30 C
Dhaka
Home Blog

প্রথম চাকরিটি কি স্বপ্নের চাকরিই হতে হবে?

সকাল ৯টা। ঢাকার মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৃতীয়তলায় আজ রাকিবের প্রথম কর্মদিবস। অফিসে ঢোকার আগে লিফটের আয়নায় শেষবারের মতো নিজের চেহারাটা দেখলেন তিনি। নীল শার্টটা আগের রাতেই ইস্ত্রি করে রেখেছিলেন। কালো জুতা জোড়া নতুন না হলেও ভালো করে পালিশ করা। চুলটাও একটু বেশি পরিপাটি করার চেষ্টা করেছেন।

সকালে বের হওয়ার সময় মা দরজায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘সময়মতো খেয়ে নিস। আর মন দিয়ে কাজ করিস।’ রাকিব শুধু মাথা নেড়ে বলেছিল, ‘দোয়া করো।’

বাবা হয়তো এরই মধ্যে আত্মীয়দের ফোন করে জানিয়ে দিয়েছেন, ছেলে চাকরি পেয়েছে। কিন্তু রাকিবের ভেতরে তখন অন্যরকম একটা অনুভূতি—‘চার বছর বাংলা পড়ে শেষ পর্যন্ত ডাটা এন্ট্রির চাকরি!’

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় তার স্বপ্নটা এমন ছিল না। রাকিব বাংলা নিয়ে পড়েছে; শেষ দিকে গল্প লিখত, কবিতা পড়ত, বিতর্ক করত, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকত। বন্ধুদের আড্ডায় অনেকবার বলেছে, ‘আমি একদিন লেখালেখি করব। সাংবাদিকতা বা মিডিয়ায় কাজ করব। এমন কিছু করব, যেখানে মানুষের গল্প নিয়ে কাজ করা যায়।’

কিন্তু চার বছর পর বাস্তবতা তাকে অন্য জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। সে যে চাকরিটা পেয়েছে, সেটি একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাডমিন ও ডাটা এন্ট্রি এক্সিকিউটিভের পদ। কম্পিউটারে তথ্য আপডেট করা, ফাইল গোছানো, অফিসের কাগজপত্র দেখা, প্রয়োজন হলে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা—এই তার মূল কাজ। এটা তার স্বপ্নের চাকরি নয়।

চাকরিটা পাওয়ার খবরে মা-বাবা খুশি হলেও রাকিব নিজে খুব একটা উচ্ছ্বসিত হয়নি। কিন্তু সে চাকরিটা নিয়েছে। কারণ, তার কাছে তখন ‘স্বপ্নের চাকরি’র চেয়েও জরুরি ছিল ‘একটি চাকরি’।

রাকিবের গল্পটি হয়তো বাংলাদেশের হাজারো তরুণের গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি হাতে আসার পর অনেকেই আবিষ্কার করেন, চাকরির বাজার তার অপেক্ষায় বসে নেই।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা সব শিক্ষাগত স্তরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার স্নাতক তখন বেকার ছিলেন। অর্থাৎ, ডিগ্রি অর্জন করলেই চাকরির নিশ্চয়তা মিলছে না। অনেক তরুণকে মাসের পর মাস, কখনো বছরের পর বছর চাকরি খুঁজতে হচ্ছে। আবেদন, লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা, আবার অপেক্ষা। কেউ একটি চাকরির জন্য শত শত আবেদন করছেন। কেউ ‘ফ্রেশার’ হয়েও ইন্টারভিউতে প্রশ্ন শুনছেন, ‘অভিজ্ঞতা আছে?’

এই অভিজ্ঞতাটা হবে কীভাবে, যদি প্রথম সুযোগটাই না দেওয়া হয়? এই বাস্তবতায় একজন তরুণ যখন প্রথম চাকরির সুযোগ পান, সেটি পছন্দের না হলেও গ্রহণ করা অনেক সময় বাস্তব জীবনের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। রাকিবও তাই করেছে।

কিন্তু এখানেই গল্পের আসল জায়গাটা। কারণ, প্রথমটা তার স্বপ্নের চাকরি না হলেও সেটি তার জীবনের অপ্রয়োজনীয় একটি বছর হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বরং সেই চাকরিটিই হয়তো তাকে এমন কিছু শেখাবে, যা চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেখাতে পারেনি।

প্রথম কয়েক মাসেই রাকিব বুঝবেন, অফিসে কাজ করার নিয়ম আলাদা। শুধু নিজের কাজ জানলেই হয় না, অন্যের সঙ্গে কাজ করতে হয়, সময়মতো কাজ শেষ করতে হয়, একটি ভুল কখনো কখনো অন্য একজনের কাজ আটকে দিতে পারে।

তিনি শিখবেন, সিনিয়রকে কীভাবে প্রশ্ন করতে হয়, কোনো কাজ বুঝতে না পারলে কখন সাহায্য চাইতে হয়, সহকর্মীর সঙ্গে মতের অমিল হলে কীভাবে তা সামলাতে হয়। শিখবেন, একটি অফিসিয়াল ই-মেইল কীভাবে লিখতে হয়, মিটিংয়ে কীভাবে কথা বলতে হয়, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কখন একটু এগিয়ে আসতে হয়।

এসব ছোট ছোট বিষয়ই ধীরে ধীরে একজন নতুন স্নাতককে পেশাজীবী করে তোলে। আর হয়তো একদিন তার বস তাকে একটি ছোট প্রতিবেদন তৈরি করতে বলবেন। সেটা লিখতে গিয়ে রাকিবের পুরোনো লেখালেখির অভ্যাস কাজে লাগবে। হয়তো কোনো একদিন তাকে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠান নিয়ে ছোট্ট লেখা লিখতে দেওয়া হবে। সেখান থেকেই তার ভেতরের পুরোনো আগ্রহটা আবার মাথা তুলবে। হয়তো তিনি বুঝবেন, তার বাংলা পড়াটা একেবারে বৃথা যায়নি। হয়তো কয়েক বছর পর তিনি অ্যাডমিনের চাকরি ছেড়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বিভাগে কাজ করবেন। হয়তো সাংবাদিকতায় যাবেন। হয়তো যাবেন না।

কিন্তু তার প্রথম চাকরিটি তাকে অন্তত একটি অমূল্য জিনিস দেবে—অভিজ্ঞতা। আর অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক সময় আমরা বুঝি তখনই, যখন পরের চাকরির ইন্টারভিউতে কেউ জিজ্ঞেস করে, ‘আপনার কী অভিজ্ঞতা আছে?’ তখন রাকিব আর বলতে পারবেন না, ‘কিছুই নেই।’ তিনি বলতে পারবেন, ‘হ্যাঁ, আমি কাজ করেছি।’ এখানেই প্রথম চাকরির গুরুত্ব।

প্রথম চাকরি আসলে কী শেখায়?

আমরা অনেক সময় ক্যারিয়ারকে একটি সোজা সিঁড়ি মনে করি—বিশ্ববিদ্যালয় শেষ, ভালো চাকরি, পদোন্নতি, আরও ভালো চাকরি, বড় পদ। বাস্তবে মানুষের ক্যারিয়ার খুব কম ক্ষেত্রেই এত সুন্দরভাবে সাজানো থাকে। কেউ নিজের পড়াশোনার বিষয়েই চাকরি পান, কেউ সম্পূর্ণ ভিন্ন কাজে ঢোকেন। কেউ ছোট একটি প্রতিষ্ঠানে শুরু করেন, কেউ প্রথম চাকরিতেই বুঝে যান এই পেশা তার জন্য নয়। কেউ আবার একটি চাকরিতে ঢুকে এমন একটি দক্ষতা আবিষ্কার করেন, যা শেষ পর্যন্ত তার পুরো ক্যারিয়ারের দিক বদলে দেয়।

কারণ, ক্যারিয়ার শুধু কী কাজ করছি তার গল্প নয়। এটি একইসঙ্গে কী শিখছি এবং কী হয়ে উঠছি তার গল্প।

প্রথম চাকরি আপনাকে অফিসের বাস্তবতা বুঝতে শেখাতে পারে। শেখাতে পারে দায়িত্ব নেওয়া, ডেডলাইন মেনে চলা, ব্যর্থতা সামলানো, কঠিন সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করা এবং নিজের ভুল স্বীকার করা। সবচেয়ে বড় কথা, এটি আপনাকে নিজের সম্পর্কে কিছু সত্যি কথা জানাতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো আপনি ভেবেছিলেন, আপনি মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করেন। চাকরিতে গিয়ে বুঝলেন, গবেষণামূলক কাজই আপনার বেশি ভালো লাগে। অথবা ভেবেছিলেন ডেস্কে বসে কাজ করবেন, কিন্তু বুঝলেন মাঠে মানুষের সঙ্গে কাজ করতেই আপনার বেশি ভালো লাগে। কিংবা যে পেশাটিকে এতদিন স্বপ্নের মনে হয়েছে, সেটি করতে গিয়ে বুঝলেন, ‘না, এটা আমার জন্য নয়।’

সেটিও ব্যর্থতা নয়। সেটিও শিক্ষা।

তাহলে প্রথম চাকরির ক্ষেত্রে কী খুঁজব?

অবশ্যই বেতন গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের দায়িত্ব থাকলে বেতনকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ভালো প্রতিষ্ঠান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সম্মানজনক কাজও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রথম চাকরির ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি প্রশ্ন করা যায়—

আমি এখানে কী শিখব?

কোন দক্ষতাগুলো তৈরি হবে?

কাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাব?

এক বছর পর আমি কি আজকের চেয়ে বেশি দক্ষ হব?

এই অভিজ্ঞতা কি আমাকে পরের সুযোগের জন্য প্রস্তুত করবে?

যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে চাকরিটি হয়তো স্বপ্নের না হলেও মূল্যবান। কারণ, এখানে প্রথম চাকরির সবচেয়ে বড় বেতন কখনো কখনো মাস শেষে পাওয়া টাকাটি নয়। অভিজ্ঞতাটিও একটি বেতন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে তরুণদের অন্যায্য বেতন, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অসম্মানজনক আচরণ বা শোষণ মেনে নিতে হবে। শেখার সুযোগ আর শোষণ এক জিনিস নয়। একটি চাকরি আপনাকে শিখতে সাহায্য করবে, বড় হতে সাহায্য করবে—এটাই প্রত্যাশা। নিজের অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে আপস করে শুধু ‘অভিজ্ঞতা’ অর্জন করার প্রয়োজন নেই।

তাহলে স্বপ্নটা কী হবে?

স্বপ্ন ছেড়ে দিতে হবে না। রাকিব যদি সত্যিই লেখালেখি করতে চান, তাকে লিখতে হবে। অফিস শেষে লিখতে পারেন, ছুটির দিনে লিখতে পারেন, অনলাইন পোর্টালে লেখা পাঠাতে পারেন, নিজের পোর্টফোলিও তৈরি করতে পারেন, নতুন দক্ষতা শিখতে পারেন। প্রথম চাকরিকে তাই স্বপ্নের বিকল্প হিসেবে দেখার দরকার নেই। বরং এটিকে স্বপ্নের দিকে যাওয়ার একটি প্রস্তুতি হিসেবে দেখা যায়।

বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এই কথাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চাকরির বাজার যখন কঠিন, তখন প্রথম সুযোগটি নিখুঁত না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেই সুযোগটিকে শুধু ‘এটা তো আমার কাজ নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করার আগে ভাবা দরকার, এই কাজটি আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে? হয়তো আজ আপনি যে কাজটি করছেন, সেটি আপনার ভালো লাগে না। কিন্তু সেই কাজ থেকে শেখা যোগাযোগ দক্ষতা, কম্পিউটার দক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা, পেশাগত শৃঙ্খলা, মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা—সবকিছুই আগামী দিনের চাকরিতে আপনার কাজে লাগতে পারে।

ক্যারিয়ার কোনো সরল রেখা নয়। এটি অনেকটা রাস্তার মতো। কখনো সোজা, কখনো বাঁক আছে। কখনো ভুল পথে চলে যেতে হয়। কখনো ফিরে আসতে হয়। আবার কোনো কোনো অপ্রত্যাশিত রাস্তা শেষ পর্যন্ত আপনাকে এমন জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে যাওয়ার কথা আপনি কখনো ভাবেনই-নি। অথবা এটি অনেকটা নদীর মতো। কখনো সোজা যায়, কখনো বাঁক নেয়, কখনো নিজের পথ বদলায়। নদীর প্রতিটি বাঁক যেমন ভুল পথ নয়, ক্যারিয়ারের প্রতিটি পরিবর্তনও তেমন ব্যর্থতা নয়।

কয়েক বছর পর হয়তো কোনো এক সকালে রাকিব আবার লিফটের আয়নায় নিজের মুখ দেখবেন। এবার হয়তো তার গায়ে অন্য রঙের শার্ট। হাতে অন্য অফিসের আইডি কার্ড। সামনে অন্য কোনো দায়িত্ব। তখন হয়তো তার মনে পড়বে সেই নীল শার্টের সকালটির কথা। যে চাকরিটিকে তিনি একসময় নিজের স্বপ্নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেননি, সেটিই হয়তো তাকে পরের দরজাটা খুলতে শিখিয়েছিল।

আব্দুল্লাহ সেরু: একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার যোগাযোগ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।

১১ দলীয় ঐক্যের সব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার ঘোষণা খেলাফত মজলিসের

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিস।

দলটি জানিয়েছে, এই ঐক্য মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল এবং নির্বাচন শেষ হওয়ায় এর কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে গেছে।

আজ​শনিবার কাকরাইলে আইডিইবি (ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় এই সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ১১ দলীয় ঐক্যের কিছু কর্মসূচিতে তারা অংশ নিলেও এখন থেকে এই ঐক্যের আর কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেবে না। তবে ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদে খেলাফত মজলিসের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তাদের বিরোধীদলীয় ভূমিকা পালন করে যাবেন।

অধিবেশনে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায়কে পাশ কাটিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যা জনরায়ের পরিপন্থী। জনগণ এমন সংবিধান সংস্কার চায় যাতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।

সরকারকে গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ও শাপলা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জোর দাবি জানানো হয়। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে সরকার বিপদে পড়বে।

​১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটের মাধ্যমে প্রদত্ত রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সব বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরে গণসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস। এছাড়া, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যথাসম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওযা হয়েছে শূরার অধিবেশনে।

অধিবেশনে শোক প্রস্তাবসহ মোট চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, আবদুল্লাহ ফরিদ, যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসাইন, আবুল হাসান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও শূরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আর্থিকভাবে শক্তিশালী এনবিএফআইয়ের আমানত সীমা শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

যেসব ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) আর্থিকভাবে শক্তিশালী, তাদের আমানত গ্রহণের ওপর সীমা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, এ ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি হিসাবের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা এবং যৌথ হিসাবের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা আমানত নিতে পারে।

বুধবার এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও সুশাসন নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে উভয় ধরনের হিসাবেই নির্ধারিত সীমার বেশি আমানত গ্রহণ করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সুবিধা পেতে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে একইসঙ্গে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

সেগুলো হলো—সর্বশেষ প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ বা তার কম হতে হবে; মূলধন পর্যাপ্ততার হার (ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও) অন্তত ১০ শতাংশ হতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেওয়া কোনো প্রভিশন স্থগিত (প্রভিশন ডিফারেল) সুবিধা প্রতিষ্ঠানটি গ্রহণ করতে পারবে না।

আইনি সীমার বেশি থাকা বিদ্যমান আমানতের বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩ কার্যকর হওয়ার আগে সংগৃহীত সীমার অতিরিক্ত আমানত মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। মেয়াদ শেষে হিসাবধারীর লিখিত সম্মতি সাপেক্ষে সেগুলো নবায়ন করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ইতোমধ্যে আইনগত বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার আমানত গ্রহণসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই নতুন নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।

কোনো আদালত বা বাংলাদেশ ব্যাংক যদি আগে থেকেই কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আমানত গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে, তাহলে সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩-এর ২৪(২) ধারার আওতায় জারি করা এই প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

প্যারাগুয়ের সিনেটরের বর্ণবাদী আক্রমণের কড়া জবাব দিলেন এমবাপে

বিশ্বকাপ থেকে প্যারাগুয়ে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের তারকা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপেকে আপত্তিকর বর্ণবাদী  মন্তব্য করেছিলেন দেশটির সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা। বিবৃতি দিয়ে তার মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন এমবাপে। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) বিষয়টি নিয়ে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

গত শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ ও আগ্রাসী ম্যাচে এমবাপের পেনাল্টি গোলই ব্যবধান গড়ে দেয়। ম্যাচটিতে ফ্রান্স ১-০ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি দীর্ঘ, বর্ণবাদী পোস্ট লেখেন। সেখানে তিনি এমবাপেকে ‘উপনিবেশিক ক্যামেরুনিয়ান, যিনি নিজেকে ফরাসি হিসেবে জাহির করার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছেন’ এবং এবং ‘ভাষাজ্ঞানহীন’ এক ‘বর্বরের’ সঙ্গে তুলনা করেন।

আমারিলা আগ্রাসী মন্তব্যে আরও লেখেন, ম্যাচের পর প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের উচিত ছিল তাকে থাপ্পড় মারা।

ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপে একটি কড়া বিবৃতির মাধ্যমে এর জবাব দিয়েছেন, যেখানে তিনি কেবল নিজেরই নয়, বরং প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দেরও পক্ষ নিয়েছেন।

এমবাপে লিখেছেন, ‘ম্যাডাম সেলেস্তে আমারিলা, আপনি একজন নীচ নারী এবং আপনার পদের অযোগ্য। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না—যে দেশ পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আবেগ ও সম্মানের সঙ্গে লড়েছে।’

‘আপনার এই অবিবেচনা এবং প্রকাশ্য বর্ণবাদের কারণে পুরো বিশ্ব ইতিমধ্যেই এই বিশ্বকাপে আপনার খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা এবং যাত্রার কথা ভুলে গেছে। এর বদলে জায়গা করে নিয়েছে একজন অযোগ্য নারী, যিনি তার দেশের সবচেয়ে খারাপ ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন।’

‘আমি কখনই তার মতো মানুষদের বিশ্বজুড়ে ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়ানোর স্বাধীনতা দেব না।’

ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) বিষয়টি আরও এগিয়ে নিয়ে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তারা এই মন্তব্যগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ঘৃণ্য এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছে।

এফএফএফ জানিয়েছে, ‘এই মন্তব্যগুলো অপরাধমূলক এবং নিন্দনীয়। অন্য সব জায়গার মতোই এখানেও এর বিচার হওয়া উচিত। আইনি প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্যে এফএফএফ বিষয়টি সরকারি প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জানাচ্ছে।’

‘এই মন্তব্যগুলো তাদের জন্য লজ্জাজনক যারা এগুলো করেছেন এবং যারা এগুলো ছড়াচ্ছেন। ফ্রান্সের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করেন; এটি আমাদের দেশকে অপমান করার শামিল।’

এদিকে প্যারাগুয়ে সরকারও আমারিলার মন্তব্যে নিন্দা জানিয়েছে, তারা এই বক্তব্যের জন্য ‘দুঃখ প্রকাশ করছে এবং এটি প্রত্যাখ্যান করছে।’ তারা বলেছে, এগুলো ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং মানব মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধার মূল্যবোধ ও নীতিমালার পরিপন্থী, যা আমাদের দেশ প্রচার করে।’

প্যারাগুয়ে সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উক্ত আইনপ্রণেতার বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে আইন বিভাগের একজন সদস্য হিসেবে তার ব্যক্তিগত দায়িত্বের বহিঃপ্রকাশ এবং এটি কোনোভাবেই প্যারাগুয়ে প্রজাতন্ত্রের সরকার বা প্যারাগুয়ের জনগণের অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন জানিয়েছেন এবং এই মন্তব্যের নিন্দা করেছেন।

গত মঙ্গলবার ম্যাক্রোঁ তার অধিনায়কের প্রতি সমর্থনের বাণী ব্যক্ত করেছেন। এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘কিলিয়ান এমবাপের আরও একটি গোল। এবার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে। আমার সম্পূর্ণ সমর্থন রইল। যখন শব্দ কলঙ্কিত করে, তখন আমাদের মূল্যবোধ জবাব দেয়: মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব।’

দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির আইনসভার নেতা বাসিলিও নুনেজ বলেছেন, এই মন্তব্যগুলো প্যারাগুয়েনদের ‘প্রকৃত মূল্যবোধ’ প্রকাশ করে না।

নুনেজ বলেন, ‘জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে আমি বর্ণবাদী, বিদেশি-বিদ্বেষী এবং যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া বার্তার তীব্র নিন্দা জানাই।’

‘প্যারাগুয়ে জাতীয় দল বিশ্বকাপে সম্মান ও সাহসের সঙ্গে তাদের উজাড় করে দিয়েছে। রাজনীতি ও খেলাধুলাকে আলাদা রাখা উচিত।’

ফ্রান্সের সহকারী কোচ গাই স্টিফেন বলেছেন, ‘আমরা এখনও কিলিয়ানের সঙ্গে কথা বলিনি, সেই সুযোগ হয়নি। তবে তিন শব্দে বলতে গেলে: এটি লজ্জাজনক, জঘন্য ও আপত্তিকর।’

মায়ের ত্যাগ ও ভালোবাসার গল্প শোনালেন ৪ তারকা

‘মা’ একটি ছোট শব্দ, অথচ এর ভেতর লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ও সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ত্যাগের গল্প। একজন সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার নাম মা। জীবনের প্রতিটি ধাপে, সাফল্য কিংবা ব্যর্থতায় সন্তানের পাশে থাকেন তিনিই।

বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে দেশের চার জনপ্রিয় তারকা চঞ্চল চৌধুরী, মিথিলা, তানজিকা আমিন এবং সিয়াম আহমেদ স্মরণ করেছেন তাদের জীবনে মায়ের অবদান, ভালোবাসা ও ত্যাগের কথা। তাদের কথায় উঠে এসেছে সংগ্রাম, অনুপ্রেরণা, সাহস আর নিঃশর্ত মমতায় ভরা একেকজন মায়ের প্রতিচ্ছবি।

আমার মা একজন শিক্ষক। তিনি অসম্ভব পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান মানুষ। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। শুধু আমার জন্য নয়, পরিবারের সবার জন্যই তিনি অনেক করেছেন।

মায়ের সঙ্গে মিথিলা

বিশেষ এই দিনে মায়ের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। যদিও আমি সবসময়ই মাকে ভালোবাসি, তবে মা দিবসে সেই অনুভূতি আরও বেশি করে প্রকাশ করতে ইচ্ছে করে।

আমার কাজের প্রতি ভালোবাসা, পরিশ্রম করার মানসিকতা—সবই মায়ের কাছ থেকে শেখা। কোনো কাজের সঙ্গে লেগে থাকা এবং সফলভাবে শেষ করার অভ্যাসটাও তার কাছ থেকেই পেয়েছি।

মা আমার অনুপ্রেরণা। মা আমার কাছে সবকিছু। তার অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। মায়ের তুলনা শুধু মায়ের সঙ্গেই হয়।

আমার মা আমার জীবনের অনেক বড় অংশজুড়ে আছেন। ক্যারিয়ার থেকে ব্যক্তিজীবন—সবখানেই তার অবদান সবচেয়ে বেশি।

মা চাকরি করার পাশাপাশি সংসারও সামলেছেন। সকালে অফিসে যেতেন, আবার ফিরে এসে সংসারের সব দায়িত্ব পালন করতেন। তাকে দেখেই অনেক কিছু শেখা সম্ভব হয়েছে।

মা সবসময় চাইতেন আমি যেন আত্মনির্ভরশীল হই। মেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়াবে, নিজের ওপর নির্ভর করবে—এটাই ছিল তার চাওয়া।

আমার দেখা সবচেয়ে ভালো মানুষ আমার মা। অভিনয় জীবন শুরুর সময়ও তার পূর্ণ সমর্থন ছিল। মায়ের ভালোবাসা, দোয়া ও সাহস নিয়েই এতদূর আসতে পেরেছি।

জীবনের কঠিন সময়গুলোতেও মা আমাকে ভেঙে পড়তে দেননি। তিনি সাহস দিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, বলেছেন, ‘আমি আছি।’

মা কখনো রাগ দিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা ও সাহস দিয়ে সবকিছু শিখিয়েছেন। তাই বলব, আমার মা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

আমার মা সবসময় চাইতেন আমি লেখাপড়ায় ভালো করি। কারণ, মা নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন এবং তিনটি বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন।

একসময় তিনি চাইতেন আমি যেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হই। পরে তার স্বপ্ন থেকেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই এবং বিদেশে গিয়ে আইন নিয়েও পড়াশোনা করি।

বাবাও ঢাবির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনার প্রতি আলাদা গুরুত্ব ছিল।

পরিবারের সঙ্গে সিয়াম

তবে মা কখনো চাননি আমি অভিনয়ে আসি। তিনি চাইতেন পড়াশোনা শেষ করে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ি। কিন্তু একসময় শোবিজে পথচলা শুরু হয় এবং এখনো সেই পথেই আছি।

যেদিন আমি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলাম, সেদিন মায়ের চোখে যে আনন্দ দেখেছি, সেটা কখনো ভুলব না। মনে হয়েছিল, তিনি গর্ব করে ভাবছেন, তার সন্তান কিছু একটা করতে পেরেছে।

এখনও যখন মানুষ আমাকে ভালোবাসা দেয়, তখন মা খুব খুশি হন। আর সন্তানের জন্য মায়ের চোখে সেই আনন্দ দেখতে পারাটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।

মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আমার মাসহ সব মায়ের সুস্থতা কামনা করছি।

বর্তমানে আমার মায়ের যে বয়স, তাতে সবচেয়ে বেশি দরকার সুস্থ থাকা। আমি চাই সব মা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। কেউ যেন কখনো মাকে কষ্ট না দেয়।

আমি বিশ্বাস করি, মায়ের সেবা করা মানে পুণ্যের কাজ করা। আমরা মায়ের সঙ্গে যেমন আচরণ করব, শেষ বয়সে সন্তানের কাছ থেকেও তেমনটাই ফিরে পাব।

তাই বারবার বলব, মাকে ভালোবাসুন, মায়ের পাশে থাকুন। যার গর্ভে আমরা বড় হয়েছি, তার প্রতি ভালোবাসা ও মমতা আরও বাড়িয়ে দিন।

সবশেষে বলতে চাই, আমার ক্যারিয়ারে মা ও বাবা—দুজনেরই অবদান আছে। তবে মায়ের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না।

বিদ্রোহী কুর্দিদের অস্ত্র দিয়ে ইরানে ‘গৃহযুদ্ধের’ পরিকল্পনা ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর

টানা পাঁচ দিন ধরে ইরানে সম্মিলিতভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের শাসক পরিবর্তন। হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলেও পশ্চিমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভেঙে পড়েনি দেশটির শাসন ব্যবস্থা।

নতুন নেতা নিয়োগের উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিবেশী 
দেশগুলোয় থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের কয়েকটি এলাকায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। সব মিলিয়ে, ‘শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে’ ইরানকে গোলযোগের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনায় জেরুসালেম-ওয়াশিংটনের তেমন সাফল্য আসেনি।

এই পরিস্থিতিতে নতুন ‘চাল’ চেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের বিদ্রোহী কুর্দি সংগঠনগুলোর হাতে মারণাস্ত্র তুলে দিচ্ছে।

উদ্দেশ্য, ইরানে অরাজকতা সৃষ্টি করে ও ভেতর-বাইরে থেকে শাসকগোষ্ঠীকে নাস্তানাবুদ করা।

এমনটাই দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বুধবারের প্রতিবেদনে।

সূত্রদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সরকারবিরোধী সংগঠন ও কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে ‘সামরিক সহায়তা’ দেওয়াই এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য।

ইরান-ইরাক সীমান্তে ইরানের কুর্দি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর হাজারো যোদ্ধা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ইরাকের স্বশাসিত কুর্দিস্তান ইরানের বিদ্রোহী কুর্দিদের মূল ঘাঁটি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই কুর্দিদের বেশ কয়েকটি সংগঠন বিবৃতি দিয়ে হামলাকারীদের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা ইরানের সেনাবাহিনীকে সরকারের পক্ষ ত্যাগ করে তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।

এমন পরিস্থিতিতে কুর্দি সংগঠনগুলোর ওপর হামলা শুরু করেছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)। বিপ্লবী বাহিনী গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা সশস্ত্র কুর্দিদের সবচেয়ে বড় সংগঠনটির বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

একইদিনে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কুর্দিস্তান গণতান্ত্রিক দলের (কেডিপিআই) সভাপতি মুস্তফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের কুর্দিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

 

বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী যাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের মধ্যে কেডিপিআই অন্যতম।

এর আগে ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও গত রোববার আলোচনা করেন ট্রাম্প। কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কুর্দিরা সম্মিলিতভাবে স্থল অভিযানকে এগিয়ে নিতে পারে, তা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও এই আলোচনার বিষয়ে অবগত আছেন এমন এক সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে এসব তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সবার আগে এ বিষয়টি জানায়।

 

আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করবে ইরানের কুর্দিরা। এমন প্রত্যাশার কথা সিএনএনকে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ কুর্দি কর্মকর্তা।

এখন পর্যন্ত পাঁচ দিনের যুদ্ধে কোনো স্থল অভিযান চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ঘাটতি পূরণেই কুর্দিদের শরণাপন্ন হচ্ছে এই দুই শক্তিধর দেশ।

এক কুর্দি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সামনে বড় সুযোগ আসছে।’

তিনি অভিযানের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়েও আলোচনা করেন। জানান, তারা মার্কিন ও ইসরায়েলিদের পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

 

 

ইরানের কুর্দি সংগঠনগুলোকে অস্ত্র দিতে হলে ইরাকি কুর্দিদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ইরাকের কুর্দিস্তানের ভেতর দিয়ে অস্ত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে বলে বিশ্লেষকরা মত দেন।

এসব আলোচনার বিষয়ে জানেন এমন এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, কুর্দি সশস্ত্র যোদ্ধারা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যস্ত রাখবে। এর ফলে ইরানের ভেতরের স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র-সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বড় শহরগুলোয় রাজপথে নেমে সরকার পতনের আন্দোলনে যোগ দিতে পারবে।

 

অপর এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কুর্দিরা ওই অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। এতে ইরানের ক্ষমতাসীনদের সামরিক সক্ষমতা কমে আসবে।

কুর্দিদের নিয়ে ওয়াশিংটন-ইসরায়েলের পরিকল্পনা এখানেই শেষ নয়। কেউ কেউ বলছেন, কুর্দিরা ইরানের উত্তরাঞ্চলের দখল নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেখানে ইসরায়েলের জন্য ‘বাফার জোন’ বা নিরাপদ স্থান তৈরি করা যেতে পারে।

সিআইএ এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, বলেও সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের ভাষ্য: ওয়াশিংটন ও তেল আবিব উপলব্ধি করেছে—সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানের শাসক পরিবর্তন খুব একটা সহজ হবে না। এ কারণে, তারা এখন চাচ্ছে দেশটির জনগণ এ কাজে এগিয়ে আসুক।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলের পেন্টাগন কর্মকর্তা ও সিএনএনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স প্লিটসাস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই কুর্দিদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে ইরানে সরকার পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের বেশিরভাগ মানুষের হাতেই অস্ত্র নেই। নিরাপত্তা বাহিনীর পতন না হলে বা তাদেরকে বাইরে থেকে অস্ত্র সরবরাহ না করলে সরকার উৎখাত করা খুব কঠিন হবে।’

কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার পরিণাম কী হতে পারে, তা পুরোপুরি ভেবেচিন্তে দেখা হয়েছে কী না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কর্মকর্তা জেন গাভিটো।

 

গাভিটো গণমাধ্যমটিকে বলেন, ‘এতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সশস্ত্র যোদ্ধাদের জবাবদিহিতা থাকে না। এই উদ্যোগের পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে (ট্রাম্প প্রশাসনের) খুব একটা ধারণা নেই।’

একটি সূত্র জানান, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরাক সীমান্ত এলাকায় ইরানের সামরিক বাহিনী ও পুলিশের চৌকিগুলোয় হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এলাকা দিয়ে সশস্ত্র কুর্দিরা যাতে সহজে ইরানে ঢুকতে পারে, সেই পথ সৃষ্টির জন্যই এই উদ্যোগ।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে কুর্দিদের ‘দীর্ঘদিনের সম্পর্ক’
ইরাক যুদ্ধের সময় থেকেই কুর্দিদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে সিআইএর। ইরান সীমান্তের কাছাকাছি ইরাকের স্বশাসিত কুর্দিস্তানে সিআইএর স্থাপনাও আছে।

ইরাকি কুর্দিস্তানের ইরবিল শহরে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটও আছে। সেখানে আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

বিদ্রোহী কুর্দিদের আশা—যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দেওয়ার বিনিময়ে তারা ইরাকের কুর্দিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে। তবে এটা কতটা বাস্তবসম্মত হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

 

কয়েকজন বিশ্লেষক আশংকা করে বলেছেন, এবারও ইরানে মার্কিনিদের সঙ্গে কাজ করে প্রতারিত হবে কুর্দিরা।

সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কুর্দি বাহিনীর ওপর ভরসা রেখেছিল ওয়াশিংটন। তাদের দায়িত্ব ছিল দেশটির উত্তরাঞ্চলে অস্থায়ী কারাগারে আটক হাজারো আইএস যোদ্ধাদের পাহারা দেওয়া।

তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সিরীয় সরকার দেশটির উত্তরাঞ্চলের দখল নিতে বড় আকারে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। সে সময় উত্তরাঞ্চল থেকে আইএসের সদস্যদের পাশাপাশি কুর্দিদের সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) বাহিনীর সদস্যদেরও তাড়িয়ে দেয় সিরিয়ার সরকারি বাহিনী।

 

পাশাপাশি, সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার পর সেই কারাগার পাহারার কাজও ছেড়ে দেয় কুর্দিরা।
গত জানুয়ারিতে সিরিয়ায় নিযুক্ত বিশেষ মার্কিন দূত টম বারাক বলেছিলেন, কুর্দি এসডিএফের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রয়োজন’ ফুরিয়ে গেছে।

একই কায়দায়, ইরানেও কুর্দিদের প্রয়োজন মিটে গেলে তাদেরকেও ‘ছুঁড়ে ফেলতে’ পারে ওয়াশিংটন। এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই একদিন বিশ্বজগতে আলো ছড়াবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই একদিন বিশ্বজগতে আলো ছড়াবে। জ্ঞান-বিজ্ঞান কিংবা শিল্প-সাহিত্য চর্চার ধারা আরও শাণিত ও বিকশিত হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গুণীজনদের হাতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদানের পর দেওয়া বক্তব্যে এই আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এটি শুধু একটি পদকই নয়, বরং এই পদকের মধ্য দিয়ে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীকে স্মরণে আনার পাশাপাশি যেসব বিজ্ঞজন শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, গবেষণা চর্চায় নিজেদের এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় ঘটে।

তিনি বলেন, শুরুতে তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পুরস্কার ‘একুশে পদক’ এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ কমপক্ষে ১২ টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অর্জন।

জ্ঞান বিজ্ঞান কিংবা শিল্প ও সাহিত্য চর্চার ধারা আরো শাণিত এবং বিকশিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষা গবেষণা এবং শিল্প সাহিত্যের চর্চাকে আরও বেগবান করতে রাষ্ট্র এবং সরকার তার দায়িত্ব অবশ্যই পালন করবে।

শিক্ষা গবেষণা এবং শিল্প সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। জ্ঞান বিজ্ঞানে সব শাখায় যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে, নৈতিক মানসম্পন্ন তেমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষে বর্তমান সরকার কাজ করছে।’

জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক। বলা যায়, আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, অপরদিকে এটি ছিল জালেমের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস। আমাদের শেকড় সন্ধানী মাস।

জ্ঞানী-গুণীদের কর্ম এবং কর্মময় জীবনের সঙ্গে আপামর জনগণের পরিচয় করিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করে সরকার প্রধান বলেন, এ কারণেই আমরা প্রতি বছরের মতো এ বছর দেশের জ্ঞানী গুণী কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-ভাষাসংগ্রামীকে একুশে পদকে ভূষিত করেছি।

ভাষা শহীদদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা, স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র। এবার আমরা ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছি। অমর একুশের ভাষা-শহীদদের স্মরণে প্রবর্তিত আজকের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে ভাষা সংগ্রামীদের স্মরণ করছি।

তিনি তাদের মৃত্যুকে শহীদি মৃত্যু হিসেবে কবুল করার জন্যে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন।একইসঙ্গে তারেক রহমান একুশে পদকে ভূষিত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

এ বছর একুশে পদক পেয়েছেন- চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক মো. আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাশ্যুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ। এ ছাড়া জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’ সংগীত দল হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে।

যুদ্ধ-প্রস্তুতিতে সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই কোর্স ঢেলে সাজাবে চীন

স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য ‘এআই মূলনীতি ও ব্যবহারিক চর্চা’ কোর্স ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের সামরিক গবেষকরা।

চীনের সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের রোববারের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।

সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আধুনিক যুগের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করাই এর মূল লক্ষ্য।

ভবিষ্যৎ সামরিক কর্মকর্তাদের ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) যুদ্ধের’ জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে এই কোর্সে যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুশীলন যুক্ত করা হবে।

চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনইউডিটি) বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের গবেষকরা চীনের সামরিক শিল্পবিষয়ক সাময়িকী ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি কনভার্শান-এর জুলাই সংস্করণে তাদের এই প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।

এমন সময় এই প্রস্তাব এলো যখন চীন সেনা সদস্যদের ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।

এসব উদ্যোগের কেন্দ্রে আছে সেনাদের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত দক্ষতা বাড়ানো।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী এখন যুদ্ধের পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও অভিযানে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। যার ফলে, সেনাদের প্রশিক্ষণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাদের প্রশিক্ষিত করে তোলাই চীনের মূল লক্ষ্য। যুদ্ধক্ষেত্রে তারা যাতে প্রতিপক্ষের তুলনায় কোনো অবস্থাতেই পিছিয়ে না থাকে—এটাই নিশ্চিত করতে চায় শি জিনপিং-এর সরকার।

গবেষকরা মত দেন, এখন যেসব এআই কোর্স চালু আছে, সেগুলোতে সেনাদের কাজে লাগবে, এমন কিছু নেই বললেই চলে। ‘যুদ্ধের জন্য শিক্ষা’ বা যুদ্ধক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহারিক প্রয়োগে সহায়তা করতে এই কোর্সগুলোকে ঢেলে সাজানো দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২২ সালে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূলনীতি ও চর্চা’ নামের একটি কর্স চালু করে। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ের শিক্ষার্থীদের এআই সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার জন্য এই কোর্স চালু করা হয়। পাশাপাশি এআই নিয়ে বিশেষায়িত কোর্স ও ডিগ্রিও চালু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

গবেষকদের মত, শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিষয়ের পড়াশোনার সঙ্গে এআইকে সমন্বিত করা ও একটি উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো বিষয়গুলো এই কোর্সে বিবেচনা করা হয়েছে।

তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গবেষকরা কোর্সটি ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

কোর্সে একটি মানবহীন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে এআই কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা শেখানো হবে।

এই মানবহীন সামরিক অভিযানের বিভিন্ন অংশে কীভাবে এআইকে কাজে লাগানো যায়, সেটাই শিখবেন শিক্ষার্থীরা।

গবেষকদের প্রস্তাব মতে, আধুনিক যুগের জটিল ও সূক্ষ সামরিক অভিযানের বিভিন্ন পর্যায় উঠে আসবে এই কোর্সে।

এর মধ্যে থাকবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও পদক্ষেপ গ্রহণ; লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, এর অবস্থান নির্ধারণ ও অনুসরণ করা, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং সব শেষে, ফলাফল মূল্যায়ন।

উদাহরণ হিসেবে, ‘রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং’ এর কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।

সেখানে এআই ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ পদ্ধতিতে নতুন জ্ঞান অর্জন করে—অর্থাৎ, এটি ভুল থেকে শিক্ষা নেয়।

এই কোর্সে ওয়ার গেমিং ও কমব্যাট ডিসিশান মেকিংয়ের মতো অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করতে চান গবেষকরা।

অপরদিকে অপর্যাপ্ত বা নির্ভরযোগ্য নয় এমন তথ্যের ভিত্তিতে এআই কোনো সিদ্ধান্ত নিলে যুদ্ধক্ষেত্রে মারাত্মক বিপদ নেমে আসতে পারে—এ বিষয়টিও শ্রেণিকক্ষের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শিক্ষার্থীদের শেখাতে চান গবেষকরা।

গবেষক দলটি একটি অনলাইন সিমুলেশন প্ল্যাটফর্মও তৈরি করেছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা মানচিত্র ও পরিস্থিতি তৈরি করতে, বাহিনী ও মিশনের বিন্যাস নির্ধারণ করতে এবং কৃত্রিম যুদ্ধ অনুশীলনের মাধ্যমে এআই এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দিতে পারবে। এর মাধ্যমে রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও গভীর হবে।

এই প্ল্যাটফর্মে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাও রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন শিক্ষার্থী দলের প্রশিক্ষিত এআই এজেন্ট পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

এনইউডিটি চীনের সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। এটি চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

২০১৫ সালে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়টি চীনের পরমাণু প্রকল্পের সুপারকম্পিউটারে অননুমোদিত মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।

জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমাদেরও অন্যায় হয়: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়, তাই দলের নেতাকর্মীদেরও ভুল-ত্রুটি ও অন্যায় হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তবে কোনো অন্যায় বা অপরাধ প্রমাণিত হলে দল তা প্রশ্রয় দেবে না এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর ষান্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়। আমরা মানুষ, আমাদেরও ভুল-ত্রুটি হয়। পরিষ্কার করে বলেছি, অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমরা কোনো অন্যায় করি না। আমাদেরও ভুল হয়, অন্যায় হয়, দোষ হয়, অপরাধ হয়।’

তিনি জানান, যারা দেশ ও জাতিকে ভালোবাসেন, তাদের কাছে জামায়াতের আহ্বান—দলের কোনো সদস্যের অন্যায় বা অপরাধ চোখে পড়লে তা জানান।

‘আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা সংশোধন করব,’ যোগ করেন তিনি।

ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত বুধবার সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী মিজানুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে তার বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে দলটি নির্বাচন কমিশনকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

আজকের বক্তব্যে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘সাদা কাপড়ে দাগ কম লাগলেও, যে দাগ লাগে তা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তাই দলের দায়িত্বশীলদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীতে কোনো ছাড় নেই। সহনীয় মাত্রার কোনো বিচ্যুতি হলে আমরা সংশোধনের চেষ্টা করব এবং দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেব। কিন্তু সেই মাত্রা যদি গুরুতর হয়, তাহলে আমাদের কিছুই করার থাকবে না। আমাদের সিদ্ধান্তের দিকেই যেতে হবে।’

২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণ অর্থনৈতিক সংকট বাড়াতে পারে: সরকারি প্রতিবেদন

দেশের ভেতরে ও বৈশ্বিক বহুমুখী সংকটে এমনিতেই চাপে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। সরকারের একটি নতুন প্রতিবেদন বলছে, এমন সংকটের মধ্যেই ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে দেশের অর্থনীতি আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করলে বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ এই দুটি অঞ্চলই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার।

এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা (ওভারক্যাপাসিটি) নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। একই সঙ্গে শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানিতে বিধিনিষেধ জোরদার করার নীতিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহৎ রপ্তানি বাজার।

আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) বৈঠককে সামনে রেখে সরকার এ প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে অবস্থান করছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সূচি আরও তিন বছর পিছিয়ে দিয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়ার পক্ষে অন্যান্য দেশের সমর্থন আদায়ে তারা কাজ করছেন।

বাংলাদেশ, নেপাল ও লাওসের আগামী নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। তবে নজিরবিহীন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও বৈশ্বিক ধাক্কার কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রস্তুতির সময় আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত করার আবেদন জানিয়েছে।

এর আগে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করার আবেদন অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। এখন এ সুপারিশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি কমে যাওয়া এবং জ্বালানি ও সারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতির ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ইতোমধ্যেই অর্থনীতি ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণের চাপে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে এলডিসি থেকে উত্তরণ এবং এর ফলে রপ্তানিতে বিদ্যমান বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা হারালে অর্থনীতির ঝুঁকি আরও বাড়বে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ করে রপ্তানি ও ওষুধশিল্পে আন্তর্জাতিক সহায়তামূলক সুবিধাগুলো (ইন্টারন্যাশনাল সাপোর্ট মেজারস বা আইএসএম) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এসব সুবিধা হারালে দেশের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকালীন ও পরবর্তী সময়ের অন্যতম দুর্বলতা হিসেবে এসব আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতাকে চিহ্নিত করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হয়েছে। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে।

এছাড়া অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা হারানোর ঝুঁকি কমাতে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার জন্যও আরও সময় প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত ছাড় (আইপিআর ওয়েভার) শেষ হয়ে গেলে এবং দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দারিদ্র্য বাড়তে থাকায় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম বেড়ে যেতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও কর্মসংস্থানে আন্তর্জাতিক সহায়তামূলক ব্যবস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় বর্তমান অনিশ্চয়তার মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এতে টেকসই ও নির্বিঘ্ন উত্তরণ বাধাগ্রস্ত হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগের পাঁচ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি বছরে ৬ শতাংশের বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। তবে এরপর থেকে প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। ২০২২ সাল থেকে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। আর ২০২৫ সালে দারিদ্র্য আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে আরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এসব পণ্যের আমদানি ব্যয়ও অনেক বেড়েছে। বর্তমানে মোট আমদানি ব্যয়ের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি এসব পণ্যের পেছনে ব্যয় হচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে সময়ে তেলের আমদানি ব্যয় ৭২ শতাংশ এবং সারের আমদানি ব্যয় ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমার আগে পরিস্থিতির উন্নতির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

প্রতিবেদনটিতে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঋণ বিতরণ ও বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তহবিলের তীব্র ও কাঠামোগত সংকট তৈরি হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ঋণের সুদ ও ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়তে থাকায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে। ফলে অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি বিনিয়োগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং দেশে উচ্চ সুদের হার ও জ্বালানির দামের কারণে ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি কমছে।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় সরকারের ব্যয়ের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে টেকসই ও নির্বিঘ্ন এলডিসি উত্তরণের পথে এগোতে সরকারের অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন।