26.8 C
Dhaka
Home Blog

আরেকটা গণঅভ্যুত্থান হলে নির্বাচন কমিশনে হাত দেবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হলে এই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আগাগোড়া পরিবর্তন করা হবে এবং বিগত নির্বাচনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাদের বিচার করা হবে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সদস্যদের সংবর্ধনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একই পরিস্থিতি হলে শক্ত হাতে প্রতিবাদ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখানে তো অনেকে অনেক পজিটিভ কথা বললেন, কিন্তু এটা টোটালি একটা ইঞ্জিনিয়ারড ইলেকশন ছিল।‘

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রধান এখানে আছেন। হয়তোবা এই বক্তব্যের পরে এই অফিসে আমাকে ঢুকতে দেবে কিনা জানি না। তবে আরেকটা গণঅভ্যুত্থান হলে প্রথমে আমি নির্বাচন কমিশনে হাত দেবো, নির্বাচন কমিশনটা আপাদমস্তক গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত পরিবর্তন করব।’

পাটওয়ারী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের দিন ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় থেকে কীভাবে নগ্নভাবে ইলেকশনের ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে, তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী বাংলাদেশ। আমরা এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও জমা দিয়েছি।

নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের সুযোগ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনে মারামারি ও ঘেরাওয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সমালোচনাও করেন এনসিপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সভ্য ইতিহাসে এটা হতে পারে না। কিন্তু লোকাল গভর্মেন্ট ইলেকশনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) এই ধরনের কোনো এক্টিভিটিতে যদি যান, সেটাতে রাজপথের পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত হবে।’

ভোটের দিন সংঘাত এড়ানোর বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আফরোজা আব্বাস নির্বাচনের সময় বিভাগীয় কমিশনারের অফিসের সামনে পাঁচ থেকে ছয় হাজার লোক নিয়েছিল। আমি ডাক দিলে সেখানে পঞ্চাশ থেকে এক লাখ লোক আসতো। অনেকগুলা লাশ পড়তো। আমি শুধু একটা কারণে সরে আসছি। হসপিটালে যাইয়া যেই বাবার ছেলেটা মারা যেত, আমি তাকে কোনো জবাব দিতে পারতাম না।’

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নেপালের চেয়েও উন্নত হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের ভবিষ্যতে আমরা বাংলার মাটিতে বিচার করব।’

তৌকীর আহমেদ আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে অগ্রগ্রামী পুরুষ

ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ—স্লোগানে অভিনয় শিল্পী সংঘের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমিতে হয়ে গেল এক সেমিনার। 

একুশে পদক প্রাপ্ত তিন অভিনেতা—আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ ও আফজাল হোসেনের উপস্থিতিতে তৌকীর আহমেদের জীবনের নানা বিষয় উঠে আসে আলোচনায়। 

এসেছিলেন—মাহফুজ আহমেদ, আজিজুল হাকিম, খ ম হারুণ, দীপা খন্দকার, আপন আহসান, আজাদ আবুল কালাম, আরমান পারভেজ মুরাদসহ অনেক অভিনয়শিল্পী।

পিন্টু ঘোষের কণ্ঠে গান দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, আফজাল হোসেন, আজিজুল হাকিম, তৌকীর আহমেদ, মাহফুজ আহমেদসহ উপস্থিত শিল্পীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।

এরপর শুরু হয় তৌকীর আহমেদের ৬০ বছরের কর্মজীবন নিয়ে আলোচনা। 

মাহফুজ আহমেদ বলেন, ‘সেই সময়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, থাকি মহসিন হলে। তৌকীর আহমেদ বুয়েটে পড়েন। তার একটা লাল রঙের মোটরসাইকেল ছিল। তৌকীর ভাই বইমেলায় যাবেন। আমি যাব হলে। আমাকে তার মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যান। সেই স্মৃতি আজও ভুলিনি।’

‘আরও অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে তার সাথে। এটুকু বলব, তৌকীর আহমেদ আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে অগ্রগ্রামী পুরুষ। তাকে ঈর্ষা করতাম। আজ বলছি, আপনি আমাদের শিক্ষক, ’ বলেন মাহফুজ। 

গাজী রাকায়েত বলেন, ‘৩৮ বছর ধরে তৌকীর আহমেদকে চিনি। আমিও বুয়েটে পড়তাম। একাডেমিকভাবে আমার এক বছরের বড় তিনি। তৌকীর আহমেদের ৬০ বছর হয়ে গেল এবং এজন্য অভিনয় শিল্পী সংঘ যে আয়োজন করেছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা একজন শিল্পীকে সম্মান করছি।’ 

‘তৌকীর আহমেদকে আমার মতো পর্যবেক্ষণ কম মানুষই করতে পেরেছে। তার নির্মিত হালদা ও অজ্ঞাতনামা অসাধারণ দুটি সিনেমা। কথায় আছে শিল্পী বড় নাকি শিল্প! আমি বলব, শিল্পী বড়। তৌকীর আহমেদ তেমনই একজন শিল্পী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭৯ বছর বয়সে শেষের কবিতা লিখে গেছেন। তৌকীর আহমেদ ৬০ বছরে এসে আরও ভালো ভালো কাজ করবেন, ’ যোগ করেন তিনি।

আবুল হায়াত বলেন, ‘এখানে এসে ভাবলাম তৌকীর আহমেদের খারাপ দিকগুলো কী কী!  পেলাম না। তার সবই গুণ। তৌকীর আহমেদ একজন কমিটেড শিল্পী ও পরিচালক। সৃজনশীল ব্যক্তি হিসেবে তিনি একটা উদাহরণ। তার ভিশন আছে। তার বড় গুণ, বই পড়েন। তার সাথে একটা আড্ডা দিলে অনেক কিছু শেখা যায়। অনেক কিছু শিখি তার কাছ থেকে।’

‘যখনই কোনো মার্কেটে যায়, সবার প্রথম বই কেনে। আমার মেয়ে বিপাশাও বই পড়ে। হাসুলি বেগমের উপকথা নামে একটি ধারাবাহিক নির্মাণ করেছিলাম। সেখানে তৌকীর পাগলের চরিত্র করেছিল। আমি বলব, ওটা তার জীবনের সেরা অভিনয়। ৬০ বছরের জীবনের জন্য অভিনন্দন জানাই,’ বলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এ শিল্পী।

আফজাল হোসেন বলেন, ‘তৌকীর আহমেদ একটি শৃঙ্খল জীবনযাপন করেন। বহু গুণ তার আছে। পড়াশোনা করা মানুষ। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেই তার পথচলা। অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন। আমি তার অগ্রজ। একসাথে আমরা অভিনয় করেছি। ৬০ বছর হয়ে গেল তার। অসাধারণ কাজগুলোই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। তৌকীরকে বলব, আরও অনেক দূর যেতে হবে।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘৬০ বছর পার করলেন তৌকীর আহমেদ। আমি বলব, জীবন কেবল শুরু হলো। আরও অনেক কিছু দিতে হবে। দীর্ঘ জীবন হোক। জীবনের মানে হচ্ছে কর্ম। যা ফুটে ওঠে তৌকীরের মধ্যে। বড় কথা হচ্ছে এখনো থিয়েটারকে ছেড়ে যায়নি। বিদেশেও থিয়েটার নিয়ে কাজ করছে।’ 

আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘তৌকীর আহমেদের সাথে আমার পরিচয় থিয়েটারের মাধ্যমে। তারপর বহু দিন কেটে গেছে। তার নির্মাণ, লেখালেখি, অভিনয়—অনেক গুণ। কাজ করেই যাচ্ছেন। থিয়েটারের প্রতি তার ভালোবাসা প্রবল।’ 

নিজের বক্তব্যে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘কষ্ট করে এসেছেন যারা, কৃতজ্ঞতা জানাই। বয়স একটা সংখ্যা। কর্মই আসল। চেষ্টা করেছি কাজের সাথে থাকতে। নাটক ও সিনেমা নির্মাণ করেছি। কিন্তু মানসম্পন্ন কাজের বিষয়টি মাথায় রেখে সব করেছি।’ 

‘কাজের মান আমার কাছে অনেক কিছু। সামনে সিনেমা নির্মাণ করব। অজ্ঞাতনামা মঞ্চে আনব। সবার ভালোবাসা চাই,’ বলেন কর্মজীবনে ৬০ বসন্ত পেরোনো এ শিল্পী।

আবুধাবিতে ফরাসি নৌ-ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

ইরানের ড্রোন হামলায় আবুধাবিতে একটি ফরাসি নৌ-ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আজ রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, আবুধাবিতে ফরাসি নৌ-ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহত হয়নি।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবুধাবির আল সালাম নৌ-ঘাঁটির একটি গুদামে ইরানি ড্রোন হামলা হয়েছে। 

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, হামলায় মালামাল ভর্তি দুটি কন্টেইনারে আগুন ধরে যায়।

এই ঘাঁটিটি মূলত আমিরাতের মালিকানাধীন হলেও এখানে ফরাসি বাহিনী অবস্থান করে। 

হামলার বিষয়ে ফরাসি বাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

কেন্দ্র দখলের অভিযোগ, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা ববি হাজ্জাজের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে একাধিক মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় ববি হাজ্জাজ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন একাধিক কেন্দ্রে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মামুনুল হক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব হামলায় শতাধিক নেতাকর্মীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং এখনো বেশ কয়েকজন ভর্তি আছেন।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগে অনেক চড়াই–উতরাই পেরিয়ে আসতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছে। এই হামলাকে আমরা আইন ছাড়া ছেড়ে দেব না। প্রত্যেক আহত কর্মীর বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে প্রতিমন্ত্রীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামুনুল হক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের মেরেও জিতেছে, এখন কান্নাকাটি করেও জিততে চাচ্ছে। ভোটের দিন তাদের সঙ্গে তেমন কোনো সংঘাত হয়নি। একটি কেন্দ্রে যাওয়ার পর তারা আমার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। তখন পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে আর্মি এসে উভয়পক্ষের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’

মামুনুল হক আরও বলেন, ‘সেদিন যেখানেই কিছুটা হট্টগোল বা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, পুলিশ ও আর্মি ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। যারাই যেখানে আহত হয়েছেন সব আর্মি ও পুলিশের আঘাতে। এইভাবে ফ্যাসিবাদী আমলের কায়দায় আঘাত করে, ভোট চুরি-ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের বিজয় ছিনতাই করার পর এখন আবার মামলা দিয়ে হয়রানি করার মানে স্থিতিশীল পরিবেশের মধ্যে আগুনে ঘি ঢালা। এর দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে।’

চাঁদের পথেও রাইড-শেয়ার!

চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন এখন আর শুধু বড় বড় মহাকাশ সংস্থার নয়। ছোট প্রতিষ্ঠানও চাইলে নিজের যন্ত্রপাতি পাঠাতে পারবে। ঠিক যেমন বাস বা বিমানে একসঙ্গে অনেক যাত্রী ভ্রমণ করেন, তেমনি এক রকেটে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালামাল যাবে চাঁদে। সেই সুযোগই তৈরি করছে জাপানের মহাকাশ কোম্পানি আইস্পেস।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের স্টারশিপ ব্যবহার করে তারা নতুন ধরনের একটি চন্দ্র কার্গো সেবা চালু করছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বেসরকারি কোম্পানি তুলনামূলক কম খরচে নিজেদের পেলোড চাঁদে পাঠাতে পারবে।

এ জন্য আইস্পেস ২০৩০ সালের একটি স্টারশিপ মিশনে ৫০০ কেজি মালামাল বহনের জায়গা কিনেছে। এর জন্য তাদের খরচ হয়েছে ৫ কোটি ডলার।

কোম্পানিটি এমন একটি চন্দ্রযান তৈরি করবে, যেখানে একসঙ্গে অনেক গ্রাহকের মালামাল রাখা যাবে। সহজ করে বললে, এটি হবে চাঁদে যাওয়ার একটি ‘রাইড-শেয়ার’ ব্যবস্থা। একেকটি প্রতিষ্ঠান পুরো মহাকাশযান ভাড়া না নিয়ে শুধু নিজের প্রয়োজনীয় জায়গাটুকুই ব্যবহার করতে পারবে।

আইস্পেসের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদেয়ারি কামিয়ার ভাষায়, নতুন এই সেবা হবে চাঁদগামী একটি ‘বাস’। আর তাদের নিজস্ব ল্যান্ডারগুলো হবে ‘ট্যাক্সি’। বাসে করে সবাই চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছাবে, তারপর ট্যাক্সি যাত্রী বা মালামালকে নির্দিষ্ট জায়গায় নামিয়ে দেবে।

অবশ্য আইস্পেসের পথচলা খুব সহজ ছিল না। ২০২৩ ও ২০২৫ সালে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে ভর করে চাঁদে অবতরণের চেষ্টা করলেও দুইবারই শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হয় তারা।

তবু থেমে নেই প্রতিষ্ঠানটি। ২০৩০ সালের মধ্যে ‘আল্ট্রা’ নামের তিনটি নতুন ল্যান্ডার চাঁদে নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে তারা। এর একটি মিশন থাকবে নাসার কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেস কর্মসূচির অধীনে।

আইস্পেসের প্রধান নির্বাহী তাকেশি হাকামাদার বিশ্বাস, স্পেসএক্সের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব তাদের ব্যবসাকে অনেক দ্রুত এগিয়ে নেবে। কারণ ভবিষ্যতে চাঁদে গবেষণা, খনিজ অনুসন্ধান এবং স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন পরিবহন সেবার চাহিদাও বাড়বে।

স্পেসএক্সও এই অংশীদারিত্বকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক বিক্রয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেফানি বেডনারেক বলেন, ছোট ছোট পেলোডের জন্য চাঁদে যাওয়ার পথ আরও সহজ হবে। ফলে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান চন্দ্র অভিযানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তবে এই চুক্তি শুধু আইস্পেসের জন্য নয়। নাসাও ২০২৮ সালে আর্টেমিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্টারশিপে নভোচারীদের চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ অ্যাস্ট্রোল্যাবও ভবিষ্যতের একটি স্টারশিপ মিশনে নিজেদের রোভার পাঠানোর জন্য জায়গা বুক করে রেখেছে।

মজার বিষয় হলো, এই নতুন ব্যবসার ধারণাটি প্রথম দিয়েছিল স্পেসএক্সই। আইস্পেসের প্রধান নির্বাহী জানান, তারাই আগে এই ‘রাইড-শেয়ার’ মডেলের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল।

ডিজিটাল আসক্তির ফাঁদে যুবসমাজ: সংকট, বাস্তবতা ও উত্তরণের পথ

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি অদৃশ্য এক সংকটও তৈরি করেছে—ডিজিটাল আসক্তি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এই আসক্তির সবচেয়ে বড় শিকার। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম—এসব এখন আর শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং অনেকের কাছে এগুলো হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে প্রশ্ন উঠছে—আমরা কি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি, নাকি প্রযুক্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে?

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ইন্টারনেটে থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হচ্ছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনলাইন নির্ভরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব জীবনের সামাজিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবারে বসে থেকেও যেন সবাই আলাদা এক জগতে বন্দি।

ডিজিটাল আসক্তির অন্যতম বড় সমস্যা হলো সময়ের অপচয়। একজন শিক্ষার্থী দিনে ৫-৬ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করলে তার পড়াশোনা, শারীরিক ব্যায়াম এবং সৃজনশীল কাজের জন্য সময় কমে যায়। ফলে তার সামগ্রিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। শুধু তাই নয়, অনলাইন গেম বা শর্ট ভিডিও কনটেন্টের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি একজন তরুণকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানসিক স্বাস্থ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনের ‘সাজানো’ সাফল্য দেখে অনেক তরুণ নিজেদেরকে পিছিয়ে মনে করে। এতে করে তৈরি হয় হতাশা, উদ্বেগ ও আত্মবিশ্বাসের সংকট। অনেক ক্ষেত্রে এই চাপ আত্মঘাতী প্রবণতাও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা একটি সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত।

ডিজিটাল আসক্তির পেছনে কিছু কাঠামোগত কারণও রয়েছে। পরিবারে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখানো না হওয়া এবং সামাজিক সচেতনতার অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। অনেক অভিভাবক নিজেরাই প্রযুক্তিতে আসক্ত হওয়ায় সন্তানদের জন্য সঠিক উদাহরণ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

তবে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথও রয়েছে এবং তা শুরু করতে হবে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র তিন স্তর থেকেই।

প্রথমত, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি জরুরি। তরুণদের বুঝতে হবে যে প্রযুক্তি একটি টুল, জীবনের বিকল্প নয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার না করা, নিয়মিত বই পড়া, খেলাধুলা ও বাস্তব সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

দ্বিতীয়ত, পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং তাদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত থাকা। শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বিকল্প বিনোদনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। যেমন: খেলাধুলা, ভ্রমণ, পারিবারিক সময় ইত্যাদি। পরিবার যদি সচেতন হয়, তাহলে এই সমস্যা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

তৃতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। স্কুল-কলেজে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার বিষয়ে আলাদা পাঠ্যক্রম চালু করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে কিভাবে প্রযুক্তিকে জ্ঞান অর্জনের জন্য ব্যবহার করতে হয়, কিভাবে সময় ব্যবস্থাপনা করতে হয়।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও কিছু কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সময়সীমা নির্ধারণে সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং গণমাধ্যমে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো—এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে, যাতে আসক্ত তরুণরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে।

সবশেষে, আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি আমাদের শত্রু নয়, কিন্তু এর অপব্যবহার সবচেয়ে বড় সমস্যা। যদি আমরা এখনই সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি ভারসাম্যহীন সমাজে বড় হবে, যেখানে মানবিকতা, সম্পর্ক এবং বাস্তবতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

তাই সময় এসেছে থেমে ভাবার—আমরা কি স্ক্রিনের দাস হয়ে যাচ্ছি, নাকি এখনো আমাদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে? সঠিক সিদ্ধান্ত আজই নিতে হবে, কারণ আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমাদের বর্তমান সচেতনতার উপর।

মো. তরিকুল ইসলাম: লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

জোড়া গোলে ক্লোসাকে ছুঁলেন এমবাপে, আরেকটি বড় জয় ফ্রান্সের

বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপের গোল উৎসব চলছেই। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল দিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর এবার ইরাকের বিপক্ষেও করলেন জোড়া গোল। এতেই জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন এই ফরাসি তারকা। বিশ্বকাপে মাত্র ১৬ ম্যাচে এখন ১৬ গোল এমবাপের। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসেই এত কম ম্যাচে ১৬ গোলের রেকর্ড নেই আর কারোর। 

এমবাপের দুই গোলের সাথে উসমান দেম্বেলের গোলে ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে ফ্রান্স। দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত হয়েছে বর্তমান রানার্সআপদের। 

ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই ইরাকের ওপর চড়াও হয় ফ্রান্স। লো ব্লকে খেলতে থাকা ইরাকের রক্ষণভাগ ভাঙতে দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা সময় নেয় মাত্র ১৪ মিনিট। বক্সের বাইরে ডান পাশ থেকে দুরন্ত গতির শটে দলকে এগিয়ে নেন এমবাপে। গোল খাওয়ার পাশাপাশি ইরাকের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকেই দলের মূল স্ট্রাইকার আয়মান হুসেনের চোট নিয়ে বের হয়ে যাওয়া। তবে প্রথমার্ধে ওই এক গোলই করতে পেরেছে ফ্রান্স। 

তবে এরপর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে খেলা বন্ধ থাকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময়। মুষলধারে বৃষ্টির সাথে তীব্র বজ্রপাতের কারণে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রটোকল অনুযায়ী খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রথমে ফিফা ৩০ মিনিটের বিরতির কথা বললেও শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু করতে অপেক্ষা করতে হয়েছে দুই ঘণ্টার বেশি। 

তবে দীর্ঘ বিরতিও এমবাপের গোল উৎসবে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ইরাকি খেলোয়াড়দের শিশুতোষ ভুলে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটেই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা পেয়ে যান বিশ্বকাপে নিজের ১৬তম গোল। এতে করে ফ্রান্সের হয়ে নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জোড়া গোল পেলেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপে। 

এমবাপের দুই গোলের পর ফ্রান্সের হয়ে তৃতীয় ও শেষ গোলটি করেছেন দেম্বেলে। মাইকেল ওলিসের বাড়ানো বল থেকে এবারের আসরে নিজের প্রথম গোল পেয়েছেন এই পিএসজি তারকা। ৯০ মিনিটে হ্যাটট্রিকের ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে। তবে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলকিপারকে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি তিনি। 

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখন লিওনেল মেসির ঠিক পরের জায়গাটিই এমবাপের। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল দিয়ে নিজের গোলসংখ্যা ১৮তে নিয়ে গেছেন মেসি। 

 

 

মেঘনা গ্রুপের আইএফসির ঋণ আবেদন প্রাথমিকভাবে নাকচের পর বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

চারটি জাহাজ কিনতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) ৮০ মিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের (এমজিআই) আবেদন প্রাথমিকভাবে নাকচের পর পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, একই আবেদন প্রাথমিকভাবে নাকচ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণের অর্থ গ্রহণের জন্য মেঘনা গ্রুপের পক্ষে অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করেছিল বেসরকারি মধুমতি ব্যাংক।

আবেদনটি নাকচের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য ডেইলি স্টার। এর কয়েক ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আবেদনটি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বিনিময় হারের ঝুঁকির বিপরীতে সুরক্ষার অভাব এবং বড় ঋণগ্রহীতাদের বিদেশি ঋণদাতার দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কায় প্রথমে আবেদনের বিষয়ে আপত্তি দেওয়া হয়েছিল।

ডেপুটি গভর্নর আরও বলেন, ‘তবে, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পগ্রুপকে সহায়তা করতে এবং অভ্যন্তরীণ জাহাজের বহর বাড়ানোর সুবিধা করে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন তাদের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।’

যোগাযোগ করা হলে এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের আবেদন পর্যালোচনা করছে এবং কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া হচ্ছে।’

এর আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে জানিয়েছিলেন, বিডার অধীনে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকলে বিডাই তাদের বৈদেশিক ঋণের প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। আর কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীনে পরিচালিত হলে, তাদের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এনওসি নিতে হয়। এমজিআইয়ের এই কোম্পানি বেজার আওতাভুক্ত হওয়ায় এটির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।

তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ‘বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক থাকে। কারণ এ ধরনের ঋণ সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক ঋণ নেয় এবং তা পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে সেই ঋণের দায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রের ওপর এসে পড়তে পারে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ইকুইটি অংশীদারত্ব এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়, কিন্তু বৈদেশিক ঋণকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। কারণ এগুলো বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। উৎপাদন দেশীয় বাজারের জন্য হলে এবং এ থেকে রপ্তানি আয় না এলে ঋণ পরিশোধের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ থাকে না। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের প্রস্তাবগুলো নিবিড় পর্যালোচনা করে এবং সবসময় অনুমোদন দেয় না।’

মেঘনার গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এবং অন্যতম প্রধান ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান। এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নিজস্ব ১১০টিসহ মোট ১৪৫টি জাহাজ রয়েছে।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি

প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করবে।

তিনি জানান, ঈদুল আজহা মাঝামাঝি সময়ে পড়ায় কোনো কর্মসূচি দু-একদিন পিছিয়ে আয়োজন করা হলেও তাতে সমস্যা হবে না।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।

একইদিন সকাল ১১টায় দলের মহাসচিব, জ্যেষ্ঠ নেতা ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান রিজভী।

৩১ মে দুপুর ২টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

রিজভী বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় দুস্থদের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি সারা দেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

তিনি জানান, ছাত্রদল, কৃষক দল, ওলামা দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করবে।

এর আগে অনুষ্ঠিত যৌথসভায় দলের যুগ্ম মহাসচিবরা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতারা এবং কেন্দ্রীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন।

পারিবারিক নাটক কেন কমে গেল, কারণ জানালেন পাঁচ নির্মাতা

একসময় এ দেশে পারিবারিক গল্পের অসংখ্য নাটক তৈরি হতো। সেসব নাটক আগ্রহ নিয়ে দেখতেন দর্শকরা। আমজাদ হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, আতিকুল হক চৌধুরী থেকে শুরু করে হুমায়ূন আহমেদের তৈরি করা নাটকগুলো আজও স্মৃতিকাতর করে দর্শকদের। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই ধারাবাহিকতা অনেকটাই কমে গেছে। এখন হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া সেভাবে পারিবারিক নাটক চোখে পড়ে না।

কেন কমে গেল পারিবারিক গল্পের নাটক? এ নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের পাঁচ জনপ্রিয় নির্মাতা। তারা হলেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, অরণ্য আনোয়ার, অনিমেষ আইচ ও সোহেল আরমান।

গিয়াস উদ্দিন সেলিম

পারিবারিক গল্পের নাটকের চাহিদা একসময় তুঙ্গে ছিল। বিটিভি থেকে এর শুরু, এরপর দীর্ঘদিন ধরে এই ধারা চলেছে। পরে ইউটিউবসহ নানা কারণে নাটকের ধরন অন্যদিকে মোড় নেয়। একসময় নাটক পুরোপুরি নায়ক-নায়িকানির্ভর হয়ে পড়ে, যার ফলে ক্যারেক্টার আর্টিস্টদের কাজ কমে যায়। এসব কারণেই পারিবারিক নাটক কমে যায়। তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে, আবার পারিবারিক গল্প ফিরে আসছে। যদিও তা আগের তুলনায় কিছুই না। দর্শকেরা আসলে ভালো গল্প চান। পারিবারিক নাটকে আমাদের জীবনের কথাই উঠে আসে, তাই এই ধরনের নাটক আরও বেশি হওয়া উচিত।

সালাহউদ্দিন লাভলু

পারিবারিক নাটক কম হওয়ার অনেক কারণ আছে। অথচ আমাদের ছিল পারিবারিক নাটকের বিশাল ঐতিহ্য। এ দেশের দর্শকেরা পারিবারিক নাটকই বেশি দেখতেন। আমাদের অগ্রজ পরিচালক ও নাট্যকারেরা পারিবারিক নাটক দিয়ে বাজিমাত করে গেছেন, যেগুলো কালজয়ী হয়ে আছে। আমি গ্রামের গল্প নিয়ে নাটক করলেও সব সময় চেষ্টা করি সেখানে পারিবারিক বিষয়গুলো তুলে আনতে। পারিবারিক গল্পের নাটক কীভাবে যেন কমতে শুরু করল! এর দায় কার? তবে এখনো সদিচ্ছা থাকলে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

অরণ্য আনোয়ার

পারিবারিক গল্পনির্ভর নাটক কম হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে সময়ের বদল। একটা সময় আমরা যৌথ পরিবারে বাস করতাম। এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ যৌথ পরিবারে বেড়ে উঠেছে। যে কারণে পারিবারিক গল্প বেশি তৈরি হতো এবং দর্শকও তা আগ্রহ নিয়ে দেখতেন। এখন যৌথ পরিবার নেই বললেই চলে, সবাই যার যার মতো আলাদা থাকছে। ফলে সমাজবাস্তবতার প্রতিফলন ঘটছে নাটকে। তবে একেবারেই যে হচ্ছে না, তা নয়। মোস্তফা কামাল রাজ সম্প্রতি ‘পারিবারিক’ ঘরানার একটি নাটক নির্মাণ করেছেন, যা দর্শক খুব পছন্দ করেছেন। তবে সামগ্রিকভাবে আবেগের এই গল্পগুলো এখন কমই হচ্ছে।

অনিমেষ আইচ

পারিবারিক নাটক কম হওয়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হতে পারে ভালো নাট্যকার ও পরিচালকের অভাব। এখন অনেকেই মনে করেন, নাটকে শুধু তারকা থাকলেই চলবে। আবার কেউ কেউ ভাবেন, পারিবারিক নাটকে হয়তো ‘ভিউ’ কম হবে। অনেকেই এখন শুধু ভিউ বা সাময়িক জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটছেন। যখন ভিউয়ের পেছনে দৌড়ানো হয়, তখন স্বভাবতই পারিবারিক গল্প কমে যায়। অথচ ভালো পারিবারিক গল্প হলে তা ঠিকই দর্শকের মন জয় করে।

সোহেল আরমান

একটা সময় ছিল যখন আমজাদ হোসেন, হুমায়ূন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল মামুন বা আতিকুল হক চৌধুরীদের নামে এ দেশে নাটক চলত। লাখ লাখ দর্শক তাদের নাটক দেখতেন। সেখান থেকে আজ আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি! মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় বিনোদনের মাধ্যমও বদলে গেছে। এখন অনেকেই ‘ভাইরাল’ হওয়ার পেছনে ছুটছেন। আমি ‘ভাইরাল’ শব্দটিরই পক্ষে নই, এটি মূলত নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার হয়। নেতিবাচক কোনো কিছু সাময়িক জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু তা দিয়ে সবকিছুর বিচার করা যায় না। এসব নানা কারণেই ধীরে ধীরে পারিবারিক গল্পের নাটক কমে গেছে।