-6.2 C
New York

উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, গরিব করে রাখা হয়েছে। আমি সেই বঞ্চনার সাক্ষী হতে এসেছি। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ থেকে আগামীতে আমরা আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। সবার হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনিকল খুলে দিতে চাই। শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে নিতে চাই।’

আজ শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের প্রচারণাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারা ভাই-বোনেরা আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটি ভালবাসার কার্ড চাই। আপনাদের সমর্থন, দোয়া, ভালবাসা নিয়ে বেকারও দায়-দয়ামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবার যেমন নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে, সমাজের সবচাইতে কুদরত এবং সমাজের ভিত্তি হিসেবে পরিবার যেমন গড়ে উঠে, আমরা নারী-পুরুষ মিলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষ আওয়াজ দেয় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ওই টেকনাফের উন্নয়ন জোয়ার আর আসতে পারে না এই তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। আমরা এটা উল্টায় দেব, বলব তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। এতদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হয়েছে, এখন ব্যাল্যান্স হওয়া দরকার। এখন হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।’ 

উত্তরাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদীগুলো নিয়ে তিনি বলেন,  চারটা বিশাল নদী আল্লাহর নেয়ামত—তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র এবং করতোয়া।  আজকে আসতে আসতে ওপর থেকে দেখলাম, নদী নয় মরুভূমি। মরে কঙ্কাল হয়ে আছে নদীগুলো।  এ দেশের কি কোনো মা-বাবা ছিল না? তাহলে আমার নদী মরে গেল কেন?

আওয়ামী নেতাদের দেশ ত্যাগের প্রসঙ্গে টেনে তিনি  বলেন, ‘আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব। দেশবাসীকে চরম দুঃখ ও বিপদের সময় ফেলে কোথাও যাইনি। আগামীতে আপনাদের ফেলে কোথাও যাব না।’

‘যদি আপনাদের মূল্যবান ভোটে, ভালবাসায়, সমর্থনে দশ দলের এই সমন্বয়কে পার্লামেন্টে পাঠান, যেন সরকার গঠন করতে পারে—আমরা কথা দিচ্ছি শুধু নদীর জীবন ফিরে আসবে না, মানুষেরও জীবন প্রাণচঞ্চল হয়ে ফিরে আসবে,’ বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,  ‘স্বাস্থ্যসেবার জন্য হন্যে হয়ে দৌড়াতে হয় রাজধানী ঢাকায়। এই সামর্থ্য সবার নেই। যাওয়ার পথে রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়। এই অবস্থা আমরা দেখতে চাই না। আমাদের দায়িত্ব দিলে ১৮ কোটি মানুষের ৬৪ জেলায় কোথাও মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। পঞ্চগড়েও মেডিকেল কলেজ হবে।’

‘মানসম্মত সেবা এখানেও নিশ্চিত করা হবে। বলবেন এত টাকা কোথায় পাবেন? ওই যে চুরি করে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে, ওগুলো ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব। আর আগামীতে কাউকে চুরি করতে দেওয়া হবে না,’ বলেন জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আজকের এই জনসভায় শহীদ পরিবারের সম্মানিত সদস্যরা আছেন, জুলাই যোদ্ধারা আছেন, একাত্তরের বীররা আছেন। আমরা আপনাদের কাছে ঋণী। আগামীতে দেশ সেবার সুযোগ পেলে, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আপনাদের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করব।’

‘একটা কথা শুধু বলে যেতে চাই, ভোট দিতে পারেননি বহুদিন। মনটা ভোট দেওয়ার জন্য চঞ্চল হয়ে আছে, মরুভূমি হয়ে আছে। কেউ যদি আপনার ভোট ডাকাতি করে নিতে আসে তাহলে রুখে দিতে হবে,’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যুবকদের কাজ শেষ হয়নি, কেবল শুরু হয়েছে। এই দেশ থেকে বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, স্বৈরতন্ত্র বিদায় দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক, আধিত্যবাদমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমরা থামব না, আমাদের কেউ থামাতে পারবে না। আমরা চলতেই থাকব, যতদিন পর্যন্ত এই জাতি তার মঞ্জিলে মকসুদে না পৌঁছে।’

Related Articles

Latest Articles