ইউরোপীয় ফুটবলের রাজমুকুট চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্ব এসে দাঁড়িয়েছে শেষ প্রান্তে। আর সঙ্গে এনেছে টানটান উত্তেজনা, অঙ্কের মতো জটিল সমীকরণ ও নাটকীয়তার প্রতিশ্রুতি। বুধবার রাতেই একসঙ্গে মাঠে নামবে সব ৩৬ দল। ইউরোপজুড়ে ৯০ মিনিটে বারবার বদলাতে পারে টেবিলের চেহারা, ঠিক যেন বিমানবন্দরের ডিপারচার বোর্ড। শেষ ষোলোতে সরাসরি যাওয়ার বাকি ছয়টি টিকিট, আর প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই, সব মিলিয়ে সামনে এক ফ্রেনেটিক ফুটবল-রাত।
ঝুঁকি
চূড়ান্ত টেবিলের শীর্ষ আট দল সরাসরি মার্চের শেষ ষোলোতে উঠবে, প্লে-অফের বাড়তি দুই ম্যাচ এড়িয়ে। নবম থেকে ১৬তম দলগুলো প্লে-অফে সিডেড, আর ১৭তম থেকে ২৪তম দলগুলো আনসিডেড হিসেবে খেলবে। সিডেড হওয়ার বড় সুবিধা, দুই লেগের টাইয়ে দ্বিতীয় লেগ ঘরে খেলার সুযোগ।
আরও একটি বাড়তি পুরস্কার আছে: লিগ পর্বে তৃতীয় ও চতুর্থ হলে শেষ ষোলো এবং (যোগ্য হলে) কোয়ার্টার-ফাইনালেও হোম সেকেন্ড লেগ নিশ্চিত।
কারা ইতিমধ্যেই শেষ ষোলো নিশ্চিত?
আর্সেনাল ও বায়ার্ন মিউনিখ শেষ ষোলোতে নিশ্চিত। সাত ম্যাচে সাত জয়ে দুর্দান্ত আর্সেনাল ঘরে কাজাখস্তানের তলানির দল কাইরাত-এর বিপক্ষে এক পয়েন্ট পেলেই শীর্ষে শেষ করবে। ১৮ পয়েন্টে দ্বিতীয় বায়ার্নের দরকার পিএসভি-র মাঠে একটি ড্র, তাতেই টপ-টু নিশ্চিত।
অন্যদিকে, আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট, স্লাভিয়া প্রাগ, ভিয়ারিয়াল ও কাইরাত -এই চার দল ইতিমধ্যেই বিদায় নিশ্চিত; প্লে-অফে ওঠার মতো পয়েন্ট আর নেই। বুধবারের পর আরও আট দল ছিটকে পড়বে।
টপ-এইটের বাকি জায়গাগুলোতে কারা এগিয়ে?
বর্তমানে তৃতীয় থেকে পঞ্চমে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল ও টটেনহ্যাম -তিন দলই জিতলেই কার্যত টপ-এইট নিশ্চিত। ১৫ পয়েন্টে থাকা লিভারপুল ও মাদ্রিদের ক্ষেত্রে ড্র-ও যথেষ্ট হতে পারে, গোল ব্যবধান অনুকূলে থাকলে; তবে অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপরও নজর রাখতে হবে।
টটেনহ্যাম (ডর্টমুন্ডকে উড়িয়ে দেওয়ার পর) খেলবে ইতিমধ্যেই বিদায় নেওয়া ফ্রাঙ্কফুর্ট-এর মাঠে।
লিভারপুল খেলবে অ্যানফিল্ডে কারাবাখ-এর বিপক্ষে, যারা বেনফিকা হারিয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্টকে চমকে দিয়েছে, এমনকি চেলসির সঙ্গেও ২-২ ড্র করেছে। কাগজে কলমে লিভারপুল ফেভারিট, তবু চমকের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
রিয়াল মাদ্রিদ যাবে বেনফিকার মাঠে। ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা ফেভারিট হলেও লিগ পর্বে ইতিমধ্যেই দু’বার হেরেছে -লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটির কাছে।
আসল জট কোথায়?
১৩ পয়েন্টে আট দল! ষষ্ঠ থেকে ত্রয়োদশ, গোল ব্যবধানেই ফারাক। আপাতত টপ-এইটের শেষ তিন আসনে পিএসজি, নিউক্যাসল ও চেলসি; তবে সমান পয়েন্টে রয়েছে বার্সেলোনা, স্পোর্টিং সিপি, ম্যান সিটি, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ও আতালান্তা।
তাত্ত্বিকভাবে ১০ পয়েন্টে থাকা গালাতাসারায় ও কারাবাখ-ও টপ-এইটে ঢোকার স্বপ্ন দেখছে। তবে অপ্টা সুপারকম্পিউটার বলছে, কারাবাখ সম্ভবত ২০তম হবে; আর অ্যাতলেতিকো, সিটি ও বার্সেলোনা টপ-এইটে ঢুকে পড়তে পারে। এই তিন দলেরই ঘরের মাঠে তুলনামূলক সুবিধাজনক ম্যাচ, গোল ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ।
সবচেয়ে কঠিন কাজ নিউক্যাসল-এর: প্যারিসে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি-র বিপক্ষে। জিতলেও টপ-এইট নিশ্চিত নয়, গোল ব্যবধান ফ্যাক্টর হতে পারে। হারলে দু’দলেরই জায়গা বিপন্ন, অন্যদের সুযোগ খুলে যাবে।
চেলসি খেলবে নাপোলিতে, সাবেক কোচ আন্তোনিও কন্তে-র দলের বিপক্ষে। টপ-এইট পোক্ত করতে জয়ই দরকার।
প্লে-অফের দৌড়
অবিশ্বাস্য শোনালেও, আয়াক্স-ও এখনও স্বপ্নে বেঁচে। প্রথম পাঁচ ম্যাচে হারলেও শেষ দু’টি জিতে ৩২তম স্থানে উঠে এসেছে। বুধবার অলিম্পিয়াকোস-এর বিপক্ষে জিতলে সরাসরি টপকাতে পারে গ্রিক দলটিকে। তবে প্লে-অফে ঢুকতে হলে অন্য ফলও পক্ষে আসতে হবে।
১৬তম (সর্বশেষ সিডেড প্লে-অফ) ডর্টমুন্ড থেকে ২৫তম নাপোলি, সব মিলিয়ে ব্যবধান মাত্র তিন পয়েন্ট।
আরেকটি নজরকাড়া ম্যাচ: মার্সেই (১৯তম) বনাম ক্লাব ব্রুজ (২৭তম) -দুই পয়েন্টের ফারাক।
গত মৌসুমের শেষ দিনের স্মৃতি
গতবার ছিল প্রত্যাবর্তন, ৬৪ গোল, আর টেবিলের ঘনঘন পালাবদল। শেষ পর্যন্ত ১৬ পয়েন্টে টপ-এইট, ১১ পয়েন্টে প্লে-অফ, এক দল বাদে।
অ্যাস্টন ভিলা ও লিল জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে; আতালান্তা ও মিলান বাদ পড়ে।
ম্যান সিটি ২৫তম থেকে উঠে ২২তম, প্লে-অফে রিয়াল মাদ্রিদ-এর কাছে বিদায়।
শেষমেশ চ্যাম্পিয়ন পিএসজিও শেষ রাতে ঝুঁকিতে ছিল, জিতে ১৫তম হয়, প্লে-অফে প্রতিপক্ষকে ১০–০ ব্যবধানে উড়িয়ে ইতিহাস গড়ে।
নকআউট সূচি
প্লে-অফ: ১৭–১৮ ও ২৪–২৫ ফেব্রুয়ারি
শেষ ষোলো: ১০–১১ ও ১৭–১৮ মার্চ
কোয়ার্টার-ফাইনাল: ৭–৮ ও ১৪–১৫ এপ্রিল
সেমিফাইনাল: ২৮–২৯ এপ্রিল ও ৫–৬ মে
ফাইনাল: ৩০ মে
প্লে-অফ ড্র কীভাবে?
ড্র হবে ৩০ জানুয়ারি, সুইজারল্যান্ডের নিয়ন-এ উয়েফা সদর দপ্তরে। নবম–১৬তম সিডেড, ১৭তম-২৪তম আনসিডেড। সিডেড দলগুলো দ্বিতীয় লেগ ঘরে খেলবে, প্রায়ই যা টাই নির্ধারণ করে দেয়।
