30.8 C
Dhaka
Home Blog

ট্রাম্পের ওপর ‘অসন্তোষ’ বাড়ছে উপসাগরীয় মিত্রদের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

কয়েকটি দেশ অভিযোগ করেছে, ইরানের ওপর হামলার আগে তাদের যথেষ্ট সময় দিয়ে সতর্ক করা হয়নি এবং তাদের দেওয়া সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপসাগরীয় দেশের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের বরাতে বার্তাসংস্থা এপি এসব তথ্য জানিয়েছে।

দুটি উপসাগরীয় দেশের কর্মকর্তারা এপিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে হতাশ তারা।

বলেন, ‘হামলার বিষয়ে তাদের আগাম কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। যুদ্ধ শুরু হলে পুরো অঞ্চলে যে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা আগেই দিয়েছিল উপসাগরীয় দেশগুলো, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা গুরুত্ব দেয়নি।’

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক উপসাগরীয় দেশ মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইসরায়েল ও তাদের নিজস্ব সেনাদের সুরক্ষায় মনোযোগ দিয়েছে। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের রক্ষার জন্য ছেড়ে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব দেশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।’

প্রকাশ্যে সমালোচনা

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকারি প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সংযত হলেও তাদের ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করছেন।
তারা ইঙ্গিত করছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ট্রাম্পকে একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে টেনে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে সৌদি আরবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান প্রিন্স তুরকি আল-ফয়সাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা নেতানিয়াহুর যুদ্ধ। তিনি কোনোভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিজের অবস্থানের পক্ষে সমর্থন দিতে রাজি করিয়েছেন।’

প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ

গত মঙ্গলবার খোদ মার্কিন কংগ্রেসেই ইরানে যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

গোপন বৈঠকে তারা স্বীকার করেছেন, ইরানের একমুখী শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করার পর্যাপ্ত সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

কংগ্রেস সদস্যরা প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন আগে থেকে এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। তাদের এমন প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি হেগসেথ ও কেইন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরাক ও সিরিয়ার বাইরে উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক জায়গায় একমুখী হামলাকারী ড্রোন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই।

ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক বদর মুসা আল-সাইফ এপিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত উপসাগরীয় মিত্রদের ঝুঁকি কম করে দেখেছিল এবং ধারণা করেছিল যে ইরান মূলত ইসরায়েল ও মার্কিন সেনাদেরই লক্ষ্য করবে।’

তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সুরক্ষার জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব যুক্তরাষ্ট্রের অদূরদর্শিতাই প্রমাণ করে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরান ও ভেনেজুয়েলার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এলিয়ট আব্রামস বলেন, ‘মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও তাদের উপসাগরীয় মিত্ররা ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে জানতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশীরা ভীত হলেও প্রকাশ করেনি। কারণ তারা নিশ্চিত ছিল না যে ইরান আসলেই হামলা করবে।’

সৌদি আরবের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‌্যাটনি বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে দুর্বল দেখতে চাইলেও, যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন তারা।’

র‌্যাটনির মতে, এরপর যাই ঘটুক না কেন, তার সবচেয়ে বড় প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোকেই বহন করতে হবে।

এপি জানায়, এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলেও বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার জবাব দেয়নি।

দেশে এসেছে ভারতে পলাতক সাবেক এমপি জোয়াহেরুলের মরদেহ

সম্প্রতি ভারতে পলাতক থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) জোয়াহেরুল ইসলাম। গত রাতে তার মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে আনা হয়েছে।

কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মারা যান জোয়াহেরুল।

বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ট্রাভেল পারমিটের আওতায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সাবেক এই এমপির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অবৈধ পথে ভারতে পালিয়ে যান জোয়াহেরুল। গত সপ্তাহে তিনি অসুস্থ হয়ে কলকাতার ডুমডুম এলাকার ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে তার স্ত্রী ও মেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রী চিকিৎসা ভিসায় কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং অসুস্থতার খবর পেয়ে মেয়ে জাকিয়া ইসলাম কলকাতায় যান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য হন জোয়াহেরুল ইসলাম। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি দুইবার করটিয়ার সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন।

প্রতারণা মামলা: নিউ মেক্সিকো প্রশাসনকে ২৫০০ কোটি ডলার দিতে মেটাকে নির্দেশ

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে শীর্ষ সামাজিকমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটাকে গত মাসে দোষী সাব্যস্ত করে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরিবোর্ড।

গতকাল বুধবার মামলার রায়ে নিউ মেক্সিকো প্রশাসনকে দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার দেওয়ার জন্য মেটাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগসহ ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের করা দাবি নিষ্পত্তি করতে মেটা প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হওয়ার কয়েক মাস পর এ জরিমানার রায় এল।

মামলাটিকে ‘মতপ্রকাশের ওপর কর’ বলে সমালোচনা করেছে মেটা।

এক বিবৃতিতে মেটা জানায়, ‘এ রায়ের ফলে…নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আপিলে আমরা জয়ী হব বলে আত্মবিশ্বাসী।’

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা একটি রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় বিশেষভাবে লক্ষ্যভিত্তিক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য অনিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি লাখো ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

ওই সময় প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ‘দিসইজইওরডিজিটাললাইফ’ নামের ব্যক্তিত্ব যাচাই অ্যাপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা তথ্য পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ব্যবহারকারী অ্যাপটি ইনস্টল করেছিলেন। একইসঙ্গে অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের বন্ধুদের তথ্যও সংগ্রহ করেছিল।

সব মিলিয়ে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য পেয়েছিল অ্যাপটি।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ফেসবুক জানতে পারে, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে ২০১৮ সালের আগে এ তথ্য প্রকাশ করেনি মেটা। ওই সময় তথ্য সংগ্রহকারীদের একজন বিষয়টির খোলাসা করেন। এরপরই বড় ধরনের রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়।

নিউ মেক্সিকোর মামলায় জুরি বোর্ডের সদস্যরা মনে করেন, এ অনিয়ম অঙ্গরাজ্যটির ২১ লাখের বেশি বাসিন্দার সবাইকে প্রভাবিত করেছে।

সেপ্টেম্বরে এক বিবৃতিতে মেটার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এই রায়ের সঙ্গে একমত নই এবং আমাদের কর্মকাণ্ডের রেকর্ড বিকৃত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন অব্যাহত রাখব।’

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তোরেজ বলেন, মামলাটি ছিল ‘ভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে কী করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের করপোরেশনগুলো বিভ্রান্ত করতে পারে কি না এবং এর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর কোনো পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে কি না–এ বিষয়ে। নিউ মেক্সিকো নিজের অবস্থানে অটল থেকেছে।’

সম্প্রতি একের পর এক মামলার মুখোমুখি হয়েছে মেটা।

চলতি বছরের শুরুর দিকে শিশুদের ক্ষতির বিষয়ে করা পৃথক একটি মামলায় মেটার বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের সম্মিলিত জরিমানার রায় পক্ষে আসে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের।

গত মার্চে ওই মামলায় মেটাকে সাড়ে ৩৭ কোটি ডলার দিতে নির্দেশ দেন জুরি বোর্ড। বোর্ড পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, শিকারিদের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করাসহ প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের বিভিন্নভাবে বিপদের মুখে ফেলার জন্য মেটা দায়ী।

আগস্টে মেটাকে পণ্যে পরিবর্তন আনতে এবং ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চিকিৎসা ও প্রতিরোধে অর্থায়নের জন্য অঙ্গরাজ্যটিকে অতিরিক্ত ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দিতে নির্দেশ দেন আরেক বিচারক।

একই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৫২টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসির করা অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৭০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয় মেটা।

অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল, প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করেছে, যাতে তরুণ ব্যবহারকারীরা এতে আসক্ত হয়ে পড়েন; ঝুঁকি সম্পর্কে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

ওই মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে কিশোর-কিশোরীদের ব্যবহৃত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে মেটা। নিষ্পত্তির কিছু শর্ত নির্ভর করছে অন্য বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের পরিবর্তনে সম্মত হয় কি না, তার ওপর।

সেপ্টেম্বরে অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যকে অন্তত ১০ কোটি ডলার দিতে এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য বিধিনিষেধ চালু করতে সম্মত হয় আরেক সামাজিকমাধ্যম টিকটক। এর ফলে প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিচার এড়াতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে, আরও কয়েকটি মামলা নিষ্পত্তি করে টিকটক। এগুলোর মধ্যে ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসে এক তরুণীর এবং কেনটাকির একটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের করা মামলা।

মার্চে শেষ হওয়া আরেকটি যুগান্তকারী মামলায় লস অ্যাঞ্জেলেসের জুরি বোর্ড মেটা ও ইউটিউবকে দায়ী সাব্যস্ত করে। বোর্ডের মতে, এক কিশোরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানই দায়ী ছিল।

ওই কিশোরটিকে ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন জুরি বোর্ড।

ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা খুন: বিচার চেয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়।

পরে বেলা ১১টার দিকে নেতাকর্মীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল শুরু হয় বলে জানান কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা টায়ার ও বাঁশ-কাঠ পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ খুন হন। ৩৫ বছর বয়সী বুলবুল পাশের শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।

বন্দরের এ অংশ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন।

বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেন ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সহসভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ।

তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরে মামলা করেন বুলবুল। মামলায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়। এই মামলার জেরেই সালেহনগর এলাকায় সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বুলবুলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন মাছুম বিল্লাহ।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন হোয়াটস অ্যাপে এক বার্তায় জানান, হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

থানায় এখনো হত্যা মামলা দায়ের হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ২১ শতাংশের বেশি, প্রভাব পড়তে পারে ফ্লাইটের টিকিটে

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ২১ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ভ্রমণ ব্যয় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশীয় রুটে বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের জন্য শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক শূন্য ৩৫৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ রোববার এক আদেশে জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। নতুন দর আজ রাত থেকে কার্যকর হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দেশি ও আন্তর্জাতিক রুটের ভাড়ায় এর প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি আজ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর অধীনে গণশুনানি করেছে।

৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত জেট এ-১ এর প্ল্যাটস দর এবং বিপিসির ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি আগস্ট মাসের জন্য দাম সমন্বয় করেছে।

এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়বে। এর প্রভাব যাত্রী ভাড়ায় পড়া উচিত।

তিনি বলেন, জ্বালানির দাম প্রতি লিটার ২৩০ টাকা হয়েছে। এতে যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়ানো যৌক্তিক।

মোফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব এয়ারলাইনসের ওপরই পড়বে। কারণ তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাবে।

বেসরকারি এয়ারলাইনস কোম্পানি নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান
ডেইলি স্টারকে বলেন, বাড়তি ব্যয় টিকিটের দাম বাড়িয়ে যাত্রীদের ওপর না চাপালে এয়ারলাইনসগুলো সেই ব্যয় পুষিয়ে নিতে পারবে না। এতে লোকসানে পড়তে পারে।

ঢাকাভিত্তিক আরেক বেসরকারি এয়ারলাইনস এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ ডেইলি স্টারকে বলেন, দুই সপ্তাহ পরও জ্বালানির দাম না কমলে আমরা এর প্রভাব মূল্যায়ন করব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করব।
 

আনচেলত্তির ছাঁটাই চান রোমারিও, এন্দ্রিককে কড়া ভাষায় তুলোধোনা

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের অপ্রত্যাশিত বিদায়ের ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটির ফুটবল অঙ্গন। ক্ষোভে ফুঁসছেন অনেক সাবেক খেলোয়াড়, সমর্থক থেকে শুরু করে কিংবদন্তিরাও। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সরব ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী রোমারিও। নরওয়ের কাছে হারের পর জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সহজ সুযোগ নষ্ট করা তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককেও একহাত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।

রোমারিওর মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে বয়স কোনো অজুহাত হতে পারে না। নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাড়ানো বল থেকে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন ১৯ বছর বয়সী এন্দ্রিক। সেই ব্যর্থতাকেই ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন তিনি।

নিজের ইউটিউব অনুষ্ঠান রোমারিও টিভিতে সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘অনেকে বলছে, সে তো এখনো তরুণ। এসবের কোনো মূল্য নেই। তরুণ হোক, অভিজ্ঞ হোক, সুযোগ পেলে গোল করতেই হবে। জাতীয় দলে খেলতে নামলে দায়িত্বও নিতে হবে। এন্দ্রিকের মিস করা সুযোগটা পুরোপুরি তার নিজের ভুল। এমন মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় গোল করতে হয়। আমি তাকে পছন্দ করি, বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে সে ব্রাজিলকে অনেক আনন্দ দেবে। কিন্তু ওই ম্যাচে সে খুবই বাজে খেলেছে।’

শুধু এন্দ্রিক নন, কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতিও ছিল রোমারিওর তীব্র ক্ষোভ। ইতালিয়ান এই কোচের অধীন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি মনে করেন, আনচেলত্তির আর দায়িত্বে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

রোমারিও বলেন, ‘এই ব্যর্থতা ও লজ্জার পর আনচেলত্তির ব্রাজিলের কোচ হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি হলে তার চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলতাম। এরপর চাইলে তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলাই করতেন।’

সমালোচনা থেকে রেহাই পাননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিসের প্রসঙ্গ টেনে রোমারিওর দাবি, দলের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব ভিনিসিয়ুসেরই নেওয়া উচিত ছিল।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ব্রুনো নাকি পেনাল্টি ভালো নেয়, তাই কোচের নির্দেশ ছিল সে নেবে। ঠিক আছে, কিন্তু ভিনিসিয়ুস তো দলের সবচেয়ে বড় তারকা। এমন মুহূর্তে নেতৃত্ব দেখাতে হয়। বলটা নিজের হাতে নিয়ে পেনাল্টি নেওয়া উচিত ছিল।’

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) ভেতরেও আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাকে রেখে দেওয়ার পক্ষে থাকলেও রোমারিওর মতো কিংবদন্তিদের প্রকাশ্য সমালোচনা ইতালিয়ান কোচের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

৪ নায়িকার চোখে ‘অভিনয়ের জাদুকর’ চঞ্চল চৌধুরী

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। একের পর এক প্রশংসিত কাজের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। দুই বাংলাতেই রয়েছে তার জনপ্রিয়তা।

মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই অভিনেতা সিনেমা, নাটক ও ওটিটি—সব মাধ্যমেই সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রদর্শিত হয়েছে। ক্যারিয়ারে একাধিকবার অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

এই গুণী শিল্পীর আজ জন্মদিন। এ দিনে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে চার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জানিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা।

জয়া আহসান বলেন, ‘একজন শিল্পীকে প্রথমে সংবেদনশীল মানুষ হতে হয়। চঞ্চল চৌধুরী তেমনই একজন। ভালো মানুষ। শিল্পীর যত গুণ থাকা দরকার সবই তার মধ্যে আছে। বারবার তিনি প্রমাণ করেছেন সুন্দর অভিনয় দিয়ে। অভিনয়ের জাদুকর চঞ্চল চৌধুরী।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে বহু বছর ধরে বিনোদন দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বড় মাপের শিল্পী। তাকে কিছু দেওয়ার দায় আমাদেরও আছে।’

চঞ্চল চৌধুরীর ব্যক্তিত্বের আরও কিছু দিক তুলে ধরে জয়া বলেন, ‘আমি ফেসবুকে লিখেছি—স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান, দুরন্ত ড্রাইভার ও অভিনেতা। এত ভালো গাড়ি ড্রাইভ করতে পারেন, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। মজা করে বলি, তিনি যদি অভিনয় না করে গাড়ি ড্রাইভ করেন আর কমেডি করেন, তাহলেও সারাটা জীবন সুন্দরভাবে চলতে পারবেন। সহশিল্পী হিসেবে অসাধারণ।’

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘মানুষ হিসেবে চঞ্চল চৌধুরী ভীষণ আন্তরিক। ভীষণ অতিথিপরায়ণ। ভীষণ ভালো মানুষ। তার বাসায় গিয়েছি, তার স্ত্রীও খুব আন্তরিক।’

তিনি বলেন, ‘দুজনে অনেক নাটক করেছি একসঙ্গে। অনেক স্মৃতি আছে। তবে সিনেমা একটাই—‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সিনেমাটিকে ঘিরে আমাদের অনেক স্মৃতি রয়েছে। আমরা একসঙ্গে রিহার্সেল করেছি। একজন সহশিল্পী হিসেবে তিনি দারুণ।’

চঞ্চলের বহুমাত্রিক প্রতিভার প্রসঙ্গ তুলে বাঁধন বলেন, ‘তার সিনেমাগুলো দর্শকনন্দিত হয়েছে। খুব বেছে বেছে সিনেমা করেন। অভিনয়শিল্পীর বাইরে একজন গায়কও তিনি। ভালো গান করতে পারেন। ভালো ছবি আঁকতে পারেন। আজ প্রিয় সহশিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ দিনে তার জন্য শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।’

জাকিয়া বারী মম বলেন, ‘চঞ্চল চৌধুরী একজন শিল্পী। পরিপূর্ণ শিল্পী। যেকোনো চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তার মধ্যে আছে। অভিনয়ের সবগুলো মাধ্যমেই তিনি সফল।’

তিনি বলেন, ‘তার ক্যারিয়ারে ভালো ভালো কিছু সিনেমা যুক্ত হয়েছে, যা দারুণভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমরা একসঙ্গে নাটকে অভিনয় করেছি। সহশিল্পী হিসেবে তিনি অতুলনীয়। মানুষ হিসেবেও খুব ভালো। একজন অসাধারণ অভিনেতা তো বটেই।’

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রসঙ্গে মম বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমায় আমরা অভিনয় করেছি। যে সিনেমার সাফল্যের ধারাবাহিকতা এখনো আছে। অভিনয়ের জাদুকর চঞ্চল চৌধুরী। শুভ জন্মদিন ভাই। কেবলই শুভকামনা।’

বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘প্রথমেই বলতে হয়, চঞ্চল দা খুব ভালো মানুষ। পুরোপুরি একজন শিল্পী। নাটক, সিনেমা, ওটিটি—সবখানেই তিনি সফল।’

তিনি বলেন, ‘দাদার সঙ্গে বেশ কয়েকটি নাটক করেছি। যখন অভিনয় করেন, শতভাগ দরদ ও ভালোবাসা দিয়ে করেন। অভিনয় করার সময় প্রচণ্ড মনোযোগী থাকেন। সহশিল্পীর প্রতি তার সম্মান রয়েছে। যে কারণে তার কাজগুলোও আলাদা হয়ে থাকে।’

মিমের ভাষায়, ‘একজন সহশিল্পী হিসেবে তিনি খুব ইতিবাচক। দর্শকরাও তাকে ভালোবাসেন। মানুষ হিসেবে তাকে মনে হয়েছে সবার আপন হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে। বড় পর্দায় আমাদের একসঙ্গে কাজ করা হয়নি। কিন্তু তার সিনেমা দেখেছি। সবগুলো সিনেমা করেই আলোচনায় এসেছেন।’

জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এভাবেই আরও বহু বছর অভিনয় করে যান। জন্মদিনের শুভেচ্ছা, দাদা।’

খামেনি হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর যা জানা যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও আলোচনা নির্ধারিত ছিল। সম্ভবত তিনি মনে করেছিলেন, কোনো হত্যাচেষ্টা হলেও রাতে হতে পারে। তাই গত শনিবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি তেহরানে তার নিজস্ব কমপ্লেক্সেই ছিলেন। সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ সকাল।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালে সেই কমপ্লেক্সে একটি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় খামেনি, তার স্ত্রী এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক সপ্তাহে ইরানে হাজার হাজার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর মধ্যে ধীরে ধীরে কিছু তথ্য সামনে এসেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও মোসাদ অভিযানটি পরিকল্পনা করেছিল। এই ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কতটা গভীরভাবে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল ইসরায়েলের একটি হামলা। তবে এটি সম্ভব হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ গোয়েন্দা নজরদারিতে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হামলার দিন ভোরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি) খামেনির অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ইসরায়েলকে সরবরাহ করেছিল।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রায় সব সড়ক নজরদারি ক্যামেরা কয়েক বছর আগেই ইসরায়েল হ্যাক করেছিল। সেগুলোর এনক্রিপ্টেড ভিডিও ফিড ইসরায়েলের সার্ভারে পাঠানো হতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রে পাস্তুর স্ট্রিটে অবস্থিত সর্বোচ্চ নেতার কমপ্লেক্সের দিকে একটি ক্যামেরার বিশেষ দৃষ্টিকোণ ছিল। এর মাধ্যমে নিরাপত্তারক্ষীদের পরিচয়, তাদের দৈনন্দিন রুটিন এবং চলাচল শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।

এক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আমরা তেহরানকে জেরুজালেমের মতোই ভালোভাবে চিনি।’

খামেনির সঙ্গে ইরানের কতজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, তার সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।

ইরানি গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, সেনাবাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি, বিপ্লবী গার্ডসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পুলিশ গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধানসহ আরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

এএফপি জানায়, ইসরায়েলি গণমাধ্যমের কিছু অনিশ্চিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে খামেনির মরদেহের একটি ছবি পাঠানো হয়েছিল।

কলামিস্ট বেন ক্যাসপিট লিখেছেন, ‘তার হত্যার বিস্তারিত প্রকাশ পেলে সবাই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবে।’

ইসরায়েলি পত্রিকা মারিভে ক্যাসপিট লিখেছেন, ‘ইরান পুরোপুরি অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা পড়েছে। এই প্রাথমিক হামলাটি আগামী বহু বছর ধরে বিশ্বের সামরিক কলেজগুলোতে পড়ানো হবে।’

সামরিক বিশ্লেষক ইয়োসি ইয়েহোশুয়া দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথে লিখেছেন, খামেনির হত্যাকাণ্ড ‘মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধের ভারসাম্য বদলে দিয়েছে এবং ইসরায়েলকে এমন এক সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে, যা তারা আগে কখনো পায়নি।’

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো রাষ্ট্রনেতাকে হত্যার একটি বিপজ্জনক নজিরও তৈরি করতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের প্রাণঘাতী হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। তবে এরপর থেকে তাদের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ আবার নিজেদের সুনাম বাড়িয়েছে।

আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈরুতে হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়েহ, যিনি তেহরানে নিহত হন।

ইসরায়েল হিজবুল্লাহর সদস্যদের ওপর এক বিস্ময়কর হামলাও চালায়। সেখানে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর ব্যবহৃত কক্ষে ছোট বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে দূর থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

এএফপি জানায়, এ ধরনের অভিযানে ইসরায়েলের সক্ষমতা স্পষ্টভাবেই বাড়ছে। খামেনিকে হত্যা করে তারা ‘সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এক ধরনের শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

মোসাদ নিয়ে একটি বেস্টসেলার বইয়ের লেখক ইসরায়েলি অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোনেন বার্গম্যান বলেছেন, খামেনি গোপনে বসবাস করতেন না।

তিনি সামাজিক মাধ্যমে রসিকতা করে লিখেছেন, ‘মনে হয় যেন তার দরজায় একটি সাইনবোর্ড টাঙানো ছিল—এখানে সুখী খামেনি পরিবার বাস করে।’

তবে অন্যরা মনে করেন, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি হয়তো মৃত্যুকে শহীদত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলেন। অথবা তিনি বিশ্বাস করতেন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতাকে হত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন তাকে সুরক্ষা দেবে।

একাধিক সংঘাত নিয়ে কাজ করা ফরাসি সেনাবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে এএফপিকে বলেছেন, খামেনির মৃত্যুর পূর্ণ প্রভাব এখনো বোঝা বাকি।

ওই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘গোপন অভিযানের বিস্তারিত স্বাভাবিকভাবেই জানা খুব কঠিন এবং এটি তথ্যযুদ্ধের একটি বড় ক্ষেত্র।’

তিনি বলেন, ‘এই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে যে এটি ছিল একটি পরিষ্কার, নিখুঁত ও ত্রুটিহীন অভিযান। আর এটি এক আঘাতেই একটি শাসনব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু অন্য পক্ষ তাসের খেলা খেলছে না। এটি লাস ভেগাস নয়। তারা দাবা খেলছে—এবং একটি বড় ঘুঁটি হারালেই খেলা শেষ হয়ে যায় না।’

সাতক্ষীরায় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আগুন

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার রাইসমিল মোড়ে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম লুৎফর কবির দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ওসি বলেন, ‘আগুনে কয়েকটি চেয়ার পুড়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি খালি পেট্রোলের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ।’ 

নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মহব্বত আলী সরদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আমাদের কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। এতে কার্যালয়ে থাকা আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে।’

লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি কবির।

শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন মির্জা ফখরুল

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

জুমার নামাজের পর ফখরুল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে যাবেন। সেখানে তিনি তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন, সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করবেন এবং মোনাজাত করবেন।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ফখরুলের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের আশপাশে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে।

গতকাল সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ ৮৮ ভোট পান।