বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্ম, গোত্র ও বর্ণের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা একধরনের সুবিধাবাদ ও বর্ণবাদ।
আজ রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণে এক ধর্মীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যারা বাংলাদেশে বাস করি, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা কেউ সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নই। আমাদের সংবিধানেই এই সার্বজনীনতার কথা পরিষ্কারভাবে বলা আছে।’
তিনি বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ এসেছে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনও সেই সুযোগেরই অংশ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভোটের মাধ্যমে আমরা এমন একটি পার্লামেন্ট বা সরকার গঠন করতে চাই, যা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে—যে সরকার বর্ণভেদ করবে না, ধর্মের ভেদ করবে না এবং সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাইবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল আমি জাঠিভাঙ্গায় গিয়েছিলাম। যেখানে একটি সেতুর পাশে ১৯৭১ সালের বধ্যভূমির স্মৃতিসৌধ রয়েছে।’
পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নির্বিচারে বাংলাদেশের মানুষ হত্যার কথা স্মরণ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা সেদিন এই হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছিল, তারাই আজ আবার ভোটের জন্য আমাদের সামনে এসেছে। তারা কখনও তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চায়নি, অনুতাপ প্রকাশ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন, মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট হয়েছে। এই ত্যাগের বিনিময়েই আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি। তাই আমরা সেই ধরনের শক্তির হাতে দেশ তুলে দিতে পারি না, যারা বাংলাদেশের মানুষ ও দেশের জন্য নিরাপদ নয়।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আপনারা মনে সবসময় সাহস রাখবেন। আমি কষ্ট পাই, যখন শুনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মা-বোনেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। কেন? এই দেশ আপনার, এই মাটি আপনার। এখানে আপনি আর আমি সমান—এটা মনে রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাম্য ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ গড়তে আমাদের বারবার রক্ত দিতে হয়েছে। এটা শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয়, সারা বিশ্বেই সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।’
এর আগে একই উপজেলার চেরাডাঙ্গী বাজার এলাকার নির্বাচনী সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘর ও জমি দখল করেছে, ব্যবসা করেছে। এই ধরনের কাজ আমাদের দলের কাউকে করতে দেবো না।’
