33.9 C
Dhaka
Home Blog

দেশ ঘোরার নেশা থেকে ‘আনসিন বাংলাদেশ’, আরও যা আছে এই ওয়েবসাইটে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন ট্রেন্ড, দেশের কতগুলো জেলায় আপনি ভ্রমণ করেছেন সেই ম্যাপ প্রকাশ করা। অনেকে ইতোমধ্যে ৬৪টি জেলাই ঘুরেছেন, কেউ কেউ পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছেন বাকি এলাকাগুলোর কোথায় কোথায় ভ্রমণ করবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন রবিনের তৈরি ‘আনসিন বাংলাদেশ’ ওয়েবসাইট থেকে সহজেই এই ম্যাপ তৈরি করা যাচ্ছে।

দেড় সপ্তাহে এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করেছেন ২৩ লাখের বেশি মানুষ।

‘ভ্রমণ মানচিত্র’ তৈরির সুযোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার দর্শনীয় স্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা, আনুমানিক ব্যয়, থাকার জায়গা ও বিখ্যাত খাবারের তথ্য রয়েছে ওয়েবসাইটে। রয়েছে এআইভিত্তিক ট্রিপ প্ল্যানার।

রবিন বর্তমানে আইটি খাতে কাজ করছেন। পাশাপাশি তার নিজস্ব একটি ডিজাইন এজেন্সি রয়েছে।

রবিন জানান, ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ দীর্ঘদিনের। সুযোগ পেলেই নতুন জায়গায় ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন তিনি।

‘নতুন নতুন জেলা ঘুরতে ঘুরতে একদিন ভাবলাম, বাংলাদেশের কতগুলো জেলা ঘোরা হলো সেটা যদি একটা ম্যাপে তুলে ধরা যায়, তাহলে মন্দ হয় না! সেখান থেকেই এই ওয়েবসাইট তৈরির ভাবনার শুরু,’ বলেন তিনি।

আগে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে এমন ম্যাপ তৈরি করতাম। প্রতিবার নতুন জেলা ঘুরে আসার পর প্রম্পট দিয়ে ম্যাপ বানাতে হতো। কোথাও ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে নানা জায়গায় খুঁজতে হতো কী কী দর্শনীয় স্থান আছে, যাতায়াত ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য খরচ কেমন।

‘তখনই মনে পড়ে এক জায়গায় সব তথ্য পাওয়া গেলে সুবিধা হতো। যেহেতু আমি আইটি সেক্টরে কাজ করি, হঠাৎ মাথায় এলো এআইয়ের সাহায্যে আমি নিজেই এমন একটা প্ল্যাটফর্ম বানাতে পারি,’ বলেন রবিন।

‘আনসিন বাংলাদেশ’ এর অন্যতম আকর্ষণ ‘আমার ম্যাপ’ অপশন। এখানে ব্যবহারকারী নিজের ঘোরা জেলাগুলো নির্বাচন করে একটি ব্যক্তিগত ভ্রমণ মানচিত্র তৈরি করতে পারেন। চাইলে এতে নিজের নাম, ছবি যোগ করা ও পছন্দ অনুযায়ী রঙের থিমও বেছে নেওয়া যায়।

রবিন জানান, ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হয় না।

ওয়েবসাইটটির ‘কোথায় ঘুরবেন’ অংশে যেকোনো জেলা নির্বাচন করলে ওই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর তথ্য পাওয়া যায়। দেখা যায় ছবি।

এছাড়া সেখানে কীভাবে যাবেন, বাস-ট্রেন, আকাশ বা নদী পথে যেতে আনুমানিক খরচ হয়, থাকার জায়গা কেমন ও কোন কোন খাবার বিখ্যাত—সেসব তথ্য পাবেন এক ক্লিকে। কোনো স্থানের ‘বিস্তারিত দেখুন’ অপশনে গেলে পাওয়া যায় সেই স্থানের ইতিহাস ও ভ্রমণ নির্দেশিকা।

সাইটটির আরেকটি সুবিধা ‘ট্রিপ প্ল্যানার’। এখানে ব্যবহারকারী কোথায় থেকে যাত্রা শুরু করবেন, কোন কোন জেলায় যেতে চান, কত দিনের ট্রিপ, কতজন যাবেন এবং বাজেট কত, সেসব তথ্য দিলে সাইটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্ভাব্য রুট সাজিয়ে দেয়। সঙ্গে থাকে দিনভিত্তিক ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং মোট আনুমানিক খরচের হিসাব।

‘শুরুতে কোনো বড় পরিকল্পনার অংশ ছিল না। সাইটটি আসলে নিতান্তই শখের বশে তৈরি করা। প্রথম সংস্করণটি ক্লাউড কোড নামে একটি এআই টুল দিয়ে মাত্র দেড় ঘণ্টায় বানিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল নিজের কাছেই রাখা। পরে মনে হয় ভ্রমণপ্রেমী সবার কাজে লাগতে পারে,’ বলেন রবিন।

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২৭ সেপ্টেম্বর ওয়েবসাইটটি শেয়ার করেছিলেন রবিন। এরপর সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

‘ওয়েবসাইটটি নিয়ে এতটা সাড়া পাব কল্পনাও করিনি। মাত্র ১০ দিনে ২৩ লাখের বেশি মানুষ সাইটটি ব্যবহার করেছেন।’

রবিন আরও বলেন, ‘অনেকে নিজেদের ভ্রমণ ম্যাপ তৈরি করে ফেসবুকে শেয়ার করছেন, পরিচিতদের ট্যাগ করছেন। কে কতটি জেলা ঘুরেছেন, তা নিয়েও চলছে মজার প্রতিযোগিতা। ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আসছে নতুন ফিচার যুক্ত করার পরামর্শ। কীভাবে যে এত ছড়িয়ে গেল, নিজেও বুঝে উঠতে পারিনি। সবার ভালোবাসা আমাকে সত্যিই অনুপ্রাণিত করেছে।’

এই ওয়েবসাইট আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন রবিন।

তিনি বলেন, ‘সামনে একটি বিশ্ব ভ্রমণ ম্যাপ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

‘দেশের আরও দর্শনীয় স্থান যুক্ত করা, প্রতিটি স্থানের তথ্য আরও বিস্তারিত করা এবং ব্যবহারকারীদের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে,’ বলেন তিনি।

রবিনের স্বপ্ন, ভ্রমণপ্রেমী মানুষের জন্য ‘আনসিন বাংলাদেশ’ এক সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর ভ্রমণ প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি হয়ে উঠবে।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ, তিনিই হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান।

দলের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েক দশক ধরে বিএনপির জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবদানের পুরস্কার হিসেবেই তাকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে।

একাধিক দলীয় সূত্র জানায়, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার এই মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে অবশ্যই দলের সংশ্লিষ্ট নথিতে সই করে বা লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে মনোনয়নে সম্মতি দিতে হয়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত শনিবার মির্জা ফখরুল এমন একটি লিখিত বিবৃতিতে সই করেছেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। এর আগেই আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার দল আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করতে পারে।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল সকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দলের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা ও দলে রদবদল

মির্জা ফখরুল যদি রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হন, তবে তাকে মন্ত্রিসভা এবং বিএনপির মহাসচিব পদ ছাড়তে হবে। এর ফলে সরকার ও দলের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে যে আলোচনা চলছে, তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে সূত্রগুলো এটাও বলেছে যে প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো অনুমোদিত হয়নি এবং মির্জা ফখরুল শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হবেন কি না, তার ওপরই এই রদবদল নির্ভর করছে। চূড়ান্ত ঘোষণার আগে এই পরিকল্পনায় পরিবর্তনও আসতে পারে।

দলের নেতৃত্বের বিষয়ে সূত্রগুলো জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দলের পরবর্তী কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কাউকে নির্বাচিত না করা পর্যন্ত রিজভী এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তা বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন আনবে। তিনি দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে যখন খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন এবং তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত ছিলেন, তখন তিনি দলের হাল ধরে রেখেছিলেন।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালের ২০ মার্চ দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। এর আগে ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছিল।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষকতা পেশা থেকে তিনি রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে নব্বইয়ের দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তিনি প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ডলার। গত আট বছরে জুলাই মাসে আসা রেমিট্যান্সের মধ্যে এই পরিমাণ সর্বোচ্চ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রবাসীরা ২৮৫ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। গত বছর জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৯ কোটি ডলার।

দেশের রপ্তানি আয় যখন মন্থর, তখন রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির পাওয়ায় আমদানি বিলসহ বৈদেশিক পরিশোধের দায় মেটাতে তা গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমে ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে জুলাই-মে সময়ে আমদানি ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বিপরীতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।

শেষদিকে বদলি নেমে ফের নায়ক মেরিনো, সেমিতে ফ্রান্সের মুখোমুখি স্পেন

চারদিন আগে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের শেষদিকে বদলি নেমে লক্ষ্যভেদ করে স্পেনকে জিতিয়েছিলেন মিকেল মেরিনো। আবারও একইভাবে মাঠে ঢুকে ব্যবধান গড়ে দিলেন আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার। তার অন্তিম সময়ের জয়সূচক গোলে বেলজিয়ামকে বিদায় করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কাটল লা রোহারা।

শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত নাটকীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ তাদেরকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৪১তম মিনিটে সমতা টানেন চার্লস ডি কেটেলারে। এরপর দুই দল বেশ কিছু সুযোগকে পূর্ণতা দিতে না পারায় খেলা এগোচ্ছিল টাইব্রেকারের দিকে। তবে ৮৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুই মিনিটের মধ্যে মেরিনো জাল খুঁজে নিলে শেষ চারে নাম লেখায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের ১৬ বছর পর সেমিতে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর গত দুটি আসরে তাদের যাত্রা থেমেছিল শেষ ষোলোতে। সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এবার তাদের লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার করা।

তবে ফাইনালে উঠতে হলে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে স্পেনকে। আগামী মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠেয় হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ডালাসে তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের, যারা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে।

৬৮ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখা স্পেন গোলমুখে ১৭টি শট নিয়ে আটটি রাখে লক্ষ্যে। অন্যদিকে, গোলপোস্টে বেলজিয়ামের নেওয়া পাঁচটি শটের কেবল দুটি লক্ষ্যে ছিল।

কেভিন ডি ব্রুইনা ও জেরেমি ডকু শুরুর একাদশে ফিরলেও ম্যাচের আগেই বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। ওয়ার্মআপের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন অধিনায়ক ইউরি টিলেমানস। এর আগে আমাদু ওনানাকেও হারানোয় বল দখলে পটু স্পেনের বিপক্ষে তাদেরকে প্রায় দ্বিতীয় সারির মিডফিল্ড নিয়ে নামতে হয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় দে লা ফুয়েন্তের দল। পেদ্রির জায়গায় সুযোগ পাওয়া রুইজ ও রদ্রি মাঝমাঠের দখল নেন। সঙ্গে তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল দূরপাল্লার শটে ভীতি ছড়াতে থাকেন। তবে বেলজিয়ামের ডকুও বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ শাণিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গত ম্যাচে জোড়া গোল করা ডি কেটেলারের জন্য সুযোগ তৈরিতে মনোযোগী ছিলেন।

ম্যাচে প্রথম লিড নেয় স্পেনই। ৩০তম মিনিটে পেদ্রো পোরো ও ইয়ামালের দারুণ বোঝাপড়ার পর পোরোর কাটব্যাক থেকে দানি ওলমো শট নেন। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া তা ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে লক্ষ্যভেদ করেন রুইজ। এরপর স্পেন যেন বেলজিয়ামের অর্ধে অনুশীলন সেশনের মতো পাসিং ফুটবল খেলতে থাকে।

তবে শেষ বত্রিশের ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি থাকা বেলজিয়াম এবারও হাল ছাড়েনি। ৪১তম মিনিটে ডি ব্রুইনার পাস থেকে বল পেয়ে টিমোথি কাস্টানিয়া দারুণ এক ক্রস বাড়ান। ডি-বক্সে তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে ছিটকে ফেলে দারুণ হেডে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান ডি কেটেলারে। চলতি বিশ্বকাপে এটিই স্পেনের জালে ঢোকা প্রথম গোল। আর সব মিলিয়ে রেকর্ড টানা ৬৪৯ মিনিট পর বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল হজম করলেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণে প্রাধান্য দেওয়ায় খেলা আরও উন্মুক্ত হয়ে ওঠে। বদলি হিসেবে অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামালেও ৭১তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় তারা। উরুতে চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোর্তোয়া। তার জায়গায় এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক সেনে লামেন্সের।

এই অভিষেকই শেষ পর্যন্ত লামেন্সের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। ৮৮তম মিনিটে কুবারসির দূরপাল্লার শট ঠিকমতো গ্লাভসবন্দি করতে ব্যর্থ হন তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফিরতি বলে জোরালো শটে গোল করেন সুযোগসন্ধানী মেরিনো। আগের ম্যাচেও পর্তুগালের বিপক্ষে ৮৫তম মিনিটে মাঠে নেমে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে জাল কাঁপিয়ে স্পেনকে জেতান তিনি।

শেষদিকে অ্যালেক্সিস সালেমেকারস ফাঁকা গোলপোস্টের সামনে লুকাকুকে বল দিতে ব্যর্থ হন। ফলে বেলজিয়ামের সমতায় ফেরার শেষ আশাটিও নষ্ট হয়। শেষ বাঁশির পর কোর্তোয়া এসে হতাশ লামেন্সকে সান্ত্বনা দেন। তখন বেলজিয়ামের বুড়িয়ে যাওয়া সোনালি প্রজন্মের খেলোয়াড়দর স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেতে দেখা যায়। অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াইয়ে নজর ঘোরানোর আগে জয় উদযাপনে মশগুল ছিলেন স্পেনের ফুটবলাররা।

হলে হলে ছুটছেন ঈদের সিনেমার তারকারা

ঈদের প্রেক্ষাগৃহে এখন শুধু কেবল নয়, একেকটি হলে যেন ছোটখাটো উৎসব। মুক্তির দিন থেকেই তারকা, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের আনাগোনায় জমে উঠেছে দেশের মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো। দর্শকের সঙ্গে সরাসরি দেখা, প্রতিক্রিয়া জানা আর হলে হলে প্রচার, সব মিলিয়ে ঈদ সিনেমার প্রচারণা এখন একেবারেই হলভিত্তিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।

এবার ঈদে দেশের ১৮১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আটটি সিনেমা। এর মধ্যে আছে রকস্টার, রইদ, মালিক, মাসুদ রানা, অফিসার, তছনছ ও পিনিক। ঈদের প্রথম সপ্তাহজুড়ে সিনেমার তারকা ও টিমের সদস্যরা ছুটে যাচ্ছেন এক হল থেকে আরেক হলে।

শাকিব খান অভিনীত রকস্টার মুক্তির পর থেকে আলোচনায় আছে। দেশের ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে সিনেমাটি। স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রথম দিনে ১৮টি শো থাকলেও পরদিন তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬টিতে।

সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশো এবং অভিনেত্রী সাবিলা নূর ও তানজিয়া মিথিলা বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে দর্শকের সঙ্গে দেখা করছেন।

পরিচালক আজমান রুশো দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এই সিনেমায় প্রচলিত অ্যাকশন বা আইটেম গান নেই। আমরা দর্শকদের নতুন গল্প দিতে চেয়েছি। দর্শকের প্রতিক্রিয়া বুঝতে আরও সময় লাগবে।’

অ্যাকশননির্ভর গল্প নিয়ে তৈরি মালিক দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে আলাদা আগ্রহ। সাইফ চন্দন পরিচালিত এই সিনেমাটি দেশের ৩২টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে। অনেক শো-ই ইতোমধ্যে হাউজফুল।

সিনেমাটির প্রচারে অংশ নিয়ে অভিনেতা আরেফিন শুভ বলেন, ‘ঈদের সময় মানুষ যে ধরনের সিনেমা দেখতে চায়, মালিক ঠিক সেই ধরণেরই—অ্যাকশন, প্রেম আর বিনোদনের মিশ্রণ। আমাকে এমন লুকে আগে কেউ দেখেনি।’

তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত রইদ ঈদের দিন থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। বিভিন্ন হলে গিয়ে টিম সদস্যরা দর্শকের প্রতিক্রিয়া নিচ্ছেন। বেশ কিছু শো ইতোমধ্যেই হাউজফুল হওয়ায় সিনেমাটির আলোচনা আরও বেড়েছে।

ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত বনলতা সেন মাল্টিপ্লেক্সে চলছে আটটি প্রেক্ষাগৃহে। প্রতিদিনই একাধিক শো হাউজফুল যাচ্ছে।

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন খাইরুল বাসার, গাজী রাকায়েত, সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়তী উর্বি, রুপন্তি আকিদ, শরীফ সিরাজ ও সুমাইয়া খুশি। তারকা ও কলাকুশলীরা নিয়মিত প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।

সৈকত নাসির পরিচালিত মাসুদ রানা এবার ঈদে মাল্টিপ্লেক্সে চারটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটির টিমও নিয়মিত হলে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। কিছু শো ইতোমধ্যেই হাউজফুল হওয়ায় দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে।

এতে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা, পূজা চেরি ও সৈয়দা তিথি অমি। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়া।

ঈদের এই সিনেমা উৎসবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এখন প্রচারণার ধরনে। শুধু ট্রেলার বা পোস্টার নয়—এখন তারকারা নিজেই যাচ্ছেন দর্শকের কাছে, হলের ভেতরে, পর্দার সামনে। দর্শকও পাচ্ছেন সরাসরি তারকাদের কাছ থেকে সিনেমার গল্প শোনার সুযোগ।

ভারতের আসামে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২ পাইলট নিহত

ভারতের আসাম রাজ্যে সুখোই এসই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দুই পাইলট নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ)।

আজ শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল এবং বৃহস্পতিবার আসামের কার্বি আংলং এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থলটি জোড়হাট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে।

দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত দুই পাইলট হলেন স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গাকর।

বিমানবাহিনী এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানায়, সুখোই–৩০ দুর্ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গাকর নিহত হয়েছেন। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সব সদস্য শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুখোই এসই-৩০ এমকেআই দুই আসনের বহুমুখী দীর্ঘপাল্লার যুদ্ধবিমান। এটি তৈরি করেছে রুশ কোম্পানি সুখোই। পরে ভারতের হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের লাইসেন্সের অধীনে ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য তৈরি করা হয়।

বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে ২৬০টির বেশি সুখোই এসই-৩০ এমকেআই আছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুনে নাশিক জেলায় এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে গোয়ালিয়র বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর সুখোই–৩০ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় কবলে পড়েছিল।

স্থগিত ফ্লাইটের সময়সূচি আগেভাগেই জানানো হবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী

ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি পুনরায় নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়েই নতুন সূচি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আজ রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইরানে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গতকাল বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের প্রায় ৫৪টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেরও কিছু রুটের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা আজ থেকে পুনরায় ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করেছি।

সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ফ্লাইটের সময়সূচি সমন্বয় করা হচ্ছে জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরও বলেন, গতকাল বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন। ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীরা যেন ভোগান্তিতে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় যোগাযোগও বজায় রাখা হয়েছে।

পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইটের সময় চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির আর অবনতি না হলে স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলো আগামীকালের মধ্যে চালু করে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন উল্লেখ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, যাত্রীরা যেন কোনো সমস্যায় না পড়েন, সেজন্য নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রমজান মাসে ইফতারের ব্যবস্থাসহ যাত্রীদের সেবার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন বিমানবন্দরে আসার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি বা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফ্লাইটের সঠিক সময় জেনে নেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বিমানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বেবিচক চেয়ারম্যান সার্বক্ষণিক উপস্থিত রয়েছেন। কোনো যাত্রী যেন সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেজন্য সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফ্লাইটগুলোর পুনঃসূচি এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পান বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি সংঘাত আর না বাড়ে তবে সেটি ভালো। কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

আইসিটি প্রসিকিউটররা কি সাংবাদিকদের প্রশ্নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে পারেন?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) যে পরিমাণ ব্যক্তি গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই বৈধ জবাবদিহির চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বেশি চোখে পড়ছে। তার মধ্যে একটি ঘটনা অনেক বেশি প্রকাশ্য রাজনৈতিক বলে মনে হয়। সেটি হলো, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত তিন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ও মন্তব্য করায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

এই অভিযোগে তাদের আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে গত ৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ রয়েছে। এর আগে, ১৭ আগস্ট তামীম এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। যে বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের রাজাকার, রাজাকারের বাচ্চা বলেছিলেন, রাজাকারের নাতি-পুতি বলেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন করা বা সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করাই হলো সাংবাদিকদের দায়িত্ব। কিন্তু আমরা ওই পিরিয়ডে দেখেছি যে কিছু নির্দিষ্ট সাংবাদিক তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতেন এবং তারা যে বক্তব্যগুলো দিতেন, সেগুলো আসলে কোনো প্রশ্ন ছিল না, সেগুলো ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা এবং তাকে দিয়ে কিছু কথা বলানোর জন্য কিছু উসকানিমূলক প্রস্তাব। যে কারণেই এই অফেন্সগুলো কমিটেড হয়েছে।’

প্রসিকিউশনের লিখিত ‘প্রাথমিক অভিযোগে’ আরও কিছুটা বিস্তারিত উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের ‘উসকানি’র কারণেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল।

প্রসিকিউটররা কেন এমন ভুল করছেন, সেই ব্যাখ্যায় যাওয়ার আগে এটি স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ যে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শত শত আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছিল। এসব হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রমাণের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে যথাযথ মামলা হতে পারে।

কিন্তু ১৪ জুলাইয়ের ওই সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটেছিল, এই সাংবাদিকরা যা বলেছিলেন, তার কিছুই এমন অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তারের বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি তৈরি করে না। তারপরও এমন কিছু করার অর্থ হলো, আইনের ভুল প্রয়োগ ও ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার অপব্যবহার।

আইসিটির প্রসিকিউটররা যা করছেন তা থেকে এই ধারণায় পৌঁছাতে হচ্ছে যে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে সাংবাদিকদের যেকোনো কাজ বা বক্তব্যকে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে—তা অপরাধমূলক আচরণের পর্যায়ে পড়ুক বা না পড়ুক। এর মাধ্যমে প্রসিকিউটররা স্পষ্টতই নির্ধারিত পরিসরের বাইরে গিয়ে আইনের প্রয়োগ করছেন।

এই সাংবাদিকরা সেদিন কী বলেছিলেন?

ভোরের কাগজের তৎকালীন সম্পাদক শ্যামল দত্ত ওই সংবাদ সম্মেলনে কোনো প্রশ্নই করেননি। তারপরও প্রসিকিউটররা তাকে কেন আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সেটা এক রহস্য।

একাত্তর টিভির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু তিনটি মন্তব্য করেছিলেন। সেগুলোকে আসলে প্রশ্ন বলা যায় না। এর মধ্যে শুধু প্রথমটি আন্দোলন নিয়ে ছিল। বাকি দুটি ছিল গণমাধ্যমে হাসিনার চীন সফরের সময় সম্পাদিত চুক্তিগুলো নিয়ে কাভারেজ ও শিক্ষকদের পেনশন আন্দোলন নিয়ে।

তিনি বলেছিলেন, আন্দোলনকারীরা ‘সংবিধানবিরোধী’ এবং ‘প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে (মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা করছে, অথবা) তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে’, আর ‘তারা আমাদের কোমলমতি তরুণদের আদালতবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, সংবিধানবিরোধী করে তুলছে।’ তবে তিনি শেষে বলেন, ‘এই (তরুণরা) আসলে ভুক্তভোগী। আমরা তাদের ওপর রাগ করতে পারি না। তারা অপবুদ্ধিজীবীদের অপকৌশলের শিকার। আমাদের তাদের মুক্ত করতে হবে।’

কেউ এই মতের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার না-ও হতে পারেন। কিন্তু, তারপরও এটি একটি গ্রহণযোগ্য মতামত এবং একটি মন্তব্যে তো আন্দোলনরত তরুণদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

একাত্তর টিভির সাংবাদিক ফারজানা রূপা একটি প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়া ১৯৭১ সালের এক মুক্তিযোদ্ধার দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তার স্ত্রী ক্যানসার আক্রান্ত, তার নিজের স্বাস্থ্যও খুব খারাপ। কিন্তু চিকিৎসার টাকা নেই। এই আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা এখন পর্যন্ত। এবং তাদেরকে উদ্দেশ্য করে প্রতিনিয়ত অবমাননাকর বক্তব্য রাখা হচ্ছে। ঠুস-ঠাস কোটা থেকে শুরু করে, নিশ্চয়ই আপনার নজরে এসেছে। তিনি তার ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা বলার সাথে সাথে গণমাধ্যমে দেখেছেন যে আজকে আপনার সংবাদ সম্মেলন, এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এই অবমাননা তারা সহ্য করতে পারছেন না।’

এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কিছু করণীয় এই রাষ্ট্রের আছে কি না?’

তিনি শেষে বলেন, ‘যারা কোটা সংস্কার আন্দোলন করছেন, তারা সব সমাধান আপনার কাছে চান। তারা আদালতের পথে যেতে চান না। এবং সমাধান নির্বাহী বিভাগের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা রাখবেন না কোটা রাখবেন না?’

কেউ এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত না-ও হতে পারেন। কিন্তু, এমন একটি প্রশ্ন সংবাদ সম্মেলনে করা যায়। এতে সহিংসতার আহ্বান বা উসকানি কোনোটিই নেই। আইসিটির প্রসিকিউটররা যদি অন্য কিছু মনে করেন, তাহলে বাংলাদেশে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা যেকোনো সাংবাদিকই একইভাবে গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

দীর্ঘ ও প্রসঙ্গান্তরে চলে যাওয়া জবাবের একপর্যায়ে শেখ হাসিনা এমন একটি মন্তব্য করেন, যা পরবর্তী সময়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের মূল পরিচায়ক হয়ে ওঠে। ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন’—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা পাবে না। তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছেও প্রশ্ন। রাজাকারের নাতি-পুতিরা সব পাবে, মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না। (তাদের) অপরাধটা কী?’

এর অর্থ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল, আন্দোলনকারীরা রাজাকারের নাতি-পুতি, অর্থাৎ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগীদের বংশধর। এর ফলে আরও বড় আকারে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অপমানজনক এই মন্তব্যের জেরে উল্টো স্লোগান দেন, ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার! কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার!’

হাসিনার মন্তব্যটি ছিল উসকানিমূলক ও অপমানজনক এবং এটি এক বিরাট রাজনৈতিক ভুল হিসেবে প্রমাণিত হয়। এর ফলে আন্দোলন আরও জোরালো হয় এবং ব্যাপক জনসমর্থন পায়। কিন্তু হাসিনা যদি আরও এগিয়ে গিয়ে সহিংসতার উসকানিও দিতেন, এমনকি ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’দের ওপর হামলা করতেও বলতেন, তারপরও যে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি সেটা বলতেন, সেই সাংবাদিককে হাসিনার উত্তরের জন্য ফৌজদারি অপরাধে দায়ী করা যেত না। একজন রাজনীতিবিদ কোনো প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেবেন, তার জন্য কোনো সাংবাদিক দায়ী নন।

কাজেই এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এই তিন সাংবাদিককে আটক রাখার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের প্রচেষ্টায় প্রশ্ন উঠছে, আইসিটি প্রসিকিউটরদের গতিপথ ঠিক কোন দিকে। কেননা, আইনস্বীকৃত সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের বিচারে গঠিত একটি ট্রাইব্যুনালে তারা সংবাদ সম্মেলনে করা প্রশ্নকেও সেই পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।

এর আগেই ২০১৩ সালের মে মাসে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই তিন সাংবাদিকের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তি হলো, হত্যাকাণ্ডের পর প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের কারণে তারাও ওই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গণ্য।

সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি, এমনকি রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে করা প্রশ্নকেও যখন নৃশংস অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন নিশ্চিতভাবেই আইসিটি আর কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করছে না। এই আদালত সাংবাদিকতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং প্রসিকিউটরদের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধীদের হয়রানি করার হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
 

বহু বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন ডেভিড বার্গম্যান। এক্সে তার হ্যান্ডল @TheDavidBergman

ভারতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলো রিলসভিত্তিক ফেসবুক নিউজফিড

ভারতে একটি অভিনব ও নতুন লেআউট চালু করেছে ফেসবুক। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি জানানো হয়।

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতে চালু করা লেআউটটি পুরোপুরি ভিডিওভিত্তিক। প্রথাগত নিউজফিডের বদলে ফুল-স্ক্রিন ভিডিও বা ফেসবুকের ভাষায়, রিলস দিয়ে এটি সাজানো হয়েছে।

নতুন লেআউটে ব্যবহারকারীরা অ্যাপে ঢুকে শুরুতেই রিলস দেখতে পাবেন। অন্য ধরনের কনটেন্ট দেখতে ভিন্ন ট্যাবে যেতে হবে।

মেটা জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়াতেও একই লেআউটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তারা চাইলে যেকোনো সময় আগের লেআউটে ফিরে যেতে পারেন। বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করেনি ফেসবুক।

টেকক্রাঞ্চ জানায়, জুলাইয়ে ফেসবুকের প্রধান টম অ্যালিসন প্রথম এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেসব দেশে ভিডিও দেখার প্রবণতা বেশি, সেখানে আরও ভিডিওকেন্দ্রিক নিউজফিড চালুর পরিকল্পনা করছে ফেসবুক।

আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রেও এর একটি সংস্করণ পরীক্ষা করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

মেটার জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে জরিপে অংশ নেওয়া ৯৭ শতাংশ ব্যবহারকারী প্রতিদিন মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভিডিও দেখেন।

আর জেন জি প্রজন্মের ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮৯ শতাংশই রিলস দেখেন।

কোম্পানির নিজস্ব বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে ভারত এখন ফেসবুকের সবচেয়ে বড় বাজার।

গত বছর ফেসবুকের ভিডিওতে বড় পরিবর্তন আনে মেটা। সব ধরনের ভিডিওকে ‘রিলস’-এর আওতায় নিয়ে আসা হয়। শুরুতে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওগুলোকে রিলস বলা হলেও এখন ফেসবুকে ‘ভিডিও’ ট্যাবের বদলে ‘রিলস’ ট্যাবের অধীনে সব ধরনের ভিডিও দেখা যায়।

একই সময়ে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীরা ফেসবুকে কাটানো সময়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ভিডিও দেখেই ব্যয় করেন।

টেকক্রাঞ্চ আরও জানায়, এ ধরনের পরিবর্তনের পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে এর আগেও ভারতকে ব্যবহার করেছে মেটা।

২০২০ সালে দেশটিতে টিকটক নিষিদ্ধ হওয়ার পরপরই ইনস্টাগ্রামে আলাদা রিলস ট্যাব চালুর পরীক্ষা করা হয়। পরে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর ওপর একই ধরনের ভিডিও-প্রধান লেআউট পরীক্ষা করা হয়েছিল।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না: জামায়াত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে যে দ্বিচারিতা করেছে, আমরা সেটা জাতির সামনে আনতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি “জুলাই সনদ” করেছি। সেটির ওপর একটি আদেশ জারি হয়েছে, সেই আদেশের ওপর গণভোটও হয়েছে। কিন্তু সেই গণভোটের রায় বা জনগণের রায় বিএনপি এখনো বাস্তবায়ন করেনি।’

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজ নির্বাচন কমিশন থেকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়িত হতো, তবে আজকের এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলন ঘটত।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রের ধাপে ধাপে মানুষের অধিকার যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আমরা সেটা দূর করতে চাই। এ জন্যই আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা বারবার বলে আসছি, পার্লামেন্টেও (সংসদ) বলেছি এবং পার্লামেন্টের বাইরে আন্দোলন ও কর্মসূচির মাধ্যমেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কিন্তু কেন সরকার সেদিকে যাচ্ছে না, তা আমরা জানি না।’

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘যদি আজ গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হতো, তাহলে ৭০ অনুচ্ছেদটি সংস্কারের আওতায় চলে আসত। এখন যারা ভোটার অর্থাৎ সংসদ সদস্যরা, তারা তো স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। তাহলে একদিকে আপনি তাদের ভোটাধিকার দিয়েছেন, আবার অন্যদিকে সেই অধিকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছেন।’

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে কোনো সংসদ সদস্যকে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিধান রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তার দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি এবং পদমর্যাদাপূর্ণ অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ। এই পদেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে যায়, তাহলে আমরা যে গণতন্ত্র চর্চার কথা বলি, সেটা আর হচ্ছে না। এ জন্যই আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই।’

জয় নিশ্চিত না জেনেও জামায়াত কেন রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত পরশু দিন দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আমরা (জামায়াত) নির্বাচনে অংশ নেব। এখানে জয়-পরাজয় কোনো বিষয় নয়। আমরা মূলত একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে আনতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজি, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ।