34.2 C
Dhaka
Home Blog

কাপাসিয়ায় আ. লীগ কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ‘শুভ উদ্বোধন’ ব্যানার

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ‘শুভ উদ্বোধন’ লেখা ব্যানার টাঙানোর ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার রাতের কোনো এক সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের ঠিক সামনে ব্যানারটি টাঙানো হয়েছে। সকালে পথচারীরা এটি লক্ষ্য করেন।

ব্যানারের মূল অংশে লেখা ছিল—দীর্ঘ ১৮ মাস পরে কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন।

ডিজিটাল ব্যানারের ডান পাশে লেখা ছিল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং বাম পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি। 

ব্যানারের নিচের দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কাপাসিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমির হামজার নাম রয়েছে।

দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন আব্দুল্লাহ স্টোরের মালিকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তবে দোকানের সামনে থাকা ভ্যানচালক শরীফুল ইসলাম বলেন, সকালে এসে দেখি কার্যালয়ের সামনে একটি ব্যানার লাগানো। সেখানে বড় করে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিল।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ব্যানার টাঙানোর খবর আমরা পেয়েছি। সম্ভবত রাতের অন্ধকারে পুলিশের অগোচরে কেউ এটি লাগিয়েছিল। রাতে আমি ওই এলাকায় টহলে ছিলাম, তখন কিছু চোখে পড়েনি।

তিনি আরও যোগ করেন, খবর পাওয়ার পর সকালে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, কিন্তু তখন আর সেখানে কোনো ব্যানার পাওয়া যায়নি। সম্ভবত কেউ সরিয়ে ফেলেছে।

 

 

জেমিনাইতে যুক্ত হচ্ছে এজেন্ট, যা যা করবে

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা জেমিনাইতে যুক্ত হচ্ছে নতুন সুবিধা। এখন কেবল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজও করতে পারবে এই এআই।

প্রযুক্তি সাময়িকী টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার গুগল ক্লাউডের এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। শুরুতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধা পাবে। পরে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও এটি চালু করা হবে।

নতুন এই এআই এজেন্ট একটি জায়গা থেকেই বিভিন্ন কাজ করতে পারবে। কাজের পরিকল্পনা তৈরি, কোড লেখা, সভার সময় ঠিক করা, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া এবং ভ্রমণের মতো কাজও এর মাধ্যমে করা সম্ভব হবে।

এআই প্রযুক্তি এখন কেবল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যবহারকারীর হয়ে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে পারে, এমন এআইয়ের ব্যবহারও বাড়ছে। মেটার মিউজ, ইনস্টিংক্ট এবং সম্প্রতি চালু হওয়া চ্যাটজিপিটির ডটসের মতো এআই সেবার পর গুগলও এ পথে এগোচ্ছে।

গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই অনুষ্ঠানের শুরুতে জানান, বর্তমানে জেমিনাইর মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটির বেশি। ফরচুন ১০০ তালিকায় থাকা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে জেমিনাই এন্টারপ্রাইজ ব্যবহার করছে বলেও জানান তিনি।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জেমিনাইর ব্যাপক ব্যবহার থাকায় গুগল শুরুতে তাদের জন্যই নতুন এআই এজেন্ট চালু করছে। পরে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও এটি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

গুগল ক্লাউডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থমাস কুরিয়ান বলেন, নতুন এআই এজেন্টকে কেবল নির্দেশ দেওয়ার বদলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যও দেওয়া যাবে। সেই লক্ষ্য পূরণে এআই নিজেই কাজের পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবে এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ শেষ করতে পারবে।

সাধারণ কাজের জন্য উপযুক্ত এআই মডেলটি নিজেই বেছে নেবে জেমিনাই। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেরাই মডেল নির্বাচন করতে পারবেন। শুরুতে অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি মডেলগুলোর মধ্যে অ্যানথ্রপিকের ক্লড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

জেমিনাই এজেন্টের কাজের অগ্রগতি দেখার জন্য থাকবে ‘টাস্ক ইনবক্স’ নামে একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা দেখতে পারবেন, এআই কীভাবে কাজের পরিকল্পনা করছে, ছোট ছোট কাজ অন্য এআই এজেন্টের কাছে ভাগ করে দিচ্ছে কি না, বিশেষ দক্ষতা ও কোড ব্যবহার করছে কি না এবং কাজ কত দূর এগিয়েছে।

গুগলের তথ্য অনুযায়ী, এআই এজেন্টটির নিজস্ব ওয়ার্কস্পেস অ্যাকাউন্টও থাকবে। অনেকটা প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মীর মতোই এর নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা ও কাজের প্রাসঙ্গিক তথ্য থাকবে।

আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডচালিত মুঠোফোন, উইন্ডোজ ও ম্যাক কম্পিউটার, কমান্ড লাইন ইন্টারফেস, গুগল ওয়ার্কস্পেস, মাইক্রোসফট ৩৬৫, সার্ভিসনাও এবং স্ল্যাক থেকে এই এজেন্ট ব্যবহার করা যাবে।

আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার তথ্য সঠিক নয়: তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ার তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে বিশ্ব যুব দিবস উপলক্ষে বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ার গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধরনের গুজব এখন পর্যন্ত সরকারের কানে আসেনি। যে বিষয় কানে আসেনি, সে বিষয়কে এখন পর্যন্ত আমরা আমলে নিতে চাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আমাদের দেশ-জাতি-জনগণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যস্ত। ইতোমধ্যে গণমাধ্যম থেকে আপনারা জেনেছেন, আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে এবং আগামী ২০ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি, জাতি একজন কাঙ্ক্ষিত, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি পাবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের রাষ্ট্রদূত (দীনেশ ত্রিবেদী) নিজেই আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা শেষে বেরিয়ে বলেছেন, দুই দেশের এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা যাবে না। এ কথা বলেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি ইতিবাচক ফলাফলের জন্য।’

সভায় তথ্যমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৩৩ বছরে সর্বনিম্ন

দেশে অর্থনৈতিক মন্দা ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোও ঋণ দিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এসব কারণে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৯৩ সালের পর এটাই সবচেয়ে কম ঋণপ্রবৃদ্ধি। এর আগে চলতি বছরের মার্চে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছিল ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এক অর্থে আমরা এখন অর্থনৈতিক যুদ্ধাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।

তার ভাষ্য, রপ্তানি চাহিদা কমে যাওয়া, মানুষের আয় কম হওয়া এবং অর্থনীতির অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে এগোচ্ছেন না।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক এই চেয়ারম্যান আরও বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। 

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনো অনেক বেশি থাকায় ঋণের চাহিদাও কমে গেছে।

মে মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। জুনে তা কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে এলেও এখনো ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, যখন বিনিয়োগই হচ্ছে না, তখন মানুষ ঋণ নেবে কেন? সার্বিক পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক। তার মতে, রপ্তানি আদেশ কম থাকায় আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলাও প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কয়েকটি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করে সেগুলোতে দ্রুত কাজ করতে হবে। এই সংকট মোকাবিলায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আলম খানও একই ধরনের মত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগ প্রকল্প নেই। এলসি খোলাও কমে গেছে। অন্যদিকে খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ায় অনেক ব্যাংকের নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। এটি মোট ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

তৌহিদুল আলম খান বলেন, ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলক ছোট ঋণগ্রহীতাদের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। তার ভাষায়, আমরা এখন এসএমই খাতে গুরুত্ব দিচ্ছি এবং ছোট অঙ্কের ঋণ বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

জুন মাসের ঋণপ্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

পরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মুদ্রানীতিতে জুনের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়। কিন্তু প্রকৃত প্রবৃদ্ধি সেই সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রারও নিচে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলেছে, গত দুই অর্থবছর ধরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে।

এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর সতর্ক ঋণনীতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের আস্থা কমে যাওয়া, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মো. আক্তার হোসেন বলেন, শুধু ঋণপ্রবৃদ্ধি কমেছে বলেই বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি একসময় ২০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু সেই ঋণের বড় অংশ বড় গ্রাহকদের কাছে গিয়েছিল, যাদের অনেকে পরে অর্থ পাচার করেছেন।

তার ভাষায়, ঋণপ্রবাহ দ্রুত বেড়েছিল ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি অর্থনীতির বড় ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, এখন ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিতে সতর্ক। কারণ ঋণের গুণগত মান অনেক খারাপ হয়েছে।

আক্তার হোসেন বলেন, মোট ঋণের ৩০ শতাংশের বেশি এখন খেলাপি। ফলে নতুন ঋণ দিলে তা ফেরত আসবে কি না, এ নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তিনি জানান, ঝুঁকি কম থাকায় অনেক ব্যাংক এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার বদলে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করছে।

একই সঙ্গে আর্থিকভাবে ভালো অবস্থায় থাকা অনেক প্রতিষ্ঠানও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে।

প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, সাম্প্রতিক নীতিগত পদক্ষেপের সুফল মিলতে শুরু করলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হবে। তার ভাষায়, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, ঋণ গ্রহণে উৎসাহ দিতে নীতিসুদ হার কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সক্ষম ও ভালো গ্রাহকদের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিসুদ হার বা রেপো হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে। ছয় বছরের মধ্যে এটিই প্রথম নীতিসুদ হার কমানোর সিদ্ধান্ত।

আক্তার হোসেন বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষে ফেরার স্বপ্নের জন্য লড়াই করে যাব: ভিনিসিয়ুস

বিশ্বকাপ থেকে আগেভাগে বাদ পড়ার হতাশা ভুলে আবারও বিশ্বের শীর্ষে ফেরার স্বপ্নের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন অসম্পূর্ণ থাকলেও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

গত রোববার রাতে শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে এবারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের সময়টা ভালো না কাটলেও আসরজুড়ে ভীষণ ছন্দে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। চারটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে সেলেসাওদের সেরা পারফর্মার ছিলেন তিনিই। বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের জার্সিতে তার পারফরম্যান্স নিয়ে থাকা সব সমালোচনার পাল্টা জবাব তিনি দিয়েছেন টুর্নামেন্টে দারুণ খেলে।

ছিটকে যাওয়ার পর কিছুটা সময় নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ভিনিসিয়ুস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘প্রায় চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের হতাশার পর কী লিখব তা নিয়ে ভাবছিলাম। সব বয়সের এত মানুষকে আমাকে সমর্থন করতে এবং আমাদের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরতে দেখেছি যে, চুপ থাকাটা অন্যায় হবে। যদিও ভাবার জন্য কয়েকটা দিন সময় আমার দরকার ছিল।’

শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের কষ্ট জানিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা যোগ করেছেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। আর বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার অনুভূতি ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমি জানি, আমি কতটা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কতটা মনোযোগী ছিলাম… আপনাদের জন্য, আমার পরিবারের জন্য আমি এটা (বিশ্বকাপের শিরোপা) কতটা চেয়েছিলাম।’

অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির বেছে নেওয়া ব্রাজিলের স্কোয়াডে তারকার ছড়াছড়ি না থাকলেও পার্থক্য গড়ার মতো খেলোয়াড়রা ছিলেন। তাই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, ‘হতাশার অনুভূতিটা চরম। আরও বেশি কিছু করার মতো শক্তিশালী একটি দল আমাদের ছিল। কিন্তু আমরা পারিনি।’

সবশেষে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভিনিসিয়ুস বলেছেন, ‘আমি ক্ষমা চাইছি এবং আমাদের বিশ্বের শীর্ষে ফেরার স্বপ্নের জন্য লড়াই করে যাব।’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম দল ব্রাজিল শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০২ সালে। সেই থেকে কেবল একবারই তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে— ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত আসরে। আর ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম ফুটবলের মহাযজ্ঞের শেষ ষোলোতে থেমেছে তাদের যাত্রা।

হুমায়ুন ফরীদির জন্য আফসোস হয়: ফেরদৌসী মজুমদার

এদেশের বিখ্যাত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি। নাটক-মঞ্চ-চলচ্চিত্র—সবখানেই অভিনয় করে সফলতার প্রমাণ রেখে গেছেন। ঢাকাই সিনেমায় তিনি নতুন চমক সৃষ্টি করেছিলেন। টেলিভিশন নাটকেও ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। সংশপ্তক নাটকে রমজান চরিত্রে অভিনয় করে আলোড়ন তৈরি করেন। তিনি বেঁচে নেই, কিন্তু এখনো তার অভিনয়ের কথা দর্শকরা ভোলেননি।

একুশে পদকসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

নন্দিত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির জন্মদিন ২৯ মে। তাকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার।

ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘এই মানুষটি কেন হারিয়ে গেল? মাঝে মাঝে কথাটি ভাবি। এইরকম অভিনয় প্রতিভা দেখিনি। এত চমৎকার অভিনয় করতেন? সংশপ্তক নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছি। পোশাকে-আশাকে-রুচিতে তিনি দারুণ একজন মানুষ ছিলেন।’

ফেরদৌসী মজুমদার আরও বলেন, ‘হুমায়ুন ফরীদির জন্য আফসোস হয়। খারাপ লাগে। প্রায়ই আফসোস করি। এইরকম অভিনয় প্রতিভা আমি দেখিনি। প্রাণবন্ত, স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় করতেন। শতভাগ অভিনয়ের মানুষ ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘কী সুন্দর অভিনয় করতেন। তার অভিনয়ের গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। যেকোনো চরিত্রে মানিয়ে যেতেন। কতরকম চরিত্রে তিনি অভিনয় করে গেছেন। যে চরিত্রে অভিনয় করতেন, সেটিই দর্শকপ্রিয়তা পেত।’

ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘হুমায়ুন ফরীদির মধ্যে প্রচুর রসবোধ ছিল। আমাকে মজা করে বলতেন, ফেরদৌসী তোমার পাশে কী রামেন্দু আছেন? দুটো কথা বলব। এইরকম মজা করতেন আর হাসাতেন। কত স্মৃতিই তো মনে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘হাত-পা, পুরো শরীর যেন অভিনয় করত হুমায়ুন ফরীদির। অভিনয়টা জানতেন খুব। বড় মাপের শিল্পী, বড় মাপের মানুষ ছিলেন। মনটা বড় ছিল। শিশুর মতো সরল ছিলেন।’

সংশপ্তক নাটকের কথা মনে করে ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘সংশপ্তক নাটকের সময় এত সুন্দর সময় পার করেছি! ফরীদি খুব হাসাতেন। মজার মানুষ ছিলেন। এইরকম করে কেউ হাসাতে পারতেন না। ফরীদির হাসির জন্য আমরা বকুনি খেতাম আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে।’

তিনি বলেন, ‘মঞ্চে তার অভিনয় দেখেছি। নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছি। তার কথা মনে পড়লে খারাপ লাগে।’

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ১৩৩২

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৩২ জনে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের বরাতে এমনটি জানিয়েছে আল জাজিরা।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে ইরানে। আজ শুক্রবারও রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে হামলার খবর এসেছে গণমাধ্যমে।

হামলার শুরুর দিকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং শীর্ষ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

ইরানের ফার্স প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর জলিল হাসানি জানান, শিরাজ শহরে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ২০ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, শহরের জিবাসহর অঞ্চলের একটি আবাসিক এলাকায় চালানো হয়েছে এবং এতে নিরপরাধ নাগরিকরা প্রাণ হারিয়েছেন। 

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ১৮১ শিশুর প্রাণ গেছে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানায়, হামলার প্রথম দিনে দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী নিহত হয়।

ইরানে বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট পির হোসেইন কোলিভান্দ বলেন, হামলায় তিন হাজার ৬৪৩টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে বাড়ি তিন হাজার ৯০টি।

এ ছাড়া ৫২৮টি বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও সেবাকেন্দ্র, ১৪টি চিকিৎসা স্থাপনা এবং রেড ক্রিসেন্টের ৯টি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, হামলার বেশিরভাগ লক্ষ্য ছিল ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। আজ শুক্রবারও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যে এখন পর্যন্ত ৪ বাংলাদেশি আহত, বড় ক্ষয়ক্ষতি নেই: প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত চার বাংলাদেশি আহত হওয়া ছাড়া বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক। 

আজ রোববার দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। তাই ওইসব দেশে আমাদের দেশের যারা অবস্থান করছেন, তাদেরকে নিরাপদে ও শান্ত থাকার জন্য আহবান জানানো হয়েছে। 

প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি কিছু জরুরি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, চলাচলের সময় নিজেদের পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সবসময় সাথে রাখতে হবে। যেকোনো ধরনের সামরিক স্থাপনা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে।

অভিবাসন ব্যয় ও দালাল চক্র প্রসঙ্গে নূরুল হক বলেন, যারা প্রবাসে যাচ্ছেন, তারা অনেকেই দালালদের খপ্পড়ে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন এজেন্সিরও নানা অনিয়ম রয়েছে। এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

বিদেশে গমনেচ্ছুদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষদের প্রবাসে যেতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এর প্রধান কারণ প্রতারক ও দালাল চক্র। বিগত দিনে যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অভিভাসন ব্যয় কমাতে কাজ করছি। 

প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তিন দিনের সফরে গত শুক্রবার পটুয়াখালী আসেন মো. নূরুল হক। সফরের প্রথম দুদিন তিনি তার নির্বাচনী এলাকা গলাচিপা ও দশমিনায় বিভিন্ন সরকারি ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। 

 

 

এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ আর মানুষের হাতে না থাকলে কী হতে পারে

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বই কিংবা সিনেমায় আমরা বহুবার এমন ঘটনা পড়েছি ও দেখেছি, যেখানে মানুষের তৈরি যন্ত্রের সক্ষমতা বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছে, যখন সেই যন্ত্রের ওপর মানুষের আর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এসব ঘটনায় প্রথমে মেশিনকে মানুষের সহকারী হিসেবে তৈরি করা হয়। এরপর মানুষের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়ে একপর্যায়ে মানুষের প্রভুতে পরিণত হয়। তখন মানুষ অস্তিত্ব রক্ষা করতে তার নিজের তৈরি মেশিনের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

এসব কল্পকাহিনিতে শেষপর্যন্ত অবশ্য মানুষ যন্ত্রকে পরাজিত করে নিজের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। এত দিন এসব গল্পকে কল্পকাহিনি মনে হলেও বর্তমানে সেটি আর কল্পকাহিনি বলার সুযোগ নেই। এমইটিআরয়ের স্বাধীন তদন্তে এআই সংক্রান্ত এমন কিছু ঘটনা উঠে এসেছে, যেগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে এসব কল্পকাহিনি ইতোমধ্যে বাস্তবে পরিণত হওয়া শুরু করেছে।

প্রশ্ন হলো, মানুষের লেখা কল্পকাহিনিতে মানুষ নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও, বাস্তবে যন্ত্র তথা এআই যখন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে নিজেরাই চিত্রনাট্যের কাহিনি লেখা শুরু করেছে, তখন শেষ হাসি কে হাসবে? মানুষ, নাকি এআই?

ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, মেশিনকে শুধু মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেই হবে এমন নয়। মানুষ যে লক্ষ্য দিয়েছে, সেটি পূরণ করতে গিয়ে একটি অত্যন্ত সক্ষম এআই এমন পথ বেছে নিতে পারে, যা মানুষ অনুমোদন করেনি। তাকে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে না; শুধু নিজের কাজটি করতে হবে। আর সেই কাজের অর্থ যদি এআই মানুষের চেয়ে ভিন্নভাবে বোঝে, তাহলেই বিপদ শুরু হতে পারে।

এখানেই এআই এজেন্ট ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ। এআই এজেন্ট হলো, এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা যা মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই কোনো লক্ষ্য অর্জনে নিজে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা ও কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এত দিন আমরা এআইকে মূলত একটি চ্যাটবট হিসেবে চিনেছি। তাকে প্রশ্ন করলে সে উত্তর দেয়, লেখা দিলে সম্পাদনা করে, তথ্য দিলে বিশ্লেষণ করে। কিন্তু এআই এজেন্টকে যদি কোনো কাজ করতে বলা হয়, তখন সে নিজেই ঠিক করতে পারে কোন তথ্য দরকার, কোথা থেকে তা সংগ্রহ করবে, কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করবে, কোথায় ব্যর্থ হয়েছে এবং বিকল্প কোন পথ চেষ্টা করবে।

এআই এজেন্ট কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে, কোড চালাতে পারে, ফাইল পরিবর্তন করতে পারে, ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজতে পারে এবং অন্য এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। অর্থাৎ চ্যাটবট মূলত উত্তর দেয়; এআই এজেন্ট কাজ করে। এই পার্থক্যটি প্রযুক্তির চরিত্রই বদলে দেয়। কোনো যন্ত্র শুধু ভুল উত্তর দিলে তার ক্ষতি সীমিত থাকতে পারে। কিন্তু সে যদি নিজেই কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, কোড চালায়, তথ্য পরিবর্তন করে কিংবা অন্য একটি ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এবং ভুলভাবে কোনো কাজ করে, তখন সেই কাজ ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

২০২৬ সালের মে মাসে ওপেনএআইয়ের গবেষণার সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এমইটিআরয়ের স্বাধীন তদন্তে উঠে এসেছে, যা এই পরিবর্তনের ভয়াবহতা বোঝার জন্য যথেষ্ট। সংস্থাটি সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা পরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রায় ১ হাজার ২০০ এআই এজেন্টকে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ সমাধানের দায়িত্ব দেয়। এজেন্টগুলোকে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া পৃথক স্যান্ডবক্সে রাখা হয়েছিল। স্যান্ডবক্স হলো নিরাপত্তা বলয় দিয়ে সীমাবদ্ধ এবং বিচ্ছিন্ন কম্পিউটার পরিবেশ, যার বাইরে এআই এজেন্টগুলোর যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু কাজগুলো ইন্টারনেট ছাড়া সম্ভব নয় দেখে পরীক্ষায় থাকা এজেন্টগুলো অননুমোদিত বিকল্প পথ তৈরি করে ইন্টারনেটে ঢোকে এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে।

এরপর ঘটনার সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায় শুরু হয়। এজেন্টগুলো আলাদা আলাদা পরিবেশে কাজ করলেও ব্যবহৃত কম্পিউটার অবকাঠামোর কিছু অংশে তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ ছিল। কয়েকটি এজেন্ট সেখানে নিজেদের কাজের তথ্য রাখে, যা অন্য এজেন্টরা পড়তে পারে। কেউ একটি সমস্যার সমাধান না পেলে সেখানে সাহায্য চায় এবং আরেকজন এসে তাকে সাহায্য করে। ধীরে ধীরে একটি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হয়। এভাবে এক একটি এজেন্টের আবিষ্কার হয়ে উঠল প্রতিটি এজেন্টের সমষ্টিগত সম্পদ। একজন মানুষ কোনো নতুন সাইবার কৌশল আবিষ্কার করলে সেটি অন্যদের শেখাতে সময় লাগে। কিন্তু এআই এজেন্টের ক্ষেত্রে একটি আবিষ্কার মুহূর্তের মধ্যে শত শত এজেন্টের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। ফলে একটি এজেন্ট যতটা জানে, তাদের সম্মিলিত জ্ঞান তারচেয়ে বহুগুণ বড় হয়ে ওঠে।

এই জায়গাটিতেই এআইয়ের নতুন শক্তি। একটি বুদ্ধিমান মেশিনের চেয়ে অনেকগুলো পরস্পর সংযুক্ত বুদ্ধিমান মেশিন অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হতে পারে। তদন্তে দেখা যায়, এই এজেন্টগুলো পরীক্ষার সময় ৭০ হাজারের বেশি বার্তা ও ফাইল আদান-প্রদান করেছিল।

প্রথম দিকে তাদের লক্ষ্য ছিল সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করা। কিন্তু পরে তারা পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে কীভাবে ফাঁকি দেওয়া যায়, সেই পথও খুঁজতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা এমন একটি সাধারণ কৌশল আবিষ্কার করেছিল, যার মাধ্যমে পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণকারী ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হচ্ছিল। অর্থাৎ আসল সমস্যার সমাধান করার বদলে তারা কীভাবে পরীক্ষায় সফল বলে গণ্য হওয়া যায়, সেই পথ খুঁজে নেয়। অনেকটা রিওয়ার্ড হ্যাকিংয়ের মতো।

এজেন্টগুলোকে শুধু কাজটি করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা বুঝতে পারে যে, অন্য উপায়ে কাজটি করা আরও সহজ হবে। ফলে তারা হ্যাকিংয়ের পথ বেছে নেয়। এখানে মেশিনের উদ্দেশ্য হয়ত মানুষের মতো প্রতারণা করা নয়; কিন্তু তার ফলাফল প্রতারণার চেয়েও ভয়ংকর। বিপদটি এখানেই।

এখানে এসে ঘটনাটি আর পরীক্ষাগারের ভেতরের একটি সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকল না। এটি বাস্তব একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোয় অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় পরিণত হলো। সবচেয়ে অস্বস্তিকর বিষয় ছিল, কিছু এজেন্ট বুঝতে পেরেছিল যে তারা এমন একটি তৃতীয়পক্ষের কম্পিউটার ব্যবস্থায় প্রবেশ করছে, যেখানে তাদের প্রবেশের অনুমতি নেই। তারা কাজটি না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু অন্য এজেন্টগুলো সেটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিল। অর্থাৎ এআই এজেন্টগুলোর মধ্যেও আচরণগত পার্থক্য দেখা যায়। কেউ সীমা মানে, কেউ সীমা ভাঙে; কেউ সতর্ক করে, কেউ ঝুঁকি নেয়; কেউ থামতে চায়, কেউ এগিয়ে যেতে চায়।

এটি মানুষের মতো নৈতিক বিবেকের বিষয় না হলেও বিভিন্ন এজেন্ট পরিস্থিতি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। আর যখন তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারে, তখন একটি এজেন্টের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত অন্যদেরও প্রভাবিত করতে পারে। এখানেই ভবিষ্যতের একটি বড় প্রশ্ন আসে। যদি একটি এআই মানুষের নির্দেশের পাশাপাশি অন্য এআইয়ের নির্দেশও অনুসরণ করে, তাহলে শেষ কর্তৃত্ব কার? মানুষের? কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার? নাকি সবচেয়ে প্রভাবশালী এজেন্টের? কারণ, এটি শুধু সাইবার নিরাপত্তার বিষয় না, ভবিষ্যতে এটি হবে দেশের নিরাপত্তা, আর্থিক বাজার, সরকারি প্রশাসন, বিদ্যুৎব্যবস্থা, স্বাস্থ্য অবকাঠামো কিংবা সামরিক কমান্ডের বিষয়।

ধরুন, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এআইকে দেশের নিরাপত্তার দিকে নজর রাখতে বলা হলো। মানুষের কাছে নিরাপত্তার অর্থ শুধু সম্ভাব্য শত্রুকে ধ্বংস করা নয়। নিরাপত্তার মধ্যে কূটনীতি, যুদ্ধ এড়িয়ে চলা, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও রয়েছে। কিন্তু একটি মেশিন যদি শুধু লক্ষ্যটির সর্বোচ্চ মাত্রা অর্জন করতে চায়, তাহলে নিরাপত্তা তার কাছে হয়ে উঠতে পারে সম্ভাব্য সব হুমকি দূর করা। সেখান থেকেই ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একটি এআই যদি মনে করে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যত বেশি হবে, লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনাও তত বেশি, তাহলে নিজের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, আরও তথ্য সংগ্রহ করা, অন্য এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা কিংবা মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো তার কাছে কার্যকর মধ্যবর্তী পদক্ষেপ বলে মনে হতে পারে। এআই নিরাপত্তা গবেষণায় এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।

আরেকটি দৃশ্য কল্পনা করুন, যেখানে একটি এআই গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করছে, আরেকটি উপগ্রহের ছবি দেখছে, অন্যটি সাইবার আক্রমণ শনাক্ত করছে এবং অন্য আরেকটি সামরিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রত্যেকটি এআই নিজের নির্দিষ্ট কাজ করছে। কিন্তু তাদের সম্মিলিত বিশ্লেষণে যদি একটি ভুল তৈরি হয়? একটি এআই প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতিকে আক্রমণের পূর্বলক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে। দ্বিতীয়টি সেই তথ্যকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তৃতীয়টি সামরিক সতর্কতা বাড়াতে পারে। শেষ পর্যন্ত মানুষ এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যার ভিত্তি ছিল একটি ভুল মেশিন ব্যাখ্যা। এখানে এআইকে নিজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হবে না। তাকে শুধু মানুষকে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো একটি তথ্য-পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

এই আশঙ্কা যে নিছক কল্পনা নয়, তার একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ মিলেছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কেই। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিএনএন জানায়, ইরান যুদ্ধ চলাকালে একটি এআইয়ের সহায়তায় তৈরি ভুল গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজ আটকানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। এআইয়ের প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন দাবি করা হয়েছিল, জাহাজটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপাদান বহন করছে। মার্কিন সামরিক সদস্যরা জাহাজে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং সামরিক বিমানও আকাশে ছিল। পরে কর্মকর্তারা গভীরভাবে যাচাই করে দেখতে পান, বিশেষ অভিযানবিষয়ক এআই চ্যাটবট জাহাজটির পণ্য ভুলভাবে শনাক্ত করেছিল। অভিযান শেষ মুহূর্তে থেমে যায়।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুল প্রতিবেদনটির কারণে প্রায় একটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যাচ্ছিল। ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, এআইকে নিজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হবে না; একটি ভুল গোয়েন্দা বিশ্লেষণই যথেষ্ট। আজ যদি একটি এআই ভুলভাবে চীনের কোনো সামরিক প্রস্তুতিকে আক্রমণের পূর্বলক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে, আর সেই তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সতর্কতা বাড়ায়; চীনের এআই আবার সেই মার্কিন প্রস্তুতিকে আক্রমণের সংকেত হিসেবে শনাক্ত করতে পারে; তাহলে শুরু হতে পারে এমন এক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চক্র, যেখানে কোনো পক্ষই যুদ্ধ চাইছে না, অথচ দুইপক্ষের যন্ত্রনির্ভর বিশ্লেষণ একে অপরের কর্মকাণ্ডকে ক্রমাগত আক্রমণাত্মক হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর রয়টার্সের প্রতিবেদন মারফত জানা যায়, এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সামরিক এআইয়ের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো কিছু সুরক্ষাসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, কোনো এআই যদি পারমাণবিক কমান্ড নেটওয়ার্কে হস্তক্ষেপ করে বা সামরিক সাইবার অভিযান শুরু করে, তাহলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাত্র কয়েক মিনিট থাকতে পারে।

তাছাড়া মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকা মানেই যে চূড়ান্ত কিছু, তা কিন্তু নয়। কাগজে-কলমে চূড়ান্ত অনুমোদনের এখতিয়ার হয়ত মানুষের হাতে থাকবে, কিন্তু সেই মানুষ এমন একটি তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে যা স্বায়ত্তশাসিত এআই নিজেই তৈরি করেছে। তাহলে বাস্তব নিয়ন্ত্রণের বড় অংশ ইতোমধ্যে মেশিনের হাতে চলে যেতে পারে। মানুষ হয়তো শেষ বোতামটি চাপবে, কিন্তু বোতাম চাপার মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে এআই।

এআইয়ের সম্ভাব্য পরিণতি শুধু যুদ্ধ বা পারমাণবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাপক সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থা অচল হতে পারে; বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে; ভুয়া তথ্য এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে যে সত্য ও মিথ্যা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়বে; স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ভুল সিদ্ধান্ত সরাসরি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে; আর্থিক বাজারে অসংখ্য স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট একই ধরনের সংকেত অনুসরণ করলে অল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আরেকটি বিপদ হলো এআই নির্ভরতার কারণে মানুষের চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ক্রমাগত কমতে থাকবে। মানুষ যখন দীর্ঘদিন এআইয়ের ওপর নির্ভর করবে, তখন ধীরে ধীরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে মানুষ এআইয়ের সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করার বদলে অনুমোদন করতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এআই দ্রুত, তথ্যসমৃদ্ধ ও আপাতদৃষ্টিতে নির্ভুল হওয়ায় মানুষ ধরে নিতে পারে এআই নিশ্চয়ই ঠিক বলছে। তখন মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাস্তবে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা ক্রমশ মেশিনের কাছে চলে যাবে।

পাশাপাশি এআইকে ঘিরে ভয়ংকর প্রতিযোগিতাও তৈরি হতে পারে। একটি রাষ্ট্র ভাবতে পারে, প্রতিপক্ষের এআই যদি বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে আমাদের এআইকেও আরও স্বাধীন করতে হবে। অন্য রাষ্ট্রও একই যুক্তি দেবে। এভাবে শুরু হতে পারে নতুন প্রযুক্তিগত অস্ত্র প্রতিযোগিতা। কার এআই দ্রুততর, কার এআই বেশি স্বায়ত্তশাসিত, কার এআই প্রতিপক্ষের এআইকে আগে শনাক্ত করতে পারে—এইসব।

কিন্তু এআইয়ের উন্নয়ন বন্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। কারণ, একটি দেশ উন্নয়ন বন্ধ করলেও অন্য দেশ তা নাও করতে পারে। তখন তৈরি হবে নতুন নিরাপত্তা দ্বিধা। কেউ থামতে চাইবে না। কারণ, সে আশঙ্কা করবে অন্যরা এগিয়ে যাচ্ছে। আবার নিয়ন্ত্রণহীনভাবে উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়াও বিপজ্জনক।

তাই এআই শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়; এটি ক্ষমতারও প্রশ্ন। যে রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে শক্তিশালী এআই নিয়ন্ত্রণ করবে, তারা একইসঙ্গে বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা, সাইবার সক্ষমতা, অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও সামরিক পরিকল্পনার সুবিধা পাবে। ভবিষ্যতের বৈষম্য তখন শুধু ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈষম্য হবে এআই কাদের কাছে কুক্ষিগত আর এআই কারা ব্যবহার করছে তাদের মধ্যে।

তবু একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এআই উন্নয়ন বন্ধ করার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কোন পর্যায়ের এআইকে কতটা স্বাধীন ক্ষমতা দেওয়া হবে, কোন কোন ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে এবং কোন সিদ্ধান্তের ওপর এআইয়ের কর্তৃত্ব কখনোই দেওয়া হবে না। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম একটি সীমা থাকা প্রয়োজন।

এআই বিশ্লেষণ করতে পারে, সতর্ক করতে পারে, তথ্য সাজাতে পারে, সম্ভাব্য পরিণতি হিসাব করতে পারে। কিন্তু, মানবসভ্যতার অস্তিত্ব নির্ধারণকারী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষের হাতেই থাকতে হবে। শুধু শেষ বোতামটি মানুষের হাতে রাখলেই হবে না; এমন ব্যবস্থাও থাকতে হবে যাতে কোনো একক এআই কিংবা এআই সমষ্টি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।

এখানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এআই উন্নয়ন ও সামরিক সক্ষমতায় এই দুই দেশই বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে। তারা যদি প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এআই নিরাপত্তা, স্বায়ত্তশাসিত সামরিক ব্যবস্থা, সাইবার ঝুঁকি ও পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থায় এআইয়ের সীমা নিয়ে ন্যূনতম কিছু অভিন্ন নিয়ম তৈরি করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি সীমিত করার একটি আন্তর্জাতিক ভিত্তি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য হওয়া উচিত একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং এমন কিছু সীমা নির্ধারণ করা, যা কোনোপক্ষই অতিক্রম করবে না।

কারণ, এআইকে মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে হবে না। তাকে শুধু তার দেওয়া কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করতে হবে। সে হয়তো বলবে না, আমি তোমাদের ধ্বংস করব। সে শুধু বলবে, আমি আমার কাজটি করছি। এই জায়গাটিই ভবিষ্যতের সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন। কাজটি কে নির্ধারণ করেছে? কাজটির অর্থ কে নির্ধারণ করেছে? সাফল্য কীভাবে মাপা হচ্ছে? ভুল হলে কে থামাবে? এআই যদি অন্য এআইয়ের সঙ্গে মিলে নতুন কৌশল তৈরি করে, মানুষ কি তা বুঝতে পারবে? আর মানুষের নির্দেশের সঙ্গে তার তৈরি কোনো উপ-লক্ষ্যের সংঘাত হলে সে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবে?

সাম্প্রতিক এআই এজেন্টের ঘটনাটি কোনো মেশিনের বিদ্রোহের প্রমাণ নয়। এআই এজেন্ট পরীক্ষায় পাস করতে গিয়ে নিরাপত্তা বলয় পাশ কাটিয়ে পরীক্ষার নিয়মে ফাঁকি দিয়েছে। আজ সে পরীক্ষার নিয়ম ফাঁকি দিচ্ছে, কাল কোনো সফটওয়্যারের দুর্বলতা ব্যবহার করতে পারে, পরশু কোটি কোটি মানুষের আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করবে। তারপরের দিন হয়তো সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে। আর একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর অনেকাংশ তার বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করতে পারে। সেদিন প্রশ্নটি এমন হবে না, এআই কি মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান? প্রশ্ন হবে, মানুষ কি নিজের তৈরি বুদ্ধিমান ব্যবস্থার ওপর শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে?

পারমাণবিক যুগে সবচেয়ে ভয়ংকর ভুল হবে যদি মানুষ পারমাণবিক অস্ত্রের বোতাম চাপে। এআইয়ের যুগে তারচেয়েও ভয়ংকর সম্ভাবনা হলো, মানুষ বুঝতেই পারল না বোতাম চাপার সিদ্ধান্তটি আসলে কখন থেকে তার নিজের আয়ত্তে আর থাকেনি।

 

তরুন ইউসুফ: কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সেকেন্ডে শরীর ভেদ করে যায় ১০০ ট্রিলিয়ন কণা, ‘গোস্ট পার্টিকেল’ নিউট্রিনো গবেষণায় এবারের নোবেল

মহাকাশ থেকে আসা অতি ক্ষীণ ও রহস্যময় কণা নিউট্রিনো শনাক্তের জন্য বিশাল পর্যবেক্ষণাগার তৈরির পথ দেখিয়ে পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামের পদার্থবিদ অধ্যাপক ফ্রান্সিস হ্যালজেন।

অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে এক ঘনকিলোমিটার বরফের মধ্যে হাজার হাজার আলোকসংবেদী সেন্সর বসিয়ে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দেন তিনি। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বলেছে, আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরির ক্ষেত্রে তার বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুতে নিউট্রিনো শনাক্তের এই পর্যবেক্ষণাগার তৈরির ধারণা প্রথম উপস্থাপন করেছিলেন হ্যালজেন। পরে তার নেতৃত্বে অ্যান্টার্কটিকার প্রায় এক কিলোমিটার ঘন বরফের মধ্যে দীর্ঘ তারের সঙ্গে হাজার হাজার সেন্সর স্থাপন করা হয়।

নিউট্রিনোকে বলা হয় ‘গোস্ট পার্টিকেল বা ভুতুড়ে কণা’। কারণ এগুলো এতটাই দুর্বলভাবে অন্য পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে যে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। সূর্য থেকে প্রতি সেকেন্ডে বিপুলসংখ্যক নিউট্রিনো পৃথিবীতে আসে। এমনকি মানুষের শরীরের মধ্য দিয়েও প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো চলে যায়, অথচ প্রায় কোনো নিউট্রিনোই শরীরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে না।

তবে আইসকিউবের লক্ষ্য সাধারণ নিউট্রিনো নয়। দূরবর্তী ছায়াপথে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ ও উচ্চশক্তির মহাজাগতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি নিউট্রিনো শনাক্ত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিজ্ঞানীদের কাছে এসব নিউট্রিনো যেন মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও চরম ঘটনাগুলোর বার্তাবাহক।

নিউট্রিনো সাধারণত বরফের মধ্য দিয়ে সরাসরি চলে যায়। তবে খুবই বিরল ক্ষেত্রে কোনো নিউট্রিনো বরফের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তখন দ্রুতগতির চার্জযুক্ত কণা তৈরি হয়, যা বরফের মধ্যে নীল আলোর ক্ষীণ ঝলক সৃষ্টি করে। আইসকিউবের সংবেদনশীল সেন্সর সেই আলো শনাক্ত করে। আলোটি কখন এবং কোন দিকে তৈরি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোটি কোথা থেকে এসেছে তা অনুমান করতে পারেন।

নোবেল পদার্থবিজ্ঞান পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মার্ক পিয়ার্স বলেছেন, হ্যালজেনের অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ তৈরি করেছে।

নিউট্রিনো শুধু মহাকাশের দূরবর্তী ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কণা মহাবিশ্বের কয়েকটি বড় রহস্য সমাধানের সূত্রও দিতে পারে।

নিউট্রিনোর অস্তিত্বের তাত্ত্বিক ধারণা প্রথম দেন পদার্থবিদ উলফগ্যাং পাওলি। ১৯৩০ সালে তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের একটি অমীমাংসিত বিষয় ব্যাখ্যা করতে তিনি এই কণার অস্তিত্বের প্রস্তাব দেন। পরে ১৯৫০-এর দশকে পরীক্ষার মাধ্যমে নিউট্রিনোর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়।

নিউট্রিনোর তিনটি পরিচিত ধরন বা ‘ফ্লেভার’ রয়েছে, যেমন—ইলেকট্রন নিউট্রিনো, মিউন নিউট্রিনো ও টাও নিউট্রিনো। বিজ্ঞানীরা পরে দেখতে পান, মহাকাশে চলার সময় নিউট্রিনো এক ধরনের ফ্লেভার থেকে অন্য ধরনের ফ্লেভারে পরিবর্তিত হতে পারে।

এই আবিষ্কার পদার্থবিজ্ঞানে বড় একটি সমস্যার জন্ম দেয়। কারণ নিউট্রিনোর ফ্লেভার পরিবর্তন বা ‘অসিলেশন’ সম্ভব হতে হলে নিউট্রিনোর ভর থাকতে হবে। অথচ কণাপদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুযায়ী নিউট্রিনোর ভর থাকার কথা নয়। পরে গবেষণায় দেখা যায়, নিউট্রিনোর ভর অত্যন্ত ক্ষুদ্র হলেও তা শূন্য নয়।

নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মহাবিশ্বে পদার্থ এত বেশি এবং প্রতিপদার্থ বা অ্যান্টিম্যাটার এত কম কেন।

বিগ ব্যাংয়ের পর সমপরিমাণ পদার্থ ও প্রতিপদার্থ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। তারা পরস্পর ধ্বংস হয়ে গেলে মহাবিশ্বে শুধু শক্তি থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে মহাবিশ্বে বিপুল পরিমাণ পদার্থ রয়েছে, আর প্রতিপদার্থ তুলনামূলকভাবে বিরল। এই বৈষম্যকে পদার্থ-প্রতিপদার্থের অসমতা বলা হয়।

বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হলো, নিউট্রিনোর আচরণে এমন কোনো পার্থক্য থাকতে পারে, যা এই অসমতার ব্যাখ্যা দিতে সাহায্য করবে। কিছু পরীক্ষায় নিউট্রিনো ও অ্যান্টিনিউট্রিনোর ফ্লেভার পরিবর্তনের সম্ভাবনায় পার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এটি নিশ্চিত হলে তা ‘সিপি ভায়োলেশন’-এর প্রমাণ হতে পারে, যা মহাবিশ্বে পদার্থের আধিক্যের কারণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

নিউট্রিনোকে ঘিরে আরেকটি বড় প্রশ্ন ডার্ক ম্যাটার। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানেন, মহাবিশ্বের বিপুল অংশ এমন এক অদৃশ্য পদার্থ দিয়ে গঠিত, যার উপস্থিতি সরাসরি দেখা যায় না। এর মহাকর্ষীয় প্রভাবের মাধ্যমে ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্বের ধারণা পাওয়া যায়।

সাধারণ নিউট্রিনোর কিছু বৈশিষ্ট্য ডার্ক ম্যাটারের সঙ্গে মিলে গেলেও তাদের ভর খুব কম এবং তারা প্রায় আলোর গতির কাছাকাছি চলে। ফলে মহাবিশ্বের ছায়াপথ ও অন্যান্য মহাজাগতিক কাঠামো গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ধীরগতির ‘ঠান্ডা’ ডার্ক ম্যাটার হিসেবে সাধারণ নিউট্রিনোকে উপযুক্ত মনে করা হয় না।

তবে বিজ্ঞানীরা ‘স্টেরাইল নিউট্রিনো’ নামে ভারী এক ধরনের সম্ভাব্য নিউট্রিনোর কথা বিবেচনা করেছেন। তাত্ত্বিকভাবে এগুলো ডার্ক ম্যাটারের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব কণার অস্তিত্বের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নিউট্রিনো নিজেরই প্রতিকণা কি না, সেটিও বিজ্ঞানীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ বিষয়ে ‘নিউট্রিনোলেস ডাবল বিটা ডিকে’ নামে একটি বিরল প্রক্রিয়া খোঁজা হচ্ছে। এর প্রমাণ পাওয়া গেলে মহাবিশ্বে পদার্থ কেন প্রতিপদার্থের চেয়ে বেশি—সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পথ আরও পরিষ্কার হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখনো পুরোপুরি বোঝা না গেলেও নিউট্রিনো আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম রহস্যময় কণা। মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে পদার্থের অস্তিত্ব ও ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি বোঝা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই ‘ভুতুড়ে কণা’ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।