পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং যারা নতুন করে ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে চায়, তারা গণভোটে ‘না’ ভোটকে জয়ী করতে একধরনের ঐক্যে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যেভাবে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী শক্তিকে জনগণ বিতাড়িত করেছে, ঠিক সেভাবেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে তাদের এই ঐক্য নস্যাৎ করে দেওয়া হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল গত ১৭ বছর ধরে সংস্কারের কথা বলে এসেছে। কিন্তু যখন সত্যিকারের সংস্কারের সময় এসেছে, তখন তাদের কণ্ঠস্বর নীরব হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের জোটের প্রার্থীর জন্য ভোট চাইছি না। আপনারা যদি আমাদের নির্বাচিত করেন, তাহলে হয়তো আগামী পাঁচ বছর আপনাদের সেবা দিতে পারব। কিন্তু আপনারা যদি গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটকে জয়ী করেন, তাহলে তার সুফল শুধু আপনি বা আমি নই, আপনাদের সন্তান ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মও ভোগ করবে।’
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আগে টানা ১৭ বছর যেভাবে এ দেশের মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, খুন ও কারাগারে অত্যাচারের শিকার হয়েছে, তার একটি নমুনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ১৬ মাসে আবার দেখা গেছে। এই সময়ে গ্রাম থেকে শহরের অলিগলি পর্যন্ত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই নৈরাজ্য থেকে মুক্তি পেতে হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শরিক দলগুলোর জোটের প্রার্থীদের ভোট দিতে হবে।’
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে সামনে এসেছে। ৫ আগস্ট শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদী হাসিনাকে হটাতে পেরেছিলাম। এবার আর রক্ত দিতে হবে না—সিল দিতে হবে। সেই সিলের মাধ্যমেই জুলাইয়ের অর্জিত বিজয়কে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির নেতা জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং বান্দরবান আসনে এনসিপির প্রার্থী এস এম সুজা উদ্দিন।
