27.6 C
Dhaka
Home Blog

ওয়ার্ল্ডহোটেলসের আওতায় আসছে ১০০ দেশের ৪ হাজারের বেশি হোটেল

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বিএইচডব্লিউ হোটেলস তাদের ১০০টি দেশের ৪ হাজারের বেশি হোটেলকে ওয়ার্ল্ডহোটেলস ব্র্যান্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ১৮টি ব্র্যান্ড, লয়্যালটি প্রোগ্রাম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে একটি সমন্বিত পরিচয়ের আওতায় আনা হবে।

বেস্ট ওয়েস্টার্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত বিএইচডব্লিউ হোটেলসের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়ানো এবং ভ্রমণকারীদের জন্য হোটেল খোঁজা ও বুকিংয়ের প্রক্রিয়া সহজ করা। বিলাসবহুল হোটেল, বুটিক হোটেল, আপস্কেল আবাসন, দীর্ঘমেয়াদি থাকার ব্যবস্থা এবং ইকোনমি হোটেল এই কার্যক্রমের আওতায় থাকবে। তবে বিদ্যমান হোটেলগুলোর নাম ও নিজস্ব পরিচয় অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে স্বতন্ত্র মালিকানাধীন হোটেলগুলো নিজেদের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সুবিধা পাবে।

ওয়ার্ল্ডহোটেলসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ল্যারি কুকুলিক বলেন, প্রতিষ্ঠানটির আওতায় বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণের জন্য উপযোগী হোটেল থাকলেও অনেক ভ্রমণকারী এর পুরো পরিসর সম্পর্কে জানেন না। নতুন ব্র্যান্ড পরিচয়ের মাধ্যমে গ্রাহকেরা প্রতিষ্ঠানটির সেবা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র হোটেল মালিকেরাও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পাবেন।

দেশীয় পর্যটনের চাহিদা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার মধ্যে ওয়ার্ল্ডহোটেলসের এই ঘোষণা এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ছুটির মৌসুমে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের হোটেল ও রিসোর্টে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনায় আন্তর্জাতিক মানের আতিথেয়তা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ডহোটেলসের তিনটি হোটেল রয়েছে। এগুলো হলো ঢাকার বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস ম্যাপল লিফ ও বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস রানওয়ে এবং কক্সবাজারের বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ। এ ছাড়া কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে আরও চারটি হোটেল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়ার্ল্ডহোটেলসের চেয়ারম্যান রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, একটি ব্র্যান্ডের ভিত্তি তৈরি হয় আস্থা ও ঐতিহ্যের ওপর। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই অবস্থান ধরে রাখতে হয়। ওয়ার্ল্ডহোটেলসের অধীনে এই রূপান্তর বেস্ট ওয়েস্টার্নের প্রতিষ্ঠিত ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে হোটেল অংশীদার ও অতিথিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের বিকাশের সম্ভাবনা বিবেচনায় ওয়ার্ল্ডহোটেলস দেশের বাজার নিয়ে আশাবাদী। আন্তর্জাতিক মান, বিস্তৃত বাজারসংযোগ এবং স্বতন্ত্র আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের হোটেলগুলোর নিজস্ব পরিচয় ও স্থানীয় বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়ার্ল্ডহোটেলসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা অতুল জৈন বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও অবকাশযাপন উভয় ক্ষেত্রেই আতিথেয়তা খাতের সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে যেসব বাজারে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেগুলোতে আরও বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ল্ডহোটেলসের মাধ্যমে হোটেল অংশীদারেরা আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন এবং বৃহত্তর বিতরণ নেটওয়ার্কের সুবিধা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে তাঁরা নিজ নিজ বাজারের ভ্রমণকারীদের সেবা দিয়ে যাবেন।

এই রূপান্তরের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি চালু হবে ওয়ার্ল্ডহোটেলস রিওয়ার্ডস। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রায় সাত কোটি সদস্যের বিদ্যমান লয়্যালটি প্রোগ্রামগুলোকে একটি কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তিন স্তরের এই কর্মসূচিতে সদস্যদের জন্য বিশেষ রুম ভাড়া, স্ট্যাটাস ম্যাচিং এবং মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া পয়েন্টের সুবিধা থাকবে।

এ ছাড়া নতুনভাবে সাজানো ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে হোটেল বুকিং, পুরস্কার ও পয়েন্ট ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পর্যটন গন্তব্যের তথ্য একীভূত করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন হোটেলের কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া ১০ হাজার ঘণ্টার বেশি অভিজ্ঞতা ও তথ্য এই ডিজিটাল সেবা তৈরিতে কাজে লাগানো হবে।

প্রতিষ্ঠানটির বিলাসবহুল ও আপস্কেল স্বতন্ত্র হোটেলগুলোকে ওয়ার্ল্ডহোটেলস কালেকশনের আওতায় আনা হবে। এই কালেকশনে ছয়টি ব্র্যান্ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে হোটেলগুলোর নিজস্ব পরিচ

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আব্দুল্লাহর

জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে দেওয়া নিজের বক্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, নৌকাবাইচ বন্ধের স্থান নিয়ে সংসদে তিনি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন; ওটা সিলেট হবে, ভুল করে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন।

আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এর আগে গতকাল মধ্যরাতে হাসনাত আব্দুল্লাহর ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করছি।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা, সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। হাসনাতের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় আসলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও সেখানকার আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে বিশ্বের সামনে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের একটি কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায় শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমাতে বলেছিল। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা স্পষ্ট, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি। তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিল।’ হাসনাতের দাবি, এর মানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়, যেমনটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে সম্পর্কে ভুল বার্তা দিয়েছিলেন তাদের ছোট করেছিলেন।

সংসদে নৌকাবাইচ নিয়ে দেওয়া তথ্যে ভুলের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘নৌকাবাইচের বিষয়টিতে স্থান নিয়ে আমার তথ্যগত ত্রুটি হয়েছে। সিলেটের জায়গায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলি। এ ত্রুটিতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমি বিব্রত। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সংগীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।… যার যেটা পছন্দ হবে, সে সেটায় যাবে, অংশ নেবে, যার যেটা পছন্দ হবে না, সে সেটায় যাবে না। আর সরকার এইটুকু নিশ্চিত করবে, কেউ যেন আরেকজনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, এমন কিছু করতে না পারে।’

এর আগে জাতীয় সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ টানেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২টার দিকে শহরের কান্দিপাড়ায় জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে যান। মিছিল থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তার দল এনসিপিকে বয়কটের ঘোষণাসহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

এলডিসি উত্তরণে ৩ বছর সময় বাড়াতে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাইলো বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত তিন বছর সময় বৃদ্ধি, চীনের নেতৃত্বাধীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) সদস্যপদ লাভ এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনে দেশটির সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সদর দপ্তরে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে বাংলাদেশ এই বিষয়গুলো তুলে ধরে।

এতে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ফরেন ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) উইং‍য়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছাড়াও ওয়েলিংটনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ইশতিয়াক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির ট্রেড নেগোসিয়েশনস অ্যান্ড পলিসি ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সারা মেম্যান্ড ও ইউনিট ম্যানেজার জোনাস হোল্যান্ড।

বাংলাদেশ জানায়, আরসিইপি সদস্য পদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নাবলীর বিস্তারিত জবাব ইতোমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কাঠামোকে আরসিইপি-এর উচ্চমানের বাণিজ্য শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে—শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ, টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা ও লজিস্টিকস খাতকে আরও উন্মুক্ত করতে ‘পজিটিভ লিস্ট’ থেকে ‘নেগেটিভ লিস্ট’ পদ্ধতিতে রূপান্তর এবং প্রতিযোগিতা, পেটেন্ট, কপিরাইট ও ডেটা সুরক্ষা বিষয়ে আধুনিক আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন।

বৈঠকে আরসিইপি-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিউজিল্যান্ডের কাছে সংবেদনশীল পণ্য ও শিল্প খাতের সুরক্ষায় আসিয়ানের এলডিসি সদস্যদের মতো ১৫ থেকে ২০ বছর মেয়াদি পর্যায়ক্রমিক শুল্ক নমনীয়তার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি উন্নয়নশীল ও উত্তরণপ্রক্রিয়ায় থাকা অর্থনীতিগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে।

পাশাপাশি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের চলমান আর্থ-সামাজিক রূপান্তর, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীলকরণ এবং প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রস্তাবিত এফটিএ বাস্তবায়িত হলে নিউজিল্যান্ডের জন্য বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ভোক্তা বাজারে দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি ও ধাতব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এলডিসি উত্তর সময়ে নিউজিল্যান্ডের বাজারে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বেলিংহ্যামের নৈপুণ্যে হালান্ডদের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

এবারের বিশ্বকাপে বিস্ময় জাগানো নরওয়ে আরও একবার চমক দেখিয়ে নিয়ে নিল লিড। তবে দমে না গিয়ে জুড বেলিংহ্যামের নৈপুণ্যে অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড। ফের জ্বলে উঠে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে এই মিডফিল্ডার করলেন জোড়া গোল। তার কাঁধে চেপে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো লড়াইয়ে জিতে আসরের সেমিফাইনালে উঠল টমাস টুখেলের শিষ্যরা।

মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে অনুষ্ঠিত জমজমাট কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। এর আগে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ছিল ১-১ ব্যবধানে সমতা।

প্রথমার্ধের ৩৬তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরাপের গোলে নরওয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ম্যাচে সমতা টানেন বেলিংহ্যাম। দ্বিতীয়ার্ধে কোনো দলই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৩তম মিনিটে ফের মঞ্চে আবির্ভূত হন সুযোগসন্ধানী বেলিংহ্যাম। তার আরেকটি গোল গড়ে দেয় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এই নিয়ে চতুর্থবার সেমিফাইনালে উঠল ইংলিশরা। শেষবার তারা শেষ চারে খেলেছিল ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। অন্যদিকে, আর্লিং হালান্ডদের স্বপ্নযাত্রা থামল কোয়ার্টার ফাইনালে। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে খেলে দুটি ম্যাচ জেতা নরওয়ে এবার জিতেছে চারটিতে।

অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় মর্গান রজার্সের দূরপাল্লার শট নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিলান্ড লুফে নিতে ব্যর্থ হন। ফিরতি বল জালে জড়াতে একদম ভুল করেননি ডি-বক্সে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা বেলিংহ্যাম। তার এই লক্ষ্যভেদে ৬৪ হাজার ৪৭৮ জন দর্শকের উপস্থিতিতে গ্যালারিতে থাকা সাদাজার্সিধারী সমর্থকরা উল্লাসে মেতে ওঠেন।

এই জয়ের ফলে আটলান্টায় অনুষ্ঠেয় সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় অনুসারে আগামী বুধবার রাতে।

নরওয়ে হয়তো সুযোগগুলো লুফে নিতে না পারার আক্ষেপে পুড়বে। যদিও তাদের সেরা তারকা হালান্ড ছিলেন একেবারে নির্বিষ। জাতীয় দলের জার্সিতে গত ১৬টি ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম গোলহীন থাকলেন এই স্ট্রাইকার। তারপরও দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছে।

সম্ভবত প্রচণ্ড গরমের কারণে প্রথমার্ধের শুরুতে দুই দলই কিছুটা মন্থর ও সতর্ক ছিল। তবে ৩৫তম মিনিটে ম্যাচটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে যখন ইউলিয়ান রায়ারসনের ক্রসে হালান্ড জোরালো হেড করেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড তা সহজে রুখে দেন।

ঠিক এক মিনিট পর মাঝমাঠের কাছাকাছি হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন প্যাট্রিক বার্গ এবং বাম প্রান্তে থাকা শেলদেরাপের দিকে পাস বাড়িয়ে দেন। এই উইঙ্গার ইংল্যান্ডের ফুলব্যাক এজরি কনসাকে দারুণভাবে বোকা বানিয়ে কোণাকুণি শট নেন, যা চমক জাগিয়ে সরাসরি জালে জড়ায়। গোলের আগে কেইনকে ফাউল করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠলেও রেফারি কান দেননি।

এই গোলে ইংল্যান্ড বেশ ধাক্কা খায় এবং নরওয়ে এগিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর আলেক্সান্ডার সরলথের জোরালো শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং মার্টিন ওডেগার্ডের নিচু শট পিকফোর্ড প্রতিহত করেন।

৪৪তম মিনিটে নরওয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। ইংল্যান্ডের সীমানায় সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন সরলথ ও ডি-বক্সে ফাঁকায় ছিলেন হালান্ড। কিন্তু সরলথ হালান্ডকে পাস না দিয়ে নিজেই শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তা কাজে লাগেনি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এই সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিতে হয় নরওয়েকে। ডি-বক্সের মাথায় অ্যান্থনি গর্ডনের চতুর পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান বেলিংহ্যাম।

প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় ছিল ইংল্যান্ডেরই আধিপত্য। কেইন বল জালে জড়ালেও ভিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে তা বাতিল করা হয় অফসাইডের কারণে।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় আবার ভিএআরের হস্তক্ষেপ দেখা যায়। কর্নার থেকে টোরবিয়র্ন হেগে নরওয়েকে ফের এগিয়ে নিয়েছেন বলে মনে হলেও এই গোলটিও বাতিল করা হয়। কারণ ডি-বক্সে হালান্ড ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন।

৬৭তম মিনিটে দুই গতিময় উইঙ্গার অস্কার বব ও অ্যান্টোনিও নুসাকে মাঠে নামালে নরওয়ে আবারও ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। এরপর ডেভিড মোলার উলফের হেড পিকফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে লাগে ক্রসবারে। ফলে সেই যাত্রায় ইংল্যান্ড ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়।

ইংল্যান্ডের হয়ে বদলি নামা বুকায়ো সাকা ৮৭তম মিনিটে একটি দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করেন। তিনি বাইলাইনের কাছাকাছি পৌঁছে ডি-বক্সের ভেতরে বিপজ্জনক জায়গায় নিচু ক্রস বাড়ান। কিন্তু তার সতীর্থদের কেউই বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি।

অতিরিক্ত সময়ে বেলিংহ্যামের দ্বিতীয় গোলের পর আরও একবার ভিএআর কেড়ে নেয় সব আলো। এবার এবেরিচি এজেকে ফাউলের কারণে ইংল্যান্ডকে দেওয়া পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করেন রেফারি।

এই টুর্নামেন্টে সাত গোল করা হালান্ড অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ শেষে মাঠ ছাড়েন। বাকি সময়ে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ করলেও সফল হয়নি নরওয়ে। তাদেরকে আটকে রেখে ইংল্যান্ড মাঠ ছাড়ে কাঙ্ক্ষিত জয় নিয়ে।

রহস্য ও পারিবারিক গল্প নিয়ে হেডলাইনে অপূর্ব-ইয়াশ

একটি পুরনো খবরের কাগজ। তাতে ছাপা অসংখ্য শিরোনাম। সময়ের সঙ্গে যেসব খবর হারিয়ে গেছে পাঠকের স্মৃতি থেকে। কিন্তু যদি কোনো একদিন সেই চাপা পড়ে যাওয়া খবরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে এমন এক সত্য, যা বদলে দিতে পারে অনেক মানুষের জীবন?

এমনই এক রহস্য, অনুসন্ধান ও পারিবারিক নাটকের গল্প নিয়ে আসছে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘হেডলাইন’। জনপ্রিয় দুই অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও ইয়াশ রোহান অভিনীত সিরিজটি আগামী ২৫ তারিখে মুক্তি পাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে।

সিরিজটির নির্মাতা সালেহ সোবহান অনীম। এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম পোস্টার, যা দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে নতুন কৌতূহল।

প্রকাশিত পোস্টারে দেখা যায়, ব্ল্যাক টাক্সিডো ও বো-টাই পরিহিত অপূর্ব এবং ইয়াশ রোহানকে। দুজনের চোখে-মুখে তীক্ষ্ণ অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি। যেন তারা কোনো গোপন সত্যের সন্ধানে নেমেছেন।

পোস্টারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, পুরনো সংবাদপত্রের ব্যবহার। মনে হয়, খবরের কাগজের স্তূপ ভেদ করে বেরিয়ে আসছেন দুই চরিত্র। এই ভিজুয়াল ভাষা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কোনো চাপা পড়ে থাকা সংবাদ, যার পেছনের বাস্তবতা অনুসন্ধান করতে যাচ্ছেন তারা।

গাড় রঙ, রহস্যময় আবহ এবং চরিত্র দুটির অভিব্যক্তি দর্শকের মনে একটাই প্রশ্ন জাগায়, কোন সেই খবর, যার জন্য এত অনুসন্ধান?

‘হেডলাইন’ নাম শুনলেই প্রথমে মনে হতে পারে এটি সাংবাদিকতা বা সংবাদজগতের গল্প। কিন্তু নির্মাতার ভাষ্য বলছে, বিষয়টি তার চেয়েও গভীর।

পরিচালক সালেহ সোবহান অনীম জানিয়েছেন, সিরিজটি মূলত সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধানের আবরণে নির্মিত একটি পারিবারিক নাটক।

তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের নানা অস্থিরতা ও বিভাজনের মধ্যে দর্শকদের জন্য একটু স্বস্তির গল্পই বলতে চেয়েছেন তারা। এমন এক গল্প, যা দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে যেগুলো দেখে বড় হয়েছে একটি প্রজন্ম।

অর্থাৎ, হেডলাইন শুধু রহস্য নয়, থাকবে সম্পর্কের টানাপড়েন, পরিবারের ভাঙাগড়া এবং মানুষের ভেতরের অদেখা গল্পও।
বাংলাদেশের ওটিটি অঙ্গনে অপূর্বের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। গত কয়েক বছরে একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের আস্থা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ইয়াশ রোহান তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত মুখ।

হেডলাইনে এই দুই অভিনেতাকে একসঙ্গে দেখা যাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

অপূর্ব ও ইয়াশের পাশাপাশি সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন আফসান আরা বিন্দু, সারিকা সাবরিন, ফারহানা হামিদ এবং অর্নিল বিরলসহ আরও অনেকে।

ইরান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে মার্কিন বি–১ বোমারু বিমান

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে একটি মার্কিন বি–১ বোমারু বিমান যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ১৪৬ ফুট দীর্ঘ মার্কিন বি–১ ল্যান্সার শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে পৌঁছায়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রকে ওই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর অনুমতি দেন।

বিবিসি জানায়, শুরুতে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এই সিদ্ধান্তে ‘তিনি যুক্তরাজ্যের ওপর সন্তুষ্ট নন’ এবং এর ফলে মার্কিন বিমানগুলোকে অতিরিক্ত সময় উড়তে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার বলেন, ইরানের ওপর হামলা ‘নাটকীয়ভাবে বাড়তে যাচ্ছে’।

বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮৬ টন ওজনের বি–১ ল্যান্সার মার্কিন বিমানবাহিনীর দ্রুততম বোমারু বিমানগুলোর একটি, যার গতি ঘণ্টায় ৯০০ মাইলের বেশি। ‘দ্য বোন’ নামে পরিচিত এই বিমানে উন্নত রাডার, জিপিএস ও ইলেকট্রনিক জ্যামারসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষক জাস্টিন ক্রাম্প বিবিসিকে বলেন, বি–১ ল্যান্সার ‘বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোমারু বিমান’ এবং এটি দ্রুত দীর্ঘ দূরত্বে বড় পরিমাণ অস্ত্র বহন করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে যাতায়াত করা অনেক বেশি কার্যকর।’

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শনিবার অষ্টম দিনে পৌঁছেছে। রাতভর তেহরানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বলে জানায় বিবিসি।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইপ্রাসে আরএএফের আক্রোটিরি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর যুক্তরাজ্য সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, হামলায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসম্পন্ন ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে রয়্যাল নেভির দুটি ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার সাইপ্রাসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

১৮০ দিনের মধ্যে নারীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করতে চায় সরকার

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে রাজধানীতে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করতে চায় সরকার। 

আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হকের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন এবং ঢাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চান। বিশেষ করে রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার কিছু অংশসহ রাজধানীর যেসব নিচু এলাকায় বাস চলাচল পর্যাপ্ত নয়, সেখানে বিকল্প হিসেবে ট্রেন সার্ভিস চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীতে বৈদ্যুতিক যান (ইলেকট্রিক ভেহিকল) চালুর পরিকল্পনাও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে একই সঙ্গে অধিক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি, দেশের আন্তঃনগর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সহজ করতে ভবিষ্যতে ‘হাই-স্পিড’ বা উচ্চগতির ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

আইফোন ডুয়োর স্ক্রিনে সমস্যা, বদলে দেবে অ্যাপল

সম্প্রতি বাজারে ফোল্ডেবল বা ভাঁজযোগ্য ফোন এনেছে অ্যাপল। তবে বহুল প্রতীক্ষিত এই স্মার্টফোন বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি।

বেশ কয়েকজন ক্রেতা আইফোন ডুয়োর স্ক্রিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। পরে অ্যাপলও বিষয়টি স্বীকার করেছে।

আজ মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে প্রযুক্তি জগতের বড় প্রতিষ্ঠানটির নতুন এই ডিভাইসের স্ক্রিনে দাগ দেখা যায়।

যুক্তরাজ্যে ফোনটির দাম ১ হাজার ৯৯৯ পাউন্ড (প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৮৩৫ টাকা) থেকে শুরু হয়েছে।

অ্যাপল জানিয়েছে, অল্প সংখ্যক ফোনের ইনার ডিসপ্লেতে সমস্যা দেখা দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত। ডিসপ্লে সমস্যাযুক্ত ফোনগুলো বদলে নতুন ফোন দেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনলাইনে প্রি-অর্ডার চালুর পর গত সপ্তাহে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাপলের স্টোরগুলোতে আইফোন ডুয়োর উন্মোচন ঘিরে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফোল্ডেবল ফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং ডিভাইসের বাজারে নতুনত্ব আনতে এই ফোন এনেছে অ্যাপল।

আইফোন ডুয়োর কয়েকজন ব্যবহারকারী অনলাইনে ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ফোনের স্ক্রিনের মাঝের ভাঁজ বরাবর ফাটল দেখা দিয়েছে।
এছাড়া অনেকে ফোনটি খোলার সময় মচমচ শব্দ হওয়ার অভিযোগ করেন।

আইফোন ডুয়োর ব্যবহারকারী জাস্টিন লোকোস ডিসপ্লের ডান পাশে দাগ দেখা যাওয়া একটি ফোনের ছবি প্রকাশ করেন।

পরে ত্রুটিপূর্ণ ফোনটির পাশে নতুন একটি ফোনের ছবি দিয়ে সহায়তার জন্য নিউইয়র্কের একটি অ্যাপল স্টোরকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সমস্যাটি কতটা ব্যাপক, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কতগুলো ফোনে এই ত্রুটি দেখা দিয়েছে, অ্যাপল তা জানায়নি। এদিকে, ত্রুটিপূর্ণ ফোনের কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইফোন ডুয়োর সম্পর্কে ইতিবাচক বা নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সতর্ক থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির প্রযুক্তি বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো।

তবে তিনি বলেন, সমস্যার প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলো এটাও দেখিয়েছে যে অ্যাপলের মতো কারিগরি সক্ষমতা ও সুসংহত সরবরাহ শৃঙ্খল থাকা প্রতিষ্ঠানও ফোল্ডেবল ফোন তৈরি করতে গিয়ে হোঁচট খেতে পারে।

ডুয়োর ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি (১৯ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার) ইনার ডিসপ্লে মাঝখানের একটি হিঞ্জ বা কবজার মাধ্যমে যুক্ত। এটি প্রকৌশলগতভাবে জটিল একটি ব্যবস্থা। অ্যাপলের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের তৈরি ফোল্ডেবল ফোনেও এ ধরনের ডিজাইনের কারণে একই রকম ত্রুটি দেখা গেছে।

স্যামসাংয়ের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন গ্যালাক্সি ফোল্ডও ২০১৯ সালে বাজারে আসার শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল। রিভিউয়াররা ফোনটির স্ক্রিন নষ্ট হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফোল্ডেবল ফোনের বিকল্প রয়েছে। ডুয়ো বাজারে আনার আগে এই প্রযুক্তি নিয়ে কয়েক বছর ধরে কাজ করেছে অ্যাপল।

এটি অ্যাপলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি আইফোন। সর্বোচ্চ সুবিধাসম্পন্ন মডেলটির দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ড (৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৩৫ টাকা)।

গত ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ডুয়ো উন্মোচন করা হয়। ১৬ অক্টোবর থেকে ওয়েবসাইটে প্রি-অর্ডার চালু হয়। এরপর ২৩ অক্টোবর নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারে এই ফোন নিয়ে আসে অ্যাপল।

আগামী ৩০ অক্টোবর আরও ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে এই ফোন পাওয়া যাবে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষক জেরোনিমো বলেন, ডুয়োকে বাজারে প্রতিষ্ঠিত ফোল্ডেবল ফোনগুলোর ‘প্রিমিয়াম বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরেছে অ্যাপল। তাই শুরুর দিকের এই সমস্যাটি অ্যাপল কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপর শুধু এই ফোনের বিক্রি নয়, বরং অ্যাপলের যেকোনো ফোল্ডেবল ফোনের প্রতি ক্রেতাদের আস্থাও নির্ভর করবে।

প্রায় দুই দশকের মধ্যে আইফোনের ডিজাইনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এই ডুয়ো।

সেপ্টেম্বরে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস ফোনটি উন্মোচন করেন।

‘লংমার্চে ১ লাখ লিটার তেল লাগবে, সংকট থাকলে বিরোধীদল এই জ্বালানি কোথায় পাবে’

বিরোধীদলের উদ্দেশে অনুরোধ রেখে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সস্তা জনপ্রিয়তা নেওয়ার জন্য জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না।

তিনি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, তারা ৫ তারিখের পর লংমার্চে যাবে এবং লংমার্চে যে পরিবহন ব্যবহার করবে, সেখানে ১ লাখ লিটার তেল তারা ব্যবহার করবে। জ্বালানির যদি সমস্যাই হয়, তাহলে বিরোধীদল এই ১ লাখ লিটার তেল কোথায় পাবে? নিশ্চয়ই তেলের সমস্যা নাই এবং তেলগুলো তারা গাড়িতে উঠিয়েই লংমার্চে যাবে।’

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৫ আগস্ট জানিয়েছেন, ছয় দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

পরওয়ার জানান, ওই দিন সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, লংমার্চে অন্তত এক হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। পথে আরও গাড়িবহরে যোগ দেবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নয়টি জেলা ও মহানগরীর জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পথে ছয়-সাতটি স্থানে শীর্ষ নেতাদের পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লংমার্চের ছয়টি প্রধান দাবি হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদল রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে এবং তারা একটি লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, এ ব্যাপারে সরকারের ভাবনা জানতে চাইলে শাহে আলম বলেন, বিরোধীদলের কর্মসূচি মোকাবিলা করার কিছু নাই। তারা গণতান্ত্রিক পন্থায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে এ ব্যাপারে সরকার সহায়তা করবে যেহেতু এটা গণতান্ত্রিক সরকার।

‘তবে আমি এইটুকুই বলবো যে, মঞ্চের পেছনে ফ্যান চালিয়ে আপনি যদি বলেন যে, বিদ্যুৎ নাই দিতে হবে—এই জিনিসটা সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

শাহে আলম বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জন্য সাময়িক যে অসুবিধা ছিল, এ ব্যাপারে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’

তিনি জানান, চলতি সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিষয়ে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসূচি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করবেন।

‘তখনই জাতির কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পরিকল্পনা কী,’ যোগ করেন তিনি।

চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—পাঁচটি অর্ডিন্যান্স সংসদে আইন আকারে পাস হয়েছে। সেখানে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া এবং জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান আমরা বিলুপ্ত করেছি। এখন এই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে সাধারণ প্রতীকে এবং নির্দলীয়ভাবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তবে রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্যই তাদের রাজনীতিকে ঠিক রাখার জন্য কোনো না কোনো প্রার্থীকে দলীয়ভাবে সমর্থন দেবে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার গুলশান অফিসে দলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলেও জানান তিনি।

আলম বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা বিএনপি ঠিক করবে, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাকে আমরা সমর্থন দেবো।’

গত ১৭ বছর নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই-সংগ্রাম করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তি দলীয় সমর্থনে অগ্রাধিকার পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাঠে ছিল, মামলা খেয়েছে, হয়রানি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভোটে জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে—এ ধরনের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।’

তিনি আরও জানান, আন্দোলনে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু নির্বাচনের মাঠের অভিজ্ঞতাটা খুবই কম—এ ধরনের প্রার্থীকে আমরা অন্য জায়গায় অ্যাকমোডেট করব, সমর্থন হয়তো দেবো না। আবার ভোটের মাঠে অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু ১৭ বছর খুঁজে পাওয়া যায়নি, এ ধরনের প্রার্থীকেও সমর্থন না দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অনুশাসন রয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে আমরা কোনো রকম প্রভাব বিস্তার করব না।’

তিনি বলেন, একদম অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, এই নির্বাচন করার ব্যাপারে সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে আমরা ১০০ ভাগ সহায়তা করব। কোনোক্রমেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এর বাইরে অন্য কিছু না হয়, এ ব্যাপারে আমাদের ১০০ ভাগ নজর থাকবে।

দলীয় সমর্থনের বাইরে কেউ নির্বাচনে দাঁড়ালে বহিষ্কার করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বিএনপি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। কেন্দ্র থেকে যেহেতু মনোনয়ন বা সমর্থন দেওয়া হচ্ছে না, সেহেতু কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারও করা হবে না।’

বিদেশের পড়াশোনার খরচ এখন ব্যাংকের কার্ডেই দেওয়া যাবে

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখন থেকে নির্ধারিত ডেবিট, ক্রেডিট বা প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন এবং এনরোলমেন্ট ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

এর ফলে কাগজপত্রের ঝামেলাপূর্ণ ‘স্টুডেন্ট ফাইল’ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ফি পরিশোধের প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হবে।

এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফি দেওয়ার জন্য অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো এখন থেকে নির্দিষ্ট কার্ড ইস্যু করতে পারবে বা কার্ড ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এসব কার্ড শিক্ষার্থীর নামে অথবা তাদের শিক্ষার খরচ বহনকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামে ইস্যু করা যেতে পারে।

নতুন এই পেমেন্ট সুবিধাটি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে পেশাদার ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের মতো বিস্তৃত একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে।

বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন তাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার কথা বলে থাকে। মূলত সেই কারণেই এই নতুন পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, এই নতুন সুবিধাটি ভ্রমণ কোটা এবং অন্যান্য সাধারণ বৈদেশিক মুদ্রার খরচ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হিসেবে ধরা হবে।

ভ্রমণ কোটা হলো সেই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, যা একজন বাংলাদেশি নাগরিক এক বছরে ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য আইনগতভাবে বিদেশে নিয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য এই সীমা ১২ হাজার ডলার।

আগে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে শিক্ষার্থীদের সাধারণত একটি আনুষ্ঠানিক এবং কাগজপত্রের জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো।

২০২৫ সালে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবিধান অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের তাদের পুরো কোর্সজুড়ে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন পরিচালনার জন্য একটি নির্ধারিত ব্যাংক শাখায় স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে হতো। এরপর ব্যাংকগুলো সরাসরি বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি পাঠাত।

ব্যাংক টাকা পাঠানোর আগে শিক্ষার্থীদের মূল ভর্তির কাগজপত্র, ফির আনুমানিক হিসাব এবং শিক্ষাগত সার্টিফিকেট জমা দিতে হতো।

ব্যাংকগুলোকে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়া টিউশন ফি এবং থাকা-খাওয়ার হিসাব অনুযায়ী সরাসরি ওয়্যার ট্রান্সফার করতে হতো।

আন্তর্জাতিক কার্ডগুলো আগে শুধুমাত্র জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের জন্য অনুমোদিত ছিল, এবং সেটিও কেবল তখনই যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেসব ফি সরাসরি তাদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিত না।

যে শিক্ষার্থীরা ব্যাংক পরিবর্তন করতে চাইতেন, তারা চাইলেই তাদের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিতে পারতেন না। তাদের স্টুডেন্ট ফাইলটি সরাসরি এক ব্যাংক শাখা থেকে অন্য শাখায় স্থানান্তর করতে হতো।

টোফেল বা স্যাট রেজিস্ট্রেশনের মতো কিছু অনলাইন পেমেন্টের জন্য ভার্চ্যুয়াল কার্ড ব্যবহার করা গেলেও মূল টিউশন ফি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমেই পরিশোধ করতে হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, লেনদেনের অনুমতি দেওয়ার আগে ব্যাংকগুলোকে সব প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই-বাছাই করতে হবে। বিশেষ করে মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধের নিয়মসহ প্রচলিত সব বৈদেশিক মুদ্রা আইন যেন সঠিকভাবে মেনে চলা হয়, সেদিকে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

কার্ডগুলো যেন শুধুমাত্র শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয় এবং পরিশোধ করা অর্থ যেন ঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশে পড়াশোনার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত অন্যান্য সব বিদ্যমান নিয়ম আগের মতোই কার্যকর থাকবে। এসব নিয়ম ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হালনাগাদ করা একটি বিস্তৃত কাঠামোর অংশ, যা বিদেশে টাকা পাঠানোর বিভিন্ন নিয়ম বা নির্দেশিকাকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন নিয়ম যেন যথাযথভাবে পালন করা হয়, তা নিশ্চিতে ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মনিটরিং মডিউলে (সিস্টেমে) জমা দিতে হবে।