33 C
Dhaka
Home Blog

নিজেকে অসম্ভব সৌভাগ্যবান মনে করি: অপূর্ব

জিয়াউল ফারুক অপূর্ব—দেশের টেলিভিশন নাটকের শীর্ষস্থানীয় তারকাদের একজন। তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পুরোটাই যেন সাফল্যের জোয়ারে ভাসছে। ‘বড় ছেলে’সহ অসংখ্য সুপারহিট নাটক উপহার দিয়েছেন তিনি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছেন। এমনকি ওপার বাংলায় কলকাতার সিনেমায় অভিনয় করেও কুড়িয়েছেন প্রশংসা।

এবারের ঈদে অপূর্বর অভিনীত দুটি নাটক প্রচার হবে। এর মধ্যে একটি তানিম রহমান অংশু পরিচালিত ‘অচেনা আমি’ এবং অন্যটি জাকারিয়া সৌখিন পরিচালিত ‘মায়া পাখি’।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পথচলা, প্রাপ্তি, সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক এবং শিল্পের প্রতি তার ভালোবাসার কথা উঠে এসেছে এই আলাপচারিতায়।

অভিনয়জীবনে এতটা পথ পাড়ি দেওয়ার পর নিজেকে কতটা সৌভাগ্যবান মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অপূর্ব বলেন, ‘আমি নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান অভিনেতা মনে করি। অসম্ভব সৌভাগ্যবান একজন শিল্পী। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছেন, কিন্তু খুব অল্পসংখ্যক মানুষই অন্যের কাছ থেকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পান। গুটি কয়েক মানুষ এই ভালোবাসা ও সম্মান পান। তাদের মধ্যে অভিনয়শিল্পী আছেন, গানের শিল্পী আছেন, খেলাধুলার মানুষেরা আছেন। এ দেশের মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন, তা সত্যিই বিরল।’

ক্যারিয়ারের শুরুতে সিনিয়র শিল্পীদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন অপূর্ব। তিনি বলেন, ‘নতুন অবস্থায় আমি বড় বড় তারকার সঙ্গে কাজ করেছি। তারা সবাই আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন। প্রথমেই বলতে হয় গাজী রাকায়েত ভাইয়ের কথা। তার পরিচালনায় কাজ করে শুরুর দিকে অনেক কিছু শিখেছি। সহশিল্পী হিসেবেও তার কাছ থেকে শেখার সুযোগ হয়েছে।’

একটা সময় তারিন ও অপি করিমের বিপরীতে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন অপূর্ব। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, তারিন আপুর বিপরীতে একটা সময়ে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছি, যা দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছিলেন। অপি করিমের সঙ্গেও অনেক নাটক করেছি। মাহফুজ আহমেদ ভাইয়ের সঙ্গেও অনেক কাজ হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই আমি অনেক সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি।’

পরিচালকদের কথা বলতে গিয়ে চয়নিকা চৌধুরীর নাম আলাদা করে বলেন অপূর্ব। এ ছাড়া ফেরদৌস হাসান রানা ও শিহাব শাহীনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সমসাময়িক সহশিল্পীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হিল্লোল, মম বা মিলন ভাইয়ের কথা বলতেই হয়। শুটিংয়ের সময় সংলাপ দিতে কোনো সমস্যা হলে তারা আমাকে তা শুধরে দিতেন। একটা শুটিং সেটে এটা অনেক বড় বিষয়।’

প্রায় দেড় দশকের ক্যারিয়ারে অপূর্বর বিপরীতে অনেক নতুন বা জুনিয়র শিল্পী অভিনয় করেছেন। তাদের মুখেও প্রায়ই অপূর্বর প্রশংসা শোনা যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুনিয়রদের প্রতি আমার অগাধ সম্মান ও ভালোবাসা আছে। তারাও আমাকে অনেক সম্মান করেন। আমার জার্নিটা খুব পজিটিভ। তাই আমি যেমন সিনিয়রদের সম্মান করি, তেমনি জুনিয়রদেরও ভালোবাসি। এই ভালোবাসার জায়গাটা আসলে পারস্পরিক সম্মানের।’

পুরোনো দিনের সহশিল্পীদের কথা মনে পড়লে তিনি আজও তাদের ফোন করেন। অপূর্ব বলেন, ‘হঠাৎ করেই অনেক সময় সিনিয়র শিল্পীদের ফোন করি। তাদের যখনই মিস করি, ফোন করে খোঁজ নিই। একসময় তারা প্রচুর কাজ করতেন, এখন হয়তো করছেন না, কিন্তু তাদের মনে পড়ে।’

অনেক বছর আগে ‘ব্যাকডেটেড’ নামের একটি টেলিফিল্ম পরিচালনা করেছিলেন অপূর্ব। এরপর আর কখনো পরিচালনায় আসেননি। এর কারণ জানতে চাইলে তার উত্তর, ‘আমি একজন অভিনেতা এবং অভিনয়কেই ভালোবাসি। মূলত কাজের ব্যস্ততার কারণেই পরে আর পরিচালনা করা হয়ে ওঠেনি।’

দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের প্রসঙ্গে অপূর্ব বলেন, ‘আমাদের একজন গোলাম মুস্তাফা ছিলেন, একজন সৈয়দ আহসান আলী সিডনী ছিলেন। আলী যাকের ছিলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন, আতিকুল হক চৌধুরী ছিলেন। এখনো ফেরদৌসী মজুমদার, দিলারা জামান, ডলি জহুর, মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত, আফজাল হোসেনের মতো মানুষেরা আছেন। তারা প্রত্যেকেই একেকটি প্রতিষ্ঠান। দেশের শিল্পে তাদের এই অবদান ভোলা সম্ভব নয়।’

মাইলফলক ‘বড় ছেলে’

অপূর্বর ক্যারিয়ারে ‘বড় ছেলে’ নাটকটি একটি মাইলফলক, যা দেশের নাটকের ইতিহাসে রেকর্ড গড়েছিল। ওই নাটকের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেন, ‘বড় ছেলে নাটকের কথা মানুষ এখনো বলে। এটা আমার অভিনয়জীবনের অনেক বড় একটি অর্জন। সে সময় অনেক ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য দর্শক দেখা করে তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। একজন তরুণ আমাকে বলেছিলেন, “আপনার নাটক দেখে শিখেছি, বাবা-মাকে আর কখনো জ্বালাব না।” তখনই বুঝেছিলাম, নাটকটি মানুষের মনে চিরকাল গেঁথে থাকবে।’

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ‘পারিবারিক’ ঘরানার নাটক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘আমাদের গল্প’ নাটকের প্রসঙ্গ টানেন। অপূর্ব বলেন, ‘এই নাটকটি দেখার পর আমি পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ ও অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদকে ফোন করেছিলাম। এটি আমাদের কাঁদিয়েছে। এটি আমাদের নিজেদের গল্প, ভীষণ ইমোশনাল একটি গল্প।’

এত সব পেশা থাকতে অভিনয়েই কেন এলেন? অপূর্বর উত্তর, ‘পৃথিবীতে খুব কম সৌভাগ্যবান মানুষ আছেন, যারা লাখ লাখ মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সম্মান পান। আমি দেখেছি, অভিনয়শিল্পীরা সেই ভালোবাসা পান। অভিনয়ের প্রতি আমার শুরু থেকেই একটা টান ও ভালোবাসা ছিল, যা এখনো আছে। আর সে কারণেই আমি অভিনয়ে এসেছি।’

হরমুজ প্রণালি বন্ধ: ইরান

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সেই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছে দেশটি।

আজ মঙ্গলবার ইরানের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোয় বলা হয়—ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, সব ধরনের নৌযানের জন্য ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ পথে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে।

ইরানে গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল সোমবার বিপ্লবী বাহিনীর কমান্ডারের উপদেষ্টা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেন। কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ‘জ্বালিয়ে’ দেওয়া হবে।

 

ইরানি বিপ্লবী বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, ‘প্রণালি এখন বন্ধ। যদি কোনো জাহাজ এখান দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করে তাহলে বিপ্লবী রক্ষী ও নৌ সেনারা সেগুলো পুড়িয়ে দেবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আহমেদ ওয়াহিদির পূর্বসূরি মোহাম্মদ পাকপৌর নিহত হন।

সেই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তাও মারা যান।

 

সেদিন থেকেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের জল্পনা চলছিল।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে—নৌপথে বহন করা বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ এবং সিএনজির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। 

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা—এই নৌপথ বন্ধ হলে তা তেল খাতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ইরানের দক্ষিণ সীমান্তের এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও ইরান জ্বালানি তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে।

মূলত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে এশিয়ার অন্যান্য দেশে তেল-গ্যাস রপ্তানি করা হয়।

ইতিহাস বলছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাণিজ্য বড় ধরনের ধাক্কা খায়।

বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ন্যুবার্জার বেরমান-এর জ্যেষ্ঠ পোর্টফোলিও ম্যানেজার হাকান কায়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের প্রভাবকে খাটো করে দেখার উপায় নেই।’

তার মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে তেল প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান হবে। তবে এক-দুই সপ্তাহ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলে যে লোকসান হবে, বহন করতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে যদি এক মাস বা এর বেশি সময় এটি বন্ধ থাকে, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাবে।

গত সোমবার ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৭০ ডলার।

বেরমানের আশঙ্কা, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই এই দাম ১০০ ডলার ছুঁয়ে যেতে পারে।’

এর ফলে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বাড়বে বলে মত দেন এই বিশেষজ্ঞ।

পারস্য উপসাগরের সঙ্গে ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালি হিসেবে পরিচিত। সবচেয়ে অপ্রশস্ত অংশে এর প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার (২১ মাইল)।

 

তবে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে তৃতীয় দেশ থেকে তেল রপ্তানি করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, ‘হরমুজ দিয়ে রপ্তানি হওয়া বেশিরভাগ জ্বালানির জন্য এ অঞ্চলে কোনো বিকল্প নেই।’

হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেখা দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার নজির আছে। বিশেষত, গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় এমনটা দেখা গেছে।

তথ্য-বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার এক এক্স-পোস্টে জানিয়েছে, ‘প্রণালিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি। তবে সেখানে তেলের ট্যাংকার চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।’

প্রণালির উভয় পাশে একাধিক জাহাজের ওপর হামলার তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের নৌ-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র।
একটি নৌ-ড্রোন ওমান উপসাগরে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। এতে অন্তত এক নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওমান।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পূর্ব দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ওই জাহাজটি।

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে তদন্ত করবে ইসি, আশা বদিউল আলম মজুমদারের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু ব্যত্যয় ঘটেছে এবং দলগুলো ফলাফল মেনে নিয়েছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। ‘সুজনের দৃষ্টিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এই নির্বাচনকে এক কথায় কীভাবে মূল্যায়ন করবেন—জানতে চাইলে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা যতটুকু দেখেছি, এই নির্বাচনে যারা ভোট দিতে চেয়েছে, তারা দিতে পেরেছে। মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু অসঙ্গতি ছিল, কিছু অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং সর্বোপরি সবগুলো দল ফলাফল মেনে নিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দুইভাবে হতে পারে—একটা নির্বাচনের দিন পর্যবেক্ষণ। আরেকটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষণ— সঠিক আইনি কাঠামো আছে কিনা, ভোটার তালিকা ঠিক আছে কিনা, যারা প্রার্থী হতে চান তারা প্রার্থী হতে পারছেন কিনা, কাউকে বাধা দেওয়া হয়েছে কিনা, প্রার্থীদের তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছেছে কিনা ইত্যাদি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কারসাজিমুক্ত কিনা। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়াটা যদি সঠিক না হয়, শুধু নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণ হলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য অনেক সময় হয় না।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা এবার পুরো প্রক্রিয়াটা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমাদের ভলান্টিয়াররাও ছিল। অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা আমরা তুলে ধরেছি। আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। ইসি অঙ্গীকার করেছে যে, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে তদন্ত করতে পারে। আশা করি তারা তদন্ত করবে। কেউ হলফনামায় ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে সেগুলোও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে এটাও আশা করি।’

এর আগে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। নির্বাচন একদিনের বিষয় নয়। এটা শুরু হয় আইনি কাঠামোর যথার্থতা নিয়ে। আইনি কাঠামো সঠিক হলে সঠিক নির্বাচনের পথ সুগম হয়। যেমন আগের সরকারের আমলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনটি দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছিল, যা কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি করেনি।’

তিনি বলেন, ‘তেমনিভাবে আরও অনেকগুলো বিষয়ে সঠিক আইনি কাঠামো থাকতে হবে এবং ওই আইনি কাঠামোগুলো পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে। তাহলেই কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব করেছিলাম। এগুলো যদি গৃহীত হতো, তাহলে যেসব প্রশ্ন উঠেছে সেগুলো এভয়েড করা যেত।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ঋণখেলাপিদের নিয়ে আমরা বলেছিলাম, নির্বাচনের ছয় মাস আগে ঋণখেলাপিদের রেগুলারাইজ করতে হবে এবং যারা অভ্যাসগত ঋণখেলাপি তাদের কোনোভাবেই যেন নির্বাচনে অংশ নিতে সুযোগ দেওয়া না হয়। এটা করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে অনেকের অভিযোগ আছে যে, কারসাজির মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়। আমরা বলেছিলাম, ১ শতাংশের পরিবর্তে ৫০০ ভোটারের স্বাক্ষর নিতে হবে এবং এগুলো একক বা একাধিক হলফনামার মাধ্যমে দেওয়া যাবে। তাহলে আর এই প্রশ্নগুলো উঠতো না।’

সুজন সম্পাদক বলেন, ‘আর এই যে ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, এসব ব্যাপারেও আমরা আগে বলেছি, নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের সুপারিশগুলো আইনে অন্তর্ভুক্ত করত, তাহলে এগুলো এড়ানো যেত। এগুলো নিয়ে এখনো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।’

অবশ্য নির্বাচন কমিশন যখন গেজেট করে ফেলে তখন তাদের আর করার কিছু থাকে না। তখন তা আদালতের এখতিয়ারে তা চলে যায় বলে জানান তিনি।

বদিউল আলম বলেন, ‘আমি আশা করি, যেসব প্রশ্ন এর মধ্যে উত্থাপিত হয়েছে, যেমন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব—এই বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এ বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার পরও অভিযোগ ওঠে যে, হলফনামায় তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন, তথ্য গোপন করেছেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে ওই নির্বাচন বাতিল করতে পারে।’

এসব নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার সুযোগ আছে বলেও জানান তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটা আপনাদের জন্য একটা সুযোগ। কেউ যদি এসব নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে থাকেন, …আমাদের উদ্দেশ্য তো আমরা কারও পক্ষেও নই, কারও বিপক্ষেও নই।’

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব আমলে নেওয়া হয়নি, জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের পর বিএনপি শপথ নেয়নি—ব্যক্তিগতভাবে আপনি হতাশ কিনা, দেড় বছর সময় নষ্ট হলো কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এতে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি, তাদের (বিএনপি) যে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে… যেহেতু সেই আদেশ জনগণ অনুমোদন করেছে, ৪৮টি বিষয় জনগণ গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করেছে। আমি মনে করি, শপথ না নেওয়ার কারণে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল বলেছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পূর্ণভাবে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং গণভোটে যা পাস হয়েছে, তারাও এটা বাস্তবায়ন করবে বলে সুস্পষ্টভাবে বলেছে। এখন অপেক্ষা করতে হবে।’

বিএনপি যদি গণভোট ও জুলাই সনদকে সংসদে অনুমোদন না দেয়, সেক্ষেত্রে কী সংকট তৈরি হবে—সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা পরবর্তীতে মতামত তুলে ধরব। আজকে আমরা নির্বাচন নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন বৈধ নয়—অপর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এই ব্যাখ্যাও আপনাদের দিতে হবে। নির্বাচন নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন আছে কিনা।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন।

তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার বিভিন্ন ধাপে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। যদিও কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে নিবাচনটি গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে, তবে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য আরও বিশদ পর্যালোচনা প্রয়োজন।’

একরাম হোসেন আরও বলেন, ‘নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের সক্ষম হলেও কিছু কিছু বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, আমরাও কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছি।’

ভুল করে পাঠানো ইমেইল ফেরত নেবেন যেভাবে

ভুল ব্যক্তিকে ইমেইল পাঠিয়ে ফেলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সংযুক্তি দিতে ভুলে গেছেন কিংবা পাঠানোর পরই চোখে পড়েছে বড় কোনো ভুল। এমন ঘটনা প্রায় সবার সঙ্গেই ঘটে। তখন প্রথম প্রশ্ন আসে, পাঠানো ইমেইল কি ফেরত নেওয়া সম্ভব?

উত্তর হলো, কিছু ক্ষেত্রে সম্ভব। তবে এর জন্য সময় খুবই সীমিত। জিমেইল, আউটলুক ও অ্যাপল মেইলে এই সুবিধা এক রকমও নয়। কোথাও পাঠানোর পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা বাতিল করা যায়, আবার কোথাও নির্দিষ্ট শর্তে পাঠানো ইমেইল ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জিমেইলে কোনো ইমেইল পাঠানোর পর পর্দায় কিছু সময়ের জন্য ‘আনডু’ অপশন দেখা যায়। সেখানে চাপ দিলে ইমেইল পাঠানো বাতিল হয়ে আবার খসড়া হিসেবে ফিরে আসে।

এই সময়সীমা সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত রাখা যায়।

কম্পিউটারে জিমেইলের সেটিংসে গিয়ে ‘আনডু সেন্ড’ অপশনে এই সময় নির্ধারণ করা যায়। সেখানে ৫, ১০, ২০ অথবা ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে যেকোনো একটি সময় বেছে নেওয়া যায়।

গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল নিয়মিত পাঠালে ৩০ সেকেন্ড নির্বাচন করে রাখা বেশ কার্যকর। কারণ পাঠানোর পর ভুল চোখে পড়লে এই সময়ের মধ্যেই ইমেইলটি বাতিল করার সুযোগ পাওয়া যায়।

জিমেইলের ক্ষেত্রে এখানেই সীমাবদ্ধতা। ‘আনডু সেন্ড’ আসলে প্রাপকের ইনবক্স থেকে পাঠানো ইমেইল ফিরিয়ে আনে না। জিমেইল কয়েক সেকেন্ড ইমেইলটি পাঠানো বিলম্বিত রাখে। এই সময়ের মধ্যেই ব্যবহারকারী চাইলে পাঠানো বাতিল করতে পারেন।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে সাধারণ জিমেইলে সেই ইমেইল ফেরত নেওয়ার সুযোগ নেই।

অর্থাৎ এক ঘণ্টা আগে পাঠানো কোনো ইমেইল নিজের প্রেরিত বার্তার তালিকা থেকে মুছে ফেললেও প্রাপকের ইনবক্স থেকে সেটি মুছে যাবে না।

এমন পরিস্থিতিতে ভুলটি গুরুতর হলে দ্রুত আরেকটি ইমেইল পাঠিয়ে ভুলটি সংশোধন করা বা আগের ইমেইলটি উপেক্ষা করার অনুরোধ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

মাইক্রোসফটের আউটলুকে কিছু ক্ষেত্রে পাঠানো ইমেইল সত্যিই ফেরত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা সব ইমেইলের ক্ষেত্রে কাজ করে না।

সাধারণভাবে প্রেরক ও প্রাপক দুজনকেই একই প্রতিষ্ঠানের মাইক্রোসফট ৩৬৫ বা মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থার আওতায় থাকতে হয়।

সমর্থিত আউটলুকে প্রেরিত বার্তার তালিকায় গিয়ে পাঠানো ইমেইলটি খুলে ‘রিকল মেসেজ’ অপশন ব্যবহার করে ইমেইল ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করা যায়। কিছু সংস্করণে পুরোনো ইমেইলটি সরিয়ে তার বদলে সংশোধিত ইমেইল পাঠানোর সুযোগও রয়েছে।

ফেরত নেওয়ার চেষ্টা সফল হয়েছে কি না, পরে প্রতিবেদন থেকেও তা জানা যেতে পারে।

তবে আউটলুকের অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপে বর্তমানে পাঠানো ইমেইল ফেরত নেওয়ার সুবিধা নেই।

আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকের অ্যাপল মেইলে পাঠানোর পর অল্প সময়ের জন্য ‘আনডু সেন্ড’ ব্যবহার করা যায়।

ম্যাকে ইমেইল পাঠানোর পর সাধারণত পাশের তালিকার নিচে ‘আনডু সেন্ড’ অপশন দেখা যায়। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে এটি ১০ সেকেন্ডের জন্য সক্রিয় থাকে। সেটিংস থেকে এই সময় পরিবর্তন করা যায়।

আইফোন ও আইপ্যাডেও মেইলের সেটিংস থেকে পাঠানো বাতিলের সময় নির্ধারণ করা যায়।

জিমেইলের মতো অ্যাপল মেইলের এই সুবিধাও মূলত ইমেইল পাঠানোর প্রক্রিয়াটি কিছু সময় বিলম্বিত করে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাইলে ব্যবহারকারী পাঠানো বাতিল করতে পারেন।

ইমেইলের সঙ্গে ভুল ফাইল, ব্যক্তিগত নথি বা সংবেদনশীল তথ্য চলে গেলে শুধু নিজের প্রেরিত বার্তার তালিকা থেকে সেটি মুছে কোনো লাভ নেই।

তখন প্রথমেই দেখতে হবে, পাঠানো বাতিল করার সময় এখনো আছে কি না। সুযোগ থাকলে সঙ্গে সঙ্গে আনডু বা রিকল ব্যবহার করতে হবে।

সেটি সম্ভব না হলে দ্রুত প্রাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফাইল বা ইমেইলটি মুছে ফেলার অনুরোধ করা উচিত।

ইমেইলে অফিসের সংবেদনশীল তথ্য থাকলে প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি বা নিরাপত্তা দলকেও বিষয়টি জানানো দরকার। এতে তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

ইমেইল পাঠানোর আগে একটি সহজ অভ্যাস বড় ভুল থেকে বাঁচাতে পারে।

প্রথমে ইমেইলের মূল লেখা ঠিক করুন। এরপর প্রয়োজনীয় সংযুক্তি যোগ করুন। সবশেষে প্রাপকের ইমেইল ঠিকানা লিখুন।

এভাবে কাজ করলে অসম্পূর্ণ ইমেইল ভুল করে পাঠিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি কমে। কারণ লেখার মাঝখানে ভুল করে পাঠানোর বোতামে চাপ পড়লেও প্রাপকের ঠিকানা না থাকায় ইমেইল পাঠানো হবে না।

জিমেইল ব্যবহার করলে পাঠানো বাতিলের সময়সীমা ৩০ সেকেন্ড করে রাখাও ভালো।

কারণ পাঠানোর পর ওই কয়েক সেকেন্ডই অনেক সময় একটি বিব্রতকর কিংবা গুরুতর ভুল সংশোধনের শেষ সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইমেইল একবার সত্যিই প্রাপকের ইনবক্সে পৌঁছে গেলে নিজের প্রেরিত বার্তার তালিকা থেকে সেটি মুছে প্রাপকের ইনবক্স থেকে সরিয়ে ফেলা যায় না।

তাই ইমেইলের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো, পাঠানোর আগে কয়েক সেকেন্ড থামুন এবং প্রাপকের ঠিকানা, মূল লেখা ও সংযুক্তি আরেকবার দেখে নিন।

‘ফুটবলকে সব দিয়েছি, যা-ই ঘটুক বিদায় নেব মাথা উঁচু করেই’

সোমবার ডালাসে প্রতিবেশী স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মহারণের আগে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো স্বীকার করে নিলেন, এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তবে বিদায়বেলায় কোনো আক্ষেপ বা অনুশোচনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে চান না তিনি। বিশ্বকাপ না জিততে পারলেও মাথা উঁচু করেই বিদায় নেবেন তিনি। 

রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে এসে এই মন্তব্য করেন। পুরো সংবাদ সম্মেলনজুড়েই অবশ্য তিনি একটি বিষয়ে অনড় ছিলেন— ট্রফি-ঝলমলে ক্যারিয়ারের ইতিটা তিনি টানবেন নিজের সিদ্ধান্তে, অন্য কারও কথায় নয়।

উপস্থিত সাংবাদিকদের করতালির মধ্য দিয়ে কক্ষ ছাড়ার আগে ক্রিস্তিয়ানো বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ হতে দিন। হ্যাঁ, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ; তবে আশা করি আগামীকালই (স্পেনের বিপক্ষে) আমার শেষ ম্যাচ হয়ে যাচ্ছে না।’

সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড অবশ্য শুরুতে এই টুর্নামেন্টটিই তার শেষ কি না, তা নিশ্চিত করতে চাননি। যদিও আগামী ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় তার বয়স গিয়ে ঠেকবে ৪৫-এ।

রোনালদো রবিবার প্রথমে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি যখন চাইব, তখনই থামব। আপনারা সবসময় একই প্রশ্ন করেন— এটাই কি শেষ? দেখা যাক কী হয়। আমি এই বিষয়টায় বাড়তি আলো ফেলতে চাই না। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামীকাল ভালো খেলা।’

পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা বলেন, ‘একেবারে মন থেকে বলছি, আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, ক্রিস্তিয়ানো ১০০০% পরিষ্কার বিবেক নিয়ে, মাথা উঁচু করেই বিদায় নেবে।’

‘ফুটবলকে আমার দেওয়ার যা ছিল, তার সবটুকুই দিয়েছি। এতগুলো বছর ধরে খেলে যাওয়াটা আমার আবেগ। কোনো দায় ঠেকায় পড়ে বা প্রয়োজনের তাগিদে আমি খেলছি না, জীবন আমাকে যথেষ্ট দিয়েছে। সবটাই আসলে ভালোবাসার টানে। আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলি, কারণ ফুটবল খেলাটা আমি অন্তরের সঙ্গে ভালোবাসি।’

‘আগামীকাল মাঠের ফল যা-ই হোক, আমাকে জিততেই হবে— এমন কোনো বাড়তি চাপ আমি নিজের ওপর নিতে যাচ্ছি না।’

‘বিশ্বকাপের মতো এত বড় একটা মঞ্চে আপনাকে প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করতে হবে। আমার মনে হয় আমি খুব একটা খারাপ করছি না। তিনটি গোল করেছি; অন্যরা হয়তো আরও ভালো করেছে, তবে আমার পারফরম্যান্স একেবারে মন্দ নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকা ক্রিস্তিয়ানো স্বীকার করেন, আগের পাঁচটি বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের আসরটি তিনি অনেক বেশি উপভোগ করছেন। একই সঙ্গে রবার্তো মার্তিনেসের দলের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। টুর্নামেন্ট যত গড়াচ্ছে, স্পেন তত বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও পর্তুগাল তাদের হারাতে পারবে বলেই বিশ্বাস তার।

তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বাসটাই যদি না থাকত, তবে আমরা আজ এখানে আসতাম না। অভিজ্ঞতাটা দারুণ হচ্ছে, আমরা প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরছি।’

‘আমরা জানি এটা কতটা কঠিন প্রতিযোগিতা এবং প্রতি ম্যাচে সেরাটা দেওয়া অসম্ভব। কিছু পরাশক্তি ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে, তাতেই বোঝা যায় লড়াইটা কতটা কঠিন। আমাদের দল বেশ ভালো অবস্থানে আছে— শান্ত ও সুসংহত। আমরা একটা কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, তবে আমার বিশ্বাস আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’

স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামলেই পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৩তম ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়বেন ক্রিস্তিয়ানো। স্পেনের সঙ্গে তার আত্মিক টানটাও বেশ পুরোনো, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে যে দীর্ঘ নয়টি মৌসুম কাটিয়েছেন সেখানে!

তবে আইবেরিয়ান প্রতিবেশীদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই পর্তুগিজ যুবরাজের গোল করার রেকর্ড খুব একটা সমৃদ্ধ নয়— স্প্যানিশদের জালে বল পাঠাতে পেরেছেন মোটে চারবার। অবশ্য এই চার গোলের তিনটিই এসেছিল ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে, সেই রোমাঞ্চকর ৩-৩ ড্র হওয়া ম্যাচে করা অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক থেকে।

প্রতিপক্ষকে সমীহ করে ক্রিস্তিয়ানো বলেন, ‘ইউরো কিংবা নেশনস লিগ— সব টুর্নামেন্টেই স্পেন সবসময় হট-ফেভারিট। এই বিশ্বকাপও তারা আগে জিতেছে।’

‘কাগজে-কলমে স্পেনই এগিয়ে। পর্তুগালের চেয়ে ওদের ট্রফি ক্যাবিনেট অনেক সমৃদ্ধ, তবে এটা একেবারেই ভিন্ন একটা প্রতিযোগিতা, যেখানে খেলোয়াড়রাও আলাদা। চোটের একটা ব্যাপার আছে, আছে প্রচণ্ড গরমও।’

‘স্পেনের বিপক্ষে খেলতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে, ওদের বিরুদ্ধে আমার রেকর্ডও বেশ জুতসই। আমি ১০ বা ১১ বার ওদের মুখোমুখি হয়েছি, লড়াইটা সবসময়ই সমানে-সমান ছিল। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবে ছোট ছোট কিছু ভুলত্রুটি। তবে আমার মন বলছে, ম্যাচটা আমরাই জিততে যাচ্ছি।’

 

নীতি সুদহার কী? ব্যাংক ঋণে এর প্রভাব পড়বে কীভাবে?

দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক বছর ধরেই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘রেপো রেট’ বা নীতি সুদহার বাড়িয়ে রাখছে। বর্তমানে এই হার ১০ শতাংশ।

প্রশ্ন হলো, রেপো রেট বা নীতি সুদহার কী? এটি বাড়ালে বা কমালে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ে? মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই হার কীভাবে কাজ করে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে দেশের প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যে সুদ হারে ঋণ নিতে হয়, সেটাই হলো ‘রিপারচেজ’ বা ‘রেপো’ রেট। একে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘নীতি সুদহার’ও বলা হয়।

অর্থনীতিতে রেপো রেটকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রানীতিগত অস্ত্র বলা হয়। কেননা, রেপো রেট বাড়লে ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বেশি সুদ দিয়ে অর্থ নিতে হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়ে আমানত ও ঋণের সুদের হারের ওপর। বেশি সুদে নেওয়া টাকা ব্যাংকগুলো গ্রাহককেও বেশি সুদে বিতরণ করে। ফলে, গ্রাহকের মাঝে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে এবং বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে। বিপরীতে, রেপো রেট কম থাকলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ে।

বাজারে অর্থের প্রবাহ বেশি থাকলে মানুষ বিনিয়োগ ও ভোগ বেশি করে থাকে। এতে করে পণ্যের চাহিদা বাড়ে এবং সেইসঙ্গে বেড়ে যায় পণ্যের দাম, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তোলে।

এই প্রক্রিয়ায় মূল্যস্ফীতি কমিয়ে রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপো রেট বাড়িয়ে বাজারে অর্থের প্রবাহ কমিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

রেপো রেট দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তবে, এই হার বাড়ালেই মূল্যস্ফীতি কমে যাবে কিংবা এই হার কমালেই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে, বিষয়টি এত সরল নয়। মূল্যস্ফীতিতে রেপো রেট যে প্রভাব ফেলে তা হলো—

১. ব্যাংকঋণ ব্যয়বহুল হয়। এতে করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কম ঋণ নেয় এবং বাজারে তখন নগদ অর্থ কম থাকে।

২. বাজারে নগদ অর্থ কম থাকলে ক্রয়-বিক্রয় কমে যায় এবং নতুন অর্থ সৃষ্টির গতি কমে যায়। অর্থাৎ জনগণের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে যায়।

৩. নগদ অর্থ কম থাকলে মানুষের ভোগ ও বিনিয়োগের চাহিদা কমে আসে এবং চাহিদা কমলে পণ্যের দামও কম থাকে।

তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশের মতো দেশে মূল্যস্ফীতি কেবল চাহিদা ও অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে হয় না। এর বড় অংশই সরবরাহব্যবস্থা, আমদানি ব্যয়, জ্বালানি মূল্য ও বিনিময় হারের মতো কারণে হয়ে থাকে।
সেক্ষেত্রে কেবল রেপো রেট বাড়ালে মূল্যস্ফীতি কমানো বা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, বাংলাদেশে মূল্যম্ফীতি মূলত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হচ্ছে না।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, বিনিময় হার অবমূল্যায়ন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বাজারের অদক্ষতা সবকিছুই মূল্যস্ফীতি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। কাজেই শুধু নীতি সুদহার বাড়িয়ে এসব সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব না।’

তার মতে, মুদ্রানীতির পাশাপাশি বিচক্ষণ রাজস্বনীতি এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, সরবরাহ সংকট নিরসন ও বাজারে প্রতিযোগিতা জোরদারে বিস্তৃত কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নীতিগত সমন্বয় করা না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানো কঠিন হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক দীন ইসলামও একই কথাই বলেন।

তার ভাষ্য, ‘মনে রাখতে হবে যে মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো সরবরাহজনিত সমস্যা, উচ্চ আমদানি ব্যয়, বিনিময় হারের প্রভাব এবং বাজারের অনমনীয়তা।’

তিনি বলেন, ‘মুদ্রানীতিতে শুধু সুদের হার নির্ধারণ করলেই হবে না; বরং নীতি বাস্তবায়নের কৌশলও স্পষ্ট করতে হবে—বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণ করবে, ঋণ শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে, উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করবে, রাজস্বনীতির সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে।’

একদিকে রেপো রেট মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে, অন্যদিকে অর্থ প্রবাহ কমে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়ে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর।

রেপো রেট বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদ হার বেড়ে গেলে বেসরকারি বিনিয়োগের গতি কমে যায়। কারণ, ব্যাংকঋণের সুদ বেড়ে গেলে নতুন কারখানা স্থাপন, যন্ত্রপাতি আমদানি, ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের খরচও বেড়ে যায়।

যেমন, কোনো ব্যবসায়ী ১০ শতাংশ সুদে ১০০ টাকা ধার নিলে বছর শেষে তাকে ১১০ টাকা ফেরত দিতে হবে। অর্থাৎ ওই ধার নেওয়া ১০০ টাকায় ১১৫ টাকার ব্যবসা করলে হাতে ৫ টাকা লাভ থাকে। কিন্তু ১৫ শতাংশ সুদ হলে তাকে ১০০ টাকায় ১২০ টাকার ব্যবসা করতে হবে। সেটা যেহেতু ক্রমশ কঠিন হয়ে যায়, তাই বেশি সুদে মানুষ ঋণও কম নেয়। ফলে এমন পরিস্থিতি হলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগ বন্ধ রাখে কিংবা বিনিয়োগের পরিসর ছোট করে ফেলে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এর ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন। কারণ, তাদের নিজস্ব মূলধন তুলনামূলক কম হয় এবং ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা থাকে।

আর বিনিয়োগ কমে গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টিও হয় না এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি ধীর হয়ে আসে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের নীতিনির্ধারকদের সামনে সবচেয়ে কঠিন যে প্রশ্নটি থাকে তা হলো—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করবে নাকি প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াবে?

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে স্বল্পমেয়াদে কিছু বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য আরও ক্ষতিকর। কারণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, উৎপাদন ব্যয় ও ভোক্তা চাহিদা অনিশ্চিত হয়ে যায়।

তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে যেসব উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে সেগুলো হলো—

১. সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন করে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। এতে করে কোনো পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়বে না।

২. উৎপাদনমুখী খাতে স্বল্পসুদের বিশেষ ঋণ দিতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য।

৩. সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়িয়ে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে।

৪. বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, আমদানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাসহ এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে এর কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল সুদ হার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে টেকসই সমাধান পাওয়া সম্ভব না। শক্তিশালী আর্থিক খাত, কার্যকর রাজস্বনীতি, উন্নত সরবরাহব্যবস্থা ও সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে।

১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাননি, এখনো সময় আছে ভাবার: জামায়াতের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল

১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী ক্ষমা চায়নি এবং এখনো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যারা ওই পাড়ে আছেন আমাদের বন্ধুরা তারা অনেকভাবে আমাদের ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন। আমার মনে হয় এই সময় এসে এটা ঠিক না। কারণ আপনাদের নিজেদের দিকে একবার ফিরে তাকানো দরকার।’

‘এজন্য তাকানো দরকার যে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য একবারও তো ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। এটা করলে কিন্তু আজকের এই সমস্যা হয় না। আপনারা সেটা করেননি,’ বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের নেতা প্রফেসর গোলাম আজম তখন বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে আমরা ভুল করিনি। আমার মনে হয় এখনো সময় আছে। আপনারা এখনো ভেবে দেখতে পারেন।’

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের ধারণাটা খুব পরিষ্কার করে আমাদের জানানো উচিত, বাংলাদেশকে জানানো উচিত বলে আমি মনে করি। আমি এর বেশি যেতে চাই না। কারণ বারবার আপনারা এই কথাগুলোই বলতে থাকেন।’

‘১৯৭১ সম্পর্কে আপনাদের ধারণা খুব পরিষ্কার করে আপনারা বলেন না, বলেননি। আমি আজ পর্যন্ত শুনিনি। এটা কেউ শোনেনি। এই কথাটা আমরা এজন্য বলছি যে, আজ যদি আপনারা এটা স্বীকার করে নেন, তাহলে আপনাদের জন্য রাজনীতি অনেক সহজ হয়ে যাবে,’ যোগ করেন তিনি।

জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত প্রিয় ছাত্রদের এবং তরুণদের দল এনসিপি খুব ভালো করছে। কিন্তু একটা ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব দুঃখিত যে, তারা এমন একটা দলের সঙ্গে জোট করেছে, যে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’

‘আমি আশা করব তারা তাদের রাজনীতিকে আরও পরিষ্কার করবে। এ কথা এ কারণে বলছি যে আমাদের নবীন রাজনীতিবিদরা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। আমরা চাই তারা ভালো করুক। কিন্তু এমন কোনো স্টিগমা যেন তাদের না থাকে,’ যোগ করেন তিনি।

মাইকেলকে হটিয়ে বক্স অফিসের শীর্ষে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’

পশ্চিমের বেশিরভাগ দেশেই শনিবার ও রোববারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এর ব্যতিক্রম নয়। সেই মার্কিন মুলুকে, সপ্তাহান্তে বক্স অফিসের শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’। 

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।   

২০ বছর আগে এই সিনেমার প্রথম পর্ব মুক্তি পেয়েছিল। ফ্যাশন জগতের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতার এক চরম বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছিল হলিউডের সেই ব্যতিক্রমী সিনেমায়। এবারও একই ধারায় এগিয়েছে সিনেমার কাহিনী। 

প্রথম পর্বের মতো সিকুয়েলেও অ্যান হ্যাথাওয়ের চরিত্রটিকে একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের একরোখা সম্পাদক মেরিল স্ট্রিপের অধীনে কাজ করতে দেখা যায়। 

গুরুত্বপূর্ণ দুই চরিত্রে ফিরেছেন এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচ্চি। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন প্রথম সারির অভিনেতাও এই সিনেমায় কাজ করেছেন।  

এই সিনেমাটি মুক্তি দিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স। পরিচালক হিসেবে এবারও কাজ করেছেন ডেভিড ফ্র্যাঙ্কেল। 

একজিবিটর রিলেশানস এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজারে সিনেমাটি ইতোমধ্যে ৭৭ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। 

ফ্র্যাঞ্চাইজ এন্টারটেইনমেন্ট রিসার্চের বিশ্লেষক ডেভিড এ. গ্রস বলেন, ‘এটা কোনো কমেডি ড্রামার জন্য অসামান্য ওপেনিং।’

তিনি জানান, সিনেমাটি ‘খুবই ভালো’ রিভিউ পাচ্ছে। এতে ক্ষমতা, ভাবমূর্তি ও সাফল্যের গল্প বলা হয়েছে, যা অন্য যেকোনো সময়ের এখন অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।’

‘ভোগ’ পত্রিকার দীর্ঘদিনের প্রধান সম্পাদক অ্যানা উইনট্যুর-এর চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় মেরিল স্ট্রিপের চরিত্র ‘মিরান্ডা প্রিসলি’। প্রথম পর্বে ওই চরিত্রে অভিনয় করে গোল্ডেন গ্লোব জেতেন মেরিল। পাশাপাশি, অস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছিলেন। 

গত সপ্তাহে বক্স অফিসের শীর্ষে ছিল প্রয়াত পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের ওপর নির্ভর করে বানানো সিনেমা ‘মাইকেল’। এ সপ্তাহে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমেছে সিনেমাটি। তা সত্ত্বেও, ৫৪ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে ‘মাইকেল’। 

প্রথম সপ্তাহে উত্তর আমেরিকায় ৯৭ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে সিনেমাটি। বিশ্বজুড়ে এর আয় ৪২৩ মিলিয়ন ডলার। 

১২ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে ‘দু সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’। 
ভিডিও গেমস চরিত্র মারিওকে ঘিরে নির্মিত এই অ্যানিমেশন সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। 

চতুর্থ অবস্থানে ৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার নিয়ে আছে সাই-ফাই অ্যাডভেঞ্চার কমেডি ‘প্রোজেক্ট হেইল ম্যারি।’

 

বক্স অফিসের শীর্ষ দশের বাকি অবস্থানগুলোতে আছে:

 

হোকাম (৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন) 

অ্যানিম্যাল ফার্ম (৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন)

লি ক্রোনিন’স মামি (২ দশমিক ২৩ মিলিয়ন)

ডিপ ওয়াটার (২ দশমিক ১৫ মিলিয়ন)

দ্যাট টাইম আই গট রিইনকার্নেটেড অ্যাজ আ স্লাইম (১ মিলিয়ন)

দ্য ড্রামা (৯ লাখ)

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহত ৭৮৭: রেড ক্রিসেন্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

আজ মঙ্গলবার রেড ক্রিসেন্টের দেয়া এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ের উদ্ধারকারী দলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে রেড ক্রিসেন্ট। 

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৭৬ শিশু রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইরানের ১৫৩টি শহরে পাঁচশ’র বেশি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। 

এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। 

এএফপি জানায়, আজও রাজধানী তেহরানে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহর ও মধ্যাঞ্চলে ইসফাহান শহরেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। 

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

আজ বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ ও আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০২৮ সালের আগস্টে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।