বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্য সহজ শর্তে শিক্ষাঋণ চালু এবং ক্ষুদ্র ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণ সহজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ রোববার সকালে চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের সরকারি ও বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
আলোচনার শুরুতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনুভা তাসরিন প্রশ্ন করার সময় তারেক রহমানকে ‘স্যার’ সম্বোধন করলে তিনি কথার মাঝখানে তাকে থামিয়ে দেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বয়সের হিসাবে ‘আঙ্কেল’ ডাকতে পারেন। তবে ‘আঙ্কেল’ ডাকটা শুনতে খুব একটা পছন্দ করব না। ‘ভাইয়া’ বললে ভালো লাগবে, ‘স্যার’ বলার দরকার নাই।
ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে জামানতবিহীন ব্যাংকঋণ পেতে জটিলতার মুখে পড়তে হয়, এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন তাসনুভা তাসরিন।
তারেক রহমান স্বীকার করে বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা আছে। সব আইন রাতারাতি বদলানো সম্ভব নাও হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট আইনগুলোতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার জন্য আমরা কাজ করব।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাঋণ চালু করা হবে। ভিসা ফি ও অন্যান্য প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে এই ঋণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, কৃষি, বড় শহরগুলোর জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ, খাদ্যে ভেজালসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। প্রতিটি বিষয়েই বিএনপির সম্ভাব্য পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমন হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোর জলাবদ্ধতা ও জলনিষ্কাশন সমস্যা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের সব বড় শহরেই জলাবদ্ধতা রয়েছে। বৃষ্টির সময় জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খনন অত্যন্ত জরুরি। তাই আমরা সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব।
তারেক রহমান দেশে আসামাত্র একদিনেই যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন, সবার জন্যই তেমনটা হবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নাগরিকদের জন্য এনআইডি পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি যদি সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল করা যায় এবং বিদ্যমান ত্রুটিগুলো দূর করা হয়, তাহলে মানুষ ঘরে বসেই এনআইডি সংগ্রহ করতে পারবে। এতে দুর্নীতি ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
তার ভাষায়, আমরা অনেক পরিকল্পনার কথা বলছি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি—এই দুটি সমস্যার সমাধান না হলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না।
