30 C
Dhaka
Home Blog

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানেরা।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এর আগে তার সঙ্গে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) মহাপরিচালকেরা সাক্ষাৎ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড স্কিম চালু করার জন্য কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও করেছেন।

২৫ কোটি গাছ লাগানোর জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নদী, খাল ও অন্যান্য জলাশয় খনন ও পুনঃখনন পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য দুপুর ২টায় আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। 

অফিসের ‘মা’ বলে যদি কাউকে ডাকা যায়

পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজেরই কোনো দৃশ্যমান মাপকাঠি নেই। অনেক অবদান আছে, যেগুলোর হিসাব হয় না। কিন্তু সেগুলো ছাড়া পুরো ব্যবস্থাটাই ধীরে ধীরে অগোছালো হয়ে পড়ে।

একটি পরিবারে সাধারণত বাবা উপার্জন করেন, যার মাধ্যমে সংসারের অর্থনীতি সচল থাকে। কিন্তু সেই আয়ের যথাযথ ব্যবহার, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সবার প্রয়োজন মেটানো, ভবিষ্যতের সংকটের জন্য সঞ্চয় করা এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্য যাতে নিশ্চিন্তে নিজের কাজ করতে পারে, এমন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেন সাধারণত ‘মা’।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের নারীরাও অনেক এগিয়ে গিয়েছেন, তারা আয় করে পরিবার সচলও রাখছেন। তবে, এখনো অনেক পরিবারেই মা হয়তো সরাসরি আয় করেন না, কিন্তু পুরো সংসারের ছন্দ গড়ে ওঠে তার হাতেই। মা কর্মজীবী হোক বা নাই হোক, পরিবারের কারো মন খারাপ, কারো অসুস্থতা, কারো পরীক্ষার চাপ কিংবা কারো স্বপ্ন পূরণ করার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকেন তিনি। পরিবারের সবাই ভালো থাকলেই যেন তার ভালো থাকা নিশ্চিত হয়।

একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগকে আমি অনেকটা ‘মায়ের’ সঙ্গেই তুলনা করি। কারণ, প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়-ব্যয় কিংবা মুনাফা সবই দৃশ্যমান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মানুষের আস্থা, স্বস্তি, সম্পর্ক, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তাবোধের ভিত্তি তৈরি করে যে বিভাগ, সেটিই হলো মানবসম্পদ বিভাগ।

একজন বাবা যেমন সংসারের জন্য আয়-উপার্জন করেন, তেমনি একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা বিভাগ সেই আয় সৃষ্টি করে। কিন্তু সেই আয়ের সঠিক ব্যবহার, মানুষের প্রয়োজন, সংকট ও সম্ভাবনার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করার দায়িত্ব অনেকটাই মানবসম্পদ বিভাগের ওপর এসে পড়ে।

ফাইন্যান্স ও কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই মানবসম্পদ বিভাগকে পুরো বছরের জনবল ব্যবস্থাপনা করতে হয়। কোথাও দক্ষ মানুষ আনতে হয়, কোথাও সীমিত সম্পদ দিয়েই কর্মীদের আস্থা ধরে রাখতে হয়, কোথাও ভবিষ্যতের জন্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হয়।

একজন সন্তান জন্ম দেওয়ার পেছনে যেমন সবচেয়ে বড় শারীরিক ও মানসিক ত্যাগ থাকে মায়ের, তেমনি একটি প্রতিষ্ঠানে নতুন একজন কর্মী খুঁজে বের করা, যাচাই করা, নিয়োগ দেওয়ার দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার বড় দায়িত্ব থাকে মানবসম্পদ বিভাগের ওপর।

কিন্তু দায়িত্ব শুধু নিয়োগ পর্যন্ত শেষ হয় না। একজন মা যেমন সন্তান জন্মের পর তাকে ধীরে ধীরে বড় করে তোলেন, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে শেখান, ভুল হলে শুধরে দেন, সাহস জোগান; ঠিক তেমনি একজন নতুন কর্মীকেও প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে হয় মানবসম্পদ বিভাগকে।

ওরিয়েন্টেশন, প্রশিক্ষণ, ফলোআপ, দক্ষতা উন্নয়ন সবকিছু মিলিয়ে একজন কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের উপযোগী করে গড়ে তোলার পেছনে মানবসম্পদ বিভাগের বড় ভূমিকা থাকে।

একজন মা চেষ্টা করেন ঘরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে, যেখানে সন্তান সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে। মানবসম্পদ বিভাগও চেষ্টা করে অফিসে এমন একটি কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে, যেখানে কর্মীরা নিরাপদ বোধ করবেন, সম্মান পাবেন, নিজের কাজটি মন দিয়ে করতে পারবেন। কারণ, একজন কর্মী শুধু বেতনের জন্য কাজ করেন না। তিনি কাজ করেন সম্মান, স্বীকৃতি ও মানসিক স্বস্তির জন্য এবং নিজের সম্ভাবনাকে অর্থবহ করে তোলার জন্য।

প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত রাজস্ব, মুনাফা, প্রবৃদ্ধি বা বাজার হিস্যার মাধ্যমে সংখ্যা দিয়ে সাফল্য পরিমাপ করে। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনেই একজন মানুষ থাকে। ক্লান্ত একজন মানুষ; স্বপ্ন দেখা একজন মানুষ; সংগ্রাম করা একজন মানুষ।

মানবসম্পদ বিভাগের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সম্ভবত এখানেই। যেন প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মানুষ কখনো শুধুই ‘রিসোর্স’ হয়ে না যান। যেন একজন কর্মী অনুভব করেন, তিনি শুধু একটি আইডি নম্বর নন; তিনি এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ।

একটি সন্তানের মানসিক, সামাজিক ও মানবিক বিকাশে যেমন মায়ের প্রভাব গভীর, তেমনি একজন কর্মী প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির সঙ্গে কীভাবে নিজেকে যুক্ত করবেন, সহকর্মীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন এবং নেতৃত্বকে কীভাবে দেখবেন, এসব ক্ষেত্রেও মানবসম্পদ বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন মা সন্তানদের শুধু আদর করেন না, শৃঙ্খলাও শেখান এবং প্রয়োজনে কঠোরও হন। মানবসম্পদ বিভাগকেও প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, নীতি ও পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বাইরে থেকে সেটি কঠোর মনে হতে পারে, কিন্তু অনেক সময় সেটিই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য প্রয়োজন হয়।

পরিবারে সন্তানদের নানা রকম অভিমান, অভিযোগ, চাওয়া-পাওয়া সবচেয়ে বেশি গিয়ে জমা হয় মায়ের কাছেই। অফিসেও কর্মীদের ব্যক্তিগত সমস্যা, ক্ষোভ, হতাশা, অসন্তোষ কিংবা প্রত্যাশার প্রথম দরজাগুলোর একটি হয় মানবসম্পদ বিভাগ। কখনো কাউন্সেলিং করে, কখনো বোঝাপড়া তৈরি করে, কখনো নীতিমালা প্রয়োগ করে—প্রতিদিন অসংখ্য মানবিক পরিস্থিতি সামলাতে হয় এইচআরকে।

ভাইবোনদের মধ্যে ঝগড়া হলে যেমন মা মধ্যস্থতা করেন, তেমনি অফিসেও কর্মী-কর্মী বা কর্মী-কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্বে অনেক সময় নিরপেক্ষ সমাধানকারীর ভূমিকায় দাঁড়াতে হয় মানবসম্পদ বিভাগকে। কখনো সম্পর্ক বাঁচাতে হয়, কখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হয়, কখনো কঠিন প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও নিতে হয়।

পরিবারের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে সাধারণত মাকেই সবচেয়ে বেশি ধৈর্য ধরতে হয়। আর্থিক সংকট, অসুস্থতা কিংবা পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেও তিনি চেষ্টা করেন ভেতরের ভারসাম্য ধরে রাখতে। প্রতিষ্ঠানের কঠিন সময়েও মানবসম্পদ বিভাগের ভূমিকা অনেকটা তেমন। সাংগঠনিক পরিবর্তন, অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ কিংবা সংকটের সময় কর্মীদের আস্থা ধরে রাখা, আতঙ্ক কমানো, মানবিক ভারসাম্য বজায় রাখা মানবসম্পদ বিভাগের সবচেয়ে কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি।

আবার সন্তানের ছোট্ট অর্জনেও যেমন মা সবচেয়ে বেশি খুশি হন, তেমনি একজন কর্মীর সাফল্য, পদোন্নতি, স্বীকৃতি কিংবা নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মুহূর্তেও মানবসম্পদ বিভাগ নীরব আনন্দ অনুভব করে। কারণ, একজন মানুষের বেড়ে ওঠার ভেতরে নিজের অবদান দেখতে পাওয়ার আনন্দ আলাদা।

মায়ের কাজের কোনো নির্দিষ্ট অফিস সময় নেই; সবাই ঘুমিয়ে গেলে তিনি পরের দিনের কথা ভাবেন; সবাই খেয়ে নিলে তবেই নিজের কথা ভাবেন। তেমনি মানবসম্পদ বিভাগের কাজও অনেকটা অদৃশ্য ও চলমান। একটি নিয়োগ শেষ হলে তৈরি হয় আরেকটি শূন্য পদ। একটি সমস্যা সমাধান হলে সামনে আসে নতুন আরেকটি মানবিক পরিস্থিতি। একটি আয়োজন শেষ হলে শুরু হয় পরবর্তী আয়োজনের প্রস্তুতি। কিন্তু এসব কাজের বড় অংশই সম্পন্ন হয় নীরবে, কোনো করতালি ছাড়াই।

একসময় সন্তানেরা বড় হয়। কেউ দূরে চলে যায়। কেউ নতুন জীবনের জন্য পরিবার ছেড়ে অন্য শহর বা দেশে পাড়ি জমায়। তবু মা কষ্ট চেপে রেখে সন্তানের ভালো চান। প্রতিষ্ঠানেও তেমন ঘটে। কোনো কর্মী নতুন সুযোগের জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে চাইলে মানবসম্পদ বিভাগ অনেক সময় তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। আবার বুঝতে পারে, এই চলে যাওয়াটাই হয়তো তার ক্যারিয়ারের জন্য ভালো। তখন সম্পর্ক নষ্ট না করে, সম্মান রেখেই বিদায় দেওয়ার দায়িত্বটিও মানবসম্পদ বিভাগের।

আসলে একটি ভালো প্রতিষ্ঠান শুধু বড় অফিস, বড় আয় কিংবা বড় ব্র্যান্ড দিয়ে তৈরি হয় না। এটি তৈরি হয় তখনই, যখন সেখানে কর্মীরা সম্মান পান, নিরাপদ বোধ করেন, নিজের কথা বলতে পারেন, ভুল করলে শেখার সুযোগ পান এবং নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পারেন।

আর এই মানবিক ভিত্তি তৈরির পেছনে মানবসম্পদ বিভাগের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, যদিও সবচেয়ে কম দৃশ্যমান। তাই ‘বিশ্ব মানবসম্পদ দিবসে’ মানবসম্পদ বিভাগের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো এটিই—এই বিভাগ শুধু জনবল পরিচালনা করে না; মানুষকে ধারণ করে। অনেকটা পরিবারের ‘মায়ের’ মতো। যার কাজের সবটুকু হয়তো চোখে পড়ে না, কিন্তু যাকে ছাড়া পুরো ব্যবস্থাটাই ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে।

 

মো. শামীম খান: মানবসম্পদ পেশাজীবী
[email protected]

মাদ্রিদের জয়ে ইতিহাসের পথে সিনার

মাদ্রিদের মাটিতে ইতিহাস গড়েই থেমে থাকেননি ইয়ানিক সিনার। দুর্দান্ত এক জয়ের পরপরই ইতালিয়ান তারকার চোখ এখন আরও বড় অর্জনের দিকে, নিজের দেশ রোমে জিতে ‘গোল্ডেন মাস্টার্স’ পূর্ণ করা। সেটি করতে পারলে টেনিস ইতিহাসে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাবেন তিনি।

২৪ বছর বয়সী সিনার রোববার মাদ্রিদে আলেকজান্ডার জভেরেভকে মাত্র ৫৭ মিনিটে ৬-১, ৬-২ সেটে উড়িয়ে দিয়ে টানা পঞ্চম মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছেন। এর আগে প্যারিস, ইন্ডিয়ান ওয়েলস, মায়ামি ও মন্টে কার্লো জয়ের ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো মাদ্রিদ।

এখন তার সংগ্রহে নেই শুধু রোমের শিরোপা। সেটি জিততে পারলেই সিনার হয়ে উঠবেন ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যিনি সবগুলো নয়টি মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা জিতেছেন, যে কীর্তি বর্তমানে কেবল নোভাক জোকোভিচের ঝুলিতে রয়েছে।

মাদ্রিদে শিরোপা জয়ের পরই রোম নিয়ে নিজের আবেগের কথা জানাতে ভোলেননি সিনার। তার ভাষায়, ‘নিজের দেশে খেলা সবসময়ই বিশেষ কিছু। শারীরিকভাবে আমি ভালো আছি, রোমে না খেলার কোনো কারণ নেই। সেখানে ফিরতে পারছি, এটা আমার জন্য দারুণ ব্যাপার।’

গত বছর রোমেই তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কোর্টে ফিরেছিলেন সিনার, যদিও ফাইনালে কার্লোস আলকারাজের কাছে হেরে রানার্সআপ হতে হয়েছিল তাকে। সেই স্মৃতি এখনও তাজা, তবে এবার লক্ষ্য একধাপ এগিয়ে যাওয়া।

তবে এত সাফল্যের মাঝেও বাস্তবতা ভুলছেন না এই ইতালিয়ান তারকা। তার মতে, প্রতিটি টুর্নামেন্টই কঠিন, আর জয় পাওয়াটা কখনোই সহজ নয়। আপাতত তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিশ্রাম নিতে চান, কারণ একটি টুর্নামেন্টে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার পর সেই ক্লান্তি কাটানোও জরুরি।

এই মৌসুমে হার্ড কোর্ট ও ক্লে দুই জায়গাতেই নিজের আধিপত্য দেখানো সিনার স্বীকার করেছেন, প্রত্যাশার চাপও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তবুও অন্যদের সঙ্গে তুলনায় না গিয়ে নিজের সেরাটা দেওয়াতেই মনোযোগ রাখতে চান তিনি।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়লো

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন মূল্য ১৯৯ টাকা। এর আগে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ছিল ১৯৫ টাকা।

ভোজ্য তেলের মূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে আজ বুধবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানিয়েছেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে, পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ভোরে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম আজ সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী, শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকার নির্বাচিত হন। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন।

সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগস্ট রংপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় স্বর্ণকার মুসলিম উদ্দিন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আসামি করা হয়। তবে ঠিক কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

হুইলচেয়ারে বসা দর্শককে দেখে আপ্লুত সিয়াম

‘পোড়ামন ২’ দিয়ে বাজিমাত করেছিলেন নায়ক সিয়াম আহমেদ। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সিনেমা করে কুড়িয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা। সবশেষ ‘জংলি’ দিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি। আর এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘রাক্ষস’।

সিনেমাটি মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সরাসরি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখেছেন সিয়াম। এ পর্যন্ত তিনটি হলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতাই দ্য ডেইলি স্টার কাছে তুলে ধরেছেন তিনি।

সিয়াম বলেন, ‘“রাক্ষস” মুক্তির পর ইতিমধ্যে তিনটি হলে গিয়েছি। দর্শকদের সাড়া দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে। আমার ভেতরে দারুণ উত্তেজনা কাজ করছে।’

দর্শকদের কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে? এমন প্রশ্নে সিয়াম বলেন, ‘সিনেমাটি দেখার পর দর্শকেরা আমার সামনেই বিভিন্ন সংলাপ বলছিলেন। বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করেছে। কেউ কেউ গানের কথা বলেছেন, আমার অভিনীত চরিত্রের প্রশংসা করেছেন। দর্শকদের এসব অনুভূতি আমাকে অন্য রকম ভালো লাগায় সিক্ত করেছে।’

সিয়াম বলেন, ‘এক দিন মিরপুরের সনি প্রেক্ষাগৃহে (স্টার সিনেপ্লেক্স) গিয়েছিলাম। শো শেষে দেখি অনেক ভিড়। সেই ভিড়ের মধ্যে একজন দর্শককে দেখলাম হুইলচেয়ারে বসে আছেন। ভিড়ের কারণে তার সমস্যা হতে পারে ভেবে আমাদের টিমের সদস্যদের বলি, তার যেন কোনো অসুবিধা না হয়।’

সিয়াম আরও বলেন, ‘এরপর আমি তার কাছে যাই। কথা বলি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, “ভাই, এত কষ্ট করে কেন সিনেমা দেখতে এসেছেন?” তিনি জানালেন, “পোড়ামন ২” থেকেই তিনি আমার সব সিনেমা দেখেন। সেই টানেই “রাক্ষস” দেখতে এসেছেন। তার কথা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই! নিজে হাঁটতে পারেন না, আরেকজনের সহযোগিতা নিয়ে আমার সিনেমা দেখতে এসেছেন—এ দেখে ইমোশনাল হয়ে পড়ি।’

দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সিয়াম বলেন, ‘দর্শকেরাই আমার আসল ভালোবাসা। তারাই শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখেন। শুরু থেকেই তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়ে আসছি। আমি দর্শকদের জন্যই কাজ করে যাব। তাদের ভালোবাসার চেয়ে বড় আর কিছু নেই।’

ইরানের দক্ষিণে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে বিপ্লবী গার্ড

ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা রেভল্যুশনারি গার্ড দেশের দক্ষিণে উপসাগরীয় এলাকায় মহড়া চালাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহড়াটি মূলত দক্ষিণ উপকূলকে কেন্দ্র করে হলেও ইরানের অন্যান্য অংশেও একইরকম মহড়া চলছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে, মহড়ায় ড্রোন, নৌযান, উভচর যান, স্থল থেকে সমুদ্রে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট এবং আর্টিলারি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এএফপি জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান দুই দফা আলোচনা শেষ করার পর এ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আবারও আলোচনায় বসবে দুই দেশ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছেন।

এএফপি জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

গত সপ্তাহে ইরানের নৌবাহিনী উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর আশপাশে আরেক দফা সামরিক মহড়া পরিচালনা করে।

রমজানে ১০ লাখ পরিবারকে সুলভ মূল্যে প্রোটিন খাদ্য দেবে সরকার: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিএনপি সরকার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য (দুধ, ডিম, মাংস ও মাছ) সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি আরও জানিয়েছেন, এই কার্যক্রমের আওতায় সারা দেশে প্রায় ১০ লক্ষাধিক পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মহাখালীতে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন কক্ষে ‘সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয় কর্মসূচির’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই এ দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

রমজান মাসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে, নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট বেড়ে যায়। নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, জানান তিনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাজারে আসছে গুগলের ‘অডিও গ্লাস’

স্মার্ট চশমার বাজারে সদর্পে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে গুগল। প্রায় এক দশক আগে ‘গুগল গ্লাস’ প্রকল্প শুরু করলেও তেমন সাড়া পায়নি গুগল। বরং ওই পণ্যটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। 

এবার সেই বদনাম ঘুচাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসহ নতুন স্মার্ট চশমা বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে গুগল।  

গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে এ বিষয়ে ঘোষণা আসে। 

আই/ও ২০২৬ নামের সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা ডিভাইসের সঙ্গে এআই সেবা যুক্ত করার অঙ্গীকার জানান। 

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘অডিও গ্লাস’ তৈরি করছে গুগল। 

এই প্রকল্পে চশমা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ারবি পার্কার ও জেন্টল মনস্টারকে অংশীদার হিসেবে পাশে পাচ্ছে গুগল। এ ছাড়া, স্যামসাং-এর কাছ থেকেও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নেবে গুগল। 

এই চশমাগুলো অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের ফোনের সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 

পরিকল্পনা মতে এ বছরেই বাজারে আসবে গুগলের অডিও গ্লাস। 

বাজারে প্রচলিত অন্যান্য স্মার্ট গ্লাসে ভিডিও ও ভিজুয়াল ডিসপ্লের দিকে বেশি জোর দেওয়া হলেও গুগলের নতুন এই পণ্যে অডিওর দিকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। 

ইউজাররা ‘ভয়েস কমান্ড’ বা মৌখিক নির্দেশনার মাধ্যমে অনেক কাজ সেরে ফেলতে পারবেন। এ কারণেই এর নাম ‘অডিও গ্লাস’। 

নতুন এই ডিভাইসগুলো খুব সহজেই জেমিনাই এআই ইঞ্জিনসহ গুগলের অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে।  

সম্মেলনে গুগলের এক কর্মকর্তা চশমাকে মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে দোকান থেকে কফির অর্ডার করেন। এতে উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ হন। 

এই ডিভাইসে টাইপ না করে বা হাত ব্যবহার না করে শুধু মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজ সারার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

২০১০ সালের দিকে বাজারে আসে গুগল গ্লাস। তবে শুরু থেকেই এই পণ্যটি ছিল বিতর্কের কেন্দ্রে। 

ইউজারদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে হুমকি, ডিজাইনের সীমাবদ্ধতা ও সার্বিকভাবে, সমাজের সর্বস্তরে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   

‘নজরদারি পণ্য’ আখ্যা দিয়ে অনেকেই গুগল গ্লাস বর্জনের ডাক দেন।  

তবে এরপর অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বাজারে স্মার্ট চশমা এনে সেই নেতিবাচক পরিস্থিতি অনেকাংশেই দূর করেছে।

এআই, হার্ডওয়্যার ও ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়নে মানুষেরমনে এই প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। 

ইতোমধ্যে রে-ব্যানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মেটার স্মার্ট চশমা বাজারে সাড়া ফেলেছে। অন্যান্য স্টার্টআপ ও প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ ধরনের ডিভাইস নিয়ে কাজ করছে।
 

শিশুদের জন্য আর কোনো দেশ নেই

রামিসার বাবার একটি কথা বারবার মাথার ভেতর ঘুরছে। তিনি বলেছেন, তিনি তার মেয়ের হত্যার বিচার চান না। কারণ তিনি জানেন, এই দেশে বিচার পাওয়া এক ধরনের বিলাসিতা।

একজন বাবা কতটা অসহায় হলে নিজের সাত বছরের মেয়ের এমন করুণ মৃত্যুর পরও বিচার ব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখতে পারেন না!

এই একটি বাক্যই আসলে আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ আর বাস্তবতার সবচেয়ে নির্মম প্রতিচ্ছবি।

রামিসার ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মন্তব্যগুলো পড়ার পর থেকে ভেতরে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। শুধু ঘটনাটা না, বরং ঘটনাটির পর মানুষের প্রতিক্রিয়া আরও বেশি ভয়ংকর লাগছে।

একটা শিশুকে ঘিরে যেখানে শোক, সহানুভূতি আর মানবিকতা থাকার কথা, সেখানে দেখা যাচ্ছে অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ হাসাহাসি, বানানো গল্প, আর অসুস্থ বিনোদন। যেন একটা শিশুর জীবনও এখন মানুষের কাছে ‘কনটেন্ট’ ছাড়া আর কিছুই না।

আমরা প্রায়ই বলি যে সমাজ দিন দিন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই অসুস্থতা হঠাৎ করে তৈরি হয়েছে? সহজ উত্তর হলো, না। বছরের পর বছর ধরে অনলাইনে ঘৃণা, নারীবিদ্বেষ, অশ্লীলতা আর নিষ্ঠুরতাকে স্বাভাবিক করে তোলার ফল আজ আমরা দেখছি।

এখন মানুষ ট্র্যাজেডির মধ্যেও ভাইরাল হওয়ার সুযোগ খোঁজে। একটা শিশুর মৃত্যুতেও তারা ‘রিঅ্যাকশন’, ‘এনগেজমেন্ট’ আর সস্তা বিনোদনের উপাদান খুঁজে পায়।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এসব মানুষ আমাদের আশেপাশেই থাকে। তারা কোনো দূরের দানব না। তারা আমাদের ফ্রেন্ডলিস্টে আছে, আমাদের কমেন্ট সেকশনে আছে, আমাদের সমাজেই আছে। আর যখন একটা সমাজ ধীরে ধীরে সহানুভূতি হারাতে শুরু করে, তখন সেখানে শুধু অপরাধীই ভয়ংকর না, সেই অপরাধকে ঘিরে মানুষের বিকৃত প্রতিক্রিয়াও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

এ দেশের প্রত্যেকটি পরিবার—যাদের ঘরে কন্যা শিশু আছে—আতঙ্কে দিন পার করছে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা হয়তো দেশ ছাড়ার কথা ভাবছে, ছাড়ছে। এটা করেছে কেবল সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশ দেওয়ার জন্য। আর যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তারা মেয়েদের চলাফেরা সীমিত করছে ভয় থেকে। কারণ, তারা বুঝতে পারছে, এখানে শুধু বাস্তব জীবনই অনিরাপদ না, অনলাইন জগতও ভয়াবহভাবে অসুস্থ হয়ে গেছে।

সবচেয়ে কষ্টের জায়গা হলো, আমরা ধীরে ধীরে এমন এক সমাজে পরিণত হচ্ছি যেখানে একটা শিশুকেও যৌন আকাঙ্ক্ষা থেকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তার শরীরকেও ভোগ্যপণ্য করে তোলা হচ্ছে। তার পরিচয়, তার মর্যাদা, তার প্রতি ন্যূনতম মানবিকতাও মানুষ রক্ষা করতে চায় না। বরং তাকে নিয়েও অশ্লীলতা আর বিকৃত রসিকতা শুরু হয়ে যায়।

একটা সমাজ তখনই সত্যিকারের বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যখন মানুষ অন্যের কষ্ট অনুভব করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যখন একটা শিশুর ট্র্যাজেডিও মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দিতে পারে না, তখন বুঝতে হবে সমস্যা শুধু কিছু অপরাধীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সমস্যা আমাদের সামষ্টিক মানসিকতার ভেতরেও ঢুকে গেছে।

রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কত রামিসা হারালে এ দেশ শিশুদের জন্য নিরাপদ হবে? কখনো কখনো সত্যিই মনে হয়, শিশুদের জন্য আর কোনো দেশ নেই।

 

মো. আব্বাস: দ্য ডেইলি স্টারের সাবেক সংবাদকর্মী। বর্তমানে কাজ করছেন করপোরেট কমিউনিকেশন খাতে।
[email protected]