22.8 C
Dhaka
Home Blog

ছবি আসল, নাকি এআই দিয়ে তৈরি? বুঝবেন যেভাবে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি দেখলেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাঘ রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড়। ছবিটি দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন, কেউ আবার শেয়ারও করছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর জানা গেল, ঘটনাটি আদৌ ঘটেনি। পুরো ছবিটিই তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে।

একসময় এআই দিয়ে তৈরি ছবি চেনা তুলনামূলক সহজ ছিল। মানুষের হাতে ছয়টি আঙুল, অস্বাভাবিক চোখ কিংবা মুখ দেখে সন্দেহ করা যেত। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এসব ভুল অনেকটাই কমে এসেছে। এখন এমন সব ছবি তৈরি হচ্ছে, যেগুলো দেখে বাস্তব ছবি থেকে আলাদা করা বেশ কঠিন। তাই কোনো ছবি দেখে বিশ্বাস করার আগে একটু যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে কোনো দুর্ঘটনা, রাজনৈতিক ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা পরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ছবির ক্ষেত্রে। কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে সন্দেহজনক ছবি শনাক্ত করা এবং তার সত্যতা যাচাই করা কিছুটা সহজ হতে পারে।

এআই দিয়ে তৈরি অনেক ছবিতে মানুষ, ভবন কিংবা আশপাশের পরিবেশ অস্বাভাবিক রকম পরিষ্কার ও নিখুঁত দেখায়। যেমন: ব্যস্ত একটি বাজারের ছবিতে কোথাও ময়লা নেই, রাস্তা চকচকে পরিষ্কার, দোকানের জিনিসপত্রও সুন্দরভাবে সাজানো। কিংবা একজন মানুষের মুখে ত্বকের স্বাভাবিক গঠন, দাগ বা বলিরেখা প্রায় নেই। সবকিছু যেন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কখনো ছবির আলোও অস্বাভাবিক সুন্দর দেখায়। সাধারণ একটি রাস্তা কিংবা অফিসের দৃশ্যেও এমন আলো-ছায়া দেখা যায়, যেন পেশাদার কোনো বিজ্ঞাপনের জন্য ছবিটি তোলা হয়েছে। ছবির রং অতিরিক্ত উজ্জ্বল কিংবা সব বস্তুর গঠন একই রকম মসৃণও মনে হতে পারে।

এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবিতে দৃশ্যের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে বেশি লেখা বা বর্ণনা দেখা যায়। যেমন, একটি স্কুলের সামনের দৃশ্যে বড় করে স্কুলের নাম লেখা, রাস্তার ছবিতে জায়গার পরিচয় অতিরিক্ত স্পষ্ট করে দেখানো কিংবা কোনো ঘটনার ছবিতে এমন লেখা থাকা, যা দেখে সঙ্গে সঙ্গেই বোঝা যায় কী ঘটছে। অনেক সময় মনে হয়, ছবিটি শুধু কোনো দৃশ্য দেখাচ্ছে না, বরং দর্শককে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে দৃশ্যটি কীসের। ছবির বিভিন্ন অংশে এমনভাবে নামফলক, নির্দেশনা বা পরিচয় তুলে ধরা হয়, যেন কোনো কিছুই দর্শকের অনুমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ ধরনের অতিরিক্ত ব্যাখ্যামূলক উপস্থাপনা চোখে পড়লে ছবিটি আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

কোনো ছবিতে হাতের গঠন অস্বাভাবিক মনে হলে ভালো করে দেখুন। বিশেষ করে একাধিক মানুষ থাকলে সবার হাত ও আঙুল খেয়াল করতে পারেন। হাতের সঙ্গে কবজির সংযোগ, আঙুলের অবস্থান কিংবা কোনো বস্তু ধরে রাখার ভঙ্গিও পরীক্ষা করুন।

আমরা সাধারণত ছবির মূল বিষয়টির দিকেই বেশি মনোযোগ দিই। কিন্তু অনেক সময় ছবির পেছনের দৃশ্যে অসংগতি থেকে যায়। ধরুন, একটি ছবিতে কয়েকজন মানুষ রাস্তায় হাঁটছেন। তাদের পেছনে থাকা কারও মুখ অস্বাভাবিক দেখাচ্ছে। কিংবা রাস্তার একটি গাড়ির চাকা ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছে না। কোথাও একটি বস্তু অন্যটির সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে। একই ছবিতে কয়েকজন মানুষের মুখের গঠন বা পোশাকের ধরন অস্বাভাবিকভাবে একই রকমও দেখা যেতে পারে। কখনো সারিবদ্ধ জানালা, দরজা কিংবা সিঁড়ির গঠনেও অসংগতি থাকে। তাই সন্দেহ হলে ছবিটি বড় করে পেছনের মানুষ, যানবাহন, ভবন কিংবা অন্যান্য ছোটখাটো বিষয় দেখুন।

ছবির মধ্যে থাকা লেখা যাচাই করাও একটি উপায়। বিশেষ করে দোকানের সাইনবোর্ড, গাড়ির নম্বরপ্লেট, পোস্টার কিংবা পোশাকের ওপর লেখা খেয়াল করুন। এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবিতে অক্ষর এলোমেলো হতে পারে। কোথাও শব্দের বানান ভুল, কোথাও একই অক্ষর বারবার এসেছে। আবার এমন লেখাও দেখা যেতে পারে, যার কোনো অর্থ নেই। বাংলা লেখার ক্ষেত্রেও অক্ষরের গঠন, যুক্তবর্ণ কিংবা বানানে অসংগতি চোখে পড়তে পারে। ছবিতে একাধিক জায়গায় একই প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকলে সেগুলো মিলিয়ে দেখুন।

ছবির আলো ও ছায়া খেয়াল করেও কিছু অসংগতি শনাক্ত করা সম্ভব। যেমন, সূর্যের আলো একদিক থেকে এলে মানুষ ও বস্তুর ছায়া সাধারণত সেই আলোর বিপরীত দিকে পড়ে। কিন্তু এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবিতে আলোর উৎস ও ছায়ার মধ্যে অসংগতি দেখা যেতে পারে। একই ছবিতে একজনের ছায়া একদিকে, অন্যজনের ছায়া সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে পড়ছে। কিংবা আয়নায় কোনো বস্তুর প্রতিফলন বাস্তব অবস্থানের সঙ্গে মিলছে না। ছবিতে আয়না, জানালার কাচ কিংবা পানিতে প্রতিফলন থাকলে সেগুলোও খেয়াল করুন। কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতিফলনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আছে কি না, দেখুন।

এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবিতে একই ধরনের বস্তু বা অবয়ব অস্বাভাবিকভাবে বারবার দেখা যেতে পারে। যেমন, একটি ভিড়ের ছবিতে কয়েকজন মানুষের মুখ প্রায় একই রকম। কিংবা বাজারের দোকানে একই ধরনের ফল বা পণ্যের বিন্যাস বারবার দেখা যাচ্ছে। কখনো ভবনের জানালা, রাস্তার বাতি কিংবা আসবাবের নকশাও অস্বাভাবিকভাবে পুনরাবৃত্ত হতে পারে। বিশেষ করে অনেক মানুষ বা বস্তু রয়েছে, এমন ছবিতে এসব বিষয় খেয়াল করুন।

কোনো ছবি সন্দেহজনক মনে হলে গুগল লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। এটি দিয়ে ছবির সঙ্গে মিল আছে, এমন অন্যান্য ছবি ও ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায়। মুঠোফোনে ছবিটি সংরক্ষণ করে গুগল লেন্সে অনুসন্ধান করুন। একই ছবি আগে কোথাও প্রকাশিত হয়েছে কি না, দেখুন। ছবিটি কোনো পুরোনো ঘটনার কি না কিংবা অন্য দেশের ছবি নতুন ঘটনার নামে ছড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিও বোঝা যেতে পারে। ধরুন, একটি ছবি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার বলে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেল, একই ছবি কয়েক বছর আগে অন্য একটি দেশের ঘটনার সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল। সেক্ষেত্রে ছবিটির সঙ্গে দেওয়া দাবি যে বিভ্রান্তিকর, তা বোঝা যায়।

শুধু ছবির ভেতরে ভুল খোঁজার চেয়ে ছবিটির উৎস যাচাই করা অনেক সময় বেশি কার্যকর। ছবিটি কে প্রকাশ করেছেন? কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে কি? যিনি ছবিটি তুলেছেন বলে দাবি করছেন, তার পরিচয় জানা যাচ্ছে কি? একই ঘটনার অন্য কোনো ছবি বা ভিডিও আছে? বিশেষ করে বড় কোনো ঘটনা নিয়ে একটি মাত্র ছবি ছড়িয়ে পড়লে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ঘটনার স্থান, সময় ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে খোঁজ নিন। কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ছবি ছড়ালে তাদের যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতা কিংবা আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটেও খুঁজতে পারেন।

ডিজিটাল ছবির সঙ্গে কখনো কখনো কিছু প্রযুক্তিগত তথ্য সংযুক্ত থাকে। যেমন, কোন যন্ত্রে ছবি তোলা হয়েছে, কখন তৈরি হয়েছে কিংবা কোন সফটওয়্যারে সম্পাদনা করা হয়েছে। কিছু এআই প্রযুক্তি ছবিতে বিশেষ শনাক্তকারী তথ্যও যুক্ত করে। এ ধরনের তথ্য পরীক্ষা করার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন, কনটেন্ট ক্রেডেনশিয়ালস যাচাইয়ের মাধ্যমে কোনো ছবির উৎস ও সম্পাদনার ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যদি সেই তথ্য সংযুক্ত থাকে। এ জন্য কনটেন্ট ক্রেডেনশিয়ালসের যাচাইয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে ছবি আপলোড করে সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় কি না, দেখা সম্ভব।

অনলাইনে এমন কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখানে ছবি আপলোড করলে সেটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা জানানো হয়। এসব ওয়েবসাইট ছবির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে একটি ফলাফল দেয়। সন্দেহজনক কোনো ছবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারেন। প্রয়োজনে একাধিক শনাক্তকারী ব্যবস্থার ফলাফল তুলনা করে দেখুন। ব্যক্তিগত বা গোপনীয় ছবি অপরিচিত ওয়েবসাইটে আপলোড করার আগে সতর্ক থাকুন। ওয়েবসাইটটি ছবির তথ্য কীভাবে ব্যবহার বা সংরক্ষণ করে, তা জেনে নেওয়া ভালো।

মনে রাখতে হবে, এসব লক্ষণ এআই দিয়ে তৈরি ছবি শনাক্ত করার সূত্র হতে পারে, কিন্তু নিশ্চিত প্রমাণ নয়। ক্যামেরার কোণ, আলো, ছবির মান কিংবা সম্পাদনার কারণে বাস্তব ছবিতেও অস্বাভাবিক কিছু দেখা যেতে পারে। আবার বাস্তব ছবিতে সাইনবোর্ড বা নামফলকের মাধ্যমে জায়গার পরিচয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হতে পারে। অন্যদিকে, উন্নত এআই প্রযুক্তি এখন মানুষের হাত, মুখ, আলো-ছায়া এমনকি ছবির লেখাও অনেক নিখুঁতভাবে তৈরি করতে পারে। ফলে কোনো ছবিতে এসব অসংগতি না থাকলেও সেটি এআই দিয়ে তৈরি হতে পারে। একইভাবে এআই শনাক্তকারী ওয়েবসাইটও ভুল ফলাফল দিতে পারে। ছবির সঙ্গে থাকা প্রযুক্তিগত তথ্য অনুপস্থিত থাকতে পারে কিংবা পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে। তাই শুধু একটি লক্ষণ বা একটি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে একাধিক উপায়ে যাচাই করা জরুরি।

কোনো ছবি দেখে অবাক হওয়া, ভয় পাওয়া কিংবা রাগ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আবেগ তৈরি করে এমন ছবিই অনেক সময় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যাচাই করার আগেই অসংখ্য মানুষ সেটি শেয়ার করে ফেলেন। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তিকে অপদস্থ করা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করা কিংবা দুর্ঘটনা সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো ছবি দেখলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ছবিটি সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে সেটিকে সত্য ঘটনা হিসেবে অন্যদের কাছে পাঠাবেন না। প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন খুঁজে দেখতে পারেন।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, সব বিভ্রান্তিকর ছবি এআই দিয়ে তৈরি নয়। বাস্তব ছবিও সম্পাদনা করে, ভুল বর্ণনা দিয়ে কিংবা পুরোনো ঘটনার ছবি নতুন বলে প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। আবার এআই দিয়ে তৈরি সব ছবির উদ্দেশ্যও মানুষকে প্রতারিত করা নয়। বিনোদন, শিল্পকর্ম, বিজ্ঞাপন কিংবা সৃজনশীল কাজেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তাই কোনো ছবি দেখেই সেটিকে আসল বা নকল ঘোষণা করার চেয়ে ছবিটির উৎস, প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহ হলে যাচাই করুন, আর নিশ্চিত না হলে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

বিএনপির নেতাদের ‘অভিনন্দন বার্তা’ দিলেন ৩ ভিসি, নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিতর্কের মধ্যেই অন্তত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিএনপি নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

গত মাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এ ধরনের ‘অভিনন্দন বার্তা’ দিতে দেখা গেছে।

কোনো সাংবিধানিক বা রাষ্ট্রীয় পদের কাউকে নয়, বরং বিএনপির দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া নেতাদের অভিনন্দন জানান তারা। এসব ‘অভিনন্দন বার্তা’ প্রকাশ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্যাডে এবং জনসংযোগ দপ্তরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে।

শিক্ষক সংগঠনের নথিপত্রে দেখা যায়, তিন উপাচার্যই আগে বিএনপি সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় দায়িত্বে ছিলেন।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ বলেন, উপাচার্যদের এমন বার্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দলীয় প্রভাব ফেলছে কি না, সে প্রশ্ন তোলে।

তারা আরও বলেন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু তা প্রকাশ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা উচিত নয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ১৬ মার্চ থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

মার্চে সরকার ৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়।

বিএনপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও বিএনপি সমর্থিত সংগঠনগুলোর নথিপত্র অনুযায়ী, এই ৮ জনেরই বিএনপি সমর্থিত সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল এবং তাদের কয়েকজনের দলীয় পদও ছিল।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়। আর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য অধ্যাপক মামুন আহমেদকে ইউজিসির চেয়ারম্যান করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানকে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়েছে। তিনি জিয়া পরিষদের সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উপদেষ্টা ছিলেন বলে রাবি সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন সেসময় এই নিয়োগগুলোর পক্ষে সাফাই গেয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘কোনো ব্যক্তির রাজনীতিতে যুক্ত থাকা কি অপরাধ?’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের মনোনীত করা হয়েছে তাদের গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

গত ১৪ মে বিএনপি সরকার ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে পরিবর্তন আনে, যাদের অন্তত ১০ জনই বিএনপি সংশ্লিষ্ট বলে শিক্ষকদের সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদগুলোতে পরিবর্তনের পর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি অভিযোগ করে, এই নিয়োগগুলোতে যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্য ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেও এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক যোগাযোগই প্রধান বিবেচনা ছিল বলে অভিযোগ আছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দ্য ডেইলি স্টারের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেওয়া ৪৭ জন উপাচার্যের মধ্যে অন্তত ৩০ জন বিএনপি বা জামায়াত সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

৪০ জন উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষদের মধ্যে ১৮ জনের একই ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল।

পরে সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বীকার করেন, কিছু নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ‘মৃদু’ বা ‘নিষ্ক্রিয়’ বিএনপি সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

তিনি তখন বলেছিলেন, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি এক শীর্ষ বিএনপি নেতার কাছে সুপারিশ চেয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বিবেচনার বাইরে রেখেছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপাচার্য নিয়োগের প্রধান মানদণ্ডই ছিল রাজনৈতিক পরিচয়। ২০২২ সালে দ্য ডেইলি স্টারের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৪৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মধ্যে ৩৯ জনই সরকার সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের পদে ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের সঙ্গে যুক্ত ১২ জন শিক্ষক উপাচার্য হয়েছিলেন।

তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কর্মসূচির জন্যও অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হতো। রাবিতে ২০২২ সালে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়, আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (বর্তমানে ভারতে পলাতক) জন্মদিন উদযাপন করে।

২০১৯ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়ে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে অভিনন্দন বার্তা

রুহুল কবির রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান গত ২০ আগস্ট জাবি জনসংযোগ অফিসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান।

বার্তায় অভিনন্দনের পাশাপাশি রিজভীর ‘নতুন দায়িত্বে সফলতা’ কামনা করেন জাবির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাবেক সভাপতি কামরুল। তার নেতৃত্বে দল আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাবি উপাচার্য।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দ্য ডেইলি স্টারকে অধ্যাপক কামরুল বলেন, বার্তাটি ফেসবুকে প্রকাশের সময় তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন এবং বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি তা সরিয়ে নেন।

২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ‘ব্যক্তিগত অভিনন্দন বার্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা রাখা উচিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে চলা উচিত,’ বলেন তিনি।

এদিকে, গত ১৭ আগস্ট গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাত বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মাধ্যমে এক বার্তা দিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় চার নেতাকে অভিনন্দন জানান।

বার্তায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তাদের অভিজ্ঞতা এই দায়িত্ব পালনে বিশেষ সহায়ক হবে।

নথি অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই গোবিপ্রবির উপাচার্য হন সাদাত। এর আগে, তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২৫ আগস্ট তাকে গোবিপ্রবির উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং এই ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তর থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ পদায়নের ক্ষেত্রে অভিনন্দন জানানো উচিত কি না—জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে যান। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি মানুষ। আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আছে।’

অন্যদিকে, বিএনপি নেতা ফরহাদ হালিম ডোনার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।

অভিনন্দন বার্তা দিতে তিনি ব্যবহার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাড। রেজাউল বিএনপি সমর্থিত একটি শিক্ষক সংগঠনের সভাপতিও ছিলেন। বার্তায় ফরহাদ হালিমকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান রেজাউল।

রাজনৈতিক নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাড ব্যবহার করে অভিনন্দন জানানোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে তাকে ফোন করা হলে রিসিভ করেননি তিনি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালেও উত্তর দেননি।

নৈতিকতার লঙ্ঘন

উপাচার্যদের এ ধরনের অভিনন্দন বার্তাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতার লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের এমন বার্তা দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, ‘উপাচার্য নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা নতুন কিছু নয় এবং এটি পাকিস্তান আমল থেকেই চলছে। তবে আগে এগুলো এত স্পষ্ট বা প্রত্যক্ষ ছিল না।’

‘সমস্যা তখনই দেখা দেয় যখন কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই এগুলো প্রকাশ্যে করা হয়,’ বলেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মো. তানজীমউদ্দীন খানের মতে, বিষয়টি ক্ষমতার কেন্দ্রে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ধরে রাখা এবং ‘তোষামোদের’ সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইউজিসির সাবেক এই সদস্য প্রশ্ন তোলেন, ‘ওই দলের সঙ্গে যুক্ত কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী অপরাধ করলে উপাচার্য কি ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারবেন?’

‘আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদায়ন, নিয়োগ বা অন্য কোথাও চরম দলীয় আচরণ থাকবে না। তবে ঘটনাগুলো দেখে মনে হচ্ছে সব আবার পুরোনো পথেই ফিরে যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।

নিম্নমানের খেজুর, নষ্ট কমলা-পেঁয়াজসহ বন্দরে পড়ে থাকা ৩ হাজার টন পণ্য ধ্বংস

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলাম-অযোগ্য, নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ ১২৬ কনটেইনারে রক্ষিত মোট ৩ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনের নির্ধারিত স্থানে এসব পণ্য ধ্বংস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ধ্বংসযোগ্য পণ্যের মধ্যে আছে ৩৪ কনটেইনার নিম্নমানের খেজুর, ৪০ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশ, ১৮ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইম স্টোন এবং অন্যান্য পচনশীল ও নষ্ট পণ্য যেমন—কমলা, পেঁয়াজ, কাজুবাদাম (কেশনাট) ইত্যাদি।

ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, আনসার সদস্য ও স্থানীয় বন্দর থানা পুলিশের একটি দল সরেজমিনে উপস্থিত থেকে পুরো ধ্বংসকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

পচনশীল ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের এ কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট নিরসনে অত্যন্ত কার্যকর অবদান রাখবে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

‘যারা ভেবেছিলো বয়স হলে মেসির ধার কমে যাবে, তারা ওকে চেনেই না’

গত মাসেই ৩৯ পূর্ণ করে ৪০ বছরে পা দিলেন লিওনেল মেসি। বেশিরভাগ ফুটবলার যখন এই বয়সে অবসর নিয়ে কোচিং কিংবা ধারাভাষ্য প্যানেলে যোগ দেন, মেসি তখনো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ মাতিয়ে চলেছেন। কিলিয়ান এমবাপে কিংবা আর্লিং হালান্ডের মতো সময়ের সবচেয়ে বড় তারকাদের সাথে পাল্লা দিয়ে গোল করে চলেছেন এখনো। লিওনেল স্কালোনি অবশ্য এতে বিন্দুমাত্র অবাক নন। বরং মেসির জন্য এটিই স্বাভাবিক মনে করছেন তিনি। 

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কানসাসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন স্কালোনি। সেখানেই মেসিকে আবারও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, সাথে মেসিকে নিয়ে যাদের মনে সন্দেহ ছিল, তাদের সমালোচনাও করেছেন। 

স্কালোনি বলেছেন, ‘মেসির এমন ফর্ম আমাকে একটুও অবাক করেনি। কিছু মানুষ হয়তো ভেবেছিল ৩৯ বছর বয়সে সে হয়তো এই মানের ফুটবল খেলতে পারবে না, তারা মেসিকে চেনেই না। জানি না এখন পর্যন্ত কতবার আমি এটা বলেছি, মেসি যতদিন খেলা চালিয়ে যাবে, সে-ই বিশ্বের সেরা ফুটবলার থাকবে। আমি তাঁর কোচ বলে এমনটা বলছি না। আমি এটা বিশ্বাস করি’। 

বিশ্বকাপের আগে পেশিতে টান পড়ায় মেসির ফিটনেস নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে বিশ্বকাপে ফিট হয়েই দলের ভার বহন করছেন অধিনায়ক মেসি। স্কালোনি জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ফিটনেস কোচের সাথে আলাদাভাবে কাজ করেছেন মেসি, ‘সে প্রতি ম্যাচে মোটামুটি একই রকম দৌড়ায়। শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় থাকতে টুর্নামেন্টের আগে সে তাঁর ফিটনেস কোচের সাথে আলাদাভাবে কাজ করেছে, এবং সেটা কাজে দিয়েছে’। 

বছরের পর বছর একই রকম পারফরম্যান্স দিয়ে যাওয়া মেসিকে যন্ত্রের সাথেও তুলনা করেছেন স্কালোনি, ‘পরিসংখ্যানগত দিক থেকে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে এটুকু পরিষ্কার যে মেসি নিজের সর্বোচ্চটাই দিচ্ছে। যখন মাঠে সে নিজের পুরোটা উজাড় করে দেয় এবং টের পায় সে প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক তৈরি করার মতো অবস্থায় আছে, তখন তাঁকে আমার যন্ত্র বলে মনে হয়’। 

  

‘খুব ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার খেলা পছন্দ করি’

দীপা খন্দকার সময়ের আলোচিত অভিনয়শিল্পী। ২৫ বছর ধরে তিনি অভিনয় করছেন। সদ্য প্রচার শেষ হওয়া ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকে ফাতেমা ফুপুর চরিত্র দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। ঈদের নাটকগুলোর জন্যও দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছে। বিশেষ করে ‘আবার হবে দেখা’ নাটকে আফজাল হোসেনের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন দীপা খন্দকার।

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

দীপা খন্দকার ফুটবল খেলা পছন্দ করেন, খেলা দেখেনও। তার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা। তিনি বলেন, ‘খুব ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার খেলা পছন্দ করি। আর্জেন্টিনা আমার প্রিয় দল। ছোটবেলায় দেখেছি, বাসার সবাই এই দল সমর্থন করেন, সেভাবেই আমিও করি। বড় হওয়ার পরও পছন্দের দল হিসেবে এটিই থেকে গেছে।’

আর্জেন্টিনার কার কার খেলা ভালো লাগে? জবাবে দীপা খন্দকার বলেন, ‘অবশ্যই মেসির। মেসির খেলার মধ্যে একধরনের জাদু আছে। বলটা যেভাবে টেনে নিয়ে যায়! প্রিয় দলের আরও অনেকের খেলাই ভালো লাগে। তবে বেশি ভালো লাগে মেসির খেলা। আমার তো মনে হয়, যারা অন্য দল সমর্থন করেন, তারাও মেসির খেলার প্রশংসা করেন।’

তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা সমর্থন করলেও আরও বেশ কয়েকটি দেশের খেলা ভালো লাগে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দলের খেলা পছন্দ করি। সত্যি কথা বলতে, খেলাটা হচ্ছে উপভোগ করার বিষয়। বিশ্বকাপ ফুটবল আসে আর আমরা সবাই তা উপভোগ করি।’

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই উন্মাদনা, এটিকে কীভাবে দেখেন? তিনি বলেন, ‘ইতিবাচকভাবেই দেখি। তবে অতিরিক্ত কিছু যেন না হয়। ভ্রাতৃত্ব ধরে রেখে যেন খেলাটা উপভোগ করি।’

গত বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলার স্মৃতি মনে করে দীপা খন্দকার বলেন, ‘সেদিন আমার শুটিং ছিল। ইউনিটের সবাই মিলে শুটিং করেছি, আবার খেলাও দেখেছি। শুটিং করতে দেরি হয়ে যায়। ফাইনাল খেলা বলে কথা! ওই স্মৃতি ভোলার নয়। সবাই খুব আনন্দ নিয়ে সেদিন ফাইনাল খেলা দেখেছিলাম।’

এবার প্রিয় দল নিয়ে প্রত্যাশা কতটুকু? তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশা তো অনেক। দেখা যাক কী হয়, অপেক্ষা করছি। অন্য সবার মতো আমারও প্রত্যাশা বেশি। বড় অঘটনও ঘটতে পারে। সেই আশায় আছি।’

ম্যারাডোনার খেলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বহু বছর আগে তার খেলা দেখেছি। কী দুর্দান্ত খেলতেন! তার খেলা মানেই আলাদা কিছু, সুন্দর কিছু। এ জন্যই তো তিনি ম্যারাডোনা।’

‘বেপরোয়া’ হামলা চালাচ্ছে ইরান: আরব লিগ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুগপৎ হামলার আজ অষ্টম দিন। শান্তি আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় এই অযাচিত আগ্রাসনের জবাবে তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা শুরু করে। 

আক্রান্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আরব দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা ‘আরব লিগের’ সদস্য। 

আজ এই হামলার জেরে ইরানকে এক হাত নিয়েছেন আরব লিগের মহাসচিব। তিনি বলেন, আরব লিগের সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরান ‘বেপরোয়া’ হামলা চালাচ্ছে এবং এই উদ্যোগ একটি ‘বড় ধরনের কৌশলগত ভুল।’

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

আরব লিগের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত। তিনি মিশর থেকে এই সম্মেলনে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যোগ দেন। 

 

সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইরানের এসব হামলা ‘কোনো দিক দিয়েই যৌক্তিক নয়।’ 

তিনি দাবি করেন, আক্রান্ত আরব দেশগুলো ‘চলমান যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না’। 

‘তাদের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালাতে পারবে না বা তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করেও ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হবে না। এ বিষয়গুলো ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে’,  দাবি করেন মহাসচিব ঘেইত। 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান পরমাণু আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল ওমান। তবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।  

আবুল ঘেইত বলেন, ‘ওমান, কাতার ও মিশরসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইরানসহ সমগ্র অঞ্চলকে যুদ্ধের নিদারুণ আঘাত থেকে মুক্ত রাখার জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এর আগে একই কায়দায় বার্লিন তেহরানকে নির্বিচার হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। 

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১১২ জন।

পাশাপাশি, বাহরাইনের একটি পানি শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। 

অপরদিকে, কুয়েতের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান বোমাবর্ষণের মধ্যেই ইরান এসব পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক।

আজ মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাতে তারা কুশল বিনিময় করেন। এসময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্ব এবং তাদের নিরলস পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের সেবা করা, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দুর্যোগের সময় সবসময় মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীকে কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্ট গার্ডকে সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ওটিপি প্রতারণা থেকে বাঁচতে যে ভুলগুলো কখনো করবেন না

একটি ফোনকল। ওপাশ থেকে পরিচিত ভঙ্গিতে কেউ বলছে, ‘আমি কাস্টমার কেয়ার থেকে বলছি। আপনার অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে। এখনই একটি কোড যাবে, সেটি বলুন।’

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফোনে একটি ছয় সংখ্যার কোড এলো। বার্তায় লেখা, এটি কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। তারপরও অনেকেই বলে ফেলেন।

প্রতারকের সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই। তারা সব সময় প্রযুক্তি ভেঙে ঢোকে না; বরং মানুষকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে, যেখানে ভয়ের মধ্যে বা তাড়াহুড়োয় সে নিজেই নিজের নিরাপত্তার দরজা খুলে দেয়।

ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি মূলত অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য তৈরি। ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, ই-মেইল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে প্রবেশ, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বা কোনো লেনদেন নিশ্চিত করার সময় এই কোড ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু কোডটি ভুল হাতে গেলে সেটিই আবার নিরাপত্তার দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে।

তাই ওটিপি-সংক্রান্ত প্রতারণা ঠেকাতে কয়েকটি ভুল কখনোই করা উচিত নয়।

ফোনে কাউকে ওটিপি বলবেন না

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। কেউ ব্যাংক, বিকাশ, নগদ, মোবাইল অপারেটর, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিলেও ওটিপি বলা যাবে না।

প্রতারকেরা প্রায়ই এমন ভাষা ব্যবহার করে, যেন পরিস্থিতি জরুরি মনে হয়—অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, টাকা আটকে গেছে, পরিচয় যাচাই করতে হবে, অথবা কোনো সুবিধা পেতে হলে দ্রুত কোড বলতে হবে।

এই তাড়াহুড়োটাই তাদের কৌশল।

কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান আপনার গোপন ওটিপি জেনে আপনার হয়ে সেটি ব্যবহার করার কথা নয়। কোডটি এসেছে আপনার পরিচয় বা আপনার কাজ নিশ্চিত করতে, অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নয়।

শুধু কোড নয়, পুরো বার্তাটি পড়ুন

অনেকে ওটিপি এলেই শুধু সংখ্যাটির দিকে তাকান। কিন্তু সেই বার্তার বাকি অংশে প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লেখা থাকে।

কোডটি কি নতুন কোনো যন্ত্রে প্রবেশ, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, অর্থ লেনদেন, নাকি নতুন অ্যাকাউন্ট চালুর জন্য?

আপনি যদি এর কোনোটিই নিজে শুরু না করে থাকেন, তাহলে ধরে নিতে হবে কেউ আপনার তথ্য ব্যবহার করে কিছু একটা করার চেষ্টা করছে।

এ অবস্থায় কোডটি কাউকে না জানিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা উচিত।

অপরিচিত কাউকে ফোনের নিয়ন্ত্রণ দেবেন না

প্রতারকেরা অনেক সময় বলে, আপনার ফোন বা অ্যাকাউন্টের সমস্যা ঠিক করতে একটি অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। এরপর তারা এমনভাবে নির্দেশনা দেয়, যেন দূর থেকেই আপনার ফোনের স্ক্রিন দেখতে বা ফোনটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এ অবস্থায় আপনার ফোনে আসা ওটিপি, ব্যক্তিগত বার্তা বা ব্যাংকিং তথ্য তাদের চোখে পড়ে যেতে পারে।

তাই অপরিচিত কারও কথায় অ্যানিডেস্ক, টিমভিউয়ার বা এ ধরনের দূর থেকে ফোন নিয়ন্ত্রণের অ্যাপ ইনস্টল করবেন না। আগে থেকেই এমন অ্যাপ থাকলেও অচেনা কাউকে সংযোগের অনুমতি দেবেন না।

বার্তায় পাওয়া লিংকে গিয়ে ওটিপি দেবেন না

প্রতারকেরা এখন এমন ওয়েবসাইট বানায়, যা দেখতে আসল ব্যাংক বা পরিচিত সেবার ওয়েবসাইটের মতোই।

এসএমএস, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ই-মেইলে লিংক পাঠিয়ে বলা হতে পারে—‘অ্যাকাউন্ট যাচাই করুন’, ‘পুরস্কার নিন’, ‘টাকা ফেরত পেতে তথ্য দিন’।

সেখানে প্রথমে ব্যবহারকারীর নাম বা পাসওয়ার্ড, এরপর ওটিপি চাওয়া হয়।

ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না, তিনি আসলে প্রতারকের তৈরি পাতায় নিজের সব তথ্য দিয়ে দিয়েছেন।

সন্দেহ হলে কোনো পাঠানো লিংক ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট নিজে খুলে কাজ করা নিরাপদ।

‘টাকা পেতে ওটিপি লাগবে’—এ কথা বিশ্বাস করবেন না

বাংলাদেশে অনলাইন কেনাবেচা ও মোবাইল আর্থিক সেবা ঘিরে এ ধরনের প্রতারণা বেশ পরিচিত।

কেউ বলতে পারে, ‘আপনাকে টাকা পাঠানো হয়েছে, গ্রহণ করতে ওটিপি বলুন।’

আবার কখনো বলা হয়, ‘রিফান্ড পেতে কোড লাগবে’, ‘ক্যাশব্যাক ছাড়তে হবে’, ‘সরকারি সহায়তার টাকা নিতে হবে’।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা দরকার—টাকা পাওয়ার জন্য কাউকে নিজের ওটিপি বলে দিতে হয় না।

ওটিপি সাধারণত কোনো কাজ অনুমোদন বা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই কেউ টাকা দেওয়ার আগে আপনার কোড জানতে চাইলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত।

পরিচিত নাম বা নম্বর দেখেই কলটি বিশ্বাস করবেন না

ফোনে পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠান বা নম্বরের নাম দেখালেই ধরে নেওয়া যাবে না যে কলটি সেখান থেকেই এসেছে।

প্রতারকেরা কখনো এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, যেন ফোনের পর্দায় অন্য কোনো নম্বর বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম দেখায়। ফলে কলটি ব্যাংক, বিকাশ, নগদ কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের বলে মনে হতে পারে।

তাই পরিচিত নাম দেখালেও কেউ ওটিপি চাইলে তা কখনোই জানাবেন না। সন্দেহ হলে কলটি কেটে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে নিজে যোগাযোগ করুন।

কারণ ফোনের পর্দায় কী নাম দেখাচ্ছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কলটির সত্যতা আপনি নিজে যাচাই করেছেন কি না।

ভুল করে ওটিপি দিয়ে ফেললে সময় নষ্ট করবেন না

ভুল হয়ে গেছে বুঝতে পারার পর অনেকেই লজ্জা বা ভয় থেকে চুপ করে থাকেন। এতে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

ওটিপি দিয়ে ফেললে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার বিষয় হলে অফিসিয়াল গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করুন। অচেনা যন্ত্রে অ্যাকাউন্ট খোলা আছে কি না দেখুন এবং সন্দেহজনক প্রবেশ বন্ধ করুন।

একইসঙ্গে সাম্প্রতিক লেনদেনও পরীক্ষা করা জরুরি।

প্রতারণার ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আপনি কিছুই করেননি, তবু ওটিপি এলো?

এটিকেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আপনি কোনো অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করেননি, কিছু কেনেননি, পাসওয়ার্ডও বদলাননি—তারপরও হঠাৎ ওটিপি এলে এর অর্থ হতে পারে কেউ আপনার ফোন নম্বর, ই-মেইল বা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

একবার এমন হলে কোডটি উপেক্ষা করা যেতে পারে। কিন্তু একই ঘটনা বারবার হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলানো এবং নিরাপত্তা সেটিং পরীক্ষা করা ভালো।

বিএনপির ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি কেবল কাগজেই

নেতৃত্বে নতুনদের সুযোগ তৈরি ও জবাবদিহি বাড়াতে গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতা, এক পদ’ বিধান যুক্ত করেছিল বিএনপি। তবে এক দশক পার হলেও নীতিটির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। বরং দলের কেন্দ্র ও তৃণমূলে এখনও অনেক নেতা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ধরে রেখেছেন। এতে পদোন্নতির সুযোগ না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন দলের অপেক্ষাকৃত তরুণ ও তৃণমূলের নেতারা।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ দলীয় একাধিক পদে থাকা কয়েকজন নেতা এখন একই সঙ্গে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করছেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি যুক্ত করা হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।

এখনও কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে অন্তত দুই ডজন নেতা একাধিক সাংগঠনিক পদে আছেন। অথচ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর দলকে নতুন করে সাজানোর কাজ চলছে।

উদাহরণ হিসেবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কথা বলা যায়। তিনি একই সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

আসাদুল হাবিব দুলু বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও আছেন। খায়রুল কবির খোকনও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং একই সঙ্গে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন না। 

এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটির পদধারী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সাংগঠনিক পদে থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দলের গঠনতন্ত্রে থাকা এই নীতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ তখন দলের অনেক নেতা কারাগারে ছিলেন, কেউ আত্মগোপনে ছিলেন। আবার অনেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। ফলে এই নীতি বাস্তবায়নের সুযোগ হয়তো এখন দলের আছে। 

এদিকে পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূলে। দলের বিভিন্ন পর্যায় ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় তিন ডজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পেয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।

কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন নেতা যদি দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ধরে রাখেন, তাহলে অন্যদের সামনে ওপরে ওঠার সুযোগ কমে যায়।

কুষ্টিয়া বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, নীতিটি বাস্তবায়ন করা হলে ভালো হতো। তাহলে অনেক যোগ্য নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার সুযোগ পেতেন।

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল ফকির বলেন, আমি এই নীতিকে পুরোপুরি সমর্থন করি। এতে দলের জন্য নিবেদিত নেতাকর্মীরা দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পান। তা না হলে তাদের অনেকেরই কোনো পদে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।

ছাত্রদলের ঢাকা উত্তর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল বলেন, এই নীতি বাস্তবায়ন হলে বিভিন্ন ইউনিটে বিভিন্ন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বও উঠে আসবে।

মুন্সীগঞ্জের একটি ইউনিটের বিএনপি নেতা বলেন, এখন দলের অভিজ্ঞ নেতার সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। তাই একই ব্যক্তিদের একাধিক পদ ধরে রাখার কোনো কারণ নেই। তার মতে, নীতিটি বাস্তবায়ন করা হলে দলের ভেতরের হতাশা কমবে এবং যোগ্য আরও অনেক নেতাকে নেতৃত্বে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে দলের কিছু নেতা ইতোমধ্যে এই নীতি মেনে চলছেন। বিএনপির মহাসচিব হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই দুটি পদ ছেড়ে দেন। একইভাবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হওয়ার পর যুবদলের সভাপতির পদ ছেড়ে দেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একাধিক পদে থাকা প্রায় ৬০ জন নেতার মধ্যে ৪৪ জন একটি পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর সেই প্রক্রিয়া আর বেশি দূর এগোয়নি। দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এখনও একাধিক পদ ধরে রেখেছেন।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তারেক রহমানও ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি আবার কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন নেতা যখন একাধিক সাংগঠনিক পদ দখল করে রাখেন, তখন অন্য অভিজ্ঞ বা নতুন নেতাদের জন্য পদ কমে যায়। এতে শেষ পর্যন্ত দলই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক হয়েও কেন মাছ আমদানি করে বাংলাদেশ?

বিশ্বের অন্যতম প্রধান মাছ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) জুন ২০২৬-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নদী, হ্রদ ও জলাভূমি থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় এবং মাছ চাষে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের (ডিওএফ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন বছরে ৫০ লাখ টনের বেশি মাছ উৎপাদিত হয়। যেখানে দেশে বার্ষিক মাছের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৯৩ হাজার টন।

কিন্তু, সরকারি নথি বলছে, দেশে প্রতি বছর নিয়মিত হাজারো টন মাছ আমদানি হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের মতে, এর কারণ মূলত মাছের বৈচিত্র্য। বাংলাদেশে চাহিদা রয়েছে এমন কিছু প্রজাতির মাছ দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না এবং কিছু মাছ একেবারেই উৎপাদিত হয় না। প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং বিশেষায়িত বাজারের সেই চাহিদা পূরণ করতেই মাছ আমদানি করতে হয়।

কোন মাছ, কীভাবে ও কোথা থেকে আসে

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২৮৮টি প্রতিষ্ঠান দেশে মাছ ও মাছজাত পণ্য আমদানির জন্য নিবন্ধিত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৫২১ কোটি টাকা মূল্যের ৫৬ হাজার টন মাছ আমদানি করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৭৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫৫ হাজার টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৬০ কোটি টাকা মূল্যের ৭১ হাজার টন এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪০৬ কোটি টাকা মূল্যের ৫৭ হাজার টন মাছ আমদানি করা হয়েছে।

যেসব মাছ বেশি আমদানি করা হয় তার মধ্যে রয়েছে রুই, পাঙাশ, রূপচাঁদা, টুনা, শ্যাড, মুলেট, দোরাব ও ম্যাকারেল। এ ছাড়া, লইট্টা ও পুঁটি মাছের শুঁটকিও আমদানি করা হয়।

এর বেশিরভাগই হিমায়িত অবস্থায় আসে। গত অর্থবছরে আমদানি করা প্রায় ৮৬ শতাংশ মাছ হিমায়িত অবস্থায় এসেছে। মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রায় হিমায়িত করে আনা হয় বলে এসব মাছে পচন ধরে না এবং কয়েক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। বাকি মাছগুলো আসে বরফে রাখা অবস্থায়। সেগুলো শূন্য থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, অর্থাৎ হিমাঙ্কের সামান্য ওপরে রাখা হয়। এতে স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারের জন্য মাছের গুণগত গঠন ভালো থাকে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মূলত মাছ আমদানি করে চীন, ভারত, মিয়ানমার, জাপান, ওমান, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে।

কেন আমদানি

ইয়েমেন, ওমান, দুবাই, চীন, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি ইলিশ, রুই, কাতলা, ইন্ডিয়ান ম্যাকারেল, হর্স ম্যাকারেল, টুনা, ক্যাটফিশ ও চন্দনা ইলিশ আমদানি করেন মো. সাঈদ আলী। এমনকি উরুগুয়ে থেকেও স্থানীয়ভাবে রূপসী বা লাফা নামে পরিচিত ইলিশ আমদানি করেন।

তার ক্রেতা রয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তিনি জানান, লইট্টার মতো আমদানি করা কিছু মাছ তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় ভালো বিক্রি হয়। মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই মাছ বেশি কেনেন।

তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে যেসব মাছের চাহিদা আছে, সেটার ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখছে আমদানি করা মাছ।

আরেক আমদানিকারক মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম রোকন ভারত ও মিয়ানমার থেকে রুই, কাতলা, ভেটকি ও ইলিশ আমদানি করেন। তিনি ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এসব মাছ বিক্রি করেন।

প্রায় সারা বছরই এসব মাছের চাহিদা থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব মাছের চাহিদা বেশি থাকে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখার জন্যই আমদানি করা হয়।’

দেশের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো আমদানি করা মাছের বড় ক্রেতা। ঢাকার কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও পশ্চিমা ধাঁচের সি-ফুড রেস্তোরাঁর মেনু দেখলেই সেটা বোঝা যায়।

ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের ঝরনা গ্রিলের মেনুতেও বিষয়টি স্পষ্ট। রেস্তোরাঁটির নিজস্ব মেনুতে তাদের ‘প্যাসিফিক-অনুপ্রাণিত খাবার’-এর উপকরণ হিসেবে ‘ভিয়েতনামিজ প্রন, কানাডিয়ান স্যামন, সিঙ্গাপুরের কাঁকড়া, অস্ট্রেলিয়ান বিফ’-এর কথা বলা হয়েছে। তাদের সি-ফুড তালিকায় নরওয়েজিয়ান স্যামন স্টেক রয়েছে, আর মাংসের জন্য আলাদা ‘ইমপোর্টেড স্টেকস’ বিভাগ রয়েছে।

দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার সিজনাল টেস্টস রেস্তোরাঁ চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে ‘অথেনটিক চিলড নরওয়েজিয়ান স্যামন’কে কেন্দ্র করে একটি সি-ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে। সেখানে সি-ফুড পায়েলা ও টেরিনও ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিলাসবহুল হোটেলটির এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আমদানি করা সি-ফুডের চাহিদা অনেক বেশি। চিলড স্যামন, স্মোকড স্যামন, টুনা ফিলেট, চিলিয়ান সি বাস ও পাঙাশ ফিলেটের চাহিদা রয়েছে। হোটেলটি প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কেজি আমদানি করা মাছ ব্যবহার করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেরাটন ঢাকার এক কর্মকর্তাও একই কথা জানান।

মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরিচালক মো. বরকতুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, দেশীয় নিয়মিত চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে মাছ আমদানির প্রয়োজন নেই, কারণ দেশে পর্যাপ্ত মাছ উৎপাদিত হয়। কিন্তু, বাজারের কিছু বিশেষ চাহিদা পূরণ করার জন্যই আমদানি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট প্রজাতি ও পণ্যের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারের বিভিন্ন খাত ও মাছভিত্তিক শিল্পকে সহায়তা করে আমদানি।’

আরও উন্নত নিয়ন্ত্রক তদারকি প্রয়োজন

তবে মৎস্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আমদানি করা মাছের মান নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকির ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘আমদানি করা মাছ ও মৎস্যজাত পণ্যের উৎস ও ধরন যত বৈচিত্র্যময় হচ্ছে, আমাদের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। যাতে শুধু নিরাপদ, মানসম্মত ও মানুষের খাওয়ার উপযোগী পণ্যই দেশের বাজারে আসতে পারে।’

বাংলাদেশে মাছ আমদানি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ইতোমধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি আরও সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক করার সুযোগ রয়েছে। এর লক্ষ্য হওয়া উচিত ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ন্যায্য বাণিজ্য বজায় রাখা এবং দেশীয় মাছ উৎপাদক ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা।’

তিনি জানান, বর্তমানে নিয়ন্ত্রক তদারকি মূলত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া অথবা সীমিতসংখ্যক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

বরকতুল আলম বলেন, রপ্তানিকারক দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন, আমদানির আগে যাচাই ও স্বাস্থ্য সনদ যাচাই থেকে শুরু করে ঝুঁকিভিত্তিক সীমান্ত পরিদর্শন, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা, পণ্যের গতিপথ অনুসরণ এবং ছাড়পত্র দেওয়ার পর নজরদারি—পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই এর আওতায় আনতে হবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বৈশ্বিক বাণিজ্য মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বিধিবিধান সামঞ্জস্যপূর্ণ করারও পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার খাদ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত চুক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, আমদানি নীতি আদেশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাও প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ ও শক্তিশালী করা উচিত।’