25 C
Dhaka
Home Blog

হলে হলে ছুটছেন ঈদের সিনেমার তারকারা

ঈদের প্রেক্ষাগৃহে এখন শুধু কেবল নয়, একেকটি হলে যেন ছোটখাটো উৎসব। মুক্তির দিন থেকেই তারকা, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের আনাগোনায় জমে উঠেছে দেশের মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো। দর্শকের সঙ্গে সরাসরি দেখা, প্রতিক্রিয়া জানা আর হলে হলে প্রচার, সব মিলিয়ে ঈদ সিনেমার প্রচারণা এখন একেবারেই হলভিত্তিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।

এবার ঈদে দেশের ১৮১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আটটি সিনেমা। এর মধ্যে আছে রকস্টার, রইদ, মালিক, মাসুদ রানা, অফিসার, তছনছ ও পিনিক। ঈদের প্রথম সপ্তাহজুড়ে সিনেমার তারকা ও টিমের সদস্যরা ছুটে যাচ্ছেন এক হল থেকে আরেক হলে।

শাকিব খান অভিনীত রকস্টার মুক্তির পর থেকে আলোচনায় আছে। দেশের ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে সিনেমাটি। স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রথম দিনে ১৮টি শো থাকলেও পরদিন তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬টিতে।

সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশো এবং অভিনেত্রী সাবিলা নূর ও তানজিয়া মিথিলা বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে দর্শকের সঙ্গে দেখা করছেন।

পরিচালক আজমান রুশো দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এই সিনেমায় প্রচলিত অ্যাকশন বা আইটেম গান নেই। আমরা দর্শকদের নতুন গল্প দিতে চেয়েছি। দর্শকের প্রতিক্রিয়া বুঝতে আরও সময় লাগবে।’

অ্যাকশননির্ভর গল্প নিয়ে তৈরি মালিক দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে আলাদা আগ্রহ। সাইফ চন্দন পরিচালিত এই সিনেমাটি দেশের ৩২টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে। অনেক শো-ই ইতোমধ্যে হাউজফুল।

সিনেমাটির প্রচারে অংশ নিয়ে অভিনেতা আরেফিন শুভ বলেন, ‘ঈদের সময় মানুষ যে ধরনের সিনেমা দেখতে চায়, মালিক ঠিক সেই ধরণেরই—অ্যাকশন, প্রেম আর বিনোদনের মিশ্রণ। আমাকে এমন লুকে আগে কেউ দেখেনি।’

তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত রইদ ঈদের দিন থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। বিভিন্ন হলে গিয়ে টিম সদস্যরা দর্শকের প্রতিক্রিয়া নিচ্ছেন। বেশ কিছু শো ইতোমধ্যেই হাউজফুল হওয়ায় সিনেমাটির আলোচনা আরও বেড়েছে।

ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত বনলতা সেন মাল্টিপ্লেক্সে চলছে আটটি প্রেক্ষাগৃহে। প্রতিদিনই একাধিক শো হাউজফুল যাচ্ছে।

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন খাইরুল বাসার, গাজী রাকায়েত, সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়তী উর্বি, রুপন্তি আকিদ, শরীফ সিরাজ ও সুমাইয়া খুশি। তারকা ও কলাকুশলীরা নিয়মিত প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।

সৈকত নাসির পরিচালিত মাসুদ রানা এবার ঈদে মাল্টিপ্লেক্সে চারটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটির টিমও নিয়মিত হলে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। কিছু শো ইতোমধ্যেই হাউজফুল হওয়ায় দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে।

এতে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা, পূজা চেরি ও সৈয়দা তিথি অমি। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়া।

ঈদের এই সিনেমা উৎসবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এখন প্রচারণার ধরনে। শুধু ট্রেলার বা পোস্টার নয়—এখন তারকারা নিজেই যাচ্ছেন দর্শকের কাছে, হলের ভেতরে, পর্দার সামনে। দর্শকও পাচ্ছেন সরাসরি তারকাদের কাছ থেকে সিনেমার গল্প শোনার সুযোগ।

ভারতের আসামে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২ পাইলট নিহত

ভারতের আসাম রাজ্যে সুখোই এসই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দুই পাইলট নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ)।

আজ শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল এবং বৃহস্পতিবার আসামের কার্বি আংলং এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থলটি জোড়হাট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে।

দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত দুই পাইলট হলেন স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গাকর।

বিমানবাহিনী এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানায়, সুখোই–৩০ দুর্ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গাকর নিহত হয়েছেন। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সব সদস্য শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুখোই এসই-৩০ এমকেআই দুই আসনের বহুমুখী দীর্ঘপাল্লার যুদ্ধবিমান। এটি তৈরি করেছে রুশ কোম্পানি সুখোই। পরে ভারতের হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের লাইসেন্সের অধীনে ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য তৈরি করা হয়।

বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে ২৬০টির বেশি সুখোই এসই-৩০ এমকেআই আছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুনে নাশিক জেলায় এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে গোয়ালিয়র বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর সুখোই–৩০ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় কবলে পড়েছিল।

স্থগিত ফ্লাইটের সময়সূচি আগেভাগেই জানানো হবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী

ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি পুনরায় নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়েই নতুন সূচি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আজ রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইরানে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গতকাল বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের প্রায় ৫৪টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেরও কিছু রুটের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা আজ থেকে পুনরায় ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করেছি।

সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ফ্লাইটের সময়সূচি সমন্বয় করা হচ্ছে জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরও বলেন, গতকাল বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন। ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীরা যেন ভোগান্তিতে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় যোগাযোগও বজায় রাখা হয়েছে।

পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইটের সময় চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির আর অবনতি না হলে স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলো আগামীকালের মধ্যে চালু করে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন উল্লেখ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, যাত্রীরা যেন কোনো সমস্যায় না পড়েন, সেজন্য নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রমজান মাসে ইফতারের ব্যবস্থাসহ যাত্রীদের সেবার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন বিমানবন্দরে আসার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি বা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফ্লাইটের সঠিক সময় জেনে নেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বিমানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বেবিচক চেয়ারম্যান সার্বক্ষণিক উপস্থিত রয়েছেন। কোনো যাত্রী যেন সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেজন্য সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফ্লাইটগুলোর পুনঃসূচি এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পান বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি সংঘাত আর না বাড়ে তবে সেটি ভালো। কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

আইসিটি প্রসিকিউটররা কি সাংবাদিকদের প্রশ্নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে পারেন?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) যে পরিমাণ ব্যক্তি গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই বৈধ জবাবদিহির চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বেশি চোখে পড়ছে। তার মধ্যে একটি ঘটনা অনেক বেশি প্রকাশ্য রাজনৈতিক বলে মনে হয়। সেটি হলো, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত তিন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ও মন্তব্য করায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

এই অভিযোগে তাদের আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে গত ৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ রয়েছে। এর আগে, ১৭ আগস্ট তামীম এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। যে বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের রাজাকার, রাজাকারের বাচ্চা বলেছিলেন, রাজাকারের নাতি-পুতি বলেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন করা বা সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করাই হলো সাংবাদিকদের দায়িত্ব। কিন্তু আমরা ওই পিরিয়ডে দেখেছি যে কিছু নির্দিষ্ট সাংবাদিক তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতেন এবং তারা যে বক্তব্যগুলো দিতেন, সেগুলো আসলে কোনো প্রশ্ন ছিল না, সেগুলো ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা এবং তাকে দিয়ে কিছু কথা বলানোর জন্য কিছু উসকানিমূলক প্রস্তাব। যে কারণেই এই অফেন্সগুলো কমিটেড হয়েছে।’

প্রসিকিউশনের লিখিত ‘প্রাথমিক অভিযোগে’ আরও কিছুটা বিস্তারিত উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের ‘উসকানি’র কারণেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল।

প্রসিকিউটররা কেন এমন ভুল করছেন, সেই ব্যাখ্যায় যাওয়ার আগে এটি স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ যে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শত শত আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছিল। এসব হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রমাণের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে যথাযথ মামলা হতে পারে।

কিন্তু ১৪ জুলাইয়ের ওই সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটেছিল, এই সাংবাদিকরা যা বলেছিলেন, তার কিছুই এমন অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তারের বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি তৈরি করে না। তারপরও এমন কিছু করার অর্থ হলো, আইনের ভুল প্রয়োগ ও ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার অপব্যবহার।

আইসিটির প্রসিকিউটররা যা করছেন তা থেকে এই ধারণায় পৌঁছাতে হচ্ছে যে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে সাংবাদিকদের যেকোনো কাজ বা বক্তব্যকে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে—তা অপরাধমূলক আচরণের পর্যায়ে পড়ুক বা না পড়ুক। এর মাধ্যমে প্রসিকিউটররা স্পষ্টতই নির্ধারিত পরিসরের বাইরে গিয়ে আইনের প্রয়োগ করছেন।

এই সাংবাদিকরা সেদিন কী বলেছিলেন?

ভোরের কাগজের তৎকালীন সম্পাদক শ্যামল দত্ত ওই সংবাদ সম্মেলনে কোনো প্রশ্নই করেননি। তারপরও প্রসিকিউটররা তাকে কেন আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সেটা এক রহস্য।

একাত্তর টিভির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু তিনটি মন্তব্য করেছিলেন। সেগুলোকে আসলে প্রশ্ন বলা যায় না। এর মধ্যে শুধু প্রথমটি আন্দোলন নিয়ে ছিল। বাকি দুটি ছিল গণমাধ্যমে হাসিনার চীন সফরের সময় সম্পাদিত চুক্তিগুলো নিয়ে কাভারেজ ও শিক্ষকদের পেনশন আন্দোলন নিয়ে।

তিনি বলেছিলেন, আন্দোলনকারীরা ‘সংবিধানবিরোধী’ এবং ‘প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে (মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা করছে, অথবা) তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে’, আর ‘তারা আমাদের কোমলমতি তরুণদের আদালতবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, সংবিধানবিরোধী করে তুলছে।’ তবে তিনি শেষে বলেন, ‘এই (তরুণরা) আসলে ভুক্তভোগী। আমরা তাদের ওপর রাগ করতে পারি না। তারা অপবুদ্ধিজীবীদের অপকৌশলের শিকার। আমাদের তাদের মুক্ত করতে হবে।’

কেউ এই মতের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার না-ও হতে পারেন। কিন্তু, তারপরও এটি একটি গ্রহণযোগ্য মতামত এবং একটি মন্তব্যে তো আন্দোলনরত তরুণদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

একাত্তর টিভির সাংবাদিক ফারজানা রূপা একটি প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়া ১৯৭১ সালের এক মুক্তিযোদ্ধার দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তার স্ত্রী ক্যানসার আক্রান্ত, তার নিজের স্বাস্থ্যও খুব খারাপ। কিন্তু চিকিৎসার টাকা নেই। এই আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা এখন পর্যন্ত। এবং তাদেরকে উদ্দেশ্য করে প্রতিনিয়ত অবমাননাকর বক্তব্য রাখা হচ্ছে। ঠুস-ঠাস কোটা থেকে শুরু করে, নিশ্চয়ই আপনার নজরে এসেছে। তিনি তার ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা বলার সাথে সাথে গণমাধ্যমে দেখেছেন যে আজকে আপনার সংবাদ সম্মেলন, এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এই অবমাননা তারা সহ্য করতে পারছেন না।’

এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কিছু করণীয় এই রাষ্ট্রের আছে কি না?’

তিনি শেষে বলেন, ‘যারা কোটা সংস্কার আন্দোলন করছেন, তারা সব সমাধান আপনার কাছে চান। তারা আদালতের পথে যেতে চান না। এবং সমাধান নির্বাহী বিভাগের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা রাখবেন না কোটা রাখবেন না?’

কেউ এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত না-ও হতে পারেন। কিন্তু, এমন একটি প্রশ্ন সংবাদ সম্মেলনে করা যায়। এতে সহিংসতার আহ্বান বা উসকানি কোনোটিই নেই। আইসিটির প্রসিকিউটররা যদি অন্য কিছু মনে করেন, তাহলে বাংলাদেশে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা যেকোনো সাংবাদিকই একইভাবে গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

দীর্ঘ ও প্রসঙ্গান্তরে চলে যাওয়া জবাবের একপর্যায়ে শেখ হাসিনা এমন একটি মন্তব্য করেন, যা পরবর্তী সময়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের মূল পরিচায়ক হয়ে ওঠে। ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন’—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা পাবে না। তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছেও প্রশ্ন। রাজাকারের নাতি-পুতিরা সব পাবে, মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না। (তাদের) অপরাধটা কী?’

এর অর্থ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল, আন্দোলনকারীরা রাজাকারের নাতি-পুতি, অর্থাৎ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগীদের বংশধর। এর ফলে আরও বড় আকারে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অপমানজনক এই মন্তব্যের জেরে উল্টো স্লোগান দেন, ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার! কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার!’

হাসিনার মন্তব্যটি ছিল উসকানিমূলক ও অপমানজনক এবং এটি এক বিরাট রাজনৈতিক ভুল হিসেবে প্রমাণিত হয়। এর ফলে আন্দোলন আরও জোরালো হয় এবং ব্যাপক জনসমর্থন পায়। কিন্তু হাসিনা যদি আরও এগিয়ে গিয়ে সহিংসতার উসকানিও দিতেন, এমনকি ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’দের ওপর হামলা করতেও বলতেন, তারপরও যে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি সেটা বলতেন, সেই সাংবাদিককে হাসিনার উত্তরের জন্য ফৌজদারি অপরাধে দায়ী করা যেত না। একজন রাজনীতিবিদ কোনো প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেবেন, তার জন্য কোনো সাংবাদিক দায়ী নন।

কাজেই এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এই তিন সাংবাদিককে আটক রাখার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের প্রচেষ্টায় প্রশ্ন উঠছে, আইসিটি প্রসিকিউটরদের গতিপথ ঠিক কোন দিকে। কেননা, আইনস্বীকৃত সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের বিচারে গঠিত একটি ট্রাইব্যুনালে তারা সংবাদ সম্মেলনে করা প্রশ্নকেও সেই পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।

এর আগেই ২০১৩ সালের মে মাসে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই তিন সাংবাদিকের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তি হলো, হত্যাকাণ্ডের পর প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের কারণে তারাও ওই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গণ্য।

সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি, এমনকি রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে করা প্রশ্নকেও যখন নৃশংস অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন নিশ্চিতভাবেই আইসিটি আর কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করছে না। এই আদালত সাংবাদিকতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং প্রসিকিউটরদের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধীদের হয়রানি করার হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
 

বহু বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন ডেভিড বার্গম্যান। এক্সে তার হ্যান্ডল @TheDavidBergman

ভারতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলো রিলসভিত্তিক ফেসবুক নিউজফিড

ভারতে একটি অভিনব ও নতুন লেআউট চালু করেছে ফেসবুক। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি জানানো হয়।

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতে চালু করা লেআউটটি পুরোপুরি ভিডিওভিত্তিক। প্রথাগত নিউজফিডের বদলে ফুল-স্ক্রিন ভিডিও বা ফেসবুকের ভাষায়, রিলস দিয়ে এটি সাজানো হয়েছে।

নতুন লেআউটে ব্যবহারকারীরা অ্যাপে ঢুকে শুরুতেই রিলস দেখতে পাবেন। অন্য ধরনের কনটেন্ট দেখতে ভিন্ন ট্যাবে যেতে হবে।

মেটা জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়াতেও একই লেআউটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তারা চাইলে যেকোনো সময় আগের লেআউটে ফিরে যেতে পারেন। বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করেনি ফেসবুক।

টেকক্রাঞ্চ জানায়, জুলাইয়ে ফেসবুকের প্রধান টম অ্যালিসন প্রথম এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেসব দেশে ভিডিও দেখার প্রবণতা বেশি, সেখানে আরও ভিডিওকেন্দ্রিক নিউজফিড চালুর পরিকল্পনা করছে ফেসবুক।

আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রেও এর একটি সংস্করণ পরীক্ষা করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

মেটার জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে জরিপে অংশ নেওয়া ৯৭ শতাংশ ব্যবহারকারী প্রতিদিন মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভিডিও দেখেন।

আর জেন জি প্রজন্মের ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮৯ শতাংশই রিলস দেখেন।

কোম্পানির নিজস্ব বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে ভারত এখন ফেসবুকের সবচেয়ে বড় বাজার।

গত বছর ফেসবুকের ভিডিওতে বড় পরিবর্তন আনে মেটা। সব ধরনের ভিডিওকে ‘রিলস’-এর আওতায় নিয়ে আসা হয়। শুরুতে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওগুলোকে রিলস বলা হলেও এখন ফেসবুকে ‘ভিডিও’ ট্যাবের বদলে ‘রিলস’ ট্যাবের অধীনে সব ধরনের ভিডিও দেখা যায়।

একই সময়ে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীরা ফেসবুকে কাটানো সময়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ভিডিও দেখেই ব্যয় করেন।

টেকক্রাঞ্চ আরও জানায়, এ ধরনের পরিবর্তনের পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে এর আগেও ভারতকে ব্যবহার করেছে মেটা।

২০২০ সালে দেশটিতে টিকটক নিষিদ্ধ হওয়ার পরপরই ইনস্টাগ্রামে আলাদা রিলস ট্যাব চালুর পরীক্ষা করা হয়। পরে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর ওপর একই ধরনের ভিডিও-প্রধান লেআউট পরীক্ষা করা হয়েছিল।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না: জামায়াত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে যে দ্বিচারিতা করেছে, আমরা সেটা জাতির সামনে আনতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি “জুলাই সনদ” করেছি। সেটির ওপর একটি আদেশ জারি হয়েছে, সেই আদেশের ওপর গণভোটও হয়েছে। কিন্তু সেই গণভোটের রায় বা জনগণের রায় বিএনপি এখনো বাস্তবায়ন করেনি।’

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজ নির্বাচন কমিশন থেকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়িত হতো, তবে আজকের এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলন ঘটত।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রের ধাপে ধাপে মানুষের অধিকার যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আমরা সেটা দূর করতে চাই। এ জন্যই আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা বারবার বলে আসছি, পার্লামেন্টেও (সংসদ) বলেছি এবং পার্লামেন্টের বাইরে আন্দোলন ও কর্মসূচির মাধ্যমেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কিন্তু কেন সরকার সেদিকে যাচ্ছে না, তা আমরা জানি না।’

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘যদি আজ গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হতো, তাহলে ৭০ অনুচ্ছেদটি সংস্কারের আওতায় চলে আসত। এখন যারা ভোটার অর্থাৎ সংসদ সদস্যরা, তারা তো স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। তাহলে একদিকে আপনি তাদের ভোটাধিকার দিয়েছেন, আবার অন্যদিকে সেই অধিকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছেন।’

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে কোনো সংসদ সদস্যকে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিধান রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তার দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি এবং পদমর্যাদাপূর্ণ অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ। এই পদেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে যায়, তাহলে আমরা যে গণতন্ত্র চর্চার কথা বলি, সেটা আর হচ্ছে না। এ জন্যই আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই।’

জয় নিশ্চিত না জেনেও জামায়াত কেন রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত পরশু দিন দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আমরা (জামায়াত) নির্বাচনে অংশ নেব। এখানে জয়-পরাজয় কোনো বিষয় নয়। আমরা মূলত একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে আনতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজি, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর রেয়াত: এনবিআর

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ওপর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর রেয়াত পাবেন।

২০২৬ সালের অর্থ আইনের মাধ্যমে এই প্রণোদনা চালু করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা প্রদেয় করের ৫ শতাংশ পর্যন্ত, তবে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন।

১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো কর রেয়াত পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া ডিসেম্বরের পর রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর হবে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি।

এনবিআর জানিয়েছে, নতুন এই প্রণোদনার উদ্দেশ্য হলো করদাতাদের দ্রুত রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা, স্বেচ্ছায় কর পরিপালন জোরদার করা এবং কর প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করা।

২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ই-রিটার্ন সেবা গত ২২ জুলাই চালু করেছে এনবিআর।

করদাতারা etaxnbr.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন এবং ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং অন্যান্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর পরিশোধ করতে পারবেন।

সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন হলে করদাতারা সঙ্গে সঙ্গে রসিদ (অ্যাকনলেজমেন্ট রিসিপ্ট) এবং আয়কর সনদ ডাউনলোড করতে পারবেন।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় কোনো সমস্যা হলে কর্মদিবসে অফিস চলাকালে এনবিআরের কল সেন্টার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন বলে জানিয়েছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।

ঔপনিবেশিক সম্পর্ক ও ফুটবলের রোমাঞ্চ নিয়ে মুখোমুখি ফ্রান্স-মরক্কো

মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি প্যারিসের বাসিন্দা। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা তিনি। স্পেনে জন্মানো হাকিমি প্যারিসে বাস করলেও খেলেন শেকড়ের দেশ মরক্কোর হয়ে। মরক্কো দলে আছেন ফ্রান্সে জন্মানো একাধিক ফুটবলার, মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি যেমন খেলতেন ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলেও।  এক সময় মরক্কো ছিল ফ্রান্সের অধীনে। এই ম্যাচের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে রয়েছে দুই দেশের উত্তর-ঔপনিবেশিক সম্পর্ক—এখনো দুই রাষ্ট্র নানাবিধ সম্পর্কে জড়িত। এমন বাস্তবতার মাঝে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে ও আশরাফ হাকিমিরা।

বোস্টনে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে তারা। এটি এমন দুটি দেশের মধ্যকার সাক্ষাৎ যাদের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য, কিন্তু যাদের ফুটবলার এবং সমর্থকেরা প্রায়শই অভিবাসন, ভাষা, পরিবার এবং বন্ধুত্বের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।

১৯১২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত মরক্কো ফরাসি সুরক্ষিত রাষ্ট্র (প্রটেক্টরেট) ছিল। শিক্ষা, ব্যবসা ও অভিবাসনের মাধ্যমে দেশ দুটি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছে এবং ফুটবল এই সম্পর্কের অন্যতম স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হয়ে উঠেছে।

মরক্কো দলের ছয়জন সদস্য ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেছেন, আরও কয়েকজন ফরাসি শীর্ষ লিগে খেলেন। মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা অনেকেই খেলেছেন ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক ফুটবল ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে।

তরুণ আইয়ুব বুয়াদ্দি এই ওভারল্যাপিং সম্পর্কের অন্যতম স্পষ্ট উদাহরণ। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এবং লিলেতে বেড়ে ওঠা বুয়াদ্দি মরক্কোকে বেছে নেওয়ার আগে ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। তিনি এমন এক দ্বৈত ফুটবলীয় পরিচয়ের প্রতীক, যা এই ম্যাচটিকে একটি বিশেষ তাৎপর্য দেয়।

দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ফুটবলের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তি। আরেকটি বিশ্বকাপের খোঁজে থাকা একটি দলের কাছ থেকে যেমন টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণভাগের প্রতিভা আশা করা হয়, তাদের সেটি রয়েছে। অন্যদিকে, মরক্কো এসেছে এমন একটি দলের আত্মবিশ্বাস নিয়ে, যারা হিসেব-নিকেশ বদলে দিতে অভ্যস্ত। চার বছর আগে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও খেলেছে তারা।

২০২২ সালেও নকআউটে মুখোমুখি হয়েছিল তারা। সেবার মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

পুনরায় মুখোমুখি হওয়ার এই লড়াইয়ের জন্য বোস্টন এক কৌতূহলোদ্দীপক পরিবেশ তৈরি করেছে। ফরাসি শহরগুলোর তুলনায় এখানে মরক্কোর সম্প্রদায় আকারে ছোট এবং কম দৃশ্যমান। তবে বৃহত্তর মেট্রোপলিটন এলাকায় তারা সুপ্রতিষ্ঠিত, যেখানে মরক্কো বংশোদ্ভূত বাসিন্দারা পরিবার, শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন।

সেই সমর্থকদের জন্য এই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি কেবল একটি ঘরকে দুই ভাগে ভাগ করে দেবে না।

৫৭ বছর বয়সী ট্যাক্সি চালক মোহাম্মদ সাদি বলেন, ‘কেউ কেউ একই ভবনে বাস করেন। ফরাসি এবং মরক্কোবাসীরা একসঙ্গে খেলা দেখবেন এবং শেষে একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করবেন।’

‘এখানে কোনো উত্তেজনা নেই। ফুটবল একটি পারিবারিক বিষয় এবং ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচটিও এর ব্যতিক্রম হবে না। বরং এর উল্টোটিই হবে।’

বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগে বোস্টন কমনে এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ১,০০০-এর বেশি ভক্ত সমবেত হয়ে ‘দিমা ল-মাগরিব’ (সবসময় মরক্কো) গেয়েছেন এবং পতাকা উড়িয়েছেন।

৩৬ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইউসেফ বেনানি বলেন, ‘আমি ফিনল্যান্ড থেকে এসেছি।’

‘আমি মরক্কোর সব ম্যাচে উপস্থিত ছিলাম এবং এখানকার পরিবেশ সবচেয়ে সেরা। আমি অনেক মরক্কোবাসীর সঙ্গে দেখা করেছি, কিছু ফরাসি মানুষের সঙ্গেও দেখা হয়েছে। আগামীকাল এখানে একটি বড় উৎসব হতে যাচ্ছে।’

মরক্কোর এই অগ্রগতি ম্যাচের ধরন বদলে দিয়েছে। তারা এখন আর কেবল ২০২২ সালের সেই চমকপ্রদ ‘আন্ডারডগ’ দল নয়; বরং এমন এক দল যাদের সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা, খেলোয়াড় তৈরি করার ব্যবস্থা এবং ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তিদের চ্যালেঞ্জ করার মতো আত্মবিশ্বাস রয়েছে।

 

‘আনন্দমেলা’র উপস্থাপনায় আফরান নিশো

ঈদ উপলক্ষে বর্ণিল আয়োজনে সাজানো হয়েছে বিটিভি বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’। ঈদের দিন রাত ১০টায় অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে। এবারের ‘আনন্দমেলা’ উপস্থাপনা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো।

অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা হাজির হবেন ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেও না’ গানটি নতুনভাবে নিয়ে। অন্যদিকে ‘কাল সারারাত ছিল স্বপ্নের রাত’ গানটি পরিবেশন করেছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। এই গানের সঙ্গে কোরিওগ্রাফিতে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী চাঁদনী এবং শাওন।

অনুষ্ঠানে আরও গান পরিবেশন করেছেন বর্ষীয়ান শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। এ ছাড়া ‘কৃষ্ণচূড়া’ শিরোনামের একটি নতুন গান নিয়ে হাজির হবেন জনপ্রিয় দুই কণ্ঠশিল্পী ন্যান্‌সি ও ইমরান।আনন্দমেলা

এবারের আনন্দমেলায় ‘রূপনগরের রাজকন্যা’ সেজে নৃত্য পরিবেশন করবেন সাদিয়া ইসলাম মৌ। আর ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ গানের সঙ্গে নাচবেন মেহজাবীন চৌধুরী ও সাবিলা নূর। পুরো নাচের পর্বটি পরিচালনা করেছেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানের নানা পর্বে অংশ নিয়েছেন অভিনয়শিল্পী ফারহান আহমেদ জোভান, খায়রুল বাশার, কেয়া পায়েল, আতিয়া আনিসা, জেফার রহমান, ফররুখ আহমেদ রেহান, আবু হেনা রনি, ফারুক আহমেদ, শামীম জামান ও মুকিত মোহাম্মদ জাকারিয়া।

এবারের ‘আনন্দমেলা’ প্রযোজনা করেছেন আফরোজা সুলতানা, মো. হাসান রিয়াদ, ইয়াসির আরাফাত ও ইয়াসমিন আক্তার।

প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের বৈঠক কেন, অস্ত্রের মজুতে টান পড়েছে?

ইরানে হামলা ও সাম্প্রতিক অন্যান্য সামরিক অভিযানে ফুরিয়ে আসা অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র।

এজন্য দ্রুত অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের নির্বাহীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অস্ত্রের মজুত দ্রুত পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন জরুরি এই বৈঠক ডেকেছে বলে মনে হচ্ছে।

রয়টার্স বলছে, হোয়াইট হাউসের এই বৈঠকের সময় প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট প্রস্তাবও উত্থাপন করা হতে পারে, যা অস্ত্রের ঘাটতি পূরণে ব্যয় করা হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান কতদিন চলবে তার ওপর নির্ভর করে এই অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

কেননা বর্ধিত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টরসহ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।