ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সময় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে সারাদেশে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)।
এই নির্দেশনাগুলো আগামী ১০ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
আজ সোমবার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিজিএইচএস পরিচালক (হাসপাতাল) আবু হুসাইন মো. মঈনুল আহসান।
দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক, জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল/ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সব প্রশাসনিক স্তরে মেডিকেল টিম গঠন করা হবে। প্রতিটি সিটি করপোরেশনে ৬টি, বিভাগীয় পর্যায়ে ৪টি, জেলা পর্যায়ে ৩টি, উপজেলা পর্যায়ে ২টি এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে টিম গঠিত হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা প্রশাসকদের জনবল প্রাপ্যতা ও স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে টিম সদস্য নির্বাচন করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে।
প্রয়োজনে হাসপাতালগুলোকে জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করতে বলা হয়েছে এবং অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত অবস্থায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। কেউ ছুটিতে থাকলে অবশ্যই একজন যোগ্য কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে। ওই কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর ডিজিএইচএসকে জানাতে হবে।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে সব সময় জরুরি বিভাগ চালু রাখতে এবং চিকিৎসকদের ডিউটিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোগীকে অন্যত্র রেফার করার আগে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, যথাযথ কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা এবং জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করতে এবং প্রয়োজনে বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের লজিস্টিক সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স ও জনবল দিয়ে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয় বা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না।
জরুরি ইউনিট, ভর্তি বিভাগ, ল্যাবরেটরি, ক্যাথ ল্যাব, ডায়ালাইসিস সেন্টার, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সেন্টার স্বাভাবিক নিয়মে খোলা রাখতে হবে।
