খননের অভাবে কুষ্টিয়ার প্রধান নদী পদ্মা ও গড়াই মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
আজ সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব অভিযোগ করেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এই নদী খননের জন্য প্রত্যেক বছর বাজেট থাকে। নদী খননের সমস্ত টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে পেটের ভেতর চলে যায়; নদীর বালি আর ওঠে না। খননও হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কম-বেশি যারাই ক্ষমতায় গিয়েছেন, এই একই কাজ তারা করেছেন।’
হেলিকপ্টারে জনসমাবেশে যোগ দেওয়া শফিকুর রহমান বলেন, ‘উপর থেকে দেখছিলাম, পদ্মা-গড়াই নদী নয়, যেন মরুভূমি। এটা যখন মরুভূমি হয়ে গিয়েছে, তখন উপর থেকে যখন ঢলের পানি আসে, তখন আর নদীতে থাকে না। দুই কূল ভাসিয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেয়। নদী ভাঙনের কবলে অনেক মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছে। কেন এমনটা হলো? নদী তো আল্লাহর নিয়ামত। আমাদের দেশে আল্লাহর অশেষ এই নিয়ামতগুলোকে তিলেতিলে খুন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে।’
‘আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, যারা ৫৪ বছর ধরে দেশটাকে খাবলে খামচে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্র পরিবর্তন না হলে দেশের জন্য ভালো কিছুই করতে পারবে না,’ যোগ করেন তিনি।
দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ায়। এখানে প্রতি ট্রাক থেকে চাঁদা তোলা হয় অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘এখান থেকে চাল বোঝাই করে ট্রাক রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। প্রতিটি ট্রাক থেকে বেসরকারি খাজনা আদায় করা হয়। চাঁদা বললে মানুষ একটু লজ্জা পায়, এইজন্য বললাম বেসরকারি খাজনা। রেটও ভালো। প্রতি ট্রাকে ৫০০০ টাকা। এতে ট্রাকের মালিক ও চালকল মালিকরা অতিষ্ঠ।’
কুষ্টিয়ার চিনিকল বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কুষ্টিয়া চিনিকল বন্ধ হয়ে আছে। দুনিয়ার সব জায়গায় ইন্ডাস্ট্রির বিস্তার ঘটছে, আর আমাদের একটা একটা করে তালা ঝুলানো হয়েছে। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামে আমির যখন শিল্পমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন আজ থেকে আর কোনো সরকারি কল কারখানায় তালা ঝুলবে না। বরঞ্চ তালা যেখানে যেখানে আছে সেগুলো খোলার চেষ্টা করবো এবং তিনি তাই করেছিলেন। বন্ধ লোকসানি চিনিকলগুলা খুলে দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সেইগুলাকে মাত্র আড়াই বছরের মাথায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি জনগণ যদি সুযোগ দেয় বাংলাদেশের সকল সেক্টরে বিপ্লব ঘটবে।’
কুষ্টিয়ায় জনসভা শেষে তিনি রওনা দেন মেহেরপুরের উদ্দেশে। সেখান থেকে চুয়াডাঙ্গা ও পরে ঝিনাইদহের জনসভায় ভাষণ দেবেন শফিকুর রহমান।
