28.2 C
Dhaka
Home Blog

সংসদে আবার ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদে আবার ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আগে সংসদে দাঁড়িয়ে আজ যারা সরকারি দলের গ্যালারিতে বসেছেন, তাদের উদ্দেশে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা হতো, এখন দুয়েকজন আমাদের লক্ষ্য করে সেরকম কথা বলা শুরু করেছেন। আমরা তাদের বলি, জিহ্বা সংযত করুন।’

আজ সোমবার ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াত আমির বলেন, ‘এই মনোভাব ও এই আচরণ দেখাবেন না। জুলাই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম, যে দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারও চোখ রাঙানির পরোয়া করে না।’

শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে যারা এরকম আচরণ করেছে, তাদের পরিণতি চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছেন। মনে রাখবেন, অপকর্ম করলে আগেরটার চাইতে পরের পরিণতি আরও ভয়ংকর হয়। সে পথেই তো হাঁটছেন। বাইরে তো আপনাদের পাদচারণা দেখছি না, সবকিছু কুক্ষিগত করছেন।

গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়, ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ-বাটোয়ারা নয়। এই আন্দোলন ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখে, শহীদদের রক্তের সঙ্গে তাদের ওয়াদা বাস্তবায়ন করার জন্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষাপূরণ করার জন্য।’

ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সবকিছু কুক্ষিগত করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে অভ্যুত্থান করার পরে এখন দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক—ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে। এই অপসংস্কৃতি চলতে থাকলে জামায়াতে ইসলামী বসে বসে আঙুল চুষবে না।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘যে ব্যাংক দেশের রেমিট্যান্সের ৩২ শতাংশ একা আহরণ করে, এই ব্যাংকের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে।’

সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাবধান করে দিচ্ছি, এটাকে দলীয়করণ করবেন না। যদি দলীয়করণ করেন, ব্যাংকগুলোকে একটার পর একটা, জনগণ আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গত ১৬ বছর যে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা আমরা বলেছি, লড়াই করেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত দেড় বছরে যেই জিনিস নিয়ে আমরা আলাপ করেছি, এখন আমাদের ঠিক সেই বিষয় নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। সেই বিষয় নিয়ে আবার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতিকে এই দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি। ফলে বিএনপিকে দায়ভার এবং এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এর পরিণতি খুব সহজ হবে না।’

সেমিনারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া আইনের ব্যাখ্যা ও বক্তব্যের সমালোচনা করেন। 

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো সাংবিধানিক সার্বভৌমত্বের কথা বলছেন, আবার কখনো বলছেন সংবিধানে গণভোটের কথা নেই। তিনি ইচ্ছা করেই সংবিধানের স্পিরিট তথা মূল চেতনার কথা বলছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান মানুষের জন্য। আইন দিয়ে সবকিছু হয় না। বিশ্বের বহু দেশে লিখিত সংবিধানের ওপরেও জনগণের ইচ্ছাকে স্থান দেওয়া হয়। অথচ মন্ত্রী অর্ধেক সত্য বলে পুরো মিথ্যা ছড়ানোর চেয়েও ভয়ংকর কাজ করছেন।’

 

‘এখনো প্রতিদিন ফোনে কথা হয়, আড্ডা দিই’

এদেশের সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল একজন অভিনেতা আলমগীর। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় আজও মানুষ ভোলেনি। রেকর্ড সংখ্যক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তার অভিনীত বহু সিনেমা সুপার-ডুপার ব্যবসা করেছে।

একাধারে তিনি নায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক। পেয়েছেন একুশে পদকও। পাঁচ দশক ধরে অভিনয়ের এই যাত্রায় তিনি সোনালি দিনের এক সফল চিত্রনায়ক।

আজ শুক্রবার আলমগীরের ৭৬তম জন্মদিন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরেক চিত্রনায়ক উজ্জ্বল। দুজনের পরিচয়-যোগাযোগ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে।

জন্মদিনে বন্ধু আলমগীরকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন উজ্জ্বল। তার মতে, নায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে সবক্ষেত্রে সফল আলমগীরের অভিনয়গুণ অসাধারণ।

উজ্জ্বল বলেন, ‘এক ডজন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তিই স্মরণ করিয়ে দেয় আলমগীর কত বড় মাপের শিল্পী। দেশে যত বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আছেন—তাদের কেউ বেঁচে আছেন, কেউ হয়তো নেই—তাদের প্রায় সবার সিনেমায় অভিনয় করেছেন আলমগীর। এটাই প্রমাণ করে তিনি কত শক্তিশালী ও দর্শকনন্দিত একজন অভিনেতা।’

মানুষ হিসেবে আলমগীরকে ‘অসাধারণ’ উল্লেখ করে উজ্জ্বল বলেন, ‘তার একটা বিশেষ গুণ সম্পর্কে দীর্ঘ পাঁচ যুগ ধরে আমি জানি। তা হচ্ছে তার মানবিক দিক। তিনি কখনোই এটা দেখাননি। আমাদের সিনেমা শিল্পের যত শিল্পী, কলাকুশলী, পরিচালক ও প্রযোজক আছেন, নীরবে তিনি সবার খোঁজখবর রাখেন এবং যোগাযোগ রক্ষা করেন। তিনি কখনো এসব প্রকাশ করেন না। এটি তার চরিত্রের একটি বিরল গুণাবলী।’

‘আমাদের শিল্পীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অনেক চড়াই-উৎরাই ও সংগ্রাম থাকে। কিন্তু তিনি আদর্শ নিয়েই আছেন। আলমগীরের মধ্যে এমন কিছু কখনো দেখিনি যা অন্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে। আমরা কেউ কেউ অবচেতন মনে কিংবা জেনে-শুনে মানুষের ক্ষতি করি, তবে আলমগীর কখনো তা করেননি, বরং সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন নীরবে,’ বলেন উজ্জ্বল।

এদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে যারা প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন, সেই শিল্পীদের মধ্যে আলমগীর অন্যতম—উল্লেখ করে উজ্জ্বল জানান, আলমগীর শত শত সিনেমায় অভিনয় করে কোটি মানুষের মন জয় করেছেন।

দুজনের বন্ধুত্ব নিয়ে উজ্জ্বল বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, দীর্ঘ পাঁচ দশকেও আমাদের সম্পর্ক একইরকম আছে। আমাদের বন্ধুত্ব আগের মতোই অটুট। এখনো আমরা নিয়ম করে দেখা করি, সময় কাটাই, আড্ডা দিই। আমাদের আড্ডায় ঘুরেফিরে এদেশের সিনেমার কথা উঠে আসে, যারা হারিয়ে গেছেন তাদের কথা আসে। এদেশের সিনেমার কীভাবে উন্নতি হবে, তা নিয়েও আমরা কথা বলি।’

উজ্জ্বল জানান, দেশের প্রথম সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’-এর অন্যতম প্রযোজক ছিলেন আলমগীরের বাবা।

তিনি বলেন, ‘পর্দার বাইরে আমাদের সম্পর্কটা পারিবারিক। প্রতিদিন আমাদের ফোনে কথা হয়, যোগাযোগ হয়। আমরা যখন নায়ক ছিলাম, সেই সময়ে আমরা প্রতিযোগিতা করেছি, কিন্তু কখনো প্রতিপক্ষ ছিলাম না।’

বন্ধু আলমগীরের জন্মদিনে হৃদয় থেকে ভালোবাসা জানিয়ে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন চিত্রনায়ক উজ্জ্বল।

রাখাইনে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা, নিহত অন্তত ১৭

মিয়ানমারের রাখাইনে একটি গ্রামের বাজারে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে।

দুটি স্থানীয় সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

রাখাইনে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখন জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে। তারা জানিয়েছে, ইয়ো নু গ্রামে ওই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। 

অন্যদিকে বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পোন্নাগিউন ইয়ুথস অ্যাসোসিয়েশন (পিওয়াইএ) দাবি করেছে নিহতের সংখ্যা ১৮।

হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পিওয়াইএ’র চেয়ারম্যান পিয়া ফিও নাইং।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ ছিল। কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটি ভবন ধ্বংস হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পৌঁছানোর পরও কিছু বাড়িতে আগুন জ্বলছিল। অনেকেই সেখান থেকে পালাচ্ছিলেন।’

এ বিষয়ে জানতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমার। দেশটির সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

‘আমি কি ভুলিতে পারি…’

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আগামীকাল শনিবার। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হবে এদিন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। একুশের ভোরে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানাবে সর্বস্তরের জনতা।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। বাঙালি জাতির কাছে এটি একদিকে যেমন গভীর শোক ও বেদনার, অন্যদিকে মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এক ঐতিহাসিক দিন।

১৯৫২ সালের এই দিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা আরও অনেকে শহীদ হন। তাদের সেই আত্মত্যাগই আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া, দেশের সব মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব স্যাটেলাইট চ্যানেল ও গণমাধ্যমে একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রকাশ করা হবে।

মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে সামাজিকমাধ্যম

মালয়েশিয়ায় এখন থেকে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোররা আর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার থেকেই দেশটিতে এই নিয়ম কার্যকর হতে শুরু করেছে। সরকারের দাবি, শিশুদের নিরাপদ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

সরকার বলছে, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের জন্য সব সময় নিরাপদ নয়। এখানে অনেক সময় খারাপ কনটেন্ট, সাইবার বুলিং ও অতিরিক্ত আসক্তির ঝুঁকি থাকে।

এই ঝুঁকি থেকে শিশুদের দূরে রাখতেই ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বড় বড় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে।

যদি কোনো অ্যাকাউন্ট ১৬ বছরের নিচে কারও বলে শনাক্ত হয়, তাহলে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য ডাউনলোড করে রাখার জন্য এক মাস সময় পাবে।
নিয়ম না মানলে কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে।

মালয়েশিয়ার অনেক পরিবার এই সিদ্ধান্তকে ভালো বলছে। তাদের মতে, এতে শিশুরা বই পড়া, খেলাধুলা ও বাস্তব জীবনের কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।

অনেক অভিভাবক মনে করেন, সামাজিকমাধ্যম শিশুদের অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় চাপ ও আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তানরা নিরাপদে বড় হোক, ভুল কিছুর প্রভাব যেন তাদের ওপর না পড়ে।’
তবে সবাই একমত নন। কিছু পরিবার মনে করছে, সামাজিকমাধ্যম এখন কেবল বিনোদন নয়, এটা শেখারও জায়গা।

তাদের মতে, ইউটিউব বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশুরা অনেক কিছু শিখতে পারে। তাই পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভালো উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু এটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
কারণ অনেক সময় বয়স লুকিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব হতে পারে। আবার বয়স যাচাইয়ের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হলে গোপনীয়তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

রেকর্ডের রাজসিংহাসনে মেসি: পরিসংখ্যানে শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য দলিল

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। দলগুলোর রণকৌশল, স্কোয়াড আর সূচি নিয়ে যেমন আলোচনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তেমনি ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষায় আছে এক মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় দেখার। ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বমঞ্চে শেষবারের মতো দ্যুতি ছড়ানোর সুযোগ। গত দুই দশক ধরে এই টুর্নামেন্টকে রাঙিয়ে তিনি যেসব ইতিহাস গড়েছেন, বিদায়ী মঞ্চে নামার আগে তার আসব অর্জনের খতিয়ানে আরও একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া তাই প্রাসঙ্গিক।

বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনার সমৃদ্ধ ইতিহাসে মেসির এই পথচলা শুধুই শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক নয়, বরং তার অদম্য শারীরিক ও মানসিক শক্তিরও অনন্য নিদর্শন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মাঠে তার ভূমিকা ও পজিশনে পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, কিন্তু দলের প্রাণভোমরা হিসেবে তিনি থেকে গেছেন আগের মতোই অপরিহার্য। সবশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত হারের পর দলকে যেভাবে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন, সেটার পুরোটা জুড়েই ছিল তার জাদুকরী নেতৃত্বের ছাপ।

৩৬ বছরের শিরোপাখরা ঘুচিয়ে আকাশি-সাদাদের মরুর বুকে বিশ্বজয় মূলত মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারেরই পূর্ণতা দিয়েছিল। কারণ ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব বড় শিরোপা জেতা এই মহাতারকার মুকুটে কাতারে মাটিতেই যুক্ত হয়েছিল আরাধ্য সেই সোনালী পালক।

২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ফিরে তাকানো যাক মেসির অতিমানবীয় রেকর্ডগুলোর দিকে, গত পাঁচটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে যা তাকে নিয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরের এক অনন্য উচ্চতায়।

* বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ পাঁচটি আসরে খেলার বিরল রেকর্ডের তালিকায় আছেন মেসি। তিনি ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছেন। বাকি পাঁচজন হলেন জার্মানির লোথার ম্যাথাউস, পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর আন্তোনিও কারবাহাল, রাফায়েল মার্কেজ ও আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো।

* মেসিই বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপের পাঁচটি ভিন্ন আসরে গোল করিয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ব্রাজিলের পেলে, পোল্যান্ডের জেগজ লাটো, আর্জেন্টিনার দিয়েগো ম্যারাডোনা ও ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম। তারা প্রত্যেকে তিনটি করে আসরে অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

*  সবশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালটি ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির ২৬তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন। তিনি ২০০৬ সালে তিনটি, ২০১০ সালে পাঁচটি, ২০১৪ সালে সাতটি, ২০১৮ সালে চারটি ও ২০২২ সালে সাতটি ম্যাচ খেলেন। আগের কীর্তিটি ছিল ম্যাথাউসের (২৫ ম্যাচ)।

* বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। তার গোল সংখ্যা ১৩টি। এই তালিকায় পরের স্থানগুলোতে রয়েছেন যথাক্রমে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা (১০ গোল), ম্যারাডোনা (৮ গোল), গিয়ের্মো স্তাবিল (৮ গোল), মারিও কেম্পেস (৬ গোল) ও গঞ্জালো হিগুয়াইন (৫ গোল)।

* বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ১১ বার ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন মেসি। এর মধ্যে কেবল কাতার বিশ্বকাপেই তিনি পাঁচবার ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছিল।

* বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুবার গোল্ডেন বল জিতেছেন। তিনি ২০১৪ সালের ব্রাজিল ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন। ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলেও কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জিতে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। এতে পরম আরাধ্য সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার স্বাদ লাভ করেন মেসি।

* ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলার রেকর্ডও মেসির দখলে। তিনি মোট ২ হাজার ৩১৪ মিনিট মাঠে থেকেছেন। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল চলাকালীন তিনি পেছনে ফেলেন ইতালির পাওলো মালদিনিকে (২ হাজার ২১৭ মিনিট)।

* বিশ্বকাপে মেসি অধিনায়ক হিসেবে সবার চেয়ে বেশি ১৯টি ম্যাচ খেলেছেন। এই তালিকায় তার পেছনে রয়েছেন মার্কেজ (১৭ ম্যাচ) ও ম্যারাডোনা (১৬ ম্যাচ)।

* মেসিই ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার, যিনি কোনো একটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল— প্রতিটি ধাপেই গোল করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। কাতারে অনুষ্ঠিত আসরে তিনি এই কীর্তি সম্পন্ন করেন। কেবল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

* বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২১টি গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড যৌথভাবে মেসি ও ব্রাজিলের পেলের দখলে। নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ ছয়টি অ্যাসিস্ট করার কীর্তিও রয়েছে তাদের নামের পাশে।

* ২০০৬ সালের আসরের গ্রুপ পর্বে সার্বিয়া অ্যান্ড মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে মেসি যখন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন, তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। তিনি বিশ্বকাপের সপ্তম কনিষ্ঠতম গোলদাতা। এই তালিকার শীর্ষে আছেন পেলে। ১৯৫৮ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করার সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ২৩৯ দিন।

* বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব মিলিয়ে গোল করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ (৬৭টি) তৈরির রেকর্ডটি যৌথভাবে মেসি ও ম্যারাডোনার দখলে। এর মধ্যে কাতারে অনুষ্ঠিত আসরে মেসি ২১টি সুযোগ তৈরি করেছিলেন।

* মোট ১২১টি সফল ড্রিবলিং মেসি সম্পন্ন করেছেন, যা বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বাধিক। ২০১৪ সালে তিনি ৪৬টি সফল ড্রিবলিং করেছিলেন, যা কোনো একটি আসরে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকায় তার উপরে আছেন ব্রাজিলের জারজিনিয়ো (১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ৪৭টি) ও ম্যারাডোনা (১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ৫৩টি)।

এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়াল

দেশে এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা গত মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। মূলত খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই মূল্যস্ফীতি এ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত তথ্যে মূল্যস্ফীতির এ চিত্র উঠে এসেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে মূল ভূমিকায় ছিল খাদ্যবহির্ভূত খাত।

নিত্যপণ্যের দামের ওপর চাপ অব্যাহত থাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এক মাস আগে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আরও বেশি বেড়ে এপ্রিলে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এটি জ্বালানি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবার ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধির বার্তা দিচ্ছে।

 

 

 

আ. লীগের সঙ্গে অলিখিত চুক্তির কারণে দাগি আসামিরা জামিন পাচ্ছে: সারজিস

আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির অলিখিত চুক্তির কারণে দাগি আসামিরা জামিন পাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।

আজ রোববার দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সংসদে বাতিল হয়ে যাওয়া ২০টি অধ্যাদেশ কণ্ঠভোটে পাস হওয়া ১১৩টি অধ্যাদেশের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে সারজিস বলেন, ‘অভ্যুত্থানের আগে ও পরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিংবা তাদের নির্যাতিত নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের যে সংস্কারগুলো চাইতো, যে প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা তারা জুলুমের শিকার হয়েছিল, যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা স্বাধীন-সার্বভৌমভাবে চলার আকাঙ্ক্ষা ঘোষণ করেছিল; তারা ক্ষমতায় আসতে না আসতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার তাদের মতো করে চালাতে চায়।’

‘ওই প্রতিষ্ঠানে আবার সরকারি দলের ছড়ি ঘুরাতে চায়, এ কারণেই তারা গুম অধ্যাদেশ বাতিল করেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করেছে, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অধ্যাদেশ বাতিল করেছে,’ অভিযোগ করেন তিনি।

‘দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য যে, বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগের ভোটের মাধ্যমে’ দাবি করে সারজিস বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটা অলিখিত চুক্তি ছিল। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা, এমনকি শেখ হাসিনা পর্যন্ত দেশের বাইরে বসে এখন এই কথাগুলো বলেন।’

‘নতুন সরকার গঠন করার পরে আমরা দেখতে পেলাম, সেই অলিখিত ‍চুক্তির কারণে অভ্যুত্থানের সময় যারা জুলাই যোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ করেছিল, যারা আমাদের শহীদ ভাইদের হত্যার জন্য দায়ী, তাদের অনেক দাগি আসামি এখন জামিন পেয়ে যাচ্ছে,’ বলেন সারজিস।

তিনি আরও বলেন, ‘আহত যোদ্ধাদের ওপরে ঢাকা শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় যারা হুমকি দিয়েছিল, আক্রমণ করেছিল, লাঠি দিয়ে পিটিয়েছিল, তারা এখন আবার ওই একই জায়গায় বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছে এবং আমার আহত যোদ্ধা আর শহীদ পরিবারদেরকে বলছে যে, “তোদের সময় শেষ হয়ে এসেছে। আমরা ফিরে এসেছি দেখব তোরা কী করতে পারিস!”—এ রকম হুমকির মধ্য দিয়ে আমার শহীদ পরিবাররা যাচ্ছে, আমার জুলাই যোদ্ধারা যাচ্ছে।’

বিএনপির উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের এই নেতা বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন যে বিরোধী দলের কবর খুঁড়বেন, আবার নিজেরা সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটবেন, তাহলে মনে রাখবেন, ওই কবরে আপনাদের জায়গাটা হবে সবার আগে।’

সরকারি দল শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের বিভিন্ন আশা দেখাচ্ছে, লোভ দেখাচ্ছে দাবি করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘দয়া করে এগুলোর বিনিময়ে বিভাজিত হয়ে সামগ্রিকভাবে আপনাদের আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না। কারণ এই আকাঙ্ক্ষা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আপনিও বাংলাদেশের অংশ—আপনিও এটা (ক্ষতিগ্রস্ত) হবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের কোনো দলের ব্যানারে দেখতে চাই না। আমরা চাই, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনাদের পরিবারের মানুষগুলো জীবন দিয়েছে, আপনারা ওই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে থাকুন। যদি আমরা এর পক্ষে কথা বলি, তাহলে আমাদের পক্ষে কথা বলতে পারেন। যদি আমরা বিপক্ষে কথা বলি, তাহলে প্রয়োজনে আমাদের বিপক্ষে কথা বলবেন।’

‘মন্ত্রীর বউ হিসেবে আমাকে দর্শকরা একশোতে একশো দিয়েছেন’

আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির পর দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে সিনেমাটি। দর্শকরা সিনেমায় বাঁধনের চরিত্রটিকেও বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন। 

এই সিনেমার জন্য একাধিকবার তিনি হল পরিদর্শনে গেছেন। এতে তিনি মন্ত্রীর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ।

 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে এই সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন।  

বনলতা এক্সপ্রেস মুক্তির প্রথম সপ্তাহ সাফল্যের সঙ্গে শেষ করে দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দিচ্ছে— কেমন লাগছে? এর জবাবে বাঁধন বলেন, ‘এটা খুব আনন্দের। এই সিনেমার একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে বিষয়টি অনেক আনন্দের। আমার অভিনীত “এষা মার্ডার” কিংবা “রেহানা মরিয়ম নূর”— দর্শকরা দেখেছেন, প্রশংসা করেছেন কিন্তু এত সাড়া পায়নি। তবে বনলতা এক্সপ্রেস অনেক বেশি সাড়া পেয়েছে। দর্শকরা ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন।’

 

‘নিজের সিনেমা হাউসফুল যাচ্ছে, দর্শকরা টিকিট পাচ্ছেন না, দল বেঁধে দেখছেন— এই বিষয়গুলো সত্যিই খুশির’, বলেন বাঁধন।

বাঁধন আরও বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আবারো বলছি— বনলতা এক্সপ্রেসের জনপ্রিয়তা উৎসবকে ছাড়িয়ে যাবে।’

হলে গিয়ে নিজের সিনেমা কতবার দেখেছেন? বাঁধন বলেন, ‘পুরোটা একবার দেখেছি মেয়েকে নিয়ে। তাও টিকিট পেতে হয়েছে কষ্ট করে। আরও ৭-৮ বার দেখেছি হল ভিজিট করতে গিয়ে। একটু একটু করে। শেষের অংশটুকু হয়তো দেখেছি।’

 

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন লেগেছে? বাঁধন এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অনেক ভালো লেগেছে। দেখুন, হুমায়ুন আহমেদ স্যারের ফ্যান অনেক। পরিচালক তানিম নূর হুমায়ুন স্যারের গল্পটাকে ঠিকঠাকভাবে সিনেমায় রূপ দিয়েছেন। সবাই হয়তো ঠিকভাবে পারতেন না। এর আগে অনিমেষ আইচ “মিসির আলী” নির্মাণ করে দারুণভাবে সফল হয়েছেন। একই ভাবে তানিম নূরও খুব ভালো করেছেন।’

 

বাঁধন বলেন, ‘দর্শকরা কখনো হাসছেন, কখনো কাঁদছেন। তারা খুব খুশি। তানিম নূরের সফল নির্মাণের জন্যই সম্ভব হয়েছে। পুরো টিমও ভালো ছিল।’

প্রথমবারের মতো মন্ত্রীর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করার অনুভূতি নিয়ে বাঁধন বলেন, ‘দর্শকরা পুরো সিনেমার প্রশংসা যেমন করেছেন, শিল্পীদের নাম ধরে ধরেও প্রশংসা করেছেন। সেখানে আমার চরিত্র নিয়েও অনেকে প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে, চঞ্চল চৌধুরী ও আমার অভিনয়ের জন্য অনেক ভালোবাসা-প্রশংসা পেয়েছি দর্শকদের কাছ থেকে। আমাদের দুজনের কেমিস্ট্রি দর্শকরা গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রীর বউ হিসেবে আমাকে দর্শকরা একশোতে একশো দিয়েছেন।’

 

এদেশের দর্শকরা আসলে কী চায়? এই প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, ‘দর্শকরা ভালো গল্প চায়। সিনেমার গল্প ভালো হলে দর্শকরা হলে দেখতে যান। উৎসব দেখেছেন। একইভাবে এখন তারা বনলতা এক্সপ্রেস দেখছেন।’

ঈদে মুক্তি পাওয়া আর কী কী সিনেমা ছাড়া সিনেমা দেখেছেন? বাঁধন বলেন, ‘প্রেশার কুকার দেখেছি। নাজিফা তুষি ভীষণ ভালো করেছেন। রায়হান রাফী দারুণ করেছেন নির্মাণে। দম সিনেমা ভালো লেগেছে। আফরান নিশো অসাধারণ অভিনয় করেছেন। ঈদের তিনটি সিনেমা দেখেছি। বাকি দুটো আগামীতে দেখব।’

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ভিন্ন ভিন্ন গল্পের সিনেমা হচ্ছে। দর্শকরা সেখান থেকে সেরাটা বেছে নিচ্ছেন।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমি ভায়োলেন্ট সিনেমার পক্ষপাতী নই। ভালো গল্পের পক্ষে। বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমায় সুন্দর গল্প আছে।’

২০২৫ সালে বিশ্বে ১২৯ সংবাদকর্মী নিহত, দুই-তৃতীয়াংশের জন্য ইসরায়েল দায়ী: সিপিজে

বিশ্বব্যাপী সংঘাত ও দমন-পীড়নের মধ্যে ২০২৫ সাল সাংবাদিকদের জন্য ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত বছর রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল দায়ী।

সিপিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহতের এ সংখ্যা তিন দশকেরও বেশি সময় আগে সিপিজের তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলছে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো রেকর্ডসংখ্যক প্রাণহানি বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির প্রতিফলন।

সিপিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৪—উভয় বছরেই সাংবাদিক হত্যার মোট ঘটনার দুই-তৃতীয়াংশের জন্য ইসরায়েল দায়ী। সিপিজে ১৯৯২ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু করে। এরপর থেকে কোনো রাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনী সাংবাদিকদের টার্গেট করে হত্যার ঘটনায় যতবার জড়িত হয়েছে, তার মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শীর্ষে আছে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৩ সালে সিপিজে প্রথমবারের মতো ড্রোন হামলায় সাংবাদিক নিহতের তথ্য নথিভুক্ত করে। সে বছর এ ধরনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিল মাত্র দুজন। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ জনে।

২০২৫ সালে নিহত ১২৯ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সশস্ত্র সংঘাত চলাকালে প্রাণ হারান। ইউক্রেন ও সুদানেও সাংবাদিক নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। তবে নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক, যারা গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিপিজে।

সিপিজে আরও জানায়, ২০২৫ সালে টার্গেট করে হত্যার যেসব ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে, সেগুলোর খুব কম ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনাতেই কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি।