25.7 C
Dhaka
Home Blog

টিকটকের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের কনটেন্টের ফাঁদে ফেলে: ইইউ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের বিরুদ্ধে অনলাইন কনটেন্ট-সংক্রান্ত বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

আজ শুক্রবার ইইউর প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রকদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

টিকটকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের ‘রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম’ এক ধরনের ফাঁদ। একের পর এক নতুন ও আকর্ষণীয় কনটেন্ট দেখার সুপারিশ করে প্ল্যাটফর্মটি ইউজারদের স্ক্রিনে আটকে রাখে। এতে চাইলেও ব্যবহারকারীরা ডিভাইস থেকে দূরে থাকতে পারেন না।

নিয়ন্ত্রকরা বলেছেন, সমস্যাটির সমাধান করতে না পারলে আগামী বছর টিকটকের চীনা মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ কারণে অ্যালগরিদমে পরিবর্তন আনতে চাপের মুখে রয়েছে এসব প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। কিছু দেশের সরকার অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করেছে, আবার অন্য দেশগুলোও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কথা বিবেচনা করছে।

ইইউর প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে ইউরোপীয় কমিশন।

সংস্থাটি বলেছে, ঝুঁকি মোকাবিলায় যথাযথ, যুক্তিসংগত ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় টিকটকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল বা অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের মতে, ইউজারদের সামনে যদি বারবার দুঃখ, একাকিত্ব কিংবা শারীরিক গড়ন নিয়ে তৈরি কনটেন্ট উপস্থাপন করা হয়, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

কমিশন বলেছে, ইউরোপে টিকটককে তাদের ব্যবসায়িক মডেলে পরিবর্তন আনতে হবে। 

ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনা ভিরকুনেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘টিকটকে কোনো ইউজার প্রতিবার স্ক্রল করলে বা কোনো ভিডিওতে লাইক দিলে অ্যালগরিদম তাকে একই ধরনের আরও ভিডিও দেখাতে থাকে। এভাবে ইউজাররা এমন এক কনটেন্টের ফাঁদে পড়ে যান, যেখান থেকে সহজে বেরিয়ে আসা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘আজ প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল আবারও দেখিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদেরসহ সব ইউজারের সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিকটককে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

কমিশন বলেছে, টিকটককে তাদের ‘ফর ইউ’ ফিডের অ্যালগরিদমের নকশা পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের পছন্দকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণের সুবিধাগুলো সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করতে হবে এবং নিয়মিত এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া আরও কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতিতে টিকটক জানায়, আমাদের প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কমিশন এমন কিছু বক্তব্য দিয়েছে, যেগুলোর গোড়াতেই গলদ। এগুলো একেবারেই ভুল এবং এসব অভিযোগ আমাদের প্ল্যাটফর্মের কাঠামো ও ইউজারদের নিরাপত্তার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারবদ্ধতার অবমাননা করেছে।

এতে আরও বলা হয়, ইউজারদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের রেকর্ড খুবই শক্তিশালী। কেমন কনটেন্ট দেখবেন বা দেখবেন না, সেটা সরাসরি ইউজারই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও খুব সহজবোধ্য।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টিকটকের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ এনেছিলেন ইইউর নিয়ন্ত্রকরা। তাদের অভিযোগ ছিল, প্ল্যাটফর্মটির ডিজাইন ইউজারদের আসক্ত করে তোলার মতো এবং এতে শিশুদের সুরক্ষায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তখন টিকটক বলেছিল, প্রাথমিক তদন্তের এসব ফলাফল ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে তারা।

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম নিয়েও পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে ইইউ কমিশন।

কমিশনের চাহিদা পূরণ করতে না পারলে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হতে পারে টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে।

এ হিসাব করা হয়েছে ২০২৫ সালে বাইটড্যান্সের ২০০ বিলিয়ন ডলার প্রাক্কলিত আয়ের ৬ শতাংশ ধরে।

লংমার্চ সরকার উৎখাতের আন্দোলন নয়, নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি: পরওয়ার

সরকার উৎখাতের জন্য লংমার্চ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরুর আগের দিন আজ শুক্রবার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধীদল নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। লংমার্চও শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে।

‘সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন আমরা করছি না’, বলেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এতে অংশ নেবেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

আজ সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চে বাধা না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, বিরোধীদলের বৃহৎ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার যেন জনগণের আস্থা ধরে রাখে।

বিরোধীদলের কর্মসূচিতে সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করলে সরকার আরও জনআস্থা হারাবে এবং জনরোষের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।

তবে সরকার সে পথে হাঁটবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

গত ৬ আগস্ট রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে ১১ দলীয় ঐক্য চার বিভাগে লংমার্চ ও ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দেয়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে রংপুর, খুলনা ও সিলেট অভিমুখে আরও তিনটি লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে।

আগামীকাল শনিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লংমার্চে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। পথসভাগুলো সংক্ষিপ্ত রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম হয়।

গ্যাস সংকটে বাড়ছে বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি

সকাল ৮টা বাজলেই উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে জেসমিন আলমের বাসায় দিনের রান্না শুরু করেন গৃহকর্মী। কিন্তু গ্যাসের চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করেও কোনো কোনো দিন সম্ভব হয় না। দিনের বেশিরভাগ সময় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে চুলা জ্বালানো কঠিন, কখনো আবার গ্যাস থাকেই না।

পরিবারের রান্না চালিয়ে নিতে তাই বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকেছেন জেসমিন।

গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাত হাজার ৫০০ টাকা খরচ করে একটি ইনফ্রারেড কুকার কিনেছেন তিনি। সঙ্গে কিনেছেন রাইস কুকারও। অথচ গ্যাস সংকটের আগে এসব যন্ত্র তার রান্নাঘরে খুব একটা প্রয়োজনই হতো না।

জেসমিনের মতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অনেক পরিবারকেই এখন একই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দিনের বেলা দীর্ঘ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় পাইপলাইনের গ্যাসে অভ্যস্ত পরিবারগুলোকে রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। আর তাতে বাড়ছে বাড়তি খরচও।

গত ২২ জুলাই দেশের ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের পর এই সংকট শুরু হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) এলএনজি সরবরাহ কমে যায়, যা মোট সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ।

এর প্রভাব পড়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায়। দিনের বেলায় বহু বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কমে যায়। চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েক সপ্তাহের এই সংকটে বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের বাজারে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাহিদা।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, দেশে বৈদ্যুতিক কুকারের বার্ষিক বাজার ২০০ কোটি টাকারও কম। তবে সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটে বিশেষ করে ইনফ্রারেড ও রাইস কুকারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আরএফএলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মুর্শিদ মুনিম বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইনফ্রারেড কুকারের চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আর রাইস কুকারের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ।

‘মানুষ গ্যাসের চুলা থেকে বৈদ্যুতিক কুকারের দিকে যেতে শুরু করেছে,’ বলেন তিনি।

ইনফ্রারেড কুকারের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো এতে বাসায় থাকা সাধারণ হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে ইনডাকশন কুকারের জন্য বিশেষ ধরনের হাঁড়ি ও প্যান প্রয়োজন হয়। ফলে ইনডাকশন কুকারের চাহিদা তুলনামূলক ধীরে বেড়েছে বলে জানান মুর্শিদ।

তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় আরএফএল তাদের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়িয়েছে। কিন্তু চাহিদা তার চেয়েও দ্রুত বাড়ায় বাজারে উল্লেখযোগ্য সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আরএফএলের ঘোড়াশালের ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কারখানার উৎপাদনেও।

মুর্শিদের দাবি, সরকার সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে অন্যান্য শিল্পকারখানা প্রয়োজনের তুলনায় কম গ্যাস পাচ্ছে।

তবে বৈদ্যুতিক কুকারের বাজারে কেবল আরএফএল নয়, রয়েছে আরও কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান। ওয়ালটন ও কিয়ামও দেশে বৈদ্যুতিক কুকার তৈরি করে। এ ছাড়া অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান আমদানি করা কুকার বাজারজাত করে।

দেশের বাজারে ওয়ালটন, ভিশন, ভিগো, কিয়াম, গাজী, মিয়াকো ও ফিলিপসের বৈদ্যুতিক কুকার পাওয়া যায়। নোভা ও প্রেস্টিজও এ বাজারে আছে।

সাধারণত ইনফ্রারেড কুকারের দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে। তবে উন্নত বা প্রিমিয়াম মডেলের দাম আরও বেশি।

ওয়ালটন হোম অ্যাপ্লায়েন্সেসের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ-আল-জুনায়েদ বলেন, গ্যাস সংকট ও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তাদের বৈদ্যুতিক কুকারের চাহিদা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

‘চাহিদা স্পষ্টভাবেই বাড়ছে। ভোক্তারা বিকল্প খুঁজছেন। আর বৈদ্যুতিক কুকার সেই বিকল্প হিসেবে নির্ভরযোগ্য সমাধান দিচ্ছে,’ বলেন তিনি।

আবদুল্লাহ জানান, ওয়ালটনের ১২ থেকে ১৫ ধরনের ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড কুকার রয়েছে। এসব কুকারের দাম ৩ হাজার ৭৯০ থেকে ৫ হাজার ৭৯০ টাকার মধ্যে।

তবে বাজারের সব প্রতিষ্ঠানের চিত্র এক নয়।

কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিয়ার রহমান হায়দার বলেন, গ্যাস সংকট তাদের বৈদ্যুতিক কুকারের বিক্রিতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।

‘আমাদের বিক্রি কমবেশি আগের মতোই আছে,’ বলেন তিনি।

কিয়ামের ব্যবসার খুব সামান্য অংশ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামনির্ভর। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রেসার কুকার, ফ্রাই প্যান, ক্যাসেরোল, অ্যালুমিনিয়ামের পণ্য ও হটপট।

‘এসব পণ্যের বাজারই আমাদের জন্য অনেক বড়,’ বলেন হায়দার।

বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বাজারে কিয়ামের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম হওয়ায় গ্যাস সংকটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত এ খাতে চাহিদায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখেনি।

‘দানব’ হালান্ডকে নিজের চেয়ে ‘আলাদা ধাঁচের’ মনে করেন কেইন

শনিবার বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। এই মহারণের আগে প্রতিপক্ষ শিবিরের ‘দানবীয়’ নাম্বার নাইন আর্লিং হালান্ডকে ‘গোলমেশিন’ আখ্যা দিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও কেইন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠে দুজনের খেলার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।

ক্যারিয়ারের প্রথম বড় টুর্নামেন্ট খেলতে নেমেই হুলস্থুল ফেলে দিয়েছেন হালান্ড। প্রথম চার ম্যাচেই করেছেন ৭ গোল, যার মধ্যে রয়েছে ব্রাজিলকে বিদায় করে দেওয়া সেই বিধ্বংসী জোড়া গোল। তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে পা রেখেছে নরওয়ে।

এদিকে ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিনের চেয়ে টুর্নামেন্টে মাত্র ১ গোলে পিছিয়ে আছেন কেইন। এই নিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যাকে ১৪-তে নিয়ে গেলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। 

হালান্ড ও কেইন দুজনেই মূলত স্ট্রাইকার। যাদের ফুটবলীয় ভাষায় বলা হয় ‘নাম্বার নাইন’। তবে দুজনেই একই পজিশনের খেলোয়াড় হলেও ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে কেইন জানালেন তাদের ধরণ আলাদা, ‘আমার মনে হয় আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার খেলোয়াড়। দুজনেই স্ট্রাইকার হলেও মাঠে আমাদের ভূমিকাটা আলাদা।’

হালান্ডকে প্রশংসায় ভাসিয়ে কেইন আরও বলেন, ‘আর্লিং অবিশ্বাস্য। তার গোল করার রেকর্ডই সব বলে দেয়। শারীরিকভাবে সে এক দানব, যেন আস্ত একটা মেশিন। তার ফিনিশিং নিখুঁত ও সর্বোচ্চ মানের।’

নিজের খেলার ধরন নিয়ে ইংলিশ অধিনায়কের মূল্যায়ন, ‘আমিও গোল পাচ্ছি, তবে নিজেকে ওর চেয়ে একটু আলাদা ভাবি। আমি একটু নিচে নেমে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পছন্দ করি, বিল্ড-আপ প্লে-তে জড়িয়ে থাকতে ভালোবাসি। অবশ্য প্রয়োজনে পুরোদস্তুর নাম্বার নাইন হিসেবেও খেলতে পারি।’

নিজেদের মধ্যে কোনো তুলনার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন ফুটবলার ও পেশাদার হিসেবে ওর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা। অবশ্যই চাইব আগামীকাল যেন ওর দিনটি ভালো না কাটে, তবে মানতেই হবে ও একজন অসাধারণ খেলোয়াড়।’

মাঠে গোলের বন্যা বইয়ে দিলেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে হালান্ড ও কেইন দুজনেই কিন্তু এখনো পিছিয়ে আছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের আসরে ইতিমধ্যেই ৮টি করে গোল করে চূড়ায় বসে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে।

এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন কেইন। তবে সেবার সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি তার।

ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের ট্রফি খরা কাটানোই এখন কেইনের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। গোল করার চেয়ে থ্রি লায়নসদের বিশ্বজয়ের মঞ্চে তোলাই তার মূল লক্ষ্য।

কেইন বলেন, ‘বিশ্বমানের স্ট্রাইকাররা গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছেন—এই দিক থেকে এটি একটি দারুণ বিশ্বকাপ হচ্ছে। বড় টুর্নামেন্টে সবসময় এমনটা দেখা যায় না।’

নিজের মানসিকতা নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘এই তীব্র প্রতিযোগিতা আমাকে নিজের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ জোগায়। আরেকটি গোল্ডেন বুট জেতার চেয়ে ট্রফি ছোঁয়াটাই আমার মূল স্বপ্ন। তবে আমি দলের প্রধান স্ট্রাইকার, তাই আমার পা থেকে গোল এলে তা স্বাভাবিকভাবেই দলের স্বপ্নপূরণ সহজ করবে।’

১৯৬৬ সালের পর বড় কোনো শিরোপা না জেতা ইংল্যান্ডকে বারবার সাফল্যের দুয়ারে নিয়ে গেছেন কেইন। গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে গত দুটি ইউরোর ফাইনাল এবং বিগত দুই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ও সেমিফাইনাল থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।

ইতিহাস গড়ার খুব কাছে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের শেষবারের মতো গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার ডাক দিলেন কেইন। কারণ, আর মাত্র আট দিনে তিনটি ম্যাচ জিতলেই সোনালী ট্রফিটা ছোঁয়া সম্ভব।

কেইন বলেন, ‘যতক্ষণ না আমরা ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরছি, ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে এই আলোচনা থামবে না। তবে আমরা এখন দারুণ অবস্থানে আছি। ছয় সপ্তাহ আগে ক্যাম্প শুরুর সময় আমরা ঠিক যেখানে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছিলাম, আজ সেখানেই দাঁড়িয়ে।’

দলের মানসিকতা নিয়ে কেইন আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। অনেক কঠিন মুহূর্ত আর বাধা পেরিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি। এখন স্বপ্নের একদম শেষ আট দিনের লড়াই। ট্রফি জিততে হলে আমাদের প্রত্যেকে জীবনের সেরা পারফরম্যান্সটা উজাড় করে দিতে হবে।’

দীর্ঘদিন পর এক অনুষ্ঠানে শাকিব খান-পূর্ণিমা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও পূর্ণিমা দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

গতকাল শনিবার চ্যানেল আইয়ের বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’-এ দেখা হয় এই দুই তারকার। বহু বছর পর একে অপরকে সামনে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন দুজনই।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শাকিব খানকে দেখে পূর্ণিমা তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শাকিব খানকে আগে যেমন দেখেছেন, তার তুলনায় এখন তাকে আরও ছোট এবং ফিট মনে হচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি জানান, শাকিবের অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা, বিশেষ করে ‘তুফান’ তিনি দেখেছেন এবং তার কাজের প্রশংসাও করেন।

পূর্ণিমা আরও বলেন, একসঙ্গে কাজ করার সময় যদি বর্তমান লুকের শাকিব খানকে পাওয়া যেত, তাহলে তাদের জুটির কাজ আরও ভালো হতো।

একসময় ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি ছিল শাকিব-পূর্ণিমা। ‘আই লাভ ইউ’, ‘মা আমার স্বর্গ’, ‘তুমি কত সুন্দর’ ও ‘বাধা’সহ একাধিক সফল সিনেমায় তারা একসঙ্গে অভিনয় করেন, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

অনুষ্ঠানটিতে দুই তারকার মধ্যে পুরনো দিনের কাজের অভিজ্ঞতা, স্মৃতিচারণ এবং ব্যক্তিগত মুহূর্ত নিয়েও আলাপ হয়। শুটিং সেটের নানা স্মৃতি ও সমসাময়িক চলচ্চিত্র নিয়েও তারা কথা বলেন।

ইরান যুদ্ধে যেভাবে লাভবান হচ্ছে রাশিয়া

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা ও পাল্টা হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত বেসামরিক মানুষ। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতে ঘরছাড়া হয়েছে আরও কয়েক লাখ মানুষ। বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এই যুদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করে দিয়েছে।

তবে অন্তত একটি দেশের জন্য এই বিশৃঙ্খলা নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রথম সপ্তাহ শেষে রাশিয়া প্রাথমিক বিজয়ী হিসেবে সামনে এসেছে।

অন্যরা এই যুদ্ধের খরচ বহন করছে। কিন্তু এর অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে মস্কো।

ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা কয়েকটি দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে একে ‘একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও উসকানিবিহীন সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে।

একইভাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’ বলে সমালোচনা করেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, অঞ্চলটিতে শক্তিশালী মিত্র হারানোর ঝুঁকি থাকলেও স্বল্পমেয়াদে মস্কো এর থেকে লাভবানও হতে পারে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এফপিআরআই) ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের ননরেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো রবার্ট পারসন টাইমকে বলেন, ‘আমরা এখন যা দেখছি তা অনুমান করা কঠিন ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘পুতিন ও তার উপদেষ্টারা সম্ভবত মনে করেছেন, ইরানে যুদ্ধ স্বল্পমেয়াদে রাশিয়ার উপকারে আসবে।’

জ্বালানির উচ্চ মূল্য আর ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বৈশ্বিক মনোযোগ সরে যাওয়া সেই রাশিয়াকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করেন তিনি। এমনিতেও পুতিন এখনই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী নন। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি মধ্যপ্রাচ্যীয় সংঘাতে জড়িয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।

রবার্ট পারসন বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব বিষয় কতটা প্রভাব ফেলেছে আমরা জানি না। তবে আমার ধারণা এগুলো অগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার মধ্যে ছিল।’

ইরান যুদ্ধ থেকে রাশিয়া যেসব উপায়ে লাভবান হতে পারে তা তুলে ধরা হলো।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, সম্পদ জব্দ, তেলের মূল্যসীমা নির্ধারণসহ নানা অর্থনৈতিক চাপ। এগুলোর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ জোগান ঠেকানো।

গত আগস্টে রুশ তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। তার যুক্তি ছিল, ভারত এই তেল কিনতে থাকায় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনকে আলোচনায় আনা যাচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ সপ্তাহে ওই শুল্কের ওপর ৩০ দিনের ছাড় ঘোষণা করেছেন। আরও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় বিবেচনা করছেন।

শুক্রবার ফক্স বিজনেসকে বেসেন্ট বলেন, ‘আমাদের মিত্র ভারত ইতোমধ্যে সমুদ্রে থাকা রুশ তেল কিনতে পারবে। তবে আমরা অন্যদেশে রুশ তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারি।’

বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট আরও বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে স্বল্পমেয়াদি এই ব্যবস্থা রুশ সরকারকে ব্যাপক আর্থিক সুবিধা দেবে না। কারণ এটি কেবল সমুদ্রে আটকে থাকা তেলসংক্রান্ত লেনদেনের অনুমতি।’

তবুও ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের দাবি, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রুশ জ্বালানি পণ্যের চাহিদায় ‘উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি’ ঘটেছে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল রাশিয়ার ওপর। সেইসঙ্গে তেলের দামও ছিল কম। এই দুটির সমন্বয়ে রাশিয়ার জ্বালানি শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত দেখাচ্ছিল।

টাইম জানায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে ইউক্রেনে যুদ্ধে মস্কোর আর্থিক সক্ষমতা সীমিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে, রাশিয়ার ফেডারেল বাজেটে তেল ও গ্যাস থেকে আয় কমে যায় প্রায় ২৫ শতাংশ।

কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমেছে। আর প্রতিনিয়ত হু হু করে দামও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পুরোপুরি লাভবান হওয়ার মতো কয়েকটি তেল উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে একটি রাশিয়া।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে রাশিয়াকে প্রতি ব্যারেল তেল ১০ থেকে ১৩ ডলার কম দামে বিক্রি করতে হতো। কিন্তু এখন তারা প্রতি ব্যারেল চার থেকে পাঁচ ডলার বেশি দামে বিক্রি করছে।

তেলের উচ্চ মূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সরবরাহে বিঘ্ন—এই দুইয়ের সমন্বয় বড় ধরনের আর্থিক লাভ বয়ে আনতে পারে মস্কোর জন্য। অথচ মাত্র এক বছর আগে তাদের তেল ও গ্যাসখাতে আয় ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।

ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করার সক্ষমতা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে টাইম। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মনযোগ সরে যাওয়ায় মস্কো লাভবান হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইউক্রেন। তারা আগেই এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির মধ্যে ছিল। বিশেষ এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাম ইউনিট প্রতি প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

এখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতেও একই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবহার করছে। সুতরাং ইউক্রেনে যোগান কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ কমিশনার আন্দ্রিয়ুস কুবিলিয়ুস শুক্রবার বলেন, ইউক্রেনের পরিস্থিতি ‘সংকটজনক’ এবং ইইউকে ‘অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

কুবিলিয়ুস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের, মধ্যপ্রাচ্যের এবং ইউক্রেনের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে সরবরাহ করতে পারবে না।’

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানায়, শনিবার রাতভর ইউক্রেনের খারকিভ শহরে রাশিয়া অন্তত ৪৫০টি ড্রোন ও ১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হন। এ ঘটনা আকাশপথে হামলায় ইউক্রেনের দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের থেকে যেকোনো মাসের তুলনায় এ বছর ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

এএফপি জানায়, ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইউক্রেনে। জানুয়ারিউতে ছুড়েছিল ১৩৫টি। অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিমাণ প্রায় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে।

একই সময়ে ধুকতে থাকা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে তাদের নিজস্ব সস্তা ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি দিয়ে ইউক্রেন সহায়তা করবে।

বৃহস্পতিবার এক্সে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইরানের ড্রোন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় নির্দিষ্ট সহায়তার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনুরোধ পেয়েছি।’

তিনি জানান, ‘ইউক্রেনীয় উপদেষ্টা ও প্রযুক্তি শিগগিরই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানো হবে। যারা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে, আমরাও তাদের সহায়তা করি।’

টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইরানে তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে রাশিয়া। মূলত বাধ্য হয়ে ইউক্রেন ‘স্টিং’ নামে সস্তা ড্রোন তৈরি করেছে। এগুলো পাইলটরা নিয়ন্ত্রণ করে শাহেদ ড্রোনের সঙ্গে ধাক্কা লাগিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্ট ও এপিসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়া মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পর্কে লক্ষ্যভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে ইরানকে। আবার সেই তথ্য কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনাও দিচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য পোস্ট জানায়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদের অবস্থান সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে—এ কথা অস্বীকার করেননি। তবে তারা এর প্রভাব ও সামরিক অভিযানে ক্ষতি করার সক্ষমতাকে খাটো করে দেখিয়েছেন।

সিবিএস নিউজ রাশিয়ার তথ্য কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করতে ইরানকে সহায়তা করেছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘কেউ আমাদের বিপদে ফেলছে না।’

পেন্টাগন প্রধান আরও বলেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা এর মোকাবিলা করছি। আমাদের কমান্ডাররা এসব বিষয় বিবেচনায় রাখেন। তবে এখন ইরানিদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত, যারা মনে করছে তারা বেঁচে থাকবে।’

এ সপ্তাহের শুরুতে ফক্স নিউজের প্রতিবেদক পিটার ডুসি ইরানকে রাশিয়ার সহায়তার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প বিরক্ত হয়ে ওঠেন।

ট্রাম্প ডুসিকে বলেন, ‘আমি আপনাকে অনেক সম্মান করি, আপনি সবসময় আমার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এই সময়ে এমন প্রশ্ন করা বোকামি। আমরা এখন অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলছি।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ফেলো পারসন টাইমকে বলেন, ইরানকে সহায়তা করার রুশ প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড় পরিকল্পনার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনকে জটিল বা দুর্বল করে দেওয়ার যেকোনো পদক্ষেপই আপেক্ষিক ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকে মস্কোর পক্ষে নিয়ে যায়।

ঈদযাত্রা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। রেল সূত্র জানিয়েছে, এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে।

সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে অঞ্চল ভেদে দুটি ভিন্ন সময়ে টিকিট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের টিকিট দুপুর ২টা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রীরা ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।

আজ পাওয়া যাচ্ছে ১৩ মার্চের টিকিট। ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ মার্চ যথাক্রমে ১৪ থেকে ১৯ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে। ১৩ মার্চ থেকে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

সেদিন ২৩ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে। ১৪ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত যথাক্রমে ২৪ থেকে ২৯ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে।

ঈদযাত্রায় বাড়তি চাপ সামাল দিতে পাঁচ জোড়া বা ১০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ থেকে ৪৭টি অতিরিক্ত মিটারগেজ কোচ সার্ভিসে যুক্ত করা হবে।

আগামী ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদের জামায়াত উপলক্ষে ভৈরব বাজার-কিশোরগঞ্জ রুটসহ মোট পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।

অতিরিক্ত যাত্রী বিবেচনায় নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বহাল রাখা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর আব্দুল গণি রোডের রেলভবনে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন, এই যাত্রীরা এসি বা প্রথম শ্রেণির কামরায় ভ্রমণ করতে পারবেন না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাশকতা প্রতিরোধ ও টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

অনলাইনে সাধারণ যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহ নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন করতে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা ও ব্যবহারবিধি কার্যকর করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

নতুন নিয়ম অনুসারে, কোনো ব্যবহারকারী একই ইউআরএলে এক মিনিটের মধ্যে ১০ বার বা তার বেশি রিকোয়েস্ট পাঠালে তাকে সাময়িকভাবে পাঁচ মিনিটের জন্য ব্লক করা হবে।

টিকিট বিক্রির সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে সহজ, সিনেসিস ও ভিনসেন জেভি। তাদের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেখা গেছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ১৫ মিনিটের মধ্যে কোনো ব্যবহারকারী তিনবার বা তার বেশি সিট সিলেকশন করলে তার সিট সিলেকশন সুবিধা সাময়িকভাবে এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে।

এদিকে দূরপাল্লার বাসের আগাম টিকিটও আজ থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। যাত্রীরা ১২ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কাউন্টার ও অনলাইনে যেকোনো দিনের টিকিট কিনতে পারবেন।

ছবি আসল, নাকি এআই দিয়ে তৈরি? বুঝবেন যেভাবে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি দেখলেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাঘ রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড়। ছবিটি দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন, কেউ আবার শেয়ারও করছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর জানা গেল, ঘটনাটি আদৌ ঘটেনি। পুরো ছবিটিই তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে।

একসময় এআই দিয়ে তৈরি ছবি চেনা তুলনামূলক সহজ ছিল। মানুষের হাতে ছয়টি আঙুল, অস্বাভাবিক চোখ কিংবা মুখ দেখে সন্দেহ করা যেত। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এসব ভুল অনেকটাই কমে এসেছে। এখন এমন সব ছবি তৈরি হচ্ছে, যেগুলো দেখে বাস্তব ছবি থেকে আলাদা করা বেশ কঠিন। তাই কোনো ছবি দেখে বিশ্বাস করার আগে একটু যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে কোনো দুর্ঘটনা, রাজনৈতিক ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা পরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ছবির ক্ষেত্রে। কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে সন্দেহজনক ছবি শনাক্ত করা এবং তার সত্যতা যাচাই করা কিছুটা সহজ হতে পারে।

এআই দিয়ে তৈরি অনেক ছবিতে মানুষ, ভবন কিংবা আশপাশের পরিবেশ অস্বাভাবিক রকম পরিষ্কার ও নিখুঁত দেখায়। যেমন: ব্যস্ত একটি বাজারের ছবিতে কোথাও ময়লা নেই, রাস্তা চকচকে পরিষ্কার, দোকানের জিনিসপত্রও সুন্দরভাবে সাজানো। কিংবা একজন মানুষের মুখে ত্বকের স্বাভাবিক গঠন, দাগ বা বলিরেখা প্রায় নেই। সবকিছু যেন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কখনো ছবির আলোও অস্বাভাবিক সুন্দর দেখায়। সাধারণ একটি রাস্তা কিংবা অফিসের দৃশ্যেও এমন আলো-ছায়া দেখা যায়, যেন পেশাদার কোনো বিজ্ঞাপনের জন্য ছবিটি তোলা হয়েছে। ছবির রং অতিরিক্ত উজ্জ্বল কিংবা সব বস্তুর গঠন একই রকম মসৃণও মনে হতে পারে।

এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবিতে দৃশ্যের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে বেশি লেখা বা বর্ণনা দেখা যায়। যেমন, একটি স্কুলের সামনের দৃশ্যে বড় করে স্কুলের নাম লেখা, রাস্তার ছবিতে জায়গার পরিচয় অতিরিক্ত স্পষ্ট করে দেখানো কিংবা কোনো ঘটনার ছবিতে এমন লেখা থাকা, যা দেখে সঙ্গে সঙ্গেই বোঝা যায় কী ঘটছে। অনেক সময় মনে হয়, ছবিটি শুধু কোনো দৃশ্য দেখাচ্ছে না, বরং দর্শককে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে দৃশ্যটি কীসের। ছবির বিভিন্ন অংশে এমনভাবে নামফলক, নির্দেশনা বা পরিচয় তুলে ধরা হয়, যেন কোনো কিছুই দর্শকের অনুমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ ধরনের অতিরিক্ত ব্যাখ্যামূলক উপস্থাপনা চোখে পড়লে ছবিটি আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

কোনো ছবিতে হাতের গঠন অস্বাভাবিক মনে হলে ভালো করে দেখুন। বিশেষ করে একাধিক মানুষ থাকলে সবার হাত ও আঙুল খেয়াল করতে পারেন। হাতের সঙ্গে কবজির সংযোগ, আঙুলের অবস্থান কিংবা কোনো বস্তু ধরে রাখার ভঙ্গিও পরীক্ষা করুন।

আমরা সাধারণত ছবির মূল বিষয়টির দিকেই বেশি মনোযোগ দিই। কিন্তু অনেক সময় ছবির পেছনের দৃশ্যে অসংগতি থেকে যায়। ধরুন, একটি ছবিতে কয়েকজন মানুষ রাস্তায় হাঁটছেন। তাদের পেছনে থাকা কারও মুখ অস্বাভাবিক দেখাচ্ছে। কিংবা রাস্তার একটি গাড়ির চাকা ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছে না। কোথাও একটি বস্তু অন্যটির সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে। একই ছবিতে কয়েকজন মানুষের মুখের গঠন বা পোশাকের ধরন অস্বাভাবিকভাবে একই রকমও দেখা যেতে পারে। কখনো সারিবদ্ধ জানালা, দরজা কিংবা সিঁড়ির গঠনেও অসংগতি থাকে। তাই সন্দেহ হলে ছবিটি বড় করে পেছনের মানুষ, যানবাহন, ভবন কিংবা অন্যান্য ছোটখাটো বিষয় দেখুন।

ছবির মধ্যে থাকা লেখা যাচাই করাও একটি উপায়। বিশেষ করে দোকানের সাইনবোর্ড, গাড়ির নম্বরপ্লেট, পোস্টার কিংবা পোশাকের ওপর লেখা খেয়াল করুন। এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবিতে অক্ষর এলোমেলো হতে পারে। কোথাও শব্দের বানান ভুল, কোথাও একই অক্ষর বারবার এসেছে। আবার এমন লেখাও দেখা যেতে পারে, যার কোনো অর্থ নেই। বাংলা লেখার ক্ষেত্রেও অক্ষরের গঠন, যুক্তবর্ণ কিংবা বানানে অসংগতি চোখে পড়তে পারে। ছবিতে একাধিক জায়গায় একই প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকলে সেগুলো মিলিয়ে দেখুন।

ছবির আলো ও ছায়া খেয়াল করেও কিছু অসংগতি শনাক্ত করা সম্ভব। যেমন, সূর্যের আলো একদিক থেকে এলে মানুষ ও বস্তুর ছায়া সাধারণত সেই আলোর বিপরীত দিকে পড়ে। কিন্তু এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবিতে আলোর উৎস ও ছায়ার মধ্যে অসংগতি দেখা যেতে পারে। একই ছবিতে একজনের ছায়া একদিকে, অন্যজনের ছায়া সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে পড়ছে। কিংবা আয়নায় কোনো বস্তুর প্রতিফলন বাস্তব অবস্থানের সঙ্গে মিলছে না। ছবিতে আয়না, জানালার কাচ কিংবা পানিতে প্রতিফলন থাকলে সেগুলোও খেয়াল করুন। কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতিফলনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আছে কি না, দেখুন।

এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবিতে একই ধরনের বস্তু বা অবয়ব অস্বাভাবিকভাবে বারবার দেখা যেতে পারে। যেমন, একটি ভিড়ের ছবিতে কয়েকজন মানুষের মুখ প্রায় একই রকম। কিংবা বাজারের দোকানে একই ধরনের ফল বা পণ্যের বিন্যাস বারবার দেখা যাচ্ছে। কখনো ভবনের জানালা, রাস্তার বাতি কিংবা আসবাবের নকশাও অস্বাভাবিকভাবে পুনরাবৃত্ত হতে পারে। বিশেষ করে অনেক মানুষ বা বস্তু রয়েছে, এমন ছবিতে এসব বিষয় খেয়াল করুন।

কোনো ছবি সন্দেহজনক মনে হলে গুগল লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। এটি দিয়ে ছবির সঙ্গে মিল আছে, এমন অন্যান্য ছবি ও ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায়। মুঠোফোনে ছবিটি সংরক্ষণ করে গুগল লেন্সে অনুসন্ধান করুন। একই ছবি আগে কোথাও প্রকাশিত হয়েছে কি না, দেখুন। ছবিটি কোনো পুরোনো ঘটনার কি না কিংবা অন্য দেশের ছবি নতুন ঘটনার নামে ছড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিও বোঝা যেতে পারে। ধরুন, একটি ছবি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার বলে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেল, একই ছবি কয়েক বছর আগে অন্য একটি দেশের ঘটনার সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল। সেক্ষেত্রে ছবিটির সঙ্গে দেওয়া দাবি যে বিভ্রান্তিকর, তা বোঝা যায়।

শুধু ছবির ভেতরে ভুল খোঁজার চেয়ে ছবিটির উৎস যাচাই করা অনেক সময় বেশি কার্যকর। ছবিটি কে প্রকাশ করেছেন? কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে কি? যিনি ছবিটি তুলেছেন বলে দাবি করছেন, তার পরিচয় জানা যাচ্ছে কি? একই ঘটনার অন্য কোনো ছবি বা ভিডিও আছে? বিশেষ করে বড় কোনো ঘটনা নিয়ে একটি মাত্র ছবি ছড়িয়ে পড়লে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ঘটনার স্থান, সময় ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে খোঁজ নিন। কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ছবি ছড়ালে তাদের যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতা কিংবা আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটেও খুঁজতে পারেন।

ডিজিটাল ছবির সঙ্গে কখনো কখনো কিছু প্রযুক্তিগত তথ্য সংযুক্ত থাকে। যেমন, কোন যন্ত্রে ছবি তোলা হয়েছে, কখন তৈরি হয়েছে কিংবা কোন সফটওয়্যারে সম্পাদনা করা হয়েছে। কিছু এআই প্রযুক্তি ছবিতে বিশেষ শনাক্তকারী তথ্যও যুক্ত করে। এ ধরনের তথ্য পরীক্ষা করার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন, কনটেন্ট ক্রেডেনশিয়ালস যাচাইয়ের মাধ্যমে কোনো ছবির উৎস ও সম্পাদনার ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যদি সেই তথ্য সংযুক্ত থাকে। এ জন্য কনটেন্ট ক্রেডেনশিয়ালসের যাচাইয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে ছবি আপলোড করে সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় কি না, দেখা সম্ভব।

অনলাইনে এমন কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখানে ছবি আপলোড করলে সেটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা জানানো হয়। এসব ওয়েবসাইট ছবির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে একটি ফলাফল দেয়। সন্দেহজনক কোনো ছবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারেন। প্রয়োজনে একাধিক শনাক্তকারী ব্যবস্থার ফলাফল তুলনা করে দেখুন। ব্যক্তিগত বা গোপনীয় ছবি অপরিচিত ওয়েবসাইটে আপলোড করার আগে সতর্ক থাকুন। ওয়েবসাইটটি ছবির তথ্য কীভাবে ব্যবহার বা সংরক্ষণ করে, তা জেনে নেওয়া ভালো।

মনে রাখতে হবে, এসব লক্ষণ এআই দিয়ে তৈরি ছবি শনাক্ত করার সূত্র হতে পারে, কিন্তু নিশ্চিত প্রমাণ নয়। ক্যামেরার কোণ, আলো, ছবির মান কিংবা সম্পাদনার কারণে বাস্তব ছবিতেও অস্বাভাবিক কিছু দেখা যেতে পারে। আবার বাস্তব ছবিতে সাইনবোর্ড বা নামফলকের মাধ্যমে জায়গার পরিচয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হতে পারে। অন্যদিকে, উন্নত এআই প্রযুক্তি এখন মানুষের হাত, মুখ, আলো-ছায়া এমনকি ছবির লেখাও অনেক নিখুঁতভাবে তৈরি করতে পারে। ফলে কোনো ছবিতে এসব অসংগতি না থাকলেও সেটি এআই দিয়ে তৈরি হতে পারে। একইভাবে এআই শনাক্তকারী ওয়েবসাইটও ভুল ফলাফল দিতে পারে। ছবির সঙ্গে থাকা প্রযুক্তিগত তথ্য অনুপস্থিত থাকতে পারে কিংবা পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে। তাই শুধু একটি লক্ষণ বা একটি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে একাধিক উপায়ে যাচাই করা জরুরি।

কোনো ছবি দেখে অবাক হওয়া, ভয় পাওয়া কিংবা রাগ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আবেগ তৈরি করে এমন ছবিই অনেক সময় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যাচাই করার আগেই অসংখ্য মানুষ সেটি শেয়ার করে ফেলেন। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তিকে অপদস্থ করা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করা কিংবা দুর্ঘটনা সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো ছবি দেখলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ছবিটি সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে সেটিকে সত্য ঘটনা হিসেবে অন্যদের কাছে পাঠাবেন না। প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন খুঁজে দেখতে পারেন।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, সব বিভ্রান্তিকর ছবি এআই দিয়ে তৈরি নয়। বাস্তব ছবিও সম্পাদনা করে, ভুল বর্ণনা দিয়ে কিংবা পুরোনো ঘটনার ছবি নতুন বলে প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। আবার এআই দিয়ে তৈরি সব ছবির উদ্দেশ্যও মানুষকে প্রতারিত করা নয়। বিনোদন, শিল্পকর্ম, বিজ্ঞাপন কিংবা সৃজনশীল কাজেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তাই কোনো ছবি দেখেই সেটিকে আসল বা নকল ঘোষণা করার চেয়ে ছবিটির উৎস, প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহ হলে যাচাই করুন, আর নিশ্চিত না হলে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

বিএনপির নেতাদের ‘অভিনন্দন বার্তা’ দিলেন ৩ ভিসি, নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিতর্কের মধ্যেই অন্তত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিএনপি নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

গত মাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এ ধরনের ‘অভিনন্দন বার্তা’ দিতে দেখা গেছে।

কোনো সাংবিধানিক বা রাষ্ট্রীয় পদের কাউকে নয়, বরং বিএনপির দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া নেতাদের অভিনন্দন জানান তারা। এসব ‘অভিনন্দন বার্তা’ প্রকাশ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্যাডে এবং জনসংযোগ দপ্তরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে।

শিক্ষক সংগঠনের নথিপত্রে দেখা যায়, তিন উপাচার্যই আগে বিএনপি সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় দায়িত্বে ছিলেন।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ বলেন, উপাচার্যদের এমন বার্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দলীয় প্রভাব ফেলছে কি না, সে প্রশ্ন তোলে।

তারা আরও বলেন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু তা প্রকাশ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা উচিত নয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ১৬ মার্চ থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

মার্চে সরকার ৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়।

বিএনপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও বিএনপি সমর্থিত সংগঠনগুলোর নথিপত্র অনুযায়ী, এই ৮ জনেরই বিএনপি সমর্থিত সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল এবং তাদের কয়েকজনের দলীয় পদও ছিল।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়। আর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য অধ্যাপক মামুন আহমেদকে ইউজিসির চেয়ারম্যান করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানকে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়েছে। তিনি জিয়া পরিষদের সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উপদেষ্টা ছিলেন বলে রাবি সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন সেসময় এই নিয়োগগুলোর পক্ষে সাফাই গেয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘কোনো ব্যক্তির রাজনীতিতে যুক্ত থাকা কি অপরাধ?’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের মনোনীত করা হয়েছে তাদের গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

গত ১৪ মে বিএনপি সরকার ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে পরিবর্তন আনে, যাদের অন্তত ১০ জনই বিএনপি সংশ্লিষ্ট বলে শিক্ষকদের সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদগুলোতে পরিবর্তনের পর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি অভিযোগ করে, এই নিয়োগগুলোতে যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্য ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেও এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক যোগাযোগই প্রধান বিবেচনা ছিল বলে অভিযোগ আছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দ্য ডেইলি স্টারের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেওয়া ৪৭ জন উপাচার্যের মধ্যে অন্তত ৩০ জন বিএনপি বা জামায়াত সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

৪০ জন উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষদের মধ্যে ১৮ জনের একই ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল।

পরে সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বীকার করেন, কিছু নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ‘মৃদু’ বা ‘নিষ্ক্রিয়’ বিএনপি সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

তিনি তখন বলেছিলেন, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি এক শীর্ষ বিএনপি নেতার কাছে সুপারিশ চেয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বিবেচনার বাইরে রেখেছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপাচার্য নিয়োগের প্রধান মানদণ্ডই ছিল রাজনৈতিক পরিচয়। ২০২২ সালে দ্য ডেইলি স্টারের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৪৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মধ্যে ৩৯ জনই সরকার সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের পদে ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের সঙ্গে যুক্ত ১২ জন শিক্ষক উপাচার্য হয়েছিলেন।

তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কর্মসূচির জন্যও অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হতো। রাবিতে ২০২২ সালে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়, আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (বর্তমানে ভারতে পলাতক) জন্মদিন উদযাপন করে।

২০১৯ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়ে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে অভিনন্দন বার্তা

রুহুল কবির রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান গত ২০ আগস্ট জাবি জনসংযোগ অফিসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান।

বার্তায় অভিনন্দনের পাশাপাশি রিজভীর ‘নতুন দায়িত্বে সফলতা’ কামনা করেন জাবির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাবেক সভাপতি কামরুল। তার নেতৃত্বে দল আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাবি উপাচার্য।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দ্য ডেইলি স্টারকে অধ্যাপক কামরুল বলেন, বার্তাটি ফেসবুকে প্রকাশের সময় তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন এবং বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি তা সরিয়ে নেন।

২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ‘ব্যক্তিগত অভিনন্দন বার্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা রাখা উচিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে চলা উচিত,’ বলেন তিনি।

এদিকে, গত ১৭ আগস্ট গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাত বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মাধ্যমে এক বার্তা দিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় চার নেতাকে অভিনন্দন জানান।

বার্তায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তাদের অভিজ্ঞতা এই দায়িত্ব পালনে বিশেষ সহায়ক হবে।

নথি অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই গোবিপ্রবির উপাচার্য হন সাদাত। এর আগে, তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২৫ আগস্ট তাকে গোবিপ্রবির উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং এই ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তর থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ পদায়নের ক্ষেত্রে অভিনন্দন জানানো উচিত কি না—জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে যান। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি মানুষ। আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আছে।’

অন্যদিকে, বিএনপি নেতা ফরহাদ হালিম ডোনার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।

অভিনন্দন বার্তা দিতে তিনি ব্যবহার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাড। রেজাউল বিএনপি সমর্থিত একটি শিক্ষক সংগঠনের সভাপতিও ছিলেন। বার্তায় ফরহাদ হালিমকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান রেজাউল।

রাজনৈতিক নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাড ব্যবহার করে অভিনন্দন জানানোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে তাকে ফোন করা হলে রিসিভ করেননি তিনি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালেও উত্তর দেননি।

নৈতিকতার লঙ্ঘন

উপাচার্যদের এ ধরনের অভিনন্দন বার্তাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতার লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের এমন বার্তা দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, ‘উপাচার্য নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা নতুন কিছু নয় এবং এটি পাকিস্তান আমল থেকেই চলছে। তবে আগে এগুলো এত স্পষ্ট বা প্রত্যক্ষ ছিল না।’

‘সমস্যা তখনই দেখা দেয় যখন কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই এগুলো প্রকাশ্যে করা হয়,’ বলেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মো. তানজীমউদ্দীন খানের মতে, বিষয়টি ক্ষমতার কেন্দ্রে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ধরে রাখা এবং ‘তোষামোদের’ সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইউজিসির সাবেক এই সদস্য প্রশ্ন তোলেন, ‘ওই দলের সঙ্গে যুক্ত কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী অপরাধ করলে উপাচার্য কি ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারবেন?’

‘আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদায়ন, নিয়োগ বা অন্য কোথাও চরম দলীয় আচরণ থাকবে না। তবে ঘটনাগুলো দেখে মনে হচ্ছে সব আবার পুরোনো পথেই ফিরে যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।

নিম্নমানের খেজুর, নষ্ট কমলা-পেঁয়াজসহ বন্দরে পড়ে থাকা ৩ হাজার টন পণ্য ধ্বংস

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলাম-অযোগ্য, নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ ১২৬ কনটেইনারে রক্ষিত মোট ৩ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনের নির্ধারিত স্থানে এসব পণ্য ধ্বংস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ধ্বংসযোগ্য পণ্যের মধ্যে আছে ৩৪ কনটেইনার নিম্নমানের খেজুর, ৪০ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশ, ১৮ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইম স্টোন এবং অন্যান্য পচনশীল ও নষ্ট পণ্য যেমন—কমলা, পেঁয়াজ, কাজুবাদাম (কেশনাট) ইত্যাদি।

ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, আনসার সদস্য ও স্থানীয় বন্দর থানা পুলিশের একটি দল সরেজমিনে উপস্থিত থেকে পুরো ধ্বংসকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

পচনশীল ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের এ কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট নিরসনে অত্যন্ত কার্যকর অবদান রাখবে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।