27 C
Dhaka
Home Blog

ভাসমান হাটের জনপদ: পেয়ারা চাষের পাশাপাশি জনপ্রিয় হচ্ছে আমড়াও

পিরোজপুরের নেছারাবাদে পেয়ারার পাশাপাশি এখন আমড়াও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নে গ্রামের পর গ্রামজুড়ে বিস্তৃত বাগানগুলো যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে বড় এক অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ।

বর্ষা শুরু হলে এখানকার খালগুলোতে প্রতিদিন ভোরে নৌকায় বসে ঐতিহ্যবাহী ফলের হাট। মূলত এই পেয়ারা ও আমড়া চাষকে কেন্দ্র করেই সচল থাকে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা আর অর্থনীতির চাকা।

আগে এই উপজেলার নাম ছিল স্বরূপকাঠি, যা পরবর্তীতে নেছারাবাদ করা হয়। নেছারাবাদে পেয়ারা চাষের ইতিহাস প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো। জনশ্রুতি রয়েছে, এই অঞ্চলের ভদ্রাঙ্ক গ্রামের পূর্ণ মন্ডল নামে এক ব্যক্তি ভারতের বিহার রাজ্যের গয়া জেলায় ভ্রমণে গিয়ে ফেরার সময় কিছু পেয়ারার বীজ সাথে করে নিয়ে আসেন। নিজ গ্রামে সেই বীজ বপন করার মাধ্যমেই মূলত এই এলাকায় পেয়ারা চাষের সূচনা হয়।

অল্প সময়েই ভালো ফলন হওয়ায় পেয়ারা চাষ দ্রুত আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি আটঘর কুড়িয়ানা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী জলাবাড়ি ইউনিয়ন এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ও নবগ্রাম ইউনিয়নেও বিস্তৃত হয়েছে। নিচু জলাভূমি হওয়ায় এই এলাকার কৃষকেরা ‘সর্জান’ পদ্ধতিতে সফলভাবে পেয়ারা উৎপাদন করে চলেছেন।

নিচু এলাকায় কৃষকেরা অন্যান্য ফসল ফলাতে ব্যর্থ হলেও সেখানে খুব ভালোভাবেই উৎপাদিত হচ্ছে সুমিষ্ট এই মৌসুমি ফল। ফলে এক সময়ের পতিত জলাভূমি পরিণত হয়েছে অন্যতম ফল উৎপাদনকারী এলাকায়। এই অঞ্চলে উৎপাদিত পেয়ারার বিশেষ চাহিদা রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বর্তমানে এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পেয়ারা চাষ, বাগান পরিচর্যা, পেয়ারা ক্রয়-বিক্রয়, ফল সংগ্রহ কিংবা পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। খুব সকাল থেকে শুরু করে চার-পাঁচ ঘণ্টা ধরে ছোট ছোট নৌকায় বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহের পর সেগুলো স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা ভাসমান হাটে নিয়ে বিক্রি করেন চাষিরা।

নেছারাবাদ ও ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নেছারাবাদ উপজেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৩৮৪ জন কৃষক প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ করছেন। এ ছাড়া ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ২৯৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা উৎপাদন করছেন প্রায় তিন হাজার কৃষক। গত বছর হেক্টর প্রতি পেয়ারার গড় উৎপাদন ছিল প্রায় সাড়ে নয় টন।

গত এক দশকে পেয়ারার পাশাপাশি আমড়া চাষ এ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মৌসুমি এই ফলের ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার কারণে প্রতিবছরই চাষ বাড়ছে। ফলে পেয়ারার পাশাপাশি আমড়া চাষও এই দুই উপজেলার অর্থনীতিতে জায়গা করে নিচ্ছে।

বর্তমানে নেছারাবাদ উপজেলায় ২৯৫ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৩৮৯ জন কৃষক এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১৬০ হেক্টর জমিতে ৯০০ জন কৃষক আমড়া উৎপাদন করছেন। গত বছর দুই উপজেলায় হেক্টর প্রতি আমড়ার গড় উৎপাদন ছিল ১০ টন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা বীজ থেকেই তারা পেয়ারার চারা উৎপাদন করেন। প্রতি বিঘা জমিতে তারা ১০০টি চারা রোপণ করতে পারেন। দেড় বছর বয়সী চারাগুলো রোপণের পাঁচ বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে ফলন দিলেও পেয়ারা গাছ খুব কম জায়গা দখল করে। এ ছাড়া জলমগ্ন জমিতেও অনায়াসেই টিকে থাকতে পারে পেয়ারা গাছ।

তবে আমড়া চাষের পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। আমড়া গাছ বেশি জায়গা দখল করে, তাই পেয়ারা গাছের তুলনায় কম ঘনত্বে এর চারা রোপণ করতে হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় মাস বয়সী সর্বোচ্চ ৫০টি চারা রোপণ করা যায়, যা পরবর্তী তিন বছরের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে। এরপর টানা সর্বোচ্চ ৫০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। একটি পরিপক্ব গাছ থেকে বছরে ১০-১২ মণ আমড়া পাওয়া সম্ভব।

আটঘর গ্রামের রথিন মিস্ত্রি জানান, তাদের গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার কোনো না কোনোভাবে পেয়ারা ও আমড়া চাষের সঙ্গে যুক্ত। ওই এলাকার মানুষের কাছে এই দুটি ফলই উপার্জনের প্রধান উৎস।

প্রবীণ কৃষক মাখন লাল মজুমদার পুরোনো স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রায় পাঁচ দশক আগে তারা সংখ্যা গুনে পেয়ারা বিক্রি করতেন; কিন্তু বর্তমানে পেয়ারা ওজন করে বিক্রি হয়। তিনি আরও জানান, তখন পেয়ারার উৎপাদন প্রচুর থাকলেও দাম ছিল খুবই কম। এমনকি ক্রেতার অভাবে মাঝেমধ্যে অবিক্রীত পেয়ারা খালের পানিতে ভাসিয়ে দিতে হতো।

তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় চাষিদের এখন আর আগের মতো কেবল জলপথের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে না। উন্নত সড়ক ব্যবস্থার কারণে বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে এখানকার পেয়ারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে, পেয়ারা চাষের দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকলেও অধিক লাভের আশায় অনেক কৃষকই এখন পেয়ারা থেকে আমড়া চাষের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় চাষি পলাশ দেউড়ী জানান, এক বিঘা জমি থেকে বছরে যেখানে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করা যায়, সেখানে একই জমি থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আমড়া বিক্রি করা সম্ভব।

মূল্য ও সংরক্ষণের দিক থেকেও আমড়া বেশি সুবিধাজনক। এক মণ পেয়ারা সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও ভরা মৌসুমে এর দাম  কমে যায়। এ ছাড়া পেয়ারা দ্রুত পচনশীল; পরিপক্ব হওয়ার পর দ্রুত বাগান থেকে সংগ্রহ করা না হলে তা ঝরে পড়ে এবং সংগ্রহের পর খুব বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না।

এর বিপরীতে, এক মণ আমড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয় এবং আমড়া পরিপক্ব হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় গাছে রেখে সুবিধামতো বিক্রি করা যায়। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে পেয়ারার ফলন কিছুটা কমেছে, যার ধারাবাহিকতা এ বছরও বজায় রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, পেয়ারা বাগানের আগাছা দমনে কোদাল ও নিড়ানির পরিবর্তে অনেক চাষি এখন রাসায়নিক আগাছানাশক ব্যবহার করছেন। মূলত এই রাসায়নিকের প্রভাবেই পেয়ারার উৎপাদন কমে গেছে বলে তারা মনে করছেন।

তবে অনেক কৃষক মনে করছেন, এই বছর পেয়ারার দামও ভালো। ভালো দাম থাকলে পেয়ারা চাষে আগ্রহ কমবে না। বরং এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে পেয়ারা ও আমড়া সমানতালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, পেয়ারার তুলনায় আমড়া চাষ কয়েক গুণ বেশি লাভজনক হওয়ায় এ ফলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে চাষিরা পেয়ারারও বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন।

বাগানে আগাছা দমনে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ব্যবহারের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ সবসময়ই কৃষকদের কোদাল বা অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতির সাহায্যে নিজ হাতে আগাছা পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

গোল, পাস, নির্ভুলতা—পরিসংখ্যানে বিশ্বকাপের সেরা আর্জেন্টিনা

চলতি বিশ্বকাপে প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পরই নিশ্চিত হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে পারফরম্যান্সে ওঠানামা থাকলেও লিওনেল স্কালোনির দলের একটি পরিচয় অটুট রয়েছে, বল দখলে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ। আর সেই আধিপত্যই ফুটে উঠেছে ফিফার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে।

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে প্রকাশিত টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকে সবার ওপরে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে আর্জেন্টিনা করেছে ১৪ গোল, যা ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এই ১৪ গোলের মধ্যে ৮টিই এসেছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির পা থেকে, যা এবারের বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ।

শুধু গোল নয়, পাসিংয়েও আধিপত্য স্কালোনির দলের। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা সফলভাবে ৩,৪৪৬টি পাস সম্পন্ন করেছে, যা সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন (৩,৩৮২) এবং তৃতীয় মরক্কো (৩,১২৬)।

পাসিংয়ের নির্ভুলতার দিক থেকেও শীর্ষে আর্জেন্টিনা। তাদের সফল পাসের হার ৯১ শতাংশ, যা স্পেনের সমান। ৮৯ শতাংশ সফল পাস নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো।

এই পরিসংখ্যান স্কালোনির বল দখলভিত্তিক ফুটবল দর্শনেরই প্রতিফলন। প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি সময় বল নিজেদের দখলে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তোলাই আর্জেন্টিনার অন্যতম শক্তি। সেই কৌশলই তাদের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

গোলের তালিকাতেও প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের ১৪ গোলের পর রয়েছে বেলজিয়াম (১৩) এবং নরওয়ে (১২)। কোয়ার্টার ফাইনালে এই দলগুলোর সামনে নিজেদের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে পরিসংখ্যান যতই আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলুক, কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় মনে করিয়ে দিচ্ছে, এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। শিরোপা ধরে রাখতে চাইলে শুধু সংখ্যায় নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও আরও নিখুঁত হতে হবে মেসিদের।
 

যে কারণে আর কখনোই অভিনয়ে ফিরবেন না শান্তা ইসলাম

শান্তা ইসলাম টেলিভিশন নাটকের দর্শকপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। একটা সময় অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। আরণ্যক নাট্যদলের ‘ময়ুর সিংহাসন’, ‘জয়জয়ন্তী’, ‘আগুনমুখা’ নাটকে অভিনয় করে মঞ্চেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। 

কিন্তু, টানা ২১ বছর ধরে অভিনয় থেকে দূরে আছেন শান্তা ইসলাম। আর কখনো অভিনয় জগতে ফিরবেন না—এমনটাই তার সিদ্ধান্ত। 

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শান্তা ইসলাম বলেছেন অভিনয়ে না ফেরার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলো ।

শান্তা ইসলাম বলেন, ‘সর্বশেষ ২১ বছর আগে একটি নাটকে অভিনয় করি। ওই নাটকের নামটাও এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। সে সময় আমার একমাত্র ছেলে সৌমিক ক্লাস ফাইভে পড়ে। আমি ঢাকা থেকে চলে গেছি সিলেটে মায়ের কাছে। স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব হয়েছে। পারিবারিকভাবে আমরা দুজনে বিচ্ছিন্ন। হঠাৎ একদিন সৌমিক বলল, মা আমি কী ক্লাস সিক্সে ভর্তি হব না? আমাকে কথাটা নাড়া দেয়। আমি বারবার ভাবতে শুরু করি। মাকে বলি, আমাকে বিমানের টিকিট কেটে দাও। আমি ঢাকায় যাব, সৌমিককে স্কুলে ভর্তি করাব।’

সে সময়ের স্মৃতি বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মা টিকিট কেটে দেওয়ার পর সৌমিককে নিয়ে ঢাকায় আসি। উড়োজাহাজে বসে সেদিন চোখের পানি পড়ছিল। খুব কাঁদছিলাম। কিন্তু, ঢাকায় এসে থাকব কোথায়? সিলেট থেকেই আমার ছেলের ক্লাসমেটের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা একটি বাসার সন্ধান দেন। এরপর চলে আসি। জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়।’

‘ছেলেকে ভর্তি করালাম। সে সময় ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক ব্যস্ত ছিলাম। শুটিং শেষ করতে করতে রাত হয়ে যেত প্রায়ই। ভাবলাম, নিয়মিত এত রাত করে বাসায় ফিরলে সন্তানের কী হবে? তাকে সময় দেবে কে? সিদ্ধান্ত নিলাম অভিনয় করব না। আগে সন্তান মানুষ হোক। ক্যারিয়ারের চেয়ে জীবনের অংশ আমার সন্তানের মানুষ হওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিলাম। যে নাটকগুলোর কাজ বাকি ছিল দ্রুত শুটিং শেষ করে দিই। এরপর অভিনয় থেকে সরে আসি। চিরচেনা লাইট, অ্যাকশন, ক্যামেরা শব্দগুলো থেকে সরে যাই।’

একমাত্র ছেলেকে নিয়ে সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে শান্তা ইসলাম বলেন, ‘তখন আমার সংগ্রাম চলছে।ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে যেতাম। এমনও হয়েছে রিকশায় না গিয়ে হেঁটে হেঁটে গিয়েছি টাকা বাঁচানোর জন্য। দশ টাকা রিকশা ভাড়া বাঁচাতাম হেঁটে গিয়ে। কয়েক মাস এমন হয়েছে। সৌমিককে বুঝতে দিতাম না। ও জানত না আমি হেঁটে হেঁটে ওর স্কুলে যাই।’

সে সময় একদিন পাবলিক বাসে ওঠার অভিজ্ঞতা শোনান শান্তা ইসলাম। বলেন, ‘উত্তরা থেকে একদিন মগবাজারে যাব। তখন নতুন ট্যাক্সি নেমেছে। আমি একটা বাসে উঠে পড়ি। কিন্তু, একটু পর দেখি বাসের মধ্যে ফিসফাস হচ্ছে—শান্তা ইসলাম বাসে! আমি একটু পর নেমে পড়ি। বুঝতে পারি, আমার পক্ষে বাসে যাতায়াত করা সম্ভব না।’

‘তখন আমার পায়ের নিচে মাটি ছিল না। পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন হই স্বামীর সঙ্গে। আমার মা একদিন বলেছিলেন, মনে কর তোর সৌমিকের কেউ নেই। তুই আছিস শুধু। তখনই বড় একটা শক্তি পাই। ওপর থেকে কেউ যেন শক্তিটা জোগান দেয়। আমি এগিয়ে যাবার পণ করি এবং ভাবি সৌমিককে আমারই মানুষ করতেই হবে। সেজন্য প্রচুর জনপ্রিয় থাকার পরও ক্যারিয়ারের কথা ভাবিনি’, যোগ করেন তিনি।’ 

তিনি বলেন, ‘সেই সময় আমার ছেলে স্কলাস্টিকায় পড়ত। ওর স্কুলের কাছাকাছি বাসা নিই। এরপর সন্তানকে মানুষ করার জন্য এভাবেই জীবন এগিয়ে যায়। অভিনয় না করে চিন্তা করি অন্য কী করা যায়। আরটিভিতে টক শো করার বিষয়টি একসময় চূড়ান্ত হলো। আমার পরিচালনা, উপস্থাপনা ও পরিকল্পনায় টক শো করি। ছেলেকে সময় দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে কাজগুলো করি। তখন অবশ্য সৌমিক বেশ বড় হয়ে গেছে’।

শান্তা ইসলাম বলেন, ‘একসময় আমার ছেলে এ লেভেল এবং ও লেভেলে ভালো রেজাল্ট করে কানাডায় পড়তে যায়। পুরো স্কলারশিপ পায় সে। এখন তো চাকরি করছে। বিয়ে করেছে। আমার একটা নাতনিও আছে। ছেলের সুখ আমাকে সুখী করে। ওর জন্য এমন একটা জীবনই চেয়েছিলাম।’

দ্য ডেইলি স্টার: কিন্তু, আপনার সন্তান বড় হওয়ার পর তো আবার অভিনয়ে ফিরতে পারতেন?’

শান্তা ইসলাম: কোনো একদিন মা একটা কাজ দেখে বলেছিলেন, এসব চরিত্র না করলে হয় না? মায়ের কথা আমাকে ধাক্কা দেয়। আমি সিদ্ধান্ত নিই অভিনয় করব না।

প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠু তার সিনেমায় অভিনয় করতে বলেছিলেন অনেক দিন আগে। 

সে কথা মনে করে শান্তা ইসলাম বলেন, ‘মিঠু ভাই আমাকে তার সিনেমায় অভিনয় করার জন্য বলেছিলেন অনেক বছর আগে। আমি বলেছিলাম তিন দিন সময় দিন। তিন দিন একা একা ভাবি। ভাবার পর মনে হলো, না, আর অভিনয় করব না। তারপর সেটা তাকে জানিয়ে দেই।’ 

দ্য ডেইলি স্টার: এখন তো চাইলে অভিনয়ে ফিরতে পারেন?

শান্তা ইসলাম: আর ফেরা হবে না অভিনয়ে। অভিনয়ের প্রস্তাব যে আসে না, তা কিন্তু না। অনেক আসে। কেউ কেউ বলেন, আপনাকে কেন্দ্র করে গল্প লেখা হবে, তবুও অভিনয় করেন। মন টানে না। দেখুন, আমার জীবন নিয়ে আমি স্যাটিসফায়েড। এই জীবনে ভীষণ খুশি আমি। ভীষণ ভাবে সুখী।’

দ্য ডেইলি স্টার: কোনো ধরনের আফসোস কাজ করে কি?’

শান্তা ইসলাম: আমার সুন্দর সময়টা মা দেখে যেতে পারেননি, মাকে কাছে পাইনি। মা বিদায় নিয়েছেন। এই আফসোসটা আছে।’

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কেন?

ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরমধ্যেই খবর এসেছে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরেও হামলা চালিয়েছে তারা।

এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা, ইকুয়েডরে ‘সন্ত্রাসীদের’ মোকাবিলায় তারা দেশটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।

আল জাজিরা বলছে, বুধবার মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় সামরিক অভিযান তদারকি করা মার্কিন সামরিক ইউনিট ইউএস সাউদার্ন কমান্ড জানায়, ইকুয়েডরে ইতোমধ্যে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।

ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান বলেন, ‘৩ মার্চ ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইকুয়েডরে ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।’

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই অভিযান লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলোর মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিশাপ মোকাবিলায় দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী উদাহরণ।’

এই বিবৃতির সঙ্গে সামরিক হেলিকপ্টার উড্ডয়নের ভিডিও এবং আকাশ থেকে ধারণ করা সাদাকালো নজরদারি চিত্র প্রকাশ করা হয়, যেখানে মাটিতে থাকা কয়েকজনকে হেলিকপ্টারে উঠতে দেখা যায়।

এই ঘোষণা লাতিন আমেরিকায় অপরাধী নেটওয়ার্ক ও মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর অভিযানের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইকুয়েডরে এই অভিযানের পূর্ণ পরিসর এখনো জানা যায়নি। তবে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ইকুয়েডরের সেনাদের লজিস্টিক ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।

বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই যৌথ অভিযানের প্রশংসা করেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যৌথভাবে মাদক-সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছি, যারা দীর্ঘদিন ধরে পুরো অঞ্চলের নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস, সহিংসতা ও দুর্নীতি চাপিয়ে দিয়েছে।’

কার্টেলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প একাধিক প্রভাবশালী মাদক কার্টেলকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেন। যে অভিধা সাধারণত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-সম্পন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্য ব্যবহার করা হয়।

তার প্রশাসন মাদক পাচার দমনে ক্রমেই সামরিকধর্মী কৌশল গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সন্দেহভাজন পাচারকারী নৌযানে বোমা হামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইনে মাদক পাচার একটি অপরাধ, যুদ্ধ নয়। ফলে এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলাকে বিচার-বহির্ভূত হত্যা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এ পর্যন্ত ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে বিভিন্ন নৌযান লক্ষ্য করে আকাশপথে অন্তত ৪৪টি  হামলা চালানো হয়েছে।

এর ফলে কমপক্ষে ১৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের পরিচয় এখনো মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও প্রকাশ করা হয়নি।

অক্টোবর মাসে একটি সাবমেরিনে হামলার পর জীবিত উদ্ধার দুই ব্যক্তিকে দ্রুত তাদের নিজ দেশ ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ায় ফেরত পাঠানো হয় এবং পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে কলম্বিয়া এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কিছু পরিবার দাবি করেছে, নিহতদের অনেকেই মাদক পাচারকারী নয়, তারা ছিলেন জেলে বা অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক, যারা ভেনেজুয়েলা ও কাছাকাছি দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াত করতেন।

ভেনেজুয়েলায়ও অভিযান

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডেও দুটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে, একটি গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এবং আরেকটি ৩ জানুয়ারি।

দুই ক্ষেত্রেই হামলাকে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

প্রথম অভিযানে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ ব্যবহার করত বলে অভিযোগ থাকা একটি জেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে একটি ফেডারেল আদালতে মাদক পাচার ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

এই অভিযানেরও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং উসকানি ছাড়া সামরিক আগ্রাসনের একটি উদ্বেগজনক ধারা।

ট্রাম্পের মাদকবিরোধী অভিযানের নতুন ফ্রন্ট

ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করে স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতেও চালানো হতে পারে। ইকুয়েডরের ঘোষণা সেই অভিযানের নতুন একটি ফ্রন্টের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে, গত ২ মার্চ ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডোনোভান।

২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর থেকে ইকুয়েডরে হত্যা ও সহিংস অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, কারণ বিভিন্ন অপরাধী নেটওয়ার্ক দেশটিতে প্রভাব বিস্তার করছে।

এর আগে অঞ্চলটিতে সহিংস অপরাধের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ফলে ইকুয়েডরকে একসময় লাতিন আমেরিকার ‘শান্তির দ্বীপ’ বলা হতো।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারির সময় উচ্চ যুব বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে কৌশলগত অবস্থানের (যা বড় কোকেন উৎপাদক দেশ কলম্বিয়া ও পেরুর মাঝামাঝি) কারণে অপরাধ বেড়েছে।

‘নতুন ধাপ’ শুরুর ঘোষণা নোবোয়ার

২০২৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ডানপন্থী নেতা নোবোয়া গত বছর পুনর্নির্বাচনী প্রচারে অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আইন প্রয়োগে তার কৌশলকে অনেকেই ‘মানো দ্যুরা’ বা ‘নিষ্ঠুর দমননীতি’ বলে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পও লাতিন আমেরিকার নেতাদের অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হতে উৎসাহ দিয়েছেন। নোবোয়া ও ট্রাম্প দুজনেই বামপন্থী নেতা গুস্তাভো পেত্রো নেতৃত্বাধীন কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, দেশটি মাদক পাচার দমনে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উদাহরণ হিসেবে, ১ মার্চ নোবোয়া ঘোষণা দেন যে কোকেন পাচার দমন করতে ব্যর্থ হওয়ায় কলম্বিয়ার আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার জেনারেল ডোনোভান ইকুয়েডরের সামরিক বাহিনীর ‘অটল প্রতিশ্রুতির’ প্রশংসা করেন।

প্রেসিডেন্ট নোবোয়াও যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সহযোগিতাকে স্বাগত জানান। গত এক বছরে তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাধিকবার স্বাগত জানিয়েছেন।

২ মার্চ সামাজিকমাধ্যমে নোবোয়া লিখেছেন, ‘মাদকপাচার ও অবৈধ খনি খননের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নতুন ধাপ শুরু করছি আমরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইকুয়েডরের জনগণের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার। দেশের প্রতিটি কোণে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা লড়ব। সেই শান্তি অর্জনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।’

সমালোচকদের উদ্বেগ

তবে সমালোচকেরা বুধবারের ঘোষণাকে সন্দেহ ও উদ্বেগের সঙ্গে দেখেছেন, কারণ বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সংখ্যা বাড়ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন সামাজিকমাধ্যমে বলেন, ‘এই যৌথ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী এবং লক্ষ্যবস্তু কারা, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি।’

তিনি লিখেছেন, ‘আমার ধারণা প্রশাসনের কিছু লোক অনেক দিন ধরেই মাদক-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোথাও মার্কিন সেনা মোতায়েন করে অভিযান চালাতে চেয়েছিল এবং পরে তা নিয়ে প্রকাশ্যে গর্ব করতে চেয়েছে।’

‘মেক্সিকোর তুলনায় ইকুয়েডর এ বিষয়ে বেশি সহযোগিতাপ্রবণ ছিল’, যোগ করেন তিনি।

সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও রদবদল

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনা সদর দপ্তরের সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সেনাবাহিনীর উচ্চপদে এটি দ্বিতীয় দফা রদবদল।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) করা হয়েছে। এনডিসিতে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। তিনি এর আগে কিউএমজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এছাড়া ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসাইন আল মোরশেদকে সেনা সদর দপ্তরের নতুন অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে, ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও রংপুর এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ঢাকা সেনানিবাসের লজিস্টিকস এরিয়ার জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

ঢাকা সেনানিবাসের লজিস্টিকস এরিয়ার সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মুহাম্মদ মোস্তাগাউসুর রহমান খান নিয়মিত অবসরে গেছেন।

এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়। এর মধ্যে ছিল চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস), প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক পদ। একই দিনে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনেও নতুন জিওসি নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

 

 

সিঙ্গাপুরে ৩৭ লাখ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম পেজ ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলো মেটা

অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে ৩৭ লাখ অ্যাকাউন্ট, পেজ ও অন্যান্য কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা।

আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

সিঙ্গাপুর পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মেটা।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত দুই বছর ধরে তথ্য আদান-প্রদানের সহযোগিতার আওতায় সিঙ্গাপুর পুলিশ ফোর্স (এসপিএফ) মেটার তদন্তকারীদের ‘প্রতারক চক্র শনাক্ত ও ভেঙে দিতে’ সহায়তা করছে।

মেটার কর্মকর্তারা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট ও পেজ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জুনে মেটা জানিয়েছিল, স্কুল ছুটির মৌসুমে ভ্রমণ-সংশ্লিষ্ট প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৩ হাজার ৬০০টির বেশি অ্যাকাউন্ট ও পেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জুলাইয়ে মেটা ৩৬ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট ও পেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

এর বেশিরভাগই ছিল ‘শেল পেজ’। এগুলোতে কোনো কনটেন্ট নেই বা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হয় না। তবে ভবিষ্যতে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে—এই আশঙ্কায় এগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় মেটা।

তবে মেটা এ বিষয়ে কোনো তুলনামূলক পরিসংখ্যান দেয়নি।

প্রতারকেরা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন দেশে সক্রিয় থাকায় শুধু মেটার পক্ষে এই সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

মেটার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড্যারিল পুন বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান এককভাবে প্রতারণা চক্রের পুরো চিত্রটি দেখতে পারে না। এরই সুযোগ নেয় প্রতারকেরা। তবে আমরা সিঙ্গাপুর পুলিশের সঙ্গে যে ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি, তা এই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, পুলিশের দেওয়া তথ্য ‘এমন হুমকি শনাক্ত করতে আমাদের সহায়তা করে, যা আমরা নিজেরা হয়তো শনাক্ত করতে পারতাম না।’

তিনি জানান, এখন আরও বড় পরিসরে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে মেটা। ফলে এসব চক্র বেশি মানুষকে প্রতারিত করার আগেই ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

সিঙ্গাপুর পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতার যে মডেল গড়ে তুলেছে মেটা, সেটি পুরো অঞ্চলে সম্প্রসারণের আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মেটার পাবলিক পলিসি বিভাগের পরিচালক ক্লারা কোহ বলেন, প্রতারকেরা এখন বড় পরিসরে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘বিপুল পরিমাণ ভুয়া প্রোফাইল তৈরি’ করছে। পাশাপাশি ভুয়া ছবি বানানো ও ক্ষতিকর কোড তৈরি অব্যাহত আছে।

তিনি জানান, মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মজুড়ে প্রতারণা ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে বিনিয়োগ অব্যাহত আছে। গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগেই প্রতারকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য টেনে সরকারের ‘নৈতিকতা’ নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদলীয় নেতার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ এবং পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের পাঁচ মাসে দুর্নীতি কমার বদলে বেড়েছে বলে বিএনপির মহাসচিব নিজেই স্বীকার করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন জামায়াত আমির।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ ও নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পরও রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি দেখছি যে কিছুই বদলায়নি।’ তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে পরিবর্তনের চেষ্টা দেখছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাদের দলের একজন সিনিয়র নেতা কালকে বলেছেন, পাঁচ মাসের এই সরকারের সময় দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি, বরং দুর্নীতি বেড়েছে। তিনি আরও বলেছেন, তার বাসায় সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত, একজন ছাড়া—তিনি তারেক রহমান। আমি বুঝলাম না, প্রধানমন্ত্রী চাইছেন না অথচ সবাই দুর্নীতি করছে, এটা কীভাবে হয়?’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা দেখি তার (প্রধানমন্ত্রী) ইশারায় সব কিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন? ব্যর্থতার দায় যখন নিজেরাই স্বীকার করছেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে কি না, সেটাই প্রশ্ন।’

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার কার্যত চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু নেওয়া হলে সেটিকে চাঁদা বলা যাবে না।’ এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় চাঁদাবাজিকে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

জামায়াত আমির বলেন, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি; বরং শ্রমিকেরা এখনো নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হচ্ছে, গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘চাঁদাবাজদের হাতে পরিবহনশ্রমিকেরা নাজেহাল হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। কারা করছে, সেটি পরিষ্কার—সরকারি দলের লোকেরাই করছে।’

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি নির্মূল করুন, দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন করুন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী চললে দেশের ১৮ কোটি মানুষ সরকারকে সহযোগিতা করবে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে চললে জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন। শহীদদের কোনো দলীয় সম্পত্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়; তারা পুরো জাতির সম্পদ।

সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘পরিশুদ্ধ হন, সৎ পথে চলুন, দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন করুন, চাঁদাবাজি নির্মূল করুন। অন্যথায় জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে চলার দায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না।’

আগামী কয়েক মাসেও তৈরি পোশাক রপ্তানির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম

বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রধান বাজারগুলোতে মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে মন্দা কাটছে না। রপ্তানিকারক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মতে, আগামী কয়েক মাসেও এই খাত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কাটলেও পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে খুচরা বিক্রি কমে যাওয়া এবং বিক্রেতাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অবিক্রীত পোশাকের মজুত থাকায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন করে বড় অর্ডার দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানিকারক প্রধান দেশগুলো, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পোশাক কেনার ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, দেশে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন খরচও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

সায়েম গ্রুপের পরিচালক আবরার এইচ সায়েম বলেন, আমরা এখন এক ধরনের ঝড়ের মধ্যে আছি। তাদের প্রতিষ্ঠান ইউএস পোলো অ্যাসন, ব্রিটিশ ব্র্যান্ড বেন শারম্যান এবং ইউরোপীয় ফাস্ট-ফ্যাশন ব্র্যান্ড নিউইয়র্কারের জন্য পোশাক সরবরাহ করে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি আয় কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

রপ্তানিকারকদের মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি কমার অন্যতম কারণ ছিল কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা। যদিও শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন নতুন ঘোষিত ১০ শতাংশ শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে সেই অনিশ্চয়তার একটি অংশ দূর করেছে, তবুও বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো দুর্বল।

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এখনো কাটেনি। তাই নতুন অর্ডার দেওয়ার গতি খুবই ধীর।

তিনি বলেন, যুদ্ধ, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের হাতে আগের অবিক্রীত মজুত—সব মিলিয়ে নতুন অর্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

স্কয়ার অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, পশ্চিমা ক্রেতারাও কঠিন সময় পার করছেন। সেটি তাদের কেনাকাটার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ এখনো আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

রপ্তানিকারকদের মতে, পাঁচটি মৌলিক ধরনের পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। কারণ এসব পণ্যের বাজারে সরবরাহ বেশি ও মূল্য প্রতিযোগিতা তীব্র।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মতে, উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাক উৎপাদনে না গেলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হবে না।

বর্তমানে বাংলাদেশ মূলত ট্রাউজার, টি-শার্ট, বোনা কাপড়ের ফরমাল শার্ট, অন্তর্বাস ও সোয়েটার রপ্তানি করে। এই পাঁচ ধরনের পণ্য থেকেই মোট পোশাক রপ্তানির ৭৮ শতাংশ আসে। আর দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ কারখানা এই পাঁচ ধরনের পণ্যই উৎপাদন করে।

প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, মৌলিক ধরনের পোশাক বিক্রির পুরোনো ব্যবসায়িক মডেল এখন আর কার্যকর নেই। কারণ ভারত রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা দেওয়ায় এই খাতে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হলে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

ফজলুল হকের মতে, উৎপাদন ব্যয় কমাতে গ্যাস সরবরাহের উন্নতি এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানো এখন সবচেয়ে জরুরি।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভিয়েতনাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কারণ দেশটির উৎপাদন ব্যয় স্থিতিশীল, মূল্য সংযোজন বেশি এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছাতে সময়ও কম লাগে।

নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক একটি ইউরোপীয় পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পণ্যে বৈচিত্র্য না আনলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানিও ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে। ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তো আরও দূরের বিষয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান পাঁচটি পোশাকপণ্যের বৈশ্বিক বাজার ইতোমধ্যেই পরিপূর্ণ। এই পাঁচটি পণ্যে আর সম্প্রসারণের সুযোগ নেই। সাশ্রয়ী দামে উন্নত মানের পোশাক উৎপাদনে যেতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) হারালে দেশের পোশাক আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এতে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ওই ক্রেতা বলেন, এলডিসি সুবিধা প্রত্যাহারের সময় কিছুটা পিছিয়ে গেলেও বড় বড় ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতারা ইতোমধ্যে বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, ভারত যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) মাধ্যমে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা পায়, তাহলে ইউরোপমুখী বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে ক্রেতারা আরও কম দামে পণ্য কিনতে চাপ দেবে।

বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, নতুন রপ্তানি আদেশ বাড়াতে আগামী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ আফ্রিকায় রোডশো আয়োজন করবে সংগঠনটি।

তিনি জানান, বাজার বিশ্লেষণ, পণ্যের ধরন ও সর্বশেষ ফ্যাশন প্রবণতা নিয়ে রপ্তানিকারকদের সহায়তা দিতে বিজিএমইএ একটি ডিজাইন স্টুডিওও গড়ে তুলছে, যেন তারা বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারেন।

দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ইংল্যান্ডের কোয়ানসা

নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড। ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। ফলে শনিবারের কোয়ার্টার ফাইনালের পাশাপাশি ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচেও খেলতে পারবেন না এই তরুণ ডিফেন্ডার।

শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে ভিএআরের পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন কোয়ানসা। সেই কার্ডের জেরেই তাকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এই নিষেধাজ্ঞা ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের জন্য নতুন করে রক্ষণভাগের সমস্যা তৈরি করেছে। দলের একমাত্র স্বাভাবিক রাইট-ব্যাক রিস জেমস হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে টানা তিন ম্যাচ খেলতে পারেননি। বুধবারও তিনি অনুশীলনে অংশ নেননি। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে তার খেলার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত।

জেমসের অনুপস্থিতিতে ডিজেড স্পেন্স ও কোয়ানসাকে রাইট-ব্যাকে খেলানো হলেও কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ানসা লাল কার্ড দেখার পর শেষ আধাঘণ্টা সেন্টার-ব্যাক এজরি কনসাকে রাইট-ব্যাকে খেলাতে হয়েছিল। এবারও কনসাকে সেই ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে জন স্টোনস ফিরতে পারেন মূল সেন্টার-ব্যাকের জায়গায়।

এদিকে কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আপিলের পথও খুঁজছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতি বিতর্কিতভাবে স্থগিত করেছিল ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে শাস্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানোর পর বালোগানকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর ফিফার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন টুখেল, ‘এখন এটা কোথা থেকে শুরু হলো, কোথায় গিয়ে শেষ হবে? কোনো সিদ্ধান্ত কি উল্টানো যাবে, নাকি যাবে না? আসলে কী হচ্ছে? সীমারেখাটা কোথায় টানা হবে, এটাই আমার প্রশ্ন।’

ঈদ আয়োজনে শাকিব, জয়া, শুভ, মেহজাবীন অভিনীত ৭ সিনেমা

ঈদুল আজহায় চ্যানেল আইয়ের বিশেষ আয়োজনে টানা সাত দিন দেখানো হবে সাতটি বাংলা সিনেমা। প্রতিদিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে হবে নতুন সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার।

ঈদের দিন প্রচারিত হবে ‘নীল চক্র’। মিঠু খান পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও মন্দিরা চক্রবর্তী।

ঈদের দ্বিতীয় দিন দেখানো হবে ‘প্রিন্স’। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, তাসনিয়া ফারিণ।

ঈদের তৃতীয় দিন প্রচারিত হবে মাকসুদ হোসেন পরিচালিত ‘সাবা’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী, রোকেয়া প্রাচী, মন্‌ওয়ার, সুমন পাটোয়ারী ও অশোক বেপারী।

ঈদের চতুর্থ দিনে থাকছে আলোক হাসান পরিচালিত ‘টগর’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ, পূজা চেরী ও রোজী সিদ্দিকী।

পঞ্চম দিনে প্রচারিত হবে ‘জয়া আর শারমিন’। পিপলু আর খান পরিচালিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও মহসিনা আক্তার।

ঈদের ষষ্ঠ দিন প্রচারিত হবে ‘বাড়ির নাম শাহানা’। লিসা গাজীর রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ইরেশ যাকের, আনান সিদ্দিক, লুৎফর রহমান জর্জ ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।

ঈদের সপ্তম দিনে দেখানো হবে ‘শরতের জবা’। কুসুম শিকদার পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও কুসুম শিকদার।