29 C
Dhaka
Home Blog

বালোগানকে নিয়ে নেমেও বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্র, কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

এই ম্যাচের আগে মূল আলোচনা ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিফা বিশ্বকাপে হস্তক্ষেপ। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করিয়েছিলেন তিনি। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্বে চলা তুমুল সমালোচনার মাঝে মাঠের ফুটবলে কিছু করতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র। বালোগানকে নিয়ে নেমেও পেরে উঠল না তারা। বড় ব্যবধানের জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করল বেলজিয়াম।

সিয়াটল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই ম্যাচে রুডি গার্সিয়ার দল মাঠ ছাড়ে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে। বেলজিয়ামের এই দাপুটে জয়ের নায়ক আতালান্তা ফরোয়ার্ড চার্লস ডি কেটেলিয়ারে, যিনি জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও এক গোল। অন্যদিকে তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করে একাদশে জায়গা পাওয়া বালোগান পুরো ম্যাচেই ছিলেন চেনা ছন্দের বাইরে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পশরা সাজায় বেলজিয়াম। যার ফল মিলতে বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটে নিকোলাস রাস্কিনের চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন চার্লস ডি কেটেলিয়ারে। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ২১ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বেলজিয়ান মিডফিল্ডার আমাদু ওনানাকে, ‘তার’ পরিবর্তে মাঠে নামেন হ্যান্স ভানাকেন।

খেলার ধারার বিপরীতে ৩১ মিনিটে সমতায় ফেরে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। বক্সের বাইরে থেকে মালিক টিলম্যানের নেওয়া একটি জোরালো ফ্রি-কিক ভানাকেনের মাথায় সামান্য দিক পরিবর্তন করে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। তবে মার্কিন শিবিরের এই উদযাপনের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র দুই মিনিট। ৩৩ মিনিটে লিয়েনড্রো ট্রোসার্ডের চমৎকার ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বেলজিয়ামকে আবার ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডি কেটেলিয়ারে। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বেলজিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সরাসরি তিন গোলে অবদান রাখার অনন্য রেকর্ডও গড়েন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে জিয়োভান্নি রেইনাকে মাঠে নামান মার্কিন কোচ পচেত্তিনো। তবে ৫৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ফ্রিসের এক মারাত্মক ভুলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় স্বাগতিকরা। বল ক্লিয়ার করতে ফ্রিস বক্সের অনেক বাইরে চলে আসলে ‘তাকে’ বাধা দেন ডি কেটেলিয়ারে। সেই আলগা বল পেয়ে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ফাঁকা পোস্টে শট নেন হ্যান্স ভানাকেন। মার্কিন ডিফেন্ডার টিম রিম মরিয়া চেষ্টা করেও বলের জাল ছোঁয়া আটকাতে পারেননি। ভানাকেনের এই গোলটি চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরপাল্লার গোল।

৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে অল-আউট আক্রমণে যায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়েস্টন ম্যাককেনি কিংবা বালোগানের প্রচেষ্টাগুলো নসাৎ করে দেন বেলজিয়ান ডিফেন্ডাররা। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন বদলি হিসেবে নামা রোমেলু লুকাকু। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩’) হ্যান্স ভানাকেনের অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন এই তারকা স্ট্রাইকার। এই গোলের সঙ্গেই ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রেড ডেভিলরা।

কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন। 

ছবিতে কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রথম দিন

ফ্রান্সের দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরের তীরে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র আয়োজন ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’। 

এবার উৎসবের ৭৯তম আসরকে ঘিরে শুরু থেকেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এআইয়ের প্রভাব এবং প্রতিযোগিতা বিভাগে বড় বাজেটের হলিউডের চলচ্চিত্রের তুলনামূলক কম উপস্থিতি।

এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন ইউরোপ ও এশিয়ার নির্মাতারা।

সেরা চলচ্চিত্রের লড়াইয়ে রয়েছে ২২টি সিনেমা। আগামী ২৩ মে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হবে এই সম্মাননা।

প্রতিযোগিতা বিভাগে হলিউডের উপস্থিতি কম হলেও লালগালিচায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি। উদ্বোধনী রাতেই ঝলমলে পোশাকে হাজির হন তারকারা।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম ইরান: খামেনির উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার।

বরং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যেতে ইরান সক্ষম বলে দাবি করেছেন এই উপদেষ্টা। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। 

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ মোখবার বলেন, ‘আমেরিকানদের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো ভিত্তিও এই মুহূর্তে নেই।’

ওয়াশিংটনের কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা যতদিন প্রয়োজন, ততদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখি।’

 

 

দুপুরে ২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মেট্রোরেলের ঢাবি স্টেশন

মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) স্টেশন সাময়িকভাবে ২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনিবার্য কারনবশত আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশনে মেট্রো ট্রেন থামবে না।

সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
 

৮০ ও ৯০-এর দশক যদি এতই চমৎকার হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমানটা গড়ে তুলল কে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে ৮০ ও ৯০-এর দশকের নস্টালজিয়া। সবাই যেন বর্তমান সময়ের নিজেদের ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে ৮০ ও ৯০-এর দশকের অবয়বে রূপ দিচ্ছেন। একইসঙ্গে হৃদয়ের কাছের সেই সময় হারিয়ে যাওয়ার জন্য আক্ষেপ করছেন এবং বর্তমানকে অভিশাপ দিচ্ছেন।

এআইয়ের ছোঁয়া হয়তো নতুন, কিন্তু এই অনুভূতি মোটেও নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ৮০ ও ৯০-এর দশকের স্মৃতিচারণকারীদের পোস্টে ভরে যায়। তারা জোর দিয়ে বলেন, তখন জীবন অনেক ভালো ছিল এবং আক্ষেপ করেন যে বর্তমান প্রজন্ম কোনো না কোনোভাবে ‘রসাতলে গেছে’।

জেন জি প্রজন্মের একজন সদস্য হিসেবে অতীতকে এমন রঙিন চশমায় দেখার বিষয়টি আমার কাচে বেশ অবিশ্বাস্য মনে হয়।

নস্টালজিয়া খারাপ কিছু নয়। এটি মানুষের সবচেয়ে স্বাভাবিক অনুভূতিগুলোর একটি। আমরা সবাই জীবনের কিছু সময়, বিশেষ করে শৈশব ও কৈশোরকে রোমান্টিকভাবে স্মরণ করি। কিন্তু আমরা একসময় কোনো এক সাংস্কৃতিক স্বর্ণযুগে বাস করতাম এবং এরপর হঠাৎ করেই সবকিছু অধঃপতনের দিকে গেল, এমন ধারণা অনেক বেশি জটিল।

কারণ বর্তমান প্রজন্ম তো শূন্য থেকে আসেনি। ২০২৬ সালের এই পৃথিবী একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। ৮০-এর দশক ৯০-এর দশককে গড়ে দিয়েছে, ৯০-এর দশক গড়ে দিয়েছে ২০০০-এর দশককে, ২০০০-এর দশক গড়ে দিয়েছে ২০১০-এর দশককে। আমরা আজ যে সমাজে বাস করি, এভাবেই বিভিন্ন দশকের ধারাবাহিকতায় সেটি তৈরি হয়েছে।

আর এখানে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন আছে: এখন আসলে দেশ চালাচ্ছেন কারা?

কথিত সেই গৌরবময় ৮০ ও ৯০-এর দশকে বেড়ে ওঠা মানুষগুলোই আজকের নীতিনির্ধারক, আমলা, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের নিয়ন্ত্রক এবং রাজনৈতিক নেতা। যে প্রতিষ্ঠান ও সমাজ নিয়ে আমরা এখন অভিযোগ করি, সেগুলো গড়ে তুলতে তারা বছরের পর বছর ব্যয় করেছেন।

তাহলে কথিত সেই চমৎকার সময়ে বেড়ে ওঠা যদি সত্যিই আমরা যতটা শুনি, ততটাই অসাধারণ হয়ে থাকে, তাহলে তা আসলে কী তৈরি করেছে? প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ কোথায়? নাগরিক সংস্কৃতি কোথায়? জবাবদিহি কোথায়? জননৈতিকতা কোথায়? বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য কোথায়? কথিত সেই উন্নততর সামাজিক মূল্যবোধই বা কোথায়?

তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিকভাবে নিকৃষ্ট বলে যেতে পারেন না, অথচ স্বীকার করতে অস্বীকার করবেন যে আপনারাই এই দেশটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন এবং যে সমাজে তারা বেড়ে উঠেছে, সেটি গড়ে তুলতে আপনারাও ভূমিকা রেখেছেন।

অতীতকে আমরা যেভাবে মনে রাখি, সেখানেও একটি সমস্যা আছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তন নিয়ে যথেষ্ট কঠোর ও গভীর একাডেমিক গবেষণা কখনোই হয়নি। মোটামুটি ২০১০-এর দশক পর্যন্ত জনপরিসরও নগরভিত্তিক অভিজাত শ্রেণি ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের নিয়ন্ত্রকদের দ্বারা অনেক বেশি প্রভাবিত ছিল।

ফলে আমরা ‘সমাজ’ বলতে যা দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম, তা প্রায়ই ছিল সমাজের সেই সম্মানজনক অংশটুকুই, যেটিকে ওই নিয়ন্ত্রকেরা জনসমক্ষে আসার যোগ্য বলে মনে করতেন।

যেসব বিষয়কে আমরা এখন ‘অশ্লীল’, ‘রুচিহীন’ বা ‘অপসংস্কৃতি’ বলি, সেগুলো আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সৃষ্টি করেনি। এগুলো বরাবরই জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ ছিল। শুধু মূলধারায় তাদের প্রবেশাধিকার ছিল না।

হুমায়ূন আহমেদ ও কাসেম বিন আবু বকরকে উদাহরণ হিসেবে নেওয়া যাক।

হুমায়ূন আহমেদ বিপুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন, কারণ তিনি মধ্যবিত্তের সাংস্কৃতিক রুচির একটি পরিশীলিত ও সহজবোধ্য রূপ তুলে ধরেছিলেন এবং টেলিভিশন ও সাহিত্যের মাধ্যমে সফলভাবে মূলধারায় প্রবেশ করেছিলেন।

কিন্তু কাসেম বিন আবু বকরের বইও তখন বিপুল জনপ্রিয় ছিল। পার্থক্য ছিল, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের প্রভাবশালী মহল তাকে একই ধরনের মূলধারার মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য মনে করেনি। তার জনপ্রিয়তা তবু ছিল। ঢাকাকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক অভিজাতরা শুধু সেটি দেখতে পাননি।

সাংস্কৃতিক অভিজাতদের চোখে কোনো কিছু অদৃশ্য থাকার অর্থ এই নয় যে তার অস্তিত্ব ছিল না।

প্রযুক্তি এখন সেই নিয়ন্ত্রণের বড় একটি অংশই ভেঙে দিয়েছে। প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন এবং ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকে প্রবেশাধিকার রয়েছে। যারা একসময় অদৃশ্যই থেকে যেতেন, তারা এখন সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, প্রকাশক বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতি না নিয়েই বিপুল দর্শক-শ্রোতা তৈরি করতে পারেন।

এভাবেই হিরো আলম, প্রিন্স মামুনসহ অগণিত মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে।

তারা আর আড়ালে নেই। কখনো কখনো তারা এতটাই বর্ণময়, বিতর্কিত ও সাংস্কৃতিকভাবে সর্বব্যাপী হয়ে ওঠেন যে, জনসাধারণের মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য কী, একসময় যারা তা নির্ধারণ করতেন, সেই অভিজাতদেরই তারা ছাপিয়ে যেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত মূলধারার গণমাধ্যমের তাদের স্বীকৃতি দেওয়া ছাড়া তেমন কোনো উপায় থাকে না।

আর তখন মধ্যবিত্তের ‘সুরুচি’র রক্ষকেরা আক্ষেপ করতে শুরু করেন যে, সমাজে ‘নান্দনিক রুচির দুর্ভিক্ষ’ চলছে।

কিন্তু হয়তো সমাজ হঠাৎ রসাতলে যাচ্ছে না। হয়তো যা সব সময়ই ছিল, আমরা এখন শুধু তার আরও বেশি কিছু দেখতে পাচ্ছি।

তাই ৮০ ও ৯০-এর দশকের নস্টালজিয়ার সমস্যা হলো, আমরা সেই অংশগুলোই মনে রাখি, যা আমাদের ভালো অনুভব করায়। অথচ যেসব বিষয় বর্তমান কেন এমন দেখাচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে, সেগুলো ভুলে যাই।

আর কথিত সেই গৌরবময় দশকগুলোতে বেড়ে ওঠা মানুষগুলো যদি এখন দেশ চালিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের নিজেদের একটি সহজ প্রশ্ন করা উচিত: আপনার বেড়ে ওঠার সময়টা যদি সত্যিই এত অসাধারণ হয়ে থাকে, তাহলে আপনারা যে সমাজ গড়ে তুলেছেন, এবং এখনো যেভাবে গড়ে চলেছেন, তার অবস্থা এত করুণ কেন?
 

‘কাজটি অনৈতিক নয়, অসামাজিক’ মন্তব্যে বিতর্কের পর ‘খণ্ডিত বক্তব্য’ প্রচারের দাবি জামায়াত এমপির

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক। তিনি বলেছেন, গাজী নজরুল ইসলাম যা করেছেন তা ‘অনৈতিক নয়, অসামাজিক’। পরে এই বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে তিনি দাবি করেন, তার মূল বক্তব্যকে খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোদাঘাটা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে শিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল খালেক বিতর্কিত এ মন্তব্য করেন।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেবের (গাজী নজরুল ইসলাম) বড় ওয়াইফসহ সবাইকে আমরা ডেকে নিয়ে বসেছিলাম। ওই মেয়েটার আবদার—আমি অন্য জায়গায় বিয়ে করব না। আমি যে কয়দিন বাঁচবো, এমপি সাহেবকে সেবা করে যাব। এভাবে মেয়েটির দাবির মুখে তার বাপ-মা বাধ্য হয়ে তাদের বাড়িতে বিয়ের ব্যবস্থা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ কাজটা অনৈতিক না, অসামাজিক। এ কারণে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তার এমপি পদও বাতিল হয়ে যাবে। জামায়াতে ইসলামী নৈতিকতার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেয় না।’

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ ভুল করলে মাফ করা যায়, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল নেতার ক্ষেত্রে ভুলের মাত্রা বেশি বিবেচিত হয়।

তবে তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বিতর্কের মুখে পরে বিবৃতি দিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন এমপি আব্দুল খালেক। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি অংশ গণমাধ্যমে খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এতে তার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বিকৃত হয়েছে এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিবাদ বার্তায় তিনি বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে যে বিষয়টি নিয়ে আমি বক্তব্য দিয়েছি, সেখানে আমি কোনো ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করিনি। বরং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই নারী নিজে কী বলেছিলেন, সেটিই আমি তুলে ধরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নৈতিকতা, আদর্শ ও নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতা। আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা কোনো ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে সংগঠন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা উচিত নয়।’

তিনি বলেন, তার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে তাকে ওই ঘটনার সমর্থক বানানোর চেষ্টা ‘অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

পুরোনো মালিকদের হাতে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এআইবিএল) নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকটির আগের মালিক ও শেয়ারধারীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ১৪ জন পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। 

নতুন পর্ষদে বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি ফিরে এসেছেন প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুর রহমান ও তার সহযোগীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এটি প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগের তুলনায় ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাই এটি প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক আরও কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি অথবা তারা ব্যাংকের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন না।

তিনি বলেন, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তারা রয়েছেন, তাই ব্যাংকটি তাদের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নতুন পর্ষদ, পুরোনো মুখ

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আগের পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক বহাল রয়েছেন।

এর পাশাপাশি সাবেক ১৪ জন সদস্যকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী ও এনায়েত উল্লা।

এছাড়া কেডিএস গার্মেন্টসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কেওয়াই স্টিল মিলসের মনোনীত পরিচালক হিসেবে শরীফ উদ্দিন তসলিমকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফিরে আসা পরিচালকদের মধ্যে খলিলুর রহমান বর্তমানে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আইন অনুযায়ী একই ব্যক্তি একসঙ্গে কোনো ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারেন না। তাই আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে যোগ দিতে তাকে ওই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে বেসরকারি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০২৩ সালে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তিনি দেশ ছাড়েন এবং ব্যাংকটির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ হারান।

এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। তখন লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে এরপরও ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে এবং গত দুই বছরে কোনো নগদ লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংকটির শেয়ার ‘জেড’ শ্রেণিতে নেমে যায়।

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলেও অন্য নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলো থেকে গ্রুপটি বিপুল অর্থ পাচার করেছে বলে অভিযোগ আছে। তবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি নয়।

গত বছর ব্যাংকটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

একই সময়ে ব্যাংকটির আমানত ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ৪৮ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

তবে খেলাপি ঋণ ১৯ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৮৫২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ১৭ শতাংশ।

বছর শেষে ব্যাংকটির সম্পদের বিপরীতে মুনাফার হার (রিটার্ন অন অ্যাসেটস) ছিল শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ এবং নিট মুনাফার মার্জিন ছিল ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে পরিষ্কার বিবেক নিয়ে বিদায় নিচ্ছি: রোনালদো

পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর নিজের শেষ বিশ্বকাপেও পেলেন না প্রত্যাশিত সাফল্য। স্পেনের কাছে শেষ মুহুর্তের গোলে হেরে শেষ হয়ে গেল তার বিশ্বকাপ অভিযান। বিদায় নিয়ে রোনালদো জানান, তিনি তার সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করেছেন, তাই কোন খেদ নেই মনে। এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ হলেও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা।

সোমবার ডালাসে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিকেল মেরিনোর একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার জন্য আর যথেষ্ট সময় পায়নি পর্তুগাল। 

মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের রোনালদো বলেন, ম্যাচটি যেকোনো দিকেই মোড় নিতে পারত, তবে স্পেনের ‘খানিকটা ভাগ্য’ সহায় ছিল। যার কারণে বদলি খেলোয়াড় মেরিনো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল করতে পেরেছেন।

রোনালদো বলেন, ‘এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে বলে আমি দুঃখিত। আমি আমার সবটুকু দিয়েছি। নিজের সেরাটা চেষ্টা করেছি এবং পরিষ্কার বিবেক নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে এখন আমি চিন্তা করার এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাব। আমি কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেব না (আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়া প্রসঙ্গে)।’

৪১ বছর বয়সী এই তারকা পর্তুগালের হয়ে তার শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি। তিনি জানান, ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে তিনি দলের এই অভিযানকে আড়াল করতে চান না,  ‘আমি আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না।’

রোনালদো পর্তুগালকে ২০১৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের পাশাপাশি ২০১৯ এবং ২০২৫ সালে নেশনস লিগ জিততে সাহায্য করেছিলেন, জাতীয় দলের প্রতি নিজের অবদান নিয়ে বিদায় বেলায় গর্ব প্রকাশ করেন, ‘আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি; ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর আগে পর্তুগাল একটি শিরোপাও জেতেনি।’

‘জাতীয় দলের জেতা সবচেয়ে বড় শিরোপাটি ছিল ২০১৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, যা সত্যি বলতে, আমার কাছে একটি বিশ্বকাপের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

পর্তুগালের এই বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে রবার্তো মার্তিনেসের অধ্যায়ও শেষ হয়েছে। এই স্প্যানিশ কোচের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়ে রোনালদো বলেন, ‘তার সঙ্গে কাজ করতে আমার খুব ভালো লেগেছে। একজন দারুণ ম্যানেজার, একজন চমৎকার মানুষ এবং পর্তুগালের জন্য তিনি যা করেছেন তা প্রশংসার দাবিদার। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং তার সুখ কামনা করি…’

আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ড আরও যোগ করেন, ‘একটি বড় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া সবসময়ই দুঃখজনক। এটি একটি বিশ্বকাপ। দল আসলেই নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছিল। আমার দৃষ্টিতে, আমরা ভালো খেলেছি। ম্যাচটি যেকোনো দিকেই যেতে পারত, তবে এটাই ফুটবল। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে।’

‘এভাবে বিদায় নেওয়াটা হতাশাজনক, তবে আমরা মাথা উঁচু করে বিদায় নিতে পারি।’

 

বনানী কবরস্থানে শায়িত হলেন আতাউর রহমান

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক আতাউর রহমানকে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আজ মঙ্গলবার বিকেলে।

এরপর তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আজ বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আতাউর রহমানের মরদেহ আনা হলে দেশের সংস্কৃতি ও শিল্পাঙ্গনের বিশিষ্টজনরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

শুধু ব্যক্তিপর্যায়েই নয়, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রয়াত এই নাট্যজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করে কণ্ঠশীলন, ছায়ানট, আব্দুল্লাহ আল-মামুন থিয়েটার স্কুল, উদীচী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগ, ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘ ও ঢাকা থিয়েটার।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্যে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীরা তাদের প্রিয় এই নাট্যব্যক্তিত্বকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

দেশের নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আতাউর রহমানের অবদান স্মরণ করে অনেকেই তার কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।

খামেনির উত্তরসূরিকেও হত্যা করা হবে: ইসরায়েল

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে যাকেই বেছে নেওয়া হবে তাকেই হত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

এএফপি বলছে, আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ওই পোস্টে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, ‘ইসরায়েলকে ধ্বংস এবং যুক্তরাষ্ট্র, মুক্ত বিশ্ব ও আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে এবং ইরানি জনগণকে দমন-পীড়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে ইরানি শাসকগোষ্ঠী যে নেতাই নির্বাচিত করুক, তাকে হত্যার নিশানা বানানো হবে। তার নাম যা–ই হোক বা তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, এটা ঘটবে।’

গত শনিবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন খামেনি। তার উত্তরসূরি বেছে নিতে ইরানে প্রস্তুতি চলছে।

গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রেজা পাহলভীর চেয়ে ইরানের ভেতরে থাকা কেউ একজন বেশি ভালো হবে।

হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাকে (পাহলভী) বেশ চমৎকার একজন মানুষ বলে মনে হয়। তবে আমার মনে হয়, দেশটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য (ইরানের) ভেতর থেকে কেউ আসাটাই হয়তো বেশি ভালো হবে।’

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতো কেউ আবার ইরানের ক্ষমতায় আসে।

এদিকে, খামেনিকে শেষবিদায় জানাতে ইরান তিন দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতার ঘোষণা দিয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় আজ বুধবার রাত ১০টায় এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও বলেছে, খামেনির জানাজার তথ্য চূড়ান্ত হলে তা পরে জানানো হবে।

ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনিকে তার জন্মস্থান ও পবিত্র শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে। তবে দাফনের সুনির্দিষ্ট তারিখও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।