33.9 C
Dhaka
Home Blog

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম অফিস করলেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করলেন তারেক রহমান। আজ সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছান।

কার্যালয়ে পৌঁছে তিনি প্রাঙ্গণে একটি স্বর্ণচাঁপার চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি সেখানে মোনাজাত করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ‘অমর একুশে’ স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন।

এর আগে কার্যালয়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

কার্যালয়ে মূল ভবনে প্রবেশের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নাম ধরে কাছে ডাকেন এবং তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন।

পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা নয়

নব্বই দশকের শুরু থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশ অর্জিত হয় এই শিল্প থেকেই। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে তাই পোশাক শিল্প অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থানের জোগান দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, এ শিল্পে কাজ করছেন প্রায় ৪৩ লাখ শ্রমিক, যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী। ভোরের আলো ফোঁটার সঙ্গে সঙ্গেই চোখে পড়ে শহরের ফুটপাত ধরে দলবেঁধে হেঁটে যাওয়া এই নারী কর্মীদের। তাদের অধিকাংশেরই বাস শহুরে বস্তিগুলোতে। বাইরে থেকে দেখলে অনেকেই ধারণা করতে পারেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার কারণে তারা হয়তো সমাজের আর দশজন নারীর চেয়ে অপেক্ষাকৃত ক্ষমতায়িত। তবে বাস্তবতা এখনও বেশ ভিন্ন। এই নারী শ্রমিকরা ঘর ও কর্মস্থল উভয় জায়গাতেই সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

সম্প্রতি আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত অ্যাডসার্চ প্রকল্পের গবেষণায় উঠে এসেছে, পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকলেও তাদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, এমনকি পারিবারিক নিরাপত্তাও উদ্বেগজনকভাবে দুর্বল। অথচ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার কেবল চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নয়, বরং তাদের মানবাধিকার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এ দেশের নারী পোশাক শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্র ও গৃহস্থালির ‘দ্বৈত বোঝা’ বহন করে চলেছেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ইতোপূর্বে পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু গবেষণা হলেও তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও সহিংসতা বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী বা কোহর্ট গবেষণা ছিল না।

আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত গবেষণাটিতে ঢাকার কড়াইল ও মিরপুর এবং টঙ্গীর বস্তিতে বাস করা ১৫–২৭ বছর বয়সী মোট ৭৭৮ জন বিবাহিত নারী শ্রমিক অংশ নিয়েছিলেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাটির তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণাটিতে অংশ নেওয়া নারী শ্রমিকদের প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজনেরই বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এবং তাদের প্রায় ৬৫ শতাংশ ১৮ বছর হওয়ার আগেই প্রথম গর্ভধারণ করেছেন। তাদের একটি অংশের বিয়ে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার আগেই হয়ে যায়। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও গর্ভপাতের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি। তাদের মধ্যে প্রায় প্রতি তিনজনে একজন নারীশ্রমিক জীবনে অন্তত একবার অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের মুখোমুখি হয়েছেন এবং এক-চতুর্থাংশের মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আর্থিকভাবে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পরও এই নারীরা সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে বাল্যবিবাহের কুফল থেকে মুক্তি পাননি। বাল্যবিবাহ তাদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি তৈরি করছে। কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ কেবল মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ নয়, একইসঙ্গে নবজাতকের মৃত্যু-ঝুঁকি ও অপুষ্টির হারও বাড়িয়ে দেয়।

কিশোরী গর্ভধারণের মূল নিয়ামকগুলো নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে, নারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে যারা তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষিত ও বাল্যবিবাহ হয়নি, তাদের কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। আবার যারা প্রথম গর্ভধারণের আগে গার্মেন্টসখাতে কাজ শুরু করেছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি কম ছিল। অন্যদিকে, স্বামীর মাধ্যমে সহিংসতার অভিজ্ঞতা থাকলে কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি ২৬ শতাংশ বেড়ে যায়।

তবে কিছুটা আশার বার্তা হলো, এসব পোশাক শিল্পে কাজ করছে বলেই সংসারের আয় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়েদের বিয়ে কিছুটা হলেও বিলম্ব করার সুযোগ হচ্ছে এবং অল্প বয়সে সন্তান ধারণের সংখ্যা কিছুটা হলেও কমছে।

এই কোহর্টের উপাত্ত ব্যবহার করে নারী ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক স্বামীর সহিংসতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা দেখানো হয়।

নারী ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক স্বামীর সহিংসতাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। যেমন: সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বেশি থাকলে মানসিক ও যৌন সহিংসতা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়; মতামত প্রকাশের ক্ষমতা থাকলে যৌন সহিংসতা কমে; নারী শ্রমিকের চলাচলে স্বাধীনতা বেশি থাকলে তার শারীরিক সহিংসতার ঝুঁকি কম।

ফলাফল বলছে, এ ধরণের ক্ষমতায়নের মাত্রা যত বাড়বে, নারী গার্মেন্ট শ্রমিকরা সহিংসতা থেকে তত বেশি সুরক্ষা পাবেন। সেইসঙ্গে ক্ষমতায়ন কোনো একমাত্রিক বিষয় নয়। শুধু আয়ের সুযোগ তৈরি হলেই নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, সামাজিক সম্মান, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ—সব মিলেই তৈরি হবে প্রকৃত ক্ষমতায়ন।

কিন্তু সহিংসতা থেকে মুক্তি কোথায়? দুই বছরব্যাপী এই গবেষণার শুরুতে প্রায় ৪৮ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে মানসিক সহিংসতার অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যা দুই বছর পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ শতাংশে। অর্থাৎ সহিংসতা ক্রমশ বাড়ছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সহিংসতার শিকার নারীরা প্রায় কেউই আনুষ্ঠানিক সাহায্য চাননি। মাত্র ২১ শতাংশ নারী অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিবার বা বন্ধুদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।

অর্থাৎ এখনো এক গভীর সামাজিক বলয় তাদেরকে ঘিরে আছে, যা থেকে বের হওয়া কঠিন। এই বাস্তবতা আমাদের সামনে প্রশ্ন তোলে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি যে নারী শ্রমিকেরা, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কি আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছি?

এই সমস্যার সমাধান অসম্ভব নয়। ক্ষমতায়নের মাত্রা বাড়লে সহিংসতার ঝুঁকি কমে। এই শিল্পে কর্মরত নারীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কর্মক্ষেত্রভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করে দেখা যেতে পারে। বড় বড় পোশাক কারখানাগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং সেবা সহজলভ্য করা যেতে পারে। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

এ ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে সব কারখানায় স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আলোচনা কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে। নারীদের জানাতে হবে, কোথায় গেলে কোন সেবাটি পাওয়া যায়। গার্মেন্টস মালিক ও তাদের সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে পারে। নারীর স্বাস্থ্য ভালো থাকলে এবং তাদের ওপর সহিংসতার মাত্রা কমানো গেলে তারা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, দেশের অর্থনীতির চাকা এগিয়ে যাবে।

কর্মক্ষেত্রে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে তাই সরকার, শিল্পমালিকগোষ্ঠী ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি ও পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত করে আচরণগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। নারী শ্রমিকরা যেন সহজেই তাদের পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পেতে পারেন, সেজন্য তারা যেসব এলাকায় বাস করেন, সেগুলোতে নারীবান্ধব দোকান খোলা ও অনলাইনে কেনাকাটার সুযোগও সৃষ্টি করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এ দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার নিরন্তর সংগ্রামের অংশ। এ দেশের নারী শ্রমিকরা নিজের ঘামে ও শ্রমে দেশের রপ্তানি আয় বাড়াচ্ছেন, পরিবারকে টিকিয়ে রাখছেন, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে এই উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে তাদের সামাজিক ক্ষমতায়ন যুক্ত করতে পারলেই পরিবর্তন সম্ভব। কারণ, একটি দেশের উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড শুধু রপ্তানি আয়ের পরিমাণ নয়, বরং সেই উন্নয়ন অবকাঠামোতে নারীরা কতটা নিরাপদ সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ এস এম রিয়াদ আরিফ, সিনিয়র কনটেন্ট ডেভেলপার, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ড. রুচিরা তাবাসসুম নভেদ্‌, ইমেরিটাস সায়েন্টিস্ট, আইসিডিডিআর,বি

প্রধান কোচ হিসেবে ইরাওলার সঙ্গে লিভারপুলের মৌখিক চুক্তি

নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আন্দোনি ইরাওলাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য একটি মৌখিক চুক্তিতে পৌঁছেছে ইংলিশ পরাশক্তি লিভারপুল। গত শনিবার আর্নে স্লটের বিদায়ের পর থেকেই অ্যানফিল্ডের ক্লাবটির দায়িত্ব নেওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি।

সূত্রের বরাতে আমেরিকান গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ কোচের সঙ্গে লিভারপুলের দুই বছরের চুক্তি হতে পারে। প্রিমিয়ার লিগের আরেক দল বোর্নমাউথের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ও তিনি একই মেয়াদের চুক্তি করেছিলেন।

গত মাসের শেষদিকে বোর্নমাউথের সঙ্গে তিন বছরের সম্পর্কের ইতি টানেন ইরাওলা। বর্তমানে লিভারপুলের সঙ্গে তার সহকারী কোচিং স্টাফদের চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

সহকারী হিসেবে পাবলো দে লা তোরে, টমি এলফিক, শন কুপার ও টম ওয়েবারকে পাশে চান স্পেনের হয়ে সাতটি ম্যাচ খেলা সাবেক এই ডিফেন্ডার। এরা সবাই বোর্নমাউথে তার কোচিং ও ব্যাকরুম স্টাফ হিসেবে ছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই লিভারপুল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেবে এবং সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেবে।

ইরাওলার সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছেন অলরেডদের স্পোর্টিং ডিরেক্টর রিচার্ড হিউজ, যিনি তাকে খুব ভালো করেই চেনেন। ২০২৩ সালে গ্যারি ও’নিলের উত্তরসূরি হিসেবে বোর্নমাউথের কোচ পদে ইরাওলাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন হিউজই।

বোর্নমাউথের প্রধান কোচ হিসেবে ইরাওলা দারুণ সাফল্য দেখিয়েছেন। তার অধীনে ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগে যথাক্রমে দ্বাদশ, নবম ও ষষ্ঠ স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে। সেই সঙ্গে সম্প্রতি নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উয়েফা ইউরোপা লিগে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করে তারা।

সব মিলিয়ে ইরাওলার সঙ্গে লিভারপুলের আলোচনা এত দ্রুত এগিয়ে যাওয়া এবং মৌখিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়াটা মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। যখন ব্যর্থতার দায়ে ডাচ কোচ স্লটকে বরখাস্ত করা হয়, তখনই ক্লাবটির নীতিনির্ধারকেরা দ্রুত নতুন কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। শূন্যস্থান পূরণের জন্য ইরাওলাই শুরু থেকে তাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন।

বোর্নমাউথ ছাড়ার পর ইরাওলা নিজেও একটি নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে উন্মুখ। ফলে পারিশ্রমিক ও শর্তাবলি নির্ধারণ এবং সহকারী স্টাফদের তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয়টি কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল।

আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমের আগে অনেক বিষয় সমাধান করার প্রয়োজনীয়তা থাকায় লিভারপুলের হাতে মোটেও সময় নেই। মোহামেদ সালাহ, অ্যান্ডি রবার্টসন ও ইব্রাহিমা কোনাতের মতো তারকারা ফ্রি এজেন্ট হিসেবে দল ছাড়ায় স্কোয়াডে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, কার্টিস জোন্স ও হার্ভে এলিয়টের চুক্তির মেয়াদ শেষ বছরে পদার্পণ করায় অ্যানফিল্ডে তাদের ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চিত।

শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বারবার হোঁচট খেয়ে সদ্যসমাপ্ত মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে পঞ্চম হয় লিভারপুল। অন্য প্রতিযোগিতাগুলোতেও আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পারায় তারা থেকেছে শিরোপাবিহীন।

মার্চে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো কোন জেলায়, কোন দেশ থেকে কত

চলতি বছরের মার্চে দেশে আসা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেকই এসেছে ঢাকা বিভাগে।

এ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে, ঢাকা বিভাগে এসেছে ১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চে মোট প্রবাসী আয়ের ৪৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর ঢাকায় ৪৫৬ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ রেমিট্যান্স বেশি এসেছে বলে প্রতিবেদনে দেখা গেছে।

প্রবাসী আয় প্রবাহের মাসিক প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগে এসেছে ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ৩১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

৩০১ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার আসায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সাধারণত বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময়, অর্থবছরের শেষ জুনে এবং ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে।

কোন জেলায় কত

জেলার হিসাবে ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এরপরে ৪১৩ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার নিয়ে চট্টগ্রাম।

২৪৩ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে কুমিল্লা তৃতীয় ও ১৬১ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ সিলেট জেলা।

ফেনীতে এসেছে ১১ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন, নোয়াখালীতে ১১১ দশমিক ৫১ মিলিয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসেছে ১০৩ দশমিক ০১ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

কোন দেশ থেকে কত

দেশের হিসাবে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীরা। তারা পাঠিয়েছেন ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া, মালয়েশিয়া থেকে ২ দশমিক ৭০ বিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন, ইতালি থেকে ১ দশমিক ৫৩২ ও ওমান থেকে এসেছে ১ দশমিক ৫৩১ বিলিয়ন ডলার।    

ব্যাংকগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠান হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক একাই পেয়েছে ৫৮৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চাপের মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিময় হারের ওঠানামা এবং ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয়ের মধ্যেই রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে।’

‘বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা, এমনকি নিজেদের ইশতেহারেরও বিরোধিতা করছে’

রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণকে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ দিতে যে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন, সেসবের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিএনপি বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তারা নিজেদের ঘোষিত কর্মসূচি, সংস্কার এমনকি ইশতেহারেরও বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয়, তারা যে কীসের বিরোধিতা করছে—সেই বোধটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।’

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, বিএনপি এখন প্রতিটি ইস্যুতেই ‘কথিত পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ’ অনুসরণ করছে। 

‘আমরা একসময় একসঙ্গেই নিপীড়নের শিকার ছিলাম। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, হাজার চেষ্টা করলেও আপনারা ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না—হয়তো দুর্বল সংস্করণ হতে পারেন, যারা জাতি ও বিরোধী দলকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত,’ বলেন তিনি।

গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের সংস্কারের পক্ষে রায়কে অগ্রাহ্য করাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই রায় বাস্তবায়িত হলে দেশ থেকে প্রকৃত অর্থেই ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের সেই আত্মত্যাগ না থাকলে আজ আপনারা ক্ষমতার স্বাদ পেতেন না। এই মা-বাবা, ভাই-বোনদের প্রিয়জনেরা জীবন দিয়েছেন বলেই আজকের এই বাস্তবতা।’

আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারও অবদান অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু তীরে ভেড়াতে পারিনি—জুলাইয়ের নায়করা সেই তরী ঘাটে তুলেছেন, জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তাদের সম্মান করতে শিখুন, অবমূল্যায়ন করবেন না।’

সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হয়েছে। নেত্রকোনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলার উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কেমন বাংলাদেশ? এমন বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম?’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন জামায়াত আমির।

‘আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে দা-কিরিচ-কুড়াল নয়, খাতা-কলম দেখতে চাই। কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী এসে আমাদের সন্তানদের ওপর দাপট দেখাক—এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। না হলে মনে রাখবেন, জুলাই শুধু চব্বিশেই সীমাবদ্ধ নয়—প্রয়োজনে আবার ফিরে আসবে,’ বলেন তিনি।

গণ-অভ্যুত্থানে হাত হারানো আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই রায়কে দমন করতে চাইলে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান বলেন, ‘জাতির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার সংসদে জুলাই শহীদদের অপমান করছে।’

যে নারীরা নিজের মতো বাঁচতে চায়, সমাজ তাদের মানতে পারে না: হানিয়া আমির

পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির বলেছেন, যেসব নারী নিজের মতো করে বাঁচতে চায় সমাজ এখনো তাদের মেনে নিতে পারে না।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি বিরতি নিয়েছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল, এ সময় ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে ভাববেন।

হানিয়া এ সময় একটি বিষয় উপলব্ধি করেন। তার ভাষায়, যেসব নারী নিজের মতো করে থাকতে চায়, তাদের অনলাইনে অযথা সমালোচনা ও ট্রলিংয়ের শিকার হতে হয়। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, অনেক সময় একই ইন্ডাস্ট্রির মানুষও তাদের টার্গেট করে।

তিনি বলেন, বিষয়টি কেবল পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, নারীরাও অনেক সময় অন্য নারীর অযথা সমালোচনা করে।

এই অভিনেত্রী বলেন, যারা অন্যের স্বীকৃতির বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে চায় সমাজ এমন নারীদের পছন্দ করে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভাবতাম ‘মানুষ কী বলবে?’ এই ধারণা অনেক পুরোনো হলেও এখনো বদলায়নি। শুধু মাধ্যম বদলেছে—আগে মুখে বলা হতো, এখন সেটা সামাজিকমাধ্যমে লেখা হয়।

তার ভাষ্য, আমরা এখনো নারীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছি। এখনো গায়ের রং, শরীরের গঠন—এসব নিয়ে মন্তব্য করছি, এখন সেটা সামাজিকমাধ্যমে বেশি হচ্ছে।

যদিও তিনি স্বীকার করেন যে, সামাজিকমাধ্যমের অনেক ভালো দিকও আছে। তবে নারীদের ওপর অতিরিক্ত ঘৃণা ও ট্রলিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি সবার প্রতি, বিশেষ করে নারীদের প্রতি আহ্বান জানান, অন্য নারীদের জীবনযাপন নিয়ে অযথা সমালোচনা না করতে।
হানিয়া আমির বলেন, সবাইকে নিজের মতো করে বাঁচতে দেওয়া দরকার।

ইরানে ইতিহাসের ‘বৃহত্তম বিমান হামলা’র দাবি ইসরায়েলের

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর হামলায় নিজেদের ‘ইতিহাসের বৃহত্তম বিমান হামলা’ চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাতে আজ শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত করেছে।

এতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে প্রায় ৫০০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি হামলা চালিয়েছে পশ্চিম ইরানের তাবরিজে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থান লক্ষ্য করে।
 

কর্মসংস্থান বাড়াতে শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা গতানুগতিক ধারায় চলার কারণে বেকারত্ব বাড়ছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামঞ্জস্য রাখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তা বেকারত্ব কমাতে ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে ভূমিকা রাখবে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সভার আয়োজন করে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান চালুর নানান দাবি এলেও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা ও বাজারের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা ও প্রথম ভাষা হিসেবে এর মর্যাদা অটুট। মাতৃভাষা চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান বাহন। বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য। বাংলা ভাষা বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলোর একটি এবং এর সংরক্ষণে বাংলাদেশের অবদান অনন্য। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাধ্যমে ভাষা সংরক্ষণের নৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাসমূহের সংরক্ষণ ও বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকে দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভিত্তি দুর্বল হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি মূল বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে—পাঠ্যক্রম, ক্লাসরুম এবং কনসিস্টেন্সি (ধারাবাহিকতা)। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাসহ বিভিন্ন ধারার মধ্যে মানগত সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যান্ড্রয়েড ১৭ ভার্সনে থাকছে যেসব নতুন ফিচার

সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সবচেয়ে নতুন ভার্সনটি রিলিজ করেছে গুগল। বরাবরের মতো এবারও থাকছে বেশ কিছু নতুন ফিচার। 

চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূলত গুগলের বিভিন্ন ফোন মডেলে পাওয়া যাচ্ছে ‘অ্যান্ড্রয়েড ১৭’ এর আপডেট। 

গুগলের নিজস্ব পিক্সেল ৬ থেকে পিক্সেল ১০ পর্যন্ত হ্যান্ডসেটে ইতোমধ্যে এই আপডেট চলে এসেছে। 

পাশাপাশি, পিক্সেল ১০ প্রো ফোল্ড, পিক্সেল ফোল্ড ও পিক্সেল ট্যাবলেটেও অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণটি ডাউনলোড করা যাচ্ছে। 

How Google's new Pixel 10 phones compare to one another on paper | The Verge

তবে এখনো সব অঞ্চলে এই আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

স্যামসাং, মটোরোলা ও শাওমি ফোনগুলোতেও আগামী মাসগুলোতে নতুন অ্যান্ড্রয়েড ভিত্তিক আপডেট আনা হবে বলে জানা গেছে। 

এই প্রতিবেদনে অ্যান্ড্রয়েড ১৭-এর কয়েকটি নতুন ফিচার তুলে ধরা হলো। 

আগে মূলত মেসেজিং অ্যাপেই বাবলস ব্যবহার করা হতো। এখন কিছু অ্যাপে এই সুবিধা আরও বিস্তৃত হচ্ছে, ফলে নির্দিষ্ট অ্যাপের কার্যক্রম বা কথোপকথন স্ক্রিনের ওপর ভাসমান ছোট বাবল আকারে রাখা যাবে।

ব্যবহারকারী সেই বাবল স্ক্রিনের যেকোনো জায়গায় সরিয়ে নিতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত খুলে বা বন্ধ করতে পারবেন। এতে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ বা কথোপকথনের মধ্যে সহজে কাজ করা যায়।

গুগলের দাবি, এই ধরনের মাল্টিটাস্কিং সুবিধা ম্যাপস, নোটস বা ভিডিও কনটেন্ট ব্যবহার করার সময় আরও সুবিধাজনক অভিজ্ঞতা দেবে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ভিডিও তৈরি আরও সহজ করতে ‘স্ক্রিন রিঅ্যাকশন’ নামে নতুন একটি টুল এনেছে গুগল। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একই সঙ্গে ফোনের স্ক্রিনে যা দেখা যাচ্ছে এবং ফ্রন্ট ক্যামেরায় নিজের প্রতিক্রিয়া—দুটিই রেকর্ড করতে পারবেন।

সহজভাবে বললে, কোনো ভিডিও দেখা, ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও মন্তব্য নিয়ে কথা বলার সময় ব্যবহারকারীর মুখ ও কণ্ঠস্বর স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের ওপরেই দেখা যাবে। এতে আলাদা অ্যাপ ব্যবহার, গ্রিন স্ক্রিন সেটআপ বা জটিল সম্পাদনার প্রয়োজন হবে না।

এক্সপ্লেইনার ভিডিও তৈরি সহজ করতে এই ফিচারটি আনা হয়েছে। গুগল জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মেই প্রথমে পিক্সেল ফোনে এটি চালু করা হবে।

বাজারে ইতোমধ্যে বেশ কয়েক ধরনের ফোল্ডেবল ডিভাইস এসেছে। এবার এসব ডিভাইসের ফোল্ডিং স্ক্রিনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে গেমারদের জন্য নতুন ফিচার এনেছে গুগল।

এই ফিচারের মাধ্যমে ফোল্ডেবল ডিভাইসের ওপরের অংশে গেম চলবে এবং নিচের অংশটি রূপান্তরিত হবে একটি ভার্চুয়াল গেমপ্যাডে। পাশাপাশি আলাদাভাবে ফিজিক্যাল গেমপ্যাড সংযুক্ত করার সুবিধাও থাকছে নতুন অ্যান্ড্রয়েডে।

হাই-ডেফিনিশন গেমিংয়ের সময় ফ্রেমরেট কমে যাওয়া বা ল্যাগের সমস্যা কমাতে উন্নত মেমোরি ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স অপটিমাইজেশন ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গুগল।

গুগলের দাবি, নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।

এর ফলে কোনো অ্যাপকে স্থায়ী অনুমতি না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডিভাইসের সুনির্দিষ্ট লোকেশন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে। একইভাবে, কনট্যাক্ট শেয়ার করার সময় পুরো ফোনবুক উন্মুক্ত না করে শুধু নির্বাচিত ব্যক্তিদের তথ্য শেয়ার করা সম্ভব হবে।

একটি উন্নত ‘ফাইন্ড হাব’ ফিচারও আনা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া ফোনকে বায়োমেট্রিক্স (যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি) দিয়ে লক করা যাবে।

এতে কেউ যদি ফোনের পাসকোড জেনেও নেয়, তবুও সে ডিভাইসে প্রবেশ করতে বা ট্র্যাকিং বন্ধ করতে পারবে না।

এছাড়া পিন কোড অনুমানের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং ভুল পিন বারবার দেওয়ার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় বাড়ানো হয়েছে। ফলে ডিভাইসটি অনুমানভিত্তিক আক্রমণ থেকে আরও সুরক্ষিত থাকবে।

পাশাপাশি ‘লাইভ থ্রেট ডিটেকশন’ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক অ্যাপ ও প্রতারণার প্রচেষ্টা আরও কার্যকরভাবে শনাক্ত ও প্রতিহত করা যায়। একইসঙ্গে ‘অ্যাডভান্সড প্রোটেকশন মোড’ সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা জটিল ও উন্নত সাইবার হামলা থেকে ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সুরক্ষা দেবে।

বড় ফিচারের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড ১৭-এ আরও কিছু ছোটখাট পরিবর্তন থাকছে।

এর মধ্যে রয়েছে হোম স্ক্রিনে অ্যাপের নাম লুকানোর সুবিধা, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের জন্য আলাদা ভলিউম কন্ট্রোল, ডার্ক থিমে আরও কাস্টমাইজেশন সেটিংস, এবং সব অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সম্প্রসারণ।

নতুন অ্যাপ মেমোরি লিমিট যুক্ত করা হয়েছে, যাতে কোনো একটি অ্যাপ অতিরিক্ত র‍্যাম ব্যবহার করতে না পারে। গুগলের দাবি, এতে ডিভাইসের পারফরম্যান্স ও ব্যাটারির স্থায়িত্ব আরও উন্নত হবে।

এছাড়া নির্বাচিত কিছু হাই-এন্ড ডিভাইসে চলতি গ্রীষ্মের শেষ দিকে জেমিনাই ইন্টেলিজেন্স নামের একটি অন-ডিভাইস এআই ফিচার সেট পাওয়া যাবে। এই ‘অন-ডিভাইস’ এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজ আরও সহজভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।

তবে এতে ঠিক কী কী ফিচার থাকবে, তা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

৪ বছর পর কোর্টে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস

টেনিস বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রত্যাবর্তনগুলোর একটি অবশেষে সত্যি হতে যাচ্ছে। প্রায় চার বছর প্রতিযোগিতামূলক টেনিসের বাইরে থাকার পর আবারও র‌্যাকেট হাতে কোর্টে ফিরছেন কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস। ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম একক শিরোপাজয়ী এই মার্কিন তারকা লন্ডনের কুইন্স ক্লাবে নারী দ্বৈত বিভাগে অংশ নিয়ে নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন।

৪৪ বছর বয়সী সেরেনা সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২২ সালের ইউএস ওপেনে। সেই আসরের তৃতীয় রাউন্ডে বিদায়ের পর আর তাকে পেশাদার টেনিস কোর্টে দেখা যায়নি। তবে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের ফেরার খবর নিশ্চিত করেন তিনি।

ভিডিওতে সাদা রঙের নাইকি পোশাকে কোর্টে দেখা যায় সেরেনাকে। সঙ্গে ছিল তার ফোনে একের পর এক বার্তা আসার দৃশ্য। ভিডিওটির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘সুন্দর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’

গত বছরের ডিসেম্বরে সেরেনার নাম আবারও অ্যান্টি-ডোপিং কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। কারণ পেশাদার ট্যুরে ফিরতে চাইলে এই কর্মসূচির অংশ হওয়া বাধ্যতামূলক। যদিও সে সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘ওহ মাই গড, আমি ফিরছি না। এই গুজব একেবারেই পাগলামি।’

কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বদলে গেছে পরিস্থিতি। কুইন্স ক্লাবের নারী দ্বৈত প্রতিযোগিতায় তাকে ওয়াইল্ড কার্ড দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তরুণ কানাডিয়ান খেলোয়াড় ভিক্টোরিয়া এমবোকোর সঙ্গে জুটি বেঁধেই কোর্টে নামবেন সেরেনা।

প্রত্যাবর্তন নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাসও লুকাননি তিনি। সেরেনা বলেন, ‘কুইন্স ক্লাব আমার নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য একদম উপযুক্ত জায়গা বলে মনে হয়েছে। ঘাসের কোর্ট আমাকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। তাই খেলাধুলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত।’

উইম্বলডনে সাতবারের একক চ্যাম্পিয়ন সেরেনার জন্য ঘাসের কোর্ট সবসময়ই বিশেষ কিছু। আর সেই কারণেই অনেকের কাছে কুইন্স ক্লাবকে তার প্রত্যাবর্তনের আদর্শ মঞ্চ বলে মনে হচ্ছে। ডব্লিউটিএ টুর্নামেন্ট পরিচালক লরা রবসনও সেরেনার ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সেরেনা উইলিয়ামস বিশ্বের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদদের একজন। এলটিএর এইচএসবিসি চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে আবার টেনিস কোর্টে দেখতে পেরে আমরা আনন্দিত। গত বছর কুইন্স ক্লাবে নারী টেনিসের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন হয়েছিল, আর এবার খেলাটির এক মহাতারকাকে আবার কোর্টে দেখা যাবে।’

২০২২ সালে টেনিস থেকে সরে দাঁড়ানোর সময়ও সেরেনা ‘অবসর’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাননি। বরং তিনি বলেছিলেন, তিনি টেনিসের বাইরে জীবনের নতুন পথে ‘বিবর্তিত’ হচ্ছেন। তবে সময় যেন শেষ পর্যন্ত তাকে আবার টেনিসেই ফিরিয়ে আনল।