34 C
Dhaka
Home Blog

আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না: জামায়াত আমির

বাজার পরিস্থিতি আগের চেয়ে বেশি অস্থির বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই বাজার অস্থির, ইদানীং মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি অস্থির।’

আজ মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১ নম্বরে সেকশনে শাহ আলী কাঁচা বাজার পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই যে একটা বিশাল আড়ত-মার্কেট আছে, এখানে যে দোকানগুলো আছে, স্বস্তিদায়কভাবে যারা ব্যবসা করে তারা পায় না। এখানেও দখলদারিত্ব আছে। এখানেও নীরব চাঁদাবাজি আছে। কিন্তু মুখ ফুটে কেউ কথা বলতে চায় না। সবার মুখ চেপে রাখা হয়েছে। কারা করে এই চাঁদাবাজি? আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ করে না। এখানেই আমাদের সাথে চলাফেরা করে, ওঠা-বসা করে বসবাস করে, এই লোকেরা এগুলো করে। তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সংসদের শেষ দিবসে আপনারা শুনেছেন, আমি পরিষ্কার বলেছি যে, সংসদের ৩০০ জন সদস্য যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস পাবে না। কিন্তু এরাই যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা অসম্ভব। আমরা চাই চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।’

‘মানুষের নাভিশ্বাস, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ যারা, তাদের অবস্থা এখন—বেঁচে থাকাই তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে,’ যোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

পরিস্থিতি বুঝতে বিরোধীদল খুচরা বাজার ও মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে যাবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, জায়গায় জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজির কারণে এখানে যারা ব্যবসায়ী আছে তারাও কিন্তু ভালো ব্যবসা করতে পারে না। আমরা ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে পণ্যগুলো পাই না। কৃষক তার উৎপাদিত মূল্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। মাঝখানে অন্যদের পেটে ঢুকে যায়। আমরা ওটা ভাঙতে চাই।’

‘কোন দিন ভাঙতে পারবো আল্লাহ ভালো জানেন, কিন্তু আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে, এই লড়াই চলবে। আমরা থামবো না। আমাদের আওয়াজ, আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের দাবি সংসদের ভেতরে ও বাইরে—সব জায়গায় অব্যাহত থাকবে। এই দেশটা আমরা সবাই মিলেই ভালো করতে পারবো। একা কেউ পারবে না। একা কোনো দলও পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার,’ যোগ করেন তিনি।

এ সময় জামায়াত আমিরের আহ্বানে একজন ব্যবসায়ী তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। বলেন, সরকার ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে দোকান বরাদ্দ দিয়েছে। যারা বরাদ্দ পেয়েছেন, তারা ১ থেকে দেড় লাখ টাকা মাসিক চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষকে ভাড়া দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়া প্রতি বর্গফুটে ১৩ টাকা। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘আমরা চাই চাঁদাবাজি বন্ধ হোক।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিরোধীদলের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে জামায়াত আমির গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আমরা সংগ্রাম করব। এগুলো নিয়ে মাঠে নামবো, আওয়াজ তুলবো, জনগণকে সংগঠিত করব এবং একটা সময়ের ব্যবধানে এই যন্ত্রণা থেকে আমরা জনগণকে মুক্ত করব।’

বাজার পরিদর্শনকালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

‘৭০-৮০ বছরের বয়স্ক মানুষ সিনেমা হলে আসছেন, এটা বড় পাওয়া’

তানিম নূর – এই নামটি বর্তমান সময়ে সিনেমাপাড়ায় উচ্চারিত হচ্ছে অনেক বেশি। তার পরিচালনায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শক চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত সাত কোটি ছাড়িয়ে গেছে টিকিট বিক্রি। এখনো অনেকেই টিকিট পাচ্ছেন না। দেশের বাইরেও দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। 

এর আগে উৎসব সিনেমা নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন তিনি।

সফল চলচ্চিত্র পরিচালক তানিম নূর আজ কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস সবদিক থেকে সফল একটি সিনেমা। এত বড় সাফল্যের মূল রহস্যটা কী?

তানিম নূর: আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে সিনেমা একার না, সবার সম্মিলিত চেষ্টার ফসল। সিনেমা নির্মাণে আমার সঙ্গে যারা ছিলেন, সবাইকে কৃতিত্ব দেব। শিল্পী, স্ক্রিপ্ট রাইটার, চিত্রগ্রাহক থেকে শুরু করে টিমের সবাই শতভাগ শ্রম ও ভালোবাসা দিয়েছেন। ভালোবেসে কাজটি করেছেন। এখানে আমার একার ক্রেডিট না, সবার। সবাই কাজটি যত্ন নিয়ে করেছেন বলেই দর্শকরা এত আগ্রহ নিয়ে দেখছেন।

দ্য ডেইলি স্টার: হুমায়ুন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটি বেছে নেওয়ার কারণ কী?

তানিম নূর: ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটি পড়ার পর ভালো লেগেছে। এই উপন্যাসটি বেছে নেওয়ার পেছনে কিছু কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, এটি ট্রেন জার্নির গল্প। সারা পৃথিবীতে ট্রেন জার্নি নিয়ে প্রচুর সিনেমা হয়েছে। অসংখ্য সিনেমার অংশ বিশেষ ট্রেনে শুটিং হয়েছে। ট্রেনের গল্পের মধ্য দিয়ে পুরো বাংলাদেশের চিত্র উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত ট্রেনের যাত্রী। দ্বিতীয়ত, স্বাধীন আমাকে একদিন উৎসব সিনেমার পর বললেন ‘কিছুক্ষণ’ নিয়ে কাজ করতে। এরপর বইটি পড়ি। সম্ভবত এই বইটি আমার আগে পড়া ছিল না। পড়ার পর দেখলাম এই উপন্যাসে অনেক কিছু আছে। কাজটি করা যায়। এভাবেই ‘কিছুক্ষণ’ নিয়ে কাজ করি।

দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার বেশিরভাগ শিল্পীরা বলেছেন উৎসবকেও ছাড়িয়ে যাবে, আপনার মন্তব্য কী?

তানিম নূর: এটি হয়েছে দর্শকদের জন্য। উৎসবকে ছাড়িয়ে যাবে বনলতা এক্সপ্রেস — সম্ভব হয়েছে দর্শকদের জন্য। দর্শকরা ভালো সিনেমা বানালে উৎসাহ দেন, হলে আসেন। এদেশের দর্শকরা মুখিয়ে থাকেন ভালো গল্পের জন্য, ভালো সিনেমার জন্য। উৎসব দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখেছেন। বনলতা এক্সপ্রেস আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। এজন্যই এই সিনেমাটি উৎসবকেও ছাড়িয়ে গেছে। আমরা কৃতজ্ঞ দর্শকদের কাছে।

দ্য ডেইলি স্টার: সিনেমাপাড়া থেকে সবখানে বলা হচ্ছে আপনি একজন সৌভাগ্যবান পরিচালক?

তানিম নূর: আমিও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। কেননা, আপনি একটি সিনেমা বানাবেন, তারপর দর্শকরা কীভাবে নেবেন তা আগে থেকে বলা সম্ভব না। সিনেমা দর্শকরা গ্রহণ করতেও পারেন আবার না-ও করতে পারেন। পুরোটাই দর্শকদের ওপর নির্ভর করছে। দর্শকরা আমার পরিচালিত উৎসব সিনেমা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন, বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমাও দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। কাজেই, নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

দ্য ডেইলি স্টার: অসংখ্য দর্শক বনলতা এক্সপ্রেস দেখছেন, কোন স্মৃতি আপনার মনে দাগ কেটে আছে?

তানিম নূর: অনেক ভালো ভালো স্মৃতি আছে। স্মৃতিগুলো মনে দাগ কেটে আছে। স্মৃতিগুলো মনে থাকবে। দর্শকরা দল বেঁধে হলে যাচ্ছেন — এই দৃশ্য অনেক আনন্দের। ৭০-৮০ বছরের বয়স্ক মানুষ হলে এসেছেন, এটা বড় পাওয়া। ৯ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা হলে এসেছেন, মুগ্ধ হয়েছি।

দ্য ডেইলি স্টার: পরবর্তী সিনেমা নিয়ে ভেবেছেন?

তানিম নূর: এখনো ভাবিনি। আরও সময় যাক, তারপর বলা যাবে। তবে প্রযোজনা করব যা অন্য কোনো পরিচালক নির্মাণ করবেন।

দ্য ডেইলি স্টার: বনলতা এক্সপ্রেস দেশের বাইরে মুক্তি পেয়েছে, কেমন সাড়া পাচ্ছে?

তানিম নূর: খুব ভালো সাড়া পাচ্ছে দেশের বাইরে। নর্থ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ অনেকগুলো দেশে মুক্তি পেয়েছে। দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন দেশের বাইরেও। নর্থ আমেরিকায় তিন লাখ ২২ হাজার ডলার টিকিট বিক্রি হয়েছে এখন পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়ায় এক লাখ ডলারের টিকিট বিক্রি হয়েছে। আরও বাড়বে।

 

দ্য ডেইলি স্টার: বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার গ্রস কালেকশন কত?

তানিম নূর: গতকাল পর্যন্ত সাত কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এটা গ্রস কালেকশন। এখনো দর্শকরা টিকিট পাচ্ছেন না, এটা আনন্দের খবর। আশা করছি চলতেই থাকবে। একটি তথ্য যোগ করতে চাই। তা হচ্ছে — বাংলাদেশে দশ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হলে ট্যাক্স দিতে হবে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা। 

দ্য ডেইলি স্টার: সন্ধ্যার পর শো বন্ধ, কীভাবে দেখছেন?

তানিম নূর: রাতের শো বন্ধ, ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দর্শকরাও দেখতে পাচ্ছেন না। থিয়েটারের শো হচ্ছে, অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে রাতে। কিন্তু সিনেমার শো রাতে বন্ধ। এতে করে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।
 

ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৫

দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে আল জাজিরা জানায়, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

এতে নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার জবাব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

রূপপুর প্রকল্পে ‘নিয়োগে অনিয়ম’ তদন্তের আদেশ হাইকোর্টের

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ছয় কর্মকর্তার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

কমিটিকে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আজ রোববার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত না করায়, তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে একটি রুলও জারি করেছেন আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিনা বেগমের দায়ের করা জনস্বার্থে রিট আবেদনের পর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ ও রুল জারি করেন।

আবেদনকারীর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ সাঈদ শিবলী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে জারি করা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বিভিন্ন পদে মিরাজ আল মামুন, রবিউল আলম, আল মামুন, এ কে এম নজমুল হাসান, মুশফিকা আহমেদ এবং আবু কায়সারকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের পর্যাপ্ত কাজের অভিজ্ঞতা ছিল না।

শিবলী আরো বলেন, ‘তাদের নিয়োগ একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়েছে, যা তদন্ত করা প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়ম থাকতে পারে।’

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ ও রপ্তানি সংকট: কোন পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি?

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক নানা চাপের সম্মুখীন হচ্ছে বিএনপি সরকার। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ—সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। সেই সঙ্গে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু তখনো বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ থাকবে।

বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান এমনি অনুন্নত আর তার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির যদি এই হার বজায় থাকে, তবে জীবনযাত্রার মান আরও নিচে নেমে যাবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের শ্রেণির ওপর চাপ বাড়বে। গত ৩ বছর ধরে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

সম্প্রতি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সেবার ফি বাড়ানো হয়েছে। এতে নতুন করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা, অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে বাড়ছে বৈদেশিক ঋণের বোঝা এবং তা পরিশোধের চাপ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৮২২ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় বাড়বে।

এসবের মধ্যে নানা উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীরগতিতে হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ও কমেছে, একইসঙ্গে কমেছে নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি। এই অবস্থা বিদ্যমান থাকলে ভবিষ্যতে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

বাণিজ্য খাতেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অন্যদিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতেও খরা বিরাজ করছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংশ্লিষ্টরা এর কারণ হিসেবে বৈশ্বিক সংঘাত, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাকে দায়ী করেছেন। অথচ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস এই তৈরি পোশাক খাত। ফলে এ খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে বিপুল ঋণ পরিশোধের চাপের মধ্যে ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এর পাশাপাশি সরকার তেল, গ্যাস ও সার কেনার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের আইটিএফসি থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেবে।

আবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে তিন বছর মেয়াদি ঋণের আবেদন করেছে বাংলাদেশ সরকার। কোনো দেশ অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়লে আইএমএফের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করে। এখন দেখার বিষয় আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ দিতে রাজি হয় কি না। কেননা বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের পতনের পর ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণের চুক্তি করেছিল। ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই ঋণের আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। অনুমোদিত ওই ঋণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। কিন্তু ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি শর্ত পূরণ না হওয়ায়।

এই পরিস্থিতিতে সাময়িক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলো প্রয়োজনীয় এবং অর্থনীতির জন্য সহায়ক। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আমাদের পরিকল্পনা কী হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে অর্থনীতি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের গতি ফেরানো। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং সেগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনৈতিক চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

ফারজানা সাজনিন অর্চি: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অ্যানথ্রপিকের এআই মডেলের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তাদের জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইঞ্জিন ক্লডের সবচেয়ে নতুন ও উন্নত সংস্করণ ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ বাজারে উন্মুক্ত করে। 

৯ জুন মডেলগুলো বাজারে আসার তিন দিনের মাথায় মার্কিন সরকার  দাবি করে, এই এআই ইঞ্জিনকে সাইবারহামলার কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। 

সে অনুযায়ী বাণিজ্য দপ্তর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

তবে গতকাল মঙ্গলবার এই স্বল্পমেয়াদি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। 

ফলে অ্যানথ্রপিকের সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলগুলো এ সপ্তাহেই আবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।

গত ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর অ্যানথ্রপিককে তাদের ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ মডেলে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকার তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। 

ব্যবহারকারীদের জাতীয়তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে না পারায় অ্যানথ্রপিক দুটি মডেলই পুরোপুরি অফলাইনে নিয়ে যায়। 

সে সময় অ্যামাজনের গবেষকরা ফেবল ৫ এর একটি নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করেন। হ্যাকারদের জন্য ওই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ ছিল। এমন কী, এসব দুর্বলতার ফায়দা নিতে ভুয়া কোড তৈরি করার উপায়ও খুঁজে পান গবেষকরা। 

এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলো নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয় মার্কিন সরকার। 

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এ বিষয়টি জানার পর তারা এআই মডেলে নতুন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। 

এই ব্যবস্থার অধীনে বাইরে থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা এলে সেগুলো নতুন মডেলের বদলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল মডেল ওপাস ৪.৮ এর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই মডেলটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল হওয়ায় ক্ষতিকারক বা বড় আকারের সাইবারহামলার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।  

আজ বুধবার থেকে ফেবল ৫ আবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। 

অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্তের জন্য তৈরি মিথোস ৫ গত সপ্তাহে সীমিতসংখ্যক বিশ্বস্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছিল। এখন গ্লাসউইং কর্মসূচির আওতায় এটি আরও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, এই সমাধানটি পুরোপুরি নিখুঁত নয়। এর ফলে সাধারণ ইউজারদের কাজেও বাধার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দাবি করেছে, কোনো এআই মডেলকে জেলব্রেক (হ্যাকিং) থেকে শতভাগ সুরক্ষা দেওয়া অসম্ভব বললেও কম বলা হবে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো সার্বজনীন সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

তবে বাহ্যিক নিরাপত্তা পরীক্ষকরা এখনও মডেলটিতে আর কোনো দুর্বলতা আছে কী না, তা খতিয়ে দেখছেন। 

এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক বলেছেন, অ্যানথ্রপিক যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যেকোনো সময় আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের তথ্য সরকারকে জানানো এবং ভবিষ্যতে নতুন মডেল প্রকাশের নীতিমালা তৈরিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

রয়টার্স চিঠিটির একটি কপি সংগ্রহ করেছে। 

চিঠিতে লাটনিক দাবি করেন, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগে অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলো পর্যালোচনার যে বৃহত্তর উদ্যোগ নিয়েছে হোয়াইট হাউস, এটা সেই উদ্যোগেরই অংশ। 

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী নতুন এআই মডেল ইউজারদের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ৩০ দিন আগে সরকারি মূল্যায়নের জন্য জমা দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। 

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই গত সপ্তাহে নিশ্চিত করেছে, ওয়াশিংটনের অনুরোধে তারা তাদের জিপিটি ৫.৬ মডেল বাজারে আনার উদ্যোগ স্থগিত করেছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যানথ্রপিক এখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সরকারি সংস্থাগুলোকে দুটি মডেলেই আগাম প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। 

পাশাপাশি জেলব্রেক শনাক্ত ও প্রতিরোধে অভিন্ন মানদণ্ড তৈরির জন্য অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, গুগল এবং গ্লাসউইং কর্মসূচির অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে।

চলতি বছরের শুরুতে অ্যানথ্রপিক তাদের এআইকে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ নজরদারি বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে পেন্টাগন প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতি’ হুমকি আখ্যা দেয়। এদিকে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই—উভয় প্রতিষ্ঠানই গোপনে শেয়ারবাজারে প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) আবেদন জমা দিয়েছে।
 

আত্মঘাতী গোলে বেলজিয়ামের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগ মিশরের

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে অংশ নেওয়ার গৌরব থাকলেও এই আসরে এখনও জয়ের মুখ দেখা হয়নি মিশরের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে পারে বলেই মনে হচ্ছিল। ইমাম আশুরের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ফারাওরা। তবে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী এক গোলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে।

সোমবার রাতে সিয়াটেল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশর ১-১ গোলে ড্র করেছে।

একসময়কার সোনালি প্রজন্মের বেশিরভাগ খেলোয়াড় না থাকলেও কাগজে-কলমে ম্যাচের ফেভারিট ছিল বেলজিয়াম। তবে মাঠের লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়নি। শুরু থেকেই মিশর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে এবং বেলজিয়ানদের সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ইমাম আশুরের পায়ে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশে মিশরকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তর আফ্রিকার দলটি। কিন্তু বেলজিয়ামও হাল ছাড়েনি। ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকা ইউরোপিয়ানরা শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবানও হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধে।

পরিসংখ্যানও বলে দেয় ম্যাচটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। বল দখলে সামান্য এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। তারা ১৫টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে মিশরও ১৪টি শট নেয় এবং ৩টিই ছিল লক্ষ্যে। দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ম্যাচটিকে জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত কেউই জয় তুলে নিতে পারেনি।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল বেলজিয়াম। অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইনার একটি শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই ম্যাচে নিজেদের ছাপ রাখতে শুরু করে মিশর।

রক্ষণে তারা দারুণ শৃঙ্খলা দেখায়। বেলজিয়ামের দুই বিপজ্জনক উইঙ্গার জেরেমি ডোকু ও লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে ফারাওরা। আর সেই দৃঢ় রক্ষণ থেকেই আসে ম্যাচের প্রথম বড় আঘাত।

২০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক আক্রমণ সাজান মোহাম্মদ সালাহ। তার পাস পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান ইমাম আশুর। শটটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে থিবো কোর্তোয়া ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি।

গোল হজমের পরও ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না বেলজিয়াম। কোচ রুডি গার্সিয়া চমক দেখিয়ে রোমেলু লুকাকুকে বেঞ্চে রেখে চার্লস দে কেতেলায়েরেকে স্ট্রাইকার হিসেবে নামিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা খুব একটা কাজে আসেনি। মাঝমাঠে ইউরি টিলেমান্সও নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না। ফলে বেলজিয়ামের আক্রমণে ধার ছিল না বললেই চলে।

অন্যদিকে মিশরের ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি ডোকুকে প্রায় পুরোপুরি আটকে রাখেন। শুধু রক্ষণেই নয়, বল পায়ে আক্রমণ গড়তেও আত্মবিশ্বাসী ছিল মিশর। ৩৩তম মিনিটে জিদানের একটি ক্রস-শট থেকে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু দারুণ সেভ করে দলকে বাঁচান কোর্তোয়া।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডোকু ও ট্রোসার্ড নিজেদের অবস্থান বদল করলে কিছুটা প্রাণ ফিরে পায় বেলজিয়ামের আক্রমণ। যোগ করা সময়ে দে কেতেলায়েরের ব্যাকহিল পাস থেকে পাওয়া দুর্দান্ত সুযোগ নষ্ট করেন ডোকু।

প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে না পারা বেলজিয়াম বিরতির পর নিজেদের আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনে। ডোকুকে মাঝখানে এনে এবং দে কেতেলায়েরেকে উইংয়ে সরিয়ে দিয়ে নতুন কৌশল সাজান গার্সিয়া। এর ফলও দ্রুত পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ হয়ে ওঠে অনেক বেশি খোলামেলা। দুই দলই একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে।

ডি ব্রুইনার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্য প্রান্তে সালাহর ডাইভিং হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। ফিরতি বলে আশুরের সামনে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ এলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

এরপরও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। বদলি হিসেবে নামা টিলেমান্সের একটি ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ডি ব্রুইনার আরেকটি প্রচেষ্টা সহজেই ধরে ফেলেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।

মিশরও বসে থাকেনি। সালাহর দারুণ পাস থেকে ওমর মারমুশ গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার শট ব্লক হয়ে যায়। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬৬তম মিনিটে। তখন মাঠে নামেন রোমেলু লুকাকু। আর নামার মাত্র ২২ সেকেন্ড পরই তার উপস্থিতি বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র।

থমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে লুকাকু বল স্পর্শ করতে না পারলেও তার উপস্থিতির চাপে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।

শেষ দিকে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ব্র্যান্ডন মেখেলের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন শোবেইর। অন্যদিকে সালাহর বদলি হিসেবে মাঠে নামা বার্সেলোনার তরুণ হামজা আবদেলকারিম মিশরের আক্রমণে নতুন গতি আনেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জয়সূচক গোল খুঁজে পায়নি।

 

 

প্রতি ঈদে কেন চামড়ার দাম কমে যায়

ঈদের ছুটি শেষে মানুষ যখন রাজধানীতে ফিরছেন, তখন ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে তাদের চোখে পড়ছে এক অস্বস্তিকর দৃশ্য। অনেক জায়গায় পড়ে আছে কোরবানির পশুর চামড়া। বাতাসে ভাসছে পচা চামড়ার দুর্গন্ধ।

এ বছরও ঈদের পর অনেক মানুষ চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে সেগুলো সড়কের পাশে ফেলে দিয়েছেন। কোথাও মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে, কোথাও নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, প্রতি বছর একই ঘটনা কেন ঘটে? ঈদ এলেই কেন কাঁচা চামড়ার দাম পড়ে যায়?

এই সমস্যার শুরু আজকের নয়। ২০১৭ সালে বিষয়টি প্রথম বড় আকারে আলোচনায় আসে। তখন হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করা হচ্ছিল। সেই সময়ও দেশের বিভিন্ন স্থানে চামড়া নষ্ট হয়ে পড়ে থাকার ছবি সংবাদমাধ্যমে আসে। তারপর প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

সবচেয়ে বড় কারণ হলো, ঈদের কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে বিপুল পরিমাণ চামড়া চলে আসে। কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা থাকে কম। ফলে দাম স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পও দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছে। সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর পরিবেশগত মান উন্নত হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) এখনো পুরো সক্ষমতায় কাজ করছে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়ার গ্রহণযোগ্যতা আগের মতো বাড়েনি।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের পর থেকেই চামড়া শিল্প দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সাভারে ১১৫টির বেশি ট্যানারি চালু থাকলেও মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানের এলডব্লিউজি (লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ) সনদ রয়েছে।

এই সনদ ছাড়া ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং উন্নত এশিয়ার অনেক বাজারে প্রবেশ করা কঠিন। ফলে বেশিরভাগ ট্যানারি উচ্চমূল্যের বাজারে চামড়া বিক্রি করতে পারে না।

ঢাকার পোস্তা এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ট্যানারিগুলোর চাহিদা কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও বেশি দাম দিতে পারেন না। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, বাস্তবে বাজার সব সময় সেই দামে চলে না।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতানের মতে, এ বছর প্রত্যাশার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। তার মতে, বাজারের বড় সমস্যা হলো অর্থসংকট। ঈদের সময় বিপুল পরিমাণ চামড়া কিনতে প্রয়োজনীয় মূলধন অনেক ব্যবসায়ীর হাতে থাকে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, বাংলাদেশের চামড়া শিল্প অনেক দিন ধরেই কম দাম, দুর্বল চাহিদা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার এক চক্রে আটকে আছে। পরিবেশগত মান ও সুশাসনের সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়ায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।

তিনি বলেন, যেসব ট্যানারি আন্তর্জাতিক মানের এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে, তারা ভালো রপ্তানি আদেশ পাচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ ট্যানারি সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ফলে তাদের কম দামের বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ২০১২ সালের পর আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পরিবেশগত মান নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া শুরু করলে বাংলাদেশের চামড়া খাতের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

তার মতে, কাঁচা চামড়ার দাম কমার মূল কারণ কোনো কারসাজি নয়, বরং ট্যানারিগুলোর দুর্বল চাহিদা। চাহিদা বেশি হলে দামও স্বাভাবিকভাবেই বাড়ত।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও রপ্তানি উইংয়ের প্রধান মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, অনেক সময় অনভিজ্ঞ কসাইদের কারণে চামড়া কেটে বা ছিঁড়ে যায়। এতে চামড়ার মান কমে যায় এবং দামও কম পাওয়া যায়। আবার লবণ ছাড়া বা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা চামড়ার দামও কমে যায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে মূলত শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলো দায়ী।

তার মতে, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, কিন্তু পুরো প্রক্রিয়া ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফলে অনেক ট্যানারি এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না।

মন্ত্রী জানান, সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের সক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও বর্তমানে তা মাত্র ১৪ থেকে ১৭ হাজার ঘনমিটার পর্যন্ত কাজ করছে। অর্থাৎ এটি প্রায় ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো দাম পেতে এখন এলডব্লিউজি সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সনদ না থাকলে বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে চামড়া বিক্রি করা কঠিন।

এ ছাড়া হাজারীবাগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমে গেছে। ফলে ঈদের সময় বিপুল পরিমাণ চামড়া বাজারে এলেও শিল্প খাত সেই চাহিদা সামাল দিতে পারে না। এতে সরবরাহ বেড়ে যায়, কিন্তু চাহিদা বাড়ে না। আর তখনই দাম পড়ে যায়।

মন্ত্রী আরও জানান, সাভারের বর্জ্য শোধনাগারের সমস্যা সমাধানে একটি ইতালীয় প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। জুন বা জুলাইয়ের শুরুতে তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বড় ট্যানারিগুলোকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনেও উৎসাহ দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ঈদে কাঁচা চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে শুধু একটি নয়, বরং একসঙ্গে কাজ করছে কয়েকটি সমস্যা—বিপুল সরবরাহ, দুর্বল চাহিদা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা, অর্থসংকট, সংরক্ষণের দুর্বল ব্যবস্থা এবং শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা।

এসব সমস্যার সমাধান না হলে প্রতি ঈদের পর চামড়া নিয়ে একই সংকট বারবার ফিরে আসবে।

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের খরচ সাড়ে ৪ কোটি টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল হিসেবে ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা খরচ করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের কাছে দলের নির্বাচনী ব্যয়ের এই হিসাব জমা দিয়েছেন।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে তাদের দলের মোট ব্যয় ছিল ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা। এর মধ্যে ২২৫ জন প্রার্থীর মাঝে অনুদান হিসেবে ৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। এতে প্রার্থীপ্রতি গড়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

এই হিসাব বিবরণীতে সই করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি ও ছাপানো, সংবাদ সম্মেলন, আপ্যায়ন, প্রচারসামগ্রী পরিবহন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর ও বিজ্ঞাপনসহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে দলটি।

হিসাব অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলন আয়োজনে ২২ হাজার ৮৪৮ টাকা এবং ওই সংবাদ সম্মেলনে আপ্যায়ন বাবদ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৯১ টাকা খরচ করেছে জামায়াত।

এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে ২০ লাখ ৯০ হাজার ৮২৭ টাকা, পরিবহন খাতে ৮ হাজার ৭০০ টাকা, জনসভা ও সফরে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৯৯ টাকা, কর্মীদের জন্য ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯০২ টাকা এবং আবাসন ও প্রশাসনিক কাজের জন্য ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৪ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি বিবিধ ব্যয় হিসেবে আরও দুই লাখ টাকার হিসাব দেওয়া হয়েছে।

স্টারডম ও মেডিকেলের পড়ালেখা সামলে শ্রীলীলা এখন ‘দক্ষিণী কুইন’

ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী শ্রীলীলা। আবার মেডিকেলের শিক্ষার্থী তিনি। ক্যারিয়ার ও মেডিকেলের পড়ার চাপ একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে মোটেই সহজ কাজ নয়। তবে দুটোই সমানতালে সামলাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। ইতোমধ্যে তার নামের সঙ্গে দক্ষিণী কুইন খেতাব যোগ হয়েছে।

সম্প্রতি স্টারডম ও মেডিকেল পড়াশোনার ভারসাম্য নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেন শ্রীলীলা।
সাক্ষাৎকারে এই দুই ভিন্ন দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তার অভিজ্ঞতায় চ্যালেঞ্জ ও সুবিধা দুটোই উঠে এসেছে।

বলিউড লাইফের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলীলা দীর্ঘ শুটিংয়ের সময়ের সঙ্গে পড়াশোনার সময়কে সামঞ্জস্য করেন। তিনি অভিনয় ও একাডেমিক পড়াশোনাকে সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এই রুটিন ঠিক রাখতে তাকে মনো ধরে রাখতে হয়।

ব্যস্ত জীবন কীভাবে সামলান, এমন প্রশ্নে শ্রীলীলা বলেন, ‘এজন্য প্রথমে দরকার ইচ্ছাশক্তি ও ধৈর্য। আপনাকে এক কাজ থেকে অন্য কাজে মনোযোগ দিতে জানতে হবে। এমন দিনও গেছে যখন মনে হয়েছে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি, কিন্তু তারপরও দুটোকেই উপভোগ করেছি। আমি ডাক্তার হতে চাই। এই পেশা আমার খুব পছন্দ এবং বেশিরভাগ সময় পড়ালেখা করি।’

তিনি স্বীকার করেন কোনো কোনো দিন অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা করতে হয়। তবে সামগ্রিকভাবে নিজের কাজ ও পড়ালেখা উপভোগ করছেন। চিকিৎসাবিদ্যার প্রতি ভালোবাসা থেকে সব সামলে নিচ্ছেন।

শ্রীলীলা বলেন, ‘এটা হঠাৎ করে বড় হয়ে ওঠার মতো মনে হয়নি। বরং ছোট ছোট কাজ ও পরিশ্রম থেকে হয়েছে। একদিন সবকিছু হয়নি। ধীরে ধীরে হয়েছে। এই যাত্রা অন্যরকম—কখনো শিখছি, তারপর ভুলে যাচ্ছি, আবার নতুন করে শিখছি।’

তার ভাষ্য, ‘আর আমি যা করার চেষ্টা করি, তা হলো নিজেকে স্থির রাখা। কারণ মূল বিষয় হলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করা। আর মনে রাখতে হবে, আমি কী করতে চাই, কেন করতে চাই।’

শ্রীলীলাকে সর্বশেষ দেখা গেছে উস্তাদ ভগত সিং সিনেমাতে। যেখানে তার সহ-অভিনেতা ছিলেন পবন কল্যাণ। সিনেমাটি সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে মাঝারি ধরনের প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। আবার দুর্বল গল্প উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন।