29 C
Dhaka
Home Blog

পর্দার ‘সরকার’, সিনেমার গল্পই বাস্তব হলো বিজয়ের জীবনে

সালটা ছিল ২০১৮। তখন মুক্তি পেয়েছিল থালাপতি বিজয়ের সিনেমা ‘সরকার’। সেই সিনেমাতে বিজয়কে রাজনৈতিক চরিত্রে দেখা যায়। তিনি তামিলনাড়ুর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে জিতে যান। 

আর এখন ২০২৬ সাল। আট বছরের ব্যবধানে সিনেমার সেই ঘটনাই চিত্রনাট্য ছাড়া বাস্তব হয়ে ফিরে এলো।

সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ২০১৮ সালের নভেম্বর। সেখানে তিনি ‘সুন্দর রামাস্বামী’ চরিত্রে অভিনয় করেন। চরিত্রে তাকে একজন সফল প্রবাসী ব্যবসায়ী হিসেবে দেখা যায়। পর্দায় বিজয় কেবল তার ভোট দিতেই ভারতে ফিরেছিলেন।

কিন্তু ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন, তার ভোট আরেকজন দিয়ে দিয়েছে। এরপর শুরু হয় প্রায় দুই ঘণ্টার গল্প। যেখানে নির্বাচনী জালিয়াতি, রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তিনি ভোটারদের কেবল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ব্যবস্থা ভেঙে দেন।

সিনেমার শেষে সুন্দর রামাস্বামী কেবল নিজের ভোটের জন্য লড়েননি। বরং নিজে নির্বাচনে দাঁড়ান, পেশাদার রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জিতেও যান।

তবে সিনেমার সেই গল্প ছিল চিত্রনাট্য, দর্শকপ্রিয়, নায়ককেন্দ্রিক একটি ‘ম্যাস ফ্যান্টাসি’।

আট বছর পর, বিজয় বাস্তব রাজনীতিতে ঢুকে পড়েন। একজন অভিনেতা হিসেবে তার জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেন।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা দেন, সিনেমা ছেড়ে তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (টিভিকে) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন।

তার পেছনে কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছিল না, কোনো রাজনৈতিক পারিবারিক পরিচয় ছিল না, এমনকি বহু বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা ডিএমকে বা এআইএডিএমকের সঙ্গেও কোনো জোট ছিল না।

দল গঠনের পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত দুই বছরে টিভিকে যা কিছু করেছে, তার সব চমকপ্রদ না হলেও বাস্তবভিত্তিক ছিল। ২৩৪টি আসন জুড়ে বুথভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিক্রাভান্ডিতে বিশাল জনসমাগমে দলীয় সম্মেলন করা, এবং এমন একটি ইশতেহার তৈরি করা। তার ইশতেহার ছিল অবহেলিত মানুষের জন্য। বিজয়ের লক্ষ্য ছিল নারী, শিক্ষার্থী, নতুন ভোটার ও দিনমজুররা।

গতকাল যখন ভোট গণনা শুরু হয়, টিভিকে শতাধিক আসনে এগিয়ে ছিল। পিছিয়ে ছিল ২০২১ সালে প্রবল দাপটে ক্ষমতায় আসা ডিএমকে। আর এআইএডিএমকে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছিল। এখানে উল্লেখ্য, এআইএডিএমকে আট বছর আগে সরকার সিনেমা আটকানোর চেষ্টা করেছিল।

সিনেমাটি মুক্তির পর ২০১৯ সালে ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। তারা এই সিনেমার মূল ধারণাটি ব্যবহার করে সচেতনতা তৈরি করে। কমিশন প্রচারণায় বলেছিল, যদি কারও নামে জাল ভোট দেওয়া হয়, তবে তিনি আইনগতভাবে ব্যবস্থান নিতে পারবেন।

সিনেমায় বিজয়ের চরিত্র সুন্দর রামাস্বামী ২০১৮ সালে তামিলনাড়ুর মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে একটি আহ্বান জানিয়েছিলেন, আপনারা ভোট দিতে যান। আপনার অধিকার আদায় করে নিন। আপনার অনুপস্থিতির কারণে কেউ যেন এটার অপব্যবহার না করে।

তামিলনাড়ুর মানুষ তখন সিনেমাটি দেখেছিল, হাততালি দিয়েছিল।

সিনেমাটি মুক্তির আট বছর পর তামিলনাড়ু নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ, যা একটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ। রাজ্যটির ৩৮ জেলার মধ্যে ৩২টিতে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। কিছু আসনে এই হার ৯০ শতাংশেরও বেশি ছিল।

অবাক করা ব্যাপার হলো, ভোটকেন্দ্র খোলার আগেই মানুষ লাইনে দাঁড়ায়। তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি সবার নজর কাড়ে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো, যেখানে সাধারণত ভোটার উপস্থিতি নিয়ে বেশি আলোচনা হয় না, সেখানেও ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

যে মানুষটি একসময় পর্দায় ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করেছিলেন, এবার তিনিই ছিলেন ব্যালটে।

বিজয়ের দুই বছরের প্রচারণা ভোটার উপস্থিতির কারণ কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে এটিকে অস্বীকার করা কঠিন, তামিলনাড়ুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি হয়েছে সেই নির্বাচনে, যেখানে তিনি প্রার্থী ছিলেন।

সিনেমায় যেভাবে শেষ করেছিলেন আট বছর পর বাস্তবে সেখান থেকে আবার শুরু করলেন থালাপতি বিজয়। তবে এবার কোনো সিনেমার মতো ক্রেডিট নেই, কোনো ইন্টারভাল নেই, আর নিশ্চিত কোনো দ্বিতীয় অর্ধও নেই।

তবে সিনেমার গল্প আর বাস্তবতা এক নয়। এখন দেখার বিষয় যে রাজ্যের মানুষ বিজয়কে এই ক্ষমতা দিয়েছে, তিনি সেই ক্ষমতার ব্যবহার করবনে।

ইরানে পরমাণু কর্মসূচিতে হামলার ফল উল্টো হতে পারে

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালালে তার ফল উল্টো হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, এই হামলা তেহরানকে গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরি বা অন্য গোষ্ঠীকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আজ বুধবার সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন বিশ্লেষণ।

এতে বলা হয়, ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।

তবে ২০০২ সালে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের দুটি গোপন স্থাপনার তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে এ কর্মসূচি নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।

২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ইরানের কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক তদারকি আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিলে চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং ইরান আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ।

এই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা তুলনামূলকভাবে সহজ। আর এটা নিয়েই উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস থেকে ধাতব রূপে রূপান্তরের মাধ্যমে এই ইউরেনিয়ামকে আরও সমৃদ্ধ করে ১০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব।

গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার অন্যতম কারণ ছিল এই ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করা। ওই সময় ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’–এর আওতায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বাঙ্কার ধ্বংসকারী বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে।

তবে পরে দেখা যায় পাহাড়ের নিচে গভীর ভূগর্ভে নির্মিত ইসফাহান ও নাতাঞ্জের মতো কিছু স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।

হামলার পর ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের এসব স্থানে প্রবেশে বাধা দেয়।

ফলে ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোথায় রয়েছে বা সেখানে কী কাজ চলছে—সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছে না।

আইএইএ’র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করেছে কি না বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে কত ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, এখন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো কাঠামোগত কর্মসূচির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান সংঘাত সেই অবস্থান বদলে দিতে পারে।

বিশেষ করে ইরানের ৪৭ বছরের শাসনব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবেরি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এটা এক ধরনের বড় ঝুঁকির খেলা। যদি হামলার পর ইরানে সরকার টিকে থাকে, তাহলে আবার এই কর্মসূচি গড়ে তোলার জন্য হাজারো মানুষ আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রযুক্তি নতুন কিছু নয়। দশকের পর দশক ধরে চলছে। হামলার পর টিকে গেলে ইরান সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার মতো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে, যে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তি আছে, সেখানে পারমাণবিক অস্ত্রই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।’

আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের অস্ত্র বিস্তার প্রতিরোধ বিষয়ক পরিচালক কেলসি ড্যাভেনপোর্ট বলেন, ‘এই হামলার পর ইরানের ভেতরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে চাপ বাড়তে পারে।’

তার মতে, যদি ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন হয় বা গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে সেখানে থাকা উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এ ছাড়া, ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইউরেনিয়াম চুরি বা পাচারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ড্যাভেনপোর্ট।

তিনি বলেন, ‘তখন স্থলবাহিনী পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরি হবে।’

এ অবস্থায় পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি তৈরি নিয়ে সতর্ক করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ নিয়ে এখনো মার্কিন প্রশাসনে যথেষ্ট আলোচনা দেখা যাচ্ছে না।’

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে প্রথমে রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় পিলখানা ট্র্যাজেডিতে সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মার শান্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এম নজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। বার্ষিক দরবার চলাকালে শুরু হওয়া এ বিদ্রোহ দ্রুত রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী তাণ্ডবে। মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী-শিশুসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।

গুগল আপনার সম্পর্কে আসলে কতটা জানে?

সকালে ঘুম থেকে উঠে আবহাওয়া দেখলেন, গুগলে খবর খুঁজলেন, বাইরে বের হওয়ার সময় মানচিত্রে রাস্তা দেখলেন। পরে ইউটিউবে ভিডিও দেখলেন বা অনলাইনে কোনো পণ্যের খোঁজ করলেন। আপনার কাছে এগুলো আলাদা আলাদা কাজ মনে হলেও গুগলের কাছে এগুলো আপনার দৈনন্দিন অভ্যাস ও আগ্রহের কিছু ইঙ্গিত।

গুগলের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের সময় আপনি কী খুঁজছেন, কী দেখছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কোন বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন কিংবা কোন বিজ্ঞাপনে সাড়া দিচ্ছেন, এসব তথ্য সংরক্ষিত হতে পারে। এগুলো বিশ্লেষণ করে গুগল আপনার পছন্দ ও আচরণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারে।

তাহলে প্রশ্ন হলো, গুগল আমাদের সম্পর্কে আসলে কতটা জানে?

এর উত্তর নির্ভর করে আপনি গুগলের কোন কোন সেবা ব্যবহার করছেন এবং আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে কোন গোপনীয়তা-নিয়ন্ত্রণ চালু আছে তার ওপর।

কয়েক মাস আগে কী খুঁজেছিলেন, মনে আছে? হয়তো কোনো ভ্রমণস্থানের তথ্য, চাকরির ওয়েবসাইট, কোনো পণ্যের দাম কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে একের পর এক অনুসন্ধান করেছিলেন।

গুগল অ্যাকাউন্টে ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু থাকলে আপনার অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন গুগল সেবা ব্যবহারের কার্যকলাপ জমা হতে পারে।

কিছু সেটিং চালু থাকলে ক্রোমে দেখা ওয়েবসাইট এবং গুগলের সেবা ব্যবহার করা কিছু ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও যন্ত্রের কার্যকলাপও এতে যুক্ত হতে পারে।

এসব তথ্য দেখতে গুগল অ্যাকাউন্টের ‘মাই অ্যাক্টিভিটি’ পাতায় যেতে পারেন। সেখানে সময়, তারিখ বা সেবা অনুযায়ী পুরোনো অ্যাক্টিভিটি দেখা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট কার্যকলাপ, নির্দিষ্ট সময়ের তথ্য কিংবা সব কার্যকলাপ মুছে ফেলতে পারেন।

তবে কত পুরোনো তথ্য সেখানে পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে আপনার হিস্টরি সংরক্ষণের সেটিংসের ওপর।

কয়েক দিন ধরে যদি আপনি শুধু ভ্রমণের ভিডিও দেখেন, তাহলে ইউটিউবে ঢুকলে ভ্রমণসংক্রান্ত ভিডিও বেশি দেখতে পারেন।

কারণ আপনি কী দেখছেন এবং কী খুঁজছেন, তা ইউটিউবের হিস্টরিতে সংরক্ষিত হতে পারে। এসব তথ্য আপনার জন্য ভিডিওর পরামর্শ সাজাতে ব্যবহার করা হয়।

ব্যক্তিগতভাবে বিজ্ঞাপন সাজানোর ক্ষেত্রেও ইউটিউব হিস্টরি ব্যবহার করা হবে কি না, সেটি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, আপনি কোনো বিষয়ে যত বেশি আগ্রহ দেখাবেন, গুগলের বিভিন্ন সেবায় সেই আগ্রহের প্রভাব তত বেশি দেখা যেতে পারে।

এটি আরও সংবেদনশীল বিষয়। আপনি কোথায় গেছেন, কোন পথে গেছেন কিংবা কোথায় কতক্ষণ ছিলেন, এসব তথ্য গুগলের অবস্থান-সংক্রান্ত সেবায় সংরক্ষিত হতে পারে।

গুগলের ‘টাইমলাইন ফিচার’ ব্যবস্থা চালু থাকলে আপনার যাওয়ার জায়গা ও চলাচলের পথের তথ্য সংরক্ষিত হতে পারে। পরে নিজের ভ্রমণের ইতিহাসও দেখা যায়।

তবে অবস্থান জানার বিষয়টি শুধু ফোনের অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে না। কিছু সেবা আপনার ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে আনুমানিক অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে।

তাই ফোনের ‘লোকেশন’ ব্যবস্থা বন্ধ করলেই গুগল আপনার অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানতে পারবে না, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

অবশ্য সবার ক্ষেত্রে একই পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা হয় না। আপনি কোন সেবা ব্যবহার করছেন, কী অনুমতি দিয়েছেন এবং কোন গোপনীয়তা-নিয়ন্ত্রণ চালু রেখেছেন, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।

ধরুন, অনলাইনে একটি জুতা খুঁজলেন। কিছুক্ষণ পর ইউটিউব খুলে দেখলেন জুতার বিজ্ঞাপন। অন্য ওয়েবসাইটেও একই ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন। তখন মনে হতে পারে, গুগল কি আপনার কথা শুনছে?

সব ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা আপনার বিভিন্ন কার্যকলাপের তথ্য ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতভাবে সাজাতে পারে। ‘মাই অ্যাড সেন্টার’ থেকে এ বিষয়ে কিছু নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে।

ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি, ইউটিউবের হিস্টরিসহ বিভিন্ন তথ্য বিজ্ঞাপন সাজাতে ব্যবহার করা হবে কি না, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তবে ব্যক্তিগতভাবে সাজানো বিজ্ঞাপন বন্ধ করলেই বিজ্ঞাপন বন্ধ হবে না। তখনও আপনার অনুসন্ধান, দেখা ওয়েবসাইট, ব্যবহৃত যন্ত্র বা আনুমানিক অবস্থানের মতো তথ্যের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন দেখানো হতে পারে।

গুগলকে বুঝতে হলে শুধু সার্চ, ইউটিউব বা মানচিত্র আলাদা করে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। একই অ্যাকাউন্ট দিয়ে আপনি সার্চ করছেন, ইউটিউব দেখছেন, মানচিত্র ব্যবহার করছেন, জিমেইল চালাচ্ছেন, ছবি সংরক্ষণ করছেন এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করছেন।

তাই এসব সেবা আলাদা হলেও একই গুগল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। ফলে এক সেবার তথ্য অন্য সেবায় আপনার অভিজ্ঞতা সহজ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

যেমন, জিমেইলে পাওয়া বিমানের যাত্রার তথ্য ব্যবহার করে ক্যালেন্ডার বা ম্যাপের মাধ্যমে আপনাকে সহায়তা করতে পারে গুগল।

এটি সুবিধাজনক হলেও গোপনীয়তার প্রশ্নও আসে।

একটি গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একজন মানুষের ডিজিটাল জীবনের অনেকগুলো অংশ একই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

উত্তর হলো, ‘না।’ গুগল আপনার মনের কথা পড়তে পারে না। আপনার ফোনে থাকা প্রতিটি তথ্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগলের কাছে চলে যায় না।

কোন তথ্য গুগল সংগ্রহ করতে পারবে, তা নির্ভর করে আপনি কোন সেবা ব্যবহার করছেন, কী অনুমতি দিয়েছেন, কোন হিস্টরি সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু রেখেছেন এবং কোন গোপনীয়তা-নিয়ন্ত্রণ বেছে নিয়েছেন তার ওপর।

গুগল ব্যবহারকারীদের তথ্য দেখা, নিজের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং মুছে ফেলার বিভিন্ন সুযোগ দেয়।

অর্থাৎ, আপনার তথ্যের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই আছে। প্রশ্ন হলো, আপনি সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করছেন কি না।

গুগল আপনার সম্পর্কে কী জানে, নিজেই দেখুন

এটি পরীক্ষা করা কঠিন নয়।

গুগল অ্যাকাউন্ট খুলে ‘ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি’ থেকে ‘মাই অ্যাক্টিভিটি’তে গেলে সংরক্ষিত বিভিন্ন কার্যকলাপ দেখা যায়।

‘হিস্টরি সেটিংস’ থেকে দেখতে পারেন ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি, টাইমলাইন এবং ইউটিউবের হিস্টরি সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না।

বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ‘মাই অ্যাড সেন্টারে’ যেতে পারেন। সেখানে বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতভাবে সাজাতে কোন ধরনের তথ্য ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

চাইলে কিছু কার্যকলাপ নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার ব্যবস্থাও করা যায়। গুগল কিছু কার্যকলাপের ক্ষেত্রে ৩, ১৮ অথবা ৩৬ মাস পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার সুযোগ দেয়।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা শুধু গুগল আপনার সম্পর্কে কতটা জানে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, আপনি নিজেই কি জানেন, গুগলকে কতটা জানতে দিয়েছেন?

একবার ‘মাই অ্যাক্টিভিটি’, ‘টাইমলাইন’ এবং ‘মাই অ্যাড সেন্টার’ খুলে দেখুন। হয়তো এমন কোনো পুরোনো তথ্য সেখানে পাবেন, যা আপনি নিজেই ভুলে গেছেন। তখন হয়তো বুঝবেন, গুগল আপনার সম্পর্কে যতটা জানে বলে ভেবেছিলেন, তার চেয়ে কম। অথবা, ঠিক উল্টোটা।

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ, মামলায় ‘নিষিদ্ধগোষ্ঠীর’ বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে গতরাতে সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন ঢাকা জেলা উত্তর এনসিপির সদস্যসচিব মো. সালামত উল্লাহ রনি। মামলার এজাহারে এই হামলার পেছনে নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ ইন্ধন বা সংশ্লিষ্টতা থাকার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার এই মামলার এজাহারের একটি অনুলিপি (কপি) হাতে পেয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, পূর্বঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান।

এতে আরও বলা হয়, কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার কয়েক মিনিট আগেই সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ চলে যায়। জেনারেটরের মাধ্যমে কয়েকটি বাতি জ্বালানো হলেও আলো ছিল খুবই কম। এ অবস্থায় নেতাদের বক্তব্য চলাকালে রাত ৯টা ৪২ মিনিটে মঞ্চের ১০ থেকে ১৫ ফুট সামনে হঠাৎ একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।

মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এনসিপির সমাবেশ নস্যাৎ করতে এবং নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এর পেছনে কোনো নিষিদ্ধগোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ ইন্ধন বা সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

মামলার বাদী মো. সালামত উল্লাহ রনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটাই আমরা চাই। আমরা প্রত্যাশা করি, পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবে।’

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) নূর মোহাম্মদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে।’

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস

জাতীয় সংসদে আজ মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।

এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মাধ্যমে সর্বশেষ জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছিল।

বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ। একইসঙ্গে বাজেটের মোট আকার সম্ভাব্য জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘৩আর (৩জ) কৌশল’ ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই কৌশলের তিনটি ধাপ হলো—রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন। এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এ কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে।

বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নের জন্য অর্থমন্ত্রী আজ সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন চেয়ে ২০২৬ সালের বরাদ্দ বিল (নির্দিষ্টকরণ বিল), ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন। এতে ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

এর আগে সোমবার জাতীয় সংসদ অর্থ বিল, ২০২৬ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ পাস করে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করার বিধান উল্লেখযোগ্য।

নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির আওতায় নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের যৌক্তিকতা সংসদে উপস্থাপন করেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করলে জাতীয় সংসদ কণ্ঠভোটে সেগুলো নাকচ করে দেয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং স্বতন্ত্র সদস্যসহ মোট ৪৩ জন সংসদ সদস্য ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করে আলোচনায় অংশ নেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবের আওতায় থাকা ৩৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়, অর্থ বিভাগ, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, আইএমইডি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের অনুরোধে স্পিকার গিলোটিন পদ্ধতি প্রয়োগ করে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই একযোগে কণ্ঠভোটে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের সময় বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন এবং বিলটি গৃহীত হওয়ার বিষয়ে কোনো আপত্তি জানাননি।

‘অ্যানি’ নিয়ে ৫ বছর পর ফিরছেন সাদ, কেন্দ্রীয় চরিত্রে নাজিফা তুষি

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমার পর পাঁচ বছরের দীর্ঘ বিরতি। অবশেষে নতুন কাজ নিয়ে ফিরলেন নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। 

এবার ‘অ্যানি’ নামের একটি ওয়েব সিরিজ নিয়ে দর্শকদের সামনে আসছেন তিনি। এই সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি।

সিরিজটির প্রযোজক এহসানুল হক বাবু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ভাবনা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় বাংলাদেশি ওয়েব সিরিজ ‘অ্যানি’ নির্মিত হয়েছে।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক আঙিনায় স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে সিরিজটি। সিরিজকেন্দ্রিক বৈশ্বিক বৃহৎ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এ নির্বাচিত হয়েছে ‘অ্যানি’। জার্মানির কোলনে আগামী ৯ জুন নির্বাচিত ২০টি সিরিজের সঙ্গে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে এই সিরিজ।

এই সিরিজে নাজিফা তুষির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, সাইমন সাদিক, সারিকা সাবরিন, ফারহানা মিঠু, নাজাহসহ অনেকে।

নেপাল কি রাজা চায়?

‘রাজা আও, দেশ বাঁচাও’—এমন আওয়াজ শোনা গেছে খোদ কাঠমান্ডুর কেন্দ্রস্থলে। ঘটনাটি ঘটেছিল এ বছর ভালোবাসা দিবসের আগের সন্ধ্যায়। আর সেই স্লোগানটি উঠেছিল সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র বীরবিক্রম শাহকে ঘিরে।

সবাই জানেন যে, সশস্ত্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে রাজা উৎখাত করে নেপাল গণতন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। এখন সেখানেই ‘রাজা বাবু’র প্রত্যাবর্তনের দাবি তুলছেন অনেকে। উদ্দেশ্যও বলে দিচ্ছেন তারা—‘দেশ বাঁচাও’।

অনেকের দৃষ্টিতে—এই দুই শব্দের মধ্য দিয়ে একদিকে খোলাসা হয়েছে রাজপন্থিদের গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে দেশ বাঁচানোর প্রক্রিয়ার ওপর আস্থাহীনতা; অন্যদিকে, প্রকাশ্যে এসেছে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের গণতান্ত্রিক চর্চায় চরম ব্যর্থতা।

সম্প্রতি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘হিমালয়-কন্যা’ নেপাল নতুন পরিচিতি পেয়েছে ‘জেন জি বিপ্লবের দেশ’ হিসেবে। নতুন নাগরিকদের আন্দোলনে সেখানে গণতান্ত্রিক সরকারের পতন হয় মেয়াদ পূরণে আগেই। তাই নতুন সরকারের আশায় আবারও ভোটবাক্সের সামনে দাঁড়াতে হয়েছে নেপালবাসীকে।

চলতি শতকে যে কয়টি দেশে রাজতান্ত্রিক শাসকদের বিতাড়িত করে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঘটনা ঘটেছে, নেপাল এর অন্যতম। রাজা সরাতে প্রায় এক দশকের গৃহযুদ্ধে অশান্ত-ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল এশিয়ার অন্যতম দারিদ্রপীড়িত দেশ নেপাল। রাজতন্ত্রবিরোধী সশস্ত্র কমিউনিস্ট আন্দোলনের কারণে রক্তাক্ত হয়েছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি।

অবশেষে, সেই আন্দোলন সফল হলে অবসান হয় নেপালের প্রায় আড়াই শ বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার।

২০০৮ সালের ২৮ মে ‘বিজয়ী’ নেপালে রাজতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক অবসান হয়। দেশটিতে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হলেও নির্বাচিত রাজনীতিকরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যে সফল হতে পারেননি, তা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।

ইতিহাস বলছে—নেপালে গণতান্ত্রিক চর্চা এতটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে যে, গত ১৮ বছরে সেখানে ১৪ বার সরকার গঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ৯ জন। তাদের মধ্যে ৩ জনকে পদত্যাগের পর আবার বিভিন্ন সময় দায়িত্ব নিতে হয়েছিল।
অর্থাৎ, নেপালে কোনো প্রধানমন্ত্রীই ৩ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। সেখানে একজন প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার আনন্দময় মুহূর্ত এখনো অধরাই থেকে গেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে হিমালয়ের দক্ষিণ সীমার দেশটিতে ২ দশকের কম সময়ের মধ্যে রাজতন্ত্রের ‘ফিরে আসার সম্ভাবনা’ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

আজ বুধবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—‘নেপালে নির্বাচন: ২ দশক আগে রাজা বিতাড়িত হওয়ার পরও রাজতন্ত্রের দাপট এখনো বিদ্যমান’।

প্রায় ২০ বছর আগে সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, জানিয়ে প্রতিবেদনটিতে প্রশ্ন রাখা হয়—রাজনৈতিক অস্থিরতায় নেপাল কি রাজাকে আবার ক্ষমতায় বসার সুযোগ দেবে?

প্রতিবেদন অনুসারে—গত ভালোবাসা দিবসের আগের সন্ধ্যায় নেপালের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে ভারতের সীমানা-ঘেঁষা ঝাপা জেলায় নিজের ব্যবসায়িক কাজ সেরে হেলিকপ্টারে রাজধানী কাঠমান্ডুতে ফিরছিলেন সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র বীরবিক্রম শাহ। তাকে সেখানে তাকে লাল গালিচা সম্বর্ধনা দেয় হাজারো জনতা।

সেসময় রাজভক্তরা স্লোগান দিয়েছিলেন—‘রাজা আও, দেশ বাঁচাও’।

নেপালের রাজতন্ত্রপন্থিদের মুখে এই স্লোগান আজ বেশি বেশি শোনা যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও জানা যায়—সেই ঘটনার চারদিন পর ও নেপালের গণতন্ত্র দিবসের একদিন আগে ৭৮ বছর বয়সী সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ এক ভিডিও বার্তায় নিজ দেশের ‘দুরবস্থা’ তুলে ধরেছিলেন।

বলেছিলেন, ‘দেশ আজ ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাময় পরিস্থিতিগুলো একটি পার করছে।’

তবে বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেছিলেন আশার বাণীও।

নিয়ম অনুসারে, নেপালে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের নভেম্বর বা ডিসেম্বরে। কিন্তু, তা এগিয়ে আনতে হয়েছে। দরিদ্র দেশটির নব্য ক্ষমতাসীনদের বিলাসী জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে ‘জেন জি’ বা তরুণ প্রজন্মের নাগরিকরা রাজপথে নেমেছিল। পতন ঘটিয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ক্ষমতাসীন জোটের।

সেই সরকারের প্রতি সমর্থন ছিল নেপালি কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল)। কিন্তু, তরুণদের অনাস্থার কারণে তাদের ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল।

নেপালি সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুসারে, সেই আন্দোলনে প্রাণ হারিয়ে ছিলেন ৭৭ জন এবং ধ্বংস হয়েছিল কয়েক বিলিয়ন ডলারের সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি।

আজ ৪ মার্চ তথা নির্বাচনের আগের দিন সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক ভোটার জানিয়েছে যে, এই ভোটে তাদের তেমন আগ্রহ নেই। চিকিৎসক রবীন্দ্র সিং ঠাকুরি এমন মনোভাবের ভোটারদের একজন।

তার মতে, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু ক্ষমতায় কয়েকটি নতুন মুখ দেখা যাবে।’

বিদ্যমান নির্বাচনী পরিস্থিতি তার উৎসাহ নষ্ট করে দিয়েছে বলেও গণমাধ্যমটিকে জানান তিনি।

এত হিংসাত্মক গণআন্দোলনের ফল হিসেবে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাকে ঘিরে যদি ভোটারদের একাংশের এমন মনোভাব হয় তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি নয় কি?—এমন প্রশ্ন যেকোনো গণতন্ত্রমনা মানুষের মনে জেগে ওঠা স্বাভাবিক।

নেপালের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি বিরূপ হলে সাবেক রাজার জন্য তা ‘শাপে বর’ হয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

কেননা, দেশটির বিরাজমান রাজনীতিতে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখন বেশ বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।

অর্থাৎ, নেপালের মাটিতে ধীরে ধীরে বাড়ছে রাজতন্ত্রের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষের সংখ্যা।

২০২২ সালের আইনসভা নির্বাচনে ২৭৫টির মধ্যে ১৪ আসন পাওয়া রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির (আরপিপি) প্রধান রবীন্দ্র মিশ্র আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তারা সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে।

বছর খানেক আগেও রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে কাঠমান্ডুতে সহিংস সমাবেশ দেখা গিয়েছিল। সেসময় রাজা-সমর্থকরা তাদের দেশে হিন্দু রাজাকে আবার ক্ষমতাসীন দেখতে চেয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন।

প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫১৬ বর্গ কিলোমিটারের দেশ নেপালের জনসংখ্যা ৩ কোটি ১১ লাখের বেশি। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু। দেশটিতে রাজতন্ত্রের বিলুপ্তির পাশাপাশি হিন্দু রাষ্ট্রের ভাবনাটিও সংবিধান থেকে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন অনেকে নেপালকে আবারও হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে দেখার দাবি তুলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সিকে লাল সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘জ্ঞানেন্দ্র শাহ ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন। তিনি যেন সেই সুখস্মৃতি এখনো চারণ করেন। তিনি বিষয়টিকে আলোচনায় রাখতে চান।’

তবে নেপালে রাজতন্ত্র ফিরতে ঠিক কত দেরি বা আদৌ ফিরবে কিনা তা ভবিষ্যতের হাতেই তোলা থাকলো।

আগের তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলোই সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। 

আজ বুধবার বনানী কবরস্থানে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুরো রিপোর্টটি না দেখে এর আগে দেওয়া তার একটি বক্তব্য তিনি সংশোধন করতে চান।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তের জন্য সরকার একটি নতুন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আজ তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এ (অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া) রিপোর্টটি না পড়েই আমি কিছু কথা বলেছি, যেগুলো আজকে সংশোধন করতে চাই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। সেদিন কথা বলার প্রয়োজনে তিনি সেই প্রতিবেদনের ওপর কেবল চোখ বুলিয়েছিলেন। 

ওই প্রতিবেদনে প্রায় ৭০ জনের বিষয়ে সুপারিশ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপারিশের সঙ্গে যুক্ত অনেক বিষয় এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমরা এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, সরকার শহীদ পরিবার এবং জাতিকে আশ্বস্ত করতে চায় যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। যাতে এই জাতীয় কোনো ঘটনা আমাদেরকে জাতীয় জীবনে আর না দেখতে হয়। 

তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।’

তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাবেন।

তবে দলের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি ও শক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আমরা তদন্ত দাবি করছি।’

তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার, কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। এই দিনটিকে আমরা সবচেয়ে কলঙ্কজনক এ জন্য মনে করি, এই দিনে চক্রান্ত হয়েছিল, প্রচেষ্টা হয়েছিল বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার। চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।’

‘আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বিগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহত ও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

 

ফুলবাড়ীর যে শিক্ষা বিএনপির মনে রাখা উচিত

সম্প্রতি আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘এখন আমরা ফুলবাড়ী এবং অন্যান্য স্থানে ওপেন-পিট কয়লা উত্তোলনের দিকে যাচ্ছি। কারণ আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।’

অথচ ২০ বছর আগে ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ফুলবাড়ী উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৬ দফা চুক্তি করেছিল। সেখানে তারা সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করেছিলো—ফুলবাড়ীসহ বাংলাদেশের আর কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হবে না।

বর্তমান বিএনপি সরকার যদি মনে করে জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে, তাহলে সেটা হবে মারাত্মক ভুল ও বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত। কেন ভুল, তা বুঝতে হলে ২০০৬ সালে ফুলবাড়ী আন্দোলনের কথা স্মরণ করা দরকার।

কেন ফুলবাড়ীর মানুষ উন্মুক্ত খননের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিএইচপি মিনারেলস ফুলবাড়ীর কয়লাখনিটি আবিষ্কার করে। বিশ্বের অন্যতম বড় খনন কোম্পানি হিসেবে তারা ওই এলাকার ভূতাত্ত্বিক জটিলতা, কৃষিনির্ভরতা, বন্যাপ্রবণতা, নদী-খাল এবং ঘনবসতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়।

কোম্পানিটি বুঝতে পেরেছিল, এখানে কয়লা উত্তোলন করলে বড় ধরনের পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই তারা খননকাজ শুরু করেনি। পরে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৯৯৮ সালে তারা খনি খননের অভিজ্ঞতা না থাকা নবগঠিত ‘এশিয়া এনার্জি’র কাছে লাইসেন্স হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ত্যাগ করে।

এশিয়া এনার্জি (বর্তমান জিসিএম রিসোর্সেস) ৬৬ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার জমি নিয়ে একটি বড় উন্মুক্ত কয়লাখনি করার পরিকল্পনা করে। কোম্পানির পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সালে তারা কাজ শুরু করে এবং ২০০৫ সালে তা আরও জোরদার করে। ফুলবাড়ী, বিরামপুর, পার্বতীপুর ও নবাবগঞ্জ এলাকায় জনসমর্থন আদায়ের জন্য তারা প্রচারও চালায়।

কিন্তু স্থানীয় মানুষ প্রকল্পটি মেনে নেয়নি। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ধ্বংস হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশকে মাত্র ৬ শতাংশ রয়্যালটি দিয়ে কয়লা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাতেও তারা আপত্তি জানায়।

জীবিকা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশ—সব দিক থেকেই ফুলবাড়ীর মানুষের কাছে প্রকল্পটি সুযোগের চেয়ে বড় হুমকি মনে হয়েছিল।

শুরু হলো আন্দোলন 

২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ‘ফুলবাড়ী শহর রক্ষা কমিটি’ গঠন করেন। পরে আশপাশের গ্রামগুলোও এতে যুক্ত হলে সংগঠনটির নাম হয় ‘ফুলবাড়ী রক্ষা কমিটি’। তারা স্মারকলিপি, মিছিল, অনশন, হরতালসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে।

এক পর্যায়ে স্থানীয় জনগণের আগ্রহে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, গঠিত হয় জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখা। এর ফলে ফুলবাড়ী উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলন জাতীয় মাত্রা পায়।

জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ২০০৬ সালের মার্চে ঢাকা থেকে ফুলবাড়ী পর্যন্ত রোডমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের সমর্থন আদায়ে এশিয়া এনার্জি প্রচার, তদবিরসহ নানা তৎপরতা চালাতে থাকে। কিন্তু ফুলবাড়ীর মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ও কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে অনড় থাকেন।

২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ‘উন্মুক্ত না, রপ্তানি না, বিদেশি না’ স্লোগানে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে এশিয়া এনার্জির কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রায় এক লক্ষ মানুষ। তখন কোম্পানিটিকে ফুলবাড়ীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এক দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশের শেষদিকে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। এতে নিহত হন আমিন, তরিকুল ও সালেকিন, যারা সবাই ছিলেন কিশোর ও তরুণ।

এই হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ে। ফুলবাড়ীতে অনির্দিষ্টকালের হরতাল শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায়ও প্রতিবাদ ও সংহতি আন্দোলন জোরদার হয়।

একপর্যায়ে ফুলবাড়ী ও আশপাশের এলাকা কার্যত আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ৩০ আগস্ট সরকার বাধ্য হয় আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবি মেনে নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে।

সরকার তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ফুলবাড়ীসহ বাংলাদেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি করা হবে না। এশিয়া এনার্জির সঙ্গে করা সব চুক্তি বাতিল করা হবে এবং কোম্পানিটিকে এলাকা ছেড়ে যেতে হবে।

ফুলবাড়ী বাংলাদেশকে কী থেকে বাঁচিয়েছিল 

ফুলবাড়ীর আন্দোলন শুধু একটা এলাকার মানুষকে রক্ষা করেছিল—বিষয়টি এমন নয়। এর ফলে গোটা উত্তরবঙ্গই ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।

প্রথম বড় সমস্যা ভূগর্ভস্থ পানি। ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়ার কয়লার স্তরের ওপর রয়েছে ৮০ থেকে ১২০ মিটার পুরু ডুপিটিলা পানির স্তর। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে হলে কয়লার উপরের স্তরকে পানি শূন্য করতে হতো।

২০০৬ সালে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সরকার গঠিত একটি কমিটি আশঙ্কা করেছিল, খনির আশপাশের ৩১৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যেতে পারে।

২০১২ সালে সাবেক পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন মোশাররফ কমিটিও সতর্ক করেছিল। তাদের মতে, খনির ২৭ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ পর্যন্ত এলাকায় নলকূপ, অগভীর পাম্প ও গভীর নলকূপ থেকে কৃষি ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের ভূগর্ভের গঠন বিশ্বের অনেক কয়লা উৎপাদনকারী এলাকার চেয়ে আলাদা। অনেক দেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কয়লার স্তরের নিচে থাকে। তাই সেখানে কয়লা তুলতে ভূগর্ভস্থ পানি সরানোর প্রয়োজন হয় না।

কিন্তু বাংলাদেশে পানির স্তর কয়লার স্তরের ওপরে। এ কারণেই ফুলবাড়ীর পরিস্থিতি আলাদা। মোশাররফ কমিটি ভারতের নেইভ্যালি লিগনাইট মাইনের উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিল। সেখানে পানির স্তর কয়লার স্তরের নিচে। ফলে ফুলবাড়ীর মতো পানি ব্যবস্থাপনার জটিলতা সেখানে নেই।

দ্বিতীয় বড় সমস্যা মানুষের উচ্ছেদ। এশিয়া এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য অন্তত ৬৬ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ করতে হতো। এর মধ্যে খনির জন্য লাগত ৫৪ দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটার। এতে ১২ হাজার ৩১২টি পরিবার বা ৫৪ হাজার ৭৪ জন মানুষকে তাদের বসতভিটা ছাড়তে হতো।

তবে মোশাররফ কমিটির হিসাব ছিল আরও ভয়াবহ। তাদের মতে, প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

যদি প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হলে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে এত মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে পুনর্বাসন করা আরও কঠিন।

তৃতীয় সমস্যা কৃষিজমি ও খাদ্যনিরাপত্তা। এশিয়া এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির মধ্যে ৪২ দশমিক ৩৪ বর্গকিলোমিটার ছিল কৃষিজমি।

কয়লা খনন শুরু হলে জমির উপরের উর্বর মাটি তুলে ফেলতে হবে। এতে বহু বছরের তৈরি মাটির উর্বরতা নষ্ট হবে। পাশাপাশি মাটি বা ওভার বার্ডেন রাখার জন্য জায়গা এবং জলাধারের জন্য আরও ২৬ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমি স্থায়ীভাবে হারিয়ে যাবে।

আয়তনের দিক থেকে এই জমি প্রায় পুরো দিনাজপুর শহরের সমান। নুরুল ইসলাম কমিটি এটিকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেছিল।

চতুর্থ সমস্যা কর্মসংস্থান। প্রায় ৬৭ বর্গকিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ করে বিপুলসংখ্যক কৃষক, বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীর জীবিকা নষ্ট হলেও প্রকল্পটিতে শুরুতে মাত্র প্রায় ২ হাজার ১০০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘমেয়াদে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ানোর কথা ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০-তে।

তার ওপর খনিতে কাজের জন্য বিশেষ ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন। ফলে যারা জমি ও জীবিকা হারাতেন, তাদের অনেকেই এসব চাকরির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতেন না।

পঞ্চম বড় সমস্যা পরিবেশ। কয়লাবাহী স্তরে ২ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত সালফার রয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় এর পরিমাণ ২০ শতাংশ পর্যন্ত। খনন করা হলে অ্যাসিড মাইন ড্রেনেজ তৈরি হতে পারে। এর ফলে তামা, সিসা ও পারদের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতু ভূগর্ভস্থ ও উপরিভাগের পানিতে মিশে পানি দূষিত করে ফেলতো।

নুরুল ইসলাম কমিটি বলেছিল, শক্তিশালী পরিবেশগত প্রতিষ্ঠান ও কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রও এই ধরনের দূষণ পুরোপুরি ঠেকাতে পারেনি। দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হাজার হাজার মাইল নদী অ্যাসিড মাইন ড্রেনেজের কারণে দূষিত হয়েছে।

আবার কেন ফুলবাড়ীর দিকে নজর?

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনন করলে বড় ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতি হতে পারে—এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। এ কারণে আবারও ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লাখনি করার চেষ্টা হলে স্থানীয় মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন, এমন সম্ভাবনাই বেশি। তারপরও সময় সময় ফুলবাড়ীতে খনি করার পক্ষে জনসমর্থন তৈরির চেষ্টা দেখা যায়।

তবে এবার যুক্তিটা বদলে গেছে। একসময় এশিয়া এনার্জি বলত, কয়লা রপ্তানি করে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে। এখন বলা হচ্ছে, দেশে কয়লা উত্তোলন করলে আমদানি করা কয়লার ওপর নির্ভরতা কমবে।

বাংলাদেশ যখন একের পর এক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করছিল, তখন আমদানি করা কয়লাকে সস্তা বিদ্যুতের উৎস হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। যদিও তখনই স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এখন আমদানি করা কয়লার ওপর সেই নির্ভরতাকেই দেশে কয়লা উত্তোলনের যুক্তি হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে।

অর্থাৎ যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য একসময় সস্তা আমদানি করা কয়লার কথা বলে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল, এখন সেই আমদানির খরচকেই দেশের ভেতরে কয়লা তুলে কৃষিজমি, পানির উৎস ও মানুষের জীবিকা ধ্বংস করার কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

সমালোচকেরা অনেক দিন ধরেই এই কৌশল নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, শুরুতে বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করে সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মুলা ঝোলানো হবে। পরে সেই কয়লা আমদানির বাড়তি খরচ দেখিয়ে দেশে কয়লা উত্তোলনের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন তারা।

বর্তমান সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের কথা বলছে। কিন্তু কয়লা খননের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে না। অথচ সরকারের নিয়োগ দেওয়া একাধিক বিশেষজ্ঞ কমিটি বহু আগেই এসব ঝুঁকির কথা জানিয়েছে।

কার স্বার্থে আবার উন্মুক্ত কয়লাখনি?

ফুলবাড়ীতে আবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খননের তৎপরতার পেছনে ব্যবসায়িক স্বার্থও স্পষ্ট। এশিয়া এনার্জি বা জিসিএম রিসোর্সেস ফুলবাড়ী প্রকল্পে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা রাখঢাক করছে না।

কোম্পানিটির খননকাজের কোনো আইনি অনুমোদন নেই। তাদের কাছে শুধু একটি মেয়াদোত্তীর্ণ অনুসন্ধান লাইসেন্স রয়েছে। তারপরও ফুলবাড়ী কয়লাখনিকে দেখিয়ে লন্ডনের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেট থেকে কোম্পানিটি কয়েক মিলিয়ন পাউন্ডের শেয়ার বিক্রি করেছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে ১৬ জানুয়ারি আরও এক মিলিয়ন পাউন্ড এবং ১১ ফেব্রুয়ারি ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড পুঁজি সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। শেয়ারহোল্ডারদের জানানো হয়, ফুলবাড়ী-সংক্রান্ত কার্যক্রমে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর জিসিএমের শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। কোম্পানিটিও সরকারের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

জিসিএম কয়লা উত্তোলনে সহযোগিতার জন্য চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানি পাওয়ার কনস্ট্রাকশান করপোরেশন অব চায়না লিমিটেডের (পাওয়ার চায়না) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক এবং এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইপিসি কন্ট্রাক্ট স্বাক্ষর করেছে।

পাওয়ার চায়নার বাংলাদেশের দুটি বেসরকারি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অংশীদারত্ব রয়েছে। এগুলো হলো বাঁশখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ৩৫০ মেগাওয়াটের বরিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। দুটি কেন্দ্রই ফুলবাড়ীর কয়লা কিনতে আগ্রহী।

এ ছাড়া সরকারকে অনুমোদন দিতে রাজি করানোর কাজে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট ডিজিআই ইনফ্রাটেক প্রাইভেট লিমিটেডকেও নিয়োগ করেছে জিসিএম। এসব যোগাযোগের মধ্য দিয়ে আবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খননের পেছনে করপোরেট স্বার্থের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে যদি বর্তমান বিএনপি সরকার এসব ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে আবারও বড় ভুল করার পথে এগোবে।

বাংলাদেশের বিকল্প আছে

বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের বিকল্প কখনোই ছিল না, এ কথা ঠিক নয়। দেশে যেসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, সেগুলো ইতোমধ্যেই পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর নানা ধরনের চাপ তৈরি করছে।

শুধু এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে তুলনামূলক কম দামে কয়লা সরবরাহ করার জন্য বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও পানির উৎস ধ্বংস করা কোনোভাবেই টেকসই জ্বালানি নীতি হতে পারে না।

বাংলাদেশের উচিত বরং দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়া এবং দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।

কয়লা ও এলএনজির পেছনে যত বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করা হবে এবং এসব বিকল্পকে যত বেশি অবহেলা করা হবে, চলমান জ্বালানি সংকট থেকে বেরিয়ে আসা তত কঠিন হবে।

কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী ও লেখক; তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন। 

[email protected]