31 C
Dhaka
Home Blog

শান্তি আলোচনায় অনড় অবস্থানে রাশিয়া-ইউক্রেন, অগ্রগতি দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দুই দিনব্যাপী শান্তি আলোচনা শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অগ্রগতির দাবি করলেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো সুস্পষ্ট সংকেত দেয়নি ইউক্রেন ও রাশিয়া। 

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ বুধবার জেনেভায় দ্বিতীয় দিনের বৈঠক মাত্র দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। যদিও মঙ্গলবারের বৈঠক ছিল ৬ ঘণ্টার। 

আলোচনার বিষয়বস্তু বা কোনো বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে রাশিয়া ও ইউক্রেন কোনো পক্ষই বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে, আলোচনা জটিল ছিল।

রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের প্রধান ভ্লাদিমির মেদিনস্কি এ আলোচনাকে ‘কঠিন কিন্তু পেশাদার’ উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে আলোচনা দীর্ঘায়ত করার চেষ্টা করছে। 

আলোচনা চলার মধ্যেই রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার বার ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা ন্যায়সংগত নয় বলে দাবি করেন জেলেনস্কি। 

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার হাতে বিজয় তুলে দিলে শান্তি আসবে না।’

তবে প্রথম দিনের আলোচনা শেষে মধ্যস্থতাকারী মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ‘চলমান আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।’ 

বুধবার দ্বিতীয় দিনের আলোচনা শেষে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য জানা যায়নি।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূখণ্ড ইস্যুতে এখনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি মস্কো ও কিয়েভ। মূল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ইউক্রেনের দনেৎস্ক অঞ্চল নিয়ে। রাশিয়া এই অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে এবং হুমকি দিয়েছে যে আলোচনার মাধ্যমে এটি না পেলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে তারা। 

অন্যদিকে মস্কোর দাবি প্রত্যাখ্যান করে কিয়েভ জানায়, ভবিষ্যতে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার মতো নিরাপত্তা গ্যারান্টি ছাড়া কোনো চুক্তিতে সই করবে না তারা।

বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে রাশিয়া।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকী পূর্ণ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে দু’দিনব্যাপী এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।

স্বরাষ্ট্রের পর মন্ত্রিপরিষদেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন নাসিমুল গনি

নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নাসিমুল গনি। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (চুক্তিভিত্তিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে এখন মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে বদলি বা পদায়ন করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর গত শনিবার তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। ওই সময় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

এবার নাসিমুল গনিকে বেসামরিক প্রশাসনের সর্বোচ্চ এই পদে নিয়োগ দিল সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

নতুন নির্বাচন, নতুন সংসদ, দেশের নেতৃত্বে নতুন ব্যক্তি, জবাবদিহিমূলক শাসনের নতুন সম্ভাবনা। সবমিলিয়ে নতুন এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে জনগণের ইচ্ছারই প্রতিফলন। তারেক রহমানের নতুন নেতা হিসেবে আবির্ভাবও সেই পরিবর্তনেরই অংশ। শেখ হাসিনার পতনের আগে যা কল্পনাও করা যায়নি, গণঅভ্যুত্থানের পর সেটাই অনিবার্য বলে মনে হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সময়ই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত হিসেবেই ধরা হচ্ছিল।

নির্বাচনী প্রচারণায় এবং ব্যাপক বিজয়ের পরও তারেক রহমান নিজের এমন এক ভাবমূর্তি উপস্থাপন করেছেন, যিনি সংযত, চিন্তাশীল ও পরিচ্ছন্ন ভাবনার অধিকারী। শুরুটা ভালো করার কৃতিত্ব তাকে দেওয়া যায়। তবে এসব বিষয়ই এমন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যেগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে গভীর আত্মসমালোচনা করতে হবে।

প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া যেকারো জন্যই চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আমাদের মতো দেশের ক্ষেত্রে সেটা আরও কঠিন। আমরা প্রাণ দিয়ে দেশকে ভালোবাসলেও এটা কখনোই ভুলে যাই না যে, প্রিয় এই দেশটি পরিচালনা করা কতটা জটিল।

শুরুতেই বলা যায়, নিয়মিতই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়া প্রায় ১৮ কোটির বিশাল জনসংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট ভূখণ্ডে বসবাস করে। তাদের দেখভাল করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। অনেক দেশের তুলনায় আমাদের শিল্পোন্নয়ন উল্লেখযোগ্য হলেও মূলধনের ঘাটতি, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, সরবরাহ সংকট, দুর্বল অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে ভুগতেও হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় জ্বালানি স্বল্পতা। তার সঙ্গে নিয়তি হিসেবে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা।

বাস্তবে, এই নতুন সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের দুর্নীতি ও তার পরবর্তী ১৮ মাসের খুব বেশি কার্যকর না থাকা এক শাসনব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই যেসব স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতো, এখন সেগুলো বহুগুণ বেড়ে গেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের আছে এমন এক প্রেসিডেন্ট যিনি তার দেশের চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে মনে হয় এবং তার খামখেয়ালি ও দুর্বোধ্য সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে এক অস্থির পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

বেকারত্ব, কম বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানির বহুমুখীকরণ ও ব্যাংকিংখাতকে স্থিতিশীল করা বিএনপি সরকারের সামনে সবচেয়ে জরুরি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং মতের বৈচিত্র্য ও ভিন্নমত মেনে নিতে সময় লাগবে। তবে এর প্রাথমিক লক্ষণ শুরু থেকেই থাকতে হবে।

তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হতে পারে সংসদ পরিচালনা করা। আমি যদি ভুল না করে থাকি, সংসদে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দল বেশ শক্তিশালী হবে।

প্রশ্ন হলো, সম্ভাব্য এতসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য কি ক্ষমতাসীন দলে আছে?

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা নতুন সংসদের কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছি এবং প্রত্যাশা করছি এমন সংসদের, যেখানে সংসদ সদস্যরা কেবল নিজ দলের প্রতিনিধিত্ব না করে সত্যিকার অর্থে ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতি ফেরার পর থেকে আমরা একের পর এক নির্বাচন দেখেছি, যার মধ্যে শেষ তিনটি ছিল কারসাজিপূর্ণ। এসব সংসদকে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা একটি কার্যকর বিরোধী দলের অভাব অনুভব করেছি। ক্ষমতাসীন দলের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার পরও বিরোধী দলগুলো অনেক সময় সংসদ অধিবেশন বর্জন করে সময় নষ্ট করেছে এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিতর্ক, সরকারের দুর্নীতি কিংবা জনসাধারণের অর্থের অপব্যবহার তুলে ধরতে সংসদকে ব্যবহার করেনি বললেই চলে।

আমরা আশা করি ‘বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা’ করার সংস্কৃতি আর ফিরবে না। অর্থাৎ, বিরোধী দলের কাজই হলো সরকারের বিরোধিতা করা—এমন ধারণা থেকে সরকারের সব পরিকল্পনা বা প্রস্তাবের প্রকৃত মূল্য বিবেচনা না করেই যেন কেবল বিরোধিতা না করা হয়। কেননা, এতে সময় ও সম্পদের অপচয় হয় এবং বিতর্কের সংস্কৃতির বদলে ঝগড়ার সংস্কৃতি জন্ম দেয়। দিনশেষে এই সংস্কৃতি নিয়ে যায় তিক্ততা ও কটূক্তির দিকে।

তবে সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ও কঠিন সমস্যাটি আসবে প্রধানমন্ত্রীর নিজের দল থেকেই। বিএনপির দুটি গোষ্ঠী সরকারকে বিব্রত করতে পারে।

প্রথমটি তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের যদি শুরু থেকেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে তারা সরকারি প্রক্রিয়া নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে, সেগুলোকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করবে, বিকৃত করবে এবং গ্রাম বা উপজেলা পর্যায়ের প্রকল্প ও নিয়মিত সরকারি কর্মসূচিগুলোকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে পরিণত করবে।

অপর গোষ্ঠীটি জ্যেষ্ঠ ও মধ্যম সারির নেতাকর্মীরা। তারা আওয়ামী লীগের দমনমূলক শাসনামলে শারীরিক, আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ‘ক্ষতিপূরণে’র নামে এই গোষ্ঠী বিশেষ সুবিধা চাইবেন, নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরে দলীয় নেতার কাছে সুবিধা ‘দাবি’ করবেন। এটা দলীয় প্রধানকে কঠিন নৈতিক দ্বিধায় ফেলবে। তারা সম্মিলিতভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে বলবেন, ‘প্রায় দুই দশক ধরে আমরা অনেক কষ্ট সহ্য করেছি, আমাদের স্বাধীনতা ছিল না, আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, মানসিক শান্তি নষ্ট হয়েছে। এখন আমাদের কিছু বিশেষ সুবিধা প্রয়োজন এবং আমাদের সেটা প্রাপ্য।’

তারা হয়তো সরাসরি বলবে না, কিন্তু ইঙ্গিত করবে যে ‘আমরা যা সহ্য করেছি, তার কারণেই আপনি আজ এই অবস্থানে।’ দুঃখজনকভাবে, আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এভাবেই অবক্ষয়ের শুরু হয়। প্রথমে ছোটখাটো সুবিধা, তারপর ছোট ব্যবসায়িক চুক্তি এবং ধীরে ধীরে সেগুলো বড় আকার ধারণ করে সুশাসনের সম্ভাবনা বিপন্ন করে তোলে।

দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কিছু পেশাজীবীও এসব দাবি নিয়ে আসবেন, যারা সরাসরি দলীয় পদে না থাকলেও নীরবে ও গোপনে দলকে সহায়তা করেছেন। তারা চাকরি, পদ, সুযোগ-সুবিধা ও আর্থিক সুবিধা নিতে চাইবেন এবং কিছু ক্ষেত্রে  ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির দাবিও তুলবেন। এর ফলে প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এবং আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণের প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

উপরের সব ‘দাবি’ প্রধানমন্ত্রীর সামনে বড় নৈতিক দ্বিধা সৃষ্টি করবে। তিনি এগুলো মেনে না নিলে নিজেকে অপরাধী মনে করবেন এবং সাড়া দিলে তার সুনাম ও কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অতীত অভিজ্ঞতা শেখায় যে নতুন প্রশাসনে দুর্নীতির শুরু এভাবেই হয়। ধীরে ধীরে দলীয় অনুগতরা এবং তাদের ব্যবসায়িক সমর্থকেরা সব না হলেও অধিকাংশ সরকারি চুক্তির মধ্যস্থতাকারী হয়ে ওঠে। তারা কেবল এসব চুক্তির একচেটিয়া দখলই নেয় না, বাস্তবায়নও ধীরগতিতে করে। যার ফলে ব্যয় বাড়ে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শেখ হাসিনার শাসনামল থেকে যদি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে হয়, তাহলে সেটা হবে শুরু থেকেই দলীয় কাঠামো নিয়ন্ত্রণে রাখা। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, কৃষকলীগ, ওলামালীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সব ‘লীগে’র কথা মনে করে দেখুন, কীভাবে তারা দুর্নীতি করে দলের বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস করেছে এবং তাদের সমর্থিত সরকারকেই বিতর্কিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী যদি কেবল ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ ও টেলিকম—এই তিনটি খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা স্বজনপ্রীতির দিকে নজর দেন, তাহলেই পরিষ্কারভাবে দেখতে পাবেন যে কীভাবে নিজ দলের সদস্যরাই সরকারকে টেনে নামায়।

আমি জানি বিএনপিতে থাকা আমার দীর্ঘদিনের অনেক বন্ধু এসব কথায় ক্ষুব্ধ হবেন এবং সবই অগ্রাহ্য করবেন। তবে, এটা ভুলে গেলে চলবে না—আওয়ামী লীগের নেতারাও এই ধরনের পরামর্শ অগ্রাহ্য করেছিলেন।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে কঠিন লড়াই এবং মূলত নিজের সমর্থকদের বিরুদ্ধেই সেই লড়াই করতে হবে। সেইসঙ্গে থাকবে দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বার্থপর ব্যবসায়ীরা, যারা দলীয় কাঠামো ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধি করবে এবং দেশের ক্ষতি করবে। এই প্রক্রিয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করবে এবং সরকারকে অজনপ্রিয় করে তুলবে।

শুরুতেই বলেছি, সাম্প্রতিক নির্বাচন, নতুন সংসদ ও সরকার—সবই জনগণের ইচ্ছার ফল। এটা শুধু নতুন নেতার জন্য নয়, আমাদের সবার জন্যই প্রযোজ্য। আমরা এখন এমন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি, যা হবে দুর্নীতিমুক্ত, স্বজনপ্রীতিমুক্ত, দলীয় পক্ষপাতমুক্ত এবং ভয় ও নিপীড়নমুক্ত।

তারেক রহমানের সামনে এখন যে সুযোগ রয়েছে, তা আগের কোনো দলীয় নেতার ছিল না। তিনি নবীন এবং দীর্ঘসময় বাধ্যতামূলক নির্বাসনে ছিলেন। তিনি এমন এক পরিবেশে বসে নিজ দেশ নিয়ে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন, যেখানে গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি বিরল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাতিকে নিয়ে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ তার রয়েছে।

এটা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রধানমন্ত্রীকে অনেক কিছু করতে হবে। কিন্তু প্রথম কাজটি হতে হবে নিজের দল, সমর্থক, সহায়তাকারী, এমনকি সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। এটি অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু সেটা না করলে আমরা আবারও সেই একই দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির পথে যাব, যা হাসিনা ও তার দলের পতনের কারণ হয়েছিল।

তারেক রহমানকে তার দলকে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং সেটা এখন থেকেই। প্রবাদে যেমন আছে, ‘লোহা গরম থাকতে থাকতেই ঘা দিতে হয়’। তিনি এখন জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও ক্ষমতার সর্বোচ্চ অবস্থানে আছেন। তাকে কঠিন সব সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে।

এখানেও ইতিহাসই তার পাথেয় হওয়া উচিত, যে ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে কোনো সরকার যখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকে তখনই সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনিবার্যভাবেই জনপ্রিয়তা কমে। তখন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়াও ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই বলা হয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে ‘শুরুতেই লাগাম টেনে ধরতে’ হয়।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

হামজার দ্রুত প্রত্যাবর্তন: স্বস্তিতে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গতিতে চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন। শনিবার রাতে ইংলিশ ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে লেস্টার সিটির হয়ে মাঠে নামেন তিনি।

২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার ম্যাচের ৮২তম মিনিটে রিকার্দো পেরেইরার বদলি হিসেবে মাঠে ঢোকেন। ইপসউইচের মাঠে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে ১-১ গোলে ড্র করে লেস্টার সিটি।

অল্প সময়ের জন্য মাঠে নামায় খেলায় খুব বেশি প্রভাব ফেলার সুযোগ পাননি হামজা। পুরো সময়ে মাত্র চারবার বল স্পর্শ করতে পারেন তিনি। তবে এর মধ্যেই একটি এরিয়াল ডুয়েলে এবং দুটি গ্রাউন্ড ডুয়েলের একটিতে জয়ী হন তিনি।

হামজার এই ফেরা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর। কারণ আগামী ৩১ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

গত জানুয়ারির শেষদিকে চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে লিগের ম্যাচে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন হামজা। প্রাথমিক রিপোর্টে তার মিডিয়াল কোল্যাটারাল লিগামেন্ট (এমসিএল) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ফলে ধারণা করা হয়েছিল, তিনি চার থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে পারেন।

সিঙ্গাপুরের মাঠে অনুষ্ঠেয় ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হামজার উপস্থিতি সেই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে হাভিয়ের কাবরেরার দলের জন্য তুরুপের তাস হতে পারে।

আকাশপথ বন্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে সবজি রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাংলাদেশের সবজি ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য রপ্তানিকারকরা।

গত বছরের মন্দা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন—বাংলাদেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্যে পণ্য পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সবজি রপ্তানি ২৮ শতাংশ কমে ১১ কোটি ২৫ লাখ ডলার থেকে ৮ কোটি ২০ লাখ ডলারে নেমে আসে। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কমে যায়।

বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মনসুরের হিসাবে, এই ছয়টি গন্তব্যে আগে প্রতিদিন প্রায় ৪০ টন পণ্য পাঠানো হতো, যার মূল্য প্রায় দেড় লাখ ডলার।

এই সংকট পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলেছে। তাহুরা ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ফয়েজ আহমেদ আগে প্রতিদিন কুয়েত, দোহা, দুবাই ও মাসকাটে প্রায় ১৩ টন সবজি ও ফল পাঠাতেন।

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতাদের কাছ থেকে ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা কৃষকদের কাছে অর্ডার দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’

ক্রেতারা চাহিদা জানালে ফয়েজ ঢাকার বিমানবন্দর থেকে পণ্য পাঠাতেন। ওয়ার্ক অর্ডার বন্ধ হওয়ায় শুরুতেই তিনি ঢাকার কারওয়ান বাজারে কম দামে পচনশীল পণ্য বিক্রি করে দেন।

এতে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন রপ্তানি চুক্তির ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা।

ফয়েজ জানিয়েছেন, পণ্য পাঠানো শুরু হলে তিনি আবারও কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে শুরু করবেন।

সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দার বিমানবন্দর চালু থাকলেও সেখানে পণ্য পাঠানো হচ্ছে সীমিত পরিসরে।

মূলত পান রপ্তানি করে আল আদিব ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের প্রধান বাজার সৌদি আরবের ওই দুই শহরে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ছয় টন পণ্য পাঠাচ্ছেন।

মদিনা ও ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু গন্তব্যে সীমিত পরিসরে সবজি ও ফল পাঠানো যাচ্ছে। এসব এলাকার আকাশপথ এখনো খোলা রয়েছে।

তবে অবশিষ্ট পণ্য রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। স্বাভাবিক সময়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ১০০ টনের বেশি সবজি ও ফল বিদেশে যায়। এখন সেই পরিমাণ অনেক কম।

পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা মুম্বাই থেকে সমুদ্রপথে মাত্র তিন দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরে পচনশীল পণ্য পাঠাতে পারেন। এতে পণ্যের মান অক্ষুণ্ণ থাকে। যেখানে বাংলাদেশের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আরব উপদ্বীপ ঘুরে যায়।

বাংলাদেশের পচনশীল পণ্য রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি আকাশপথের ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কবির আহমেদের হিসাবে, মার্চের শুরুতে ঢাকার বিমানবন্দরে এক হাজার ২০০ টনের বেশি কার্গো আটকে ছিল।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে এখনো কার্গো ফ্লাইট পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে রপ্তানিকারকেরা, বিশেষত সবজি রপ্তানিকারকরা পণ্য পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কয়েকটি অপারেটর সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালাচ্ছে।’

ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে পৌঁছাতে কিছু রপ্তানিকারক এখন চীন, মালয়েশিয়া ও হংকং হয়ে পণ্য পাঠাতে শুরু করেছেন, তবে এতে সময় ও ব্যয় বাড়ছে।

মনসুরের জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে রোম, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে পণ্য পরিবহন করছে।

তবে ৫ মার্চ থেকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রগামী কার্গোর ভাড়া প্রতি কেজিতে ৫০ সেন্ট বাড়িয়েছে বিমান, জানান তিনি।

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এয়ারলাইন্স এমিরেটস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৪ মার্চ পর্যন্ত দুবাইয়ে যাওয়া ও আসার সব নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। কেবল সীমিত আকারে প্রত্যাবাসন ও কার্গো সেবা চলবে।

অন্য এয়ারলাইনগুলো ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে অথবা পুরো অঞ্চলই এড়িয়ে চলছে।

বলিউডের ‘জ্যাজ সিটি’তে যুক্ত হওয়ার গল্প বললেন আরিফিন শুভ

‘জ্যাজ সিটি’র জন্য আরিফিন শুভর সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করেছিলেন বলিউডের প্রখ্যাত কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া। সেই মুহূর্ত থেকে শুরু হয়ে প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ যাত্রার পর ১৯ মার্চ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব সিরিজটি। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের আরিফিন শুভ।

গতকাল কলকাতায় একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জ্যাজ সিটি’র আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। সেই আয়োজনে পরিচালক সৌমিক সেনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আরিফিন শুভ ‘জ্যাজ সিটি’তে যুক্ত হওয়ার গল্প শোনান।

শুভ বলেন, ‘এই কাজের জন্য সৌমিকদা নন, আমাকে প্রথম ফোন করেন কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া। আমি তখন নেপালে। আমাকে বলেন, একটি ওয়েব সিরিজের জন্য অডিশন দিতে হবে। আমি রাজি হয়ে যাই। তারপর সৌমিকদা নানাভাবে, কখনো শুধু অডিও পাঠিয়ে আমার অডিশন নিয়েছেন।’

শুভর ভাষ্যে, ‘দুই বছর ধরে চিত্রনাট্য পাঠানো হতো। মুম্বাইয়ে ডেকেছিল, গিয়েছিলাম। তার পরেও কিছু বলে না। ওই দুই বছরে একই চরিত্রের জন্য ওরা আরও অনেকের অডিশন নিয়েছে। একটা দৃশ্য অন্যকে দিয়ে করানোর পর সেই দৃশ্যই হয়তো আমাকেও পাঠানো হয়েছে। আমি টেপ করে পাঠিয়েছি। হয়তো ভালো লেগেছে, হয়তো ভালো লাগেনি। এভাবে “ট্রায়াল অ্যান্ড এরর”-এর মধ্য দিয়েই সম্ভবত আমায় বাছা হয়েছে।’

পরিচালনার পাশাপাশি ‘জ্যাজ সিটি’র গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন সৌমিক সেন। ‘গুলাব গ্যাং’ এবং ‘মহালয়া’র পর তিনি আর সিনেমা বানাননি। তিনি বিখ্যাত ‘জুবিলি’ সিরিজের চিত্রনাট্যকারও। এই সিরিজ নির্মাণে তার সময় লেগেছে সাত বছর।

রাজনৈতিক থ্রিলারধর্মী ‘জ্যাজ সিটি’তে আরিফিন শুভকে দেখা যাবে জিমি রয় চরিত্রে। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন সৌরসেনী মিত্র। এ ছাড়া শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর ও অমিত সাহাসহ বলিউড ও টলিউডের অনেকেই এই সিরিজে অভিনয় করেছেন।

পুলিশের হামলা পুরোনো দমন-পীড়নের সংস্কৃতির প্রতিধ্বনি: শফিকুর রহমান

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি লেক এবং চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযানে মারধর ও আটকের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সাংবাদিক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর অতি উৎসাহী পুলিশের হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি পুরনো দমন-পীড়নের সংস্কৃতিরই প্রতিধ্বনি।’

আজ মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমিরের ওই পোস্টের প্রথম অংশে বাংলায় বলা হয়, ‘২০০৯-২০২৪ ছিল দীর্ঘ এক দুঃসময়। এ সময়ে কিছু অসৎ ও দল দাস পুলিশ কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল। এর পরিণতি আমরা ২০২৪-এ দেখেছি; পুলিশবিরোধী ক্ষোভ এবং পুরো বাহিনীর নৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়ার চিত্র।’

‘রাষ্ট্রীয় শক্তি নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না’ মন্তব্য করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘জনগণের টাকায় বেতন পাওয়া পুলিশের কাজ জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, দমন করা নয়। যারা পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করবে বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’

পুলিশকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আইনের শাসন মানে শক্তির প্রদর্শন নয়, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই।’

পোস্টের দ্বিতীয় অংশটি ইংরেজিতে লেখা। সেখানে নতুন সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘নতুন সরকারকে মনে রাখতে হবে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা এখনো অম্লান। যে মানুষগুলো ওই আন্দোলনে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা এখনো দুর্নীতির অবসান এবং রাষ্ট্র বা পুলিশের অন্যায় ক্ষতি কিংবা সহিংসতা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারে অবিচল। ভয়ের যুগ ভেঙে গেছে; নাগরিকেরা আর নিপীড়িত বা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থাকতে রাজি নন।’

এই গণতান্ত্রিক জাগরণকে আর উল্টে দেওয়া বা উপেক্ষা করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘গণমাধ্যম তার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছে এবং জনগণও ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে।’

‘আমরা সবসময় জনগণের পাশে ছিলাম এবং ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও একটি ন্যায্য, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও তাদের পাশেই থাকব,’ যোগ করেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

পলিটিকোর সাবেক সাংবাদিকদের গড়ে তোলা সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হলে ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগ হতে পারে। গত জুনে ইসরায়েলের নেতৃত্বে ১২ দিনের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দিয়েছিল এবং ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। নতুন অভিযান হলে সেটির পরিধি আরও বড় হতে পারে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থার জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ইরানে বিক্ষোভ দমনে হাজারো মানুষের মৃত্যু হলে ট্রাম্প সামরিক অভিযানের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। পরে প্রশাসন দ্বিমুখী কৌশল নেয়—একদিকে পারমাণবিক আলোচনা, অন্যদিকে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি।

মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন। উভয় পক্ষ কিছু অগ্রগতির কথা বললেও মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা ইতিবাচক হলেও ইরান এখনো প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত ‘লালরেখা’ মানতে প্রস্তুত নয়।

এদিকে জেনেভায় দ্বিতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা শুরুর দিনই যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি মন্তব্য করেছেন—পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চাইলে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়া’ সম্ভব।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী, এক ডজন যুদ্ধজাহাজ, শত শত যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ১৫০টিরও বেশি সামরিক কার্গো ফ্লাইটে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় এফ-৩৫, এফ-২২ ও এফ-১৬সহ আরও ৫০টি যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ছাড় না দিলে ট্রাম্প পিছু হটবেন না।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কিছু মার্কিন সূত্র বলছে, সিদ্ধান্ত নিতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, হামলা কয়েক সপ্তাহ পরে শুরু হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা দাবি করেছেন, সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খুবই বেশি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৯ জুন হোয়াইট হাউস একইভাবে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। তিন দিন পর তারা ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরু করে।

অ্যাক্সিওস দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা শেষ—এমন কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু আসন্ন যুদ্ধের প্রমাণ দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ সোমবার অন্তর্বর্তী  সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস উইং জানিয়েছে, তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে দুজনই পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দায়িত্বকালীন বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা তার দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়, সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোহামেডানের সভাপতি সংসদ সদস্য বুলু

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য বরকতউল্লাহ বুলু।

এছাড়া, পরিচালনা পর্ষদের বাকি ১৬ জন পরিচালকও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার অন্য প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আগামী ৯ মার্চ মোহামেডানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তা নিয়ে ক্লাবপাড়ায় ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ভোটের প্রয়োজন হয়নি। সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে সাদা-কালোদের ১৭ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল হক হেলাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সভাপতি পদের তিনজন প্রার্থীর মধ্যে দুজন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এছাড়া, পরিচালক পদের ২৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে ১২ জন সরে দাঁড়িয়েছেন। তাই সভাপতি পদে একজন ও পরিচালক পদে ১৬ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।’

হেলাল আরও জানান, আগামী ৯ মার্চ ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

সভাপতি পদে বুলুর পাশাপাশি লড়াইয়ে ছিলেন বিএনপি দলীয় আরেক সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক ও সাবেক হকি খেলোয়াড় সাজেদ এএ আদেল।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ:

সভাপতি: বরকতউল্লাহ বুলু

পরিচালক: লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, মাহবুব আনাম, মোস্তফা কামাল, মোস্তাকুর রহমান, মাসুদুজ্জামান, এনায়েত হোসেন সিরাজ, খায়রুল কবির খোকন, আবুল কালাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, জহির আহমেদ, এমএ সালাম, নিলোফার চৌধুরী মনি, সাজেদ এএ আদেল, সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির, মাহমুদ হাসান খান ও জাকির হোসেন চৌধুরী।