31.3 C
Dhaka
Home Blog

ঈদেই কেন বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মিশে আছে এক গৌরবোজ্জ্বল ও সোনালী অধ্যায়। এক সময় এ দেশে নিয়মিত নির্মিত হতো অসংখ্য ব্যবসাসফল ও মানসম্মত চলচ্চিত্র, যা দর্শকদের হলমুখী করতে জাদুর মতো কাজ করত।

তখন কেবল ঈদ বা বিশেষ উৎসব নয়, সারা বছরজুড়েই বড় বাজেটের সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেত। তবে সময়ের বিবর্তনে সেই চিরচেনা চিত্র এখন অনেকটাই ম্লান।

গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তির জন্য নির্মাতারা এখন কেবল দুই ঈদকেই বেছে নিচ্ছেন, যা চলচ্চিত্র পাড়াকে যেন কেবল উৎসবকেন্দ্রিক করে তুলেছে।

বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন কয়েকজন নির্মাতা ও শিল্পী।

‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ঢালিউডের আলোচিত দুই সিনেমা। দুটি সিনেমাই পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। তিনি বলেন, আমাদের এখানে সিনেমা প্রযোজনা করাটাই ঝুঁকিপূর্ণ; সহজে কেউ প্রযোজনায় আসতে চান না। না চাওয়ার অন্যতম কারণ হলো—লগ্নিকৃত টাকা তো ফেরত আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটা সময় ছিল, ঈদ ছাড়া সারা বছর সিনেমা মুক্তি দিয়ে সেই বিনিয়োগ তুলে আনা সম্ভব হতো। এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না। ঈদে মুক্তি দেওয়া হলে তবুও কিছুটা টাকা উঠে আসার সম্ভাবনা থাকে, কিছুটা স্বপ্ন বেঁচে থাকে।

‘এ কারণেই আমি মনে করি, ঈদ ছাড়া বড় বাজেটের সিনেমা এ দেশে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। তবে এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসা দরকার।’

মিশা সওদাগর অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার ক্যারিয়ারে বহু ব্যবসাসফল সিনেমা যুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ঈদের সময় বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি দিলে উন্নতি হবে না; সারা বছর ধরেই সিনেমা মুক্তি দিতে হবে। তাহলেই ঢাকাই সিনেমা চাঙা হবে। অন্তত ১২ মাসে ১২টি হিট সিনেমা দরকার।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরুন বারো মাসে এক বছর—আমি এক মাস খেলাম, আর এগারো মাস না খেয়ে থাকলাম; তাহলে জীবন চলবে না, থেমে যাবে। সেভাবেই যদি দুটি ঈদে বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে কীভাবে চলচ্চিত্র শিল্প টিকে থাকবে, ঘুরে দাঁড়াবে? প্রথমত ভালো সিনেমা এবং দ্বিতীয়ত বড় বাজেটের সিনেমা—দুটিই বছরব্যাপী মুক্তি পেতে হবে।

‘মনপুরা’খ্যাত পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, আমাদের ভঙ্গুর চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য ঈদকেন্দ্রিক বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি কোনোভাবেই ফলপ্রসূ হতে পারে না, হবেও না। এভাবে চলতে পারে না। চলচ্চিত্রশিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অবশ্যই সারা বছর কিছু কিছু বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি দিতে হবে এবং ভালো সিনেমা নির্মাণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে যারা প্রযোজনা করেন, তাদের কাছে অনুরোধ, বছরব্যাপী সিনেমা মুক্তি দিন। পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। সারা বছর দর্শকদের জন্য সিনেমা উপহার দিতে হবে; এর কোনো বিকল্প নেই।

তৌকীর আহমেদ এ পর্যন্ত সাতটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন। তার সিনেমা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও প্রশংসা ও সম্মান পেয়েছে। তিনি বলেন, এটুকু বলতে পারি যে ভালো গল্পের সিনেমা হলে দর্শক তা দেখেন; এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। দর্শকরা ভালো গল্পের সিনেমাই চান। কাজেই ঈদের সময় দর্শক বেশি পাওয়া যায়, কিন্তু অন্য সময় পাওয়া যাবে না, তা নয়। চেষ্টা করলে সবই সম্ভব। এজন্য বলতে পারি, বারো মাসই সিনেমা মুক্তি পেতে পারে। তাহলে দর্শকরা দেখবেন, ভালো সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে—তখন তারা হলে যাবেন।

চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত বেশিরভাগ সিনেমাই দর্শকদের কাছে পৌঁছেছে; তার সিনেমাভাগ্য ভালো বলা যায়। দেশের বাইরেও তিনি সিনেমা করেছেন। বছরব্যাপী সিনেমা মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সিনেমার সোনালি অতীত রয়েছে, এবং একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্যও আছে। একইসঙ্গে বলব, এখনো দর্শকরা ভালো সিনেমার অপেক্ষায় থাকেন এবং ভালো সিনেমা হলে গিয়ে দেখেন। এর সর্বশেষ প্রমাণ এবারের ঈদের সিনেমাগুলো।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, বছরজুড়ে সিনেমা মুক্তি পাওয়া দরকার। শুধু কেন দুটি ঈদে বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পাবে? স্বীকার করছি, ঈদে দর্শকরা বেশি করে হলমুখী হন; কিন্তু আমরা যদি ১২ মাস ধরে ভালো সিনেমা মুক্তির বিষয়টি নিয়ে না ভাবি, তাহলে হবে না। ভাবতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজও করতে হবে।

ঢাকাই সিনেমার দর্শকপ্রিয় নায়ক সিয়াম আহমেদ। তার ঝুলিতে বেশ কিছু সফল সিনেমা যুক্ত হয়েছে। ‘জংলি’ সিনেমা দিয়ে গত বছর তিনি বেশ আলোচিত হন। এ বছর ‘রাক্ষস’ সিনেমায় নতুনভাবে দর্শকদের সামনে এসেছেন এবং প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।

সারাবছর সিনেমা মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের একজন শিল্পী হিসেবে আমি মনে করি, সারাবছর বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পাওয়া দরকার। পাশাপাশি ভালো ভালো সিনেমাও সারা বছর জুড়ে মুক্তি পাওয়া উচিত। তাহলে দর্শকরা বেশি করে ভালো সিনেমা দেখতে পারবেন। এ বিষয়ে প্রযোজক ও পরিচালকদের আরও বেশি করে ভাবতে হবে।

খামেনির মৃত্যুর পর আলোচনায় খোমেনির নাতি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি কে হবেন, তা নির্ধারণে আলেমদের আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার পর দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—এবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন?

হাসান খোমেনি প্রয়াত রুহুলুল্লাহ খোমেনির ১৫ নাতি-নাতনির মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত। ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের ভেতরে তাকে তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি হিসেবে দেখা হয়। তিনি সংস্কারপন্থী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও রাখেন।

রয়টার্স জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। তারা দায়িত্বে থাকাকালে পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছিলেন।

৫৩ বছর বয়সী খোমেনি দক্ষিণ তেহরানে তার দাদার মাজারের তত্ত্বাবধায়ক। এই দায়িত্ব তাকে জনজীবনে একটি প্রতীকী গুরুত্ব দিয়েছে। তবে তিনি কখনো সরকারি কোনো পদে দায়িত্ব পালন করেননি।

ইরানের কিছু রাজনীতিক তাকে খামেনির আমলে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা কট্টরপন্থীদের, বিশেষ করে তার ছেলে মোজতাবা খামেনির সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন।

জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতার পর কিছু রাজনীতিক মনে করেন, দেশকে স্থিতিশীল রাখতে খামেনির জায়গায় একজন মধ্যপন্থি নেতা আসা প্রয়োজন। এ কারণে হাসান খোমেনির নাম আলোচনায় আসে।

১৯৭৯ সালে শাহকে উৎখাত করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই ব্যবস্থার প্রতি অনুগত থাকলেও হাসান খোমেনি মাঝে মাঝে সংস্কারের কথা বলেন এবং ভিন্নমত প্রকাশ করেন।

২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা গার্ডিয়ান কাউন্সিল যখন অনেক সংস্কারপন্থী প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করে, তখন তিনি এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

সে সময় খোমেনি বলেন, ‘আপনি আমার জন্য কাউকে বেছে দিয়ে আমাকে বলতে পারেন না যে তাকে ভোট দিতে হবে!’

এর ফলে কট্টরপন্থী ইব্রাহিম রাইসির নির্বাচনে জয়ের পথ সহজ হয়। রাইসি ২০২৪ সালে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান।

২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনাতেও তিনি জবাবদিহি দাবি করেন। পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর ওই তরুণীর মৃত্যু দেশজুড়ে বিক্ষোভের জন্ম দেয়।

খোমেনি বলেন, ‘নির্দেশনা ও শিক্ষার অজুহাতে এই ২২ বছর বয়সী মেয়েটির সঙ্গে কী ঘটেছে, তা কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।’

তবে তিনি বিক্ষোভকারীদের সব অবস্থানের সঙ্গে একমত ছিলেন না। খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার বিষয় নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতার সময় তিনি রাষ্ট্রের পক্ষেই অবস্থান নেন। কিছু বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে তিনি ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগ তোলেন। সরকারপন্থী মিছিলে অংশ নেন এবং কিছু সহিংসতার সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের কর্মকাণ্ডের তুলনা করেন।

খামেনির মৃত্যুর পর এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, খামেনি চিরকাল ‘ইরানের জনগণ ও মুসলমানদের নায়ক’ হয়ে থাকবেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণ ইমাম খোমেনির পথেই এগিয়ে যাবে।

২০১৫ সালে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খোমেনির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাকে প্রগতিশীল ধর্মতাত্ত্বিক হিসেবে বর্ণনা করেন। সংগীত, নারীর অধিকার ও সামাজিক স্বাধীনতার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত বলে জানা যায়।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন এবং ইসলামি চিন্তার পাশাপাশি পাশ্চাত্য দর্শনেও আগ্রহী।

২০১২ সালে কিছু সংস্কারপন্থী নেতা তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানালেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আলোচনায় অংশ নেওয়া হাসান রুহানির সরকারকে তিনি সমর্থন করেছিলেন। ওই চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি বাতিল করেন।

পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানিদের যে অর্থনৈতিক কষ্ট হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন।

এক দশক আগে তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন।

প্রাথমিকভাবে খামেনির সম্মতি পেলেও পরে গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে।

অযোগ্য ঘোষণার কারণ হিসেবে তার ধর্মীয় পদবী উল্লেখ করা হয়। তিনি হুজ্জাতুল ইসলাম, যা আয়াতুল্লাহর চেয়ে এক ধাপ নিচের মর্যাদা। তবে অনেকেই মনে করেন, তাকে অযোগ্য ঘোষণার পেছনে রাজনৈতিক কারণ ছিল।

২০০৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার দাদার উত্তরাধিকার অনুসরণ করতে হলে সেনাবাহিনীকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। অনেকেই এটিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সমালোচনা হিসেবে দেখেন।

তবে এ বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরোপুরি দূরবর্তী নয়।

গত বছর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের বিমানযুদ্ধের সময় তিনি খামেনিকে চিঠি লিখে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে এবং ইরানি জাতির জন্য গর্বের কারণ হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যম জামারানে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি ইসরায়েলকে ‘অশুভ জায়নবাদী শাসন’ বলে উল্লেখ করেন এবং মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

জীবনী অনুযায়ী, তিনি আরবি ও ইংরেজিতে সাবলীল। ২১ বছর বয়স পর্যন্ত ফুটবল খেলতেন। পরে তার দাদা তাকে কুম শহরে গিয়ে ইসলামি ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করতে বলেন।

এসব কারণেই তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দৌড়ে থাকবেন বলে মনে করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

একইসঙ্গে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরও জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ক্রিস্টেনসেন এ অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে ঢাকার সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখতে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: বিএনপি ও বিরোধী দলের বাড়তে থাকা দূরত্ব উদ্বেগও বাড়াচ্ছে

স্বাধীনতার পর আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম সংসদীয় শাসনব্যবস্থা দিয়ে। কিন্তু পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু নিজেই একদলীয় ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শ থেকে সরে আসেন।

জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর সৌভাগ্যক্রমে বাকশালের প্রায় সব কাঠামোই বিলুপ্ত করেন, কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা ছাড়া। পরবর্তীতে তৎকালীন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনেন। এই ঘটনাটিকে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ বলা যেতে পারে। কারণ, মূলত তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগই এই দাবি জানিয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু এবং তার পক্ষ থেকে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পুরো জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য উদ্দীপ্ত করা জেনারেল জিয়াউর রহমান—দুজনকেই হত্যা করে সশস্ত্র বাহিনীরই কিছু সদস্য। পরিহাসের বিষয় হলো, হত্যাকারীরাও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী গোষ্ঠীই প্রবাসী সরকারের চার জাতীয় নেতা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে হত্যা করে। বিভিন্নভাবে আমরা আরও হারিয়েছি মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ, মেজর জেনারেল মঞ্জুর, কর্নেল তাহেরসহ আরও অনেককে, যারা হয়তো ততটা পরিচিত বা উচ্চপদস্থ ছিলেন না।

এমন মর্মান্তিক ও আত্মঘাতী অভিজ্ঞতাগুলো থেকেও আমরা কিছুই শিখিনি, উল্টো নিজেদের মধ্যে লড়াই চালিয়ে গেছি। আমরা বুঝতেই পারিনি যে, এমন প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং লাখো সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ তরুণদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে যারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না, সেই শক্তিগুলো ইতিহাস বিকৃত করার সুযোগও পাচ্ছে।

দীর্ঘ গণআন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে এরশাদের সরকারের পতন হয় এবং দেশে গণতন্ত্র, সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচিত সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। (কাকতালীয়ভাবে, ঠিক সেই সময়েই ১৯৯১ সালের ১৪ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারের জন্ম হয়।)

আমরা সবাই ভেবেছিলাম, অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক লক্ষ্য ‘গণতন্ত্রে’ আমরা ফিরেছি। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে নিয়মতান্ত্রিক জাতীয় নির্বাচন পেয়েছি। কিন্তু ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে হয় কারচুপির নির্বাচন, যার পরিণতিতে পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের।

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা আমাদের কিছু স্থায়ী শক্তি দিয়েছে। আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে না পারলেও এই ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রয়েছে। এই সময়কালে অর্থনীতি এগিয়েছে, বেসরকারি খাত সম্প্রসারিত হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের আভাস পেয়েছে। এই সময়কালের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা হলো শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। গণতান্ত্রিক এই সময়কালে শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশ প্রমাণ করতে পেরেছে যে, এর মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আমরা আবারও নির্বাচিত সরকার, নির্বাচিত সংসদ, সক্রিয় বিরোধী দল, নতুন নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এবং মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির মাধ্যমে সঠিক পথে ফিরে এসেছি।

আজ বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এই স্থিতিশীলতার ওপরই নির্ভর করছে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সুশাসন। এমন এক অবস্থার মধ্যেই সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে তারা সরকার পতনের লক্ষ্যে রাজপথে নামবেন। আমরা এ ধরনের হুমকিকে উদ্বেগজনক মনে করি। এ ধরনের অবস্থান গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং সার্বিকভাবে দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

জামায়াতের এমন বক্তব্যের সমালোচনার পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপি যা করছে, সেটিও পর্যালোচনা করা উচিত। কেননা, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘জনগণের ইচ্ছা’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজের নেতৃত্বে দীর্ঘ আলোচনা প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তার মধ্যে বেশকিছু দল সুপরিচিত নয়। কিন্তু, তারপরও এটি ছিল এক ইতিবাচক উদ্যোগ। কেননা, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট সঙ্গী এবং জাতীয় পার্টি ছাড়া দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে সংলাপের টেবিলে আনা হয়েছিল।

কয়েক মাসের আলোচনার পর ‘জুলাই সনদ’ প্রণীত হয় এবং ২৬টি রাজনৈতিক দল এতে সই করে। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন। এই আদেশ সনদ বাস্তবায়ন এবং যেসব সংস্কার প্রস্তাবের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে গণভোট আয়োজনের আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে দেয়।

কমিশনের কাজ শেষ হওয়ার পর মোট ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়, যার মধ্যে ৪৮টির জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। বাকি বিষয়গুলো নির্বাহী আদেশ ও আইন সংশোধনের মাধ্যমেই কার্যকর করা সম্ভব। সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন এমন ৪৮টি বিষয়ের মধ্যে মাত্র ৯টিতে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে।

সবমিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সফল বলা যায়। কারণ, যেখানে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বিভাজন, সেখানে এমন ঐকমত্য নিঃসন্দেহে এক বড় সাফল্য।

সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিনই একটি গণভোটের আয়োজন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার এমন একটি গণভোট দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করে, যার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ভোটারদের পরিপূর্ণ বোঝাপড়া ছিল না। সাধারণত গণভোট হয় সুনির্দিষ্ট ও সহজবোধ্য কোনো বিষয়ে এবং সেখানে ভোটার ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে পারেন। কিন্তু এই গণভোটে চারটি পৃথক প্রশ্নের মাধ্যমে ঐকমত্য কমিশনে আলোচিত ৪৮টি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অসংখ্য সাংবিধানিক সংশোধনীকে একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা এবং সেগুলোর অর্থ ও প্রভাব সম্পর্কে ভোটারদের যথাযথভাবে অবহিত না করা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। অধিকাংশ ভোটারই জানতেনই না, তারা আসলে কী বিষয়ে ভোট দিচ্ছেন।

গণভোটে আরও প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, নির্বাচিত সংসদ শুধু আইনসভা হিসেবেই নয়, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবেও কাজ করবে। আর এখানে এসেই ঐক্য ভেঙে যায়। বিএনপি এই প্রস্তাব কখনোই মেনে নেয়নি। তাদের প্রস্তাব ছিল, সংশোধনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক সংস্কারগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তাদের এই প্রস্তাব অনেক বেশি আনুষ্ঠানিক ও বহুল প্রচলিত। এমনকি এই পদ্ধতি বিশ্বজুড়েও প্রচলিত।

কিন্তু, সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত জুলাই সনদ এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির অবস্থান গুরুতর কিছু প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। যেসব বিষয়ে সর্বসম্মত ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নেও বিএনপির গড়িমসি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। তাদের ব্যাখ্যা হলো, সংবিধান সংশোধনের আগে এসব বিষয় আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এই যুক্তির কিছুটা গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও জুলাই সংস্কার প্রক্রিয়াটি যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটা সম্ভবত সর্বোত্তম উপায় নয়।

আমাদের সংবিধানে নির্বাহী, বিচার ও আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ ভারসাম্য প্রত্যাশিত ছিল। এর উদ্দেশ্য হলো, সব ক্ষমতা যেন নির্বাহী বিভাগের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়ে যায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সংবিধানে সেই ক্ষমতার ভারসাম্য ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এমন এক শাসনব্যবস্থার জন্ম হয়, যাকে কিছু রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ‘নির্বাচিত একনায়কতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। দুর্ভাগ্যবশত, দীর্ঘকাল ধরে আমরা সেটার মধ্য দিয়েই যাচ্ছি।

আমাদের প্রশ্ন করা উচিত, কেন আমাদের সংসদীয় শাসনব্যবস্থা একই ধরনের সরকারব্যবস্থা থাকা অন্যান্য দেশের মতো সফল হতে পারেনি? এর উত্তর নিহিত রয়েছে আমাদের নেতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে। বরাবরই আমাদের শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। দলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণে শীর্ষনেতার ভূমিকা সবসময় জবাবদিহি ও সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে গেছে। যখন এমন একটি দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং তার শীর্ষনেতা প্রধানমন্ত্রী হন, তখন একজন ব্যক্তির হাতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীভূত সমস্ত ক্ষমতা সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়।

এর ফলে রাষ্ট্রের বহু প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের শিকার হয় এবং সেগুলো কার্যত দলেরই সম্প্রসারিত অংশে পরিণত হয়। যার উদাহরণ হিসেবে পুলিশ বাহিনীর কথা বলা যায়। এই বাহিনীতে কখনোই প্রকৃত স্বাধীনতা ছিল না। বরং তারা সবসময় বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একই কথা আমলাতন্ত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সেখানে পদোন্নতির প্রধান মানদণ্ড দক্ষতা বা সততা নয়, বরং রাজনৈতিক আনুগত্য। রাষ্ট্রের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে দলেরই সম্প্রসারিত অংশে পরিণত করার মাধ্যমে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর অন্য কোনোভাবেই হয়নি।

আমাদের সংসদকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক। ১৯৯১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমরা কখনোই বিরোধী দলকে সংসদে তাদের প্রাপ্য ভূমিকা পালন করতে দিইনি। অন্যদিকে বিরোধী দলও সবসময় মনে করেছে, ক্ষমতাসীন দলের যেকোনো নীতির বিরোধিতা করাই তাদের একমাত্র দায়িত্ব, এমনকি সেই নীতি দেশের জন্য উপকারী হলেও।

বর্তমানে, সাংবিধানিক পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ দুটি শব্দের মাঝে আটকে আছে—‘সংশোধন’ ও ‘সংস্কার’। বিএনপি সংবিধান ‘সংশোধনের’ বিষয়ে সংলাপের প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সংবিধান ‘সংস্কার’ চাইছে। জামায়াতের এই অনমনীয়তার আসল কারণ হলো, তারা সংবিধান নতুন করে লিখতে চায়, যা সম্ভবত আমাদেরকে এক বিশৃঙ্খল ও সমাধানহীন সংকটের মধ্যে ফেলে দেবে। সংবিধান সংশোধন করা কি সংস্কারেরই আরেকটি রূপ নয়?

বিএনপি গত ২৯ এপ্রিল ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। সদস্যদের মধ্যে সাতজন বিএনপি ও পাঁচজন অন্যান্য দল থেকে এবং পাঁচজন বিরোধী দল থেকে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জামায়াত সময় চেয়েছিল। গত ১৬ জুন জামায়াত আমির এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, তারা এই কমিটিতে যোগ দেবেন না। পরবর্তীতে ১৩ জুলাই শাসক দল জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাস করে।

আমরা মনে করি, জামায়াতের উচিত তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া। বাইরে থাকার চেয়ে কমিটিতে তাদের উপস্থিতি আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ দেবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম যদি তাদের আশানুরূপ না হয়, তাহলে তারা বিরোধিতা করতে পারবে, এমনকি চাইলে সরেও দাঁড়াতে পারবে। তখন তারা জনগণকে সার্বিক বিষয় সম্পর্কে অবগতও করতে পারবে। কিন্তু, বিশেষ কমিটি কীভাবে কাজ করবে সেটা না দেখেই এই কমিটিতে যোগদান থেকে বিরত থাকাটা অন্যদের ওপর জামায়াতের নিজস্ব ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টামাত্র।

শাসক দল ও বিরোধী দলের মধ্যে এখন সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক অবলম্বনের সময় এসেছে। তা না হলে, আবারও জন্ম নিতে পারে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা। আর তেমনটি হলে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে আমাদের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশে একটি বদল

২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের একাদশে একটি বদল এনেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চোটাক্রান্ত লুকাস পাকেতার জায়গায় ঢুকেছেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি।

রোববার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত দুইটায় নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়েকে মোকাবিলা করবে ব্রাজিল। তারা নকআউটের এই পর্বে জায়গা করে নিয়েছে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে। সেদিন বদলি নেমে খেলার শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আর্সেনালের উইঙ্গার মার্তিনেলি।

বাকি একাদশে আর কোনো পরিবর্তন নেই। ছন্দে থাকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র থেকে গোলরক্ষক আলিসন— এদের ওপরই ভরসা রাখছেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি। বরাবরের মতো নেইমারের জায়গা হয়েছে বেঞ্চে।

তবে সেলেসাওদের সামনে এখন এমন এক পরিসংখ্যানগত জটিলতা দাঁড়িয়ে, যা তাদের বৈশ্বিক মর্যাদার সঙ্গে একেবারেই বেমানান। কারণ নরওয়ের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসটা পুরোপুরি তাদের বিপক্ষে। দুই দলের চারবারের দেখায় একবারও নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল!

এই ইতিহাসের শুরুটা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে। ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছিল প্রীতি ম্যাচটি। তখন এই ফল খুব একটা আলোচনা তৈরি না করলেও নীরবে এমন এক দ্বৈরথের সুর বেঁধে দিয়েছিল, যা ব্রাজিল এখনও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি।

এর প্রায় এক দশক পর ১৯৯৭ সালে আরেকটি প্রীতি ম্যাচে অসলোতে ব্রাজিলকে ৪-২ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বড়সড় ধাক্কা দেয় নরওয়ে, যে ফল বর্তমান ফুটবল বাস্তবতায়ও চোখ কপালে তোলার মতো।

এরপর এসেছিল সেই ম্যাচ, যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজও দাগ কেটে আছে। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে রোনালদো, বেবেতো, রিভালদো, রবার্তো কার্লোস ও কাফুকে নিয়ে তারকাখচিত ব্রাজিল বেবেতোর গোলে এগিয়ে গিয়ে জয়ের পথেই ছিল। কিন্তু তোরে আন্দ্রে ফ্লো ও শিতিল রেকদালের গোলে পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে দিয়ে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় নরওয়ে।

দুই পক্ষের সবশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে, ১-১ গোলের ম্যাড়মেড়ে এক প্রীতি ম্যাচে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক বছরের জন্য বন্ধ হয়েছিল এমন এক দ্বৈরথ, যা সব সময়ই ব্রাজিলের চেনা ছন্দের পরিপন্থী।

দুই দশকের ব্যবধানে এবার ব্রাজিলের সামনে প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। কাগজে-কলমে আনচেলত্তির দলই ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে। কিন্তু নিজেদের পঞ্চম প্রচেষ্টায় তারা কি পারবে এই ‘অমীমাংসিত ধাঁধা’র সমাধান করতে?

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশ:

আলিসন; দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল, দগলাস সান্তোস; ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি; রায়ান, মাথেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যানসারসহ ছয় দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের এককালীন সহায়তা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব করেন।

তিনি বলেন, ক্যানসারসহ ছয় দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের এককালীন সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা করে দেওয়া হবে।

যেসব আসনে হেরেছে বিএনপি, সেখানেই সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের দায়িত্ব

যেসব আসনে দলের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে সেখানে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের (এমপি) দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি। এসব জায়গায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে এই কৌশল নিয়েছে দলটি।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা কেন্দ্র ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবেন। ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, উন্নয়নকাজের খোঁজখবর রাখা এবং সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো দৃশ্যমান রাখতে সহায়তা করবেন তারা।

সূত্র আরও জানায়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বা স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে প্রতিযোগিতা এড়াতে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য আছেন এমন আসনগুলোয় তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

উদাহরণ হিসেবে, ফাহিমা নাসরিন মুন্নির রাজনৈতিক এলাকা মুন্সীগঞ্জ-৩ হলেও তাকে ঝিনাইদহ-৩ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

ফাহিমা নাসরিন বলেন, আমাদের মূলত সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবার যেসব আসনে অন্য দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, সেসব এলাকার স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। যাতে আগামী দিনে আমরা আরও ভালোভাবে মাঠে ফিরতে পারি।

তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে আমরা স্থানীয় নেতাদের দিয়ে ওই সব এলাকায় আরও জোরালো জনসম্পর্ক গড়তে চাই।

তবে এই দায়িত্বকে অন্য দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর খবরদারি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না বলেও জানান তিনি।

সংরক্ষিত আসনের আরেক নারী সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা দায়িত্ব বণ্টনের এই প্রক্রিয়াকে ‘স্মার্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক, দুই লক্ষ্যই পূরণ হবে।

তিনি জানান, যেসব আসনে বিএনপি জিততে পারেনি, সেখানেও দলের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর ধরে কাজ করেছেন। তাদের রাজনৈতিক সমর্থন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছানো এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সাহায্যের প্রয়োজন।

সানসিলা জেবরিন বলেন, যে আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য জয়ী হয়েছেন, বিএনপি সেখানে এলাকার উন্নয়ন এবং নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে। ওই এলাকায় বিএনপির এমন অনেক নেতাকর্মী আছেন, যারা বছরের পর বছর ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হয়তো অন্য দলের কোনো সংসদ সদস্যের কাছে সাহায্য চাইতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন না।

সানসিলার ভাষায়, ‘উদাহরণ হিসেবে, ছাত্রদলের কোনো কর্মীর যদি চাকরি বা কাজের জন্য কোনো আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রয়োজন হয়, তবে তিনি একজন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যের কাছেই সেই সাহায্য চাইবেন, জামায়াতের এমপির কাছে নয়।’

ঢাকা-১২, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফেরদৌসী আহমেদকে। এসব আসনে জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৫ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

এ ছাড়া বীথিকা বিনতে হোসাইনকে সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব কটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

আরিফা সুলতানা রুমাকে পাবনা-১, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পিরোজপুর-১ আসনে জেসমিন জুঁই এবং বরগুনা-১ আসনে সেলিনা রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোরের চারটি আসনে সুলতানা আহমেদ এবং কুমিল্লার একটি আসনে দায়িত্ব পেয়েছেন রাশেদা বেগম হীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এই পদক্ষেপ দলের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। নারী সংসদ সদস্যরা এসব এলাকায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন এবং হাতছাড়া হওয়া আসনগুলোয় দলের জনসম্পর্ক নতুন করে গড়তে তারা সাহায্য করতে পারেন কি না, দল তা মূল্যায়ন করবে।

ভবিষ্যতে সরাসরি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও তাদের এই কাজের মূল্যায়ন বিবেচনা করা হতে পারে বলে ওই নেতা জানান।

ফাহিমা নাসরিন বলেন, নতুন এই দায়িত্বের ফলে নারী সংসদ সদস্যরা নিজেদের চেনা রাজনৈতিক এলাকার বাইরে কাজ করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তারা বড় পরিসরে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, কী কারণে আমরা আগে হেরেছি এবং এখনকার পরিস্থিতি কী এসব মূল্যায়ন করেই আমাদের কাজ করতে হবে।

তবে বিএনপি নেতারা স্বীকার করছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা খুব একটা সহজ হবে না।

নিজস্ব রাজনৈতিক এলাকার বাইরে নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়ার মানে হলো, তাদের স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের প্রত্যাশাও পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে অন্য দলের নির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে দলকে চাঙা রাখতে হবে।

সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা বলেন, পারিবারিক পরিচিতি, সাংগঠনিক কাজ, নিয়মিত উপস্থিতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব তৈরি হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। ফলে বাইরে থেকে যাওয়া সংরক্ষিত আসনের এমপিদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বিরোধ তৈরি হতে পারে।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, তৃণমূলের প্রত্যাশা সামলানোই হবে তাদের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

নিজেদের সম্পর্ককে ‘সিচুয়েনশিপ’ বললেন রাকুল

বলিউডে বিয়ে মানেই জমকালো আয়োজন, সামাজিক রীতি ও নানা প্রত্যাশা। কিন্তু এই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে ভাবছেন অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং ও প্রযোজক-অভিনেতা জ্যাকি ভাগনানি। বিয়ের পর নিজেদের সম্পর্ককে তারা বলছেন ‘সিচুয়েশনশিপ’। আর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

তবে তাদের ভাষায় এই ‘সিচুয়েশনশিপ’ কোনো অনিশ্চয়তা নয়। বরং সম্পর্ককে চাপমুক্ত, সহজ ও স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা।

বলিউড লাইফকে জ্যাকি ভাগনানি বলেন, তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সহজ যোগাযোগ। সেখানে কোনো কিছু লুকানোর জায়গা নেই, নেই কোনো ভয়ও। নিজেদের অতীত সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন। এই স্বচ্ছতা সম্পর্ককে আরও সহজ করেছে এবং একে অপরের প্রতি আস্থা আরও বেড়েছে।

২০২৪ সালে বিয়ে হয় এই তারকা জুটির।

রাকুল প্রীত সিং মনে করেন, নিজেকে সুখে রাখতে কেবল সঙ্গীর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। বরং নিজের পরিচয়, লক্ষ্য ও ক্যারিয়ার ধরে রাখা জরুরি।

তাদের সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত চাপ বা অযৌক্তিক প্রত্যাশা নেই বলেও জানিয়েছেন তারা। সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে তারা গুরুত্ব দেন পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়াকে। এতে ঝগড়া কম হয়।

গোয়ায় অনুষ্ঠিত তাদের বিয়ের আয়োজন আড়ম্বরপূর্ণ হলেও বেশ সংযত ছিল। সব মিলিয়ে, ‘সিচুয়েশনশিপ’ শব্দটি তাদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। বরং তাদের আধুনিক সম্পর্ক নিয়ে ভাবনার বহিঃপ্রকাশ, যেখানে স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও মানসিক পরিপক্বতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দুবাইয়ে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত

দুবাইয়ে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য সীমিত সংখ্যক বিশেষ ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুবাই বিমানবন্দর।

আজ সোমবার দুবাই বিমানবন্দর, এমিরেটস ও ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

এমিরেটসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা আগের বুকিং থাকা যাত্রীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিশেষ ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে এমিরেটস সরাসরি যোগাযোগ করবে।’

যোগাযোগ করার আগ পর্যন্ত যাত্রীদের দুবাই আন্তর্জাতিক ও আল মাকতুম আন্তর্জাতিক—দুটি বিমানবন্দরেই না যেতে অনুরোধ জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।

 

এছাড়া পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত অন্যান্য সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে বলেও জানিয়েছে এমিরেটস। 

‘এমিরেটস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সে অনুযায়ী তাদের অপারেশনাল সময়সূচি নির্ধারণ করবে,’ বলা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

এদিকে আজ সন্ধ্যায় এমিরেটসের মতো ফ্লাই দুবাইয়েরও কিছু বিশেষ ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

এয়ারলাইনটির এক মুখপাত্রের বরাতে দুবাইভিত্তিক গণমাধ্যম খালিজ টাইমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

দুবাই বিমানবন্দর থেকে ফ্লাই দুবাইয়ের ৪টি ফ্লাইট ছেড়ে যাবে এবং ৫টি ফ্লাইট ফিরবে।

বিমানে যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে: বিমানমন্ত্রী

বিমানে যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

আজ সোমবার মানিকগঞ্জ সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘বেসামরিক বিমান ও পর্যটন খাতে পূর্বের অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

হজযাত্রীদের বিমানবন্দরে যেন কোনো অসুবিধা না হয়. সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখা হবে জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা এয়ারপোর্টে নেমেই যেন কনফোর্ড জোনে থাকেন, তারা যেন বলতে পারেন এই সরকারের আমলে পরিবর্তন এসেছে, এই সকল কাজই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে।’

সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানান আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠিনভাবে নেমেছেন এবং আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা তার দেখানো পথে হাঁটছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। আমাদের সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে সেসব কাজ করতে হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

পরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন আফরোজা খানম রিতা। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।