29 C
Dhaka
Home Blog

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত বিধান বাতিল করা হবে: অর্থমন্ত্রী

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বহুল আলোচিত—পুরোনো মালিকদের অংশীদারত্ব দাবি করার সুযোগ রাখা বিধানটি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শের পর সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
 

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(এ) ধারা অনুযায়ী, একীভূত হওয়া বা একীভূতকরণের জন্য তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সাবেক মালিকরা তুলনামূলক সহজ শর্তে আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান। 

এ বিধানকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাংক খাতের সংস্কার থেকে সরে আসার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইন অনুযায়ী, একীভূত হওয়া বা একীভূতকরণের তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বা মালিকেরা সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া মূলধন সহায়তার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ করে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন। বাকি ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধ করতে হবে।

নির্বাচনে জিতেছেন বিজয়ের ড্রাইভারের ছেলেও

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল টিভিকে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে। প্রায় ছয় দশক ধরে চলা দ্রাবিড় রাজনীতির দ্বৈত আধিপত্য ভেঙে দিয়েছেন থালাপতি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিভিকে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১০০টির অনেক বেশি আসনে জয়ের পথে আছে। আর সেই আসনগুলোর একটি বিরুগামবাক্কম, যা চেন্নাই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জিতেছেন সাবারিনাথন। ৩০ বছর বয়সী সাবারিনাথন বিজয়ের ড্রাইভারের ছেলে এবং তিনিও তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ার পথে আছেন। প্রথম নির্বাচনে জয়ী হওয়া টিভিকে বিধায়কদের তালিকাতে তার নামও যোগ হবে।

তিনি ডিএমকের প্রভাকারা রাজা ও এআইএডিএমকের বিরুগাই রভিকে ২২ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন।

এদিকে তামিলনাড়ুর অন্যান্য জায়গায় উচ্চপ্রোফাইল ডিএমকে নেতারা একের পর এক পরাজিত হয়েছেন। পরাজিতদের তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন। তিনি কোলাথুর আসনে টিভিকের ভিএস বাবুর কাছে হেরে গেছেন।

তবে স্টালিনের ছেলে উধয়নিধি স্টালিন ভালো ফল করেছেন। তিনি চেপক-থিরুভাল্লিকেনি আসনে টিভিকে নেতা সেলভম ডিকে ৭ হাজার ১৪০ ভোটে হারিয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন।

অন্যদিকে সম্ভাব্য পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনটি জয়ের আনন্দ পেয়েছেন থালাপতি বিজয়।

রাজ্যটিতে গণনা শেষের দিকে ও টিভিকে বড় জয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায়, এখন নজর যাবে সরকার গঠনের দিকে। বিজয়ের দল সম্ভবত ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা থেকে সামান্য পিছিয়ে থাকবে, অর্থাৎ সেই সীমা পার করতে অন্য দলের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

এই সমর্থন কংগ্রেস, এআইএডিএমকে, নাকি বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সমন্বয়ে আসবে তা হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে জানা যাবে।

যুদ্ধের ওপর দুর্যোগ, ইরান কাঁপলো ভূমিকম্পে

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ হামলার আজ চতুর্থ দিন। ইতোমধ্যে দেশটিতে দুই ক্ষমতাধর দেশের হামলায় নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে এলো ভূমিকম্পের খবর।

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।  

ইরানের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলীয় পারস্য উপসাগর ঘেঁষা গেরাশ অঞ্চলে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

ইউএসজিএস জানায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে (৬ দশমিক ২১ মাইল) ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল খনিজসমৃদ্ধ ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। সেদিনই ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।

জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।

পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করে হামলা চালাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, এই যুদ্ধ চার সপ্তাহ বা এর কম সময় পর্যন্ত চলতে পারে। 

তবে এখন তা যেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

 

বইমেলায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: ডিএমপি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, বইমেলায় নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই। উসকানিমূলক কোনো বইও মেলায় থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারের বইমেলায় কোন ধরনের নাশকতার তথ্য নেই। মব সৃষ্টি করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ নেই।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা প্রাঙ্গনে আজ বুধবার ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সরওয়ার বলেন, বইমেলা এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। গোয়েন্দা সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন। সিসিটিভি ক্যামেরা ছাড়াও প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে আর্চওয়ে ব্যবস্থা থাকবে। মেলা আগের মতোই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। বইমেলার ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে নিয়োজিত থাকবে।

তিনি বলেন, মাজার রোড, হাকিম চত্বর, দোয়েল চত্বর, টিএসসিতে মেলা চলাকালে যানজট কমাতে ডাইভারশন চলবে। ধারালো ও বিষ্ফোরক দ্রব্য নিয়ে মেলায় প্রবেশ করা যাবে না।

মেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে বম্ব ডিসপোজাল (বোমা নিষ্ক্রিয়করণ) ইউনিট, সোয়াটসহ ডগ স্কোয়াড থাকবে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও রাখা হবে ।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন।

পিংক বাসের শহর ও গ্রামে খাসি খাওয়া বর

দেশে যাত্রা শুরু করেছে গোলাপি রঙের বাস। এই খবর গণপরিবহনে কী মাত্রা যোগ করবে তা ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাওর হয়েছে রঙ ও চালকের লিঙ্গীয় পরিচয়। এমন প্রশ্নও উঠেছে, আজ পিংক বাস, এরপর কি সড়কের রঙও পিংক হবে?

প্রশ্নের মূল আসলে বাসের রং বা চালক ও সহকারীর লিঙ্গীয় সত্তা নয়। বিআরটিসির ১৪টি ‘পিংক বাস’ চালুর উদ্যোগটির প্রতীকী অর্থ তাই বাসের রঙের চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু সড়কের রঙ পিংক হবে কি না, এমন প্রশ্ন আমাদের ঘরে নারীর অবস্থানকে আড়াল করছে। আমরা শহরের রাস্তায় নারীর জন্য যে জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছি, ঘরের ভেতরেও কি তার জন্য একই মাপের জায়গা তৈরি করছি?

গত ১৮ আগস্ট ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় নারী চালক ও সহকারী নিয়ে চালু হয়েছে পিংক বাস। একজন নারী যখন বাসের চালকের আসনে বসেন, তিনি শুধু একটি বাস চালান না; তিনি সেই পুরোনো ধারণাটিকেও চ্যালেঞ্জ করেন—কিছু কাজ, কিছু জায়গা, কিছু দায়িত্ব কেবলই পুরুষের জন্য।

কিন্তু প্রায় একই সময়ের আরেকটি ঘটনাও এখানে প্রাসঙ্গিক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের জন্য দেওয়া ‘খদরে’ খাসি না থাকায় বেশ হইচই হয় এবং কনের বাবার হস্তক্ষেপে তাকে বিয়ে না করেই ফিরে যেতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার জেরে পুনরায় জানা যায়, পরদিনই ওই বর অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন। এবার অবশ্য বরের পাতে নিশ্চিত করা হয়েছিল ‘আস্ত খাসি’।

ঘটনাটি নিয়ে হাসাহাসি হয়েছে, মিম হয়েছে, নানা মন্তব্য হয়েছে। হওয়াটাই স্বাভাবিক। ঘটনাটি একইসঙ্গে অদ্ভুত, বিস্ময়কর এবং আমাদের সামাজিক বাস্তবতার কিছু অস্বস্তিকর দিক সামনে আনে। তবে একটু থেমে প্রশ্ন করা যায়, বিষয়টি কি সত্যিই শুধু খাসি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষার?

পিংক বাস ও খাসির দুটি ঘটনাকে পাশাপাশি রাখলে কিছু বাস্তবতা সামনে আসে। নারীকে জনপরিসরে আরও দৃশ্যমান করা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তন। এই গোলাপি রঙের স্বস্তির বিপরীতে কিন্তু খাসি খাওয়ার বুবুক্ষ সত্তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা নারীর অবমূল্যায়নের সূত্রগুলো ঢাকা যাবে না। ঘরের ভেতর বা পরিবারে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগহীনতা কিছু ক্ষোভ তৈরি করতে পারে। কিন্তু এর উত্তর খুঁজতে হবে একটি সুনির্দিষ্ট তাত্ত্বিক পার্থক্যের ভেতরে—অধিকার থাকা এবং সেই অধিকার প্রকৃত অর্থে প্রয়োগ করতে পারার মধ্যকার পার্থক্য।

অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সক্ষমতা তত্ত্ব এই পার্থক্যটিকেই তার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন করে তোলে। তার যুক্তি হলো, একজন মানুষের আনুষ্ঠানিক অধিকারের তালিকা দিয়ে তার প্রকৃত স্বাধীনতা মাপা যায় না। সেটা মাপা যায় তার ‘ফাংশনিং’ দিয়ে। অর্থাৎ তিনি বাস্তবে কী হতে পারেন এবং কী করতে সক্ষম, তার মধ্য দিয়ে। অধিকার আর সক্ষমতার মধ্যে যে ফাঁক থাকে, অমর্ত্য সেন সেই ফাঁকটিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন বলে চিহ্নিত করেছেন।

একজন নারী আইনিভাবে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাখেন। এটি কাগজে-কলমে সত্য। কিন্তু সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক নির্ভরতা ও অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের কারণে সেই অধিকার বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা তার নাও থাকতে পারে। অধিকার কাগজে থাকলেও সক্ষমতা বাস্তবে না থাকলে সেই অধিকার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। এটিই অমর্ত্য সেনের তত্ত্বের মূল কথা।

পিংক বাস ও খাসির ঘটনা পাশাপাশি রাখলে এই তাত্ত্বিক পার্থক্যটি অস্বাভাবিক রকম স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পিংক বাস নারীকে এক নতুন সক্ষমতা দিচ্ছে। নিরাপদে চলাচলের সক্ষমতা। এখানে রাষ্ট্র শুধু অধিকার ঘোষণা করেনি, বাস্তবে সেই অধিকার প্রয়োগের অবকাঠামোও তৈরি করেছে—বাস দিয়েছে, রুট ঠিক করেছে, চালক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ফাংশনিং এখানে সরাসরি অধিকারের সঙ্গে মিলে গেছে। কারণ, রাষ্ট্র মাঝখানের দূরত্বটি নিজে ভরাট করে দিয়েছে।

কিন্তু বিয়ের প্রশ্নে নারীর সেই একই ধরনের সক্ষমতা কোথায়? তার ‘অধিকার আছে’ বলা সহজ, কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ করার মতো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কি তার হাতে আছে? আখাউড়ার মেয়েটির ক্ষেত্রে অবমাননাকর শর্ত প্রত্যাখ্যান করার সক্ষমতা এসেছিল বাবার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে, নিজের সক্ষমতা হিসেবে নয়। অর্থাৎ ‘নারী বাস চালাতে পারেন’ আর ‘নারী অবমাননাকর বিয়ের শর্ত প্রত্যাখ্যান করতে পারেন’, এই দুটি বাক্য দেখতে একই রকম মনে হলেও তাত্ত্বিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্নস্তরের দাবি করে। প্রথমটিতে সক্ষমতা রাষ্ট্রনির্মিত এবং নারীর নিজস্ব। দ্বিতীয়টিতে সক্ষমতা ধার করা, শর্তসাপেক্ষ এবং অন্যের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

এই নির্ভরতার প্রকৃতি বোঝার জন্য প্রশ্ন করা দরকার, একই সামাজিক বাস্তবতায় বাস করেও দুজন বাবা কেন দুই ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেন? আখাউড়ার ঘটনায় দুজন মেয়ের বাবাকে আমরা দেখতে পাই। প্রথম মেয়েটির বাবা সামাজিক চাপের বিপরীতে দাঁড়িয়ে মেয়েকে ওই বরের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। অথচ ঠিক একই সামাজিক পরিস্থিতিতে ছেলেটির সঙ্গে নিজের মেয়ের বিয়েতে অন্য একজন বাবা আস্ত খাসি জোগাড় করলেন।

দুজন বাবাই একই সমাজে বাস করেন, একই সামাজিক প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে যান। তবু একজন প্রত্যাখ্যান করলেন, আরেকজন মেনে নিলেন। অমর্ত্য সেনের কাঠামোয় এই বৈপরীত্যের অর্থ স্পষ্ট—মেয়ের মর্যাদা রক্ষা পাবে কি না, তা সমাজে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে কোন বাবার হাতে সিদ্ধান্তের ভার পড়ছে তার ওপর। যেখানে ব্যক্তিগত সাহস একটি অধিকারের বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে বুঝতে হবে অধিকারটি আসলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনুপস্থিত এবং সক্ষমতা ব্যক্তিভেদে লটারির মতো বণ্টিত হচ্ছে। এক পরিবারে মেয়ের মর্যাদা জেতে, আরেক পরিবারে হেরে যায়। অথচ দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট প্রায় একই।

আমাদের সমাজে এমন পরামর্শ খুব অস্বাভাবিক নয় যে, ‘আরে একটা খাসি জোগাড় করে দাও, বিয়েটা তো আর ভাঙা যায় না’। কারণ, মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেলে সামাজিক দায়, লজ্জা, আত্মীয়স্বজনের কথা সবকিছুর চাপ কেবল মেয়ের পরিবারের ওপরই পড়ে। ‘বিয়ে তো একবারই হয়’, ‘এতটুকু বিষয় নিয়ে বিয়ে ভাঙা ঠিক না’, ‘মেয়েকে একটু মানিয়ে নিতে বলো’—এই বাক্যগুলোর মধ্যে সমাজ কীভাবে নারীকে মর্যাদা দিয়ে থাকে তা বোঝা যায়।

প্রকৃত অর্থে, এগুলো সক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার ভাষা। প্রত্যাখ্যানের আইনি অধিকার অস্বীকার না করেই তার প্রয়োগকে অসম্ভব করে তোলার কৌশল। যে বাবা প্রত্যাখ্যান করলেন, তিনি মূলত নিজেই হয়ে উঠলেন মেয়ের সক্ষমতার সাময়িক বিকল্প। আর যে বাবা মেনে নিলেন, তিনি কোনো দুর্বল মানুষ নন, বরং এমন একটি কাঠামোর ভেতর সিদ্ধান্ত নিলেন যেখানে মেনে নেওয়াটাই স্বাভাবিক পথ বলে বিবেচিত হয় এবং প্রত্যাখ্যান করাটাই ব্যতিক্রম।

প্রশ্নটা তাই কেবল ব্যক্তির সাহস নিয়ে নয়। প্রশ্নটা হলো, একটি সমাজের মর্যাদা কি কারো ব্যক্তিগত সাহসের ওপর নির্ভর করা উচিত? নাকি এটি এমন একটি সক্ষমতায় পরিণত হওয়া উচিত, যা প্রতিটি নারীর নিজস্ব, যার জন্য কোনো ব্যতিক্রমী বাবার প্রয়োজন পড়ে না?

নারীবাদী রাষ্ট্রদার্শনিক ক্যারল পেটম্যান দেখিয়েছেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ‘পাবলিক’ ও ‘প্রাইভেট’ পরিসরের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে রাখে। যার ফলে রাষ্ট্র ও পরিবার আলাদা। তাইতো কে বাস চালাবে তা রাষ্ট্র করতে পারে, কিন্তু বিয়ের টেবিলে কে কী দাবি করবে সেই প্রশ্নে রাষ্ট্রের মুখে কুলুপ আঁটা থাকে। ফলে যে পরিসরে নারীর সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয়, ঠিক সেই পরিসরেই রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের হাত সবচেয়ে কম পৌঁছায়।

একইভাবে, আমরা শুধু এমন একটি সমাজ চাই না যেখানে নারীরা নারীর জন্য বরাদ্দকৃত বাস চালাতে পারবেন। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে একজন নারী জীবনের সিদ্ধান্তেও নিজের আত্মমর্যাদা নিয়ে দাঁড়াতে পারবেন এবং এর জন্য তাকে একজন ব্যতিক্রমী বাবার সাহসের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

ফাতিমা আমিন: সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউটিউবের ভিউ নিয়ে যে পরিবর্তন আসছে

সাধারণ ভিডিওর ভিউ গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। নতুন নিয়মে সাধারণ ভিডিওর ভিউ গণনার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।

এখন থেকে কোনো ইউজার ভিডিও চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ‘ভিউ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। একইভাবে, কোনো ব্যবহারকারী লাইভ স্ট্রিমে প্রবেশ করলেই সেটিও ভিউ হিসেবে গণনা করা হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে ইউটিউবের সাধারণ ভিডিওর ভিউ গণনার পদ্ধতি ‘শর্টস’-এর ভিউ গণনার পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী টিকটক ও ইনস্টাগ্রামও একই ধরনের পদ্ধতিতে ভিউ গণনা করে থাকে।

আগামী ২৪ আগস্ট থেকে নতুন নিয়মটি কার্যকর হবে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব।

ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে দেওয়া ঘোষণায় ইউটিউব আরও জানায়, ‘বিভিন্ন ভিডিও ফরম্যাটে ভিউ গণনার বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভিডিওটি কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’

এই পরিবর্তনের ফলে ইউটিউবের যেকোনো ভিডিওর ভিউয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। নতুন নিয়মে কোনো ভিডিওর প্রথম কয়েক সেকেন্ড দেখে ইউজাররা অন্য ভিডিও বা কনটেন্টে চলে গেলেও সেটি ভিউ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইউটিউব আগের এনগেজমেন্টভিত্তিক ভিউয়ের হিসাবটি নতুন নাম ‘এনগেজড ভিউজ’-এ রেখে দিচ্ছে, যা কনটেন্ট নির্মাতাদের অ্যানালিটিকস টুলে দেখা যাবে। এর মাধ্যমে কতজন দর্শক ভিডিওটি চালু হওয়ার পরও দেখা চালিয়ে গেছেন, তা বোঝা যাবে।

একদিকে ভিউ গণনার সীমা শিথিল করে প্রকাশ্য ভিউয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে ইউটিউব, অন্যদিকে ‘এনগেজড ভিউজ’ রেখে প্রকৃত দর্শক-আগ্রহের হিসাবও আলাদাভাবে দেখার সুযোগ দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, এই পরিবর্তনের ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় বা ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে তাদের যোগ্যতার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

সম্প্রতি নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য মনিটাইজেশনের নিয়ম আরও কঠোর করেছে ইউটিউব। চ্যানেল থেকে আয় শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সীমা আলাদাভাবে বাড়ানোর কিছুদিন পরই ভিউয়ের নিয়ম বদলের এই ঘোষণা এলো।

ইতোমধ্যে মনিটাইজেশনের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

আগামী বছর থেকে নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের আগের এক বছরে কমপক্ষে ৮ হাজার কোয়ালিফায়েড ওয়াচ আওয়ার অথবা বিগত ৯০ দিনে ২ কোটি কোয়ালিফায়েড শর্টস ভিউ থাকতে হবে। ইউটিউবের নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ হলেই কেবল ভিউকে কোয়ালিফায়েড বা ‘আয়ের যোগ্য’ হিসেবে ধরা হয়।

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন প্রকাশ্য ভিউয়ের সংখ্যা বাড়লেও এর ভিত্তিতে কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় বাড়বে না। ইউটিউব জানিয়েছে, নির্মাতাদের আয় আগের মতোই ‘এনগেজড শর্টস ভিউজ’ ও ‘এনগেজড ওয়াচ আওয়ার’-এর ভিত্তিতে হবে। একইভাবে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘কোয়ালিফায়েড শর্টস ভিউজ’ ও ‘কোয়ালিফায়েড ওয়াচ আওয়ার’ বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ, নতুন নিয়মে প্রকাশ্য ভিউয়ের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে; কিন্তু প্রকৃত দর্শক-আগ্রহ এবং আয় বোঝার ক্ষেত্রে ‘এনগেজড ভিউজ’ ও ওয়াচ আওয়ারই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

নরওয়েকে তাতিয়ে দেয় সেই পেনাল্টি সেইভ, বললেন নিলান্ড

নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিলান্ড বলেছেন, ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে তার পেনাল্টি সেভটিই এই অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।

আরলিং হালান্ড শেষ ১১ মিনিটে জোড়া গোল করে দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তিদের শেষ ১৬-এর মঞ্চ থেকে বিদায় করে দেওয়ার আগে, প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারায়েসের স্পট-কিক আটকে দেন নিলান্ড। ১০০তম মিনিটে নেইমারের পেনাল্টি গোলটি পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিলো না।

শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের স্মরণীয় জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে নরওয়ে। 

ম্যাচ শেষে নিলান্ড সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শুরুর অত তাড়াতাড়ি আপনি যখন একটি পেনাল্টি আটকে দিতে পারবেন, তখন আপনাকে হারানো খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এটি আমার নিজের জন্য যেমন দারুণ একটি মুহূর্ত ছিল, তেমনি দলের জন্য কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল।’

‘শেষ পর্যন্ত আমরা সঠিক সময়ে গোল করতেও সক্ষম হয়েছি, যা ছিল অসাধারণ।’

তবে শুধু পেনাল্টিই নয়, ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ দারুণ ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন তিনি। 

 

বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো উন্নয়ন সহায়তা পাচ্ছে না: জামায়াত আমির

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন অনুদান ও উন্নয়ন সহায়তা দেওয়া হলেও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শুক্রবার নেত্রকোণো সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, যেসব এলাকায় বর্তমান সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন, সেখানে ছোটোখাটো বিভিন্ন অনুদান ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলোতে সেই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়নি। আমরা এ ধরনের বৈষম্যকে উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি বলেন, এই সরকারের সময় হবে কি না, আমি জানি না, তবে কিছু আলামত আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করছি। আপনারা দেখেছেন, সংসদের ভেতরে আমরা আমাদের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।

জামায়াত আমির বলেন, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তারা দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি ও প্রতিটি নাগরিকের জন্য দায়বদ্ধ। তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল বা এলাকার জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য দায়িত্বশীল। আমরা বারবার এ কথা বলে আসছি এবং ভবিষ্যতেও বলে যাব। যেখানে বৈষম্য দেখব, সেখানে আমরা প্রতিবাদ জানাব ও আওয়াজ তুলব।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের প্রশ্নে সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল—এটি বড় বিষয় নয়। আমাদের ঐক্যের জায়গাটি অটুট থাকতে হবে। নীতি, কৌশল ও কর্মপদ্ধতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের অধিকার ও প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়।

‘জনস্বার্থ ও নাগরিকদের ন্যায্য প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে কোথাও বৈষম্য দেখা গেলে জনগণের পক্ষ থেকে কথা বলা, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং প্রয়োজনে আপত্তি জানানো শুধু আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকারও’, বলেন শফিকুর রহমান।

নিজের আয়কর নিজেই হিসাব করবেন যেভাবে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করেছে সরকার। একই সঙ্গে আগের ৫ শতাংশ করহার তুলে দিয়ে পুরো আয়কর স্ল্যাব নতুন করে সাজানো হয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে একদল করদাতার করের পরিমাণ একেবারেই বদলাবে না। আবার নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় হলেই আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হবে।

জেনে রাখা ভালো, আপনার আয় করমুক্তের সীমা অতিক্রম করলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

এবার মাসে কত আয় হলে কত কর দিতে হবে—এই হিসাবটা বুঝে নেওয়া যাক।

নতুন আয়কর স্ল্যাবে কী আছে?

নতুন কাঠামোতে সাধারণ করদাতাদের (পুরুষ) ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা আগের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। নারী ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এটি ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। 

এছাড়া প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের জন্য এই সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সাধারণ করদাতাদের প্রথম ৪ লাখের পর ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, এর পরের ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, পরের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ এবং এরপর থেকে ৩০ শতাংশ করে আয়কর দিতে হবে।

গত অর্থবছর (২০২৫-২৬) পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এরপর ১ লাখ টাকায় ৫ শতাংশ, পরের ৪ লাখে ১০ শতাংশ, পরের ৫ লাখে ১৫ শতাংশ, পরের ৫ লাখে ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখে ২৫ শতাংশ এবং বাকি অংশে ৩০ শতাংশ কর দিতে হতো।

অর্থাৎ সরকার একদিকে করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে ৫ শতাংশের করস্ল্যাব পুরোপুরি তুলে দিয়েছে।

কোন আয় পর্যন্ত করের পরিমাণ একেবারেই বদলায়নি?

বার্ষিক ৬ লাখ ও ৭ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে আগে এবং এখনকার গাণিতিক করের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের নিয়মে বার্ষিক ৭ লাখ টাকা আয়ে মোট কর আসত ৩০ হাজার টাকা, নতুন নিয়মেও পরিমাণটা একই থাকবে। একইভাবে ৬ লাখ টাকার ক্ষেত্রেও কর ২০ হাজার টাকাই থাকছে।

এর কারণ, করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়লেও ৫ শতাংশের পুরো একটি স্ল্যাব তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এই দুটি পরিবর্তন পরস্পরকে সমন্বয় করেছে।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, ৪ লাখ টাকা বা তার কাছাকাছি আয়ের ক্ষেত্রে করের পরিমাণ কমেছে। আগে করমুক্ত সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থাকায় ৪ লাখ টাকা আয়ের ওপর গাণিতিক কর কম আসলেও ন্যূনতম করের নিয়মের কারণে ৫ হাজার টাকা কর দিতে হতো। নতুন নিয়মে করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা হওয়ায় এখন এই আয়ে কোনো করই দিতে হবে না।

এখানে বিনিয়োগ ছাড়া করযোগ্য আয়ের ওপর করের হিসাব করা হয়েছে। কারণ কর রেয়াতের জন্য বিনিয়োগ যুক্ত হলে এই হিসাবটি আলাদা হবে।

মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকার বেশি হলে

কারও মাসিক আয় যদি ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকার বেশি হয়, তাহলে তার বার্ষিক আয় হবে ৪ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে কোনো কর দিতে হবে না। 

মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা হলে 

আপনার যদি মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়, তাহলে বছরে আয় হবে ৬ লাখ টাকা। এই আয়ের ক্ষেত্রে আগেও কর ছিল ২০ হাজার টাকা। এখনও ২০ হাজার টাকাই থাকবে। অর্থাৎ কোনো পরিবর্তন নেই।

মাসিক আয় প্রায় ৫৮ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ৫৮ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় করলে বছরে মোট আয় দাঁড়ায় ৭ লাখ টাকা। এই আয়ে আগের মতোই ৩০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এখানেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

মাসিক আয় ৬২ হাজার ৫০০ টাকা হলে

মাসে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা আয় করলে বছরে আয় হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই আয়ের ওপর আগে কর ছিল ৩৫ হাজার টাকা। এখন দিতে হবে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ নতুন হারে ২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় ৮৩ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ৮৩ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় হলে বছরে আয় দাঁড়ায় ১০ লাখ টাকা। আগে কর ছিল ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। এখন হবে ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে।

মাসিক আয় ১ লাখ টাকা হলে

মাসে ১ লাখ টাকা আয় হলে বছরে আয় হয় ১২ লাখ টাকা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী এই আয়ের ওপর কর আগের তুলনায় আরও কিছুটা বাড়বে। আগে ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হতো, এখন দিতে হবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিতে হবে, যা ১২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত।

মাসিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হলে

আপনার মাসিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হলে বার্ষিক আয় হয় ১৫ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে আগে কর দিতে হতো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এখন দিতে হবে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ২০ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় হলে বছরে আয় দাঁড়ায় ১৮ লাখ টাকা। আগের কর কাঠামোয় এই আয়ের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা কর দিতে হতো। নতুন কর কাঠামোয় কর হবে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ একই আয়ে ৩০ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হলে

আপনার মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হলে বছরে আয় ২০ লাখ ছাড়ায়। এক্ষেত্রে আগে কর ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। এখন দিতে হবে ২ লাখ ৯১ হাজার টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে।

একনজরে মাসিক আয় অনুসারে বিগত ও নতুন অর্থবছরের করের হিসাব 

 

 

 

 

রকস্টারের উত্থান-পতনের গল্প নিয়ে টিজারে শাকিব খান

কয়েকদিন আগে শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার ৫৪ সেকেন্ডের একটি অ্যানিমেটেড ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর ক্যাপশনে শাকিব খান লিখেছিলেন, ‘একটা গল্প, যা বদলে দেবে সবকিছু! আসছে খুব শিগগিরই।’

এবার প্রকাশিত হলো ‘রকস্টার’ সিনেমার ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের টিজার, যেখানে উঠে এসেছে এক রকস্টারের উত্থান-পতনের গল্প।

সিনেমাটির অফিশিয়াল পোস্টার প্রকাশের সময়ই শাকিবের লুক নিয়ে আলোচনা হয়। এবার টিজারে পাওয়া গেল নতুন লুক। এখানে তিনি আর অ্যাকশন হিরো কিংবা গ্যাংস্টার অবতারে নন, সংগীতশিল্পী হিসেবে ধরা দিয়েছেন।

টিজার দেখে বোঝা গেছে, সিনেমাটির জন্য ওজন ঝরিয়েছেন শাকিব, চুলের কাটেও এসেছে বৈচিত্র্য। টিজারটিতে কয়েকটি লুকে দেখা গেছে শাকিবকে।

সেইসঙ্গে অ্যানিমেশন ভিডিওতে থাকা সেই গান ‘আমাকে উড়িয়ে দাও, আমাকে পুড়িয়ে দাও’ বেজেছে।

সিনেমায় শাকিবের দুই নায়িকা সাবিলা নূর ও তানজিয়া জামান মিথিলা। আজমান রুশো পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পাবে আসন্ন ঈদুল আজহায়।

সিনেমার সবগুলো গানের কথা ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি। সংগীত পরিচালনায় আছেন জাহিদ নিরব।

টিজারের শেষ জানানো হয়েছে, এটা শুধু জ্যামিং, আরও একটি টিজার আসছে।