26.6 C
Dhaka
Home Blog

বিগত সময়ের অনিয়মগুলো দূর করতে চাই: ফারজানা শারমিন

বিগত সময়ের অনিয়মগুলো দূর করে নবউদ্যমে ভালো বাংলাদেশ গড়তে কাজ করতে চান মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যাশার কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘আমি চেষ্টা করব যে অনিয়মগুলো হয়েছে বিগত সময়গুলোতে, এগুলোকে ক্লিন (দূর) করে নবউদ্যমে নতুনভাবে স্ট্রাকচার (কাঠামো) তৈরি করা। আমরা সকলে মিলে চাই ভবিষ্যতে ভালো একটি বাংলাদেশ করতে, যে বাংলাদেশটা হবে আমাদের সকলের জন্য।’

পরিকল্পনার নিয়ে এগোনোর কথা জানিয়ে ফারজানা শারমিন বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু এপ্রোপ্রিয়েট প্ল্যানিং নিয়ে আগাচ্ছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটা ইমেজ (ভাবমূর্তি) বিল্ড-আপ (তৈরি) করতে হবে যে, আমরা মানুষের সেবক, আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে এখানে এসেছি। আমরাই পারবো দেশে ভবিষ্যতে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে।’ তিনি ত্রুটি ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে উঠার প্রত্যাশা করেন।

ফারজানা শারমিন উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচিত বিএনপির একমাত্র নারী সংসদ সদস্য। তিনি নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ৪১ বছর বয়সী ফারজানা পেশায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন।

ফারজানা সাবেক বিএনপি নেতা প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। তার বাবা ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি সমাজকল্যাণ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফারজানা শারমিনের মা কামরুন নাহার শিক্ষক ছিলেন। 

তার স্বামী এইচ এম বাররু সানি পেশায় ব্যবসায়ী। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে।

সড়ক পরিবহন খাতে শ্রমিক অধিকার: উন্নয়নের পথে উপেক্ষিত বাস্তবতা

বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দৃশ্যমান চিত্র এখন লক্ষণীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। সড়ক পরিবহনখাতে নতুন সড়ক, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল ইত্যাদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন বদলে দিচ্ছে নগর ও অর্থনীতির চেহারা—সংযোগ বাড়ছে, যোগাযোগের সময় কমছে, উৎপাদনশীলতা বাড়ছে।

কিন্তু এই অগ্রগতির ভেতরেই একটি মৌলিক প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে। সেটা হলো, এই সড়কগুলো যারা সচল রাখেন, সেই পরিবহন শ্রমিকদের জীবন কি একইভাবে উন্নত হচ্ছে?

বাস্তবতা বলছে, উত্তরটি এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু শ্রমিকের জীবনমানে সেই প্রভাব পড়ছে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় এক কোটি পরিবহন শ্রমিক আছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৭০ লাখ নিবন্ধিত।

গাড়ির চাকা না ঘুরলে শ্রমিকের আয় বন্ধ থাকে। ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ, ২০০৬ সালের শ্রম আইন এবং সর্বশেষ সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়োগপত্র দেওয়ার বিধান থাকলেও বেশিরভাগ পরিবহন মালিক অতি মুনাফার লোভে চালক-শ্রমিকদের এটি দেন না। ফলে, যেদিন কাজ নেই, সেদিন আয় নেই শ্রমিকদের।

এ ছাড়া, কল্যাণ তহবিলের নামে শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়মিত যে টাকা তোলা হয়, সেটা থেকেও দুর্দিনে কোনো সাহায্য পান না তারা। তাই গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকলে কিংবা কোনো কারণে কাজ করতে না পাড়লে শ্রমিকদের কাটাতে হয় মানবেতর জীবন।

বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন খাতে শ্রমজীবন মূলত অনানুষ্ঠানিকতার ফাঁদে আটকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিবেদনে দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশের পরিবহন খাতে বড় অংশের শ্রমিকই অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করেন—স্থায়ী চুক্তি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা বা কোনো সামাজিক সুরক্ষা নেই।

বাংলাদেশেও একই চিত্র। অধিকাংশ চালক ও হেলপার ১২–১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেন। তাদের আয় নির্ভর করে ‘ট্রিপ’-এর ওপর। বেশি ট্রিপ মানেই বেশি আয়। ফলে বিশ্রাম, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার চেয়ে অগ্রাধিকার পায় আয়ের প্রয়োজন। বর্তমান ট্রিপভিত্তিক মজুরি কাঠামো একটি ‘ঝুঁকির প্রণোদনা’ তৈরি করেছে এবং ‘বেশি কাজে বেশি আয়’ চক্রে আটকে ফেলেছে।

বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালে প্রণীত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ ধরনের কাঠামো শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দেয়। যেমন: দ্রুতগতিতে চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন অমান্য ইত্যাদি। অর্থাৎ, বর্তমানে এটি ব্যক্তিগত অসচেতনতা নয়, বরং কাঠামোগত সমস্যা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তথ্য অনুযায়ী, পরিবহনখাতে প্রায় ৫০ শতাংশ শ্রমিক দৈনিক ১৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। ২০ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক কোনো কর্মবিরতি ছাড়াই কাজ করেন। ৯০ শতাংশের বেশি পরিবহন শ্রমিকের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। ৯৮ শতাংশ শ্রমিক সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করেন।

আইএলও কনভেনশনে কর্মক্ষেত্রে দৈনিক ৮ ঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টা শ্রম নির্ধারিত থাকলেও বাংলাদেশে তা মানা হচ্ছে না। ক্লান্ত, অসুস্থ বা মানসিক চাপগ্রস্ত চালক মানেই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা। ফলে শ্রমিকের স্বাস্থ্য আর ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি জননিরাপত্তার প্রশ্ন।

বিশ্বব্যাংকের ‘ট্রান্সপোর্ট সেক্টর অ্যান্ড ইনফরমাল লেবার (২০২০)’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনানুষ্ঠানিক শ্রম কাঠামো কেবল শ্রমিকের জীবনমানই কমায় না, বরং পুরো পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও দক্ষতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

পরিবহনখাতের সংকট বোঝার জন্য শ্রমিক, যাত্রী, মালিক ও সরকার—এই চারপক্ষের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ জরুরি।

শ্রমিকরা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিশ্চিত আয় ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করেন। দ্রুত চালানো বা ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আচরণ মূলত ব্যক্তিগত নয়, বরং কাঠামোগত চাপে তৈরি।

মালিক ও পরিবহন কোম্পানি অনেক ক্ষেত্রে মুনাফা সর্বোচ্চ করার জন্য শ্রমিক কল্যাণকে আড়াল করে। একই রুটে অতিরিক্ত যানবাহন নামিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানো হয়, যা শ্রমিকদের ওপর চাপ বাড়ায়।

যাত্রীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কম ভাড়া ও দ্রুত যাত্রার প্রত্যাশা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ চালনাকে উৎসাহিত করে। এরই ধারাবাহিকতায়, নিরাপত্তার চেয়ে সময় ও খরচকে অগ্রাধিকার দেওয়া সামাজিক আচরণে পরিণত হয়েছে।

সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮–এ শ্রমিকের অধিকার, লাইসেন্সিং, ফিটনেস ও নিরাপত্তা নিয়ে সুস্পষ্ট বিধান থাকলেও বাস্তবায়ন দুর্বল, তদারকি সীমিত। ফলে আইন ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ফাঁক রয়ে গেছে।

এই চারপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই সমস্যাকে জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করেছে।

পরিবহন শ্রমিকদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা একে অপরের পরিপূরক। আইএলওর গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। ‘ক্লান্ত চালক’ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। গবেষণা বলছে, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।

অনেক উন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, বাধ্যতামূলক বিশ্রাম ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে দূরপাল্লার চালকদের জন্য নির্দিষ্ট ‘ড্রাইভিং আওয়ার লিমিট’ ও বাধ্যতামূলক বিশ্রাম রয়েছে। এসব ব্যবস্থা দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরনের নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।

আবার, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ উপেক্ষা একটি বড় সমস্যা। অনেক পরিবহন শ্রমিক যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই পেশায় প্রবেশ করেন। ফলে ট্রাফিক আইন, নিরাপত্তা বা আধুনিক যানবাহনের প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সীমিত থাকে।

আইএলওসহ বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

পরিবহনখাতের এই সংকট থেকে বের হতে হলে খণ্ডিত নয়, সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রয়োজন বহুমাত্রিক ও সমন্বিত সংস্কার। আর এক্ষেত্রে মজুরি কাঠামো সংস্কার, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জরুরি। ট্রিপভিত্তিক আয়ের পরিবর্তে নির্দিষ্ট বেতন ও প্রণোদনা কাঠামো চালু করা; আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বাধ্যতামূলক বিশ্রাম নিশ্চিত করা; স্বাস্থ্যবিমা, দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ ও পেনশন ব্যবস্থা চালু করা; বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত স্কিল আপডেট ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং জিপিএস, ডিজিটাল মনিটরিং ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে তদারকি বাড়ানো উচিত।

সবশেষে প্রশ্নটি এসে দাঁড়ায়, সরকারের ভূমিকা কী হবে? এখানে আইন তৈরি করা যথেষ্ট নয়। আইন কার্যকর করাই আসল চ্যালেঞ্জ।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী ও প্রভাবমুক্ত করতে হবে; শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে হবে; শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে আইন প্রয়োগে বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে এই খাতকে অনানুষ্ঠানিক থেকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

সরকারি দলের জন্য এটি কেবল প্রশাসনিক নয়, নৈতিকতার প্রশ্নও—ক্ষমতা কি কেবল নিয়ন্ত্রণের জন্য, নাকি জনকল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য?

সবশেষে, বাংলাদেশের উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান ও গতিশীল। কিন্তু উন্নয়ন যদি কেবল অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ থাকে, আর সেই অবকাঠামোকে সচল রাখা মানুষের জীবনমান উন্নত না হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন মোটেই টেকসই হতে পারে না। তাই পরিবহন শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা মানে শুধু পেশাজীবী গোষ্ঠীর কল্যাণ নয়; এটি সড়ক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক দক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

প্রশ্নটি তাই সুস্পষ্ট—আমরা কি শুধুই দ্রুতগামী সড়ক চাই, নাকি নিরাপদ ও মানবিক পরিবহন ব্যবস্থা চাই? আমরা কি এমন একটি নীতিগত অবস্থান নিতে প্রস্তুত, যেখানে শ্রমিকের জীবন, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে?

মো. কামরুল হাসান তালুকদার: পরিবহন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকনেতা

রাজশাহীতে রানবন্যার প্রত্যাশা জ্যোতির

ইংল্যান্ডে আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না বাংলাদেশ নারী দল। সেই লক্ষ্যেই এবার ঢাকার বাইরে রাজশাহীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার বিশ্বাস, রাজশাহীর উইকেট ব্যাটারদের জন্য সহায়ক হবে এবং এতে করে বড় রান তোলার মানসিকতা গড়ে তুলতে পারবে দল।

আগামী ২০, ২২ ও ২৫ এপ্রিল রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে, যা খেলোয়াড়দের সহনশীলতার বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। তবে কন্ডিশন যতই কঠিন হোক, জ্যোতির চোখ মূলত ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটের দিকেই।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু বিশ্বকাপ খেলতে ইংল্যান্ডে যাব, আর সেখানে উইকেটগুলো সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক, যদিও কিছু ভেন্যুতে স্পিন সাহায্য করে, তাই আমরা এখানে স্পিন-নির্ভর উইকেট চাইনি। আমরা এমন একটি ভালো ব্যাটিং উইকেট চেয়েছি, যেখানে ব্যাটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারবে এবং রান করতে পারবে। কারণ রান করার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

রাজশাহীর উইকেট নিয়ে আলাদা করে আশাবাদ প্রকাশ করে জ্যোতি আরও বলেন, ‘অনেক সময় বড় রান হয় না উইকেটের কারণে, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার মনে হয়েছে রাজশাহীর উইকেট ব্যাটারদের জন্য খুবই ভালো। আমি চাই দুই দল থেকেই অনেক রান হোক, কারণ বোর্ডে রান থাকলে দর্শকরা মাঠে আসবে এবং খেলাটা উপভোগ করবে।’

সম্প্রতি ফেব্রুয়ারিতে ১০ দলের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব জিতে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত হয়ে এই সিরিজে নামছে বাংলাদেশ। সেই সাফল্যই তাদের ইংল্যান্ডের মূল আসরে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে এটি বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ গত বছরের হতাশাজনক বিশ্বকাপের পর, যেখানে সাত ম্যাচে মাত্র একটি জয় নিয়ে আট দলের মধ্যে সপ্তম হয়েছিল তারা।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক নারী ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছে। ২০২৩ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত একমাত্র দ্বিপাক্ষিক সিরিজে জয় পেয়েছিল তারা এবং এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত রয়েছে, পাঁচটি সমাপ্ত ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে লঙ্কানরা। সর্বশেষ ২০২৫ বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াইয়ে সাত রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

এই সফরে ওয়ানডে সিরিজের পাশাপাশি ২৮ ও ৩০ এপ্রিল এবং ২ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও।

 

মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশ

ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। মূলত খাদ্যদ্রব্যের দামের নিম্নগতির কারণেই এই কমতি এসেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে মার্চে ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

মার্চে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। শহরাঞ্চলে তা কিছুটা কম, ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠেছিল, যা ছিল গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সেসময় অর্থনীতিবিদরা বলেন, রমজানকে সামনে রেখে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যয় বাড়ার কারণে চাহিদা বেড়ে যায়, যার প্রভাবে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) গত বছরের মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ৯ শতাংশ ছাড়ায়।

বাংলাদেশ গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে।

এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর, যারা আয়ের বড় অংশ খাদ্যে ব্যয় করেন এবং মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সবচেয়ে কম।
 

দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে ব্যবস্থা: নেতাকর্মীদের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করলে বা ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহার করলে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

‘রাজনীতি করেন—টেস্ট ম্যাচ খেলেন, আস্তে আস্তে খেলে টিকে থাকেন। ওয়ানডের মতো চার-ছয় মেরে আউট হয়ে যেয়েন না। সব চলে যাবে কিন্তু,’ বলেন তিনি।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার এলাকায় স্থানীয় একটি মন্দিরে গত রাতে তিন দিনব্যাপী ‘হরিবাসর’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

নেতাকর্মীদের সৎভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দলকে ভালোবাসেন, ভালোবাসা নেন, ভালোবাসা দেন, টিকে থাকেন, কাজ করেন।’

‘নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, বিনয়ের সাথে বলি, দল থেকে সরে যান,’ যোগ করেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের সালিশে না জড়ানোর নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ দায়িত্ব প্রশাসনের। কোনো পক্ষ নিয়ে সালিশে জড়ালে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।’

মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসার অনুদান সঠিকভাবে বণ্টনের আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘আমি যা অনুদান নিয়ে আসি, তা সাধারণ মানুষের জন্য। যে পাওয়ার যোগ্য, তাদের হাতে তুলে দেবেন।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে আজাদ বলেন, ‘কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যেন সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

পূজাপার্বণ পালন নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও এ সময় আশ্বাস দেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সনাতন ভাইয়েরা যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, ভোট দিয়েছেন…আমি যেন না শুনি, বিচার সালিশের নামে কারও প্রতি কোনো নির্যাতন-নিপীড়ন হচ্ছে। বিচার করার দায়িত্ব আপনার নয়। জমির কাগজ ঠিক আছে কি না—ওসি সাহেব আছেন, ইউএনও সাহেব, এসি ল্যান্ড সাহেব আছেন, তারা দেখবেন।’

নিউইয়র্কে ‘ফ্রেমে বাঁধা বন্ধুত্ব’ টেলিফিল্মের শুটিং

বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে খুব শিগগির মুক্তি পেতে যাচ্ছে নতুন একটি টেলিফিল্ম। পরিচালনা করেছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। টেলিফিল্মের নাম ‘ফ্রেমে বাঁধা বন্ধুত্ব’।

নিউইয়র্কের কয়েকটি সুন্দর জায়গায় সম্প্রতি এই টেলিফিল্মের শুটিং হয়েছে

এতে প্রথমবারের মতো জুটি হয়েছেন চলচ্চিত্র নায়ক ইমন ও নায়িকা অধরা খান।

 

‘ফ্রেমে বাঁধা বন্ধুত্ব’ টেলিফিল্মের গল্পে দেখা যাবে প্রবাস জীবনে একাকীত্ব, মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বেদনা ও কষ্ট, বন্ধুত্ব এবং বন্ধুত্বের গুরুত্ব। 

‘সময় বদলায়—বন্ধুত্ব নয়’—এই শ্লোগানকে উপজীব্য করে টেলিফিল্মের কাহিনী এগিয়ে যাবে।

ইমন ও অধরা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন এমদাদ এইচ ভূইয়া রাজু। এই টেলিফিল্মের গল্পটাও তার লেখা।

অধরা বলেন, ‘টেলিফিল্মের গল্পটা দারুণ। ইমনের সঙ্গে প্রথমবার অভিনয় করেছি। নিউইয়র্কের মনোরম লোকেশনে শুটিং করার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো।

 

পরিচালক অনেক যত্ন করে কাজটি নির্মাণ করেছেন। গল্প লিখেছেন যিনি, চমৎকার একটি লেখা তিনি লিখেছেন।

সবকিছু মিলিয়ে অনেক ভালো একটি কাজ হয়েছে।’

ইমন বলেন, ‘অনেক ভালো একটি কাজ হয়েছে। গল্প, নির্মাণ খুবই ভালো। সবার ভালো লাগবে।’

এবারের ঈদে টেলিফিল্মটি একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার হবে।

ইসরায়েল সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি, যা থাকছে আলোচনায়

সাম্প্রতিক সময়ে এক কালের ‘ডিয়ার ফ্রেন্ড’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের বিজেপি দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্কে বেশ অবনতি দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করতে রওনা হয়েছেন ভারতের নেতা।

আজ রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। 

বার্তা সংস্থা এএফপি ও কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। 

মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে আজ নেতানিয়াহু বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখানে আসবেন। তিনি নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) বক্তব্য রাখবে। আমি নিশ্চিত, আপনারা সবাই সেখানে উপস্থিত থাকবেন।’

দুই দেশের মধ্যে গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকা সম্পর্কের প্রশংসা করেন ইসরায়েলি নেতা। 

‘দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি (মোদি) এখানে আসছেন, যাতে আমরা এটাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারি’, যোগ করেন তিনি। 

অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। 

নয় বছর আগে ২০১৭ সালে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন মোদি।

এরপর নেতানিয়াহু পরের বছর পাল্টা সফরে ভারত যান। 

আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলে মোদির দুই দিনের সফর শুরু হতে যাচ্ছে। 

কয়েক দিন আগে ভারতসহ ১০০টি দেশ যৌথভাবে ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখল করে নেওয়ার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে। 

কয়েক দশক ধরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসলেও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলার প্রেক্ষাপটে নীরবতা বজায় রেখেছে নয়াদিল্লি। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে ভারত-ইসরায়েল। 

গাজায় হামলা শুরুর পর একাধিক পশ্চিমা নেতা তেল আবিব গেলেও দক্ষিণ গোলার্ধের নেতাদের মধ্যে ইসরায়েল সফরের ঘটনা বিরল। এ কারণে মোদির এই সফর বিশেষ তাৎপর্য পাচ্ছে বলে মত দেন বিশ্লেষকরা।

 গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এক সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, মোদির সঙ্গে বৈঠকে ‘সব ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতা’ নিয়ে আলোচনা হবে। 

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে অভাবনীয় মৈত্রী তৈরি হবে এবং আমরা সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করব। আপনারা জানেন, ভারত কোনো ছোট দেশ নয়। ১৪০ কোটি মানুষ নিয়ে ভারত একটি সুবিশাল, শক্তিশালী ও অত্যন্ত জনপ্রিয় দেশ।’

পৃষ্ঠপোষকতার নয়, অর্থনীতি হবে সবার: অর্থমন্ত্রী

অর্থনীতিতে প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ বুধবার সচিবালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

খসরু বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে। এই বিশাল পরিবর্তনের কারণে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী।’

এই বিষয়টি ধারণ করার পরামর্শ দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এটা কঠিন সময়, কিন্তু আমাদের সামনে বড় সুযোগ। এটাকে যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি, বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন করতে পারবো।’

সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের নাগরিকরা যদি অংশগ্রহণ করতে না পারে, তাহলে কোন ধরনের অর্থনীতির কথা আমরা বলছি! আমাদের প্রত্যেকটি নাগরিকের ইকুয়াল অ্যাকসেস, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে, যাতে আমাদের প্রত্যেকটি নাগরিক আমাদের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে।’

‘এই অর্থনীতির সুফল একটা কোনো প্যাট্রোনাইজড গ্রুপ, একটি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে আমরা করতে পারি না। এই অর্থনীতির সুফল বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে যেতে হবে। এই সুফলটা পৌঁছাতে হবে। এটার ভিত্তিতে আমরা কর্মসূচিগুলো করেছি। এর মধ্যে একেবারে গ্রামের একজন কামার থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরের মানুষ রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

আমাদের অর্থনীতিতে একই ধারায় এই মানুষগুলো সব সময় বঞ্চিত বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নত করতে অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।’

এই পরিকল্পনা অতীতের মতো কেবল ম্যানুফ্যাকচারিং সার্ভিসের মধ্যে থাকবে না উল্লেখ করে প্রান্তিক মানুষকে সহায়তা করতে প্রয়োজনে এনজিওগুলোকে সরকারের অংশীদার করা হবে, উদাহরণ টেনে বলেন তিনি।

চীনের কেল্লা অর্থনীতি: বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার যুগে কৌশলগত পুনর্গঠন

বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় অর্থনীতি এক গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শীতল যুদ্ধের অবসান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর নব্বইয়ের দশক থেকে বিশ্ব অর্থনীতি আধুনিক বৈশ্বিকীকরণের নতুন যুগে প্রবেশ করে। এই সময় পূর্ব ও পশ্চিমের আদর্শিক বিভাজন অনেকটাই কমে যায় এবং বাজারভিত্তিক অর্থনীতি দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

ফলাফল হিসেবে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও শ্রমের চলাচল অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পায়। এই ধারার একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে ওঠা।

বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে একটি পণ্য আর এক দেশে সম্পূর্ণ তৈরি না হয়ে বিভিন্ন দেশে ভাগ হয়ে উৎপাদিত হতে থাকে। একটি পণ্যের কাঁচামাল এক দেশ থেকে আসে, উৎপাদন হয় অন্য দেশে, তার বাজার আরেক দেশে।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড অরগানাইজেশনের মতো প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সহজ ও নিয়মতান্ত্রিক করে তোলে। একইসঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিশ্বজুড়ে তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়।

এই প্রক্রিয়ায় চীন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। সস্তা শ্রম ও তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচের কারণে তারা শিল্পায়নের সুযোগ পায়। অন্যদিকে উন্নত দেশগুলো কম খরচে পণ্য পেতে থাকে।

তবে এই বৈশ্বিকীকরণ শুধু অর্থনৈতিক সংযোগই বাড়ায়নি, দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতাও বৃদ্ধি করেছে। ফলে কোনো একটি দেশে সংকট তৈরি হলে তা দ্রুত অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।

এই ঝুঁকি কেমন হতে পারে তার উদাহরণ আমরা ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট ও করোনা মহামারির সময় দেখেছি। অর্থাৎ শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিকীকরণ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক সুসংযুক্ত নেটওয়ার্কে রূপান্তর করেছে, যার মাধ্যমে সুযোগ বেড়েছে এবং ঝুঁকিও বেড়েছে অনেক।

সাম্প্রতিক সময়ের বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ভঙ্গুরতা—সব মিলিয়ে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের অর্থনৈতিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে, যাকে অনেক বিশ্লেষক কেল্লা অর্থনীতি (Fortress economy) হিসেবে অভিহিত করছেন।

এই ধারণাটি কেবল অর্থনৈতিক নীতি নয়; বরং সমন্বিত কৌশল—যার মাধ্যমে একটি দেশ নিজেকে বাইরের চাপ থেকে সুরক্ষিত রেখে অভ্যন্তরীণ শক্তিকে সুসংহত করে এবং একইসঙ্গে বৈশ্বিক প্রভাব বজায় রাখে। চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক পথচলা বুঝতে হলে এই ধারণাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

‘কেল্লা অর্থনীতি’ শব্দবন্ধটি মূলত একটি রূপক, যেখানে অর্থনীতিকে একটি দুর্গের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যেখানে শক্ত প্রাচীর আছে, অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত সম্পদ সঞ্চিত আছে এবং বাইরের আক্রমণ বা অবরোধের মধ্যেও টিকে থাকার সক্ষমতা রয়েছে।

অর্থনীতির ভাষায়, এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে একটি দেশ খাদ্য ও জ্বালানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খাতে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠে, কৌশলগত শিল্পে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে এবং বৈশ্বিক সংযোগকে নির্বাচিতভাবে ব্যবহার করে।

চীনের ক্ষেত্রে এই ধারণাটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধ ও পরবর্তী প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা চীনকে উপলব্ধি করায় যে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চীনের অর্থনৈতিক যাত্রা গত চার দশকে নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী। ১৯৭৮ সালে দেং জিয়াওপিংয়ের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ নীতির মাধ্যমে চীন ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়। বিদেশি বিনিয়োগ, রপ্তানি-নির্ভর শিল্পায়ন ও সস্তা শ্রমের সুবিধা কাজে লাগিয়ে চীন দ্রুত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়।

কিন্তু এই উত্থানের মধ্যেই কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল। প্রযুক্তি খাতে বিদেশি নির্ভরতা, জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বৈশ্বিক বাজারের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা চীনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যখন যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রযুক্তি খাতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন এই দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে চীন তার অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্বিন্যাস শুরু করে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডুয়েল সার্কুলেশন স্ট্র্যাটেজি বা দ্বৈত প্রবাহ ব্যবস্থা।

এই দ্বৈত প্রবাহ ব্যবস্থা এমন একটি কৌশল, যেখানে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সংযোগকে সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ না করে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হয়।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২০ সালের মে মাসে এই ধারণাটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনেন। এটি চিনা পলিটব্যুরোর মিটিংয়ে উত্থাপিত হওয়ার পর এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

পরবর্তীতে এটি চীনের নতুন অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে চীনের চৌদ্দতম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ডুয়েল সার্কুলেশন স্ট্র্যাটেজি মূলত দুটি স্তরের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। প্রথমত, অভ্যন্তরীণ প্রবাহ—যার লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। অর্থাৎ, দেশীয় বাজারকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। পাশাপাশি তেল, খাদ্যশস্য ও গুরুত্বপূর্ণ ধাতব খনিজের মজুত গড়ে তোলা।

এর আওতায় ২০২২ সাল নাগাদ চীনের কাছে বিশ্বের ৬৯ শতাংশ ভুট্টা, ৬০ শতাংশ চাল ও ৫১ শতাংশ গম মজুত ছিল। তাদের তেলের স্টকপাইল আনুমানিক ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ব্যারেল—যা দিয়ে অন্তত ৩-৪ মাস তারা আমদানি ছাড়াই চলতে পারবে। অনেকে ধারনা করেন, চীনের স্টকপাইল এরচেয়ে অনেক বেশি।

দ্বিতীয়ত, বহির্মুখী প্রবাহ—যেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বজায় রাখা, তবে কৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রিত। চীন আর আগের মতো অন্ধভাবে বৈশ্বিক বাজারের ওপর নির্ভর করতে চায় না।

এই দ্বৈত কৌশলই মূলত কেল্লা অর্থনীতির বাস্তব প্রয়োগ। চীনের কেল্লা অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা। সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

উন্নত চিপ উৎপাদনে চীন দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল ছিল। যুক্তরাষ্ট্র যখন এই খাতে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তখন চীন নিজস্ব চিপ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দেয়।

এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ব্যাপক ভর্তুকি, গবেষণা বিনিয়োগ ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা দিয়েছে। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও চীন দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

এই প্রচেষ্টা শুধু অর্থনৈতিক নয়; জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। চীনের অর্থনৈতিক মডেল একটি অনন্য মিশ্রণ, যেখানে বাজার অর্থনীতির উপাদান থাকলেও রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত শক্তিশালী। ব্যাংকিং, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এখনো দৃঢ়।

কেল্লা অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এই নিয়ন্ত্রণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, সংকটের সময়ে রাষ্ট্র দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ নির্দিষ্ট খাতে সরিয়ে দিতে পারে।

চীন কেল্লা অর্থনীতি অনুসরণ করলেও এটি কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি নয়। বরং চীন বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রেখেছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে চীন এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে বন্দর, রেলপথ, সড়ক ও জ্বালানি প্রকল্পে। এর ফলে একদিকে যেমন নতুন বাজার তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে চীন একটি বিকল্প অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।

কেল্লা অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিজস্ব প্রভাব বলয় তৈরি করা, যাতে বৈশ্বিক চাপের মুখেও বিকল্প পথ খোলা থাকে।

কেল্লা অর্থনীতির কিছু ঝুঁকি থাকলেও এর সুবিধাই বেশি। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো স্থিতিশীলতা। বৈশ্বিক সংকট বা বাণিজ্যিক চাপের সময় একটি দেশ যদি অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী থাকে, তাহলে তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া, এই মডেল কৌশলগত স্বাধীনতা দেয়। বিদেশি প্রযুক্তি বা বাজারের ওপর নির্ভরতা কম থাকলে রাজনৈতিক চাপও কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করে এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে।

চীনের কেল্লা অর্থনীতি শুধু চীনের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চীন বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি কেন্দ্রবিন্দু। যদি চীন নির্দিষ্ট খাতে নিজেকে আলাদা করে ফেলে, তাহলে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও বাণিজ্যে পরিবর্তন আসবে।

ইতোমধ্যে ‘ফ্রেন্ড-শোরিং’ ও ‘নেয়ার-শোরিং’য়ের মতো ধারণা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যেখানে বিভিন্ন দেশ তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠন করে রাজনৈতিকভাবে মিত্র দেশ ও ভৌগলিকভাবে নিকটবর্তী দেশে স্থানান্তর করছে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য চীনের কেল্লা অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা দেয়। প্রথমত, কৌশলগত খাতে আত্মনির্ভরতা জরুরি—বিশেষ করে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে। দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তৃতীয়ত, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক শক্তি বাড়ানো সম্ভব।

তবে বাংলাদেশকে চীনের মডেল হুবহু অনুসরণ না করে নিজের বাস্তবতা অনুযায়ী ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

চীনের কেল্লা অর্থনীতি আসলে সূক্ষ্ম ভারসাম্যের খেলা। এটি পুরোপুরি বন্ধ অর্থনীতি নয়, আবার সম্পূর্ণ উন্মুক্তও নয়। এর প্রধান উদ্দেশ্যই হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিশ্ব ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া।

বিশ্ব অর্থনীতি এখন আর আগের মতো একমুখী নয়। বহুমাত্রিক, বিভক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক এই নতুন বাস্তবতায় ভবিষ্যতে আরও অনেক দেশই হয়ত চীনের কেল্লা অর্থনীতি পথ অনুসরণ করার কথা ভাববে।

 

তরুন ইউসুফ: কবি ও কলামিস্ট

১৫ বলের ফিফটিতে সানরাইজার্সের নায়ক অভিষেক

ঘরের মাঠে ঝড় তুলেন অভিষেক শর্মা। আইপিএলে করলেন নিজের ও দলের দ্রুততম ফিফটি। পরে সাময়িক বিপর্যয়ের পর ফিফটিতে দলকে দুইশোর কাছে নিয়ে যান হেনরিক ক্লাসেন। বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেটে বোলাররা তাদের আনা পুঁজি ডিফেন্ড করে ম্যাচ জিতিয়েছেন।

রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আইপিএলে হাইভোল্টেজ ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসকে ১০ রানে হারিয়েছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। স্বাগতিকদের এই রোমাঞ্চকর জয়ের প্রধান কারিগর তরুণ তুর্কি অভিষেক, যার বিধ্বংসী ব্যাটিং ঝড়ে শুরুতেই কুপোকাত হয় চেন্নাইয়ের বোলাররা।

টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে হায়দ্রাবাদের শুরুটা ছিল রাজকীয়। অভিষেক আজ মাঠে নেমেছিলেন অন্য মেজাজে। মাত্র ১৫ বলে হাফ-সেঞ্চুরি  পূর্ণ করে তিনি সানরাইজার্সের ইতিহাসের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড নিজের করে নেন। আউট হওয়ার আগে মাত্র ২২ বলে ৫৯ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি, যা সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায়। তার এই শুরুই হায়দ্রাবাদকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।

অভিষেকের বিদায়ের পর ঈশান কিশানও দ্রুত ফিরলে হাল ধরেন  ক্লাসেন। তিনি ৩৯ বলে ৫৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান সংগ্রহ করে কিশানের দল। চেন্নাইয়ের পক্ষে আনশুল কাম্বোজ ও জেমি ওভারটন ৩টি করে উইকেট নেন।

১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চেন্নাই শুরুতেই সঞ্জু স্যামসনের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। ম্যাট শর্ট (৩৪) ও শিবম দুবে (২১) চেষ্টা করলেও হায়দ্রাবাদের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে জয় ছিনিয়ে নিতে পারেননি।

চেন্নাইকে ১৮৪ রানে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন এশান মালিঙ্গা। তিনি ৩ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া নীতিশ কুমার রেড্ডি ৩১ রানে ২ উইকেট নেন। শেষ ওভারে প্রফুল্ল হিঙ্গে দারুণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বোলিং করে দলের ১০ রানের জয় নিশ্চিত করেন।