28 C
Dhaka
Home Blog

ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা কেন ভারতের জন্য অস্বস্তির

আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার নয়াদিল্লির জন্য অস্বস্তিকর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। কারণ জাহাজটি ভারতীয় বন্দর থেকে যৌথ নৌ-মহড়া শেষ করে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ধ্বংস করা হয়।

সিএনএন জানায়, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাহাজটিকে ‘আইআরআইএস ডেনা’ বলে শনাক্ত করেছেন। ফ্রিগেটটি ভারতের পূর্বাঞ্চলের একটি বন্দর থেকে নিজ দেশে ফিরছিল, যেখানে গত মাসে ভারতীয় নৌবাহিনী তাকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিল।
এ ঘটনায় ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে এই হামলা হয়। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকেই টানা ছয় দিন ধরে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

সিএনএন বলছে, ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথমবার মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে।

ভারতের জন্য কেন অস্বস্তির

এই হামলা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটলেও নয়াদিল্লির জন্য তা অস্বস্তিকর হতে পারে। কারণ হামলাটি এমন এক সমুদ্রাঞ্চলে ঘটেছে, যাকে ভারত তার নিজস্ব প্রভাব বলয়ের অংশ বলে মনে করে এবং এর আগে ভারত ওই জাহাজের নাবিকদের অভ্যর্থনা জানিয়েছিল।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক সুশান্ত সিং বলেন,
‘ভারতের জলসীমা ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইআরআইএস ডেনাকে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা নয়াদিল্লির আঞ্চলিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি বড় ধাক্কা।’

তিনি বলেন, ‘জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকলেও সেটি ভারতের নৌ-মহড়া থেকে ফিরছিল এমন একটি এলাকা দিয়ে যা কোনো সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র নয় এবং যে এলাকাটি নিশ্চিতভাবেই ভারতের প্রভাব বলয়ের আওতায় পড়ে।’

এ কারণেই ঘটনাটি একটি গুরুতর ‘রেড লাইন ক্রস করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুশান্ত সিং আরও বলেন, ‘বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট সুরক্ষা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়া এড়ানো এবং নিজস্ব সামুদ্রিক সীমানার কাছাকাছি তৃতীয় পক্ষের সামরিক পদক্ষেপকে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে না দেওয়া ভারতের জন্য অপরিবর্তনীয় অগ্রাধিকার।’

তবে মার্কিন নৌবাহিনীর এই পদক্ষেপ এসব অগ্রাধিকারের প্রতিটিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সিএনএনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ শুক্রবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে বরিশাল ও পিরোজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তিনি চেক বিতরণ করেন। বরিশাল জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনাকে আমরা একটা আধুনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে চাচ্ছি। সে কারণেই শুধুমাত্র বিশেষ কোনো অনলাইন বা ইলেকট্রনিক অথবা প্রিন্ট এভাবে ভাগ ভাগ না করে…আমরা একটু পিছিয়ে আছি, আধুনিক যে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থা এবং এই ইকোসিস্টেমের মধ্যে, আমাদের নতুন গণমাধ্যম এর মধ্যে যুক্ত হতে পারেনি এখনো। আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয় যখন গড়ে উঠেছে, সেটা যে আমলে, তখন এই ধরনের তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম ছিল না। আবার এখন যে ধরনের তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক এবং নতুন কমিউনিকেশন টেকনোলজিভিত্তিক গণমাধ্যমের প্রসার হয়েছে, এটার সঙ্গে যেভাবে খাপ খাওয়ানো দরকার, তাও এত দিনে হয়ে ওঠে নাই।’

‘আমি কেবল দায়িত্ব নিয়েছি। আমি মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতি-নির্ধারক সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ধীরে ধীরে জনগণের কাছে তথ্যের একটা অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারদের মতামতের ভিত্তিতেই আমরা জবাবদিহিতার পরিধি প্রথমে নির্ধারণ করব। তারপর সেই পরিধির মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করব,’ বলেন তথ্যমন্ত্রী।

৩ প্রতিষ্ঠানকে হ্যাক করেছে জেমিনাই, স্বীকার গুগলের

সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষার সময় গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল জেমিনাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষিত ব্যবস্থায় ঢুকে পড়েছে। গুগলের দাবি, তাদের কোনো এআই সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার এটিই প্রথম ঘটনা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই ঘটনাটি প্রকাশ করে। গুগলের বরাত দিয়ে বিবিসি ও এএফপি জানিয়েছে, গত মে মাসে একটি স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইরেগুলারের পরিচালিত পরীক্ষার সময় ঘটনাগুলো ঘটে। জুলাইয়ে বিষয়টি শনাক্ত করে গুগল।

গুগলের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার অ্যাডকিনস জানান, একটি সাধারণ পরীক্ষার অংশ হিসেবে জেমিনাই ইন্টারনেটে প্রকাশ্য তথ্য খুঁজে বের করে এবং পরীক্ষার আওতাভুক্ত মনে করা কয়েকটি ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য লগইন তথ্য অনুমান করে।

তিনি বলেন, তিনটি ঘটনার প্রতিটিতেই জেমিনাই শেষ পর্যন্ত নিজে থেকেই ওই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় জেমিনাই প্রবেশ করেছিল, তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ অংশীদারের সঙ্গে কাজ করেছে গুগল।

পাসওয়ার্ড অনুমান করে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি ঘটনার একটিতে জেমিনাই পাসওয়ার্ড অনুমান করতে করতে শেষ পর্যন্ত একটি সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

অন্য দুটি ঘটনায় মডেলটি একটি উন্মুক্ত রিপোজিটরিতে থাকা লগইন তথ্য খুঁজে পায়। পরে ওই তথ্য ব্যবহার করে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ করে।

তবে গুগল আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করেনি।

গুগলের অ্যাডকিনস বলেন, এসব ঘটনা শক্তিশালী এআই মডেলকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে।

ইরেগুলারের এক মুখপাত্র জানান, ঘটনাটি এআই খাতের অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা একই ধরনের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। সংশ্লিষ্ট এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জুলাইয়ের শেষ দিকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তাদের পক্ষের জানা সমস্যাগুলো কয়েক সপ্তাহ আগেই সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্য এআই মডেলেও একই ধরনের ঘটনা

জেমিনাইয়ের এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের মডেল নিয়েও একই ধরনের সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরেগুলারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একই ধরনের ঘটনায় মেটা, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মডেলগুলোর নামও এসেছে।

অ্যানথ্রপিকের ক্লড জুলাইয়ে পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়েছিল বলে বিবিসি জানিয়েছে। একই মাসে ওপেনএআইও জানিয়েছিল, তাদের দুটি মডেল নির্ধারিত বন্ধ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে এবং এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে।

ওপেনএআইয়ের মডেলগুলো কয়েকটি ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ অনলাইন সেবায় সাইবার হামলা চালিয়েছিল বলেও ওই সময় জানানো হয়।

মেটা আগস্টে জানিয়েছিল, তাদের সংশ্লিষ্ট ঘটনায় স্যান্ডবক্স থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা অত্যাধুনিক কোনো সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এআইয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে নতুন উদ্বেগ

এআই মডেলগুলোকে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ব্যবস্থায় আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

জেমিনাইয়ের ক্ষেত্রে মডেলটি শুধু পরীক্ষার নির্দেশনাই অনুসরণ করেনি, বরং ইন্টারনেটে প্রকাশ্য তথ্য খুঁজে বের করে লগইন তথ্য অনুমান বা সংগ্রহ করে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। যদিও তিনটি ঘটনাতেই মডেলটি নিজে থেকেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ইরেগুলার জানিয়েছে, এ ধরনের সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন কীভাবে নিরাপদভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে তারা সর্বোত্তম পদ্ধতি তৈরিতে কাজ করছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এআই মডেলের সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন, সে প্রশ্নও সামনে এনেছে।

এদিকে এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে জনপরিসরে বিতর্কও বাড়ছে। কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সবাই একই অবস্থানে নেই।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার সিবিএস নিউজকে হুয়াং বলেন, এআই উন্নয়নে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এগিয়ে যাওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অবশ্য এআই ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা, স্বায়ত্তশাসন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।

২০২৫ সালে আয়ের চেয়ে ২৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বেশি ব্যয় জামায়াতের

রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০২৫ সালে আয়ের চেয়ে ২৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৫ টাকা বেশি ব্যয় করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া দলটির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই বছর জামায়াতে ইসলামীর আয় ছিল ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৪ হাজার ১৩৯ টাকা, ব্যয় ২৩ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৪ টাকা।

দলটির কাছে বর্তমানে আছে ১৫ কোটি ৪৯ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৮ টাকা। এর মধ্যে নগদ ৭ কোটি ৫১ লাখ ১৩ হাজার ৬৫ টাকা, ব্যাংকে আছে ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৩ টাকা।

২০২৪ সালে দলটির আয়-ব্যয় শেষে দলটির কাছে ছিল ১৫ কোটি ৭৩ লাখ ৭ হাজার ২২৩।

দলের আয় থেকে ব্যয় কেন বেশি জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘গত বছর আমরা বেশি কাজ করেছি, তাই ব্যয় বেশি হয়েছে।’

দলের আয়ের উৎস সম্পর্কে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের আয়ের উৎস হলো, নেতাকর্মীরা নিয়মিত দান-অনুদান, নিয়মিত চাঁদা দেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের দলের সুধী ও শুভাকাঙখীরা দান করেন। তৃতীয়ত, আমাদের বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে আয় হয়।’

দলের ব্যয়ের খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস ম্যানেজমেন্ট একটা বড় খরচ আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মিটিং, সমাবেশ, বৈঠক, নেতাদের সফর, নেতারা বিভিন্ন জায়গায় মিটিং, বড় আকারের জনসভা-এগুলোতে বড় আকারের খরচ হয়।’

৭ প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআইয়ের ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা, বাধ্যতামূলক মান সনদ বা প্যাকেজিং নিবন্ধন ছাড়া পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করায় সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

আজ রোববার রাজধানীর বসিলা ও হাজারীবাগ এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

বিএসটিআই জানায়, মান সনদ ও প্যাকেজিং নিবন্ধন ছাড়াই পোলট্রি-মাছের খাদ্য উৎপাদন এবং বাজারজাত করায় এসিআই গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট ও আফতাব ফিডকে ৪ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আফতাব ফিডের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গত ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পোলট্রি ও মাছের খাদ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের এ ধরনের সনদ বাধ্যতামূলক রাখার বিধান বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকায় আমাদের প্রতিষ্ঠান এখনো বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নেয়নি।

এদিকে জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি এসিআই গোদরেজ অ্যাগ্রোভেটের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের লিড আরমান তুগনাওয়াত।

বিএসটিআই আরও জানায়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আরও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে লেড-অ্যাসিড স্টার্টার ব্যাটারি প্রস্তুতকারী জিউজৌ ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডকে প্রয়োজনীয় বিএসটিআই সনদ ও প্যাকেজিং নিবন্ধন ছাড়া পণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ করায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর বসিলায় পৃথক অভিযানে আমান কনজ্যুমার অ্যান্ড টয়লেট্রিজ এবং স্ট্যান্ডার্ড কনজ্যুমার অ্যান্ড টয়লেট্রিজকে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিএসটিআই।

প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে হ্যান্ডওয়াশ ও লিকুইড টয়লেট ক্লিনার পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে এ জরিমানা করা হয়।

হাজারীবাগে বিএসটিআইয়ের সনদ ছাড়া মিষ্টি, বিস্কুট ও লাচ্ছা সেমাই বিক্রির অভিযোগে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মিঠাইকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মিঠাইয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান ডেইলি স্টারকে বলেন, অভিযানে চিহ্নিত তিনটি পণ্যেরই বৈধ ও হালনাগাদ বিএসটিআই লাইসেন্স রয়েছে। তবে অভিযানের সময় তাৎক্ষণিকভাবে লাইসেন্সগুলো দেখানো যায়নি।

তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইসেন্সের কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সময় দেয়নি।

‘পরে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি তুলে ধরলেও জানানো হয়, চালান ইস্যু হয়ে যাওয়ায় ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আর সুযোগ নেই’, বলেন তিনি।

বিএসটিআই সনদ ছাড়া মিষ্টি ও দই উৎপাদন এবং বাজারজাত করায় অপূর্ব আনন্দ জল খাবারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিএসটিআই।

রূপগঞ্জে বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবেকুন নাহার, বসিলায় লুৎফুন্নেসা খানম ও হাজারীবাগে মো. মাহবুবুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এমবাপের জাদুতে মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ, সেমিফাইনালে ফ্রান্স

পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, দিনটা বুঝি কিলিয়ান এমবাপের নয়। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা আবারও দেখালেন, একটি ভুল তাকে থামিয়ে রাখতে পারে না। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে গোল করে এগিয়ে দেন ফ্রান্সকে। এরপর করালেন আরও একটি। তার নৈপুণ্যেই মরক্কোর টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।

বোস্টনের স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা। ফ্রান্সের জয়ে একটি গোল করেন এমবাপে, অন্য গোলটি আসে উসমান দেম্বেলের পা থেকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো একের পর এক দুর্দান্ত সেভে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। তবে প্রথমার্ধেই নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। মাইকেল অলিসের নিখুঁত পাস ধরে গতি বাড়িয়ে বক্সে ঢুকতেই ফাউলের শিকার হন এমবাপে। তবে স্পটকিক থেকে নিচু শট নিলে দারুণ দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দেন বুনো।

শুধু পেনাল্টিই নয়, প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল ফ্রান্স। দেজিরে দুয়ের শট ঠেকান বুনু, লুকা দিঁনের চিপ ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বলের দখলেও সামান্য এগিয়ে ছিল মরক্কো (৫০.৯ শতাংশ), কিন্তু পুরো প্রথমার্ধে তারা একটি শটও নিতে পারেনি। ফ্রান্সই তৈরি করেছিল পাঁচটি পরিষ্কার গোলের সুযোগ।

বিরতির পর আর ভুল করেনি দিদিয়ের দেশমের দল। ৬০তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের ভেতরের অংশে নেওয়া এমবাপের অসাধারণ বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় দূরের কোণে। বুনোর কোনো সুযোগই ছিল না বলটি ঠেকানোর।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়াল আটে। এতে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সমান গোল করলেও বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় শীর্ষে উঠে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক।

একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ও জমে উঠেছে। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের বিশ্বকাপ গোল এখন ২০টি, আর ৩৯ বছর বয়সী মেসির ঝুলিতে রয়েছে রেকর্ড ২১ গোল।

এর ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী দেম্বেলে। মরক্কোর রক্ষণভাগ ভেদ করে নিচু শটে গোল করেন তিনি। বুনো বল ছুঁতে পারলেও তা জালে জড়ানো ঠেকাতে পারেননি।

ফ্রান্সের আক্রমণে এদিন বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন দেজিরে দুয়ে। তরুণ এই ফরোয়ার্ড ছিলেন সৃজনশীল, বারবার তৈরি করেছেন সুযোগ। অন্যদিকে বিশ্বকাপের অন্যতম আবিষ্কার ১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বুয়াদ্দি ৬১ মিনিটে ক্লান্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন। কোচের রক্ষণাত্মক কৌশলে অনেকটা সময় নিজের স্বাভাবিক খেলাটাও খেলতে পারেননি তিনি।

তবে ফরাসি শিবিরে শেষদিকে কিছুটা দুশ্চিন্তাও দেখা দেয়। ৭৬তম মিনিটে ডান গোড়ালিতে অস্বস্তি অনুভব করায় এমবাপেকে তুলে নেন দেশম। মরক্কোর ইসা দিয়োর শক্ত ট্যাকলের পর থেকেই খুঁড়িয়ে চলছিলেন তিনি। সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখেই হয়তো ঝুঁকি নিতে চাননি ফরাসি কোচ।

মরক্কো শেষদিকে কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি। এল আইনাউইয়ের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর উনাহির একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন মাইক মেনিয়ান।

দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স সেমিফাইনালে আগামী মঙ্গলবার ডালাসে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার-ফাইনালের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। 

যেখানেই যাই, শিল্পীর সম্মান পাই: মৌসুমী হামিদ

দেড় দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন মৌসুমী হামিদ। ক্যারিয়ারে যেমন প্রচুর নাটক করেছেন, তেমনি বড় পর্দাতেও নিজেকে চিনিয়েছেন। বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তার সরব উপস্থিতি। তিন মাধ্যমেই ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার কাজ দিয়ে দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেছেন তিনি। কিছুদিন আগে ‘জ্বিনের বাচ্চা’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

আসন্ন ঈদের জন্য ৭ পর্বের একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন মৌসুমী। কর্মব্যস্ততার মধ্যেই সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়, শিল্পীজীবন তার কেমন লাগে?

প্রশ্ন শুনে হেসে ওঠেন মৌসুমী হামিদ। এরপর বলেন, ‘শিল্পীর জীবন আমার দারুণ লাগে। আমি এই জীবনটাকে খুব উপভোগ করি। এই পেশায় প্রচুর মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়, সম্মান পাওয়া যায়। অভিনয়ে না এলে হয়তো এই বিষয়গুলো টেরই পেতাম না।’মৌসুমী

পর্দায় একেক সময় একেকটি চরিত্রে মিশে যাওয়ার অনুভূতি কেমন? মৌসুমীর উত্তর, ‘খুব ভালো লাগে। আসলে শিল্পীর কাজই তো এটি। প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন জীবনের সঙ্গে মিশে যাওয়া, সেই চরিত্রটা হয়ে ওঠা। যারা অভিনয় করেন, তারা দর্শকদের কাছে একেকটি চরিত্র হয়ে ওঠেন।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘কখনো বোবা মেয়ে, কখনো রাগী, আবার কখনো ভালো মেয়ে¬–কত রকম চরিত্রে যে আমাদের অভিনয় করতে হয়! একজন শিল্পীকে পর্দায় যা নয়, তা-ই হয়ে উঠতে হয়। আমরা শিল্পীরা মন দিয়ে সেই চরিত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। কাজটি প্রচার হওয়ার পর যখন মানুষের প্রশংসা পাই, তখন মনে হয় আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’

এবারের ঈদের জন্য সকাল আহমেদ পরিচালিত ‘লাভ স্টেশন’ নামের ৭ পর্বের একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ। নাটকটি রচনা করেছেন বৃন্দাবন দাশ।

এই নাটক নিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘পরিচালক কাজটি খুব যত্ন নিয়ে করেছেন। আমরাও নিজেদের জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার চরিত্রটি এখানে একটু অন্য রকম। একজন অভিমানী মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এটি খুবই মজার একটি নাটক। চঞ্চল চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত শিল্পী আছেন এই নাটকে।’মৌসুমী

চঞ্চল চৌধুরী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাকে নিয়ে নতুন করে কী আর বলব! তিনি অত্যন্ত গুণী একজন শিল্পী। তিনি থাকলে কাজটি এমনিতেই ভালো হয়, সুন্দর হয়। সেটের পরিবেশটাও দারুণ থাকে।’

এবারের ঈদের ছুটিতে ঢাকায়ই থাকবেন মৌসুমী। তবে উৎসবের দিনগুলোতে ছোটবেলার স্মৃতি নিয়ে বলেন, ‘ঈদের সময় মন ছুটে যায় নিজের এলাকায়, নিজের বাড়িতে কাটানো সেই মধুর দিনগুলোতে। ছোটবেলার ঈদগুলো খুব আনন্দে কেটেছে। ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেই সেই স্মৃতিগুলো বেশি করে মনে পড়ে। তখনকার আর এখনকার আনন্দ তো এক নয়! আমার মনে হয়, ঈদের সময় সবারই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে।’

ঈদের কাজের বাইরে সম্প্রতি রায়হান খান পরিচালিত ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমার কাজ শেষ করেছেন মৌসুমী হামিদ।

হরমুজ প্রণালিকে মাসের পর মাস ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ করে রাখতে পারে ইরান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় বিপর্যস্ত ইরান। তবে দেশটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে পারস্য উপসাগরে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বেশ কয়েক মাস বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক গোয়েন্দারা। 

ইরান তার বহুল আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কতদিন হামলা চালিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তারা।
গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আচমকা ইরানে হামলার পর থেকে তেহরান কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১ হাজারের বেশি ড্রোন উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলো দিকে ছোড়ে। সেগুলোর অধিকাংশ আকাশে ধ্বংস করা হলেও কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় আঘাত হানে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলেন্স ইরানকে শীর্ষ ড্রোন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা তেহরানের আছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে বিশ্লেষকদের ভিন্ন ভিন্ন মত আছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর হিসাবে সেই সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ হতে পারে। অন্য বিশ্লেষকদের মতে, সেই সংখ্যা ৬ হাজারের কাছাকাছি।

তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় সেসব সমরাস্ত্র কতদিন অটুট থাকবে তা অনিশ্চিত।

 

ইরান ও ওমানের মাঝখানে লক্ষ্য হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অঞ্চলটি বন্ধ করে দেওয়া তেহরানের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়।

হরমুজ প্রণালিতে ৬টি জাহাজে ইরানিদের হামলার পর সেখান নিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম ১২ শতাংশ ও ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রধান বব ম্যাকন্যালি বার্তা সংস্থাটিকে বলেছেন, ‘ইরান এখুনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চাচ্ছে না। তারা সেই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখতে চায়।

তার মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হচ্ছে হরমুজ প্রণালির জন্য হুমকি হতে পারে ইরানের এমন সব সমরাস্ত্র ধ্বংস করা। তবে ইরান দেখাতে চাইবে যে তারা কয়েকটি ট্যাংকারে হামলা চালাতে পারে।’

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যদি ফুরিয়ে যায় তাহলে ইরান জল-মাইন ব্যবহার করতে পারে। তেহরানের কাছে ৫ থেকে ৬ হাজারের মতো মাইন আছে বলে জানিয়েছে একটি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান।
 

ঢাকা সফরের অপেক্ষায় শেহবাজ শরিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানালেন ইসহাক দার

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা সফর করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিনবিষয়ক ওআইসি নির্বাহী কমিটির বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এমনটি জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত বছর নিজের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। 

ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে আরও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এসব বৈঠকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

জেদ্দায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ আলখারিজি; তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া; ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন খলিলুর রহমান।  

বৈঠকে বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।

তারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তারা একইসঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হন।

রোহিঙ্গাদের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তারা এই সংকট দ্রুত সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে আমন্ত্রণপত্র দেন খলিলুর রহমান।

সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও একমত হন তারা।

ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন চান সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলখারিজি।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরব-ইসলামিক ব্লক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ করে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা লড়ার জন্য গাম্বিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আগামী এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠেয় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যৌথভাবে একটি ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

এ ছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আফ্রিকার দেশগুলোর সমর্থনের আশ্বাস দেন এনজি।

বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

আইফোনের জন্য জীবন? অপ্রতিমের ঘটনায় সামনে আসছে যে প্রশ্নগুলো

মায়ের আইফোন সঙ্গে নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩)। আজ দুপুরে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

কেন অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশ এখনো তা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে পুলিশ ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটির কারণে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আইফোনটির সন্ধান এখনো মেলেনি।

অপ্রতিমকে খুঁজে না পেয়ে তারা বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তাকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তার আবেদন জানান মা। রাতভর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। সবশেষ আজ বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অনুসন্ধানের সমাপ্তি ঘটে।

আমরা ঠিক কেমন সমাজ বা সময়ে বসবাস করছি, যেখানে সামান্য কোনো একটি জিনিস—ফোন, কয়েক হাজার টাকা কিংবা অন্য কিছু—এতটাই মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে যে, সেটির জন্য একজনের জীবনও কেড়ে নেওয়া সম্ভব?

প্রায় প্রতিদিনই আমরা ছিনতাই, ডাকাতি ও লুটের খবর পড়ি। কখনো লক্ষ্য থাকে একটি ফোন, কখনো একটি ব্যাগ কিংবা নগদ কিছু টাকা। পাঠক হয়তো নতুন নতুন ঘটনা পড়তে পড়তে পুরোনোটি ভুলে যাচ্ছেন। কিন্তু যিনি হামলার শিকার হন কিংবা যে পরিবারটি স্বজন হারায়, তাদের কাছে এসবের কিছুই স্বাভাবিক নয়। এই একটি ঘটনাই হয়তো বদলে দেয় তাদের জীবন। হয়তো ভেঙে চুরমার হয়ে যায় একটি পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন।

অপ্রতিমকে হত্যার কারণ হিসেবে যে বিষয়টি ভাবা হচ্ছে, শেষমেশ যদি সেই সন্দেহটিই সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে আবারও সামনে আসবে কিছু প্রশ্ন। বিষয়টি কি শুধু লোভের? কীসের লোভ? সামান্য একটি ফোন, যা চাইলেই বদলে ফেলা যায়? সম্পদের প্রতি এই লোভ যে কত সহজেই প্রাণঘাতী সহিংসতার রূপ নিতে পারে—তাই হয়তো আবারও আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে। সামনে আসবে আরও একটি প্রশ্ন—বাসার বাইরে বেরোলে আমরা আসলে কতটা নিরাপদ? কিংবা আদৌ কি নিরাপদ?

অপ্রতিমের এই ঘটনাটি আমাদের ব্যস্ত জীবনে হয়তো আরও একটি শিরোনামের মতোই। আমরা খবরটি পড়ব, বিস্মিত হবো, আমাদেরও খারাপ লাগবে…তারপর আমরা হয়তো অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। কিন্তু, তার বাবা-মায়ের কী হবে? এই শোক তারা কীভাবে কাটাবে? তাদের সন্তানের জীবনের আলো তো চিরতরে নিভে গেল! এই এক ঘটনা তো চিরতরে বদলে দিলো তাদের জীবন।

শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, অপ্রতিমের ঘটনা তা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ২৫৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১০ জনই ছিল ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী। ৩৬টি ঘটনায় আগে নিখোঁজ হওয়া শিশুদের মরদেহ পরে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ঘটেছে এবং এগুলোর সঙ্গে অপ্রতিমের ঘটনাকে এক করে দেখা উচিত নয়। তবে সংখ্যাগুলো উপেক্ষা করা কঠিন। কারণ এগুলো কেবল সংখ্যা নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি পরিবারের যন্ত্রণা, বাবা-মায়ের হাহাকার।

অপ্রতিমের মৃত্যু আমাদের কঠিন একটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়: বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার মতো সাধারণ একটি কাজে বাড়ি থেকে বের হলে শিশুরা কতটা নিরাপদ? আর রাস্তায় ফোন, মানিব্যাগ বা ব্যাগ নিয়ে চলাফেরা করার সময় আমরা নিজেদের কতটা নিরাপদ মনে করি?

জনজীবন থেকে সব ধরনের ঝুঁকি দূর করার কোনো উপায় নেই। কিন্তু সাধারণ কোনো একটি জিনিস সঙ্গে থাকার কারণে মানুষকে সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা মেনে নিতে হবে—এমনটা হওয়া উচিত নয়। অপ্রতিমের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে হত্যার কারণ উদঘাটন করতে হবে পুলিশকে। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিশ্চিত করতে হবে যেন—ছিনতাই, লুটসহ এ ধরনের অপরাধ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে না ওঠে।

কোনো সম্পদের মূল্য কখনোই একটি মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি হতে পারে না। কিন্তু এ কথা বলা সহজ। কঠিন কাজ হলো এমন একটি পরিস্থিতি নিশ্চিত করা, যেখানে মানুষকে তাদের পাড়া-মহল্লা, শহর ও ক্যাম্পাসে চলাফেরার সময় এ ধরনের সহিংসতাকে স্বাভাবিক বলে ভাবতে হবে না।

অপ্রতিমের বয়স ছিল ১৩ বছর। সে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তদন্তে তার হত্যার কারণ সম্পর্কে শেষ পর্যন্ত যা-ই উঠে আসুক, এই বিষয়টিই ঘটনার কেন্দ্রে থাকা উচিত।

একটি ফোন যেকোনো সময়, যেকোনো কারণেই বদলে নেওয়া যায়। একটি জীবন নয়!

অপ্রতিমের মৃত্যু ঘিরে যে সন্দেহ, তা সত্যি প্রমাণিত হলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় এটি হবে না যে, একটি আইফোন চুরি হয়েছিল। বরং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার হবে, কেউ হয়তো একটি কিশোরের জীবনের চেয়েও ওই ফোনটিকে মূল্যবান মনে করেছিল।