28 C
Dhaka
Home Blog

এই বিশ্বকাপে কোনো ফেভারিট নেই, বলছেন স্কালোনি

নকআউটের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ পরীক্ষা নিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টে উড়ন্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্স প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এক গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে, পর্তুগালকে হারাতে স্পেনকেও অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ সময় পর্যন্ত। ফুটবলের বড় দুই ‘পাওয়ারহাউজ’ ব্রাজিল আর জার্মানি তো এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি তাই বলছেন, এই বিশ্বকাপে ফেভারিট বলতে কিছু নেই। 

মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কথা বলেছেন স্কালোনি। 

মেসিদের কোচ বলেছেন, ‘আগের বিশ্বকাপগুলোতে যেমন দেখা যেত, এবার তেমন কোনো স্পষ্ট ফেভারিট দল নেই। আগের আসরগুলোর তুলনায় এবার কন্ডিশনও অনেক আলাদা’। 

বিশ্বকাপে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকেও ফেভারিট দল না থাকার একটি কারণ হিসেবে দেখছেন স্কালোনি, ‘আগের চেয়ে খেলোয়াড়দের এবার বেশি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাদের শরীরের উপর ধকল বেশি যাচ্ছে। হয়তো দলগুলোকে আগের মানের ফুটবল খেলতে না দেখার পেছনে এটিও একটি কারণ। বিশ্বকাপের আগে যে চার-পাঁচটি দলকে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে দেখছিলো অনেকে, তারাও কিন্তু প্রত্যাশিত মানের ফুটবল খেলতে পারছে না’। 

তবে সামগ্রিকভাবে দলগুলোর খেলার মানে কিছুটা ভাটা পড়লেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে অখুশি নন স্কালোনি, ‘আমরা গ্রহণযোগ্য মানের ফুটবলই খেলেছি। আমরা টানা চার ম্যাচ জিতেছি, এবং আমার মনে হয় এতে আমরা খুশি হতে পারি। তবে ম্যাচ জিতলেও কিছু জিনিস শুধরে নেয়ার জায়গা সবসময়ই থাকে’।

কন্ডিশন, মাঠ, বল- সবকিছু মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপকে বেশ কঠিন মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনা কোচের, ‘এই বিশ্বকাপ অনেক দিক থেকেই কঠিন। ভ্রমণ, গরম, মাঠ, আবার ঘাসের কারণে বল সবসময় ভালো ভাবে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন। অনেকগুলো কারণেই দলগুলো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে খাবি খাচ্ছে’। 

তবে স্কালোনি আত্মবিশ্বাসী, সবকিছু নিজেদের পক্ষে না গেলেও ম্যাচ জেতার মতো সামর্থ্য তার দলের আছে, ‘যখন ম্যাচ আপনার পক্ষে যাচ্ছে না, কিংবা প্রতিপক্ষ আপনার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তখন আপনার দরকার হবে একাগ্রতা আর মানসিক দৃঢ়তা। এগুলো আমাদের ডিএনএ তেই আছে। আপনি যখন খারাপ খেলবেন, তখন এগুলো আপনার দরকার হবে। নাহলে আপনি বাদ পড়বেন। আমরা যদি গত ম্যাচে আমাদের চরিত্র না দেখাতে পারতাম, তাহলে এতক্ষণে আমরা টুর্নামেন্টের বাইরে থাকতাম’।   

দেশের প্রথম স্বল্পমেয়াদি সুকুক বন্ড কিনতে লক্ষ্যমাত্রার ১০ গুণ বেশি টাকার বিড

দেশের ইতিহাসের প্রথম স্বল্পমেয়াদি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ বন্ড ‘সুকুক’ কেনার প্রথম দিনেই সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

‘সুকুক’ বন্ড কিনতে আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৫৬ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার বিড জমা পড়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।

২৭৩ দিন মেয়াদি এই সুকুক বিক্রি করে সরকারের লক্ষ্য ছিল ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ।

অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা অন্তত ১০ দশমিক ২৯ গুণ বেশি টাকার বিড করেছেন।

‘গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ এ অর্থায়নের জন্য সরকারের পক্ষে এই শরিয়াহভিত্তিক বন্ডটি ইস্যু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বার্ষিক মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রথম দিন শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সাধারণ ব্যাংকের ইসলামিক শাখা, ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রভিডেন্ড ফান্ড থেকে মোট প্রায় ৫৬ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার বিড দাখিল হয়েছে।

বিডের পরিমাণ ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় নির্ধারিত আনুপাতিক হারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুকুক বন্ড বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এ বিডের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি সরকারি সুকুক ইস্যু হয়েছে। এতে শরীয়াভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিনিয়োগের বিকল্প ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নতুন এই সুকুক বন্ড ইস্যু করায় ইসলামিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হলো।

নতুন স্বল্পমেয়াদি সুকুক বন্ড ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সংবিধিবদ্ধ তরল সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। পাশাপাশি, ইসলামিক ব্যাংকগুলো এই সুকুক জামানত হিসাবে রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি’ থেকে তহবিল সুবিধা নিতে পারবে।

আগামী ২৯ জুন থেকে সেকেন্ডারি মার্কেটে সুকুকের লেনদেন শুরু হবে। তখন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, প্রভিডেন্ট ও মিউচুয়াল ফান্ড এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই বন্ড কেনাবেচা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ বিনিয়োগকারী, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ও ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জমা পড়া ৭২৭টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৮৭ দশমিক ৩৭ কোটি টাকার সুকুক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি ইসলামিক সিকিউরিটিজের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি সুকুক চালুতে শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।

শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি বন্ড ‘সুকুক’ হলো প্রচলিত সুদভিত্তিক বন্ডের বিকল্প। বন্ডে বিনিয়োগকারীরা সুদ পেলেও সুকুকে নির্দিষ্ট সম্পদ বা প্রকল্পের মালিকানার অংশের বিপরীতে ইজারা বা ওই সম্পদ থেকে অর্জিত আয়ের অংশ হিসেবে মুনাফা পান।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরুর পর থেকেই দেশে শরিয়াহসম্মত বন্ডের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে। ৯ মাস মেয়াদি এই সুকুক বন্ডের আবেদনসহ এ পর্যন্ত সুকুকের মাধ্যমে সরকারের সংগৃহীত মোট অর্থের পরিমাণ ৫৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বাপ্পারাজ-মুক্তি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ এবং একই প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হবেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি।

তারা দুজনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

বাপ্পারাজ বলেন, ‘চেয়েছিলাম বাবার (নায়করাজ রাজ্জাক) কবর জিয়ারত করে এই সংবাদ সবাইকে জানাবো। তার আগেই অনেকেই জেনে গেছেন। শিল্পীদের অনেকেই চাচ্ছেন আমি যেন শিল্পী সমিতির হাল ধরি। শিল্পীদের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়েই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা শিল্পী সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। বিগত সময় আমিও কমিটিতে ছিলাম। আনুদিও (আনোয়ারা বেগম) বিগত সময় কমিটিতে ছিলেন। শিল্পীরা সুযোগ দিলে তাদের কল্যাণে তা বাস্তবায়ন করব।’

মুক্তি বলেন, ‘শিল্পী সমিতির সদস্যদের অধিকার রক্ষা ও চলচ্চিত্রের উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। আমাদের প্যানেলে থাকবে নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা।’

গত ২৪ এপ্রিল শেষ হয়েছে মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০২৪-২৬ মেয়াদ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন, অর্থাৎ ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন আয়োজন হবে।
 

শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে নিখোঁজ ১৫০

শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ-ডুবির যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৫০ জন নিখোঁজ আছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আজ বুধবার এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ক্রু সদস্যদের বরাতে বলা হয়, ডোবার আগে জাহাজে একটি বিস্ফোরণ হয়েছিল।

এ ঘটনায় শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ৩২ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। তবে নিখোঁজ আরও ১৪৮ নাবিককে উদ্ধারের আশা কমে আসছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা।

এএফপি জানায়, জাহাজটি ভারতের পূর্ব উপকূলের বিশাখাপত্তমে অনুষ্ঠিত সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার পর ফিরছিল। তবে বিস্ফোরণের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ পার্লামেন্টে জানান, উদ্ধার ৩২ ইরানিকে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজদের অনুসন্ধানে দুটি নৌযান এবং একটি বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটি বুধবার ভোরে বিপদ সংকেত পাঠায়। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে একটি উদ্ধার জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী বলছে, উদ্ধার কাজের সময় জাহাজটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়।

একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি, তবে বাকি ক্রুদের কী হয়েছে তা এখনো জানি না।

এসময় পার্লামেন্টে একজন বিরোধী দলীয় সদস্য জানতে চান, জাহাজটি মার্কিন ও ইসরায়েলের চলমান হামলার অংশ হিসেবে হামলার শিকার হয়েছে কিনা। এই প্রশ্নের জবাবে সরকার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এ ঘটনায় শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আলিরেজা দেলখোশের কোনো মন্তব্য জানতে পারেনি এএফপি।

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী মুখপাত্র বুদ্ধিখা সম্পদ বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে বিপদ সংকেতে সাড়া দিয়েছি।

এদিকে এ যুদ্ধের ঘটনায় শ্রীলঙ্কা এখনো নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ সমাধানের জন্য সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।

দেশটির প্রায় এক মিলিয়ন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত এবং তারা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

এএফপি বলছে, উদ্ধারকালে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ভিডিও প্রকাশ করেনি, কারণ এতে অন্য দেশের সামরিক বাহিনী জড়িত ছিল।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশবিরোধী তৎপরতা ছিল: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য।

আগামীকাল জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছিল। ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল- নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি বলে আমি মনে করি। এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা রকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বিপরীতে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবো- এই হোক শহীদ সেনা দিবসের প্রত্যয়।’

ঝাল খাবারে আলসার হয় না, প্রমাণ করতে ব্যাকটেরিয়া গিলেছিলেন চিকিৎসক

একসময় মানুষের বদ্ধমূল ধারণা ছিল—অতিরিক্ত ঝাল খাবার, মানসিক চাপ আর পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিডই আলসারের মূল কারণ। কিন্তু আলসারের আসল কারণ যে কোনো খাবার নয়, বরং একটি ব্যাকটেরিয়া তা প্রমাণ করতে এক চিকিৎসক নিজেই গিলে খেয়েছিলেন ব্যাকটেরিয়াযুক্ত তরল।

আলসার নিয়ে এই গবেষণা করেন অস্ট্রেলীয় দুই চিকিৎসক ড. ব্যারি মার্শাল ও ড. রবিন ওয়ারেন। আলসারের প্রকৃত কারণ আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৫ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান তারা।

যুগ যুগ ধরে মানুষের ধারণা ছিল, আলসারের মূল কারণ মানসিক চাপ ও ঝাল খাবার। তাই তারা রোগীদের অ্যাসিডিটির ওষুধ সেবন ও খাদ্যাভ্যাস বদলানোর পরামর্শ দিতেন। এতে সাময়িক উপশম মিললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কষ্টদায়ক রোগটি বারবার ফিরে আসত।

তবে ১৯৭৯ সালে ডা. রবিন ওয়ারেন প্রথম পাকস্থলীর প্রদাহে আক্রান্ত রোগীদের নমুনায় একধরনের সর্পিল আকারের ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান। তৎকালীন বিশেষজ্ঞদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, পাকস্থলীর তীব্র অম্লীয় পরিবেশে কোনো ব্যাকটেরিয়ার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

ওয়ারেনের এই পর্যবেক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেন ড. ব্যারি মার্শাল। এই ব্যাকটেরিয়াই কি আলসার ঘটাচ্ছে কি না, সেটা অনুসন্ধানে নেমে পড়েন দুই বিজ্ঞানী।

তাদের এই ধারণাকে একবাক্যে মেনে নিতে রাজি ছিলেন না কেউই। অনেকেই এতে সন্দেহ পোষণ করলে ড. মার্শাল এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নেন। এমন একটি কাজ করেন তিনি, যা আধুনিক যুগের প্রতিষ্ঠিত নৈতিক মানদণ্ডে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি নিজেই নিজেকে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার গিনিপিগে রূপান্তর করেন—পান করেন ‘হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি’ নামে পরবর্তীকালে পরিচিতি পাওয়া সেই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত তরল।

কয়েক দিনের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মার্শাল। বমি, তিক্ত ভাব ও মুখে দুর্গন্ধের মতো আলসারের সব পরিচিত উপসর্গ দেখা দেয় তার মধ্যে। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার পাকস্থলীতে প্রদাহ হয়েছে এবং সেখানে ওই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। পরে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

সে আমলে ড. মার্শালের নিজেকে নিয়ে করা এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে আলসারের মূল কারণ নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটায়নি। তবে পরবর্তীতে গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টির প্রমাণে তার এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

এই আবিষ্কার আলসারের চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আনে। শুধু পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানো এবং উপসর্গ আবার ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকেন না চিকিৎসকরা। রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দ্রুত এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ করে তোলার প্রচেষ্টা নেন তারা।

অনেক রোগীর ক্ষেত্রে যে অসুখকে একসময় দীর্ঘস্থায়ী ও বারবার ফিরে আসা সমস্যা হিসেবে দেখা হতো, তা এখন সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব শুধু আলসারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় এই ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত থাকলে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যদিও এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত অনেক মানুষ কখনোই আলসার বা ক্যানসারে আক্রান্ত হন না।

একটি বড় আকারের গবেষণার ফল থেকে দেখা গেছে, এখনো প্রায় প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে চারজনই এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। ওই গবেষণায় আরও জানা গেছে, ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের ৫৮ দশমিক দুই শতাংশ থেকে এই হার কমে ২০১১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৪৩ দশমিক এক শতাংশে নেমেছে।

দীর্ঘদিন ধরে আলসারের চিকিৎসার কেন্দ্রে ছিল অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ। তবে দুই বিজ্ঞানীর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারে বিষয়টি অনেকটাই বদলে যায়। চিকিৎসকরা এখন রোগীর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের বদলে রোগ নিরাময়ে মনোযোগ দিচ্ছেন।

 

লেখক পঞ্চম বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থী। 

ই-মেইল: [email protected]
 

রাজনীতিবিদ ও প্রকৌশলীদের ভালো দিক মানুষের চোখে পড়ে না: শাহে আলম

রাজনীতিবিদ ও প্রকৌশলীদের ভালো দিক মানুষের চোখে পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারদের বহু সফলতা আছে বাংলাদেশে। হাজারো সফলতার গল্প আছে, কিন্তু এই গল্প মানুষের নজরে পড়ে না। মানুষের নজরে পরে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। ওটা একটা টিকটক বানিয়ে ছেড়ে দেয়। কোন সময় পর্যন্ত কার্পেটিংটা থাকবে, সেটেল হবে এটার সম্বন্ধে কিন্তু যে ওঠাচ্ছে তার ধারণা নাই। পলেস্তারা উঠিয়ে ফেলছে। উঠিয়ে ভিডিও করে ছাড়ছে। দুর্নাম হচ্ছে কার? ডিপার্টমেন্টের ইঞ্জিনিয়ারের।’

‘হাজার-কোটি টাকা খরচ করে আমরা ভালো ভালো প্রকল্প নির্মাণ করছি। কিন্তু টুকটাক যেখানে প্রবলেম হচ্ছে, সেই প্রবলেমগুলো মানুষের সামনে নিয়ে এসে ইঞ্জিনিয়ারদের হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। যেটা আমাদের কারও জন্যই কাম্য নয়,’ যোগ করেন তিনি।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনৈতিক কাজের সঙ্গে কম-বেশি সবাই জড়িত। দোষ হয় ইঞ্জিনিয়ারের। একটা ডিপিপি প্রণয়ন, প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন, বিল থেকে শুরু করে সব কিছুর সঙ্গে কি ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষরেই কি বিল যায়? এর সঙ্গে ইউএনও থাকে, ডিসি থাকে। অন্য প্রজেক্ট হলে অন্যরা বা আমাদের মন্ত্রণালয়ের লোকজন জড়িত থাকে। সর্বশেষ দোষের দোষী হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার।’

দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রকৌশলীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মধ্যে থাকলে হবে না। এই ছোট ছোট পরিকল্পনা করতে গিয়ে বারবার আমরা ধাক্কা খাচ্ছি।’

সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কিছু এলাকায় আমি দেখলাম, সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।’

ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুসরণ করা হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেওড়াপাড়ায় গিয়ে এমন একটা জায়গা দেখলাম, যেখানে অনেক বিস্তৃত বাড়িঘর তৈরি হয়েছে। মানুষ তো মরণশীল, মানুষ মারা যাবে। একটা মানুষ ইন্তেকাল করলে ওই জায়গা থেকে যে জানাজার জন্য যে খাটিয়ায় মরদেহটা নিয়ে আসবে, সেই পরিবেশে ওখানে নাই। এর মধ্যে আবার বিদ্যুতের লাইন, গ্যাসের লাইন, পানির লাইন গেছে।’

মেগা প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এলজিডির মাধ্যমে একটা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। সেই ব্রিজের ফিজিবিলিটি স্টাডি করে যারা ডিজাইন দিয়েছেন, তারা ইঞ্জিনিয়ার। ব্রিজ নির্মিত হয়েছে, ৯০ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। নির্মাণের পর দেখা যাচ্ছে যে, ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি যাওয়ারই জায়গা নাই। ৬০ লাখ টাকা দিয়ে নতুন করে এলজিডির পক্ষ থেকে পাশে আরেকটি স্টিল ব্রিজ করে দেওয়া হচ্ছে মানুষের চলাচলের জন্য। এটার জন্য আমরা কাকে দায়ী করব? মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা দায়ী থাকবে? সচিব দায়ী থাকবে না প্রজেক্ট যারা অনুমোদন করেছেন তারা দায়ী থাকবে?’

নেইমারকে ফুটবল চালিয়ে যেতে বাবার আবেগঘন বার্তা

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর নেইমার জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর তার একটি মন্তব্যেই জোরালো হয়েছে জাতীয় দল থেকে অবসরের গুঞ্জন। আর সেই মুহূর্তে ছেলেকে ফুটবল না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে আবেগঘন এক খোলা চিঠি লিখেছেন নেইমারের বাবা।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই শেষ। আমার এখানকার পথচলা শেষ।’

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে আর কিছু না বললেও, তার বাবা দীর্ঘ এক বার্তায় ছেলেকে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান। ছেলেকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘বাবা, ফুটবলটা খেলেই যাও। পায়ে বল নিয়ে খেলার আনন্দটা আবার খুঁজে বের করো। মাঠে আবার হাসো। আজ তুমি সুস্থ আছ। ঈশ্বর তোমাকে আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন, যেটা তুমি সবসময় সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছ, সেটা করার। খেলাটা উপভোগ করো। সিদ্ধান্ত, সমালোচনা, প্রত্যাশা কিংবা জীবনের ব্যর্থতার ভার নিজের কাঁধে তুলে নিও না।’

চিঠিতে তিনি স্মরণ করেন নেইমারের শৈশবের দিনগুলোর কথা, ‘মনে হয় যেন সেদিনের কথা, যখন ছোট্ট সেই ছেলেটাকে পায়ে বল নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতাম। খুব ছোটবেলাতেই বুঝেছিলাম, তোমার মধ্যে আলাদা কিছু আছে। সেটা শুধু প্রতিভা ছিল না, ছিল একটি উদ্দেশ্য।’

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশায় আবেগপ্রবণ হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি, ‘ভবিষ্যৎ ঈশ্বরের হাতে। আজ নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত তোমার পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে না। কোনো স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি মানেই সেটি শেষ হয়ে যায়নি। একটি কঠিন মুহূর্ত কখনো গল্পের শেষ লিখে দেয় না। আমাদের জীবনের শেষ অধ্যায় লেখেন ঈশ্বর।’

ছেলের ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ‘এই পুরো পথচলায় আমি তোমার সঙ্গেই ছিলাম। তোমার প্রথম গোল, প্রথম সাফল্য, পেশাদার ফুটবলে অভিষেক, সবই দেখেছি। পরে দেখেছি বিশাল সব স্টেডিয়ামের গর্জন, শিরোপা জয় আর পৃথিবীর নানা প্রান্তে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি। সেই ছোট্ট ছেলেটিকে নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে উঠতে দেখেছি। কিন্তু একজন বাবা হিসেবে তোমার প্রতিটি পদক্ষেপের সাক্ষী হতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

বয়সকে কোনো বাধা মানতে নারাজ নেইমারের বাবা, ‘সেরাটা বয়স বা পরিস্থিতি দিয়ে নির্ধারিত হয় না। সেরাটা নির্ভর করে ঈশ্বরের ইচ্ছার ওপর। সামনে এমন অনেক অধ্যায় অপেক্ষা করতে পারে, যা তুমি এখনো কল্পনাও করোনি। হয়তো ঈশ্বর তোমার জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন, যা তোমার সবচেয়ে বড় স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যাবে।’

চিঠির শেষেও ছেলের প্রতি নিজের নিঃশর্ত ভালোবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি, ‘ততদিন পর্যন্ত সুখে থাকো। হালকা মন নিয়ে ফুটবল খেলো। আবার মানুষকে আনন্দ দাও। ছোটবেলায় ঈশ্বর তোমার হাতে যে প্রতিভা তুলে দিয়েছিলেন, সেটাই করে যাও। আর কখনো ভুলে যেও না পৃথিবী তোমাকে ভালোবাসার আগেই ঈশ্বর তোমাকে ভালোবেসেছেন। বাবা, আবার সুযোগ পেলে আমি সবই করতাম, প্রতিটি সফর, প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি নির্ঘুম রাত, প্রতিটি দুশ্চিন্তা আর প্রতিটি প্রার্থনা।’
 

বাংলাদেশে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ভিওনের

বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন। প্রতিষ্ঠানটি ১০০ কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছে, এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। 

এই প্রস্তাব নিয়ে গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভিওনের চেয়ারম্যান অগি ফাবিলার মধ্যে বৈঠক হয়।

‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ!’ নামে এই উদ্যোগটি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রস্তাব। এর লক্ষ্য দেশের ডিজিটাল খাতে আরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আনা।

আলোচনা প্রসঙ্গে এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, এই উদ্যোগের মূল ফোকাস থাকবে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো, ডিজিটাল সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে।

তার ভাষ্য, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ডিজিটাল বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

এক বিবৃতিতে বাংলালিংক জানায়, নিজেদের বিনিয়োগের পাশাপাশি ভিওন তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

ভিওন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অগি কে. ফাবিলা (দ্বিতীয়) বলেন, বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যাত্রায় আমরা দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার। ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ’ উদ্যোগের মাধ্যমে ভিওন ১০০ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উচ্চাভিলাষী কর্মসূচিতে প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, নিজেদের বিনিয়োগের পাশাপাশি আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করব, যেন বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়। ডিজিটাল ও আর্থিক রূপান্তর নিয়ে সরকারের যে লক্ষ্য, তার সঙ্গে আমরা পুরোপুরি একমত। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলালিংককে স্মার্টফোনের দাম আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলেন, যেন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সহজে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব আর্থসামাজিক শ্রেণির মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়া ও সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ভিওনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মিশিয়েল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে।

এদিকে, ভিওন বাংলাদেশে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অধিগ্রহণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে দুবাইভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সঙ্গে কৌশলগতভাবে একীভূত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কিছু কৌশলগত সম্পদ নিয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রস্তাবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মালিকানাধীন মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ অধিগ্রহণের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নগদে বিনিয়োগ বা মালিকানার অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করা কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভিওনও রয়েছে।

ভিওন জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। পাশাপাশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত দুই দশকে বাংলালিংকের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে ২৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। একই সময়ে জাতীয় কোষাগারে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্বও জমা দিয়েছে।

মৌসুমী বলছেন ‘নাটক’, নির্মাতা নিলেন সিনেমার সেন্সর

বাংলাদেশের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি প্রজেক্টে কাজ করেন। শুরুতে নাটক হিসেবে নির্মাণের কথা থাকলেও পরে টেলিফিল্ম হিসেবে নির্মাণ হয়। তবে এখন শোনা যাচ্ছে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে!

সিনেমাটির নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর জানান, সেন্সরবোর্ডের অনুমতিতে আগামী ১৫ মে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

তবে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌসুমী। এক ভিডিও তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রে এসে একটি মেয়ের স্ট্রাগল টাইমের ছোট গল্প নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের কথা ছিল। হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হয়েছি। শুরুতে এটা ঘণ্টার একটি নাটক ছিল। দুই দিনে শুটিং শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দিন লেগে যায়। কিছুদিন পর নির্মাতা এসে বলে, এটার শুটিংতো বেশি হয়েছে আমরা টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচার করতে চাই। তাতেও আমি রাজি হয়ে কাজটি শেষ করেছি।’

‘‘কিন্তু খবরে দেখছি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নাকি সিনেমা হিসেবে আসছে। বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি। বোর্ডে এটাকে কীভাবে সেন্সর সার্টিফিকেশন দিল। তার চেয়ে বড় কথা হলো, আমি যেখানে সিনেমাই করি না, সেখানে এ রকম একটা গল্প দিয়ে আমাকে হুট করে পর্দায় নিয়ে আসা যুক্তিসংগত বলে মনে করি না। আমিতো জানিই না ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের আগে-পরে কী আছে। নির্মাতা ও প্রযোজকের কাছে এটা আমি মোটেই আশা করিনি,’ বলেন তিনি।

মৌসুমী বলেন, ‘এমন অবস্থায় সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া উচিত কিনা তা দূর দেশ থেকে বুঝতে পারছি না। আমার মতে এটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি না পাক। তার পরও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি ও প্রযোজক সমিতিসহ যারা আছেন তারা যেন বিষয়টি বিবেচনা করেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এই প্রজেক্টে মৌসুমী ম্যাডামকে সিনেমার সম্মানি দিয়েই যুক্ত করেছিলাম। এটা কখনো টেলিফিল্ম নাটক বলে শুটিং করিনি।’