27.4 C
Dhaka
Home Blog

৫ জুলাই আমির খানের বিয়ের গুঞ্জন, পাত্রী কে?

বলিউডে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন অভিনেতা আমির খান। শোনা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্ককে এবার আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৫ জুলাই মুম্বাইয়ে নিজের বাসভবনেই ছোট ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করতে পারেন আমির।

খবর অনুযায়ী, এই আয়োজন হবে একেবারেই ব্যক্তিগত। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং হাতে গোনা কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছাড়া সেখানে আর কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। কয়েক মাস ধরেই দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এখন সেই সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

অবশ্য ছোট পরিসরের অনুষ্ঠান হলেও অতিথি তালিকা নিয়ে ইতোমধ্যে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
বলিউডের দুই সুপারস্টার শাহরুখ খান ও সালমান খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। আমিরের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা সবারই জানা। তবে শেষ পর্যন্ত তারা উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নির্ভর করবে তাদের ব্যস্ততার ওপর।

এর আগে, গত বছর নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো গৌরী স্প্র্যাটকে প্রকাশ্যে পরিচয় করিয়ে দেন আমির খান।

সেই সময়ই তিনি জানান, তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং তারা একে অপরের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে দেখা গেছে এই যুগলকে। ফলে বিয়ের খবর সামনে আসতেই তা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে।

গৌরী স্প্র্যাট বেঙ্গালুরুতে বেড়ে উঠেছেন। ফ্যাশন ও স্টাইলিং বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস থেকে।

তবে এখন পর্যন্ত আমির খান বা গৌরী স্প্র্যাটের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ফলে ৫ জুলাইয়ের সেই সম্ভাব্য আয়োজন আদৌ বাস্তব হচ্ছে কি না, তা জানতে ভক্তদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

পেজেশকিয়ানের ‘দুঃখপ্রকাশ’কে ‘ইরানের আত্মসমর্পণ’ বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ইরান ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

আজ শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।

তবে পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ওই দেশগুলো থেকে ইরানে হামলা না হলে তেহরান তাদের হামলা করবে না।

ট্রাম্প তার পোস্টে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ইঙ্গিত করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইরান এবং তাদের ওপর আর হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু এখন তারা আশপাশের দেশগুলোর কাছে পরাজিত হয়েছে।’

তার ভাষায়, হাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইরান মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে পরাজিত হয়েছে এবং বহু বছর এমনই থাকবে—যতক্ষণ না তারা আত্মসমর্পণ করে বা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।

তিনি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং তিনি তাদের স্বাগতম জানিয়েছেন। 

পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘লুজার’ অ্যাখ্যা দিয়ে এমন কিছু এলাকা ও গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান। 

বলেন, এসব গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত হামলার তালিকায় ছিল না।

৬৯ বছর বয়সী সাবেক কর্মকর্তাকে ধর্মসচিব নিয়োগ

মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদকে এক বছরের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

তার জন্ম ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই বলেও জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিন আল আজাদ ২০০৯ সাল পর্যন্ত নিয়মিত প্রশাসনের অংশ ছিলেন। বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার পর তিনি আর কোনো নিয়মিত প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেননি।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী সরকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, যোগ্যতার বিষয়গুলোকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা কখনো ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেনি। তাকে কেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি পদ্মা ব্রিজ রেলওয়ে লিঙ্ক প্রজেক্ট ফেজ-২ (ভাঙ্গা-বেনাপোল) ভূমি অধিগ্রহণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) পরিচালক ছিলেন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, সেটি ছিল ভবিষ্যতের ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল’।

আজ রোববার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশে যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি। তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়। তাদের কসরত করতে হয়, রিহার্সাল দিতে হয়। এরা যেন চব্বিশকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, ২০২৪ সালের পর তিনি মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ এবার পরিষ্কার হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, বরং আবর্জনার কলেবর আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যায় না। ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী।

জামায়াত আমির আরও বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর যারা নির্যাতিত ছিলেন, তাদের কেউ এখন সরকারি দলে, আবার কেউ বিরোধীদলে রয়েছেন। তবে বিরোধীদলের দায়িত্ব সরকারকে অন্ধভাবে বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো করলে তাকে সহযোগিতা-সমর্থন করা আর সরকার যদি কোনো অন্যায় করে, জনগণের কোনো অধিকার হরণ করে অথবা খারাপ পথে হাঁটে, তাহলে সরকারকে বাধা দেওয়া, প্রতিবাদ করা—এটাই বিরোধীদলের দায়িত্ব।

সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী সরকারের পথ অনুসরণের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকার সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে।

‘এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদের রাস্তা। এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা। এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। এই রাস্তা শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার রাস্তা’, বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কাউকে এই পথে চলতে দেবে না। সুতরাং বিরত থাকুন।

অনুষ্ঠানে দেশের ভাবমূর্তি ও নাগরিকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের কাছে একটি জাতির সম্মানের অন্যতম মানদণ্ড হচ্ছে তার ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা পাসপোর্ট।

বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর পেছনে দেশের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও দায়ী।

তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে বারবার ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা ঘটেছে এবং ক্ষমতায় আসা কেউই এ অপকর্ম থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি।

শফিকুর রহমান বলেন, মানুষকে ধরে নিয়ে বছরের পর বছর গুম করে রাখা, তাদের স্বজনদের অন্ধকারে রাখা এবং নির্যাতন চালানোর মতো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে।

তিনি সচেতন নাগরিকদের জুলাই জাদুঘর ও স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানান।

তবে ‘বিশেষ একটি দেশকে খুশি করার জন্য’ সেখানে অতীতের নির্যাতন ও রাজনৈতিক ঘটনাবলির অনেক স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।

৫ ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ করল সরকার

একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা পুরোনো মালিকদের হাতে ফিরে যাওয়ার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

এ সংক্রান্ত বিধান রেখে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে সংশোধনীটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, ‘দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনার মুখে এই ধারা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের আওতায় তৎকালীন সরকার পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করেছিল। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে সংসদে অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস হওয়ার সময় বিএনপি সরকার নতুন একটি ধারা যুক্ত করে। ওই ১৮(ক) ধারার মাধ্যমে এসব ব্যাংকের সাবেক মালিকদের আবারও মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

এই বিধান বহাল রাখায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে এখন বিতর্কিত ওই ধারাটি বাতিল করা হলো।

তবে ধারাটি বাতিলের বিষয়ে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারার সব শর্ত মেনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় সরকার ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৈঠকে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া ‘ভিসা নীতি-২০২৬’-এরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পেনাল্টি মিসের পরেও এমবাপে থাকায় নির্ভার ছিলেন দেশম

শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পুরো প্রথমার্ধ গোলহীন ছিল ফ্রান্সের আক্রমণভাগ। মরক্কোর বিপক্ষে সুযোগ এসেছিল ৩০ মিনিটের আগেই এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু পেনাল্টি মিস করে বসেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপে। এরপর প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা না পাওয়ায় পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ নিশ্চয়ই ছিল ফ্রান্স সমর্থকদের। তবে কোচ দিদিয়ের দেশম বলেছেন, দলে এমবাপে থাকায় সম্পূর্ণ নির্ভার ছিলেন তিনি। 

মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। এমন জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন কোচ দেশম। সেখানেই এমবাপেকে আবারও প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস, সাথে কিছু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা- সব মিলিয়ে ম্যাচটা কঠিন ছিল। কিন্তু যখন আপনার দলে এমবাপে আছে, তখন সংশয়ের কোনো কারণ নেই। যদিও সে পেনাল্টি মিস করেছে, কিন্তু গোলের সামনে সে কখনো দ্বিধায় ভোগে না। অনেকে বলে সে নাকি একনায়ক, শুধু নিজের কথাই ভাবে। কিন্তু আসল কথা হলো সে দলের অধিনায়ক এবং একজন অনুকরণীয় ফুটবলার’। 

ব্রাজিল ও জার্মানির পর তৃতীয় দল হিসেবে ৮ বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার নজির গড়েছে ফ্রান্স। এর মধ্যে দেশমের অধীনে গত তিন বিশ্বকাপেই তিনবার। খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতার বিরল রেকর্ডের মালিক দেশম তার দলের এমন অজেয় মানসিকতায় গর্বিত, ‘টানা তিন বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দারুণ অর্জন। যদিও আমাদের কাছে এটা যৌক্তিক ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, তাও আপনাকে কষ্ট করেই এরকম অর্জন করতে হবে’। 

ফ্রান্সের এই দলের এমন অপরাজেয় যাত্রার পেছনে কোনো রহস্য আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দেশম বলেন, ‘কৃতিত্ব অবশ্যই খেলোয়াড়দের, তবে আমিও মনে হয় নিজের কাজটা ভালোই করছি। এটি আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। দিনশেষে মাঠের পারফরম্যান্সই একমাত্র সত্য, তবে এর সাথে জড়িত মানবিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনো হুবহু অনুকরণ করার মতো বিষয় নয়, কারণ পরিস্থিতি বা পরিবেশ কখনোই একরকম থাকে না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ফ্রান্সের জার্সির মর্যাদা। এই দলও সেটি একই রকম ভাবে অনুভব করছে দেখে ভালো লাগছে’। 

ম্যাচের ১৩ মিনিট বাকি থাকতে হাঁটুতে অস্বস্তি বোধ করায় এমবাপেকে তুলে নেন দেশম। তবে ফ্রান্স কোচ নিশ্চিত করেছেন, চিন্তিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি, বরং সতর্কতাবশতই অধিনায়ককে মাঠ থেকে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। 

রইদ সিনেমার যে গানে নায়িকা তুষির কণ্ঠ

অভিনেত্রী নাজিফা তুষি প্রথম আলোচিত হয়েছিলেন মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ সিনেমায় অভিনয় করে। গত ঈদুল ফিতরে রায়হান রাফী নির্মিত ‘প্রেসার কুকার’ সিনেমাতেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এবার ঈদুল আজহায় মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’ সিনেমায়ও তার অভিনয় প্রশংসিত হচ্ছে।

সিনেমাটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি নাজিফা তুষির কণ্ঠে ‘পাগলীর প্রেম জ্বালা’ শিরোনামে গান প্রকাশিত হয়েছে। গানটির কথা ও সুর করেছেন বশর কোম্পানী। এই গানের সংগীতায়োজন করেছেন সোহাগ চক্রবর্তী।

গানটি নিয়ে নাজিফা তুষির ভাষ্য, ‘অভিনয়ই আমার মূল পরিচয়। কিন্তু, গান সবসময়ই আমার ব্যক্তিগত ভালোবাসার জায়গা। তবে প্রথমবার সিনেমার গানে কণ্ঠ দিতে গিয়ে দর্শক কীভাবে গ্রহণ করবে, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘গানটি প্রকাশের আগেই মঞ্চে গাওয়ার পর যে সাড়া পেয়েছি, সেটা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সিনেমার গল্প ও আবহের সঙ্গে গানটির আবেগ গভীরভাবে মিশে আছে। সেই অনুভূতি থেকেই গানটি গাওয়ার চেষ্টা করেছি।’

‘রইদ’ সিনেমা প্রসঙ্গে তুষি বলেন, ‘“রইদ” প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা না। একটু বেশি অনুভব করার মতো সিনেমা। এখানে প্রতিটি অনুভূতির আলাদা সৌন্দর্য আছে। এটা একটু থেমে গিয়ে দেখার মতো, গভীর অনুভূতির সিনেমা।’

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’ মাল্টিপ্লেক্সের ১১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবন সংগ্রাম নিয়ে এগিয়েছে সিনেমার গল্প।

এতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ।

প্রথমবার ট্রেডমিল কিনছেন? কেনার আগে যে ৮টি বিষয় অবশ্যই দেখে নিন

ট্রেডমিল এমন একটি জিনিস, যা কিনতে অনেক টাকা লাগে, আবার কিনে ভুল করলে সেই টাকা সহজে ফেরত পাওয়াও যায় না। অনেকেই শুধু দাম আর ছবি দেখে অর্ডার করে ফেলেন, তারপর দেখা যায় মেশিনটা তাঁর ওজনের জন্য দুর্বল, ঘরে জায়গা কম পড়ছে, কিংবা কয়েক মাস পরই বেল্ট বা মোটরে সমস্যা শুরু হয়েছে। এমন অভিজ্ঞতা এড়ানোর জন্য কেনার আগে কয়েকটি বিষয় একটু সময় নিয়ে মিলিয়ে দেখা দরকার।

এই লেখায় প্রথমবার ট্রেডমিল কিনতে যাওয়া মানুষের জন্য আটটি বাস্তব চেকলিস্ট দেওয়া হলো। সবকটি মনোযোগ দিয়ে দেখলে আপনি নিজের প্রয়োজন ও বাজেটের সঙ্গে মানানসই মেশিন বেছে নিতে পারবেন।

১. আগে ঠিক করুন, ট্রেডমিল দিয়ে কী করবেন

সবকিছুর আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন: আমি এই মেশিনে মূলত কী করব? উত্তরটি আপনার পুরো সিদ্ধান্তকে নির্দেশ করবে।

  • শুধু হাঁটার জন্য: বয়স্ক সদস্য বা হালকা ব্যায়ামের জন্য কম শক্তির মোটরের ফোল্ডিং মডেলই অনেক সময় যথেষ্ট।
  • নিয়মিত জগিং বা দৌড়ের জন্য: এ ক্ষেত্রে শক্তিশালী মোটর, চওড়া বেল্ট ও ভালো শক ঠেকানোর ব্যবস্থা থাকা মডেল বেছে নেওয়া উচিত।
  • একাধিক সদস্য ব্যবহার করবে: তাহলে টেকসই ও বেশি ওজন বহনক্ষম মেশিন ভালো।
  • জিম বা ফিটনেস সেন্টারের জন্য: সেখানে কমার্শিয়াল গ্রেডের মেশিন দরকার, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলতে পারে।

নিজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট থাকলে অপ্রয়োজনীয় ফিচারের জন্য বাড়তি টাকা খরচ করতে হয় না।

২. মোটরের ক্ষমতা (HP) এবং ধরন দেখুন

ট্রেডমিলের প্রাণ হলো তার মোটর। মোটরের ক্ষমতা সাধারণত হর্সপাওয়ার বা HP দিয়ে বলা হয়। এখানে দুটি বিষয় বোঝা জরুরি।

প্রথমত, অনেক বিক্রেতা “পিক HP” বা সর্বোচ্চ ক্ষমতা বড় করে লেখেন। কিন্তু প্রতিদিনের ব্যবহারে যে ক্ষমতা মেশিন ধরে রাখতে পারে, তা হলো “কন্টিনিউয়াস HP”। যে মেশিনে কন্টিনিউয়াস HP উল্লেখ আছে, সেটি তুলনা করার জন্য বেশি নির্ভরযোগ্য।

দ্বিতীয়ত, মোটর সাধারণত দুই ধরনের হয়: ডিসি (DC) ও এসি (AC)। ডিসি মোটর সাধারণত বাড়ির ব্যবহারের জন্য উপযোগী, শব্দ তুলনামূলক কম ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এসি মোটর ভারী ও দীর্ঘক্ষণ চলার মতো কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়, যেমন জিম বা কমার্শিয়াল সেটআপে।

সাধারণ নিয়ম হিসেবে, যাঁরা প্রতিদিন জগিং বা দৌড়াবেন, তাঁদের জন্য হাঁটার চেয়ে শক্তিশালী মোটর বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. ওজন বহনের সীমা মিলিয়ে নিন

প্রতিটি ট্রেডমিলে সর্বোচ্চ ব্যবহারকারীর ওজন লেখা থাকে। শুধু নিজের ওজন ধরে মেশিন কেনা ঠিক নয়। নিজের বর্তমান ওজনের চেয়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০ কেজি বেশি সীমার মেশিন বেছে নিলে মেশিন কম চাপে চলে এবং বেশিদিন টেকে। ভবিষ্যতে পরিবারের অন্য কেউ ব্যবহার করলেও সুবিধা হবে।

৪. বেল্টের মাপ ও আরাম

বেল্ট বা রানিং সারফেস যত চওড়া ও লম্বা হবে, চলতে তত স্বচ্ছন্দ লাগবে। হাঁটার জন্য সাধারণ মাপই চলে, কিন্তু দৌড়ানোর সময় দৈর্ঘ্য কম হলে পা ফেলতে অস্বস্তি হয়। আপনার উচ্চতা ও পায়ের ধাপ অনুযায়ী মাপ মিলিয়ে নিন।

এ ছাড়া শক অ্যাবজর্পশন বা কুশনিং ব্যবস্থা আছে কি না দেখুন। ভালো কুশনিং হাঁটু ও গোড়ালির ওপর আঘাতের চাপ কমায়, যা নিয়মিত ব্যবহারকারীর জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

৫. ঘরের জায়গা ও ফোল্ডিং সুবিধা

অনেকে মেশিন কেনার পর দেখেন ঘরে সেটি রাখার মতো জায়গাই নেই। কেনার আগে ট্রেডমিলটি বসানোর জায়গা মেপে নিন। মেশিনের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছাড়াও পেছনে কিছুটা খালি জায়গা রাখা নিরাপত্তার জন্য দরকার।

ঢাকার মতো শহরের ফ্ল্যাটে জায়গা সীমিত। তাই ফোল্ডিং ট্রেডমিল এখানে খুব কাজের, কারণ ব্যবহারের পর ভাঁজ করে সরিয়ে রাখা যায়। আর দরজা বা সিঁড়ি দিয়ে মেশিন ঢোকানো যাবে কি না, সেটাও আগে দেখে নিন।

৬. দরকারি ফিচার, অপ্রয়োজনীয় ফিচার

আধুনিক ট্রেডমিলে নানা ফিচার থাকে। এর মধ্যে কোনগুলো আপনার কাজে লাগবে, সেটা বুঝে নিন।

  • ইনক্লাইন (ঢাল): ঢালে হাঁটার সুবিধা থাকলে ব্যায়ামে বৈচিত্র্য আসে।
  • ডিজিটাল ডিসপ্লে: সময়, গতি, দূরত্ব ও ক্যালরির হিসাব দেখতে সুবিধা।
  • হার্ট রেট সেন্সর: নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য উপকারী।
  • সেফটি কি: জরুরি অবস্থায় মেশিন সঙ্গে সঙ্গে থামানোর জন্য অপরিহার্য।
  • প্রি-সেট প্রোগ্রাম: নতুনদের জন্য সহায়ক।
  • মাল্টিফাংশন সুবিধা: কিছু মডেলে ম্যাসাজার বা সিট-আপ বেঞ্চের মতো বাড়তি সুবিধা থাকে।

যে ফিচার আপনি ব্যবহার করবেন না, তার জন্য বাড়তি দাম গুনবেন না। আবার সেফটি কি ও ভালো ডিসপ্লের মতো মৌলিক জিনিসে আপস করবেন না।

৭. ওয়ারেন্টি, সার্ভিস ও খুচরা যন্ত্রাংশ

ট্রেডমিল একটি যান্ত্রিক পণ্য। কিছুদিন পর বেল্ট, বিয়ারিং, মোটর বা কন্ট্রোল বোর্ডে সমস্যা আসতে পারে। তাই বিক্রয়োত্তর সেবা দাম বিবেচনার সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেনার আগে জেনে নিন:

  • ওয়ারেন্টি কত মাসের এবং এর মধ্যে কোন কোন অংশ ঢাকা পড়ে (মোটর, ফ্রেম, ইলেকট্রনিক্স আলাদা কি না)।
  • সার্ভিস সেন্টার বা টেকনিশিয়ান আপনার শহরে আছে কি না।
  • প্রয়োজনে খুচরা যন্ত্রাংশ সহজে পাওয়া যায় কি না।
  • ইনস্টলেশন ও ডেলিভারি কীভাবে হবে।

যে প্রতিষ্ঠান কেবল বিক্রি করে, কিন্তু সার্ভিস দেয় না, তাদের কাছ থেকে কেনার আগে একটু ভাবুন।

৮. বাজেট ঠিক করুন এবং দাম তুলনা করুন

বাংলাদেশে ট্রেডমিলের দামের পরিসর বেশ বড়। ম্যানুয়াল মডেল তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়, বাড়ির ব্যবহারের ফোল্ডিং মোটরচালিত মডেলের দাম মাঝামাঝি, আর জিম বা কমার্শিয়াল মেশিনের দাম অনেক বেশি। দাম নির্ভর করে মোটরের ক্ষমতা, ব্র্যান্ড, বিল্ড কোয়ালিটি ও ফিচারের ওপর।

একটি ভালো পদ্ধতি হলো আগে নিজের সর্বোচ্চ বাজেট ঠিক করা, তারপর একাধিক বিক্রেতার কাছে একই ধরনের মডেলের দাম মিলিয়ে দেখা। তুলনার সময় শুধু দামই নয়, একই সঙ্গে ওয়ারেন্টি ও সার্ভিসের শর্তও মেলান। এই কাজে একটি সুসংগঠিত ট্রেডমিল প্রাইস ইন বাংলাদেশ তালিকা দেখলে একসঙ্গে অনেক মডেল ও দামের ধারণা পাওয়া সহজ হয়।

কেনার আগে ঝটপট চেকলিস্ট

ট্রেডমিল অর্ডার দেওয়ার আগে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর “হ্যাঁ” কি না মিলিয়ে নিন:

  • আমি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করব, তা ঠিক করেছি?
  • মোটরের কন্টিনিউয়াস HP জেনেছি?
  • মেশিনের ওজন সীমা আমার ওজনের চেয়ে অন্তত ১৫-২০ কেজি বেশি?
  • বেল্টের মাপ আমার জন্য আরামদায়ক?
  • ঘরে রাখার জায়গা মেপে নিয়েছি?
  • সেফটি কি ও প্রয়োজনীয় ফিচার আছে?
  • ওয়ারেন্টি ও সার্ভিসের শর্ত পরিষ্কার জেনেছি?
  • একাধিক জায়গার দাম মিলিয়ে দেখেছি?

প্রথমবার ক্রেতাদের সাধারণ কিছু ভুল

শুধু সবচেয়ে কম দাম দেখে কেনা। খুব কম দামের মেশিনে মোটর ও ফ্রেম প্রায়ই দুর্বল হয় এবং কিছুদিন পরই সমস্যা দেখা দেয়।

মোটরের “পিক HP” দেখে বিভ্রান্ত হওয়া। যেটি লেখা আছে, সেটি কোন ধরনের HP তা নিশ্চিত হয়ে নিন।

সার্ভিস সুবিধা না জেনে কেনা। পরে যন্ত্রাংশ বা মেকানিক খুঁজে হয়রান হতে হয়।

ওজন সীমা এড়িয়ে যাওয়া। সীমার কাছাকাছি ওজন নিয়ে নিয়মিত চালালে মেশিন তাড়াতাড়ি ক্ষয় হয়।

সামনাসামনি পরীক্ষা না করা। সম্ভব হলে শোরুমে গিয়ে মেশিনে হেঁটে দেখলে আরাম ও শব্দের ধারণা পাওয়া যায়।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: বাড়ির জন্য কত HP-এর ট্রেডমিল ভালো? উত্তর: শুধু হাঁটার জন্য কম শক্তির মোটরই চলে, তবে নিয়মিত জগিং বা দৌড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে তুলনামূলক বেশি কন্টিনিউয়াস HP-এর মেশিন নেওয়া ভালো। আপনার ওজন ও ব্যবহারের ধরনও এখানে বিবেচ্য।

প্রশ্ন: ম্যানুয়াল না মোটরচালিত, কোনটা কিনব? উত্তর: বাজেট সীমিত ও শুধু হালকা হাঁটার জন্য ম্যানুয়াল ভালো শুরু হতে পারে। গতি নিয়ন্ত্রণ, ইনক্লাইন ও দৌড়ের সুবিধা চাইলে মোটরচালিত মডেল উপযুক্ত।

প্রশ্ন: ডিসি মোটর নাকি এসি মোটর? উত্তর: বাড়ির ব্যবহারের জন্য সাধারণত ডিসি মোটর উপযোগী, আর জিম বা ভারী কাজের জন্য এসি মোটর বেশি প্রচলিত।

প্রশ্ন: ট্রেডমিলের ওয়ারেন্টিতে কী কী দেখা উচিত? উত্তর: মোটর, ফ্রেম ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের জন্য আলাদা ওয়ারেন্টি আছে কি না, মেয়াদ কত এবং সার্ভিস কীভাবে মিলবে, তা লিখিতভাবে জেনে নিন।

প্রশ্ন: ট্রেডমিল অনলাইনে কেনা কি নিরাপদ? উত্তর: নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে কিনলে ও পণ্য হাতে পেয়ে পরীক্ষা করার সুযোগ থাকলে এটি নিরাপদ হতে পারে। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, রিভিউ ও রিটার্ন নীতি যাচাই করে নিন।

শেষ কথা

একটি ভালো ট্রেডমিল আপনার স্বাস্থ্যচর্চার সঙ্গী হতে পারে বহু বছর ধরে, আবার ভুল সিদ্ধান্ত অল্প দিনেই বিরক্তির কারণ হতে পারে। তাই তাড়াহুড়া না করে নিজের উদ্দেশ্য, বাজেট, জায়গা ও সার্ভিস সুবিধা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। এই আটটি বিষয় মেনে চললে প্রথমবার কেনাতেই আপনি একটি নির্ভরযোগ্য ও মানানসই ট্রেডমিল বেছে নিতে পারবেন।

ইউক্রেন যুদ্ধে নামছে সশস্ত্র রোবট

রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের যুদ্ধ ক্রমেই উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর সংঘাতে পরিণত হয়েছে। গোয়েন্দা ও হামলাকারী ড্রোনের ঝাঁকে ইউক্রেনের আকাশ সরব। চালকবিহীন নৌযান কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নৌবাহিনীকে বড় ক্ষতির মুখেও ফেলেছে।

শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতো হলেও স্থলযুদ্ধে বড় আকারে সশস্ত্র রোবট ব্যবহার শুরু করেছে ইউক্রেন। আর রাশিয়া আগে থেকেই এগুলো ব্যবহার করছে।

চালকবিহীন স্থলযান বা ইউজিভি (আনম্যানড গ্রাউন্ড ভেহিকল), যাকে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ‘গ্রাউন্ড রোবট সিস্টেম’ বলে, ইতোমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা দেখিয়েছে।

এসব রোবট রুশ হামলা ঠেকাতে সাহায্য করেছে। কিছু ক্ষেত্রে শত্রু সেনাদের বন্দি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় ও রুশ হামলাকারী রোবট মানুষের উপস্থিতি ছাড়াই একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর কে–২ ব্রিগেডের সদস্য ওলেক্সান্দর আফানাসিয়েভ বিবিসিকে বলেন, ‘রোবট যুদ্ধ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।’

তার দাবি, তিনি বিশ্বের প্রথম ইউজিভি ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এই ব্রিগেড তাদের রোবটগুলোর ওপর কালাশনিকভ মেশিনগান বসিয়ে ব্যবহার করছে। আফানাসিয়েভ বলেন, ‘যে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পদাতিক সৈন্য যেতে ভয় পায়, সেখানে এগুলো গুলি চালাতে পারে। একটি ইউজিভি নিজের অস্তিত্ব ঝুঁকিতে ফেলতেও প্রস্তুত।’

তার ব্যাটালিয়ন বিস্ফোরকবোঝাই ব্যাটারিচালিত ‘কামিকাজে’ নামিক ইউজিভি ব্যবহার করছে। এগুলো দিয়ে শত্রুর অবস্থান ও ঘাঁটি ধ্বংস করা হচ্ছে। আকাশে উড়ন্ত ড্রোনের মতো গুঞ্জনধ্বনি না থাকায় এগুলো হামলার আগে শত্রুকে সতর্কও করে না।

৩৩তম স্বতন্ত্র মেকানাইজড ব্রিগেডের ট্যাংক ব্যাটালিয়নের উপকমান্ডার যার কলসাইন আফগান বলেন, একটি মেশিনগান-সজ্জিত ইউক্রেনীয় ইউজিভি অতর্কিতে একটি রাশিয়ান সৈন্যবাহী যান আক্রমণ করেছিল। আরেকটি রোবট কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি ইউক্রেনীয় অবস্থান রক্ষা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে আফগান স্বীকার করেন, এসব রোবটের স্বায়ত্তশাসনের সীমা রয়েছে। নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই এই সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে।

তার ভাষ্য, ‘আধুনিক ইউজিভি আংশিক স্বয়ংক্রিয়। তারা নিজেরাই চলতে পারে এবং শত্রুকে শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত এখনো মানুষ বা অপারেটরই নেন।’

কারণ, রোবট ভুল করে কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষের হাতেই রাখা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্বে থাকা অপারেটররা ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন।

ইউক্রেনের ইউজিভিগুলো মেশিনগানের পাশাপাশি গ্রেনেড লঞ্চারেও সজ্জিত হতে পারে। এগুলো ল্যান্ডমাইন বসানো বা কাঁটাতারের প্রতিবন্ধক বসাতেও ব্যবহৃত হয়।

তবে বেশির ভাগ চালকবিহীন যান এখনো সরঞ্জাম সরবরাহ এবং আহতদের সরিয়ে নেওয়ার মতো কাজেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধান এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যে দেশটির রাষ্ট্রদূত ভ্যালেরি জালুঝনি মনে করেন, সশস্ত্র ইউজিভির ভূমিকা দ্রুত বাড়বে।

লন্ডনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসে ভবিষ্যতের যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আক্রমণাত্মক ইউজিভিগুলো শুধু এককভাবে নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রিত বড় ড্রোন ঝাঁকের অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।

তিনি বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে ডজন ডজন, এমনকি শত শত আরও বুদ্ধিমান ও সস্তা ড্রোন আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে একযোগে হামলা চালাবে।’

এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পেছনে বড় কারণ প্রয়োজন। আকাশে ড্রোনের উপস্থিতির কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের থাকা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ইউক্রেনের তথাকথিত ‘কিল জোন’ যোগাযোগরেখা থেকে ২০–২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

আফানাসিয়েভ বলেন, পদাতিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়, তবে ‘তাদের ইউজিভির সহায়তা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেন রোবট হারানোর ঝুঁকি নিতে পারে, কিন্তু যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সৈন্য হারানোর ঝুঁকি নিতে পারে না।’

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে রয়েছে এবং নিহত সৈন্যদের পরিবর্তে নতুন সদস্য নিয়োগ করাও কঠিন হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে রাশিয়াও যুদ্ধোপযোগী ইউজিভি তৈরি করছে।

রুশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব যানে ফ্লেমথ্রোয়ার বা ট্যাংকে ব্যবহৃত ভারী মেশিনগান বসানো যায়। এটি পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে।

রাশিয়ান সেনাবাহিনী ‘লিয়াগুশকা’ বা ‘ব্যাঙ’ নামক যানও ব্যবহার করছে, যা ইউক্রেনীয় অবস্থান ধ্বংসে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় ইউজিভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেভড্রয়েডের প্রধান নির্বাহী ইউরি পোরিতস্কি মনে করেন, খুব শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ ও ইউক্রেনীয় রোবট একে অপরের মুখোমুখি হবে।

তার কোম্পানি গত বছর সেনাবাহিনীর জন্য শত শত ‘স্ট্রাইক ড্রয়েড’ তৈরি করেছে।

পোরিতস্কি বলেন, ‘রোবট যুদ্ধ শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মতো লাগতে পারে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে এটি কল্পনা নয়, বাস্তবতা।’

তার কোম্পানি এখন এমন প্রযুক্তি তৈরির কাজ করছে যাতে অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে রোবটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘাঁটিতে ফিরে যেতে পারে।

ভবিষ্যতে এসব রোবটকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে তারা নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে নজরদারি বা যুদ্ধ পরিচালনা করে নির্দিষ্ট সময়ে ঘাঁটিতে ফিরে আসতে পারে।

ইউক্রেনের আরেক ইউজিভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেনকোর পরিচালক মাকসিম ভাসিলচেঙ্কো জানান, ২০২৫ সালে তাদের কোম্পানি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য ২ হাজারের বেশি ইউজিভি তৈরি করেছে।

তার আশা, ২০২৬ সালে এই চাহিদা প্রায় ৪০ হাজার ইউনিটে পৌঁছাবে, যার অন্তত ১০–১৫ শতাংশ হবে অস্ত্রসজ্জিত।

ভাসিলচেঙ্কো বলেন, ‘স্ট্রাইক ড্রোন বা ইউজিভি যুদ্ধক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে উঠবে—কোনো সন্দেহ নেই।’

তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে রোবট মানুষের আকৃতিতেও যুদ্ধে অংশ নিতে পারে। তার ভাষ্য, ‘তখন আর এটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী থাকবে না।’

বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন নির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। যেদিন স্পিকার নির্বাচন হবে সেদিনই ডেপুটি স্পিকারকে নির্বাচন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা জুলাই সনদের প্রতি সম্মান জানাই এবং যে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছ তার বাস্তবায়ন শুরু করতে চাই। সরকারি দল মৌখিকভাবে বিরোধী দলের কাছে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছে।