28 C
Dhaka
Home Blog

অভিনেতা আতাউর রহমান মারা গেছেন

দেশের বরেণ্য অভিনেতা-নাট্যকার আতাউর রহমান মারা গেছেন।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দিনগত রাত ১২টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মঞ্চসারথি আতাউর রহমান না ফেরার দেশে চলে গেলেন। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।

এর আগে গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা ওই মুহূর্তে না পাওয়ায় পরে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিনই শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী। তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত তিনি। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।

ট্রাম্পের হুমকি: স্পেনের পাশে থাকার কথা জানাল ইইউ

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) স্পেনের প্রতি ‘পূর্ণ সংহতি’ প্রকাশ করেছে।

আজ বুধবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তিনি সংহতি প্রকাশ করেন।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

কস্তা এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলেন, আমি সানচেজের সঙ্গে কথা বলেছি এবং স্পেনের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছি।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবসময় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
পাশাপাশি তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা বিধি মেনে জোটের ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন, ইরানে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযানের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারেন।

জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় তেঁতুলিয়ায় গ্রামপুলিশ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় গ্রামপুলিশের শূন্য পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীরা জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার তেঁতুলিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং নিয়োগ ও বাছাই কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বুধবার উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই নিয়োগ পরীক্ষায় উপজেলার ৪ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ৫টি শূন্য পদে মোট ৩৮ জন চাকরিপ্রত্যাশী অংশ নেন। এর আগে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ১ জন করে এবং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ২ জনসহ মোট ৫ জন গ্রামপুলিশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় অষ্টম শ্রেণি পাশ। 

গতকাল অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় সবাইকে অকৃতকার্য দেখিয়ে নিয়োগ ও বাছাই কমিটি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে।

ইউএনও ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছভাবে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে চেয়েছি। কিন্তু, অষ্টম শ্রেণি পাশ কেউ জাতীয় সংগীত লিখতে পারবে না এটা দুঃখজনক। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন প্রার্থীও জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি। এজন্য পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

মামদানির শহরে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ

শিগগির মেয়র জোহরান মামদানির শহর নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ক্ষতি এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে স্কুলে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় নবম শ্রেণি থেকে হাইস্কুল শুরু হয়।

এএফপিকে এ বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানান, এখন থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে শুধু হাইস্কুল পর্যায়ে এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।

তবে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এর ব্যবহার নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সীমিত থাকবে, যেমন এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখার ক্ষেত্রে।

যুক্তরাষ্ট্রে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বয়স সাধারণত প্রায় ১৩ বছর।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এএফপির অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি নিউইয়র্ক সিটি হল ও নগরটির শিক্ষা বিভাগ।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, মানসিক সহায়তা দেওয়ার দাবি করা বিভিন্ন এআই ‘কম্প্যানিয়ন চ্যাটবটও’ নিষিদ্ধ করা হবে।

তবে নতুন নিয়মে পাঠ পরিকল্পনা তৈরি বা বার্তা লেখার মতো কাজে শিক্ষকদের এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মগুলো আজ বুধবার ঘোষণা করা হবে।

নগরটির শিক্ষা বিভাগ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ক্লাসে ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারের সময়সীমা ৪৫ মিনিট এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ৩০ মিনিটে সীমিত রাখার সুপারিশ করেছে।

তবে এআইয়ের ব্যবহার কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ এআইয়ের ব্যবহার প্রায়ই স্কুলের বাইরের পরিবেশে হয়ে থাকে।

এর আগে মার্চে এআই ব্যবহারের একটি প্রাথমিক কাঠামো প্রকাশ করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের এআই গাইডেন্সে কোন কোন কাজে এআই ব্যবহার করা যাবে, তা বোঝাতে ট্রাফিক লাইট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে লাল রঙে চিহ্নিত ব্যবহারগুলো নিষিদ্ধ, হলুদ রঙে চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলোতে সতর্কতা ও মানব তত্ত্বাবধানে এআই ব্যবহার করা যাবে এবং সবুজ রঙে চিহ্নিত ব্যবহারগুলো অনুমোদিত। ([NYC Schools][1])

গবেষণা, অনুসন্ধান ও সৃজনশীল প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া ওই কাঠামোকে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক অতিরিক্ত শিথিল বলে মনে করেন। এতে তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় নগরটির স্কুলবিষয়ক চ্যান্সেলর ক্যামার স্যামুয়েলস বলেন, কর্তৃপক্ষ ‘সঠিক বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তার দপ্তর অভিভাবকদের মতামত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করবে।

শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, মতামত বিবেচনায় নিতে মার্চের ওই কাঠামোর পর আরও বিস্তৃত একটি ‘গাইডবুক’ প্রকাশের পরিকল্পনা নগর কর্তৃপক্ষের আগে থেকেই ছিল।

শিক্ষা বিভাগ শিক্ষক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করবে।

টাস্কফোর্সটি আগামী এপ্রিলে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। এটি স্কুলে এআই ব্যবহারের বিষয়ে নিউইয়র্কের নীতিমালার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ৯ লাখের বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির শহর নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড়।

এ কারণে নগরটির সরকারি স্কুলে প্রযুক্তি ব্যবহারের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অংশেও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

 

২০২৫ সালে বিএনপির আয় ২২ কোটি, ব্যয় ১৫ কোটি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ২০২৫ সালে মোট ২২ কোটি ১৯ লাখ টাকা আয় করেছে। একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। উদ্বৃত্ত আছে প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

আজ রোববার দলটির একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কার্যালয়ে দলের অডিট রিপোর্ট জমা দেয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আরও জানান, বর্তমানে ব্যাংকে জমা ও নগদ টাকাসহ বিএনপির তহবিলে মোট ২৮ কোটি ৭ লাখ টাকা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা আছে ২৮ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং নগদ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। বছরের শুরুতে দলটির প্রারম্ভিক স্থিতি (ওপেনিং ব্যালেন্স) ছিল ২১ কোটি ১৩ কোটি টাকা।

যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জবাবদিহিতাকে শক্তিশালী করে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে চলে, তার আয়ের উৎস কী এবং কোথায় টাকা খরচ করা হয়, তা জনগণের জানা উচিত।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হবে এবং এতে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না।

তিনি বলেন, কে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আর কে করবেন না—সেটি আদালত ও নির্বাচন কমিশনের বিষয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দেওয়া চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, অন্য রাজনৈতিক দল কী বলছে, তা এখানে বড় বিষয় নয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা আছে আর কার নেই, তা নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এই এখতিয়ার সম্পূর্ণ তাদের।

স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে রিজভী বলেন, যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে, তাই আমাদের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম ঠিক করবে কীভাবে আমাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

দলের পরবর্তী কাউন্সিলের বিষয়ে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান ও মহাসচিব এ বিষয়ে কথা বলেছেন। কাউন্সিলের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি, তবে আমরা আশা করছি এটি খুব দ্রুতই হবে।

আয়ের উৎস ব্যাখ্যা করে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, ব্যক্তিবর্গ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদান এবং মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে এই আয় হয়েছে। 

ব্যয়ের বিষয়ে তিনি জানান, সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক কর্মসূচি, যানবাহন ক্রয়, লিফলেট ও পোস্টার মুদ্রণ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয় রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুস্থ নেতাকর্মীদের সহায়তার পেছনে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী ক্যালেন্ডার বছরের নিরীক্ষিত হিসাব (অডিট রিপোর্ট) ইসিতে জমা দিতে হয়। টানা তিন বছর এই হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে রাষ্ট্রপতির জন্য বিশেষ ছাড়

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা নানা কাঠখড় পুড়িয়ে, নিয়মের বেড়াজাল ডিঙিয়ে নিজেদের জমা টাকা তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে এসব বিধিনিষেধ থেকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে থাকা তার হিসাব থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।

গত মে মাসের শেষ দিকে করা এক আবেদনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসা ও অন্যান্য পারিবারিক ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় থাকা তার হিসাব থেকে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি চান। পরে গত ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়।

ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম-২০২৫-এর ২১ ধারার আওতায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই ধারায় বিশেষ পরিস্থিতিতে স্কিমের কোনো বিধান শিথিল বা সংশোধনের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে চিকিৎসার খরচ মেটাতে অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন। রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের বিধান থাকলেও রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা ও অবস্থান বিবেচনায় তাকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও কয়েকজনকে একই ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের নাম বা কোন কোন বিষয়কে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

রাষ্ট্রপতির (বেতন ও বিশেষাধিকার) আইন, ১৯৭৫ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশে এবং প্রয়োজনে বিদেশেও সরকারি খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারী।

যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রপতিও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তিনি জানান, একজন সাধারণ গ্রাহক হিসেবেই নিজের অর্থে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির আইনের আওতায় বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা শুধু রাষ্ট্রপতি এবং তার সঙ্গে বসবাসকারী ও সম্পূর্ণভাবে তার ওপর নির্ভরশীল নিকট পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য। অন্য আত্মীয়রা এই সুবিধার আওতায় পড়েন না।

রাষ্ট্রপতি জানান, তার দুই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বর্তমানে ভারতে চিকিৎসাধীন। ‘এই সংকটাপন্ন সময়ে তাদের সহায়তা করা আমার দায়িত্ব’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

‘অগ্রাধিকার শ্রেণির বাইরে’

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের একটি। অন্য চারটি হলো এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংককে রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে।

রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী, অগ্রাধিকারভিত্তিক কাঠামো অনুসারে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হয়। যেসব হিসাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা রয়েছে, সেসব আমানতকারী কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই টাকা তুলতে পারেন।

এছাড়া ক্যানসার রোগী ও ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন ব্যক্তিরা আমানতের পরিমাণ বিবেচনা ছাড়াই যেকোনো অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পান।

অন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণির মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি তহবিল, বহুজাতিক কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি কূটনৈতিক মিশন।

বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শুরুতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কর পরিশোধের বিষয়ে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং কর পরিশোধ করে রসিদ দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

পরে রাষ্ট্রপতি তার হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন। আবেদনটি রেজল্যুশন স্কিমে উল্লেখ করা কোনো অগ্রাধিকার শ্রেণির মধ্যে না পড়ায় ব্যাংক বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়।

‘বিশেষ সুবিধা’

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, রেজল্যুশন স্কিমে নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ উত্তোলনের অনুমতি সাধারণত মানবিক কারণ বিবেচনায় দেওয়া হয়।

ব্যাংকটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপন, ডায়ালাইসিস, ক্যানসার চিকিৎসা ও বিদেশে শিক্ষার খরচের মতো জরুরি প্রয়োজনে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি এবং কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই করে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংকটে থাকা প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও অনেক সময় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. মোকসুদুজ্জামান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতি এখনো অনুমোদিত অর্থ উত্তোলন করেননি।

রাষ্ট্রপতিকে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাতে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর অনেক আমানতকারী এখনো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন না। 

তাদের প্রশ্ন, সাধারণ আমানতকারীরা যেখানে রেজল্যুশন স্কিমের বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছেন এবং রাষ্ট্রপতির বিষয়টি স্কিমের মানবিক বিধানের আওতায় পড়ে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাহলে তাকে কেন বিশেষ অনুমতি দেওয়া হলো?

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের উপদেষ্টা ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপ-নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য

লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, তার আবেদনে কর পরিশোধ বা ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয়ের কোনো উল্লেখ ছিল না।

তিনি বলেন, ‘পারিবারিক ব্যয়, ব্যক্তিগত ব্যয়, পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় এবং ঈদুল আজহা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির (বেতন ও বিশেষাধিকার) আইন ১৯৭৫ অনুযায়ী কেবল রাষ্ট্রপতি এবং তার সঙ্গে বসবাসকারী ও সম্পূর্ণভাবে তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরাই বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা পান; পরিবারের অন্য সদস্যরা এ সুবিধার আওতায় পড়েন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য বলছি, “পরিবার” শব্দটি বাংলাদেশে প্রচলিত বিস্তৃত অর্থেই ব্যবহার করেছি। দেশের অনেক সাধারণ নাগরিক ও দায়িত্বশীল বড় ভাইয়ের মতো আমিও শুধু আমার নিকট পরিবার নয়, আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছোট ভাই-বোনদেরও আমার বৃহত্তর পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করি এবং তাদের সহায়তা করি।’

রাষ্ট্রপতি জানান, তার ছোট বোন এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বর্তমানে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের একজন লিভার সিরোসিসের জটিলতায় এবং অন্যজন মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে এই সংকটময় সময়ে তাদের সহায়তা করা তার দায়িত্ব বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজ (৮ জুলাই ২০২৬) পর্যন্ত ব্যাংক থেকে আবেদন করা অর্থের কোনো অংশই ছাড় করা হয়নি।’

 

মিশরের বিপক্ষে তিন পরিবর্তন আনছেন স্কালোনি

কাবো ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াই শেষে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মিশরের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের জন্য শুরুর একাদশ চূড়ান্ত করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আগের ম্যাচের তুলনায় তিনি তিনটি পরিবর্তন আনছেন।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি সরাসরি একাদশ প্রকাশ না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমে যে তথ্য এসেছে, সেটিই প্রায় সঠিক। ‘দল আমি ঠিক করে ফেলেছি। তবে এখনো খেলোয়াড়দের জানাইনি, তাই আপনাদেরও বলিনি। তবে মোটামুটি কী হচ্ছে, সেটা আপনারা জানেন। (এএফএর যোগাযোগ ব্যবস্থাপক) নিকো আমাকে বলেন, সংবাদমাধ্যমে কী আলোচনা হচ্ছে। আর সেটা প্রায় সঠিক দিকেই আছে,’ বলেন স্কালোনি।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, তিনটি পজিশনেই পরিবর্তন আনছেন এই বিশ্বকাপজয়ী কোচ। রক্ষণভাগে ফাকুন্দো মেদিনার জায়গায় ফিরছেন নিয়মিত বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। চোট কাটিয়ে ওঠার সময় মেদিনা দারুণ খেললেও কাবো ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে শেষদিকে ক্র্যাম্পে ভুগেছিলেন। ফলে আবারও প্রথম একাদশে জায়গা পাচ্ছেন তাগলিয়াফিকো।

আক্রমণভাগেও আসছে পরিবর্তন। বিশ্বকাপে প্রথম চার ম্যাচে শুরু করা লাউতারো মার্তিনেজের জায়গায় খেলবেন হুলিয়ান আলভারেজ। জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও কাবো ভার্দের বিপক্ষে নিজের ছাপ রাখতে পারেননি লাউতারো। অন্যদিকে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাঁ গোড়ালির চোটে ভোগা আলভারেজ এখন পুরোপুরি ফিট। তাই লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে এবার সুযোগ পাচ্ছেন ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই ফরোয়ার্ড।

তৃতীয় পরিবর্তনটি হচ্ছে মাঝমাঠে। কাবো ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড প্রত্যাশামতো ছন্দে ছিল না। বদলি হিসেবে নেমে ভালো খেলেছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে এবার শুরুর একাদশে জায়গা পাচ্ছেন তিনি। পারেদেস দলে ফেরায় একাদশ থেকেও বাদ পড়ছেন থিয়াগো আলমাদা। পারেদেস খেলবেন ডিপ-লাইং মিডফিল্ডারের ভূমিকায়। ফলে এতদিন সেই দায়িত্ব পালন করা আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্তার আরও সামনে উঠে এঞ্জো ফার্নান্দেজের পাশে খেলতে পারবেন।

মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; রদ্রিগো দে পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এঞ্জো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্তার; লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

 

আসছে মাইক্রো ড্রামা সিরিজ ‘সিলভার সাদিয়া’, প্রতি পর্ব ৩ মিনিটের

দেশে প্রথমবারের মতো নির্মিত হয়েছে মাইক্রো ড্রামা সিরিজ। এই সিরিজের প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য মাত্র তিন মিনিট। 

মোবাইল-ফার্স্ট দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ‘সিলভার সাদিয়া’ সিরিজটি তৈরি করা হয়েছে ভার্টিক্যাল ফরম্যাটে। এতে নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন সাদিয়া আয়মান। তার সঙ্গে আরও আছেন অ্যালেন শুভ্র, ফারজানা ছবি ও কামরুজ্জামান তপু। একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘রাফসান দ্য ছোটভাই’। শিগগির ইউটিউবে দেখা যাবে ‘সিলভার সাদিয়া’। 

সিরিজের পরিচালক মিরাজ হোসেন জানান, সিলভার সাদিয়ার গল্পে এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মাদ্রাসাছাত্রীর জীবন উঠে এসেছে। সে গেমিংয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে, তবে তা গোপনে। মায়ের নীরব সমর্থনে সে একসময় ইউটিউবে লাইভস্ট্রিমিং শুরু করে এবং ধীরে ধীরে নিজের দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করে। কিন্তু একসময় এই কথা বাবার সামনে প্রকাশ পেলে বাবা-মেয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরিবার, দূরত্ব এবং নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার গল্প নিয়েই সিরিজটি এগিয়ে যায়।

পরিচালক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এ ধরনের সিরিজ এবারই প্রথম নির্মিত হলো। আশা করছি, নতুন ফরম্যাটের এই সিরিজটি সবার ভালো লাগবে।’

তুরস্কের দিকে ছোড়া ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত

ইরান থেকে তুরস্কের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।  

ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে ধ্বংস করে বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দিকে এগোচ্ছিল।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক কোথায় লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।

তুরস্ক জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়ার অধিকার তারা রাখে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংঘাত আরও না বাড়ানোর আহ্বান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ফোনালাপ হয়েছে। হাকান তুরস্কের দিকে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ফিদান ফোনালাপে আরাঘচিকে বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্টও তুরস্ককে লক্ষ্য করে ইরানের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রেই আমাদের প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।’

আল জাজিরা জানায়, তুরস্কের ইনসিরলিক বিমানঘাঁটি বিদেশি সামরিক বাহিনী—বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্ররা ব্যবহার করে। ঘাঁটিটি তুর্কি বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এটি তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমানঘাঁটি হিসেবে পরিচালিত হয়।

১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে ইনসিরলিক একটি গুরুত্বপূর্ণ আকাশ সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। পরে এটি ইরাক ও আফগানিস্তানে পরিচালিত অভিযানের জন্য কার্গো হাব হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের সময় এই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি তুরস্ক। তবে ২০১৪ সাল থেকে আইএসআইএল (আইএসআইএস) বিরোধী হামলায় এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এনপিএর উদ্বেগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)।

আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গভর্নর পদে একজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানায় এনপিএ।

তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবেদনশীল ও বিশেষায়িত দক্ষতানির্ভর প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞতা, পেশাগত সততা ও গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণে এ পদটির ভূমিকা মুখ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আধুনিক রাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব মূল্যস্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ও আর্থিক খাতের স্থিতি বজায় রাখা। স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।

সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, রাজনৈতিক চাপের কারণে অতীতে একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং পরিচালনা পর্ষদে দলীয় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ঋণের আড়ালে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে আমানতকারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ব্যাংক খাতের বড় অংশ ঋণখেলাপিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং বাজার ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ নিয়মিত পুনঃতফসিলের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনাকালে প্রণোদনা ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে সুবিধা নেওয়া এবং উন্নয়ন ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে ব্যাংকিং খাত থেকে অর্থ ছাড় দেওয়ার ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে বলেও সংগঠনটির দাবি।

এনপিএ জানায়, আর্থিক ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় সংসদের কাছে এর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। অতীতে একজন গভর্নরকে মেয়াদপূর্তির আগেই অপসারণের ঘটনা ভবিষ্যতে যোগ্য ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত গভর্নরের ব্যবসা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

সংগঠনটি গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও বোর্ড সদস্য নিয়োগে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ বন্ধ করে স্বাধীন সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অপসারণের ক্ষমতা সীমিত করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গভর্নরের নিয়মিত সংসদীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে এনপিএ।