28 C
Dhaka
Home Blog

আমরা কারও দ্বারা প্রভাবিত নই: ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা

এবার বিশ্বকাপে খেলা ছাপিয়েও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিতর্কিত রেফারিং। একাধিক ম্যাচে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখিত অভিযোগ জানাতে দেখা গেছে একাধিক দলকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে সেই বিতর্ক উঠে তুঙ্গে। প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয় দাবানলের মতো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় ফিফা প্রধানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পর। তবে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলছেন, তারা কারও দ্বারা প্রভাবিত নন।

৪৮ দলের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ৯৬ ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রেফারিংয়ের মান, ভিএআর-এর কার্যকারিতা এবং ম্যাচ অফিশিয়ালদের ওপর আসা নানা চাপ নিয়ে মুখ খুলেছেন কলিনা। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফিফা রেফারিং সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এটি কারও দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

তবে কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় বেশি ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে কিছু জিনিস প্রত্যাশা অনুযায়ী নাও হতে পারে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি, ‘শুরুতেই বলা যাক, কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে আমরা এবার ৫০% বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছি। এখনও আটটি বড় ম্যাচ বাকি আছে। সামগ্রিকভাবে আমরা খুশি। তবে অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ হওয়ায় কিছু বিষয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তেমন কিছু ঘটলে পরের ম্যাচের জন্য নিজেদের শতভাগ প্রস্তুত করতে তারা আরও কঠোর পরিশ্রমের জন্য তৈরি থাকে।’

তার মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই, তবে সেসব যেন ভিত্তিহীন না হয়, ‘সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সবসময়ই ফুটবলের অংশ। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান এই খেলায় নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমন অভিযোগের কারণে অনেক সময় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি মোটেও সঠিক নয়।’

রেফারিং বিভাগের ওপর ফিফা প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না উল্লেখ করে কলিনা বলেন, ‘কেউ দাবি করতে পারে না যে ফিফা রেফারিং কারও দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দ্বারাও নয়। তিনি আমাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন এবং সবসময় ফিফা টিম ওয়ানের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন দেখিয়েছেন।’

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের চরম বিতর্ক ও কলিনার ব্যাখ্যা:

চলমান টুর্নামেন্টে রেফারিং ও ভিএআর-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে ম্যাচের কিছু ফাউল এবং পেনাল্টি বা গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় তুমুল বিতর্ক চলছে।

সাধারণত টুর্নামেন্ট চলাকালীন সুনির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বা ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না ফিফার এই রেফারিং প্রধান। তবে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের এই চরম বিতর্ক নিয়ে এবার নিজেই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন কলিনা।

গোলের আগে আক্রমণের সময়ে (বিল্ড-আপ) ভিএআর-এর ভূমিকা পরিষ্কার করতে গিয়ে কলিনা এই ম্যাচের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচে মিশরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারওয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পায়ে পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি, ফাউল মানে ফাউলই। ফাউলটি স্পষ্ট মনে হোক বা না হোক, রেফারি যদি মাঠে এটি দেখতে না পান, তবে ভিএআর সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে। গোল থেকে দূরত্ব কতখানি ছিল বা ঘটনার কতক্ষণ পর গোল হয়েছে, সেটির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।’

একই ম্যাচের শেষদিকে তৈরি হওয়া আরও একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে কলিনা বলেন, ‘আবার যদি গোলের আগে কোনো ফাউল না থাকে, তবে ভিএআর রেফারিকে সেই অনুযায়ী পরামর্শ দেয়। যেমন ওই ম্যাচেরই শেষদিকে মোহামেদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেসের মধ্যকার ঘটনাটিকে রেফারি এবং ভিএআর সাধারণ ফুটবলীয় যোগাযোগ (কন্ট্যাক্ট) হিসেবেই গণ্য করেছিল। কারণ ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করেছিলেন এবং পরে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।’

তবে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের বিল্ডআপে ম্যাক অ্যালিস্টারের মিশরের হামদি ফাথির জার্সি ধরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় কেন ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি, সেই ব্যাপারে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ট্রাম্পের ফোনকল:

দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। কিন্তু শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়ে তা প্রত্যাহার করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই জানান যে, সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করতে তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন। শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। কড়া বিবৃতি দেয় ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফা। ট্রাম্পের ফোনকলের পরপর বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় তা নিয়ে চরম সমালোচনা চলে ফুটবল বিশ্বে। কিন্তু এই ব্যাপারে আর নতুন করে কিছু বলেননি কলিনা।

একই রকম ঘটনায় বিভিন্ন ম্যাচে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আসায় রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছিল।

 

অনলাইন জুয়ায় ক্যাসিনো সম্রাট রুবেলের উত্থান

একসময় টং দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের আর্থিক সংকট সামলাতে ছোটখাটো কাজও করতে হয়েছে। সেই রুবেল মিয়ার জীবনেই কয়েক বছরের ব্যবধানে এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। দামি গাড়ি, বিলাসবহুল জীবনযাপন, দেশে বিপুল সম্পদ এবং বিদেশে ব্যবসা, সব মিলিয়ে হবিগঞ্জের রুবেল মিয়া এখন স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ক্যাসিনো সম্রাট রুবেল’ নামে।

রুবেলকে ঘিরে অভিযোগের তালিকাও দীর্ঘ। অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসা, ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে বিপুল অর্থের লেনদেন, ডিজিটাল প্রতারণা, অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ, এমন নানা অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

এরই মধ্যে ঢাকার পল্টন থানায় দায়ের হওয়া একটি ডিজিটাল প্রতারণার মামলার নথিতে রুবেল মিয়াসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযোগের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৯ টাকা। নথিতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার উল্লেখ রয়েছে।

টং দোকান থেকে বিলাসী জীবন
রুবেল হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও তার আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। টং দোকানে কাজসহ বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বদলে যায় তার জীবনযাত্রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক দামি গাড়ি, বিলাসবহুল বাড়ি, জমি ও অন্যান্য সম্পদের মালিক হতে থাকেন রুবেল। দেশে-বিদেশে ব্যবসা ও সম্পদের বিস্তারের কারণে তার আর্থিক উত্থান নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের একটি অংশকে এই ব্যবসায় যুক্ত করা হয়েছে। এতে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে রুবেলকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক মামলা ও গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। ৩ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে রুবেলকে অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের কথা এবং তার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলা থাকার কথা জানানো হয়েছে।

৭৬ লাখ টাকার ডিজিটাল প্রতারণার মামলা
রুবেলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে স্পষ্ট নথিভিত্তিক অভিযোগগুলোর একটি এসেছে পল্টন থানার মামলায়। মামলার নথি অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ করে অভিযোগকারীকে বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভের প্রলোভন দেখানো হয়।

‘harrywinstongold.vip’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং WhatsApp যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়।
নথিতে বিভিন্ন লেনদেনের বিবরণ সংযুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযোগকারীর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৯ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে আরও অর্থ জমা দেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়। পরে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি একটি প্রতারণামূলক অনলাইন বিনিয়োগ চক্রের ফাঁদে পড়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

মামলার নথিতে রুবেলসহ একাধিক ব্যক্তির নাম
পল্টন থানার মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে রুবেল মিয়া ওরফে ‘ক্যাসিনো সম্রাট রুবেল’-এর নাম রয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নথিতে তাদের পরিচয় ও ঠিকানার তথ্যও রয়েছে।

তবে প্রত্যেক আসামির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল এবং অভিযোগের অর্থের সঙ্গে কার কী ধরনের আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়।

পাঁচ বছরে শতকোটি টাকার সম্পদ?
রুবেলকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তার সম্পদের উৎস নিয়ে। দলিল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে হবিগঞ্জ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় রুবেল এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ও অন্যান্য সম্পদ কেনা হয়েছে। এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক শত কোটি টাকা হতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু নিজ এলাকা নয়, শ্রীমঙ্গলেও বড় আকারের সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শত বিঘার বেশি জমির ওপর বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিকানা নিয়েও তথ্য রয়েছে।

এখন প্রশ্ন, টং দোকানে কাজ করা একজন ব্যক্তির আয় থেকে এত অল্প সময়ে এই বিপুল সম্পদ কীভাবে তৈরি হলো? সম্পদের দলিল, ক্রয়মূল্য, মালিকানা, অর্থের উৎস, আয়কর নথি ও ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ করলেই এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।

দুবাইয়ে বাংলো, সুপার শপ, হোটেল ও ক্যাসিনো?
রুবেলের সম্পদের বিস্তার শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, এমন অভিযোগও রয়েছে। দলিল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ে রুবেলের নামে বা তার নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক ব্যবসা ও সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিলাসবহুল বাংলো, সুপার শপ, হোটেল এবং ক্যাসিনো ব্যবসার কথাও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে সেই অর্থ দুবাইয়ের ব্যবসা ও সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং ওই অর্থের বৈধ উৎস কী ছিল।

এসব বিষয়ে বাংলাদেশি ব্যাংক হিসাব, বিদেশি লেনদেনের তথ্য, কোম্পানি নিবন্ধন, সম্পত্তির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যবসায়িক নথি পাশাপাশি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

‘মেম জল্লাই’ ও ‘গাড়িচোর দুলাল’, দুই সহযোগীকে ঘিরেও প্রশ্ন
রুবেলের কথিত নেটওয়ার্কে আব্দুল জলিল ওরফে ‘মেম জল্লাই’ এবং ময়নুল হাসান ওরফে ‘গাড়িচোর দুলাল’-এর নামও উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে রুবেলের বাংলাদেশি কার্যক্রম পরিচালনা, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং আর্থিক লেনদেনে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রুবেলকে ঘিরে আর্থিক নেটওয়ার্কের প্রকৃত চিত্র বের করতে হলে তার সহযোগীদের আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন দাবি এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে না।

নিষিদ্ধ সংগঠনে অর্থ সরবরাহের অভিযোগ
রুবেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুতর বিষয়গুলোর একটি হলো, তার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কাছে অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে কি না।

আপনার সরবরাহ করা তথ্য ও অন-রেকর্ড সূত্র অনুযায়ী, এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি শুধু অনলাইন জুয়া বা অর্থপাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; অর্থের উৎস, প্রাপক, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সবই তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

তবে এ অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নাম, লেনদেনের তারিখ, পরিমাণ এবং নথির ধরন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলে অভিযোগটি আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নিয়েও প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়া ও কথিত অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হলেও রুবেলের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও অর্থের কারণে অনেক সময় এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে ‘টাকার কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব’, এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য, অভিযানের নথি, মামলা ও জব্দ তালিকা, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের নথি প্রকাশ করা জরুরি। এতে অভিযোগটি আরও শক্ত প্রমাণভিত্তিক রূপ পাবে।

হত্যা মামলার আসামি, বিমানবন্দরে আটক
রুবেলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় আসামি থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। ৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোস্তাক হত্যা মামলায় তিনি অন্যতম আসামি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাতে দুবাই যাওয়ার সময় সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। ৩ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রুবেলের চারটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করা হয়েছে।

এখন নজর অর্থের রুটে
রুবেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন একটাই, বিপুল সম্পদের অর্থের উৎস কী? একদিকে পল্টন থানার মামলায় ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৯ টাকার ডিজিটাল প্রতারণার অভিযোগ। অন্যদিকে কয়েক বছরের মধ্যে শতকোটি টাকার সম্পদ, শ্রীমঙ্গলে বিশাল জমি ও রিসোর্ট, একাধিক দামি গাড়ি এবং দুবাইয়ে কথিত ব্যবসা ও সম্পদের অভিযোগ।

এই দুইয়ের মধ্যে কোনো আর্থিক যোগসূত্র আছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয় হতে পারে।

এর জন্য রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে, কোম্পানি ও ব্যবসার মালিকানা, জমির দলিল, গাড়ির নিবন্ধন, আয়কর রিটার্ন, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

পল্টন থানার মামলার নথিতে ডিজিটাল লেনদেনের যে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে, সেগুলো ইতোমধ্যে অভিযোগের একটি নথিভিত্তিক ভিত্তি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, রুবেলকে ঘিরে কয়েক শত কোটি টাকার সম্পদ, শ্রীমঙ্গলে শত বিঘার বেশি জমি, দুবাইয়ে ব্যবসা ও ক্যাসিনো এবং রাজনৈতিক নেটওয়ার্কে অর্থ সরবরাহের যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ আর্থিক যাচাই হলে চিত্রটি আরও পরিষ্কার হবে।

ঈদে ১০ সিনেমার ঘোষণা, শেষ পর্যন্ত কয়টি আসবে প্রেক্ষাগৃহে?

কোরবানির ঈদ মানেই প্রেক্ষাগৃহে নতুন সিনেমার উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে ঢাকাই সিনেমার বাজার। একের পর এক সিনেমার পোস্টার, টিজার, ট্রেলার আর গান প্রকাশ হচ্ছে। কেউ দিচ্ছেন অ্যাকশনের ঝলক, কেউ আনছেন প্রেম কিংবা ভিন্নধর্মী গল্প।

এবার ঈদুল আজহায় মুক্তির তালিকায় রয়েছে ১০টি সিনেমা—রকস্টার, রইদ, মালিক, বনলতা সেন, মাসুদ রানা, নাকফুলের কাব্য, পিনিক, তছনছ, অফিসার এবং দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল।

তবে প্রশ্ন একটাই—ঘোষণার পর শেষ পর্যন্ত কয়টি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারবে? কারণ এর আগে অনেক সিনেমাই মুক্তির ঘোষণা দিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গেছে। এবারও কয়েকটি সিনেমার জোর প্রচারণা দেখা গেলেও কিছু সিনেমা অনেকটাই নীরব।

শাকিব খান অভিনীত রকস্টার ঈদের আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো। ইতোমধ্যে সিনেমাটির ‘পিরিতি’ গান প্রকাশ হয়েছে। পাশাপাশি এসেছে দুটি টিজার। দ্বিতীয় টিজারে দেখা গেছে সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েককে। সিনেমাটির পোস্টার, অ্যানিমেশন টিজার ও অফিসিয়াল টিজারও প্রকাশ হয়েছে। এরই মধ্যে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। প্রকাশিত ঝলকগুলোতে শাকিব খানকে নতুন লুকে দেখা গেছে।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত রইদ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ কম নয়। হাওয়াখ্যাত এই নির্মাতার নতুন কাজ বলে বাড়তি কৌতূহল রয়েছে সিনেমাটি ঘিরে। ট্রেলারের পাশাপাশি প্রকাশ হয়েছে তিনটি গান—রইদে আইলা গা জুড়াইতে, মন ছাড়া কি এবং রহে না। সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমার গল্প। এতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুশি, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ। পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই আলোচনায় আসে সিনেমাটি। এখন গান প্রকাশ ও বিভিন্ন কনসার্টের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে পুরো টিম।

ঈদে মুক্তির তালিকায় রয়েছে মালিক। এতে জুটি হয়েছেন আরেফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সাইফ চন্দন। ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়েছে দুটি পোস্টার ও অফিসিয়াল ট্রেলার। প্রথম পোস্টারে শুভকে দেখা গেছে অ্যাকশন লুকে। আর দ্বিতীয় পোস্টারে ধরা দিয়েছেন রোমান্টিক আবহে। সিনেমাটি সেন্সর ছাড়পত্রও পেয়েছে। গল্পে মায়ের সম্মান ও অধিকার রক্ষার লড়াই করতে গিয়ে একজনকে অপরাধ জগতের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে উঠতে দেখা যাবে।

সৈকত নাসির পরিচালিত মাসুদ রানা নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল রয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা, পূজা চেরি ও ও সৈয়দা তিথি অমনি। সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় বইয়ের আদলে প্রকাশ হয়েছে সিনেমাটির প্রথম পোস্টার। পরে এসেছে ‘মাসুদ রানা গান রিলোড’ শিরোনামের একটি টিজার। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়া।

সরকারি অনুদানে নির্মিত বনলতা সেন সিনেমাটিও ঈদে মুক্তির কথা রয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। বাস্তবতা ও রূপকের মিশেলে তৈরি সিনেমায় বনলতা সেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে আছেন খাইরুল বাশার। সিনেমাটির টিজার, ট্রেলার এবং ‘এখানে কেউ নেই’ গানটি ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়েছে।

প্রেম ও বিরহের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাকফুলের কাব্য। এতে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি ও আদর আজাদ। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আলোক হাসান। অনেক আগেই সেন্সর ছাড়পত্র পেলেও এতদিন মুক্তি পায়নি। এবার ঈদে মুক্তির পরিকল্পনা করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

পিনিকি সিনেমায় জুটি হয়েছেন শবনম বুবলি ও আদর আজাদ। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জাহিদ জুয়েল। ইতোমধ্যে দুটি পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশ হয়েছে। এর আগেও কয়েকবার মুক্তির কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসেনি।

বদিউল আলম খোকন পরিচালিত তছনছ সিনেমাটিও ঈদের তালিকায় রয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ববি হক, মুন্না খান, মিশা সওদাগর, দীপা খন্দকারসহ আরও অনেকে। ইতোমধ্যে সিনেমাটির টিজার ও একটি গান প্রকাশ হয়েছে।

এতে অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি ও ডিএ তায়েব। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বদিউল আলম খোকন। ঈদে মুক্তির ঘোষণা দিলেও এখনো সিনেমাটির প্রচারণা খুব বেশি চোখে পড়েনি।

ঈদের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিনেমাটি। আকাশ হক পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাস, আখতারুজ্জামান আজাদ, আবু সায়েদ, ইফাদ হাসান ও নিলয় বালা।

এখন দেখার বিষয়, ঘোষণার এই দীর্ঘ তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত কয়টি সিনেমা সত্যিই ঈদের আনন্দ বাড়াতে প্রেক্ষাগৃহে আসে। কারণ ঈদের সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, এটি দর্শকদের জন্য আলাদা একটি উৎসব।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলা: মার্কিন তেলবাহী জাহাজ, রাডার ধ্বংসের দাবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের সপ্তম দিনে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করেও হামলার দাবি করেছে দেশটি।

আজ শুক্রবার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব হামলা ও বিস্ফোরণের খবর।

মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা

কুয়েত উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। 

দেশটির সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’র এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘কুয়েত সীমান্তের কাছে মার্কিন মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেটিতে আগুন ধরেছে।’

ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারিও তেলবাহী জাহাজটি আগুনে পুড়ছে বলে জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানা যায়নি।

তিন দেশে মার্কিন রাডারে হামলা

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও কাতারে স্থাপিত মার্কিন রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা।

এর মধ্যে, আমিরাত ও জর্ডানে মার্কিন থাড ব্যবস্থা এবং কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডেজার্ট আই’ নামে পরিচিত ‘এফপিএস-১৩২’ রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে আইআরজিসি।

‘এফপিএস-১৩২’ রাডারটি দূরপাল্লার আর্লি ওয়ার্নিং ও মহাকাশ নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হয়।

কুয়েত সিটিতে বিস্ফোরণ, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপির এক সাংবাদিক।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের চেষ্টা করছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

অন্যদিকে কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে আবারও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এএফপি জানায়, কয়েক ঘণ্টা ধরে কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী।

এ নিয়ে এক সপ্তাহে ইরানের হামলায় কুয়েতে অন্তত ৬৭ সেনা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

বাহরাইনে বিস্ফোরণ

বাহরাইনের রাজধানী মানামাতে কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

বাহরাইন জানিয়েছে, মানামায় একটি হোটেল ও দুটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যে একটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগে, তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাহরাইনে যেসব ভবনে হামলা হয়েছে সেখানে কাতারের নৌবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন, তবে তারা সবাই নিরাপদ আছেন।

এর আগের দিন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনের প্রধান রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারে আগুন লাগে।

ইরাকে বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণ

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানবন্দরের কাছেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এএফপি জানায়, বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

ওই এলাকায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর সেনারা অবস্থান করছে। এরবিল শহরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কনস্যুলেট কমপ্লেক্সও রয়েছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

গতকাল শুক্রবার রাতে সৌদি আরব থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ একটি দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা প্রকাশ্যে কোনোকিছু বলছি না। আমরা আমাদের মতো করে বন্ধুদের বাঁচানোর চেষ্টা করছি। এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি সভায় যোগ দিয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন।

 

কাফকার পৃথিবী, দস্তয়েভস্কির বিবেক: মানুষ এখনো যেখানে বন্দি

ব্যাটম্যান-সুপারম্যান, রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা, মেসি-রোনালদো, স্যামসাং-অ্যাপেল—কত ধরনের দ্বৈরথ বিশ্বজুড়ে। কিছু দ্বৈরথ আবার মনস্তাত্ত্বিকও হতে পারে। কখনো কখনো কিছু মানুষের মনস্তত্ত্বই হয়ে ওঠে দর্শন। সম্পূর্ণ ভিন্ন দর্শনে বিশ্বাসী দুজন মানুষ যখন তাদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন তারা পাঠকদের ফেলে দেয় মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে।

একজন প্রশ্ন করেন ‘আমি কী করেছি’? অন্যজন প্রশ্ন করেন ‘আমার সঙ্গে এমন কেন হচ্ছে’?

ধরা যাক, একজন মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারলেন, তিনি অভিযুক্ত। কী অপরাধ করেছেন, জানেন না। কে তাকে অভিযুক্ত করেছেন, তাও জানেন না। শুধু জানেন, তার বিরুদ্ধে কোথাও একটি মামলা চলছে।

আরেকজন মানুষ জানেন, ঠিক কী করেছেন তিনি। কোন পাপ করেছেন, কাকে আঘাত করেছেন, কোন সিদ্ধান্ত তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে—সবই জানেন। অথচ শাস্তি দেওয়ার জন্য কোনো আদালতের প্রয়োজন নেই। তার নিজের বিবেকই যথেষ্ট।

প্রথম মানুষটি কাফকার পৃথিবীতে বাস করেন, দ্বিতীয়জন দস্তয়েভস্কির। একজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে অজানা পৃথিবীতে। অন্যজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে নিজের ভেতরে। দুজনেরই পালানোর ইচ্ছে আছে। কিন্তু একজন জানেন না, পালাবেন কোথা থেকে। অন্যজন জানেন না, পালাবেন কার কাছ থেকে।

সম্ভবত এখানেই শুরু দস্তয়েভস্কি ও কাফকার সেই অসম্ভব দার্শনিক দ্বন্দ্ব—মানুষ কি পৃথিবীর হাতে বন্দি, নাকি নিজের আত্মার?

কখনো কখনো মনে হয়, জীবন যেন এমন এক অফিস, যেখানে আপনি প্রতিদিন হাজিরা দেন, কিন্তু কেউ আপনাকে কখনো বলে না যে, আপনার চাকরিটা আসলে কী। নিয়ম আছে, ফরম আছে, কর্তৃপক্ষ আছে, ই-মেইল আছে, শুধু পরিষ্কার উত্তর নেই।

আবার কখনো জীবন এতটাই ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে যে, কোনো অফিস, রাষ্ট্র কিংবা সমাজকে দায়ী করে আপনি বাঁচতে পারেন না। রাতের নীরবতায় নিজের বিবেকই তখন আপনার সবচেয়ে কঠিন বিচারক।

মানুষের এই দুই অভিজ্ঞতার দুই অসাধারণ সাহিত্যিক প্রতিরূপ হলেন ফিওদর দস্তয়েভস্কি ও ফ্রানৎস কাফকা।

দুজনের মধ্যে সরাসরি কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। তারা একই সময়ের মানুষও নন। দস্তয়েভস্কি মারা যান ১৮৮১ সালে, আর কাফকার জন্ম ১৮৮৩ সালে। তবু তাদের সাহিত্যকে পাশাপাশি রাখলে মনে হয়, তারা যেন একই মানুষের দুই প্রান্ত নিয়ে কথা বলছেন—একজন তাকিয়েছেন মানুষের ভেতরে, অন্যজন তাকিয়েছেন মানুষের চারপাশে।

আর সেই কারণেই তাদের নিয়ে ভাবা মানে অনেকটা নিজের জীবনের দুই ধরনের অন্ধকারের দিকে তাকানো।

কাফকার পৃথিবী: অপরাধটা কী, কেউ জানে না

কল্পনা করুন, এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, আপনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপনি জিজ্ঞেস করলেন, কেন? কেউ উত্তর দিল না।

আপনি আদালতে গেলেন। সেখানে কিছু মানুষ আছেন, কিছু নিয়ম আছে, কিছু দরজা আছে। আপনি ব্যাখ্যা চাইছেন। কিন্তু যত বেশি জানতে চাইছেন, তত বেশি রহস্য তৈরি হচ্ছে।

এটাই কাফকার ‘দ্য ট্রায়াল’ এর জোসেফ কে’র পৃথিবী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। কিন্তু অভিযোগটি কী, তা স্পষ্ট নয়। তার চারপাশে একটি বিশাল ব্যবস্থা কাজ করছে। কিন্তু সেই ব্যবস্থার নিয়মগুলো তার কাছে অদৃশ্য। তিনি পালাতে চান, ব্যাখ্যা চান, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চান। কিন্তু সমস্যা হলো, যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি লড়ছেন, সেটিকে ঠিকমতো দেখতেই পাচ্ছেন না।

এখানেই কাফকায়েস্ক শব্দটির ভয়াবহতা।

এটি শুধু কোনো অস্বাভাবিক বা আমলাতান্ত্রিক পরিস্থিতি নয়। বরং এমন এক অবস্থা, যেখানে আপনি বুঝতে পারছেন কিছু একটা ভয়াবহভাবে ভুল, কিন্তু সেই ভুলের উৎস খুঁজে পাচ্ছেন না। আজকের পৃথিবীতে এই অভিজ্ঞতা খুব অপরিচিত নয়।

একটি ব্যাংক আপনার অ্যাকাউন্ট আটকে দিয়েছে। কেন? জানেন না। একটি অ্যালগরিদম আপনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট মানুষের সামনে দেখাচ্ছে না। কেন? জানেন না। চাকরির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কেন? জানেন না। একটি সরকারি দপ্তর আপনাকে আরেকটি দপ্তরে পাঠাচ্ছে। কেন? জানেন না। আপনি শুধু একটি অদৃশ্য ব্যবস্থার ভেতর ঘুরছেন।

কাফকার সবচেয়ে বড় আতঙ্ক তাই শাস্তি নয়। আতঙ্ক হলো, আপনার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা কাজ করছে, তার মুখ নেই।

দস্তয়েভস্কির পৃথিবী: বিবেকই যেখানে বিচারক

এবার দৃশ্যটা বদলে ফেলুন। আপনি জানেন কী করেছেন, কোথায় ভুল করেছেন। কেউ আপনাকে গ্রেপ্তার করেনি, পুলিশ দরজায় আসেনি, কোনো আদালত বসেনি। তবু আপনি ঘুমাতে পারছেন না। কারণ, আপনার নিজের বিবেক আপনাকে ছেড়ে দিচ্ছে না।

এখানেই দস্তয়েভস্কি প্রবেশ করেন।

‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ এর রোমানোভিচ রাস্কোলনিকভ মনে করেন, কিছু মানুষ হয়তো সাধারণ নৈতিক নিয়মের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেন। একটি ভয়ংকর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি নিজের তত্ত্বকে পরীক্ষা করতে যান। তাত্ত্বিক অহংকারে বশে তিনি এক বৃদ্ধা অর্থলগ্নকারী ও তার বোনকে হত্যা করেন। কিন্তু হত্যার পর তার আসল শাস্তি শুরু হয়। আদালতে নয়, নিজের মাথার ভেতর।

কারণ, তিনি পালাতে পারেন, প্রমাণ লুকাতে পারেন, নিজেকে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে পারেন, কিন্তু নিজের কাছ থেকে পালাতে পারেন না। দস্তয়েভস্কির কাছে মানুষের সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগার কোনো জেলখানা নয়, বরং নিজের বিবেক।

তাই দস্তয়েভস্কির চরিত্ররা শুধু জানতে চায় না, ‘আমি কী করেছি?’ তারা জানতে চায়, ‘আমি আসলে কে?’

স্বাধীনতা আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

এখানেই তাদের সবচেয়ে গভীর পার্থক্যগুলোর একটি। কাফকার জগতে মানুষ নিজেকে স্বাধীন মনে করলেও বাস্তবে অসংখ্য অদৃশ্য কাঠামোর মধ্যে আটকে আছে।

আপনি কোথায় কাজ করবেন, কী কিনবেন, কী পড়বেন, কোন খবর দেখবেন—সবকিছুর ওপর অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক কাঠামো, সামাজিক নিয়ম ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা প্রভাব ফেলছে। আপনি স্বাধীন। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সীমানা কোথায়, জানেন না।

দস্তয়েভস্কি আবার উল্টো বিপদ দেখান। ধরুন, আপনাকে সত্যিই স্বাধীনতা দেওয়া হলো। কেউ আপনাকে থামাচ্ছে না। আপনি যা খুশি করতে পারেন। এখন? এখন আপনার সিদ্ধান্তের দায়ও আপনার। স্বাধীনতা তখন আর শুধু আনন্দ নয়, স্বাধীনতা মানে দায়িত্ব। আর দায়িত্ব মানেই অপরাধবোধের সম্ভাবনা।

এই জায়গায় দস্তয়েভস্কির মানুষ কাফকার মানুষের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক অবস্থায় পড়েন। কারণ, তিনি বলতে পারে না, তার কিছু করার ছিল না। তিনি জানেন, সিদ্ধান্তটি তারই ছিল। একজনের শত্রু চলমান ব্যবস্থা, অন্যজনের শত্রু নিজের ছায়া।

কাফকার চরিত্রকে আপনি একটি বিশাল ভবনের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষের মতো কল্পনা করতে পারেন। তিনি দরজা খুঁজছেন। একটি দরজা পেলে আরেকটি আসে। একটি নিয়ম বুঝলে আরেকটি নিয়ম সামনে আসে। যত বেশি চেষ্টা, গোলকধাঁধা তত বড় হয়।

দস্তয়েভস্কির চরিত্র যেন একটি ঘরের মধ্যে বসে আছে। দরজা খোলা, বাইরে যাওয়ার সুযোগ আছে, কিন্তু যেতে পারছেন না। কারণ, তার সঙ্গে বসে আছেন তিনি নিজেই।

এই দুই ছবিই আধুনিক মানুষের গভীর সংকটের দুটি প্রতীক। একদিকে, আমরা এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাস করি যেগুলোর নিয়ম আমরা তৈরি করিনি। অন্যদিকে, আমাদের নিজেদের সিদ্ধান্তের বোঝাও আমাদেরই বহন করতে হয়।

আজকের পৃথিবীতে কেন এই দুজন আরও প্রাসঙ্গিক? এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে লেখা তাদের বই আজও কেন এত পরিচিত মনে হয়? কারণ, পৃথিবী হয়তো বদলেছে, কিন্তু মানুষের ভয় খুব বেশি বদলায়নি।

আজকের মানুষ হয়তো কাফকার মতো কোনো অজানা আদালতে দাঁড়িয়ে নেই, কিন্তু অ্যালগরিদমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি তার জীবনকে মূল্যায়ন করছেন পারফরমেন্স রিভিউ, ক্রেডিট স্কোর, ফলোয়ার কাউন্ট এবং অসংখ্য অদৃশ্য ম্যাট্রিক্সে। অনেক সময় তিনি জানেনই না, কেন একটি সুযোগ পেলেন না। শুধু জানেন তিনি বাদ পড়েছেন। এ যেন আধুনিক ‘দ্য ট্রায়াল’।

আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে নিজের সবচেয়ে কঠিন বিচারকও মানুষ নিজেই। অন্যের সাফল্য দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে হয়; পুরোনো সিদ্ধান্ত মনে পড়ে; একটি ভুল সম্পর্ক, ভুল কথা, ভুল সিদ্ধান্ত বারবার মাথায় ফিরে আসে। কেউ তাকে শাস্তি দিচ্ছে না, নিজেই নিজেকে দিচ্ছে।

গভীরভাবে চিন্তা করলে তারা আসলে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড়ান না। বরং মানুষের অস্তিত্বের দুই দিক আলোকিত করেন। কাফকা আমাদের বলেন, তোমার চারপাশের পৃথিবী সবসময় যুক্তিসংগত নয়। এমন ব্যবস্থার মধ্যেও তুমি আটকে যেতে পারো, যার নিয়ম তুমি কখনো বুঝবে না। আর দস্তয়েভস্কি বলেন, ঠিক আছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তোমাকে নিজের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড়াতেই হবে।

কাফকা আমাদের শেখান অসহায়ত্বের ভাষা। দস্তয়েভস্কি শেখান দায়িত্বের ভাষা।

কাফকার মানুষ জিজ্ঞেস করেন, ‘আমার সঙ্গে এমন কেন হচ্ছে?’ দস্তয়েভস্কির মানুষ জিজ্ঞেস করেন, ‘আমি এমন মানুষ হলাম কীভাবে?’

আর সম্ভবত আধুনিক মানুষকে দুই প্রশ্নই করতে হয়। শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই একটু কাফকা, একটু দস্তয়েভস্কি।

সকালে অফিসে যাওয়ার পথে আমরা কাফকা। অদৃশ্য ডেডলাইন, নিয়ম, অ্যালগরিদম, আমলাতন্ত্র—সবকিছুর মধ্যে পথ খুঁজি। রাতে একা ঘরে ফিরে আমরা দস্তয়েভস্কি। দিনের কথাগুলো মনে করি, কাকে কী বলেছি, কী বলা উচিত ছিল, কোথায় ভুল করেছি—সেসব হিসাব করি।

দিনে আমরা পৃথিবীর সঙ্গে লড়াই করি। রাতে লড়াই করি নিজের সঙ্গে। সম্ভবত এ কারণেই দস্তয়েভস্কি ও কাফকা এত আলাদা হয়েও এত কাছের। একজন আমাদের নিয়ে যান মানুষের আত্মার অন্ধকারে, অন্যজন নিয়ে যান মানুষের তৈরি পৃথিবীর অন্ধকারে। একজনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ, অন্যজনের দরজা ভেতর থেকে।

আর আমরা? আমরা সেই দুই দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি। হয়তো চাবি আমাদের হাতেই। শুধু আমরা জানি না কোন দরজার চাবি কোনটি।

দেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বলেন, ‘এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচারের পুনর্বাসনের পথ সুগম করছে কি না, সেটি মনে হয় ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের।’

‘এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না,’ বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবশ্যই আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম-অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। বছরের পর বছর ঘর-বাড়িছাড়া হয়েছিলেন। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছিলেন হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু। আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ।’

সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং হতাহত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পরাজিত, পতিত, বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা, এমন বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল।’

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুন-অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংসতা, শুধুমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী তৎকালীন সরকারের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা চলে।’

‘আজকের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস যেমন তুলে ধরবে, অপরদিকে তাদের সামনে উন্মোচিত হবে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ। এই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। আমি আশা করি, এই জাদুঘর শুধুমাত্র ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হবে না, এই জাদুঘর বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে। শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানই নয়, এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকা জরুরি,’ যোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসনকে মেনে নিতে পারেনি। এদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এসব ইতিহাস জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।’

‘আমি আশা করি, এই জাদুঘরে জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের স্বাক্ষর, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বীর ছাত্র-জনতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াল লিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক ও ডিজিটাল উপাদান সংরক্ষিত থাকবে,’ বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না। বরং তা ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যৎ বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং প্রতিটি বিষয়ের যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত থাকা প্রয়োজন।’

পর্যায়ক্রমে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার হবে বলেও শহীদ পরিবারকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকার মনে করে, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি জানান, বিগত ১৭ বছর ও জুলাই আন্দোলনে শহীদ, গুম-খুনের শিকার মানুষের নামে তাদের এলাকায় যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে, এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।’

তিনি বলেন, আমি প্রায়ই একটি কথা বলি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভোলেননি, একইভাবে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদের জনগণ কখনোই ভুলবে না।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সহায়তা করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক, উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বর্তমান সরকার শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

একইসঙ্গে গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর-সমৃদ্ধ, নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চাই, বলেন তিনি।

গ্যাস সংকটে কমেছে প্যারাসিটামলের কাঁচামাল উৎপাদন

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশে প্যারাসিটামল এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের উৎপাদন সংশ্লিষ্ট খাতের বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জরুরি আমদানির ফলে ওষুধের সংকট আপাতত এড়ানো গেলেও প্যারাসিটামমলের এই কাঁচামালের উচ্চমূল্য ওষুধ প্রস্তুতকারকদের ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং আমদানি-নির্ভরতার বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসছে।

আইকিউভিআইএর (সাবেক আইএমএস হেলথ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্যারাসিটামলযুক্ত ওষুধ বিক্রির দিক থেকে চতুর্থ সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই গ্যাস সংকটের কারণে দেশের অন্যতম শীর্ষ এপিআই প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য বেসিক কেমিক্যাল লিমিটেডে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম জামাল উদ্দিন।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বয়লার প্রাকৃতিক গ্যাসে চলে। বয়লার ছাড়া কোনো সহায়ক যন্ত্রই চালানো সম্ভব নয়। চিলার, রিঅ্যাক্টরসহ অন্যান্য প্রসেসিং ইউনিটের সবই এর ওপর নির্ভরশীল। বয়লার বন্ধ হয়ে গেলে পুরো কারখানাই অচল হয়ে পড়ে।”

গত ১৫ দিন ধরে প্যারাসিটামল এপিআই উৎপাদন করতে পারছে না গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি। ফলে টঙ্গীভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক চার টন উৎপাদন প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

এই সংকট এমন সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন উৎপাদকরা কাঁচামালের বাড়তি দামের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। জামাল উদ্দিন জানান, বৈশ্বিক তেলবাজারের অস্থিরতার কারণে চীন থেকে আমদানিকৃত প্রধান কাঁচামালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে টনপ্রতি প্রায় ২ হাজার ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৩০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

‘পুরো এপিআই খাত এখন চাপে রয়েছে’, যোগ করেন তিনি।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে প্রতি মাসে প্যারাসিটামল এপিআইয়ের চাহিদা প্রায় ৬৫০ টন।

উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আগে গণস্বাস্থ্য মাসে প্রায় ৯০ টন প্যারাসিটামল এপিআই সরবরাহ করত। বাকি চাহিদা পূরণ করা হতো আমদানি ও অন্যান্য স্থানীয় উৎপাদকদের মাধ্যমে।

জামাল উদ্দিন জানান, বেক্সিমকো, অ্যাকমি, এসিআই, ইবনে সিনা, হেলথকেয়ার ও ইনসেপ্টাসহ অধিকাংশ শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে তারা এপিআই সরবরাহ করে। স্কয়ারই একমাত্র বড় প্রতিষ্ঠান, যারা নিজেদের প্যারাসিটামল এপিআই নিজেরাই উৎপাদন করে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ওপরই এই এপিআই উৎপাদন পুনরায় শুরুর বিষয়টি নির্ভর করছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ প্রস্তুত ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হলেও উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রায় ৯৫ শতাংশ এপিআই আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশ আসে চীন ও ভারত থেকে।

২০১৮ সালে এপিআই নীতি গ্রহণ ও এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপন করা হলেও নীতি, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রক জটিলতার কারণে আমদানি-নির্ভরতা কমানো এখনো সম্ভব হয়নি।

জামাল বলেন, ‘সরকারের সমন্বিত সহায়তায় এসব বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশ আমদানি-নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে। বর্তমানে দেশ বছরে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের এপিআই আমদানি করে, যা কমিয়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা সম্ভব।’

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) মো. শাহ ইমরান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্যারাসিটামল এপিআই উৎপাদন করলেও মাঝে মধ্যে গণস্বাস্থ্য থেকেও কিনে থাকে।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গণস্বাস্থ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বেক্সিমকোকে নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দেশে প্যারাসিটামলের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ বেক্সিমকো পূরণ করে এবং দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত থাকলে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাবনায় অবস্থিত তাদের এপিআই কারখানা গ্যাস সংকটে প্রভাবিত হয়নি। কারণ সেখানে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ রয়েছে।

তিনি বলেন, স্কয়ার একাই দেশের প্যারাসিটামল এপিআইয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম, যা জরুরি এই ওষুধের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করছে। তবে অন্যান্য স্থানীয় উৎপাদকদের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সৃষ্ট ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। সেই কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির বলেন, ওষুধ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে এপিআই আমদানির অনুমতি দিচ্ছে।

হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হালিমুজ্জামান বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত স্থানীয়ভাবে প্যারাসিটামল এপিআই সংগ্রহ করে, তারা ইতোমধ্যে আমদানির অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামালকে অগ্রাধিকার দিলেও সরবরাহ না থাকলে আমদানির অনুমতি দেয়।

হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের কাঁচামালের মজুত রাখে এবং আমদানির প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় আগেই অর্ডার দেয়। কারণ এপিআই আমদানি, মান পরীক্ষা এবং তা দিয়ে ওষুধ উৎপাদন—সবই সময়সাপেক্ষ।

‘প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারসাম্য রাখতে হয়। খুব কম আমদানি করলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার বেশি আমদানি করলে ব্যবহার করার আগেই কাঁচামালের মেয়াদ শেষ হয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে’, যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে, যা জাতীয় সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ।

মহেশখালীতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি কেন বন্ধ হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এই সংকটের তীব্র প্রভাব পড়েছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে। কারখানাগুলো এখন পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না এবং এর ফলে রপ্তানি বিলম্বিত হচ্ছে।

ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর ও কোনাবাড়ির কারখানা কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

প্যারাগন সিরামিকসের প্রশাসন ব্যবস্থাপক রোকনুজ্জামান জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে তারা তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন।

তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় প্রায় ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান একই সমস্যার সম্মুখীন।’ চলমান সংকট মোকাবিলায় কোম্পানিটি সিএনজি কিনতে বাধ্য হয়েছে। তবে সীমিত সরবরাহের কারণে সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারিনি এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন বড় ক্রেতা হারিয়েছি’, বলেন রোকনুজ্জামান।

গাজীপুরে কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক এম এম মামুন উর রশিদ বলেন, কোনো কারখানা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি। তবে সাত থেকে আটটি কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি শফিউল আলম বলেন, শ্রমিকরা ইতোমধ্যে ওভারটাইম আয়ের সুযোগ হারাচ্ছেন এবং সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কিছু কারখানায় ছাঁটাই হতে পারে।

বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ইউরোপীয় ক্রেতার বড় চালানের ডেনিম রপ্তানি অর্ডার হারানোর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সংকটের কারণে গাজীপুরে তাদের দুটি তৈরি পোশাক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এয়ার ফ্রেইটে পণ্য পাঠানোর সুযোগ নেই, কারণ খরচ অনেক বেশি। তাই আমরা উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বলে জানান প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের এই সাবেক সভাপতি বলেন, ‘সংকট আছে, কিন্তু তা কাটিয়ে ওঠার কোনো উপায় নেই। আমরা ডিজেল বা শিল্প এলপিজির মতো ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু তাতে বড় ধরনের লোকসান হবে।’

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

তিনি জানান, ডেল্টা অ্যাগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি এবং ন্যাশনাল সিমেন্ট মিলস লিমিটেড গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

‘গ্যাস ছাড়া উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের উৎপাদন খাত টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে’, যোগ করেন আমিরুল হক।

কঠিন পরিস্থিতি সামলে এমবাপে এখন মানসিকভাবে প্রস্তুত, জানালেন দেশম

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর তীব্র লড়াইয়ের পর দেশটির সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্য সইতে হয়েছিল কিলিয়ান এমবাপেকে। এই ঘটনায় কড়া বিবৃতিও দিয়েছিলেন তিনি। তিক্ত অবস্থা পার করে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের সেরা তারকা ও অধিনায়ক মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন, এমনটাই জানালেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

ভীষণ শারীরিক চ্যালেঞ্জ ও স্লেজিং নির্ভর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। ওই ম্যাচের পর প্যারাগুয়ের এক সিনেটর ফরাসি ফরোয়ার্ডকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। যেসব মন্তব্য বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়ে কড়া বিবৃতি দেয় ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন ও এমবাপে নিজে।

খেলার বাইরের এই ইস্যু মনোযোগ বিশ্বকাপ থেকে কিছুটা সরিয়ে নিলেও এমবাপে আবার নিজের কাজে মন দিয়েছেন। মরক্কোর বিপক্ষে নামার আগে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দেশম ফরাসি অধিনায়কের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন এবং জোর দিয়ে জানান যে এই ফরোয়ার্ড অবিচলিত আছেন।

দেশম বলেন, ‘কিলিয়ান ভালো আছে। মানসিক স্তরে সে একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে এবং আমি আর সে বিষয়ে ফিরে যেতে চাই না। সে মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী এক তরুণ। তার পুরো মনোযোগ আগামীকালের ম্যাচের দিকে, যা খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে কারণ আমাদের কাছে এমন দুটি দল রয়েছে যাদের যোগ্যতা আছে এবং কেবল একটি দলেরই পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কিলিয়ান ভালো আছে, দলের বাকিদের মতোই, এবং সে আগামীকালের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।’

ফরাসি কোচ কেবল মানসিক প্রস্তুতিই ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট—এমন ধারণাটি উড়িয়ে দিয়ে ৯০ মিনিটের শারীরিক পারফরম্যান্সের দিকেই আবার মনোযোগ আকর্ষণ করেন, ‘দলের মানসিকতা আপনাকে ম্যাচ জেতায় না, তবে আমি খুব ভালো করেই জানি যে এটি আপনার ম্যাচ হারার কারণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত, একমাত্র সত্য সেটাই যা মাঠের মধ্যে ঘটে।’

একটি দীর্ঘ মৌসুম জুড়ে খেলোয়াড়দের যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তা নিয়ে বলতে গিয়ে দেশম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি কীভাবে পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝাতে ফ্রান্সের আগের টুর্নামেন্টের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘এমন কিছু সময় আসে যা কিছু খেলোয়াড়ের জন্য কম-বেশি কঠিন হয়। আপনারা কিলিয়ানের কথা বলছেন, এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সে যে চোট পেয়েছিল, তার পর তার যাত্রা সেখানেই থেমে যেতে পারত। এবং আমরা যদি একটু পিছনের দিকে তাকাই, যদিও আমরা সেই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলাম, তবুও আমরা আক্রমণভাগে ভুগেছিলাম কারণ দুর্ভাগ্যবশত বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল।’

দেশম অধিনায়ক হিসেবে এমবাপের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ বলেন, ‘কিলিয়ানের বিষয়ে ফিরে আসি, সে অধিনায়ক এবং এই ভূমিকাটি পুরোপুরি ধারণ করে চমৎকারভাবে তা পালন করছে। সে খুব ভালো করেই জানে যে তার আচরণ পুরো দলের ওপর প্রভাব ফেলে এবং স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়েরা নিজেদের মধ্যে বিষয়গুলো সামলে নেয়। আমি বলছি না যে তারা নিজস্ব নিয়ম তৈরি করে, তবে সেখানে এক ধরনের বোঝাপড়া থাকে, কারণ এক, দুই বা তিনজন খেলোয়াড় কখনো কখনো এমন পেশাদার বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে পারে যা তাদের স্বাভাবিক রূপের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে দেয়। আর এখানেই সবাইকে সমর্থন করার জন্য দলের ভূমিকা সামনে আসে।’

 

রামিসা হত্যা: দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি শিল্পী সমাজের

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষও। অভিনেতা ও নির্মাতারা এ ঘটনাকে ‘নৃশংস’ ও ‘বর্বর’ উল্লেখ করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা তো পিশাচ দেখিনি, শুধু নাম শুনেছি। কিংবা ভয় দেখিয়ে বলি পিশাচের মতো ভয়ংকর। রামিসাকে যে হত্যা করেছে সে তো মানুষ নয়, একটা ভয়ংকর পিশাচ। আমরা কোন সমাজে বাস করছি? আমরা কি পিশাচের সমাজে বাস করছি?’

তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা কি কেউ আশা করতে পারি? এইভাবে একটা ছোট্ট শিশুকে জীবন দিতে হলো? ওর পবিত্র মুখটা দেখলেই হাহাকার করে উঠি। কীভাবে কেউ পারে এমন জঘন্য কাজ করতে? সেজন্যই জোর দিয়ে বলছি, রামিসার খুনি মানুষ নয়, পিশাচ।’

বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বিচারহীনতার জন্যই এটা হচ্ছে। যদি প্রতিটি ধর্ষণ ও খুনের বিচার হতো, তাহলে উদাহরণ হয়ে থাকত। রামিসা হত্যার বিচার হোক। তাহলেই আমরা পিশাচমুক্ত সমাজ পাব। আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।’

নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘আমি মর্মাহত, আমি ক্ষুব্ধ। রামিসার বিষয়টি খুবই অসহনীয়। মেনে নেওয়ার মতো নয়। জাতি হিসেবে আমরা এতটা নিষ্ঠুর কবে থেকে হলাম? আগেই ছিলাম, নাকি নতুন করে হলাম—এটা আমাকে খুব ভাবাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে চিন্তাভাবনার সময় হয়েছে। গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। রাষ্ট্রের যারা নীতিনির্ধারক, তারা একটু ভালো করে ভাববেন। রামিসার ঘটনা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এটা বর্বর ঘটনা।’

রামিসার হত্যাকারীর বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘যে রামিসাকে খুন করেছে, তার বিচার হোক। কঠিন শাস্তি হোক। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এমন ঘটনা আর না ঘটুক, সেই প্রত্যাশা করছি।’

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘রামিসার ঘটনাটি একটি নৃশংস ঘটনা। তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি আমাদের সমাজের জন্য ভয়াবহ এবং একই সঙ্গে লজ্জারও।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ, রাষ্ট্রও ব্যর্থ। শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারি না। মেয়েটার কথা ভাবতেই ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আমারও মেয়ে আছে। বিষয়টি আমাকে বেশি নাড়া দিচ্ছে।’

বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির সমালোচনা করে বাঁধন বলেন, ‘বিচারহীনতা বড় একটি বিষয়। বিচারগুলোতে দেরি হওয়াটাও বড় সমস্যা। আবার কখনো কখনো আসামিরা ছাড়া পেয়ে যায়। সব মিলিয়ে বিচারটা ঠিকভাবে হলে অপরাধীরা এত বড় অপরাধ করতে সাহস পেত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই রামিসা হত্যার বিচার হোক। এটা উদাহরণ হয়ে থাকুক। আমরা সবাই দেখি, বর্বরতার বিচার হয়েছে।’

অভিনেত্রী তানজিকা আমিন বলেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ হয়ে আছি রামিসার ঘটনায়। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছি। ফেসবুকে ঢুকতে পারছি না। রামিসার ছবি দেখলে প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছি। তার বাবা-মায়ের মুখ দেখে আরও কষ্ট হচ্ছে। কীভাবে সন্তানকে ছাড়া তারা বাঁচবেন—এটা ভেবে গা ছমছম করছে। তাদের কষ্ট মেনে নেওয়ার মতো নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাসায় গেছেন। নিশ্চয়ই রামিসার পরিবার ন্যায়বিচার পাবে। আমি বিচার চাই এবং দ্রুত বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘আর একটি শিশুকেও যেন ধর্ষণ করা না হয়। কঠিন শাস্তি হোক। দ্রুত রায় হোক। মানুষ ভুলে যাওয়ার আগেই যেন বিচার হয়। বিকৃত রুচির মানুষ যেন এই বিচার দেখে ভয় পায়। বিকৃত মানসিকতার মানুষকে নির্মূল করতে হবে।’