25.5 C
Dhaka
Home Blog

বাতাসে ঘুরবে গাড়ি, বাজারে আনছে ইলন মাস্কের টেসলা

দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন রোডস্টার গাড়ি সামনে এনেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি বাতাসে বা শূন্যে ঘুরতে পারে, উড়তে পারে। এ জন্য এতে যুক্ত করা হয়েছে রকেটের মতো থ্রাস্টার। তবে গাড়িটির উৎপাদন শুরু হবে ২০২৮ সালে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক অনুষ্ঠানে গাড়িটি উন্মোচন করে টেসলা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে এটি তৈরি করা হয়েছে।

Tesla unveils its next-generation Roadster electric sports car

অনুষ্ঠানে সাদা রঙের দুই আসনের গাড়িটি নানা কৌশল দেখায়। বিশেষ ব্যবস্থার সাহায্যে এটি একটি অর্ধবৃত্তাকার র‌্যাম্পের ওপর উল্টোভাবে চলেছে। এরপর বাতাসে ঘুরে থ্রাস্টারের সাহায্যে মাটিতে নেমেছে। পরে একটি ট্রাকসহ অন্য গাড়ির ওপর দিয়েও লাফিয়ে যায় এটি।

টেসলার গাড়ি প্রকৌশল বিভাগের প্রধান লার্স মোরাভি জানান, গাড়িটি ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নিতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৭০ কিলোমিটারের বেশি। একবার চার্জ দিলে চলতে পারবে ৪৮০ কিলোমিটারেরও বেশি।

তবে গাড়িটির দাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। টেসলার ওয়েবসাইটে ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার এবং থ্রাস্টারযুক্ত ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমা দিয়ে বুকিং দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর ‘রকেট’ সংস্করণটি পাওয়া যাবে আমন্ত্রণের ভিত্তিতে। এতে থাকবে একজনের বসার ব্যবস্থা ও বিশেষ উড্ডয়ন ব্যবস্থা।

Tesla unveils its next-generation Roadster electric sports car

২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টারের নমুনা দেখিয়েছিল টেসলা। তখন ২০২০ সালে গাড়িটি সরবরাহ শুরুর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। এবার উৎপাদন শুরুর নতুন সময় হিসেবে ২০২৮ সালের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এমন সময়ে গাড়িটির প্রদর্শনী হলো, যখন টেসলা চালকবিহীন গাড়ি ও রোবট তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

টেসলার বিনিয়োগকারীদের কাছে গাড়িটির প্রদর্শনী আকর্ষণীয় হলেও প্রতিষ্ঠানের আয়, মুনাফা ও নগদ অর্থের হিসাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আগামী ২১ অক্টোবর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করার কথা টেসলার।

স্বামীর মৃত্যুতে প্যারোলে ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি

স্বামী তৌফীক নাওয়াজের মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।

আজ বুধবার মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন দীপু মনির মেয়ে তানী দীপাবলি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মুক্তি পাচ্ছেন।

দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আজ দুপুর ১২টার দিকে তানী দীপাবলি মায়ের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান। বের হয়ে তিনি মায়ের জন্য ৪ দিনের মুক্তি চেয়ে আবেদন করেন।’

তিনি জানান, ঢাকার কলাবাগানের বাসভবনে দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজের মরদেহ রাখা হবে। আগামীকাল ভোরে মুক্তি পাওয়ার পর সেখানে যাবেন দীপু মনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ।

আগামীকাল আজাদ মসজিদে তার জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন হবে।

৪ বছরে রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে অর্ধেকেরও বেশি

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আরোপিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থ পরিশোধ বিঘ্নিত হওয়ায় রাশিয়ার সঙ্গে রপ্তানি, শ্রম অভিবাসন এবং প্রধান উন্নয়ন সহযোগিতা কার্যক্রম বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এরসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী কর্মী বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন না। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নেওয়া রুশ ঋণ পরিশোধের বিষয়টিও স্থবির হয়ে পড়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় চেয়ে ঢাকা ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ হয়েছিল, কিন্তু তাতে কোনো সুফল মেলেনি।

এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ ও রাশিয়া নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন সহজ করতে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে চলমান মডেল অনুসরণ করে ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত এসবার ব্যাংকের একটি শাখা খোলার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, গত জুনের শুরুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মস্কো সফরের অন্যতম প্রধান আলোচিত বিষয় ছিল অর্থ পরিশোধের একটি সমাধান খুঁজে বের করা।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বর্তমানে ভূ-রাজনীতি সরাসরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে, কারণ বহুপক্ষীয় সংস্থা এবং তাদের নিয়মকানুনগুলো এখন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, পণ্য আমদানিতে বিঘ্ন এবং আর্থিক নানা বিধিনিষেধের মাধ্যমে মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোই এর পরিণতি ভোগ করছে।’

রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৩৮ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নাটকীয়ভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৭ মিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে রাশিয়া থেকে আমদানি ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে মূলত গম ও সার আমদানি করে। এমনকি এসব আমদানির ক্ষেত্রেও আমাদের অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া আমরা সামরিক সরঞ্জামও আমদানি করতে পারছি না। অন্যদিকে, আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা তাদের পাওনা অর্থ বুঝে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদার অভাব এখন আর প্রধান সমস্যা নয়; আসল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি করা পণ্যের অর্থ বা ‘এক্সপোর্ট প্রসিড’ সংগ্রহ করতে না পারা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ২০২৪ সালের শুরু থেকে পাঠানো চালানের বিপরীতে অন্তত আটজন পোশাক রপ্তানিকারক এখন পর্যন্ত তাদের পাওনা আদায় করতে পারেননি।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বকেয়া পড়ে আছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, রাশিয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানি বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর রুশ ক্রেতারা শুরুতে চীনা ব্যাংকের মাধ্যমে চীনা ইউয়ানে রপ্তানিকারকদের পাওনা পরিশোধ করতেন। তবে প্রায় দুই বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তার পর ওই ব্যাংকগুলো লেনদেন বন্ধ করে দেয় এবং অর্থ রাশিয়ায় ফেরত পাঠায়।

হাতেম জানান, পরে রপ্তানিকারকরা থাইল্যান্ডের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে মার্কিন ডলারে কিছু পাওনা আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন, তবে এখনো চার মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বকেয়া রয়ে গেছে।

এ ছাড়া এ শিল্প খাত ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় রপ্তানি আদেশ হারিয়েছে। পোল্যান্ডের এক রিটেইলার প্রতিষ্ঠান তাদের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি বাতিল করে দেওয়ায় এমনটি ঘটেছে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাক প্রথমে পোল্যান্ডে পাঠানোর কথা ছিল এবং সেখান থেকে স্থলপথে তা রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে দেশের অর্থনীতি যখন চাপে রয়েছে, তখন সরকার রপ্তানি বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া এখনো একটি বিপুল সম্ভাবনাময় বাজার, কিন্তু অর্থ লেনদেন বা পেমেন্ট সেটেলমেন্ট এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহে বাধা

কর্মকর্তাদের অনুমান, রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক তাদের অর্জিত আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠাতে পারছেন না।

খলিলুর রহমানের মস্কো সফরে দুই দেশ আগামী এক বছরে এক লাখ পর্যন্ত বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের বড় উদ্যোগের জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রয়োজন হবে, তবে তার আগে লেনদেন বা অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

মস্কোয় নিযুক্ত একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক বলেন, প্রবাসী কর্মীরা যতক্ষণ পর্যন্ত বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন না, ততক্ষণ সেই বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যোগ হচ্ছে না।

স্থগিত হয়ে আছে রূপপুরের ঋণের কিস্তি

১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে জটিল হয়ে পড়েছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে রাশিয়া।

মূল চুক্তি অনুযায়ী ঋণের অর্থ মার্কিন ডলারে পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার প্রধান ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা ‘সুইফট’  থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় ডলারে অর্থ পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাশিয়া বারবার তাদের পাওনা চেয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে রুবলের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ চীনা ব্যাংকের মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পন্ন করার চেষ্টা করলেও সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

২০২২ সালের আগে বাংলাদেশ সুদ এবং অগ্রিম কিস্তি বাবদ প্রায় এক বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। এরপর থেকে আরও প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে আছে, কারণ আইনি জটিলতার কারণে এই অর্থ রাশিয়ায় স্থানান্তর করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রাশিয়া ভারতীয় রুপিতে ঋণ নিষ্পত্তির প্রস্তাবও দিয়েছে, তবে সেই প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি মূলত একটি কূটনৈতিক বিষয়, কোনো আর্থিক সমস্যা নয়। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে বকেয়া কিস্তির অর্থ নির্ধারিত এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রুশ কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি, কারণ তাদের পাওনা একটি স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিকল্প পথের সন্ধান

২০২২ সাল থেকে বেশ কয়েকটি লেনদেন পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখেছে দুই দেশ। তবে কোনোটিই এখন পর্যন্ত পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। কর্মকর্তারা এখন বাংলাদেশে রাশিয়ার এসবার ব্যাংকের একটি শাখা খোলার প্রস্তাবকে একটি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন।

মস্কো সফরকালে খলিলুর রহমান এসবার ব্যাংকের প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যান আলেকজান্ডার ভেদিয়াখিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেন সহজতর করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

এসবার ব্যাংক এরইমধ্যে ভারতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির ভারতীয় শাখা বর্তমানে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার অধিকাংশ লেনদেন নিজস্ব মুদ্রায় সম্পন্ন করছে।

এ ছাড়া ব্যাংকটি রুশ রপ্তানিকারকদের রুপিতে ঋণ দেওয়ার সুবিধা বাড়িয়েছে এবং লেনদেনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে।

বাংলাদেশি কর্মকর্তারা মনে করেন, একই ধরনের ব্যবস্থা বাংলাদেশে চালু করা গেলে তা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং আর্থিক লেনদেন পুনরায় স্বাভাবিক করতে সহায়ক হতে পারে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকিতে আছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশেষভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। কারণ বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে যখন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে জ্বালানি খাতে রাশিয়া বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে।

‘এর ফলে মস্কোর সাথে ঢাকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব ও ঝুঁকি—উভয়ই এখন অনেক বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও এখন একই ধরনের উভয় সংকটের মুখে পড়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনৈতিক চাহিদার কথা বিবেচনা না করেই পশ্চিমা দেশগুলো যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে এই দেশগুলোকে।’

কুগেলম্যানের পরামর্শ, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমান স্থিতিশীল সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় বা শিথিলতার আবেদন করতে পারে। এতে করে রাশিয়ার সঙ্গে বৈধ বাণিজ্যিক লেনদেনের কারণে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়ার ঝুঁকি কমবে।

সুযোগ পাচ্ছেন না পাজ-বার্কো, নকআউটে অভিজ্ঞদের ওপরই ভরসা স্কালোনির

চলতি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে দুই ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয়ের পর মিসরের বিপক্ষে শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে এই দুই ম্যাচে বারবার বেঞ্চের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ব্যবহার করলেও সুযোগ মেলেনি দারুণ ফর্মে বিশ্বকাপে আসা তরুণ নিকোলাস পাজ ও ভ্যালেন্তিন বার্কোর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই তরুণকে মাঠে নামানোর দাবি জোরালো হলেও স্কালোনি এখন পর্যন্ত ভরসা রেখেছেন নিজের পরীক্ষিত সৈনিকদের ওপর। মিসরের বিপক্ষে তিনি বদলি হিসেবে নামিয়েছেন নিকোলাস গনসালেস, হুলিয়ান আলভারেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও গনসালো মন্তিয়েলকে। আর কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলিয়েছেন গনসালেস, লাউতারো মার্তিনেজ, মন্তিয়েল, নিকোলাস ওতামেন্দি ও ফাকুন্দো মেদিনাকে।

এর পেছনের কারণও স্পষ্ট। নকআউট পর্বে একটি ভুলই বিদায়ের কারণ হতে পারে। তাই এই পর্যায়ে অভিজ্ঞ ও নিয়মিত খেলা ফুটবলারদের ওপরই বেশি আস্থা রাখছে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ।

তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে, যখন আর্জেন্টিনা আগেই গ্রুপসেরা হয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছিল, তখন পুরোপুরি বিকল্প একাদশ খেলিয়েছিলেন স্কালোনি। সেই ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন পাজ। পরে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন বার্কো ও তৃতীয় পছন্দের স্ট্রাইকার হোসে লোপেসও।

কিন্তু নকআউট পর্বে সেই সুযোগ আর মিলছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, বাকি ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা যদি আগেভাগেই ফল নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে পাজ ও বার্কোর খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।

এর বড় কারণ, পাজকে মূলত লিওনেল মেসির বিকল্প হিসেবে ভাবা হয়। অথচ মেসি প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই পূর্ণ সময় খেলেছেন। শুধু আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর এবং জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে বার্কোকে মিডফিল্ডের বিকল্প হিসেবে দেখা হলেও এই মুহূর্তে তিনি জিওভানি লো সেলসোরও পেছনে আছেন। যদিও লো সেলসো শেষ দুই নকআউট ম্যাচে মাঠে নামেননি, তবু প্রতিবারই ওয়ার্মআপ করেছেন এবং কোচের পরিকল্পনায় রয়েছেন। জর্ডানের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। ফলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে স্কালোনির প্রথম পছন্দ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তারই।

বার্কোর আগে মিডফিল্ডে এজেকুয়েল পালাসিওসও রয়েছেন স্কালোনির বিবেচনায়।

আক্রমণভাগে স্কালোনির প্রথম সারির বদলি হিসেবে আছেন নিকোলাস গনসালেস, যিনি জর্ডান ম্যাচ ছাড়া প্রতিটি ম্যাচেই খেলেছেন। এছাড়া শুরুর একাদশে না থাকা স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ বা লাউতারো মার্তিনেজ সবসময়ই কোচের প্রথম বিকল্প। সর্বশেষ একাদশ থেকে জায়গা হারানো থিয়াগো আলমাদাকেও এই তালিকায় রাখা যায়।

অনেকে ধারণা করেছিলেন, দিয়েগো সিমেওনের ছেলে হুলিয়ানো সিমেওনে আরও বেশি সুযোগ পাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই সুযোগও আসেনি।

 

ইত্যাদি’র নতুন পর্বে কী থাকছে

বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ এবার প্রাচীন জনপদ নরসিংদীতে। রায়পুরা উপজেলার রামনগরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ধারণ করা হয়েছে নতুন পর্বটি। 

আগামী ৫ জুন শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে পর্বটি প্রচারিত হবে। 

হানিফ সংকেতের রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় এবারও অনুষ্ঠানে থাকছে ইমন চৌধুরী ও তার দল ‘বেঙ্গল সিম্ফনি’র  পরিবেশনায় একটি লোক-ফিউশনধর্মী গান। জুয়েল আহমেদ ও কবির বকুলের যৌথ কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজনও করেছেন ইমন চৌধুরী নিজেই।

এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরুতে নরসিংদীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে থাকছে একটি পরিচিতিমূলক নৃত্যগীতি। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর করেছেন হানিফ সংকেত এবং সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। 

বরাবরের মতো এবারের পর্বেও স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থল, নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প, ‘প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার’ খ্যাত বাবুরহাট, জিআই পণ্য অমৃতসাগর কলা, লটকন ও কলম্বো লেবুসহ জেলার নানা বৈশিষ্ট্য উঠে আসবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। 

এছাড়া থাকছে মানবিক, শিক্ষামূলক ও বিদেশি প্রতিবেদন, কৌতুক, নাট্যাংশ এবং দর্শকপর্বের আয়োজন।
 

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ২৯৪

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ২৯৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২৩ জন আহত হওয়ার তথ্যও দিয়েছে।

হামলাগুলো ইরান–সমর্থিত সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় গত সোমবার থেকে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহে শুরু হওয়া সংঘাতে দেশটিতে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

বাহুবলে প্রশাসনিক সভায় এমপির স্ত্রী, ইউএনও-এসিল্যান্ড বদলি

প্রশাসনিক সভায় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখাকে কেন্দ্র করে আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন দে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলমকে বদলি করা হয়েছে।

গতকাল রোববার জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে লিটন দেকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এবং মাহবুবুল আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ তানভীর হাসান রুমান এ আদেশে সই করেন।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাহুবল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির আসনে বসেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া। সভায় তিনি বক্তব্যও দেন।

সামাজিক মাধ্যমে ওই সভার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। ছবিতে দেখা যায়, সিমি কিবরিয়ার এক পাশে বসে আছেন ইউএনও লিটন দে এবং অন্য পাশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলম ও বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।

সরকারি সভায় জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যের উপস্থিতি এবং প্রধান অতিথির আসনে বসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে এর আইনি বৈধতা নিয়েও।

সমালোচনার পর একদিনের ব্যবধানে ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউএনও আমাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই হিসেবে আমি উপস্থিত হই। এটা সাধারণ এক পরিচিতি সভা ছিল।

ইউএনও লিটন দে বলেন, ওই বিষয়ের সঙ্গে আমাদের বদলির কোনো সম্পর্ক নেই। এটা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। নির্বাচনের আগে আমার আরেকবার বদলি হয়েছিল। কিন্তু সেটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন আবার বদলির আদেশ হলো। এটা একটা রুটিন ওয়ার্ক।

এই বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, এটা প্রশাসনিক মিটিং না, এটা জাস্ট একটা পরিচিতি সভা। এটা কোনো আনুষ্ঠানিক মিটিং না। আর বদলির বিষয়টি আমাদের রুটিন প্রক্রিয়া। এই ঘটনার সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।

একসঙ্গে দুজনের বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কাকতালীয়ভাবে হয়েছে বলতে পারেন।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে হবিগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. রেজা কিবরিয়া।

তবে সভা শুরুর কিছুক্ষণ পরে এমপি সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে সেদিনও প্রধান অতিথির আসনে বসেন তার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া এবং উপস্থিত কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে তিনি উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘুরে দেখেন। সেই সময় ইউএনও মো. রুহুল আমিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম তার সঙ্গে ছিলেন। একইদিন সকালে সিমি কিবরিয়া নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন।

প্রথমবারের মতো সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান

মহাকাশে প্রথমবারের মতো এমন এক নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যা মানুষের চোখে সবুজ দেখায়। মৃতপ্রায় সূর্যের মতো নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ হোয়াইট ডোয়ার্ফ বা শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এটির সন্ধান পান তারা।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণ বিশ্লেষণ করে এ গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব নক্ষত্রের রং শুধু সাদা বা নীল নয়; বরং কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সবুজ কিংবা গোলাপি আভাও দেখা যেতে পারে।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডস বৃহস্পতিবার জানান, সাধারণ নক্ষত্রের রং মূলত তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। এ কারণে সেগুলো সাধারণত কমলা, সাদা বা নীল দেখায়। তবে শ্বেত বামন নক্ষত্রের বাইরের স্তরের ভৌত বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হওয়ায় সেগুলোর বর্ণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

কেন সবুজ দেখায় শ্বেত বামন নক্ষত্র?

শ্বেত বামন হলো সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঘন অবশিষ্টাংশ। নক্ষত্রের জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে বাইরের স্তর ঝরে পড়ে এবং অবশিষ্ট কেন্দ্রটি শ্বেত বামনে পরিণত হতে পারে।

গবেষকদের মতে, শ্বেত বামনের বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য মৌলের মিথস্ক্রিয়ার কারণে এর বর্ণে ভিন্নতা তৈরি হয়। নক্ষত্রের জীবনকালে আশপাশের বিভিন্ন পদার্থ এর সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এই পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় শনাক্ত সবুজাভ নক্ষত্রটিতে প্রধানত ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

শ্বেত বামনের পৃষ্ঠে লোহা, ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো মৌলও পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণত পাথুরে গ্রহ বা গ্রহাণুতে থাকে। কোনো গ্রহাণু শ্বেত বামনের খুব কাছে চলে এলে তার মহাকর্ষীয় আকর্ষণে সেটি ছিন্নভিন্ন হয়ে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষে পরিণত হতে পারে। পরে এসব পদার্থ নক্ষত্রের বাইরের স্তরে মিশে যায়।

হল্যান্ডসের মতে, এসব পদার্থ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, পাথুরে বস্তুগুলো কী কী মৌল দিয়ে তৈরি ছিল।

গ্রহের গঠন জানতেও সহায়ক

গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম বার্গাসার বলেন, শ্বেত বামন আশপাশের গ্রহের পদার্থকে ভেঙে নিজের মধ্যে মিশিয়ে নিতে পারে। পরে সেই পদার্থের উপাদান বিশ্লেষণ করে গ্রহটির গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা আলামত বিশ্লেষণ করে অপরাধের রহস্য উদ্‌ঘাটনের মতোই বিজ্ঞানীরা এসব অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করে গ্রহের অতীত সম্পর্কে তথ্য বের করেন। এর মাধ্যমে গ্রহ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা বোঝার সূত্র পাওয়া যেতে পারে।

এই গবেষণায় পৃথিবী থেকে ২০ পারসেক বা প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা পরিচিত ১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্র বিশ্লেষণ করেন হল্যান্ডস।

গবেষকেরা সরাসরি পৃথিবী থেকে এসব নক্ষত্রের রং দেখতে পারেন না। নক্ষত্রের আলোকে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে ভাগ করলে যে বর্ণালির সৃষ্টি হয়, তা বিশ্লেষণ করে নক্ষত্রের সম্ভাব্য রং নির্ণয় করা হয়েছে। আলোর এই বর্ণালিকে নক্ষত্রের এক ধরনের ‘আঙুলের ছাপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গবেষণায় আরও একটি নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেটিকে প্রায় স্যামন মাছের মাংসের মতো গোলাপি দেখানোর কথা জানিয়েছেন হল্যান্ডস। নক্ষত্রটিতে কার্বন অণুর উচ্চ ঘনত্ব থাকায় এমন বর্ণ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্বেত বামন নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য বোঝার নতুন পদ্ধতি

গবেষণায় সরাসরি নতুন কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের চেয়ে পরিচিত শ্বেত বামন নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য বোঝার একটি নতুন পদ্ধতি সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট স্ক্র্যানটনের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাগনেস কিম বলেন, নক্ষত্রের বর্ণালি থেকে মানুষের চোখে সেটি কেমন দেখাবে, তা নির্ণয় করা পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের একটি আকর্ষণীয় সংযোগ।

তিনি আরও বলেন, কাছ থেকে দেখা সম্ভব হলে কিছু শ্বেত বামনকে সবুজ, আবার কিছু তারাকে গোলাপি দেখাত—এটি বেশ চমকপ্রদ।

হল্যান্ডস জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণালি বিশ্লেষণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। নতুন প্রযুক্তি ও বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক জরিপের মাধ্যমে আরও দূরের নক্ষত্রের তথ্যও পাওয়া যাবে।

তার আশা, নতুন পর্যবেক্ষণের ফলে বর্ণালি-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া শ্বেত বামন নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বাড়তে পারে। এতে সবুজাভ শ্বেত বামন নক্ষত্রের সংখ্যা এক বা দুটি থেকে বেড়ে ১০ থেকে ২০টিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

গবেষণাটি আরএএস টেকনিকস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস (আরএএসটিআই) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

বিএনপি ৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয়, প্রতিশ্রুতি রাখে। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে, বাস্তবায়ন করে। ৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে—এর নাম বিএনপি, বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার দুপুরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত দেশব্যাপী ইএফটি ও আইবিএস প্লাস প্লাস এর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, উৎপাদনমুখী শিক্ষা ও প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করতে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষাসহ সব উদ্যোগ তার সময় নেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়া শিক্ষকদের অবসরকালীন ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট তো আছেই, এর বাইরে একেক জন পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা অবসর সুবিধা পাবেন। এটা একজন দরিদ্র স্কুলশিক্ষকের জন্য, যিনি গ্রামে বসে আছেন, অনেক বেশি মাইনে রাখে।’

তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বসে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আইবিএস প্লাস প্লাসে ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে তার টাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে, এক টাকাও কোথাও উৎকোচ দিতে হবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে গতকাল বলেছে, আগামী দুদিন পর সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হবে, আপনারা কী কী বাস্তবায়ন করেছেন? এগুলো দেখে যান, বাস্তবায়ন করেছি। এটা আমাদের ইশতেহারে ছিল না। এটা ৩২ নম্বর।’

বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস বিতরণ ৩৩ নম্বর বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।

‘আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করতে চাই না, জাতি করবে। কিন্তু আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই’ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আপনি কৃষকদের কাছে কথা রেখেছেন।’

‘আপনি দরিদ্র মা-বোনদের ভোলেননি। আপনি ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন। আমাদের বিরোধীপক্ষ বলেছে, রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। এখন তারাই প্রতিযোগিতা করছে ফ্যামিলি কার্ড কবে দেবেন!’ যোগ করেন তিনি।

আর্থিক সঙ্গতির সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে সব মা-বোনদের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তার প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হবে। মানি সার্কুলেশন হবে। বাজারের দ্রব্য সে কিনবে, সেই দ্রব্যের কারণে চেইন ইন্ডাস্ট্রিজগুলো চলবে এবং ওখানেও কর্মসংস্থান হবে। বৃহৎ লোন যারা নেয়, তারা হয়তো তছরুপ করে কিন্তু এই অর্থ দরিদ্র মা-বোনদের কাছে যখন যাবে, সে সেটা খরচ করবে ফ্যামিলির কল্যাণে এবং চেইন ইন্ডাস্ট্রিজগুলো গড়ে উঠবে।’

‘তার আর্থিক সক্ষমতা হবে, ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত হবে, দেশের সম্পদ হবে। দরিদ্রকে যদি আপনারা দরিদ্রই রেখে দেন, জাতির কখনো কল্যাণ হবে না। মুক্তি হবে না,’ বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বর্তমান সরকারের অন্যান্য উদ্যোগ তুলে ধরে পর্যায়ক্রমে দেশের সব নাগরিকদের প্রয়োজনীয় কর্মসূচির আওতায় আনা হবে এবং তারা স্বীকৃতি পাবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এগুলো বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাবে। এটা কেবল আমরা বিশ্বাস করি না। এটা আমরা জানি, আপনি প্রতিপালন করবেন। দেশের মানুষ সেটা বিশ্বাস করে।’

সবজির দাম কমলেও বেড়েছে মাছ, মুরগি ও ডিমের

এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীতে সবজির দাম কমলেও বেড়েছে মাছ, মুরগি ও ডিমের।

গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ইব্রাহিমপুর, মিরপুর-১১, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে প্রায় সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।

সবচেয়ে বেশি কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। এক সপ্তাহ আগে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি হলেও এখন তা কেজিপ্রতি ২০০-২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কিন্তু এরপরও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। কারণ ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা ও সিংহভাগ মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা করে বেড়েছে।

আজ কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা কাইয়ুম হোসেন (৬৫) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সবজির দাম কমলেও আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তি আসেনি। কারণ ডিম, মাছ ও মুরগির দাম বেড়েছে।’

তিনি জানান, দুই কেজি বরবটি ও পটল কিনেছেন ১১০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৪০ টাকা কম। কিন্তু এক কেজি রুই মাছে ৩০ টাকা বেশি, এক ডজন ডিমে ১০ টাকা বেশি এবং পৌনে দুই কেজির একটি মুরগিতে গত সপ্তাহের তুলনায় ১৭ টাকা বেশি খরচ হয়েছে তার।

‘মোট বাজারে খরচ কমে নাই বরং বেড়েছে,’ বলেন তিনি।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আজ ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৯০-২০০ টাকা। মাছের মধ্যে রুই ৩০০-৩৮০, কাতলা ৩০০-৩৬০, তেলাপিয়া ১৮০-২৫০, কই ২০০-২৫০ ও পাঙ্গাশ ১৬০-২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এর সবই খামারে চাষ হওয়া মাছ।

নদী ও বিলের মাছের দাম অনেক বেশি।

কাজীপাড়া বাজার থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে রুই মাছ কেনা রেদওয়ান হোসেন বলেন, ‘বাজারে চাষের মাছে পরিপূর্ণ। কিন্তু নদী ও বিলের মাছের সাপ্লাই কম এবং দাম অতিরিক্ত বেশি। নদী-বিলের মাছের কেজি হাজারের কমে পাওয়াই যায় না। চিংড়ি মাছও এক হাজার টাকা কেজি চাইছে।’  

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের পক্ষে দেশি মাছ খাওয়া সম্ভবই না।’

কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির বলেন, ‘সব রকমের মাছের দাম বেড়েছে। জলাশয়ে পানি বাড়ার কারণে চাষের মাছের আমদানি কমে গেছে। নদী-বিলের মাছ তো আগে থেকেই কম।’

এদিকে কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী নূর ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দুই সপ্তাহ চড়া দাম থাকার পর এই সপ্তাহে সবজির দাম কমেছে। গত সপ্তাহেও বেশিরভাগ সবজি ৮০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এই সপ্তাহে তা কমে কেজিপ্রতি ৫০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে।’

আরেক সবজি ব্যবসায়ী মো সেলিম বলেন, ‘সাপ্লাইয়ের কম-বেশির ওপর সবজির দাম ওঠা-নামা করে। এই সপ্তাহে সাপ্লাই বেড়েছে। সবজির মধ্যে সবচেয়ে সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, মাত্র ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে।’

পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ টাকা কমেছে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০-৮০ টাকা, পটল ৫০-৮০ টাকা, বরবটি ৬০-১০০ টাকা, মুলা ৪০-৭০ টাকা, বেগুন ৫০-১০০ টাকা, করলা ৭০-১০০ টাকা, কাঁকরোল ৬০-১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০-৮০ টাকা ও লাউ ৫০-৮০ টাকা পিস।