-4.6 C
New York

২ ব্যালটের ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে: ইসি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ব্যালট গণনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় পোলিং বুথের সংখ্যা বেড়েছে এবং ভোট কেন্দ্রের সংখ্যাও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে, যা গণনার সময়কে দীর্ঘ করতে পারে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। 

তিনি বলেন, গড়ে প্রতি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ব্যালট পেপার গণনায় স্বাভাবিকের তুলনায় সময় বেশি লাগতে পারে। যেসব কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালট থাকবে, সেখানে আরও সময় প্রয়োজন হবে।

ইসি সচিব জানান, কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রে পাঁচ বা ছয়টি এলাকার ভোটার একসঙ্গে ভোট দেবেন। এতে কেন্দ্র পর্যায়ের গণনা শেষ হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে চূড়ান্ত গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে। একজন রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে একাধিক আসন থাকলে বিলম্ব আরও বাড়তে পারে।

গণনায় কত সময় লাগতে পারে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা নির্ভর করছে কত ভোট ফেরত আসবে সেটার ওপর। আগাম বলা খুব ডিফিকাল্ট।’

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় কোথাও সতর্কতা, কোথাও জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি। 

এ বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—কোথাও সতর্ক, কোথাও ফাইন করা হয়েছে।’

অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র বহন বা চাঁদা ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ—এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি আচরণবিধি লঙ্ঘন। সচেতনতা বাড়ানোর জন্যই এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, যেন এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে।

নির্বাচনী কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য ১৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সদস্য যুক্ত থাকবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

প্রার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রেস ব্রিফিং প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়নি। দেশভেদে নাগরিকত্ব পরিত্যাগে সময় লাগতে পারে। তবে কেউ যদি তথ্য গোপন করে থাকেন এবং তা কমিশনের নজরে আসে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা বুধবার ছিল ১ হাজার ৯৭২ জন, যা বৃহস্পতিবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮১ জনে। 

তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভোটের সময় মোবাইল ফাইন্যান্সিং সিস্টেমে (এমএমএস) লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না বলেও জানান ইসি সচিব। 

তিনি বলেন, অতীতের মতো ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ লেনদেন বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে প্রয়োজন হলে লেনদেনের সীমা নির্ধারণ বা ক্যাপ করা হতে পারে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দুই ভোট পর্যবেক্ষণে প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন বলে জানানো হয়েছে। 

এজন্য ৮৩টি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি সংস্থা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। পাঁচটি সংস্থা আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ডিজিটাল প্রচারণায় প্রার্থীরা ব্যয়সীমা অতিক্রম করলে তা নির্ধারণে ইসির কৌশল কী—এ প্রশ্নে আখতার আহমেদ বলেন, খাতওয়ারি ব্যয়ের হিসাব ইসির কাছে থাকে না। মূলত মোট ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়, যা আলাদা করে বিশ্লেষণের ব্যবস্থা আছে কি না, তা জেনে বলতে হবে।

Related Articles

Latest Articles