27.7 C
Dhaka
Home Blog

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এ ঘোষণা দেন।

এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কবির রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম দিন ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় শেরেবাংলা নগরে যাবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষায় সুবিধাজনক সময়ে সারা দেশে বৃক্ষরোপণ এবং মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আরও জানানো হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আরও কিছু কর্মসূচির প্রস্তাবনা রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শিগগিরই সেগুলো চূড়ান্ত করে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য জিয়াউর রহমান জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে তিনি প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও গণতন্ত্র—এই তিনটি প্রত্যয় সামনে রেখে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 

 

 

তীব্র গরমে বাংলাদেশের শ্রমিকেরা বছরে মজুরি হারাচ্ছেন ৭৭ হাজার কোটি টাকার

নির্মাণশ্রমিক আব্দুর রহিমের গরমের হাত থেকে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। ঢাকায় খোলা আকাশের নিচে তাকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে কাজ করতে করতে তিনি ঘামে ভিজে যান, জামা শরীরে লেগে থাকে। ক্লান্ত এই শ্রমিকের মাথার ওপর পাখা তো দূরের কথা, ছাদও নেই।

আব্দুর রহিম কাজ করছেন রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের আদর্শনগর এলাকায়। সাপ্তাহিক ছুটি বলতে কিছু নেই। কাজ করলে মজুরি পান। পুরো পরিবার তার একার আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় যৎসামান্য আয় নিয়মিত রাখতে প্রতিদিনই কাজ করেন। বিশ্রামের জন্য একটি দিন বাড়িতে থাকার অর্থ ওই দিনের মজুরি আর মিলবে না।

তারপরও এমন দিন আসে, যখন অসহনীয় গরমে শরীর আর কাজ করতে চায় না। দারিদ্র্য, ক্ষুধা—কোনো কিছুই মানতে চায় না আর শরীরটা; মনের জোর দিয়েও চালানো যায় না। তখন আর কাজ না করে ঘরে বসে থাকা ছাড়া কিছু করার থাকে না। সেইসঙ্গে বন্ধ থাকে সেদিনের আয়ও।

তীব্র গরমে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের লাখো শ্রমিকের একজন তিনি। প্রতি বছর শ্রমিকদের তাপজনিত মজুরি ক্ষতি অন্তত ৭৭ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশের সমপরিমাণ। এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে প্রতি বছর প্রায় আড়াইটি মেট্রোরেল প্রকল্পের অর্থায়ন সম্ভব। এর বাইরেও চিকিৎসা ব্যয় ও স্বাস্থ্যজনিত খরচের কারণে আর্থিক ক্ষতি তো রয়েছেই।

‘নো এসকেপিং দ্য হিট: হেলথ অ্যান্ড ইকোনমিক ইমপ্যাক্টস অব হিট স্ট্রেস অন ইনফরমাল ওয়ার্কার্স ইন আরবান বাংলাদেশ’ শীর্ষক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

এতে দেখা গেছে, বাইরে তীব্র গরমের মধ্যে কাজ করা শ্রমিকেরা বছরে গড়ে ২৩ দশমিক ৭ কর্মদিবস হারান। আর ছাদের নিচে কাজ করা শ্রমিকেরা হারান ১৩ দশমিক ৫ দিন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইইডি) এবং বেসরকারি সংস্থা অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে গবেষণাটি পরিচালনা করে।

গবেষকরা নির্মাণকাজ, রিকশা চালানো ও পোশাক তৈরিসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত ঢাকার ১৭৫টি পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেন। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৮৫ শতাংশই এ ধরনের শ্রমিক।

সাক্ষাৎকার নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ১২২টি পরিবার নির্মাণকাজ, সড়ক নির্মাণ ও রিকশা চালানোর মতো বাইরের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। আর ৫৩টি পরিবার মূলত পোশাকশিল্পে ছাদের নিচে বসে করা কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

গবেষকেরা কাজ ও বিশ্রামের সময় শ্রমিকদের পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি দলীয় আলোচনা, সাক্ষাৎকার ও পারিবারিক কেস স্টাডি পরিচালনা করেন। তিনজন চিকিৎসকের একটি প্যানেল স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ফলাফল পর্যালোচনা করে।

জাতীয় অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বের করতে গবেষকেরা গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে জাতীয় শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রার তথ্য সমন্বয় করেন।

আয় ও স্বাস্থ্যে বড় ক্ষতি

গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমেই তীব্রতর তাপপ্রবাহ শুধু শ্রমিকদের আয়ই কমাচ্ছে না, তাদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবিকাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। কারণ, তাদের জীবনযাপন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

তাদের অনেকেই নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক ও পোশাকশ্রমিক। তীব্র গরমে কাজ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তাদের খুবই কম বা নেই বললেই চলে।

বাইরে ও ছাদের নিচে কাজ করা শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কারণে তাদের বছরে যথাক্রমে ২৪ ও ১৪ দিন কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, এর ফলে বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা তাদের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বা ১৯ হাজার টাকা হারিয়েছেন। আর ছাদের নিচে কাজ করা শ্রমিকেরা হারিয়েছেন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বা ১২ হাজার টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আয় হারানো তাদের জীবনযাপনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। কারণ, এমনিতেই তাদের যে আয়, তা দিয়ে ঢাকা শহরে জীবনযাপন করা কঠিন।

তাছাড়া, প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা বারবার পানিশূন্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কিডনি ক্ষতির উপসর্গের কথা জানিয়েছেন। গরমের মৌসুমে মানসিক চাপ দ্বিগুণ হয়েছে। শ্রমিকেরা মন খারাপ, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ, ঘুমের সমস্যা ও কাজে বেশি ভুল করার কথাও জানিয়েছেন।

রাজধানীর পল্লবী এলাকার পোশাকশ্রমিক রেহানা আক্তারের কথাই ধরা যাক। তিনি জানান, অনেক শ্রমিক কিডনির সমস্যায় ভুগলেও চাকরি হারানোর ভয়ে শারীরিক অসুস্থতার কথা গোপন রাখেন।

রেহানা বলেন, ‘গরমের সময় যে পরিমাণ পানি পান করা দরকার, আমরা ততটা পান করতে পারি না। বিশেষ করে কাজের সময় পানি কম পান করি। কারণ, পর্যাপ্ত পানি পান করলে বারবার টয়লেটে যেতে হয়। এতে কাজে সমস্যা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসায় এসেও প্রচণ্ড গরমে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।’

গবেষণায় দেখা গেছে, তাপপ্রবাহ দারিদ্র্যকে আরও গভীর করে তুলছে।

ঢাকায় জীবনযাত্রার উপযোগী মজুরি বছরে প্রায় ২ হাজার ৯৯৭ ডলার। কিন্তু বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের পরিবারগুলোর গড় আয় মাত্র ১ হাজার ৭৫৬ ডলার। ছাদের নিচে কাজ করা শ্রমিকদের গড় আয় ১ হাজার ৯৮৫ ডলার।

অর্থাৎ তাপজনিত ক্ষতি হিসাবের বাইরে রাখলেও তাদের আয় জীবনযাত্রার উপযোগী মজুরির চেয়ে ৩৪ থেকে ৪১ শতাংশ কম।

হারানো আয়ের হিসাব ধরলে তাদের উপার্জন যথাক্রমে ১ হাজার ৬০৭ ও ১ হাজার ৮৯৬ ডলারে নেমে আসে। ফলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ ও ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশে।

করণীয় কী?

আইআইইডির জলবায়ু সহনশীলতা, অর্থায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানবিষয়ক পরিচালক ঋতু ভরদ্বাজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এসব শ্রমিকের ক্ষেত্রে কাজের পালা শেষ হলেও তাপের সংস্পর্শ শেষ হয় না।

তিনি বলেন, কর্মস্থলের গরম থেকে বের হয়ে তারা বাসায় ফেরেন। কিন্তু, সেখানেও থাকেন টিনের ছাদের নিচে এবং থামার ওপর থাকে কেবল একটি বৈদ্যুতিক পাখা। তারপরও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে সারাদিনের কর্মক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরেও যথাযথ বিশ্রামের সুযোগ তারা খুব কমই পান।

ছাদের নিচে কাজ করলেও এই শ্রমিকদের রেহাই মেলে না। পোশাকশ্রমিকেরা বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের প্রায় সমান হারে তাপজনিত অবসাদে ভোগার কথা জানিয়েছেন। এর পরিণতির মধ্যে রয়েছে মজুরি হারানো, কিডনির ক্ষতি ও ঘুমের ঘাটতি। কিন্তু এর প্রায় কিছুই সরকারি নথিতে উঠে আসে না বলে জানান ঋতু।

গবেষকেরা বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে তাপজনিত সহায়তা যুক্ত করার সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের ভিত্তিতে লক্ষ্যভুক্ত শ্রমিকদের মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এটা করা হলে রেকর্ড ক্ষতির বছরেও ১০ কোটি ডলারের কম খরচ হবে, যা তীব্র গরমের কারণে হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতির তুলনায় অনেক কম।

শহরের অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের কাছে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যাপ্তভাবে পৌঁছায় না বলে তারা মৌসুমি ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য শিবিরের প্রস্তাবও করেছেন।

কর্মক্ষেত্রে তাপ থেকে সুরক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে গবেষণাটির সুপারিশমালায়। বাংলাদেশের শ্রম আইনে নিরাপদ তাপমাত্রার কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং হিটস্ট্রোক বা কিডনি রোগকে ক্ষতিপূরণ যোগ্য পেশাগত রোগ হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, তাপপ্রবাহ মোকাবিলার সক্ষমতাকে শুধু কল্যাণমূলক বিষয় মনে করা বন্ধ করতে হবে। তীব্র গরমে পানীয় জল, ছায়া, বায়ু চলাচল ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের জন্য শ্রমবিধিতে কার্যকর ও বাধ্যতামূলক মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে তাপজনিত অসুস্থতাকে পেশাগত ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

তিনি বলেন, তীব্র গরমের কারণে অনানুষ্ঠানিক খাতের ও দৈনিক মজুরির শ্রমিকদের জীবিকা ব্যাহত হলে জলবায়ু-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় তাদের সাময়িক আয় সহায়তা দেওয়া উচিত।

এই গবেষণার সঙ্গে ঋতু ভরদ্বাজ ছাড়াও যুক্ত ছিলেন এন কার্তিকেয়ান, স্বাতী চালিহা, শাকিরুল ইসলাম ও উর্মি জাহান তান্নি। গবেষণার ফলাফল আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

জার্মানি, ব্রাজিলের রেকর্ডে নাম লেখালো ফ্রান্স

নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে ফ্রান্স। গত এক যুগ ধরে বিশ্ব ফুটবলের সফলতম দল তারা। দারুণ ধারাবাহিকতায় টানা তিন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। এই নিয়ে ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে আটটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখালো তারা।

গত রাতে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে অনায়াসে ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে আর উসমান দেম্বেলের গোলে দাপট দেখিয়েই জেতে ফরাসিরা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার সেমিফাইনালে উঠেছে জার্মানি, এরপর ৮ বার সেরা চারে জায়গা করার নজির ব্রাজিলের। ফ্রান্সও ব্রাজিলের সমান ৮ বার সেমিতে উঠল।

জার্মানি ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টানা চারটি সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। ২০১৪ সালে চতুর্থবার ট্রফি জিতেছিল। ব্রাজিল ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে টানা তিনটি সেমিফাইনালে পৌঁছায়। এরমধ্যে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে হয় চ্যাম্পিয়ন। পাঁচবারের বিশ্বসেরা ব্রাজিলের মতো ফ্রান্সও ২০১৮ থেকে ২০২৬—টানা তিনটি সেমিফাইনালে উঠে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনায় আছে। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জেতে তারা। ২০২২ সালে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হেরে যায় আর্জেন্টিনার কাছে। এবার সুযোগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের।

৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলা তৃতীয় দল হলো ফ্রান্স!

জার্মানি :: ১২ বার 

ব্রাজিল :: ৮ বার 

ফ্রান্স :: ৮ বার 

ইতালি :: ৭ বার

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সবচেয়ে নিখুঁত এবং গোছানো ফুটবল খেলা একটি দলের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত মানানসই একটি ফলাফল। ফ্রান্স এই বিশ্বকাপের একমাত্র দল যারা অতিরিক্ত সময়ে না গিয়েই তাদের পাঁচটি ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছে—এতে বেরিয়ে এসেছে দলটির দাপট।

 

বাংলাদেশের ‘রকস্টার’ বিদেশে মুক্তি পাচ্ছে কবে

ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘রকস্টার’ সবার আগে দেশের বাইরে যাত্রা করছে। শাকিব খান অভিনীত ও আজমান রুশো পরিচালিত সিনেমাটি আগামী ৫ জুন থেকে দেশের বাইরে প্রদর্শিত হবে।

সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক ‘স্বপ্ন-স্কেয়ারক্রো’ দ্য ডেইলি স্টারকে জানায়, প্রথম সপ্তাহে কানাডার সাতটি, যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি ও যুক্তরাজ্যের চারটি থিয়েটারে চলবে।

স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপের আগে হলিউড ডোমেস্টিক মার্কেটে বছরের সবচেয়ে কঠিন সপ্তাহে ৩৭টি থিয়েটারে “রকস্টার” সিনেমার মুক্তিকে ভালো সূচনা বলা যায়। শুরুতে ভালো করলে পরের সপ্তাহে থিয়েটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘আমাদের প্রযোজনা সংস্থা সান মোশন পিকচার্সের সর্বশেষ প্রযোজিত চলচ্চিত্র “হাওয়া”র মতো “রকস্টার”ও বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলবে বলে বিশ্বাস করি।’

‘রকস্টার’ সিনেমার প্রযোজক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান, সাবিলা নূর, তারিক আনাম খান, রোজী সিদ্দিকী, দিলারা জামান, কাজী সাবির, তানজিয়া জামান মিথিলাসহ অনেকে।

আজমান রুশোর গল্পে চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত ইসলাম, আইমন আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভুঁইয়া। সংগীত পরিচালনা করেছেন জাহিদ নিরব।

অষ্টম দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থানে হামলা চালাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। 

আজ শনিবার ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

বার্তাসংস্থা এএফপি ও সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব হামলার তথ্য। 

ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। 

অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানযুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আগাম সতর্কতা ও অগ্নি নিয়ন্ত্রণ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমিরাতে বিমানবন্দর ও দুই মার্কিন ঘাঁটি 

আল জাজিরা জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

 

এছাড়া আল-মিনহাদ ও আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। 

জেরুজালেম

এএফপি জানায়, শনিবার জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সতর্কতা সাইরেনও বেজে ওঠে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ছয়বার হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সৌদি আরব 

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন এমন একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে ইরান। একটি বড় তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায়। 

তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সব হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি সরকার। 

বাহরাইন

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় আজও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তেলবাহী জাহাজে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রিমা’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। 

 

তারা জানায়, নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা সতর্কতা উপেক্ষা করে চলাচল করায় হামলা চালানো হয়। 

কুর্দিস্তানে হামলা

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ইরাকের স্বশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। 

ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে এসব বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি। 

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কিন দূতাবাসসহ ঢাকার গুলশান ও বারিধারায় পুরো কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি জানান, নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অবৈধ অভিবাসন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা, কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘স্পেশাল প্রোগ্রাম ফর অ্যাম্বাসি অগমেন্টেশন অ্যান্ড রেসপন্স’ (স্পিয়ার) এবং ইলেকট্রনিক ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন (ইএনভি) বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। তিনি মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করতে ‘স্পিয়ার’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, এই কর্মসূচির জন্য দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় বরাদ্দকৃত মার্কিন তহবিল ফেরত যেতে পারে বা অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে পারে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন নিয়ে দ্রুত এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান এবং মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা এরিক গিলান, শেন স্যান্ডার্স, তানিক মুনির ও রাইলি পামারট্রি উপস্থিত ছিলেন।

৬ দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ: জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ছয় দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে।

এ কর্মসূচি সফল করতে পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ট্রাফিক বিভাগ, সরকারি দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জনগণের বৈধ ও ন্যায্য দাবি আদায়ের নিয়মতান্ত্রিক পথের একটি কর্মসূচি হচ্ছে লংমার্চ। এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে এবং কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থাকবে না।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি, পুলিশ প্রশাসন, সরকারের সব ইন্টেলিজেন্স এবং ট্রাফিকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সবাই আমাদের চারটি রোডমার্চ কর্মসূচিতে জনগণের পাশে থেকে তা শান্তিপূর্ণ ও সফল করতে সহযোগিতা করবেন।

১১ দলের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব, গণদাবি ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও আমরা সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

গোলাম পরওয়ার জানান, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। এতে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, লংমার্চে অন্তত এক হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। পথে আরও গাড়িবহরে যোগ দেবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নয়টি জেলা ও মহানগরীর জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পথে ছয়-সাতটি স্থানে শীর্ষ নেতাদের পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লংমার্চের ছয়টি প্রধান দাবি হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

লংমার্চের প্রস্তুতি ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলের নেতারা সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে লং মার্চের রুট ও কর্মসূচি জানানো হয়েছে। পুলিশও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের জন্য আগাম দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি লেন ফাঁকা রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে হাজার হাজার গাড়ির বহরের কারণে কোথাও কোথাও কিছুটা যানজট বা ভোগান্তি হতে পারে।

‘লংমার্চ সফল করতে যদি ব্যবসা বা চলাচলে কিছুটা কষ্ট বা ভোগান্তি হয়, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের সবার কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি’, বলেন তিনি।

লংমার্চ নিয়ে কোনো নাশকতা বা হামলার আশঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নেতিবাচক তথ্য বা আশঙ্কার খবর নেই।

 

সাহাবুদ্দিন ও এস আলমের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ: ইসলামী ব্যাংকের সেই কর্মকর্তা বরখাস্ত

ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম এবং আরও ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগকারী সেই ব্যাংক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

গত সোমবার দুদকে এই অভিযোগ করা হয়েছিল। একদিন পর মঙ্গলবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করে।

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই দুদকে ওই অভিযোগ করেন। একটি কমিটিকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ ইয়াসিন আলীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার দিক থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরাসরি দুদকে অভিযোগ করার কোনো নিয়ম নেই। আমরা যদি কোনো মামলা করি, তবে তা আদালতের মাধ্যমেই করি।’

স্পেন বনাম বেলজিয়াম: মহারণের আগে কী বলছে ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ফুটবলের কুলীন মঞ্চে স্পেন আর বেলজিয়ামের নামডাক বহুদিনের। ১৯২১ সালের সেই প্রথম লড়াইয়ের পর থেকে সবুজ গালিচায় বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে তারা। চলতি একবিংশ শতাব্দীতে দুই দলই পেয়েছে ফুটবলারদের দুর্দান্ত সব ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’। তবে সাফল্যের খেরোখাতায় বেলজিয়ামের চেয়ে স্পেন অনেক এগিয়ে থাকায় মাঠের লড়াইগুলো সবসময়ই পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এবার আরও একটি চোখ ধাঁধানো ফুটবল দ্বৈরথ কড়া নাড়ছে দুয়ারে।

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ‘লা রোহা’ ও ‘রেড ডেভিলস’রা। এই ম্যাচের জয়ী দলের টিকিট মিলবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে শেষ চারের লড়াইয়ের।

চলতি বিশ্বকাপে স্প্যানিশদের পথচলা এখন পর্যন্ত এককথায় নিখুঁত। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ড্র করে একটু হোঁচট খেলেও, পরের চার ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে ক্লিনশিটসহ জয় তুলে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে বেলজিয়ামের যাত্রাটা মোটেও মসৃণ ছিল না; নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জয় এসেছে মাত্র দুটি ম্যাচে। তবে মোক্ষম সময়েই নিজেদের চেনা ছন্দটা ফিরে পেতে শুরু করেছে বেলজিয়াম।

শুক্রবার রাতের সেই মহালড়াইয়ের আগে চোখ রাখা যাক দল দুটির অতীত ইতিহাসের পাতায়।

যখন শেষবার দেখা হয়েছিল

গত এক দশক ধরে স্পেন ও বেলজিয়ামের ফুটবলাররা একে অপরের ছায়াও মাড়ায়নি। আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের কথা ধরলে তো পিছিয়ে যেতে হবে আরও পেছনে। ২০১৬ সালের সর্বশেষ দেখাটি ছিল ব্রাসেলসের কিং বাউডোইন স্টেডিয়ামে, নিছকই এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ।

সেদিন বেলজিয়ামের একাদশে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনে, এডেন হ্যাজার্ড ও থিবো কোর্তোয়ার মতো বিশ্বকাঁপানো একঝাঁক সুপারস্টার। বিপরীতে স্পেনের ডেরায় ছিলেন সার্জিও রামোস, সার্জিও বুসকেটস আর ডেভিড সিলভা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির তৎকালীন স্প্যানিশ জাদুকর ডেভিড সিলভাই।

মাঠে সেদিন সিলভা যেন জাদুর কাঠি নিয়ে নেমেছিলেন। তার চোখধাঁধানো নৈপুণ্যেই ২-০ গোলের দুর্দান্ত জয় পায় স্পেন। ম্যাচের দুই অর্ধে দুটি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে (যার একটি ছিল পেনাল্টি থেকে) জয় নিশ্চিত করেন তিনি। পুরো ম্যাচে বলের দখল থেকে শুরু করে গোলমুখে আক্রমণ—সবখানেই ছিল স্পেনের একচেটিয়া আধিপত্য। বেলজিয়ামের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা ছিল, ২০০৯ সালের ম্যাচে স্পেনের কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার চেয়ে এবারের হারের ব্যবধানটা অন্তত কিছুটা কম ছিল।

বিশ্বকাপ মঞ্চে স্পেন-বেলজিয়াম দ্বৈরথ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে শুক্রবারের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে এই দুই দলের মাত্র তৃতীয় সাক্ষাৎ। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবার দল দুটি মুখোমুখি হয়েছিল, সেটিও ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। শক্তির বিচারে সেবার দুই দলের মধ্যে ফারাক ছিল সামান্যই।

জান কেউলেম্যান্সের গোলে প্রথমে বেলজিয়াম এগিয়ে গেলেও, ৮৫ মিনিটে হুয়ান সেনিয়রের গোলে সমতায় ফেরে স্পেন। অতিরিক্ত সময়েও ডেডলক না ভাঙায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্প্যানিশ তারকা এলোয়ের পেনাল্টি কিক রুখে দিয়ে বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক বনে যান গোলরক্ষক জঁ-মারি ফাফ।

তবে ঠিক চার বছর পরেই ইতালির বিশ্বকাপে এর মধুর প্রতিশোধ নেয় স্পেন। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে প্রথমার্ধের ঝোড়ো ফুটবলে শেষ হাসি হাসে লা রোহাই। মিশেলের পেনাল্টি গোলে স্পেন এগিয়ে যাওয়ার তিন মিনিটের মাথায় বেলজিয়ামের প্যাট্রিক ভারভুর্ট সমতা ফেরান। তবে মিনিট সাতেক পরেই আলবার্তো গোরিজের লক্ষ্যভেদে আবারও লিড নেয় স্পেন। ২-১ গোলের সেই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে গিয়েছিল স্পেন। যদিও শেষ ষোলোর বৈতরণী পার হতে পারেনি কোনো দলই।

১০৫ বছরের দ্বৈরথে লা রোহার রাজত্ব

অলিম্পিকের ম্যাচ বাদ দিলে দুই দলের ২২ বারের দেখায় সিংহভাগ সময়ই শেষ হাসি হেসেছে স্পেন।

বেলজিয়ামের ঝুলিতে যে দু-একটি ঐতিহাসিক জয় নেই তা নয়, যার বড় উদাহরণ ১৯৮৬ সালের সেই টাইব্রেকার জয়। তবে সব মিলিয়ে তাদের জয়ের সংখ্যা মাত্র পাঁচ, আর মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর স্পেনের বিপক্ষে জয়ের মুখ দেখেনি তারা।

অন্যদিকে স্পেনের নামের পাশে রয়েছে ১২টি জয়, যার মধ্যে শেষ আটটি ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছে তারা। একবিংশ শতাব্দীতে হওয়া পাঁচটি ম্যাচের সবকটিই গেছে লা রোহার পকেটে। এই পাঁচ ম্যাচে গোল ব্যবধান ১৩-১; যা মাঠের লড়াইয়ে স্পেনের একচেটিয়া আধিপত্যেরই প্রমাণ।

আগামী শুক্রবারে বেলজিয়াম নিশ্চয়ই চাইবে ইতিহাসের চাকাটা নিজেদের দিকে ঘোরাতে, তবে অতীত পরিসংখ্যান বলছে কাজটা মোটেও সহজ হবে না।

মুখোমুখি লড়াইয়ের খতিয়ান

মোট ম্যাচ: ২২

স্পেনের জয়: ১২

বেলজিয়ামের জয়: ৫

ড্র: ৫

দুই দলের লড়াইয়ে শীর্ষ গোলদাতা

 

জীবদ্দশায় পুরস্কার পাচ্ছি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তি: শবনম

ষাটের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা শবনম। বহু আগেই বাঙালির হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। রূপালি পর্দায় তার মিষ্টি হাসি আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। তার অভিনীত অনেক সিনেমার গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

উর্দু চলচ্চিত্র চান্দা এবং বাংলা চলচ্চিত্র হারানো দিন দিয়ে বাজিমাত করেছিলেন তিনি। এরপর অভিনয় করেছেন অসংখ্য চলচ্চিত্রে।

পাকিস্তানেও করেছেন বহু সিনেমা। সেখানে তিনি ১৩ বার পেয়েছেন নিগার পুরস্কার।
একসময়কার এই সাড়া জাগানো ও সফল অভিনেত্রী এবার পাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা।

গত ২ জুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সেখানে আজীবন সম্মাননা বিভাগের পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে শবনমের নাম।

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে শবনম বলেন, ‘বলে বোঝানোর মতো নয়। জীবনে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, কিছু কিছু সময় আসে, যখন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমারও তেমনই হচ্ছে। খবরটি শোনার পর আমি আসলে ঠিকমতো বলে বোঝাতে পারছি না।’

‘তবে আমি আনন্দিত। সত্যিই আনন্দিত। খুব ভালো লাগছে। অনেক ভালো লাগা কাজ করছে আমার ভেতরে’ যোগ করেন তিনি। 

শবনম আরও বলেন, ‘আমি খুশি, ভীষণ খুশি। জীবদ্দশায় পুরস্কার পাচ্ছি বলেই বেশি খুশি। অনেকেই তো মারা যাওয়ার পর এমন সম্মান পান। সেখানে আমি জীবিত অবস্থায় পাচ্ছি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।’

‘এই ভালো লাগা অন্যরকম। সারাজীবন সিনেমায় অভিনয় করেছি। জীবনের অনেকটা সময় সিনেমাকে দিয়েছি। মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, সম্মান করেন, শ্রদ্ধা করেন—শিল্পী হিসেবেই। শিল্পী পরিচয়টাই সবচেয়ে বড়। সেই সিনেমার জন্যই যখন সবচেয়ে বড় সম্মাননা পাচ্ছি, তখন ভালো তো লাগবেই’, বলেন শবনম। 

নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শবনম বলেন, ‘আমি খুব একটা ভালো নেই। রক্তচাপ ওঠানামা করছে। তারপরও যতটুকু ভালো আছি, সেজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত আম্মাজান চলচ্চিত্রে সর্বশেষ অভিনয় করেন শবনম। ওই সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি অভাবনীয় সাড়া পান। 

এ প্রসঙ্গে শবনম বলেন, ‘কোথাও গেলে এখনো কেউ কেউ আমাকে আম্মাজান বলে ডাকেন। ভীষণ সম্মান করেন। এটাই তো একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পাওয়া। এভাবেই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’