29.1 C
Dhaka
Home Blog

৪৮ বছরে বিএনপি: ক্ষমতায় এসে ঘর গোছাতেই হিমশিম, তৃণমূলে বাড়ছে অস্থিরতা

দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিএনপি এখনো নিজের দল গোছাতে হিমশিম খাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার দলটি তার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করতে পারেনি তারা। এমনকি দলের কয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিলও সম্পন্ন হয়নি। কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারকদের বড় অংশ এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যস্ত।

অন্যদিকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বেশিরভাগ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এর ঠিক আগে তৃণমূলে আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নানা বিতর্ক সামলে দলকে সুসংগঠিত রাখাই এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট ও নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে দেশ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দল শক্তিশালী করার দিকে বিএনপির সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, বিরোধীরা বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করছে। কিন্তু দল হিসেবে বিএনপিকে মাঠে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের বড় অংশ এখন সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মেতে উঠেছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চাঁদাবাজি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মতো নানা অভিযোগ।

এছাড়া, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাত্র সাত সপ্তাহ আগে দলের মূল কাণ্ডারি খালেদা জিয়ার প্রয়াণ দলকে ঐক্যবদ্ধ করা ও নতুন করে সংগঠিত করার প্রচেষ্টাকে আরও দুর্বল করেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে বিএনপি বড় সমস্যায় পড়তে পারে।

তিনি বলেন, দল ও সরকারের মধ্যে যখন অতিরিক্ত মেলবন্ধন তৈরি হয়, তখন সরকারের সুযোগ-সুবিধা (জনগণের অর্থ, চাকরি ও বিভিন্ন সেবা) নাগরিকদের বদলে দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, কাউন্সিল না হওয়ায় দলের অনেক নেতা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এটা তাদের মধ্যে উপেক্ষিত বা কোণঠাসা হওয়ার অনুভূতি তৈরি করছে। দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাও এ কথা স্বীকার করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করা, গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দেওয়াই এই কমিটির কাজ।

কমিটির ১৮ সদস্যের বেশির ভাগই এখন সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন। সম্প্রতি আরও তিনজন যুক্ত হওয়ায় সংখ্যাটি বেড়েছে। কমিটির মাত্র পাঁচজন এখনো সরকারের বাইরে আছেন। তাদের একজন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন।

সরকারের দায়িত্বে থাকা নেতাদের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পাঁচজন মন্ত্রী ও দুজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। আরও দুজন জ্যেষ্ঠ নেতা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার পর দলের পদ ছেড়েছেন। তাদের একজন রাষ্ট্রপতি এবং অন্যজন স্পিকার হয়েছেন। সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে মাত্র চারটি।

দলের নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন সভাপতি হয়েছেন। আর রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনপির আরও অনেক নেতা সরকারের বিভিন্ন পদে যোগ দিয়েছেন। জুন ও জুলাই মাসে দলের বর্তমান ও সাবেক ১৭ নেতাকে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দলের নেতারা দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, নির্বাচনের পর দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়েছেন। দলকে নতুন করে গোছাতে আমাদের কিছুটা সময় লাগছে।

বিএনপি সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা। কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিটি নির্বাচন বা অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব কমিটির মেয়াদও তিন বছর।

দলের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক, আইনি ও সাংগঠনিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। এখন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কাজে বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে।

বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮২টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৭২টিরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অবস্থাও প্রায় একই—১১টি কমিটির মধ্যে নয়টির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপরও কয়েকটি পুরোনো কমিটি দিয়েই চলছে। অনেক সংগঠনের কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়েছে।

হাসানুজ্জামান বলেন, তৃণমূল শক্তিশালী করতে না পারলে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, কাউন্সিল ছাড়া নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় জায়গা করে নিতে পারেন না।

তার মতে, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপিকে সরকারের কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে হবে এবং সরকারের উদ্যোগগুলোকে সমর্থন দিতে হবে।

প্রায় এক দশক আগে বিএনপির গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

একজন নেতা একাধিক পদে থাকলে অন্যদের সুযোগ কমে যায়। এতে দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা দুর্বল হয় এবং নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার পথও বন্ধ হয়ে যায়, বলেন হাসানুজ্জামান।

তৃণমূলেও বিএনপি এখন নানা সমস্যার মুখোমুখি। দলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠছে। কোথাও কোথাও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাতও হচ্ছে। এসব ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, বিএনপি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে এর প্রভাব সরকারের ওপর এসেও পড়বে। এতে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে।

মার্চ ও এপ্রিল মাসে তৈরি করা পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে সারা দেশে এক হাজার ২০০ জন চাঁদাবাজিতে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক দলে যুক্ত ১৯৭ জনের ১৮১ জনই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ আরও ৩২৯ জনকে অভিযুক্ত চাঁদাবাজদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলে যুক্ত ২৭১ জনের ২১৪ জন বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে দলীয় কোন্দলে বিএনপির ১৮ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, ধর্ষণ, ভয়ভীতি দেখানো ও পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

উদাহরণ হিসেবে, মে মাসে রাজশাহীতে ৩০০ বস্তা জিরা লুটের ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। আগস্টে কিশোরগঞ্জে বিএনপির এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে ১১ বছরের বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ৩০ আগস্ট চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদে দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী। একই পদে একাধিক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন। যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিটি পদে একজন করে প্রার্থী দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়ার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে। সেখানে দেখা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রম অনেকটাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচি এবং জাতীয় ও দলীয় বিভিন্ন দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

হাসানুজ্জামান বলেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে দলের ভেতরে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এক দশকের বেশি সময় দেশ শাসন করেছে। এখন দলটির নেতৃত্বে তাদের ছেলে তারেক রহমান।

২০০৭-০৮ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ, সব কিছু সামলে বিএনপি টিকে আছে। শেখ হাসিনার পতনের পর দলটির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দুই রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, বিএনপির প্রতিটি প্রজন্মের সামনে আলাদা দায়িত্ব ছিল। জিয়াউর রহমান দলটি গড়ে তুলেছেন, খালেদা জিয়া প্রতিকূল সময়ে সেটিকে ধরে রেখেছেন। আর তারেক রহমানকে এখন একই সঙ্গে দল ও সরকার, দুটোই সামলাতে হবে।

পণ্য না পাঠিয়েই ২৪ কোটি টাকার ‘ভূতুড়ে’ রপ্তানি

এ বছরের মে মাসে ঈদুল আজহার লম্বা ছুটির আগে অফিসগুলোতে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছিল। এমন সময় নারায়ণগঞ্জের পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আরটি ফ্যাশন কাস্টমসকে জানায়, তারা প্রায় ৮৪ লাখ টাকা মূল্যের পোশাক রপ্তানি করছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট রপ্তানির ঘোষণাপত্র জমা দেয়। এরপর তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইন কাস্টমস ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে নথিভুক্ত হয়।

স্বাভাবিক নিয়মে পণ্য প্রথমে একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) যাওয়ার কথা। সেখানে কাস্টমস কর্মকর্তারা রপ্তানি ঘোষণার তথ্য যাচাই করেন, পণ্য পরীক্ষা করেন এবং কাগজপত্র মিলিয়ে দেখেন।

ছাড়পত্র পাওয়ার পর কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে যাওয়ার কথা। এরপর সেটি জাহাজে তোলা হয়।

আরটি ফ্যাশনের চালানটিও কাস্টমসের ব্যবস্থায় ছাড়পত্র পাওয়া এবং দেশ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত বলে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই, কোনো পণ্যই ছিল না।

নারায়ণগঞ্জের কারখানা থেকে ঘোষিত আইসিডি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডে কোনো পণ্য যায়নি। এমনকি চট্টগ্রাম বন্দরেও কোনো পণ্য পৌঁছায়নি। সরকারি নথি যাচাই করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

তারপরও জাল কাগজপত্র, স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে চালানটিকে রপ্তানি হিসেবে দেখানো হয়।

আরটি ফ্যাশনের ঘটনাটি একমাত্র এমন ঘটনা নয়। দ্য ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানে অন্তত সাতটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ১২২টি চালানে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। কাস্টমস কর্মকর্তা, আইসিডি কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে এখন পর্যন্ত ২৯টি চালানকে ভুয়া রপ্তানি হিসেবে নিশ্চিত করা গেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এসব চালানের ঘোষিত মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

ভুয়া রপ্তানির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আরটি ফ্যাশন, এইচবিএস অ্যাপারেলস, আল গালেব ফ্যাশন লিমিটেড, ডিলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেড, এনএম ফ্যাশন, এনএম নিট ফ্যাশন ও ভূঁইয়া ফেব্রিকস লিমিটেড।

চালানগুলো ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকংয়ে পাঠানোর কথা দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এসব পণ্য নির্ধারিত কোনো ডিপোতেই ঢোকেনি। তারপরও কাগজে সেগুলোকে রপ্তানি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সব কটি ঘটনায় প্রায় একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা শুল্কমুক্ত গুদাম ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো শুল্ক না দিয়েই কাঁচামাল আমদানি করতে পারে। তবে শর্ত হলো, এসব কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানি করতে হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তা ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ভাষ্য, কিছু রপ্তানিকারক এই শুল্কমুক্ত কাঁচামাল বিদেশে রপ্তানি না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছেন। এরপর কাগজে-কলমে ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে এমন একটি ছবি তৈরি করেছেন যে, ওই কাঁচামাল দিয়ে পোশাক তৈরি করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। 

বন্ডেড পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে পণ্যভেদে ৮৯ থেকে ১৫৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও কর দিতে হয়।

কিন্তু ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে ওই টাকা না দিয়েই শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা ধরে রাখা যায়। পাশাপাশি সরকার যে ২ শতাংশ নগদ রপ্তানি প্রণোদনা দেয়, সেটাও নেওয়ার সুযোগ থাকে বলে অভিযোগ।

আরটি ফ্যাশনের রপ্তানি ঘোষণায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার পরই নতুন করে এই ভুয়া রপ্তানির বিষয়টি সামনে আসে।

২৪ মে প্রতিষ্ঠানটি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের মাধ্যমে ২৩ হাজার ৯৯২ কেজি পোশাক রপ্তানির ঘোষণা দেয়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়, কারণ চালানটির মোট ওজন ও পণ্যের নিট ওজন একই দেখানো হয়েছিল।

সাধারণত মোট ওজনের মধ্যে পণ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত প্যাকেজিংয়ের ওজনও থাকে। তাই দুটির ওজন এক হওয়ার কথা নয়।

কাস্টমস কর্মকর্তারা মূল মূল্যায়নসংক্রান্ত কাগজপত্র চাইলে রপ্তানিকারক ঈদের ছুটি ও জাহাজে পণ্য তোলার শেষ সময়ের সুযোগ নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

২৬ মে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তানজিনা জান্নাত আইভি এবং আরও তিন কাস্টমস কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে চালানটি ছাড় করা হয়েছে বলে দেখানো হয়।

তানজিনা জান্নাত আইভি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আরটি ফ্যাশনের চালানসহ অন্তত চারটি চালানে তার ও তার সহকর্মীদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

ছুটির পর কাস্টমস কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই করার সময় দেখেন, চালানটি এরই মধ্যে রপ্তানি হয়েছে বলে নথিভুক্ত হয়ে গেছে।

ডিপোর দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার শুভ্র দেব মন্ডল বলেন, পণ্য জাহাজে তোলার শেষ দিনে কাগজপত্র জমা দিয়ে প্রতারকরা জনবল সংকটের সুযোগ নিয়েছে। ওই দিন কর্মকর্তাদের ওপর দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ ছিল।

২৯টি ভুয়া রপ্তানি চালানের ঘোষণা তিনটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো শাহজালাল এন্টারপ্রাইজ, আলফা টেক্সটাইল লিমিটেড ও বাংলাদেশ শিপিং এজেন্সি।

চালানগুলো দুটি বেসরকারি আইসিডির মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হয়। এগুলো হলো সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড এবং পোর্ট লিংক লজিস্টিকস সেন্টার লিমিটেড।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানির সময় পণ্যের দাম বেশি দেখিয়ে কিছু রপ্তানিকারক বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিয়েছেন। পরে সেই অর্থের লেনদেনকে বৈধ দেখাতেও ভুয়া রপ্তানির কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

দুটি ঘটনাই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একজন কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ যে ভুয়া রপ্তানির ঘটনা ধরা পড়েছে, সেটি হয়তো আরও বড় একটি চক্রের সামান্য অংশ।

ভুয়া রপ্তানির ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার প্রথম এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘চট্টগ্রাম বন্দর: এনবিআরের সার্ভারে ঢুকে ভুতুড়ে রপ্তানি’।

পরে কাস্টমসের তদন্তে দেখা যায়, অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান ১০০টির বেশি ভুয়া রপ্তানি চালানের মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা নিয়েছে।

এরপর ২০২২ সালের এপ্রিলে এ নিয়ে আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখানো হয়, অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান পাঁচ বছরে ভুয়া চালান দেখিয়ে রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ নিয়েছে।

এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। তদন্তে রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

সর্বশেষ গত জুলাইয়ে এই মামলায় ১১ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

দুদকের সূত্র বলছে, এই মামলায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

তদন্ত এখনও চলছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি পরিসংখ্যান কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে যখন দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছে, তখনই নতুন করে এসব ভুয়া রপ্তানির ঘটনা সামনে এল।

২০২৪ সাল থেকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত রপ্তানি তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানির পরিমাণ বেশি দেখিয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

২০২৫ সালের ৩০ জুলাই সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, সরকারি সংস্থাগুলোর রপ্তানি তথ্যের এই পার্থক্য নতুন নয়।

২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ব্যবধান ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আবার ব্যবধান বেড়ে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

এর আগে দুই সংস্থার তথ্য মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ব্যবধান কমেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেও ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি তথ্যের মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য রয়েছে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পণ্যের দামে ছাড়, ক্রেতার অর্ডার বাতিল এবং রপ্তানি আয় দেশে আনতে দেরি হলে দুই সংস্থার তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য হতে পারে। তবে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধান খুবই অস্বাভাবিক। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, বারবার ভুয়া রপ্তানির ঘটনা এবং দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি তথ্যের মধ্যে বড় ব্যবধান—দুটো বিষয়ই বাংলাদেশের রপ্তানি তথ্য ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

আগের ঘটনাগুলোতে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের প্রতারণা বারবার ঘটছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, আগের তদন্ত কমিটিগুলো পুরো অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ফরেনসিক অডিট করার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সেই সুপারিশ কখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম হলো জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনসিটিএডি) উদ্ভাবিত কম্পিউটারাইজড স্বয়ংক্রিয় শুল্ক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি।

তিনি বলেন, সিস্টেমের তথ্য, কে কখন সেটিতে প্রবেশ করেছে এবং কখন কোন তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত প্রকৃত হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন। শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়।

আরটি ফ্যাশনের আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এইচবিএস অ্যাপারেলসের বাণিজ্য ব্যবস্থাপক আবুল খায়ের বলেন, তাদের জানা মতে, প্রতিষ্ঠান থেকে জমা দেওয়া সব কাগজপত্রই আসল।

তিনি বলেন, আইসিডি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। তারা এ বিষয়ে জবাব দেবেন।

আল গালেব ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওয়াব আলী বলেন, ভুয়া রপ্তানি ঘোষণা দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তার প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য ব্যবস্থাপক সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

ডিলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেডের পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না। তিনি তার বাণিজ্য ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখবেন।

পরে তার সঙ্গে আরও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এনএম ফ্যাশন, এনএম নিট ফ্যাশন ও ভূঁইয়া ফেব্রিকস লিমিটেডের সঙ্গে দ্য ডেইলি স্টার যোগাযোগ করতে পারেনি।

তিনটি প্রতিষ্ঠানের চালান পরিচালনা করা শাহজালাল এন্টারপ্রাইজের ইকবাল হোসেনও এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডির কমিশনার আবুল বাশার মো. শফিকুর রহমান বলেন, বছরের প্রথম ছয় মাসের রপ্তানি নথি কাস্টমস যাচাই করছে। দুটি বেসরকারি আইসিডিতে ভুয়া রপ্তানির প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্য ডিপোগুলোতেও তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এই প্রতারণার পুরো চিত্র কতটা বড়, তা বোঝা যাবে বলেও জানান তিনি।

চলমান বিশ্বকাপে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলারের মরদেহ উদ্ধার

চলমান বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলা জাতীয় দলের ফুটবলার জেডেন অ্যাডামস মারা গেছেন। আজ শনিবার সেন্ট্রাল কেপটাউনের একটি বাসা থেকে ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কেপটাউন পুলিশ। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গ্যায়টন ম্যাকেঞ্জি এক বিবৃতিতে অ্যাডামসের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমি গভীর শোকের সাথে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বাফানা বাফানাদের হয়ে চলতি বিশ্বকাপ খেলা ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার জেডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি আমরা। দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল তার অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারকে হারালো। তার পরিবার, সতীর্থ ও লাখো সমর্থক যারা তাকে অ্যাকাডেমি থেকে জাতীয় দলে উঠে আসতে দেখেছে, তাদের পাশাপাশি পুরো জাতি এই ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন’। 

ক্রীড়ামন্ত্রী তার বিবৃতিতে অ্যাডামসের মৃত্যুর কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। মন্ত্রী বলেছেন, ‘জেডেনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমি গণমাধ্যম ও জনসাধারণের প্রতি সংযম ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের অনুরোধ জানাই, এবং কোনো ধরনের জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার আহবান জানাই। যেকোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য যথাসময়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানানো হবে’। 

ওয়েস্টার্ন কেপ পুলিশের মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। 

দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলারদের ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘মামেলোদি সানডাউন্স ও বাফানা বাফানার মিডফিল্ডার জেডেন অ্যাডামসের এই অকাল মৃত্যুতে আমরা বিধ্বস্ত। সে সদ্যই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সাহস, গর্ব ও শৃঙ্খলার সাথে পুরো জাতির আশা নিজের কাঁধে বহন করেছে। তার এই অকাল মৃত্যু তার পরিবার, সতীর্থ, ক্লাব, পুরো ফুটবল বিশ্ব ও দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি’। 

চলমান বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অ্যাডামস। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে বাফানা বাফানাদের শুরুর একাদশে ছিলেন মামেলোদি সানডাউন্সের হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলা এই ফুটবলার। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু নকআউটের ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তার।   

স্টেলেনবশ এফসির হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা অ্যাডামস পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মামেলোদি সানডাউন্সে যোগ দেন। এই ক্লাবের হয়েই তিনি ঘরোয়া লিগ এবং আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছেন। ২০২৪ সালে আফ্রিকা কাপ অব ন্যাশন্সের সেমিফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের সদস্যও ছিলেন অ্যাডামস। 

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার ৫০ শহরে মুক্তি পাচ্ছে ‘রইদ’

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার আন্তর্জাতিক পরিসরে যাত্রা শুরু করছে নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের নতুন চলচ্চিত্র ‘রইদ’। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রায় ৫০টি শহরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। উত্তর আমেরিকায় ছবিটি পরিবেশন করবে বায়োস্কপ ফিল্মস।

বায়োস্কপ ফিল্মসের কর্ণধার রাজ হামিদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমরা প্রবাসী দর্শকদের মধ্যে বাংলা সিনেমার একটি শক্তিশালী দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করতে পেরেছি। ‘রইদ’ আমাদের ৫৫তম চলচ্চিত্র। সিনেমাটিকে অস্কার কোয়ালিফাইং রাউন্ডে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণের চেষ্টা করছি। আর নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের কাজ সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই।

বিদেশে রইদ মুক্তি প্রসঙ্গে নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, আমি কাউকে সিনেমা দেখতে আসতে বলতে পারি না। তবে যারা দেখছেন ও নিজেদের অনুভূতি জানাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। রইদ খুবই সাধারণ একটি সিনেমা। এটি মূলত প্রেমের গল্প। বাকি মূল্যায়ন দর্শকরাই করবেন।

সিনেমাটির অভিনয়শিল্পী নাজিফা তুষি বলেন, এই সিনেমার জন্য আমি দীর্ঘ সময় অন্য কোনো কাজ করিনি। সেই পরিশ্রমের প্রতিফলন পর্দায় দর্শক দেখতে পেয়েছেন। আশা করি আমেরিকা ও কানাডার দর্শকরাও ছবিটি উপভোগ করবেন এবং মুগ্ধ হবেন।

নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের প্রত্যাশা, দেশের মতো প্রবাসী দর্শকদের কাছেও ‘রইদ’ সমানভাবে সাড়া ফেলবে এবং বাংলা সিনেমার আন্তর্জাতিক যাত্রায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করবে।

ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে এখন পর্যন্ত স্থল অভিযান চালানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি তেল আবিব-ওয়াশিংটন। 

তবে আজ রোববার আল জাজিরার প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি বদলেছে। ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান শুরুর কিছু ‘আভাস’ মিলেছে।

সূত্রদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের চলমান অভিযানকে আরও সম্প্রসারিত করতে চাচ্ছে। ইরানের আকাশে আধিপত্য স্থাপন করেই খুশি নন ট্রাম্প। স্থল অভিযানে শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।  

সৈনিকদের ছুটি বাতিল করা হচ্ছে। কিছু পূর্বনির্ধারিত প্রশিক্ষণ মুলতবি করা হয়েছে। পরিবর্তে, নতুন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। 

 

অর্থাৎ, মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে যাতে দ্রুততম সময়ে ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান শুরু হয়, সেটা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, দুই ভাবে মার্কিন স্থল অভিযান শুরু হতে পারে। 

প্রথম প্রক্রিয়াটি প্রথাগত। মধ্যপ্রাচ্য বা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো একটি জায়গায় পাঁচ লাখ সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে অভিযান শুরু হবে। 

তবে অল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এত সেনা মোতায়েন সম্ভব কী না, সেটা দেখার বিষয়।   

অপর বিকল্পটি হলো ইরানের মাটিতে কোনো বিশেষায়িত বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা। এ বিষয়টি আগেও অনেকবার আলোচনায় এসেছে। গত দুই দিনের মধ্যেও মার্কিন কর্মকর্তারা বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত ছিনিয়ে আনার বিষয়ে আলাপ করেন। 

তবে বিভিন্ন কারণে এ মুহূর্তে সেটা সম্ভব নয়। উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটির ওপর ইরানের মুহুর্মুহু হামলা এর পেছনে একটি বড় কারণ।  

এ ধরনের হামলা চলতে থাকলে বিশেষায়িত বাহিনীর অভিযান করা কঠিন হয়ে পড়ে। 

ইতোমধ্যে ইরানের হামলায় কুয়েতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। 

 

তবে নিঃসন্দেহে ইরান প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলের অন্যতম হলো এই সম্ভাব্য স্থল অভিযান। 

গত ৬ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মত দেন, ইরানে এ মুহূর্তে স্থল অভিযান চালানোর কথা ভাবাও সময় নষ্ট। 

তিনি নিশ্চিত করেন, আপাতত স্থল অভিযানের কথা ভাবছেন না তিনি। 

এর আগে, সিএনএনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, মার্কিন সেনার ‘বিকল্প’ হিসেবে ইরানের কুর্দিদের ব্যবহারের পরিকল্পনা এঁটেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। 

কুর্দিরা ইরানের উত্তরাঞ্চল থেকে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে তাদেরকে ব্যস্ত রাখবে। এ সুযোগে দেশটির সাধারণ মানুষ পথে নেমে সরকারের পতন ঘটাবে। 
এমনটাই ভাবছে মার্কিন গোয়েন্দারা। 

তবে শেষ পর্যন্ত স্থল হামলা প্রসঙ্গে কি ঘটে, সেটার উত্তরের জন্য অপেক্ষায় থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই।  

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দনের বিজ্ঞাপন-ব্যানার দ্রুত সরানোর নির্দেশ

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো বিজ্ঞাপন ও ব্যানার দ্রুত সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি এ নির্দেশ দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়ে হাতিরঝিলের পুলিশ প্লাজার সামনে নিজের ছবি সম্বলিত ব্যানার দেখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সেটা তৎক্ষণাৎ সরানো হয়।

দ্য ডেইলি স্টারকে রুমন জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে অভিনন্দনমূলক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করছিল। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, কয়েক দিন আগে বিজয় সরণি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি এলইডি স্ক্রিনে নিজের ছবিসহ অভিনন্দন বার্তা দেখে তিনি সেটিও সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এদিকে, বাজারে মোটা চালের দাম বৃদ্ধির খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেস সচিব জানান, সোমবার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।

রুমন বলেন, মোটা চাল মূলত প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষ খান। এর দাম বাড়ার খবর পাওয়ামাত্রই প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। এর ফলে বাজারে এরই মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে, আজ রাজধানীর যানজট ও যানবাহনের গতি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিশেষ ভিভিআইপি প্রটোকল ছাড়া চলাচল করায় ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে, যানবাহনের গতি বেড়েছে।

রুমন বলেন, প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, আগে যেখানে রাজধানীতে যানবাহনের গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার (যা প্রায় হাঁটার গতির সমান), সেখানে গত ১৪ দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী তা বেড়ে ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। কারণ ভিভিআইপি চলাচলের জন্য রাস্তা বন্ধ রাখা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর পথ অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও এখন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন।

৩ মাসে বাংলাদেশ থেকে আপলোড করা দেড় কোটি ভিডিও ডিলিট করেছে টিকটক

টিকটকের কমিউনিটি গাইডলাইনস লঙ্ঘনের কারণে বাংলাদেশ থেকে আপলোড করা প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ভিডিও ডিলিট করেছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক।

গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত টিকটকের সর্বশেষ কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) বাংলাদেশের মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৫টি ভিডিও ডিলিট করা হয়েছে। যা প্ল্যাটফর্মটিতে আপলোড করা মোট কনটেন্টের প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।

টিকটক জানিয়েছে, ইউজাররা রিপোর্ট করা বা অভিযোগ জানানোর আগেই ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভিডিও শনাক্ত করে ডিলিট করা হয়েছে। এসব ভিডিওর ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ পোস্ট করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানো হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে ইউজারদের আপিলসহ অন্যান্য কারণে ২ লাখ ৫ হাজার ১টি ভিডিও আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে একই সময়ে মোট ১৮ কোটি ৮৩ লাখের বেশি ভিডিও ডিলিট করেছে টিকটক, যা আপলোড করা মোট কনটেন্টের প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

টিকটকের নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ডিলিট করা ভিডিওগুলো মূলত অশ্লীল, সংবেদনশীল ও আপত্তিকর কনটেন্টযুক্ত। পাশাপাশি, এডিটেড মিডিয়া ও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টও ডিলিট করেছে টিকটক।

ভিডিওর পাশাপাশি ওই ত্রৈমাসিকে বিশ্বজুড়ে ২৭ কোটি ৮৩ লাখের বেশি কমেন্ট ডিলিট করেছে টিকটক। আগের ত্রৈমাসিকে এ সংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ৭৫ লাখ।

এই তিন মাসে প্রায় ১৪ কোটি ৬৮ লাখ ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে টিকটক।

পাশাপাশি, ২ কোটি ৬৮ লাখ সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে টিকটক। ধারণা করা হয়, ওই অ্যাকাউন্টগুলো ১৩ বছরের কম বয়সীরা ব্যবহার করছিল, যা টিকটকের নীতিমালা পরিপন্থি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিভিন্ন নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জড়ো হন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে তারেক রহমান বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকরা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

সকল নেতাকর্মীর অবদান গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে দলের চেয়ারম্যান বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলটির বিভিন্ন কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

তারেক রহমান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর মৎস্য অবমুক্ত করেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা হবে। সেখানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এতে অংশ নেবেন।

পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ২ জাহাজের সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজের সঙ্গে নোঙর করে থাকা অপর এক খালি জাহাজের সংঘর্ষ হয়েছে।

লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাটিতে ৩৫ হাজার ৩৫০ টন সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ছিল বলে জানা গেছে।

আজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আলফা অ্যাংকরেজ এলাকায় নোঙর করার সময় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এমভি আনাসসা নামের জাহাজটি প্রবল স্রোতের কারণে আগে থেকে নোঙর করে থাকা বাংলাদেশি পতাকাবাহী এমভি জাহাব জাহানের সামনের অংশে ধাক্কা দেয়।

তিনি জানান, দুর্ঘটনায় কোনো হতাহত, জাহাজে পানি ঢোকা বা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি।

বন্দর কর্মকর্তা জানায়, সংঘর্ষের পরপরই দুটি জাহাজ নিরাপদে আলাদা হয়ে যায় এবং নোঙর করে। বর্তমানে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুই জাহাজের ২১ জন নাবিকই নিরাপদে আছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেরিন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে দুই জাহাজের কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

পরিসংখ্যান বলছে, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতবে আর্জেন্টিনা

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল রোববার সকাল ৭টায়।

পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচে জিতবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কারণ সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৬০ বছরের মুখোমুখি লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত তারা অপরাজিত আছে।

পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচ:

অপরাজিত আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ১১টি ম্যাচে কোনো হার দেখেনি আর্জেন্টিনা, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দলটির দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড। তারা জিতেছে নয়টি ম্যাচ এবং ড্র করেছে বাকি দুটি।

গোলের বন্যা

আর্জেন্টিনা তাদের শেষ ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রতিটিতে অন্তত দুটি করে গোল করেছে। এর মাধ্যমে তারা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে একাধিক গোল করার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে। এর আগে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে উরুগুয়ে এই কীর্তি গড়েছিল।

শক্ত রক্ষণভাগ বনাম গোল হজম

এবারের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে কেবল স্পেনের (পাঁচটি) বিপক্ষে আর্জেন্টিনার (নয়টি) চেয়ে কম অন-টার্গেট শট হয়েছে। তবে চিন্তার বিষয় হলো, বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা প্রতিপক্ষের সেই নয়টি শটের মধ্যে পাঁচটিতেই গোল হজম করেছে।

মেসির অপ্রতিরোধ্য যাত্রা

প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের টানা ছয়টি নকআউট ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। শুধু তাই নয়, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে টানা নয়টি ম্যাচে গোল করে বাকিদের ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষা

কানসাস সিটির এই ম্যাচটি হবে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের প্রথম উপস্থিতি। শেষবার তারা শেষ আটে খেলেছিল ১৯৫৪ সালের আসরে।

একক আধিপত্য

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা আগের সাতটি ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি সুইজারল্যান্ড। তারা হেরেছে পাঁচটি ও ড্র করেছে দুটি।

বিশ্বকাপের অতীত ইতিহাস

বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের দুটি দেখাতেই জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা— ১৯৬৬ সালের গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে এবং সবশেষ ২০১৪ সালের অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো শেষ ষোলোর ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে।

লাতিন জুজু

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে খেলা ১০টি ম্যাচের মধ্যে সুইজারল্যান্ড জিতেছে মাত্র একটি। তারা তিনটি ড্র করেছে এবং ছয়টি হেরেছে।

সুইজারল্যান্ড যেখানে অনন্য

২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানে (বাছাইপর্ব ও মূল পর্ব মিলিয়ে) সুইজারল্যান্ডই একমাত্র দল, যারা ম্যাচের কোনো পর্যায়েই এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের চেয়ে গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েনি।