28 C
Dhaka
Home Blog

সচিবালয়ের সামনে ১১ দলের প্রতিবাদ, লং মার্চ-রেলযাত্রার কর্মসূচি, নভেম্বরে মহাসমাবেশ

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদ এবং ১০ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পল্টন জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে ১০ দফা দাবি নিয়ে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

এই কর্মসূচির কারণে আশেপাশের তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। যানজটে মানুষ দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে লং মার্চ; ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চ ও পথসভা; ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা ও খুলনা থেকে যশোর-কুষ্টিয়া হয়ে আবার ঢাকায় লং মার্চ; ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে রেলপথ যাত্রা এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘এ দেশে যারা খুন করেছে, অপরাধ করেছে, লুণ্ঠনকারীরা মানুষের সম্পদ লুন্ঠন করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে আমাদের এই আন্দোলন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এ দেশের নিরীহ মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে বিভিন্নভাবে গুম-খুনের আশ্রয় নিয়ে জনগণের ওপর জুলুম করেছে। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, আমরা জীবিত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে এরা আর আস্ফালন করার সুযোগ পাবে না।’

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।

সরকারের উদ্দেশে শফিকুর বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, এই লং মার্চ জনগণের দাবি আদায়ের জন্য। অতীতের কায়দায়, ফ্যাসিবাদী কায়দায় আমাদের লং মার্চে যেন কোনো বাধা দেওয়া না হয়। যদি বাধা দেওয়া হয়, লং মার্চ দ্বিগুণ শক্তিতে তার গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।’

লং মার্চের পাশাপাশি একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের মনের কথা শুনব, আমাদের কথাগুলো জনগণকে বলব। এইভাবে বাংলাদেশের জনগণকে পরবর্তী বড় আন্দোলনের জন্য আমরা তৈরি করতে চাই।’

সিলেটের রাস্তা মানুষের চলাচলের উপযোগী নেই উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘শত শত গাড়ি যখন সিলেটের পথে রওনা করবে, জনগণের চরম ভোগান্তি হবে। এই বিবেচনায় নিয়েই আমরা রেলপথ বেছে নিয়েছি।’

‘আগামী ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রাম-পাড়া-মহল্লা থেকে আমাদের ভাই-বোনেরা ঢাকার দিকে রওনা করবে। ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি খুবই অল্প। আমার চুলায় গ্যাস চাই। আমার মাকে আর কাঁদাবেন না। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চাই। সংসদের ভেতরে আর মিথ্যা বিবৃতি দেবেন না। খাবার জন্য পানি চাই। আমাদের যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস চাই।’

সরকার নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি সংকট তৈরি করার পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে দাম বাড়ানো। আমরা তা হতে দেবো না।’

মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ শেষে দুপুর ১টার দিকে এলপিজি গ্যাসের মূল্যহ্রাস, পাইপলাইন গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত ও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সভাপতি নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা পদযাত্রা নিয়ে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হন।

সচিবালয়ের ১ নম্বর গেটের কাছে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানে শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম বক্তব্য রাখেন। শফিকুর রহমান ১০ মিনিটের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধিকে পাঠানোর আহ্বান জানান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা তাকে অসম্মান করব না।’

এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন, ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দেন, নইলে গদি ছাইড়া দে’। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হওয়ার পর সচিবালয়ের প্রতিটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় কোনো দর্শনার্থীর গাড়ি ঢুকতে বা বের হতে পারেনি।

নির্ধারিত ১০ মিনিট পার হওয়ার পর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে শফিকুর রহমান আবারও মাইক্রোফোন হাতে নেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এর প্রতি ধিক্কার জানিয়ে আমরা আরও পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করব। এরপর আজকের মতো বিদায় নেব।

দুপুর ২টার দিকে জামায়াত নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের সামনে থেকে ফিরে যান।

১১ দলীয় ঐক্যের ১০ দফা দাবি হলো গত তিন মাসে আদায় করা ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন, দায়ীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা; এছাড়া প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল; অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া এবং বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।

জোটের পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয়, গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ।

তারা মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ, পুনরায় চালুর সময়সূচি ঘোষণা ও বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

১০ দফা দাবিতে আরও বলা হয়, গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকেই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; পাশাপাশি শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষার পাশাপাশি এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়; জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানায় জোট।

চাকরিতে প্রতি পদে প্রতিযোগী ৬৬ শতাংশ বেড়ে ২৮৭ জন: বিআইডিএস গবেষণা

করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমবাজারে প্রতি শূন্য পদে প্রতিযোগিতা প্রায় ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।

উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় নিয়োগ সংকুচিত হওয়ায় বর্তমানে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭ জন আবেদনকারী প্রতিযোগিতা করছেন, যা মহামারি শুরুর আগে ছিল ১৭৩ জন।

২০১৫ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৪৭ সপ্তাহের তথ্য নিয়ে দেশের অন্যতম বড় একটি অনলাইন জব পোর্টালের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। 
আজ বৃহস্পতিবার এক সেমিনারে বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক অতনু রাব্বানী এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

গবেষণায় চাকরির বিজ্ঞপ্তি, শূন্য পদ, আবেদনের হার এবং শ্রমবাজারের ওপর মহামারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো রেট পরিবর্তনের মতো প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণার সময়ে ওই জব পোর্টালে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১ হাজার ১৫৪টি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, ৩ হাজার ৬৪৬টি শূন্য পদ এবং প্রায় ৬ লাখ ৯৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, মহামারি দেশের শ্রমবাজারে ভয়াবহ আঘাত এনেছিল। ২০২০ সালের মার্চ থেকে জুনের মধ্যে সরকার যখন সারাদেশে লকডাউন জারি করে, তখন চাকরির বিজ্ঞপ্তি ৭০ দশমিক ২ শতাংশ এবং শূন্য পদ ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে আসে।

একই সময়ে আবেদনকারীর সংখ্যা কমলেও তা তুলনামূলক কম ছিল। আবেদনকারী কমেছিল ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, চাকরির আবেদনের চেয়ে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা খুব বেশি কমেনি। আর এই পার্থক্যের কারণেই প্রতি পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে ২৮৭ দশমিক ৩ জনে পৌঁছায়।

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বাংলাদেশে শূন্য পদ কমার হার ছিল অনেক বেশি। মহামারি চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য পদ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছিল। আর যুক্তরাজ্যে কমেছিল ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।

মহামারির পর ধীরে ধীরে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও শ্রমবাজারের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক রকম প্রতিযোগিতাপূর্ণই থেকে যায়।

অতনু রাব্বানী বলেন, ‘শ্রমবাজারের এই তথ্যে দেখা যায় প্রতিটি পদের বিপরীতে কতজন প্রতিযোগিতা করছেন। এই সংখ্যা যত বেশি হবে, চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বাজারটি তত কঠিন বলে ধরে নিতে হবে।’

সর্বোচ্চ কার্ড ইংল্যান্ডের, সর্বনিম্ন নরওয়ের; সেমিতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যেসব তারকা

চলতি ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলগুলোর মাঠের শৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিনারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে একটি বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফাউলের সংখ্যার সঙ্গে কার্ড দেখার হারে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে কম কার্ড দেখেছে নরওয়ে, তাদের ঠিক পরেই আছে আর্জেন্টিনা। 

কার্ডে নাজুক ইংল্যান্ড

কোয়ার্টার ফাইনালের দলগুলোর মধ্যে রেফারিদের বুকিংয়ের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ইংল্যান্ড। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ৫৪টি ফাউল করেছে। এই ফাউলগুলোর বিপরীতে থ্রি লায়ন্সদের নামের পাশে যোগ হয়েছে সর্বোচ্চ ৮টি কার্ড, যার মধ্যে ৭টি হলুদ কার্ড এবং ১টি লাল কার্ড রয়েছে। গাণিতিক হিসাবে, প্রতি ৬.৭৫টি ফাউল করার পরই ইংল্যান্ডকে একটি করে কার্ড দেখতে হয়েছে।

সবচেয়ে কম কার্ড নরওয়ের পকেটে, দ্বিতীয় আর্জেন্টিনা 

তালিকার অন্য প্রান্তে সবচেয়ে কম কার্ড দেখার রেকর্ড নরওয়ের। দলটি পুরো টুর্নামেন্টে ৪৮টি ফাউল করেছে, যা কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের মধ্যে ফাউলের সংখ্যার দিক থেকেও সর্বনিম্ন। এই ৪৮টি ফাউলের বিপরীতে নরওয়ের খেলোয়াড়রা কার্ড দেখেছেন মাত্র ২টি, যার দুটিই হলুদ কার্ড। গড়ে প্রতি ২৪টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড পেয়েছে। অন্য দিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্টে ফাউল করেছে ৫৯টি, যার বিপরীতে তাদের নামের পাশে যোগ হয়েছে মাত্র ৩টি হলুদ কার্ড। অর্থাৎ, প্রতি ১৯.৬৬টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড দেখেছে।

ইংল্যান্ড, নরওয়ে ও আর্জেন্টিনা বাদে বাকি ৬ কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট দলের অবস্থা:

মরক্কো: ৬১টি ফাউল করে মরক্কোর খেলোয়াড়রা হলুদ কার্ড দেখেছেন ৬টি। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ১০.১৬টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড পেয়েছেন।

বেলজিয়াম: ৬০টি ফাউল করার বিপরীতে বেলজিয়াম মোট ৫টি কার্ড দেখেছে (৪টি হলুদ ও ১টি লাল)। তাদের কার্ড পাওয়ার গড় হার প্রতি ১২টি ফাউলে ১টি।

ফ্রান্স: ফরাসিরা পুরো টুর্নামেন্টে ৪৯টি ফাউল করেছে এবং কার্ড দেখেছে ৪টি (সবগুলোই হলুদ কার্ড)। প্রতি ১২.২৫টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড পেয়েছে।

স্পেন: ৫৫টি ফাউল করেও স্পেনের খেলোয়াড়রা হলুদ কার্ড পেয়েছেন মাত্র ৩টি। গড়ে প্রতি ১৮.৩৩টি ফাউলে রেফারি তাদের কার্ড দেখিয়েছেন।

প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার যারা

ফাউল করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হওয়ার দিক থেকে সবার ওপরে রয়েছে মরক্কো। আফ্রিকান এই দলটির বিরুদ্ধে অন্য দলগুলো সর্বোচ্চ ৮০টি ফাউল করেছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ইংল্যান্ড, যাদের গতি থামাতে প্রতিপক্ষ দলগুলো ফাউল করেছে ৭৭টি। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাউল হয়েছে ৭৫টি। এরপর যথাক্রমে ফ্রান্স (৪৪টি), স্পেন (৩৮টি), নরওয়ে (৩৫টি) এবং আর্জেন্টিনা ও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সমান ৫৪টি করে ফাউল করেছে প্রতিপক্ষ দলগুলো।

সেমিতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে ১৭ ফুটবলার

কোয়ার্টার ফাইনালের এই পরিসংখ্যানের বড় একটি প্রভাব পড়ছে সেমিফাইনালের ভাগ্যে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি নিয়ম অনুযায়ী, আগের ম্যাচগুলোর হলুদ কার্ডের কারণে টুর্নামেন্টের মোট ১৭ জন খেলোয়াড় এখন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে তারা যদি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে তাদের দল সেমিফাইনালে উঠলেও তারা ম্যাচটিতে অংশ নিতে পারবেন না।

ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ দুই দল: কার্ডের মারপ্যাঁচে সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা হয়ে আছে মরক্কো এবং ইংল্যান্ড। দুই দলেরই সর্বোচ্চ ৪ জন করে খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে আছেন। মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, ইশা দিওপ, রেদোয়ান হালহাল ও বিলাল এল খানুস রয়েছেন এই তালিকায়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, ডেক্লান রাইস, মার্ক, গুয়েহি এবং নিকো ও’রাইলি কোয়ার্টার ফাইনালে কার্ড পেলেই দল উঠলেও সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন। (উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসা মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ায় নরওয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ থেকে এমনিতেই ছিটকে গেছেন)।

অন্যান্য দলের অবস্থা: ফ্রান্সের মানু কোনে ও মাইকেল অলিসে রয়েছেন কার্ডের ঝুঁকিতে। সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, দেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহেইম এবং স্পেনের ফেরান তোরেস, নরওয়ের আন্তোনিও নুসা, বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেখেলে ও আর্জেন্টিনার গনসালো মন্তিয়েলও এক কার্ডের দূরত্বে আছেন সেমিফাইনালের নিষেধাজ্ঞা থেকে।

কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শেষে মুছে যাবে আগের কার্ডের হিসাব 

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শেষ হওয়ার পর সমস্ত একক হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, কোয়ার্টার ফাইনালে কার্ড না খেয়ে কোনো খেলোয়াড় যদি সেমিফাইনালে ওঠেন, তবে তার আগের কার্ডটি বাতিল হয়ে যাবে এবং তিনি একদম ফ্রেশ রেকর্ড নিয়ে সেমিফাইনাল খেলতে পারবেন। ফলে কোনো খেলোয়াড়ই কেবল হলুদ কার্ড জমার কারণে ফাইনাল মিস করবেন না।

 

বড় হয়ে অভিনেত্রী হবেন, কখনো ভাবেননি পূজা

পূজা হেগড়ে ছোটবেলায় কখনো ভাবেননি, বড় হয়ে অভিনেত্রী হবেন। এমনকি সিনেমায় অভিনয়কে কোনো পেশা হিসেবে ভাবতেন না এই বলিউড অভিনেত্রী। তিনি নিজেই এ কথা বলেছেন।

বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত নতুন সিনেমা ‘হে জাওয়ানি তো ইশক হোনা হে’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।

অনুষ্ঠানে সিনেমাটির লেখক রুমি জাফরি জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই পূজাকে চিনতেন। পূজা যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন, তখনই তিনি বলেছিলেন—একদিন সে নায়িকা হবে।

পরে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছেন, যেখানে লেখাপড়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। তাদের পরিবারের কেউ চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি অভিনেত্রী হব। সিনেমা কেবল দর্শক হিসেবে দেখতাম। এটা যে আমার পেশা হতে পারে, সেটাও কল্পনা করিনি। রুমি স্যার আমাকে সিনেমায় কাজ করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তখন আমি খুব একটা নিশ্চিত ছিলাম না।’

বর্তমানে পূজা হেগড়ে বলিউড ও দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার পরিচিত মুখ। নতুন এই সিনেমায় তাকে দেখা যাবে কমেডি ঘরানার চরিত্রে। এতে আরও অভিনয় করেছেন বরুণ ধাওয়ান, ম্রুনাল ঠাকুর, মানিশ পাল, চাঙ্কি পান্ডে, জিমি শেরগিল ও মৌনি রয়। সিনেমাটি আগামী ৫ জুন মুক্তির কথা আছে।

নেপালে ১১০ আসনে এগিয়ে জয়ের পথে তরুণদের দল আরএসপি

নেপালে বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনায় তরুণদের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ১১০ আসনে এগিয়ে আছে।

গত বছর দেশটিতে জেন-জি অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন জয় পেলে সরকার গঠন করবে তরুণদের এই দলটি।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, আরএসপি ১১০টি আসনে এগিয়ে আছে এবং ৩টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে।

নেপালের প্রাচীনতম দল নেপালি কংগ্রেস ১০ আসনে এগিয়ে এবং দুটিতে জয় নিশ্চিত করেছে। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) ১১টি আসনে এগিয়ে এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ৮টি আসনে এগিয়ে আছে।

এছাড়া, শ্রম সংস্কৃতি পার্টি ৪টি আসনে এগিয়ে, রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি ও জনতা সমাজবাদী পার্টি-নেপাল একটি করে আসনে এগিয়ে আছে।

দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও তাদের নিজ নিজ আসনে এগিয়ে আছেন।

এখনো বেশ কয়েকটি আসনে গণনা চলছে। সব আসনের ভোট গণনা শেষ হলে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে নেপালের নির্বাচন কমিশন।

নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি পরিষদের’ মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হচ্ছে। এতে প্রার্থিতা করেছেন তিন হাজার ৪০০ জন প্রার্থী। 

পার্লামেন্টের বাকি ১১০ আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে।

গতকাল অনুষ্ঠিত ভোটে অংশ নিয়েছেন ৫৯ শতাংশ ভোটার। 

চূড়ান্তভাবে আরএসপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী হবেন তরুণদের নেতা একসময় হিপহপ মিউজিকের সঙ্গে জড়িত র‍্যাপার ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ। 

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা ছিল নজিরবিহীন ঘটনা।

এনসিপির এক বছর: এখনো ‘স্বকীয়তা’র খোঁজে তরুণদের দলটি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়কদের গড়ে তোলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ এক বছর পূর্তি উদযাপন করবে। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল দলটি।

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া এই দল ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ ও রাজনীতিতে ‘নয়া বন্দোবস্তের’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এক বছরের মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে সংসদে ছয়টি আসন নিশ্চিত করেছে তারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন দলটির নেতারা।

তবুও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এনসিপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, নেতৃত্বের পদত্যাগ ঠেকানো। সেই সঙ্গে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলাও এখন তাদের সামনে বড় পরীক্ষা।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা এবং নির্বাচনে অংশ নিয়ে অবস্থান সুসংহত করা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই সংসদে ছয়টি আসন পেয়েছে এনসিপি। এখন তাদের মূল লক্ষ্য হলো সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করা।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক কমিটি, পেশাজীবী ফোরাম এবং রাজনৈতিক কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে সারা দেশে দলের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয় সূত্রমতে, বর্তমানে এনসিপির ছাত্র, যুব, শ্রমিক, চিকিৎসক, আইনজীবী ও পেশাজীবী সংগঠনসহ ১০টি সহযোগী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে।

দলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও জোটের অবস্থান নিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মন্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সাংগঠনিক সম্প্রসারণের এতসব পরিকল্পনার মধ্যেও শীর্ষ পর্যায়ে আস্থার সংকটে পড়তে হয়েছে এনসিপিকে। গত এক বছরে অন্তত ৬০ জন নেতাকর্মী তিন ধাপে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ডিসেম্বরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার পর সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা সহ প্রায় ২০ জন নেতা দল ছাড়েন।

সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারোয়ার নিভার মতো জ্যেষ্ঠ নারী নেত্রীরা দল থেকে পদত্যাগ না করলেও নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। সামান্তা শারমিন বলেন, ‘দলের জন্য আমার শুভকামনা সবসময় থাকবে। দলের অভ্যন্তরে নানা মতপার্থক্যের কারণে আমি কার্যক্রম থেকে দূরে আছি, তবে যেকোনো সংকটে আমি দলের পাশে থাকব।’

দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানান, যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদেরকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বারবার দল ছাড়ার কারণে এনসিপির সাংগঠনিক শক্তি ও ধারাবাহিকতা দুর্বল হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এনসিপি এখনো স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলতে পারেনি। জোটের ভোটে সংসদে ছয়টি আসন পাওয়া সম্ভব হলেও একক শক্তি হিসেবে তারা এখনো দাঁড়াতে পারেনি।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, ‘রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা ও নৈতিক অসংগতির কারণে দলটির সম্ভাবনা ম্লান হয়েছে। তিনি বলেন, আন্দোলন থেকে হুট করে দলে রূপান্তর এবং উপদেষ্টা হওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘এখন দলটির উচিত নিজেদের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা, ভুলগুলো চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজানো।’

‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ নিরাপত্তার ঢাল নাকি নজরদারির নতুন দেয়াল

ফেসবুকে যা লিখছেন বা লিখতে চাইছেন, তা কি ‘অপরাধ’ হয়ে যেতে পারে? সাধারণ একটি ‘মিম’, অসাধারণ একটি রাজনৈতিক ‘বাহাস’, স্রেফ একটি ‘হাহা’ রিয়্যাক্ট, কিংবা নিষ্পাপ কোনো ‘শেয়ার’ কি দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে?

বাংলাদেশের সাইবার পরিসরে এই প্রশ্নগুলো নতুন নয়। তবে নতুন করে আবার অনেকের মনে ঘুরছে। কারণ, দেশে নতুন সাইবার আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। কেন এই নতুন আইন? কারণ ডিজিটাল দুনিয়ায় অপরাধ সত্যিই বেড়েছে। হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় চুরি, ফেক অ্যাকাউন্ট—এসব ঠেকাতে কার্যকর আইন দরকার। এ নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই।

তবু উদ্বেগটা অন্য জায়গায়। আগের অভিজ্ঞতা আমাদের সতর্ক করে। চুন খেয়ে মুখ পুড়েছে বলেই এখন দই দেখেও অনেকে আঁতকে উঠছেন। কিন্তু আসল বিতর্ক ভিন্ন।

আইনে যদি ‘রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন’ বা ‘অবমাননা’র মতো অস্পষ্ট শব্দ থাকে, তাহলে সমস্যা শুরু হয়। কারণ তখন সমালোচনা, ব্যঙ্গাত্মক মিম, কার্টুন, এমনকি সাধারণ ফেসবুক পোস্টও ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। মানুষ তাই জানতে চাইছে—এই আইন কি অপরাধীকে ধরবে, নাকি সাধারণ মানুষকেও ভয় পাইয়ে দেবে?

আইনের শক্তি শুধু তার শাস্তিতে নয়, প্রয়োগেও। একই আইন একজন হ্যাকারকে থামাতে পারে, আবার ভুলভাবে ব্যবহার হলে একজন সমালোচকের কণ্ঠও থামিয়ে দিতে পারে।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে অর্জুনের প্রশ্ন ছিল, কোন অস্ত্র কখন ব্যবহার করা উচিত? ডিজিটাল যুগে রাষ্ট্রের সামনেও একই প্রশ্ন। প্রযুক্তি শক্তিশালী, আইনও তাই। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেটা কার বিরুদ্ধে, কীভাবে এবং কতটা দায়িত্ব নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডিজিটাল সভ্যতা আমাদের হাতে এমন একটি আয়না তুলে দিয়েছে, যেখানে আমরা শুধু নিজেদের মুখই দেখি না; দেখি সমাজের অসংখ্য প্রতিচ্ছবি, মতামত, ভয়, আকাঙ্ক্ষা ও বিরোধের ছায়াও। কিন্তু এই আয়নার একটি অদৃশ্য দিকও আছে—যেখানে কেউ আমাদের দেখছে, তথ্য সংগ্রহ করছে এবং আমাদের ডিজিটাল পদচিহ্নের মানচিত্র তৈরি করছে। তাই আজকের পৃথিবীতে তথ্য একই সঙ্গে আলো ও ছায়া; মুক্তির পথ ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার। সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে বিতর্ক আসলে এই আলো-ছায়ার সীমারেখা নির্ধারণের বিতর্ক—কোথায় নিরাপত্তার প্রাচীর প্রয়োজন, আর কোথায় সেই প্রাচীর নাগরিক স্বাধীনতার আকাশ ঢেকে দিতে পারে।

ডিজিটাল যুগে তথ্য এখন আর কেবল বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়; তথ্য নিজেই একটি শক্তি। যে তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছায়, যে তথ্য অদৃশ্য হয়ে যায়, কিংবা যে তথ্যকে ‘সত্য’ বা ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তার ওপর নির্ভর করে সমাজের চিন্তা, রাজনীতি ও জনমত অনেকাংশে গড়ে ওঠে। ফলে সাইবার আইন নিয়ে বিতর্ক আসলে শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়; এটি ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক স্বাধীনতা ও ডিজিটাল সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আলোচনা।

সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্যোগের মূল যুক্তি হলো ডিজিটাল পরিসরে গুজব, অপতথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি-ভিডিও, মানহানিকর কনটেন্ট এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রয়োজন। রাষ্ট্রের এই উদ্বেগকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ, আজ একটি ভুয়া তথ্য শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি করে না; কখনো তা সামাজিক উত্তেজনা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত, জনআস্থার সংকট কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটি হলো, ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে আমরা এমন কোনো কাঠামো তৈরি করছি কি না, যেখানে নিরাপত্তার দেয়াল ধীরে ধীরে নজরদারির দেয়ালে পরিণত হয়?

অনলাইন হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইলিং, পর্নোগ্রাফি কিংবা সাইবার জালিয়াতি থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে একটি কার্যকর ‘নিরাপত্তার ঢাল’ অত্যন্ত জরুরি হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে আইনটির রাজনৈতিক চরিত্রই বারবার সামনে চলে আসে। যখনই কোনো আইন ভিন্নমতাবলম্বী বা সমালোচকদের দমনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তখনই এর মূল উপযোগিতা নষ্ট হয়ে যায়। আইন প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় সাধারণ মানুষের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ধারাগুলো তৈরি করলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। আইনের তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যখনই গ্রেপ্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়, তখন তা মানুষের সুরক্ষার বদলে একটি ভয়ের দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।

যোগাযোগ অধ্যয়নের দৃষ্টিতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন একটি নতুন জনপরিসর। এখানে মানুষ মত প্রকাশ করে, সংবাদ বিনিময় করে, রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নেয় এবং সামাজিক আন্দোলনের অংশ হয়। কিন্তু এই জনপরিসর সম্পূর্ণ স্বাধীন নয়। এখানে রাষ্ট্র, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অ্যালগরিদম ও ব্যবহারকারীর আচরণ—সবকিছু মিলে তথ্য প্রবাহের একটি জটিল ব্যবস্থা তৈরি করে। এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, তথ্যের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? রাষ্ট্র, নাকি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান? নাকি নাগরিক সমাজ?

বর্তমানে মেটা, ইউটিউব, এক্সসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব কনটেন্ট মডারেশন নীতির মাধ্যমে নির্ধারণ করে কোন তথ্য থাকবে, কোনটি সীমিত হবে এবং কোনটি অপসারণ করা হবে। একদিকে এই ব্যবস্থা ঘৃণামূলক বক্তব্য, প্রতারণা, সহিংসতার উসকানি কিংবা ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে প্রশ্ন থেকে যায়, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? কে নির্ধারণ করবে কোন বক্তব্য ক্ষতিকর আর কোনটি বৈধ মত প্রকাশ?

রাষ্ট্র যখন এসব প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার উদ্যোগ নেয়, তখন বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ, এখানে দুটি শক্তিশালী পক্ষ মুখোমুখি দাঁড়ায়—একদিকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার যুক্তি, অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম নীতিমালা। মাঝখানে থাকে সাধারণ নাগরিক, যার মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অধিকার সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়।

এই জায়গাতেই ‘নজরদারি সমাজ’-এর ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আধুনিক নজরদারি আর শুধু ক্যামেরার চোখে সীমাবদ্ধ নেই; এখন তা ডেটা, অ্যালগরিদম ও ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নাগরিক কী দেখছেন, কী লিখছেন, কী শেয়ার করছেন—এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি অদৃশ্য পর্যবেক্ষণ কাঠামো তৈরি হয়। প্রযুক্তি একদিকে যেমন নিরাপত্তার হাতিয়ার, অন্যদিকে এটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমও হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশে সাইবার আইন নিয়ে বিতর্কের মূল জায়গাটি এখানেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ থেকে সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩, এরপর সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং বর্তমান খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইন—প্রতিটি পর্যায়ে আইনের নাম পরিবর্তন হয়েছে, কিছু ধারা বাতিল হয়েছে, কিছু সংশোধিত হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিক, আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের একটি অংশের প্রশ্ন—আইনের ভাষা বদলালেও নিয়ন্ত্রণের দর্শনে কতটা পরিবর্তন এসেছে?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সময় থেকেই ৮, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ ধারার মতো কিছু বিধান নিয়ে উদ্বেগ ছিল। অভিযোগ ছিল, এসব ধারার অস্পষ্ট ভাষা স্বাধীন সাংবাদিকতা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সরকারের সমালোচনামূলক বক্তব্যের ক্ষেত্রে ভয় তৈরি করেছে। কারণ, ডিজিটাল আইনের সবচেয়ে বড় প্রভাব অনেক সময় আদালতের রায় নয়; বরং মামলা, গ্রেপ্তার, ডিভাইস জব্দ ও সামাজিক চাপের মধ্য দিয়েই তৈরি হয়।

নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারার বিষয় নতুন আইনের ২৩ ধারায় এসেছে। অন্যদিকে ২৫ ধারায় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং ও অশ্লীল কনটেন্ট প্রকাশের মতো অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল পরিসরে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও নারীর সুরক্ষার জন্য এসব বিধান প্রয়োজনীয়। কিন্তু একইসঙ্গে ‘মানহানিকর’, ‘আক্রমণাত্মক’ বা ‘ভীতি প্রদর্শক’ শব্দগুলোর ব্যাখ্যা স্পষ্ট না হলে আইন অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত ২৬ ধারা। আগের আইনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সংক্রান্ত যে বিতর্ক ছিল, নতুন আইনে তার পরিবর্তে ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশের বিষয়টি রাখা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কারণ, সমাজে সমালোচনা, ব্যঙ্গ, মতামত ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের মধ্যে সীমারেখা সবসময় সহজে নির্ধারণ করা যায় না।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ধর্ম, রাষ্ট্র, সরকার কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের নিয়ে সমালোচনা থাকবে। সেই সমালোচনা কখন বিদ্বেষে পরিণত হবে আর কখন তা নাগরিক মত প্রকাশের অংশ থাকবে, এই পার্থক্য নির্ধারণের দায়িত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

সরকার মিথ্যা মামলা প্রতিরোধের জন্য আইনে বিধানের কথা বলেছে এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, একটি মামলা নিজেই অনেক সময় শাস্তিতে পরিণত হয়। বিচার শেষ হওয়ার আগেই একজন ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত জীবন ও মানসিক স্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শুধু অপরাধের পর প্রতিকার নয়; মামলা গ্রহণের আগেই যাচাই, স্বাধীন তদন্ত, কনটেন্ট অপসারণে স্বচ্ছতা ও আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সাইবার সুরক্ষা আইনকে সফল করতে হলে আমাদের মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল নিরাপত্তা কোনো তালাবদ্ধ ঘর নয়, বরং খোলা জানালা। জানালা বন্ধ করে ঝড় ঠেকানো যায়, কিন্তু আলো-বাতাসও তখন প্রবেশ করতে পারে না। তাই প্রয়োজন এমন একটি আইন, যা ক্ষতিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ঢাল হবে, কিন্তু নাগরিক কণ্ঠের ওপর প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে না।

মহাভারতের অর্জুন যখন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন কৃষ্ণ তাকে শুধু অস্ত্র চালানোর শিক্ষা দেননি; দিয়েছিলেন বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিক্ষা। সাইবার আইন প্রণয়নেও রাষ্ট্রের প্রয়োজন সেই ‘বিবেকের দৃষ্টি’, যাতে শত্রু ও সমালোচকের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়।

আর গ্রিক পুরাণের ইকারুসের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতার ডানা যত শক্তিশালীই হোক, নিয়ন্ত্রণের সীমা ভুলে গেলে পতন অনিবার্য। ডিজিটাল ক্ষমতাও তেমন। নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ একসময় সেই ব্যবস্থারই আস্থা নষ্ট করতে পারে, যাকে রক্ষা করার জন্য আইন তৈরি করা হয়। তাই ভবিষ্যতের সাইবার সুরক্ষা আইনকে শুধু অপরাধ দমনের হাতিয়ার নয়, বরং একটি আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল সমাজ নির্মাণের সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখতে হবে।

 

রাজীব নন্দী: সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; পিএইচডি রিসার্চ স্কলার, স্কুল অব জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত। [email protected]

শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া ষড়যন্ত্রমূলক: রিজভী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনে নয়াদিল্লিতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা ভারতের নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পনাতেই হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

আজ এক অনুষ্ঠানে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন। এই দেশে গণতন্ত্র, অবাধ রাজনীতি এবং জনগণের কথা বলার সুযোগের জন্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে যে গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব হয়েছে, ঠিক সেই দিনেই দিল্লিতে এই প্রোগ্রামটি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়। অর্থাৎ মহা বিপ্লবের শহীদদের অপমান করার জন্যই শেখ হাসিনাকে এই কথা বলার সুযোগটা করে দেওয়া হয়েছে। আমি এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা শুনি শেখ হাসিনা দিল্লিতে প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখবেন। গতকাল তিনি অডিও বক্তব্য রেখেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, ভারতের নীতিনির্ধারকদের অ্যারেঞ্জমেন্টেই এই কাজটা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালানো একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং নানা খুন ও দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে ২০১৩ সালে বন্দী প্রত্যর্পণ যে চুক্তি বা এক্সট্রাডিশন চুক্তি হয়েছে, তার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া যায়। এ জন্য সরকার চিঠিও দিয়েছে, কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। অথচ পলাতক আসামিকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আইন রয়েছে এবং দুই দেশই যেটাতে সই করেছে।’

তিনি বলেন, ‘তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে উল্টো তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশকে বন্ধুরাষ্ট্র বলি। আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পাশাপাশি অবস্থান করব। সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলো এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায় এটা করা হয়েছে; এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও মিউচুয়াল রেসপেক্ট)—এটি সেখানে সম্পূর্ণভাবে একটি হস্তক্ষেপ। আমাদের ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্সেও এটা একধরনের হস্তক্ষেপ।’

গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যে গণবিপ্লবে দেড় হাজারেরও বেশি তরুণ-কিশোর শিক্ষার্থীর জীবন চলে গেল, বাংলাদেশের রাজপথে তাদের রক্ত ঝরল, এক ভয়ংকর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হলেন।’

তিনি বলেন, ‘ভয়ংকর রক্তপিপাসু ও স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে রাজনীতি করার ও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যারা নিজেদের পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে। যেদিন তার পতন হয়েছে, যেদিন ভয়ংকর রক্ত ঝরানো পথ মাড়িয়ে বিপ্লব সাধিত হয়েছে, ঠিক সেদিনই তাকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া ষড়যন্ত্রমূলক।’

বৃষ্টি-বন্যায় কমেছে চাহিদা, আনারস নিয়ে হতাশ মধুপুরের ‍কৃষক

ভোরের আলো ফোটার আগেই টাঙ্গাইলের মধুপুরের জলছত্র বাজারে একে একে এসে থামে সারি সারি সাইকেল ও ভ্যান। প্রতিটি সাইকেলের পেছনে স্তূপ করে সাজানো শত শত আনারস। হলুদ-সবুজ রঙের ফলগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন তার সবচেয়ে মিষ্টি উপহারগুলো এখানে এনে সাজিয়ে রেখেছে। কিন্তু সেই রঙিন দৃশ্যের আড়ালে আছে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস, অনিশ্চয়তা ও লোকসানের গল্প।

একসময় যে আনারস বিক্রি করে কৃষকের মুখে হাসি ফুটত, এবার সেই আনারসই যেন তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃত মধুপুরের আনারস এখন মৌসুমে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে মাঝারি আকারের একটি আনারসের দাম মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা। বড় আকারের আনারস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।

চাষিরা জানান, চারা, সার, সেচ, শ্রমিক ও রক্ষণাবেক্ষণসহ একটি আনারস উৎপাদন করতে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ টাকা খরচ হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষকেরা।

বাজারে দাঁড়িয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ইসহাক আলী। তিনি বছরের পর বছর ধরে তিনি আনারস চাষ করছেন। কিন্তু এমন দুরবস্থা আগে খুব একটা দেখেননি।

‘এভাবে চলতে থাকলে আনারস চাষ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না,’ এভাবেই বললেন ইসহাক আলী।

এবারের এই দরপতনের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। টানা বর্ষণ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটায় বড় শহরগুলোর বাজারে ফলের চাহিদা কমে গেছে। যেসব শহরে মধুপুরের অধিকাংশ আনারস যায়, সেখানে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে, কমেছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও।

মধুপুরের সবচেয়ে বড় আনারসের বাজার জলছত্র বাজারের ব্যবসায়ী চান মিয়া বহু বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এবারের বাজার তাকে বিস্মিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর বড় আনারস ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। এবার একই আকারের আনারস ৩০ থেকে ৩৫ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারছি না। কেন এমন হলো, আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না। বন্যার প্রভাব হতে পারে, আবার মানুষের হাতে টাকাও হয়তো কম।’

বৃষ্টির আরেকটি প্রভাব পড়েছে ফলনেও। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে একই সময়ে বিপুল পরিমাণ আনারস পেকে গেছে। ফলে একসঙ্গে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও দ্রুত কমেছে।

কৃষক তারিকুল ইসলামের অভিজ্ঞতাও একই। তার মতে, বাজারে সরবরাহ সামান্য কমলেই আনারসের দাম আবার বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে উৎপাদন বৃদ্ধিও। মোটর বাজারের ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন,গত কয়েক বছরে ভালো লাভের আশায় অনেক কৃষক কলা চাষ ছেড়ে আনারস চাষে ঝুঁকেছেন। ফলে উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি চাহিদা। অতিরিক্ত সরবরাহের চাপ এখন উল্টো কৃষকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন ফলের ভরা মৌসুম, তাই দাম কম।’

টাঙ্গাইলের মধুপুর কেবল একটি উপজেলা নয়, বাংলাদেশের আনারস উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র।

টাঙ্গাইলের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নার্গিস আক্তারের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে টাঙ্গাইল জুড়ে ৭ হাজার ৭৭৩ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু মধুপুরেই ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে এবং এর থেকে ২ দশমিক ৮৭ লাখ টন ফলন হয়েছে।

২০২৫-২৬ সালে চাষের জমি সামান্য বেড়ে ৭ হাজার ৭৯৪ হেক্টর হয়েছে এবং উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৮ লাখ টন।

চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমের জমি ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

কৃষকদের দাবি, শুধু উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিলেই হবে না। প্রয়োজন আনারস সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা, কোল্ড স্টোরেজ, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং এমন একটি বাজারব্যবস্থা, যেখানে কৃষক ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন। তাহলেই মৌসুমভিত্তিক দামের বড় ওঠানামা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়েও বোলিং বেছে নিল বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস ভাগ্য পক্ষে এলো বাংলাদেশের। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সিরিজ হার এড়ানোর ম্যাচেও বেছে নিলেন বোলিং। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে বাংলাদেশ পাচ্ছে না বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে, তার জায়গায় এসেছেন শরিফুল ইসলাম।

হারারেতে প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে আটকে দিয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি সফরকারীরা। ব্যটিং ব্যর্থতায় হারে ২৫ রানে।

প্রথম ওয়ানডেতে ৬ ওভারে ১৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন মোস্তাফিজ। মিরাজ শেষ দিকে নিজেই বল করায় তাকে আর আনেননি আক্রমণে। সেই সময় টেল এন্ডাররা বেশ কিছু রান যোগ করে নেন, যা ম্যাচের ফল নির্ধারণে প্রভাবক হয়েছে। এবার শরিফুলকে খেলানো হচ্ছে তার জায়গায়। 

এই ম্যাচ দিয়ে ফেরার কথা ছিলো কিপার ব্যাটার লিটন দাসের। তবে বিসিবি আগের রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, চোট কাটিয়ে ফেরার লড়াই শেষ না হওয়ায় পুরো সিরিজেই নেই লিটন।

জিম্বাবুয়ে একাদশ:  বেন কারান, ব্রায়ান বেনেট, ইনোসেন্ট কায়া, ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদান্দে (উইকেটরক্ষক), ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামহুরি, রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক) ও ব্লেসিং মুজারাবানি।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, মেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।