-3 C
New York

কখনো কিছু চাইনি, আর কখনো কিছু পাইনি: দাভোসে ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের দাভোসে পৌঁছে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বুধবার ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের মূল মঞ্চে বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, ‘ইউরোপ সঠিক পথে এগোচ্ছে না’।

এই ইউরোপ তার কাছে ‘অচেনা’ হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলে, ‘আমি ইউরোপকে ভালোবাসি। আমি চাই তারা ভালো করুক।’

বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব, জ্বালানি নীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ট্রাম্প।

গ্রিনল্যান্ড, ভেনেজুয়েলা ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ–একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে কথা বলেছেন তিনি।

নিজ দেশের অর্থনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন। আর আমেরিকা যখন সমৃদ্ধ হয়, তখন পুরো বিশ্বই সমৃদ্ধ হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে নামেন, আবার আমাদের সঙ্গেই ওপরে ওঠেন।’

কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন, ‘গ্রিন এনার্জির’ অতিরিক্ত নির্ভরতা ও ব্যাপক অভিবাসন ইউরোপের ক্ষতি করেছে।

তিনি বলেন, ‘ইউরোপের কিছু জায়গা এখন আর চেনার মতো নেই।’

ভেনেজুয়েলা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে দেশটি ‘অসাধারণভাবে ভালো করবে’।

ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা আগামী ছয় মাসে গত ২০ বছরের চেয়ে বেশি টাকা আয় করবে। প্রতিটি বড় তেল কোম্পানিই আমাদের সঙ্গে আসছে।’ 

তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রশংসা করে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালোভাবে সহযোগিতা করছে।

ট্রাম্প বলেন, একবার আক্রমণের পরই তারা বলল—চলুন, একটা চুক্তি করি। বাকি সবারই এটা করা উচিত।

জ্বালানি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক শক্তিতে আরও জোর দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আগে আমি এর বড় ভক্ত ছিলাম না। ঝুঁকি ও বিপদের বিষয়টি আমার ভালো লাগত না। কিন্তু পারমাণবিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা অসাধারণ।’

তিনি বায়ুশক্তি নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কাছে ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা জ্বালানি উৎস’ থাকলেও তারা তা ব্যবহার করছে না।

ভাষণের একপর্যায়ে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে হালকা রসিকতার সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতে তাকে ‘নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হতো’।

ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় দুর্বল আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘কৌশলগত জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য আমাদের এটা দরকার। এই বিশাল, সুরক্ষাবিহীন দ্বীপটি আসলে উত্তর আমেরিকার অংশ। ওটা আমাদের ভূখণ্ড।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কোনো দেশ গ্রিনল্যান্ডকে নিরাপদ রাখতে পারবে না।

ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণ নিয়ে আলোচনায় বসতে আমি প্রস্তুত।’

ন্যাটো প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কখনো কিছু চাইনি, আর কখনো কিছু পাইনি।’

বলপ্রয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষ ভেবেছিল আমি বলপ্রয়োগ করব। আমাকে সেটা করতে হবে না। আমি বলপ্রয়োগ করতে চাই না। করব না।’

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ন্যাটোর জন্য হুমকি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘এতে ন্যাটো জোটের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে,’ বলেন ট্রাম্প।

গ্রিনল্যান্ডকে ‘সমুদ্রের মাঝখানে বিশাল একখণ্ড বরফ’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এটি রক্ষা করতে হলে পূর্ণ মালিকানা দরকার।

তিনি বলেন, ‘লিজ বা লাইসেন্স নিয়ে আপনি এটা রক্ষা করতে পারবেন না।’

ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—দুজনের সঙ্গেই কথা বলছেন।

তিনি বিশ্বাস করেন, দুজনই চুক্তি করতে চান।

ট্রাম্প জানান, বুধবারই জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

Related Articles

Latest Articles