27.9 C
Dhaka
Home Blog

বিদেশ ভ্রমণে ১৮ হাজার ডলার খরচের অনুমতির পরও ব্যয়ের সুযোগ সীমিত

বিদেশ ভ্রমণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা বছরে ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু, সাধারণ ও প্রয়োজনীয় খরচে সেই অর্থ যদি ব্যবহার করা না-ই যায়, বার্ষিক সীমা বাড়িয়ে খুব বেশি একটা লাভ নেই।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পরিবার নিয়ে ভ্রমণের সময় আমাকে এ অসঙ্গতির মধ্যে পড়তে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য নিজের, স্ত্রীর ও সন্তানের উড়োজাহাজের টিকিট কিনতে হয়েছিল আমাকে। খরচ সাশ্রয়ে অন্য অনেক ভ্রমণকারীর মতো আমিও কম দামের টিকিট খুঁজছিলাম। কিন্তু তিনজনের টিকিটের মোট দাম ৩০০ ডলারের বেশি হওয়ায় অনলাইনে লেনদেনটি সম্পন্ন করতে পারিনি। কারণ, এটি আন্তর্জাতিক কার্ডে অনলাইন লেনদেনের নির্ধারিত সীমার বাইরে।

খরচের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও পরিবার নিয়ে ভ্রমণে প্রয়োজনীয় একটি সাধারণ কাজে আমি এই টাকা ব্যয় করতে পারিনি।

মেয়েকে নিয়ে রাত ১২টার দিকে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সমস্যাটি আরও প্রকট হয়। আমার সামনে দুটি বিকল্প ছিল—বিমানবন্দরের ব্যয়বহুল ট্যাক্সি নেওয়া অথবা উবারের মতো অ্যাপভিত্তিক তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহন সেবা ব্যবহার করা।

কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে ইস্যু করা কার্ড দিয়ে আমি উবারের ভাড়া পরিশোধ করতে পারিনি।

দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আমার সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়ার ট্যাক্সিই নিতে হয়। এতে উবারে যাতায়াতের সম্ভাব্য খরচের দ্বিগুণের বেশি ব্যয় হয়।

পরদিন সকালে নিউইয়র্কে বসবাসরত এক বন্ধুকে বলি তার ক্রেডিট কার্ড যেন আমার উবার অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে দেন। বৈধভাবে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি ও পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ যাতায়াতের খরচ মেটাতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া একজনকে অন্যের বিদেশি কার্ডের ওপর নির্ভর করতে হবে কেন?

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজের টিকিট কেনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে ভ্রমণকারীরা সব সময় সরাসরি এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কেনেন না। কম দামে টিকিট পেতে অনেকেই ট্রিপ ডটকমের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন কিংবা স্কাইস্ক্যানারের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার ভাড়া তুলনা করেন।

হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইটের চেয়ে বুকিং ডটকম বা আগোডার মতো প্ল্যাটফর্মে সাশ্রয় বেশি হয়।

সরাসরি কোনো সেবাদাতাকে অর্থ পরিশোধের অনুমতি দেওয়াটা ইতিবাচক হলেও, বিভিন্ন সেবায় মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্মে পেমেন্ট করতে না পারায় দিনশেষে ভ্রমণের খরচ বেড়েই যায়।

এছাড়া বৈধ কার্ড ব্যবহার কিংবা অনলাইন লেনদেন করতে বারবার ব্যর্থ হলে, বাধ্য হয়ে ভ্রমণকারীরা বেশি পরিমাণে নগদ অর্থ সঙ্গে রাখতে কিংবা অনানুষ্ঠানিক বিকল্প মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারেন। এতে আর্থিক লেনদেনের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত হওয়ার পরিবর্তে আরও দুর্বল হয়।

অবশ্যই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখা এবং এর অপব্যবহার ঠেকানো জরুরি। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত। ব্যাংকগুলো প্রতিটি লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করে। আর্থিক ও করসংক্রান্ত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ও ক্রমে বাড়ছে। ফলে নিয়মিত ভ্রমণ ব্যয় আটকে না দিয়েও সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও সেগুলোর তদন্ত করা সম্ভব।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত একক লেনদেনের সীমা যৌক্তিক পর্যায়ে বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা। পাশাপাশি প্রয়োজন প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত সেবার জন্য স্পষ্ট ছাড়ের ব্যবস্থা করা।

বিদেশে অবস্থানকালে কেনা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট টিকিট, স্বীকৃত হোটেল বুকিং প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপভিত্তিক পরিবহন, ট্রেনের টিকিট ও গাড়ি ভাড়ার খরচ—এ সুবিধার আওতায় রাখা যেতে পারে।

ব্যাংকগুলোকেও এ বিষয়ে অভিন্ন নির্দেশনা দিতে হবে। কোনো সেবাদাতাকে উড়োজাহাজ সংস্থা বা হোটেল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ না করে মধ্যস্থতাকারী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করার কারণে যেন বৈধ লেনদেন আটকে না যায়।

মূল বিষয়টি সহজ। রাষ্ট্র যদি একজন ভ্রমণকারীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাহলে তাকে সেই অর্থ বৈধ ও শনাক্তযোগ্য ভ্রমণ ব্যয়ে খরচ করার সুযোগও দিতে হবে।

বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১৮ হাজার ডলারে উন্নীত করা অগ্রগতির লক্ষণ।

তবে বিমানবন্দরে, টিকিট বুকিংয়ের ওয়েবসাইটে কিংবা গভীর রাতে সন্তানকে নিয়ে যাতায়াতের সময় এই সুবিধা বাস্তবে কাজে না লাগলে, সেই অগ্রগতি বা সংস্কার অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

লেখক: হেড অব অপারেশনস এবং সিএফও, দ্য ডেইলি স্টার

তারেকের দিকে ঝুঁকছে ভারত, হাসিনার ব্যাপারে শীতলতা?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি ফিরে যান। পরদিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন। এ থেকে অন্তত বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়তে ভারতের ইচ্ছার আভাস পাওয়া যায়।

কাকতালীয়ভাবে যেদিন দীনেশ ত্রিবেদী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন, সেদিনই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈনও ঢাকায় ছিলেন।

আর এই ঘটনা ঘটে দিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুল আলোচিত একটি সংবাদ সম্মেলনের এক সপ্তাহ না যেতেই।

গত ৫ আগস্ট দিল্লির সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এর আগে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভারতকে সতর্ক করেছিল। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ যে ভাষায় তার আপত্তি জানিয়েছিল তাতে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের খুব একটা বালাই ছিল না।

অবশ্য ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত। দিল্লি পরিষ্কার করে জানায়, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের ‘বৈধভাবে গঠিত’ সরকার নিয়ে হাসিনা যে মন্তব্য করেছেন, ভারত সরকার তা সমর্থন করে না।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের অবস্থানের পরিবর্তন বেশ চোখে পড়ার মতো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের আচরণ দেখে মনে হয়েছিল, ২০২৪-এর আগস্টে তারা যেন একটি উপনিবেশ হারিয়ে তাদের ভাইসরয়কে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

কিন্তু এখন দিল্লির বার্তা অনেকটাই পরিষ্কার। বিএনপি নির্বাচনে জেতার আগেই ভারতের পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। দিল্লি বুঝিয়ে দিয়েছিল, তারা তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

এখন তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে সরকারপ্রধান হওয়ায় ভারতের লক্ষ্য বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী না করতে পারলেও অন্তত টানাপোড়েন কমানো।

তবে এর মধ্য দিয়ে আরেকটি বার্তাও বেশ পরিষ্কার। মোদি সরকার ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো থেকে আটকাতে খুব একটা আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না।

যতক্ষণ এসব অনুষ্ঠান ‘ব্যক্তিগতভাবে’ আয়োজন করা হচ্ছে, ততক্ষণ ভারত সরকার নিজে থেকে তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেবে না—এমনটাই এখনো দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে তা করবে—এমন কোনো প্রতিশ্রুতিও ভারত দেয়নি।

বিষয়টি নিয়ে এত আলোচনা হওয়ার কারণ হলো, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের একটি অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারেক কি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেবে না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই নিয়ে আলোচনা ছিল। অংশ নেবার ব্যাপারে কিছুটা সংশয়ও ছিল। এ প্রসঙ্গে কথা উঠলে ভারত জোর দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জয়সওয়াল বলেন, ভারত তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি দুই দেশেই আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। ফলে আরেকটা প্রশ্নেরও খানিকটা জবাব মিলছে। ভারতের মাটিতে হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে তারেকের ভারত সফর অনিশ্চিত থাকবে—এমন যে আলোচনা চলছিল, তা হয়তো আর থাকছে না।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর তার সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন নিয়ে হাসিনা এখনো কোনো অনুশোচনা দেখাননি। শত শত আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার ঘটনাতেও তিনি নিজের অবস্থান বদলাননি।

তার সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক বক্তব্যগুলো জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির জোটের গাত্রদাহের কারণ হয়েছে। তাই বিরোধী পক্ষ জোর দিয়ে বলছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে হবে এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

এখানে আপাতভাবে একটি স্ববিরোধী বিষয় চোখে পড়ে।

জামায়াত ও এনসিপি হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু হাসিনা নিজেই যখন দেশে ফেরার ঘোষণা দেন, তখন তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়। সম্ভবত সমস্যাটা হাসিনার ফিরে আসা নিয়ে নয়। তিনি কীভাবে ফিরবেন তা নিয়ে।

হাসিনা যদি নিজের ইচ্ছায় ফিরলে অনেকটা রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন হবে। কিন্তু বিরোধী দলগুলো এবং সরকারি দলও এই ব্যাপারে পরিষ্কার। তারা চায় হাসিনা যেন একজন দণ্ডিত আসামি হিসেবে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে দেশে ফেরেন।

এ ছাড়া বিরোধী দলগুলো ভারতের বিরুদ্ধেও বেশ সরব। তারা সাধারণ মানুষের প্রবল ভারতবিরোধী মনোভাবকে উস্কিয়ে রেখে তাদের বিরোধিতা আরও শক্তিশালি করতে চেষ্টা করছে এবং করবে। 

এটাও সহজে ভোলার মতো বিষয় না যে, শেখ হাসিনার সরকারের জন্য প্রতিবেশী ভারত দীর্ঘদিন ধরে শক্তির বড় উৎস ছিল এবং এখনও আছে। 

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারও ভারতকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। বড় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয়।

তার ওপর আগে ভারতের না গিয়ে, তারেক রহমানের চীন সফর এবং এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার বিষয়টি দিল্লিকে কিছুটা চিন্তায় ফেলবে বৈকি। 

ভারতের নিজের উঠানেই বদলে যাওয়া ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হয়তো মোদি সরকারের কিছুটা তড়িঘড়ি। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে মোদির বৈঠক পরে না হয়ে আগেই হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

তবে দেশের ভেতরের রাজনীতিতে আগে একটা ভারসাম্য তৈরি করতে হবে তারেক রহমানকে। তারপরই বিদেশের সম্পর্কের দিকে মনযোগ দিতে পারবেন। হাসিনার প্রতি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে তাকে বোঝাতে হবে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার অর্থ হাসিনার বিচারের দাবি থেকে সরে আসা নয়। বরং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করেই সেই বিচারের দাবিকে আরও জোরালো করা সম্ভব।

একই সঙ্গে দিল্লি এবার একটি বিষয় বুঝবে বলে আশা করা যায় যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারে না।

৪ দফা সময় বাড়িয়েও আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ৩৮ শতাংশ

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ৪ দফা বাড়িয়ে মার্চ পর্যন্ত করার পরও আশানুরূপ হয়নি ফলাফল।

কোভিড মহামারির পরে যখন দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, সেই ২০২১-২২ অর্থবছর বাদ দিলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিটার্ন জমা পড়েছে গত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ব্যক্তি ও কোম্পানি মিলিয়ে মাত্র ৩৮ শতাংশ নিবন্ধিত করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদ নেওয়ার সংখ্যা বাড়লেও কর পরিপালনে (ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স) স্থায়ী ব্যবধানের চিত্র সামনে এসেছে।

কর বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়িক নেতারা মনে করছেন, দুটি কারণে অনেক যোগ্য করদাতা করজালের বাইরে রয়ে গেছেন। কারণগুলো হলো—অসংখ্য নিষ্ক্রিয় নিবন্ধন থাকা পুরোনো ও স্ফীত টিআইএন তথ্যভাণ্ডার এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগ।

কর পরিপালন বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন আয়কর আইনের আওতায় সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু, আইন প্রয়োগ জোরদার ও আগেভাগে রিটার্ন জমাদানকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কর রেয়াত ঘোষণা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপ কর-অনুগত্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনবে কি না, তা সময়ই বলে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত টিআইএন নেওয়া ব্যক্তি ও কোম্পানির সংখ্যা ১১ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছেছে, এক বছর আগে ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ। কিন্তু রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার।

তবে আয়কর আদায় আগের বছরের ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা আয়কর আদায় হয়েছে। আগের অর্থবছরে ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা।

এই প্রবণতাকে বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করছেন, রাজস্ব আহরণ এখনো মূলত উৎসে কর কর্তন বা আদায় ও আগাম করের ওপর নির্ভরশীল; স্বতঃস্ফূর্ত কর-অনুগত্যের ওপর নয়।

করপোরেট ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ১ লাখ ৬০ হাজার করপোরেট টিআইএন সনদের বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাত্র ৪২ হাজার প্রতিষ্ঠান রিটার্ন জমা দিয়েছে। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৬৫৯।

সূত্র অনুসারে, মোট কর রাজস্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে করপোরেট আয়কর থেকে। তবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য বলছে, এই খাত থেকে আদায় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৮ শতাংশ, যা সমমানের অর্থনীতির প্রায় অর্ধেক এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি ছোট দেশের তুলনায় কম।

এই ঘাটতির কারণে সরকারকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), শুল্ক ও ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়। আর শেষ পর্যন্ত এই চাপ এসে পড়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।

এই অসামঞ্জস্যের বড় কারণ হিসেবে পুরোনো তথ্যভাণ্ডারকে দায়ী করেছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান ও এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

কামরান বলেন, করযোগ্য আয় থাকার কারণে নয়, বরং জমি কেনা, সম্পত্তি নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব খোলা, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া বা ঋণ পাওয়ার জন্য অনেককে টিআইএন নিতে হয়েছে। আবার অনেক টিআইএন এমন ব্যক্তিদের নামে রয়েছে, যারা মারা গেছেন, দেশ ছেড়েছেন বা নিষ্ক্রিয়। কিন্তু তথ্যভাণ্ডারে এখনো তাদের নাম রয়ে গেছে।

‘তথ্যভাণ্ডার নিয়মিত হালনাগাদ করে নিষ্ক্রিয় টিআইএন বাদ দেওয়া উচিত। তাহলে দেশের সক্রিয় করদাতার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে,’ শনিবার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন তিনি।

তবে কোনটি অগ্রাধিকার পাবে তা নিয়ে কামরান ও স্নেহাশীষের মতপার্থক্য রয়েছে।

কামরান বলেন, রিটার্ন জমা দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও প্রকৃত কর পরিপালনের চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরে না। কারণ অনেক রিটার্নে কর পরিশোধের দায় থাকে না।

তার মতে, সক্রিয় করদাতার সংখ্যা বাড়ানোই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তাছাড়া ‘কর-অনুগত বিদ্যমান করদাতাদের ওপরই চাপ বাড়তে থাকবে।’

স্নেহাশীষ মনে করেন, শুধু তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ করে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করজালের আওতায় আনা যাবে না। প্রকৃত সমাধান হলো বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা। বিশেষ করে আয়কর আইনের ২৬৪ ধারায় বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর) সংক্রান্ত বিধান বাস্তবায়ন করা।

যেখানে আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক, সেখানে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সময় সিটি করপোরেশন, বড় অঙ্কের মেয়াদি আমানত গ্রহণ বা ঋণপত্র (এলসি) খোলার সময় ব্যাংক এবং সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে চেম্বারগুলোকে পিএসআর জমা নিশ্চিত করতে হবে।

‘এনবিআরকে প্রথমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। এরপর বিদ্যমান বিধান কার্যকরে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে,’ বলেন তিনি।

সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ এবং আগেভাগে রিটার্ন জমা দিলে প্রণোদনা কর-অনুগত্যে বড় পরিবর্তন আনবে কি না—সে ব্যাপারে কামরান ও স্নেহাশীষ দুজনই সন্দিহান।

স্নেহাশীষের ভাষ্য, ‘যারা আগে থেকেই রিটার্ন দেন, তারা ভবিষ্যতেও দেবেন।’

‘প্রণোদনা কিছু ক্ষুদ্র করদাতাকে উৎসাহিত করতে পারে, তবে নিয়মিত রিটার্ন না দেওয়া ব্যক্তি বা বড় করদাতাদের উৎসাহিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।’

কামরানও এতে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, পুরোপুরি ডিজিটাল কর প্রশাসন এবং আরও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া করজাল সম্প্রসারিত হলেও ধীরগতি থাকবে।

এনবিআরের কর জরিপ ও পরিদর্শন বিভাগের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রিটার্ন জমার নিম্নমুখী হারকে ব্যাপক কর ফাঁকির প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। টিআইএন তথ্যভাণ্ডারের দুর্বলতা নিয়ে স্নেহাশীষ ও কামরানের উদ্বেগের সঙ্গেও তিনি একমত পোষণ করেন।

তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিআইএন এমন ব্যক্তিদের নামে রয়েছে, যারা মারা গেছেন। কিন্তু তাদের তথ্য এখনো বাদ দেওয়া হয়নি। আবার অনেকে শুধু ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক ঋণের জন্য টিআইএন নিয়েছেন, যাদের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতাই ছিল না।

রফিকুল বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু করদাতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, রিটার্ন জমার হার কমে যাওয়ার এটি আরেকটি কারণ।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক অভিযানের মাধ্যমে হাজারো শিক্ষক ও অন্যান্য পেশাজীবীকে করজালের আওতায় আনা হয়েছিল। তবে তাদের অনেকেই এখন আর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না।

নতুন আয়কর আইনের আওতায় এখন কর অফিসগুলো একইসঙ্গে রিটার্ন জমার নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি রিটার্ন জমা না দিলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করতে পারবে।

রফিকুল আশা প্রকাশ করেন, এনবিআরের নতুন উদ্যোগে আগামী বছরগুলোতে নিবন্ধিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দিতে উৎসাহিত হবে।

উৎসবের অপেক্ষায় নরওয়ে, কিন্তু বৃষ্টির পূর্বাভাসে দুশ্চিন্তা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ঘিরে নরওয়েজুড়ে এখন উৎসবের আবহ। রাজধানী অসলোসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তাঘাট ও খোলা চত্বরে হাজারো সমর্থক একসঙ্গে ম্যাচ দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে এই ফুটবল উন্মাদনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বৈরী আবহাওয়া।

শুক্রবার সকালে নরওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জন্য ‘ইয়েলো’ সতর্কতা জারি করেছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেল ও সন্ধ্যায় বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও এক ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিও হতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ভারী বর্ষণে শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, নিচতলার ভবনে পানি ঢুকে পড়া, স্থানীয়ভাবে বন্যা, এমনকি পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে।

চলমান বিশ্বকাপে নরওয়ের পাঁচটি ম্যাচেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোলা আকাশের নিচে বড় পর্দায় খেলা দেখেছেন হাজারো সমর্থক। প্রায় তিন দশক পর পুরুষদের বিশ্বকাপে খেলতে নামা দলটির সাফল্যে রাস্তাঘাট, স্কয়ার ও জনসমাগমস্থলগুলো পরিণত হয়েছে উৎসবের মঞ্চে।

বিশেষ করে দলের ভাইরাল ‘রোয়িং’ (নৌকা বাইবার ভঙ্গি) উদযাপন বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই উদযাপন আবারও দেখতে মুখিয়ে আছেন সমর্থকেরা। কিন্তু ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় অনেক আয়োজককেই বিকল্প পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।

তবে স্বস্তির খবরও আছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাত আটটার দিকে বৃষ্টি থেমে যেতে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে ইংল্যান্ড-নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হবে নরওয়ের স্থানীয় সময় রাত ১১টায়। ফলে প্রকৃতির বাধা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সমর্থকেরা একসঙ্গে হালান্ডদের উৎসাহ দিতে পারবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।

 

মেরিলিন মনরোর শততম জন্মদিনে হলিউডের নানা আয়োজন

আজ থেকে ঠিক ১০০ বছর আগে জন্ম নিয়েছিলেন হলিউডের ক্ষণজন্মা তারকা মেরিলিন মনরো।

শততম জন্মবার্ষিকীতে মেরিলিনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে  উৎসবে মাতবে হলিউড। 

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

ঐতিহাসিক চৈনিক থিয়েটারে ভক্তরা সমস্বরে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গেয়ে উঠবেন। একই কায়দায় বহু বছর আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মেরিলিন। সে ঘটনাকে স্মরণ করতেই এই আয়োজন। 

সেখানে মেরিলিন ও ‘জেন্টেলমেন প্রেফার ব্লন্ডস (১৯৫৩)’ সিনেমার সহ-অভিনেতা জেইন রাসেলের হাতের ছাপ রাখা আছে। 

হলিউডের সোনালী যুগের প্রতীক হিসেবে একশোটি গোলাপ ও একটি কেক সেখানে রাখা হবে। 

সংশ্লিষ্টদের মত, মেরিলিনের জন্মশতবার্ষিকীকে ঘিরে অসংখ্য পর্যটক হলিউডে যেতে উৎসাহিত হবেন। 

রোববার থেকেই মেরিলিনের প্রতি সম্মান জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

অ্যাকাডেমি মিউজিয়ামে ‘মেরিলিন মনরো: হলিউড আইকন’ নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে রুপালী পর্দায় তার ক্যারিয়ার ও সংক্ষিপ্ত জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। 

পঞ্চাশের দশকে ‘সুপারস্টার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার অল্প কিছুদের মধ্যে অতিরিক্ত মাদক সেবনের জেরে মারা যান এই অভিনেত্রী ও মডেল। 

১৯৬২ সালের আগস্টে ব্রেন্টউডে নিজের বাড়িতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যা। সে সময় মেরিলিন মনরোর বয়স মাত্র ৩৬।  

অ্যাকাডেমি মিউজিয়ামে পুরো মাসজুড়ে তার বিখ্যাত কয়েকটি সিনেমা দেখানো হবে। এগুলোর মধ্যে আছে ‘দ্য অ্যাসফল্ট জাঙ্গল (১৯৫০)’, ‘নায়াগ্রা (১৯৫৩)’, ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ (১৯৫৫)’, সাম লাইক ইট হট (১৯৫৯)’ এবং ‘দ্য মিসফিটস (১৯৬১)’। 

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চালু থাকবে। 

এতে মেরিলিন মনরোর ব্যবহার করা অনেক জিনিসপত্র প্রদর্শন করা হবে। যেমন ‘জেন্টেলমেন প্রেফার ব্লন্ডস’ সিনেমায় ‘ডায়মন্ডস আর আ গার্লস বেস্ট ফ্রেন্ড’ গানের চিত্রায়নের সময় তার পরনে থাকা বিখ্যাত গোলাপি পোশাক। 

৪ জুন মেরিলিনের ব্যবহার করা ২০০টি জিনিস নিলাম তোলা হবে। 

একই নিলামকে ‘মেরিলিনের ১০০ বছর’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। 

নিলামে উঠতে যাওয়া উপকরণের মধ্যে আছে অপ্রকাশিত ছবি, একটি অসম্পূর্ণ শর্ট ফিল্ম ‘সামথিং’স গট টি গিভ’, হাতে লেখা রেসিপি ও তার ব্যবহার করা এলিজাবেথ আরডেন লিপস্টিক।  

ইরানে এখনই স্থল অভিযানের কথা ভাবছেন না ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমন্বিত আগ্রাসনের আজ সপ্তম দিন। এই পুরোটা সময় মূলত যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ওই দুই দেশ। 

স্থল অভিযান চালানোর কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখায়নি দেশ দুইটি। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে,  ইরানে মার্কিন সেনা পাঠিয়ে স্থল অভিযান চালানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবাও সময় নষ্ট। 

আজ শুক্রবার এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। 

এনবিসিকে ফোনে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা সব হারিয়েছে। তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে। যা যা হারানো সম্ভব, তার সবই তারা হারিয়ে ফেলেছে।’

এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুশিয়ারি দেন, ‘আগ্রাসীরা’ স্থল হামলা চালালে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। 

আরাঘচির মতকে ট্রাম্প ‘অযাচিত মন্তব্য’ আখ্যা দেন। 
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোর ধ্বংস দেখতে আগ্রহী। 

‘আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে সব কিছু সাফ করে ফেলতে চাই’, যোগ করেন ট্রাম্প। 

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কাউকে চাইনা যে ১০ বছরের মধ্যে আবারো সবকিছুকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে।’

ইরানের নতুন নেতা কে হতে পারেন, সে বিষয়ে ট্রাম্পের কিছু চিন্তা আছে তবে কারো নাম জানাতে অস্বীকার করেন তিনি। 

এর আগে ট্রাম্প দাবি জানান, ‘ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত থাকতে হবে।’

আজ শুক্রবার তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। 

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ক্ষমতাসীনদের বিভিন্ন অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং এটা চলমান যুদ্ধের ‘নতুন পর্যায়’। 

উচ্ছেদ অভিযানে ইউএনওর সঙ্গে বিএনপি নেতার বাকবিতণ্ডা

ঢাকার সাভারে মহাসড়কের পাশে অবৈধ দখলদার ও হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় এক বিএনপি নেতার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাকবিতণ্ডা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে নির্মাণ সামগ্রী রাখাকে কেন্দ্র করে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় সাভারের ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ধামশোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদের এই বাকবিতণ্ডা হয়।

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইউএনও উপস্থিত পুলিশ সদস্যকে বলেন, ‘ওনাকে হাতকড়া দেন। সরকারি রাস্তা আটকানোর কারণে ওনাকে গ্রেপ্তার করা হলো। হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে গাড়িতে ওঠান উনাকে।’

এ সময় ডা. আসাদউল্লাহ ইউএনওকে বলেন, ‘শুনেন আমি রাখছি এটা (নির্মাণ সামগ্রী), সরায়ে দিমু। কিন্তু আপনি যেটা বলতেছেন, এটা কিন্তু একটু অনধিকার হয়ে যাচ্ছে।’

তখন ইউএনও বলেন, ‘কীসের অনধিকার? রাস্তা আটকানো সবার জন্যই অপরাধ।’

এই বাকবিতণ্ডার শুরু কীভাবে হয়েছে তা জানতে চাইলে ঘটনার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়কের পাশে হকার ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছিলেন ইউএনও। ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদের মালিকানাধীন গনী জেনারেল হাসপাতালের সামনে মহাসড়কের পাশে খোয়া ও বালু রেখে চারতলা হাসপাতাল ভবনের উপরের দুইতলার নির্মাণকাজ চলছিল।

তারা জানান, অভিযানের সময় ডা. আসাদউল্লাহকে ডেকে এনে ইউএনও জানতে চান, কেন মহাসড়কের ওপর খোয়া ও বালু রাখা হয়েছে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘সবাই রাখছে তাই আমিও রাখছি।’ একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

এ বিষয়ে ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার হাসপাতালের চারতলা ভবনের উপরের দুতলার নির্মাণ কাজ চলছে। সেটারই নির্মাণ সামগ্রী হাসপাতালের সামনে রাখা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ইউএনও সাহেব নির্মাণ সামগ্রী সরাতে বলেন। আমি বলেছি সরিয়ে দিব। তারপরও তিনি আমাকে গ্রেপ্তার করতে চেয়েছেন এবং আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। আমি ওনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি।’

ইউএনও সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা মহাসড়কের পাশে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছি। তিনি (ডা. আসাদউল্লাহ) মহাসড়কের অনেকাংশ দখল করে ইটের খোয়া ও বালু ফেলে রেখেছিলেন। আমি সেগুলো সরিয়ে নিতে বলেছি। একটু রাগারাগি করেছি।’

আইডিয়া চুরি করছে এআই, গবেষকদের শঙ্কা

গবেষণার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করছেন অনেক বিজ্ঞানী। কেউ নতুন ধারণা নিয়ে এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। কেউ গবেষণার তথ্য খোঁজেন। আবার কেউ নিজের লেখা ঠিক করতে এআইয়ের সাহায্য নেন।

কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে, এআইকে নিজের গবেষণার কথা জানালে সেই ধারণা নিজেদের কাজ ব্যবহার করে কিনা?

সায়েন্টিফিক আমেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গবেষকদের দেওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মডেলের সফলতা হিসেবে দেখাচ্ছে।

যেমন ওপেনএআই দাবি করেছে, তাদের একটি এআই মডেল গণিতের মিলিয়ন ডলারের একটি সমস্যার সমাধান করেছে। এরপর নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গণিতবিদ সন্দেহ প্রকাশ করেন। তার ধারণা, চ্যাটবটের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া তার গবেষণার সঙ্গে এই সাফল্যের সম্পর্ক আছে। কারণ তিনি এটা চ্যাটবটে আলোচনা করেছিলেন।

কয়েকসপ্তাহ পর নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় আরেকটি ঘটনা প্রকাশিত হয়। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জীববিজ্ঞানীর গবেষণা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি একদল এনজাইম নিয়ে কাজ করছিলেন। এনজাইম হলো জীবদেহে বিভিন্ন রাসায়নিক কাজ ঘটাতে সাহায্যকারী পদার্থ।

তবে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গবেষকদের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে তারা নিজেদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেয়নি।

এমন বিতর্কের পরও বিজ্ঞানীরা এআই ব্যবহার করছেন। কেউ গবেষণাপত্র খুঁজছেন। কেউ নিজের ধারণা যাচাই করছেন। আবার কেউ জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান বের করছেন।

কিন্তু এআইকে গবেষণার তথ্য দেওয়ার পর সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট তথ্য প্রকাশ করে না বলে অভিযোগ গবেষকদের।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইনস্টিটিউটের গবেষক জেনিফার কিং বলেন, ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার সম্পর্কে নানা ধারণা তৈরি করতে পারে এআই। কিন্তু এসব ধারণা কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তা সব সময় জানানো হয় না।

কিংয়ের পরামর্শ, এআই ব্যবহারের আগে অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত সেটিংস দেখে নেওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি বিশেষ অ্যাকাউন্টে তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিজের তথ্য দিয়ে এআই প্রশিক্ষণ বন্ধ করতে অনেক সময় ব্যবহারকারীকে নিজেই সেটিংস বদলাতে হয়।

আরেকটি বিষয় নিয়েও উদ্বেগ আছে। কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছে করে ব্যবহারকারীর তথ্য দিয়ে এআইকে প্রশিক্ষণ না দিলেও, অন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

গবেষণার কাজ দ্রুত করতে এআই সাহায্য করছে। তাই বিজ্ঞানীরা এখন উভয় সংকটে। এআই ব্যবহার করলে গবেষণার গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয় থাকে। আবার ব্যবহার না করলে অন্য কেউ এআইয়ের সাহায্যে আগেই একই গবেষণার করতে পারেন।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক কম্পিউটারবিজ্ঞানী ক্লেমঁ কানোন বলেন, এআই ব্যবহার না করলে গবেষণার জগতে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা আছে। ফলে বিজ্ঞানীরা এক ধরনের দ্বিধায় পড়েছেন।

সায়েন্টিফিক আমেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু এর সঙ্গে বেড়েছে তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ। গবেষকদের ধারণা ও তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেই।

গ্রামীণ নারীরাই গ্রামের প্রাণসঞ্জিবনী ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’

মাছ, পাখি, ধান, শামুক, মৌমাছি কিংবা মানুষ—আমাদের শরীর লাখো কোটি কোষের এক একটি জীবন্ত বই। কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস, ডিএনএ থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়ারাই শক্তি জুগিয়ে প্রতিটি প্রাণকে জীবন্ত রাখে। তাই একে কোষের শক্তিঘর বলে। প্রকৃতি ও মানুষের সমাজ নিয়ে একটি গ্রামকে যদি জীবন্ত বই ধরা হয়, তাহলে সেই গ্রামের নারীরা হলো তার মাইটোকন্ড্রিয়া—গ্রামের শক্তিঘর।

কৃষিকাজ, ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশন, ভেষজ চিকিৎসা, বীজ সংরক্ষণ, মাছ ও বুনো খাদ্য সংগ্রহ, প্রাণিসম্পদ পালন, সেলাই ও রন্ধন, কুটিরশিল্প, লোকসংস্কৃতি চর্চা, দুর্যোগ সামাল কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভেতর দিয়ে এই নারীরা বাঁচিয়ে রাখছেন গ্রামের পর গ্রাম। বাংলাদেশের প্রায় ৯০ হাজার গ্রামের প্রাণশক্তি গ্রামীণ নারীরাই। এই মাইটোকন্ড্রিয়াদের নিরবচ্ছিন্ন অবদানের কারণেই পরিবার, সমাজ ও গ্রামগুলো জীবন্ত থাকে। কিন্তু গ্রামীণ নারীর এই অবদান, জ্ঞান প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা অধিপতি কাঠামোতে বরাবরই অস্বীকৃত ও প্রান্তিক।

একটি কোষের ভেতর নিউক্লিয়ার ডিএনএ মূলত বংশগতির ভাণ্ডার। তবে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএও আমাদের বংশগতি বহন করে। কেবল মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএই লাখো বছর ধরে মাতৃসূত্রীয় ধারায় কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য বংশ থেকে বংশে জীবন্ত রাখে। আর এই স্মৃতিস্বাক্ষ্য কেবলমাত্র নারীর মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএই বহন করে। প্রকৃতিজগতের মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো আমাদের সাংস্কৃতিক পরিসরেও গ্রামীণ নারীরা সমাজের লোকায়ত জ্ঞানধারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে চলেছেন। বিশেষ করে ফসলের জাত বাছাই ও বীজ নির্বাচন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ধাত্রীবিদ্যা, বয়ন ও রন্ধনশিল্প কিংবা ভেষজ চিকিৎসার মতো জটিল জ্ঞানচর্চা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এখনো সাবঅল্টার্ন গ্রামীণ নারীর ডিসকোর্স।

কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া রুগ্ন হলে বা ক্ষয়ে গেলে কোষ বিপদগ্রস্থ হয়, শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে গ্রামীণ নারীর বিপদ, সংকট, বঞ্চনা, বৈষম্য, নিপীড়ন, প্রান্তিকতা ও অপরায়নের ওপর নির্ভর করে কোনো গ্রামের নিরাপদ ও সুস্থ বিকাশ। শরীরকে বুঝতে হলে কোষ-বই পাঠ করতে হয়, সমাজ বুঝতে হলে গ্রামীণ নারীর অবদান ও আওয়াজকে পাঠ করা জরুরি।

২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সালে প্রথম দিবসটি পালনের বৈশ্বিক চল শুরু হওয়ার পর থেকে ১৫ অক্টোবর কেবলমাত্র গ্রামীণ নারীর অবদানের স্মরণের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং কৃষি, খাদ্য ব্যবস্থা, জলবায়ু ও সামগ্রিক উন্নয়নে গ্রামীণ নারীর অবদান ও নেতৃত্বের প্রশ্নটি সামনে আনার এক বৈশ্বিক মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরে গ্রামীণ নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামীণ নারীর উত্থান: বেইজিং +৩০ এর মাধ্যমে সহনশীল ভবিষ্যত নির্মাণ’। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রামে গ্রামে এই দিবসটি আয়োজন করে না। অথচ এশিয়ার সবচেয়ে বড় গ্রাম বানিয়াচং বাংলাদেশেই। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ১৩টি স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে। নারী ও শিশু কল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পল্লী অবকাঠামো স্ট্যান্ডিং কমিটি তো দিবসটি আয়োজন করতে পারে! গ্রামের সব শ্রেণি-পেশা-বর্গের নারীদের জমায়েত করতে পারে। গ্রামীণ উন্নয়নে তাদের অবদান ও বঞ্চনার গল্পগুলো শুনতে পারে। এখান থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ বাৎসরিক পরিকল্পনা ও বাজেট করতে পারে। আর গ্রাম থেকে উঠে আসা নারীদের শক্তিময় বয়ানেই তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ও ইনক্লুসিভ জাতীয় উন্নয়ন রূপরেখা।

২০২৬ সালকে জাতিসংঘ ‘আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে চলতি বছরে পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক চারণভূমি ও পশুচারণজীবী বর্ষ’। আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান নয়। বরং প্রতিদিন কর্মক্ষেত্র সংকোচন, মজুরিবৈষম্য, ঋণের চাপ ও জলবায়ু সংকটের কারণে গ্রামীণ নারীরা শহরে এসে ‘পরিচয়’ হারিয়ে ফেলছেন। গ্রামীণ ব্যবস্থার প্রতি চরমভাবে অমনোযোগী উন্নয়ননীতি এবং পুরুষতান্ত্রিক বলপ্রয়োগ সামগ্রিক উন্নয়নকে বাইনারি, উপনিবেশিক, বর্ণবাদী ও বৈষম্যের চশমা দিয়ে দেখে। সমাজ, রাষ্ট্র ও করপোরেট বৈষম্যের এই চশমা ভাঙতে হবে। অবদানের স্বীকৃতিসহ সামগ্রিক পরিসরে গ্রামীণ নারীর ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পদে প্রবেশাধিকার ও মালিকানার অমীমাংসিত তর্ক

গ্রামীণ নারীর শ্রমকে অস্বীকার ও আড়াল করলে আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা কী টিকে থাকবে? বিশ্বে কর্মরত নারীদের প্রায় ৩৬ শতাংশ গ্রামীণ কৃষি-ব্যবস্থায় জড়িত। দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার অনেক বেশি, প্রায় ৭১ শতাংশ (এফএও ২০২৩)। গ্রামীণ নারীরা শুধু বসতভিটা, কৃষিজমি, ঘের, চা-বাগান কিংবা খামারে কাজ করেন না; তাদের কর্মক্ষেত্র বহুমুখী ও বহুস্তরীয়। কিন্তু নিদারুণভাবে গ্রামীণ নারীর এই বহুমুখী শ্রম ও মেধার অবদান সর্বপরিসরে স্বীকৃত নয়।

গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, কৃষিতে বিশ্বব্যাপী নারীর শ্রমশক্তি ৪০ শতাংশ হলেও মাত্র ১৫ ভাগ নারীর হাতে কৃষিজমির মালিকানা আছে। উৎপাদন থেকে পরিবেশন সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থায় মালিকানা ও সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রশ্নে গ্রামীণ নারীর অধিকার রুদ্ধ ও সীমিত।

নানা গবেষণায় প্রমাণিত যে, পুরুষের তুলনায় গ্রামীণ নারীকে মজুরি কম দেওয়া হয়। দেখা গেছে, এই মজুরিবৈষম্যের কারণে আকারে এক হলেও পুরুষের তুলনায় নারী পরিচালিত খামারে উৎপাদন কমে যায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২৬ সালের এক গবেষণা জানায়, এই উৎপাদনশীলতার ব্যবধান প্রায় ২৪ শতাংশ। অথচ নারীরা যদি পুরুষের সমান সম্পদের অধিকার পেতেন তবে উৎপাদন আরও ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে যেত এবং এই বাড়তি উৎপাদন দিয়ে বিশ্বের আরও ১৫ কোটি মানুষের আহার জোগান দেওয়া যেত। কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় নারী-পুরুষের সমমজুরি, সমান অংশগ্রহণ, মালিকানার অধিকার নিশ্চিত হলে বৈশ্বিক জিডিপি প্রায় ১ শতাংশ বাড়বে এবং প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

নানামুখী চাপ ও বোঝা বাড়ছে

২০২২ সালের জনশুমারি মতে, বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় বাস করেন প্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ নারী, যা গ্রামীণ জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। কৃষি ও গ্রামীণ খাদ্য ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও অবদান থাকলেও কৃষক হিসেবে গ্রামীণ নারীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। জাতিসংঘের বাংলাদেশ কার্যালয়ের ২০২৬ সালের তথ্য মতে, দেশের কৃষি শ্রমশক্তির প্রায় ৫৮ শতাংশ নারী।

বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীর এই বিপুল কৃষি-অর্থনৈতিক অবদান জিডিপির বিশাল ধারাপাতে হিসাব করা হয় না। পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের এক হিসাব দেখায়, গৃহস্থালি শ্রমে নারীর আর্থিক অবদান প্রায় ৬ দশমিক ৭ লাখ কোটি টাকা। কৃষিজমি, কৃষিঋণ, কৃষি উপকরণ, সেচ, প্রযুক্তি, বাজার, কৃষিসেবাসহ ডিজিটাল প্রযুক্তিতেও নারীর প্রবেশাধিকার ও কার্যকর অংশগ্রহণ এখনো পুরুষের তুলনায় কম। একইসঙ্গে কাঠামোগত বৈষম্যের কারণে পুরুষের চেয়ে নারীর ওপর পারিবারিক ও গৃহস্থালি কাজের বোঝা বেশি।

গ্রামীণ নারীর সংকট ও চ্যালেঞ্জ কেবলমাত্র সম্পদ ও মালিকানার নয়; বরং স্বীকৃতি ও মর্যাদার অভাবই গ্রামীণ নারীকে আরও বেশি প্রান্তিকতর করে তুলে। নানান সামাজিক, বর্গীয়, পেশাগত ও ভৌগোলিক বঞ্চনার কারণে বহু নারীর কৃষি উৎপাদন কর্মক্ষেত্রও বাধার সম্মুখীন হয়। কৃষক হিসেবে অস্পষ্ট ও দুর্বল পরিচয় রাষ্ট্রীয় কৃষিসেবা, কৃষক কার্ড, ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ কিংবা সৃজনশীল উদ্যোক্তা তৈরিতে গ্রামীণ নারীকে বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। গ্রামীণ নারীর ওপর নানামুখী চাপ ও কাজের বোঝা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জলবায়ু সংকটের কারণে উপকূল, পাহাড়, বরেন্দ্র বা নগরবস্তির নারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক কলস পানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়, হাঁটতে হয় মাইলের পর মাইল। এমনকি দুর্যোগের সময় হাঁস-মুরগি, গৃহস্থালি সম্পদ সামলে পরিবার-পরিজনকে নিরাপদে সরিয়ে সব নারী আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেন না। গ্রামীণ নারীর কৃষি, কুটিরশিল্প, চিকিৎসা, রেসিপি ও সৃজনশীল চর্চার নকশা ও লোকায়ত জ্ঞান নারীদের অনুমতি ছাড়াই হরহামেশা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয়, যা নারীর লোকায়ত জ্ঞানের মেধাসম্পদ অধিকারের লঙ্ঘন।

গ্রামীণ নারী দিবসের ডাক

প্রতিদিন কৃষিজমি হারানো ‘কৃষিপ্রধান’ দেশের হরদম চাপ সামলানো একজন গ্রামীণ নারীর কাছে এই দিবসের বার্তা খুব জরুরি না হলেও, গ্রামীণ নারীর আয়নায় কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা দেখার দাবি এই দিবসের অঙ্গীকার হতে পারে। ‘অদৃশ্য শ্রমিক’ নয়; গ্রামীণ নারীকে কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত দানকারী কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। একইসঙ্গে নারীর কৃষি জ্ঞান, বীজ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজন চর্চা বিকাশে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা জোরদার করতে হবে।

জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদে (সিডও) গ্রামীণ নারীর কৃষি, ভূমি, ঋণ, পানি, স্যানিটেশন, প্রযুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা ও সিদ্ধান্তগ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) নারীর কৃষিজমির মালিকানা ও নিরাপদ অধিকারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে যুক্ত। বাংলাদেশের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিতে (২০১১) কৃষিতে নারীর শ্রম ও অবদানের স্বীকৃতি, সমমজুরি, কৃষি উপকরণ ও ঋণে নারীর সমান সুযোগের কথা বলা হয়েছে। জাতীয় কৃষি নীতির (২০১৮) একটি বিশেষ অধ্যায় হলো ‘কৃষিতে নারী’।

জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতি ও সনদে বহু অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। গ্রামীণ নারীকে উন্নয়নের ‘সুবিধাভোগী’ হিসেবে নয়; নির্মাতা হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে। গ্রামীণ নারী কেবলমাত্র ভালো আহারই জোগায় না; বরং বীজ ও প্রাণসম্পদের বৈচিত্র্য, লোকায়ত জ্ঞান ও স্থানীয় পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। কাঠামোগত বঞ্চনা ও জলবায়ু সংকট সামাল দিয়ে মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো শক্তিঘর হয়ে জাগিয়ে রাখে পৃথিবী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী-আমানসহ নতুন ৪ সদস্য

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন চার সদস্য যুক্ত হয়েছেন।

তারা হলেন—বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএনপির সহকারী দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও গতিশীলতা আনতের দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এই চার নেতাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমান উল্লাহ আমান এর আগে ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং ড. ফারহাদ হালিম একই ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসমাইল জবিউল্লাহ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।