কানাডা যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে তবে কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, যদি কানাডা চীনের সঙ্গে চুক্তি করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ঠিক কোন চুক্তির কথা উল্লেখ করছেন তা পরিষ্কার নয়। গত সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীনের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ ঘোষণা করেন এবং শুল্ক কমানোর বিষয়ে সম্মত হন।
সেই সময় ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে ‘ভালো কাজ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে, কারণ কার্নি দাভোসে এক বক্তৃতায় বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে।
কার্নি ছোট দেশগুলোকে বড় দেশের চাপের মুখে একসাথে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, যদিও তিনি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি।
পরের দিন ট্রাম্প তার বক্তৃতায় এই মন্তব্যের জবাবে বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে টিকে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কানাডাকে তার নতুন শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও প্রত্যাহার করেছেন।
শনিবার ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, কার্নি যদি ভাবেন কানাডাকে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা হবে, তবে তিনি মারাত্মক ভুল করছেন।
বিবিসি মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউস ও কার্নির অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক এক বিবৃতিতে বলেন, চীনের সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার চেষ্টা নেই। যা অর্জিত হয়েছে তা হলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক সমস্যা সমাধান।
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্যকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে, কারণ ট্রাম্পের অনিয়মিত শুল্ক নীতি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
গত সপ্তাহে কার্নি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে হওয়া চুক্তির আওতায় চীন মার্চ পর্যন্ত কানাডিয়ান ক্যানোলা তেলের শুল্ক ৮৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামাবে, আর কানাডা চীনা ইলেকট্রিক ভেহিকেলসের ওপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ১ শতাংশে নামাবে।
দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও পাল্টাপাল্টি শুল্কের পর এই চুক্তি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি কানাডায় আরও চীনা বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
