29.2 C
Dhaka
Home Blog

বাংলাদেশি শিক্ষিত তরুণদের ‘স্কিল গ্যাপ’ ও কর্মসংস্থানের বাস্তবতা

বাংলাদেশে কি সত্যিই চাকরির অভাব? নাকি আমরা কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ব্যর্থ হচ্ছি? সাম্প্রতিক বাস্তবতায় এই প্রশ্নটি আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে।

একদিকে প্রতি বছর লাখো তরুণ উচ্চশিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে আসছে, অন্যদিকে নিয়োগদাতারা বলছেন, ‘যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না’। এই দ্বৈত বাস্তবতাই স্পষ্ট করে দেয়, আমাদের সামনে মূল সংকটটি হলো ‘স্কিল গ্যাপ’।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমবাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে উপযুক্ত চাকরি খুঁজে পায় না।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে, বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের উল্লেখযোগ্য অংশ শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজে নিয়োজিত নয়।

বেসরকারিখাতের বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে, নিয়োগদাতাদের বড় একটি অংশ দক্ষতার ঘাটতিকে নিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন।

এই বৈপরীত্যের মূল কারণ খুঁজতে গেলে প্রথমেই সামনে আসে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। এখনও অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষাদান পদ্ধতি তাত্ত্বিক জ্ঞানকেন্দ্রিক। পাঠ্যক্রমে বাস্তবমুখী দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট। ফলে শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি অর্জন করলেও সেই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে না।

বর্তমান শ্রমবাজারে যে দক্ষতাগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ইংরেজিতে কার্যকর যোগাযোগ, প্রেজেন্টেশন দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, সময় ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল টুল ব্যবহারের দক্ষতা।

বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনে বারবার বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তরুণদের একটি বড় অংশ এই ‘সফট স্কিল’ ও ‘এমপ্লয়েবিলিটি স্কিলে’ পিছিয়ে রয়েছে। ফলে তারা চাকরির সুযোগ পেলেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে। ভালো ফলাফল নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি একাধিক চাকরির ইন্টারভিউ দেন, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হন। পরে উপলব্ধি করেন, তার মূল দুর্বলতা ছিল যোগাযোগ দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাব। কয়েকটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর তার অবস্থার পরিবর্তন হয়। এটা কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা নয়, বরং হাজারো তরুণের বাস্তব চিত্র।

বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের বিস্তার শ্রমবাজারকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী দশকে বহু প্রচলিত চাকরি হারিয়ে যেতে পারে, আবার নতুন ধরনের দক্ষতার চাহিদা তৈরি হবে।

কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেনি। ফলে শিক্ষার্থীরা একটি পুরনো কাঠামোর মধ্যে শিক্ষা গ্রহণ করে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যারিয়ার পরিকল্পনার অভাব। আমাদের দেশে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা দক্ষতা-ভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়াই উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করে। পরিবার ও সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণা, ‘জনপ্রিয়’ বিষয়ে পড়ার প্রবণতা ও তথ্যের অভাবে তারা অনেক সময়ই এমন সিদ্ধান্ত নেয়, যা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। প্রথমত, শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব প্রয়োগের সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জাতীয় পর্যায়ে স্কিল ডেভেলপমেন্টকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকার, বেসরকারিখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী দক্ষতা উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, ইংরেজি যোগাযোগ ও উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

তৃতীয়ত, তরুণদের মানসিকতার পরিবর্তন অপরিহার্য। শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জন করাই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, বরং নিজেকে কর্মযোগ্য করে তোলাই হওয়া উচিত প্রধান উদ্দেশ্য। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেকে ক্রমাগত আপডেট রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

সবশেষে, একটি বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, ডিগ্রি এখন আর সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড নয়। বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন দক্ষতা, অভিযোজন ক্ষমতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা। সময় থাকতে যদি আমরা এই ‘স্কিল গ্যাপ’ কমানোর কার্যকর উদ্যোগ না নিই, তাহলে একইসঙ্গে দুই ধরনের সংকটে পড়ব। একদিকে বাড়তে থাকবে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, অন্যদিকে দক্ষ জনশক্তির অভাবে বাধাগ্রস্ত হবে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি।

বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগাতে হলে এখনই প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, সময়োপযোগী শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রতি বাস্তব অঙ্গীকার।

মো. তরিকুল ইসলাম: লেখক, কলামিস্ট, শিক্ষা পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

মরক্কো দেখিয়ে দিল সেলেসাওদের দুর্বলতা

বিশ্বকাপের প্রথম বড় লড়াইয়ে জয় পায়নি কেউ। তবে ম্যাচ শেষে সন্তুষ্ট থাকার কারণ হয়তো মরক্কোরই বেশি। আফ্রিকার প্রতিনিধিরা দুর্দান্ত ফুটবল খেলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে চাপে রেখেছে ম্যাচের বড় একটা সময়। শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অসাধারণ এক গোল ব্রাজিলকে হার থেকে বাঁচালেও মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে, তারা আর কেবল ‘চমক’ নয়, বিশ্ব ফুটবলের বড় শক্তিগুলোর জন্য বাস্তব হুমকি।

নিউ জার্সির দর্শকভর্তি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘সি’র ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। মরক্কোর হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ইসমাইল সাইবারি, আর ব্রাজিলের সমতাসূচক গোলটি আসে ভিনিসিয়ুসের পা থেকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং সংগঠিত দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে মরক্কো। আক্রমণে আশরাফ হাকিমি ও বিলাল এল খান্নুসের গতি এবং সৃজনশীলতা ব্রাজিলকে বারবার সমস্যায় ফেলে। অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুতে অনেকটাই পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করে খেলতে থাকে।

মধ্যমাঠে মরক্কোর আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে তরুণ আয়ুব বুয়াদ্দি অসাধারণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গড়ে বারবার ব্রাজিলের মাঝমাঠকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। দুই লাইনের মাঝখানে তৈরি হওয়া ফাঁকগুলো কাজে লাগিয়ে মরক্কো সহজেই আক্রমণে উঠে আসে।

ব্রাজিলের প্রথম ভালো সুযোগ আসে ১৪তম মিনিটে। কিন্তু ইগর থিয়াগো হেডে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। এর সাত মিনিট পরই আসে মরক্কোর গোল। মাঝমাঠে লুকাস পাকেতা বল হারালে দ্রুত আক্রমণে ওঠে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাসে ফাঁকা জায়গায় বল পান সাইবারি। সে সময় মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল দুজনই রক্ষণে ভুল অবস্থানে ছিলেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দেন গোলরক্ষক অ্যালিসন, যিনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামনে এগিয়ে আসেন। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল তার মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান সাইবারি।

গোলের পরও মরক্কো ছিল বেশি বিপজ্জনক দল। তাদের তীব্রতা, সংগঠন এবং গতির সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে থাকে ব্রাজিল। তবে সেই আধিপত্য থেকে আর কোনো গোল বের করতে পারেনি আফ্রিকান দলটি।

এরপরই দেখা যায় ভিনিসিয়ুসের জাদু। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের পাস পেয়ে বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে কাট করেন তিনি। এরপর ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠিয়ে দেন দূরের উপরের কোণে। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর কোনো কিছুই করার ছিল না।

বিরতির ঠিক আগে প্রায় এগিয়েও গিয়েছিল ব্রাজিল। পাকেতার দুর্দান্ত সিজর কিক অবশ্য অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বুনো।

প্রথমার্ধে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তন আনেন। কাসেমিরো ও রজার ইবানিয়েজের পরিবর্তে মাঠে নামেন ফাবিনিয়ো ও দানিলো। এতে মাঝমাঠে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল বেশি ছিল ব্রাজিলের। তারা আরও ধৈর্য নিয়ে খেলতে শুরু করে এবং মরক্কোকে নিজেদের অর্ধে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। ৭৮তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের ক্রস থেকে রাফিনিয়া সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।

ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, দুই দলই ঝুঁকি নেওয়া কমিয়ে দেয়। যদিও শেষ দিকে মাতাইস কুনিয়ার একটি প্রচেষ্টা ব্রাজিলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিল, তবু শেষ পর্যন্ত সেই কাঙ্ক্ষিত গোল আর আসেনি।

ড্রয়ের ফলে দুই দলই এখনও গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য তাদের রক্ষা করলেও দলগতভাবে এখনও অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে।

অন্যদিকে মরক্কো আবারও দেখিয়ে দিল, ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। সংগঠিত, আত্মবিশ্বাসী এবং সাহসী এই দলটি এবারও বিশ্ব ফুটবলের বড় শক্তিগুলোর জন্য কঠিন পরীক্ষার নাম হয়ে উঠতে পারে।

ঈদের বাজারে রেকর্ড বিক্রি চেস্ট ফ্রিজারের

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শোরুমগুলোতে আশানুরূপ ক্রেতা না থাকা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স বাজারে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।

কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হলেও বাজারে এবার স্পষ্টভাবে বদলে গেছে ক্রেতাদের চাহিদার ধরন। বড় ও দামি পণ্যের পরিবর্তে তুলনামূলক সাশ্রয়ী পণ্যের দিকে ঝুঁকেছেন ক্রেতারা। আর ফ্রিজের বাজারে এবার সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা গেছে চেস্ট ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজে।

ট্রান্সকম ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তাদের নির্ধারিত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় বড় ও উচ্চমূল্যের (হাই-এন্ড) ইলেকট্রনিক্স পণ্যের চাহিদা এবার তুলনামূলক কম ছিল। এর বিপরীতে মাঝারি ও কম দামের পণ্য ভালো বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে মূল্য নিয়ে সংবেদনশীলতা ছিল। একই বাজেটের মধ্যে অনেকে বড় সাইজের টেলিভিশন অথবা বিকল্প ব্র্যান্ডের পণ্য বেছে নিয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, ক্রেতারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি হিসাব করে খরচ করছেন।

তিনি আরও জানান, ফোনের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হলেও অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় এবার শোরুমে সরাসরি আসা ক্রেতার সংখ্যা কম ছিল।

ফেয়ার ইলেকট্রনিক্সের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স বিভাগের প্রোডাক্ট হেড মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, সাধারণত বটম মাউন্ট ও টপ মাউন্ট রেফ্রিজারেটরের বিক্রিই বাজারে সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। পুরো মৌসুমজুড়েই ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল চেস্ট ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজের দিকে।

তিনি জানান, সাধারণত ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে ডিপ ফ্রিজারের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরু থেকেই এর চাহিদা ছিল ব্যাপক। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয় এবং আসা বেশিরভাগ পণ্যই দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।

তার ভাষ্য, যেখানে সাধারণত বটম মাউন্ট ও টপ মাউন্ট ফ্রিজ বাজারে আধিপত্য করে, সেখানে এবার ডিপ ফ্রিজ উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করেছে। বিপরীতে বটম মাউন্ট রেফ্রিজারেটরের বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

ওয়ালটন হোম অ্যান্ড কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সেসের চিফ বিজনেস অফিসার মো. আবদুল্লাহ-আল-জুনায়েদ বলেন, তাদের কোম্পানি বর্তমানে বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বিক্রি অব্যাহত ছিল এবং গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ওয়াশিং মেশিন ও ওভেনের চাহিদা সারা বছরই স্থিতিশীল থাকে। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মশলা পেষার জন্য ব্লেন্ডার এবং দ্রুত মাংস রান্নার জন্য প্রেসার কুকারের চাহিদা বেড়ে যায়। এবারও এই দুই পণ্যের বিক্রি ভালো হয়েছে। পাশাপাশি কুকওয়্যার পণ্যের বিক্রিও সন্তোষজনক।

র‌্যাংগস ইমার্টের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মাহমুদুল ইসলাম রাজ বলেন, ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসগুলোতে হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রি কিছুটা বেড়েছিল। তবে দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় শোরুমে প্রত্যাশিত ক্রেতাসমাগম হয়নি।

তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মতো নানা বাহ্যিক কারণ ক্রেতাদের আস্থা ও কেনাকাটার আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ইলেকট্রো মার্ট গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নুরুল আফসারও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান। তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল ভোক্তা মনোভাবের কারণে এবারের ঈদ বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে।

তার মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ নতুন ইলেকট্রনিক্স পণ্য কেনার বদলে কোরবানির পশু কেনাকাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে স্বাভাবিক ঈদ মৌসুমের তুলনায় এবার বিক্রি প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম হয়েছে। যদিও ঈদের আগের কয়েক দিনে বিক্রিতে কিছুটা গতি ফিরে আসে।

 

গালগল্প বা ইতিহাসের মাস্টার হতে সংসদে যাইনি: বিরোধীদলীয় নেতা

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিদেশে অনেক কষ্ট করে প্রবাসীরা টাকা আয় করেন। সেই টাকা দিয়ে তারা বিদেশে প্রাসাদ না বানিয়ে দেশে পাঠান। তবে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয় না।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইটে শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।

জামায়াত আমির বলেন, বিদেশে মিশন, হাইকমিশন, অ্যাম্বাসি বা বড় বড় কর্মকর্তা থাকলেও প্রবাসীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। তারা পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেলে দালালদের খপ্পরে পড়ে বিড়ম্বনার শিকার হন। সঙ্গত বা অসঙ্গত কারণে কেউ চাকরি হারালে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না।

প্রবাসীদের দাবির বিষয়ে ঠিকমতো কথা বলা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের মর্যাদা যেন নিশ্চিত করা হয়। তাদের প্রয়োজনে দেশ ও সরকার যেন পাশে দাঁড়ায়। যেসব দেশে অ্যাম্বাসি প্রবাসীদের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে না পারে, সেখানে অ্যাম্বাসি থাকার দরকার নেই। অ্যাম্বাসির কাজ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লালন-পালন করা নয়, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের কাজ।

শ্রমিক দিবস প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, প্রতিবছর সারা বিশ্বে শ্রম দিবস পালিত হয়। বিভিন্ন দেশে শ্রমিক সমাবেশগুলোতে সরকারি ও বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়ে শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের আশ্বাস দেন।

‘শিকাগোর বেদনাদায়ক ঘটনার ১৪০ বছর পার হয়েছে। নেতাদের দেওয়া ওয়াদার ১০ ভাগের এক ভাগও যদি পূরণ করা হতো, তাহলে শ্রমিকদের আর কোনো দাবি-দাওয়া অবশিষ্ট থাকতো না’, যোগ করেন তিনি।  

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের প্রয়োজন ও মর্যাদাকে উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না।

বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে যারা নিজেদের বামপন্থী বলে দাবি করেন, তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বেশি সংগ্রাম করেন। এখন বাংলাদেশে, তার আগে পাকিস্তানে ধারাবাহিকভাবে এটি চলে আসছে। যখনই কোনো ইস্যু আসে, বাম নেতারা সামনে এসে দাঁড়িয়ে যান। তারপরে আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে, মাঠ গরম হয়, কিছু মানুষের জীবন যায়, অনেকে আহত হন। আর কিছু মানুষের চাকরি যায়।

‘কিন্তু নেতারা রাতের আঁধারে ভাগটা পেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে যান। তখন গড়ে ওঠা আন্দোলনকে তারা ব্ল্যাকমেইলিং করে। এভাবে যুগ যুগ ধরে নেতারা কপালের পরিবর্তন হলেও শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে সংসদ হবে—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধী দল গালগল্প করা বা ইতিহাসের মাস্টার হতে সংসদে যায়নি। সেখানে বিরোধী দল গিয়েছে দুঃখী মানুষের পক্ষে কথা বলতে। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে সংসদের ভেতরে-বাহিরে লড়াই চলবে। শ্রমিকদের ন্যায্যতা ও মর্যাদা যতদিন প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন লড়াই অব্যাহত থাকবে।

বৈশাখে মঞ্চ মাতাবেন জেমস-চিরকুট-ইমরান

নববর্ষকে ঘিরে সারা দেশে চলছে নানা আয়োজন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এবারও থাকছে একাধিক সঙ্গীতানুষ্ঠান। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মঞ্চ মাতাবেন জনপ্রিয় শিল্পীরা।

পাবনায় বৈশাখের সকাল শুরু হবে গানের আসর দিয়ে। শহরের অ্যাডওয়ার্ড কলেজ মাঠে সকাল ৯টা থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান গাইবেন নগরবাউল জেমস, ইমরান মাহমুদুল ও ঐশী। আরও থাকছেন ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা ২০২৫’ এর সেরা তিন কণ্ঠশিল্পী।

নৃত্য পরিবেশন করবেন মন্দিরা চক্রবর্তী ও সোহাগ ড্যান্স ট্রুপ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন আলিফ, প্রযোজনায় আছেন অজয় পোদ্দার। সরাসরি সম্প্রচার করবে মাছরাঙা টেলিভিশন।

একই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন ক্যাম্পাসেও থাকছে সঙ্গীত আয়োজন। জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট সকাল ১১টায় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে এবং বিকেল ৩টায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পারফর্ম করবে। তাদের পরিবেশনায় থাকবে ‘যাদুর শহর’,‘আহারে জীবন’, ‘দুনিয়া’, ‘কানামাছি’সহ জনপ্রিয় গান।

এদিকে নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করেছে কোক স্টুডিও বাংলা। রাজধানীর কোর্টসাইড, ১০০ ফিট মাদানি অ্যাভিনিউতে বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে এই আয়োজন। অংশ নেবেন দেশের খ্যাতিমান ও উদীয়মান শিল্পীরা।

নববর্ষের প্রথম দিনে গান, নাচ ও উৎসবে ভরপুর এসব আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস।

ইরানের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যের যেসব মার্কিন ঘাঁটি

ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় আবারও নতুন করে সামরিক সংঘাতের মুখে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্য। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিল তেহরান। 

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান ও ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আল জাজিরা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে কমপক্ষে ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘাঁটিতে ৪০-৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এর মধ্যে স্থায়ী ঘাঁটি ৮টি। এগুলো রয়েছে বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইরাক, সৌদি আরব ও জর্ডানে।

 

বাহরাইন
বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর। এই বহরের আওতায় রয়েছে— পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের কিছু অংশ।

এই ঘাঁটিতে ৯ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।

কাতার
রাজধানী দোহার বাইরে মরুভূমিতে অবস্থিত ২৪ হেক্টর আয়তনের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের ফরোয়ার্ড সদরদপ্তর। এই কমান্ড মিসর থেকে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। মধ্যপ্রাচ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা অবস্থান করে।

চলতি বছর জানুয়ারিতে এই ঘাঁটিতে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদারে একটি নতুন সমন্বয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

কুয়েত
কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বড় সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাম্প আরিফজান হলো ইউএস আর্মি সেন্ট্রালের ফরোয়ার্ড সদরদপ্তর। ইরাক সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত।

এছাড়া ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় এই ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েনের আগে সেনা ইউনিটগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি কেন্দ্র বা ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত
আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা বিমানঘাঁটি ইউএস এয়ার ফোর্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আমিরাত বিমান বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহৃত হয় এটি।

এই ঘাঁটিতে এফ-২২ এর মতো উন্নত বিমান, ড্রোন এবং সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানসহ গোটা অঞ্চলে নজরদারি ও সামরিক মিশনে সহায়তা করেছে এটি।

দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘাঁটি না হলেও এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় ‘পোর্ট অব কল’ বা বন্দর। এখানে নিয়মিতভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ভিড়ে।

ইরাক
পশ্চিম আনবার প্রদেশে অবস্থিত আইন আল আসাদ বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি রয়েছে। ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তার পাশাপাশি ন্যাটো মিশনে অবদান রাখছে এটি।

২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল তেহরান।

উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে এরবিল বিমানঘাঁটি মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও লজিস্টিক সমন্বয়ের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সৌদি আরব
২০২৪ সালে সৌদি আরবে মার্কিন সেনার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩২১ জন। তারা সৌদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং মার্কিন সামরিক বিমান পরিচালনায় সহায়তা করে।
এর কিছু সেনা রাজধানী রিয়াদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। এখানে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

জর্ডান
রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আজরাকে অবস্থিত মুয়াফফাক আল সালতি বিমানঘাঁটিতে ইউএস এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রালের ৩৩২তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং অবস্থান করছে। এখান থেকে লেভান্ত অঞ্চল বা পূর্ব ভূমধ্যসাগর বরাবর পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন মিশন পরিচালিত হয়।

এসব ঘাঁটির বাইরে তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ‘ইনজিরলিক’। 

তুরস্কে ‘ইনজিরলিক’ ঘাঁটি
যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক যৌথভাবে এটি পরিচালনা করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা মিশনের জন্য এটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। 
 

তুরস্কে মার্কিন ঘাঁটি

এই ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্কার ও কার্গো বিমানসহ ন্যাটোর বিভিন্ন ধরনের বিমান রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এটি লজিস্টিক হাব ও ফরোয়ার্ড ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে। গোয়েন্দা নজরদারি ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য মতে, আনুমানিক ২০ থেকে ৫০টি ‘মার্কিন বি-৬১’ নামে পারমাণবিক বোমা এই ঘাঁটিতে মজুদ রয়েছে।

ইরানের কাছে এই ঘাঁটির কৌশলগত অবস্থান আঞ্চলিক সংকটে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কে এই মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম।

আওয়ামী লীগ আমলের ১০০৬ মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক এক হাজার ছয়টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসানের সই করা এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও ভিন্নমত দমনের জন্য মামলাগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল।

রাউটারের গতি বাড়ানোর ১০ সহজ উপায়

অনলাইন ক্লাস, অফিসের জরুরি মিটিং, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স বা অনলাইন গেম সবকিছুর জন্যই এখন দ্রুতগতির ইন্টারনেট দরকার। কিন্তু অনেক সময় ভালো ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করলেও বাড়ির এক রুমে নেট চলে ভালো, আরেক রুমে গেলেই গতি কমে যায়। ভিডিও বাফারিং হয়, কল কেটে যায় বা ওয়েবসাইট ওপেন হতে চায় না।

এ ধরনের সমস্যার জন্য সব সময় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) দায়ী নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা থাকে রাউটারের অবস্থান, সেটিংস বা বাড়ির ভেতরের পরিবেশে। কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করলেই ওয়াইফাইয়ের গতি বাড়ানো যায়।

রাউটারের অবস্থান ওয়াইফাইয়ের গতি নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।

অনেকেই রাউটার ঘরের এক কোণে বা টিভির পাশে রেখে দেন। এতে বাড়ির অন্য প্রান্তে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়।

সবচেয়ে ভালো হয়, রাউটার বাড়ির মাঝামাঝি খোলা জায়গায় রাখা। চারপাশে যত কম দেওয়াল, দরজা বা বড় আসবাব থাকবে, সিগন্যাল তত ভালো ছড়াবে।

রাউটার মেঝেতে বা টেবিলের নিচে রাখলে সিগন্যাল বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই রাউটার আলমারি, বুকশেলফ বা দেয়ালের উঁচু তাকের ওপর রাখুন। এতে সিগন্যাল আরও ভালোভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।

যদি আপনার রাউটারে দুটি অ্যান্টেনা থাকে, তাহলে একটি সোজা ওপরে এবং অন্যটি আড়াআড়িভাবে রাখুন।

কারণ বিভিন্ন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও টিভির অ্যান্টেনার অবস্থান এক রকম নয়। অ্যান্টেনা দুটি ভিন্ন দিকে থাকলে সংযোগ আরও ভালো হয়।

যদি একটি অ্যান্টেনা থাকে, তাহলে সেটিকে সোজা বা আড়াআড়ি রেখে পরীক্ষা করে দেখুন কোন অবস্থায় ভালো সিগন্যাল পাওয়া যায়।

দোতলা বা বড় বাড়িতে অনেক সময় একটি রাউটার দিয়ে সব জায়গায় ভালো সিগন্যাল পাওয়া যায় না।

এ ক্ষেত্রে পাওয়ারলাইন নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ অন্য কক্ষে পৌঁছে দেয়।

তবে বাংলাদেশে এই ডিভাইস খুব বেশি প্রচলিত নয়। বিকল্প হিসেবে মেশ ওয়াইফাই সিস্টেম বা ওয়াইফাই এক্সটেন্ডারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

পাসওয়ার্ড ছাড়া ওয়াইফাই ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

অপরিচিত কেউ আপনার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। এমনকি ব্যক্তিগত তথ্যও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তাই রাউটারে ডাব্লিউপিএ২ বা ডাব্লিউপিএ৩ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখুন এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

বাড়ির কোন রুমে সিগন্যাল দুর্বল, তা আগে জানা দরকার।

এ জন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিভিন্ন ওয়াইফাই অ্যানালাইজার অ্যাপ বা কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়।

এর মাধ্যমে বোঝা যায় কোথায় সিগন্যাল কম এবং রাউটার কোথায় রাখলে ভালো কাভারেজ পাওয়া যাবে।

অনেক নতুন রাউটারেই ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজ—দুই ধরনের ব্যান্ড থাকে।

২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের পরিসর বেশি হলেও এটি অনেক সময় ব্যস্ত থাকে। কারণ ব্লুটুথ ডিভাইস, ওয়ারলেস মাউস, কিবোর্ডসহ অনেক যন্ত্র এই ব্যান্ড ব্যবহার করে।

অন্যদিকে ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে সাধারণত গতি বেশি পাওয়া যায় এবং বাধাও কম থাকে। তবে এর কাভারেজ তুলনামূলক কম।
যদি সুযোগ থাকে তাহলে ৫ গিগাহার্টজ বা ডুয়াল-ব্যান্ড মোড ব্যবহার করুন।

পাঁচ-ছয় বছর আগের রাউটার দিয়ে বর্তমানের উচ্চগতির ইন্টারনেটের পুরো সুবিধা পাওয়া নাও যেতে পারে।

আপনি যদি ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির সংযোগ ব্যবহার করেন, তাহলে পুরোনো রাউটারই হতে পারে সবচেয়ে বড় বাধা।

প্রয়োজনে নতুন প্রযুক্তির ডুয়াল-ব্যান্ড বা ওয়াই-ফাই ৬ সমর্থিত রাউটার ব্যবহার করতে পারেন।

নতুন রাউটার কেনার আগে বাড়িতে থাকা পুরোনো রাউটারটিকেও কাজে লাগানো যায়।

সঠিকভাবে সেটআপ করলে সেটি রিপিটার বা ব্রিজ হিসেবে কাজ করবে এবং ওয়াইফাইয়ের কাভারেজ বাড়িয়ে দেবে।
তবে এতে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমে যেতে পারে।

মনে রাখবেন দ্রুতগতির ইন্টারনেট কেবল ভালো প্যাকেজের ওপর নির্ভর করে না। রাউটারের অবস্থান, সেটিংস, নিরাপত্তা এবং বাড়ির পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন রাউটার কেনার আগে এই সহজ উপায়গুলো একবার চেষ্টা করে দেখুন। অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ওয়াইফাইয়ের গতি ও কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

নিঃসঙ্গতায় মৃত্যু—আমরা বেঁচে থাকতে কতজন সত্যিই জানে যে আমরা আছি

মানুষ একা থাকতে চায় না। সে চায়, কেউ তার জন্য অপেক্ষা করুক, তার নীরবতা টের পাক, তার ফোন না ধরলে আবার ফোন করুক, কয়েক দিন দরজা না খুললে উদ্বিগ্ন হয়ে কড়া নাড়ুক।

মানবসভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ দলবদ্ধভাবে শিকারে যেতো, শিকার শেষে দিনান্তে আগুনের চারপাশে বৃত্ত তৈরি করতো—শুধু শীত কাটানোর জন্য নয়, একে অপরের গল্প, ভয়, স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার জন্য। তাই মানুষের ইতিহাস আসলে সহাবস্থানের ইতিহাস। অথচ আজকের নগরসভ্যতা যেন সেই প্রাচীন বৃত্তটি ভেঙে দিয়েছে। মানুষ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মানুষের ভিড়ে থেকেও একা।

চলতি মাসের শুরুতে রাজধানীর পল্লবী ও মুগদা এলাকায় মাত্র চারদিনের ব্যবধানে তিনজন মানুষের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ। কেউ বিছানায়, কেউ ঘরের মেঝেতে, আবার কেউ ঝুলন্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন দিনের পর দিন। মৃত্যুর পরও তাদের খোঁজ নিতে কেউ আসেননি। এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন আলোচিত খবর হলো, রাজধানীর শাহবাগ এলাকার আজিজ সুপার মার্কেটের আবাসিক ভবনের ১৪তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারা ফেরদৌস নামে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৬ জুন বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তিনদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর অবশেষে তার নিথর দেহের সন্ধান মেলে।

ফারা ফেরদৌস, তানভীর হোসেইন শুভ, নূরজাহান বেগম কিংবা সেলিনা আফরোজ—তাদের মৃত্যুর ধরন এক নয়, জীবনও এক ছিল না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা সবাই একই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছেন—একটি গভীর নীরবতা। আরও নির্মম হলো, মৃত্যুর পরও সেই নীরবতা কয়েকদিন ধরে অটুট ছিল।

এই ঘটনাগুলোকে কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এগুলো আমাদের নগর সমাজের আয়না—যে সমাজে মেট্রোরেলের কামরায় শত মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু একজন আরেকজনের চোখের ক্লান্তি পড়ে না; যে সমাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো বন্ধু থাকে, কিন্তু অসুস্থ হলে দরজায় কড়া নাড়ার মানুষ থাকে না; যে সমাজে প্রতিদিন হাজারো বার্তা আদান-প্রদান হয়, কিন্তু একটি আন্তরিক প্রশ্ন ‘তুমি সত্যিই কেমন আছ?’ ক্রমশ বিরল হয়ে যাচ্ছে।

কার্ল মার্কস প্রায় দেড়শ বছর আগে লিখেছিলেন, আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষকে শুধু তার শ্রম থেকেই নয়, অন্য মানুষের থেকেও বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তখন তিনি কারখানার শ্রমিকের কথা বলছিলেন। আজ সেই বিচ্ছিন্নতা অফিসের নির্বাহী, চিকিৎসক, ব্যাংকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা করপোরেট কর্মী সবার জীবনে নতুন রূপে ফিরে এসেছে। আমরা এখন কাজ করি জীবনের জন্য নয়; অনেক সময় জীবনকেই কাজের কাছে সমর্পণ করি। ধীরে ধীরে মানুষ পরিচয় হারিয়ে কেবল একটি পেশা, একটি পদবি কিংবা একটি কর্মক্ষমতায় পরিণত হয়।

সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্খেইম বলেছিলেন, সমাজ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে শুধু আইন দিয়ে নয়, সম্পর্ক দিয়ে। পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধু, সহকর্মী এই অদৃশ্য বন্ধনগুলোই মানুষকে জীবনের সঙ্গে যুক্ত রাখে। যখন সেই বন্ধনগুলো আলগা হয়ে যায়, তখন মানুষ জনসমুদ্রে থেকেও নিজেকে পরিত্যক্ত মনে করে। বাংলাদেশের শহুরে জীবনে এই পরিবর্তন স্পষ্ট। যৌথ পরিবার ভেঙেছে, প্রতিবেশী সংস্কৃতি দুর্বল হয়েছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক উৎসবকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। ফলে, একসঙ্গে থেকেও আমরা একে অপরের জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।

আজকের মানুষকে সবসময় কেউ শোষণ করছে না, অনেক সময় মানুষ নিজেই নিজেকে শোষণ করছে। আরও সফল হওয়ার, আরও উৎপাদনশীল হওয়ার, আরও এগিয়ে থাকার অন্তহীন প্রতিযোগিতায় আমরা নিজের ভেতরের মানুষটিকেই অবহেলা করছি। অফিস শেষ হয়, কিন্তু কাজ শেষ হয় না। ফোন বন্ধ হয় না, ই-মেইল থামে না, উদ্বেগ কমে না। আমরা ক্রমশ ব্যস্ত হচ্ছি, কিন্তু সেই ব্যস্ততা আমাদের সম্পর্কগুলোকে নীরবে গ্রাস করছে। তাই এই মৃত্যুগুলো কেবল চারজন মানুষের মৃত্যু নয়। এগুলো এমন এক সমাজের সংকেত, যেখানে মানুষের সামাজিক মৃত্যু অনেক আগে ঘটে, শারীরিক মৃত্যু শুধু তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়ে আসে।

এই সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি ক্রমশ বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নীতির একটি বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কমিশন অন সোশ্যাল কানেকশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন মানুষ দীর্ঘস্থায়ী নিঃসঙ্গতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও নিঃসঙ্গতার সঙ্গে প্রতি বছর আনুমানিক ৮ লাখ ৭১ হাজার অকালমৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ জন মানুষের মৃত্যু কোনো না কোনোভাবে এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নিঃসঙ্গতা কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট নয়; এটি হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, জ্ঞানীয় অবক্ষয় ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন নিঃসঙ্গতাকে ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়, বরং সামাজিক অবকাঠামো, নগর পরিকল্পনা, কর্মসংস্কৃতি ও জননীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক একাকী মৃত্যুগুলোও সেই বৈশ্বিক সংকটেরই স্থানীয় প্রতিধ্বনি বলে মনে হয়।

আমরা প্রায়ই বলি, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতির দেশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সত্যিই একে অপরের কাছাকাছি আছি? নাকি শুধু পাশাপাশি বাস করছি? পাশাপাশি অ্যাপার্টমেন্টে থেকেও প্রতিবেশীর নাম জানি না, একই অফিসে কাজ করেও সহকর্মীর দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা বুঝতে পারি না, একই পরিবারের সদস্য হয়েও মাসের পর মাস খোঁজ নিই না। সংখ্যায় আমরা একসঙ্গে, কিন্তু জীবনে ক্রমশ আলাদা হয়ে যাচ্ছি।

একাকীত্বের ইতিহাস মানুষের সভ্যতার মতোই পুরোনো। গ্রিক পুরাণে নার্সিসাস নিজের প্রতিচ্ছবির প্রেমে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের কাছেই বন্দী হয়ে যায়। এটি কেবল আত্মমুগ্ধতার গল্প নয়, নিজের বাইরে আর কাউকে স্পর্শ করতে না পারার ট্র্যাজেডিও। আবার ভারতীয় পুরানে নির্বাসিত যক্ষ মানুষের গভীরতম ভয়কে স্পর্শ করে, পরিত্যক্ত হওয়ার ভয়। কারণ, মানুষ প্রকৃতির একমাত্র প্রাণী, যে শুধু ভাত বা আশ্রয়ে বাঁচে না; সে বেঁচে থাকে অন্যের স্মৃতি, স্পর্শ, প্রতীক্ষা ও স্বীকৃতিতে। তাই নিঃসঙ্গতা কেবল একা একটি ঘরে বসে থাকা নয়; নিঃসঙ্গতা হলো এমন এক নীরব মরুভূমি, যেখানে চারপাশে মানুষের পদচিহ্ন আছে, কিন্তু কোনো পদধ্বনি নেই; জানালার বাইরে আলো জ্বলে, অথচ ভেতরে কারো জন্য কোনো প্রদীপ জ্বলে না। সম্ভবত এ কারণেই মানুষের সবচেয়ে বড় ভয় মৃত্যু নয়; বরং এমন এক জীবন, যেখানে তার অনুপস্থিতি যেমন কারো নজরে পড়ে না, তেমনি তার উপস্থিতিও কারো জীবনে বিশেষ কোনো পার্থক্য তৈরি করে না।

কবি আবুল হাসান বহু আগে লিখেছিলেন, ‘অবশেষে জেনেছি মানুষ একা!’। কিন্তু তাঁর সেই একাকীত্ব ছিল মানুষের চিরন্তন অস্তিত্বের দার্শনিক উপলব্ধি। আজকের ঢাকা শহরের একাকীত্ব ভিন্ন ধরনের। এটি শুধু অস্তিত্বের নয়; এটি সামাজিক। এখানে মানুষ একা হয় শুধু নিজের ভেতরে নয়, নিজের ফ্ল্যাটে, নিজের কর্মজীবনে, এমনকি মৃত্যুর পরও। আবুল হাসানের মানুষ নিজের কাছে অচেনা ছিল। আমাদের সময়ের মানুষ যেন অন্য মানুষের কাছেও অচেনা হয়ে উঠছে। তিনি লিখেছিলেন, ‘জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা!’

এই সংকটের সমাধান শুধু মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো নয়, যদিও সেটি জরুরি। এর সমাধান আরও গভীরে—মানুষকে আবার মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনা। হয়তো শুরুটা খুব ছোট। কোনো পুরোনো বন্ধুকে অকারণে ফোন করা। একা থাকা বাবা-মায়ের দরজায় কড়া নাড়া। সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করা, ‘আজ তোমাকে খুব ক্লান্ত লাগছে, সব ঠিক আছে তো?’ কারণ, অনেক সময় একটি প্রশ্নই একজন মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, সে এখনো কারো কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি আমাদের নিজেদের কাছেই ফিরে আসে। আমাদের মৃত্যুর পর কতদিন লাগবে মানুষ জানতে যে আমরা আর বেঁচে নেই? এই প্রশ্নের চেয়েও ভয়ংকর প্রশ্ন হলো, আমরা বেঁচে থাকতে কতজন সত্যিই জানে যে আমরা আছি?

 

রাজীব নন্দী: শিক্ষক ও গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

ল্যারিনের গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম পয়েন্ট

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে তেতে উঠল কানাডা। তবে বারবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রক্ষণে হানা দেওয়ার পরও গোল মিলছিল না তাদের। অবশেষে বদলি নামার দুই মিনিটের মধ্যে জাল কাঁপিয়ে সমতা টানলেন কাইল ল্যারিন। তার নৈপুণ্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট অর্জনের মধুর স্বাদ পেল এবারের আসরের সহ-আয়োজকরা।

শুক্রবার রাতে টরন্টোতে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। স্বাগতিক দর্শকদের ল্যারিন উল্লাসে মাতানোর আগে বসনিয়াকে এগিয়ে নেন ইয়োভো লুকিচ।

এর আগে দুবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ছয় ম্যাচ খেললেও পয়েন্টের ঝুলি শূন্য ছিল কানাডার। ১৯৮৬ সালে ও সবশেষ ২০২২ সালের আসরে গ্রুপ পর্বের সবগুলো খেলায় হেরেছিল তারা। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এবার পয়েন্টের খাতা খুলল দলটি। এই আনন্দের পাশাপাশি একটু আফসোসও থাকতে পারে তাদের। কারণ, বসনিয়ার বিপক্ষে পূর্ণ পয়েন্ট পয়েন্ট পাওয়ারই জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করেছিল তারা।

শুরুর দিকে কানাডা আধিপত্য বিস্তার করলেও ভালো সুযোগগুলো পায় বসনিয়াই। তৃতীয় মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুযোগে অবশ্য বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন আমার মেমিচ।

গত দুটি বড় টুর্নামেন্টে কানাডার এক-তৃতীয়াংশের বেশি গোলে অবদান ছিল জোনাথন ডেভিডের। তবে এদিন গোল পাননি এই ফরোয়ার্ড। ১৭তম মিনিটে নিজের পাওয়া সবচেয়ে সহজ সুযোগে সোজা গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলির বরাবর শট নেন তিনি।

চার মিনিট পর গ্যালারিতে উপস্থিত স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয় বসনিয়া। কাছের পোস্টে উড়ে আসা কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে বলে হেড করেন সিড কোলাসিনাচ। পেছনেই অপেক্ষায় থাকা ফরোয়ার্ড লুকিচ কাছ থেকে আরেকটি হেডে বল জালে পাঠান।

কানাডার হয়ে দারুণ কিছু করার আভাস দিচ্ছিলেন টানি ওলুওয়াসেই। ৩৩তম মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়েও যান তিনি। কিন্তু অনেক ওপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট মেরে গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপোকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি।

বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ায় স্বাগতিকরা। ৫৩তম মিনিটে রিচি লারিয়া প্রায় উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েই ফেলেছিলেন। তার নেওয়া নিচু শট ভাসিলির দুই পায়ের নিচ দিয়ে চলে যায়। তবে গোললাইনে ছুটে যাওয়া অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কোলাসিনাচ অবিশ্বাস্যভাবে দলকে বিপদমুক্ত করেন। তার প্রচেষ্টায় বল ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে।

কিছুক্ষণ পরই দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল পেয়ে গোল করার পরিষ্কার সুযোগ পান বসনিয়ার এরমেদিন দেমিরোভিচ। তবে ক্রেপো দ্রুত পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে সেই সুযোগ নস্যাৎ করে দেন। ফলে দেমিরোভিচের শট লক্ষ্যে থাকেনি।

এরপর ওলুওয়াসেইয়ের বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১২১ সেকেন্ডের মাথায় কানাডাকে সমতায় ফেরান স্ট্রাইকার ল্যারিন। ৭৮তম মিনিটে ডি-বক্সের মুখে প্রমিস ডেভিডের পাস দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাঝেই শরীর ঘুরিয়ে শট নেন তিনি। বল নিকোলা ক্যাতিচের গায়ে লেগে সামান্য দিক পাল্টে জালে জড়ায়।

যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটিও প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন ল্যারিন। তবে তার শট শরীর পেতে দিয়ে আটকে বসনিয়াকে বাঁচান তারিক মুহারেমোভিচ।