১৩৭ রানে যখন ৮ উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে সিলেট টাইটানস, তখন তাদের শেষ আশার নাম ছিল ক্রিস ওকস। এলিমিনেটরে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে যিনি নাটকীয়ভাবে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন, সেই ওকসের দিকেই তাকিয়ে ছিল পুরো শিবির। এদিনও শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৪ রান, ভরসা একটাই। কিন্তু বাস্তবতা নির্মম। একটি ছক্কার বেশি আদায় করতে পারেননি ওকস। আর তাতেই থামে সিলেটের স্বপ্নযাত্রা। ফাইনালের টিকিট কেটে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটানসকে ১২ রানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে রাজশাহী। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে তারা। জবাবে সিলেট থামে ৮ উইকেটে ১৫৩ রানে।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। টপ অর্ডারের দুই ব্যাটার জাকির হাসান ও আরিফুল ইসলামকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন বিনুরা ফার্নান্ডো। চাপের মুখে তৃতীয় উইকেটে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে ৬৯ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান স্যাম বিলিংস। তবে দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে ইমন বিদায় নিলে ম্যাচে আবারও নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজশাহী। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সিলেট।
এক পর্যায়ে উইলিয়ামসনের হাতে জীবন পেলেও সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি বিলিংস, জীবন পাওয়ার পর যোগ করতে পারেন মাত্র ১১ রান। আফিফ হোসেন কিছুটা আশা জাগালেও পরিচিত চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে, ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হন তিনিও। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যের কাছাকাছি গিয়েও ১২ রান দূরেই থামতে হয় সিলেটকে।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন পারভেজ হোসেন ইমন, ৩৪ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। বিলিংস খেলেন ২৮ বলে ৩৭ রান। আফিফের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। রাজশাহীর হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন বিনুরা ফার্নান্ডো, ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী শুরুটা মন্দ করেনি। তানজিদ হাসানের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ে আউট হন সাহিবজাদা ফারহান। তবে এরপর অবশ্য ছন্দ হারায় দলটি, দলীয় ৮০ রানেই পড়ে যায় প্রথম সারির ৫ উইকেট।
এমন সংকটময় মুহূর্তে এক প্রান্ত আগলে রাখেন কেন উইলিয়ামসন। স্বদেশী জেমস নিশামকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া ৭৭ রানের জুটি। জুটি ভাঙার পর আবারও ধস নামে রাজশাহীর ইনিংসে, মাত্র ৮ রান যোগ করতেই হারায় ৪ উইকেট। তবুও ততক্ষণে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে যায় তারা।
উইলিয়ামসন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৩৮ বলে ৪৫ রান করেন ১টি চার ও ২টি ছক্কায়। নিশাম খেলেন ২৬ বলে ৪৪ রানের কার্যকর ইনিংস, যেখানে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কা। তানজিদ হাসান করেন ১৫ বলে ৩২ রান, ফারহানের ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান।
সিলেটের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন সালমান ইরশাদ, ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। নাসুম আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ২টি করে উইকেট। তবে শেষ হাসি হাসে রাজশাহীই, ফাইনালের মঞ্চে পা রেখে।
