28.7 C
Dhaka
Home Blog

‘তোমরা আমাদের গর্বিত করেছ’: বিশ্বকাপ দলকে বীরোচিত সংবর্ধনা মিশরের

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ ১১ মিনিটে তিন গোল হজম করে হৃদয়ভাঙা বিদায় নিতে হয়েছিল মিশরকে। তবে সেই পরাজয় দেশের মানুষের চোখে তাদের কৃতিত্বকে একটুও ম্লান করতে পারেনি। বরং ইতিহাস গড়া এই দলকে বীরের মর্যাদায় বরণ করে নিয়েছে গোটা দেশ।

শুক্রবার উত্তর আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে হাজারো সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে জড়ো হন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানাতে। সমর্থকদের কণ্ঠে ছিল দেশাত্মবোধক গান, হাতে ছিল ‘মিশরের ছেলেরা আমাদের গর্বিত করেছে’ লেখা ব্যানার। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ছবিসংবলিত ‘ধন্যবাদ’ লেখা পোস্টারও দেখা যায় অনেকের হাতে।

বিমানবন্দর থেকে খেলোয়াড়দের একটি খোলা ছাদের বাসে করে নিউ আলামেইন শহর ঘুরিয়ে আনা হয়। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ হাত নেড়ে এবং করতালিতে বিশ্বকাপফেরত দলকে অভিনন্দন জানান। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির দলটির খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সমর্থকদের ভিড়ে কোচ হোসাম হাসানের বড় বড় ছবিও ছিল। কয়েকটি ছবিতে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়িয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে একাধিকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা গিয়েছিল মিশরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে। সংবাদ সম্মেলনেও তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

যদিও শেষ ষোলোতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে, তবু এটি ছিল মিশরের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় তারা। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ বত্রিশে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে বিদায় করে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় দলটি।

দলের দেশে ফেরার আগেই হোসাম হাসান ও তার যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসানের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে মিশর ফুটবল ফেডারেশন। চুক্তির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ২০৩০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন তারা।

২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫৯ বছর বয়সী হোসাম হাসানের অধীনে মিশর ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে খেলেছে, আট বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে। এখন পর্যন্ত ৩৫ ম্যাচে ২০ জয়, ৯ ড্র ও মাত্র ৬ হারের রেকর্ড গড়েছে।

 

ঈদের ৯ নাটকে ৯ রকম চরিত্রে কেয়া পায়েল

নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে বেশ এগিয়ে আছেন কেয়া পায়েল। কালেভদ্রে মডেলিংও করেন তিনি। তবে নাটকে অভিনয়ের ক্ষেত্রেই তাকে বেশি ব্যস্ত দেখা যায়। 

বছরজুড়ে তার নাটক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদের নয়টি নাটকে অভিনয় করেছেন। নয়টি নাটকে নয় রকম চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

ঈদের নাটক নিয়ে কেয়া পায়েল কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

কেয়া পায়েল ঈদের নাটক সম্পর্কে বলেন, ‘ঈদে বেশ কিছু কাজ করেছি। কোনোটা ঈদের আগে শুটিং করেছি, আবার কোনোটা হয়তো আরও আগে করেছি। সব মিলিয়ে নয়টি নাটক প্রচার হচ্ছে। দর্শকরা প্রতিটি নাটকে আমাকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখবেন। কোনো নাটকের সঙ্গে অন্য নাটকের মিল নেই, ভিন্নতা আছে।’

ভিন্ন ভিন্ন নাটকের চরিত্রগুলো করার সময় কতটা উপভোগ করেছেন? এর জবাবে কেয়া পায়েল বলেন, ‘অবশ্যই কাজগুলো উপভোগ করেছি। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা আছে বলেই কাজ করতে পারছি। অভিনয় ভালোবাসি। প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে। শুটিংয়ের সময় অনেক উপভোগ করেছি।’

এবারের ঈদে কেয়া পায়েল অভিনীত নয়টি নাটক হচ্ছে—’বুকের ভিতর আগুন’, ‘বেখেয়ালি’, ‘সুখের গল্প’, ‘ডুব’, ‘নোটবুক’, ‘যত্নে থাকো’, ‘অপরাজিতা’, ‘ছুঁয়ে দে আমায়’ এবং ‘পাল্লু বিল্লুর বিয়ে’। 

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কাজই যত্ন করে করা হয়েছে। এবার অনেক ভালো ভালো কাজ হয়েছে।’

নিজের অভিনীত নাটক দেখার বিষয়ে কেয়া পায়েল বলেন, ‘আমার অভিনীত নাটকগুলো দেখছি। আরও যেগুলো প্রচার হবে, সেগুলোও দেখব। পাশাপাশি অন্যদের নাটকও দেখছি।’

কাছের মানুষদের কাছ থেকে ঈদের নাটক নিয়ে কী ধরনের ভালোবাসা পাচ্ছেন? এর জবাবে কেয়া পায়েল বলেন, ‘ভালো ফিডব্যাক পাচ্ছি। সবাই ভালো বলছেন। সবগুলো নাটক প্রচার শেষ হলে আরও বিস্তারিত মতামত জানতে পারব।’

এদিকে, এবারের ঈদের ছুটিতে ঢাকায় আছেন কেয়া পায়েল। পরিবারের সবার সঙ্গে সুন্দর সময় পার করছেন।

তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় পার করছি। কাজিনদের সঙ্গে সিনেমা দেখেছি। সবাই মিলে গল্প করছি। সুন্দরভাবে সময় কাটছে।’

কথায় কথায় কেয়া পায়েল ঈদের সালামি নিয়ে বলেন, ‘মা-বাবার কাছ থেকে সালামি পেয়েছি। তবে ছোটদের অনেক সালামি দিতে হয়েছে। বিষয়টা ভালোই লাগে।’

সবশেষে অভিনয় নিয়ে কেয়া পায়েল বলেন, ‘সবসময় ভালো ভালো কাজ করতে চাই। সেভাবেই পথ চলছি। দর্শকরা মনে রাখবেন এবং চ্যালেঞ্জ নেওয়া যায়—এমন কাজই আমাকে বেশি টানে।’

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর নতুন কমান্ডার কে এই আহমাদ ওয়াহিদি?

এক চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে আহমাদ ওয়াহিদি ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডারের দায়িত্ব নিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তার দেশের যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধে এরইমধ্যে ইরানে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহর হামলায় বিধ্বস্ত। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাও হামলায় নিহত হয়েছেন।

আইআরজিসির দায়িত্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, আইআরজিসির এলিট ফোর্স কুদসের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চালানো একটি ড্রোন হামলায় নিহত হন।

আইআরজিসির সর্ব সাম্প্রতিক প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার শুরুর দিকেই নিহত হন। ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় পূর্বসূরি হোসেন সালামিকে হত্যা করার পরই পাকপুরকে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

আইআরজিসির শীর্ষ পদে ঘন ঘন পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয়, ইরানের সামরিক কাঠামোর এই শক্তিশালী পদ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। এখন ওয়াহিদিকে এমন দায়িত্ব পালন করতে হবে, যা সোলাইমানির মতো প্রভাবশালী নেতাকেও করতে হয়নি। আর তা হলো এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তিকে নেতৃত্ব দেওয়া।

আহমাদ ওয়াহিদি কে?

গত ডিসেম্বরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে আহমাদ ওয়াহিদিকে মনোনীত করেছিলেন। এর আগে তিনি ইরানের সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সত্তরের দশকের শেষ দিকে আইআরজিসি গঠনের শুরুর সময় থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওয়াহিদি। আশির দশকে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে গোয়েন্দা ও সামরিক বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি এলিট কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দেন।

এরপর তিনি কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব সোলাইমানির কাছে হস্তান্তর করেন। সোলাইমানি ১৯৯৮ সালে দায়িত্ব নেন এবং ২০২০ সালে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের প্রভাব বিস্তারের মূল কারিগর হিসেবে পরিচিতি পান।

গত ডিসেম্বরে তিনি আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার সময় ওয়াহিদি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা করা হলো বিশ্বের মহত্তম গুণগুলোর মধ্যে একটি।

২০২৫ সালে ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামি বিপ্লবের ৪৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে তিনি সেই বিপ্লবকে ইতিহাস পরিবর্তনের আলো হিসেবে বর্ণনা করেন।

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াহিদি ইরানি প্রতিনিধি এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে গোপন আলাপ-আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এসব যোগাযোগ আলোচিত ‘ইরান-কন্ট্রা’ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যার মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তারা গোপনে ইরানে অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটে’র ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি আলফোনেহ আল জাজিরাকে বলেন যে, ওয়াহিদি সেই আলোচনায় জড়িত থাকার মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানেন।

মন্ত্রিসভায় ক্যারিয়ার

দুই পূর্বসূরির মতো ওয়াহিদি কেবল একজন সামরিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ভূমিকাতেও ছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের অধীনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং ২০২৪ সালে সেই পদ থেকে সরে যান।

আলফোনেহ আল জাজিরাকে বলেন, ওয়াহিদি একজন ‘দক্ষ আমলা’ এবং তার এই অভিজ্ঞতা তাকে ‘যুদ্ধকালীন অপরিহার্য নেতা এবং বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর একজন উপযুক্ত প্রধান কমান্ডার করে তুলেছে।’

তবে আইআরজিসি এবং রাজনৈতিক দপ্তরে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগও ওঠে।

২০০৯ সালের শেষদিকে আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে একটি রেড নোটিশ জারি করে। ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় তার নাম আসে, যেখানে ৮৫ জন নিহত হন।

ইরান এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইন্টারপোলের নোটিশটিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশব্যাপী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চুল পুরোপুরি না ঢাকার জন্য ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়েছিল।

মিডল ইস্ট নিউজ আউটলেট আমওয়াজের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শাবানি এক্সে এক পোস্টে ইঙ্গিত দেন, ওয়াহিদি তার পূর্বসূরীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী।

‘লোকটি অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠুর। ইসরায়েলি হামলার ফলে যেসব পদ খালি হয়েছে, সেখানে কট্টরপন্থীদের বসাতে তারা এক মুহূর্ত সময়ও অপচয় করছে না।’

ওয়াহিদির দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ

গত ডিসেম্বরে যখন প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ওয়াহিদিকে আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন, তখন তার অন্যতম প্রধান কাজ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত করা।

বিশ্লেষকরা বলেন, সরকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘ সময় কাজ করার সুবাদে ইরানের কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে ওয়াহিদির, যা এখন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মন্তব্য থেকে দায়িত্বের চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট হয়। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু সামরিক ইউনিট ‘স্বাধীন এবং কিছুটা বিচ্ছিন্ন’, যারা বেসামরিক সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সাধারণ নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে।

আইআরজিসির সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ-আলি জাফরি পরিকল্পনা করেই বাহিনীটিকে বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল যেন ‘শীর্ষ কমান্ড ধ্বংস হওয়া কিংবা খোদ রাজধানী তেহরানের পতনের মুখেও সংস্থাটি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াহিদি এই ধরনের ছড়িয়ে থাকা বা বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর কাজগুলো সমন্বয় করার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি। এক্ষেত্রে তিনি অন্যান্য কমান্ডার ও প্রবীণ সদস্যদের সাহায্য পাবেন, যারা একত্রে সংগঠনের ভেতরে একটি শক্তিশালী কিন্তু অনানুষ্ঠানিক সম্মিলিত নেতৃত্ব হিসেবে কাজ করেন।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির আলওয়ালিদ সেন্টার ফর মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের পরিচালক এবং ‘সেক্টেরিয়ানাইজেশন: ম্যাপিং দ্য নিউ পলিটিক্স অব দ্য মিডল ইস্ট’-এর লেখক নাদের হাশেমি আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের নেতারা আইআরজিসি প্রধান হিসেবে ‘সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত কাউকে’ খুঁজছেন। 

তিনি বলেন, ঠিক এমন একজনকে প্রয়োজন, যিনি শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর পরও বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা ধরে রাখবেন এবং ‘অসম সামরিক শক্তি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাধারণ সদস্যদের মনোবল চাঙা রেখে যুদ্ধ চালিয়ে নিতে উৎসাহিত করবেন।’

হাশেমি আরও বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা আইআরজিসির ওপর নির্ভরশীল। ঠিক এই ধরনের মুহূর্তের জন্যই তাদের তৈরি করা হয়েছিল। এই হামলা মোকাবিলা করে পাল্টা লড়াই করা এবং টিকে থাকার সক্ষমতার ওপরই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।’

একদিনেই শেষ সাধুসঙ্গ, বসছে না মেলা

দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়িতে শুরু হয়েছে সাধুসঙ্গ। রমজানের কারণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে এবার একদিনেই শেষ হচ্ছে সাধুদের মিলনমেলা।

আজ সোমবার দুপুরে লালন একাডেমির অডিটোরিয়ামে সাধুসঙ্গের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার।

কুষ্টিয়ার বিদায়ী জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন ও পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা বিষয়ে ফকির নহির শাহ বলেন, ‘ফাল্গুন মাসের ভরা পূর্ণিমা তিথিতে ফকির লালন সাঁইজি পাঁচ ঘরের সাধুদের নিয়ে সাধুসঙ্গ করতেন। এগুলো হলো—খোদ সাঁইজি লালনের ঘর, পাঞ্জুশাহের ঘর, সতীমার ঘর, চৌধুরীর ঘর ও দেলবার শাহের ঘর।’

তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে পরদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাব্যাপী সাধুসঙ্গ হওয়ার কথা। প্রথমে অধিবাস, রাতে একটা সেবা। পরদিন সকালে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্যদিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হবে।’

দোলপূর্ণিমার এই আয়োজনে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত-অনুরাগীরা ভিড় জমান আখড়াবাড়ির মাজার প্রাঙ্গণে।

নতুন কেনা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকতে পারে ভাইরাস, করতে পারে যেসব ক্ষতি

নতুন স্মার্টফোন কিনে চালু করার আগেই সেটিতে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ভাইরাস থাকতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিটডিফেন্ডারের গবেষকেরা বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের হাজার হাজার কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এমন সফটওয়্যার পেয়েছেন। ফোনের সিস্টেম সফটওয়্যারের মধ্যেই এটি আগে থেকে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

গবেষকেরা এই ম্যালওয়্যার ছড়ানোর ঘটনাটির নাম দিয়েছেন ‘মিডনাইট মিমোসা’। গত দুই বছরে হাজার হাজার ফোনে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ফোনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মেক্সিকো, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে।

মিডিয়াটেক চিপ ব্যবহার করা কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এমন ফোন আছে যেগুলোর নাম ও বিজ্ঞাপনে দামি ও উন্নত স্মার্টফোনের মতো বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে।

এই ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর অজান্তেই ফোনে অ্যাপ ইনস্টল করতে বা মুছে ফেলতে পারে। ভুয়া বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মতো কার্যক্রমও চালাতে পারে। এমনকি ফোনের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করে ক্ষতিকর কাজ করতে পারে।

কিছু আক্রান্ত ফোন ব্যবহারকারীর অজান্তে অন্যদের ইন্টারনেটের তথ্য আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এভাবে ফোনটি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ডিভাইসের একটি দলের অংশ হয়ে যেতে পারে। এই ধরনের দলকে বলা হয় ‘বটনেট’।
গবেষকেরা গুগল প্লেতে ছড়িয়ে পড়া ১৩টি ক্ষতিকর অ্যাপও শনাক্ত করেছেন। ফোনে আগে থেকে থাকা ম্যালওয়্যার সাময়িকভাবে গুগল প্লে স্টোর বন্ধ করে দিতে পারে। এরপর এটি অন্য ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করার চেষ্টা করে, যেন গুগলের নিরাপত্তাব্যবস্থা সহজে তা শনাক্ত করতে না পারে।

এ ছাড়া সাধারণ অ্যাপের মতো দেখতে অন্তত ৩২ ধরনের অ্যাপ গোপনে ইনস্টল করতে পারে এই ম্যালওয়্যার। এসব অ্যাপের মধ্যে রয়েছে আবহাওয়ার খবর দেখার অ্যাপ, ফাইল সাজানোর অ্যাপ, আইকন বদলানোর টুল ও অডিও সম্পাদনার অ্যাপ।

সাধারণ অ্যাপ ফোনের সেটিংস থেকে মুছে ফেলা যায়। কিন্তু এই ম্যালওয়্যার ফোনের মূল সিস্টেম সফটওয়্যারের মধ্যে থাকায় সহজে সরানো যায় না।

বিটডিফেন্ডারের গবেষকদের মতে, এটি সরাতে ফোনের সিস্টেম সফটওয়্যারে বিশেষ পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এ জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রয়োজন, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কঠিন।

এই ম্যালওয়্যার কারা ছড়িয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। ফোন তৈরির সময়, নাকি বাজারে পৌঁছানোর পথে এগুলো আক্রান্ত হয়েছে, সেটিও নিশ্চিত নয়।

কিছু আক্রান্ত সফটওয়্যারে চীনা প্রতিষ্ঠান শেনজেন জেডিয়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল সনদ পাওয়া গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা প্রমাণ করতে পারেননি গবেষকেরা।

অ্যাপল, স্যামসাং ও অনরের দামি ফোনের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি কিছু ফোনেও ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে। আক্রান্ত কিছু মডেলের সঙ্গে চীনা ব্র্যান্ড ডুগি ও কিউবটের নামও যুক্ত আছে।

ফোনে হঠাৎ অনেক বিজ্ঞাপন দেখা, অপরিচিত অ্যাপ পাওয়া, অস্বাভাবিকভাবে চার্জ শেষ হওয়া, বেশি ডেটা খরচ বা ফোন ঘন ঘন গরম হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হোন। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে ফোনে ম্যালওয়্যার আছে, তা নিশ্চিত নয়।

ফোনের অ্যাপগুলো পরীক্ষা করুন, অ্যান্ড্রয়েড নিয়মিত হালনাগাদ রাখুন এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা অ্যাপ দিয়ে ফোন পরীক্ষা করুন। মনে রাখবেন, ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করলেও এই ম্যালওয়্যার থেকে মুক্তি নাও মিলতে পারে।

ফোনে ম্যালওয়্যার আছে বলে সন্দেহ হলে সেটি দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা এড়িয়ে চলুন।

ফোন কেনার সময়ও সতর্ক থাকা জরুরি। অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হওয়া ফোন, অপরিচিত বিক্রেতা কিংবা প্রস্তুতকারকের পরিচয় স্পষ্ট নয়, এমন পণ্য কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। পরিচিত ব্র্যান্ড ও অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে ফোন কিনলে ঝুঁকি কমতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ‘ব্যাডবক্স ২.০’ নামে আরেকটি বটনেটের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তখন বিশ্বজুড়ে ১০ লাখের বেশি ডিভাইস আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়।

বিভ্রান্ত করবেন না, সঠিক পরিকল্পনা আনুন বাস্তবায়ন করব: বিরোধীদলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে বিভ্রান্ত না করে দেশের উন্নয়নে বিরোধী দলকে সঠিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তায় ভাঙচুরের বিশৃঙ্খলা তৈরির দিন শেষ। সেই রাজনীতি শেষ। বক্তব্য দেওয়া খুব সহজ কাজ, সমালোচনা করা সহজ কাজ। যদি মুরোদ থাকে আসুন শার্টের হাতা গুটিয়ে মাঠে নামুন, মানুষের জন্য কাজ করুন। কিন্তু এমন কোনো কথা বলবেন না, যা বললে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এমন কোনো কাজ করবেন না যা করলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।’

‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মীরা এই রাজপথে টিকে ছিল। আর যারা আজ বড় বড় গলা উঁচিয়ে কথা বলছে, বিভ্রান্তিকর কথা বলছে গত ১৭ বছর মানুষ আপনাদের রাজপথে দেখতে পায়নি,’ বলেন তিনি।

বিরোধী দলকে ‘বিভ্রান্তির রাজনীতি’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সত্যিকার জনগণের কাজ হতে পারে, দেশ এগিয়ে যেতে পারে—এরকম যদি কোনো পরিকল্পনা আপনাদের কাছে থাকে, তাহলে উপস্থাপন করুন, সংসদে আনুন। সেই পরিকল্পনা যদি ভালো হয়, বাস্তবসম্মত হয়, দেশ ও মানুষের উপকারে আসে অবশ্যই আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘এই রাজনৈতিক দলকে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই আপনারা যদি মনে করেন জনগণের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব আছে, তাহলে পরিকল্পনা নিয়ে আসুন জনগণের সামনে। বিদ্যুতের সমস্যা, গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকারের থেকে ভালো কোনো পরিকল্পনা তারা যদি নিয়ে আসতে পারেন…যে পরিকল্পনায় আগামী তিন মাস না হোক ছয় মাসের মধ্যে সমাধান হতে পারে, তাহলে তাদের প্রত্যেকটি পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করব।’

‘আর যদি তারা শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য, এসব কথা বলে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ, একজন রাজনীতিবিদের কাজ নয় জনগণকে বিভ্রান্ত করা। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনগণকে ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ দেখানোই হচ্ছে কাজ। বিভ্রান্তির রাজনীতি স্বৈরাচার করে গেছে, মিথ্যার রাজনীতি স্বৈরাচার করে গেছে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘বিএনপি জনগণের কাজ করার জন্য কাজ করছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির পরিকল্পনা আছে দেশের জ্বালানি সমস্যার সমাধান করা। আগামী ২৭ আগস্ট সংসদের অধিবেশন শুরু হলে জ্বালানি সমস্যা নিয়ে আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা আমরা উপস্থাপন করব।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল মুদ্রার তালিকায় টাকা

গত এক বছরে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থিতিশীল মুদ্রা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এ বছরের মার্চের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয়েছে মাত্র ০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে তুলনামূলক বিচারে শুধু কম্বোডিয়া কিছুটা ভালো করেছে। দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের রুপির সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমেছে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীলঙ্কান রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ, ফিলিপাইনের পেসো ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ার ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে।

এর বিপরীতে, চীনের ইউয়ানের মান বেড়েছে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা ছিল এটিই।

এছাড়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির মানও কিছুটা বেড়েছে। এর মান বেড়েছে ০ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফের শর্ত মেনে গত বছরের মে মাসে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কমাতে মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরই টাকার অবমূল্যায়ন তুলনামূলক সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে পেরেছে, যা স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ৩০ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

গত এক বছরে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে, যা মুদ্রার স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি বিল পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ৪ আগস্ট আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ দশমিক ৮১ টাকা, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১২৩ দশমিক ৬৯ টাকা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে আচমকা হোটেল বদল হালান্ডদের

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে হুট করে হোটেল বদল করেছে গোটা নরওয়ে দল। একাধিক মিডিয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের হোটেলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্টকে হোটেল বদলানোর কথা জানান নরওয়ের ফুটবলাররা। 

ইয়াহু স্পোর্টসের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মায়ামিতে ইংল্যান্ড ম্যাচকে সামনে রেখে শুরুতে ফোর্ট লডারডেলের দ্য ডালমার হোটেলে উঠেছিলেন হালান্ডরা। কিন্তু মাত্র এক রাত পরেই এই হোটেল ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, হোটেলের বাইরে উচ্চ শব্দে নির্মাণকাজ চলার কারণে খেলোয়াড়েরা ম্যানেজমেন্টের কাছে অভিযোগ জানান এবং হোটেল পরিবর্তনের কথা বলেন। 

অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বলেছেন, ‘কিছু কিছু বিষয় আরেকটু ভালো হতে পারত। আমরা সেগুলো ঠিক করে নিয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে নিজেদের যথাসম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুত রাখার লক্ষ্যে এমনটা করা হয়েছে’। 

ম্যাচের মাত্র একদিন আগে এমন ঘটনা দলের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন অনেক সমর্থক। তবে নরওয়ে দলের লজিস্টিকস ম্যানেজার ট্রুলস ডাহেলি আশ্বস্ত করেছেন এমন কিছু ঘটবে না, ‘নতুন হোটেল নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। কেউ কেউ হয়তো ভয় পেতে পারেন যে এতে খেলোয়াড়দের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কী না। তবে এই স্থানান্তর আমাদের চেয়ে খেলোয়াড়েরাই বেশি চেয়েছে’। 

ডাহেলি আরও জানিয়েছেন, মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই পুরো স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন তারা, ‘এই সময়ে এসে হোটেল পরিবর্তনের ব্যাপারটা আদর্শ নয়, তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলাম। খেলোয়াড়দের ভালো পরিবেশে রাখা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মায়ামিতে এক সপ্তাহ থাকতে যাচ্ছি, এবং নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচটা খেলতে যাচ্ছি। এই পর্যায়ে এসে আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে পারি না। ফিফা আমাদের হোটেল পরিবর্তনের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে’। 

নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির স্বার্থে এটা দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, ‘এটা আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। এই ম্যাচের আগে আমাদের শতভাগ প্রস্তুত থাকতে হবে। ফিফা আমাদের ব্যাপারটা বুঝেছে। একটু তাড়াহুড়ো করে বদল করতে হয়েছে, কিন্তু আমরা সবাই এখন খুশি’। 

বেইন স্পোর্টসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, শব্দদূষণের পাশাপাশি অপরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগের কারণেও তড়িঘড়ি করে হোটেল পরিবর্তন করতে হয়েছে নরওয়েকে। ফিফাকে জানানোর পর তারা দ্রুত এই হোটেল পরিবর্তনে সহায়তা করেছে এবং এ সংক্রান্ত খরচের বেশিরভাগটুকু ফিফাই বহন করবে বলে জানা গেছে। 

 

বলিউড নির্মাতা জোয়া আখতারের অফিসে চুরি, উধাও ৬৬ হার্ডডিস্ক

বলিউডে চুরি-ডাকাতি নিয়ে অনেক সিনেমা হয়েছে। কিন্তু এবার যেন বাস্তবেই সিনেমার গল্প ঢুকে পড়ল নির্মাতা জোয়া আখতারের অফিসে!

এক সকালে অফিসে গিয়ে কর্মীরা দেখলেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু হার্ডডিস্ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথমে হয়তো মনে হয়েছিল, অন্য কোথাও রাখা আছে। তারপর খোঁজাখুঁজি। ড্রয়ার খুলে দেখা। আলমারি চেক। স্টোররুমে উঁকি। কিন্তু না! হার্ডডিস্কগুলো সত্যিই গায়েব!

এরপর বেরিয়ে আসে আরও চমকে দেওয়া তথ্য, এক বা দুইটা নয়, পুরো ৬৬টি হার্ডডিস্ক উধাও!

এই হার্ডডিস্কগুলো ছিল টাইগার বেবি ডিজিটাল এলএলপির। প্রতিষ্ঠানটি যৌথভাবে গড়েছেন জয়া আখতার ও নির্মাতা রিমা কাগতি। সেখানে সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, বিজ্ঞাপনসহ নানা প্রজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সংরক্ষণ করা ছিল।

তবে জোয়া আখতার পুরো ব্যাপারটা বেশ ঠাণ্ডা মাথায় সামলেছেন।

বলিউড হাঙ্গামাকে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমার অফিসে চুরি হয়েছে। হার্ডডিস্ক চুরি গেছে। আমরা অভিযোগ করেছি, পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। এটা অফিসের ভেতরের কারও কাজ। মানুষ টাকা রোজগারের জন্য কতটা নিচে নামতে পারে, এটা সত্যিই দুঃখজনক।

জোয়া জানান, ভাগ্য ভালো, সব কিছুর ব্যাকআপ ফাইল আমাদের কাছে আছে।

মানে, চোর হার্ডডিস্ক নিয়ে পালালেও পুরো সিনেমা নিয়ে পালাতে পারেনি!

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অফিসে মোট ১১৯টি হার্ডডিস্ক ছিল। এর মধ্যে ৬৬টি নেই। আর এগুলোর স্টোরেজ ক্ষমতা ১৬ টেরাবাইট থেকে ৭২ টেরাবাইট পর্যন্ত!

তদন্তকারীদের ধারণা, চুরি হওয়া হার্ডডিস্কগুলোতে জনপ্রিয় কিছু প্রজেক্টের ডেটাও ছিল। এর মধ্যে রয়েছে মেইড ইন হেভেন ও ঘোস্ট স্টোরিজের মতো আলোচিত কাজের ফাইল।

ঘটনাটি সামনে আসে গত ২১ মে। অফিসের কর্মীরা প্রয়োজনীয় কিছু হার্ডডিস্ক খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি স্টোরেজ বক্স ভাঙা এবং অনেক কেস খালি পড়ে আছে।

এরপর পুলিশের তদন্তে গ্রেপ্তার হন দুই ব্যক্তি। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের একজন নাকি গত কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে হার্ডডিস্ক সরিয়ে গ্রে মার্কেটে বিক্রি করছিলেন।

এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, শুধু হার্ডডিস্কই বিক্রি হয়েছে, নাকি ভেতরের ডেটাও কোথাও কপি বা ফাঁস করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, নতুন অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর মুখপাত্র (আইআরজিসি) আলি মোহাম্মদ নাঈনি বলেছেন, ইরান ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের’ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেছেন, তেহরান এমন উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা এখনো এই সংঘাতে ব্যবহার করা হয়নি।

আজ শুক্রবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এক বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, ইরানের শত্রুদের ভয়াবহ হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ শিগগিরই হামলার নতুন ধরণের ঢেউ শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, ইরানের নতুন উদ্যোগ ও নতুন অস্ত্র আসছে। এই প্রযুক্তিগুলো এখনো বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়নি।

নাঈনি আরও বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় ইরান এখন অনেক বেশি প্রস্তুত।