30 C
Dhaka
Home Blog

‘দুর্দান্ত দলের’ কাছে হেরে মরক্কোর কোচ বললেন, ‘সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি’

নিজেদের সেরা প্রজন্ম নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন শক্তি হয়ে উঠেছিলো মরক্কো। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা দলটি এবার দেখছিল আরও বড় স্বপ্ন। তবে এবার সেমির আগেই ফ্রান্সের মতো দলের সামনে পড়ায় আর এগুনো হলো না তাদের। মোহাম্মদ ওয়াহবি বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়ে বলছেন, দুর্দান্ত দলের কাছে হারলেও খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত তিনি।

গত রাতে বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলেদের তীব্র আক্রমণের তোড় বেশিক্ষণ সামলাতে পারেনি তারা। গত বিশ্বকাপের সেমিতে উঠেও মরক্কো হেরেছিলো এই ফ্রান্সের কাছে, সেবারও ব্যবধান ছিলো ২-০। 

কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, টানা দ্বিতীয় টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের কাছে হারলেও এবং মাঠের পারফরম্যান্সে বেশ বেগ পেতে হলেও তার দল একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি রেখে যেতে পেরেছে।

সাংবাদিকদের ওয়াহবি বলেন, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের মাথা উঁচু রাখতে বলেছি কারণ আমরা আমাদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, নিজেদের সেরাটা দিয়েছি। তবে অবশ্যই, আমাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে; আরও উন্নতি করার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।’

‘আমরা স্রেফ এটুকু বলেই বসে থাকতে পারি না যে আমরা আমাদের পারফরম্যান্সে খুশি ও গর্বিত। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে, আর তার জন্য আমাদের বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে, নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে।’

শেষ আটের এই লড়াইয়ের শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই ফ্রান্সের তুলনায় মরক্কোকে বেশ ব্যাকফুটে থাকতে দেখা গেছে এবং তারা ফরাসি গোলবারে তেমন কোনো ভীতিই ছড়াতে পারেনি।

ওয়াহবি বলেন, ‘আমরা হতাশ, তবে প্রথমার্ধটি খুবই কঠিন ছিল, ফরাসিরা বল পায়ে দারুণ খেলছিল। তাদের দখলে অনেক বেশি বল ছিল, তারা দুই প্রান্ত দিয়ে তাদের খেলোয়াড়দের মাধ্যমে এবং মাঝমাঠ থেকেও আমাদের বেশ সমস্যায় ফেলেছিল।’

‘যখন বল আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসছিল, তখন আমাদের ট্রানজিশনগুলো (আক্রমণে ওঠা) খুব একটা ভালো হচ্ছিল না। ফলে আমাদের একটু বেশি দৌড়াতে হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাদের একটি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়।’

‘আমাদের স্বীকার করতে হবে যে তারা একটি দুর্দান্ত দল। তাদের চমৎকার সব খেলোয়াড় রয়েছে এবং গোল করার মতো আরও ভালো সুযোগ তারা তৈরি করেছিল। আমাদের পরিকল্পনার অভাব ছিল এবং বল যখন আমাদের দখলে ছিল, তখন আরও বেশি কিছু করার মতো সতেজতার ঘাটতি ছিল। আমাদের এই পরাজয় মেনে নিতেই হবে।’

‘ম্যাচ শেষ হওয়ার এত দ্রুত পরেই কথা বলা কঠিন, তবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর পর কোনো আক্ষেপ নিয়ে কথা বলাটাও জটিল।’

২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপটি স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো।

ফ্রান্সই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতবে কি না—এমন কোনো মন্তব্যের দিকে যেতে রাজি হননি কোচ, তবে তাদের প্রশংসায় কোনো কমতি রাখেননি।

মরক্কো বংশোদ্ভূত ব্রাসেলসে জন্মগ্রহণকারী ওয়াহবি বলেন, ‘তারা একদম ফাইনাল পর্যন্ত যেতে এবং ট্রফিটি জিততে চায়, আর তার সব যোগ্যতাই তাদের আছে। এখন… পরবর্তী ম্যাচেও তাদের এই ধারা বজায় রাখতে হবে… সেমিফাইনালে তাদের স্পেন অথবা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে হবে। আমি আশা করি সেটি যেন বেলজিয়াম হয়।’

 

মা হলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলি

চিত্রনায়িকা শবনম বুবলি কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ সুখবর ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

পোস্টে বুবলি চিত্রনায়ক শাকিব খানকে ট্যাগ করে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’

মেয়ের নাম রাখা হয়েছে শার্লিন খান।

বুবলির এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবজাতক কন্যা ও তার পরিবারের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন ভক্ত, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ফক্স নিউজ।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মোতায়েনের আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করেছে ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ।

মার্কিন নেভাল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এই বিমানবাহী রণতরী সঙ্গে থাকা বিমান নিয়ে সমন্বিত ইউনিট প্রশিক্ষণ মহড়া শেষ করেছে। জাতীয় দায়িত্ব পালনের অনুমোদন পাওয়ার আগে সব 
বিমানবাহী রণতরীর জন্য এটি বাধ্যতামূলক।

ফক্স নিউজ দাবি করেছে, এই রণতরী দ্রুতই পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দিকে মোতায়েন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডও রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড সুয়েজ খাল অতিক্রম করেছে এবং বর্তমানে লোহিত সাগরে অবস্থান করছে।

এদিকে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও আরব সাগরে অবস্থান করছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: ১০২ ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানাল শাহজালাল বিমানবন্দর

মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্দান গত শনিবার তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে পুরো অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হয়।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের মোট ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এর মধ্যে এমিরেটস, গালফ এয়ার ও ফ্লাইদুবাইয়ের একটি করে ফ্লাইট, এয়ার অ্যারাবিয়ার তিনটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ছয়টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি ফ্লাইট বাতিল হয়।

১ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের আরও ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এর মধ্যে জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি, এমিরেটসের পাঁচটি, গালফ এয়ারের দুটি, ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি, কাতার এয়ারওয়েজের দুটি, সালামএয়ারের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ) আটটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের চারটি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নয়টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২ মার্চ এ পর্যন্ত ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল  হয়েছে। এর মধ্যে ছিল কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, এমিরেটসের পাঁচটি, গালফ এয়ারের দুটি, ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ) আটটি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট।

হাঁসের ঢঙে হাঁটবে-খেলবে ছোট্ট রোবট ‘মাইক্রোডাক’

টেক জায়ান্ট এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে ছোট ছোট রোবট হাঁসের খুনসুটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাতেই হু হু করে বেড়েছে খেলনাগুলোর চাহিদা। প্রি-অর্ডার ছাড়িয়েছে ২০ হাজার।

Microduck – Pollen Robotics SAS

প্রযুক্তি সাময়িকী টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্লিনে এনভিডিয়ার জিটিসি সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেওয়ার সময় হুয়াংকে একঝাঁক ‘মাইক্রোডাক’ রোবটের সঙ্গে খেলতে দেখা যায়। ছোট্ট রোবটগুলো হাঁসের ঢঙে হাঁটছিল। নির্দেশ পেলে কখনো বসে পড়ে, কখনো ঘুমের ভান করে, আবার কখনো ডিগবাজিও দেয়।

রোবটগুলোর এই মজার কাণ্ড দেখে মুগ্ধ হন দর্শকেরা। পরদিনই হাগিং ফেসের প্রধান নির্বাহী ক্লেম দেলাঙ্গে জানান, মাইক্রোডাকের প্রি-অর্ডার ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

Microduck: A Biped Platform For Developers Dealing With Robotics

ধারণা করা হচ্ছে, বড়দিনের আগেই ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে যাবে রোবটগুলো। ফলে এবারের ছুটির মৌসুমে জনপ্রিয় খেলনা হয়ে উঠতে পারে এগুলো।

দেলাঙ্গের ধারণা, বছরের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া রোবটও হতে পারে মাইক্রোডাক। আর ক্রেতা যে কেবল শিশুরা হবে, তা নয়। প্রচারণামূলক ভিডিওতে বড়দেরও রোবটগুলো নিয়ে খেলতে দেখা গেছে।

Video: Tiny robots steal the show at NVIDIA event with funny stumbles

মাইক্রোডাক তৈরি করেছে পোলেন রোবোটিকস। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে হাগিং ফেসের অধীনে আসে। হাগিং ফেস আবার ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এনভিডিয়া কিনে নেয়। ফলে মাইক্রোডাক এখন এনভিডিয়ার প্রযুক্তি জগতেরই অংশ। এর আগে হাগিং ফেস রিচি মিনি নামে আরেকটি ছোট রোবট তৈরি করেছিল।

মাইক্রোডাকের বিশেষত্ব হলো, এটি ওপেন সোর্স রোবট। অর্থাৎ এর প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। এনভিডিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল পরিবেশে রোবটগুলোকে হাঁটা, বসা ও দাঁড়ানোর মতো কাজ শেখানো হয়েছে। ক্রেতারা চাইলে এগুলোকে নতুন কৌশলও শেখাতে পারবেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এ ঘোষণা দেন।

এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কবির রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম দিন ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় শেরেবাংলা নগরে যাবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষায় সুবিধাজনক সময়ে সারা দেশে বৃক্ষরোপণ এবং মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আরও জানানো হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আরও কিছু কর্মসূচির প্রস্তাবনা রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শিগগিরই সেগুলো চূড়ান্ত করে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য জিয়াউর রহমান জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে তিনি প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও গণতন্ত্র—এই তিনটি প্রত্যয় সামনে রেখে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 

 

 

তীব্র গরমে বাংলাদেশের শ্রমিকেরা বছরে মজুরি হারাচ্ছেন ৭৭ হাজার কোটি টাকার

নির্মাণশ্রমিক আব্দুর রহিমের গরমের হাত থেকে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। ঢাকায় খোলা আকাশের নিচে তাকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে কাজ করতে করতে তিনি ঘামে ভিজে যান, জামা শরীরে লেগে থাকে। ক্লান্ত এই শ্রমিকের মাথার ওপর পাখা তো দূরের কথা, ছাদও নেই।

আব্দুর রহিম কাজ করছেন রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের আদর্শনগর এলাকায়। সাপ্তাহিক ছুটি বলতে কিছু নেই। কাজ করলে মজুরি পান। পুরো পরিবার তার একার আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় যৎসামান্য আয় নিয়মিত রাখতে প্রতিদিনই কাজ করেন। বিশ্রামের জন্য একটি দিন বাড়িতে থাকার অর্থ ওই দিনের মজুরি আর মিলবে না।

তারপরও এমন দিন আসে, যখন অসহনীয় গরমে শরীর আর কাজ করতে চায় না। দারিদ্র্য, ক্ষুধা—কোনো কিছুই মানতে চায় না আর শরীরটা; মনের জোর দিয়েও চালানো যায় না। তখন আর কাজ না করে ঘরে বসে থাকা ছাড়া কিছু করার থাকে না। সেইসঙ্গে বন্ধ থাকে সেদিনের আয়ও।

তীব্র গরমে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের লাখো শ্রমিকের একজন তিনি। প্রতি বছর শ্রমিকদের তাপজনিত মজুরি ক্ষতি অন্তত ৭৭ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশের সমপরিমাণ। এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে প্রতি বছর প্রায় আড়াইটি মেট্রোরেল প্রকল্পের অর্থায়ন সম্ভব। এর বাইরেও চিকিৎসা ব্যয় ও স্বাস্থ্যজনিত খরচের কারণে আর্থিক ক্ষতি তো রয়েছেই।

‘নো এসকেপিং দ্য হিট: হেলথ অ্যান্ড ইকোনমিক ইমপ্যাক্টস অব হিট স্ট্রেস অন ইনফরমাল ওয়ার্কার্স ইন আরবান বাংলাদেশ’ শীর্ষক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

এতে দেখা গেছে, বাইরে তীব্র গরমের মধ্যে কাজ করা শ্রমিকেরা বছরে গড়ে ২৩ দশমিক ৭ কর্মদিবস হারান। আর ছাদের নিচে কাজ করা শ্রমিকেরা হারান ১৩ দশমিক ৫ দিন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইইডি) এবং বেসরকারি সংস্থা অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে গবেষণাটি পরিচালনা করে।

গবেষকরা নির্মাণকাজ, রিকশা চালানো ও পোশাক তৈরিসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত ঢাকার ১৭৫টি পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেন। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৮৫ শতাংশই এ ধরনের শ্রমিক।

সাক্ষাৎকার নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ১২২টি পরিবার নির্মাণকাজ, সড়ক নির্মাণ ও রিকশা চালানোর মতো বাইরের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। আর ৫৩টি পরিবার মূলত পোশাকশিল্পে ছাদের নিচে বসে করা কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

গবেষকেরা কাজ ও বিশ্রামের সময় শ্রমিকদের পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি দলীয় আলোচনা, সাক্ষাৎকার ও পারিবারিক কেস স্টাডি পরিচালনা করেন। তিনজন চিকিৎসকের একটি প্যানেল স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ফলাফল পর্যালোচনা করে।

জাতীয় অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বের করতে গবেষকেরা গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে জাতীয় শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রার তথ্য সমন্বয় করেন।

আয় ও স্বাস্থ্যে বড় ক্ষতি

গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমেই তীব্রতর তাপপ্রবাহ শুধু শ্রমিকদের আয়ই কমাচ্ছে না, তাদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবিকাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। কারণ, তাদের জীবনযাপন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

তাদের অনেকেই নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক ও পোশাকশ্রমিক। তীব্র গরমে কাজ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তাদের খুবই কম বা নেই বললেই চলে।

বাইরে ও ছাদের নিচে কাজ করা শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কারণে তাদের বছরে যথাক্রমে ২৪ ও ১৪ দিন কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, এর ফলে বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা তাদের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বা ১৯ হাজার টাকা হারিয়েছেন। আর ছাদের নিচে কাজ করা শ্রমিকেরা হারিয়েছেন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বা ১২ হাজার টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আয় হারানো তাদের জীবনযাপনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। কারণ, এমনিতেই তাদের যে আয়, তা দিয়ে ঢাকা শহরে জীবনযাপন করা কঠিন।

তাছাড়া, প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা বারবার পানিশূন্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কিডনি ক্ষতির উপসর্গের কথা জানিয়েছেন। গরমের মৌসুমে মানসিক চাপ দ্বিগুণ হয়েছে। শ্রমিকেরা মন খারাপ, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ, ঘুমের সমস্যা ও কাজে বেশি ভুল করার কথাও জানিয়েছেন।

রাজধানীর পল্লবী এলাকার পোশাকশ্রমিক রেহানা আক্তারের কথাই ধরা যাক। তিনি জানান, অনেক শ্রমিক কিডনির সমস্যায় ভুগলেও চাকরি হারানোর ভয়ে শারীরিক অসুস্থতার কথা গোপন রাখেন।

রেহানা বলেন, ‘গরমের সময় যে পরিমাণ পানি পান করা দরকার, আমরা ততটা পান করতে পারি না। বিশেষ করে কাজের সময় পানি কম পান করি। কারণ, পর্যাপ্ত পানি পান করলে বারবার টয়লেটে যেতে হয়। এতে কাজে সমস্যা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসায় এসেও প্রচণ্ড গরমে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।’

গবেষণায় দেখা গেছে, তাপপ্রবাহ দারিদ্র্যকে আরও গভীর করে তুলছে।

ঢাকায় জীবনযাত্রার উপযোগী মজুরি বছরে প্রায় ২ হাজার ৯৯৭ ডলার। কিন্তু বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের পরিবারগুলোর গড় আয় মাত্র ১ হাজার ৭৫৬ ডলার। ছাদের নিচে কাজ করা শ্রমিকদের গড় আয় ১ হাজার ৯৮৫ ডলার।

অর্থাৎ তাপজনিত ক্ষতি হিসাবের বাইরে রাখলেও তাদের আয় জীবনযাত্রার উপযোগী মজুরির চেয়ে ৩৪ থেকে ৪১ শতাংশ কম।

হারানো আয়ের হিসাব ধরলে তাদের উপার্জন যথাক্রমে ১ হাজার ৬০৭ ও ১ হাজার ৮৯৬ ডলারে নেমে আসে। ফলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ ও ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশে।

করণীয় কী?

আইআইইডির জলবায়ু সহনশীলতা, অর্থায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানবিষয়ক পরিচালক ঋতু ভরদ্বাজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এসব শ্রমিকের ক্ষেত্রে কাজের পালা শেষ হলেও তাপের সংস্পর্শ শেষ হয় না।

তিনি বলেন, কর্মস্থলের গরম থেকে বের হয়ে তারা বাসায় ফেরেন। কিন্তু, সেখানেও থাকেন টিনের ছাদের নিচে এবং থামার ওপর থাকে কেবল একটি বৈদ্যুতিক পাখা। তারপরও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে সারাদিনের কর্মক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরেও যথাযথ বিশ্রামের সুযোগ তারা খুব কমই পান।

ছাদের নিচে কাজ করলেও এই শ্রমিকদের রেহাই মেলে না। পোশাকশ্রমিকেরা বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের প্রায় সমান হারে তাপজনিত অবসাদে ভোগার কথা জানিয়েছেন। এর পরিণতির মধ্যে রয়েছে মজুরি হারানো, কিডনির ক্ষতি ও ঘুমের ঘাটতি। কিন্তু এর প্রায় কিছুই সরকারি নথিতে উঠে আসে না বলে জানান ঋতু।

গবেষকেরা বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে তাপজনিত সহায়তা যুক্ত করার সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের ভিত্তিতে লক্ষ্যভুক্ত শ্রমিকদের মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এটা করা হলে রেকর্ড ক্ষতির বছরেও ১০ কোটি ডলারের কম খরচ হবে, যা তীব্র গরমের কারণে হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতির তুলনায় অনেক কম।

শহরের অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের কাছে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যাপ্তভাবে পৌঁছায় না বলে তারা মৌসুমি ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য শিবিরের প্রস্তাবও করেছেন।

কর্মক্ষেত্রে তাপ থেকে সুরক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে গবেষণাটির সুপারিশমালায়। বাংলাদেশের শ্রম আইনে নিরাপদ তাপমাত্রার কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং হিটস্ট্রোক বা কিডনি রোগকে ক্ষতিপূরণ যোগ্য পেশাগত রোগ হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, তাপপ্রবাহ মোকাবিলার সক্ষমতাকে শুধু কল্যাণমূলক বিষয় মনে করা বন্ধ করতে হবে। তীব্র গরমে পানীয় জল, ছায়া, বায়ু চলাচল ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের জন্য শ্রমবিধিতে কার্যকর ও বাধ্যতামূলক মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে তাপজনিত অসুস্থতাকে পেশাগত ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

তিনি বলেন, তীব্র গরমের কারণে অনানুষ্ঠানিক খাতের ও দৈনিক মজুরির শ্রমিকদের জীবিকা ব্যাহত হলে জলবায়ু-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় তাদের সাময়িক আয় সহায়তা দেওয়া উচিত।

এই গবেষণার সঙ্গে ঋতু ভরদ্বাজ ছাড়াও যুক্ত ছিলেন এন কার্তিকেয়ান, স্বাতী চালিহা, শাকিরুল ইসলাম ও উর্মি জাহান তান্নি। গবেষণার ফলাফল আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

জার্মানি, ব্রাজিলের রেকর্ডে নাম লেখালো ফ্রান্স

নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে ফ্রান্স। গত এক যুগ ধরে বিশ্ব ফুটবলের সফলতম দল তারা। দারুণ ধারাবাহিকতায় টানা তিন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। এই নিয়ে ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে আটটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখালো তারা।

গত রাতে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে অনায়াসে ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে আর উসমান দেম্বেলের গোলে দাপট দেখিয়েই জেতে ফরাসিরা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার সেমিফাইনালে উঠেছে জার্মানি, এরপর ৮ বার সেরা চারে জায়গা করার নজির ব্রাজিলের। ফ্রান্সও ব্রাজিলের সমান ৮ বার সেমিতে উঠল।

জার্মানি ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টানা চারটি সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। ২০১৪ সালে চতুর্থবার ট্রফি জিতেছিল। ব্রাজিল ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে টানা তিনটি সেমিফাইনালে পৌঁছায়। এরমধ্যে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে হয় চ্যাম্পিয়ন। পাঁচবারের বিশ্বসেরা ব্রাজিলের মতো ফ্রান্সও ২০১৮ থেকে ২০২৬—টানা তিনটি সেমিফাইনালে উঠে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনায় আছে। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জেতে তারা। ২০২২ সালে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হেরে যায় আর্জেন্টিনার কাছে। এবার সুযোগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের।

৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলা তৃতীয় দল হলো ফ্রান্স!

জার্মানি :: ১২ বার 

ব্রাজিল :: ৮ বার 

ফ্রান্স :: ৮ বার 

ইতালি :: ৭ বার

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সবচেয়ে নিখুঁত এবং গোছানো ফুটবল খেলা একটি দলের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত মানানসই একটি ফলাফল। ফ্রান্স এই বিশ্বকাপের একমাত্র দল যারা অতিরিক্ত সময়ে না গিয়েই তাদের পাঁচটি ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছে—এতে বেরিয়ে এসেছে দলটির দাপট।

 

বাংলাদেশের ‘রকস্টার’ বিদেশে মুক্তি পাচ্ছে কবে

ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘রকস্টার’ সবার আগে দেশের বাইরে যাত্রা করছে। শাকিব খান অভিনীত ও আজমান রুশো পরিচালিত সিনেমাটি আগামী ৫ জুন থেকে দেশের বাইরে প্রদর্শিত হবে।

সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক ‘স্বপ্ন-স্কেয়ারক্রো’ দ্য ডেইলি স্টারকে জানায়, প্রথম সপ্তাহে কানাডার সাতটি, যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি ও যুক্তরাজ্যের চারটি থিয়েটারে চলবে।

স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপের আগে হলিউড ডোমেস্টিক মার্কেটে বছরের সবচেয়ে কঠিন সপ্তাহে ৩৭টি থিয়েটারে “রকস্টার” সিনেমার মুক্তিকে ভালো সূচনা বলা যায়। শুরুতে ভালো করলে পরের সপ্তাহে থিয়েটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘আমাদের প্রযোজনা সংস্থা সান মোশন পিকচার্সের সর্বশেষ প্রযোজিত চলচ্চিত্র “হাওয়া”র মতো “রকস্টার”ও বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলবে বলে বিশ্বাস করি।’

‘রকস্টার’ সিনেমার প্রযোজক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান, সাবিলা নূর, তারিক আনাম খান, রোজী সিদ্দিকী, দিলারা জামান, কাজী সাবির, তানজিয়া জামান মিথিলাসহ অনেকে।

আজমান রুশোর গল্পে চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত ইসলাম, আইমন আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভুঁইয়া। সংগীত পরিচালনা করেছেন জাহিদ নিরব।

অষ্টম দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থানে হামলা চালাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। 

আজ শনিবার ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

বার্তাসংস্থা এএফপি ও সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব হামলার তথ্য। 

ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। 

অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানযুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আগাম সতর্কতা ও অগ্নি নিয়ন্ত্রণ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমিরাতে বিমানবন্দর ও দুই মার্কিন ঘাঁটি 

আল জাজিরা জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

 

এছাড়া আল-মিনহাদ ও আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। 

জেরুজালেম

এএফপি জানায়, শনিবার জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সতর্কতা সাইরেনও বেজে ওঠে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ছয়বার হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সৌদি আরব 

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন এমন একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে ইরান। একটি বড় তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায়। 

তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সব হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি সরকার। 

বাহরাইন

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় আজও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তেলবাহী জাহাজে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রিমা’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। 

 

তারা জানায়, নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা সতর্কতা উপেক্ষা করে চলাচল করায় হামলা চালানো হয়। 

কুর্দিস্তানে হামলা

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ইরাকের স্বশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। 

ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে এসব বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি।