33 C
Dhaka
Home Blog

সরকারের প্রণোদনা-সহায়তা পেতে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে গ্রাহকদের: বাংলাদেশ ব্যাংক

সরকারের নীতি সহায়তা বা প্রণোদনা পাওয়ার আগে ব্যাংকের বিরুদ্ধে ঋণগ্রহীতাদের মামলা বা রিট আবেদন প্রত্যাহার করতে হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।

সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত নির্ধারিত নীতি সহায়তা বা প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধানকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বলা হয়, রপ্তানিমুখী বন্ধ কল-কারখানা চালু করাসহ কৃষি, সিএমএসএমই ইত্যাদি খাতের ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রণোদনা বা নীতি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু এরপরও দেখা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো গ্রাহক একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা বা নীতি সহায়তা নিচ্ছে এবং অপরদিকে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট পিটিশনসহ অন্যান্য মামলা অব্যাহত রাখছে।

এ অবস্থায় দেশের ব্যাংকিং খাতের মামলাজট নিরসনে প্রণোদনা প্যাকেজসহ যেকোনো নীতি সহায়তা দেওয়ার আগে আবেদনকারী সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট পিটিশনসহ অন্যান্য মামলা অনিষ্পন্ন থাকলে তা প্রত্যাহার সাপেক্ষে আবেদন বিবেচনা করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চিঠিতে বলা হয়, প্রত্যাহার করা মামলার তালিকা সংযুক্ত করে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা অনিষ্পন্ন নেই উল্লেখ করে আবেদনকারীকে একটি হলফনামা দিতে হবে।

এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
 

মাঠে ‘স্পেস জ্যাকেটে’ যেভাবে ঠান্ডা থাকছেন ফুটবলাররা

ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটির কথা অনেকেরই মনে থাকার কথা। ১১ জুন মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলাররা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন রুপালি রঙের ঢিলেঢালা এক জ্যাকেট পরে।

অনেকের কাছেই বিষয়টি অদ্ভুত লেগেছিল—এত গরমে আবার অতিরিক্ত পোশাক কেন?

আবার অনেকের কাছে রূপালি জ্যাকেট পরা খেলোয়াড়দের মহাকাশচারীদের মতো মনে হচ্ছিল।

এই রূপালি রঙের জ্যাকেট আসলে কী এবং কেন পরেছেন খেলোয়াড়রা—সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে উঠে আসে এর পেছনের বিজ্ঞান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৪ সালের পর এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৭৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখেছে নিউইয়র্কবাসী। এমন পরিস্থিতিতে চলমান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অংশ নেওয়া দলগুলোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—শরীর ঠান্ডা রাখা।

আর এ জন্যই রূপালি রঙের এই বিশেষ জ্যাকেট তৈরি করেছে বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। তাদের ‘ক্লাইমাকুল’ প্রযুক্তির অংশ এই জ্যাকেট, যা খেলোয়াড়দের ত্বক ও শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

এই কুলিং ব্যবস্থায় বিশেষ জ্যাকেট ছাড়াও রয়েছে কুলিং ভেস্ট এবং জুতার ওপর পরার জন্য শীতলকারী আবরণ বা ওভারশু।

অ্যাডিডাসের ইনোভেশন অ্যাথলেট পারফরম্যান্স বিভাগের গ্লোবাল ডিরেক্টর মার্গেরিতা রাককুলিয়া দ্য অ্যাথলেটিককে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ধরে রাখার জন্য শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ২০১২ সাল থেকে আমাদের টিম এটি নিয়ে গবেষণা করছে। ২০১৬ রিও অলিম্পিকের আগে আমরা প্রথম কুলিং ভেস্ট তৈরি করি।’

এরপর থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও নিজস্ব গবেষণাগারে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি উন্নত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাকাশচারীদের স্পেসস্যুটকে চরম তাপমাত্রা থেকে রক্ষা করার জন্য এ ধরনের জ্যাকেট ব্যবহার করা হয়।

২০২৫ সালে বিশ্বখ্যাত গাড়ির প্রতিযোগিতা ‘ফর্মুলা ওয়ানে’ (এফ ওয়ান) মার্সিডিজ দলের চালক জর্জ রাসেল ও কিমি আন্তোনেলি বাহরাইনের তীব্র গরম থেকে বাঁচতে এই জ্যাকেট পরেছিলেন।

ফুটবলারদের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে অ্যাডিডাস গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করে।

রাককুলিয়া বলেন, ‘আমরা সেই মতামতের ওপর ভিত্তি করে কুলিং ভেস্ট ও জ্যাকেটের ডিজাইন নতুন করে তৈরি করি। ফুটবলের বিরতিগুলো খুব ছোট হয়, তাই ভেস্টগুলো এমনভাবে বানানো হয়েছে যেন খেলোয়াড়রা খুব দ্রুত তা পরতে ও খুলতে পারেন। এজন্য সামনে চেইন যুক্ত করা হয়েছে এবং শরীরের গঠন অনুযায়ী ছোট-বড় করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

অ্যাডিডাসের দাবি, জ্যাকেট ও ভেস্ট একসঙ্গে ব্যবহার করলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা প্রায় শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ত্বকের তাপমাত্রা প্রায় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এটি ওজনেও খুব ভারী নয়, জ্যাকেট ও ভেস্ট মিলিয়ে মাত্র এক কেজি।

এবার বিশ্বকাপে জার্মানি, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোসহ মোট ১৪টি দেশকে এই বিশেষ কিট সরবরাহ করেছে অ্যাডিডাস।

ব্যবহারের আগে জ্যাকেট ও ভেস্টগুলোকে একদম ঠান্ডা রাখার জন্য বিশেষ ফ্রিজার বক্সে রাখা হয়।

ফুটবলারদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই জ্যাকেটের নাম অ্যাডিডাস দিয়েছে ‘অ্যান্থেম জ্যাকেট’।

ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় থেকেই এটি পরে থাকতে পারেন খেলোয়াড়রা।

রাককুলিয়া ব্যাখ্যা করেন, ‘এই জ্যাকেটগুলো শরীরের চারপাশে একটি শীতল আবহ বা মাইক্রোক্লাইমেট তৈরি করে। জ্যাকেটটি ঢিলেঢালা বা ওভারসাইজড হওয়ায় এর ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা থাকে। এর বাইরের স্তরটি সম্পূর্ণ বাতাস-নিরোধক, ফলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না। আর এর উজ্জ্বল রুপালি প্রতিফলক পৃষ্ঠটি বাইরের রোদ ও উত্তাপকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়।’

স্পেনের ফিজিও কার্লোস ক্রুজ নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, ‘এই ভেস্টগুলো শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে এনে ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। আমরা অনুশীলনের পর তো বটেই, এমনকি ম্যাচের আগে ওয়ার্ম-আপ সেশনেও এটি ব্যবহার করছি। এতে খেলার সময় অনেক বেশি সতেজ বোধ হয়।’

দ্য অ্যাথলেটিক জানায়, তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ দৌড়ানোর ফলে খেলোয়াড়দের পা ফুলে যায় এবং বুট জুতা অনেক সময় পায়ে ঠিকমতো ফিট হতে চায় না। ফলে তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে।

এ জন্য এবার বিশ্বকাপে অনেক ফুটবলারই পা ঠান্ডা রাখতে ব্যবহার করছেন ‘কুলিং ওভারশু’। অ্যাডিডাসের তৈরি এই ওভারশু জুতার ওপরে কিংবা খালি পায়েও ঝটপট পরে নেওয়া যায়।

অ্যাডিডাস জানায়, ওভারশুতে বিশেষ জেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মাত্র কয়েক মিনিটে পায়ের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। হাফটাইমের বিরতিতে ড্রেসিংরুমে ফিরে খেলোয়াড়রা এটি পরে পা দুটিকে দ্রুত ঠান্ডা করে নেন।

ফুটবলারদের কাছ থেকে এই প্রযুক্তির দারুণ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে উল্লেখ করে অ্যাডিডাস জানায়, অনেকেই ক্লাবে ফিরে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যও এই সরঞ্জাম নিজেদের কাছে রাখতে চেয়েছেন।

নাসা থেকে ফর্মুলা ওয়ান হয়ে ফুটবলে আসা এই প্রযুক্তি এখন টেনিস, ভলিবল, হকি এবং অ্যাথলেটিক্সের মতো অন্যান্য খেলাতেও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে অ্যাডিডাস।

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় খেলাধুলার জগতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় ‘স্পেস জ্যাকেট’ ভবিষ্যতের ক্রীড়া প্রযুক্তির নতুন এক প্রতীক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশি দর্শকের জন্য ‘চকলেট’

বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য মুক্তি পেয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চকলেট’।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ২০ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জসীম আহমেদ। এতে শিশু নির্যাতনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ইউটিউবে দেখা যাবে।

জসীম আহমেদ বলেন, ‘চকলেট’ চলচ্চিত্রে শিশু ও নারীদের ওপর চলমান নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা সচরাচর পর্দায় উঠে আসে না। শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরা চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—নিজের ঘরেও কি শিশুরা নিরাপদ?

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন গোলাম ফরিদা ছন্দা, শতাব্দী ওয়াদুদ, আজিজুল হাকিম ও শিল্পী সরকার অপু।

এর আগে, চলচ্চিত্র ‘দাগ’ ও প্রামাণ্যচিত্র ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেলস’ নির্মাণ করেছিলেন জসীম আহমেদ।

কম খরচের ড্রোন দিয়ে ইরান যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে

ইরানে গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিমান হামলা শুরুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। তবে তিনি ড্রোন বা চালকবিহীন বিমানের কথা উল্লেখ করেননি। 

কিন্তু গত ছয় দিনে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কম খরচে তৈরি দুই হাজারের বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই মহাক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছে ইরান। 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেসব চিত্র।

হামলায় ইরান মূলত ‘কামিকাজে’ শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করছে। এ ধরনের ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। কুয়েতে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে শাহেদ ড্রোনের হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। যা এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর ওপর চালানো সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।

এছাড়া বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, দুবাইয়ের বিলাসবহুল পাম জুমেইরাহ হোটেল ও বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরেও আঘাত হেনেছে শাহেদ ড্রোন।

এই ড্রোন হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষত উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। 

সৌদি আরবের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরায় চালানো একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করলেও অগ্নিকাণ্ডের ফলে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

একইভাবে কাতারে বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি টার্মিনালটিও ইরানি ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ইরানে তৈরি সাড়ে ৩ মিটার লম্বা এই শাহেদ-১৩৬ ড্রোনগুলোর নির্মাণ খরচ বেশ সস্তা। এর প্রতিটির খরচ মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার। এগুলো ওড়ানোর আগে স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গতিপথ ঠিক করে দেওয়া হয়। দূর থেকে একে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। 

প্রপেলার ইঞ্জিনের সহায়তায় ওড়ে ড্রোনটি। এটি ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। ড্রোনগুলোর সামনের নাকের মতো অংশে ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব, যা ৫০০ কেজির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে অনেক কম হলেও লক্ষ্যবস্তুর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে সক্ষম।

ড্রোনগুলো খুব দ্রুত গতির না হলেও অনেক নিচু দিয়ে উড়তে পারে। ফলে রাডার বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকারী ব্যবস্থার পক্ষে একে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ড্রোন ব্যবহারের পেছনে ইরানের কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে। 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ নিকোলাস কার্লের মতে, ইরান এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর ‘মানসিক চাপ ও আতঙ্ক’ সৃষ্টি করতে চায় যেন তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বাধ্য হয়।

জিপিএস জ্যামিং ডিভাইস ও লেজার অস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ড্রোনগুলোকে প্রতিহত করা যায়।

এছাড়া ইরান চায়, শত্রুরা যেন ড্রোন ধ্বংস করতে গিয়ে নিজেদের দামি ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ করে ফেলে। যেমন, শাহেদের মতো একটি সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে অনেক সময় প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ডলার অর্থমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাইক মুলরয় বিবিসিকে জানান, এ ধরনের ড্রোনগুলো বিভিন্ন যুদ্ধে এত বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে যে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন নিজেদের উন্নত সংস্করণের ড্রোন তৈরি করেছে। ‘লুকাস’ নামের একটি ড্রোন তারা ইতোমধ্যে ব্যবহার শুরু করেছে। 

এদিকে, মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ইরানের ড্রোন হামলার হার বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনের তুলনায় ড্রোন হামলার পরিমাণ ৮৩ শতাংশ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ৯০ শতাংশ কমেছে।

অবশ্য গত সোমবার ইরানের ফারস বার্তা সংস্থার এক ভিডিওতে দেখা যায়, দেশটির কোনো এক অজানা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে সারি সারি এমন ড্রোনের মজুদ দেখা গেছে।

তবে ইরান কতদিন এই হামলা চালিয়ে যেতে পারবে তা এখনো অনিশ্চিত।

ছুটির দিনেও অফিসে প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে চাইলেন সবার সহযোগিতা

সরকারি ছুটির দিনেও অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে আসেন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানের বাসভবন থেকে সরাসরি তেজগাঁও কার্যালয়ে আসেন।

রুমন আরও জানান, বৈঠকে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তারেক রহমান। সেইসঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, হুমায়ুন কবির, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আজ বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এরপর থেকে প্রতি শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও অফিস করছেন তিনি। 

জৈব অস্ত্র তৈরির পদ্ধতি জানাল চীনের এআই, ‘জেলব্রেকিং’ নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে বারবার এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে উদ্বেগজনক খবর প্রকাশিত হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই সামনে এলো চীনের এআই প্রতিষ্ঠান মুনশটের নতুন ঘটনা।

গবেষকেরা মুনশটের জনপ্রিয় কিমি মডেলের দুটি এআই মডেলকে জৈব অস্ত্র তৈরি ও হত্যাকাণ্ড চালানোর পদ্ধতি জানাতে রাজি করাতে পেরেছেন। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর চীনের ওই প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু করেছে।

আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

এআই সিস্টেমের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে মাইন্ডগার্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি মাইন্ডগার্ড বিবিসিকে জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে তারা শনাক্ত করে যে মুনশটের ‘কিমি কে২.৬’ ও ‘কে৩ সোয়ার্ম’ মডেল নির্মাতাদের বেঁধে দেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারে।

এটি ‘জেলব্রেকিং’ নামের একটি প্রক্রিয়ার সময় ধরা পড়ে। এ প্রক্রিয়ায় গবেষকেরা একগুচ্ছ জটিল নির্দেশনা দিয়ে পরীক্ষা করেন, এআই টুল নিরাপত্তাব্যবস্থা উপেক্ষা করে কি না।

মাইন্ডগার্ডের ভাষ্য, এসব নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করার কথা ছিল, কিমিকে এ ধরনের উদ্বেগজনক বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা হলে সে যেন জবাব না দেয়।

মুনশট বিবিসিকে জানিয়েছে, ‘আরও উন্নত ও নিরাপদ এআই তৈরির অন্যতম প্রধান ভিত্তি’ হিসেবে তারা তৃতীয় পক্ষের মতামতকে স্বাগত জানায়।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, এ অনুসন্ধানের বিষয়ে তারা মাইন্ডগার্ডের সঙ্গে আলোচনা করছে।

মাইন্ডগার্ডের প্রতিষ্ঠাতা পিটার গ্যারাগান বিবিসিকে জানান, কিমি কে২.৬ ও কে৩ সোয়ার্ম নিয়ে তাদের অনুসন্ধানে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ‘টেক লাইফ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পিটার বলেন, ‘জেলব্রেকিং সফল হলে এটি (কিমি) যেকোনো বিষয় নিয়েই কথা বলবে। এমনকি ক্ষতিকর অন্যান্য বিষয়েও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরামর্শ দেবে। এ ক্ষেত্রে এটি উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল হয়ে উঠবে।’

জেলব্রেকিং শব্দটি প্রযুক্তিতে উৎসাহী মানুষের কাছে নতুন নয়। স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেমের বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে বাড়তি সুবিধা ব্যবহারের প্রক্রিয়াকেও জেলব্রেকিং বলা হয়। তবে এআইয়ের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, বিশেষভাবে সাজানো নির্দেশনার মাধ্যমে মডেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া এবং নিষিদ্ধ বা অনুপযুক্ত বিষয়ে উত্তর দিতে বাধ্য করা।

সাম্প্রতিক সময়ে ওপেনএআই, মেটা ও অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই এজেন্টকে বিভিন্ন অনলাইন সেবায় হ্যাকিং চালাতে দেখা গেছে।

তবে এ ক্ষেত্রে জেলব্রেকিং ভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

জেলব্রেকিং বেশ জটিল একটি প্রক্রিয়া। এতে অনেক সময় ও প্রচেষ্টার প্রয়োজন। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, হ্যাকার ও অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তিরা ক্ষতি করার জন্য এগুলো ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারেন।

অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি জানিয়েছে, তাদের একটি এআই মডেল ব্যবহার করে ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড’ চালানোর চেষ্টা শনাক্ত করে তা ঠেকানো হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জৈব অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা পাওয়া সম্ভব ছিল।

আয়কর রিটার্নের খুঁটিনাটি: কার জন্য বাধ্যতামূলক, দেরি ও ভুল হলে করণীয় কী

আয়কর রিটার্ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। রিটার্ন দাখিল কার জন্য বাধ্যতামূলক, কার জন্য নয়, কিংবা দেরিতে রিটার্ন দিলে কী ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়, ভুল রিটার্ন কীভাবে সংশোধন করা যায় এবং অসম্পূর্ণ রিটার্ন দাখিল করলে কী পরিণতি হতে পারে, এসব প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে।

আয়কর আইনে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। একজন করদাতার জন্য তাই শুধু রিটার্ন দাখিল করাই যথেষ্ট নয়; বরং সঠিক ব্যক্তি, সঠিক সময়, সঠিক ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং যথাযথ তথ্য—সবকিছু মিলিয়েই একটি পূর্ণাঙ্গ রিটার্ন দাখিল করা জরুরি। এমনকি রিটার্ন জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র হাতে পাওয়ার পরও সেটি আইনের চোখে সম্পূর্ণ নাও হতে পারে, এই বাস্তবতাও অনেকের অজানা।

কারা রিটার্ন দাখিল করবেন

আয়কর আইনের ১৬৬ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির আয় যদি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করমুক্ত আয় সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

তবে শুধু আয় করযোগ্য হলেই নয়, আরও কিছু পরিস্থিতিতেও রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের পূর্ববর্তী তিন বছরের মধ্যে কোনো বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলেও রিটার্ন দিতে হবে।

এ ছাড়া, কিছু ব্যক্তি ও সত্তার ক্ষেত্রে আয়ের পরিমাণ নির্বিশেষে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোম্পানি, কোনো কোম্পানির অংশীদার-পরিচালক বা অংশীদার-কর্মচারী, ফার্ম, ফার্মের অংশীদার, ব্যক্তিসংঘ, ব্যবসায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপকের পদধারী কর্মচারী, গণকর্মচারী এবং বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা রয়েছে, এমন অনিবাসী ব্যক্তি।

কেউ যদি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে এমন আয় পান, যা আইনের অংশ ৬-এর প্রথম অধ্যায়ের অধীন কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহারের সুবিধাপ্রাপ্ত, তাহলেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তার রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। ২৬১ ধারা অনুযায়ী, করদাতা হিসেবে নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি এবং ২৬৪ ধারা অনুযায়ী, যাদের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখাতে হয়, তারাও এই বাধ্যবাধকতার আওতায় পড়েন।

কারা রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন

আইনে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা ভাষায় পাঠদানকারী প্রাথমিক বা প্রাক্‌-প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাসিক পেমেন্ট আদেশভুক্ত (এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যদি তাদের ইংরেজি ভার্সন কারিকুলাম না থাকে।

এ ছাড়া, অব্যাহতির তালিকায় রয়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড। কোনো আইন বা সরকারি আদেশে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা, কর্তৃপক্ষ, কমিশন, ইনস্টিটিউট, বোর্ড, একাডেমি বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠান, যারা কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না এবং পরিচালন ব্যয়ের আংশিক বা সম্পূর্ণ অর্থ সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত পায়, তারাও এই ছাড়ের আওতায় পড়ে। এতিমখানা, অনাথ আশ্রম, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নেই এমন অনিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি, তহবিল ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই তালিকায় পড়তে পারেন।

রিটার্ন কীভাবে দাখিল করতে হবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সব স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। তবে ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তার বেশি বয়সের প্রবীণ করদাতা সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি অথবা বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের পরিবর্তে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

এ ছাড়া, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ছাড়া অন্যান্য করদাতাকে ১৬৯ ধারা অনুযায়ী বোর্ড নির্ধারিত ফরমে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। শুধু মূল ফরম পূরণ করলেই হবে না; প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তফসিল, বিবৃতি, হিসাব, পরিশিষ্ট ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্রও দিতে হবে। যেসব করদাতার ৭৩ ধারা অনুযায়ী নিরীক্ষিত আয় বিবরণী ও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাদের রিটার্নের সঙ্গে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, বোর্ড নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণের প্রমাণ, আয় পরিগণনাপত্র এবং উৎসে করের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

কোনো আয়বর্ষে আন্তর্জাতিক লেনদেন থাকা সত্তার ক্ষেত্রে ২৩৮ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত নির্ধারিত বিবরণীও রিটার্নের সঙ্গে দাখিল করতে হয়। অনিবাসী বাংলাদেশি চাইলে নিকটস্থ বাংলাদেশ মিশনে কর পরিশোধের প্রমাণসহ রিটার্ন জমা দিতে পারেন। মিশন দাপ্তরিক সিলসহ প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দিয়ে রিটার্নটি বোর্ডে পাঠাবে।

রিটার্নে কার সই প্রয়োজন

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে করদাতা নিজেই রিটার্নে সই করবেন। তিনি বাংলাদেশে না থাকলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা আইনগতভাবে উপযুক্ত ব্যক্তি সই করতে পারেন। আইনগতভাবে বৈধ কারণে কোনো করদাতা স্বাভাবিক কাজ করতে অপারগ হলে তার অভিভাবক বা আইনগত প্রতিনিধি সই করতে পারেন। হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে সাধারণত পরিবারের কর্তা সই করেন। কর্তা বাংলাদেশে না থাকলে বা মানসিক অক্ষমতার কারণে অপারগ হলে পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য সই করতে পারেন।

কোম্পানি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে মুখ্য কর্মকর্তা, ফার্মের ক্ষেত্রে নাবালক অংশীদার ছাড়া যেকোনো অংশীদার এবং অন্য কোনো সংঘের ক্ষেত্রে সদস্য বা মুখ্য কর্মকর্তা সই করতে পারেন। অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে বা তার পক্ষে সই করার আইনগত ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি সই করবেন।

বিশেষ পরিস্থিতিতে নোটিশ দিয়ে রিটার্ন চাওয়া যেতে পারে

১৭২ ধারা অনুযায়ী, উপ-কর কমিশনার নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে নোটিশ দিয়ে রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দিতে পারেন। দাখিল করা রিটার্ন অসম্পূর্ণ মনে হলে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসা কোনো অর্থবছরে বন্ধ হলে বা মালিকানা হস্তান্তরের সম্ভাবনা থাকলে, কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি বাংলাদেশ ত্যাগ করলে বা ত্যাগের সম্ভাবনা থাকলে, করদাতা কোনো করবর্ষের কর এড়িয়ে গেলে বা রিটার্ন দাখিল না করলে, অংশীদারি ফার্মের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন হলে বা নতুন উত্তরসূরি ফার্ম সৃষ্টি হলে এ ধরনের নোটিশ আসতে পারে। কেউ মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনোভাবে অন্যের ব্যবসার উত্তরাধিকারী হলেও রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৭০ ধারা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতা আয়কর রিটার্নের সঙ্গে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ—সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—কর প্রণোদনা বা করছাড় পাবেন। তবে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো কর প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

বিপরীতে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি—অতিরিক্ত কর দিতে হবে। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি—অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হবে।

নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দিলে

১৭৪ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর স্বপ্রণোদিতভাবে দাখিল করা রিটার্ন কিংবা করবর্ষ অতিক্রান্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে দাখিল করা রিটার্ন, উভয়ই ‘বিলম্ব রিটার্ন’ হিসেবে ধরা হতে পারে। স্বপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব রিটার্ন দিলে ১৭৩ ধারা অনুযায়ী, প্রযোজ্য কর পরিশোধের পাশাপাশি অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধযোগ্য করের ১০ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি—অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

করবর্ষ পার হওয়ার পর নোটিশের ভিত্তিতে বিলম্ব রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর হবে পরিশোধযোগ্য করের ১৫ শতাংশ বা ১০ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটা বেশি।

এ ছাড়া, ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১-এর নির্দিষ্ট কয়েকটি দফায় উল্লিখিত আয় ও চাকরি থেকে আয় পরিগণনায় কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়ের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনো আয়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব রিটার্নে কর অব্যাহতি প্রযোজ্য না হলে যেভাবে কর নির্ধারণ হতো, সেভাবেই কর পরিগণনা করে পরিশোধ করতে হতে পারে। অর্থাৎ দেরির মাশুল হিসেবে শুধু অতিরিক্ত করই নয়, নির্দিষ্ট কর অব্যাহতির সুবিধাও হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রিটার্নে ভুল হলে করণীয়

রিটার্ন দাখিলের পর ভুল ধরা পড়লে ১৭৫ ধারা অনুযায়ী, সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যেতে পারে। স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হওয়া রিটার্নে করদাতা নিজে ত্রুটি দেখতে পেলে, কর মামলা অডিটের সময়, উপ-কর কমিশনার কর্তৃক কর নির্ধারণের সময়, নির্দিষ্ট নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে কিংবা আপিল কর্তৃপক্ষ বা কর আপিল ট্রাইব্যুনালের সেট-এসাইড আদেশের পর দাখিল করা রিটার্নও সংশোধিত রিটার্ন হিসেবে গণ্য হয়।

তবে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের এই সুযোগ সীমাহীন নয়। আইন অনুযায়ী, মূল রিটার্ন দাখিলের তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে হবে। সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সময় বা তার আগে প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশোধিত রিটার্ন দিয়ে একই করবর্ষের মূল রিটার্নে দেখানো কর-দায় কমানো যাবে না। একইভাবে দালিলিক প্রমাণ ছাড়া মূল রিটার্নে দেখানো আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয়ের তথ্য পরিবর্তন বা স্থানান্তর করা যাবে না।

অসম্পূর্ণ রিটার্নের ঝুঁকি

১৭৬ ধারা অনুযায়ী, রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সময় আইন বা বোর্ডের নির্দেশনা না মানলে রিটার্নটি অসম্পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে, উপ-কর কমিশনার কারণ উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় তথ্য, দলিল, বিবৃতি বা যাচাই নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দাখিলের জন্য নোটিশ দিতে পারেন।

করদাতা নোটিশের নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে পালন না করলে সংশ্লিষ্ট বিধান পরিপালনে ব্যর্থতার কারণে রিটার্নটি বাতিল বা অকার্যকর বলে গণ্য হতে পারে। অর্থাৎ এমনভাবে বিবেচনা করা হতে পারে যেন রিটার্নটি দাখিলই করা হয়নি। এমন ক্ষেত্রে উপ-কর কমিশনার রিটার্ন বাতিল বা অকার্যকর করার নোটিশ করদাতাকে পাঠাবেন এবং পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারকেও লিখিতভাবে অবহিত করবেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে রিটার্নটি অডিটের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, করদাতা যদি নোটিশ অনুযায়ী সব ঘাটতি পূরণ করেন, তাহলে রিটার্নটি মূল দাখিলের তারিখ থেকেই সম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে উপ-কর কমিশনার রিটার্নটি বাতিল বা অকার্যকর গণ্য করে নতুন করে রিটার্ন দাখিলের নোটিশ দিতে পারেন।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার, শুধু প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া মানেই রিটার্নটি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নয়। রিটার্ন গ্রহণ করা হয়েছে আর রিটার্ন আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ, এই দুটি বিষয় এক নয়।

করদাতার করণীয়

রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করদাতার প্রথম কাজ হলো, তার রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে কি না, তা নিশ্চিত করা। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক ফরমে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ রিটার্ন জমা দেওয়া প্রয়োজন। রিটার্নে ভুল হলে দ্রুত আইনসম্মত পদ্ধতিতে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর কোনো নোটিশ এলে তা উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জবাব ও কাগজপত্র দাখিল করা জরুরি।

রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলে, নির্ধারিত ফরমে, সঠিক সময়ে ও প্রয়োজনীয় সব দলিলসহ রিটার্ন জমা দিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে উপ-কর কমিশনারের নোটিশের ভিত্তিতেও রিটার্ন দিতে হতে পারে। আবার নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত কর-দায়ের পাশাপাশি কিছু কর অব্যাহতির সুবিধাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে। রিটার্নে ভুল থাকলে আইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশোধনের সুযোগ থাকলেও সংশোধনের নামে মূল রিটার্নের কর-দায় কমানো কিংবা দালিলিক প্রমাণ ছাড়া আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয়ের তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

করদাতাদের মনে রাখা দরকার, রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া আর আইন অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ রিটার্ন দাখিল করা এক বিষয় নয়। প্রয়োজনীয় তথ্য ও দলিলের ঘাটতি থাকলে রিটার্ন অসম্পূর্ণ, এমনকি ক্ষেত্র-বিশেষে বাতিল বা অকার্যকরও বিবেচিত হতে পারে। তাই রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সঠিক সময়ে দাখিল, সঠিক তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজনীয় দলিলসহ পূর্ণাঙ্গভাবে দাখিল।

 

ফয়সাল ইসলাম এফসিএ, আর্থিক খাতের বিশ্লেষক
[email protected]

আমরা যদি বলি জুলাই কার—জুলাই কারোই থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর আমরা যদি বলি জুলাই কার, জুলাই কার? জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না—রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বেঁচে থাকার কথা ছিল না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর জঘন্যতম ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্যতম স্বৈরাচারকে আমরা দেখেছি। যদি আমরা আয়না ঘরে যাই, যেখানে আমার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে একটা জানোয়ার ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারে না, আমরা সেখানে থেকেছি। আমার ভাই মীর কাসেম, তার ছেলে ব্যারিস্টার আরমান এখনো ট্রমাটাইজড। ওর বাবার বন্ধু ছিলাম, একসঙ্গে জেল খেটেছি…আমি বললাম, ভাই কেন ফেরত আসলেন? তিনি বললেন, আমি যদি না আসি আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে। ফাঁসি তো তার হলো, কিন্তু ছেলেকেও তো ধরে নিয়ে গেল। আমি একটা জীবন্ত ইতিহাস…বাবা এ জন্য ফিরে এসেছিলেন তার সন্তানকে রক্ষা করবেন, কিন্তু সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।’

‘সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। পৃথিবীতে অনেক জাতি আছে, স্বাধীনতার জন্য শতবর্ষ সংগ্রাম করে। কোনোদিন স্বাধীনতা পায় না। শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে যায়। মহামতি লেলিন বলেছিলেন, ‘দেয়ার আর ডিকেডস, নাথিং হ্যাপেনস দেয়ার। বাট দেয়ার আর ডেইস অ্যান্ড উইকস ডিকেডস হ্যাপেনস দেয়ার’। আমরা সেই শতাব্দীকে নিয়ে এসেছি। নিউটনের কোনো আপেল নয় আন্দোলন-বিপ্লব-গণঅভ্যুত্থান…সেই আপেলকে পেড়ে নিতে হয়েছে। পাকাতে হয়েছে। আমরা সেই আপেলকে নিয়ে এসেছি। দলীয়করণ করা যাবে না কোথাও,’ যোগ করেন তিনি।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের জের ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আসুন, একসাথে বসি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনাদের আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা এখনো নাম দেন নাই। গতকালকে প্রথম বৈঠক করেছি। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘গণরায় বাস্তবায়ন কি সংস্কার পরিষদে গেলে হবে, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে গেলে হবে না? আমি একবার বলেছিলাম, তাল ধপ করিয়া পড়িল, না পড়িয়া ধপ করিল—এক কথাই। কিন্তু সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হচ্ছে সংস্কার করা।’

তিনি বলেন, ‘মাঠের রাজনীতি করতে পারবেন, সংস্কার কমিশন করবেন বা জাতীয় সংস্কার পরিষদ করবেন, সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ করবেন, এগুলো সবই ওয়ার্ডিং। বাস্তবতায় যেটা আসতে হবে, সংস্কার। সেটা গ্রহণ করতে হবে সংসদে।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যখন কোনো আন্দোলন তার নিয়মতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে দেওয়া হয় না, তখনই অপরিহার্য হয়ে যায় সহিংস রক্তাক্ত আন্দোলন। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ এর সেই সোপানগুলো বাদ দিলে জুলাইয়ের ৩৬ দিনে কি নিউটনের আপেল টপকিয়ে পড়েছে? না। বন্ধুদের বুঝতে বলব, যারা জুলাই চেতনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করছে, সেই রাজনীতি করা যাবে না। একাত্তরের চেতনাকে বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। আমি অনেকবার বক্তব্য দিয়েছি, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।’

‘তারা এই চেতনা বিক্রি করতে করতে বাংলাদেশকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বললে মানুষ ঘৃণা করতো। আমরা যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয় সেই রকম রাজনীতি করি। জুলাই আমাদের সবার, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের সবার। আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, যারা শহীদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা।’

এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের জন্য ফরজ। অথচ জুলাইয়ের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য, (জুলাই নিয়ে) রাজনীতি করার জন্য সবাই প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আমরা প্রতিযোগিতা করছি জুলাই বাস্তবায়নের জন্য।’

জরুরি প্রয়োজনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকেরা

একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা এখন নিজেদের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা তুলতে পারবেন।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করতে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে। ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আমানতকারীরা শুধু নিজেদের চিকিৎসার খরচের জন্য টাকা তুলতে পারতেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং ভাই-বোনের চিকিৎসার জন্যও এই টাকা তোলা যাবে। এ ছাড়া অন্য যেকোনো জরুরি প্রয়োজনেও এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অনেক আমানতকারী চিকিৎসার বাইরেও পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের আমানতের টাকা ব্যবহারের সুযোগ চেয়েছিলেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই নীতিমালায় এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পরিচালনা পর্ষদের সভায় আমানতের মুনাফায় হেয়ারকাট বা কর্তনের ব্যবস্থা স্থগিত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন আমানতকারীরা শরিয়াহভিত্তিক নিয়ম অনুযায়ী পুরো মুনাফা পাবেন।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পাঁচটি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে। এরপর এসব ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক দলও প্রত্যাহার করা হবে।

আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক অনিয়ম ও বেপরোয়া ঋণ বিতরণের কারণে এই পাঁচটি ব্যাংক কার্যত ধসে পড়ে।

গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে এবং ধাপে ধাপে আমানতের টাকা পরিশোধের একটি পরিকল্পনা চালু করে।

একীভূত ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন (পেইড-আপ ক্যাপিটাল) ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড থেকে প্রতিটি আমানতকারীকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। অবশিষ্ট আমানত বাংলাদেশ ব্যাংক পৃথক একটি কর্মসূচির মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিশোধ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় ৮ লাখ ২২ হাজারের বেশি আমানতকারীকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ঋণের বিপরীতে যথাযথ জামানত ছিল।

একই সময়ে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেয়া কোচকে রেখে দিচ্ছে মিশর

নিজেদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হোসাম হাসানের অধীনে এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস সেরা ফলাফল করেছে মিশর। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও প্রায় বিদায় করে দিয়েছিল বিশ্বকাপ থেকে। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে হেরে ভঙ্গ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন। তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও কোচ হোসাম হাসানের উপর ভরসা রাখছে মিশর।  

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ‘অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হানি আবু রিদা ঘোষণা দিয়েছেন, বোর্ডের সম্মতিক্রমে জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসান ও পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে’। 

মিশরের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত হোসামের সাথে নতুন চুক্তি করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। 

৫৯ বছর বয়সী হোসাম হাসানকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সালাহদের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এবারের বিশ্বকাপে স্মরণীয় পারফরম্যান্সের আগে মিশরকে গত বছর আফ্রিকান কাপ অব ন্যাশনসের সেমিফাইনালে তুলেছিলেন হোসাম। 

বিশ্বকাপে আসার আগেই মিশর জাতীয় দলের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল হোসামের। হোসাম নিজেই জানিয়েছিলেন, এই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চুক্তি ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।