নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক বিএনপি–সমর্থক কলেজশিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দিলে সেখানে এক বৃদ্ধা পুড়ে মারা যান।
গতরাতে উপজেলার কলম ইউনিয়নের কদমতলা কুমারপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। উত্তেজনা প্রশমনে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত দুজন হলেন মো. রেজাউল করিম (৫৩) ও সাবিহা বেগম (৭৫)। রেজাউল করিম কদমতলা কুমারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিল হালতি ত্রিমোহনী কলেজের শিক্ষক। তিনি সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে সাবিহা বেগম একই গ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওয়াহাবের মা।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুন নূর জানান, রাত ১১টার দিকে রেজাউল করিমকে তার বাড়ির কাছে একদল দুর্বৃত্ত কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলেও কাউকে আটক করতে পারেনি।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই গ্রামের একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাড়ির অন্য সদস্যরা বেরিয়ে যেতে পারলেও সাবিহা বেগম দগ্ধ হয়ে মারা যান।
পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে এবং বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ওসি বলেন, কলেজশিক্ষক হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ দুটি ঘটনাই তদন্ত শুরু করেছে।
নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, রেজাউল করিম বিএনপি–সমর্থিত একটি সংগঠনের সদস্য ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ঘটেছে, তা নিশ্চিত নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি অপরাধমূলক ঘটনারই নিন্দা জানাই। আমরা চাই কলেজশিক্ষক হত্যা এবং বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে মারার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’
