রাজনৈতিক কারণে নির্বাসিত দেশের সফলতম ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরাতে চায় বিসিবি। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া, ফিক্সিং ইস্যুতে তৈরি বিতর্ক ও একজন প্রভাবশালী পরিচালকের পদত্যাগের আলোচনার মাঝে হুট করে সাকিবকে ফেরানোর কথা জানালো বোর্ড।
মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার দীর্ঘ বোর্ড সভায় বসে বিসিবি। এই সভা চলাকালীন জানা যায়, পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশতিয়াক সাদেক। এদিকে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠায় জর্জরিত হয়ে আরেক পরিচালক মুখলেছুর রহমান শামীম স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব ছাড়েন। এসবের মাঝেই আইসিসি জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের বদলে বিশ্বকাপ খেলবে স্কটল্যান্ড। এমন এক উত্তাল দিনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিবকে দেশের ক্রিকেটে ফেরানোর কথা জানালো বিসিবি।
বোর্ড সভা শেষে পরিচালক আসিফ আকবর জানান, এই সভায় সাকিবকে আবারও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকবেন ২৭জন। সাকিব ফিট থাকলে তাকে বিবেচনা করতে নির্বাচকদের সায় দেবেন তারা। আসিফ আকবর বলেন, ‘বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, সাকিব আল হাসানের এভেলেবিলিটি (উপলব্ধতা), ফিটনেস এবং সংশ্লিষ্ট ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকলে নির্বাচক প্যানেল তাকে অবশ্যই সিলেকশনের জন্য বিবেচনা করবে। এছাড়া গ্লোবাল টুর্নামেন্টগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য বোর্ড তাকে প্রয়োজন অনুযায়ী অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান করবে।’
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় আসামি করা হয় সাকিবকে। এই সময় দেশের বাইরে দুটি সিরিজ খেললেও দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। দেশে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ খেলে বিদায় নিতে চেয়েছিলেন দেশের সফলতম ক্রিকেটার, খেলতে চেয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পথে দুবাই পর্যন্ত এলেও তাকে ফিরে যেতে হয়। তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্দেশে সাকিব ফিরে যান বলে পরে জানা যায়।
এই অবস্থায় কেবল দেশের বাইরে নয়, দেশের ভেতরেও সাকিবকে চায় বিসিবি। আসিফ আকবর জানান, ‘সাকিব আল হাসান হোম এবং অ্যাওয়ে—উভয় সিরিজের জন্যই এভেলেবেল থাকবেন বলে বোর্ডকে জানিয়েছেন এবং বোর্ড তাকে উভয় সিরিজের জন্যই বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
সাকিবের আইনি জটিলতা নিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানানো হয়। আসিফ বলেন, ‘সাকিবের আইনি বা ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সরকার এবং আদালতের বিষয়। বোর্ড খেলোয়াড় হিসেবে সাকিবকে দলে চায়। বিসিবি সভাপতি এই প্রশাসনিক ও আইনি বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে আলোচনা করবেন যাতে বিষয়গুলো সমাধান করা যায়।’
আসিফ এই ব্যাপারে আরও বলেন, ‘মাশরাফি তো দেশেই আছেন। ৩ আগস্টের পর আরও একজনও (সেই ক্রিকেটার কে নাম বলেননি)) যদি দেশে থাকতে পারেন, তাহলে সাকিবও পারবেন।’
তবে হুট করে সাকিবের আলোচনা সামনে আনা কি অন্য সব বিপর্যয় ঢেকে রাখার চেষ্টা? এই প্রশ্নের উত্তরে আসিফ বলেন, ‘বিষয়টি তেমন নয়। সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্ট (কেন্দ্রীয় চুক্তি) নিয়ে আলোচনার সময় সকল খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ও প্রাপ্যতা নিয়ে রিভিউ করা হয়। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই সাকিবের বিষয়টি এসেছে। সাকিব নিজেও খেলার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বোর্ড তাকে প্রাপ্য সম্মান দিতে চায়।’
এ সময় আরেক পরিচালক আমজাদ হোসেনও বলেন, সাকিব যাতে দেশের মাঠে খেলে বিদায় নিতে পারেন, তেমনটাই তারা চান।
