-3 C
New York

ডেটা প্যাকেজের দাম কমাতে অপারেটরদের পরিকল্পনা জানতে চায় বিটিআরসি

মোবাইল ইন্টারনেট ডেটা প্যাকেজের দাম কমাতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—সে বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত পরিকল্পনা ও প্রতিবেদন জমা দিতে দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটরকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ইন্টারনেটের দাম দ্রুত বাড়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ নির্দেশনা দিয়েছে।

বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে একাধিক বৈঠক শেষে গত বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত ডিসেম্বর এবং চলতি মাসের শুরুতেও ডেটার দাম কমানোর বিষয়টি নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করে বিটিআরসি।

বিটিআরসির নথি অনুযায়ী, কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু বকর ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চলতি মাসের শুরুতে ডেটা ট্যারিফ কমানোর লক্ষ্যে ঘোষিত উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক জানান, আগের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক মাসে মোবাইল ডেটার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এ সময় ভাইস চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ডেটা প্যাকেজের দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় মোবাইল অপারেটরদের অবশ্যই ডেটা প্যাকেজের দাম কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে, এমনকি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দিক থেকেও ডেটার দাম কমানোর বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সতর্ক করে বলেন, অপারেটররা যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর জবাবে মোবাইল অপারেটররা জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ডেটার দাম বাড়ার পেছনে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়াই প্রধান কারণ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি, নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও বিনিয়োগ ব্যয় অনেক বেশি হয়েছে।

তবে অপারেটররা আশ্বাস দেন, ডেটার দাম কমানোর উপায় খুঁজে বের করতে তারা কাজ করছেন। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য ট্যারিফ পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে বিটিআরসির সঙ্গে আলাদা বৈঠকের আবেদনও জানান তারা।

আলোচনা শেষে ভাইস চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক সব মোবাইল অপারেটরকে এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিবেদনে ডেটা প্যাকেজের দাম কমাতে এখন পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী করা হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর প্রতিটি অপারেটরের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবে বিটিআরসি।

এ বিষয়ে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ডেটার দাম পর্যালোচনা অবশ্যই স্বচ্ছ ও স্পষ্ট ব্যয় বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, যাতে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদে খাতটির উন্নয়নে সহায়ক হয়।

তিনি বলেন, গত ২৪ মাসে আমাদের আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে। একই সময়ে ডেটার দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, যা গ্রাহকদের জন্য ইতিবাচক। তবে ব্যয় ও বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে আরও দাম কমানো হলে অপারেটররা আর্থিকভাবে চাপে পড়তে পারে।

সাহেদ আলম আরও বলেন, কম মুনাফার কারণে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সেবার মান উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে যায়।

তার মতে, স্বল্পমেয়াদি বা ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পুরো খাতকে দুর্বল করতে পারে, সেবার মান কমাতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব গ্রাহকদের ওপরই পড়তে পারে।

Related Articles

Latest Articles