27 C
Dhaka
Home Blog

অস্ট্রেলিয়া সরকারের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছিল ওপেনএআই, জানালেন আলবানিজ

অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটি ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিবিসি বলছে, এটিকে বিশ্বের প্রথম প্রকাশ্যে জানানো কোনো সরকারি ওয়েবসাইটে এআই-চালিত সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার পর এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা আলবানিজ গতকাল এ ঘটনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি ‘স্পষ্টতই অগ্রহণযোগ্য’।

আলবানিজ জানান, তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারকে ঘটনাটি জানাতে ওপেনএআইয়ের অনেক বেশি সময় নেওয়া এবং যেভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে, তাতেও তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

তবে গতরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন কি না, তা জানাননি আলবানিজ।

অতি সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত: ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী

আলবানিজের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন রিচার্ড মার্লেস। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তার তথ্য একটি দুর্গের মতো নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে রাখি।’

তবে এবারের ঘটনায় যেসব তথ্যের নাগাল পাওয়া গেছে, সেগুলো তুলনামূলকভাবে কম সুরক্ষিত একটি ব্যবস্থার মধ্যে ছিল বলে জানান তিনি।

মার্লেস বলেন, ‘এআই এজেন্টটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা টপকে ঢুকে পড়েছিল। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি অনিচ্ছাকৃত ছিল। এজেন্টটিকে এমনটা করতে বলা হয়নি।’

কীভাবে ঘটল

ওপেনএআই জানিয়েছে, গত জুনে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণার সময় এ ঘটনা ঘটে। তখন এআই এজেন্টটি অস্ট্রেলিয়া সরকারের বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটে থাকা ফাইলের নাগাল পায়।

এর মধ্যে দেশটির সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মেডিকেয়ারের এমন কিছু তথ্যও ছিল, যা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল না।

ওপেনএআই বলেছে, আগস্টের আগে তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেনি। পরে ১০ সেপ্টেম্বর তারা অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংস্থা সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়াকে বিষয়টি জানায়। তবে এজন্য সংস্থাটির সাধারণ জিজ্ঞাসা গ্রহণের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়। কয়েক দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, এআই এজেন্টটি কোনো সংবেদনশীল ফাইলে প্রবেশ করেনি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক এবং এর বিষয়ে ওপেনএআইয়ের প্রতিক্রিয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে।

‘সতর্ক’ হওয়ার সময় এসেছে

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের ইনস্টিটিউট ফর সাইবার সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হ্যামন্ড পিয়ার্স বিবিসিকে বলেন, প্রকাশ্যে জানানো তথ্য অনুযায়ী এটি এআই এজেন্টের মাধ্যমে সংঘটিত এ ধরনের প্রথম ঘটনা।

এর আগে ‘বেপরোয়া আচরণ’ করা এআই এজেন্টের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা জানলেও, সংবেদনশীল সরকারি তথ্যের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে কোনো এআই এজেন্টের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানান তিনি।

পিয়ার্স বলেন, এ ধরনের হামলা ভবিষ্যতে আরও ঘটতে পারে এবং সেগুলোর মাত্রা ও সংখ্যা দুটিই বাড়তে পারে।

ওপেনএআইয়ের ব্যাখ্যা

এক বিবৃতিতে ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন মডেল কার্যক্রম’ নিয়ে চলমান একটি বিস্তৃত পর্যালোচনার সময় ঘটনাটি শনাক্ত করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অস্ট্রেলিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও উন্মুক্ত পরিসংখ্যান খুঁজতে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সময় তাদের মডেলগুলো অস্ট্রেলিয়া সরকারের কয়েকটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে। ওই প্রক্রিয়ায় মডেলগুলো এমন কিছু কাজ করে, যা ওপেনএআইয়ের উদ্দেশ্য ছিল না।

ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, রোগীদের তথ্যে প্রবেশ বা সংগ্রহের কোনো রেকর্ড তারা পায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও মোকাবিলায় তদন্তকারীদের কারিগরি তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তাদের সামগ্রিক পর্যালোচনা এখনো চলছে এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্য প্রকাশ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারলেই গণতন্ত্র টিকবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতনের পর দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে দীর্ঘ সংগ্রাম ও লড়াই হয়েছে। এই সংগ্রাম ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। দেশে নতুন একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্ভাবনাটি হলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করা।’

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি আজ এই কথা বলেন।

গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র যদি চলে, তবে বাকি কাজগুলো এমনিতেই হয়ে যায়। আমরা যদি প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ তৈরি করতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে। প্রশাসনকে যদি দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি, তবে রাষ্ট্র উপকৃত হবে। আর সংসদের কমিটিগুলোকে যদি সক্রিয় ও কার্যকর করতে পারি, তবে গণতন্ত্র অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে সমস্যার শেষ নেই। সমস্যা থাকবে, বিরোধিতা থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, আন্দোলনও হবে—কিন্তু এর মধ্য দিয়েও যদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারি, তবেই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে পারব।

ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘পাশের দেশ ভারতের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের অনেক সমস্যা। সমস্যার কোনো শেষ নেই। তার পরও দিন শেষে তাদের গণতন্ত্র টিকে যায়। টিকে যায় এই কারণে যে তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে গেছে। তাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন, প্রশাসন দক্ষ এবং মিডিয়া শক্তিশালী।’

উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা বিষয় সব সময় ধরে রাখার চেষ্টা করবেন, আর সেটি হচ্ছে আইনের শাসন ও ইনসাফ। এ দুটিকে যদি ধরে রাখতে পারি, তবে সমাজকে অনেকটাই এগিয়ে নিতে পারব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেশ কিছু সময় ধরে আমরা এই জায়গাগুলো থেকেই বঞ্চিত হয়েছি।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব পুরো ঠাকুরগাঁওকে একটি উন্নয়নের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি পূরণ হয়েছে, মেডিকেল কলেজও হয়ে গেছে। শহরের চারদিক দিয়ে রিং রোড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা ঠাকুরগাঁও শহরের একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে চাই। এখানে একটি কালচারাল কমপ্লেক্স হচ্ছে।’

জলাবদ্ধতা দূর করতে রামদাঁড়া খাল খনন করে সেগুনবাগান সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশে দারিদ্র্য বড় প্রকট, বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ে। এখানে কোনো কলকারখানা নেই। আমরা এখানে শিল্পায়ন গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।’

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইউসূফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শেখ ফরিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী ও আইনজীবী আবদুল হালিম প্রমুখ।

নিত্যপণ্যের আগাম সংকট শনাক্ত করবে এআই: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে তথ্য বিশ্লেষণে এআইভিত্তিক (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বর্তমানে কৃষি, খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে কাজ করছে। এসব পণ্যের কোনটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, কোনটি আমদানিনির্ভর ও কোনটির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় রয়েছে—তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অনেক সময় সরবরাহ সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি উৎসে সমস্যা তৈরি হলে যাতে হঠাৎ সরবরাহ ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

‘কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সরকার ভর্তুকি দিয়ে কমাবে কি না, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যেন বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য,’ যোগ করেন তিনি।

মুক্তাদির আরও বলেন, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন, মৌসুমি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়মিত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কোনো বছর দেশে ডালের উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ফসল ঘরে ওঠার আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। একইসঙ্গে বিশ্বের যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেসব দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি ও রপ্তানি সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

‘আমাদের জানতে হবে—কোন সময় কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। কোন দেশ থেকে কখন আমদানি করলে ভালো হবে এবং কোন বাজারে দাম তুলনামূলক সুবিধাজনক থাকবে।’

এ লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা ১০ বছরের বাজার তথ্য, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সভা করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। এআইভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ পাওয়া সম্ভব হবে। এআই ব্যবস্থা আগাম জানাতে পারবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করা সুবিধাজনক হবে, কোন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা কতটুকু রয়েছে এবং কখন ক্রয় করলে বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে।

জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হার বাংলাদেশের

তাওহিদ হৃদয় ও তানজিদ হাসান তামিমের দুটি লড়াকু অর্ধশতকও রক্ষা করতে পারল না বাংলাদেশকে। জয়ের পথে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল টাইগাররা, কিন্তু শেষ দিকে ভয়াবহ ব্যাটিং ধসে হার মেনে নিতে হয়েছে তাদের। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

বৃহস্পতিবার হারারের হারারে স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৩ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

হৃদয় ৯০ বলে ৬০ এবং তানজিদ ৭০ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন। উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানও ৩৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। তবে অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার বলে সোহান আউট হওয়ার পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ চার উইকেট মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে হারিয়ে হারের বৃত্তেই আটকে যায় টাইগাররা।

সাত নম্বরে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজ ২৭ রান করলেও শেষ দিকে এনগারাভার শিকার হন। তিন উইকেট নেওয়া এই পেসারের দারুণ বোলিংয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। ২০২২ সালের পর টানা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল আফ্রিকার দলটি।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে একসময় ৩৬.৪ ওভারে ১৪৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে ওপেনার বেন কারান ও ব্র্যাড ইভান্স অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রানের জুটিতে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন।

কারান ১৩৫ বলে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৯টি চার। অন্যদিকে ইভান্স মাত্র ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করেন, মারেন ২টি চার ও ৫টি ছক্কা। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের শেষ ওভারে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন তিনি। জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে তোলে ২৪৭ রান।

বাংলাদেশের হয়ে শুরুটা দারুণ করেছিলেন তাসকিন। নিজের প্রথম দুই ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে শূন্য এবং ইনোসেন্ট কাইয়াকে ৪ রানে ফেরান। পরে নাহিদ রানা ফিরিয়ে দেন ক্রেইগ আরভিনকে (৯)।

মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়েসলি মাধেভেরেকে (১৫) আউট করে জিম্বাবুয়েকে ৬৬/৪-এ নামিয়ে আনেন। এরপর কারান ও সিকান্দার রাজা পঞ্চম উইকেটে ৬৮ রান যোগ করেন। রাজা ৩৩ রান করে আউট হন। মিরাজ ও রিশাদ হোসেন আরও একটি করে উইকেট নিলেও শেষ জুটির ঝড়ে বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।

জবাবে শুরুতেই সৌম্য সরকার (৫) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৯) ফিরে গেলে ৩৮ রানেই ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তানজিদ ও হৃদয়ের ৮৪ রানের জুটি দলকে ম্যাচে ফেরায়। তানজিদের বিদায়ের পর হৃদয় ও সোহান চতুর্থ উইকেটে আরও ৪৭ রান যোগ করেন। কিন্তু হৃদয়ের আউটের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের হয়ে এনগারাভা নেন ৩ উইকেট। ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স শিকার করেন দুটি করে উইকেট।

প্রথম ওয়ানডেতেও ২৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে শনিবার একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন শুধুই নিয়মরক্ষার লড়াই।

পাপারাজ্জিদের আচরণে ক্ষুব্ধ সালমান খান

বলিউড অভিনেতা সালমান খান মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালের বাইরে পাপারাজ্জিদের আচরণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দেন।

বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে সালমান খান মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে কাউকে দেখতে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

এ সময় হাসপাতালের বাইরে জড়ো হওয়া ফটোগ্রাফাররা তার আসন্ন সিনেমা মাতৃভূমি নিয়ে বারবার চিৎকার করতে থাকেন। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এমন পরিস্থিতিতে সালমান খান বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ঘটনার পর ইনস্টাগ্রামে একাধিক পোস্টে সালমান লেখেন, আমি সবসময় প্রেসের লোকদের সম্মান করেছি। তাদের পাশে থেকেছি। কিন্তু হাসপাতালে আমার কষ্টকে উপভোগ করতে দেখলে বিষয়টি ভালো লাগার পর্যায়ের থাকে না।

আরেক পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, তারা আমার কষ্টকে টাকা আয়ের উপায় বানাতে চাই।

তিনি প্রশ্নে তোলেন, এমন সংবেদনশীল মুহূর্তে সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। নিজের পরিবারের কাউকে হাসপাতালে দেখতে গেলে সাংবাদিকরা এমন আচরণ করলে কেমন লাগে?

এক পোস্টে সালমান খান লেখেন, আমার বয়স এখন ষাট, কিন্তু লড়াই করতে ভুলিনি, এটা মনে রেখো।

এর একদিন আগেই সালমান খানের একটি শার্টলেস ছবি ও রহস্যময় ক্যাপশন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা জল্পনা শুরু হয়। তিনি লিখেছিলেন, একাকী থাকা আর নিঃসঙ্গ হওয়া এক জিনিস নয়…।

পরে অবশ্য তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, পোস্টটি তাকে নিয়ে ছিল না। তিনি লেখেন, ‘আমার এত বড় পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও আপনারা থাকতে আমি কেন এক হব?

পেশাগত দিক থেকে সালমান খান সম্প্রতি পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া পরিচালিত মাতৃভূমি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। যদিও শোনা যাচ্ছে, সিনেমাটির মুক্তি কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি নতুন সিনেমার কাজও শুরু করেছেন, যেখানে সহশিল্পী হিসেবে আছেন নয়নতারা।

দোহায় মার্কিন দূতাবাস সংলগ্ন এলাকা খালি করছে কাতার

কাতারের দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি সাময়িক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দোহার মার্কিন দূতাবাসের আশেপাশে বসবাসরত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাদের জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত শনিবার ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর কাতার ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানো শুরু করে।

এরমধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেটে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এই হামলার ঘটনার পর কাতার মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করার জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং জর্দানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে তোড়জোড় চালাচ্ছে মার্কিন সরকার। একই সঙ্গে অন্য কোথাও আটকে পড়া নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট বুকিংয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত তাদের প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন।

আবুধাবিতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার খবরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক

আবুধাবির মুসাফফা শিল্প এলাকা থেকে মাত্র ১৫–১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মুসাফফায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আজ শনিবার দ্য ডেইলি স্টারকে কয়েকজন প্রবাসী জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় তারা কয়েকটি বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শুনতে পান। এগুলো সম্ভবত প্রতিরোধমূলক প্রতিহত করার কার্যক্রমের অংশ ছিল।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সংবাদমাধ্যমে কথা না বলার কঠোর নির্দেশনার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
এক প্রবাসী বলেন, আমি কথা বলার সময় দুই, তিন, এমনকি চারবার প্রতিহত করার শব্দ শুনেছি।

তিনি বলেন, শুরুর দিকে অনেকেই আকাশে ধোঁয়া দেখে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা আসা শুরু হলে সবাই দ্রুত ভেতরে চলে যান।

তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ বারবার জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে, জানালার কাছে না দাঁড়াতে ও বাইরে না যেতে পরামর্শ দেয়। তাদের নিজ নিজ আবাসনের সবচেয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

আবুধাবিতে বসবাসরত আরেক বাংলাদেশি জানান, প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে সবাই আতঙ্কিত। কেউ বিস্তারিত কিছু বলতে পারছে না। তবে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

প্রবাসীরা জানিয়েছেন, মুসাফফা এলাকায় প্রধানত এশীয় শ্রমিকরা বসবাস করেন। এদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন।

বাংলাদেশি এক প্রবাসী বলেন, আমার আশপাশের এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বাংলাদেশি। বাকিরা মূলত পাকিস্তান, মিসর ও ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে আসা। 
শিল্পাঞ্চলে অধিকাংশ বাসিন্দাই শ্রমিক। তাদের পরিবারগুলো বসবাস করেন কাছাকাছি আবাসিক এলাকায়।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় পরিবার খুব কম। তবে মুসাফফার বাইরে আবাসিক এলাকা আছে, যেখানে পরিবারগুলো থাকে।

তিনি আরও বলেন, বিকট শব্দে প্রবাসী পরিবারগুলোর শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

মুসাফফায় এখন পর্যন্ত বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে ও নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশনা ছাড়া অতিরিক্ত কোনো নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা হয়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় কোনো বাংলাদেশির হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

 

সরকারের এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ১ লাখের বেশি প্রার্থী

দেশের তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশের ৬৪ জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে একযোগে এ লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের জন্য মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি আবেদন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়। বৈধ আবেদনকারীদের মধ্য থেকেই লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করা হচ্ছে।

প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের কথা রয়েছে। সে হিসাবে বৈধ আবেদনকারীর সংখ্যা বিবেচনায় প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ৬৪ জনের বেশি প্রার্থী রয়েছেন।

এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি। ঢাকা জেলার ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৫৫২ জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০২ জন প্রার্থী রয়েছেন।

পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তাঁরা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, আসনব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।

পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ দুই মাস মেয়াদি এবং ৫০টি ক্লাসে মোট ৩০০ ঘণ্টার পাঠদান থাকবে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, মিডজার্নি, রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, ট্যাবলো, ক্লিকআপ ও অ্যাডোবি সেনসেইসহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুল ও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

গণমাধ্যমকে সীমাবদ্ধ করবে খসড়া সাইবার আইন

প্রথমেই যে বিষয়ে জনগণ এবং বিশেষ করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই তা হলো, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী লিখেছেন আমলারা। অন্য অনেক ক্ষেত্রে এটি বোধগম্য হলেও মানুষের চিন্তা, বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আইন তৈরির ক্ষেত্রে তাদের ওপর ভরসা করার তেমন কোনো কারণই নেই। আমলাতন্ত্র স্বভাবগতভাবেই প্রশ্ন, ভিন্নমত, বিরোধিতা কিংবা সমালোচনা অপছন্দ করে। তাদের প্রধান আগ্রহ ‘আনুগত্যে’। তাদের ‘কর্তারা’ যা চান, সেটাই তারা ‘নিরাপত্তার’ নামে নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকেন।

এর প্রমাণ সম্ভবত এটাই যে, ডিজিটাল বা সাইবার আইনের নামের মধ্যে দীর্ঘদিন ‘সুরক্ষা’র পরিবর্তে ‘নিরাপত্তা’ শব্দটি ছিল। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অনেকের কাছে ‘সুরক্ষা’ বলতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বোঝায়। অন্যদিকে ‘নিরাপত্তা’ এমন একটা সরকারের ইঙ্গিত দেয়, যেটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে জনগণের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয় এবং ক্ষমতাসীন রাজনীতিক, দলের সদস্য, আমলা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেয়।

বর্তমান আইনের খসড়া প্রণেতা ও এর সমর্থকরা যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচনায় নেননি তা হলো, একসময় আলাদা থাকা ‘সাইবার জগৎ’ ও ‘গণমাধ্যমের জগৎ’ এখন এমনভাবে একীভূত, পরস্পরনির্ভরশীল ও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত যে, সাইবার জগতের জন্য প্রণীত যেকোনো আইন স্বয়ংক্রিয় ও অনিবার্যভাবেই গণমাধ্যমেও প্রভাব ফেলবে। আর সেই প্রভাব অবধারিতভাবেই নেতিবাচক হবে।

অপরাধ দমন এবং স্বাধীনতা সম্প্রসারণের দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের জন্য সেই পুরোনো ছাঁচে একটি আইন করা যায় না। একটি আইন দিয়ে এই দুটি ভিন্ন ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা আদৌ সম্ভব কি না, শুরুতেই সেই প্রশ্ন গুরুত্বের সঙ্গে তোলা উচিত।

২০১৮ সালে তৎকালীন আইসিটি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সময়ে প্রণীত হয় কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ)। ২০২৩ সালে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সময়ে ডিএসএর পরিবর্তে সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ) করা হয়। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সময়ে সিএসএর পরিবর্তে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা ২০২৬ সালে বিএনপি সরকার আইনে পরিণত করে। গত জুনে ওই আইনের একটি সংশোধনী পাস হয় সংসদে। এখন আবার আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। তবে, দুঃখজনকভাবে এবারের সংশোধনী আইনটিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, অখণ্ডতা, জনশৃঙ্খলা, উসকানি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভিত্তিতে অনলাইন কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বিদ্যমান সাইবার আইনেই রয়েছে। কিন্তু নতুন খসড়ার ৮(২) ধারায় শুধু তথ্যের ভিত্তিতে নয়, আশঙ্কার ভিত্তিতেও কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের জন্য ‘মানহানিকর’ বা ‘অবমাননাকর’ তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যদি আশঙ্কার ভিত্তিতে কোনো আইন প্রয়োগ করা যায় এবং সেটি যদি মানহানির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে স্পষ্টতই এর প্রয়োগ বিষয়ভিত্তিক ও ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়ে। আমাদের আইন প্রয়োগকারীরা রাজনৈতিক হাওয়ার সঙ্গে নিজেদের অবস্থান বদলান এবং অর্থের ক্ষমতার প্রতি অত্যন্ত ‘শ্রদ্ধাশীল’। তাদের সেই অতীত রেকর্ড বিবেচনায় আমরা অনুমান করতে পারি, প্রস্তাবিত সাইবার আইনও সম্ভবত আগের আইনগুলোর মতো একই পথে যাবে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, খসড়ায় এমন কিছু নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আইনটি প্রয়োগের ক্ষমতা দিচ্ছে, যেগুলো আগে কখনো এর আওতায় ছিল না। এর মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে এই আইন ব্যবহার করতে পারেন। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরকে ঘিরে বিতর্কের কথা সবারই জানা। অথচ, একের পর এক সরকার ক্ষমতায় এলেও এ বিষয়ে কিছুই করা হয়নি।

বর্তমান আইনের ২৫ ধারায় রয়েছে মূলত অনলাইনে যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, পর্নোগ্রাফি এবং শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত উপাদান। আমরা এটিকে প্রাসঙ্গিক মনে করি। কিন্তু সংশোধনীতে এই ধারাটিকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে মানহানি, অপমান, হেয় প্রতিপন্ন করা ও বুলিংকেও এর আওতায় এনেছে। কাউকে অসম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করতে পারে, এমন বক্তব্য, প্রকাশনা ও প্রতিবেদনকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি সরকারি তহবিল চুরি করলে; খাদ্য বা ওষুধে ভেজাল দিলে; নিম্নমানের রাস্তা, সেতু বা রেলপথ নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করলে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি ঋণ দিলে তার সুনাম ক্ষুণ্নকারী তথ্য প্রকাশ না করে কীভাবে সে বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা সম্ভব?

এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। কেননা, যেকোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং করবেও। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কারা এবং তারা কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেটা প্রকাশ না করে গণমাধ্যম কীভাবে কোনো দুর্নীতির ঘটনা সামনে আনবে? দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কী হবে? কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে, এটা জানতে পারলে তারা কি কোনো সাংবাদিককে কাজটি করতে দেবে?

এই খসড়া আইন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। কারণ, যে কেউ দাবি করতে পারেন, তার ‘মানহানি’ করা হয়েছে। আর পুলিশ ও অন্যরা কোনো সংবাদপত্র, টেলিভিশন বা অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কনটেন্ট জব্দ করতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা নথি নিয়ে যেতে পারে, যা পুরো প্রকাশনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

২৫ ধারায় আগের চেয়েও অনেক কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে। সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে দুই বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কোনো নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী হলে শাস্তি ১০ বছর এবং জরিমানার পরিমাণও অনেক বেশি। বক্তব্য বা সংবাদ প্রতিবেদন-সংক্রান্ত যে বিষয়গুলোকে অপরাধ বলা হচ্ছে, সেগুলো সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ভয় তৈরি করবে। ফলে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-সেন্সরশিপ বাড়বে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে যাবে।

কাজেই এখানে বৈধ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—এসব সংশোধনী কি দুর্নীতি কমানোর জন্য, নাকি দুর্নীতিবাজদের রক্ষার জন্য?

প্রস্তাবিত ২৬(এ) ধারার সমতুল্য কোনো বিধান বর্তমান আইনে নেই। এখানে সাইবার স্পেসে ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’ প্রকাশ বা প্রচারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড। এটি বিপজ্জনক। কারণ, ‘গুজব’ বা ‘ভুল তথ্য’ বলতে কী বোঝায়, তার কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ছাড়া কোনো অপরাধ যথাযথভাবে নির্ধারণ করে ‘লঙ্ঘনকারীকে’ শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়। এর ফলে আইনের অপব্যবহারের পথ তৈরি হয়।

প্রস্তাবিত আইনটি সাংবাদিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এর ২৫ ও ২৬ ধারার বিধানগুলো ব্যাপক পরিসর দিয়ে লেখা হয়েছে। ‘গুজব’, ‘বুলিং’, ‘ভুল তথ্য’, ‘ডিজিটাল মানহানি’, ‘অপমান’ ও ‘ভুয়া খবর’—এর কোনোটিরই সুস্পষ্ট সংজ্ঞা খসড়ায় নেই। বিশেষ করে গুজব বলতে কী বোঝায়, সেটা স্পষ্ট না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের। এর মধ্যে এমন অসমর্থিত বা যাচাই না করা তথ্য, সংবাদ বা দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তি, ভয় বা সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বা ‘তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে’।

এসব শব্দের অর্থ অস্পষ্ট। এগুলোর ব্যাখ্যা এতটাই বিষয়ভিত্তিক হতে পারে যে, আইনটির এ ধরনের বিধান পুলিশ ও অন্য কোনো সরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হলে তা ভয়-ভীতি সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করবে, ঘুষের সম্ভাবনার কথা তো বাদই দিলাম।

আইনের তদন্তসংক্রান্ত ক্ষমতাও উদ্বেগের কারণ। ৩৩ ও ৩৪ ধারায় কর্তৃপক্ষকে কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস ও সংরক্ষিত ডেটায় প্রবেশ, তল্লাশি ও জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য সাংবাদিকদের গবেষণা ও বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হয়। এসব সূত্রের অনেকেই পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কথা বলেন। কোনো তদন্ত কর্মকর্তা একজন সাংবাদিকের ফোন, কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখলে এ ধরনের সূত্র আর কথা বলবে? স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের সূত্র ভীত হয়ে পড়বে, যার ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নতুন খসড়ায় প্রস্তাবিত সবচেয়ে বিস্ময়কর ও লজ্জাজনক সংশোধনী হলো ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার, যা সবচেয়ে কুখ্যাত ডিএসএ-সহ আগের কোনো আইনেই ছিল না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা, যারা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের (ডিএম) অধীনে থাকেন। ডিসিরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার মানে প্রশাসকদের মাধ্যমে বিচার, অর্থাৎ ক্ষমতাসীন সরকারের মাধ্যমে বিচার। কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত কি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অনুমতি দেবে, বিশেষ করে যদি সেই প্রতিবেদন সরকার, ক্ষমতাসীন দল ও প্রভাবশালী মহলের দুর্নীতি তুলে ধরে? কোনো মন্ত্রী তার ইচ্ছামতো কাজ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে বাধ্য করতে পারেন। কারণ কোনো মন্ত্রীর সিদ্ধান্তে ডিসির হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কম।

আগের সব আইনেই সাইবার অপরাধের বিচার হতো ট্রাইব্যুনালে, যার নেতৃত্বে থাকতেন একজন বিচারক। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অনুমোদন পেলে এই প্রথম কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নিত্যপণ্যের দাম কারসাজি নিয়ে অনুসন্ধানরত কোনো প্রতিবেদককে রাস্তায় আটকে গুজব ছড়ানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং কারাদণ্ডও দিতে পারবে। হ্যাঁ, হতে পারে যে তেমন কিছু হবে না। কিন্তু এমন সম্ভাবনা যেহেতু আছে, একজন সম্পাদক হিসেবে আমি কি আমার সহকর্মীর মৌলিক স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এমন ঝুঁকি নিতে পারি?

সবমিলিয়ে আমাদের উপসংহার হলো, খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইনে গণমাধ্যমকে সুরক্ষিত রাখার কোনো উপায় নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে সাইবার আইন প্রয়োগের সময় বিচারিক তদারকির বিধান ছিল। বিস্ময়করভাবে, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সেই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন? সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যাখ্যা নেই। এই বিধান প্রত্যাহারের ফলে আইনটির নির্মম প্রয়োগ ও প্রকাশ্য অপব্যবহারের পথ খুলে দিতে পারে।

এই সরকার কি অতীত থেকে কিছুই শিখবে না? ডিএসএর কারণেই ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনা এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তার সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে তীব্র ও অসম্মানজনক মনোভাব তৈরি হয়েছিল। এই খসড়া সংশোধনীর প্রবক্তারা কি একবারও প্রশ্ন করবেন না—ডিএসএর অধীনে কতজন সাইবার অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল বা আইনের আওতায় আনা হয়েছিল, আর কতজন সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, লেখক, কবি ও সমালোচককে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল? মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা করে ফেসবুক পোস্টের কারণে মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডিএসএতে শাস্তির বিধান থাকা ২০টি ধারার মধ্যে ১৪টিই ছিল জামিন অযোগ্য। খসড়া আইনেও জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। মানুষকে গ্রেপ্তার করে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর জামিন দেওয়া হয় না। জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় সাংবাদিকরা দুর্নীতির ঘটনা উন্মোচনে খুব কমই সাহস করবেন।

আমরা আগেই বলেছি, খসড়া আইনটি সাইবার অপরাধীদের লক্ষ্য করে প্রণীত হলেও শেষ পর্যন্ত এর লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীরা। ইন্টারনেট, ডিজিটালাইজেশন এবং এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গণমাধ্যমকে আরও গভীরভাবে সাইবার জগতের দিকে নিয়ে যাবে। বাস্তবতা হলো, মুদ্রিত গণমাধ্যমের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে এবং গণমাধ্যম কেবল ডিজিটাল জগতেই টিকে থাকবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। যদি তা-ই হয়, তাহলে গণমাধ্যম-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলোকে ডিজিটাল জগতের উপযোগী করে তুলতে হবে। সেই বাস্তবতার আলোকে আমাদের সব গণমাধ্যম আইন নতুন করে লিখতে হবে।

গণমাধ্যমের জন্য আমাদের একটি পৃথক সাইবার আইন প্রয়োজন। কিংবা, অন্তত এমন একটি পৃথক বিধিমালা ও নির্দেশিকা প্রয়োজন, যা বাক, মতপ্রকাশ ও প্রকাশনার স্বাধীনতা ব্যাহত না করে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করবে। বিশ্বে এখনো এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়েছে, তবে খুব বেশি নয়। সম্ভবত বাংলাদেশই পথপ্রদর্শক হতে পারে।

খসড়া সাইবার আইন সাংবাদিকতা, গণতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক সরকার ও স্বচ্ছ প্রশাসনের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই আইন বিএনপি সরকারের জন্য ক্ষতিকর হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি তার সমর্থনের বিষয়ে শুরুতেই অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাই আমরা ধরে নিতে চাই, বর্তমান খসড়ার ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে তাকে পুরোপুরি অবহিত করা হয়নি।

প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নতুন করে পর্যালোচনা ও পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। আমরা প্রস্তাব করছি, দুটি বিশেষজ্ঞ দলের সমন্বয়ে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হোক। একটি দল সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করবে এবং অপরটি গণমাধ্যম, এর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে কাজ করবে। উভয় দলই তাদের নিজ নিজ পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাইবার জগতের বিপদগুলো তুলে ধরতে পারে। আমরা সাংবাদিকরা সেখানে পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার করছি। এক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে এমন দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘকেও আমরা সম্পৃক্ত করতে পারি এবং ডিজিটাল জগতের নতুন গণমাধ্যমের জন্য একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়নে সত্যিকার অর্থেই নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে পারি।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

জীবনকে সহজ করবে মেটার এআই এজেন্ট ‘মিউজ’, কথা বলা যাবে নিজের অ্যাভাটারের সঙ্গেও

মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট মিউজ চালু হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এরইমধ্যে এতে একের পর এক নতুন সুবিধা যোগ করার ঘোষণা দিয়েছে মেটা। ব্যবহারকারীর প্রতিদিনের কাজ সহজ করতে ই-মেইল, ক্যালেন্ডার, কেনাকাটা থেকে শুরু করে কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজও মিউজকে দিয়ে করানো যাবে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেনলো পার্কে মেটার বার্ষিক কানেক্ট অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ মিউজের নতুন এসব সুবিধার কথা জানান।

Meta made a Tamagotchi-like wearable for its Muse AI agent | TechCrunch

তার ভাষ্য, ভবিষ্যতে মিউজ আরও উন্নত হয়ে কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিগত এআই সহকারী হিসেবে কাজ করবে।

মিউজের অ্যাভাটারের নাম রাখা হয়েছে জলি। মেটার তৈরি ‘মিউজ স্পার্ক’ নামের মাল্টিমোডাল এআই মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই এজেন্ট ব্যবহারকারীর বিভিন্ন ডিভাইস ও ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কাজ করতে পারে।

এত দিন মিউজ ছিল মূলত একটি ভার্চুয়াল এআই সহকারী। এবার সেটিকে দেওয়া হচ্ছে চেহারা, শরীর ও কণ্ঠ।

নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজের মিউজের জন্য একটি আলাদা ডিজিটাল অ্যাভাটার তৈরি করতে পারবেন। সেই অ্যাভাটারের সঙ্গে ভিডিও কলে সরাসরি কথা বলাও যাবে। ব্যবহারকারী তাকে প্রশ্ন করতে পারবেন, বিভিন্ন কাজের নির্দেশ দিতে পারবেন ও সরাসরি আলাপ করতে পারবেন।

Meta's Muse rekindles fears over winners and losers as personal AI agent  emerges | Reuters

মেটার স্মার্ট চশমার সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে মিউজ। ফলে ব্যবহারকারী কেবল চশমার সঙ্গে কথা বলে এআই এজেন্টকে বিভিন্ন কাজের নির্দেশ দিতে পারবেন।

মেটার তথ্য অনুযায়ী, চশমায় নির্দিষ্ট ‘ওয়েক ওয়ার্ড’ বললেই মিউজ সক্রিয় হবে। এরপর এটি ব্যায়ামের নির্দেশনা দিতে, খাবারের হিসাব রাখতে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে কিংবা সামনে দেখা কোনো পণ্য কিনতে সহায়তা করতে পারবে।

কোনো কাজের নির্দেশ দেওয়ার পর মিউজ পেছনে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে এবং কাজ শেষ হলে ব্যবহারকারীকে জানাবে। তবে এই সুবিধা ঠিক কবে চালু হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি মেটা। 

মিউজকে ম্যাক কম্পিউটারে বিভিন্ন কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে মেটা। ব্যবহারকারী এআই এজেন্টকে কোনো কাজের দায়িত্ব দিয়ে কম্পিউটার থেকে দূরে সরে গেলেও মিউজ সেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

মেটার প্রধান এআই কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ওয়াং বলেন, ছোট ব্যবসা পরিচালনা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজে মিউজকে ব্যবহার করা যাবে। ডেস্কটপে থাকা বিভিন্ন অ্যাপও এআই এজেন্টটি পরিচালনা করতে পারবে।

Meta's New Muse AI Agent May Be the Creepiest Ever Released

মিউজ যেহেতু ব্যবহারকারীর হয়ে পেছনে থেকে বিভিন্ন কাজ করবে, তাই তার নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে মেটা।

এই সুবিধা চালু হলে ব্যবহারকারীরা কোনো ই-মেইল মিউজকে ফরোয়ার্ড করতে পারবেন। এমনকি কোনো ই-মেইল থ্রেডেও মিউজকে যুক্ত করা যাবে, যেন সে ব্যবহারকারীর হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারে।

তবে কবে এই সুবিধা চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানায়নি মেটা। 

অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও মিউজকে আরও সক্রিয় করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে মেটা।

মেটার দাবি, মিউজ শপিফাইয়ের বিশাল পণ্যভান্ডারে পণ্য খোঁজ করতে পারবে ও বিভিন্ন পণ্য কেনার প্রক্রিয়াতেও সহায়তা করবে। পেমেন্টের ক্ষেত্রে পেপালের জন্যও বাড়তি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

Amazon Blocks Meta's Muse AI Agent From Its Retail Site - Bloomberg

মেটা সম্প্রতি ডেভেলপারদের জন্য মিউজের প্ল্যাটফর্ম খুলে দিয়েছে। ফলে অন্য প্রতিষ্ঠান ও ডেভেলপাররাও নিজেদের তৈরি ‘কানেক্টর’ মিউজের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন।

আলেকজান্ডার ওয়াং জানান, এই সুবিধা চালুর এক সপ্তাহেরও কম সময়ে মেটার কাছে ১ হাজার ৫০০টির বেশি আবেদন এসেছে।

মেটার পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে মিউজ কেবল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার এআই হবে না, বরং ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল কাজও সম্পন্ন করতে পারবে।