-3 C
New York

শান্তি পর্ষদের যাত্রা শুরু, সনদে সই করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের সনদে সই করেছেন। এর মধ্য দিয়ে শান্তি পর্ষদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত এই সংস্থার স্থায়ী সদস্যপদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে এ সনদে সই করেন তিনি।

শুরুতে পর্ষদের লক্ষ্য ছিল—যুদ্ধপরবর্তী গাজা পুনর্গঠন করা। তবে পর্ষদের ১১ পৃষ্ঠার সনদে একবারও গাজার নাম না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি আরও বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী রূপ নিয়েছে। 

ট্রাম্প বলেন, এই পর্ষদের কার্যক্রম অন্যান্য বৈশ্বিক সংকটেও বিস্তৃত হতে পারে, যা সাধারণত জাতিসংঘের দায়িত্ব হিসেবে পরিচিত।

তিনি বলেন, এই শান্তি পর্ষদ পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেলে আমরা প্রায় যা চাই, তাই করতে পারব। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগটি প্রতিষ্ঠার নথিতে সই করেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্টিনা, কাতার, আজারবাইজান, ইন্দোনেশিয়া, হাঙ্গেরি, মরক্কো, বাহরাইন, পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ আরও ১৯টি দেশের নেতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি জাতিসংঘসহ অনেকের সঙ্গে কাজ করবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয়ও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, আমি সবসময়ই বলেছি, জাতিসংঘের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু তা ব্যবহার করা হয়নি।

গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এখন শান্তি রয়েছে, কেউ ভাবেনি এটা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, পর্ষদটির অগ্রাধিকার হলো—গাজার শান্তিচুক্তিকে স্থায়ী করা, তবে সংস্থাটির সম্ভাবনা অসীম।

ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার শান্তি পর্ষদের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে কোনো রাজনৈতিক রূপরেখা বা নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তিনি উল্লেখ করেননি।

কুশনার বলেন, শান্তি পর্ষদের এক নম্বর বিষয় হলো—নিরাপত্তা। আমরা উত্তেজনা কমানোর উপায় খুঁজতে ইসরায়েলিদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আর পরবর্তী ধাপ হলো—হামাসের সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কাজ করা।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ছাড়া কেউ বিনিয়োগ করবে না, কেউ সেখানে নির্মাণ করতে আসবে না। কর্মসংস্থান দিতে হলে আমাদের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

কুশনার বলেন, বোর্ড অব পিস মুক্তবাজার নীতি ব্যবহার করে গাজার বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। এ সময় তিনি গাজার একটি মানচিত্র দেখান, যেখানে এলাকাগুলোকে ‘আবাসিক’ ও ‘উপকূলীয় পর্যটন মিশ্র’ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনায় রাফায় ১ লাখ আবাসিক ইউনিট নির্মাণ এবং ‘নিউ গাজা’ গড়ে তোলার কথা রয়েছে।

কুশনার উপকূলীয় এলাকায় উঁচু টাওয়ারের নকশাও প্রদর্শন করেন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দুই-তিন মিলিয়ন মানুষের শহর তিন বছরে তৈরি করা হয়। তাই আমরা যদি চাই, তাহলে এটা করা সম্ভব।

তিনি গাজা সংঘাতে জড়িত উভয় পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানান। 

কুশনার আরও বলেন, সবাই শান্তিতে থাকতে চায়। আমরা যদি বিশ্বাস করি শান্তি সম্ভব, তাহলে শান্তি সত্যিই সম্ভব।

শান্তি পর্ষদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রাম্প চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। শীর্ষে থাকবে একটি ‘প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিষদ’। যেখানে রয়েছেন—রুবিও, কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, যুক্তরাষ্ট্রের উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সিইও মার্ক রোয়ান।

 

Related Articles

Latest Articles