-4.6 C
New York

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে, অভিযোগ জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা একটি বিশেষ দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে, পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। 

দলটি বলছে, তারা একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাসমুক্ত ও ভয়-ভীতিমুক্ত নির্বাচন চায়। তাদের নেতাকর্মীরা আচরণবিধি মেনে চলছেন, দায়িত্বশীল আচরণ করছেন। একটি বিশেষ দলের পক্ষ থেকে নারীসহ তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, নাজেহাল করা হচ্ছে।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকা-১৫ এর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা পাওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, ‘গতকাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ ৩০০ আসনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। ঢাকা-১৫ আসনে আমিরে জামায়াত শফিকুর রহমানের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা সেটা নিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্রার্থীরা অংশ নেবেন। একইসঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় নিয়ে যে সংস্কার প্রস্তাব পাস হয়েছে, তার আইনি ভিত্তি হবে, সেটার বিজয় হবে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে।’

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আমরা আশা করব এই নির্বাচন সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাসমুক্ত ও ভয়-ভীতিমুক্ত একটি নির্বাচন হবে। যদিও বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা করছে, নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করছে, নাজেহাল করছে। গতকাল ঢাকা-১৫ আসনে এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে আপনারা জানেন। আমরা নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসারকে এগুলো জানিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করব, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচন কর্মকর্তা যারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা এসব বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টি দেবেন, যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।’

নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আগামী নির্বাচন যেন সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ শীর্ষ নেতা, দেশবাসী সবাইকেই যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়া জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

নারীদের দিয়ে আগাম প্রচারণার অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি একটি অসত্য তথ্য। প্রথম থেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে আমরা সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছি। ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিন, আমরাই ঘোষণা দিয়েছি, আমরা নিজ দায়িত্বে প্রচারসামগ্রী অপসারণ করেছি, তুলে নিয়েছি। আমরা অপেক্ষা করিনি।’

তিনি আরও বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে, দাঁড়িপাল্লাকে, ১০ দলীয় ঐক্যজোটকে বিনষ্ট করার জন্য একদল লোক চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশবাসীর কাছে বিষয়টি স্পষ্ট। অবশ্যই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা এর জবাব দেবেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তাদের পক্ষ থেকে এখনো পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড যেটা নিশ্চিত হওয়ার কথা, তারা বিশেষ একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।’

এ বিষয়ে ইসির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইসিকে বলেছি, কর্মকর্তা যারা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন, প্রয়োজনে তাদের তালিকাও একসময় জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বাধ্য হবো, যদি কমিশন যথাযথভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের নিরপেক্ষ হতে বাধ্য না করে।’ 

ঢাকা-১৫ আসনে হামলাকারীদের দলীয় পরিচয় জানতে পেরেছেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা বিশেষ দলের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে আমাদের নারী ভোটার, নারীকর্মী ও পুরুষদের ওপর। গতকাল রাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তারা আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।’

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন জানান, তিনি ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়েছেন।

Related Articles

Latest Articles