28 C
Dhaka
Home Blog

‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ নিরাপত্তার ঢাল নাকি নজরদারির নতুন দেয়াল

ফেসবুকে যা লিখছেন বা লিখতে চাইছেন, তা কি ‘অপরাধ’ হয়ে যেতে পারে? সাধারণ একটি ‘মিম’, অসাধারণ একটি রাজনৈতিক ‘বাহাস’, স্রেফ একটি ‘হাহা’ রিয়্যাক্ট, কিংবা নিষ্পাপ কোনো ‘শেয়ার’ কি দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে?

বাংলাদেশের সাইবার পরিসরে এই প্রশ্নগুলো নতুন নয়। তবে নতুন করে আবার অনেকের মনে ঘুরছে। কারণ, দেশে নতুন সাইবার আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। কেন এই নতুন আইন? কারণ ডিজিটাল দুনিয়ায় অপরাধ সত্যিই বেড়েছে। হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় চুরি, ফেক অ্যাকাউন্ট—এসব ঠেকাতে কার্যকর আইন দরকার। এ নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই।

তবু উদ্বেগটা অন্য জায়গায়। আগের অভিজ্ঞতা আমাদের সতর্ক করে। চুন খেয়ে মুখ পুড়েছে বলেই এখন দই দেখেও অনেকে আঁতকে উঠছেন। কিন্তু আসল বিতর্ক ভিন্ন।

আইনে যদি ‘রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন’ বা ‘অবমাননা’র মতো অস্পষ্ট শব্দ থাকে, তাহলে সমস্যা শুরু হয়। কারণ তখন সমালোচনা, ব্যঙ্গাত্মক মিম, কার্টুন, এমনকি সাধারণ ফেসবুক পোস্টও ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। মানুষ তাই জানতে চাইছে—এই আইন কি অপরাধীকে ধরবে, নাকি সাধারণ মানুষকেও ভয় পাইয়ে দেবে?

আইনের শক্তি শুধু তার শাস্তিতে নয়, প্রয়োগেও। একই আইন একজন হ্যাকারকে থামাতে পারে, আবার ভুলভাবে ব্যবহার হলে একজন সমালোচকের কণ্ঠও থামিয়ে দিতে পারে।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে অর্জুনের প্রশ্ন ছিল, কোন অস্ত্র কখন ব্যবহার করা উচিত? ডিজিটাল যুগে রাষ্ট্রের সামনেও একই প্রশ্ন। প্রযুক্তি শক্তিশালী, আইনও তাই। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেটা কার বিরুদ্ধে, কীভাবে এবং কতটা দায়িত্ব নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডিজিটাল সভ্যতা আমাদের হাতে এমন একটি আয়না তুলে দিয়েছে, যেখানে আমরা শুধু নিজেদের মুখই দেখি না; দেখি সমাজের অসংখ্য প্রতিচ্ছবি, মতামত, ভয়, আকাঙ্ক্ষা ও বিরোধের ছায়াও। কিন্তু এই আয়নার একটি অদৃশ্য দিকও আছে—যেখানে কেউ আমাদের দেখছে, তথ্য সংগ্রহ করছে এবং আমাদের ডিজিটাল পদচিহ্নের মানচিত্র তৈরি করছে। তাই আজকের পৃথিবীতে তথ্য একই সঙ্গে আলো ও ছায়া; মুক্তির পথ ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার। সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে বিতর্ক আসলে এই আলো-ছায়ার সীমারেখা নির্ধারণের বিতর্ক—কোথায় নিরাপত্তার প্রাচীর প্রয়োজন, আর কোথায় সেই প্রাচীর নাগরিক স্বাধীনতার আকাশ ঢেকে দিতে পারে।

ডিজিটাল যুগে তথ্য এখন আর কেবল বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়; তথ্য নিজেই একটি শক্তি। যে তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছায়, যে তথ্য অদৃশ্য হয়ে যায়, কিংবা যে তথ্যকে ‘সত্য’ বা ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তার ওপর নির্ভর করে সমাজের চিন্তা, রাজনীতি ও জনমত অনেকাংশে গড়ে ওঠে। ফলে সাইবার আইন নিয়ে বিতর্ক আসলে শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়; এটি ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক স্বাধীনতা ও ডিজিটাল সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আলোচনা।

সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্যোগের মূল যুক্তি হলো ডিজিটাল পরিসরে গুজব, অপতথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি-ভিডিও, মানহানিকর কনটেন্ট এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রয়োজন। রাষ্ট্রের এই উদ্বেগকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ, আজ একটি ভুয়া তথ্য শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি করে না; কখনো তা সামাজিক উত্তেজনা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত, জনআস্থার সংকট কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটি হলো, ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে আমরা এমন কোনো কাঠামো তৈরি করছি কি না, যেখানে নিরাপত্তার দেয়াল ধীরে ধীরে নজরদারির দেয়ালে পরিণত হয়?

অনলাইন হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইলিং, পর্নোগ্রাফি কিংবা সাইবার জালিয়াতি থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে একটি কার্যকর ‘নিরাপত্তার ঢাল’ অত্যন্ত জরুরি হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে আইনটির রাজনৈতিক চরিত্রই বারবার সামনে চলে আসে। যখনই কোনো আইন ভিন্নমতাবলম্বী বা সমালোচকদের দমনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তখনই এর মূল উপযোগিতা নষ্ট হয়ে যায়। আইন প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় সাধারণ মানুষের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ধারাগুলো তৈরি করলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। আইনের তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যখনই গ্রেপ্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়, তখন তা মানুষের সুরক্ষার বদলে একটি ভয়ের দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।

যোগাযোগ অধ্যয়নের দৃষ্টিতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন একটি নতুন জনপরিসর। এখানে মানুষ মত প্রকাশ করে, সংবাদ বিনিময় করে, রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নেয় এবং সামাজিক আন্দোলনের অংশ হয়। কিন্তু এই জনপরিসর সম্পূর্ণ স্বাধীন নয়। এখানে রাষ্ট্র, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অ্যালগরিদম ও ব্যবহারকারীর আচরণ—সবকিছু মিলে তথ্য প্রবাহের একটি জটিল ব্যবস্থা তৈরি করে। এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, তথ্যের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? রাষ্ট্র, নাকি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান? নাকি নাগরিক সমাজ?

বর্তমানে মেটা, ইউটিউব, এক্সসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব কনটেন্ট মডারেশন নীতির মাধ্যমে নির্ধারণ করে কোন তথ্য থাকবে, কোনটি সীমিত হবে এবং কোনটি অপসারণ করা হবে। একদিকে এই ব্যবস্থা ঘৃণামূলক বক্তব্য, প্রতারণা, সহিংসতার উসকানি কিংবা ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে প্রশ্ন থেকে যায়, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? কে নির্ধারণ করবে কোন বক্তব্য ক্ষতিকর আর কোনটি বৈধ মত প্রকাশ?

রাষ্ট্র যখন এসব প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার উদ্যোগ নেয়, তখন বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ, এখানে দুটি শক্তিশালী পক্ষ মুখোমুখি দাঁড়ায়—একদিকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার যুক্তি, অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম নীতিমালা। মাঝখানে থাকে সাধারণ নাগরিক, যার মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অধিকার সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়।

এই জায়গাতেই ‘নজরদারি সমাজ’-এর ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আধুনিক নজরদারি আর শুধু ক্যামেরার চোখে সীমাবদ্ধ নেই; এখন তা ডেটা, অ্যালগরিদম ও ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নাগরিক কী দেখছেন, কী লিখছেন, কী শেয়ার করছেন—এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি অদৃশ্য পর্যবেক্ষণ কাঠামো তৈরি হয়। প্রযুক্তি একদিকে যেমন নিরাপত্তার হাতিয়ার, অন্যদিকে এটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমও হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশে সাইবার আইন নিয়ে বিতর্কের মূল জায়গাটি এখানেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ থেকে সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩, এরপর সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং বর্তমান খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইন—প্রতিটি পর্যায়ে আইনের নাম পরিবর্তন হয়েছে, কিছু ধারা বাতিল হয়েছে, কিছু সংশোধিত হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিক, আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের একটি অংশের প্রশ্ন—আইনের ভাষা বদলালেও নিয়ন্ত্রণের দর্শনে কতটা পরিবর্তন এসেছে?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সময় থেকেই ৮, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ ধারার মতো কিছু বিধান নিয়ে উদ্বেগ ছিল। অভিযোগ ছিল, এসব ধারার অস্পষ্ট ভাষা স্বাধীন সাংবাদিকতা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সরকারের সমালোচনামূলক বক্তব্যের ক্ষেত্রে ভয় তৈরি করেছে। কারণ, ডিজিটাল আইনের সবচেয়ে বড় প্রভাব অনেক সময় আদালতের রায় নয়; বরং মামলা, গ্রেপ্তার, ডিভাইস জব্দ ও সামাজিক চাপের মধ্য দিয়েই তৈরি হয়।

নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারার বিষয় নতুন আইনের ২৩ ধারায় এসেছে। অন্যদিকে ২৫ ধারায় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং ও অশ্লীল কনটেন্ট প্রকাশের মতো অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল পরিসরে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও নারীর সুরক্ষার জন্য এসব বিধান প্রয়োজনীয়। কিন্তু একইসঙ্গে ‘মানহানিকর’, ‘আক্রমণাত্মক’ বা ‘ভীতি প্রদর্শক’ শব্দগুলোর ব্যাখ্যা স্পষ্ট না হলে আইন অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত ২৬ ধারা। আগের আইনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সংক্রান্ত যে বিতর্ক ছিল, নতুন আইনে তার পরিবর্তে ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশের বিষয়টি রাখা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কারণ, সমাজে সমালোচনা, ব্যঙ্গ, মতামত ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের মধ্যে সীমারেখা সবসময় সহজে নির্ধারণ করা যায় না।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ধর্ম, রাষ্ট্র, সরকার কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের নিয়ে সমালোচনা থাকবে। সেই সমালোচনা কখন বিদ্বেষে পরিণত হবে আর কখন তা নাগরিক মত প্রকাশের অংশ থাকবে, এই পার্থক্য নির্ধারণের দায়িত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

সরকার মিথ্যা মামলা প্রতিরোধের জন্য আইনে বিধানের কথা বলেছে এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, একটি মামলা নিজেই অনেক সময় শাস্তিতে পরিণত হয়। বিচার শেষ হওয়ার আগেই একজন ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত জীবন ও মানসিক স্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শুধু অপরাধের পর প্রতিকার নয়; মামলা গ্রহণের আগেই যাচাই, স্বাধীন তদন্ত, কনটেন্ট অপসারণে স্বচ্ছতা ও আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সাইবার সুরক্ষা আইনকে সফল করতে হলে আমাদের মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল নিরাপত্তা কোনো তালাবদ্ধ ঘর নয়, বরং খোলা জানালা। জানালা বন্ধ করে ঝড় ঠেকানো যায়, কিন্তু আলো-বাতাসও তখন প্রবেশ করতে পারে না। তাই প্রয়োজন এমন একটি আইন, যা ক্ষতিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ঢাল হবে, কিন্তু নাগরিক কণ্ঠের ওপর প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে না।

মহাভারতের অর্জুন যখন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন কৃষ্ণ তাকে শুধু অস্ত্র চালানোর শিক্ষা দেননি; দিয়েছিলেন বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিক্ষা। সাইবার আইন প্রণয়নেও রাষ্ট্রের প্রয়োজন সেই ‘বিবেকের দৃষ্টি’, যাতে শত্রু ও সমালোচকের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়।

আর গ্রিক পুরাণের ইকারুসের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতার ডানা যত শক্তিশালীই হোক, নিয়ন্ত্রণের সীমা ভুলে গেলে পতন অনিবার্য। ডিজিটাল ক্ষমতাও তেমন। নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ একসময় সেই ব্যবস্থারই আস্থা নষ্ট করতে পারে, যাকে রক্ষা করার জন্য আইন তৈরি করা হয়। তাই ভবিষ্যতের সাইবার সুরক্ষা আইনকে শুধু অপরাধ দমনের হাতিয়ার নয়, বরং একটি আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল সমাজ নির্মাণের সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখতে হবে।

 

রাজীব নন্দী: সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; পিএইচডি রিসার্চ স্কলার, স্কুল অব জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত। [email protected]

শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া ষড়যন্ত্রমূলক: রিজভী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনে নয়াদিল্লিতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা ভারতের নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পনাতেই হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

আজ এক অনুষ্ঠানে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন। এই দেশে গণতন্ত্র, অবাধ রাজনীতি এবং জনগণের কথা বলার সুযোগের জন্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে যে গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব হয়েছে, ঠিক সেই দিনেই দিল্লিতে এই প্রোগ্রামটি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়। অর্থাৎ মহা বিপ্লবের শহীদদের অপমান করার জন্যই শেখ হাসিনাকে এই কথা বলার সুযোগটা করে দেওয়া হয়েছে। আমি এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা শুনি শেখ হাসিনা দিল্লিতে প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখবেন। গতকাল তিনি অডিও বক্তব্য রেখেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, ভারতের নীতিনির্ধারকদের অ্যারেঞ্জমেন্টেই এই কাজটা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালানো একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং নানা খুন ও দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে ২০১৩ সালে বন্দী প্রত্যর্পণ যে চুক্তি বা এক্সট্রাডিশন চুক্তি হয়েছে, তার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া যায়। এ জন্য সরকার চিঠিও দিয়েছে, কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। অথচ পলাতক আসামিকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আইন রয়েছে এবং দুই দেশই যেটাতে সই করেছে।’

তিনি বলেন, ‘তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে উল্টো তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশকে বন্ধুরাষ্ট্র বলি। আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পাশাপাশি অবস্থান করব। সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলো এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায় এটা করা হয়েছে; এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও মিউচুয়াল রেসপেক্ট)—এটি সেখানে সম্পূর্ণভাবে একটি হস্তক্ষেপ। আমাদের ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্সেও এটা একধরনের হস্তক্ষেপ।’

গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যে গণবিপ্লবে দেড় হাজারেরও বেশি তরুণ-কিশোর শিক্ষার্থীর জীবন চলে গেল, বাংলাদেশের রাজপথে তাদের রক্ত ঝরল, এক ভয়ংকর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হলেন।’

তিনি বলেন, ‘ভয়ংকর রক্তপিপাসু ও স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে রাজনীতি করার ও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যারা নিজেদের পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে। যেদিন তার পতন হয়েছে, যেদিন ভয়ংকর রক্ত ঝরানো পথ মাড়িয়ে বিপ্লব সাধিত হয়েছে, ঠিক সেদিনই তাকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া ষড়যন্ত্রমূলক।’

বৃষ্টি-বন্যায় কমেছে চাহিদা, আনারস নিয়ে হতাশ মধুপুরের ‍কৃষক

ভোরের আলো ফোটার আগেই টাঙ্গাইলের মধুপুরের জলছত্র বাজারে একে একে এসে থামে সারি সারি সাইকেল ও ভ্যান। প্রতিটি সাইকেলের পেছনে স্তূপ করে সাজানো শত শত আনারস। হলুদ-সবুজ রঙের ফলগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন তার সবচেয়ে মিষ্টি উপহারগুলো এখানে এনে সাজিয়ে রেখেছে। কিন্তু সেই রঙিন দৃশ্যের আড়ালে আছে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস, অনিশ্চয়তা ও লোকসানের গল্প।

একসময় যে আনারস বিক্রি করে কৃষকের মুখে হাসি ফুটত, এবার সেই আনারসই যেন তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃত মধুপুরের আনারস এখন মৌসুমে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে মাঝারি আকারের একটি আনারসের দাম মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা। বড় আকারের আনারস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।

চাষিরা জানান, চারা, সার, সেচ, শ্রমিক ও রক্ষণাবেক্ষণসহ একটি আনারস উৎপাদন করতে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ টাকা খরচ হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষকেরা।

বাজারে দাঁড়িয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ইসহাক আলী। তিনি বছরের পর বছর ধরে তিনি আনারস চাষ করছেন। কিন্তু এমন দুরবস্থা আগে খুব একটা দেখেননি।

‘এভাবে চলতে থাকলে আনারস চাষ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না,’ এভাবেই বললেন ইসহাক আলী।

এবারের এই দরপতনের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। টানা বর্ষণ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটায় বড় শহরগুলোর বাজারে ফলের চাহিদা কমে গেছে। যেসব শহরে মধুপুরের অধিকাংশ আনারস যায়, সেখানে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে, কমেছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও।

মধুপুরের সবচেয়ে বড় আনারসের বাজার জলছত্র বাজারের ব্যবসায়ী চান মিয়া বহু বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এবারের বাজার তাকে বিস্মিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর বড় আনারস ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। এবার একই আকারের আনারস ৩০ থেকে ৩৫ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারছি না। কেন এমন হলো, আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না। বন্যার প্রভাব হতে পারে, আবার মানুষের হাতে টাকাও হয়তো কম।’

বৃষ্টির আরেকটি প্রভাব পড়েছে ফলনেও। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে একই সময়ে বিপুল পরিমাণ আনারস পেকে গেছে। ফলে একসঙ্গে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও দ্রুত কমেছে।

কৃষক তারিকুল ইসলামের অভিজ্ঞতাও একই। তার মতে, বাজারে সরবরাহ সামান্য কমলেই আনারসের দাম আবার বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে উৎপাদন বৃদ্ধিও। মোটর বাজারের ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন,গত কয়েক বছরে ভালো লাভের আশায় অনেক কৃষক কলা চাষ ছেড়ে আনারস চাষে ঝুঁকেছেন। ফলে উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি চাহিদা। অতিরিক্ত সরবরাহের চাপ এখন উল্টো কৃষকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন ফলের ভরা মৌসুম, তাই দাম কম।’

টাঙ্গাইলের মধুপুর কেবল একটি উপজেলা নয়, বাংলাদেশের আনারস উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র।

টাঙ্গাইলের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নার্গিস আক্তারের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে টাঙ্গাইল জুড়ে ৭ হাজার ৭৭৩ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু মধুপুরেই ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে এবং এর থেকে ২ দশমিক ৮৭ লাখ টন ফলন হয়েছে।

২০২৫-২৬ সালে চাষের জমি সামান্য বেড়ে ৭ হাজার ৭৯৪ হেক্টর হয়েছে এবং উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৮ লাখ টন।

চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমের জমি ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

কৃষকদের দাবি, শুধু উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিলেই হবে না। প্রয়োজন আনারস সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা, কোল্ড স্টোরেজ, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং এমন একটি বাজারব্যবস্থা, যেখানে কৃষক ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন। তাহলেই মৌসুমভিত্তিক দামের বড় ওঠানামা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়েও বোলিং বেছে নিল বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস ভাগ্য পক্ষে এলো বাংলাদেশের। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সিরিজ হার এড়ানোর ম্যাচেও বেছে নিলেন বোলিং। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে বাংলাদেশ পাচ্ছে না বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে, তার জায়গায় এসেছেন শরিফুল ইসলাম।

হারারেতে প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে আটকে দিয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি সফরকারীরা। ব্যটিং ব্যর্থতায় হারে ২৫ রানে।

প্রথম ওয়ানডেতে ৬ ওভারে ১৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন মোস্তাফিজ। মিরাজ শেষ দিকে নিজেই বল করায় তাকে আর আনেননি আক্রমণে। সেই সময় টেল এন্ডাররা বেশ কিছু রান যোগ করে নেন, যা ম্যাচের ফল নির্ধারণে প্রভাবক হয়েছে। এবার শরিফুলকে খেলানো হচ্ছে তার জায়গায়। 

এই ম্যাচ দিয়ে ফেরার কথা ছিলো কিপার ব্যাটার লিটন দাসের। তবে বিসিবি আগের রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, চোট কাটিয়ে ফেরার লড়াই শেষ না হওয়ায় পুরো সিরিজেই নেই লিটন।

জিম্বাবুয়ে একাদশ:  বেন কারান, ব্রায়ান বেনেট, ইনোসেন্ট কায়া, ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদান্দে (উইকেটরক্ষক), ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামহুরি, রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক) ও ব্লেসিং মুজারাবানি।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, মেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

ঈদের ছুটিতে দেখুন ওটিটির ৭ আয়োজন

ঈদের ছুটি মানেই একটু আরাম, একটু অলস দুপুর, রাতজাগা আড্ডা ও প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ দেখা। কেউ গ্রামের বাড়িতে, কেউ শহরে—এই ব্যস্ততার মাঝেও এখন অনেকের বিনোদনের বড় ভরসা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম।

এবারের ঈদেও বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এসেছে নতুন সিনেমা, ওয়েব ফিল্ম ও সিরিজের বড় আয়োজন। প্রেক্ষাগৃহে আলোচনায় থাকা কয়েকটি সিনেমাও এখন দেখা যাচ্ছে ঘরে বসেই। প্রেম, রহস্য, থ্রিলার, পারিবারিক আবেগ কিংবা অ্যাকশন, সব ধরনের দর্শকের জন্যই আছে কিছু না কিছু। ঈদের ছুটিতে দেখে নিতে পারেন এমন সাত আয়োজন।

ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা বনলতা এক্সপ্রেস এখন দেখা যাচ্ছে হইচইয়ে। তানিম নুর পরিচালিত এই সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস কিছুক্ষণ অবলম্বনে। একটি ট্রেনযাত্রার মধ্যে নানা মানুষের সম্পর্ক, আবেগ ও রহস্য উঠে এসেছে গল্পে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, সাবিলা নূর, আজমেরী হক বাঁধনসহ আরও অনেকে।

প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের প্রশংসা কুড়ানোর পর এবার চরকিতে মুক্তি পেয়েছে দম। রেদওয়ান রনি পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরি। গল্প, অভিনয় ও টানটান পরিবেশের জন্য সিনেমাটি দর্শকদের নজর কেড়েছে।

ঈদের ছুটিতে উৎসবে দেখা যাবে শাকিব খান অভিনীত প্রিন্স। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। এতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিন ও কলকাতার অভিনেত্রী জৌর্তিময়ী কুণ্ডু।

অ্যাকশন ও রহস্য পছন্দ হলে দেখতে পারেন রাক্ষস। সিনেমাটি এখন দেখা যাচ্ছে উৎসবে। মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ ও কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জি।

ঈদ উপলক্ষে আইস্ক্রিনে এসেছে ওয়েব ফিল্ম সারার সংসার। আকা রেজা গালিব পরিচালিত এই কাজটি নির্মিত হয়েছে কাজী আনোয়ার হোসেনের মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস আর্তনাদের ছায়া অবলম্বনে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন সাদিয়া ইসলাম মৌ।

রোমান্টিক গল্প দেখতে চাইলে চোখ রাখতে পারেন বঙ্গতে ওয়েব ফিল্ম তাজমহল দেখতে। ওয়াহিদ আনাম পরিচালিত এই ফিল্মে অভিনয় করেছেন ফাইজুল ইয়ামিন ও কলকাতার অভিনেত্রী শ্রীজা দত্ত। দুই বাংলার দুই মানুষের আবেগঘন প্রেমের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে এটি।

ঈদের চতুর্থ দিন থেকে বঙ্গতে দেখা যাবে ওয়েব ফিল্ম মুখোশ মুখো। এটি পরিচালনা করেছেন সম্রাট। অভিনয়ে রয়েছেন খাইরুল বাশার, তর্ষা, নাসিরউদ্দিন খান, নাদিয়া হক।

ঈদের ছুটিতে পরিবার, বন্ধু বা প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এই ওটিটি আয়োজনগুলো। তাই কোরবানির মাংস, আড্ডা ও ঘোরাঘুরির ফাঁকে সময় বের করে দেখতে পারেন পছন্দের কোনো সিনেমা বা ওয়েব ফিল্ম।

ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করলেই যুদ্ধের অবসান: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আজ শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেছেন। 

ওই পোস্টের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ট্রাম্প বলেছেন যে, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তেহরান যদি শর্ত মেনে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসে, তাহলে ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন মহান ও গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচনের পর আমরা এবং আমাদের অনেক অসাধারণ ও অত্যন্ত সাহসী মিত্র-অংশীদাররা মিলে ইরানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে অক্লান্ত পরিশ্রম করব।’

পোস্টের শেষে ট্রাম্প নতুন একটি স্লোগান ব্যবহার করেন— ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’। 

তার রাজনৈতিক স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর অনুকরণে তৈরি নতুন স্লোগানটি।

রূপগঞ্জে ক্রেনের তার ছিঁড়ে ২ শ্রমিক নিহত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ক্রেনের তার ছিঁড়ে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর একটি ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সিরাজগঞ্জের তারাশ থানার নৌখাদা এলাকার আল-আমিন (৩২) ও একই থানার আল-আমিন মিয়া (২৬)।

রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদেকুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ট্রাইকম গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঘাটে মালামাল আনলোডের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এসআই সাদেকুর বলেন, ঘাটটিতে সন্ধ্যায় ক্রেন দিয়ে গম আনলোড করা হচ্ছিল। এ সময় ক্রেনের নিচে তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে ক্রেনের তার ছিঁড়ে গ্রাফ নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক শ্রমিক নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরেকজন।

ঘাটের সরদার মোহাম্মদ ওমর ফারুক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ক্রেনের গ্রাফ পড়ে দুজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বর্তমানে আমরা নিহতদের নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছি। তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

এ ঘটনায় তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এসআই সাদেকুর। 

প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষ: নতুন ধারার ৬ নেতাকর্মীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষ এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রায় তিন ঘণ্টার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর নতুন ধারা বাংলাদেশের ছয় নেতাকর্মীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে পুলিশি পাহারায় তাদের বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে একটি পুলিশ ভ্যানে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন, নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নূরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মাইনুল ইসলাম খান পুলক জানান, শান্তা ফারজানাসহ ছয়জন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ একটি কর্মসূচি পালন করছিল। গত ১ আগস্ট শান্তা ফারজানার ওপর কথিত হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে নতুন ধারার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসও ছিলেন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এরপর রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য ও সমর্থকেরা ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে জড়ো হন। তারা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে শান্তা ফারজানাসহ নতুন ধারার কয়েকজন নেতাকে জরুরি বিভাগের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তাদের বের করে আনার সময় আবারও হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসময় দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ‘এ ঘটনায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ হস্তক্ষেপের আগে এক পক্ষ হাসপাতালের বাইরে এবং অন্য পক্ষ জরুরি বিভাগের ভেতরে অবস্থান করছিল।’

সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই সংগঠন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।

রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাদের অভিযোগ, কর্মসূচিতে শান্তা ফারজানা জুলাই যোদ্ধা ও বিএনপিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ জানালে নতুন ধারার কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন বলে তারা দাবি করেন।

তবে নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী অভিযোগ করেন, আয়াস একদল লোক নিয়ে তাদের কর্মসূচিতে এসে হামলা চালান। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

এদিকে মঞ্চ-২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকীর নেতৃত্বে একদল লোক ঢামেক হাসপাতালের বাইরে শান্তা ফারজানার গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দেন।

ফাহিম ফারুকীর অভিযোগ, শান্তা ফারজানা জুলাই যোদ্ধা ও বিএনপিকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন এবং তার সমর্থকেরা প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তাকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা হাসপাতাল ছাড়ব না।’

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

টিকে আছে দুটি কারখানা, পেশা বদলেছে শতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ডুবি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ যখন ঘুমে আচ্ছন্ন—সূর্য ওঠার অনেক আগে কাজের প্রস্তুতি শুরু করেন ময়না বৈদ্য ও তার স্বামী অধীর বৈরাগী।

এখনো সনাতনী পদ্ধতিতে খাবার লবণ তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এই দম্পতি। স্থানীয়ভাবে এটি জ্বালানো লবণ নামে পরিচিত। লবণ কারখানার উচ্ছিষ্ট চুলায় জ্বালিয়ে তৈরি করা হয় বলে এই নাম।

অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় আগে শুরু হয় লবণ তৈরির এই কৌশল। তবে এটি কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়নি।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের সময় ডুবি গ্রামে শুরু হয়েছিল জ্বালানো লবণ তৈরি।

দুর্ভিক্ষের সময় অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে লবণের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল। এত বেশি বেড়েছিল যে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। সে সময় আবু বক্কর সিদ্দিকী নামে ডুবি গ্রামেরই এক বাসিন্দা লবণ কারখানার উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। সেই উচ্ছিষ্ট জ্বালিয়ে তৈরি হয় খাবার লবণ, জানান তারা।

কারখানায় লবণ তৈরির সময় উচ্ছিষ্ট পানি একটি জায়গায় জড়ো করে রাখা হয়। পরবর্তীতে এটি জমে কঠিন আকার নেয়। এতে যথেষ্ট পরিমাণে লবণ থাকে। বক্করকে অনুসরণ করে আরও অনেকে লবণ কারখানা থেকে এই উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে এটি বাণিজ্যিক রূপ নেয়।

ডুবি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আশে পাশের শতাধিক গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ এই পেশায় যুক্ত হন। ঝালকাঠি, খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হতো এই কাঁচামাল। পরবর্তীতে এটি বড় ট্যাংকে আবারও পানি দিয়ে গলিয়ে চুলায় জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হতো লবণ।

ময়না-অধীর দম্পতি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সকালে উঠে প্রথমেই তারা চুলা প্রস্তুত করেন। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় কাঠের গুঁড়া। ৪০ বর্গফুটের এই চুলা প্রস্তুত করতেই তাদের অনেকটা সময় লেগে যায়। এরপর শুরু হয় লবণ তৈরির প্রক্রিয়া।

বিশালাকৃতির পাত্রে লবণাক্ত পানি জ্বাল দিয়ে খাবার উপযোগী লবণ তৈরি করতে অন্তত ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এই দম্পতি প্রতিদিন ৪টি চুলায় দুবারে সর্বোচ্চ ৩০ মণ লবণ তৈরি করতে পারেন।

অধীর বলেন, ‘লবণ উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে আমাদের মজুরি হয়।’

‘১ মণ লবণ উৎপাদন করলে একজন শ্রমিক পায় ৬০ টাকা। তবে উৎপাদন খরচ—১৩ থেকে ১৪ টাকা মজুরি থেকেই বাদ যায়,’ বলেন তিনি।

এ কাজটি খুব সহজ নয় উল্লেখ করে অধীর বলেন, ‘এক নাগাড়ে ৬ ঘণ্টা চুলার পাশেই থাকতে হয়। পানি গরম হলে অন্যান্য বর্জ্য ফেনা আকারে উঠে আসে। সেগুলো তুলে ফেলে দিতে হয়। কিছুক্ষণ পর পর নাড়তে হয়। ৬ ঘণ্টা পর পাত্রের ভেতরে ধবধবে সাদা লবণ দৃশ্যমান হতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক মেশানো হয় না। চুলা থেকে নামিয়ে লবণ থেকে পানি ঝরাতে রাখা হয় বাঁশের তৈরি ঝুড়িতে। এরপর বড় কাঠের বাকশে সংরক্ষণ করা হয়। বাজারজাত করার আগে শেষ ধাপে আয়োডিন মিশিয়ে প্যাকেটে তোলা হয়।’

অধীর জানান, ময়নার পরিশ্রম আরও বেশি। কারখানায় দীর্ঘ সময় কাজ করার পর বাড়ি ফিরে তার স্ত্রীকে গৃহস্থালি কাজও করতে হয়।

কেবল লবণ তৈরি নয়, প্রতিদিন কারখানা ও লবণ জ্বাল দেওয়ার পাত্র পরিষ্কার করা তাদেরই দায়িত্ব। সব কাজ শেষ করে রাতে তারা সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন, জানান ময়না।

তাদের সঙ্গে একই কারখানায় কাজ করেন মোহাম্মদ এমদাদুল ও সালমা দম্পতি।

এমদাদুল জানান, বর্তমানে এ পেশায় টিকে থাকতে তাদের কঠোর সংগ্রাম করতে হচ্ছে। ‘আগে লবণ উৎপাদন করে ভালোই আয় হতো। গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আয় কমছে।’

তিনি বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো, উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে সে অনুযায়ী লবণের দাম বাড়েনি।’

‘এক সময় লবণ কারখানার এই উচ্ছিষ্ট বিনামূল্যে পাওয়া যেত। এখন কিনে আনতে হয় এবং সেই দামও আগের চেয়ে বেড়েছে। জ্বালানি হিসেবে কাঠের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। সেটার দামও বেড়ে গেছে। পল্ট্রি খামারে কাঠের গুঁড়ার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে, সে অনুযায়ী লবণের দাম বাড়েনি,’ যোগ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুর রহমান জানান, এক সময় জমজমাট অধিকাংশ কারখানাই বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবি গ্রামে ২২টি কারখানা ছিল। এখন কোনো রকমে টিকে আছে দুটি।

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২ দশক আগেও আশে পাশের শতাধিক গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ লবণ কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

‘যে দুটি কারখানা চালু আছে, সেগুলো কত দিন টিকে থাকবে তারও ঠিক নাই,’ আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

একই শঙ্কা প্রকাশ করেন একটি লবণ কারখানার মালিক সেলিম মাঝি। তিনি মনে করেন, সরকারি সহায়তা পেলে এই কারখানাগুলোকে লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

নেছারাবাদে উৎপাদিত লবণের চাহিদা বেশি মাদারীপুর, বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝড়ায়। এছাড়া, পিরোজপুরের বেশ কিছু এলাকায় এই লবণ বিক্রি হয়। তবে ডুবি গ্রামে উৎপাদিত লবণের চাহিদা নেছারাবাদে তুলনামূলক কম বলে জানান মুদি ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান মিলন। তিনি বলেন, ‘এ লবণ রান্নার কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়। অনেকে গরুকে খাওয়ানোর জন্যও কিনে নিয়ে যান।’

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই লবণ স্বাস্থ্যসম্মত কি না জানতে চাইলে পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুরঞ্জিৎ কুমার সাহা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘লবণে অপদ্রব্যের মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। এছাড়া সঠিক পরিমাণে আয়োডিন ও কালারিং এজেন্ট দেওয়া হলে সেটা ব্যবহার উপযোগী হবে।’

নিয়মিত লবণ পরীক্ষা করার পরামর্শও দেন তিনি।

নেছারাবাদের ডুবি গ্রামের একটি লবণ কারখানা বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) অনুমোদিত। বিএসটিআই বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার মো. ইয়াছির আরাফাত জানান, ওই কারখানার লবণের মান নিয়মিত যাচাই করা হয়।

ময়না-অধীর ও এমদাদুল-সালমা জানান, ডুবি গ্রামে টিকে থাকা দুটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে তাদের নতুন করে অন্য পেশা খুঁজতে হবে। পাশাপাশি চিরতরে হারিয়ে যাবে লবণ কারখানার উচ্ছিষ্ট থেকে লবণ তৈরির ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

আমরা কারও দ্বারা প্রভাবিত নই: ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা

এবার বিশ্বকাপে খেলা ছাপিয়েও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিতর্কিত রেফারিং। একাধিক ম্যাচে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখিত অভিযোগ জানাতে দেখা গেছে একাধিক দলকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে সেই বিতর্ক উঠে তুঙ্গে। প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয় দাবানলের মতো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় ফিফা প্রধানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পর। তবে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলছেন, তারা কারও দ্বারা প্রভাবিত নন।

৪৮ দলের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ৯৬ ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রেফারিংয়ের মান, ভিএআর-এর কার্যকারিতা এবং ম্যাচ অফিশিয়ালদের ওপর আসা নানা চাপ নিয়ে মুখ খুলেছেন কলিনা। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফিফা রেফারিং সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এটি কারও দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

তবে কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় বেশি ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে কিছু জিনিস প্রত্যাশা অনুযায়ী নাও হতে পারে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি, ‘শুরুতেই বলা যাক, কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে আমরা এবার ৫০% বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছি। এখনও আটটি বড় ম্যাচ বাকি আছে। সামগ্রিকভাবে আমরা খুশি। তবে অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ হওয়ায় কিছু বিষয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তেমন কিছু ঘটলে পরের ম্যাচের জন্য নিজেদের শতভাগ প্রস্তুত করতে তারা আরও কঠোর পরিশ্রমের জন্য তৈরি থাকে।’

তার মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই, তবে সেসব যেন ভিত্তিহীন না হয়, ‘সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সবসময়ই ফুটবলের অংশ। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান এই খেলায় নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমন অভিযোগের কারণে অনেক সময় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি মোটেও সঠিক নয়।’

রেফারিং বিভাগের ওপর ফিফা প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না উল্লেখ করে কলিনা বলেন, ‘কেউ দাবি করতে পারে না যে ফিফা রেফারিং কারও দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দ্বারাও নয়। তিনি আমাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন এবং সবসময় ফিফা টিম ওয়ানের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন দেখিয়েছেন।’

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের চরম বিতর্ক ও কলিনার ব্যাখ্যা:

চলমান টুর্নামেন্টে রেফারিং ও ভিএআর-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে ম্যাচের কিছু ফাউল এবং পেনাল্টি বা গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় তুমুল বিতর্ক চলছে।

সাধারণত টুর্নামেন্ট চলাকালীন সুনির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বা ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না ফিফার এই রেফারিং প্রধান। তবে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের এই চরম বিতর্ক নিয়ে এবার নিজেই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন কলিনা।

গোলের আগে আক্রমণের সময়ে (বিল্ড-আপ) ভিএআর-এর ভূমিকা পরিষ্কার করতে গিয়ে কলিনা এই ম্যাচের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচে মিশরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারওয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পায়ে পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি, ফাউল মানে ফাউলই। ফাউলটি স্পষ্ট মনে হোক বা না হোক, রেফারি যদি মাঠে এটি দেখতে না পান, তবে ভিএআর সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে। গোল থেকে দূরত্ব কতখানি ছিল বা ঘটনার কতক্ষণ পর গোল হয়েছে, সেটির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।’

একই ম্যাচের শেষদিকে তৈরি হওয়া আরও একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে কলিনা বলেন, ‘আবার যদি গোলের আগে কোনো ফাউল না থাকে, তবে ভিএআর রেফারিকে সেই অনুযায়ী পরামর্শ দেয়। যেমন ওই ম্যাচেরই শেষদিকে মোহামেদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেসের মধ্যকার ঘটনাটিকে রেফারি এবং ভিএআর সাধারণ ফুটবলীয় যোগাযোগ (কন্ট্যাক্ট) হিসেবেই গণ্য করেছিল। কারণ ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করেছিলেন এবং পরে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।’

তবে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের বিল্ডআপে ম্যাক অ্যালিস্টারের মিশরের হামদি ফাথির জার্সি ধরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় কেন ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি, সেই ব্যাপারে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ট্রাম্পের ফোনকল:

দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। কিন্তু শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়ে তা প্রত্যাহার করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই জানান যে, সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করতে তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন। শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। কড়া বিবৃতি দেয় ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফা। ট্রাম্পের ফোনকলের পরপর বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় তা নিয়ে চরম সমালোচনা চলে ফুটবল বিশ্বে। কিন্তু এই ব্যাপারে আর নতুন করে কিছু বলেননি কলিনা।

একই রকম ঘটনায় বিভিন্ন ম্যাচে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আসায় রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছিল।