27.8 C
Dhaka
Home Blog

১২২.৭৫ টাকা দরে আরও ৫০ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এই ডলার কেনা হয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার বা ৩৭৫ কোটি টাকা ছিল।

মূলত ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসীরা তাদের পরিবারের কাছে রেকর্ড পরিমাণ টাকা পাঠানোয় এই প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

এছাড়া, ১ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

দেড় মাস পর গতকাল বুধবার বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আজকের লেনদেনের ফলে এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২০ মিলিয়ন ডলারে।

সব মিলিয়ে বর্তমান অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এতে আজ দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দুদিন আগেও ছিল ৩৪ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।

হলে বসে শাকিব, শুভ, রাজ, ফারিণের প্রথম সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা

সিনেমা হলে গিয়ে প্রথম সিনেমা দেখা স্মরণীয় হয়ে থাকে। ছোটবেলায় প্রায় সবাই প্রথম সিনেমা দেখেন পরিবারের সঙ্গে। তারকা শিল্পীরাও তার ব্যতিক্রম নন।

ঈদে সিনেমা দেখার রেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। দেশের চারজন তারকা শিল্পী তাদের প্রথম সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারকে।

ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ তারকা শাকিব খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে ছোটবেলায় প্রথম সিনেমা হলে গিয়ে শাবানা ম্যাডাম  অভিনীত সিনেমা প্রথম দেখেছি। সিনেমার নাম মনে নেই। তবে প্রথম সিনেমা দেখার উত্তেজনা ছিল মনের মধ্যে।’

তিনি বলেন, ‘এটা ছিল নারায়ণগঞ্জ এলাকায় একটি সিনেমা হল। চোখ বন্ধ করলে সিনেমা দেখার সেই দিন যেন চোখের সামনে ভাসতে থাকে।’

‘আমার নিজের অভিনীত প্রথম সিনেমা সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত “অনন্ত ভালোবাসা” সিনেমাটি অর্ধেক-অর্ধেক করে দেখেছি মধুমিতা ও অভিসার সিনেমা হলে’, যোগ করেন তিনি।

আরিফিন শুভ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হলে আমার প্রথম সিনেমা দেখা সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত, সালমান শাহ ও মৌসুমী অভিনীত প্রথম সিনেমা “কেয়ামত থেকে কেয়ামত”। পরিবারের সঙ্গে ময়মনসিংহ শহরের পূরবী সিনেমা হলে দেখেছিলাম।’

শরীফুল রাজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সালমান শাহ অভিনীত ও ছটকু আহমেদ পরিচালিত “সত্যের মৃত্যু নেই” সিনেমা দেখেছি ১৯৯৬ সালে। সিলেটের একটা হলে সিনেমাটা দেখেছিলাম, হলটার নাম ভুলে গেছি। তবে, সেই সিনেমা দেখার কথা আমার মনের মধ্যে গেঁথে রয়েছে। তারপর অনেক সিনেমা দেখেছি, কিন্তু প্রথম সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেনি।’

অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সিনেমা হলে পরিবারের সবার সঙ্গে দেখেছি সাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত “শ্রাবণ মেঘের দিন”। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল। সিনেমাটি আমি কক্সবাজারে দেখেছিলাম। তখন আমার বয়স ছিল খুবই কম। তাই হলের নামটি আর মনে নেই। তবে খুব ভালো লেগেছিল।’

‘৫ বছর ক্ষমতায় থেকে শোধ নিলাম, এরপর অন্যরা—এই চক্র বন্ধ করতে হবে’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ‘মামলা বাণিজ্য’ ও প্রতিশোধের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলা ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে’ এবং তার এলাকায় এসব কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না।

সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের ইসলামপুরে নিজ গ্রামে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মামলা বাণিজ্য সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি মামলায় শত শত আসামি দেওয়া হচ্ছে, মিথ্যা মামলা করতে টাকা নেওয়া হচ্ছে, আবার নাম কাটাতেও টাকা নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কেউ কথা বলেননি। ‘আমি শুরু থেকেই বলেছিলাম, এই মামলা বাণিজ্য একসময় ধ্বংস ডেকে আনবে।’

তিনি থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘মিথ্যা মামলা এলে দয়া করে যাচাই-বাছাই করে নেবেন।’

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি পেতে গেলে জেলগেটে নতুন মামলার কথা জানানো, এ ধরনের ঘটনাও উদ্বেগজনক। এসবের পরিণতি ভালো হবে না। আমাদের কোথাও না কোথাও থামতে হবে।’

প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলাম, শোধ নিলাম, এরপর অন্যরা এসে আবার শোধ নেবে, এই চক্র বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

মঙ্গলবার থেকে ‘অবৈধ ঘোষিত’ শুল্ক আদায় বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) আওতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক মঙ্গলবার থেকে আদায় বন্ধ করা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার তিন দিনেরও বেশি সময় পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) সংস্থা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের আইইইপিএ সম্পর্কিত আদেশের সঙ্গে যুক্ত সব শুল্ক বন্ধ করা হবে।

আইইইপিএ-ভিত্তিক শুল্ক আদায় বন্ধের এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন ট্রাম্প শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হওয়া শুল্কগুলোর পরিবর্তে ভিন্ন এক আইনি ক্ষমতার আওতায় নতুন ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েক দিন পরও কেন প্রবেশবন্দরগুলোতে শুল্ক আদায় অব্যাহত রাখা হয়েছিল। আবার আমদানিকারকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়েও বার্তায় কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটা চাঁদা নয়, বরং টাকা দিতে বাধ্য করা হলে সেটা চাঁদা।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়।’

‘মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় সেটা নিয়ে হয়ত বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে,’ বলেন তিনি।

মন্ত্রী রবিউল আলম আরও বলেন, ‘শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ অনেক সংস্থা আছে। তারা এটা সমঝোতার ভিত্তিতে করে (টাকা তোলে)। সেখানে আবার প্রাধান্য পায় যখন যার প্রভাব থাকে, এমন মালিকদের বা দলের প্রভাব থাকে। যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের শ্রমিক সংগঠনের একটা আধিপত্য থাকে। কিন্তু এটা চাঁদা আকারে আমাদের কাছে দেখার সুযোগ হচ্ছে না। কারণ তারা সমঝোতা ভিত্তিতে করছে।’

‘কিন্তু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসব জায়গা আছে সেখানে বাইরে থেকে কেউ চাপ প্রয়োগ করে চাঁদা নেবে বা সুবিধা নেবে সে সুযোগ নেই। কিন্তু মালিকরা যদি সমঝোতার ভিত্তিতে সেটা করে, তাহলে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখব, যে সেখানে কেউ বঞ্চিত হচ্ছে কি না এবং সেই অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না,’ যোগ করেন তিনি।

সড়কে যানজটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কের ওপরই অনেক জায়গায় বাজার বসে গেছে। সেখানে যানজট হচ্ছে। এগুলোকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে।’

ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছুটি ছোট হয়ে গেলে চাপ নেওয়াটা একটু কঠিন হয়ে যায়। গতবার ছুটি বড় ছিল। এতে একটা সুবিধা পাওয়া গেছে। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ওই প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করব। পাশাপাশি নতুন করে আর কী প্রক্রিয়া গ্রহণ করলে ভোগান্তি কমবে সেটা ঠিক করা হবে।’

‘আশা করছি আপনাদের নিরাপদে বাড়ি পাঠাতে আমরা সক্ষম হব। তবে ছুটির ব্যাপারটা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রেও কোনো কিছু করা যায় কি না, আরও ৫-৭-১০ দিন গেলে আমরা বিস্তারিতভাবে বলতে পারব,’ যোগ করেন তিনি।

রবীন্দ্রনাথের বিশ্বপথ: এক অখণ্ড নীড়

১৯৩২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইরান ও ইরাক সফর করেছিলেন। সেই সফরের অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তিনি লিখেছেন তার ‘পারস্যে’ ভ্রমণকাহিনিতে। এতে প্রকাশিত আবেগ ও অনুভূতি কবির বিশ্বজনীন ভাবনার স্পর্শে অনন্য মাত্রা পেয়েছে। 

বিশেষ করে, এর বড় অংশজুড়ে ফুটে উঠেছে মুসলিম বিশ্বের প্রতি রবীন্দ্রনাথের গভীর শ্রদ্ধা ও আত্মিক টান। তিনি পরম মমতায় এঁকেছেন কবি হাফিজ ও রুমির আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারকে।

ইরানে হাফিজ শিরাজির সমাধিতে বসে কবি পরম শান্তি অনুভব করেছিলেন, সেখানে কিছুক্ষণ ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের চোখ ভরা ছিল অশ্রু, ছিল এক অমোঘ সত্য প্রেমের উপলব্ধি। 

সুফি প্রেমতত্ত্ব আর উপনিষদীয় অদ্বৈতবাদ—একই অখণ্ড সত্যের দুটি ভিন্ন ধারা। রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন, মানুষের সত্যিকার মুক্তি নিছক ‘বাণী’ উচ্চারণে নয়, প্রকৃত জ্ঞানচর্চায়—একে অপরকে চেনাজানার গহন গভীরে। মূর্খের জন্য ধর্মের সাধনা নয়, তার প্রতি সৃষ্টিকর্তাও বিরূপ। তিনি থাকেন আলোকিত মানুষের হৃদয়ে।

ধর্মীয় অমিয় বাণী: ‘বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে? কেবল বিবেকবানরাই উপদেশ গ্রহণ করে।’ এমনকি মূর্খদের এড়িয়ে চলার কথাও সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আপনি … মূর্খদের এড়িয়ে চলুন।’

হায়দ্রাবাদের নিজামের অনুদানে ‘নিজাম অধ্যাপক’ পদ সৃষ্টি করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ফলে শান্তিনিকেতনে ইসলামি সংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষণার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়। এই পদের অধীনে খ্যাতনামা সব পণ্ডিত শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন।

তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ভাষাবিদ ও গবেষক পণ্ডিত মওলানা জিয়াউদ্দিন। তার প্রচেষ্টায় বিশ্বভারতীতে আরবি, ফারসি ও ইসলামি ইতিহাস গবেষণায় জোয়ার আসে। পরে বিশ্বভারতীর ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ বিভাগ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছিল, যার ভিত্তিপ্রস্তর ছিল এই ‘নিজাম অধ্যাপক’ পদটি। শান্তিনিকেতনের লাইব্রেরিতে ইসলামি সাহিত্য ও দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপির যে সংগ্রহ গড়ে উঠেছিল, তার পেছনেও এই উদ্যোগের বিশেষ ভূমিকা ছিল।

আজকের এই কণ্টকাকীর্ণ বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। মানুষে মানুষে সম্পর্কের বাঁধন আলগা হয়ে পড়ছে। বুঝে বা না বুঝেই হোক, মানুষ পরস্পরকে কাদা ও কালি নিক্ষেপ করছে। এমন বিভাজিত সময়ে রবীন্দ্রনাথের সমন্বয়ী চিন্তা আরেকবার পথ দেখায়, ‘বিশ্বপথিক’ হওয়ার আহ্বান জানায়। কারও কাছে তা ‘ইউটোপিয়া’ বা ‘স্বাপ্নিক কল্পনা’ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু অনেক সময় বৃহত্তর প্রয়োজনে এই ‘ইউটোপিয়া’রই প্রয়োজন হয়। 

রবীন্দ্রনাথ তার নিবিড় উপলব্ধিতে বুঝেছিলেন, অজ্ঞানতা ও উগ্রতা মানুষকে সংকীর্ণতার গণ্ডিতে আবদ্ধ করে। অজ্ঞানতা স্বাধীনতার অপূর্ব স্বাদ নষ্ট করে দেয়। মানবতার পথকে ভয়ানকভাবে রুদ্ধ করে। মসৃণ পথে হযরতের বুড়ির মতো কাঁটা বিছিয়ে দেয়। আর মাত্রাজ্ঞানের অভাব মানুষকে ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। অহংকার কখনোই কাউকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় না। 

প্রসঙ্গক্রমে স্মরণ করা যায় মহান বাণী, ‘তুমি তো কখনোই পদভারে ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনোই পাহাড় সমান হতে পারবে না।’ মানুষের আয়োজন যত বড়ই হোক না কেন, তার জীবনকাল সীমিত। সেই ক্ষণকালের জীবন নিয়ে বড়াই করা অর্থহীন। তাই মানুষের উচিত আত্মার সন্তুষ্টি অর্জন করা, আত্মজ্ঞান অর্জন করা।

রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী মন্ত্র—‘যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্’। মানে—‘যেখানে সমস্ত বিশ্ব একটি নীড়ে পরিণত হয়।’  এটি শান্তিনিকেতনের প্রবেশদ্বারে উৎকীর্ণ লিপি, আর্তমানবতার অভয় আশ্রয় গড়ার অঙ্গীকার।

১৯৩০-এর দশকে নাৎসিবাদের দানবীয় ছায়ায় ইউরোপ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ সারা বিশ্বের নিপীড়িত ও নির্বাসিত শিল্পীদের জন্য তার হৃদয়ের দুয়ার উন্মুক্ত করে দিলেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে শান্তিনিকেতনের মাটিতে মিলেছিলেন চীনের তান ইউন-শান, জার্মানির অ্যালেক্স আরোনসন, অস্ট্রিয়ার স্টেলা ক্রামরিশ কিংবা ফ্রান্সের আন্দ্রে কার্পেলেস ও আলেক্সান্দ্রে বোগদানফের মতো বহু বিশ্বনাগরিক। তারা বিভিন্ন শাস্ত্রে ও ভাষায় বিশেষজ্ঞ ছিলেন।

তান ইউন-শান চীনের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে কবির আশ্রয়ে এসেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তার সহযোগিতায় ‘চীনা ভবন’ প্রতিষ্ঠা করলেন। ভারত-চীন মৈত্রীর এক শাশ্বত সেতুবন্ধন রচিত হলো। 

একইভাবে ইহুদি বংশোদ্ভূত অ্যালেক্স আরোনসন নাৎসি নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ভারতে এলেন। ব্রিটিশ রাজশক্তি তাকে ‘বিদেশি শত্রু’ হিসেবে বন্দি করল। কবির হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পেলেন। এই মিলনমেলায় কোনো পক্ষপাত বা আধিপত্য ছিল না। 

হাঙ্গেরির লিজা ফন পট কিংবা ফরাসি শিল্পী আন্দ্রে কার্পেলেসরা যখন ইউরোপীয় নকশাশৈলী শেখাতেন, তখন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শিল্পকলার এক অপূর্ব রসায়ন তৈরি হতো।  রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন, আধুনিক তুরস্কের মতো এক আত্মনির্ভরশীল ও সংস্কারবাদী এশিয়ার অভ্যুদয়। 

তিনি রাজনীতিবিদের চেয়েও দূরদর্শী ছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন যান্ত্রিক আধুনিকতার বিষয়ে। তাই বিবেচনাহীন রাষ্ট্রনীতি থেকে সরে থাকতে বলতেন। স্বৈরাচারী শাসকের অপরিণামদর্শী অন্ধ মোহকে তিনি মনে-প্রাণে ঘৃণা করতেন। পারস্যের সম্রাট রেজা শাহ পাহলভির প্রশাসনিক কঠোরতা যেন কবির মনে ‘রক্তকরবী’র যান্ত্রিক জগতের কথা স্মরণ করিয়ে দিত। তিনি বুঝেছিলেন, ক্ষমতার দাপট দিয়ে মানুষের অন্তরাত্মাকে জয় করা যায় না। 

শুধু তাই নয়, সামগ্রিক কল্যাণের প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথ নিজ দেশের মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গেও কখনো কখনো ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

১৯৩২ সালের ইরান-ইরাক সফরের সময় কবি রবীন্দ্রনাথ বাগদাদে স্থানীয় সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। ইরাকের রাজা প্রথম ফয়সালের আমন্ত্রণে ছিল তার বাগদাদ সফর। সেখানে তিনি মরুভূমির দেশগুলোর মানুষের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তাদের কাব্যসাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের অনন্য ও অমূল্য সম্পদ বলে ঘোষণা করেন। তিনি ইরাকের কবিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, এশিয়াকে আবার জেগে উঠতে হবে এবং সেই জাগরণ হবে জ্ঞান ও মৈত্রীর। 

কোনো মনীষী ইরানে বেড়াতে গেলে সে-সময় মসজিদে ভাষণ দেওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। এই উদার ঐতিহ্যের ধারা মেনেই রবীন্দ্রনাথ মিনারে দাঁড়ালেন। তিনি সেখানে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করলেন হায়দ্রাবাদের নিজামের কথা, যার উদার অর্থানুকূল্যে শান্তিনিকেতনে ইসলামি বিদ্যাচর্চার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। 

পারস্যের সুরম্য মসজিদ আর বাগিচা দেখে রবীন্দ্রনাথের চিত্ত বিগলিত হয়েছিল। সেই অনুভব বিচিত্র বর্ণের বিভায় রঙিন হয়ে সুমধুর সুর হয়ে ঝরে পড়েছিল, ‘এর স্থাপত্য একাধারে সমুচ্চ গম্ভীর ও সযত্নসুন্দর, এর কারুকার্য বলিষ্ঠ শক্তির সুকুমার সুনিপুণ অধ্যবসায়ের ফল। এর পার্শ্ববর্তী আর-একটি মসজিদ মাদ্রাসে-ই-চাহার বাগে প্রবেশ করলুম। এক দিকে উচ্ছ্রিত বিপুলতায় এ সুমহান, যেন স্তবমন্ত্র, আর এক দিকে সমস্ত ভিত্তিকে খচিত করে বর্ণসংগতির বিচিত্রতায় রমণীয়, যেন গীতিকাব্য।’

একইসঙ্গে তিনি দুঃখ করে বলেছিলেন ভারতবর্ষের মন্দিরে তার প্রবেশে সংকোচ নিয়ে। একক ও অভেদ স্রষ্টায় বিশ্বাসী রবীন্দ্রনাথ তখন ধর্মমন্দিরে ছিলেন অপাঙ্‌ক্তেয়। যিনি সারাবিশ্বকে এক নীড়ে বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই রবীন্দ্রনাথই তার আপন জন্মভূমির সংকীর্ণতায় ভীষণ ব্যথিত ছিলেন।

‘পারস্যে’ গ্রন্থে তারই প্রতিধ্বনি, ‘বিশ বছর পরেও পুরীতে জগন্নাথের মন্দিরে আমার মতো কোনো ব্রাত্য যে প্রবেশ করতে পারবে সে আশা করা বিড়ম্বনা।’ অথচ বিস্ময় প্রকাশ করে উচ্চকিত হয়ে লিখেছেন, ‘ইস্পাহানের ময়দানের চারিদিকে যে-সব অত্যাশ্চর্য মসজিদ দেখে এসেছি তার চিন্তা মনের মধ্যে ঘুরছে। এই রচনা যে যুগের সে বহুদূরের, শুধু কালের পরিমাপে নয়, মানুষের মনের পরিমাপে।’

১৯৩২ সালের ইরান সফরে রবীন্দ্রনাথ রেজা শাহ পাহলভির প্রশংসা করেছিলেন। তিনি তখন তার চোখে দেখেছিলেন একজন দেশপ্রেমিক সংস্কারককে। কিন্তু মাত্র নয় বছরের মাথায় সেই শক্তিশালী সম্রাটের পতন হয়। কারণ বৃহত্তর রাজনীতি ও জনগণের মনোভাব বুঝতে না পারলে কোনো শাসনই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কেবল প্রশাসনিক কঠোরতা দিয়ে মসনদ রক্ষা করা যায় না—এ ইঙ্গিত রবীন্দ্রনাথ তার মৃত্যুর আগেই করেছিলেন। 

রবীন্দ্রনাথ অবশ্য রেজা শাহ পাহলভির চূড়ান্ত পতন (১৯৪১) দেখে যেতে পারেননি। সম্রাট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে (১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট) কবির মহাপ্রয়াণ ঘটে। তবে ‘পারস্যে’ গ্রন্থ এবং তার সমসাময়িক বিভিন্ন চিঠিপত্র বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, রেজা শাহের ওই ধরনের পরিণতির একটা দার্শনিক পূর্বাভাস তিনি অনেক আগেই পেয়েছিলেন। 

রবীন্দ্রনাথের কাছে এশিয়া-ইউরোপের পার্থক্য ছিল শুধু মানচিত্র বা ভূগোলের। কিন্তু মহান আত্মার সম্মিলন ঘটতে কোনোই বাধা ছিল না। তিনি মনে করতেন, মানুষের ওড়ার জন্য পাখির মতো দুটি ডানা দরকার—একটিতে থাকবে তার নিজের দেশের সংস্কৃতি, আর অন্যটিতে থাকবে সমগ্র বিশ্বের আধুনিক শিক্ষা। এই দুইয়ের মিলন হলেই মানুষ সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠতে পারে। 

আজ যখন পৃথিবী হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভেদের সম্মুখীন, তখন রবীন্দ্রনাথের ভাবনা অন্ধকারে বাতি জ্বালাতে শেখায়। অন্যের সংস্কৃতিকে নিজের করে নিতে শেখায়। তেমনি নিজের সংস্কৃতিকে অন্যের কাছে আপন করাতে শেখায়। তার সাধনা ‘বিশ্বমানব’ হয়ে ওঠার সাধনা। সেখানে কোনো সংকীর্ণতার আশ্রয় নেই।

রবীন্দ্রনাথ এক বিশাল মহীরুহের নাম, যার কাছে শিখি—অজ্ঞানতাই অন্ধকারের নামান্তর। জ্ঞানের আলো জ্বললে অন্ধকার দূর হয়, অন্তর মুক্তি পায়। আর কেবল মুক্ত অন্তরই বয়ে আনতে পারে শান্তির বার্তা।

বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক হকিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের মেয়েদের

অভিষেকের উত্তেজনা কাটতে না কাটতেই ইতিহাস গড়ে ফেলল বাংলাদেশের মেয়েরা। নতুন পথচলার শুরুতেই জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। জাকার্তায় অনুষ্ঠিত উইমেন্স এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হকিতে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল।

শুক্রবার জিবিকে হকি ফিল্ডে নারী এশিয়ান গেমস কোয়ালিফায়ারে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল দলটি। ম্যাচের শুরুতেই রিমন শারিকার গোলে এগিয়ে যায় দল, তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। উজবেকিস্তানের খুজায়েভা মাদিনাবোনু পেনাল্টি কর্নার থেকে দ্রুত সমতা ফেরান।

প্রথম কোয়ার্টারের সেই লড়াইয়ের পর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আবারও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ২৪তম মিনিটে ওপেন প্লে থেকে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আক্তার কণা, যা প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে দল।

তৃতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচের মোড় আরও নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয় বাংলাদেশ। পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন ম্যাচসেরা আইরিন রিয়া। তবে শেষ কোয়ার্টারে সহজে হার মানেনি উজবেকিস্তান। খায়াদারোভা জুলখুমর পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনে দলটি।

শেষদিকে চাপের মুখেও দারুণ স্থিরতা দেখিয়েছে বাংলাদেশের তরুণ দল, যাদের বেশিরভাগই অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ের খেলোয়াড়। সেই দৃঢ়তা দিয়েই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইতিহাস রচনা করে তারা।

আন্তর্জাতিক সিনিয়র পর্যায়ে এটি বাংলাদেশের নারী হকি দলের প্রথম জয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ২০২৬ এশিয়ান গেমসে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়েও নতুন গতি এনে দিয়েছে।

 

ফরেনসিক অডিটে মিলল প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩ হাজার ৮৮ কোটি টাকার দুর্নীতি

একটি ফরেনসিক অডিট প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে মোট ৩ হাজার ৮৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত অফিস ভাড়া দেখানো, সিএসআর তহবিলের অপব্যবহার, খতিয়ানে কারসাজি, ক্রয় প্রক্রিয়ার অপব্যবহার এবং ভুয়া সংস্কার ব্যয় দেখানোর মাধ্যমে এই অর্থ আত্মাসাৎ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের জেনারেল সার্ভিসেস ডিভিশন, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিভিশন এবং বনানী শাখার সঙ্গে জড়িত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তকালে এই তথ্যগুলো সামনে এসেছে।

নিরীক্ষায় দেখা গেছে, এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে ব্যাংকটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে সাবেক পরিচালক মঈন ইকবাল ও ইমরান ইকবাল, কয়েকজন সাবেক পরিচালক এবং একাধিক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। এমনকি তাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকও আছেন।

ফরেনসিক নিরীক্ষাটি পরিচালনা করেছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান এমএবিএস অ্যান্ড জে পার্টনারস। ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর বর্তমান বোর্ডের অনুমোদিত একটি তদন্ত কমিটি এই নিরীক্ষার ব্যবস্থা করে।

তদন্ত কমিটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রিমিয়ার ব্যাংক সম্প্রতি আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত পেতে একাধিক মামলা করেছে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া এক চিঠিতে ব্যাংকটি জানায়, প্রিমিয়ার ব্যাংক ফাউন্ডেশনের নামে অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে গত ১১ মার্চ ৩৫ কোটি টাকার একটি মামলা করা হয়েছে।

এছাড়া গত ১৫ মার্চ আরও দুটি আলাদা মামলা করা হয়। এসব মামলায় অফিস ভাড়া ও সরবরাহকারীদের (ভেন্ডর) নামে আত্মসাৎ করা মোট ৩ হাজার ৫৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ফেরত চাওয়া হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন—এইচবিএম ইকবাল, তার ছেলে ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মঈন ইকবাল, সাবেক পরিচালক, সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ আরও অনেকে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন, মামলার নথি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে প্রিমিয়ার ব্যাংকের যোগাযোগের চিঠির কপি সংগ্রহ করেছে দ্য ডেইলি স্টার।

এইচবিএম ইকবাল বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি দেশ ছাড়েন। ১৯৯৯ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা ২৬ বছর নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন বোর্ড আগের বোর্ডের সময়কালে বড় ধরনের ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ খুঁজে পায়।

তিনি বলেন, অনিয়মের তথ্য জানার পর ছয়টি অডিট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াংয়ের একটি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে, আর নির্দিষ্টভাবে কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে তা নির্ধারণ করেছে এমএবিএস অ্যান্ড জে পার্টনারস।

আরিফুর রহমান আরও বলেন, নতুন বোর্ড জবাবদিহিতা ও সুশাসন জোরদার করতে কাজ করছে এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইকবাল ও তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ভাড়াটিয়া প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত ভাড়ায় চুক্তি এবং নবায়নের মাধ্যমে ৪০৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

ব্যাংকটি বাজারদরের তুলনায় বেশি ভাড়া পরিশোধ করেছে। পাশাপাশি বেশি সার্ভিস চার্জ, ২ থেকে ৩ বছরের আগাম ভাড়া, বাড়তি টাকার ওপর ভ্যাট এবং অতিরিক্ত খরচ দেখানো হয়েছে। এমনিক অফিসের অনেক জায়গা ঠিকমতো ব্যবহারও করা হয়নি, যা ব্যবসায়িকভাবে যৌক্তিক নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচবিএম ইকবাল চেয়ারম্যান থাকাকালে নিজের মালিকানাধীন ইকবাল সেন্টারের জন্য প্রতি বর্গফুট ৩৫০ থেকে ৫০৬ টাকা ভাড়া নেন, যেখানে বাজারদর ছিল ১২০ থেকে ১৬০ টাকা।

এখানে পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের টাকা নেওয়া হয়েছে, ফলে ব্যাংকের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৭১৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

নিরীক্ষায় দেখা গেছে, সিএসআর, প্রচারণা, বিজ্ঞাপন, বিনোদন, ব্যবসায় উন্নয়নসহ ইত্যাদি খাতে অনিয়মের মাধ্যমে ৬০৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সঠিক নিয়ম মেনে এসব খরচ করা হয়নি। দরপত্র নেই, ভাউচার অসম্পূর্ণ, নথি নেই, ব্যবহৃত রিপোর্ট নেই, এমনকি সঠিকভাবে যাচাইও করা হয়নি। কিছু টাকা তাদের পরিবার বা পরিচিতদের কাছে চলে গেছে বা ব্যাংকের কোনো কাজে আসেনি।

১২৮ কোটি টাকার সিএসআর খরচের মধ্যে কম্বল ব্ল্যাঙ্কেট, ত্রাণ ও দানের জন্য হিসাব করা হয়েছিল, যা বড় অংশ আংশিকভাবে বা একেবারেই বিতরণ হয়নি। পাঁচ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের মধ্যে পাঁচটি ভেন্ডর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৭৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘সান্ড্রি ডেবটরস’ অ্যাকাউন্টটি অর্থ আত্মসাতের প্রধান চ্যানেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখান থেকে ৬৬৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ভেন্ডর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও একটি ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। বৈধ অনুমোদন, ওয়ার্ক অর্ডার বা চুক্তি ছাড়াই এই লেনদেন হয়েছে।

যদিও এগুলো সাময়িক অগ্রিম হিসেবে দেখানো হয়েছিল। তবে এর মাধ্যমে টাকা দ্রুত অন্য জায়গায় সরানো সম্ভব হয়। এই কাজটি ব্যাংকের জেনারেল সার্ভিসেস ডিভিশন থেকে শুরু হয়ে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিভিশন এবং বনানী শাখার মাধ্যমে করা হয়।

ভেন্ডরদের সাক্ষাৎকার ও ফরেনসিক বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয়েছে যে, ২২টি ভেন্ডর এবং একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

ক্যালেন্ডার ও বার্ষিক প্রতিবেদনের জন্য প্রিন্টিং ও স্টেশনারিতে ১২৯ কোটি ৩৬ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। কিন্তু এখানে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পণ্য সরবরাহ করা হয়। নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ৮১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, যার মধ্যে ৮০ কোটি ৬২ লাখ টাকা কালার ওয়েবকে বেশি দাম ও বেশি পরিমাণে দেওয়া হয়।

এছাড়া, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) খুলনা টাইগার্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি খরচে ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। যেখানে প্রকৃত খরচ ছিল ৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা চুক্তির ফাঁকফোকর দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

নিরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, ওই সময়ের মধ্যে অফিসের ইন্টিরিয়র, সংস্কার, নির্মাণ, ব্যবসা উন্নয়ন, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, ভেন্ডরকে অগ্রিম টাকা দেওয়া এবং ভবনের মেরামতের খরচের নামে কোটি কোটি টাকা বেআইনিভাবে বা অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ডেইলি স্টার গত এপ্রিল ৬ থেকে এইচবিএম ইকবাল ও মঈন ইকবালের সঙ্গে ফোন, টেক্সট ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিটিএস উন্মাদনা: নেটফ্লিক্স লাইভস্ট্রিমে ১ কোটি ৮৪ লাখ ভিউ

বিখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর ‘ফিরে আসার’ কনসার্ট বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। 

সশরীরে কনসার্টে উপস্থিত থাকতে না পারলেও বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ নেটফ্লিক্সের স্ট্রিমিং সেবার মাধ্যমে এই মহোৎসবে যোগ দেন।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, বিটিএসের কনসার্ট লাইভে প্রচারের সময় ১ কোটি ৮৪ লাখ ভিউস পেয়েছে। 

আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মেনে বিটিএসের সদস্যরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দেন। 

 

প্রায় এক বছরের মতো বিটিএসের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর গত শনিবার ব্যান্ডের সাত সদস্য প্রথমবারের মতো এক হয়ে গান পরিবেশন করেন। 

এর একদিন আগেই তাদের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশ পায়।  

শনিবার নেটফ্লিক্সের লাইভস্ট্রিমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১ কোটি ৮৪ লাখ দর্শক যোগ দেন। 

তবে প্রকৃত দর্শকের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেক সময় পরিবারের একাধিক সদস্য বা বন্ধু-পরিজন একত্র হয়ে নেটফ্লিক্স উপভোগ করেন। ওই সংখ্যা অ্যাপের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। 

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘বিরতিতে থাকার সময় বিটিএসের প্রভাব আরও তীব্র হয়েছে’। 

সিউলের গোয়াংঘওয়ামুন চত্বরে আয়োজিত লাইভ অনুষ্ঠানটি ৮০টি দেশে নেটফ্লিক্সের শীর্ষ ১০ তালিকায় জায়গা করে নেয়।  

 

২৪টি দেশে প্রথম স্থানে ছিল এই সঙ্গীতানুষ্ঠান। 

এটাই ছিল নেটফ্লিক্সের প্রথম লাইভ সঙ্গীতানুষ্ঠান। এর আগে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা লাইভ দেখালেও গানের জগতে এটাই তাদের প্রথম পদচারণা। 

এমন কী, দক্ষিণ কোরিয়াতেও এর আগে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি নেটফ্লিক্স। 

কনসার্টের শুরুতে বিটিএস নতুন অ্যালবামের গান ‘বডি টু বডি’ পরিবেশন করে। এই গানে দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী ফোক গান ‘আরিরাং’ এর একটি কোরাস যোগ করা হয়েছে। 

ওই গানের নামেই অ্যালবামের নাম দেওয়া হয়েছে। 

বিচ্ছেদ নিয়ে লেখা ফোক গানটিকে অনেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার অনানুষ্ঠানিক জাতীয় সঙ্গীতের আখ্যা দেন। 
উপস্থিত দর্শকরা ব্যান্ডের হিট গানগুলোর সুরে সুর মেলান। গ্লোস্টিক ও মোবাইল ফোনে টর্চ জ্বালিয়ে এই স্মরণীয় কনসার্ট উপভোগ করেন তারা। 

 

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের কেন্দ্রে আয়োজিত এই কনসার্টের ভেনু ও আশেপাশের এলাকায় লাখো মানুষ জমায়েত হন। 

টিকিট বিক্রি ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের ডেটা থেকে জানা যায়, উপস্থিত জনতার সংখ্যা এক লাখের মতো। 

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই-এর বরাত দিয়ে ব্যান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সর্বশেষ অ্যালবামের গান ‘সুইম’ প্রতিদিনের বৈশ্বিক শীর্ষ গানের তালিকায় টানা তিন দিন প্রথম অবস্থানে ছিল। 

একই সময়ে ‘বডি টু বডি’ নামের গানটি দ্বিতীয় অবস্থানে থাকে। 

নতুন অ্যালবামটি প্রকাশের দিনই চল্লিশ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। 

শনিবারের কনসার্ট শেষে ‘আরিরাং’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর শুরু করবে বিটিএস। 

 

৯ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াং শহরে এই ট্যুর শুরু হবে। 

আগামী বছর পর্যন্ত এই ট্যুর চলবে। এ সময় ব্যান্ডটি এশিয়া, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার ৩৪ শহরে ৮২টি কনসার্টে অংশ নেবে। 

ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। 

বিশেষজ্ঞদের মত, আরিরাং অ্যালবামে প্রথাগত কোরীয় সঙ্গীতের সঙ্গে পপ গানের সমন্বয় ঘটিয়ে এক অনন্য সুর তৈরি করেছে বিটিএস। 

নতুন গানের চমকের সঙ্গে পুরনো গানের নস্টালজিয়া—সব মিলিয়ে বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে বিটিএস উন্মাদনা।
 

২৬ মার্চ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন জামায়াত আমির, করবেন দোয়া

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ‘রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে’ জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়েত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আরও জানানো হয়েছে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে জামায়াত।

এর অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা করবে দলটি। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াত আমিরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর জামায়াতের শীর্ষ নেতারা।

পর দিন ২৬ মার্চ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং সংগঠনের সব পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান পালন করা হবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২৬ মার্চ সকালে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ‘রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করবেন।’