28 C
Dhaka
Home Blog

যেখানেই যাই, শিল্পীর সম্মান পাই: মৌসুমী হামিদ

দেড় দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন মৌসুমী হামিদ। ক্যারিয়ারে যেমন প্রচুর নাটক করেছেন, তেমনি বড় পর্দাতেও নিজেকে চিনিয়েছেন। বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তার সরব উপস্থিতি। তিন মাধ্যমেই ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার কাজ দিয়ে দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেছেন তিনি। কিছুদিন আগে ‘জ্বিনের বাচ্চা’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

আসন্ন ঈদের জন্য ৭ পর্বের একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন মৌসুমী। কর্মব্যস্ততার মধ্যেই সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়, শিল্পীজীবন তার কেমন লাগে?

প্রশ্ন শুনে হেসে ওঠেন মৌসুমী হামিদ। এরপর বলেন, ‘শিল্পীর জীবন আমার দারুণ লাগে। আমি এই জীবনটাকে খুব উপভোগ করি। এই পেশায় প্রচুর মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়, সম্মান পাওয়া যায়। অভিনয়ে না এলে হয়তো এই বিষয়গুলো টেরই পেতাম না।’মৌসুমী

পর্দায় একেক সময় একেকটি চরিত্রে মিশে যাওয়ার অনুভূতি কেমন? মৌসুমীর উত্তর, ‘খুব ভালো লাগে। আসলে শিল্পীর কাজই তো এটি। প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন জীবনের সঙ্গে মিশে যাওয়া, সেই চরিত্রটা হয়ে ওঠা। যারা অভিনয় করেন, তারা দর্শকদের কাছে একেকটি চরিত্র হয়ে ওঠেন।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘কখনো বোবা মেয়ে, কখনো রাগী, আবার কখনো ভালো মেয়ে¬–কত রকম চরিত্রে যে আমাদের অভিনয় করতে হয়! একজন শিল্পীকে পর্দায় যা নয়, তা-ই হয়ে উঠতে হয়। আমরা শিল্পীরা মন দিয়ে সেই চরিত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। কাজটি প্রচার হওয়ার পর যখন মানুষের প্রশংসা পাই, তখন মনে হয় আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’

এবারের ঈদের জন্য সকাল আহমেদ পরিচালিত ‘লাভ স্টেশন’ নামের ৭ পর্বের একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ। নাটকটি রচনা করেছেন বৃন্দাবন দাশ।

এই নাটক নিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘পরিচালক কাজটি খুব যত্ন নিয়ে করেছেন। আমরাও নিজেদের জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার চরিত্রটি এখানে একটু অন্য রকম। একজন অভিমানী মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এটি খুবই মজার একটি নাটক। চঞ্চল চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত শিল্পী আছেন এই নাটকে।’মৌসুমী

চঞ্চল চৌধুরী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাকে নিয়ে নতুন করে কী আর বলব! তিনি অত্যন্ত গুণী একজন শিল্পী। তিনি থাকলে কাজটি এমনিতেই ভালো হয়, সুন্দর হয়। সেটের পরিবেশটাও দারুণ থাকে।’

এবারের ঈদের ছুটিতে ঢাকায়ই থাকবেন মৌসুমী। তবে উৎসবের দিনগুলোতে ছোটবেলার স্মৃতি নিয়ে বলেন, ‘ঈদের সময় মন ছুটে যায় নিজের এলাকায়, নিজের বাড়িতে কাটানো সেই মধুর দিনগুলোতে। ছোটবেলার ঈদগুলো খুব আনন্দে কেটেছে। ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেই সেই স্মৃতিগুলো বেশি করে মনে পড়ে। তখনকার আর এখনকার আনন্দ তো এক নয়! আমার মনে হয়, ঈদের সময় সবারই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে।’

ঈদের কাজের বাইরে সম্প্রতি রায়হান খান পরিচালিত ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমার কাজ শেষ করেছেন মৌসুমী হামিদ।

হরমুজ প্রণালিকে মাসের পর মাস ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ করে রাখতে পারে ইরান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় বিপর্যস্ত ইরান। তবে দেশটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে পারস্য উপসাগরে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বেশ কয়েক মাস বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক গোয়েন্দারা। 

ইরান তার বহুল আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কতদিন হামলা চালিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তারা।
গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আচমকা ইরানে হামলার পর থেকে তেহরান কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১ হাজারের বেশি ড্রোন উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলো দিকে ছোড়ে। সেগুলোর অধিকাংশ আকাশে ধ্বংস করা হলেও কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় আঘাত হানে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলেন্স ইরানকে শীর্ষ ড্রোন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা তেহরানের আছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে বিশ্লেষকদের ভিন্ন ভিন্ন মত আছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর হিসাবে সেই সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ হতে পারে। অন্য বিশ্লেষকদের মতে, সেই সংখ্যা ৬ হাজারের কাছাকাছি।

তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় সেসব সমরাস্ত্র কতদিন অটুট থাকবে তা অনিশ্চিত।

 

ইরান ও ওমানের মাঝখানে লক্ষ্য হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অঞ্চলটি বন্ধ করে দেওয়া তেহরানের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়।

হরমুজ প্রণালিতে ৬টি জাহাজে ইরানিদের হামলার পর সেখান নিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম ১২ শতাংশ ও ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রধান বব ম্যাকন্যালি বার্তা সংস্থাটিকে বলেছেন, ‘ইরান এখুনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চাচ্ছে না। তারা সেই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখতে চায়।

তার মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হচ্ছে হরমুজ প্রণালির জন্য হুমকি হতে পারে ইরানের এমন সব সমরাস্ত্র ধ্বংস করা। তবে ইরান দেখাতে চাইবে যে তারা কয়েকটি ট্যাংকারে হামলা চালাতে পারে।’

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যদি ফুরিয়ে যায় তাহলে ইরান জল-মাইন ব্যবহার করতে পারে। তেহরানের কাছে ৫ থেকে ৬ হাজারের মতো মাইন আছে বলে জানিয়েছে একটি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান।
 

ঢাকা সফরের অপেক্ষায় শেহবাজ শরিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানালেন ইসহাক দার

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা সফর করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিনবিষয়ক ওআইসি নির্বাহী কমিটির বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এমনটি জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত বছর নিজের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। 

ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে আরও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এসব বৈঠকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

জেদ্দায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ আলখারিজি; তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া; ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন খলিলুর রহমান।  

বৈঠকে বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।

তারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তারা একইসঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হন।

রোহিঙ্গাদের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তারা এই সংকট দ্রুত সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে আমন্ত্রণপত্র দেন খলিলুর রহমান।

সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও একমত হন তারা।

ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন চান সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলখারিজি।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরব-ইসলামিক ব্লক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ করে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা লড়ার জন্য গাম্বিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আগামী এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠেয় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যৌথভাবে একটি ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

এ ছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আফ্রিকার দেশগুলোর সমর্থনের আশ্বাস দেন এনজি।

বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

আইফোনের জন্য জীবন? অপ্রতিমের ঘটনায় সামনে আসছে যে প্রশ্নগুলো

মায়ের আইফোন সঙ্গে নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩)। আজ দুপুরে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

কেন অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশ এখনো তা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে পুলিশ ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটির কারণে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আইফোনটির সন্ধান এখনো মেলেনি।

অপ্রতিমকে খুঁজে না পেয়ে তারা বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তাকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তার আবেদন জানান মা। রাতভর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। সবশেষ আজ বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অনুসন্ধানের সমাপ্তি ঘটে।

আমরা ঠিক কেমন সমাজ বা সময়ে বসবাস করছি, যেখানে সামান্য কোনো একটি জিনিস—ফোন, কয়েক হাজার টাকা কিংবা অন্য কিছু—এতটাই মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে যে, সেটির জন্য একজনের জীবনও কেড়ে নেওয়া সম্ভব?

প্রায় প্রতিদিনই আমরা ছিনতাই, ডাকাতি ও লুটের খবর পড়ি। কখনো লক্ষ্য থাকে একটি ফোন, কখনো একটি ব্যাগ কিংবা নগদ কিছু টাকা। পাঠক হয়তো নতুন নতুন ঘটনা পড়তে পড়তে পুরোনোটি ভুলে যাচ্ছেন। কিন্তু যিনি হামলার শিকার হন কিংবা যে পরিবারটি স্বজন হারায়, তাদের কাছে এসবের কিছুই স্বাভাবিক নয়। এই একটি ঘটনাই হয়তো বদলে দেয় তাদের জীবন। হয়তো ভেঙে চুরমার হয়ে যায় একটি পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন।

অপ্রতিমকে হত্যার কারণ হিসেবে যে বিষয়টি ভাবা হচ্ছে, শেষমেশ যদি সেই সন্দেহটিই সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে আবারও সামনে আসবে কিছু প্রশ্ন। বিষয়টি কি শুধু লোভের? কীসের লোভ? সামান্য একটি ফোন, যা চাইলেই বদলে ফেলা যায়? সম্পদের প্রতি এই লোভ যে কত সহজেই প্রাণঘাতী সহিংসতার রূপ নিতে পারে—তাই হয়তো আবারও আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে। সামনে আসবে আরও একটি প্রশ্ন—বাসার বাইরে বেরোলে আমরা আসলে কতটা নিরাপদ? কিংবা আদৌ কি নিরাপদ?

অপ্রতিমের এই ঘটনাটি আমাদের ব্যস্ত জীবনে হয়তো আরও একটি শিরোনামের মতোই। আমরা খবরটি পড়ব, বিস্মিত হবো, আমাদেরও খারাপ লাগবে…তারপর আমরা হয়তো অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। কিন্তু, তার বাবা-মায়ের কী হবে? এই শোক তারা কীভাবে কাটাবে? তাদের সন্তানের জীবনের আলো তো চিরতরে নিভে গেল! এই এক ঘটনা তো চিরতরে বদলে দিলো তাদের জীবন।

শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, অপ্রতিমের ঘটনা তা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ২৫৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১০ জনই ছিল ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী। ৩৬টি ঘটনায় আগে নিখোঁজ হওয়া শিশুদের মরদেহ পরে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ঘটেছে এবং এগুলোর সঙ্গে অপ্রতিমের ঘটনাকে এক করে দেখা উচিত নয়। তবে সংখ্যাগুলো উপেক্ষা করা কঠিন। কারণ এগুলো কেবল সংখ্যা নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি পরিবারের যন্ত্রণা, বাবা-মায়ের হাহাকার।

অপ্রতিমের মৃত্যু আমাদের কঠিন একটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়: বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার মতো সাধারণ একটি কাজে বাড়ি থেকে বের হলে শিশুরা কতটা নিরাপদ? আর রাস্তায় ফোন, মানিব্যাগ বা ব্যাগ নিয়ে চলাফেরা করার সময় আমরা নিজেদের কতটা নিরাপদ মনে করি?

জনজীবন থেকে সব ধরনের ঝুঁকি দূর করার কোনো উপায় নেই। কিন্তু সাধারণ কোনো একটি জিনিস সঙ্গে থাকার কারণে মানুষকে সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা মেনে নিতে হবে—এমনটা হওয়া উচিত নয়। অপ্রতিমের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে হত্যার কারণ উদঘাটন করতে হবে পুলিশকে। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিশ্চিত করতে হবে যেন—ছিনতাই, লুটসহ এ ধরনের অপরাধ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে না ওঠে।

কোনো সম্পদের মূল্য কখনোই একটি মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি হতে পারে না। কিন্তু এ কথা বলা সহজ। কঠিন কাজ হলো এমন একটি পরিস্থিতি নিশ্চিত করা, যেখানে মানুষকে তাদের পাড়া-মহল্লা, শহর ও ক্যাম্পাসে চলাফেরার সময় এ ধরনের সহিংসতাকে স্বাভাবিক বলে ভাবতে হবে না।

অপ্রতিমের বয়স ছিল ১৩ বছর। সে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তদন্তে তার হত্যার কারণ সম্পর্কে শেষ পর্যন্ত যা-ই উঠে আসুক, এই বিষয়টিই ঘটনার কেন্দ্রে থাকা উচিত।

একটি ফোন যেকোনো সময়, যেকোনো কারণেই বদলে নেওয়া যায়। একটি জীবন নয়!

অপ্রতিমের মৃত্যু ঘিরে যে সন্দেহ, তা সত্যি প্রমাণিত হলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় এটি হবে না যে, একটি আইফোন চুরি হয়েছিল। বরং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার হবে, কেউ হয়তো একটি কিশোরের জীবনের চেয়েও ওই ফোনটিকে মূল্যবান মনে করেছিল।

এআই কি মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি একদিন পৃথিবীর সব মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে? এআই খাতের কিছু গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যেই এ ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে একটি কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থা ৮৩০ কোটি মানুষকে হত্যা করবে, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই।

সিএনএন জানিয়েছে, সম্প্রতি এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের কর্মী জ্যাকব কক্সন প্রতিষ্ঠানের কাজকে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে চাকরি ছাড়ার ঘোষণা দিলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। একই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মী ইভান হাবিঙ্গার বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি।

মেশিন ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এমআইআরআই) প্রেসিডেন্ট নেট সোয়ারেসও মনে করেন, অতিমানবীয় সক্ষমতার এআই তৈরি হলে পুরো মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকিতে পড়তে পারে। তার ভাষায়, বিষয়টি এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে যেখানে পৃথিবীর শেষ মানুষটির শেষ নিঃশ্বাস নেওয়ার মধ্য দিয়ে মানবজাতির সমাপ্তি ঘটবে।

তবে এআই জগতের সবাই এই ‘দুনিয়াধ্বংসী’ আশঙ্কার সঙ্গে একমত নন। সমালোচকদের বড় প্রশ্ন, এমন দাবির পেছনে সুনির্দিষ্ট ও পরীক্ষাযোগ্য প্রমাণ কতটা আছে।

এআই নাও ইনস্টিটিউটের প্রধান বিজ্ঞানী ও ওপেনএআইয়ের সাবেক নিরাপত্তা প্রকৌশলী হেইডি খলাফ বলেন, বৈজ্ঞানিক দাবির ক্ষেত্রে তা প্রমাণ বা ভুল প্রমাণ করার সুযোগ থাকা জরুরি। তার মতে, কোনো দাবি যদি পরীক্ষাই করা না যায়, তাহলে সেটি বৈজ্ঞানিক যুক্তির বদলে ধর্মীয় বিশ্বাসের মতো হয়ে যেতে পারে।

প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে দেবে?

মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হওয়ার সম্ভাব্য একটি দৃশ্যপট হিসেবে এআইয়ের মাধ্যমে জৈব অস্ত্র তৈরির কথা বলা হয়।

এআই ফিউচারস প্রজেক্টের গবেষক ও এমআইআরআইয়ের সাবেক কর্মী থমাস লারসেন মনে করেন, অত্যন্ত শক্তিশালী কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষকে প্রভাবিত করে প্রাণঘাতী ভাইরাস তৈরিতে সহযোগিতা করাতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে গবেষকরা পরীক্ষাগারে ভাইরাস ও বিষাক্ত পদার্থ নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে অনেক বেশি বুদ্ধিমান ও কৌশলী কোনো এআই মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে ভাইরাস তৈরি ও ছড়িয়ে দিতে কাজে লাগাতে পারে—এমন সম্ভাবনা কল্পনা করা কঠিন নয়।

নেট সোয়ারেস আরও চরম একটি সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তার মতে, ভবিষ্যতের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম কোনো এআই মানুষের সরাসরি সহায়তা ছাড়াই কোনো স্বয়ংক্রিয় জৈব গবেষণাগারে নিজস্ব জীবসত্তা তৈরির চেষ্টা করতে পারে।

তবে এআই দিয়ে একটি মহামারি সৃষ্টিকারী ভাইরাস তৈরি করা কেবল বড় কোনো ভাষাভিত্তিক মডেলকে প্রাণঘাতী ভাইরাসের নকশা তৈরি করে দিতে বলার মতো সহজ বিষয় নয়।

কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেশিন লার্নিংয়ের অধ্যাপক এরিক জিং বলেন, জৈবপ্রযুক্তির কাজ অত্যন্ত জটিল। তিনি বিষয়টিকে নির্দেশনা ছাড়া লেগো দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরির সঙ্গে তুলনা করেন। ভাইরাস তৈরির ক্ষেত্রে জিনগত ক্রম, তাপমাত্রা, পরিবেশ ও বিভিন্ন ধাপের সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন। একটি ধাপে ভুল হলেই পুরো প্রক্রিয়া ব্যর্থ হতে পারে।

জিংয়ের মতে, রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেটে পাওয়া গেলেও সেগুলো দিয়ে বাস্তবে অস্ত্র তৈরি করা সহজ নয়। কারণ বিদ্যমান আইন, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব উপকরণ ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর নজর রাখে।

রোবট দিয়ে মানুষ হত্যা?

আরেকটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট হলো স্বয়ংক্রিয় রোবটের মাধ্যমে মানুষের ওপর হামলা।

সোয়ারেস মনে করেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যদি স্বয়ংক্রিয় রোবট নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও কারখানা তৈরি করতে পারে এবং সেই কারখানা ব্যবহার করে আরও রোবট বানাতে শুরু করে। তখন এগুলো এক ধরনের নতুন ‘যান্ত্রিক জীবনব্যবস্থা’ হয়ে উঠতে পারে বলে তার আশঙ্কা।

তবে বাস্তবে এখনো এমন প্রযুক্তি দেখা যায়নি। উদাহরণ হিসেবে ইলন মাস্কের টেসলার অপ্টিমাস রোবটের কথা বলা হয়েছে। রোবটটি ব্যাপকভাবে বাজারে আনার ক্ষেত্রে ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এখনো সাফল্য আসেনি। ফলে লাখ লাখ রোবট তৈরি হয়ে নিজেদের মতো করে আরও রোবট তৈরির একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার পরিস্থিতি এখনো অনেক দূরের বিষয়।

পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নেবে?

মানবজাতি ধ্বংসের আরেকটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রের কথাও আসে। প্রশ্ন হলো, এআই কি কোনোভাবে এসব অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে?

হেইডি খলাফ বলেন, পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সাধারণত ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন বা ‘এয়ার-গ্যাপড’ থাকে। ফলে কোনো এআই ব্যবস্থার জন্য সরাসরি এসব স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কঠিন।

তিনি উদাহরণ হিসেবে স্টাক্সনেট কম্পিউটার ওয়ার্মের কথা উল্লেখ করেন। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষতি করতে সক্ষম এই ম্যালওয়্যারটি সেখানে প্রবেশ করাতে শারীরিকভাবে একটি ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহার করতে হয়েছিল।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হারবার্ট লিনের মতে, এআই নিয়ে যারা মানবসভ্যতা ধ্বংসের আশঙ্কা করছেন, তাদের অনেকেরই পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা বা উদ্বেগ নেই। তার মতে, পারমাণবিক যুদ্ধের মতো অস্তিত্বগত হুমকিতে এআই কিছু ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু বাস্তব বস্তুগত ঝুঁকির মূল উৎস এখনো পারমাণবিক অস্ত্র নিজেই।

‘নিজেকে নিজে উন্নত’ করা এআই নিয়েই বড় ভয়

এআই নিয়ে সবচেয়ে বড় আশঙ্কাগুলোর একটি হলো ‘রিকার্সিভ সেল্ফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বা নিজেকে নিজে ক্রমাগত উন্নত করার সক্ষমতা।

এ ধারণা অনুযায়ী, কোনো এআই যদি মানুষের সহায়তা ছাড়াই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তাহলে একপর্যায়ে সেটি এমন কৌশল ও প্রযুক্তি তৈরি করতে পারে, যা মানুষের পক্ষে আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়।

সোয়ারেসের মতে, এআই মানুষের পারমাণবিক অস্ত্র দখল করবে—এটাই মূল আশঙ্কা নয়। বরং ভয় হলো, এমন কোনো এআই তৈরি হতে পারে, যার পারমাণবিক অস্ত্র দখল করারই প্রয়োজন হবে না। সেটি প্রায় শূন্য থেকে শুরু করে নিজেই পারমাণবিক অস্ত্র বা আরও উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

এআইয়ের লক্ষ্য যদি মানুষের সঙ্গে না মেলে?

সোয়ারেসের মতে, অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানববিদ্বেষী না হলেও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

যদি কোনো এআইয়ের লক্ষ্য পূরণে আরও বেশি কম্পিউটার বা সম্পদ প্রয়োজন হয় এবং সেই এআই মানুষের অস্তিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব না দেয়, তাহলে সে এমনভাবে পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে পারে যা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অনুপযোগী হয়ে উঠবে—এমনটাই তার আশঙ্কা।

সম্প্রতি ওপেনএআই তাদের এআই মডেলগুলোর মধ্যে নতুন কিছু ‘মিসঅ্যালাইনমেন্ট’ বা নির্ধারিত লক্ষ্য ও আচরণের মধ্যে অসামঞ্জস্যের ঘটনা শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। এর একটি ঘটনায় পরীক্ষাধীন একটি মডেলকে নিজের কাজের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার নির্দেশ দিতে দেখা যায়।

তবে কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিক জিং মনে করেন, অতি শক্তিশালী ও মানুষের বোধগম্যতার বাইরে থাকা এআইয়ের ওপর নির্ভর করে বিপর্যয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করা অনেকটা অনুমাননির্ভর যুক্তি। নীতি, আইন বা নিয়ন্ত্রণ তৈরির ক্ষেত্রে শারীরিক প্রমাণ, পরিমাপযোগ্য পরিণতি এবং যাচাইযোগ্য তথ্য প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

কেন এআই নিয়ে এত ভিন্নমত?

এআইয়ের সম্ভাব্য বিপর্যয় নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদের একটি কারণ প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।

হারবার্ট লিন বলেন, কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করে সেটিকে নিজের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে দেখা মানুষের জন্য গভীর অভিজ্ঞতা হতে পারে। একটি নিষ্প্রাণ যন্ত্রকে নিজের তৈরি নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করানোর মধ্যে অনেকের কাছে জীবন্ত কিছু সৃষ্টি করার অনুভূতি তৈরি হয়।

এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি দেখেও কেউ কেউ ভবিষ্যতে এর সীমাহীন উন্নতির সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন। সেই উন্নতি শেষ পর্যন্ত বিপর্যয়কর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, বর্তমান প্রযুক্তির বাস্তব সক্ষমতা থেকে মানবজাতির সম্পূর্ণ বিলুপ্তির মতো একটি চূড়ান্ত পরিণতিতে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী ধাপগুলো কী এবং সেগুলোর পক্ষে পরীক্ষাযোগ্য প্রমাণ কোথায়?

ফলে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে কি না—এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনো নেই। আশঙ্কাকারীরা সম্ভাব্য বিভিন্ন পথের কথা বলছেন, কিন্তু এসব পরিস্থিতি বাস্তবে কীভাবে ঘটবে, তার অনেকটাই এখনো অনুমাননির্ভর। আর এ কারণেই এআইয়ের অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি ও গবেষণা মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

কিছুই বদলায়নি, একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দি-ফিকির চলছে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমার এই চার-পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি! যারা ঘুষ খেত তারা একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দি-ফিকির করছে, একইভাবে যারা আটকে দিতো ভালো একটা কাজকে—আটকে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কথাগুলো বলছি অনেক কষ্টে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চব্বিশের আন্দোলনে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘অনেক প্রাণ গেছে। আমাদের সন্তানেরা, আমাদের ছেলেরা…মুগ্ধের আপন ভাই, তার প্রতি মুহূর্তে মনে পড়বে যে আমার ভাইটা চলে গেছে। আমরা ছবিটা দেখলাম যে, মা এখনো ভুলতে পারছে না। ভাবছে যে, বোধ হয় ছেলে এখনই চলে আসলো…ছেলে তো গেছে চলে! সেদিন পার্লামেন্টে একজন নারী এমপি তার সন্তানকে তিনি হারিয়েছেন, তিনিও বলছিলেন যে আই হ্যাভ লস্ট মাই সান। অনেক মূল্য দিতে হয়েছে, বহু মূল্য।’

‘আমরা যদি এই মূল্য দেওয়াটাকে ধারণ করতে না পারি, সেটাকে সামনে রেখে যদি পরিবর্তনের চেষ্টা না করতে পারি তাহলে তো মায়ের এই অশ্রুধারা, এই রক্তস্রোত এমনি এমনিই হারিয়ে যাবে। কথাগুলো বলছি অনেক কষ্টে। আমার এই চার-পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি! যারা ঘুষ খেত তারা একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দি-ফিকির করছে, একইভাবে যারা আটকে দিতো ভালো একটা কাজকে—আটকে দিচ্ছে। ভোল পাল্টাচ্ছে, পাল্টে দিয়ে চলে আসছে। ওরাই এখন অনেক বেশি জুলাই যোদ্ধা হয়ে গেছে। এ কথাগুলো আক্ষেপে বলছি। আক্ষেপ বলছি এ জন্য যে, আমার বয়স অনেক। আমি তো সত্যিকার অর্থেই এবার পরিবর্তনটা দেখতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত সেটা আমি দেখছি না আমাদের মধ্যে,’ যোগ করেন তিনি।

ফখরুল আরও বলেন, ‘কিন্তু আশাবাদী হই এই কারণে যে, আমি পরিবর্তন দেখছি একজন মানুষের মধ্যে। সেটা তারেক রহমান সাহেব। তিনি চেষ্টা করছেন, তিনি নতুন নতুন নজির স্থাপন করছেন এবং সেই নজিরকে যদি আমরা সামনে নিয়ে যাই সবাই মিলে, তাহলে আমার মনে হয় যে, হয়তোবা পরিবর্তনটা হবে। অবশ্যই সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মিলে তাকে সমর্থন দেওয়া দরকার।’

‘আমরা খুব আশাবাদী যে, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব। চেষ্টা করে আমরা দেশটাকে সত্যিকার অর্থেই একটা পরিবর্তিত দেশ, একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, মেধাবীদের বাংলাদেশ, তরুণদের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো,’ যোগ করেন তিনি।

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সরকারের

চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর সেবা খাত থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

গতকাল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রকৃত রপ্তানি আয়ের তুলনায় এবার নির্ধারিত লক্ষ্য ১৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম।

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু গত অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে।

শিল্প খাতের নেতাদের মতে, জ্বালানির উচ্চ ব্যয়, প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত মজুতের কারণে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশের ওপর চাপ রয়েছে। তাই রপ্তানি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম।

এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে রেকর্ড ৫২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। তবে এরপর টানা দুই অর্থবছর পণ্য রপ্তানি কমেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব নয়, তবে পরিস্থিতি এখনও অনেকটাই অনিশ্চিত।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সাম্প্রতিক ১০ শতাংশ শুল্ক রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গত অর্থবছরে রপ্তানি দুর্বল ছিল বলে এবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত ১০ দিন ধরে চলা গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ অবস্থায় ১০ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও অর্জন করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে না।

তার ভাষায়, বছরের শেষে ২ থেকে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারলেও রপ্তানিকারকেরা সন্তুষ্ট থাকবেন।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী এম মাসরুর রিয়াজও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং বৈশ্বিক চাপ—দুই কারণেই নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খাতভিত্তিক রপ্তানি লক্ষ্যের বিস্তারিত তুলে ধরেননি। তবে তিনি বলেন, রপ্তানি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

সরকারের আশা, ব্যবসায় সহায়ক প্রণোদনা, বাজেটের সহায়তা এবং নির্বাচিত সরকার আসার পর নীতিগত স্থিতিশীলতা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হবে।

মন্ত্রী বলেন, নতুন বাণিজ্য চুক্তিগুলোও রপ্তানি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সই হতে পারে।

এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে জাপানের সঙ্গে সই হওয়া একই ধরনের চুক্তি সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে অনুমোদনের পর কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বছর শেষ হওয়ার আগেই অন্তত ছয়টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি) এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বাংলাদেশের আবেদনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ফলে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে যেতে পারে। এতে বাংলাদেশ ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে পারবে।

মন্ত্রী বলেন, এতে ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি হবে। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিল্পে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে এটি রাতারাতি সম্ভব নয়।

গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার আরও দুটি ভাসমান এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) সংগ্রহ করছে।

মন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি কমার পেছনে দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতিও দায়ী ছিল।

তার মতে, এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে থাকায় নীতিগত স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে, যা পণ্য ও সেবা—উভয় খাতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

‘সবই টাকার খেলা,’ বললেন মিশর কোচ

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েও শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের শিকার হয়েছে মিশর। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ফারাওদের। এমন হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পর রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বললেন, সবই টাকার খেলা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ হাসান বলেন, ‘সবকিছুই টাকার খেলা। তারা চায় মেসি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। ফুটবলে মাঠের বাইরেও স্বার্থের কারণে অনেক কিছু ঘটে। যা ঘটেছে, তা অন্যায্য। মিশরেরই পরের পর্বে ওঠা উচিত ছিল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমরাই ছিলাম ভালো দল।’

এমনকি রাগে আর বিশ্বকাপ খেলাই দেখবেন না এই কোচ, ‘আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি এবং বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ দেখব না। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা মোটেও ন্যায়সঙ্গত নয়। আমরা একটি পেনাল্টি পাওয়ার কথা ছিল, একটি গোলও বাতিল করা হয়েছে। কেন বাতিল করা হলো, আমি জানি না।’

ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকো গোল করলেও ভিএআরের পর বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগে সেটি বাতিল করা হয়। এছাড়া ম্যাচের শেষদিকে হামদি ফাথির ওপর ফাউলের অভিযোগে পেনাল্টির দাবিও জানায় মিসর। কিন্তু রেফারি সেটি নাকচ করে দেন। এরপরই পাল্টা আক্রমণে ৯২তম মিনিটে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনা।

হাসানের মতে, ম্যাচের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত, ‘আমাদের গোলগুলো ভুল থেকে হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন যারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। আমরা যেটা প্রাপ্য ছিল, সেটা পাইনি।’

পরাজয়ের হতাশা লুকাননি মিশর কোচ, ‘আমি এমন একজন মানুষ, যে হার একেবারেই পছন্দ করে না। আর আজকের মতো অন্যায্য পরাজয় হলে সমর্থকদের শুধু বলতে পারি, দয়া করে হতাশ হবেন না। আমরা তাদের আরও আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম।’

তবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘যা আমাকে আনন্দ দিয়েছে, তা হলো খেলোয়াড়রা ম্যাচ পরিকল্পনা দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। তারা অসাধারণ পরিশ্রম করেছে।’

সাধারণত রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা মিশর এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল। সেই কৌশলেই তারা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। বিরতির আগে গোলরক্ষক মোস্তফা শুবাইরের একের পর এক দুর্দান্ত সেভও দলকে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে।

দেশীয় লিগের খেলোয়াড়দের নিয়েও বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারায় গর্বিত হাসান, ‘আমাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই মিশরের ঘরোয়া লিগে খেলে। অন্য অনেক দলের ফুটবলার ইউরোপে পেশাদার পরিবেশে খেলেন। তারপরও মোহামেদ সালাহ ও ওমর মারমুশ ছাড়া প্রায় পুরোপুরি দেশীয় লিগের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা সবার সঙ্গে সমানভাবে লড়েছি। এতে আমি খুবই সন্তুষ্ট।’

 

নানির বাগানবাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কারিনা

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে নিজের নানির বাগানবাড়িতে আজ সোমবার সকালে তার দাফন হয়।

গতকাল রোববার  ঢাকায় সব আনুষ্ঠানিকতা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাতেই কারিনার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গজারিয়ায়।

কারিনা কায়সার ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ ও লোপা কায়সার দম্পতির মেয়ে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও কারিনা সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এর পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে চরকির ওয়েব ফিল্ম ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চেন্নাইয়ের ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তার লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু হঠাৎ তার রক্তচাপ কমে গেলে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৫ মে নিভে যায় তার প্রাণ প্রদীপ। 

মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের, অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ফাইটার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে তাসনিম জানিয়েছে, দুই আসনবিশিষ্ট ওই যুদ্ধবিমানকে ‘টার্গেট করে ভূপাতিত করা হয়েছে’। তবে ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে তা উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ দাবিকে অস্বীকার করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক এক্স পোস্টে জানিয়েছে, ‘বুধবার ভোরে ইরানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ভিত্তিহীন এবং অসত্য।’