্রাম বন্দর: এনবিআরের সার্ভারে ঢুকে ভুতুড়ে রপ্তানি’।

পরে কাস্টমসের তদন্তে দেখা যায়, অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান ১০০টির বেশি ভুয়া রপ্তানি চালানের মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা নিয়েছে।

এরপর ২০২২ সালের এপ্রিলে এ নিয়ে আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখানো হয়, অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান পাঁচ বছরে ভুয়া চালান দেখিয়ে রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ নিয়েছে।

এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। তদন্তে রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

সর্বশেষ গত জুলাইয়ে এই মামলায় ১১ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

দুদকের সূত্র বলছে, এই মামলায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

তদন্ত এখনও চলছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি পরিসংখ্যান কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে যখন দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছে, তখনই নতুন করে এসব ভুয়া রপ্তানির ঘটনা সামনে এল।

২০২৪ সাল থেকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত রপ্তানি তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানির পরিমাণ বেশি দেখিয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

২০২৫ সালের ৩০ জুলাই সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, সরকারি সংস্থাগুলোর রপ্তানি তথ্যের এই পার্থক্য নতুন নয়।

২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ব্যবধান ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আবার ব্যবধান বেড়ে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

এর আগে দুই সংস্থার তথ্য মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ব্যবধান কমেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেও ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি তথ্যের মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য রয়েছে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পণ্যের দামে ছাড়, ক্রেতার অর্ডার বাতিল এবং রপ্তানি আয় দেশে আনতে দেরি হলে দুই সংস্থার তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য হতে পারে। তবে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধান খুবই অস্বাভাবিক। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, বারবার ভুয়া রপ্তানির ঘটনা এবং দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি তথ্যের মধ্যে বড় ব্যবধান—দুটো বিষয়ই বাংলাদেশের রপ্তানি তথ্য ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

আগের ঘটনাগুলোতে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের প্রতারণা বারবার ঘটছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, আগের তদন্ত কমিটিগুলো পুরো অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ফরেনসিক অডিট করার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সেই সুপারিশ কখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম হলো জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনসিটিএডি) উদ্ভাবিত কম্পিউটারাইজড স্বয়ংক্রিয় শুল্ক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি।

তিনি বলেন, সিস্টেমের তথ্য, কে কখন সেটিতে প্রবেশ করেছে এবং কখন কোন তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত প্রকৃত হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন। শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়।

আরটি ফ্যাশনের আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এইচবিএস অ্যাপারেলসের বাণিজ্য ব্যবস্থাপক আবুল খায়ের বলেন, তাদের জানা মতে, প্রতিষ্ঠান থেকে জমা দেওয়া সব কাগজপত্রই আসল।

তিনি বলেন, আইসিডি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। তারা এ বিষয়ে জবাব দেবেন।

আল গালেব ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওয়াব আলী বলেন, ভুয়া রপ্তানি ঘোষণা দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তার প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য ব্যবস্থাপক সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

ডিলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেডের পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না। তিনি তার বাণিজ্য ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখবেন।

পরে তার সঙ্গে আরও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এনএম ফ্যাশন, এনএম নিট ফ্যাশন ও ভূঁইয়া ফেব্রিকস লিমিটেডের সঙ্গে দ্য ডেইলি স্টার যোগাযোগ করতে পারেনি।

তিনটি প্রতিষ্ঠানের চালান পরিচালনা করা শাহজালাল এন্টারপ্রাইজের ইকবাল হোসেনও এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডির কমিশনার আবুল বাশার মো. শফিকুর রহমান বলেন, বছরের প্রথম ছয় মাসের রপ্তানি নথি কাস্টমস যাচাই করছে। দুটি বেসরকারি আইসিডিতে ভুয়া রপ্তানির প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্য ডিপোগুলোতেও তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এই প্রতারণার পুরো চিত্র কতটা বড়, তা বোঝা যাবে বলেও জানান তিনি।

চলমান বিশ্বকাপে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলারের মরদেহ উদ্ধার

চলমান বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলা জাতীয় দলের ফুটবলার জেডেন অ্যাডামস মারা গেছেন। আজ শনিবার সেন্ট্রাল কেপটাউনের একটি বাসা থেকে ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কেপটাউন পুলিশ। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গ্যায়টন ম্যাকেঞ্জি এক বিবৃতিতে অ্যাডামসের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমি গভীর শোকের সাথে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বাফানা বাফানাদের হয়ে চলতি বিশ্বকাপ খেলা ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার জেডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি আমরা। দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল তার অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারকে হারালো। তার পরিবার, সতীর্থ ও লাখো সমর্থক যারা তাকে অ্যাকাডেমি থেকে জাতীয় দলে উঠে আসতে দেখেছে, তাদের পাশাপাশি পুরো জাতি এই ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন’। 

ক্রীড়ামন্ত্রী তার বিবৃতিতে অ্যাডামসের মৃত্যুর কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। মন্ত্রী বলেছেন, ‘জেডেনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমি গণমাধ্যম ও জনসাধারণের প্রতি সংযম ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের অনুরোধ জানাই, এবং কোনো ধরনের জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার আহবান জানাই। যেকোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য যথাসময়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানানো হবে’। 

ওয়েস্টার্ন কেপ পুলিশের মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। 

দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলারদের ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘মামেলোদি সানডাউন্স ও বাফানা বাফানার মিডফিল্ডার জেডেন অ্যাডামসের এই অকাল মৃত্যুতে আমরা বিধ্বস্ত। সে সদ্যই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সাহস, গর্ব ও শৃঙ্খলার সাথে পুরো জাতির আশা নিজের কাঁধে বহন করেছে। তার এই অকাল মৃত্যু তার পরিবার, সতীর্থ, ক্লাব, পুরো ফুটবল বিশ্ব ও দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি’। 

চলমান বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অ্যাডামস। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে বাফানা বাফানাদের শুরুর একাদশে ছিলেন মামেলোদি সানডাউন্সের হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলা এই ফুটবলার। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু নকআউটের ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তার।   

স্টেলেনবশ এফসির হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা অ্যাডামস পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মামেলোদি সানডাউন্সে যোগ দেন। এই ক্লাবের হয়েই তিনি ঘরোয়া লিগ এবং আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছেন। ২০২৪ সালে আফ্রিকা কাপ অব ন্যাশন্সের সেমিফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের সদস্যও ছিলেন অ্যাডামস।