32 C
Dhaka
Home Blog

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে, ৩ উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার

হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার মুখোমুখি হওয়ার পর পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটে পৌঁছেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা।

আজ বৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) একটি আলোচনা সভা ছাড়াও গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট ও ওসমানীনগরে তাদের পৃথক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ শীর্ষ নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরী, শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস এবং সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ দুপুর পৌনে ১টায় এনসিপি নেতারা সিলেট নগরীতে পৌঁছালে স্থানীয় জেলা ও মহানগর নেতারা তাদের স্বাগত জানান। পরে নাহিদ ইসলাম ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী শাবিপ্রবিতে গিয়ে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন।

একই সময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত সাত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে এনসিপির আরেকটি প্রতিনিধিদল গোলাপগঞ্জ পৌরসভা হলরুমে পৌঁছায়।

এদিকে সকাল ১১টা থেকেই গোলাপগঞ্জ পৌরসভা এলাকা, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। একই সময়ে সেখানে এনসিপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও জমায়েত হতে থাকেন।

বেলা ১টার দিকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার জেলাজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এনসিপির সিলেট জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ জানান, গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা কানাইঘাট ও ওসমানীনগরে জনসভায় অংশ নেবেন। পরদিন শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে তাদের পদযাত্রা ও জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেন এনসিপি নেতারা। 

এর প্রতিবাদে গতকাল বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলে মৌলভীবাজার থেকে সেখানে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল, রশিদপুর ও বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর।

পরে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। রাতে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে অবস্থান শেষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তারা সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন।

 

সংকটে থাকা চা খাতের সংস্কারে টাস্কফোর্সের সুপারিশ, গুরুত্ব পেল কী কী বিষয়

বহু বছরের লোকসান, উচ্চ সুদে ঋণ, রপ্তানি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কম উৎপাদনশীলতার কারণে বাংলাদেশের চা শিল্প ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপে রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারি একটি টাস্কফোর্স ব্যাপক সংস্কারের সুপারিশ করেছে।

টাস্কফোর্স আটটি অগ্রাধিকার খাতে সমস্যা চিহ্নিত করে ৫৯টি সুপারিশ দিয়েছে।

সুপারিশগুলোতে স্বল্পসুদে ঋণ, কর হ্রাস, ঋণ পুনর্গঠন, চারা পুনরোপণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম চা উৎপাদনকারী দেশ। দেশে ১৭২টি চা বাগানে ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এ খাতে সরাসরি ১ লাখ ২ হাজার স্থায়ী ও ৪০ হাজার অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করেন। এ ছাড়া প্রায় ৫ লাখ মানুষ চা বাগানের ভেতরে বসবাস করেন।

তবে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছরই উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম দামে চা বিক্রি হচ্ছে।

খাতটির ক্রমবর্ধমান সংকট

২০২৪ সালে প্রতি কেজি চা উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ২৬০ টাকা, বিপরীতে নিলামে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২০৮ দশমিক ৮৮ টাকা। ফলে প্রতি কেজিতে ৫১ দশমিক ১২ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

২০০২ সালের পর থেকে চা রপ্তানি ৭৯ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে গত এক দশকে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। কিন্তু নিলামমূল্য সেই হারে বাড়েনি।

চলতি বছরের জুনের প্রথমার্ধে ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্সটি গত ১২ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিটিতে সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান এবং চা খাতের অংশীজনদের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

টাস্কফোর্সের মতে, চা শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা হলো, চা বাগানকে কৃষি নয়, শিল্প হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে বাগান মালিকদের কৃষকদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে।

এ অবস্থাকে ‘শ্রেণিবিন্যাসের অসামঞ্জস্য’ উল্লেখ করে টাস্কফোর্স চা বাগানকে কৃষিখাত হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করার সুপারিশ করেছে। এতে বর্তমান ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের পরিবর্তে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে এ শিল্পকে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ১ শতাংশ টি সেস (চা খাতে আরোপিত বিশেষ কর), ১ শতাংশ ব্রোকারেজ ফি, প্রতি ব্যাগে ৫০ টাকা ১৫ পয়সা গুদামজাতকরণ খরচ এবং সরাসরি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিতে হয়।

টাস্কফোর্স ভ্যাট ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং উৎপাদন ও নিলাম পর্যায়ে সামগ্রিক করের বোঝা কমানোর সুপারিশ করেছে।

উৎপাদিত চায়ের রপ্তানি এখনো দুর্বল। চা রপ্তানি করে বছরে আয় হয় মাত্র ২৫ লাখ থেকে ৪৫ লাখ ডলার, আর পাকিস্তানই একমাত্র উল্লেখযোগ্য রপ্তানি বাজার। এ ছাড়া বাংলাদেশের কোনো জাতীয় চা ব্র্যান্ড, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি কিংবা প্রিমিয়াম রপ্তানি বাজারে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নেই।

প্রতি হেক্টরে বাংলাদেশে চা উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কেজি। তুলনায় ভারতে ২ হাজার ৫০০ কেজি এবং শ্রীলঙ্কায় ৩ হাজার ৩০০ কেজি।

চা বাগানের মোট জমির প্রায় ৪৫ শতাংশে চা উৎপাদন হয় না। তবে এর মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ জমি নতুন চা চাষের জন্য ব্যবহারযোগ্য। বাকি জমি পরিচালনাগত, আবাসিক ও পরিবেশগত কাজে ব্যবহৃত হয়।

পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা

চা শিল্পের আর্থিক সংকট কাটাতে টাস্কফোর্স ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার ‘টি সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় ৪ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পুনর্গঠন, চা পুনরোপণের জন্য গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ এবং কারখানা আধুনিকায়নের জন্য সাত বছর মেয়াদি অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ চা বোর্ড (বিটিবি) এবং বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) জন্য পৃথক বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে তিন স্তরের ন্যূনতম মূল্য কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয় মানের চায়ের জন্য প্রতি কেজি ২৭৫ টাকা, রপ্তানিযোগ্য চায়ের জন্য প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধা। প্রিমিয়াম ও বিশেষায়িত চায়ের ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া একটি জাতীয় চা ‘পুনরোপণ মহাপরিকল্পনার’ প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি বাগানকে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রতি বছর ২ থেকে ৩ শতাংশ চা গাছ প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

রপ্তানি পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তান, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ার সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি প্রণোদনা ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চা শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা, একটি ‘টি ইনভেস্টমেন্ট ডেস্ক’ গঠন এবং কৃষি প্রযুক্তি, সৌর অবকাঠামো ও প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সৌর অ্যাগ্রিভোল্টাইক, ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ, সেচ এবং কারখানা আধুনিকায়নের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ টি গ্রিন ফাইন্যান্স ফ্যাসিলিটি’ গঠনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র চা চাষিদের সহায়তায় উত্তরবঙ্গের ৮ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র চাষিকে কারিগরি সহায়তা ও মানোন্নয়ন সেবা দিতে পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের একটি স্থায়ী আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে শ্রমিক কল্যাণের ন্যূনতম মানদণ্ডও প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য সরকার পরিচালিত স্কুল, কার্যকর ডিসপেনসারি, অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা এবং বাগানের সড়ক উন্নয়ন।

সংস্কার বাস্তবায়ন শুরু করতে টাস্কফোর্স ৯০ দিনের একটি পরিকল্পনাও দিয়েছে।

প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য যাচাই এবং আর্থিক সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণে একটি আন্তমন্ত্রণালয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

৬০ দিনের মধ্যে চা বাগানকে কৃষিখাত হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করা, ভ্যাট ও টি সেস সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর কথা বলা হয়েছে।

৯০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা, বিডায় টি ইনভেস্টমেন্ট ডেস্ক চালু করা, পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু করা এবং পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

চা শিল্প টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক মামুন রশীদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, চা কোম্পানিগুলোর আয় না বাড়লে শ্রমিকদের কল্যাণ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের পরিবারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।’

রশীদ আরও বলেন, ‘নতুন চারা রোপণ এবং সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়টি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি জি-টু-জি ব্যবস্থায় রপ্তানি এবং গ্রিন ফাইন্যান্সের সুযোগও দ্রুত সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।’

জন্মভূমির বিপক্ষে হালান্ড, ইংল্যান্ড ম্যাচকে বললেন ‘বিশেষ’

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এবার এক ভিন্ন আবেগের ম্যাচ অপেক্ষা করছে আর্লিং হালান্ডের জন্য। জন্ম ইংল্যান্ডে, পেশাদার ফুটবলেও খেলছেন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে। সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই এবার বিশ্বকাপের শেষ আটে লড়বে তার দেশ নরওয়ে। তাই ম্যাচটিকে ‘বিশেষ’ বলেই আখ্যা দিয়েছেন এই তারকা স্ট্রাইকার।

মিয়ামিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হালান্ড বলেন, ‘এটি অবশ্যই খুব বিশেষ একটি ম্যাচ। আমি ইংল্যান্ডে খেলি, ইংল্যান্ডেই আমার জন্ম। সেখানে আমার অনেক সতীর্থও আছে। তাই ম্যাচটি ভিন্ন রকমের অনুভূতি দেবে। এটি উপভোগ্য হবে।’

হালান্ডের জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডে, যখন তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলছিলেন। গত চার মৌসুম ধরে ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে খেলতে খেলতে তিনি প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ে এবার ইতিহাস গড়ছে। প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেই হালান্ড চার ম্যাচে সাত গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জয় এনে দেন তিনি।

তবে এমন সাফল্য যে নিজেও কল্পনা করেননি, সেটি স্বীকার করেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, ‘সত্যি বলতে আমি এমনটা আশা করিনি। নরওয়েকে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আমার কাছেও বিস্ময়কর। ব্রাজিলকে হারিয়ে এখন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামা আমাদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘নরওয়েতে মানুষ যেভাবে উদযাপন করছে, তা দেখলে বুঝবেন, এটি আমাদের জন্য একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তাই সবকিছুই খুব বিশেষ মনে হচ্ছে।’

অন্যদিকে ইংল্যান্ড টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ৬০ বছর ধরে কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি। সেই চাপ ইংল্যান্ডের কাঁধেই তুলে দিতে চান হালান্ড, ‘ইংল্যান্ড অবশ্যই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তাই আমি বলব, যতটা সম্ভব চাপ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপরই দিন।’

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন হালান্ড। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়ের পর ডালাসে কাউবয়ের পোশাক পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা তার ভিডিও ভাইরাল হয়।

এ নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘আমেরিকানদের আমি খুব পছন্দ করি। তারা দারুণ মজার মানুষ। এখানে বিশ্বকাপের সবকিছুই অসাধারণ -ম্যাচ, স্টেডিয়াম, অনুশীলনের মাঠ, সবকিছুই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি সত্যিই খুব আনন্দিত।’

 

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ৩ জুলাই

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাহী কমিটি গঠনের নির্বাচন আগামী ৩ জুলাই বিএফডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর দ্য ডেইল স্টারকে বলেন, ‘আজ মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আগামী ৩ জুলাই এফডিসিতে শিল্পী সমিতির নতুন মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি সঠিক সময়ে নতুন মেয়াদের নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে একটি প্যানেল থেকে অংশ নিচ্ছেন বাপ্পারাজ ও রুমানা ইসলাম মুক্তি। অন্য প্যানেলে আছেন শিবা শানু ও জয় চৌধুরী।

গত ২৪ এপ্রিল মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা কেন ভারতের জন্য অস্বস্তির

আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার নয়াদিল্লির জন্য অস্বস্তিকর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। কারণ জাহাজটি ভারতীয় বন্দর থেকে যৌথ নৌ-মহড়া শেষ করে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ধ্বংস করা হয়।

সিএনএন জানায়, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাহাজটিকে ‘আইআরআইএস ডেনা’ বলে শনাক্ত করেছেন। ফ্রিগেটটি ভারতের পূর্বাঞ্চলের একটি বন্দর থেকে নিজ দেশে ফিরছিল, যেখানে গত মাসে ভারতীয় নৌবাহিনী তাকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিল।
এ ঘটনায় ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে এই হামলা হয়। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকেই টানা ছয় দিন ধরে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

সিএনএন বলছে, ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথমবার মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে।

ভারতের জন্য কেন অস্বস্তির

এই হামলা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটলেও নয়াদিল্লির জন্য তা অস্বস্তিকর হতে পারে। কারণ হামলাটি এমন এক সমুদ্রাঞ্চলে ঘটেছে, যাকে ভারত তার নিজস্ব প্রভাব বলয়ের অংশ বলে মনে করে এবং এর আগে ভারত ওই জাহাজের নাবিকদের অভ্যর্থনা জানিয়েছিল।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক সুশান্ত সিং বলেন,
‘ভারতের জলসীমা ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইআরআইএস ডেনাকে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা নয়াদিল্লির আঞ্চলিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি বড় ধাক্কা।’

তিনি বলেন, ‘জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকলেও সেটি ভারতের নৌ-মহড়া থেকে ফিরছিল এমন একটি এলাকা দিয়ে যা কোনো সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র নয় এবং যে এলাকাটি নিশ্চিতভাবেই ভারতের প্রভাব বলয়ের আওতায় পড়ে।’

এ কারণেই ঘটনাটি একটি গুরুতর ‘রেড লাইন ক্রস করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুশান্ত সিং আরও বলেন, ‘বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট সুরক্ষা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়া এড়ানো এবং নিজস্ব সামুদ্রিক সীমানার কাছাকাছি তৃতীয় পক্ষের সামরিক পদক্ষেপকে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে না দেওয়া ভারতের জন্য অপরিবর্তনীয় অগ্রাধিকার।’

তবে মার্কিন নৌবাহিনীর এই পদক্ষেপ এসব অগ্রাধিকারের প্রতিটিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সিএনএনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ শুক্রবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে বরিশাল ও পিরোজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তিনি চেক বিতরণ করেন। বরিশাল জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনাকে আমরা একটা আধুনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে চাচ্ছি। সে কারণেই শুধুমাত্র বিশেষ কোনো অনলাইন বা ইলেকট্রনিক অথবা প্রিন্ট এভাবে ভাগ ভাগ না করে…আমরা একটু পিছিয়ে আছি, আধুনিক যে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থা এবং এই ইকোসিস্টেমের মধ্যে, আমাদের নতুন গণমাধ্যম এর মধ্যে যুক্ত হতে পারেনি এখনো। আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয় যখন গড়ে উঠেছে, সেটা যে আমলে, তখন এই ধরনের তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম ছিল না। আবার এখন যে ধরনের তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক এবং নতুন কমিউনিকেশন টেকনোলজিভিত্তিক গণমাধ্যমের প্রসার হয়েছে, এটার সঙ্গে যেভাবে খাপ খাওয়ানো দরকার, তাও এত দিনে হয়ে ওঠে নাই।’

‘আমি কেবল দায়িত্ব নিয়েছি। আমি মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতি-নির্ধারক সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ধীরে ধীরে জনগণের কাছে তথ্যের একটা অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারদের মতামতের ভিত্তিতেই আমরা জবাবদিহিতার পরিধি প্রথমে নির্ধারণ করব। তারপর সেই পরিধির মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করব,’ বলেন তথ্যমন্ত্রী।

৩ প্রতিষ্ঠানকে হ্যাক করেছে জেমিনাই, স্বীকার গুগলের

সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষার সময় গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল জেমিনাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষিত ব্যবস্থায় ঢুকে পড়েছে। গুগলের দাবি, তাদের কোনো এআই সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার এটিই প্রথম ঘটনা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই ঘটনাটি প্রকাশ করে। গুগলের বরাত দিয়ে বিবিসি ও এএফপি জানিয়েছে, গত মে মাসে একটি স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইরেগুলারের পরিচালিত পরীক্ষার সময় ঘটনাগুলো ঘটে। জুলাইয়ে বিষয়টি শনাক্ত করে গুগল।

গুগলের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার অ্যাডকিনস জানান, একটি সাধারণ পরীক্ষার অংশ হিসেবে জেমিনাই ইন্টারনেটে প্রকাশ্য তথ্য খুঁজে বের করে এবং পরীক্ষার আওতাভুক্ত মনে করা কয়েকটি ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য লগইন তথ্য অনুমান করে।

তিনি বলেন, তিনটি ঘটনার প্রতিটিতেই জেমিনাই শেষ পর্যন্ত নিজে থেকেই ওই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় জেমিনাই প্রবেশ করেছিল, তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ অংশীদারের সঙ্গে কাজ করেছে গুগল।

পাসওয়ার্ড অনুমান করে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি ঘটনার একটিতে জেমিনাই পাসওয়ার্ড অনুমান করতে করতে শেষ পর্যন্ত একটি সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

অন্য দুটি ঘটনায় মডেলটি একটি উন্মুক্ত রিপোজিটরিতে থাকা লগইন তথ্য খুঁজে পায়। পরে ওই তথ্য ব্যবহার করে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ করে।

তবে গুগল আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করেনি।

গুগলের অ্যাডকিনস বলেন, এসব ঘটনা শক্তিশালী এআই মডেলকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে।

ইরেগুলারের এক মুখপাত্র জানান, ঘটনাটি এআই খাতের অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা একই ধরনের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। সংশ্লিষ্ট এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জুলাইয়ের শেষ দিকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তাদের পক্ষের জানা সমস্যাগুলো কয়েক সপ্তাহ আগেই সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্য এআই মডেলেও একই ধরনের ঘটনা

জেমিনাইয়ের এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের মডেল নিয়েও একই ধরনের সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরেগুলারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একই ধরনের ঘটনায় মেটা, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মডেলগুলোর নামও এসেছে।

অ্যানথ্রপিকের ক্লড জুলাইয়ে পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়েছিল বলে বিবিসি জানিয়েছে। একই মাসে ওপেনএআইও জানিয়েছিল, তাদের দুটি মডেল নির্ধারিত বন্ধ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে এবং এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে।

ওপেনএআইয়ের মডেলগুলো কয়েকটি ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ অনলাইন সেবায় সাইবার হামলা চালিয়েছিল বলেও ওই সময় জানানো হয়।

মেটা আগস্টে জানিয়েছিল, তাদের সংশ্লিষ্ট ঘটনায় স্যান্ডবক্স থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা অত্যাধুনিক কোনো সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এআইয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে নতুন উদ্বেগ

এআই মডেলগুলোকে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ব্যবস্থায় আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

জেমিনাইয়ের ক্ষেত্রে মডেলটি শুধু পরীক্ষার নির্দেশনাই অনুসরণ করেনি, বরং ইন্টারনেটে প্রকাশ্য তথ্য খুঁজে বের করে লগইন তথ্য অনুমান বা সংগ্রহ করে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। যদিও তিনটি ঘটনাতেই মডেলটি নিজে থেকেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ইরেগুলার জানিয়েছে, এ ধরনের সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন কীভাবে নিরাপদভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে তারা সর্বোত্তম পদ্ধতি তৈরিতে কাজ করছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এআই মডেলের সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন, সে প্রশ্নও সামনে এনেছে।

এদিকে এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে জনপরিসরে বিতর্কও বাড়ছে। কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সবাই একই অবস্থানে নেই।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার সিবিএস নিউজকে হুয়াং বলেন, এআই উন্নয়নে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এগিয়ে যাওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অবশ্য এআই ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা, স্বায়ত্তশাসন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।

২০২৫ সালে আয়ের চেয়ে ২৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বেশি ব্যয় জামায়াতের

রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০২৫ সালে আয়ের চেয়ে ২৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৫ টাকা বেশি ব্যয় করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া দলটির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই বছর জামায়াতে ইসলামীর আয় ছিল ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৪ হাজার ১৩৯ টাকা, ব্যয় ২৩ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৪ টাকা।

দলটির কাছে বর্তমানে আছে ১৫ কোটি ৪৯ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৮ টাকা। এর মধ্যে নগদ ৭ কোটি ৫১ লাখ ১৩ হাজার ৬৫ টাকা, ব্যাংকে আছে ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৩ টাকা।

২০২৪ সালে দলটির আয়-ব্যয় শেষে দলটির কাছে ছিল ১৫ কোটি ৭৩ লাখ ৭ হাজার ২২৩।

দলের আয় থেকে ব্যয় কেন বেশি জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘গত বছর আমরা বেশি কাজ করেছি, তাই ব্যয় বেশি হয়েছে।’

দলের আয়ের উৎস সম্পর্কে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের আয়ের উৎস হলো, নেতাকর্মীরা নিয়মিত দান-অনুদান, নিয়মিত চাঁদা দেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের দলের সুধী ও শুভাকাঙখীরা দান করেন। তৃতীয়ত, আমাদের বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে আয় হয়।’

দলের ব্যয়ের খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস ম্যানেজমেন্ট একটা বড় খরচ আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মিটিং, সমাবেশ, বৈঠক, নেতাদের সফর, নেতারা বিভিন্ন জায়গায় মিটিং, বড় আকারের জনসভা-এগুলোতে বড় আকারের খরচ হয়।’

৭ প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআইয়ের ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা, বাধ্যতামূলক মান সনদ বা প্যাকেজিং নিবন্ধন ছাড়া পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করায় সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

আজ রোববার রাজধানীর বসিলা ও হাজারীবাগ এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

বিএসটিআই জানায়, মান সনদ ও প্যাকেজিং নিবন্ধন ছাড়াই পোলট্রি-মাছের খাদ্য উৎপাদন এবং বাজারজাত করায় এসিআই গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট ও আফতাব ফিডকে ৪ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আফতাব ফিডের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গত ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পোলট্রি ও মাছের খাদ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের এ ধরনের সনদ বাধ্যতামূলক রাখার বিধান বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকায় আমাদের প্রতিষ্ঠান এখনো বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নেয়নি।

এদিকে জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি এসিআই গোদরেজ অ্যাগ্রোভেটের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের লিড আরমান তুগনাওয়াত।

বিএসটিআই আরও জানায়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আরও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে লেড-অ্যাসিড স্টার্টার ব্যাটারি প্রস্তুতকারী জিউজৌ ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডকে প্রয়োজনীয় বিএসটিআই সনদ ও প্যাকেজিং নিবন্ধন ছাড়া পণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ করায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর বসিলায় পৃথক অভিযানে আমান কনজ্যুমার অ্যান্ড টয়লেট্রিজ এবং স্ট্যান্ডার্ড কনজ্যুমার অ্যান্ড টয়লেট্রিজকে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিএসটিআই।

প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে হ্যান্ডওয়াশ ও লিকুইড টয়লেট ক্লিনার পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে এ জরিমানা করা হয়।

হাজারীবাগে বিএসটিআইয়ের সনদ ছাড়া মিষ্টি, বিস্কুট ও লাচ্ছা সেমাই বিক্রির অভিযোগে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মিঠাইকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মিঠাইয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান ডেইলি স্টারকে বলেন, অভিযানে চিহ্নিত তিনটি পণ্যেরই বৈধ ও হালনাগাদ বিএসটিআই লাইসেন্স রয়েছে। তবে অভিযানের সময় তাৎক্ষণিকভাবে লাইসেন্সগুলো দেখানো যায়নি।

তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইসেন্সের কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সময় দেয়নি।

‘পরে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি তুলে ধরলেও জানানো হয়, চালান ইস্যু হয়ে যাওয়ায় ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আর সুযোগ নেই’, বলেন তিনি।

বিএসটিআই সনদ ছাড়া মিষ্টি ও দই উৎপাদন এবং বাজারজাত করায় অপূর্ব আনন্দ জল খাবারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিএসটিআই।

রূপগঞ্জে বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবেকুন নাহার, বসিলায় লুৎফুন্নেসা খানম ও হাজারীবাগে মো. মাহবুবুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এমবাপের জাদুতে মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ, সেমিফাইনালে ফ্রান্স

পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, দিনটা বুঝি কিলিয়ান এমবাপের নয়। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা আবারও দেখালেন, একটি ভুল তাকে থামিয়ে রাখতে পারে না। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে গোল করে এগিয়ে দেন ফ্রান্সকে। এরপর করালেন আরও একটি। তার নৈপুণ্যেই মরক্কোর টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।

বোস্টনের স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা। ফ্রান্সের জয়ে একটি গোল করেন এমবাপে, অন্য গোলটি আসে উসমান দেম্বেলের পা থেকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো একের পর এক দুর্দান্ত সেভে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। তবে প্রথমার্ধেই নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। মাইকেল অলিসের নিখুঁত পাস ধরে গতি বাড়িয়ে বক্সে ঢুকতেই ফাউলের শিকার হন এমবাপে। তবে স্পটকিক থেকে নিচু শট নিলে দারুণ দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দেন বুনো।

শুধু পেনাল্টিই নয়, প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল ফ্রান্স। দেজিরে দুয়ের শট ঠেকান বুনু, লুকা দিঁনের চিপ ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বলের দখলেও সামান্য এগিয়ে ছিল মরক্কো (৫০.৯ শতাংশ), কিন্তু পুরো প্রথমার্ধে তারা একটি শটও নিতে পারেনি। ফ্রান্সই তৈরি করেছিল পাঁচটি পরিষ্কার গোলের সুযোগ।

বিরতির পর আর ভুল করেনি দিদিয়ের দেশমের দল। ৬০তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের ভেতরের অংশে নেওয়া এমবাপের অসাধারণ বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় দূরের কোণে। বুনোর কোনো সুযোগই ছিল না বলটি ঠেকানোর।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়াল আটে। এতে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সমান গোল করলেও বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় শীর্ষে উঠে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক।

একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ও জমে উঠেছে। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের বিশ্বকাপ গোল এখন ২০টি, আর ৩৯ বছর বয়সী মেসির ঝুলিতে রয়েছে রেকর্ড ২১ গোল।

এর ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী দেম্বেলে। মরক্কোর রক্ষণভাগ ভেদ করে নিচু শটে গোল করেন তিনি। বুনো বল ছুঁতে পারলেও তা জালে জড়ানো ঠেকাতে পারেননি।

ফ্রান্সের আক্রমণে এদিন বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন দেজিরে দুয়ে। তরুণ এই ফরোয়ার্ড ছিলেন সৃজনশীল, বারবার তৈরি করেছেন সুযোগ। অন্যদিকে বিশ্বকাপের অন্যতম আবিষ্কার ১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বুয়াদ্দি ৬১ মিনিটে ক্লান্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন। কোচের রক্ষণাত্মক কৌশলে অনেকটা সময় নিজের স্বাভাবিক খেলাটাও খেলতে পারেননি তিনি।

তবে ফরাসি শিবিরে শেষদিকে কিছুটা দুশ্চিন্তাও দেখা দেয়। ৭৬তম মিনিটে ডান গোড়ালিতে অস্বস্তি অনুভব করায় এমবাপেকে তুলে নেন দেশম। মরক্কোর ইসা দিয়োর শক্ত ট্যাকলের পর থেকেই খুঁড়িয়ে চলছিলেন তিনি। সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখেই হয়তো ঝুঁকি নিতে চাননি ফরাসি কোচ।

মরক্কো শেষদিকে কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি। এল আইনাউইয়ের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর উনাহির একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন মাইক মেনিয়ান।

দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স সেমিফাইনালে আগামী মঙ্গলবার ডালাসে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার-ফাইনালের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।