বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার ও বর্তমান আইনপ্রণেতা হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন যদি ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ হয়, তবে দলটির জয়ের কোনো সুযোগ নেই।
আজ রোববার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে শ্রিংলার মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পররাষ্ট্রনীতির নীতিমালার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং একটি বৈধ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির শিষ্টাচার ও পররাষ্ট্র নীতিমালার লঙ্ঘন। বিশেষ করে একজন সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। একটি দেশের জনগণ কাকে ভোট দেবে এবং কাকে ভোট দেবে না, তা সম্পূর্ণ সেই দেশের জনগণেরই এখতিয়ার। কোন রাজনৈতিক দল কী পরিমাণ জনসমর্থন পাবে তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের নেই। বাংলাদেশের জনগণই এ দেশের মালিক এবং তারাই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।’
এ ধরনের মন্তব্য করে শ্রিংলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত, গণতান্ত্রিক ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এ দেশের জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রশ্নে আমরা সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণই তাদের প্রকৃত রায় দেবে এ বিষয়ে আমাদের কোনো সংশয় নেই। আমরা আশা করি, ভারতের দায়িত্বশীল মহল এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকবেন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখবেন।’
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর এক সাংবাদিক বলেন, ‘নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী জয়ী হলে বাংলাদেশ তো তাদের হাতে চলে যাবে।’
তখন শ্রিংলা বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ইসলামপন্থি দলটি কখনোই জয়ী হতে পারবে না। নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ না হয়, যদি কারচুপি হয়, তাহলেই কেবল তারা ক্ষমতায় আসতে পারে।’
শ্রিংলা আরও বলেন, ‘তাদের ভোটের হার পাঁচ থেকে সাত শতাংশ। তাদের প্রতি জনসমর্থন নেই।’
