27.7 C
Dhaka
Home Blog

১৩৩ তালেবান সেনা নিহত, দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তানে হামলায় অন্তত ১৩৩ সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে এমন দাবি করেন। আল জাজিরার খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

মোশারফ জাইদি জানান, পাকিস্তানের হামলায় আফগান তালেবান বাহিনীর অন্তত ১৩৩ সেনা নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা দুই শতাধিক। আফগান তালেবানের ৮০টি ঘাঁটি  ধ্বংস করা হয়েছে। নয়টি দখলে নেওয়া হয়েছে। ৮০টিরও বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি আল-জাজিরা।

এরইমধ্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন। এদিকে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় কারো ক্ষতি হয়নি।

ইসলামাবাদের নতুন এই অভিযানকে  বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীদের ওপর আফগান সেনাদের হামলার জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৭০ জন নিহত হন। এর ফলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে এবং সেই থেকে সীমান্ত পারাপারও বন্ধ রয়েছে।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তান তাদের মাটিতে সক্রিয় সেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে যারা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে উভয় পক্ষ।

দেশ গড়ার ক্ষেত্রে মব কালচার বাধা হতে পারে: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি

বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে মব কালচার বাধা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, ‘মব মানে একটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করা। যারা মব করছেন তাদের এখান থেকে সরে আসা উচিত।’

আজ শনিবার লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এ্যানি বলেন, ‘মব কালচার থেকে ফিরে সবাইকে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। সরকার ও দেশকে সহযোগিতার জন্য কাজ করতে হবে। কেউ যদি এর বাইরে কিছু করতে চান, সেটার দায়-দায়িত্ব তাদের উপরই বর্তাবে। এর জন্য তারাই দায়ী হবেন।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। সংসদ সদস্যদের শপথ হয়েছে। আমরা শপথ নিয়েছি। হ্যাঁ-না ভোট হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। খুব স্বাভাবিক কারণেই পার্লামেন্টে বিল রেইজ হবে। হ্যাঁ-এর শপথের কোনো প্রয়োজন নাই। হ্যাঁ অটোমেটিক কার্যকর হবে। এটাই জুলাই সনদ।’

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে না ভোট হয়েছে, সেখানে না ভোট অনুযায়ী পার্লামেন্টে বিল রেইজ হবে, আলোচনা হবে। সেখানে নির্ধারিত হবে যেটা না, সেটা কীভাবে হবে, যেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেটাও সেখানে নির্ধারিত হবে। এ ব্যাপারে যারা আইনবিদ রয়েছেন, তারা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এগুলো জানা দরকার, সুন্দরভাবে বলা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারকে কীভাবে সহযোগিতা করতে পারেন, দেশটাকে কীভাবে আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেবেন, সেই বিষয়ে কথা বলা দরকার। মত-পথ ভিন্ন থাকতে পারে, সব ইস্যুতে বিরোধিতা করতে হবে, এমন অবস্থান থেকে পিছিয়ে এসে দেশটা গড়ার জন্য সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজে মনযোগী হওয়া দরকার।’

এসময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. এমরান, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাজেটের কর কাঠামো কতটা ন্যায্য হলো

বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুতর একটি সংকট হলো—অর্থনীতির আকারের তুলনায় কর আহরণের হার বিশ্বের সবচেয়ে কমগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন ও সুদানের সামান্য ওপরে।

ওইসিডির তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের কর-জিডিপির অনুপাত মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোতে যা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং উন্নত দেশে ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ থাকে।

এই কম কর আহরণের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য নাগরিক সেবায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অর্থ সংকুলান কঠিন হয়ে যায়।

ফলে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে হলে বাংলাদেশকে কর আহরণ বাড়াতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রশ্ন হলো—এই কর আহরণ কীভাবে বাড়ানো হবে?

দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভ্যাট ও শুল্কের মতো পরোক্ষ করের মাধ্যমে, নাকি ধনী ও সামর্থ্যবানদের আয় ও মুনাফার মতো প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে?

অথবা ধনী ও সামর্থ্যবানদের কর ফাঁকি দূর করে, নাকি বিদ্যমান করদাতাদের কাছ থেকেই আরও বেশি কর আহরণ করে?

এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ভর করবে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়বে না কমবে।

কর আদায় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ আয় করের বদলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর আদায়ের ওপর বেশি নির্ভর বা কর ফাঁকি দেওয়া ধনী ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বদলে নিম্ন আয়ের করদাতাদের ওপর বেশি নির্ভর করা হলে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরও বাড়বে।

বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, বাংলাদেশের রাজস্ব সংকট মূলত কোনো কারিগরি সমস্যা নয়, বরং এটি বৈষম্যমূলক রাজনৈতিক অর্থনীতির ফল।

বিএনপি এই কাঠামো ভেঙে আয়কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে ন্যায্য, সর্বজনীন ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে রাজস্ব ভিত্তি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

দলটি উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের করজালের আওতায় আনা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা, তথ্য বিনিময় ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। (বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, পৃষ্ঠা ৩৭)

চলুন দেখা যাক, এবারের বাজেটের কর কাঠামোতে সেই প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করা হলো।

বাজেটে চাল, গম, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, আদাসহ প্রায় ৬০টি কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের ওপর উৎসে করের হার বিদ্যমান ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর ফলে পণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণ পর্যায়ে করের চাপ কমবে। এর প্রভাব যদি শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে পড়ে, তাহলে তা মূল্যস্ফীতি হ্রাসের ভূমিকা রাখতে পারে।

সাধারণ মানুষের ওপর থেকে পরোক্ষ করের চাপ কমানোর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে দিনশেষে সাধারণ মানুষের ঘাড় থেকে করের সর্বমোট বোঝা কমছে না বাড়ছে, তা বোঝার জন্য কর কাঠামোর দিকে তাকানোর দরকার।

কর কাঠামো বলতে বুঝতে হবে প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ করের অনুপাত।

বাজেটের অর্থ কার কাছ থেকে আদায় করে, কার কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটা বোঝার জন্য করের এই অনুপাতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রত্যক্ষ কর হলো—সামর্থ্যবানদের আয় ও মুনাফা থেকে প্রাপ্ত কর। আর পরোক্ষ কর হলো—ভ্যাট ও শুল্ক বাবদ প্রাপ্ত কর, যা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার কাছ থেকে আদায় করা হয়।

বেশিরভাগ কর যদি দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হয়, তাহলে সেটা বৈষম্য বাড়ায়।

বৈষম্য কমাতে হলে প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে হয়। অর্থাৎ ধনীদের কাছ থেকে কর আদায় বাড়াতে হবে।

দেখতে হবে, বিভিন্ন ধরনের কর ছাড়ের ফলাফল কর কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনছে কি না।

যদি বরাবরের মতোই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর বেশি আদায় করা হয়, তাহলে এসব কর ছাড় কোন কোন ক্ষেত্রে স্বস্তি দিলেও দিনশেষে করের মূল বোঝাটা সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে।

বিএনপি সরকার ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট অনুসারে, এনবিআরের মাধ্যমে কর আহরণ করা হবে মোট ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ধনী ও সামর্থ্যবানদের আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর প্রত্যক্ষ কর আদায় করা হবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আমদানি শুল্ক ইত্যাদি খাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর আদায় করা হবে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। (বাজেট ২০২৬-২৭, রাজস্ব প্রাপ্তির বিবরণ)

অর্থাৎ এনবিআরের মাধ্যমে যত কর আদায় করা হবে, তার ৩৬ দশমিক ৪০ হলো—ধনী ও সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে আদায় করা প্রত্যক্ষ কর। আর ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ হলো—সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা পরোক্ষ কর।

বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের হার ছিল যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ২০ ও ৬৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।

আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের হার ছিল যথাক্রমে ৩৪ দশমিক ৪৪ ও ৬৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

এর মানে বরাবরের মতো এবারের বাজেটেও ধনীদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করের বদলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভ্যাট ও শুল্ক বাবদ আদায় করা পরোক্ষ করের ওপর অধিক নির্ভরশীলতা দেখা যাচ্ছে।

অর্থাৎ এবারের বাজেটে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিশেষত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ থাকলেও অর্থ আয়ের ক্ষেত্রে অর্থাৎ কর কাঠামোর বৈষম্য নিরসনের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এমনকি প্রত্যক্ষ কর আহরণ বৃদ্ধির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানেও ধনী ও সামর্থ্যবানদের কর ফাঁকি রোধ ও কর জাল বিস্তারের বদলে বিদ্যমান করদাতাদের ওপরই বেশি চাপ তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উদ্যোগগুলো এমন যে, তাতে ধনীদের তুলনায় নিম্ন আয় ও মধ্যবিত্তের ওপর বেশি চাপ তৈরি হবে।

যেমন: বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও ৫ শতাংশের প্রাথমিক কর ধাপ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ১০ শতাংশ করের প্রাথমিক ধাপ ঠিক করা হয়েছে।

বাজেটের এ প্রস্তাবে বর্তমানে যারা কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর করের চাপ আরও বাড়বে। শুধু তাই না, যাদের আয় তুলনামূলক কম তাদের কর বৃদ্ধির হার যাদের আয় বেশি তাদের তুলনায় বেশি।

যেমন: সমকালে প্রকাশিত এক হিসাব অনুযায়ী, যার মাসিক আয় ৭৪ হাজার টাকা, তার কর দায় বাড়বে ৪৯ শতাংশ।

অন্যদিকে যার মাসিক আয় আড়াই লাখ টাকা বা তার বেশি, তাদের কর দায় বাড়বে সাড়ে ১০ শতাংশ।

বিনিয়োগ করলে ব্যক্তি করদাতারা যে রেয়াত পান, তাও কমানো হয়েছে। এটিও বিদ্যমান করদাতাদের করের চাপ বাড়াবে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বিমার প্রিমিয়ামসহ ৯টি খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে
করদাতারা কর রেয়াত পান। এ ক্ষেত্রে মোট আয়ের ৩ শতাংশ, অনুমোদিত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি কম, সেটি কর রেয়াত হিসেবে বিবেচিত হয়।

নতুন প্রস্তাবে অনুমোদিত বিনিয়োগের সীমা ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফলে প্রতি ১ লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে করদাতারা আগের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার টাকা কম কর ছাড় পাবেন।

মধ্যবিত্ত পরিবার ও পেনশনভোগীরা সংসার খরচের জন্য যে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করেন, তার মুনাফার ওপরও করের হার বাড়িয়েছে সরকার।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়।

১০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ হার ১০ শতাংশ।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় এই উৎসে করই চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য হয় এবং পরবর্তীতে এ আয়ের ওপর আর কোনো কর দিতে হয় না।

নতুন বাজেটে এই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে যেকোনো ধরনের
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হবে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে না, বরং করদাতার মোট আয়ের সঙ্গে এই আয় যোগ হয়ে নির্ধারিত কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হবে।

উৎসে কাটা করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা হবে, যা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সমন্বয় করা যাবে। এর ফলে ৫-৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রধারী মধ্যবিত্ত পরিবার ও পেনশনভোগীদের মুনাফার টাকার পরিমাণ কমে যাবে।

কাজেই দেখা যাচ্ছে, বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের নতুন করে করজালের আওতায় আনার বদলে বিদ্যমান করদাতাদের ওপরই করের চাপ বাড়িয়েছে।

আবার করজাল বিস্তারের জন্য যেভাবে খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর হাজারে ২ টাকা হারে অগ্রিম কর ধার্য করেছে, সেটাও দিন শেষে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াবে। এভাবে কর আদায় বিদ্যমান তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসের জন্য অনুকূল পদক্ষেপ নয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের সাধারণ মানুষ ব্যাপক অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে সেই সরকারের পতনের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে দেশের মানুষ বৈষম্য হ্রাসের পদক্ষেপ আশা করে।

কাজেই বিএনপি সরকারের দিক থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না, যা এই বৈষম্য আরও বৃদ্ধি করে।

ফলে সরকারকে ভ্যাট এবং শুল্কের মতো পরোক্ষ কর ও বিদ্যমান নির্দিষ্ট আয়ের করদাতাদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ কর আদায় বৃদ্ধির ‘সহজ রাস্তা’ থেকে সরে আসতে হবে। এর পরিবর্তে, কর ফাঁকি দেওয়া ও কর জালের আওতার বাইরে থাকা ধনী এবং সামর্থ্যবানদের আয় ও সম্পদ থেকে প্রত্যক্ষ কর আদায় বাড়াতে হবে।

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের

এশিয়া কাপের মঞ্চে দারুণ এক জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ পুরুষ হকি দল। শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৪-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে তরুণরা।

জাপানের কাকামিগাহারার কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই ইতিবাচক ফুটওয়ার্ক ও আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তার ফলও আসে দ্রুত।

ম্যাচের নবম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মুন্না ইসলাম। চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইল ইসলাম। পেনাল্টি কর্নার থেকে সফলভাবে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেন তিনি।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় মালয়েশিয়া। ৩০তম মিনিটে ওপেন প্লে থেকে গোল করেন যোগেশ্বরান নাগুলান। তাতে বিরতির আগে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে ফেলে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। ৪০তম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মুন্না ইসলাম। তার গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

ম্যাচের ৫০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান আবারও এক গোলে নামিয়ে আনেন মালয়েশিয়ার আরিক আইদিল হাকিমি। ফলে শেষ দিকে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।

তবে শেষ হাসি হেসেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরাই। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে ওপেন প্লে থেকে গোল করেন জয় ইসলাম। তার সেই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়।

 

নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের রূপরেখা

বিনিয়োগ বাড়িয়ে আগামী কয়েক বছরে অর্থনীতির গতি পাল্টে দিতে চায় সরকার। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রস্তুত করা এই পরিকল্পনায় ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলা, বিনিয়োগ বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার স্থলাভিষিক্ত হতে যাওয়া এই মহাপরিকল্পনাটি নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংকটসহ অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত কৌশলও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে পরিকল্পনার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ও পুনর্গঠনের কৌশল নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

পরিকল্পনাটি সাতটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হলো—অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, নিয়মকানুন সহজীকরণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

পরিকল্পনাটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

প্রথম ১২ মাসে সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। এ সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে সতর্ক বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে।

অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ধাক্কা থেকে নিম্নআয়ের মানুষকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমদানি চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট কাটাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে জরুরি সহায়তা দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপে, অর্থাৎ পরিকল্পনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনে জোর দেওয়া হবে। এ সময় মূল লক্ষ্য হবে বিনিয়োগের গতি বাড়ানো।

বেসরকারি খাতের আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো হবে এবং অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে, খেলাপি ঋণের সমস্যা সমাধান এবং পদ্ধতিগত ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাণিজ্য লজিস্টিকস উন্নয়ন, খাতভিত্তিক বহুমুখীকরণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থান কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জাতীয় বাজেটকে কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চূড়ান্ত ধাপে, অর্থাৎ শেষ দুই বছরে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

উৎপাদনশীল ও উচ্চ-মূল্য সংযোজিত খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রপ্তানি খাত আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে জলবায়ু-সহনশীল জ্বালানি, পরিবহন ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যেন বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখে, তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

এই ধাপে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি বিনিয়োগ। এর অংশ হিসেবে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিজিটালাইজেশন এবং কর সংস্কৃতির উন্নয়নের মাধ্যমে মোট রাজস্ব জিডিপির অতিরিক্ত ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী, মোট রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ১১ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনায় কৃষি ও তরুণদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ রাখা হয়েছে।

কৃষি খাতকে সনাতন পদ্ধতি থেকে উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর ও বাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি কেন্দ্রীয় কৃষি হাব গড়ে তোলা হবে, যেখানে ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্মার্ট ফার্মিং, মূল্য সংযোজনভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনের সঙ্গে সংযুক্তি এবং টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হবে।

কৃষকদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সব কৃষিসেবা এক জায়গা থেকে পেতে পারেন। পাশাপাশি পানি ও সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। কৃষি খাতের সঙ্গে শিল্প উৎপাদনের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে।

তরুণ জনগোষ্ঠীর আধিক্যের কারণে বাংলাদেশ এখন জনমিতিক লভ্যাংশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে অমিল এবং শহর-গ্রামের ডিজিটাল বৈষম্যকে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ সমস্যা সমাধানে ‘ন্যাশনাল ফাউন্ডেশনাল লার্নিং মিশন’ চালু করা হবে। এর আওতায় প্রতিদিন পড়াশোনা ও গণিত চর্চার জন্য নির্দিষ্ট সময় বাধ্যতামূলক করা হবে। শিক্ষার্থীদের বয়সের বদলে দক্ষতার ভিত্তিতে বিশেষ সহায়ক ক্লাসের ব্যবস্থাও থাকবে।

মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বদলে শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন ও ডিজিটাল প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হবে। এ জন্য একটি জাতীয় শিক্ষক যোগ্যতা কাঠামো চালু করা হবে।

শিক্ষকদের উপস্থিতি ও স্কুল অনুদান ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বাজেট ধীরে ধীরে জিডিপির ৪ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট শিক্ষার ২৫ শতাংশ এই খাতের আওতায় আসে। বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার চালুর কথাও বলা হয়েছে।

পরিকল্পনায় নারী ও তরুণদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সবার জন্য সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

অর্থনীতিতে সৃজনশীল খাতের উন্নয়নে একটি ত্রিমুখী কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রায় ২ লাখ তরুণ-তরুণীকে ডিজিটাল ও ক্রিয়েটিভ আর্টসে দক্ষ করে তোলা হবে। দেশের ৬৪ জেলায় ক্রিয়েটিভ হাবসহ ‘বাংলাদেশ ক্রিয়েটিভ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠন করা হবে।

‘ক্রিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ব্র্যান্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন ও ডিজনি প্লাসের মতো বৈশ্বিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য ১০০টি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ও শো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ৪৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাকে জলবায়ু-সহনশীল করা হবে এবং ৪০টি ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র সংস্কার করা হবে। চালু করা হবে ‘হেরিটেজ অ্যাওয়ার্ড’।

সরকারের আশা, এসব উদ্যোগের ফলে সৃজনশীল খাতের অবদান বর্তমানে জিডিপির শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাবে।

 

সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন সাবেক আ. লীগ নেতা সুবর্ণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে গোপালগঞ্জ থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)।

কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর হঠাৎ বিএনপিতে সক্রিয় হয়ে মনোনয়ন পাওয়ায় তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।

তাদের অভিযোগ, এই মনোনয়নের মধ্য দিয়ে পুরোনো ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করা হলো।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ অন্য দল থেকে এসে মনোনয়ন পাওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি অবিচার। এতে দলে বিভাজন তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে সুবর্ণা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার, আমাকে এক সময় কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক করা হয়েছিল, কিন্তু এতে আমার সম্মতি ছিল না। আমাকে না জানিয়েই, তাদের ইচ্ছা মতো ওই তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’

‘আমি কখনো সেই তালিকা দেখিনি, এমনকি কোনো মিটিং-মিছিল বা দলীয় কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করিনি। এ কারণে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগও করিনি। কারণ বিষয়টিকে আমি কখনো গ্রহণই করিনি। আমার এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ ছিল না,’ বলেন তিনি।

সুবর্ণা আরও বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষিকা, আমি আমার পেশাগত ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকি। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় কাজে আমাকে যেতে হয়, তাই রাজনীতির ওই বিষয়টি আমি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছি।’

তবে ছাত্রজীবনে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘খুলনা সিটি কলেজে পড়ার সময় আমি বিএনপির ছাত্র সংগঠনে ছিলাম, এবং তখন সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেছি। সেই সময়ের কিছু প্রমাণও রয়েছে, যেমন পত্রিকায় আমার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিয়ের পর আমি আর সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ছিলাম না।’

‘গত বছরের ৮ নভেম্বর একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি, সেখানে আমি বক্তব্য দিই। ওই অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন, তিনি আমার বক্তব্য শোনেন। আমার সেই বক্তব্য পরে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়, এবং বাংলাদেশসহ ভারতের অনেক মানুষ তা দেখেন ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। তখন থেকেই আমি আবার বিএনপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই,’ যোগ করেন তিনি।

প্রথমবার ওয়েব ফিল্মে জুটি বাঁধলেন প্রীতম-জেফার

প্রীতম হাসান ও জেফার রহমান দুজনই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। গানের পাশাপাশি তারা মাঝেমধ্যে অভিনয়ও করেন। এবার প্রথমবার পর্দায় জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন ‘তুমি আমি শুধু’ ওয়েব ফিল্মে। 

এটি নির্মাণ করেছেন শিহাব শাহীন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিঞ্জে মুক্তি পাবে এই ওয়েব ফিল্মটি। 

‘তুমি আমি শুধু’  ওয়েব ফিল্মের শুটিং শেষ হয়েছে প্রায় বছরখানেক আগে। 

অবশেষে টিজার প্রকাশ করে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। 

 

প্রীতম ও জেফার এবারই প্রথমবার কোনো ওয়েব ফিল্মে একসঙ্গে অভিনয় করছেন। তবে এর আগে শিহাব শাহীনের পরিচালনায় দুজনেরই অভিনয়ের অভিজ্ঞতা আছে। 

প্রীতম অভিনয় করেছেন এই নির্মাতার ওয়েব ফিল্ম ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ এবং ‘ক্যাকটাস’ ওয়েব সিরিজে। জেফারকে দেখা গেছে ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন ২’ সিরিজে।

 

দুইজন কণ্ঠশিল্পীকে নিয়ে কাজ করা প্রসঙ্গে নির্মাতা শিহাব শাহীন বলেন, ‘প্রীতম ও জেফার অভিনয়ে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। প্রীতম যেমন গানের পাশাপাশি ভালো অভিনয় করেন, তেমনি জেফারও তার কাজের বিষয়ে খুব সিনসিয়ার। এই জুটিকে নিয়ে আমি আশাবাদী। আশা করি দর্শকের ভালো লাগবে।’ 

‘তুমি আমি শুধু’ ওয়েব ফিল্মে আরও অভিনয় করেছেন মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, সমু চৌধুরী, মুনমুন আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু প্রমুখ। পরিচালনার পাশাপাশি গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন শিহাব শাহীন।

 

কলম্বিয়ার নির্বাচনে এআই প্রার্থী ‘গাইতানা’ কে নিয়ে আলোচনা কেন?

গুগলে খোঁজ করলে ‘গাইতানা’ সম্পর্কে তিন ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। স্বাভাবিকভাবে প্রথমে আসে কলম্বিয়ার ষোড়শ শতকের আদিবাসী নেত্রী গাইতানার নাম। তিনি সেই অঞ্চলে স্প্যানিশ উপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে কালজয়ী হয়েছেন। তাকে নিয়ে দেশটিতে ভাস্কর্য আছে।

সার্চের দ্বিতীয় ফলাফলে পাওয়া যায় ইউরোভিশন-খ্যাত ইউক্রেনীয় গায়িকা গাইতানার নাম। আফ্রিকা-বংশোদ্ভূত এই গায়িকার ‘বি মাই গেস্ট’ গানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ জনপ্রিয়।

 

এরপর পাওয়া যায় কলম্বিয়ার আসন্ন আইনসভা নির্বাচনে আলোচিত এআই প্রার্থী ‘গাইতানা’ সম্পর্কিত সংবাদ।

তবে এআই মোডে সার্চ ফলাফলে সবার আগে আসে প্রার্থী ‘গাইতানা’, পরে গায়িকা গাইতানা ও সবশেষে বিপ্লবী আদিবাসী নেত্রী গাইতানা।

এদিকে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক্স অ্যাকাউন্টে এআই প্রার্থী ‘গাইতানা’র নির্বাচনী প্রচারণার একটি ভিডিও পোস্ট করে। এই বট প্রার্থী সম্পর্কে ৫৩ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়।

🇨🇴 AI candidate stands in legislative elections 

An artificial intelligence bot is running in the 8 March legislative elections in Colombia. Called “Gaitana,” it is aiming for one of the seats reserved for Indigenous communities. pic.twitter.com/s0weDIvLOX

— AFP News Agency (@AFP) February 21, 2026

 সেই ভিডিও থেকে জানা যায়—আগামী ৮ মার্চ দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইনসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ‘গাইতানা’ নামের এআই প্রার্থী সেখানকার আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত এক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

 

 

সমাজমাধ্যমে এএফপির প্রকাশিত ‘আইনসভা নির্বাচনে এআই প্রার্থী’ শিরোনামের সেই ভিডিও ক্লিপে আরও বলা হয়—এই বটকে সাজানো হয়েছে এক নীল-রঙা নারীর অবয়বে। তার মুখের ভাষা কৃত্রিমভাবে তৈরি। কলম্বিয়ার আইনসভায় আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত এক আসনে এই প্রার্থী নির্বাচন করছে।

দেশটির প্রচলিত আইন অনুসারে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একজন মানুষকে নিবন্ধন করতে হবে। তাই ‘গাইতানা’ ডিজিটাল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু, ব্যালটে এর নাম থাকবে ‘এআই’ হিসেবে।

ভিডিওটিতে ‘গাইতানা’ নিজেকে ‘পরিবেশবাদী’ ও ‘প্রাণী অধিকাররক্ষক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

প্রকল্পটির কারিগর বলছেন—১০ হাজারের বেশি অনলাইন ব্যবহারকারীর দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে বটটির মতামত সাজানো হয়েছে।

‘গাইতানা’র নির্বাচনী প্রচারণায় ‘ডিজিটাল গণতন্ত্রের’ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। আইন পরিষদে নিজের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরার আগে এই বট অনলাইনে প্রস্তাবগুলো জনমত যাচাইয়ের জন্য তুলে ধরতে চায়।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কভিত্তিক এবিসি নিউজের এক ভিডিও প্রতিবেদনে কলম্বিয়ার রাজনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গণতান্ত্রিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর আইনি অস্পষ্টতা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

 

ভিডিওটিতে সঞ্চালক অ্যালেক্স প্রেশা জানান—‘গাইতানা’ নিজেকে ‘পরিবেশবাদী’ ও ‘প্রাণী অধিকাররক্ষক’ হিসেবে পরিচয় দিলেও, এ নিয়ে একটি বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। আর তা হলো—ওর তো কোনো বাস্তবিক অস্তিত্বই নেই।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বট ‘গাইতানা’ কলম্বিয়ায় সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দুনিয়াজুড়ে এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মানবসমাজে এআইয়ের অবস্থান ও ব্যবহার নিয়েই এই বিতর্ক।

এ বিষয়ে নিউইয়র্কভিত্তিক এবিসি নিউজের প্রদায়ক ও সিরিয়াসএক্মএম রেডিওর উপস্থাপক মাইক মিউজের মন্তব্য: ‘ভবিষ্যৎ এখনই দেখতে পাচ্ছি।’

তিনি মনে করেন, ‘উদ্ভাবনের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শাসনব্যবস্থাকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

একে একটি ‘মুখরোচক’ আলোচনা বা ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করে মাইক আরও বলেন—‘যদি বিষয়টি নিয়ে তত্ত্বগতভাবে কথা বলতে হয় তাহলে বলবো—এটা সম্ভব। কারণ নিয়মকানুন বলছে মানুষই প্রযুক্তি পরিচালনায় কাজ করবে।’

 

‘এই প্রযুক্তির পেছনে কারিগর হিসেবে একজন মানুষ কাজ করছেন। ভোটও দেবেন মানুষজন। এখন দেখার বিষয় এতসব বিতর্ক বা আলোচনার মধ্য দিয়ে এটি কেমন কাজ করে।’

মাইক মনে করেন, তত্ত্বগতভাবে প্রযুক্তিবিদরা গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছেন। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা মানুষের ভাবনাগুলো জানবেন এবং সেই অনুসারে কাজ করবেন। এআইয়ের কথাগুলো আসলে মানুষেরই কথা। তাদের সম্মিলিত চিন্তাভাবনা সমাজের সামগ্রিক কল্যাণে কাজে লাগানো হবে।

অনেকে মনে করেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে এআই ভালোকিছু হবে। এআইয়ের বেতন দরকার হবে না। এআই দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারবে। তবে অ্যালেক্স প্রেশারের প্রশ্ন—প্রযুক্তির বাজারে এসব যুক্তির কোনো মূল্য আছে কি?

এ বিষয়ে মাইক মিউজের জবাব—‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটিই। তিনি বলেন যে এসব যুক্তির শেকড় খুঁজতে হবে। এসব নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও আসলে এআইকে দিয়ে কতটা কাজ করানো যাবে এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এআইয়ের ‘ভালো’ ও ‘মন্দ’—দুটি দিকই আলোচনায় আছে। এআইকে আইনি প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো যেতে পারে। অনেক তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন নতুন আইন তৈরির কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনেকে মনে করেন যে, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত দেশ থেকে শুরু হওয়া দরকার। কলম্বিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশে আইন প্রণয়নের মতো জটিল কাজে এআইয়ের এমন ব্যবহারের কথা শুনে অনেকে অবাক। আর তাই যেন ‘গাইতানা’কে নিয়ে বিশ্বজুড়ে এতো আলোচনা।

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মাতৃভাষায় শিক্ষার দাবিতে চবিতে মানববন্ধন

সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আদিবাসীদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) চবি শাখা ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। 

পিসিপি চবি শাখার সভাপতি অন্বেষ চাকমার সভাপতিত্বে এবং তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ঋষণ চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবির, পিসিপি চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা এবং রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি জাল্লাং এনরিকো কুবি। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পিসিপি চবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেনঙি ম্রো।

বক্তব্যে রিবেক চাকমা বলেন, ভাষা আন্দোলনের সময় বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার আজও অবহেলিত। বাংলাদেশ শুধু বাঙালিদের নয়, মারমা, চাকমা, ম্রো ও মাহাতোসহ সব জাতিসত্তার।

তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বান্দরবানের ‘রেংমিটচ্য’ ভাষা আজ বিলুপ্তির পথে। তাই অবিলম্বে আদিবাসী শিশুদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

জাল্লাং এনরিকো কুবি বলেন, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকায় দেশের জাতিগত বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। বম সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিনা বিচারে আটক রাখা এবং মধুপুরে গারোদের জমি দখলের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি এসব জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও অধিকার রক্ষায় উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অন্বেষ চাকমা বলেন, ভাষাই একটি জাতির পরিচয়ের ভিত্তি। স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে তিনি আদিবাসী শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা এবং সংবিধানে তাদের পৃথক জাতিগত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান।

মানববন্ধনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে একটি মিছিল বের করা হয়, যা জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

 

ব্রাউজারে জমা থাকে সার্চ করা তথ্য, মুছবেন যেভাবে

ধরুন, ইন্টারনেটে নতুন একটি সাইকেল খুঁজছেন। অথবা বন্ধুর জন্মদিনের উপহার নিয়ে খোঁজখবর করছেন। হয়তো কোনো মজার ভিডিও দেখেছেন, কোনো জায়গার মানচিত্র দেখেছেন বা কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। কিন্তু হয়তো কয়েক মিনিট পরই বিষয়টি ভুলে গেলেন। কিন্তু ওয়েব ব্রাউজার? সে কিন্তু সব মনে রাখে!

আপনি কোথায় গিয়েছেন, কী খুঁজেছেন, কোন ভিডিও দেখেছেন, এসব তথ্যের অনেকটাই সংরক্ষিত থাকে ব্রাউজারের ‘হিস্টোরি’ বা ইতিহাসে।

তাই অনেকেই জানতে চান, এই তথ্যগুলো কীভাবে দেখা যায় এবং প্রয়োজন হলে কীভাবে মুছে ফেলা যায়।

ব্রাউজার হিস্টোরি হলো ইন্টারনেট ভ্রমণের ডায়েরি। আমরা যখন কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি বা কিছু খুঁজি, তখন ব্রাউজার সেই তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে। পরে চাইলে সেই তালিকা দেখে আগের কোনো ওয়েবসাইটে আবার প্রবেশ করা যায়।

এটি সুবিধাজনক হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন—ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখতে, অন্য কেউ যেন আপনার খোঁজা তথ্য দেখতে না পারে, ব্রাউজারের অপ্রয়োজনীয় তথ্য কমাতে, শেয়ার করা কম্পিউটার ব্যবহারের পর নিরাপত্তা বাড়াতে।

তবে মনে রাখতে হবে, হিস্টোরি মুছে ফেললেই ইন্টারনেটে সব তথ্য সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায় না। বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী কিছু তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে।

গুগল ক্রোম বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার। কম্পিউটারে ক্রোম ব্যবহার করলে প্রথমে ব্রাউজারের ডানদিকে উপরের তিনটি ডট (…) চাপুন, এরপর History নির্বাচন করুন, আবার History-তে ক্লিক করুন অথবা কিবোর্ডে Ctrl + H চাপলেও হিস্টোরি ওপেন হবে।

ক্রোম ব্রাউজারের হিস্টোরি মুছতে প্রথমে History পেজে গিয়ে Clear Browsing Data নির্বাচন করুন। এবার কত দিনের তথ্য মুছতে চান তা নির্বাচন করুন। চাইলে কুকি (Cookies) এবং ক্যাশ (Cache) তথ্যও মুছে দিতে পারেন। এরপর Clear Data চাপুন। এতে আপনার ব্রাউজিং হিস্টোরি মুছে যাবে।

যারা ফায়ারফক্স ব্যবহার করেন, তারা প্রথমে উপরের ডানদিকে থাকা তিনটি রেখা (☰) চিহ্নে ক্লিক করুন। তারপর Library নির্বাচন করুন। সেখান থেকে History ওপেন করুন। এবার  প্রয়োজনীয় সময়সীমার হিস্টোরি নির্বাচন করে মুছে ফেলুন।

অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য কাজটি আরও সহজ। ম্যাক কম্পিউটারে প্রথমে Safari মেনু ওপেন করুন। তারপর History নির্বাচন করুন। এবার Clear History চাপুন এবং সময়সীমা নির্বাচন করে নিশ্চিত করুন।

আইফোন বা আইপ্যাডে প্রথমে Settings ওপেন করুন। তারপর Safari নির্বাচন করুন এবং Clear History and Website Data চাপুন।

অনেকে ভাবেন, ব্রাউজারের হিস্টোরি মুছে ফেললেই সব শেষ। আসলে গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করা থাকলে আপনার কিছু কার্যক্রম আলাদাভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে। যেমন—গুগল সার্চ, ইউটিউব ভিডিও দেখা, গুগল ম্যাপস ব্যবহার ও ভয়েস সার্চ।

এসব তথ্য দেখতে ও মুছতে পারেন আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের My Activity থেকে।

গুগলের My Activity এমন একটি জায়গা যেখানে গুগল বিভিন্ন কার্যক্রমের রেকর্ড দেখায়। সেখানে গিয়ে দেখতে পারবেন—কী কী সার্চ করেছেন, কোন ভিডিও দেখেছেন, কোন অ্যাপ ব্যবহার করেছেন এবং কখন ব্যবহার করেছেন। তবে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দিন, মাস বা সম্পূর্ণ হিস্টোরি মুছে ফেলতে পারবেন।

আজকের পৃথিবীতে সবাই ডিজিটাল জীবনযাপনের মধ্যে থাকি। আমাদের সার্চ, ভিডিও দেখা, মানচিত্র ব্যবহার সবকিছুই এক ধরনের ডিজিটাল হিস্টোরি। তাই মাঝে মাঝে নিজের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে ব্রাউজার ও অ্যাকাউন্টের হিস্টোরি পর্যালোচনা করা অবশ্যই একটি ভালো অভ্যাস।