30 C
Dhaka
Home Blog

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, আজ ঘোষণা

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় সূত্রে এমনটি জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ১০ দিনে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময় শেষে এলজিআরডি মন্ত্রী ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান।

এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন দলের চেয়ারম্যান।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকেই তারেক রহমান প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে পারেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হবে। এরপর প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে।’

সূত্র জানায়, ৭৮ বছর বয়সী ফখরুল এই বৈঠকেই তার মন্ত্রিত্বের পদ ছাড়তে পারেন, এমনটি ধারণা করা হচ্ছে।

এরপর বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনে যাবেন। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হতে পারে এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।

বিএনপির চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি জানান, জামায়াতে ইসলামী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম জনসমক্ষে ঘোষণা করা হবে।’

তফসিল অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

গত ১ আগস্টের এক বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনের জন্য তারেক রহমানকে পূর্ণ ক্ষমতা দেয়।

৯ আগস্ট মনি এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর পরের দিন রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদীয় অধিবেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট দেবেন।

২৪ জুলাই মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। তখন থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এলজিআরডি মন্ত্রী ছাড়াও ফখরুল বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য এবং বিএনপির মহাসচিবের পদে রয়েছেন। তিনি যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবে তাকে এই তিনটি পদই ছেড়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও দলকে তার স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে।

কেন ফখরুল?

বিএনপি মনে করে, দলের ভেতরে একজন পরীক্ষিত নেতা হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের কাছে ফখরুলের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ফখরুলকে সম্মানিত করতে চায়।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের মুখে বিএনপি ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। দলের প্রধান খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন এবং তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত অবস্থায় ছিলেন।

এই দুই শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতিতে ফখরুল দীর্ঘ সময় ধরে দেশের ভেতরে বিএনপির প্রধান দৃশ্যমান নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সংকটের সময়ে দলকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দল বিশ্বাস করে, তাকে পুরস্কৃত করা হলে তা একটি জোরালো উদাহরণ সৃষ্টি করবে এবং দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটের সময় এই পদটি বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য এখন তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়েছে। অতীতে এ ধরনের সময়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির অবস্থান, দলের ভেতর থেকেই একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত।

রাজনৈতিক জীবন

ফখরুল ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে, ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ফখরুল তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি নবম সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ফখরুল ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে এই নেতার জন্ম।

গাজীপুরে ২ শতাধিক ছোট পোশাক কারখানায় ৩ দিনের ছুটি

গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে এবং সামনে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গাজীপুরের দুই শতাধিক ছোট ও সাব-কন্ট্রাক্টিং পোশাক কারখানায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার গাজীপুর শিল্প পুলিশের (ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে ফোনে বলেন, মূলত সাব-কন্ট্রাক্টিং এবং ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতেই এই ছুটি দেওয়া হয়েছে, কারণ গ্যাসের নিম্নচাপের ফলে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সরকারি ছুটি ছিল। এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ (বৃহস্পতিবার) একদিনের জন্য কারখানা না খুলে টানা তিন দিনের ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বড় বড় কারখানাগুলো আজ পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, কারখানা বন্ধের পেছনে শুধুমাত্র গ্যাসের স্বল্প চাপই একমাত্র কারণ নয়। যারা এই পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি গ্যাস সংকটকে দায়ী করছেন, তাদের তথ্যকে তিনি ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে  আখ্যা দেন।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে আগেও বিভিন্ন সময় কারখানাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি ছুটি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অবস্থাকে তিনি খুব বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গাজীপুর অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, গাজীপুরে বর্তমানে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

তিনি আরও যোগ করেন, শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিকসহ প্রায় সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ বর্তমানে বিঘ্নিত হচ্ছে।

রোনালদো কখনোই সমস্যা নয়, জানালেন পর্তুগাল কোচ

পর্তুগাল জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন হোর্হে জেসুস। অভিজ্ঞ এই কোচ জানিয়ে দিয়েছেন, রোনালদো যদি খেলার মতো ফিট থাকেন এবং জাতীয় দলে নির্বাচনের যোগ্যতা ধরে রাখেন, তাহলে তাকে অবশ্যই দলে ডাকবেন।

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পর্তুগালের কোচ হিসেবে পরিচয় পর্বে জেসুস বলেন, ‘সে যত দিন খেলবে এবং নির্বাচনের মতো অবস্থায় থাকবে, আমি তাকে দলে নেব। অবশ্যই সেটা জাতীয় দলের স্বার্থ ও আমার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই হবে।’

৪১ বছর বয়সী রোনালদোর জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ সুখকর ছিল না। শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। পুরো আসরে তার পারফরম্যান্সও সমালোচনার মুখে পড়ে। 

বিশ্বকাপের আগেই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।

জেসুস জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো রোনালদোর সঙ্গে তার কথা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই দুজন বসে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবেন।

‘এখনো ক্রিসের সঙ্গে কথা হয়নি। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, ক্রিস কখনোই জাতীয় দলের জন্য সমস্যা ছিল না, আমার জন্যও হবে না,’ বলেন ৭১ বছর বয়সী এই কোচ।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ক্রিস পর্তুগিজ ফুটবলের প্রতীক, জাতীয় দলেরও প্রতীক। ইতিহাসে তার নাম চিরকাল লেখা থাকবে। গত এক বছর তার সঙ্গে কাজ করে আমি দারুণ আনন্দ পেয়েছি। তার সঙ্গে কাজ করা খুবই সহজ। এখন আমরা বসে আলোচনা করব, সে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে চায়।’

গত মৌসুমে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে রোনালদোর কোচ ছিলেন জেসুস। তার অধীনেই ক্লাবটি সৌদি প্রো লিগ শিরোপা জেতে। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জেসুস বলেন, ‘আমি জানি, সে আল-নাসরেই খেলতে চায়। সে আমাকে বারবার বলেছে, “আমি আল-নাসরেই আমার ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই।”‘

রবার্তো মার্টিনেজের স্থলাভিষিক্ত হওয়া জেসুস ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত পর্তুগালের দায়িত্বে থাকবেন। সেই বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশের একটি হবে পর্তুগাল, বাকি দুটি স্পেন ও মরক্কো।

 

মীরার সঙ্গে আগুন চরিত্রের একটা কেমেস্ট্রি রয়েছে: সাবিলা নূর

ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া সিনেমা রকস্টারে ভিন্নধর্মী চরিত্রে দেখা গেছে অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে। শাকিব খানের বিপরীতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘মীরা’ চরিত্রে। মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে একাধিকবার প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত হয়েছেন এবং দর্শকের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন এই অভিনেত্রী।

সাবিলা নূর জানান, তিনি সবসময়ই ভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে দেখতে চান।

এর আগে ‘তাণ্ডব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো আলাদা ঘরানার কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিটি চরিত্রেই নতুনভাবে নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করেছেন। রকস্টারে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চেয়েছেন।

‘মীরা’ চরিত্র নিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তুতির সময় খুব বেশি ছিল না—মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই চরিত্রটিকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

সিনেমার নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন সাবিলা। তার ভাষায়, শাকিব খানের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা সবসময়ই আনন্দের। তিনি খুবই ডেডিকেটেড, ডিসিপ্লিনড এবং সহশিল্পীদের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ।

রকস্টারে শাকিব খানের চরিত্র আগুনের সঙ্গে মীরার সম্পর্ক নিয়েও তিনি ইঙ্গিত দেন এক ভিন্ন রসায়নের। তার মতে, এই দুই চরিত্রের মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের কেমিস্ট্রি তৈরি হয়েছে, যা সিনেমাটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

সাবিলা নূর বলেন, রকস্টার মূলত একজন মানুষের জীবন, তার সংগীতের পথচলা এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার গল্প।
দেশের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই গল্প দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সব মিলিয়ে রকস্টার কেবল একটি প্রেম বা সংগীতের গল্প নয়—বরং ভিন্ন ধরনের চরিত্র ও সম্পর্কের মাধ্যমে নতুন এক অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো। ঈদের সময় দেশের ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হয়। স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রথম দিনে ১৮টি শো থাকলেও পরের দিন তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬টিতে।

ইরানের স্কুলে হামলায় মার্কিন বাহিনী দায়ী বলে ধারণা তদন্তকারীদের

ইরানের মিনাব শহরে মেয়েদের প্রাইমারি স্কুলে হামলার ঘটনায় মার্কিন বাহিনী দায়ী বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তদন্তকারীরা। তবে তারা জানান, তদন্ত শেষ হয়নি এবং এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আজ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

তবে কোন প্রমাণের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা এই ধারণা করছেন, হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, কে হামলার নির্দেশ দিয়েছিল কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কেন স্কুলটিকে লক্ষ্যবস্তু করল, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেনি রয়টার্স।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার স্বীকার করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘নতুন কোনো প্রমাণ সামনে এলে যুক্তরাষ্ট্র দায়মুক্তও হতে পারে এবং অন্য কোনো পক্ষ দায়ী বলে প্রমাণিত হতে পারে, এ সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’

তদন্ত আর কতদিন চলবে বা মূল্যায়ন সম্পন্ন করার আগে মার্কিন তদন্তকারীরা কী ধরনের প্রমাণ খুঁজছেন, তাও জানতে পারেনি রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের ওই স্কুলে হামলা হয়। জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনি জানান, ওই হামলায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এই মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।’

হোয়াইট হাউস সরাসরি তদন্ত নিয়ে মন্তব্য না করলেও প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুদ্ধ বিভাগ বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ইরানের শাসনব্যবস্থাই বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যুক্তরাষ্ট্র নয়।’

বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে হেগসেথ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। আমরা কখনোই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করি না। তবে আমরা এটি খতিয়ে দেখছি এবং তদন্ত চলছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয়ই কোনো স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না।’

‘তবে এটি যদি আমাদের হামলা হয়েও থাকে, যুদ্ধ বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করবে। এ বিষয়ে তাদের কাছেই প্রশ্ন করা উচিত’, বলেন তিনি।

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং যৌথ সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ভৌগোলিক এলাকা ও লক্ষ্যবস্তুর ধরন অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে। পশ্চিম ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, আর দক্ষিণাঞ্চলে একই ধরনের লক্ষ্যবস্তু এবং নৌবাহিনীর স্থাপনাগুলোতে হামলা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর স্কুলে হামলার জন্য কাকে দায়ী বলে মনে করছে তা উল্লেখ না করলেও মঙ্গলবার এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, ‘যে বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে, তদন্তের দায় তাদেরই।’

মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত মেয়েদের জানাজা ও দাফনের দৃশ্য দেখানো হয়। ছোট ছোট কফিনগুলো ইরানের পতাকায় মোড়ানো ছিল এবং একটি ট্রাক থেকে বিশাল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে সেগুলো কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুল, হাসপাতাল বা অন্য কোনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

যদি এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।

নির্ধারিত সময়ে ছাড়বে রিয়াদ, জেদ্দা ও মাস্কাটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবি, দুবাই, কুয়েতসহ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিক ও যাত্রীরা। 

গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।

এর মধ্যেই আজ রোববার থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা এবং ওমানের মাস্কাট রুটে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীদের নির্ধারিত ফ্লাইট সূচির চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে চেক-ইন কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাশ সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবী, শারজাহ ও কাতারের রাজধানী দোহায় ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। আরব আমিরাত ও কাতারে ফ্লাইট চলাচল উপযোগী হওয়া মাত্রই যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও জানান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের তথ্যের জন্য ১৩৬০৫ অথবা ০১৭৭৭৭৭৭৮০০-৮০৬ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কুয়েত, দুবাই, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো আকাশসীমা বন্ধ করায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আজ সকালে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৩টি এবং আগমনী ৭টিসহ মোট ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানিয়েছেন, অনেক ফ্লাইট উড্ডয়নের পর মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে অনেক প্রবাসী শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় তারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। 

গতকাল রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোলাম নূর নামের এক যাত্রী জানান, তিন দিনের মধ্যে ফিরতে না পারলে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, যা তার জীবিকাকে সংকটে ফেলবে। 

 

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টিকা বা ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। বাংলাদেশে ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব অনেক আগে থেকেই। প্রায় প্রতি বছরেই কমবেশি ডেঙ্গুজ্বর হয়ে থাকে।

এই শতাব্দীর শুরুতে ২০০০ সালে ডেঙ্গুজ্বর বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সবার নজরে আসে। মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা আর অনেক মৃত্যু সাধারণ জনগণের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ডেঙ্গুজ্বর বলতে অনেকেই নিশ্চিত মৃত্যু মনে করতে থাকে। শুরু হয় রক্ত ও প্লাটিলেট দেওয়া আর এন্টিবডি পরীক্ষার হিড়িক।

চলতি বছর সারা দেশে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু রোগের পরিস্থিতি ভয়াবহতার আভাস দিচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনে রাজধানীসহ সারা দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টির ধরন পালটে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়নসহ নানা কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল এবং প্রাইভেট ক্লিনিকে অসংখ্য রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে, এমনকি অনেক রোগী ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমবেশি সারা বছর চলছে এবং আমরা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছি। ডেঙ্গু বাংলাদেশে নতুন কোনো রোগ নয়, আমরা ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়ছি। তবে ২০১৯, ২০২০, ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ থেকে এর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। এখন ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে টিকা বা ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা। ডেঙ্গুজ্বরের কোনো নির্দিষ্ট  চিকিৎসা নেই, নেই কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও। টিকা বা ভ্যাকসিনই ডেঙ্গু প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকরী ব্যবস্থা। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, করোনা মহামারি শুরুর মাত্র এক বছরের মাথায় আমরা এর টিকা পেয়ে গেলাম। সারা বিশ্বের মানুষই করোনা টিকার আওতায় এসেছে। কিন্তু ডেঙ্গু এত বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রকোপ ছড়ালেও কেন এখনো এর টিকা সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।

এছাড়া অনেকেই জানতে চায়, আমাদের দেশে ডেঙ্গুর কোনো টিকা দেওয়া হয় কি না বা আসলেই অতি দ্রুত সময়ে টিকা দেওয়া হবে কিনা।

আসলে ডেঙ্গুর টিকা যে একেবারে নেই তা নয়।ডেঙ্গু ভাইরাসে চার ধরনের সেরোটাইপ রয়েছে, ডেন ১, ২, ৩ ও ৪। ইতোপূর্বে এমন কোনো কার্যকরী টিকা বা ভ্যাকসিন বের হয়নি, যা এই চারটা সেরোটাইপের বিপক্ষেই কাজ করবে। যদিও ডেঙ্গুর টিকা তৈরি করতে অনেক বছর ধরেই চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দুটি টিকা কিন্তু বের হয়েছে, ডেংভ্যাক্সিয়া এবং কিউডেঙ্গা ভ্যাকসিন।
ডেংভ্যাক্সিয়া: এই টিকাটি বের করেছে ফ্রান্সের একটি ওষুধ কোম্পানি। টিকাটির প্রয়োগে শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, কিন্তু সেল মেডিয়েটেড ইমিউনিটি তৈরি হয়না। ফলে এই টিকাটি নেওয়ার পরে ডেঙ্গু ভাইরাসে সংক্রমিত হলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এর কারণ পরিষ্কার নয়, তবে এই ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াকে বলে এন্টিবডি ডিপেন্ডেন্ট এনহান্সমেন্ট।

এই টিকার তিনটা ডোজ দিতে হয় ছয় মাস পরপর। টিকাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত ৯ থেকে ১৬ বছরের বাচ্চাদের দেওয়া হয়, অর্থাৎ ৯ বছরের নিচে এবং ১৬ বছরের ওপরে কেউ  এই টিকা নিতে পারবে না। এছাড়া এই টিকা সবাইকে দেওয়া যায় না। যাদের একবারও ডেঙ্গু হয়নি, তাদের এই টিকা দেওয়া যাবে না। যাদের রক্ত টেস্ট করে ডেঙ্গু পজিটিভ এন্টিবডি পাওয়া যায় বা আগে কখনো ডেঙ্গু হয়েছিল, এমন মানুষদেরই টিকাটি দেওয়া যায়।

আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হলে এবং ভুলক্রমে তাকে এই টিকা দেওয়া হলে মারাত্মক জটিলতার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই  যারা পূর্বে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি তাদের জন্য এই টিকাটি নিরাপদ নয়। কম বয়সী শিশু ও যাদের পূর্বে ডেঙ্গু হয়নি তাদের এই টিকা দিলে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু  মারাত্মক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কার্যকারিতা নিয়েও সন্দেহের কথা শোনা যায়। কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা রয়েছে।

কিউডেঙ্গা: এই টিকাটি জাপানের একটি কোম্পানির তৈরি। টিকাটির একটি বৈশিষ্ট্য হলো আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুক বা না থাকুক, উভয় ক্ষেত্রেই এটি দেওয়া যায়। টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু সংক্রমণের পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। ৪ চার বছর বয়সী শিশু থেকে ৬০ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ টিকাটি নিতে পারবে। পৃথিবীর অনেক দেশেই ইতোমধ্যে টিকাটির ব্যবহার শুরু হয়েছে। দুটি ডোজ দিতে হয় তিন মাস পরপর। এই টিকা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই কার্যকরী বলে প্রমাণিত। শুধু তাই নয়, কিউডেঙ্গার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুবই কম।

পৃথিবীর প্রায় ২০টা দেশে টিকাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়াতে কিউডেঙ্গা টিকাটি প্রচুর পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে। কিউডেঙ্গা টিকাটি চার বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয় প্রায় ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই। এই টিকা একদিকে ৭০ ভাগ কার্যকরী এবং যারা এটি একবার গ্রহণ করে, তাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে ৯০ ভাগ রোগীকে হাসপাতালে যেতে হয়না।
ডেংভ্যাক্সিয়া এখনো স্বীকৃতি পায়নি ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশনের, তবে কিউডেঙ্গার অনুমোদন দিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন।

আমাদের দেশে অনেকেই কিউডেঙ্গা টিকা ব্যবহারের পক্ষপাতী, বিশেষ করে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের একটি বড় অংশ শিশু ও কিশোর। তাই ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য টিকা দেওয়া উচিত বলে অনেকে মনে করেন।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। অনেক দেশে টিকাটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যদি ফলাফলটা ইতিবাচক, কার্যকরী ও ভালো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের দেশেও এই  টিকা দেওয়ার বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।

সম্প্রতি একটি খবরে জানা যায়, ডেঙ্গু মোকাবেলায় নতুন একটি ঢাল পেতে যাচ্ছে ভারত। কিউডেঙ্গা ভারতে বাজারজাত ও বিতরণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করেছে ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরি। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডেঙ্গুর নিশ্চিত সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাটি কার্যকারিতা দেখিয়েছে।

দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা ছিল ৮০.২ শতাংশ, আর ১৮ মাস পর ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ৯০.৪ শতাংশ। ভারতের ঔষধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা চলতি বছরের জুলাইয়ে কিউডেঙ্গার অনুমোদন দিয়েছে। তবে বাজারে আসার আগে আরও কিছু নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ডেঙ্গুর আরেকটা টিকা আছে ‘টেট্রাভালেন’ নামের, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের আবিষ্কার করা ডেঙ্গু টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালিয়েছিল আইসিডিডিআরবি,র গবেষকরা। ওই টিকার নাম টিভি০০৫। যেটার পরীক্ষা প্রথম দুই ধাপ শেষ হয়েছে এবং সফলতা পেয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলোর পরীক্ষা চালানোর চেষ্টা চলছে।

এই টিকার  সুবিধা হলো একটি ডোজ নিলেই ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই কার্যকরী হবে। শিশুসহ যেকোনো বয়সের মানুষের জন্যই টিকাটি কার্যকরী। ভারতেও এই টিকার পরীক্ষা চলছে।

মনে রাখতে হবে যতদিন কার্যকরী টিকা আমরা না পাই, ততদিন ডেঙ্গু থেকে নিরাপদে থাকতে আমাদের প্রতিকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করাটাই আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। বাস্তবতা হলো ডেঙ্গু শুধু আর শহরকেন্দ্রিক রোগ নয়, সারা দেশে গ্রামগঞ্জে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে কম বেশি। সুতরাং আমাদের সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি টেকসই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বাস্তব সম্মত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জনসাধারণকেও এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গু সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হতে পারে।

পাঠাও সার্ভারে সাইবার হামলা, ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল ও ফোন নম্বর চুরি

সাইবার হামলার ঘটনায় ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম পাঠাও।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হামলার এ ঘটনা ঘটে। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হলেও সিস্টেম স্থিতিশীল করার কাজ চলায় কিছু ব্যবহারকারী সাময়িক সমস্যায় পড়তে পারেন।

পাঠাও জানিয়েছে, কিছু ব্যক্তিগত তথ্য, যার মধ্যে নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর রয়েছে, দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে।

তবে কতজন ব্যবহারকারী এতে আক্রান্ত হয়েছেন বা কীভাবে হামলাকারীরা পাঠাওয়ের সিস্টেমে প্রবেশ করেছে, তা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

পাসওয়ার্ড, পেমেন্টের তথ্য, পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্যও হাতানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পাঠাও কিছু জানায়নি।

ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করল পাঠাও

৭ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাঠাও জানায়, তারা সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত করেছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

কোম্পানিটি বলেছে, আমরা জানতে পেরেছি, নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে।

এ ঘটনার সময় ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে দেওয়া এটিই প্রথম স্বীকারোক্তি।

ব্যক্তিগত তথ্যের অন্য কোনো ধরনেও অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি না, তা জানায়নি পাঠাও। পাসওয়ার্ড, পেমেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য এ ঘটনায় জড়িত কি না, সে বিষয়েও কিছু জানায়নি কোম্পানিটি।

পাঠাও বলেছে, তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং পাঠাওয়ের সিস্টেমের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানিটি আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তদন্ত চলাকালে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এ ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে বলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছে পাঠাও।

কোম্পানিটি বলেছে, পাঠাওয়ের পরিচয়ে আসা অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা, ফোনকল বা লিংকের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য আমরা ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করছি। এ ধরনের যোগাযোগের জবাবে কখনোই পাসওয়ার্ড, পিন বা ওটিপি শেয়ার করা উচিত নয়।

কী ধরনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে কোম্পানিটির তদন্তের মধ্যেই এ সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।

নাম, ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে ফিশিং বা অন্যের পরিচয় ধারণ করে প্রতারণার চেষ্টা আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হতে পারে। তবে এ ধরনের কোনো হামলা হয়েছে বলে পাঠাও জানায়নি।

পরবর্তী তথ্যের জন্য ব্যবহারকারীদের কোম্পানিটির আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে বলেছে পাঠাও।

কোম্পানিটি বলেছে, এ ঘটনা সম্পর্কে যাচাই করা তথ্য ও নির্দেশনা পাঠাওয়ের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হবে।

তথ্য ফাঁসের পরিধি এখনো অস্পষ্ট

কতজন ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অননুমোদিত প্রবেশ কতক্ষণ ধরে চলেছে কিংবা তাদের সিস্টেমে কীভাবে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে, তা জানায়নি পাঠাও।

কোম্পানিটির সিস্টেম থেকে আরও বড় পরিসরে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলোও নিশ্চিত করেনি পাঠাও।

দ্য ডেইলি স্টারের ই-মেইলে পাঠানো প্রশ্নের জবাবে পাঠাওয়ের পার্টনারশিপ অ্যান্ড পিআর ম্যানেজার মো. ফয়েজ বলেন, ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য ফাঁসের অভিযোগ এবং ওই ডেটাসেটে ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড ও ২৫ কোটি ডেটাবেজ সারি থাকার দাবি এখনো যাচাই করেনি কোম্পানিটি।

তিনি বলেন, এ পর্যায়ে পাঠাও এসব দাবি যাচাই করেনি। তদন্ত চলছে।

ফয়েজ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ড্রাইভিং লাইসেন্স, অবস্থান, ঠিকানা বা আর্থিক তথ্য-সংক্রান্ত দাবিগুলো এ পর্যায়ে যাচাই করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পাঠাওয়ের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হবে।

পাঠাও বিভিন্ন আর্থিক সেবা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ওয়ালেট পাঠাও পে এবং এখন কিনে পরে পরিশোধের (বিএনপিএল) সুবিধা পাঠাও পে লেটার।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ও নেপাল, দুই দেশেই পাঠাওয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

হামলাকারীরা কীভাবে সিস্টেমে প্রবেশ করেছে, সে বিষয়ে ফয়েজ বলেন, তদন্ত চলছে।

তিনি জানান, পাঠাও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছে, বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছে।

চার লাখ ডলারের ইউএসডিটি মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যাচাই না করা অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না পাঠাও।

নোট: দ্য ডেইলি স্টারের প্রশ্নের জবাবে পাঠাওয়ের দেওয়া তথ্য যুক্ত করে ৯ অক্টোবর প্রতিবেদনটি আপডেট করা হয়েছে।

 

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, ছাড়লেন দলের পদ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের কাছে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

রিজভী বলেন, অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে কিছুক্ষণ আগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রিজভী জানান, মনোনয়ন পাওয়ার পর ফখরুল বিএনপির মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যের পদ ছেড়েছেন।

এর আগে সচিবালয়ে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক জীবন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রী ছিলেন।

তিনি ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে, ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ফখরুল তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি নবম সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ফখরুল ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে এই নেতার জন্ম।

কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে বাংলাদেশের ৮৪২৮ পণ্য

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে সমঝোতা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এক বছরের আলোচনা শেষে আজ মঙ্গলবার এই যৌথ ঘোষণা এলো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের ধাপ শেষ হলে চুক্তিটি কার্যকর হবে।

এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের আট হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের বাজারে এক হাজার ৫৪টি পণ্যে একই সুবিধা ভোগ করবে।

সার্বিকভাবে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য ও সেবা কোরিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে, যেখানে বাংলাদেশের বাজারে কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য একই ধরনের সুবিধা লাভ করবে।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের একটি উচ্চমানের বাণিজ্য চুক্তির নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, হোম টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করবে।

তিনি জানান, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সে লক্ষ্য অর্জনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সিইপিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু ইয়েও বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ৫৬ বছরের। এতদিন সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মূলত টেক্সটাইল খাত। এখন সময় এসেছে সম্পর্ককে প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প সহযোগিতা ও বিনিয়োগের মতো নতুন খাতে সম্প্রসারণের।

তিনি বলেন, সিইপিএ কার্যকর হলে কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ আরও বাড়বে।