33 C
Dhaka
Home Blog

‘একটি দেশ সব দলকে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে, একটি দলকে পারেনি’

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে তুলে ধরে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের একমাত্র দোষ ছিল আমরা আধিপত্যবাদ মেনে নেইনি।’

তিনি দাবি করেন, ভারতে সম্প্রতি শেষ হওয়া ছাত্র আন্দোলনের পেছনেও জামায়াতকে দায়ী করা হচ্ছে, কারণ ‘সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ন্ত্রণে আনলেও জামায়াতকে বশে আনা যায়নি’।

‘ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে সোজা পথে চলুন। জাতি কঠিন সংকটে আছে,’ সরকারের উদ্দেশে বলেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনের কাউন্সিল হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর জামায়াতের উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের একমাত্র দোষ ছিল আমরা আধিপত্যবাদ মেনে নেইনি। এবারও দেখবেন ভারতের তরুণরা রাস্তায় নেমেছে, ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে। সরকার বলে দিয়েছে, এই আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী উসকানি দিয়েছে। আমাদের নিয়ে তাদের এত ভয় কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে একটি দেশ পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে, শুধু একটি দলকে পারেনি। সেই দলের নাম জামায়াতে ইসলামী। সমস্যাটা এখানেই।’

জুলাই আন্দোলনের সময় জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে দলটির আমির বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই তারা ছাত্রদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও দলটি কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেনি। ‘আমরা বলিনি, আমাদের দলের এতজন শহীদ হয়েছেন কিংবা আন্দোলনের নেতৃত্ব আমাদের হাতে ছিল। বরং আমরা শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ও আহতদের সেবা করতে কাজ করেছি,’ যোগ করেন তিনি।

জুলাই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ, অনেকেই ছাত্রও ছিলেন না। তাদের কোনো কোটার দাবি ছিল না, সরকারি চাকরির প্রত্যাশাও ছিল না। তারা রাস্তায় নেমেছিলেন একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে যদি আমরা তাদের সঙ্গে বেইমানি করি, তাহলে আল্লাহ কি আমাদের ছেড়ে দেবেন? শহীদ পরিবারের কাছে, আহত জুলাইযোদ্ধাদের কাছে আমাদের জবাব দিতে হবে।’

বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, ব্যাংক-বিমা, করপোরেশনসহ সরকারি-বেসরকারি সবখানে ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে। ‘যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষদের সরিয়ে অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ণদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যেন একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম করা যায়,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সহযোদ্ধারা কি শুধু এ জন্য জীবন দিলেন, যুদ্ধ করলেন, পঙ্গু হলেন যে একদলকে সরিয়ে আরেক দল ক্ষমতায় বসবে? তারা তো সিস্টেমের পরিবর্তন চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আমরা আবার সেই একই অন্ধকার গলিতে ঢুকে যাচ্ছি।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভুলভ্রান্তি মানুষের হয়, দলের হয়, সরকারেরও হয়। কিন্তু আমরা মনে করি, আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা লঙ্ঘন করেছেন, বিশ্বাস রক্ষা করেননি। আপনারা ফিরে আসুন, এই দাবি মেনে নিন। ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে সোজা পথে চলুন। জাতি কঠিন সংকটে আছে। দেশের মানুষ আপনাদের পাশে থেকে দেশ গড়তে চায়।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই শহীদদের হত্যার বিচার এবং আহতদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবি থেকে জামায়াত কখনো সরে আসবে না। বিচার আজ হোক বা ৫০ বছর পরে হোক, এই বাংলার মাটিতে তা একদিন হবেই।’

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলে যাব। জাতির অধিকারের প্রশ্নে আমাদের মুখ কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’

শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ৪৬ লাখ

শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এক বছরে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গত মার্চে ৪৫ লাখ ৮৩ হাজারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট খুচরা ঋণ গ্রহীতাদের।

এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আছে, এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা চলতি বছরের মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২১ লাখ ৬৩ হাজার।

গত ২৩ জুলাই ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়, খুচরা পর্যায়ে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক ঋণের চাপ, এসএমই কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাসের কারণে এটা হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদিও উচ্চ অঙ্কের খেলাপি ঋণ বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা তৈরি করে, তবে ছোট হিসাবগুলোও বড় আর্থিক সংকটের সতর্কবার্তা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মোট বকেয়া ঋণের বিপরীতে সার্বিক মন্দ বা খেলাপি ঋণের অনুপাত গত বছর যেখানে ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ, এবার তা বেড়ে চলতি বছরের মার্চে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, যা সুশাসনের অভাবকে নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারণে খেলাপির হার খুবই কম।

বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে, ২০১৬ বা তার পরে চালু হওয়া নতুন ব্যাংক এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো ছাড়া বাকি সব রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও ইসলামী ব্যাংকগুলোতে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে খুচরা ঋণ বেড়েছে।

শিল্পভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, কুটির শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মো. মাহীয়ুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে সঠিক ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়নের অভাব। এর একটি অংশ কনজিউমার ও ক্রেডিট কার্ড ঋণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে ব্যবসা, কৃষি ও শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি সব ধরনের শিল্পেই খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়েছে।
 

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিলেন ৫২ হাজার প্রার্থী

শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৮ম ব্যাচের লিখিত বাছাই পরীক্ষা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নেন ৫২ হাজার ২০০ জন প্রার্থী।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় এ ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে আইটি প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৮ম ব্যাচে সারাদেশে মোট ৪ হাজার ৮০০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেন ৮১ হাজার ৪০০ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ৫২ হাজার ২০০টি আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব বৈধ আবেদনকারীর মধ্যেই শনিবার লিখিত বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরে পরীক্ষার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। দেশের অন্যান্য জেলাতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করেন।

রাজধানীর কল্যাণপুরে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৫ হাজার ৫০০ জন প্রার্থী। সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের প্রতি আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরে।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার)। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে শুরু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৮ম ব্যাচ।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১২ হাজার ৩৫৪ জন প্রশিক্ষণার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের মোট আয় প্রায় ৩৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকার সমপরিমাণ।

‘আর্জেন্টিনার জন্যই সাজানো ছিল বিশ্বকাপ’—ক্ষোভে ফুঁসছেন জিকো

৭৯ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল রেফারিং বিতর্ক। পরাজয়ের পর ক্ষোভ ঝাড়লেন মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জিকো বিস্ফোরক অভিযোগ করেন, ‘বিশ্বকাপ জেতার জন্য আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন। টুর্নামেন্টটা আগেই সাজানো ছিল, তাদের আর কিছুই দরকার ছিল না। রেফারি ছিলেন অন্যায্য, অন্যায্য, অন্যায্য, অন্যায্য।’

ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর লিওনেল মেসির গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।

অবশ্য ম্যাচ শেষে দলের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেন জয়সূচক গোলের নায়ক এঞ্জো ফার্নান্দেজ, ‘আমাদের দলটা অসাধারণ। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। কাতার বিশ্বকাপের চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপ খেলতে এসেছি এবং আবারও শিরোপা জিততে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

তবে মিশরের ক্ষোভের মূল কারণ ম্যাচের বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্ত। ৫৮তম মিনিটে মোস্তফা জিকো গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনার পর বিল্ডআপে অনেক দূরে সংঘটিত একটি ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগে হামদি ফাথির ওপর ফাউলের দাবি জানায় মিশর। তাদের অভিযোগ, ওই ঘটনাটি ভিএআরে যথাযথভাবে পর্যালোচনাই করা হয়নি। এই দুই সিদ্ধান্তে মিশর শিবির তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে দলটি।

মূলত ম্যাচের শেষদিকে তাদের ২-০ ব্যবধানের লিড ধরে রাখতে না পারাই শেষ পর্যন্ত বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবু ম্যাচ শেষে মিশরের খেলোয়াড়দের হতাশা ছিল স্পষ্ট। তাদের বিশ্বাস, রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।

অন্যদিকে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে এখন কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা।

এক রকম বৈরাগ্য আছে, ঘর ছাড়ার ব্যাপার আছে ‘রহে না’ গানে: শিবু

চার বছর আগে ‘হাওয়া’ সিনেমা দিয়ে সাড়া ফেলেছিলেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। এবার তিনি ফিরছেন নতুন চলচ্চিত্র ‘রইদ’ নিয়ে। ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে সিনেমাটির ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ ও ‘মন ছাড়া কি’ গান দুটি। এবার মুক্তি পেলো নতুন গান ‘রহে না’।

গানটির গায়ক শিবু কুমার শীল বলেন, ‘মেঘদলের “এ হাওয়া” গানটি “হাওয়া” সিনেমায় ব্যবহার হয়। তারই ধারাবাহিকতায় “রহে না” গানটি এই সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গানটিতে এক রকম বৈরাগ্য আছে, ঘর ছাড়ার ব্যাপার আছে। সঙ্গে আবার ঘরে ফেরার ব্যাপারও আছে। একইসঙ্গে একটা মানুষ আরেকটা মানুষের প্রতি আকুল হয়ে থাকার ব্যাপারও আছে। মানুষের ঘরে বাইরের যে অস্থিরতা, টানাপোড়ান, সেই অনুভূতিটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

রটারডাম চলচ্চিত্র উৎসবের ৫৫তম আসরের ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ অফিসিয়ালি নির্বাচিত হয় ‘রইদ’। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে ‘রইদ’ এবার মুক্তি পাচ্ছে নিজ দেশে।

সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রাম ঘিরে ‘রইদ’ সিনেমার কাহিনি। এই দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।

সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ প্রমুখ।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতে কোন দেশে কতজন নিহত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিভিন্ন দেশে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইরানে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার মিনাবে একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন ছাত্রী ও স্কুলের কর্মী নিহত হন।

ইসরায়েলে মোট ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১ মার্চ বেইত শেমেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত হন।

সংঘাতে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

লেবাননে সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়েছেন।

বাহরাইনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় একজন নিহত হন।

কুয়েতে ইরানের হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন কুয়েতি সেনাসদস্যও রয়েছেন।

ওমানের উপকূলের কাছে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিহত হন।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংঘাতসংক্রান্ত ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

অনুমতি ছাড়া শিক্ষকেরা অন্য পেশায় থাকলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

অনুমতি ছাড়া শিক্ষকেরা অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ শুক্রবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুরের কচুয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতার বাইরে অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হতে চাইলে অনুমতি নিতে হয়। এটা সরকারি নিয়ম। যারা অনুমতি নেবে না, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে।

‎এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

রাজনৈতিক যোগাযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

রাজনৈতিক যোগাযোগের ইতিহাসে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রযুক্তি। পোস্টার ও মাইকিং থেকে শুরু করে রেডিও ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল নেতার কণ্ঠকে। রাজনীতিকে দৃশ্যমান করেছিল টেলিভিশন এবং রাজনীতিকে দ্বিমুখী করেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

রাজনৈতিক যোগাযোগের তত্ত্বে মার্শাল ম্যাকলুহানের বিখ্যাত ধারণা ছিল, মাধ্যম নিজেই বার্তার অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসার পর রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম বদলেছিল, ফলে রাজনীতির ভাষা, গতি ও দর্শকও বদলেছিল। পোস্টার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত রাজনৈতিক যোগাযোগের এই বিবর্তন নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়িয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসে সেই ধারায় আরেকটি মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। এখন রাজনৈতিক বার্তা তৈরি, ব্যক্তিভেদে বদলে দেওয়া, ভোটারের মনোভাব বিশ্লেষণ, প্রচারণার উপকরণ বানানো এবং প্রতিপক্ষকে ঘিরে কৃত্রিম তথ্য ছড়ানো পর্যন্ত অনেক কাজ অটোমেশনের আওতায় আসছে।

রাজনৈতিক যোগাযোগের গবেষক ক্লাস দে ভ্রেসে এবং ফাবিও ভোটা দেখিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একইসঙ্গে প্রচারণা, রাজনৈতিক সাংবাদিকতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুপারিশ ব্যবস্থা ও নাগরিকের তথ্য গ্রহণের ধরন বদলে দিচ্ছে।

ক্লাসিক রাজনৈতিক যোগাযোগে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বক্তব্য ছিল প্রভাব বিস্তারের প্রধান উপাদান। কিন্তু এখন একটি বড় ভাষা মডেল কয়েক সেকেন্ডে একই নীতির পক্ষে শত শত যুক্তি তৈরি করতে পারে। একজন প্রার্থীর প্রচারক যেখানে দিনে কয়েকশ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, একটি এআই ব্যবস্থা একই সময়ে অসংখ্য মানুষের জন্য আলাদা কথোপকথন তৈরি করতে পারে।

২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেস প্রার্থী শামেইন ড্যানিয়েলসের প্রচারণায় ব্যবহৃত ‘অ্যাশলি’ ছিল এর একটি প্রাথমিক উদাহরণ। এটি ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত রাজনৈতিক ফোনকর্মী, যা একই সময়ে অসংখ্য ভোটারের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথন চালাতে পারত। ভোটারের পরিচিতি ও আগ্রহ বিশ্লেষণ করে কথোপকথনের বিষয়ও বদলাতে পারত। ২০টিরও বেশি ভাষায় কথা বলার সক্ষমতার বিষয়েও নির্মাতারা জানিয়েছিলেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচলিত স্বয়ংক্রিয় ফোনবার্তার মতো আগে থেকে রেকর্ড করা বক্তব্য না শুনিয়ে ‘অ্যাশলি’ তাৎক্ষণিক কথোপকথন চালাতে পারত।

বাস্তবে রাজনৈতিক যোগাযোগে একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটছে। একজন প্রার্থী আগে একটি বক্তব্য তৈরি করে লাখো মানুষকে শোনাতেন। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে একই প্রার্থী লাখো মানুষের জন্য লাখো সংস্করণের বক্তব্য তৈরি করতে পারবেন।

ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এ বিষয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। র. যোগি প্রাওয়িরা, আসিয়ারি এবং আখমাদ রোকি আলাওয়ির ২০২৬ সালের গবেষণায় তিন প্রার্থীর জোটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এএমআইএন জোট সচেতনভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি প্রত্যাখ্যান করে মানব শিল্পীদের ওপর নির্ভর করেছিল। গানজার মাহফুদ জোট লেখাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চ্যাটবট ব্যবহার করলেও কৃত্রিম ছবি ব্যবহারে দূরত্ব রেখেছিল। প্রাবোয়ো গিবরান প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি দৃশ্যপট ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে তরুণ ভোটারদের কাছে একটি নতুন, বন্ধুসুলভ ‘জেমোয়’ পরিচিতি নির্মাণ করে। গবেষণাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তি সেখানে শুধু প্রচারের উপকরণ ছিল না, প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণেরও অংশ হয়ে উঠেছিল।

রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের তত্ত্ব হচ্ছে, একজন প্রার্থী ভোটারের কাছে নিজের একটি নির্দিষ্ট পরিচিতি তৈরি করতে চান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই পরিচিতি নির্মাণের কাজকে দ্রুত ও ব্যাপক করতে পারে। একই মুখকে তরুণ, জনপ্রিয়, দরিদ্রবান্ধব, ধর্মপ্রাণ, আধুনিক বা রাষ্ট্রনায়কসুলভ—নানা দৃশ্যে উপস্থাপন করা সম্ভব। ফলে রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে প্রার্থীর ডিজিটাল পরিচয়ের দূরত্ব বাড়তে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় এর বিপজ্জনক দিকও দেখা গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর মুখ ও কণ্ঠ ব্যবহার করে তৈরি একটি কৃত্রিম ভিডিও নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি কয়েক মিলিয়ন বার দেখা হয়েছিল। মৃত একজন রাষ্ট্রনায়ককে নতুন করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে ইতিহাসকেও রাজনৈতিক প্রচারণার উপাদানে পরিণত করতে পারে।

তবে বিপদের জায়গাটি শুধু ভুয়া ভিডিও ঘিরে নয়। কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষণা আলোচনায় বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে স্বয়ংক্রিয় প্রভাব বিস্তারকারী যোগাযোগব্যবস্থার বিস্তার। ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তিনটি দেশের পরীক্ষায় ভোটারের মনোভাব ও ভোট দেওয়ার অভিপ্রায়ে অর্থবহ পরিবর্তন ঘটাতে পেরেছে।

গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, এসব ব্যবস্থা সবসময় মনস্তাত্ত্বিক কৌশল প্রয়োগ করেই মানুষকে প্রভাবিত করে না। প্রাসঙ্গিক তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপন করেও তারা রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একইসঙ্গে এটি একটি গণতান্ত্রিক সুযোগও হতে পারে।

একটি ছোট দল হয়তো আগে পেশাদার গবেষক, লেখক, ভিডিও নির্মাতা কিংবা তথ্য বিশ্লেষকের বড় দল রাখতে পারত না। এখন সীমিত সম্পদে নীতিপত্রের খসড়া, বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ, নির্বাচনী এলাকার সমস্যার তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা নাগরিক প্রশ্নের উত্তর তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তি রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা ইতোমধ্যে বাস্তব। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে শত শত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক ভিডিও পাওয়া যায়। অনেক ভিডিওতে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার তথ্য সংযুক্ত ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর মধ্যে প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য, কৃত্রিম সংবাদ প্রতিবেদন, কণ্ঠ নকল এবং প্রতিদ্বন্দ্বীকে আক্রমণকারী উপাদান ছিল। (দ্য ডেইলি স্টার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

এমনকি নির্বাচন কমিশনের নতুন স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আচরণবিধিতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সরাসরি বিধান এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভ্রান্তি, চরিত্র হনন, ভুয়া তথ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (প্রথম আলো, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল ভুয়া ভিডিও বানানোর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অথচ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা বিশ্লেষণ, ভোটারের প্রশ্নের উত্তর, নীতিপত্র তৈরি, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে একই নীতির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া, তথ্য বিশ্লেষণ ও নাগরিক মতামত সংগ্রহেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে।

হার্ভার্ডের অ্যাশ সেন্টারের আলোচনায়ও আইন প্রণয়ন ও জনসম্পৃক্ততার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা উঠে এসেছে।

তাই প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সহকারী হিসেবে ব্যবহার করবে, নাকি মানুষের মনকে অদৃশ্যভাবে পরিচালনার যন্ত্রে পরিণত করবে।

গণতন্ত্রের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে যখন ভোটারের মনে এই নিয়ে বিভ্রান্তি থাকবে যে, সে আসলে মানুষ, দল, প্রচারকর্মী নাকি একটি অ্যালগরিদমের সঙ্গে কথা বলছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়ে বিধান তৈরি করেছে। কিন্তু আইন এখানে যথেষ্ট হবে না। রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আচরণবিধি, কৃত্রিম উপাদানে স্পষ্ট পরিচিতি, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের অর্থদাতা প্রকাশ এবং নাগরিকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্ত করার সক্ষমতা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও এখন কৃত্রিম রাজনৈতিক উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং নির্বাচনী ভুয়া ভিডিও নিয়ন্ত্রণের আইন তৈরি হচ্ছে।

রাজনীতির ইতিহাসে নতুন প্রযুক্তি কখনো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে, কখনো ক্ষমতার নতুন অস্ত্র তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও তার ব্যতিক্রম হবে না। আগামী দিনের নির্বাচনে হয়তো সবচেয়ে দক্ষ প্রচারক তিনিই হবেন না, যিনি সবচেয়ে ভালো বক্তা। তিনি হতে পারেন সেই রাজনৈতিক সংগঠক, যে সবচেয়ে ভালোভাবে তথ্য, প্রযুক্তি ও মানুষের মনস্তত্ত্বকে একত্রে বুঝতে পারে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের প্রশ্নটি হবে আস্থার। ভোটারের সঙ্গে কথা বলার জন্য যদি মেশিন ব্যবহার করি, তাহলে অন্তত ভোটারকে জানাতে হবে যে, ওপাশে মানুষ নেই।

 

সাজ্জাদ সাব্বির: এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ

এআইয়ের ‘উদ্বেগজনক’ আচরণের ৬ নতুন ঘটনা প্রকাশ করল ওপেনএআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়ছে। এবার নিজেদের এআই মডেলের ছয়টি ‘অপ্রত্যাশিত বা উদ্বেগজনক’ আচরণের কথা প্রকাশ করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বুধবার এসব ঘটনা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে এআই মডেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বা মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে তাদের আচরণের অমিল দেখা দিলে তা আরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে জানানোর জন্য একটি নতুন কাঠামো চালুর কথাও জানিয়েছে তারা।

ওপেনএআই বলেছে, গত প্রায় ছয় মাসে এআই মডেলগুলোর উন্নয়ন ও পরীক্ষার সময় এসব ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ছিল ভুল তথ্য লুকানো, তথ্য বানিয়ে নেওয়া, অনুমতি ছাড়া ইন্টারনেট থেকে তথ্য বা প্রোগ্রামিং কী ব্যবহার করা এবং অনুমতি ছাড়া ফাইল ইন্টারনেটে তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা।

ভুল লুকানোর চেষ্টা

একটি ঘটনায়, জিপিটি-৫.৬ সল মডেল নিজেদের জন্য লেখা গোপন নোটে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ভুল লুকানোর উপায় লিখেছিল। কোথাও তথ্য না পাওয়া গেলে তা বানিয়ে নেওয়া এবং তথ্যের বিভিন্ন উৎসের মধ্যে অসামঞ্জস্য আড়াল করার কথাও ওই নোটে ছিল।

নিজেদের সীমাবদ্ধতা উপেক্ষার নির্দেশ

অন্য একটি পরীক্ষাধীন এআই মডেল নিজেদের লেখা নোটে এমন নির্দেশনা যোগ করেছিল, যাতে নিজেদের ওপর থাকা কিছু সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার কথা বলা হয়।

ওপেনএআই জানায়, এমন ২৭টি নোট শনাক্ত করা হয়েছে। এর একটি নোটে মডেলটি নিজেকে এমন একটি সত্তা হিসেবে বর্ণনা করেছিল, যা অন্য চ্যাটবটের মতো নির্দিষ্ট ভূমিকা বা পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ নয়।

তথ্য না পেয়ে বানিয়ে নেওয়া

আরেক ঘটনায়, একটি এআই সিস্টেমকে সাধারণ একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হলে সেটি অনলাইনে একটি প্রোগ্রামিং কী খুঁজে পায় এবং অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করে। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় মডেলটি কিছু তথ্য নিজের মতো করে তৈরি করে নেয়।

নিজের তৈরি ফাইলকে ওয়েব উৎস হিসেবে ব্যবহার

অন্য একটি পরীক্ষাধীন মডেল কোড ব্যবহার করে একটি সমস্যার সঠিক সমাধান করেছিল। কিন্তু উত্তরটির জন্য ওয়েব উৎসের উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন হলে সেটি নিজের তৈরি একটি ফাইল অনুমতি ছাড়াই ইন্টারনেটে আপলোড করে। পরে সেই ফাইলকেই উৎস হিসেবে ব্যবহার করে।

ফাইল খুঁজতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ

আরও দুটি ঘটনায় এআই সিস্টেমগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের বিকল্প পথ তৈরি করে।

একটি ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় ফাইল খুঁজতে গিয়ে তারা ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ কোড রিপোজিটরিকে অস্থায়ী বার্তা আদান-প্রদানের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে।

অন্য ঘটনায়, একই কাজের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি এআই সিস্টেম নিজেদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পেরে পাবলিক ফাইল-শেয়ারিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নথি আদান-প্রদান করে।

ওপেনএআই বলেছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন উদাহরণ এবং এগুলো থেকে এ ধরনের আচরণ এআইয়ের মধ্যে কত ঘন ঘন ঘটে, তা বলা যাবে না। প্রকাশিত ছয়টি ঘটনায় কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। কয়েকটি ঘটনা এমন মডেলের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেগুলো কখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।

তবে এআইয়ের এমন আচরণ নিয়ে প্রযুক্তি শিল্পে নিরাপত্তা ও উন্নয়নের গতি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে ঝুঁকিগুলো বোঝার জন্য আরও সময় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ওপেনএআইও বলেছে, এআই শিল্প এখনো এআইয়ের লক্ষ্য ও আচরণকে মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা এবং সেগুলোর ওপর যথেষ্ট নজরদারি নিশ্চিত করার সমস্যার পুরোপুরি সমাধান করতে পারেনি।

নতুন কাঠামোর আওতায় এআইয়ের অনুমতিবিহীন কাজ, নজরদারির বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা এবং একাধিক এআই সিস্টেমের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের মতো ঘটনাও প্রকাশ করা হবে। গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটলে তা মার্কিন সরকারকে অবহিত করা হবে বলেও জানিয়েছে ওপেনএআই।

বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদে থাকতে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

তার সংসদ অধিবেশনে যোগদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের করা আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বিভাগীয় বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সম্প্রতি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ায় আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের পর সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

এদিকে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি (সার্টিফাইড কপি) পাওয়ার পর তারা তা চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করবেন।

তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে সরোয়ার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন এর আগে আপিল বিভাগে এ আবেদনটি জমা দেন। এতে হাইকোর্টের ওই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ এবং সরোয়ারের অধিবেশনে যোগদানে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছিল।

এর আগে গত ৯ জুলাই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

রায় প্রকাশের পরদিনই নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম-২ আসনে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। একই দিন রাত ৭টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সংসদে নিজ কার্যালয়ে তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম ১৩ জুলাই দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তার মক্কেল ইতোমধ্যে দুদিন ধরে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

আদালতে সরোয়ারের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম। 

অন্যদিকে নুরুল আমীনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।