-6.2 C
New York

জাতীয় নির্বাচনে ১ হাজার ৯৮১ প্রার্থীর ৮৯১ জনই কোটিপতি: টিআইবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট এক হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮৯১ জনই কোটিপতি। এক্ষেত্রে তাদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) করা ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনটির তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজজামান বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে ২৭ প্রার্থী শত-কোটিপতি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশেরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। প্রার্থীদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ দশমিক ৫২ কোটি টাকা। 

সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থী সবচেয়ে কম হলেও তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৪৭১ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এবারের নির্বাচনে বর্তমানে মামলা আছে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর অতীতে মামলা ছিল ৭৪০ জন বা ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। 

এবার সব দলের প্রার্থীদের ঘোষিত সর্বমোট নির্বাচনী ব্যয় ৪৬৩ দশমিক ৭ কোটি টাকা। প্রতি প্রার্থীর গড় ব্যয় সাড়ে ২২ লাখ টাকা। ঘোষিত সবচেয়ে বেশি ব্যয় বিএনপির- মোট ১১৯ দশমিক ৫ কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় অবস্থানে জামায়াতে ইসলামী- মোট ব্যয় ৮০ দশমিক ৬ কোটি টাকা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিচ্ছে। চূড়ান্ত প্রার্থী এক হাজার ৯৮১ জন। এতে ২৪৯ জন, অর্থাৎ মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রায় ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র।

এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে বড় আকারে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থী দলগুলোর। বিগত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ। প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী মূল পেশা বিবেচনায় ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষকতা পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ এবং ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।
 

Related Articles

Latest Articles