-4.6 C
New York

রেকর্ড আয়ের শীর্ষে রিয়াল-বার্সা, সংখ্যায় এগিয়ে প্রিমিয়ার লিগ

বিশ্ব ফুটবলের অর্থনীতিতে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল লা লিগা। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আয়-ব্যয়ের হিসাবেও ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর ভিড়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম রিয়াল মাদ্রিদ ও এফসি বার্সেলোনা। ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বেশি আয় করা ২০টি ক্লাব মিলিয়ে রেকর্ড ১২.৪ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। তবে সংখ্যায় প্রিমিয়ার লিগ এগিয়ে থাকলেও আয়ের দিক থেকে লা লিগার দুই জায়ান্টই শীর্ষে।

ডেলয়েট প্রকাশিত বার্ষিক ‘ফুটবল মানি লিগ’ প্রতিবেদনে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো রাজস্ব তালিকার শীর্ষে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রায় ১.২ বিলিয়ন ইউরো আয়ের মাধ্যমে অন্যদের থেকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে তারা। ম্যাচডে আয়ে ৬ শতাংশ কমলেও বাণিজ্যিক আয়ে ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রিয়ালকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। মার্চেন্ডাইজিং বিক্রি ও নতুন বাণিজ্যিক চুক্তির সুবাদে শুধু বাণিজ্যিক খাত থেকেই এসেছে ৫৯৪ মিলিয়ন ইউরো, যা এককভাবে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ক্লাবের কাতারে জায়গা করে নেওয়ার মতো।

দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা, যাদের উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। এক মৌসুমে ষষ্ঠ স্থান থেকে লাফ দিয়ে দ্বিতীয়, ৯৭৪.৮ মিলিয়ন ইউরো আয়ে করোনা মহামারির পর এই প্রথম আবার শীর্ষ তিনে ফিরল কাতালান ক্লাবটি। ক্যাম্প ন্যুতে কোনো হোম ম্যাচ না খেলেও স্টেডিয়াম সংস্কারের অংশ হিসেবে চালু হওয়া পার্মানেন্ট সিট লাইসেন্স (পিএসএল) বার্সার আয়ের বড় চালিকাশক্তি হয়েছে। বছরওয়ারি ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিই তার প্রমাণ।

লা লিগার আরেক ক্লাব অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদও আয় বাড়িয়েছে। যদিও র‌্যাংকিংয়ে এক ধাপ নেমে ১৩তম স্থানে রয়েছে তারা, তবু ৪৫৪.৫ মিলিয়ন ইউরো আয় করে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে ক্লাবটি।

সংখ্যার দিক থেকে অবশ্য প্রিমিয়ার লিগের আধিপত্য স্পষ্ট। শীর্ষ ২০ ক্লাবের মধ্যে ৯টিই ইংল্যান্ডের। লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম ও চেলসি, এই ‘বিগ সিক্স’-এর ক্লাবগুলো ৫ম থেকে ১০ম স্থানের মধ্যেই রয়েছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত পতন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। এক মৌসুম আগেও চতুর্থ স্থানে থাকা ক্লাবটি মাঠের ব্যর্থতার প্রভাব এবার সরাসরি আয়ে টের পাচ্ছে। তালিকায় আরও রয়েছে অ্যাস্টন ভিলা, নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও ওয়েস্ট হ্যাম।

ইংল্যান্ডের বাইরে সবচেয়ে বড় উত্থান বায়ার্ন মিউনিখের। ৮৬০.৬ মিলিয়ন ইউরো আয় নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে জার্মান জায়ান্টরা। নতুন ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে সম্প্রচারস্বত্বের আয় তাদের এগিয়ে দিয়েছে। উল্টো দিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেও এক ধাপ পিছিয়েছে পিএসজি। ৮৩৭ মিলিয়ন ইউরো আয় নিয়ে তারা এখন চতুর্থ, যেখানে ফরাসি লিগের সম্প্রচার ব্যবসার ধস বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরে উল্লেখযোগ্য নাম বেনফিকা, ২৮৩.৪ মিলিয়ন ইউরো আয় নিয়ে ১৯তম স্থানে ফিরেছে তারা, ২০২০-২১ মৌসুমের পর প্রথমবার কোনো ‘বিগ ফাইভ’-এর বাইরের ক্লাব হিসেবে তালিকায় ঢুকে।

আয়ের খাত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাণিজ্যিক আয়ই এখনো সবচেয়ে বড় উৎস। ২০২৪–২৫ মৌসুমে এ খাত থেকে এসেছে ৫.৩ বিলিয়ন ইউরো, মোট আয়ের ৪৩ শতাংশ। স্পনসরশিপ বৃদ্ধি, মার্চেন্ডাইজিং বিক্রি ও ম্যাচের বাইরে স্টেডিয়াম ব্যবহারের সম্প্রসারণ এর মূল কারণ। শীর্ষ ১০ ক্লাবের মোট আয়ের ৪৮ শতাংশই বাণিজ্যিক খাত থেকে, যেখানে ১১-২০ নম্বর ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে তা ৩২ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে ম্যাচডে আয়, ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২.৪ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, যা মোট আয়ের ১৯ শতাংশ।

এ ছাড়া সম্প্রচারস্বত্ব থেকে আয় বেড়েছে ১০ শতাংশ, মোট আয়ের ৩৮ শতাংশ এখন এই খাতের দখলে। নতুন ফরম্যাটের ক্লাব বিশ্বকাপ ও সম্প্রসারিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এই বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নারী ফুটবলেও এসেছে সুখবর। শীর্ষ ১৫ নারী ক্লাবের ব্যবসা প্রথমবারের মতো ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর গণ্ডি পেরিয়ে ১৫৮ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, ৩৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি। ২৫.৬ মিলিয়ন ইউরো আয় নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল নারী দল, এরপর চেলসি (২৫.৪ মিলিয়ন ইউরো) ও বার্সেলোনা (২২ মিলিয়ন ইউরো)। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি দর্শক ও বাণিজ্যিক আকর্ষণ বাড়ানোয় নারী ফুটবলের এই আর্থিক উত্থান নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Related Articles

Latest Articles