30 C
Dhaka
Home Blog

আল্লাহ ভালো জানেন একাত্তরে কার কী ভূমিকা ছিল: সংসদে জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন একাত্তর সালের ওই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহতালা তার নিখুঁত, পূর্ণাঙ্গ, একমাত্র সাক্ষী। বাকি আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী। কিন্তু আল্লাহতালাই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী।’

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল-২০২৬। বিলটি উত্থাপনের আগে সংসদে তা প্রস্তাব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। প্রস্তাবের পর বিলটি নিয়ে কারও আপত্তি আছে কি না জানতে চান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চল দুই-দুইবার স্বাধীন হয়েছে। সাতচল্লিশে একবার। ২৩ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা দেশ এবং জাতির জন্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে লড়াই করেছিলেন, তাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।’

তবে ‘বুকভারা আশা নিয়ে’ দেশ স্বাধীন হলেও, সে আকাঙ্ক্ষা তখনকার শাসকেরা পূরণ করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। এ সময় স্বাধীনতার পরপর বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর তার ধারাবাহিকতায় মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে নিঃসন্দেহে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এর সুফল পরবর্তী পর্যায়ে জাতি পেয়েছে এবং আজকের পার্লামেন্ট সেই ধারাবাহিকতার অংশ।’

এ পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিলের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বিলে প্রস্তাবনা করা হয়েছে যে জিনিসটা, স্বাধীনতার পরে তখনকার শাসকও (সেটা) আনেন নাই। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান; তিনিও আনেন নাই। তিনবারের অতি সম্মানীয়া প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) তিনিও আনেন নাই। এ জিনিসটা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়ে আসলেন ফ্যাসিস্টের বিকৃত একজন প্রতিভূ শেখ হাসিনা। এবং পরবর্তী পর্যায়ে ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে সামান্য পরিবর্তনসহ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘কী আছে এখানে? (বিলে) তৎকালীন তিনটা সংগঠনের নাম নেওয়া হয়েছে। তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টি। পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে, আরও কিছু এনসিলারি ফোর্সের সঙ্গে তিনটা রাজনৈতিক দলের নাম এসেছে এবং বর্তমান উপস্থাপনা বা প্রস্তাবনায় তৎকালীন এই তিন সংগঠনের কথা বলা হয়েছে।’

বক্তব্যের এই অংশে প্রতিবেদনের শুরুতে উল্লেখ করা অংশটুকু বিবৃত করে তিনি জানান, তারা চান জনগণের প্রতি দায় এবং দরদ নিয়ে, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে, এই দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক সংগঠন তার কার্যক্রম পরিচালনা করুক।

এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চান না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৯ সালে পলিটিক্যাল পার্টিজ রিভাইভাল অ্যাক্টের মধ্য দিয়ে স্বয়ং আওয়ামী লীগেরও পুনর্জন্ম হয় বাংলাদেশে। এবং সে সময় যে কয়টি দল ছিল তারা সকলেই রাজনীতি করার এই সুবিধাটুকু বা তাদের অধিকারটুকু তারা ফিরে পান। আমরা সেই সময় তা ফিরে পেয়েছি।’

এজন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘আমরা কখনো এটা ভুলে যাইনি। ভুলে যাব না। আমরা সেই দায়-দরদ-ভালোবাসা নিয়েই ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে আমাদের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছি। আগামীর দিনগুলোতেও আর জাতিকে বিভক্ত নয়, বরঞ্চ ঐক্যবদ্ধ করে আমরা যাতে একটি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্মানের জাতি গঠন করতে পারি, সব দলের এটিই হোক অঙ্গীকার।’

কেন জন্মদিন উদযাপন করেন না অভিনেতা ফারুক আহমেদ

ফারুক আহমেদ দর্শকপ্রিয় অভিনেতা। হুমায়ুন আহমেদের অসংখ্য নাটক ও সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতি। নাটক-সিনেমার বাইরে ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গেও জড়িত তিনি দীর্ঘদিন ধরে। ঢাকা থিয়েটারের জন্য মঞ্চ নাটক নির্দেশনা দেন কিছুদিন আগে।

আজ ২৫ মার্চ ফারুক আহমেদের জন্মদিন। বিশেষ দিনটিতে  অনেক মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেও নিজ থেকে কখনো জন্মদিন উদযাপন করেন না।

কেন জন্মদিন উদযাপন করেন না, সেই গল্প জানতে চাইলে ফারুক আহমেদ বলেন, দেখুন, আমি যে পরিবারে বেড়ে উঠেছি এবং যে সময়ে আমার জন্ম, সেই সময়ে পারিবারিকভাবে জন্মদিন উদযাপনের রীতি ছিল না। আমার আব্বা ছিলেন শিক্ষক।

তিনি বলেন, সত্যি কথা বলতে অনেক পরে এসে যখন অভিনয় করে জনপ্রিতা পেতে শুরু করি, তখন থেক্বে  জন্মদিন এলে মানুষের শুভেচ্ছা পেতে শুরু করি। মানুষের ভালোবাসার প্রকাশ দেখতে পাই। আবার, স্ত্রী বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানায়। আমার মেয়েও জানায়। কিন্তু, উৎসব করে কখনো জন্মদিন  উদযাপন করিনি।

ফারুক আহমেদ আরও বলেন, তবে, আজকের জন্মদিনে অনেক মানুষের শুভেচ্ছা পাচ্ছি। এটা তো না করতে পারি না। কেউ সম্মান জানালে তা নিতে হয়। আমার মেয়ে বলেছে হ্যাপি বার্থ ডে। আমার স্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছে। প্রতিটি জন্মদিনে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পাই।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস নিয়ে এই অভিনেতা বলেন, সত্যি কথা বলতে ১২-১৩ বছর ধরে এই দিনে গণহত্যা দিবস মাথায় রেখেই জন্মদিন নিয়ে চুপচাপ থাকি। দিনটি উদযাপন করি না। করতে ইচ্ছে করে না। কেননা, ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই কাজটি করি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের স্মৃতি মনে করে ফারুক আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা মোহাম্মদপুরে থাকতাম, একটি কোয়ার্টারে। আমার বাবা শিক্ষক ছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মোহাম্মদপুরে ছিলাম। সেই সময় বিহারিরা রাতের বেলা বড় বড় দা নিয়ে পাহারা দিত। আমার আব্বার স্কুলটি উর্দু ভাষার স্কুল করতে চেয়েছিল। কিন্ত পারেনি বাঙালিদের জন্য। এই রাগ ওদের ছিল। তাই রাতেরবেলা দা নিয়ে ঘুরত। আমরা বাসার ভেতরে ভয়ে থাকতাম।

তিনি বলেন, এমন অবস্থা দেখে আব্বা আমাদের পুরান ঢাকার কাগজিটোলা পাঠিয়ে দেন মার্চ মাসের কোনো একদিন। উদ্দেশ্য ছিল ২৫ মার্চ আমরা পুরান ঢাকা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাব।  কিন্তু, ২৫ মার্চ রাত চলে এলো। আমরা রাত ১২টার পর প্রথমে একটি গুলির শব্দ শুনলাম। এরপর খই ফোটার মতো গুলির শব্দ হতে লাগল। সারা রাত গুলির  শব্দ শুনি। খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলাম।

ফারুক আহমেদ বলেন, তারপর ২৬ মার্চ এলো, আমরা সারা দিন বাসায় ছিলাম। ২৭ মার্চ এক ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়েছিল। তখন আমরা নদী পার হয়ে কেরানিগঞ্জ চলে যাই। ওখান থেকে বিশ মাইল দূরে আমাদের বাড়ি। অথচ নৌকা করে, হেঁটে, বাড়িতে যেতে আড়াই দিন লেগেছিল। এর মধ্যে একটা বাঙ্গি ছাড়া কিছুই খাওয়া হয়নি।

ফারুক আহমেদ বলেন, ওইরকম একটা সময় আমি নিজ চোখে দেখেছি। বহু বছর পর আমার ভেতরে সেইসব কথা মনে পড়ে, আমাকে ভাবায়, নাড়া দেয়। সেজন্য সিদ্ধান্ত নিই জন্মদিন উদযাপন করব না। কেননা, দিনটি গণহত্যার।

নেচার ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড জিতে নিলো বিরল সাদা তিমির ছবি

প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হয়েছে ওয়ার্ল্ড নেচার ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড। একটি বিরল জাতের সাদা হাম্পব্যাক তিমি ও তার মায়ের ছবি তুলে এবারের শীর্ষ পুরস্কারটি জিতে নিয়েছেন ফটোগ্রাফার জোনো অ্যালেন। 

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। 

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক জোনো অ্যালেন পুরস্কার হিসেবে নগদ এক হাজার ডলার পেয়েছেন। তিনি জানান, শিশু তিমি ও তার মায়ের ছবি তোলার স্মৃতি তিনি আজীবন মনে রাখবেন। 

এই ঘটনাটি ‘তার জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে’, বলে উল্লেখ করেন ওই ফটোগ্রাফার।

সাদা রঙের হাম্পব্যাক তিমি খুবই বিরল।

‘অ্যালবাইনিজম’ নামের রোগে আক্রান্ত হাম্পব্যাক তিমির ত্বক, চুল ও চোখ সাদা হতে থাকে। প্রতি ৪০ হাজার তিমির মধ্যে মাত্র একটি তিমি এই রোগে আক্রান্ত হয়।

অ্যালেনের ছবিতে ধরা পড়া শিশু তিমির নাম মাহিনা। 
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে টোঙ্গার ভাভাউ অঞ্চলে প্রথমবারের মতো মাহিনাকে শনাক্ত করা হয়। সে সময়ও অ্যালেন বাচ্চা তিমিটিকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। 

টোঙ্গার ভাষায় মাহিনা অর্থ ‘চাঁদ’। 

প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ভিত্তিক ছবি তোলার এই প্রতিযোগিতায় ৫১টি দেশের ফটোগ্রাফাররা অংশ নেন।

ওয়ার্ল্ড নেচার ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ডের অন্যান্য ক্যাটাগরিতে পুরষ্কার জিতেছে উগান্ডার জঙ্গলে প্রজাপতির দিকে তাকিয়ে থাকা গোরিলার ছবি, নামিবিয়ার নামিদ মরুভূমিতে বালুঝড়ের মধ্যে একটি নামাকুয়া গিরগিটি এবং কানাডার ম্যানিটোবায় শ্বেত ভল্লুকের ই-বর্জ্য পর্যবেক্ষণ। 

গোরিলা

ইতোমধ্যে আগামী বছরের প্রতিযোগিতার জন্য ছবি জমা দেওয়া শুরু হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে হাম্পব্যাক তিমির সংখ্যা বাড়ছে বলে মত দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার’স রেড লিস্ট নামে একটি সংস্থা। 

সংস্থাটির মতে, এই জাতের তিমির পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ‘একেবারেই নেই’। 

Polar bear

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে  বাণিজ্যিকভাবে তিমি নিধনের বিরুদ্ধে বড় আকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়

এরপর থেকেই বাড়ছে হাম্পব্যাক তিমির সংখ্যা। 

২০১৮ সালে সারা বিশ্বের হাম্পব্যাক তিমির সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার।

নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতির ৫ বড় পরীক্ষা

নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার সামনে দীর্ঘ অগ্রাধিকারের তালিকা—রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি। তবে তার সামনে এখন সবচেয়ে বড় এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ—মূল্যস্ফীতি। কারণ, কোটি কোটি পরিবারের কাছে নতুন সরকারের সাফল্যের মাপকাঠি একটাই—খাদ্যপণ্যের দাম।

রোজার মাস শুরু হয়েছে। এই সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দামও। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকেও স্বস্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে না। জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে, যা মূল্যস্ফীতি কমার সব পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করেছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত ডিসেম্বরের ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি অর্থমন্ত্রীকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর জনআস্থা ওঠানামা করে মূলত খাদ্যপণ্যের দামের ওপর নির্ভর করেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছাতে হবে। এ জন্য অর্থ, বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অতীতে সরকারগুলো এখানেই হোঁচট খেয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের রাজনৈতিক ‘হানিমুন পিরিয়ড’ ছয় মাসের বেশি স্থায়ী নাও হতে পারে। এরপরই মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে শুরু করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এমন এক অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছে, যা ভঙ্গুর এবং এখনো বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে প্রবেশ করে। এরপর থেকে আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্ক নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে।

আগের অন্তর্বর্তী সরকার আশা করেছিল, আন্তর্জাতিক সদিচ্ছায় হয়তো ঋণ আলোচনা সহজ হবে। কিন্তু ঋণদাতারা তাদের শর্তে অনড় ছিল। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় কিস্তি আটকে গিয়েছিল, আবার কঠোর শর্ত মানার পর তা ছাড় হয়েছে।

আগামী মাসে আইএমএফের আরেকটি মিশন ঢাকায় আসছে। সেখানে রাজনৈতিক কোনো অজুহাত টিকবে না। আইএমএফ মূলত রাজস্ব আদায়ে শৃঙ্খলা, মুদ্রানীতির সংকোচন এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের অগ্রগতির ওপর জোর দেবে। আইএমএফের সমর্থন শুধু অর্থের জন্য নয়, অন্য দাতা সংস্থাগুলোর আস্থা অর্জনের জন্যও জরুরি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রীকে প্রথমেই সম্পদের সঠিক হিসাব-নিকাশ করতে হবে। আইএমএফ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বা সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারের জন্য এভাবে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। সরকার কি কঠোর নীতি বজায় রেখে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করবে, নাকি প্রবৃদ্ধির সুযোগ বাড়াতে শর্ত শিথিলের জন্য দর-কষাকষি করবে?

রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকলেও তা স্বস্তির কোনো কারণ নয়। বর্তমান রিজার্ভের স্থিতিশীলতা মূলত অর্থনীতির শ্লথগতির ফল। বিনিয়োগ কমেছে, আমদানি কমেছে এবং ব্যাংকিং খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে নিচে নেমেছে। ব্যবসায়ীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সরকার যদি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে সফল হয়, তবে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা আবারও বাড়বে এবং রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। অতীতে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ার নজির রয়েছে।

রাজস্ব পরিস্থিতিও বেশ চ্যালেঞ্জিং। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব বাজেটের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে। বেতন বাড়াতে হলে বছরে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে, যা দেশের পুরো স্বাস্থ্য বাজেটের আড়াই গুণের সমান। মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতি এখনই শুরু করতে হবে। প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ রাজস্ব উদ্বৃত্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিচালন ব্যয় যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তবে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যখন বিনিয়োগ নয়, বরং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেই সরকারকে ঋণ করতে হবে।

সরকারি ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে মোট সরকারি ঋণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ২১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঋণের উৎসেও পরিবর্তন এসেছে। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমেছে, কিন্তু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ২০২২ সাল থেকে ব্যাংক খাতের ঋণ ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে তারল্য তুলে নেওয়ায় সরকার বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত করে ফেলছে।

প্রবৃদ্ধি ঠিক রেখে সরকারি অর্থের জোগান দিতে হলে সরকারকে কর আদায় বাড়াতে হবে। অর্থনীতিবিদেরা প্রায়ই ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের লিকেজ বা ফাঁকির কথা বলেন। কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, ফাঁকি কমানো এবং আদায় ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করলে করহার না বাড়িয়েও রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব।

অবশ্য কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন দেওয়া এবং এনবিআরকে ঢেলে সাজানোর কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও বাস্তবায়নে গতি কম।

এদিকে ব্যাংকিং খাতেও গভীর সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, বিশেষ করে ব্যাংক পর্ষদে পারিবারিক প্রতিনিধিত্বের নিয়ম পরিবর্তন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আর্থিক খাতের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি, যাতে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হন।

অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বাইরে ভূ-রাজনীতির একটি সময়সীমাও ঘনিয়ে আসছে। নভেম্বরে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হওয়ার কথা। এটি অগ্রগতির মাইলফলক হলেও এর সঙ্গে কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে, যা রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ অন্তত তিন বছর পেছানোর চেষ্টা করবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানো বিএনপির নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সব মিলিয়ে নতুন প্রশাসনের সামনে এখন চ্যালেঞ্জের পাহাড়। রোজার মাসে বাজার নিয়ন্ত্রণ, আইএমএফের শর্ত মোকাবিলা, ঋণের বোঝা কমানো এবং কর ও ব্যাংক সংস্কার—সবই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। সাফল্য পেতে হলে শুধু সঠিক নীতিই নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক দৃঢ়তা। অর্থমন্ত্রী যদি এই চাপ সামলাতে পারেন, তবেই সরকারের ভিত্তি মজবুত হবে। নতুবা ক্ষমতায় ফেরার আনন্দ মিলিয়ে যেতে সময় লাগবে না।

স্বাস্থ্য খাতের বাজেটে কেন জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ জরুরি

আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্যে উন্নয়নের কথা বলা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই একই কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যায় না। তত্ত্বগতভাবে সব সরকারই স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে। এটি যে জাতীয় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, সেই কথাও স্বীকার করে। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

উন্নত বিশ্বের কথা বাদ দিয়ে কেবল এশিয়ার দেশগুলোর দিকে তাকালেও দেখা যায়, স্বাস্থ্য খাতে তাদের বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ কিংবা এর কাছাকাছি। কিন্তু আমাদের দেশে এই বরাদ্দ থাকে ১ শতাংশেরও নিচে।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এশিয়ায় স্বাস্থ্য খাতে গড় বাজেট যখন জিডিপির ৫ শতাংশ, তখন আমাদের দেশে তা মোট বাজেটের ৫ শতাংশ। সাধারণ চোখে অনেকেই মনে করতে পারেন, আমাদেরও তো ৫ শতাংশ। কিন্তু মোট বাজেটের ৫ শতাংশ, আর জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক বাংলাদেশের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের কথা। সেই বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। একই অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে, ২৪-২৫ অর্থবছরে বাজাটের আকার ছিল জিডিপির ১৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

ওই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ মোট বাজেটের ৫ দশমিক ২ শতাংশ। জিডিপির দিক থেকে দেখলে বরাদ্দ ছিল শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ। কিন্তু এই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ যদি জিডিপির ৫ শতাংশ হতো, তাহলে সংখ্যায় তা হতো ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৩৫ শতাংশ বা এক-তৃতীয়াংশের বেশি। অর্থাৎ জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ মানে মোট বাজেটের এক-তৃতীয়াংশের মতো।

একটা দেশের সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য দরকার উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবা। এই সেবা নির্ভর করে স্বাস্থ্য সূচকের ওপর। চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটা সুস্থ-সবল জাতি গড়ে তোলা, যা জিডিপি বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। একটি দেশের প্রকৃত উন্নতি নির্ভর করছে জিডিপির সঠিক বণ্টনের ওপর।

স্বাস্থ্য সূচক আমাদের গড় আয়ু বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্য সূচক মানে একটা দেশের সাধারণ পরিচ্ছন্নতার উন্নত মান, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হারে উন্নতি, জনগণের পুষ্টিমান, সুপেয় নিরাপদ পানির সরবরাহ ইত্যাদি। কাজেই স্বাস্থ্য সূচকে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাতে গেলে উপযুক্ত বাজেট বরাদ্দ ছাড়া তা অসম্ভব।

আমরা এটাও জানি, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার কমানো ছাড়া একটা দেশের গড় আয়ু বৃদ্ধি অসম্ভব। আর গড় আয়ু বৃদ্ধি করাই একটা উন্নত দেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য।

কাজেই অপরাপর দেশের সরকার ঠিকই অনুধাবন করতে পারে যে, জাতীয় কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। সেজন্য দেখা যায়, প্রায় সব দেশ জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করে। অন্তত ৩ শতাংশের বেশি রাখার চেষ্টা করে। অথচ আমাদের এখানে ভিন্ন চিত্র। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমাদের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশের বেশি ছিল। এরপরের বছরগুলোতে তা কমতে কমতে ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

এ চিত্র থেকে বোঝা যায়, নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। অন্যথায় চিত্র ভিন্ন হতো।

স্বাস্থ্য খাতে নিম্ন বরাদ্দের ফল আমরা ইতোমধ্যে টের পাওয়া শুরু করেছি। বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বেড়েছে। বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ, যেমন: ম্যালেরিয়া, অপুষ্টি, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, জলাতঙ্ক, সাপে কাটায় মৃত্যুও বেড়েছে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মৌলিক অনুপাত খুব গুরুত্বপূর্ণ। সুচিকিৎসার জন্য চিকিৎসক-নার্স, নার্স-রোগী ও রোগী-হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার আনুপাতিক হার মানা উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী, চিকিৎসক-নার্স অনুপাত ১:৩। কিন্তু আমাদের প্রকৃত চিত্র ১:০.৭। নার্স-রোগীর অনুপাত ১:৪ হওয়ার কথা থাকলেও আমাদের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আর হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার ব্যাপারে তো সবাই জানেই।

কাঙ্ক্ষিত দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী (চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ) ও জনসংখ্যার অনুপাত হলো ২.৩:১০০০। আমাদের দেশে কেবল জনগণ ও চিকিৎসকের অনুপাত হলো, প্রতি ১০০০ জনে ০.৮৩ চিকিৎসক। নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়েনি।

দেশের ৭৫ ভাগ জনগণ বসবাস করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। অথচ চিকিৎসক ঘনত্ব বেশি শহুরে এলাকায়। এতে করে গ্রামীণ জনপদে খুব কম জনগণই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে সেবা পাচ্ছে। এটা বিশেষ সমস্যা।

বিভিন্ন দেশে চিকিৎসকদের মান উন্নত করতে বা ধরে রাখতে প্রায়ই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৫ বছর পরপর প্রত্যেক চিকিৎসককে ফেডারেল মান পরীক্ষায় পাস করতে হয়। এতে করে চিকিৎসাদের মান বজায় থাকে, জনগণ উন্নত চিকিৎসা পায়। কিন্তু আমাদের এখানে সেই চিত্র দেখা যায় না।

উপরে উল্লেখ করা মৌলিক অনুপাতগুলো বজায় রাখতে ও পর্যবেক্ষণে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। বাজেটের অভাবে এই জায়গাগুলোতে প্রতিনিয়তই সংকট রয়েছে। এটা সমাধানের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা ও বাজেট দুটোই দরকার। আমরা কখনোই এদিকে সঠিকভাবে নজর দেইনি।

জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একাধিকবার বলেছেন, বিএনপি সরকারে গেলে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ জিপিডির ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। এখন সবাই সেটাই দেখার অপেক্ষায় আছে। যদি তারা সত্যিকার অর্থেই সেটা উপলব্ধি করে থাকেন, তাহলে অর্থ সংকট বা নানা জটিলতায় যদি ৫ শতাংশ নাও করতে পারেন, অন্তত কাছাকাছি কিছু করবেন।

সামনে বাজেট অধিবেশন রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানো দরকার, শয্যা সংখ্যা বাড়ানো দরকার, পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ দেওয়া দরকার। একইসঙ্গে প্রত্যেক রোগী যেন জরুরি ওষুধ পায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

বিশেষ নজর দিতে হবে আমাদের হাসপাতালগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ আলাদা একটা হাইজিন ডিপার্টমেন্ট প্রতি হাসপাতালে উপযুক্ত জনবলসহ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে জনগণকে আদর্শ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মুমূর্ষু রোগী অন্তত পক্ষে হাসপাতালে একটা শয্যা পাবে, বারান্দায় কিংবা মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হবে না এবং জরুরি ওষুধ পাবে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডে যারা রোগী হয়ে বা অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কখনো গেছেন, তারা যারপরনাই ভুক্তভোগী। কেননা বেশিরভাগ সময় শয্যা পাওয়া যায় না। শয্যা পেলে ওষুধ মেলে না। ওষুধ পেলেও প্রয়োজনীয় সময়ে চিকিৎসক কিংবা অপারেশনের সিরিয়াল মেলে না। ফলে দিনের পর দিন কাটাতে হয় হাসপাতালে। কিন্তু বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে শূন্য পদ পূরণ করে হাসপাতালের ওয়ার্ড পরিসর, প্যাথলজি সুবিধা ও ওটি কমপ্লেক্স বাড়াতে পারলে খুব সহজেই জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।

অন্যদিকে টিকা কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ শুরু হয়েছে। এটি যেন সদা চালু থাকে, সেদিকে সঠিকভাবে নজর দিতে হবে। একইসঙ্গে শিশুর পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করতে জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি চালু রাখতে হবে।

মোদ্দা কথা হলো, একটা দেশের সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য দরকার হলো পর্যাপ্ত বাজেট এবং তা হতে হবে ডব্লিউএইচওর নির্ধারিত মানে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য সেই মান হলো অন্তত জিডিপির ৫ শতাংশ বা মোট বাজেটের ১৫ শতাংশ। তাহলেই স্বাস্থ্য সূচক মানে পৌঁছাবে, জনগণ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

সবশেষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি। এটি যেহেতু সংবেদনশীল খাত, সেজন্য এই খাতে দুর্নীতি রোধ করতে আলাদা নজর দিতে হবে। এমন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে যেন স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে আনার মাধ্যমে কেবল এটি অর্জন করা সম্ভব।

আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যথাযথ বরাদ্দ নিশ্চিত করবে। সর্বোপরি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা তারা নেবে। সেই অপেক্ষাতেই আছে দেশের মানুষ।

ডা. সুশান্ত বড়ুয়া: চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কোভিড আইসোলেশন সেন্টারের সাবেক পরিচালক।

হঠাৎ ঢাকায় হামজা চৌধুরী

একেবারেই হঠাৎ করে ঢাকায় দেখা মিলেছে ইংল্যান্ডে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা চৌধুরীর। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তার এই আগমন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। তবে এই সফরের সঙ্গে মাঠের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের একাধিক কর্মকর্তা তার আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইংল্যান্ডের ক্লাব লেস্টার সিটির হয়ে খেলা এই মিডফিল্ডারের মৌসুম শেষ হয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগে। চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে লেস্টার সিটির অবনমন এবং সামনে কোনো তাৎক্ষণিক ম্যাচ না থাকায় এই সময়টাকেই তিনি কাজে লাগিয়েছেন বাংলাদেশ সফরের জন্য।

জানা গেছে, বাণিজ্যিক কিছু কার্যক্রমে অংশ নিতেই তার এই ঢাকা সফর। মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেই রাজধানীতে একটি প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন হামজা, যেখানে তাকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে ২৪ মে থেকে দেশে শুরু হওয়ার কথা প্রস্তুতি ক্যাম্প। তবে হামজার এই সফর আপাতত জাতীয় দলের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেই জানা গেছে।

সব ঠিক থাকলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই আবার ইংল্যান্ডে ফিরে যাবেন এই মিডফিল্ডার। 

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ব্যয়ে সরকার-আইএমএফ দ্বন্দ্ব, কেন্দ্রে ফ্যামিলি কার্ড

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে সরকার ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারের এই অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাটি প্রশ্ন তোলায় দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। 

শুধু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিই নয়, রাজস্ব আহরণ, মুদ্রা বিনিময় হার ও আর্থিক খাতের সংস্কারের গতি নিয়েও ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুচাপ তৈরি হয়েছে।

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে আইএমএফ স্পষ্ট জানিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের মতো বড় কোনো কর্মসূচি তড়িঘড়ি বাস্তবায়নের আগে তার অর্থনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা জরুরি। সংস্থাটির মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও আনতে পারে।

আগামী অর্থবছরে ৪০ লাখ পরিবারের জন্য এই ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় একক সম্প্রসারণ। 

আইএমএফ এই স্কিমটিকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে বিদ্যমান অন্যান্য সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়েছে।

একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে আইএমএফ প্রশ্ন তুলেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ আইএমএফের ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। শর্ত পূরণে ব্যর্থতা ঋণের পরবর্তী কিস্তি পাওয়াকে বিলম্বিত করে তুলতে পারে। তবে গত জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার গ্রহণ করেছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের সাইডলাইনে সংস্থাটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুটি বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একটি আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে এবং অন্যটি সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তিনি বলেন, আইএমএফের সাথে কিছু অমীমাংসিত বিষয় আছে। আমরা আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।

বিস্তারিত কিছু না বললেও তিনি জানান যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে অর্থমন্ত্রী সম্পর্কের ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরে বলেন, আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীরা বিএনপির ইশতেহারের সাথে মোটামুটি একমত। তিনি বলেন, আলোচনা হচ্ছে মূলত পদ্ধতি নিয়ে—আমরা এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করব।

সামাজিক খাতের ব্যয়ের বাইরে রাজস্ব আদায় ও ব্যাংক খাতের সংস্কারের গতি নিয়েও মতভেদ দেখা দিয়েছে। আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ওপর ভিত্তি করে বিনিময় হার নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছে, যা ঢাকা এখন পর্যন্ত আংশিকভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

এছাড়া, আইএমএফ কর-জিডিপি অনুপাত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বলেছে এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অর্থমন্ত্রী অবশ্য সংস্কারের এই সময়সীমা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন প্রশাসন একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৭ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে সরকার একটি তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যা ইরান যুদ্ধের কারণে আরও জটিল হয়েছে। 

কর্মকর্তাদের মতে, অর্থমন্ত্রী যুক্তি দিয়েছেন যে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে ব্যাপক সংস্কার বাস্তবায়ন করা অবাস্তব।

রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে এক কর্মকর্তা অর্থমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, রাজস্ব হুট করে বাড়ানো সম্ভব নয়। সংস্কারের গতি হতে হবে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগের বিষয়ে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা বলেন, জনস্বার্থ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোই বর্তমান সরকারের মূল দর্শন। সরকার এসব বিষয়ে আপসহীন। অর্থমন্ত্রী আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কাছে দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, সরকার তাড়াহুড়ো করবে না।

বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইএমএফ বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকার ও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। উভয় পক্ষই সংলাপে বসার ব্যাপারে একমত হয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠককে অর্থমন্ত্রী ‘খুবই ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছেন। 

তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। 

বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে এমপির বাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ

নওগাঁর মান্দা উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও ভালাইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে তুলে নিয়ে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) একরামুল বারী টিপুর বাসায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এমপির লোকজনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আজ মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত রোববার দুপুরে আমি উপজেলার প্রসাদপুর বাজারে জনতা ব্যাংকের সামনে একটি দোকানে ছিলাম। এমন সময় এমপির পার্সোনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, গোল্ডেন, মকবুলসহ ৮-১০ আমার কাছে এসে চাঁদা চায়। পরে তারা আমাকে কিলঘুষি মারতে মারতে কাছেই এমপির বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডের একটি ছোট রুমে নিয়ে যায়। সেখানে কাঠ দিয়ে আমাকে প্রায় এক ঘণ্টা নির্যাতন করে। সেসময় তারা বলেন, আমি যেন উপজেলা বিএনপির প্রধান প্রধান নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা না করি। তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।’

আজাদ আরও বলেন, ‘ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন এমপির বাড়ির গেটে জড়ো হলে তারা আমাকে ওই বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা আমাকে একটি ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে মৌখিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে বলি। পরে পরিবারের লোকজন আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

বিষয়টি নিয়ে সোমবার বিকেলে নওগাঁ শহরের মুক্তি মোড় এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন মান্দা উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। এসময় লিখিত বক্তব্যে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, এর আগে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদল সংসদ সদস্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে শামসুল ইসলাম বাদল ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত নির্বাচনে একরামুল বারী টিপু সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরদিন ১৩ ফ্রেব্রুয়ারি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমি নতুন এমপিকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে এমপির দুজন লোক আমাকে মারধর করেন।’

আজাদকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে এমপি টিপুর পিএস দাবি করেন অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘যারা অভিযোগ দিয়েছে তাদের কাছে শোনেন। আমি বলব না। আমার বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’

মন্তব্য জানতে নওগাঁ-৪ (মান্দা উপজেলা) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য একরামুল বারী টিপুকে ফোন করা হলে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা বাড়িতে শুধু ২ জন থাকি। আমি আর আমার স্ত্রী। সংসদ অধিবেশনের জন্য আমরা দুজন গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায়। আমার বাড়িতে কীভাবে টর্চার করে?’

‘যে উপজেলা দপ্তর সম্পাদককে মারধরের কথা বলা হয়েছে তিনি দুই নম্বর লোক। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। সে এক ব্যক্তি হয়ে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছে ঋণ নিয়েছে। সম্ভবত ব্যক্তিগত বিষয়ে কেউ তাকে মারধর করে থাকতে পারে,’ বলেন তিনি।

এমপি টিপু আরও বলেন, ‘যারা আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা গত নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে এবং জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। এখন তারা আমার সম্মানহানি করার জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে।’

‘আমি এখনো কাউকে পিএস বা এপিএস নিয়োগ দেইনি। দলের যে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে,’ বলেন তিনি।

এমপি আরও বলেন, ‘আমার বাড়িতে নির্যাতনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরেজমিন তদন্ত করতে পারে। আর যে সাংগঠনিক সম্পাদক আমার সঙ্গে দেখা করতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন তাকে বলেন যে, এই ঘটনা আগে কেন অভিযোগ করেনি। এখন কেন করছে? আমি কি ওইদিন তার সঙ্গে কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছি?’

জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। কিন্তু এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

দেশ মাতিয়ে এবার অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তি পাচ্ছে ‘দম’

ঈদুল ফিতরে দেশে মুক্তির পর মাল্টিপ্লেক্সে ভালো চলছে রেদওয়ান রনি নির্মিত ‘দম’ সিনেমাটি। 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, পূজা চেরি ও চঞ্চল চৌধুরী।

দেশের পর এবার আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হচ্ছে সিনেমাটির। আগামী ২৭ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সিনেমাটি অস্ট্রেলিয়ায় প্রদর্শিত হবে। 

আগামী শুক্রবার, ২৭ মার্চ ব্যাংকসটাউন হলে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। 
পরের দিন বিকেল ৫টায় প্রসপেক্ট-এ। 

সমাপনী দিন অর্থাৎ ২৯ মার্চ ওয়েরিবি হলে সন্ধ্যা ৬টায় ‘দম’ দেখা যাবে। 

 

এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, ঈদুল ফিতরে মুক্তির তিন দিনে মাল্টিপ্লেক্সে ১ কোটি টাকার গ্রস কালেকশন গড়েছে ‘দম’। 

স্টার সিনেপ্লেক্স ও লায়ন সিনেমাস মিলিয়ে ৩৫টি শো চলছে সিনেমাটির। প্রতিটি শো হাউজফুল যাচ্ছে বলে জানা গেছে। 

এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড এবং চরকি প্রযোজিত ‘দম’ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন রেদওয়ান রনি, রবিউল আলম রবি, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর ও মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ।

অবশেষে চিকিৎসা পেলেন ইমরান খান

অবশেষে পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চিকিৎসা পেয়েছেন। ইসলামাবাদের পিমস হাসপাতালে তার চোখের চিকিৎসা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন।  

চোখের চিকিৎসার জন্য ইমরানকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

সেখানে তার চোখে ‘দ্বিতীয় ডোজের’ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। 

হাসপাতাল জানিয়েছে, চিকিৎসার আগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের একটি বোর্ড তাকে পরীক্ষা করেন। সেখানে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞও উপস্থিত ছিলেন। 

এ সময় ইমরানের ইকোকার্ডিওগ্রাফি ও ইসিজি পরীক্ষা করা হয়। 

উভয় পরীক্ষায় স্বাভাবিক ফল পাওয়া গেছে। 

বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ‘ইমরানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।’

এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, ইমরানকে ২৪ জানুয়ারি একই হাসপাতালে ’২০ মিনিট’ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে কারাগারে বন্দী আছেন ইমরান। ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতির দায়ে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

সম্প্রতি ৭৩ বছর বয়সী নেতার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবী অভিযোগ করেন, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারাতে বসেছেন ইমরান। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উপদেষ্টা সায়েদ জুলফিকার বুখারি দাবি করেন, ইমরানকে তার ‘ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের’ সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া উচিৎ।’ 

গত সপ্তাহে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ইসলামাবাদের সরকারকে ‘সুষ্ঠু’ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইমরানের আইনজীবী সালমান সাফদার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ‘ইমরানের ডান চোখ মাত্র ১৫ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে।’ 

ইমরানের ছেলে কাসিম খান জানান, ‘আটক অবস্থায় চিকিৎসায় অবহেলার’ কারণে তার বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল, সেনাপ্রধান ও তাদের হাতের পুতুলরা এসব নির্দয় আচরণের জন্য দায়ী।’

২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান এই জনপ্রিয় নেতা। 

এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা দায়েরের হিড়িক পড়ে। 

ইমরান ও তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ দাবি করে, এসব মামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। 
২০২৩ সালের মে মাসে ইমরানকে গ্রেপ্তারের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। 

বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করে সরকার।