30 C
Dhaka
Home Blog

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলা: মার্কিন তেলবাহী জাহাজ, রাডার ধ্বংসের দাবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের সপ্তম দিনে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করেও হামলার দাবি করেছে দেশটি।

আজ শুক্রবার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব হামলা ও বিস্ফোরণের খবর।

মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা

কুয়েত উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। 

দেশটির সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’র এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘কুয়েত সীমান্তের কাছে মার্কিন মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেটিতে আগুন ধরেছে।’

ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারিও তেলবাহী জাহাজটি আগুনে পুড়ছে বলে জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানা যায়নি।

তিন দেশে মার্কিন রাডারে হামলা

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও কাতারে স্থাপিত মার্কিন রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা।

এর মধ্যে, আমিরাত ও জর্ডানে মার্কিন থাড ব্যবস্থা এবং কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডেজার্ট আই’ নামে পরিচিত ‘এফপিএস-১৩২’ রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে আইআরজিসি।

‘এফপিএস-১৩২’ রাডারটি দূরপাল্লার আর্লি ওয়ার্নিং ও মহাকাশ নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হয়।

কুয়েত সিটিতে বিস্ফোরণ, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপির এক সাংবাদিক।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের চেষ্টা করছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

অন্যদিকে কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে আবারও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এএফপি জানায়, কয়েক ঘণ্টা ধরে কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী।

এ নিয়ে এক সপ্তাহে ইরানের হামলায় কুয়েতে অন্তত ৬৭ সেনা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

বাহরাইনে বিস্ফোরণ

বাহরাইনের রাজধানী মানামাতে কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

বাহরাইন জানিয়েছে, মানামায় একটি হোটেল ও দুটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যে একটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগে, তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাহরাইনে যেসব ভবনে হামলা হয়েছে সেখানে কাতারের নৌবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন, তবে তারা সবাই নিরাপদ আছেন।

এর আগের দিন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনের প্রধান রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারে আগুন লাগে।

ইরাকে বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণ

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানবন্দরের কাছেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এএফপি জানায়, বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

ওই এলাকায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর সেনারা অবস্থান করছে। এরবিল শহরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কনস্যুলেট কমপ্লেক্সও রয়েছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

গতকাল শুক্রবার রাতে সৌদি আরব থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ একটি দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা প্রকাশ্যে কোনোকিছু বলছি না। আমরা আমাদের মতো করে বন্ধুদের বাঁচানোর চেষ্টা করছি। এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি সভায় যোগ দিয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন।

 

কাফকার পৃথিবী, দস্তয়েভস্কির বিবেক: মানুষ এখনো যেখানে বন্দি

ব্যাটম্যান-সুপারম্যান, রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা, মেসি-রোনালদো, স্যামসাং-অ্যাপেল—কত ধরনের দ্বৈরথ বিশ্বজুড়ে। কিছু দ্বৈরথ আবার মনস্তাত্ত্বিকও হতে পারে। কখনো কখনো কিছু মানুষের মনস্তত্ত্বই হয়ে ওঠে দর্শন। সম্পূর্ণ ভিন্ন দর্শনে বিশ্বাসী দুজন মানুষ যখন তাদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন তারা পাঠকদের ফেলে দেয় মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে।

একজন প্রশ্ন করেন ‘আমি কী করেছি’? অন্যজন প্রশ্ন করেন ‘আমার সঙ্গে এমন কেন হচ্ছে’?

ধরা যাক, একজন মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারলেন, তিনি অভিযুক্ত। কী অপরাধ করেছেন, জানেন না। কে তাকে অভিযুক্ত করেছেন, তাও জানেন না। শুধু জানেন, তার বিরুদ্ধে কোথাও একটি মামলা চলছে।

আরেকজন মানুষ জানেন, ঠিক কী করেছেন তিনি। কোন পাপ করেছেন, কাকে আঘাত করেছেন, কোন সিদ্ধান্ত তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে—সবই জানেন। অথচ শাস্তি দেওয়ার জন্য কোনো আদালতের প্রয়োজন নেই। তার নিজের বিবেকই যথেষ্ট।

প্রথম মানুষটি কাফকার পৃথিবীতে বাস করেন, দ্বিতীয়জন দস্তয়েভস্কির। একজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে অজানা পৃথিবীতে। অন্যজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে নিজের ভেতরে। দুজনেরই পালানোর ইচ্ছে আছে। কিন্তু একজন জানেন না, পালাবেন কোথা থেকে। অন্যজন জানেন না, পালাবেন কার কাছ থেকে।

সম্ভবত এখানেই শুরু দস্তয়েভস্কি ও কাফকার সেই অসম্ভব দার্শনিক দ্বন্দ্ব—মানুষ কি পৃথিবীর হাতে বন্দি, নাকি নিজের আত্মার?

কখনো কখনো মনে হয়, জীবন যেন এমন এক অফিস, যেখানে আপনি প্রতিদিন হাজিরা দেন, কিন্তু কেউ আপনাকে কখনো বলে না যে, আপনার চাকরিটা আসলে কী। নিয়ম আছে, ফরম আছে, কর্তৃপক্ষ আছে, ই-মেইল আছে, শুধু পরিষ্কার উত্তর নেই।

আবার কখনো জীবন এতটাই ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে যে, কোনো অফিস, রাষ্ট্র কিংবা সমাজকে দায়ী করে আপনি বাঁচতে পারেন না। রাতের নীরবতায় নিজের বিবেকই তখন আপনার সবচেয়ে কঠিন বিচারক।

মানুষের এই দুই অভিজ্ঞতার দুই অসাধারণ সাহিত্যিক প্রতিরূপ হলেন ফিওদর দস্তয়েভস্কি ও ফ্রানৎস কাফকা।

দুজনের মধ্যে সরাসরি কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। তারা একই সময়ের মানুষও নন। দস্তয়েভস্কি মারা যান ১৮৮১ সালে, আর কাফকার জন্ম ১৮৮৩ সালে। তবু তাদের সাহিত্যকে পাশাপাশি রাখলে মনে হয়, তারা যেন একই মানুষের দুই প্রান্ত নিয়ে কথা বলছেন—একজন তাকিয়েছেন মানুষের ভেতরে, অন্যজন তাকিয়েছেন মানুষের চারপাশে।

আর সেই কারণেই তাদের নিয়ে ভাবা মানে অনেকটা নিজের জীবনের দুই ধরনের অন্ধকারের দিকে তাকানো।

কাফকার পৃথিবী: অপরাধটা কী, কেউ জানে না

কল্পনা করুন, এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, আপনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপনি জিজ্ঞেস করলেন, কেন? কেউ উত্তর দিল না।

আপনি আদালতে গেলেন। সেখানে কিছু মানুষ আছেন, কিছু নিয়ম আছে, কিছু দরজা আছে। আপনি ব্যাখ্যা চাইছেন। কিন্তু যত বেশি জানতে চাইছেন, তত বেশি রহস্য তৈরি হচ্ছে।

এটাই কাফকার ‘দ্য ট্রায়াল’ এর জোসেফ কে’র পৃথিবী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। কিন্তু অভিযোগটি কী, তা স্পষ্ট নয়। তার চারপাশে একটি বিশাল ব্যবস্থা কাজ করছে। কিন্তু সেই ব্যবস্থার নিয়মগুলো তার কাছে অদৃশ্য। তিনি পালাতে চান, ব্যাখ্যা চান, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চান। কিন্তু সমস্যা হলো, যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি লড়ছেন, সেটিকে ঠিকমতো দেখতেই পাচ্ছেন না।

এখানেই কাফকায়েস্ক শব্দটির ভয়াবহতা।

এটি শুধু কোনো অস্বাভাবিক বা আমলাতান্ত্রিক পরিস্থিতি নয়। বরং এমন এক অবস্থা, যেখানে আপনি বুঝতে পারছেন কিছু একটা ভয়াবহভাবে ভুল, কিন্তু সেই ভুলের উৎস খুঁজে পাচ্ছেন না। আজকের পৃথিবীতে এই অভিজ্ঞতা খুব অপরিচিত নয়।

একটি ব্যাংক আপনার অ্যাকাউন্ট আটকে দিয়েছে। কেন? জানেন না। একটি অ্যালগরিদম আপনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট মানুষের সামনে দেখাচ্ছে না। কেন? জানেন না। চাকরির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কেন? জানেন না। একটি সরকারি দপ্তর আপনাকে আরেকটি দপ্তরে পাঠাচ্ছে। কেন? জানেন না। আপনি শুধু একটি অদৃশ্য ব্যবস্থার ভেতর ঘুরছেন।

কাফকার সবচেয়ে বড় আতঙ্ক তাই শাস্তি নয়। আতঙ্ক হলো, আপনার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা কাজ করছে, তার মুখ নেই।

দস্তয়েভস্কির পৃথিবী: বিবেকই যেখানে বিচারক

এবার দৃশ্যটা বদলে ফেলুন। আপনি জানেন কী করেছেন, কোথায় ভুল করেছেন। কেউ আপনাকে গ্রেপ্তার করেনি, পুলিশ দরজায় আসেনি, কোনো আদালত বসেনি। তবু আপনি ঘুমাতে পারছেন না। কারণ, আপনার নিজের বিবেক আপনাকে ছেড়ে দিচ্ছে না।

এখানেই দস্তয়েভস্কি প্রবেশ করেন।

‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ এর রোমানোভিচ রাস্কোলনিকভ মনে করেন, কিছু মানুষ হয়তো সাধারণ নৈতিক নিয়মের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেন। একটি ভয়ংকর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি নিজের তত্ত্বকে পরীক্ষা করতে যান। তাত্ত্বিক অহংকারে বশে তিনি এক বৃদ্ধা অর্থলগ্নকারী ও তার বোনকে হত্যা করেন। কিন্তু হত্যার পর তার আসল শাস্তি শুরু হয়। আদালতে নয়, নিজের মাথার ভেতর।

কারণ, তিনি পালাতে পারেন, প্রমাণ লুকাতে পারেন, নিজেকে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে পারেন, কিন্তু নিজের কাছ থেকে পালাতে পারেন না। দস্তয়েভস্কির কাছে মানুষের সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগার কোনো জেলখানা নয়, বরং নিজের বিবেক।

তাই দস্তয়েভস্কির চরিত্ররা শুধু জানতে চায় না, ‘আমি কী করেছি?’ তারা জানতে চায়, ‘আমি আসলে কে?’

স্বাধীনতা আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

এখানেই তাদের সবচেয়ে গভীর পার্থক্যগুলোর একটি। কাফকার জগতে মানুষ নিজেকে স্বাধীন মনে করলেও বাস্তবে অসংখ্য অদৃশ্য কাঠামোর মধ্যে আটকে আছে।

আপনি কোথায় কাজ করবেন, কী কিনবেন, কী পড়বেন, কোন খবর দেখবেন—সবকিছুর ওপর অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক কাঠামো, সামাজিক নিয়ম ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা প্রভাব ফেলছে। আপনি স্বাধীন। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সীমানা কোথায়, জানেন না।

দস্তয়েভস্কি আবার উল্টো বিপদ দেখান। ধরুন, আপনাকে সত্যিই স্বাধীনতা দেওয়া হলো। কেউ আপনাকে থামাচ্ছে না। আপনি যা খুশি করতে পারেন। এখন? এখন আপনার সিদ্ধান্তের দায়ও আপনার। স্বাধীনতা তখন আর শুধু আনন্দ নয়, স্বাধীনতা মানে দায়িত্ব। আর দায়িত্ব মানেই অপরাধবোধের সম্ভাবনা।

এই জায়গায় দস্তয়েভস্কির মানুষ কাফকার মানুষের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক অবস্থায় পড়েন। কারণ, তিনি বলতে পারে না, তার কিছু করার ছিল না। তিনি জানেন, সিদ্ধান্তটি তারই ছিল। একজনের শত্রু চলমান ব্যবস্থা, অন্যজনের শত্রু নিজের ছায়া।

কাফকার চরিত্রকে আপনি একটি বিশাল ভবনের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষের মতো কল্পনা করতে পারেন। তিনি দরজা খুঁজছেন। একটি দরজা পেলে আরেকটি আসে। একটি নিয়ম বুঝলে আরেকটি নিয়ম সামনে আসে। যত বেশি চেষ্টা, গোলকধাঁধা তত বড় হয়।

দস্তয়েভস্কির চরিত্র যেন একটি ঘরের মধ্যে বসে আছে। দরজা খোলা, বাইরে যাওয়ার সুযোগ আছে, কিন্তু যেতে পারছেন না। কারণ, তার সঙ্গে বসে আছেন তিনি নিজেই।

এই দুই ছবিই আধুনিক মানুষের গভীর সংকটের দুটি প্রতীক। একদিকে, আমরা এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাস করি যেগুলোর নিয়ম আমরা তৈরি করিনি। অন্যদিকে, আমাদের নিজেদের সিদ্ধান্তের বোঝাও আমাদেরই বহন করতে হয়।

আজকের পৃথিবীতে কেন এই দুজন আরও প্রাসঙ্গিক? এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে লেখা তাদের বই আজও কেন এত পরিচিত মনে হয়? কারণ, পৃথিবী হয়তো বদলেছে, কিন্তু মানুষের ভয় খুব বেশি বদলায়নি।

আজকের মানুষ হয়তো কাফকার মতো কোনো অজানা আদালতে দাঁড়িয়ে নেই, কিন্তু অ্যালগরিদমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি তার জীবনকে মূল্যায়ন করছেন পারফরমেন্স রিভিউ, ক্রেডিট স্কোর, ফলোয়ার কাউন্ট এবং অসংখ্য অদৃশ্য ম্যাট্রিক্সে। অনেক সময় তিনি জানেনই না, কেন একটি সুযোগ পেলেন না। শুধু জানেন তিনি বাদ পড়েছেন। এ যেন আধুনিক ‘দ্য ট্রায়াল’।

আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে নিজের সবচেয়ে কঠিন বিচারকও মানুষ নিজেই। অন্যের সাফল্য দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে হয়; পুরোনো সিদ্ধান্ত মনে পড়ে; একটি ভুল সম্পর্ক, ভুল কথা, ভুল সিদ্ধান্ত বারবার মাথায় ফিরে আসে। কেউ তাকে শাস্তি দিচ্ছে না, নিজেই নিজেকে দিচ্ছে।

গভীরভাবে চিন্তা করলে তারা আসলে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড়ান না। বরং মানুষের অস্তিত্বের দুই দিক আলোকিত করেন। কাফকা আমাদের বলেন, তোমার চারপাশের পৃথিবী সবসময় যুক্তিসংগত নয়। এমন ব্যবস্থার মধ্যেও তুমি আটকে যেতে পারো, যার নিয়ম তুমি কখনো বুঝবে না। আর দস্তয়েভস্কি বলেন, ঠিক আছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তোমাকে নিজের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড়াতেই হবে।

কাফকা আমাদের শেখান অসহায়ত্বের ভাষা। দস্তয়েভস্কি শেখান দায়িত্বের ভাষা।

কাফকার মানুষ জিজ্ঞেস করেন, ‘আমার সঙ্গে এমন কেন হচ্ছে?’ দস্তয়েভস্কির মানুষ জিজ্ঞেস করেন, ‘আমি এমন মানুষ হলাম কীভাবে?’

আর সম্ভবত আধুনিক মানুষকে দুই প্রশ্নই করতে হয়। শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই একটু কাফকা, একটু দস্তয়েভস্কি।

সকালে অফিসে যাওয়ার পথে আমরা কাফকা। অদৃশ্য ডেডলাইন, নিয়ম, অ্যালগরিদম, আমলাতন্ত্র—সবকিছুর মধ্যে পথ খুঁজি। রাতে একা ঘরে ফিরে আমরা দস্তয়েভস্কি। দিনের কথাগুলো মনে করি, কাকে কী বলেছি, কী বলা উচিত ছিল, কোথায় ভুল করেছি—সেসব হিসাব করি।

দিনে আমরা পৃথিবীর সঙ্গে লড়াই করি। রাতে লড়াই করি নিজের সঙ্গে। সম্ভবত এ কারণেই দস্তয়েভস্কি ও কাফকা এত আলাদা হয়েও এত কাছের। একজন আমাদের নিয়ে যান মানুষের আত্মার অন্ধকারে, অন্যজন নিয়ে যান মানুষের তৈরি পৃথিবীর অন্ধকারে। একজনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ, অন্যজনের দরজা ভেতর থেকে।

আর আমরা? আমরা সেই দুই দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি। হয়তো চাবি আমাদের হাতেই। শুধু আমরা জানি না কোন দরজার চাবি কোনটি।

দেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বলেন, ‘এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচারের পুনর্বাসনের পথ সুগম করছে কি না, সেটি মনে হয় ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের।’

‘এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না,’ বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবশ্যই আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম-অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। বছরের পর বছর ঘর-বাড়িছাড়া হয়েছিলেন। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছিলেন হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু। আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ।’

সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং হতাহত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পরাজিত, পতিত, বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা, এমন বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল।’

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুন-অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংসতা, শুধুমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী তৎকালীন সরকারের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা চলে।’

‘আজকের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস যেমন তুলে ধরবে, অপরদিকে তাদের সামনে উন্মোচিত হবে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ। এই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। আমি আশা করি, এই জাদুঘর শুধুমাত্র ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হবে না, এই জাদুঘর বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে। শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানই নয়, এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকা জরুরি,’ যোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসনকে মেনে নিতে পারেনি। এদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এসব ইতিহাস জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।’

‘আমি আশা করি, এই জাদুঘরে জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের স্বাক্ষর, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বীর ছাত্র-জনতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াল লিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক ও ডিজিটাল উপাদান সংরক্ষিত থাকবে,’ বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না। বরং তা ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যৎ বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং প্রতিটি বিষয়ের যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত থাকা প্রয়োজন।’

পর্যায়ক্রমে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার হবে বলেও শহীদ পরিবারকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকার মনে করে, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি জানান, বিগত ১৭ বছর ও জুলাই আন্দোলনে শহীদ, গুম-খুনের শিকার মানুষের নামে তাদের এলাকায় যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে, এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।’

তিনি বলেন, আমি প্রায়ই একটি কথা বলি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভোলেননি, একইভাবে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদের জনগণ কখনোই ভুলবে না।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সহায়তা করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক, উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বর্তমান সরকার শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

একইসঙ্গে গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর-সমৃদ্ধ, নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চাই, বলেন তিনি।

গ্যাস সংকটে কমেছে প্যারাসিটামলের কাঁচামাল উৎপাদন

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশে প্যারাসিটামল এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের উৎপাদন সংশ্লিষ্ট খাতের বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জরুরি আমদানির ফলে ওষুধের সংকট আপাতত এড়ানো গেলেও প্যারাসিটামমলের এই কাঁচামালের উচ্চমূল্য ওষুধ প্রস্তুতকারকদের ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং আমদানি-নির্ভরতার বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসছে।

আইকিউভিআইএর (সাবেক আইএমএস হেলথ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্যারাসিটামলযুক্ত ওষুধ বিক্রির দিক থেকে চতুর্থ সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই গ্যাস সংকটের কারণে দেশের অন্যতম শীর্ষ এপিআই প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য বেসিক কেমিক্যাল লিমিটেডে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম জামাল উদ্দিন।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বয়লার প্রাকৃতিক গ্যাসে চলে। বয়লার ছাড়া কোনো সহায়ক যন্ত্রই চালানো সম্ভব নয়। চিলার, রিঅ্যাক্টরসহ অন্যান্য প্রসেসিং ইউনিটের সবই এর ওপর নির্ভরশীল। বয়লার বন্ধ হয়ে গেলে পুরো কারখানাই অচল হয়ে পড়ে।”

গত ১৫ দিন ধরে প্যারাসিটামল এপিআই উৎপাদন করতে পারছে না গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি। ফলে টঙ্গীভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক চার টন উৎপাদন প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

এই সংকট এমন সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন উৎপাদকরা কাঁচামালের বাড়তি দামের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। জামাল উদ্দিন জানান, বৈশ্বিক তেলবাজারের অস্থিরতার কারণে চীন থেকে আমদানিকৃত প্রধান কাঁচামালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে টনপ্রতি প্রায় ২ হাজার ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৩০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

‘পুরো এপিআই খাত এখন চাপে রয়েছে’, যোগ করেন তিনি।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে প্রতি মাসে প্যারাসিটামল এপিআইয়ের চাহিদা প্রায় ৬৫০ টন।

উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আগে গণস্বাস্থ্য মাসে প্রায় ৯০ টন প্যারাসিটামল এপিআই সরবরাহ করত। বাকি চাহিদা পূরণ করা হতো আমদানি ও অন্যান্য স্থানীয় উৎপাদকদের মাধ্যমে।

জামাল উদ্দিন জানান, বেক্সিমকো, অ্যাকমি, এসিআই, ইবনে সিনা, হেলথকেয়ার ও ইনসেপ্টাসহ অধিকাংশ শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে তারা এপিআই সরবরাহ করে। স্কয়ারই একমাত্র বড় প্রতিষ্ঠান, যারা নিজেদের প্যারাসিটামল এপিআই নিজেরাই উৎপাদন করে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ওপরই এই এপিআই উৎপাদন পুনরায় শুরুর বিষয়টি নির্ভর করছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ প্রস্তুত ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হলেও উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রায় ৯৫ শতাংশ এপিআই আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশ আসে চীন ও ভারত থেকে।

২০১৮ সালে এপিআই নীতি গ্রহণ ও এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপন করা হলেও নীতি, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রক জটিলতার কারণে আমদানি-নির্ভরতা কমানো এখনো সম্ভব হয়নি।

জামাল বলেন, ‘সরকারের সমন্বিত সহায়তায় এসব বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশ আমদানি-নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে। বর্তমানে দেশ বছরে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের এপিআই আমদানি করে, যা কমিয়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা সম্ভব।’

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) মো. শাহ ইমরান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্যারাসিটামল এপিআই উৎপাদন করলেও মাঝে মধ্যে গণস্বাস্থ্য থেকেও কিনে থাকে।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গণস্বাস্থ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বেক্সিমকোকে নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দেশে প্যারাসিটামলের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ বেক্সিমকো পূরণ করে এবং দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত থাকলে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাবনায় অবস্থিত তাদের এপিআই কারখানা গ্যাস সংকটে প্রভাবিত হয়নি। কারণ সেখানে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ রয়েছে।

তিনি বলেন, স্কয়ার একাই দেশের প্যারাসিটামল এপিআইয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম, যা জরুরি এই ওষুধের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করছে। তবে অন্যান্য স্থানীয় উৎপাদকদের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সৃষ্ট ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। সেই কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির বলেন, ওষুধ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে এপিআই আমদানির অনুমতি দিচ্ছে।

হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হালিমুজ্জামান বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত স্থানীয়ভাবে প্যারাসিটামল এপিআই সংগ্রহ করে, তারা ইতোমধ্যে আমদানির অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামালকে অগ্রাধিকার দিলেও সরবরাহ না থাকলে আমদানির অনুমতি দেয়।

হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের কাঁচামালের মজুত রাখে এবং আমদানির প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় আগেই অর্ডার দেয়। কারণ এপিআই আমদানি, মান পরীক্ষা এবং তা দিয়ে ওষুধ উৎপাদন—সবই সময়সাপেক্ষ।

‘প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারসাম্য রাখতে হয়। খুব কম আমদানি করলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার বেশি আমদানি করলে ব্যবহার করার আগেই কাঁচামালের মেয়াদ শেষ হয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে’, যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে, যা জাতীয় সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ।

মহেশখালীতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি কেন বন্ধ হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এই সংকটের তীব্র প্রভাব পড়েছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে। কারখানাগুলো এখন পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না এবং এর ফলে রপ্তানি বিলম্বিত হচ্ছে।

ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর ও কোনাবাড়ির কারখানা কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

প্যারাগন সিরামিকসের প্রশাসন ব্যবস্থাপক রোকনুজ্জামান জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে তারা তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন।

তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় প্রায় ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান একই সমস্যার সম্মুখীন।’ চলমান সংকট মোকাবিলায় কোম্পানিটি সিএনজি কিনতে বাধ্য হয়েছে। তবে সীমিত সরবরাহের কারণে সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারিনি এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন বড় ক্রেতা হারিয়েছি’, বলেন রোকনুজ্জামান।

গাজীপুরে কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক এম এম মামুন উর রশিদ বলেন, কোনো কারখানা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি। তবে সাত থেকে আটটি কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি শফিউল আলম বলেন, শ্রমিকরা ইতোমধ্যে ওভারটাইম আয়ের সুযোগ হারাচ্ছেন এবং সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কিছু কারখানায় ছাঁটাই হতে পারে।

বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ইউরোপীয় ক্রেতার বড় চালানের ডেনিম রপ্তানি অর্ডার হারানোর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সংকটের কারণে গাজীপুরে তাদের দুটি তৈরি পোশাক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এয়ার ফ্রেইটে পণ্য পাঠানোর সুযোগ নেই, কারণ খরচ অনেক বেশি। তাই আমরা উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বলে জানান প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের এই সাবেক সভাপতি বলেন, ‘সংকট আছে, কিন্তু তা কাটিয়ে ওঠার কোনো উপায় নেই। আমরা ডিজেল বা শিল্প এলপিজির মতো ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু তাতে বড় ধরনের লোকসান হবে।’

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

তিনি জানান, ডেল্টা অ্যাগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি এবং ন্যাশনাল সিমেন্ট মিলস লিমিটেড গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

‘গ্যাস ছাড়া উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের উৎপাদন খাত টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে’, যোগ করেন আমিরুল হক।

কঠিন পরিস্থিতি সামলে এমবাপে এখন মানসিকভাবে প্রস্তুত, জানালেন দেশম

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর তীব্র লড়াইয়ের পর দেশটির সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্য সইতে হয়েছিল কিলিয়ান এমবাপেকে। এই ঘটনায় কড়া বিবৃতিও দিয়েছিলেন তিনি। তিক্ত অবস্থা পার করে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের সেরা তারকা ও অধিনায়ক মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন, এমনটাই জানালেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

ভীষণ শারীরিক চ্যালেঞ্জ ও স্লেজিং নির্ভর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। ওই ম্যাচের পর প্যারাগুয়ের এক সিনেটর ফরাসি ফরোয়ার্ডকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। যেসব মন্তব্য বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়ে কড়া বিবৃতি দেয় ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন ও এমবাপে নিজে।

খেলার বাইরের এই ইস্যু মনোযোগ বিশ্বকাপ থেকে কিছুটা সরিয়ে নিলেও এমবাপে আবার নিজের কাজে মন দিয়েছেন। মরক্কোর বিপক্ষে নামার আগে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দেশম ফরাসি অধিনায়কের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন এবং জোর দিয়ে জানান যে এই ফরোয়ার্ড অবিচলিত আছেন।

দেশম বলেন, ‘কিলিয়ান ভালো আছে। মানসিক স্তরে সে একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে এবং আমি আর সে বিষয়ে ফিরে যেতে চাই না। সে মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী এক তরুণ। তার পুরো মনোযোগ আগামীকালের ম্যাচের দিকে, যা খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে কারণ আমাদের কাছে এমন দুটি দল রয়েছে যাদের যোগ্যতা আছে এবং কেবল একটি দলেরই পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কিলিয়ান ভালো আছে, দলের বাকিদের মতোই, এবং সে আগামীকালের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।’

ফরাসি কোচ কেবল মানসিক প্রস্তুতিই ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট—এমন ধারণাটি উড়িয়ে দিয়ে ৯০ মিনিটের শারীরিক পারফরম্যান্সের দিকেই আবার মনোযোগ আকর্ষণ করেন, ‘দলের মানসিকতা আপনাকে ম্যাচ জেতায় না, তবে আমি খুব ভালো করেই জানি যে এটি আপনার ম্যাচ হারার কারণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত, একমাত্র সত্য সেটাই যা মাঠের মধ্যে ঘটে।’

একটি দীর্ঘ মৌসুম জুড়ে খেলোয়াড়দের যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তা নিয়ে বলতে গিয়ে দেশম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি কীভাবে পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝাতে ফ্রান্সের আগের টুর্নামেন্টের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘এমন কিছু সময় আসে যা কিছু খেলোয়াড়ের জন্য কম-বেশি কঠিন হয়। আপনারা কিলিয়ানের কথা বলছেন, এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সে যে চোট পেয়েছিল, তার পর তার যাত্রা সেখানেই থেমে যেতে পারত। এবং আমরা যদি একটু পিছনের দিকে তাকাই, যদিও আমরা সেই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলাম, তবুও আমরা আক্রমণভাগে ভুগেছিলাম কারণ দুর্ভাগ্যবশত বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল।’

দেশম অধিনায়ক হিসেবে এমবাপের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ বলেন, ‘কিলিয়ানের বিষয়ে ফিরে আসি, সে অধিনায়ক এবং এই ভূমিকাটি পুরোপুরি ধারণ করে চমৎকারভাবে তা পালন করছে। সে খুব ভালো করেই জানে যে তার আচরণ পুরো দলের ওপর প্রভাব ফেলে এবং স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়েরা নিজেদের মধ্যে বিষয়গুলো সামলে নেয়। আমি বলছি না যে তারা নিজস্ব নিয়ম তৈরি করে, তবে সেখানে এক ধরনের বোঝাপড়া থাকে, কারণ এক, দুই বা তিনজন খেলোয়াড় কখনো কখনো এমন পেশাদার বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে পারে যা তাদের স্বাভাবিক রূপের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে দেয়। আর এখানেই সবাইকে সমর্থন করার জন্য দলের ভূমিকা সামনে আসে।’

 

রামিসা হত্যা: দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি শিল্পী সমাজের

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষও। অভিনেতা ও নির্মাতারা এ ঘটনাকে ‘নৃশংস’ ও ‘বর্বর’ উল্লেখ করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা তো পিশাচ দেখিনি, শুধু নাম শুনেছি। কিংবা ভয় দেখিয়ে বলি পিশাচের মতো ভয়ংকর। রামিসাকে যে হত্যা করেছে সে তো মানুষ নয়, একটা ভয়ংকর পিশাচ। আমরা কোন সমাজে বাস করছি? আমরা কি পিশাচের সমাজে বাস করছি?’

তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা কি কেউ আশা করতে পারি? এইভাবে একটা ছোট্ট শিশুকে জীবন দিতে হলো? ওর পবিত্র মুখটা দেখলেই হাহাকার করে উঠি। কীভাবে কেউ পারে এমন জঘন্য কাজ করতে? সেজন্যই জোর দিয়ে বলছি, রামিসার খুনি মানুষ নয়, পিশাচ।’

বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বিচারহীনতার জন্যই এটা হচ্ছে। যদি প্রতিটি ধর্ষণ ও খুনের বিচার হতো, তাহলে উদাহরণ হয়ে থাকত। রামিসা হত্যার বিচার হোক। তাহলেই আমরা পিশাচমুক্ত সমাজ পাব। আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।’

নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘আমি মর্মাহত, আমি ক্ষুব্ধ। রামিসার বিষয়টি খুবই অসহনীয়। মেনে নেওয়ার মতো নয়। জাতি হিসেবে আমরা এতটা নিষ্ঠুর কবে থেকে হলাম? আগেই ছিলাম, নাকি নতুন করে হলাম—এটা আমাকে খুব ভাবাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে চিন্তাভাবনার সময় হয়েছে। গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। রাষ্ট্রের যারা নীতিনির্ধারক, তারা একটু ভালো করে ভাববেন। রামিসার ঘটনা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এটা বর্বর ঘটনা।’

রামিসার হত্যাকারীর বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘যে রামিসাকে খুন করেছে, তার বিচার হোক। কঠিন শাস্তি হোক। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এমন ঘটনা আর না ঘটুক, সেই প্রত্যাশা করছি।’

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘রামিসার ঘটনাটি একটি নৃশংস ঘটনা। তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি আমাদের সমাজের জন্য ভয়াবহ এবং একই সঙ্গে লজ্জারও।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ, রাষ্ট্রও ব্যর্থ। শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারি না। মেয়েটার কথা ভাবতেই ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আমারও মেয়ে আছে। বিষয়টি আমাকে বেশি নাড়া দিচ্ছে।’

বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির সমালোচনা করে বাঁধন বলেন, ‘বিচারহীনতা বড় একটি বিষয়। বিচারগুলোতে দেরি হওয়াটাও বড় সমস্যা। আবার কখনো কখনো আসামিরা ছাড়া পেয়ে যায়। সব মিলিয়ে বিচারটা ঠিকভাবে হলে অপরাধীরা এত বড় অপরাধ করতে সাহস পেত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই রামিসা হত্যার বিচার হোক। এটা উদাহরণ হয়ে থাকুক। আমরা সবাই দেখি, বর্বরতার বিচার হয়েছে।’

অভিনেত্রী তানজিকা আমিন বলেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ হয়ে আছি রামিসার ঘটনায়। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছি। ফেসবুকে ঢুকতে পারছি না। রামিসার ছবি দেখলে প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছি। তার বাবা-মায়ের মুখ দেখে আরও কষ্ট হচ্ছে। কীভাবে সন্তানকে ছাড়া তারা বাঁচবেন—এটা ভেবে গা ছমছম করছে। তাদের কষ্ট মেনে নেওয়ার মতো নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাসায় গেছেন। নিশ্চয়ই রামিসার পরিবার ন্যায়বিচার পাবে। আমি বিচার চাই এবং দ্রুত বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘আর একটি শিশুকেও যেন ধর্ষণ করা না হয়। কঠিন শাস্তি হোক। দ্রুত রায় হোক। মানুষ ভুলে যাওয়ার আগেই যেন বিচার হয়। বিকৃত রুচির মানুষ যেন এই বিচার দেখে ভয় পায়। বিকৃত মানসিকতার মানুষকে নির্মূল করতে হবে।’

ইরানি জাহাজে মার্কিন টর্পেডোর হামলা, সাগরের তলদেশ নিয়ন্ত্রণের নতুন ইঙ্গিত?

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে ভারত মহাসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলার ঘটনায় সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের ‘আইআরআইএস ডেনা’ যুদ্ধজাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অন্তত ৮৬ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন নৌবাহিনী কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে টর্পেডো ছোড়েনি।

এ হামলার পর সাবমেরিন থেকে জাহাজটিতে টর্পেডো ছোড়ার পেরিস্কোপ ফুটেজ ও ইরানি জাহাজের তলিয়ে যাওয়ার একটি ছবি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন।

কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক অ্যালেসিও পাটালানো বলেন, ‘ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ২০ মিনিটের কম সময়ে ডুবে গেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রতলের যুদ্ধ কৌশল আরও আধুনিক হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাবমেরিন যুদ্ধ কখনো বন্ধ হয়নি। ১৯৮০ সালের পর থেকে নৌবাহিনীগুলোর মধ্যে বড় কোনো সংঘাত না হওয়ায় এটি শুধু আড়ালে ছিল।’

সর্বশেষ টর্পেডো হামলার ঘটনা ছিল ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময়। ব্রিটিশ সাবমেরিন ‘এইচএমএস কনকুয়েরর’ আর্জেন্টিনার ক্রুজার ‘বেলগ্রানো’ ডুবিয়ে দিয়েছিল।

এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘চিওনান’ করভেট যুদ্ধজাহাজ টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যায়। এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা হলেও তারা অস্বীকার করেছিল।

ইউরোপের একজন সাবমেরিন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাখ্যা করে বলেন, টর্পেডো জাহাজের গায়ে আঘাত করে না। বরং জাহাজের ঠিক নিচে বিস্ফোরণ ঘটায়।

তিনি বলেন, ‘জাহাজের কয়েক মিটার নিচে বিস্ফোরিত হয়ে বিশাল বুদবুদ তৈরি করে টর্পেডো। এতে জাহাজটিকে একবার উপরে তুলে নিচে ফেলে দেয় এবং এতে জাহাজের মূল কাঠামো দুই খণ্ড হয়ে যায়।’

তার মতে, ইরানের আইআরআইএস ডেনা জাহাজটির ডুবন্ত বস্তু শনাক্তের রেঞ্জ এতটাই সীমিত ছিল যে এটি আসন্ন হামলা বুঝতে সক্ষম হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবমেরিনের অতর্কিত ও অদৃশ্য চলাচল এবং অনেক দূর থেকে টর্পেডো ছোড়ার ক্ষমতা একে ‘যুদ্ধের চূড়ান্ত অস্ত্রে’ পরিণত করেছে।

যখন সমমানের দুই নৌবাহিনীর রাডার ও মিসাইলের পাল্লা সমান থাকে, তখন সাবমেরিনের এই সক্ষমতা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

ইউরোপীয় সামরিক বাহিনীর আরেকটি সূত্র জানায়, যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল থেকে অনেক দূরে টর্পেডো হামলা মূলত চীন ও রাশিয়ার মতো বৃহৎ শত্রুশক্তির উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘শক্তি প্রদর্শনের’ একটি নমুনা।

‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজে হামলার অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র আকাশ, সমুদ্র ও এমনকি সমুদ্রতলে আধিপত্য বিস্তার করছে। তারা সবখানেই আছে, শত্রু খুঁজে বের করতে ও ধ্বংস করতে সক্ষম,’ বলছে ওই সূত্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরে বিপর্যস্ত হওয়ার পরও নৌবহর আধুনিকীকরণে অবহেলা করলেও, সাবমেরিন উন্নত করতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

চীনও দীর্ঘ বছর ধরে নৌবাহিনী ও সাবমেরিন বহর উন্নত করছে।

মার্কিন সাবমেরিন ফোর্সের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল রিচার্ড সাইফ চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংসদীয় কমিটিকে বলেছেন, চীনের ‘দুর্ধর্ষ’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাবমেরিনগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘদিনের সমুদ্রতলের আধিপত্যের জন্য চ্যালেঞ্জ।

জন্মনিরোধক সংকটে দেশে বাড়ছে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ

দেশে জন্মনিরোধক সামগ্রীর চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এলাকায় সরকারিভাবে সরবরাহ করা সব ধরনের জন্মনিরোধক ইতোমধ্যে ফুরিয়ে গেছে। এতে অনিচ্ছাকৃত বা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের (ডিজিএফপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে চলে আসা এই সরবরাহ ঘাটতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জন্মনিরোধক পদ্ধতি কনডম। বর্তমানে ৩৯৭টি উপজেলায় এই সামগ্রীটি সম্পূর্ণ স্টক-আউট বা মজুতহীন অবস্থায় রয়েছে।

ডিজিএফপি সারা দেশে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে পাঁচ ধরনের জন্মনিরোধক—কনডম, খাওয়ার বড়ি (ওরাল পিল), আইইউডি (ইন্ট্রা ইউটারিন ডিভাইসেস), ইনজেকশন এবং ইমপ্ল্যান্ট বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকে।

২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২২০টি উপজেলায় খাওয়ার বড়ির মজুত শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি দেশের সবকটি উপজেলাতেই ইমপ্ল্যান্ট নেই। এছাড়া ৩৫৩টি উপজেলায় আইইউডি এবং ১৬৯টি উপজেলায় ইনজেকশনের মজুতও ফুরিয়ে গেছে।

গত এক বছরে জন্মনিরোধক সামগ্রীর সরবরাহ ক্রমাগত কমেছে। উদাহরণ হিসেবে, গত বছরের জানুয়ারিতে যেখানে ৫৩ দশমিক ৩১ লাখ কনডম সরবরাহ করা হয়েছিল, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা কমে মাত্র ৭ দশমিক ৪৯ লাখে নেমে এসেছে, অর্থাৎ ৮৫ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চলমান এই সংকট জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন গত পাঁচ দশকের মধ্যে দেশে প্রথমবারের মতো মোট প্রজনন হার (টিএফআর) বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, জন্মনিরোধক ব্যবহারের হার কমে যাওয়া এবং প্রজনন হার বৃদ্ধি পাওয়া—দুটোই ইঙ্গিত দেয় যে তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি ঠিকমতো কাজ করছে না।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জন্মনিরোধক সরবরাহে এই বিঘ্ন সরাসরি নিম্নবিত্ত মানুষকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে, কারণ বাজার থেকে কিনে ব্যবহারের সামর্থ্য তাদের অনেকেরই নেই। ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ বেড়ে যেতে পারে।

অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম আরও জানান, দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকট প্রজনন হার বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করবে।

ডিজিএফপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব ধরনের জন্মনিরোধক কেনার জন্য গত বছরের নভেম্বরে অনুমোদিত বড় প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পুরো কেনাকাটার প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে চার মাস সময় লাগবে।

সংকট সামাল দিতে ডিজিএফপি জরুরি ভিত্তিতে সীমিত আকারে কনডম ও খাওয়ার বড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এতে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

গত নভেম্বরে প্রকাশিত ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫ (মিকস)’-এর ফল প্রকাশের তিন মাস পর এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামনে এলো। ওই জরিপে দেখা গেছে, প্রজনন হার (টিএফআর) ২০১৯ সালের ২ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, জন্মনিরোধক ব্যবহারের হার এবং আধুনিক পদ্ধতির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ—দুটোই কমেছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, জন্মনিরোধক সামগ্রীর সংকটের সঙ্গে প্রজনন হার বাড়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যেহেতু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ সরকারি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, তাই সরবরাহ কমে যাওয়া জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউনিসেফের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের জন্মনিরোধক ব্যবহারের হার ২০১৯ সারে সর্বোচ্চ দেখা গিয়েছিল, ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ। সেখান থেকে কমে এখন ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। আধুনিক জন্মনিরোধক পদ্ধতির চাহিদা পূরণের হারও ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কনডম সরবরাহ ছিল ৯৯ দশমিক ২৪ লাখ, খাওয়ার বড়ি ৭২ দশমিক ৩৫ লাখ, ইনজেকশন ৯ দশমিক ৫ লাখ, আইইউডি শূন্য দশমিক ১৪ লাখ এবং ইমপ্ল্যান্ট শূন্য দশমিক ৩৫ লাখ।

ধীরে ধীরে এই মজুত কমতে কমতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। তখন কনডম সরবরাহ দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৫৪ লাখে। খাওয়ার বড়ির মজুত ছিল ২১ দশমিক ৯৬ লাখ, ইনজেকশন ৪ দশমিক ৮২ লাখ, আইইউডি ৩ হাজার ২৮৬টি এবং ইমপ্ল্যান্ট ২ হাজার ৩২৫টি।

ডিজিএফপির তথ্যমতে, ৩৯৭টি উপজেলায় কনডম পুরোপুরি শেষ। ৫০টি উপজেলায় মজুত শেষের পথে, সর্বোচ্চ আর ১৮ দিন চলবে। আরও ৯টি উপজেলায় মজুত প্রয়োজনের তুলনায় কম, সর্বোচ্চ ৪৮ দিন চলতে পারে। 

মাত্র ৭টি উপজেলায় সন্তোষজনক মজুত রয়েছে (৫১ থেকে ৯০ দিন চলবে), আর ২৪টি উপজেলায় তিন মাসের বেশি চলার মতো মজুত আছে।

খাওয়ার বড়ির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি সংকটজনক। ২২১টি উপজেলায় কোনো মজুত নেই। ১২৫টি উপজেলায় মজুত প্রায় শেষ, ৬৩টি উপজেলায় কম। মাত্র ৪১টি উপজেলায় সন্তোষজনক এবং ৩৭টি উপজেলায় অতিরিক্ত মজুত রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের এক জেলা উপপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে সরবরাহ সংকট চলছে। সামান্য পরিমাণে কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

তিনি জানান, ইনজেকশনের মজুত এক মাসেরও কম তাদের কাছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সেবাগ্রহীতাদের চাপে থাকছেন। এই সংকটের বিরূপ প্রভাব দুই-তিন বছর পর দৃশ্যমান হবে।

লজিস্টিকস অ্যান্ড সাপ্লাই ইউনিটের পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, সরকার গত নভেম্বরে ১ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকার একটি ক্রয় প্রকল্প অনুমোদন দিলেও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাত্র গত সপ্তাহে।

তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি জানান, পরিচালক এখন ক্রয়প্রক্রিয়া শুরু করবেন, তবে তা শেষ করতে অন্তত চার মাস লাগবে।

বর্তমানে হাতে থাকা তহবিল দিয়ে ডিজিএফপি ১ কোটি ২০ লাখ কনডম এবং ৩০ লাখ খাওয়ার বড়ি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

রাজ্জাক বলেন, ঈদুল ফিতরের পর কনডম হাতে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, তবে খাওয়ার বড়ি পেতে আরও সময় লাগবে। এই পরিমাণ সামগ্রী সংকট মোকাবিলায় খুবই সামান্য।

ডিজিএফপি কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় জন্মনিরোধকের ববহার কমে যায়। কিন্তু তৎকালীন সরকার এই কমার হার বাড়ানোর ব্যাপারে তৎপর হয়নি।

২০২৪ সালের জুনে ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি’ (এইচপিএনএসপি) শেষ হওয়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়, কারণ এর আওতায় আগের বেশিরভাগ কেনাকাটা হতো।

যোগাযোগ করা হলে ডিজিএফপি মহাপরিচালক আশরাফী আহমদ বলেন, গত বছর সামান্য কিছু কেনাকাটা ছাড়া ২০২৩ সাল থেকে আমরা কোনো জন্মনিরোধক কিনতে পারিনি।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন, এই সংকটের ক্রমপুঞ্জিত প্রভাব রয়েছে। আমরা এটা অস্বীকার করতে পারি না… সত্য বলতে, তৎকালীন সময়ে পরিবার পরিকল্পনা খাত যথাযথ অগ্রাধিকার পায়নি।

প্রজনন হার বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, এই সংকট রাতারাতি কাটবে না, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিয়েছে এবং সংকট নিরসনের বিষয়টি তাদের নজরে আনা হবে।

স্পটিফাই স্ট্রিমিংয়ে বিভ্রাট

মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইয়ে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বিভ্রাট শনাক্তকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর।

ওয়েবসাইটে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ১২ মিনিট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী স্পটিফাই ব্যবহারে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশেও একই সমস্যা পড়েন ব্যবহারকারীরা।

ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, স্পটিফাইয়ের মিউজিক স্ট্রিমিং সেবায় প্রবেশ করতে সমস্যায় পড়ছেন ব্যবহারকারীরা। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্পটিফাই বিভ্রাটের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকেও ২০টি সমস্যার প্রতিবেদন জমা পড়েছে।

বিভ্রাটের বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে স্পটিফাই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘আমরা এই মুহূর্তে কিছু সমস্যার বিষয়ে অবগত আছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’