24.3 C
Dhaka
Home Blog

জীবদ্দশায় পুরস্কার পাচ্ছি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তি: শবনম

ষাটের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা শবনম। বহু আগেই বাঙালির হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। রূপালি পর্দায় তার মিষ্টি হাসি আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। তার অভিনীত অনেক সিনেমার গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

উর্দু চলচ্চিত্র চান্দা এবং বাংলা চলচ্চিত্র হারানো দিন দিয়ে বাজিমাত করেছিলেন তিনি। এরপর অভিনয় করেছেন অসংখ্য চলচ্চিত্রে।

পাকিস্তানেও করেছেন বহু সিনেমা। সেখানে তিনি ১৩ বার পেয়েছেন নিগার পুরস্কার।
একসময়কার এই সাড়া জাগানো ও সফল অভিনেত্রী এবার পাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা।

গত ২ জুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সেখানে আজীবন সম্মাননা বিভাগের পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে শবনমের নাম।

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে শবনম বলেন, ‘বলে বোঝানোর মতো নয়। জীবনে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, কিছু কিছু সময় আসে, যখন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমারও তেমনই হচ্ছে। খবরটি শোনার পর আমি আসলে ঠিকমতো বলে বোঝাতে পারছি না।’

‘তবে আমি আনন্দিত। সত্যিই আনন্দিত। খুব ভালো লাগছে। অনেক ভালো লাগা কাজ করছে আমার ভেতরে’ যোগ করেন তিনি। 

শবনম আরও বলেন, ‘আমি খুশি, ভীষণ খুশি। জীবদ্দশায় পুরস্কার পাচ্ছি বলেই বেশি খুশি। অনেকেই তো মারা যাওয়ার পর এমন সম্মান পান। সেখানে আমি জীবিত অবস্থায় পাচ্ছি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।’

‘এই ভালো লাগা অন্যরকম। সারাজীবন সিনেমায় অভিনয় করেছি। জীবনের অনেকটা সময় সিনেমাকে দিয়েছি। মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, সম্মান করেন, শ্রদ্ধা করেন—শিল্পী হিসেবেই। শিল্পী পরিচয়টাই সবচেয়ে বড়। সেই সিনেমার জন্যই যখন সবচেয়ে বড় সম্মাননা পাচ্ছি, তখন ভালো তো লাগবেই’, বলেন শবনম। 

নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শবনম বলেন, ‘আমি খুব একটা ভালো নেই। রক্তচাপ ওঠানামা করছে। তারপরও যতটুকু ভালো আছি, সেজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত আম্মাজান চলচ্চিত্রে সর্বশেষ অভিনয় করেন শবনম। ওই সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি অভাবনীয় সাড়া পান। 

এ প্রসঙ্গে শবনম বলেন, ‘কোথাও গেলে এখনো কেউ কেউ আমাকে আম্মাজান বলে ডাকেন। ভীষণ সম্মান করেন। এটাই তো একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পাওয়া। এভাবেই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’

ট্রাম্প নিজের ফাঁদে নিজেই ধরা?

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতায় নিমজ্জিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমবর্ধমান নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এতে প্রশ্ন উঠছে, সামরিক সাফল্যকে তিনি আদৌ স্পষ্ট কোনো ভূরাজনৈতিক জয়ে রূপ দিতে পারবেন কিনা।

রয়টার্স বলছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়া এবং স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে ইরানি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার পরও সংকটটি দ্রুতই একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার পরিণতি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

হোয়াইট হাউসে দুই মেয়াদে থাকা ট্রাম্প এর আগে সাধারণত এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে গেছেন। তিনি বরং দ্রুত ও সীমিত সামরিক অভিযানকে প্রাধান্য দিয়েছেন, যেমন ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক অভিযান বা জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় একবারের হামলা।

ওয়াশিংটনের জনস হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের লরা ব্লুমেনফেল্ড বলেন, ‘ইরান আক্রমণ একটি জটিল এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান। ট্রাম্প এখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ফলাফলের ঝুঁকি নিচ্ছেন।’

ক্ষমতায় এসে ‘অর্থহীন’ সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প এখন এমন এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাকে অনেক বিশেষজ্ঞ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের কোনো আসন্ন হুমকি না থাকলেও এই অভিযান শুরু করা হয়েছে, যদিও প্রেসিডেন্ট ও তার সহযোগীরা ভিন্ন দাবি করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’র (২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান) উদ্দেশ্য ও শেষপর্যায়ের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও ‘জয়’ বলতে কী বোঝাবে, সে বিষয়েও তার বক্তব্য বারবার বদলাচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এ মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ট্রাম্প স্পষ্টভাবে তার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এগুলো হলো- ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা, তাদের নৌবাহিনী অকার্যকর করা, প্রক্সি বাহিনীকে অস্ত্র দেওয়ার সক্ষমতা বন্ধ করা এবং ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া।’

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে, যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের সংখ্যা বাড়লে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়লে, ট্রাম্পের এই বড় পররাষ্ট্রনীতির জুয়া রাজনৈতিকভাবে রিপাবলিকান পার্টির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

আপাতত এমএজিএ সমর্থন টিকে আছে

সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী কিছু ট্রাম্প সমর্থকের সমালোচনা সত্ত্বেও তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের অধিকাংশ সদস্য এখন পর্যন্ত ইরান ইস্যুতে তাকে সমর্থন দিচ্ছেন।

তবে এই সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়লে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ভোটারদের, বিশেষ করে স্বাধীন ভোটারদের একটি বড় অংশ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ ব্রায়ান ডার্লিং বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ ইরাক ও আফগানিস্তানের ভুল আবার করতে আগ্রহী নয়। এমএজিএ সমর্থকরা বিভক্ত। কেউ নতুন যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করেছিলেন, আবার কেউ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত।’

বিশ্লেষকদের বড় উদ্বেগের একটি হলো—ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের বার্তায় অসামঞ্জস্যতা, বিশেষ করে তেহরানে ‘শাসন পরিবর্তন’ চাইছেন কিনা সে প্রশ্নে।

সংঘাতের শুরুতে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের শাসকদের উৎখাত করা একটি লক্ষ্য হতে পারে, অন্তত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দিয়ে। দুই দিন পর তিনি সেই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেননি।

কিন্তু বৃহস্পতিবার ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেন, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে তিনি ভূমিকা রাখবেন এবং ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীদের হামলা চালাতে উৎসাহ দেন। এরপর শুক্রবার সামাজিকমাধ্যমে তিনি ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেন।

অন্যদিকে, ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আঘাত হানছে, যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জন্য যুদ্ধের খরচ বাড়ে।

ইরান এখনো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করতে সক্ষম, এমন ইঙ্গিত মিলেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ নতুন করে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, ফলে যুদ্ধ আরেকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম, ছয়জন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে ট্রাম্প ভবিষ্যতে আরও হতাহতের আশঙ্কাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ইরান-প্রণোদিত হামলার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘হয়তো… যেমনটি বলেছি, কিছু মানুষ মারা যাবে।’

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা জনাথন পানিকফ বলেন, ‘যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনাকে সবচেয়ে বেশি ত্বরান্বিত করতে পারে আমেরিকানদের আরও বেশি হতাহত হওয়া। ইরানও সেটাই চাইছে।’

ভেনেজুয়েলার মতো হিসাব ভুল?

অনেক বিশ্লেষকের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদে সামরিক পদক্ষেপের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখানো ট্রাম্প হয়তো ধরেই নিয়েছিলেন যে, ইরান অভিযানও এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের মতোই সহজ হবে।

সেই অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। এতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান ছাড়াই ট্রাম্প দেশটির বিশাল তেল সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।

কিন্তু ইরান অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুসজ্জিত প্রতিপক্ষ, যেখানে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় ও নিরাপত্তা কাঠামো রয়েছে।

এমনকি খামেনি ও আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ ‘ডিক্যাপিটেশন’ হামলাও ইরানকে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বরং আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাদের জায়গায় আরও কট্টরপন্থী নেতারা ক্ষমতায় আসতে পারেন।

এ ছাড়া, আরেকটি বড় প্রশ্ন—বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ইরান কি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে ভেঙে যেতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।

তেলের গুরুত্বপূর্ণ পথ

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি—একটি সরু সমুদ্রপথ, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। সেখানে ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা দীর্ঘস্থায়ী হলে গুরুতর অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়লেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে উদ্বেগ কম দেখিয়েছেন। তবে তার প্রশাসন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য প্রভাব কমাতে নানা উপায় খুঁজছে।

অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের জশ লিপস্কি বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চাপের জায়গা, যা সম্ভবত আগে পুরোপুরি অনুমান করা হয়নি।’

একজন সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এত দ্রুত বাড়বে, ট্রাম্পের দল তা পুরোপুরি আন্দাজ করতে পারেনি। কারণ ইরানে হামলার আগে তেলবাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে যথেষ্ট পরামর্শ করা হয়নি।’

হোয়াইট হাউসের আনা কেলি বলেন, ‘ইরানের শাসনব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে।’ তবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ওঠা উদ্বেগের বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি।

দুই হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা ও প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এক রিপাবলিকান সূত্র জানায়, কিছু শীর্ষ উপদেষ্টা সতর্ক করলেও ট্রাম্প হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ঐতিহ্যবাহী মিত্রও এতে বিস্মিত হয়েছে। এক পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, ‘এটি মূলত একজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া।’

যুদ্ধ কতদিন চলবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় অজানা বিষয়, যা এর প্রভাব কতটা গভীর হবে তা নির্ধারণ করবে। প্রতিদিন যুদ্ধের ব্যয় বাড়ছে। ট্রাম্প বলেছেন, অভিযান চার বা পাঁচ সপ্তাহ বা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন চলতে পারে, তবে এরপর কী হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস বলেন, ‘ইরানে মার্কিন সামরিক কৌশল প্রশংসনীয়। তবে রাজনৈতিক, কৌশলগত ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয় বিষয়টি পুরোপুরি ভেবে দেখা হয়নি।’

এ ছাড়া, উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলোকে ইরান সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করাও ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

যদিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় অনেক দেশ এই অভিযানে সমর্থন জানিয়েছে, তবুও সবাই ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির সঙ্গে একমত নয়।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে লেখা এক খোলা চিঠিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধনকুবের খালাফ আল হাবতুর প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?’

বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বাংলাদেশি নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বাহরাইনে কর্মরত এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। 

নিহত তারেক চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের সাইদুল হকের ছেলে।

বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, আজ সোমবার বাহরাইনের মুহাররাক দ্বীপের সালমান শিল্পাঞ্চল এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হলে সেটির টুকরো তারেকের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দূতাবাস নিহতের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রইস হাসান সরোয়ার বলেন, বাহরাইনে অবস্থানরত অধিকাংশ বাংলাদেশি এখন পর্যন্ত নিরাপদ থাকলেও হামলার ধরন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোনো নির্দিষ্ট সময় মেনে আসছে না, হঠাৎ আঘাত হানছে। ফলে আগে থেকে বিপদের আভাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রবাসীরা বর্তমানে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ঘরে অবস্থান করছেন। ফলে দূতাবাসে এখনো জরুরি সহায়তার জন্য বড় কোনো ভিড় দেখা যায়নি।

আঞ্চলিক এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত তিনজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। নিহত বাকি দুজন পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর আরমান উল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, মিশন বিষয়টি নিয়ে আমিরাত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

এদিকে, গত রোববার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় আরও চার বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে উত্তেজনা ক্রমে বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসী কর্মীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হতাহতের ঝুঁকি এড়াতে প্রবাসীদের যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশে কিনেমাস্টারে ওয়াটারমার্ক ছাড়া ভিডিও এডিটের সুযোগ

ভিডিও সম্পাদনার জনপ্রিয় অ্যাপ কিনেমাস্টারে এখন বিনামূল্যে ওয়াটারমার্ক ছাড়া ভিডিও তৈরি করা যাবে। বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০ পিক্সেল মানের ভিডিও সম্পাদনা ও এক্সপোর্ট করতে পারবেন।

পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ব্যবহারকারীরাও এ সুবিধা পাবেন। কিনেমাস্টারের ৮ পয়েন্ট ২ সংস্করণে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভিডিও সম্পাদনা বা এডিট করার পর অনেক সময় ভিডিওর ওপর অ্যাপের নাম বা লোগো দেখা যায়। একে বলা হয় ওয়াটারমার্ক। এটি সরাতে এত দিন কিনেমাস্টারে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিতে হতো। নতুন সুবিধার ফলে বিনামূল্যে এই অ্যাপটির ব্যবহারকারীরা ওয়াটারমার্ক ছাড়াই ভিডিও এডিট করতে পারবেন।

কিনেমাস্টারের অধিকাংশ এডিটিং টুলস আগে থেকেই বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। অ্যাপটির অ্যাসেট স্টোরেও বিনামূল্যে গ্রাফিকস, সংগীত, ভিডিওর দৃশ্য পরিবর্তনের নানা প্রভাব এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্লাগইন রয়েছে।

তবে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিলে আরও কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে অ্যাপের সব উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ, বিজ্ঞাপন বন্ধ করা এবং নির্দিষ্ট কিছু সরঞ্জামের ব্যবহারের সীমা তুলে দেওয়া।

প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীরা টুকে ও ফোরকে মানের ভিডিও এক্সপোর্ট করতে পারবেন। এছাড়া কিনেক্লাউডের মাধ্যমে ভিডিও এডিটিংয়ের ব্যাকআপ রাখা এবং ব্যক্তিগতভাবে শেয়ার করার সুবিধাও পাবেন।

নতুন এ সুবিধা বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, কনটেন্ট নির্মাতা ও সাংবাদিকদের অনেক কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সাংবাদিকেরা সংবাদ প্রতিবেদন তৈরিতেও এসব অ্যাপ ব্যবহার করেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক এবং জার্নালিজম, মিডিয়া ও কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান জামিল খান বলেন, মোবাইলে ভিডিও সম্পাদনার শুরুর দিক থেকেই কিনেমাস্টার জনপ্রিয়। ২০১৬ সাল থেকে আমি মানুষকে অ্যাপটি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেকের পক্ষেই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন কেনা সম্ভব নয়। এ কারণে শিক্ষার্থীদের বিকল্প খুঁজতে হয়। বিনামূল্যে ওয়াটারমার্ক ছাড়া ভিডিও তৈরির সুযোগ সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী, কনটেন্ট নির্মাতা ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের কাজে আসবে।

জামিল খান আরও বলেন, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য যারা ভিডিও তৈরি করেন, তারাও এ সুবিধা থেকে উপকৃত হতে পারেন। তবে কিনেমাস্টারের সঙ্গে ক্যাপকাট, ইনশট ও মেটার এডিটসের মতো অ্যাপের প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।

কিনেমাস্টার জানিয়েছে, নতুন সুবিধা, উপকরণ ও এআই টুলস তৈরির খরচ মেটাতে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের এআই প্লাগইন ব্যবহারকারীর যন্ত্রেই ছবি, ভিডিওসহ অন্যান্য উপকরণ প্রক্রিয়া করে। এসব উপকরণ প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে পাঠানো হয় না।

১৮০ দিনে বিএনপি সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

সরকার গঠনের ১৮০ দিনে বিএনপি নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

আজ সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ বলেন, বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা কী রকম ছিল তা নিয়ে তারা নিজেরা প্রেস ব্রিফিং করেছে, একটা ই-বুক প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে দেখেছি, তারা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, সেগুলোর অধিকাংশই তারা রক্ষা করতে পারে নাই। দেশে যে সংকটগুলো তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো জবাবদিহিতা নাই।’

বিএনপি নিজেদের সফল দাবি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়। সেগুলো হলো—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ।

‘আমরা দেখতে পেলাম, এই তিনটি বিষয়েই তারা নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের এই নেতা বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সবগুলোর দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বেড়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী।

‘নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট পুরো দমে সক্রিয় রয়েছে। গত ৬ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ হয়েছে।’

নাহিদ বলেন, বিএনপি সরকার আসার পরে মার্চ-এপ্রিলে পাম্পগুলোতে ভয়াবহ পেট্রোল ও ডিজেল সংকট শুরু হয়েছিল। প্রচুর লাইন আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। সংসদে তখন জ্বালানিমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, জ্বালানির সংকট নেই, এগুলো পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।

‘পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে একটি কমিটি করে সংকট মোকাবিলায় প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। সেখানে বিরোধীদল অংশ নিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবনা অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি,’ অভিযোগ তোলেন তিনি।

নাহিদ বলেন, সে সময় জ্বালানি তেলের রেকর্ড পরিমাণে মূল্য বৃদ্ধি পণ্য পরিবহন, সেচ ও কৃষির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ওই সংকটের পেছনে আমরা দেখেছি, স্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। পাম্পের ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংকে তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, অভিজ্ঞতাহীন, প্রভাবশালী গোষ্ঠী সরবরাহ ব্যবসায় প্রবেশ করেছে এবং উচ্চ কমিশনে বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) ও পেট্রোবাংলায় পাইকারি বিক্রি শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ জ্বালানি কেনায় স্বচ্ছতার প্রশ্ন অনুপস্থিত ছিল এবং বিভিন্ন জায়গায় আমরা পাম্পের মজুতদারির ঘটনা দেখেছি।

‘সেই সিন্ডিকেট সরকার ভাঙতে পারেনি,’ বলেন নাহিদ।

গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদায় ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদা, সেখানে সরবরাহ আছে ২১৫ কোটি ঘনফুট। ঢাকার মতো শহরে দিনে এখন প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা চুলা জ্বলছে না। বিদ্যুৎ সরবরাহও সীমিত রয়েছে।

‘শিল্প কারখানা উৎপাদনের জন্য অন্তত ৩ থেকে ৪ পিএসআই গ্যাস প্রয়োজন, কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এই বিপুল ঘাটতি পূরণে সুপরিকল্পিত কোনো সমাধান হাজির করা হয়নি বরং সংকটকে পুঁজি করে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে ক্রয়ের আয়োজন করা হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণের আওতাধীন করপোরেট-১ শাখাগুলোর জুন-২০২৬ ভিত্তিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর জুন-২০২৬ ভিত্তিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসেবা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার, হাসান তানভীর ও মো. হারুনুর রশীদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, মো. মইন উদ্দিন মাসুদ, বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকা দক্ষিণের মহাব্যবস্থাপক তানভীর হাসনাইন মইন, ঢাকা উত্তরের মহাব্যবস্থাপক শেখ মুনজুর করিমসহ সংশ্লিষ্ট করপোরেট শাখাগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জুন-২০২৬ ভিত্তিক ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি চলতি বছরের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের কঠিন সময়

ফুটবল বিশ্বকাপের ভরা মৌসুমে আড়ালেই পড়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ক্রিকেটাররা ভাবতে পারেন ভাগ্যিস আলোটা আপাতত তাদের দিকে নেই! না হলে গত কয়েকদিনে যেমন পারফরম্যান্স করেছে গোটা দল, তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ হওয়ার কথা। জিম্বাবুয়েতে গিয়ে একমাত্র টেস্টে ইনিংস হারের পর ওয়ানডে সিরিজেও পাত্তা পায়নি বাংলাদেশ। এরমধ্যে চোট শঙ্কা টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়েও খুব আশাবাদী হতে দিচ্ছে না।

গতকাল সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে ২ উইকেটে ১২২ তুলে ফেলার পর অস্বাভাবিক ধসে ওই ম্যাচ সফরকারী দল হেরেছে ১৩ রানে। প্রথম ওয়ানডেতেও দল হেরেছিল ২৫ রানে। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তাই সিরিজের মীমাংসা শেষ। শনিবার শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে হোয়াইটওয়াশের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানোর মিশন।

এই ম্যাচের মধ্যেই জানা গেছে গোটা সফর থেকে ছিটকে গেছেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাওয়া যাচ্ছে না তাকে। এর আগে কাফ মাসলের চোটে সিরিজ থেকে ছিটকে যান কিপার-ব্যাটার লিটন দাস। দলের বেহাল দশার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ দুজনের অনুপস্থিতি মিলিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা আছে বিপাকে।

জিম্বাবুয়ে এমনিতেই বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আফ্রিকার মাঠগুলোতে বাড়তি বাউন্স, সুইং মিলিয়ে ভোগেন ব্যাটাররা। তবে নিজেদের পেস আক্রমণ শক্তিশালী হওয়ায় এবার ভিন্ন কিছুর আশা করা হচ্ছিল। তবে ২০২২ সালের মতো এবারও সেখানে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ হারল বাংলাদেশ।

গতকাল রান তাড়ায় ৩৮ রানে ২ উইকেট পড়ার পর বড় জুটি গড়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহিদ হৃদয়। ৮৩ রানের জুটিতে এক পর্যায়ে জেতার পথে ভালোভাবেই ছিল দল। ৫৭ করে তানজিদ বোল্ড হওয়ার পর হৃদয় থামেন বাজে শটে। এরপর চলতে থাকে আসা-যাওয়ার মিছিল। শেষ দিকে মিরাজ কিছু চেষ্টা চালালেও কেউই আসলে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেননি।

দলের এই অবস্থার জন্য নিজেদের দায় দেখেন তানজিদ, ‘যখন আমি আর হৃদয় ব্যাট করছিলাম, আমরা খুব ভালোভাবেই থিতু হয়েছিলাম এবং এটা (জুটি) বড় করা দরকার ছিল। দুজনই পঞ্চাশের পর আউট হয়েছি। কিন্তু একজনের উচিত ছিল শেষ বল পর্যন্ত ইনিংস টেনে নেওয়ার। আমার মনে হয়, এ কারণেই ম্যাচ হেরেছি।’

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের পুরোটা ব্যাট করে ওপেনার বেন কারান ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। তানজিদের মতে এটাই গড়ে দিয়েছে ফারাক, ‘সে (কারান) শেষ বল পর্যন্ত ইনিংস টেনে নিয়েছে, আমরা পারিনি। এটিই পার্থক্য।’

টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে ভিন্ন বাস্তবতা দেখল বাংলাদেশ। সিরিজের বাকি সময়টাও কঠিন হওয়ার আভাস স্পষ্ট। তবে শনিবার শেষ ওয়ানডে জিতে অন্তত টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভিন্ন ফল আনতে মরিয়া তানজিদ, ‘এটা খারাপ একটা সিরিজ গিয়েছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে আমাদের একটি ওয়ানডে আছে। যদি আমরা ভালো খেলি এবং ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগে ভালো করি, তাহলে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ভালো করার আত্মবিশ্বাস দেবে।’

সফরের শুরুতে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ৮৫ রানে। জিম্বাবুয়ের কাছে এত বড় ব্যবধানে কখনো হারেনি বাংলাদেশ। দলটির বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল ২৫ বছর পর! গত কয়েক মাস টেস্টে দারুণ ফল করা বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েতে গিয়ে যেন ফিরিয়ে আনল সেই শুরুর সময়।

বাংলাদেশকে টেস্টে ওভাবে হারানোর পর জিম্বাবুয়ের এক সংবাদপত্রের শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাডেড’; ওয়ানডে সিরিজেও একই ফল আসলে তারা শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাডেথ’। এসব দেখলে নিশ্চিতভাবেই ক্রিকেটারদের গায়ে লাগার কথা। উজ্জীবিত হয়ে তারা সফরের শেষটা অন্তত ভালো কিছু করতে পারেন কি না, দেখার বিষয়।

৫ জুলাই আমির খানের বিয়ের গুঞ্জন, পাত্রী কে?

বলিউডে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন অভিনেতা আমির খান। শোনা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্ককে এবার আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৫ জুলাই মুম্বাইয়ে নিজের বাসভবনেই ছোট ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করতে পারেন আমির।

খবর অনুযায়ী, এই আয়োজন হবে একেবারেই ব্যক্তিগত। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং হাতে গোনা কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছাড়া সেখানে আর কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। কয়েক মাস ধরেই দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এখন সেই সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

অবশ্য ছোট পরিসরের অনুষ্ঠান হলেও অতিথি তালিকা নিয়ে ইতোমধ্যে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
বলিউডের দুই সুপারস্টার শাহরুখ খান ও সালমান খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। আমিরের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা সবারই জানা। তবে শেষ পর্যন্ত তারা উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নির্ভর করবে তাদের ব্যস্ততার ওপর।

এর আগে, গত বছর নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো গৌরী স্প্র্যাটকে প্রকাশ্যে পরিচয় করিয়ে দেন আমির খান।

সেই সময়ই তিনি জানান, তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং তারা একে অপরের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে দেখা গেছে এই যুগলকে। ফলে বিয়ের খবর সামনে আসতেই তা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে।

গৌরী স্প্র্যাট বেঙ্গালুরুতে বেড়ে উঠেছেন। ফ্যাশন ও স্টাইলিং বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস থেকে।

তবে এখন পর্যন্ত আমির খান বা গৌরী স্প্র্যাটের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ফলে ৫ জুলাইয়ের সেই সম্ভাব্য আয়োজন আদৌ বাস্তব হচ্ছে কি না, তা জানতে ভক্তদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

পেজেশকিয়ানের ‘দুঃখপ্রকাশ’কে ‘ইরানের আত্মসমর্পণ’ বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ইরান ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

আজ শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।

তবে পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ওই দেশগুলো থেকে ইরানে হামলা না হলে তেহরান তাদের হামলা করবে না।

ট্রাম্প তার পোস্টে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ইঙ্গিত করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইরান এবং তাদের ওপর আর হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু এখন তারা আশপাশের দেশগুলোর কাছে পরাজিত হয়েছে।’

তার ভাষায়, হাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইরান মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে পরাজিত হয়েছে এবং বহু বছর এমনই থাকবে—যতক্ষণ না তারা আত্মসমর্পণ করে বা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।

তিনি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং তিনি তাদের স্বাগতম জানিয়েছেন। 

পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘লুজার’ অ্যাখ্যা দিয়ে এমন কিছু এলাকা ও গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান। 

বলেন, এসব গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত হামলার তালিকায় ছিল না।

৬৯ বছর বয়সী সাবেক কর্মকর্তাকে ধর্মসচিব নিয়োগ

মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদকে এক বছরের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

তার জন্ম ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই বলেও জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিন আল আজাদ ২০০৯ সাল পর্যন্ত নিয়মিত প্রশাসনের অংশ ছিলেন। বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার পর তিনি আর কোনো নিয়মিত প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেননি।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী সরকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, যোগ্যতার বিষয়গুলোকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা কখনো ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেনি। তাকে কেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি পদ্মা ব্রিজ রেলওয়ে লিঙ্ক প্রজেক্ট ফেজ-২ (ভাঙ্গা-বেনাপোল) ভূমি অধিগ্রহণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) পরিচালক ছিলেন।