31.3 C
Dhaka
Home Blog

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত ঘিরে এফ-১৬ ভূপাতিতের গুজব

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পুরোনো ছবি ও ভিডিও।

ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, এসব ছবি ও ভিডিও-এর অনেকগুলোই ভুয়া ও এডিটেড।

আজ শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ও পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন ফ্যাক্ট চেক করে জানিয়েছে এসব ছবি-ভিডিও ভুয়া ও পুরোনো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে পাকিস্তান হামলা চালানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ জ্বলছে’এমন একটি ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এটিকে নতুন ঘটনা দাবি করে অনেকেই পোস্ট দেন। 

বিবিসি জানায়, ছবিটি অন্তত লাখোবার দেখা হয়েছে। রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেখা গেছে, বর্তমান আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ছবিটির সবচেয়ে পুরোনো সংস্করণ পাওয়া যায় ২০২৫ সালের মে মাসে।

ডন দাবি করেছে, ভারতীয় ও আফগানপন্থী এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এসব ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। 

ওইসব অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছেএমনটাই বলা হয়।

এ ধরনের একটি পোস্ট প্রায় ৭ লাখ ৭৩ হাজার ভিউ পায়, আরেকটি পোস্ট ২ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি এবং একই ভিডিওর আরেক সংস্করণ প্রায় ৮০ হাজারের বেশি বার দেখা হয়।

তদন্তে ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ, বিমানের সিরিয়াল নম্বর যাচাই ও একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুল ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া কাবুলে বড় বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছেএমন দাবি করে ছড়ানো আরেকটি ভিডিও যাচাইয়ে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

রিভার্স সার্চে দেখা যায়, এটি আসলে ২০০৩ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে চালানো বিমান হামলার একটি পুরোনো ভিডিওর অংশ। 

 

এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি ভাষা সৈনিক আহমেদ সালেক

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষাবিদ আহমেদ সালেক। ২০০৯ সালে প্রয়াত হন তিনি। কিন্তু ভাষা সৈনিক হিসেবে আজও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি তার। 

উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পাকিস্তান শাসকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যখন সারা দেশে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে, তখন বিভিন্ন পেশার মানুষ ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। অনুপ্রাণিত তরুণ সালেকও তার সহপাঠীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন।

ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে ১৯৫২ সালের মার্চ মাসে সালেককে ময়মনসিংহ শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তিনি দুই মাস কারাভোগ করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় শেরপুর থেকেও গ্রেপ্তার হন। ওই সময় ময়মনসিংহ ও জামালপুর কারাগারে পাঁচ মাস আটক থাকেন তিনি।

১৯৩৫ সালের ১৭ মার্চ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দড়িভাবখালী গ্রামে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আহমেদ সালেক। তার বাবা ছিলেন মরহুম আব্দুল আজিজ এবং মা মরহুমা আজিজুন্নেসা। ১৯৫১ সালে শেরপুর ভিক্টোরিয়া স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। তৎকালীন ইকবাল হলের (পরবর্তীতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) আবাসিক ছাত্র ছিলেন সালেক। 

কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কারাবাস এবং চরম দারিদ্র্যের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ১৯৫৫ সালে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি বিএ এবং বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন ও শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৯৯৫ সালে মৃত্যুঞ্জয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি ময়মনসিংহ শহরের সিটি কলেজিয়েট স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন।

দ্য ডেইলি স্টারকে ৮৭ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজ-সংস্কৃতিকর্মী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা নিষিদ্ধ করা হলে ময়মনসিংহ শহরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন সালেক। সেইসঙ্গে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনেরও উদ্যোগ নেন।

‘সালেক ছিলেন প্রগতিশীল চিন্তার একজন শিক্ষক, যিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পরও তিনি তার প্রতিবাদী ও প্রগতিশীল কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসেননি,’ বলেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ । 

সালেক কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে সক্রিয় ছিলেন না। তবে তিনি ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা যেমন—কমরেড রবি নিয়োগী, জিতেন সেন, অমর ভট্টাচার্য, হাতেম আলী খান, তাহের উদ্দিন মল্লিক, আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, পরেশ দাস, নগেন সরকার, জ্যোতিষ বসু এবং দুর্গেশ চন্দ্র পত্রনবিশের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে জানান জিয়াউদ্দিন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে। তিনি পরিবারসহ আত্মগোপনে যান। তবে ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ক্যাম্প স্থাপনে তিনি সহায়তা করেন।

২১ ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত এবং প্রতিবছর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হলেও জীবিত ভাষা সৈনিকদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন সালেকের ছেলে আহমেদ শফিক।

তিনি বলেন, ‘এখনো ভাষা সৈনিকদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি।’

ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক ও উন্নয়ন আন্দোলনের সভাপতি ৮৬ বছর বয়সী অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘ভাষা সৈনিকদের বিশেষ সম্মান দেওয়া উচিত। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’ 

‘ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই স্বাধীনতার সংগ্রামের সূচনা, আর এই আন্দোলনই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার,’ বলেন তিনি।

উদীচী ময়মনসিংহ জেলা সংসদের সভাপতি ডা. প্রদীপ চন্দ্র কর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এখনো কয়েকজন ভাষা সৈনিক জীবিত আছেন। ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য সকল ভাষা সৈনিক ও শহীদদের জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।’

দুঃখজনকভাবে ভাষা সৈনিক আহমেদ সালেককে চেনেন না নতুন প্রজন্মের অনেকেই। তার নামটিও হারিয়ে যাচ্ছে বিস্মৃতির অতলে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: বিএনপি কেন ব্যর্থ বিদ্যুৎ নীতিতে ফিরছে?

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বলেছিল, ক্যাপাসিটি চার্জসহ রেন্টাল ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। (বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, পৃষ্ঠা ৩২)

নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের পরপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছিলেন, ‘সরকার আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না। তার পরিবর্তে সিস্টেম লস কমাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এখন বিদ্যুতের সিস্টেম লস হচ্ছে ৭ শতাংশের বেশি। এটি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে সরকারের সাশ্রয় হবে ১০ হাজার কোটি টাকা।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন, বিগত সরকারের সময় দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, যার চাপ জনগণ বহন করেছে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা চাই, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কীভাবে সমস্যা সমাধান করা যায়, মানুষকে কষ্ট না দিয়ে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বাস্তবে দেখা গেল এসব প্রতিশ্রুতি দেওয়ার তিন মাস পার হতে না হতেই বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলো।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত এমন একটি সময়ে নেওয়া হলো, যখন দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা মূল্যস্ফীতিতে দেশের মানুষ ব্যাপক চাপে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের মূল্যস্ফীতি যখন ৫ শতাংশের নীচে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি তখন ৯ শতাংশের আশপাশে থাকছে।

দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচিত সরকারের আমলে তারা উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু সরকার যেভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করলো, তাতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

ইতোমধ্যে দেড় মাসের ব্যবধানে সরকার দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে, যার প্রভাবে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এবার বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম। এর ফলে গ্রাহককে একদিকে বিদ্যুৎ কিনতে বাড়তি খরচ করতে হবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদিত সব পণ্যের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেগুলোর জন্যও বাড়তি মূল্য দিতে হবে।

এতে কৃষি, শিল্প, সেবাসহ সবখাতে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে। এর প্রভাব বহুগুণে গোটা অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতিতে এমনিতেই বিপর্যস্ত নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবন আরও দুর্বিসহ হবে।

মূল্য বৃদ্ধির উদ্যোগের পেছনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে ভর্তুকি কমিয়ে সরকারি ব্যয়ের বোঝা কমানো ও আইএমএফের শর্ত পূরণের কথা আসছে। কিন্তু ভর্তুকি কমানোর জন্য মূল্যবৃদ্ধিই একমাত্র উপায় নয়। উৎপাদন খরচ কমিয়েও ভর্তুকি কমানো যায়। তাছাড়া এই ভর্তুকির অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তার যৌক্তিকতা কতটুকু এই প্রশ্নেরও সুরাহা প্রয়োজন।

ভর্তুকি কমাতে হলে প্রথমে দেখতে হবে ভর্তুকি কেন দিতে হচ্ছে। ভর্তুকি দিতে হচ্ছে কারণ, আমদানিনির্ভর ও ব্যয়বহুল জ্বালানিভিত্তিক বেসরকারি মালিকানার বিদ্যুৎকেন্দ্র (আইপিপি) থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে পিডিবিকে। এই সমস্যাটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আগেও ছিল, যুদ্ধের কারণে ভর্তুকির চাপ আগের চেয়ে আরও বেড়েছে কেবল।

ভর্তুকির অর্থের একটা বড় অংশ আবার ব্যয় হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জের পেছনে। জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার একটা বড় অংশ সারা বছর অব্যবহৃত থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ না কিনলেও চুক্তি অনুসারে বিদ্যুতের একক ক্রেতা হিসেবে পিডিবি কর্তৃক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ বা ভাড়া দিতে হয়।

প্রতি বছর বেসরকারিখাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এই ক্যাপাসিটি চার্জের পরিমাণ এবং সেইসঙ্গে বেড়েছে পিডিবির লোকসান। আর সেই লোকসান কমানোর কথা বলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু লোকসান ও ভর্তুকি কমেনি। বরং বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে।

কাজেই ভর্তুকি কমানোর জন্য বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি কোনো টেকসই পথ নয়। টেকসই সমাধান করতে হলে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই উৎপাদন খরচ কমাতে হলে বেসরকারিখাতের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার অসম চুক্তিগুলো সংশোধন করে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা কমাতে হবে।

এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের কথা বলা যেতে পারে। পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতও উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ ও আমদানি করা ব্যয়বহুল জ্বালানি সমস্যায় জর্জরিত ছিল। দেশটি সম্প্রতি বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে এই সমস্যার সমাধানে উল্ল্যেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—

আইপিপির সঙ্গে চুক্তি বাতিল ও সংশোধন: সরকার পাঁচটি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী আইপিপির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে এবং ১৬টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি সংশোধন করে টেক-অ্যান্ড-পে মডেলে রূপান্তর করেছে এবং ক্যাপাসিটি চার্জ কমিয়েছে।

ডলারের বদলে রূপিতে বিদ্যুতের দর নির্ধারণ: বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্রয় চুক্তি সংশোধন করে বিদ্যুতের মূল্য ডলারের বদলে রূপিতে রুপান্তর করেছে।

রিটার্ন অন ইকুইটি কমানো: রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রিটার্ন অন ইকুইটি বা বিনিয়োগের বিপরীতে আয়ের হার ৩০ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

এ জন্য পাকিস্তান সরকার আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বলেছে, তোমরা হয় বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সংশোধনে রাজি হও, না হলে চুক্তি পুরোপুরি বাতিল করে দেব অথবা ফরেন্সিক অডিট করব। এতেই কাজ হয়েছে। শুধুমাত্র ১৪টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে সর্বমোট ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি রূপি সাশ্রয় হয়েছে।

এ ছাড়া, দেশটি দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমিয়েছে। বিশেষ করে সোলার প্যানেল আমদানির ব্যয় হ্রাস ও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ায় দেশটিতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে।

২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সমপরিমাণ সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা গড়ে উঠেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এলএনজির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি এড়াতে সক্ষম হয়েছে পাকিস্তান।

বাংলাদেশেও আইপিপিগুলোর সঙ্গে চুক্তি বাতিল ও সংশোধন করে, চুক্তিগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জের বদলে ‘টেক অ্যান্ড পে’ মডেলে কনভার্ট করে, বিদ্যুতের দাম ডলারের বদলে টাকায় নির্ধারণ করে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ উল্ল্যেখযোগ্য মাত্রায় কমানো সম্ভব।

কিন্তু বিগত অন্তর্বর্তী সরকার সেরকম কিছু বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে বিগত আওয়ামী লীগ আমলে বিশেষ আইনে সম্পাদিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষের দিকে সেই কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

কমিটির প্রতিবেদনে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে বেশি দরে বিদ্যুৎক্রয় ও বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার সমস্যার কথা তুলে ধরেছে।

কমিটি বলেছে, এসব চুক্তির মাধ্যমে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাজার দরের চেয়ে ৪০–৫০ শতাংশ বেশি এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪৫ শতাংশ বেশি দরে বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আদানি থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট খরচ ৪-৫ টাকা বেশি পড়ছে। এর একটি অংশ কয়লার দাম হলেও বড় অংশ এসেছে একতরফা শর্ত, উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ, কর ও ঝুঁকি সরকারের ওপর চাপানোর কারণে।

কমিটির হিসাবে, দেশে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ থেকে সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে বছরে ৯০ কোটি থেকে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার (১১ হাজার থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা) বাড়তি ব্যয় হচ্ছে।

এই সমস্যা সমাধানে কমিটির সুপারিশ হলো, যেসব চুক্তিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলো অবিলম্বে বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একইসঙ্গে উচ্চব্যয় ও বিদ্যুৎ কেনার অসম চুক্তিগুলোকে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে বছরে পিডিবির আয় বাড়বে ১৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ গত অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা প্রতি বছরই বাড়ছে। চুক্তি সংশোধন করে টেক অ্যান্ড পে মডেলে রূপান্তর করা হলে এই বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ খরচ কমানো সম্ভব।

কাজেই বিএনপি সরকারের উচিত ছিল দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত চুক্তিগুলো বাতিল বা সংশোধনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানো। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিল। যা বিএনপি সরকার কর্তৃক বিগত আওয়ামীল লীগ সরকারের মতোই জনস্বার্থের চেয়ে বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ আর আইএমএফের শর্ত রক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নের ইঙ্গিত দিল।

 

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন।
[email protected]

ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে জোকোভিচের নতুন কোচ ট্রইকি

রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের লক্ষ্যে ফ্রেঞ্চ ওপেনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন নোভাক জোকোভিচ। আর সেই মিশনের আগে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও স্বদেশি ভিক্টর ট্রইকিকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক বিশ্ব এক নম্বর লিখেছেন, ‘স্বাগতম আমার বন্ধু, সতীর্থ এবং এখন কোচ… ভিক্টর ট্রইকি।’

জোকোভিচ ও ট্রইকির সম্পর্ক অনেক পুরোনো। ২০১০ সালে সার্বিয়াকে প্রথম ডেভিস কাপ শিরোপা জেতাতে একসঙ্গে খেলেছিলেন তারা। পরে কোচিং দলেও একসঙ্গে কাজ করেছেন দুজন।

২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে জোকোভিচের সোনা জয়ের সময়ও কোচিং স্টাফে ছিলেন ট্রইকি, যিনি বর্তমানে সার্বিয়ার ডেভিস কাপ দলের অধিনায়ক।

এবার তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, ইনজুরি-জর্জর মৌসুম কাটানো জোকোভিচকে আবারও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারের পর থেকেই চোট ও ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই তারকা। বিশেষ করে কাঁধের পুরোনো সমস্যার কারণে চলতি মৌসুমে কাজের চাপও নিয়ন্ত্রণ করে এগোচ্ছেন তিনি।

ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে মাটির কোর্টে প্রস্তুতির সুযোগও খুব বেশি পাননি জোকোভিচ। বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরু হবে আগামী রোববার।

 

আমানত ফেরত পেতে চট্টগ্রামে এক্সিম ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের অবস্থান

ব্যাংকে জমা রাখা টাকা ফেরতের দাবিতে এক্সিম ব্যাংকের একটি শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রাহকেরা। চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার এলাকায় ব্যাংকটির ওই শাখার সামনে আজ সোমবার এই বিক্ষোভ হয়। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক পরিষদের চট্টগ্রাম কমিটির ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বিক্ষোভকারী গ্রাহকেরা বলেন, নিজেদের জমা রাখা টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা ব্যাংক ছাড়বেন না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই জুবিলী রোড ও এনায়েত বাজার এলাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা ব্যাংক শাখার সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভের কারণে শাখাটিতে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক থেকে জমানো টাকা তুলতে পারছেন না তারা। এতে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সামনে ঈদুল আজহা। এ সময় পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে টাকার দরকার। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিচ্ছে না।

সংকট সমাধানে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন গ্রাহকরা। দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে জমানো পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে, মুনাফা কেটে রাখার (হেয়ারকাট) কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না এবং দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালু করতে হবে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জহির আহমেদ নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘নিরাপদ মনে করে নিজেদের কষ্টের টাকা আমরা ব্যাংকে রেখেছিলাম। অথচ আজ নিজের টাকার জন্যই রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। ব্যাংক একীভূতকরণ বা অন্য কোনো অজুহাতে গ্রাহকের জমানো টাকা আটকে রাখা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে: বিরোধীদলীয় নেতা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একজন ঋণ খেলাপিকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকেও ‘কালো হাত’ বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

‘এখন আস্তে আস্তে তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের’—বলে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষায় সবাইকে ‘পাহারাদারের ভূমিকা’ পালন করতে হবে।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশগুলো সংসদে আনা এবং চলমান জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ‘ভুল থেকে বেরিয়ে আসার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকার সংসদের প্রথম দিনে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল সেই নিরপেক্ষতা পায়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করতে বাধ্য হয়েছেন এবং বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় আনা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে সব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে আনার বিষয়ে সম্মতি থাকার পরও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং আলোচ্য সূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া হলেও সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, ‘দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি ডিবেট হয় না, দুই মিনিটে কমেন্ট পাস করা যায়।’ পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট ছিল না এবং সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে বিস্তারিত উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে ‘লাখ লাখ কোটি টাকা’ লুট হয়ে বিদেশে পাচার হলেও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এসব অর্থ উদ্ধার এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রণীত উদ্যোগও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের বক্তব্যে অসঙ্গতির অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, একদিকে সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং এবং জ্বালানির জন্য মানুষের ভোগান্তি বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

তার মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প কারখানা ফার্নেস অয়েলের অভাবে ঝুঁকিতে পড়ছে এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণেও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, তবে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুলে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিনি সরকারকে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যেসব সংস্কার অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল, সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। ‘ভুল মানুষ করতে পারে, কিন্তু সেই ভুল থেকে বের হয়ে আসতে হবে’—বলে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি সতর্ক করেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

এছাড়া জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘দেশের চেয়ে দল বড়—এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।’ সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

জনপ্রিয় তামিল অভিনেত্রী সুভাষিণীর মরদেহ উদ্ধার

তামিল ধারাবাহিক কয়ালখ্যাত অভিনেত্রী সুভাষিণী বালসুব্রহ্মণ্যমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চেন্নাইয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্টে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিঙ্কভিলার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

খবর অনুযায়ী, সুভাষিণী ইয়ারাপ্পানথানগাল এলাকায় বসবাস করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার স্বামীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সুভাষিণী তামিল শোবিজে ক্যারিয়ার গড়তে শ্রীলঙ্কা থেকে চেন্নাইয়ে আসেন। এরপর তিনি কয়াল ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান।

টিভির পাশাপাশি তিনি দুটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।

কোন পথে পাকিস্তান-আফগানিস্তান ‘যুদ্ধ’

পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগকে দীর্ঘকাল উপেক্ষা করার পর, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ এবার তার সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ প্রদর্শনী শুরু করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এই পরিস্থিতিকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পাকিস্তানের ‘ধৈর্যের সীমা অতিক্রম’ করেছে আফগানিস্তান।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পাকিস্তানের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দুই দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীর মধ্যকার এ সীমান্ত সংঘাত ভবিষ্যতে কোন দিকে রূপ নিতে পারে? দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকদের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু চিত্র।

পাকিস্তান এবার কোনো রাখঢাক বা লুকোছাপা না করেই একটি সুনির্দিষ্ট নামে (অপারেশন গাজাব লিল-হক) আফগানিস্তান রাজধানী কাবুলসহ বেশকিছু এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এটি সাব-কনভেনশনাল বা ছদ্মবেশী যুদ্ধ থেকে একটি সরাসরি এবং প্রকাশ্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামরিক সংঘাতে উত্তরণের স্পষ্ট লক্ষণ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তানের বিরোধ আফগান জনগণের সাথে নয় বরং সেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, যারা আফগান সীমান্তে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানে রক্তপাত ঘটাচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে সরাসরি তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির নাম বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। উত্তেজনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এই টিটিপি-কে দায়ী করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং রিপোর্টগুলো ধারাবাহিকভাবে আফগানিস্তানে টিটিপির সরব উপস্থিতি এবং বর্তমান তালেবান শাসনের সাথে তাদের গভীর যোগসূত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুসারে, ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং রিপোর্টের প্রশংসা করে। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, টিটিপি ছাড়াও জামাত-উর-আহরার (জেইউএ) ও হিজব-উল-আহরার (এইচইউএ) এর মতো সশস্ত্র দলগুলো আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে পাকিস্তানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ গোষ্ঠীগুলো ২০২০ সালের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অন্তত শতাধিক হামলার পেছনে দায়ী বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এ গোষ্ঠীগুলোকে সম্মিলিতভাবে ‘পাকিস্তানি তালেবান’ বলে ডাকা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে এদের সন্ত্রাসী তৎপরতা আরও বেড়েছে বলেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।’

গত প্রায় ২৪ ঘণ্টায় অপারেশন গাজাব লিল-হক বা ‘ন্যায়ের হামলা’য় পাকিস্তান বিমান বাহিনী কাবুলের উপকণ্ঠসহ কান্দাহার, পাক্তিয়া এবং নানগারহার প্রদেশের বিভিন্ন সন্ত্রাসী আস্তানা ও কৌশলগত অবস্থানে অনুপ্রবেশ করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে।

হামলায় ২৭০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের সীমান্ত শহরগুলোতে প্রতিশোধমূলক পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা দেয় আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের বিশ্লেষণে বলা হয়, নিজেদের জনসমর্থন ধরে রাখতে এবং ‘অজেয়’ ভাবমূর্তি রক্ষায় তালেবান নেতৃত্ব প্রথাগত যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে মূলত পাকিস্তানের সামরিক শক্তির ফাঁদেই পা দিয়েছে।

ডন আরও জানিয়েছে, তালেবান নেতৃত্ব ধারণা করেছিল, ২০২৫ সালের অক্টোবরের সংঘর্ষের মতো এবারের উত্তেজনাও কাতার বা তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দ্রুত প্রশমিত হবে। তবে তারা ইসলামাবাদের বর্তমান কঠোর অবস্থান বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।

কেননা, তালেবান গেরিলা যুদ্ধের কৌশল ছেড়ে সরাসরি আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মূলত পাকিস্তানের শক্তির কাছে নিজেদের উন্মুক্ত করে দেবে। পাকিস্তানের বিমান শক্তি এবং প্রথাগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের সামনে তালেবানের এই সম্মুখ যুদ্ধ একটি আত্মঘাতী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিশ্লেষক আব্দুল বাসিত বলেন, ‘পাকিস্তানের তুলনায় সামরিক শক্তিতে সক্ষমতা কম থাকায় আফগান তালেবানরা পাল্টা-হামলার জন্য অপ্রচলিত পদ্ধতি যেমন আত্মঘাতী বোমা হামলার দিকে যেতে পারে।’

অবশ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতের সমাধান চান বলে জানিয়েছেন আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছি এবং এখনও চাই এই সমস্যার সমাধান সংলাপের মাধ্যমেই হোক।’ 

তবে নিজেদের ভূখণ্ডে টিটিপির অবস্থানের কথা অস্বীকার করে বিষয়টিকে ‘পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত সংঘর্ষে পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা নিহতের দাবি করে আফগান সরকারের মুখপাত্র হুঁশিয়ার করেন, ‘পাকিস্তান হামলা চালিয়ে যেতে থাকলে তার কঠোর জবাব দেওয়ার সামর্থ্য আছে কাবুলের।’ 

সংঘাত নিরসন ও উত্তেজনা হ্রাসে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

কাতার ও সৌদি আরব এর আগে দুদেশের মধ্যে সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে এবং বর্তমানেও পর্দার আড়ালে সক্রিয় রয়েছে। চীন ও তুরস্কের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব দুই দেশের ওপর রয়েছে, যা সংঘাত প্রশমনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইরান ও রাশিয়া তাদের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ‘সংলাপ ও প্রতিবেশীদের মধ্যকার আদর্শিক সুসম্পর্কের মাধ্যমে’ সংঘাত নিরসনের জন্য দুদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে, এখনি সীমান্ত হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের পথে এগোতে দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। 

তুরস্কের শীর্ষ কূটনীতিবিদ হাকান ফিদান পৃথক ফোনকলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কাতার ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে রয়টার্স। 

নিজেদের উপায়ে চীন মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে বলে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং। 

সীমান্ত বন্ধের আগে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে বছরে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয় বলে জানায় পাক-আফগান জয়েন্ট চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পর দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত তীব্র হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে পূর্ব-দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতিতে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। 

তাই ভবিষ্যতে অস্ত্রের বদলে আলোচনার টেবিলে এ সংঘাত সমাধানের দিকে মনোযোগী অন্যান্য দেশগুলো।

অমর একুশের দিনে এফডিএফের বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরের স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা করেছে ফরিদপুর ডিবেট ফোরাম (এফডিএফ)।

আজ শনিবার সকালে ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থায় এ আয়োজন করা হয়।   

বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সারদা সুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশিতা সাহা প্রথম হন। এছাড়া ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুলের শিক্ষার্থী শামছিয়া আলিমা শ্রদ্ধা দ্বিতীয় ও সারদা সুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্ষা তৃতীয় হন।

আলোচনা সভায় অতিথি ছিলেন ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম স্টালিন, এফডিএফের উপদেষ্টা হাসানুজ্জামান, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুরের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম, নাট্যকুঞ্জের সভাপতি নিরব ইমতিয়াজ শান্ত প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘ভাষা শহীদদের স্মরণে এমন আয়োজন প্রতিবছরই করা উচিত। এতে শিক্ষার্থীরা ভীষণ অনুপ্রাণিত হন।’ 

চ্যাটজিপিটির লকডাউন মোড কী, কাদের উপকারে আসবে

চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক চ্যাটবটের কাছে ইউজাররা খুব বেশি চিন্তা না করেই প্রচুর ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে থাকেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে গল্প করারও নজির আছে। 

মূলত, প্রশ্নের আরও ভালো এবং প্রাসঙ্গিক জবাব পেতেই এ কাজটা করে থাকেন বেশিরভাগ ইউজার। 

যার ফলে, ইন্টারনেটে অন্য যেকোনো অ্যাকাউন্টের মতো চ্যাটবট হ্যাক হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার একটি বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে।   

সম্প্রতি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই ‘লকডাউন মোড’ নামে একটি নতুন নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে। এর লক্ষ্য হলো হ্যাকারদের ব্যবহৃত ‘প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাক’-এর মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি কমানো। 

হ্যাকাররা কোনো একটি ওয়েবসাইটে বা ওয়েবও কন্টেন্টে (রিলস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ইউটিউব ভিডিও বা এরকম কনটেন্ট) কিছু ‘গোপন’ ও ‘ক্ষতিকর’ নির্দেশনা ‘ইনজেক্ট’ করে বা অনুপ্রবেশ করিয়ে রাখে।  

যখন ইউজারের প্রশ্নের জবাব দিতে চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য চ্যাটবট ওইসব ওয়েবসাইট বা কন্টেন্ট থেকে তথ্য নিতে যায়, তখন হ্যাকারদের নির্দেশনা কার্যকর হয়। মূলত, ইউজারদের ‘প্রম্পট’ বা চ্যাটবটের কাছে দেওয়া নির্দেশনার মাধ্যমেই হ্যাকাররা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। 

যার ফলে, ইউজারের কাছে প্রশ্নের সঠিক জবাব যাওয়ার পরিবর্তে ওই ইউজারের সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারের কাছে চলে যায়। 

ওপেনএআই জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করে, তারাই মূলত এ ধরনের সাইবার হামলার লক্ষ্য। তাদের কথা মাথায় রেখেই ‘লকডাউন মোড’ ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে। 

তবে লকডাউন মোড চালু করলে চ্যাটজিপিটির কয়েকটি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। 

এর মধ্যে আছে সরাসরি ওয়েব ব্রাউজিং, ইন্টারনেট থেকে আনা ছবি ব্যবহারের সুবিধা, ডিপ রিসার্চ টুল এবং এজেন্টধর্মী ফিচার।

লকডাউন মোডে থাকা অবস্থায় ইউজাররা চ্যাটজিপিটির ভেতর ছবি তৈরি করতে পারবেন, তবে মডেলটি তখন নতুন করে ওয়েব ব্রাউজিং না করে ক্যাশে সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্টের ওপর নির্ভর করে ছবি তৈরি করবে। 

ওপেনএআই স্বীকার করেছে, এই ফিচার হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে পারে না।

সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাকের ফলে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঠেকাতে লকডাউন মোড কাজ করে। এই মোড চালু করলে বাইরের নেটওয়ার্ক থেকে আসা নির্দেশনাগুলো সীমিত আকারে অনুসরণ করা হয়। যেসব নির্দেশনার মাধ্যমে তথ্য পাচার হতে পারে, সেগুলো প্রতিহত করা হয়।

তবে তথ্যের উৎসে এ ধরনের সাইবার হামলার নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকা না থাকার বিষয়ে লকডাউন মোডের তেমন কার্যকারিতা নেই। 

ক্যাশে রাখা ওয়েবও কনটেন্ট বা আপলোড করা ফাইলে প্রম্পট ইনজেকশন অ্যাটাকের নির্দেশনা থাকতে পারে এবং তা ইউজারের ক্ষতির কারণ ঘটাতে পারে। 

আপাতত এই ফিচারটি বিজনেস অ্যাকাউন্টে চালু করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে ব্যক্তি পর্যায়ের ইউজারদেরকেও এই সুবিধা দেওয়া হবে। 

সেটিংস-এ ‘অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি’ সেকশনের আওতায় থাকা ‘সিকিউরিটি’ সেকশনে যেয়ে এই ফিচারটি চালু করা যাবে। 

তবে মজার বিষয় হলো, এই ফিচার কোনো অবস্থাতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে না। ঝুঁকি যত বড় হোক, ইউজারকে সেটা নিজে বুঝে নিয়ে লকডাউন মোড চালু করতে হবে। 

তবে লকডাউন মোড চালুর পর চ্যাটজিপিটির মূল সেবা বড় আকারে সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়বে। 

পাশাপাশি, ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, লকডাউন মোড ও ডেভেলপার মোড একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। একটি চালু করলে অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই ফিচার ইউজারদের কতটুকু কাজে আসবে, তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। 

আপাতত করোনাভাইরাস মহামারির ‘লকডাউন’-এর কথা মনে করিয়ে দেওয়া ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ের ইউজারদের জন্য এই মোডের তেমন কোনো কার্যকারিতা নেই—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।